নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নতুন বাসা খোঁজা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে সিটিজুড়ে ভাড়ার বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া ভাড়া ছিল মাসে ৪ হাজার ১৫০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ভাড়াটিয়ারা সামর্থ্যের মধ্যে বাসা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে কোনো বাসা খালি থাকলে মর্টগেজ, সম্পত্তি কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়িওয়ালাকে বহন করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া উদাহরণে গত পাঁচ বছরে ভাড়ার পরিবর্তন স্পষ্ট। আগে যে বেসমেন্ট ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে পাওয়া যেত, সেটির জন্য এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ডলার চাওয়া হচ্ছে। দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। একটি রুমের জন্য আগে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার দিতে হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার লাগছে। এগুলো বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতার উদাহরণ; এলাকা ও বাসার ধরনভেদে ভাড়া আলাদা। ভাড়াটিয়াদের জন্য শুধু মাসিক ভাড়াই সমস্যা নয়। বাসা বদলাতে গেলে নতুন বাসার জামানত, স্থানান্তরের খরচ এবং সম্ভাব্য বাড়তি ভাড়াও হিসাবে রাখতে হচ্ছে। কারও কারও অভিজ্ঞতায় পুরোনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠলে মাসে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার গুনতে হতে পারে। ফলে বর্তমান বাসার ভাড়া কষ্টকর হলেও অনেকে সেখানেই থেকে যাচ্ছেন। বাড়িওয়ালাদের চাপের ধরন ভিন্ন। ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর বাসা খালি থাকলে ভাড়া থেকে আয় বন্ধ হয়, কিন্তু মর্টগেজের কিস্তি, সম্পত্তি কর, বিমা ও মেরামতের খরচ থেমে থাকে না। এ কারণে কেউ কেউ বেশি ভাড়ার অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে নিয়মিত ভাড়া দেবেন এমন ভাড়াটিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের পক্ষ থেকে মেরামত, পানি ও হিটিংয়ের ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের কথাও উঠে আসছে। রুম ভাড়া ও রুমমেট খোঁজার ক্ষেত্রেও বাজেটের সঙ্গে উপলব্ধ বাসস্থানের মিল পাওয়া কঠিন হচ্ছে বলে বাসিন্দাদের বর্ণনায় এসেছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টের পুরো ভাড়া বহন করতে না পেরে অনেকে খরচ ভাগাভাগি করেন। রুম খালি থাকলে সেই খরচ আবার একজনের ওপরই পড়ে। তবে কিছু বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়া পেতে দেরি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে পুরো সিটিতে ভাড়ার চাহিদা কমেছে বলা যায় না। স্ট্রিটইজির হিসাবে, সেপ্টেম্বরে তাদের প্ল্যাটফর্মে ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত বাসার সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম ছিল। সিটির সর্বশেষ সরকারি আবাসন জরিপেও, যা ২০২৩ সালে করা হয়েছিল, ভাড়ার জন্য খালি বাসার হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাসা বা রুম খালি থাকার সমস্যা থাকলেও সিটিজুড়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকট রয়ে গেছে।
ইসরায়েলভিত্তিক বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠান ডিসকভার-টেক অনলাইন বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের শনাক্ত ও অনুসরণ করেছে এবং নির্দিষ্ট ব্যক্তির ডিভাইসে স্পাইওয়্যার পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রকাশিত পৃথক গবেষণায় কানাডার সিটিজেন ল্যাব ও যুক্তরাষ্ট্রের কনফিয়ান্ট এ তথ্য জানিয়েছে। গবেষকদের মতে, হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তু হওয়া ব্যক্তির বিজ্ঞাপনে ক্লিক করারও প্রয়োজন ছিল না। সিটিজেন ল্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন ১ লাখ ২০ হাজারের বেশি ওয়েবসাইট এবং ৭৫ হাজার অ্যাপে প্রদর্শিত হয়েছে। বিজ্ঞাপন লোড হওয়ার সময় ব্যবহারকারীর ডিভাইসের কিছু শনাক্তকারী তথ্য প্রতিষ্ঠানটির সার্ভারে পৌঁছাত। গবেষকদের অভিযোগ, নির্বাচিত ডিভাইসে একই ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষতিকর কোড পাঠানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। তবে কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপে বিজ্ঞাপনটি দেখা গেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর ডিভাইস স্পাইওয়্যারে আক্রান্ত হয়েছে, এমন নয়। গবেষণায় সবচেয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার ডিভাইসে চালানো হামলার ক্ষেত্রে। সিটিজেন ল্যাব জানিয়েছে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটির অন্তত ৪৫টি ডিভাইসকে লক্ষ্য করা হয়েছিল। আল জাজিরার দেওয়া নেটওয়ার্ক তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েকটি ডিভাইসে ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার নির্মাতা ক্যান্ডিরুর সফটওয়্যার সংক্রমণের প্রমাণও পেয়েছেন গবেষকেরা। আল জাজিরা কর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে এবং তাদের ডিভাইস ও তথ্য সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছে। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘ, ন্যাটো এবং বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেটওয়ার্কেও ডিসকভার-টেকের বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হয়েছে। তবে এসব নেটওয়ার্কে বিজ্ঞাপন পৌঁছানোর তথ্য থেকে সেখানে কারও ডিভাইসে স্পাইওয়্যার সংক্রমণ হয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তদন্তে সহযোগিতা করে গুগল ডিসকভার-টেককে তাদের বিজ্ঞাপনী প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞাপন খাতের সংগঠন আইএবি ইউরোপও অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ডিসকভার-টেকের অবস্থান স্থগিত করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে ডিসকভার-টেক ও ক্যান্ডিরুর পক্ষ থেকে মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, সেপ্টেম্বরের মধ্যম দামের একটি পুরোনো একক পরিবারের বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট লাগবে ৮৪ হাজার ৫৪০ ডলার। এটি দেশটির একটি পরিবারের ২০২৫ সালের মধ্যম বার্ষিক আয়ের প্রায় ৯৭ শতাংশ। তরুণদের বাড়ি কেনার বাধা নিয়ে ফক্স নিউজে প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধের হিসাব সর্বশেষ আবাসন তথ্য দিয়ে মিলিয়ে দেখলে এই চিত্র পাওয়া যায়। ন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অব রিয়েলটরসের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে এ ধরনের বাড়ির মধ্যম বিক্রয়মূল্য ছিল ৪ লাখ ২২ হাজার ৭০০ ডলার। অন্যদিকে, আদমশুমারি বিভাগের হিসাবে ২০২৫ সালে পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয় ছিল ৮৭ হাজার ৪৬০ ডলার। ডাউন পেমেন্টের হিসাবটি জাতীয় মধ্যম দাম ও আয় দিয়ে করা তুলনা; কোনো নির্দিষ্ট ক্রেতার খরচ এতে বোঝানো হচ্ছে না। আশির দশকে মর্টগেজের সুদ বেশি ছিল বলে সে সময় বাড়ি কেনাও