গ্রাহকদের আস্থা সংকট, চরম তারল্য ঘাটতি এবং চেয়ারম্যান নিয়োগ নিয়ে চলমান তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ’-এর পুরো পরিচালনা পর্ষদ (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) ভেঙে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর ফলে ব্যাংকটির চেয়ারম্যানসহ সব পরিচালকের নিয়োগ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল হয়ে গেছে। আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং জনস্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ক্ষমতাবলে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে আইনের ৪৭(৩) ধারা অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের যাবতীয় ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জহির হোসেনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আজ বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ (এমডি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইসলামী ব্যাংকের চলতি দায়িত্বে থাকা এমডি আলতাফ হুসাইন, দুজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক অংশ নেন। বৈঠকে ব্যাংকটির প্রতিনিধিদল কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চলমান তারল্য সংকট এবং সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। উল্লেখ্য, গত ২৪ মে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম. জুবায়দুর রহমানের পদত্যাগের পর বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমকে নতুন চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। কিন্তু এই নিয়োগের পর থেকেই ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গ্রাহকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। বিতর্কিত ব্যক্তিকে শীর্ষ পদে বসানোর প্রতিবাদে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে মতিঝিলে প্রধান কার্যালয়ের সামনে টানা এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ চলছিল। এই আন্দোলনের মুখে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হলে ব্যাংক থেকে ব্যাপক হারে টাকা উত্তোলনের ঢল নামে, যার ফলে ইসলামী ব্যাংক বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ইতোমধ্যে ব্যাংকটিকে আড়াই হাজার কোটি টাকার বিশেষ সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্দোলনকারীরা আগামী মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়ার আগেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরো পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পদক্ষেপ নিল।
সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যা কোনোভাবেই ১ কোটির ওপরে যেতে দেওয়া যাবে না—ডানপন্থী দলগুলোর এমন একটি বিতর্কিত প্রস্তাব গণভোটে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন দেশটির নাগরিকরা। প্রাথমিক ফলাফলের বরাত দিয়ে রোববার আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এই তথ্য জানিয়েছে। দেশটির শীর্ষ কট্টর ডানপন্থী দল ‘সুইস পিপলস পার্টি’ জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের এই কঠোর প্রস্তাবটি সামনে এনেছিল। প্রাথমিক ভোট গণনা অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোটার এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন। দেশজুড়ে প্রায় ৫৯ শতাংশ ভোটার এই ঐতিহাসিক গণভোটে অংশ নেন। সুইজারল্যান্ডের পার্লামেন্টে সবচেয়ে বেশি আসন থাকা পপুলিস্ট এই ডানপন্থী দলটি দীর্ঘদিন ধরেই অভিবাসনবিরোধী মনোভাব উসকে আসছিল। বিশেষ করে প্রতিবেশী ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা কর্মীদের ঢল ঠেকাতে তারা এই গণভোটের আয়োজন করে। সমালোচকরা এই প্রস্তাবটিকে ‘সুইস ব্রেক্সিট’ নামে অভিহিত করেছিলেন। কারণ এই আইন পাস হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘদিনের গভীর অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং মুক্ত যাতায়াতের চুক্তিগুলো বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়ত। যদিও সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি সদস্য দেশের একটি নয়, তবে এটি চারপাশ থেকে অন্যান্য সদস্য দেশগুলো দিয়েই পরিবেষ্টিত। কট্টরপন্থী দলটির দাবি ছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসংখ্যা অতিরিক্ত বৃদ্ধির কারণে সুইজারল্যান্ডের আবাসন ব্যবস্থা, সামাজিক কর্মসূচি, প্রাকৃতিক সম্পদ এবং ঐতিহ্যগত জীবনযাত্রার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। তবে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার, পার্লামেন্ট এবং প্রধান ব্যবসায়ী সংগঠন ‘ইকোনমিসুইস’ শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল। কারণ দেশটির চিকিৎসা, অর্থায়ন, ওষুধ এবং প্রযুক্তি খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরগুলো মূলত বিদেশী দক্ষ কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল। সুইজারল্যান্ডের নিয়ম অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে ২০৫০ সালের মধ্যে জনসংখ্যা ১ কোটির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে সরকারকে বাধ্যতামুলক ব্যবস্থা নিতে হতো। এমনকি জনসংখ্যা ৯৫ লাখে পৌঁছালেই রাজনৈতিক আশ্রয়, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং রেসিডেন্সি পারমিট দেওয়া বন্ধ করতে হতো। তবে ভোটাররা সচেতনভাবে এই প্রস্তাবটি নাকচ করে দেওয়ায় সুইজারল্যান্ডের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং বৈচিত্র্যময় সামাজিক কাঠামো আপাতত সুরক্ষিত রইল।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি আমেরিকাজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের খরচ হু হু করে বাড়ছে। এর মধ্যেই চলতি গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার তথা এয়ার কন্ডিশনার (এসি) চালানোর খরচ আকাশচুম্বী হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছেন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা। মে মাসে দেশটিতে বাৎসরিক মূল্যস্ফীতির হার গত তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। ন্যাশনাল এনার্জি অ্যাসিস্ট্যান্স ডিরেক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত আমেরিকায় বিদ্যুৎ বিল গড়ে ১০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পক্ষ থেকে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়ায় এবার এসি ব্যবহারের পরিমাণ অনেক বাড়বে। একই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের দামও, যা মধ্য ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে চরম আর্থিক সংকটের মুখে ফেলে দিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২০ সালের পর থেকে আমেরিকায় গ্রীষ্মকালে ঘর ঠান্ডা রাখার খরচ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দিন দিন বাড়তে থাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পেরে অনেকেই এখন সরকারি সহায়তার জন্য আবেদন করছেন। তবে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শীতকালে তীব্র ঠাণ্ডায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করার বিষয়ে মার্কিন রাজ্যগুলোতে আইনি সুরক্ষা থাকলেও, গ্রীষ্মকালের তীব্র গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অভাব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ১৯টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়াতে গ্রীষ্মকালে লাইন কাটার বিরুদ্ধে আংশিক আইনি সুরক্ষা রয়েছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ দিন দিন আরও তীব্র ও ঘন ঘন হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই দুর্বল নিয়মের কারণে তীব্র গরমে এসি ছাড়া বাস করা অনেকের জন্য জীবন-মৃত্যুর বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, গরমে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার এই নিয়ম অবিলম্বে পরিবর্তন করা উচিত। চলমান এই অর্থনৈতিক সংকটের কারণে অনেক মার্কিন তরুণ তাদের স্বাধীনভাবে থাকার স্বপ্ন বাদ দিয়ে খরচ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে আবার বাবা-মায়ের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে নাগরিকদের বেতন বা মজুরি এখন আর খরচের সাথে কুলাতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ এখন দুপুরের খাবার কেনার টাকা বাঁচিয়ে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করবেন, নাকি তীব্র গরমে এসি ছাড়াই দিন কাটাবেন—এমন এক কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জানালার পর্দা ব্যবহার করা, ঘরে না থাকলে থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা, এসির এয়ার ভেন্টগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা এবং দরজা-জানালার ফাঁকফোকর ভালোভাবে বন্ধ রাখা। তবে এই সাধারণ উপায়েও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিলের চাপ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে সাধারণ নাগরিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার একটি ফেডারেল আদালতের এজলাস বা চেম্বারের ভেতরে এক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অনৈতিক শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হওয়া এবং পরবর্তীতে তদন্তকারীদের কাছে এই বিষয়ে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত মার্কিন জেলা বিচারক এলিনর রস অবশেষে নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন। নিজের এক সাবেক আইন সহকারীর (ল ক্লার্ক) কাছে লেখা এক চিঠিতে তিনি নিজের এই কর্মকাণ্ডকে ক্ষতিকর, আপত্তিকর এবং চরম অপেশাদার আচরণ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) হাতে আসা গত বৃহস্পতিবারের ডেট সম্বলিত ওই চিঠিতে বিচারক এলিনর রস স্পষ্ট করে লিখেছেন যে, তাঁর নেওয়া সেই পদক্ষেপগুলো স্পষ্টতই ভুল ছিল এবং নিজের এমন আচরণের পক্ষে দেখানোর মতো কোনো অজুহাত তাঁর কাছে নেই। গত বছর ১১তম জুডিশিয়াল সার্কিটের প্রধান বিচারকের নির্দেশে শুরু হওয়া এক তদন্তে জানা যায়, ২০১৪ সালে তৎকালীন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কর্তৃক মনোনীত এই ফেডারেল বিচারক আদালতের কাজের সময় নিজের চেম্বারেই এক উচ্চপদস্থ পুলিশ কর্মকর্তার সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়াতেন, যা আদালতের অন্যান্য কর্মচারীদের কানেও পৌঁছাত। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারক এলিনর রসের এই অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়টি প্রথম সবার সামনে নিয়ে আসেন তাঁরই এক ল ক্লার্ক বা আইন সহকারী। অভিযোগ ওঠার পর প্রথমদিকে বিচারক রস তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন এবং প্রধান বিচারকের কাছে দাবি করেন যে, অফিসে বেশি কাজ করানোর প্রতিশোধ নিতেই হয়তো সেই আইন সহকারী এই ধরনের মিথ্যা গল্প সাজিয়েছেন। তবে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানে আদালতের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ এবং প্রবেশ লগে দেখা যায়, দুপুরের খাবারের সময় প্রায়ই ইউনিফর্ম পরিহিত ওই পুলিশ কর্মকর্তা বিচারকের চেম্বারে যাতায়াত করতেন। পরবর্তীতে তদন্তে সব প্রমাণ নিশ্চিত হওয়ার পর এলিনর রসকে একটি ‘ব্যক্তিগত তিরস্কার’ করা হয় এবং শাস্তি হিসেবে তাঁকে ভবিষ্যতে আদালতের প্রধান বিচারক পদের দৌড়ে অংশ না নেওয়ার শর্ত দেওয়া হয়। একই সাথে তাঁর অধীনে কাজ করা ছয়জন সাবেক আইন সহকারীর কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। নিজের বর্তমান চিঠিতে বিচারক রস তাঁর পূর্বের করা মিথ্যা অভিযোগের জন্য সাবেক সেই কর্মীর কাছে বিশেষভাবে ক্ষমা চেয়ে লিখেছেন, ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা পাল্টা অভিযোগ আনার জন্য তিনি আজ গভীরভাবে অনুতপ্ত। তদন্তে আরও বেরিয়ে আসে যে, বিচারক রস নিজের কাজের প্রতিও উদাসীন ছিলেন এবং আইন সহকারীদের তৈরি করা দেওয়ানি মামলার খসড়া আদেশগুলো তিনি নিজে খুব একটা সংশোধন বা তদারকি করতেন না। এছাড়া একবার এক জেলা অ্যাটর্নির নির্বাচনী বিজয় উৎসবে যোগ দিয়ে অতিরিক্ত মদ্যপান করার কারণে পরদিন আদালতে আসা ইন্টার্নদের সাথে দুপুরের খাবার খেতেও তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। আমেরিকার আইন অনুযায়ী ফেডারেল বিচারকরা আজীবন মেয়াদে নিযুক্ত হন এবং কেবল কংগ্রেসের অভিশংসনের মাধ্যমেই তাদের অপসারণ করা সম্ভব। ইতিমধ্যেই এই ন্যক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহে জর্জিয়ার দুজন কংগ্রেস সদস্য বিচারক এলিনর রসের বিরুদ্ধে পৃথক অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।
আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি বা সেমি কুইনসেন্টেনিয়াল (Semiquincentennial) উপলক্ষে যখন পুরো দেশ জুড়ে নানা উৎসবের প্রস্তুতি চলছে, তখন ভবিষ্যতের ৫০০তম স্বাধীনতা বার্ষিকীকে লক্ষ্য করে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই, ২০২৬ তারিখে ফিলাডেলফিয়ার ইন্ডিপেনডেন্স ন্যাশনাল হিস্টোরিক্যাল পার্কে মাটির ১৫ ফুট গভীরে পুঁতে রাখা হবে একটি ঐতিহাসিক ‘টাইম ক্যাপসুল’। কংগ্রেসের ২০১৬ সালের আইনি ম্যান্ডেট অনুযায়ী, ঠিক ২৫০ বছর পর অর্থাৎ ২২৭৬ সালের ৪ জুলাই আমেরিকার ৫০০তম জন্মদিনে এটি আবার মাটি খুঁড়ে বের করা হবে। যার গায়ে স্পষ্ট লেখা থাকবে—‘৪ জুলাই, ২২৭৬ সালের আগে খোলা নিষেধ’। আমেরিকার সব কটি অঙ্গরাজ্য, অঞ্চল এবং ওয়াশিংটন ডিসি থেকে পাঠানো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বস্তু, বই, পান্ডুলিপি ও স্মারক দিয়ে সাজানো হচ্ছে এই টাইম ক্যাপসুল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেমন দেশের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়, ঠিক তেমনি আমেরিকার এই ক্যাপসুলেও স্থান পাচ্ছে তাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা প্রতীক। এর মধ্যে যেমন থাকছে একটি আধুনিক ‘আইফোন ১৭’ (iPhone 17), তেমনি থাকছে নেটিভ আমেরিকানদের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকর্ম, শিক্ষার্থীদের লেখা প্রবন্ধ, কয়েন ও পিন এবং একটি কোকা-কোলার বোতল। এমনকি আমেরিকার গৃহযুদ্ধে ইউনিয়ন সৈন্যদের সাথে থাকা একটি ঈগল পাখির পালকও সংরক্ষণ করা হচ্ছে এতে। তবে সবচেয়ে বড় চমক থাকছে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের সৌজন্যে পাঠানো আমেরিকার মূল ঘোষণাপত্র বা ফাউন্ডিং ডকুমেন্টসগুলোতে। সম্পূর্ণ নতুন ও উচ্চ প্রযুক্তির ‘সিন্থেটিক ডিএনএ’ (Synthetic DNA) কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল কপি হিসেবে সংরক্ষণ করা হচ্ছে থমাস জেফারসনের লেখা স্বাধীনতার ঘোষণার মূল খসড়া, আব্রাহাম লিংকনের হাতের একটি প্রতিরূপ এবং আমেরিকার জাতীয় সঙ্গীত ‘দ্য স্টার-স্প্যানগেল্ড ব্যানার’-এর একটি বিশেষ রেকর্ডিং। একটি ছোট থিম্বলের (Thimble) আকারের পাত্রে এই বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল ইতিহাস কোড করে রাখা হচ্ছে। বিগত ২৫০ বছরের ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় টিকে থাকার মতো টাইম ক্যাপসুল তৈরি করা হয়নি। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেকনোলজি (NIST)-এর গবেষকেরা জানিয়েছেন, মাটির নিচে পানি ঢুকে পড়ার কারণে সাধারণত বেশিরভাগ টাইম ক্যাপসুল নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই ক্যাপসুলটিকে সুরক্ষিত রাখতে এক টন ওজনের স্টেইনলেস স্টিলের তৈরি একটি সিলিন্ডার আকৃতির নকশা বেছে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসের গবেষকেরা এমন সব বস্তু বাতিল করে দিয়েছেন যা পচে যেতে পারে বা ক্ষতিকর গ্যাস তৈরি করতে পারে। ফলে কোনো চামড়ার জিনিস বা খাবার আইটেম এতে স্থান পায়নি। আমেরিকার প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব স্মারকের মধ্যে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া পাঠিয়েছে কয়লা দিয়ে খোদাই করা তাদের রাজ্যের একটি মানচিত্র এবং ওহাইও পাঠিয়েছে রাইট ভাইদের ঐতিহাসিক বিমানের একটি কাপড়ের টুকরো, যার সাথে রয়েছে অরভিল রাইটের আসল বিবৃতি। এই প্রজেক্টের ব্যবস্থাপক টম মেডেমা জানান, এই টাইম ক্যাপসুলটি মূলত ভবিষ্যতের মানুষের সাথে যোগাযোগের একটি মাধ্যম এবং এর মাধ্যমে আমেরিকার স্বাধীনতার অবিনশ্বর আদর্শগুলো আগামী প্রজন্মের কাছে অক্ষুণ্ন থাকবে।
১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য টিকটক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সের (টুইটার) মতো প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দ্রুতই এই নজিরবিহীন ও কঠোর বিধিনিষেধের ঘোষণা দেবেন। সরকারি মহলে এই নতুন পদক্ষেপটিকে অস্ট্রেলিয়ার জারি করা আইনের চেয়েও কঠোর বা ‘অস্ট্রেলিয়া প্লাস’ মডেল হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি অন্যান্য অনলাইন পণ্য এবং গেমিং অ্যাপের ক্ষেত্রেও নতুন নীতি জারি করা হবে। বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের সুরক্ষায় বিভিন্ন অনলাইন গেমের ভেতর থাকা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার বা চ্যাট করার সুযোগটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া ১৬ থেকে ১৮ বছর বয়সী বড় কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রাত সাড়ে আটটার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটানা স্ক্রোলিং করার ওপরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতিকর ও আসক্তি তৈরি করে এমন কনটেন্ট থেকে দূরে রাখা এবং অপরিচিত ব্যক্তিদের অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ থেকে রক্ষা করাই এই কঠোর ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য। নতুন আইন অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সী কোনো কিশোর-কিশোরী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির রোমান্টিক কিংবা যৌন উদ্দীপক চ্যাটবটগুলো ব্যবহার করতে পারবে না। সরকারের একটি সূত্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, শিশুদের অনলাইন সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো ধরনের অর্ধেক বা আংশিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। এই কঠোর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে আইনটিকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে ব্রিটিশ সরকারকে নতুন করে আইন প্রণয়ন করতে হতে পারে। যদিও দেশটির বিদ্যমান শিশু কল্যাণ ও বিদ্যালয় আইনের অধীনে মন্ত্রীদের ইতিমধ্যেই কিছু বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। এর আগে অস্ট্রেলিয়া তাদের দেশে একই ধরনের আইন কার্যকর করে টিকটক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, এক্স, রেডিট, থ্রেডস, স্ন্যাপচ্যাট ও টুইচসহ ১০টি বড় প্ল্যাটফর্ম নিষিদ্ধ করেছে। যুক্তরাজ্যও ঠিক একই তালিকায় থাকা অ্যাপগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে যাচ্ছে। সরকারি এক জরিপে দেখা গেছে, দেশটির শতকরা ৯০ ভাগ অভিভাবকই ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার এই সরকারি উদ্যোগকে জোরালোভাবে সমর্থন জানিয়েছেন। এছাড়া প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ তরুণ সমাজও স্বীকার করেছে যে, অনলাইনের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ফিচারগুলো বন্ধ করে দিলে তারা ইন্টারনেটে আরও বেশি নিরাপদ থাকবে। দেশটির সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দী জানিয়েছেন, এই নিষেধাজ্ঞা হয়তো শতভাগ জাদুকরী সমাধান নয়, তবে এটি কম বয়সী শিশুদের আবেগীয় ও মানসিক সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রত্যন্ত কোয়েটা কাউন্টিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য বিশাল কম্পিউটার ডাটা সেন্টার বা প্রযুক্তি পার্ক তৈরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ‘প্রজেক্ট সেল’ নামের আটশ একরেরও বেশি বড় এই ডাটা সেন্টারটির নির্মাণকাজ রুখে দিতে তারা সেখানে এক বিশাল গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেছেন। নিজেদের গ্রামীণ পরিবেশ, চাষের জমি, ভূগর্ভস্থ পানি ও সামগ্রিক প্রকৃতি রক্ষা করতে এবার সম্পূর্ণ একজোট হয়েছেন আমেরিকার এই প্রান্তিক অঞ্চলের হাজার হাজার বাসিন্দা। কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া এই গণস্বাক্ষর আন্দোলনে ইতোমধ্যেই প্রায় সাড়ে ছয় হাজার স্থানীয় মানুষ নিজেদের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ১৪ হাজার মানুষের নিশ্চিত স্বাক্ষর সংগ্রহ করা। যদি এই গণস্বাক্ষর অভিযান সফল হয়, তবে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে এটি হবে মাত্র তৃতীয় ঘটনা যেখানে সাধারণ জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের নেওয়া কোনো নীতি বা সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার আইনি সুযোগ তৈরি হবে। সাম্প্রতিক এক জাতীয় জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৭ জন মানুষই তাদের বসতবাড়ির কাছাকাছি এমন বড় কোনো প্রযুক্তি পার্ক বা ডাটা সেন্টার তৈরির তীব্র বিরোধিতা করছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পের কারণে গ্রামীণ এলাকায় মারাত্মক শব্দদূষণ বাড়বে এবং সার্ভার ঠান্ডা রাখতে প্রচুর পরিমাণে পানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ওপর চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক চাপ পড়বে। পরিবেশবাদী বিভিন্ন সংগঠনের গবেষকরাও এই বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। তাদের মতে, এই বিশাল কনস্ট্রাকশন বা নির্মাণকাজের ফলে স্থানীয় নদীগুলোতে পলি জমে পানির স্বাভাবিক তাপমাত্রা পরিবর্তন হতে পারে, যা মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হবে। একই সাথে বনাঞ্চল ধ্বংস করার কারণে বন্যপ্রাণী ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাওয়ার সুনির্দিষ্ট আশঙ্কা রয়েছে। কোয়েটা কাউন্টির স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষের এই দীর্ঘদিনের উদ্বেগ ও আপত্তির বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে জমিটিকে গ্রামীণ সংরক্ষণ এলাকা থেকে শিল্প এলাকা হিসেবে ঘোষণা করায় ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। এর আগে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরি পার্ক নামক শহরটি আমেরিকার প্রথম শহর হিসেবে এই ধরনের ডাটা সেন্টারের বিরুদ্ধে গণভোটে জয়লাভ করেছিল। আমেরিকার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের তৈরি হওয়া আন্দোলন এখন দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষদেরও বড় বড় কর্পোরেট আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর নতুন সাহস জোগাচ্ছে।
১৬ বছরের কম বয়সী কিশোর-কিশোরীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ওপর সম্ভাব্য কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারির প্রাক্কালে স্কুল-পরবর্তী বিশেষ ক্লাসের জন্য ১৩ কোটি ২৫ লাখ পাউন্ডের (প্রায় ১৩২.৫ মিলিয়ন) একটি বিশাল তহবিল প্যাকেজ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য সরকার। শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটানোর বিকল্প তৈরি করে দিতে এবং পাঠ্যক্রম বহির্ভূত কার্যকলাপে তাদের অংশগ্রহণ বাড়াতে এই বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সঙ্গীত দল, বিতর্ক ক্লাব, ইঞ্জিনিয়ারিং সোসাইটি এবং খেলাধুলাসহ বিভিন্ন সৃজনশীল ক্লাসের পরিধি ও সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করতে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন, যার ঠিক আগেই এই বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য তহবিল ঘোষণা করলেন মন্ত্রীরা। দেশটির শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুবসমাজের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর থেকে ডিজিটাল আসক্তির চাপ কমাতে এই সুসংগঠিত স্কুল-পরবর্তী ক্লাবগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ১৪ হাজারেরও বেশি তরুণ-তরুণীর ওপর পরিচালিত এক জরিপের তথ্য উল্লেখ করে মন্ত্রণালয় জানায়, বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তির মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি যুক্ত থাকলেও তাদের মধ্যে একাকীত্বের হার অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্কুলের মানদণ্ড নির্ধারণের সময় দেশটির শিক্ষা পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘অফস্টেড’ এখন থেকে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিকাশের অংশ হিসেবে এই ধরনের অতিরিক্ত ক্লাসের সুযোগ-সুবিধাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করবে। শিক্ষা সচিব ব্রিজেট ফিলিপসন এই তহবিলের লক্ষ্য ব্যাখ্যা করে বলেন, কোনো শিশুর পারিবারিক ব্যাকগ্রাউন্ড বা আর্থিক অসচ্ছলতা যেন তার মেধা বিকাশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি শিশুরই খেলাধুলা এবং সৃজনশীল শিল্পকলা উপভোগ করার সমান অধিকার রয়েছে, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নিজের ভেতরের সুপ্ত প্রতিভাকে আবিষ্কার করতে সাহায্য করবে। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী লিসা নন্দীও এই কর্মসূচির প্রশংসা করে বলেন, শিল্প-সংস্কৃতি ভালোবাসে এমন কোনো শিশুকে তার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে পিছিয়ে পড়তে দেওয়া হবে না। তবে অ্যাসোসিয়েশন অব স্কুল অ্যান্ড কলেজ লিডার্সের সাধারণ সম্পাদক পেপে ডি’আইসিও সতর্ক করে বলেছেন, স্কুলগুলো ইতিমধ্যেই তীব্র আর্থিক এবং কর্মী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তাই সরকারের এই ভালো আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে স্কুলগুলোর অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত চাপের বিষয়টিও সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো দেশটির রাষ্ট্রপতির সরকারি বাসভবন হোয়াইট হাউসে ‘ইউনাইটেড ফাইটিং চ্যাম্পিয়নশিপ’ বা ইউএফসি-এর বিশেষ ফাইট বা মারামারি ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপন এবং একই সাথে দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৮০তম জন্মদিন উপলক্ষে আজ রোববার (১৪ জুন) হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে এই নজিরবিহীন ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ আয়োজনের মূল আকর্ষণ হিসেবে আনডিস্পিউটেড ইউএফসি লাইটওয়েট চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবেন অপরাজিত জর্জিয়ান-স্প্যানিশ ফাইটার ইলিয়া তোপুরিয়া এবং আমেরিকার তারকা জাস্টিন গেইজি। আমেরিকার পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৮টায় এই মূল লড়াইটি শুরু হবে, যা প্যারামাউন্ট প্লাস প্ল্যাটর্মে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এর আগে বিকেল ৫টা থেকেই হোয়াইট হাউসের লনে অন্যান্য প্রাথমিক ফাইটগুলো শুরু হয়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে এই বিশেষ ফাইট উপভোগ করবেন। হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সামরিক বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় ৫ হাজার আমন্ত্রিত অতিথি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে সেখানে জড়ো হবেন। অন্যদিকে সাধারণ ভক্তদের জন্য হোয়াইট হাউসের কাছাকাছি ‘ইলিপ্স’ এলাকা থেকে খেলা দেখার বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে। ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং ইউএফসি-এর নির্বাহী ডানা হোয়াইট এই বিশেষ আয়োজনের মূল তদারকি করছেন। আমেরিকার ঐতিহ্যবাহী হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে এই প্রতিযোগিতার জন্য প্রায় ৯২ ফুট উঁচু করে বিশেষভাবে একটি ইউএফসি ‘অক্টাগন’ বা রিং তৈরি করা হয়েছে, যা আশপাশের রাস্তা থেকেই সাধারণ মানুষের চোখে পড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খেলা শেষ হওয়ার পরপরই এই অস্থায়ী কাঠামোটি সরিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে হোয়াইট হাউসের মতো রাষ্ট্রীয় জায়গায় এমন বাণিজ্যিক ও লাভজনক খেলার আয়োজন করার বিরুদ্ধে আপত্তি তুলে ভার্জিনিয়ার দুই বাসিন্দা আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। তবে মার্কিন আদালত শুক্রবার এই আয়োজন বন্ধের আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেয়। আজকের এই মূল লড়াইয়ের দুই প্রতিযোগী ইলিয়া তোপুরিয়া এবং জাস্টিন গেইজির মধ্যকার ম্যাচটি দারুণ উপভোগ্য হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তোপুরিয়া এখনো পর্যন্ত ১৭-০ ব্যবধানে অপরাজিত রয়েছেন এবং নিজেকে ‘কিং’ বা রাজা বলে দাবি করেন। অন্য দিকে তার প্রতিপক্ষ গেইজি এই ম্যাচের আগে তোপুরিয়ার ব্যক্তিগত জীবন ও তার সাবেক স্ত্রীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খোঁচা দিয়ে মন্তব্য করায় দুই ফাইটারের মধ্যে মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ইতোমধ্যেই তুঙ্গে পৌঁছেছে। আজকের এই ‘ইউএফসি ফ্রিডম ২৫০’ এর মূল ইভেন্টে অন্যান্যদের মধ্যে হেভিওয়েট ইন্টারিম টাইটেল বোটে লড়বেন অ্যালেক্স পেরেইরা ও সিরিল গানে। এছাড়াও ব্যান্টামওয়েট বোটে শন ও'ম্যালি বনাম আইম্যান জহাবি এবং লাইটওয়েট বোটে মরিসিও রুফি মুখোমুখি হবেন মাইকেল চ্যান্ডলারের। আমেরিকার স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ট্রাম্পপন্থী সংস্থা ‘ফ্রিডম ২৫০’ এই গ্রীষ্ম জুড়ে ওয়াশিংটনে আরও বেশ কিছু জমকালো অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, যার প্রথম ঝলক হিসেবে আজ হোয়াইট হাউসে এই বিশেষ রিং ফাইট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নোরা ফাতেহি ও মরক্কো জাতীয় ফুটবল দলের তারকা ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমির মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এক নতুন জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। নোরা ফাতেহি এখন শুধু বলিউডের জনপ্রিয় নৃত্যশিল্পী নন, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের অবস্থান বেশ শক্ত করেছেন। ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া ‘সির সির’ গানে তার নজরকাড়া উপস্থিতি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ক্যারিয়ারের এই বড় সাফল্যের পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও এখন বিনোদন জগতে চলছে জোর গুঞ্জন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে প্রশ্ন উঠেছে-নোরা কি সত্যিই মরক্কোর ফুটবল তারকা আশরাফ হাকিমির সঙ্গে নতুন করে কোনো প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন? এই আলোচিত প্রেমের গুঞ্জনের মূল সূত্রপাত হয়েছিল গত ২০২৫ সালে। সে সময় নোরা ফাতেহি মরক্কোতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকান কাপ অব নেশনস টুর্নামেন্টের একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন বিনোদনমাধ্যমে খবর ছড়ায় যে, তিনি নাকি কোনো এক ‘রহস্যময় ফুটবলারের’ খেলা দেখার জন্যই মাঠে ছুটে গিয়েছিলেন। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও তারকাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সমর্থকদের এমন তুমুল আগ্রহ সবসময়ই দেখা যায়। তখন প্রাথমিকভাবে ওই ফুটবলারের সুনির্দিষ্ট পরিচয় প্রকাশ করা না হলেও পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেই ব্যক্তি আর কেউ নন, প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) ও মরক্কো জাতীয় দলের নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি। পরবর্তীতে এই গুঞ্জনে নতুন মাত্রা যোগ করে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আকস্মিক ঘটনা। ভক্তরা হঠাৎ লক্ষ করেন, হাকিমি নোরার একটি ব্যক্তিগত ইনস্টাগ্রাম পোস্টে সরাসরি ‘লাইক’ দিয়েছেন। এর পর থেকেই নেটপাড়ায় তাদের সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। তবে সত্যিই কি তারা প্রেম করছেন—এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত নোরা ফাতেহি কিংবা আশরাফ হাকিমি-দুজনের কেউই এই সম্পর্কের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি। এমনকি তাদের একসাথে কোনো ছবি, যৌথ উপস্থিতি বা আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্যও এখন পর্যন্ত সামনে আসেনি, যা তাদের এই প্রেমের সম্পর্ককে নিশ্চিত করতে পারে। ফলে বর্তমানে পুরো বিষয়টি শুধুই গুঞ্জন ও প্রাথমিক জল্পনার পর্যায়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিনোদনজগতে এই ধরনের গুঞ্জন অবশ্য একদম নতুন কিছু নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সাধারণ ‘লাইক’ বা কোনো অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাকে কেন্দ্র করে প্রায়ই তারকাদের সম্পর্কের মুখরোচক খবর ছড়িয়ে পড়ে। তাই নির্ভরযোগ্য ও চাক্ষুষ প্রমাণ ছাড়া এ ধরনের দাবি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এর আগে নোরা অতীতে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা গুজবের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশেষ করে টি সিরিজের কর্ণধার ভূষণ কুমারের সঙ্গে তার নাম জড়ালে তিনি পরোক্ষভাবে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। এক টিকটক ভিডিওতে সেই গুঞ্জন নিয়ে আলোচনা হলে নোরা ব্যঙ্গাত্মক ভঙ্গিতে মন্তব্য করেছিলেন, ‘ওয়াও’। তার সেই পুরোনো প্রতিক্রিয়া থেকে অনেকের ধারণা, ভিত্তিহীন ব্যক্তিগত গুজব তিনি মোটেও গুরুত্ব দিতে চান না। অন্য দিকে মরক্কোর তারকা ফুটবলার আশরাফ হাকিমি বিগত ২০২০ সালে অভিনেত্রী হিবা আবুককে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেছিলেন। তাদের সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে ২০২৩ সালে এক জটিল পরিস্থিতিতে তাদের বৈবাহিক বিচ্ছেদ ঘটে। বিচ্ছেদের সময় সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল। পরে অবশ্য দুজনই সন্তানদের যৌথভাবে লালন-পালনের আইনি সিদ্ধান্ত নেন। বিচ্ছেদের পর হাকিমির সঙ্গে ডাচ-মরোক্কান সুপারমডেল ইমান হাম্মামের সম্পর্কের গুঞ্জনও শোনা গিয়েছিল। তারা একসঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা দিলেও কেউই সেই সম্পর্কের সত্যতা স্বীকার করেননি। তবে সব মিলিয়ে নোরা ও হাকিমিকে নিয়ে ভক্তদের কৌতূহল যে শিগগিরই কমছে না, সেটি বলাই বাহুল্য।
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তি ঘিরে নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগ দেখা দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা রাখছে কাতার, আর তাদের প্রতিনিধি দল সম্প্রতি তেহরানে গিয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ জানিয়েছে, কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানির একজন উপদেষ্টা মধ্যস্থতাকারী দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একই তথ্য আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমও নিশ্চিত করেছে। রোববার (১৪ জুন) সকালে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা শান্তিচুক্তির চূড়ান্ত প্রক্রিয়া সহজ করতে তেহরানে পৌঁছায়। পরে তারা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেন। তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সফরের মূল উদ্দেশ্য ছিল কূটনৈতিক আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি পর্যালোচনা করা এবং সম্ভাব্য চুক্তির কাঠামো নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নেওয়া। তবে এই কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের অবস্থান পুরোপুরি এক নয়। বিশেষ করে সম্ভাব্য চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হবে এবং এর শর্ত কী হবে—এ নিয়ে দুই পক্ষের ব্যাখ্যায় ভিন্নতা রয়েছে। বিষয়টি আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর আগে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে, যেখানে বলা হয়েছিল রোববারের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর হতে পারে। অন্যদিকে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ইরান ও কাতারের কর্মকর্তারা তেহরানে আরেক দফা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত চুক্তির একটি খসড়া উপস্থাপন করা হয় বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা ও পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের মধ্যে কাতারের এই মধ্যস্থতা কূটনৈতিক সমাধানের একটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে এখনো উভয় পক্ষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা ও নৌ চলাচলে বাধার কারণে হরমুজ প্রণালি এলাকায় ভারতের পতাকাবাহী ১৩টি জাহাজে থাকা ৫৬২ জন ভারতীয় নাবিক টানা ১০৭ দিন ধরে আটকা রয়েছেন। দীর্ঘ এই অনিশ্চয়তা নাবিকদের নিরাপত্তা ও মানসিক চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, আটকে পড়া নাবিকদের মধ্যে ৩২৯ জন হরমুজ প্রণালির পশ্চিমাংশে এবং ২৩৩ জন ওমান উপসাগরের পূর্বদিকে অবস্থান করছেন। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও কাজের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি দুঃখজনক ঘটনারও খবর পাওয়া গেছে। ‘এমটি সেলেস্টিয়াল’ নামের একটি জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিক নিশান্ত উরথানাথন অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। মাস্কটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বর্তমানে জাহাজটি ওমানের দুকম বন্দরে নোঙর করে আছে। অন্যদিকে, ‘বিরাট ১’ নামের আরেকটি ভারতীয় পতাকাবাহী পালতোলা জাহাজকে ঘিরেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ওমান উপকূলের কাছে জাহাজটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে পড়লে তাতে থাকা ১৪ জন নাবিক নিরাপত্তার জন্য উদ্ধার নৌকায় আশ্রয় নেন। ভারতীয় দূতাবাস জানিয়েছে, ওমান কর্তৃপক্ষ ও আশপাশের জাহাজগুলোর সহায়তায় তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ভারতের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া আঞ্চলিক উত্তেজনার জেরে এই সংকটের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই হরমুজ প্রণালি ও ওমান উপসাগর এলাকায় বহু জাহাজ চলাচল ঝুঁকির মুখে পড়ে। বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। আর এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সমুদ্রে কর্মরত নাবিকদের জীবনে, যারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।
ইরানের বন্দর ও তেল রপ্তানি কার্যক্রমের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না—এ বিষয়ে ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, ওইদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ফোনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামনিয়াম জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেন। আলাপচারিতায় হরমুজ প্রণালির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বক্তব্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের তেল অবৈধভাবে পরিবহন বা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার যে কোনো প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলেও সতর্ক করেন রুবিও। তবে এই অবস্থানের মধ্যেই সাম্প্রতিক এক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর জানান, ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় তিনি তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় জয়শঙ্কর লিখেছেন, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর ওই হামলা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং বাণিজ্যিক জাহাজে এ ধরনের প্রাণঘাতী আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বিষয়টি সরাসরি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীকেও অবহিত করেছেন। এদিকে সরকারি সূত্রের বরাতে আনাদোলু জানিয়েছে, ওই ঘটনার প্রতিবাদে নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করেছে ভারত সরকার। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করা হলো, যা দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বহন করছে। অন্যদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহে ইরানের তেল পরিবহনের অভিযোগে তারা তিনটি জাহাজে অভিযান চালিয়েছে। এতে গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এম/টি জলবীর’, পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এম/টি ম্যারিভেক্স’ এবং ‘এম/টি সেত্তেবেলো’ নামের ট্যাংকারগুলো অচল করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা এবং একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিরাপদ রাখার প্রশ্নে হরমুজ প্রণালি এখন নতুন করে ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে।
নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরও ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত অনিশ্চয়তায় পড়েছে। সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতার ঘাটতির কথা উল্লেখ করে ভারত এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের অনুমোদন প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছে। ফলে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ১৫ জুন থেকে বাংলাদেশ আপাতত শুধু ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎই পাবে। রোববার (১৪ জুন) নেপালের জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তারা জানান, ভারতের সেন্ট্রাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি (সিইএ) বিদ্যমান সঞ্চালন লাইনের সীমিত সক্ষমতার কারণ দেখিয়ে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের অনুমোদন দেয়নি। নেপালের বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের ভাষ্য, এই অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানি কার্যকর করতে হলে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। পাশাপাশি নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির অনুমোদনও প্রয়োজন হবে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রপ্তানি করে থাকে। তবে শুষ্ক মৌসুমে উৎপাদন কমে গেলে আবার তাদেরই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হয়। এই বাস্তবতায় মৌসুমি বিদ্যুৎ বাণিজ্য দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরও ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তখন প্রয়োজনীয় আইনি ও কারিগরি প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যাপার নিগম লিমিটেডের মাধ্যমে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের উদ্যোগ নেয়। তবে পরে ভারতীয় সংস্থাটি জানায়, ভারত-বাংলাদেশের ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার বহরমপুর-ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইনে নতুন করে এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পরিবহনের সক্ষমতা নেই। নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির বিদ্যুৎ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, “আমরা আগের নিয়মেই প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যমান লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার সুযোগ নেই। তাই আপাতত ৪০ মেগাওয়াটই সরবরাহ করা হবে।” খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই জটিলতা কাটাতে নেপাল ও ভারতের মধ্যে আসন্ন যৌথ স্টিয়ারিং কমিটি এবং যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠকে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তবে এসব বৈঠকের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনও ঠিক হয়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে নেপাল প্রথমবারের মতো ভারতের সঞ্চালন অবকাঠামো ব্যবহার করে বাংলাদেশে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পায়। পরে একই বছরের ৩ অক্টোবর নেপাল, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী প্রতিবছর ১৫ জুন থেকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। প্রথম দফায় ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর সীমিত আকারে মাত্র ১২ ঘণ্টার জন্য বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। নেপালের ঢালকেবার-মুজাফফরপুর লাইন হয়ে ভারতে প্রবেশ করে সেই বিদ্যুৎ পরে বহরমপুর-ভেড়ামারা সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশে পৌঁছায়। বর্তমানে নেপালের ত্রিশূলী ও চিলিম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এই বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। বিদ্যুতের মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, নেপাল বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬ দশমিক ৪০ মার্কিন সেন্ট দরে বিক্রি করছে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের ক্ষেত্রেও একই মূল্য বহাল থাকার কথা ছিল। নেপাল ও ভারতের মধ্যে লেনদেন ভারতীয় রুপিতে হলেও বাংলাদেশের সঙ্গে এই বাণিজ্য মার্কিন ডলারে সম্পন্ন হচ্ছে। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে নেপাল ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে আয় করেছে প্রায় ২০ হাজার ৯৯৫ কোটি রুপি, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ১০৩ কোটি রুপি। এখন পর্যন্ত দেশটি মোট ১ হাজার ১৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রপ্তানির অনুমোদন পেয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও সমন্বয়হীনতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এই সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে এমন উদ্যোগগুলো বারবার বাধার মুখে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।