আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি বছরও সীমিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছি। অথচ হজের প্রস্তুতি তার আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও আমরা প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমাতে পেরেছি।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি এনে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা সুস্থভাবে ফিরে আসবেন—এই কামনা করি।” অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর প্রথম হজ ফ্লাইট ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব-এর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান। প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার দাবির মধ্যেই নৌপরিবহন খাতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। বিবিসি-র ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ নিয়ে যেকোনো ইতিবাচক অগ্রগতি অবশ্যই স্বাগত। তবে বর্তমানে যে তথ্যগুলো প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো এখনো যাচাই করা হচ্ছে। ডোমিঙ্গেজ জানান, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ এখনো আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও তা যেন নিরাপদভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক শিপিং শিল্পকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান আইএমও মহাসচিব। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা একটি ‘সঠিক পদক্ষেপ’। জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধার জরুরি এবং তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্বারা সম্মানিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান সংলাপকেও এটি আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি খোলা রাখা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি-এ অচলাবস্থার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু খাত উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। আল জাজিরা-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন পাঁচটি খাত— বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো লাভবান হয়েছে। মর্গান স্ট্যানলি, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং জেপি মর্গান চেজ—সবগুলোই ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীদের ঘন ঘন লেনদেনই এই মুনাফার মূল কারণ। ক্রিপ্টো-ভিত্তিক পূর্বাভাস প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেট যুদ্ধকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তার সুযোগে ব্যাপক আয় করছে। ব্যবহারকারীরা যুদ্ধ, রাজনীতি বা অর্থনৈতিক ঘটনার ফলাফল নিয়ে বাজি ধরায় প্ল্যাটফর্মটির আয় দ্রুত বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির ফলে এই খাতেও বড় উত্থান দেখা গেছে। ‘এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডেক্স’ অনুযায়ী, এই খাতে প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত নিট মুনাফা হয়েছে, যা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের গড় প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে। সংকটের মধ্যেও এআই খাতের প্রবৃদ্ধি থেমে নেই। চিপ রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত চাহিদা বাড়ায় তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড আয় করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবেই থাকবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, শতাধিক দেশে এ খাতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান। প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা একটি ‘সঠিক পদক্ষেপ’। জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধার জরুরি এবং তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্বারা সম্মানিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান সংলাপকেও এটি আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি খোলা রাখা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ একই পথে চলাচল করছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত তিনটার দিকে জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ইরান সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ অতিক্রমের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে তেল সংগ্রহ (ব্যাংকারিং) করা হবে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য নির্ধারিত রয়েছে আফ্রিকার মোজাম্বিক অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং করে তা দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ার অ্যালাউন্স। উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সংঘাতের কারণে জাহাজটির যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফেরত আনা হলেও অবশেষে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আবারও গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি বছরও সীমিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছি। অথচ হজের প্রস্তুতি তার আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও আমরা প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমাতে পেরেছি।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি এনে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা সুস্থভাবে ফিরে আসবেন—এই কামনা করি।” অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর প্রথম হজ ফ্লাইট ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব-এর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
নিজেকে ভালোবাসতে না পারলে অন্যকে ভালোবাসা সম্ভব নয়—জনপ্রিয় এই প্রবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অনেকের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন মনোবিদরা। আপাতদৃষ্টিতে অনুপ্রেরণামূলক মনে হলেও পোর্টল্যান্ডের মনোবিদ জেফ গুয়েন্থার জানান, এ কথাটি আক্ষরিক অর্থে মোটেও সত্যি নয় এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ যোগ্যতা বা শর্তের প্রয়োজন পড়ে না। জেফ গুয়েন্থার এই জনপ্রিয় প্রবাদের নেপথ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, যারা মারাত্মক আত্মবিশ্বাসের অভাব বা বিষণ্ণতায় ভোগেন, তারাও সন্তানদের প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন কিংবা বন্ধুর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান। নিজের প্রতি অনুরাগের অভাব থাকলেও মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব হয় না। সুতরাং ভালোবাসা দেওয়ার ক্ষমতা নিজের প্রতি অনুরাগের ওপর নির্ভর করে না। এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধবোধ তৈরি করে বলে মনে করেন এই মনোবিদ। তাদের বোঝানো হয় যে, আগে নিজেদের মানসিক সমস্যা ‘ঠিক’ বা ‘ফিক্স’ করতে হবে, তবেই তারা অন্যের ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এর ফলে অনেক মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন এবং এই একাকীত্বকে ‘নিজের ওপর কাজ করা’ বলে চালিয়ে দেন। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক সময় অন্যকে ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষের হারানো আত্মসম্মানবোধ ফিরে আসে। সম্পর্কে থেকে কঠিন সময়ে সঙ্গীর পাশে থাকা বা বিশ্বস্ত থাকাই প্রমাণ করে যে ওই ব্যক্তি অন্যদের চেয়েও অনেক বেশি সক্ষম। এটিই অনেক সময় মানসিক নিরাময়ের প্রকৃত পথ হিসেবে কাজ করতে পারে। জেফ গুয়েন্থার আরও উল্লেখ করেন, এই উক্তিটি মূলত যা বোঝাতে চায় তা হলো—অতীতের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু জটিল প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে একে ‘ভালোবাসতে না পারা’ বলা সম্পূর্ণ ভুল। এগুলো মূলত স্নায়বিক সিস্টেমের কিছু অভ্যাস, যা ছোটবেলার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয় এবং এটি অবশ্যই নিরাময়যোগ্য।
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান। প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার দাবির মধ্যেই নৌপরিবহন খাতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। বিবিসি-র ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ নিয়ে যেকোনো ইতিবাচক অগ্রগতি অবশ্যই স্বাগত। তবে বর্তমানে যে তথ্যগুলো প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো এখনো যাচাই করা হচ্ছে। ডোমিঙ্গেজ জানান, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ এখনো আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও তা যেন নিরাপদভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক শিপিং শিল্পকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান আইএমও মহাসচিব। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা একটি ‘সঠিক পদক্ষেপ’। জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধার জরুরি এবং তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্বারা সম্মানিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান সংলাপকেও এটি আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি খোলা রাখা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি-এ অচলাবস্থার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু খাত উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। আল জাজিরা-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন পাঁচটি খাত— বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো লাভবান হয়েছে। মর্গান স্ট্যানলি, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং জেপি মর্গান চেজ—সবগুলোই ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীদের ঘন ঘন লেনদেনই এই মুনাফার মূল কারণ। ক্রিপ্টো-ভিত্তিক পূর্বাভাস প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেট যুদ্ধকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তার সুযোগে ব্যাপক আয় করছে। ব্যবহারকারীরা যুদ্ধ, রাজনীতি বা অর্থনৈতিক ঘটনার ফলাফল নিয়ে বাজি ধরায় প্ল্যাটফর্মটির আয় দ্রুত বেড়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির ফলে এই খাতেও বড় উত্থান দেখা গেছে। ‘এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডেক্স’ অনুযায়ী, এই খাতে প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত নিট মুনাফা হয়েছে, যা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের গড় প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে। সংকটের মধ্যেও এআই খাতের প্রবৃদ্ধি থেমে নেই। চিপ রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত চাহিদা বাড়ায় তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড আয় করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবেই থাকবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, শতাধিক দেশে এ খাতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।