যুক্তরাষ্ট্রের সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা সমমূল্যের ফেলোশিপ ও স্কলারশিপ সুবিধা নিয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম আশফাকুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ ম্যাক্সওয়েল স্কুল অব সিটিজেনশিপ অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সমাজতত্ত্ব বিভাগে পিএইচডি করছেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই গবেষণা কার্যক্রমে তাঁর টিউশন ফি, ফেলোশিপ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার ৪৬০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা থাকছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্সওয়েল ফেলোশিপের আওতায় আশফাকুর রহমান এই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। তবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার পুরো অর্থ সরাসরি তাঁর হাতে দেওয়া হবে না। এই হিসাবের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, গবেষণা সহায়তা, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিপরীতে আর্থিক সুবিধা এবং স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূলত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যয় নির্বাহের জন্যই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার্থী তালিকাতেও তাঁর নাম পিএইচডি গবেষক হিসেবে রয়েছে। আশফাকুর রহমানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার যাত্রা শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে। সেখান থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মাস্টার্স থিসিসের বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট ও আধুনিক শাসনব্যবস্থা। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, মানুষের আচরণ এবং সামাজিক নীতির সঙ্গে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে আরও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ খুঁজতে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকাটোতে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন আশফাকুর রহমান। সেখানেও তিনি পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ সুবিধা পান। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ইন স্কলারশিপ অ্যান্ড রিসার্চে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও রিসার্চ কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। এর আগে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে গবেষণায় একাধিক সাফল্য অর্জন করেন আশফাকুর রহমান। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট সোশিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত সেরা গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী গবেষণাপত্র প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া সোশিওলজিস্টস অব মিনেসোটার ক্যারোলিন রোজ রিসার্চ পেপার প্রতিযোগিতায়ও শীর্ষস্থান অর্জন করেন। তাঁর দ্বিতীয় মাস্টার্স থিসিস স্টেট সোসাইটি অন এজিং অব নিউইয়র্কের সেরা গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি পায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা তাঁর মাস্টার্স গবেষণার বিষয় ছিল তীব্র শীতের সময় একা বসবাসকারী প্রবীণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় সামাজিক যোগাযোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ভূমিকা। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের শীতপ্রবণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসকারী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ১০০ জন ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ার অ্যাপ, স্মার্ট ডিভাইস এবং জরুরি সতর্কবার্তার মতো প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির নিজস্ব গবেষণা সংগ্রহশালায় তাঁর এই গবেষণাপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ দুটিই প্রবীণদের নিরাপত্তামূলক আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই দুই ধরনের সহায়তার ভূমিকা এক নয়। প্রযুক্তি দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, অন্যদিকে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনের সঙ্গে যোগাযোগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে উভয় ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহার নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় গবেষণায়। নতুন পিএইচডি গবেষণায় আশফাকুর রহমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশগত সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যগত চাহিদা, সামাজিক বৈষম্য এবং প্রযুক্তির প্রভাব কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা তাঁর গবেষণার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিষ্ঠানটির পলিসি, প্লেস, পপুলেশন হেলথ অ্যান্ড এজিং প্রোগ্রামের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তাঁর একাডেমিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক মার্ক এ গার্সিয়া। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আশফাকুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত গবেষণার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান তিনি। বিশেষ করে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, বার্ধক্যকালীন সামাজিক নিরাপত্তা, নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অবদান রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রমে তাঁর এই অগ্রযাত্রা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ অর্জনের আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: প্রথম আলো
কানাডায় চাকরি ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে (৪৫) মানব পাচার ও তিনটি যৌন নিপীড়নের অপরাধে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে (৫৬) মানব পাচারের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুন প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এ সাজা ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী নারীকে বকেয়া মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। কানাডার সংবাদমাধ্যম সিবিসি নিউজ এবং স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সাস্কটুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই নারী বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করেছিলেন। তাঁর উচ্চশিক্ষা, স্থায়ী চাকরি এবং আর্থিক স্বচ্ছলতা ছিল। কিন্তু কানাডায় উন্নত জীবন গড়ার আশায় তিনি দেশটিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। রেস্তোরাঁয় চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশ্বাসে ২০২২ সালের আগস্টে কানাডায় পৌঁছান তিনি। সেখানে যাওয়ার পরই তাঁর জীবনে নেমে আসে ভয়াবহ বিপর্যয়। যাঁদের ওপর ভরসা করে তিনি নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখেছিলেন, তাঁরাই তাঁকে শোষণের পরিস্থিতিতে ঠেলে দেন বলে আদালতের বিচারে উঠে এসেছে। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় পৌঁছানোর পর প্রথমে সাসকাচুয়ানের গাল লেক এলাকায় সোহেল হায়দারের পরিচালিত একটি রেস্তোরাঁয় কাজ শুরু করেন ওই নারী। পরে তাঁকে টিসডেল শহরে মোহাম্মদ মাসুমের পরিচালিত রেস্তোরাঁয় পাঠানো হয়। দুই প্রতিষ্ঠানের কোনোটিতেই তাঁর নামে যথাযথ ওয়ার্ক পারমিট ছিল না। অথচ তাঁকে জানানো হয়েছিল, অনুমতিপত্রের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই অনিশ্চয়তার সুযোগ নিয়ে তাঁকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। কাজের তুলনায় যথাযথ মজুরিও দেওয়া হতো না। একপর্যায়ে তাঁর কর্মসংস্থান, থাকার জায়গা এবং দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। মামলার বিচারকালে আরও উঠে আসে, মোহাম্মদ মাসুম ওই নারীর ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান। আদালত তিনটি পৃথক যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেন। বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এসব অপরাধকে সাধারণ ভাষায় ধর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং আদালতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ভুক্তভোগীর অসহায় পরিস্থিতি এবং তাঁদের ওপর তাঁর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়েছিলেন। বিশেষ করে মাসুম নিজের যৌন স্বার্থে ওই নারীকে নির্যাতন করেন এবং কয়েকটি ঘটনায় শারীরিক সহিংসতাও ছিল। অন্যদিকে সোহেল হায়দারকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হলেও তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে সাজা দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন শোষণের শিকার হওয়ার পর ওই নারীর নামে সাসকাচুয়ানের এলরোজ শহরের একটি রেস্তোরাঁয় কাজের জন্য ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করা হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর পরিস্থিতি দেখে স্থানীয় কয়েকজন উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁদের সহযোগিতায় তিনি অভিযুক্তদের নিয়ন্ত্রণ থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। ২০২৩ সালের জুনে কানাডার রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনে। প্রায় ১৮ মাস ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া এবং সাত সপ্তাহের শুনানি শেষে চলতি বছরের আগস্টে দুজনকে মানব পাচারের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। এরপর ২২ অক্টোবর তাঁদের সাজা ঘোষণা করা হয়। আদালতে দেওয়া ভিকটিম ইমপ্যাক্ট স্টেটমেন্টে নিজের জীবনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী নারী। তিনি জানান, কানাডায় যাওয়ার আগে তিনি ছিলেন স্বাবলম্বী এবং নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে পারতেন। কিন্তু এই ঘটনার পর অন্য মানুষকে বিশ্বাস করা তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা তাঁর স্বপ্ন, সম্মান, ভবিষ্যৎ, পরিবার এবং পেশাগত জীবন ধ্বংস করে দিয়েছেন। বাংলাদেশে ঘটনাটি নিয়ে নানা গুজব ও নেতিবাচক আলোচনার কারণে তাঁর পরিবারও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিনের চাকরি এবং প্রতিষ্ঠিত জীবন ছেড়ে কানাডায় আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো আক্ষেপ করেন তিনি। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লেসলি ডানিং মোহাম্মদ মাসুমের জন্য ১৫ বছর এবং সোহেল হায়দারের জন্য সাড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছিলেন। অন্যদিকে মাসুমের আইনজীবী সাত থেকে নয় বছর এবং হায়দারের আইনজীবী আইন অনুযায়ী সর্বনিম্ন চার বছরের সাজা দেওয়ার আবেদন জানান। উভয় পক্ষের যুক্তি ও মামলার তথ্য বিবেচনা করে বিচারক মাসুমকে মোট ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। সোহেল হায়দারকে দেওয়া হয় চার বছরের কারাদণ্ড। বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন, ভুক্তভোগীর অসহায়ত্ব ও অভিযুক্তের ওপর নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে সংঘটিত অপরাধের বিষয়টি সাজা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ। কারাদণ্ডের পাশাপাশি ভুক্তভোগীর বকেয়া মজুরি বাবদ মোহাম্মদ মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডিয়ান ডলার এবং সোহেল হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ কানাডিয়ান ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুজনকে কারাগারে থাকা অবস্থায় এবং পরবর্তী জীবনেও ওই নারীর সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মাসুমকে ২০ বছরের জন্য কানাডার জাতীয় যৌন অপরাধী নিবন্ধনে নাম অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নির্দেশে ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে। কানাডার এই মামলাটি বিদেশে চাকরি ও স্থায়ী বসবাসের আশায় যাওয়া অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষ করে যাঁরা নিয়োগকর্তার ওপর ওয়ার্ক পারমিট, বাসস্থান এবং আয়ের জন্য নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। কানাডায় মানব পাচার শুধু অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতারণা, ভয়ভীতি কিংবা নির্ভরশীলতার সুযোগ নিয়ে কাউকে শ্রম দিতে বাধ্য করার ঘটনাও মানব পাচারের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। বাংলাদেশি এই নারীর মামলায় আদালতের রায় সেই বিষয়টিই স্পষ্ট করেছে।
মাত্র ১৪ বছর বয়সে বন্ধুদের নিয়ে একটি নতুন দেশ প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছিলেন ব্রিটিশ তরুণ ড্যানিয়েল জ্যাকসন। নিজেকে সেই দেশের প্রেসিডেন্টও ঘোষণা করেন তিনি। সাত বছর পর ২১ বছর বয়সে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মানবিক কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পেয়েছেন এই তরুণ। গত ৯ অক্টোবর জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ডেলিগেটস ডাইনিং রুমে তাঁর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তবে এটি জাতিসংঘের নিজস্ব কোনো পুরস্কার নয়। সম্মাননাটি দিয়েছে ইনস্টিটিউট অব পাবলিক পলিসি অ্যান্ড ডিপ্লোম্যাসি রিসার্চ (আইপিপিডিআর) নামের একটি বেসরকারি সংস্থা। ব্রিটিশ ও অস্ট্রেলীয় নাগরিকত্বের অধিকারী ড্যানিয়েল জ্যাকসন ইংল্যান্ডের কেন্টের ডোভার শহরের বাসিন্দা। ইউরোপের বলকান অঞ্চলে ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার সীমান্তবর্তী একটি ভূখণ্ডকে নিজের দেশ হিসেবে ঘোষণা করে আলোচনায় আসেন তিনি। তাঁর প্রতিষ্ঠিত দেশের নাম ‘ফ্রি রিপাবলিক অব ভারডিস’। দেশটির আয়তন মাত্র শূন্য দশমিক ৫০১ বর্গকিলোমিটার, যা প্রায় ১২৫ একর। জ্যাকসনের দাবি, পৃথিবীর অন্যতম ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হিসেবে ভারডিসকে প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর লক্ষ্য। যদিও এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিকভাবে কোনো স্বীকৃত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়নি ভারডিস। ঘটনার শুরু ২০১৯ সালে। মাত্র ১৪ বছর বয়সে বন্ধুদের সঙ্গে মানচিত্র ঘাঁটতে গিয়ে ড্যানিয়েল জানতে পারেন, ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যবর্তী দানিয়ুব নদীর তীরে কয়েকটি ছোট ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ রয়েছে। এসব এলাকার একটি মানচিত্রে ‘পকেট থ্রি’ নামে পরিচিত। জ্যাকসনের দাবি, ওই জমির মালিকানা ক্রোয়েশিয়া কিংবা সার্বিয়া কেউই নিজেদের বলে স্বীকার করে না। এই যুক্তিতে ২০১৯ সালের ৩০ মে তিনি ভূখণ্ডটিকে স্বাধীন দেশ ঘোষণা করেন এবং নিজেকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। প্রথমে বিষয়টি ছিল কয়েকজন কিশোরের পরীক্ষামূলক উদ্যোগ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেটিকে একটি রাষ্ট্রীয় কাঠামো দেওয়ার চেষ্টা শুরু করেন ড্যানিয়েল। ভারডিসের জন্য আলাদা জাতীয় পতাকা, সংবিধান, আইন, মন্ত্রিসভা, জাতীয় প্রতীক এবং পাসপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। ইংরেজি, ক্রোয়েশীয় ও সার্বীয় ভাষাকে দেশটির সরকারি ভাষা হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ইউরো। ভারডিস কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের প্রায় ৪০০ জন নাগরিক রয়েছেন এবং প্রতি মাসে এক হাজারের বেশি মানুষ নাগরিকত্বের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে যোগাযোগ করেন। তবে নিজের ঘোষণা করা দেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করাই এখন ড্যানিয়েলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৩ সালে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে সেখানে বসতি স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার সীমান্ত পুলিশ তাঁদের আটক করে এলাকা থেকে সরিয়ে দেয়। পরে ড্যানিয়েলের ক্রোয়েশিয়ায় প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ক্রোয়েশীয় কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, ওই এলাকায় বসতি স্থাপনের চেষ্টা সীমান্ত নিরাপত্তা বিধির পরিপন্থী। অন্যদিকে ড্যানিয়েল এই নিষেধাজ্ঞাকে অন্যায্য দাবি করে আসছেন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের ডোভার ও সার্বিয়ার নোভি সাদে প্রতিষ্ঠিত প্রতিনিধি কার্যালয়ের মাধ্যমে ভারডিসের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এত বাধার মধ্যেও নিজের উদ্যোগ থেকে সরে আসেননি ড্যানিয়েল। সম্প্রতি আফ্রিকার আইভরি কোস্টে একটি প্রাক্-প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভারডিস। সংগঠনটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের শৌচাগার ও পানির কূপ সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের স্কুলব্যাগ সরবরাহে তারা সহযোগিতা করেছে। মানবিক এই কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ নিউইয়র্কে আয়োজিত হিউম্যানিটারিয়ান প্লাটিনাম লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে সম্মাননা পান ড্যানিয়েল। অনুষ্ঠানে পুরস্কার গ্রহণের পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা এসডব্লিউএনএসকে ড্যানিয়েল জানান, এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সম্মাননা গ্রহণ করা তাঁর জন্য একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে কিছুটা অস্বস্তিকর অভিজ্ঞতা ছিল। মাত্র ২১ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এমন আয়োজনে অংশ নেওয়ার সঙ্গে এখনো নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, ভারডিস প্রতিষ্ঠার চিন্তাটি প্রথমে বন্ধুদের সঙ্গে ছোট একটি পরীক্ষা হিসেবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু সেটি যে এত মানুষের আগ্রহ তৈরি করবে, তা তখন কল্পনাও করেননি। একই সফরে ভারডিসের মানবিক কার্যক্রমবিষয়ক প্রতিনিধি জেফ্রি লি নিউইয়র্কে একটি যুবসমাবেশে বক্তব্য দেন বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। সেখানে মানবিক সহায়তা, তরুণদের অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়। ড্যানিয়েলের মতে, এসব আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি ও সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ভবিষ্যতে ভারডিসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পথেও এই যোগাযোগ কাজে লাগবে বলে আশা করছেন তিনি। তবে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা পাওয়ার অর্থ ভারডিসকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে, এমন নয়। পুরস্কার প্রদানকারী আইপিপিডিআর একটি স্বতন্ত্র বেসরকারি সংস্থা। জাতিসংঘের ভবনে অনুষ্ঠান আয়োজন এবং জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ভারডিসের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফলে ড্যানিয়েল নিজেকে প্রেসিডেন্ট দাবি করলেও তাঁর নেতৃত্বাধীন ভূখণ্ড এখনো একটি স্বঘোষিত ক্ষুদ্র রাষ্ট্র বা মাইক্রোনেশন হিসেবেই পরিচিত। বর্তমানে ড্যানিয়েল জ্যাকসন নিজের পুরো সময় ভারডিসের কার্যক্রমে ব্যয় করছেন। আগে তিনি অনলাইন গেম রোবলক্সের জন্য ভার্চুয়াল জগৎ তৈরির কাজ করতেন। এখন আন্তর্জাতিক যোগাযোগ, নাগরিকত্ব আবেদন এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাই তাঁর প্রধান কাজ। মাত্র ১৪ বছর বয়সে শুরু হওয়া উদ্যোগকে বাস্তব রাষ্ট্রে রূপ দেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ। তবে তাঁর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে রয়েছে ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় র্যাপার নিকি মিনাজ। রোববার (২৫ অক্টোবর) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হিউরনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখানে নিকি মিনাজের সৌন্দর্য নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঞ্চে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তাকে এর আগে কখনো এত সুন্দর লাগেনি।’ একই সমাবেশে নিকির শারীরিক সৌন্দর্য নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মিশিগানের ম্যাকমোরান প্লেস অ্যারেনায় এই নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স এবং গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের পক্ষে প্রচার চালান ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে মিশিগানে পৌঁছান ৪৩ বছর বয়সী র্যাপার নিকি মিনাজ। সমাবেশে কয়েক হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উঠে নিকি রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান এবং ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রথমে ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়ে আগের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর নিকি মিনাজের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর শরীরের একটি অংশের সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি নিকিকে দাঁড়াতে বলেন। নিকি উঠে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লে সমাবেশস্থলে উল্লাস শুরু হয়। পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন নিকি তাঁর মন্তব্যে অপমানিত হননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিকি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমর্থন দিয়ে আসছেন। এরপর মঞ্চে উঠে নিকি মিনাজ সমর্থকদের নিয়ে ট্রাম্পের নামে স্লোগান দেন। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স ও গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের নামেও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় পার করছে। তাই মিশিগানের ভোটারদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে নিকি বলেন, তাঁর ফিরে আসার পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলেছে এবং মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা আরও স্পষ্ট করেন নিকি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানো তাঁর জন্য সম্মানের এবং তিনি ভবিষ্যতেও তাঁকে সমর্থন করে যাবেন। এমনকি ট্রাম্প আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁকেও সমর্থন দেবেন বলে জানান এই র্যাপার। নিকির বক্তব্য শেষ হলে ট্রাম্প আবার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তাঁর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নিকিকে আগে কখনো এত সুন্দর দেখায়নি। একই সঙ্গে তাঁকে একজন বুদ্ধিমান ও বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া নিকি মিনাজ শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কের কুইন্সে বেড়ে ওঠেন। সংগীতজগতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন আয়োজনেও তাঁকে দেখা গেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আর্থিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এই শিল্পী। মিশিগানের নির্বাচনী লড়াই এবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাঈদ। অন্যদিকে গভর্নর পদে জন জেমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জোসেলিন বেনসন। সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে আবদুল এল সাঈদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। এল সাঈদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজের সরাসরি প্রচারে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে সমাবেশে প্রার্থীদের পক্ষে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্যও সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের সিনেট ও গভর্নর পদের ফলাফল কোন দলের পক্ষে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (ফোবানা)-এর ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফোবানার প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাহবুবুর রহিম এবং নির্বাচন কমিশনার ডিউক খান ও মোহাম্মদ আলমগীর। নতুন কার্যকরী পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে ফোবানার নতুন মেয়াদের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। নতুন কার্যকরী পরিষদের নেতৃত্বে যাঁরা: ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ফ্লোরিডার এম রহমান জহির। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে নিউইয়র্কের আবীর আলমগীর, কার্যকরী সেক্রেটারি হিসেবে ভার্জিনিয়ার ড. প্রিয়লাল কর্মকার, জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে ভার্জিনিয়ার এন্থনী পিয়ুস গোমেজ এবং ট্রেজারার হিসেবে টেক্সাসের নাহিদা নাছের ইয়াসমিন শপথ গ্রহণ করেন। আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে শপথ গ্রহণ: ফোবানার নবগঠিত কার্যকরী পরিষদে আউটস্ট্যান্ডিং মেম্বার হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন পেনসিলভানিয়ার রবিউল করিম বেলাল, ক্যালিফোর্নিয়ার ড. জয়নুল আবেদীন ও মোহাম্মদ ইকবাল, টেক্সাসের শামসুদ্দোহা সাগর, জর্জিয়ার ড. মোহাম্মদ আলী মানিক ও মাহবুবুর ভূঁইয়া, ইলিনয়ের মকবুল আলী, ফ্লোরিডার বাবুল হাই এবং ভার্জিনিয়ার ড. আবদুস সাত্তার। কার্যকরী সংগঠনের প্রতিনিধিদের শপথ: এ ছাড়া কার্যকরী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন টেক্সাসের ইমতিয়াজ আহমেদ পাভেল, হাসনাত মোব্বিন, আজমল এ খান ও নাদিম ভূঁইয়া; মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী; জর্জিয়ার জসিমউদ্দীন ও রাসেল ভূঁইয়া; কানসাসের রেহান রেজা; ভার্জিনিয়ার আবু রুমী, সামছুদ্দীন মাহমুদ, আখতার হোসেন, নুরুল আমিন, দিলশাদ চৌধুরী ও করিম সালাউদ্দীন। এ ছাড়া ফ্লোরিডার শফিকুল ইসলাম জুয়েল এবং ক্যালিফোর্নিয়ার তৌফিক এস খান তুহিন ও মোহাম্মদ এস হক সেন্টুও কার্যকরী সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব: নতুন কার্যকরী পরিষদে নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, ফ্লোরিডা, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়া, জর্জিয়া, পেনসিলভানিয়া, ইলিনয়, মিশিগান ও কানসাসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিরা স্থান পেয়েছেন। উত্তর আমেরিকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের মধ্যে সমন্বয় সাধনে ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। নতুন কার্যকরী পরিষদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংগঠনটির ২০২৬–২০২৭ মেয়াদের নেতৃত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করল।
যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন নথিতে এইচ-১বি (H-1B) ভিসা সংক্রান্ত তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপনের অভিযোগে মার্কিন বিচার বিভাগের (DOJ) তদন্তের মুখে পড়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় আইটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইনফোসিস লিমিটেড। গত ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত ত্রৈমাসিক ও ষান্মাসিক আর্থিক প্রতিবেদনে কোম্পানিটি এই তদন্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। ইনফোসিস জানিয়েছে, তারা চলমান এই আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে মার্কিন বিচার বিভাগের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং নিজেদের অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধানও অব্যাহত রেখেছে। তবে এই তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল কী হবে বা কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এর কোনো বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, সে বিষয়ে তারা এখনই কিছু নিশ্চিত করতে পারেনি। উল্লেখ্য, এক দশকেরও বেশি সময় আগে ২০১৩ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বি-১ (B-1) বিজনেস ভিসার অপব্যবহার এবং কর্মীদের ভ্রমণের উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ইনফোসিসকে ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার জরিমানা গুনতে হয়েছিল। সে সময় কোম্পানিটি জরিমানার অর্থ পরিশোধ ও নিজেদের কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করেছিল। বর্তমান এইচ-১বি ভিসা সংক্রান্ত তদন্তটি আগের সেই মীমাংসার সঙ্গে কোনোভাবে যুক্ত কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি প্রতিষ্ঠানটি।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মঞ্চে হাজির হয়েছেন জনপ্রিয় র্যাপার নিকি মিনাজ। রোববার (২৫ অক্টোবর) মিশিগান অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হিউরনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত এক সমাবেশে অংশ নেন তিনি। সেখানে নিকি মিনাজের সৌন্দর্য নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মঞ্চে তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর ট্রাম্প বলেন, ‘তাকে এর আগে কখনো এত সুন্দর লাগেনি।’ একই সমাবেশে নিকির শারীরিক সৌন্দর্য নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মিশিগানের ম্যাকমোরান প্লেস অ্যারেনায় এই নির্বাচনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স এবং গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের পক্ষে প্রচার চালান ট্রাম্প। তাঁর সঙ্গে এয়ার ফোর্স ওয়ানে করে মিশিগানে পৌঁছান ৪৩ বছর বয়সী র্যাপার নিকি মিনাজ। সমাবেশে কয়েক হাজার সমর্থক উপস্থিত ছিলেন। মঞ্চে উঠে নিকি রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান এবং ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প প্রথমে ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেডের শারীরিক গঠন নিয়ে আগের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ তোলেন। এরপর নিকি মিনাজের দিকে ইঙ্গিত করে তাঁর শরীরের একটি অংশের সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি নিকিকে দাঁড়াতে বলেন। নিকি উঠে দাঁড়িয়ে জনতার উদ্দেশে হাত নাড়লে সমাবেশস্থলে উল্লাস শুরু হয়। পরে ট্রাম্প বলেন, তিনি আশা করেন নিকি তাঁর মন্তব্যে অপমানিত হননি। একই সঙ্গে তিনি জানান, নিকি দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সমর্থন দিয়ে আসছেন। এরপর মঞ্চে উঠে নিকি মিনাজ সমর্থকদের নিয়ে ট্রাম্পের নামে স্লোগান দেন। রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স ও গভর্নর প্রার্থী জন জেমসের নামেও স্লোগান দিতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় পার করছে। তাই মিশিগানের ভোটারদের রিপাবলিকান প্রার্থীদের নির্বাচিত করতে হবে। ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রশংসা করে নিকি বলেন, তাঁর ফিরে আসার পর দেশের রাজনৈতিক পরিবেশ বদলেছে এবং মানুষ ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে আশাবাদী হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। বক্তব্যের শেষ দিকে ট্রাম্পের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা আরও স্পষ্ট করেন নিকি। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পাশে দাঁড়ানো তাঁর জন্য সম্মানের এবং তিনি ভবিষ্যতেও তাঁকে সমর্থন করে যাবেন। এমনকি ট্রাম্প আবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে তাঁকেও সমর্থন দেবেন বলে জানান এই র্যাপার। নিকির বক্তব্য শেষ হলে ট্রাম্প আবার মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে তাঁর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নিকিকে আগে কখনো এত সুন্দর দেখায়নি। একই সঙ্গে তাঁকে একজন বুদ্ধিমান ও বিশেষ ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে জন্ম নেওয়া নিকি মিনাজ শৈশবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং নিউইয়র্কের কুইন্সে বেড়ে ওঠেন। সংগীতজগতে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জনের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাচ্ছেন। এর আগে হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন আয়োজনেও তাঁকে দেখা গেছে। বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি আর্থিক কর্মসূচির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতি ও উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এই শিল্পী। মিশিগানের নির্বাচনী লড়াই এবার রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল সাঈদ। অন্যদিকে গভর্নর পদে জন জেমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট জোসেলিন বেনসন। সমাবেশে ট্রাম্প ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের তীব্র সমালোচনা করেন। বিশেষ করে আবদুল এল সাঈদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে তাঁর মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটরা। এল সাঈদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ভোটারদের মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নিকি মিনাজের সরাসরি প্রচারে অংশ নেওয়া রিপাবলিকানদের নির্বাচনী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে সমাবেশে প্রার্থীদের পক্ষে তাঁর বক্তব্যের পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত মন্তব্যও সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে মিশিগানের সিনেট ও গভর্নর পদের ফলাফল কোন দলের পক্ষে যায়, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।
যুক্তরাষ্ট্রের সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা সমমূল্যের ফেলোশিপ ও স্কলারশিপ সুবিধা নিয়ে পিএইচডি করার সুযোগ পেয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম আশফাকুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির মর্যাদাপূর্ণ ম্যাক্সওয়েল স্কুল অব সিটিজেনশিপ অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের সমাজতত্ত্ব বিভাগে পিএইচডি করছেন। পাঁচ বছর মেয়াদি এই গবেষণা কার্যক্রমে তাঁর টিউশন ফি, ফেলোশিপ, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং হেলথ ইন্স্যুরেন্সসহ প্রতিবছর প্রায় ৮০ হাজার ৪৬০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের আর্থিক সুবিধা থাকছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ বছরে প্রায় ৯৮ লাখ টাকা এবং পাঁচ বছরে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়, সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাক্সওয়েল ফেলোশিপের আওতায় আশফাকুর রহমান এই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। তবে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার পুরো অর্থ সরাসরি তাঁর হাতে দেওয়া হবে না। এই হিসাবের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি, গবেষণা সহায়তা, অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের বিপরীতে আর্থিক সুবিধা এবং স্বাস্থ্যবিমার ভর্তুকি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মূলত উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ব্যয় নির্বাহের জন্যই এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের আনুষ্ঠানিক শিক্ষার্থী তালিকাতেও তাঁর নাম পিএইচডি গবেষক হিসেবে রয়েছে। আশফাকুর রহমানের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার যাত্রা শুরু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগ থেকে। সেখান থেকে তিনি স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর মাস্টার্স থিসিসের বিষয় ছিল রোহিঙ্গা সংকট ও আধুনিক শাসনব্যবস্থা। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, মানুষের আচরণ এবং সামাজিক নীতির সঙ্গে বাস্তব জীবনের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার আগ্রহ তৈরি হয় তাঁর। পরবর্তী সময়ে আরও উচ্চতর গবেষণার সুযোগ খুঁজতে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পর মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটি, মানকাটোতে সমাজতত্ত্ব বিষয়ে দ্বিতীয় মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হন আশফাকুর রহমান। সেখানেও তিনি পূর্ণ অর্থায়নের স্কলারশিপ সুবিধা পান। পড়াশোনার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়টির সেন্টার ফর এক্সিলেন্স ইন স্কলারশিপ অ্যান্ড রিসার্চে গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট ও রিসার্চ কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজ করেন। এর আগে জনস হপকিন্স ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর কমিউনিকেশন প্রোগ্রামস এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যয়নকালে গবেষণায় একাধিক সাফল্য অর্জন করেন আশফাকুর রহমান। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিডওয়েস্ট সোশিওলজিক্যাল সোসাইটি আয়োজিত সেরা গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী গবেষণাপত্র প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করেন তিনি। এ ছাড়া সোশিওলজিস্টস অব মিনেসোটার ক্যারোলিন রোজ রিসার্চ পেপার প্রতিযোগিতায়ও শীর্ষস্থান অর্জন করেন। তাঁর দ্বিতীয় মাস্টার্স থিসিস স্টেট সোসাইটি অন এজিং অব নিউইয়র্কের সেরা গবেষণাপত্রের স্বীকৃতি পায় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা তাঁর মাস্টার্স গবেষণার বিষয় ছিল তীব্র শীতের সময় একা বসবাসকারী প্রবীণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় সামাজিক যোগাযোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির ভূমিকা। গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের শীতপ্রবণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে বসবাসকারী ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ১০০ জন ব্যক্তির তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি আবহাওয়ার অ্যাপ, স্মার্ট ডিভাইস এবং জরুরি সতর্কবার্তার মতো প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হয়। মিনেসোটা স্টেট ইউনিভার্সিটির নিজস্ব গবেষণা সংগ্রহশালায় তাঁর এই গবেষণাপত্র সংরক্ষিত রয়েছে। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ দুটিই প্রবীণদের নিরাপত্তামূলক আচরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এই দুই ধরনের সহায়তার ভূমিকা এক নয়। প্রযুক্তি দ্রুত প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে সাহায্য করে, অন্যদিকে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনের সঙ্গে যোগাযোগ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তব সহায়তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও দুর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে উভয় ব্যবস্থার সমন্বিত ব্যবহার নিয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয় গবেষণায়। নতুন পিএইচডি গবেষণায় আশফাকুর রহমান প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পরিবেশগত সমাজবিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কাজ করতে চান। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে মানুষের স্বাস্থ্যগত চাহিদা, সামাজিক বৈষম্য এবং প্রযুক্তির প্রভাব কীভাবে পরিবর্তিত হয়, তা তাঁর গবেষণার আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে। সাইরাকিউজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি প্রতিষ্ঠানটির পলিসি, প্লেস, পপুলেশন হেলথ অ্যান্ড এজিং প্রোগ্রামের সঙ্গেও যুক্ত রয়েছেন। তাঁর একাডেমিক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক মার্ক এ গার্সিয়া। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে আশফাকুর রহমান জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অর্জিত গবেষণার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে চান তিনি। বিশেষ করে দেশের প্রবীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা, বার্ধক্যকালীন সামাজিক নিরাপত্তা, নীতিনির্ধারণ এবং কাঠামোগত বৈষম্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণায় অবদান রাখার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চতর গবেষণা কার্যক্রমে তাঁর এই অগ্রযাত্রা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ অর্জনের আরেকটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: প্রথম আলো
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ উদ্যোগে রাস্তায় চারটি স্পিডব্রেকার বসিয়েছেন ৪৪ বছর বয়সী এক বাসিন্দা। এলাকার সড়কে দ্রুতগতির গাড়ি চলাচল নিয়ে উদ্বিগ্ন বরিস মেসেস নামের ওই ব্যক্তি শহর কর্তৃপক্ষের সাড়া না পেয়ে এ পদক্ষেপ নেন। গত সপ্তাহে সাইপ্রেস হিলস এলাকার মিলার অ্যাভিনিউ ও আরলিংটন অ্যাভিনিউয়ের আশপাশে স্পিডব্রেকারগুলো বসান তিনি। নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য পাওয়া এসব স্পিডব্রেকার নিজেই রাস্তায় স্থাপন করেন মেসেস। তাঁর ভাষ্য, সড়কটি শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এবং গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মেসেসের অভিযোগ, এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসানোর জন্য নগর কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাঁদের আবেদনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর। গত মার্চে একটি গাড়ি তাঁর পার্ক করে রাখা গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনাও সড়কের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর উদ্বেগ বাড়িয়ে দেয়। এসব কারণে নিজেই উদ্যোগ নিয়ে স্পিডব্রেকার বসানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর মতে, এতে এলাকার শিশুদের পাশাপাশি অন্য পথচারী ও বাসিন্দারাও উপকৃত হবেন। নিজের উদ্যোগের পক্ষে যুক্তি দিয়ে মেসেস বলেন, এই রাস্তায় প্রতিদিন দ্রুতগতিতে গাড়ি চলাচল করে, যা সবার জন্যই বিপজ্জনক। তাঁর ভাষায়, ‘এটি সবার জন্যই ভালো। এই রাস্তাটি বিপজ্জনক।’ জরিমানা করা হলেও তিনি নিজের সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বিগ্ন নন বলেও জানান। স্পিডব্রেকারগুলো যেন সহজে সরে না যায়, সে জন্য বিশেষ ধরনের স্ক্রু ব্যবহার করে সেগুলো রাস্তার সঙ্গে আটকে দিয়েছেন বলে জানান তিনি। তবে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এভাবে সড়কে স্থাপনা বসানোর বিষয়টি আইনগতভাবে কীভাবে বিবেচিত হবে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মেসেসের বসানো স্পিডব্রেকারগুলো পরীক্ষা করেনি বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক সিটি হল ও নগরীর পরিবহন বিভাগের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর উদ্যোগের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অবস্থান স্পষ্ট হয়নি। নিজে স্পিডব্রেকার বসিয়েই অবশ্য সন্তুষ্ট নন মেসেস। তাঁর মতে, সড়কটির বাকি অংশেও একই ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন, যাতে গাড়ির গতি আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সড়কের বাকি অংশের দিকে ইঙ্গিত করে নগর কর্তৃপক্ষের প্রতি আরও স্পিডব্রেকার বসানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। মেসেস বলেন, সেখানে আরও দুটি বা তিনটি স্পিডব্রেকার বসানো উচিত। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করছেন তিনি। তাঁর এই উদ্যোগ সাইপ্রেস হিলস এলাকার সড়ক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবিকে আবারও সামনে এনেছে। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ।
ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকে আসা ৪০ ইরানি নাবিককে চিকিৎসাসেবা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জরুরি চিকিৎসার অনুরোধ পাওয়ার পর গত শনিবার তাঁদের দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গলে বন্দরে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোববার ভোরে তাঁরা ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো রোববার এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। রদ্রিগো জানান, নাবিকদের উপকূলে নিয়ে আসার জন্য ইরানি দূতাবাস ও স্থানীয় জাহাজ চলাচল-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা নৌযানের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে নাবিকেরা ঠিক কোন কোন জাহাজ থেকে এসেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবিকেরা শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে ছিলেন এবং তাঁদের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি সমুদ্রে বেশ কয়েকটি ইরানি জাহাজ আটকে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি নৌপরিবহনের ওপর অবরোধের কারণে এসব জাহাজের দেশে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, দেশটির উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে ১৯টি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজের নাবিকদের খাবার, পানি ও জ্বালানির ঘাটতির কথাও সামনে এসেছে। তবে সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানে থাকা ৪০ নাবিক ওই ১৯টি জাহাজের সবকটি থেকে এসেছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছিল, আটকে থাকা জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশটির জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও বিবেচনায় ছিল। তবে এবার চিকিৎসাজনিত জরুরি অনুরোধের পর নাবিকদের উপকূলে এনে চিকিৎসা দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও ঘটনাটি ইরানি নাবিকদের দুরবস্থা নিয়ে নতুন করে মনোযোগ তৈরি করেছে। এই ঘটনা ঘটল ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ আইআরআইএস দেনা ডুবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর। গত ৪ মার্চ ভারতের আমন্ত্রণে একটি নৌমহড়ায় অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি সমুদ্রে জাহাজটি মার্কিন টর্পেডো হামলায় ডুবে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় বহু নাবিক প্রাণ হারান। জাহাজটি থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে কারিগরি সমস্যায় পড়া আরেকটি ইরানি জাহাজের নাবিকদেরও সহায়তা দেওয়া হয় এবং পরে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশের সঙ্গেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়া নাবিকদের চিকিৎসা ও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্স।
রাজনীতি
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
জুয়েল সাদাত
বিশ্ব
View moreরোগীর জীবন বাঁচাতে টানা ৩২ ঘণ্টা ধরে জটিল অস্ত্রোপচার করেছেন চীনের একদল চিকিৎসক। অস্ত্রোপচার শেষে ক্লান্তিতে অপারেশন কক্ষের মেঝেতে শুয়ে পড়েন তাঁদের কয়েকজন। তাঁদের একজন মেঝেতে শুয়েই ক্যামেরার দিকে বিজয়চিহ্ন দেখান। চিকিৎসকদের এই মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালের জুনে, চীনের ফুজিয়ান প্রদেশের ফুঝৌ শহরের ফুজিয়ান মেডিকেল ইউনিভার্সিটি ইউনিয়ন হাসপাতালে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগীর মস্তিষ্কে দুটি গুরুতর সমস্যা ছিল। একটি হলো মস্তিষ্কের রক্তনালিতে অ্যানিউরিজম, অর্থাৎ রক্তনালির দেয়াল দুর্বল হয়ে অস্বাভাবিকভাবে ফুলে ওঠা। অন্যটি ছিল ব্রেনস্টেমে হেমানজিওব্লাস্টোমা নামের বিরল ধরনের টিউমার। মস্তিষ্কের এই অংশটি শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদস্পন্দনের মতো গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে। চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, একটি সমস্যার চিকিৎসা করতে গিয়ে অন্যটির জটিলতা বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচারের পরিকল্পনা করতে হয়। অস্ত্রোপচারে অংশ নেন তিনজন সার্জন, ছয়জন অ্যানেসথেশিওলজিস্ট এবং আটজন নার্স। প্রায় ৩২ ঘণ্টার এই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় মোট ছয়টি ধাপে অস্ত্রোপচার করা হয়। চিকিৎসকদের দীর্ঘ সময় ধরে নিবিড় মনোযোগ ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা কেবল অল্প সময়ের জন্য বিরতি নিয়েছিলেন। রোগীর অবস্থা বিবেচনায় প্রতিটি ধাপে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হয়েছে তাঁদের। অস্ত্রোপচার শেষে তোলা ছবিতে চিকিৎসকদের শারীরিক ক্লান্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কয়েকজন সার্জন অপারেশন কক্ষের মেঝেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁদের একজন ক্লান্ত অবস্থাতেও ক্যামেরার দিকে দুই আঙুল তুলে বিজয়চিহ্ন দেখান। ছবিটি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মূলত দীর্ঘ সময় ধরে চলা জটিল অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকদের শারীরিক পরিশ্রম ও মানসিক চাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরায়। তবে ছবিটি ভাইরাল হওয়ার নির্দিষ্ট সময় ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর প্রতিক্রিয়ার পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর রোগী বেঁচে যান। তবে তাঁর পরবর্তী শারীরিক অবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সহজলভ্য নয়। ঘটনাটি চিকিৎসকদের দক্ষতা, দলগত কাজ এবং জটিল চিকিৎসায় প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরে। একই সঙ্গে দীর্ঘ অস্ত্রোপচারে চিকিৎসাকর্মীদের শারীরিক সক্ষমতা ও বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও সামনে আনে। সূত্র: গ্লোবাল টাইমস ও সিএনটিভির বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
মাত্র ১৫ বছর বয়সে মেকআপ ব্যবহার শুরু করেছিলেন চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জিলিন প্রদেশের এক তরুণী। এরপর ২২ বছর ধরে নিয়মিত মেকআপ ব্যবহার করলেও রাতে মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করার অভ্যাস ছিল না তাঁর। এখন ৩৭ বছর বয়সে তাঁর মুখজুড়ে দেখা দিয়েছে লালচে ফুসকুড়ি, ফোলা ভাব ও ত্বকের প্রদাহ। জুন ২০২৫-এ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বর্তমান অবস্থার একটি ভিডিও প্রকাশের পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। অনলাইনে ‘নিউইয়োমিয়ান’ নামে পরিচিত ওই নারী জানিয়েছেন, পরদিন সকালে আবার মেকআপ করবেন ভেবে রাতে তা পুরোপুরি তুলে ফেলার প্রয়োজন মনে করতেন না তিনি। ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ত্বকের সমস্যা শুরু হয়েছিল ১৪ বছর বয়সে। তখন ব্রণ দূর করার জন্য একটি ক্রিম ব্যবহার করেছিলেন তিনি, যার পর ত্বকে অ্যালার্জির মতো প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় বলে দাবি করেন। পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তখন তুলনামূলক কম দামের তরল প্রসাধনী ব্যবহার করে ত্বকের দাগ ঢাকার চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্যচর্চা ও চুলের সাজসজ্জা শেখার সময় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শেও আসেন তিনি। তাঁর ধারণা, এসব অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের অনিয়মিত ত্বক পরিচর্যার সঙ্গে বর্তমান সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। চীনা ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ত্বকের অবস্থা খারাপ হতে শুরু করলে প্রথমে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে না গিয়ে একটি সৌন্দর্যচর্চা কেন্দ্রে চিকিৎসা নেন ওই নারী। সেখানে মুখে ইনজেকশন দেওয়ার পর তাঁর অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। মুখে তীব্র চুলকানি ও অস্বস্তি অনুভব করেন বলেও জানিয়েছেন। তাঁর বর্ণনায়, কখনো কখনো মনে হয় যেন মুখের ওপর দিয়ে হাজার হাজার ছোট পিঁপড়া হেঁটে যাচ্ছে। তবে কোন রোগ বা নির্দিষ্ট কারণে তাঁর ত্বকের এমন অবস্থা হয়েছে, তা নিশ্চিত করে এমন কোনো চিকিৎসা-নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। নিজের ত্বকের সমস্যাকে ওই নারী ‘হরমোন ফেস’ বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এটি তাঁর ব্যবহৃত একটি বর্ণনা, নিশ্চিত চিকিৎসা-নির্ণয় নয়। দীর্ঘদিন মেকআপ ব্যবহার করা, মুখ যথাযথভাবে পরিষ্কার না করা, প্রসাধনীর উপাদানে অ্যালার্জি এবং বিভিন্ন প্রসাধনভিত্তিক চিকিৎসার প্রভাব, একাধিক বিষয় ত্বকের সমস্যার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। কিন্তু শুধু তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মেকআপ না তোলাকেই মুখের বর্তমান অবস্থার একমাত্র কারণ বলা যায় না। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা-পরীক্ষার ফলও প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর ত্বকের যত্নে নিয়মিত পরিচর্যার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, মেকআপ ব্যবহারের পর ত্বক উপযোগী পরিষ্কারক দিয়ে তা তুলে ফেলা এবং নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে তার উপাদান সম্পর্কে সতর্ক থাকা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী লালচে ভাব, ফোলা, চুলকানি বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে নিজে থেকে একের পর এক প্রসাধনী বা চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট ও হিন্দুস্তান টাইমস।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় বিদ্যুতের সংকট, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের অভাব আর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন ছাড়েননি তরুণ শিক্ষার্থী কারিম আয়াদ আলখোদারি। রাতে একটি ছোট সৌরশক্তিচালিত বাতির আলোয় বসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাঠ পড়েন তিনি। পড়ার উপকরণ পর্যালোচনা করা, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা এবং নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়াই এখন তাঁর দৈনন্দিন জীবনের অংশ। নিজের জীবনের এমন মুহূর্তগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন কারিম। তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা গাজার প্রতিকূল পরিবেশে শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাওয়ার সংগ্রামকে সামনে এনেছে। কারিমের নিজের ভাষ্যে, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন তাঁর কাছে কেবল পেশাগত লক্ষ্য নয়, বরং কঠিন সময়েও এগিয়ে চলার প্রেরণা। যুদ্ধের মধ্যে কখনো মোমবাতির আলোয়, কখনো হাতের কাছে পাওয়া সামান্য আলোর সাহায্যে পড়াশোনা করেছেন তিনি। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাঠের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে প্রশিক্ষণও সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াতে চান তিনি, বিশেষ করে এমন মানুষদের, যাঁরা প্রয়োজনের সময় যথাযথ চিকিৎসা পান না। কারিমের পরিবারের সংকটও তাঁর পড়াশোনাকে কঠিন করে তুলেছে। তাঁর প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর তাঁদের পারিবারিক বাড়িটি ধ্বংস হয়ে যায়। বাড়িটি তাঁর বাবা প্রায় ৩৮ বছর ধরে নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন। এখন পরিবারের সাত সদস্যকে একটি ছোট ভাড়া করা ঘরে থাকতে হচ্ছে। খাবার, বিশুদ্ধ পানি, নিরাপদ আশ্রয় এবং চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাও তাঁদের জন্য প্রতিদিনের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা তৈরি করে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কারিম। সীমিত আলো ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের মধ্যেই বইপত্র নিয়ে বসেন তিনি, যাতে পড়ার ধারাবাহিকতা নষ্ট না হয়। যুদ্ধের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া, ঘন ঘন স্থান পরিবর্তন এবং বিদ্যুতের অভাব গাজার বহু শিক্ষার্থীর জন্য বড় বাধা হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতো বিষয়, যেখানে নিয়মিত অধ্যয়ন ও অনুশীলন জরুরি, সেখানে এসব সীমাবদ্ধতা শিক্ষার্থীদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে। গাজায় শিক্ষাজীবন ধরে রাখার লড়াই কারিমের একার নয়। ২০২৪ সালে বিএমজে গ্লোবাল হেলথের একটি লেখায় গাজার আরেক চিকিৎসাশিক্ষার্থী যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা এবং বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছিলেন। ২০২৬ সালেও গাজায় শিক্ষার্থীদের জন্য বিকল্প শিক্ষার পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কারিমের অভিজ্ঞতা দেখায়, এমন উদ্যোগের পাশাপাশি অনেক শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে নানা সংকট মোকাবিলা করে নিজেদের পড়াশোনা এগিয়ে নিতে হচ্ছে। কারিমের লক্ষ্য একদিন চিকিৎসক হয়ে গাজার মানুষের সেবা করা। তাঁর পরিবারের আর্থিক সংকট ও পড়াশোনার খরচ মেটাতে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। নিজের বিবরণে তিনি জানিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান এবং ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে অন্যদের সহায়তা করতে চান। সীমিত আলোয় বইয়ের পাতায় চোখ রেখে তাঁর এই চেষ্টা গাজায় যুদ্ধের মধ্যে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখার এক ব্যক্তিগত উদাহরণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: কারিম আয়াদ আলখোদারির ব্যক্তিগত বিবরণ ও বিএমজে গ্লোবাল হেলথ।
ভারত মহাসাগরে শ্রীলঙ্কার উপকূলের কাছে আটকে থাকা জাহাজগুলো থেকে আসা ৪০ ইরানি নাবিককে চিকিৎসাসেবা দিয়ে দেশে ফেরত পাঠিয়েছে শ্রীলঙ্কা। জরুরি চিকিৎসার অনুরোধ পাওয়ার পর গত শনিবার তাঁদের দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় গলে বন্দরে নেওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রোববার ভোরে তাঁরা ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র থুশারা রদ্রিগো রোববার এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)। রদ্রিগো জানান, নাবিকদের উপকূলে নিয়ে আসার জন্য ইরানি দূতাবাস ও স্থানীয় জাহাজ চলাচল-সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা নৌযানের ব্যবস্থা করেন। তাঁদের অভিবাসনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে নাবিকেরা ঠিক কোন কোন জাহাজ থেকে এসেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাঁর কাছে ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাবিকেরা শ্রীলঙ্কার উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকা একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজে ছিলেন এবং তাঁদের চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতির কারণে সহায়তা চাওয়া হয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি সমুদ্রে বেশ কয়েকটি ইরানি জাহাজ আটকে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানি নৌপরিবহনের ওপর অবরোধের কারণে এসব জাহাজের দেশে ফেরার পথ বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে এপির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার কর্তৃপক্ষ এর আগে জানিয়েছিল, দেশটির উপকূল থেকে প্রায় ২৪ নটিক্যাল মাইল দূরে ১৯টি জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজের নাবিকদের খাবার, পানি ও জ্বালানির ঘাটতির কথাও সামনে এসেছে। তবে সর্বশেষ উদ্ধার অভিযানে থাকা ৪০ নাবিক ওই ১৯টি জাহাজের সবকটি থেকে এসেছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। এর আগে শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছিল, আটকে থাকা জাহাজগুলোকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো পরিকল্পনা নেই। দেশটির জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও বিবেচনায় ছিল। তবে এবার চিকিৎসাজনিত জরুরি অনুরোধের পর নাবিকদের উপকূলে এনে চিকিৎসা দিয়ে দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত না জানালেও ঘটনাটি ইরানি নাবিকদের দুরবস্থা নিয়ে নতুন করে মনোযোগ তৈরি করেছে। এই ঘটনা ঘটল ইরানি নৌবাহিনীর জাহাজ আইআরআইএস দেনা ডুবে যাওয়ার প্রায় সাত মাস পর। গত ৪ মার্চ ভারতের আমন্ত্রণে একটি নৌমহড়ায় অংশ নিয়ে দেশে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার কাছাকাছি সমুদ্রে জাহাজটি মার্কিন টর্পেডো হামলায় ডুবে যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওই ঘটনায় বহু নাবিক প্রাণ হারান। জাহাজটি থেকে উদ্ধার হওয়া নাবিকদের শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। একই সময়ে কারিগরি সমস্যায় পড়া আরেকটি ইরানি জাহাজের নাবিকদেরও সহায়তা দেওয়া হয় এবং পরে তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হয়। অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে শ্রীলঙ্কা। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান, দুই দেশের সঙ্গেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সহায়তায় শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল। অন্যদিকে, ইরানের সঙ্গে সম্পর্কও দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে আটকে পড়া নাবিকদের চিকিৎসা ও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ মানবিক সহায়তার পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার কূটনৈতিক ভারসাম্যের বিষয়টিও সামনে এনেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও রয়টার্স।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
রাবণের দশ মাথায় ড. ইউনূস ও ইলন মাস্কের ছবি, লক্ষ্ণৌতে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে হামের সংক্রমণ ভয় বাড়াচ্ছে, চলতি বছরেই তৃতীয় মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত
বার্ধক্যের গতি কমাতে পারে ভিটামিন ডি, হার্ভার্ডের গবেষণায় উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বয়স্কদের মধ্যে কোলন ক্যানসার কমলেও তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
ক্যানসারের নতুন এমআরএনএ টিকায় আশার আলো, রোগ ফেরার ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ
বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ থাবা, ঝুঁকিতে শিশুরা! মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২১৪ জন
ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার চালু করছে কেন্ট জেলা
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের জন্য সেরা ১০ প্রতিষ্ঠান, শীর্ষে কার ওয়াশ কোম্পানি
মেয়েকে হত্যার অভিযোগে প্রায় ৩০ বছর পর মেক্সিকোয় আটক পলাতক মা
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০ শতাংশ ধনীর তালিকায় থাকতে নিট সম্পদ হতে হবে ১৮ লাখ ডলার
নিউ ইয়র্কের কুইন্স পার্কে গর্ত থেকে নারীর পচনশীল মরদেহ উদ্ধার, পরিচয় অজানা
প্রশাসনের সাড়া না পেয়ে শিশুদের নিরাপত্তায় নিজেই রাস্তায় স্পিডব্রেকার বসালেন নিউ ইয়র্কের বাসিন্দা
পাঁচ বছরে আয় ৮ গুণের বেশি, তবু অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেন নাবিল খান
ইন্টেল থেকে টেসলায়! সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার বাংলাদেশি সারোয়ার মোর্শেদ
সৌদিতে ১৯ হাজার ৬১০টি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আবেদনের নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন, কর্মীদের মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও
মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কিনেন ফোন, নাসিম এখন মাইক্রোসফটে
দুই হাজার বছর পর রোমান স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হওয়া ব্যক্তির মুখ ফিরল ডিজিটাল প্রযুক্তিতে
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে মরিয়া আইনি লড়াই, এবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে মাহমুদ খলিল
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
৫ কোটি টাকার ফেলোশিপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ পেলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আশফাকুর
এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পেয়েও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির অফার পেলেন রায়হান
হকিংয়ের পাওয়া পুরস্কার এবার বাঙালির! পদার্থবিদ্যার অস্কার ক্লেন মেডেল অশোক সেনের
বিনা টিউশন ফিতে সুইডেনে মাস্টার্স, সঙ্গে মাসে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ভাতা!
বিদেশে উচ্চশিক্ষা: অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর আগে জানতে ও যাচাই করতে হবে ১০ বিষয়
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কমিউনিটির বড় সহায়তা, ৮ লাখ ডলারের অনুদান
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র
লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!
দুর্গাপূজার আনন্দে মাতোয়ারা বাংলাদেশ, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ঢল, উৎসবের রঙে রঙিন দেশ
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
আম্বানির শেয়ার কিনতে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার
আমেরিকায় কোন পেশায় আয় বেশি? জেনে নিন, ঘণ্টাপ্রতি বেতনসহ ১০টি কাজের তালিকা
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ
বিমানবন্দরে আটক হওয়ার পর মুক্তি, এবার অন্য বন্দি নারীদের পাশে ইউক্রেনীয় অভিবাসী
স্কুলে যাওয়ার পথে আটক, ভাঙল কবজি ২০ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তরুণকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে তোলপাড়
যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল ম্যাচের পর গুলিতে আহত অন্তত ১২, ছয় শিশুকে ঘিরে উদ্বেগ
বয়স্কভাতার কথা বলে টিপসই, বৃদ্ধের ১৪ শতক জমি তিন ভাইয়ের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে স্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
কানাডায় নারীকে পাচার ও ধর্ষণ, দুই বাংলাদেশির ১৪ ও ৪ বছরের কারাদণ্ড
ইউরোপে নিজের নতুন দেশ প্রতিষ্ঠা করে ২১ বছরের তরুণ পেলেন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সম্মাননা
নতুন গাড়ি কিনে বাড়ির সামনে রাখলেন, সকালে দেখলেন আঁচড়ে ভরা! এক রাতেই আনন্দ পরিণত হতাশায়
৩ তলা থেকে পানের পিক ফেলতে গিয়ে ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুতের তারে প্রাণ গেল বৃদ্ধের