
অস্ট্রেলিয়াকে লজ্জায় ডুবালো দক্ষিণ আফ্রিকা। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারলো অজিরা। সেইসাথে এক ম্যাচ হাতে রেখেই হাতছাড়া করলো সিরিজও।
হারের চেয়েও তিক্ত হারের ধরন। আগের ম্যাচে ৯৮ রানে হারের পর এবার হার ৮৪ রানে। এবারো পারেনি ২০০ রানের গণ্ডি পেরোতে। ২৭৮ রান তাড়া করতে নেমে গুটিয়ে গেছে ১৯৩ রানেই।
১৬৩, ১৪০ আর ১৯৮ এর পর এবার ১৯৩। সব মিলিয়ে ঘরের মাঠে টানা চতুর্থ ওয়ানডেতে ২০০ রানের নিচে অলআউট হলো অস্ট্রেলিয়া। যা দলটার জন্য হতে পারে বড় দুশ্চিন্তা।
দুশ্চিন্তা আরো আছে, সর্বশেষ আট ওয়ানডের মাঝে এ নিয়ে সাতটিতেই হেরেছে অজিরা। আর প্রোটিয়াদের কাছে এ নিয়ে টানা পাঁচ ওয়ানডে সিরিজে হারল তারা। ২০১৬ সাল থেকে অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকা।
কুইন্সল্যান্ডের ম্যাকাইয়ে শুক্রবার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৪৯.১ ওভারে ২৭৭ রানে অলআউট হয় দক্ষিণ আফ্রিকা। শুরুটা ভালো হয়নি, ৫.২ ওভারে মাত্র ২৩ রানে দুই ওপেনারকে হারায় তারা।
এরপর টনি ডি জর্জের সাথে ৬২ বলে ৬৭ রান যোগ করেন ম্যাথু ব্রিটজকে। ডি জর্জে আউট হন ৩৯ বলে ৩৮ করে। তবে হাল ধরে রাখেন ব্রিটজকে, এরপর গড়েন ক্রিকেট ইতিহাসের নতুন এক রেকর্ড।
ওয়ানডে অভিষেকের পর টানা তিন ম্যাচেই পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলেছিলে ব্রিটজকে। আজ চতুর্থবার পাড়ি দেন পঞ্চাশ রানের গণ্ডি। অভিষেকের পর টানা চার ওয়ানডেতে ফিফটি হাঁকানোর রেকর্ড নেই আর কারো।
সুযোগ ছিল ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেয়ার। তবে ট্রিস্টান স্টাবসের সাথে ৯০ বলে ৮৯ রানের জুটি ভেঙে ৭৮ বলে ৮৮ রানে থামেন ব্রিটজকে। দলের রান তখন ৩১ ওভারে ১৭৯/৪।
এরপর ওয়েন মুল্ডার ২৬ ছাড়া আর কেউ পারেননি স্টাবসকে সঙ্গ দিতে। ৮৭ বলে ৮৪ রান করে ৪৩.১ ওভারে আউট হন তিনি। শেষ দিকে কেশভ মহারাজ ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। অ্যাডাম জাম্পা নেন ৩ উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় দ্বিতীয় ওভারেই ট্রাভিস হেড ও তৃতীয় ওভারে মারনাস লাবুশেনকে হারায় অজিরা, ৭ রানে ২ উইকেট হারানো অস্ট্রেলিয়ার বিপদ বাড়ে দলকে ৩৮ রানে রেখে অধিনায়ক মিচেল মার্শ (১৮) বিদায় নিলে।
এরপর চতুর্থ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপর্যয় থামান জস ইংলিস ও ক্যামেরন গ্রিন। এ দুজন দলকে পৌঁছে দেন তিন অংকে। গ্রিন ৫৪ বলে ৩৫ রানে বিদায় নিলে ফের শুরু হয় বিপর্যয়।
অ্যালেক্স ক্যারি ১৩ ও অ্যারন হার্ডি ১০ ছাড়া শেষ ছয়জনের কেউ দুই অংকে যেতে পারেননি। লুঙ্গি এনগিডির তোপে পড়ে ১৩৩ থেকে ১৯৩—এই ৬০ রানের মধ্যেই শেষ ৬ উইকেট হারায় স্বাগতিকেরা।
অজিদের সংগ্রহ দুই শ’র কাছাকাছি নিয়ে যান ইংলিস, নবম উইকেট হবার আগে করেন ৭৪ বলে ৮৭ রান। এনগিডি ৪২ রানে নেন ৫ উইকেট।