শেখ হাসিনার রায়ের পর তাঁর পাশে এখনো কে আছেন?

ফাইল ফটো: শেখ হাসিনা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশে কার্যত কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ক্ষমতায় নেই। আদালতের রায় ঘোষণার পর তাঁর রাজনৈতিক শক্তিকেন্দ্র প্রায় ধ্বসে পড়েছে। এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে এসেছে—রায়ের পরও কি কেউ আছেন, যারা নীরবে তাঁর পাশে রয়েছেন বা প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছেন?

সম্প্রতি প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে “হাসিনার পক্ষে সক্রিয়” হিসেবে চিহ্নিত হয়নি একমাত্র ভারত ছাড়া। তবে অতীতের রাজনৈতিক সম্পর্ক, পারিবারিক যোগাযোগ এবং ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের ভিত্তিতে ধারণা করা হচ্ছে, কিছু মানুষ হয়তো পরামর্শমূলক বা কৌশলগত পর্যায়ে তাঁর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন।

সম্ভাব্য প্রভাবশালী বা আনুগত্য রক্ষা করা গোষ্ঠীগুলো –

প্রথমত, পারিবারিক সম্পর্কের দিক থেকে শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং বোন শেখ রেহানা এখনও তাঁর কৌশলগত পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতে পারেন। তাঁরা বিদেশে অবস্থান করায় রাজনৈতিকভাবে সরাসরি সক্রিয় নন, তবে ডিজিটাল বা ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য নাম সালমান এফ রহমানের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অথবা এস আলম গ্রুপের প্রতিষ্ঠানগুলি। যদিও বর্তমানে সেগুলো সক্রিয়ভাবে কিছু করছেন—এমন কোনো প্রমাণ নেই, তবে সম্পর্ক বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তৃতীয়ত, আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট প্রবাসী নেতাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা কিছু সমর্থক এখনও নীরবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তাঁরা প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নিচ্ছেন না, তবে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনায় যুক্ত হতে পারেন।

চতুর্থত, শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ পারিবারিক পরামর্শদাতা ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা যারা আগে কৌশলগত ভূমিকা পালন করতেন, তাঁদের উপস্থিতিও গোপনে থাকতে পারে। তবে তাঁদের কোনো নাম প্রকাশ্যে আসেনি।

বর্তমান বাস্তবতা মূল্যায়ন-

• শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ক্ষমতা বর্তমানে প্রায় সম্পূর্ণ বিলুপ্ত।
• আইনি অবস্থান অত্যন্ত সংকটাপন্ন, তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
• জনমত তাঁর বিপক্ষে রয়েছে, বিশেষত জুলাই আন্দোলনের পরিস্থিতির পর।
• দলের সংগঠন ভেঙে পড়ে আছে, সক্রিয় নেতৃত্ব পরিবর্তিত।
• পারিবারিক যোগাযোগ থাকলেও তা খুবই সীমিত পর্যায়ে।
• প্রবাসী সমর্থকরা এখন নীরব পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মন্তব্য – রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, “দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক শক্তি কার্যত ভেঙে গেছে। যদিও পারিবারিক ও আন্তর্জাতিক কিছু আনুগত্য এখনো থাকতে পারে, কিন্তু তা বর্তমানে সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত প্রভাব ফেলতে সক্ষম নয়। ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন হলে এ নেটওয়ার্ক সক্রিয় হতে পারে।”

পরিশেষে – রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রভাব কার্যত শেষের পথে। তাঁর কিছু পারিবারিক, প্রবাসী বা ব্যবসায়িক আনুগত্য থেকে গেলেও তা এখন পর্যন্ত খুব সীমিত এবং গোপন পর্যায়ে সক্রিয়। বর্তমান বাস্তবতায় তাঁকে কেন্দ্র করে কোনো শক্তিশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী গঠন হওয়ার লক্ষণ এখনও দেখা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলালে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে, তবে বর্তমানে তাঁর ক্ষমতার ভিত্তি প্রায় সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত।

আরও দেখুন

ভারতেই থাকবেন কি না, সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনাই নেবেন: জয়শঙ্ক

ভারতেই থাকবেন কি না, সিদ্ধান্ত শেখ হাসিনাই নেবেন: জয়শঙ্কর

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক – বিশেষ এক পরিস্থিতিতে ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানেই …