২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে এক ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভার মারা গেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের শরীরে গুলির কিছু অংশ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমস কোপেনহেভারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে আইনপ্রণেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তিনি অসীম শক্তি ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়োজিত ওই সমাবেশে থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নামের এক বন্দুকধারী পাশের একটি গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারিং ভবনের ছাদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কোরি কম্পারেটোর নিহত হন এবং জেমস কোপেনহেভার ও ডেভিড ডাচ নামের দুই দর্শনার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে জেমস কোপেনহেভার ওই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণের সময় তিনি পেছনে থাকা জাম্বোট্রন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ডান হাতে টান অনুভব করেন এবং বুঝতে পারার আগেই দ্বিতীয় একটি গুলি তার শরীরে আঘাত হানে। ওই হামলায় তাঁর ট্রাইসেপ ও তলপেটে গুলি লেগেছিল। এই ঘটনার পর তাকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এমন ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ও ডেভিড ডাচ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। এই হামলার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক কিম্বারলি চিটল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় টাস্কফোর্সের তদন্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে। এসব ব্যর্থতার জেরে পরে বেশ কয়েকজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামলার পরপরই রক্তমাখা মুখে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘ফাইট’ বলার দৃশ্যটি তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়, যার ওপর ভর করে তিনি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা নয় এমন দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই ওয়াকআউট করেছেন অসংখ্য দেশের প্রতিনিধিরা। বৃহস্পতিবার বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে নেতানিয়াহু যখন বক্তব্য শুরু করেন, তখন প্রতিবাদস্বরূপ দলে দলে কূটনীতিকরা মিলনায়তন ত্যাগ করেন। তবে এই ঘটনাকে পাত্তা না দিয়ে ওয়াকআউট করা প্রতিনিধিদের ‘নৈতিক কাপুরুষ’ বলে আখ্যায়িত করেন তিনি। এ সময় গ্যালারিতে থাকা তার সমর্থকরা হিব্রু ভাষায় ‘ইসরায়েলের জনগণ বেঁচে আছে’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। আসন্ন নির্বাচনের আগে ক্রমেই বাড়তে থাকা আন্তর্জাতিক কোণঠাসা পরিস্থিতির মধ্যেই এদিন গাজা যুদ্ধ ও ইসরায়েলি বাহিনীর কর্মকাণ্ডের পক্ষে জোরালো সাফাই গান তিনি। ভাষণে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি, পশ্চিম ইউরোপীয় নেতা এবং কাতার ও তুরস্কের কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। মেয়র মামদানি তাকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ ও ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ায় নেতানিয়াহু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি দাবি করেন, ইসরায়েল কোনো গণহত্যা চালায়নি, বরং তা প্রতিরোধ করেছে। একই সঙ্গে তিনি কোনো প্রমাণ ছাড়াই মেয়র মামদানির বিরুদ্ধে হামাসকে সমর্থনের ভিত্তিহীন অভিযোগ আনেন। এর প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে মেয়র মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত নেতানিয়াহু তার গণহত্যার বিষয়টি আড়াল করতেই বরাবরের মতো মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন। আগামী পাঁচ সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকা নেতানিয়াহু এদিন প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অনেকটা নির্বাচনী প্রচারণার ঢঙেই ভাষণ দেন, যা ইসরায়েলের প্রধান চারটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রাইম টাইমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এই ভাষণের আগে ম্যানহাটনে তার সরকারের অর্থায়নে পাঁচ শতাধিক ইসরায়েলপন্থী ও ইরানবিরোধী বিলবোর্ড এবং ট্রাক নামানো হয়েছিল। নিজেকে সাতটি ফ্রন্টে লড়াই করা নেতা হিসেবে তুলে ধরে তিনি এদিনও ভাষণে বিভিন্ন সরঞ্জাম প্রদর্শন করেন। লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি একটি পেজার হাতে তুলে ধরেন। পাশাপাশি একটি স্টারলিংক ইন্টারনেট রিসিভার দেখিয়ে তিনি জানান, এটি তিনি ইরানি প্রতিনিধিদের জন্য রেখে যাবেন, যাতে তারা নিজ দেশে ফিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারেন। ইসরায়েলের এই নেতার আগমন ঘিরে জাতিসংঘের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ইসরায়েলকে অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করো, গাজাকে বাঁচতে দাও’ স্লোগানে শত শত বিক্ষোভকারী রাস্তা অবরোধ করলে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েলের নির্বাচনকালীন এই সংক্ষিপ্ত সফরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর কোনো পূর্বনির্ধারিত বৈঠক ছিল না। তবে ভাষণে ট্রাম্পের ‘সাহসী নেতৃত্বের’ প্রশংসা করে তাকে ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় অংশীদার বলে উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। প্রায় তিন বছর ধরে চলা গাজা যুদ্ধের জেরে ইসরায়েল বর্তমানে চরম কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতার মুখে রয়েছে। ২০২৪ সালে আইসিসির জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে নেতানিয়াহু অনেক দেশেই সফর করতে পারেন না। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের ওপর সম্প্রতি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও কানাডার নিষেধাজ্ঞাকেও তিনি দুর্বলতা আখ্যা দিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। বসতি স্থাপনকারীদের ভয়াবহ সহিংসতাকে তিনি মাত্র ‘দেড়শতাধিক কিশোর অপরাধীর পাথর ছোড়া ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা’ বলে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে ইসরায়েল একটি আইনের দেশ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড র্যাপিডস শহরের হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতালে চার মাসের এক অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) শিশুকে নির্মমভাবে মারধরের অভিযোগে কিয়েরান অ্যান্সলি (৪৩) নামের এক নার্সকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক মাস নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসার পর শিশুটির যখন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার কথা, ঠিক তার আগেই এই অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে কালশিটে দাগ ও পা ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করেন তার মা, যা পরবর্তীতে চিকিৎসকদের কাছে ‘পেডিয়াট্রিক ফিজিক্যাল অ্যাবিউজ’ বা শারীরিক শিশু নির্যাতন হিসেবে প্রমাণিত হয়। পারিবারিক সূত্র জানায়, গত বছরের নভেম্বরে মাত্র ২৩ সপ্তাহ গর্ভধারণের পর ১ পাউন্ড ১ আউন্স ওজন নিয়ে জন্ম নেয় শিশুটি। টানা চিকিৎসায় সুস্থ হওয়ার পর এপ্রিলে তাকে বাড়ি নিয়ে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু ২ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে শিশুটিকে দেখতে যান তার মা এবং পরের দিন ভোরে ফিরে এসে দেখেন, তার মেয়ের জিভ নীলচে-কালো হয়ে আছে এবং শরীরে বেশ কয়েকটি কালশিটে দাগ রয়েছে। এ সময় অভিযুক্ত নার্স অ্যান্সলি তড়িঘড়ি করে শিশুটির মাকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে এটি স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু মায়ের সন্দেহের জেরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলে নির্যাতনের ভয়াবহ চিত্র বেরিয়ে আসে। হাসপাতালের লগবুক থেকে জানা যায়, ওই রাতে শিশুটির কক্ষে মোট ৩২ বার প্রবেশের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে ২৭ বারই প্রবেশ করেছিলেন অ্যান্সলি। অন্য নার্সদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ওই রাতে অ্যান্সলি তার দায়িত্ব নিয়ে বেশ হতাশ ও বিভ্রান্ত ছিলেন। চিকিৎসকদের বিস্তারিত পরীক্ষায় শিশুটির হাত, পা, পেট, নিতম্ব ও জিভে মারাত্মক আঘাতের পাশাপাশি পায়ের হাড় ভাঙার প্রমাণ মেলে। শিশু নির্যাতনের চার দফা অভিযোগে চলতি মাসের শুরুতে অ্যান্সলিকে গ্রেপ্তার করা হলেও বর্তমানে তিনি ইলেকট্রনিক ট্র্যাকিং ডিভাইস পরার শর্তে জামিনে মুক্ত আছেন। আগামী নভেম্বরে তাকে আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে। এদিকে, হেলেন ডিভোস চিলড্রেনস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযোগ ওঠার পরপরই ওই নার্সকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। চরম এই ট্রমা পেরিয়ে নির্যাতনের শিকার শিশুটি বর্তমানে ক্যালিডোনিয়ায় নিজ বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে পুরোপুরি সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে বলে জানিয়েছেন তার দাদা রবার্ট স্টিভেন্স।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান বাজারে মাসিক খরচ সামাল দিতে সাশ্রয়ী সুপারশপ নির্বাচন এখন মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কনজিউমার রিপোর্টস ও কনজিউমার চেকবুর্কসহ একাধিক নিরপেক্ষ সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে নিত্যদিনের বাজার খরচে এখনও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে অ্যালডি, লিডল, ওয়ালমার্ট, উইনকো এবং সেভ-আ-লট। দুধ, ডিম, রুটি, মুরগির মাংস ও মাংসের মতো সাধারণ নিত্যপণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রচলিত বড় সুপারমার্কেটগুলোর তুলনায় ডিসকাউন্ট চেইনগুলো ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ দিচ্ছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক ব্যয়ের দিক থেকে সামগ্রিকভাবে শীর্ষে রয়েছে জার্মান ডিসকাউন্ট চেইন ‘অ্যালডি’। নিজস্ব ব্র্যান্ড বা প্রাইভেট-লেবেল পণ্যের ওপর জোর দেওয়া এবং সীমিত পরিসরে অপরিহার্য পণ্য বিক্রির কারণে পরিচালন ব্যয় কম রেখে গ্রাহকদের বিপুল মূল্যছাড় দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যালডির পণ্যের ঝুড়ির মূল্য ওয়ালমার্টের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১৪ শতাংশ কম এবং ক্রোগারের মতো প্রচলিত সুপারমার্কেটগুলোর তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ী। আরেক ইউরোপীয় চেইন ‘লিডল’ টাটকা ফলমূল ও বেকারি পণ্যে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ওয়ালমার্টের চেয়ে গড়ে সাড়ে আট শতাংশ কম খরচে নিত্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে। অন্যদিকে, খুচরা বাণিজ্যের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালমার্ট’ নিজস্ব স্কেলের সুবিধা ও দেশব্যাপী ‘এভরিডে লো প্রাইস’ কৌশলের মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ও হিমায়িত পণ্যের দামে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। কোনো মেম্বারশিপ ফি ছাড়াই খোলা খাদ্যশস্য ও নিত্যপণ্য বিক্রির জন্য পরিচিত আঞ্চলিক চেইন ‘উইনকো ফুডস’ ওয়ালমার্টের চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ কম মূল্যে পণ্য দিচ্ছে। এছাড়া কস্টকো বা স্যামস ক্লাবের মতো পাইকারি স্টোরগুলো প্রতি ইউনিট হিসেবে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সাশ্রয়ী হলেও বার্ষিক মেম্বারশিপ ফি এবং বাধ্যতামূলকভাবে পাইকারি পরিমাণে কেনার শর্তের কারণে এটি একক বা ছোট পরিবারের চেয়ে বড় পরিবারের জন্যই বেশি উপযোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঞ্চলভেদে পরিবহণ ব্যয় ও স্থানীয় প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের মূল্যে তারতম্য ঘটে থাকে। তবে বাজার খরচের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের বদলে স্টোর-ব্র্যান্ড বা সুপারশপের নিজস্ব পণ্য কেনা, সাপ্তাহিক বিশেষ ছাড়ের ওপর নজর রেখে খাবারের মেন্যু নির্ধারণ করা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কুপন অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে করে যেকোনো সুপারশপ থেকেই সাধারণ কেনাকাটায় প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে গত সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার জন্য নতুন আবেদনের সংখ্যা কমে ৫৭ বছরের কাছাকাছি সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ১ হাজার কমে ১ লাখ ৯৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে, যা ১৯৬৯ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি। বৃহস্পতিবার দেশটির শ্রম দপ্তরের প্রকাশিত এই তথ্য প্রমাণ করছে যে, গ্রীষ্মের ধীরগতির পর মার্কিন শ্রমবাজার আবারও তার পুরোনো গতি ফিরে পেয়েছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, স্থিতিশীল শ্রমবাজারের কারণে চলতি মাসে বেকারত্বের হার ৪.১ শতাংশেই অপরিবর্তিত থাকবে। তবে শ্রমবাজারের এই ইতিবাচক খবরের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের নেতিবাচক প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বিশেষত ডিজেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি সামাল দিতে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ গত সপ্তাহে তাদের সুদের হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৩.৭৫ থেকে ৪.০০ শতাংশে উন্নীত করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবার সুদ বৃদ্ধির ঘটনা। এফডব্লিউডি বন্ডস-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার রাপকির মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় জ্বালানির দাম বেড়েছে, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে ব্যাপক বিনিয়োগের কারণে মার্কিন অর্থনীতি আপাতত পুরোদমে সচল রয়েছে। অন্যদিকে, বন্ডের ঊর্ধ্বমুখী ইয়েল্ডের কারণে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধকি ঋণের (মর্টগেজ) সুদের হার ৭.০৩ শতাংশে পৌঁছালেও আগস্ট মাসে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাড়ির বিক্রি অপ্রত্যাশিতভাবে ৬.৪ শতাংশ বেড়েছে। মার্কিন বাণিজ্য দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাতারা ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে দাম কমানোসহ নানা প্রণোদনা দেওয়ায় গত মাসে বার্ষিক হিসেবে ৬ লাখ ৮৪ হাজার নতুন বাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ। তবে বিক্রি বাড়লেও বাজারে অবিক্রীত বাড়ির বিশাল মজুত রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতে নতুন আবাসন প্রকল্প নির্মাণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রমবর্ধমান বাজারে মাসিক খরচ সামাল দিতে সাশ্রয়ী সুপারশপ নির্বাচন এখন মার্কিন পরিবারগুলোর জন্য অন্যতম প্রধান বিবেচ্য বিষয়। ২০২৬ সালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কনজিউমার রিপোর্টস ও কনজিউমার চেকবুর্কসহ একাধিক নিরপেক্ষ সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, দেশটিতে নিত্যদিনের বাজার খরচে এখনও সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে অ্যালডি, লিডল, ওয়ালমার্ট, উইনকো এবং সেভ-আ-লট। দুধ, ডিম, রুটি, মুরগির মাংস ও মাংসের মতো সাধারণ নিত্যপণ্যের মূল্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এই বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রচলিত বড় সুপারমার্কেটগুলোর তুলনায় ডিসকাউন্ট চেইনগুলো ক্রেতাদের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ দিচ্ছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিক ব্যয়ের দিক থেকে সামগ্রিকভাবে শীর্ষে রয়েছে জার্মান ডিসকাউন্ট চেইন ‘অ্যালডি’। নিজস্ব ব্র্যান্ড বা প্রাইভেট-লেবেল পণ্যের ওপর জোর দেওয়া এবং সীমিত পরিসরে অপরিহার্য পণ্য বিক্রির কারণে পরিচালন ব্যয় কম রেখে গ্রাহকদের বিপুল মূল্যছাড় দিতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। সমীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যালডির পণ্যের ঝুড়ির মূল্য ওয়ালমার্টের চেয়ে প্রায় ৮ থেকে ১৪ শতাংশ কম এবং ক্রোগারের মতো প্রচলিত সুপারমার্কেটগুলোর তুলনায় প্রায় ২৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয়ী। আরেক ইউরোপীয় চেইন ‘লিডল’ টাটকা ফলমূল ও বেকারি পণ্যে বিশেষ সুবিধা দিয়ে ওয়ালমার্টের চেয়ে গড়ে সাড়ে আট শতাংশ কম খরচে নিত্যপণ্য সরবরাহ করে থাকে। অন্যদিকে, খুচরা বাণিজ্যের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ‘ওয়ালমার্ট’ নিজস্ব স্কেলের সুবিধা ও দেশব্যাপী ‘এভরিডে লো প্রাইস’ কৌশলের মাধ্যমে ব্র্যান্ডেড ও হিমায়িত পণ্যের দামে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। কোনো মেম্বারশিপ ফি ছাড়াই খোলা খাদ্যশস্য ও নিত্যপণ্য বিক্রির জন্য পরিচিত আঞ্চলিক চেইন ‘উইনকো ফুডস’ ওয়ালমার্টের চেয়ে প্রায় ৩ শতাংশ কম মূল্যে পণ্য দিচ্ছে। এছাড়া কস্টকো বা স্যামস ক্লাবের মতো পাইকারি স্টোরগুলো প্রতি ইউনিট হিসেবে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বেশি সাশ্রয়ী হলেও বার্ষিক মেম্বারশিপ ফি এবং বাধ্যতামূলকভাবে পাইকারি পরিমাণে কেনার শর্তের কারণে এটি একক বা ছোট পরিবারের চেয়ে বড় পরিবারের জন্যই বেশি উপযোগী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অঞ্চলভেদে পরিবহণ ব্যয় ও স্থানীয় প্রতিযোগিতার কারণে পণ্যের মূল্যে তারতম্য ঘটে থাকে। তবে বাজার খরচের বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের বদলে স্টোর-ব্র্যান্ড বা সুপারশপের নিজস্ব পণ্য কেনা, সাপ্তাহিক বিশেষ ছাড়ের ওপর নজর রেখে খাবারের মেন্যু নির্ধারণ করা এবং বিভিন্ন ডিজিটাল কুপন অ্যাপ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। এতে করে যেকোনো সুপারশপ থেকেই সাধারণ কেনাকাটায় প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।
২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের বাটলার শহরে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে এক ব্যর্থ হত্যাচেষ্টার ঘটনায় গুলিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভার মারা গেছেন। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই হামলায় মারাত্মকভাবে আহত হওয়ার পর দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। ৭৬ বছর বয়সী এই বৃদ্ধের শরীরে গুলির কিছু অংশ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত রয়ে গিয়েছিল এবং তিনি স্থায়ী স্নায়বিক ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন। হাউস রিপাবলিকান কনফারেন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেমস কোপেনহেভারের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিবৃতিতে আইনপ্রণেতারা তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, তিনি অসীম শক্তি ও অধ্যবসায়ের সঙ্গে এই অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আয়োজিত ওই সমাবেশে থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নামের এক বন্দুকধারী পাশের একটি গ্লাস ম্যানুফ্যাকচারিং ভবনের ছাদ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ওই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা কোরি কম্পারেটোর নিহত হন এবং জেমস কোপেনহেভার ও ডেভিড ডাচ নামের দুই দর্শনার্থী গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ২০২৫ সালে এক সাক্ষাৎকারে জেমস কোপেনহেভার ওই দিনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের ভাষণের সময় তিনি পেছনে থাকা জাম্বোট্রন স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। হঠাৎ তিনি ডান হাতে টান অনুভব করেন এবং বুঝতে পারার আগেই দ্বিতীয় একটি গুলি তার শরীরে আঘাত হানে। ওই হামলায় তাঁর ট্রাইসেপ ও তলপেটে গুলি লেগেছিল। এই ঘটনার পর তাকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের গাফিলতির কারণে এমন ভয়াবহ ক্ষতির শিকার হয়েছেন দাবি করে চলতি বছরের শুরুতে তিনি ও ডেভিড ডাচ যুক্তরাষ্ট্র সরকারের বিরুদ্ধে একটি মামলাও দায়ের করেছিলেন। এই হামলার পর মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা ও পরিকল্পনাগত চরম গাফিলতির বিষয়টি সামনে আসে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে ঘটনার দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে সংস্থাটির তৎকালীন পরিচালক কিম্বারলি চিটল পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে মার্কিন কংগ্রেসের দ্বিদলীয় টাস্কফোর্সের তদন্তেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে ভয়াবহ ব্যর্থতার প্রমাণ মেলে। এসব ব্যর্থতার জেরে পরে বেশ কয়েকজন সিক্রেট সার্ভিস এজেন্টকে বেতন ছাড়াই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল। অন্যদিকে, হামলার পরপরই রক্তমাখা মুখে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাত তুলে ‘ফাইট’ বলার দৃশ্যটি তার নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম আলোচিত প্রতীকে পরিণত হয়, যার ওপর ভর করে তিনি গ্রোভার ক্লিভল্যান্ডের পর প্রথম প্রেসিডেন্ট হিসেবে টানা নয় এমন দুই মেয়াদে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েন।
ইসরায়েলকে কেন্দ্র করে বিশ্ব গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বর্তমানে ‘সত্যের জন্য যুদ্ধ’ চলছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাঁর দাবি, সুপরিকল্পিতভাবে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ভুল ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে তরুণ প্রজন্মকে শুধু ইসরায়েল নয়, বরং আমেরিকা ও পশ্চিমা বিশ্বের বিরুদ্ধেও অবস্থান নিতে প্রভাবিত করা হচ্ছে। নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, বিদেশি কয়েকটি রাষ্ট্র বিপুল অর্থ ব্যয় করে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে, যার সবচেয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। তবে কোন দেশগুলো এই প্রচারণায় জড়িত বা তারা ঠিক কত অর্থ ব্যয় করেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা প্রমাণ তিনি উপস্থাপন করেননি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্ক সফরের আগে থেকেই আন্তর্জাতিক সমালোচনার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছিলেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। গত ২২ সেপ্টেম্বর এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে তিনি ইসরায়েলি সেনাদের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে নিজের জোরালো অবস্থান তুলে ধরবেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজা যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ইসরায়েল যখন ব্যাপক সমালোচনার মুখে, ঠিক সেই সময়ে জাতিসংঘের মঞ্চকে ব্যবহার করে নিজেদের বিরুদ্ধে ওঠা তথাকথিত ভুল তথ্যের জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। এদিকে নিউইয়র্ক সফরকে কেন্দ্র করে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে নেতানিয়াহুর প্রকাশ্য বিরোধ বর্তমানে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) জারি করা নেতানিয়াহুর গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের পক্ষে এর আগে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন মেয়র মামদানি। এর প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহু সরাসরি অভিযোগ করেন, মামদানি হামাসকে সমর্থন করছেন এবং নিউইয়র্কে ইহুদিদের বিরুদ্ধে দাঙ্গায় উসকানি দিচ্ছেন। অন্যদিকে, এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে মামদানি জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর এসব দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। গাজায় চলমান সংঘাত এবং নিউইয়র্কের মেয়রের সঙ্গে নেতানিয়াহুর এই প্রকাশ্য বাগযুদ্ধ জাতিসংঘের চলতি অধিবেশনে বাড়তি উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্য ও ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ কর্মসূচির সমালোচনা করতে গিয়ে নাহিদ ইসলাম, হাসনাত আবদুল্লাহ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে সামাজিক পরিসরে ব্যবহৃত বিভিন্ন ব্যঙ্গাত্মক নামের প্রসঙ্গ তুলেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। সরকারি ওয়েবসাইটেও মীর শাহে আলমকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এনসিপির নেতাদের সমালোচনা করতে গিয়ে মীর শাহে আলম বলেন, লংমার্চে নাহিদ, হাসনাত ও পাটওয়ারীকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। এ সময় কয়েকটি অবমাননাকর ও ব্যঙ্গাত্মক সম্বোধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যাই হোক আমি বলছি না, সাধারণ মানুষ বলে।” এরপর তিনি এনসিপি নেতাদের রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা ও শিষ্টাচার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপির কয়েকজন নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে তারা শিষ্টাচারবহির্ভূত ভাষা ব্যবহার করছেন। বিএনপির নেতাদের সমালোচনা করা নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই বললেও তারেক রহমানকে নিয়ে এমন বক্তব্য দলটির নেতাকর্মীদের জন্য মেনে নেওয়া কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। মীর শাহে আলমের বক্তব্যের বড় অংশজুড়ে ছিল জামায়াত, এনসিপি ও ১১ দলীয় জোটের চলমান রাজনৈতিক কর্মসূচির সমালোচনা। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েক মাসের মধ্যেই লংমার্চের মাধ্যমে সরকার পতনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিএনপি এ ধরনের রাজনৈতিক হুমকিকে ভয় পায় না এবং আন্দোলনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দলটির রয়েছে। ১১ দলীয় জোট গত ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ করেছিল। ছয় দফা দাবি সামনে রেখে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীও অংশ নেন। ফেনীর মহিপালে পথসভায় তিনি বলেছিলেন, ছয় দফা বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলন এক দফা তথা সরকারের পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিতে পারে। এদিকে জামায়াত ও এনসিপির চলমান আন্দোলন আওয়ামী লীগকে সহায়তা করছে বলেও দাবি করেন মীর শাহে আলম। দল দুটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের ‘পুরোনো সম্পর্ক’ থাকার অভিযোগও তোলেন তিনি। তবে এটি প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক অভিযোগ; প্রতিবেদনে পাওয়া তথ্যের মধ্যে ওই যোগাযোগের স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। গত নির্বাচনে যারা বিএনপির সঙ্গে ‘বেঈমানি’ করেছেন বলে তিনি মনে করেন, তাদের দলে জায়গা হবে না বলে জানান। পাশাপাশি আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হতে পারে উল্লেখ করে দলীয় নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বন্যাদুর্গতদের সহায়তার ওই অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে বাঁশখালীর ৫১০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ঘর নির্মাণের জন্য পরিবারপ্রতি ৩০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা জানানো হয়। গত জুলাইয়ের বন্যায় বাঁশখালী ও সাতকানিয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ে ‘লিগ্যাল অফিসার’ বা আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের মেয়ে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত দলে জাইমা রহমান আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তার মূল কাজ হবে সভাপতির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয়গুলো দেখা। প্রকাশিত কর্মকর্তাদের তালিকাতেও ‘Ms. Zaima Rahman — Legal Officer — Bangladesh’ হিসেবে তার নাম রয়েছে। একই দলে বাংলাদেশ থেকে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্ব পেয়েছেন। বাংলাদেশি কূটনীতিক আব্দুল আলিম ‘ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মোয়াজ্জেম হোসেন স্টাফ অ্যাসিস্ট্যান্ট, মাফিজুল ইসলাম ডিজিটাল উদ্ভাবন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা, জাকির আহমেদ টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা এবং মো. রফিকুল আলম মোল্লা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন বলে গণমাধ্যমে জানানো হয়। জাইমা রহমান আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনে। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্যে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জুনে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপের এমসিকিউ পরীক্ষায়ও তিনি উত্তীর্ণ হন। জাইমা রহমান সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি। এবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আইন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে পেশাগত দায়িত্বে যুক্ত হলেন তিনি। ড. খলিলুর রহমান গত ৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার কার্যালয়ের প্রকাশিত টিমে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও বিশেষজ্ঞরা রাজনৈতিক বিষয়, মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, সংস্কার, যোগাযোগ ও আইনি বিষয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সাধারণ পরিষদের সভাপতি নিজে জাতিসংঘের নিয়মিত কর্মী নন এবং সংস্থাটি থেকে নিয়মিত বেতন পান না। সভাপতির কার্যালয়ের বিভিন্ন ব্যয় সংশ্লিষ্ট দেশ, জাতিসংঘের নিয়মিত বাজেট ও ট্রাস্ট ফান্ডসহ বিভিন্ন উৎস থেকে নির্বাহ হতে পারে।
রাজনীতি
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreদক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের লুইশামে সামাজিক আবাসনে বেড়ে ওঠা মোনে থমাস একসময় পরিবারের সঙ্গে দুই বছর অস্থায়ী বাসস্থানে ছিলেন। সেই মোনে এখন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা বিষয়ে স্নাতকোত্তর পড়ছেন। ২৫ বছর বয়সী এই তরুণী ২০২৫ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে আইন ও নৃবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মসূচিতে ভর্তি হয়েছেন। হার্ভার্ডের নিজস্ব তথ্যেও তাঁর বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মোনে তাঁর বাবা-মা ও পাঁচ ভাইবোনের সঙ্গে লন্ডনের লুইশামে সামাজিক আবাসনে বড় হয়েছেন। পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁর শৈশবে নানা বাধার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় দুই বছর পরিবারটি অস্থায়ী বাসস্থানে থেকেছে। তিনি বিগ ইস্যুকে জানিয়েছেন, এসব পরিস্থিতি তাঁর শিক্ষাজীবনেও প্রভাব ফেলেছিল। ছোটবেলা থেকেই সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মোনে। কিশোর বয়সে নাটকের কর্মশালায় অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা ও সামাজিক সমস্যাগুলোকে নতুনভাবে বোঝার সুযোগ পান। পরে স্থানীয় বিভিন্ন কমিউনিটি আর্টস প্রকল্পে যুক্ত হন। এসব উদ্যোগে তরুণদের নিজেদের এলাকার পরিবর্তনে সক্রিয় ভূমিকা নিতে উৎসাহ দেওয়া হতো। শিক্ষাজীবন শেষ করার পরও তরুণদের নিয়ে কাজ চালিয়ে যান তিনি। বিগ ইস্যুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লন্ডনের ১০টি সরকারি স্কুলের ৩০০টির বেশি শিক্ষার্থীকে সহায়তা করেছেন মোনে। বিভিন্ন দেশে ১০০ জনের বেশি তরুণের শেখার কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন এবং সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের ৬০ জনের বেশি তরুণকে মেন্টরিং করেছেন। তাঁর কাজের ক্ষেত্রের মধ্যে শিক্ষা, তরুণদের নেতৃত্ব বিকাশ এবং কমিউনিটি কার্যক্রম রয়েছে। হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগটি আসে ২০২৬ সালের মার্চে। এক বন্ধুর সঙ্গে আলোচনার পর তিনি হার্ভার্ডের বিভিন্ন কর্মসূচি সম্পর্কে খোঁজ নেন। শেষ পর্যন্ত শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ক কর্মসূচিটিকে নিজের দীর্ঘদিনের কাজ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ মনে করেন। ভর্তির খবর পাওয়ার পর মায়ের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন তিনি। পরে বাবা যে বক্সিং জিমে ছিলেন, সেখানেও মেয়ের হার্ভার্ডে ভর্তি হওয়ার খবর জানান। তবে হার্ভার্ডে ভর্তি হলেও আর্থিক চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি শেষ হয়নি। বিগ ইস্যুর হিসাবে, টিউশন ও জীবনযাত্রার খরচসহ সেখানে পড়তে আনুমানিক ৮০ হাজার পাউন্ড প্রয়োজন হতে পারে। মোনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আংশিক আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন এবং বাকি অর্থের জন্য অনলাইন তহবিল সংগ্রহ করছেন। তাঁর নিজের তহবিল সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে হার্ভার্ডে পড়াশোনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের একটি বড় অংশ এখনো সংগ্রহ করা বাকি। মোনের অভিজ্ঞতা যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষায় আর্থসামাজিক বৈষম্যের আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত। বিগ ইস্যু ইনস্টিটিউট ফর ফিসকাল স্টাডিজের গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, র্যাসেল গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা স্কুলজীবনে বিনামূল্যে স্কুল খাবারের জন্য যোগ্য ছিল, তাদের অংশ ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে সাটন ট্রাস্টের গবেষণার উল্লেখ করে স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীদের র্যাসেল গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার হারের সঙ্গে অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পার্থক্য তুলে ধরা হয়েছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে মোনে হার্ভার্ডে ক্লাস শুরু করেন। হার্ভার্ড গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব এডুকেশনের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে শিক্ষা নেতৃত্ব, সংগঠন ও উদ্যোক্তা বিষয়ে এডমাস্টার ডিগ্রি করছেন এবং তরুণদের উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া, বিকাশ ও নিজেদের কমিউনিটিতে পরিবর্তন আনার সুযোগ তৈরিতে কাজ করতে চান। হার্ভার্ডের পড়াশোনা শেষ করার পর শিক্ষা ও সরকারি ব্যবস্থাপনার সংযোগস্থলে কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে মোনের। তাঁর লক্ষ্য, শিক্ষা, নেতৃত্ব ও সেবাকে কাজে লাগিয়ে এমন তরুণ ও কমিউনিটির জন্য সুযোগ তৈরি করা, যারা সবসময় প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সুযোগ পায় না। তাঁর নিজের ভাষায়, নিজের শৈশবের পরিস্থিতি যেন কোনো তরুণের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ না করে, সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি সামনে এগোতে চান।
