যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ১৮-চাকার ট্রাক থেকে প্রায় ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে মেথামফেটামিন জব্দের অন্যতম বড় ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। লিভিংস্টন প্যারিশ শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ডেনহাম স্প্রিংস এলাকায় আই-১২ মহাসড়কে নিয়মিত ট্রাফিক স্টপের সময় ট্রাকটি থামানো হয়। এলাকাটি ব্যাটন রুজ শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। ট্রাকটির চালক হিসেবে অ্যান্টন ভিতালিয়েভিচ রাকভ নামে এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধ অনুমতি না থাকা এবং বহিষ্কারযোগ্য বিদেশি হিসেবে বর্ণনা করেছে। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাকভকে আটকের পর ট্রাকটির ট্রেইলারে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৫৮ দশমিক ১৪ কেজি বা ৭৮৯ দশমিক ৫৬ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো বড় বড় প্যাকেটে রাখা ছিল। প্রকাশিত ছবিতে বিপুল পরিমাণ মাদক কয়েকটি বড় কনটেইনারে এবং টেবিলের ওপর সাজানো অবস্থায় দেখা যায়। একটি ছবিতে তদন্তকারীকে ট্রাকের ওপরের অংশ পরীক্ষা করতেও দেখা গেছে। লিভিংস্টন প্যারিশের শেরিফ জেসন আরড ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় মেথামফেটামিন জব্দের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে প্রথমে থামানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। গ্রেপ্তারের পর রাকভকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি হেফাজতে রয়েছেন। এই জব্দের মাত্রা সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই লিভিংস্টন প্যারিশে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় প্রায় ৩৬১ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই মাদকের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪০ লাখ ডলার বলে মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য জানিয়েছিল। এর আগে মার্চে ডিইএ, এফবিআই ও লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সমন্বিত একটি মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স ১৮-চাকার একটি ট্রাক থেকে প্রায় ৩২৫ পাউন্ড মাদক উদ্ধার করে। মাদকগুলো আইসক্রিম ফ্রিজারের ভেতরে লুকানো বিশেষ ধাতব বাক্সে রাখা হয়েছিল। নতুন এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি ট্রাকের চালকের অভিবাসন অবস্থাও সামনে এসেছে। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এই চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
মেক্সিকো ভ্রমণে বিদেশি ক্রুজযাত্রীদের খরচ আরও বাড়ছে। দেশটির জনপ্রিয় কয়েকটি ক্রুজ পর্যটনকেন্দ্রে নামা বিদেশি যাত্রীদের প্রবেশ ফি ৫ ডলার থেকে দ্বিগুণ করে ১০ ডলার করা হয়েছে। নতুন ফি গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। মেক্সিকোর ধাপে ধাপে কর ও ফি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে জনপ্রিয় ক্রুজ গন্তব্য কাবো সান লুকাস, পুয়ের্তো ভালার্তা, কোজুমেল ও কোস্টা মায়া। ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য পয়েন্টস গাই’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ক্লিন্ট হেন্ডারসন বলেন, ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর ও ফি ক্রমেই বাড়ছে। ফলে মেক্সিকো ভ্রমণের মোট খরচও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তবে ১০ ডলারের এই ফি-ই শেষ নয়। মেক্সিকোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ফি বেড়ে ১৫ ডলার হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে তা ২১ ডলারে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, আগামী দুই বছরে জনপ্রিয় এসব পর্যটনকেন্দ্রে ক্রুজযাত্রীদের প্রবেশ ফি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। মেক্সিকো অবশ্য এর আগে আরও বেশি ফি আরোপের পরিকল্পনা করেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদেশি ক্রুজযাত্রীদের জন্য ৪২ ডলারের একটি ফি পুনর্বহাল করা হয়েছিল। তবে ক্রুজ শিল্পের ব্যাপক আপত্তির পর তা কমিয়ে ৫ ডলার করা হয়, যা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছিল। এবার নতুন করে ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ভ্রমণ খাতে খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ক্রুজ ভ্রমণে গেলে যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ফি মোট খরচে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু মেক্সিকো নয়, সামগ্রিকভাবেই ক্রুজ ভ্রমণের খরচ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি, খাবার, কর্মী ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ক্রুজ কোম্পানিও অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়াভিত্তিক স্টারড্রিম ক্রুজেস এশিয়াগামী কিছু ভ্রমণে দৈনিক জ্বালানি সারচার্জ চালু করেছে। যাত্রাপথ অনুযায়ী এই অতিরিক্ত ফি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৬ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া সেলিব্রিটি ক্রুজেস প্রতিদিনের গ্র্যাচুইটি বা সেবা ফিও যাত্রীপ্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার বাড়িয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফলে মেক্সিকোর নতুন প্রবেশ ফি কেবল একটি অতিরিক্ত খরচ নয়; বরং কর, জ্বালানি ও সেবা ফি সব মিলিয়ে ক্রুজ ভ্রমণের সামগ্রিক ব্যয় বাড়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হয়ে উঠছে।
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে ১৫৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাত্র দুজন বেসামরিক নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা নথিভুক্ত হয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নথিভুক্ত বেসামরিক হতাহতের সব ঘটনাই ইয়েমেনে চালানো তিনটি মার্কিন হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ইয়েমেনে চালানো ওই তিন হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মূল্যায়নে দেখা যায়, এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ‘সম্ভাব্যতার দিক থেকে বেশি’। তবে ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইয়েমেনে আরও ১৫টি ঘটনার মূল্যায়ন চলছিল। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ঘটনা তদন্ত করছে সেন্টকম। ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান মূলত লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের হামলার প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়। তবে পেন্টাগনের নতুন হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ২০২৫ সালে মার্কিন বাহিনীর চালানো হামলায় হতাহতের তথ্য এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন সাদার্ন কমান্ডের মূল্যায়নে তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় এমন কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি, যেখানে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা ‘সম্ভাব্যতার দিক থেকে বেশি’ ছিল। তবে ওই দুই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রাণহানি নিয়ে আলাদা বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন এসব লক্ষ্যবস্তুকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এসব মৃত্যুর ঘটনা পেন্টাগনের ২০২৫ সালের বেসামরিক হতাহতের নতুন হিসাবের অংশ নয়। মাদকবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার বৈধতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এসব অভিযানের বৈধতা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা কিছু অভিযোগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ফলে পেন্টাগনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান শুধু ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিকেই সামনে আনেনি; একই সঙ্গে সামরিক অভিযানের বৈধতা, বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষা এবং বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ব্যবহারের নীতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
ব্রঙ্কসের থ্রগস নেক এলাকায় বাড়ির সামনে এক ৩৪ বছর বয়সী নারীকে একাধিকবার গুলি করার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এখন দুই মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে খুঁজছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিটে হলিউড অ্যাভিনিউতে ঘটনাটি ঘটে। ওই নারী গাড়ি নিয়ে বাড়ির সামনে পৌঁছানোর পর তার ১৫ বছর বয়সী ছেলে গেট খুলতে গাড়ি থেকে নামেন। এ সময় তিনি মাকে সতর্ক করার পরপরই গুলির শব্দ শোনা যায়। নারীটির বাম হাত ও নিতম্বে গুলি লাগে। তাকে দ্রুত জ্যাকোবি হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা স্থিতিশীল এবং তিনি বেঁচে যাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজনরা একটি ধূসর রঙের গাড়িতে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে একজন কালো নাইকি লেখা পোশাক পরেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। গুলির কারণ বা ওই নারীকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ভুক্তভোগী সন্দেহভাজনদের চিনতেন কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ভিডিও ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস) কর্মকর্তাদের জন্য বিদ্যুৎ শক দিতে সক্ষম বিশেষ ধরনের গ্লাভস কিনতে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত একটি ক্রয়সংক্রান্ত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। পরিকল্পনাটি প্রকাশের পরই মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ডিএইচএসের নোটিশ অনুযায়ী, আগামী বছরের মার্চের মধ্যে আইসের কর্মকর্তা ও এজেন্টদের ব্যবহারের জন্য হাজার হাজার 'গ্লোভ (Generated Low Output Voltage Emitter)' কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলো তৈরি করে কেন্টাকির লেক্সিংটনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই গ্লাভস সাধারণ টহল গ্লাভসের মতোই ব্যবহার করা যায়। তবে প্রয়োজনে একটি সুইচ চাপলে এটি বিদ্যুৎ শক দেওয়ার মোডে চলে যায়। কারও খোলা ত্বকে স্পর্শ করালে এটি তীব্র ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে এবং সাধারণত তিন সেকেন্ডেরও কম সময়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এতে পোড়া দাগ, ক্ষত বা স্থায়ী চিহ্ন পড়ে না। কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এ প্রযুক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য তুলনামূলক কম দৃশ্যমান এবং পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়ক একটি পদ্ধতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি কারাগারেও এ ধরনের গ্লাভস ব্যবহারের নজির রয়েছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য প্রিভেনশন অব ইন-কাস্টডি ডেথসের সভাপতি জন পিটার্স, যিনি এ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে গবেষণা করছেন, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বিদ্যুৎ শকের অনুভূতি অনেকটা মৌমাছির হুল ফোটানোর মতো তীব্র ও তাৎক্ষণিক। তার মতে, কেউ প্রতিরোধ করলে কর্মকর্তাদের জন্য এটি কার্যকর একটি নিয়ন্ত্রণমূলক সরঞ্জাম হতে পারে। তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। তাদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিষয়ক কঠোর নীতি বাস্তবায়নের সময় আইসের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ আগেই উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ শক দেওয়ার নতুন সরঞ্জাম ব্যবহারের সুযোগ আরও বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নের (এসিএলইউ) পুলিশিং প্রকল্পের উপপরিচালক জেন রলনিক বোরকেটা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, বেসামরিক অভিবাসন আইন প্রয়োগে এ ধরনের সরঞ্জাম ব্যবহার কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে তার গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। তার ভাষায়, "গত এক বছরে আইস দেখিয়েছে যে তারা খুব দ্রুত বলপ্রয়োগে যায়। এখন একটি বোতাম চাপলেই তারা বিদ্যুৎ শক ব্যবহার করতে পারবে, যা হয়তো অন্য কেউ দেখতেও পারবে না। এতে সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।" অন্যদিকে জন পিটার্সের ধারণা, আইসের এই ক্রয়াদেশ সম্ভবত কোম্পানিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্ডার হতে যাচ্ছে। তার মতে, গাড়ি, বাড়ি বা আটককেন্দ্রে সহযোগিতা না করা ব্যক্তিদের নিয়ন্ত্রণে আনতে কর্মকর্তারা এ গ্লাভস ব্যবহার করতে পারেন। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেও কিছু সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করেছে। তাদের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, এটি কোনোভাবেই শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে না। শুধু মৌখিকভাবে প্রতিবাদ বা অসহযোগিতা করছেন, এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। এছাড়া শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং প্রতিবন্ধীদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর ওপর এ গ্লাভস ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেফ নিকলাস ই-মেইলে জানান, এ বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করতে অপারগ। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
করোনাভাইরাস মহামারির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আবাসন ব্যয় ব্যাপকভাবে বেড়েছে। তা সত্ত্বেও এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পাড়ি জমানো মার্কিনিদের কাছে বসবাসের জন্য এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্য ফ্লোরিডা ও টেক্সাস। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন এক সমীক্ষার তথ্যে এমনটাই উঠে এসেছে। অনলাইন মুভিং প্ল্যাটফর্ম ‘মুভিংপ্লেস’ (MovingPlace) চলতি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি মানুষের স্থানান্তরের ডেটা বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। মাথাপিছু স্থানান্তরের হিসাব এবং সামগ্রিক প্রবণতা বিশ্লেষণ করে তারা জানিয়েছে, এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে ফ্লোরিডার ইনলেট বিচ। ফ্লোরিডার এমারেল্ড কোস্টে অবস্থিত ইনলেট বিচে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে মাথাপিছু ১০৬.১ জন স্থানান্তরের রেকর্ড পাওয়া গেছে। শীর্ষ ১০টি জনপ্রিয় এলাকার তালিকায় ইনলেট বিচ ছাড়াও ফ্লোরিডার আরও তিনটি এলাকা জায়গা করে নিয়েছে; এগুলো হলো পোর্ট সেন্ট লুসি, ব্র্যাডেন্টন এবং সান আন্তোনিও (ফ্লোরিডা)। এছাড়া টেক্সাসের তিনটি শহর ক্র্যান্ডল, ল্যাভন এবং ম্যাক্সওয়েলও এই তালিকায় রয়েছে। মজার ব্যাপার হলো, ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসের যেসব এলাকা এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছে, সেগুলো কোনো বড় বা পরিচিত মেট্রো শহর নয়। মহামারির সময়ে অস্টিন, কেপ কোরাল, টাম্পা বা মিয়ামির মতো শহরগুলোতে নতুন বাসিন্দাদের ঢল নেমেছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে এসব শহরে বাড়ির দাম দুই অঙ্কের ঘরে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিবর্তন এসেছে। মানুষ এখন বড় শহরের বদলে তুলনামূলক ছোট ও সাশ্রয়ী এলাকা খুঁজছেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা ১০টি এলাকা: মুভিংপ্লেসের ডেটা অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে মাথাপিছু স্থানান্তরের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০টি এলাকা হলো: ১. ইনলেট বিচ, ফ্লোরিডা ২. ক্র্যান্ডল, টেক্সাস ৩. অরোরা, কলোরাডো ৪. ল্যাভন, টেক্সাস ৫. ন্যাশভিল, টেনেসি ৬. সারপ্রাইজ, অ্যারিজোনা ৭. পোর্ট সেন্ট লুসি, ফ্লোরিডা ৮. ব্র্যাডেন্টন, ফ্লোরিডা ৯. সান আন্তোনিও, ফ্লোরিডা ১০. ম্যাক্সওয়েল, টেক্সাস কেন এই শহরগুলোর এত জনপ্রিয়তা? গবেষকদের মতে, বিলাসবহুল উপকূলীয় জীবনযাপন এবং বিশ্বের অন্যতম সুন্দর সৈকতের সান্নিধ্যের কারণে ইনলেট বিচ এতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মূলত অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং যারা দ্বিতীয় বাড়ি কিনতে চান, তারাই এখানকার মূল ক্রেতা। আবাসন বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর তথ্যমতে, গত জুনে ইনলেট বিচ হাইটসে একটি সাধারণ বাড়ির গড় দাম ছিল ৭ লাখ ডলার, যা রাজ্যব্যাপী গড় দামের চেয়ে প্রায় ৩ লাখ ডলার বেশি। তবে তালিকার অন্যান্য ফ্লোরিডা শহরগুলোতে সাশ্রয়ী মূল্যে বাড়ি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রেডফিনের ডেটা বলছে, পোর্ট সেন্ট লুসিতে বাড়ির গড় দাম এখনো ৪ লাখ ডলারের নিচে। অন্যদিকে, পরিবার নিয়ে থাকার জন্য বা পেশাজীবীদের কাছে ব্র্যাডেন্টন বেশ আকর্ষণীয়, যেখানে বাড়ির দাম ৩ লাখ ১৯ হাজার ডলারের কিছুটা বেশি। ফ্লোরিডার সান আন্তোনিও শহরটিও বেশ সাশ্রয়ী; গত জুনে এখানে বাড়ির গড় দাম ছিল ৪ লাখ ৬৬ হাজার ১৯৬ ডলার। একই চিত্র দেখা গেছে টেক্সাসের ক্ষেত্রেও। ডেনভার বা ডালাস-ফোর্ট ওয়ার্থের মতো ব্যয়বহুল শহরের সাশ্রয়ী বিকল্প হয়ে উঠেছে টেক্সাসের ক্র্যান্ডল। গত জুনে এখানে একটি বাড়ির গড় দাম ছিল ২ লাখ ৮৮ হাজার ১০৩ ডলার, যেখানে ডালাসে প্রায় ৪ লাখ ৯০ হাজার ডলার। একইভাবে, ল্যাভন ও ম্যাক্সওয়েল শহর দুটিও উত্তর টেক্সাস এবং অস্টিনের তুলনায় অনেক সস্তা। অস্টিনে যেখানে বাড়ির গড় দাম ৫ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের বেশি, সেখানে ম্যাক্সওয়েলে আড়াই লাখ ডলারের নিচেই বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে। মুভিংপ্লেসের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক ড্যানিয়েল কোব এক বিবৃতিতে বলেন, "মহামারির সময়ের মতো শহর ছাড়ার হিড়িক এখন হয়তো কিছুটা কমেছে। কিন্তু মানুষের আবাসন চাহিদা এখনো ঐতিহ্যবাহী বড় শহরগুলোর চেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল শহরতলি এবং সাশ্রয়ী এলাকাগুলোর দিকেই বেশি। উষ্ণ আবহাওয়া, কম কর এবং তুলনামূলক সস্তা আবাসনের কারণে মানুষ সান বেল্ট অঞ্চলে, বিশেষ করে ফ্লোরিডা এবং টেক্সাসে বসবাস করতে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন।"
আগামী ১২ আগস্ট আকাশপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি দিন। একই সময়ের কাছাকাছি একাধিক মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় এবং ভোরের আকাশে একসঙ্গে একাধিক গ্রহের উপস্থিতি। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি হলো সূর্যগ্রহণ। ১২ আগস্টের গ্রহণটি গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন ও পর্তুগালের একটি অংশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ ইউরোপ ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। নিউইয়র্কে এটি হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। সেখানে গ্রহণ শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৭ মিনিটে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে ১টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ২টা ৩৮ মিনিটে। পুরো ঘটনাটি স্থায়ী হবে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিট। সূর্যগ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই প্রত্যয়িত সূর্যগ্রহণের চশমা ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। এরপর রাতের আকাশে শুরু হবে আরেক আকর্ষণ—পারসিড উল্কাবৃষ্টি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় হবে ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত। এ বছর নতুন চাঁদের কারণে আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকবে, ফলে উল্কাবৃষ্টি দেখার পরিস্থিতিও বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পারসিড উল্কাবৃষ্টি তৈরি হয় পৃথিবী যখন সুইফট-টাটল ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণার প্রবাহের মধ্য দিয়ে যায়। এসব ক্ষুদ্র কণা প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে, আর তখনই আকাশে দেখা যায় আলোর ঝলকানি। উপযুক্ত অন্ধকার আকাশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণভিত্তিক পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো দৃশ্য পাওয়ার জন্য শহরের আলো থেকে দূরে গিয়ে চোখকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়েছে। তবে শুধু রাতের আকাশই নয়, ১২ আগস্ট ভোরের আগেও গ্রহ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। শনি, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, ইউরেনাস ও নেপচুন একই সময় আকাশে দৃশ্যমান থাকার কথা। তবে এগুলো আসলে মহাকাশে সরলরেখায় সারিবদ্ধ হয়ে থাকবে না; পৃথিবী থেকে একই আকাশপটে একসঙ্গে দেখা যাওয়াকেই সাধারণভাবে গ্রহের সারিবদ্ধতা বলা হয়। শনি ও বৃহস্পতি তুলনামূলক সহজে শনাক্ত করা গেলেও ইউরেনাস দেখতে দূরবীন এবং নেপচুন পর্যবেক্ষণে টেলিস্কোপের প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, ১২ আগস্ট দিনের আকাশে সূর্যগ্রহণ আর রাতের আকাশে পারসিড উল্কাবৃষ্টি—এর সঙ্গে ভোরের গ্রহ পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে আকাশপ্রেমীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক আয়োজন। তবে আবহাওয়া পরিষ্কার না থাকলে এসব দৃশ্য দেখা কঠিন হতে পারে। তাই যারা এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী দেখতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো আলো দূষণমুক্ত জায়গা বেছে নেওয়া এবং আকাশ পরিষ্কার থাকার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করা।
২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভিযানে ১৫৩ জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং ২৪৩ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পেন্টাগনের একটি মূল্যায়নের বরাত দিয়ে এক মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন। পেন্টাগনের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে মাত্র দুজন বেসামরিক নিহত ও দুজন আহত হওয়ার কথা নথিভুক্ত হয়েছিল। মার্কিন কংগ্রেসে জমা দেওয়া পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নথিভুক্ত বেসামরিক হতাহতের সব ঘটনাই ইয়েমেনে চালানো তিনটি মার্কিন হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ইয়েমেনে চালানো ওই তিন হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মূল্যায়নে দেখা যায়, এসব অভিযানে বেসামরিক মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল ‘সম্ভাব্যতার দিক থেকে বেশি’। তবে ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। পেন্টাগনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ইয়েমেনে আরও ১৫টি ঘটনার মূল্যায়ন চলছিল। বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এসব ঘটনা তদন্ত করছে সেন্টকম। ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করা। হুতিদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান মূলত লোহিত সাগর ও আশপাশের জলপথে জাহাজ চলাচলের ওপর তাদের হামলার প্রেক্ষাপটে পরিচালিত হয়। তবে পেন্টাগনের নতুন হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ক্যারিবীয় অঞ্চল ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ২০২৫ সালে মার্কিন বাহিনীর চালানো হামলায় হতাহতের তথ্য এই পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের ১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মার্কিন সাদার্ন কমান্ডের মূল্যায়নে তাদের দায়িত্বাধীন এলাকায় এমন কোনো ঘটনা পাওয়া যায়নি, যেখানে মার্কিন সামরিক অভিযানের কারণে বেসামরিক হতাহতের সম্ভাবনা ‘সম্ভাব্যতার দিক থেকে বেশি’ ছিল। তবে ওই দুই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানে প্রাণহানি নিয়ে আলাদা বিতর্ক রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের অভিযোগে বেশ কয়েকটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন এসব লক্ষ্যবস্তুকে ‘নার্কো-টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রকাশিত বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এসব অভিযানে ২০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এসব মৃত্যুর ঘটনা পেন্টাগনের ২০২৫ সালের বেসামরিক হতাহতের নতুন হিসাবের অংশ নয়। মাদকবাহী জাহাজে মার্কিন হামলার বৈধতা নিয়েও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রশ্ন তুলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এসব অভিযানের বৈধতা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্যবস্তু ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে করা কিছু অভিযোগের ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ফলে পেন্টাগনের সর্বশেষ পরিসংখ্যান শুধু ইয়েমেনে মার্কিন সামরিক অভিযানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতিকেই সামনে আনেনি; একই সঙ্গে সামরিক অভিযানের বৈধতা, বেসামরিক নাগরিক সুরক্ষা এবং বিদেশে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি ব্যবহারের নীতি নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করতে পারে।
মেক্সিকো ভ্রমণে বিদেশি ক্রুজযাত্রীদের খরচ আরও বাড়ছে। দেশটির জনপ্রিয় কয়েকটি ক্রুজ পর্যটনকেন্দ্রে নামা বিদেশি যাত্রীদের প্রবেশ ফি ৫ ডলার থেকে দ্বিগুণ করে ১০ ডলার করা হয়েছে। নতুন ফি গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। মেক্সিকোর ধাপে ধাপে কর ও ফি বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর আওতায় রয়েছে জনপ্রিয় ক্রুজ গন্তব্য কাবো সান লুকাস, পুয়ের্তো ভালার্তা, কোজুমেল ও কোস্টা মায়া। ভ্রমণবিষয়ক ওয়েবসাইট ‘দ্য পয়েন্টস গাই’-এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ক্লিন্ট হেন্ডারসন বলেন, ভ্রমণের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন কর ও ফি ক্রমেই বাড়ছে। ফলে মেক্সিকো ভ্রমণের মোট খরচও ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। তবে ১০ ডলারের এই ফি-ই শেষ নয়। মেক্সিকোর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে ফি বেড়ে ১৫ ডলার হবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে তা ২১ ডলারে উন্নীত হওয়ার কথা রয়েছে। অর্থাৎ, আগামী দুই বছরে জনপ্রিয় এসব পর্যটনকেন্দ্রে ক্রুজযাত্রীদের প্রবেশ ফি বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে। মেক্সিকো অবশ্য এর আগে আরও বেশি ফি আরোপের পরিকল্পনা করেছিল। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদেশি ক্রুজযাত্রীদের জন্য ৪২ ডলারের একটি ফি পুনর্বহাল করা হয়েছিল। তবে ক্রুজ শিল্পের ব্যাপক আপত্তির পর তা কমিয়ে ৫ ডলার করা হয়, যা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছিল। এবার নতুন করে ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তে ভ্রমণ খাতে খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবার নিয়ে ক্রুজ ভ্রমণে গেলে যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত ফি মোট খরচে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। শুধু মেক্সিকো নয়, সামগ্রিকভাবেই ক্রুজ ভ্রমণের খরচ বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি, খাবার, কর্মী ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন ক্রুজ কোম্পানিও অতিরিক্ত চার্জ আরোপ করছে। এরই মধ্যে মালয়েশিয়াভিত্তিক স্টারড্রিম ক্রুজেস এশিয়াগামী কিছু ভ্রমণে দৈনিক জ্বালানি সারচার্জ চালু করেছে। যাত্রাপথ অনুযায়ী এই অতিরিক্ত ফি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২৬ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া সেলিব্রিটি ক্রুজেস প্রতিদিনের গ্র্যাচুইটি বা সেবা ফিও যাত্রীপ্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার বাড়িয়েছে। এ সিদ্ধান্ত নিয়েও যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ফলে মেক্সিকোর নতুন প্রবেশ ফি কেবল একটি অতিরিক্ত খরচ নয়; বরং কর, জ্বালানি ও সেবা ফি সব মিলিয়ে ক্রুজ ভ্রমণের সামগ্রিক ব্যয় বাড়ার একটি বৃহত্তর প্রবণতার অংশ হয়ে উঠছে।
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে একটি ১৮-চাকার ট্রাক থেকে প্রায় ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ। ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে মেথামফেটামিন জব্দের অন্যতম বড় ঘটনা বলে উল্লেখ করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। লিভিংস্টন প্যারিশ শেরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ডেনহাম স্প্রিংস এলাকায় আই-১২ মহাসড়কে নিয়মিত ট্রাফিক স্টপের সময় ট্রাকটি থামানো হয়। এলাকাটি ব্যাটন রুজ শহর থেকে প্রায় ২০ মাইল দূরে। ট্রাকটির চালক হিসেবে অ্যান্টন ভিতালিয়েভিচ রাকভ নামে এক রুশ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ তাকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের বৈধ অনুমতি না থাকা এবং বহিষ্কারযোগ্য বিদেশি হিসেবে বর্ণনা করেছে। শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাকভকে আটকের পর ট্রাকটির ট্রেইলারে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকে প্রায় ৩৫৮ দশমিক ১৪ কেজি বা ৭৮৯ দশমিক ৫৬ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা মাদকগুলো অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলে মোড়ানো বড় বড় প্যাকেটে রাখা ছিল। প্রকাশিত ছবিতে বিপুল পরিমাণ মাদক কয়েকটি বড় কনটেইনারে এবং টেবিলের ওপর সাজানো অবস্থায় দেখা যায়। একটি ছবিতে তদন্তকারীকে ট্রাকের ওপরের অংশ পরীক্ষা করতেও দেখা গেছে। লিভিংস্টন প্যারিশের শেরিফ জেসন আরড ঘটনাটিকে অঙ্গরাজ্যের অন্যতম বড় মেথামফেটামিন জব্দের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে ট্রাকটি ঠিক কী কারণে প্রথমে থামানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি। গ্রেপ্তারের পর রাকভকে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি হেফাজতে রয়েছেন। এই জব্দের মাত্রা সাম্প্রতিক কয়েকটি বড় মাদক উদ্ধারের ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে একই লিভিংস্টন প্যারিশে একটি ট্রাফিক স্টপের সময় প্রায় ৩৬১ পাউন্ড মেথামফেটামিন উদ্ধার করা হয়েছিল। ওই মাদকের আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৪০ লাখ ডলার বলে মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য জানিয়েছিল। এর আগে মার্চে ডিইএ, এফবিআই ও লুইজিয়ানা স্টেট পুলিশের সমন্বিত একটি মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স ১৮-চাকার একটি ট্রাক থেকে প্রায় ৩২৫ পাউন্ড মাদক উদ্ধার করে। মাদকগুলো আইসক্রিম ফ্রিজারের ভেতরে লুকানো বিশেষ ধাতব বাক্সে রাখা হয়েছিল। নতুন এই ঘটনায় বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারের পাশাপাশি ট্রাকের চালকের অভিবাসন অবস্থাও সামনে এসেছে। তবে মাদকগুলো কোথা থেকে কোথায় নেওয়া হচ্ছিল এবং এই চালানের সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্তকারীরা এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
রাজনীতি
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View moreআগামী ১২ আগস্ট আকাশপ্রেমীদের জন্য হতে যাচ্ছে বিশেষ একটি দিন। একই সময়ের কাছাকাছি একাধিক মহাজাগতিক ঘটনা পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে—এর মধ্যে রয়েছে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ, পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় এবং ভোরের আকাশে একসঙ্গে একাধিক গ্রহের উপস্থিতি। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি হলো সূর্যগ্রহণ। ১২ আগস্টের গ্রহণটি গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর, স্পেন ও পর্তুগালের একটি অংশ থেকে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ হিসেবে দেখা যাবে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলসহ ইউরোপ ও উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে দেখা যাবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। নিউইয়র্কে এটি হবে আংশিক সূর্যগ্রহণ। সেখানে গ্রহণ শুরু হবে স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৭ মিনিটে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে ১টা ৫৪ মিনিটে এবং শেষ হবে ২টা ৩৮ মিনিটে। পুরো ঘটনাটি স্থায়ী হবে প্রায় ১ ঘণ্টা ৩১ মিনিট। সূর্যগ্রহণ দেখার সময় অবশ্যই প্রত্যয়িত সূর্যগ্রহণের চশমা ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ সানগ্লাস দিয়ে সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। এরপর রাতের আকাশে শুরু হবে আরেক আকর্ষণ—পারসিড উল্কাবৃষ্টি। নাসার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের পারসিড উল্কাবৃষ্টির সর্বোচ্চ সময় হবে ১২ আগস্ট রাত থেকে ১৩ আগস্ট ভোর পর্যন্ত। এ বছর নতুন চাঁদের কারণে আকাশ তুলনামূলক অন্ধকার থাকবে, ফলে উল্কাবৃষ্টি দেখার পরিস্থিতিও বেশ ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পারসিড উল্কাবৃষ্টি তৈরি হয় পৃথিবী যখন সুইফট-টাটল ধূমকেতুর রেখে যাওয়া ধূলিকণার প্রবাহের মধ্য দিয়ে যায়। এসব ক্ষুদ্র কণা প্রচণ্ড গতিতে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে জ্বলে ওঠে, আর তখনই আকাশে দেখা যায় আলোর ঝলকানি। উপযুক্ত অন্ধকার আকাশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি পর্যন্ত উল্কা দেখা যেতে পারে বলে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণভিত্তিক পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। সবচেয়ে ভালো দৃশ্য পাওয়ার জন্য শহরের আলো থেকে দূরে গিয়ে চোখকে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট অন্ধকারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়েছে। তবে শুধু রাতের আকাশই নয়, ১২ আগস্ট ভোরের আগেও গ্রহ পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। শনি, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, ইউরেনাস ও নেপচুন একই সময় আকাশে দৃশ্যমান থাকার কথা। তবে এগুলো আসলে মহাকাশে সরলরেখায় সারিবদ্ধ হয়ে থাকবে না; পৃথিবী থেকে একই আকাশপটে একসঙ্গে দেখা যাওয়াকেই সাধারণভাবে গ্রহের সারিবদ্ধতা বলা হয়। শনি ও বৃহস্পতি তুলনামূলক সহজে শনাক্ত করা গেলেও ইউরেনাস দেখতে দূরবীন এবং নেপচুন পর্যবেক্ষণে টেলিস্কোপের প্রয়োজন হতে পারে। অর্থাৎ, ১২ আগস্ট দিনের আকাশে সূর্যগ্রহণ আর রাতের আকাশে পারসিড উল্কাবৃষ্টি—এর সঙ্গে ভোরের গ্রহ পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে আকাশপ্রেমীদের জন্য তৈরি হচ্ছে বিরল এক মহাজাগতিক আয়োজন। তবে আবহাওয়া পরিষ্কার না থাকলে এসব দৃশ্য দেখা কঠিন হতে পারে। তাই যারা এই মহাজাগতিক প্রদর্শনী দেখতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি হলো আলো দূষণমুক্ত জায়গা বেছে নেওয়া এবং আকাশ পরিষ্কার থাকার বিষয়টি আগে থেকেই নিশ্চিত করা।
এটি ১২ আগস্ট ২০২৬-এর সর্বশেষ ঘটনা। উত্তর কোরিয়া বুধবার পূর্ব উপকূলের ওয়ানসান এলাকা থেকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সাগরে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টার দিকে উৎক্ষেপণ করা হয়। জাপানও এটিকে সম্ভাব্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে। জাপানের অর্থনৈতিক জলসীমায় এটি পড়েনি বলে জানানো হয়েছে। এই উৎক্ষেপণের সময়টিই বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আগামী ১৭ আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার বার্ষিক ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ সামরিক মহড়া শুরু হওয়ার কথা। ১১ দিনের এই মহড়ায় প্রায় ১৮ হাজার দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। উত্তর কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে নিজেদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে দেখে আসছে। ফলে বড় ধরনের মহড়ার আগে পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা নতুন করে আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এটি এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে উত্তর কোরিয়ার দ্বিতীয় ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর আগে ৬ আগস্টও দেশটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান উৎক্ষেপণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিউল জরুরি জাতীয় নিরাপত্তা বৈঠক করেছে এবং পিয়ংইয়ংকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণটি যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি তৈরি করেনি। তবে ওয়াশিংটন দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক মহড়ার আগে এই ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি রাজনৈতিক ও সামরিক বার্তা দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা হতে পারে। একই সঙ্গে পিয়ংইয়ং তার ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফলে মহড়াকে কেন্দ্র করে উত্তর কোরিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার চেষ্টা করেছেন বারবার। ভোটের রাজনীতিতে সফল হতে পারেননি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে কখনোই হারিয়ে যাননি মোহসেন রেজাই। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্ব দেওয়া সেই প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা এবার দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নীতি নির্ধারণী সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের মধ্যে তার এই উত্থানকে ইরানের নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে কট্টর অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রোববার (৯ আগস্ট) ৭১ বছর বয়সী রেজাইকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি মোহাম্মদ বাঘের জোলগাদরের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির প্রতিনিধিত্বও করবেন এই গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা কাঠামোয়। রেজাইয়ের উত্থান বুঝতে হলে ফিরে যেতে হবে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়ে। মাত্র ২৭ বছর বয়সে ১৯৮১ সালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হন তিনি। এরপর টানা ১৬ বছর, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত বাহিনীটির নেতৃত্ব দেন। আট বছরের ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রায় পুরো সময়ই বিপ্লবী গার্ডের নেতৃত্বে ছিলেন রেজাই। সেই যুদ্ধই তাকে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করে। তার নেতৃত্বের সময় আইআরজিসি শুধু একটি সামরিক বাহিনী হিসেবেই নয়, ইরানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবেও বিস্তার লাভ করে। ১৯৯৭ সালে সামরিক দায়িত্ব ছাড়ার পরও ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে সরে যাননি রেজাই। তাকে এক্সপিডিয়েন্সি ডিসার্নমেন্ট কাউন্সিলের সেক্রেটারি করা হয়। সংসদ ও গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তিসহ ইরানের নীতিনির্ধারণী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই পরিষদের। পরে অর্থনীতি নিয়েও সক্রিয় হন রেজাই। অর্থনীতিতে ডক্টরেট ডিগ্রিধারী এই সাবেক সেনা কর্মকর্তা এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সামষ্টিক অর্থনীতি ও বাণিজ্য কমিশনের নেতৃত্বও দিয়েছেন। অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রের কমান্ডার থেকে ধীরে ধীরে অর্থনীতি, প্রশাসন ও রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণের ভেতরে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি। তবে জনগণের সরাসরি ভোটের পরীক্ষায় রেজাইয়ের সাফল্য নেই। ২০০৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হলেও ভোটের মাত্র দুই দিন আগে তিনি সরে দাঁড়ান। ২০০৯ সালের নির্বাচনে মাত্র ১ দশমিক ৭৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন। ২০১৩ সালে প্রায় ১০ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ হন। ২০২১ সালেও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জিততে পারেননি। অর্থাৎ ব্যালট বাক্স তাকে প্রেসিডেন্টের প্রাসাদে পৌঁছে দিতে পারেনি। কিন্তু ইরানের ক্ষমতার কাঠামোয় তার প্রভাব কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। সেই রেজাই এখন এমন এক সময়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা পদে ফিরলেন, যখন ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব ব্যাপক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সামরিক ও নিরাপত্তা নিয়োগগুলোতে পুরোনো এবং কট্টরপন্থী বিপ্লবী গার্ড নেতৃত্বের প্রভাব বেড়েছে। আনুগত্য, অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে এই মুহূর্তে তেহরান বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। রেজাই নিজেও দায়িত্ব নেওয়ার পর কট্টর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, হুমকির মুখে ইরান তার ‘জাতীয় অধিকার’ থেকে পিছু হটবে না। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে তার এমন বক্তব্য নতুন দায়িত্বে তার অবস্থানেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে। রেজাইকে ঘিরে আন্তর্জাতিক বিতর্কও পুরোনো। ১৯৯৪ সালে আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারেসে এএমআইএ ইহুদি কমিউনিটি সেন্টারে বোমা হামলায় ৮৫ জন নিহত হন। আর্জেন্টিনার তদন্তে ওই হামলার সঙ্গে রেজাইয়ের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়। ইন্টারপোল ২০০৭ সালে তারসহ কয়েকজন ইরানি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। রেজাই ও ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তার পুরোনো কিছু বক্তব্যও আবার আলোচনায় এসেছে। ২০১৫ সালে রেজাই বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে মার্কিন সেনাদের বন্দি করে তাদের মুক্তির বিনিময়ে বিপুল অর্থ আদায় করা সম্ভব। বক্তব্যটি সে সময়ও ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছিল। এখন যে কাউন্সিলের সেক্রেটারি হয়েছেন রেজাই, সেটি ইরানের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থান করে। জাতীয় নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা এবং গুরুত্বপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত সমন্বয়ের কাজ করে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। প্রেসিডেন্ট, সামরিক নেতৃত্ব এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা এর সঙ্গে যুক্ত থাকেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ নেতার অনুমোদনের অধীন। ফলে রেজাইয়ের নিয়োগ শুধু একজন প্রবীণ কর্মকর্তার নতুন পদ পাওয়া নয়। যুদ্ধের মধ্যে ইরান এমন একজনকে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে ফিরিয়ে আনল, যার রাজনৈতিক পরিচয়ের চেয়ে সামরিক ইতিহাস অনেক বেশি শক্তিশালী। ভোটে তিনি কখনো প্রেসিডেন্ট হতে পারেননি। কিন্তু ইরান-ইরাক যুদ্ধের তরুণ কমান্ডার থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে ক্ষমতার বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সেই মোহসেন রেজাই এখন আবার ইরানের যুদ্ধ, নিরাপত্তা ও কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রগুলোর একটির দায়িত্বে। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে তার এই প্রত্যাবর্তনই ইঙ্গিত দিচ্ছে—তেহরান আপাতত নিরাপত্তা নীতিতে অভিজ্ঞ ও কট্টর পুরোনো নেতৃত্বের ওপরই বেশি ভরসা রাখছে।
উড়োজাহাজে চড়ার ভয় কিংবা আকাশপথ এড়িয়ে ইউরোপ ভ্রমণের ইচ্ছা থাকলে যুক্তরাজ্য থেকে স্পেন যাওয়ার বিকল্প হতে পারে রেলপথ। লন্ডন থেকে ফ্রান্সের প্যারিস ও স্পেনের বার্সেলোনা হয়ে ট্রেনেই পৌঁছানো যায় দক্ষিণ স্পেনের জনপ্রিয় পর্যটন শহর মালাগায়। তবে এই যাত্রায় সময় লাগবে বেশি এবং পথে অন্তত এক রাত থাকার পরিকল্পনা করাই সুবিধাজনক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মিররের এক প্রতিবেদনে ক্লেয়ার নামের এক নারীর এমন একটি ভ্রমণ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত উড়োজাহাজ ছাড়াই ট্রেনে যাওয়ার সম্ভাব্য রুট, সময় ও খরচের হিসাব দিয়েছেন। যাত্রার প্রথম ধাপ লন্ডনের সেন্ট প্যানক্রাস ইন্টারন্যাশনাল স্টেশন থেকে প্যারিস। ইউরোস্টারের সরাসরি ট্রেনে লন্ডন থেকে প্যারিস পৌঁছাতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা লাগে। ইউরোস্টারের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এই রুটে আগাম বুকিং করলে তুলনামূলক কম দামের টিকিট পাওয়া যায়। তবে ভ্রমণের দিন ও চাহিদার ওপর ভাড়া উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হতে পারে। প্যারিসে পৌঁছানোর পর যাত্রীদের গার দু নর্দ স্টেশন থেকে গার দ্য লিওঁ স্টেশনে যেতে হবে। সেখান থেকেই বার্সেলোনাগামী দ্রুতগতির ট্রেন ছাড়ে। বর্তমান সময়সূচি অনুযায়ী, প্যারিস থেকে দুপুর ২টা ৪২ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া ট্রেন রাত ৯টা ৩২ মিনিটে বার্সেলোনা সান্তস স্টেশনে পৌঁছায়। চাইলে একই দিনে লন্ডন থেকে যাত্রা শুরু করে প্যারিস হয়ে বার্সেলোনায় পৌঁছানো সম্ভব। তবে প্যারিসে ট্রেন পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। আর যারা ধীরগতিতে ভ্রমণ করতে চান, তারা প্যারিসে এক রাত থেকে পরদিন বার্সেলোনার পথে রওনা দিতে পারেন। বার্সেলোনায় পৌঁছে সান্তস স্টেশনের আশপাশে রাত কাটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। ক্লেয়ারের দেওয়া উদাহরণে প্রায় ৬৫ পাউন্ডে থাকার ব্যবস্থা পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে হোটেলের ভাড়া নির্দিষ্ট নয়। মৌসুম, বুকিংয়ের সময় এবং কক্ষের প্রাপ্যতার ওপর এটি কম বা বেশি হতে পারে। সময় হাতে থাকলে বার্সেলোনায় এক রাতের বদলে দুই রাত অবস্থান করেও যাত্রা সাজানো যায়। এতে মালাগায় যাওয়ার আগে শহরটি ঘুরে দেখার সুযোগ পাওয়া যাবে। একই রেলপথের আশপাশে ফিগেরেস ও জিরোনার মতো শহরও রয়েছে, ফলে পুরো যাত্রাকে শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর মাধ্যম না রেখে ইউরোপ ঘুরে দেখার অংশ হিসেবেও সাজানো সম্ভব। বার্সেলোনা থেকে মালাগায় সরাসরি দ্রুতগতির ট্রেন রয়েছে। এই অংশের যাত্রায় কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ট্রেনের সময়সূচি দিন ও সেবাভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট রেল অপারেটরের হালনাগাদ সময়সূচি দেখে টিকিট বুক করা প্রয়োজন। ক্লেয়ারের উদাহরণভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, লন্ডন থেকে মালাগা পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট এবং পথে এক রাতের থাকার খরচ মিলিয়ে প্রায় ২৬৫ পাউন্ড ব্যয় হতে পারে। তার হিসাবে লন্ডন থেকে প্যারিসের টিকিট প্রায় ৪৯ পাউন্ড, প্যারিস থেকে বার্সেলোনা প্রায় ৮৯ পাউন্ড এবং বার্সেলোনা থেকে মালাগার টিকিট প্রায় ৫৮ পাউন্ড ধরে হিসাব করা হয়েছে। তবে ২৬৫ পাউন্ডকে এই ভ্রমণের নির্দিষ্ট খরচ হিসেবে ধরা ঠিক হবে না। রেলের টিকিটের মূল্য অনেকটাই নির্ভর করে কত আগে বুকিং করা হচ্ছে, কোন দিনে ভ্রমণ করা হচ্ছে, আসনের চাহিদা এবং সংশ্লিষ্ট রেল কোম্পানির ভাড়ার ওপর। হোটেলের খরচও একইভাবে পরিবর্তনশীল। উড়োজাহাজের তুলনায় এই যাত্রায় সময় অনেক বেশি লাগলেও এর একটি আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে শহরে যাতায়াতের বদলে লন্ডন, প্যারিস ও বার্সেলোনার কেন্দ্রীয় রেলস্টেশন ব্যবহার করে ধাপে ধাপে মালাগায় পৌঁছানো যায়। ফলে যাদের হাতে সময় আছে এবং যাত্রাপথকেও ভ্রমণের অভিজ্ঞতার অংশ হিসেবে দেখতে চান, তাদের জন্য লন্ডন থেকে মালাগার এই রেলপথ হতে পারে আকাশপথের একটি ব্যতিক্রমী বিকল্প।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়
ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট দেখাতে পারে, কেন হয় জানালেন বিশেষজ্ঞ
মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি
এক দশকের প্রেমের পর জর্জিনাকে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত
লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট
আইফোন ২০২৬ লঞ্চের প্রস্তুতি জোরদার, নির্বাচিত কর্মীদের লটারির সুযোগ দিচ্ছে অ্যাপল
মেক্সিকো ভ্রমণে বাড়ছে খরচ, ক্রুজযাত্রীদের প্রবেশ ফি দ্বিগুণ
ব্রঙ্কসে বাড়ির সামনে নারীকে গুলি, দুই মুখোশধারী সন্দেহভাজনকে খুঁজছে পুলিশ
নিউইয়র্কের কিউ৮ বাস রুটে ক্যামেরার কড়া নজর, ট্রাফিক আইন ভাঙলেই ৫০ থেকে ২৫০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা
ইরানের হুমকিতে গোপনে বিমান বদলের কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
ট্রাফিক স্টপে ১৮ বছরের তরুণীর মুখে ঘুষি! সুযোগ পেলে আবারও মারার হুমকি স্টেট ট্রুপারের
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
২০২৫ সালে মার্কিন সামরিক অভিযানে নিহত ১৫৩ বেসামরিক, আহত ২৪৩
বাংলাদেশি কৃষককে বিএসএফ ধরে নেওয়ার পর দুই ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী
ভারতের ১৩৭ যাত্রীবাহী বিমানে মাঝ আকাশে ভয়াবহ ঝাঁকুনি, পরে জানা যায় পাইলট গাঁজা সেবন করেছিলেন
কঙ্গোতে ভয়াবহ ইবোলায় প্রাণহানি ২০০০ ছাড়াল; ডব্লিউএইচও বলছে ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে’
ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার চাওয়ায় চাকরি হারিয়েছেন অনেকেই: মেলিসা ব্যারেরা
ইসলামের ইতিহাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স! ১৩ বিশ্ববিদ্যালয়ের অফার পেলেন মারুফ
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাই রং করা হয়েছিল একপাশ, অন্য পাশ মলিন থাকায় সমালোচনা
‘আমি আর কথা কমু না নে মা, আগুন লেগে পুড়ে যাচ্ছি মা, মরে যাচ্ছি’ সৌদিতে আগুনে দুই ভাই নিহত