নিউইয়র্কের কুইনসে নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাত আড়াইটার দিকে ফ্লাশিংয়ের হোরেস হার্ডিং এক্সপ্রেসওয়েতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ক্রিস জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে তিনি মৃতের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করেন। ক্রিস বলেন, এক মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে বাড়িতে থাকার সময় সদর দরজায় শব্দ শুনতে পান। এরপর চার মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়।তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা মুখে আঘাত করার পর জিপ টাই দিয়ে পেছনে হাত ও পা বেঁধে ফেলে। মুখের ওপর কোট চাপা দেয়। তখন তিনি মৃতের অভিনয় করেন। ক্রিস জানান, তাঁর রোলেক্স ঘড়িসহ মূল্যবান গয়না নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তাঁর পরনে থাকা চেইনটির মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার ডলার বলে দাবি করেন তিনি।এ সময় ওপরতলায় লুকিয়ে ছিলেন তাঁর নারী বন্ধু। হামলাকারীদের অজান্তে তিনি পুলিশকে ফোন করেন। ক্রিস বলেন, ওই বন্ধুর পদক্ষেপই তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে। পুলিশ আসার পর তিন সন্দেহভাজন পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। পুলিশ ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে। ক্রিস বলেছেন, তিনি তাকে তিনি কখনোই দেখেননি।কেউ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলেছে বলে সন্দেহ করছেন ক্রিস। ঘটনার পর বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কার্যালয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকটের সূত্রপাত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, অল্প সময়ের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দাবি করছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।তবে সরকার কেন সাবেক উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং নিজের কার্যালয়ে যান। এর আগে চলমান আন্দোলনের কারণে তিনি ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে প্রবেশ করতে পারেননি এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। নতুন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁকে দুপুরের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশপথে আবার তালা লাগিয়ে দেন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করেন, উপাচার্য তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে, উপাচার্য কীভাবে ভবনে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। তাই ঘটনাটির প্রতিটি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ১২ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করেন।শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, নতুন উপাচার্যকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালাবেন। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তাঁর সঙ্গে বহিরাগত ও রাজনৈতিক কর্মীরা ছিলেন। এ ছাড়া শহর থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা দুটি বাসে হামলার অভিযোগও তাঁরা উত্থাপন করেন এবং ঘটনাটির তদন্ত দাবি করেন।তবে বাসে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলও প্রকাশিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ফি ছাড়াই আবেদন করার বিশেষ সুযোগ পাচ্ছেন যোগ্য শিক্ষার্থীরা। ১২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচি চলবে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এ সময়ে যোগ্য টেক্সাসের বাসিন্দারা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন বিনা আবেদন ফিতে। টেক্সাসের উচ্চশিক্ষা সমন্বয় বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের প্রধান উদ্দেশ্য উচ্চশিক্ষায় প্রবেশের আর্থিক বাধা কমানো এবং আরও বেশি শিক্ষার্থীকে কলেজে আবেদন করতে উৎসাহিত করা। বিশেষ করে যাঁরা একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চান, তাঁদের জন্য এটি অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এই কর্মসূচিতে দুই লাখ ষাট হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। এবারও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী এই সুবিধা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কারা আবেদন করতে পারবেন? এই কর্মসূচির আওতায় টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীরা রাজ্যের সরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে আবেদন করতে পারবেন। প্রথমবার কলেজে ভর্তি হতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ভর্তি হতে আগ্রহীরাও এই সুযোগ পেতে পারেন। আবেদনকারীর টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্যতা যাচাই করা হবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করা কিংবা টেক্সাসে পড়াশোনা করার কারণে কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই সুবিধার যোগ্য হবেন না। কর্মসূচিটি মূলত স্নাতক পর্যায়ের আবেদনের জন্য। সাধারণ নিয়মে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের আবেদন এই ফি মওকুফের আওতায় পড়ে না। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব উদ্যোগে অতিরিক্ত সুবিধা দিচ্ছে। কীভাবে আবেদন করবেন? শিক্ষার্থীদের প্রথমে ApplyTexas ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে অথবা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এরপর পছন্দের কলেজ, শিক্ষাবিষয় এবং ভর্তির সময় নির্বাচন করে আবেদনপত্র পূরণ করতে হবে। আবেদনে ব্যক্তিগত তথ্য, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং প্রতিষ্ঠানের চাওয়া অন্যান্য তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে। সব তথ্য যাচাই করে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দিতে হবে। ২০২৬ সালের ১৮ অক্টোবর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট সেন্ট্রাল ডে-লাইট টাইমের মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, শেষ সময়টি হবে ১৯ অক্টোবর সকাল ১০টা ৫৯ মিনিট। আবেদন তৈরি করে রেখে দিলে হবে না; নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়ার প্রমাণ থাকতে হবে।যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ApplyTexas-এর মাধ্যমে জমা দেওয়া আবেদনের ফি মওকুফ হবে। আবেদনপ্রক্রিয়ায় ফি বা অর্থ পরিশোধের নির্দেশনা দেখা গেলেও যোগ্য আবেদনকারীদের এই সপ্তাহে জমা দেওয়া আবেদনের জন্য অর্থ দিতে হবে না বলে প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে। আবেদনের ওয়েবসাইট: https://www.applytexas.org/ কত টাকা সাশ্রয় হতে পারে? কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন ফি আলাদা। কোনো শিক্ষার্থী একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে চাইলে প্রতিটি আবেদনের জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। এই কর্মসূচিতে যোগ্য শিক্ষার্থীরা একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন। তবে সাশ্রয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত আবেদন ফি এবং শিক্ষার্থী কতটি প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছেন তার ওপর। আবেদন ফি মওকুফের অর্থ এই নয় যে টিউশন ফি, ভর্তি-পরবর্তী অন্যান্য খরচ বা আবাসনের খরচও মওকুফ হবে। বাংলাদেশি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য কী নিয়ম? যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই রাজ্যব্যাপী কর্মসূচি সব আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত নয়। সুবিধাটি টেক্সাসের বাসিন্দা হিসেবে যোগ্য শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলেই কেউ এই সুবিধা পাবেন না। যাঁরা বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যেতে চান অথবা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করতে চান, তাঁদের পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব আবেদন ফি মওকুফের নিয়ম যাচাই করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদনের ফি, যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের নিয়ম আলাদা হতে পারে।
বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে টানা ২৩ বছর কাজ করার পর অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম। ভারতের নিজ দেশে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব ছেড়ে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শানমুগাম মাইক্রোসফটের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন শেষে তাঁর অবসরের ঘোষণা প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। নিজের লিংকডইন পোস্টে কেশবন শানমুগাম জানান, মাইক্রোসফটে ২৩ বছর কাজ করার পর তিনি অবসর নিচ্ছেন, যাতে ভারতের বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। তিনি লেখেন, মাইক্রোসফটে তাঁর কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে আসা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। বিশেষ করে এক্সেল কোপাইলটের মতো আকর্ষণীয় প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ থেকে সরে আসা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তবে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নিজের সময় ও মনোযোগ ব্যয় করাকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। নিজের পোস্টে তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এবং বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মীদের কারণে দীর্ঘ কর্মজীবনটি আনন্দদায়ক, রোমাঞ্চকর ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শানমুগামের অবসরের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়াতে প্রতিযোগিতা করছে। মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ব্যবহারকারীদের স্প্রেডশিটের তথ্য বিশ্লেষণ, কাজ সহজ করা এবং বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, এজেন্টিক এআই বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধাপের কাজ পরিকল্পনা ও সম্পাদনে সহায়তা করতে পারে। এই প্রযুক্তিগুলোর উন্নয়নে যুক্ত থাকা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসরের ঘোষণাটি তাই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাঁর বিদায়ের ফলে মাইক্রোসফটের কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। শানমুগামের অবসরের ঘোষণার পর লিংকডইনে বহু ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একজন ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, সম্প্রতি একজন অভিভাবককে হারানোর পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, মা-বাবাকে কাছে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ব্যবহারকারীরাও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শানমুগামের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও অনেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে অভিবাসীদের আটক ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে স্থানীয় সরকারের বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) ১৬ হাজার ৭০টি আটক অনুরোধে সাড়া দেয়নি। এসব অনুরোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ৫২ হাজার ৫০৩টি অপরাধের অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে বিভাগটি। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অপরাধের মধ্যে রয়েছে খুন, অপহরণ, যৌন অপরাধ, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ, চুরি, ডাকাতি, হামলা এবং অস্ত্রসংক্রান্ত অপরাধ। তবে এসব পরিসংখ্যানে অভিযোগ ও দণ্ড—দুই ধরনের তথ্যই রয়েছে। ফলে তালিকাভুক্ত প্রতিটি অপরাধের ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আইসিইর আটক অনুরোধ বা ‘ডিটেইনার’ হলো স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছে পাঠানো একটি আবেদন। এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে স্থানীয় হেফাজতে মুক্তির সময়ের পর সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত আটকে রাখার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তারা ওই ব্যক্তির দায়িত্ব নিতে পারেন। তবে এ ধরনের অনুরোধের আইনি বাধ্যবাধকতা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতার সীমা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্কে প্রত্যাখ্যাত আটক অনুরোধগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৩১টি খুন, ১৩২টি অপহরণ, ১ হাজার ১৭টি যৌন অপরাধ, ১ হাজার ৫৬১টি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঘটনা, ১ হাজার ৬৩১টি চুরি এবং ১ হাজার ৭৭৬টি ডাকাতির অভিযোগ বা দণ্ডের তথ্য রয়েছে। এ ছাড়া অস্ত্রসংক্রান্ত ২ হাজার ১৯৮টি অপরাধ, হামলার ৯ হাজার ৫০২টি ঘটনা এবং বিপজ্জনক মাদকসংক্রান্ত ৪ হাজার ৩২৪টি অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। বিভাগটির দাবি, এসব অনুরোধে সাড়া না দেওয়ার ফলে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তাদের কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন বলেছেন, স্থানীয় পর্যায়ে সহযোগিতা না পেলেও ফেডারেল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন অভিবাসীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তাঁর বক্তব্য, অভিবাসন আইন প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে এমন নীতির কারণে জননিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের দপ্তর অবশ্য এই অভিযোগের বিরোধিতা করেছে। গভর্নরের মুখপাত্র আলেক্সিয়া নিজনি বলেছেন, নিউইয়র্ক কখনোই সহিংস অপরাধীদের আশ্রয়স্থল ছিল না এবং হবে না। তাঁর ভাষ্য, অঙ্গরাজ্যের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন এমন অমার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে আইন অনুযায়ী ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। গভর্নরের দপ্তর আরও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নিউইয়র্কের অঙ্গরাজ্য-পরিচালিত বিভিন্ন স্থাপনা থেকে আনুমানিক ২ হাজার ব্যক্তিকে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। হোকুলের দপ্তরের দাবি, অঙ্গরাজ্য ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করেনি; বরং কোন পরিস্থিতিতে এবং কীভাবে সহযোগিতা করা হবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। গত আগস্টে হোকুল ‘লোকাল কপস, লোকাল ক্রাইমস অ্যাক্ট’ নামে একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। আইনটি অভিবাসনসংক্রান্ত কিছু দেওয়ানি বিষয়ে অঙ্গরাজ্যজুড়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ফেডারেল কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। ট্রাম্প প্রশাসন নিউইয়র্কের এ ধরনের নীতিকে ‘স্যাংচুয়ারি স্টেট’ বা অভিবাসন প্রয়োগে সীমিত সহযোগিতার অঙ্গরাজ্য হিসেবে বর্ণনা করেছে। এই বিরোধের মধ্যে নিউইয়র্কে আইসিই কর্মকর্তাদের গুলিতে অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তির আহত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ব্রঙ্কসে। ফেডারেল কর্মকর্তাদের দাবি, বেলগাল গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ মানেননি এবং সরকারি দুটি গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর কর্মকর্তাদের দিকে গাড়ি চালিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় তার পাঁচ বছর বয়সী সন্তান গাড়ির পেছনের আসনে ছিল। বেলগালের ঘাড়ে গুলি লাগে এবং পরে তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে মতবিরোধ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিউইয়র্কে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের ক্ষমতা এবং জননিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, অপরাধে অভিযুক্ত অভিবাসীদের হেফাজতে নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সহযোগিতা জরুরি। অন্যদিকে নিউইয়র্কের কর্মকর্তারা বলছেন, অঙ্গরাজ্য আইন মেনেই ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করছে এবং তাদের নীতিকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
ভারতের উত্তর প্রদেশে মায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বিরোধের জেরে সৎ বাবাকে গু লি করে হ ত্যার অভিযোগ উঠেছে ২২ বছর বয়সী এক তরুণের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, মায়ের নতুন সংসার মেনে নিতে না পেরে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতের রামপুরে আসেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের গাড়ি সার্ভিস সেন্টারের সামনে ওই তরুণের সৎ বাবা নভজোত সিংকে গু লি করে হ ত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার অভিযুক্ত তরুণ এবং তাঁর এক আত্মীয়কে গ্রে প্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রে প্তার হওয়া তরুণের নাম অবদীপ সিং। তিনি নিউজিল্যান্ডের একটি ডেইরি ফার্মে কাজ করেন। এ ঘটনায় গ্রে প্তার অপর ব্যক্তি রাজনদীপ সিং রামপুরের বাসিন্দা এবং অবদীপের আত্মীয়। পুলিশের ধারণা, পারিবারিক বিরোধের সূত্র ধরে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিহত নভজোত সিংয়ের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর স্ত্রী কমল কৌরের বয়স ৪৯ বছর। প্রথম স্ত্রীর মৃ ত্যুর পর প্রায় নয় মাস আগে বিধবা কমলকে বিয়ে করেন নভজোত। তাঁদের বসবাসের জায়গাও ছিল কাছাকাছি। তবে কমলের দুই ছেলে অবদীপ ও যোগনপ্রীত সিং মায়ের এই বিয়েতে আপত্তি জানিয়েছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের বাবা প্রায় তিন বছর আগে মারা যাওয়ার পর দুই ভাই নিউজিল্যান্ডে চলে গিয়েছিলেন। নিহতের এক আত্মীয়ের দাবি, বিয়ের বিষয়টি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সমস্যা মেটাতে স্থানীয়ভাবে একটি পঞ্চায়েতও বসানো হয়। ওই আত্মীয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এর আগেও দুই ভাই নভজোতকে হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সত্যতা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। নভজোত রামপুরের তাহ কালান গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি কৃষক নিশান সিংয়ের একমাত্র ছেলে। তাঁর চাচা জগদীপ গিলের ভাষ্য অনুযায়ী, নভজোতের প্রথম স্ত্রী বিষাক্ত পদার্থ সেবনের পর মারা যান বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় নভজোতের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল এবং তাঁকে কারাগারেও যেতে হয়েছিল। প্রায় দেড় বছর আগে তিনি মুক্তি পান। পরে কুমহারিয়া কালান মোড়ে একটি গাড়ি সার্ভিস সেন্টার চালু করেন। শনিবার সন্ধ্যায় ওই সার্ভিস সেন্টারেই ছিলেন নভজোত। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় একটি গাড়িতে করে কয়েকজন সেখানে আসেন। গাড়ি থেকে নেমে তাঁরা নভজোতকে লক্ষ্য করে একাধিক গু লি ছোড়েন। এতে তাঁর বুকের কয়েকটি স্থানে গু লি লাগে। এরপর হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সার্ভিস সেন্টারের সামনে লোকজন জড়ো হন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত নভজোতকে হাসপাতালে পাঠায়। তবে সেখানে নেওয়ার পরপরই তাঁর মৃ ত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনেরা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ তাঁদের শান্ত করে। এরপর নভজোতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। রামপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনুরাগ সিং জানিয়েছেন, অবদীপ ও রাজনদীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অবদীপ ঠিক কবে নিউজিল্যান্ড থেকে ভারতে ফিরেছেন, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সে বিষয়েও অনুসন্ধান চলছে। নভজোতের বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে মিলক খানাম থানায় আটজনের বিরুদ্ধে এফআইআর করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কমল কৌরের দুই ছেলে এবং তাঁদের কয়েকজন আত্মীয় রয়েছেন। তবে মামলায় নাম থাকা সবার বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে ঘটনার পেছনের কারণ ও প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ফ্লোরিডায় বাবার বাড়ি থেকে দুই সন্তানকে আনতে গিয়ে তাদের ও তাদের বাবার ম র দে হ খুঁজে পেয়েছেন অলিভিয়া পিকোলো নামে এক মা। গত বুধবার, ৭ অক্টোবর, ব্রেভার্ড কাউন্টির কোকো শহরে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ৩৭ বছর বয়সী জোসেফ ডিংওয়াল তাঁর সাত বছরের ছেলে রেমি ও পাঁচ বছরের মেয়ে আরিয়াকে গু লি করে হ ত্যা করার পর নিজেও আ ত্ম হ ত্যা করেছেন। তবে কী কারণে এ ঘটনা ঘটেছে, তা এখনো তদন্ত করছে পুলিশ। কোকো পুলিশ ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, সন্তানদের নিজের কাছে নেওয়ার নির্ধারিত দিনে জোসেফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন অলিভিয়া। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি সরেন্টো ড্রাইভে জোসেফের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দরজাটি কিছুটা খোলা দেখতে পান। পরে ভেতরে ঢুকে দুই সন্তান ও তাদের বাবাকে মৃ ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। এরপর দুপুরে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন অলিভিয়া। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সন্তানদের হারানোর শোক এবং তাদের বাবার প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন অলিভিয়া। তাঁর পোস্ট উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্তানদের নিরাপত্তা ও দেখভালের দায়িত্ব যাঁর ওপর ছিল, তাঁর কাছ থেকেই এমন পরিণতি আসবে, তা তিনি মেনে নিতে পারছেন না। তবে ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়েও সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা তাঁর কাছে বড় বলে জানিয়েছেন তিনি। অলিভিয়া আরও বলেছেন, রেমি ও আরিয়ার মা হতে পেরে তিনি গর্বিত ছিলেন। সন্তানদের জীবনের পরিচয় যেন শুধু তাদের মৃ ত্যুর ঘটনায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিই তাঁর চাওয়া। বরং তারা কেমন ছিল, তাদের ভালোবাসা, স্বভাব ও একসঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলোই মানুষের মনে বেঁচে থাকুক—এমনটাই চান তিনি। আরেকটি পোস্টে সন্তানদের কাপড় ধোয়ার সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন অলিভিয়া। ওয়াশিং মেশিনে পড়ে থাকা ছোট ছোট মোজা ও জামাকাপড় দেখে কিছুক্ষণের জন্য থমকে গিয়েছিলেন তিনি। সন্তানদের ব্যবহৃত এসব ছোট জিনিস তাঁর কাছে তাদের স্মৃতির অংশ হয়ে উঠেছে। এই কঠিন সময় পার করতে সন্তানদের স্মৃতিই তাঁকে শক্তি দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় প্রতিবেশীরাও হতবাক হয়ে পড়েছেন। রাস্তার বিপরীতে বসবাসকারী মার্কোস গার্সিয়া জানিয়েছেন, ঘটনার আগের রাতে, মধ্যরাতের দিকে তিনি দুটি জোরালো শব্দ শুনেছিলেন। তাঁর কাছে শব্দগুলো গু লির শব্দ বলে মনে হয়েছিল। প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজে ওই সময় বাড়ির বাইরে একজনকে চলাফেরা করতে দেখা যায়। তবে শুধু শব্দ শোনার সময়ের ভিত্তিতে মৃ ত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় নিশ্চিত করা যায়নি। কোকো পুলিশপ্রধান ইভ্যান্ডার কলিয়ার জানিয়েছেন, ওই সময়ে গু লির শব্দের বিষয়ে পুলিশের কাছে কোনো জরুরি ফোন আসেনি। তিনি আরও জানান, ২০২১ সাল থেকে বাড়িটিতে বিভিন্ন ঘটনায় প্রায় ১১ বার পুলিশ ডাকা হয়েছিল। এর মধ্যে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও ছিল। তবে আগের ঘটনাগুলোর বিস্তারিত তথ্য কিংবা সেগুলোর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা পুলিশ প্রকাশ করেনি। পুলিশপ্রধানের ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তকারীরা ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছেন। কেন দুই শিশুর জীবন এমনভাবে শেষ হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করা তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য। এদিকে শিশুদের শেষকৃত্যের খরচ বহন এবং অলিভিয়াকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য পরিবারের বন্ধুদের উদ্যোগে তহবিল সংগ্রহও শুরু হয়েছে।
বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটে টানা ২৩ বছর কাজ করার পর অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রকৌশল কর্মকর্তা কেশবন শানমুগাম। ভারতের নিজ দেশে থাকা বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটানোর জন্য তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ এবং প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ দায়িত্ব ছেড়ে তাঁর এমন সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। ১২ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শানমুগাম মাইক্রোসফটের প্রকৌশল বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এক্সেল কোপাইলট ও এজেন্টিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট কাজে যুক্ত ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিনের কর্মজীবন শেষে তাঁর অবসরের ঘোষণা প্রযুক্তি খাতের পাশাপাশি পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন করে আলোচনা সামনে এনেছে। নিজের লিংকডইন পোস্টে কেশবন শানমুগাম জানান, মাইক্রোসফটে ২৩ বছর কাজ করার পর তিনি অবসর নিচ্ছেন, যাতে ভারতের বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে আরও বেশি সময় কাটাতে পারেন। তিনি লেখেন, মাইক্রোসফটে তাঁর কাজ এবং সহকর্মীদের ছেড়ে আসা সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। বিশেষ করে এক্সেল কোপাইলটের মতো আকর্ষণীয় প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ থেকে সরে আসা তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তবে পরিবার ও বন্ধুদের জন্য নিজের সময় ও মনোযোগ ব্যয় করাকে তিনি সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। নিজের পোস্টে তিনি মাইক্রোসফটের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। প্রতিষ্ঠানে কাজ করার সুযোগ এবং বর্তমান ও সাবেক সহকর্মীদের সহযোগিতার জন্য তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সহকর্মীদের কারণে দীর্ঘ কর্মজীবনটি আনন্দদায়ক, রোমাঞ্চকর ও পরিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। শানমুগামের অবসরের সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়ন ও ব্যবহার বাড়াতে প্রতিযোগিতা করছে। মাইক্রোসফটের এক্সেল কোপাইলট ব্যবহারকারীদের স্প্রেডশিটের তথ্য বিশ্লেষণ, কাজ সহজ করা এবং বিভিন্ন কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা নেওয়ার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, এজেন্টিক এআই বলতে এমন প্রযুক্তিকে বোঝায়, যা নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধাপের কাজ পরিকল্পনা ও সম্পাদনে সহায়তা করতে পারে। এই প্রযুক্তিগুলোর উন্নয়নে যুক্ত থাকা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার অবসরের ঘোষণাটি তাই বিশেষভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে তাঁর বিদায়ের ফলে মাইক্রোসফটের কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাবে বা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। শানমুগামের অবসরের ঘোষণার পর লিংকডইনে বহু ব্যবহারকারী প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের অনেকে বৃদ্ধ মা-বাবার সঙ্গে সময় কাটানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন। একজন ব্যবহারকারী নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে মন্তব্য করেন, সম্প্রতি একজন অভিভাবককে হারানোর পর তিনি বুঝতে পেরেছেন, মা-বাবাকে কাছে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। অন্য ব্যবহারকারীরাও পরিবারের প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসাকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শানমুগামের সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।এই প্রতিক্রিয়াগুলো দেখিয়েছে, কর্মজীবনে সাফল্য অর্জনের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোও অনেক মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে চলমান অচলাবস্থা আরও গভীর হয়েছে। নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের কর্মসূচিও অব্যাহত রয়েছে। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কার্যালয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ও পরীক্ষা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই সংকটের সূত্রপাত ২১ সেপ্টেম্বর। ওই দিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েম ২৭ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। অর্থাৎ দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এই পরিবর্তনের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করেন এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, অল্প সময়ের মধ্যে উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা দাবি করছেন, সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।তবে সরকার কেন সাবেক উপাচার্যকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কারণ উল্লেখ করা হয়নি। ১২ অক্টোবর সকালে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন এবং নিজের কার্যালয়ে যান। এর আগে চলমান আন্দোলনের কারণে তিনি ক্যাম্পাসে নিয়মিতভাবে প্রবেশ করতে পারেননি এবং চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। নতুন উপাচার্যের কার্যালয়ে প্রবেশের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে তাঁকে দুপুরের মধ্যে কার্যালয় ত্যাগ করার আহ্বান জানানো হয়। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বের না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ভবনের প্রবেশপথে আবার তালা লাগিয়ে দেন। ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষার্থীদের একাংশ অভিযোগ করেন, উপাচার্য তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। অন্যদিকে, উপাচার্য কীভাবে ভবনে প্রবেশ করেছেন, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যে ভিন্নতা পাওয়া গেছে। তাই ঘটনাটির প্রতিটি বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর ১২ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও কর্মচারী সমিতির প্রতিনিধিরা সংবাদ সম্মেলন করেন।শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ জানান, নতুন উপাচার্যকে অপসারণ এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে তাঁরা পূর্ণ কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালাবেন। শিক্ষক-কর্মকর্তাদের অভিযোগ, নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় তাঁর সঙ্গে বহিরাগত ও রাজনৈতিক কর্মীরা ছিলেন। এ ছাড়া শহর থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে আসা দুটি বাসে হামলার অভিযোগও তাঁরা উত্থাপন করেন এবং ঘটনাটির তদন্ত দাবি করেন।তবে বাসে হামলার ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ফলও প্রকাশিত হয়নি।
নিউইয়র্কের কুইনসে নিজের বাড়িতে বন্দুকের মুখে জিম্মি করে লোহার সাবল দিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ৪৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। রোববার (১১ অক্টোবর) ভোররাত আড়াইটার দিকে ফ্লাশিংয়ের হোরেস হার্ডিং এক্সপ্রেসওয়েতে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ক্রিস জানিয়েছেন, প্রাণ বাঁচাতে তিনি মৃতের মতো পড়ে থাকার অভিনয় করেন। ক্রিস বলেন, এক মেয়ে বন্ধুকে নিয়ে বাড়িতে থাকার সময় সদর দরজায় শব্দ শুনতে পান। এরপর চার মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়।তাঁর ভাষ্য, হামলাকারীরা মুখে আঘাত করার পর জিপ টাই দিয়ে পেছনে হাত ও পা বেঁধে ফেলে। মুখের ওপর কোট চাপা দেয়। তখন তিনি মৃতের অভিনয় করেন। ক্রিস জানান, তাঁর রোলেক্স ঘড়িসহ মূল্যবান গয়না নিয়ে যায় হামলাকারীরা। তাঁর পরনে থাকা চেইনটির মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার ডলার বলে দাবি করেন তিনি।এ সময় ওপরতলায় লুকিয়ে ছিলেন তাঁর নারী বন্ধু। হামলাকারীদের অজান্তে তিনি পুলিশকে ফোন করেন। ক্রিস বলেন, ওই বন্ধুর পদক্ষেপই তাঁর জীবন বাঁচিয়েছে। পুলিশ আসার পর তিন সন্দেহভাজন পায়ে হেঁটে পালিয়ে যায়। পুলিশ ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে আটক করেছে। ক্রিস বলেছেন, তিনি তাকে তিনি কখনোই দেখেননি।কেউ তাঁকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁদে ফেলেছে বলে সন্দেহ করছেন ক্রিস। ঘটনার পর বাড়ি বিক্রি করে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রাজনীতি
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার
১০০ কোটি টাকা জামায়াতের থেকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নীতি: মানবিক সংকট নাকি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?
হাসনাতের ‘গণভিক্ষা’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, টাকা না দিতে হামিমের আহ্বান
‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য
গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত: শহীদ উদ্দীন এ্যানি
ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি কমিশনার
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreইসরায়েলে যিশুখ্রিষ্টের সময়কার প্রায় ২ হাজার বছরের পুরোনো একটি ইহুদি ধর্মীয় স্নানাগার অক্ষত অবস্থায় মাটি থেকে তুলে সরানো হয়েছে। প্রায় ২৫ টন ওজনের এই প্রাচীন স্থাপনাটি উদ্ধার করতে ব্যবহার করা হয় বিশাল ক্রেন। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে এটি শুধু একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন নয়, বরং প্রায় দুই হাজার বছর আগে ওই অঞ্চলে ইহুদি সম্প্রদায়ের বসবাস ও ধর্মীয় চর্চার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। স্নানাগারটি ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত গাতের কারমেই গাত এলাকায় পাওয়া যায়। নতুন আবাসিক এলাকার উন্নয়নকাজের আগে প্রত্নতাত্ত্বিক খনন চালানোর সময় এর সন্ধান মেলে। পরে নির্মাণকাজের কারণে প্রাচীন স্থাপনাটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা সেটি অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। ইহুদিদের ধর্মীয় শুদ্ধতার জন্য ব্যবহৃত এ ধরনের স্নানাগারকে বলা হয় ‘মিকভে’। ইহুদি ধর্মীয় রীতিতে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পানিতে অবগাহনের মাধ্যমে শুদ্ধতা অর্জনের জন্য এসব স্থাপনা ব্যবহৃত হতো। উদ্ধার হওয়া স্নানাগারটি দ্বিতীয় মন্দির যুগের নিদর্শন। এই ঐতিহাসিক সময়কাল যিশুখ্রিষ্টের জীবন ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়। তবে যিশু ব্যক্তিগতভাবে এই নির্দিষ্ট স্নানাগারটি ব্যবহার করেছিলেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, স্নানাগারটির সন্ধান ওই এলাকায় প্রায় দুই হাজার বছর আগে একটি ইহুদি বসতি ছিল বলে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ দেয়। জুডিয়ান নিম্নভূমি ও উত্তর নেগেভ অঞ্চলের মধ্যবর্তী এলাকায় ওই সময়ের একটি ইহুদি বসতির অস্তিত্ব সম্পর্কে এই আবিষ্কার নতুন তথ্য সামনে এনেছে। এটি প্রাচীন অঞ্চলের জনবসতি ও ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে জানার সুযোগ তৈরি করেছে। খননকাজে স্নানাগারের পাশাপাশি পাথরের তৈরি পরিমাপের পাত্রও পাওয়া গেছে। দ্বিতীয় মন্দির যুগে ইহুদিদের মধ্যে এ ধরনের পাত্রের ব্যবহার প্রচলিত ছিল। ইহুদি ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, পাথরের এসব পাত্রকে অন্য কিছু উপকরণের মতো সহজে আচারগত অপবিত্রতার শিকার বলে বিবেচনা করা হতো না। ফলে স্নানাগার ও পাত্র—দুই ধরনের নিদর্শন একসঙ্গে পাওয়া যাওয়ায় ওই এলাকার তৎকালীন ধর্মীয় জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। এত বড় ও প্রাচীন একটি স্থাপনা অক্ষত অবস্থায় সরিয়ে নেওয়া ছিল জটিল কাজ। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের একটি দল প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে স্নানাগারটির চারপাশের মাটি সরিয়ে সেটিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন। এরপর স্থাপনাটির নিচে ছিদ্র করে শক্তিশালী ইস্পাতের বিম ঢোকানো হয়। এসব বিম কাঠামোটিকে ধরে রাখতে সাহায্য করে, যাতে মাটি থেকে বিচ্ছিন্ন করার সময় সেটি ভেঙে না পড়ে। স্নানাগারের দেয়ালে থাকা প্রাচীন প্লাস্টারের আস্তরণও ছিল বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। উত্তোলন ও পরিবহনের সময় কম্পনের কারণে প্লাস্টার খসে পড়তে পারত। এ ঝুঁকি কমাতে সংরক্ষণকারীরা গজ, আঠা ও ফোমজাতীয় সুরক্ষামূলক উপকরণ ব্যবহার করেন। এরপর প্রায় ২৫ টন ওজনের কাঠামোটি তোলার জন্য ব্যবহার করা হয় ৩০০ টন পর্যন্ত ভার বহনে সক্ষম একটি ক্রেন। স্নানাগারটির প্রস্থ প্রায় চার মিটার হওয়ায় পরিবহনের জন্য প্রয়োজন হয় বিশেষ প্রশস্ত যানবাহনেরও। সফলভাবে তুলে নেওয়ার পর স্থাপনাটি অস্থায়ী সংরক্ষণের জন্য বেইত গুভরিনে একটি সংরক্ষণ কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবহনের সময় নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছিল এবং ট্রাকের সামনে ও পেছনে সহায়ক যান চলাচল করে। সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞদের কাছে পুরো অভিযানটি ছিল অত্যন্ত সতর্কতার বিষয়, কারণ কাঠামোটি ভেঙে গেলে দুই হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শনটি অপূরণীয়ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত। প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই এলাকার প্রাচীন ইহুদি বসতিটি দ্বিতীয় শতকে বার কোখবা বিদ্রোহের সময় পরিত্যক্ত হয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৫০০ বছর পর বাইজেন্টাইন যুগে সেখানে আবার বসতি গড়ে ওঠে। তবে তখনকার জনগোষ্ঠী আগের বাসিন্দাদের থেকে আলাদা ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন আবিষ্কারটি তাই শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, বরং ওই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি জনবসতি ও পরিবর্তনের ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। নির্মাণকাজ শেষ হলে প্রাচীন স্নানাগারটি আবার কারমেই গাত এলাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে নতুন আবাসিক এলাকার কেন্দ্রীয় উন্মুক্ত স্থানে এটি সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হবে। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীরা আধুনিক নগরায়ণের মধ্যেই প্রাচীন ইহুদি জীবনের একটি বাস্তব নিদর্শন দেখার সুযোগ পাবেন। লেখক, ভাষ্যকার ও খ্রিষ্টধর্মের পক্ষে লেখালেখি করা দিনেশ ডি’সুজা এই আবিষ্কারকে বাইবেলের সময়কার জগৎকে আরও স্পষ্টভাবে বোঝার একটি সুযোগ হিসেবে দেখেছেন। তাঁর মতে, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন প্রাচীন ইতিহাসের বস্তুগত প্রমাণ তুলে ধরতে পারে। তবে কোনো নিদর্শন বাইবেলের সময়কাল সম্পর্কে ঐতিহাসিক ধারণাকে সমর্থন করলেও তা নিজে থেকে ধর্মীয় বিশ্বাস, অলৌকিক ঘটনা বা ধর্মগ্রন্থের প্রতিটি বক্তব্য প্রমাণ করে না।
ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের মোজোকের্তো শহরে বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নেওয়া শত শত খ্রিষ্টান উপাসকের জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিয়েছিলেন মুসলিম যুবক রিয়ান্তো। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাতে একটি গির্জার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় সন্দেহজনক একটি প্যাকেটে বোমা দেখতে পান তিনি। এরপর নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে বোমাটি গির্জা থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু সেটি তাঁর হাতেই বিস্ফোরিত হয়। মাত্র ২৫ বছর বয়সে প্রাণ হারালেও ধর্মীয় সম্প্রীতি, সাহস ও মানবিকতার প্রতীক হয়ে আছেন রিয়ান্তো। রিয়ান্তো ছিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রভাবশালী মুসলিম সংগঠন নাহদলাতুল উলামার (এনইউ) যুব শাখা আনসরের স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা বাহিনী বানসারের সদস্য। ২০০০ সালের বড়দিনের প্রাক্সন্ধ্যায় তাঁকে ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীকে মোজোকের্তোর এবেন হেজার গির্জার নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই রাতে গির্জায় বড়দিন উপলক্ষে প্রার্থনা চলছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন বিপুলসংখ্যক খ্রিষ্টান উপাসক। বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বানসারের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে আটটার দিকে গির্জার প্রবেশপথের কাছে একটি কালো প্লাস্টিকের প্যাকেট পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্যাকেটটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় রিয়ান্তো সেটি পরীক্ষা করেন। ভেতরে বৈদ্যুতিক তার ও স্ফুলিঙ্গ তৈরি করা একটি যন্ত্রাংশ দেখতে পেয়ে তিনি বুঝতে পারেন, সেটিতে বোমা থাকতে পারে। তখন গির্জার ভেতরে বহু মানুষ প্রার্থনায় ব্যস্ত ছিলেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে রিয়ান্তো দ্রুত উপাসকদের সতর্ক করেন, যাতে তাঁরা নিচু হয়ে নিরাপদ অবস্থান নিতে পারেন। এরপর তিনি বোমাটি হাতে নিয়ে গির্জা থেকে দূরে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল বিস্ফোরণ ঘটলে যেন উপাসকদের ক্ষয়ক্ষতি কম হয়। বিভিন্ন বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি কাছের একটি নালা বা পানি নিষ্কাশনের স্থানে বোমাটি ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু নিরাপদ দূরত্বে পৌঁছানোর আগেই সেটি বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে রিয়ান্তো ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। শক্তিশালী বিস্ফোরণে আশপাশের কংক্রিটের স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে তাঁর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গির্জার ভেতরে থাকা বহু মানুষের জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল বলে স্থানীয় সূত্রগুলো উল্লেখ করেছে। রিয়ান্তোর মৃত্যু ছিল ওই রাতের বৃহত্তর সহিংস ঘটনার অংশ। ২০০০ সালের ২৪ ডিসেম্বর ইন্দোনেশিয়ার একাধিক শহরে খ্রিষ্টানদের গির্জা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বোমা হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তৎকালীন মানবাধিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দেশটির বিভিন্ন প্রদেশে গির্জায় বা তার আশপাশে বোমা বিস্ফোরণ ও হামলার ঘটনায় ১৯ জন নিহত এবং ৮৪ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে গির্জার নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করা মুসলিম ব্যক্তিরাও ছিলেন। এসব হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে সে সময় তদন্ত শুরু হয় এবং ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হয়েছিল। রিয়ান্তোর আত্মত্যাগ পরবর্তী সময়ে ইন্দোনেশিয়ায় আন্তধর্মীয় সম্প্রীতির গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে। মুসলিম হয়েও ভিন্ন ধর্মের মানুষের উপাসনার অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষায় নিজের জীবন দেওয়ার ঘটনা দেশটির নানা সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে গভীর তাৎপর্য বহন করে। তাঁর স্মৃতিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় প্রশাসন ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধিরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। মোজোকের্তো শহরে তাঁর নামে একটি সড়কের নামকরণ করা হয়েছে, যা তাঁর আত্মত্যাগের স্মৃতি বহন করছে। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুররহমান ওয়াহিদ, যিনি গুস দুর নামেও পরিচিত, ধর্মীয় সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের পক্ষে ছিলেন। রিয়ান্তোর ঘটনা সেই মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হয়ে আসছে। তাঁর আত্মত্যাগের স্মরণে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয় নেতারা ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। মোজোকের্তো শহর কর্তৃপক্ষও অতীতে রিয়ান্তোর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। রিয়ান্তোর গল্প শুধু একজন যুবকের সাহসিকতার কাহিনি নয়, বরং ভিন্ন ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় মানবিক দায়িত্বের একটি উদাহরণ। ধর্মীয় পরিচয় আলাদা হলেও বিপদের মুহূর্তে অন্য মানুষের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসার যে মানসিকতা তিনি দেখিয়েছিলেন, তা আজও স্মরণ করা হয়। ইন্দোনেশিয়ায় মুসলিম ও খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনেকে তাঁকে এমন একজন মানুষ হিসেবে শ্রদ্ধা করেন, যাঁর শেষ পদক্ষেপ ধর্মীয় বিভেদের চেয়ে মানবতার বন্ধনকে বড় করে তুলেছিল। সূত্র: মোজোকের্তো শহর কর্তৃপক্ষ, এনইউ অনলাইন
ইন্দোনেশিয়ার একটি ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে একে অপরের আরও কাছাকাছি এসেছিলেন দুই সাবেক শিক্ষার্থী। দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব, দূরত্ব পেরিয়ে যোগাযোগ এবং ন্যায়বিচারের লড়াইয়ের পর গত মাসে বিয়ে করেছেন ইউসরন আজ্জাহিদি ও জিয়াদাতুর রাহমাহ। তাঁদের এই গল্প সামনে এসেছে বিবিসি আইয়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ‘ক্যাচিং মাই টিচার’-এর মাধ্যমে। তবে এটি শুধু প্রেম ও বিয়ের গল্প নয়, বরং প্রভাবশালী শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে পড়া এবং ন্যায়বিচারের জন্য দীর্ঘ লড়াইয়ের ঘটনাও। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার লম্বক দ্বীপের আবু বারোকাত ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাবেক প্রধান শিক্ষক আহমাদ ইমানুদ্দিন সুমার শিক্ষার্থীদের কাছে ‘আবাহ’ নামে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে সম্মানিত এই শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তোলেন। ইউসরন তখন জাকার্তায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছিলেন, আর জিয়াদাতুর, যিনি বন্ধুদের কাছে জিয়া নামে পরিচিত, পড়াশোনা করছিলেন মিসরের কায়রোতে। এক রাতে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণের সময় জিয়া ইউসরনকে জানান, স্কুলে পড়ার সময় ওই শিক্ষক তাঁকে যৌন নিপীড়ন করেছিলেন। জিয়ার বয়স তখন ১৬ বছর ছিল বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি শোনার পর ইউসরন প্রথমে বুঝতে পারছিলেন না কী করা উচিত। কারণ, যে শিক্ষককে তাঁরা শ্রদ্ধা করতেন, তাঁর বিরুদ্ধেই এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পরে জিয়া, ইউসরন এবং তাঁদের আরও দুই সাবেক সহপাঠী ওয়ান্ডা হামিদাহ ও মাহিমা একা মিলে অন্য শিক্ষার্থীদের বক্তব্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেন। পুরোনো সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তাঁরা আরও কয়েকজনের অভিজ্ঞতার কথা জানতে পারেন। ইউসরন সেসব তথ্য, অভিযোগের বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট বক্তব্য নিয়ে সাত পৃষ্ঠার একটি নথি তৈরি করেন। এতে জিয়া, সুকমা রোহানা এবং আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থীর অভিযোগের বিবরণ ছিল। তাঁদের সংগ্রহ করা তথ্যের মধ্যে সুকমা রোহানার বক্তব্যও ছিল। সুকমার দাবি, ১৭ বছর বয়সে ওই শিক্ষক তাঁকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেছিলেন। তিনি নিজেকে রক্ষা করে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন। অন্য সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেও একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগের কথা উঠে আসে। এসব বক্তব্য একত্র করে ইউসরন ও তাঁর বন্ধুরা ভেবেছিলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচারের সুযোগ পাবেন। কিন্তু অভিযোগের নথি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী সংগঠন নাহদলাতুল ওয়াতান দিনিয়াহ ইসলামিয়াহর (এনডব্লিউডিআই) প্রতিনিধিদের কাছে দেওয়ার পর পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ইউসরনের অভিযোগ, নথির তথ্য অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে পৌঁছে যায়। এরপর তিনি ইউসরনকে ফোন করে বিষয়টি প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। বিবিসির হাতে থাকা গোপনে ধারণ করা ফোনালাপে ওই শিক্ষককে বলতে শোনা যায়, ‘তোমার শিক্ষকের লজ্জা ঢেকে রাখো। সবাই ভুল করে, বাবা।’ ইউসরনের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষক তাঁকে অভিযোগের নথি প্রত্যাহার করার জন্যও চাপ দেন। জিয়াকেও একইভাবে নীরব থাকার অনুরোধ করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে ওঠে যখন ইউসরনের পরিবারও এই ঘটনার মধ্যে জড়িয়ে পড়ে। বিবিসি জানায়, ওই শিক্ষক ইউসরনের বাবা-মাকে জাকার্তায় গিয়ে ছেলেকে খুঁজে বের করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। পরিবারের ওপর মানসিক চাপ তৈরি হওয়ায় ইউসরন একপর্যায়ে তদন্তের কাজ থামিয়ে দেন। অন্যদিকে, জিয়াও নিজের অভিজ্ঞতার মানসিক প্রভাব নিয়ে লড়ছিলেন। তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তখন ধীরে ধীরে গভীর হচ্ছিল। নিয়মিত ফোনালাপ ও দূর থেকে যোগাযোগের মধ্য দিয়ে তাঁরা একে অপরের প্রতি আস্থা তৈরি করেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে আসায় তাঁরা আবারও ন্যায়বিচারের চেষ্টা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। পরে আরও অভিযোগ সামনে এলে ইউসরন ও জিয়া আবার সক্রিয় হন। তাঁরা যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা নিয়ে কাজ করা এক তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাঁর পরামর্শে একজন আইনজীবীর সহায়তা নেন তাঁরা। আইনজীবী জোকো জুমাদির পরামর্শে অভিযোগের প্রমাণ ও বক্তব্যগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়। সুকমা পুলিশের কাছে অভিযোগও করেন। তবে বিবিসির মূল অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, অভিযোগ দায়েরের পরও তাঁকে দীর্ঘ সময় পুলিশের পদক্ষেপের অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে। বিবিসির অনুসন্ধান প্রকাশের পর পরিস্থিতিতে নতুন মোড় আসে। ১০ অক্টোবর প্রকাশিত পরবর্তী প্রতিবেদনে জানানো হয়, অভিযুক্ত সাবেক প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে কর্তৃপক্ষ এবং তিনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন। তদন্তের পর নতুন করে আরও কয়েকজন সাবেক শিক্ষার্থী তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন অতিরিক্ত সাবেক শিক্ষার্থীর বক্তব্য পুলিশ গ্রহণ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। অভিযুক্ত শিক্ষক অবশ্য অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গোপনে ধারণ করা ফোনালাপকে স্বীকারোক্তি হিসেবে দেখা উচিত নয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনাকারী এনডব্লিউডিআইও অভিযোগ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছে, তারা অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়টি তদন্ত করছে। এই অনুসন্ধানের মধ্যেই ইউসরন ও জিয়ার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়। তিন বছর ধরে কথা বলা ও দূর থেকে যোগাযোগের পর গত ফেব্রুয়ারিতে ইউসরন জিয়ার সঙ্গে থাকতে কায়রোতে চলে যান। তাঁদের বিয়ে হয় গত মাসে। জিয়া বিবিসিকে বলেছেন, নিজের অভিযোগের বিষয়ে ইউসরনের সহযোগিতা ও প্রচেষ্টা দেখে তাঁর প্রতি আস্থা তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে ইউসরন বলেছেন, কঠিন সময়েও জিয়া দৃঢ় ছিলেন এবং তাঁর প্রতি ইউসরনের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। তাঁদের কাছে সম্পর্কটি শুধু ব্যক্তিগত ভালোবাসার নয়, বরং একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে ন্যায়বিচারের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ারও প্রতীক। বিবিসির অনুসন্ধান প্রকাশের পর ইন্দোনেশিয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ইউসরন ও জিয়ার সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ করে আরও অনেকে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কিছু অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের ওই আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। আইনজীবী জোকো জুমাদি বলেছেন, গোপনে ধারণ করা ফোনালাপগুলো অভিযোগের বিষয়ে চাপ প্রয়োগের ধরন বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার নারী নির্যাতনবিরোধী জাতীয় কমিশন দেশটির ইসলামি আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যৌন নিপীড়নের বিষয়টিকে গুরুতর সংকট হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি কী হবে, তা তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে। সূত্র: বিবিসি আই অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, বিবিসি নিউজ ইন্দোনেশিয়া।
আজারবাইজানের হিজাব পরা এক শিক্ষার্থীর বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। হিজাব পরা নিয়ে শ্রেণিশিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি বিবরণ ছড়িয়ে পড়েছে অনলাইনে। শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী, শিক্ষক তাঁকে হিজাবের বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। শিক্ষক তাঁকে হারাতে চান না বলেও জানিয়েছেন। জবাবে ছাত্রী বলেন, তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হিজাব পরেন এবং অন্য কারও অনুরোধে তা খুলতে রাজি নন। প্রয়োজনে স্কুল ছেড়ে দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষার্থীর বক্তব্য অনুযায়ী, হিজাব পরা নিয়ে শিক্ষক ও তাঁর মধ্যে আলোচনা হয়। শিক্ষক তাঁকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সময় দিলেও ছাত্রী নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে হিজাব পরার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্যের মূল ভিডিও, শিক্ষার্থীর পরিচয় এবং ঘটনাটি কোন স্কুলে ঘটেছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে কথোপকথনের সব বিবরণ যাচাই করা জরুরি। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন আজারবাইজানের সরকারি স্কুলে পোশাকবিধি নিয়ে বিতর্ক চলছে। আল জাজিরার ১০ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির মন্ত্রিসভা ২১ সেপ্টেম্বর স্কুলের পোশাকসংক্রান্ত নিয়মে সংশোধনী অনুমোদন করে। নতুন বিধিতে স্কুলের নির্ধারিত পোশাকের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত অতিরিক্ত পোশাক বা উপকরণ পরার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে হিজাব নিষিদ্ধ করার কথা নিয়মে সরাসরি উল্লেখ করা হয়নি। তারপরও বিভিন্ন স্কুলে হিজাব পরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। হিজাব পরা শিক্ষার্থীদের স্কুলে প্রবেশে বাধা দেওয়ার কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পোশাকবিধি প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু স্কুলে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন ও প্রতিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। অভিভাবক ও সমালোচকদের একাংশের উদ্বেগ, পোশাকবিধির কারণে মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণ ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, দেশটির পোশাকবিধির সমর্থকেরা বলছেন, সরকারি স্কুলে নির্ধারিত নিয়ম সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হওয়া উচিত। আজারবাইজানের কর্তৃপক্ষের অবস্থান ও নতুন পোশাকবিধির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা চললেও ভাইরাল হওয়া ওই ছাত্রীর ক্ষেত্রে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তিনি স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন, নাকি হিজাবের বিষয়ে নিজের অবস্থানে অটল থেকে অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নেবেন, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: আল জাজিরা, অবজারভার বিডি।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হতেই সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, সৌদি নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২৩ ক্যারেট সোনায় তৈরি ট্রাম্পের ন গ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শিত
এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন বারাক ওবামা, ডেট্রয়েটে ২৪ অক্টোবর সমাবেশ
লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীন, বাড়ছে জনসমর্থন
মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ৯০ ডলারের ফেরত, কারা পাবেন এই অর্থ?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ বন্ধের ঝুঁকি, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ছে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার সুবিধা বাছাইয়ের সময় আসছে, লাখো প্রবীণকে নতুন পরিকল্পনা যাচাইয়ের পরামর্শ
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের
ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস যেভাবে বাড়াতে পারে যকৃতে চর্বি জমার ঝুঁকি
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার ম্যান’ অভিনেতা টোবি
স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর
কান উৎসবে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ কাপড়ের পোশাকে মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদ
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন, জানুন
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও বদলে গেল অগ্রাধিকার, বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য মাইক্রোসফট ছাড়লেন কর্মকর্তা
১৯ বছরে এমআইটি ছেড়ে ২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়াং এখন মেটার প্রযুক্তি নেতৃত্বে
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ পরিবার
যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক মোস্তফা হোসেনের ‘সিলিকন রিভার’, সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা
প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
কুইনসে বাড়িতে ঢুকে হামলা, প্রাণ বাঁচাতে মৃতের অভিনয় করলেন ব্যক্তি
জুতার দোকানের সামনে বাবার কোলে থাকা ২২ মাসের শিশু, নিয়ন্ত্রণ হারানো গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ গেল নক্সের
ইলহান ওমরের বাসায় ফেডারেল তল্লাশি, তদন্ত ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক
চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বিলিং ডেস্কে বাড়ছে এআইয়ের ব্যবহার, যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসা ঋণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন
যুক্তরাষ্ট্রে তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসার, পুরুষদের তুলনায় নারীদের আক্রান্তের হার বেশি
লিংকডইন ব্যবহার করে যেভাবে খুঁজবেন মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতা আবেদন কমেছে, তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমছে দ্রুত
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
পানীয়তে মা দক শনাক্তের নেলপলিশ তৈরি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
প্রায় ১০ কোটি বছর আগের পোকার সন্ধান, শরীরের দ্বিগুণ লম্বা মুখ: নাম টেলিটাবিজের নু-নু
নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ
রোবটের আঙুলে এখন জীবন্ত মানবচামড়া, সাধারণ ব্যান্ডেজে নিজেই সারাল ক্ষত
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
চুয়েটে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অসহযোগ, ২০ দিন ধরে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা
টেক্সাসে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিনা ফিতে কলেজে আবেদনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন
মাস্টার্স ছাড়াই ফুল ফান্ড পিএইচডির সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে, জানুন বিস্তারিত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরির অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডিংয়ে পিএইচডি! আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান
ছাদ মেরামতের নামে ১৫ হাজার ডলার, কাজই হয়নি! ফ্লোরিডায় নির্মাণপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ
নিউ ইয়র্ক সিটিতে নয় মাসে ৯ হাজারের বেশি গাড়ি চুরি, গত বছরের তুলনায় ঘটনা কমেছে ১২.৪ শতাংশ
নিউইয়র্কে অ্যামাজনের গুদামের সামনে গুলিবিদ্ধ দুই কর্মী, সন্দেহভাজনদের খুঁজছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও একই পরিবারের সাতজনসহ আটজনকে হত্যা, কারণ খুঁজছে পুলিশ
কুমড়া তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিউ জার্সিতে প্রাণ হারাল দুই বছরের শিশু
দুই সপ্তাহ কফি না খেয়ে শরীরের ভেতরে কী কী পরিবর্তন হয়, জানাল নতুন গবেষণা
১৪ বছর পর প্রথম মাংস খেয়েই “এত মজা!” বলে কেঁদে ফেললেন নিরামিষভোজী নারী
প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ
নিউইয়র্কের বিরিয়ানি সম্রাট খলিল: ঢাবিতে গণিতে মাস্টার্স, আজ ৬ রেস্টুরেন্টের মালিক
মেয়ের বিয়েতে বাবাকে দেখে ভাই ভাবলেন অনেকে, তারুণ্য ধরে রাখার রহস্য জানালেন বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের
গান্ধী-নেহরুর ওপর নির্ভরতা নয়, নিজেদের নেতা গড়ুন: আজমগড়ে ওয়াইসির আহ্বান
ওমরাহ পালনে মক্কা যাওয়ার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি আলেম
নিজের জানাজা নয়, শেষকৃত্যের সময় কফিনে নড়েচড়ে উঠল ১৫ বছরের কিশোরী, আট ঘণ্টা ধরে মৃত বলে ধরে নিয়েছিল পরিবার
পরিবারে তৃতীয় ক্যানসারের আঘাত, লিউকেমিয়া শনাক্তের পর দুই চিকিৎসক বোনের ভিডিও ভাইরাল
হামলা ও তীব্র উত্তেজনার কারণে সৌদি যুবরাজকে বাঙ্কারযুক্ত প্রাসাদে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার কর আদায়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ
ভুল বুঝতে পেরে ছেলে বললেন, ‘মাকে এক দিনের জন্যও দূরে থাকপ্যার দেব না’
তাজমিনের রাতের যাত্রা নিয়ে ছিল উদ্বেগ, সতর্ক করেননি কাউন্টারকর্মী আব্দুল্লাহ
মালয়েশিয়ায় আন্তর্জাতিক হিফজ প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের ১৪ বছরের হাফেজ হীরা
দুই মাসে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ডিসেম্বর থেকে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাসিনা ভারতে যা করছেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন হলে মোদি কি ঢাকায় আসতেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, জোর দিলেন নিরাপদ প্রত্যাবাসনে