যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এলএসইউ) ক্যাম্পাসের কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এবং তাঁর ফায়ারফাইটার হবু স্বামী। রোববার ভোরে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় মদ্যপ এক তরুণী চালকের গাড়ির ধাক্কায় এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যাটন রুজ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নিহত ওই জুটির নাম লেয়া ফন্টে (২১) এবং শেন হার্স্টিয়াস (২১), যাঁরা একে অপরের সাথে বাগদান সম্পন্ন করেছিলেন। এই ঘটনায় মিয়া ডসন (২০) নামের এক তরুণী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ড্রাইভিং, হিট-অ্যান্ড-রান এবং গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ডসন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে উঠে যান এবং সেখানে হাঁটতে থাকা ওই জুটিকে সজোরে ধাক্কা দেন। ঘটনাস্থলেই ফন্টের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হার্স্টিয়াসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিভার রিজ ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক ফেসবুক পোস্টে শেন হার্স্টিয়াসকে স্মরণ করে জানিয়েছে, শেন কেবল একজন ফায়ারফাইটারই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী একজন মানুষ, যাঁর অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রবল আগ্রহ ছিল। অন্যদিকে, লেয়া ফন্টে ছিলেন লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট ওয়েড রুস এক বিবৃতিতে ফন্টের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এই শোকের মুহূর্তে তাঁদের ধৈর্য ধারণের প্রার্থনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার দায়ে কাভান বিষ্ণুভাই প্যাটেল (৩২) নামের এক কনভেনিয়েন্স স্টোর মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ই-বাইকে থাকা হান্টার রাসে নামের ওই কিশোরকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দেওয়ার পর সে মারাত্মক আহত অবস্থায় কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল। গত শনিবার রাতে পরিবারের সিদ্ধান্তে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হলে অভিযুক্ত প্যাটেলের বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনে রবিবার সকালে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাউথ উইকহ্যাম রোডের 'কর্নার স্টোর' নামের একটি দোকানে চুরির অ্যালার্ম বেজে ওঠে। দোকান মালিক প্যাটেল পুলিশকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজে তিনি হালকা রঙের হুডি পরা এক ব্যক্তিকে দোকানের ভাঙা দরজা দিয়ে বেরিয়ে ই-বাইকে করে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। এরপর ড্রোন ও কে-৯ ইউনিটসহ পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি শুরু করলে রাস্তায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের অভিযোগ, প্যাটেল নিজের গাড়ি নিয়ে ওই কিশোরের পিছু নেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান। মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তায় প্রায় এক ঘণ্টা পড়ে থাকার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে নিহত কিশোরই সেই চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিল কি না, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। প্যাটেল ঘটনা ঘটিয়ে দোকানে ফিরে এলেও পুলিশের জেরার আগ পর্যন্ত তিনি কিশোরকে গাড়ি চাপা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত এবং আহত ব্যক্তিকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হলেও, কিশোরের মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় ব্রেভার্ড কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। এদিকে, এই মর্মান্তিক পরিণতির পরও নিহত কিশোরের পরিবার অন্যদের জীবন বাঁচাতে তার অঙ্গদানের মতো এক মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর উত্তর-পশ্চিম শহরতলি মান্ডেলিনের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওয়েলিংটন অ্যাভিনিউয়ের ২০০ ব্লকের ওই বাড়িতে একটি 'ওয়েল-বিং চেক' বা বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেওয়ার স্বাভাবিক কলে সাড়া দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভেতরে প্রবেশ করে তারা তিনজন পুরুষ ও দুজন নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। নিহত পাঁচজনই গুলিবিদ্ধ ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য অথবা কোনো পারিবারিক সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হ্যান্ডগানও উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মান্ডেলিন পুলিশ, লেক কাউন্টি মেজর ক্রাইম টাস্ক ফোর্স এবং লেক কাউন্টি করোনারস অফিস যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম ও বয়স প্রকাশ করা হয়নি এবং ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। তবে পুলিশ আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি বা হুমকি নেই। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এই ঘটনা সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে মান্ডেলিন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো পরিপাটি পোশাক পরে একাধিক চিকিৎসা কেন্দ্রে (মেডিকেল অফিস) চুরির অভিযোগে এক বৃদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কার্লোস অ্যান্থনি মিচেল (৬৭) নামের ওই ব্যক্তি উডব্রিজ এলাকার বাসিন্দা। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চুরির সময় ওই ব্যক্তি ব্লেজার, সাদা শার্ট, গ্লাভস এবং টুপি পরে একদম পেশাদার ভদ্রলোকের বেশে ছিলেন। গত মে মাস থেকে শুরু করে সম্প্রতি পর্যন্ত মোট তিনটি বাণিজ্যিক চুরির ঘটনার সাথে তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, প্রথম চুরির ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ মে উইলো ওকস করপোরেট ড্রাইভ এলাকার একটি বন্ধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। সেখানে ঢুকে ওই ব্যক্তি ক্যামেরা, ক্যামেরার সরঞ্জাম ও নগদ অর্থ চুরি করে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে চুরি যাওয়া সেসব সরঞ্জাম বন্ধক রাখার সূত্র ধরে তদন্তকারীরা মিচেলকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেন। এরপর গত ৩ ও ১১ সেপ্টেম্বর ম্যাকলিন এবং ফেয়ার ওকস এলাকার আরও দুটি মেডিকেল অফিসে চুরির ঘটনা ঘটে। উভয় জায়গার সিসিটিভি ফুটেজে ব্লেজার, সাদা শার্ট, নীল বাকেট হ্যাট, গ্লাভস এবং মেডিকেল মাস্ক পরা একই ব্যক্তির উপস্থিতি দেখতে পান গোয়েন্দারা। পোশাক ও চুরির ধরনের এই মিল থেকেই তিনটি ঘটনার যোগসূত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। দীর্ঘ তদন্তের পর গত ২৯ সেপ্টেম্বর ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশের স্পেশাল ইউনিট মিচেলকে গ্রেপ্তার করে। তার বিরুদ্ধে চুরি, অবৈধ অনুপ্রবেশ, সম্পত্তি ধ্বংস এবং বিক্রির উদ্দেশ্যে চোরাই মাল রাখার একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন ছাড়াই আটক রাখা হয়েছে এবং আগামী ২৮ ডিসেম্বর এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। ভার্জিনিয়ার আইন অনুযায়ী, এই ধরনের চুরির অপরাধে এক থেকে বিশ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। অভিনব এই চোর আরও কোনো অপরাধের সাথে জড়িত কি না, তা নিয়ে পুলিশের তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে লাখো সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগী চলতি সপ্তাহে অক্টোবর মাসের নিয়মিত অবসরভাতা ও অন্যান্য সুবিধার অর্থ পেতে যাচ্ছেন। আগামী বুধবার, ২১ অক্টোবর, যেসব সুবিধাভোগীর জন্মমাসের তারিখ ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তাদের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা হওয়ার কথা। ২০২৬ সালের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, অক্টোবর মাসে পরবর্তী কিস্তি দেওয়া হবে ২৮ অক্টোবরও। যোগ্যতার শর্ত পূরণকারী কিছু অবসরপ্রাপ্তের মাসিক সুবিধার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তবে সবাই এই পরিমাণ পাবেন না; কর্মজীবনের আয়, অবসর নেওয়ার বয়স এবং কখন থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন, তার ওপর অর্থের পরিমাণ নির্ভর করে। যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ) সাধারণত সুবিধাভোগীদের জন্মতারিখ অনুযায়ী মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বুধবারে অর্থ পাঠায়। এই নিয়ম মূলত তাদের জন্য, যারা ১৯৯৭ সালের এপ্রিলের পর সোশ্যাল সিকিউরিটির সুবিধা নেওয়া শুরু করেছেন এবং একই সঙ্গে সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই পান না। চলতি মাসের সময়সূচি অনুযায়ী, যাদের জন্মদিন মাসের ১ থেকে ১০ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ ১৪ অক্টোবর দেওয়া হয়েছে। যাদের জন্মদিন ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে, তারা ২১ অক্টোবর অর্থ পাবেন। আর যাদের জন্মদিন ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে, তাদের অর্থ পাঠানোর নির্ধারিত দিন ২৮ অক্টোবর। তবে সব সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে এই সময়সূচি প্রযোজ্য নয়। যারা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকেই সোশ্যাল সিকিউটির অর্থ পাচ্ছেন, তাদের সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। যারা সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই—দুই ধরনের সুবিধাই পান, তাদের সাধারণত এসএসআইয়ের অর্থ মাসের ১ তারিখে এবং সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ ৩ তারিখে দেওয়া হয়। নির্ধারিত দিনে অর্থ না পৌঁছালে এসএসএ যোগাযোগ করার আগে আরও তিনটি ডাক-যোগাযোগের দিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেয়। মাসে সর্বোচ্চ কত ডলার পাওয়া যেতে পারে সোশ্যাল সিকিউটির অবসরভাতার পরিমাণ সবার জন্য এক নয়। একজন কর্মী কর্মজীবনে কত আয় করেছেন, কোন বয়সে অবসর নিয়েছেন এবং কখন থেকে সুবিধা দাবি করেছেন—এসব বিষয় মাসিক অর্থ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৬ সালে সর্বোচ্চ সুবিধার উদাহরণ হিসেবে, ২২ বছর বয়স থেকে প্রতি বছর সামাজিক নিরাপত্তা করের আওতাভুক্ত সর্বোচ্চ আয় করা কোনো কর্মী ৭০ বছর বয়সে অবসর নিলে মাসে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ১৮১ ডলার পেতে পারেন। একই ধরনের আয় থাকলে পূর্ণ অবসরের বয়সে অবসর নেওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মাসিক সুবিধা ৪ হাজার ১৫২ ডলার। আর ৬২ বছর বয়সে অবসর নিলে সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়ায় ২ হাজার ৯৬৯ ডলার। অর্থাৎ, আগে অবসর নিয়ে সুবিধা দাবি করলে সাধারণত মাসিক অর্থের পরিমাণ কমে যায়। অন্যদিকে পূর্ণ অবসরের বয়স পার হওয়ার পর ৭০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিলম্বিত অবসর সুবিধার কারণে মাসিক অর্থ বাড়তে পারে। তবে ৭০ বছরের পর অপেক্ষা করলেও এই ব্যবস্থায় অতিরিক্ত সুবিধা বাড়ে না। অবসরভাতা পাওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য অধিকাংশ কর্মীর ৪০টি সোশ্যাল সিকিউরিটি ক্রেডিট প্রয়োজন হয়, যা সাধারণত প্রায় ১০ বছর কাজ করার মাধ্যমে অর্জন করা যায়। ২০২৬ সালে প্রতি ১ হাজার ৮৯০ ডলার যোগ্য আয়ের বিপরীতে একটি ক্রেডিট পাওয়া যায়। বছরে সর্বোচ্চ চারটি ক্রেডিট অর্জন করা সম্ভব। তবে কত ক্রেডিট রয়েছে, তা মূলত সুবিধা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণে কাজে লাগে; মাসিক অর্থের পরিমাণ নির্ধারণে কর্মজীবনের আয় ও অবসরের বয়সও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৭ সালে বাড়ছে সুবিধার অর্থ অক্টোবরের ২১ তারিখে যেসব অর্থ পাঠানো হবে, সেগুলো ২০২৬ সালের জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা কোলা (COLA) অনুযায়ী নির্ধারিত। ২০২৬ সালে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছিল। তবে ২০২৭ সালের জন্য নতুন করে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নতুন সমন্বয়ের ফলে প্রায় ৭ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন নাগরিকের সোশ্যাল সিকিউরিটি ও এসএসআই সুবিধায় পরিবর্তন আসবে। এর মধ্যে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীর বর্ধিত অর্থ ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্যদিকে প্রায় ৭৩ লাখ এসএসআই গ্রহীতার বর্ধিত অর্থ দেওয়া শুরু হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর। কেউ কেউ দুই ধরনের সুবিধাই পান বলে এই সংখ্যাগুলো পরস্পরের সঙ্গে আংশিকভাবে মিলে যেতে পারে। এসএসএর হিসাব অনুযায়ী, ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের গড় মাসিক সুবিধা প্রায় ৭৫ ডলার বাড়বে। তবে প্রত্যেকের প্রকৃত বৃদ্ধি এক হবে না; ব্যক্তিগতভাবে বর্তমানে কত অর্থ পাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নতুন পরিমাণ নির্ভর করবে। জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের উদ্দেশ্য হলো মূল্যবৃদ্ধির কারণে সুবিধাভোগীদের ক্রয়ক্ষমতা যাতে অতিরিক্ত কমে না যায়, তা কিছুটা সুরক্ষিত রাখা। এ বৃদ্ধির হিসাব করা হয় শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি পেশাজীবীদের ভোক্তা মূল্যসূচক বা সিপিআই-ডব্লিউয়ের পরিবর্তনের ভিত্তিতে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম মন্ত্রণালয়ের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো এই সূচকের তথ্য প্রকাশ করে। নতুন সুবিধার তথ্য কখন জানা যাবে যারা ব্যক্তিগত ‘মাই সোশ্যাল সিকিউরিটি’ অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করেন, তারা নভেম্বরের শেষ দিক থেকে নিজেদের ২০২৭ সালের কোলা-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি অনলাইনে দেখতে পারবেন। যাদের অনলাইন অ্যাকাউন্ট নেই বা যারা কাগজে বিজ্ঞপ্তি পেতে চান, তাদের কাছে ডিসেম্বর মাসে ডাকযোগে নতুন সুবিধার তথ্য পাঠানো হবে। সুবিধাভোগীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২১ অক্টোবরের অর্থপ্রাপ্তির তারিখ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্মতারিখ ও সুবিধা পাওয়ার শ্রেণির ওপর। আর ৫ হাজার ১৮১ ডলারের সর্বোচ্চ মাসিক অঙ্কটি কেবল নির্দিষ্ট আয় ও অবসরের শর্ত পূরণকারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। তাই প্রত্যেকের নিজস্ব সুবিধার পরিমাণ ও পরবর্তী অর্থপ্রাপ্তির তারিখ জানতে ব্যক্তিগত সোশ্যাল সিকিউরিটি হিসাবের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার দায়ে কাভান বিষ্ণুভাই প্যাটেল (৩২) নামের এক কনভেনিয়েন্স স্টোর মালিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ই-বাইকে থাকা হান্টার রাসে নামের ওই কিশোরকে ইচ্ছাকৃতভাবে চাপা দেওয়ার পর সে মারাত্মক আহত অবস্থায় কয়েক দিন লাইফ সাপোর্টে ছিল। গত শনিবার রাতে পরিবারের সিদ্ধান্তে লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হলে অভিযুক্ত প্যাটেলের বিরুদ্ধে সেকেন্ড-ডিগ্রি মার্ডারের অভিযোগ এনে রবিবার সকালে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হয়। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে সাউথ উইকহ্যাম রোডের 'কর্নার স্টোর' নামের একটি দোকানে চুরির অ্যালার্ম বেজে ওঠে। দোকান মালিক প্যাটেল পুলিশকে জানান, সিসিটিভি ফুটেজে তিনি হালকা রঙের হুডি পরা এক ব্যক্তিকে দোকানের ভাঙা দরজা দিয়ে বেরিয়ে ই-বাইকে করে পালিয়ে যেতে দেখেছেন। এরপর ড্রোন ও কে-৯ ইউনিটসহ পুলিশের একাধিক দল তল্লাশি শুরু করলে রাস্তায় গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পুলিশের অভিযোগ, প্যাটেল নিজের গাড়ি নিয়ে ওই কিশোরের পিছু নেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে ধাক্কা দিয়ে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যান। মুমূর্ষু অবস্থায় রাস্তায় প্রায় এক ঘণ্টা পড়ে থাকার পর পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। তবে নিহত কিশোরই সেই চুরির ঘটনার সাথে জড়িত ছিল কি না, তা পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে বলতে পারেনি। প্যাটেল ঘটনা ঘটিয়ে দোকানে ফিরে এলেও পুলিশের জেরার আগ পর্যন্ত তিনি কিশোরকে গাড়ি চাপা দেওয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রাখেন। প্রাথমিকভাবে তার বিরুদ্ধে গুরুতর আঘাত এবং আহত ব্যক্তিকে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ আনা হলেও, কিশোরের মৃত্যুর পর তা হত্যা মামলায় রূপ নিয়েছে। বর্তমানে তাকে জামিন অযোগ্য অবস্থায় ব্রেভার্ড কাউন্টি জেলে রাখা হয়েছে। এদিকে, এই মর্মান্তিক পরিণতির পরও নিহত কিশোরের পরিবার অন্যদের জীবন বাঁচাতে তার অঙ্গদানের মতো এক মহৎ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর উত্তর-পশ্চিম শহরতলি মান্ডেলিনের একটি বাড়ি থেকে পাঁচজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে ওয়েলিংটন অ্যাভিনিউয়ের ২০০ ব্লকের ওই বাড়িতে একটি 'ওয়েল-বিং চেক' বা বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেওয়ার স্বাভাবিক কলে সাড়া দিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ভেতরে প্রবেশ করে তারা তিনজন পুরুষ ও দুজন নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। নিহত পাঁচজনই গুলিবিদ্ধ ছিলেন বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য অথবা কোনো পারিবারিক সম্পর্কে যুক্ত ছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে দুটি হ্যান্ডগানও উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে মান্ডেলিন পুলিশ, লেক কাউন্টি মেজর ক্রাইম টাস্ক ফোর্স এবং লেক কাউন্টি করোনারস অফিস যৌথভাবে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। এখন পর্যন্ত নিহতদের নাম ও বয়স প্রকাশ করা হয়নি এবং ঠিক কী কারণে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড বা আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ চলছে। তবে পুলিশ আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, এটি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে হচ্ছে এবং এর ফলে সাধারণ জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি বা হুমকি নেই। তদন্তের অগ্রগতির সাথে সাথে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া এই ঘটনা সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে মান্ডেলিন পুলিশ ডিপার্টমেন্টের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির (এলএসইউ) ক্যাম্পাসের কাছে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী এবং তাঁর ফায়ারফাইটার হবু স্বামী। রোববার ভোরে রাস্তার পাশ দিয়ে হাঁটার সময় মদ্যপ এক তরুণী চালকের গাড়ির ধাক্কায় এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। ব্যাটন রুজ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, নিহত ওই জুটির নাম লেয়া ফন্টে (২১) এবং শেন হার্স্টিয়াস (২১), যাঁরা একে অপরের সাথে বাগদান সম্পন্ন করেছিলেন। এই ঘটনায় মিয়া ডসন (২০) নামের এক তরুণী চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, বেপরোয়া ড্রাইভিং, হিট-অ্যান্ড-রান এবং গাড়ি চাপা দিয়ে হত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, রোববার রাত আনুমানিক ২টা ৪০ মিনিটের দিকে ডসন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ডান পাশের শোল্ডারে উঠে যান এবং সেখানে হাঁটতে থাকা ওই জুটিকে সজোরে ধাক্কা দেন। ঘটনাস্থলেই ফন্টের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হার্স্টিয়াসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কমিউনিটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রিভার রিজ ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক ফেসবুক পোস্টে শেন হার্স্টিয়াসকে স্মরণ করে জানিয়েছে, শেন কেবল একজন ফায়ারফাইটারই ছিলেন না; তিনি ছিলেন বিশাল হৃদয়ের অধিকারী একজন মানুষ, যাঁর অন্যের সাহায্যে এগিয়ে আসার প্রবল আগ্রহ ছিল। অন্যদিকে, লেয়া ফন্টে ছিলেন লুইজিয়ানা স্টেট ইউনিভার্সিটির বায়োলজিক্যাল সায়েন্সেস বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্রী। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রেসিডেন্ট ওয়েড রুস এক বিবৃতিতে ফন্টের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং এই শোকের মুহূর্তে তাঁদের ধৈর্য ধারণের প্রার্থনা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় থেকে প্রেম, আর সেই প্রেমকে বিয়ের সম্পর্কে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন। প্রিয় মানুষটির সঙ্গে নতুন জীবন শুরু করতে নিজের সব ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রি করে ১ হাজার ২০০ মাইলেরও বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে তাঁর অপেক্ষায় ছিল চরম হতাশা। যাঁকে এত দিন নিজের স্বপ্নের নারী বলে বিশ্বাস করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। এডিমার মার্টিন্স নামের ওই ব্যক্তি পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তাঁর দাবি, ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেসিকা অলিভেইরা নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর দীর্ঘদিন ধরে ওই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যোগাযোগ চলতে থাকে। একপর্যায়ে জেসিকার প্রতি গভীর আবেগ তৈরি হয় তাঁর। ধীরে ধীরে তিনি বিশ্বাস করতে শুরু করেন, এই নারীই তাঁর জীবনের কাঙ্ক্ষিত সঙ্গী, যাঁর সঙ্গে ভবিষ্যৎ কাটাতে চান তিনি। একাকিত্ব কাটিয়ে জীবনে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশায় মার্টিন্স এই সম্পর্ককে বাস্তব জীবনে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাঁর মনে হয়েছিল, জেসিকার সঙ্গে দেখা করে বিয়ের মাধ্যমে সম্পর্কটিকে স্থায়ী করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সেই বিশ্বাস থেকেই বড় সিদ্ধান্ত নেন তিনি। নিজের কাছে থাকা ব্যক্তিগত জিনিসপত্র বিক্রি করে যাত্রার খরচ জোগাড় করেন। গত ৯ অক্টোবর ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানহাও রাজ্য থেকে রওনা দেন মার্টিন্স। তাঁর গন্তব্য ছিল দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস রাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তে। সেখানে পৌঁছানোর পর ১১ অক্টোবর থেকে জেসিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আসা এই ব্যক্তির আশা ছিল, অবশেষে স্বপ্নের মানুষটির সঙ্গে দেখা হবে এবং একসঙ্গে জীবন শুরু করার পথ খুলবে। কিন্তু বাস্তবতা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও জেসিকার দেখা পাননি মার্টিন্স। শেষ পর্যন্ত স্থানীয় একটি রেডিও স্টেশনে গিয়ে তাঁর সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, জেসিকা নামে ওই নারীর বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই। এত দিন যাঁকে সত্যিকারের মানুষ মনে করে ভালোবেসেছিলেন, তিনি আসলে এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। এই খবর জানার পর মার্টিন্সের সামনে তৈরি হয় নতুন সংকট। যাত্রার জন্য নিজের সম্পদ বিক্রি করে ফেলায় তাঁর হাতে অর্থও প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। বেলো হরিজন্তেতে অবস্থান করার মতো সামর্থ্য না থাকায় তিনি স্থানীয় সিটি হলে যান। সেখানে একজন সমাজকর্মীর কাছে নিজের পরিস্থিতি খুলে বলেন। পরে তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য সহায়তা দেওয়া হয়। মার্টিন্স জানান, একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে এসে জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজে পাওয়ার আশাতেই তিনি এত দূরের পথ পাড়ি দিয়েছিলেন। কিন্তু যে সম্পর্ককে সত্যি ভেবে এত বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তা তাঁকে হতাশ করেছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি পরিচয় এবং এআই-নির্ভর কাল্পনিক চরিত্রের সঙ্গে মানুষের আবেগের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেসিকা অলিভেইরা নামের অ্যাকাউন্টটির অনুসারী ছিল প্রায় তিন লাখ। অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে এআই দিয়ে তৈরি নারী চরিত্রটিকে বলতে শোনা যায়, তিনি এমন একজন পুরুষের সন্ধান করছেন, যাঁকে নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে আর্থিকভাবে দেখাশোনা করবেন। এ ধরনের বক্তব্যের কারণে অ্যাকাউন্টটি অনুসরণকারীদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছিল বলে ধারণা করা যায়। তবে মার্টিন্স ঠিক কোন বিষয়গুলো দেখে ওই চরিত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন, সে সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত আরেকটি ভিডিওতে অ্যাকাউন্টটির পরিচালনাকারী স্বীকার করেন, জেসিকা বাস্তব কোনো নারী নন; তিনি এআই দিয়ে তৈরি একটি চরিত্র। মার্টিন্সের সঙ্গে তাঁর কোনো সরাসরি যোগাযোগও হয়নি। অ্যাকাউন্ট পরিচালনাকারীর দাবি, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানো এবং মানুষের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। এত কিছুর পরও ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তোলার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। বর্তমানে তিনি এক আত্মীয়ের সঙ্গে থাকছেন। তাঁর পরিকল্পনা, আবারও বেলো হরিজন্তে যাবেন। তবে এবার কোনো কাল্পনিক চরিত্রের পেছনে নয়, বাস্তব জীবনে একজন সঙ্গী খুঁজতেই সেখানে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন বলে জানিয়েছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এ ঘোষণা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে ইশরাক এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর পদে না থাকলেও মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ফেসবুক পোস্টে ইশরাক লিখেছেন, দুপুর ২টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেবেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। পোস্টে তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখেছেন। ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন দেশে ফিরে অংশ নেন, সে আশাও প্রকাশ করেন তিনি। ইশরাক জানান, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে না থাকলেও বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদকের বিরুদ্ধে আগের চেয়ে আরও বেশি উদ্যম নিয়ে কাজ করবেন। তাঁর ভাষ্য, পদে থাকুন বা না থাকুন, মাদক নির্মূলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি আরও জোরদার করার এবং প্রজন্ম দলের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন জেলা সফরের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। এর আগে ইশরাককে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। তবে ১৮ অক্টোবর রাতে তাঁর প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা এক বিবৃতিতে এ খবরকে অসত্য ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। ইশরাকও এক অডিও বার্তায় পদত্যাগের নির্দেশ পাওয়ার খবর অস্বীকার করেছিলেন। পরে মধ্যরাতে দেওয়া ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, তাঁর ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্রুত সংবাদ সম্মেলন করে তা জানানো হবে। সোমবার সকালে দেওয়া নতুন পোস্টে দুপুর ২টায় পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা বলেছেন তিনি। সম্প্রতি রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ। ইশরাকের দাবি, তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত মাদকবিরোধী সামাজিক প্রতিরোধ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আইনের কোনো ব্যত্যয় ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, প্রথম আলো ও জাগো নিউজ২৪।
রাজনীতি
ভোটের আগে যুক্তরাষ্ট্রে বড় আইনি অভিযান, নির্বাচনী অপরাধে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
২০০৮ সালে সালাহউদ্দিনের সম্পদ ছিল ৬.৩ কোটি, ২০২৫ এ ৩০ কোটি এত সম্পদের উৎস কী!
রাড্ডাকান্ডের সমালোচনার মাঝেই পদত্যাগ করলেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি
‘জান্নাতি দাদু’ বলে জামায়াত আমিরকে রাশেদের কটাক্ষ, মিরপুরে উচ্ছেদ ঘিরে উত্তাপ
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার
১০০ কোটি টাকা জামায়াতের থেকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নীতি: মানবিক সংকট নাকি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreভারতের বিহার রাজ্যের বৈশালী জেলায় প্রায় ৩৫ কেজি পেরেক বসানো একটি বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিশা কুমারী। তাকে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ভিড় করছেন। নিশার পরিবারের দাবি, হিন্দুধর্মের পূজিত দেবী মা কালীর সঙ্গে তার আধ্যাত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, পেরেকের ওপর শুয়ে থাকলেও নিশা ব্যথা অনুভব করে না এবং তার শরীরে কোনো ক্ষতও দেখা যায়নি। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদন বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি বিহারের বৈশালী জেলার সহদেই বুজুর্গ এলাকার বাজিতপুর চকস্তুড়ি গ্রামের। নবরাত্রি উপলক্ষে নিশা এই ধর্মীয় আচার শুরু করে। কাঠের একটি পাটাতনে প্রায় আড়াই ইঞ্চি লম্বা পেরেক বসিয়ে বিছানাটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরিবার ও গ্রামবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, পেরেকের বিছানাটি প্রস্তুত করতে কয়েকজনের চার দিন সময় লেগেছিল। নিশাকে দেবী কালীর সাজে ওই বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার এই অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। নিশার ভাষ্য উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শ্রাবণ মাসের পর এক রাতে স্বপ্নে দেবী কালীর দর্শন পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার। সেই স্বপ্নের পর দেবীর আরাধনায় এই কঠিন আচার পালনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে সে জানিয়েছে। তবে দেবীর আবির্ভাব বা অলৌকিক ক্ষমতার বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ নেই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিশা ব্যথা অনুভব করে না এবং পেরেকের কারণে তার শরীরে ক্ষতও হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। নিশার বাবা প্রকাশ মল্লিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর মেয়ের শারীরিক অসুস্থতা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানোর পরও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ছোটবেলা থেকেই নিশার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নিশার কথা বলার ক্ষমতা হারানোর তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা, কথা বলতে না পারার কারণ কিংবা পেরেকের বিছানায় দীর্ঘ সময় থাকার ফলে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। নিশাকে দেখতে ভিড় বাড়তে থাকায় গ্রামের সরু রাস্তায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিতে আলোচনা করছেন, আবার কেউ কিশোরীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের বিষয়ে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। নিশার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে কি না, কিংবা চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করেছেন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়। সূত্র: ইন্ডিয়া মিডিয়া, নিউজ৪নেশন।
পশ্চিম তীরের অধিকৃত এলাকায় ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের অভিজ্ঞ আলোকচিত্রী হেইডি লেভিন। হামলার ঘটনাকে ‘কথিত’ হিসেবে উল্লেখ করায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লেভিন বলেন, হামলার প্রমাণ সামনে থাকার পরও এমন মন্তব্যে তিনি বিস্মিত ও অপমানিত বোধ করেছেন। গুরুতর আঘাত পেয়েও কাজে ফেরার প্রত্যয় জানিয়েছেন কয়েক দশক ধরে সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ঘটনা নথিবদ্ধ করে আসা এই সাংবাদিক। গত শুক্রবার পশ্চিম তীরের আবু ফালাহ গ্রামে ফিলিস্তিনিদের জলপাই সংগ্রহের ঘটনা কাভার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন লেভিন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুখোশধারী একদল ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী জলপাই সংগ্রহ করতে আসা ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় সাংবাদিক পরিচয় স্পষ্ট করে লেখা সুরক্ষাবর্ম ও হেলমেট পরা লেভিনকেও মাটিতে ফেলে লাথি মারা হয় এবং তাঁর ক্যামেরা ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। হামলায় তাঁর চারটি মেরুদণ্ডের হাড় ও একটি পাঁজর ভেঙেছে বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত ছাড়াও তাঁর একটি হাতের আঙুলে গুরুতর আঘাত লাগে। লেভিন অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাঁকে মারধর করে। তিনি নিজের ক্যামেরা ও ব্যাগ আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর ভাষ্য, হেলমেট ও ‘প্রেস’ লেখা সুরক্ষাবর্ম তাঁকে আরও গুরুতর আঘাত থেকে বাঁচিয়ে থাকতে পারে। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাঁকে রামাল্লার হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে ইসরায়েলের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হামলার ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে নতুন কোনো তথ্য তিনি পাননি বলেও জানিয়েছেন। হামলার বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেছেন, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তবে লেভিনের বক্তব্য, ঘটনার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও একে ‘কথিত’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করা তাঁকে অপমানিত করেছে। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অনেক ক্ষেত্রে হুমকির মুখে থাকা ফিলিস্তিনিদের তুলনায় বসতি স্থাপনকারীদের সুরক্ষায় বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এই অঞ্চলে কাজ করা লেভিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে পরিস্থিতি যতটা খারাপ হতে দেখছেন, আগে কখনো তেমন দেখেননি। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ হাসপাতালে লেভিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। লেভিন তাঁর প্রতিক্রিয়াকে আন্তরিক বলে বর্ণনা করেন। হামলার নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোশে ইয়ালন, সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান তামির পার্দো এবং সাবেক নিরাপত্তা সংস্থাপ্রধান আমি আয়ালনসহ এক ডজনের বেশি সাবেক নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। চিঠিতে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা, তাঁদের সহায়তাকারীদের ওপর আক্রমণ এবং এসব ঘটনা নথিবদ্ধ করা সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ঘটনায় লজ্জা প্রকাশ করা হয়। তাঁদের মতে, এ ধরনের সহিংসতা ইসরায়েলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ক্ষতি করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলবিষয়ক রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবিও লেভিনের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে মুখোশধারী হামলাকারীদের চালানো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বলে উল্লেখ করে দোষীদের দীর্ঘ কারাদণ্ডের দাবি জানান। এদিকে, পশ্চিম তীরে জলপাই সংগ্রহের মৌসুম ঘিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা এবং জলপাইগাছ ধ্বংসের ঘটনা বেড়েছে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ের মধ্যে পশ্চিম তীরের একটি খ্রিষ্টান গ্রামে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ও নিন্দা বাড়ছে। লেভিন বলেছেন, তিনি চান না তাঁর ওপর হামলাই মূল সংবাদ হয়ে উঠুক; বরং দীর্ঘদিন ধরে যেসব ফিলিস্তিনির জীবন ও দুর্ভোগ তিনি নথিবদ্ধ করছেন, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হোক। তাঁর মতে, বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে এবং আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। পশ্চিম তীরে এ ধরনের হামলার ঘটনায় অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও মানবাধিকারকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্ন তুলছেন। গুরুতর আহত হলেও পেশায় ফেরার সিদ্ধান্তে অটল লেভিনের বক্তব্য, তাঁর হাড় ভেঙেছে, কিন্তু মনোবল ভাঙেনি। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স।
বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের বিএমডব্লিউ গাড়ি লক্ষ্য করে পাঁচ রাউন্ড গুলি ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে ভারতের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায়। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এ ঘটনায় অভিনেতা সরাসরি গুলিবিদ্ধ না হলেও তাঁর ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়া দাগ হয়েছে। আহত হয়েছেন তাঁর গাড়িচালক ফিরদৌস এবং এক অটোরিকশাচালক। ঘটনার পর মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে গভীর রাতে অভিনেতার বাসায় গিয়ে তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুহু এলাকার পুষ্পা পার্কের কাছে টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। সে সময় অভিনেতা ফুটবল খেলা শেষে ফিরছিলেন। মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর গাড়ির দিকে গুলি ছুড়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলের ভিডিও এবং অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ। গুলিবর্ষণের ঘটনায় টাইগার শ্রফের গাড়িচালক ফিরদৌসের বাম হাতে গুলি লাগে। আহত অটোরিকশাচালককেও হাসপাতালে নেওয়া হয়। অন্যদিকে, অভিনেতার ডান হাতে বারুদের কারণে পোড়া দাগ রয়েছে বলে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের পর জানান একনাথ শিন্ডে। তবে তিনি সরাসরি গুলিবিদ্ধ হননি। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনার পর টাইগার শ্রফের সঙ্গে দেখা করে একনাথ শিন্ডে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। অভিনেতা ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার এবং মুম্বাই পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। শিন্ডে জানান, মুম্বাইয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ভয়ভীতি দেখানো কিংবা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। টাইগার শ্রফের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কারও সঙ্গে তাঁদের ব্যক্তিগত শত্রুতা বা বিরোধ নেই। ফলে কেন অভিনেতার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলো, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ হামলার উদ্দেশ্য, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে হামলার দায় স্বীকারের দাবি সামনে এলেও সেটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। ঘটনার তদন্তে পুলিশ বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একজনকে আটক করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস।
মাত্র তিন বছর বয়সেই পবিত্র কোরআনের পুরোটা মুখস্থ করার কৃতিত্বের দাবি নিয়ে আলোচনায় এসেছিল আলজেরিয়ার শিশু আবদুর রহমান ফারাহ। ছোটবেলায় পড়তে বা লিখতে না শিখেও শুনে শুনে কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার কথা জানিয়েছিল তার পরিবার। তবে এ ঘটনা সাম্প্রতিক নয়। আরব ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ২০০৯ সাল থেকেই শিশুটিকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়ে আসছে। তার বয়স ও মুখস্থ করার সময়সীমা নিয়ে প্রচারিত তথ্যের সবকিছু স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সে সময় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, আবদুর রহমানের মা গর্ভাবস্থায় নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত করতেন এবং সন্তান জন্মের পরও তাকে কোরআন শোনাতেন। পরিবারের দাবি, প্রায় দুই বছর বয়সে তারা শিশুটির বিশেষ দক্ষতা লক্ষ করেন। কথা বলা ও উচ্চারণে পুরোপুরি স্বচ্ছন্দ হওয়ার আগেই সে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও সূরা তিলাওয়াত করতে শুরু করে। সূরা আল-কাহফ ছিল তার শুরুর দিকের তিলাওয়াতের সঙ্গে যুক্ত উল্লেখযোগ্য সূরাগুলোর একটি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুটির পরিবার জানিয়েছিল, সে কোনো আনুষ্ঠানিক কোরআন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা মসজিদে গিয়ে নিয়মিত পাঠ নেয়নি। বাড়িতে মা-বাবার তিলাওয়াত এবং টেলিভিশনে কোরআন পাঠ শুনেই সে আয়াতগুলো মনে রাখত। প্রচারিত ভিডিওগুলোতে তার তিলাওয়াতের ধরনও মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ধীরস্থিরভাবে শুদ্ধ উচ্চারণে কোরআন পাঠের এই পদ্ধতিকে তাজবিদের নিয়ম মেনে তিলাওয়াতের সঙ্গে তুলনা করা হয়। তবে শিশুটির সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ করার দাবির স্বাধীন যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। আলজেরিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘আল-শুরুক’ ২০০৯ সালে আবদুর রহমানকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য আরব সংবাদমাধ্যমেও তার কথা উঠে আসে। ২০১৫ সালে আলজেরীয় সংবাদমাধ্যম ‘আল-খবর’ জানায়, তখন নয় বছর বয়সী আবদুর রহমান সৌদি আরবের জেদ্দায় শিশু কোরআন হাফেজদের একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে স্বীকৃতি পেয়েছিল। এসব প্রতিবেদন তাকে অল্প বয়সে কোরআন মুখস্থ করা শিশু হিসেবে পরিচিতি পেতে সাহায্য করে। আবদুর রহমানের ঘটনাটি আবারও আলোচনায় এসেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নাম ও কোরআন তিলাওয়াতের বর্ণনা ছড়িয়ে পড়ায়। তবে এ বিষয়ে নতুন করে প্রচারিত পোস্টগুলোতে পুরোনো ঘটনার সঙ্গে বর্তমানের তথ্য মিশে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই শিশুটির বয়স, মুখস্থ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং পুরো কোরআন মুখস্থ করার দাবিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের আগে নির্ভরযোগ্য সূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। সূত্র: আল-শুরুক, আল-খবর ও আল-মদিনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হতেই সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, সৌদি নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২৩ ক্যারেট সোনায় তৈরি ট্রাম্পের ন গ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শিত