কঠিন ছিল। তবে বাড়ির দাম ও আয়ের অনুপাত ছিল ভিন্ন। সরকারি আবাসন তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮৪ সালে পুরোনো একক পরিবারের বাড়ির মধ্যম দাম ছিল ৭২ হাজার ৪০০ ডলার। এর ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ১৪ হাজার ৪৮০ ডলার, ছিল তখনকার পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়ের প্রায় ৬৫ শতাংশ। একই ধরনের বাড়ির জন্য এখন সেই অনুপাত প্রায় ৯৭ শতাংশ। বাড়ির জন্য টাকা জমানোর পাশাপাশি ঋণের কিস্তিও ক্রেতাদের হিসাবে রাখতে হচ্ছে। ফ্রেডি ম্যাকের ১৫ অক্টোবরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছর মেয়াদি নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার ছিল ৭ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর সঙ্গে সম্পত্তিকর, বিমা ও বাড়ি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ যোগ হয়। তবে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট বাধ্যতামূলক নয়। ফ্রেডি ম্যাকের তথ্য অনুযায়ী, যোগ্য ক্রেতারা কিছু ঋণ কর্মসূচিতে ৩ শতাংশ দিয়েও বাড়ি কিনতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ বাড়ে এবং সাধারণত মাসিক প্রাইভেট মর্টগেজ ইন্স্যুরেন্সের খরচ দিতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারি চালু করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় লটারিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জিনসুক ওহতা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অনুরোধে নিবন্ধন ও ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের তারিখ ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। কেন আদালতের নির্দেশ দিতে হলো? ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গত ১৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রতিবছর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা এই কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় আবেদনকারীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত অর্থবছরের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন লটারি পরিচালনা করা আইনগতভাবে জটিল। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার পর বিচারক ওহতা ১৪ অক্টোবর আবেদনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে ২০২৭ সালের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যদিও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আবেদন কবে শুরু হবে, ফলাফল কবে জানা যাবে? আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের শুরু ও শেষের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। এরপর ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে এবং নিবন্ধনের সময়কাল হবে ৩০ দিন। আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জানানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, ১ নভেম্বর একটি নির্ধারিত সময়সীমা; পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন চালু হলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদন করতে পারবেন? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ২০২৭ সালের লটারিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না। সর্বশেষ প্রকাশিত ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির নির্দেশনায় বাংলাদেশকে অযোগ্য দেশের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের লটারির জন্য যোগ্য দেশের নতুন তালিকা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে, কিংবা বাংলাদেশ এবারও অযোগ্য থাকবে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ মূলত লটারি চালু করা নিয়ে; এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না। নতুন তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। নতুন আবেদনে কী কী পরিবর্তন থাকতে পারে? ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের বৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পাসপোর্টের তথ্য এবং পাসপোর্টের পরিচিতিমূলক ও স্বাক্ষরসংবলিত পাতার স্ক্যান জমা দিতে হবে, যদি তাঁরা নির্ধারিত কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় না পড়েন। এ ছাড়া নিবন্ধনের সময় এক ডলার ফি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। অতীতে ডিভি লটারিতে নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা যেত; তাই নতুন আবেদনকারীদের পুরোনো নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে ২০২৭ সালের আনুষ্ঠানিক নিয়ম পড়ে নেওয়া জরুরি। বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার সুযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হয়েছে এমন দেশগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হলেও তাঁদের শিক্ষা বা নির্ধারিত কাজের অভিজ্ঞতা, পরিচয় এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্বাচিত হওয়ার পরও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশি আবেদনপ্রত্যাশীদের জন্য তাই যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদন শুরুর সরকারি ঘোষণা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীদের প্রতি সতর্কতা: পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন চালু হয়েছে বলে দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ অর্থের বিনিময়ে আগাম আবেদন, নিশ্চিত নির্বাচন কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দিলে সেই দাবি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকারি নির্দেশনা ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট এবং সরকারি ডিভি আবেদন পোর্টাল অনুসরণ করতে হবে।
ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক ডিকারলা আন্তোনেলা সুয়ারেজ ভার্গাস ও তাঁর ছোট মেয়ে আরানজা সোফিয়া কাস্তিয়ো সুয়ারেজ। সমুদ্রে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করলেও এখন আরেক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মা। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আ ট ক হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর মেয়ে রয়েছে এক আত্মীয়ের কাছে। ৩৪ বছর বয়সী ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিকারাগুয়ার কর্ন আইল্যান্ডসের কাছে একটি নৌডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেস থেকে কর্ন আইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল নৌযানটি। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিকারাগুয়ার নৌবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় জেলেদের নৌকাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনায় ভেনেজুয়েলার দুই যাত্রীর মৃ ত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। ডিকারলার বোন কিসি সুয়ারেজের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তাঁর বোন ও ভাগনি প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সমুদ্রে আটকে ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা হবে না। ওই ঘটনায় অন্য যাত্রীদের প্রাণহানিও ঘটে। পরিবারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তাঁরা ওই নৌযানে যাত্রা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে টেক্সাসের ডালাসে বসবাস শুরু করেন। ডিকারলা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন, আর তাঁর মেয়ে আরানজা স্কুলে যেত। পরিবারের ভাষ্য, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের হাজির করেছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের দাবি, সেদিন ডিকারলা নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা চেক-ইনের জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে আ ট ক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই। এরপর থেকে তিনি অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ডিকারলা ২০২৪ সালের মে মাসে মেয়েকে নিয়ে এল পাসোর কাছে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, সে সময় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ মাদক ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে বিভাগটির বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলা হয়নি। পরিবারের দাবি, ডিকারলার কোনো অপরাধের রেকর্ড, ফৌজদারি অভিযোগ বা আগের গ্রেপ্তারের ঘটনা নেই। তবে তাঁর অভিবাসন মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি একজন অভিবাসন বিচারক তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিকারলাকে লারেডো প্রসেসিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মা-মেয়ের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবার। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, আইসিইর নীতি অনুযায়ী আরানজাকে একজন আত্মীয়ের কাছে রাখা হয়েছে। বিভাগের বক্তব্য, অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁরা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বহিষ্কৃত হতে চান কি না। তা না হলে অভিভাবকের মনোনীত নিরাপদ ব্যক্তির কাছে শিশুকে রাখা হয়। বিভাগটির দাবি, এটি আগের প্রশাসনগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিকারলার বোন কিসি জানিয়েছেন, তাঁর বোন মেয়েকে ঘিরেই জীবন সাজিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন, দেখাশোনা করতেন এবং সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। হোটেল ও খাবার পরিবেশনসহ ডালাস এলাকার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাক্সেল রোহাস ডিকারলার আইনি খরচ মেটাতে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিকারলার সঙ্গে যা ঘটছে, তা গভীরভাবে অন্যায্য। তিনি আশা করছেন, ডিকারলা ন্যায়সংগত আচরণ পাবেন এবং মা-মেয়ে আবার একসঙ্গে থাকতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতার মধ্যে মা-বাবাকে আ ট ক বা বহিষ্কারের কারণে সন্তানদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু সম্ভবত তাদের কোনো অভিভাবকের আ ট ক হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে। ডিকারলা ও আরানজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরও গভীর, কারণ তাঁরা ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মা কাজ করেছেন, মেয়ে স্কুলে পড়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন বহিষ্কারের আদেশ ও দীর্ঘ আটকাবস্থার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিবারের আশঙ্কা, আইনি প্রক্রিয়ার পরিণতি তাঁদের আবারও আলাদা করে দিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ফোর্ট হুড সেনাঘাঁটিতে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালানো নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার (লাইভস্ট্রিম) করার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ ডিসেম্বর ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তার এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কথা রয়েছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, সাধারণ ও ‘ভালো মনের মানুষ’ এ ধরনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে চান না বলেই এটি জনসমক্ষে সম্প্রচার করা হবে না। তবে ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বরের ওই মর্মান্তিক হামলায় নিহতদের পরিবার এবং ভুক্তভোগীরা চাইলে বিশেষ ব্যবস্থায় এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য দেখতে পারবেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কেমন আচরণ করে তা বিশ্ববাসীকে দেখাতে এই সরাসরি সম্প্রচার একটি জোরালো সতর্কবার্তা হতে পারত। কিন্তু অনেক ভালো মনের মানুষ কোনো ডিভাইসের মাধ্যমে এই দৃশ্য দেখতে ইচ্ছুক নন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমেই নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে, তবে তা সম্প্রচারিত হবে না। এর আগে গত সপ্তাহে মার্কিন ‘সেক্রেটারি অব ওয়ার’ পিট হেগসেথ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি জনসমক্ষে সম্প্রচারের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তার ওই ঘোষণার পরপরই ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান—উভয় দলের আইনপ্রণেতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য, ১৯৩০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আর কোনো নজির নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছরের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি বা গ্রিন কার্ড লটারি চালু করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন একটি ফেডারেল আদালত। দীর্ঘদিন ধরে নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় লটারিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল বিচারক জিনসুক ওহতা ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে উভয় পক্ষের অনুরোধে নিবন্ধন ও ফলাফল ঘোষণার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের তারিখ ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে। কেন আদালতের নির্দেশ দিতে হলো? ২০২৭ সালের ডিভি লটারির নিবন্ধন শুরুর তারিখ ঘোষণা না করায় যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান রেড ঈগল ল গত ১৯ আগস্ট পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর বিরুদ্ধে মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, প্রতিবছর পরিচালিত হওয়ার কথা থাকা এই কর্মসূচির নিবন্ধন চালু না করায় আবেদনকারীরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে আদালতে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নির্ধারিত অর্থবছরের সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় এখন লটারি পরিচালনা করা আইনগতভাবে জটিল। দুই পক্ষের বক্তব্য বিবেচনার পর বিচারক ওহতা ১৪ অক্টোবর আবেদনপ্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ দেন। আদালতের এই আদেশের ফলে ২০২৭ সালের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যদিও মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। আবেদন কবে শুরু হবে, ফলাফল কবে জানা যাবে? আদালতের সংশোধিত