প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে চালু করা হয়েছে পাঁচটি রেট্রো ধাঁচের ভিডিও গেম। বৃহস্পতিবার চালু হওয়া ‘আর্কেড’ নামের এই বিভাগে অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্কুলের খাবার এবং শিশুদের সঞ্চয় প্রকল্পসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে গেমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। গেমগুলোর একটি ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’, যেখানে টেট্রিসের মতো ইট সাজিয়ে সীমান্তে দেয়াল তৈরি করতে হয়। আর ‘রিও রান’ গেমে রিও গ্রান্ডে নদীর পাশে সীমান্ত টহল দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আরেকটি গেম ‘সাপ্লাই লাইন’-এ স্কুলের খাবার বাছাই করতে হয়। স্বাস্থ্যকর খাবার রেখে অস্বাস্থ্যকর খাবার সরানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ নীতির প্রচার করা হয়েছে। ‘ফ্ল্যাপি বিল’ গেমে একটি ঈগলকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের ওপর দিয়ে উড়তে হয়। আর ‘ট্রাম্প সেভিংস টাইকুন’ গেমে অর্থ সংগ্রহ করে শিশুদের ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ পূরণ করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই সঞ্চয় প্রকল্পে যোগ্য শিশুদের জন্য এককালীন ১ হাজার ডলার সরকারি অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমগুলোর প্রচারে এক্সবক্স, প্লেস্টেশন ও নিনটেন্ডোর পুরোনো গেম চালুর পর্দার আদলে বিভিন্ন অ্যানিমেশনও ব্যবহার করেছে। একটি অ্যানিমেশনে সেগার নাম বদলে ‘মাগা’ দেখানো হয়েছে, যা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’ গেম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টেট্রিস কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গেমটি তৈরিতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং টেট্রিসের নাম বা মেধাস্বত্ব ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে।
ফ্রাঙ্কফোর্ট, ইলিনয়, ৫ সেপ্টেম্বর: লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত হত্যামামলা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছিলেন ইলিনয়ের ফ্রাঙ্কফোর্টের এক মা। এর কয়েক ঘণ্টা পর নিজ বাড়ির বেসমেন্টে তার ২ বছরের ছেলে ব্যারেটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় মা কোরি এ. ওয়ালশের বিরুদ্ধে তিনটি ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফ্রাঙ্কফোর্টের ব্রুক স্টোন কোর্টের বাড়িতে পুলিশকে ডাকা হয় ২ বছরের একটি শিশুকে আহত অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে। প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বেসমেন্টে দেখতে পান এবং সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, শিশুটিকে বেসমেন্টের একটি রাফটারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার গলায় একটি লিগেচার ছিল। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লিগেচারের চাপে গলায় চাপ পড়ে শ্বাসরোধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর ধরন নির্ধারণের প্রক্রিয়া তখনও চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই বাড়িতে ওয়ালশকেও আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ওপরের তলার একটি বাথটাবে ছিলেন এবং নিজের শরীরে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা জখম ছিল। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, হাসপাতালে ওয়ালশ তদন্তকারীদের কাছে তার ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি শিশুটিকে “ডেভিল” ও “অ্যান্টি-ক্রাইস্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও নথিতে বলা হয়েছে। তার কথিত বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের মিল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার আরেকটি আলোচিত দিক হলো লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার নিয়ে ওয়ালশের আগ্রহ। প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করে NBC Chicago জানিয়েছে, ওয়ালশ সম্প্রতি ক্ল্যান্সির মামলায় “খুব বেশি আগ্রহী” হয়ে উঠেছিলেন এবং বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাটে মামলাটি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরেও তিনি এ বিষয়ে মেসেজ করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তার তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ক্ল্যান্সির পক্ষ দাবি করেছে, তিনি গুরুতর পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রসিকিউশন অবশ্য বলেছে, তিনি তার কাজের প্রকৃতি বুঝতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলেন। ৪ সেপ্টেম্বর তার মামলায় জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। তবে ওয়ালশের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার প্রতি আগ্রহ এবং তার নিজের ছেলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই। বিষয়টি তদন্তে উঠে আসা একটি তথ্য হিসেবে আদালতের নথিতে রয়েছে। ওয়ালশের আইনজীবী বলেছেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল সাইকোটিক এপিসোডের মধ্যে ছিলেন। এটি বর্তমানে তার আইনজীবীর পক্ষের বক্তব্য, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার সময় বাড়িতে আরও তিন শিশু ছিল বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শিশু ছিল এবং দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানও বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের কেউ আহত হয়নি। ওয়ালশের স্বামী ঘটনার সময় অঙ্গরাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে আদালতের নথিতে বলা হয়েছে। ওয়ালশ বর্তমানে হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তার ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