প্রোস্টেট ক্যানসারের ওষুধ প্রতিরোধের রহস্য উন্মোচনে বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণায় মিলল গুরুত্বপূর্ণ সূত্র
অস্ত্রোপচারের সময় ক্যানসার কোষ দেখতে সহায়ক, আশ্চর্যজনক চশমা উদ্ভাবন করেন নাইজেরীয় চিকিৎসক
বাংলাদেশের ফিরদৌসী কাদরীকে নিয়ে বিল গেটসের ভিডিও, তুলে ধরলেন জীবন বাঁচানোর গবেষণা
গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবায় লাখ লাখ ডলার, মায়েদের চিকিৎসায় নতুন উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
বন্ধুর কষ্ট কমাতে চান, তাহলে এড়িয়ে চলুন প্রচলিত পাঁচটি কথা ও আচরণ
স্বপ্নের প্রেমিকাকে বিয়ে করতে ১২০০ মাইল পাড়ি, সামনে গিয়ে জানলেন তিনি আসলে এআই
১৪ বছরেই স্পেসএক্সে চাকরি, ১৬তে ওয়াল স্ট্রিটে বাংলাদেশি কায়রান
স্তন ক্যানসার ফিরে আসার ঝুঁকি নির্ণয়ে এআই প্রযুক্তির নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারে এফডিএর অনুমোদন
আকাশে উড়বে, মাঝপথে ডিগবাজিও খাবে টেসলার নতুন গাড়ি, থাকছে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি
ইউএফও শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা, দাবি চাঁদে হাঁটা নাসার সাবেক নভোচারীর
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
লুইজিয়ানায় মদ্যপ চালকের গাড়ির ধাক্কায় নি হত বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ও তাঁর ফায়ারফাইটার বাগদত্ত
ফ্লোরিডায় চুরির সন্দেহে ১৪ বছরের কিশোরকে গাড়িচা পা দিয়ে হ ত্যা, গ্রেপ্তার দোকানমালিক
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় একই বাড়িতে পাঁচজনের গু লিবিদ্ধ ম রদেহ, উদ্ধার দুই হ্যান্ডগান
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় ব্লেজার-সাদা শার্ট পরে মেডিকেল অফিসে চুরি, তিন ঘটনার পর গ্রেপ্তার ৬৭ বছরের বৃদ্ধ
একটি সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন দম্পতি, আলট্রাসাউন্ডে একে একে মিলল চার হৃদস্পন্দন
মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কিনেন ফোন, নাসিম এখন মাইক্রোসফটে
লিংকডইন ব্যবহার করে যেভাবে খুঁজবেন মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
পানীয়তে মা দক শনাক্তের নেলপলিশ তৈরি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
দক্ষিণ এশিয়ার মুসলিমপ্রধান দেশের শিক্ষার্থীদের ফুল ফান্ডে যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার সুযোগ! জানুন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজের আর্থিক সহায়তার আবেদন আগেভাগেই শুরু, শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ
বিদেশে ৩০ টি ফুল ফান্ড স্কলারশিপ, জেনে নিন আবেদনের সময় ও বিস্তারিত
নোবেলজয়ী পার্লমুটারের সঙ্গে গবেষণাপত্রে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার মীমের ২৫টি মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৩৬ কোটি টাকার স্কলারশিপ অফার
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার
আমেরিকায় কোন পেশায় আয় বেশি? জেনে নিন, ঘণ্টাপ্রতি বেতনসহ ১০টি কাজের তালিকা
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
আইসিইর হাতে ভুলভাবে আটক হলে ৫ লাখ ডলার, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব
টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ভরসায় ঘুম, পুলিশের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘুম ভাঙল চালকের!
মাদক দেওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ, নিউইয়র্কে কলেজছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য
সাবেক সঙ্গীর ধাক্কায় পক্ষাঘাতগ্রস্ত নারী, ভয়াবহ নির্যাতনের ঘটনায় ১৪ বছরের কারাদণ্ড
ম্যানহাটনের পাতালরেল স্টেশনে গুলিতে নিহত একজন, তদন্তে নিউইয়র্ক পুলিশ
সন্তানকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করতে চান, অভিভাবকদের নীরবে যে পাঁচটি কাজ করা জরুরি
প্রায় ৮ লাখ পর্যটকের ভোটে ২০২৬ সালের সেরা ক্রুজ লাইনের তালিকায় শীর্ষে যারা
নিজের জন্য সময় বের করুন, প্রতিদিনের জীবনে প্রশান্তি ফেরাতে মেনে চলুন ২০ অভ্যাস
'জীবন আর ক'টা দিন', আন্টার্কটিকা ঘুরে সর্বস্ব খরচ ক্যানসার আক্রান্তের, ফিরে জানলেন তিনি সুস্থ!
ব্যক্তিত্বের ধরন বুঝেই বেছে নিন পেশা, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বছরে আয় সবচেয়ে বেশি
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন যুদ্ধের প্রস্তুতি ইরানের, এবার হা মলার নিশানায় বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেট ব্যবস্থা
প্রেমের টানে সর্বস্ব বিক্রি করে ১,৯০০ কিলোমিটার পাড়ি, পরে জানলেন প্রেমিকা এআইয়ের তৈরি
সৌদি আরবে মৃ ত্যুদণ্ডে প্রাণ গেল দুই বাংলাদেশির, আইনি সহায়তা না দেওয়ার অভিযোগ দূতাবাসের বিরুদ্ধে
যুক্তরাজ্যের ১২ বিমানবন্দরে পাসপোর্ট চেকিংয়ে আসছে নতুন প্রযুক্তি, চেহারা দেখেই পার হওয়া যাবে গেট
যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ইরান সফরে তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রবাসী কর্মীর সন্তানদের বৃত্তি দিচ্ছে সরকার, জেনে নিন আবেদনের যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
কখনো মুচি, কখনো ফেরিওয়ালা - ছদ্মবেশে অপরাধের খবর সংগ্রহ করতেন সাংবাদিক আলিফ
ইউরোপে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে বড় ঝুঁকিতে বাংলাদেশের পোশাক রফতানি, বাড়ছে উদ্বেগ
মুন্সীগঞ্জে ১৩ বছরের মেয়েকে ধ র্ষ ণ, ১১ বছর পর বাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামের প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে এসে যোগ দেবেন ইশরাক হোসেন
অস্ত্র হাতে অভিযানের পর ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ, জানাল প্রথম আলো
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড প্রবাসীদের জন্য বড় শিক্ষা: শামা ওবায়েদ
বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও প্রাথমিকের শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
দুই মাসে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের