ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী ও গোপন ‘বি-২ স্পিরিট’ স্টিলথ বা অদৃশ্য বোমারু বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করার দাবি করেছে একটি চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ। ‘জিংআন টেকনোলজি’ নামক হাংঝু-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব এআই সিস্টেম ‘জিংকি’-এর মাধ্যমে তারা কেবল এই বিমানের অবস্থানই নয়, বরং পাইলটদের কণ্ঠস্বর এবং রেডিও যোগাযোগও সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা আটকাতে সক্ষম হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-২ বোমারু বিমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পারদর্শী। কিন্তু চীনা এই কোম্পানিটির দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক গোপনীয়তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা শত কোটি ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে এই ট্র্যাকিং সম্পন্ন করেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে এই ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যখন ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিতে পারে বিশ্বমঞ্চের সমীকরণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর এই সুযোগে কপাল খুলতে পারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির। টানা দুইবার বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া আজ্জুরিদের জন্য এটি হতে পারে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে ইরানকে এই আসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তারা ইরানকে খেলায় দেখতে চান, তবুও পর্দার আড়ালে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে গুঞ্জন থামছে না। ইতালীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বিষয়টিকে 'খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা' বলে অভিহিত করলেও ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে যে, ইরান বাদ পড়লে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা ইতালিকেই মূল আসরে জায়গা দেওয়া হতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান বাদ পড়লে সেই জায়গায় এশিয়ার অন্য কোনো দল—যেমন ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুযোগ পাওয়ার কথা। ইতালির সমর্থকরা যেখানে টানা ১২ বছর বিশ্বকাপের স্বাদ না পেয়ে হতাশায় ডুবে আছে, সেখানে এই খবরটি তাদের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কি নিয়মের বেড়াজালে এশিয়ার কোনো দেশকেই বেছে নেবে, নাকি বানিজ্যিক ও ফুটবলীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ইতালিকে ফেরানো হবে বিশ্বমঞ্চে—তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেস্কিয়ান এর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। এর আগে পাকিস্তানে প্রায় ২১ ঘণ্টার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই পুতিন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি “ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি” প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের “দ্বিমুখী নীতি” এবং “একতরফা মনোভাব”কে আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যানস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে অনীহাকেই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়ে অগ্রগতি হলেও ইরান যদি পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রাখে, তবে সেই সমঝোতার কোনো মূল্য থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার মধ্যস্থতা উদ্যোগ নতুন কূটনৈতিক পথ খুলে দিতে পারে, তবে পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য দূর না হলে স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএসবি নিউজ ইউএসএ দাবি করেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের আগে ও পরে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অনুদানভিত্তিক তথ্যভান্ডার, কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্য এবং উন্মুক্ত নথিপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বমাধ্যমে ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অর্থায়নের প্রবাহ চলছিল। বিশেষ করে পতনের কয়েক মাস আগে থেকেই কিছু খাতে অর্থের প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে আরও বলা হয়, এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে। সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রচারণার নামে এসব অর্থ স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত অর্থায়নের অংশ, যা তৎকালীন নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ঘটনাকে তরুণদের আন্দোলন হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এই দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএসবি নিউজ ইউএসএ দাবি করেছে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছে। প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে সরকারের পতনের আগে ও পরে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৩২ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। বিভিন্ন অনুদানভিত্তিক তথ্যভান্ডার, কংগ্রেসে দেওয়া সাক্ষ্য এবং উন্মুক্ত নথিপত্র বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এই হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বমাধ্যমে ঘটনাকে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ হিসেবে তুলে ধরা হলেও পর্দার আড়ালে নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে অর্থায়নের প্রবাহ চলছিল। বিশেষ করে পতনের কয়েক মাস আগে থেকেই কিছু খাতে অর্থের প্রবাহ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে আরও বলা হয়, এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় করা হয়েছে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, নাগরিক সমাজ এবং অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমে। সাংগঠনিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রচারণার নামে এসব অর্থ স্থানীয় বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি ও পরিকল্পিত অর্থায়নের অংশ, যা তৎকালীন নির্বাচিত সরকারকে অস্থিতিশীল করার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদনটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের ঘটনাকে তরুণদের আন্দোলন হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গে এই দাবি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন। পরে ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর নেতৃত্বে দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
হরমজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের দীর্ঘসূত্রতা সহসাই কাটছে না। পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও জাহাজ মালিক এবং বিমাকারীরা এখনও এই রুটে চলাচলের ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন না। গ্লোবাল মার্কেট অ্যানালিস্ট লালে আকোনার জানান, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর ভরসা করে খালি জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে চাইছে না। বর্তমানে প্রায় ৪০০ তেলের ট্যাঙ্কার উপসাগরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে, বিপরীতে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে মাত্র ১০০টি জাহাজ। শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ এই জলপথ খুলে দিলেও বাজার স্বাভাবিক হতে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কেবল জ্বালানি তেল নয়, বিশ্বের ৩০ শতাংশ সারের সরবরাহ এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। গত ছয় সপ্তাহের সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেলের উৎপাদনও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ মজুত করার জায়গা নেই। নতুন জাহাজ না আসা পর্যন্ত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য এবং সংকটের স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেস্কিয়ান এর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। এর আগে পাকিস্তানে প্রায় ২১ ঘণ্টার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই পুতিন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি “ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি” প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের “দ্বিমুখী নীতি” এবং “একতরফা মনোভাব”কে আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যানস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে অনীহাকেই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়ে অগ্রগতি হলেও ইরান যদি পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রাখে, তবে সেই সমঝোতার কোনো মূল্য থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার মধ্যস্থতা উদ্যোগ নতুন কূটনৈতিক পথ খুলে দিতে পারে, তবে পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য দূর না হলে স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে।
ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী ও গোপন ‘বি-২ স্পিরিট’ স্টিলথ বা অদৃশ্য বোমারু বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করার দাবি করেছে একটি চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ। ‘জিংআন টেকনোলজি’ নামক হাংঝু-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব এআই সিস্টেম ‘জিংকি’-এর মাধ্যমে তারা কেবল এই বিমানের অবস্থানই নয়, বরং পাইলটদের কণ্ঠস্বর এবং রেডিও যোগাযোগও সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা আটকাতে সক্ষম হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-২ বোমারু বিমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পারদর্শী। কিন্তু চীনা এই কোম্পানিটির দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক গোপনীয়তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা শত কোটি ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে এই ট্র্যাকিং সম্পন্ন করেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে এই ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর প্রহর যখন ঘনিয়ে আসছে, ঠিক তখনই এক নাটকীয় মোড় নিতে পারে বিশ্বমঞ্চের সমীকরণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামরিক উত্তেজনার কারণে ২০২৬ বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। আর এই সুযোগে কপাল খুলতে পারে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির। টানা দুইবার বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া আজ্জুরিদের জন্য এটি হতে পারে এক অভাবনীয় প্রত্যাবর্তন। মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে ফিফার ওপর চাপ বাড়ছে ইরানকে এই আসর থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। যদিও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, তারা ইরানকে খেলায় দেখতে চান, তবুও পর্দার আড়ালে বিকল্প পরিকল্পনা নিয়ে গুঞ্জন থামছে না। ইতালীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আন্দ্রেয়া আবোদি বিষয়টিকে 'খুবই ক্ষীণ সম্ভাবনা' বলে অভিহিত করলেও ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন রয়েছে যে, ইরান বাদ পড়লে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা ইতালিকেই মূল আসরে জায়গা দেওয়া হতে পারে। তবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের (এএফসি) পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ইরান বাদ পড়লে সেই জায়গায় এশিয়ার অন্য কোনো দল—যেমন ইরাক বা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সুযোগ পাওয়ার কথা। ইতালির সমর্থকরা যেখানে টানা ১২ বছর বিশ্বকাপের স্বাদ না পেয়ে হতাশায় ডুবে আছে, সেখানে এই খবরটি তাদের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ফিফা কি নিয়মের বেড়াজালে এশিয়ার কোনো দেশকেই বেছে নেবে, নাকি বানিজ্যিক ও ফুটবলীয় গুরুত্ব বিবেচনায় ইতালিকে ফেরানো হবে বিশ্বমঞ্চে—তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছুদিন।
বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এগিয়ে নিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে SB Global। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সামিউল বশির তার উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে একটি পরিচিত নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক সংস্থা IEE (International Education Evaluations)-এর সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলেছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই অংশীদারিত্বের ফলে Educational Credential Assessment (ECA) প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত এবং সাশ্রয়ী হবে। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীরা সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগ দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের ক্রেডেনশিয়াল মূল্যায়ন ব্যবস্থাকে আরও সহজলভ্য করবে এবং বৈশ্বিক শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকে ত্বরান্বিত করবে। শুধু ECA সেবা নয়, SB Global বিভিন্ন পেশাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও ক্যারিয়ার সহায়তাও প্রদান করছে। এর মধ্যে রয়েছে— মেডিকেল ল্যাবরেটরি সায়েন্টিস্ট (MLS) লাইসেন্স প্রস্তুতি নার্সদের জন্য NCLEX প্রস্তুতি IELTS ও PTE প্রশিক্ষণ গবেষণা সহায়তা বিদেশে উচ্চশিক্ষা সংক্রান্ত পরামর্শ প্রতিষ্ঠাতা মোঃ সামিউল বশির-এর রয়েছে স্বাস্থ্য ও বৈজ্ঞানিক শিক্ষা খাতে ১৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা। তিনি ২২টি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রবন্ধের লেখক, যা Google Scholar-এ সূচিভুক্ত। তার গবেষণার ক্ষেত্র বিস্তৃত—ডায়াবেটিস, ঔষধি উদ্ভিদ, COVID-19-এ টেলিমেডিসিন, ডেঙ্গু, ক্যান্সারের বায়োমার্কারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য বিষয় এতে অন্তর্ভুক্ত। বর্তমানে তিনি Kurigram Institute of Health Technology-এ প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তিনি American Society for Clinical Pathology এবং International Commission on Healthcare Professions থেকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, গবেষণা, প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সংযোগের সমন্বয়ে SB Global ইতোমধ্যে একটি সম্ভাবনাময় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দেশের তরুণ প্রজন্মকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ করে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী ও গোপন ‘বি-২ স্পিরিট’ স্টিলথ বা অদৃশ্য বোমারু বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করার দাবি করেছে একটি চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ। ‘জিংআন টেকনোলজি’ নামক হাংঝু-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব এআই সিস্টেম ‘জিংকি’-এর মাধ্যমে তারা কেবল এই বিমানের অবস্থানই নয়, বরং পাইলটদের কণ্ঠস্বর এবং রেডিও যোগাযোগও সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা আটকাতে সক্ষম হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-২ বোমারু বিমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পারদর্শী। কিন্তু চীনা এই কোম্পানিটির দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক গোপনীয়তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা শত কোটি ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে এই ট্র্যাকিং সম্পন্ন করেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে এই ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেস্কিয়ান এর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। এর আগে পাকিস্তানে প্রায় ২১ ঘণ্টার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই পুতিন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি “ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি” প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের “দ্বিমুখী নীতি” এবং “একতরফা মনোভাব”কে আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যানস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে অনীহাকেই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়ে অগ্রগতি হলেও ইরান যদি পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রাখে, তবে সেই সমঝোতার কোনো মূল্য থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার মধ্যস্থতা উদ্যোগ নতুন কূটনৈতিক পথ খুলে দিতে পারে, তবে পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য দূর না হলে স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে।
হরমজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের দীর্ঘসূত্রতা সহসাই কাটছে না। পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও জাহাজ মালিক এবং বিমাকারীরা এখনও এই রুটে চলাচলের ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন না। গ্লোবাল মার্কেট অ্যানালিস্ট লালে আকোনার জানান, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর ভরসা করে খালি জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে চাইছে না। বর্তমানে প্রায় ৪০০ তেলের ট্যাঙ্কার উপসাগরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে, বিপরীতে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে মাত্র ১০০টি জাহাজ। শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ এই জলপথ খুলে দিলেও বাজার স্বাভাবিক হতে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কেবল জ্বালানি তেল নয়, বিশ্বের ৩০ শতাংশ সারের সরবরাহ এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। গত ছয় সপ্তাহের সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেলের উৎপাদনও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ মজুত করার জায়গা নেই। নতুন জাহাজ না আসা পর্যন্ত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য এবং সংকটের স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কয়েক দশকের বৈরিতা কাটিয়ে অবশেষে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় মুখোমুখি বসেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই সরাসরি আলোচনা কোনো চুক্তি বা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই গোপন অথচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশের মধ্যে প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের সরাসরি (face-to-face) আলোচনা। মূলত চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতা নিরসনে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোই ছিল এই আলোচনার মূল লক্ষ্য। আল-জাজিরার প্রতিনিধি ওসামা বিন জাভেদ জানান, পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসাতে সক্ষম হলেও, যুদ্ধের সমাপ্তি টানার শর্তাবলি নিয়ে দেশ দুটি কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো পক্ষই তাদের অবস্থানে ছাড় দিতে রাজি হয়নি, যার ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই সমাপ্তি ঘটে এই সম্মেলনের। বিশ্লেষকরা বলছেন, পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দুই পক্ষকে একত্রিত করতে পারলেও তাদের ওপর কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা বা সক্ষমতা ছিল না। মূলত যুদ্ধের শর্তাবলী এবং আঞ্চলিক স্বার্থ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান গভীর অনাস্থাই এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা কূটনৈতিক অচলাবস্থা ভাঙতে এই উদ্যোগকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, মাঠপর্যায়ে এর কোনো তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ওয়াশিংটন বা তেহরান—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এই বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে এই আলোচনা ব্যর্থ হওয়া মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। শান্তি ফেরানোর এই বিরল সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।