কোপেনহেগেন, ৫ সেপ্টেম্বর: বৈধ বসবাসের অনুমতি নেই এমন অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘রিটার্ন হাব’-এ পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ডেনমার্ক। দেশটির অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশনমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রথম অভিবাসীদের কোনো অংশীদার দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত হতে চায় ডেনমার্ক। ডেনমার্কের সঙ্গে এই উদ্যোগে রয়েছে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস। পাঁচ দেশ মিলে ‘গ্রুপ অব ফাইভ’ হিসেবে ইইউর বাইরে কোনো দেশের সঙ্গে রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অংশীদারত্ব চুক্তি করতে কাজ করছে। তবে এখনো কোন দেশ এসব কেন্দ্র স্থাপনে অংশ নেবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ৪ সেপ্টেম্বর কোপেনহেগেনে বৈঠকে পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে আরও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, তারা চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। ডেনমার্কের মন্ত্রী বোডস্কভ বলেন, ইইউর বাইরে রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং এখন তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি। তবে প্রস্তাবিত অংশীদার দেশের নাম তিনি জানাননি। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গত জুনে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়। এর লক্ষ্য দ্রুততরভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সদস্য দেশগুলোকে ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দেওয়া। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে অ্যাসাইলামপ্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে। এ পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার উদ্বেগও রয়েছে। কাউন্সিল অব ইউরোপ জুলাইয়ে সতর্ক করে বলেছিল, তৃতীয় দেশে বিদেশিদের স্থানান্তরের এমন ব্যবস্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, যার মধ্যে দুর্ব্যবহার ও নির্বিচারে আটক রাখার আশঙ্কাও রয়েছে। ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, রিটার্ন হাব অল্পসংখ্যক মানুষকে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এটি অভিবাসীদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে আসা বন্ধ করবে না এবং মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR জানিয়েছে, প্রস্তাবটির বিস্তারিত নিয়ে তাদের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। পাঁচ দেশের গ্রুপটি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জার্মানির মিউনিখে আবার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদের নতুন করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির জন্য সর্বোচ্চ লেভেল-৪ ‘ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা বহাল রেখে সম্ভাব্য ভ্রমণকারীদের উইল ও মৃত্যুর পরের নির্দেশনা প্রস্তুত করা, বীমার সুবিধাভোগী নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, লিবিয়ায় সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং স্থলমাইনের মতো গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ যেকোনো সময় শুরু হতে পারে এবং দেশটিতে অস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের লিবিয়ায় কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অপহরণের ঝুঁকিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর আগে মার্কিন নাগরিকরাও অপহরণের শিকার হয়েছেন। লিবিয়ায় বর্তমানে কোনো মার্কিন দূতাবাস নেই। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের পক্ষে দেশটিতে থাকা নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই কেউ সতর্কতা উপেক্ষা করে সেখানে গেলে মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জরুরি অবস্থায় দেশ ছাড়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপহরণের আশঙ্কা বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের পরিবারের সঙ্গে একটি ‘প্রুফ অব লাইফ’ প্রোটোকল ঠিক করে রাখতেও বলা হয়েছে। কেউ জিম্মি হলে পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় ও জীবিত থাকার বিষয়টি যাচাই করতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রশ্ন ও উত্তর ব্যবহার করতে পারবেন। সবচেয়ে অস্বাভাবিক পরামর্শগুলোর একটি হলো - ভ্রমণের আগে নিজের চিকিৎসকের কাছে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়া। পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনায় পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজন হলে পরিবারের জন্য এই নমুনা কাজে লাগতে পারে। পরিবারের কাছে ডেন্টাল রেকর্ড রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রয়োজনীয় লগইন তথ্য বিশ্বস্ত স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করা, যোগাযোগের পরিকল্পনা তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। সরকারের ভ্রমণ সতর্কতার তালিকায় লিবিয়া বর্তমানে লেভেল-৪: ডু নট ট্রাভেল পর্যায়ে রয়েছে। একই স্তরের সতর্কতায় থাকা দেশ বা অঞ্চলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলে। সোর্স: U.S. State Department Travel Advisories
নিউইয়র্ক স্টেটে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিপুলসংখ্যক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ, আর্থিক সেবা, পরিবহনসহ বিভিন্ন বিভাগে একাধিক পদে আবেদন চলছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য প্রকাশিত চলমান নিয়োগ তালিকায় এসব পদ পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়োগ তালিকায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নিরীক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, নিবন্ধিত নার্স, তথ্য বিশ্লেষক, পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তা, মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তকারীসহ বিভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, নিয়োগের ধরন এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা। ১ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতেই সহকারী ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, নিবন্ধিত নার্স, রক্তের নমুনা সংগ্রহকারী, মোটরযান পরিদর্শক, পার্ক ও বিনোদন বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের বিভিন্ন পদসহ বেশ কয়েকটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। পরদিনও নতুন করে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবাধিকার, শিক্ষা, প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রযুক্তি বিষয়ক ডেপুটি কমিশনার, তথ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা বিভাগের প্রশাসনিক সহকারী ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা যোগ্য প্রার্থীদের কিছু পদে প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রক্রিয়া ছাড়াই নিয়োগ দিতে পারে। সরকারি চাকরির জন্য তৈরি নিউইয়র্ক স্টেটের তথ্যপেজে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করে যোগ্য ও বৈচিত্র্যময় কর্মী দ্রুত নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিটি সরকারি পদে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো পদে নাগরিকত্ব বা নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে, আবার কিছু পদে যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য প্রার্থীর আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই অভিবাসী আবেদনকারীদের প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্ব, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করা উচিত। চলমান নিয়োগ তালিকায় এমন অনেক পদও রয়েছে যেগুলোর আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। যেমন, নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অফিস সহকারী ও প্রশাসনিক সহকারী পদে সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কয়েকটি পদে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর। স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগেও বিভিন্ন পদে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের কর ও অর্থ বিভাগেও প্রশাসনিক সহকারী, করসংক্রান্ত তথ্য সহকারী এবং ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কিছু পদের আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে, আবার কিছু পদে আরও দীর্ঘ সময় আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, সব সরকারি চাকরির জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত কিছু পদে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কিছু পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। কোন পদে কী ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বর্তমানে হাজারো চাকরির সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সেপ্টেম্বরের নিয়োগকে একটি নির্দিষ্ট এককালীন নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে না দেখে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রকাশিত পৃথক শূন্যপদের সমষ্টি হিসেবে দেখা উচিত। আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট StateJobsNY-তে গিয়ে চলমান পদগুলো দেখতে পারবেন। সেখানে পদ অনুযায়ী যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনের শেষ তারিখ এবং আবেদন করার পদ্ধতি দেওয়া থাকে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের নাগরিকত্ব ও কর্মসংস্থানের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু পদটি সাধারণ প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত দেখালেই প্রত্যেক অভিবাসী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট: StateJobsNY
যুক্তরাষ্ট্রের পোর্ট অরেঞ্জ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের লবিতে ঢুকে গুলি চালানোর পর পুলিশের পাল্টা গুলিতে ৭১ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও নিহতের পরিবার সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২-কে নিশ্চিত করেছে। নিহত ওই নারীর নাম লিন্ডা জিন ক্রোটো। পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পোর্ট অরেঞ্জ পুলিশের প্রধান ম্যানুয়েল মারিনো জানান, সকাল ৮টার দিকে লিন্ডা হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশ স্টেশনের লবিতে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি অস্ত্র বের করে কর্মীদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালান। এরপর তিনি লবি থেকে বেরিয়ে এলে বাইরে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন। পুলিশ প্রধানের ভাষ্যমতে, কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময়ও লিন্ডার হাতে অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তবে এই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য হতাহত হননি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কালেব লেমনস রাস্তার উল্টো পাশ থেকে পুরো বিষয়টি দেখেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী লবি থেকে বের হওয়ার সময় একেবারে জম্বির মতো হাঁটছিলেন। লেমনসের দাবি, পার্কিং লটে আসার পর ওই নারী তার অস্ত্রটি ফেলে দেন এবং রাস্তার পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করেন। এরপরই সেখানে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীর এই দাবি অস্বীকার করেছে পুলিশ। নিহতের সৎ ছেলে জানিয়েছেন, লিন্ডা সম্প্রতি তার স্বামীকে হারিয়েছেন এবং এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত সময় পার করছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট (এফডিএলই)।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি প্রচারে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে চালু করা হয়েছে পাঁচটি রেট্রো ধাঁচের ভিডিও গেম। বৃহস্পতিবার চালু হওয়া ‘আর্কেড’ নামের এই বিভাগে অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা, স্কুলের খাবার এবং শিশুদের সঞ্চয় প্রকল্পসহ ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে গেমের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। গেমগুলোর একটি ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’, যেখানে টেট্রিসের মতো ইট সাজিয়ে সীমান্তে দেয়াল তৈরি করতে হয়। আর ‘রিও রান’ গেমে রিও গ্রান্ডে নদীর পাশে সীমান্ত টহল দেওয়ার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। আরেকটি গেম ‘সাপ্লাই লাইন’-এ স্কুলের খাবার বাছাই করতে হয়। স্বাস্থ্যকর খাবার রেখে অস্বাস্থ্যকর খাবার সরানোর মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘মেক আমেরিকা হেলদি এগেইন’ নীতির প্রচার করা হয়েছে। ‘ফ্ল্যাপি বিল’ গেমে একটি ঈগলকে ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলের ওপর দিয়ে উড়তে হয়। আর ‘ট্রাম্প সেভিংস টাইকুন’ গেমে অর্থ সংগ্রহ করে শিশুদের ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ পূরণ করার লক্ষ্য দেওয়া হয়েছে। এই সঞ্চয় প্রকল্পে যোগ্য শিশুদের জন্য এককালীন ১ হাজার ডলার সরকারি অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গেমগুলোর প্রচারে এক্সবক্স, প্লেস্টেশন ও নিনটেন্ডোর পুরোনো গেম চালুর পর্দার আদলে বিভিন্ন অ্যানিমেশনও ব্যবহার করেছে। একটি অ্যানিমেশনে সেগার নাম বদলে ‘মাগা’ দেখানো হয়েছে, যা ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগানের সংক্ষিপ্ত রূপ। তবে ‘বিল্ড দ্য ওয়াল’ গেম নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে টেট্রিস কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, গেমটি তৈরিতে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং টেট্রিসের নাম বা মেধাস্বত্ব ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি। বিষয়টি তারা পর্যালোচনা করছে।
ফ্রাঙ্কফোর্ট, ইলিনয়, ৫ সেপ্টেম্বর: লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত হত্যামামলা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছিলেন ইলিনয়ের ফ্রাঙ্কফোর্টের এক মা। এর কয়েক ঘণ্টা পর নিজ বাড়ির বেসমেন্টে তার ২ বছরের ছেলে ব্যারেটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় মা কোরি এ. ওয়ালশের বিরুদ্ধে তিনটি ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফ্রাঙ্কফোর্টের ব্রুক স্টোন কোর্টের বাড়িতে পুলিশকে ডাকা হয় ২ বছরের একটি শিশুকে আহত অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে। প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বেসমেন্টে দেখতে পান এবং সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, শিশুটিকে বেসমেন্টের একটি রাফটারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার গলায় একটি লিগেচার ছিল। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লিগেচারের চাপে গলায় চাপ পড়ে শ্বাসরোধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর ধরন নির্ধারণের প্রক্রিয়া তখনও চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই বাড়িতে ওয়ালশকেও আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ওপরের তলার একটি বাথটাবে ছিলেন এবং নিজের শরীরে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা জখম ছিল। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, হাসপাতালে ওয়ালশ তদন্তকারীদের কাছে তার ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি শিশুটিকে “ডেভিল” ও “অ্যান্টি-ক্রাইস্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও নথিতে বলা হয়েছে। তার কথিত বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের মিল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার আরেকটি আলোচিত দিক হলো লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার নিয়ে ওয়ালশের আগ্রহ। প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করে NBC Chicago জানিয়েছে, ওয়ালশ সম্প্রতি ক্ল্যান্সির মামলায় “খুব বেশি আগ্রহী” হয়ে উঠেছিলেন এবং বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাটে মামলাটি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরেও তিনি এ বিষয়ে মেসেজ করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তার তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ক্ল্যান্সির পক্ষ দাবি করেছে, তিনি গুরুতর পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রসিকিউশন অবশ্য বলেছে, তিনি তার কাজের প্রকৃতি বুঝতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলেন। ৪ সেপ্টেম্বর তার মামলায় জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। তবে ওয়ালশের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার প্রতি আগ্রহ এবং তার নিজের ছেলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই। বিষয়টি তদন্তে উঠে আসা একটি তথ্য হিসেবে আদালতের নথিতে রয়েছে। ওয়ালশের আইনজীবী বলেছেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল সাইকোটিক এপিসোডের মধ্যে ছিলেন। এটি বর্তমানে তার আইনজীবীর পক্ষের বক্তব্য, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার সময় বাড়িতে আরও তিন শিশু ছিল বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শিশু ছিল এবং দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানও বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের কেউ আহত হয়নি। ওয়ালশের স্বামী ঘটনার সময় অঙ্গরাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে আদালতের নথিতে বলা হয়েছে। ওয়ালশ বর্তমানে হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তার ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না। এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি। পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল আফগান সাংবাদিক জাহরা জোয়ারকে। তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁর মা তাঁকে ছেলের পোশাক পরিয়ে ‘মোহাম্মদ’ নামে স্কুলে পাঠাতেন। বছরের পর বছর এভাবেই পরিচয় গোপন রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহরা। সেই শৈশবের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয় তাঁর জন্য। জাহরার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। ১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জাহরার সামনে তখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ ছিল না। কিন্তু শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ দেখে মা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েকে ছেলের মতো সাজিয়ে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর জাহরার নতুন পরিচয় হয় ‘মোহাম্মদ’। ছেলেদের পোশাক পরে তিনি প্রতিদিন স্কুলে যেতেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল তাঁর মায়ের। তবে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। জাহরা পরে স্মরণ করেছেন, তিনি সব সময় স্কুলে যেতে এবং ছেলেদের সঙ্গে বাইরে খেলতে চাইতেন। স্কুলে যাওয়ার পথটিও ছিল সহজ নয়। জাহরা তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতেন। সঙ্গে থাকত ছেলের পোশাক ও পরিচয়। পরিবারের একজন আত্মীয় তাঁকে ছেলেদের মতো চলাফেরা ও ফুটবল খেলার কৌশলও শেখাতেন, যাতে বাইরে কেউ তাঁর আসল পরিচয় বুঝতে না পারে। এই সময়টিতে ছেলের পরিচয়ে চলার কারণে জাহরা এমন কিছু স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা তখন আফগানিস্তানের মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রতিদিনই ছিল পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি নিজের পরিচয় লুকাতে চাননি, কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তখন তাঁর সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না। তালেবানের প্রথম শাসন ২০০১ সালে শেষ হওয়ার পর জাহরা আর ছেলের ছদ্মবেশে থাকতে বাধ্য হননি। এরপর তিনি প্রকাশ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিনি কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আফগান সমাজে নারীদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর অনেক সময় মূলধারার সংবাদে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে মনে করতেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই ২০২০ সালে জাহরা ‘রুখশানা মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে আফগান নারী ও মেয়েদের জীবন, অধিকার ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য কাজ করে। ২০২১ সালে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে জাহরার নিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের পরিচালিত আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন এবং পরে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। লন্ডন থেকে তিনি রুখশানা মিডিয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমটি দেশটির নারীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়। তালেবান শাসনের অধীনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাহরার কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছরে তিনি বিবিসির ‘১০০ উইমেন’-এর তালিকাতেও স্থান পান। তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে। বর্তমানে জাহরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউজ হলের বাই-ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়ে বলেছিল, আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে তাঁর কাজ এই স্বীকৃতির অন্যতম কারণ। শৈশবে নিজের পরিচয় গোপন করে স্কুলে যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা আজও জাহরার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে নিজের লিঙ্গপরিচয় গোপন করতে হয়েছিল শুধু পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার জন্য। পরে সেই শিশুই সাংবাদিক হয়ে আফগান নারীদের অধিকার ও শিক্ষার পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কথা বলার অন্যতম পরিচিত কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। জাহরার গল্প শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা নয়। এটি আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, সামাজিক স্বাধীনতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবিও। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও তীব্র হয়েছে। জাহরা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরছেন। সংবাদসূত্র: বিবিসি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, রুখশানা মিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান।
রাজনীতি
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreফ্রাঙ্কফোর্ট, ইলিনয়, ৫ সেপ্টেম্বর: লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বহুল আলোচিত হত্যামামলা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা করছিলেন ইলিনয়ের ফ্রাঙ্কফোর্টের এক মা। এর কয়েক ঘণ্টা পর নিজ বাড়ির বেসমেন্টে তার ২ বছরের ছেলে ব্যারেটকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় মা কোরি এ. ওয়ালশের বিরুদ্ধে তিনটি ফার্স্ট-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও আদালতের নথি অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর বিকেলে ফ্রাঙ্কফোর্টের ব্রুক স্টোন কোর্টের বাড়িতে পুলিশকে ডাকা হয় ২ বছরের একটি শিশুকে আহত অবস্থায় পাওয়ার খবর পেয়ে। প্রতিবেশী ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটিকে বেসমেন্টে দেখতে পান এবং সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, শিশুটিকে বেসমেন্টের একটি রাফটারের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার গলায় একটি লিগেচার ছিল। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে লিগেচারের চাপে গলায় চাপ পড়ে শ্বাসরোধ হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে মৃত্যুর ধরন নির্ধারণের প্রক্রিয়া তখনও চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই বাড়িতে ওয়ালশকেও আহত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ওপরের তলার একটি বাথটাবে ছিলেন এবং নিজের শরীরে আঘাত করার চেষ্টা করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাটা জখম ছিল। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের আদালতে দেওয়া নথি অনুযায়ী, হাসপাতালে ওয়ালশ তদন্তকারীদের কাছে তার ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তিনি শিশুটিকে “ডেভিল” ও “অ্যান্টি-ক্রাইস্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন বলেও নথিতে বলা হয়েছে। তার কথিত বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলে পাওয়া আলামতের মিল রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। মামলার আরেকটি আলোচিত দিক হলো লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিচার নিয়ে ওয়ালশের আগ্রহ। প্রসিকিউটরদের উদ্ধৃত করে NBC Chicago জানিয়েছে, ওয়ালশ সম্প্রতি ক্ল্যান্সির মামলায় “খুব বেশি আগ্রহী” হয়ে উঠেছিলেন এবং বন্ধুদের গ্রুপ চ্যাটে মামলাটি নিয়ে আলোচনা করছিলেন। ঘটনার দিন দুপুরেও তিনি এ বিষয়ে মেসেজ করেছিলেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির বিরুদ্ধে ২০২৩ সালে তার তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। ক্ল্যান্সির পক্ষ দাবি করেছে, তিনি গুরুতর পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে আক্রান্ত ছিলেন। প্রসিকিউশন অবশ্য বলেছে, তিনি তার কাজের প্রকৃতি বুঝতে এবং নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম ছিলেন। ৪ সেপ্টেম্বর তার মামলায় জুরি ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় মিস্ট্রায়াল ঘোষণা করা হয়। তবে ওয়ালশের লিন্ডসে ক্ল্যান্সির মামলার প্রতি আগ্রহ এবং তার নিজের ছেলের মৃত্যুর মধ্যে কোনো সরাসরি কারণ-সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এমন তথ্য এখনো নেই। বিষয়টি তদন্তে উঠে আসা একটি তথ্য হিসেবে আদালতের নথিতে রয়েছে। ওয়ালশের আইনজীবী বলেছেন, ঘটনার সময় তার মক্কেল সাইকোটিক এপিসোডের মধ্যে ছিলেন। এটি বর্তমানে তার আইনজীবীর পক্ষের বক্তব্য, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার সময় বাড়িতে আরও তিন শিশু ছিল বলে প্রসিকিউটরদের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন শিশু ছিল এবং দুই স্কুলপড়ুয়া সন্তানও বাড়িতে ফিরে আসে। তাদের কেউ আহত হয়নি। ওয়ালশের স্বামী ঘটনার সময় অঙ্গরাজ্যের বাইরে ছিলেন বলে আদালতের নথিতে বলা হয়েছে। ওয়ালশ বর্তমানে হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে এবং তার ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণও করা হচ্ছে। মামলাটি এখনো বিচারাধীন, তাই তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
কোপেনহেগেন, ৫ সেপ্টেম্বর: বৈধ বসবাসের অনুমতি নেই এমন অভিবাসীদের ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরে ‘রিটার্ন হাব’-এ পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে ডেনমার্ক। দেশটির অভিবাসন ও ইন্টিগ্রেশনমন্ত্রী মর্টেন বোডস্কভ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ প্রথম অভিবাসীদের কোনো অংশীদার দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত হতে চায় ডেনমার্ক। ডেনমার্কের সঙ্গে এই উদ্যোগে রয়েছে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ডস ও গ্রিস। পাঁচ দেশ মিলে ‘গ্রুপ অব ফাইভ’ হিসেবে ইইউর বাইরে কোনো দেশের সঙ্গে রিটার্ন হাব স্থাপনের জন্য অংশীদারত্ব চুক্তি করতে কাজ করছে। তবে এখনো কোন দেশ এসব কেন্দ্র স্থাপনে অংশ নেবে, তা প্রকাশ করা হয়নি। ৪ সেপ্টেম্বর কোপেনহেগেনে বৈঠকে পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে আরও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করেন। জার্মানির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডোব্রিন্ট বলেছেন, তারা চলতি বছরের মধ্যেই তৃতীয় কোনো দেশের সঙ্গে এমন চুক্তিতে পৌঁছাতে চান। ডেনমার্কের মন্ত্রী বোডস্কভ বলেন, ইইউর বাইরে রিটার্ন হাব প্রতিষ্ঠার কাজ অনেক দূর এগিয়েছে এবং এখন তারা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে লক্ষ্যের কাছাকাছি। তবে প্রস্তাবিত অংশীদার দেশের নাম তিনি জানাননি। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট গত জুনে অভিবাসন নীতিতে পরিবর্তনের অনুমোদন দেয়। এর লক্ষ্য দ্রুততরভাবে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং সদস্য দেশগুলোকে ইইউর বাইরে এ ধরনের কেন্দ্র স্থাপনের সুযোগ দেওয়া। সমালোচকদের আশঙ্কা, এতে অ্যাসাইলামপ্রার্থীদের আইনি সুরক্ষা দুর্বল হতে পারে। এ পরিকল্পনা নিয়ে মানবাধিকার উদ্বেগও রয়েছে। কাউন্সিল অব ইউরোপ জুলাইয়ে সতর্ক করে বলেছিল, তৃতীয় দেশে বিদেশিদের স্থানান্তরের এমন ব্যবস্থায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকতে পারে, যার মধ্যে দুর্ব্যবহার ও নির্বিচারে আটক রাখার আশঙ্কাও রয়েছে। ডেনিশ রিফিউজি কাউন্সিলও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। সংগঠনটির মতে, রিটার্ন হাব অল্পসংখ্যক মানুষকে প্রত্যাবাসনে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এটি অভিবাসীদের আরও ঝুঁকিপূর্ণ পথে ইউরোপে আসা বন্ধ করবে না এবং মৌলিক মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR জানিয়েছে, প্রস্তাবটির বিস্তারিত নিয়ে তাদের সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়নি। পাঁচ দেশের গ্রুপটি সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে জার্মানির মিউনিখে আবার বৈঠকে বসার পরিকল্পনা করেছে।
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় ভ্রমণের পরিকল্পনা করা মার্কিন নাগরিকদের নতুন করে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। দেশটির জন্য সর্বোচ্চ লেভেল-৪ ‘ডু নট ট্রাভেল’ সতর্কতা বহাল রেখে সম্ভাব্য ভ্রমণকারীদের উইল ও মৃত্যুর পরের নির্দেশনা প্রস্তুত করা, বীমার সুবিধাভোগী নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তরের সতর্কতায় বলা হয়েছে, লিবিয়ায় সন্ত্রাসবাদ, অপহরণ, অপরাধ, স্বাস্থ্যঝুঁকি, সশস্ত্র সংঘাত এবং স্থলমাইনের মতো গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ যেকোনো সময় শুরু হতে পারে এবং দেশটিতে অস্ত্রের ব্যাপক উপস্থিতি রয়েছে। সতর্কতায় মার্কিন নাগরিকদের লিবিয়ায় কোনো কারণেই ভ্রমণ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে অপহরণের ঝুঁকিকে গুরুতর হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এর আগে মার্কিন নাগরিকরাও অপহরণের শিকার হয়েছেন। লিবিয়ায় বর্তমানে কোনো মার্কিন দূতাবাস নেই। ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে মার্কিন সরকারের পক্ষে দেশটিতে থাকা নাগরিকদের সরাসরি সহায়তা করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই কেউ সতর্কতা উপেক্ষা করে সেখানে গেলে মার্কিন সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জরুরি অবস্থায় দেশ ছাড়ার নিজস্ব পরিকল্পনা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অপহরণের আশঙ্কা বিবেচনায় ভ্রমণকারীদের পরিবারের সঙ্গে একটি ‘প্রুফ অব লাইফ’ প্রোটোকল ঠিক করে রাখতেও বলা হয়েছে। কেউ জিম্মি হলে পরিবারের সদস্যরা তার পরিচয় ও জীবিত থাকার বিষয়টি যাচাই করতে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট প্রশ্ন ও উত্তর ব্যবহার করতে পারবেন। সবচেয়ে অস্বাভাবিক পরামর্শগুলোর একটি হলো - ভ্রমণের আগে নিজের চিকিৎসকের কাছে ডিএনএ নমুনা রেখে যাওয়া। পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনায় পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজন হলে পরিবারের জন্য এই নমুনা কাজে লাগতে পারে। পরিবারের কাছে ডেন্টাল রেকর্ড রাখারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ নথি ও প্রয়োজনীয় লগইন তথ্য বিশ্বস্ত স্বজনের সঙ্গে শেয়ার করা, যোগাযোগের পরিকল্পনা তৈরি করা এবং প্রয়োজন হলে পেশাদার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। সরকারের ভ্রমণ সতর্কতার তালিকায় লিবিয়া বর্তমানে লেভেল-৪: ডু নট ট্রাভেল পর্যায়ে রয়েছে। একই স্তরের সতর্কতায় থাকা দেশ বা অঞ্চলের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত ভ্রমণকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলে। সোর্স: U.S. State Department Travel Advisories
দক্ষিণ আফ্রিকার লিম্পোপো প্রদেশের ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী বোহলালে এমফাহলেলে নারীদের নিরাপত্তার জন্য তৈরি করেছেন বিশেষ একটি ডিভাইস, যা দেখতে অনেকটা সাধারণ কানের দুলের মতো। ‘অ্যালার্টিং ইয়ারপিস’ নামের এই প্রোটোটাইপে রয়েছে এমন প্রযুক্তি, যা বিপদের সময় সম্ভাব্য হামলাকারীর ছবি ধারণ করে এবং আগে থেকে সংযুক্ত ডিভাইসে সতর্কবার্তা পাঠাতে পারে। উদ্ভাবনটির জন্য তিনি এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টসে ইঞ্জিনিয়ারিং, ইলেকট্রনিকস ও এমবেডেড সিস্টেমস বিভাগে ব্রোঞ্জ পদক পান। লিম্পোপোর এসজে ভ্যান ডার মারভে টেকনিক্যাল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী থাকাকালে এমফাহলেলে এই ডিভাইস তৈরি করেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও মানবপাচারের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ থেকেই তার এই উদ্ভাবনের ধারণা আসে। সরকারি সংবাদমাধ্যম সাউথ আফ্রিকান নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিভাইসটি কানের দুলের ভেতরে বসানো যায় এবং বিপদের সময় ছবি ধারণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পাঠাতে পারে। প্রযুক্তিটির মূল বৈশিষ্ট্য হলো, বাইরে থেকে এটি সাধারণ অলংকারের মতো দেখায়। কিন্তু এর ভেতরে থাকা ক্যামেরা ও সতর্কতা ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপদের মুহূর্তে ব্যবহারকারী নীরবে সহায়তার সংকেত দিতে পারেন। ডিভাইসটি আগে থেকে নির্ধারিত ডিভাইসের সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে ব্রোঞ্জ পদক পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ডিভাইসটি ইতোমধ্যে বাজারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত। বর্তমানে এটি একটি প্রোটোটাইপ। বাস্তব ব্যবহারের উপযোগী করতে ডিভাইসটির প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নির্ভরযোগ্য সংযোগ ব্যবস্থা এবং বড় পরিসরে উৎপাদনের মতো আরও কাজ প্রয়োজন। এমফাহলেলের উদ্ভাবন ইতোমধ্যে দেশটির শিক্ষা কর্তৃপক্ষেরও প্রশংসা পেয়েছে। ২০২০ সালে লিম্পোপোর শিক্ষা বিভাগের MEC পলি বোশিয়েলো তাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করা একজন তরুণ উদ্ভাবক হিসেবে প্রশংসা করেন এবং ডিভাইসটির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। এসকম এক্সপো ফর ইয়াং সায়েন্টিস্টস দক্ষিণ আফ্রিকার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শনের অন্যতম বড় আয়োজন। সেখানে এমফাহলেলের প্রকল্পের স্বীকৃতি তার ধারণাটিকে স্কুলের বিজ্ঞান মেলার গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর আলোচনায় নিয়ে আসে। এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো উদ্ভাবনটিকে প্রোটোটাইপ থেকে বাস্তব পণ্যে রূপ দেওয়া। এর জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং উৎপাদনের সক্ষমতা। এমফাহলেলের এই উদ্ভাবন তাই শুধু একটি পুরস্কার পাওয়া স্কুল প্রকল্প নয়, বরং সামাজিক সমস্যার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধান তৈরির একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক
সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা, নতুন গবেষণায় মিলছে সম্ভাবনার ইঙ্গিত
কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার
অভিনয় থেকে বিরতি নিয়ে চাষাবাদে বরুণ ধাওয়ান, নতুন খেতে ধান রোপণে ব্যস্ত
গোপনে বিয়ের পাঁচ মাসেই বিচ্ছেদ, ভেঙে গেল বাদশাহ-ইশার সংসার
সাপের কামড়ে বিষ ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে কেটে ফেললেন আঙুল! পরে জানলেন শাপটি বিষধর ছিল না
ব্রিটিশ গায়ক হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা, বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’
ডাক্তার বলেছিল,এই ওজন খুব শীঘ্রই কবরে নিয়ে যাবে! ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ মঞ্চে অ্যাম্বার উহলার,
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
একই ধরনের অটিজম বৈশিষ্ট্যের মানুষদের মধ্যেই বন্ধুত্ব-সম্পর্কের টান বেশি
ডোনার ছাড়াই বাঁচার নতুন আশা, ফ্রান্সের তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনে নতুন সম্ভাবনা
ট্রাম্পের আমেরিকা যখন চীনের রোবট নিয়ে হাসছে, তখন রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের চীন
'সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রযুক্তি' এআই, কেড়ে নিবে কোটি মানুষের চাকরি, ঘটতে পারে জৈবসন্ত্রাস: বিল গেটস
ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ৫ বছর ধরে বাঁচিয়ে রাখলেন বিজ্ঞানীরা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত
অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা
সস্তা নাশতা খেয়ে ২৪ বছরেই সঞ্চয় ৯৭ হাজার ডলার! ৪০-এ অবসর যা পারছেন তাই করছেন
মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে আফগানিস্তানে ১৬১ প্রতিরোধযোগ্য মৃ/ত্যু, ৮০ জনই মা
নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি
নেপালে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভূমিধসে নি হত টেক্সাসের ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি
মুসলিম পরিচয়ের কারণে দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে মারধর, পুলিশের নির্যাতন
৬৮ বছরের ইংরেজ নারীকে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ে, ভিসা পাওয়ার পরই উধাও যুবক
পরীক্ষার হলে মা, বাইরে শিশুকে কোলে নিয়ে দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্য
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর নিউক্লিয়ার ফিজিক্সে পিএইচডি, ফান্ডিং ২ কোটির বেশি
বিদ্যুৎ বিল বেশি আসায় প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগ, কলেজশিক্ষার্থী কারাগারে
জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত নারী, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু