ভারতের রাজধানী দিল্লিতে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের প্রথম দিনেই ১ হাজার ৫৩৯টি যানবাহনকে শহরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। রোববার (১ নভেম্বর) শীতকালীন দূষণ নিয়ন্ত্রণ কর্মপরিকল্পনার আওতায় প্রায় ১৫ হাজার যানবাহন পরীক্ষা করে কর্তৃপক্ষ। এ সময় বিভিন্ন নিয়ম লঙ্ঘনের কারণে মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার ভারতীয় রুপি জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকা, শহরে প্রবেশের বিধিনিষেধ অমান্য করা এবং নির্মাণকাজ থেকে ধুলাদূষণ ছড়ানোর ঘটনায় এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত সব গাড়ির প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়নি। মূলত নির্ধারিত দূষণ নির্গমন মান পূরণ করে না, এমন যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ভারতীয় বার্তা সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়ার বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ও পরিবহন বিভাগ যৌথভাবে ১৪ হাজার ৯৩০টি যানবাহন পরীক্ষা করে। এর মধ্যে ১ হাজার ৫৩৯টি যানবাহনকে সীমান্তবর্তী প্রবেশপথ থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। মোট পরীক্ষিত যানবাহনের প্রায় ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ প্রবেশের অনুমতি পায়নি। অভিযানের সময় প্রবেশসংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের জন্য ১২৭টি চালান দেওয়া হয়। পাশাপাশি ৬২টি যানবাহন জব্দ করা হয়। এ ধরনের অনিয়মের জন্য জরিমানার পরিমাণ ছিল দুই লাখ রুপি। দিল্লির নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শহরের বাইরে নিবন্ধিত যেসব যানবাহন ভারত স্টেজ-৬ নির্গমন মান পূরণ করে না, সেগুলোর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। এই মানের উদ্দেশ্য যানবাহন থেকে নির্গত ক্ষতিকর দূষণকারী পদার্থ নিয়ন্ত্রণ করা। বিধিনিষেধের আওতায় থাকা গাড়িগুলো নির্ধারিত সময়ে দিল্লিতে প্রবেশ করতে পারবে না। তবে প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত যানবাহন, বৈদ্যুতিক গাড়ি এবং জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় সেবায় নিয়োজিত নির্দিষ্ট যানবাহনকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। প্রথম দিনের অভিযানে এমন ৭৪০টি যানবাহন যাচাই করে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অভিযানে ফেরত পাঠানো যানবাহনের মধ্যে ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক উভয় ধরনের গাড়ি ছিল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৪০টি হালকা মোটরযান, ৫৪টি হালকা বাণিজ্যিক যানবাহন, ৯৫টি মাঝারি ও ভারী পণ্যবাহী গাড়ি এবং ৩৪টি বাসকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দুই চাকা, তিন চাকা এবং অন্যান্য শ্রেণির ১ হাজার ৪২৩টি যানবাহন পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৭৮৯টিকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং ৩৮টি জব্দ করা হয়েছে। দিল্লির ভেতরে গন্তব্য না থাকা আরও ৭ হাজার ২৭৯টি যানবাহন পরীক্ষা করে ৩১৪টিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও প্রথম দিনেই ব্যাপক অনিয়ম শনাক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ। বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ না থাকার কারণে মোট ৫৬৬টি চালান দেওয়া হয়েছে। এসব চালানের বিপরীতে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার রুপি। এর মধ্যে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ ৪৯৩টি চালান দিয়ে ৪৯ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা করে। অন্যদিকে পরিবহন বিভাগ ৭৩টি চালানের মাধ্যমে আরও ৭ লাখ ৩০ হাজার রুপি জরিমানা ধার্য করে। প্রথম দিনের মোট জরিমানা ও ক্ষতিপূরণের সবচেয়ে বড় অংশ এসেছে যানবাহনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদসংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের ঘটনা থেকে। শুধু যানবাহন নয়, নির্মাণ ও ভবন ভাঙার কাজ থেকে সৃষ্ট ধুলাদূষণ নিয়ন্ত্রণেও অভিযান চালানো হয়েছে। প্রথম দিনে দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ৩০০টি নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ৩২টি স্থানে ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়। এসব অনিয়মের জন্য মোট ৯ লাখ ৮০ হাজার রুপি পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য করা হয়েছে। নতুন কর্মপরিকল্পনায় নির্দিষ্ট ধরনের নির্মাণ ও ভাঙার কাজে বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে। তবে অত্যাবশ্যকীয় সরকারি অবকাঠামো নির্মাণের কিছু প্রকল্প নির্ধারিত শর্তে ছাড় পেতে পারে। দিল্লির শীতকালীন কর্মপরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন বিধিনিষেধ ১ নভেম্বর থেকে আগামী বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পৃথক সময়সীমায় কার্যকর থাকার কথা রয়েছে। তবে সব বিধিনিষেধ একই দিন পর্যন্ত বহাল থাকবে না। দিল্লির বাইরে নিবন্ধিত নির্ধারিত মানের নিচের যানবাহনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা। একইভাবে সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরে কর্মীদের সশরীর উপস্থিতি সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশে সীমিত রাখার বিধানও পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বাকি কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করার ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। দিল্লির পরিবেশমন্ত্রী মনজিন্দর সিং সিরসা প্রথম দিনের অভিযানের তথ্য তুলে ধরে যানবাহনের বৈধ দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদ বজায় রাখা, প্রবেশসংক্রান্ত নিয়ম অনুসরণ এবং নির্মাণস্থলে ধুলা নিয়ন্ত্রণের বিধান মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য শীত মৌসুমে দূষণের উৎসগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখা। এ জন্য যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং শহরে প্রবেশকারী নির্দিষ্ট শ্রেণির গাড়ির ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এদিকে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের মধ্যেও দিল্লির বায়ুর মান নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল ৮টায় শহরের সামগ্রিক বায়ুমান সূচক ছিল ৩১০, যা অত্যন্ত খারাপ পর্যায়ের মধ্যে পড়ে। কিছু পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে সূচক ৪০০ অতিক্রম করেছে। এর আগের দিন রোববার দিল্লির ২৪ ঘণ্টার গড় বায়ুমান সূচক ছিল ২৬১। ফলে দূষণ নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হলেও প্রথম দিনের অভিযানেই বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। দিল্লিতে বায়ুদূষণ মোকাবিলায় শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম দিনের হিসাবে মোট ৬৮ লাখ ৪০ হাজার রুপি জরিমানা ও পরিবেশগত ক্ষতিপূরণ ধার্য হয়েছে। এর মধ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ সনদসংক্রান্ত অনিয়মে ৫৬ লাখ ৬০ হাজার, যানবাহন প্রবেশের বিধিনিষেধ লঙ্ঘনে দুই লাখ এবং নির্মাণস্থলের ধুলাদূষণের জন্য নয় লাখ ৮০ হাজার রুপি রয়েছে। পাশাপাশি দেড় হাজারের বেশি যানবাহন ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পদক্ষেপ দীর্ঘমেয়াদে দিল্লির বায়ুদূষণ কতটা কমাতে পারবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ের বাস্তবায়ন ও বায়ুর মানের তথ্যের ওপর। সূত্র: প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবের সপ্তাহান্তে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একের পর এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ডেলাওয়্যারসহ বিভিন্ন স্থানে নাইটক্লাব, বিনোদন এলাকা, হ্যালোইন সামগ্রীর দোকান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি হতাহতের একটি ঘটনা ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরে। সেখানে প্রায় ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক গুলিবর্ষণে চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। তবে সব হামলা হ্যালোইনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল কিংবা ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, এমনটা প্রমাণ হয়নি। ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম এসব ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু ও ৯৪ জনের আহত হওয়ার সংখ্যা জানিয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায়। শনিবার রাত পেরিয়ে রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে সেখানে তিনটি পৃথক স্থানে গুলির ঘটনা ঘটে। ডালাস পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনা ঘটে রাত ১২টা ২০ মিনিটে এলম স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে রাত ১টা ৫ মিনিটে মেইন স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। তৃতীয় গুলিবর্ষণ হয় রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটের ২০০ ব্লকে। ডালাস পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনায় মোট ১৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে চারজন মারা যান এবং ১৫ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্যরা নিজেরাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে পৌঁছান। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আহত হননি। প্রাথমিকভাবে তিনটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা এবং গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। ডালাসের ডিপ এলাম শহরটির পরিচিত বিনোদন এলাকা। সেখানে বার, রেস্তোরাঁ, সংগীত পরিবেশনার স্থান এবং নাইটক্লাব রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে শনিবার রাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। গুলির ঘটনার পর পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তদন্তকারীরা আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন। ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানিয়েছেন, হ্যালোইন উপলক্ষে আগেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ফলে গুলির খবর পাওয়ার পর কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন। একজন আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশপ্রধান বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে তদন্তের জন্য আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা সবাই অপরাধে জড়িত, এমন নয়। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ড শহরের সোলানো টাউন সেন্টার শপিং মলে অবস্থিত স্পিরিট হ্যালোইন দোকানে শুক্রবার রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। নিহত ব্যক্তি ৩১ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান। ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনার পাশাপাশি মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসেও একটি স্পিরিট হ্যালোইন দোকানের কাছে গুলির ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন। দুটি ঘটনাই হ্যালোইন সামগ্রীর দোকানের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও একই অপরাধী চক্র বা পরিকল্পনার অংশ বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দোকানের নামের মিল থেকে ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বার্মিংহাম শহরেও গুলির ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লিজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাজিক সিটি ক্ল্যাসিক ফুটবল ম্যাচের পর আশপাশের এলাকায় পৃথক দুটি গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং আটজন আহত হন। ম্যাচটি দেখতে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলা চলাকালে গুলিবর্ষণ হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির কাছে গুলির ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটলেও হামলার উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের ফায়েটভিলেও গুলিবর্ষণে ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি বিরোধের পর সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছিল। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত পৃথক অপরাধ। কোনো একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে সব হামলা সংঘটিত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, পার্টি, রাস্তাঘাট এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে জড়ো হন। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এবারের গুলিবর্ষণগুলোর ক্ষেত্রে মদ্যপান, মাদক গ্রহণ কিংবা উৎসবের ভিড়ই সরাসরি সহিংসতার কারণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। অপরাধবিজ্ঞানী জেমস অ্যালান ফক্সের একটি পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে হ্যালোইনসহ নির্দিষ্ট ছুটির দিনে সহিংসতার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের বোস্টনের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে ৩১ অক্টোবরকে সহিংসতার ঝুঁকিপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই বিশ্লেষণে ৪ জুলাই ও ১ জানুয়ারির পর ৩১ অক্টোবরের অবস্থান ছিল। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট শহরের পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণা। হ্যালোইন উপলক্ষে ছোট শিশু ও কিশোরেরা সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে বের হয়, বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মিষ্টি সংগ্রহ করে এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এ সময় যানবাহন চলাচল, ভিড় এবং অপরিচিত স্থানে যাতায়াতের কারণে নিরাপত্তার বাড়তি প্রয়োজন হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য সব ধরনের ঝুঁকি একই নয়। বন্দুক সহিংসতা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্য অপরাধের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এসব ঘটনা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে যাঁরা হ্যালোইন বা অন্যান্য বড় উৎসব উপলক্ষে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যান, তাঁদের স্থানীয় পুলিশ ও আয়োজকদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে গুজবের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগের নিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা গুরুত্বপূর্ণ। হ্যালোইন সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত বন্দুক সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সংকলিত একটি হিসাবে অন্তত ২৪ জন নিহত ও ৯৪ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মোট হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। ডালাসের তিনটি ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অন্য ঘটনাগুলোতেও তদন্ত চলছে। এসব সহিংসতার কারণ, সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। সূত্র: ডালাস পুলিশ বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এসবিএস নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স শহরে অভিবাসন enforcement অভিযানের সময় আইসিই কর্মকর্তার গুলিতে বুকে গুরুতর আহত হন হন্ডুরাসের অভিবাসী হোসে গার্সিয়া সোর্তো। কাজে যাওয়ার পথে একটি ইন্টারস্টেট হাইওয়েতে তাঁকে থামানোর পর গুলি চালানো হয়। গার্সিয়া সোর্তোর অভিযোগ, গাড়ির জানালা ভেঙে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালান কর্মকর্তারা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির দাবি, অভিযানের সময় গাড়ি চালিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করায় এক কর্মকর্তা নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় গুলি চালান। ঘটনাটি নিয়ে নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক টাইমসের ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে ওঠেন গার্সিয়া সোর্তো। পেশায় বাড়ির কাঠামো নির্মাণের শ্রমিক তিনি। প্রতিদিনের মতো কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে স্ত্রীকে বিদায় জানান। কাজ শেষে বাড়ি ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন তাঁকে। কিন্তু সেদিন সকালেই তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্সে আইসিই কর্মকর্তারা নজরদারি চালাচ্ছিলেন, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। গার্সিয়া সোর্তোর ভাষ্য অনুযায়ী, ফিনিক্সের একটি ইন্টারস্টেট হাইওয়ে দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার সময় একটি গাড়ি তাঁকে থামার সংকেত দেয়। সেটিকে পুলিশের গাড়ি মনে করে তিনি থামেন। এরপর আইসিই কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ি ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে একজন কর্মকর্তা গাড়ির জানালা ভেঙে দেন। এরপর আরেক কর্মকর্তা পরপর দুটি গুলি চালান। প্রথম গুলিটি তাঁর শরীরের পাশ দিয়ে চলে গেলেও দ্বিতীয়টি সরাসরি বুকে লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাঁকে গাড়ি থেকে বের করে আনেন কর্মকর্তারা। গার্সিয়া সোর্তো নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, তখন তিনি কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, কেন তাঁকে গুলি করা হলো। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি বুঝতে পারছিলেন না কেন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গার্সিয়া সোর্তো ২০২৩ সালে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। তবে তাঁর কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থান এবং অপরাধমূলক রেকর্ডের মধ্যে এই পার্থক্যও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। অন্যদিকে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানান, গার্সিয়া সোর্তো প্রথমে গাড়ি থামালেও আইসিই কর্মকর্তারা হেঁটে তাঁর গাড়ির দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তিনি গাড়ি চালিয়ে সরে যেতে শুরু করেন। তখন একজন কর্মকর্তা গাড়িটির চলার পথে ছিলেন। নিজের জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা থেকে ওই কর্মকর্তা দুটি গুলি চালান বলে দাবি করেছে সংস্থাটি। এই বক্তব্যের সঙ্গে গার্সিয়া সোর্তোর বর্ণনার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে গাড়ি থামানোর পর কী ঘটেছিল, তিনি গাড়ি নিয়ে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কি না এবং গুলি চালানোর মুহূর্তে কর্মকর্তার অবস্থান কোথায় ছিল, সেসব বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্য এক নয়। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর ভোরে এই গুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রায় এক বছর পর প্রকাশিত প্রতিবেদনে গার্সিয়া সোর্তো তাঁর অভিজ্ঞতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি জানান, সেদিন গাড়ি থামানোর পর কয়েকটি সাধারণ পোশাকের গাড়ি তাঁকে ঘিরে ফেলে। প্রায় সাতজন সশস্ত্র কর্মকর্তাকে দেখতে পান তিনি। তাঁদের অনেকের মুখ ঢাকা ছিল। একজন কর্মকর্তা গাড়ির দরজা খুলতে বললেও ভয় পেয়ে তিনি তা খুলতে রাজি হননি। প্রতিবেদনে প্রকাশিত গাড়ির ছবিতে সামনের উইন্ডশিল্ডের যাত্রীর পাশ দিয়ে দুটি গুলি প্রবেশের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ধারণ করা ভিডিওতে গাড়িটিকে তিন দিক থেকে ফেডারেল কর্মকর্তাদের গাড়ি দিয়ে ঘিরে রাখতে দেখা যায়। অন্য পাশে ছিল উঁচু ঢালু জায়গা। গাড়ির সামনের চাকা যেদিকে ঘোরানো ছিল, সেটিও গুলির প্রবেশপথের সঙ্গে মিলিয়ে পর্যালোচনা করেছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে গুলি চালানোর মুহূর্তের কোনো ভিডিও প্রকাশ্যে আসেনি। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সিয়া সোর্তোকে গাড়ি থেকে বের করে রাস্তায় শুইয়ে হাতকড়া পরানো হয় বলে তিনি জানান। তাঁর শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। তখন তাঁর মনে পড়ছিল স্ত্রী ও দুই ছোট সন্তানের কথা। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, তাঁর মৃত্যু হলে সন্তানদের কী হবে। পরে হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর তিনি দেখতে পান, তাঁর হাত ও পা হাসপাতালের বিছানার সঙ্গে আটকানো। সেখানে এফবিআইয়ের কয়েকজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন। গুলির আঘাত থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও তাঁর শরীরে গুরুতর ক্ষত তৈরি হয়। নিউইয়র্ক টাইমসের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার এক বছর পরও একটি গুলি তাঁর মেরুদণ্ডে আটকে রয়েছে। ঘটনার পর এফবিআই তদন্ত শুরু করেছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের অক্টোবর ২০২৬ সালের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গার্সিয়া সোর্তোকে গুলি করার ঘটনায় তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। গুলি চালানো কর্মকর্তার পরিচয় কিংবা তাঁর বিরুদ্ধে কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়েও গার্সিয়া সোর্তো নিশ্চিত তথ্য পাননি। আরও উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই ঘটনার জেরে গার্সিয়া সোর্তোর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে। যদিও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি কর্মকর্তার জীবন বিপন্ন হওয়ার দাবি করেছে, সেই দাবির পক্ষে বিস্তারিত তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে গুলি চালানোর প্রয়োজনীয়তা ও পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গার্সিয়া সোর্তোকে অভিবাসন হেফাজতে রাখা হয়। পরে তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিজ দেশ হন্ডুরাসে ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে হন্ডুরাসের গুয়ালসিনসে এলাকায় বসবাস করছেন। তবে গুলিবিদ্ধ হওয়ার শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা এখনো তাঁর জীবনের অংশ হয়ে রয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের গুলিতে অন্তত ২৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং অন্যদের অধিকাংশ আহত হয়েছেন। এসব ঘটনার তদন্ত ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্য এবং আইনপ্রণেতারা। সংবাদমাধ্যমটির অনুসন্ধান অনুযায়ী, এসব গুলির ঘটনায় ফেডারেল সরকার কোনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। গার্সিয়া সোর্তো বলেন, তিনি এখনো জানেন না কে তাঁকে গুলি করেছিলেন এবং কেন করেছিলেন। তাঁর আক্ষেপ, এ ধরনের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর আর কিছুই হয় না। তাঁর মতো মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই বলেই মনে হয় তাঁর। ঘটনার এক বছর পরও গার্সিয়া সোর্তোর সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি রয়ে গেছে। তিনি কেন গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন এবং সেই সিদ্ধান্তের জন্য কাউকে জবাবদিহি করতে হয়েছে কি না, তার কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো পাননি।
স্পনসর লাইসেন্স পরিচালনা ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আর্থিক যোগ্যতার নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ব্রিটিশ সরকার। নতুন নির্দেশনায় বিদেশি কর্মী নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের স্পনসরশিপ ব্যবস্থাপনায় নিরাপত্তা ও জবাবদিহি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের জীবনযাত্রার খরচ বাবদ ব্যাংকে দেখাতে হবে আগের চেয়ে বেশি অর্থ। স্পনসরশিপের বেশ কিছু পরিবর্তন ইতোমধ্যে কার্যকর হলেও শিক্ষার্থীদের নতুন আর্থিক শর্ত কার্যকর হবে আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে। ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ইউকে ভিসাস অ্যান্ড ইমিগ্রেশন (ইউকেভিআই) প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, স্পনসর লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পনসরশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ব্যবহারে নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু হয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এই সিস্টেমের ব্যবহারকারীদের জন্য মাল্টি ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর ফলে শুধু পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের পরিবর্তে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হচ্ছে। নতুন নির্দেশনায় স্পনসরশিপ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের লেভেল টু ইউজার পদ ধাপে ধাপে বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্তও রয়েছে। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে এই পর্যায়ের ব্যবহারকারী নিয়োগ বন্ধ হয়েছে। আগামী ৮ মার্চ ২০২৭ সালের পর পদটি পুরোপুরি বিলুপ্ত হবে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকা ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। স্পনসর লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের অনুমোদিত ব্যবহারকারীদের তথ্য হালনাগাদ রাখতে এবং নিয়মিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টসংক্রান্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ না করলে প্রতিষ্ঠানের স্পনসর লাইসেন্স ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এসব নিয়ম মূলত যুক্তরাজ্যে বিদেশি কর্মী নিয়োগের অনুমোদনপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও তাদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে জীবনযাত্রার খরচ দেখানোর শর্তে। আগামী ৩০ নভেম্বর বা তার পরে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন জমা দিলে লন্ডনে পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়াশোনার জন্য প্রতি মাসে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড দেখাতে হবে। বর্তমানে এই অর্থের পরিমাণ যথাক্রমে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং ১ হাজার ১৭১ পাউন্ড। নতুন নিয়মে লন্ডনে নয় মাস বা তার বেশি সময়ের কোর্সের জন্য জীবনযাত্রার খরচ বাবদ সর্বোচ্চ ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে। লন্ডনের বাইরে একই সময়ের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড। এর সঙ্গে প্রযোজ্য টিউশন ফি বাবদ প্রয়োজনীয় অর্থও থাকতে হবে। ফলে যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনের আগে আর্থিক প্রস্তুতি নতুন করে হিসাব করতে হবে। ব্রিটিশ সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণভাবে আবেদনকারীকে প্রয়োজনীয় অর্থ টানা ২৮ দিন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রাখতে হবে। ওই ২৮ দিনের সময়সীমার শেষ দিনটি ভিসা আবেদনের তারিখের সর্বোচ্চ ৩১ দিন আগের হতে পারবে। অর্থাৎ আবেদন জমা দেওয়ার ঠিক আগে ব্যাংকে টাকা জমা করলেই শর্ত পূরণ হবে না। তবে অনুমোদিত স্টুডেন্ট লোন বা সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্কলারশিপের ক্ষেত্রে অর্থের প্রমাণ দেওয়ার পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। আবেদনকারী নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাবা-মায়ের অ্যাকাউন্টের অর্থও ব্যবহার করতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সম্মতিপত্র ও আর্থিক প্রমাণ দিতে হবে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য যাচাই করতে পারে। আর্থিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব না হলে ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে ব্যাংকে অর্থ দেখানোর নিয়ম এক নয়। যেসব আবেদনকারী বৈধ ভিসা নিয়ে যুক্তরাজ্যে অন্তত ১২ মাস অবস্থান করেছেন এবং দেশটির ভেতর থেকে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদন করছেন, তাঁদের সাধারণত নতুন করে আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হয় না। একইভাবে নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক আর্থিক সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্যও আলাদা বিধান রয়েছে। নতুন আর্থিক শর্ত ৩০ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ায় এর আগে আবেদন জমা দেওয়া শিক্ষার্থীরা আগের নির্ধারিত অর্থের নিয়মের আওতায় থাকবেন। তবে আবেদন করার সময় কোর্সের মেয়াদ, টিউশন ফি, আগে পরিশোধ করা অর্থ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া কনফার্মেশন অব অ্যাকসেপ্ট্যান্স ফর স্টাডিজ বা সিএএসের তথ্য মিলিয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ হিসাব করতে হবে। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর স্পনসরশিপ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন এসেছে। গত ৯ অক্টোবর হালনাগাদ করা স্টুডেন্ট স্পনসর নির্দেশনায় শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন, স্পনসরশিপের দায়িত্ব এবং নিয়ম মেনে কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়গুলো স্পষ্ট করা হয়েছে। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করতে ইচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোকে নির্ধারিত স্পনসর লাইসেন্সের শর্ত পূরণ করতে হবে। স্টুডেন্ট স্পনসরদের কার্যক্রম মূল্যায়নের ব্যবস্থাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মূল্যায়ন কাঠামোয় শিক্ষার্থীদের কোর্স সম্পন্ন করার হারসহ বিভিন্ন সূচক বিবেচনা করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ জুন থেকে নির্দিষ্ট মূল্যায়নে কোর্স সম্পন্ন করার ন্যূনতম হার ৯০ শতাংশ করার বিধান কার্যকর হবে। এর আগের অন্তর্বর্তী সময়ে ৮৫ শতাংশের শর্ত বহাল রয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের এসব পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাজ্যে কর্মী নিয়োগ করতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠান এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, উভয় পক্ষকেই নতুন নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় যেতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময়ের আগে ব্যাংকে প্রয়োজনীয় অর্থ প্রস্তুত রাখা এবং আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ অনুযায়ী প্রযোজ্য নিয়ম নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেই ক্রেডিট কার্ড পাওয়া সম্ভব নয়, এমন ধারণা নিয়ে অনেক প্রবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। অথচ দেশটিতে নতুন ক্রেডিট ব্যবহারকারী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ। কিছু কার্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর না থাকলেও আবেদন করা যায়। এমনকি অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রেখেছে। তবে আবেদন করলেই কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর বয়স, আয়, পরিচয় যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্তের ওপর অনুমোদন নির্ভর করে। সম্প্রতি ভার্জিনিয়া থেকে এক বাংলাদেশি প্রবাসী ক্রেডিট কার্ড নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান আমেরিকা বাংলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বসবাস করছেন এবং গ্রিন কার্ডধারী। কিন্তু এখনো কোনো ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় একটি ব্যাংকে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে ৫০০ ডলার দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে ওই অর্থ কার্ডের ফি, নাকি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের নিরাপত্তা জামানত ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে বিষয়টি না বুঝতে পেরে তিনি আর আবেদন করেননি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঠিক তথ্যের অভাব বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনেক নতুন প্রবাসী ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য একটি পরিচিত বিকল্প হলো সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড। সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের ক্রেডিট ইতিহাস ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে ঋণসীমা নির্ধারণ করে। কিন্তু সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই জামানতের পরিমাণ অনুযায়ী কার্ডের ক্রেডিট লিমিট নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কার্ডের জন্য ২০০ বা ৫০০ ডলার জামানত জমা রাখতে হতে পারে। এই অর্থ সাধারণত ব্যাংকের কাছে নিরাপত্তা হিসেবে থাকে, এটি সরাসরি বার্ষিক ফি নয়। কার্ডের শর্ত অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে বকেয়া পরিশোধ করলে অথবা ব্যাংক কার্ডটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ডে উন্নীত করলে জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে আলাদা সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু স্টুডেন্ট কার্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ডিসকভারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কার্ডের ব্যবস্থা রেখেছে, যেগুলোর মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার ও সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেই কার্ড অনুমোদন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর আয়, বয়স এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করা হয়। ২১ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সাধারণত তাঁদের নিজস্ব আয় বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। অন্যথায় ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন যোগ্য ব্যক্তিকে কো-সাইনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। অন্যদিকে, ২১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যাংক আবেদনকারীর বর্তমান বা প্রত্যাশিত আয় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করে। তাই শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কার্ডের বয়স ও আয়ের শর্ত জেনে নেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার কিছু সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে কার্ডের ধরন ও আবেদনপ্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। অনেক ব্যাংক সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এসএসএন চায়। কিছু প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্তে আইটিআইএন বা অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ করতে পারে। আবার কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবেদনপ্রক্রিয়া রাখে। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের পরিচয়পত্র গ্রহণ করে, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়; আবার আবেদন করলেই অনুমোদন পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করতে সব সময় ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে। সাধারণত আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকানা, ফোন নম্বর, আয়ের তথ্য এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যও চাওয়া হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান দ্রুত প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানায়। তবে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই বা আর্থিক তথ্য পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে অনুমোদন পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন গ্রাহকরা ডিসকভার, ক্যাপিটাল ওয়ান এবং ব্যাংক অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডের শর্ত যাচাই করতে পারেন। ডিসকভারের কিছু স্টুডেন্ট ও সিকিউরড কার্ডে আবেদন করার জন্য আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ক্যাপিটাল ওয়ানের সিকিউরড কার্ড নতুন বা সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে এমন গ্রাহকদের জন্য একটি বিকল্প। ব্যাংক অব আমেরিকাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন করা যায়। তবে প্রতিটি কার্ডের বার্ষিক ফি, সুদের হার, জামানত এবং আবেদনসংক্রান্ত শর্ত আলাদা। ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। কার্ডের বার্ষিক ফি আছে কি না, সুদের হার কত, বিল পরিশোধের শেষ তারিখ কখন এবং দেরিতে বিল পরিশোধ করলে কত জরিমানা দিতে হবে, তা জেনে নিতে হবে। সিকিউরড কার্ডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জামানত কত এবং কোন শর্তে তা ফেরত পাওয়া যাবে, সেটিও পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া উচিত। আবেদন করার সময় ব্যাংক ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করলে ক্রেডিট স্কোরে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তাই একসঙ্গে অনেকগুলো কার্ডের জন্য আবেদন না করে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কার্ড নির্বাচন করাই ভালো। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পর দায়িত্বশীল ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে হবে। সম্ভব হলে পুরো বিল পরিশোধ করা উচিত, যাতে সুদের অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। নিয়মিত ও সময়মতো বিল পরিশোধ এবং সীমার মধ্যে কার্ড ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ক্রেডিট ইতিহাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে গাড়ি কেনার ঋণ, মর্টগেজ কিংবা বাড়ি ভাড়ার আবেদনের সময়ও ক্রেডিট ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেছেন বলে ক্রেডিট কার্ডের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। নিজের বয়স, আয়, পরিচয়পত্র এবং আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী স্টুডেন্ট বা সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের মতো বিকল্প খুঁজে দেখা যেতে পারে। সঠিক তথ্য জেনে অনলাইনে আবেদন করলে ঘরে বসেই প্রক্রিয়াটি শুরু করা সম্ভব। তবে কার্ড পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা এবং সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তোলা।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু ডাউন পেমেন্টের বাইরে আরও কয়েক হাজার ডলার খরচের কথা শুনে বিভ্রান্ত হচ্ছেন? বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি ক্রেতাকে যে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়, তার একটি বড় অংশ হলো ক্লোজিং কস্ট। বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, মর্টগেজ ঋণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন, আইনি নথিপত্র তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধের জন্য এই অর্থ ব্যয় হয়। বাড়ির দাম ও ডাউন পেমেন্ট নিয়ে অনেক ক্রেতা আগে থেকেই পরিকল্পনা করলেও ক্লোজিং কস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় শেষ মুহূর্তে আর্থিক চাপে পড়েন। বিশেষ করে যারা প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনছেন, তাদের মধ্যে এ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা যায়। সাধারণভাবে ক্লোজিং কস্ট বলতে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফি, কর, বিমা এবং আগাম পরিশোধযোগ্য খরচের সমষ্টিকে বোঝায়। এটি বাড়ির ডাউন পেমেন্টের অংশ নয়। আবার পুরো অর্থও ব্যাংক বা মর্টগেজ কোম্পানির কাছে যায় না। বরং ঋণদাতা, টাইটেল কোম্পানি, অ্যাটর্নি, সরকারি রেকর্ড অফিস, বিমা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাদাতার কাছে এই অর্থের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত বাড়ির ক্রয়মূল্যের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্লোজিং কস্ট হতে পারে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক হার নয়। বাড়ির অবস্থান, ক্রয়মূল্য, ঋণের ধরন, ঋণদাতা এবং স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী খরচ কমবেশি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ক্লোজিং কস্টের মধ্যে কী কী খরচ থাকে? বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্টের মধ্যে একাধিক খাতের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রতিটি খরচ প্রযোজ্য না হলেও সাধারণত নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। লোন অরিজিনেশন ফি: মর্টগেজ ঋণ তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ঋণদাতা যে ফি নেন, সেটি লোন অরিজিনেশন ফি। ঋণের আবেদন, নথিপত্র প্রস্তুত এবং ঋণ প্রক্রিয়াকরণের প্রশাসনিক খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। অ্যাপ্রেইজাল ফি: বাড়িটির বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য একজন পেশাদার অ্যাপ্রেইজার নিয়োগ করা হয়। ঋণদাতা সাধারণত নিশ্চিত হতে চান যে বাড়ির মূল্য এবং প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। এই মূল্যায়নের জন্য যে অর্থ দিতে হয়, সেটি অ্যাপ্রেইজাল ফি। ক্রেডিট রিপোর্ট ও আন্ডাররাইটিং ফি: ক্রেতার ক্রেডিট স্কোর, আয়, সম্পদ, ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এসব যাচাই ও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ফি যুক্ত হতে পারে। টাইটেল সার্চ ও টাইটেল ইন্স্যুরেন্স: বাড়িটির মালিকানা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা, বকেয়া ঋণ, অন্য কোনো ব্যক্তির দাবি বা মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ঋণদাতার স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সাধারণত লেন্ডারস টাইটেল ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়। ক্রেতা চাইলে নিজের মালিকানা সুরক্ষার জন্য আলাদাভাবে ওনার্স টাইটেল ইন্স্যুরেন্সও নিতে পারেন। অ্যাটর্নি ও সেটেলমেন্ট ফি: বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, চুক্তিপত্র যাচাই, আইনি নথি তৈরি এবং চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য অ্যাটর্নি বা সেটেলমেন্ট প্রতিষ্ঠানের ফি দিতে হতে পারে। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রক্রিয়া ও খরচের ধরন আলাদা। রেকর্ডিং ও সরকারি ফি: বাড়ির দলিল এবং মর্টগেজসংক্রান্ত নথি স্থানীয় কাউন্টির সরকারি রেকর্ডে নিবন্ধন করতে হয়। এ জন্য রেকর্ডিং ফি, ডিড রেকর্ডিং চার্জ এবং প্রযোজ্য সরকারি কর বা ট্রান্সফার ফি দিতে হতে পারে। প্রিপেইড প্রপার্টি ট্যাক্স ও হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স: বাড়ি কেনার সময় কিছু কর ও বিমার অর্থ আগাম পরিশোধ করতে হয়। যেমন, বাড়ির হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের প্রথম বছরের প্রিমিয়াম এবং নির্দিষ্ট সময়ের প্রপার্টি ট্যাক্স। এসব খরচও অনেক সময় ক্লোজিংয়ের সময় পরিশোধ করতে হয়। এসক্রো অ্যাকাউন্টের প্রাথমিক জমা: অনেক ঋণদাতা বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্স ও ইন্স্যুরেন্সের অর্থ সংগ্রহ এবং পরিশোধের জন্য এসক্রো অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। এই অ্যাকাউন্টে প্রাথমিক ব্যালান্স রাখার জন্য কয়েক মাসের কর ও বিমার অর্থ আগাম জমা দিতে হতে পারে। ডিসকাউন্ট পয়েন্ট: কেউ যদি মর্টগেজের সুদের হার কমাতে চান, তাহলে ঋণের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ আগাম পরিশোধ করে ডিসকাউন্ট পয়েন্ট কিনতে পারেন। এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে কেউ এই সুবিধা নিলে সেই অর্থও ক্লোজিং কস্টের মধ্যে যুক্ত হয়। এ ছাড়াও বাড়ির ধরন ও লেনদেন অনুযায়ী হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এইচওএ ফি, কনডোমিনিয়াম চার্জ এবং অন্যান্য পরিদর্শনসংক্রান্ত খরচ যুক্ত হতে পারে। তবে সব খরচ প্রত্যেক ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ক্লোজিং কস্ট কি শুধু ক্রেতাকেই দিতে হয়? না। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্লোজিং কস্টের সব অর্থ যে ক্রেতাকেই বহন করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। চুক্তি এবং স্থানীয় প্রচলন অনুযায়ী কিছু খরচ বিক্রেতাও বহন করতে পারেন। আবার অনেক সময় বিক্রেতা ক্রেতাকে বাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ কমাতে আর্থিক সহায়তা দেন। এই সুবিধাকে বলা হয় সেলার কনসেশন বা সেলার ক্রেডিট। উদাহরণ হিসেবে, একজন ক্রেতা ৪ লাখ ডলারের একটি বাড়ি কিনতে চাচ্ছেন। ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি তার ক্লোজিং কস্টের জন্য আরও ১২ হাজার ডলার প্রয়োজন। ক্রেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিক্রেতা যদি ৮ হাজার ডলার ক্লোজিং কস্ট বহনের প্রস্তাব দেন, তাহলে ঋণদাতার অনুমোদন ও প্রযোজ্য নিয়মের মধ্যে থেকে সেই অর্থ ক্রেতার অনুমোদিত ক্লোজিং খরচ মেটাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্রেতাকে নিজের পকেট থেকে পুরো ১২ হাজার ডলার দিতে হবে না। অবশিষ্ট ৪ হাজার ডলার দিতে হবে। সেলার ক্রেডিট কীভাবে পাওয়া যায়? সাধারণত বাড়ি কেনার অফার দেওয়ার সময়ই এই সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ক্রেতার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট বিক্রেতার কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার অথবা বাড়ির বিক্রয়মূল্যের নির্দিষ্ট শতাংশ ক্লোজিং কস্ট হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করতে পারেন। বিক্রেতা রাজি হলে বিষয়টি ক্রয়চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঋণদাতার অনুমোদন অনুযায়ী চূড়ান্ত ক্লোজিং ডকুমেন্টে সেই অর্থ সমন্বয় করা হয়। তবে সেলার ক্রেডিট মানে বিক্রেতা ক্রেতাকে সরাসরি হাতে নগদ টাকা দিয়ে দেবেন, এমন নয়। সাধারণত এই অর্থ অনুমোদিত ক্লোজিং খরচ ও প্রিপেইড খরচের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়। ক্রেতার ডাউন পেমেন্টের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যায় না। ফলে অফার দেওয়ার সময় সেলার ক্রেডিটের বিষয়টি সঠিকভাবে চুক্তিতে উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্লোজিং কস্ট কমানোর উপায় কী? বাড়ি কেনার সময় কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করলে ক্রেতারা নিজেদের প্রাথমিক খরচ কমাতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিক্রেতার কাছ থেকে সেলার ক্রেডিট চাওয়া। বাড়ির অফার দেওয়ার সময় এজেন্টের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে। এ ছাড়া ঋণদাতার কাছ থেকে লেন্ডার ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর বিনিময়ে তুলনামূলক বেশি সুদের হার গ্রহণ করতে হয়। ফলে শুধু প্রাথমিক খরচ কমানোর দিকে না তাকিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মোট কত অর্থ পরিশোধ করতে হবে, সেটিও হিসাব করা উচিত। টাইটেল কোম্পানি, সেটেলমেন্ট সার্ভিস এবং অন্যান্য যেসব সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর খরচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করাও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি ডিসকাউন্ট পয়েন্ট কিনলে সুদের হার কমার বিপরীতে আগাম দেওয়া অর্থ দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী হবে কি না, তা যাচাই করা দরকার। ক্লোজিংয়ের আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করবেন?যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর নিয়ম অনুযায়ী, মর্টগেজের আবেদন পাওয়ার পর ঋণদাতাকে সাধারণত তিন কর্মদিবসের মধ্যে লোন এস্টিমেট দিতে হয়। এতে সম্ভাব্য ঋণের শর্ত এবং আনুমানিক ক্লোজিং কস্ট উল্লেখ থাকে। অন্যদিকে, নির্ধারিত ক্লোজিংয়ের অন্তত তিন কর্মদিবস আগে ক্রেতাকে চূড়ান্ত ক্লোজিং ডিসক্লোজার দিতে হয়। এতে ঋণের চূড়ান্ত শর্ত, বিভিন্ন খরচ, কে কোন অর্থ পরিশোধ করছেন এবং ক্রেতাকে শেষ পর্যন্ত কত টাকা দিতে হবে, তার বিস্তারিত হিসাব থাকে। ক্লোজিং ডিসক্লোজার হাতে পাওয়ার পর লোন এস্টিমেটের সঙ্গে চূড়ান্ত খরচের পার্থক্য রয়েছে কি না, বিক্রেতার প্রতিশ্রুত ক্রেডিট সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না এবং টাইটেল, অ্যাটর্নি, অ্যাপ্রেইজাল ও অন্যান্য ফি সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। প্রিপেইড ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের অর্থের হিসাবও ভালোভাবে দেখা দরকার। সবশেষে ক্যাশ টু ক্লোজ বা বাড়ি কেনার দিন নিজের পকেট থেকে ঠিক কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ ক্লোজিং কস্টের মোট পরিমাণ এবং ক্লোজিংয়ের দিন হাতে নিয়ে যেতে হবে এমন অর্থ এক বিষয় নয়। আগে দেওয়া ডিপোজিট, ঋণের অর্থ এবং বিক্রেতা বা ঋণদাতার অনুমোদিত ক্রেডিট সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত ক্যাশ টু ক্লোজ নির্ধারিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা শুধু ডাউন পেমেন্টের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিভিন্ন আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক খরচ। তাই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ক্লোজিং কস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসীদের উচিত বাড়ির দাম ও মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি ক্লোজিং কস্টের জন্যও আলাদা বাজেট রাখা। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছ থেকে ক্লোজিং কস্টের আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় কি না, সেটিও বাড়ি কেনার অফার দেওয়ার সময় আলোচনা করা যেতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, ঋণদাতার সঙ্গে আগাম আলোচনা এবং চুক্তির শর্ত ভালোভাবে যাচাই করলে বাড়ি কেনার সময় অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বোস্টন ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন ‘বিইউ প্রমিজ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম, তাদের সন্তানরা টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আর্থিক সহায়তা। পরিবারের আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এসব সুবিধা নির্ধারণ করা হবে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের যোগ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি সম্পূর্ণ বহন করবে। পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশও আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবে। ফলে পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলারের মধ্যে হলে শিক্ষাবাবদ বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার দিতে হবে। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে এবং ৭৫ হাজার ১ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার আয়ের পরিবারের জন্য ১০ হাজার ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শুধু টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলারে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম আয়ের পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহনের এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করছে। এই কর্মসূচির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন পূরণের জন্য যে সহায়তা দেবে, তাতে কোনো শিক্ষার্থী ঋণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। অর্থাৎ আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে পরিশোধ করতে হবে এমন ঋণ নিতে বাধ্য করা হবে না। তবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা চাইলে আলাদাভাবে ফেডারেল শিক্ষাঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। সেটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। তবে এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বিইউ প্রমিজ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, যারা প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হবেন। স্থানান্তরিত শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। পাশাপাশি পরিবারের আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সম্পদ এবং নিজস্ব বাড়ি ছাড়া অন্যান্য স্থাবর সম্পদের পরিমাণও বিবেচনা করা হবে। তাই শুধু আয়ের সীমা পূরণ করলেই সুবিধা নিশ্চিত হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা পেতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য আবেদনপত্র (এফএএফএসএ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক তথ্যসংক্রান্ত আবেদনপত্র (সিএসএস প্রোফাইল) জমা দিতে হবে। প্রথম বর্ষে আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি সহায়তা চার বছর পর্যন্ত বজায় রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। টিউশন ফি বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির পরিমাণও একই হারে বাড়বে। উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। হার্ভার্ড ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিসহ (এমআইটি) বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আয়ভিত্তিক আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয় কমানোর সুযোগ দিচ্ছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির নতুন উদ্যোগও সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করল। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্যও এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল নিয়ে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনায় এই ধরনের সহায়তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও সম্পদের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উৎসবের সপ্তাহান্তে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একের পর এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ২৪ জন নিহত এবং ৯৪ জন আহত হয়েছেন। ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, ডেলাওয়্যারসহ বিভিন্ন স্থানে নাইটক্লাব, বিনোদন এলাকা, হ্যালোইন সামগ্রীর দোকান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে বেশি হতাহতের একটি ঘটনা ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরে। সেখানে প্রায় ৭৫ মিনিটের ব্যবধানে তিনটি পৃথক গুলিবর্ষণে চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। তবে সব হামলা হ্যালোইনকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছিল কিংবা ঘটনাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত, এমনটা প্রমাণ হয়নি। ৩১ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বন্দুক সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক টাইমস, এনবিসি এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যের ভিত্তিতে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম এসব ঘটনায় অন্তত ২৪ জনের মৃত্যু ও ৯৪ জনের আহত হওয়ার সংখ্যা জানিয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি ঘটেছে টেক্সাসের ডালাস শহরের ডিপ এলাম এলাকায়। শনিবার রাত পেরিয়ে রোববার (১ নভেম্বর) ভোরে সেখানে তিনটি পৃথক স্থানে গুলির ঘটনা ঘটে। ডালাস পুলিশ বিভাগের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনা ঘটে রাত ১২টা ২০ মিনিটে এলম স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে রাত ১টা ৫ মিনিটে মেইন স্ট্রিটের ২৬০০ ব্লকে। তৃতীয় গুলিবর্ষণ হয় রাত ১টা ৩৫ মিনিটে সাউথ ক্রাউডাস স্ট্রিটের ২০০ ব্লকে। ডালাস পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি ঘটনায় মোট ১৯ জন গুলিবিদ্ধ হন। তাঁদের মধ্যে চারজন মারা যান এবং ১৫ জন আহত হন। আহতদের কয়েকজনকে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা হাসপাতালে নিয়ে যান। অন্যরা নিজেরাই চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে পৌঁছান। কোনো পুলিশ কর্মকর্তা আহত হননি। প্রাথমিকভাবে তিনটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য সংশ্লিষ্টতা এবং গুলিবর্ষণের উদ্দেশ্য নিয়ে তদন্ত চলছে। ডালাসের ডিপ এলাম শহরটির পরিচিত বিনোদন এলাকা। সেখানে বার, রেস্তোরাঁ, সংগীত পরিবেশনার স্থান এবং নাইটক্লাব রয়েছে। হ্যালোইন উপলক্ষে শনিবার রাতেও বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। গুলির ঘটনার পর পুলিশ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে এবং কয়েকটি রাস্তা বন্ধ করে দেয়। তদন্তকারীরা আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহের পাশাপাশি প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন। ডালাসের পুলিশপ্রধান ড্যানিয়েল কোমো জানিয়েছেন, হ্যালোইন উপলক্ষে আগেই অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ফলে গুলির খবর পাওয়ার পর কাছাকাছি থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হন। একজন আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষায় পুলিশ সদস্যদের জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। পুলিশপ্রধান বলেছেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে। তবে তদন্তের জন্য আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা ব্যক্তিরা সবাই অপরাধে জড়িত, এমন নয়। এদিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ফেয়ারফিল্ড শহরের সোলানো টাউন সেন্টার শপিং মলে অবস্থিত স্পিরিট হ্যালোইন দোকানে শুক্রবার রাতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় একজন নিহত এবং ছয়জন আহত হন। নিহত ব্যক্তি ৩১ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী বলে পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হামলার পূর্ণ উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনো চলমান। ক্যালিফোর্নিয়ার ঘটনার পাশাপাশি মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসেও একটি স্পিরিট হ্যালোইন দোকানের কাছে গুলির ঘটনায় ২১ বছর বয়সী এক যুবক নিহত হন। দুটি ঘটনাই হ্যালোইন সামগ্রীর দোকানের সঙ্গে সম্পর্কিত হলেও একই অপরাধী চক্র বা পরিকল্পনার অংশ বলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে দোকানের নামের মিল থেকে ঘটনাগুলোর মধ্যে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের বার্মিংহাম শহরেও গুলির ঘটনায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। লিজিয়ন ফিল্ড স্টেডিয়ামে ম্যাজিক সিটি ক্ল্যাসিক ফুটবল ম্যাচের পর আশপাশের এলাকায় পৃথক দুটি গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত এবং আটজন আহত হন। ম্যাচটি দেখতে প্রায় ৭০ হাজার দর্শক উপস্থিত ছিলেন। তবে স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলা চলাকালে গুলিবর্ষণ হয়েছিল, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক শহরে ইউনিভার্সিটি অব ডেলাওয়্যারের কাছেও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। সেখানে ছয়জন গুলিবিদ্ধ হন। অন্যদিকে ইলিনয়ের ব্লুমিংটনে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান ইউনিভার্সিটির কাছে গুলির ঘটনায় ১৯ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত এবং আরও একজন গুরুতর আহত হন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনা ঘটলেও হামলার উদ্দেশ্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আরকানসাস অঙ্গরাজ্যের ফায়েটভিলেও গুলিবর্ষণে ছয়জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, একটি বিরোধের পর সেখানে গুলির ঘটনা ঘটে। তবে বিরোধের সুনির্দিষ্ট কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত চলছিল। এসব ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত পৃথক অপরাধ। কোনো একটি কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার মাধ্যমে সব হামলা সংঘটিত হয়েছে, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র, পার্টি, রাস্তাঘাট এবং জনসমাগমপূর্ণ স্থানে জড়ো হন। বিশেষ করে গভীর রাত পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠানে জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তবে এবারের গুলিবর্ষণগুলোর ক্ষেত্রে মদ্যপান, মাদক গ্রহণ কিংবা উৎসবের ভিড়ই সরাসরি সহিংসতার কারণ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়নি। অপরাধবিজ্ঞানী জেমস অ্যালান ফক্সের একটি পূর্ববর্তী বিশ্লেষণে হ্যালোইনসহ নির্দিষ্ট ছুটির দিনে সহিংসতার প্রবণতা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সালের বোস্টনের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে ৩১ অক্টোবরকে সহিংসতার ঝুঁকিপূর্ণ দিনগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই বিশ্লেষণে ৪ জুলাই ও ১ জানুয়ারির পর ৩১ অক্টোবরের অবস্থান ছিল। তবে এটি একটি নির্দিষ্ট শহরের পুরোনো তথ্যের ওপর ভিত্তি করে করা গবেষণা। হ্যালোইন উপলক্ষে ছোট শিশু ও কিশোরেরা সন্ধ্যায় বাড়ির বাইরে বের হয়, বিভিন্ন বাসায় গিয়ে মিষ্টি সংগ্রহ করে এবং পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেয়। এ সময় যানবাহন চলাচল, ভিড় এবং অপরিচিত স্থানে যাতায়াতের কারণে নিরাপত্তার বাড়তি প্রয়োজন হতে পারে। তবে শিশুদের জন্য সব ধরনের ঝুঁকি একই নয়। বন্দুক সহিংসতা, সড়ক দুর্ঘটনা এবং অন্য অপরাধের পরিসংখ্যান আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিসহ অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এসব ঘটনা উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে যাঁরা হ্যালোইন বা অন্যান্য বড় উৎসব উপলক্ষে জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় যান, তাঁদের স্থানীয় পুলিশ ও আয়োজকদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা প্রয়োজন। কোনো এলাকায় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটলে গুজবের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ বিভাগের নিশ্চিত তথ্যের ওপর নির্ভর করা গুরুত্বপূর্ণ। হ্যালোইন সপ্তাহান্তে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে সংঘটিত বন্দুক সহিংসতায় বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। সংকলিত একটি হিসাবে অন্তত ২৪ জন নিহত ও ৯৪ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের মোট হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। ডালাসের তিনটি ঘটনায় চারজন নিহত ও ১৫ জন আহত হওয়ার তথ্য পুলিশ নিশ্চিত করেছে। অন্য ঘটনাগুলোতেও তদন্ত চলছে। এসব সহিংসতার কারণ, সন্দেহভাজনদের পরিচয় এবং হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে পরবর্তী সরকারি তথ্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। সূত্র: ডালাস পুলিশ বিভাগ, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, এসবিএস নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ডেমোক্র্যাট শিবিরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন কংগ্রেসওম্যান হ্যালি স্টিভেন্স। গত আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে আবদুল এল-সায়েদের কাছে পরাজিত হওয়ার পর তাঁকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্টিভেন্স। কিন্তু নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছেন তিনি। রোববার (১ নভেম্বর) ডেট্রয়েটের পারফেক্টিং চার্চে রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পক্ষে অবস্থান ঘোষণা করেন স্টিভেন্স। প্রাইমারিতে পরাজয়ের পর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিরোধ এবং শেষ মুহূর্তে এই অবস্থান পরিবর্তনকে ঘিরে তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যক্তিগত ক্ষোভ কাজ করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে হ্যালি স্টিভেন্স ও আবদুল এল-সায়েদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল অত্যন্ত তীব্র। ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা, গাজা যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যনীতি নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থানে স্পষ্ট পার্থক্য ছিল। নির্বাচনে স্টিভেন্সকে পরাজিত করে দলীয় মনোনয়ন পান আবদুল। পরাজয়ের পর স্টিভেন্স প্রথমে তাঁকে সমর্থন জানান এবং ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থীকে বিজয়ী করার প্রতিশ্রুতিও দেন। তবে প্রাইমারির পরও তাঁদের মধ্যে মতপার্থক্য কাটেনি। বিশেষ করে ইসরায়েলকে মার্কিন সহায়তার সমালোচনা করে একটি বহিরাগত রাজনৈতিক সংগঠনের প্রচারমূলক বিজ্ঞাপন নিয়ে বিরোধ নতুন করে তীব্র হয়। বিজ্ঞাপনটিকে ইহুদিবিদ্বেষী বলে সমালোচনা করেন স্টিভেন্স। অন্যদিকে, আবদুল জানান, বিজ্ঞাপনটি তাঁর নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় এবং এর বক্তব্যের সঙ্গেও তিনি একমত নন। নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে দুই নেতার মধ্যে বিরোধ আরও প্রকাশ্যে আসে। রোববার ডেট্রয়েটের একটি গির্জায় আবদুল এল-সায়েদ ও স্টিভেন্সের যৌথ উপস্থিতিতে ঐক্যের বার্তা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার কংগ্রেস সদস্য জিম ক্লাইবার্নেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কর্মসূচিতে স্টিভেন্স অংশ নেননি। বরং অন্য একটি গির্জায় রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে উপস্থিত হয়ে তাঁকে সমর্থন জানান। নিজের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় স্টিভেন্স বলেন, আবদুল তাঁকে তাঁর নির্বাচনী প্রচারণা থেকে দূরে থাকতে বলেছেন। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যৌথ কর্মসূচি নিয়ে শেষ মুহূর্তে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ ও মতবিরোধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। স্টিভেন্সের এই সিদ্ধান্তের পর তাঁর দীর্ঘদিনের প্রধান সহযোগী ও চিফ অব স্টাফ জাস্টিন জার্মানসহ একাধিক কর্মী পদত্যাগ করেছেন। প্রায় আট বছর ধরে স্টিভেন্সের সঙ্গে কাজ করা জার্মান জানান, তাঁর সিদ্ধান্তে তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা হতবাক ও মর্মাহত। তিনি প্রকাশ্যে আবদুল এল-সায়েদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির চেয়ারম্যান কার্টিস হার্টেলও স্টিভেন্সের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, তিনি নিজের ঘোষিত মূল্যবোধ থেকে সরে গেছেন। অন্যদিকে, আবদুল এল-সায়েদ বলেছেন, তিন মাস আগের প্রাইমারির বিরোধ নতুন করে সামনে আনার পরিবর্তে তিনি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও নীতিগত বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান। স্টিভেন্স অবশ্য নিজেকে এখনো একজন গর্বিত ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর মিশিগানে সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অবসর নিতে যাওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই আসনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে প্রাইমারিতে পরাজিত হওয়ার পর যাঁকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচনের ঠিক আগে সেই প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বীকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্তে হ্যালি স্টিভেন্সের রাজনৈতিক অবস্থান ও উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তবে তাঁর সিদ্ধান্তের পেছনে প্রতিশোধই প্রধান কারণ এমন কোনো নিশ্চিত প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একটি আবাসিক এলাকায় লিয়ারজেট-৬০ মডেলের একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে এর আরোহী নয়জনের সবাই নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় রোববার (১ নভেম্বর) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের নর্থ এলিউথেরা বিমানবন্দরের দিকে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-আ-লাগো বাসভবনের দূরত্ব প্রায় ১০ মাইল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিজনেস ইনসাইডার। তবে ট্রাম্পের বাসভবনের সঙ্গে দুর্ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় নয়জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেন। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) তদন্তে সহায়তা করতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিসও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুর্ঘটনার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, উড়োজাহাজটি ক্ষেপণাস্ত্রের মতো নিচে নেমে এসে সড়কের পাশে বড় গর্ত তৈরি করে। দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজটির চালক আকাশে বরফ জমা ও মাঝারি মাত্রার ঝাঁকুনির কথা বিমান নিয়ন্ত্রণকক্ষকে জানিয়েছিলেন। লাইভএটিসি ডটনেটের সংগৃহীত কথোপকথনের রেকর্ডিংয়ে শোনা যায়, প্রথমে চালক বরফ জমার পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। পরে উড়োজাহাজটি দ্রুত উচ্চতা হারাতে শুরু করলে জরুরি সংকেত পাঠানো হয়। একপর্যায়ে ক্রুদের বলতে শোনা যায়, ‘আমরা মাটিতে আছড়ে পড়তে যাচ্ছি।’ তবে বরফ জমা, ঝড়ো আবহাওয়া নাকি অন্য কোনো যান্ত্রিক সমস্যার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে উড়োজাহাজটিকে দ্রুত নিচে নেমে এসে সড়কের পাশে আছড়ে পড়তে এবং পরে বিস্ফোরিত হতে দেখা যায়। দুর্ঘটনায় আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও মাটিতে থাকা কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছেন গভর্নর ডিস্যান্টিস। নিরাপত্তার স্বার্থে কাছের একটি মোবাইল হোম কমিউনিটি থেকে প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সড়কও বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। উড়োজাহাজটি ব্যক্তিগত হওয়ায় এতে থাকা নয়জনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। অস্টিন-বার্গস্ট্রম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি তাদের বিমানবন্দর থেকেই যাত্রা শুরু করেছিল। এদিকে এনটিএসবি তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ দল পাঠিয়েছে এবং এফএএ তাদের সহায়তা করছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। প্রধান সূত্র: আল জাজিরা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।
রাজনীতি
২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিলেন হলিউড অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে
কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের বল প্রয়োগ করে হিজাব খুলতে বাধ্য করছে ইসরাইলি বাহিনী
রাশিয়ার দিকে ট্রাম্প, চাপে ইউক্রেন! জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব বাড়ছে
সরকারি জালিয়াতির তথ্য দিলেই মিলবে ৩০ হাজার ডলার! নতুন উদ্যোগ ট্রাম্পের
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
জুয়েল সাদাত
বিশ্ব
View moreসুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী কর্মী জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ৩০ অক্টোবর স্টকহোম জেলা আদালত এ রায় দেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্যান্ডবার্গকে প্রতিদিন ১০০ ক্রোনা হিসাবে মোট ৩ হাজার ক্রোনা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ১ হাজার ক্রোনা এবং সরকারি আইনজীবীর খরচ বাবদ রাষ্ট্রকে ১৭ হাজার ক্রোনা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে জরিমানা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার ওপর ২১ হাজার ক্রোনা আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালে স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘আমরা আমাদের রাস্তায় কোনো মুসলিম দেখতে চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত ওই বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ২০২৪ সালের কোরআন অবমাননার ঘটনায় দণ্ডিত হলেও পরের বছরের ওই অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআনের একটি কপি পোড়ান জেড স্যান্ডবার্গ। এরপর বইটিতে লাথি মারেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। সুইডেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হলেও দেশটির আইনে কোনো জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাদের অবমাননা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা এবং কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য বা আচরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। স্যান্ডবার্গের মামলার রায়েও ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চীনের বিওয়াইডি বিশ্বে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর সংখ্যা এখন ১০ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বিওয়াইডির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু সম্প্রতি এই বিশাল অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা, জেনারেল মোটরস, ফোর্ড এবং টেসলার সম্মিলিত কর্মীর সংখ্যার চেয়েও বিওয়াইডির কর্মীর সংখ্যা এখন বেশি। এই চারটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার। সেই হিসেবে বর্তমানে বিওয়াইডিতে তাদের তুলনায় প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার বেশি কর্মী কাজ করছেন। গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিওয়াইডির মোট কর্মী ছিল প্রায় ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬০০ জন। আর মাত্র দশ মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে তা বেড়ে ১০ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বিশাল এই কর্মী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার জনই চীনের অভ্যন্তরে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে কর্মরত আছেন প্রায় ৬০ হাজার কর্মী। এর চেয়েও চমকপ্রদ তথ্য হলো প্রতিষ্ঠানটির অন্তত এক লাখ ২০ হাজার কর্মী কেবল গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করেন। তারা মূলত উন্নত মানের ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর, ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে গবেষণার কাজ করছেন। বিওয়াইডির এত বিশাল কর্মী বাহিনীর পেছনে তাদের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থাই প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের জন্য বাইরের কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল থাকে সেখানে বিওয়াইডি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাটারি, চিপ, মোটর থেকে শুরু করে অন্যান্য সব অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি নিজেদের কারখানাতেই তৈরি করে। শুধু গাড়ি নির্মাণেই নয় তাদের কার্যক্রম ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, শক্তি সঞ্চয় এবং আধুনিক রেল পরিবহন ব্যবস্থা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সবকিছু নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির এত বিপুল পরিমাণ জনবলের প্রয়োজন হয়। কর্মী সংখ্যা বাড়লেও গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা মিশ্র পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীনা এই অটোমোবাইল জায়ান্ট। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে মোট ৩১ লাখ ৩০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের গাড়ির বিক্রি অভাবনীয় হারে বেড়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তারা ১৩ লাখ ৪০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে যা আগের বছরের তুলনায় ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বর্তমানে তাদের মোট বিক্রির প্রায় ৪৩ শতাংশই আসছে বিদেশের বিভিন্ন বাজার থেকে যা কোম্পানিটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের একটি বড় প্রমাণ। বিশ্বজুড়ে ব্যবসার প্রসার ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর মাত্র ৬ শতাংশ এখন চীনের বাইরে কাজ করছেন। একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বিওয়াইডির এই বিশাল কর্মী সংখ্যার মধ্যে তাদের ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য খাতের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অর্থাৎ এই ১০ লাখ কর্মী যে শুধু গাড়ি নির্মাণের সঙ্গেই যুক্ত আছেন বিষয়টি এমন নয়। তাই কর্মী বেশি হওয়ার মানেই যে তাদের গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা অন্যদের চেয়ে জাদুকরীভাবে বেশি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে নিজেদের প্রয়োজনীয় সবকিছু নিজেরাই তৈরির এই নিজস্ব কৌশল বিওয়াইডিকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে। সংবাদ সূত্র: আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল সাময়িকী ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি
আগামী ৫ নভেম্বর দীপাবলি উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা রামায়ণ। ছবিটির মুক্তির আগে প্রচারণার কাজে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন এর কলাকুশলীরা। সম্প্রতি স্টার টকস নামের একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন রণবীর কাপুর, রবি দুবে, রাকুল প্রীত সিং, যশ এবং পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি। এই আলাপের সময় প্রাচীন মহাকাব্যকে পর্দায় তুলে আনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তারা। সেখানেই প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তির সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের একটি দারুণ তুলনা টেনেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর কাপুর। সাক্ষাৎকার চলাকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রামায়ণ যুগের অবিশ্বাস্য সব অস্ত্রের প্রশংসা করেন যা আধুনিক সৃষ্টিকেও হার মানাতে সক্ষম। পাশাপাশি তিনি অস্কারজয়ী স্টুডিও ডাবল নেগেটিভ বা ডিএনইজি এর করা দুর্দান্ত ভিএফএক্স কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি জানান, পৌরাণিক সেই সৃষ্টিগুলোকে পর্দায় নতুন করে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। এর সূত্র ধরেই রণবীর কাপুর বলেন, ইলন মাস্ক সম্প্রতি একটি উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কার করেছেন, তবে আমার মনে হয় ভারত ৫ হাজার বছর আগেই এই কাজ করে দেখিয়েছিল। রণবীর মূলত টেসলার নতুন উড়ন্ত গাড়ির সঙ্গে রামায়ণে বর্ণিত পুষ্পক রথের তুলনা করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের রকেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে টেসলা তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রোডস্টারের প্রদর্শন করে। প্রদর্শনীতে বৈদ্যুতিক এই সুপারকারটি বিশাল এক বাঁকানো র্যাম্পে উল্টো হয়ে শূন্যে ভেসে থাকে এবং নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানান গাড়িটির প্রযুক্তি সফলভাবে কাজ করেছে এবং ২০২৮ সাল থেকে এর উৎপাদন শুরু হবে। অন্যদিকে হিন্দু পুরাণ অনুসারে পুষ্পক রথ হলো একটি জাদুকরী উড়ন্ত রাজপ্রাসাদ। রামায়ণ সিনেমার ট্রেইলারে বিশাল আকারের এই উড়ন্ত যানটি দর্শকদের নজর কেড়েছে। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী স্বর্গের স্থপতি বিশ্বকর্মা ভগবান ব্রহ্মার জন্য এই রথটি তৈরি করেছিলেন। পরে ব্রহ্মা এটি সম্পদের দেবতা এবং রাবণের সৎ ভাই কুবেরকে উপহার দেন। কিন্তু রাবণ কুবেরকে পরাজিত করে পুষ্পক রথটি ছিনিয়ে নেন। মহাকাব্যে বলা হয়েছে, এই রথটি মনের গতিতে উড়তে পারত এবং যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী নিজের আকার পরিবর্তন করতে পারত। প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের ওপর ভিত্তি করে দুই পর্বের এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নিতেশ তিওয়ারি। ছবিতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর এবং সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী। রাবণের ভূমিকায় কন্নড় তারকা যশ, হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবেকে দেখা যাবে। ছবির অন্যতম প্রযোজক যশ জানান, রামায়ণের এই নতুন উপস্থাপনটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নমিত মালহোত্রা ও যশের প্রযোজনায় ছবিটিতে সুরারোপ করেছেন এ আর রহমান এবং হ্যান্স জিমার।
ইরানের নারীদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের একাংশের নীরবতার সমালোচনা করে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নারী পারিশাদ কাভিয়ানি। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকা আন্দোলনের কিছু সমর্থক ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে একইভাবে সরব নন। এমনকি কেউ কেউ ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নিচ্ছেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে যে আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন, সেখানে মানবাধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। ইরানে জন্ম নেওয়া কাভিয়ানি ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় চলে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানান, একসময় ফিলিস্তিনিদের অধিকারের দাবিতে আয়োজিত মিছিল ও কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে সাবেক আন্দোলনসঙ্গীদের কাছ থেকে সমকামীবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও নারীবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতাও আন্দোলন থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান কাভিয়ানি। কাভিয়ানির মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ব্যক্তিদের ইরানি নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়েও কথা বলা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ইরানের নারীরা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরার স্বাধীনতা চাইলে আন্দোলনের অনেক সমর্থক নীরব থাকেন। কেউ কেউ আবার ইরানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশের বা গোষ্ঠীর জন্য আলাদা মানদণ্ড থাকা উচিত নয়। ইরানে শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কাভিয়ানি বলেন, সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরা হতো। কিন্তু দেশের ভেতরে দারিদ্র্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অসুবিধার মতো সমস্যাগুলোও তিনি দেখেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দেশের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে বিদেশে সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে আন্দোলন থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেন কাভিয়ানি। তাঁর বক্তব্য, ওই হামলার পর কিছু আন্দোলনসমর্থকের প্রতিক্রিয়া তাঁকে হতাশ করে। তিনি মনে করেন, কারও জাতীয়তা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে হত্যা, নির্যাতন কিংবা জিম্মি করে রাখার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা এবং তাদের জিম্মি করার বিরোধিতা করা উচিত, যে পক্ষই তা করুক না কেন। এ অবস্থানের কারণে আন্দোলনের কিছু মানুষের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানান তিনি। কাভিয়ানি আরও বলেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কিছু সমর্থকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষে যায় এমন প্রচার ও বক্তব্য দেখে তিনি আরও অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকারের কথা বলা ব্যক্তিদের একটি অংশ নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ কারণে আন্দোলনটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা আর ধরে রাখতে চাননি তিনি। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে কাভিয়ানির বক্তব্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁর আন্দোলন ছাড়ার কারণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন একটি বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসর। কাভিয়ানির অভিযোগ আন্দোলনের সব সমর্থক বা সংগঠনের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ইরানের নারীদের স্বাধীনতার প্রশ্নগুলো পৃথক হলেও মানবাধিকারের বৃহত্তর আলোচনায় এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়। সূত্র: ফক্স নিউজ ডিজিটাল
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা তুললেন বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী
নেইমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজকে দলে নিতে যাচ্ছে মেলবোর্ন রেনেগেডস, বিসিবির ছাড়পত্রের অপেক্ষা
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন
রাবণের দশ মাথায় ড. ইউনূস ও ইলন মাস্কের ছবি, লক্ষ্ণৌতে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
বাস্তবেই আছে ভ্যাম্পায়ার ও ওয়্যারউলফের মতো বিরল রোগ, শরীরে দেখা দেয় অদ্ভুত লক্ষণ
প্রচলিত কেমোথেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকর নতুন ওষুধ, কমেছে স্তন ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলো এআইয়ের তৈরি ভাইরাস
নার্সদের জন্য ৫০ হাজার ডলারের সহায়তা, তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ
ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত মিলতে পারে স্ক্যানে ধরা পড়ার ১৬ মাস আগেই
ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এয়ার ট্যাক্সি, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে উড়বে টাম্পা পর্যন্ত
টেসলার একটি সাইবারক্যাব থেকে বছরে ৫০ হাজার ডলার মুনাফার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কের বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি
এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের ত্রুটি স্বীকার করল অ্যাপল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নতুন ফোন দেওয়ার ঘোষণা
ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার চালু করছে কেন্ট জেলা
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন ঘিরে গু লিবর্ষণ, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অন্তত ২৪ নি হত ও ৯৪ আ হত
'আমি এখনও জানি না কেন গুলি করল' আইসিইর গুলিতে বুকে আহত অভিবাসী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ব্যবসায় শক্ত অবস্থান গড়ছেন বাংলাদেশিরা, বাড়ছে রাজনীতি ও সামাজিক প্রভাব
ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের বাসভবনের কাছে বিমান বিধ্বস্ত, ৯ আরোহীর সবাই নিহত
প্রাইমারিতে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতেই কি আবদুল এল-সায়েদকে বাদ দিয়ে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থন হ্যালির?
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগে চাকরির সুযোগ , নির্দিষ্ট পদে সাইনিং বোনাস ৩০ হাজার ডলার
পাঁচ বছরে আয় ৮ গুণের বেশি, তবু অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেন নাবিল খান
ইন্টেল থেকে টেসলায়! সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার বাংলাদেশি সারোয়ার মোর্শেদ
সৌদিতে ১৯ হাজার ৬১০টি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আবেদনের নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন, কর্মীদের মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও
দুই হাজার বছর পর রোমান স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হওয়া ব্যক্তির মুখ ফিরল ডিজিটাল প্রযুক্তিতে
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
জ্বালানি চুরি করতে গিয়ে ভুলে বাসের পয়োনিষ্কাশন ট্যাংকের বর্জ্যতে হাত দিয়ে বিপাকে চোর
ক্যাশ অ্যাপের ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, যোগ্য গ্রাহকদের টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদার, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা
রোদে পোড়া ব্রিটিশদের মতো লাল মুখ, ব্রাজিলে বানরের ডাকনাম ‘ইংলিশ মাঙ্কি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট, শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে রুমা
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে মরিয়া আইনি লড়াই, এবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে মাহমুদ খলিল
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ
কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী
সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কমিউনিটির বড় সহায়তা, ৮ লাখ ডলারের অনুদান
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র
লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!
এক রাতের আগুনে শেষ পুরো পরিবার, ব্রঙ্কসে প্রাণ গেল ১১ বছরের শিশুসহ চারজনের
ক্যানসার আক্রান্ত নারীকে হাসাতে সারা বছর বাড়িতে কঙ্কাল সাজিয়ে রাখলেন প্রতিবেশী
১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিমায় নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের চিকিৎসা খরচ কমাতে যা করবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়াই আটকের পক্ষে আদালতের রায়
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের সর্বনিম্নে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম
মিশিগানসহ ৪৩টি স্টেটস এ বাড়ির ডাউন পেমেন্টে সুদমুক্ত ঋণ দিবে জিলো
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স গড়ে ১৫ হাজার ডলার, অধিকাংশের সঞ্চয় অনেক কম
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস, খাবারের খরচ বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন অর্ধেক মানুষ
১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের গড় বয়স ছিল ৩৩ বছর, এখন ৫৬! নতুন ক্রেতার রেকর্ড পতন
নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় ছুরিকাঘাতে তরুণী গুরুতর আহত, লাইফ সাপোর্টে
ব্রুকলিনের সাবওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত একজন, আহত আরও একজন
খাবার পৌঁছে দেওয়া রোবটের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার বাধা! ৭৮ বছর বয়সী সাবেক অধ্যাপক গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্পকে গুলি করার হুমকি দেয়ায় নারী গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় মানবপাচারবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ডিজনির ১৩ কর্মী, ডেপুটি, নৌবাহিনীর সদস্যসহ ২৮১
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা, বিলিয়নিয়াররা মিটিয়ে দেবেন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িভাড়া
২৩ বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্স, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তিই দিতে চান স্বামী
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা
মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারবেন না, তাই মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা
ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের, ক্লান্তি নিয়েও উড়ছেন অনেকে
নিউইয়র্কে সন্ধ্যার পর বাড়ছে দুর্ঘ টনার ঝুঁকি, চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে পুলিশ
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
দিল্লিতে দূষণ রোধে গাড়ি প্রবেশে বিধিনিষেধ, একদিনেই ৬৮ লাখ রুপি জরিমানা
ব্রিটেনের অভিবাসন নিয়মে বড় পরিবর্তনঃ স্পনসর লাইসেন্স ও শিক্ষার্থীদের অর্থের শর্তে নতুন নির্দেশনা
পুরস্কার নিতে যাওয়ার সময় স্পেনে ট্রেন দুর্ঘটনায় কেমব্রিজের বিজ্ঞানী ড. শাহবাজি নিহত
বৌদ্ধ পরিবারে জন্ম, ইসলাম গ্রহণ করে জাপানি ভাষায় কুরআন অনুবাদ কিরে ইতিহাস গড়েন উমর মিতা