অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে হালাল খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হচ্ছে বড় বাজার। একটি জাতীয় প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। ‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’-এ দেশটির ইসলামী অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, মুসলিমদের ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এখন আর ছোট বা বিশেষায়িত বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর অর্থনীতির একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অংশে পরিণত হচ্ছে। এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার ও তাদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা। প্রতিবেদনে বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি মুসলিমবান্ধব পর্যটন। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ফলে হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও মুসলিমবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন খাতে আরও বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ হালাল ধারণাটি শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন নতুন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইসলামী অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হালাল পণ্য রফতানি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে হালাল মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে। এই রফতানি বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে হালাল খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ভোক্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক হালাল বাজারও দেশটির কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি খাতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো অপেক্ষাকৃত ছোট। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছে। শরিয়াহসম্মত বাড়ি কেনার অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও কাঠামোগত পার্থক্য এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে আছে। প্রতিবেদনে ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও কার্যকর ও সমন্বিত হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় রফতানি সহায়তা। অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাবৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বাজারের বিকাশ, যেখানে ধর্মীয় চাহিদার সঙ্গে পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। ফলে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা এখন দেশটির মূলধারার ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হয়ে উঠছে। ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ব্যয় থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের হালাল রফতানি - পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতি আর ছোট কোনো বিশেষায়িত বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী কয়েক বছরে এটি দেশটির আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।
গাজায় দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা শান্তি পরিকল্পনাকে আবারও সচল করতে বড় ধরনের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মিসরের কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে বিরল সরাসরি বৈঠকের একদিন পর জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দূত ও জামাতা জ্যারেড কুশনার। তবে কয়েক ঘণ্টার আলোচনার পরও মূল বিরোধের সমাধান হয়নি। কুশনারের এই সফরের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা রোডম্যাপ বাস্তবায়নের পথ তৈরি করা। পরিকল্পনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজার বেসামরিক শাসন নতুন ব্যবস্থার হাতে তুলে দেওয়া এবং এর বিনিময়ে ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে। হামাস পরিকল্পনাটিতে সম্মতি জানিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কিন্তু কোন পদক্ষেপটি আগে বাস্তবায়িত হবে - সেটিই এখন সবচেয়ে বড় বাধা। ইসরায়েলের অবস্থান স্পষ্ট - হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র হওয়ার আগে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে চান না প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। অন্যদিকে হামাস চায় ইসরায়েল প্রথমে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে স্পষ্ট ও কার্যকর প্রতিশ্রুতি দিক। এই দুই অবস্থানের ব্যবধানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। এর আগে কায়রোতে হামাসের শীর্ষ নেতা খলিল আল-হাইয়ার সঙ্গে সরাসরি বৈঠক করেন জ্যারেড কুশনার। আলোচনায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীরাও যুক্ত ছিলেন। হামাস নেতাদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির এমন সরাসরি আলোচনা এখনো বিরল ঘটনা - ফলে বৈঠকটিকে গাজা নিয়ে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কুশনারের সঙ্গে হামাসের এটিই প্রথম পরিচিত সরাসরি যোগাযোগ নয়। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে স্টিভ উইটকফকে সঙ্গে নিয়ে হামাস প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন তিনি। তবে এবারের আলোচনা এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার নিরাপত্তা, নিরস্ত্রীকরণ এবং ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো সবচেয়ে কঠিন বিষয়গুলো সামনে চলে এসেছে। কায়রোর আলোচনা শেষে জেরুজালেমে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন কুশনার। বৈঠকটিকে ইসরায়েলি পক্ষ ‘গভীর ও গঠনমূলক’ হিসেবে বর্ণনা করলেও যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনায় ইসরায়েলের পূর্ণ সম্মতি পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও গাজা পরিকল্পনার মূল বাধা এখনো কাটেনি। তবে বৈঠক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। গাজার নিরস্ত্রীকরণ এবং অবকাঠামো ও জনস্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করতে দুটি পৃথক ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের বিষয়ে নেতানিয়াহু ও কুশনার একমত হয়েছেন। গাজার পুনর্গঠনের আগে অঞ্চলটিকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য নিয়েও তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কুশনার জানিয়েছেন, হামাসের সঙ্গে আলোচনায় ইতিবাচক বক্তব্য পাওয়া গেলেও এখন কথার পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চায় ওয়াশিংটন। তার মতে, অস্ত্র সরিয়ে নেওয়া এবং হামাসের ব্যবহৃত টানেল বন্ধের মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি শুরু হলে আগামী ৩০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। তবে সেটি পুরোপুরি নির্ভর করছে পরিকল্পনার শর্ত বাস্তবায়নের ওপর। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলকে গাজায় হামলা বন্ধ করার কথা বলেছেন। এমন সময়ে এই মন্তব্য এসেছে, যখন তার দূত কুশনার নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত পরিকল্পনায় এগিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। এই কূটনৈতিক তৎপরতায় মিসর, কাতার ও তুরস্কের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কায়রোর আলোচনায় তিন দেশের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্ত ছিলেন এবং হামাস ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগের পথ তৈরিতে ভূমিকা রাখছেন। ফলে গাজা নিয়ে বর্তমান আলোচনা শুধু ওয়াশিংটন, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই - পুরো অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোও এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সবচেয়ে বড় বাধা এখনো একই জায়গায় - কে আগে পদক্ষেপ নেবে। হামাস ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নিশ্চয়তা চায়, আর নেতানিয়াহু চান আগে হামাসের পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ। কয়েক ঘণ্টার কুশনার-নেতানিয়াহু বৈঠকেও এই মৌলিক ব্যবধান দূর করা সম্ভব হয়নি। ফলে গাজা শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ এখন নির্ভর করছে দুই পক্ষের মধ্যে এই আস্থার সংকট কত দ্রুত কাটানো যায় তার ওপর। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার - যুক্তরাষ্ট্র এবার শুধু মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ দূত সরাসরি হামাস নেতৃত্বের সঙ্গে বসছেন, পরদিনই আলোচনা করছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে। গাজার যুদ্ধ থামানো এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির প্রচেষ্টা তাই নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এখন নজর থাকবে দুটি বিষয়ে - হামাস বাস্তবে নিরস্ত্রীকরণের পথে পদক্ষেপ নেয় কি না এবং তার বিপরীতে ইসরায়েল গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেয় কি না। এই দুই প্রশ্নের সমাধান না হলে বৈঠক যতই বাড়ুক, গাজা নিয়ে স্থায়ী সমঝোতার পথ খোলা কঠিনই থেকে যাবে।
লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে মানহানির জন্য ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় বাতিল করতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আইনজীবীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি নিম্ন আদালত। গত ২৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য আবেদন করেন। সর্বোচ্চ আদালতের ডকেট অনুযায়ী, আবেদনটি ৩০ জুলাই নথিভুক্ত হয়েছে এবং ই. জিন ক্যারলের পক্ষের জবাব দেওয়ার সময়সীমা বর্তমানে ৩১ আগস্ট। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনো মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি এবং ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায়ও বাতিল করেনি। মামলাটির সূত্রপাত ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ থেকে। সাবেক এল ম্যাগাজিন কলামিস্ট ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ক্যারল মিথ্যা বলছেন বলে দাবি করেছেন। ২০১৯ সালে ক্যারল তার স্মৃতিকথায় অভিযোগটি প্রকাশ্যে আনার পর তখন প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তা অস্বীকার করেন। ওই বক্তব্যের জেরেই ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ক্যারলের পক্ষে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু নিউইয়র্কভিত্তিক দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত রায় বহাল রাখে। আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তির বিষয়ে বলেছিল, মামলার যথাযথ পর্যায়ে সেই প্রতিরক্ষা না তোলায় তিনি তা ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ আপিল আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। তাদের বক্তব্য, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অফিসিয়াল বক্তব্যের জন্য ক্ষতিপূরণের দায় আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। তারা চাইছেন সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এই সাংবিধানিক প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করুক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীদের যুক্তি, একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তার যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সে কারণে ২০১৯ সালে দেওয়া বক্তব্যকে ব্যক্তিগত বক্তব্য না ধরে প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখার দাবি করছেন তারা। এই মামলায় ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় নেওয়া কিছু সরকারি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্টরা ফৌজদারি মামলা থেকে ইমিউনিটি পেতে পারেন। তবে ই. জিন ক্যারলের মামলা ফৌজদারি নয় - এটি দেওয়ানি মামলা। ফলে সেই সিদ্ধান্ত এই মামলায় কতটা প্রযোজ্য, সেটিই এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন। এদিকে ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ৫০ লাখ ডলারের মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ধাক্কা এসেছে। গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এরপর পুনর্বিবেচনার আবেদনও ১৭ আগস্ট প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। ফলে ২০২৩ সালের ওই জুরি রায় এখন চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। ওই পৃথক মামলায় জুরি সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে মানহানি করেছেন। তবে জুরি নিউইয়র্ক আইনের অধীনে ক্যারলের ধর্ষণের নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাটি মূলত ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, যখন তিনি প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন না। দুটি মামলার মধ্যে তাই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ৫০ লাখ ডলারের মামলাটি ২০২২ সালের বক্তব্য এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের মামলাটি মূলত ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। আর এই পার্থক্যকেই প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তিতে সামনে আনছেন তার আইনজীবীরা। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় বাতিল হয়নি এবং সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শুনবেই, এমন সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। আদালত প্রথমে ঠিক করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির পূর্ণ শুনানি করবে কি না। বর্তমান ডকেট অনুযায়ী, ক্যারলের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ আগস্ট। ফলে ই. জিন ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি মামলা শেষ হয়ে গেলেও সবচেয়ে বড় অঙ্কের মামলাটি এখনো ঝুলে রয়েছে। এবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় নিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্নটি তারা শুনানির জন্য গ্রহণ করে কি না, সেটিই হবে এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে সাত সদস্যের একটি পরিবার উঠেছিল তাদের নতুন বাড়িতে। ঘরের ভেতরে তখনও পড়ে ছিল স্থানান্তরের বাক্সপত্র, সবকিছু ঠিকমতো গুছিয়েও উঠতে পারেননি তারা। কিন্তু নতুন বাড়িতে ওঠার মাত্র সাত ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়। দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ ওল্ড ট্রেইলস দাবানল থেকে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে পালাতে হয় তাদের। পরে আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে যায় সেই নতুন বাড়ি। ঘটনাটি গত ১ আগস্ট ওয়াশিংটনের স্পোকেন কাউন্টিতে। দিনটি পরিবারটির জন্য নতুন অধ্যায়ের শুরু হওয়ার কথা ছিল। সাত সদস্যের এই মিশ্র পরিবার নতুন বাড়িতে জিনিসপত্র নিয়ে আসছিল এবং বাক্স খুলে ঘর গোছানোর কাজ করছিল। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কাছাকাছি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার। পরিস্থিতি এত দ্রুত ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে নতুন বাড়িতে একটি রাতও কাটানোর সুযোগ পায়নি পরিবারটি। পরিবারটি প্রথমে ভেবেছিল আগুন হয়তো তাদের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছাবে না। কিন্তু আকাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যেতে শুরু করলে এবং পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকলে তারা বুঝতে পারে, আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই। প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বাড়ি ছাড়ে সবাই। শেষ পর্যন্ত সাতজনই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন - কিন্তু নতুন বাড়িটি আর রক্ষা করা যায়নি। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় - পরিবারটি তখনও নতুন বাড়িতে পুরোপুরি বসবাসই শুরু করতে পারেনি। যে বাক্সগুলো খুলে নতুন সংসার সাজানোর কথা ছিল, সেগুলোর অনেক কিছুই আগুনের মধ্যে থেকে যায়। কয়েক ঘণ্টা আগেও যে বাড়িটিকে ঘিরে ছিল নতুন শুরুর আনন্দ, দাবানল সেটিকে মুহূর্তের মধ্যে পরিণত করে ধ্বংসস্তূপে। পরিবারটির ঘটনা অবশ্য স্পোকেনের এই ভয়াবহ দুর্যোগের একটি ছোট অংশ মাত্র। ১ আগস্ট শক্তিশালী বাতাস ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে স্পোকেন এলাকায় একাধিক দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কারণে প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে হয় এবং ৬০০টির বেশি বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা ধ্বংস হয় বলে কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে সিবিএস নিউজ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় স্পোকেন কাউন্টিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়। কাউন্টি কমিশনাররা জরুরি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেন, যাতে অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সহায়তা দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। স্পোকেনের মেয়র লিসা ব্রাউন এই দাবানলকে অঞ্চলটির মুখোমুখি হওয়া সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার কীভাবে শুরু হয়েছিল, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়। পরে স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের মেজর ক্রাইমস ডিটেকটিভ এবং ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তদন্তকারীরা অগ্নিসংযোগের অভিযোগে একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেন। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি সম্ভাব্য অগ্নিসংযোগ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ফারিনাচ্চি, বয়স ৩৭ বছর। তার বিরুদ্ধে ওল্ড ট্রেইলস ফায়ার শুরু করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের কাছে তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে আগুন লাগানোর পরিকল্পনা করেছিলেন বলে জানিয়েছেন - এমন অভিযোগও আদালতের নথিতে উঠে এসেছে। মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। দাবানল নিয়ন্ত্রণে আসার পর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, সফল অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের পর ১১ আগস্ট ওল্ড ট্রেইলস রোড ও অটাম লেন এলাকার বাকি সব সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে অগ্নিনির্বাপণকর্মী, বিদ্যুৎ ও পুনরুদ্ধারকারী দল তখনও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। আগুন থামলেও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য এখন শুরু হয়েছে আরেক লড়াই - নতুন করে জীবন গড়ে তোলার লড়াই। পুড়ে যাওয়া বাড়ির জায়গায় ফিরে কেউ খুঁজছেন স্মৃতিচিহ্ন, কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা আগুন থেকে বেঁচে যাওয়া কোনো জিনিস। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বেচ্ছাসেবকেরাও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে খাবার, পানি এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিচ্ছেন। সাত সদস্যের এই পরিবারের জন্য ক্ষতিটা আরও নির্মম - কারণ তাদের নতুন শুরুটা শেষ হয়ে গেছে শুরু হওয়ার আগেই। নতুন বাড়িতে একটি রাত কাটানোরও সুযোগ হয়নি তাদের। তবে শেষ মুহূর্তে দ্রুত বাড়ি ছাড়ার সিদ্ধান্তে পরিবারের সাত সদস্যই প্রাণে বেঁচে গেছেন। মাত্র সাত ঘণ্টা আগে যে দরজা দিয়ে তারা নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে ঘরে ঢুকেছিলেন - কয়েক ঘণ্টা পর সেই একই বাড়ি ছেড়ে তাদের পালাতে হয়েছে শুধু জীবন বাঁচাতে। এখন বাড়ি নেই, অনেক জিনিসপত্রও নেই - কিন্তু পরিবারের সাতজনই বেঁচে আছেন। ভয়াবহ সেই রাতের পর সেটিই এখন তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
গত এক দশকে অনেকের জন্যই নিজের বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়াবাড়িতে জীবনযাপন করাটা বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বিষয়ক ওয়েবসাইট 'রিয়েল্টর ডটকম'-এর (Realtor.com) অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ ৫০টি মেট্রোপলিটন শহরে এখনও বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই বেশি সাশ্রয়ী। তবে, পকেটে টাকা থাকলেই যে আপনি আপনার স্বপ্নের মতো একটি বাসা সহজেই ভাড়া পেয়ে যাবেন, বিষয়টি এতটাও সহজ নয়। বাড়িওয়ালার মন জয় করা এবং নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও ঝামেলামুক্ত ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রমাণ করার প্রক্রিয়ায় আপনি এমন কিছু কথা মুখ ফসকে বলে ফেলতে পারেন, যার কারণে ভালো একটি বাসা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। একটি দারুণ বাসা পাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাসা পরিদর্শনের সময় কিছু কথা একেবারেই বলা উচিত নয়। চলুন জেনে নিই এমন ৫টি বিষয় সম্পর্কে: ১. 'আমি আমার বর্তমান বাড়িওয়ালাকে একদম পছন্দ করি না' নতুন বাসা দেখতে গেলে বাড়িওয়ালা স্বভাবতই জানতে চাইবেন কেন আপনি আগের বাসা ছাড়ছেন। এক্ষেত্রে খুব সাবধানে উত্তর দিন। ভুলেও বর্তমান বা সাবেক বাড়িওয়ালা, ম্যানেজমেন্ট বা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের নামে বদনাম করবেন না। হয়তো আপনার আগের বাসা ছাড়ার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে, কিন্তু নতুন বাড়িওয়ালার সেটি যাচাই করার কোনো উপায় নেই। রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার 'রেনটেক ডাইরেক্ট'-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর কেসি ওয়েগনার জানান, "কোনো আবেদনকারী যদি তার বর্তমান বাসা নিয়ে খুব বেশি নেতিবাচক কথা বলেন, তবে নতুন বাড়িওয়ালা তাকে 'ঝামেলাপূর্ণ' বলে ধরে নিতে পারেন। একজন অভিযোগকারী ভাড়াটিয়াকে সামলাতে বাড়িওয়ালাকে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়।" এর বদলে আপনি বলতে পারেন, 'আমার আরও বড় জায়গা দরকার' বা 'আমি আমার অফিসের কাছাকাছি থাকতে চাই'। ২. 'আপনাকে আরও একটি প্রশ্ন করতে চাই' আপনি যে বাসায় অন্তত এক বছর বা তার বেশি থাকবেন, সেই বাসা এবং আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা যাবে না। নিউইয়র্কভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান 'ট্রিপলমিন্ট'-এর এজেন্ট ক্রিসৌলা পাপাউটসাকিসের মতে, আপনি যদি সবকিছু নিয়েই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করেন, তবে বাড়িওয়ালা আপনাকে 'খুঁতখুঁতে স্বভাবের' বা 'অভিযোগকারী' মনে করতে পারেন। তাই কেবল প্রাসঙ্গিক ও জরুরি প্রশ্নগুলোই করুন। যেমন, রান্নাঘরের কাউন্টারটপ তাপ-সহনশীল কি না, তা জানতে চাওয়া যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু ফ্লোরের কাঠ অরিজিনাল নাকি লেমিনেট করা এমন সূক্ষ্ম প্রশ্ন করাটা একটু বাড়াবাড়ি। বাসা পরিদর্শনের সময় অযথাই এক ঘণ্টা ধরে প্রশ্ন করতে থাকলে আপনি বাড়িওয়ালার পছন্দের তালিকা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন। ৩. 'আমি একটি কুকুরছানা আনার জন্য আর তর সইতে পারছি না' আপনি হয়তো পোষা প্রাণী পছন্দ করেন এবং এমন বাসাই খুঁজছেন যেখানে এগুলো রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু তাই বলে এখনই কুকুরছানা (পাপি) বা নতুন কোনো প্রাণী আনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবেন না। ওয়েগনার সতর্ক করে বলেন, "পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি থাকলেও কোনো বাড়িওয়ালাই কুকুরছানার কথা শুনে খুব একটা খুশি হবেন না। বয়স্ক প্রাণীর চেয়ে ছানারা বাসার অনেক বেশি ক্ষতি করে।" শুরুতে শুধু পোষা প্রাণী রাখার নিয়মকানুন জেনে নেওয়াটাই যথেষ্ট। কিছুদিন সেই বাসায় থাকার পর নিজেকে দায়িত্বশীল প্রমাণ করে, তারপর নতুন পোষা প্রাণী আনার কথা জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ। ৪. 'আমার সঙ্গী বা পার্টনার এই বাসার কাছেই কাজ করে' আপনি যদি একাই চুক্তিনামায় (লিজ) স্বাক্ষর করেন, তবে অযথা আপনার প্রেমিক, প্রেমিকা বা সঙ্গীর কথা উল্লেখ করতে যাবেন না। ওয়েগনারের মতে, চুক্তিতে নাম নেই এমন কোনো সঙ্গীর কথা বারবার উল্লেখ করলে বাড়িওয়ালার মনে সন্দেহ জাগতে পারে যে, ওই ব্যক্তিও হয়তো এই বাসাতেই বেশি সময় কাটাবেন। বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয় ও রেড ফ্ল্যাগ। কারণ, চুক্তিতে নাম না থাকা ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড বা অপরাধের রেকর্ড চেক করা সম্ভব হয় না। আপনার অতিথি যদি বাসার কোনো ক্ষতি করে বা গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজায়, তবে বাড়িওয়ালার পক্ষে তাকে বের করে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা আইনিভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। ৫. 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই' ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো স্বাধীনতা। চুক্তি শেষ হলেই আপনি চাইলে বাসা বদলাতে পারেন। কিন্তু বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি মোটেও স্বস্তির খবর নয়। প্রতিবার নতুন ভাড়াটিয়া খোঁজা তাদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তারা এমন ভাড়াটিয়া খোঁজেন যারা অন্তত কয়েক বছর থিতু হবেন। পাপাউটসাকিস পরামর্শ দেন, "প্রথম দেখাতেই এমন ধারণা দেওয়া উচিত যে আপনি দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকতে চান এবং বাসাটিকে নিজের বাড়ির মতোই যত্ন করবেন।" পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আপনি পরে সিদ্ধান্ত বদলাতেই পারেন, কিন্তু শুরুতেই 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই'—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন অবস্থায় থাকা সাবেক সেনাদের জন্য নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে দেশটির ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ (ভিএ)। এ কর্মসূচির আওতায় খাবার, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, স্মার্টফোন, অস্থায়ী আবাসন এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে। ভিএ জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিভিন্ন পণ্য ও সেবা দেওয়ার জন্য এবং বাকি ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার যাতায়াত সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। গৃহহীন সাবেক সেনাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন সহায়তা কর্মসূচি ‘হাড-ভ্যাশ’-এ অংশ নেওয়া যোগ্য সাবেক সেনারাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। ভিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা দেওয়া শুরু হতে পারে। অন্যদিকে যাতায়াত সেবার জন্য চুক্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এসব পরিবহন সুবিধা চালু হবে। ভিএর সচিব ডগ কলিন্স বলেছেন, গৃহহীন সাবেক সেনাদের রাস্তায় থাকা থেকে বিরত রাখতে বিভাগটি বিভিন্ন উদ্যোগে অগ্রগতি করছে এবং নতুন কর্মসূচিটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সাবেক সেনারা খাবার, পোশাক, কম্বল, পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস পেতে পারেন। যারা রাস্তায় বা ঘরের বাইরে রাত কাটান, তাদের জন্য তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগের মতো সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে। আবাসনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সহায়তার সুযোগ। যোগ্য ব্যক্তিদের ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এমনকি আগের কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া বা বিলও নির্দিষ্ট শর্তে পরিশোধ করা হতে পারে, যদি এর মাধ্যমে ওই সাবেক সেনা আবাসন পেতে পারেন বা বর্তমান আবাসন ধরে রাখতে পারেন। এ ছাড়া নিরাপত্তা জামানত, ইউটিলিটি সংযোগের জামানত, বাসা বদলের খরচ এবং স্বল্পমেয়াদি জিনিসপত্র রাখার খরচও এই সহায়তার আওতায় আসতে পারে। সাধারণভাবে ভাড়া ও ইউটিলিটি সহায়তা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন বলে ভিএর চিকিৎসকরা মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে। অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। প্রয়োজন হলে হোটেল বা মোটেলে স্বল্পমেয়াদি থাকার খরচ কর্মসূচির অর্থ থেকে বহন করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাব, বিছানাপত্র, রান্নার সরঞ্জাম, ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে। যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতেও সহায়তা দেওয়া হবে। ভিএর চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে সাবেক সেনাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন এবং ফোনের সংযোগের খরচ দেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো তারা যেন চিকিৎসক, সরকারি সেবা প্রদানকারী, সম্ভাব্য বাড়ির মালিক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন। যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত সুবিধা। সরকারি পরিবহনের ভাউচার বা যাতায়াত সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া, বাসা খোঁজা, চাকরি খোঁজা, আদালত বা আইনি কাজে যাওয়া, জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের মতো কাজে সহায়তা দেওয়া হতে পারে। তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে সাবেক সেনাদের হাতে দেওয়া হবে না। ভিএর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে অথবা সংশ্লিষ্ট সেবার মূল্য সরাসরি পরিশোধ করবে। প্রধানত সমাজকর্মীসহ ভিএর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকর্মীরা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন। কর্মসূচির আওতায় আসার জন্য একজন সাবেক সেনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত গৃহহীনতার সংজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে। এর মধ্যে স্থায়ী ও পর্যাপ্ত রাত কাটানোর জায়গা না থাকা, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিংবা ঘুমানোর জন্য নির্ধারিত নয় এমন জায়গায় বসবাসের মতো পরিস্থিতি রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যারা শিগগিরই বাসস্থান হারাতে পারেন এবং বিকল্প থাকার জায়গা নেই, তারাও এই সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। পারিবারিক সহিংসতা বা অনুরূপ হুমকির কারণে অনিরাপদ আবাসনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রয়েছে। এ ছাড়া হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক সেনারাও নতুন সহায়তা পেতে পারেন। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (হাড) ভাড়ার ভাউচার দেয় এবং ভিএ আবাসন ধরে রাখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কেস ম্যানেজমেন্ট সেবা দেয়। স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষ ভাড়ার সহায়তা পরিচালনা করে এবং ভিএর কর্মীরা সাবেক সেনাদের বাসা খুঁজে পাওয়া ও তা ধরে রাখতে সহায়তা করেন। গৃহহীন সাবেক সেনাদের পরিস্থিতিতে গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ভিএর ২০২৫ সালের ‘পয়েন্ট-ইন-টাইম’ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ হাজার ৪৯৫ জন সাবেক সেনা গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন। ২০০৯ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর এটি সর্বনিম্ন সংখ্যা। ২০১০ সালের তুলনায় সংখ্যাটি ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ অর্থবছরে ভিএ ৫১ হাজার ৯৩৬ জন গৃহহীন সাবেক সেনাকে স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভিএর তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে স্থায়ী আবাসন পাওয়া এসব ব্যক্তির ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্থবছর শেষ হওয়ার সময়ও আবাসনে ছিলেন। তবে গৃহহীনতা কমলেও আবাসন ও জনবল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থার (জিএও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে কেস ম্যানেজারের ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পদ খালি ছিল। ২০২৪ অর্থবছরে ১২৯টি ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিতে কেস ম্যানেজারের অন্তত ২০ শতাংশ পদ শূন্য ছিল। জিএও আরও জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাড-ভ্যাশে পাঠানোর জন্য বিবেচিত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫টি ক্ষেত্রে সাবেক সেনাদের শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে পাঠানো হয়নি। এর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬টি ক্ষেত্রে কেন পাঠানো হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ নথিভুক্ত করা হয়নি। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের তথ্যের ঘাটতির কারণে কোথায় অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন এবং কতজন সাবেক সেনা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অর্থাৎ নতুন ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কর্মসূচিটি গৃহহীন সাবেক সেনাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি অতিরিক্ত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে। তবে এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর।
লেখক ও সাবেক ম্যাগাজিন কলামিস্ট ই. জিন ক্যারলকে মানহানির জন্য ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার রায় বাতিল করতে এবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আইনজীবীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দেওয়া বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন যথাযথভাবে বিবেচনা করেনি নিম্ন আদালত। গত ২৮ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য আবেদন করেন। সর্বোচ্চ আদালতের ডকেট অনুযায়ী, আবেদনটি ৩০ জুলাই নথিভুক্ত হয়েছে এবং ই. জিন ক্যারলের পক্ষের জবাব দেওয়ার সময়সীমা বর্তমানে ৩১ আগস্ট। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখনো মামলাটি শুনানির জন্য গ্রহণ করেনি এবং ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায়ও বাতিল করেনি। মামলাটির সূত্রপাত ই. জিন ক্যারলের অভিযোগ থেকে। সাবেক এল ম্যাগাজিন কলামিস্ট ক্যারল অভিযোগ করেন, ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের বার্গডর্ফ গুডম্যান ডিপার্টমেন্ট স্টোরের একটি ড্রেসিং রুমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ক্যারল মিথ্যা বলছেন বলে দাবি করেছেন। ২০১৯ সালে ক্যারল তার স্মৃতিকথায় অভিযোগটি প্রকাশ্যে আনার পর তখন প্রথম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট থাকা ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তা অস্বীকার করেন। ওই বক্তব্যের জেরেই ক্যারল তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল জুরি ক্যারলের পক্ষে ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু নিউইয়র্কভিত্তিক দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালত রায় বহাল রাখে। আদালত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তির বিষয়ে বলেছিল, মামলার যথাযথ পর্যায়ে সেই প্রতিরক্ষা না তোলায় তিনি তা ব্যবহারের সুযোগ হারিয়েছেন। চলতি বছরের ২৯ এপ্রিল পূর্ণাঙ্গ আপিল আদালতে পুনর্বিবেচনার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হয়। সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীরা সেই সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করছেন। তাদের বক্তব্য, দায়িত্বে থাকা একজন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অফিসিয়াল বক্তব্যের জন্য ক্ষতিপূরণের দায় আরোপের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া উচিত হয়নি। তারা চাইছেন সর্বোচ্চ আদালত মামলাটি গ্রহণ করে এই সাংবিধানিক প্রশ্নটির নিষ্পত্তি করুক। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আইনজীবীদের যুক্তি, একজন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সময় তার যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সরকারি দায়িত্বের অংশ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। সে কারণে ২০১৯ সালে দেওয়া বক্তব্যকে ব্যক্তিগত বক্তব্য না ধরে প্রেসিডেন্টের অফিসিয়াল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখার দাবি করছেন তারা। এই মামলায় ২০২৪ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তও আলোচনায় এসেছে। ওই রায়ে সর্বোচ্চ আদালত বলেছিল, প্রেসিডেন্টের সাংবিধানিক ক্ষমতার আওতায় নেওয়া কিছু সরকারি পদক্ষেপের ক্ষেত্রে সাবেক প্রেসিডেন্টরা ফৌজদারি মামলা থেকে ইমিউনিটি পেতে পারেন। তবে ই. জিন ক্যারলের মামলা ফৌজদারি নয় - এটি দেওয়ানি মামলা। ফলে সেই সিদ্ধান্ত এই মামলায় কতটা প্রযোজ্য, সেটিই এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন। এদিকে ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরেকটি ৫০ লাখ ডলারের মামলায় সর্বোচ্চ আদালত থেকে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত ধাক্কা এসেছে। গত জুনে সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আপিল শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। এরপর পুনর্বিবেচনার আবেদনও ১৭ আগস্ট প্রত্যাখ্যান করেছে আদালত। ফলে ২০২৩ সালের ওই জুরি রায় এখন চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। ওই পৃথক মামলায় জুরি সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যারলকে যৌন নিপীড়ন এবং পরে মানহানি করেছেন। তবে জুরি নিউইয়র্ক আইনের অধীনে ক্যারলের ধর্ষণের নির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত দেয়নি। মামলাটি মূলত ২০২২ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে হয়েছিল, যখন তিনি প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন না। দুটি মামলার মধ্যে তাই গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ৫০ লাখ ডলারের মামলাটি ২০২২ সালের বক্তব্য এবং যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্যদিকে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের সামনে থাকা ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের মামলাটি মূলত ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। আর এই পার্থক্যকেই প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির যুক্তিতে সামনে আনছেন তার আইনজীবীরা। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় বাতিল হয়নি এবং সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি শুনবেই, এমন সিদ্ধান্তও এখনো হয়নি। আদালত প্রথমে ঠিক করবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আবেদন গ্রহণ করে মামলাটির পূর্ণ শুনানি করবে কি না। বর্তমান ডকেট অনুযায়ী, ক্যারলের জবাব জমা দেওয়ার সময়সীমা ৩১ আগস্ট। ফলে ই. জিন ক্যারলকে ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের একটি মামলা শেষ হয়ে গেলেও সবচেয়ে বড় অঙ্কের মামলাটি এখনো ঝুলে রয়েছে। এবার নজর যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আদালতের দিকে - ৮ কোটি ৩৩ লাখ ডলারের রায় নিয়ে প্রেসিডেন্সিয়াল ইমিউনিটির প্রশ্নটি তারা শুনানির জন্য গ্রহণ করে কি না, সেটিই হবে এই আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
অস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে হালাল খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হচ্ছে বড় বাজার। একটি জাতীয় প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। ‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’-এ দেশটির ইসলামী অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, মুসলিমদের ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এখন আর ছোট বা বিশেষায়িত বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর অর্থনীতির একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অংশে পরিণত হচ্ছে। এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার ও তাদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা। প্রতিবেদনে বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি মুসলিমবান্ধব পর্যটন। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ফলে হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও মুসলিমবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন খাতে আরও বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ হালাল ধারণাটি শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন নতুন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইসলামী অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হালাল পণ্য রফতানি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে হালাল মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে। এই রফতানি বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে হালাল খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ভোক্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক হালাল বাজারও দেশটির কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি খাতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো অপেক্ষাকৃত ছোট। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছে। শরিয়াহসম্মত বাড়ি কেনার অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও কাঠামোগত পার্থক্য এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে আছে। প্রতিবেদনে ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও কার্যকর ও সমন্বিত হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় রফতানি সহায়তা। অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাবৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বাজারের বিকাশ, যেখানে ধর্মীয় চাহিদার সঙ্গে পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। ফলে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা এখন দেশটির মূলধারার ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হয়ে উঠছে। ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ব্যয় থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের হালাল রফতানি - পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতি আর ছোট কোনো বিশেষায়িত বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী কয়েক বছরে এটি দেশটির আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান এবং জাহাজের জীবনযাত্রার দুরবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন নিয়ে থাকা রণতরীটি মাসের পর মাস বন্দরে না ফিরেই মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন করছে। এ সময়ে খাবার ও পানির সংকট, পরিচ্ছন্নতা, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা এবং নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে তাদের পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বর্তমানে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন রয়েছে। চলতি মোতায়েনটি ইতোমধ্যে ২৫০ দিনের বেশি ছাড়িয়েছে, যা রণতরীটির জন্য আধুনিক সময়ের অন্যতম দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রায় পরিণত হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, এটি প্রায় ৩৮ সপ্তাহের সমান সময়। সাধারণত মার্কিন বিমানবাহী রণতরীগুলোকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর কোনো বন্দরে নেওয়া হয়। এতে নাবিকেরা বিশ্রামের সুযোগ পান, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও খাবার সংগ্রহ করা যায় এবং জাহাজের রক্ষণাবেক্ষণও করা সম্ভব হয়। কিন্তু আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান মোতায়েনে এমন নিয়মিত বন্দর বিরতি খুবই সীমিত ছিল। জাহাজের নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে নাবিকদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক চাপ বাড়ছে। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সমস্যা দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। পাশাপাশি ডাকব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং দীর্ঘ কর্মঘণ্টার কারণে নাবিকদের স্বাভাবিক বিশ্রামের সুযোগও কমে গেছে বলে দাবি করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রী নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন নাবিকের পরিবার জানিয়েছে, জাহাজে সাবান, টুথপেস্ট ও ডিওডোরেন্টের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। কিছু গোসলখানা ও শৌচাগারের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়েও অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন তারা। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি বিষয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। খাবারের মান নিয়েও উদ্বেগের কথা সামনে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ও বৈচিত্র্যময় খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নাবিক। সরবরাহব্যবস্থার ওপর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার চাপের কারণে তাজা খাবারের প্রাপ্যতাও সীমিত হয়ে পড়েছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান মোতায়েনের সময় কয়েকজন নাবিক জাহাজের বাইরে পড়ে যাওয়ার বা ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে তাদের পরিবার জানিয়েছে। ৩ আগস্ট একজন নাবিক পানিতে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে নৌবাহিনী বর্তমান মোতায়েনে আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহানির ঘটনার নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করেনি। মার্কিন নৌবাহিনী অবশ্য জাহাজে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সহায়তা থাকার কথা জানিয়েছে। নাবিকদের জন্য পরামর্শদাতা, ধর্মীয় কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং অন্যান্য সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, নেতৃত্ব নাবিকদের মানসিক প্রস্তুতি ও সুস্থতার বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছে। এদিকে নাবিকদের পরিবারের অভিযোগ নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ও নৌবাহিনীর বক্তব্যও এসেছে। কর্মকর্তারা জাহাজের পরিস্থিতিকে সংবাদমাধ্যমে যেভাবে তুলে ধরা হয়েছে, তার কিছু অংশকে অতিরঞ্জিত বা ভুলভাবে উপস্থাপিত বলে দাবি করেছেন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ১৪ আগস্ট আব্রাহাম লিংকনের দীর্ঘ মোতায়েন নিয়ে উদ্বেগকে খারিজ করে বলেন, রণতরীটির বর্তমান মিশন নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগ নেই। তবে নাবিকদের পরিবারের সদস্যরা এসব বক্তব্যে সন্তুষ্ট নন। তাদের অভিযোগ, যারা জাহাজে রয়েছেন তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। কয়েকটি পরিবার জানিয়েছে, দীর্ঘ মোতায়েনের কারণে তাদের স্বজনদের শারীরিক ও মানসিকভাবে চাপে পড়তে হচ্ছে। দীর্ঘ মোতায়েনের প্রভাব শুধু নাবিকদের ওপরই নয়, জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহব্যবস্থার ওপরও পড়ছে। সমুদ্রে থাকা অবস্থায় পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণের সুযোগ সীমিত থাকে। পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের কাছাকাছি অবস্থান করায় নিয়মিত বন্দরে গিয়ে খাবার, যন্ত্রাংশ ও অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পরিবর্তে ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হচ্ছে। নতুন রণতরীটি আব্রাহাম লিংকনের দায়িত্বের কিছু অংশ গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে। এর মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে সমুদ্রে থাকা আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের দেশে ফেরার বা বিশ্রামের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন রণতরী পাঠানোর সিদ্ধান্তকে নৌবাহিনীর স্বাভাবিক ঘূর্ণায়মান মোতায়েনের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, জর্জ ওয়াশিংটনকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর পরিকল্পনা আগে থেকেই ছিল। একই সময়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি বিমানবাহী রণতরীকে সক্রিয় রাখার কারণে মার্কিন নৌবাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন। ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ঘটনা তাই শুধু একটি রণতরীর দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার বিষয় নয়। এটি দীর্ঘমেয়াদি সামরিক মোতায়েনে নাবিকদের বিশ্রাম, খাবার, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কতটা চাপ পড়ে, সেই প্রশ্নও সামনে এনেছে। পরিবারের অভিযোগ ও সরকারি বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য থাকায় জাহাজটির প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে আরও স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের দাবি উঠেছে।
নিউ জার্সির মরিস কাউন্টির লেক হোপাটকংয়ে পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা গেছেন ৪১ বছর বয়সী কৌশিক শর্মা। তিনি এডিসনের বাসিন্দা ছিলেন। মরিস কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয় তার পরিচয় নিশ্চিত করেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহান্তে লেক হোপাটকংয়ে প্যাডেলবোর্ডিং করার সময় নিখোঁজ হন কৌশিক। স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ২টার দিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা পানিতে একটি পরিত্যক্ত প্যাডেলবোর্ড ভাসতে দেখে বিষয়টি সৈকতের লাইফগার্ডকে জানান। এরপর একাধিক উদ্ধারকারী সংস্থা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে কৌশিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিনি এমন একটি এলাকায় প্যাডেলবোর্ডিং করছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যেখানে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধান ছিল না। কৌশিকের মৃত্যুর পর তার পরিবার ও বন্ধুদের পক্ষ থেকে একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাকে এডিসনের বাসিন্দা, দুই সন্তানের বাবা এবং পরিবারের সঙ্গে পিকনিকে থাকা অবস্থায় আকস্মিকভাবে মারা যাওয়া একজন প্রিয়জন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগটির আয়োজক রাকেশ আহিরওয়ার লিখেছেন, কৌশিকের আকস্মিক মৃত্যু তার স্ত্রী, দুই সন্তান, বন্ধু ও প্রতিবেশীদের জন্য গভীর শোকের কারণ হয়েছে। তার বর্ণনায়, কৌশিক এডিসন, বিএপিএস, এডিসন স্কুল পিটিএ বোর্ড ও গুজরাটি সম্প্রদায়ের মধ্যে একজন সহানুভূতিশীল ও সহযোগিতাপ্রবণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে, যিনি প্রয়োজনের সময় অন্যদের পাশে দাঁড়াতেন এবং সাহায্যের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকতেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও পরিচিতদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এদিকে কৌশিকের মৃত্যুর ঘটনায় মরিস কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনারের কার্যালয় ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর ঘটনা এখনো তদন্তাধীন। তবে প্রাথমিকভাবে এতে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা সন্দেহ করা হচ্ছে না। কৌশিকের মৃত্যুর মাত্র এক দিন আগেও মরিস কাউন্টির আরেকটি হ্রদে প্যাডেলবোর্ডিং করতে গিয়ে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছিল। ১৫ আগস্ট শনিবার টিলকন লেকে ২৩ বছর বয়সী জোনাথন গ্রেসো প্যাডেলবোর্ডিংয়ের সময় পানিতে ডুবে মারা যান বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। লেক হোপাটকং নিউ জার্সির অন্যতম বড় মিঠাপানির হ্রদ এবং গ্রীষ্মকালে এখানে নৌভ্রমণ, সাঁতার ও প্যাডেলবোর্ডিংসহ বিভিন্ন জলক্রীড়া জনপ্রিয়। তবে লাইফগার্ডের তত্ত্বাবধানের বাইরে পানিতে নামা এবং জলক্রীড়ার সময় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কৌশিক কীভাবে পানিতে ডুবে গেলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের ফলাফল এবং তদন্তের পর তার মৃত্যুর বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হতে পারে।
রাজনীতি
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreঅস্ট্রেলিয়ায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে ইসলামী অর্থনীতি। দেশটির মুসলিম জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদাকে কেন্দ্র করে হালাল খাদ্য, পর্যটন, পোশাক, প্রসাধনী, ওষুধ, গণমাধ্যম ও আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন খাতে তৈরি হচ্ছে বড় বাজার। একটি জাতীয় প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ ব্যয় প্রায় ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। ‘দ্য স্টেট অ্যান্ড ফিউচার অব দ্য অস্ট্রেলিয়ান ইসলামিক ইকোনমি রিপোর্ট’-এ দেশটির ইসলামী অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, মুসলিমদের ঘিরে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে এখন আর ছোট বা বিশেষায়িত বাজার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তর অর্থনীতির একটি পরিমাপযোগ্য ও ক্রমবর্ধমান অংশে পরিণত হচ্ছে। এই বাজার সম্প্রসারণের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম জনগোষ্ঠীর আকার ও তাদের ক্রমবর্ধমান ক্রয়ক্ষমতা। প্রতিবেদনে বর্তমানে দেশটিতে ১০ লাখের বেশি মুসলিম বসবাসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই জনগোষ্ঠীর খাদ্যাভ্যাস, ভ্রমণ, পোশাক, আর্থিক সেবা ও জীবনযাপনের বিভিন্ন চাহিদাকে কেন্দ্র করে নতুন ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোর একটি মুসলিমবান্ধব পর্যটন। প্রতিবেদনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৮ সালের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম পর্যটকদের ব্যয় ১৭০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারে পৌঁছাতে পারে। এই খাতে বার্ষিক যৌগিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে। ফলে হালাল খাবার, নামাজের সুবিধা ও মুসলিমবান্ধব আবাসন নিশ্চিত করতে পারলে পর্যটন খাতে আরও বড় বাজার তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। হালাল প্রসাধনী ও ওষুধের বাজারেও উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণের কথা উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। গত পাঁচ বছরে অস্ট্রেলিয়ার হালাল প্রসাধনী খাতে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। একই সময়ে হালাল ওষুধের বাজার প্রায় ৭৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ হালাল ধারণাটি শুধু খাদ্যপণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ব্যক্তিগত পরিচর্যা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ নতুন নতুন খাতে ছড়িয়ে পড়ছে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য ইসলামী অর্থনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হালাল পণ্য রফতানি। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, দেশটি বছরে প্রায় ১৬ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের হালাল পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করে। এর প্রায় ৯৭ শতাংশই খাদ্যপণ্য। বিশেষ করে হালাল মাংস রফতানিতে অস্ট্রেলিয়া দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হিসেবে অবস্থান করছে। এই রফতানি বাজার অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন মুসলিমপ্রধান দেশে হালাল খাদ্যের চাহিদা ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়াকে বিশ্বের ১২তম বৃহত্তম হালাল পণ্য সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্থানীয় মুসলিম ভোক্তার পাশাপাশি বৈশ্বিক হালাল বাজারও দেশটির কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রফতানি খাতের সামনে বড় সুযোগ তৈরি করছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থায়ন খাত এখনো অপেক্ষাকৃত ছোট। প্রতিবেদনে এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্পদ ও তহবিল থাকার কথা বলা হয়েছে। শরিয়াহসম্মত বাড়ি কেনার অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও অন্যান্য আর্থিক পণ্যের চাহিদা থাকলেও প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে নিয়ন্ত্রক ও কাঠামোগত পার্থক্য এই খাতের দ্রুত সম্প্রসারণে বাধা হয়ে আছে। প্রতিবেদনে ইসলামী অর্থনীতির সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগাতে কয়েকটি ক্ষেত্রে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আরও কার্যকর ও সমন্বিত হালাল সনদব্যবস্থা, ইসলামী আর্থিক প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতাভিত্তিক নিয়ন্ত্রক কাঠামো এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক হালাল বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় রফতানি সহায়তা। অস্ট্রেলিয়ার ইসলামী অর্থনীতির এই সম্প্রসারণ শুধু মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাবৃদ্ধির গল্প নয়। বরং এটি এমন একটি বাজারের বিকাশ, যেখানে ধর্মীয় চাহিদার সঙ্গে পর্যটন, কৃষি, খাদ্য, অর্থায়ন, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। ফলে মুসলিম ভোক্তাদের জন্য তৈরি পণ্য ও সেবা এখন দেশটির মূলধারার ব্যবসার কাছেও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সুযোগ হয়ে উঠছে। ৯ বিলিয়ন অস্ট্রেলীয় ডলারের সম্ভাব্য অভ্যন্তরীণ ব্যয় থেকে ১৬ বিলিয়ন ডলারের হালাল রফতানি - পরিসংখ্যানগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, অস্ট্রেলিয়ায় ইসলামী অর্থনীতি আর ছোট কোনো বিশেষায়িত বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। প্রয়োজনীয় নীতিগত ও নিয়ন্ত্রক সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী কয়েক বছরে এটি দেশটির আরও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হতে পারে।
নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন। স্কুলে ঢুকতেই শিক্ষকদের সামনে অদ্ভুত এক দৃশ্য - একজনের দিকে তাকালে ঠিক একই চেহারার আরেকজন! একজন-দুজন নয়, একই এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে এবার একসঙ্গে স্কুলজীবন শুরু করছে ৯ জোড়া যমজ শিশু। স্কটল্যান্ডের ইনভারক্লাইডে এমন ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মঙ্গলবার ১৮ আগস্ট ইনভারক্লাইডের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাইমারি ওয়ানে যাত্রা শুরু করার কথা এই ১৮ শিশুর। নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ১৪ আগস্ট গ্রিনকের আরডগোয়ান প্রাইমারি স্কুলে তাদের একত্রিত করা হয়। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের আয়োজনে সেখানে নতুন ইউনিফর্ম পরে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ায় যমজ শিশুরা। তবে ইনভারক্লাইডে এত যমজ শিশুর স্কুলে যাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। যমজের সংখ্যার কারণে এলাকাটি বহুদিন ধরেই মজার ছলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামে পরিচিত। ২০১৩ সাল থেকে এখানকার স্কুলগুলোতে মোট ১৭৬ জোড়া যমজ ভর্তি হয়েছে - অর্থাৎ গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১২ জোড়া। এবারের ৯ জোড়া যমজও একই একটি স্কুলে ভর্তি হচ্ছে না। ইনভারক্লাইডের ছয়টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভাগ হয়ে তারা স্কুলজীবন শুরু করবে। এর মধ্যে আরডগোয়ান প্রাইমারি, সেন্ট মাইকেলস প্রাইমারি এবং গুরক প্রাইমারিতে দুই জোড়া করে যমজ ভর্তি হচ্ছে। বাকি তিন জোড়া যাবে লেডি অ্যালিস, সেন্ট জোসেফস এবং সেন্ট জনস প্রাইমারি স্কুলে। ফলে তিনটি স্কুলের শিক্ষকদের জন্য প্রথম দিনটা একটু বেশিই মজার হতে পারে - একই ক্লাস বা স্কুলে একসঙ্গে দুই জোড়া যমজকে চিনে রাখতে হবে তাদের। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি এখন আর বিস্ময়ের নয়। বরং নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে যমজ শিশুদের একত্র করে ছবি তোলা গত ১৩ বছরে ইনভারক্লাইডের একটি বার্ষিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে। ইনভারক্লাইড কাউন্সিলের শিক্ষা ও কমিউনিটিবিষয়ক কনভেনার কাউন্সিলর জিম ক্লোকার্টি বলেছেন, নতুন শিক্ষাবর্ষ ঘনিয়ে আসার অন্যতম পরিচিত সংকেত হয়ে উঠেছে স্কুলে ভর্তি হতে যাওয়া যমজ শিশুদের আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো। তার ভাষায়, এই আয়োজন শিশুদের স্কুলে যাওয়ার উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের জন্যও প্রথম দিনের আগে এক ধরনের প্রস্তুতি। এবার ৯ জোড়া যমজ নিয়ে আলোচনা হলেও ইনভারক্লাইডের রেকর্ড আরও চমকপ্রদ। ২০১৫ সালে এক শিক্ষাবর্ষেই এখানকার স্কুলে প্রাইমারি ওয়ানে ভর্তি হয়েছিল রেকর্ড ১৯ জোড়া যমজ। ২০২৩ সালেও সংখ্যাটি ছিল ১৭ জোড়া - যা ছিল ওই সময় পর্যন্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য ইনভারক্লাইডে যমজ শিশুর হার তুলনামূলক বেশি হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ এই প্রতিবেদনে উল্লেখ করেনি। ফলে ‘টুইনভারক্লাইড’ নামটি কোনো আনুষ্ঠানিক ভৌগোলিক নাম নয় - দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক যমজ শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার কারণেই এলাকাটি এই মজার ডাকনাম পেয়েছে। নতুন ইউনিফর্ম, নতুন ক্লাস আর নতুন বন্ধুদের সঙ্গে মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে ১৮ শিশুর নতুন অধ্যায়। তবে অন্য শিক্ষার্থীদের তুলনায় তাদের প্রথম দিনটির একটি বাড়তি আকর্ষণ থাকছেই - পাশে থাকবে দেখতে প্রায় একই রকম নিজের ভাই অথবা বোন। আর শিক্ষকদের জন্য চ্যালেঞ্জটা সম্ভবত অন্য জায়গায় - নতুন শিক্ষার্থীদের নাম মনে রাখার পাশাপাশি এবার ঠিকঠাক চিনে রাখতে হবে ৯ জোড়া যমজকেও।
ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তাপ এবার আরও গভীরে পৌঁছেছে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোয়। রাতভর মস্কো ও আশপাশের অঞ্চল লক্ষ্য করে ৬২০টি ড্রোন পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, এটি সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলা। একই সময়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহারের অভিযোগ তুলে যুক্তরাজ্যকে ‘পরিণতি ভোগ করতে হবে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মস্কো। মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত চলা হামলা নিয়ে মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবিয়ানিন জানান, রাজধানী ও আশপাশের এলাকা লক্ষ্য করে আসা ড্রোনগুলোর মধ্যে অন্তত ১৮০টি ধ্বংস করেছে রুশ আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে ৬২০ ড্রোন পাঠানোর এই সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। কয়েকটি ভবন ও স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির খবরও পাওয়া গেছে। রাশিয়ার রাজধানীর দিকে এত বিপুলসংখ্যক ড্রোন পাঠানোর ঘটনা ইউক্রেন যুদ্ধের পরিবর্তিত চিত্র সামনে আনছে। সম্মুখযুদ্ধের পাশাপাশি দুই দেশই এখন দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে প্রতিপক্ষের ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন বিশেষভাবে রাশিয়ার সামরিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং যুদ্ধের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। তবে এবারের ঘটনাপ্রবাহ শুধু রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। নতুন করে উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্যও। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের দুটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি ড্রোন ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলার জন্য ব্যবহার করছে। এসব হামলায় রাশিয়ার সামরিক ও শিল্প স্থাপনাসহ তেল শোধনাগার এবং বিভিন্ন লজিস্টিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এরপরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লন্ডনে রুশ দূতাবাস। রাশিয়ার অভিযোগ, ইউক্রেনকে এ ধরনের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য শুধু কিয়েভকে সহায়তা করছে না - বরং রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার সহযোগীতে পরিণত হচ্ছে। মস্কোর হুঁশিয়ারি, সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটিকে তার জন্য তত বড় মূল্য দিতে হতে পারে। তবে রাশিয়ার এসব অভিযোগ ও হুঁশিয়ারির পরও অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ব্রিটেন। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। অর্থাৎ মস্কোর সতর্কবার্তার পরও কিয়েভকে সামরিক সহায়তা থেকে সরে আসার কোনো ঘোষণা দেয়নি লন্ডন। ফলে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে রাশিয়ার অভিযোগ এখন ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে মস্কো ও লন্ডনের পুরোনো উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেন যখন রাশিয়ার গভীরে হামলার সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তখন ইউক্রেনের জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামোর ওপরও আক্রমণ জোরদার করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান নাফটোগাজ জানিয়েছে, মাত্র এক সপ্তাহে তাদের স্থাপনাগুলোতে ১৩টি রুশ হামলা হয়েছে। ইউক্রেনের অভিযোগ, শীতের আগে দেশটির জ্বালানি ব্যবস্থা দুর্বল করে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক রুশ হামলায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির নিজ শহর ক্রিভি রিহের একটি বড় ইস্পাত কারখানাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে দুইজন নিহত এবং অন্তত ১৪ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পাল্টাপাল্টি এসব হামলা দেখাচ্ছে, যুদ্ধ এখন আর শুধু সম্মুখসারিতে সীমাবদ্ধ নেই - উভয় পক্ষই প্রতিপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও ভূখণ্ডের গভীরে আঘাত হানার চেষ্টা করছে। আর ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহারের অভিযোগ সেই উত্তেজনাকে আরও বড় আন্তর্জাতিক মাত্রা দিয়েছে। এখন প্রশ্ন শুধু ইউক্রেন রাশিয়ার কতটা গভীরে আঘাত করতে পারছে, সেটি নয় - পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরে কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে এবং এর জবাবে মস্কো কতদূর যেতে প্রস্তুত, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ৬২০ ড্রোনের বিশাল হামলার পর তাই নজর এখন মস্কোর পরবর্তী পদক্ষেপে। বিশেষ করে ব্রিটেনকে দেওয়া ‘পরিণতি ভোগের’ হুঁশিয়ারি শুধু কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি রাশিয়া সেটিকে বাস্তব কোনো পদক্ষেপে রূপ দেয় - সেটিই এখন লন্ডন-মস্কোর ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার পরবর্তী বড় প্রশ্ন।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান একদিন আবার ভারতের সঙ্গে যুক্ত হবে বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের আলোচিত যোগগুরু রামদেব। এমন পরিস্থিতি দেখতে ভারতীয়দের ‘আরও কিছুটা ধৈর্য’ ধরার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি। ভারতের ছত্তিশগড়ের রায়পুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন রামদেব। সোমবার রায়পুরের স্বামী বিবেকানন্দ বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান প্রসঙ্গ উঠে আসে। এ সময় পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর ‘নির্যাতন ও অবিচার’ হয়েছে বলে অভিযোগ করেন রামদেব। রামদেবের ভাষ্য, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হিন্দুদের সঙ্গে যে ধরনের ‘অত্যাচার ও অবিচার’ হয়েছে, তা মানবসভ্যতার সবচেয়ে বড় নিষ্ঠুরতার ঘটনাগুলোর মধ্যে পড়ে। তবে নিজের এই দাবির পক্ষে ওই সময় নির্দিষ্ট কোনো ঘটনা বা পরিসংখ্যান তুলে ধরেননি তিনি। এরপরই তিনটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করেন রামদেব। তিনি বলেন, “এমন দিনও আসবে, যখন পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান আবার ভারতের সঙ্গে একীভূত হবে। শুধু একটু ধৈর্য ধরুন।” রামদেবের এই বক্তব্য তার নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শিক অভিমত। বাংলাদেশ, পাকিস্তান বা আফগানিস্তানকে ভারতের সঙ্গে যুক্ত করার কোনো স্বীকৃত সরকারি পরিকল্পনা বা প্রক্রিয়ার কথা তিনি উল্লেখ করেননি। ভারত সরকারের আনুষ্ঠানিক নীতিগত ঘোষণা হিসেবেও তার বক্তব্যকে দেখার সুযোগ নেই। রামদেবের মন্তব্যটি এসেছে এমন সময়ে, যখন দক্ষিণ এশিয়ায় জাতীয় পরিচয়, সীমান্ত, ধর্ম ও আঞ্চলিক রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রায়ই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে। ফলে বাংলাদেশের মতো একটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে ভবিষ্যতে ভারতের সঙ্গে একীভূত হওয়ার কথা বলা স্বাভাবিকভাবেই একটি স্পর্শকাতর বক্তব্য। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ধর্মান্তর নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেন রামদেব। ছত্তিশগড়ে ধর্মান্তর ঠেকাতে আনা নতুন আইনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতে হিন্দু, মুসলিম কিংবা খ্রিষ্টান - কোনো ধর্মই হুমকির মুখে নেই। তার দাবি, বরং হুমকির মুখে রয়েছে ভারতের সম্মান ও মর্যাদা। ছত্তিশগড়ের বিধানসভা চলতি বছরের মার্চে ধর্মান্তরবিরোধী একটি কঠোর বিল পাস করে। এতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভন, প্রতারণা, ভুল তথ্য বা অন্যান্য বেআইনি উপায়ে ধর্মান্তরের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ‘গণধর্মান্তরের’ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের ব্যবস্থাও রয়েছে। বিরোধী কংগ্রেস বিলটি আরও পর্যালোচনার জন্য সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর দাবি জানিয়েছিল এবং ভোটের সময় ওয়াকআউট করে। সনাতন ধর্ম প্রসঙ্গেও রামদেব বেশ কিছু মন্তব্য করেন। তার দাবি, সনাতন ধর্মে এমন কোনো ঘাটতি নেই যার কারণে কাউকে ইসলাম বা খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করতে হবে। অতীতে বলপ্রয়োগ, প্রলোভনসহ বিভিন্ন উপায়ে হিন্দুদের ধর্মান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব বক্তব্য রামদেবের নিজস্ব দাবি; প্রতিবেদনে সেগুলোর পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়েও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রামদেব। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যেক নাগরিকের কথা বলা এবং প্রতিবাদ করার অধিকার রয়েছে। তবে সেই স্বাধীনতার ব্যবহার গণতান্ত্রিক, সাংবিধানিক, নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত। দেশের ক্ষতি হয় এমনভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যবহার করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ ভারত নিয়ে নিজের উচ্চাকাঙ্ক্ষার কথাও জানান এই যোগগুরু। রামদেব বলেন, তিনি ভারতকে বিশ্বের সেরা গণতন্ত্র এবং ভারতীয়দের বিশ্বের সেরা নাগরিক হিসেবে দেখতে চান। ভারতের অর্থনীতিকে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতিতে পরিণত করার পাশাপাশি রুপির মূল্য একদিন মার্কিন ডলার ও ব্রিটিশ পাউন্ডের সমপর্যায়ে পৌঁছাবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি। এমনকি ভারতীয় পাসপোর্ট এত শক্তিশালী হওয়া উচিত, যাতে ভারতীয় নাগরিকদের বিশ্বের কোনো দেশে যেতে ভিসার প্রয়োজন না হয় বলেও মন্তব্য করেন রামদেব। যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়াসহ বিশ্বের প্রতিটি দেশে ভারত যেন সমান মর্যাদা ও সম্মান পায়, সেটিও তার প্রত্যাশা। তবে তার বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান নিয়ে করা মন্তব্যটি। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারত ভাগের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়। বর্তমান বাংলাদেশ তখন পাকিস্তানের অংশ ছিল এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তান ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে ১৯৪৭ সালে আলাদা হয়ে যাওয়া কোনো রাষ্ট্র নয়; এর স্বাধীন রাষ্ট্রীয় ইতিহাস আরও পুরোনো। ফলে তিন দেশকে একই ঐতিহাসিক কাঠামোয় ‘আবার ভারতের অংশ’ হওয়ার দাবি ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিকভাবে সরলীকৃত। এ কারণে রামদেবের বক্তব্যকে কোনো আসন্ন সীমান্ত পরিবর্তন বা ভারত সরকারের ঘোষিত নীতি হিসেবে নয়, বরং তার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক-আদর্শিক বক্তব্য হিসেবেই দেখা প্রয়োজন। তবে দক্ষিণ এশিয়ার তিনটি স্বাধীন রাষ্ট্রকে নিয়ে এমন মন্তব্য করায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ও অন্য দুই দেশের সরকারের পক্ষ থেকে রামদেবের সর্বশেষ এই বক্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর আক্রান্ত ২ হাজার ৫৬৬
তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা
তুরস্কে ‘ডিসকাউন্টে’ বাট লিফট সার্জারি, অপারেশনের পরই ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যু
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে আদালতে মেটা
সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
২৬ আগস্ট কানাডায় ২ হাজার ৯৭০ স্টাডি পারমিটের নতুন কোটা, সুযোগ ৩৩ দেশের ফ্রেঞ্চভাষীদের
কাজের অনুমতি দাবিতে ক্যালগেরিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ১২ জনকে নিয়ে নতুন অভিবাসন শঙ্কা
ফেডারেল সংস্কার প্রস্তাবে চাপে ইয়েলসহ কানেকটিকাটের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো
তীব্র গরমে হাফপ্যান্ট পরা নিষেধ, অভিনব প্রতিবাদে স্কার্ট পরেই স্কুলে গেল ছাত্ররা
ভিসার মেয়াদ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরতেই হবে: আলবার্টার প্রিমিয়ার
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
হামাসের সঙ্গে বৈঠকের পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে বসছেন ট্রাম্পের জামাতা, ফিলিস্তিনে শান্তি ফেরাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
কেন্টাকির পার্কে গুলিতে কিশোর নিহত, আহত ৪; গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ
গার্লফ্রেন্ডের ৩ বছরের কন্যাশিশুকে নির্যাতন হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন, সাজা শুরুর এক মাসেই কারাগারে মৃত্যু
ক্যান্সারের অভিযোগে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণে রাজি জনসন অ্যান্ড জনসন
মেয়ের বিছানার নিচে লুকিয়ে থাকা যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা
গাজীপুরে র্যাবের অভিযানে পিকআপ ভর্তি বিদেশি মদ উদ্ধার: চালকসহ গ্রেফতার ২
মেয়েদের পড়াতে প্রতিদিন ১২ কিলোমিটার পথ, স্কুলের বাইরে ৪ ঘণ্টা অপেক্ষা আফগান বাবার
ছয়জনকে ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচিয়ে শেষবার আর ফিরতে পারলেন না ১৮ বছরের জিয়াদ মোহাম্মদ
গাজার ভয়াবহতা ভুলতে না পেরে আত্মহ ত্যা করলেন ২৪ বছর বয়সী ইসরায়েলি সেনা
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পথে জোয়ারের কবলে পড়া ১৪০ অভিবাসীকে উদ্ধার করল ফ্রান্স