যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাড়িতে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা পিস্তল নিয়ে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নিজের গুলিতেই প্রাণ হারায় শিশুটি। এই ঘটনায় শিশুটির মা এবং তার প্রেমিককে শিশু নির্যাতন ও অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির হাইল্যান্ড এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানায়, শিশুটি সোফার দুটি কুশনের মাঝখানে লুকিয়ে রাখা একটি লোড করা পিস্তল খুঁজে পেয়েছিল। দুর্ঘটনাবশত শিশুটির মুখের ভেতর গুলি লাগে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় শিশুটির মা ২০ বছর বয়সী জামারিয়া কব এবং তার ৫২ বছর বয়সী প্রেমিক আরমান্ড শে ব্রাইট ওই বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্রাইটের নামে বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল। সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জামারিয়া কব এবং আরমান্ড ব্রাইট উভয়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন এবং গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে প্রথম মাত্রার অপরাধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন অ্যান্ডারসন এই ঘটনাকে একটি ‘গভীর ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “অনিরাপদ ও বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কারণে এমন বিধ্বংসী ক্ষতি হলে আমাদের কার্যালয় এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।” ঘটনার পর ওই বাড়িতে থাকা নিহত শিশুটির এক বছর বয়সী ছোট ভাইকে শিশু কল্যাণ কর্মকর্তাদের হেফাজতে (প্রটেকটিভ কাস্টডি) নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই র্যাঞ্চো কুকামঙ্গা সুপিরিয়র কোর্টহাউসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুজনের বিচারিক শুনানি (অ্যারেইনমেন্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ 'মোস্ট ওয়ান্টেড' প্রতারক খালেদ আহমেদ সাতারিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। প্রায় ৫৪৭ মিলিয়ন (৫৪ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলারের বিশাল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রান্তের অভিযোগে অভিযুক্ত এই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। বুধবার এফবিআই মিয়ামি বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফরেন ট্রান্সফার অব কাস্টডি (FTOC) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাতারিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আদালতের নথি ও এফবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাতারি। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়। এফবিআই মিয়ামি এবং মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিদর্শক জেনারেলের কার্যালয় (HHS-OIG) যৌথভাবে এই বিশাল আর্থিক জালিয়াতির তদন্ত পরিচালনা করছিল। চিকিৎসা সেবা খাতের তহবিল মেডিকেয়ার থেকে অর্ধ-বিলিয়নেরও বেশি ডলার আত্মসাতের জঘন্য এই চক্রান্তে তার সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই সফল প্রত্যর্পণের পর এফবিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিচার এড়াতে কোনো অপরাধী যেখানেই পালিয়ে যাক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই কাজ করে যাবে তাদের সংস্থা। এই অভিযান সফল করতে এফবিআই নিউ অরলিন্স, ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনস এবং লুইজিয়ানার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস যৌথভাবে কাজ করেছে। তাদের এই চমৎকার সহযোগিতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে এফবিআই।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাভির বিরুদ্ধে আবারও বহিষ্কার কার্যক্রম চালানোর পথ খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। সর্বশেষ এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচিত অভিবাসন মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক সেকেন্ড ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায়ে ভারমন্টের একটি নিম্ন আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। আপিল আদালতের মতে, ফেডারেল জেলা আদালত অভিবাসন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই মামলায় হস্তক্ষেপ করেছিল, যা তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল। তবে আদালত মাহদাভির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এসব বিষয় অভিবাসন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহসেন মাহদাভি পশ্চিম তীরের বাসিন্দা এবং ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি গাজা যুদ্ধবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার দিতে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে এক ফেডারেল বিচারক তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। মাহদাভির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তাদের দাবি, আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে তাকে আটক বা বহিষ্কার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বলছেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক অ-মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মাহদাভির মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম আবারও অভিবাসন আদালতে এগিয়ে যাবে, যদিও তার সামনে এখনও আইনি আপিলের সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় ১৩ বছর বয়সী এক মার্কিন নাগরিক কিশোরকে উদ্দেশ করে একজন ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্টের কথিত মন্তব্যকে ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ির চালক দাবি করছেন, তাঁর সৎভাইকে দেখে এজেন্ট বলেছেন, “সে যদি অবৈধ হয়, আমি তাকে নিয়ে যাব।” ঘটনাটি ঘটে লুইজিয়ানার স্লাইডেল এলাকায়। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন অ্যালান লরেয়ানো। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ১৩ বছর বয়সী সৎভাই। ট্রাফিক স্টপের সময় বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তারা দুজনের পরিচয় ও নাগরিকত্ব সম্পর্কে জানতে চান। ওই সময় লরেয়ানোর দাবি, এক এজেন্ট তাঁর সৎভাইকে নিয়ে এমন মন্তব্য করেন, যা তাঁকে উদ্বিগ্ন করে তোলে। এরপর তিনি পুরো ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। ভিডিওটি দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আচরণ এবং ট্রাফিক স্টপের সময় নাগরিকদের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন নিয়ে। তবে ইউএস বর্ডার প্যাট্রোলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পরিচয় যাচাইয়ের পর চালক ও তাঁর সৎভাই—দুজনকেই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিশ্চিত করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যাচাই শেষে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, ইউএস বর্ডার প্যাট্রোল সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যানবাহন থামিয়ে পরিচয় যাচাই করতে পারে। তবে নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযানের সময় নাগরিকদের সঙ্গে আচরণ, পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতি এবং বর্ণগত বা জাতিগত প্রোফাইলিংয়ের অভিযোগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। লুইজিয়ানার এই ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর বর্ডার প্যাট্রোলের কার্যক্রম ও নাগরিক অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট এজেন্টের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের ঘোষণা এখন পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে এবং বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) শিক্ষার্থী মোহসেন মাহদাভির বিরুদ্ধে আবারও বহিষ্কার কার্যক্রম চালানোর পথ খুলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আপিল আদালত। সর্বশেষ এই রায়ের ফলে দীর্ঘদিন ধরে চলা আলোচিত অভিবাসন মামলায় নতুন মোড় এসেছে। মঙ্গলবার নিউইয়র্কভিত্তিক সেকেন্ড ইউএস সার্কিট কোর্ট অব আপিলস রায়ে ভারমন্টের একটি নিম্ন আদালতের আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেয়। আপিল আদালতের মতে, ফেডারেল জেলা আদালত অভিবাসন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই মামলায় হস্তক্ষেপ করেছিল, যা