যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হোয়াইট রিভারের পানি ১৯১৩ সালের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নদীর পানি বর্তমানে ২৪ দশমিক ৫ ফুটের বেশি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা ১১৩ বছর আগের রেকর্ডের চেয়েও এক ফুটের বেশি। এই নজিরবিহীন পানি বৃদ্ধির ফলে ইন্ডিয়ানার বিস্তীর্ণ এলাকা ও পুরো লোকালয় এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। মঙ্গলবার থেকে ইন্ডিয়ানাপোলিসের পূর্বাঞ্চলে ১১ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মাইক ব্রন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্ডিয়ানা ন্যাশনাল গার্ডকে তলব করেছেন। উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গভর্নর ব্রন জানান, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে জরুরি সম্পদ ও সহায়তা পাঠানো হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার জন্য তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে, ইন্ডিয়ানার অ্যান্ডারসন শহরের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরটির বাসিন্দা চার্লি সিমন্স জানান, তিনি গত এক বছর ধরে কাজ করে মাত্র কয়েক মাস আগে তার বাড়িটি নতুন করে তৈরি করেছিলেন, কিন্তু বন্যায় তা এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আজীবন অ্যান্ডারসনে বসবাস করা সিমন্স জানান, তার জীবদ্দশায় তিনি কখনোই এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে ডেলাওয়্যার কাউন্টির ইয়র্কটাউন শহর কর্তৃপক্ষের শেয়ার করা ফেসবুক ভিডিওগুলোতেও। সেখানে বন্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টিতে ট্রেনের লাইন ও রাস্তাঘাট ঘোলা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কেমব্রিজ সিটির বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এভারটন ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে দুর্যোগকবলিত ওই অঞ্চল থেকে কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করেছেন। আগামী রবিবার পর্যন্ত নদীর পানি তীর উপচে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি এবং নিয়মিত আয় থাকলেও পছন্দের অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নিতে গিয়ে অনেক নতুন অভিবাসী সমস্যায় পড়তে পারেন। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকা বা দুর্বল ক্রেডিট। তবে শুধু গ্রিন কার্ড থাকা বা না থাকার সঙ্গে ক্রেডিট স্কোরের সরাসরি সম্পর্ক নেই। বাড়িওয়ালা বা প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি সাধারণত আবেদনকারীর আয়, ক্রেডিট রিপোর্ট, আগের রেন্টাল হিস্ট্রি এবং অন্যান্য তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। যুক্তরাষ্ট্রে বহুল ব্যবহৃত ফিকো স্কোর সাধারণত ৩০০ থেকে ৮৫০ পর্যন্ত হয়ে থাকে। ফিকোর শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী ৬৭০ থেকে ৭৩৯ স্কোরকে ‘গুড’, ৭৪০ থেকে ৭৯৯ ‘ভেরি গুড’ এবং ৮০০ বা তার বেশি স্কোরকে ‘এক্সেপশনাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া পাওয়ার জন্য সারা দেশে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দিষ্ট ক্রেডিট স্কোর নেই। বাড়িওয়ালা, প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, এলাকার রেন্টাল মার্কেট এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর প্রয়োজনীয় স্কোর নির্ভর করে। অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোরের পাশাপাশি ক্রেডিট রিপোর্টে বিল পরিশোধের ইতিহাস, ঋণের পরিমাণ, কালেকশন অ্যাকাউন্ট বা অন্যান্য আর্থিক তথ্যও দেখে। এ কারণে ‘ক্রেডিট স্কোর জিরো’ কথাটিও সব ক্ষেত্রে সঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আসা বা আগে কোনো ক্রেডিট অ্যাকাউন্ট ব্যবহার না করা ব্যক্তির পর্যাপ্ত ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে অনেক সময় তার স্কোর তৈরি করার মতো তথ্যই থাকে না। অর্থাৎ তার স্কোর শূন্য হওয়ার বদলে কোনো স্কোর নাও থাকতে পারে। একে সাধারণভাবে ‘ক্রেডিট ইনভিজিবল’ বা সীমিত ক্রেডিট হিস্ট্রি বলা হয়। কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রি গড়ে উঠলে হাউজিং, ক্রেডিট কার্ড ও বিভিন্ন ধরনের লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধা হতে পারে। নিয়মিত ও সময়মতো পেমেন্ট করা একটি শক্তিশালী ক্রেডিট হিস্ট্রি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নতুন অভিবাসীদের একটি সাধারণ ভুল ধারণা হলো, ফোন বিল বা নিয়মিত রেন্ট দিলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সব পেমেন্ট ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হয়। বাস্তবে সব ফোন, ইউটিলিটি বা রেন্ট পেমেন্ট নিয়মিতভাবে তিনটি প্রধান ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট করা হয় না। তবে নির্দিষ্ট রেন্ট রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সময়মতো দেওয়া ভাড়ার তথ্য ক্রেডিট রিপোর্টে যুক্ত হলে তা ক্রেডিট তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলে একটি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড দিয়ে শুরু করা একটি প্রচলিত উপায়। এ ধরনের কার্ডে সাধারণত আগে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের সিকিউরিটি ডিপোজিট রাখতে হয়। এরপর কার্ডটি ব্যবহার করে প্রতি মাসে সময়মতো বিল পরিশোধ করলে সেই পেমেন্ট হিস্ট্রি ক্রেডিট ব্যুরোতে রিপোর্ট হওয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ক্রেডিট প্রোফাইল তৈরি হতে পারে। শুধু ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলেই অবশ্য ভালো স্কোর নিশ্চিত হয় না। সময়মতো পেমেন্ট করা, ক্রেডিট লিমিটের তুলনায় ব্যালেন্স নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অল্প সময়ে অনেক নতুন ক্রেডিট অ্যাকাউন্টের জন্য আবেদন না করাও গুরুত্বপূর্ণ। ক্রেডিট হিস্ট্রি না থাকলেও অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া অসম্ভব নয়। কোনো কোনো বাড়িওয়ালা স্থায়ী চাকরি ও পর্যাপ্ত আয়ের প্রমাণ, আগের বাড়িওয়ালার রেফারেন্স অথবা গ্যারান্টর বিবেচনা করতে পারেন। আবার অনেক প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির নিজস্ব টেন্যান্ট স্ক্রিনিং নীতি থাকে। চাকরির ক্ষেত্রেও ক্রেডিট নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কিছু নিয়োগকর্তা আইনসঙ্গতভাবে এবং আবেদনকারীর লিখিত অনুমতি নিয়ে ক্রেডিট রিপোর্টসহ ব্যাকগ্রাউন্ড রিপোর্ট দেখতে পারেন। তবে তারা সাধারণত চাকরির আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর দেখতে পান না। রাজ্য ও স্থানীয় আইন অনুযায়ী এ ধরনের যাচাইয়ের ওপর আরও বিধিনিষেধ থাকতে পারে। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাসের প্রমাণ হলেও সেটি ভালো ক্রেডিট হিস্ট্রির বিকল্প নয়। নতুন অভিবাসীদের জন্য শুরু থেকেই নিজের ক্রেডিট রিপোর্ট সম্পর্কে জানা, সময়মতো পেমেন্ট করা এবং দায়িত্বশীলভাবে ক্রেডিট তৈরি করা ভবিষ্যতে অ্যাপার্টমেন্ট, মর্টগেজ, গাড়ির লোনসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মা ও অন্য দুই প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু। চারদিকে ঘন আমাজন জঙ্গল, বিষধর সাপ ও বন্য প্রাণীর ঝুঁকি। সঙ্গে ১১ মাস বয়সী এক শিশু। এমন পরিস্থিতিতেও ১৩ বছরের বড় বোনের নেতৃত্বে চার ভাইবোন টানা ৪০ দিন নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। ২০২৩ সালে কলম্বিয়ার আমাজনে ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১ মে। একটি সেসনা ২০৬ উড়োজাহাজ কলম্বিয়ার কাকেতা অঞ্চলের আরারাকুয়ারা থেকে সান হোসে দেল গুয়াভিয়ারে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটিতে চার শিশুসহ সাতজন ছিলেন। যাত্রাপথে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পাইলট জরুরি সংকেত পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি আমাজনের দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজে থাকা চার ভাইবোন লেসলি, সোলেইনি, তিয়েন নোরিয়েল ও ক্রিস্টিন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। সে সময় তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৩, ৯, ৪ বছর এবং প্রায় ১১ মাস। পরে জঙ্গলের মধ্যে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিশুদের মা মাগদালেনা মুকুতুই। দুর্ঘটনার পর চার শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ধ্বংসাবশেষের আশপাশে পাওয়া বিভিন্ন চিহ্ন দেখে উদ্ধারকারীরা ধারণা করেন, শিশুরা বেঁচে আছে এবং জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে। এরপর তাদের উদ্ধারে বড় পরিসরে শুরু হয় ‘অপারেশন এসপেরানজা’ বা ‘অপারেশন হোপ’। চার ভাইবোনকে বাঁচিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বড় বোন লেসলির জঙ্গল সম্পর্কে জ্ঞান। শিশুরা আদিবাসী উইতোতো জনগোষ্ঠীর সদস্য। ছোটবেলা থেকেই বনজ ফল চেনা, জঙ্গলে চলাচল এবং বিপদ এড়িয়ে টিকে থাকার বিষয়ে তাদের পারিবারিক ও ঐতিহ্যগত শিক্ষা ছিল। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ থেকে পাওয়া কাসাভার আটা কিছুদিন তাদের খাবারের প্রধান উৎস ছিল। সেটি শেষ হয়ে গেলে জঙ্গল থেকে পরিচিত ফল ও বীজ সংগ্রহ করে খেতে শুরু করে তারা। লেসলি ছোট ভাইবোনদের জন্য ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ও তৈরি করেছিল। সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব ছিল তখনো এক বছর পূর্ণ না হওয়া ছোট বোন ক্রিস্টিনকে নিরাপদ রাখা। শিশুদের খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর শতাধিক সদস্যের পাশাপাশি বহু আদিবাসী অনুসন্ধানকারী জঙ্গলে নামেন। দুর্গম ভূখণ্ড সম্পর্কে আদিবাসীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তি ও উদ্ধার সক্ষমতার সমন্বয় করা হয়। হেলিকপ্টার থেকে জঙ্গলে খাবারের প্যাকেট ফেলা হয়। শিশুদের দাদির কণ্ঠে রেকর্ড করা বার্তাও লাউডস্পিকারে বাজানো হয়েছিল। সেখানে শিশুদের এক জায়গায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে উদ্ধারকারীরা সহজে তাদের খুঁজে পেতে পারেন। দিন যত গড়াচ্ছিল, জঙ্গলে একের পর এক আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। শিশুর ব্যবহৃত বোতল, অস্থায়ী আশ্রয়, খাওয়া ফলের অংশ এবং ছোট ছোট পায়ের ছাপ উদ্ধারকারীদের আশা জাগিয়ে রাখে। এসব চিহ্নই নিশ্চিত করছিল, শিশুরা দুর্ঘটনার পরও বেঁচে ছিল এবং জঙ্গলের মধ্যে চলাচল করছিল। অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জুন, দুর্ঘটনার ঠিক ৪০ দিন পর চার শিশুকে জীবিত খুঁজে পান সেনাসদস্য ও আদিবাসী অনুসন্ধানকারীদের যৌথ দল। উদ্ধারের সময় তারা অপুষ্ট ও অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তবে চারজনই জীবিত ছিল। পরে তাদের হেলিকপ্টারে করে বোগোটার একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। কলম্বিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো চার শিশুর জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে পুরো দেশের জন্য আনন্দের খবর হিসেবে বর্ণনা করেন। চার ভাইবোনের বেঁচে থাকার পেছনে তাদের আদিবাসী জ্ঞান ও জঙ্গলের সঙ্গে পরিচিতির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এই অভিযানের আরেক আলোচিত সদস্য ছিল উইলসন নামের একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে উইলসন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের আঁকা ছবিতে একটি কুকুরের উপস্থিতি দেখা যায় এবং তারা জানিয়েছিল, জঙ্গলে একটি কুকুর কিছু সময় তাদের সঙ্গে ছিল। সেটি উইলসন ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। ব্যাপক অনুসন্ধানের পরও উইলসনকে আর পাওয়া যায়নি। আমাজনের দুর্গম পরিবেশে চার শিশুর ৪০ দিন বেঁচে থাকার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের গল্প হয়ে থাকেনি। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও আদিবাসীদের শতাব্দীপ্রাচীন বনজ জ্ঞানের সমন্বয় কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে, কলম্বিয়ার ‘অপারেশন হোপ’ তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন তিনবার আটকে গিয়েছিল এইচ-১বি ভিসা লটারিতে। কিন্তু হাল ছাড়েননি ভারতীয় বংশোদ্ভূত ২৯ বছর বয়সী সোহান শেঠি। শেষ পর্যন্ত নিজের পেশাগত অর্জনের পক্ষে প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠার নথি তৈরি এবং আইনজীবী ও অ্যাপ্লিকেশন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ হাজার ডলার খরচ করে তিনি ও-১ ভিসা পেতে সক্ষম হয়েছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোহান যুক্তরাষ্ট্রে ডেটা ও অ্যানালিটিকস খাতে নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু টানা তিনবার এইচ-১বি লটারিতে সুযোগ না পাওয়ায় একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত বিকল্প হিসেবে তিনি বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাজীবীদের জন্য থাকা ও-১ ভিসার পথে এগোন। ও-১ সাধারণ কোনো ওয়ার্ক ভিসা নয়। বিজ্ঞান, শিক্ষা, ব্যবসা, অ্যাথলেটিকস, শিল্পকলা, চলচ্চিত্র বা টেলিভিশনের মতো ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য অর্জনের স্বীকৃতি রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য এই ভিসা ক্যাটাগরি রাখা হয়েছে। এইচ-১বির মতো ও-১ ভিসায় বার্ষিক লটারি নেই। তবে আবেদনকারীকে নিজের যোগ্যতা ও পেশাগত অর্জনের পক্ষে শক্ত প্রমাণ দেখাতে হয়। সোহানের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বড় কাজ ছিল সেই প্রমাণ তৈরি করা। তাঁর আবেদনপত্রের সঙ্গে পেশাগত অর্জন, কাজের প্রভাব, গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, স্বীকৃতি এবং নিজ ক্ষেত্রে অবস্থান প্রমাণে বিপুল পরিমাণ নথি যুক্ত করা হয়। পুরো আবেদন প্রায় ৭০০ পৃষ্ঠায় পৌঁছায়। আইনগত সহায়তা ও আবেদনসংক্রান্ত খরচ মিলিয়ে তাঁর প্রায় ১৩ হাজার ডলার ব্যয় হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোহান নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ও-১ ভিসা পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, এইচ-১বি লটারিতে তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর ও-১ ভিসা অনুমোদন পাওয়া তাঁর জন্য বড় অর্জন। তাঁর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ও-১ আবেদন তৈরির সময় তাঁর প্রমাণপত্রের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো আরও শক্তভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সোহানের ঘটনা এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মভিত্তিক ভিসা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ২০২৭ অর্থবছরের এইচ-১বি নির্বাচনে আগের সম্পূর্ণ র্যান্ডম লটারির পরিবর্তে বেতনভিত্তিক ওজনযুক্ত নির্বাচন ব্যবস্থা কার্যকর করেছে ইউএসসিআইএস। এতে উচ্চ বেতন ও উচ্চ দক্ষতার পদের আবেদনকারীরা নির্বাচনে তুলনামূলক সুবিধা পাচ্ছেন। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৭ অর্থবছরের জন্য কংগ্রেস নির্ধারিত ৬৫ হাজার সাধারণ এইচ-১বি এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজারের কোটা পূরণের মতো আবেদন ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। ফলে এ অর্থবছরে আর দ্বিতীয় দফার লটারি হচ্ছে না। এইচ-১বি ব্যবস্থায় পরিবর্তন ও প্রতিযোগিতা বাড়ার মধ্যে যোগ্য বিদেশি পেশাজীবীদের একটি অংশ এখন ও-১ ভিসার দিকে নজর দিচ্ছেন। তবে এই ভিসা এইচ-১বির সরাসরি বিকল্প নয় এবং শুধু এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ হলেই কেউ ও-১ ভিসার যোগ্য হয়ে যান না। আবেদনকারীকে নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী নিজের অসাধারণ দক্ষতা বা উল্লেখযোগ্য পেশাগত অর্জনের প্রমাণ দিতে হয়। সোহানের ক্ষেত্রে তিনবারের এইচ-১বি ব্যর্থতা তাই যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর ক্যারিয়ারের শেষ হয়ে দাঁড়ায়নি। দীর্ঘ প্রস্তুতি, শত শত পৃষ্ঠার প্রমাণ এবং বড় অঙ্কের খরচের পর ভিন্ন একটি ভিসা ক্যাটাগরিতে নিজের যোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পথ তৈরি করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাকটন শহরে এক মর্মান্তিক জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছে। আপন মা এবং ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, নিজের পরিবারকে হত্যার আগে ধারণা পেতে সে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা 'চ্যাটজিপিটি' (ChatGPT) ব্যবহার করেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। মিডলসেক্স ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান সিবিএস বস্টনকে জানিয়েছেন, গ্রেপ্তার হওয়া ওই কিশোরের নাম অর্জুন অরবিন্দ। তার বিরুদ্ধে ৪৫ বছর বয়সী মা সুধা ভেঙ্কটেশন এবং ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই সিদ্ধার্থ অরবিন্দকে হত্যার দায়ে জোড়া খুনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। গত বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি মারিয়ান রায়ান জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে অর্জুনের বাবা মার্থা লেনে অবস্থিত নিজ বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে পুলিশকে ফোন করেন। কারণ তিনি অনেক চেষ্টা করেও কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। এর আগে ওই দিন সকালে একজন গৃহশিক্ষক পড়ানোর জন্য তাদের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করলেও ভেতর থেকে কেউ সাড়া দেয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে অর্জুনের বাবা কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় তার স্ত্রীকে শেষবার দেখেছিলেন। অন্যদিকে, ছোট ভাই সিদ্ধার্থকে মঙ্গলবার সকালে একটি বিনোদন কেন্দ্রে দেখা গিয়েছিল এবং সে দুপুর নাগাদ বাড়ি ফেরে। তদন্তকারীদের ধারণা, সকাল থেকে দুপুরের পর এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যেই মা ও ছেলেকে হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুলিশ ওই বাড়িতে প্রবেশ করে নিচতলায় (ফার্স্ট ফ্লোর) সিদ্ধার্থের এবং বেসমেন্টে সুধার মৃতদেহ উদ্ধার করে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জানিয়েছেন, দুজনের শরীরেই মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তবে ঠিক কীভাবে এবং কোন অস্ত্র দিয়ে তাদের হত্যা করা হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জোড়া খুনের পর মায়ের হোন্ডা অ্যাকর্ড গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যায় অর্জুন। বুধবার ভোরে ওয়েল্যান্ডের একটি পার্কিং লটে একটি অ্যালার্ম বাজার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখান থেকেই ওই গাড়িসহ অর্জুনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই হেফাজতে নেওয়া হয় বলে বুধবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। অর্জুনের বিরুদ্ধে হত্যা, মারধর এবং গাড়ি চুরিসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। বুধবার বিকেলে লোয়েল জুভেনাইল কোর্টে গাড়ি চুরির অভিযোগে তাকে হাজির করা হয়। বৃহস্পতিবার কনকর্ড ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তার বিরুদ্ধে হত্যার মূল অভিযোগগুলো উপস্থাপন করার কথা রয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও জানতে পারেনি পুলিশ। তবে মারিয়ান রায়ান জানিয়েছেন, "অর্জুন সম্প্রতি কিছু উদ্বেগজনক আচরণ করছিল। এর মধ্যে ইন্টারনেট এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা বা কল্পকাহিনি খোঁজার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।" অ্যাকটনের পুলিশ প্রধান ডগ স্টুরনিওলো জানান, অর্জুন পুলিশের কাছে অপরিচিত ছিল না। গত বছর সে একবার বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছিল তার পরিবার। এই ঘটনাকে একটি "বর্ণনাতীত ট্র্যাজেডি" ও "অত্যন্ত অন্ধকার দিন" হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি। বস্টন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত অ্যাকটন শহরের এই ঘটনা পুরো সম্প্রদায়কে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মার্থা লেনের এক প্রতিবেশী সংবাদমাধ্যমকে জানান, মঙ্গলবার রাতে পুলিশ তাদের কাছে এসে কিছু দেখেছে কি না জানতে চায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিবেশী বলেন, "কৌতূহলবশত আমি উঁকি দিয়ে দেখি রাস্তায় ফায়ার ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশের গাড়ি। অফিসাররা কাউকে বা কিছু খুঁজছিলেন। পরিবারটির সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি, তবে ঘটনাটি সত্যিই মর্মান্তিক।" ডেভন রিপ নামে আরেক প্রতিবেশী বলেন, "আমাদের রাস্তার পাশেই এমন ঘটনা ঘটেছে, এটি অবিশ্বাস্য রকমের দুঃখজনক এবং আতঙ্কজনক। আমি এখানে এমন জরুরি অবস্থা বা পুলিশের এত উপস্থিতি আগে কখনো দেখিনি।"
নিউইয়র্ক সিটির প্রচণ্ড প্রতিযোগিতামূলক জীবনব্যবস্থা আর নিজের কিছু করার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে মাত্র ২৭ বছর বয়সেই সফল উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন মহুয়া খান। বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত এই তরুণীর জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউইয়র্কের কুইন্সে। ৯টি ভিন্ন মাধ্যম থেকে উপার্জন করে তিনি ২০২৫ সালে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার আয় করেছেন, যার মধ্যে কর ও অন্যান্য খরচ বাদে তাঁর নিট আয় ছিল প্রায় ৭০ হাজার ডলার। বর্তমানে তিনি অ্যাস্টোরিয়া এলাকায় ৩ হাজার ডলার ভাড়ার একটি এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টে স্বামীর সঙ্গে বসবাস করছেন এবং সেখান থেকেই নিজের সব কাজ পরিচালনা করছেন। নিউইয়র্কের ব্যয়বহুল জীবনযাত্রা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মহুয়া জানান, এখানকার জীবন এক ধরনের দ্বিধারি তলোয়ারের মতো; চারপাশে সবাইকে একাধিক চাকরি আর প্রচণ্ড পরিশ্রম করতে দেখলে এটিকেই জীবনের স্বাভাবিক নিয়ম বলে মনে হয়। অভিবাসী বাবা-মায়ের সন্তান হিসেবে ছোটবেলা থেকেই কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে বড় হয়েছেন মহুয়া। তাঁর বাবা সপ্তাহে সাত দিন, দিনে ১৬ ঘণ্টা নিউইয়র্কের রাস্তায় ট্যাক্সি চালিয়েছেন। অন্যদিকে তাঁর মা সব সময় বলতেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। মূলত এই অভাববোধ ও মানসিকতা থেকেই মাত্র ১৫ বছর বয়সে কাজ শুরু করেন তিনি। স্নাতকোত্তর পড়ার সময় নিজের বেতনের জমানো টাকা ও ঋণ দিয়ে পড়াশোনার খরচ চালিয়েছেন। এর পাশাপাশি বাসা ভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ মেটাতে আফটার-স্কুল কাউন্সেলর হিসেবেও পার্ট-টাইম কাজ করেছেন এই অদম্য তরুণী। মহামারির সময় ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম এবং টিকটকে নিজের আঁকাআঁকির ভিডিও পোস্ট করার মাধ্যমে কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। ধীরে ধীরে দর্শক বাড়তে থাকলে তিনি ইউটিউব ও স্কিলশেয়ার থেকে ক্লাস করে নিজের দক্ষতা আরও বাড়িয়ে নেন। এরপর কনটেন্ট তৈরিতে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি তিনি 'ল্যাবিরিন্থঅ্যাভ' (Labyrinthave) নামে একটি নিজস্ব পোশাকের ব্র্যান্ড চালু করেন, যেখানে ইন্দো-ওয়েস্টার্ন ও বাংলাদেশী ঐতিহ্যের ছাপ রয়েছে। তবে শুরুর দিকের সেই দিনগুলোর কথা মনে করে মহুয়া জানান, তখন তিনি এক ধরনের মোহের মধ্যে ছিলেন এবং কারও সাহায্য ছাড়াই একা সব করতে চাইতেন। কাজের চাপে তাঁর নিজের ব্যক্তিগত জীবন বলে কিছু ছিল না, যা তাঁকে চরম ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত করে তুলেছিল। তাই কোনো পূর্বপ্রস্তুতি বা জমানো টাকা ছাড়া হঠাৎ চাকরি ছেড়ে নিজের প্যাশন নিয়ে কাজ শুরু করাটা কতটা ভীতিকর হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি অন্যদের সতর্ক করেছেন। বর্তমানে পাঁচ বছর পর এসে মহুয়া আর্থিকভাবে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং ঋণমুক্ত। তিনি তাঁর আয়ের একটি অংশ দিয়ে বাবা-মায়ের বাড়ির মর্টগেজ বা বন্ধকি ঋণ পরিশোধে সাহায্য করছেন। এছাড়া নিজের ও পরিবারের ফোন বিল, অ্যাপার্টমেন্টের ইউটিলিটি বিল এবং মাসিক বাজারের খরচও তিনি সুচারুভাবে বহন করছেন। নিজের একটি গাড়ি থাকলেও তা মায়ের যাতায়াতের সুবিধার জন্য বাবা-মায়ের বাড়িতে রেখে এসেছেন এবং নিজে সাবওয়েতেই যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এখন তিনি কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মাঝে একটি চমৎকার ভারসাম্য খুঁজে পেয়েছেন, যেখানে নিজেকে প্রমাণের জন্য আর আগের মতো অমানবিক পরিশ্রম করতে হয় না। জীবনযাত্রা এতটা ব্যয়বহুল হওয়া সত্ত্বেও নিউইয়র্ক শহর ছেড়ে যাওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই মহুয়ার, বরং এই শহরেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিবার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে হোয়াইট রিভারের পানি ১৯১৩ সালের রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নদীর পানি বর্তমানে ২৪ দশমিক ৫ ফুটের বেশি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা ১১৩ বছর আগের রেকর্ডের চেয়েও এক ফুটের বেশি। এই নজিরবিহীন পানি বৃদ্ধির ফলে ইন্ডিয়ানার বিস্তীর্ণ এলাকা ও পুরো লোকালয় এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। মঙ্গলবার থেকে ইন্ডিয়ানাপোলিসের পূর্বাঞ্চলে ১১ ইঞ্চিরও বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর মাইক ব্রন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইন্ডিয়ানা ন্যাশনাল গার্ডকে তলব করেছেন। উদ্ধার ও সহায়তা কার্যক্রম প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে গভর্নর ব্রন জানান, তাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে। যেখানে প্রয়োজন সেখানে জরুরি সম্পদ ও সহায়তা পাঠানো হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি সম্প্রদায়কে সাহায্য করার জন্য তারা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে, ইন্ডিয়ানার অ্যান্ডারসন শহরের রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শহরটির বাসিন্দা চার্লি সিমন্স জানান, তিনি গত এক বছর ধরে কাজ করে মাত্র কয়েক মাস আগে তার বাড়িটি নতুন করে তৈরি করেছিলেন, কিন্তু বন্যায় তা এখন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আজীবন অ্যান্ডারসনে বসবাস করা সিমন্স জানান, তার জীবদ্দশায় তিনি কখনোই এমন ভয়াবহ বন্যা দেখেননি। বন্যার ক্ষয়ক্ষতির চিত্র উঠে এসেছে ডেলাওয়্যার কাউন্টির ইয়র্কটাউন শহর কর্তৃপক্ষের শেয়ার করা ফেসবুক ভিডিওগুলোতেও। সেখানে বন্যার ভয়াবহতা ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। অন্যদিকে, পার্শ্ববর্তী ফ্র্যাঙ্কলিন কাউন্টিতে ট্রেনের লাইন ও রাস্তাঘাট ঘোলা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কেমব্রিজ সিটির বাড়িঘর কয়েক ফুট পানিতে অবরুদ্ধ হয়ে আছে। এভারটন ভলান্টিয়ার ফায়ার ডিপার্টমেন্টসহ বিভিন্ন সংস্থার উদ্ধারকর্মীরা ইতোমধ্যে দুর্যোগকবলিত ওই অঞ্চল থেকে কয়েক ডজন মানুষকে উদ্ধার করেছেন। আগামী রবিবার পর্যন্ত নদীর পানি তীর উপচে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের বিশেষ পাসপোর্ট চালু করেছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট। ‘প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট’ নামে পরিচিত এই স্মারক পাসপোর্টে থাকছে বিশেষ আর্টওয়ার্ক ও ঐতিহাসিক নকশা। দেশজুড়ে মাত্র ২ লাখ ৫০ হাজার কপি ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, বিশেষ এই পাসপোর্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ মার্কিন পাসপোর্টের মতোই থাকবে। পার্থক্য মূলত এর নকশায়। সামনের ও পেছনের কভার এবং ভেতরের অংশে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ ছবি ও ডিজাইন যুক্ত করা হয়েছে। পাসপোর্টের ভেতরের সামনের কভারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের লেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার নকশা রয়েছে। ভেতরের পেছনের কভারে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক দৃশ্যের চিত্র এবং ‘২৫০’ সংখ্যা রাখা হয়েছে। বাইরের পেছনের কভারে রয়েছে ‘ফ্রিডম ২৫০’ লোগো। বিশেষ পাসপোর্টটি নিয়ে আগ্রহ এত বেশি যে স্টেট ডিপার্টমেন্ট অতিরিক্ত ২ লাখ ৫০ হাজার কপি দেওয়ার সুযোগ ঘোষণা করেছে। তবে সাধারণভাবে অনলাইনে বা মেইলে আবেদন করলে এই সংস্করণ পাওয়া যাবে না। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট পেতে আবেদনকারীকে নির্ধারিত পাসপোর্ট এজেন্সি বা বিশেষ ২৫০তম বার্ষিকী পাসপোর্ট ইভেন্টে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। ওয়াশিংটন ডিসির ওয়াশিংটন পাসপোর্ট এজেন্সিতেও এ জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া যাচ্ছে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট অনলাইনে করা যাচ্ছে না। আবেদনকারীদের স্টেট ডিপার্টমেন্টের পাসপোর্ট কল সেন্টারে ফোন করে অপশন ৯ নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্টের সুযোগ জানতে হবে। অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিশ্চিত হলে ইমেইলে কনফারমেশন পাঠানো হবে। স্টেট ডিপার্টমেন্ট স্পষ্ট করেছে, অনলাইনে আবেদন, মেইলে আবেদন, সাধারণ পাসপোর্ট অ্যাকসেপটেন্স ফ্যাসিলিটিতে আবেদন কিংবা বিদেশে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদন করলে প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট পাওয়া যাবে না। দেশের বিভিন্ন শহরে বিশেষ আবেদন ইভেন্টও আয়োজন করা হচ্ছে। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরজুড়ে বাফেলো, সান ফ্রান্সিসকো, সান ডিয়েগো, ফিলাডেলফিয়া, আটলান্টা, মায়ামি, হিউস্টন, সিয়াটলসহ বিভিন্ন শহরের পাসপোর্ট এজেন্সি ও সেন্টারে এসব ইভেন্টের সময়সূচি রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আগে থেকে ফোন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। নিউইয়র্কের আবেদনকারীদের জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। বাফেলো পাসপোর্ট এজেন্সিতে ১৮ আগস্ট বিশেষ আবেদন ইভেন্ট নির্ধারিত রয়েছে। সেখানে অংশ নিতেও আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট প্রয়োজন। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্টের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ আবেদনপত্র নেই। আবেদনকারীর যোগ্যতার ভিত্তিতে সাধারণ ডিএস-১১ অথবা ডিএস-৮২ ফর্মই ব্যবহার করতে হবে। ফিও স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রচলিত পাসপোর্ট ফি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। বিশেষ সংস্করণটির পৃষ্ঠা সংখ্যাও সাধারণ পাসপোর্ট বুকের মতো ২৬টি। যারা ৫২ পৃষ্ঠার বড় পাসপোর্ট বুক চান, তারা এই বিশেষ ডিজাইন পাবেন না। বড় পাসপোর্ট বুক বর্তমান সাধারণ ডিজাইনেই ইস্যু করা হবে। প্যাট্রিয়ট পাসপোর্ট মূলত একটি স্মারক সংস্করণ হলেও এটি প্রকৃত মার্কিন পাসপোর্ট হিসেবেই ব্যবহারের জন্য তৈরি। অর্থাৎ এটি শুধু সংগ্রহে রাখার স্মারক বুক নয়, বরং সাধারণ পাসপোর্টের মতোই নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন সরকারি ট্রাভেল ডকুমেন্ট। যুক্তরাষ্ট্র ১৭৭৬ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়। ২০২৬ সালে সেই ঘোষণার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে ‘আমেরিকা ২৫০’ উদযাপনের অংশ হিসেবেই বিশেষ এই পাসপোর্ট চালু করেছে স্টেট ডিপার্টমেন্ট। সীমিত সংখ্যায় পাসপোর্টটি ইস্যু হওয়ায় আগ্রহীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নির্ধারিত পাসপোর্ট এজেন্সি বা বিশেষ ইভেন্টে সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া। সাধারণ অনলাইন রিনিউয়াল বা মেইল আবেদন করে এই বিশেষ সংস্করণ পাওয়ার সুযোগ নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে এক পরিবারের হাতে ধরা পড়েছে প্রাগৈতিহাসিক মেগালোডন হাঙরের একটি জীবাশ্ম দাঁত। সাধারণ একটি বিচ ভ্রমণের মধ্যে পাওয়া বস্তুটি যে পৃথিবী থেকে লাখ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া বিশালাকৃতির এক শিকারি হাঙরের স্মৃতি বহন করছে, সেটিই এখন ঘটনাটিকে বিশেষ করে তুলেছে। ডব্লিউসিভিবির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউজার্সির সৈকতে পরিবারটি দাঁতটি খুঁজে পায়। প্রথম দেখায় এটি সাধারণ পাথর বা অন্য কোনো সামুদ্রিক বস্তু মনে হলেও এর আকার ও গঠন নজর কাড়ে। পরে এটি মেগালোডনের জীবাশ্ম দাঁত হিসেবে শনাক্ত হওয়ার খবর সামনে আসে। মেগালোডন ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে পরিচিত সবচেয়ে বড় শিকারি হাঙরগুলোর একটি। বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রজাতির বৈজ্ঞানিক নাম ওটোডাস মেগালোডন। জীবাশ্মের তথ্য থেকে জানা যায়, বিশাল এই হাঙর কোটি কোটি বছর ধরে পৃথিবীর সমুদ্রে বিচরণ করেছে এবং আনুমানিক ৩৬ লাখ বছর আগে বিলুপ্ত হয়ে যায়। মেগালোডনের দাঁতই প্রাণীটির সবচেয়ে বেশি পাওয়া জীবাশ্মগুলোর মধ্যে অন্যতম। হাঙরের কঙ্কাল মূলত কার্টিলেজ বা তরুণাস্থি দিয়ে তৈরি হওয়ায় মৃত্যুর পর তা সহজেই নষ্ট হয়ে যায়। বিপরীতে দাঁত তুলনামূলকভাবে শক্ত হওয়ায় সেগুলো পলির নিচে চাপা পড়ে লাখ লাখ বছর টিকে থেকে জীবাশ্মে পরিণত হতে পারে। লন্ডনের ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, মেগালোডনের দাঁত প্রায় ১৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারত। দাঁতের কিনারা ছিল করাতের মতো ধারালো। তিমি, বড় মাছ এবং অন্য হাঙর শিকারে এসব শক্তিশালী দাঁত ব্যবহার করত প্রাণীটি। নিউজার্সিতে প্রাগৈতিহাসিক হাঙরের দাঁত পাওয়ার ঘটনা একেবারে নতুন নয়। রাজ্যের বিভিন্ন সৈকত ও নদীর তীর থেকে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রজাতির হাঙরের জীবাশ্ম দাঁত পাওয়া যাচ্ছে। নিউজার্সি স্টেট মিউজিয়ামের প্রাকৃতিক ইতিহাস সংগ্রহেও রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া জীবাশ্ম হাঙরের দাঁত সংরক্ষিত রয়েছে। বিশেষ করে জার্সি শোরের কিছু এলাকায় জীবাশ্ম সন্ধানীদের নিয়মিত আনাগোনা রয়েছে। ঢেউ, জোয়ার এবং উপকূলের বালু ও পলির পরিবর্তনের কারণে বহু পুরোনো জীবাশ্ম কখনো কখনো মাটির স্তর থেকে বেরিয়ে সৈকতে চলে আসে। তবে মেগালোডনের দাঁত পাওয়া মানে বর্তমানে ওই অঞ্চলে এই বিশাল হাঙরের অস্তিত্ব রয়েছে এমন নয়। জীবাশ্মবিষয়ক বৈজ্ঞানিক তথ্য অনুযায়ী, মেগালোডন প্রায় ৩৬ লাখ বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। এখন পর্যন্ত এর চেয়ে সাম্প্রতিক সময়ের কোনো মেগালোডন দাঁত বা অন্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। নিউজার্সির ওই পরিবারের জন্য তাই সৈকতে পাওয়া দাঁতটি কেবল একটি ব্যতিক্রমী সংগ্রহ নয়। এটি এমন এক সামুদ্রিক শিকারির জীবাশ্ম স্মৃতি, যে পৃথিবীর মহাসাগরে বিচরণ করেছিল মানুষের আবির্ভাবের বহু আগে।
ফ্লোরিডার পাসকো কাউন্টির একটি কবরস্থানে একই পরিবারের কয়েকটি কবর ভাঙচুর এবং স্মৃতিচিহ্ন চুরির অভিযোগে এক নারীকে অন্তত পাঁচটি অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্য মিরান্ডা ইংলিশ বলেছেন, তার শিশুপুত্রের কবরসহ পরিবারের একাধিক কবর থেকে এমন কিছু জিনিস হারিয়েছে, যেগুলোর বিকল্প আর কখনোই পাওয়া সম্ভব নয়। ঘটনাটি ঘটেছে লাকুচির একটি কবরস্থানে। পাসকো কাউন্টি শেরিফের অফিসের তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিন মিক্সন নামে এক নারীকে কবর ভাঙচুর ও চুরির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মিরান্ডা ইংলিশ জানান, ভাঙচুর হওয়া কবরগুলোর একটি তার শিশুপুত্র ল্যামন্ট সিম্পসনের। ২০০২ সালে মারা যাওয়ার পর তাকে ওই কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি ছেলের কবর দেখতে সেখানে নিয়মিত যান। শিশুটিকে তার বাবা ল্যামন্ট সিম্পসন সিনিয়র এবং মিরান্ডার বাবা উইলিয়াম ক্লাউডের মাঝখানে দাফন করা হয়েছে। পরিবারের জন্য জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে প্রিয়জনদের স্মরণ করার শান্ত একটি স্থান ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায় সেই শান্তির জায়গাটিই বদলে গেছে। মিরান্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, ল্যামন্ট সিম্পসন সিনিয়রের কবরে নতুন একটি হেডস্টোন বসানোর মাত্র দুই দিনের মধ্যেই সেটি চুরি হয়ে যায়। এর পাশাপাশি পরিবারের কাছে ‘গ্র্যানি ডি’ নামে পরিচিত তার শাশুড়ির ছাই রাখা একটি আর্নও নিখোঁজ রয়েছে। সেটি এখনো উদ্ধার করা গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। শুধু হেডস্টোন বা আর্ন নয়, বছরের পর বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের কবরে রাখা বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নও চুরি বা নষ্ট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন মিরান্ডা। একটি বেঞ্চ ভেঙে ফেলা হয়েছে এবং কবরে রাখা কয়েকটি ছবির ওপরের কাচও ভাঙা হয়েছে। মিরান্ডা জানিয়েছেন, ছেলের মৃত্যুর পর থেকে প্রতি বছর তার জন্মদিনে কবরস্থানে আসেন তিনি। ছেলে বেঁচে থাকলে যে বয়স হতো, সেই সংখ্যার সমান বেলুন উড়িয়ে দিনটি স্মরণ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২৪ বছর ধরে এই রীতি অনুসরণ করছেন তিনি। কিন্তু সাম্প্রতিক ভাঙচুরের পর কবরস্থানে যাওয়ার অনুভূতিই বদলে গেছে। পরিবারের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, হারিয়ে যাওয়া কিছু স্মৃতিচিহ্ন আর নতুন করে তৈরি করা সম্ভব নয়। ছেলের কবরে থাকা কিছু অ্যাঞ্জেল বা দেবদূতের মূর্তি তার বাবা কিনে দিয়েছিলেন। এখন সেই বাবাও একই কবরস্থানে শায়িত। ফলে এসব জিনিসের আবেগী মূল্য পরিবারের কাছে অনেক বেশি। অভিযুক্ত ক্রিস্টিন মিক্সনকে এর আগে কবরস্থানের আশপাশে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন মিরান্ডা। তবে কেন তিনি পরিবারের কবরগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছেন বা এসব জিনিস নেওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা তিনি জানেন না। পাসকো কাউন্টি শেরিফের অফিস জানিয়েছে, কবর ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় মিক্সনের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে নিখোঁজ সব জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পরও অভিযুক্ত নারীর প্রতি কঠোর শাস্তির চেয়ে তার মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন মিরান্ডা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চান অভিযুক্ত ব্যক্তি সাহায্য ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান। পরিবারের কাছে কবরস্থানটি এতদিন ছিল হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনদের কাছে ফিরে যাওয়ার একটি জায়গা। এখন সেই জায়গাতেই ভাঙচুর ও চুরির ঘটনা তাদের পুরোনো শোককে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে।
রাজনীতি
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View moreবিমান বিধ্বস্ত হয়ে মা ও অন্য দুই প্রাপ্তবয়স্কের মৃত্যু। চারদিকে ঘন আমাজন জঙ্গল, বিষধর সাপ ও বন্য প্রাণীর ঝুঁকি। সঙ্গে ১১ মাস বয়সী এক শিশু। এমন পরিস্থিতিতেও ১৩ বছরের বড় বোনের নেতৃত্বে চার ভাইবোন টানা ৪০ দিন নিজেদের বাঁচিয়ে রেখেছিল। ২০২৩ সালে কলম্বিয়ার আমাজনে ঘটে যাওয়া এই অবিশ্বাস্য বেঁচে ফেরার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছিল। ঘটনাটি ২০২৩ সালের ১ মে। একটি সেসনা ২০৬ উড়োজাহাজ কলম্বিয়ার কাকেতা অঞ্চলের আরারাকুয়ারা থেকে সান হোসে দেল গুয়াভিয়ারে যাচ্ছিল। উড়োজাহাজটিতে চার শিশুসহ সাতজন ছিলেন। যাত্রাপথে ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পাইলট জরুরি সংকেত পাঠান। কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি আমাজনের দুর্গম জঙ্গলে বিধ্বস্ত হয়। উড়োজাহাজে থাকা চার ভাইবোন লেসলি, সোলেইনি, তিয়েন নোরিয়েল ও ক্রিস্টিন দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যায়। সে সময় তাদের বয়স ছিল যথাক্রমে ১৩, ৯, ৪ বছর এবং প্রায় ১১ মাস। পরে জঙ্গলের মধ্যে উড়োজাহাজটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তিন প্রাপ্তবয়স্কের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন শিশুদের মা মাগদালেনা মুকুতুই। দুর্ঘটনার পর চার শিশুর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে ধ্বংসাবশেষের আশপাশে পাওয়া বিভিন্ন চিহ্ন দেখে উদ্ধারকারীরা ধারণা করেন, শিশুরা বেঁচে আছে এবং জঙ্গলের ভেতর দিয়ে চলাচল করছে। এরপর তাদের উদ্ধারে বড় পরিসরে শুরু হয় ‘অপারেশন এসপেরানজা’ বা ‘অপারেশন হোপ’। চার ভাইবোনকে বাঁচিয়ে রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বড় বোন লেসলির জঙ্গল সম্পর্কে জ্ঞান। শিশুরা আদিবাসী উইতোতো জনগোষ্ঠীর সদস্য। ছোটবেলা থেকেই বনজ ফল চেনা, জঙ্গলে চলাচল এবং বিপদ এড়িয়ে টিকে থাকার বিষয়ে তাদের পারিবারিক ও ঐতিহ্যগত শিক্ষা ছিল। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজ থেকে পাওয়া কাসাভার আটা কিছুদিন তাদের খাবারের প্রধান উৎস ছিল। সেটি শেষ হয়ে গেলে জঙ্গল থেকে পরিচিত ফল ও বীজ সংগ্রহ করে খেতে শুরু করে তারা। লেসলি ছোট ভাইবোনদের জন্য ডালপালা দিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ও তৈরি করেছিল। সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব ছিল তখনো এক বছর পূর্ণ না হওয়া ছোট বোন ক্রিস্টিনকে নিরাপদ রাখা। শিশুদের খুঁজে বের করতে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনীর শতাধিক সদস্যের পাশাপাশি বহু আদিবাসী অনুসন্ধানকারী জঙ্গলে নামেন। দুর্গম ভূখণ্ড সম্পর্কে আদিবাসীদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামরিক বাহিনীর প্রযুক্তি ও উদ্ধার সক্ষমতার সমন্বয় করা হয়। হেলিকপ্টার থেকে জঙ্গলে খাবারের প্যাকেট ফেলা হয়। শিশুদের দাদির কণ্ঠে রেকর্ড করা বার্তাও লাউডস্পিকারে বাজানো হয়েছিল। সেখানে শিশুদের এক জায়গায় থাকার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে উদ্ধারকারীরা সহজে তাদের খুঁজে পেতে পারেন। দিন যত গড়াচ্ছিল, জঙ্গলে একের পর এক আলামত পাওয়া যাচ্ছিল। শিশুর ব্যবহৃত বোতল, অস্থায়ী আশ্রয়, খাওয়া ফলের অংশ এবং ছোট ছোট পায়ের ছাপ উদ্ধারকারীদের আশা জাগিয়ে রাখে। এসব চিহ্নই নিশ্চিত করছিল, শিশুরা দুর্ঘটনার পরও বেঁচে ছিল এবং জঙ্গলের মধ্যে চলাচল করছিল। অবশেষে ২০২৩ সালের ৯ জুন, দুর্ঘটনার ঠিক ৪০ দিন পর চার শিশুকে জীবিত খুঁজে পান সেনাসদস্য ও আদিবাসী অনুসন্ধানকারীদের যৌথ দল। উদ্ধারের সময় তারা অপুষ্ট ও অত্যন্ত দুর্বল ছিল। তবে চারজনই জীবিত ছিল। পরে তাদের হেলিকপ্টারে করে বোগোটার একটি সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। কলম্বিয়ার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো চার শিশুর জীবিত উদ্ধারের ঘটনাকে পুরো দেশের জন্য আনন্দের খবর হিসেবে বর্ণনা করেন। চার ভাইবোনের বেঁচে থাকার পেছনে তাদের আদিবাসী জ্ঞান ও জঙ্গলের সঙ্গে পরিচিতির গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি। এই অভিযানের আরেক আলোচিত সদস্য ছিল উইলসন নামের একটি প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী কুকুর। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে উইলসন জঙ্গলে হারিয়ে যায়। শিশুদের উদ্ধারের পর তাদের আঁকা ছবিতে একটি কুকুরের উপস্থিতি দেখা যায় এবং তারা জানিয়েছিল, জঙ্গলে একটি কুকুর কিছু সময় তাদের সঙ্গে ছিল। সেটি উইলসন ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব হয়নি। ব্যাপক অনুসন্ধানের পরও উইলসনকে আর পাওয়া যায়নি। আমাজনের দুর্গম পরিবেশে চার শিশুর ৪০ দিন বেঁচে থাকার ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত শুধু একটি উদ্ধার অভিযানের গল্প হয়ে থাকেনি। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তি ও আদিবাসীদের শতাব্দীপ্রাচীন বনজ জ্ঞানের সমন্বয় কীভাবে জীবন বাঁচাতে পারে, কলম্বিয়ার ‘অপারেশন হোপ’ তার একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে।
ম্যাসাচুসেটসের লরেন্স শহরের মেয়র ব্রায়ান ডেপেনাকে ফেডারেল ওয়্যার ফ্রড ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, কোভিড মহামারির সময় তার ব্যবসার জন্য পাওয়া ফেডারেল রিলিফ লোনের অর্থ ব্যক্তিগত ট্যাক্স, রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন এবং অন্যান্য ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট ব্রায়ান ডেপেনার বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে আসে। সিবিএস বোস্টনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালে লরেন্সের মেয়র নির্বাচিত হওয়া ডেপেনা ২০২৫ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। এর আগে ২০১৬ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি লরেন্স সিটি কাউন্সিলে দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি লরেন্সে টেনারেস টায়ার সার্ভিসেস ইনকরপোরেটেড নামে একটি টায়ার ও অটোমোবাইল ব্যবসার মালিক। ফেডারেল ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্ট অনুযায়ী, ২০২০ সালের ৪ মে ডেপেনার ব্যবসা ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন বা ইআইডিএলের অনুমোদন পায়। ওই বছরের ১৮ জুন কোম্পানিটি অর্থ পায়। এই লোন মূলত কোভিড মহামারির কারণে ব্যবসায়িক ক্ষতি মোকাবিলা ও ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল হিসেবে ব্যবহারের জন্য দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউটরদের দাবি, ২০২১ সালের শুরুর দিকে ডেপেনা লরেন্সের ৩৪২ ব্রডওয়েতে ৭ লাখ ডলারে একটি কমার্শিয়াল প্রপার্টি কেনার পর নগদ অর্থের চাপে পড়েন। এরপর তিনি তার ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডভাইজারের সহায়তায় ব্যবসার ইআইডিএল বাড়ানোর চেষ্টা করেন। ক্রিমিনাল কমপ্লেইন্টে উল্লেখ করা টেক্সট মেসেজ অনুযায়ী, সে সময় ডেপেনা তার অ্যাডভাইজারের কাছে দ্রুত অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছিলেন। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০২১ সালের ১২ আগস্ট তার ব্যবসার ইআইডিএল বাড়িয়ে ৫ লাখ ডলার করা হয়। তদন্তকারীদের অভিযোগ, লোনের অর্থ কেবল ব্যবসার ক্ষতি সামাল দিতে ব্যবহারের কথা থাকলেও ডেপেনা তা অন্য কাজে খরচ করেন। ২০২১ সালের আগস্টে তিনি ইআইডিএল তহবিল থেকে ৮৫ হাজার ডলার ব্যক্তিগত ট্যাক্স পরিশোধে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরের মাসে আরও ৯০ হাজার ডলার তার মেয়র ক্যাম্পেইনে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রসিকিউটররা। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, পরে ফেডারেল লোনের অর্থ থেকে তার ক্যাম্পেইন অ্যাকাউন্টে একাধিক ডিপোজিট করা হয়। ২০২১ সালের অক্টোবরে ব্যবসার ইআইডিএল আবারও বাড়ানো হয় এবং কোম্পানির অ্যাকাউন্টে ১১ লাখ ৫৪ হাজার ১৮৮ ডলার আসে। এরপরও ওই অর্থের কিছু অংশ রাজনৈতিক ক্যাম্পেইন ও বিভিন্ন ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের হিসাবে, ২০২৬ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত টেনারেস টায়ারের ইআইডিএলের বিপরীতে মাত্র ১৬টি পেমেন্ট করা হয়েছিল। মোট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ১৬০ ডলার, যার পুরোটাই জমে থাকা সুদের বিপরীতে গেছে। তখনও মূল ঋণের বকেয়া ১৬ লাখ ডলারের বেশি ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ডেপেনার বিরুদ্ধে ওয়্যার ফ্রড এবং সেই অপরাধে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে বোস্টনের ফেডারেল কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। মামলাটি এখন বিচারাধীন এবং আদালতে দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন। লরেন্স শহর ম্যাসাচুসেটসের একটি বড় অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা, যেখানে ডোমিনিকান বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। ডেপেনার গ্রেপ্তার স্থানীয় রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে, কারণ তিনি বর্তমানে দায়িত্বে থাকা মেয়র এবং তার বিরুদ্ধে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাগুলোর জন্য বরাদ্দ করা ফেডারেল সহায়তা তহবিলের ব্যবহার।
ম্যাসাচুসেটসের মার্থা’স ভিনইয়ার্ডে পরিবারের সঙ্গে সমুদ্রসৈকতে ঘুরতে গিয়ে দুই সন্তানকে বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন ৫৫ বছর বয়সী কেভিন ফস্টার। প্রবল স্রোতে তাঁর দুই কিশোর ছেলে কেনেথ ও কেডেনসহ পাঁচজন পানিতে বিপদে পড়েছিলেন। ৩১ জুলাই বিকেল ৩টা ৪৭ মিনিটের দিকে লং পয়েন্ট এলাকায় তাঁদের উদ্ধারে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়। তীব্র স্রোতের মধ্যে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় কয়েকজন সাহস করে পানিতে নামেন। শেষ পর্যন্ত ফস্টারের দুই ছেলেসহ চারজন নিরাপদে তীরে ফিরতে সক্ষম হন। কিন্তু ফস্টারকে অচেতন অবস্থায় তীরে আনা হলে তাঁকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যদের বিপদে দেখে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাওয়াটা ছিল ফস্টারের স্বভাবেরই অংশ। তাঁর স্ত্রী নাদিয়া ও দুই সন্তান এখন তাঁকে হারানোর গভীর শোকে দিন কাটাচ্ছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেভিন ছিলেন ভালোবাসা, উদারতা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য পরিচিত একজন মানুষ। ফস্টারের মৃত্যুতে স্থানীয় সম্প্রদায়েও শোক নেমে এসেছে। তাঁর স্মরণে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তহবিল সংগ্রহ শুরু হয়। ১৩ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর দুই ছেলের শিক্ষার জন্য গঠিত তহবিলে ২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের বেশি জমা পড়েছিল। ১১ আগস্ট ফস্টারের দাফন সম্পন্ন হয়। স্ত্রী ও স্বজনদের কাছে তাঁর শেষ মুহূর্তটি এখন শুধু এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার স্মৃতি নয়—সন্তানদের বাঁচাতে নিজের জীবন উৎসর্গ করা এক বাবার ভালোবাসার প্রতীক।
মিশিগানের প্লেইনফিল্ড টাউনশিপের একজন নির্বাচিত ট্রাস্টির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। পোস্টটিতে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘হান্টিং পারমিট’ ব্যবহারের কথা বলা হয়। তবে ট্রাস্টি বব রেমিঙ্গা দাবি করেছেন, তিনি ওই পোস্ট শেয়ার করেননি এবং তার নাম ব্যবহার করে পোস্টটি ছড়ানো হয়ে থাকতে পারে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৭ জানিয়েছে, বব রেমিঙ্গার নামে থাকা একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। পোস্টটির ভাষা ইসলামবিদ্বেষী এবং মুসলিমদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ইঙ্গিত বহন করে বলে সমালোচনা ওঠে। রেমিঙ্গা ফক্স ১৭-কে বলেন, পোস্টটি সম্পর্কে যোগাযোগ করার আগে তিনি কিছুই জানতেন না। তার দাবি, কেউ তার নাম ব্যবহার করে পোস্টটি তৈরি বা সম্পাদনা করে থাকতে পারে। সাংবাদিক তাকে পোস্টটি সরাসরি দেখালে রেমিঙ্গা সেটিকে অত্যন্ত অনুপযুক্ত ও নিষ্ঠুর বলে মন্তব্য করেন। তিনি আবারও বলেন, এ ধরনের বক্তব্য তিনি নিজে কখনো প্রকাশ করতেন না। ঘটনাটি সামনে আসার পর প্লেইনফিল্ড চার্টার টাউনশিপ বোর্ডও বিষয়টি নিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। বোর্ড বলেছে, টাউনশিপের দায়িত্ব পুরো কমিউনিটিকে সম্মান ও সততার সঙ্গে সেবা দেওয়া। কোনো নির্বাচিত কর্মকর্তা এমন মন্তব্য করলে যা টাউনশিপের নীতি ও মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেটি ওই ব্যক্তির নিজস্ব বক্তব্য হিসেবে বিবেচিত হবে, টাউনশিপ বা পুরো বোর্ডের অবস্থান হিসেবে নয়। বোর্ড আরও জানিয়েছে, মিশিগান আইনে টাউনশিপ কর্তৃপক্ষ কোনো নির্বাচিত কর্মকর্তাকে এ ধরনের ব্যক্তিগত বক্তব্যের জন্য সরাসরি পদ থেকে অপসারণ করতে বা বেতন বন্ধ করতে পারে না। নির্বাচিত কর্মকর্তার বিষয়ে চূড়ান্ত রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ভোটারদের নির্বাচন, পুনর্নির্বাচন বা রিকল প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিতে হয়। বিতর্কের পর বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার দুপুরে একটি বিশেষ বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছে। সেখানে রেমিঙ্গাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং টাউনশিপের অবস্থান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। এদিকে গ্র্যান্ড র্যাপিডসের ইসলামিক সেন্টারের ইমাম শরিফ সাহিবজাদা বলেছেন, ইসলাম ও মুসলিমদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণার বড় একটি কারণ হলো অজ্ঞতা ও ভুল বোঝাবুঝি। তার মতে, মানুষ একে অপরের ধর্ম ও বাস্তব জীবন সম্পর্কে জানলে এ ধরনের বিভাজন কমতে পারে। তিনি মুসলিম সম্প্রদায়কে সামগ্রিকভাবে সহিংসতার সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাও প্রত্যাখ্যান করেন। একই সঙ্গে ঘৃণামূলক বক্তব্যের জবাব সংঘাত দিয়ে নয়, বরং বোঝাপড়া ও মানবিকতার মাধ্যমে দেওয়ার আহ্বান জানান। ঘটনাটি স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি করেছে, বিশেষ করে এমন একটি পোস্টে সরাসরি মুসলিমদের লক্ষ্য করে ‘শিকার’ করার ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ ওঠায়। তবে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি, পোস্টটি সত্যিই রেমিঙ্গা নিজে শেয়ার করেছিলেন কি না। রেমিঙ্গা অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। অন্যদিকে টাউনশিপ বোর্ড তার বিরুদ্ধে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত বলে জানিয়েছে। ফলে শুক্রবারের বিশেষ মিটিংয়ে বিষয়টি নিয়ে কী সিদ্ধান্ত বা পরবর্তী পদক্ষেপ আসে, সেদিকেই এখন স্থানীয়দের নজর।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়
ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট দেখাতে পারে, কেন হয় জানালেন বিশেষজ্ঞ
মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি
বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন কিয়ানু রিভসকে, পরক্ষণে সত্যিই হাজির হলেন হলিউড তারকা!
এক দশকের প্রেমের পর জর্জিনাকে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত
সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ভয়াবহ বন্যা, ১১৩ বছরের রেকর্ড ভেঙে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে
গ্রিন কার্ড, স্থায়ী চাকরি থাকার পরও কেন বাড়ি ভাড়া পাচ্ছেন না বাংলাদেশীরা!
তিনবার এইচ-১বি লটারিতে ব্যর্থ, ৭০০ পৃষ্ঠার প্রমাণ আর ১৩ হাজার ডলারে পেলেন কাঙ্খিত ভিসা
চিকিৎসা গবেষণার আশায় মায়ের দেহ দান, পরে জানলেন বিস্ফোরণ পরীক্ষায় ব্যবহার করেছে সেনাবাহিনী
অফিস সহকারী থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি, এবার সেখানেই ওষুধ তৈরির গবেষণাগারে তিনি
পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল সায়েন্স, অক্সফোর্ডে ফুল ফান্ডে নন্দিতা দেব
নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্সে, ডা. আবদুল্লাহ বাকীর গবেষণায় নতুন জীবন লাখো মা ও শিশুর
মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি আনছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
৩.০০ এর নিচে সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
নোবেলপ্রত্যাশী বিজ্ঞানীদের আলোচনায় বাংলাদেশের আধ্যাপক ড. জাহিদ হাসান
নতুন প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের জন্য নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সের এ টু জেড
পড়তে-লিখতে পারছে না দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুলকে খুঁজছে এফবিআই
টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে মার্কিন রণতরী, নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ নৌসেনা নিহতের দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত, জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে।
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
ডিসঅ্যাবিলিটি সুবিধার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন ১৪ রোগ যুক্ত করল সোশ্যাল সিকিউরিটি
মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি
নজিরবিহীন বৃষ্টিতে জাপানে ৪ জনের মৃত্যু, বিমানবন্দরে আটকা হাজারো যাত্রী
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমায় ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে আর্থিক সংকট
ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুদ্ধ চালাতে প্রস্তুত ইরান, হুঁশিয়ারি আইআরজিসি কমান্ডারের
‘খেলা নয়, এবার যুদ্ধ হবে’: শামীম ওসমান
“বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করবো”—আমানউল্লাহ
মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান
চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা