যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ইরান থেকে পাঠানো বলে সন্দেহ করা একটি এনক্রিপ্টেড বা গোপন বার্তা আটক করেছে, যা বিদেশে অবস্থানরত স্লিপার এজেন্ট বা গোপন অপারেটিভদের সক্রিয় করার সংকেত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার দেশজুড়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। ফেডারেল কর্তৃপক্ষের পাঠানো একটি সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক সিগন্যাল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বার্তাটি সম্ভবত ইরান থেকে উৎপন্ন হয়ে একাধিক দেশের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। বার্তাটি আটক করা হয় আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরপরই, যা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বিশ্লেষণে জানা গেছে, বার্তাটি ছিল সম্পূর্ণ এনক্রিপ্টেড এবং নির্দিষ্ট গোপন প্রাপকদের জন্য, যাদের কাছে ডিকোড করার বিশেষ কী রয়েছে। এ ধরনের বার্তা সাধারণত ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার না করে গোপন এজেন্ট বা স্লিপার অ্যাসেটদের নির্দেশ পাঠানোর জন্য ব্যবহার করা হয়, যাতে যোগাযোগ শনাক্ত করা কঠিন হয়। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন থাকলেও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থাকে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, সামরিক ঘাঁটি এবং বড় শহরগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলছেন, এই ধরনের সংকেত সব সময় হামলার নির্দেশ বোঝায় না, তবে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের হামলায় আহত আরেক মার্কিন সেনা সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, নিহত সেনা সদস্য হলেন সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন (২৬), তিনি কেন্টাকির গ্লেনডেল এলাকার বাসিন্দা। পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ মার্চ সৌদি আরবে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার তিনি মারা যান। এই ঘটনার মাধ্যমে চলমান সংঘাতে ইরানের হামলায় নিহত মার্কিন সেনা সদস্যের সংখ্যা বেড়ে ৭ জনে দাঁড়িয়েছে। জানা গেছে, সার্জেন্ট পেনিংটন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর স্পেস ইউনিটে কর্মরত ছিলেন এবং ২০১৭ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বাড়ার পর থেকে সৌদি আরবসহ বিভিন্ন স্থানে মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।
সৌদি আরবের আল-খারজ গভর্নরেটে এক বিমান হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীর বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইল জেলার সখীপুরের মোশাররফ হোসেন। আহত বাংলাদেশিরা বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। সরকার সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে জ্বালানি তেলে যে সমস্যার কথা বলা হচ্ছে, পেট্রল পাম্পে যা দেখা দিয়েছে তা কোনো সত্যিকারের সংকট নয়। সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি মজুদ রয়েছে এবং তা পর্যায়ক্রমে সরবরাহ করা হবে। তিনি জানান, অনেকেই পেট্রল মজুত করার চেষ্টা করছেন, তাই যদি কোথাও তেলের অস্বাভাবিক সংকট দেখা দেয়, তা নজরদারির আওতায় আনা হচ্ছে এবং ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশের সব গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করবে এটাই সরকারের প্রত্যাশা, তবে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের নতুন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের মতামত নেওয়া হবে। সভায় প্রতিমন্ত্রী ময়মনসিংহের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ ও যানজট নিরসনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, শহরের যানজটের মূল কারণ রাস্তার সংকট নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ঘাটতি। অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং যানবাহন নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সভায় জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রীরা, পুলিশ সুপার ও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কক্সবাজার সফরে এসে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় যোগ দেন এবং সমুদ্রসৈকতের শৃঙ্খলা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। তিনি জানিয়েছেন, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হবে এবং সৈকতে থাকা সব অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা এক সপ্তাহের মধ্যে অপসারণ করা হবে। জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে ও নবগঠিত বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, ব্যাটারিচালিত টমটম ও অন্যান্য অযান্ত্রিক যানবাহনের সংখ্যা আর বৃদ্ধি পাবে না। ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য অতিরিক্ত জনবল সরবরাহ করা হবে এবং লাইসেন্সের নিয়মকানুন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, সৈকতকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, ময়লা-আবর্জনা অপসারণ এবং পর্যটকদের জন্য অসুবিধাজনক কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কক্সবাজার শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে, যা পুলিশ প্রশাসনের নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় কক্সবাজারে আইন-শৃঙ্খলা ও সার্বিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।
নাগরিকদের জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে ইরান। বিশেষ করে বিদেশে অবস্থানরত ইরানি নাগরিকদের বিষয়ে কড়া সতর্কতা দিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সহযোগিতা করলে ইরানি নাগরিকদের দোষী সাব্যস্ত করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের সম্পদ জব্দ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণে থাকা ইরানিদের জন্য এই বিধান জারি করা হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) এক বিবৃতিতে কার্যালয়টি গত বছরের অক্টোবরে প্রণীত একটি আইনের কথা উল্লেখ করে। প্রেস টিভির তথ্য অনুযায়ী, ওই আইন অনুযায়ী ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র বা অন্য কোনো শত্রু রাষ্ট্র বা গোষ্ঠীকে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা করলে ইসলামি দণ্ডবিধি অনুসারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং অন্যান্য আইনি শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। আইনটিতে আরও বলা হয়েছে, জায়নিস্ট (ইসরাইলি) শাসন বা যুক্তরাষ্ট্র সরকারসহ অন্য কোনো শত্রু সরকার, গোষ্ঠী বা তাদের সঙ্গে যুক্ত কোনো উপাদানের পক্ষে দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হলে ২০১৩ সালের ২১ এপ্রিল অনুমোদিত ইসলামি দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী সম্পদ বাজেয়াপ্তসহ অন্যান্য আইনি শাস্তি কার্যকর হতে পারে। সূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
সৌদি আরবের আল-খারজ গভর্নরেটে এক বিমান হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও কয়েকজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিহতরা হলেন কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদীর বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইল জেলার সখীপুরের মোশাররফ হোসেন। আহত বাংলাদেশিরা বর্তমানে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছেন। সরকার সকল পক্ষকে সংযম প্রদর্শন করার আহ্বান জানিয়েছে এবং নিরীহ মানুষের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে মানবজাতির জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ফ্রান্সের জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ক্লেমেন্স গোতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধংদেহী পররাষ্ট্রনীতির কড়া সমালোচনা করেন। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি বলেন, মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ আজ বিশ্বশান্তি ও মানবজাতির জন্য হুমকিতে পরিণত হয়েছে। তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ফরাসি এই সংসদ সদস্য আরও দাবি করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে তার কাজ শেষ হলে তিনি কিউবার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ নেবেন। এমন বক্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি গাজা, লেবানন, ভেনেজুয়েলা, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এসব ঘটনায় বারবার আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘিত হচ্ছে। অথচ অনেক পশ্চিমা নেতা এ বিষয়ে নীরব থাকছেন বা তাদের সহযোগিতা করছেন। ক্লেমেন্স গোতে আরও বলেন, আমরা সেই সব জাতির পাশে আছি যাদের ওপর বোমা বর্ষণ করা হয়েছে। পাশ্চাত্যের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে তাদের প্রতিও সমর্থন ও শ্রদ্ধা থাকা উচিত। তার এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চলমান সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং এই যুদ্ধ আর কতদিন স্থায়ী হবে— তা নিয়ে নতুন এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রোববার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, এই যুদ্ধের সমাপ্তি বা স্থায়িত্বের বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের রাশ নিজের হাতেই রাখছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে যুদ্ধের সময়সীমা নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমার মনে হয় এটি (ইসরায়েলের সঙ্গে) পারস্পরিক আলোচনার বিষয়। আমরা (ট্রাম্প এবং নেতানিয়াহু) নিয়মিত কথা বলছি; তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমিই নেব এবং সঠিক সময়ে নেব। সকল পরিস্থিতি বিবেচনা করেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, যুদ্ধ বন্ধ বা চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন এখন মাঠপর্যায়ের কৌশলগত সাফল্যের ওপর বেশি নজর দিচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩ মার্চ ট্রাম্প এক ঘোষণায় জানিয়েছিলেন যে, চার সপ্তাহের মধ্যে যুদ্ধ শেষ হতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। যদিও তাঁর এই বক্তব্যের পর মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ভিন্নমত পোষণ করে বলেছিলেন, যুদ্ধের প্রকৃতি অনুযায়ী এটি ৬ থেকে ৮ সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। যুদ্ধের ভবিষ্যৎ নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে এই ভিন্নধর্মী বক্তব্যের মাঝেই ট্রাম্পের নতুন এই বার্তা এল। এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল গত ফেব্রুয়ারি মাসে। ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘ ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিবিড় সংলাপ চললেও ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর ঠিক পরদিন, অর্থাৎ ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র শুরু করে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং ইসরায়েল শুরু করে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’। এর জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও তেলের স্থাপনাগুলোতে দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে ক্রমেই আরও জটিল করে তুলছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের ধরতে গিয়ে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে। কোথাও রাস্তার ওপর বড় ট্রাক রেখে দেওয়া হয়েছে, কোথাও আবার ভেঙে ফেলা হয়েছে কালভার্ট। এমনকি একটি স্থানে নালার স্ল্যাবও তুলে ফেলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের ধারণা, অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যায় সন্ত্রাসীদের একটি অংশ। ফলে অভিযানের আগের রাতেই এসব প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়, যাতে বাহিনীর অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের দুটি পক্ষ সক্রিয়। একটি পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন গত জানুয়ারিতে ওই এলাকায় অভিযানে যাওয়া এক র্যাব কর্মকর্তাকে হত্যার মামলার প্রধান আসামি। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকায় তার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আলীনগরে যৌথ বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতেই এসব বাধা সৃষ্টি করা হয়। আলীনগরে প্রবেশের মূল সড়কে ট্রাক রেখে ব্যারিকেড দেওয়া হয় এবং কাছাকাছি একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়। পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ছিন্নমূল ও আলীনগর জঙ্গল সলিমপুরের অংশ। ছিন্নমূল এলাকা পেরিয়ে আলীনগরে ঢোকার মুখে একটি ট্রাক দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছিল। পরে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা সেটি সরিয়ে সামনে অগ্রসর হন। কিছু দূর যাওয়ার পর দেখা যায় একটি কালভার্ট ভেঙে ফেলা হয়েছে। পরে ওই অংশ ইট–বালি দিয়ে ভরাট করে বাহিনীর গাড়ি আলীনগরে প্রবেশ করে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি বড় অভিযান এবং এতে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় সন্ত্রাসীদের নিজস্ব সোর্স থাকায় তারা কোনোভাবে অভিযানের খবর পেয়ে থাকতে পারে। অস্ত্র উদ্ধার ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি জানান, অভিযান এখনো চলমান। অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত কত অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বা কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ভবিষ্যতে অভিযান পরিচালনার সুবিধার্থে সেখানে যৌথ বাহিনীর সমন্বয়ে একটি অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। রোববার সকাল ছয়টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে প্রায় চার হাজার সদস্য অংশ নিয়েছেন। অভিযান শুরুর আগে থেকেই জঙ্গল সলিমপুর এলাকার চারপাশ ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রবেশ ও বের হওয়ার পথে বসানো হয় তল্লাশি চৌকি, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। নিরাপত্তার কারণে অভিযানের সময় সাংবাদিকদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। গত জানুয়ারিতে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় করা মামলায় মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ ২৯ জনকে আসামি করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আসামি ধরতে গেলে সন্ত্রাসীরা ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তারা র্যাবের আটক এক আসামিকে ছিনিয়ে নেয় এবং চার সদস্যকে অপহরণ করে। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করা হয়। জঙ্গল সলিমপুর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত। প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকায় গড়ে ওঠা এই অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি। এখনও সেখানে পাহাড় কেটে প্লট-বাণিজ্য চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কর্মকাণ্ড টিকিয়ে রাখতে এলাকাজুড়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সক্রিয় রয়েছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় মোজতবা খামেনিকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। সোমবার ক্রেমলিন এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানায়। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, “ইরান যখন সশস্ত্র আগ্রাসনের মুখোমুখি, তখন এই উচ্চ পদে আপনার দায়িত্ব পালনে অসাধারণ সাহস ও নিষ্ঠার প্রয়োজন হবে। আমি বিশ্বাস করি, আপনি সম্মানের সঙ্গে আপনার পিতার কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবেন এবং কঠিন সময়ে ইরানের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখবেন।” প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এটিই বড় কোনো নেতার প্রথম অভিনন্দন বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। মোজতবা খামেনি হলেন ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই তার এই নিয়োগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ায় পুতিনের এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে
লেবানন থেকে ছোড়া হিজবুল্লাহর ড্রোন প্রতিহত করতে বড় ধরনের সমস্যার কথা স্বীকার করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, ড্রোন প্রতিরোধে তাদের সফলতার হার খুবই কম। ইসরায়েলি দৈনিক হারেৎজ-এর বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি সামরিক কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন যে হিজবুল্লাহর ব্যবহৃত ড্রোন থামানো এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, উত্তর সীমান্তের কাছে ইসরায়েলি বসতিগুলো পুরোপুরি খালি না করেই সেনাবাহিনী লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কর্মকর্তারা। সামরিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, লেবানন সীমান্তে চলমান সংঘর্ষের নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই এবং এটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহ বর্তমানে কম উচ্চতায় উড়তে সক্ষম ছোট ড্রোন ব্যবহার করছে, যেগুলো রাডারে ধরা কঠিন এবং প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী বৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সরকারি হিসাবে, গত কয়েক দিনের এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজদের খুঁজতে সেনাবাহিনী ও জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলো দেশজুড়ে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার (৬ মার্চ) থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণে জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন এবং বহু যানবাহন পানির স্রোতে ভেসে যায়। বন্যার প্রভাবে কেনিয়ার প্রধান বিমানবন্দরেও ফ্লাইট ওঠানামা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত পানির তোড়ে ভেসে যাওয়া ১৭২টি যানবাহন উদ্ধার করেছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কেনিয়ার জনসেবা মন্ত্রী জিওফ্রে কিরিঙ্গা রুকু জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত উদ্ধারে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ দল নিরলসভাবে কাজ করছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম রুটো জাতীয় মজুত থেকে দুর্গত এলাকায় জরুরি খাদ্য সহায়তা বিতরণের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসন কাজ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বন্যার পেছনে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন বড় ভূমিকা রাখছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে পূর্ব আফ্রিকায় বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক ধরণ বদলে গেছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে অস্বাভাবিক মাত্রায় বৃষ্টিপাত হওয়ায় এই অঞ্চলে বন্যার ঝুঁকি আগের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। তথ্যসূত্র: কয়টার্স
ইরানে ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন ১০ম দিনে গড়িয়েছে। সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এবং এর প্রভাব পৌঁছেছে সুদূর ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, এই জলরাশিতে অবস্থিত দ্বীপ রাষ্ট্র সাইপ্রাসেও একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে এসব ঘটনার মধ্যেও যুদ্ধে জড়ানোর ইচ্ছা নেই বলে জানিয়েছে দেশটি। এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডৌলিডেস বলেছেন, ইরান সংঘাত সংশ্লিষ্ট কোনো সামরিক অভিযানে সাইপ্রাস অংশ নেবে না। বরং দেশটি তার মানবিক ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেবে। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দখলদার ইসরাইল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালায়। এরপর থেকে তেহরান কঠোর ভাষায় জবাব দিয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে সরাসরি ইসরাইলে। এ ছাড়া উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিসহ দেশটির স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনাতেও হামলা চালাচ্ছে ইরান। সূত্র: আলজাজিরা।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।