Live update news
ইসরায়েলের আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি বললেন এরদোয়ান

সিরিয়া ও লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের চলমান সামরিক হামলা ও আগ্রাসন তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তীব্র হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে ইসরায়েলি এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ড পুরো বিশ্বের দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্যও এক বিরাট বিপদ বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তিনি। বুধবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তুর্কি প্রেসিডেন্টের এই গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রকাশ করা হয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর ওপর ইসরায়েলের এই ধারাবাহিক সামরিক আক্রমণকে তুরস্ক এবং সমগ্র বিশ্বের জন্য সমান ক্ষতিকর বলে স্পষ্ট অভিহিত করেছেন রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তুর্কি প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ‘‘ই‌সরায়েলের এই আগ্রাসন পুরো বিশ্বের জন্য হুমকি এবং বিশ্ব শান্তির স্বার্থে এটি অবশ্যই দ্রুত বন্ধ করতে হবে।’’   পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর অন্যতম প্রধান ও প্রভাবশালী সদস্য দেশ তুরস্ক মূলত ইরান, গাজা উপত্যকা এবং লেবাননে ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার সবচেয়ে তীব্র সমালোচনাকারীদের মধ্যে অন্যতম। আঙ্কারার পক্ষ থেকে বেশ জোরালোভাবেই বারবার বলা হচ্ছে যে, সমগ্র মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইসরায়েল রাষ্ট্রটিই বর্তমানে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে তুরস্ক এবং আন্তর্জাতিক আদালতে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছে।   এদিকে তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের এই কড়া মন্তব্যের তীব্র জবাব দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তুরস্কের নেতা হলেন পৃথিবীর শেষ ব্যক্তি যিনি ইসরায়েল রাষ্ট্রকে নৈতিকতা বা শান্তির শিক্ষা দিতে পারেন। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী ইরান ও তার মিত্র প্রক্সিদের বিরুদ্ধে এই জোরালো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে; কারণ তারাই মূলত মধ্যপ্রাচ্য ও সমগ্র বিশ্বের জন্য আসল হুমকি।

৯ মিনিট Ago
ইউরোপে যাওয়ার পথে ৫ মাসে সাগরে প্রাণ গেল ১৩০০ মানুষের

উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশায় অবৈধভাবে ইউরোপে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টার সময় চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলবর্তী সমুদ্রে ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। বুধবার আটলান্টিক মহাসাগর এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরের অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক পথ দিয়ে আফ্রিকা মহাদেশ থেকে ইউরোপে পারাপারের বিষয়টি সার্বক্ষণিক নজরদারি করা মানবাধিকার সংস্থা 'কামিনান্দো ফ্রোন্তেরাস' (ওয়াকিং বর্ডারস) এক প্রতিবেদনে এই চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশ করা হলো যখন বিগত এক দশকে অনিয়মিত অভিবাসনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠা স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান পোপ লিওর একটি বিশেষ সফর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।   মানবাধিকার সংস্থাটির প্রকাশিত পরিসংখ্যান ও প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম পাঁচ মাসে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর আকুল চেষ্টায় ১ হাজার ৩১৭ জন মানুষ সাগরের বুকেই প্রাণ হারিয়েছেন। এই বিপুলসংখ্যক মৃত মানুষের মধ্যে ১৪২ জন নারী এবং ১২৯ জন নিষ্পাপ শিশু রয়েছে, যা এই যাত্রাপথের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। এছাড়া চরম প্রতিকূল আবহাওয়া ও সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়ে অন্তত ২৭টি নৌকা আফ্রিকার উপকূল থেকে সাগরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে পরবর্তীতে আরোহীসহ মাঝসমুদ্রেই চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছে, যাদের আর কোনো সন্ধান মেলেনি।   চলতি সপ্তাহে তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ স্পেন সফরকালে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের প্রতি ইউরোপের বিভিন্ন দেশের আচরণ ও নীতিমালার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে কথা বলেছেন পোপ লিও। বিশ্বজুড়ে চলমান এই অভিবাসনপ্রত্যাশীদের চরম দুর্দশা, সাগরে প্রতিনিয়ত মৃত্যু এবং মানবিক সংকটকে পোপ এমন এক বড় সমস্যা হিসেবে অবিহিত করেছেন যা বর্তমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার নৈতিক ভিত্তিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দেয়। ইউরোপের দেশগুলোর এই সংকট মোকাবিলায় আরও বেশি মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।   আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বনামধন্য মানবাধিকার সংস্থা ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের কাছাকাছি থাকা মৌরিতানিয়ার মতো উপকূলীয় দেশ বা জায়গাগুলোতে সাগরে অবৈধ পারাপার বন্ধের কঠোর প্রচেষ্টা ও রাষ্ট্রীয় পাহারা জোরদার করা হয়েছে। ফলে কোস্ট গার্ড বা বিভিন্ন দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর এই কড়া নজরদারি এড়ানোর জন্য অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বিকল্প পথ খুঁজছেন। এই বিপজ্জনক চেষ্টার অংশ হিসেবে দালালেরা এবং অভিবাসনপ্রত্যাশীরা আটলান্টিক মহাসাগরজুড়ে আরও দীর্ঘ, অজানা এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ রুট বা পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা মৃত্যুর হারকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।   এই সংস্থাটি তাদের পূর্ববর্তী তথ্যে উল্লেখ করেছে যে, গত ২০২৫ সালে স্পেনের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় সর্বমোট ৩ হাজার ৯০ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন অথবা চিরতরে নিখোঁজ হয়ে গেছেন। ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী, স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জ এবং পশ্চিম আফ্রিকা উপকূলের মধ্যকার সর্বনিম্ন দূরত্ব হচ্ছে প্রায় ১০০ কিলোমিটার বা ৬২ মাইল। এছাড়া অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী প্রায় সময়ই মরক্কো থেকে স্পেনের মধ্যবর্তী মাত্র ২০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি ভিন্ন সমুদ্রপথ দিয়ে সাঁতরে পার হওয়ার মতো চরম আত্মঘাতী ও ঝুঁকিপূর্ণ চেষ্টাও করে থাকেন।

২৩ মিনিট Ago
পশ্চিমবঙ্গে ১৫ বছরের শাসনে প্রথমবার নজিরবিহীন রাজনৈতিক সংকটে মমতা ব্যানার্জি

তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনকালে এই প্রথম এক অভূতপূর্ব ও ঐতিহাসিক রাজনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। দলটির অন্যতম প্রধান ও বিশ্বস্ত ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত মুসলিম সম্প্রদায়ের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা ও বিধায়ক হয় দল থেকে দূরত্ব বজায় রাখছেন, না হয় প্রকাশ্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৃণমূল-বিরোধী শিবিরের দিকে ঝুঁকে পড়ছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ভেঙে ভেতরের এই নীরব অসন্তোষ এখন প্রকাশ্য রূপ নিতে শুরু করেছে।   এই সংকটের সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি এসেছে তৃণমূলের অন্যতম শীর্ষ এবং মমতার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ নেতা ফিরহাদ হাকিমকে কেন্দ্র করে। গত ৮ জুন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত ব্যানার্জির কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সাথে প্রায় ৭০ মিনিটের একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন ফিরহাদ হাকিম। মমতা ব্যানার্জির রাজনৈতিক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত ‘৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট’-এর অন্দরে যে বড় ধরনের ফাটল ধরেছে, এই দীর্ঘ বৈঠক তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি কলকাতার মেয়রের পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগ এবং এরপর বিরোধী শিবিরের সাথে তাঁর এই গোপন বৈঠক রাজ্য রাজনীতিতে দলবদলের জল্পনাকে তীব্র করে তুলেছে। ঋতব্রত ব্যানার্জির ঘনিষ্ঠ মহল থেকে ইতোমধ্যেই দাবি করা হচ্ছে যে ফিরহাদ হাকিমের আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী জোটে যোগ দেওয়া এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।   ফিরহাদ হাকিম কেবল একজন সাধারণ নেতাই ছিলেন না, বরং বিগত বছরগুলোতে তৃণমূলের ভেতরে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মুখ এবং রক্ষাকর্তা হিসেবে বিবেচিত হতেন। ফলে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে তাঁর এই পদক্ষেপ তৃণমূলের জন্য বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। তবে ববি হাকিম একাই নন; তাঁর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং বীরভূমের মতো মুসলিম-অধ্যুষিত অঞ্চলের একঝাঁক প্রভাবশালী নেতা ও বিধায়ক মমতার পাশ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন হরিহরপাড়ার নিয়ামত শেখ, সমসেরগঞ্জের মোহাম্মদ নূর আলম, সুজাপুরের সাবেক মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, রঘুনাথগঞ্জের আখরুজ্জামান, মোথাবাড়ির গুলশান মালিক এবং কলকাতার কাসবার বিধায়ক জাভেদ খান। এমনকি লোকসভার বিদ্রোহীদের মধ্যেও জঙ্গিপুরের খলিলুর রহমান, গয়েশপুরের ইউসুফ পাঠান, মুর্শিদাবাদের আবু তাহের ও ফুলবাড়িয়ার সাজেদা আহমেদের মতো প্রথম সারির মুসলিম সংসদ সদস্যদের নাম রয়েছে, যা তৃণমূলের অন্দরে মুসলিম নেতৃত্বের এক বড়সড় বিদ্রোহকে সামনে এনেছে।   পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এতদিন একটি দৃঢ় ধারণা প্রচলিত ছিল যে মুসলিম ভোটার বা নেতারা কখনোই বিজেপির দিকে যাবেন না বা মমতার বিরোধিতা করবেন না। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি সেই মানসিক বাধা ভেঙে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে রাজ্যের মুসলিম জনগোষ্ঠীর কাছে বিজেপি রাজনৈতিকভাবে ‘অস্পৃশ্য’ থাকলেও, এখন খোদ মুসলিম নেতারাই এনডিএ বা বিজেপি-সমর্থিত political মঞ্চের সাথে যোগাযোগের পথ উন্মুক্ত করছেন। এর ফলে প্রশ্ন উঠছে, বিজেপির প্রতি মুসলিম সম্প্রদায়ের দৃষ্টিভঙ্গি কি আসলেই পাল্টাচ্ছে? ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে বিজেপি কোনো মুসলিম প্রার্থী দেয়নি এবং উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যেও এই কৌশল নিয়েছিল, সেখানে সংখ্যালঘু নেতাদের এই অবস্থান বিজেপির ভবিষ্যৎ কৌশলেও বদল আনতে পারে।   তৃণমূলের অভ্যন্তরে এই বিদ্রোহের পেছনে কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান এবং কমিশনগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশের মধ্যে জমতে থাকা দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও হতাশা কাজ করছে। সঠিক প্রতিনিধিত্ব, সুশাসন এবং উন্নয়নের সুষম বণ্টন না পাওয়ার কারণে তৃণমূলের প্রতি এই ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ফলে মমতার পাশ থেকে মুসলিম নেতাদের এই সরে যাওয়াকে আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে সংখ্যালঘু ভোটব্যাংক তৃণমূলের ক্ষমতার মূল ভিত্তি ছিল, এটি কি সাময়িক কোনো অসন্তোষ নাকি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী মেরুকরণের সূচনা, তা এখন কোটি টাকার প্রশ্ন।

৩৭ মিনিট Ago
ওয়ার্ক পারমিটে বড় সংস্কার আনল আমিরাত সরকার

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্মসংস্থান অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার চালু করেছে। দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়, কোনো সহায়ক নথিপত্র জমা না দিয়েই শতভাগ কাগজবিহীন পদ্ধতিতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে, ফলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে।   সরকারি কার্যক্রমে জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে পরিচালিত ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন পদ্ধতি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা গ্রহণকে আরও কার্যকর করবে এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে সক্ষম হবেন।   সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রচলিত ওয়ার্ক পারমিট সেবাগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি ইলেকট্রনিক গণপরামর্শ কার্যক্রম চালু করেছে। এই অনলাইন পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, সেবাগ্রহীতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত ও পরামর্শ জমা দিতে পারবেন। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে সেবাগুলোকে আরও উন্নত ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি বাড়াতে মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগকর্তা এবং কর্মীরা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগ একদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়নকে সহায়তা করবে, অন্যদিকে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে শ্রমবাজারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সেবার গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।   নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই বছর মেয়াদি বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট, যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া যাবে। একইভাবে দেশটির অভ্যন্তরে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পরিবর্তনের জন্য দুই বছর মেয়াদি ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জরুরি কাজের জন্য মিশন ওয়ার্ক পারমিট এবং স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে।   আধুনিক কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্রিল্যান্সার এবং খণ্ডকালীন কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীরা মূল নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে। এছাড়া শিক্ষকতা খাতে প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ কয়েকটি পারমিট চালু করেছে মন্ত্রণালয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট চালু রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ কর্মসংস্থান পারমিটের পাশাপাশি স্থানীয় আমিরাতি স্নাতকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিটও চালু করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারকে আরও আধুনিক, নমনীয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

৪৫ মিনিট Ago
গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আন্তর্জাতিক
ওয়ার্ক পারমিটে বড় সংস্কার আনল আমিরাত সরকার

সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্মসংস্থান অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কার চালু করেছে। দেশটির মানবসম্পদ ও আমিরাতিয়াকরণ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শ্রমবাজারকে আরও গতিশীল, দক্ষ এবং প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন ব্যবস্থার আওতায় এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায়, কোনো সহায়ক নথিপত্র জমা না দিয়েই শতভাগ কাগজবিহীন পদ্ধতিতে ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন করা যাবে। পাশাপাশি কিছু নির্দিষ্ট পারমিটের ক্ষেত্রে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা ৭৫ থেকে ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনা হয়েছে, ফলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও সহজ হবে।   সরকারি কার্যক্রমে জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে পরিচালিত ‘জিরো গভর্নমেন্ট ব্যুরোক্রেসি প্রোগ্রাম’-এর অংশ হিসেবে এই সংস্কার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের মতে, নতুন পদ্ধতি কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সেবা গ্রহণকে আরও কার্যকর করবে এবং নিয়োগকর্তা ও কর্মীদের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজ করবে। ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর এই পরিবর্তনের মাধ্যমে আবেদনকারীরা দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে সক্ষম হবেন।   সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় বর্তমানে প্রচলিত ওয়ার্ক পারমিট সেবাগুলোর কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্দেশ্যে আগামী ৩০ জুলাই পর্যন্ত একটি ইলেকট্রনিক গণপরামর্শ কার্যক্রম চালু করেছে। এই অনলাইন পরামর্শ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, সেবাগ্রহীতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত ও পরামর্শ জমা দিতে পারবেন। প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে সেবাগুলোকে আরও উন্নত ও ব্যবহারবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   ডিজিটাল সেবার বিস্তৃতি বাড়াতে মন্ত্রণালয় একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়োগকর্তা এবং কর্মীরা ঘরে বসেই বিভিন্ন ধরনের ওয়ার্ক পারমিটের আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। মন্ত্রণালয় বলছে, এই উদ্যোগ একদিকে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর টেকসই উন্নয়নকে সহায়তা করবে, অন্যদিকে কর্মীদের অধিকার সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ফলে শ্রমবাজারে দক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং সেবার গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।   নতুন নীতিমালার আওতায় বিভিন্ন খাতের প্রয়োজন বিবেচনায় মোট ১৩ ধরনের ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুই বছর মেয়াদি বাহিরাগত কর্মী নিয়োগ পারমিট, যার মাধ্যমে বিদেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ দেওয়া যাবে। একইভাবে দেশটির অভ্যন্তরে এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকরি পরিবর্তনের জন্য দুই বছর মেয়াদি ট্রান্সফার ওয়ার্ক পারমিট চালু রয়েছে। পারিবারিক স্পনসরের অধীনে থাকা অভিবাসীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে ফ্যামিলি স্পনসরড পারমিট রাখা হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট সময়ের জরুরি কাজের জন্য মিশন ওয়ার্ক পারমিট এবং স্বল্পমেয়াদি কাজের জন্য টেম্পোরারি ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রয়েছে।   আধুনিক কর্মসংস্থানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফ্রিল্যান্সার এবং খণ্ডকালীন কর্মীদের জন্যও বিশেষ সুযোগ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানের অধীনে না থেকেও স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য ফ্রিল্যান্স ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের দক্ষ কর্মীরা মূল নিয়োগকর্তার অনুমতি ছাড়াই একাধিক প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ পাবেন পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিটের মাধ্যমে। এছাড়া শিক্ষকতা খাতে প্রাইভেট টিউটরিং পারমিট এবং গোল্ডেন ভিসাধারীদের জন্য বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।   তরুণ প্রজন্ম ও স্থানীয় নাগরিকদের কর্মসংস্থানে সম্পৃক্ত করতে বিশেষ কয়েকটি পারমিট চালু করেছে মন্ত্রণালয়। ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে জুভেনাইল ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হবে। পাশাপাশি ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ ও কর্মঅভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দিতে স্টুডেন্ট ট্রেইনিং অ্যান্ড এমপ্লয়মেন্ট পারমিট চালু রয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত ও জিসিসিভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণ কর্মসংস্থান পারমিটের পাশাপাশি স্থানীয় আমিরাতি স্নাতকদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিশেষ ট্রেইনি ওয়ার্ক পারমিটও চালু করা হয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটির শ্রমবাজারকে আরও আধুনিক, নমনীয় এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২৩:৫৫
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪.২ শতাংশ, ৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ রেকর্ড

ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট ধাক্কায় যুক্তরাষ্ট্রে মে মাসে মূল্যস্ফীতির গতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) বার্ষিক ৪.২ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এপ্রিল মাসে ছিল ৩.৮ শতাংশ। এর মাধ্যমে মার্কিন মুলুকে মূল্যস্ফীতি ২০২৩ সালের এপ্রিলের পর গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছাল।   আর্থিক তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্টসেটের জরিপে অর্থনীতিবিদরা মে মাসে মূল্যস্ফীতি বার্ষিক ৪.২ শতাংশে পৌঁছানোর যে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, তা এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে মিলে গেল। মূলত জ্বালানির দাম বৃদ্ধিই মূল্যস্ফীতিকে এই পর্যায়ে নিয়ে গেছে। মে মাসের সিপিআই বৃদ্ধির ৬০ শতাংশেরও বেশি অবদান ছিল এই জ্বালানি খাতের।   চলতি বছরের জানুয়ারিতে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার ২.৪ শতাংশ থাকলেও ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে তা এখন তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে মার্কিন বাজারে পেট্রল থেকে শুরু করে বিমান ভাড়া পর্যন্ত সবকিছুর দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।   শ্রম বিভাগের মে মাসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় পেট্রলের দাম ৪০.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে জুন মাসে এসে জ্বালানির দাম কিছুটা কমেছে, যা মে মাসের এই উপাত্তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এছাড়া খাদ্য ও জ্বালানির মতো উদ্বায়ী খাত বাদে মূল বা ‘কোর’ মূল্যস্ফীতি মে মাসে বার্ষিক ২.৯ শতাংশ হারে বেড়েছে, যা এপ্রিলে ছিল ২.৮ শতাংশ।

ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সিতে বিশ্বকাপ ফুটবলের ট্রেন চলাচল নিয়ে যাত্রীদের চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম ম্যাচ শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে তীব্র উদ্বেগ ও সংশয় দেখা দিয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ব্যস্ততম সময়ে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ও একের পর এক ট্রেইল বাতিল হওয়ার ঘটনা এই উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। এর ফলে কয়েক দিনের মধ্যে স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখতে আসা হাজার হাজার ফুটবল ভক্তের চাপ এই ভঙ্গুর পরিবহন ব্যবস্থা কীভাবে সামাল দেবে, তা নিয়ে সাধারণ যাত্রী ও প্রবাসীদের মনে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।   আঞ্চলিক ট্রেন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান এনজে ট্রানজিটের নিয়মিত যাত্রীরা এই অব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে রেললাইনের ওপরের বৈদ্যুতিক তারের জটিলতার কারণে গত মঙ্গলবার বিকেলে যাত্রীদের প্রায় ৪৫ মিনিট পর্যন্ত স্টেশনে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে মার্কিন রেল কর্তৃপক্ষ অ্যামট্র্যাক নিশ্চিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিউ জার্সি এবং নিউ ইয়র্ক অঞ্চলের রেল যোগাযোগে ঘটে যাওয়া একের পর এক বড় ধরনের যান্ত্রিক ও কাঠামোগত সমস্যার এটি সর্বশেষ উদাহরণ, যা বিশ্বকাপের মতো বড় বৈশ্বিক আসরের প্রাক্কালে স্থানীয় প্রশাসনকে বেশ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে।   রেলওয়ের এই ধারাবাহিক বিপর্যয় কেবল সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়, বরং মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই পেন স্টেশনের ভেতরে একটি অ্যামট্র্যাক ওয়ার্ক ট্রেনের ইঞ্জিন বা বগিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। সেই অগ্নিকাণ্ডের জের ধরে নিউ ইয়র্ক এবং নিউ জার্সির মধ্যকার পুরো রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছিল এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এমন তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা মরিন হ্যাগানের মতো সাধারণ যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বিশ্বকাপের সময় এই যাতায়াত ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের জন্য একটি দুঃস্বপ্ন হতে চলেছে এবং যারা খেলা দেখতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন তাদের জন্য তিনি এখনই বেশ সমবেদনা বোধ করছেন।   পরিবহন ব্যবস্থার এই চরম অনিশ্চয়তার কারণে অনেক অভিজ্ঞ নিত্যযাত্রী ফুটবল দর্শকদের ট্রেনের ওপর ভরসা না করার পরামর্শ দিচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় গণমাধ্যমে অনেকেই বলছেন যে, যারা ট্রেনকে বিশ্বকাপের একমাত্র যাতায়াত মাধ্যম হিসেবে ধরে রেখেছেন, তাদের বিকল্প ভাবা উচিত। খেলা মিস করতে না চাইলে দর্শকদের ট্রেন বাদ দিয়ে নিজস্ব গাড়ি ড্রাইভ করে, বাসে চড়ে কিংবা প্রয়োজনে সাইকেল চালিয়ে হলেও স্টেডিয়ামে যাওয়ার প্রস্তুতি রাখা দরকার। কারণ মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ম্যাচগুলোর দিন ট্রেন সময়মতো প্ল্যাটফর্মে আসবে কিংবা বগিতে জায়গা পাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা এই মুহূর্তে এনজে ট্রানজিট দিতে পারছে না।   উদ্ভূত পরিস্থিতি সত্ত্বেও এনজে ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ম্যাচ টিকিটধারীদের জন্য বিশেষ ট্রেন টিকিটের ব্যবস্থা করেছে, যার অধীনে নিউ ইয়র্ক সিটি থেকে স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাওয়া-আসার একটি রাউন্ড-ট্রিপ টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৮ ডলার। প্রতি ম্যাচের জন্য এমন ৪০ হাজার বিশেষ টিকিট এনজে ট্রানজিট অ্যাপের মাধ্যমে শুধুমাত্র ভেরিফাইড ফুটবল টিকিটধারীদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। নিউ ইয়র্ক থেকে পেন স্টেশনের মাধ্যমে সরাসরি মেটলাইফ এবং গার্ডেন স্টেট থেকে আসা যাত্রীরা সিকাকাস জংশনে সংযুক্ত হয়ে ম্যাডোল্যান্ডস লাইনের মাধ্যমে সরাসরি মূল ভেন্যুতে পৌঁছাতে পারবেন। পাশাপাশি গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে একটি ডিজিটাল কনসিয়ার্জ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হচ্ছে, যা দর্শকদের রিয়েল-টাইম তথ্য ও আঞ্চলিক নানা কার্যক্রমের খোঁজ দেবে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটাতে ভয়াবহ ঝড় ও উপড়ে পড়া গাছে বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ওপর দিয়ে রাতারাতি একটি তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রঝড় বয়ে গেছে। এই আকস্মিক ঝড়ে ঘণ্টায় ৮০ মাইলেরও বেশি বেগে দমকা হাওয়া বয়ে যায়, যার ফলে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় সময় আজ বুধবার খুব ভোরে সেন্ট পলের ক্যাথেড্রাল হিল এলাকায় ঝড়ের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল, যেখানে রাস্তার পাশে পার্ক করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়ির ওপর বিশাল গাছের ডাল ভেঙে পড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।   ঝড়ের প্রথম ধাপটি মূলত গত মঙ্গলবার গভীর রাতে ডাকোটা এবং নেব্রাস্কা অঞ্চলে তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে এটি একটি শক্তিশালী ঝড়ের লাইনে রূপান্তরিত হয়ে বুধবার ভোররাত ৩টার দিকে টুইন সিটিস বা মিনিয়াপলিস ও সেন্ট পল এলাকায় আঘাত হানে। আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম মিনেসোটার মারিয়েটা শহরের কাছে একটি আবহাওয়া স্টেশনে রাত ১টার পরপরই সর্বোচ্চ ৮৩ মাইল বেগে ঝড়ের গতি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া ম্যাডিসন এলাকায় ৭৮ মাইল এবং গ্লেনউডে ৭৪ মাইল বেগে তীব্র বাতাস বয়ে যায়।   উদ্বেগজনক পরিস্থিতির কারণে গ্র্যান্ট কাউন্টির হফম্যান শহরের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সাধারণ বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া শহরের পার্কগুলোতে প্রবেশ না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে পার্কের বহু গাছ উপড়ে গেছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি জনসাধারণের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। ঝড়ের প্রভাবে বুধবার ভোর ৫টা পর্যন্ত মিনেসোটার বিভিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান প্রায় ৭০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন বলে রিপোর্ট করেছে।   বিদ্যুৎ বিপর্যয় সামাল দিতে স্থানীয় পাওয়ার ইউটিলিটি কোম্পানি এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, লাইন মেরামতের জন্য তাদের প্রায় ২৭৫টি জরুরি কর্মী দল বর্তমানে মাঠে কাজ করছে এবং দুপুরের পর আরও অতিরিক্ত দল তাদের সাথে যোগ দেবে। তারা সর্বসাধারণকে মাটিতে পড়ে থাকা বা ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তার থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং যেকোনো তারকে সচল ও বিপজ্জনক মনে করার আহ্বান জানিয়েছে। একটি কোল্ড ফ্রন্টের সাথে অঞ্চলের অত্যন্ত উত্তপ্ত ও আর্দ্র বাতাসের সংঘর্ষের ফলেই মূলত এই তীব্র বজ্রঝড়ের সৃষ্টি হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পেতে ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বিশ্বজুড়ে অভিযান জোরদার যুক্তরাষ্ট্রের

জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিজিটর ভিসার অপব্যবহার ঠেকাতে বিভিন্ন দেশে অভিযান জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে কঠোর হওয়া এই অবস্থানের অংশ হিসেবে সম্প্রতি পশ্চিম আফ্রিকা, ইউরোপ ও উত্তর আফ্রিকায় একাধিক “বার্থ ট্যুরিজম” চক্র শনাক্ত ও বন্ধ করার দাবি করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, শুধুমাত্র যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে শিশুকে মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কেউ ভিজিটর ভিসা ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে তারা মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার হিসেবে দেখছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিম আফ্রিকায় অবস্থিত একটি মার্কিন দূতাবাস ১০০ জনের বেশি বিদেশি নাগরিককে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া নথিপত্র ও তথাকথিত “ভিসা ফিক্সারদের” সহায়তায় এসব ব্যক্তি মার্কিন ভিসা নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিয়ে তাদের শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা যায়।   তদন্তের পর সংশ্লিষ্টদের ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় অনুরূপ আরও নেটওয়ার্ক শনাক্তে কাজ চলছে।   ইউরোপেও ২০২৪ সাল থেকে ৪০০টির বেশি সন্দেহজনক “বার্থ ট্যুরিজম” ঘটনার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তদন্তে অন্তত ছয়টি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীদের ভিসা সাক্ষাৎকারে কী বলতে হবে তা শেখানো, যুক্তরাষ্ট্রে থাকার ব্যবস্থা করা এবং সন্তান জন্মদানের পরিকল্পনা সাজিয়ে দেওয়ার মতো কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজনকে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষিদ্ধও করা হয়েছে।   এদিকে উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত আরেকটি মার্কিন দূতাবাস “বার্থ ট্যুরিস্ট” হিসেবে সন্দেহভাজন ১০০টির বেশি ব্যক্তির ভিসা বাতিল করেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, তথ্য বিশ্লেষণ প্রযুক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় এসব নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কোনো অধিকার নয়, এটি একটি বিশেষ সুযোগ।” সংস্থাটি আরও জানায়, ভিসা জালিয়াতি ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে বিশ্বজুড়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এক লটারিতে ভাগ্য বদলে গেল তায়েব খানের । ছবি: সংগৃহীত
আমিরাতে লটারিতে ১০০ কোটি টাকা জিতলেন নিরাপত্তাকর্মী, ভাগ দিবেন পাঁচ বন্ধুকেও

সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) কর্মরত এক নেপালি নিরাপত্তা কর্মী লটারিতে প্রায় ৩০ মিলিয়ন দিরহাম, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১০০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, জিতেছেন। ২৬ বছর বয়সী ওই ব্যক্তি তোয়াব খান নামে পরিচিত। দীর্ঘদিন নিরাপত্তাকর্মীর কাজ করার পর হঠাৎ এই জ্যাকপট জয়ে তার জীবন সম্পূর্ণ বদলে গেছে।   আমিরাতের গণমাধ্যম খালিজ টাইমস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, তোয়াব খান ‘দ্য ইউএই লটারি’র “লাকি ডে” ড্রতে এই বিপুল অঙ্কের পুরস্কার জেতেন। তিনি জানিয়েছেন, তিনি সরাসরি ড্র দেখেননি; পরে ই-মেইলের মাধ্যমে ফলাফল জানতে পারেন।   তোয়াব খান বলেন, এর আগেও ছোটখাটো পুরস্কারের নোটিফিকেশন পেয়েছিলেন, তাই প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। তবে ই-মেইল খুলে ৩০ মিলিয়ন দিরহামের কথা দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন। তার ভাষায়, “হাত-পা কাঁপছিল, মনে হচ্ছিল আমি স্বপ্ন দেখছি।”   তিনি জানান, এই পুরস্কারের পুরো অর্থ একাই পাচ্ছেন না। পাঁচজন বন্ধু মিলে নিয়মিত টাকা জমিয়ে যৌথভাবে লটারির টিকিট কিনতেন। সেই নিয়ম অনুযায়ী, পুরস্কারের অর্থ সমানভাবে পাঁচ ভাগে ভাগ হবে। ফলে প্রত্যেকে পাবেন প্রায় ৬ মিলিয়ন দিরহাম, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ কোটি ৮ লাখ টাকা।   বন্ধুদের সঙ্গে যৌথভাবে টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, তারা নিয়মিতভাবে টাকা জমাতেন এবং প্রতি সপ্তাহে পালাক্রমে লটারির নম্বর বাছাই করা হতো।   তোয়াব খান জানান, লটারিতে জেতার পর প্রথমে তিনি তার চাচার সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, “আমার চাচার কারণেই আমি এই দেশে কাজ করতে এসেছিলাম। যখন তাকে জয়ের খবর জানালাম, তিনি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।”   লটারি জয়ের পর তিনি নিরাপত্তাকর্মীর চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তার পরিকল্পনায় রয়েছে ব্যবসা ও বিনিয়োগে যুক্ত হওয়া, পাশাপাশি পরিবারের জন্য একটি নতুন বাড়ি তৈরি করা।   তিনি আরও বলেন, তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল পরিবারের জন্য একটি সুন্দর বাসস্থান তৈরি করা। এখন সেই লক্ষ্য পূরণের সুযোগ এসেছে।   অর্থের একটি অংশ দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধ, পরিবারকে সহায়তা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ করার পরিকল্পনা করছেন। পাশাপাশি দেশে ফিরে ছোট একটি ব্যবসা শুরু করার কথাও ভাবছেন।   এই বিরল লটারি জয়ের ঘটনা প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে অনেকে এটিকে ভাগ্য পরিবর্তনের একটি অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় কঠোর অবস্থান পশ্চিমাদের, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতায় কঠোর অবস্থান পশ্চিমাদের, নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ২০:০

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকারীদের নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে একাধিক পশ্চিমা দেশ। এ সহিংসতায় অর্থায়ন, সহায়তা এবং সরাসরি হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর একযোগে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স ও নরওয়ে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৯ জুন) ঘোষিত এই পদক্ষেপের আগে গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডও একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দেয়। ফলে মোট ছয়টি দেশ এখন পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত নেটওয়ার্ক, অর্থায়নকারী এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নিয়েছে।   চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চরম সহিংসতার জন্য দায়ী কট্টর বসতি স্থাপনকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। তারা একই সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, যেন এ ধরনের সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।   ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো জানান, তার দেশ ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচসহ কয়েকজন বসতি নেতা এবং মোট ২১ জন বসতি স্থাপনকারীকে ফ্রান্সে প্রবেশে নিষিদ্ধ করেছে।   যুক্তরাজ্য মূলত অর্থপ্রবাহ বন্ধে জোর দিয়ে একটি নির্মাণ কোম্পানিকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, যাদের সম্পদ ফিলিস্তিনি সম্পত্তি ধ্বংসে ব্যবহৃত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডাও একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ও তার মালিকদের ওপর অনুরূপ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।   কূটনীতিকদের মতে, পশ্চিম তীরে চলমান এই সহিংসতা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে দুর্বল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ওই এলাকায় লাখ লাখ ইসরায়েলি বসতি গড়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ বলে বিবেচিত।   অন্যদিকে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের দাবি, এসব পদক্ষেপ ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবেলায় ব্যর্থতার প্রতিফলন এবং এটি আরও উত্তেজনা সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি পক্ষ বলছে, এসব নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে রাজনৈতিকভাবে বসতি স্থাপনের বিষয়টিকে চাপের মুখে ফেলা হচ্ছে।   পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি পরিষদের প্রধান ইসরায়েল গান্জ আরও এক ধাপ এগিয়ে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বিলুপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন এবং পুরো পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরেই চলমান, তবে নতুন এই বহুপাক্ষিক নিষেধাজ্ঞা পরিস্থিতিকে আরও কূটনৈতিক চাপের মুখে ফেলেছে। যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো সতর্ক করে বলেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

হেরাতে হিজাব বিতর্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের অভিযোগ
হেরাতে হিজাব বিতর্কে বিক্ষোভ, নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহতের অভিযোগ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৮:২৭

আফগানিস্তানের হেরাত প্রদেশে ‘শালীনভাবে’ হিজাব না পরার অভিযোগে নারীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিরল এই বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর বলপ্রয়োগে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা দুইজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তারা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, বিক্ষোভ ছত্রভঙ্গ করতে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি, চাবুক এবং গুলি ব্যবহার করে। কিছু ক্ষেত্রে তাজা গুলি ছোড়ার ঘটনাও ঘটে। বিক্ষোভে শুধু নারীরাই নয়, অনেক পুরুষও অংশ নেন।   আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপিকে এক বিক্ষোভকারী জানান, পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ওপর লাঠি, চাবুক ও অস্ত্র ব্যবহার করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আকাশের দিকে গুলিও ছোড়ে।   এএফপির এক ফটোগ্রাফার জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশকে বিক্ষোভকারীদের মারধর করতে এবং গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বহু মানুষ আহত হয়েছেন।   এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা গেছে, কিছু নারী মারধর বন্ধের জন্য চিৎকার করছেন। একই সময় আশপাশ থেকে গুলির শব্দও শোনা যায় বলে দাবি করা হয়েছে।   তবে হেরাত পুলিশের পক্ষ থেকে বিক্ষোভে কেউ নিহত হওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হেরাত পুলিশ কমান্ডের মুখপাত্র সৈয়দ মাসুদ হোসেনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের কারণে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেয়।   উল্লেখ্য, ২০২১ সালে তালেবান আফগানিস্তানে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকে নারীদের পোশাক, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের ওপর একাধিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব নীতির বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে।   বিবিসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই ঘটনা দেশটিতে নারীর অধিকার ও জনসমাবেশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।

জাল লাইসেন্সে ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট, কানাডায় সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার
জাল লাইসেন্সে ১৭ বছর ধরে শত শত ফ্লাইট, কানাডায় সাবেক পাইলট গ্রেপ্তার
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৭:৫৯

