ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আল জাজিরার এক ক্যামেরাপারসন ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শনিবার মধ্য গাজার একটি বাড়িতে চালানো হামলায় আল জাজিরার সংবাদকর্মী আহমেদ উইশাহ নিহত হন বলে নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যমটি। আল জাজিরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হামলায় তাদের সংবাদকর্মী আহমেদ উইশাহ নিহত হওয়া একটি জঘন্য ঘটনা। সংবাদমাধ্যমটির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি আন্তর্জাতিক আইন ও নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করার ধারাবাহিক ঘটনার অংশ। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী দাবি করেছে, আহমেদ উইশাহ হামাসের সামরিক শাখার স্নাইপার ছিলেন। তবে এ দাবির সমর্থনে কোনো প্রমাণ প্রকাশ করেনি তারা। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ১ হাজার ৭ জন নিহত হয়েছেন। মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে একটি বাড়িতে হামলায় উইশাহসহ আরও দুজন নিহত হন। স্থানীয় হাসপাতাল ও উদ্ধার সংস্থার বরাতে জানা যায়, নিহত অন্য দুজনকেও হামাসের সদস্য বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। উল্লেখ্য, আহমেদ উইশাহর ভাই আল জাজিরার আরেক সংবাদকর্মী মোহাম্মদ উইশাহ গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। তখন ইসরায়েলি বাহিনী তাকে হামাসের অস্ত্র উৎপাদন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ করেছিল। অন্যদিকে গাজার সাবরা এলাকায় রাতভর আরেকটি হামলায় একই পরিবারের চার সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুটি শিশু রয়েছে। চিকিৎসকদের বরাতে আরও জানা যায়, নিহতদের মধ্যে দুই নারী ও এক শিশুও রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেখানে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ পর্যন্ত টোল আরোপ করতে পারে। ফক্স নিউজের সাংবাদিক ট্রে ইংস্টের উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেন, “তোমরা যদি এটি বন্ধ করো, তাহলে তোমাদের আর কোনো দেশ থাকবে না।” তিনি আরও বলেন, “প্রয়োজন হলে আমরা হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিতে পারি। তারা যদি কোনো সমঝোতায় না আসে, তাহলে আমরা টোল আদায় করব।” ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পূর্বে হওয়া সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান হরমুজ প্রণালিতে নতুন টোল ব্যবস্থা কার্যকর করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন খবরে বলা হয়েছিল, প্রণালি অতিক্রমকারী তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর কাছ থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি আদায়ের বিষয় বিবেচনা করছে তেহরান। তবে সাম্প্রতিক অস্থায়ী শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে শনিবার ৬৭টি এবং শুক্রবার ৫৫টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট। ফক্স নিউজকে তিনি বলেন, “তেল ও তেলজাত পণ্যের পরিবহন সংঘাত শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।” বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সংঘাতের আগে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো। প্রতিদিন ১৩০টিরও বেশি জাহাজ এ সংকীর্ণ জলপথ ব্যবহার করত। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প ইরানকে লেবাননে তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, “ইরানকে অবিলম্বে লেবাননে তাদের অর্থায়ন করা প্রক্সিগুলোকে সমস্যা সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে হবে। তা না হলে আমরা আবারও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, আগেরবারের চেয়েও বেশি কঠোরভাবে।” হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক নৌপরিবহনের ওপর নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ইরউইন্ডেল এলাকায় ২১০ ফ্রিওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি সেমি ট্রাক একাধিক গাড়িতে সজোরে ধাক্কা দিলে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে। শনিবার সকালে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় একজন নারী নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঘটনাস্থলে ব্যাপক ধ্বংসস্তূপ ও যানজট তৈরি হয় এবং কয়েক ঘণ্টা ফ্রিওয়ের উভয় দিকের লেন বন্ধ থাকে। ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল (CHP) জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটি হঠাৎ করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। প্রাথমিকভাবে এটি ডান পাশের কাঁধের দিকে সরে যায়, এরপর হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় বিভাজক অতিক্রম করে বিপরীত দিকের লেনে ঢুকে পড়ে এবং একের পর এক একাধিক গাড়িকে ধাক্কা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ABC-র হাতে আসা ড্যাশক্যাম ফুটেজে দেখা যায়, দুর্ঘটনার কিছু মুহূর্ত আগে ট্রাকটি প্রথমে রাস্তার ডান পাশে ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছিল। এরপর হঠাৎ করেই এটি পুরো ফ্রিওয়ে পার হয়ে বিপরীত দিকের যানবাহনের ওপর গিয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জ্যাকনাইফ অবস্থায় চলে যায়। এতে ফ্রিওয়ের দুই দিকেই যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে অচল হয়ে পড়ে। পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে গাড়ির ধ্বংসাবশেষ, ভাঙা অংশ এবং বিভিন্ন যানবাহনের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অংশ, যা উদ্ধারকাজকে আরও জটিল করে তোলে। কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, দুর্ঘটনায় ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মোট ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ১০ জনকে দ্রুত স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ছয়জন শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছে সিএইচপি। সিএইচপি আরও জানায়, অন্তত তিনটি যানবাহন সরাসরি এই দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। তবে কতগুলো গাড়ি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা সংঘর্ষের সম্পূর্ণ পরিধি কী ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ২১০ ফ্রিওয়ের উভয় দিকেই দীর্ঘ সময় ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। উদ্ধার ও পরিষ্কার কার্যক্রম শেষে বিকেল ৩টার কিছু পর ধীরে ধীরে সব লেন খুলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীরা এখনও নিশ্চিত করতে পারেননি ট্রাকটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারায়। বিষয়টি নিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে পেট্রোল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে রক ব্যান্ড ‘গুজ’-এর কনসার্ট চলাকালে এক দর্শক উঁচু স্থান থেকে পড়ে মারা গেছেন। নিহত ব্যক্তির বয়স ৫১ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) এক বিবৃতিতে জানায়, শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫১ মিনিটে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ভেতরে এক ৫১ বছর বয়সী ব্যক্তিকে অচেতন ও সাড়া না দেওয়া অবস্থায় দেখতে পান কর্মকর্তারা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি একটি উঁচু স্থান থেকে নিচে পড়ে যান। পরে তাকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। তবে তিনি কত উচ্চতা থেকে পড়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর ‘গুজ’ ব্যান্ড এক বিবৃতিতে গভীর শোক প্রকাশ করে। ব্যান্ডটি জানায়, কনসার্ট চলাকালে ঘটে যাওয়া এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর পেয়ে তারা ভীষণভাবে মর্মাহত। বিবৃতিতে বলা হয়, “আজ রাতের অনুষ্ঠানে ঘটে যাওয়া এই দুঃখজনক ঘটনার খবর পেয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আমাদের আন্তরিক সমবেদনা জানাই। জরুরি সেবাকর্মী ও ভেন্যুর কর্মীদের ধন্যবাদ, যারা দ্রুত সহায়তা ও সহযোগিতা প্রদান করেছেন।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা যায়, ঘটনার পর ভেন্যুর কর্মীরা দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের অন্তত সাত সারি আসন খালি করে দেন। সংগীতবিষয়ক তথ্যভান্ডার সেটলিস্ট ডটএফএমের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার পরও ব্যান্ডটি তাদের নির্ধারিত ১৬টি গানের সম্পূর্ণ পরিবেশনা শেষ করে। কনসার্টটি মধ্যরাতের কিছু আগে শেষ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটভিত্তিক ‘জ্যাম ব্যান্ড’ গুজ তাদের ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালীন সফরের অংশ হিসেবে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে টানা দুই রাতের অনুষ্ঠান করছিল। তাদের এই সফরে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার ১৯টি শহরে মোট ২৭টি কনসার্টের সূচি রয়েছে। এদিকে অনুষ্ঠানটি অ্যামাজন মিউজিকের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারও করা হচ্ছিল। ঘটনার কারণ এবং কীভাবে ওই ব্যক্তি পড়ে গেলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান তীব্র সামরিক সংকট নিরসন ও বিশ্ব শান্তির লক্ষ্যে সুইজারল্যান্ডে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বহু প্রতীক্ষিত ও ঐতিহাসিক কারিগরি পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক সংলাপ। কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নীতি-নির্ধারক ও প্রতিনিধিদের পাশাপাশি আঞ্চলিক প্রভাবশালী নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। অত্যন্ত গোপনীয় ও বিলাসবহুল পরিবেশে শুরু হওয়া এই সংলাপের ওপর পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বহুলাংশে নির্ভর করছে। এই বৈঠকে মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবাননে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বিশেষ এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গত সপ্তাহে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ানের স্বাক্ষরিত চুক্তিটি লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত ও ভয়াবহ সামরিক হামলার কারণে নতুন করে চরম চাপের মুখে পড়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে জোরালো দাবি করা হয়েছে যে, দুই দেশের মধ্যকার প্রাথমিক চুক্তির প্রথম শর্তই ছিল লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা। কিন্তু ইসরায়েল এখনো লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যা দুই দেশের মধ্যকার পূর্ববর্তী সমঝোতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক শহরের লুসার্ন হ্রদের পাড়ে অবস্থিত একটি অভিজাত হোটেলে এই সংলাপের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উচ্চপর্যায়ের এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং অভিজ্ঞ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে এই সংলাপে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, দেশটির প্রভাবশালী সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানি। সুইজারল্যান্ডে কারিগরি আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি বন্ধের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। তবে এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম দাবি করেছে যে, আন্তর্জাতিক এই নৌপথটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও উন্মুক্ত রয়েছে এবং গত ২০ জুন পর্যন্ত সেখান দিয়ে ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ নিরাপদে পার হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক বিশেষ ঘোষণায় জানিয়েছেন, সাময়িক যুদ্ধবিরতির ৬০ দিন এবং এর পরবর্তী সময়েও হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোনো জাহাজের কাছ থেকে কোনো ধরণের অতিরিক্ত টোল আদায় করা হবে না। টানা ৬০ দিন ধরে চলতে যাওয়া এই কারিগরি সংলাপে ইরান মূলত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্পদ মুক্তি এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বিশেষ উপদেষ্টা মোহাম্মদ মোখবার রোববার এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কেবল ব্যবসা ও লাভ-ক্ষতির ভাষা বোঝে। তাই তারা যদি এই চুক্তি শুধু কাগজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে, তবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেল ও গ্যাসের বৈশ্বিক সরবরাহ চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন মূল ভূখণ্ডে হু হু করে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়া এবং জীবনযাত্রার চড়া ব্যয়ের কারণেই মূলত ট্রাম্প প্রশাসন তড়িঘড়ি করে ইরানের সাথে এই শান্তি সংলাপে বসতে বাধ্য হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক রিসোর্টে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক শান্তি সংলাপের জেরে আকাশসীমায় জরুরি ‘নো-ফ্লাই জোন’ বা বিমান চলাচল নিষিদ্ধ এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। এই আকস্মিক নির্দেশনার কারণে দেশটির বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ‘স্কাইগাইড’-এর প্রযুক্তিগত ব্যবস্থায় বড় ধরণের ত্রুটি দেখা দেয়, যার ফলে সুইজারল্যান্ডের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা ও সামগ্রিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সুইজারল্যান্ডের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সুইসইনফোর বরাতে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান স্কাইগাইড আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্কাইগাইড তাদের বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার রাতে অত্যন্ত আকস্মিক ও শেষ মুহূর্তে বার্গেনস্টক রিসোর্টে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের কারিগরি সংলাপ আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্তের পরই অত্যন্ত জরুরি ভিত্তিতে ওই অঞ্চলের আকাশসীমা সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ বা নো-ফ্লাই জোন হিসেবে সক্রিয় করা হয়। এই আকস্মিক সক্রিয়করণের ফলে সুইজারল্যান্ডের ডুবেনডর্ফ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং জুরিখ বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের মূল রাডার সিস্টেমে একটি বড় ধরণের কারিগরি জটিলতা ও গোলযোগের সৃষ্টি হয়, যা পুরো বিমান চলাচল ব্যবস্থাকে স্থবির করে দেয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত দুর্ঘটনার কারণে বিমান ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা স্কাইগাইড বাধ্য হয়ে রাজধানী বার্নের পূর্বাঞ্চলের সম্পূর্ণ আকাশসীমা বেশ কয়েক ঘণ্টার জন্য পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। জুরিখ বিমানবন্দরের একজন অফিশিয়াল মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই জটিলতার কারণে রোববার সকালের একটি বড় অংশ জুড়ে বিমানবন্দরটি থেকে কোনো বিমানের উড্ডয়ন বা টেক-অফ করা সম্ভব হয়নি। তবে সকাল পৌনে সাতটা পর্যন্ত পূর্বনির্ধারিত কিছু বিমানের অবতরণ বা ল্যান্ডিং প্রক্রিয়া সচল ছিল। অবশ্য যে সমস্ত বিমান ইতিমধ্যে বিমানবন্দরের কাছাকাছি চলে এসেছিল, সেগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত রেখে নিরাপদে নামার অনুমতি দেওয়া হয়। বিবৃতিতে স্কাইগাইড আরও উল্লেখ করেছে যে, জুরিখ বিমানবন্দরে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে থমকে গেলেও এবং রাডার সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দিলেও আকাশসীমার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা সব সময়ের জন্য সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিল। পরবর্তীতে কারিগরি ত্রুটি কাটিয়ে ওঠার পর সকাল পৌনে আটটা থেকে আকাশপথে বিমান চলাচল পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং বর্তমানে বিমানবন্দরের সমস্ত কার্যক্রম সম্পূর্ণ পূর্বের নিয়মে ফিরে এসেছে। তবে বাড়তি সতর্কতা হিসেবে আগামী সোমবার সকাল আটটা পর্যন্ত ওই আকাশসীমার ওপর দিয়ে অন্য দেশের বিমান চলাচলের ক্ষমতা সামান্য হ্রাস করে রাখা হবে, যার প্রভাব খুবই সামান্য হবে। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে বিগত কয়েক মাস ধরে চলমান ভয়াবহ সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটাতে এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে গত বুধবার একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেই সমঝোতার আলোকেই এই চূড়ান্ত কারিগরি সংলাপে অংশ নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সুইজারল্যান্ডে এসে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় বার্গেনস্টকের এই সংলাপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির পার্লমেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।
জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত টেলিভিশন সিরিজ ‘ব্রেকিং ব্যাড’-এ ‘গাস ফ্রিং’ চরিত্রে অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়া মার্কিন অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। সৌদি আরবে একটি নতুন চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে অবস্থানকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুসলিম হওয়ার এই বড় সিদ্ধান্তটি নেন। রোববার (২১ জুন) মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবের স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অফিশিয়াল প্রতিবেদনে হলিউডের এই বর্ষীয়ান ও প্রখ্যাত অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌদি আরবের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম সৌদি গেজেটের প্রকাশিত বিশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, দেশটির জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট অথরিটির (জিইএ) চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্য প্রথম প্রকাশ করেন। তিনি জানান, অভিনেতা জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় সাক্ষ্য বা কালেমা শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত হয়েছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরপরই তিনি সৌদি আরবের একটি স্থানীয় মসজিদে গিয়ে তার নতুন ছবির প্রোডাকশন টিমের অন্যান্য মুসলিম কর্মকর্তা ও সদস্যদের সাথে অত্যন্ত আন্তরিক পরিবেশে নামাজ আদায় করেন। জিইএ চেয়ারম্যান তুর্কি আল-শেখের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন এই বিখ্যাত অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের সিদ্ধান্তটি মূলত সৌদি আরবে কাটানো তার চমৎকার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং স্থানীয় মুসলিমদের সাথে কাজের সুবাদে ঘনিষ্ট মেলামেশার ফসল। আরবে অবস্থানকালে তিনি সেখানকার ইসলামি সংস্কৃতি, সাধারণ মানুষের ধর্মীয় জীবনযাপন এবং প্রোডাকশন টিমের মুসলিম সহকর্মীদের আন্তরিক আচরণ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হন। অভিনেতা এস্পোসিটো শুটিং চলাকালীন আরবের স্থানীয় সমাজব্যবস্থা, তাদের ঐতিহ্যবাহী আতিথেয়তা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রতি নিজের গভীর মুগ্ধতা ও প্রশংসা ব্যক্ত করেছেন। এদিকে হলিউডের এই প্রভাবশালী অভিনেতার ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মসজিদে নামাজ আদায়ের একটি বিশেষ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, প্রখ্যাত এই অভিনেতা তার ছবির প্রোডাকশন টিমের অন্য সদস্যদের পাশে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত নম্র ও সারিবদ্ধভাবে নামাজ আদায় করছেন, যা বিশ্বজুড়ে তার কোটি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। জিয়ানকার্লো এস্পোসিটো দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে হলিউডের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে অত্যন্ত সফলতার সাথে কাজ করছেন এবং বিশ্বজুড়ে তার এক বিশাল অনুসারী রয়েছে। ব্রেকিং ব্যাড ছাড়াও তিনি ‘বেটার কল সল’ এবং ‘দ্য ম্যান্ডালোরিয়ান’-এর মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সাড়াজাগানো আন্তর্জাতিক সিরিজে দুর্দান্ত অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। গাস ফ্রিং চরিত্রের জন্য তিনি একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত হন। সৌদি গেজেটের তথ্যমতে, তিনি বর্তমানে সৌদি আরবে ‘সেভেন ডগস’ নামের একটি বড় বাজেটের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মূলত সৌদি আরব তাদের বিনোদন ও চলচ্চিত্র খাতের ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক প্রতিভা আকর্ষণের যে মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, এই চলচ্চিত্রটি তারই একটি অন্যতম অংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে এখন দেশটির জনসংখ্যার একটি বড় অংশে পরিণত হয়েছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ২ লাখ। এটি দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৪.৮ শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি সাতজনের একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ চিত্র তুলে ধরেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউএসএফ্যাক্টস। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ কোটি ২৪ লাখ। গত এক দশকে এই সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫ কোটি ২ লাখে পৌঁছেছে। একই সময়ে মোট জনসংখ্যার মধ্যে অভিবাসীদের অংশ ১৩.৩ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৪.৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যানে ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসীদের হার সবচেয়ে বেশি, ২৭.৭ শতাংশ। এরপর রয়েছে নিউ জার্সি ২৫ শতাংশ, নিউইয়র্ক ২৩.৩ শতাংশ, ফ্লোরিডা ২৩.১ শতাংশ, নেভাডা ১৯.৯ শতাংশ, ম্যাসাচুসেটস ১৮.৮ শতাংশ, হাওয়াই ১৮.৬ শতাংশ, টেক্সাস ১৮.৪ শতাংশ, মেরিল্যান্ড ১৭.১ শতাংশ এবং ওয়াশিংটন ১৬.১ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, বড় শহর ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলোতে কর্মসংস্থান, শিক্ষা এবং উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ বেশি থাকায় এসব এলাকাতেই অভিবাসীদের ঘনত্ব বেশি দেখা যায়। মেট্রোপলিটন এলাকার মধ্যে মায়ামিতে অভিবাসীদের হার সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪২.৪ শতাংশ। অন্যদিকে কিছু ছোট শহরে এই হার ১ শতাংশেরও নিচে। অর্থনীতিতে অভিবাসীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা পরিষেবা, নির্মাণ, প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন খাতে শ্রমশক্তি হিসেবে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিবাসন শুধু জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নয়, এটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও শ্রমঘাটতি পূরণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অভিবাসী-আকর্ষণকারী দেশ হিসেবে অবস্থান করছে। প্রতি সাতজনের একজন বিদেশে জন্ম নেওয়া হওয়ায় দেশটির সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে অভিবাসীদের প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী বছরগুলোতে এই হার আরও বৃদ্ধি পেতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও জননীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মাননীয় মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সাথে এক বিশেষ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার ইমরান হায়দার। আজ রোববার (২১ জুন) রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস কক্ষে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে মূলত দুই দেশের সামগ্রিক শিক্ষার আধুনিকায়ন, মানোন্নয়ন এবং বিভিন্ন ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগ নিয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। বৈঠক চলাকালীন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার শুরুতেই বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিশাল জনসংখ্যাকে আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী ও দক্ষতার উন্নয়নে দেশের মূল পাঠ্যক্রমে কারিগরি শিক্ষাকে বিশেষভাবে অন্তর্ভুক্ত করার নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এই আধুনিক ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দুই বন্ধুপ্রতিম দেশ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসাথে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার এক বিশাল ও চমৎকার সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দেশই দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার সামগ্রিক উন্নয়নে একে অপরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে আসছে এবং একত্রে কাজ করছে। বিশেষ করে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পাশে থেকে যৌথ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য পাকিস্তানের অনেক বড় সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এ সময় হাইকমিশনার পাকিস্তানের বর্তমান কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমগুলো সশরীরে পরিদর্শন করার জন্য বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রীকে বিশেষভাবে আহ্বান জানান। একই সাথে দ্বিপাক্ষিক এই আনুষ্ঠানিক বৈঠকে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশে শিক্ষাক্ষেত্রের আধুনিকায়ন এবং এর সার্বিক উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন প্রশংসনীয় দূরদর্শী উদ্যোগের তীব্র ও ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের এই যৌথ শিক্ষা সহযোগিতার ফলে আগামী দিনে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের শিক্ষা খাতের ব্যাপক অগ্রগতি সাধিত হবে। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ভবিষ্যতেও শিক্ষা ও সংস্কৃতির এই মেলবন্ধন অব্যাহত থাকবে বলে দুই দেশের প্রতিনিধিরাই একমত পোষণ করেন। উচ্চপর্যায়ের এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বাংলাদেশের স্কুল ও কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও শারীরিক গঠনের বিকাশের কথা বিবেচনা করে একটি চমৎকার সৌজন্যতা প্রদর্শন করেন। তিনি নিজ দেশের পক্ষ থেকে মোট ১ হাজার উন্নতমানের ফুটবল বাংলাদেশের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের হাতে উপহার হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। উপহার সামগ্রী গ্রহণের পর শিক্ষা মন্ত্রী পাকিস্তানের হাইকমিশনারকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
কানাডার ব্রিটিশ কলম্বিয়া প্রদেশের ভিক্টোরিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি মসজিদের বাইরে এক ইমামের ওপর ভয়াবহ ও ঘৃণ্য শারীরিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই মুসলিম ধর্মীয় নেতার নাম শেখ ইব্রাহিম। দেশের মাটিতে একজন সম্মানিত ধর্মীয় নেতার ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার পর দেশটির অন্যতম প্রধান মুসলিম অধিকার বিষয়ক সংগঠন 'ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস' শনিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতি প্রকাশ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে মসজিদের বাইরে ঘটা এই নজিরবিহীন ও হিংসাত্মক হামলার ঘটনাটি পুরো কানাডাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও নিন্দার ঝড় তুলেছে। প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি থেকে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার এশার নামাজ শেষ করে শেখ ইব্রাহিম যখন ভিক্টোরিয়ার বিসিএমএ মসজিদের বাইরে নিজের ব্যক্তিগত গাড়ির ভেতর একা বসেছিলেন, ঠিক তখনই এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি জোরপূর্বক তার গাড়ির লক করা দরজা খুলে ফেলে। গাড়ির দরজা খোলার সাথে সাথেই ওই হিংস্র ব্যক্তি ইমামের ওপর অতর্কিত ও মারাত্মক শারীরিক আক্রমণ শুরু করে। হামলার পাশাপাশি ওই ব্যক্তি ইসলামভীতি বা ইসলামোফোবিক বিভিন্ন চরম আপত্তিকর গালিগালাজ করতে থাকে এবং ইমামকে লক্ষ্য করে চিৎকার করে বলতে থাকে, "তুমি অবিলম্বে তোমার নিজের দেশে ফিরে যাও।" হৃদয়বিদারক এই নেতিবাচক ঘটনার পর গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে কানাডার ওই শীর্ষস্থানীয় মুসলিম সংগঠনটি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন এবং উচ্চপদস্থ আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তারা এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে জড়িত মূল অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে তার কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুরো অঞ্চলের মুসলিম কমিউনিটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছে। তবে হামলার শিকার ইমাম শেখ ইব্রাহিমের বর্তমান শারীরিক অবস্থা কেমন বা এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে নির্দিষ্টভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে আরও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে লিখেছে, আমাদের সমাজের একজন অত্যন্ত সজ্জন ও সম্মানিত ধর্মীয় নেতাকে এভাবে টার্গেট করে আক্রমণ করা কোনো সভ্য সমাজে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই অমানবিক ঘটনাটি আমাদের আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেয় যে, কানাডায় দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকা চরম ইসলামভীতি আমাদের সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য প্রতিদিন কতটা বড় ধরণের সামাজিক হুমকি ও জীবনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এমন একটি জঘন্য ঘটনার পর আমরা কোনোভাবেই চুপচাপ হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারি না। সংগঠনটি কানাডার সব স্তরের রাজনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নেতাদের প্রতি এই মুসলিম বিরোধী ঘৃণ্য সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানানোর এবং সমাজে দিন দিন বাড়তে থাকা ধর্মীয় বিদ্বেষ চিরতরে দূর করতে দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছে। এর পাশাপাশি তারা স্থানীয় প্রধান আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এই বর্বরোচিত হামলার পেছনে ধর্মীয় বা জাতিগত বিদ্বেষের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গভীরভাবে খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর ভিক্টোরিয়া এলাকার স্থানীয় সাধারণ মুসলিম বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সূত্র: আনাদোলু
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতা ও শান্তি উদ্যোগকে ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার দাবি, চুক্তির প্রতিটি ধারা ইরানের জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে গঠিত হয়েছে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব খুব শিগগিরই দৃশ্যমান হবে। ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেজেশকিয়ান বলেন, সমঝোতা স্মারকের প্রতিটি বিষয় দীর্ঘ ও বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। তিনি বলেন, “চুক্তির প্রতিটি ধারা ইরানের পক্ষে গেছে। কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টার সুফল শিগগিরই জনগণের সামনে স্পষ্ট হবে।” চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর মধ্যে তিনি কাতারে জব্দ থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ইরানি তহবিল ফেরতের বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই অর্থ ফেরত পাওয়াকে তেহরান একটি বড় অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। যদিও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে এই অর্থ ছাড়ের প্রক্রিয়া ও বাস্তবায়ন নিয়ে কিছু ভিন্নমতও উঠে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইঙ্গিত করে পেজেশকিয়ান বলেন, আলোচনার শুরুতে যেসব বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র আপত্তি জানিয়েছিল, শেষ পর্যন্ত তার অনেকগুলোই ইরানের অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। তার মতে, এই সমঝোতা ইরানের অবস্থানকে দুর্বল করেনি, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তিশালী করেছে। আসন্ন সুইজারল্যান্ড বৈঠক প্রসঙ্গে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এই চুক্তির ফলে সবচেয়ে বেশি অসন্তুষ্ট থাকবেন নেতানিয়াহু। পেজেশকিয়ানের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে এই সমঝোতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ প্রসঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, ওয়াশিংটনের প্রধান দাবি ছিল—ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইরান কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরির পথে হাঁটতে চায় না এবং এটি তাদের রাষ্ট্রীয় নীতি ও ধর্মীয় নির্দেশনার অংশ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে লিখিত প্রতিশ্রুতি চেয়েছিল এবং ইরান তা নথিভুক্ত করেছে। এদিকে দুই দেশের চলমান আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ, জব্দ সম্পদ মুক্ত করা এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে এসব ইস্যু আরও বিস্তারিতভাবে আলোচিত হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। বিশেষ করে তহবিল মুক্ত করা, আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো এবং পারমাণবিক ইস্যুতে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা গেলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করতে পারে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে সাম্প্রতিক স্থল অভিযানে হিজবুল্লাহর শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো ধ্বংস করে লিতানি নদী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। দেশটির সেনাবাহিনীর সপ্তম সাঁজোয়া ব্রিগেডের কমান্ডার কর্নেল শাউল ইসরায়েলি এই দাবি করেছেন। রোববার প্রকাশিত জেরুজালেম পোস্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কর্নেল ইসরায়েলি জানান, তার নেতৃত্বাধীন বাহিনী শুধু গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সড়ক দখলই করেনি, বরং গত দুই দশকে হিজবুল্লাহ যে বিস্তৃত ভূগর্ভস্থ টানেল ও বাঙ্কার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিল, সেগুলোও নিষ্ক্রিয় করেছে। এই অভিযানকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের অন্যতম কঠিন প্রকৌশলভিত্তিক সামরিক মিশন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষায়, খাড়া পাহাড়ি পথ, বিস্ফোরক ফাঁদ, অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন হামলা ও মর্টারের গোলার মধ্যে দিয়েই সেনাদের অগ্রসর হতে হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সামনে ভারী বুলডোজার দিয়ে পথ তৈরি করে ট্যাংক এগিয়ে নেওয়া হয়। কর্নেল ইসরায়েলি স্বীকার করেন, সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও পুরো ইউনিটকে বড় ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারত। বিশেষ করে লিতানি নদী ও সালুকি উপত্যকার দিকে একযোগে অগ্রসর হওয়ার পথ তৈরি করা ছিল অত্যন্ত জটিল ও নজিরবিহীন উদ্যোগ। তিনি ৬০৩তম ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়নের সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তাদের দক্ষতা ও সাহসিকতা ছাড়া এই অভিযান সফল করা সম্ভব হতো না। অভিযানের শুরুতেই সপ্তম ব্রিগেড সীমান্তবর্তী তাইবে, মারকাবা ও রাব এল থালাথিনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গ্রামগুলো নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালায়, যাতে উত্তর ইসরায়েলের দিকে হামলার ঝুঁকি কমানো যায়। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় গোলানি ব্রিগেড। এরপর কান্তারা এলাকায় ‘সিটি অব রিফিউজ’ নামে পরিচিত একটি বড় ভূগর্ভস্থ ঘাঁটি দখলের অভিযান শুরু হয়। কর্নেলের দাবি অনুযায়ী, কান্তারা অঞ্চলের এই অবকাঠামো প্রায় ২০ বছর ধরে ইরান ও হিজবুল্লাহর সহায়তায় গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে অস্ত্রাগার, টানেল, অ্যান্টি-ট্যাংক অবস্থান এবং ইসরায়েলে অনুপ্রবেশের জন্য বিশেষ ঘাঁটি ছিল। এলাকাটি লিতানি নদীর দিকে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে ব্যবহৃত হতো এবং আশপাশের গ্রামগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে ভূমিকা রাখত। অভিযান চলাকালে ইসরায়েলি বাহিনী শত শত বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার মুখে পড়ে বলেও জানান কর্নেল ইসরায়েলি। বিউফোর্ট ও গান্দুরিয়েহ এলাকাতেও হিজবুল্লাহর ভূগর্ভস্থ ও স্থলভিত্তিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে বলে তার দাবি। সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পুরো এলাকা আগুনে জ্বলছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননকে হিজবুল্লাহ একটি বহুস্তরীয় যুদ্ধক্ষেত্রে রূপান্তর করেছিল—কোথাও রকেট হামলার প্রস্তুতি, কোথাও সীমান্ত অনুপ্রবেশ, আবার কোথাও ইসরায়েলের স্থল অগ্রগতি বিলম্বিত করার জন্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছিল। বেশিরভাগ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাই ছিল ভূগর্ভে, যা বিমান হামলা থেকে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। টানেল ব্যবস্থার বিষয়ে কর্নেল জানান, কান্তারা ও বিউফোর্টের কিছু টানেলের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১ দশমিক ২ কিলোমিটার। তার মতে, গাজার তুলনায় লেবাননের এই টানেলগুলো আকারে বড় হওয়ায় সেগুলো শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ ছিল। ড্রোন যুদ্ধ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন এখন যুদ্ধক্ষেত্রের অন্যতম বড় হুমকি হয়ে উঠেছে এবং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও বাড়বে। তবে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ট্যাংকের ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন এই সামরিক কর্মকর্তা। তার মতে, আধুনিক ট্যাংক এখন শুধু সাঁজোয়া যান নয়; এটি গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং ড্রোন পরিচালনাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধব্যবস্থার অংশে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাত সেনা সদস্যদের ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি করছে, সেটিও স্বীকার করেন কর্নেল ইসরায়েলি। তিনি বলেন, প্রায় তিন বছর ধরে চলমান এই সংঘাতে অনেক কর্মকর্তা ও সৈন্য মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত। বিশেষ করে ব্যাটালিয়ন কমান্ডারদের দায়িত্বের মেয়াদ কমানো প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি সেনা সদস্যদের পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তার ভাষায়, যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বোঝা বহন করেন সেনা সদস্যদের পরিবার—বিশেষ করে তাদের স্ত্রী ও স্বজনরা।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাত এবং পরবর্তীতে ওয়াশিংটন-তেহরান সমঝোতাকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন অধিকাংশ ইসরায়েলি নাগরিক। এক সাম্প্রতিক জনমত জরিপে উঠে এসেছে, যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে সরকার যে সফলতার দাবি করছে, তা দেশের মানুষের বড় অংশই বিশ্বাস করছেন না। জরিপটি পরিচালনা করে হিব্রু ইউনিভার্সিটি-এর সহযোগিতায় একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এতে অংশ নেওয়া ৯২ দশমিক ১ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এই সংঘাতে শেষ পর্যন্ত ইরানই কৌশলগতভাবে এগিয়ে রয়েছে। একই সঙ্গে ৮২ দশমিক ৯ শতাংশের মতে, এই সামরিক অভিযান ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের বড় একটি অংশ যুদ্ধ-পরবর্তী চুক্তি নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন। প্রায় ৮৬ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সামগ্রিকভাবে যুদ্ধ ও চুক্তির ফলাফল তাদের প্রত্যাশা পূরণ করেনি। ফলে সরকার যে ‘সাফল্যের’ চিত্র তুলে ধরছে, তা জনমনে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে দেশ একটি বড় ধরনের অস্তিত্বগত হুমকি থেকে মুক্ত হয়েছে। তবে জরিপ বলছে, ৭২ দশমিক ৫ শতাংশ ইসরায়েলি এই বক্তব্যে আস্থা রাখছেন না। আরও ৮৭ দশমিক ৮ শতাংশের মতে, ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে ইসরায়েল হয় ব্যর্থ হয়েছে, নয়তো আংশিক সফল হয়েছে। নেতৃত্বের মূল্যায়নেও নেতানিয়াহুর জন্য খুব ইতিবাচক বার্তা নেই। জরিপে অংশ নেওয়া ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ তার যুদ্ধ পরিচালনাকে দুর্বল বা ব্যর্থ হিসেবে দেখেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি সরকারের প্রতি জনআস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর প্রশাসনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা ইসরায়েলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থাকলেও, প্রায় ৪৮ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ-এর বিরুদ্ধে নতুন করে বড় সামরিক অভিযানের পক্ষে মত দিয়েছেন। ১৭ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পরিচালিত এই জরিপে ১৭ বছর বা তার বেশি বয়সী ৩ হাজার ৬৪৪ জন ইসরায়েলির মতামত নেওয়া হয়। গবেষকরা জানিয়েছেন, ৯৯ শতাংশ নির্ভরযোগ্যতার মাত্রায় জরিপটির সম্ভাব্য ত্রুটির হার ২ দশমিক ২ শতাংশ। জরিপের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে জনমত ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। যুদ্ধের ফলাফল, কূটনৈতিক সমঝোতা এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা—এই তিনটি প্রশ্নেই সরকারের অবস্থান ও জনগণের প্রত্যাশার মধ্যে স্পষ্ট ব্যবধান তৈরি হয়েছে। তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেসক্লাবের ৩৬তম কার্যনির্বাহী কমিটি (২০২৬-২৭ সেশন) গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে দৈনিক ইত্তেফাকের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আশিকুল ইসলাম ধ্রুব সভাপতি এবং ঢাকা পোস্টের প্রতিবেদক জুবায়ের জিসান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ১৩ সদস্যবিশিষ্ট এই কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় শনিবার (২০ জুন) বিকেল ৩টায় প্রেসক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়ে। সংগঠনটির প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক ফলাফল ঘোষণা করেন। নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষে নতুন নেতৃত্বের নাম প্রকাশ করা হয়। কমিটির অন্যান্য পদে দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন সহ-সভাপতি ডেইলি ক্যাম্পাস ও মানবজমিনের প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন এবং দৈনিক ইনকিলাবের মিরাজ আফ্রিদি। সহ-সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এনটিভি ও দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিনিধি আবু ছালেহ শোয়েব। কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ফজলে রাব্বি পরশ। সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আমার দেশের প্রতিনিধি ফাহমিদুর রহমান ফাহিম। প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হয়েছেন দৈনিক কালবেলার প্রতিনিধি আজাহারুল ইসলাম মীর তুহিন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক এবং ক্রীড়া সম্পাদক হয়েছেন এশিয়া পোস্টের সৈয়দ হুজ্জাত উল্লাহ মাহিন। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মানবকণ্ঠের মাল্টিমিডিয়া প্রতিনিধি বিপ্লব উদ্দিন, বাণিজ্য বার্তার প্রতিনিধি সামিয়া আক্তার এবং জাগরণ নিউজের প্রতিনিধি মো. রাফাসান আলম। ফলাফল ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার, সদ্য বিদায়ী সভাপতি মনির হোসেন মাহিন এবং রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সেক্রেটারি ও মানবজমিনের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ডালিম হোসেন শান্ত। নতুন কমিটি ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি, রিপোর্টার্স ইউনিটি, শিক্ষক ফোরাম, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নতুন নেতৃত্বকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।