যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের এক মা ছেলের জন্য ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে গিয়ে ভুলবশত প্রায় ৮ হাজার ১০০ ডলারের একটি পার্কিং পাস কিনে ফেলেছেন। ভুক্তভোগী এলিজাবেথ সাইটা মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউইয়র্ককে জানান, তিনি অনলাইনে টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম স্টাবহাবের মাধ্যমে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচের টিকিট কেনেন। দুইটি আসনের জন্য তিনি ৭৭২ ডলার এবং অতিরিক্ত বিমা খরচ পরিশোধ করেন। কিন্তু কেনাকাটা শেষ করার পরই তিনি দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা করে ৮ হাজার ১০০ ডলার কেটে নেওয়া হয়েছে। পরে জানা যায়, তিনি ভুল করে একটি পার্কিং পাস কিনে ফেলেছিলেন, যার দাম ছিল কয়েক হাজার ডলার। তিনি জানান, ভুল বুঝতে পারার “কয়েক সেকেন্ড বা সর্বোচ্চ এক মিনিটের মধ্যে” তিনি স্টাবহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ ফেরতের আবেদন করেন। শুরুতে কোম্পানিটি তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও পরে গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো টাকা ফেরত দেয়। স্টাবহাবের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, নির্দিষ্ট গ্রাহকের বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে না পারলেও তারা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয়েছে মেক্সিকো সিটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসগুলোতে ১১টি অঙ্গরাজ্যের ৭০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে টিকিটের উচ্চমূল্য ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অংশ এখনো বিশ্বকাপ নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলের এক ব্যক্তি মেডিকেড জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে এবং কারাদণ্ড ভোগ করতে আদেশ পেয়েছেন। অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী অ্যাভেরিল জনসন। তিনি টাকার এলাকায় তার একটি ল্যাবের মাধ্যমে জিনগত পরীক্ষার নামে ভুয়া দাবি দাখিল করে সরকারি মেডিকেড কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, জনসন তার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হেলথকেয়ার সেন্টার এলএলসি ব্যবহার করে মিথ্যা রোগীর নথি তৈরি করেন এবং দুই চিকিৎসকের পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে ভুয়া পরীক্ষার আদেশ দেখান। এসব পরীক্ষার জন্য মেডিকেড প্রতি দাবি হিসেবে প্রায় ১,৯৮৮ ডলার ৬৯ সেন্ট করে পরিশোধ করত। তদন্তে জানা যায়, কোনো রোগীই এই পরীক্ষার বিষয়ে জানতেন না। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে যখন প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী নার্স একটি হটলাইনে অভিযোগ জানান। এরপর জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ বিষয়টি তদন্তে নেয় এবং পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জালিয়াতির প্রমাণ পায়। ডেকাল্ব কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক গ্রেগরি অ্যাডামস মঙ্গলবার দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। রায়ে জনসনকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়, যার মধ্যে এক বছর কারাগারে থাকতে হবে এবং বাকি অংশ শর্তসাপেক্ষে। পাশাপাশি তাকে ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। জর্জিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস জানিয়েছে, এটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দমনে চলমান অভিযানের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের আরেকটি জালিয়াতি মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার বলেন, জিনগত পরীক্ষার নামে এ ধরনের প্রতারণা এখন দেশজুড়ে বাড়ছে এবং করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তার ভাষায়, “যারা করদাতাদের টাকা চুরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের মিডল্যান্ড শহরে এক ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সকালে ঘটা এই হামলায় অন্তত একজন নিহত এবং আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন শহরের মেয়র লরি ব্লং। মেয়রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নৃশংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১১ জন হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে হামলাকারীকে একটি ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে তবে পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি। মিডল্যান্ড পুলিশ প্রধান গ্রেগ স্নো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালের দিকে শহরের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার একটি ভবন থেকে আকস্মিক গুলির শব্দ শুনতে পান কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তারা। এর পরপরই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে পুরো এলাকাটি সিলগালা করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। হামলাকারীকে বাগে আনতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে ভারী সাঁজোয়া যান (আর্মর্ড ইউনিট) মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে পার্শ্ববর্তী অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও এই বিশেষ অভিযানে অংশ নিয়েছে। বন্দুকধারীর সঙ্গে পুলিশের এখনো এক টানা অচলাবস্থা চলছে বলে জানা গেছে। এদিকে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক জরুরি বার্তায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভিনিউ এবং ওয়াল স্ট্রিটের আশেপাশের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিডল্যান্ড সিটি কাউন্সিলের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জনসাধারণকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই এলাকাটি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলার জোরালো অনুরোধ করা হয়েছে। প্রথম উদ্ধারকারী দল (ফার্স্ট রেসপন্ডারস) এবং সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পুরো এলাকা জুড়ে সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।
স্পেন সফরের শেষ দিনে অভিবাসন ও শরণার্থী ইস্যুতে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন পোপ লিও। তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই এক অর্থে অভিবাসী,” এবং মানব পরিবার হিসেবে শরণার্থীদের আরও মানবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। শুক্রবার স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ টেনেরিফে পৌঁছে একটি সাবেক সামরিক ব্যারাকে স্থাপিত অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে যান পোপ লিও। সেখানে তিনি শত শত অভিবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। পোপ বলেন, আজকের বিদেশি ব্যক্তি আগামী দিনে আমাদেরই প্রতিবেশী ও সহযাত্রী হতে পারেন। তাই অভিবাসীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক হওয়া জরুরি। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপে অভিবাসনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আটলান্টিক রুট দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতি বছর হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। পোপ তার বক্তব্যে বলেন, অভিবাসীরা শুধু সীমান্ত পার হন না, বরং অনেক সময় নতুন দেশে এসে “নীরব বিপর্যয়ের” মুখে পড়েন। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তা না পেয়ে তারা আবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি নিয়েও পরোক্ষ সমালোচনা করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই নীতিকে কঠোর ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতামূলক বলে সমালোচনা করেছে। পোপ লিও বলেন, মানব বিবেক এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ কখনোই সমুদ্রে প্রাণহানির ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। তার মতে, প্রতিটি প্রাণহানি মানবতার ব্যর্থতা। এ সময় তিনি মানবপাচারকারী ও দালালদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেয়, তাদের “ঈশ্বরের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।” অভিবাসীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নাইজেরিয়ার বুসো দিয়ুফ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার খোঁজে যাত্রা সহজ ছিল না এবং অনেকেই ভয়, ক্ষুধা ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি সমাজের কাছে ন্যূনতম সম্মান ও মানবিক আচরণের দাবি জানান, যাতে অভিবাসীদের শুধু সংখ্যা হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পোপ লিওর এই সফর ও বক্তব্য ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে একটি প্রতারক চক্র। ভুয়া টিকিট বিক্রি, জাল ভ্রমণ প্যাকেজ, ফিশিং ই-মেইল, নকল পণ্য বিক্রি এবং ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং সেবার মাধ্যমে অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব কনজ্যুমার প্রোটেকশন জানায়, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে প্রতারণার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। সংস্থাটির মতে, বড় আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরগুলোতে সীমিত টিকিট, উচ্চ চাহিদা এবং আবেগপ্রবণ পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা বিভিন্ন ধরনের ফাঁদ তৈরি করে। কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতারকেরা নিজেদেরকে কখনো টুর্নামেন্ট আয়োজক, কখনো টিকিট বিক্রেতা বা ট্রাভেল এজেন্ট হিসেবে পরিচয় দিয়ে ই-মেইল, টেক্সট বার্তা বা ফোন কলের মাধ্যমে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। এসব বার্তায় আকর্ষণীয় টিকিট অফার, কম দামের ভ্রমণ প্যাকেজ, বিনামূল্যে পুরস্কার জেতার সুযোগ কিংবা বিশেষ স্ট্রিমিং লিংকের কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। উদ্দেশ্য থাকে ব্যক্তিগত তথ্য ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়া। নিউইয়র্ক স্টেটের সেক্রেটারি ওয়াল্টার টি মসলি বলেন, বিশ্বকাপ শুরু হলে লাখো মানুষ আনন্দ ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত থাকবেন। তবে একই সময়ে প্রতারক চক্রও সক্রিয় থাকবে। তাই দর্শকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা এবং শুধু যাচাই করা উৎস থেকেই টিকিট ও সেবা গ্রহণ করা উচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ইভেন্টে প্রতারণার ধরন প্রায় একই থাকে। এর মধ্যে রয়েছে ভুয়া টিকিট বিক্রি, জাল রিসেল প্ল্যাটফর্ম, ফিশিং ই-মেইল ও টেক্সট, ভুয়া হোটেল বুকিং, নকল পণ্য বিক্রির ওয়েবসাইট এবং ভুয়া লাইভ স্ট্রিমিং সেবা। অনেক সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করা হয়। কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী, অচেনা লিংকে ক্লিক না করা, সন্দেহজনক সংযুক্তি ডাউনলোড না করা এবং ব্যক্তিগত বা ব্যাংকিং তথ্য শেয়ার না করা উচিত। টিকিট কেনার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভুয়া ওয়েবসাইট অনেক সময় আসল সাইটের মতো দেখতে হলেও ডোমেইন বা বানানে সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকে, যা খেয়াল করা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রতারণা বাড়ছে বলে জানানো হয়েছে। সেখানে ভুয়া বিক্রেতারা স্ক্রিনশট, বারকোড বা কনফার্মেশন ই-মেইল দেখিয়ে ক্রেতাদের বিশ্বাস অর্জনের চেষ্টা করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অফিশিয়াল প্ল্যাটফর্মের বাইরে টাকা পাঠানোর অনুরোধ প্রায় নিশ্চিতভাবেই প্রতারণার ইঙ্গিত বহন করে। টিকিট পুনর্বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত রিসেল প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অন্য কোথা থেকে টিকিট কিনলে ঝুঁকি বেশি থাকে। বিক্রেতার পরিচয়, লাইসেন্স, রিভিউ এবং যোগাযোগের তথ্য যাচাই করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপ চলাকালে আবাসন ও পরিবহনের চাহিদা বৃদ্ধি পাবে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়াম এবং আশপাশের এলাকায় দর্শনার্থীর চাপ থাকবে বেশি। এই সুযোগে ভুয়া হোটেল বুকিং ও কম দামের ভ্রমণ প্যাকেজের নামে প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে। একইভাবে এনজে ট্রানজিটের নাম ব্যবহার করেও জাল পরিবহন টিকিট বিক্রির আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। অর্থ প্রদানের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে তুলনামূলক সুরক্ষা পাওয়া যায়, কারণ অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণা হলে চার্জ ব্যাকের মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব। অন্যদিকে ক্যাশ, গিফট কার্ড বা অচেনা পেমেন্ট অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন করলে অর্থ ফেরত পাওয়ার সুযোগ সীমিত। ভোক্তাদের সহায়তায় নিউইয়র্ক স্টেট ডিভিশন অব কনজ্যুমার প্রোটেকশন একটি হেল্পলাইন চালু রেখেছে, যেখানে ভোক্তারা সহায়তা নিতে পারেন।
মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ করে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছেন না। কেউ কেউ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট লোড হতে বিলম্ব, নিউজফিড আপডেট না হওয়া এবং বিভিন্ন ফিচার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ করেছেন। অনলাইন সেবা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও ফেসবুকের বিভ্রাট সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যাটি একাধিক অঞ্চলে একযোগে দেখা দিয়েছে। এদিকে, বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত এই সমস্যার কারণে অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল, তারা সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে এই বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং কখন নাগাদ সেবাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আকাশে রহস্যময় আলোক গোলকের (অজানা উড়ন্ত বস্তু) পুনরাবৃত্ত উপস্থিতির একটি নির্দিষ্ট স্থান শনাক্ত করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইউএফও রহস্যের ব্যাখ্যার কাছাকাছি পৌঁছানোর পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্থানীয় এক বাসিন্দার তথ্যের ভিত্তিতে এবং পরে এফবিআইয়ের তদন্তের মাধ্যমে একটি নির্জন জলাশয়ের কাছে এই ঘটনাস্থল চিহ্নিত করা হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে এর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি। প্রকাশিত নথি অনুযায়ী, ২০২১ সাল থেকে ওই এলাকায় বিভিন্ন সময়ে এসব আলোক গোলক দেখা গেছে। একাধিক ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, উজ্জ্বল আলো আকাশে ভেসে থাকা অবস্থায় আকার পরিবর্তন করছে, কখনও একাধিক আলোতে বিভক্ত হচ্ছে, আবার কখনও রঙ পরিবর্তন করছে। একটি ২০২১ সালের ভিডিওতে একটি উজ্জ্বল আলোকবিন্দু ধীরে ধীরে দুই থেকে তিনটি আলোক গোলকে বিভক্ত হতে দেখা যায়। ২০২২ ও ২০২৪ সালের ভিডিওতেও লাল ও সাদা আভাযুক্ত আলোর ভিন্ন আচরণ ধরা পড়ে। এফবিআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের অক্টোবরে তথ্যদাতা ব্যক্তি বিষয়টি জানালে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে সরাসরি কিছু অস্বাভাবিক আলো পর্যবেক্ষণ করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাধিকবার তারা গাছের মাথার কাছাকাছি আলো জ্বলে উঠতে ও হঠাৎ মিলিয়ে যেতে দেখেন। তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, কিছু আলোর নড়াচড়া অনিয়মিত ও দ্রুত ছিল এবং কিছু ক্ষেত্রে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ও জিপিএস সিগন্যালেও অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় বলে দাবি করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ এখনো এসব আলোর প্রকৃতি নিশ্চিত করতে পারেনি এবং এর উৎস সম্পর্কে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি। প্রাথমিকভাবে ড্রোন বা মানবসৃষ্ট প্রযুক্তির সম্ভাবনাও পরীক্ষা করে তা যথাযথ মনে হয়নি বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, একই ধরনের আলোক ঘটনা পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে আগে একাধিকবার দেখা গেছে, তবে নির্দিষ্ট এই স্থানটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ এখানে পুনরাবৃত্ত ও ধারাবাহিক পর্যবেক্ষণ সম্ভব হচ্ছে। নতুন করে প্রকাশিত নথিগুলো ট্রাম্প প্রশাসনের নির্দেশে গোপন নথি প্রকাশ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সামনে এসেছে বলে জানা গেছে। যদিও এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।' বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এখনো রহস্যাবৃত থাকলেও এটি ভবিষ্যতে অজানা আকাশীয় ঘটনা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণাকে আরও বিস্তৃত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লরেন্সভিলের এক ব্যক্তি মেডিকেড জালিয়াতির অভিযোগে দোষ স্বীকার করার পর ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে এবং কারাদণ্ড ভোগ করতে আদেশ পেয়েছেন। অভিযুক্ত ৪৭ বছর বয়সী অ্যাভেরিল জনসন। তিনি টাকার এলাকায় তার একটি ল্যাবের মাধ্যমে জিনগত পরীক্ষার নামে ভুয়া দাবি দাখিল করে সরকারি মেডিকেড কর্মসূচি থেকে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, জনসন তার প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল হেলথকেয়ার সেন্টার এলএলসি ব্যবহার করে মিথ্যা রোগীর নথি তৈরি করেন এবং দুই চিকিৎসকের পরিচয় অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করে ভুয়া পরীক্ষার আদেশ দেখান। এসব পরীক্ষার জন্য মেডিকেড প্রতি দাবি হিসেবে প্রায় ১,৯৮৮ ডলার ৬৯ সেন্ট করে পরিশোধ করত। তদন্তে জানা যায়, কোনো রোগীই এই পরীক্ষার বিষয়ে জানতেন না। বিষয়টি প্রথম সামনে আসে যখন প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী নার্স একটি হটলাইনে অভিযোগ জানান। এরপর জর্জিয়া ডিপার্টমেন্ট অব কমিউনিটি হেলথ বিষয়টি তদন্তে নেয় এবং পরে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জালিয়াতির প্রমাণ পায়। ডেকাল্ব কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক গ্রেগরি অ্যাডামস মঙ্গলবার দোষ স্বীকারোক্তি গ্রহণ করেন। রায়ে জনসনকে ১০ বছরের সাজা দেওয়া হয়, যার মধ্যে এক বছর কারাগারে থাকতে হবে এবং বাকি অংশ শর্তসাপেক্ষে। পাশাপাশি তাকে ৩৩০ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। জর্জিয়া অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস জানিয়েছে, এটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে জালিয়াতি দমনে চলমান অভিযানের অংশ। সাম্প্রতিক সময়ে একই ধরনের আরেকটি জালিয়াতি মামলাও তদন্তাধীন রয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার বলেন, জিনগত পরীক্ষার নামে এ ধরনের প্রতারণা এখন দেশজুড়ে বাড়ছে এবং করদাতাদের অর্থ অপচয় হচ্ছে। তার ভাষায়, “যারা করদাতাদের টাকা চুরি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের এক মা ছেলের জন্য ফিফা বিশ্বকাপের টিকিট কিনতে গিয়ে ভুলবশত প্রায় ৮ হাজার ১০০ ডলারের একটি পার্কিং পাস কিনে ফেলেছেন। ভুক্তভোগী এলিজাবেথ সাইটা মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউইয়র্ককে জানান, তিনি অনলাইনে টিকিট বিক্রির প্ল্যাটফর্ম স্টাবহাবের মাধ্যমে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ব্রাজিল বনাম মরক্কো ম্যাচের টিকিট কেনেন। দুইটি আসনের জন্য তিনি ৭৭২ ডলার এবং অতিরিক্ত বিমা খরচ পরিশোধ করেন। কিন্তু কেনাকাটা শেষ করার পরই তিনি দেখতে পান, তার অ্যাকাউন্ট থেকে আলাদা করে ৮ হাজার ১০০ ডলার কেটে নেওয়া হয়েছে। পরে জানা যায়, তিনি ভুল করে একটি পার্কিং পাস কিনে ফেলেছিলেন, যার দাম ছিল কয়েক হাজার ডলার। তিনি জানান, ভুল বুঝতে পারার “কয়েক সেকেন্ড বা সর্বোচ্চ এক মিনিটের মধ্যে” তিনি স্টাবহাবের সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ ফেরতের আবেদন করেন। শুরুতে কোম্পানিটি তার অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেও পরে গণমাধ্যমের হস্তক্ষেপের পর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে পুরো টাকা ফেরত দেয়। স্টাবহাবের এক মুখপাত্র জানিয়েছে, নির্দিষ্ট গ্রাহকের বিষয়ে তারা মন্তব্য করতে না পারলেও তারা প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহে সহায়তা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শুরু হয়েছে মেক্সিকো সিটিতে। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী মাসগুলোতে ১১টি অঙ্গরাজ্যের ৭০টিরও বেশি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, যার মধ্যে ফাইনাল হবে ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। তবে টিকিটের উচ্চমূল্য ও অতিরিক্ত খরচ নিয়ে ভক্তদের মধ্যে অসন্তোষও রয়েছে। সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বড় একটি অংশ এখনো বিশ্বকাপ নিয়ে খুব বেশি আগ্রহী নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক আয়োজনের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত হলো “বাংলাদেশ ফেস্টিভ্যাল”। গত ৭ জুন দক্ষিণ জামাইকার আর্চি স্প্রিগনার পার্কের বিস্তীর্ণ সবুজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এই উৎসব প্রবাসে খোলা মাঠে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও মিলনমেলার এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করে। নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মেলা, উৎসব ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ইতিহাস দীর্ঘ হলেও অধিকাংশ আয়োজন ইনডোর ভেন্যু বা শহরের কংক্রিটঘেরা পরিবেশে সীমাবদ্ধ ছিল। সেই বাস্তবতায় সবুজ মাঠে আয়োজিত এই ফেস্টিভ্যাল প্রবাসে এক টুকরো বাংলাদেশের খোলা মাঠের অনুভূতি ফিরিয়ে আনে। আয়োজক সংগঠন পালস এবং এর মূল কর্ণধার সৈয়দ হাসান আল বান্না’র উদ্যোগে এই ফেস্টিভ্যাল অনুষ্ঠিত হয়। বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন উৎসব গ্রুপের রায়হান জামান। অনুষ্ঠানে টাইটেল স্পন্সর হিসেবে যুক্ত ছিল উৎসব গ্রুপ, হিলসাইড হোন্ডা এবং সিলেক্ট ডিলার সার্ভিস। পাওয়ার্ড বাই হিসেবে ছিল আশা হোম কেয়ার এবং গোল্ডেন এজ হোম কেয়ার। বিকেল ৪টায় ফিতা কেটে ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধন করেন উৎসব গ্রুপের প্রধান রায়হান জামান এবং আশা গ্রুপের প্রধান আকাশ রহমান। তবে দুপুর থেকেই পার্কে দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়তে থাকে। বিকেলের আলো নামার সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি হয়। সবুজ ঘাসে ঘেরা বিস্তীর্ণ প্রাঙ্গণে কেউ পরিবার নিয়ে বসেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে ওঠেন। শিশুরা মাঠজুড়ে দৌড়ঝাঁপ করে সময় কাটায়। দূর থেকে ভেসে আসা সংগীতের সুর, হাতে ঝালমুড়ি ও চায়ের কাপ মিলিয়ে পরিবেশটি রূপ নেয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়। আয়োজনে অনেকের কাছে মুহূর্তের জন্য মনে হয়েছে, নিউইয়র্ক নয়, যেন বাংলাদেশের কোনো বৈশাখী মেলা। মাঠের একপাশে স্থাপন করা হয় মূল মঞ্চ। পাশাপাশি তিন পাশে সারিবদ্ধভাবে ছিল ৭০টিরও বেশি স্টল। পোশাক, গহনা, খাবার, বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনীসহ নানা আয়োজন দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। দর্শনার্থীরা কেনাকাটার পাশাপাশি পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটান। বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে টানা ছয় ঘণ্টা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা চলে। এতে ব্যান্ড সংগীত, ফ্যাশন ওয়াক এবং দেশ ও প্রবাসের শিল্পীদের পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অংশ নেন কামরুজ্জামান বকুল, সুজন আরিফ, তৃণীয়া হাসান, রেশমী মির্জা, নাজু আখন্দ, প্রতীক হাসান, পারভেজ সাজ্জাদ এবং ব্যান্ড ইওগ। ফ্যাশন ওয়াকের পরিকল্পনায় ছিলেন ডিজাইনার রোজিনা আহমেদ রুনি। আয়োজনে বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনৈতিক ও কমিউনিটি নেতারা। তাদের মধ্যে ছিলেন নিউইয়র্ক স্টেট সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সোমা সৈয়দ, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লিরয় কমরি, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর জন লিউ, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান অ্যালিসিয়া এল. হাইন্ডম্যান, কমিউনিটি ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক ক্লাবের চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার এট লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী এবং মেয়র অফিসের ডেপুটি চিফ বিজনেস ডাইভারসিটি অফিসার ও সিনিয়র অ্যাডভাইজার দিলীপ চৌহানসহ অনেকে। প্রতি ঘণ্টায় র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয় উৎসব গ্রুপের উদ্যোগে। গ্র্যান্ড র্যাফেল ড্রতে ঢাকা-নিউইয়র্ক-ঢাকা বিমান টিকিট পুরস্কার হিসেবে প্রদান করা হয়, যা পান তানিয়া রহমান। পুরো আয়োজনের পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিল পেশাদারিত্বের ছাপ। ডিজে রাহাতের ইভেন্ট পরিকল্পনায় অনুষ্ঠানটি ছিল সুসংগঠিত ও গতিশীল। উপস্থাপক সাদিয়া খন্দকার তার সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্তভাবে পরিচালনা করেন।
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
স্পেন সফরের শেষ দিনে অভিবাসন ও শরণার্থী ইস্যুতে শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন পোপ লিও। তিনি বলেছেন, “আমরা সবাই এক অর্থে অভিবাসী,” এবং মানব পরিবার হিসেবে শরণার্থীদের আরও মানবিকভাবে গ্রহণ করার আহ্বান জানান। শুক্রবার স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সবচেয়ে বড় দ্বীপ টেনেরিফে পৌঁছে একটি সাবেক সামরিক ব্যারাকে স্থাপিত অভিবাসী আশ্রয়কেন্দ্রে যান পোপ লিও। সেখানে তিনি শত শত অভিবাসীর সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। পোপ বলেন, আজকের বিদেশি ব্যক্তি আগামী দিনে আমাদেরই প্রতিবেশী ও সহযাত্রী হতে পারেন। তাই অভিবাসীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি আরও মানবিক হওয়া জরুরি। ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ ইউরোপে অভিবাসনের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আটলান্টিক রুট দিয়ে ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে প্রতি বছর হাজারো মানুষ প্রাণ হারান। পোপ তার বক্তব্যে বলেন, অভিবাসীরা শুধু সীমান্ত পার হন না, বরং অনেক সময় নতুন দেশে এসে “নীরব বিপর্যয়ের” মুখে পড়েন। কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও সামাজিক সহায়তা না পেয়ে তারা আবারও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যান। তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতি নিয়েও পরোক্ষ সমালোচনা করেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে এই নীতিকে কঠোর ও আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধতামূলক বলে সমালোচনা করেছে। পোপ লিও বলেন, মানব বিবেক এবং খ্রিস্টীয় মূল্যবোধ কখনোই সমুদ্রে প্রাণহানির ঘটনায় নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। তার মতে, প্রতিটি প্রাণহানি মানবতার ব্যর্থতা। এ সময় তিনি মানবপাচারকারী ও দালালদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, যারা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নেয়, তাদের “ঈশ্বরের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে।” অভিবাসীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন নাইজেরিয়ার বুসো দিয়ুফ। তিনি বলেন, নিরাপত্তা ও মর্যাদার খোঁজে যাত্রা সহজ ছিল না এবং অনেকেই ভয়, ক্ষুধা ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। তিনি সমাজের কাছে ন্যূনতম সম্মান ও মানবিক আচরণের দাবি জানান, যাতে অভিবাসীদের শুধু সংখ্যা হিসেবে না দেখে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পোপ লিওর এই সফর ও বক্তব্য ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ক্ষমতায় আসার পর থেকেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, অর্থনৈতিক চাপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। একসময় যাকে তুলনামূলকভাবে সাময়িক বা অনাকাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক সমঝোতার ফল হিসেবে দেখা হয়েছিল, তিনি এখন দেশটির একাধিক সংকটের মধ্যেও রাষ্ট্র পরিচালনায় টিকে আছেন। তবে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক উত্তেজনার পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়া তার জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। সম্প্রতি তেহরানে পানি সংকট ও জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান কর্মকর্তাদের এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহার না করে কোট খুলে বসার আহ্বান জানান। একই বৈঠকে তিনি নিজে স্বল্পহাতা পোলো শার্ট পরে উপস্থিত ছিলেন। জ্বালানি সাশ্রয়ের বার্তা দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার জন্ম দেয়। রক্ষণশীল রাজনৈতিক মহল প্রেসিডেন্টের পোশাক ও আচরণ নিয়ে সমালোচনা করে। অন্যদিকে নাগরিক অধিকারকর্মীদের একাংশ দাবি করেন, সাধারণ জনগণের ওপর কঠোর পোশাকবিধি ও সামাজিক নিয়ন্ত্রণ থাকলেও রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ দেখা যাচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যে বিদেশভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল দাবি করে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তবে ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই দাবি অস্বীকার করে একে ভিত্তিহীন বলে জানায়। ২০২৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির মৃত্যুর পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মধ্যপন্থী অবস্থান থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন পেজেশকিয়ান। সেই নির্বাচনে তিনি কট্টরপন্থী প্রার্থী সাঈদ জালিলির বিপক্ষে লড়াই করেন। ইরানের রাজনৈতিক কাঠামো অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা সর্বোচ্চ নেতার হাতে থাকে। ফলে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা মূলত প্রশাসনিক ও নির্বাহী পর্যায়ের মধ্যে সীমিত। এই কাঠামোর মধ্যেই প্রেসিডেন্টকে অর্থনৈতিক সংকট, সামাজিক চাপ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সামরিক ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করেন। এতে প্রেসিডেন্টের নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্র আরও সীমিত হয়ে পড়েছে। এই অবস্থায় পেজেশকিয়ান প্রশাসনিক সংস্কার, ইন্টারনেট বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করার ইঙ্গিত এবং নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। যুদ্ধকালীন ও আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাতজনিত পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক অবস্থান গ্রহণ করেন এবং অভ্যন্তরীণভাবে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। ইরানের সামনে আগামী দিনে অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রার অবমূল্যায়ন, পানি সংকট, বায়ুদূষণ এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বের কার্যকারিতা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের একটি অংশ তাকে তুলনামূলকভাবে বাস্তববাদী এবং মধ্যপন্থী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে অনেকের মতে, বর্তমান সংকট কেবল ব্যক্তিগত নেতৃত্বের বিষয় নয়, বরং রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জটিল বাস্তবতার প্রতিফলন।
