ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে এক মাস ধরে চলা সংঘর্ষে ইসরায়েল বর্তমানে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় এখন দেশটি একাধিক দিক থেকে হুমকির সম্মুখীন। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে হুতিদের নতুন ফ্রন্ট তৈরি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রীতিমতো চাপের মধ্যে ফেলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করছেন, দেশটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো বলছে, সরকারের কাছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই এবং নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করছেন। বর্তমানে ইসরায়েল তাদের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম সীমিতভাবে ব্যবহার করছে। কারণ, ক্রমাগত ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে মজুত ফুরিয়ে আসছে। একেকটি ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টরের খরচ কয়েক লাখ ডলার; প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচের ফলে উৎপাদনকারীরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। রেশনিং এবং কৌশল পরিবর্তন: ইসরায়েল এখন কেবল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় হামলার সম্ভাবনা থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করছে। মরুভূমি বা জনশূন্য এলাকায় পড়ার সম্ভাবনা থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার না করে সাশ্রয় করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে আছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে এবং অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা একই সঙ্গে মেটানো যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি করছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ফাটল: বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মাঝে মাঝে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করছে। প্রধান কারণ হলো সীমিত ইন্টারসেপ্টর এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে, তবে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের সংকটে সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সুরক্ষা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও মিসাইল হামলার হুমকির মধ্যে কাতার ও ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধ অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক ঝটিকা সফরে বের হন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর কাতারের সঙ্গে এই চুক্তি তার সফরের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। ইউক্রেনের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রি নাটোভ এবং কাতারের পক্ষে সই করেছেন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জসিম বিন মোহাম্মদ আল-মান্নাই। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কেবল প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, বরং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগের পথও প্রসারিত করবে। বিশেষ করে, গত এক মাসে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী ইউক্রেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য এমন মিত্র প্রয়োজন, যাদের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ সরবরাহের সামর্থ্য বেশি। বর্তমান সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে বেশি, তখন কাতার ও সৌদি আরবের সমর্থন কিয়েভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও তা তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। কারণ, এসব হামলা ছিল ছড়ানো-ছিটানো এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র পথেই প্রতিরোধ করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে একটি হুথি ড্রোন তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যার ফলে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুথিরা আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে দেশটির জন্য নতুনভাবে উদ্বেগ তৈরি হবে, যদিও বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু যদি হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করছে। এই তেলবাহী জাহাজগুলো ইয়েমেনের পাশ দিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে এশিয়ার বাজারে পৌঁছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে হুথিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে প্রায় ২০০টি হামলায় লক্ষ্য করে। এতে ৩০টিরও বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়। এর ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সঙ্গে হুথিরা লোহিত সাগরের পথও অবরুদ্ধ করে, তাহলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একসাথে বন্ধ হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভয়াবহ প্রভাব দেখা দিতে পারে।
উন্নত জীবনের সন্ধানে লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার পথে আবারও মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির শিকার হলেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের অদূরে একটি রাবার বোট থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, মাঝসমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন। উদ্ধারকৃতদের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপি জানায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে নৌকাটি ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। টানা ছয় দিন উত্তাল সমুদ্রে খাদ্য ও পানীয়হীন অবস্থায় ভাসতে থাকায় চরম মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অনাহারে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ২২ জন যাত্রী। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জীবিতরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’ শুক্রবার গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে জরাজীর্ণ ওই নৌকাটি শনাক্ত করে। উদ্ধারকৃত ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। বাকিদের মধ্যে চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ জন। দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এই সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা থামছেই না।
ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে এক মাস ধরে চলা সংঘর্ষে ইসরায়েল বর্তমানে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় এখন দেশটি একাধিক দিক থেকে হুমকির সম্মুখীন। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে হুতিদের নতুন ফ্রন্ট তৈরি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রীতিমতো চাপের মধ্যে ফেলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করছেন, দেশটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো বলছে, সরকারের কাছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই এবং নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করছেন। বর্তমানে ইসরায়েল তাদের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম সীমিতভাবে ব্যবহার করছে। কারণ, ক্রমাগত ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে মজুত ফুরিয়ে আসছে। একেকটি ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টরের খরচ কয়েক লাখ ডলার; প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচের ফলে উৎপাদনকারীরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। রেশনিং এবং কৌশল পরিবর্তন: ইসরায়েল এখন কেবল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় হামলার সম্ভাবনা থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করছে। মরুভূমি বা জনশূন্য এলাকায় পড়ার সম্ভাবনা থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার না করে সাশ্রয় করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে আছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে এবং অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা একই সঙ্গে মেটানো যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি করছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ফাটল: বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মাঝে মাঝে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করছে। প্রধান কারণ হলো সীমিত ইন্টারসেপ্টর এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে, তবে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের সংকটে সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সুরক্ষা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও মিসাইল হামলার হুমকির মধ্যে কাতার ও ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধ অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক ঝটিকা সফরে বের হন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর কাতারের সঙ্গে এই চুক্তি তার সফরের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। ইউক্রেনের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রি নাটোভ এবং কাতারের পক্ষে সই করেছেন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জসিম বিন মোহাম্মদ আল-মান্নাই। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কেবল প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, বরং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগের পথও প্রসারিত করবে। বিশেষ করে, গত এক মাসে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী ইউক্রেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য এমন মিত্র প্রয়োজন, যাদের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ সরবরাহের সামর্থ্য বেশি। বর্তমান সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে বেশি, তখন কাতার ও সৌদি আরবের সমর্থন কিয়েভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও তা তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। কারণ, এসব হামলা ছিল ছড়ানো-ছিটানো এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র পথেই প্রতিরোধ করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে একটি হুথি ড্রোন তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যার ফলে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুথিরা আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে দেশটির জন্য নতুনভাবে উদ্বেগ তৈরি হবে, যদিও বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু যদি হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করছে। এই তেলবাহী জাহাজগুলো ইয়েমেনের পাশ দিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে এশিয়ার বাজারে পৌঁছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে হুথিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে প্রায় ২০০টি হামলায় লক্ষ্য করে। এতে ৩০টিরও বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়। এর ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সঙ্গে হুথিরা লোহিত সাগরের পথও অবরুদ্ধ করে, তাহলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একসাথে বন্ধ হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভয়াবহ প্রভাব দেখা দিতে পারে।
দলীয় কর্মসূচির নামে রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না করার জন্য নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি নিজেও আর দলীয় কার্যালয়ে আসবেন না। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, কোনোভাবেই মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না এবং দলীয় কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে জনজীবন স্বাভাবিক থাকে। তিনি বলেন, “এভাবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। আমাদের স্বাভাবিকভাবে অফিসে আসতে হবে, যাতে সবকিছু ঠিকভাবে চলতে পারে। আমি অফিসে আসতে চাই, কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকলে তা সম্ভব হবে না।” নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি তারা তাকে নিয়মিত পল্টন কার্যালয়ে দেখতে চান, তবে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। এ সময় তিনি দ্রুত রাস্তা খালি করার নির্দেশ দেন এবং আগামী আধা ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নেতা-কর্মীদের আইন মেনে চলার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সবশেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে রাস্তার বাম পাশে সরে গিয়ে যান চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “আমরা দেশের মানুষের সমস্যার কারণ হতে চাই না। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি নিয়মিত অফিসে আসতে পারব।”
দক্ষিণ লেবাননের আল-হানিয়া পৌরসভা এলাকায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর এক ভয়াবহ হামলায় ৪ জন সিরীয় কৃষি শ্রমিক নিহত হয়েছেন। সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, এই হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহতরা সবাই ওই অঞ্চলে কৃষি জমিতে কাজ করছিলেন। কোনো উস্কানি ছাড়াই হঠাৎ এই বিমান হামলা চালানো হয়। বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দক্ষিণ লেবাননে ক্রমাগত এই উত্তেজনা সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী ছিলেন, যা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পথেই থেমে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে ছেড়ে আসা বাসটি সন্ধ্যার দিকে কালিহাতীতে এসে তেল শেষ হয়ে থামে। বাসের কর্মীরা তেল আনতে গেলে যাত্রীরা নিচে নেমে আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী পাশের রেললাইনে গিয়ে বসেন। এ অবস্থায় ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি ট্রেন দ্রুতগতিতে এসে পড়লে পাঁচজন যাত্রী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ট্রেনের চালক হর্ন দিলেও নিহতরা সময়মতো সরে যেতে পারেননি বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নার্গিস (৩৫), তাঁর ছেলে নিরব (১২), দোলা (৩৫), সুলতান (৩৩) ও রিফা (২৩)। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, বাসটি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকে ক্লান্ত হয়ে রেললাইনে বসেছিলেন। হঠাৎ ট্রেন চলে আসায় কেউ সরে যেতে পারলেও কয়েকজন আর উঠতে পারেননি। টাঙ্গাইল রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলটি স্টেশন এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে সরাসরি তদারকি সম্ভব ছিল না। রেললাইনে অবস্থান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা না মানলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে, ঈদকে ঘিরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরান এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের সঙ্গে এক মাস ধরে চলা সংঘর্ষে ইসরায়েল বর্তমানে ভয়াবহ সংকটের মুখোমুখি। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগ দেওয়ায় এখন দেশটি একাধিক দিক থেকে হুমকির সম্মুখীন। হিজবুল্লাহর রকেট হামলার সঙ্গে যুক্ত হয়ে হুতিদের নতুন ফ্রন্ট তৈরি ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে রীতিমতো চাপের মধ্যে ফেলেছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বারবার দাবি করছেন, দেশটি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ইরান কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। তবে বিরোধী দলগুলো বলছে, সরকারের কাছে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নেই এবং নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সক্ষমতা নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করছেন। বর্তমানে ইসরায়েল তাদের ‘অ্যারো’ ও ‘ডেভিডস স্লিং’ ইন্টারসেপ্টর সিস্টেম সীমিতভাবে ব্যবহার করছে। কারণ, ক্রমাগত ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে মজুত ফুরিয়ে আসছে। একেকটি ‘অ্যারো’ ইন্টারসেপ্টরের খরচ কয়েক লাখ ডলার; প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মিসাইল খরচের ফলে উৎপাদনকারীরা চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। রেশনিং এবং কৌশল পরিবর্তন: ইসরায়েল এখন কেবল গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো বা জনবহুল এলাকায় হামলার সম্ভাবনা থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ধ্বংস করছে। মরুভূমি বা জনশূন্য এলাকায় পড়ার সম্ভাবনা থাকা ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার না করে সাশ্রয় করা হচ্ছে। ওয়াশিংটনের দিকে তাকিয়ে আছে ইসরায়েল। যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে তাদের ‘থাড’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে এবং অতিরিক্ত ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের চেষ্টা করছে। তবে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের চাহিদা একই সঙ্গে মেটানো যুক্তরাষ্ট্রের মজুতের ওপর চাপ তৈরি করছে। প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় ফাটল: বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র মাঝে মাঝে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা স্তর ভেদ করছে। প্রধান কারণ হলো সীমিত ইন্টারসেপ্টর এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াতে ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে, তবে কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের সংকটে সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি যদি আরও কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হয়, তাহলে ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর সুরক্ষা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মধ্যপ্রাচ্যে ড্রোন ও মিসাইল হামলার হুমকির মধ্যে কাতার ও ইউক্রেন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যুদ্ধ অভিজ্ঞতা বিনিময় করবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি চলতি সপ্তাহে উপসাগরীয় দেশগুলোতে এক ঝটিকা সফরে বের হন। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের পর কাতারের সঙ্গে এই চুক্তি তার সফরের বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষ বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছে। ইউক্রেনের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আন্দ্রি নাটোভ এবং কাতারের পক্ষে সই করেছেন কাতার সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জসিম বিন মোহাম্মদ আল-মান্নাই। চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশ কেবল প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নয়, বরং প্রতিরক্ষা খাতে পারস্পরিক বিনিয়োগের পথও প্রসারিত করবে। বিশেষ করে, গত এক মাসে ইরানের সঙ্গে সংঘটিত যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব ড্রোন ও মিসাইল প্রতিরক্ষা অভিজ্ঞতা দিয়ে সাহায্য করতে আগ্রহী ইউক্রেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে ইউক্রেনের জন্য এমন মিত্র প্রয়োজন, যাদের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামরিক রসদ সরবরাহের সামর্থ্য বেশি। বর্তমান সময়ে যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যে বেশি, তখন কাতার ও সৌদি আরবের সমর্থন কিয়েভের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেও তা তুলনামূলকভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারেনি। কারণ, এসব হামলা ছিল ছড়ানো-ছিটানো এবং অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র পথেই প্রতিরোধ করা হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে একটি হুথি ড্রোন তেল আবিবের একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানে, যার ফলে একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হুথিরা আবারও ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে হামলা চালালে দেশটির জন্য নতুনভাবে উদ্বেগ তৈরি হবে, যদিও বড় ধরনের সামরিক চ্যালেঞ্জের সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম। কিন্তু যদি হুথিরা লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে এর প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। বর্তমানে সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর ব্যবহার করে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহণ করছে। এই তেলবাহী জাহাজগুলো ইয়েমেনের পাশ দিয়ে দক্ষিণমুখী হয়ে এশিয়ার বাজারে পৌঁছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৫ সালের শুরুর দিকে হুথিরা লোহিত সাগরে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে প্রায় ২০০টি হামলায় লক্ষ্য করে। এতে ৩০টিরও বেশি জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং অন্তত একটি জাহাজ ছিনতাইয়ের শিকার হয়। এর ফলে বাব আল-মানদাব প্রণালি ও সুয়েজ খাল দিয়ে জাহাজ চলাচল প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং একই সঙ্গে হুথিরা লোহিত সাগরের পথও অবরুদ্ধ করে, তাহলে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ একসাথে বন্ধ হয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভয়াবহ প্রভাব দেখা দিতে পারে।
উন্নত জীবনের সন্ধানে লিবিয়া থেকে সাগরপথে ইউরোপ যাওয়ার পথে আবারও মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির শিকার হলেন অভিবাসন প্রত্যাশীরা। গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের অদূরে একটি রাবার বোট থেকে ২৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও, মাঝসমুদ্রে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২২ জন। উদ্ধারকৃতদের দাবি অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও এএফপি জানায়, গত ২১ মার্চ লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে নৌকাটি ইতালির উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। টানা ছয় দিন উত্তাল সমুদ্রে খাদ্য ও পানীয়হীন অবস্থায় ভাসতে থাকায় চরম মানবেতর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং অনাহারে একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন ২২ জন যাত্রী। পাচারকারীদের নির্দেশে মৃতদেহগুলো মাঝসমুদ্রেই ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জীবিতরা। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত রক্ষা বাহিনী ‘ফ্রন্টেক্স’ শুক্রবার গ্রিসের বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে জরাজীর্ণ ওই নৌকাটি শনাক্ত করে। উদ্ধারকৃত ২৬ জনের মধ্যে ২১ জনই বাংলাদেশি। বাকিদের মধ্যে চারজন দক্ষিণ সুদান ও একজন চাদের নাগরিক। এদের মধ্যে একজন নারী ও একটি শিশুও রয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ১৯ ও ২২ বছর বয়সী দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভূমধ্যসাগরে প্রাণহানির সংখ্যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসেই সাগরে প্রাণ হারিয়েছেন ৫৫৯ জন, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২৮৭ জন। দালালের খপ্পরে পড়ে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে এই সাগর পাড়ি দেওয়ার ঘটনা থামছেই না।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।