যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) একটি নতুন নীতি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাসের মেয়াদকাল ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ম্যাসাচুসেটসের ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ. ডেনিস সেয়লর ফোরথ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নীতিটি দেশব্যাপী কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, বিচারকের আদেশের ফলে আইনি প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় তা আর কার্যকর হচ্ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আগের সেই ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থাই আপাতত বহাল থাকছে। গত ১৭ জুলাই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাদের চূড়ান্ত নিয়মনীতি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করে। এর অধীনে এফ, জে এবং আই ভিসার ক্ষেত্রে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-এর বদলে নির্দিষ্ট মেয়াদের সময়সীমা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছিল। নতুন নীতি অনুযায়ী, এফ এবং জে নন-ইমিগ্র্যান্টদের জন্য তাদের প্রোগ্রাম বা কোর্সের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। যেসব শিক্ষার্থী বা এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হতো, তাদের ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এছাড়া, বিশেষ ক্ষেত্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার গ্রেস পিরিয়ড ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাবও ছিল এই নীতিতে। অন্যদিকে, আই স্ট্যাটাসধারী বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মাত্র ২৪০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানিতে বিচারক সেয়লর উল্লেখ করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই সিদ্ধান্তটি অনেকটাই খামখেয়ালি ও যুক্তিহীন। সংস্থাটি জনসাধারণের মতামতের যথাযথ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই বলেও জানান তিনি। নতুন নীতিটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারক। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে এবং সরাসরি প্রায় ৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। নফসা (NAFSA), প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন এবং অন্যান্য সংগঠনের দায়ের করা একটি সম্মিলিত মামলার প্রেক্ষিতেই বিচারক এই সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। আপাতত নতুন নীতি কার্যকর না হওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের একটি স্বস্তি মিলেছে, তবে এটি চূড়ান্ত রায় না হওয়ায় আইনি লড়াই এখনও চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই খাতে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়বে। গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, মেলানিয়া ট্রাম্প এই বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে এআই-কে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক এই এআই টুলগুলো ব্যবহার করে এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগে কখনও উদ্ভাবিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই হয়তো কেউ ভবিষ্যতের সেরা রোবটটি তৈরি করবে এবং সেটি হোয়াইট হাউজে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে এনভিডিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) কর্মসূচির এই অংশীদারিত্ব এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া অ্যাশ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ১,৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ‘স্টাডিফেচ’ (StudyFetch)-এর চার বছর মেয়াদি সাবস্ক্রিপশন লাইসেন্স প্রদান করবে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো ডেভেলপার কিট’ (Jetson Nano Developer Kits) দেওয়া হবে, যা তাদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির চর্চা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সরকারের লাভজনক চুক্তি বাগিয়ে নিতে ঘুস লেনদেনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার আদালতে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চলমান ফেডারেল তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দুর্নীতি থেকে অর্জিত ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তিনি সম্মতি দিয়েছেন। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠান। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মার্কিন প্রশাসনের নজরে ছিলেন। অর্থ পাচারের এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতার শর্তে প্রসিকিউটররা তার সাজা কমানোর সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সাবের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে বিমান জ্বালানি নেওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় ভেনেজুয়েলা সরকার তার সেই যাত্রাকে ইরানের উদ্দেশে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের মানবিক মিশন’ বলে দাবি করেছিল। মঙ্গলবার আদালতে সাব জানান, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছেন এবং নিয়মিত অবসাদ দূর করার ওষুধ সেবন করছেন। ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলায় বন্দি বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ রিপাবলিকান ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল এবং তারা দ্রুত তার অন্যান্য অপরাধের তদন্ত শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অ্যালেক্স সাবকে মাদুরোর দুর্নীতির অন্যতম ‘প্রধান সহযোগী’ বা অর্থ পাচারকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদুরো বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে ম্যানহাটনে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে সাবকে ব্যবহার করা হতে পারে। এদিকে, সাব ও মাদুরোর এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত কাজে লাগানোর লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজাচ্ছে। সাব মূলত ভেনেজুয়েলা সরকারের বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে তেল বিক্রি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মাদুরোকে সহায়তা করে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় চরম মুদ্রাস্ফীতির সময় দরিদ্রদের জন্য চাল, ভুট্টা ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ‘ক্ল্যাপ’ (CLAP) কর্মসূচির আড়ালে ভুয়া কোম্পানি খুলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন তিনি এবং তার সহযোগীরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবায় নিজেদের অভাবনীয় সক্ষমতার এক নতুন চিত্র বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছে ইরান। দেশটির মেডিকেল কাউন্সিলের প্রধান মোহাম্মদ রাইসজাদেহ জানিয়েছেন, সফল টিকাদান কর্মসূচির দিক থেকে ইরান বর্তমানে বিশ্বে প্রথম অবস্থানে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বন্ধ্যাত্ব দূরীকরণের আধুনিক চিকিৎসাতেও দেশটির অবস্থান এখন বিশ্বে তৃতীয়। ইয়ং জার্নালিস্টস ক্লাবের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যম পার্সটুডে ইরানের স্বাস্থ্য খাতের এই চমকপ্রদ সাফল্যের তথ্য প্রকাশ করেছে। স্বাস্থ্য খাতে ইরানের এই অভাবনীয় অগ্রগতির পেছনের অন্যতম কারণ হলো তাদের শক্তিশালী চিকিৎসক কাঠামো। মোহাম্মদ রাইসজাদেহ জানান, বর্তমানে দেশটিতে ১ লাখ ৭০ হাজারের বেশি চিকিৎসক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ফলে জনসংখ্যার অনুপাতে ইরানে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ জনে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি ১০ হাজার মানুষের বিপরীতে চিকিৎসকের গড় সংখ্যা যেখানে ১৬ জন, সেখানে প্রাপ্যতার দিক থেকে বৈশ্বিক গড়ের চেয়েও বেশ এগিয়ে রয়েছে দেশটি। টিকাদান ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার পাশাপাশি অন্যান্য জটিল অস্ত্রোপচারেও বিস্ময়কর সাফল্য দেখিয়েছে ইরান। দেশটির মেডিকেল কাউন্সিলের প্রধান দাবি করেন, লিভার ও কিডনি প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রেও তারা বর্তমানে বিশ্বে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে। এছাড়া ককলিয়ার ইমপ্লান্ট বা শ্রবণযন্ত্র প্রতিস্থাপন, হৃদ্যন্ত্রের জটিল অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন সংবেদনশীল সার্জারির ক্ষেত্রেও বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর কাতারে জায়গা করে নিয়েছে ইরান। রাইসজাদেহের মতে, চিকিৎসা খাতের এই ধারাবাহিক অর্জনগুলো মূলত ইরানের আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান, দক্ষ চিকিৎসক ও শক্তিশালী স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থারই এক অনন্য প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) একটি নতুন নীতি সাময়িকভাবে আটকে দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী, এক্সচেঞ্জ ভিজিটর এবং বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাসের মেয়াদকাল ব্যবস্থা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। ম্যাসাচুসেটসের ডিস্ট্রিক্ট জজ এফ. ডেনিস সেয়লর ফোরথ গত ১৪ সেপ্টেম্বর এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এই নতুন নীতিটি দেশব্যাপী কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, বিচারকের আদেশের ফলে আইনি প্রক্রিয়া চলমান অবস্থায় তা আর কার্যকর হচ্ছে না। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আগের সেই ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ ব্যবস্থাই আপাতত বহাল থাকছে। গত ১৭ জুলাই হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাদের চূড়ান্ত নিয়মনীতি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশ করে। এর অধীনে এফ, জে এবং আই ভিসার ক্ষেত্রে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’-এর বদলে নির্দিষ্ট মেয়াদের সময়সীমা নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছিল। নতুন নীতি অনুযায়ী, এফ এবং জে নন-ইমিগ্র্যান্টদের জন্য তাদের প্রোগ্রাম বা কোর্সের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়ার কথা বলা হয়। যেসব শিক্ষার্থী বা এক্সচেঞ্জ ভিজিটরদের অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হতো, তাদের ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের মাধ্যমে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করার বাধ্যবাধকতা ছিল। এছাড়া, বিশেষ ক্ষেত্রে এফ-১ শিক্ষার্থীদের দেশ ছাড়ার গ্রেস পিরিয়ড ৬০ দিন থেকে কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাবও ছিল এই নীতিতে। অন্যদিকে, আই স্ট্যাটাসধারী বিদেশি সাংবাদিকদের জন্য মাত্র ২৪০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। মামলার শুনানিতে বিচারক সেয়লর উল্লেখ করেন, হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই সিদ্ধান্তটি অনেকটাই খামখেয়ালি ও যুক্তিহীন। সংস্থাটি জনসাধারণের মতামতের যথাযথ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট ভিত্তি নেই বলেও জানান তিনি। নতুন নীতিটি কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন বিচারক। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা মার্কিন অর্থনীতিতে প্রায় ৪৪ বিলিয়ন ডলার অবদান রেখেছে এবং সরাসরি প্রায় ৪ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে। নফসা (NAFSA), প্রেসিডেন্টস অ্যালায়েন্স অন হায়ার এডুকেশন অ্যান্ড ইমিগ্রেশন এবং অন্যান্য সংগঠনের দায়ের করা একটি সম্মিলিত মামলার প্রেক্ষিতেই বিচারক এই সাময়িক স্থগিতাদেশ দেন। আপাতত নতুন নীতি কার্যকর না হওয়ায় বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের একটি স্বস্তি মিলেছে, তবে এটি চূড়ান্ত রায় না হওয়ায় আইনি লড়াই এখনও চলবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিকে ভয় না পেয়ে বরং এটিকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। সম্প্রতি নর্থ ক্যারোলাইনার মাউন্টেন ভিউ এলিমেন্টারি স্কুল পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। এসময় তিনি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া (Nvidia)-এর পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঘোষণাও দেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, এআই খাতে একটি দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দিতে হবে এবং শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। এআই প্রযুক্তিকে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন যে, এই প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারলে নতুন প্রজন্ম বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় অনেক পিছিয়ে পড়বে। গবেষকদের পক্ষ থেকে এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে বারবার সতর্কতা দেওয়া হলেও, মেলানিয়া ট্রাম্প এই বিষয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি শিক্ষার্থীদের কল্পনাশক্তির বিকাশ ঘটাতে এআই-কে ইতিবাচকভাবে ব্যবহারের ওপর জোর দেন। নিজের বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের বড় স্বপ্ন দেখার অনুপ্রেরণা জুগিয়ে তিনি বলেন, আধুনিক এই এআই টুলগুলো ব্যবহার করে এমন কিছু তৈরি করতে হবে যা আগে কখনও উদ্ভাবিত হয়নি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই হয়তো কেউ ভবিষ্যতের সেরা রোবটটি তৈরি করবে এবং সেটি হোয়াইট হাউজে প্রদর্শনের জন্য নিয়ে আসবে। শ্রেণিকক্ষে এআই প্রযুক্তির প্রসার বাড়াতে এনভিডিয়ার সঙ্গে ট্রাম্পের ‘বি বেস্ট’ (Be Best) কর্মসূচির এই অংশীদারিত্ব এক নতুন যুগের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় এনভিডিয়া অ্যাশ কাউন্টি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের ১,৫০০ শিক্ষার্থীর জন্য ‘স্টাডিফেচ’ (StudyFetch)-এর চার বছর মেয়াদি সাবস্ক্রিপশন লাইসেন্স প্রদান করবে। একইসঙ্গে রোবোটিক্স নিয়ে গবেষণার জন্য শিক্ষার্থীদের ১০০টি ‘জেটসন ন্যানো ডেভেলপার কিট’ (Jetson Nano Developer Kits) দেওয়া হবে, যা তাদের হাতে-কলমে আধুনিক প্রযুক্তির চর্চা নিশ্চিত করতে সাহায্য করবে।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী অ্যালেক্স সাব যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন। দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে সরকারের লাভজনক চুক্তি বাগিয়ে নিতে ঘুস লেনদেনের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। মঙ্গলবার আদালতে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী এই কলম্বিয়ান বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী চলমান ফেডারেল তদন্তে সহযোগিতা করতে সম্মত হয়েছেন। একই সঙ্গে ওই দুর্নীতি থেকে অর্জিত ১৯৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বাজেয়াপ্ত করার বিষয়েও তিনি সম্মতি দিয়েছেন। গত মে মাসে ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ অ্যালেক্স সাবকে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরত পাঠান। এর আগে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি মার্কিন প্রশাসনের নজরে ছিলেন। অর্থ পাচারের এই অপরাধে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান থাকলেও, অন্যান্য আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে সহযোগিতার শর্তে প্রসিকিউটররা তার সাজা কমানোর সুপারিশ করতে সম্মত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে সাবের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ আনা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে ২০২০ সালে কেপ ভার্দেতে বিমান জ্বালানি নেওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় ভেনেজুয়েলা সরকার তার সেই যাত্রাকে ইরানের উদ্দেশে একটি ‘উচ্চ পর্যায়ের মানবিক মিশন’ বলে দাবি করেছিল। মঙ্গলবার আদালতে সাব জানান, ২০২০ সালে গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি ‘পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার’-এ ভুগছেন এবং নিয়মিত অবসাদ দূর করার ওষুধ সেবন করছেন। ২০২৩ সালে ভেনেজুয়েলায় বন্দি বেশ কয়েকজন মার্কিন নাগরিকের মুক্তির বিনিময়ে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সাবকে ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। তবে বাইডেন প্রশাসনের সেই পদক্ষেপ রিপাবলিকান ও ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিল এবং তারা দ্রুত তার অন্যান্য অপরাধের তদন্ত শুরু করে। মার্কিন কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে অ্যালেক্স সাবকে মাদুরোর দুর্নীতির অন্যতম ‘প্রধান সহযোগী’ বা অর্থ পাচারকারী হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর এক অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়ার পর মাদুরো বর্তমানে মাদক পাচারের অভিযোগে ম্যানহাটনে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে সাবকে ব্যবহার করা হতে পারে। এদিকে, সাব ও মাদুরোর এই বিচার প্রক্রিয়া এমন এক সময়ে চলছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন ভেনেজুয়েলার বিশাল তেলের মজুত কাজে লাগানোর লক্ষ্যে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক ঢেলে সাজাচ্ছে। সাব মূলত ভেনেজুয়েলা সরকারের বিভিন্ন চুক্তির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছিলেন এবং মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পশ্চিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে তেল বিক্রি ও বৈদেশিক বাণিজ্যে মাদুরোকে সহায়তা করে আরও প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিলেন। নতুন অভিযোগে বলা হয়েছে, ভেনেজুয়েলায় চরম মুদ্রাস্ফীতির সময় দরিদ্রদের জন্য চাল, ভুট্টা ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের ‘ক্ল্যাপ’ (CLAP) কর্মসূচির আড়ালে ভুয়া কোম্পানি খুলে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন তিনি এবং তার সহযোগীরা।
জাপানে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। গত বছরের তুলনায় শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন। এ নিয়ে টানা ৫৬ বছর জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ল। ১৯৬৩ সালে এই বয়সী মানুষের সরকারি হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম সংখ্যা ১ লাখের সীমা অতিক্রম করল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট শতবর্ষীর প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০১২ সালে প্রথম ৫০ হাজার ছাড়িয়েছিল। মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বর্তমানে কিয়োটোতে বসবাসকারী ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতোতে বসবাসকারী ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো। তবে দীর্ঘায়ুর এই রেকর্ডের পাশাপাশি জাপানকে বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির মধ্যম বয়স প্রায় ৪৯ দশমিক ৯ বছর এবং মোনাকোর পর জাপানের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বয়স্ক। একই সময়ে দেশটিতে জন্মহারও ঐতিহাসিকভাবে নিচের দিকে নেমেছে। ফলে একদিকে মানুষের দীর্ঘ জীবনযাপন জাপানের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরছে, অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কম জন্মহারের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। সূত্র: জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এএফপি
একজন নারীকে আগুনের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের মুখ ও শরীরের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী প্যাট্রিক হার্ডিসনের। ১৪ বছর ধরে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ২৬ ঘণ্টার এক জটিল মুখ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার বদলে দেয় তার জীবন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর। মিসিসিপির সেনাটোবিয়ায় একটি জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে থাকা এক নারীকে খুঁজতে ঢুকেছিলেন হার্ডিসন। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী। উদ্ধার অভিযানের সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে তার ওপর। কোনোভাবে একটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ততক্ষণে তার মাথা ও শরীরের ওপরের অংশে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনায় তার চোখের পাতা, কান, ঠোঁট এবং নাকের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তৈরি হয় গুরুতর ক্ষত ও দাগ। পরবর্তী ১৪ বছরে স্বাভাবিক চেহারা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ৭১টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে বা পলক ফেলতে পারতেন না। চোখের পাতা না থাকায় তার চোখ সবসময় খোলা থাকত। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া ও হাসার মতো স্বাভাবিক কাজও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বাইরে বের হলে মানুষের দৃষ্টিও তার দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অস্বস্তির কারণ ছিল। ২০১৫ সালে তার সামনে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হার্ডিসনের মুখ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৪ আগস্ট ২০১৫ সকালে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে দুইটি পাশাপাশি অপারেশন কক্ষে চলে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। হার্ডিসনের ক্ষতিগ্রস্ত মুখ ও মাথার টিস্যু সরিয়ে সেখানে একজন মৃতদাতার মুখ, মাথার ত্বক, কান, নাকের কাঠামো, ঠোঁট এবং চোখের পাতা প্রতিস্থাপন করা হয়। চোখের পাতা ও পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি প্রতিস্থাপন ছিল এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। হার্ডিসনের নতুন মুখের দাতা ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ডেভিড রোডবগ। সাইক্লিং দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি মস্তিষ্ক-মৃত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিবন্ধিত অঙ্গদাতা ছিলেন। তার পরিবার মুখসহ অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। রোডবগের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতও অন্য রোগীদের প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা হয়েছিল। রোডবগের মুখ হার্ডিসনের সঙ্গে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও টিস্যুর সামঞ্জস্যের দিক থেকে ভালোভাবে মিলে যায়। চিকিৎসকেরা এই মিলকে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের গ্রুপ বা টিস্যুর মিল নয়, মুখের গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতা ও গ্রহীতার মাথার সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে বিশেষ কাটিং গাইড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রোডবগের মুখের হাড় হার্ডিসনের মুখের কাঠামোর সঙ্গে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে বসানো যায়। মুখের হাড়কে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখতে বিশেষ ধাতব প্লেট ও স্ক্রুও ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আরও কঠিন পুনর্বাসন। হার্ডিসনকে নতুন মুখের মাধ্যমে কথা বলা, গিলতে পারা এবং বিভিন্ন মুখের পেশি ব্যবহার করার জন্য আবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন চোখের পাতা ব্যবহার করে পলক ফেলতে সক্ষম হন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কথা বলা ও শক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষমতাও ফিরে আসতে শুরু করে। প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল তার চোখ বন্ধ ও পলক ফেলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া। এর ফলে চোখ আর্দ্র রাখা ও পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুনরায় কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, এর মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের মতো ছিল না। এক বছর পর হার্ডিসন স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে, বিভিন্ন মুখের অভিব্যক্তি তৈরি করতে এবং ব্যথা ছাড়াই খেতে পারছিলেন। তিনি গাড়ি চালানোর সক্ষমতাও ফিরে পান। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পর শরীর নতুন মুখের টিস্যু প্রত্যাখ্যান করবে কি না, সেটিও ছিল বড় উদ্বেগ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের প্রথম বছর তিনি বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানজনিত জটিলতার মুখে পড়েননি। চিকিৎসকেরা মনে করেন, দাতার সঙ্গে ভালো টিস্যু মিল এবং বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচার সে সময় পর্যন্ত করা সবচেয়ে বিস্তৃত মুখ প্রতিস্থাপন ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো প্রথম সারির জরুরি সেবাকর্মীর মুখ প্রতিস্থাপন। মুখের পাশাপাশি চোখের পাতা, পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি, কান এবং নির্দিষ্ট মুখের হাড় প্রতিস্থাপন এই অস্ত্রোপচারকে বিশেষ করে তুলেছিল। হার্ডিসনের জন্য এই অস্ত্রোপচার শুধু চেহারা পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। দুর্ঘটনার পর যে কাজগুলো তিনি বছরের পর বছর করতে পারেননি, সেগুলোর অনেকটাই আবার সম্ভব হয়। চোখ বন্ধ করে ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো, গাড়ি চালানো এবং মানুষের সামনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ফিরে আসে তার জীবনে। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে সাঁতারও কাটেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হার্ডিসনের ঘটনা মুখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্য একজনের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। ডেভিড রোডবগের পরিবার তার অঙ্গ ও মুখ দানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হার্ডিসন আবারও স্বাভাবিক জীবনের অনেকটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। হার্ডিসনের অস্ত্রোপচারের পর মুখ প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আরও এগিয়েছে। তবে এটি এখনো অত্যন্ত জটিল ও বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন, শরীরের প্রতিস্থাপিত টিস্যু প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে সফল ফলাফল চিকিৎসকদের এই পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সূত্র: এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ, নিউইয়র্ক।
চার বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারেননি ফক্স রাইকার। ওই বয়সে তার অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেয়নি তার পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা ফক্সের শৈশব কেটেছে যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা শেখার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তিনি চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন এবং প্রায় এক দশক বিভিন্ন ধরনের থেরাপি নিয়েছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় কথোপকথন শুরু করা, অন্যের মুখের অভিব্যক্তি বোঝা এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, এসব বিষয় আলাদাভাবে অনুশীলন করতে হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফক্স শুধু যোগাযোগের দক্ষতাই অর্জন করেননি, একাডেমিক ক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন। সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সম্মানসহ পড়াশোনা শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অটিজম সহায়তা কর্মসূচির প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। স্নাতক শেষ করার পর ফক্স পেনসিলভানিয়ার পাওলি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করেন। সেখানে গুরুতর অসুস্থ বা জরুরি অবস্থায় আসা রোগীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহকে আরও দৃঢ় করে। ২০২৩ সালে সিবিএস ফিলাডেলফিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফক্স জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা একসময় মনে করেছিলেন তিনি হয়তো স্বাবলম্বীভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন না। কিন্তু হাসপাতালের সহকর্মীরা পরে তার কাজের প্রশংসা করেন। পাওলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্টুয়ার্ট ব্রিল্যান্ট জানিয়েছিলেন, ফক্সকে দেখে কর্মক্ষেত্রে তার অটিজম বোঝার উপায় ছিল না। তিনি ফক্সকে পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেন। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও ফক্স নিজের অটিজমের বিষয়টি আড়াল করেননি। বরং মেডিকেল স্কুলের আবেদনে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি তার জীবনের একটি অংশ এবং অটিজমের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের বুঝতে তাকে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে। বর্তমানে ফক্স ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ছেন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক লেখায় তিনি নিজেই তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অটিজম তার জন্য শুধু একটি চ্যালেঞ্জ নয়, রোগীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতাও তৈরি করেছে। বিশেষ করে অটিজমে আক্রান্ত রোগীরা জরুরি বিভাগে এলে তাদের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফক্স আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগের কিছু বিষয় তার জন্য এখনো সচেতনভাবে পরিচালনা করতে হয়। চোখে চোখ রাখা, অন্যের অঙ্গভঙ্গি বোঝা কিংবা কথার অন্তর্নিহিত অর্থ ধরার মতো বিষয়গুলো তিনি দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করেছেন। কখনো কখনো কোনো কথাকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার কারণে ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। তবে এসব অভিজ্ঞতাই তাকে অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সচেতন করেছে। চিকিৎসাবিদ্যায় তার যাত্রা এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। তার সাম্প্রতিক পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাবিদ্যার চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফক্সের গল্পটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের ঘটনা নয়, অটিজম নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। অটিজমে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সক্ষমতা, প্রয়োজন ও বিকাশের পথ এক নয়। তাই শৈশবের একটি নির্ণয় দিয়ে কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ কতটা দূর যেতে পারবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্যও সেটিই বলে জানিয়েছেন ফক্স। তার মতে, অটিজম বা অন্য কোনো স্নায়ুবৈচিত্র্য একজন মানুষের পরিচয়ের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু সেটিই তার সক্ষমতার পুরো পরিচয় নয়। চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে গিয়ে তিনি এখন এমন একটি পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে নিজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের আরও ভালোভাবে বুঝতে কাজে লাগাতে চান। চার বছর বয়সে যাকে নিয়ে স্বাবলম্বী জীবনযাপন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই ফক্স রাইকার এখন নিজের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি। তার যাত্রা দেখাচ্ছে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা বা আশঙ্কা সবসময় তার শেষ পরিণতি নির্ধারণ করে না। সূত্র: ফক্স রাইকারের লেখা, ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন, সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি।
রাজনীতি
১১ দলের নেতারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে আমাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছেন: কর্নেল অলি
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreকৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতিকে মানবতার জন্য নজিরবিহীন ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করে এর উন্নয়ন ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক দেশগুলো ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার বিকাশ নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে জাতিসংঘের এই সতর্কতার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক উদ্বেগ ও নিয়ন্ত্রণের দাবিকে খাটো করে দেখিয়েছে। দেশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে ভলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক পরিবর্তনের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে, যার প্রভাব শুধু বর্তমান প্রজন্মের ওপর নয়, মানবতার পরবর্তী প্রজন্মগুলোর ওপরও পড়তে পারে। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতাকে কেন্দ্র করে চলমান প্রতিযোগিতাকে মানবজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অস্তিত্বগত ঝুঁকি বাড়ানোর একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তুর্ক উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের পথ নির্ধারণে দেশ ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ করতে হবে। এই নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের ভিত্তিতে তৈরি করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ গত সপ্তাহে আরও বেড়ে যায়। অ্যানথ্রপিকের দুই গবেষক সতর্ক করেছিলেন, দ্রুত অগ্রসর হওয়া এই প্রযুক্তি খুব দূরবর্তী ভবিষ্যতে মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে। এর পর অ্যানথ্রপিকের প্রধান দারিও আমোদেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নয়নের গতি কমানোর আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তির সক্ষমতা বৃদ্ধির গতি কমিয়ে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় তৈরির একটি কাঠামোও তুলে ধরেন। আমোদেইয়ের আহ্বান বড় কয়েকটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তিদের সমর্থন পেয়েছে। ইলন মাস্ক এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান স্যাম অল্টম্যানও তাঁর প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আমোদেই বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেলগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর গতি কমানো প্রয়োজন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য আরও সময় পাওয়া যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর আরও নিয়ন্ত্রণ আরোপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগকে ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইতোমধ্যেই যথেষ্ট আইনগত ও নিয়ন্ত্রক ক্ষমতা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নের গতি কমিয়ে দিলে চীন সুবিধা পেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে শক্তিশালী ও বুদ্ধিমান নেতৃত্বই যথেষ্ট। তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে বলেও অভিযোগ করেন। অ্যানথ্রপিকের প্রধান আমোদেইয়ের প্রস্তাব নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন এবং তাঁর প্রশাসন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্ভাব্য ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড ঠেকাতে পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানান। চীনও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে সাম্প্রতিক হুমকির বয়ানকে সমর্থন করেনি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনা নিয়ে হুমকি, সংঘাত ও ক্ষতিকর প্রতিযোগিতার বয়ানের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের বয়ান বৈশ্বিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালনার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করবে এবং কারও স্বার্থ রক্ষা করবে না। চীনের পক্ষ থেকে সব দেশ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুও জিয়াকুনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি এমনভাবে হওয়া উচিত, যাতে এটি উন্মুক্ত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, সবার জন্য উপকারী এবং মানবকল্যাণমুখী থাকে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তৈরি ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্যও রয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তামন্ত্রী চেন ইশিন রোববার সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল চীনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সময়ে চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্মাতারা উন্মুক্ত ওজনের মডেল ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের মডেল সাইবার নিরাপত্তা দলগুলো পরীক্ষা, পরিবর্তন এবং প্রতিরক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে। জুলাইয়ে সাংহাইয়ে অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রযুক্তিটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ঝুঁকির দিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সবসময় মানুষের নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা উচিত। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য হুমকি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদেও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী সপ্তাহে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হুমকি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সতর্কতা, ট্রাম্পের নিয়ন্ত্রণবিরোধী অবস্থান এবং চীনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
জাপানে প্রথমবারের মতো ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হিসাবে, ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জাপানে এমন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭ হাজার ৬৭৭ জন। গত বছরের তুলনায় শতবর্ষী মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ৭ হাজার ৯১৪ জন। এ নিয়ে টানা ৫৬ বছর জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়ল। ১৯৬৩ সালে এই বয়সী মানুষের সরকারি হিসাব রাখা শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম সংখ্যা ১ লাখের সীমা অতিক্রম করল। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর মধ্যে নারীর সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি—৯৪ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট শতবর্ষীর প্রায় ৮৮ শতাংশ। পুরুষের সংখ্যা ১৩ হাজার ৩৭৯ জন। জাপানে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা ২০১২ সালে প্রথম ৫০ হাজার ছাড়িয়েছিল। মাত্র ১৪ বছরের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে। দেশটির সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি বর্তমানে কিয়োটোতে বসবাসকারী ১১৪ বছর বয়সী ফুয়ো কিশিমোতো। সবচেয়ে বয়স্ক পুরুষ কুমামোতোতে বসবাসকারী ১১২ বছর বয়সী হিকারু কাতো। তবে দীর্ঘায়ুর এই রেকর্ডের পাশাপাশি জাপানকে বড় ধরনের জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। দেশটির মধ্যম বয়স প্রায় ৪৯ দশমিক ৯ বছর এবং মোনাকোর পর জাপানের জনসংখ্যা বিশ্বের অন্যতম বয়স্ক। একই সময়ে দেশটিতে জন্মহারও ঐতিহাসিকভাবে নিচের দিকে নেমেছে। ফলে একদিকে মানুষের দীর্ঘ জীবনযাপন জাপানের স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক তুলে ধরছে, অন্যদিকে বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং কম জন্মহারের কারণে দেশটিতে শ্রমশক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপও বাড়ছে। সূত্র: জাপানের স্বাস্থ্য, শ্রম ও কল্যাণ মন্ত্রণালয়, এএফপি
আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর ভারতের দিল্লিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন দলের সভাপতি শেখ হাসিনা—এমন দাবি করেছে টাইমস অব বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার মধ্যেই ভারতে অবস্থানরত দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের নিয়ে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লি ও কলকাতায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ জন নেতা মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। কেন্দ্রীয় কমিটির বাইরেও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল উপস্থিত থাকবেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া সোমবার সংবাদমাধ্যমটিকে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তার ভাষ্য, ভারতে অবস্থানরত কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শেখ হাসিনা মতবিনিময় করবেন। মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডা থাকছে না। অর্থাৎ আলোচনার বিষয়বস্তু আগে থেকে নির্দিষ্ট করা হয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন। এদিকে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকার বিষয়টি এই বৈঠকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করেছিল। Source: টাইমস অব বাংলাদেশ;
তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি। গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার
ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে! গবেষণায় নতুন তথ্য
নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার
মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ কমানোর নীতি আটকে দিলেন মার্কিন বিচারক
এআইয়ের সঙ্গে মানিয়ে না নিলে পিছিয়ে পড়বে নতুন প্রজন্ম, সতর্ক করলেন মেলানিয়া ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রে অর্থ পাচারের দায় স্বীকার মাদুরো-ঘনিষ্ঠ অ্যালেক্স সাবের, বাজেয়াপ্ত হবে ১৯৫ মিলিয়ন ডলার
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানে সামরিক অভিযান, হেগসেথকে অভিশংসনের প্রস্তাব ম্যাসির
নিউইয়র্কে বকেয়া করের জন্য ভবন বাজেয়াপ্ত, মালিকদের ৬০ মিলিয়ন ডলার দিচ্ছে শহর
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
ওজন কমানোর ইনজেকশনে বদলাচ্ছে খাবারের অভ্যাস, ব্যবসা হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ
বামহাতিদের জন্য নয় আইফোন ডুও, নকশা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ও বিতর্ক
‘ভালো ঘুম’ দেখালেও আসলে তা নাও হতে পারে, ট্র্যাকার নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম
ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানে চমকপ্রদ সাফল্য, টিকাদানে বিশ্বসেরা ও বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় তৃতীয়
বই পড়লেই মিলবে টাকা, নাগরিকদের পাঠাভ্যাস বাড়াতে সিঙ্গাপুরের অভিনব উদ্যোগ
হজযাত্রীদের চিকিৎসাসহ আধুনিক প্রযুক্তির নতুন উদ্ভাবন উন্মোচনে জেদ্দায় ষষ্ঠ হজ সম্মেলন
বাড়ি গুছাতে গিয়ে স্বামীর লুকানো ১ লাখ ১৩ হাজার পাউন্ডের সোনার মুদ্রা খুঁজে পেলেন বিধবা