Live update news
বামে জোহরান মামদানি ,ডানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
"জাতিসংঘ সম্মেলনে নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার হতে দেব না"- মামদানির গ্রেপ্তার ইঙ্গিতের জবাবে ট্রাম্প

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তিনি নিউইয়র্ক সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অবাধ উপস্থিতির বিষয়েও আশ্বাস দেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনগতভাবে কী করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” করছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, আইন যা অনুমতি দেয়, তার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।   মামদানির বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মনে করেন মেয়র মামদানি “গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব মন্তব্য সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।   এদিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আশ্বাসের পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এই এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আদালতের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

৪২ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের (ইউনাইটেড স্টেটস) প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। ছবি:সংগৃহীত
ভিসা না পাওয়ার আশঙ্কায় কানাডার বনপথে যুক্তরাষ্ট্রে,ব্রিটিশ নাগরিকের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা না পাওয়ার আশঙ্কায় কানাডা সীমান্তের বনপথ দিয়ে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং পরে তদন্তকারীদের কাছে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে এক ব্রিটিশ নাগরিককে কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।   মেইন অঙ্গরাজ্যের ব্যাংগরের যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালত ২১ বছর বয়সী হামিদ মোহাম্মদ নাগিকে ইতোমধ্যে কারাগারে কাটানো সময়কেই সাজা হিসেবে গণ্য করে মুক্তির আদেশ দিয়েছেন। গত ৮ জুন তিনি অভিযোগ স্বীকার করেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল ভোরের আগে নাগি আরও তিনজন ব্রিটিশ নাগরিককে নিয়ে কানাডার কুইবেক সীমান্তবর্তী ঘন বন পেরিয়ে মেইনের সোমারসেট কাউন্টিতে প্রবেশ করেন। তারা এমন একটি এলাকা দিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট জাকারি সীমান্ত প্রবেশপথের কাছাকাছি।   পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোল ও কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন কর্মকর্তারা তাদের আটক করেন।   প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাগি দাবি করেন, তারা কানাডায় হাঁটতে বের হয়েছিলেন এবং ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকে পড়েছেন। তবে তদন্তে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার উদ্দেশ্যেই সীমান্ত অতিক্রম করেছিলেন। ভিসা না পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি বৈধ প্রবেশপথ ব্যবহার করেননি এবং তদন্তকারীদের কাছে ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়েছিলেন।   তবে তদন্তে এমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি, যা থেকে সহিংস কর্মকাণ্ড বা নিরাপত্তার জন্য হুমকির ইঙ্গিত মেলে।   মামলাটি তদন্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ডার প্যাট্রোল, কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস এবং এফবিআই।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এই মামলাটি ট্রাম্প প্রশাসনের “অপারেশন টেক ব্যাক আমেরিকা” কর্মসূচির অংশ। এই উদ্যোগের লক্ষ্য অবৈধ অভিবাসন দমন, আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করা।

৪৭ মিনিট Ago
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ)-এর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ। ছবি:সংগৃহীত
অপরাধ গোপন করে মার্কিন নাগরিকত্বের অভিযোগ, ১০ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা

ওয়াশিংটন: অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ)। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিন্যাচারালাইজেশন বা নাগরিকত্ব বাতিল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।   সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগ জানায়, গত ৩০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক জালিয়াতি, অভিবাসন প্রতারণা, পরিচয় গোপন এবং কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কেউ যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, মিথ্যা তথ্য দেয় বা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের আদেশে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে।   ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, অভিযুক্তরা নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করেছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, আইনের প্রয়োজনীয় “সৎ নৈতিক চরিত্র” তারা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, যারা প্রতারণার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাদের সেই নাগরিকত্ব ধরে রাখার অধিকার নেই। তিনি জানান, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কিউবা, মেক্সিকো, পাকিস্তান, পেরু ও পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগ, মেডিকেয়ার জালিয়াতি, কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা, একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে অভিবাসন সুবিধা গ্রহণ, মাদক পাচার এবং নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা।   অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে প্রায় ৮ লাখ ৮৭ হাজার ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে ৫ কেজির বেশি কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ার তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করেছে বিচার বিভাগ।   বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ. শুমেট বলেন, এটি কেবল শুরু। নাগরিকত্ব পেতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন - এমন আরও অনেকের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলা করা হবে।   তবে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য হবে না।

১ ঘন্টা Ago
চলমান সংঘাতে নিহত ১৭ মার্কিন সেনার মধ্যে ১৬ জনের প্রতিকৃতি। বাকি একজনের ছবি এখনো জনসমক্ষে আসেনি।
১৭ মার্কিন সেনার মৃত্যু, চার শতাধিক আহত: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতে বাড়ছে মানবিক ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭ জনে। সর্বশেষ জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যু এবং উত্তর ইরাকে আরেক সেনার নিহত হওয়ার ঘটনায় এই সংখ্যা বেড়েছে। একই সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪০০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে।    পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ নিহত দুই সেনা হলেন ২৫ বছর বয়সী ফার্স্ট লেফটেন্যান্ট টাইলার জেমস ফিহান এবং ১৯ বছর বয়সী প্রাইভেট ইসাবেলা গনজালেস। তারা জর্ডানের মুওয়াফাক সালতি এয়ার বেসে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তারা নিহত হন। হামলায় আরও কয়েকজন সেনা আহত হলেও চিকিৎসা শেষে তাদের হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।    এর পরদিন উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিষ্ক্রিয় করার সময় বিস্ফোরণে আরও এক মার্কিন সেনার মৃত্যু হয় এবং আরেকজন আহত হন। এ ঘটনার পরই যুক্তরাষ্ট্রের মোট সামরিক প্রাণহানির সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছায়।    অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সংকলিত তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরু থেকে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির ঘটনাগুলো বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। সংঘাত শুরুর অল্প সময়ের মধ্যেই কুয়েতে একটি ইরানি ড্রোন হামলায় ছয় সেনা নিহত হন। পরে সৌদি আরবে হামলায় আহত এক সেনা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ইরাকে একটি কেসি-১৩৫ রিফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ছয় সেনার মৃত্যু হয়। জুলাইয়ের শুরুতে আরব সাগরে একটি এমএইচ-৬০এস সিহক হেলিকপ্টারের দুর্ঘটনায় এক নৌবাহিনীর পাইলট নিহত হন। এরপর জর্ডানে দুই সেনা এবং উত্তর ইরাকে আরও একজন সেনার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ১৭-তে পৌঁছেছে।    আহতের সংখ্যাও দ্রুত বেড়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ৪০০ জনের বেশি মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তাদের বড় একটি অংশ বিস্ফোরণের অভিঘাতে সৃষ্ট ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরিতে (টিবিআই) আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় একাধিক সামরিক স্থাপনা, বিমান ও হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে যে আধুনিক যুদ্ধে শুধু সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্র নয়, মধ্যপ্রাচজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোও বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং আকাশপথে পরিচালিত হামলার কারণে যুদ্ধের মূল ফ্রন্টের বাইরেও মার্কিন সেনারা প্রাণঘাতী আক্রমণের মুখে পড়ছেন।

১ ঘন্টা Ago
অভিবাসীর কন্যাকে বিয়ে করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা?’ জেডি ভ্যান্সকে ওবামার প্রশ্ন
আমেরিকা
অভিবাসীর কন্যাকে বিয়ে করে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কথা?’ জেডি ভ্যান্সকে ওবামার প্রশ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের অভিবাসনবিষয়ক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছেন। লেখক ও সাংবাদিক ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েলের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি বলেন, একজন মানুষের আমেরিকান পরিচয়কে তার বাবা-মায়ের জন্মস্থান বা পারিবারিক শিকড় দিয়ে বিচার করার বক্তব্যের সঙ্গে ভ্যান্সের ব্যক্তিগত জীবনের একটি স্পষ্ট সাংঘর্ষিক দিক রয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।    ওবামা বলেন, বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট এমন একটি ধারণা তুলে ধরছেন, যা মূলত ‘We the People’-এর একটি ‘blood-and-soil’ বা বংশপরিচয়ভিত্তিক সংস্করণ। তার ভাষায়, সেখানে একজন মানুষের বাবা-মা কে এবং তারা কতদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে আছেন—এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অথচ ভ্যান্স নিজেই একজন অভিবাসী পরিবারের কন্যাকে বিয়ে করেছেন।    ওবামার এই মন্তব্যের ইঙ্গিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সেকেন্ড লেডি উষা ভ্যান্সকে ঘিরে। উষা ভ্যান্স যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করলেও তার বাবা-মা ভারত থেকে অভিবাসন করেছিলেন। জেডি ও উষা ভ্যান্সের তিন সন্তান রয়েছে এবং তারা তাদের চতুর্থ সন্তানের অপেক্ষায় রয়েছেন।    আলোচনায় ম্যালকম গ্ল্যাডওয়েল বলেন, এক শতাব্দী আগে অভিবাসীবিরোধী অবস্থান নেওয়া কোনো শীর্ষ রাজনীতিকের পক্ষে অভিবাসী পরিবারের সদস্যকে বিয়ে করা প্রায় অকল্পনীয় ছিল। এর জবাবে ওবামা বলেন, “Hypocrisy is progress” বা “ভণ্ডামিও এক ধরনের অগ্রগতি।” তার ব্যাখ্যায়, অন্তত তখন মানুষ বুঝতে পারে যে তার অবস্থানের সঙ্গে বাস্তবতার একটি অসঙ্গতি রয়েছে এবং সেটিই পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করে।    সাম্প্রতিক সময়ে জেডি ভ্যান্স জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব (Birthright Citizenship) নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে কেবল একটি ধারণা নয়, বরং নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর একটি জাতি হিসেবে তুলে ধরার পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন। এসব অবস্থানকে ঘিরেই ওবামা তার সমালোচনা করেন।    ওবামা আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বহুত্ববাদে। বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও অভিবাসী পটভূমি থেকে আসা মানুষ একসঙ্গে আমেরিকান পরিচয় গড়ে তুলেছেন। তার মতে, নাগরিকত্ব বা জাতীয় পরিচয়কে বংশপরিচয়ের ভিত্তিতে সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অন্তর্ভুক্তিমূলক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ১৯:৪২
ওহাইওর নতুন শিক্ষা আইনে যুক্ত হচ্ছে ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ পাঠ্যসূচি। ছবি: সংগৃহীত
সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে, এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্কুলেই শেখানো হতে পারে শিক্ষার্থীদের

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের সরকারি স্কুলগুলোতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন একটি পাঠ্যবিষয় চালু হচ্ছে। নতুন আইনের আওতায় শিক্ষার্থীদের শেখানো হবে, উচ্চবিদ্যালয় শেষ করা, পূর্ণকালীন চাকরি পাওয়া এবং সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে করা এই তিনটি ধাপ অনুসরণ করলে প্রাপ্তবয়স্ক জীবনে দারিদ্র্যে পড়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। গভর্নর মাইক ডিওয়াইন সম্প্রতি সিনেট বিল ২৭৬–এ স্বাক্ষর করায় এটি আইনে পরিণত হয়েছে।    সিনেট বিল ২৭৬ মূলত স্কুল মনোবিজ্ঞানীদের আন্তঃরাজ্য লাইসেন্সিং সহজ করার উদ্দেশ্যে আনা হয়েছিল। তবে আইনসভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের আগে এতে শিক্ষা-সংক্রান্ত একাধিক নতুন ধারা যুক্ত করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ বা সাফল্যের ধারাবাহিকতা নামে পরিচিত এই পাঠ্যসূচি। বিলটি দুই কক্ষেই পাস হওয়ার পর গভর্নরের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হয়েছে এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এটি কার্যকর হবে।    নতুন পাঠ্যসূচিতে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে, যারা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষা সম্পন্ন করেন, পূর্ণকালীন কর্মসংস্থানে যুক্ত হন এবং সন্তান নেওয়ার আগে বিয়ে করেন, তাদের দারিদ্র্যের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকে। আইনটির সমর্থকদের দাবি, এটি কোনো ব্যক্তিগত মতামত নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক গবেষণায় পাওয়া পরিসংখ্যানভিত্তিক একটি ধারণা, যা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় সহায়ক হতে পারে।    সমর্থকদের মতে, স্কুলে যেহেতু আর্থিক সচেতনতা, পেশা পরিকল্পনা ও ভবিষ্যৎ শিক্ষা নিয়ে পাঠদান করা হয়, তাই পরিবার গঠন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার সম্পর্ক নিয়েও তথ্যভিত্তিক শিক্ষা দেওয়া যৌক্তিক। তাদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো জীবনধারা চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য।    অন্যদিকে সমালোচকদের অভিযোগ, এই পাঠ্যসূচি সফল জীবনের একটি নির্দিষ্ট মডেলকে গুরুত্ব দিচ্ছে, যা সব পরিবারের বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। তাদের মতে, একক অভিভাবক, দাদা-দাদী বা নানা-নানীর কাছে বড় হওয়া শিশু, দত্তক পরিবার কিংবা অন্যান্য পারিবারিক কাঠামো থেকে আসা শিক্ষার্থীরা এতে নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে করতে পারে। এছাড়া দারিদ্র্যের পেছনে বাসস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, মজুরি, কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের মতো বহু জটিল কারণ কাজ করে বলে তারা উল্লেখ করেছেন। এই আইন শুধু ‘সাকসেস সিকোয়েন্স’ চালুই করেনি, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগও বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো স্কুলে নির্দিষ্ট খেলাধুলা বা সহশিক্ষা কার্যক্রম না থাকলে শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে পাশের স্কুল জেলার সেই কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার আবেদন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট দুই জেলার সুপারিনটেনডেন্টের অনুমোদন সাপেক্ষে এ সুযোগ দেওয়া হবে।    ওহাইওর এই আইন ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষা, পরিবার, দারিদ্র্য এবং স্কুলের পাঠ্যক্রম নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সমর্থকদের কাছে এটি বাস্তবমুখী জীবনশিক্ষা হলেও, বিরোধীদের মতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যক্তিগত জীবনধারা নিয়ে রাষ্ট্রের এমন নির্দেশনামূলক অবস্থান বিতর্কিত হতে পারে।

সন্তানকে সুইমিংপুলে ডুবিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার টেনেসির এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
নিজের সন্তানকে সুইমিং পুলের পানিতে চুবিয়ে হত্যাচেষ্টা, মা গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে নিজের এক সন্তানকে বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে জোর করে পানির নিচে চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে গুরুতর শিশু নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।   ওয়াশিংটন কাউন্টি শেরিফস অফিস জানিয়েছে, গত ১৫ জুলাই বিকেল প্রায় ৫টার দিকে জনসন সিটির কোচরান রোডের একটি বাড়ি থেকে গোলযোগের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।   তদন্তে জানা যায়, ৩১ বছর বয়সী মিকাইলি রে বিয়ার্ন (Mikaylee Rae Beirne) বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে কয়েকজন শিশুর সঙ্গে ছিলেন। এ সময় বাড়ির ভেতরে আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি অবস্থান করছিলেন।   প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হঠাৎ এক শিশু দৌড়ে বাড়ির ভেতরে গিয়ে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে জানায় যে, বিয়ার্ন অপর এক শিশুকে জোর করে পানির নিচে চেপে ধরে রেখেছেন।   খবর পেয়ে ওই ব্যক্তি দ্রুত সুইমিংপুলে গিয়ে শিশুটিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিয়ার্নকে বলেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান।   পরে ওই প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি জোর করে বিয়ার্নকে সরিয়ে শিশুটিকে পানি থেকে উদ্ধার করেন। কিছুক্ষণ পর আরেকজন প্রাপ্তবয়স্ক ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিয়ার্নের সঙ্গে সংক্ষিপ্তভাবে কথা বলেন। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তিনি সেখান থেকে চলে যান।   পরে জরুরি সেবা কর্মীদের ডাকা হলে আহত শিশুটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটির শরীরে সামান্য আঘাত ও কিছু স্থানে কালশিটে দাগ পাওয়া গেছে। সৌভাগ্যবশত, তার অবস্থা গুরুতর হয়নি।   ওয়াশিংটন কাউন্টি শেরিফস অফিসের সদস্যরা অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ার্নকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করেন। বর্তমানে তিনি ওয়াশিংটন কাউন্টি ডিটেনশন সেন্টারে আটক রয়েছেন। আদালত তার জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছেন।   শেরিফ কিথ সেক্সটন বলেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ঘটনার পূর্ণ কারণ ও পেছনের পরিস্থিতি জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ জানিয়েছে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

বামে জোহরান মামদানি ,ডানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু । ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
"জাতিসংঘ সম্মেলনে নিউইয়র্কে এলে নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার হতে দেব না"- মামদানির গ্রেপ্তার ইঙ্গিতের জবাবে ট্রাম্প

জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফরের আগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তার করা হবে না বলে স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, “নেতানিয়াহুকে যুক্তরাষ্ট্রে কোনোভাবেই গ্রেপ্তার করা হবে না।” তিনি নিউইয়র্ক সফরের সময় ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা ও অবাধ উপস্থিতির বিষয়েও আশ্বাস দেন।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। মামদানি বলেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আলোকে নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে আইনগতভাবে কী করা সম্ভব, তা নিয়ে তিনি সিটির আইন বিভাগের সঙ্গে “সক্রিয়ভাবে আলোচনা” করছেন। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেন, আইন যা অনুমতি দেয়, তার বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে না।   মামদানির বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, তিনি মনে করেন মেয়র মামদানি “গোপনে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘৃণা করেন”। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, এসব মন্তব্য সত্ত্বেও নিউইয়র্ক সফর নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন নন।   এদিকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জাতিসংঘ অধিবেশন ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রকাশ্য আশ্বাসের পর বিষয়টি নতুন রাজনৈতিক গুরুত্ব পেয়েছে।    প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গাজা যুদ্ধ-সংক্রান্ত অভিযোগে বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে যুক্তরাষ্ট্র আইসিসির এই এখতিয়ার স্বীকার করে না এবং ওয়াশিংটন শুরু থেকেই ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। ট্রাম্প প্রশাসনও আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়েছে এবং আদালতের পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি বলে উল্লেখ করেছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ)-এর বর্তমান ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ। ছবি:সংগৃহীত
অপরাধ গোপন করে মার্কিন নাগরিকত্বের অভিযোগ, ১০ জনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে মামলা

ওয়াশিংটন: অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জনের অভিযোগে ১০ জনের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের মামলা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (DOJ)। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ডিন্যাচারালাইজেশন বা নাগরিকত্ব বাতিল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে।   সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বিচার বিভাগ জানায়, গত ৩০ দিনের মধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল আদালতে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগ, স্বাস্থ্যসেবা ও আর্থিক জালিয়াতি, অভিবাসন প্রতারণা, পরিচয় গোপন এবং কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কেউ যদি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে, মিথ্যা তথ্য দেয় বা প্রতারণার মাধ্যমে নাগরিকত্ব অর্জন করেন, তাহলে আদালতের আদেশে তাঁর নাগরিকত্ব বাতিল করা যেতে পারে।   ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ বলেন, অভিযুক্তরা নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় নিজেদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড গোপন করেছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, আইনের প্রয়োজনীয় “সৎ নৈতিক চরিত্র” তারা প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, যারা প্রতারণার মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাদের সেই নাগরিকত্ব ধরে রাখার অধিকার নেই। তিনি জানান, অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকার সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ অব্যাহত রাখবে।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে কিউবা, মেক্সিকো, পাকিস্তান, পেরু ও পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিরা রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে—শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগ, মেডিকেয়ার জালিয়াতি, কোটি টাকার আর্থিক প্রতারণা, একাধিক পরিচয় ব্যবহার করে অভিবাসন সুবিধা গ্রহণ, মাদক পাচার এবং নাগরিকত্বের আবেদনপত্রে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা।   অভিযুক্তদের একজনের বিরুদ্ধে প্রায় ৮ লাখ ৮৭ হাজার ডলারের মেডিকেয়ার জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। আরেকজনের বিরুদ্ধে ৫ কেজির বেশি কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি যৌন সহিংসতার অভিযোগে দণ্ডিত হওয়ার তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করেছে বিচার বিভাগ।   বিচার বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ. শুমেট বলেন, এটি কেবল শুরু। নাগরিকত্ব পেতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন - এমন আরও অনেকের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে একই ধরনের মামলা করা হবে।   তবে বিচার বিভাগ স্পষ্ট করেছে, এসব অভিযোগ এখনো আদালতে বিচারাধীন। আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনগতভাবে প্রমাণিত বলে গণ্য হবে না।

অভিযুক্ত ছেলে ও মা। ছবি:সংগৃহীত
কুখ্যাত মায়ের পর এবার ছেলের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুরতার অভিযোগ, আলোড়ন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত ‘লং আইল্যান্ড লোলিটা’ নামে পরিচিত অ্যামি ফিশারের বড় ছেলে ব্রেট অ্যান্থনি বেলেরা (২৫) এবং তার বান্ধবী জেনিফার আর্মেন্টি (৩৬)-এর বিরুদ্ধে নিজেদের পোষা বিড়ালকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট লডারডেলে ঘটেছে এবং এটি দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, ‘রিপার’ নামের বিড়ালটির মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না। প্রাণীটির ময়নাতদন্তে দেখা যায়, এটি তীব্র তাপের সংস্পর্শে এসে মারা গেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আঘাতের ধরন মাইক্রোওয়েভের বিকিরণ, অতিরিক্ত গরম পানিতে ডুবিয়ে রাখা অথবা গরম বাষ্পের সংস্পর্শে আসার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে মাইক্রোওয়েভ ব্যবহার করা হয়েছে—এটি এখনো তদন্তকারীদের একটি সম্ভাব্য ধারণা; আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।   কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এক পরিচিত ব্যক্তি বিড়ালটির মৃত্যুর বিষয়টি প্রাণী কল্যাণ কর্তৃপক্ষকে জানান। প্রথমদিকে জেনিফার আর্মেন্টি দাবি করেছিলেন, বিড়ালটি সম্ভবত পরিষ্কারক রাসায়নিক খেয়ে মারা গেছে। কিন্তু তদন্তকারীরা বাড়ির পেছনের অংশে একটি প্লাস্টিকের কাপড় রাখার ঝুড়ির ভেতরে বিড়ালটির মরদেহ এবং সেখানে রক্তের চিহ্ন দেখতে পান। এরপর মরদেহ ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।   ফরেনসিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিড়ালটি মৃত্যুর আগে প্রচণ্ড যন্ত্রণা ভোগ করেছিল। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই দুজনের বিরুদ্ধে অ্যাগ্রাভেটেড অ্যানিম্যাল ক্রুয়েলটি (প্রাণীর প্রতি গুরুতর নিষ্ঠুরতা) অভিযোগ আনা হয়েছে।   ব্রেট অ্যান্থনি বেলেরা এ মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার সময় অন্য একটি মামলায় কারাগারে ছিলেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে অতীতেও ডাকাতি ও মাদক-সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে জেনিফার আর্মেন্টিকে সম্প্রতি পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।    ব্রেট অ্যান্থনি বেলেরা কুখ্যাত অ্যামি ফিশারের ছেলে। ১৯৯২ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বিবাহিত প্রেমিকের স্ত্রীকে গুলি করার ঘটনায় অ্যামি ফিশার যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচিত হন এবং দীর্ঘ কারাদণ্ড ভোগ করেন। সেই অতীতের কারণে তার পরিবারের সদস্যরাও বহু বছর ধরে জনসাধারণের নজরে ছিলেন। 

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ইবোলায় প্রাণ হারানো একটি এতিমখানার চতুর্থ শিশুর মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন আন্তর্জাতিক রেড ক্রস
কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণে প্রাণহানি ৯৩০ ছাড়াল, একদিনেই মারা গেছেন ৩৭ জন
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৪:১৪

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে চলমান ইবোলা প্রাদুর্ভাবে প্রাণহানির সংখ্যা ৯৩০ জনে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার পর্যন্ত ২ হাজার ৩৪৪টি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, যা একদিনের হিসেবে সর্বোচ্চ সংখ্যাগুলোর একটি।   চলতি বছরের ১৫ মে পূর্বাঞ্চলীয় কঙ্গোতে এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবগুলোর একটি।   এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বুন্ডিবুগিও (Bundibugyo) ধরনের ইবোলা ভাইরাস। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনটির বিরুদ্ধে এখনো অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।   এদিকে প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসা দলের ওপর অন্তত ১২টি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বেতন-ভাতার দাবিতে অনেক স্বাস্থ্যকর্মী কর্মবিরতিতেও গেছেন।   স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৬ জন স্বাস্থ্যকর্মীও এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

ভারতে দুর্যোগ, ছবি: সংগৃহীত
বন্যা, ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত ভারত, প্রাণহানি বেড়ে ২৫
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: জুলাই ২০, ২০২৬ ৩:৪৩

 টানা মৌসুমি বৃষ্টিতে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চল বন্যা, ভূমিধস ও আকস্মিক ঢলে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন রাজ্যে এসব দুর্যোগে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জম্মু ও কাশ্মীর, নাগাল্যান্ড, আসাম, উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের কয়েকটি রাজ্য। কোথাও পাহাড় ধসে বসতবাড়ি চাপা পড়েছে, কোথাও নদীর পানি বেড়ে তলিয়ে গেছে সড়ক ও জনপদ।   জম্মু ও কাশ্মীরের পুঞ্চ ও রাজৌরি জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বহু ঘরবাড়ি, যানবাহন এবং সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্গত এলাকায় সেনাবাহিনী, জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।   অন্যদিকে, আসামে বন্যার পানিতে কয়েকটি জেলা প্লাবিত হয়েছে। হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন এবং বহু কৃষিজমি পানির নিচে চলে গেছে।   নাগাল্যান্ডেও ভারী বৃষ্টির কারণে বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।   ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি) জানিয়েছে, উত্তর ও পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে আগামী কয়েক দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। হিমাচল প্রদেশসহ কয়েকটি রাজ্যে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ভূমিধস এবং নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকির কথা জানিয়ে সাধারণ মানুষকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   ভারতে প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা মৌসুমি বৃষ্টিতে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা নিয়মিত হলেও, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বহু অঞ্চলে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়া এক তরুণের মৃত্যু নতুন করে আলোচনায় এনেছে মানসিক চাপের বিষয়টি। ছবি: সংগৃহীত
৫০ বার চাকরির পরীক্ষায় ব্যর্থতার পর ‘সরি পাপা’ লিখে ভারতীয় যুবকের আত্মহত্যা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ২২:৩৩

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কানপুরে সরকারি চাকরির পরীক্ষায় বারবার ব্যর্থ হওয়ার মানসিক চাপে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ প্রকৌশলীর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর আগে তিনি বাবার উদ্দেশে একটি সংক্ষিপ্ত চিরকুট রেখে গিয়েছিলেন, যেখানে বারবার চেষ্টা করেও সরকারি চাকরি না পাওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, নিহত তরুণের নাম আনন্দ। তিনি ২০২৪ সালে কানপুরের বেসরকারি প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পিএসআইটি (PSIT) থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে স্বর্ণপদক লাভ করেন। একই সঙ্গে তিনি উত্তরপ্রদেশে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন।   পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার সময় তারা বড় ছেলের বিয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে বিহারে গিয়েছিলেন। পরে বাড়িতে কোনো সাড়া না পেয়ে গৃহকর্মী প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচ লাইনের একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চিরকুটে তিনি লিখেছেন, “সরি পাপা, আমি সরকারি চাকরির জন্য প্রায় ৫০ বার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হতে পারিনি। দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিও।”   নিহতের বাবা রাজকুমার জানান, স্নাতক শেষ করার পর আনন্দ পাওয়ার গ্রিড করপোরেশনে এক বছরের শিক্ষানবিশি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি রেলওয়ে, স্টাফ সিলেকশন কমিশন (এসএসসি), ব্যাংক এবং শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, আনন্দ নিয়মিত পরীক্ষায় অংশ নিলেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছিলেন না। গত কয়েক মাস ধরে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। পরিবার তাকে বিভিন্নভাবে উৎসাহ দেওয়ার চেষ্টা করলেও তিনি নিজের ব্যর্থতা নিয়ে ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন।   গোবিন্দ নগর থানার স্টেশন হাউস অফিসার অশোক কুমার দুবে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও চাকরির পরীক্ষায় সফল হতে না পারার হতাশা এই ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তবে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার সন্ধ্যায় কানপুরের ভৈরব ঘাটে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়েছে।   ভারতে প্রতিযোগিতামূলক সরকারি চাকরির পরীক্ষাগুলোতে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক প্রার্থী অংশ নেন। সীমিত সংখ্যক পদ এবং তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে অনেক শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে পরিবার, বন্ধু এবং প্রতিষ্ঠানের মানসিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ড্রোন। ছবি: সংগৃহীত
ইরাকে ভূপাতিত ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করতে গিয়ে নিহত মার্কিন সেনা, আহত আরও একজন
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১৯, ২০২৬ ২১:৪৫

উত্তর ইরাকে ভূপাতিত একটি ইরানি ড্রোনের অবিস্ফোরিত অংশ নিয়ন্ত্রিতভাবে নিষ্ক্রিয় করার সময় এক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন সেনা সামান্য আহত হয়েছেন। রোববার (স্থানীয় সময়) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।   সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ জুলাই উত্তর ইরাকে এই ঘটনা ঘটে। ভূপাতিত ইরানি একমুখী হামলাকারী ড্রোনের (ওয়ান-ওয়ে অ্যাটাক ড্রোন) অবিস্ফোরিত অংশ নিরাপদে ধ্বংস করার জন্য নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ পরিচালনার সময় ওই সেনা নিহত হন। একই ঘটনায় আরেক মার্কিন সেনা সামান্য আহত হন এবং তিনি চিকিৎসা নিচ্ছেন। নিহত সেনার পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না হওয়া পর্যন্ত তার পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে সেন্টকম।   এর আগে গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত হন এবং একজন নিখোঁজ হন। পরে ঘটনাস্থল থেকে কিছু অজ্ঞাত দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম। উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষ নিখোঁজ সেনার কি না, তা নিশ্চিত করতে পরীক্ষার কাজ চলছে।   সব মিলিয়ে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। মার্কিন বাহিনী টানা নবম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, এসব হামলায় ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে এমন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানও উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে কুয়েত, জর্ডান ও বাহরাইনসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এক মাস আগে হওয়া অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে যাওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সংঘাত দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
821 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
678 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
794 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
634 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়