সময়সূচি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের শুরু ও শেষের তারিখ ঘোষণা করতে হবে। এরপর ১ নভেম্বরের মধ্যে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে হবে এবং নিবন্ধনের সময়কাল হবে ৩০ দিন। আদালতের নির্দেশে নির্বাচিত আবেদনকারীদের ৩ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে জানানোর কথাও বলা হয়েছে। তবে আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, ১ নভেম্বর একটি নির্ধারিত সময়সীমা; পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত এটিকে নিশ্চিত উদ্বোধনের তারিখ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন চালু হলে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। বাংলাদেশিরা কি এবার আবেদন করতে পারবেন? বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ২০২৭ সালের লটারিতে বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারীরা আবেদন করার সুযোগ পাবেন কি না। সর্বশেষ প্রকাশিত ডিভি-২০২৬ কর্মসূচির নির্দেশনায় বাংলাদেশকে অযোগ্য দেশের তালিকায় রাখা হয়েছিল। তবে ২০২৭ সালের লটারির জন্য যোগ্য দেশের নতুন তালিকা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা নিশ্চিত হয়েছে, কিংবা বাংলাদেশ এবারও অযোগ্য থাকবে—এমন কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ মূলত লটারি চালু করা নিয়ে; এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের জন্য আবেদন করার যোগ্যতা নিশ্চিত করে না। নতুন তালিকা প্রকাশের পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। নতুন আবেদনে কী কী পরিবর্তন থাকতে পারে? ২০২৭ সালের ডিভি লটারিতে আবেদনপ্রক্রিয়ায় কিছু পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, আবেদনকারীদের বৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ না হওয়া পাসপোর্টের তথ্য এবং পাসপোর্টের পরিচিতিমূলক ও স্বাক্ষরসংবলিত পাতার স্ক্যান জমা দিতে হবে, যদি তাঁরা নির্ধারিত কোনো ব্যতিক্রমের আওতায় না পড়েন। এ ছাড়া নিবন্ধনের সময় এক ডলার ফি দেওয়ার বিধানও রয়েছে। অতীতে ডিভি লটারিতে নিবন্ধন বিনা মূল্যে করা যেত; তাই নতুন আবেদনকারীদের পুরোনো নির্দেশনার ওপর নির্ভর না করে ২০২৭ সালের আনুষ্ঠানিক নিয়ম পড়ে নেওয়া জরুরি। বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ভিসার সুযোগ: যুক্তরাষ্ট্রের ডাইভারসিটি ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে কম অভিবাসন হয়েছে এমন দেশগুলোর যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসার সুযোগ রয়েছে। তবে আবেদন করলেই গ্রিন কার্ড পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের মধ্য থেকে নির্বাচন করা হলেও তাঁদের শিক্ষা বা নির্ধারিত কাজের অভিজ্ঞতা, পরিচয় এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করতে হয়। নির্বাচিত হওয়ার পরও ভিসা পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বাংলাদেশি আবেদনপ্রত্যাশীদের জন্য তাই যোগ্য দেশের তালিকা এবং আবেদন শুরুর সরকারি ঘোষণা—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীদের প্রতি সতর্কতা: পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশের আগে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান আবেদন চালু হয়েছে বলে দাবি করলে সতর্ক থাকতে হবে। কেউ অর্থের বিনিময়ে আগাম আবেদন, নিশ্চিত নির্বাচন কিংবা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিশ্চয়তা দিলে সেই দাবি বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকারি নির্দেশনা ও আবেদনসংক্রান্ত তথ্যের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট এবং সরকারি ডিভি আবেদন পোর্টাল অনুসরণ করতে হবে।
নিউইয়র্ক সিটিতে বাড়িভাড়া বেড়ে যাওয়ায় নতুন বাসা খোঁজা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। সেপ্টেম্বরে সিটিজুড়ে ভাড়ার বিজ্ঞাপনে মধ্যম চাওয়া ভাড়া ছিল মাসে ৪ হাজার ১৫০ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। ভাড়াটিয়ারা সামর্থ্যের মধ্যে বাসা খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে কোনো বাসা খালি থাকলে মর্টগেজ, সম্পত্তি কর, বিমা ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বাড়িওয়ালাকে বহন করতে হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া উদাহরণে গত পাঁচ বছরে ভাড়ার পরিবর্তন স্পষ্ট। আগে যে বেসমেন্ট ৮০০ থেকে ৯০০ ডলারে পাওয়া যেত, সেটির জন্য এখন কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ডলার চাওয়া হচ্ছে। দুই রুমের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ ডলার থেকে বেড়ে কোথাও ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ ডলারে পৌঁছেছে। একটি রুমের জন্য আগে ৫০০ থেকে ৬০০ ডলার দিতে হলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে ৮০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ডলার লাগছে। এগুলো বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতার উদাহরণ; এলাকা ও বাসার ধরনভেদে ভাড়া আলাদা। ভাড়াটিয়াদের জন্য শুধু মাসিক ভাড়াই সমস্যা নয়। বাসা বদলাতে গেলে নতুন বাসার জামানত, স্থানান্তরের খরচ এবং সম্ভাব্য বাড়তি ভাড়াও হিসাবে রাখতে হচ্ছে। কারও কারও অভিজ্ঞতায় পুরোনো বাসা ছেড়ে নতুন বাসায় উঠলে মাসে আরও ৪০০ থেকে ৫০০ ডলার গুনতে হতে পারে। ফলে বর্তমান বাসার ভাড়া কষ্টকর হলেও অনেকে সেখানেই থেকে যাচ্ছেন। বাড়িওয়ালাদের চাপের ধরন ভিন্ন। ভাড়াটিয়া চলে যাওয়ার পর বাসা খালি থাকলে ভাড়া থেকে আয় বন্ধ হয়, কিন্তু মর্টগেজের কিস্তি, সম্পত্তি কর, বিমা ও মেরামতের খরচ থেমে থাকে না। এ কারণে কেউ কেউ বেশি ভাড়ার অপেক্ষায় থাকার পরিবর্তে নিয়মিত ভাড়া দেবেন এমন ভাড়াটিয়াকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের পক্ষ থেকে মেরামত, পানি ও হিটিংয়ের ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগের কথাও উঠে আসছে। রুম ভাড়া ও রুমমেট খোঁজার ক্ষেত্রেও বাজেটের সঙ্গে উপলব্ধ বাসস্থানের মিল পাওয়া কঠিন হচ্ছে বলে বাসিন্দাদের বর্ণনায় এসেছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টের পুরো ভাড়া বহন করতে না পেরে অনেকে খরচ ভাগাভাগি করেন। রুম খালি থাকলে সেই খরচ আবার একজনের ওপরই পড়ে। তবে কিছু বাড়িওয়ালার ভাড়াটিয়া পেতে দেরি হওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে পুরো সিটিতে ভাড়ার চাহিদা কমেছে বলা যায় না। স্ট্রিটইজির হিসাবে, সেপ্টেম্বরে তাদের প্ল্যাটফর্মে ভাড়ার জন্য তালিকাভুক্ত বাসার সংখ্যা এক বছর আগের তুলনায় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ কম ছিল। সিটির সর্বশেষ সরকারি আবাসন জরিপেও, যা ২০২৩ সালে করা হয়েছিল, ভাড়ার জন্য খালি বাসার হার ছিল মাত্র ১ দশমিক ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ ব্যক্তিগত পর্যায়ে বাসা বা রুম খালি থাকার সমস্যা থাকলেও সিটিজুড়ে সাশ্রয়ী বাসার সংকট রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক অলাভজনক সংস্থা কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ এলাকায় শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ড. ফয়জুল