ফিলিস্তিনিদের জন্য নতুন করে ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে এই ঘোষণা দেন তিনি। নতুন সহায়তার ৮ কোটি কানাডীয় ডলার গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবিক সহায়তায় এবং বাকি ২ কোটি কানাডীয় ডলার শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগে ব্যয় করা হবে। কানাডার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এ তথ্য জানিয়েছে। কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মানবিক সহায়তার অর্থ খাদ্য ও পুষ্টি, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের সুরক্ষাসহ বিভিন্ন জরুরি কাজে ব্যবহার করা হবে। আর শান্তি ও নিরাপত্তা খাতের অর্থের একটি অংশ ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে দেওয়া হবে। কানাডা বর্তমানে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ সদস্যদের প্রশিক্ষণে সহায়তা করছে। কার্নি জানিয়েছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূল হলে গাজাতেও এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের সুযোগ বিবেচনা করবে কানাডা। দেশটি বহু বছর ধরে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে সহায়তা করে আসছে। নতুন অর্থায়নের ২ কোটি কানাডীয় ডলারের মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার বিষয়টিও রয়েছে। জাতিসংঘের অধিবেশনের ফাঁকে বক্তব্যে কার্নি ফিলিস্তিনিদের মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলিদের নিরাপত্তা নিয়েও কথা বলেন এবং ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল পাশাপাশি শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বসবাস করতে পারে এমন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে কানাডার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। কানাডার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়। নতুন অর্থায়নের ফলে ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক মানুষের মানবিক ও সহনশীলতা বৃদ্ধির প্রয়োজন মেটাতে কানাডার মোট সহায়তার প্রতিশ্রুতি ৬০ কোটি কানাডীয় ডলারের বেশি হয়েছে। কানাডা সরকারের হিসাবে, এই অর্থের বড় অংশ জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক রেডক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলন এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় মানুষের কাছে পৌঁছানোর কথা। এর আগে চলতি বছরের জুনে কানাডা ফিলিস্তিনিদের জন্য আরও ১০ কোটি কানাডীয় ডলার সহায়তা ঘোষণা করেছিল। সেই অর্থের মধ্যে জরুরি চিকিৎসা, খাদ্য ও পুষ্টি, পানি, স্যানিটেশন, আশ্রয় এবং সুরক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শান্তি ও স্থিতিশীলতা উদ্যোগের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল। এদিকে নতুন সহায়তা ঘোষণার সময় গাজা ও পশ্চিম তীরে কানাডার অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। কানাডার পার্লামেন্টে উপস্থাপিত নথিতে দেশটির অর্থায়নে পরিচালিত কয়েকটি সহায়তা প্রকল্প ইসরায়েলি সামরিক অভিযান ও বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। তবে এসব প্রকল্পের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ আদায়ের বিষয়ে কানাডা কী পদক্ষেপ নেবে, তা নিয়ে আলাদা আলোচনা রয়েছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের এবারের অধিবেশনে কানাডার নতুন সহায়তার ঘোষণা ফিলিস্তিনের মানবিক পরিস্থিতি এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনার মধ্যেই এসেছে। কানাডা বলছে, নতুন অর্থায়নের মাধ্যমে একদিকে জরুরি মানবিক প্রয়োজন মেটানো হবে, অন্যদিকে শান্তি ও নিরাপত্তা সক্ষমতা তৈরির উদ্যোগেও সহায়তা করা হবে।
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যান পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ। গত জুনে ঘটানো এই ঘটনায় এআই এজেন্টটি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কিছু ফাইল অ্যাক্সেস করে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার তথ্য বা রোগীর ব্যক্তিগত নথি অ্যাক্সেস করা হয়েছে, এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে অবস্থানকালে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যালবানিজ এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনাটি ১৮ জুন ঘটেছিল এবং Services Australia পরিচালিত Medicare Statistics Reporting Service নামের একটি সরকারি পোর্টালে এআই এজেন্টটি অননুমোদিত প্রবেশ করে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা এতে প্রভাবিত হয়েছে কি না, তা জানতে অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের সহায়তায় ফরেনসিক তদন্ত চলছে। অস্ট্রেলীয় সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি মূলত মেডিকেয়ার কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যয়ের সামগ্রিক পরিসংখ্যান প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়। সেখানে ব্যক্তিকে শনাক্ত করার মতো তথ্যের পরিবর্তে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মসূচির গড় হিসাব, প্রবণতা ও পরিসংখ্যান রাখা হয়। এর মধ্যে বাল্ক বিলিং, টিকাদান, ফার্মাসিউটিক্যাল বেনিফিটস স্কিম এবং অঙ্গদাতা-সংক্রান্ত কিছু সামগ্রিক তথ্যও ছিল। অ্যালবানিজ জানিয়েছেন, এআই এজেন্টটি শুধু প্রকাশ্য তথ্যই দেখেনি, এমন কিছু ফাইলেও প্রবেশ করেছিল যেগুলো সাধারণ ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত ছিল না। তবে এখন পর্যন্ত ব্যক্তিগত মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য এতে প্রকাশ বা চুরি হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো সরকারি ব্যবস্থা আক্রান্ত হয়েছিল কি না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। ঘটনার বিষয়ে ওপেনএআইয়ের মুখপাত্র ড্রু পুসাতেরি জানান, ঘটনাটি জুনে ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটি আগস্টে বিষয়টি শনাক্ত করে। সে সময় কোম্পানিটি তাদের এআই মডেলগুলোর কার্যক্রম নিয়ে অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনা চালাচ্ছিল। সেই পর্যালোচনায় অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবার সঙ্গে মডেলগুলোর অস্বাভাবিক কার্যক্রমের বিষয়টি তাদের নজরে আসে। ওপেনএআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, মডেলগুলো অস্ট্রেলিয়া সম্পর্কে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর ও পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে সরকারি ওয়েবসাইট ও সেবাগুলোতে এমন কিছু কাজ করেছিল, যা প্রতিষ্ঠানটির প্রত্যাশিত আচরণের মধ্যে ছিল না। কোম্পানিটি পরে ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলীয় সরকারকে বিষয়টি জানায়। অস্ট্রেলীয় সরকারের কাছে ঘটনাটি জানানোর সময় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অ্যালবানিজ বলেছেন, জুনে ঘটনা ঘটার পর সেপ্টেম্বর ১০ তারিখে সরকারকে জানানো পর্যন্ত প্রায় তিন মাস সময় লেগেছে। তিনি এই দেরিকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি। সরকারি তথ্যমতে, এআই এজেন্টটি মূলত অস্ট্রেলিয়ায় ওষুধের সরকারি ব্যয়সংক্রান্ত তথ্য খুঁজছিল। একটি সাধারণ গবেষণামূলক কাজের অংশ হিসেবে শুরু হওয়া এই অনুসন্ধানের সময় এজেন্টটি মেডিকেয়ার পরিসংখ্যানের পোর্টালে যায়। প্রয়োজনীয় তথ্য সরাসরি না পাওয়ার পর এটি এমন কিছু ফাইলে প্রবেশ করে, যেগুলো সাধারণভাবে উন্মুক্ত থাকার কথা ছিল না। ঘটনাটিকে অস্ট্রেলিয়া সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে মূলত এআই এজেন্টগুলোর স্বায়ত্তশাসিতভাবে কাজ করার সক্ষমতার কারণে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট পোর্টালটি দেশের সবচেয়ে সংবেদনশীল জাতীয় নিরাপত্তা তথ্য সংরক্ষণকারী কোনো ব্যবস্থা নয়। তবু একটি এআই এজেন্ট কীভাবে নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে সরকারি ব্যবস্থায় প্রবেশ করতে সক্ষম হলো, সেটিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ব্যবস্থার আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট এ ধরনের কার্যক্রমের আওতায় এসেছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ারসহ কয়েকটি সরকারি সংস্থার ওয়েবসাইটের কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এগুলো একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি অস্ট্রেলীয় সরকার বা ওপেনএআই। এ ঘটনার সময়ের কাছাকাছি ওপেনএআইয়ের কিছু এআই এজেন্টের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহারের বিষয়ও সামনে এসেছে। এবিসি নিউজের পৃথক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কিছু এআই এজেন্ট সরকারি স্বাস্থ্যতথ্য পাওয়ার উপায় নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল এবং সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার বাধা এড়িয়ে তথ্য খোঁজার চেষ্টা করেছিল। তবে ওই কার্যক্রম এবং মেডিকেয়ার পোর্টালে অননুমোদিত প্রবেশ একই ঘটনার অংশ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে কারণ প্রচলিত সাইবার হামলার ক্ষেত্রে সাধারণত মানুষ বা নির্দিষ্ট প্রোগ্রামকে আক্রমণ পরিচালনা করতে দেখা যায়। কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম এআই এজেন্ট কোনো নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তার নির্ধারিত সীমার বাইরে চলে গেলে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, এই ঘটনা সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। অস্ট্রেলীয় কর্তৃপক্ষ এখন ঘটনার পূর্ণ পরিধি, কোন কোন ফাইল অ্যাক্সেস করা হয়েছিল এবং সরকারি অন্য কোনো ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ব্যক্তিগত রোগী বা মেডিকেয়ার গ্রাহকদের তথ্য অ্যাক্সেসের প্রমাণ নেই। তবে ফরেনসিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না। সূত্র: অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, এবিসি নিউজ, রয়টার্স
গোলান মালভূমির বদলে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্য দিয়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে রসিকতা করেছিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তবে রসিকতার আড়ালেও গোলান মালভূমি নিয়ে সিরিয়ার অবস্থান স্পষ্ট করেছেন তিনি। শারা বলেছেন, গোলান মালভূমি সিরিয়ার জনগণের ভূখণ্ড এবং সেটি ছেড়ে দেওয়ার অধিকার সিরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তির নেই। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আটলান্টিক কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শারা এ কথা বলেন। সেখানে তিনি ২০২৫ সালের নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে তার বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। শারা জানান, ওই বৈঠকে ট্রাম্প তাকে বলেছিলেন, গোলান মালভূমি ইসরায়েলের। জবাবে তিনি রসিকতা করে ট্রাম্পকে বলেন, ইসরায়েলকে গোলান মালভূমির পরিবর্তে নিউ জার্সি দিয়ে দেওয়া যেতে পারে। কারণ গোলান মালভূমি দেওয়ার অধিকার ট্রাম্পের নেই, কিন্তু নিউ জার্সি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড। শারা আরও বলেন, নিউ জার্সিতে অনেক ডেমোক্র্যাট ভোটার থাকেন এবং তারা ট্রাম্পকে ভোট দেন না। তাই রসিকতার ছলে তিনি বলেছিলেন, অঙ্গরাজ্যটি ইসরায়েলকে দিয়ে দিলে অন্তত এমন একটি জায়গা দেওয়া হবে, যার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্ব রয়েছে। তবে নিজের বক্তব্যের পরই শারা স্পষ্ট করেন, গোলান মালভূমির বিষয়টি কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা সিদ্ধান্তের বিষয় নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোলান মালভূমি সেখানকার মানুষের ভূখণ্ড এবং এটি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কিংবা অন্য কারও পক্ষে অন্য কোনো পক্ষকে দিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইসরায়েল সিরিয়ার গোলান মালভূমির বড় অংশ দখল করে। ১৯৮১ সালে ইসরায়েল ওই এলাকায় নিজেদের আইন, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসন সম্প্রসারণ করে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ৪৯৭ নম্বর প্রস্তাবে ওই সিদ্ধান্তকে ‘অকার্যকর’ এবং আন্তর্জাতিক আইনে কোনো বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়। জাতিসংঘের পরবর্তী বিভিন্ন প্রস্তাবেও গোলানকে ‘অধিকৃত সিরীয় ভূখণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ২০১৯ সালে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে গোলান মালভূমির ওপর ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রও জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্রের মতো গোলানকে সিরিয়ার অধিকৃত ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করত। ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। গোলান ইস্যুতে শারার বক্তব্য আসে সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক যোগাযোগের সময়। সাবেক সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সরকার পতনের পর ইসরায়েল গোলান মালভূমির বাইরে সিরিয়ার কয়েকটি এলাকায় সেনা মোতায়েন করে। সিরিয়ার নতুন সরকার এসব সেনা প্রত্যাহার করে ১৯৭৪ সালের বিচ্ছিন্নতাবিষয়ক চুক্তির আওতায় নির্ধারিত অবস্থানে ফিরে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। আটলান্টিক কাউন্সিলের অনুষ্ঠানে শারা বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আগে সিরিয়ার জনগণের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি জানান, সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং কয়েকবার সমঝোতার কাছাকাছি গেলেও শেষ পর্যায়ে তা আর এগোয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও এসব আলোচনায় যুক্ত রয়েছে বলে জানান তিনি। ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন করা হলে শারা বলেন, প্রথমে সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি সমাধান করতে হবে। এরপর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব বিষয়ে সমঝোতা হলে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি জানান। গোলান মালভূমির বিষয়ে অবশ্য শারার অবস্থান ছিল অনড়। তিনি বলেন, জাতিসংঘের স্বীকৃত অবস্থান অনুযায়ী এটি সিরিয়ার ভূখণ্ড এবং এর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ নেই। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের আগের প্রস্তাবগুলোতেও গোলানে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ ও আইন প্রয়োগের সিদ্ধান্তকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। অনুষ্ঠানে শারা আরও জানান, ২০১২ সালে সিরিয়ায় নিখোঁজ হওয়া মার্কিন সাংবাদিক অস্টিন টাইসের বিষয়েও সিরীয় কর্তৃপক্ষ কিছু প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত কারণ দেখিয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান। শারা বলেন, টাইসের বিষয়ে পাওয়া তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শেয়ার করা হচ্ছে। তিনি জানান, বাশার আল-আসাদের দীর্ঘ শাসনামলে নিখোঁজ হওয়া বিপুলসংখ্যক সিরীয় নাগরিকের বিষয়েও নতুন সরকার অনুসন্ধান চালাচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে একটি বিশেষ সংস্থা গঠন করা হয়েছে এবং মরদেহ শনাক্তকরণ ও ফরেনসিক বিষয়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে শারার এই বক্তব্য সিরিয়া-ইসরায়েল সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিতর্কিত বিষয় গোলান মালভূমি নিয়ে দামেস্কের অবস্থান আবারও সামনে এনেছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের সঙ্গে তার রসিকতার মন্তব্যটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য নিউ আরব, আটলান্টিক কাউন্সিল, জাতিসংঘ
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
শি-ট্রাম্প মুখোমুখি, বৈঠকের বাইরেও যে প্রশ্নে নজর বিশ্বের
বিশ্বের চোখ আজ ট্রাম্পের দিকে: জাতিসংঘের মঞ্চে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া
অ্যাপলের ২৫ কোটি ডলারের মামলার নিষ্পত্তি, আইফোন ব্যবহারকারীরা পেতে পারেন ৯৫ ডলার পর্যন্ত
অস্ট্রেলিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টিম কুকের প্রশংসা, নজরে শিশুদের নিরাপত্তা
তরুণদের সৃষ্টিশীলতার জায়গা দখল করছে এআই! হুঁশিয়ার না হলে যা হবে
রোবটই বানাচ্ছে রোবট, চীনের কারখানায় প্রতি ১০ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ায় ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে গু লিবিদ্ধ জেমস কোপেনহেভারের মৃ ত্যু
জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ শুরু হতেই বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের ওয়াকআউট
মিশিগানে হাসপাতালের ভেতর চার মাসের অপরিণত শিশুকে নি র্যাতন, পা ভাঙার অভিযোগ নার্সের বিরুদ্ধে
আমেরিকায় নিত্যপণ্য কিনতে সাশ্রয়ী যেসব সুপারশপ, ওয়ালমার্টের চেয়েও কম দামে বিক্রি করছে কিছু প্রতিষ্ঠান
যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব ভাতার আবেদন ৫৭ বছরের সর্বনিম্নে, অর্থনীতিতে মিলছে স্বস্তির ইঙ্গিত
চাকরির ইন্টারভিউতেই ম্যালওয়্যার, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ
উচ্চশিক্ষা নিয়েও মিলছে না চাকরি, দেশের ৩৬ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ বেকার: আইএমএফ
থাকতেন বস্তিতে, স্কুলের বেতন দিতে পারেনি মা, সেই ছেলে এখন নাসার বিজ্ঞানী
গুগলে ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চাকরি ছেড়ে অবসর! ৩৭ বছর বয়সেই ১৫ লাখ ডলার সঞ্চয় নারীর
১৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ থেকে এমআইটি, গুগলে জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী বৃষ্টি
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা সম্ভব, তবে কোরআন নিজেই সংবিধান নয়: আইনমন্ত্রী
পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল
মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নতুন অভিযান, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কলেজ-ইউনিভার্সিটি কোনগুলো? প্রকাশ হলো ২০২৭ সালের তালিকা
এইচএসসির আগেই এমআইটিতে ভর্তি! বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফায়েজের অনন্য যাত্রা
আইইএলটিএসে ৯ এ ৯ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইসা শাম্মা, জেনে নিন তার পরামর্শ
ভারতের বাবরি মসজিদের আদলে একই নামে মসজিদ হচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে
মক্কা-মদিনায় হামলার চেষ্টা হলে বিশ্ব মুসলিম ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে: ধর্মমন্ত্রী
কাবা ছুঁতে না পেরে কাঁদছিল ছোট্ট হাফেজ, পরে ছুঁয়ে ফেলতেই চোখে পানি
আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ নাকি মাশাআল্লাহ? কোন সময়ে কোন ইসলামি শব্দ ব্যবহার করবেন
আজ ১২ রবিউল আউয়াল: সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
ইসরায়েলকে ঘিরে অপপ্রচার চালিয়ে নতুন প্রজন্মকে আমেরিকা-ইসরায়েলবিরোধী করা হচ্ছে: নেতানিয়াহু
জাতিসংঘে আব্বাস: শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত মাতৃভূমির জন্য লড়বে ফিলিস্তিনিরা
তাইওয়ানে ৮৫ বছরের মাকে বুকে আগলে খাবার খাইয়ে দিচ্ছেন ৬১ বছরের ছেলে, ভাইরাল হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য
বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে শাহবাজ শরিফের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক
সৌদির রিয়াদে সড়ক দুর্ঘটনায় গাজীপুরের দুই প্রবাসী আলমগীর-ফরহাদ নিহত
নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে এক টেবিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আমার পিএইচডি রিসার্চের টপিক ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান, বললেন শিক্ষামন্ত্রী
জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক, ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের
বেকারত্বের লাগাম টানতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির