Live update news
নিউইয়র্কে শেষ হলো ৩৫তম আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা

নিউইয়র্কে চার দিনব্যাপী নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা ২০২৬ শেষ হয়েছে সোমবার (২৫ মে) রাতে। মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এবারের মেলা ছিল ৩৫তম আসর। জ্যামাইকা পারফর্মিং আর্টস সেন্টারে আয়োজিত এই মেলায় প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রবাসী সংস্কৃতিপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।   মেলার চার দিনের মধ্যে প্রায় আড়াই দিন বৃষ্টি ও শীতল আবহাওয়া বিরাজ করলেও দর্শক ও বইপ্রেমীদের উপস্থিতি থেমে থাকেনি। তবে ঠান্ডা ও বৃষ্টির কারণে স্টল মালিক ও প্রকাশকদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।   এবারের বইমেলার আয়োজন ছিল দুইটি অংশে বিভক্ত। মূল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা অনুষ্ঠিত হয় হলের ভেতরে, আর বইয়ের স্টলগুলো ছিল খোলা মাঠে। ফলে বৃষ্টি ও ঠান্ডায় অনেক সময় প্রকাশক ও বিক্রেতাদের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।   তবে শেষ দিনের আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে অনুকূলে থাকায় দর্শক সমাগম বাড়ে এবং বই বিক্রিও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। কিছু প্রতিষ্ঠান বিক্রিকে সন্তোষজনক বলে জানিয়েছে।   এবারের মেলার উদ্বোধন করেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পাশাপাশি নাচ, গান, নাটক, আবৃত্তি, আলোচনা, বিতর্ক, আড্ডা, মোড়ক উন্মোচন এবং বই পরিচিতিসহ নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল পুরো মেলায়।   প্রায় প্রতিটি পর্বেই বিপুল সংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়, যা প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহকে আরও একবার তুলে ধরে।   ঢাকা থেকে অনন্যা, ইত্যাদি, অঙ্কুর, নালন্দা, বাতিঘরসহ একাধিক প্রকাশনা সংস্থা এবারের বইমেলায় অংশ নেয়। তাদের সঙ্গে ছিল মুক্তধারার নিজস্ব স্টলও। লেখকের ব্যক্তিগত সংগ্রহের অংশ হিসেবে অঙ্কুর প্রকাশনীর স্টলে নয়টি বই প্রদর্শিত হয়। প্রকাশকের স্বত্বাধিকারী মেসবাহউদ্দিন আহমদও মেলায় উপস্থিত ছিলেন। বিক্রির দিক থেকে কিছু বই ভালো সাড়া পেয়েছে। বিশেষ করে “গণবাহিনীর দিনগুলি”, “বাংলা কেন ৪৭-এ স্বাধীন হলো না” এবং “বীরোত্তম কর্নেল তাহের ও লাল নভেম্বর” বইগুলো বেশি বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।   প্রকাশকরা জানান, প্রবাসে বই পড়ার সময় সীমিত হলেও বইপ্রেমী একটি নির্দিষ্ট শ্রেণি নিয়মিত বই সংগ্রহ করেন। অনেকেই আগে থেকেই পছন্দের বই অর্ডার করে রাখেন।   তবে অনেক ক্ষেত্রে বই বিক্রি থেকে যাতায়াত ও আয়োজন খরচও ওঠে না। তবুও প্রবাসীদের মধ্যে বাংলা বই ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ ধরে রাখতে প্রকাশকরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন।   আয়োজন ঘিরে কিছু সাংগঠনিক বিভাজন ও ভিন্ন মেলা আয়োজনের বিষয়ও সামনে আসে। তবে প্রত্যাশার বিপরীতে মূল বইমেলায় দর্শক ও অংশগ্রহণকারীর উপস্থিতি কমেনি, বরং স্বাভাবিক ধারায় অনুষ্ঠিত হয়েছে।   মেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বাংলা বইমেলার আয়োজন অব্যাহত রেখেছেন, যা প্রবাসে বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

