সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
নিউইয়র্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ
নিউইয়র্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় বাংলাদেশিদের পরিচালিত অন্যতম বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) বন্ধ করে দিয়েছে নগরীর ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই)। মসজিদে চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্পে স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার সেফটি বা অগ্নিঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার ওই মসজিদে জুমার নামাজও স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   এফডিএনওয়াই-এর স্পেশাল ইন্সপেকশন ইউনিটের ফায়ার প্রোটেকশন ইন্সপেক্টর টমাস ফোর্ড জানান, বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার পর তারা মসজিদটি পরিদর্শনে যান। সেখানে স্প্রিংকলার ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য তা সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থাপন না করা পর্যন্ত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।   ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান রেখেই তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তাকেই সবার আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। টমাস ফোর্ড আরও জানান, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ শেষ হলে তারা পুনরায় পরিদর্শন করবেন এবং সব নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তবেই পুনরায় কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হবে।   জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টি ও কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার জানান, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তারা আশা করেছিলেন আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এটি সম্পন্ন হবে। তবে এর আগেই জুমার নামাজের ঠিক আগে কার্যক্রম স্থগিতের এই নির্দেশ আসে।   তিনি জানান, নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জুমার নামাজ আদায় করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশা জানান যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা আবারও কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত মুসল্লিদের সাময়িকভাবে আশেপাশের অন্যান্য মসজিদে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   জেএমসির চলমান এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে মসজিদের হিফজ বিভাগটি দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলায় স্থানান্তর, প্রায় ১৮০ জন মুসল্লির জন্য নামাজের অতিরিক্ত জায়গার ব্যবস্থা করা, ভবনের পুরোনো ও নতুন অংশের সংযোগ উন্নত করা এবং একটি নতুন লিফট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অবশিষ্ট সম্প্রসারণ কাজের জন্য গত ২৪ অক্টোবর আয়োজিত এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলারের অনুদান ও প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

৩ মিনিট Ago
আঘাতে ১০ বছরের পালিত  শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে আগেও নির্যাতনের অভিযোগ
আঘাতে ১০ বছরের পালিত শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে আগেও নির্যাতনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ১০ বছর বয়সী পালিত শিশু মালেশিয়া আলফোর্ডের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পালক মা কারপ্রাইস উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে আগেও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। পাঁচ বছর আগে তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা চার বছর বয়সী আরেক শিশুকে গুরুতর অপুষ্টি ও মস্তিষ্কে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর উইলিয়ামসকে ভবিষ্যতে আর পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে আদালতে দাখিল করা একটি মামলায় উল্লেখ রয়েছে। নতুন করে এই তথ্য সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের পালক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি ১৩ হিউস্টনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে উইলিয়ামসের বাড়িতে থাকা চার বছর বয়সী এক শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরে অপুষ্টি, মস্তিষ্কে আঘাত, মুখে ক্ষত এবং নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করেন। চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে প্রায় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। শিশুটির পরিবারের পক্ষে আইনজীবী নাদিম বেজার জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল।   ২০২৪ সালে ওই শিশুর পরিবারের পক্ষে তাবর চিলড্রেনস সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ঘটনার পর রাজ্য ও নগর কর্তৃপক্ষের একটি পর্যালোচনা প্যানেল উইলিয়ামসকে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। মামলাটি ২০২৬ সালে ২০ লাখ ডলারে নিষ্পত্তি হয়। তবে পেনসিলভানিয়ার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উইলিয়ামসের আপিলের পর আগের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে করা শিশু নির্যাতনের ইঙ্গিতবাহী সরকারি প্রতিবেদন বাতিল করা হয়েছিল। অর্থাৎ আগের অভিযোগে তাঁকে ফৌজদারি আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।   এদিকে মালেশিয়া আলফোর্ডের মৃত্যুর ঘটনায় উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে হত্যা, শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করা, আলামত নষ্ট করা এবং মরদেহের অবমাননাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর শিশুটিকে সর্বশেষ জীবিত দেখা যায়। ২৬ অক্টোবর তাকে নিখোঁজ দেখিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। প্রায় ১০ দিন অনুসন্ধানের পর গত ৪ নভেম্বর নিউ জার্সির লিন্ডেনওল্ড এলাকার একটি গাড়ির ট্রাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভোঁতা বস্তুর আঘাত শনাক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে এনবিসি ১০ জানিয়েছে, মালেশিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে কয়েকজন শিশু সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, উইলিয়ামস শিশুটিকে মারধর করতেন, খাবার ও পানি দেওয়া বন্ধ রাখতেন এবং ভারী ভেস্ট পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে বাধ্য করতেন। এসব অভিযোগ পুলিশি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, শিশুটি মারা যাওয়ার পর তার ফোন ব্যবহার করে এমন বার্তা পাঠানো হয়েছিল, যাতে তাকে জীবিত ও অন্যত্র অবস্থান করছে বলে মনে হয়। তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি।   আইনজীবী নাদিম বেজার প্রশ্ন তুলেছেন, আগের ঘটনায় গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ এবং ভবিষ্যতে পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ থাকার পরও কীভাবে উইলিয়ামস আবার একটি শিশুর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, শুধু পালক অভিভাবক নয়, শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকাও তদন্ত করা প্রয়োজন। মালেশিয়ার দেখভালের দায়িত্বে ছিল ফিলাডেলফিয়ার শিশু কল্যাণ বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ক্যাথলিক কমিউনিটি সার্ভিসেস।   এ ঘটনায় ফিলাডেলফিয়ার শিশু কল্যাণ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট পালক পরিচর্যা সংস্থাগুলোর তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মালেশিয়ার মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও শিশুটির পালক পরিবারে অবস্থানের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীরা এখন শুধু শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা নয়, আগের অভিযোগের পরও কীভাবে তিনি আবার পালক অভিভাবক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।   সংবাদসূত্র: এবিসি ১৩ হিউস্টন, ৬এবিসি ফিলাডেলফিয়া।

৪ মিনিট Ago
দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। ছবি: সংগৃহীত
১৭ বছর বয়সে আড়াই হাজার কানাডিয়ান ডলার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান ইলন মাস্ক!

দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে মাত্র ১৭ বছর বয়সে কানাডায় পাড়ি জমান ইলন মাস্ক। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, মন্ট্রিয়লে পৌঁছানোর সময় তাঁর কাছে ছিল আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ কানাডিয়ান ডলার। সঙ্গে ছিল বই ও কাপড়ভর্তি দুটি ব্যাগ। নতুন দেশে স্থায়ীভাবে থাকার জায়গা কিংবা নিশ্চিত কোনো চাকরি ছিল না। প্রযুক্তি খাতে কাজ করার স্বপ্ন নিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর নতুন জীবনের সংগ্রাম।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত, বিশেষ করে সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করার আকাঙ্ক্ষা থেকেই প্রথমে কানাডায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মাস্ক। তাঁর মা কানাডায় জন্মগ্রহণ করায় দেশটির নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ ছিল। মন্ট্রিয়লে পৌঁছে প্রথম কয়েক দিন একটি যুব হোস্টেলে কাটান তিনি। এরপর প্রায় ১০০ ডলারের বাস টিকিট কিনে গ্রেহাউন্ডে চড়ে কানাডার বিভিন্ন এলাকায় যাত্রা শুরু করেন।   এরপর সাসকাচুয়ান প্রদেশের সুইফট কারেন্টে এক আত্মীয়ের গমের খামারে কাজ পান মাস্ক। সেখানে প্রায় ছয় সপ্তাহ ধরে শস্য রাখার গুদাম পরিষ্কার, সবজি বাগানের পরিচর্যা এবং খামারের বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন। খামারে কাজ করার পাশাপাশি নিজের থাকার ও জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থা করতে বিভিন্ন ধরনের শ্রমসাধ্য কাজ করতে হয়েছে তাঁকে।   পরে ভ্যাঙ্কুভারে গিয়ে কাঠ কাটার কাজ শুরু করেন। একটি লাম্বার মিলে বয়লার পরিষ্কারের কাজও নেন তিনি। কাজটি ছিল অত্যন্ত কঠিন ও শারীরিকভাবে পরিশ্রমসাধ্য। সুরক্ষা পোশাক পরে সরু একটি সুড়ঙ্গ দিয়ে বয়লারের ভেতরে ঢুকে গরম বালি ও কাঠের গুঁড়া পরিষ্কার করতে হতো। ২০২০ সালে থার্ড রো টেসলা পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাস্ক জানান, ঘণ্টাপ্রতি ১৮ ডলার মজুরির এই কাজ তিনি প্রায় চার দিন করেছিলেন। নিজের জীবনের সবচেয়ে কঠিন কাজগুলোর একটি হিসেবে অভিজ্ঞতাটির কথা উল্লেখ করেন তিনি।   কানাডায় কয়েক বছর কাটানোর পর কিংস্টনের কুইন্স ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হন মাস্ক। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়ায় পদার্থবিজ্ঞান ও অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর প্রযুক্তি ব্যবসায় যুক্ত হয়ে প্রতিষ্ঠা করেন জিপ২। পরবর্তী সময়ে স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠা এবং টেসলার নেতৃত্বের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান তিনি।   দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে অল্প অর্থ নিয়ে নতুন দেশে যাত্রা শুরু করা সেই ১৭ বছর বয়সী তরুণের জীবনের শুরুর দিকের এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁর দীর্ঘ উদ্যোক্তা জীবনের উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।   সূত্র: মুনশটস পডকাস্ট

৪ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও মাগা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের নেতৃত্বেই আস্থা হারাচ্ছেন মাগা সমর্থকদের একাংশ, নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব ও ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ বা মাগা আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিনের ট্রাম্প সমর্থকদের একাংশ মনে করছেন, নির্বাচনে বিপর্যয়ের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং প্রশাসনের নানা সিদ্ধান্ত। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সমর্থকদের মধ্যেও এখন অসন্তোষ বাড়ছে।   নভেম্বরের ৩ তারিখের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর টেক্সাসে ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের সমর্থকদের মধ্যেও হতাশা দেখা যায়। তিনবার ট্রাম্পকে ভোট দেওয়া ৫৯ বছর বয়সী ব্যবসায়ী মাইকেল লিটল রয়টার্সকে বলেন, মানুষ ট্রাম্পের ওপর ক্ষুব্ধ। তাঁর ভাষায়, “ট্রাম্প আমাদের মূল্য দিতে বাধ্য করেছেন।” জ্বালানির উচ্চমূল্য, ইরান যুদ্ধ, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জেফরি এপস্টেইন-সংক্রান্ত তদন্তের নথি প্রকাশে বিলম্ব এসব বিষয় সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়িয়েছে।   নির্বাচনী পরাজয়ের পর ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল হোয়াইট হাউসের শীর্ষ পদে স্টিফেন মিলারকে নিয়ে আসা। শুক্রবার তাঁকে চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির অন্যতম স্থপতি হিসেবে পরিচিত মিলারের নিয়োগকে মাগা আন্দোলনের কট্টর সমর্থকদের কেউ কেউ স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সমর্থকদের একটি অংশ মনে করছে, প্রশাসন নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প-সমর্থকদের প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিকমেট্রিক্স। নির্বাচনের রাত থেকে পরবর্তী দিনের মধ্যে সংগৃহীত ১২ হাজার ৮৫০টি পোস্টের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, একাংশ মাগা সমর্থক আন্দোলনের নেতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ আন্দোলনের প্রতি সমর্থন রাখলেও ট্রাম্পের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বিশ্লেষণ, জনমত জরিপ নয়।   এদিকে নির্বাচনের পর রিপাবলিকানদের পরাজয়ের কারণ নিয়ে দলটির ভেতরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। ফ্লোরিডার রিপাবলিকান গভর্নর রন ডিস্যান্টিস ফলাফলকে রাজনৈতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে তুলনা করেছেন। অন্যদিকে মাগা আন্দোলনের পরিচিত মুখ স্টিভ ব্যানন বলেছেন, আন্দোলনকে নতুন করে সংগঠিত করতে হবে। তাঁর মতে, স্টিফেন মিলারের নিয়োগ আন্দোলনের মূল আদর্শে ফিরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনী ফলাফল মাগা আন্দোলনের অবসান ঘটিয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। তবে ট্রাম্পের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি এবং পররাষ্ট্রনীতির প্রশ্নে সমর্থকদের মধ্যে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তা রিপাবলিকান পার্টির ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

১৪ মিনিট Ago
আমেরিকা
রিপাবলিকানদের হাতছাড়া কংগ্রেস, পরাজয়ের দায় এড়িয়ে ভেটো ক্ষমতার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয়ের ফলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকান দল। এমন বিপর্যয়ের পরও এই পরাজয়ের দায় নিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, ব্যালটে যদি তার নাম থাকত, তবে রিপাবলিকানরা বিপুল ব্যবধানে বা 'ল্যান্ডস্লাইড' জয় পেত। নির্বাচনের আগে ৩২ দিনে ৩০টি অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক প্রচারণায় অংশ নিলেও, ট্রাম্প এই ভরাডুবির জন্য একক প্রার্থী, তেলের দাম বৃদ্ধি এবং এমনকি ফক্স নিউজকেও দুষছেন।   ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নির্বাচনে দলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পেছনে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনগণের ক্ষোভকে অন্যতম কারণ হিসেবে ইঙ্গিত করেছেন। তবে ট্রাম্প তার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে জানিয়েছেন, তিনি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছিলেন এবং নিজের দ্বিতীয় মেয়াদের প্রথম দুই বছরকে যেকোনো প্রেসিডেন্টের মেয়াদের চেয়ে সবচেয়ে সফল বলে মনে করেন।   ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত নতুন কংগ্রেসের মোকাবিলায় ট্রাম্প এখন তার 'ভেটো' ক্ষমতার ওপর নির্ভর করছেন। একটি লাল রঙের 'ভেটো' (VETO) লেখা বেসবল ক্যাপ প্রদর্শন করে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, ডেমোক্র্যাটদের যেকোনো পদক্ষেপ আটকে দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা এখনও তার হাতেই রয়েছে।   কংগ্রেস হাতছাড়া হওয়ার পর নিজের কট্টর 'মাগা' (MAGA) এজেন্ডা বাস্তবায়নে প্রশাসনেও রদবদল এনেছেন ট্রাম্প। চিফ অব স্টাফ সুসি ওয়াইলসকে সরিয়ে তার জায়গায় কট্টর অভিবাসন নীতির রূপকার হিসেবে পরিচিত স্টিফেন মিলারকে দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি।   তবে দলের ওপর নিজের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সুসি ওয়াইলসকে ট্রাম্পের পলিটিক্যাল অপারেশনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রমাণ করলেন যে তিনি তার কট্টরপন্থী নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগে আরও আক্রমণাত্মক হতে চলেছেন।   রাজনৈতিক এই টানাপোড়েনের মাঝেই ট্রাম্প হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থাপনা সংস্কারের দিকে মনোযোগ নিবদ্ধ করেছেন। নির্বাচনের পরপরই এক অনুষ্ঠানে তিনি হোয়াইট হাউসের বিলাসবহুল বলরুম এবং ১৪ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ওয়াশিংটনের 'রিফ্লেকটিং পুল' সংস্কার কাজের প্রশংসা করেন।   মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের বিপর্যয়ের পর নিজের প্রথম নির্বাহী আদেশে ট্রাম্প তার সংস্কার করা সুসজ্জিত ওভাল অফিসকে একটি 'জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ' (ন্যাশনাল মনুমেন্ট) হিসেবে ঘোষণা করেন। তার দাবি, ভবিষ্যতে কেউ যেন এই ঐতিহাসিক কক্ষের নকশা বা সাজসজ্জা পরিবর্তন বা ধ্বংস করতে না পারে, সেজন্যই এই সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ৭:২৭
নিউইয়র্কে নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতিতে বাংলাদেশিদের পরিচালিত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটিতে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকায় বাংলাদেশিদের পরিচালিত অন্যতম বড় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টার (জেএমসি) বন্ধ করে দিয়েছে নগরীর ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই)। মসজিদে চলমান সম্প্রসারণ প্রকল্পে স্বয়ংক্রিয় স্প্রিংকলার বা অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকায় ফায়ার সেফটি বা অগ্নিঝুঁকির কথা বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে গত ৬ নভেম্বর শুক্রবার ওই মসজিদে জুমার নামাজও স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   এফডিএনওয়াই-এর স্পেশাল ইন্সপেকশন ইউনিটের ফায়ার প্রোটেকশন ইন্সপেক্টর টমাস ফোর্ড জানান, বেশ কয়েকটি অভিযোগ পাওয়ার পর তারা মসজিদটি পরিদর্শনে যান। সেখানে স্প্রিংকলার ব্যবস্থা না থাকায় মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য তা সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করেছে। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, এই অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্থাপন না করা পর্যন্ত মসজিদের কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হবে।   ধর্মীয় এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি সম্মান রেখেই তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তাকেই সবার আগে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এর দায় কে নেবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। টমাস ফোর্ড আরও জানান, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ শেষ হলে তারা পুনরায় পরিদর্শন করবেন এবং সব নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে তবেই পুনরায় কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দেওয়া হবে।   জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের বোর্ড অব ট্রাস্টি ও কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার জানান, স্প্রিংকলার স্থাপনের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তারা আশা করেছিলেন আগামী সপ্তাহের মধ্যেই এটি সম্পন্ন হবে। তবে এর আগেই জুমার নামাজের ঠিক আগে কার্যক্রম স্থগিতের এই নির্দেশ আসে।   তিনি জানান, নির্মাণকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং মসজিদ কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই সব ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। জুমার নামাজ আদায় করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি আশা জানান যে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা আবারও কার্যক্রম শুরু করতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে নিয়মিত মুসল্লিদের সাময়িকভাবে আশেপাশের অন্যান্য মসজিদে নামাজ আদায়ের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।   জেএমসির চলমান এই সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধীনে মসজিদের হিফজ বিভাগটি দ্বিতীয় তলা থেকে তৃতীয় তলায় স্থানান্তর, প্রায় ১৮০ জন মুসল্লির জন্য নামাজের অতিরিক্ত জায়গার ব্যবস্থা করা, ভবনের পুরোনো ও নতুন অংশের সংযোগ উন্নত করা এবং একটি নতুন লিফট স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই অবশিষ্ট সম্প্রসারণ কাজের জন্য গত ২৪ অক্টোবর আয়োজিত এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) ডলারের অনুদান ও প্রতিশ্রুতি পেয়েছিল মসজিদ কর্তৃপক্ষ।

মদিনা থেকে জেদ্দা ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ৭ বাংলাদেশির, একই পরিবারের ৪ জন নি হত

সৌদি আরবের মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের চার সদস্য রয়েছেন। এছাড়া এই দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন বাংলাদেশি। জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের পক্ষ থেকে গত শনিবার (৭ নভেম্বর) রাতে ঢাকায় পাঠানো এক প্রতিবেদনে নিহতদের পরিচয় এবং দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। হতাহত ১৩ জনের সবারই গ্রামের বাড়ি বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় বলে জানা গেছে।   কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে আল-হিমনা এলাকায় মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটিতে তিন পরিবারের সদস্যসহ মোট ১৩ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে চারজন সৌদি আরবের 'আল-আবির' কোম্পানির মক্কা শাখায় কর্মরত ছিলেন।   ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জিয়াউর রহমান, তাঁর দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান এবং মেয়ে বুশরা। জিয়াউরের স্ত্রী শাকিরা এবং আরেক মেয়ে ইউসরা গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে, একই দুর্ঘটনায় আলম শাহ তাঁর স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়াকে হারিয়েছেন; তিনি এবং তাঁর ছেলে ফয়সাল আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এছাড়া ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি নিহত হয়েছেন এবং ইলিয়াস নিজে ও গফুর আলম নামের অপর এক বাংলাদেশিও আহত হয়েছেন।   দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই জেদ্দা কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) একজন আইন সহকারীকে নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খোলাইস ট্রাফিক অফিসে যান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। নিহতদের মরদেহ বর্তমানে আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতাল ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।   ট্রাফিক বিভাগের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১৬০ কিলোমিটার। ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি উল্টে যায় এবং এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছে কনস্যুলেট।  

আঘাতে ১০ বছরের পালিত  শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে আগেও নির্যাতনের অভিযোগ
আঘাতে ১০ বছরের পালিত শিশুর মৃত্যু, অভিযুক্ত মায়ের বিরুদ্ধে আগেও নির্যাতনের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় ১০ বছর বয়সী পালিত শিশু মালেশিয়া আলফোর্ডের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পালক মা কারপ্রাইস উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে আগেও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছিল। পাঁচ বছর আগে তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা চার বছর বয়সী আরেক শিশুকে গুরুতর অপুষ্টি ও মস্তিষ্কে আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর উইলিয়ামসকে ভবিষ্যতে আর পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলে আদালতে দাখিল করা একটি মামলায় উল্লেখ রয়েছে। নতুন করে এই তথ্য সামনে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের পালক শিশু পরিচর্যা ব্যবস্থার তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি ১৩ হিউস্টনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২১ সালে উইলিয়ামসের বাড়িতে থাকা চার বছর বয়সী এক শিশুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা শিশুটির শরীরে অপুষ্টি, মস্তিষ্কে আঘাত, মুখে ক্ষত এবং নির্যাতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আঘাতের চিহ্ন শনাক্ত করেন। চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে প্রায় প্রাণঘাতী পরিস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত করেছিলেন। শিশুটির পরিবারের পক্ষে আইনজীবী নাদিম বেজার জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুতর অভিযোগ জমা পড়েছিল।   ২০২৪ সালে ওই শিশুর পরিবারের পক্ষে তাবর চিলড্রেনস সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযোগ করা হয়, শিশুটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, ঘটনার পর রাজ্য ও নগর কর্তৃপক্ষের একটি পর্যালোচনা প্যানেল উইলিয়ামসকে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। মামলাটি ২০২৬ সালে ২০ লাখ ডলারে নিষ্পত্তি হয়। তবে পেনসিলভানিয়ার এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উইলিয়ামসের আপিলের পর আগের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে করা শিশু নির্যাতনের ইঙ্গিতবাহী সরকারি প্রতিবেদন বাতিল করা হয়েছিল। অর্থাৎ আগের অভিযোগে তাঁকে ফৌজদারি আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়নি।   এদিকে মালেশিয়া আলফোর্ডের মৃত্যুর ঘটনায় উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে হত্যা, শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করা, আলামত নষ্ট করা এবং মরদেহের অবমাননাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের নথি অনুযায়ী, গত ২২ অক্টোবর শিশুটিকে সর্বশেষ জীবিত দেখা যায়। ২৬ অক্টোবর তাকে নিখোঁজ দেখিয়ে পুলিশকে জানানো হয়। প্রায় ১০ দিন অনুসন্ধানের পর গত ৪ নভেম্বর নিউ জার্সির লিন্ডেনওল্ড এলাকার একটি গাড়ির ট্রাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ভোঁতা বস্তুর আঘাত শনাক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের বরাত দিয়ে এনবিসি ১০ জানিয়েছে, মালেশিয়ার ওপর শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগের পক্ষে কয়েকজন শিশু সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, উইলিয়ামস শিশুটিকে মারধর করতেন, খাবার ও পানি দেওয়া বন্ধ রাখতেন এবং ভারী ভেস্ট পরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে বাধ্য করতেন। এসব অভিযোগ পুলিশি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। তদন্তকারীরা আরও দাবি করেছেন, শিশুটি মারা যাওয়ার পর তার ফোন ব্যবহার করে এমন বার্তা পাঠানো হয়েছিল, যাতে তাকে জীবিত ও অন্যত্র অবস্থান করছে বলে মনে হয়। তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি।   আইনজীবী নাদিম বেজার প্রশ্ন তুলেছেন, আগের ঘটনায় গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ এবং ভবিষ্যতে পালক অভিভাবক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়ার সুপারিশ থাকার পরও কীভাবে উইলিয়ামস আবার একটি শিশুর দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তাঁর মতে, শুধু পালক অভিভাবক নয়, শিশুদের দেখভালের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর ভূমিকাও তদন্ত করা প্রয়োজন। মালেশিয়ার দেখভালের দায়িত্বে ছিল ফিলাডেলফিয়ার শিশু কল্যাণ বিভাগের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ক্যাথলিক কমিউনিটি সার্ভিসেস।   এ ঘটনায় ফিলাডেলফিয়ার শিশু কল্যাণ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট পালক পরিচর্যা সংস্থাগুলোর তদারকি ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মালেশিয়ার মৃত্যুর পর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও শিশুটির পালক পরিবারে অবস্থানের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত উইলিয়ামসের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে এবং আদালত তাঁকে জামিন ছাড়াই আটক রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্তকারীরা এখন শুধু শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা নয়, আগের অভিযোগের পরও কীভাবে তিনি আবার পালক অভিভাবক হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সেটিও খতিয়ে দেখছেন।   সংবাদসূত্র: এবিসি ১৩ হিউস্টন, ৬এবিসি ফিলাডেলফিয়া।

বিয়ের দাওয়াতে দেশে এসে পার্কিং নিয়ে বিরোধে প্রতিবেশীর গুলিতে নিহত প্রবাসী
বিয়ের দাওয়াতে দেশে এসে পার্কিং নিয়ে বিরোধে প্রতিবেশীর গুলিতে নিহত প্রবাসী

ভারতের হরিয়ানার ফরিদাবাদে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিবেশীর গুলিতে নিহত হয়েছেন সিঙ্গাপুরে কর্মরত ৪২ বছর বয়সী পরমজিৎ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে শহরের সেক্টর ২১সি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মনু শর্মা ওরফে মোহন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   পুলিশ জানায়, পরমজিৎ সিঙ্গাপুরের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। পরিবারের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঘটনার মাত্র এক দিন আগে তিনি ভারতে ফিরেছিলেন। কিন্তু দেশে ফেরার পরদিনই প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধে প্রাণ হারান তিনি।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পরমজিৎ ও অভিযুক্ত মনু শর্মা একই আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গাড়ি পার্কিংসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে সেই বিরোধ আবারও সামনে আসে।   একপর্যায়ে মনু শর্মা নিজের লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে পরমজিৎকে লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ। এতে গুরুতর আহত হন পরমজিৎ। পরে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।   ঘটনার পর অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মনু শর্মাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।   পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সংবাদসূত্র: এনডিটিভি, পিটিআই, দ্য ট্রিবিউন

স্ত্রীর সঙ্গে চ্যাটজিপিটির কথোপকথন সামনে আসার পর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন জেমস গেটস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনায় স্ত্রীকে চ্যাটজিপিটির সহায়তার অভিযোগ, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

স্ত্রীর সঙ্গে দাম্পত্য কলহের আলোচনা থেকে স্বামীকে বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনা তৈরিতে চ্যাটজিপিটি সহায়তা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার বাসিন্দা জেমস গেটস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক এই চ্যাটবটের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, স্ত্রী শেরিল গেটস প্রথমে সংসারের সমস্যা ও ব্যক্তিগত হতাশা নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতেন। একপর্যায়ে সেই কথোপকথন স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা পর্যন্ত গড়ায়। ২০২৫ সালে কথিত বিষ প্রয়োগের ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হলেও প্রাণে বেঁচে যান জেমস। সম্প্রতি স্ত্রীর সঙ্গে চ্যাটবটের কথোপকথনের তথ্য সামনে আসার পর তিনি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেন।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জেমস গেটসের আইনজীবীরা গত ৫ নভেম্বর সান ফ্রান্সিসকো কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টে ওপেনএআই ও স্যাম অল্টম্যানের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শুরুতে জেমসের পরামর্শেই তাঁর স্ত্রী শেরিল কাজের সুবিধার জন্য চ্যাটজিপিটি ব্যবহার শুরু করেন। পেশাগত কাজে প্রতিবেদন তৈরি, ওষুধসংক্রান্ত প্রশ্ন এবং দৈনন্দিন বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ নেওয়ার জন্য তিনি নিয়মিত চ্যাটবটটি ব্যবহার করতেন। পরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আর্থিক বিষয় নিয়ে বিরোধ ও বিচ্ছেদের আলোচনা শুরু হলে শেরিল দাম্পত্য সমস্যা নিয়েও চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন।   মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ধীরে ধীরে শেরিলের কথোপকথনের ধরন বদলে যায়। তিনি স্বামীর বিরুদ্ধে নজরদারি করা, তাঁকে ছেড়ে চলে যাওয়া এবং সন্তানদের নিয়ে আর্থিকভাবে অসহায় অবস্থায় ফেলে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করতেন। জেমসের আইনজীবীদের দাবি, চ্যাটজিপিটি এসব সন্দেহ যাচাই না করে সেগুলোকে আরও জোরালো করেছে। তাঁদের অভিযোগ, চ্যাটবটটি শেরিলের অবিশ্বাস ও ভয়কে প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি স্বামীকে বিষ প্রয়োগের পরিকল্পনা এবং তা গোপন রাখার বিষয়ে তথ্য দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   জেমসের দাবি, ২০২৫ সালের গ্রীষ্মের শুরুতে বাড়িতে রাখা কোমল পানীয় ও এনার্জি ড্রিংকের স্বাদ অস্বাভাবিক তেতো মনে হতে শুরু করে তাঁর। একই বছরের ১০ জুলাই তিনি হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। মামলার নথি অনুযায়ী, প্রায় ৭২ ঘণ্টা ধরে তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রসংক্রান্ত সমস্যা, পেটব্যথা, প্রচণ্ড দুর্বলতা, অস্থিরতা ও বিভ্রান্তির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপরও দীর্ঘদিন তিনি বুঝতে পারেননি তাঁর অসুস্থতার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে। প্রায় দুই মাস পর স্ত্রীর হাতে লেখা একটি নোট পাওয়ার পর তাঁর সন্দেহ আরও বাড়ে।   ওই নোটে ওলিয়েন্ডার নামের বিষাক্ত উদ্ভিদ এবং কয়েকটি প্রেসক্রিপশন ওষুধের উল্লেখ ছিল বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে। একই নোটে চ্যাটজিপিটির কথোপকথন মুছে ফেলা এবং অ্যাকাউন্ট থেকে লগআউট করার নির্দেশনাও লেখা ছিল। জেমসের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, শেরিল চ্যাটজিপিটির কাছে ওলিয়েন্ডারের বিষাক্ততা, খাবার বা পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা এবং ময়নাতদন্তে তা শনাক্ত করা যাবে কি না, এমন প্রশ্ন করেছিলেন। মামলায় সংযুক্ত কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশটকে নিজেদের অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করেছেন তাঁরা।   এই ঘটনার পর জেমস পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ২০২৫ সালে শেরিলকে স্বামীকে হত্যাচেষ্টা এবং খাবার বা পানীয় দূষিত করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। তবে ২০২৬ সালের এপ্রিলে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে প্রসিকিউটররা তাঁর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাটি প্রত্যাহার করেন। ফলে শেরিলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। এখন জেমসের নতুন দেওয়ানি মামলার মূল বিষয় হলো, চ্যাটজিপিটির নকশা ও নিরাপত্তাব্যবস্থায় ত্রুটি ছিল কি না এবং কথোপকথনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি শনাক্ত করে তা বন্ধ করার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না।   মামলায় ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মোট নয়টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পণ্য নকশায় অবহেলা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা দিতে ব্যর্থতা এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ। জেমসের দাবি, চ্যাটবটটি তাঁর স্ত্রীর সন্দেহ ও ক্ষোভকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল এবং কথিত হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনায় প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করেছিল। তিনি আদালতের কাছে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। একই সঙ্গে চ্যাটবটের নিরাপত্তাব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়টিও মামলায় গুরুত্ব পেয়েছে।   অন্যদিকে ওপেনএআই তাদের বক্তব্যে জানিয়েছে, ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়েছে। তবে জেমসের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এ মামলার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবটের নিরাপত্তা, ব্যবহারকারীর আচরণ পর্যবেক্ষণ এবং অন্য ব্যক্তির ক্ষতির ক্ষেত্রে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের দায় কতটা, তা নিয়ে নতুন আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   সংবাদসূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস, সিবিএস নিউজ।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
বিশ্বের বর্তমান সর্বোচ্চ ভবন দুবাইয়ের বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে জেদ্দা টাওয়ার। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন হওয়ার পথে জেদ্দা টাওয়ার, বাধা হতে পারে বৈরী আবহাওয়া
প্রকাশ: নভেম্বর ৭, ২০২৬ ২৩:১৪

সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে অবস্থিত বুর্জ খলিফাকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবনের রেকর্ড গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে সৌদি আরবের জেদ্দা টাওয়ার। প্রায় এক কিলোমিটার বা ১ হাজার মিটার উচ্চতার এই ভবনটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের মধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যখন এটি বুর্জ খলিফার বর্তমান উচ্চতা অতিক্রম করবে। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত সৌদি বিনলাদিন গ্রুপের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প পরিচালক ইয়ান নরম্যান মিলার নিউজউইককে এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে নির্মাণকাজের গতি নির্ভর করছে আবহাওয়া ও বাতাসের পরিস্থিতির ওপর। বিশেষ করে শক্তিশালী এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছর কিছু সময়ের জন্য কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।   জেদ্দা শহরে নির্মাণাধীন এই আকাশচুম্বী ভবনের নকশা করেছেন স্থপতি অ্যাড্রিয়ান স্মিথ ও গর্ডন গিল। দুজনই অ্যাড্রিয়ান স্মিথ অ্যান্ড গর্ডন গিল আর্কিটেকচারের প্রতিষ্ঠাতা। দুবাইয়ের ৮২৮ মিটার উচ্চতার বুর্জ খলিফার নকশা প্রণয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল অ্যাড্রিয়ান স্মিথের। জেদ্দা টাওয়ার নির্মাণ করছে সৌদি বিনলাদিন গ্রুপ। প্রকল্পটি শেষ হলে ভবনটির উচ্চতা দাঁড়াবে প্রায় ৩ হাজার ২৮১ ফুট। বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন বুর্জ খলিফার উচ্চতা ২ হাজার ৭১৭ ফুট। ফলে পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ শেষ হলে জেদ্দা টাওয়ার প্রায় ১৭২ মিটার বেশি উচ্চতা নিয়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়বে।   নিউজউইককে মিলার জানিয়েছেন, নির্মাণকাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি আশাবাদী এবং ২০২৮ সালের মধ্যে ভবনটি সম্পন্ন করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। তবে নির্দিষ্ট সময়সূচি নিয়ে সতর্ক থাকার কারণ হিসেবে তিনি এল নিনোর সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, আগামী বছর শক্তিশালী বাতাসের কারণে নির্মাণকাজ এক বা দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ রাখতে হতে পারে। চলতি বছরের গ্রীষ্মেও বাতাসের কারণে দীর্ঘ সময় নির্মাণের গতি কমিয়ে রাখতে হয়েছিল। আগস্টের মাঝামাঝি বাতাসের পরিস্থিতি অনুকূলে আসার পর কাজ দ্রুত এগিয়েছে এবং আগের সময়ের ঘাটতিও কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।   এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া, বৃষ্টিপাত ও তাপমাত্রায় পরিবর্তন আনতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের জলবায়ু পূর্বাভাস কেন্দ্র ৮ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী এল নিনো বজায় থাকার সম্ভাবনা ৮৩ শতাংশের বেশি। তবে এল নিনোর কারণে জেদ্দায় ঠিক কী ধরনের বাতাস বা আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা নিশ্চিত নয়। প্রকল্প পরিচালক মূলত সম্ভাব্য বাতাসজনিত নির্মাণঝুঁকির কথাই তুলে ধরেছেন।   নির্মাণকাজের পরবর্তী বড় লক্ষ্য হলো ভবনটির উচ্চতা ৫০০ মিটারে পৌঁছানো। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি নভেম্বরের শেষ দিকে থ্যাংকসগিভিংয়ের সময় ভবনটি ১২৫ তলা পর্যন্ত পৌঁছে এই মাইলফলক অর্জন করতে পারে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভবনটির মূল কাঠামো ১২১ তলায় পৌঁছেছে। এরপর নির্মাণকাজ এগোবে প্রায় ৬৩০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত ‘স্কাই টেরেস’ পর্যন্ত। এটি হবে ভবনের একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ ও দর্শনীয় স্থান, যেখান থেকে চারপাশের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যাবে।   এরপর প্রায় ৭০০ মিটার উচ্চতায় শুরু হবে ভবনের ‘স্কাই র‍্যাফট’ অংশ। এটি মূলত একটি বিশেষ কংক্রিট কাঠামো, যার পর থেকে ভবনের সরু চূড়ার অংশ নির্মাণ শুরু হবে। প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত স্থপতি পিটার ওয়েইসম্যান্টল জানিয়েছেন, এই উচ্চতায় পৌঁছানোর পর ভবনের কাঠামোগত নকশায় বড় পরিবর্তন আসবে। নিচের অংশের তুলনায় ওপরের অংশ সরু হওয়ায় কংক্রিট ঢালাইয়ের পরিমাণ কমবে। তবে নির্মাণপদ্ধতি পরিবর্তন এবং কাঠামোগত জটিলতার কারণে কাজের চ্যালেঞ্জ বাড়তে পারে। কাঠামোগত প্রকৌশলী জন পেরোন্টোর মতে, বুর্জ খলিফার উচ্চতা অতিক্রমের সুনির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা এখনো কঠিন, কারণ সামনে স্কাই টেরেস নির্মাণসহ বেশ কিছু জটিল কাজ বাকি রয়েছে।   জেদ্দা টাওয়ারকে ঘিরে সৌদি আরবের পরিকল্পনা শুধু একটি বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন নির্মাণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি পাঁচ মিলিয়ন বর্গমিটারেরও বেশি জায়গাজুড়ে গড়ে ওঠা জেদ্দা ইকোনমিক সিটির কেন্দ্রীয় স্থাপনা হিসেবে তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়েই ১১২টির বেশি টাওয়ার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন জেদ্দা ইকোনমিক কোম্পানির প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা ফুয়াদ মাখলুফ। ভবনটির পাশাপাশি পানির ফোয়ারা, দোকানপাট, হোটেল, বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার কাজও পরিকল্পনায় রয়েছে।   সৌদি আরবের ভিশন ২০৩০ কর্মসূচির অংশ হিসেবেও জেদ্দা টাওয়ারকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পর্যটন, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও অন্যান্য খাত সম্প্রসারণের যে পরিকল্পনা দেশটি নিয়েছে, এই প্রকল্প তার দৃশ্যমান প্রতীক হয়ে উঠতে পারে। ২০৩০ সালে রিয়াদে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড এক্সপোর আগেই জেদ্দা ইকোনমিক সিটির বিভিন্ন উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্প পরিচালক মিলারের মতে, জেদ্দা টাওয়ারের পাশাপাশি পুরো শহরকে পর্যটন ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের উপযোগী করে গড়ে তোলাই মূল উদ্দেশ্য। তাঁর আশা, এই ভবন সৌদি আরবের প্রকৌশল ও নির্মাণ সক্ষমতাকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটন মানচিত্রে জেদ্দার অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে।   সংবাদসূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সমুদ্র ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (নোয়া)।

অনুসারীদের অনাহারে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত ধর্মগুরু পল ম্যাকেঞ্জি, গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
স্বর্গের লোভ দেখিয়ে অনাহারে ১৯০ শিশুর মৃত্যু, কেনিয়ায় ধর্মগুরুর ২০০ বছরের কারাদণ্ড
প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ২২:৩৮

যিশুর সঙ্গে সাক্ষাতের আশ্বাস দিয়ে অনুসারীদের অনাহারে থাকতে উৎসাহিত করার মাধ্যমে ১৯০ শিশুসহ ১৯১ জনের মৃত্যুর ঘটনায় কেনিয়ার ধর্মীয় গোষ্ঠীর নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। একই মামলায় তাঁর ২৮ সহযোগীকেও ১০ থেকে ১৬০ বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উপকূলীয় শহর মোম্বাসার হাইকোর্টের বিচারক ডায়ানা কাবেদজা-মোচাচে এ রায় ঘোষণা করেন।   আদালতের রায়ে বলা হয়, ম্যাকেঞ্জি তাঁর অনুসারীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, অনাহারে থেকে মৃত্যুবরণ করলে তাঁরা যিশুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন এবং স্বর্গে যেতে পারবেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন ‘গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চ’-এর অনুসারীদের নিয়ে কেনিয়ার কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে একটি বসতি গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে ধর্মীয় নির্দেশনার নামে ধাপে ধাপে নারী, পুরুষ ও শিশুদের খাবার গ্রহণ বন্ধ করতে বলা হয়। আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে, শিশুদের দিয়ে এই অনাহার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হতো।   মামলার ১৯১টি হত্যার অভিযোগের মধ্যে ১৮৩ জনের মৃত্যু হয়েছে অনাহার ও অপুষ্টিতে। তাঁদের মধ্যে ১৮২ জন শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ছিলেন। বাকি আট শিশুকে সরাসরি হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয় ম্যাকেঞ্জিকে। এই দুই ধরনের হত্যার জন্য পৃথকভাবে ১০০ বছর করে মোট ২০০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে তাঁকে। তাঁর সহযোগীদের মধ্যে যাঁরা অনুসারীদের অনাহারে থাকতে বাধ্য করা, পাহারা দেওয়া কিংবা মরদেহ গোপন করার কাজে যুক্ত ছিলেন, তাঁদের অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।   রাষ্ট্রপক্ষ ম্যাকেঞ্জির সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছিল। তবে বিচারক সেই আবেদন নাকচ করেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ ছিল, অভিযুক্ত গোষ্ঠীর বিশ্বাসে মৃত্যুকে যিশুর সঙ্গে মিলিত হওয়ার পথ হিসেবে দেখা হতো। সে কারণে মৃত্যুদণ্ডকে তাঁরা শাস্তির পরিবর্তে একধরনের পুরস্কার বা বিজয় হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন। এই বিবেচনায় তাঁকে দীর্ঘ মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন ম্যাকেঞ্জির আইনজীবী।   ২০২৩ সালে কেনিয়ার উপকূলীয় কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ঘটনাটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। তদন্তকারীরা ওই এলাকা থেকে চার শতাধিক মরদেহ ও কঙ্কাল উদ্ধার করেন। নিহতদের অধিকাংশই ম্যাকেঞ্জির অনুসারী ছিলেন। তবে সব মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনায় কেনিয়ার ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং উগ্রপন্থা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়।   ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে ১৯১ জনের মৃত্যুর মামলার বিচার শেষ হলেও শাকাহোলা বনাঞ্চলে আরও মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। সেসব মামলায় সন্ত্রাসবাদ, শিশু নির্যাতন ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগও রয়েছে। কেনিয়ার তদন্ত বিভাগ জানিয়েছে, এই ঘটনায় ধর্মীয় প্রচার, সংগঠিত নিয়ন্ত্রণ এবং অনুসারীদের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্ব পেয়েছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা ও কেনিয়া নিউজ এজেন্সি।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির তথ্য পেতে ২০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির গোপন তথ্য দিলে ২০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার দেবে যুক্তরাষ্ট্র
প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ২২:৬

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারলে সর্বোচ্চ ২ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তথ্যদাতাদের জন্য পুনর্বাসনের সুযোগও রাখা হয়েছে। ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সেখানে ব্যবহৃত সরঞ্জাম, কর্মী এবং বিশেষ করে দেশটির পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের বিষয়ে তথ্য চেয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি।   শনিবার (৭ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ কর্মসূচির ঘোষণা প্রকাশ করে। এতে বলা হয়, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, সরঞ্জাম ও ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্যের বিনিময়ে সর্বোচ্চ ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হতে পারে। এসব তথ্যের মধ্যে পারমাণবিক বিজ্ঞানী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম স্থানান্তরের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পুরস্কারের অর্থ নির্দিষ্ট নয়, তথ্যের গুরুত্ব ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ এই পরিমাণ দেওয়া হবে।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মসূচিটির ওয়েবসাইটে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রমের বিষয়েও বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, ২০২৫ সালে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছিল, ইরান ৬০ শতাংশ বিশুদ্ধতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ে পৌঁছাতে সাধারণত ৯০ শতাংশ বিশুদ্ধতার প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানই একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রবিহীন রাষ্ট্র, যারা এত উচ্চ মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তা একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে।   বিবৃতিতে আইএইএ-এর সুরক্ষা চুক্তি পালনের বিষয়টিও উল্লেখ করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। সংস্থাটির সঙ্গে ইরানের সহযোগিতার ঘাটতির কারণে দেশটির সেন্ট্রিফিউজসহ গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক সরঞ্জামের উৎপাদন ও মজুত সম্পর্কে ধারাবাহিক তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে আইএইএ সমস্যায় পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।   এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়ে গেছে। এমন দাবির পরও কর্মসূচি-সংশ্লিষ্ট তথ্যের জন্য পুরস্কার ঘোষণা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কী ধরনের তথ্যের ঘাটতি রয়েছে, তা বিস্তারিত জানানো হয়নি।   সূত্র: মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ কর্মসূচি, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড (সেন্টকম) ও আল জাজিরা।

বিজয় ভাষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে ‘হাবিবি’ সম্বোধন করেন আবদুল এল-সায়েদ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘জেডি, হাবিবি’ বলে ভাইস প্রেসিডেন্টকে খোঁচা, আরব বিশ্বে প্রশংসায় ভাসছেন আবদুল এল-সায়েদ
প্রকাশ: নভেম্বর ৬, ২০২৬ ২০:১৩

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ। নির্বাচনে জয়ের পর তাঁর দেওয়া বিজয় ভাষণে আরবি শব্দ ‘হাবিবি’ ও ‘ইনশাআল্লাহ’ ব্যবহারের বিষয়টি এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যসহ আরব বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে ‘জেডি, হাবিবি’ বলার মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।   গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মিশিগানের সিনেট আসনে জয়ী হন ৪২ বছর বয়সী এল-সায়েদ। বুধবার ভোরে ডেট্রয়েটে সমর্থকদের সামনে দেওয়া ভাষণে তিনি নির্বাচনী প্রচারে তাঁকে নিয়ে করা বিভিন্ন মন্তব্যের জবাব দেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘জেডি, হাবিবি। এর মধ্যে এক অদ্ভুত আনন্দের বিষয় রয়েছে যে, আগামী জানুয়ারিতে সংবিধান অনুযায়ী তোমাকেই আমাকে শপথ পড়াতে হবে।’   ‘হাবিবি’ আরবি ভাষার একটি স্নেহসূচক শব্দ। এর আক্ষরিক অর্থ ‘আমার প্রিয়জন’ হলেও দৈনন্দিন কথাবার্তায় বন্ধু, কাছের মানুষ কিংবা প্রিয় কাউকে সম্বোধন করতেও শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আরব সংগীত ও জনপ্রিয় সংস্কৃতিতেও শব্দটির বহুল প্রচলন রয়েছে। এল-সায়েদের নির্বাচনী প্রচারে সমর্থকদের অনেকে ‘হাবিবি ফর আবদুল’ লেখা টি-শার্ট পরেছিলেন। বিজয় ভাষণে শব্দটির ব্যবহার আরবদের কাছে বিশেষ আনন্দের বিষয় হয়ে উঠেছে।   এল-সায়েদ তাঁর ভাষণে ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘আলহামদুলিল্লাহ’ শব্দও ব্যবহার করেন। ‘ইনশাআল্লাহ’ অর্থ আল্লাহ চাইলে এবং ‘আলহামদুলিল্লাহ’ অর্থ সব প্রশংসা আল্লাহর। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে কথা বলার সময় তিনি নিয়মিত ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতেন উল্লেখ করে জানান, এবার সেই প্রত্যাশা পূরণ হওয়ায় কথাটি ‘আলহামদুলিল্লাহ’তে পরিণত হয়েছে। তাঁর এই বক্তব্য আরবি ভাষাভাষীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে।   বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, এল-সায়েদের বিজয় ভাষণের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরব বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অভিনন্দন ও আনন্দের প্রতিক্রিয়া আসতে থাকে। অনেকে ‘হাবিবি’ শব্দযুক্ত আরবি গানের ভিডিও, মিসরীয় জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী শিরিন আবদেল ওয়াহাবের গানের দৃশ্য এবং নানা হাস্যরসাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেন। মিসরের চলচ্চিত্রের দৃশ্য ব্যবহার করে তৈরি মিমও ছড়িয়ে পড়ে। মিসরীয় শিক্ষাবিদ খলিল আল-আনানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘হাবিবি’কে সবচেয়ে মিষ্টি শব্দ হিসেবে উল্লেখ করে এল-সায়েদকে ধন্যবাদ জানান।   এল-সায়েদ মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর নির্বাচনী প্রচারে মুসলিম পরিচয় ও ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থনকে কেন্দ্র করে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ‘জিহাদি’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। প্রচারের সময় ভ্যান্সও এল-সায়েদকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এসব বক্তব্যের জবাবে এল-সায়েদ নিজের ধর্মীয় পরিচয় ও মিসরীয় ঐতিহ্যকে আড়াল না করে বরং প্রকাশ্যে তুলে ধরেন।   এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে আরব ও মুসলিম জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের বৈষম্যের অভিজ্ঞতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। কয়েক দশক ধরে হলিউডের বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও রাজনৈতিক বক্তব্যে আরব ও মুসলিমদের নেতিবাচকভাবে উপস্থাপনের প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইসলামি আইন বা শরিয়াহ যুক্তরাষ্ট্রে চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা নিয়ে রাজনৈতিক প্রচারণার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন অনেকে। এমন প্রেক্ষাপটে একজন মুসলিম ও মিসরীয় বংশোদ্ভূত রাজনীতিকের সিনেটে নির্বাচিত হওয়া এবং নিজের সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রকাশ্যে উদ্‌যাপন করাকে অনেকেই পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।   বিজয় ভাষণের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্দেশেও কৌতুকপূর্ণ মন্তব্য করেন এল-সায়েদ। তিনি বলেন, ট্রাম্প তাঁর নাম উচ্চারণ করতে সমস্যায় পড়েছেন। তাই আগামী জানুয়ারিতে জেডি ভ্যান্স তাঁকে শপথ পড়ানোর পর প্রেসিডেন্ট চাইলে তাঁকে শুধু ‘সিনেটর’ বলে ডাকতে পারেন। তাঁর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারে ব্যক্তিগত পরিচয় নিয়ে করা মন্তব্যের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের নতুন অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।   উল্লেখ্য, মিশিগানের সিনেট আসনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সকে পরাজিত করে এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে তাঁর। তাঁর বিজয়কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিম ও আরব জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মহলেও আনন্দ ও আগ্রহ দেখা যাচ্ছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস নিউজ।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়