বিরোধী দলের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সরকারের প্রতি অসহযোগিতার কারণে আওয়ামী লীগ নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাঁর ভাষ্য, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়’। বক্তব্যে ‘কেউ কেউ’ বলতে তিনি আওয়ামী লীগকে বোঝান বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ যৌথভাবে কর্মসূচিটির আয়োজন করে। এ্যানি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই বিরোধী দল সহযোগিতার পরিবর্তে অসহযোগিতার পথে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার শপথ নেওয়ার দিনও বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না এবং এরপর বিভিন্ন ইস্যুতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই অন্য একটি রাজনৈতিক শক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দল এমন সুযোগ তৈরি না করলে এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি না দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে এটি এ্যানির রাজনৈতিক মূল্যায়ন; প্রতিবেদনে তাঁর দাবির পক্ষে আলাদা কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। পানিসম্পদমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদের ভেতরের ও বাইরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সংসদে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও সংসদের বাইরে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিগত ১৭ বছরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গও টানেন। এসব বক্তব্যও মন্ত্রীর নিজস্ব রাজনৈতিক দাবি ও মূল্যায়ন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনেরও সমালোচনা করেন এ্যানি। তিনি বলেন, বিরোধী দল ঢাকা থেকে রংপুর ও চট্টগ্রাম অভিমুখে কর্মসূচি পালন করছে এবং গ্যাস, তেল ও বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন করছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার এমন এক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। লংমার্চ ও রোডমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টিও সামনে আনেন পানিসম্পদমন্ত্রী। এসব কর্মসূচিতে জ্বালানি খরচ, সড়কে যানজট এবং রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিরোধী দল সংসদে সহযোগিতার কথা বললেও মাঠের কর্মসূচি সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন এ্যানি। বক্তব্যের একপর্যায়ে নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে অর্থ ব্যবহার করে কিছু ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ্যানি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশ বা জনগণের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সরকার তা মেনে নেবে না। তিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ওই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্র, যুবক ও তরুণদের অংশগ্রহণ এর পটভূমি তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। এ্যানির বক্তব্যে ‘ডিসেম্বরে আসতে চায়’ কথাটির মাধ্যমে ঠিক কোন পরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বোঝানো হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তাঁর অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার চালকের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর হাইওয়েতে প্রা ণ হারানো ২৩ বছর বয়সী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা-মাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওই মৃ ত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও চালক ভু ট্রানকে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ঘটনায় এমিলির বন্ধু লুনা মুরকে আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আবারও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা এবং চালকের আচরণের জন্য কোম্পানির দায় কতটা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট রাতে অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩ হাইওয়েতে। এমিলি ও তার বন্ধু লুনা রাতে বাইরে সময় কাটানোর পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লুনা গাড়ির ভেতর অসুস্থ হয়ে ব মি করলে চালক ভু ট্রান গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রান হাইওয়ের একটি গোর পয়েন্টে গাড়ি থামান। গোর পয়েন্ট হলো হাইওয়ে ও এক্সিট র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির অংশ। সালিশকারী রিচার্ড স্টোন ওই জায়গাটিকে অনি রা পদ ও বেআ ইনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সালিশি নথিতে বলা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার করার খরচ নিয়ে ট্রানের সঙ্গে লুনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এমিলি হাইওয়ের দিকে চলে যান এবং চলন্ত একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃ ত্যু হয়। সালিশি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এমিলি ও তার বন্ধু দুজনই ম দ্য প অবস্থায় ছিলেন এবং ট্রান তাদের এই অবস্থার কথা জানতেন। স্টোনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট দিয়ে নি রা পদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন। ঘটনার পর এমিলির বাবা-মা ও লুনা উবার এবং ট্রানের বিরুদ্ধে মা ম লা করেন। পরে পক্ষগুলো আদালতের পরিবর্তে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই সালিশিতে উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তারা মূলত যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক স্টোন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের অ ব হেলার জন্য ভিকারিয়াসলি দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ উবারকে এই দায় থেকে সুরক্ষা দেয় না। সালিশি নথিতে ট্রানের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমিলি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর ট্রানের গাড়ি তার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় এবং পরে চালক পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন। এরপর তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি পরিষ্কারের ফি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে এর আগেও উবারের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্তের পৃথক অংশে বিবেচনা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর উবার জানিয়েছে, তারা সালিশকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির বক্তব্য, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও ওই রাতের ঘটনার জন্য উবারকে আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। অন্যদিকে এমিলির বাবা-মা বলেছেন, তারা এই অর্থকে শুধু ক্ষ তি পূ রণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, মেয়ের মৃ ত্যুর ঘটনা সামনে এনে রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি আদালতের রায় নয়, বরং একটি বেসরকারি সালিশি সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি উবারের চালকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে সরাসরি কোনো নতুন নজির তৈরি করবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন হিসেবে থাকছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের তৃতীয় সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি এবং সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়। তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চললেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা পাচ্ছে না। এ কারণে তরুণদের অর্জিত দক্ষতা দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতিতে এনএসডিএর গভর্নিং বোর্ডকে ছোট একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে সমন্বিত কাঠামোয় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় এনএসডিএর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যক্রমের পাশাপাশি খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মান, সনদ এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে। উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনায় মুখ খুলেছে সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডির (জেএফকে) পরিবার। ওয়াশিংটনের জন এফ. কেনেডি সেন্টারের নামের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার চেষ্টা এবং সংস্কারের জন্য প্রতিষ্ঠানটি বন্ধের সিদ্ধান্ত ঘিরেই এই বিরোধ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প-সমর্থিত কেনেডি সেন্টারের পরিচালনা পর্ষদ ভবনটি সংস্কারের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে একটি ফেডারেল আদালত ভবনের সঙ্গে ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগ আটকে দেয়। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া কেনেডি সেন্টারে ট্রাম্পের নামে কোনো স্মারক বা নাম সংযোজন করা যাবে না। এরপর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, আদালতের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন না হলে কেনেডি সেন্টারের সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ এগোবে না। সংস্কারের জন্য কংগ্রেস প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। ট্রাম্পের এই অবস্থানের সমালোচনা করেছেন জেএফকের ভাতিজি মারিয়া শ্রাইভার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি ট্রাম্পের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে তাকে ‘ছোট মনের’ ও ‘আত্মমগ্ন’ বলে মন্তব্য করেন। শ্রাইভারের ভাষ্য, একজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট একটি সরকারি ভবনের সংস্কার আটকে রাখবেন শুধু সেখানে নিজের নাম যুক্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে—এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। জেএফকের নাতি জ্যাক শ্লসবার্গও ট্রাম্পের উদ্যোগের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, তার দাদার উত্তরাধিকার চাঁদে অভিযান, নাগরিক অধিকার আইন, কিউবান ক্ষেপণাস্ত্র সংকট এবং শিল্পকলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। এদিকে জেএফকের পরিবারের আরেক সদস্য কেরি কেনেডি ট্রাম্পের নাম যুক্ত করার উদ্যোগের বিরুদ্ধে আদালতে লড়াই করা কংগ্রেস সদস্য জয়েস বিট্টির প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেন, কেনেডি সেন্টার, শিল্পকলা, তার চাচা জন এফ. কেনেডির স্মৃতি এবং আইনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য বিট্টি সাহসের সঙ্গে লড়ছেন। বিতর্কের মধ্যে ফেডারেল বিচারক ক্রিস্টোফার কুপার কেনেডি সেন্টারে বড় ধরনের পরিবর্তন বা ধ্বংসের আগে ৩০ দিনের নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে নাম পরিবর্তন, সংস্কার ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও জেএফকের পরিবারের বিরোধ এখন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় উবার চালকের গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর হাইওয়েতে প্রা ণ হারানো ২৩ বছর বয়সী এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা-মাকে ৪ কোটি ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালের ওই মৃ ত্যুর ঘটনায় অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ স্টোনের নেতৃত্বে সালিশি প্রক্রিয়ায় উবার ও চালক ভু ট্রানকে যৌথভাবে দায়ী করা হয়। এমিলির বাবা কেন পার্কার ও মা ক্যারল নরম্যান্ডিনকে ২ কোটি ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই ঘটনায় এমিলির বন্ধু লুনা মুরকে আলাদাভাবে ৩ লাখ ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আবারও রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা এবং চালকের আচরণের জন্য কোম্পানির দায় কতটা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট রাতে অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩ হাইওয়েতে। এমিলি ও তার বন্ধু লুনা রাতে বাইরে সময় কাটানোর পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লুনা গাড়ির ভেতর অসুস্থ হয়ে ব মি করলে চালক ভু ট্রান গাড়ি থামানোর সিদ্ধান্ত নেন। সালিশি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ট্রান হাইওয়ের একটি গোর পয়েন্টে গাড়ি থামান। গোর পয়েন্ট হলো হাইওয়ে ও এক্সিট র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির অংশ। সালিশকারী রিচার্ড স্টোন ওই জায়গাটিকে অনি রা পদ ও বেআ ইনি স্থান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সালিশি নথিতে বলা হয়েছে, গাড়ি পরিষ্কার করার খরচ নিয়ে ট্রানের সঙ্গে লুনার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই নারীকে গাড়ি থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর এমিলি হাইওয়ের দিকে চলে যান এবং চলন্ত একটি গাড়ির ধাক্কায় মৃ ত্যু হয়। সালিশি প্রক্রিয়ায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, এমিলি ও তার বন্ধু দুজনই ম দ্য প অবস্থায় ছিলেন এবং ট্রান তাদের এই অবস্থার কথা জানতেন। স্টোনের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ড এক্সিট দিয়ে নি রা পদ জায়গায় গাড়ি থামাতে পারতেন। ঘটনার পর এমিলির বাবা-মা ও লুনা উবার এবং ট্রানের বিরুদ্ধে মা ম লা করেন। পরে পক্ষগুলো আদালতের পরিবর্তে সালিশি প্রক্রিয়ায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। পাঁচ দিন ধরে চলা সেই সালিশিতে উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়, তারা মূলত যাত্রী ও স্বাধীনভাবে কাজ করা চালকদের মধ্যে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া একটি প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। কিন্তু অবসরপ্রাপ্ত বিচারক স্টোন সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে উবারকে চালকের অ ব হেলার জন্য ভিকারিয়াসলি দায়ী করা হয়। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ার প্রপোজিশন ২২ উবারকে এই দায় থেকে সুরক্ষা দেয় না। সালিশি নথিতে ট্রানের বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও কঠোর মন্তব্য করা হয়েছে। পাশাপাশি জিপিএস তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এমিলি দুর্ঘটনার শিকার হওয়ার পর ট্রানের গাড়ি তার কাছাকাছি এলাকা দিয়ে যায় এবং পরে চালক পরবর্তী এক্সিট ব্যবহার করেন। এরপর তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে গাড়ি পরিষ্কারের ফি নিয়ে কথা বলেন। পরিবারের আইনজীবীদের উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে এর আগেও উবারের কাছে কয়েকটি অভিযোগ এসেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত সালিশি প্রক্রিয়ায় প্রমাণ হিসেবে কীভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে, তা সিদ্ধান্তের পৃথক অংশে বিবেচনা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার পর উবার জানিয়েছে, তারা সালিশকারীর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত নয়। কোম্পানির বক্তব্য, তারা সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও ওই রাতের ঘটনার জন্য উবারকে আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। অন্যদিকে এমিলির বাবা-মা বলেছেন, তারা এই অর্থকে শুধু ক্ষ তি পূ রণ হিসেবে দেখছেন না। তাদের মতে, মেয়ের মৃ ত্যুর ঘটনা সামনে এনে রাইড শেয়ারিং সেবায় যাত্রী নি রা পত্তা ও স্বচ্ছতা বাড়ানোর উদ্যোগে অর্থ ব্যবহার করা যেতে পারে। বিষয়টি আদালতের রায় নয়, বরং একটি বেসরকারি সালিশি সিদ্ধান্ত হওয়ায় এটি উবারের চালকদের দায়বদ্ধতা নিয়ে চলমান আইনি বিতর্কে সরাসরি কোনো নতুন নজির তৈরি করবে কি না, সেটিও আলাদা প্রশ্ন হিসেবে থাকছে।
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের এক ৩৩ বছর বয়সী নারীর পাকস্থলী থেকে ১৪টি কলম, পাঁচটি কাঠের চামচ ও একটি মোমবাতিসহ মোট ২০টি অস্বাভাবিক বস্তু বের করেছেন চিকিৎসকরা। ৫ সেপ্টেম্বর পালানাডু জেলার নারসারাওপেটের মাতাশ্রী প্রাইভেট হাসপাতালে তীব্র বুকব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তি নিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষায় পাকস্থলীতে এসব বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর প্রায় এক ঘণ্টার ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারে সেগুলো বের করা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীকে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা নিরীক্ষার পর পাকস্থলীর ভেতরে একাধিক অস্বাভাবিক বস্তু দেখতে পান চিকিৎসকরা। এরপর ডা. পি. রামচন্দ্র রেড্ডির নেতৃত্বে অস্ত্রোপচারকারী দল ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতিতে একে একে বস্তুগুলো বের করে আনে। উদ্ধার হওয়া জিনিসগুলোর মধ্যে ছিল ১৪টি বলপয়েন্ট কলম, পাঁচটি ছোট কাঠের চামচ এবং একটি মোমবাতি। সবচেয়ে বড় কলমটির দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ২৫ সেন্টিমিটার। একটি কলমের ঢাকনাও পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সেটি পাকস্থলীর ভেতরে আঘাত বা ক্ষতির কারণ হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব বস্তু কীভাবে ওই নারীর পাকস্থলীতে গেল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রধান সার্জন ডা. রামচন্দ্র রেড্ডিও জানিয়েছেন, এতগুলো বস্তু তিনি কীভাবে গিলে ফেলেছেন, তা চিকিৎসকদের কাছে পরিষ্কার হয়নি। এ বিষয়ে কোনো নিশ্চিত কারণও চিকিৎসকরা প্রকাশ করেননি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই নারীর বাবা দাবি করেছেন, তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছিলেন। তবে তার নির্দিষ্ট কোনো রোগ নির্ণয়ের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, তার স্বামী দুই মাস আগে তাকে তালাক দিয়েছেন। এসব তথ্য পরিবারের বক্তব্য হিসেবে এসেছে এবং চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে এর সঙ্গে পাকস্থলীতে বস্তু থাকার সরাসরি কারণ নিশ্চিত করা হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর ওই নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানে খাবার নয় এমন বস্তু খাওয়ার প্রবণতার একটি পরিচিত নাম পিকা। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনায় ওই নারীর ক্ষেত্রে পিকা রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেননি। non-food objects গিলে ফেলা গুরুতর শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে, বিশেষ করে ধারালো বা লম্বা বস্তু হলে অভ্যন্তরীণ আঘাতের ঝুঁকি থাকে। সূত্র : রয়টার্স
দীর্ঘ অপেক্ষার পর সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ নামে নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়। নতুন পে-স্কেল ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে। নতুন কাঠামোয় আগের মতো ২০টি গ্রেডই বহাল রাখা হয়েছে। গ্রেডভেদে মূল বেতন সর্বোচ্চ ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। তবে নতুন বর্ধিত মূল বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। গেজেট অনুযায়ী, তিন ধাপে এটি বাস্তবায়ন হবে। ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডে বর্ধিত মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে ৫০ শতাংশ কার্যকর হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে দ্বিতীয় ধাপ এবং ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে শতভাগ বর্ধিত মূল বেতন কার্যকর হবে। নতুন পে-স্কেলের বর্ধিত ভাতা পেতে অবশ্য আরও অপেক্ষা করতে হবে। গেজেট অনুযায়ী, বর্ধিত ভাতার সুবিধা ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। একই সঙ্গে বিদ্যমান পেনশনভোগীরাও নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা পাবেন। সরকারের অনুমোদিত কাঠামো অনুযায়ী, প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং পেনশনভোগী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী নতুন বেতন কাঠামোর আওতায় আসবেন। পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভা নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন করে। তখনই জানানো হয়েছিল, নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে এবং অর্থ বিভাগ পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় গেজেট, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার গেজেট প্রকাশ করা হলো। গেজেট প্রকাশের ফলে এখন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ফিক্সেশন, বর্ধিত বেতন ও বকেয়া হিসাব নির্ধারণের পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। অর্থাৎ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হলেও নতুন বেতন কাঠামোর টাকা হাতে পাওয়ার প্রক্রিয়া নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বাস্তবায়ন কার্যক্রমের ওপর।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের তৃতীয় সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন। সভায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি, প্রশিক্ষণের মান বৃদ্ধি এবং সনদের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর বিষয় আলোচনা হয়। তারেক রহমান বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চললেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত কার্যকারিতা পাচ্ছে না। এ কারণে তরুণদের অর্জিত দক্ষতা দেশে ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রত্যাশিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। এ পরিস্থিতিতে এনএসডিএর গভর্নিং বোর্ডকে ছোট একটি কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিকে সমন্বিত কাঠামোয় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সভায় এনএসডিএর প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যক্রমের পাশাপাশি খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মান, সনদ এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়টিও আলোচনায় ছিল।
বিরোধী দলের ধারাবাহিক আন্দোলন ও সরকারের প্রতি অসহযোগিতার কারণে আওয়ামী লীগ নতুন করে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে এমন অভিযোগ করেছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তাঁর ভাষ্য, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে ‘কেউ কেউ ডিসেম্বরে আসতে চায়’। বক্তব্যে ‘কেউ কেউ’ বলতে তিনি আওয়ামী লীগকে বোঝান বলে একাধিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী এলাকায় জিল্লুর রহিম কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত বিশেষায়িত বিনামূল্যের চিকিৎসা ক্যাম্প, চক্ষু শিবির ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) ও লায়ন্স ইন্টারন্যাশনাল ডিস্ট্রিক্ট ৩১৫ এ-৩ যৌথভাবে কর্মসূচিটির আয়োজন করে। এ্যানি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার শুরু থেকেই বিরোধী দল সহযোগিতার পরিবর্তে অসহযোগিতার পথে রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার শপথ নেওয়ার দিনও বিরোধী দল উপস্থিত ছিল না এবং এরপর বিভিন্ন ইস্যুতে তারা সরকারের বিরুদ্ধে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিরোধী দলের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণেই অন্য একটি রাজনৈতিক শক্তি সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধী দল এমন সুযোগ তৈরি না করলে এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি না দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে এটি এ্যানির রাজনৈতিক মূল্যায়ন; প্রতিবেদনে তাঁর দাবির পক্ষে আলাদা কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। পানিসম্পদমন্ত্রী বিরোধী দলের সংসদের ভেতরের ও বাইরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর অভিযোগ, সংসদে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার কথা বললেও সংসদের বাইরে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেই অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে তিনি বিগত ১৭ বছরে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীর ঝটিকা মিছিলের প্রসঙ্গও টানেন। এসব বক্তব্যও মন্ত্রীর নিজস্ব রাজনৈতিক দাবি ও মূল্যায়ন। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলনেরও সমালোচনা করেন এ্যানি। তিনি বলেন, বিরোধী দল ঢাকা থেকে রংপুর ও চট্টগ্রাম অভিমুখে কর্মসূচি পালন করছে এবং গ্যাস, তেল ও বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন করছে। তাঁর বক্তব্য, সরকার এমন এক পরিস্থিতিতে দায়িত্ব নিয়েছে যেখানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে এবং ছয় মাসের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান প্রত্যাশা করা বাস্তবসম্মত নয়। লংমার্চ ও রোডমার্চের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির বিষয়টিও সামনে আনেন পানিসম্পদমন্ত্রী। এসব কর্মসূচিতে জ্বালানি খরচ, সড়কে যানজট এবং রোগীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে কি না এমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিরোধী দল সংসদে সহযোগিতার কথা বললেও মাঠের কর্মসূচি সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন করেন এ্যানি। বক্তব্যের একপর্যায়ে নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি অভিযোগ করেন, ভোটের আগে অর্থ ব্যবহার করে কিছু ভোট প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর এই অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ্যানি আরও বলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে। তাঁর ভাষ্য, কোনো রাজনৈতিক পক্ষ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশ বা জনগণের ক্ষতি করার চেষ্টা করলে সরকার তা মেনে নেবে না। তিনি বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের কথাও তুলে ধরেন। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ওই পরিস্থিতি হঠাৎ তৈরি হয়নি; দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পাশাপাশি ছাত্র, যুবক ও তরুণদের অংশগ্রহণ এর পটভূমি তৈরি করেছে বলে তিনি মনে করেন। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার দায়িত্ব পেয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। এ্যানির বক্তব্যে ‘ডিসেম্বরে আসতে চায়’ কথাটির মাধ্যমে ঠিক কোন পরিকল্পনা বা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা বোঝানো হয়েছে, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা নেই। ফলে বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচ্য। একই সঙ্গে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে তাঁর অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিরোধী পক্ষের প্রতিক্রিয়াও পাওয়া গেলে ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আরও পরিষ্কার হবে।
রাজনীতি
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাবের চেয়ে বেশি বলে দাবি করা হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে ছয় মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর অন্তত ২২ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। অথচ পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারে নিহতের সংখ্যা ১৮ জন দেখানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাঁচ কর্মকর্তা জানিয়েছেন নিহত সেনার সংখ্যা অন্তত ২২ জন। আরেক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, সংখ্যা ২৩ জন হতে পারে। তবে প্রকাশ্য হিসাবের বাইরে থাকা সব মৃত্যুই সরাসরি ইরান যুদ্ধের কারণে হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের সময় সেখানে অবস্থানরত কিছু মার্কিন সেনার মৃত্যুও এই সংখ্যার মধ্যে রয়েছে। যুদ্ধ শুরুর পর ওই অঞ্চলে থাকা তিন মার্কিন ঠিকাদারও মারা গেছেন বলে একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পেন্টাগনের প্রকাশ্য প্রতিরক্ষা হতাহত তথ্যভান্ডার অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত ইরান সংঘাত শুরুর পর ১৮ জন মার্কিন সেনার মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। এর মধ্যে শত্রুর হামলা এবং অন্যান্য কারণে হওয়া মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত মৃত্যুর পরিচয়, কখন, কোথায় এবং কীভাবে তারা মারা গেছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো পরিষ্কার নয়। এই হিসাব নিয়ে পেন্টাগনের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা ওয়াশিংটন পোস্টের প্রশ্নের সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পরে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে হেগসেথ এটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেন। মার্কিন সেনাদের হতাহতের সরকারি হিসাব নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছে। পেন্টাগনের প্রতিরক্ষা হতাহত বিশ্লেষণ ব্যবস্থায় ইরান যুদ্ধের মৃত্যুগুলো বিভিন্ন শ্রেণিতে নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যু ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ এবং আরও চারজনের মৃত্যু ‘বিদেশি অভিযান’ শ্রেণিতে দেখানো হচ্ছিল। ফলে যুদ্ধের বিভিন্ন পর্যায়ের হতাহতের সংখ্যা কীভাবে সরকারি হিসাবে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ৮২০ জনের বেশি মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন বলেও পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যভান্ডারে উল্লেখ রয়েছে। তাদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি পাল্টা হামলার সময় মস্তিষ্কে আঘাতসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির শিকার হয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জাম ও অস্ত্রের ওপরও চাপ বেড়েছে। যুদ্ধের আর্থিক ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের হিসাব অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৪৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এই অঙ্কের মধ্যে নেই। মার্কিন সেনা নিহতের সংখ্যা নিয়ে নতুন এই তথ্য প্রকাশের ফলে পেন্টাগনের হতাহত তথ্য প্রকাশের পদ্ধতি এবং সরকারি হিসাবের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। তবে ওয়াশিংটন পোস্টের কর্মকর্তাভিত্তিক হিসাব এবং পেন্টাগনের প্রকাশ্য তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের চূড়ান্ত কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। ফলে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ও কারণ সম্পর্কে সরকারি ব্যাখ্যা না পাওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
যুক্তরাজ্যের কর্নওয়ালে একটি ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারের প্রবেশপথে দুটি গাড়ি দিয়ে ধাক্কা দিয়ে গেট ভেঙে ফেলা এবং পরে সেখানে দাহ্য পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটিকে জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করছে ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশ। কর্নওয়ালের কার্নন ডাউনস এলাকায় অবস্থিত কর্নওয়াল ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে বৃহস্পতিবার রাত প্রায় ১১টা ২০ মিনিটে ঘটনাটি ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুক্রবার সকালে কেন্দ্রটির স্বেচ্ছাসেবী ইমাম হাসান কিলিককে এক প্রতিবেশী ফোন করে বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখতে পান, কেন্দ্রের লোহার গেটটি ভেঙে কবজা থেকে ছিটকে গেছে। তবে গেট ভাঙার পাশাপাশি কেন্দ্রের আঙিনা থেকে মূল প্রবেশপথ পর্যন্ত এবং ভবনের দেয়ালে তেলজাতীয় একটি পদার্থ ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি আরও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিলিক জানান, কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজে দুটি ভ্যানকে গেটে ধাক্কা দিতে দেখা গেছে। এরপর দুই ব্যক্তি সেখানে ঢুকে বিভিন্ন স্থানে তেল ছড়িয়ে দেন বলে তিনি জানিয়েছেন। ঘটনার পর কিলিক বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে হামলাকারীরা প্রবেশ করতে পারেনি বা প্রবেশের চেষ্টা করেনি। তবে ভাঙচুরের বিষয়টি তিনি পুলিশ ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়কে জানান। এটি ওই ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টারে গত ১৮ বছরে দ্বিতীয়বারের মতো সম্ভাব্য জাতিগত বিদ্বেষপ্রসূত হামলার ঘটনা। এর আগে ২০০৮ সালে কেন্দ্রটি যে সাবেক মেথডিস্ট চার্চ ভবনে পরিচালিত হতো, তার দরজায় শূকরের মাথা পেরেক দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে ভবনে বর্ণবাদী গ্রাফিতিও লেখা হয়েছিল বলে CornwallLive জানিয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনার পর স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলেও কেন্দ্রটির নেতারা উত্তেজনার পরিবর্তে ঐক্য ও ইতিবাচকতার মাধ্যমে পরিস্থিতির মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন। হাসান কিলিক CornwallLive-কে বলেন, ঘটনাটি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য স্বাভাবিকভাবেই কষ্টদায়ক। তবে তারা এটিকে স্থানীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একজন বা কয়েকজনের কর্মকাণ্ড দিয়ে পুরো সম্প্রদায়কে সংজ্ঞায়িত করা হবে না। শুক্রবার মুসলমানদের সাপ্তাহিক প্রধান নামাজের দিন হওয়ায় ওই দিন কেন্দ্রটিতে দেওয়া বক্তব্যেও শান্তি, ধৈর্য, ঐক্য ও আশার বার্তা তুলে ধরার কথা জানান কিলিক। তিনি বলেন, এই ঘটনা তাদের ভয় দেখাতে বা কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে না। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। কর্নওয়াল ও আইলস অব সিলির পুলিশ কমান্ডার চিফ সুপারিনটেনডেন্ট স্কট ব্র্যাডলি বলেন, ঘটনার স্থান ও পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিকভাবে এটিকে জাতিগতভাবে প্ররোচিত ক্ষতিসাধন হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনাটির শ্রেণিবিন্যাস পরিবর্তিত হতে পারে। পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে তথ্য চেয়েছে। ঘটনার সময় আশপাশে সন্দেহজনক কোনো গাড়ি বা ব্যক্তির উপস্থিতি কেউ দেখে থাকলে তা জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় এলাকায় বাসিন্দাদের আশ্বস্ত করতে শুক্রবার ও সপ্তাহান্তে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ডেভন অ্যান্ড কর্নওয়াল পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, কর্নওয়ালে জাতিগত ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের ঘটনা নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিভিন্ন ব্যবস্থা রয়েছে। পুলিশের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাহিনীর আওতাধীন এলাকায় ২৮২টি ঘটনায় মুসলিমবিরোধী ধর্মীয় বিদ্বেষের ধরন নথিভুক্ত হয়েছিল। তবে এসব পরিসংখ্যানের মধ্যে এই নির্দিষ্ট ঘটনার কোনো তথ্য নেই। পুলিশের পক্ষ থেকে সন্দেহজনক তথ্য থাকা ব্যক্তিদের ১০১ নম্বরে অথবা পুলিশের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। বেনামে তথ্য দিতে স্বাধীন দাতব্য সংস্থা ক্রাইমস্টপার্সের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যায়। সূত্র: CornwallLive, Devon & Cornwall Police
ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় মার্কিন র্যাপার ম্যাকলমোরের ১০ লাখ ডলারের অনুদানের সমপরিমাণ অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জনপ্রিয় ইউটিউব তারকা ও শিশুদের শিক্ষামূলক কনটেন্ট নির্মাতা মিস র্যাচেল। তাঁর আসল নাম র্যাচেল অ্যাকুরসো। ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য কাজ করা একটি ত্রাণ সংস্থায় এই অর্থ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। ১৭ সেপ্টেম্বর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে মিস র্যাচেল জানান, ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের অনুদানের সঙ্গে সমপরিমাণ অর্থ দিতে চান তিনি। তাঁর অনুদান যাবে প্যালেস্টাইন চিলড্রেনস রিলিফ ফান্ডে, যা ফিলিস্তিনি শিশুদের জন্য চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। মিস র্যাচেল তাঁর পোস্টে শিশুদের সুরক্ষা ও মানবাধিকারের পক্ষে জনপরিচিত ব্যক্তিদের ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি অন্য ধনী তারকাদেরও একই ধরনের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ইউটিউবে শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান তৈরি করে পরিচিতি পাওয়া মিস র্যাচেলের ২১ মিলিয়নের বেশি গ্রাহক রয়েছে। ম্যাকলমোর গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঘোষণা দেন, এড শিরানের ‘লুপ ট্যুর’-এ উদ্বোধনী শিল্পী হিসেবে পাওয়া তাঁর ১০ লাখ ডলারের আয় ফিলিস্তিনিদের সহায়তায় কাজ করা ছয়টি সংগঠনের মধ্যে দান করবেন। এই ঘোষণা আসে তাঁকে শিরানের যুক্তরাষ্ট্রের সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর। এর আগে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে একটি কনসার্টে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বক্তব্য দেন ম্যাকলমোর। সেখানে তিনি ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন। পরে তাঁর ওই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয় এবং তাঁকে এড শিরানের সফরের বাকি অনুষ্ঠানগুলো থেকে বাদ দেওয়া হয়। ম্যাকলমোরের বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন মার্কিন গায়িকা পিংকও। তিনি ইহুদি দর্শকদের অনুভূতির বিষয়টি তুলে ধরে ম্যাকলমোরের মন্তব্যের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি ২০১৪ সালে ম্যাকলমোরের একটি বিতর্কিত পোশাক পরার ঘটনাও উল্লেখ করেন। ওই ঘটনার জন্য ম্যাকলমোর তখন প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন। পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে ম্যাকলমোর ইহুদি দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নেওয়াকে ইহুদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বার্তা শান্তি, ভালোবাসা এবং সব মানুষের মর্যাদা, সম্মান ও সমতার পক্ষে। এদিকে এড শিরান জানিয়েছেন, ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর একক সিদ্ধান্ত ছিল না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর চাপের পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। শিরান একই সঙ্গে বলেছেন, সংঘাত নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মত রয়েছে, তবে তিনি সেগুলো প্রকাশ্যে না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাকলমোরকে সফর থেকে বাদ দেওয়ার পর শিরানের আরও কয়েকজন সহযোগী শিল্পী সফরের বাকি অংশ থেকে সরে দাঁড়ান। তাদের মধ্যে ফিনিয়াস, অ্যারন রো, লুকাস গ্রাহাম ও বিওগা রয়েছেন। ম্যাকলমোরের অনুদানের ঘোষণার পর মানবিক সহায়তায় অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিরান ও নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটও। প্রত্যেকে ২০ লাখ ডলার করে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের অর্থ কোন কোন সংস্থার মাধ্যমে দেওয়া হবে, তা সব ক্ষেত্রে স্পষ্ট নয়। মিস র্যাচেলের অনুদানের ফলে ফিলিস্তিনি শিশুদের সহায়তায় ম্যাকলমোরের উদ্যোগটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে গাজা ও ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য মানবিক সহায়তায় বিনোদন জগতের পরিচিত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ন্যাশনাল
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের সঙ্গে একটি নতুন নিরাপত্তা চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। তাঁর দাবি, এই চুক্তির মাধ্যমে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আর্কটিক দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী নিরাপত্তা ও সামরিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। তবে চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিচ্ছে না এবং এটি এখনো ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থার আওতায় গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র স্থায়ীভাবে সামরিক প্রবেশাধিকার, ঘাঁটি ব্যবহারের অধিকার এবং আকাশপথ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। প্রয়োজন মনে করলে নতুন সামরিক স্থাপনাও নির্মাণ করতে পারবে ওয়াশিংটন। মার্কিন এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে ফক্স নিউজ জানিয়েছে, নতুন সামরিক স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে না, যদিও তাদের সঙ্গে পরামর্শ করা হবে। চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, চীন, রাশিয়া এবং অন্যান্য ন্যাটোবহির্ভূত দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন বা সেনা মোতায়েন থেকে বিরত রাখার ব্যবস্থা। একই সঙ্গে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো, সমুদ্রের নিচের যোগাযোগ কেবল, বন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজসহ স্পর্শকাতর খাতে প্রতিপক্ষ দেশগুলোর বিনিয়োগ সীমিত করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বলে ফক্স নিউজ জানিয়েছে। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে চুক্তিটিকে দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা স্বার্থ দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত হবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ফক্স নিউজকে বলেছেন, চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধরনের সাফল্য এবং আর্কটিক অঞ্চলে মার্কিন নিরাপত্তা স্বার্থকে স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ডকে উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে ধরে রাখতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পাচ্ছে না। গ্রিনল্যান্ড এখনো ডেনমার্কের রাজ্যের অধীন একটি স্বশাসিত অঞ্চল। নতুন চুক্তির আওতায় এর সার্বভৌমত্ব ডেনমার্কের কাছ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। বরং মূল পরিবর্তনটি হচ্ছে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি ভূমিকা আরও বিস্তৃত হওয়া। চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পরও গ্রিনল্যান্ড ভবিষ্যতে স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হলে এর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ব্যবস্থাগুলো বহাল রাখার পরিকল্পনা রয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তবে এই বিষয়সহ চুক্তির বিস্তারিত শর্ত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসেনি। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি অবশ্য নতুন নয়। উত্তর গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের পিতুফিক মহাকাশ ঘাঁটি রয়েছে। ১৯৫১ সালের যুক্তরাষ্ট্র-ডেনমার্ক প্রতিরক্ষা চুক্তির ভিত্তিতে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি ও প্রবেশাধিকার রয়েছে। ২০০৪ সালে ওই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আরও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছিল। নতুন চুক্তির মাধ্যমে সেই বিদ্যমান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, গ্রিনল্যান্ডে বাড়তি সামরিক অবকাঠামো ভবিষ্যতে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পিত ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে। তবে নতুন ঘাঁটি বা স্থাপনা ঠিক কোথায় এবং কখন নির্মাণ করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। চুক্তিটি আসার পেছনে কয়েক মাসের গোপন আলোচনা কাজ করেছে। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা হয়েছে। মার্কো রুবিও, হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা স্টিফেন মিলার এবং মার্কিন পররাষ্ট্র ও জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের কর্মকর্তারা আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও এর বিস্তারিত বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু বিষয় এখনো পরিষ্কার নয়। চুক্তিটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের কথা রয়েছে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের পার্লামেন্টের অনুমোদনও প্রয়োজন হবে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত চুক্তি ডেনমার্কের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং গ্রিনল্যান্ডের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেয়। ফলে ট্রাম্পের আগের গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের দাবির তুলনায় নতুন চুক্তিটি ভিন্ন কাঠামোর। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহের পেছনে দ্বীপটির ভৌগোলিক অবস্থান অন্যতম কারণ। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও আর্কটিক অঞ্চলের মধ্যবর্তী অবস্থানের কারণে সামরিক ও নিরাপত্তার দিক থেকে গ্রিনল্যান্ডকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের কার্যক্রম বাড়ায় ওয়াশিংটনের কৌশলগত উদ্বেগও বেড়েছে বলে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে। তবে নতুন চুক্তির প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে এর চূড়ান্ত আইনি কাঠামো, পার্লামেন্টের অনুমোদন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের সামরিক অবকাঠামো গড়ে তোলে তার ওপর। আপাতত চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা পরিবর্তনের পরিবর্তে দ্বীপটির নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি নিশ্চিত করার দিকে যাচ্ছে। সূত্র: ফক্স নিউজ, রয়টার্স
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
এয়ার ফ্রায়ার থেকে ক্যানসারের ঝুঁকি! চিকিৎসকের সতর্কবার্তায় নতুন আলোচনা
টিউমার হওয়ার আগেই স্তনের ক্যানসার ঠেকানোর সম্ভাব্য উপায় খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা
জনপ্রিয় অ্যান্টিবায়োটিক নিয়ে বড় গবেষণা, মৃ ত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মিলল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
২০-এর কোঠায় কিডনি বিকল, টেক্সাসে চিকিৎসকদের নজরে রহস্যজনক রোগ
সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু, সোহাগের উদ্ভাস এখন প্রকৌশল ভর্তি প্রস্তুতির বড় নাম
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফবিআইয়ের ক্যারিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা
কুতুবদিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন ফারিহা ঐশী
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়
যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
নারীর পাকস্থলী থেকে বের হলো ১৪ কলম, ৫ কাঠের চামচ ও মোমবাতি
গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের ঐতিহাসিক চুক্তি, স্বাক্ষর জাতিসংঘে
কানাডায় ইহুদি পরিবারে বেড়ে ওঠা জ্যাকুলিনের ইসলাম গ্রহণের গল্প ফের আলোচনায়
সিমেন্টের বদলে মানুষের মল ব্যবহার, ৪২% বেশি শক্তিশালী কংক্রিট বানালেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা