যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা ভোটার আইডি আইনের ব্যালটের ভাষা পরিবর্তন করে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাট এই নেতার বিরুদ্ধে 'প্রোপোজিশন ৩৯'-এর বর্ণনায় শেষ মুহূর্তে বিভ্রান্তিকর পরিবর্তন এবং কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরকারি আইডি অথবা ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে আইডি নম্বরের শেষ চার অঙ্ক প্রদান করতে হবে। কিন্তু ব্যালটে এর ভাষা এমনভাবে বদলে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, মূল বর্ণনায় প্রোপোজিশন ৩৯-কে "অতিরিক্ত ভোটার শনাক্তকরণ এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করার" একটি আইনি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু এটি নভেম্বরের ব্যালটের জন্য চূড়ান্ত হওয়ার পর বোন্টা এর ভাষা বদলে লেখেন, এটি এমন একটি প্রস্তাবনা যা "সরকারি আইডি প্রদর্শন না করলে নাগরিকদের ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করে।" এই তীব্র সমালোচিত পরিবর্তনের সাফাই গাইতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বোন্টা জানান, ভোটারদের কাছে আরও স্পষ্ট করার জন্যই এমনটা করা হয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ বৈধ। তিনি দাবি করেন, ব্যালটের নয়টি প্রস্তাবনারই ভাষা সম্পাদনা করা হয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিচার বিভাগ (ডিওজে) ভোটারদের সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তার এই যুক্তিতে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি সাধারণ মানুষ। এক্সে অনেকেই তাকে 'প্রতারক' ও 'অসৎ' আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সুরকার ব্রায়ান রালস্টন মন্তব্য করেন, বোন্টা ইচ্ছা করেই বিলটির মূল উদ্দেশ্য থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরাতে কারচুপির আশ্রয় নিয়েছেন, কারণ তিনি জানেন অন্যথায় তিনি হেরে যাবেন। উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলদের এমন পক্ষপাতদুষ্ট ভাষা ব্যবহারের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে গ্যাস ট্যাক্স বাতিলের একটি জনবান্ধব প্রস্তাবনাকে "রাস্তা মেরামত ও পরিবহনের তহবিল বাতিল" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। এই ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই প্রোপোজিশন ৩৯-এর সমর্থক গোষ্ঠী 'রিফর্ম ক্যালিফোর্নিয়া' বোন্টার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। যদিও অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী, আদালত সাধারণত ব্যালটের ভাষা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলদের পক্ষেই রায় দিয়ে থাকে। তবে শুক্রবার এক তহবিল সংগ্রহের প্রচারণায় সংগঠনটি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছে, লড়াই না করে তারা এই প্রকাশ্য দুর্নীতির কাছে কোনোভাবেই মাথা নত করবে না।
যুক্তরাজ্যে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষী হামলা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে গড়ে প্রতি পাঁচ দিনে একটি মসজিদে হামলার ঘটনা ঘটছে। মুসলিমবিদ্বেষী ঘৃণা পর্যবেক্ষণে ব্রিটিশ সরকারের আনুষ্ঠানিক অংশীদার ‘ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট’ (বিএমটি)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। সংস্থাটির দেওয়া তথ্যমতে, গত ১২ মাসে যুক্তরাজ্যে মসজিদকেন্দ্রিক অন্তত ৭০টি হামলার ঘটনা নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যার মধ্যে শারীরিক আক্রমণ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো গুরুতর অপরাধ রয়েছে। এসব হামলার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে লন্ডন, গ্রেটার ম্যানচেস্টার এবং ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস তালিকার একেবারে শীর্ষে অবস্থান করছে। সাম্প্রতিক কিছু হামলার ধরন বেশ উদ্বেগজনক। উদাহরণস্বরূপ, গত বছরের (২০২৫) অক্টোবরে পূর্ব সাসেক্সের পিসহ্যাভেনে এক ব্যক্তি একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে, ওই বছরের জুলাই মাসে শেফিল্ডের একটি মসজিদের বাইরে এক ব্যক্তি ইঁদুর ছেড়ে দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল। উদ্ভূত এমন পরিস্থিতির মুখে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (হোম অফিস) ‘প্রোটেক্টিভ সিকিউরিটি ফর মস্কস স্কিম’-এর আওতায় মসজিদ, মুসলিম স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর নিরাপত্তায় ৪ কোটি (৪০ মিলিয়ন) পাউন্ড পর্যন্ত বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দেয়। এই অর্থ নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্ম