ইসলামের উদ্যোগে পরিচালিত এসব কার্যক্রমের লক্ষ্য হলো গ্রামের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগত দক্ষতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে পরিচালিত জহিরউদ্দিন–হরমুজা ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা দুটি বিভাগ রয়েছে। নিয়মিত বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে সপ্তাহে চার দিন এসব ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার ক্ষেত্রে ইংরেজি ভাষার দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ গ্রামীণ শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়াতে রয়েছে জহিরউদ্দিন–হরমুজা কম্পিউটার সেন্টার। এখানেও নিয়মিত বিদ্যালয়ের সময়ের বাইরে সপ্তাহে চার দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। কম্পিউটার ব্যবহারের প্রাথমিক দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যেসব শিক্ষার্থীর নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ সীমিত, তাদের জন্য এ ধরনের প্রশিক্ষণ ভবিষ্যৎ শিক্ষা ও কর্মজীবনে কাজে আসতে পারে। শিক্ষা ও প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে এই উদ্যোগে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গ্রামের উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে রয়েছে জহিরউদ্দিন–হরমুজা মেডিকেল সেন্টার। কেন্দ্রটিতে বিনামূল্যে বহির্বিভাগের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। প্রতি শুক্রবার, অর্থাৎ স্থানীয় হাটের দিনে, চিকিৎসাকেন্দ্রটি খোলা থাকে। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান। তবে চিকিৎসাকেন্দ্রে কী ধরনের সেবা দেওয়া হয়, কোন কোন স্বাস্থ্যকর্মী দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিদিন বা প্রতি সপ্তাহে কতজন রোগী সেবা নেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। কেএআইএফ ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের লর্টন ও স্প্রিংফিল্ড এলাকার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি অলাভজনক সংস্থা। সংস্থাটি শিক্ষা, সংস্কৃতি, মানবিক সহায়তা ও ধর্মীয় দাতব্য কর্মকাণ্ডে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত হয় বলে জানানো হয়েছে। ফাউন্ডেশনটির অর্থায়নে পরিচালিত ইংরেজি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কম্পিউটার সেন্টার ও মেডিকেল সেন্টার একই এলাকার মানুষের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে। ড. ফয়জুল ইসলাম প্রায় ৩০ বছর ধরে দাতব্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য থেকে জানা যায়। তাঁর নিজস্ব অর্থায়নে এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফাউন্ডেশনের অর্থায়নের পরিমাণ, প্রকল্পগুলোর বার্ষিক ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা এবং কার্যক্রমের দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে উদ্যোগগুলোর প্রকৃত ব্যাপ্তি ও প্রভাব মূল্যায়নের জন্য এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের ভাষা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানো এবং স্থানীয় মানুষের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সহায়তার একটি উদাহরণ। কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের এসব উদ্যোগ কতসংখ্যক শিক্ষার্থী ও রোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট তথ্যের মাধ্যমে জানা গেলে এর সামাজিক প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। স্যাম রিয়া ওয়াশিংটন ডিসি প্রতিনিধি
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বকেয়া বেতন পরিশোধ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার দাবিতে আবারও রাজপথে নেমেছেন তৈরি পোশাকশ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর সকালে আজমপুর ও রাজলক্ষ্মী এলাকায় বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নেন। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে তীব্র যানজট তৈরি হয়। দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ নিয়ে টানা চতুর্থ দিনের মতো উত্তরা এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন দেখা যায়। শ্রমিকদের অভিযোগ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে বর্তমান বেতনে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। বকেয়া বেতন ও অন্যান্য পাওনা নিয়েও তাঁদের অসন্তোষ রয়েছে। এর আগে একই দাবিতে বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেছিলেন। বিক্ষোভের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রায় দুই ঘণ্টা অবরোধ চলার পর শ্রমিকেরা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে। কর্মস্থলগামী মানুষ, গণপরিবহনের যাত্রী ও পথচারীরা এ সময় দুর্ভোগে পড়েন। শ্রমিকদের আন্দোলনের মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের নতুন ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পোশাক কারখানার মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের মনোনয়ন চেয়ে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মনোনয়ন পাওয়ার পর বোর্ড গঠনের পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই মজুরি বাড়ানো প্রয়োজন। তবে ৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি হিসেবে নির্ধারণের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি। মজুরি বোর্ডের আলোচনা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প দেশের রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানের অন্যতম প্রধান উৎস। এ খাতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদন, শিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা এবং কারখানার স্থিতিশীলতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিকদের দাবি ও মালিকপক্ষের অবস্থানের মধ্যে সমন্বয় করে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
রাজনীতি
রাড্ডাকান্ডের সমালোচনার মাঝেই পদত্যাগ করলেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি
‘জান্নাতি দাদু’ বলে জামায়াত আমিরকে রাশেদের কটাক্ষ, মিরপুরে উচ্ছেদ ঘিরে উত্তাপ
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreকানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরের এক দম্পতি আবারও বড় অঙ্কের লটারি জিতে আলোচনায় এসেছেন। অ্যাঞ্জেলিনা ও এডওয়ার্ড লাডো নামের এই দম্পতি এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার কানাডীয় ডলারের শীর্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালেও স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন লটারির টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ আট বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় অঙ্কের লটারি জিতলেন এই দম্পতি। এবার তাঁরা পুরস্কারটি পেয়েছেন আটলান্টিক লটারির চার ডলারের ‘সেট ফর লাইফ’ স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন গেমে। লটারির নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল। তাঁরা চাইলে আগামী ২৫ বছর প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ডলার করে নিতে পারতেন। অথবা এককালীন ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার গ্রহণ করতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত দম্পতি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই অর্থের পরিমাণ মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের কিছু বেশি। পুরস্কার জেতার খবর প্রথমে শুনে এডওয়ার্ড লাডো বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। লটারির কর্মকর্তাদের কাছে তিনি জানান, স্ত্রী তাঁকে জয়ের কথা বলার পরও তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো মজা করছেন অ্যাঞ্জেলিনা। তাই তিনি স্ত্রীকে শান্ত থাকতে বলেন এবং বাড়ি ফিরে বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন বলে জানান। এডওয়ার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, খবরটি শুনে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অবিশ্বাস। পরে যখন নিশ্চিত হন যে সত্যিই তাঁরা পুরস্কার জিতেছেন, তখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে কিছুটা সময় লাগে। বড় অঙ্কের অর্থ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি কীভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও ভাবছেন তাঁরা। এর আগে ২০১৮ সালে স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন লাডো দম্পতি। সেই তুলনায় এবারের ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের পুরস্কার কিছুটা কম হলেও, একই ধরনের লটারিতে দ্বিতীয়বার এমন সাফল্য তাঁদের জন্য ব্যতিক্রমী ঘটনা। এডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত সীমিত পরিমাণেই লটারি খেলেন। আগের জয়ের পরও তাঁদের খেলার ধরন খুব বেশি বদলায়নি। তিনি বলেন, তাঁরা পরিমিতভাবেই লটারি খেলেন, বিশেষ করে এখন। তবে তাঁর মতে, কেউ অংশ না নিলে জেতার সুযোগও থাকে না। তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বড় পুরস্কার জিতলেও তাঁরা নিয়মিত বিপুল অর্থ ব্যয় করে লটারি খেলেন না। দম্পতির পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাঁরা জানিয়েছেন, কলেজে পড়াশোনা করা সন্তানদের শিক্ষার খরচে সহায়তা করতে চান। পাশাপাশি সন্তানদের জীবনের শুরুটা আরও সহজ করতে এই অর্থ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে পরিবারের জন্য সহায়তার বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেননি তাঁরা। এডওয়ার্ড জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য বিষয় নিয়েও তাঁরা ভাববেন। আপাতত এই মুহূর্তের আনন্দ ও বিস্ময়কে অনুভব করতে চান তাঁরা। বড় অঙ্কের অর্থ হাতে আসার পরও তা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সময় নিয়ে ভাবতে চাইছেন। এদিকে, ‘সেট ফর লাইফ’ লটারি গেমে এখনো পাঁচটি শীর্ষ পুরস্কার দাবি করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এসব পুরস্কার জেতার সুযোগ এখনো বাকি রয়েছে। তবে ওই পুরস্কারগুলো কে বা কারা জিতবেন, তা এখনো জানা যায়নি। আট বছর আগে ২৫ লাখ ডলার এবং এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার জয়ের অভিজ্ঞতা লাডো দম্পতিকে বিরল এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁরা এবার পাওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের শিক্ষায় ব্যয় করতে চান। আপাতত সেই পরিকল্পনাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পর্তুগালের হোসে মেস্ত্রের মুখের এক পাশ ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলেছিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা বিশাল এক টিউমার। ঠোঁট থেকে শুরু করে মুখের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই টিউমারের কারণে তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। শ্বাস নিতে কষ্ট হতো, খাবার খাওয়াও হয়ে উঠেছিল কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কার্যকর সমাধান পাননি তিনি। একসময় তাঁর চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় শেষ বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু লিসবনের রাস্তায় এক অচেনা ব্রিটিশ পর্যটকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁর জীবনে নতুন আশার সূচনা হয়। ১৯৫০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মেস্ত্রের মুখে জন্মগত রক্তনালির অস্বাভাবিকতা ছিল। কৈশোরে, প্রায় ১৪ বছর বয়স থেকে, সেটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে ভাসকুলার ম্যালফরমেশন বা রক্তনালির গঠনগত ত্রুটি বলা হয়। তাঁর মুখের টিউমারটি সময়ের সঙ্গে এত বড় হয়ে ওঠে যে ঠোঁট, মুখ ও জিহ্বার স্বাভাবিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, রক্তপাত ও অন্যান্য জটিলতার কারণে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। মেস্ত্রের চিকিৎসার জন্য পর্তুগালের পাশাপাশি স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসাকেন্দ্রেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তবে রোগের জটিলতা এবং অস্ত্রোপচারের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসা নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসও চিকিৎসার সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছিল। মেস্ত্রে ও তাঁর মা রক্ত সঞ্চালন নিয়ে আপত্তি করতেন। ফলে এমন একটি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, যেখানে অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। মায়ের মৃত্যুর পর ছোট বোন এডিথ আব্রেউ তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি নতুন করে সাহায্য খুঁজতে থাকেন। এ সময় ‘পিটার’ নামে পরিচিত এক ব্রিটিশ পর্যটক লিসবনের রাস্তায় মেস্ত্রেকে দেখেন। এর আগে মুখের জটিল টিউমার নিয়ে অস্ত্রোপচারের একটি তথ্যচিত্র দেখেছিলেন তিনি। সেই সূত্রে চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিননের কথা মনে পড়ে তাঁর। পরে ই-মেইলের মাধ্যমে মেস্ত্রের চিকিৎসার বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন ওই পর্যটক। মেস্ত্রের পরিবার তাঁকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করত বলে সে সময়ের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। ২০১০ সালে মেস্ত্রে ও তাঁর বোন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে যান। সেখানে সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিনন এবং তাঁর দল কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করেন। প্রথমে শ্বাস নেওয়ার পথ নিরাপদ করা হয় এবং টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করা হয়। পরবর্তী অস্ত্রোপচারগুলোতে মুখ, নাক ও মুখগহ্বরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের কাজ চলে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে কয়েক মাস শিকাগোয় থাকতে হয়েছিল। অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টিউমারটি রক্তনালিতে ভরা থাকায় অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল শুধু টিউমার অপসারণ নয়, মেস্ত্রের শ্বাস নেওয়া, খাবার খাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতাও ফিরিয়ে আনা। চিকিৎসার পর তাঁর মুখের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসে। তবে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়নি। ক্ষত সারানো, মুখের গঠন পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও সময় প্রয়োজন ছিল। মেস্ত্রের জীবনের এই অধ্যায় শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির গল্প নয়, অপরিচিত একজন মানুষের উদ্যোগ কীভাবে অন্যের জীবনে পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে, তারও উদাহরণ। যাঁরা আগে তাঁর মুখের দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকাতেন, তাঁদের আচরণে তিনি প্রায়ই অস্বস্তিতে পড়তেন বলে সে সময়ের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাইরে বের হতে এবং মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে আগের তুলনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পে তাঁর নামে প্রচারিত ‘আমার মুখ কুৎসিত, কিন্তু মন নয়’ বক্তব্যটির নির্ভরযোগ্য মূল উৎস নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে তাঁর যাচাই করা সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, মেস্ত্রে দীর্ঘদিন একটি জটিল জন্মগত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মুখের বড় টিউমার অপসারণ করা হয়। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসে মেস্ত্রে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর জীবন ও চিকিৎসার গল্প আজও মানুষের সহমর্মিতা, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এবং শারীরিক ভিন্নতার কারণে কাউকে অবজ্ঞা না করার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। সূত্র: এবিসি নিউজ, এবিসি৭ শিকাগো, পর্তুগালের Notícias ao Minuto।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নবীকে অবমাননার অভিযোগে ইরানে নাজমেহ আমিনি নামে ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর, ছয় মাস ও এক দিনের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত নয়, ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এবং হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আমিনি হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় রায় দেওয়া হয়। এর একটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবীকে অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম খোরাসানও তাঁর মামলার খবর প্রকাশ করেছে। তবে বিতর্কিত পোস্টটির সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি মাশহাদের একটি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ভাকিলাবাদ কারাগারে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ পরিবর্তন করে নবীকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। কারাগার থেকে পাঠানো বলে পরিচিত একটি অডিও বার্তায় আমিনি নিজের মামলার পুনর্বিবেচনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি আইনজীবী, আইনি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তাঁর মামলার নথি পর্যালোচনার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য যেন কারাগারের নথিতে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং তাঁর হয়ে অন্যরা যেন কথা বলেন। অডিও বার্তাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের রায় অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রায় বাতিলের দাবিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইরানে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মোরায়েফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়। ইরানের দণ্ডবিধিতে নবী মুহাম্মদকে অবমাননার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে দেশটির আইনে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিক অবস্থার বিষয়ও বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে আমিনির পক্ষ থেকে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে না থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। আমিনির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো বলেছে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার, আইনজীবীর সহায়তা এবং নির্যাতনমুক্ত আটক নিশ্চিত করা জরুরি। বিক্ষোভ দমনের সময় বহু মানুষ নিহত ও আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব এক নয়। ইরানের কর্তৃপক্ষ আমিনির মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উচ্চ আদালতে তাঁর আপিলের ফল কী হয় এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হয় কি না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায় পুনর্বিবেচনা এবং তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস, হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, দ্য গার্ডিয়ান।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে তাদের সামরিক ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও অত্যাধুনিক ও উন্নত অস্ত্র। বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন ৪০ দিনের এক যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়ানো হবে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মোহেব্বি স্পষ্ট জানিয়েছেন যেকোনো আগ্রাসনের আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে তেহরান। তবে নতুন যুক্ত হওয়া অস্ত্রগুলো ঠিক কী ধরনের সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন এই মুহূর্তে ইরানের ওপর হামলা চালানো তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে না। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে জানায় আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন এবং ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সম্প্রতি আর্মি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আপাতত তাদের ইরানে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। কেন এখন হামলা সুবিধাজনক নয় সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন তার দল লিকুড পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও উগ্রপন্থি নেতা ইতামার বেন গিভিরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি লিকুড পার্টির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় ইরান নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। সূত্র জানিয়েছে মার্কিনি বা ইসরাইলিদের দিক থেকে হামলার কোনো প্রস্তুতি টের পেলে ইরান আগেই পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ প্রধান কেন ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেছেন ইরানি গুপ্তচররা যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়াচ্ছে। গত মাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার একটি কথিত ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের জড়িত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য ঐ নির্দিষ্ট ঘাঁটি ব্যবহার করেই মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানে হামলা চালিয়েছিল। যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে দেওয়া বার্ষিক বক্তব্যে এমআইফাইভ মহাপরিচালক কেন ম্যাককালাম বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে চলতি বছরে সামরিক স্থাপনার মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেন ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং যুক্তরাজ্যের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটছে। যদিও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চলমান তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র: আলজাজিরা, চ্যানেল টুয়েলভ
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হতেই সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, সৌদি নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২৩ ক্যারেট সোনায় তৈরি ট্রাম্পের ন গ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শিত
এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন বারাক ওবামা, ডেট্রয়েটে ২৪ অক্টোবর সমাবেশ
শারীরিক অসুস্থতাকে মানসিক সমস্যা ভেবে ভুল, অটোইমিউন রোগ নির্ণয়ে পিছিয়ে নারীরা
মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ৯০ ডলারের ফেরত, কারা পাবেন এই অর্থ?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ বন্ধের ঝুঁকি, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ছে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার সুবিধা বাছাইয়ের সময় আসছে, লাখো প্রবীণকে নতুন পরিকল্পনা যাচাইয়ের পরামর্শ
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের
স্বপ্নে মহানবী (সা.)-কে দেখার পর অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: অভিনেত্রী জারনিশ খান
এনটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে নির্মাতা মেহেদী হাসান রাজুর ‘ক্ষত’
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার ম্যান’ অভিনেতা টোবি
স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর
ইউএফও শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা, দাবি চাঁদে হাঁটা নাসার সাবেক নভোচারীর
সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞতায় এনায়েতুরের চার প্রকৌশলীর উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী
মা বাবাকে সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছু ছেড়ে নিজ দেশে মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও বদলে গেল অগ্রাধিকার, বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য মাইক্রোসফট ছাড়লেন কর্মকর্তা
১৯ বছরে এমআইটি ছেড়ে ২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়াং এখন মেটার প্রযুক্তি নেতৃত্বে
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
নিউইয়র্কে বাড়িভাড়ার চাপে ভাড়াটিয়া, খরচের চাপে বাড়িওয়ালাও
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টেই প্রায় বছরের আয়
২০২৭ সালের গ্রিন কার্ড লটারি নিয়ে আদালতের নির্দেশ, বাংলাদেশিদের আবেদনযোগ্যতা এখনো অনিশ্চিত
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে বিএমএএনএ-জিএর সহযোগিতায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার আয়োজন
গ্রামের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি, কম্পিউটার শিক্ষা ও বিনামূল্যে চিকিৎসা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কেএআইএফ ফাউন্ডেশন
মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কিনেন ফোন, নাসিম এখন মাইক্রোসফটে
লিংকডইন ব্যবহার করে যেভাবে খুঁজবেন মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
পানীয়তে মা দক শনাক্তের নেলপলিশ তৈরি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
প্রায় ১০ কোটি বছর আগের পোকার সন্ধান, শরীরের দ্বিগুণ লম্বা মুখ: নাম টেলিটাবিজের নু-নু
নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
১৫ দিনের মধ্যে এসএসসিতে ফেল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চান! শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারের আবেদন নিয়ে জেনে নিন নতুন নিয়ম
সিলেটের চা শ্রমিকের মেয়ে শান্তা এখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী, পড়ছেন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে
চুয়েটে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অসহযোগ, ২০ দিন ধরে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা
টেক্সাসে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিনা ফিতে কলেজে আবেদনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
স্বামীর আগের বিয়ের খবর জানার পর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার দুইজন
গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
তরুণীকে স্পর্শের অভিযোগে সড়কে মারধর, ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় কারাগারে দুজন!
পাউন্ডল্যান্ডে ২৬ দিনে ২৫ হাজার পাউন্ড আত্মসাৎ, ভারতীয় কর্মীর সাজা
ভুয়া শ্রোতা দিয়ে এআইয়ের গান চালিয়ে ৮০ লাখ ডলার আয়, যুক্তরাষ্ট্রে মাইকেল স্মিথের ১৮ মাসের কারাদণ্ড
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
অনলাইন বিজ্ঞাপনের আড়ালে নজরদারির প্রমাণ মিলেছে ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান ঘিরে
ফিলিস্তিনিদের ভূমি ও অধিকার অস্বীকার করে টিকতে পারবে না ইসরাইল: ওবামা
মালয়েশিয়ায় বিনা খরচে ১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ, শুরু হলো নতুন প্রক্রিয়া
কঠিন সময়ে ৪০০ পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন রাশমিকা মান্দানা; নিলেন পুরো এক বছরের খাবারের দায়িত্ব
সৌদি আরবে মসজিদে অনৈতিক কাজের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
১২ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে সংসার চলে না, ৩০ হাজার টাকার দাবিতে রাজপথে পোশাকশ্রমিক
মাদক-জুয়া বন্ধ করতে গিয়ে হামলার শিকার, হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিএনপি নেতার মৃত্যু
আজ রাত থেকেই সোনালী ব্যাংকের এটিএমসহ সব ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ, ভোগান্তির আশঙ্কা
১৮ বছরে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি, দেউলিয়া থেকে ২৪ বিলিয়ন ডলারের এয়ারট্রাঙ্ক গড়লেন রবিন
উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের লাভ নেই, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে জোর দিলেন রাষ্ট্রপতি
বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও প্রাথমিকের শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
দুই মাসে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ডিসেম্বর থেকে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাসিনা ভারতে যা করছেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন হলে মোদি কি ঢাকায় আসতেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী