সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন, তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী বোমা ফেলার বিকল্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন মাত্রার অভিযানের বিকল্প প্রস্তুত রাখেন, যার মধ্যে এই বিশাল আকারের বোমার ব্যবহার অন্যতম।   এমওএবি বা জিবিইউ-৪৩/বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অতিকায় অ-পারমাণবিক বোমা, যা ব্যাপক বিস্ফোরণ ও বিস্তৃত এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনায় এই বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সন্দেহ করে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার এই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন।   তবে এই শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করলেই যে কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হবে, তা নিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ এমওএবি মূলত ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টির জন্য তৈরি; এটি মাটির গভীরে প্রবেশ করে পুরু গ্রানাইট পাথর বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য নকশা করা হয়নি।   জ্বালানি বা বেসামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এই বোমা ব্যবহার করা হলে আশপাশে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা রয়েছে। তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরানের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি মার্কিন পরিকল্পনায় জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

১০ মিনিট Ago
বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
বাংলাদেশের মতো আন্দোলনে ভারতে সরকার পতনের ছক? বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার একটি ভিডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে বিজেপির এই অভিযোগের পক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো প্রমাণিত গোপন পরিকল্পনার তথ্য দেওয়া হয়নি। বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে।   বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীরা বাংলাদেশে ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি ভারতে তৈরি করতে চাইছেন। তাঁর দাবি, বিরোধীদের লক্ষ্য শুধু সরকারের সমালোচনা বা রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; বরং আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তন করা। তিনি নেহা বোরার বক্তব্য এবং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতিকে এই অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।   বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা বলা এবং একই ধরনের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা ভারতের বিরোধী রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তবে নেহা বোরার বক্তব্যকে রাহুল গান্ধীর ব্যক্তিগত অবস্থান বা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কংগ্রেস ও নেহা বোরার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াও দ্যপ্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   বিতর্কের সূত্রপাত অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) নেত্রী নেহা বোরার একটি ভিডিও বক্তব্য থেকে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ভারতে যে তরুণদের আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূত্রপাত বাংলাদেশে। তিনি বাংলাদেশের তরুণদের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে সংহতির কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্যে গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসে।   নেহা বোরার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের কিছু মিল তুলে ধরা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, ভারতের তরুণদের আন্দোলনেও একই ধরনের অধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু বিজেপি তাঁর বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে এটিকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মতো ঘটনা ভারতে ঘটানোর ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছে।   এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ চলছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকার পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন দেশটির জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।   এই ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের নেতারা সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি।   অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আক্রমণ করছে। ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ এবং বাংলাদেশ আন্দোলনের প্রসঙ্গ—দুটি বিষয়ই এখন ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।   রাহুল গান্ধীও বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদকে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আলাদা না দেখে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখার কথা বলেছেন। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশে সংঘটিত ঘটনার পুনরাবৃত্তির কোনো পরিকল্পনা সরাসরি যুক্ত—এমন প্রমাণ ওই প্রতিবেদনে নেই।   বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা ঘটনা। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তা ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। প্রাণহানি ও দেশব্যাপী অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও তরুণদের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।   তবে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আন্দোলনের পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো এক নয়। একটি দেশের আন্দোলন থেকে অন্য দেশের কর্মীরা অনুপ্রেরণা নিতে পারেন, কিন্তু তা থেকেই একই ধরনের সরকার পতন বা কোনো গোপন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় না। এ ক্ষেত্রে নেহা বোরার বক্তব্য, বিজেপির অভিযোগ এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি।   বিজেপির অভিযোগের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, কারণ দলটি সরাসরি দেশের প্রধান বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার। এই বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী বক্তব্য, আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এবং নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগের প্রমাণ ও নিষ্পত্তির ওপর।   ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি ভারতে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু বিজেপির অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিত কোনো সরকার পরিবর্তনের ছক হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের আন্দোলনের উত্তরাধিকার ও ভারতের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতকে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি নতুন বিতর্ক হিসেবে উপস্থাপন করাই তথ্যনিষ্ঠ হবে।

২৩ মিনিট Ago
কাশ্মীরে সব মসজিদে অভিন্ন জুমার খুতবার উদ্যোগ, দেড় হাজার আলেমের বৈঠকের পর তীব্র বিতর্ক
কাশ্মীরে সব মসজিদে অভিন্ন জুমার খুতবার উদ্যোগ, দেড় হাজার আলেমের বৈঠকের পর তীব্র বিতর্ক

ভারতশাসিত কাশ্মীরের মসজিদগুলোতে একই ধরনের বা অভিন্ন জুমার খুতবা চালুর একটি প্রস্তাব ঘিরে অঞ্চলটিতে ব্যাপক বিতর্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের এই উদ্যোগকে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার সুকৌশল চেষ্টা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা। তাদের মতে, এটি কাশ্মীরি মুসলিমদের দীর্ঘদিনের ধর্মীয় রীতিনীতি ও স্বাধীনতায় অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপ।   ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও জম্মু-কাশ্মীর ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান দর্শন আন্দ্রাবি সম্প্রতি এই প্রস্তাবের কথা প্রকাশ্যে আনেন। বোর্ডের দাবি, সমাজ থেকে মাদকাসক্তি, আত্মহত্যা ও মানসিক চাপের মতো বিভিন্ন নেতিবাচক সমস্যা দূর করতে এই অভিন্ন খুতবা কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।   আন্দ্রাবির ভাষ্যমতে, ধর্মীয় আলেমদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ কমিটি এই খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করবে এবং এখানে সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো সরাসরি হস্তক্ষেপ থাকবে না। তবে গত রোববার কাশ্মীরের প্রায় দেড় হাজার আলেম ও ধর্মীয় বক্তাকে নিয়ে ওয়াকফ বোর্ডের অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে কমিটিতে কারা থাকবেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। উল্টো প্রস্তাবের বিষয়ে আলেমরা আপত্তি জানালেও তাতে কর্ণপাত করা হয়নি বলে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার কাছে অভিযোগ করেছেন এক অংশগ্রহণকারী আলেম।   প্রস্তাবটি সামনে আসার পর থেকেই কাশ্মীরের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিমণ্ডলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কাশ্মীরের জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নাঈম আখতার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, মসজিদে খুতবার বিষয়বস্তু নির্ধারণের অধিকার একান্তই ধর্মীয় নেতাদের; ওয়াকফ বোর্ডের দায়িত্ব মূলত ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত। অঞ্চলটির প্রধান মুসলিম ধর্মীয় নেতা মিরওয়াইজ উমর ফারুকও এই উদ্যোগকে সরাসরি ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ বলে অভিযোগ করেছেন।   তার নেতৃত্বাধীন মুত্তাহিদা মাজলিস-ই-ওলামা এবং কাশ্মীরের নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহও এই প্রস্তাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তীব্র সমালোচনার মুখে ওয়াকফ বোর্ডের প্রধান অবশ্য পরবর্তীতে তার অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে জানান, খুতবায় সামাজিক সমস্যা নিয়ে আলোচনার বিষয়টি স্বাধীন আলেম ও ধর্মীয় বক্তাদের সিদ্ধান্তের ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ভারত সরকার কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা বাতিল করে অঞ্চলটিকে সরাসরি কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে নিয়ে আসার পর থেকেই ওয়াকফ ব্যবস্থাপনাসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   এর আগে মসজিদগুলোর ইমাম ও খতিবদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহের জন্য পুলিশের ফরম বিতরণ এবং শ্রীনগরের ঐতিহাসিক জামিয়া মসজিদে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিধিনিষেধ আরোপের ঘটনাও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাশ্মীরে ধর্ম ও রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে গভীরভাবে যুক্ত থাকায় এ ধরনের যেকোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মনে ধর্মীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি করে।

২৭ মিনিট Ago
‘আমি এখনো শিশু', খরার চাপে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে আয় করছে আফগান পরিবারগুলো
‘আমি এখনো শিশু', খরার চাপে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে আয় করছে আফগান পরিবারগুলো

আফগানিস্তানে বারবার খরা, পানির সংকট ও খাদ্যাভাব দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। জীবিকা হারানো কিছু পরিবার সংসারের খাবার ও ঋণের অর্থ জোগাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, পানি ও খাবারের ঘাটতি পরিবারগুলোকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।    ১৫ অক্টোবর গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঋণ শোধে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ১১ বছরের খাতিরা উদ্বেগে কাঁদে।    মানবিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃপুন খরা, দীর্ঘ সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আফগানিস্তানের খাদ্যসংকটকে জটিল করেছে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতাও তাঁদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে বাল্যবিয়ে, কিশোরী মাতৃত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।    আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, আফগানিস্তানের ২০২২-২৩ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের আগে। কিছু এলাকায় এই হার প্রতি দুজনের একজন পর্যন্ত ছিল। এটি ওই জরিপের তথ্য, চলতি বছরের নতুন বাল্যবিয়ের হিসাব নয়।   ইউনিসেফের আফগানিস্তান প্রতিনিধি তাজুদ্দিন ওয়েওয়ালে বলেন, বাল্যবিয়ে মেয়েদের পড়াশোনায় ছেদ ঘটায় এবং ভবিষ্যতের সুযোগ সীমিত করে। একই সঙ্গে সহিংসতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্মদানের ঝুঁকি বাড়ায়।   সংস্থাটি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অর্থসংকট সামলাতে কাউকে বাল্যবিয়ের আশ্রয় নিতে না হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পর কিশোরীদের জন্য স্কুল খুলে দিতেও আফগানিস্তানের কার্যত শাসনকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

৪০ মিনিট Ago
আমেরিকা
নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে এসেও আইসিইর হাতে আটক ভেনেজুয়েলার মা, বিচ্ছিন্ন মেয়ে

ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার নাগরিক ডিকারলা আন্তোনেলা সুয়ারেজ ভার্গাস ও তাঁর ছোট মেয়ে আরানজা সোফিয়া কাস্তিয়ো সুয়ারেজ। সমুদ্রে প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা ভেসে থাকার পর তাঁদের উদ্ধার করা হয়। কিন্তু সেই বিপর্যয় থেকে বেঁচে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে নতুন জীবন শুরু করলেও এখন আরেক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন মা। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আ ট ক হওয়ার পর এক বছরের বেশি সময় ধরে তিনি হেফাজতে রয়েছেন। অন্যদিকে, তাঁর মেয়ে রয়েছে এক আত্মীয়ের কাছে।   ৩৪ বছর বয়সী ডিকারলা ও তাঁর মেয়ে ২০২৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর নিকারাগুয়ার কর্ন আইল্যান্ডসের কাছে একটি নৌডুবির ঘটনায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন। কলম্বিয়ার সান আন্দ্রেস থেকে কর্ন আইল্যান্ডের দিকে যাচ্ছিল নৌযানটি। দ্বীপটির দক্ষিণ-পূর্বে প্রায় পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে সেটি ডুবে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নিকারাগুয়ার নৌবাহিনী অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় জেলেদের নৌকাও উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। সব মিলিয়ে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। তবে দুর্ঘটনায় ভেনেজুয়েলার দুই যাত্রীর মৃ ত্যু হয়। তাঁদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল। ডিকারলার বোন কিসি সুয়ারেজের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় তাঁর বোন ও ভাগনি প্রায় ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা সমুদ্রে আটকে ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, হয়তো আর বেঁচে ফেরা হবে না। ওই ঘটনায় অন্য যাত্রীদের প্রাণহানিও ঘটে। পরিবারের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর আশায় তাঁরা ওই নৌযানে যাত্রা করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে মা-মেয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে টেক্সাসের ডালাসে বসবাস শুরু করেন। ডিকারলা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করতেন, আর তাঁর মেয়ে আরানজা স্কুলে যেত। পরিবারের ভাষ্য, তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেদের হাজির করেছিলেন। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি কার্যক্রম চলতে থাকে। তবে ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পরিস্থিতি বদলে যায়। পরিবারের দাবি, সেদিন ডিকারলা নিয়মিত অভিবাসনসংক্রান্ত সাক্ষাৎ বা চেক-ইনের জন্য গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাঁকে আ ট ক করে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট—আইসিই। এরপর থেকে তিনি অভিবাসন হেফাজতে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ডিকারলা ২০২৪ সালের মে মাসে মেয়েকে নিয়ে এল পাসোর কাছে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে দেশটিতে প্রবেশ করেছিলেন। বিভাগের এক মুখপাত্রের দাবি, সে সময় তিনি কর্মকর্তাদের কাছে অবৈধ মাদক ব্যবহারের কথা স্বীকার করেছিলেন। তবে বিভাগটির বিবৃতিতে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার কথা বলা হয়নি। পরিবারের দাবি, ডিকারলার কোনো অপরাধের রেকর্ড, ফৌজদারি অভিযোগ বা আগের গ্রেপ্তারের ঘটনা নেই। তবে তাঁর অভিবাসন মামলার বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলেছে। পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি একজন অভিবাসন বিচারক তাঁকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের আদেশ দেন। এরপর তাঁর আইনজীবীরা ফেডারেল আদালতে আটকাদেশ চ্যালেঞ্জ করেন। ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ টেক্সাসের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টে হেবিয়াস কর্পাস আবেদন দাখিল করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডিকারলাকে লারেডো প্রসেসিং সেন্টারে রাখা হয়েছে। মা-মেয়ের বিচ্ছিন্নতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে পরিবার। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মুখপাত্র বলেছেন, আইসিইর নীতি অনুযায়ী আরানজাকে একজন আত্মীয়ের কাছে রাখা হয়েছে। বিভাগের বক্তব্য, অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা করা হয় তাঁরা সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে বহিষ্কৃত হতে চান কি না। তা না হলে অভিভাবকের মনোনীত নিরাপদ ব্যক্তির কাছে শিশুকে রাখা হয়। বিভাগটির দাবি, এটি আগের প্রশাসনগুলোর অভিবাসন আইন প্রয়োগের পদ্ধতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। ডিকারলার বোন কিসি জানিয়েছেন, তাঁর বোন মেয়েকে ঘিরেই জীবন সাজিয়েছিলেন। তিনি মেয়েকে স্কুলে নিয়ে যেতেন, স্কুল শেষে বাড়ি ফিরিয়ে আনতেন, দেখাশোনা করতেন এবং সংসার চালাতে বিভিন্ন কাজ করতেন। হোটেল ও খাবার পরিবেশনসহ ডালাস এলাকার বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরিবারের ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যাক্সেল রোহাস ডিকারলার আইনি খরচ মেটাতে অনুদান সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। তাঁর মতে, ডিকারলার সঙ্গে যা ঘটছে, তা গভীরভাবে অন্যায্য। তিনি আশা করছেন, ডিকারলা ন্যায়সংগত আচরণ পাবেন এবং মা-মেয়ে আবার একসঙ্গে থাকতে পারবেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগের কঠোরতার মধ্যে মা-বাবাকে আ ট ক বা বহিষ্কারের কারণে সন্তানদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। ২০২৬ সালের মে মাসে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে প্রায় ২ লাখ ৫ হাজার শিশু সম্ভবত তাদের কোনো অভিভাবকের আ ট ক হওয়ার অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছে। ডিকারলা ও আরানজার ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা আরও গভীর, কারণ তাঁরা ইতোমধ্যে প্রাণঘাতী নৌদুর্ঘটনা থেকে বেঁচে এসেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মা কাজ করেছেন, মেয়ে স্কুলে পড়েছে এবং তাঁরা একসঙ্গে জীবন গড়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু এখন বহিষ্কারের আদেশ ও দীর্ঘ আটকাবস্থার কারণে তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। পরিবারের আশঙ্কা, আইনি প্রক্রিয়ার পরিণতি তাঁদের আবারও আলাদা করে দিতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৮:৪
ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিতে ‘মাদার অব অল বম্বস’ দিয়ে হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম শক্তিশালী অ-পারমাণবিক বোমা ‘মাদার অব অল বম্বস’ বা এমওএবি ব্যবহারের কথা বিবেচনা করছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে একাধিক মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের নির্দেশ দেন, তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামো ও পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই বিধ্বংসী বোমা ফেলার বিকল্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে।   মার্কিন সামরিক পরিকল্পনাকারীরা নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন মাত্রার অভিযানের বিকল্প প্রস্তুত রাখেন, যার মধ্যে এই বিশাল আকারের বোমার ব্যবহার অন্যতম।   এমওএবি বা জিবিইউ-৪৩/বি হলো যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি অতিকায় অ-পারমাণবিক বোমা, যা ব্যাপক বিস্ফোরণ ও বিস্তৃত এলাকায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামে পরিচিত একটি সন্দেহভাজন ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনায় এই বোমা ব্যবহারের সম্ভাবনা রাখা হয়েছে, যেখানে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ উপাদান লুকিয়ে রাখা থাকতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সন্দেহ করে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে একাধিকবার এই স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখাকে তাঁর প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে ঘোষণা করেছেন।   তবে এই শক্তিশালী বোমা ব্যবহার করলেই যে কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হবে, তা নিয়ে খোদ মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যেই গভীর সংশয় রয়েছে। কারণ এমওএবি মূলত ভূপৃষ্ঠের বিশাল এলাকাজুড়ে বিস্ফোরণ ও ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টির জন্য তৈরি; এটি মাটির গভীরে প্রবেশ করে পুরু গ্রানাইট পাথর বা শক্তিশালী প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য নকশা করা হয়নি।   জ্বালানি বা বেসামরিক স্থাপনার কাছাকাছি এই বোমা ব্যবহার করা হলে আশপাশে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কা রয়েছে। তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্যবস্তু ধ্বংসের সীমাবদ্ধতা থাকলেও ইরানের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে এই বোমা ব্যবহারের বিষয়টি মার্কিন পরিকল্পনায় জোরালোভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

‘আমি এখনো শিশু', খরার চাপে মেয়েদের বিয়ে দিয়ে আয় করছে আফগান পরিবারগুলো

আফগানিস্তানে বারবার খরা, পানির সংকট ও খাদ্যাভাব দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। জীবিকা হারানো কিছু পরিবার সংসারের খাবার ও ঋণের অর্থ জোগাতে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার পথ বেছে নিচ্ছে। ইউনিসেফ জানিয়েছে, পানি ও খাবারের ঘাটতি পরিবারগুলোকে এমন সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।    ১৫ অক্টোবর গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ঋণ শোধে বিয়ে ঠিক হওয়ার পর ১১ বছরের খাতিরা উদ্বেগে কাঁদে।    মানবিক সহায়তা সংস্থা ওয়ার্ল্ড ভিশনের তথ্য অনুযায়ী, পুনঃপুন খরা, দীর্ঘ সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা আফগানিস্তানের খাদ্যসংকটকে জটিল করেছে। নারীদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সীমাবদ্ধতাও তাঁদের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এর প্রভাবে বাল্যবিয়ে, কিশোরী মাতৃত্ব ও মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।    আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইউনিসেফ জানায়, আফগানিস্তানের ২০২২-২৩ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ২৮ দশমিক ৭ শতাংশের বিয়ে হয়েছিল ১৮ বছরের আগে। কিছু এলাকায় এই হার প্রতি দুজনের একজন পর্যন্ত ছিল। এটি ওই জরিপের তথ্য, চলতি বছরের নতুন বাল্যবিয়ের হিসাব নয়।   ইউনিসেফের আফগানিস্তান প্রতিনিধি তাজুদ্দিন ওয়েওয়ালে বলেন, বাল্যবিয়ে মেয়েদের পড়াশোনায় ছেদ ঘটায় এবং ভবিষ্যতের সুযোগ সীমিত করে। একই সঙ্গে সহিংসতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অল্প বয়সে গর্ভধারণ এবং সন্তান জন্মদানের ঝুঁকি বাড়ায়।   সংস্থাটি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে, যাতে অর্থসংকট সামলাতে কাউকে বাল্যবিয়ের আশ্রয় নিতে না হয়। পাশাপাশি ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপদ শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ষষ্ঠ শ্রেণির পর কিশোরীদের জন্য স্কুল খুলে দিতেও আফগানিস্তানের কার্যত শাসনকারী কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইউনিসেফ।

বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে পুরস্কৃত হলেন বুরকিনা ফাসোর তরুণীরা
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে

দেশজুড়ে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করার কয়েক মাসের মধ্যে নারীদের বৈজ্ঞানিক মেধা বিকাশে জাতীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। ‘হাকিলি মুসো’ নামের এই উদ্যোগের প্রথম আসরের চূড়ান্ত পর্বে গণিত, পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নে অংশ নেন ৮৪ তরুণী। বিজয়ীদের নগদ অর্থ, স্কলারশিপ ও শিক্ষাসহায়তা দেওয়া হয়েছে।   দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন নিয়মকানুন প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুনে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। এই সিদ্ধান্তের পক্ষে দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়, সামাজিক মূল্যবোধ ও মানবিক মর্যাদা রক্ষার যুক্তি দেওয়া হয়। এটি স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পরিবর্তে নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামো তৈরির অপেক্ষায় নেওয়া স্থগিতাদেশ।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ আগস্ট হাকিলি মুসো প্রতিযোগিতার ঘোষণা দেওয়া হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর রাজধানী ওয়াগাদুগুতে আনুষ্ঠানিকভাবে পরীক্ষা শুরু হয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বাছাই করা প্রতিযোগীরা এতে অংশ নেন। ফলে আগস্টে উদ্যোগটির ঘোষণা এলেও মূল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় সেপ্টেম্বরে।   বুরকিনা ফাসোর উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিযোগিতাটি ২০২৬ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সর্বোচ্চ ২১ বছর বয়সী তরুণীদের জন্য উন্মুক্ত ছিল। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ধারিত ফলের শর্তও পূরণ করতে হয়েছে তাঁদের।   ১৯ সেপ্টেম্বর ওয়াগাদুগুতে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ত্রাওরের প্রতিনিধিত্ব করে অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী রিমতালবা জ্যঁ ইমানুয়েল ওয়েদ্রাওগো। সরকারি বিবরণ অনুযায়ী, প্রতিটি বিষয়ের প্রথম পাঁচজন পুরস্কার পান। পুরস্কারের মধ্যে ছিল পাঁচ লাখ থেকে ২০ লাখ সিএফএ ফ্রাঁ নগদ অর্থ, কম্পিউটার, মোটরসাইকেল, স্কলারশিপ এবং আবাসন, খাবার ও যাতায়াতের সহায়তা।   অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজ্ঞানে মেয়েদের অংশগ্রহণে বাধা তৈরি করা প্রচলিত ধারণা ভাঙার ওপর গুরুত্ব দেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও শিল্পক্ষেত্রে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগাতে বিজয়ীদের উৎসাহিত করেন তিনি। মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত হিসাবে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশটির বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেয়েদের অংশ ছিল ৩৬ দশমিক ৭ শতাংশ। নারী শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক মেধার স্বীকৃতি ও এসব বিষয়ে আগ্রহ বাড়ানোই উদ্যোগটির ঘোষিত লক্ষ্য। সূত্র: দ্যা বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন চলছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট, আবেদন ২০ নভেম্বর পর্যন্ত

নিউইয়র্কে সাশ্রয়ী আবাসনের সুযোগ বাড়াতে ব্রঙ্কসের একটি আবাসন ভবনে মাসে ৬৭৫ ডলারে স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স১১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সের এসব অ্যাপার্টমেন্টের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় আগামী ২০ নভেম্বর। নির্ধারিত আয়সীমার মধ্যে থাকা এক বা দুই সদস্যের পরিবার এ আবাসন কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবে।   অ্যাপার্টমেন্টগুলো ব্রঙ্কসের ট্রেমন্ট এলাকায় ৪১১ ইস্ট ১৭৮তম স্ট্রিটে অবস্থিত ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্স ভবনে। ভবনটির পরিচালনায় রয়েছে অলাভজনক আবাসন সংস্থা ব্রেকিং গ্রাউন্ড। মাসিক ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৭৫ ডলার। আবেদনকারীর পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ২৬ হাজার ৯২ ডলার থেকে ৭১ হাজার ২৮০ ডলারের মধ্যে। তবে শুধু আবেদন করলেই অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নিশ্চিত নয়, নির্ধারিত যোগ্যতা ও বাছাইপ্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাসিন্দা নির্বাচন করা হবে।   ভবনটিতে বাসিন্দাদের জন্য রয়েছে ব্যায়ামাগার, নিজস্ব লন্ড্রি সুবিধা এবং ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তাব্যবস্থা। ব্রেকিং গ্রাউন্ডের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েবস্টার অ্যাভিনিউ রেসিডেন্সে মোট ১৭০টি ছোট আকারের স্টুডিও অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। এর মধ্যে ৯০টি গৃহহীনতার অভিজ্ঞতা থাকা ব্যক্তি ও বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের জন্য নির্ধারিত। বাকি ৮০টি ইউনিট ব্রঙ্কসের স্বল্প আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য রাখা হয়েছে। ভবনটি ২০১৮ সালে চালু হয়।   আগ্রহী ব্যক্তিরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। এ ছাড়া আবেদনপত্র পেতে (৬৪৬) ৮৭০-৮৩৪০ নম্বরে ফোন করা অথবা intake@breakingground.org ঠিকানায় ইমেইল করা যাবে। আবেদন করার আগে আয়সীমা, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।   অনলাইন আবেদন নিউইয়র্ক স্টেটের আবাসন আবেদন পোর্টাল আবেদন করুন সূত্র: পিক্স১১, ব্রেকিং গ্রাউন্ড।

বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির
বাংলাদেশের মতো আন্দোলনে ভারতে সরকার পতনের ছক? বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের উদাহরণ টেনে ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও বিরোধী শিবিরের বিরুদ্ধে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। ছাত্রনেত্রী নেহা বোরার একটি ভিডিও বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে বিজেপির এই অভিযোগের পক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কোনো প্রমাণিত গোপন পরিকল্পনার তথ্য দেওয়া হয়নি। বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক বক্তব্য ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে।   বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি অভিযোগ করেছেন, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীরা বাংলাদেশে ২০২৪ সালে ঘটে যাওয়া ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মতো পরিস্থিতি ভারতে তৈরি করতে চাইছেন। তাঁর দাবি, বিরোধীদের লক্ষ্য শুধু সরকারের সমালোচনা বা রাজনৈতিক প্রতিবাদ নয়; বরং আন্দোলনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার পরিবর্তন করা। তিনি নেহা বোরার বক্তব্য এবং রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোটের সাম্প্রতিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে তাঁর উপস্থিতিকে এই অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন।   বিজেপির বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা বলা এবং একই ধরনের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা ভারতের বিরোধী রাজনীতির উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে। তবে নেহা বোরার বক্তব্যকে রাহুল গান্ধীর ব্যক্তিগত অবস্থান বা কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনার প্রমাণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মতো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কংগ্রেস ও নেহা বোরার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়াও দ্যপ্রিন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   বিতর্কের সূত্রপাত অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (এআইএসএ) নেত্রী নেহা বোরার একটি ভিডিও বক্তব্য থেকে। ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ভিডিওতে তিনি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রশংসা করেন এবং বলেন, ভারতে যে তরুণদের আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূত্রপাত বাংলাদেশে। তিনি বাংলাদেশের তরুণদের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং দুই দেশের তরুণদের মধ্যে সংহতির কথাও বলেন। তাঁর বক্তব্যে গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার এবং ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রসঙ্গ উঠে আসে।   নেহা বোরার বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল বাংলাদেশের আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের কিছু মিল তুলে ধরা। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে যে আন্দোলন হয়েছিল, ভারতের তরুণদের আন্দোলনেও একই ধরনের অধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু বিজেপি তাঁর বক্তব্যকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে এটিকে বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মতো ঘটনা ভারতে ঘটানোর ইঙ্গিত হিসেবে তুলে ধরেছে।   এই বিতর্ক এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ চলছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলগুলোর আপত্তি রয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে এবং এতে ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকার পরিবর্তন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখন দেশটির জাতীয় রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।   এই ইস্যুতে কংগ্রেসসহ বিরোধী জোটের নেতারা সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে প্রতিবাদ মিছিল করেছেন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রধান জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। বিরোধীদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হওয়া এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখা জরুরি।   অন্যদিকে বিজেপি বিরোধীদের প্রতিবাদকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আক্রমণ করছে। ফলে ভোটার তালিকা নিয়ে বিরোধ এবং বাংলাদেশ আন্দোলনের প্রসঙ্গ—দুটি বিষয়ই এখন ভারতের রাজনৈতিক বিতর্কে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।   রাহুল গান্ধীও বিরোধী দলগুলোর প্রতিবাদকে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তিনি বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে আলাদা না দেখে একটি বৃহত্তর আন্দোলনের অংশ হিসেবে দেখার কথা বলেছেন। তবে এই বক্তব্যের সঙ্গে বাংলাদেশে সংঘটিত ঘটনার পুনরাবৃত্তির কোনো পরিকল্পনা সরাসরি যুক্ত—এমন প্রমাণ ওই প্রতিবেদনে নেই।   বাংলাদেশের ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা ঘটনা। সরকারি চাকরিতে কোটা ব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর তা ব্যাপক গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। প্রাণহানি ও দেশব্যাপী অস্থিরতার মধ্য দিয়ে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই ঘটনার রাজনৈতিক প্রভাব বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও তরুণদের আন্দোলন নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।   তবে বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আন্দোলনের পরিস্থিতি এবং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো এক নয়। একটি দেশের আন্দোলন থেকে অন্য দেশের কর্মীরা অনুপ্রেরণা নিতে পারেন, কিন্তু তা থেকেই একই ধরনের সরকার পতন বা কোনো গোপন রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয় না। এ ক্ষেত্রে নেহা বোরার বক্তব্য, বিজেপির অভিযোগ এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্যকে আলাদা করে দেখা জরুরি।   বিজেপির অভিযোগের রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে, কারণ দলটি সরাসরি দেশের প্রধান বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধীকে সরকার পরিবর্তনের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে বিরোধীদের প্রতিবাদের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকা, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকার। এই বিষয়গুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিরোধ কতটা গভীর হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী বক্তব্য, আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি এবং নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগের প্রমাণ ও নিষ্পত্তির ওপর।   ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর ভিত্তিতে বলা যায়, বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিজেপি ভারতে সরকার পরিবর্তনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। কিন্তু বিজেপির অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে দেখানোর মতো স্বাধীন প্রমাণ এখনো প্রকাশিত প্রতিবেদনে নেই। তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিত কোনো সরকার পরিবর্তনের ছক হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের আন্দোলনের উত্তরাধিকার ও ভারতের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতকে ঘিরে তৈরি হওয়া একটি নতুন বিতর্ক হিসেবে উপস্থাপন করাই তথ্যনিষ্ঠ হবে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
আট বছর পর আবারও বড় লটারি জিতলেন কানাডীয় দম্পতি
২০১৮ সালে জিতেছিলেন ২৫ লাখ ডলার, এবার লটারিতে আরও ৬ লাখ ৭৫ হাজার পেলেন দম্পতি
প্রকাশ: অক্টোবর ১৫, ২০২৬ ৮:২৭

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডর প্রদেশের সেন্ট জনস শহরের এক দম্পতি আবারও বড় অঙ্কের লটারি জিতে আলোচনায় এসেছেন। অ্যাঞ্জেলিনা ও এডওয়ার্ড লাডো নামের এই দম্পতি এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার কানাডীয় ডলারের শীর্ষ পুরস্কার পেয়েছেন। এর আগে ২০১৮ সালেও স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন লটারির টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন তাঁরা। অর্থাৎ আট বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বড় অঙ্কের লটারি জিতলেন এই দম্পতি।   এবার তাঁরা পুরস্কারটি পেয়েছেন আটলান্টিক লটারির চার ডলারের ‘সেট ফর লাইফ’ স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন গেমে। লটারির নিয়ম অনুযায়ী, বিজয়ীদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল। তাঁরা চাইলে আগামী ২৫ বছর প্রতি সপ্তাহে এক হাজার ডলার করে নিতে পারতেন। অথবা এককালীন ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার গ্রহণ করতে পারতেন। শেষ পর্যন্ত দম্পতি এককালীন অর্থ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই অর্থের পরিমাণ মার্কিন মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের কিছু বেশি। পুরস্কার জেতার খবর প্রথমে শুনে এডওয়ার্ড লাডো বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। লটারির কর্মকর্তাদের কাছে তিনি জানান, স্ত্রী তাঁকে জয়ের কথা বলার পরও তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো মজা করছেন অ্যাঞ্জেলিনা। তাই তিনি স্ত্রীকে শান্ত থাকতে বলেন এবং বাড়ি ফিরে বিষয়টি যাচাই করে দেখবেন বলে জানান। এডওয়ার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, খবরটি শুনে তাঁর প্রথম প্রতিক্রিয়া ছিল অবিশ্বাস। পরে যখন নিশ্চিত হন যে সত্যিই তাঁরা পুরস্কার জিতেছেন, তখন বিষয়টি উপলব্ধি করতে কিছুটা সময় লাগে। বড় অঙ্কের অর্থ জয়ের আনন্দের পাশাপাশি কীভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করবেন, তা নিয়েও ভাবছেন তাঁরা। এর আগে ২০১৮ সালে স্ক্র্যাচ-অ্যান্ড-উইন টিকিটে ২৫ লাখ ডলার জিতেছিলেন লাডো দম্পতি। সেই তুলনায় এবারের ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের পুরস্কার কিছুটা কম হলেও, একই ধরনের লটারিতে দ্বিতীয়বার এমন সাফল্য তাঁদের জন্য ব্যতিক্রমী ঘটনা। এডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তাঁরা সাধারণত সীমিত পরিমাণেই লটারি খেলেন। আগের জয়ের পরও তাঁদের খেলার ধরন খুব বেশি বদলায়নি। তিনি বলেন, তাঁরা পরিমিতভাবেই লটারি খেলেন, বিশেষ করে এখন। তবে তাঁর মতে, কেউ অংশ না নিলে জেতার সুযোগও থাকে না। তাঁর এই মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, বড় পুরস্কার জিতলেও তাঁরা নিয়মিত বিপুল অর্থ ব্যয় করে লটারি খেলেন না। দম্পতির পরিকল্পনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাঁরা জানিয়েছেন, কলেজে পড়াশোনা করা সন্তানদের শিক্ষার খরচে সহায়তা করতে চান। পাশাপাশি সন্তানদের জীবনের শুরুটা আরও সহজ করতে এই অর্থ কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। তবে পরিবারের জন্য সহায়তার বাইরে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত করেননি তাঁরা। এডওয়ার্ড জানান, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী অন্য বিষয় নিয়েও তাঁরা ভাববেন। আপাতত এই মুহূর্তের আনন্দ ও বিস্ময়কে অনুভব করতে চান তাঁরা। বড় অঙ্কের অর্থ হাতে আসার পরও তা কীভাবে ব্যবহার করবেন, সে বিষয়ে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সময় নিয়ে ভাবতে চাইছেন। এদিকে, ‘সেট ফর লাইফ’ লটারি গেমে এখনো পাঁচটি শীর্ষ পুরস্কার দাবি করা হয়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফলে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী এসব পুরস্কার জেতার সুযোগ এখনো বাকি রয়েছে। তবে ওই পুরস্কারগুলো কে বা কারা জিতবেন, তা এখনো জানা যায়নি। আট বছর আগে ২৫ লাখ ডলার এবং এবার ৬ লাখ ৭৫ হাজার ডলার জয়ের অভিজ্ঞতা লাডো দম্পতিকে বিরল এক অবস্থানে নিয়ে এসেছে। তাঁরা এবার পাওয়া অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সন্তানদের শিক্ষায় ব্যয় করতে চান। আপাতত সেই পরিকল্পনাই তাঁদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পর্তুগালের হোসে মেস্ত্রের মুখের বড় অংশ ঢেকে ফেলেছিল জন্মগত রক্তনালির জটিলতা থেকে তৈরি টিউমার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মানুষ যাকে ‘দানব’ বলত, পর্তুগালের সেই হোসে যুক্তরাষ্ট্রে চার মাসের চিকিৎসায় স্বাভাবিক চেহারায় ফিরলেন
প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ২৩:২৯

পর্তুগালের হোসে মেস্ত্রের মুখের এক পাশ ধীরে ধীরে ঢেকে ফেলেছিল অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা বিশাল এক টিউমার। ঠোঁট থেকে শুরু করে মুখের বড় অংশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া এই টিউমারের কারণে তিনি এক চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। শ্বাস নিতে কষ্ট হতো, খাবার খাওয়াও হয়ে উঠেছিল কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কার্যকর সমাধান পাননি তিনি। একসময় তাঁর চিকিৎসার সম্ভাবনা প্রায় শেষ বলে মনে হচ্ছিল। কিন্তু লিসবনের রাস্তায় এক অচেনা ব্রিটিশ পর্যটকের সঙ্গে দেখা হওয়ার পর তাঁর জীবনে নতুন আশার সূচনা হয়।   ১৯৫০-এর দশকে জন্ম নেওয়া মেস্ত্রের মুখে জন্মগত রক্তনালির অস্বাভাবিকতা ছিল। কৈশোরে, প্রায় ১৪ বছর বয়স থেকে, সেটি দ্রুত বাড়তে শুরু করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের সমস্যাকে ভাসকুলার ম্যালফরমেশন বা রক্তনালির গঠনগত ত্রুটি বলা হয়। তাঁর মুখের টিউমারটি সময়ের সঙ্গে এত বড় হয়ে ওঠে যে ঠোঁট, মুখ ও জিহ্বার স্বাভাবিক গঠন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চিকিৎসকেরা আশঙ্কা করেছিলেন, রক্তপাত ও অন্যান্য জটিলতার কারণে তাঁর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   মেস্ত্রের চিকিৎসার জন্য পর্তুগালের পাশাপাশি স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যের চিকিৎসাকেন্দ্রেও পরামর্শ নেওয়া হয়েছিল। তবে রোগের জটিলতা এবং অস্ত্রোপচারের ঝুঁকির কারণে চিকিৎসা নিয়ে একমত হওয়া যাচ্ছিল না। তাঁর পরিবারের ধর্মীয় বিশ্বাসও চিকিৎসার সিদ্ধান্তকে জটিল করে তুলেছিল। মেস্ত্রে ও তাঁর মা রক্ত সঞ্চালন নিয়ে আপত্তি করতেন। ফলে এমন একটি অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না, যেখানে অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল।   মায়ের মৃত্যুর পর ছোট বোন এডিথ আব্রেউ তাঁর দেখাশোনার দায়িত্ব নেন। ভাইয়ের চিকিৎসার জন্য তিনি নতুন করে সাহায্য খুঁজতে থাকেন। এ সময় ‘পিটার’ নামে পরিচিত এক ব্রিটিশ পর্যটক লিসবনের রাস্তায় মেস্ত্রেকে দেখেন। এর আগে মুখের জটিল টিউমার নিয়ে অস্ত্রোপচারের একটি তথ্যচিত্র দেখেছিলেন তিনি। সেই সূত্রে চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিননের কথা মনে পড়ে তাঁর। পরে ই-মেইলের মাধ্যমে মেস্ত্রের চিকিৎসার বিষয়ে যোগাযোগের উদ্যোগ নেন ওই পর্যটক। মেস্ত্রের পরিবার তাঁকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করত বলে সে সময়ের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল।   ২০১০ সালে মেস্ত্রে ও তাঁর বোন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে যান। সেখানে সেন্ট জোসেফ হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা শুরু হয়। প্লাস্টিক ও পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারে অভিজ্ঞ চিকিৎসক ম্যাককে ম্যাককিনন এবং তাঁর দল কয়েক ধাপে অস্ত্রোপচার করেন। প্রথমে শ্বাস নেওয়ার পথ নিরাপদ করা হয় এবং টিউমারের বড় অংশ অপসারণ করা হয়। পরবর্তী অস্ত্রোপচারগুলোতে মুখ, নাক ও মুখগহ্বরের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠনের কাজ চলে। চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তাঁকে কয়েক মাস শিকাগোয় থাকতে হয়েছিল।   অস্ত্রোপচার ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। টিউমারটি রক্তনালিতে ভরা থাকায় অতিরিক্ত রক্তপাতের আশঙ্কা ছিল। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল শুধু টিউমার অপসারণ নয়, মেস্ত্রের শ্বাস নেওয়া, খাবার খাওয়া এবং দৈনন্দিন জীবনযাপনের সক্ষমতাও ফিরিয়ে আনা। চিকিৎসার পর তাঁর মুখের চেহারায় বড় পরিবর্তন আসে। তবে অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সব সমস্যা দূর হয়ে যায়নি। ক্ষত সারানো, মুখের গঠন পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিনের শারীরিক ও মানসিক অভিজ্ঞতা কাটিয়ে ওঠার জন্য আরও সময় প্রয়োজন ছিল।   মেস্ত্রের জীবনের এই অধ্যায় শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির গল্প নয়, অপরিচিত একজন মানুষের উদ্যোগ কীভাবে অন্যের জীবনে পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে, তারও উদাহরণ। যাঁরা আগে তাঁর মুখের দিকে কৌতূহল নিয়ে তাকাতেন, তাঁদের আচরণে তিনি প্রায়ই অস্বস্তিতে পড়তেন বলে সে সময়ের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে এসেছে। অস্ত্রোপচারের পর তিনি বাইরে বের হতে এবং মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে আগের তুলনায় বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করতেন বলে তাঁর পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছিলেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পে তাঁর নামে প্রচারিত ‘আমার মুখ কুৎসিত, কিন্তু মন নয়’ বক্তব্যটির নির্ভরযোগ্য মূল উৎস নিশ্চিত করা যায়নি। তাই এটিকে তাঁর যাচাই করা সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। নিশ্চিতভাবে জানা যায়, মেস্ত্রে দীর্ঘদিন একটি জটিল জন্মগত সমস্যার সঙ্গে লড়াই করেছেন এবং ২০১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর মুখের বড় টিউমার অপসারণ করা হয়।   পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোসে মেস্ত্রে ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মারা যান। তাঁর জীবন ও চিকিৎসার গল্প আজও মানুষের সহমর্মিতা, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এবং শারীরিক ভিন্নতার কারণে কাউকে অবজ্ঞা না করার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়।   সূত্র: এবিসি নিউজ, এবিসি৭ শিকাগো, পর্তুগালের Notícias ao Minuto।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টের জেরে মৃত্যুদণ্ডের রায় পেয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানি শিক্ষার্থী নাজমেহ আমিনির বিষয়ে কাজ করা মানবাধিকার সংগঠনগুলো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সামাজিক মাধ্যমে ‘নবীকে অবমাননা’র অভিযোগে ইরানি তরুণীর মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ২২:৪৯

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে নবীকে অবমাননার অভিযোগে ইরানে নাজমেহ আমিনি নামে ২৩ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে তাঁকে ১২ বছর, ছয় মাস ও এক দিনের কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি মাশহাদের ভাকিলাবাদ কারাগারে বন্দি রয়েছেন। তবে মৃত্যুদণ্ডের রায় এখনো চূড়ান্ত নয়, ইরানের সুপ্রিম কোর্টে আপিলের সুযোগ রয়েছে।   মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস এবং হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, আমিনি হিসাববিজ্ঞানের শিক্ষার্থী। গত ১৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলায় রায় দেওয়া হয়। এর একটিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নবীকে অবমাননার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। অন্য মামলায় জাতীয় নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড এবং সরকারের বিরুদ্ধে প্রচারণার অভিযোগে দীর্ঘ কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম খোরাসানও তাঁর মামলার খবর প্রকাশ করেছে। তবে বিতর্কিত পোস্টটির সম্পূর্ণ বক্তব্য প্রকাশ্যে আসেনি।   মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ৩১ জানুয়ারি মাশহাদের একটি বাণিজ্যিক এলাকা থেকে আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় ইরানজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছিল। তাঁকে গ্রেপ্তারের পর ভাকিলাবাদ কারাগারে নেওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে প্রথমে ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে। পরে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ পরিবর্তন করে নবীকে অবমাননার অভিযোগ আনা হয়। ইরানের আইনে এ অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।   কারাগার থেকে পাঠানো বলে পরিচিত একটি অডিও বার্তায় আমিনি নিজের মামলার পুনর্বিবেচনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। ১৮ সেপ্টেম্বরের তারিখ উল্লেখ করে দেওয়া ওই বার্তায় তিনি আইনজীবী, আইনি বিশেষজ্ঞ, মানবাধিকারকর্মী ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে তাঁর মামলার নথি পর্যালোচনার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, তাঁর বক্তব্য যেন কারাগারের নথিতে সীমাবদ্ধ না থাকে এবং তাঁর হয়ে অন্যরা যেন কথা বলেন। অডিও বার্তাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশিত তথ্যে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।   ইরান হিউম্যান রাইটসের পরিচালক মাহমুদ আমিরি-মোগাদ্দাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্যের কারণে একজন তরুণীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর মতে, এ ধরনের রায় অনলাইন বক্তব্যের ক্ষেত্রেও মৃত্যুদণ্ড প্রয়োগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রায় বাতিলের দাবিতে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও ইরানে মৃত্যুদণ্ড ও কারাদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা অঞ্চলের পরিচালক হেবা মোরায়েফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিন্নমত দমনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার মানবাধিকারের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।   ইরানের দণ্ডবিধিতে নবী মুহাম্মদকে অবমাননার অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে দেশটির আইনে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে বক্তব্যের উদ্দেশ্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মানসিক অবস্থার বিষয়ও বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতে আমিনির পক্ষ থেকে বক্তব্যটি অনিচ্ছাকৃত ছিল বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল। বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মামলার সম্পূর্ণ নথি প্রকাশ্যে না থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাঁর মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে।   আমিনির মামলাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর গ্রেপ্তার ও মৃত্যুদণ্ডের ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানাচ্ছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতো সংস্থাগুলো বলেছে, বিক্ষোভ-সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে ন্যায়বিচার, আইনজীবীর সহায়তা এবং নির্যাতনমুক্ত আটক নিশ্চিত করা জরুরি। বিক্ষোভ দমনের সময় বহু মানুষ নিহত ও আটক হয়েছেন বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে। তবে হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সূত্রের হিসাব এক নয়।   ইরানের কর্তৃপক্ষ আমিনির মামলার বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানায়নি বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, এমন কোনো তথ্যও পাওয়া যায়নি। বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, উচ্চ আদালতে তাঁর আপিলের ফল কী হয় এবং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে আরও তথ্য প্রকাশিত হয় কি না। মানবাধিকার সংগঠনগুলো রায় পুনর্বিবেচনা এবং তাঁর ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।   সূত্র: ইরান হিউম্যান রাইটস, হেঙ্গাও অর্গানাইজেশন ফর হিউম্যান রাইটস, দ্য গার্ডিয়ান।

ইরানের অস্ত্রভান্ডারে আরও উন্নত অস্ত্র যুক্ত হওয়ার দাবি করেছে দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানের অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও উন্নত অস্ত্র, নতুন হামলা হলে কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি
প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ২১:৪৪

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি দাবি করেছে তাদের সামরিক ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে আরও অত্যাধুনিক ও উন্নত অস্ত্র। বাহিনীর মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি জানিয়েছেন ৪০ দিনের এক যুদ্ধের পর ইরানের সামরিক সক্ষমতা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ্যে আনা হয়। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন করে কোনো যুদ্ধে জড়ানো হবে সম্পূর্ণ অযৌক্তিক একটি সিদ্ধান্ত। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। মোহেব্বি স্পষ্ট জানিয়েছেন যেকোনো আগ্রাসনের আগের চেয়ে আরও কঠোর জবাব দেবে তেহরান। তবে নতুন যুক্ত হওয়া অস্ত্রগুলো ঠিক কী ধরনের সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি তিনি।   অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন এই মুহূর্তে ইরানের ওপর হামলা চালানো তাদের জন্য সুবিধাজনক হবে না। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ এক প্রতিবেদনে জানায় আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলের নেসেট নির্বাচন এবং ৪ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে ইরানে হামলা চালাতে ট্রাম্পকে চাপ দিয়েছিলেন নেতানিয়াহু। তবে সম্প্রতি আর্মি রেডিওতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন যে আপাতত তাদের ইরানে হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। কেন এখন হামলা সুবিধাজনক নয় সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছেন তার দল লিকুড পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করলেও উগ্রপন্থি নেতা ইতামার বেন গিভিরকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হবে না। এই গুরুত্বপূর্ণ পদটি লিকুড পার্টির নিয়ন্ত্রণেই থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।   যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল যেকোনো সময় হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় ইরান নিজেদের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে। সূত্র জানিয়েছে মার্কিনি বা ইসরাইলিদের দিক থেকে হামলার কোনো প্রস্তুতি টের পেলে ইরান আগেই পাল্টা আক্রমণ চালাতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা এমআইফাইভ প্রধান কেন ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেছেন ইরানি গুপ্তচররা যুক্তরাজ্যে সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা বাড়াচ্ছে। গত মাসে রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে হামলার একটি কথিত ষড়যন্ত্রের পেছনে ইরানের জড়িত থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী। উল্লেখ্য ঐ নির্দিষ্ট ঘাঁটি ব্যবহার করেই মার্কিন বোমারু বিমানগুলো ইরানে হামলা চালিয়েছিল।   যুক্তরাজ্যের জাতীয় নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে দেওয়া বার্ষিক বক্তব্যে এমআইফাইভ মহাপরিচালক কেন ম্যাককালাম বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে নিবিড় তদন্ত চলছে তাই এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে চলতি বছরে সামরিক স্থাপনার মতো সুরক্ষিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। ম্যাককালাম সতর্ক করে বলেন ফেয়ারফোর্ডের ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং যুক্তরাজ্যের বাইরেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এমন ঘটনা ঘটছে। যদিও ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির ঘটনায় ইরানের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে চলমান তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   সূত্র: আলজাজিরা, চ্যানেল টুয়েলভ

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়