দালাল থেকে সতর্ক করে মালেশিয়া প্রবাসীদের বিশেষ বার্তা!

মালয়েশিয়ান প্রবাসীদের জন্যে সতর্কতা
মালয়েশিয়ান প্রবাসীদের জন্যে সতর্কতা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশী প্রবাসীদের জন্য ভিসা জালিয়াতি, শ্রম শোষণ এবং অবৈধ রিক্রুটমেন্ট চক্র নিয়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কুয়ালালামপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন। সাম্প্রতিক নোটিশে বলা হয়েছে—২০২৫ সালে ভিসা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতারণা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে, যা প্রবাসীদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও আইনগত অবস্থানকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে

হাইকমিশনের জানুয়ারি ২০২৫-এর বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, মালয়েশিয়ায় প্রবেশের জন্য সাধারণ বাংলাদেশী পাসপোর্টধারীদের উপযুক্ত ভিসা থাকা বাধ্যতামূলক। পর্যটন, কর্মসংস্থান বা প্রফেশনাল ভিজিট যেকোনো শ্রেণির ভিসার জন্য নির্ধারিত ফি মাত্র ২০ রিংগিট। অথচ ‘ফ্রি ভিসা’, ‘ইজি ওয়ার্ক পারমিট’ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়াভিত্তিক প্রতারণার মাধ্যমে অসংখ্য প্রবাসীর কাছ থেকে লাখো টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বাড়ছে। হাইকমিশন জানিয়েছে—ভিসা আবেদন অবশ্যই অফিসিয়াল পোর্টালের (visamalaysia.com.bd) মাধ্যমে করতে হবে; কোনো দালাল বা তৃতীয় পক্ষের সহায়তা নিলে ভিসা প্রত্যাখ্যান, ডিপোর্টেশন এবং ব্ল্যাকলিস্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

চিকিৎসার উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়ায় যেতে চাইলে মালয়েশিয়ান হেলথকেয়ার ট্রাভেল কাউন্সিল (MHTC) অনুমোদিত হাসপাতালের অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার জমা দেওয়ার নির্দেশনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। ভুয়া বা অসম্পূর্ণ নথি জমা দিলে ভিসা বাতিলের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাও আরোপ হতে পারে।

শ্রমখাতে প্রতারণা নিয়ে হাইকমিশনের পর্যবেক্ষণ আরও উদ্বেগজনক। অনেক রিক্রুটার ভুয়া নথির মাধ্যমে প্রার্থীদের ‘ফ্রি ভিসা’ দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাঠাচ্ছে। সেখানে পৌঁছে শ্রমিকদের অতিরিক্ত অর্থ দাবি, পাসপোর্ট জব্দ, বাড়তি সময় কাজ করানো এবং বেতন কম দেওয়ার মতো শোষণের শিকার হতে হচ্ছে। বৈধ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হাইকমিশন প্রবাসী শ্রমিকদের মালয়েশিয়ান কোম্পানিজ কমিশন (SSM) ডেটাবেসে প্রতিষ্ঠানের নাম যাচাই এবং BMET অনুমোদন নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছে।

নোটিশে আরও জানানো হয়, মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ ২০২৫ সালে সরাসরি ই-ভিসা ব্যবস্থা চালু করেছে, যা ১–২ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়—ফলে এজেন্সির মাধ্যমে ভিসা করানোর প্রয়োজন নেই। পাশাপাশি ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ভ্রমণের আগে প্রয়োজনীয় টিকাদান ও ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স নিতে প্রবাসীদের সতর্ক করা হয়েছে।

মালয়েশিয়ায় বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ বাংলাদেশী কাজ করছেন, যাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, ভুয়া ডকুমেন্ট জমা দিলে আজীবন ব্ল্যাকলিস্ট হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে—যা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। জরুরি সহায়তার জন্য হাইকমিশনের হটলাইন +৬০-৩-২১৭০-২১০০ খোলা রয়েছে।

সরকারি সংস্থাগুলোর এই সতর্কতা প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং আইনগত সুরক্ষার স্বার্থে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও অফিসিয়াল চ্যানেল ব্যবহারই প্রবাসী শ্রমিকদের প্রতারণা ও শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।

আরও দেখুন

ভারতকে খুশি করতে বারবার অস্ত্র উদ্ধার নাটক হাসিনার

ভারতকে খুশি করতে বারবার অস্ত্র উদ্ধার নাটক হাসিনার

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক – হবিগঞ্জের সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান, যা ত্রিপুরা সীমান্তের কাছে ২৪৩ হেক্টরের সবুজ আচ্ছাদিত …