প্রয়োজনীয় ও উচ্চতর লাইসেন্স ছাড়াই প্রায় ১৭ বছর ধরে শত শত বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার অভিযোগে কানাডায় এক সাবেক পাইলটকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   দীর্ঘ তদন্ত শেষে তার বিরুদ্ধে জালিয়াতিসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে ওন্টারিও প্রদেশের পিল অঞ্চলের পুলিশ। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।   পুলিশ জানায়, ৫৯ বছর বয়সী জিওফ্রে ওয়াল ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এয়ার কানাডার ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাল পাইলট লাইসেন্স ব্যবহার করে ৯০০টিরও বেশি ফ্লাইট পরিচালনা করেন। এই সময় তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রীবাহী বিমান চালান বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   তদন্তে আরও বলা হয়, ওয়ালের একটি বৈধ বাণিজ্যিক পাইলট লাইসেন্স থাকলেও বড় যাত্রীবাহী বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় এয়ারলাইন ট্রান্সপোর্ট পাইলট লাইসেন্স তার ছিল না। তবুও তিনি এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ এবং দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থাকে দীর্ঘদিন বিষয়টি সম্পর্কে অন্ধকারে রেখেছিলেন।   পিল আঞ্চলিক পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইআপ্পা এক বিবৃতিতে ঘটনাটিকে “গভীর উদ্বেগজনক” বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই প্রতারণা জননিরাপত্তা ও যাত্রীদের আস্থার ওপর সরাসরি আঘাত হেনেছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি বহু বছর ধরে শত শত ফ্লাইটে বিপুল সংখ্যক যাত্রী পরিবহন করেছেন।   অন্যদিকে এয়ার কানাডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে তাদের দাবি, যাত্রী নিরাপত্তা কোনোভাবেই বিঘ্নিত হয়নি। সংস্থাটি জানায়, প্রতিটি পাইলটকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়, এবং অভিযুক্ত পাইলটও এসব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছিলেন।   ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং বিষয়টি কানাডার পরিবহন কর্তৃপক্ষ ট্রান্সপোর্ট কানাডাকে জানানো হয়। পরবর্তীতে সংস্থাটি তাদের সব পাইলটের লাইসেন্স যাচাই করলেও নতুন কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।   এদিকে বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা ঘটনাটিকে বিরল ও ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ফ্লাইট সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রধান হাসান শাহিদি বলেন, এখানে মূল সমস্যা অদক্ষতা নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়ার ঘটনা। তার মতে, এটি লাইসেন্স যাচাই ও তদারকি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে।   তদন্ত চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ, এবং আদালতে মামলার অগ্রগতির ওপর এখন সবার নজর রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় চার সেনা কর্মকর্তার কারাদণ্ড
মানবাধিকারকর্মীর ওপর অ্যাসিড হামলা: ইন্দোনেশিয়ায় চার সেনা কর্মকর্তার কারাদণ্ড
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৯, ২০২৬ ১৭:২৩

ইন্দোনেশিয়ায় মানবাধিকারকর্মীর ওপর নৃশংস অ্যাসিড হামলার ঘটনায় চার সেনা কর্মকর্তাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি সামরিক আদালত। বুধবার প্রকাশিত আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   রায়ে বিচারক জানান, দোষী সাব্যস্ত চার কর্মকর্তাকে যথাক্রমে তিন বছর, আড়াই বছর, দুই বছর ও দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা দেশটির সেনাবাহিনীর স্ট্র্যাটেজিক ইন্টেলিজেন্স এজেন্সির সদস্য।   মামলার তথ্য অনুযায়ী, কমিশন ফর মিসিং পারসন্স অ্যান্ড ভিকটিমস অব ভায়োলেন্সের (কন্ট্রাস) উপ-সমন্বয়ক আন্দ্রি ইউনুসের ওপর পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালানোর দায়ে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয়। গত এপ্রিলে রাজধানী জাকার্তায় এই মামলার বিচার শুরু হয়।   এর আগে গত মার্চে জাকার্তার সড়কে মোটরসাইকেল চালানোর সময় আন্দ্রি ইউনুসের ওপর হামলা হয়। আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা দুই ব্যক্তি তার দিকে অ্যাসিড ছুড়ে মারলে তিনি একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। পাশাপাশি তার মুখ ও শরীরের ২০ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে যায়।   ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। সমালোচনার মুখে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান পদত্যাগ করেন, যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো কারণ জানানো হয়নি।   এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক ঘটনাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। একইসঙ্গে জাতিসংঘের বিশেষ দূত মেরি ললার এটিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দেন।   উল্লেখ্য, আন্দ্রি ইউনুস ইন্দোনেশিয়ায় বেসামরিক প্রশাসনে সামরিক বাহিনীর ভূমিকা বাড়ানোর বিরোধিতা করে আসছিলেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, দেশটিতে এ ধরনের হামলার ঘটনায় শাস্তির নজির খুবই কম। এ কারণে তিনি শুরু থেকেই সামরিক আদালতের পরিবর্তে বেসামরিক আদালতে বিচার চেয়েছিলেন এবং আদালতের ওপর অনাস্থা জানিয়ে কোনো শুনানিতে উপস্থিত হননি।   বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় ইন্দোনেশিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং সামরিক বাহিনীর জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করবে।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
463 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
406 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
492 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
349 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়