১ ঘন্টা Ago
এনওয়াইপিডির সম্মাননা পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট ফজিলাতুন নেছা ‘আউটস্ট্যান্ডিং সার্ভিস অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। এশিয়ান আমেরিকান ও প্যাসিফিক আইল্যান্ডার হেরিটেজ মাস উপলক্ষে গত ২১ মে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়।   বাংলাদেশ আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ফজিলাতুন নেছার এই অর্জন তার পেশাগত নিষ্ঠা, দায়িত্বশীলতা এবং কমিউনিটির প্রতি দীর্ঘদিনের সেবার স্বীকৃতি। তিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে যে দক্ষতা ও নেতৃত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা এনওয়াইপিডির ভেতরে ও বাইরে প্রশংসিত হয়েছে।   সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, এই সম্মাননা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের বিষয়। তার এই সাফল্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে।   এদিকে সংগঠনটি তাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে ভবিষ্যতেও তার সাফল্য ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করেছে।

১ ঘন্টা Ago
কাবা শরিফ কেন কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, ভেতরে কী আছে

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ থেকে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। হজ আদায়ের জন্য চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসলিম মক্কায় সমবেত হয়েছেন। জীবনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য অন্তত একবার হজ আদায় ফরজ, যা অধিকাংশ মুসলিমের জীবনের অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা।   হজের আনুষ্ঠানিকতা সাধারণত পাঁচ দিনে সম্পন্ন হয়। এ সময় হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করেন এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন, যা তওয়াফ নামে পরিচিত।   কাবা কী কাবা আরবি শব্দ, যার অর্থ ঘনক বা চতুষ্কোণ ঘর। এটি ইসলামের পবিত্রতম স্থান এবং মক্কার মসজিদুল হারামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বিশ্বের সব মুসলিম নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান, যাকে কিবলা বলা হয়। ফলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থেকেও মুসলিমরা একই কেন্দ্রের দিকে মুখ করে ইবাদত করেন। কাবা শরিফের উচ্চতা ১৩ দশমিক ১ মিটার, দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৮ মিটার এবং প্রস্থ ১১ দশমিক ৩ মিটার।   কাবার ইতিহাস মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কাবা নির্মাণ করেন। পবিত্র কোরআনে এই নির্মাণের উল্লেখ রয়েছে। ইসলামের আগমনের আগে কাবা ছিল বিভিন্ন গোত্রের উপাসনালয়। ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর কাবার ভেতরের মূর্তিগুলো অপসারণ করেন এবং একে এক আল্লাহর ইবাদতের স্থানে পরিণত করেন। প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মুসলিম এখানে সমবেত হন।   কাবার ভেতরে কী আছে কাবা শরিফের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি সোনার দরজা রয়েছে, যা মাটি থেকে দুই মিটারেরও বেশি উঁচুতে স্থাপন করা। প্রায় ২৮০ কেজি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি এই দরজার উচ্চতা ৩ দশমিক ১ মিটার এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৯ মিটার। বছরে সাধারণত দুইবার কাবার ভেতর পরিষ্কারের জন্য দরজা খোলা হয়। ভেতরের অংশ অত্যন্ত সরল। ছাদ ধরে রাখতে তিনটি কাঠের স্তম্ভ রয়েছে এবং ছাদে ওঠার জন্য একটি সিঁড়ি আছে। মেঝে ও দেয়াল মার্বেল পাথরে আবৃত এবং ছাদ থেকে লণ্ঠন ঝোলানো থাকে। ভেতরের দেয়ালের কিছু অংশ কাপড়ে ঢাকা, যা ঐতিহাসিকভাবে লাল, সবুজ ও গাঢ় নীল রঙের হয়ে থাকে।   কিসওয়া কী কিসওয়া হলো কালো রেশমি কাপড়, যা কাবা শরিফকে আবৃত করে রাখে। এর ওপর সোনার সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত খচিত থাকে। আরবি শব্দ ‘কিসওয়া’ অর্থ আবরণ বা ঢেকে রাখা। বর্তমানে একটি কিসওয়া তৈরিতে প্রায় ৬৭০ কেজি রেশম ব্যবহার করা হয়। এর সঙ্গে ২৪ ক্যারেট সোনার সুতা এবং রুপার সুতা দিয়ে কারুকাজ করা হয়। পুরো কাপড়টি ৪৭টি অংশে তৈরি এবং এর উচ্চতা প্রায় ১৪ মিটার।   কাবার দেয়ালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চতায় যে অলংকৃত বেল্ট থাকে, সেটি হিজাম নামে পরিচিত। দরজার ওপর ঝোলানো সুসজ্জিত পর্দাকে বলা হয় সিতারা।   কেন কাবা ঢেকে রাখা হয় কাবা শরিফকে সুরক্ষা, সম্মান এবং সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য কিসওয়া দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে এটি ভক্তি ও শ্রদ্ধার একটি প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। ধারণা করা হয়, ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকেই কাবা ঢাকার প্রচলন শুরু হয়। কেউ কেউ মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল প্রথম কাবা ঢেকেছিলেন। অন্য মত অনুযায়ী, হজরত ইসমাইল (আ.) এ কাজ শুরু করেন, যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বর্তমানে কিসওয়া প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয়। রেশম প্রথমে বিশেষভাবে পরিষ্কার করে ধোয়া হয়, এরপর গরম পানিতে ধুয়ে প্রাকৃতিক রং ফিরিয়ে আনা হয় এবং শেষে কালো রঙে রঞ্জিত করা হয়।   মক্কার বিশেষ কারখানায় ২৪০ জনের বেশি দক্ষ কর্মী আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সমন্বয়ে এটি তৈরি করেন। একটি কিসওয়া তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় আড়াই কোটি সৌদি রিয়াল।   ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কিসওয়ার রঙ পরিবর্তিত হয়েছে। সাদা, সবুজ, হলুদসহ নানা রঙ ব্যবহার করা হলেও আব্বাসীয় আমলে কালো রঙকে স্থায়ী পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করা হয়।   কিসওয়া বছরে একবার পরিবর্তন করা হয়। পুরোনো কিসওয়া সরিয়ে নতুনটি পরানো হয়। পুরোনো কিসওয়ার মূল্যবান অংশ সংরক্ষণ করা হয় এবং কিছু অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে দেওয়া হয়। হজের সময় কিসওয়ার নিচের অংশ ওপরে তুলে রাখা হয়, যাতে বিপুলসংখ্যক হাজির স্পর্শ থেকে কাপড়টি সুরক্ষিত থাকে।

১ ঘন্টা Ago
যেভাবে রাতারাতি ধনী হচ্ছে আমেরিকায় মানুষ

১৯৯৪ সালে স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডটকম’ বিপ্লব তুঙ্গে, তখন অনেকেই করপোরেট চাকরিতে যোগ দিয়ে দ্রুত মিলিয়নিয়ার হয়ে উঠছিলেন। সেই সময় ভিন্ন পথে হাঁটেন গ্রেগ ফ্লিন। এক বন্ধুর রেস্তোরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি আটটি অ্যাপলবিস রেস্তোরাঁ কিনে নেন।   ২৬ বছর পর সেই ফ্লিন এখন তিনটি দেশে সাতটি বড় ব্র্যান্ডের তিন হাজারের বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি আউটলেট পরিচালনা করছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা করে ইতিহাসে প্রথম বিলিয়নিয়ার হওয়ার কৃতিত্বও তার। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাসোসিয়েশন তাকে ‘হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে আগে ম্যাকডোনাল্ডসের রে ক্রোক বা কেএফসির কর্নেল স্যান্ডার্সের মতো ব্যক্তিরাই জায়গা পেয়েছিলেন।   ফ্লিনের গল্প এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের সাফল্যের প্রতীক। এই মডেল বহু সাধারণ মানুষের জন্য ধনী হওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য পথ হয়ে উঠছে।   ১৯৫০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার বিস্তার শুরু হয়। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা পরিচালনা করছেন প্রায় আড়াই লাখ মালিক। এই খাতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এটি দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।   ডানকিন, ইউপিএস স্টোর থেকে ম্যারিয়ট হোটেলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ড এই মডেলে পরিচালিত হচ্ছে।   ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ম্যাট হ্যালার বলেন, সবাই স্টিভ জবস বা ইলন মাস্ক হতে পারবেন না, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষও সঞ্চয় করে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন।   এই খাতটি অভিবাসীদের কাছেও বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের মোট মোটেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মালিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক, যারা সুপার ৮ এবং ট্রাভেলজ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন।   একসময় আমেরিকায় তরুণদের কাছে সমৃদ্ধির প্রধান পথ ছিল উচ্চশিক্ষা ও করপোরেট চাকরি। তবে এখন চিত্র পাল্টেছে। উচ্চ টিউশন ফি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে অনেক ডেস্কভিত্তিক চাকরি ঝুঁকিতে পড়ায় তরুণরা এখন সরাসরি গ্রাহকসেবামূলক ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। ফিটনেস স্টুডিও, রেস্তোরাঁ বা ব্যক্তিগত সেবা খাতের ব্যবসাগুলোকে তারা তুলনামূলক নিরাপদ মনে করছেন, কারণ এগুলো পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর নয়।   ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় মূল কোম্পানি ব্র্যান্ড, মান ও পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণ করে। বিনিময়ে উদ্যোক্তারা নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করেন এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের সুবিধা পান। ১০০টির বেশি ট্যাকো বেল ও ডানকিন আউটলেট পরিচালনাকারী দিনেশ গোস্বামী বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা বোঝা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একটি পোপাইস আউটলেটের উদাহরণ দিয়ে জানান, অবস্থানগত সমস্যার কারণে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। গ্রেগ ফ্লিন তার ব্যবসায় স্থানীয় ব্যবস্থাপকদের লাভের অংশীদার করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলেছেন।   ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা শুরু করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সাধারণত ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি প্রাথমিক ফি লাগে এবং বিক্রির ৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি দিতে হয়। একটি ফিটনেস স্টুডিও খুলতে তিন থেকে আট লাখ ডলার এবং একটি বড় রেস্তোরাঁ খুলতে ১০ লাখ ডলারের বেশি খরচ হতে পারে।   গবেষণা অনুযায়ী, শুরুতে এই ব্যবসার টিকে থাকার হার তুলনামূলক বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি প্রায় সমান থাকে। তবে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সফলতার সম্ভাবনা বেশি।   ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের কম মজুরি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মালিকেরা লাভ বাড়াতে শ্রমিকদের বেতন কম রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, আগে একই চেইনের কর্মীরা অন্য আউটলেটে সহজে চাকরি বদলাতে পারতেন না। পরে এই নিয়ম তুলে দিলে শ্রমিকদের মজুরি ৪ থেকে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে সফল উদ্যোক্তাদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে এবং এটি অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   লেখাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট থেকে তথ্য নিয়ে অনুবাদ ও বিশ্লেষণ করেছেন “আমেরিকা বাংলা” নিউজ এডিটর শাহারিয়া নয়ন

৩ ঘন্টা Ago
আমেরিকায় রাতারাতি ধনী হওয়ার নতুন পথ । গ্রাফিক্স আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা
যেভাবে রাতারাতি ধনী হচ্ছে আমেরিকায় মানুষ

১৯৯৪ সালে স্ট্যানফোর্ড বিজনেস স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে যখন যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডটকম’ বিপ্লব তুঙ্গে, তখন অনেকেই করপোরেট চাকরিতে যোগ দিয়ে দ্রুত মিলিয়নিয়ার হয়ে উঠছিলেন। সেই সময় ভিন্ন পথে হাঁটেন গ্রেগ ফ্লিন। এক বন্ধুর রেস্তোরাঁ ব্যবসায় যুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার যাত্রা। পরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থার সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি আটটি অ্যাপলবিস রেস্তোরাঁ কিনে নেন।   ২৬ বছর পর সেই ফ্লিন এখন তিনটি দেশে সাতটি বড় ব্র্যান্ডের তিন হাজারের বেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি আউটলেট পরিচালনা করছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা করে ইতিহাসে প্রথম বিলিয়নিয়ার হওয়ার কৃতিত্বও তার। গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাসোসিয়েশন তাকে ‘হল অব ফেম’-এ অন্তর্ভুক্ত করে, যেখানে আগে ম্যাকডোনাল্ডসের রে ক্রোক বা কেএফসির কর্নেল স্যান্ডার্সের মতো ব্যক্তিরাই জায়গা পেয়েছিলেন।   ফ্লিনের গল্প এখন যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের সাফল্যের প্রতীক। এই মডেল বহু সাধারণ মানুষের জন্য ধনী হওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য পথ হয়ে উঠছে।   ১৯৫০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসার বিস্তার শুরু হয়। বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ৮ লাখ ৫০ হাজার ফ্র্যাঞ্চাইজি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা পরিচালনা করছেন প্রায় আড়াই লাখ মালিক। এই খাতে প্রায় ৯০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে এবং এটি দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ জুড়ে রয়েছে।   ডানকিন, ইউপিএস স্টোর থেকে ম্যারিয়ট হোটেলের মতো বড় বড় ব্র্যান্ড এই মডেলে পরিচালিত হচ্ছে।   ইন্টারন্যাশনাল ফ্র্যাঞ্চাইজি অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান ম্যাট হ্যালার বলেন, সবাই স্টিভ জবস বা ইলন মাস্ক হতে পারবেন না, কিন্তু একজন সাধারণ মানুষও সঞ্চয় করে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন।   এই খাতটি অভিবাসীদের কাছেও বিশেষভাবে আকর্ষণীয়। যুক্তরাষ্ট্রের মোট মোটেলের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের মালিক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক, যারা সুপার ৮ এবং ট্রাভেলজ ফ্র্যাঞ্চাইজি কিনে ব্যবসা শুরু করেছিলেন।   একসময় আমেরিকায় তরুণদের কাছে সমৃদ্ধির প্রধান পথ ছিল উচ্চশিক্ষা ও করপোরেট চাকরি। তবে এখন চিত্র পাল্টেছে। উচ্চ টিউশন ফি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে অনেক ডেস্কভিত্তিক চাকরি ঝুঁকিতে পড়ায় তরুণরা এখন সরাসরি গ্রাহকসেবামূলক ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন। ফিটনেস স্টুডিও, রেস্তোরাঁ বা ব্যক্তিগত সেবা খাতের ব্যবসাগুলোকে তারা তুলনামূলক নিরাপদ মনে করছেন, কারণ এগুলো পুরোপুরি প্রযুক্তিনির্ভর নয়।   ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থায় মূল কোম্পানি ব্র্যান্ড, মান ও পরিচালন পদ্ধতি নির্ধারণ করে। বিনিময়ে উদ্যোক্তারা নিজেদের পুঁজি বিনিয়োগ করেন এবং প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডের সুবিধা পান। ১০০টির বেশি ট্যাকো বেল ও ডানকিন আউটলেট পরিচালনাকারী দিনেশ গোস্বামী বলেন, স্থানীয় বাস্তবতা বোঝা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি একটি পোপাইস আউটলেটের উদাহরণ দিয়ে জানান, অবস্থানগত সমস্যার কারণে বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যেতে পারে। গ্রেগ ফ্লিন তার ব্যবসায় স্থানীয় ব্যবস্থাপকদের লাভের অংশীদার করে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তুলেছেন।   ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা শুরু করতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন। সাধারণত ৫০ হাজার ডলার বা তার বেশি প্রাথমিক ফি লাগে এবং বিক্রির ৫ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত রয়্যালটি দিতে হয়। একটি ফিটনেস স্টুডিও খুলতে তিন থেকে আট লাখ ডলার এবং একটি বড় রেস্তোরাঁ খুলতে ১০ লাখ ডলারের বেশি খরচ হতে পারে।   গবেষণা অনুযায়ী, শুরুতে এই ব্যবসার টিকে থাকার হার তুলনামূলক বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ঝুঁকি প্রায় সমান থাকে। তবে সুপরিচিত ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে সফলতার সম্ভাবনা বেশি।   ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের কম মজুরি নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মালিকেরা লাভ বাড়াতে শ্রমিকদের বেতন কম রাখেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১৮ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, আগে একই চেইনের কর্মীরা অন্য আউটলেটে সহজে চাকরি বদলাতে পারতেন না। পরে এই নিয়ম তুলে দিলে শ্রমিকদের মজুরি ৪ থেকে ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। তবে সফল উদ্যোক্তাদের মতে, ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল সাধারণ মানুষের জন্য একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে এবং এটি অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   লেখাটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট থেকে তথ্য নিয়ে অনুবাদ ও বিশ্লেষণ করেছেন “আমেরিকা বাংলা” নিউজ এডিটর শাহারিয়া নয়ন

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২১:৪৩
ড. তাহমিদ আহমেদ
এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় কলেরা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন।   ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে।   আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হজ পালনের আগে সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীর মসজিদুল হারামের কাবার দরজা স্পর্শ করতে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মুসল্লিরা। ছবি: রয়টার্স
কাবা শরিফ কেন কালো কাপড়ে ঢাকা থাকে, ভেতরে কী আছে

সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ থেকে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। হজ আদায়ের জন্য চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসলিম মক্কায় সমবেত হয়েছেন। জীবনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য অন্তত একবার হজ আদায় ফরজ, যা অধিকাংশ মুসলিমের জীবনের অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা।   হজের আনুষ্ঠানিকতা সাধারণত পাঁচ দিনে সম্পন্ন হয়। এ সময় হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করেন এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন, যা তওয়াফ নামে পরিচিত।   কাবা কী কাবা আরবি শব্দ, যার অর্থ ঘনক বা চতুষ্কোণ ঘর। এটি ইসলামের পবিত্রতম স্থান এবং মক্কার মসজিদুল হারামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বিশ্বের সব মুসলিম নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান, যাকে কিবলা বলা হয়। ফলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থেকেও মুসলিমরা একই কেন্দ্রের দিকে মুখ করে ইবাদত করেন। কাবা শরিফের উচ্চতা ১৩ দশমিক ১ মিটার, দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৮ মিটার এবং প্রস্থ ১১ দশমিক ৩ মিটার।   কাবার ইতিহাস মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কাবা নির্মাণ করেন। পবিত্র কোরআনে এই নির্মাণের উল্লেখ রয়েছে। ইসলামের আগমনের আগে কাবা ছিল বিভিন্ন গোত্রের উপাসনালয়। ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর কাবার ভেতরের মূর্তিগুলো অপসারণ করেন এবং একে এক আল্লাহর ইবাদতের স্থানে পরিণত করেন। প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মুসলিম এখানে সমবেত হন।   কাবার ভেতরে কী আছে কাবা শরিফের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি সোনার দরজা রয়েছে, যা মাটি থেকে দুই মিটারেরও বেশি উঁচুতে স্থাপন করা। প্রায় ২৮০ কেজি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি এই দরজার উচ্চতা ৩ দশমিক ১ মিটার এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৯ মিটার। বছরে সাধারণত দুইবার কাবার ভেতর পরিষ্কারের জন্য দরজা খোলা হয়। ভেতরের অংশ অত্যন্ত সরল। ছাদ ধরে রাখতে তিনটি কাঠের স্তম্ভ রয়েছে এবং ছাদে ওঠার জন্য একটি সিঁড়ি আছে। মেঝে ও দেয়াল মার্বেল পাথরে আবৃত এবং ছাদ থেকে লণ্ঠন ঝোলানো থাকে। ভেতরের দেয়ালের কিছু অংশ কাপড়ে ঢাকা, যা ঐতিহাসিকভাবে লাল, সবুজ ও গাঢ় নীল রঙের হয়ে থাকে।   কিসওয়া কী কিসওয়া হলো কালো রেশমি কাপড়, যা কাবা শরিফকে আবৃত করে রাখে। এর ওপর সোনার সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত খচিত থাকে। আরবি শব্দ ‘কিসওয়া’ অর্থ আবরণ বা ঢেকে রাখা। বর্তমানে একটি কিসওয়া তৈরিতে প্রায় ৬৭০ কেজি রেশম ব্যবহার করা হয়। এর সঙ্গে ২৪ ক্যারেট সোনার সুতা এবং রুপার সুতা দিয়ে কারুকাজ করা হয়। পুরো কাপড়টি ৪৭টি অংশে তৈরি এবং এর উচ্চতা প্রায় ১৪ মিটার।   কাবার দেয়ালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চতায় যে অলংকৃত বেল্ট থাকে, সেটি হিজাম নামে পরিচিত। দরজার ওপর ঝোলানো সুসজ্জিত পর্দাকে বলা হয় সিতারা।   কেন কাবা ঢেকে রাখা হয় কাবা শরিফকে সুরক্ষা, সম্মান এবং সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য কিসওয়া দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে এটি ভক্তি ও শ্রদ্ধার একটি প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। ধারণা করা হয়, ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকেই কাবা ঢাকার প্রচলন শুরু হয়। কেউ কেউ মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল প্রথম কাবা ঢেকেছিলেন। অন্য মত অনুযায়ী, হজরত ইসমাইল (আ.) এ কাজ শুরু করেন, যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বর্তমানে কিসওয়া প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয়। রেশম প্রথমে বিশেষভাবে পরিষ্কার করে ধোয়া হয়, এরপর গরম পানিতে ধুয়ে প্রাকৃতিক রং ফিরিয়ে আনা হয় এবং শেষে কালো রঙে রঞ্জিত করা হয়।   মক্কার বিশেষ কারখানায় ২৪০ জনের বেশি দক্ষ কর্মী আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সমন্বয়ে এটি তৈরি করেন। একটি কিসওয়া তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় আড়াই কোটি সৌদি রিয়াল।   ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কিসওয়ার রঙ পরিবর্তিত হয়েছে। সাদা, সবুজ, হলুদসহ নানা রঙ ব্যবহার করা হলেও আব্বাসীয় আমলে কালো রঙকে স্থায়ী পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করা হয়।   কিসওয়া বছরে একবার পরিবর্তন করা হয়। পুরোনো কিসওয়া সরিয়ে নতুনটি পরানো হয়। পুরোনো কিসওয়ার মূল্যবান অংশ সংরক্ষণ করা হয় এবং কিছু অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে দেওয়া হয়। হজের সময় কিসওয়ার নিচের অংশ ওপরে তুলে রাখা হয়, যাতে বিপুলসংখ্যক হাজির স্পর্শ থেকে কাপড়টি সুরক্ষিত থাকে।

ছবি: সংগৃহীত
ক্যালিফোর্নিয়ায় সর্বোচ্চ আয়ের পেশা চক্ষু চিকিৎসা, বছরে আয় সাড়ে তিন লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া পেশা হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে চক্ষু চিকিৎসা। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৯০ ডলার। যেখানে এই অঙ্গরাজ্যে সব পেশার সাধারণ চাকরিজীবীদের গড় বার্ষিক আয় মাত্র ৮০,৬৯০ ডলার।   যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় চিকিৎসা খাতের আধিপত্যের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন এই চিত্র। শুধু ক্যালিফোর্নিয়াতেই নয়, দেশের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সার্জন এবং রেডিওলজিস্টদের মতো চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ বেতন পান, যা কিছু ক্ষেত্রে বছরে ৬ লাখ ডলারও ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘ বছরের পড়াশোনা এবং কঠোর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের কারণেই চিকিৎসকদের আয় অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে থাকে।   স্বাস্থ্য খাতের বাইরে সর্বোচ্চ আয়ের শীর্ষ পাঁচটি পেশার মধ্যে রয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিমান চালক এবং খেলোয়াড়। তথ্য অনুযায়ী, বিমান চালকদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ ডলার এবং প্রধান নির্বাহীরা পান ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩০ ডলার। এছাড়া আইনজীবীরা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫০ ডলার গড় আয় নিয়ে তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। তবে এই হিসাবের মধ্যে ওভারটাইম বা বোনাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।   অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি খাতের কিছু উচ্চপদেও বিপুল বেতনের তথ্য মিলেছে। যেমন, দেশের বৃহত্তম সরকারি পেনশন তহবিলের উপ-প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তার মূল বেতন মাসে প্রায় ৪৭,২০৮ ডলার, যা বিভিন্ন পারফরম্যান্স বোনাস মিলিয়ে বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার কারাগার ব্যবস্থার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রধান মনোরোগ বিশেষজ্ঞদেরও প্রতি মাসে ৩৪ থেকে ৪২ হাজার ডলার পর্যন্ত উচ্চ বেতন দেওয়া হচ্ছে।

আরাফার ময়দানে মোনাজাতের দৃশ্য
মক্কা ও মদিনার যে ১০ স্থানে দোয়া কবুল হয়

ইসলামে মক্কা ও মদিনা কেবল ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্থান নয়, বরং ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিশেষ বরকতময় নগরী হিসেবে পরিচিত। কোরআন ও হাদিসে এই দুই পবিত্র নগরীর নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অত্যধিক বলে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে উল্লেখিত ১০টি বিশেষ স্থান তুলে ধরা হলো-   ১. মসজিদুল হারাম মক্কার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ অন্য মসজিদে এক লাখ রাকাতের সমান বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইবাদতের এই মহা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দোয়ার গুরুত্বও অত্যধিক। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬)   ২. তাওয়াফের সময় কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফের সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নবীজি (সা.) দোয়া করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২)   ৩. মুলতাজাম কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানকে মুলতাজাম বলা হয়। এখানে নবীজি (সা.) বুক লাগিয়ে দোয়া করেছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবিরাও এই স্থানে দোয়া করতেন। (বাইহাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৩৭৬৭)   ৪. সাফা ও মারওয়া হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাফা-মারওয়া সাঈ। নবীজি (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দীর্ঘ দোয়া করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)   ৫. আরাফার দিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান রুকন। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিনের দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫)   ৬. মুজদালিফা আরাফাত থেকে ফেরার পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত যাপন করেন, যা ‘মাশআরুল হারাম’ নামে পরিচিত। এখানে ফজরের পর দীর্ঘ সময় দোয়া করার বর্ণনা রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)   ৭. মিনা প্রান্তর মিনায় জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর দোয়া করা সুন্নত। নবীজি (সা.) প্রথম ও মধ্যম জামারাতে পাথর নিক্ষেপের পর দীর্ঘক্ষণ দোয়া করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৫২)   ৮. জমজমের পানি জমজম কূপের পানি ইসলামে বরকতময় নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বলা হয়েছে, জমজম যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, আল্লাহ তা পূরণ করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২)   ৯. মাকামে ইবরাহিম কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর পাথরকে মাকামে ইবরাহিম বলা হয়। এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২৫)   ১০. রিয়াজুল জান্নাহ ও মসজিদে নববি মদিনায় নবীজি (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে রিয়াজুল জান্নাহ বলা হয়, যা বিশেষ ফজিলতের স্থান হিসেবে পরিচিত। পুরো মসজিদে নববিতেই ইবাদত ও দোয়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৩৫)

আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

মতামত

বিশ্ব

View more
আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:৩৬

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

ড. তাহমিদ আহমেদ
এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় কলেরা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:১৫

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন।   ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে।   আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করল ফেরারি, দাম প্রায় ৬.৪ লাখ ডলার
শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম।   ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে।   নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।   চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।   ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি গবেষক মারজানা আক্তার
এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি গবেষক মারজানা আক্তার
বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২৩:৪৮

বাংলাদেশের তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার এশিয়ার প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রকাশিত এই আন্তর্জাতিক তালিকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি দেশের বিজ্ঞান অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন প্রতিবছর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গবেষক, উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীদের কাজ মূল্যায়ন করে এই তালিকা প্রকাশ করে। ২০১৬ সাল থেকে চালু হওয়া এই স্বীকৃতিতে সাধারণত তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁরা নিজ নিজ গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অথবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেন।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের গবেষক মারজানা আক্তার প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় কাজ করছেন। বিশেষ করে পোল্ট্রির ভাইরাসজনিত সংক্রমণ নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আগ্রহ তৈরি করেছে।   গবেষণা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিনি বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতে ‘চিকেন ইনফেকশাস অ্যানিমিয়া ভাইরাস’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে ভাইরাসটির নির্দিষ্ট একটি স্ট্রেইন দেশে প্রথম শনাক্তের দাবি নিয়ে এখনো বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়নি।   এর আগে ২০২৫ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ’-এ নির্বাচিত হন মারজানা আক্তার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত অল্প কয়েকজন তরুণ নারী গবেষকের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। ওই ফেলোশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।   বাংলাদেশ থেকে এর আগেও কয়েকজন খ্যাতিমান নারী বিজ্ঞানী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফিরদৌসী কাদরী এবং শিশুস্বাস্থ্য গবেষক সেঁজুতি সাহা তাঁদের গবেষণা অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন।   বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে মারজানা আক্তারের এই অর্জন ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নারী গবেষকদের জন্য এটি নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।   গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে তাঁর এই সাফল্য নিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
369 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
336 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
423 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
272 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
Advertisement
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়