স্থাপনসহ অন্যান্য নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপে ব্যয়ের কথা জানানো হয়েছিল। তবে ব্রিটিশ মুসলিম ট্রাস্ট অভিযোগ করেছে, সরকারি এই তহবিলের অর্থ পেতে মসজিদগুলোকে আগে প্রমাণ করতে হয় যে তারা ইতিমধ্যে হামলার শিকার হয়েছে। অনেক মসজিদকে এই সহায়তা পেতে ১৮ মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আবার কোনো কোনো আবেদন বিনা ব্যাখ্যাতেই সরাসরি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। নতুন এই পরিসংখ্যানের বিষয়ে বিএমটি-এর প্রধান নির্বাহী আকিলা আহমেদ বলেন, মসজিদগুলোর নিরাপত্তায় সরকারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। হামলার মাত্রা যে ক্রমশ বাড়ছে, তা অনুধাবন করে এখনই যথাযথ প্রস্তুতি নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি। শুধু মসজিদ হওয়ার কারণেই এসব উপাসনালয় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি তহবিল বিতরণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করতে এর বিকেন্দ্রীকরণের পরামর্শ দিয়েছেন। এদিকে, যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন, তারা সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
মনোরম আবহাওয়া এবং সাশ্রয়ী জীবনযাত্রার জন্য প্রবাসীদের কাছে পর্তুগাল এমনিতেই দারুণ জনপ্রিয় একটি গন্তব্য। এবার বিদেশি ও প্রবাসীদের আকৃষ্ট করতে দেশটির সরকার নিয়ে এসেছে ‘এমপ্রেগো ইন্টেরিয়র মাইস’ নামের একটি বিশেষ প্রণোদনা প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় পর্তুগালের নির্দিষ্ট কিছু গ্রামাঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস এবং কাজের শর্ত পূরণ করলে আবেদনকারীদের হাজার হাজার ডলার আর্থিক সহায়তা বা অনুদান দেওয়া হচ্ছে। তবে যারা লিসবন বা পোর্তোর মতো বড় ও ব্যস্ত শহরে থাকতে চান, তারা এই অনুদান পাবেন না। এর বদলে আলেন্তেজো বা ট্যাগাস ভ্যালির মতো গ্রামীণ বা অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে বসবাস করলেই কেবল এই বিশাল আর্থিক সুবিধা মিলবে। এই কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তার পরিমাণ আবেদনকারীর নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। তবে অনুদানের মূল পরিমাণ হিসেবে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৯ ইউরো (প্রায় ৪ হাজার ৩৭৮ ডলার) পর্যন্ত পেতে পারেন। এর পাশাপাশি পরিবারের অন্য কোনো সদস্য সাথে গেলে জনপ্রতি আরও ২০ শতাংশ করে অনুদান যোগ হবে। অনুমোদনের ১০ কর্মদিবসের মধ্যে মোট অর্থের ৬০ শতাংশ এবং কাজ বা ব্যবসা শুরুর ১৩তম মাসে বাকি ৪০ শতাংশ অর্থ প্রদান করা হয়। নতুন কর্মসংস্থান খুঁজছেন এমন বেকার ব্যক্তি, প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার বা রিমোট ওয়ার্কার এবং ২০১৫ সালের পর পর্তুগাল ছেড়ে অন্তত এক বছর বিদেশে থাকা প্রবাসীরা এই অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এই লোভনীয় সুবিধার একটি বড় শর্ত হলো, আবেদনকারীকে অবশ্যই অন্তত ১২ মাসের জন্য ওই অঞ্চলে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। বিদেশিরা চাইলেই সরাসরি পর্তুগালে গিয়ে এই অনুদান পাবেন না; এর জন্য তাদের প্রথমে বৈধ রেসিডেন্সি বা বসবাসের আইনি অনুমতি থাকতে হবে। তবে যারা এই আর্থিক অনুদানের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না, তাদের জন্যও পর্তুগালে বসবাসের চমৎকার বিকল্প সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটাল নোম্যাড বা রিমোট ওয়ার্কাররা 'ডি৮' (D8) ভিসার মাধ্যমে পর্তুগালে যাওয়ার সুযোগ পান। এই ভিসার অধীনে এক বছরের অস্থায়ী বসবাস কিংবা চার মাসের প্রাথমিক রেসিডেন্সি ভিসা নিয়ে পরবর্তীতে সরকারি সংস্থা 'এআইএমএ'-এর (AIMA) মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করা যায়।
শুক্রবার ক্যাপিটল হিলে এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত নেতানিয়াহু কিংবা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাদের গ্রেপ্তার করা। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রো খান্নার ভাষায়, বিষয়টি মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন এলাকায় প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ২০২৪ সালে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না। রো খান্নার এই মন্তব্যের আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মামদানি জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে তিনি শহরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, মেয়র হিসেবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সরাসরি আইনি ক্ষমতা তার নেই। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের ক্ষমতা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানি এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আইসিসির সঙ্গে একমত হয়ে তিনি মনে করেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এদিকে রো খান্না নিজেও সম্প্রতি ইসরায়েল সফরের সময় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের হাতে কিছু সময়ের জন্য আটক হওয়ার দাবি করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন এই ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরেই নতুন করে এই বিতর্ক সামনে এসেছে। সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এরই মধ্যে স্পষ্ট। ফলে মামদানি ও রো খান্নার আহ্বান মূলত রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককেই আরও জোরালো করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টা ভোটার আইডি আইনের ব্যালটের ভাষা পরিবর্তন করে ব্যাপক তোপের মুখে পড়েছেন। ডেমোক্র্যাট এই নেতার বিরুদ্ধে 'প্রোপোজিশন ৩৯'-এর বর্ণনায় শেষ মুহূর্তে বিভ্রান্তিকর পরিবর্তন এবং কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। এই প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের সরকারি আইডি অথবা ডাকযোগে ভোটের ক্ষেত্রে আইডি নম্বরের শেষ চার অঙ্ক প্রদান করতে হবে। কিন্তু ব্যালটে এর ভাষা এমনভাবে বদলে দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, মূল বর্ণনায় প্রোপোজিশন ৩৯-কে "অতিরিক্ত ভোটার শনাক্তকরণ এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তা প্রতিষ্ঠা করার" একটি আইনি পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু এটি নভেম্বরের ব্যালটের জন্য চূড়ান্ত হওয়ার পর বোন্টা এর ভাষা বদলে লেখেন, এটি এমন একটি প্রস্তাবনা যা "সরকারি আইডি প্রদর্শন না করলে নাগরিকদের ভোট দেওয়া নিষিদ্ধ করে।" এই তীব্র সমালোচিত পরিবর্তনের সাফাই গাইতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) বোন্টা জানান, ভোটারদের কাছে আরও স্পষ্ট করার জন্যই এমনটা করা হয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী এটি সম্পূর্ণ বৈধ। তিনি দাবি করেন, ব্যালটের নয়টি প্রস্তাবনারই ভাষা সম্পাদনা করা হয়েছে এবং ক্যালিফোর্নিয়া বিচার বিভাগ (ডিওজে) ভোটারদের সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে তার এই যুক্তিতে মোটেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি সাধারণ মানুষ। এক্সে অনেকেই তাকে 'প্রতারক' ও 'অসৎ' আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের সুরকার ব্রায়ান রালস্টন মন্তব্য করেন, বোন্টা ইচ্ছা করেই বিলটির মূল উদ্দেশ্য থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরাতে কারচুপির আশ্রয় নিয়েছেন, কারণ তিনি জানেন অন্যথায় তিনি হেরে যাবেন। উল্লেখ্য, ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলদের এমন পক্ষপাতদুষ্ট ভাষা ব্যবহারের ইতিহাস নতুন নয়। এর আগে গ্যাস ট্যাক্স বাতিলের একটি জনবান্ধব প্রস্তাবনাকে "রাস্তা মেরামত ও পরিবহনের তহবিল বাতিল" হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল, যা ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। এই ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেই প্রোপোজিশন ৩৯-এর সমর্থক গোষ্ঠী 'রিফর্ম ক্যালিফোর্নিয়া' বোন্টার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে। যদিও অতীতের রেকর্ড অনুযায়ী, আদালত সাধারণত ব্যালটের ভাষা নির্ধারণের ক্ষেত্রে অ্যাটর্নি জেনারেলদের পক্ষেই রায় দিয়ে থাকে। তবে শুক্রবার এক তহবিল সংগ্রহের প্রচারণায় সংগঠনটি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছে, লড়াই না করে তারা এই প্রকাশ্য দুর্নীতির কাছে কোনোভাবেই মাথা নত করবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে অবস্থিত ওবামা প্রেসিডেন্সিয়াল সেন্টারের নির্মাণকাজে বকেয়া বিল নিয়ে বিতর্ক যেন থামছেই না। এই মেগা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত আরও তিনটি সাবকন্ট্রাক্টর (উপ-ঠিকাদার) প্রতিষ্ঠান প্রায় ৯ লাখ ডলার বকেয়া পাওনার দাবিতে আইনি নোটিশ বা 'মেকানিক্স লিয়েন' দায়ের করেছে। মূলত নির্মাণকাজে বকেয়া অর্থ আদায়ের জন্য এই আইনি পদক্ষেপ একটি সাধারণ প্রক্রিয়া। এর আগে মূল ক্যাম্পাসের কাজ নিয়ে এমন অভিযোগ উঠলেও, এবারের অভিযোগগুলো সেন্টারের 'হোম কোর্ট' নামক ৬০ হাজার বর্গফুটের বিশাল বাস্কেটবল ও ইভেন্ট সুবিধার নির্মাণকাজকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। পাওনাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কাঠামোগত স্টিলের কাজ করা 'এরিয়া ইরেক্টরস' প্রায় ৬ লাখ ২০ হাজার ডলার এবং মাটি খনন ও কংক্রিটের কাজ করা 'সিএসআই ৩০০০' প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ডলার দাবি করেছে। অন্যদিকে, জিমনেশিয়ামের মেঝের কাজ করা 'ফ্লোরস ইনকর্পোরেটেড' প্রায় ২৫ হাজার ডলার পাওয়ার কথা জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ওবামা ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে মূল ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ কাজ 'লেকসাইড অ্যালায়েন্স' করলেও, হোম কোর্টের নির্মাণের দায়িত্বে ছিল 'এলিভেট ডিজাইন বিল্ডার্স' নামের একটি পৃথক জয়েন্ট ভেঞ্চার। তবে সম্পত্তির ওপর এই লিয়েন দায়ের হলেও, বিল পরিশোধের আইনি দায়ভার ঠিক কোন কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তাবে, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। এলিভেট কিংবা ওবামা ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এই মেগা প্রকল্পটির প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৩৫ কোটি ডলার, যা বর্তমানে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। নির্মাণকাজের শুরু থেকেই ব্যয় বৃদ্ধি, চুক্তির নিয়মকানুন এবং বৈচিত্র্য রক্ষার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নানামুখী আইনি জটিলতায় পড়েছে প্রকল্পটি। এর আগে কৃষ্ণাঙ্গ ঠিকাদারদের কয়েক মিলিয়ন ডলারের পাওনা, 'কংক্রিট কালেক্টিভ'-এর ৪০ মিলিয়ন ডলারের দাবি এবং 'অ্যাডামসন প্লাম্বিং'-এর প্রায় ৪০ লাখ ডলার লোকসানের জেরে কর্মী ছাঁটাইয়ের মতো চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছিল। এমনকি এই প্রকল্পে কাজ করতে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের দেউলিয়া ঘোষণা করার আবেদনও করেছিল বলে জানা যায়। নতুন এই তিনটি দাবির পাশাপাশি আরও প্রায় ৫ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের তিনটি পৃথক লিয়েন দায়েরের তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে সরঞ্জাম ভাড়ার জন্য 'ও'লিয়ারিস কন্ট্রাক্টরস', শ্রমিকদের সুবিধার তহবিলে 'সিমেন্ট মেসনস ইউনিয়ন ট্রাস্ট' এবং শ্রম ও কাঁচামাল সরবরাহের জন্য 'ইনটেক কনস্ট্রাকশন প্রোডাক্টস' তাদের বকেয়া দাবি করেছে। ইনটেক কনস্ট্রাকশনের এক কর্মকর্তা জানান, প্রত্যাশা অনুযায়ী সময়মতো বিল পরিশোধ না করায় এই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে প্রকল্পের অন্যতম মূল ঠিকাদার লেকসাইড অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শত শত প্রতিষ্ঠান এই মেগা প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকায় উদ্বোধনের পরও চুক্তিভিত্তিক লেনদেন মেটানোর কাজ স্বাভাবিক গতিতেই চলমান রয়েছে এবং বকেয়া বিষয়গুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিবারের সাথে ছুটি কাটাতে গিয়ে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে ৮ বছর বয়সী এক শিশু। পোর্টেবল ফায়ার পিট বা টেবিলটপ ফায়ারপ্লেস হঠাৎ বিস্ফোরিত হলে ওই শিশু মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয় এবং আহত অবস্থায় আরেক শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অ্যারিজোনা থেকে আসা ওই পরিবারের আনন্দঘন সমুদ্রভ্রমণ মুহূর্তেই এক বিভীষিকায় পরিণত হয়। জানা যায়, জুনের শেষের দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার ওশানসাইডে ক্যাম্পিং করার সময় পিটারসন পরিবার ফায়ার পিটে মার্শম্যালো ভাজছিল। এ সময় কোনো ধরনের পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই 'ফ্লিকারফায়ার' (FlikrFire) নামের ওই পোর্টেবল ফায়ারপ্লেসটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী ব্রকের শরীর আগুনে ঝলসে যায় এবং তার হাত, ঘাড় ও মুখে দ্বিতীয় মাত্রার (সেকেন্ড-ডিগ্রি) গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে বাবা জন পিটারসনের হাতও মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। ব্রকের বাবা সংবাদমাধ্যম এনবিসি ৭-কে জানান, ফায়ার পিট থেকে হঠাৎ একটি বিশাল আগুনের গোলা বেরিয়ে এসে তার ছেলেকে মশালে পরিণত করে, যা দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। ভয়াবহ এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ব্রকের মা আমান্ডা এবং তার দুই ছোট ভাই-বোন, ছয় বছরের মলি ও চার বছরের ডিনের চোখের সামনেই ঘটে। পরিবারের বন্ধুদের খোলা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজ থেকে জানা যায়, দুর্ঘটনার পরপরই ব্রক ও অন্য এক আহত শিশুকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ বার্ন ইউনিটে ১৯ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ব্রক বর্তমানে স্কিন গ্রাফট সার্জারি শেষে ধীরে ধীরে সেরে উঠছে। ইনডোর ও আউটডোরে ব্যবহারের উপযোগী এই গোলাকার ফ্লিকারফায়ার ফায়ারপ্লেসটি মূলত আইসোপ্রোপাইল রাবিং অ্যালকোহল দিয়ে জ্বালানো হতো। একসময় অ্যামাজনে ব্যাপকভাবে বিক্রি হলেও, মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মার্কিন কনজিউমার প্রোডাক্ট সেফটি কমিশন (CPSC) পণ্যটি বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। এই প্রত্যাহারের আগে ফায়ার পিটটির কারণে অন্তত দুজনের মৃত্যু এবং ২০১৯ সাল থেকে কমপক্ষে ৬০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। এর আগে ২০২৩ সালেও কানাডিয়ান কর্মকর্তারা অগ্নিদগ্ধের অভিযোগ পাওয়ার পর একই পণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন।
শুক্রবার ক্যাপিটল হিলে এক সাক্ষাৎকারে রো খান্না বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্টের উচিত নেতানিয়াহু কিংবা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্রে এলে তাদের গ্রেপ্তার করা। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইসিসির সঙ্গে সহযোগিতা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি। রো খান্নার ভাষায়, বিষয়টি মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত। তার দাবি, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আওতাধীন এলাকায় প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ২০২৪ সালে আইসিসি নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। গাজায় হামাসের সঙ্গে ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। ইসরায়েল অবশ্য এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে এবং আইসিসির এখতিয়ারও স্বীকার করে না। রো খান্নার এই মন্তব্যের আগে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। মামদানি জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাকে গ্রেপ্তারের কোনো আইনি সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে তিনি শহরের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পরে তিনি স্বীকার করেন, মেয়র হিসেবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের সরাসরি আইনি ক্ষমতা তার নেই। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের এ ধরনের ক্ষমতা থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মামদানি এর আগে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আইসিসির সঙ্গে একমত হয়ে তিনি মনে করেন, নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জারি করা অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত। মামদানির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কোনোভাবেই নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না। এদিকে রো খান্না নিজেও সম্প্রতি ইসরায়েল সফরের সময় পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের হাতে কিছু সময়ের জন্য আটক হওয়ার দাবি করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতা তার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। ২০২৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন এই ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান। নেতানিয়াহুর সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র সফরকে ঘিরেই নতুন করে এই বিতর্ক সামনে এসেছে। সফরে তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের শেষকৃত্যেও তার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে কি না, তা নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান এরই মধ্যে স্পষ্ট। ফলে মামদানি ও রো খান্নার আহ্বান মূলত রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিতর্ককেই আরও জোরালো করেছে।
ইউরোপের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যগুলো যখন অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন স্পেনের বার্সেলোনা স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছে, "আর একজন পর্যটকও নয়।" সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গণ-পর্যটনের (ম্যাস ট্যুরিজম) অন্যতম কড়া সমালোচক হয়ে উঠেছে শহরটি। বার্সেলোনার টেকসই পর্যটন বিষয়ক কমিশনার হোসে আন্তোনিও দোনাইরে মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এড়ানোর এই উদ্যোগে আরও জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, শহরটি আর পর্যটকের সংখ্যা বাড়াতে চায় না। ২০২৫ সালে শহরটিতে ১৫.৭ মিলিয়ন পর্যটক এসেছিলেন, যা তাদের ধারণক্ষমতার একেবারে দ্বারপ্রান্তে। দোনাইরে জানান, বার্সেলোনার জন্য সর্বোচ্চ ১৬ মিলিয়ন পর্যটকই যথেষ্ট, এর বেশি আর তারা গ্রহণ করবেন না। পর্যটকদের ঢল সামলাতে শহরটি বেশ কিছু কঠোর আর্থিক পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্রুজ বা প্রমোদতরীর যেসব যাত্রী ১২ ঘণ্টার কম সময় বার্সেলোনায় অবস্থান করবেন, তাদের প্রায় ৩০ ইউরো (৩৫ ডলার) সমন্বিত কর দিতে হতে পারে। ১৫ জুলাইয়ের এক মিটিংয়ের পর বার্সেলোনা কর্তৃপক্ষ ১২ ঘণ্টার কম থাকা ক্রুজ যাত্রীদের ওপর সর্বোচ্চ ২৪ ইউরো মিউনিসিপ্যাল কর আরোপের প্রস্তাব করেছে, যা আগের পরিকল্পিত ৮ ইউরোর চেয়ে তিনগুণ বেশি। এর পাশাপাশি, বার্সেলোনার মেয়র জাউমে কলবোনি ক্রুজ যাত্রীদের ওপর বর্তমানের ৪ ইউরো কর শতভাগ বাড়িয়ে রাতপ্রতি ৮ ইউরো করার কথা জানিয়েছেন। এছাড়া, গত ১ এপ্রিল থেকে বার্সেলোনা তাদের হোটেল ট্যাক্স প্রায় দ্বিগুণ করেছে, যা জনপ্রতি প্রতি রাতে ৫-৯ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০-১৭ ডলার করা হয়েছে। পর্যটকদের এই বিশাল উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আবাসন খরচ বৃদ্ধি, গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভিড় এবং ঐতিহাসিক এলাকাগুলোতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় শহরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করছে। গত গ্রীষ্মে বার্সেলোনার নাগরিকরা বড় ধরনের বিক্ষোভ করেন, যেখানে ক্ষুব্ধ হয়ে অনেকে পর্যটকদের গায়ে খেলনা বন্দুক (ওয়াটার গান) দিয়ে পানি ছিটিয়ে প্রতিবাদ জানান; ঠিক যেমনটা ২০২৪ সালেও ঘটেছিল। "একজন পর্যটক বাড়া মানে একজন বাসিন্দা কমা" এবং "পর্যটকরা বাড়ি ফিরে যাও"—এমন সব প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা তাদের স্থানীয় অর্থনীতি পুনর্গঠনের দাবি জানান। আন্দ্রেউ মার্তিনেজ নামের এক বাসিন্দা জানান, তার এলাকার অ্যাপার্টমেন্টগুলো এখন প্রতিনিয়ত স্বল্পমেয়াদী ছুটির জন্য ভাড়া দেওয়ায় তার বাড়িভাড়া ৩০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে গেছে। তার মতে, বার্সেলোনাকে পর্যটকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে এবং এখন সময় এসেছে শহরটিকে তার বাসিন্দাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার। তবে কমিশনার দোনাইরে দাবি করেছেন, নতুন এসব নিয়মকানুন মোটেও পর্যটক-বিরোধী নয়; বরং এটি আরও মানসম্মত ও বৈচিত্র্যময় পর্যটক গোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করার কৌশল। তারা মূলত এমন দর্শনার্থীদের চাইছেন যারা ব্যবসা বা সাংস্কৃতিক আকর্ষণের টানে সেখানে যাবেন। তিনি বলেন, কর্তৃপক্ষের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় বাসিন্দারা যেন তাদের নিজেদের এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস যেমন—রুটি বা বই সহজে কিনতে পারেন। শহরটির পুরো জায়গা যেন শুধু স্যুভেনির, ফোন কেস বা কাবাবের দোকানে পরিণত না হয়, সেটি নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। শনিবার এক টেলিফোন আলাপে দুই নেতা লোহিত সাগর ও আরব উপসাগরের সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, ফোনালাপে দুই মন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের সর্বশেষ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন এবং পারস্পরিক সমন্বয় ও পরামর্শ অব্যাহত রাখার ওপর বিশেষ জোর দেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার করতে একটি শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক সমাধানে পৌঁছানোর অংশ হিসেবে উত্তেজনা কমানো এবং আরব উপসাগর ও লোহিত সাগরে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে উভয় নেতাই একমত পোষণ করেছেন। মূলত লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক সময়ে হামলার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে নিন্দার ঝড় ওঠে এবং বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়। উদ্ভূত এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মাঝেই সৌদি আরব ও পাকিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিকদের এই আলোচনা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় আড়াই লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বা ঘরের ভেতরে অবস্থানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় বড় ধরনের অভিযান চলছে। পরিস্থিতিকে উভয় দেশই সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড হিসেবে বর্ণনা করছে। ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিরন্দ ও লঁদ অঞ্চলে দাবানল সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বোর্দোর উপকণ্ঠ পর্যন্ত আগুন ছড়িয়ে পড়ায় ক্যাপ ফেরে উপদ্বীপসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যাপকভাবে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শুধু জিরন্দ অঞ্চল থেকেই প্রায় ১ লাখ ৬৭ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে ফ্রান্সে প্রায় দুই লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। দাবানল নিয়ন্ত্রণে প্রায় দেড় হাজার সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে ফরাসি সরকার। পাশাপাশি অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও অন্যান্য জরুরি সরঞ্জাম ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে প্রবল বাতাস, শুষ্ক আবহাওয়া এবং উচ্চ তাপমাত্রার কারণে পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত জটিল বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। অন্যদিকে স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চলে একাধিক দাবানল একত্রিত হয়ে বড় আকার ধারণ করায় দেশটির সরকার প্রথমবারের মতো জাতীয় পর্যায়ে দাবানল-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। প্রায় ২৫ হাজার মানুষকে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আরও প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে নিরাপত্তার স্বার্থে ঘরের ভেতরে অবস্থান করতে বলা হয়েছে। শনিবার মাদ্রিদের কাছে সেনিসিয়েন্তোস এলাকার অগ্নিনিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন রক্ষা করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এখনো কঠিন লড়াই বাকি রয়েছে। মাদ্রিদ অঞ্চলের জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তাদের ভাষ্য, দাবানল এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনীকে নজিরবিহীন চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশ থেকেও অগ্নিনির্বাপণ বিমান ও সহায়তা পাঠানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে চলমান ধারাবাহিক তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের খরা এবং প্রবল বাতাস দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ ধরনের চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র হয়ে উঠছে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
ভারতের মহারাষ্ট্র শিক্ষক যোগ্যতা পরীক্ষা (মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬) প্রশ্নফাঁস মামলার কথিত মূল পরিকল্পনাকারী বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর তাকে আটক করা হয়। পরে পুনে বিমানবন্দরে আনা হলে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে তদন্তকারী কর্মকর্তারা। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রশ্নফাঁসের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) এর আগে উত্তর প্রদেশের আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই গোপনে সেটির কপি বাইরে পাচার করা হয়। বিজেন্দ্র গুপ্ত গ্রেপ্তার হওয়ার মধ্য দিয়ে এ মামলায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেড়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে, ছাপাখানার কর্মী নরেশকুমার পুরানচাঁদ মাহোর ছাপার সময় গোপনে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ করেন। পরে সেটি ছাপাখানার সাবেক কর্মী সঞ্জয় কুমার শর্মা এবং আরেক অভিযুক্ত সোনু কুমারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের দাবি, সেখান থেকেই প্রশ্নপত্র বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তের হাতে যায় এবং তিনিই পুরো প্রশ্নফাঁস চক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে কাজ করেন। পুলিশের ভাষ্য, সঞ্জয় কুমার শর্মা আগে ওই ছাপাখানার প্যাকেজিং বিভাগের প্রধান ছিলেন এবং সোনু কুমারও একই বিভাগে কর্মরত ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকায় তারা প্রশ্নপত্রে অবৈধভাবে প্রবেশাধিকার পেয়েছিলেন বলে তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কৌঁসুলি সুমিত যাদব আদালতে জানান, অভিযুক্তদের সঙ্গে বিজেন্দ্র গুপ্তের যোগাযোগ, প্রশ্নফাঁসের বিনিময়ে অর্থ লেনদেন এবং প্রত্যেকের নির্দিষ্ট ভূমিকা জানতে তাদের পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে রিমান্ডের অনুমতি দেন। এদিকে তদন্তের সময় গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার বিজয় মারাঠে জানান, কার্তুজগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং কী উদ্দেশ্যে সেগুলো নিজের কাছে রাখা হয়েছিল, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মহারাষ্ট্র টিইটি পরীক্ষা রাজ্যের সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে আসার পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তদন্তকারীরা এখন পুরো চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং প্রশ্নপত্র কতজনের কাছে পৌঁছেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গ্রাম সাররায় শতাধিক ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীর হামলায় একাধিক বাড়িঘর ও যানবাহনে আগুন দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার পর আতঙ্কে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যান। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাসিন্দারা ধ্বংসস্তূপে ফিরে এসে পোড়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআনের কপি উদ্ধার করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানায়, শুক্রবার রাতে প্রায় ২০০ জন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নাবলুস শহরের পশ্চিমে অবস্থিত সাররা গ্রামে ঢুকে পরিকল্পিতভাবে বাড়িঘর ও গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বহু পরিবারের বছরের পর বছর ধরে গড়ে তোলা বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হামলার পর পুরো এলাকাজুড়ে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রাণ বাঁচাতে অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে আগুন নেভার পর তারা ফিরে এসে পোড়া ঘরের ধ্বংসাবশেষ থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধারের চেষ্টা করেন। অনেকেই আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরের ভেতর থেকে পবিত্র কোরআন উদ্ধার করেন, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই নাবলুসের কাছে তাল গ্রামে সংঘর্ষে চার ফিলিস্তিনি ও দুই ইসরায়েলি নিহত হন। ঘটনার পর পুরো নাবলুস অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করে ইসরায়েলি বাহিনী, বিভিন্ন সড়কে চেকপোস্ট বসানো হয় এবং পরে সেখানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হয়। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শুরু থেকেই অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ ধরনের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত বা আহত হওয়ার পাশাপাশি শত শত পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশ্বের সবচেয়ে ধনী উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক সতর্ক করে বলেছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে মানুষের আর তার ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, এই প্রযুক্তিই পৃথিবীতে অভূতপূর্ব সমৃদ্ধি এনে দিতে পারে এবং অর্থের গুরুত্বও অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। দ্য ইকোনমিস্টকে দেওয়া এক বিস্তৃত সাক্ষাৎকারে মাস্ক বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এআই সম্মিলিত মানব বুদ্ধিমত্তাকে অতিক্রম করতে পারে। আর প্রায় ১০ বছরের মধ্যে প্রযুক্তিটি এতটাই উন্নত হবে যে মানুষ আর এর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে না। মাস্কের ভাষ্য, উন্নত রোবট ও এআই মানুষের অধিকাংশ কাজ করে দিতে সক্ষম হবে। ফলে এমন এক অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যেখানে পণ্য ও সেবার প্রাচুর্য এতটাই বেড়ে যাবে যে অর্থের বর্তমান গুরুত্ব অনেকটাই কমে যাবে। তাঁর মতে, ভবিষ্যতে মানুষ বাধ্য হয়ে কাজ করার পরিবর্তে নিজের পছন্দের কাজ বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে এই আশাবাদের পাশাপাশি এআই নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন টেসলা ও এক্সএআইয়ের প্রধান। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন এখন আর থামানো সম্ভব নয়। তাই বিশ্বের শীর্ষ এআই কোম্পানিগুলোর উচিত সবচেয়ে উন্নত মডেল প্রকাশের আগে একে অপরের প্রযুক্তি পর্যালোচনা করা এবং নিয়মিত নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা করা। তাঁর মতে, শিল্পখাত নিজেই যদি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে না পারে, তখনই কেবল সরকারের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন হবে। সাক্ষাৎকারে নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন মাস্ক। তিনি স্বীকার করেন, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি রাজনীতিতে "একটু বেশিই জড়িয়ে পড়েছিলেন"। যদিও নিজের অনেক অবস্থানকে এখনো সঠিক বলে মনে করেন, তবুও অতিরিক্ত রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বিতর্ক বেড়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এআইয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের মধ্যেই মাস্কের এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, সরকার এবং গবেষকেরা এখন এমন একটি কাঠামো তৈরির চেষ্টা করছেন, যাতে দ্রুত বিকাশমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানবসমাজের জন্য নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।