Live update news
রুশ ক্ষে পণাস্ত্রের হু মকিতে অ্যান্টার্কটিকার মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল মার্কিন সামরিক বিমান
রুশ ক্ষে পণাস্ত্রের হু মকিতে অ্যান্টার্কটিকার মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল মার্কিন সামরিক বিমান

নিউজিল্যান্ড থেকে অ্যান্টার্কটিকা যাওয়ার পথে ‘মহাকাশ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রম’-এর সতর্কবার্তা পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান। গত মঙ্গলবার সকালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ থেকে উড্ডয়নের তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ মডেলের মার্কিন বিমানটি আবার সেখানে ফিরে আসে।   আইসিই২৮ (ICE28) কল সাইনযুক্ত এই ফ্লাইটটি নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএ) জারি করা পাইলটদের জন্য একটি বিশেষ নোটিশ বা 'নোটাম' (NOTAM)-এর কারণেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়।   সিএএ-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন তাদেরকে ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রমের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিল। পরবর্তীতে জানানো হয় যে, এটি ছিল মূলত রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সতর্কতা।   এর ফলে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় সিএএ পাইলটদের জন্য এই নোটাম জারি করে। এই বিপদের আশঙ্কাটি তৈরি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড নিয়ন্ত্রিত ‘ওশেনিক ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর)’ এলাকার মধ্যে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার চুক্তির অধীনে নিউজিল্যান্ড পরিচালনা করে থাকে।   নিউজিল্যান্ডের এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের মতে, এফআইআর অঞ্চলটি প্রায় তিন কোটি বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর বেশিরভাগ অংশই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর এবং তাসমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্গত। তবে সিএএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা ওই এলাকাটিকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করলেও, তা বিমান চলাচলে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছিল না; বরং ফ্লাইটের অপারেটরদের সতর্ক করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।   উল্লেখ্য, মার্কিন বিমানবাহিনীর এই ফ্লাইটটি তাদের বার্ষিক শীতকালীন ফ্লাইটের একটি অংশ ছিল। অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালীন গবেষণা মৌসুম শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গবেষকদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রতি বছর ক্রাইস্টচার্চ থেকে এই রুটিন ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হয়।

৮ মিনিট Ago
ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে হিজাব পরা মুসলিম নারীকে পথ আটকে থুতু ও হ ত্যার হুমকি, ‘হেইট ক্রাইম’ তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি ইউনিভার্সিটির (ইউকে) এক মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তা, মুখে থুতু নিক্ষেপ এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলড্রেনস হাসপাতাল থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে ড. হুদা শালাশ নামের ওই নারী এই বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হন।   তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজকর্ম বিভাগের একজন প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মুসলিমদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) বুধবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে 'হেইট ক্রাইম' বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে।   ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ জানান, মাথায় হিজাব পরিহিত অবস্থায় তিনি যখন নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি তার পথ আটকে দাঁড়ায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি তার মুখে থুতু ছিটিয়ে দেয় এবং তাদের মতো মানুষদের প্রতি সে কেমন ধারণা পোষণ করে, তা নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করতে থাকে।   একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ড. শালাশ সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বুঝতে পারেন লোকটি তাকে অনুসরণ করছে। এ সময় কাছাকাছি থাকা একজন নির্মাণশ্রমিক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং ড. শালাশকে ওই আক্রমণকারীর হাত থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।   এই ঘটনার পর ড. শালাশ কেন্টাকি ইউনিভার্সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (ইউকেপিডি) এবং লেক্সিংটন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউকেপিডি এক ভয়েসমেইলের মাধ্যমে তাকে জানিয়েছে যে, তারা ইতোমধ্যে ওই আক্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।   সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুভ-ইন টিম'-এর টি-শার্ট পরা থাকলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মী নয়। ড. শালাশ তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ার করার পর সারা দেশ থেকে অনেক মুসলিম নারী নিজেদের একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।   তবে এই কঠিন সময়ে স্থানীয় লেক্সিংটন কমিউনিটির মানুষ তাকে ব্যাপক মানসিক সমর্থন ও নিরাপত্তা জুগিয়েছে। বর্তমানে ড. শালাশ সেই সহৃদয়বান নির্মাণশ্রমিককে খুঁজছেন, যেন তাকে সামনাসামনি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেন।

৩৪ মিনিট Ago
ইরান যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নি হত, আহত ৭৫০-এর বেশি; প্রকাশ্যে পেন্টাগনের তথ্য I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নি হত, আহত ৭৫০-এর বেশি; প্রকাশ্যে পেন্টাগনের তথ্য

ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হতাহতের তথ্যভান্ডার ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিক্যাস) হালনাগাদ করার পর এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।   গত বুধবার পেন্টাগন নতুন করে আরও ৫০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য এই তালিকায় যুক্ত করেছে। ডিক্যাসের ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগের সাথে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সর্বমোট ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।   ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে যখন আলোচনা পুরোপুরি থমকে আছে, ঠিক তখনই মার্কিন বাহিনীর এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ্যে এল।   পেন্টাগনের এই তথ্য প্রকাশ নিয়ে বেশ বিতর্কও তৈরি হয়েছে। গত মাসে ডিক্যাসের তালিকা থেকে নিহত চারজন এবং বেশ কয়েকজন আহত সেনার নাম হঠাৎ করেই বাদ পড়ে যায়, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা চরম সমালোচনা শুরু করেন। পরবর্তীতে পেন্টাগন দাবি করে যে ‘সাময়িক তথ্যগত বিঘ্নের’ কারণে এই ভুল হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় তালিকায় যুক্ত করা হয়।   পেন্টাগন গত মাসেই ডিক্যাসে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যেখানে ৭ জুলাই থেকে হতাহতদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে ৭ জুলাই তারিখেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আওতায় কংগ্রেসকে ইরানের সাথে নতুন সংঘাত শুরুর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। তবে কোন নির্দিষ্ট সংঘাতে এই সেনারা হতাহত হয়েছেন, সে ব্যাপারে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পেন্টাগন শুরু থেকেই আহত সেনাদের তথ্য প্রকাশে বেশ ধীরগতি অবলম্বন করে আসছে। এতসব উদ্বেগ ও প্রাণহানির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে পরিস্থিতি বর্তমানে ‘খুব ভালো’।   তবে তিনি তেহরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আলোচনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালি এখনও চরম উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

১ ঘন্টা Ago
স্মার্টফোন ছেড়ে বাস্তব জীবনে ফিরছেন নিউইয়র্কের তরুণরা
স্মার্টফোন ছেড়ে বাস্তব জীবনে ফিরছেন নিউইয়র্কের তরুণরা, ‘লুডাইট ক্লাব’-এ বাড়ছে সদস্য

প্রযুক্তির এই চরম উৎকর্ষের যুগে যখন সবার চোখ আটকে থাকে মোবাইলের স্ক্রিনে, তখন এক ভিন্ন পথে হাঁটছেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির একদল তরুণ। স্মার্টফোনের অতিরিক্ত আসক্তি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে তারা পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন অত্যাধুনিক এই যন্ত্রটির ব্যবহার।   গড়ে তুলেছেন ‘লুডাইট ক্লাব’ নামের একটি অভিনব সংগঠন। এই ক্লাবের সদস্যদের দাবি, স্মার্টফোন বর্জনের পর তাদের জীবন আগের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধ ও প্রশান্তিময় হয়েছে এবং তারা এখন চারপাশের মানুষের সঙ্গে ভার্চুয়াল জগতের বদলে বাস্তব যোগাযোগের ক্ষেত্রে অধিক মনোযোগী হতে পারছেন।   ‘লুডাইট ক্লাব’-এর এই তরুণ সদস্যরা স্মার্টফোনের বদলে ব্যবহার করছেন ইন্টারনেট সুবিধাবিহীন সাধারণ মোবাইল বা ফিচার ফোন। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মোহ, সারাক্ষণ নোটিফিকেশন চেক করার মানসিক চাপ এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার ক্ষতিকর অভ্যাস থেকে তারা সহজেই নিজেদের দূরে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন।   ক্লাবের সদস্যদের মতে, হাতে স্মার্টফোন থাকলে মানুষ একই জায়গায় বসেও একে অন্যের সঙ্গে কথা বলার পরিবর্তে নিজের ফোনেই বেশি ব্যস্ত থাকে। কিন্তু স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়ার পর থেকে তারা পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সরাসরি আড্ডা ও গল্পগুজবে অনেক বেশি গুণগত সময় পার করতে পারছেন।   তরুণদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিছক প্রযুক্তি ব্যবহার কমানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি তরুণ প্রজন্মের ওপর স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে বাড়তে থাকা বৈশ্বিক উদ্বেগেরই একটি বাস্তব প্রতিফলন। বিশেষ করে জেন-জি (Gen-Z) প্রজন্মের একটি বড় অংশ এখন পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের বাইরে গিয়ে স্বাভাবিক ও মানবিক সামাজিক অভিজ্ঞতা খুঁজছে।   তবে বর্তমান বাস্তবতায় সবার জন্য স্মার্টফোন পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়া খুব একটা সহজ বা বাস্তবসম্মত নয়। যোগাযোগ, প্রাতিষ্ঠানিক কাজ, পড়াশোনা, ব্যাংকিং সেবাসহ দৈনন্দিন জীবনের নানা অপরিহার্য সেবার সঙ্গে স্মার্টফোনের ব্যবহার এখন গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। তা সত্ত্বেও, ডিজিটাল দুনিয়ার আসক্তি কমিয়ে বাস্তব জীবনে মনোযোগ ফেরাতে নিউইয়র্কের এই তরুণদের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি বড় অনুপ্রেরণা।

১ ঘন্টা Ago
আন্তর্জাতিক
ইরান যুদ্ধে ১৮ মার্কিন সেনা নি হত, আহত ৭৫০-এর বেশি; প্রকাশ্যে পেন্টাগনের তথ্য

