Live update news
মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশচুম্বী দাম, ক্ষুব্ধ ফুটবল ভক্তরা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কিছুদিন। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্ট। তবে মেক্সিকোর সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই উৎসব বিষাদে রূপ নিচ্ছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টিকিটের অত্যধিক দামের কারণে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা এখন মেক্সিকানদের কাছে কেবল এক দুঃস্বপ্ন।     প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উদ্বোধনী ম্যাচসহ গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মেক্সিকোর বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি এবং সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় টিকিটের এই মূল্য আকাশছোঁয়া। একজন সাধারণ মেক্সিকান শ্রমিকের কয়েক মাসের সম্পূর্ণ বেতন দিলেও একটি টিকিট কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।     ফিফা যদিও দাবি করেছে যে তারা সর্বনিম্ন ৬০ ডলারের (প্রায় ৭,০০০ টাকা) টিকিটও রেখেছে, তবে সিএনএন-এর অনুসন্ধান বলছে, রিসেল বা পুনরায় বিক্রির বাজারে একেকটি টিকিটের দাম ৩,০০০ ডলার থেকে ১০,০০০ ডলার (প্রায় ৩.৫ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা) পর্যন্ত উঠেছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।   ফ্রান্সিসকো জাভিয়ের নামের এক সত্তরোর্ধ্ব ফুটবল ভক্ত, যিনি ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন, আক্ষেপ করে বলেন, "এই বিশ্বকাপ আর সাধারণ মানুষের নেই। এটি কেবল ধনীদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিজের দেশে খেলা হওয়া সত্ত্বেও আমি এবার গ্যালারিতে যেতে পারছি না।"   উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোতে। অল্প ম্যাচ এবং বিপুল চাহিদার সুযোগ নিয়ে টিকিট সিন্ডিকেট এবং ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং পলিসি সাধারণ ভক্তদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

৮ মিনিট Ago
কে এই রহস্যময় শিল্পী ব্যাঙ্কসি? উন্মোচিত হলো আসল পরিচয়!

তিন দশক ধরে যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিশ্বজুড়ে দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেছেন দ্রোহ, প্রতিবাদ আর বিদ্রূপের ভাষা, সেই রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্ট ‘ব্যাঙ্কসি’র পরিচয় নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম এই প্রভাবশালী শিল্পীর আসল নাম রবিন গানিংহ্যাম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালে নিউইয়র্কে একটি বিলবোর্ড বিকৃত করার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন এই শিল্পী। সেই সময়কার পুরনো আইনি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্যাঙ্কসির আসল নাম রবিন গানিংহ্যাম হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের নাম বদলে ‘ডেভিড জোন্স’ রাখেন। যদিও এখন তিনি কোন ছদ্মনামে আছেন, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে রয়টার্সের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ব্যাঙ্কসির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠজনরা। শিল্পীর সাবেক ম্যানেজার স্টিভ লাজারাইডেস কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, সংবাদ সংস্থাটি একটি ‘ভুতুড়ে’ তথ্যের পেছনে ছুটছে। তার দাবি, শিল্পী বহু আগেই আইনগতভাবে নিজের পুরনো পরিচয় মুছে ফেলেছেন। তিনি বলেন, “রবিন গানিংহ্যাম বলে এখন আর কেউ নেই। সেই নামটি আমি বহু বছর আগেই মেরে ফেলেছি।” ১৯৭০-এর দশকে ব্রিস্টলে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী নব্বইয়ের দশক থেকে তার স্টেন্সিল শিল্পের মাধ্যমে পরিচিতি পান। যুদ্ধ, অভিবাসন, পুঁজিবাদ এবং মানবাধিকার নিয়ে তার আঁকা ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ডলারে বিক্রি হলেও তিনি সবসময়ই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। ২০১৬ সালে লণ্ডনের সেন্ট জেমস এলাকায় একটি বড় ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। শিল্প বোদ্ধাদের মতে, পরিচয় গোপন রাখাই ছিল ব্যাঙ্কসির সবচেয়ে বড় মার্কেটিং কৌশল। তবে এখন তার পরিচয় ফাঁস হোক বা না হোক, ‘ব্র্যান্ড ব্যাঙ্কসি’র জনপ্রিয়তা আর কমবে না। তিনি এখন আর কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

১ ঘন্টা Ago
সংরক্ষিত নারী আসনে শপথ নিলেন এনসিপির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।   সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এর তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি ৫ অনুযায়ী তাকে শপথ পাঠ করানো হয়।   শপথ গ্রহণ শেষে নুসরাত তাবাসসুম নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সচিবের কার্যালয়ে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের প্রধান হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেন নুসরাত তাবাসসুম। বিলম্বের কারণে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি।   পরবর্তীতে উচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

১ ঘন্টা Ago
মিরপুরে ‘মিলেমিশে’ চাঁদাবাজি, তালিকায় শতাধিক বিএনপির নেতা কর্মীর নাম

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি চলার অভিযোগ উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক তালিকা ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই এলাকায় ১৫০টির বেশি স্পটে নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে এবং এতে জড়িত রয়েছেন অন্তত ৭২ জন। তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে আরও ২৫ জনের নাম উঠে এসেছে।     সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তালিকা করে অভিযান শুরু। , রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে যেতে রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে শত শত দোকান বসে। একটু সামনেই কয়েকটি স্কুল। সেগুলোর আশপাশের রাস্তা, গলির সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসে দোকানের পর দোকান। দেখলে মনে হবে যেন পুরোটাই বিপণিবিতান।   রাস্তাগুলো সিটি করপোরেশনের। দোকান হকারের। কিন্তু সেখান থেকে চাঁদা তোলেন স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসী। দিনের পর দিন পুলিশের চোখের সামনেই দোকানগুলো বসছে। চাঁদার কথাও থানা-পুলিশের অজানা নয়। কিন্তু দোকান উচ্ছেদ অথবা চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। অনেকটা মিলেমিশে চাঁদাবাজি চলছে।   ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে গত মার্চে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম রয়েছে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম উল্লেখ আছে ৩১৪ জনের। ঢাকার চাঁদাবাজদের নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ যে তালিকা করেছে তাতেও বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির সুযোগ দিয়ে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা টাকার ভাগ পান।   ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে গত মার্চে। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও ডিএমপি কমিশনারের গোয়েন্দা ইউনিট মিলে তালিকাটি করেছে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম রয়েছে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম উল্লেখ আছে ৩১৪ জনের। পুলিশ বলছে, তালিকায় নতুন নাম নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে।রাজধানী ঢাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজি অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুলিশের এখানকার তালিকায় থাকা চাঁদাবাজদের বেশির ভাগই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী অথবা তাঁরা নিজেদের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। আবার পেশাদার সন্ত্রাসীরাও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অন্যান্য দলেরও কিছু নেতা-কর্মীর নাম তালিকায় আছে। তালিকায় কিছু নাম আছে, যাদের রাজনৈতিক বা অন্য পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।   চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার, ডিএমপি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকা বিশ্লেষণ এবং সরেজমিন অনুসন্ধান করে রাজধানীতে চাঁদাবাজির একটা চিত্র পাওয়া গেছে। তা নিয়ে তিন পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে সামনে আনা হলো মিরপুর অঞ্চলের চাঁদাবাজি।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর অঞ্চলের সাতটি থানা এলাকায় চাঁদাবাজির দেড় শর বেশি স্পট রয়েছে। এসব স্পট থেকে চাঁদা তোলায় জড়িত ৭২ জন। চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রয়েছেন ২৫ জন। রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭৩ অন্তর্বর্তী সরকারের আমল এবং নির্বাচনের আগে বিএনপিকে চাঁদাবাজদের দল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে দলটির বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার পর বিএনপি তখন অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।   ডিএমপির সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত ৪ মার্চ মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তালিকা তৈরির পর উচ্চপর্যায়ের সংকেত পেয়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ১ মে শুরু হওয়া অভিযানে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ হিসেবে গত সোমবার পর্যন্ত ১০০ জনকে এবং সহযোগী হিসেবে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।   ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।   মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। তাঁদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। মিরপুরের চাঁদাবাজেরা মিরপুর, গাবতলী, শাহ আলী, পল্লবী, কাফরুল, দারুস সালাম, রূপনগর ও ভাষানটেক থানা এলাকায় বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। এর মধ্যে গাবতলী টার্মিনাল একটা গুরুত্বপূর্ণ স্পট। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের দোকান, মূল সড়কে অবৈধ বাস-ট্রাক পার্কিং, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ, লেগুনাস্ট্যান্ড, ভাঙারির দোকান, ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা, ময়লার ব্যবসা, পোশাক কারখানা, ঝুট ব্যবসা, ভবন নির্মাণ, ভ্রাম্যমাণ দোকান, সরকারি জমিতে কাঁচাবাজার, বস্তিঘর ও ফুটপাতে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ, কয়লা ও ইট-বালুর ব্যবসা ইত্যাদিতে চাঁদাবাজি হয়।   মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। তাঁদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম রয়েছে ২৫ ব্যক্তির। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পাঁচজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণ দিনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যান, যিনি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে এই প্রতিবেদকও চাঁদাবাজির নানা তথ্য পেয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের মেট্রোস্টেশনের নিচের ফুটপাতে পোশাকের দোকানে কেনাবেচা করছিলেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। ব্যবসার খবরাখবর এবং পণ্যের দর-কষাকষির পর তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, ফুটপাতে দোকান করতে টাকা দিতে হয় কি না। তিনি বললেন, প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতির জন্য দৈনিক ৫০ টাকা দিতে হয়। তাঁর দোকানে দুটি বাতি আছে। দিতে হয় ১০০ টাকা। আর দোকান বসানোর জন্য দিতে হয় দৈনিক আরও ১০০ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হকার আরও বলেন, কিছুদিন আগে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানের কারণে তিনি সাত দিন দোকান বসাতে পারেননি। কিন্তু দোকান খোলার পর আগের সাত দিনের টাকাও দিতে হয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তাঁর সহযোগী মো. তাজ ও মো. সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পাঁচজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণ দিনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যান, যিনি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত।   পুলিশের তালিকায় দেখা যায়, মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত সড়ক ও হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গলি এবং সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ফুটপাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ দোকান রয়েছে। দোকানসংখ্যা দেড় হাজার ও দৈনিক গড় চাঁদা দোকানপ্রতি ২০০ টাকা ধরে হিসাব করে দেখা যায়, মাসে অন্তত ৯০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে।   মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদার টাকার ভাগ ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজমও পান বলে তথ্য এসেছে। ১ মে ওসি গোলাম আজমকে মিরপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের এসব দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তাঁর সহযোগী মো. তাজ ও মো. সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল। মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদার টাকার ভাগ ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজমও পান বলে তথ্য এসেছে। ১ মে ওসি গোলাম আজমকে মিরপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।   এর সপ্তাহখানেক আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম আজম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছিলেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা তোলেন, কারা ভাগ পান—এসব বিষয়ে কোনো কিছুই তাঁর জানা নেই।এসআই তরিকুল ইসলামের কাছেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘থানার সেকেন্ড অফিসার থাকার সময় আমার বিরুদ্ধে এমন একটা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আমি সেই পদ (সেকেন্ড অফিসার) ছেড়ে দিয়েছি।’ তাঁর দাবি, চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।   অবশ্য ডিএমপির মিরপুর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ওসিরা সুবিধা নেন বলেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেখান বা অনেক সময় দায়সারা গোছের কিছু পদক্ষেপ নেন।   সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার থেকে শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত ফুটপাতে প্রায় ১০০ দোকান বসিয়ে চাঁদা তোলা হয়। পুলিশের তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপরই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।   পুলিশ বলছে, পরে তিনি বিদেশে চলে যান। তিনি বিদেশে বসেই মিরপুরের একটা অংশের চাঁদাবাজিসহ অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন।   আব্বাসের হয়ে চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত মো. সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুলের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তাঁরা ফোন ধরেননি। মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তাঁর নামে কেউ চাঁদা তোলেন কি না, সেটা তিনি জানেন না।   পুলিশের তথ্য বলছে, শাহ আলী থানার এসআই তপন চৌধুরীর মাধ্যমে ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটের চাঁদার টাকা থেকে ভাগ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলমও পান। যদিও তাঁরা দুজনই প্রথম আলোর কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার থেকে শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত ফুটপাতে প্রায় ১০০ দোকান বসিয়ে চাঁদা তোলা হয়। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এসব দোকান থেকে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে তোলেন শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান দেওয়ান।   সোলেমান দেওয়ান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। যদিও পুলিশের তালিকা ও স্থানীয় সূত্র বলছে, তাঁর নিয়ন্ত্রণেই চাঁদাবাজি হয়।পুলিশের তথ্য বলছে, শাহ আলী থানার এসআই তপন চৌধুরীর মাধ্যমে ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটের চাঁদার টাকা থেকে ভাগ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলমও পান। যদিও তাঁরা দুজনই প্রথম আলোর কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’   মিরপুর ১ নম্বর এলাকার প্রধান সড়ক দখল করে লেগুনাস্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। মিরপুর ১ নম্বর থেকে শাহ আলী মাজার রোডের দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত ৩০টির মতো লেগুনা চলাচল করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লেগুনাপ্রতি দৈনিক ২০০ টাকা করে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়।পুলিশের তালিকার তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগ ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করেই সড়ক দখল করে লেগুনার স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। লেগুনা থেকে চাঁদা তোলা হয় যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নামে। তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি জড়িত নন।   তবে একাধিক লেগুনাচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেছেন, ইমন নামের একজন লাইনম্যান প্রতিদিন লেগুনাগুলো থেকে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করেন। জগলুল পাশার নামেই টাকা আদায় করা হয়।   পল্লবীর স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। নাম ‘মামুন বাহিনী’। তারা আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, বাজার, বস্তি, পোশাক কারখানা ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলে। পাশাপাশি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। পল্লবীতে ‘মামুন বাহিনী’ পল্লবীতে গত বছরের ১২ জুলাই একদল লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এ কে বিল্ডার্স নামের একটি আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে। সেদিন গুলিতে শরিফুল ইসলাম নামের প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা আহত হন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির পর তা না পেয়ে ওই হামলা চালানো হয়। এর সঙ্গে জড়িত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন।   স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। নাম ‘মামুন বাহিনী’। তারা আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, বাজার, বস্তি, পোশাক কারখানা ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলে। পাশাপাশি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।   পল্লবীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলে হাজির হয় মামুন বাহিনী। গত সোমবার পল্লবী থানায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে দুটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মামুন এখন বিদেশে। সেখান থেকেই নিজের বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজিসহ ওই এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর পক্ষে পল্লবী এলাকায় চাঁদাবাজি করেন মাসুম বিল্লাহ ওরফে ভাগনে মাসুম, মনির, বাপ্পী, লালচাঁন ও মুন্না।   পল্লবীর কালশীর একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, গত রমজান মাসে মামুন বাহিনীর লোকজন তাঁর অফিসে এসে মাসে এক লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর মামুন বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেন। পরে স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে চাঁদার পরিমাণ কমিয়ে মাসে ২০ হাজার টাকায় নামানো সম্ভব হয়। মাসের প্রথম সপ্তাহে মামুনের লোকজন এসে তাঁর অফিস থেকে টাকা নিয়ে যায়।   পল্লবীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলে হাজির হয় মামুন বাহিনী। যেমন গত সোমবার পল্লবী থানায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে দুটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। রূপনগর এলাকার আরামবাগ বাগানবাড়ির ঝিলপাড় বস্তিতে প্রায় ৩৫০ ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ রয়েছে। সেখান এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জনি ও খোকন নামের দুই ব্যক্তি এসব সংযোগ দেন। ঘরভাড়ার বাইরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির জন্য ঘরপ্রতি মাসে এক হাজার করে টাকা দিতে হয়। এই টাকা পল্লবী থানা যুবদলের সভাপতি নুর সালাম তোলেন বলে পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে। এ বিষয়ে নুর সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।রূপনগর আবাসিক এলাকায় ঝিলপাড় নামের আরও একটি বস্তি রয়েছে। সেখানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর। সেখানেও অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে টাকা তোলা হয়। এ টাকা তোলেন রূপনগর থানার ওসির সোর্স হিসেবে পরিচিত সাজেদুল ইসলাম (টুটুল)। তিনি রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব।   সাজেদুল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঠিকাদারি করেন। কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। থানার সোর্স হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর নেই। যদিও পুলিশের তালিকায় সাজেদুলের নামই রয়েছে।পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত জাতীয় পার্টির দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জাল। বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি গাবতলীতে আন্তজেলা বাস টার্মিনালের বাইরেও বিভিন্ন বাসের কাউন্টার আছে। আরও রয়েছে ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্যের দোকান।   স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালের ইজারাদার হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের ছেলে আরাত হানিফ। নথিপত্রে তাঁর নামে ইজারা নেওয়া হলেও নিয়ন্ত্রণ করেন মো. হানিফ। ইজারাদারের লোকেরা গাবতলী বাস টার্মিনালের আশপাশের ফুটপাত, বাস কাউন্টার ও খাবারের হোটেল থেকে চাঁদা তোলেন।   পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত জাতীয় পার্টির দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জাল। মোফাজ্জাল আবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান।   জাতীয় পার্টির নেতা মো. মাসুম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, গাবতলী টার্মিনালের ইজারায় তাঁরও অংশ রয়েছে। টার্মিনালের ভেতরে থাকা দোকান থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া নেওয়া হয়। ফুটপাত থেকে কোনো টাকা তোলা হয় না।   এদিকে ইজারাদার আরাত হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে তাঁর বাবা মো. হানিফের সঙ্গে কথা হয় গতকাল মঙ্গলবার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইজারা নেওয়া দোকান থেকে বৈধভাবে ইজারার টাকা তোলা হয়। তবে এর বাইরে কোনো দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয় কি না, তা তিনি খোঁজ নেবেন। এ ছাড়া টার্মিনালে অনেক দোকানপাটের কারণে বাস রাখার জায়গা কমে যায়। সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। বালু ব্যবসায় যুবদল নেতার ‘চাঁদা’ গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আমিন বাজার সেতুর দিকে যাওয়ার পথে বাঁ দিকে বেড়িবাঁধ সড়ক গেছে হাজারীবাগের দিকে। এ সড়কের দুই পাশে রয়েছে অনেকগুলো বালু, ইট ও খোয়ার দোকান। অনেক দিন ধরে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়।   এর বাইরে ওই এলাকায় দ্বীপনগর নামে একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে ১০টি বালুর ‘গদি’ (বালু স্তূপ করে রেখে বিক্রি করা হয়) রয়েছে। ২৮ এপ্রিল সেখানে গেলে একজন বালু বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকারি জমি ভরাট করে এখানে নতুন করে বালু ও ইটের ‘গদি’ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজির বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স) নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না। আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পুলিশের তালিকা বলছে, সরকারি জমিতে বসানো এসব বালুর গদি থেকে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেন যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।   মিরপুর অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে জড়িত হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের অনেকের নাম আসা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) আমিনুল হকের কাছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স) নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না।   ‘সমাধান আছে’ সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যেসব ব্যবসা ও সেবায় বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো থেকে চাঁদা তুলছে চাঁদাবাজেরা। এসবের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসীরা।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফুটপাতে দোকান উচ্ছেদের পর আবার বসে। পুরোপুরি উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার প্রশ্নও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জরুরি হলো ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা। ফুটপাতের একটি অংশ দিয়ে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করে একাংশে দোকান বসানোর অনুমতি দিতে পারে সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে বস্তিতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বৈধভাবেই দেওয়া উচিত।   নগর-পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, এসবের সমাধান আছে। তবে সমাধানে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা দেখা যায় না। চাঁদাবাজ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও পুলিশের ‘নেক্সাস’ (অসাধু জোট) এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সমাধান করলে টাকাটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, চাঁদাবাজেরা নিতে পারে না।   আদিল মুহাম্মদ খান এ–ও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ কাজের বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। সেগুলো শক্ত হাতে দমন করা দরকার।    তথ্য সূত্র: প্রথম আলো

২ ঘন্টা Ago
মিরপুরে ১৫০টির বেশি স্পটে চাঁদাবাজি । ছবি: আমেরিকা বাংলা
বাংলাদেশ
মিরপুরে ‘মিলেমিশে’ চাঁদাবাজি, তালিকায় শতাধিক বিএনপির নেতা কর্মীর নাম

রাজধানীর মিরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে চাঁদাবাজি চলার অভিযোগ উঠে এসেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাম্প্রতিক তালিকা ও সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই এলাকায় ১৫০টির বেশি স্পটে নিয়মিত চাঁদা তোলা হচ্ছে এবং এতে জড়িত রয়েছেন অন্তত ৭২ জন। তাদের আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে আরও ২৫ জনের নাম উঠে এসেছে।     সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে তালিকা করে অভিযান শুরু। , রাজধানীর মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর থেকে ১৩ নম্বর সেকশনের দিকে যেতে রাস্তার ওপর ও ফুটপাতে শত শত দোকান বসে। একটু সামনেই কয়েকটি স্কুল। সেগুলোর আশপাশের রাস্তা, গলির সড়ক ও ফুটপাত দখল করে বসে দোকানের পর দোকান। দেখলে মনে হবে যেন পুরোটাই বিপণিবিতান।   রাস্তাগুলো সিটি করপোরেশনের। দোকান হকারের। কিন্তু সেখান থেকে চাঁদা তোলেন স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতা-কর্মী ও সন্ত্রাসী। দিনের পর দিন পুলিশের চোখের সামনেই দোকানগুলো বসছে। চাঁদার কথাও থানা-পুলিশের অজানা নয়। কিন্তু দোকান উচ্ছেদ অথবা চাঁদাবাজি বন্ধ হয় না। অনেকটা মিলেমিশে চাঁদাবাজি চলছে।   ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে গত মার্চে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম রয়েছে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম উল্লেখ আছে ৩১৪ জনের। ঢাকার চাঁদাবাজদের নিয়ে সম্প্রতি পুলিশ যে তালিকা করেছে তাতেও বলা হয়েছে, চাঁদাবাজির সুযোগ দিয়ে পুলিশের কিছু কর্মকর্তা টাকার ভাগ পান।   ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীতে চাঁদাবাজির স্পট (জায়গা) ও চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করেছে গত মার্চে। থানা-পুলিশ, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) ও ডিএমপি কমিশনারের গোয়েন্দা ইউনিট মিলে তালিকাটি করেছে। তালিকায় চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হিসেবে ১ হাজার ২৮০ জনের নাম রয়েছে। আশ্রয় ও প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম উল্লেখ আছে ৩১৪ জনের। পুলিশ বলছে, তালিকায় নতুন নাম নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে।রাজধানী ঢাকায় এ ধরনের চাঁদাবাজি অনেক দিন ধরেই চলে আসছে। শেখ হাসিনা সরকারের সময় এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন জড়িত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, পুলিশের এখানকার তালিকায় থাকা চাঁদাবাজদের বেশির ভাগই বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মী অথবা তাঁরা নিজেদের বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। আবার পেশাদার সন্ত্রাসীরাও চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। অন্যান্য দলেরও কিছু নেতা-কর্মীর নাম তালিকায় আছে। তালিকায় কিছু নাম আছে, যাদের রাজনৈতিক বা অন্য পরিচয় উল্লেখ করা হয়নি।   চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এস এন মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত কমিশনার, ডিএমপি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তালিকা বিশ্লেষণ এবং সরেজমিন অনুসন্ধান করে রাজধানীতে চাঁদাবাজির একটা চিত্র পাওয়া গেছে। তা নিয়ে তিন পর্বের প্রতিবেদনের প্রথম পর্বে সামনে আনা হলো মিরপুর অঞ্চলের চাঁদাবাজি।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর অঞ্চলের সাতটি থানা এলাকায় চাঁদাবাজির দেড় শর বেশি স্পট রয়েছে। এসব স্পট থেকে চাঁদা তোলায় জড়িত ৭২ জন। চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা রয়েছেন ২৫ জন। রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযানে গ্রেপ্তার ১৭৩ অন্তর্বর্তী সরকারের আমল এবং নির্বাচনের আগে বিএনপিকে চাঁদাবাজদের দল হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে দলটির বিপক্ষের রাজনৈতিক দলগুলো। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠার পর বিএনপি তখন অনেক নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।   ডিএমপির সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত ৪ মার্চ মতবিনিময় সভা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, চাঁদাবাজদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তালিকা তৈরির পর উচ্চপর্যায়ের সংকেত পেয়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। ১ মে শুরু হওয়া অভিযানে তালিকাভুক্ত চাঁদাবাজ হিসেবে গত সোমবার পর্যন্ত ১০০ জনকে এবং সহযোগী হিসেবে ১৭৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ বিশেষ অভিযানে সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।   ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার এস এন মো. নজরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি করলে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের কারও বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।   মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। তাঁদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। মিরপুরের চাঁদাবাজেরা মিরপুর, গাবতলী, শাহ আলী, পল্লবী, কাফরুল, দারুস সালাম, রূপনগর ও ভাষানটেক থানা এলাকায় বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি হয়ে থাকে। এর মধ্যে গাবতলী টার্মিনাল একটা গুরুত্বপূর্ণ স্পট। এর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাতের দোকান, মূল সড়কে অবৈধ বাস-ট্রাক পার্কিং, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গ্যারেজ, লেগুনাস্ট্যান্ড, ভাঙারির দোকান, ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবসা, ময়লার ব্যবসা, পোশাক কারখানা, ঝুট ব্যবসা, ভবন নির্মাণ, ভ্রাম্যমাণ দোকান, সরকারি জমিতে কাঁচাবাজার, বস্তিঘর ও ফুটপাতে অবৈধ বিদ্যুতের সংযোগ, কয়লা ও ইট-বালুর ব্যবসা ইত্যাদিতে চাঁদাবাজি হয়।   মিরপুরে সাতটি থানা এলাকায় চাঁদা তোলেন ৭২ জন। তাঁদের বড় অংশই বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের থানা এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মী বলে পুলিশের তালিকায় উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা হিসেবে নাম রয়েছে ২৫ ব্যক্তির। এর মধ্যে অন্তত ২০ জন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পাঁচজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণ দিনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যান, যিনি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি সরেজমিন ঘুরে এই প্রতিবেদকও চাঁদাবাজির নানা তথ্য পেয়েছে। মিরপুর ১০ নম্বর সেকশনের মেট্রোস্টেশনের নিচের ফুটপাতে পোশাকের দোকানে কেনাবেচা করছিলেন মধ্যবয়সী এক ব্যক্তি। ব্যবসার খবরাখবর এবং পণ্যের দর-কষাকষির পর তাঁর কাছে জানতে চাইলাম, ফুটপাতে দোকান করতে টাকা দিতে হয় কি না। তিনি বললেন, প্রতিটি বৈদ্যুতিক বাতির জন্য দৈনিক ৫০ টাকা দিতে হয়। তাঁর দোকানে দুটি বাতি আছে। দিতে হয় ১০০ টাকা। আর দোকান বসানোর জন্য দিতে হয় দৈনিক আরও ১০০ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই হকার আরও বলেন, কিছুদিন আগে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানের কারণে তিনি সাত দিন দোকান বসাতে পারেননি। কিন্তু দোকান খোলার পর আগের সাত দিনের টাকাও দিতে হয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তাঁর সহযোগী মো. তাজ ও মো. সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল। মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকার পাঁচজন হকারের সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা জানান, দোকানের অবস্থান ও আকারভেদে চাঁদার পরিমাণ দিনে ১০০ থেকে ৩০০ টাকা। সাধারণত বিকেল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তি এসে টাকা নিয়ে যান, যিনি ‘লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত।   পুলিশের তালিকায় দেখা যায়, মিরপুর ১০ থেকে ১৩ নম্বর সেকশন পর্যন্ত সড়ক ও হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গলি এবং সেনপাড়া পর্বতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার ফুটপাতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৭০০ দোকান রয়েছে। দোকানসংখ্যা দেড় হাজার ও দৈনিক গড় চাঁদা দোকানপ্রতি ২০০ টাকা ধরে হিসাব করে দেখা যায়, মাসে অন্তত ৯০ লাখ টাকা চাঁদা ওঠে।   মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদার টাকার ভাগ ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজমও পান বলে তথ্য এসেছে। ১ মে ওসি গোলাম আজমকে মিরপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, ফুটপাতের এসব দোকান থেকে টাকা তোলেন পুলিশের তালিকার সন্ত্রাসী আব্বাস আলী, তাঁর সহযোগী মো. তাজ ও মো. সোহেল ওরফে ভাগনে সোহেল এবং মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুল। মিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তরিকুল ইসলামের মাধ্যমে চাঁদার টাকার ভাগ ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম আজমও পান বলে তথ্য এসেছে। ১ মে ওসি গোলাম আজমকে মিরপুর থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।   এর সপ্তাহখানেক আগে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গোলাম আজম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছিলেন, ফুটপাত থেকে কারা চাঁদা তোলেন, কারা ভাগ পান—এসব বিষয়ে কোনো কিছুই তাঁর জানা নেই।এসআই তরিকুল ইসলামের কাছেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘থানার সেকেন্ড অফিসার থাকার সময় আমার বিরুদ্ধে এমন একটা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আমি সেই পদ (সেকেন্ড অফিসার) ছেড়ে দিয়েছি।’ তাঁর দাবি, চাঁদাবাজির সঙ্গে তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।   অবশ্য ডিএমপির মিরপুর বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, ওসিরা সুবিধা নেন বলেই ফুটপাত দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে নানা অজুহাত দেখান বা অনেক সময় দায়সারা গোছের কিছু পদক্ষেপ নেন।   সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার থেকে শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত ফুটপাতে প্রায় ১০০ দোকান বসিয়ে চাঁদা তোলা হয়। পুলিশের তালিকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আব্বাস ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরপরই কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান।   পুলিশ বলছে, পরে তিনি বিদেশে চলে যান। তিনি বিদেশে বসেই মিরপুরের একটা অংশের চাঁদাবাজিসহ অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন।   আব্বাসের হয়ে চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত মো. সোহেল, স্বেচ্ছাসেবক দলের কর্মী জুয়েল ও বাবুলের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হয়, কিন্তু তাঁরা ফোন ধরেননি। মিরপুর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাকিবুল হাসান সোহেলের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়েছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তিনি চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। তবে তাঁর নামে কেউ চাঁদা তোলেন কি না, সেটা তিনি জানেন না।   পুলিশের তথ্য বলছে, শাহ আলী থানার এসআই তপন চৌধুরীর মাধ্যমে ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটের চাঁদার টাকা থেকে ভাগ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলমও পান। যদিও তাঁরা দুজনই প্রথম আলোর কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মিরপুর ১ নম্বর সেকশনের শাহ আলী মাজার থেকে শাহ আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ পর্যন্ত ফুটপাতে প্রায় ১০০ দোকান বসিয়ে চাঁদা তোলা হয়। পুলিশের তথ্যানুযায়ী, এসব দোকান থেকে দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা করে তোলেন শাহ আলী থানা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলেমান দেওয়ান।   সোলেমান দেওয়ান প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। যদিও পুলিশের তালিকা ও স্থানীয় সূত্র বলছে, তাঁর নিয়ন্ত্রণেই চাঁদাবাজি হয়।পুলিশের তথ্য বলছে, শাহ আলী থানার এসআই তপন চৌধুরীর মাধ্যমে ওই এলাকার বিভিন্ন স্পটের চাঁদার টাকা থেকে ভাগ ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলমও পান। যদিও তাঁরা দুজনই প্রথম আলোর কাছে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ওসি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, চাঁদাবাজির সঙ্গে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’   মিরপুর ১ নম্বর এলাকার প্রধান সড়ক দখল করে লেগুনাস্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। মিরপুর ১ নম্বর থেকে শাহ আলী মাজার রোডের দক্ষিণ মোড় পর্যন্ত ৩০টির মতো লেগুনা চলাচল করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, লেগুনাপ্রতি দৈনিক ২০০ টাকা করে মাসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চাঁদা তোলা হয়।পুলিশের তালিকার তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর বিভাগ ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের ‘ম্যানেজ’ করেই সড়ক দখল করে লেগুনার স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে। লেগুনা থেকে চাঁদা তোলা হয় যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্যসচিব মোস্তফা জগলুল পাশার নামে। তিনি দাবি করেন, চাঁদাবাজির সঙ্গে তিনি জড়িত নন।   তবে একাধিক লেগুনাচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেছেন, ইমন নামের একজন লাইনম্যান প্রতিদিন লেগুনাগুলো থেকে চাঁদার টাকা সংগ্রহ করেন। জগলুল পাশার নামেই টাকা আদায় করা হয়।   পল্লবীর স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। নাম ‘মামুন বাহিনী’। তারা আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, বাজার, বস্তি, পোশাক কারখানা ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলে। পাশাপাশি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। পল্লবীতে ‘মামুন বাহিনী’ পল্লবীতে গত বছরের ১২ জুলাই একদল লোক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এ কে বিল্ডার্স নামের একটি আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠানে। সেদিন গুলিতে শরিফুল ইসলাম নামের প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা আহত হন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবির পর তা না পেয়ে ওই হামলা চালানো হয়। এর সঙ্গে জড়িত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুন।   স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ বলছে, মামুনের একটি বাহিনী রয়েছে। নাম ‘মামুন বাহিনী’। তারা আবাসন নির্মাণপ্রতিষ্ঠান, ফুটপাত, বাজার, বস্তি, পোশাক কারখানা ইত্যাদি থেকে চাঁদা তোলে। পাশাপাশি ঝুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে।   পল্লবীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলে হাজির হয় মামুন বাহিনী। গত সোমবার পল্লবী থানায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে দুটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। পুলিশ ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মামুন এখন বিদেশে। সেখান থেকেই নিজের বাহিনী দিয়ে চাঁদাবাজিসহ ওই এলাকার অপরাধজগৎ নিয়ন্ত্রণ করেন। তাঁর পক্ষে পল্লবী এলাকায় চাঁদাবাজি করেন মাসুম বিল্লাহ ওরফে ভাগনে মাসুম, মনির, বাপ্পী, লালচাঁন ও মুন্না।   পল্লবীর কালশীর একটি নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, গত রমজান মাসে মামুন বাহিনীর লোকজন তাঁর অফিসে এসে মাসে এক লাখ টাকা দাবি করে। বিষয়টি পুলিশকে জানানোর পর মামুন বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে হত্যার হুমকি দেন। পরে স্থানীয় এক নেতার মাধ্যমে চাঁদার পরিমাণ কমিয়ে মাসে ২০ হাজার টাকায় নামানো সম্ভব হয়। মাসের প্রথম সপ্তাহে মামুনের লোকজন এসে তাঁর অফিস থেকে টাকা নিয়ে যায়।   পল্লবীতে নতুন বাড়ি নির্মাণ বা জমি কেনাবেচার খবর পেলে হাজির হয় মামুন বাহিনী। যেমন গত সোমবার পল্লবী থানায় জাহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, গত ৩০ এপ্রিল তিনি বাড়ির নির্মাণকাজ শুরু করতে গেলে দুটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে ৫০ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। পাঁচ দিনের মধ্যে টাকা না দিলে তাঁকে গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। রূপনগর এলাকার আরামবাগ বাগানবাড়ির ঝিলপাড় বস্তিতে প্রায় ৩৫০ ঘরে অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ রয়েছে। সেখান এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, জনি ও খোকন নামের দুই ব্যক্তি এসব সংযোগ দেন। ঘরভাড়ার বাইরে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির জন্য ঘরপ্রতি মাসে এক হাজার করে টাকা দিতে হয়। এই টাকা পল্লবী থানা যুবদলের সভাপতি নুর সালাম তোলেন বলে পুলিশের তালিকায় নাম রয়েছে। এ বিষয়ে নুর সালামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তাঁর মুঠোফোনে কল করেও যোগাযোগ করা যায়নি।রূপনগর আবাসিক এলাকায় ঝিলপাড় নামের আরও একটি বস্তি রয়েছে। সেখানে রয়েছে প্রায় ১ হাজার ২০০টি ঘর। সেখানেও অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ দিয়ে প্রতি মাসে টাকা তোলা হয়। এ টাকা তোলেন রূপনগর থানার ওসির সোর্স হিসেবে পরিচিত সাজেদুল ইসলাম (টুটুল)। তিনি রূপনগর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব।   সাজেদুল প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ঠিকাদারি করেন। কোনো চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নন। থানার সোর্স হিসেবে কাজ করার সময় তাঁর নেই। যদিও পুলিশের তালিকায় সাজেদুলের নামই রয়েছে।পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত জাতীয় পার্টির দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জাল। বাস টার্মিনালে চাঁদাবাজি গাবতলীতে আন্তজেলা বাস টার্মিনালের বাইরেও বিভিন্ন বাসের কাউন্টার আছে। আরও রয়েছে ফুটপাতে বিভিন্ন পণ্যের দোকান।   স্থানীয় বিএনপি নেতাদের সূত্রে জানা গেছে, টার্মিনালের ইজারাদার হানিফ পরিবহনের মালিক মো. হানিফের ছেলে আরাত হানিফ। নথিপত্রে তাঁর নামে ইজারা নেওয়া হলেও নিয়ন্ত্রণ করেন মো. হানিফ। ইজারাদারের লোকেরা গাবতলী বাস টার্মিনালের আশপাশের ফুটপাত, বাস কাউন্টার ও খাবারের হোটেল থেকে চাঁদা তোলেন।   পুলিশের তালিকা অনুযায়ী, চাঁদা তোলার সঙ্গে জড়িত জাতীয় পার্টির দারুস সালাম থানার সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম ও তাঁর সহযোগী ঢাকা মহানগর উত্তর শ্রমিক লীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মোফাজ্জাল। মোফাজ্জাল আবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান।   জাতীয় পার্টির নেতা মো. মাসুম প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, গাবতলী টার্মিনালের ইজারায় তাঁরও অংশ রয়েছে। টার্মিনালের ভেতরে থাকা দোকান থেকে বিদ্যুৎ বিল ও ভাড়া নেওয়া হয়। ফুটপাত থেকে কোনো টাকা তোলা হয় না।   এদিকে ইজারাদার আরাত হানিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে জানেন না বলে দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে তাঁর বাবার সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে তাঁর বাবা মো. হানিফের সঙ্গে কথা হয় গতকাল মঙ্গলবার। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ইজারা নেওয়া দোকান থেকে বৈধভাবে ইজারার টাকা তোলা হয়। তবে এর বাইরে কোনো দোকান থেকে চাঁদা নেওয়া হয় কি না, তা তিনি খোঁজ নেবেন। এ ছাড়া টার্মিনালে অনেক দোকানপাটের কারণে বাস রাখার জায়গা কমে যায়। সেগুলো উচ্ছেদ করা হবে। বালু ব্যবসায় যুবদল নেতার ‘চাঁদা’ গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে আমিন বাজার সেতুর দিকে যাওয়ার পথে বাঁ দিকে বেড়িবাঁধ সড়ক গেছে হাজারীবাগের দিকে। এ সড়কের দুই পাশে রয়েছে অনেকগুলো বালু, ইট ও খোয়ার দোকান। অনেক দিন ধরে অপ্রাতিষ্ঠানিকভাবে গড়ে ওঠা এসব ব্যবসা থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলা হয়।   এর বাইরে ওই এলাকায় দ্বীপনগর নামে একটি জায়গা রয়েছে। সেখানে ১০টি বালুর ‘গদি’ (বালু স্তূপ করে রেখে বিক্রি করা হয়) রয়েছে। ২৮ এপ্রিল সেখানে গেলে একজন বালু বিক্রেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকারি জমি ভরাট করে এখানে নতুন করে বালু ও ইটের ‘গদি’ ভাড়া দেওয়া হয়েছে। চাঁদাবাজির বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স) নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না। আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পুলিশের তালিকা বলছে, সরকারি জমিতে বসানো এসব বালুর গদি থেকে মাসে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা করে নেন যুবদলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সাজ্জাদুল মিরাজ। এ অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।   মিরপুর অঞ্চলে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিতে জড়িত হিসেবে বিএনপি ও অঙ্গ–সহযোগী সংগঠনের অনেকের নাম আসা প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হয় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) আমিনুল হকের কাছে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজির বিষয়ে শূন্য সহিষ্ণু নীতি (জিরো টলারেন্স) নেওয়া হয়েছে। দলের কোনো নেতা-কর্মী চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়ালে ছাড় দেওয়া হবে না।   ‘সমাধান আছে’ সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, যেসব ব্যবসা ও সেবায় বৈধতার প্রশ্ন রয়েছে, বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেগুলো থেকে চাঁদা তুলছে চাঁদাবাজেরা। এসবের পাশাপাশি কোথাও কোথাও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও চাঁদা আদায় করছে সন্ত্রাসীরা।   বিশ্লেষকেরা বলছেন, ফুটপাতে দোকান উচ্ছেদের পর আবার বসে। পুরোপুরি উচ্ছেদের ক্ষেত্রে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার প্রশ্নও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে জরুরি হলো ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা। ফুটপাতের একটি অংশ দিয়ে মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করে একাংশে দোকান বসানোর অনুমতি দিতে পারে সিটি করপোরেশন। অন্যদিকে বস্তিতে বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বৈধভাবেই দেওয়া উচিত।   নগর-পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইপিডি) নির্বাহী পরিচালক আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, এসবের সমাধান আছে। তবে সমাধানে রাষ্ট্রীয় সদিচ্ছা দেখা যায় না। চাঁদাবাজ রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও পুলিশের ‘নেক্সাস’ (অসাধু জোট) এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, সমাধান করলে টাকাটা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়, চাঁদাবাজেরা নিতে পারে না।   আদিল মুহাম্মদ খান এ–ও বলেন, কিছু ক্ষেত্রে অবৈধ কাজের বৈধতা দেওয়ার সুযোগ নেই। সেগুলো শক্ত হাতে দমন করা দরকার।    তথ্য সূত্র: প্রথম আলো

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কে এই রহস্যময় শিল্পী ব্যাঙ্কসি? উন্মোচিত হলো আসল পরিচয়!

তিন দশক ধরে যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিশ্বজুড়ে দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেছেন দ্রোহ, প্রতিবাদ আর বিদ্রূপের ভাষা, সেই রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্ট ‘ব্যাঙ্কসি’র পরিচয় নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম এই প্রভাবশালী শিল্পীর আসল নাম রবিন গানিংহ্যাম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালে নিউইয়র্কে একটি বিলবোর্ড বিকৃত করার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন এই শিল্পী। সেই সময়কার পুরনো আইনি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্যাঙ্কসির আসল নাম রবিন গানিংহ্যাম হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের নাম বদলে ‘ডেভিড জোন্স’ রাখেন। যদিও এখন তিনি কোন ছদ্মনামে আছেন, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে রয়টার্সের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ব্যাঙ্কসির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠজনরা। শিল্পীর সাবেক ম্যানেজার স্টিভ লাজারাইডেস কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, সংবাদ সংস্থাটি একটি ‘ভুতুড়ে’ তথ্যের পেছনে ছুটছে। তার দাবি, শিল্পী বহু আগেই আইনগতভাবে নিজের পুরনো পরিচয় মুছে ফেলেছেন। তিনি বলেন, “রবিন গানিংহ্যাম বলে এখন আর কেউ নেই। সেই নামটি আমি বহু বছর আগেই মেরে ফেলেছি।” ১৯৭০-এর দশকে ব্রিস্টলে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী নব্বইয়ের দশক থেকে তার স্টেন্সিল শিল্পের মাধ্যমে পরিচিতি পান। যুদ্ধ, অভিবাসন, পুঁজিবাদ এবং মানবাধিকার নিয়ে তার আঁকা ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ডলারে বিক্রি হলেও তিনি সবসময়ই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। ২০১৬ সালে লণ্ডনের সেন্ট জেমস এলাকায় একটি বড় ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। শিল্প বোদ্ধাদের মতে, পরিচয় গোপন রাখাই ছিল ব্যাঙ্কসির সবচেয়ে বড় মার্কেটিং কৌশল। তবে এখন তার পরিচয় ফাঁস হোক বা না হোক, ‘ব্র্যান্ড ব্যাঙ্কসি’র জনপ্রিয়তা আর কমবে না। তিনি এখন আর কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

ছবি: সংগৃহীত
হঠাৎ আজ ঢাকায় আসছেন হামজা চৌধুরী

ইংল্যান্ডপ্রবাসী ফুটবলার হামজা চৌধুরী হঠাৎই ঢাকায় আসছেন। ক্লাব মৌসুম শেষ হওয়ায় আপাতত প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের বাইরে থাকা এই মিডফিল্ডার ব্যক্তিগত কাজে অংশ নিতে আজ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।   ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের মৌসুম শেষ করেছে তার ক্লাব লেস্টার সিটি। ২ মে শেষ ম্যাচ খেলার পর এখন ছুটিতে রয়েছেন তিনি। এই বিরতিতেই বাংলাদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন হামজা।   বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন এই সফরকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত হিসেবে দেখছে। ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ফাহাদ করিম জানিয়েছেন, হামজার সফর সম্পর্কে বাফুফেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, “হামজা চৌধুরী ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশে আসছেন। আমরা জেনেছি, কিছু বাণিজ্যিক কাজের জন্য তিনি কয়েক দিন ঢাকায় থাকবেন।”   ফিফা উইন্ডোর বাইরে সাধারণত জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতি কম দেখা গেলেও এবার ছুটির সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন এই মিডফিল্ডার।   আগামী ৫ জুন সান মারিনোর বিপক্ষে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচকে সামনে রেখে ২৪ মে থেকে জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী হামজার সরাসরি সান মারিনোতে দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   এদিকে জাতীয় দলের জন্য নতুন কোচ খোঁজার প্রক্রিয়াও চালিয়ে যাচ্ছে বাফুফে। এই প্রেক্ষাপটে হামজার সংক্ষিপ্ত ঢাকা সফর ফুটবল অঙ্গনে আগ্রহ তৈরি করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
সংসদ ভবন থেকেই লোডশেডিং শুরু করার প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং মোকাবিলায় জাতীয় সংসদ ভবন থেকেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এই প্রস্তাব করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ অধিবেশন বন্ধ না করে সংসদ ভবনের বিভিন্ন অফিসে লোডশেডিং করা যেতে পারে।   এর আগে অধিবেশনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এখন থেকে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে।   সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। দৈনিক প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি থাকায় দেশজুড়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটের বড় কারণ বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা। কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি দেখানো হলেও বাস্তবে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে।   অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে অধিবেশন সচল রাখার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করেন যে, তিনি অধিবেশন চলাকালে নয় বরং সংসদ ভবনের প্রশাসনিক শাখাগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে জনগণের কষ্টের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম । ছবি: জাতীয় সংসদ সচিবালয়
সংরক্ষিত নারী আসনে শপথ নিলেন এনসিপির নেত্রী নুসরাত তাবাসসুম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।   সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এর তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি ৫ অনুযায়ী তাকে শপথ পাঠ করানো হয়।   শপথ গ্রহণ শেষে নুসরাত তাবাসসুম নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সচিবের কার্যালয়ে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের প্রধান হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেন নুসরাত তাবাসসুম। বিলম্বের কারণে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি।   পরবর্তীতে উচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।

ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকোতে বিশ্বকাপ টিকিটের আকাশচুম্বী দাম, ক্ষুব্ধ ফুটবল ভক্তরা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে বাকি আর মাত্র কিছুদিন। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ফিফার এই মেগা ইভেন্ট। তবে মেক্সিকোর সাধারণ ফুটবল প্রেমীদের জন্য এই উৎসব বিষাদে রূপ নিচ্ছে। সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, টিকিটের অত্যধিক দামের কারণে গ্যালারিতে বসে খেলা দেখা এখন মেক্সিকানদের কাছে কেবল এক দুঃস্বপ্ন।     প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উদ্বোধনী ম্যাচসহ গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর টিকিটের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মেক্সিকোর বর্তমান সর্বনিম্ন মজুরি এবং সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় টিকিটের এই মূল্য আকাশছোঁয়া। একজন সাধারণ মেক্সিকান শ্রমিকের কয়েক মাসের সম্পূর্ণ বেতন দিলেও একটি টিকিট কেনা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।     ফিফা যদিও দাবি করেছে যে তারা সর্বনিম্ন ৬০ ডলারের (প্রায় ৭,০০০ টাকা) টিকিটও রেখেছে, তবে সিএনএন-এর অনুসন্ধান বলছে, রিসেল বা পুনরায় বিক্রির বাজারে একেকটি টিকিটের দাম ৩,০০০ ডলার থেকে ১০,০০০ ডলার (প্রায় ৩.৫ লাখ থেকে ১২ লাখ টাকা) পর্যন্ত উঠেছে। এমনকি ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।   ফ্রান্সিসকো জাভিয়ের নামের এক সত্তরোর্ধ্ব ফুটবল ভক্ত, যিনি ১৯৭০ এবং ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপ গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন, আক্ষেপ করে বলেন, "এই বিশ্বকাপ আর সাধারণ মানুষের নেই। এটি কেবল ধনীদের উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিজের দেশে খেলা হওয়া সত্ত্বেও আমি এবার গ্যালারিতে যেতে পারছি না।"   উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপে মোট ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র ১৩টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মেক্সিকোতে। অল্প ম্যাচ এবং বিপুল চাহিদার সুযোগ নিয়ে টিকিট সিন্ডিকেট এবং ফিফার ডায়নামিক প্রাইসিং পলিসি সাধারণ ভক্তদের দূরে ঠেলে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত।
কে এই রহস্যময় শিল্পী ব্যাঙ্কসি? উন্মোচিত হলো আসল পরিচয়!
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৬, ২০২৬ 0

তিন দশক ধরে যিনি নিজের পরিচয় গোপন রেখে বিশ্বজুড়ে দেয়ালে দেয়ালে ফুটিয়ে তুলেছেন দ্রোহ, প্রতিবাদ আর বিদ্রূপের ভাষা, সেই রহস্যময় স্ট্রিট আর্টিস্ট ‘ব্যাঙ্কসি’র পরিচয় নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম এই প্রভাবশালী শিল্পীর আসল নাম রবিন গানিংহ্যাম। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০০ সালে নিউইয়র্কে একটি বিলবোর্ড বিকৃত করার অভিযোগে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলেন এই শিল্পী। সেই সময়কার পুরনো আইনি নথিপত্র বিশ্লেষণ করে রয়টার্স জানিয়েছে, ব্যাঙ্কসির আসল নাম রবিন গানিংহ্যাম হলেও পরবর্তী সময়ে তিনি নিজের নাম বদলে ‘ডেভিড জোন্স’ রাখেন। যদিও এখন তিনি কোন ছদ্মনামে আছেন, তা এখনো অস্পষ্ট। তবে রয়টার্সের এই দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ব্যাঙ্কসির দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠজনরা। শিল্পীর সাবেক ম্যানেজার স্টিভ লাজারাইডেস কড়া ভাষায় জানিয়েছেন, সংবাদ সংস্থাটি একটি ‘ভুতুড়ে’ তথ্যের পেছনে ছুটছে। তার দাবি, শিল্পী বহু আগেই আইনগতভাবে নিজের পুরনো পরিচয় মুছে ফেলেছেন। তিনি বলেন, “রবিন গানিংহ্যাম বলে এখন আর কেউ নেই। সেই নামটি আমি বহু বছর আগেই মেরে ফেলেছি।” ১৯৭০-এর দশকে ব্রিস্টলে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী নব্বইয়ের দশক থেকে তার স্টেন্সিল শিল্পের মাধ্যমে পরিচিতি পান। যুদ্ধ, অভিবাসন, পুঁজিবাদ এবং মানবাধিকার নিয়ে তার আঁকা ছবিগুলো বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ডলারে বিক্রি হলেও তিনি সবসময়ই নিজেকে আড়ালে রেখেছেন। ২০১৬ সালে লণ্ডনের সেন্ট জেমস এলাকায় একটি বড় ভাস্কর্য স্থাপনের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন তিনি। শিল্প বোদ্ধাদের মতে, পরিচয় গোপন রাখাই ছিল ব্যাঙ্কসির সবচেয়ে বড় মার্কেটিং কৌশল। তবে এখন তার পরিচয় ফাঁস হোক বা না হোক, ‘ব্র্যান্ড ব্যাঙ্কসি’র জনপ্রিয়তা আর কমবে না। তিনি এখন আর কেবল একজন ব্যক্তি নন, বরং বিশ্বজুড়ে প্রতিবাদের এক শক্তিশালী প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