তার এখতিয়ারের বাইরে ছিল। তবে আদালত মাহদাভির মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি। এসব বিষয় অভিবাসন আদালতেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। মোহসেন মাহদাভি পশ্চিম তীরের বাসিন্দা এবং ২০১৫ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা। কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় তিনি গাজা যুদ্ধবিরোধী ও ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের সাক্ষাৎকার দিতে গেলে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে এবং তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরে এক ফেডারেল বিচারক তাকে মুক্তির নির্দেশ দেন। মাহদাভির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তারা আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবেন। তাদের দাবি, আপিল প্রক্রিয়া চলাকালে তাকে আটক বা বহিষ্কার করা উচিত নয়। একই সঙ্গে তারা বলছেন, এই মামলা যুক্তরাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিবাসন আইনের প্রয়োগ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া একাধিক অ-মার্কিন নাগরিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মাহদাভির মামলাও সেই ধারাবাহিকতার অন্যতম আলোচিত উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আপিল আদালতের এই রায়ের ফলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যক্রম আবারও অভিবাসন আদালতে এগিয়ে যাবে, যদিও তার সামনে এখনও আইনি আপিলের সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আগস্ট ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে। নতুন এই আপডেটে পরিবারভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী বাসিন্দাদের স্বামী, স্ত্রী ও সন্তানদের জন্য নির্ধারিত এফ২এ ক্যাটাগরিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। নতুন ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, পরিবারভিত্তিক কয়েকটি ক্যাটাগরিতে অপেক্ষার সময় কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে এফ২এ ক্যাটাগরির অগ্রগতি সবচেয়ে বেশি, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও অবিবাহিত সন্তানদের আবেদন অন্তর্ভুক্ত থাকে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিবাহিত প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের জন্য এফ১ ক্যাটাগরি এবং অন্যান্য পরিবারভিত্তিক ক্যাটাগরিতেও কিছু অগ্রগতি দেখা গেছে। তবে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার তারিখ বা প্রায়োরিটি ডেট অনুযায়ীই পরবর্তী ধাপ নির্ধারণ হবে। ভিসা বুলেটিনে বলা হয়েছে, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন ভিসার সংখ্যা প্রতিবছর নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে দেওয়া হয়। তাই কোনো ক্যাটাগরিতে চাহিদা বেশি হলে অপেক্ষার সময় বাড়তে পারে এবং কম হলে তারিখ এগিয়ে আসতে পারে। অন্যদিকে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের জন্য পরিস্থিতি তুলনামূলক কঠিন রয়েছে। বিশেষ করে কিছু এমপ্লয়মেন্ট-বেসড ক্যাটাগরিতে দীর্ঘ অপেক্ষা ও সীমিত ভিসা সংখ্যার কারণে আবেদনকারীদের অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদনকারীদের কাছে ভিসা বুলেটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই তালিকার মাধ্যমে জানা যায়, কোন আবেদনকারীরা গ্রিন কার্ডের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যেতে পারবেন এবং কারা এখনও অপেক্ষার তালিকায় থাকবেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই পরিবর্তন অনেক পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীর জন্য আশার খবর হলেও, প্রতিটি আবেদনকারীর পরিস্থিতি নির্ভর করবে তাদের আবেদন জমার তারিখ, দেশভিত্তিক সীমা এবং ভিসা ক্যাটাগরির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষার তালিকা বড় একটি বিষয় হয়ে আছে। নতুন ভিসা বুলেটিনে পরিবারভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য অগ্রগতি দেখা গেলেও, সব আবেদনকারী একইভাবে সুবিধা পাবেন না।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় মর্মান্তিক এক দুর্ঘটনায় দুই বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাড়িতে অরক্ষিত অবস্থায় রাখা পিস্তল নিয়ে খেলতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত নিজের গুলিতেই প্রাণ হারায় শিশুটি। এই ঘটনায় শিশুটির মা এবং তার প্রেমিককে শিশু নির্যাতন ও অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র মজুত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। গত ১৬ জুলাই সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির হাইল্যান্ড এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ বিভাগ জানায়, শিশুটি সোফার দুটি কুশনের মাঝখানে লুকিয়ে রাখা একটি লোড করা পিস্তল খুঁজে পেয়েছিল। দুর্ঘটনাবশত শিশুটির মুখের ভেতর গুলি লাগে এবং গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দুর্ঘটনার সময় শিশুটির মা ২০ বছর বয়সী জামারিয়া কব এবং তার ৫২ বছর বয়সী প্রেমিক আরমান্ড শে ব্রাইট ওই বাড়িতেই উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে, ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্রটি ব্রাইটের নামে বৈধভাবে নিবন্ধিত ছিল। সান বার্নার্ডিনো কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, জামারিয়া কব এবং আরমান্ড ব্রাইট উভয়ের বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতন এবং গুরুতর আঘাত বা মৃত্যুর কারণ হতে পারে এমন পরিস্থিতিতে প্রথম মাত্রার অপরাধমূলক আগ্নেয়াস্ত্র সংরক্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেসন অ্যান্ডারসন এই ঘটনাকে একটি ‘গভীর ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “অনিরাপদ ও বেআইনিভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার কারণে এমন বিধ্বংসী ক্ষতি হলে আমাদের কার্যালয় এর জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।” ঘটনার পর ওই বাড়িতে থাকা নিহত শিশুটির এক বছর বয়সী ছোট ভাইকে শিশু কল্যাণ কর্মকর্তাদের হেফাজতে (প্রটেকটিভ কাস্টডি) নেওয়া হয়েছে। আগামী ২২ জুলাই র্যাঞ্চো কুকামঙ্গা সুপিরিয়র কোর্টহাউসে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযুক্ত দুজনের বিচারিক শুনানি (অ্যারেইনমেন্ট) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বড় গেমিং ও ক্যাসিনো রিসোর্ট গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিউইয়র্ক সিটিতে ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলারের এক বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। কুইন্সের অ্যাকুয়াডাক্ট রেস ট্র্যাকিং গ্রাউন্ডের পাশে অবস্থিত শহরের প্রথম পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো 'রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড নিউইয়র্ক সিটি'কে এই প্রকল্পের মাধ্যমে লাস ভেগাস স্টাইলের আন্তর্জাতিক মানের এক আধুনিক সমন্বিত রিসোর্টে রূপান্তর করা হচ্ছে। সম্প্রসারণের নতুন ধাপ শুরু হওয়ার পর ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ তাদের এই বিশ্বমানের প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নকশা প্রকাশ করেছে। এই মেগা প্রকল্পের আওতায় ক্যাসিনো কমপ্লেক্সে ৪০০ রুমের একটি নতুন হায়াত হোটেল টাওয়ার এবং আরেকটি নতুন বিলাসবহুল 'ক্রকফোর্ডস' হোটেল নির্মাণ করা হবে। এতে করে পরবর্তীতে মোট ২ হাজার রুমের বিশাল হোটেল সুবিধায় রূপ নেবে ক্যাসিনোটি। এ ছাড়া ৭ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার একটি সর্বাধুনিক মাল্টিপারপাস কনসার্ট অ্যারেনা, সৌর প্যানেল সংবলিত বহুতল পার্কিং গ্যারেজ এবং এনবিএ (NBA) কিংবদন্তি কেনি "দ্য জেট" স্মিথের নামে একটি স্পোর্টস ও মিডিয়া কমপ্লেক্স তৈরি হচ্ছে যা নির্ধারিত সময়ের তিন বছর আগেই সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি প্রথম তলার কাজের অংশ হিসেবে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ১,৪০০টি স্লট মেশিন চালু করা হয়েছে। মালয়েশিয়াভিত্তিক গেন্টিং গ্রুপের মালিকানাধীন 'রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড' ২০১১ সাল থেকে চালুর পর চলতি বছরেই নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশনের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো পরিচালনার লাইসেন্স লাভ করে। বর্তমানে ক্যাসিনোটিতে প্রায় ৪ হাজার স্লট মেশিনের পাশাপাশি ২৪০টি টেবিলে ব্ল্যাকজ্যাক, ক্র্যাপস, ব্যাকারেট ও রুলেটের মতো লাইভ গেমিং খেলার সুযোগ রয়েছে। এই বিশাল সম্প্রসারণ প্রকল্পের ফলে কুইন্সে নতুন কাজের সুযোগ ব্যাপক বাড়বে। ক্যাসিনোটিতে বর্তমানে ২,২০০ কর্মী কর্মরত থাকলেও চলতি গ্রীষ্মের শেষের মধ্যেই আরও ৫০০ থেকে ২,৭০০ মানুষের নতুন কর্মসংস্থান হবে। উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেট গেমিং কমিশন মোট তিনটি পূর্ণাঙ্গ ক্যাসিনো লাইসেন্স অনুমোদন করেছে, যার মধ্যে নিউইয়র্ক মেটস দলের মালিক স্টিভ কোহেন ও হার্ড রক মিলে ফ্লাশিংয়ে 'মেট্রোপলিটন পার্ক' এবং ব্যালিস ডটকম ব্রঙ্কসের একটি সাবেক গলফ কোর্সে নতুন ক্যাসিনো নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। তবে আগের থেকে অবকাঠামো চালু থাকায় দৌড়ে বাকিদের চেয়ে বেশ এগিয়ে রয়েছে রিসোর্টস ওয়ার্ল্ড। কেবল ক্যাসিনো সম্প্রসারণই নয়, প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের একটি সামাজিক ফান্ড এবং ৫০ হাজার আবাসন ইউনিট নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তা ছাড়া আগামী ১০ বছরে এই ক্যাসিনো থেকে রাজ্য ও স্থানীয় সরকার প্রায় ১০.৮ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আমেরিকার অন্যতম শীর্ষ 'মোস্ট ওয়ান্টেড' প্রতারক খালেদ আহমেদ সাতারিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই। প্রায় ৫৪৭ মিলিয়ন (৫৪ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলারের বিশাল মেডিকেয়ার জালিয়াতি চক্রান্তের অভিযোগে অভিযুক্ত এই আসামি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। বুধবার এফবিআই মিয়ামি বিভাগ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ফরেন ট্রান্সফার অব কাস্টডি (FTOC) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাতারিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আদালতের নথি ও এফবিআই সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাতারি। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়। এফবিআই মিয়ামি এবং মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের পরিদর্শক জেনারেলের কার্যালয় (HHS-OIG) যৌথভাবে এই বিশাল আর্থিক জালিয়াতির তদন্ত পরিচালনা করছিল। চিকিৎসা সেবা খাতের তহবিল মেডিকেয়ার থেকে অর্ধ-বিলিয়নেরও বেশি ডলার আত্মসাতের জঘন্য এই চক্রান্তে তার সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই সফল প্রত্যর্পণের পর এফবিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিচার এড়াতে কোনো অপরাধী যেখানেই পালিয়ে যাক না কেন, তাকে আইনের আওতায় আনতে কোনো ধরনের সমঝোতা ছাড়াই কাজ করে যাবে তাদের সংস্থা। এই অভিযান সফল করতে এফবিআই নিউ অরলিন্স, ওয়াশিংটন ফিল্ড অফিস, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন ইন্টারন্যাশনাল অপারেশনস এবং লুইজিয়ানার ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস যৌথভাবে কাজ করেছে। তাদের এই চমৎকার সহযোগিতা ও অক্লান্ত পরিশ্রমকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছে এফবিআই।
সিঙ্গাপুরের চায়নাটাউনের একটি জুয়েলারি দোকান থেকে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার মার্কিন ডলার (প্রায় ২ লাখ সিঙ্গাপুর ডলার) মূল্যের একটি হিরা চুরির পরিকল্পনা করেছিলেন দুই ভারতীয় নাগরিক। আসল হিরার পরিবর্তে একই আকার ও নম্বরের নকল হিরা রেখে পালানোর কৌশলও নিয়েছিলেন তারা। কিন্তু পুরো ঘটনাই ধরা পড়ে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায়। পরে দেশ ছাড়ার আগেই বিমানবন্দর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী মাঙ্গরোলিয়া মনোজকুমার কুরজিভাইকে দুই বছর দুই মাস দুই সপ্তাহের কারাদণ্ড দিয়েছেন সিঙ্গাপুরের আদালত। তিনি চুরির অভিযোগ স্বীকার করার পর গত ১৭ জুলাই আদালত এ রায় দেন। একই মামলার অপর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী সেরাসিয়া মিলান রামনিকভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি আগামী শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত নথি অনুযায়ী, দুই অভিযুক্ত ভিজিট পাসে সিঙ্গাপুরে প্রবেশ করেন। সেখানে যাওয়ার আগে ভারতের সুরাটে তারা আসল হিরার আকৃতি, ওজন ও সিরিয়াল নম্বরের সঙ্গে মিল রেখে একটি নকল হিরা তৈরি করান। উদ্দেশ্য ছিল দোকানের কর্মীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে আসল হিরা বদলে নকলটি রেখে চলে যাওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, মনোজকুমার দোকানের বিক্রয় ব্যবস্থাপককে বিভিন্ন গয়না দেখানোর অনুরোধ করে ব্যস্ত রাখেন। সেই সুযোগে মিলান মুখে লুকিয়ে রাখা নকল হিরাটি বের করে প্রদর্শনের জন্য আনা ৪ দশমিক ৯৫ ক্যারেটের আসল হিরার সঙ্গে অদলবদল করেন। এরপর আসল হিরাটি মুখে লুকিয়ে ফেলেন। তবে তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনাটি রেকর্ড হয়। দুই ব্যক্তি দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিক্রয় ব্যবস্থাপক বিশেষ পরীক্ষার যন্ত্রে হিরাটি পরীক্ষা করে বুঝতে পারেন সেটি আসল নয়। ঘটনার পরপরই দুই অভিযুক্ত নির্ধারিত সময়ের আগেই হোটেল থেকে চেক-আউট করেন এবং সেদিন সন্ধ্যায় ভারতের উদ্দেশে বিমানের টিকিট বুক করেন। কিন্তু চাঙ্গি বিমানবন্দরের টার্মিনাল-৩-এ অভিবাসন কার্যক্রম শেষ করার সময় পুলিশ তাদের আটক করে। পরে মিলানের ব্যাগ তল্লাশি করে চুরি হওয়া আসল হিরাটি উদ্ধার করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে জানায়, অভিযুক্তরা শুধুমাত্র চুরির উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে সিঙ্গাপুরে এসেছিলেন। অপরাধ সংঘটনের আগে থেকেই নকল হিরা তৈরি করা, আসল হিরা অদলবদলের কৌশল নির্ধারণ এবং দ্রুত দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা তাদের পূর্বপরিকল্পিত অপরাধের প্রমাণ। অন্যদিকে, দণ্ডপ্রাপ্ত মনোজকুমার আদালতে দোভাষীর মাধ্যমে জানান, ভারতে তার দুই সন্তান রয়েছে। তিনি আদালতের কাছে কম শাস্তির আবেদন করেছিলেন। তবে অপরাধের ধরন, পরিকল্পনা ও আর্থিক ক্ষতির বিষয় বিবেচনায় আদালত কারাদণ্ডের রায় দেন। সূত্র: এনডিটিভি
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে ঘিরে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের পর মুখ খুলেছেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী অরিজিৎ সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের তীব্র সমালোচনা করেন। দিল্লিতে সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরুর দিন হাজারো শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারী ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সংসদ অভিমুখে মিছিল এগোতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ, লাঠিচার্জ এবং আটক করার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও বিক্ষোভকারী—উভয় পক্ষেরই আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভের আগের দিন দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন প্রবীণ অভিনেত্রী শাবানা আজমি। পরে তিনিও ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তিনি বলেন, সংবিধানের আওতায় থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজের দাবি জানানো প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার এবং আলোচনার মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। পুলিশি পদক্ষেপের পর বিষয়টি দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে। এ সময় নিজের পোস্টে অরিজিৎ সিং লেখেন, “এবার তোমরা ছাত্রদের পেটাচ্ছ? তোমাদের কি লজ্জা করে না? মাননীয় মন্ত্রী ও নেতৃবৃন্দ, এসব হচ্ছেটা কী! তোমরা কি নিজেদের ঈশ্বর ভাবতে শুরু করেছ? সবকিছু মনে রাখা হবে।” তার এই মন্তব্য অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। শুধু অরিজিৎ সিং নন, বিক্ষোভের পর আরও কয়েকজন শিল্পী ও অভিনয়শিল্পী প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানান। তাদের মধ্যে দিলজিৎ দোসাঞ্জ, রিতেশ দেশমুখ, জেনেলিয়া দেশমুখ, হুমা কুরেশি, প্রকাশ রাজসহ আরও কয়েকজনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিট পরীক্ষায় অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কার আনতে হবে। অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ বলছে, সংসদমুখী মিছিলের অনুমতি ছিল না এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই তারা পদক্ষেপ নিয়েছে।
ব্রিটেনের রাজা তৃতীয় চার্লস ইংল্যান্ডের কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ পরিদর্শন করেছেন। তীব্র গরমের মধ্যেও ভবনটি শীতল রাখার পরিবেশবান্ধব নকশা, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য মসজিদটির ভূমিকা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন তিনি। সোমবার, ২০ জুলাই, কেমব্রিজের মিল রোডে অবস্থিত মসজিদটিতে পৌঁছালে রাজাকে স্বাগত জানান ধর্মীয় নেতা, মসজিদ ট্রাস্টের সদস্য এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা। বাগান ও ভবনের স্থাপত্য ঘুরে দেখার পর জুতা খুলে নামাজের মূল কক্ষে প্রবেশ করেন তিনি। সেখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও কথা বলেন রাজা চার্লস। মসজিদটির নকশা ও নির্মাণে দেওয়া যত্নের প্রশংসা করে রাজা বলেন, একটি পূর্ণাঙ্গ মসজিদের সঙ্গে কমিউনিটি সেন্টার যুক্ত করার উদ্যোগ তাকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে। এটি শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য নয়, পুরো কেমব্রিজ শহরের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পরিদর্শনের সময় রাজা চার্লস সেখানে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলেন। পরে তিনি কেমব্রিজকে শহরের মর্যাদা দেওয়ার ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে স্থাপিত একটি স্মারক ফলক উন্মোচন করেন। ১৯৫১ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ কেমব্রিজকে আনুষ্ঠানিকভাবে শহরের মর্যাদা দিয়েছিলেন। মসজিদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ও সবুজ জ্বালানির ওপর নির্ভরতার কারণে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদকে ইউরোপের প্রথম পরিবেশবান্ধব মসজিদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ভবনের ছাদে বসানো সৌর প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। নিচতলায় থাকা উচ্চদক্ষ হিট পাম্প গরম ও ঠান্ডার সময় ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। উন্নত নিরোধক ব্যবস্থা ও প্রাকৃতিক বায়ু চলাচলের কারণে তাপপ্রবাহের মধ্যেও মসজিদের ভেতর তুলনামূলক শীতল থাকে। বড় আকারের ছাদের জানালা দিয়ে দিনের আলো প্রবেশ করায় কৃত্রিম আলোর প্রয়োজন কম হয়। প্রয়োজনের সময় কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী এলইডি বাতি জ্বালানো হয়। হাতমুখ ধোয়ার ব্যবহৃত পানি এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে শৌচাগার ও মসজিদ প্রাঙ্গণের বাগানে ব্যবহার করা হয়। সাইকেল রাখার ব্যবস্থা এবং ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিংও ভবনটির পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার অংশ। প্রায় এক হাজার মুসল্লির ধারণক্ষমতাসম্পন্ন মসজিদটিতে ২০১৯ সালে নিয়মিত নামাজ শুরু হয়। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটির উদ্বোধন করা হয়েছিল। নামাজের স্থানের পাশাপাশি এতে নারীদের জন্য পৃথক সুযোগ-সুবিধা, পাঠ ও সভাকক্ষ, ক্যাফে, কমিউনিটি সেন্টার এবং ইসলামি নকশার বাগান রয়েছে। পরিদর্শন শেষে রাজা চার্লস মসজিদটির আন্তধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। স্থানীয় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে সহযোগিতা তৈরিতে কেমব্রিজ সেন্ট্রাল মসজিদ একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুদ্ধ বন্ধ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ইরান প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে। পেজেশকিয়ানের বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরি করতে মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের কাছে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। ইরানের প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশটির ওপর বাইরের শক্তিগুলো পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েছে, যার লক্ষ্য ইরানের ভেতরে চাপ সৃষ্টি করা, অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করা এবং সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করা। তবে তাঁর দাবি, সামরিক চাপের মধ্যেও ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সংহতি বজায় থাকলে দেশটি পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সক্ষম হবে। পেজেশকিয়ান একই সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, আলোচনার টেবিলে ইরান প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল অর্জন করেছে। তবে তাঁর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গিয়ে সেই অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ করেননি। এর আগে তিনি বলেছিলেন, ইরানের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে; তবে একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দেন, আগের যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে সামরিক সংঘাত ও পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত থাকলেও অন্যদিকে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। মধ্যস্থতাকারীদের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সেই কূটনৈতিক তৎপরতারই নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—যুদ্ধক্ষেত্রে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে একটি টেকসই সমঝোতার পরিবেশ তৈরি করা। আপাতত তেহরানের অবস্থান থেকে যে বার্তা স্পষ্ট, তা হলো—আলোচনার দরজা খোলা থাকলেও চাপের মুখে আত্মসমর্পণ নয়।
ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে উঠতে পারে জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্য এবং দুর্বল বর্ষা—এমন সতর্কতা দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ। আইএমএফের কর্মকর্তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বাড়তে পারে। তেল আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় এতে ভারতের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ার পাশাপাশি প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। আইএমএফ চলতি জুলাইয়ের পূর্বাভাসে ভারতের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ১০ ভিত্তি পয়েন্ট কমিয়ে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ করেছে। তবে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ২০ ভিত্তি পয়েন্ট বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৭ শতাংশ করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, জ্বালানি তেলের দামের চাপ কমে এলে পরবর্তী অর্থবছরে ভারতের প্রবৃদ্ধি আবার কিছুটা গতি পেতে পারে। আইএমএফের ভারত ও ভুটানের জ্যেষ্ঠ আবাসিক প্রতিনিধি রনিল সালগাদো বলেছেন, ভারতের প্রবৃদ্ধির জন্য প্রধান ঝুঁকি দুটির একটি হলো মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের বিস্তার এবং এর ফলে তেলের দামে সম্ভাব্য ঊর্ধ্বগতি। অন্যদিকে, এল নিনোর প্রভাবে বর্ষা দুর্বল হলে কৃষি উৎপাদন ও খাদ্যদামের ওপরও চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের অর্থনীতিতে বর্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। দুর্বল বা অনিয়মিত বৃষ্টিপাত কৃষি উৎপাদন কমিয়ে গ্রামীণ আয় ও ভোগব্যয়কে প্রভাবিত করতে পারে। একই সঙ্গে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়লে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এরই মধ্যে ভারতের জুন মাসের খুচরা মূল্যস্ফীতি ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে, যা ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। খাদ্য ও জ্বালানির দাম এবং অনিয়মিত বর্ষাকে মূল্যস্ফীতির ভবিষ্যৎ গতিপথের গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে আইএমএফের মূল্যায়নে ভারতের অর্থনীতির কিছু ইতিবাচক দিকও রয়েছে। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক উচ্চ-ফ্রিকোয়েন্সি অর্থনৈতিক সূচকে ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থিতিস্থাপকতা দেখা গেছে। ফলে উচ্চ জ্বালানি দামের নেতিবাচক প্রভাব না থাকলে প্রবৃদ্ধির গতি আরও শক্তিশালী হতে পারত। ভারতের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো-একদিকে তেলের দামের সম্ভাব্য ধাক্কা সামলানো, অন্যদিকে বর্ষার অনিশ্চয়তার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভারতের প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি-দুই ক্ষেত্রেই চাপ আরও বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।