ইরানের সাথে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫০ জনেরও বেশি সেনা আহত হয়েছেন এবং ১৮ জন নিহত হয়েছেন। সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের হতাহতের তথ্যভান্ডার ‘ডিফেন্স ক্যাজুয়ালটি অ্যানালাইসিস সিস্টেম’ (ডিক্যাস) হালনাগাদ করার পর এই চাঞ্চল্যকর পরিসংখ্যান সামনে এসেছে।   গত বুধবার পেন্টাগন নতুন করে আরও ৫০ জনের বেশি আহত সেনার তথ্য এই তালিকায় যুক্ত করেছে। ডিক্যাসের ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ বিভাগের সাথে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে সর্বমোট ১৮ জন মার্কিন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৭৫৭ জন আহত হয়েছেন।   ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনে যখন আলোচনা পুরোপুরি থমকে আছে, ঠিক তখনই মার্কিন বাহিনীর এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ্যে এল।   পেন্টাগনের এই তথ্য প্রকাশ নিয়ে বেশ বিতর্কও তৈরি হয়েছে। গত মাসে ডিক্যাসের তালিকা থেকে নিহত চারজন এবং বেশ কয়েকজন আহত সেনার নাম হঠাৎ করেই বাদ পড়ে যায়, যা নিয়ে সংবাদমাধ্যম ও আইনপ্রণেতারা চরম সমালোচনা শুরু করেন। পরবর্তীতে পেন্টাগন দাবি করে যে ‘সাময়িক তথ্যগত বিঘ্নের’ কারণে এই ভুল হয়েছিল এবং পরে তা পুনরায় তালিকায় যুক্ত করা হয়।   পেন্টাগন গত মাসেই ডিক্যাসে ‘ওভারসিজ অপারেশনস’ নামে একটি নতুন বিভাগ চালু করেছে, যেখানে ৭ জুলাই থেকে হতাহতদের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। ঘটনাচক্রে ৭ জুলাই তারিখেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আওতায় কংগ্রেসকে ইরানের সাথে নতুন সংঘাত শুরুর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। তবে কোন নির্দিষ্ট সংঘাতে এই সেনারা হতাহত হয়েছেন, সে ব্যাপারে পেন্টাগন এখনো স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে পেন্টাগন শুরু থেকেই আহত সেনাদের তথ্য প্রকাশে বেশ ধীরগতি অবলম্বন করে আসছে। এতসব উদ্বেগ ও প্রাণহানির মধ্যেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেছেন যে, ইরানের সাথে পরিস্থিতি বর্তমানে ‘খুব ভালো’।   তবে তিনি তেহরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের আলোচনা আপাতত স্থগিত রেখেছেন। এই যুদ্ধাবস্থার মধ্যে হরমুজ প্রণালি এখনও চরম উত্তেজনাপূর্ণ অঞ্চল হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৫:১৪
বিমানবন্দরে ট্যাক্সি যাত্রা থেকে প্রেম-বিয়ে, ভিসা জটিলতায় এখন দুই দেশে আলাদা অস্ট্রেলিয়ান-ভারতীয় দম্পতি

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক লোরেনা স্টেফানির সঙ্গে ভারতের রাবেকের পরিচয় হয় মাদুরাই বিমানবন্দরে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতের সময় রাবেক তাকে গাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। সেখান থেকে শুরু হওয়া পরিচয় ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব এবং পরে সম্পর্কে গড়ায়। বর্তমানে তারা বিবাহিত এবং একটি সন্তানের বাবা-মা। তবে অস্ট্রেলিয়ার ভিসা জটিলতার কারণে স্বামী-স্ত্রীকে এখনো স্থায়ীভাবে একসঙ্গে বসবাসের সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাদুরাই বিমানবন্দর থেকে প্রায় তিন ঘণ্টার যাত্রাপথেই লোরেনা ও রাবেকের মধ্যে প্রথম ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। এরপর দুজনের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। ভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির হলেও সম্পর্কটি ধীরে ধীরে গভীর হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন।   তাদের বিয়ের ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্যও একটি বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাবেক মুসলিম এবং লোরেনা ক্যাথলিক। দুই পরিবারের মধ্যেও শুরুতে ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য নিয়ে উদ্বেগ ছিল। শেষ পর্যন্ত তারা ভারতের স্পেশাল ম্যারেজ অ্যাক্টের অধীনে আইনগতভাবে বিয়ে করেন।   বিয়ের পরও তাদের একসঙ্গে বসবাসের পথ সহজ হয়নি। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় নিজের পরিবার ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় সেখানে থাকেন, আর রাবেক ভারতে অবস্থান করছেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্বামীর যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পার্টনার ভিসার প্রক্রিয়া এখনো তাদের জন্য বড় বাধা হয়ে আছে।   এর মধ্যেই তাদের ঘরে আসে সন্তান। লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় সন্তান জন্ম দিলেও ভিসা না থাকায় রাবেক সেই সময় সেখানে যেতে পারেননি। ফলে সন্তানের জন্মের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাবাকে পাশে পায়নি পরিবারটি। পরে প্রয়োজনীয় ভ্রমণ নথি সম্পন্ন হওয়ার পর রাবেক তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করতে পারেন।   বর্তমানে লোরেনা ও রাবেককে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সময় ভাগ করে চলতে হচ্ছে। তাদের মূল লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসা প্রক্রিয়া শেষ করে শেষ পর্যন্ত একই দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করা।   এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে বড় ধরনের আর্থিক ব্যয়ও জড়িত। অস্ট্রেলিয়ার পার্টনার ভিসার সরকারি আবেদন ফি বর্তমানে প্রায় ১১ হাজার ৭০০ অস্ট্রেলিয়ান ডলার। এর বাইরে আইনজীবী বা মাইগ্রেশন এজেন্টের সহায়তা নিলে অতিরিক্ত খরচ হতে পারে। তবে লোরেনা ও রাবেকের ক্ষেত্রে মোট খরচ ঠিক কত হয়েছে, তা নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   লোরেনা অস্ট্রেলিয়ায় তার পরিবার ও প্রতিষ্ঠিত পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকায় পুরোপুরি ভারতে চলে যাওয়ার বিষয়েও দ্বিধায় রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে তাদের জন্য সমস্যাটি শুধু ভিসার নয়, বরং কোথায় পরিবার হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করবেন, সেই সিদ্ধান্তের সঙ্গেও জড়িত।   তাদের গল্পটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আন্তঃদেশীয় প্রেম, বিয়ে, ধর্ম ও সংস্কৃতির পার্থক্য এবং অভিবাসন ব্যবস্থার জটিলতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। একটি বিমানবন্দরের সাধারণ যাত্রা থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক কীভাবে দুই দেশের সীমানা পেরিয়ে বিয়ে ও পরিবারে রূপ নিয়েছে, সেই গল্পই এখন মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গল্পটির কিছু নির্দিষ্ট তথ্য, যেমন সম্পর্ক আনুষ্ঠানিক হওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ বা সন্তানের নাম, নির্ভরযোগ্য সূত্রে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না হওয়ায় সেগুলো নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রে হিজাব পরা মুসলিম নারীকে পথ আটকে থুতু ও হ ত্যার হুমকি, ‘হেইট ক্রাইম’ তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকি ইউনিভার্সিটির (ইউকে) এক মুসলিম নারী কর্মকর্তাকে হেনস্তা, মুখে থুতু নিক্ষেপ এবং হত্যার হুমকির ঘটনায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চিলড্রেনস হাসপাতাল থেকে কাজ শেষে ফেরার পথে ড. হুদা শালাশ নামের ওই নারী এই বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার হন।   তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে সোশ্যাল ওয়ার্ক বা সমাজকর্ম বিভাগের একজন প্রিন্সিপাল হিসেবে কর্মরত। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পর মুসলিমদের নাগরিক অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠন কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (কেয়ার) বুধবার এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে 'হেইট ক্রাইম' বা বিদ্বেষমূলক অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছে।   ভুক্তভোগী ড. হুদা শালাশ জানান, মাথায় হিজাব পরিহিত অবস্থায় তিনি যখন নিজের গাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন, তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি তার পথ আটকে দাঁড়ায়। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ব্যক্তি তার মুখে থুতু ছিটিয়ে দেয় এবং তাদের মতো মানুষদের প্রতি সে কেমন ধারণা পোষণ করে, তা নিয়ে বর্ণবাদী মন্তব্য করতে থাকে।   একপর্যায়ে ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেয়। ড. শালাশ সেখান থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বুঝতে পারেন লোকটি তাকে অনুসরণ করছে। এ সময় কাছাকাছি থাকা একজন নির্মাণশ্রমিক নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে আসেন এবং ড. শালাশকে ওই আক্রমণকারীর হাত থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।   এই ঘটনার পর ড. শালাশ কেন্টাকি ইউনিভার্সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (ইউকেপিডি) এবং লেক্সিংটন পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছেন। ইউকেপিডি এক ভয়েসমেইলের মাধ্যমে তাকে জানিয়েছে যে, তারা ইতোমধ্যে ওই আক্রমণকারীর পরিচয় নিশ্চিত করতে পেরেছে।   সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের 'মুভ-ইন টিম'-এর টি-শার্ট পরা থাকলেও পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে সে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মী নয়। ড. শালাশ তার এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা ফেসবুকে শেয়ার করার পর সারা দেশ থেকে অনেক মুসলিম নারী নিজেদের একই ধরনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।   তবে এই কঠিন সময়ে স্থানীয় লেক্সিংটন কমিউনিটির মানুষ তাকে ব্যাপক মানসিক সমর্থন ও নিরাপত্তা জুগিয়েছে। বর্তমানে ড. শালাশ সেই সহৃদয়বান নির্মাণশ্রমিককে খুঁজছেন, যেন তাকে সামনাসামনি ব্যক্তিগতভাবে ধন্যবাদ জানাতে পারেন।

রুশ ক্ষে পণাস্ত্রের হু মকিতে অ্যান্টার্কটিকার মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল মার্কিন সামরিক বিমান
রুশ ক্ষে পণাস্ত্রের হু মকিতে অ্যান্টার্কটিকার মাঝপথ থেকে পালিয়ে গেল মার্কিন সামরিক বিমান

নিউজিল্যান্ড থেকে অ্যান্টার্কটিকা যাওয়ার পথে ‘মহাকাশ সংক্রান্ত সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রম’-এর সতর্কবার্তা পেয়ে মাঝপথ থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন বিমান। গত মঙ্গলবার সকালে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ থেকে উড্ডয়নের তিন ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ‘সি-১৭ গ্লোবমাস্টার’ মডেলের মার্কিন বিমানটি আবার সেখানে ফিরে আসে।   আইসিই২৮ (ICE28) কল সাইনযুক্ত এই ফ্লাইটটি নিউজিল্যান্ডের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিএএ) জারি করা পাইলটদের জন্য একটি বিশেষ নোটিশ বা 'নোটাম' (NOTAM)-এর কারণেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়।   সিএএ-এর একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট করপোরেশন তাদেরকে ওই অঞ্চলে সম্ভাব্য বিপজ্জনক কার্যক্রমের বিষয়ে আগাম সতর্ক করেছিল। পরবর্তীতে জানানো হয় যে, এটি ছিল মূলত রাশিয়ার একটি পরিকল্পিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের সতর্কতা।   এর ফলে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় সম্ভাব্য বিপদের আশঙ্কায় সিএএ পাইলটদের জন্য এই নোটাম জারি করে। এই বিপদের আশঙ্কাটি তৈরি হয়েছিল নিউজিল্যান্ড নিয়ন্ত্রিত ‘ওশেনিক ফ্লাইট ইনফরমেশন রিজিয়ন (এফআইআর)’ এলাকার মধ্যে, যা মূলত আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার চুক্তির অধীনে নিউজিল্যান্ড পরিচালনা করে থাকে।   নিউজিল্যান্ডের এয়ার ট্রাফিক কর্তৃপক্ষের মতে, এফআইআর অঞ্চলটি প্রায় তিন কোটি বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। এর বেশিরভাগ অংশই দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগর, দক্ষিণ মহাসাগর এবং তাসমান সাগরের আন্তর্জাতিক জলসীমার অন্তর্গত। তবে সিএএ স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, তারা ওই এলাকাটিকে বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্কতা জারি করলেও, তা বিমান চলাচলে কোনো সরাসরি নিষেধাজ্ঞা ছিল না; বরং ফ্লাইটের অপারেটরদের সতর্ক করে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাদের নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।   উল্লেখ্য, মার্কিন বিমানবাহিনীর এই ফ্লাইটটি তাদের বার্ষিক শীতকালীন ফ্লাইটের একটি অংশ ছিল। অ্যান্টার্কটিকায় গ্রীষ্মকালীন গবেষণা মৌসুম শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও নিউজিল্যান্ডের গবেষণা কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও গবেষকদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার জন্যই প্রতি বছর ক্রাইস্টচার্চ থেকে এই রুটিন ফ্লাইটগুলো পরিচালনা করা হয়।

অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল ছবি:সংগৃহীত
লটারি জিততে ভাগ্য নয়, গণিতকে ব্যবহার করে ১৪ বার জিতলেন জ্যাকপট!

লটারি মানেই ভাগ্যের খেলা। কিন্তু রোমানিয়ায় জন্ম নেওয়া অর্থনীতিবিদ স্টেফান ম্যান্ডেল সেই ধারণাকে যেন চ্যালেঞ্জ করেছিলেন। ভাগ্যের ওপর নির্ভর না করে গাণিতিক হিসাব ও কৌশল কাজে লাগিয়ে তিনি জীবনে মোট ১৪ বার লটারি জিতেছিলেন। তার সবচেয়ে আলোচিত সাফল্য আসে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া লটারিতে। সেবার ম্যান্ডেলের নেতৃত্বাধীন একটি বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জেতে।   ম্যান্ডেলের কৌশল শুনতে সহজ হলেও বাস্তবে তা ছিল অত্যন্ত জটিল। কোনো লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশন যদি তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকে এবং সব কম্বিনেশনের টিকিট কেনার খরচ জ্যাকপটের অর্থের তুলনায় কম হয়, তাহলে সম্ভাব্য সব নম্বর কিনে জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত করা যায়। ম্যান্ডেল এই গাণিতিক সুযোগকেই কাজে লাগিয়েছিলেন।   ১৯৫০-এর দশকে রোমানিয়ায় লটারি খেলে প্রথম বড় সাফল্য পান ম্যান্ডেল। সেখানে তিনি দুবার লটারি জেতেন। সেই অর্থ কাজে লাগিয়ে পরে পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে তার গাণিতিক কৌশল আরও বড় পরিসরে প্রয়োগ করেন এবং সেখানে আরও ১২ বার লটারি জেতেন। সব মিলিয়ে তার লটারি জয়ের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪।   অস্ট্রেলিয়ায় ম্যান্ডেল শুধু নিজের অর্থ দিয়ে টিকিট কিনতেন না। তিনি বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি দল গড়ে তোলেন। কম্পিউটার প্রোগ্রাম ও প্রিন্টারের সাহায্যে সম্ভাব্য নম্বরের বিপুলসংখ্যক কম্বিনেশন তৈরি করা হতো। এরপর বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই কম্বিনেশন অনুযায়ী বিপুল পরিমাণ টিকিট কেনা হতো।   তবে অস্ট্রেলিয়ায় লটারির নিয়ম পরিবর্তন হওয়ার পর ম্যান্ডেলের এই কৌশল আগের মতো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রের লটারির দিকে নজর দেন।   ১৯৯২ সালে ম্যান্ডেলের নজরে আসে ভার্জিনিয়া লটারি। সে সময় জ্যাকপটের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারে পৌঁছেছিল। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল, লটারিতে সম্ভাব্য নম্বরের মোট কম্বিনেশনের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭১ লাখ। ম্যান্ডেলের হিসাব অনুযায়ী, সব কম্বিনেশনের টিকিট কিনতে যে অর্থ লাগবে, তা জ্যাকপটের তুলনায় কম।   এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি International Lotto Fund নামে একটি বিনিয়োগকারী সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এতে প্রায় ২ হাজার ৫০০ বিনিয়োগকারী যুক্ত ছিলেন। পরিকল্পনা ছিল বিপুল পরিমাণ অর্থ একত্র করে সম্ভাব্য সব নম্বরের কম্বিনেশন কেনা।   টিকিট কেনার জন্য শুধু একটি দোকানের ওপর নির্ভর করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন গ্যাস স্টেশন, গ্রোসারি স্টোরসহ নানা বিক্রয়কেন্দ্র থেকে বিপুলসংখ্যক টিকিট কেনা হয়। অস্ট্রেলিয়া থেকে আগে থেকেই সম্ভাব্য নম্বরের কম্বিনেশন তৈরি করে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হয়েছিল।   তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী সব টিকিট কেনা সম্ভব হয়নি। মোট প্রায় ৭১ লাখ সম্ভাব্য কম্বিনেশনের মধ্যে সিন্ডিকেট প্রায় ৫৬ লাখ টিকিট কিনতে পেরেছিল। অর্থাৎ তাদের হাতে সম্ভাব্য সব নম্বর ছিল না। তারপরও শেষ পর্যন্ত ভাগ্য তাদের পক্ষেই যায়।   ১৯৯২ সালের ওই ড্রতে ম্যান্ডেলের নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেটের একটি টিকিটই ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জিতে নেয়। এত বিপুলসংখ্যক টিকিট কেনার ঘটনা লটারি কর্মকর্তাদের নজর কাড়ে। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়।   ম্যান্ডেলের কৌশল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও অনুসন্ধান করে। তবে সে সময়কার নিয়ম অনুযায়ী তার ব্যবহৃত পদ্ধতিকে অবৈধ হিসেবে প্রমাণ করা হয়নি। পরবর্তীতে লটারির নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়, যাতে একই ধরনের পরিকল্পনা ব্যবহার করে একজন ব্যক্তি বা একটি সিন্ডিকেট বিপুলসংখ্যক টিকিট কিনে পুরো কম্বিনেশন কভার করতে না পারে।   তবে ২ কোটি ৭০ লাখ ডলারের জ্যাকপট জেতার পর ম্যান্ডেলের গল্পের শেষটা পুরোপুরি সাফল্যের ছিল না। টিকিট কেনা, পরিচালনাসহ বিভিন্ন খরচ এবং কর পরিশোধের পর বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকা অর্থ প্রত্যাশার তুলনায় কমে যায়। পরে ম্যান্ডেল নিজেও আর্থিক ও আইনি সমস্যার মুখে পড়েন এবং ১৯৯৫ সালে দেউলিয়া ঘোষণা করেন।   ম্যান্ডেলের গল্প তাই শুধু ১৪ বার লটারি জেতার গল্প নয়। তিনি দেখিয়েছিলেন, লটারির মতো ভাগ্যনির্ভর একটি খেলাতেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে গণিত ও সম্ভাবনার হিসাব কাজে লাগানো সম্ভব। তবে এর জন্য প্রয়োজন ছিল বিপুল অর্থ, বিশাল পরিমাণ টিকিট কেনার সক্ষমতা, বিনিয়োগকারীদের একটি বড় দল এবং অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনা।   বর্তমান লটারির নিয়ম ও টিকিট কেনার সীমাবদ্ধতার কারণে ম্যান্ডেলের সেই কৌশল এখন সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তবসম্মত নয়। তার গল্প বরং একটি ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে আছে, যেখানে গণিত, অর্থ, সংগঠন এবং ঝুঁকি নেওয়ার সাহস একসঙ্গে মিলে লটারির প্রচলিত ধারণাকেই একসময় বদলে দিয়েছিল।

অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে শাস্তি ছবি:সংগৃহীত
পরকীয়ার অভিযোগে চার জনকে প্রকাশ্যে ১০০ বেত্রাঘাত, শাস্তি দেওয়ার সময় ‘মায়া’ হলো জল্লাদেরও

ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে শরিয়াহ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের সময় ব্যতিক্রমী এক মুহূর্তের দেখা মিলেছে। পরকীয়ার অভিযোগে চারজনকে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়ার সময় মুখোশধারী ‘আলগোজো’ বা শাস্তি কার্যকরকারী এক নারীর প্রতি সহানুভূতি দেখিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   আচেহ ইন্দোনেশিয়ার একমাত্র প্রদেশ, যেখানে বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের আওতায় শরিয়াহ আইন কার্যকর রয়েছে। সেখানে বিয়ে-বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক, পরকীয়া, মদ্যপান, জুয়া এবং কিছু যৌন আচরণের মতো অপরাধে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয়।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শাস্তি কার্যকরের সময় অভিযুক্তদের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মুখোশধারী আলগোজো। তবে চারজনের মধ্যে এক নারীকে বেত্রাঘাত করার সময় পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা হয়ে যায়। ওই নারীর কাছে গিয়ে আলগোজো নিচু স্বরে কিছু বলেন এবং তাকে মানসিকভাবে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আচেহতে এ ধরনের শাস্তি সাধারণত জনসমক্ষে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট সংখ্যক বেত্রাঘাতের শাস্তি দেওয়া হয় এবং পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন শরিয়াহ পুলিশ ও কর্মকর্তারা। বিভিন্ন ঘটনায় শাস্তি দেখতে সেখানে সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও দেখা যায়।‘   আলগোজো’ শব্দটি মূলত শাস্তি কার্যকরকারী ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। আচেহর নিয়ম অনুযায়ী, নারী অভিযুক্তদের শাস্তি কার্যকরের ক্ষেত্রে নারী আলগোজো ব্যবহারের ব্যবস্থাও চালু হয়েছে। ২০২০ সালে সেখানে প্রথমবার নারী আলগোজোদের একটি দল গঠন করা হয় বলে স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল।   প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনার মুখে রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এমন শাস্তি নিষ্ঠুর ও অমানবিক। অন্যদিকে আচেহর স্থানীয় আইন ও সামাজিক ব্যবস্থার সমর্থকেরা এটিকে শরিয়াহভিত্তিক আইন প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখেন।   আচেহতে প্রকাশ্য বেত্রাঘাত বন্ধ করে তা কারাগারের ভেতরে নেওয়ার আলোচনা ও উদ্যোগ আগেও হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়েও জনসমক্ষে এই শাস্তি কার্যকর হওয়ার ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।   চারজনের শাস্তির সময় ওই আলগোজোর কথিত সহানুভূতির মুহূর্তটি তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে বিশেষ নজর কেড়েছে। কঠোর শাস্তি কার্যকর করার দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তির এমন মানবিক আচরণই ঘটনাটিকে অন্য অনেক বেত্রাঘাতের ঘটনার চেয়ে আলাদা করে তুলেছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী
১৫ বছর ব্যথার পর ধরা পড়ল আসল রোগ, এরই মধ্যে ভুল চিকিৎসায় দুই অঙ্গ হারিয়েছে ব্রিটিশ নারী
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৫:২

লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস।    উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি।   ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি।    এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি।    এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য।   প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান।    ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়।    অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে।    উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত।   দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন।    তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ । 

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে  বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা
যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-কানাডার বাইরে নতুন সম্ভাবনার খোঁজে বিকল্প ঠিকানা খুঁজছেন অভিবাসীরা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৪:১৩

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ভিসা নীতির পরিবর্তন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, পড়াশোনার খরচ এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে এখন অনেকেই বিকল্প দেশ বিবেচনা করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে দেশ বদলাচ্ছেন। বরং শিক্ষা, চাকরি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, ব্যবসা ও তুলনামূলক সহজ অভিবাসন ব্যবস্থা মিলিয়ে নতুন গন্তব্যের তালিকা তৈরি হচ্ছে।    বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের পাশাপাশি রোমানিয়া, পর্তুগাল, সেশেলসসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। জাপানেও টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম রয়েছে।    জাপান এখন বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সরকারি প্ল্যাটফর্মেও জাপানের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।    দক্ষিণ কোরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণরাও দক্ষিণ কোরিয়াকে কাজের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন।   ইউরোপে জার্মানি এখন দক্ষ কর্মীদের অন্যতম বড় বিকল্প। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গাইডেও জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।    পর্তুগালও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারও পর্তুগালকে বৈধ শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি ক্রমেই পরিচিত বিকল্পে পরিণত হচ্ছে।    ইতালি অবশ্য নতুন গন্তব্যের চেয়ে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে গেলে ইতালিকে বাদ দেওয়া যায় না।   আয়ারল্যান্ডও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। ইংরেজিভাষী দেশ হওয়া এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় দেশটি যুক্তরাজ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই প্রবণতায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।    সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি ব্যবসা, প্রযুক্তি, পেশাদারি সেবা ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো স্থায়ী অভিবাসনের পথ নয়; কাজ ও ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি ভিসার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের নিয়ম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়।   দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে।    সিঙ্গাপুরও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও উচ্চ দক্ষতার চাকরিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দেশটির দিকে তাকাচ্ছেন। তবে ছোট শ্রমবাজার এবং তুলনামূলক উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বড় বিষয়।   নিউজিল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাইরে ইংরেজিভাষী একটি বিকল্প। দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য দেশটির বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দূরত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা।   এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার কিছু দেশও নতুন সুযোগের কারণে নজরে আসছে। নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ঘানা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কেনিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নাইরোবি আফ্রিকার প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের আকর্ষণ করছে।   মরিশাসও বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পর্যটন, আর্থিক সেবা ও ব্যবসার পরিবেশ দেশটিকে আফ্রিকা অঞ্চলে আলাদা অবস্থান দিয়েছে।   উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্কও ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে নতুন করে বিবেচনায় আসছে। তবে এসব দেশে সুযোগ থাকলেও ভাষা, ভিসা, স্থানীয় শ্রমবাজার এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন।   সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের অভিবাসনের চিত্রে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। মানুষ শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে তাকিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার মতো দেশও বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ও শিক্ষার্থীর কাছে বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনের কারণ ও সুযোগ এক নয়।   আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশকে শুধু “সহজে যাওয়ার দেশ” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভিসা পাওয়া, কাজের অনুমতি, বেতন, কর, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেয় না।   অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের মানচিত্র এখন একমুখী নয়। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা কোথায় বেশি সুযোগ, কম ঝুঁকি এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়া যেতে পারে, সেই হিসাবেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে।

১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!
১৮ বছর ধরে খুঁজেও হারানো গুহার সন্ধান পাননি, ফিরে পেয়ে দেখলেন ভেতরেই মেঘ, নদী আর জঙ্গল!
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ৩:১৩

ভিয়েতনামের ঘন জঙ্গলে বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে যে গুহাটির সন্ধান পেয়েছিলেন হো খান, সেটিই পরে পরিচিত হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হিসেবে। কিন্তু প্রথম দেখার পর ঘন জঙ্গলের ভেতর গুহাটির অবস্থান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে আবার সেই গুহার সন্ধান পান তিনি। নাম দেওয়া হয় হ্যাং সন দুং।   ঘটনাটির শুরু ১৯৯০ সালে। ভিয়েতনামের কোয়াং বিন প্রদেশের ফং না-ক্য বাং এলাকার জঙ্গলে ঘুরতে গিয়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা হো খান। আশ্রয়ের খোঁজে তিনি একটি গুহায় ঢোকেন। সেখানে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে আসতে এবং ভেতর থেকে নদীর পানির শব্দ শুনতে পান। তবে অন্ধকার ও অজানা পরিবেশের কারণে আর গভীরে যাওয়ার সাহস করেননি।   পরে গুহাটির অবস্থান আবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও ঘন, চিহ্নহীন জঙ্গলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু জায়গাটির কথা তিনি ভুলে যাননি। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ চালানোর পর ২০০৯ সালে অবশেষে গুহাটির প্রবেশপথ আবার খুঁজে পান হো খান। এরপর ব্রিটিশ কেভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের অভিযাত্রীদের একটি দল তার সঙ্গে সেখানে যায় এবং গুহাটির বিশালত্ব দেখে বিস্মিত হয়।    সন দুংয়ের বিশালতা সাধারণ কোনো গুহার সঙ্গে তুলনা করার মতো নয়। ভিয়েতনামের সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, গুহাটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ, কোনো কোনো অংশ প্রায় ২০০ মিটার উঁচু এবং ১৫০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত। এর বিশাল কক্ষগুলোর আকার এতটাই বড় যে একটি ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার কাঠামোও সেখানে কল্পনা করা যায়।    গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ভূগর্ভস্থ নদী। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো এর ছাদের বিশাল দুটি অংশ ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ডোলাইন’ বা প্রাকৃতিক উন্মুক্ত অংশ। সেখান দিয়ে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি গুহার গভীরে পৌঁছায়। ফলে মাটির নিচেই তৈরি হয়েছে ঘন সবুজ বনাঞ্চল, যেখানে গাছপালা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে।    শুধু বন নয়, গুহার ভেতরের পরিবেশও আলাদা। বিশাল ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলোর নিজস্ব ক্ষুদ্র জলবায়ু তৈরি হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে সেখানে কুয়াশা ও মেঘের মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই সন দুংকে শুধু একটি গুহা নয়, বরং মাটির নিচে গড়ে ওঠা এক স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক জগত হিসেবে দেখা হয়।    গুহাটিতে রয়েছে বিশাল স্ট্যালাগমাইট, অনন্য পাথরের গঠন এবং ‘কেভ পার্ল’ নামে পরিচিত ক্যালসাইটের গোলাকার গঠন। কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে পানি ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে তৈরি এসব গঠন গুহাটিকে আরও অনন্য করে তুলেছে।    সন দুং অবস্থিত ফং না-ক্য বাং ন্যাশনাল পার্কে, যা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এই এলাকায় ৩০০টিরও বেশি গুহা ও ভূগর্ভস্থ নদীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে সন দুংয়ের পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে প্রবেশ ও অভিযান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত।    একসময় কাঠ সংগ্রহ ও শিকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হো খান। পরে তার খুঁজে পাওয়া এই গুহা বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং ফং না-ক্য বাং অঞ্চলের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। তবে সন দুংয়ের গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশ হয়তো এর বিশালত্ব নয়, বরং একটি বৃষ্টিভেজা রাতের কৌতূহল কীভাবে প্রায় দুই দশক পর পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ প্রাকৃতিক বিস্ময়ের দরজা খুলে দিয়েছিল।

স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান
স্টেট হাউসের পর এবার সিনেট জয় করে ইতিহাস গড়তে চান মেরিয়াম খান
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ২:২২

কানেকটিকাটের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী মেরিয়াম খান। ১১ আগস্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে দ্বিতীয় স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে তিনি এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে কানেকটিকাটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হওয়ার মাইলফলক অর্জন করবেন তিনি।    প্রাইমারিতে মেরিয়াম খান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উইন্ডসর বোর্ড অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট আয়ানা টেলর পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৪ ভোট। বর্তমান স্টেট সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরি পেয়েছেন ২ হাজার ২৫৫ ভোট। এই ফলের মধ্য দিয়ে ম্যাকক্রোরিকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের টিকিট নিশ্চিত করেছেন খান।    দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে হার্টফোর্ড, ব্লুমফিল্ড ও উইন্ডসরের কিছু অংশ রয়েছে। ১১ আগস্টের প্রাইমারির আগে মেরিয়াম খানই ডেমোক্রেটিক পার্টির দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন। মে মাসের দলীয় কনভেনশনে তিন দফা ভোটের পর তিনি সেই সমর্থন নিশ্চিত করেন।    মেরিয়াম খানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় কয়েক বছর আগে। ২০২২ সালের মার্চে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কানেকটিকাট স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রবেশ করেন। এরপর ২০২২ সালের নভেম্বরে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে আবারও জয় পান।    স্টেট হাউসে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তাঁর আগে মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন সৌদ আনোয়ার। ফলে খান এবার সিনেটে জয়ী হলে মুসলিম নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন অধ্যায় তৈরি হবে।    রাজনীতিতে আসার আগে মেরিয়াম খান শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি স্টেট হাউসের তিনটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিশেষ শিক্ষা বিষয়ক নির্বাচিত কমিটির কো-চেয়ার। শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   প্রাইমারির এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অগ্রগতি নয়, কানেকটিকাটের মুসলিম ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে রাজ্যের আইনসভায় তাঁর সম্ভাব্য উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বের বিস্তারের দিকটিও সামনে আনছে।   তবে ইতিহাস গড়ার আগে মেরিয়াম খানের সামনে আরও একটি নির্বাচনী লড়াই বাকি। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলেই দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি এবং কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবেন। বর্তমানে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য তাঁর প্রার্থিতা সক্রিয় রয়েছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.14K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
930 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.04K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
898 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়