থালাপতি বিজয় । ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসের সমর্থনে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন থালাপতি বিজয়
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৬, ২০২৬ 0

ভারতের তামিলনাড়ু রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। অভিনেতা-রাজনীতিক বিজয়, যিনি ভক্তদের কাছে ‘থালাপতি’ নামে পরিচিত, তার দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম (টিভিকে) সরকার গঠনের পথে এগিয়ে রয়েছে।   সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে ২৩৪ আসনের মধ্যে টিভিকে ১০৮টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দলে পরিণত হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন, ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও রাজনৈতিক সমীকরণ দ্রুত বদলে গেছে।   এই অবস্থায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস টিভিকেকে সমর্থন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তামিলনাড়ু প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জানা গেছে, নতুন সরকারে অংশীদার হিসেবে কংগ্রেস মন্ত্রিসভায় দুটি মন্ত্রী পদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব চাইতে পারে।   দীর্ঘদিন ধরে তামিলনাড়ুর রাজনীতি ডিএমকে এবং এআইএডিএমকে-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ১৯৬৭ সালের পর থেকে এই দুই দলই পালাক্রমে ক্ষমতায় ছিল। এবারের নির্বাচনে সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে।   টিভিকে ডিএমকেকে পেছনে ফেলে এবং এআইএডিএমকেকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে সরকার গঠনের অবস্থানে পৌঁছেছে। চেন্নাইয়ে দলীয় বৈঠকের পর জানা গেছে, আগামী ৭ মে বিজয় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন মন্ত্রীও শপথ নেবেন।   এদিকে বামপন্থী দলসহ ছোট দলগুলোর সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে টিভিকে। এসব দলের সমর্থন পেলে একটি স্থিতিশীল জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা আরও শক্তিশালী হবে।  

ছবি: সংগৃহীত।
অপারেশন ‘উইংস অফ ডন’, কেন ভারতের একটি সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ইসরায়েলে?
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৫, ২০২৬ 0

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর ও মিজোরামে বসবাসরত ‘ব্নেই মেনাশে’ সম্প্রদায়ের কয়েক হাজার মানুষকে ইসরায়েলে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দেশটির সরকার। ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী, এই সম্প্রদায়টি বাইবেলে বর্ণিত ইসরায়েলের ‘দশটি হারিয়ে যাওয়া গোত্র’ বা ‘লস্ট ট্রাইবস’-এর বংশধর। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং অভিবাসন বিষয়ক মন্ত্রী ওফির সোফার সম্প্রতি এই আবাসন পরিকল্পনা অনুমোদন করেছেন। ‘অপারেশন উইংস অফ ডন’ (Operation Wings of Dawn) বা 'কানফেই সাহার' নামক এই বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৫,৮০০ জন ভারতীয় ইহুদিকে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হবে। ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ১,২০০ জন ব্নেই মেনাশে সদস্যকে ইসরায়েলে আনা হবে। অবশিষ্ট ৪,৬০০ জনকে পরবর্তী ধাপে ২০৩০ সালের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য ইসরায়েল সরকার প্রায় ৯০ মিলিয়ন শেকেল (ইসরায়েলি মুদ্রা) বরাদ্দ করেছে।   ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের লোকেরা কয়েক দশক ধরে ইসরায়েলে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন। মণিপুরে সাম্প্রতিক জাতিগত সংঘাতের ফলে এই সম্প্রদায়ের অনেকেই বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, যা এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। ইসরায়েল সরকার জানিয়েছে, নবজাতক থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সবাইকে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় গ্যালিলি (Galilee) ও নোফ হাগালিল এলাকায় পুনর্বাসিত করা হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবারগুলোকে একত্রিত করা হবে, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইসরায়েলের উত্তর সীমান্তে ইহুদি জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার কৌশলও নিয়েছে তেল আবিব। ব্নেই মেনাশে সম্প্রদায়ের দাবি, খ্রিস্টপূর্ব ৭২২ সালে আসিরীয়দের আক্রমণের পর তারা ইসরায়েল থেকে নির্বাসিত হয়েছিলেন। মধ্য এশিয়া ও চীন হয়ে একসময় তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে থিতু হন। ২০০৫ সালে ইসরায়েলের প্রধান রাবাই (ধর্মগুরু) আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্প্রদায়কে ‘ইসরায়েলের বংশধর’ হিসেবে স্বীকৃতি দেন। গত দুই দশকে প্রায় ৪,০০০ ব্নেই মেনাশে সদস্য ইতোমধ্যে ইসরায়েলে পাড়ি জমিয়েছেন। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (MEA) এই স্থানান্তর প্রক্রিয়াকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ বৃদ্ধিতে এটি সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
অনিয়মিত অভিবাসীদের বৈধতা দেবে স্পেন, আসছে নতুন সুযোগ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মে ৫, ২০২৬ 0

স্পেনে বসবাসরত অনিয়মিত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের সুযোগ নিয়ে আসছে দেশটির সরকার। ‘নিয়মিতকরণ প্রকল্প ২০২৬’-এর আওতায় যোগ্য অভিবাসীদের আইনিভাবে বসবাস ও কাজের সুযোগ দেওয়া হবে।   সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের ভেতরে থাকা অনিয়মিত জনশক্তিকে মূলধারার অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা। প্রকল্পের আওতায় নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে অভিবাসীরা বিভিন্ন সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।   এই উদ্যোগের মাধ্যমে অভিবাসীরা বৈধভাবে কাজ করার অনুমতি পাবেন। পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। এতে শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ আরও সুসংগঠিত হবে।   স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন আসবে। বৈধতা পাওয়ার পর অভিবাসীরা ন্যাশনাল হেলথ সিস্টেম-এর আওতায় সরকারি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন, যা সাধারণ নাগরিকদের মতোই কার্যকর হবে। এ ছাড়া বৈধতার পর শেঙেন এলাকাভুক্ত দেশগুলোতে ১৮০ দিনের মধ্যে ৯০ দিন পর্যন্ত ভ্রমণের সুযোগ মিলবে।   তবে এই অনুমতি কিছু সীমাবদ্ধতার মধ্যেও থাকবে। এটি মূলত একটি জাতীয় পারমিট, যার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য কোনো দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস বা কাজ করা যাবে না। অন্য দেশে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করলে তার ব্যয় স্পেন বহন করবে না। একইভাবে অন্য কোনো দেশে দীর্ঘমেয়াদি অবস্থানের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন আইন অনুযায়ী আলাদা আবেদন করতে হবে।   শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। ইতালি ২০২৬ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে প্রায় পাঁচ লাখ অ-ইউরোপীয় নাগরিককে কাজের অনুমতি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। অন্যদিকে জার্মানি দক্ষ কর্মী ও কেয়ারগিভার নিয়োগে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ৩, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
295 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
291 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
218 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
Advertisement
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়