সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
প্রাগৈতিহাসিক যুগের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি প্রাণী ছিল টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স। ছবি: সংগৃহীত
৬ কোটি ৬০ লাখ বছর পর জানা গেল, কীভাবে মারা গিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মাংসাশী ডাইনোসর

প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশাল শিকারি ডাইনোসর টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের শেষ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘স্কটি’ নামে পরিচিত সবচেয়ে বড় আবিষ্কৃত টি-রেক্সের একটি পাঁজরের হাড়ে পাওয়া আঘাত ও সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ধারণা করছেন, অন্য একটি ডাইনোসরের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।   স্কটির জীবাশ্ম ১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচেওয়ানের ফ্রেঞ্চম্যান রিভার ভ্যালিতে আবিষ্কৃত হয়। রয়্যাল সাসকাচেওয়ান মিউজিয়ামের গবেষকেরা সেখানে এর কঙ্কালের সন্ধান পান। জীবদ্দশায় স্কটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৩ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৯ হাজার ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কেজি। এই বিশাল আকারের কারণে স্কটিকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় টি-রেক্স কঙ্কাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে স্কটির গুরুত্ব শুধু আকারে নয়। এর একটি পাঁজরের হাড়ে এমন নরম টিস্যুর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা কোটি কোটি বছর টিকে থাকার পরও গবেষণার উপযোগী অবস্থায় ছিল। বিশেষ করে সেখানে খনিজে পরিণত হয়ে যাওয়া রক্তনালির একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জীবাশ্মে এ ধরনের রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা অত্যন্ত বিরল।   এই অস্বাভাবিক সংরক্ষণই গবেষকদের স্কটির জীবনের শেষ অধ্যায় সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার পদার্থবিজ্ঞানীরা। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এবং পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেল। জীবাশ্মের ভেতরের গঠন না কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত না করে দেখার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।   এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্কটির পাঁজরের ভেতরের গঠন ত্রিমাত্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। সাধারণ এক্স-রে যেখানে মূলত ঘন হাড়ের গঠন দেখাতে কার্যকর, সেখানে নিউট্রন বিভিন্ন হালকা মৌল, বিশেষ করে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। ফলে জীবাশ্মের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ক্ষীণ টিস্যুর চিহ্নও আলাদা করে দেখা সম্ভব হয়েছে।,   গবেষকদের ধারণা, স্কটির পাঁজরটি জীবদ্দশায় ভেঙে গিয়েছিল। আঘাতের পর শরীর স্বাভাবিকভাবে হাড়টি সারিয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আয়রনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায় এবং সেখানে নতুন রক্তনালির একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। সেই রক্তনালির খনিজায়িত চিহ্নই কয়েক কোটি বছর পর গবেষকদের সামনে স্কটির আঘাতের প্রমাণ হিসেবে ধরা দেয়।   কীভাবে পাঁজরটি ভেঙেছিল, সে বিষয়ে গবেষকেরা একটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শিকার বা সংঘর্ষের সময় অন্য কোনো ডাইনোসরের সঙ্গে লড়াইয়ে স্কটি আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কোন প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা জীবাশ্ম থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।   গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁজরের হাড়ে সেরে ওঠার চিহ্ন পাওয়া গেলেও সেটি পুরোপুরি জোড়া লাগেনি। অর্থাৎ আঘাতের পর কিছু সময় স্কটি বেঁচে ছিল এবং তার শরীর ক্ষত সারানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাই পাঁজরের আঘাতটি তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করলেও, এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ ছিল বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।   স্কটির মৃত্যুর পর তার দেহ কীভাবে এত সূক্ষ্ম টিস্যু সংরক্ষণ করতে পেরেছিল, সেটিও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজ্ঞানীদের মতে, সে একটি লবণাক্ত জলাভূমিতে মারা গিয়ে থাকতে পারে। এমন পরিবেশে অক্সিজেনের প্রবেশ সীমিত থাকায় পচন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা এমন নরম টিস্যুর কিছু অংশ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   স্কটির পাঁজরে সংরক্ষিত রক্তনালির আবিষ্কারের সূত্রপাত অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে। ২০২০ সালে তৎকালীন স্নাতক শিক্ষার্থী জেরিট মিচেল স্কটির পাঁজর নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এক্স-রে ভিত্তিক মাইক্রো-সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক কাঠামো শনাক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে কানাডিয়ান লাইট সোর্সে আরও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তি ও অণুবীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা হয়।   ২০২৬ সালের এপ্রিলে গবেষক দল ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে গিয়ে নিউট্রনভিত্তিক দুটি যন্ত্র ব্যবহার করে স্কটির পাঁজর পরীক্ষা করে। এর মধ্যে একটি পদ্ধতিতে বড় হাড়ের ভেতরের গঠন অক্ষত রেখেই পরীক্ষা করা হয়। নিউট্রন পরীক্ষার ফল আগের এক্স-রে গবেষণার সঙ্গে মিলে যায় এবং রক্তনালির অস্তিত্ব সম্পর্কে পাওয়া তথ্যকে আরও শক্তিশালী করে।   ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এই আবিষ্কারকে লটারি জেতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ কোটি কোটি বছর পুরোনো একটি ডাইনোসরের হাড়ের ভেতরে এত বিস্তৃত রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা গবেষকদের জন্য অত্যন্ত বিরল সুযোগ।   গবেষণায় যুক্ত পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেলের মতে, প্রতিটি জীবাশ্ম অতীতের একটি ছোট্ট মুহূর্তের ছবি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই ছবির ভেতরের আরও সূক্ষ্ম তথ্য বের করে আনা সম্ভব হচ্ছে। ফলে শুধু ডাইনোসরের আকার বা কঙ্কালের গঠন নয়, তারা কীভাবে আহত হতো এবং তাদের শরীর কীভাবে সেই আঘাত সারানোর চেষ্টা করত, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।   গবেষকদের কাছে এই কাজের আরেকটি বড় গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বহু পুরোনো জীবাশ্ম সংরক্ষিত রয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলোর ভেতরেও হয়তো এমন অদৃশ্য তথ্য লুকিয়ে আছে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিউট্রন ইমেজিং ও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ভবিষ্যতে সেই তথ্য সামনে আনার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।   অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে মারা যাওয়া স্কটির কঙ্কাল আজও বিজ্ঞানীদের কাছে শুধু একটি বিশাল টি-রেক্সের নিদর্শন নয়। এর ভাঙা পাঁজর, ক্ষত সারানোর চেষ্টা এবং সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন সেই প্রাণীর জীবনের শেষ সময় সম্পর্কে এমন তথ্য দিচ্ছে, যা এত দিন জীবাশ্মের ভেতরেই অদৃশ্য ছিল।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, কানাডিয়ান লাইট সোর্স, এনডিটিভি

৭ মিনিট Ago
ভারতের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা নিয়ে কথা বলেছেন শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহীত
আমার অনুপস্থিতিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে থাকবেন শেখ সেলিম: শেখ হাসিনা

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তার অনুপস্থিতিতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন জ্যেষ্ঠ নেতা শেখ ফজলুল করিম সেলিম। ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়ালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শেখ হাসিনা বলেন, শেখ সেলিম বর্তমানে দলের সিনিয়র মোস্ট প্রেসিডিয়াম সদস্য হওয়ায় গঠনতান্ত্রিকভাবে তিনিই এই দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি তার ছোট বোন শেখ রেহানা সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।   দীর্ঘ ওই সাক্ষাৎকারে দেশে ফেরা, নিজের নিরাপত্তা, বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, আসন্ন ডিসেম্বর মাসেই তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরকে বাঙালির বিজয়ের মাস উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, আগে নয়, ডিসেম্বর মাসেই দেশে যাব বলে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এবং সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।   তবে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। বিমানবন্দরেই তাকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন শেখ হাসিনা। তিনি জানান, দেশে ফিরতে গিয়ে তিনি অন্য কারও জীবনের ঝুঁকি বাড়াতে চান না। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।   দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শেখ হাসিনা। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে বর্তমানে চরমপন্থী শক্তির উত্থান ঘটছে। এর প্রভাব কেবল বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই আটকে থাকবে না বলে সতর্ক করে তিনি বলেন, এর খেসারত শেষ পর্যন্ত ভারতকেও দিতে হতে পারে। দুই দেশের আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং পারস্পরিক স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেন তিনি।   বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং নির্বাচন প্রসঙ্গে ভারতের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দেশে ফেরার বিষয়ে নয়াদিল্লির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদেশে অবস্থান করে তার রাজনীতি করার ক্ষেত্রে কোনো বাধা দেওয়া হয়নি।   দেশের বর্তমান অবস্থা নিয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, যখন দেখি আমার দেশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, তখন আমার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। পরিস্থিতি পুরোপুরি অনুকূল না হলেও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকেই তিনি দেশে ফিরতে চান বলে জানান।   গত ৫ আগস্ট দেশ ছাড়ার প্রেক্ষাপটও এই সাক্ষাৎকারে উঠে আসে। তিনি দাবি করেন, দেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা তার ছিল না। গণভবন থেকে বের হওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন তাকে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কিন্তু হেলিকপ্টার যখন সীমান্ত অতিক্রম করে, তখনই তিনি বুঝতে পারেন তাকে ভারতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।   বর্তমানে দেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দেওয়া হচ্ছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটেছে বলেও অভিযোগ করেন শেখ হাসিনা। কঠিন এই সময়ে দলের নেতাকর্মীরা যাতে দিকনির্দেশনাহীনতায় না ভোগেন, সেজন্যই শেখ সেলিমকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আনলেন তিনি।

২৯ মিনিট Ago
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পুলিশ হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন অ্যাশলিন। ছবি: সংগৃহীত
ডিউটির পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, মিস আমেরিকার মুকুট জয়ের লড়াইয়ে পুলিশ কর্মকর্তা

দিনের শুরুতে পুলিশের পোশাক পরে দায়িত্ব পালন, আর বিশেষ দিনে ঝলমলে পোশাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুকুটের লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের অ্যাশলিন মার্সিয়ারের জীবন যেন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন জগতের গল্প। ওয়েস্টবরো পুলিশ বিভাগের সক্রিয় কর্মকর্তা এই তরুণী এবার মিস আমেরিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন।   ২৫ বছর বয়সী অ্যাশলিন মার্সিয়ার শুধু মিস ম্যাসাচুসেটস ২০২৬-এর বিজয়ীই নন, তিনি এই রাজ্যের প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা যিনি মিস ম্যাসাচুসেটসের মুকুট জিতেছেন। ২০ জুন ওরচেস্টারের হ্যানোভার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় তিনি ২২ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই খেতাব অর্জন করেন। এরপর ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি হিসেবে মিস আমেরিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি।   ৬ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচের পাম বিচ কাউন্টি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় মিস আমেরিয়ার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। এবারের আয়োজন মিস আমেরিয়া প্রতিযোগিতার ১০৫তম বছর উদযাপন করেছে। ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও পুয়ের্তো রিকোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।   অ্যাশলিনের গল্পের বিশেষত্ব তার পেশায়। তিনি নিয়মিত ওয়েস্টবরো শহরের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০২৫ সালে তিনি প্রতিযোগিতামূলক সৌন্দর্য আয়োজন থেকে এক বছর বিরতি নিয়ে পুলিশ একাডেমিতে ভর্তি হন। তার বাবা কেভিন মার্সিয়েরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং অক্সফোর্ড পুলিশ বিভাগের করপোরাল। বাবার পথ অনুসরণ করেই পুলিশে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অ্যাশলিন।   পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তার মনে প্রশ্ন ছিল, একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী হওয়া সম্ভব হবে কি না। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে অ্যাশলিন বলেন, অন্যরা কী ভাববে, সেই চিন্তায় তিনি একসময় দ্বিধায় ছিলেন। পরে নিজের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাকে একসঙ্গে দুই ভিন্ন পরিচয় ধরে রাখার সুযোগ করে দেয়।   তার মতে, একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে কেমন হওয়া উচিত, তার কোনো নির্দিষ্ট ছক নেই। যুক্তরাষ্ট্রে নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোট বাহিনীর তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ হলেও, পেশাগত পরিচয়ের জন্য নারীদের একটি নির্দিষ্ট চেহারা বা ব্যক্তিত্বে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি।   অ্যাশলিনের বক্তব্য, একজন নারী একই সঙ্গে একাধিক স্বপ্ন অনুসরণ করতে পারেন। তার নিজের জীবনেও সেটিই তিনি দেখাতে চান। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পাশাপাশি মিস আমেরিয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণীদের তিনি বোঝাতে চান, জীবনের একটি লক্ষ্য বেছে নিয়ে অন্য স্বপ্নগুলো ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।   তার এই বার্তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগও। অ্যাশলিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মের নাম ‘নিকস কারেজ: ওয়ান স্মাইল গোস আ মাইল’। তার ছোট ভাই নিকোলাসের নামে এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে। নিকোলাস দুইবার শিশুদের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন। গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য ইতিবাচকতা, আশা ও সহায়তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।   পুলিশ বিভাগের সহকর্মীরাও অ্যাশলিনের এই যাত্রায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিস ম্যাসাচুসেটস হওয়ার খবর জানানোর পর থেকেই ওয়েস্টবরো পুলিশ বিভাগের সহকর্মীরা তাকে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে শুরু করে তহবিল সংগ্রহের কাজে সহায়তা এবং শুভকামনার বার্তা পাঠানো, বিভিন্নভাবে তারা তার পাশে ছিলেন।   শুধু নিজের সহকর্মীরাই নন, দেশজুড়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছেন অ্যাশলিন। তার দাবি, হাজারো নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেক তরুণীও তার গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে পুলিশে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।   অ্যাশলিন মনে করেন, পুলিশিং ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষমতা প্রয়োজন। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে মঞ্চেও আত্মবিশ্বাসী থাকতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।   তবে পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব আর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতে অ্যাশলিন বলেন, পুলিশের শিফটের জন্য প্রস্তুত হতে তার মাত্র কয়েক মিনিট লাগে। চুল পেছনে বেঁধে সামান্য সাজগোজ করেই কাজে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু মিস আমেরিয়ার মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে তার অনেক বেশি সময় লাগে।   অ্যাশলিনের শিক্ষাজীবনও বেশ সমৃদ্ধ। তিনি কানেকটিকাটের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অপরাধবিচার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।   মিস ম্যাসাচুসেটসের দায়িত্ব পালনের সময়ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। অর্থাৎ মুকুট পাওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় থেকে সরে দাঁড়াননি অ্যাশলিন। বরং দুই পরিচয়ের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন।   মিস আমেরিয়ার মুকুট শেষ পর্যন্ত তার মাথায় উঠুক বা না উঠুক, অ্যাশলিনের কাছে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অন্য জায়গায়। তার লক্ষ্য, নিজের গল্পের মাধ্যমে তরুণীদের দেখানো যে একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াও সম্ভব।   অ্যাশলিনের ভাষায়, তাকে অনেকবার বলা হয়েছে একটি বিষয় বেছে নিয়ে সেটিতেই মনোযোগ দিতে। কিন্তু তার বিশ্বাস, স্বপ্ন যদি একাধিক হয়, তাহলে সেগুলো একসঙ্গেও অনুসরণ করা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মের মেয়েদের সেই আত্মবিশ্বাস দেওয়াই এখন তার সবচেয়ে বড় বার্তা।   সূত্র: ফক্স নিউজ

৪৩ মিনিট Ago
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বিএসটিআইয়ের পরীক্ষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ মিশা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত
৫০তম বিসিএসের ভাইভা দিতে ঢাকায় আসার পথে সড়কে প্রাণ গেল ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর

৫০তম বিসিএসের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) কর্মকর্তা শেখ মিশা খাতুন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই গোপালগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন তিনি।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার গেড়াখোলা ব্রিজের কাছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। খুলনা থেকে ঢাকাগামী টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে বাসটির যাত্রী শেখ মিশা খাতুন নিহত হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   শেখ মিশা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৩৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পড়াশোনা শেষ করে তিনি বিএসটিআইয়ের খুলনা কার্যালয়ে পরীক্ষক (রসায়ন) পদে কর্মরত ছিলেন। বিএসটিআইয়ের কর্মকর্তাদের তালিকাতেও তাকে পরীক্ষক (রসায়ন) হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্মজীবনে প্রবেশের পরও উচ্চতর ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন মিশা। সেই লক্ষ্যেই ৫০তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকার পথে রওনা হন তিনি। কিন্তু সেই যাত্রাই তার জীবনের শেষ যাত্রায় পরিণত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) পক্ষ থেকে প্রকাশিত শোকবার্তায় তার বিসিএস ভাইভায় অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আসার বিষয়টি জানানো হয়েছে।   বিএসটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে পরীক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন শেখ মিশা খাতুন। অল্প সময়ের কর্মজীবনেই তিনি সহকর্মীদের কাছে একজন তরুণ ও সম্ভাবনাময় কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে বিএসটিআই পরিবার শোক জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকও তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদও তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। এক শোকবার্তায় ডাকসু জানিয়েছে, একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ও সম্ভাবনাময় তরুণের এভাবে চলে যাওয়া অত্যন্ত বেদনাদায়ক। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।   মিশার সহকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতজনদের কাছে তার মৃত্যু আরও বেদনাদায়ক হয়ে উঠেছে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে। বিএসটিআইয়ে কর্মরত থাকার পাশাপাশি তিনি সরকারি প্রশাসনে আরও বড় পরিসরে কাজ করার লক্ষ্য নিয়ে বিসিএস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছিলেন। ভাইভায় অংশ নেওয়ার জন্যই খুলনা থেকে ঢাকায় রওনা দিয়েছিলেন তিনি।   গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের গেড়াখোলা এলাকায় দুর্ঘটনার পর তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সহকর্মী, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সহপাঠী ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তার অকালমৃত্যুতে একটি সম্ভাবনাময় কর্মজীবনের পাশাপাশি নতুন করে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নও থেমে গেল।   শেখ মিশা খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় বিএসটিআই এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা শোক প্রকাশ করেছেন। দুর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি।

৫৯ মিনিট Ago
আমেরিকা
১৯ সেকেন্ডের ভিডিও থেকে বিলিয়ন ডলারের ইউটিউব, নেপথ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জাওয়েদ করিম

বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের কাছে ভিডিও দেখার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো ইউটিউব। তবে এই বিশাল প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু হয়েছিল খুব সাধারণ একটি উদ্যোগের মাধ্যমে, যার নেপথ্যে রয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন প্রযুক্তিবিদ জাওয়েদ করিম।   ২০০৫ সালে পেপ্যালের সাবেক দুই সহকর্মী স্টিভ চেন ও চ্যাড হার্লির সঙ্গে মিলে তিনি ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেন। পেপ্যালে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত অবস্থায় অনলাইন লেনদেনের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত কাজের অভিজ্ঞতা তাকে এই নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে সাহায্য করেছিল।   ইতিহাসে জাওয়েদ করিম সবচেয়ে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছেন ইউটিউবের প্রথম ভিডিও আপলোডের জন্য। ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো চিড়িয়াখানায় হাতির সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ধারণ করেন তিনি। “Me at the zoo” শিরোনামের সেই ছোট্ট ভিডিওটিই ইউটিউবের ইতিহাসে আপলোড হওয়া প্রথম কনটেন্ট। তখন কেউ কল্পনাও করেনি যে এই কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওটিই একদিন পুরো বিশ্বের ভিডিও দেখার সংস্কৃতিকে আমূল বদলে দেবে।   জাওয়েদ করিমের শিকড় বাংলাদেশে। তার বাবা বাংলাদেশি এবং মা জার্মান নাগরিক। জার্মানিতে জন্ম নেওয়া জাওয়েদ পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। ইউটিউব প্রতিষ্ঠার পর তিনি কোম্পানিতে পূর্ণকালীন কাজ করার পরিবর্তে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্সে উচ্চশিক্ষায় মনোযোগ দেন এবং ইউটিউবের পরামর্শক হিসেবে কাজ চালিয়ে যান।   ২০০৬ সালে গুগল ১৬৫ কোটি ডলারে ইউটিউবকে কিনে নেয়। প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকারী হিসেবেও করিম সফল। তার সহপ্রতিষ্ঠিত ভেঞ্চার ফার্ম 'Y Ventures'-এর মাধ্যমে তিনি এয়ারবিএনবি (Airbnb), রেডিট (Reddit) ও প্যালানটিরের (Palantir) মতো সফল প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগ করেছেন। ছোট্ট একটি ভিডিও দিয়ে শুরু হওয়া সেই ইউটিউব আজ শুধু বিনোদন নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শিক্ষা, সংবাদ ও যোগাযোগের এক অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে।

ইসতিয়াক আহমেদ প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬ ২৩:০
তিন বছর ধরে ক্রুজ জাহাজেই দম্পতির সংসার, দিনে খরচ মাত্র ৬৬ ডলার