মেটার মালিকানাধীন জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে হঠাৎ করে বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে গিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। বেশ কয়েকজন ব্যবহারকারী জানিয়েছেন, তারা ফেসবুকে লগ-ইন করতে পারছেন না। কেউ কেউ অ্যাপ ও ওয়েবসাইট লোড হতে বিলম্ব, নিউজফিড আপডেট না হওয়া এবং বিভিন্ন ফিচার স্বাভাবিকভাবে ব্যবহার করতে না পারার অভিযোগ করেছেন। অনলাইন সেবা পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউন ডিটেক্টরসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেও ফেসবুকের বিভ্রাট সংক্রান্ত বিপুল সংখ্যক অভিযোগ জমা পড়েছে। ব্যবহারকারীদের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সমস্যাটি একাধিক অঞ্চলে একযোগে দেখা দিয়েছে। এদিকে, বিভ্রাটের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেয়নি মেটা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত এই সমস্যার কারণে অনেক ব্যবহারকারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে যারা যোগাযোগ, ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং তথ্য আদান-প্রদানের জন্য ফেসবুকের ওপর নির্ভরশীল, তারা সাময়িক ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে এই বিভ্রাট দেখা দিয়েছে এবং কখন নাগাদ সেবাটি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনকুবেরদের একজন ইলন মাস্ক নতুন এক ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হিসেবে তার নাম ইতিহাসে যুক্ত হতে পারে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শুক্রবার (১২ জুন) ওয়াল স্ট্রিটে মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে অভিষেক ঘটলে এই রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পেসএক্সের বহুল আলোচিত শেয়ার ছাড়ার ঘোষণা আসার আগেই মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৯৬ বিলিয়ন ডলার। এ সম্পদ নিয়েই তিনি বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তির অবস্থানে রয়েছেন। স্পেসএক্সে মাস্কের মালিকানা প্রায় ৪২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে প্রায় ১ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য নিয়ে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। কোম্পানিটি প্রতি শেয়ার ১৩৫ ডলার দরে প্রায় ৫৫৫ দশমিক ৬ মিলিয়ন শেয়ার বিক্রির পরিকল্পনা করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ আইপিও সফল হলে মাস্কের সম্পদের পরিমাণ দ্রুত ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে শুক্রবারের লেনদেন শেষ হওয়ার আগেই মাস্ক আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে স্বীকৃতি পেতে পারেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এ পরিমাণ সম্পদ সাধারণ মানুষের কল্পনারও বাইরে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য সংস্থা অক্সফামের এক হিসাব অনুযায়ী, মাস্ক যদি প্রতিদিন ১০ লাখ ডলার করেও ব্যয় করেন, তবুও তার সম্পদ শেষ করতে প্রায় দুই হাজার ৭৪০ বছর সময় লাগবে। অন্য ধনকুবেরদের সঙ্গে তুলনায় এই ব্যবধান আরও স্পষ্ট। গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ বর্তমানে প্রায় ৩০৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় ধনী ব্যক্তি। সম্ভাব্য ট্রিলিয়নিয়ার হলে মাস্কের সম্পদ তার তুলনায় তিন গুণেরও বেশি হবে। ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কোটিপতি জন জ্যাকব অ্যাস্টর ১৮৪৮ সালে মৃত্যুকালে প্রায় ২ থেকে ৩ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক ছিলেন, যা সে সময়ের অর্থনীতিতে বিশাল অঙ্ক হিসেবে বিবেচিত হতো। তুলনায় বর্তমান সময়ে মাস্কের সম্ভাব্য সম্পদ যুক্তরাষ্ট্রের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ শতাংশের সমান হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, মহাকাশ খাত ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের কারণে মাস্কের সম্পদের এই দ্রুত উত্থান ঘটেছে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশ সেই ধারা আরও জোরদার করতে পারে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।