সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
চীনা যন্ত্রাংশে দূরপাল্লার ক্ষে পণাস্ত্র তৈরি করছে হুথিরা, হু মকিতে ইসরায়েল
চীনা যন্ত্রাংশে দূরপাল্লার ক্ষে পণাস্ত্র তৈরি করছে হুথিরা, হু মকিতে ইসরায়েল

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (CAR)-এর একটি নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নিজেদের তৈরি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরব এবং ইসরায়েলে আঘাত হানতে পুরোপুরি সক্ষম।   বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এমন কিছু যন্ত্রাংশের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা দিয়ে তারা ইরানের বিখ্যাত 'খাইবার শেকান' প্রিসিশন-গাইডেড মিসাইলের আদলে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। এই অস্ত্রগুলোর রেঞ্জ প্রায় ১,২০০ মাইল বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।   গত বছর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ সাধারণ পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দুটি জাহাজ আটক করার পর বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। সিএআর-এর তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলোর মধ্যে কাস্টম মেটাল উপাদান, মোটর, এয়ারফ্রেম এবং রকেট স্থিতিশীল করার ফিনস বা ডানা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সাথে খাইবার শেকান সিরিজের কঠিন-জ্বালানির রকেট মোটরের যন্ত্রাংশের মিল রয়েছে।   বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই উপাদানগুলো চীনের একটি প্রিসিশন-মেটাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে এবং হুথিরা সম্ভবত এরই মধ্যে এসব মাঝারি পাল্লার অস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সিএআর-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফাবিয়ান হিঞ্জ জানিয়েছেন, এ ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানির অর্থ হলো তারা হয় এগুলো উৎপাদন করছে অথবা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের জন্য ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হুথিরা এখন অস্ত্র তৈরিতে অনেকটাই স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা সরবরাহকারীদের সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সম্পর্ক যে কতটা প্রসারিত হয়েছে, এটি তারই প্রমাণ।   জাতিসংঘের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনে হুথিদের অঞ্চলে জব্দ করা বেশিরভাগ ড্রোন ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশই চীন থেকে আসছে। লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র গত বছর চীনা কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করলেও, বেইজিং বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলছে।

১৬ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়ছে ৩.৬ শতাংশ, সুবিধা পাবেন সাড়ে ৭ কোটি মানুষ
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়ছে ৩.৬ শতাংশ, সুবিধা পাবেন সাড়ে ৭ কোটি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামাল দিতে সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সিকিউরিটি) ভাতার ‘কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’ বা কোলা (COLA) ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ)। গত চার বছরের মধ্যে বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।   আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী মিলিয়ে সাড়ে ৭ কোটিরও বেশি আমেরিকান নাগরিকের মাসিক ভাতা গড়ে প্রায় ৭৫ ডলার বেড়ে ২,১৭০ ডলারে দাঁড়াবে। এছাড়া সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) পাওয়া প্রায় ৭৩ লাখ মানুষ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকেই এই বর্ধিত সুবিধা পেতে শুরু করবেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সার্বিক মূল্যস্ফীতির সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতেই ভাতার হার ৩.৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা এবং বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন মনে করছেন, জীবনযাত্রার প্রকৃত খরচের তুলনায় এই বৃদ্ধি এখনো কিছুটা অপ্রতুল। সিনিয়র সিটিজেন্স লীগের নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টনের মতে, এটি বয়োজ্যেষ্ঠদের আর্থিক অবস্থার বাড়তি উন্নতি করবে না, বরং বেড়ে যাওয়া বিলের বোঝাই সামান্য হালকা করবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ভাতার বৃদ্ধির হার (২.৮%) টানা কয়েক মাস মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম ছিল, যার ক্ষতি এই নতুন বৃদ্ধি দিয়ে পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়।   অর্থনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের একাংশ আরও সতর্ক করছেন যে, চিকিৎসা ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে এই সুবিধার বড় একটি অংশই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটে নাও পৌঁছাতে পারে। বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য মেডিক্যার পার্ট-বি প্রিমিয়াম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি চেক থেকে কেটে নেওয়া হয়, যার ২০২৭ সালের নতুন হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি।   সরকারি তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেড়ে এখন ১৫.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অধিকারকর্মীরা বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রকৃত চিকিৎসা ব্যয়কে বিবেচনায় রেখে ‘সিপিআই-ই’ (CPI-E) ফর্মুলা অনুযায়ী ভাতা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে পিছিয়ে না পড়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো তাদের প্রাপ্য সুরক্ষা পেতে পারেন।

৪৫ মিনিট Ago
পরিষ্কার নদীকে আবারও ময়লার ভাগাড় বানাল মানুষ, ৮ মাসের পরিশ্রমে হতাশ পরিবেশকর্মী বিট্টু
পরিষ্কার নদীকে আবারও ময়লার ভাগাড় বানাল মানুষ, ৮ মাসের পরিশ্রমে হতাশ পরিবেশকর্মী বিট্টু

ভারতের মধ্যপ্রদেশের আজনার নদী টানা আট মাস ধরে পরিষ্কার করেছিলেন পরিবেশকর্মী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিট্টু তাবাহি। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, নদীটির তীরে আবারও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। নিজের আট মাসের এই কঠোর পরিশ্রমে জল ঢেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি চরম মর্মাহত হন। তবে হতাশা গ্রাস করলেও তিনি হাল ছাড়েননি; বরং আবারও নিজের উদ্যোগে সেই বর্জ্য পরিষ্কার করতে শুরু করেন।   ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিট্টু নদীটির এই বেহাল দশা তুলে ধরে চরম হতাশা প্রকাশ করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, "আমি কখনও কল্পনাও করিনি যে আমার আট মাসের কঠোর পরিশ্রম এভাবে জলে যাবে।" তার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।   সাধারণ মানুষের ন্যূনতম নাগরিক সচেতনতার অভাব নিয়ে নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি বিট্টুর অদম্য মানসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ভারতের মানুষ পরিচ্ছন্ন পরিবেশের যোগ্যই নয়।   সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিট্টু তাবাহি নামেই বেশি পরিচিত, পরিষ্কারের কাজ করার সময় নিজস্ব সরঞ্জাম ও গ্লাভস ব্যবহার করেন। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রথমে নদীর তীর থেকে এবং পরে জলের ভেতরে নেমে বর্জ্য তুলে আনেন। এর আগে সেপ্টেম্বরে তিনি ও তার দল দিল্লির যমুনা নদীর একটি অংশ থেকে ৫৮৫ কেজি এবং গুরুগ্রামের খেরকি দৌলা থেকে ২,৪৩৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করেছিলেন।   আধুনিক সরঞ্জাম ছাড়া তার এই ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এর আগেও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তবে আজনার নদীর এই সাম্প্রতিক দশা প্রমাণ করে দেয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতা ছাড়া এমন মহৎ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা বাস্তবে কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।

১ ঘন্টা Ago
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ ভিসা প্রত্যাখ্যান, স্প্রিং ইনটেকে পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারতীয় শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ ভিসা প্রত্যাখ্যান, স্প্রিং ইনটেকে পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারতীয় শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এক ভারতীয় শিক্ষার্থী। তবে শেষ মুহূর্তে ভিসা সাক্ষাৎকারে এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আসন্ন ২০২৭ সালের স্প্রিং ইনটেকে (জানুয়ারি সেশন) অংশ নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে ওই শিক্ষার্থী জানতে চেয়েছেন, ক্লাসের শুরুর বাকি মাত্র তিন মাসের মধ্যে আবারও ভিসার জন্য নতুন কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং আবেদন করা সম্ভব কি না।   পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি-করপাস ক্রিস্টিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর তিনি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দ, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চান।   ৩৬ হাজার ডলারের শিক্ষা ঋণ এবং বাবার জমানো ২৫ হাজার ডলার দিয়ে পড়াশোনার খরচের হিসাব দেখালেও, বাবার বার্ষিক আয় মাত্র ১৪ হাজার ডলার থাকায় প্রথম নয় মাসের আনুমানিক ৩৬ হাজার ডলার খরচের সাথে আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাঁর ভিসা বাতিল করা হয় বলে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন।   এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গুঞ্জন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়—একবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে এক বছর নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী এই তথ্যটি সঠিক নয়।   অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১৪(বি) ধারায় ভিসা বাতিল হলে যোগ্যতা প্রমাণের নতুন কোনো তথ্য বা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রদর্শন সাপেক্ষে যে কোনো সময় নতুন ফি দিয়ে পুনরায় আবেদন করা যায়; এর জন্য কোনো বাধ্যতামূলক এক বছরের সময়সীমা নেই। তবে এই মুহূর্তে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যথাসময়ে নতুন সাক্ষাৎকারের স্লট পাওয়া।   বিশেষজ্ঞরা এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মার্কিন ভিসা সিস্টেমে স্লট নজরদারি করার পাশাপাশি সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অফিসের সাথে সেশন পিছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি ভাতা বাড়ছে ৩.৬ শতাংশ, সুবিধা পাবেন সাড়ে ৭ কোটি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতির ধাক্কা সামাল দিতে সামাজিক নিরাপত্তা (সোশ্যাল সিকিউরিটি) ভাতার ‘কস্ট-অব-লিভিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’ বা কোলা (COLA) ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ)। গত চার বছরের মধ্যে বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয়ের ক্ষেত্রে এটিই সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।   আগামী জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে বয়োজ্যেষ্ঠ, প্রতিবন্ধী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী মিলিয়ে সাড়ে ৭ কোটিরও বেশি আমেরিকান নাগরিকের মাসিক ভাতা গড়ে প্রায় ৭৫ ডলার বেড়ে ২,১৭০ ডলারে দাঁড়াবে। এছাড়া সাপ্লিমেন্টাল সিকিউরিটি ইনকাম (এসএসআই) পাওয়া প্রায় ৭৩ লাখ মানুষ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকেই এই বর্ধিত সুবিধা পেতে শুরু করবেন।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্যমতে, গত সেপ্টেম্বরে বার্ষিক মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৭ শতাংশে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সার্বিক মূল্যস্ফীতির সাথে ভারসাম্য বজায় রাখতেই ভাতার হার ৩.৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে বিশেষজ্ঞরা এবং বিভিন্ন অধিকার রক্ষা সংগঠন মনে করছেন, জীবনযাত্রার প্রকৃত খরচের তুলনায় এই বৃদ্ধি এখনো কিছুটা অপ্রতুল। সিনিয়র সিটিজেন্স লীগের নির্বাহী পরিচালক শ্যানন বেন্টনের মতে, এটি বয়োজ্যেষ্ঠদের আর্থিক অবস্থার বাড়তি উন্নতি করবে না, বরং বেড়ে যাওয়া বিলের বোঝাই সামান্য হালকা করবে। কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, গত বছর ভাতার বৃদ্ধির হার (২.৮%) টানা কয়েক মাস মূল্যস্ফীতির তুলনায় কম ছিল, যার ক্ষতি এই নতুন বৃদ্ধি দিয়ে পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব নয়।   অর্থনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের একাংশ আরও সতর্ক করছেন যে, চিকিৎসা ব্যয়ের দ্রুত বৃদ্ধির কারণে এই সুবিধার বড় একটি অংশই শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের পকেটে নাও পৌঁছাতে পারে। বয়োজ্যেষ্ঠদের জন্য মেডিক্যার পার্ট-বি প্রিমিয়াম স্বয়ংক্রিয়ভাবে সোশ্যাল সিকিউরিটি চেক থেকে কেটে নেওয়া হয়, যার ২০২৭ সালের নতুন হার এখনো ঘোষণা করা হয়নি।   সরকারি তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বয়োজ্যেষ্ঠদের মধ্যে দারিদ্র্যের হার বেড়ে এখন ১৫.৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অধিকারকর্মীরা বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রকৃত চিকিৎসা ব্যয়কে বিবেচনায় রেখে ‘সিপিআই-ই’ (CPI-E) ফর্মুলা অনুযায়ী ভাতা নির্ধারণের দাবি জানাচ্ছেন, যাতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে পিছিয়ে না পড়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো তাদের প্রাপ্য সুরক্ষা পেতে পারেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ১৭:২
যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১ ভিসা প্রত্যাখ্যান, স্প্রিং ইনটেকে পড়াশোনা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভারতীয় শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এক ভারতীয় শিক্ষার্থী। তবে শেষ মুহূর্তে ভিসা সাক্ষাৎকারে এফ-১ (F-1) স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় আসন্ন ২০২৭ সালের স্প্রিং ইনটেকে (জানুয়ারি সেশন) অংশ নেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে নিজের এই অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে ওই শিক্ষার্থী জানতে চেয়েছেন, ক্লাসের শুরুর বাকি মাত্র তিন মাসের মধ্যে আবারও ভিসার জন্য নতুন কোনো অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া এবং আবেদন করা সম্ভব কি না।   পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি-করপাস ক্রিস্টিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর তিনি সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছিলেন। মাত্র এক মিনিটেরও কম সময়ে কনস্যুলার কর্মকর্তা তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের পছন্দ, পারিবারিক আর্থিক অবস্থা এবং অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে জানতে চান।   ৩৬ হাজার ডলারের শিক্ষা ঋণ এবং বাবার জমানো ২৫ হাজার ডলার দিয়ে পড়াশোনার খরচের হিসাব দেখালেও, বাবার বার্ষিক আয় মাত্র ১৪ হাজার ডলার থাকায় প্রথম নয় মাসের আনুমানিক ৩৬ হাজার ডলার খরচের সাথে আর্থিক অসঙ্গতি ছিল। কোনো বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ না দিয়েই তাঁর ভিসা বাতিল করা হয় বলে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন।   এই ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গুঞ্জন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়—একবার ভিসা প্রত্যাখ্যাত হলে এক বছর নতুন অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যায় না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নীতিমালা অনুযায়ী এই তথ্যটি সঠিক নয়।   অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের ২১৪(বি) ধারায় ভিসা বাতিল হলে যোগ্যতা প্রমাণের নতুন কোনো তথ্য বা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রদর্শন সাপেক্ষে যে কোনো সময় নতুন ফি দিয়ে পুনরায় আবেদন করা যায়; এর জন্য কোনো বাধ্যতামূলক এক বছরের সময়সীমা নেই। তবে এই মুহূর্তে মূল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে যথাসময়ে নতুন সাক্ষাৎকারের স্লট পাওয়া।   বিশেষজ্ঞরা এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মার্কিন ভিসা সিস্টেমে স্লট নজরদারি করার পাশাপাশি সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অফিসের সাথে সেশন পিছিয়ে নেওয়ার বিষয়ে যোগাযোগের পরামর্শ দিয়েছেন।

পরিষ্কার নদীকে আবারও ময়লার ভাগাড় বানাল মানুষ, ৮ মাসের পরিশ্রমে হতাশ পরিবেশকর্মী বিট্টু

ভারতের মধ্যপ্রদেশের আজনার নদী টানা আট মাস ধরে পরিষ্কার করেছিলেন পরিবেশকর্মী ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর বিট্টু তাবাহি। কিন্তু সম্প্রতি সেখানে গিয়ে তিনি দেখেন, নদীটির তীরে আবারও যত্রতত্র আবর্জনা ফেলে রাখা হয়েছে। নিজের আট মাসের এই কঠোর পরিশ্রমে জল ঢেলে দেওয়ার দৃশ্য দেখে তিনি চরম মর্মাহত হন। তবে হতাশা গ্রাস করলেও তিনি হাল ছাড়েননি; বরং আবারও নিজের উদ্যোগে সেই বর্জ্য পরিষ্কার করতে শুরু করেন।   ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিট্টু নদীটির এই বেহাল দশা তুলে ধরে চরম হতাশা প্রকাশ করেন। ভিডিওর ক্যাপশনে তিনি লেখেন, "আমি কখনও কল্পনাও করিনি যে আমার আট মাসের কঠোর পরিশ্রম এভাবে জলে যাবে।" তার এই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।   সাধারণ মানুষের ন্যূনতম নাগরিক সচেতনতার অভাব নিয়ে নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করার পাশাপাশি বিট্টুর অদম্য মানসিকতা ও নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হন। এক ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ভারতের মানুষ পরিচ্ছন্ন পরিবেশের যোগ্যই নয়।   সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী, যিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিট্টু তাবাহি নামেই বেশি পরিচিত, পরিষ্কারের কাজ করার সময় নিজস্ব সরঞ্জাম ও গ্লাভস ব্যবহার করেন। সাঁতার না জানা সত্ত্বেও ঝুঁকি নিয়ে তিনি প্রথমে নদীর তীর থেকে এবং পরে জলের ভেতরে নেমে বর্জ্য তুলে আনেন। এর আগে সেপ্টেম্বরে তিনি ও তার দল দিল্লির যমুনা নদীর একটি অংশ থেকে ৫৮৫ কেজি এবং গুরুগ্রামের খেরকি দৌলা থেকে ২,৪৩৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করেছিলেন।   আধুনিক সরঞ্জাম ছাড়া তার এই ব্যাপক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এর আগেও সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। তবে আজনার নদীর এই সাম্প্রতিক দশা প্রমাণ করে দেয়, সাধারণ মানুষের সচেতনতা ছাড়া এমন মহৎ ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ টিকিয়ে রাখা বাস্তবে কতটা কঠিন চ্যালেঞ্জ।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ ফুট উঁচু ঝরনার নিচে মৃ ত্যুফাঁদ, প্রাণ গেল ২৪ বছরের সাহিল জিলানির
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫ ফুট উঁচু ঝরনার নিচে মৃ ত্যুফাঁদ, প্রাণ গেল ২৪ বছরের সাহিল জিলানির

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গ্রেট স্মোকি মাউন্টেনস ন্যাশনাল পার্কের আব্রামস ফলস থেকে নিখোঁজ এক হাইকারের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত ওই তরুণের নাম সাহিল জিলানি (২৪), যার বাড়ি টেক্সাসের হিউস্টনে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, গত ৫ অক্টোবর টাউনসেন্ডের রিভারস্টোন ক্যাম্পগ্রাউন্ডে তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল এবং ৭ অক্টোবর আব্রামস ফলস ট্রেইলহেডের কাছে তার গাড়িটি পাওয়া যায়।   টানা কয়েকদিন নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ঝরনার জলের নিচ থেকে ডুবুরি দল তার মরদেহ উদ্ধার করে।   সাহিলের বোন আসমা জিলানি বুস্তামান্তে জানিয়েছেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হলেও তাদের ধারণা ঝরনার শক্তিশালী স্রোতই তার মৃত্যুর মূল কারণ। তিনি সতর্ক করে জানান, ২৫ ফুট উঁচু আব্রামস ফলসের নিচের গভীর জলাশয়ের শক্তিশালী ঘূর্ণিস্রোত এমনকি দক্ষ সাঁতারুদেরও টেনে নিচে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রাখে।   মর্মান্তিক এই দুঃসংবাদ শুনে তাদের মা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মৃতদেহ টেক্সাসে ফিরিয়ে আনা এবং মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাতে আসমা একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) পেজ খুলেছেন, যা ইতিমধ্যে বেশ কিছু তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে। মার্শাল আর্ট ও ফিটনেসের প্রতি অনুরাগী সাহিল একজন অত্যন্ত পরোপকারী মানুষ ছিলেন উল্লেখ করে তার বোন পর্যটকদের ঝরনার আশেপাশে সতর্ক থাকার এবং বিপৎসংকেতগুলো গুরুত্বের সাথে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

চীনা যন্ত্রাংশে দূরপাল্লার ক্ষে পণাস্ত্র তৈরি করছে হুথিরা, হু মকিতে ইসরায়েল
চীনা যন্ত্রাংশে দূরপাল্লার ক্ষে পণাস্ত্র তৈরি করছে হুথিরা, হু মকিতে ইসরায়েল

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত কনফ্লিক্ট আর্মামেন্ট রিসার্চ (CAR)-এর একটি নতুন প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা চীনা যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে নিজেদের তৈরি উন্নত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এই অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সৌদি আরব এবং ইসরায়েলে আঘাত হানতে পুরোপুরি সক্ষম।   বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হুথিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে এমন কিছু যন্ত্রাংশের সন্ধান পাওয়া গেছে, যা দিয়ে তারা ইরানের বিখ্যাত 'খাইবার শেকান' প্রিসিশন-গাইডেড মিসাইলের আদলে নিখুঁত নিশানায় আঘাত হানতে সক্ষম নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। এই অস্ত্রগুলোর রেঞ্জ প্রায় ১,২০০ মাইল বা তারও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।   গত বছর ইয়েমেনি কর্তৃপক্ষ সাধারণ পণ্যের আড়ালে লুকিয়ে রাখা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ দুটি জাহাজ আটক করার পর বিষয়টি প্রথম নজরে আসে। সিএআর-এর তথ্যমতে, উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলোর মধ্যে কাস্টম মেটাল উপাদান, মোটর, এয়ারফ্রেম এবং রকেট স্থিতিশীল করার ফিনস বা ডানা অন্তর্ভুক্ত ছিল, যার সাথে খাইবার শেকান সিরিজের কঠিন-জ্বালানির রকেট মোটরের যন্ত্রাংশের মিল রয়েছে।   বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই উপাদানগুলো চীনের একটি প্রিসিশন-মেটাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে এসেছে এবং হুথিরা সম্ভবত এরই মধ্যে এসব মাঝারি পাল্লার অস্ত্র তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে। সিএআর-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফাবিয়ান হিঞ্জ জানিয়েছেন, এ ধরনের যন্ত্রাংশ আমদানির অর্থ হলো তারা হয় এগুলো উৎপাদন করছে অথবা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের জন্য ইরান এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর ওপর নির্ভরশীল হুথিরা এখন অস্ত্র তৈরিতে অনেকটাই স্বনির্ভর হয়ে উঠছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনা সরবরাহকারীদের সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির সম্পর্ক যে কতটা প্রসারিত হয়েছে, এটি তারই প্রমাণ।   জাতিসংঘের অস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ইয়েমেনে হুথিদের অঞ্চলে জব্দ করা বেশিরভাগ ড্রোন ও অস্ত্রের যন্ত্রাংশই চীন থেকে আসছে। লোহিত সাগরে মার্কিন জাহাজে হামলা চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র গত বছর চীনা কোম্পানিগুলোকে অভিযুক্ত করলেও, বেইজিং বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা হুথি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে অস্ত্র বিক্রির ওপর জাতিসংঘের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে মেনে চলছে।

তেলাপোকা’র পর এবার ‘মাছি’ দল
ভারতের রাজনীতিতে ‘মাছি জনতা পার্টি’, তেলাপোকা দলের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিত

‘তেলাপোকা’র পর এবার ‘মাছি’ দল, প্রধান বিচারপতির মন্তব্য ঘিরে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক উদ্যোগ, জোটের সম্ভাবনা।   ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩ অক্টোবর ‘মাখি জনতা পার্টি’ নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরে জানায়, তারা ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে যোগাযোগ করে যৌথ উদ্যোগের বিষয়ে আলোচনা করতে চায়।    ঘটনার সূত্রপাত ৯ অক্টোবর ভারতের সুপ্রিম কোর্টে। দিল্লিতে তেলাপোকা জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থার অংশ হিসেবে ৫৭টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং কয়েকটি ট্রেন চলাচল বাতিলের বিষয়টি আদালতে ওঠে। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত হওয়া উচিত নয়। এ প্রসঙ্গেই তিনি মাছি মারতে হাতুড়ি ব্যবহারের উপমা দেন।    এই মন্তব্যের ‘মাছি’ শব্দটি ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হয় নতুন ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি। এর নাম ‘মাখি জনতা পার্টি’—সংক্ষেপে এমজেপি। সংগঠনটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পৃষ্ঠায় শিক্ষার্থী আরিয়ানকে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে বলে হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে।    সংগঠনটির দাবি, ইনস্টাগ্রামে কার্যক্রম শুরুর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখ ৩০ হাজার ছাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও মিলিয়ে ৪০ লাখের বেশি বার দেখা হয়েছে। এগুলো সংগঠনটির নিজস্ব দাবি; স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত পরিসংখ্যান হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।   তেলাপোকা জনতা পার্টি’র সঙ্গে সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। মাছি জনতা পার্টি জানিয়েছে, পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তারা তেলাপোকা জনতা পার্টির সঙ্গে যোগাযোগ করতে আগ্রহী। তবে দুই সংগঠনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক জোট চূড়ান্ত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি।    তেলাপোকা জনতা পার্টির উত্থানও শুরু হয়েছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া থেকে। পরে সংগঠনটি তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও সরকারি জবাবদিহির মতো বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে তারা ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রতিবাদ করেছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।    প্রধান বিচারপতির একটি উপমামূলক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘মাছি জনতা পার্টি’র আবির্ভাব ভারতের অনলাইন রাজনৈতিক ব্যঙ্গের নতুন উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তবে সংগঠনটি ভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, নাকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকেন্দ্রিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবেই থাকবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যে আইনজীবী হিসেবে পেশাগত সনদ পেয়েছেন ২৪ বছর বয়সী মারিয়া ভিটোরিয়া গোমেস দা সিলভা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, প্রথম চেষ্টাতেই আইনজীবী হলেন ব্রাজিলের মারিয়া
প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২৩:৫৯

জন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা। তবে সেই সীমাবদ্ধতা ব্রাজিলের ২৪ বছর বয়সী মারিয়া ভিটোরিয়া গোমেস দা সিলভার আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থামাতে পারেনি। সহায়ক প্রযুক্তির সাহায্যে পড়াশোনা করে প্রথমবারেই আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দেশটির গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি থেকে পেশাগত সনদও পেয়েছেন মারিয়া। তার এই অর্জন নতুন করে সামনে এনেছে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ এবং পেশাগত জীবনে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব।   মারিয়া ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের গোইয়ানেশিয়া শহরের বাসিন্দা। জন্মগত গ্লুকোমার কারণে জন্ম থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি নেই। ছোটবেলায় তিনি ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়তে শেখেন। এরপর সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি একটি পুলিশ স্টেশন এবং গোইয়াস রাজ্যের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার আইন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় অংশ নেন।   ব্রাজিলে আইন বিষয়ে স্নাতক হলেই সরাসরি আইনজীবী হিসেবে কাজ করা যায় না। পেশাগত নিবন্ধন পেতে দেশটির আইনজীবী সমিতি, ওএবির আয়োজিত পরীক্ষা পাস করতে হয়। এই পরীক্ষায় দুটি ধাপ রয়েছে। মারিয়া প্রথমবার অংশ নিয়েই দুই ধাপ অতিক্রম করেন। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তিনি পর্দার লেখা পড়ে শোনায় এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, যা কম্পিউটার বা মুঠোফোনে প্রদর্শিত লেখা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে শোনায়। এ ধরনের প্রযুক্তির সাহায্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বই, নথি, অনলাইন পাঠ্যসামগ্রী ও পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ আরও স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারেন।   পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে মারিয়া ফৌজদারি আইন বেছে নেন। সেখানে তাকে একটি মামলায় আসামিপক্ষের জবাব প্রস্তুত করার মতো ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন তিনি। আইনজীবী সমিতির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরেক তরুণী লরা সোয়ারেস ফেরেইরাও প্রথম চেষ্টায় উত্তীর্ণ হন। লরার দৃষ্টিশক্তি কম এবং পরীক্ষায় তিনি পাঠক ও লিখন-সহায়তাকারীর সহযোগিতা নেন। দুই তরুণীই দ্বিতীয় ধাপে ফৌজদারি আইন বেছে নিয়েছিলেন এবং একই ধরনের ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দেন।   গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মারিয়া ও লরা আনুষ্ঠানিক শপথ নেন এবং পেশাগত পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তাদের স্বাগত জানান সমিতির সভাপতি রাফায়েল লারা মার্তিন্স। তিনি নতুন আইনজীবীদের পেশাগত বিকাশ এবং অধিকার সুরক্ষায় সমিতির সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই অনুষ্ঠানে পরিচয় হওয়ার আগে দুই তরুণীর মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, প্রথমবারেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ফৌজদারি আইন বেছে নেওয়ার মতো একাধিক মিল তাদের অভিজ্ঞতাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে।   আইনজীবী হিসেবে এখন মারিয়ার সামনে নতুন অধ্যায়। তিনি ফৌজদারি ও দেওয়ানি, দুই ধরনের মামলায় কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। তার অর্জন দেখিয়েছে, উপযুক্ত সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রবেশগম্য শিক্ষার সুযোগ থাকলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও জটিল পেশাগত পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। তবে এ ধরনের সাফল্য নিশ্চিত করতে শুধু ব্যক্তিগত অধ্যবসায়ই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। পরীক্ষায় প্রবেশগম্য উপকরণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পেশাগত ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পথ আরও সহজ হতে পারে।   সূত্র: ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি (ওএবি-জিও), মাইস গোইয়াস।

ফিলিপাইনের আপায়াও অঞ্চলের শিশু জারেন গামোগানের মুখ ও শরীরের বিভিন্ন অংশে জন্ম থেকেই অতিরিক্ত লোম রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ায় সন্তান ‘অভিশপ্ত’ ভেবেছিলেন মা, চিকিৎসকেরা জানালেন বিরল রোগ
প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২৩:৩০

ফিলিপাইনের পাহাড়ি অঞ্চল আপায়াওয়ের দুই বছর বয়সী শিশু জারেন গামোগানের শরীরে জন্ম থেকেই অস্বাভাবিকভাবে ঘন লোম। মাথাভর্তি চুলের পাশাপাশি তার মুখ, গলা, পিঠ ও হাতের বিভিন্ন অংশেও কালো লোম রয়েছে। সন্তানের এমন শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রথমে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা আলমা। একপর্যায়ে তিনি ধারণা করেন, গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ার কারণেই হয়তো ছেলের এমন অবস্থা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর কথায় সেই আশঙ্কা আরও বাড়ে। তবে পরে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির এই অবস্থার সঙ্গে মায়ের ওই খাবার খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   আলমার ভাষ্য অনুযায়ী, জারেনের জন্মের আগে গর্ভাবস্থায় তার বন্য বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রতি অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় এলাকায় এটি একটি পরিচিত খাবার হিসেবে বিবেচিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় গ্রামের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কালো রঙের একটি বন্য বিড়াল খুঁজতে যান তিনি। পরে সেটি ভেষজ উপাদান দিয়ে রান্না করে খান। কিন্তু সন্তান জন্মের পর জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম দেখে তিনি নিজের ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক খুঁজতে থাকেন। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত করলেও আলমা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।   চিকিৎসকেরা জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর কারণ হিসেবে হাইপারট্রাইকোসিস নামের একটি বিরল শারীরিক অবস্থার কথা জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থায় শরীরের এমন সব অংশে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে, যেখানে সাধারণত এত ঘন লোম থাকে না। এটি জন্মগত হতে পারে, আবার জীবনের পরবর্তী সময়েও দেখা দিতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়, তা নির্ভর করে এর ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণের ওপর। জারেনের ক্ষেত্রে রোগটির নির্দিষ্ট ধরন বা জিনগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে রোগটি অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ‘প্রতি এক শ কোটি মানুষের মধ্যে একজন’ আক্রান্ত হওয়ার হিসাবটির নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগত ভিত্তি স্পষ্ট নয়।   জারেন তিন ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান। তার মা জানিয়েছেন, ছেলেটি হাসিখুশি ও খেলাধুলাপ্রিয়। তবে ভবিষ্যতে স্কুলে ভর্তি হলে অন্য শিশুদের আচরণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। শারীরিক গঠনে পার্থক্যের কারণে জারেনকে যেন কেউ উপহাস বা হয়রানি না করে, সেটিই এখন তার মায়ের বড় চিন্তা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, হাইপারট্রাইকোসিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন ও কারণের ওপর। কিছু ক্ষেত্রে লোম কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, তবে সব ধরনের ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা কার্যকর হয় না। জারেনের চিকিৎসা বা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।   জারেনকে নিয়ে সংবাদটি ২০২৪ সালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঘটনাটি আবার সামনে এলেও একে সাম্প্রতিক কোনো জন্ম বা নতুন রোগনির্ণয়ের ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার কারণে হাইপারট্রাইকোসিস হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: LADbible, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

রাজি নারিনসিংহের মুখে অনিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনের পর দেখা দেয় দীর্ঘস্থায়ী বিকৃতি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
কম খরচে সৌন্দর্যচর্চা করাতে গিয়ে মুখ বিকৃত, ট্রান্সজেন্ডার নারীর মুখে সিমেন্ট ও আঠা পুশ করেন ভুয়া চিকিৎসক
প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২২:১৬

সাশ্রয়ী খরচে মুখের গড়নে নারীত্বের ছাপ আনতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সজেন্ডার নারী রাজি নারিনসিংহ। কিন্তু লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কম খরচে সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর তাঁর মুখে দেখা দেয় গুরুতর বিকৃতি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্ট, খনিজ তেল এবং গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতে ব্যবহৃত এক ধরনের পদার্থ। পরে ক্ষতস্থান বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় সুপার গ্লু।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার। ২০০৫ সালের দিকে মুখের গড়ন পরিবর্তনের আশায় নারিনসিংহ ওনিল রন মরিসের কাছে যান। পরিচিতজনদের মাধ্যমে মরিসের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পেশাদার প্লাস্টিক সার্জনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। কম খরচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আশায় তিনি মরিসের কাছে ইনজেকশন নেন। তবে পরে জানা যায়, যে পদার্থকে তিনি নিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিএস মায়ামির পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিস দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থানে লাইসেন্স ছাড়াই সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দিতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর কাছে যাওয়া কয়েকজনের ধারণা ছিল, তাঁদের শরীরে সিলিকনজাতীয় উপাদান প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিশ্রণে সিমেন্ট, খনিজ তেল, গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতের পদার্থ এবং আঠার মতো উপাদান ছিল।   ইনজেকশনের পর নারিনসিংহের মুখে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। গালের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে, ত্বকের নিচে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় এবং থুতনি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক গড়নও বদলে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরে শক্ত হয়ে যাওয়া উপাদান সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনি লাইসেন্সধারী প্লাস্টিক সার্জনের সাহায্য নেন।   নারিনসিংহের মুখের ক্ষতি সংশোধনে একাধিক ধাপে চিকিৎসা করতে হয়। তাঁর মুখে জমাট বেঁধে যাওয়া পদার্থের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারে গলফ বলের কাছাকাছি আকারের সিমেন্টের মতো শক্ত পিণ্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এ ধরনের পদার্থ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর তা সম্পূর্ণভাবে সরানো বা আগের গড়ন ফিরিয়ে আনা সহজ নয়।   পরবর্তী সময়ে নারিনসিংহের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বটচড’-এও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জটিলতা তৈরি হওয়া সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার পর রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা দেখানো হয়। নারিনসিংহের ঘটনা আলোচনায় আসে মূলত মুখে জমে থাকা শক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গড়ন সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে।   তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ কম হলেও অনিরাপদ পদ্ধতির পরিণতি সামলাতে অনেক বেশি অর্থ, সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যে ইনজেকশনের জন্য কয়েকশ ডলার খরচ হয়েছিল, তার পরবর্তী জটিলতা সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, শরীরের টিস্যুতে অপরিচিত পদার্থের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ।   মরিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ইনজেকশন নেওয়া একাধিক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও উঠে আসে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষতির ধরন একই ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।   এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রোগী অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই না করে কেবল পরিচিতজনের সুপারিশ বা কম খরচের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য অনুমোদিত নয়, এমন রাসায়নিক বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পদার্থ টিস্যুর ক্ষতি, সংক্রমণ, বিকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে।   নারিনসিংহের ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যর্থ সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা ও অজানা উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসাসেবাদাতার লাইসেন্স যাচাই করা এবং ইনজেকশনে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা জরুরি। কাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এ ধরনের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিবিএস মায়ামি ও আপসোকল (Upsocl)।

পাকিস্তানের পদার্থবিজ্ঞানের স্বর্ণপদকজয়ী শিক্ষার্থী লাইবা এজাজ, যাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার নামে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ৯৩ লাখ রুপি প্রতারণা, পদার্থবিজ্ঞানে স্বর্ণপদকজয়ী ছাত্রীর মৃত্যু
প্রকাশ: অক্টোবর ১২, ২০২৬ ২১:৪৮

যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও শিক্ষার্থী ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানের এক মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ৯৩ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ২৪ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের স্বর্ণপদকজয়ী লাইবা এজাজের মৃত্যু ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) প্রতারণার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।   পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধার বাসিন্দা লাইবা এজাজের মরদেহ গত ৯ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদের জি-১০ এলাকার একটি সাপ্তাহিক বাজারসংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার জন্য দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত চলছে।   দ্য মিডিয়া লাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাইবা ও তাঁর পরিবারকে হার্ভার্ডে ভর্তি, বৃত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুহাম্মদ নওমান নামের এক ব্যক্তি। পরিবারের অভিযোগ, নওমান ও তাঁর এক সহযোগী ফাতিমা সরওয়ার মিলে ভুয়া ভর্তি-সংক্রান্ত চিঠি, বৃত্তির কাগজপত্র এবং অর্থ পরিশোধের রসিদ সরবরাহ করেন। এসব নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরিবারটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি।   তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া ৯৩ লাখ পাকিস্তানি রুপির মধ্যে ২৯ লাখ রুপি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল। বাকি অর্থ নগদে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য বিনিময় হার অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অঙ্কের। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, লাইবার যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁদের সঞ্চয় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়েছিল। জাল কাগজপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি গভীর মানসিক চাপে পড়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।   লাইবা ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তিনি শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা নওমানের সঙ্গে পরিচিত হন। নওমান দাবি করেছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও ভিসার ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু পরে তাঁর দেওয়া নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেঙে পড়ে।   লাইবার পরিবারের আর্থিক ত্যাগের বিষয়টিও ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তাঁর বাবা ১৯৯৪ সাল থেকে ইসলামাবাদের রাস্তায় দুধ ও দই বিক্রি করে সংসার চালান। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে না পারলেও চার মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। লাইবা ছিলেন সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বড় বোন চীনে বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে লাহোরে একটি বড় চীনা প্রতিষ্ঠানে অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। পরিবারের ভাষ্য, বোনের পথ অনুসরণ করে লাইবাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলেন।   মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁর বাবা পরিবারের জন্য কেনা একটি জমি বিক্রি করেন। লাইবার মা-ও অর্থের ব্যবস্থা করতে নিজের গয়না বন্ধক রাখেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও লাইবা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইসলামাবাদ পুলিশের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলা হয় এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ ও এফআইএ আলাদাভাবে মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং কথিত প্রতারণার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করছে।   এফআইএ ১০ অক্টোবর নওমান ও ফাতিমা সরওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন নওমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছেন বলে জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে, তাই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।   এফআইএ মহাপরিচালক উসমান আনোয়ার ঘটনাটিকে প্রচলিত শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার চেয়ে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে দ্য মিডিয়া লাইন জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নওমানের পরিচিত হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের ভাষ্য, ওই নারীর মাধ্যমে বৃত্তি ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার নথি পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবারটি পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি যাচাইয়ের চেষ্টা করে।   মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নওমানের মোবাইল ফোনে অন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার সম্ভাব্য তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, এর আগে কোয়েটায় দুর্নীতিবিরোধী বিভাগে কাজ করার সময়ও নওমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   ঘটনাটি পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির এফআইএ এর আগেও ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি চিঠি, বৃত্তির নথি, ভিসা এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করেছে। লাহোরভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক বিলাল রাঞ্জার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্রুত বা সহজ পথ খুঁজতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অনির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীদের ফাঁদে পড়েন। তবে তিনি তরুণদের মধ্যে জাল নথি ব্যবহারের যে উচ্চ হার উল্লেখ করেছেন, তার পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেননি।   ইসলামাবাদভিত্তিক তরুণ অধিকারকর্মী নাহিদ খান এ ঘটনাকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং দেশে সীমিত সুযোগের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ খুঁজছেন অনেক তরুণ। এ পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি।   লাইবার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং এর সঙ্গে কথিত প্রতারণার সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান। এ ঘটনা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সরকারি ভিসা নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব সামনে এনেছে।   সূত্র: দ্য মিডিয়া লাইন, ডন, জিও নিউজ

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়