বাড়ি বা গাড়ি নেই, নেই নিয়মিত সংসারের ঝামেলাও। গত তিন বছরের বেশি সময় ধরে ক্রুজ জাহাজেই বসবাস করছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক লিবি রোম ও তার স্বামী। তাদের দাবি, খাবার, থাকার জায়গা, যাতায়াত ও বিনোদনসহ দুজনের দৈনিক মোট খরচ প্রায় ৬৬ ডলার, যা তাদের আগের জীবনযাপনের তুলনায় বেশ কম।    ৫২ বছর বয়সী লিবি রোম পিপল ম্যাগাজিনকে জানিয়েছেন, তিনি ও তার স্বামী গত ১৬ বছর ধরে অনেকটা যাযাবর জীবনযাপন করছেন। একসময় বিভিন্ন দেশে হোটেলে থেকে কাজ করলেও পরে ক্রুজ জাহাজে স্থায়ীভাবে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। তিন বছরেরও বেশি সময় আগে শুরু হওয়া সেই জীবন এখনো চলছে এবং আপাতত স্থলে ফিরে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।    রোম পেশাগতভাবে রিমোটে কাজ করেন। দুজন মিলে নিজেদের বেশির ভাগ সম্পদ বিক্রি করে জীবনযাপনকে অনেকটাই মিনিমালিস্ট করে ফেলেছেন। এখন তাদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এত কম যে সবকিছু একটি ব্যাকপ্যাকেই রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছেন রোম।    এই জীবনযাপনের সবচেয়ে বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো প্রতিদিনের সংসারের ঝামেলা কমে যাওয়া। তাদের নিজস্ব বাড়ি বা গাড়ি নেই। কাপড় ধোয়ার কাজও অনেক সময় ক্রুজ কোম্পানির সুবিধার মাধ্যমে হয়ে যায়। প্রিন্সেস ক্রুজের এলিট পর্যায়ের সদস্যরা নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রুজ বা ক্রুজ-ডে পূরণ করলে বিনামূল্যে লন্ড্রি সার্ভিসসহ বিভিন্ন সুবিধা পান।    রোম জানান, তারা একই জাহাজে সারাবছর থাকেন না। সাধারণত বছরে দুই থেকে তিনটি জাহাজে পরপর ক্রুজ বুক করেন। কখনো আট থেকে নয় মাস পর্যন্ত একটানা ক্রুজের পরিকল্পনাও করেছেন। রুটের মধ্যে বিরতি পড়লে এক রাতের জন্য হোটেলে থাকতে হয়।    খরচ কমানোর পেছনে রয়েছে আরও একটি কৌশল। রোম ও তার স্বামী বিভিন্ন ক্রুজ লাইনের ক্যাসিনো লয়্যালটি প্রোগ্রামের সুবিধা নেন। এসব প্রোগ্রামে নির্দিষ্ট পর্যায়ের খরচ বা ব্যবহারের পর ফ্রি বা কম খরচে ক্রুজ পাওয়ার সুযোগ থাকে। এর ফলে তারা মূলত পোর্ট ফি ও ট্যাক্সসহ অন্যান্য সীমিত খরচ বহন করে অনেক সময় ক্রুজ চালিয়ে যেতে পারেন।    রোমের হিসাবে, দুজনের দৈনিক প্রায় ৬৬ ডলারের খরচে থাকা, খাবার, যাতায়াত ও বিনোদনের বড় অংশই অন্তর্ভুক্ত থাকে। অর্থাৎ মাসে গড়ে প্রায় ২ হাজার ডলারের মতো খরচ হয় তাদের।   তবে ক্রুজে স্থায়ীভাবে বসবাসের সঙ্গে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জও রয়েছে। রোমের টাইপ-১ ডায়াবেটিস থাকায় নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রয়োজন হয়। শুরুতে বিভিন্ন বন্দর ও বিভিন্ন চিকিৎসকের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে তার জন্য প্রেসক্রিপশন ও চিকিৎসা সামগ্রী সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে উঠেছিল। এখন তিনি এমন ক্রুজ বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেন, যেগুলো একই বন্দর থেকে শুরু ও শেষ হয়, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা সহজ হয়।    ক্রুজ জাহাজের মেডিকেল সেন্টার জরুরি বা আকস্মিক অসুস্থতা ও দুর্ঘটনায় চিকিৎসা দিতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে এগুলো ব্যবহারের জন্য তৈরি নয়। তাই নিয়মিত চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে এমন যাত্রীদের জন্য স্থায়ী ক্রুজ জীবনযাপনে বাড়তি পরিকল্পনা জরুরি।  ডাকপত্রের ক্ষেত্রেও রোমের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তার বোনের ঠিকানায় পাঠানো হয়। আর প্রতিদিন নতুন কোনো দেশে ঘুম থেকে ওঠা, সমুদ্রযাত্রা এবং বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাই তার কাছে এই জীবনযাপনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক।    যারা এমন জীবন বেছে নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাদের আগে কয়েকটি ক্রুজ করে অভিজ্ঞতা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রোম। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার অভিজ্ঞতা নেওয়া জরুরি বলে মনে করেন তিনি। তিন বছরের বেশি সময় জাহাজে কাটানোর পরও তিনি ও তার স্বামী এই জীবনযাপন নিয়ে সন্তুষ্ট এবং আপাতত স্থায়ীভাবে স্থলে ফেরার কোনো পরিকল্পনা করছেন না।

নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার

মাত্র ১১ দিনের এক নবজাতকের নখের নিচে দেখা দেওয়া ক্ষুদ্র সংক্রমণ শেষ পর্যন্ত তার মস্তিষ্কে থাকা মারাত্মক টিউমার শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হয়ে ওঠে। চিকিৎসকদের দ্রুত পদক্ষেপে অস্ত্রোপচার ও কেমোথেরাপির মাধ্যমে প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি।    স্কটল্যান্ডের মিডলোথিয়ানের পেনিকুইকের বাসিন্দা স্যাম শার্প ২০২০ সালে ছেলে জোয়ির জন্ম দেন। জন্মের মাত্র ১১ দিন পর জোয়ি ঠিকমতো দুধ খেতে পারছিল না, ওজন কমছিল এবং জন্ডিসও কমছিল না। এর পাশাপাশি তার শরীরে মাঝে মাঝে খিঁচুনির মতো স্প্যাজম দেখা দিতে শুরু করে।    হাসপাতালে পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময় চিকিৎসকদের নজরে আসে তার একটি নখের নিচে অতি ছোট একটি সংক্রমণের মতো চিহ্ন। সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে আল্ট্রাসাউন্ডে ধরা পড়ে মস্তিষ্কে একটি টিউমার। পরে নমুনা পরীক্ষা করে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এটি গ্লিওব্লাস্টোমা - মস্তিষ্কের একটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ক্যানসার।    চিকিৎসার সময় জোয়ির তিনবার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার এবং নয় দফা কেমোথেরাপি হয়। একপর্যায়ে দিনে ৩০টিরও বেশি খিঁচুনি হচ্ছিল এবং তাকে খাবারের জন্য ফিডিং টিউব ব্যবহার করতে হয়েছিল।    ২০২১ সালের ৪ আগস্ট চিকিৎসার শেষ দিকে স্ক্যানের ফলাফলে তার শরীরে রোগের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পরিবারকে জানানো হয়। বর্তমানে পাঁচ বছর বয়সী জোয়ি স্কুলে যাচ্ছে। তবে চিকিৎসার পর তার সেরিব্রাল পালসি হয়েছে, ডান হাতের ব্যবহার সীমিত এবং দীর্ঘ দূরত্ব চলাচলে হুইলচেয়ার ব্যবহার করে।    জোয়ির মা স্যাম এখন শিশুদের মস্তিষ্কের ক্যানসার নিয়ে আরও গবেষণায় বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আগামী বছর এডিনবার্গ ম্যারাথনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনাও করেছেন, যার মাধ্যমে স্কটিশ ব্রেইন টিউমার রিসার্চ সেন্টার অব এক্সেলেন্সের জন্য অর্থ সংগ্রহ করবেন।    এদিকে যুক্তরাজ্যের এনএইচএস বলছে, মস্তিষ্কের টিউমারের লক্ষণ টিউমারের অবস্থান ও ধরনভেদে ভিন্ন হতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে নতুন বা বাড়তে থাকা মাথাব্যথা, খিঁচুনি, বমি বমি ভাব বা বমি, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, স্মৃতি বা আচরণে পরিবর্তন, শরীরের এক পাশে দুর্বলতা এবং দৃষ্টি বা কথা বলার সমস্যা থাকতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলেই যে মস্তিষ্কে টিউমার হয়েছে, তা নয়; তবে অস্বাভাবিক বা ক্রমশ বাড়তে থাকা উপসর্গ চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করা জরুরি।    সূত্র - The Independent

প্রাগৈতিহাসিক যুগের অন্যতম ভয়ংকর শিকারি প্রাণী ছিল টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্স। ছবি: সংগৃহীত
৬ কোটি ৬০ লাখ বছর পর জানা গেল, কীভাবে মারা গিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মাংসাশী ডাইনোসর

প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশাল শিকারি ডাইনোসর টাইরানোসরাস রেক্স বা টি-রেক্সের শেষ জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রহস্যের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ‘স্কটি’ নামে পরিচিত সবচেয়ে বড় আবিষ্কৃত টি-রেক্সের একটি পাঁজরের হাড়ে পাওয়া আঘাত ও সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা ধারণা করছেন, অন্য একটি ডাইনোসরের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।   স্কটির জীবাশ্ম ১৯৯১ সালে কানাডার সাসকাচেওয়ানের ফ্রেঞ্চম্যান রিভার ভ্যালিতে আবিষ্কৃত হয়। রয়্যাল সাসকাচেওয়ান মিউজিয়ামের গবেষকেরা সেখানে এর কঙ্কালের সন্ধান পান। জীবদ্দশায় স্কটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৪৩ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ১৯ হাজার ৫০০ পাউন্ড বা প্রায় ৮ হাজার ৮০০ কেজি। এই বিশাল আকারের কারণে স্কটিকে এখন পর্যন্ত আবিষ্কৃত সবচেয়ে বড় টি-রেক্স কঙ্কাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   তবে স্কটির গুরুত্ব শুধু আকারে নয়। এর একটি পাঁজরের হাড়ে এমন নরম টিস্যুর অবশিষ্টাংশ পাওয়া গেছে, যা কোটি কোটি বছর টিকে থাকার পরও গবেষণার উপযোগী অবস্থায় ছিল। বিশেষ করে সেখানে খনিজে পরিণত হয়ে যাওয়া রক্তনালির একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্কের চিহ্ন পাওয়া গেছে। জীবাশ্মে এ ধরনের রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা অত্যন্ত বিরল।   এই অস্বাভাবিক সংরক্ষণই গবেষকদের স্কটির জীবনের শেষ অধ্যায় সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছে। গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার পদার্থবিজ্ঞানীরা। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এবং পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেল। জীবাশ্মের ভেতরের গঠন না কেটে বা ক্ষতিগ্রস্ত না করে দেখার জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসিতে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি বিভাগের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে নিউট্রন ইমেজিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেন।   এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্কটির পাঁজরের ভেতরের গঠন ত্রিমাত্রিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হয়। সাধারণ এক্স-রে যেখানে মূলত ঘন হাড়ের গঠন দেখাতে কার্যকর, সেখানে নিউট্রন বিভিন্ন হালকা মৌল, বিশেষ করে হাইড্রোজেনের উপস্থিতি শনাক্ত করতে পারে। ফলে জীবাশ্মের ভেতরে থাকা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ক্ষীণ টিস্যুর চিহ্নও আলাদা করে দেখা সম্ভব হয়েছে।,   গবেষকদের ধারণা, স্কটির পাঁজরটি জীবদ্দশায় ভেঙে গিয়েছিল। আঘাতের পর শরীর স্বাভাবিকভাবে হাড়টি সারিয়ে তোলার চেষ্টা শুরু করে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে আয়রনসমৃদ্ধ রক্ত পৌঁছায় এবং সেখানে নতুন রক্তনালির একটি নেটওয়ার্ক তৈরি হয়। সেই রক্তনালির খনিজায়িত চিহ্নই কয়েক কোটি বছর পর গবেষকদের সামনে স্কটির আঘাতের প্রমাণ হিসেবে ধরা দেয়।   কীভাবে পাঁজরটি ভেঙেছিল, সে বিষয়ে গবেষকেরা একটি সম্ভাবনার কথা বলছেন। ধারণা করা হচ্ছে, শিকার বা সংঘর্ষের সময় অন্য কোনো ডাইনোসরের সঙ্গে লড়াইয়ে স্কটি আঘাত পেয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কোন প্রাণীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছিল বা ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছিল, তা জীবাশ্ম থেকে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।   গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পাঁজরের হাড়ে সেরে ওঠার চিহ্ন পাওয়া গেলেও সেটি পুরোপুরি জোড়া লাগেনি। অর্থাৎ আঘাতের পর কিছু সময় স্কটি বেঁচে ছিল এবং তার শরীর ক্ষত সারানোর চেষ্টা করছিল। কিন্তু সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাই পাঁজরের আঘাতটি তার মৃত্যুর সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে বলে গবেষকেরা মনে করলেও, এটিই মৃত্যুর একমাত্র কারণ ছিল বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।   স্কটির মৃত্যুর পর তার দেহ কীভাবে এত সূক্ষ্ম টিস্যু সংরক্ষণ করতে পেরেছিল, সেটিও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিজ্ঞানীদের মতে, সে একটি লবণাক্ত জলাভূমিতে মারা গিয়ে থাকতে পারে। এমন পরিবেশে অক্সিজেনের প্রবেশ সীমিত থাকায় পচন প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে সাধারণত দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা এমন নরম টিস্যুর কিছু অংশ দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।   স্কটির পাঁজরে সংরক্ষিত রক্তনালির আবিষ্কারের সূত্রপাত অবশ্য আরও কয়েক বছর আগে। ২০২০ সালে তৎকালীন স্নাতক শিক্ষার্থী জেরিট মিচেল স্কটির পাঁজর নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এক্স-রে ভিত্তিক মাইক্রো-সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক কাঠামো শনাক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে কানাডিয়ান লাইট সোর্সে আরও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তি ও অণুবীক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে সেই কাঠামো নিয়ে গবেষণা করা হয়।   ২০২৬ সালের এপ্রিলে গবেষক দল ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে গিয়ে নিউট্রনভিত্তিক দুটি যন্ত্র ব্যবহার করে স্কটির পাঁজর পরীক্ষা করে। এর মধ্যে একটি পদ্ধতিতে বড় হাড়ের ভেতরের গঠন অক্ষত রেখেই পরীক্ষা করা হয়। নিউট্রন পরীক্ষার ফল আগের এক্স-রে গবেষণার সঙ্গে মিলে যায় এবং রক্তনালির অস্তিত্ব সম্পর্কে পাওয়া তথ্যকে আরও শক্তিশালী করে।   ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনার অধ্যাপক মাউরিসিও বারবি এই আবিষ্কারকে লটারি জেতার সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ কোটি কোটি বছর পুরোনো একটি ডাইনোসরের হাড়ের ভেতরে এত বিস্তৃত রক্তনালির কাঠামো সংরক্ষিত থাকা গবেষকদের জন্য অত্যন্ত বিরল সুযোগ।   গবেষণায় যুক্ত পিএইচডি গবেষক জেরিট মিচেলের মতে, প্রতিটি জীবাশ্ম অতীতের একটি ছোট্ট মুহূর্তের ছবি। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে সেই ছবির ভেতরের আরও সূক্ষ্ম তথ্য বের করে আনা সম্ভব হচ্ছে। ফলে শুধু ডাইনোসরের আকার বা কঙ্কালের গঠন নয়, তারা কীভাবে আহত হতো এবং তাদের শরীর কীভাবে সেই আঘাত সারানোর চেষ্টা করত, সে বিষয়েও ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।   গবেষকদের কাছে এই কাজের আরেকটি বড় গুরুত্ব রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘর ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বহু পুরোনো জীবাশ্ম সংরক্ষিত রয়েছে। সেগুলোর অনেকগুলোর ভেতরেও হয়তো এমন অদৃশ্য তথ্য লুকিয়ে আছে, যা প্রচলিত পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিউট্রন ইমেজিং ও উন্নত এক্স-রে প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার ভবিষ্যতে সেই তথ্য সামনে আনার নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।   অর্থাৎ, প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে মারা যাওয়া স্কটির কঙ্কাল আজও বিজ্ঞানীদের কাছে শুধু একটি বিশাল টি-রেক্সের নিদর্শন নয়। এর ভাঙা পাঁজর, ক্ষত সারানোর চেষ্টা এবং সংরক্ষিত রক্তনালির চিহ্ন সেই প্রাণীর জীবনের শেষ সময় সম্পর্কে এমন তথ্য দিচ্ছে, যা এত দিন জীবাশ্মের ভেতরেই অদৃশ্য ছিল।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি, ইউনিভার্সিটি অব রেজাইনা, কানাডিয়ান লাইট সোর্স, এনডিটিভি

সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার পাশাপাশি পুলিশ হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়েছেন অ্যাশলিন। ছবি: সংগৃহীত
ডিউটির পাশাপাশি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা, মিস আমেরিকার মুকুট জয়ের লড়াইয়ে পুলিশ কর্মকর্তা

দিনের শুরুতে পুলিশের পোশাক পরে দায়িত্ব পালন, আর বিশেষ দিনে ঝলমলে পোশাকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে মুকুটের লড়াই। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের অ্যাশলিন মার্সিয়ারের জীবন যেন একই সঙ্গে দুটি ভিন্ন জগতের গল্প। ওয়েস্টবরো পুলিশ বিভাগের সক্রিয় কর্মকর্তা এই তরুণী এবার মিস আমেরিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন।   ২৫ বছর বয়সী অ্যাশলিন মার্সিয়ার শুধু মিস ম্যাসাচুসেটস ২০২৬-এর বিজয়ীই নন, তিনি এই রাজ্যের প্রথম পুলিশ কর্মকর্তা যিনি মিস ম্যাসাচুসেটসের মুকুট জিতেছেন। ২০ জুন ওরচেস্টারের হ্যানোভার থিয়েটারে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় তিনি ২২ জন প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে এই খেতাব অর্জন করেন। এরপর ম্যাসাচুসেটসের প্রতিনিধি হিসেবে মিস আমেরিয়ার জাতীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেন তিনি।   ৬ সেপ্টেম্বর ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচের পাম বিচ কাউন্টি কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় মিস আমেরিয়ার চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। এবারের আয়োজন মিস আমেরিয়া প্রতিযোগিতার ১০৫তম বছর উদযাপন করেছে। ৫০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া ও পুয়ের্তো রিকোর প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।   অ্যাশলিনের গল্পের বিশেষত্ব তার পেশায়। তিনি নিয়মিত ওয়েস্টবরো শহরের পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০২৫ সালে তিনি প্রতিযোগিতামূলক সৌন্দর্য আয়োজন থেকে এক বছর বিরতি নিয়ে পুলিশ একাডেমিতে ভর্তি হন। তার বাবা কেভিন মার্সিয়েরও একজন পুলিশ কর্মকর্তা এবং অক্সফোর্ড পুলিশ বিভাগের করপোরাল। বাবার পথ অনুসরণ করেই পুলিশে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন অ্যাশলিন।   পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তার মনে প্রশ্ন ছিল, একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রতিযোগী হওয়া সম্ভব হবে কি না। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে অ্যাশলিন বলেন, অন্যরা কী ভাববে, সেই চিন্তায় তিনি একসময় দ্বিধায় ছিলেন। পরে নিজের লক্ষ্যকে গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাকে একসঙ্গে দুই ভিন্ন পরিচয় ধরে রাখার সুযোগ করে দেয়।   তার মতে, একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তাকে দেখতে কেমন হওয়া উচিত, তার কোনো নির্দিষ্ট ছক নেই। যুক্তরাষ্ট্রে নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মোট বাহিনীর তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ হলেও, পেশাগত পরিচয়ের জন্য নারীদের একটি নির্দিষ্ট চেহারা বা ব্যক্তিত্বে সীমাবদ্ধ থাকার প্রয়োজন নেই বলেও মনে করেন তিনি।   অ্যাশলিনের বক্তব্য, একজন নারী একই সঙ্গে একাধিক স্বপ্ন অনুসরণ করতে পারেন। তার নিজের জীবনেও সেটিই তিনি দেখাতে চান। পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার পাশাপাশি মিস আমেরিয়ার মঞ্চে দাঁড়িয়ে তরুণীদের তিনি বোঝাতে চান, জীবনের একটি লক্ষ্য বেছে নিয়ে অন্য স্বপ্নগুলো ছেড়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই।   তার এই বার্তার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্যক্তিগত একটি উদ্যোগও। অ্যাশলিনের সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্ল্যাটফর্মের নাম ‘নিকস কারেজ: ওয়ান স্মাইল গোস আ মাইল’। তার ছোট ভাই নিকোলাসের নামে এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে। নিকোলাস দুইবার শিশুদের ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে সুস্থ হয়েছেন। গুরুতর অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের জন্য ইতিবাচকতা, আশা ও সহায়তার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।   পুলিশ বিভাগের সহকর্মীরাও অ্যাশলিনের এই যাত্রায় পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মিস ম্যাসাচুসেটস হওয়ার খবর জানানোর পর থেকেই ওয়েস্টবরো পুলিশ বিভাগের সহকর্মীরা তাকে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। বিদায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়া থেকে শুরু করে তহবিল সংগ্রহের কাজে সহায়তা এবং শুভকামনার বার্তা পাঠানো, বিভিন্নভাবে তারা তার পাশে ছিলেন।   শুধু নিজের সহকর্মীরাই নন, দেশজুড়ে নারী পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও সমর্থন পেয়েছেন অ্যাশলিন। তার দাবি, হাজারো নারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অনেক তরুণীও তার গল্পে অনুপ্রাণিত হয়ে পুলিশে যোগ দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন।   অ্যাশলিন মনে করেন, পুলিশিং ও সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ মিল রয়েছে। দুই ক্ষেত্রেই মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা, পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকার ক্ষমতা প্রয়োজন। পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে মঞ্চেও আত্মবিশ্বাসী থাকতে সাহায্য করেছে বলে জানান তিনি।   তবে পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব আর সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির মধ্যে পার্থক্যও স্পষ্ট। ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হাসতে হাসতে অ্যাশলিন বলেন, পুলিশের শিফটের জন্য প্রস্তুত হতে তার মাত্র কয়েক মিনিট লাগে। চুল পেছনে বেঁধে সামান্য সাজগোজ করেই কাজে বেরিয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু মিস আমেরিয়ার মঞ্চের জন্য প্রস্তুত হতে তার অনেক বেশি সময় লাগে।   অ্যাশলিনের শিক্ষাজীবনও বেশ সমৃদ্ধ। তিনি কানেকটিকাটের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাভেন থেকে জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে অপরাধবিচার বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন।   মিস ম্যাসাচুসেটসের দায়িত্ব পালনের সময়ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। অর্থাৎ মুকুট পাওয়ার পরও নিজের পেশাগত পরিচয় থেকে সরে দাঁড়াননি অ্যাশলিন। বরং দুই পরিচয়ের মাধ্যমে মানুষের সেবা করার সুযোগকে তিনি নিজের জন্য বিশেষ একটি দায়িত্ব হিসেবে দেখেছেন।   মিস আমেরিয়ার মুকুট শেষ পর্যন্ত তার মাথায় উঠুক বা না উঠুক, অ্যাশলিনের কাছে প্রতিযোগিতার গুরুত্ব অন্য জায়গায়। তার লক্ষ্য, নিজের গল্পের মাধ্যমে তরুণীদের দেখানো যে একই সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়া এবং জাতীয় পর্যায়ের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াও সম্ভব।   অ্যাশলিনের ভাষায়, তাকে অনেকবার বলা হয়েছে একটি বিষয় বেছে নিয়ে সেটিতেই মনোযোগ দিতে। কিন্তু তার বিশ্বাস, স্বপ্ন যদি একাধিক হয়, তাহলে সেগুলো একসঙ্গেও অনুসরণ করা সম্ভব। তরুণ প্রজন্মের মেয়েদের সেই আত্মবিশ্বাস দেওয়াই এখন তার সবচেয়ে বড় বার্তা।   সূত্র: ফক্স নিউজ

ইরানের মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলের মতো করে তৈরি করা একটি ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিতে ইরানের প্রচলিত মানচিত্রের সঙ্গে পরিবর্তিত একটি মানচিত্র পাশাপাশি দেখানো হয়েছে। ছবিটির ‘বিফোর’ অংশে ইরানের স্বাভাবিক মানচিত্র দেখা যায়। আর ‘আফটার’ অংশে দেশটির সীমানা এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে সেটি ট্রাম্পের মুখমণ্ডল ও চুলের পাশের অবয়বের মতো দেখায়।   তবে ছবিটি প্রকাশের সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। ফলে কেন তিনি এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয় এবং এর মাধ্যমে ইরানের সীমান্ত পরিবর্তন বা নতুন কোনো ভৌগোলিক দাবির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করেছেন।   ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প একই সময়ে আরও কয়েকটি পোস্ট করেন। এসব পোস্টে ইরান ও চলমান সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন প্রতীকী ছবি প্রকাশের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চলার সময়ে দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে উপস্থাপন করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   তবে ছবিটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।করেন তিনি। এতে ‘বিফোর’ আগের অংশে ইরানের প্রচলিত মানচিত্র দেখানো হলেও ‘আফটার’ তথা পরের অংশে দেশটির সীমানা পরিবর্তন করে ট্রাম্পের মুখ ও চুলের পাশের অবয়বের মতো করে দেখানো হয়েছে।   তবে ছবিটির সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা অর্থ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক নতুন মানচিত্র বা ইরানের সীমান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়; বরং ট্রাম্পের পোস্ট করা পরিবর্তিত একটি ছবি। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আরও কয়েকটি পোস্টও করেন তিনি।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
প্রেমিকের নতুন বাইকের শখ পূরণ করতে ৯ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ উঠেছে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত
প্রেমিককে নতুন বাইক কিনে দিতে স্বর্ণ চুরির অভিযোগ, কলেজছাত্রী গ্রেপ্তার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৫:৩৪

ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটুর জেলার পোল্লাচিতে বাবার বন্ধুর বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার চুরির অভিযোগে ১৯ বছর বয়সী এক কলেজছাত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, চুরি করা স্বর্ণ বিক্রি করে পাওয়া অর্থ দিয়ে প্রেমিকের জন্য নতুন মোটরসাইকেল কিনে দেন তিনি।   গ্রেপ্তার তরুণীর নাম আর. জয় প্রিন্সি। তিনি পোল্লাচি গভর্নমেন্ট আর্টস কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। পুলিশের দাবি, গত ১৬ আগস্ট প্রিন্সি তার বাবার বন্ধু এইচ. তামিলসেলভানের বাড়িতে যান। এ সময় বাড়ির আলমারিতে রাখা প্রায় ৭২ গ্রাম স্বর্ণালংকার চুরি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। বাংলাদেশি হিসাবে এটি প্রায় ৬ ভরি ২ আনা স্বর্ণ।   পরে চুরি করা স্বর্ণ পোল্লাচির একটি জুয়েলারি দোকানে প্রায় আড়াই লাখ রুপিতে বিক্রি করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, সেই অর্থ দিয়েই নিজের প্রেমিক ২০ বছর বয়সী জনাগান শিবার জন্য একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনেন প্রিন্সি।   নতুন মোটরসাইকেল কেনার পর শোরুমে প্রিন্সি ও তার প্রেমিকের উদযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে।   এদিকে স্বর্ণালংকার খোয়া যাওয়ার বিষয়টি বুঝতে পেরে তামিলসেলভান পোল্লাচি ইস্ট থানায় অভিযোগ করেন। পরে পুলিশ প্রিন্সিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি চুরির কথা স্বীকার করেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।   এরপর তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হলে বিচারিক হেফাজতে পাঠানো হয়। তবে প্রিন্সির প্রেমিক জনাগান শিবা এখনও পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ইরানের মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলের মতো করে তৈরি করা একটি ছবি ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৫:২৪

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করা একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ নিজের মুখের আদলে ইরানের মানচিত্র পোস্ট করলেন ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে পরিবর্তন করে একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিটি পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিতে ইরানের প্রচলিত মানচিত্রের সঙ্গে পরিবর্তিত একটি মানচিত্র পাশাপাশি দেখানো হয়েছে। ছবিটির ‘বিফোর’ অংশে ইরানের স্বাভাবিক মানচিত্র দেখা যায়। আর ‘আফটার’ অংশে দেশটির সীমানা এমনভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে, যাতে সেটি ট্রাম্পের মুখমণ্ডল ও চুলের পাশের অবয়বের মতো দেখায়।   তবে ছবিটি প্রকাশের সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বার্তা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। ফলে কেন তিনি এমন একটি ছবি প্রকাশ করেছেন, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি কোনো আনুষ্ঠানিক মানচিত্র নয় এবং এর মাধ্যমে ইরানের সীমান্ত পরিবর্তন বা নতুন কোনো ভৌগোলিক দাবির ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বরং ট্রাম্প নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পরিবর্তিত ছবি প্রকাশ করেছেন।   ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প একই সময়ে আরও কয়েকটি পোস্ট করেন। এসব পোস্টে ইরান ও চলমান সংঘাত নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি। ট্রাম্পের এমন প্রতীকী ছবি প্রকাশের ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ইরানকে কেন্দ্র করে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা চলার সময়ে দেশটির মানচিত্রকে নিজের মুখের আদলে উপস্থাপন করায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।   তবে ছবিটির প্রকৃত উদ্দেশ্য বা এর মাধ্যমে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট বার্তা দিতে চেয়েছেন কি না, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।করেন তিনি। এতে ‘বিফোর’ আগের অংশে ইরানের প্রচলিত মানচিত্র দেখানো হলেও ‘আফটার’ তথা পরের অংশে দেশটির সীমানা পরিবর্তন করে ট্রাম্পের মুখ ও চুলের পাশের অবয়বের মতো করে দেখানো হয়েছে।   তবে ছবিটির সঙ্গে এর উদ্দেশ্য বা অর্থ সম্পর্কে কোনো ব্যাখ্যা দেননি ট্রাম্প। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক নতুন মানচিত্র বা ইরানের সীমান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা নয়; বরং ট্রাম্পের পোস্ট করা পরিবর্তিত একটি ছবি। একই সময়ে ইরানকে ঘিরে আরও কয়েকটি পোস্টও করেন তিনি।

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো ৫ হাজার টনের নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’। ছবি: সংগৃহীত
পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নতুন যুদ্ধজাহাজ ‘ক্যাং কন’, প্রতিরোধ জোরদার কিম জং উনের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৫:১৩

উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীতে যুক্ত হলো নতুন ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ‘ক্যাং কন’। দেশটির নেতা কিম জং উন বলেছেন, যুদ্ধজাহাজটি উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে কাজ করবে এবং শত্রুর বিরুদ্ধে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা গড়ে তুলবে।   রোববার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান বন্দরে আয়োজিত কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম জং উন নতুন যুদ্ধজাহাজটি পরিদর্শন করেন। অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রি সল-জু ও মেয়ে কিম জু-এ। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ জানায়, জাহাজটি দেশটির পূর্ব সাগর বহরে যুক্ত করা হয়েছে।   কিম বলেন, নতুন প্রজন্মের এই ডেস্ট্রয়ারকে রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক পাল্টা-আঘাত ব্যবস্থার অংশ হিসেবে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী প্রতিশোধমূলক হামলা চালাতে সক্ষম হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি উত্তর কোরিয়ার নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন বাহিনীতে রূপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ক্যাং কন ডেস্ট্রয়ারে বর্তমানে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে কি না, তা উত্তর কোরিয়ার প্রকাশিত তথ্যে নিশ্চিত করা হয়নি। রয়টার্সও জানিয়েছে, কেসিএনএ যুদ্ধজাহাজটি পারমাণবিক প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থার অংশ হবে বললেও এতে পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি।   ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, ক্যাং কন উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার। এর আগে একই শ্রেণির ‘চোয়ে হিয়ন’ নামের প্রথম যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করা হয়। গত জুলাইয়ে ক্যাং কন থেকে কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণও চালানো হয়েছিল বলে উত্তর কোরিয়ার দাবি।   যুদ্ধজাহাজটির নির্মাণেও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটেছিল। গত বছরের মে মাসে প্রথমবার পানিতে নামানোর সময় এটি উল্টে যায়। পরে মেরামতের পর প্রায় এক মাসের মধ্যে আবার জাহাজটি পানিতে নামানো হয়।   উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে নৌবাহিনী আধুনিকায়নে জোর দিয়েছে। দেশটি পশ্চিম ও পূর্ব উভয় উপকূলে পারমাণবিক সক্ষমতাসম্পন্ন নৌযান মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে। একই সঙ্গে ১০ হাজার টন শ্রেণির আরও বড় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।   এদিকে নতুন যুদ্ধজাহাজটি নৌবাহিনীতে যুক্ত করার খবর এমন সময়ে এলো, যখন দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান ‘ফ্রিডম এজ’ নামে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করেছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি হিসেবে সমালোচনা করে আসছে।

হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব  প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালির নাম পরিবর্তন করে ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬ ৪:১৬

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ভৌগোলিক স্থান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন বা পুনঃনামকরণের উদ্যোগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। লেক অন্টারিওর নাম ‘লেক আমেরিকা’ করার পর এবার হরমুজ প্রণালির নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার প্রস্তাবও সামনে এসেছে। তবে এসব উদ্যোগের সবগুলো একই ধরনের নয় - কিছু ইতোমধ্যে ফেডারেল পর্যায়ে কার্যকর হয়েছে, আবার কিছু এখনো প্রস্তাব বা রাজনৈতিক উদ্যোগের পর্যায়ে রয়েছে।    সবচেয়ে আলোচিত পরিবর্তনগুলোর একটি হলো লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নাম দেওয়া। ২৭ আগস্ট জারি করা নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প মার্কিন ফেডারেল নথি ও জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস)-এ নতুন নাম ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তবে লেকটি যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে অবস্থিত হওয়ায় কানাডা এই নাম গ্রহণ করেনি এবং দেশটি এখনো ‘লেক অন্টারিও’ নামই ব্যবহার করছে।    এর আগে ২০২৫ সালে ট্রাম্প গালফ অব মেক্সিকোকে ‘গালফ অব আমেরিকা’ নামে অভিহিত করার উদ্যোগ নেন। একই সময়ে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত ডেনালির ফেডারেল নাম আবার ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ডেনালি ন্যাশনাল পার্ক অ্যান্ড প্রিজার্ভের নাম অপরিবর্তিত রয়েছে।    সামরিক স্থাপনাতেও নাম পরিবর্তন হয়েছে। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন নয়টি আর্মি ঘাঁটির নাম পরিবর্তন বা আগের নাম ফিরিয়ে আনে। এর মধ্যে ফোর্ট লিবার্টিকে আবার ফোর্ট ব্র্যাগ এবং ফোর্ট মুরকে ফোর্ট বেনিং করা হয়। এগুলো ট্রাম্পের নিজের নামে করা হয়নি; বরং আগের নাম ফিরিয়ে দেওয়া বা নতুন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে।    সরকারি ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নিয়েও একই ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেনেডি সেন্টারের বোর্ডে ট্রাম্পের সমর্থকেরা তাঁর নাম যুক্ত করে প্রতিষ্ঠানটিকে ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প অ্যান্ড জন এফ. কেনেডি মেমোরিয়াল সেন্টার ফর দ্য পারফর্মিং আর্টস’ হিসেবে পরিচিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জও হয়েছে, কারণ প্রতিষ্ঠানটি কংগ্রেসের আইনে প্রতিষ্ঠিত।    এদিকে ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিস-এর ওয়াশিংটন সদর দপ্তরকেও ট্রাম্পের নামে পরিচিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আইনি বিরোধ চলার মধ্যেই এই নাম ব্যবহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।    সবচেয়ে সাম্প্রতিক প্রস্তাবগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি নিয়ে। ২ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌশলগত এই জলপথের নাম ‘ট্রাম্প স্ট্রেইট’ করার কথা বলেন। পরে ওভাল অফিসে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তিনি শুধু ‘উত্থাপন’ করেছিলেন। ফলে এটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নয়।    এ ছাড়া নিউইয়র্কের পেন স্টেশন ও ওয়াশিংটন ডালেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ট্রাম্পের নামে করার ধারণাও আলোচনায় এসেছে। তবে এগুলোও এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর নাম পরিবর্তন নয়।    ট্রাম্পের নাম যুক্ত হয়েছে এমন আরও কিছু উদ্যোগের মধ্যে রয়েছে ভবিষ্যৎ ‘ট্রাম্প-ক্লাস’ যুদ্ধজাহাজ, ২০২৬ সালের একটি ট্রাম্পের প্রতিকৃতিযুক্ত ১ ডলারের মুদ্রা এবং আর্মেনিয়ার একটি প্রস্তাবিত পরিবহন করিডোরের নাম ‘ট্রাম্প রুট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যান্ড প্রসপারিটি’। ফ্লোরিডায় পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম ট্রাম্পের নামে পরিবর্তনের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যদিও সেটি রাজ্য পর্যায়ের উদ্যোগ এবং ফেডারেল অনুমোদনের বিষয় রয়েছে।    তবে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের ক্ষমতারও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফেডারেল সরকার তার নিজস্ব নথি, মানচিত্র ও সরকারি যোগাযোগে নতুন নাম ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু কোনো নির্বাহী আদেশ অন্য দেশ, অঙ্গরাজ্য, আন্তর্জাতিক সংস্থা বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাধ্যতামূলক নয়। লেক অন্টারিওর ক্ষেত্রে কানাডা এখনো পুরোনো নাম ব্যবহার করছে - যা এই সীমাবদ্ধতার একটি স্পষ্ট উদাহরণ।    নাম পরিবর্তনের উদ্যোগগুলো নিয়ে জনমতও বিভক্ত নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিরোধিতার চিত্র পাওয়া গেছে। রয়টার্স/ইপসোসের ২৮-৩০ আগস্টের জরিপে ৬৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছেন, বিপরীতে সমর্থন করেছেন ১৪ শতাংশ। 

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.31K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.07K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.18K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.05K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়