সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
১৫৮ পরিবারের আবাসন উন্নয়নে আড়াই কোটি ডলারের উদ্যোগ
টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে ১৫৮ পরিবারের আবাসন উন্নয়নে আড়াই কোটি ডলারের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিল শহরে সাশ্রয়ী আবাসন ধরে রাখা এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর বসবাসের পরিবেশ উন্নত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নগর কমিশন আবাসন সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের হাউজিং রেভিনিউ বন্ড অনুমোদন করেছে।   এই অর্থ ব্যয় করা হবে শহরের অ্যাশ স্ট্রিট এলাকায় অবস্থিত ট্রপিক্যাল গার্ডেনস নামের একটি আবাসন প্রকল্পের সংস্কারকাজে। সেখানে মোট ১৫৮টি আবাসন ইউনিট রয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য নতুন ভবন নির্মাণ নয়, বরং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনগুলো সংস্কার করে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উপযোগী রাখা।   শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কারকাজের মাধ্যমে আবাসনগুলোর নিরাপত্তা, বসবাসের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব পরিবার সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এই বন্ড ব্রাউনসভিল হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে। নগর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ড ইস্যুর জন্য শহর সরকারকে সরাসরি অর্থায়নের দায় নিতে হবে না।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো আবাসন সংস্কার করে সেগুলো সংরক্ষণ করা স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ব্রাউনসভিল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদ্যমান আবাসন সুবিধা ধরে রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

২৪ মিনিট Ago
জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে প্রথম মৃত্যু, জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ইয়াকিমা কাউন্টিতে গবাদিপশু থেকে ছড়ানো বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত ১ নভেম্বর ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ। ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বার্ড ফ্লুতে এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। খবরটি প্রকাশের পর দেশটির জনস্বাস্থ্য ও কৃষি খাতে নতুন করে সতর্কতা তৈরি হয়েছে।   স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি সংক্রমিত দুগ্ধ উৎপাদনকারী গবাদিপশুর সংস্পর্শে এসে এইচ৫এন১ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তবে পরিবারের গোপনীয়তা রক্ষায় তাঁর নাম, বয়স ও লিঙ্গ প্রকাশ করা হয়নি।   ইয়াকিমা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৃত ব্যক্তির আগে থেকেই কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল। ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা অন্যদের শনাক্ত ও পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ।   এদিকে একই কাউন্টিতে গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসা আরও একজনের শরীরে বার্ড ফ্লু শনাক্ত হয়েছে। তবে নতুন আক্রান্ত ব্যক্তির অসুস্থতা গুরুতর নয় এবং তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। সব মিলিয়ে ওয়াশিংটনে সাম্প্রতিক সময়ে গবাদিপশুর সংস্পর্শে আসার পর তিনজনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।   কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর থেকে ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দুগ্ধ খামারে এইচ৫এন১ ভাইরাসের সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে। শুধু ইয়াকিমা কাউন্টিতেই ৩৩টি দুগ্ধ খামারে সংক্রমণের খবর পাওয়া গেছে। সংক্রমিত গবাদিপশুর সঙ্গে সরাসরি কাজ করা শ্রমিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   তবে সাধারণ মানুষের জন্য পরিস্থিতি এখনই বড় ধরনের আতঙ্কের কারণ নয় বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে এখন পর্যন্ত মানুষের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে বার্ড ফ্লু ছড়ানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সংক্রমণের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি তাঁদের, যাঁরা আক্রান্ত পাখি, গবাদিপশু কিংবা দূষিত পরিবেশের সঙ্গে সরাসরি কাজ করেন।   স্বাস্থ্য বিভাগ সাধারণ মানুষকে অসুস্থ বা মৃত পাখি ও প্রাণীর সংস্পর্শ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে খামারে কর্মরত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। কাঁচা দুধ ও অপাস্তুরিত দুগ্ধজাত খাবার এড়িয়ে চলার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, সঠিকভাবে পাস্তুরিত দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য গ্রহণ করা নিরাপদ। কারণ পাস্তুরায়ন প্রক্রিয়ায় বার্ড ফ্লুসহ ক্ষতিকর ভাইরাস ও জীবাণু ধ্বংস হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ ও কৃষি বিভাগের সমন্বয়ে আক্রান্ত খামারগুলো পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের কার্যক্রম চলছে। কোনো প্রাণীর সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, কাশি, গলাব্যথা, চোখ লাল হওয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, একজনের মৃত্যুর ঘটনা অবশ্যই গুরুতর। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কম। খামারকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংক্রমণের বিস্তার পর্যবেক্ষণ করাই এখন প্রধান অগ্রাধিকার।

৩৯ মিনিট Ago
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ, স্কুলে ছুটি ও জরুরি সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ব্রেভার্ড কাউন্টিতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার (২ নভেম্বর) কাউন্টির সব সরকারি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছে আদালতের কার্যক্রম। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ব্রেভার্ড কাউন্টির কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট মেলবোর্ন ও পাম বে এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে এই দুই এলাকার জন্য বিশেষ ফ্ল্যাশ ফ্লাড ইমার্জেন্সি জারি করা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকা, রাস্তাঘাট এবং আন্ডারপাসে জীবনহানির ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২ নিউজ জানিয়েছে, বন্যার কারণে ব্রেভার্ড কাউন্টির বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হেলেন স্ট্রিটের কাছে মিন্টন রোডের উত্তরমুখী অংশ এবং ইউএস-১৯২ সড়কের কাছে মিন্টন রোডের দক্ষিণমুখী অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া স্টুয়ার্ট রোডের কাছে অরোরা রোড এবং সার্নো রোডের কিছু অংশ বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক বন্ধের তালিকাও পরিবর্তিত হতে পারে।   পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমে বেশ কয়েকটি গাড়ি আটকা পড়েছে। কোথাও কোথাও পানির গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ায় চালকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ বিভাগ বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি নিয়ে বের হওয়া উচিত নয়। কোনো অবস্থাতেই পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা অতিক্রমের চেষ্টা করা যাবে না।   বন্যার কারণে ব্রেভার্ড কাউন্টির সব সরকারি স্কুলে সোমবারের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্টির ক্যাথলিক স্কুলগুলোও বন্ধ রয়েছে। একই কারণে ইস্টার্ন ফ্লোরিডা স্টেট কলেজের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।   শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ব্রেভার্ড কাউন্টির আদালত এবং স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের কার্যক্রমও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কারণে জরুরি সেবার গাড়ি চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে।   ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পূর্ব-মধ্য ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কাজনিত সতর্কতা কার্যকর থাকার কথা। দিনের বাকি সময়ে আরও ১ থেকে ৩ ইঞ্চি এবং বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ৫ ইঞ্চি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। আগে থেকেই মাটি পানিতে সম্পৃক্ত থাকায় নতুন বৃষ্টিতে দ্রুত জলাবদ্ধতা ও বন্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে এবং পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলেছে। একই সঙ্গে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব কিংবা হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

৫৯ মিনিট Ago
৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাচ্ছেন কৃষকরা, প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগেই ১৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাচ্ছেন কৃষকরা, প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ঠিক আগে কৃষকদের জন্য ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। গত কয়েক সপ্তাহে ঘোষিত এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ডিজেল, সার ও কৃষি উৎপাদনের ক্রমবর্ধমান ব্যয় সামাল দিতে কৃষকদের সহযোগিতা করা। আগামী মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের আগে কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্যগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসনের এমন পদক্ষেপ নতুন রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১ নভেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষিত সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে ডিজেলের উচ্চমূল্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য এককালীন ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থসহায়তার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানিয়েছে, নভেম্বরের মধ্যেই এই কর্মসূচির বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে। তবে কৃষকেরা কবে নাগাদ অর্থ হাতে পাবেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   এ ছাড়া গবাদিপশু পালনকারী খামারি ও মৎস্য খাতের উদ্যোক্তাদের জন্য অন্তত ৫ বিলিয়ন ডলারের সরকারি নিশ্চয়তাপ্রাপ্ত ঋণ কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কৃষক ও জমির মালিকদের জন্য রয়েছে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের অর্থপ্রদান। সার উৎপাদন প্রকল্পে ৫৭ কোটি ৩০ লাখ ডলার এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প সম্প্রসারণে ৫ কোটি ৭০ লাখ ডলার সহায়তার পরিকল্পনাও রয়েছে।   বিশেষায়িত ফসল উৎপাদন খাতের উদ্ভাবনী প্রকল্পে ৮ কোটি ৬৬ লাখ ডলারের অনুদান দেওয়ার কথা জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। পাশাপাশি কৃষকদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ ৪৭ কোটি ২৫ লাখ ডলারের কৃষিপণ্য কেনার পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এসব পণ্য দাতব্য ও খাদ্যসহায়তা কর্মসূচিতে ব্যবহারের কথা রয়েছে। তবে ঘোষিত ১৫ বিলিয়ন ডলারের পুরোটাই সরাসরি নগদ অনুদান নয়। এর মধ্যে ঋণ, সরকারি ক্রয় ও বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থও রয়েছে।   এই উদ্যোগের বাইরে ২০২৫ সালের ফসল উৎপাদনের জন্য যোগ্য কৃষকদের প্রায় ১৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলারের নিয়মিত নিরাপত্তা কর্মসূচির অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভুট্টা, সয়াবিন, গম ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদকরা এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন। কৃষিপণ্যের বাজারদর ও উৎপাদনসংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে বিদ্যমান সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে এসব অর্থ দেওয়া হচ্ছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম কৃষকদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। অটোমোবাইল সংগঠন এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দেশটিতে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় মূল্য ছিল ৬ ডলার ৩২ সেন্ট। এক বছর আগের তুলনায় যা প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি। ফলে ১০০ গ্যালনের একটি ট্যাংক পূর্ণ করতে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৬০ ডলার বেশি খরচ হচ্ছে। ট্রাক্টর, কম্বাইন হারভেস্টার ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার থাকায় এর প্রভাব সরাসরি কৃষকদের ওপর পড়ছে।   ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধি এবং শুল্কনীতির কারণে কৃষি যন্ত্রপাতির খরচ বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছর অনেক খামার লাভজনক অবস্থায় থাকতে পারছে না। চীনের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতও যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে চাপ তৈরি করেছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির কৃষি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গ্রেগ ইবেনডাল মনে করেন, সরকারের এককালীন অর্থসহায়তা অনেক কৃষককে তাৎক্ষণিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ব্যয় ও বাজারের অনিশ্চয়তা দূর হবে না।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গ্রামীণ ভোটাররা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান পার্টির গুরুত্বপূর্ণ সমর্থক হলেও কৃষি খাতের অর্থনৈতিক সংকট নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সহায়তা ঘোষণা কৃষকদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে। তবে এই পদক্ষেপ ভোটারদের সিদ্ধান্ত কতটা বদলাবে, তা এখনো অনিশ্চিত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃষকদের কাছে শুধু তাৎক্ষণিক সরকারি সহায়তা নয়, দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদন ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার খরচও গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী বিষয়।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেছেন? ক্রেডিট কার্ড পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রয়োজন নেই

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেই ক্রেডিট কার্ড পাওয়া সম্ভব নয়, এমন ধারণা নিয়ে অনেক প্রবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। অথচ দেশটিতে নতুন ক্রেডিট ব্যবহারকারী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ। কিছু কার্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর না থাকলেও আবেদন করা যায়। এমনকি অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রেখেছে। তবে আবেদন করলেই কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর বয়স, আয়, পরিচয় যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্তের ওপর অনুমোদন নির্ভর করে।   সম্প্রতি ভার্জিনিয়া থেকে এক বাংলাদেশি প্রবাসী ক্রেডিট কার্ড নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান আমেরিকা বাংলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বসবাস করছেন এবং গ্রিন কার্ডধারী। কিন্তু এখনো কোনো ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় একটি ব্যাংকে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে ৫০০ ডলার দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে ওই অর্থ কার্ডের ফি, নাকি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের নিরাপত্তা জামানত ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে বিষয়টি না বুঝতে পেরে তিনি আর আবেদন করেননি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঠিক তথ্যের অভাব বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনেক নতুন প্রবাসী ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য একটি পরিচিত বিকল্প হলো সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড। সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের ক্রেডিট ইতিহাস ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে ঋণসীমা নির্ধারণ করে। কিন্তু সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই জামানতের পরিমাণ অনুযায়ী কার্ডের ক্রেডিট লিমিট নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কার্ডের জন্য ২০০ বা ৫০০ ডলার জামানত জমা রাখতে হতে পারে। এই অর্থ সাধারণত ব্যাংকের কাছে নিরাপত্তা হিসেবে থাকে, এটি সরাসরি বার্ষিক ফি নয়। কার্ডের শর্ত অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে বকেয়া পরিশোধ করলে অথবা ব্যাংক কার্ডটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ডে উন্নীত করলে জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে আলাদা সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু স্টুডেন্ট কার্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ডিসকভারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কার্ডের ব্যবস্থা রেখেছে, যেগুলোর মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার ও সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেই কার্ড অনুমোদন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর আয়, বয়স এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করা হয়। ২১ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সাধারণত তাঁদের নিজস্ব আয় বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। অন্যথায় ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন যোগ্য ব্যক্তিকে কো-সাইনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। অন্যদিকে, ২১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যাংক আবেদনকারীর বর্তমান বা প্রত্যাশিত আয় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করে। তাই শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কার্ডের বয়স ও আয়ের শর্ত জেনে নেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার কিছু সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে কার্ডের ধরন ও আবেদনপ্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। অনেক ব্যাংক সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এসএসএন চায়। কিছু প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্তে আইটিআইএন বা অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ করতে পারে। আবার কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবেদনপ্রক্রিয়া রাখে। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের পরিচয়পত্র গ্রহণ করে, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়; আবার আবেদন করলেই অনুমোদন পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করতে সব সময় ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে। সাধারণত আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকানা, ফোন নম্বর, আয়ের তথ্য এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যও চাওয়া হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান দ্রুত প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানায়। তবে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই বা আর্থিক তথ্য পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে অনুমোদন পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন গ্রাহকরা ডিসকভার, ক্যাপিটাল ওয়ান এবং ব্যাংক অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডের শর্ত যাচাই করতে পারেন। ডিসকভারের কিছু স্টুডেন্ট ও সিকিউরড কার্ডে আবেদন করার জন্য আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ক্যাপিটাল ওয়ানের সিকিউরড কার্ড নতুন বা সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে এমন গ্রাহকদের জন্য একটি বিকল্প। ব্যাংক অব আমেরিকাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন করা যায়। তবে প্রতিটি কার্ডের বার্ষিক ফি, সুদের হার, জামানত এবং আবেদনসংক্রান্ত শর্ত আলাদা। ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। কার্ডের বার্ষিক ফি আছে কি না, সুদের হার কত, বিল পরিশোধের শেষ তারিখ কখন এবং দেরিতে বিল পরিশোধ করলে কত জরিমানা দিতে হবে, তা জেনে নিতে হবে। সিকিউরড কার্ডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জামানত কত এবং কোন শর্তে তা ফেরত পাওয়া যাবে, সেটিও পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া উচিত। আবেদন করার সময় ব্যাংক ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করলে ক্রেডিট স্কোরে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তাই একসঙ্গে অনেকগুলো কার্ডের জন্য আবেদন না করে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কার্ড নির্বাচন করাই ভালো। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পর দায়িত্বশীল ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে হবে। সম্ভব হলে পুরো বিল পরিশোধ করা উচিত, যাতে সুদের অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। নিয়মিত ও সময়মতো বিল পরিশোধ এবং সীমার মধ্যে কার্ড ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ক্রেডিট ইতিহাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে গাড়ি কেনার ঋণ, মর্টগেজ কিংবা বাড়ি ভাড়ার আবেদনের সময়ও ক্রেডিট ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেছেন বলে ক্রেডিট কার্ডের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। নিজের বয়স, আয়, পরিচয়পত্র এবং আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী স্টুডেন্ট বা সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের মতো বিকল্প খুঁজে দেখা যেতে পারে। সঠিক তথ্য জেনে অনলাইনে আবেদন করলে ঘরে বসেই প্রক্রিয়াটি শুরু করা সম্ভব। তবে কার্ড পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা এবং সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তোলা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৫:৫৪
বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্ট কী, কেন দিতে হয় এবং এই খরচ কে বহন করেন?

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, কিন্তু ডাউন পেমেন্টের বাইরে আরও কয়েক হাজার ডলার খরচের কথা শুনে বিভ্রান্ত হচ্ছেন? বাড়ি কেনার সময় ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি ক্রেতাকে যে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হয়, তার একটি বড় অংশ হলো ক্লোজিং কস্ট। বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, মর্টগেজ ঋণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন, আইনি নথিপত্র তৈরি এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ফি পরিশোধের জন্য এই অর্থ ব্যয় হয়। বাড়ির দাম ও ডাউন পেমেন্ট নিয়ে অনেক ক্রেতা আগে থেকেই পরিকল্পনা করলেও ক্লোজিং কস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকায় শেষ মুহূর্তে আর্থিক চাপে পড়েন। বিশেষ করে যারা প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনছেন, তাদের মধ্যে এ নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা যায়।   সাধারণভাবে ক্লোজিং কস্ট বলতে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন ফি, কর, বিমা এবং আগাম পরিশোধযোগ্য খরচের সমষ্টিকে বোঝায়। এটি বাড়ির ডাউন পেমেন্টের অংশ নয়। আবার পুরো অর্থও ব্যাংক বা মর্টগেজ কোম্পানির কাছে যায় না। বরং ঋণদাতা, টাইটেল কোম্পানি, অ্যাটর্নি, সরকারি রেকর্ড অফিস, বিমা প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাদাতার কাছে এই অর্থের একটি অংশ পরিশোধ করা হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত বাড়ির ক্রয়মূল্যের প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ক্লোজিং কস্ট হতে পারে। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক হার নয়। বাড়ির অবস্থান, ক্রয়মূল্য, ঋণের ধরন, ঋণদাতা এবং স্থানীয় নিয়ম অনুযায়ী খরচ কমবেশি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এর পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। ক্লোজিং কস্টের মধ্যে কী কী খরচ থাকে? বাড়ি কেনার সময় ক্লোজিং কস্টের মধ্যে একাধিক খাতের অর্থ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সব ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রতিটি খরচ প্রযোজ্য না হলেও সাধারণত নিচের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।   লোন অরিজিনেশন ফি: মর্টগেজ ঋণ তৈরি ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ঋণদাতা যে ফি নেন, সেটি লোন অরিজিনেশন ফি। ঋণের আবেদন, নথিপত্র প্রস্তুত এবং ঋণ প্রক্রিয়াকরণের প্রশাসনিক খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।   অ্যাপ্রেইজাল ফি: বাড়িটির বাজারমূল্য নির্ধারণের জন্য একজন পেশাদার অ্যাপ্রেইজার নিয়োগ করা হয়। ঋণদাতা সাধারণত নিশ্চিত হতে চান যে বাড়ির মূল্য এবং প্রস্তাবিত ঋণের পরিমাণের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে। এই মূল্যায়নের জন্য যে অর্থ দিতে হয়, সেটি অ্যাপ্রেইজাল ফি।   ক্রেডিট রিপোর্ট ও আন্ডাররাইটিং ফি: ক্রেতার ক্রেডিট স্কোর, আয়, সম্পদ, ঋণ পরিশোধের ইতিহাস এবং আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করা হয়। এসব যাচাই ও ঋণ অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন ফি যুক্ত হতে পারে।   টাইটেল সার্চ ও টাইটেল ইন্স্যুরেন্স: বাড়িটির মালিকানা নিয়ে কোনো আইনি জটিলতা, বকেয়া ঋণ, অন্য কোনো ব্যক্তির দাবি বা মালিকানা সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হয়। পাশাপাশি ঋণদাতার স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সাধারণত লেন্ডারস টাইটেল ইন্স্যুরেন্স নেওয়া হয়। ক্রেতা চাইলে নিজের মালিকানা সুরক্ষার জন্য আলাদাভাবে ওনার্স টাইটেল ইন্স্যুরেন্সও নিতে পারেন।   অ্যাটর্নি ও সেটেলমেন্ট ফি: বাড়ির মালিকানা হস্তান্তর, চুক্তিপত্র যাচাই, আইনি নথি তৈরি এবং চূড়ান্ত লেনদেন সম্পন্ন করার জন্য অ্যাটর্নি বা সেটেলমেন্ট প্রতিষ্ঠানের ফি দিতে হতে পারে। অঙ্গরাজ্যভেদে এই প্রক্রিয়া ও খরচের ধরন আলাদা।   রেকর্ডিং ও সরকারি ফি: বাড়ির দলিল এবং মর্টগেজসংক্রান্ত নথি স্থানীয় কাউন্টির সরকারি রেকর্ডে নিবন্ধন করতে হয়। এ জন্য রেকর্ডিং ফি, ডিড রেকর্ডিং চার্জ এবং প্রযোজ্য সরকারি কর বা ট্রান্সফার ফি দিতে হতে পারে।   প্রিপেইড প্রপার্টি ট্যাক্স ও হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্স: বাড়ি কেনার সময় কিছু কর ও বিমার অর্থ আগাম পরিশোধ করতে হয়। যেমন, বাড়ির হোমওনার্স ইন্স্যুরেন্সের প্রথম বছরের প্রিমিয়াম এবং নির্দিষ্ট সময়ের প্রপার্টি ট্যাক্স। এসব খরচও অনেক সময় ক্লোজিংয়ের সময় পরিশোধ করতে হয়।   এসক্রো অ্যাকাউন্টের প্রাথমিক জমা: অনেক ঋণদাতা বাড়ির প্রপার্টি ট্যাক্স ও ইন্স্যুরেন্সের অর্থ সংগ্রহ এবং পরিশোধের জন্য এসক্রো অ্যাকাউন্ট তৈরি করেন। এই অ্যাকাউন্টে প্রাথমিক ব্যালান্স রাখার জন্য কয়েক মাসের কর ও বিমার অর্থ আগাম জমা দিতে হতে পারে।   ডিসকাউন্ট পয়েন্ট: কেউ যদি মর্টগেজের সুদের হার কমাতে চান, তাহলে ঋণের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ আগাম পরিশোধ করে ডিসকাউন্ট পয়েন্ট কিনতে পারেন। এটি বাধ্যতামূলক নয়। তবে কেউ এই সুবিধা নিলে সেই অর্থও ক্লোজিং কস্টের মধ্যে যুক্ত হয়।   এ ছাড়াও বাড়ির ধরন ও লেনদেন অনুযায়ী হোমওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বা এইচওএ ফি, কনডোমিনিয়াম চার্জ এবং অন্যান্য পরিদর্শনসংক্রান্ত খরচ যুক্ত হতে পারে। তবে সব খরচ প্রত্যেক ক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   ক্লোজিং কস্ট কি শুধু ক্রেতাকেই দিতে হয়? না। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনাবেচার ক্ষেত্রে ক্লোজিং কস্টের সব অর্থ যে ক্রেতাকেই বহন করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। চুক্তি এবং স্থানীয় প্রচলন অনুযায়ী কিছু খরচ বিক্রেতাও বহন করতে পারেন। আবার অনেক সময় বিক্রেতা ক্রেতাকে বাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ কমাতে আর্থিক সহায়তা দেন। এই সুবিধাকে বলা হয় সেলার কনসেশন বা সেলার ক্রেডিট।   উদাহরণ হিসেবে, একজন ক্রেতা ৪ লাখ ডলারের একটি বাড়ি কিনতে চাচ্ছেন। ডাউন পেমেন্টের পাশাপাশি তার ক্লোজিং কস্টের জন্য আরও ১২ হাজার ডলার প্রয়োজন। ক্রেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বিক্রেতা যদি ৮ হাজার ডলার ক্লোজিং কস্ট বহনের প্রস্তাব দেন, তাহলে ঋণদাতার অনুমোদন ও প্রযোজ্য নিয়মের মধ্যে থেকে সেই অর্থ ক্রেতার অনুমোদিত ক্লোজিং খরচ মেটাতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ক্রেতাকে নিজের পকেট থেকে পুরো ১২ হাজার ডলার দিতে হবে না। অবশিষ্ট ৪ হাজার ডলার দিতে হবে।   সেলার ক্রেডিট কীভাবে পাওয়া যায়? সাধারণত বাড়ি কেনার অফার দেওয়ার সময়ই এই সুবিধা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ক্রেতার রিয়েল এস্টেট এজেন্ট বিক্রেতার কাছে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডলার অথবা বাড়ির বিক্রয়মূল্যের নির্দিষ্ট শতাংশ ক্লোজিং কস্ট হিসেবে দেওয়ার প্রস্তাব করতে পারেন। বিক্রেতা রাজি হলে বিষয়টি ক্রয়চুক্তিতে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ঋণদাতার অনুমোদন অনুযায়ী চূড়ান্ত ক্লোজিং ডকুমেন্টে সেই অর্থ সমন্বয় করা হয়।   তবে সেলার ক্রেডিট মানে বিক্রেতা ক্রেতাকে সরাসরি হাতে নগদ টাকা দিয়ে দেবেন, এমন নয়। সাধারণত এই অর্থ অনুমোদিত ক্লোজিং খরচ ও প্রিপেইড খরচের বিপরীতে সমন্বয় করা হয়। ক্রেতার ডাউন পেমেন্টের বিকল্প হিসেবেও এটি ব্যবহার করা যায় না। ফলে অফার দেওয়ার সময় সেলার ক্রেডিটের বিষয়টি সঠিকভাবে চুক্তিতে উল্লেখ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ক্লোজিং কস্ট কমানোর উপায় কী? বাড়ি কেনার সময় কয়েকটি কৌশল অবলম্বন করলে ক্রেতারা নিজেদের প্রাথমিক খরচ কমাতে পারেন। এর মধ্যে অন্যতম হলো বিক্রেতার কাছ থেকে সেলার ক্রেডিট চাওয়া। বাড়ির অফার দেওয়ার সময় এজেন্টের মাধ্যমে বিষয়টি আলোচনা করা যেতে পারে।   এ ছাড়া ঋণদাতার কাছ থেকে লেন্ডার ক্রেডিট নেওয়ার সুযোগও রয়েছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে এর বিনিময়ে তুলনামূলক বেশি সুদের হার গ্রহণ করতে হয়। ফলে শুধু প্রাথমিক খরচ কমানোর দিকে না তাকিয়ে দীর্ঘমেয়াদে মোট কত অর্থ পরিশোধ করতে হবে, সেটিও হিসাব করা উচিত।   টাইটেল কোম্পানি, সেটেলমেন্ট সার্ভিস এবং অন্যান্য যেসব সেবা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর খরচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করাও উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি ডিসকাউন্ট পয়েন্ট কিনলে সুদের হার কমার বিপরীতে আগাম দেওয়া অর্থ দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী হবে কি না, তা যাচাই করা দরকার।   ক্লোজিংয়ের আগে কোন বিষয়গুলো যাচাই করবেন?যুক্তরাষ্ট্রের কনজ্যুমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর নিয়ম অনুযায়ী, মর্টগেজের আবেদন পাওয়ার পর ঋণদাতাকে সাধারণত তিন কর্মদিবসের মধ্যে লোন এস্টিমেট দিতে হয়। এতে সম্ভাব্য ঋণের শর্ত এবং আনুমানিক ক্লোজিং কস্ট উল্লেখ থাকে।   অন্যদিকে, নির্ধারিত ক্লোজিংয়ের অন্তত তিন কর্মদিবস আগে ক্রেতাকে চূড়ান্ত ক্লোজিং ডিসক্লোজার দিতে হয়। এতে ঋণের চূড়ান্ত শর্ত, বিভিন্ন খরচ, কে কোন অর্থ পরিশোধ করছেন এবং ক্রেতাকে শেষ পর্যন্ত কত টাকা দিতে হবে, তার বিস্তারিত হিসাব থাকে।   ক্লোজিং ডিসক্লোজার হাতে পাওয়ার পর লোন এস্টিমেটের সঙ্গে চূড়ান্ত খরচের পার্থক্য রয়েছে কি না, বিক্রেতার প্রতিশ্রুত ক্রেডিট সঠিকভাবে যুক্ত হয়েছে কি না এবং টাইটেল, অ্যাটর্নি, অ্যাপ্রেইজাল ও অন্যান্য ফি সঠিকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা উচিত। প্রিপেইড ট্যাক্স, ইন্স্যুরেন্স এবং এসক্রো অ্যাকাউন্টের অর্থের হিসাবও ভালোভাবে দেখা দরকার।   সবশেষে ক্যাশ টু ক্লোজ বা বাড়ি কেনার দিন নিজের পকেট থেকে ঠিক কত টাকা পরিশোধ করতে হবে, সেটি নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ ক্লোজিং কস্টের মোট পরিমাণ এবং ক্লোজিংয়ের দিন হাতে নিয়ে যেতে হবে এমন অর্থ এক বিষয় নয়। আগে দেওয়া ডিপোজিট, ঋণের অর্থ এবং বিক্রেতা বা ঋণদাতার অনুমোদিত ক্রেডিট সমন্বয়ের পর চূড়ান্ত ক্যাশ টু ক্লোজ নির্ধারিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা শুধু ডাউন পেমেন্টের বিষয় নয়। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে বিভিন্ন আইনি, আর্থিক ও প্রশাসনিক খরচ। তাই বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সম্ভাব্য ক্লোজিং কস্ট সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা জরুরি। বিশেষ করে প্রথমবার বাড়ি কিনতে যাওয়া বাংলাদেশি অভিবাসীদের উচিত বাড়ির দাম ও মাসিক মর্টগেজ পেমেন্টের পাশাপাশি ক্লোজিং কস্টের জন্যও আলাদা বাজেট রাখা।   একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছ থেকে ক্লোজিং কস্টের আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায় কি না, সেটিও বাড়ি কেনার অফার দেওয়ার সময় আলোচনা করা যেতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা, ঋণদাতার সঙ্গে আগাম আলোচনা এবং চুক্তির শর্ত ভালোভাবে যাচাই করলে বাড়ি কেনার সময় অপ্রত্যাশিত আর্থিক চাপ অনেকটাই কমানো সম্ভব।

৭৫ হাজার ডলারের কম আয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়তে পারবেন বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে

যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বোস্টন ইউনিভার্সিটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির নতুন ‘বিইউ প্রমিজ’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী যেসব পরিবারের বার্ষিক আয় ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম, তাদের সন্তানরা টিউশন ফি, আবাসন ও খাবারের খরচ ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে বিশেষ আর্থিক সহায়তা। পরিবারের আয় ও সম্পদের ভিত্তিতে এসব সুবিধা নির্ধারণ করা হবে।   বোস্টন ইউনিভার্সিটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ডলারের কম আয়ের পরিবারের যোগ্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় টিউশন ফি সম্পূর্ণ বহন করবে। পাশাপাশি আবাসন ও খাবারের খরচের একটি অংশও আর্থিক সহায়তার আওতায় আসবে। ফলে পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ ডলারের মধ্যে হলে শিক্ষাবাবদ বছরে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার দিতে হবে। ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার আয়ের পরিবারের জন্য এই ব্যয় ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে এবং ৭৫ হাজার ১ ডলার থেকে ১ লাখ ডলার আয়ের পরিবারের জন্য ১০ হাজার ডলারের মধ্যে সীমিত থাকবে।   বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে শুধু টিউশন ফি ৭৩ হাজার ২৪ ডলার। আবাসন, খাবার ও অন্যান্য খরচ যুক্ত হলে একজন আবাসিক শিক্ষার্থীর মোট বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৯৮ হাজার ৪১৯ ডলারে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে ৭৫ হাজার ডলার বা তার কম আয়ের পরিবারের জন্য সম্পূর্ণ শিক্ষাব্যয় বহনের এই উদ্যোগ উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বড় সুযোগ তৈরি করছে।   এই কর্মসূচির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আর্থিক প্রয়োজন পূরণের জন্য যে সহায়তা দেবে, তাতে কোনো শিক্ষার্থী ঋণ অন্তর্ভুক্ত করা হবে না। অর্থাৎ আর্থিক সহায়তার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে পরিশোধ করতে হবে এমন ঋণ নিতে বাধ্য করা হবে না। তবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা চাইলে আলাদাভাবে ফেডারেল শিক্ষাঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। সেটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক। তবে এই সুবিধা সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। বিইউ প্রমিজ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, যারা প্রথমবার বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হবেন। স্থানান্তরিত শিক্ষার্থী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা এই নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় পড়বেন না। পাশাপাশি পরিবারের আয়ের সঙ্গে সঞ্চয়, বিনিয়োগ, ব্যবসায়িক সম্পদ এবং নিজস্ব বাড়ি ছাড়া অন্যান্য স্থাবর সম্পদের পরিমাণও বিবেচনা করা হবে। তাই শুধু আয়ের সীমা পূরণ করলেই সুবিধা নিশ্চিত হবে না।   বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক সহায়তা পেতে শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফেডারেল স্টুডেন্ট এইডের জন্য আবেদনপত্র (এফএএফএসএ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত আর্থিক তথ্যসংক্রান্ত আবেদনপত্র (সিএসএস প্রোফাইল) জমা দিতে হবে। প্রথম বর্ষে আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারিত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি সহায়তা চার বছর পর্যন্ত বজায় রাখার ব্যবস্থাও রয়েছে। টিউশন ফি বাড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তির পরিমাণও একই হারে বাড়বে।   উচ্চশিক্ষার ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। হার্ভার্ড ও ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিসহ (এমআইটি) বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় আয়ভিত্তিক আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও অন্যান্য ব্যয় কমানোর সুযোগ দিচ্ছে। বোস্টন ইউনিভার্সিটির নতুন উদ্যোগও সেই ধারাকে আরও বিস্তৃত করল। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের জন্যও এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী ভালো ফলাফল নিয়ে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাদের পরিবারের আর্থিক পরিকল্পনায় এই ধরনের সহায়তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে আবেদন করার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত যোগ্যতা ও সম্পদের শর্ত ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে  চাকরি ছাড়লেন মুসলিম  শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা
আজারবাইজানে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে চাকরি ছাড়লেন মুসলিম শিক্ষিকা, কান্নায় ভেঙে পড়ল শিক্ষার্থীরা

মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ আজারবাইজানে স্কুলে হিজাব পড়া নিয়ে নতুন বিধিনিষেধের জেরে এক শিক্ষিকার চাকরি হারানোর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষিকাকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েছে তাঁর শিক্ষার্থীরা। রাজধানী বাকুর একটি স্কুলের এই ঘটনা দেশটিতে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও সামনে এনেছে।   গত ৮ থেকে ১১ অক্টোবরের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি বাকুর রিচার্ড সরগে নামের ৯০ নম্বর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থী হিজাব পরা এক শিক্ষিকাকে ঘিরে ধরে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়তে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, হিজাব খুলতে রাজি না হওয়ায় ওই শিক্ষিকাকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে তাঁর চাকরি ছাড়ার বা বরখাস্ত হওয়ার আনুষ্ঠানিক কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   আজারবাইজান সরকার গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষার্থীদের পোশাকসংক্রান্ত বিধিমালা সংশোধন করে। এরপর ৬ অক্টোবর শিক্ষকদের পোশাক নিয়েও পৃথক নির্দেশনা জারি করা হয়। নতুন নিয়মে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ পোশাক ও অতিরিক্ত পোশাকসামগ্রী ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যদিও বিধিমালায় সরাসরি হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ নেই, বাস্তবে কয়েকটি স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।   আল জাজিরার ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাকুর একটি বিদ্যালয়ে ২৩ বছরের অভিজ্ঞ ইংরেজি শিক্ষিকা গুলশান আলিয়েভাকে হিজাব পরে কর্মস্থলে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর মেয়েকেও একই কারণে স্কুলে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। গুলশান জানান, ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার মুখে পড়তে চান না তিনি। প্রয়োজনে নিজের অধিকার রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার কথাও জানান এই শিক্ষিকা।   আরেক শিক্ষিকা জাহরা হাসানোভা আল জাজিরাকে জানান, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে হিজাব পরে ক্লাসে আসতে নিষেধ করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, হিজাব পরা বা না পরা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পোশাকবিধি মেনে চলার প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে আজারবাইজান সরকার। দেশটির পার্লামেন্টের মানবাধিকার কমিটির চেয়ারম্যান জাহিদ ওরুজ জানিয়েছেন, বিদ্যালয়ের বাইরে হিজাব পরায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিন্ন পোশাকনীতি বজায় রাখাই সরকারের উদ্দেশ্য।   এদিকে হিজাবসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আজারবাইজানের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ হয়েছে। কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করেছে বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। ১২ অক্টোবর রাজধানী বাকুতে জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ৩৭ জনকে আটক করার কথা জানায় দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে আটক ব্যক্তির সংখ্যা আরও বেশি।   মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্কুলে হিজাব পরা ছাত্রীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, পোশাকের কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও শিক্ষার অধিকারের প্রশ্ন তৈরি করে। সংগঠনটি হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।   প্রায় ৯৬ শতাংশ মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ আজারবাইজান সাংবিধানিকভাবে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র। দেশটির সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাও রয়েছে। নতুন পোশাকবিধি ঘিরে বিতর্ক তাই শুধু হিজাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ম, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে এই ঘটনা।   সংবাদসূত্র: আল জাজিরা

ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ
ফ্লোরিডায় ভয়াবহ বন্যায় একাধিক সড়ক বন্ধ, স্কুলে ছুটি ও জরুরি সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ব্রেভার্ড কাউন্টিতে টানা ভারী বৃষ্টিপাতে আকস্মিক বন্যা দেখা দিয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকা। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সোমবার (২ নভেম্বর) কাউন্টির সব সরকারি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছে আদালতের কার্যক্রম। বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস জানিয়েছে, ব্রেভার্ড কাউন্টির কিছু এলাকায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে ওয়েস্ট মেলবোর্ন ও পাম বে এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সোমবার সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে এই দুই এলাকার জন্য বিশেষ ফ্ল্যাশ ফ্লাড ইমার্জেন্সি জারি করা হয়। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে নিচু এলাকা, রাস্তাঘাট এবং আন্ডারপাসে জীবনহানির ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২ নিউজ জানিয়েছে, বন্যার কারণে ব্রেভার্ড কাউন্টির বিভিন্ন সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হেলেন স্ট্রিটের কাছে মিন্টন রোডের উত্তরমুখী অংশ এবং ইউএস-১৯২ সড়কের কাছে মিন্টন রোডের দক্ষিণমুখী অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া স্টুয়ার্ট রোডের কাছে অরোরা রোড এবং সার্নো রোডের কিছু অংশ বন্ধ থাকার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সড়ক বন্ধের তালিকাও পরিবর্তিত হতে পারে।   পুলিশ জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় পানি জমে বেশ কয়েকটি গাড়ি আটকা পড়েছে। কোথাও কোথাও পানির গভীরতা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ায় চালকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ওয়েস্ট মেলবোর্ন পুলিশ বিভাগ বাসিন্দাদের সতর্ক করে জানিয়েছে, জরুরি প্রয়োজন ছাড়া গাড়ি নিয়ে বের হওয়া উচিত নয়। কোনো অবস্থাতেই পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা অতিক্রমের চেষ্টা করা যাবে না।   বন্যার কারণে ব্রেভার্ড কাউন্টির সব সরকারি স্কুলে সোমবারের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্টির ক্যাথলিক স্কুলগুলোও বন্ধ রয়েছে। একই কারণে ইস্টার্ন ফ্লোরিডা স্টেট কলেজের ক্লাস বাতিল করা হয়েছে। কলেজ কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার থেকে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।   শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, ব্রেভার্ড কাউন্টির আদালত এবং স্টেট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের কার্যক্রমও সোমবার বন্ধ রাখা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যার কারণে জরুরি সেবার গাড়ি চলাচলেও সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকর্মীদের নির্বিঘ্নে কাজ করার সুযোগ দিতে বলা হয়েছে।   ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পূর্ব-মধ্য ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় বন্যার আশঙ্কাজনিত সতর্কতা কার্যকর থাকার কথা। দিনের বাকি সময়ে আরও ১ থেকে ৩ ইঞ্চি এবং বিচ্ছিন্ন কিছু এলাকায় সর্বোচ্চ ৫ ইঞ্চি অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা জানিয়েছে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগ। আগে থেকেই মাটি পানিতে সম্পৃক্ত থাকায় নতুন বৃষ্টিতে দ্রুত জলাবদ্ধতা ও বন্যা তৈরি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়ার সতর্কবার্তা অনুসরণ করতে এবং পানিতে ডুবে যাওয়া সড়কের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে বলেছে। একই সঙ্গে জীবনহানির আশঙ্কা রয়েছে, এমন জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব কিংবা হতাহতের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

১৫৮ পরিবারের আবাসন উন্নয়নে আড়াই কোটি ডলারের উদ্যোগ
টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে ১৫৮ পরিবারের আবাসন উন্নয়নে আড়াই কোটি ডলারের উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিল শহরে সাশ্রয়ী আবাসন ধরে রাখা এবং নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর বসবাসের পরিবেশ উন্নত করতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত ২ নভেম্বর প্রকাশিত শহর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নগর কমিশন আবাসন সংস্কারের জন্য সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলারের হাউজিং রেভিনিউ বন্ড অনুমোদন করেছে।   এই অর্থ ব্যয় করা হবে শহরের অ্যাশ স্ট্রিট এলাকায় অবস্থিত ট্রপিক্যাল গার্ডেনস নামের একটি আবাসন প্রকল্পের সংস্কারকাজে। সেখানে মোট ১৫৮টি আবাসন ইউনিট রয়েছে। প্রকল্পটির লক্ষ্য নতুন ভবন নির্মাণ নয়, বরং বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসনগুলো সংস্কার করে দীর্ঘমেয়াদে বসবাসের উপযোগী রাখা।   শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সংস্কারকাজের মাধ্যমে আবাসনগুলোর নিরাপত্তা, বসবাসের পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। যেসব পরিবার সাশ্রয়ী ভাড়ার বাসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এই বন্ড ব্রাউনসভিল হাউজিং ফাইন্যান্স করপোরেশনের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে। নগর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, বন্ড ইস্যুর জন্য শহর সরকারকে সরাসরি অর্থায়নের দায় নিতে হবে না।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ও আবাসন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান পাওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো আবাসন সংস্কার করে সেগুলো সংরক্ষণ করা স্থানীয় পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   ব্রাউনসভিল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিদ্যমান আবাসন সুবিধা ধরে রাখা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
কোরআন অবমাননার ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন স্টকহোম জেলা আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার দায়ে জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত
প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২২:৫৩

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী কর্মী জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ৩০ অক্টোবর স্টকহোম জেলা আদালত এ রায় দেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।   তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্যান্ডবার্গকে প্রতিদিন ১০০ ক্রোনা হিসাবে মোট ৩ হাজার ক্রোনা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ১ হাজার ক্রোনা এবং সরকারি আইনজীবীর খরচ বাবদ রাষ্ট্রকে ১৭ হাজার ক্রোনা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে জরিমানা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার ওপর ২১ হাজার ক্রোনা আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে ২০২৫ সালে স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘আমরা আমাদের রাস্তায় কোনো মুসলিম দেখতে চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত ওই বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ২০২৪ সালের কোরআন অবমাননার ঘটনায় দণ্ডিত হলেও পরের বছরের ওই অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।   মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআনের একটি কপি পোড়ান জেড স্যান্ডবার্গ। এরপর বইটিতে লাথি মারেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন।   সুইডেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হলেও দেশটির আইনে কোনো জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাদের অবমাননা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা এবং কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য বা আচরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। স্যান্ডবার্গের মামলার রায়েও ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

বিওয়াইডির কর্মীসংখ্যা ১০ লাখ ২০ হাজার ছাড়ানোর তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১০ লাখের বেশি কর্মী নিয়ে শীর্ষে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, পেছনে ফেলল টেসলা, টয়োটা ও ফোর্ডকে
প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২২:১০

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চীনের বিওয়াইডি বিশ্বে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর সংখ্যা এখন ১০ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বিওয়াইডির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু সম্প্রতি এই বিশাল অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা, জেনারেল মোটরস, ফোর্ড এবং টেসলার সম্মিলিত কর্মীর সংখ্যার চেয়েও বিওয়াইডির কর্মীর সংখ্যা এখন বেশি। এই চারটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার। সেই হিসেবে বর্তমানে বিওয়াইডিতে তাদের তুলনায় প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার বেশি কর্মী কাজ করছেন।   গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিওয়াইডির মোট কর্মী ছিল প্রায় ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬০০ জন। আর মাত্র দশ মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে তা বেড়ে ১০ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বিশাল এই কর্মী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার জনই চীনের অভ্যন্তরে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে কর্মরত আছেন প্রায় ৬০ হাজার কর্মী। এর চেয়েও চমকপ্রদ তথ্য হলো প্রতিষ্ঠানটির অন্তত এক লাখ ২০ হাজার কর্মী কেবল গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করেন। তারা মূলত উন্নত মানের ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর, ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে গবেষণার কাজ করছেন।   বিওয়াইডির এত বিশাল কর্মী বাহিনীর পেছনে তাদের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থাই প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের জন্য বাইরের কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল থাকে সেখানে বিওয়াইডি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাটারি, চিপ, মোটর থেকে শুরু করে অন্যান্য সব অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি নিজেদের কারখানাতেই তৈরি করে। শুধু গাড়ি নির্মাণেই নয় তাদের কার্যক্রম ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, শক্তি সঞ্চয় এবং আধুনিক রেল পরিবহন ব্যবস্থা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সবকিছু নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির এত বিপুল পরিমাণ জনবলের প্রয়োজন হয়।   কর্মী সংখ্যা বাড়লেও গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা মিশ্র পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীনা এই অটোমোবাইল জায়ান্ট। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে মোট ৩১ লাখ ৩০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের গাড়ির বিক্রি অভাবনীয় হারে বেড়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তারা ১৩ লাখ ৪০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে যা আগের বছরের তুলনায় ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বর্তমানে তাদের মোট বিক্রির প্রায় ৪৩ শতাংশই আসছে বিদেশের বিভিন্ন বাজার থেকে যা কোম্পানিটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের একটি বড় প্রমাণ।   বিশ্বজুড়ে ব্যবসার প্রসার ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর মাত্র ৬ শতাংশ এখন চীনের বাইরে কাজ করছেন। একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বিওয়াইডির এই বিশাল কর্মী সংখ্যার মধ্যে তাদের ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য খাতের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অর্থাৎ এই ১০ লাখ কর্মী যে শুধু গাড়ি নির্মাণের সঙ্গেই যুক্ত আছেন বিষয়টি এমন নয়। তাই কর্মী বেশি হওয়ার মানেই যে তাদের গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা অন্যদের চেয়ে জাদুকরীভাবে বেশি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে নিজেদের প্রয়োজনীয় সবকিছু নিজেরাই তৈরির এই নিজস্ব কৌশল বিওয়াইডিকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে।   সংবাদ সূত্র: আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল সাময়িকী ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি

রামায়ণের পৌরাণিক পুষ্পক বিমানকে টেসলার নতুন রোডস্টারের সঙ্গে তুলনা করেছেন রণবীর কাপুর। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
৫ হাজার বছর আগেই ভারতের উড়ন্ত গাড়ি ছিল, ইলন মাস্কের টেসলার সঙ্গে রামায়ণের পুষ্পক রথের তুলনা রণবীরের
প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২১:২৮

আগামী ৫ নভেম্বর দীপাবলি উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা রামায়ণ। ছবিটির মুক্তির আগে প্রচারণার কাজে দারুণ ব্যস্ত সময় পার করছেন এর কলাকুশলীরা। সম্প্রতি স্টার টকস নামের একটি অনুষ্ঠানে বিশেষ সাক্ষাৎকারে অংশ নেন রণবীর কাপুর, রবি দুবে, রাকুল প্রীত সিং, যশ এবং পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি। এই আলাপের সময় প্রাচীন মহাকাব্যকে পর্দায় তুলে আনার বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলেন তারা। সেখানেই প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তির সঙ্গে আধুনিক বিজ্ঞানের একটি দারুণ তুলনা টেনেছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা রণবীর কাপুর।   সাক্ষাৎকার চলাকালে অনুষ্ঠানের সঞ্চালক রামায়ণ যুগের অবিশ্বাস্য সব অস্ত্রের প্রশংসা করেন যা আধুনিক সৃষ্টিকেও হার মানাতে সক্ষম। পাশাপাশি তিনি অস্কারজয়ী স্টুডিও ডাবল নেগেটিভ বা ডিএনইজি এর করা দুর্দান্ত ভিএফএক্স কাজেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন। পরিচালক নিতেশ তিওয়ারি জানান, পৌরাণিক সেই সৃষ্টিগুলোকে পর্দায় নতুন করে ফুটিয়ে তোলা সত্যিই দারুণ এক অভিজ্ঞতা ছিল। এর সূত্র ধরেই রণবীর কাপুর বলেন, ইলন মাস্ক সম্প্রতি একটি উড়ন্ত গাড়ি আবিষ্কার করেছেন, তবে আমার মনে হয় ভারত ৫ হাজার বছর আগেই এই কাজ করে দেখিয়েছিল।   রণবীর মূলত টেসলার নতুন উড়ন্ত গাড়ির সঙ্গে রামায়ণে বর্ণিত পুষ্পক রথের তুলনা করেছেন। গত ১৫ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে স্পেসএক্সের রকেট ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে টেসলা তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত রোডস্টারের প্রদর্শন করে। প্রদর্শনীতে বৈদ্যুতিক এই সুপারকারটি বিশাল এক বাঁকানো র‍্যাম্পে উল্টো হয়ে শূন্যে ভেসে থাকে এবং নিরাপদে মাটিতে অবতরণ করে। টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক জানান গাড়িটির প্রযুক্তি সফলভাবে কাজ করেছে এবং ২০২৮ সাল থেকে এর উৎপাদন শুরু হবে।   অন্যদিকে হিন্দু পুরাণ অনুসারে পুষ্পক রথ হলো একটি জাদুকরী উড়ন্ত রাজপ্রাসাদ। রামায়ণ সিনেমার ট্রেইলারে বিশাল আকারের এই উড়ন্ত যানটি দর্শকদের নজর কেড়েছে। পৌরাণিক কাহিনি অনুযায়ী স্বর্গের স্থপতি বিশ্বকর্মা ভগবান ব্রহ্মার জন্য এই রথটি তৈরি করেছিলেন। পরে ব্রহ্মা এটি সম্পদের দেবতা এবং রাবণের সৎ ভাই কুবেরকে উপহার দেন। কিন্তু রাবণ কুবেরকে পরাজিত করে পুষ্পক রথটি ছিনিয়ে নেন। মহাকাব্যে বলা হয়েছে, এই রথটি মনের গতিতে উড়তে পারত এবং যাত্রীর সংখ্যা অনুযায়ী নিজের আকার পরিবর্তন করতে পারত।   প্রাচীন ভারতীয় মহাকাব্য রামায়ণের ওপর ভিত্তি করে দুই পর্বের এই সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন নিতেশ তিওয়ারি। ছবিতে ভগবান রামের চরিত্রে অভিনয় করেছেন রণবীর কাপুর এবং সীতার চরিত্রে রয়েছেন সাই পল্লবী। রাবণের ভূমিকায় কন্নড় তারকা যশ, হনুমানের চরিত্রে সানি দেওল এবং লক্ষ্মণের চরিত্রে রবি দুবেকে দেখা যাবে। ছবির অন্যতম প্রযোজক যশ জানান, রামায়ণের এই নতুন উপস্থাপনটি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটেও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। নমিত মালহোত্রা ও যশের প্রযোজনায় ছবিটিতে সুরারোপ করেছেন এ আর রহমান এবং হ্যান্স জিমার।

ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন পারিশাদ কাভিয়ানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে সমর্থন না পেয়ে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন ছাড়লেন কানাডীয় নারী
প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ০:১২

ইরানের নারীদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের একাংশের নীরবতার সমালোচনা করে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নারী পারিশাদ কাভিয়ানি। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকা আন্দোলনের কিছু সমর্থক ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে একইভাবে সরব নন। এমনকি কেউ কেউ ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নিচ্ছেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে যে আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন, সেখানে মানবাধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়েছে।   ইরানে জন্ম নেওয়া কাভিয়ানি ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় চলে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানান, একসময় ফিলিস্তিনিদের অধিকারের দাবিতে আয়োজিত মিছিল ও কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে সাবেক আন্দোলনসঙ্গীদের কাছ থেকে সমকামীবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও নারীবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতাও আন্দোলন থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান কাভিয়ানি।   কাভিয়ানির মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ব্যক্তিদের ইরানি নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়েও কথা বলা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ইরানের নারীরা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরার স্বাধীনতা চাইলে আন্দোলনের অনেক সমর্থক নীরব থাকেন। কেউ কেউ আবার ইরানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশের বা গোষ্ঠীর জন্য আলাদা মানদণ্ড থাকা উচিত নয়।   ইরানে শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কাভিয়ানি বলেন, সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরা হতো। কিন্তু দেশের ভেতরে দারিদ্র্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অসুবিধার মতো সমস্যাগুলোও তিনি দেখেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দেশের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে বিদেশে সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন।   ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে আন্দোলন থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেন কাভিয়ানি। তাঁর বক্তব্য, ওই হামলার পর কিছু আন্দোলনসমর্থকের প্রতিক্রিয়া তাঁকে হতাশ করে। তিনি মনে করেন, কারও জাতীয়তা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে হত্যা, নির্যাতন কিংবা জিম্মি করে রাখার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা এবং তাদের জিম্মি করার বিরোধিতা করা উচিত, যে পক্ষই তা করুক না কেন। এ অবস্থানের কারণে আন্দোলনের কিছু মানুষের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানান তিনি।   কাভিয়ানি আরও বলেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কিছু সমর্থকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষে যায় এমন প্রচার ও বক্তব্য দেখে তিনি আরও অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকারের কথা বলা ব্যক্তিদের একটি অংশ নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ কারণে আন্দোলনটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা আর ধরে রাখতে চাননি তিনি।   ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে কাভিয়ানির বক্তব্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁর আন্দোলন ছাড়ার কারণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন একটি বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসর। কাভিয়ানির অভিযোগ আন্দোলনের সব সমর্থক বা সংগঠনের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ইরানের নারীদের স্বাধীনতার প্রশ্নগুলো পৃথক হলেও মানবাধিকারের বৃহত্তর আলোচনায় এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়।   সূত্র: ফক্স নিউজ ডিজিটাল

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়