যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে বেকার ও কর্মহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ২১ কোটি ডলার (২১০ মিলিয়ন ডলার) সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন শ্রম দপ্তরের একটি পরিদর্শক দল সম্প্রতি মিনেসোটার কর্মসংস্থান সংস্থাকে নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। কর্মহীন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রশিক্ষণ এবং সাবেক কারাবন্দীদের কর্মসংস্থানে সহায়তার জন্য দেওয়া ৪৮টি ফেডারেল অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে বারবার তথ্য চাওয়ার পরও কোনো সাড়া না দেওয়ায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়। শ্রম দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি'এসপোসিতো মিনেসোটার এই আচরণকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধা প্রদান' বলে আখ্যায়িত করেছেন। এক কড়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমাদের নিরীক্ষক এবং তদন্তকারীরা এই ব্যর্থতার ওপর নজর রাখছেন এবং আমরা পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। শক্তিশালী ফেডারেল তদারকির বিষয়ে আপসের কোনো সুযোগ নেই। এই অবাধ্যতার সুযোগ নিয়ে আমরা কোনোভাবেই জালিয়াতি বা মার্কিন কর্মীদের ঠকাতে দেব না।" উল্লেখ্য, গত বছরও মিনেসোটা ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নজরদারির মুখে পড়েছিল। সেসময় জালিয়াত চক্র করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এদিকে, ফেডারেল সরকারের এমন পদক্ষেপকে 'নজিরবিহীন' ও মাত্রাতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছে মিনেসোটা প্রশাসন। মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (DEED) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শ্রম দপ্তরের পরিদর্শকরা ৩০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করেছে। ফেডারেল কর্মসূচির তদারকিতে সহযোগিতার পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখাকেও সমান গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত এপ্রিলে শ্রম দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় মিনেসোটার কর্মসংস্থান সংস্থার ৪৮টি ফেডারেল অনুদানের ওপর একটি নিরীক্ষা শুরু করে। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এসব অনুদানের বিষয়ে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু ২১ কোটি ৮ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৩৭ ডলার সমমূল্যের ২৬টি অনুদানের তথ্য চেয়ে অসংখ্যবার অনুরোধ করা হলেও মিনেসোটার ডিইইডি তা প্রদানে ব্যর্থ হয়। ইন্সপেক্টর জেনারেলের মেমোতে বলা হয়, তথ্য প্রদানে ব্যর্থতাই সরাসরি অর্থ তছরুপের প্রমাণ না হলেও, এটি ফেডারেল তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও নিয়ম মানার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তথ্য গোপন করার মাধ্যমে মিনেসোটা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন ডি'এসপোসিতো। মিনেসোটায় এর আগে 'ফিডিং আওয়ার ফিউচার' কেলেঙ্কারির ঘটনায় একটি সোমালি জালিয়াত চক্র সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর মিত্ররা অভিযোগ করেছিলেন যে, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর এই জালিয়াতির বিষয়ে জানতেন এবং প্রশ্রয় দিয়েছিলেন—যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। ফেডারেল তহবিলের তদারকি বৃদ্ধির মুখে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ সম্প্রতি তাঁর পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে মিনেসোটার জনগণকে অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে নিজেই ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা দায়ের করে এখন নির্ধারিত জবানবন্দি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। নিজের করা মামলাতেই অংশ না নেওয়ায় তাঁর ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) জারির কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিক এ. লেট এক আদেশে ট্রাম্পকে তাঁর জবানবন্দির বিষয়ে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে বিবিসির কাছে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের শিডিউল যথাযথভাবে মানতে ব্যর্থ হলে ট্রাম্পকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিচারক। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ২০২৪ সালের একটি তথ্যচিত্রে "বিভ্রান্তিকরভাবে" সম্পাদনা করে ট্রাম্পকে সহিংসতায় উসকানিদাতা হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ এনে বিবিসির বিরুদ্ধে এই বিশাল অঙ্কের মামলাটি করেন তিনি। কিন্তু মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে নির্ধারিত জবানবন্দিতে ট্রাম্প হাজির হননি। তাঁর আইনজীবীরা বিবিসিকে জানান, "জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজের" কারণে ট্রাম্প এখন সাক্ষ্য দিতে পারবেন না এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে তাঁর পক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব নয়—যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই পর্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিবিসি আদালতকে জানিয়েছে, যিনি নিজেই মামলা করেছেন, তাঁকে অংশ নেওয়ানোর জন্য বারবার আদালতের হস্তক্ষেপ লাগা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। মামলাটি দায়ের করার মাধ্যমে তিনি যে আইনি বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছিলেন, তা ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বিবিসির আইনজীবীরা। আগামী ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির পর জানা যাবে ট্রাম্প বা তাঁর আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত কোনো শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে কি না। উল্লেখ্য, এই মামলার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের জবানবন্দিও চেয়েছে বিবিসি। সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষার কারণে এতদিন ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না গেলেও আদালত বিকল্প উপায়ে সমন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে সাবেক হোয়াইট হাউস সহকারী ক্যাসিডি হাচিনসনের সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদনটি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এদিকে বিবিসির বিতর্কিত সম্পাদনার জন্য তারা ট্রাম্পের কাছে আগেই দুঃখ প্রকাশ করেছিল, তবে মানহানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের পোষা কুকুরকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করে পরপর দুই নির্বাচনে তার নামে ডাকযোগে ব্যালট পাঠিয়েছিলেন এক নারী। কুকুরটির নামে পাঠানো প্রথম ব্যালটটি গণনা করা হলেও দ্বিতীয়টি বাতিল হয়। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তের পর ওই নারীর বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। শেষ পর্যন্ত তিনি একটি কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং শাস্তির অংশ হিসেবে নিজের কুকুরের ছবি ব্যবহার করা ভোট জালিয়াতিবিরোধী চারটি বিলবোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার দেন। শর্ত পূরণের পর তাঁর মামলাটিও খারিজ হয়েছে। নারীর নাম লরা লি ইউরেক্স। ৬৪ বছর বয়সী এই নারী ক্যালিফোর্নিয়ার কোস্টা মেসা এলাকার বাসিন্দা। তাঁর পোষা কুকুরটির নাম ছিল মায়া জিন ইউরেক্স। ২০২০ সালের ৭ মে তিনি কুকুরটিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করেন। পরে ২০২১ সালের গভর্নর প্রত্যাহার নির্বাচন এবং ২০২২ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালট জমা দেন। তবে কুকুরটি আসলে কাকে ভোট দিয়েছিল, তা জানা যায়নি। প্রকাশিত নির্বাচনী তথ্যেও মায়ার ভোটের পছন্দ উল্লেখ নেই। কুকুরটির নামে নিবন্ধনের সময় রাজনৈতিক দলের পরিবর্তে ‘কোনো দল পছন্দ নয়’—এমন অবস্থান নথিভুক্ত ছিল। ইউরেক্স নিজে ২০২০ সালে নিবন্ধিত রিপাবলিকান ভোটার ছিলেন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় থেকে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালটের ভোট কাকে দেওয়া হয়েছিল, তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। ২০২১ সালের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার তৎকালীন গভর্নর গ্যাভিন নিউসমকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে ভোট হয়েছিল। মায়ার নামে পাঠানো ব্যালটটি গণনা করা হয়। ওই নির্বাচনে ৬১ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার নিউসমকে প্রত্যাহারের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন। কিন্তু এই ফলাফল থেকে মায়ার ব্যালটে কোন বিকল্প বেছে নেওয়া হয়েছিল, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। পরের বছর ২০২২ সালের প্রাইমারি নির্বাচনে কুকুরটির নামে পাঠানো ব্যালটটি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে এবং বাতিল হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনী নিয়মে অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে পরিচয়পত্র বা বসবাসের প্রমাণ দেখানোর শর্ত না থাকলেও নির্দিষ্ট ফেডারেল নির্বাচনে প্রথমবার ভোট দেওয়া ব্যক্তির জন্য অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হতে পারে। মায়ার নামে পাঠানো ব্যালটের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রমাণ না থাকায় সেটি গ্রহণ করা হয়নি। ঘটনাটি তদন্তকারীদের নজরে আসে ২০২৪ সালের অক্টোবরে। অরেঞ্জ কাউন্টির নির্বাচনী নিবন্ধকের কার্যালয় বিষয়টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তরকে জানায়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, ইউরেক্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুকুরটির নামে ব্যালট পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে তিনি মায়ার গায়ে ‘আই ভোটেড’ লেখা স্টিকার লাগানো এবং সামনে ব্যালট রাখা একটি ছবি পোস্ট করেন। ২০২৪ সালের অক্টোবরে আরেকটি পোস্টে কুকুরটির পরিচয়পত্রের ট্যাগ ও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ব্যালটের ছবি দিয়ে লেখেন, ‘মায়া এখনো তার ব্যালট পাচ্ছে।’ তখন কুকুরটি আগেই মারা গিয়েছিল। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ইউরেক্সের বিরুদ্ধে পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে ছিল মিথ্যা শপথ, জাল বা মিথ্যা নথি জমা দেওয়ার অভিযোগ, ভোট দেওয়ার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ব্যালট জমা দেওয়া এবং অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন করা। সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর সর্বোচ্চ ছয় বছর কারাদণ্ড হতে পারত। তবে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল সমঝোতার অংশ হিসেবে ইউরেক্স অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে জেনেশুনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের একটি কম গুরুতর অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। বাকি চারটি গুরুতর অভিযোগ বাদ দেওয়া হয় এবং একটি অভিযোগ গুরুতর অপরাধ থেকে অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর অপরাধে রূপান্তর করা হয়। সমঝোতা অনুযায়ী, ইউরেক্সকে অরেঞ্জ কাউন্টির ৫৫ ও ২২ নম্বর ফ্রিওয়ের পাশে চারটি ভোট জালিয়াতিবিরোধী বিলবোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫০০ ডলার দিতে হয়। বিলবোর্ডগুলোতে তাঁর পোষা কুকুর মায়ার সেই ছবিই ব্যবহার করা হয়েছে, যেখানে কুকুরটির গায়ে ‘আই ভোটেড’ স্টিকার এবং সামনে ব্যালট দেখা যায়। সেখানে লেখা রয়েছে, ‘কুকুরের মতো আচরণ করবেন না। ভোট জালিয়াতি অপরাধ। আইনগতভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার না থাকলে ভোট দেবেন না। অরেঞ্জ কাউন্টি জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ বিলবোর্ডগুলো ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত প্রদর্শিত হওয়ার কথা। ইউরেক্স সমঝোতার সব শর্ত পূরণ করার পর ১৩ অক্টোবর তাঁর মামলাটি সম্পূর্ণ খারিজ হয়। ফলে ঘটনাটি শুধু পোষা প্রাণীর নামে ভোট দেওয়ার অস্বাভাবিক কাহিনি নয়, বরং ভোটার নিবন্ধন ও নির্বাচনী যাচাইব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
মিশিগানের হ্যামট্রামিক শহরের মেয়র নির্বাচনে এত দিন গণনার বাইরে থাকা ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হওয়ার পর ভোটের হিসাবে এগিয়ে গেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুহিত মাহমুদ। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ওয়েইন কাউন্টির নির্বাচন কর্মকর্তাদের গণনায় তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৮৯ ভোট। বর্তমান মেয়র অ্যাডাম আলহারবি পেয়েছেন ২ হাজার ৭৭ ভোট। ব্যবধান ১২। পরিবর্তিত ফল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যয়ন করা হয়নি। ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বরের নির্বাচনের রাতের বেসরকারি হিসাবে আলহারবি ১১ ভোটে এগিয়ে ছিলেন। ১৮ নভেম্বর প্রত্যয়িত ফলে ব্যবধান কমে হয় ছয় ভোট। পরে ২ ডিসেম্বর পুনর্গণনায় আলহারবি পান ২ হাজার ৭১ ভোট, মাহমুদ ২ হাজার ৬০ ভোট। সেই হিসাবেও বিতর্কিত ৩৭টি ব্যালট যুক্ত হয়নি। নির্বাচনের পর সিটি ক্লার্কের দপ্তরে ব্যালটগুলো পাওয়া যায়। সেগুলোর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি ওঠায় ওয়েইন কাউন্টির বোর্ড অব ক্যানভাসার্সে গণনার প্রশ্নে ২–২ ভোটে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। ব্যালট বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে যান মাহমুদ। আলহারবির আপত্তি ছিল, ব্যালটগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়নি। গত ২৭ মার্চ মিশিগান কোর্ট অব আপিলস ব্যালটগুলো গণনার নির্দেশ দেয়। আগস্টে রাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট আপিল শুনতে রাজি না হওয়ায় সেই নির্দেশ বহাল থাকে। পরে ওয়েইন কাউন্টি সার্কিট কোর্ট ১৬ অক্টোবরের মধ্যে গণনা শেষ করতে বলে। ভোটের হিসাবে মাহমুদ এগিয়ে গেলেও মেয়র পদে পরিবর্তন এখনই হচ্ছে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, পরিবর্তিত ফল প্রত্যয়নের আগে বিচারকের পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। মাহমুদ হ্যামট্রামিকের বাসিন্দা হিসেবে মেয়র পদে যোগ্য কি না, তা নিয়েও আলহারবির পৃথক আইনি আপত্তি রয়েছে। মাহমুদ ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আলহারবির আইনজীবী নতুন গণনা নিয়ে আবার ভোট পুনর্গণনার আবেদন করার কথা জানিয়েছেন। আইনি লড়াইয়ের ব্যয় বহন নিয়েও শহরে বিতর্ক হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ সরকারি নথির ভিত্তিতে জানিয়েছে, ১৮ আগস্ট পর্যন্ত আলহারবির আইনি ব্যয়ের বিল ছিল ১ লাখ ৩৫ হাজার ২৪২ ডলার; মোট ব্যয় দুই লাখ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে পত্রিকাটি জানিয়েছে। সূত্র: সিবিএস ডেট্রয়েট, মিশিগান কোর্ট অব আপিলসের রায়, ভোটবিট ও দ্য হ্যামট্রামিক রিভিউ।
যুক্তরাষ্ট্রের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে বেতনের শর্ত আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা। নতুন একটি প্রস্তাবিত বিলে নির্দিষ্ট নিয়োগদাতাদের জন্য বর্তমানে কার্যকর বার্ষিক ৬০ হাজার ডলারের বেতনসীমা বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার করার কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে এইচ-১বি ভিসার ওপর বেশি নির্ভরশীল কিছু প্রতিষ্ঠানের জন্য বিদেশি কর্মী নিয়োগের নিয়ম আরও কঠিন হতে পারে। উইসকনসিনের রিপাবলিকান প্রতিনিধি গ্লেন গ্রথম্যান ‘প্রোটেক্টিং আমেরিকান ওয়ার্কার্স থ্রু এইচ-১বি মডার্নাইজেশন অ্যাক্ট’ নামে বিলটি উত্থাপন করেছেন। ওহাইওর রিপাবলিকান সিনেটর জন হাস্টেড একই বিষয়ে সিনেটে একটি সমজাতীয় বিল এনেছেন। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মী নিয়োগে উল্লেখযোগ্যভাবে এইচ-১বি ভিসার ওপর নির্ভরশীল, তাদের ক্ষেত্রে মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষায় থাকা কিছু শর্ত এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করা। তবে প্রস্তাবটি সব এইচ-১বি ভিসাধারীর জন্য ন্যূনতম বেতন ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার নির্ধারণের কথা বলছে না। এখানে মূল বিষয় হলো, নির্দিষ্ট ধরনের নিয়োগদাতারা কোন পরিস্থিতিতে মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা এবং তাঁদের চাকরি সুরক্ষাসংক্রান্ত কিছু বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন। বর্তমান নিয়মে, এইচ-১বি ভিসাধারী কর্মীর সংখ্যা কোনো প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর তুলনায় নির্ধারিত সীমা ছাড়িয়ে গেলে সেটিকে ‘এইচ-১বি-নির্ভর নিয়োগদাতা’ হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণত সংশ্লিষ্ট পদে যোগ্য মার্কিন কর্মী নিয়োগের চেষ্টা করা এবং বিদ্যমান মার্কিন কর্মীদের চাকরি থেকে সরিয়ে বিদেশি কর্মী দিয়ে তাঁদের জায়গা পূরণ না করার বিষয়ে শর্ত রয়েছে। কিন্তু বর্তমান আইনে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রম আছে। কোনো এইচ-১বি কর্মীর বার্ষিক বেতন অন্তত ৬০ হাজার ডলার হলে অথবা তাঁর স্নাতকোত্তর ডিগ্রি বা তার চেয়ে উচ্চতর ডিগ্রি থাকলে, সংশ্লিষ্ট নিয়োগদাতা এসব শর্তের কিছু থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন। নতুন বিলটি বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়ার সীমা পরিবর্তন করতে চায়। তবে প্রস্তাবিত ভাষায় উচ্চতর ডিগ্রির ভিত্তিতে অব্যাহতির পথটি বাদ দেওয়ার কথা নেই। কেন বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব বর্তমান ৬০ হাজার ডলারের সীমাটি ১৯৯৮ সালে নির্ধারণ করা হয়েছিল। তখন এর পরিমাণ সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ঠিক করা হয়েছিল। কিন্তু এরপর থেকে অঙ্কটি আর হালনাগাদ করা হয়নি। আইনপ্রণেতাদের যুক্তি, কয়েক দশকে গড় মজুরি বেড়ে গেলেও পুরোনো সীমা অপরিবর্তিত থাকায় কিছু প্রতিষ্ঠান সহজেই বিদ্যমান শর্তের ব্যতিক্রমের সুবিধা নিতে পারছে। নতুন প্রস্তাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের পরিবর্তে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সর্বশেষ জাতীয় গড় মজুরি সূচকের দ্বিগুণকে বেতনসীমা হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে ওই সূচকের পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার ডলার হওয়ায় নতুন সীমা দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলারে। ভবিষ্যতে গড় মজুরি বাড়লে বা কমলে এই সীমাও পরিবর্তিত হবে। গ্রথম্যান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তাঁর বক্তব্য, প্রায় তিন দশক আগে নির্ধারিত বেতনসীমা ব্যবহার করে নিয়োগদাতাদের যোগ্য মার্কিন কর্মীদের সুরক্ষার নিয়ম এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাঁর মতে, বেতনের সীমা সময়মতো হালনাগাদ করা হলে মার্কিন কর্মীরা চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতার আরও ন্যায্য সুযোগ পাবেন। সিনেটর হাস্টেডও একই ধরনের যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, এইচ-১বি ভিসার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলো যেন পুরোনো আইনের সুযোগ নিয়ে যোগ্য মার্কিন কর্মীদের নিয়োগের চেষ্টা এড়িয়ে যেতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করাই বিলটির উদ্দেশ্য। বিলটি এখন কোন পর্যায়ে প্রস্তাবটি এখনো আইন হয়নি। সিনেটের সমজাতীয় বিলটি ৩০ সেপ্টেম্বর উত্থাপনের পর বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে গ্রথম্যানের বিলটি ১৩ অক্টোবর উত্থাপন করা হয় এবং সেটিও বিচার বিভাগবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। আইনে পরিণত হতে হলে সংশ্লিষ্ট আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় বিলটিকে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে হবে এবং প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর লাগবে। এই উদ্যোগ রিপাবলিকানদের বৃহত্তর এইচ-১বি নীতির পরিবর্তন প্রচেষ্টার অংশ। দলটির কয়েকজন আইনপ্রণেতা ভিসার সংখ্যা কমানো, কর্মসূচির অপব্যবহারের জন্য কঠোর শাস্তি এবং বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাড়তি শর্ত আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান যুক্তি দেয়, দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের সুযোগ তাদের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। এইচ-১বি কর্মসূচি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে দুটি বিষয়—মার্কিন কর্মীদের চাকরির সুযোগ রক্ষা এবং প্রযুক্তি ও অন্যান্য বিশেষায়িত খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী নিয়োগের সুযোগ বজায় রাখা। নতুন বিলে বেতনের সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব সেই বিতর্ককে আরও সামনে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীরা যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ খুঁজতে এইচ-১বি কর্মসূচির দিকে তাকিয়ে থাকেন। তবে প্রস্তাবটি পাস হলে তার প্রভাব সবার ওপর একইভাবে পড়বে না। বিশেষ করে এইচ-১বি কর্মীর ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠান এবং বর্তমান নিয়মে বেতনের ভিত্তিতে অব্যাহতি পাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আপাতত এটি একটি আইনপ্রস্তাব; কার্যকর নিয়মে পরিবর্তন আসবে কি না, তা নির্ভর করছে কংগ্রেসের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে বেকার ও কর্মহীনদের জন্য বরাদ্দকৃত ২১ কোটি ডলার (২১০ মিলিয়ন ডলার) সরকারি তহবিলের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মার্কিন শ্রম দপ্তরের একটি পরিদর্শক দল সম্প্রতি মিনেসোটার কর্মসংস্থান সংস্থাকে নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। কর্মহীন প্রাপ্তবয়স্কদের প্রশিক্ষণ এবং সাবেক কারাবন্দীদের কর্মসংস্থানে সহায়তার জন্য দেওয়া ৪৮টি ফেডারেল অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে বারবার তথ্য চাওয়ার পরও কোনো সাড়া না দেওয়ায় সংস্থাটির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলা হয়। শ্রম দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি'এসপোসিতো মিনেসোটার এই আচরণকে 'উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বাধা প্রদান' বলে আখ্যায়িত করেছেন। এক কড়া বিবৃতিতে তিনি বলেন, "আমাদের নিরীক্ষক এবং তদন্তকারীরা এই ব্যর্থতার ওপর নজর রাখছেন এবং আমরা পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করব। শক্তিশালী ফেডারেল তদারকির বিষয়ে আপসের কোনো সুযোগ নেই। এই অবাধ্যতার সুযোগ নিয়ে আমরা কোনোভাবেই জালিয়াতি বা মার্কিন কর্মীদের ঠকাতে দেব না।" উল্লেখ্য, গত বছরও মিনেসোটা ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া নজরদারির মুখে পড়েছিল। সেসময় জালিয়াত চক্র করদাতাদের অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার হাতিয়ে নিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এদিকে, ফেডারেল সরকারের এমন পদক্ষেপকে 'নজিরবিহীন' ও মাত্রাতিরিক্ত হস্তক্ষেপ বলে দাবি করেছে মিনেসোটা প্রশাসন। মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (DEED) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শ্রম দপ্তরের পরিদর্শকরা ৩০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা এবং কর্মসংস্থান কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য দাবি করেছে। ফেডারেল কর্মসূচির তদারকিতে সহযোগিতার পাশাপাশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখাকেও সমান গুরুত্বের সাথে দেখছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গত এপ্রিলে শ্রম দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় মিনেসোটার কর্মসংস্থান সংস্থার ৪৮টি ফেডারেল অনুদানের ওপর একটি নিরীক্ষা শুরু করে। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ২৫ কোটি ৩০ লাখ ডলারের এসব অনুদানের বিষয়ে সঠিক তথ্য দেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করাই ছিল এর মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু ২১ কোটি ৮ লক্ষ ৯৮ হাজার ৭৩৭ ডলার সমমূল্যের ২৬টি অনুদানের তথ্য চেয়ে অসংখ্যবার অনুরোধ করা হলেও মিনেসোটার ডিইইডি তা প্রদানে ব্যর্থ হয়। ইন্সপেক্টর জেনারেলের মেমোতে বলা হয়, তথ্য প্রদানে ব্যর্থতাই সরাসরি অর্থ তছরুপের প্রমাণ না হলেও, এটি ফেডারেল তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও নিয়ম মানার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তথ্য গোপন করার মাধ্যমে মিনেসোটা গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান কর্মসূচিগুলোকে বাধাগ্রস্ত করছে বলেও মন্তব্য করেন ডি'এসপোসিতো। মিনেসোটায় এর আগে 'ফিডিং আওয়ার ফিউচার' কেলেঙ্কারির ঘটনায় একটি সোমালি জালিয়াত চক্র সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত ২৫ কোটি ডলার আত্মসাৎ করেছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং তাঁর মিত্ররা অভিযোগ করেছিলেন যে, ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর এই জালিয়াতির বিষয়ে জানতেন এবং প্রশ্রয় দিয়েছিলেন—যদিও তিনি তা অস্বীকার করেছেন। ফেডারেল তহবিলের তদারকি বৃদ্ধির মুখে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ সম্প্রতি তাঁর পুনর্নির্বাচনের লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি জানিয়েছিলেন, নিজের রাজনৈতিক স্বার্থের চেয়ে মিনেসোটার জনগণকে অপরাধীদের হাত থেকে রক্ষা করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ব্রিটিশ সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসির বিরুদ্ধে নিজেই ১০ বিলিয়ন ডলারের মানহানি মামলা দায়ের করে এখন নির্ধারিত জবানবন্দি এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে। নিজের করা মামলাতেই অংশ না নেওয়ায় তাঁর ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা (Sanctions) জারির কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক। শুক্রবার ম্যাজিস্ট্রেট বিচারক এনজোলিক এ. লেট এক আদেশে ট্রাম্পকে তাঁর জবানবন্দির বিষয়ে আগামী ২২ অক্টোবরের মধ্যে বিবিসির কাছে জবাব দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালতের শিডিউল যথাযথভাবে মানতে ব্যর্থ হলে ট্রাম্পকে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিচারক। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিলে হামলার ঘটনার একটি ভিডিও ২০২৪ সালের একটি তথ্যচিত্রে "বিভ্রান্তিকরভাবে" সম্পাদনা করে ট্রাম্পকে সহিংসতায় উসকানিদাতা হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ এনে বিবিসির বিরুদ্ধে এই বিশাল অঙ্কের মামলাটি করেন তিনি। কিন্তু মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহের অংশ হিসেবে নির্ধারিত জবানবন্দিতে ট্রাম্প হাজির হননি। তাঁর আইনজীবীরা বিবিসিকে জানান, "জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য কাজের" কারণে ট্রাম্প এখন সাক্ষ্য দিতে পারবেন না এবং ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে তাঁর পক্ষে সময় দেওয়া সম্ভব নয়—যদিও চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই পর্ব শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। বিবিসি আদালতকে জানিয়েছে, যিনি নিজেই মামলা করেছেন, তাঁকে অংশ নেওয়ানোর জন্য বারবার আদালতের হস্তক্ষেপ লাগা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। মামলাটি দায়ের করার মাধ্যমে তিনি যে আইনি বাধ্যবাধকতা গ্রহণ করেছিলেন, তা ট্রাম্পকে মনে করিয়ে দিয়েছেন বিবিসির আইনজীবীরা। আগামী ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে শুনানির পর জানা যাবে ট্রাম্প বা তাঁর আইনজীবীদের বিরুদ্ধে আদালত কোনো শাস্তিমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে কি না। উল্লেখ্য, এই মামলার অংশ হিসেবে ট্রাম্পের সন্তান ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র, ইভানকা ট্রাম্প এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের জবানবন্দিও চেয়েছে বিবিসি। সিক্রেট সার্ভিস সুরক্ষার কারণে এতদিন ব্যক্তিগতভাবে সমন জারি করা না গেলেও আদালত বিকল্প উপায়ে সমন পাঠানোর অনুমতি দিয়েছে। তবে সাবেক হোয়াইট হাউস সহকারী ক্যাসিডি হাচিনসনের সাক্ষ্য নেওয়ার আবেদনটি আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এদিকে বিবিসির বিতর্কিত সম্পাদনার জন্য তারা ট্রাম্পের কাছে আগেই দুঃখ প্রকাশ করেছিল, তবে মানহানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি।
ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিমতীরে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে উগ্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন প্রখ্যাত মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’-এর ফটোসাংবাদিক হাইডি লেভিন। জলপাই সংগ্রহকারী ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর চালানো এই অতর্কিত হামলায় লেভিনসহ বেশ কয়েকজন কৃষক মারাত্মক আহত হয়ে বর্তমানে রামাল্লাহর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমতীরের আবু ফালাহ নামক একটি গ্রামে। জানা গেছে, ফিলিস্তিনি কৃষকরা যখন তাদের বাগানে আনন্দের সঙ্গে জলপাই সংগ্রহ করছিলেন এবং সাংবাদিক লেভিন সেখানে ছবি তোলার কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ঠিক তখনই মুখ ঢাকা একদল ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারী লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের দিকে ধেয়ে আসে। প্রাণ বাঁচাতে সবাই পালানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা লেভিনকে ধরে মাটিতে ফেলে দেয়। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আবেগঘন কণ্ঠে এই মার্কিন সাংবাদিক জানান, হামলাকারীরা প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাকে মাটিতে ফেলে একের পর এক লাথি মারতে থাকে। তার গায়ে সাংবাদিক পরিচয়ের স্পষ্ট চিহ্ন থাকা সত্ত্বেও তারা তার ক্যামেরা ও ব্যাগ ভেঙে ফেলে এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। এই অমানবিক আচরণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, সুস্থ মস্তিষ্কের কোনো মানুষ অন্যের ওপর এমন নারকীয় অত্যাচার চালাতে পারে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, হামলাকারীরা কেবল মারধর করেই ক্ষান্ত হয়নি; তারা ফিলিস্তিনিদের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে, গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে এবং জলপাই গাছে আগুন ধরিয়ে দেয়। এই তাণ্ডবে ৬৩ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা ও ৪০ বছরের এক পুরুষ কৃষকও গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। হামলার সময় কাছাকাছি থাকা ইসরায়েলি সেনাদের নীরব ভূমিকা নিয়েও ব্যাপক প্রশ্ন উঠেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিক সংগঠন (এফপিএ) এবং ওয়াশিংটন পোস্ট অবিলম্বে দোষীদের শাস্তির দাবি করেছে। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি পুলিশ ও সামরিক বাহিনী ঘটনার তদন্তের আশ্বাস দিলেও, অতীতের দৃষ্টান্ত টেনে ভুক্তভোগীরা আশঙ্কা করছেন যে এবারও হয়তো অপরাধীরা বিনা শাস্তিতে পার পেয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনের বেন্ড শহরে অবস্থিত সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালাতে চরম পন্থা অবলম্বন করেছিল ১৬ বছর বয়সী বন্দুকধারী জন জে. গ্রিফিন দ্বিতীয়। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে সে তার প্রাক্তন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন (স্পেশাল-নিডস) শ্রেণিকক্ষকে লক্ষ্য করে এই নারকীয় হামলা চালায়। পুলিশের বরাত দিয়ে শুক্রবার নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সূত্রমতে, হামলার শুরুতে গ্রিফিন একটি ১২-গেজ পাম্প-অ্যাকশন শটগান (মাভেরিক ৮৮) স্কুলের সীমানাপ্রাচীরের ওপর দিয়ে ছুড়ে মারে এবং পরে নিজে দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। অস্ত্রধারী এই কিশোর প্রথমে স্কুলের প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার চেষ্টা করলেও সেখানে উপস্থিত দুই পথচারীর বাধায় ব্যর্থ হয়। তবে হাল না ছেড়ে সে দ্রুত স্কুলের পেছনের দরজায় যায় এবং নিরাপত্তায় ব্যবহৃত তালাটি গুলি করে ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। স্কুলে প্রবেশের পর গ্রিফিন সরাসরি তার প্রাক্তন স্পেশাল-নিডস শ্রেণিকক্ষে গিয়ে নির্বিচারে গুলি চালাতে শুরু করে। এই ভয়াবহ হামলায় ৫, ৮ ও ১১ বছর বয়সী তিন শিক্ষার্থী এবং একজন শিক্ষক নিহত হন। এছাড়া হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী ৭ বছরের এক শিশু এবং ৫৪ বছর বয়সী এক শিক্ষক আহত হন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক বীর প্রত্যক্ষদর্শী, যাঁর কাছে একটি লুকানো অস্ত্র ছিল, তাঁর গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হয়। সূত্র জানায়, গ্রিফিনের ব্যবহৃত অস্ত্রটি গত আগস্টে তার জন্মদিনের সময় মা শনতাই নিকারসন বৈধভাবে কিনেছিলেন। শুক্রবার সাংবাদিকদের নিকারসন নিজের বাড়ির বারান্দায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "আমি দুঃখিত... আমি তাকে মিস করি।" তিনি ছেলে সম্পর্কে বলেন, "সে সত্যিই একজন ভালো ছেলে ছিল।" অস্ত্র কেনার বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও তিনি জানান, সুযোগ থাকলে তিনি এই মর্মান্তিক ঘটনা অবশ্যই আটকানোর চেষ্টা করতেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালে এক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে মহামারি চলাকালীন গ্রিফিনের বিশেষ শিক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন তার মা। সেখানে তিনি জানিয়েছিলেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীকে পড়ানোর মতো প্রশিক্ষণ তাঁর না থাকায় ছেলের স্কুলে ফেরাই সবচেয়ে ভালো হবে।
ইয়েমেনের হুথি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আহত বাংলাদেশিরা সৌদি চিকিৎসক ও নার্সদের সেবায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে কয়েকজন এখনো নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন এবং অন্তত একজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। হামলার সময় বিমানবন্দরে ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী আবুল মনসুর রিয়াজ। তিনি বোর্ডিং পাস সংগ্রহের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিস্ফোরণের পর তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো আর বেঁচে ফিরতে পারবেন না। সেই মুহূর্তে তাঁর চোখের সামনে ভেসে উঠেছিল দেশে থাকা তিন বছর বয়সী মেয়ে, স্ত্রী ও বৃদ্ধ মায়ের মুখ। পরে আরব নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ওই কয়েকটি মুহূর্তে তাঁর মনে হয়েছিল, প্রিয়জনদের স্মরণ করার এটাই হয়তো শেষ সুযোগ। রিয়াদের একটি হাসপাতালে রিয়াজের পা, কোমর ও মাথায় আঘাতের চিকিৎসা চলছে। তাঁকে একাধিক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি জানান, সৌদি চিকিৎসক ও নার্সরা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে তাঁর সেবা করছেন। হাসপাতালে কর্মরত বাংলাদেশিরাও তাঁকে পরিবারের সদস্যের মতো সহযোগিতা করছেন। সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত দেলওয়ার হোসেন বুধবার তাঁকে দেখতে গিয়ে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চিকিৎসাসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। আহত আরেক বাংলাদেশি কুমিল্লার দাউদ বিন মুহিব। তিনি রিয়াদের কিং ফাহাদ হাসপাতালে শরীরে ধাতব টুকরোর আঘাত ও পোড়া ক্ষতের চিকিৎসা নিচ্ছেন। আরব নিউজকে তিনি জানিয়েছেন, হামলার স্মৃতি এখনো তাঁকে কষ্ট দেয়। তবে চিকিৎসার পর তাঁর অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তিনি চিকিৎসক ও সেবাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির মধ্যে ১১ জন সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী এবং ১৩ জন ওমরাহ পালন করতে যাওয়া যাত্রী। তাঁদের রিয়াদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ দূতাবাস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। এই হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তাঁরা হলেন বগুড়ার শাহেদ আহমেদ ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের নাসরুল্লাহ বাদরপুরী। শাহেদ সৌদি আরবে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্পে প্লাম্বার হিসেবে কাজ করতেন। ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন তিনি। অন্যদিকে নাসরুল্লাহ ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন এবং রিয়াদ থেকে জেদ্দায় যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদি আরবের সহযোগিতা চেয়েছেন। ১৪ অক্টোবর ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে তিনি আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য সৌদি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান এবং সংঘাত কমাতে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন। হামলার পর বিমান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় রিয়াদ বিমানবন্দরে প্রায় ৫০০ বাংলাদেশি যাত্রী আটকা পড়েছিলেন। তাঁদের মধ্যে ওমরাহযাত্রী, প্রবাসী কর্মী এবং বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা যাত্রীরা ছিলেন। বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে কিছু যাত্রীর জন্য হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করা হয়, অন্যদের বিকল্প পথে গন্তব্যে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
রাজনীতি
রাড্ডাকান্ডের সমালোচনার মাঝেই পদত্যাগ করলেন বিএনপির এমপি ফেরদৌসী মিষ্টি
‘জান্নাতি দাদু’ বলে জামায়াত আমিরকে রাশেদের কটাক্ষ, মিরপুরে উচ্ছেদ ঘিরে উত্তাপ
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreভারতে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরের বাঁ চোখের ওপর অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে চোখের কোটরের ভেতরে একটি পূর্ণাঙ্গ দাঁতের সন্ধান পেয়েছেন। চোখের পাতার ওপর ও ভ্রুর মাঝামাঝি জায়গায় দাঁতটির দুটি সাদা অংশ বাইরে থেকে দেখা যাচ্ছিল। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি অপসারণ করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। দাঁতটি কোনো টিউমারের অংশ ছিল না; বরং মুখের স্বাভাবিক অবস্থানের বাইরে তৈরি হওয়া দাঁত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের মাদুরাই শহরের অরবিন্দ চক্ষু হাসপাতালে কিশোরটিকে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার বাঁ চোখের ওপরের পাতায় প্রায় এক মাস ধরে ব্যথাহীন ফোলা ছিল। পরে চোখের পাতা ও ভ্রুর মাঝের অংশে শক্ত, সাদা রঙের দুটি ছোট উঁচু অংশ দেখা যায়। চিকিৎসকেরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, এটি টেরাটোমা নামের এক ধরনের টিউমার হতে পারে। এ ধরনের টিউমারে চুল, হাড় কিংবা দাঁতের মতো বিভিন্ন ধরনের টিস্যু থাকতে পারে। তবে প্রাথমিক ধারণা নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন ছিল। কম্পিউটারাইজড টোমোগ্রাফি বা সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে অস্বাভাবিক গঠনটির প্রকৃতি স্পষ্ট হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, চোখের কোটরের ওপরের হাড়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যানাইন দাঁত, যার মুকুট ও শিকড় দুটিই তৈরি হয়েছে। দাঁতটির দুটি অংশ ত্বকের বাইরে উঁচু হয়ে থাকায় সেগুলো আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দাঁতটি অপসারণের পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন, এর মধ্যে টেরাটোমা-সংশ্লিষ্ট কোনো উপাদান নেই। ফলে এটিকে ‘একটোপিক দাঁত’ হিসেবে শনাক্ত করা হয়, অর্থাৎ মুখের স্বাভাবিক দাঁতের সারির বাইরে অন্য স্থানে তৈরি হওয়া দাঁত। চিকিৎসাবিজ্ঞানে নাকের ভেতর, তালু, চোয়াল কিংবা চোখের কোটরের নিচের অংশে অস্বাভাবিকভাবে দাঁত তৈরি হওয়ার ঘটনা আগে নথিভুক্ত হয়েছে। তবে চোখের কোটরের ওপরের অংশে পূর্ণাঙ্গ দাঁত পাওয়ার ঘটনা আগে প্রকাশিত কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি বলে গবেষকেরা জানিয়েছেন। এ কারণেই ঘটনাটিকে বিশেষভাবে বিরল বলে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দাঁতটি কী কারণে ওই স্থানে তৈরি হয়েছিল, তার নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা প্রতিবেদনটিতে দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকেরা ঘটনাটিকে বিরল শারীরিক বিকাশজনিত অস্বাভাবিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। কিশোরটির এই চিকিৎসা-ঘটনা নিয়ে মেঘনা তানওয়ার, বেদান্ত শর্মা ও উষা কিমের লেখা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে চক্ষুবিষয়ক সাময়িকী ‘অফথ্যালমোলজি’তে। গবেষণাটি অনলাইনে ২০২৬ সালের ১৬ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় এবং সাময়িকীটির জুন সংখ্যায় স্থান পায়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাঁতটি অস্ত্রোপচারে অপসারণ করা হয়েছে। চোখের কোটরের ওপরের অংশে এ ধরনের দাঁত পাওয়ার ঘটনাটি চিকিৎসা সাহিত্যে প্রথম বলে লেখকেরা উল্লেখ করেছেন। সূত্র: সাময়িকী ‘অফথ্যালমোলজি’ এবং আমেরিকান একাডেমি অব অফথ্যালমোলজি।
পবিত্র কোরআনের বাণীকে শৈল্পিক রূপ দিতে যুগের পর যুগ ধরে মুসলিম ক্যালিগ্রাফাররা নানা মাধ্যম ব্যবহার করে আসছেন। এবার সেই ঐতিহ্যে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছেন আজারবাইজানের প্রখ্যাত শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদে। তিনি স্বচ্ছ কালো রঙের রেশমি বা সিল্ক কাপড়ের ওপর সোনা ও রুপার কালি দিয়ে সম্পূর্ণ কোরআন হাতে লিখেছেন। তার এই অসাধারণ শৈল্পিক কাজ ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে শিল্পপ্রেমী ও ধর্মপ্রাণ মানুষের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে। পবিত্র ধর্মগ্রন্থের প্রতি গভীর ভালোবাসা এবং শিল্পের প্রতি নিখুঁত নিষ্ঠার অপূর্ব এক নিদর্শন হয়ে উঠেছে তার এই সৃষ্টি। এই অসামান্য প্রকল্পটি শেষ করতে শিল্পী তুনজালে মেমেদজাদেকে টানা তিন বছর কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। সম্পূর্ণ কোরআন লিপিবদ্ধ করার জন্য তার প্রায় ৫০ মিটার দীর্ঘ অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও উন্নত মানের কালো রেশমি কাপড়ের প্রয়োজন হয়। প্রতিটি অক্ষর ও আয়াত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে তিনি নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও ধৈর্য কাজে লাগিয়েছেন। লেখার ক্ষেত্রে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে তিনি তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদিত কোরআনের একটি সংস্করণকে মূল তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করেন। এর ফলে পবিত্র গ্রন্থটির প্রতিটি শব্দ সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত রাখা সম্ভব হয়েছে। রেশমি কাপড়ের ওপর কোরআন লেখার এই অভিনব ধারণার পেছনে রয়েছে শিল্পীর দীর্ঘদিনের গভীর গবেষণা। কোরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরিতে ঐতিহাসিকভাবে যেসব উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তা নিয়ে তিনি ব্যাপকভাবে পড়াশোনা করেন। গবেষণার এক পর্যায়ে তিনি উপলব্ধি করেন যে আগে চামড়া বা কাগজের ওপর কোরআন লেখা হলেও সম্পূর্ণ কোরআন রেশমি কাপড়ের ওপর লেখার কোনো পূর্বনজির সেভাবে নেই। সিল্ক বা রেশম কাপড়ের অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং এর আভিজাত্য তাকে এই বিশেষ উপাদানটি বেছে নিতে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। মেমেদজাদের এই কঠোর পরিশ্রম ও শৈল্পিক একাগ্রতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। তার তৈরি রেশমি কাপড়ের এই কোরআনটি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্টের আর্থার এম. স্যাকলার গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়েছে। প্রদর্শনীতে আসা দর্শনার্থী এবং শিল্প সমালোচকরা এই অসাধারণ শিল্পকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। এই কাজটি কেবল একটি ধর্মীয় গ্রন্থের অনুলিপি নয় বরং এটি ইসলামী ক্যালিগ্রাফি ঐতিহ্য, শিল্পীর অসীম ধৈর্য এবং পবিত্র কোরআনের সৌন্দর্যের প্রতি গভীর উপলব্ধির এক অনন্য মেলবন্ধন। ইসলামী শিল্পকলায় ক্যালিগ্রাফি বা চারুলিপির ইতিহাস অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং প্রাচীন। যুগে যুগে শিল্পীরা তাদের সৃজনশীলতার মাধ্যমে এই ধারাকে সমৃদ্ধ করে গেছেন এবং নতুনত্ব এনেছেন। আজারবাইজানের এই শিল্পীর কাজটি সেই ঐতিহাসিক পরম্পরারই একটি আধুনিক ও সৃজনশীল রূপ। সোনা ও রুপার কালিতে কালো সিল্কের ওপর ফুটে ওঠা প্রতিটি আয়াত যেন এক একটি জীবন্ত শিল্পকর্ম। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে এমন একটি মাস্টারপিস তৈরি করার মাধ্যমে তুনজালে মেমেদজাদে ইসলামী শিল্পকলার ইতিহাসে নিজের নাম স্থায়ী করে নিলেন। সংবাদ সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব এশিয়ান আর্ট এবং প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন।
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কার্যক্রম বন্ধ করে ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে এশিয়ায় সহযোগিতা ও আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে ওয়াং ই পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের বসতি স্থাপনকে ‘জোরপূর্বক বসতি প্রতিষ্ঠা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি ইসরায়েলকে এ কার্যক্রম বন্ধ করার পাশাপাশি ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলো ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে আপত্তি রয়েছে। চীনের সর্বশেষ বক্তব্যে সেই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। বৈঠকে ফিলিস্তিন সংকট নিয়ে বেইজিংয়ের দীর্ঘদিনের অবস্থানও তুলে ধরেন ওয়াং ই। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ফিলিস্তিন প্রশ্নকে এ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক অবিচার হিসেবে বর্ণনা করেন। বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বৈধ অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধের আহ্বান সেই নীতিরই ধারাবাহিকতা। পশ্চিম তীর ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর থেকে ইসরায়েলের দখলে রয়েছে। সেখানে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন ও সম্প্রসারণ ফিলিস্তিনিদের ভূমি, বসবাস এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ২৩৩৪ নম্বর প্রস্তাবে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের কোনো আইনি বৈধতা নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতও অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের নীতির আইনি পরিণতি নিয়ে মতামত দিয়েছে। এসব কারণে বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টি শুধু ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার বিরোধ নয়, আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। আজারবাইজানে ওয়াং ই ও হারজগের বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের দপ্তরের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। হারজগ ইসরায়েলের সামনে থাকা নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন, বিশেষ করে ইরান ও দেশটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ফলে বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। চীন দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংকটের সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে আসছে। এ ব্যবস্থায় স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং ইসরায়েল পাশাপাশি অবস্থান করবে। বেইজিংয়ের মতে, রাজনৈতিক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক উদ্যোগের মাধ্যমে সংকটের স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করা প্রয়োজন। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত থাকলে ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও জটিল হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে ওয়াং ইয়ের আহ্বানের বিষয়ে ইসরায়েলি পক্ষ থেকে পৃথক কোনো প্রতিক্রিয়া প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা চীনের বিবৃতি ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে চীনের এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক অবস্থান কীভাবে এগোয়, তা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয়। সূত্র: রয়টার্স, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
শ্রেণিকক্ষে হিজাব পরে পাঠদান করতে চাওয়ায় বেলজিয়ামের এক শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করেছে পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্স প্রদেশের কর্তৃপক্ষ। হাদিজা আমাজুদ নামের ওই শিক্ষিকা ২০২২ সাল থেকে প্রদেশটির আসেনেদে এলাকার বিশেষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিয়েমপুন্ট ক্যাম্পাসে কর্মরত ছিলেন। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তিনি স্থায়ী নিয়োগও পান। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দৃশ্যমান ধর্মীয় ও দার্শনিক প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর হিজাব না খোলার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বরখাস্তের সিদ্ধান্তের খবর প্রকাশ করে বেলজিয়ামের সংবাদমাধ্যম দ্য ব্রাসেলস টাইমস। প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের ২৭ জুন কর্মীদের আচরণবিধিতে পরিবর্তন আনে। ওই বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রাদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য দৃশ্যমান ধর্মীয় ও দার্শনিক প্রতীক পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়। তবে ধর্ম বা দর্শনবিষয়ক নির্দিষ্ট বিষয়ে পাঠদানকারী শিক্ষকদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। হাদিজা যখন বিদ্যালয়ে যোগ দেন, তখন তিনি হিজাব পরতেন এবং সে সময় এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল না। নতুন নিয়ম চালুর পরও হিজাব পরেই পাঠদান চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। হাদিজা বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছেন, বিষয়টি শুধু তাঁর চাকরি বা পোশাকের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্য, হিজাব পরা তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের অংশ এবং এটি তাঁর পেশাগত দক্ষতার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই তিনি হিজাব পরতেন এবং তাঁর কাজের মূল্যায়নও নেতিবাচক ছিল না। বরখাস্তের ফলে তিনি শুধু চাকরিই নয়, আয় ও দীর্ঘদিনের পেশাগত নিরাপত্তাও হারিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে হাদিজার পাশে দাঁড়িয়েছে বেলজিয়ামের সরকারি খাতের কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী সমাজতান্ত্রিক ট্রেড ইউনিয়ন এসিডিওডি (ACOD)। ইউনিয়নটি জানিয়েছে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতিকে তারা সমর্থন করে। তবে হাদিজার ক্ষেত্রে সরাসরি বরখাস্তের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তারা। ইউনিয়নের মতে, নতুন নিয়ম চালুর আগে থেকেই হাদিজা ওই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন এবং তাঁর পোশাক নিয়ে কর্মদক্ষতার কোনো নেতিবাচক মূল্যায়ন ছিল না। তাই পরিস্থিতি বিবেচনায় বিকল্প সমাধান বা পরিবর্তনের জন্য কিছু সময় দেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত ছিল। দ্য ব্রাসেলস টাইমসের ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরখাস্তের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাদিজার আপিলে সহায়তা করছে এসিডিওডি। ইউনিয়নটির যুক্তি, চাকরিচ্যুতি ছিল অতিরিক্ত কঠোর ও পরিস্থিতির তুলনায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ শাস্তি। তাদের মতে, ধর্মীয় প্রতীক পরার নিয়ম মানতে না চাওয়ার কারণে সরাসরি চাকরি হারানোর পরিবর্তে সমঝোতা বা অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বিবেচনা করা যেত। ইউনিয়ন আরও জানিয়েছে, হাদিজা হিজাবের পরিবর্তে তুলনামূলক নিরপেক্ষ মাথা ঢাকার পোশাক পরার প্রস্তাবও দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে সমাধান হয়নি। অন্যদিকে, পূর্ব ফ্ল্যান্ডার্সের প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, প্রাদেশিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরপেক্ষতার নীতি বজায় রাখতে কর্মীদের আচরণবিধি অনুসরণ করা প্রয়োজন। প্রদেশটির শিক্ষা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কার্ট মুনসের বক্তব্য অনুযায়ী, নিয়মটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অনুমোদিত হয়েছে এবং কর্তৃপক্ষ সেই বিধি অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিয়েছে। তাঁদের যুক্তি, বিদ্যালয়ে এমন পরিবেশ থাকা উচিত যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক চাপের মুখে পড়ে না। ফলে বিতর্কটি একদিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও কর্মক্ষেত্রে ব্যক্তিগত পরিচয় প্রকাশের অধিকার, অন্যদিকে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার নীতির মধ্যে সংঘাত তৈরি করেছে। হাদিজার ঘটনাটি বেলজিয়ামের ফ্ল্যান্ডার্স অঞ্চলে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে চলমান বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। দ্য ব্রাসেলস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিজাব পরার কারণে স্পষ্টভাবে বরখাস্ত হওয়া ফ্ল্যান্ডার্সের প্রথম শিক্ষিকা হতে পারেন তিনি। তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা এবং তা প্রয়োগের সীমা নিয়ে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। হাদিজা ও তাঁর ইউনিয়ন এখন বরখাস্তের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আপিলের পথে এগোচ্ছেন। আপিলের শুনানিতে তাঁর চাকরির পরিস্থিতি, নতুন বিধির প্রয়োগ এবং শাস্তির মাত্রা বিবেচনায় আসতে পারে। সূত্র: দ্য ব্রাসেলস টাইমস, বেলজিয়ান সংবাদ সংস্থা বেলগা।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হতেই সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, সৌদি নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২৩ ক্যারেট সোনায় তৈরি ট্রাম্পের ন গ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শিত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বাস্থ্যবিমা বিধিনিষেধে বিপাকে শরণার্থী ও বৈধ অভিবাসী পরিবার
যে ক্যানসার নিয়ে গবেষণা করতেন, সেই আগ্রাসী ক্যানসারেই প্রাণ গেল ডা. রচনা শ্রফের
শারীরিক অসুস্থতাকে মানসিক সমস্যা ভেবে ভুল, অটোইমিউন রোগ নির্ণয়ে পিছিয়ে নারীরা
মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ৯০ ডলারের ফেরত, কারা পাবেন এই অর্থ?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ বন্ধের ঝুঁকি, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ছে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ
হেরেছেন ভেবে ডাস্টবিনে ফেললেন ১৪ কোটি টাকার লটারির টিকিট, ৬ টন আবর্জনা ঘেঁটে উদ্ধার
স্বপ্নে মহানবী (সা.)-কে দেখার পর অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি: অভিনেত্রী জারনিশ খান
এনটিভিতে প্রচারিত হচ্ছে নির্মাতা মেহেদী হাসান রাজুর ‘ক্ষত’
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার ম্যান’ অভিনেতা টোবি
স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
আকাশে উড়বে, মাঝপথে ডিগবাজিও খাবে টেসলার নতুন গাড়ি, থাকছে স্পেসএক্সের রকেট প্রযুক্তি
ইউএফও শয়তানের পাঠানো অশুভ সত্তা, দাবি চাঁদে হাঁটা নাসার সাবেক নভোচারীর
সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞতায় এনায়েতুরের চার প্রকৌশলীর উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী
মা বাবাকে সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছু ছেড়ে নিজ দেশে মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও বদলে গেল অগ্রাধিকার, বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য মাইক্রোসফট ছাড়লেন কর্মকর্তা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটায় ২১ কোটি ডলারের তহবিল নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, কড়া বার্তা শ্রম দপ্তরের
বিবিসির বিরুদ্ধে ১০ বিলিয়ন ডলারের মামলা করে বিপাকে ট্রাম্প, জবানবন্দি না দিলে নিষেধাজ্ঞার মুখে প্রেসিডেন্ট
কুকুরকে ভোটার বানিয়ে দুইবার ব্যালট পাঠালেন নারী, শেষ পর্যন্ত শাস্তি হিসেবে কুকুরের ছবিই উঠল বিলবোর্ডে
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভোটগণনায় ঐতিহাসিক জয়, যুক্তরাষ্ট্রে মেয়র হওয়ার পথে বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ
বিতর্কের জেরে ৫ দিনের মাথায় প্রেস সেক্রেটারি কেটি জাকারিয়াকে বরখাস্ত করলেন ট্রাম্প
মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কিনেন ফোন, নাসিম এখন মাইক্রোসফটে
লিংকডইন ব্যবহার করে যেভাবে খুঁজবেন মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
পানীয়তে মা দক শনাক্তের নেলপলিশ তৈরি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
প্রায় ১০ কোটি বছর আগের পোকার সন্ধান, শরীরের দ্বিগুণ লম্বা মুখ: নাম টেলিটাবিজের নু-নু
নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
কাঠমিস্ত্রির ছেলে সাজিবুল, সব বাধা পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গেটিসবার্গে, পেয়েছেন চার কোটি টাকার ফান্ড
ইউনিভার্সিটি অ্যাট বাফেলোতে পিএইচডি ফান্ডিং, বছরে ন্যূনতম ৩৫,১০০ ডলারের সুযোগ
১৫ দিনের মধ্যে এসএসসিতে ফেল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চান! শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারের আবেদন নিয়ে জেনে নিন নতুন নিয়ম
সিলেটের চা শ্রমিকের মেয়ে শান্তা এখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী, পড়ছেন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
৭৮ মাসের সাজা, তবু কারাগারের ফোনে ফাঁস ৯৩ বছরের নারীর ৪৫ হাজার ডলারের চেকের রহস্য
ফ্লোরিডায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ভারতীয় শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, শনাক্তে গাড়ির ক্যামেরার তথ্য
স্বামীর আগের বিয়ের খবর জানার পর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ, চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার দুইজন
গাজীপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে সশস্ত্র হামলা, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা
তরুণীকে স্পর্শের অভিযোগে সড়কে মারধর, ভাইরাল ভিডিওর ঘটনায় কারাগারে দুজন!
'জীবন আর ক'টা দিন', আন্টার্কটিকা ঘুরে সর্বস্ব খরচ ক্যানসার আক্রান্তের, ফিরে জানলেন তিনি সুস্থ!
ব্যক্তিত্বের ধরন বুঝেই বেছে নিন পেশা, যুক্তরাষ্ট্রে কোন চাকরিতে বছরে আয় সবচেয়ে বেশি
আক্কেলদাঁত তোলার পরই ফুলে যায় মুখ! গুরুতর সংক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি দুই সন্তানের মা
তারুণ্য ধরে রাখতে রেটিনয়েডই একমাত্র উপায় নয়, সংবেদনশীল ত্বকে কাজে দেবে যেসব উপাদান
৫ বছরে দেশের চিনির ব্যবহার কমেছে ৩৩ শতাংশ! বদলেছে ভোগের ধরন
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বর্বরোচিত হা মলায় গুরুতর আ হত মার্কিন সাংবাদিক
বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন এবার চাকরিতে বদলানোর সুযোগ, পারিশ্রমিক ১ কোটি ২৩ লাখ টাকা
পাহাড়ের চূড়ায় মসজিদ, প্রতিদিন ৫ হাজার সিঁড়ি পেরিয়ে ইমামতি করেন সিবগাতুল্লাহ
গাজায় যে মাত্রায় ধ্বং সযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা যে কাউকেই ব্যথিত করবে: ওবামা
সৌদি চিকিৎসকদের নিবিড় সেবায় ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন হুথি হামলায় আহত বাংলাদেশিরা
হিলারী ক্লিনটন তো অনেক বোকা, আবার ড. ইউনূসকে পুরষ্কৃত করেছে: আসিফ নজরুল
জবিতে পশু জ বা ইয়ে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে উপাচার্য ভবনের পাশে গরু জ বা ই
ছাত্রীদের বিকৃত ছবি তৈরি, বাংলাদেশি শিক্ষক আবুসালি রহমানের ৬ বছরের কারাদণ্ড
প্রথমবার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে যাচ্ছে থাইল্যান্ড, নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ২০২৭ সালে
নতুন বেতন স্কেলের অর্থ জোগাতে ভর্তুকি কমানো ও সরকারি ব্যয় সংকোচনের সুপারিশ কমিশনের
বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও প্রাথমিকের শিক্ষকতা বেছে নেওয়া নায়লার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ
দুই মাসে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ডিসেম্বর থেকে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাসিনা ভারতে যা করছেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন হলে মোদি কি ঢাকায় আসতেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী