যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের কালামাজু শহরের নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে গৃহহীন মানুষের তাঁবু ঘিরে গড়ে উঠেছে বড় একটি অস্থায়ী বসতি। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি তাঁবুতে বসবাস করছেন কয়েক ডজন মানুষ। তবে রাস্তার পাবলিক রাইট অব ওয়ে বা জনসাধারণের চলাচলের জায়গা তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী দিয়ে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এবার সেগুলো সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ। সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ১৩ আগস্টের মধ্যে নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটের তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী সরিয়ে নিতে সেখানে বসবাসকারীদের ৭২ ঘণ্টার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সিটির ভাষ্য, রাস্তার জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা উন্মুক্ত ও চলাচলের উপযোগী রাখা তাদের দায়িত্ব। কালামাজু সিটির কমিউনিকেশনস ম্যানেজার মাইকেল স্মিথ বলেন, তাঁবু ও ব্যক্তিগত সামগ্রী রাস্তার রাইট অব ওয়ে বাধাগ্রস্ত করছে এবং এটি সিটি কোডের লঙ্ঘন। তাই বাধা দূর করতে সেখানে বসবাসকারীদের নির্দিষ্ট সময় দেওয়া হয়েছে। সিটি কর্তৃপক্ষ এ কার্যক্রমকে ‘রিমুভাল’ এবং ‘রাইট অব ওয়ে এনফোর্সমেন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এটিকে গৃহহীনদের শিবির ‘ক্লিয়ার’ বা ‘সুইপ’ করার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে না। স্থানীয়দের হিসাবে, ওই এলাকায় প্রায় ৩৪টি তাঁবু রয়েছে। সেখানে ৫০ জনের বেশি মানুষ বসবাস করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অনেক তাঁবুতে একাধিক মানুষ থাকেন। তাঁবুর বাইরে সাইকেল, কুলার, পোশাকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখা গেছে। কয়েকজনের সঙ্গে পোষা প্রাণীও রয়েছে। শিবিরের একজন বাসিন্দা বলেন, পুলিশ এসে তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। না সরালে সিটি কর্তৃপক্ষ ডাম্পস্টার নিয়ে এসে সেগুলো সরিয়ে দিতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। ৫৬ বছর বয়সী মালিন্ডা ডগলাস বলেন, অনেক মানুষ তাঁবু সরিয়ে নেওয়ার পর আবার এমন জায়গায় ফিরে যেতে পারেন, যেখান থেকে তাদের আগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ফলে শিবির সরিয়ে দেওয়ার পর তাঁরা কোথায় যাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বুধবার সকালে সিটির সার্ভিস কর্মীরা ওই এলাকায় গিয়ে ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহের কাজও করেন। তবে শিবিরে থাকা কয়েকজন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের পর তাঁদের কোথায় যাওয়ার ব্যবস্থা হবে, সে বিষয়ে কোনো পরিষ্কার পরিকল্পনা তাঁদের হাতে নেই। গত ১০ আগস্ট কালামাজু সিটি কমিশনের এক সভায় নর্থসাইড এলাকার এক বাসিন্দাও রাস্তাজুড়ে গড়ে ওঠা তাঁবুগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি এলাকাটিকে ‘একটি ছোট শহর’ হিসেবে বর্ণনা করে সিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটের এই তাঁবু শিবিরটি মন্ত্রণালয় উইথ কমিউনিটির কাছাকাছি। ৫০০ নর্থ এডওয়ার্ডস স্ট্রিটে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি গৃহহীন মানুষের জন্য ডে শেল্টার হিসেবে কাজ করে। সেখানে গোসল ও বিশ্রামাগারের সুবিধাও রয়েছে। তাঁবু সরানোর পাশাপাশি গৃহহীন মানুষদের সহায়তার জন্যও কাজ করছে সিটি কর্তৃপক্ষ। কালামাজু ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক সেফটির কমিউনিটি সার্ভিসেস টিম শিবিরে থাকা মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সামাজিক সেবার সঙ্গে তাদের যুক্ত করার চেষ্টা করছে। এ ছাড়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস অব কালামাজু, কালামাজু গসপেল মিনিস্ট্রিজ, মন্ত্রণালয় উইথ কমিউনিটি এবং কালামাজু কাউন্টি হেলথ অ্যান্ড কমিউনিটি সার্ভিসেসের সঙ্গে সমন্বয় করে সম্ভাব্য শেল্টার স্পেস খোঁজা এবং বাসিন্দাদের বিভিন্ন সেবার সঙ্গে যুক্ত করার কাজ চলছে। তবে তাঁবু সরানোর সময়সীমা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, এসব মানুষের পরবর্তী গন্তব্য কোথায় হবে। একদিকে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা উন্মুক্ত রাখার দায়িত্বের কথা বলছে সিটি কর্তৃপক্ষ, অন্যদিকে শিবিরে থাকা অনেক মানুষ নতুন করে আশ্রয় পাওয়ার অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি ব্যক্তিদের পাশে দাঁড়াতে নিউইয়র্কে কমিউনিটি সংগঠনগুলোর উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। আজ ফেডারেল প্লাজায় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের সহায়তা ও সংহতি জানাতে একটি কমিউনিটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিবাসন আদালত, আটক, বহিষ্কার এবং অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের তথ্য ও সহায়তার সুযোগ সম্পর্কে সচেতন করা হবে। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসী পরিবারগুলোর পাশে থাকার বার্তাও দেবেন। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও প্রয়োগ কার্যক্রম নিয়ে নিউইয়র্কের বিভিন্ন অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে যেসব পরিবারে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলা চলছে, তাদের অনেকেই আইনি প্রক্রিয়া, আদালতে হাজিরা এবং সম্ভাব্য আটকের বিষয়ে তথ্যের প্রয়োজন অনুভব করছেন। কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মতে, অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সঠিক তথ্য পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল তথ্যের কারণে অনেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সমস্যায় পড়তে পারেন। তাই আইনজীবী ও অনুমোদিত অভিবাসন সহায়তাকারীদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফেডারেল প্লাজার কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা অভিবাসীদের মানবিক মর্যাদা, আইনি অধিকার এবং পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়গুলো তুলে ধরবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগ অভিবাসী পরিবারগুলোর মধ্যে সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি, লাতিন আমেরিকান, দক্ষিণ এশীয়সহ বিভিন্ন অভিবাসী জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। ফলে অভিবাসনসংক্রান্ত যেকোনো নীতি বা আইন প্রয়োগের পরিবর্তন স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অভিবাসন মামলার ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি আলাদা। কোনো সরকারি নোটিশ বা আদালতের নির্দেশনা পাওয়া গেলে অনুমোদিত আইনজীবী বা স্বীকৃত আইনি সহায়তাকারীর পরামর্শ নেওয়াকে সবচেয়ে নিরাপদ পথ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আজকের এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিউইয়র্কের কমিউনিটি সংগঠনগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের উদ্দেশে মূলত একটি বার্তাই দিতে চায়—আইনি প্রক্রিয়ার কঠিন সময়ে তারা যেন একা না থাকেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সঠিক তথ্য পাওয়ার সুযোগ পান।
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে ফোর্ট হান্ট পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমভি এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের লাইভ সংগীত পরিবেশনার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের পাশাপাশি থাকবে সংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাফেল ড্র এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নকীব খানের পাশাপাশি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন। ফলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন সরাসরি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। প্রায় পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে তিনি সোলস ও রেনেসাঁর মতো ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের ব্যান্ড সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর সংগীতজীবন ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাইটপো যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমভি অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের একটি সংগঠন। সংগঠনটি পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও করে থাকে। এর আগে ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর আয়োজনে মেজবান ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। এবারের র্যাফেল ড্রতেও থাকছে নানা আকর্ষণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, হীরার আংটি, ল্যাপটপ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকছে অংশগ্রহণকারীদের জন্য। আয়োজক কমিটি থেকে স্যাম রিয়া বলেন, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের সঙ্গে সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও র্যাফেল ড্র যুক্ত করায় পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দিনটি আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় আরও গভীরভাবে তৈরি করা সম্ভব। চট্টগ্রামের মেজবান শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। প্রবাসের মাটিতে সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আগামী ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার এ-০০১-এ অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। মেজবানের স্বাদ, নকীব খানের লাইভ সংগীত এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনাকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক নন্দিতা দেব যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডে ডিফিল ইন মেডিকেল সায়েন্সেস প্রোগ্রামে উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন। ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া তার ডক্টরাল গবেষণার জন্য তিনি অক্সফোর্ডের এমআরসি আইকেস স্টুডেন্টশিপের আওতায় পূর্ণ অর্থায়ন পেয়েছেন। নন্দিতা দেব বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল প্রোফাইল অনুযায়ী, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তার গবেষণার আগ্রহের মধ্যে রয়েছে ম্যাগনেটিক ন্যানোপার্টিকেল, বায়োমেডিকেল অ্যাপ্লিকেশন এবং ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং বা এমআরআই। অক্সফোর্ডের ২০২৬ সালের এমআরসি আইকেস কর্মসূচি অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সায়েন্সেস ডিভিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে বিভিন্ন বিভাগের ৩১টি গবেষণা প্রকল্পের বিপরীতে মাত্র আটটি এমআরসি এন্টারপ্রাইজ আইকেস ডিফিল স্টুডেন্টশিপ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচিত গবেষকদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ ফি, চার বছরের স্টাইপেন্ড, গবেষণা ও প্রশিক্ষণ সহায়তা এবং নির্দিষ্ট ট্রাভেল অ্যালাউন্সের ব্যবস্থা রয়েছে। পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করলেও নন্দিতার গবেষণায় বায়োমেডিকেল সায়েন্সের সঙ্গে যোগসূত্র আগে থেকেই ছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তার গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র ম্যাগনেটিক হাইপারথার্মিয়া। ক্যানসার কোষকে লক্ষ্য করে চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ম্যাগনেটিক ন্যানোপার্টিকেল তৈরি এবং সেগুলোর বৈশিষ্ট্য নিয়ে তিনি গবেষণা করেছেন। তার একাধিক গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৩ সালে রয়্যাল সোসাইটি ওপেন সায়েন্সে প্রকাশিত একটি গবেষণায় তিনি হেমাটাইট ও কাইটোসানভিত্তিক ন্যানোহাইব্রিডের বৈশিষ্ট্য নিয়ে কাজ করেন। একই বছর এআইপি অ্যাডভান্সেসে প্রকাশিত আরেক গবেষণায় বায়োমেডিকেল ব্যবহারের সম্ভাবনাসম্পন্ন ম্যাগনেটাইট ন্যানোপার্টিকেল নিয়ে কাজ করেন। ২০২৪ সালে ফ্রন্টিয়ার্স ইন কেমিস্ট্রিতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায়ও তিনি সহলেখক ছিলেন। অক্সফোর্ডে তার গবেষণার ক্ষেত্র কার্ডিয়াক এমআরআইয়ের সঙ্গে যুক্ত। অক্সফোর্ডে বর্তমানে কার্ডিওভাসকুলার এমআর নিয়ে একাধিক উন্নত গবেষণা চলছে। এর মধ্যে হৃদযন্ত্রের গঠন, কার্যকারিতা ও টিস্যুর বৈশিষ্ট্য আরও নির্ভুলভাবে বিশ্লেষণ এবং রোগ নির্ণয়ে কার্ডিওভাসকুলার এমআর প্রযুক্তির ব্যবহার উন্নত করার গবেষণাও রয়েছে। নন্দিতা দেবের উচ্চশিক্ষার এই যাত্রায় বিশেষভাবে নজর কাড়ে পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল ইমেজিংয়ে তার গবেষণার বিস্তার। এমআরআই প্রযুক্তির ভিত্তিতেই রয়েছে শক্তিশালী পদার্থবিজ্ঞান। ফলে পদার্থবিজ্ঞানের জ্ঞানকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে এই আন্তঃবিষয়ক ক্ষেত্রে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল তথ্যেও মেডিকেল ইমেজিংকে নন্দিতার গবেষণার আগ্রহের একটি ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে এমআরআইয়ের পাশাপাশি এক্স-রে ইমেজিং ও বায়োমেডিকেল আল্ট্রাসাউন্ডের প্রতিও তার গবেষণার আগ্রহের কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহারযোগ্য ন্যানোপার্টিকেল নিয়ে গবেষণাকে তিনি তার দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা পরিকল্পনার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। নন্দিতা দেবের অক্সফোর্ড যাত্রা বাংলাদেশের একজন পদার্থবিজ্ঞান গবেষকের মেডিকেল সায়েন্সের অত্যাধুনিক গবেষণায় প্রবেশেরও একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পদার্থবিজ্ঞান, মেডিকেল ইমেজিং ও বায়োমেডিকেল গবেষণার সমন্বয়ে তার নতুন গবেষণার অধ্যায় শুরু হবে আগামী অক্টোবরে।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল চাকরি খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য চাকরি খোঁজা ও আবেদন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্ল্যাটফর্ম হলো USAJOBS। তবে বেসরকারি চাকরির মতো শুধু রিজিউমে পাঠালেই ফেডারেল চাকরির আবেদন শেষ হয় না। আবেদন করার আগে নাগরিকত্বের শর্ত, কে আবেদন করতে পারবেন, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা, কাজের স্থান, রিমোট নাকি অফিসভিত্তিক কাজ এবং কী কী কাগজপত্র লাগবে, সেসব বিষয় ভালোভাবে যাচাই করতে হয়। বিশেষ করে নাগরিক ও গ্রীনকার্ডধারীদের জন্য ফেডারেল চাকরির নিয়ম এক নয়। আবার পুরোপুরি রিমোট চাকরি এবং টেলিওয়ার্কও একই বিষয় নয়। তাই কোনো চাকরি দেখে সরাসরি আবেদন না করে প্রথমে পুরো চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়া জরুরি। কোথা থেকে ফেডারেল চাকরি খুঁজবেন: ফেডারেল সরকারের চাকরির অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির চাকরির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে পদের নাম, পেশা, লোকেশন, বেতন, কাজের সময়সূচি এবং অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী চাকরি খোঁজা যায়। প্রথমে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে। এর জন্য সরকারের লগইন ডট গভ (login.gov) ব্যবস্থার মাধ্যমে একাউন্ট ওপেন করে নিজের প্রোফাইল তৈরি করতে হয়। প্রোফাইল তৈরি করার পর চাকরি সংরক্ষণ, রিজিউমে রাখা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী নতুন চাকরির খবর পাওয়ার ব্যবস্থা করা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু সাধারণভাবে ফেডারেল চাকরি লিখে সার্চ না করে নিজের পেশা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট পদের নাম ব্যবহার করা বেশি কার্যকর। যেমন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স, অ্যাকাউন্টিং, ফাইন্যান্স, ডেটা অ্যানালিস্ট, সাইবারসিকিউরিটি, প্রোগ্রাম অ্যানালিস্ট, মানবসম্পদ, কন্ট্রাক্ট স্পেশালিস্ট বা প্রশাসনিক পদ। ফেডারেল চাকরির নির্দিষ্ট পেশাগত সিরিজ ব্যবহার করেও চাকরি খোঁজা যায়। পাশাপাশি লোকেশন অনুযায়ী সার্চ করা সম্ভব। আটলান্টা, নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ওয়াশিংটন ডিসি, টেক্সাস, ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন জায়গার চাকরি আলাদা করে খুঁজে দেখা যায়। রিমোট ফেডারেল চাকরি কীভাবে খুঁজবেন: যারা বাসা থেকে কাজ করতে চান, তাদের জন্য ফেডারেল সরকারের কিছু চাকরি পুরোপুরি রিমোট হিসেবে দেওয়া হয়। চাকরি খোঁজার সময় রিমোট কাজের ফিল্টার ব্যবহার করে এসব পদ আলাদা করা যায়। তবে রিমোট চাকরি এবং টেলিওয়ার্ক এক বিষয় নয়। রিমোট চাকরিতে সাধারণত নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকার প্রয়োজন থাকে না। অন্যদিকে টেলিওয়ার্কের ক্ষেত্রে কর্মীকে নির্দিষ্ট সময় বা পরিস্থিতিতে অফিসে যেতে হতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে টেলিওয়ার্কের সুযোগ রয়েছে লেখা থাকলেই সেটিকে পুরোপুরি রিমোট চাকরি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবার রিমোট লেখা থাকলেও আমেরিকার যেকোনো জায়গা থেকে কাজ করা যাবে কি না, সেটি বিজ্ঞপ্তির লোকেশন ও অন্যান্য শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে। কিছু রিমোট চাকরিতে নির্দিষ্ট স্টেটের জন্য বা টাইম জোনের শর্ত থাকতে পারে। সিটিজেনরা কোন ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের জন্য ফেডারেল চাকরির সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি। তবে নাগরিক হলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “This job is open to” অংশটি প্রথমে দেখতে হবে। সেখানে বলা থাকে চাকরিটি সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত কি না, নাকি শুধু বর্তমান ফেডারেল কর্মী, ভেটেরান, মিলিটারি স্পাউস, শিক্ষার্থী, সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েট বা অন্য কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের জন্য খোলা। যদি সেখানে “Open to the public” লেখা থাকে, তাহলে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা আবেদন করতে পারেন। তবে এরপরও ওই পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা এবং আবেদন করার অধিকার এক বিষয় নয়: ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে একজন চাকরিপ্রার্থীর যোগ্যতা এবং তিনি ওই চাকরিতে আবেদন করতে পারবেন কি না, দুটি আলাদা বিষয়। আপনার প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা থাকলেও আপনি যদি ওই চাকরির জন্য নির্ধারিত আবেদনকারীর শ্রেণির মধ্যে না পড়েন, তাহলে নিয়োগকারী এজেন্সি আপনার আবেদন পর্যালোচনা নাও করতে পারে। তাই প্রথমে দেখতে হবে কারা আবেদন করতে পারবেন সেই তালিকায় আছেন কি না। এরপর দেখতে হবে আপনার শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং নির্দিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা চাকরিটির প্রয়োজনীয়তার সঙ্গে মেলে কি না। গ্রিন কার্ডধারী বা নন-সিটিজেনরা কি আবেদন করতে পারবেন: বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের চাকরিতে কাজ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে হয়। তবে এর কিছু সীমিত ব্যতিক্রম রয়েছে। কিছু পরিস্থিতিতে কোনো ফেডারেল এজেন্সি নন-সিটিজেনকে নির্দিষ্ট ধরনের সরকারি পদে নিয়োগ দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইন, অর্থ বরাদ্দের বিধান এবং এজেন্সির নিজস্ব নীতিমালা প্রযোজ্য হয়। কিছু পরিস্থিতিতে যোগ্য মার্কিন নাগরিক না পাওয়া গেলে বিশেষ অনুমোদনের মাধ্যমে নন-সিটিজেন নিয়োগের সুযোগও থাকতে পারে। অর্থাৎ গ্রিন কার্ড আছে বলেই সব ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন নয়। আবার নন-সিটিজেনদের জন্য কোনো ফেডারেল চাকরির সুযোগই নেই, সেটিও সঠিক নয়। কোনো নির্দিষ্ট চাকরিতে নন-সিটিজেন আবেদন করতে পারবেন কি না, তা জানতে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তির “This job is open to” এবং যোগ্যতার অংশ দেখতে হবে। সন্দেহ থাকলে বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া সংশ্লিষ্ট এজেন্সির যোগাযোগের ইমেল এ মেইল দিতে পারেন। রিজিউমে তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম: ফেডারেল চাকরির জন্য রিজিউমে তৈরির ক্ষেত্রেও কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য রিজিউমে দুই পৃষ্ঠার বেশি হওয়া যাবে না। ওয়েবসাইটের রিজিউমে তৈরির ব্যবস্থাতেও দুই পৃষ্ঠার বেশি রিজিউমে সংরক্ষণ করা যায় না। তবে শুধু দুই পৃষ্ঠার রিজিউমে বানালেই হবে না। যে চাকরিতে আবেদন করছেন, সেই চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে চাওয়া অভিজ্ঞতা ও দক্ষতার সঙ্গে মিল রেখে রিজিউমে তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন কোনো পদে নির্দিষ্ট সফটওয়্যার, প্রোগ্রামিং ভাষা, ডেটাবেস, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বা অন্য কোনো বিশেষ দক্ষতা চাওয়া হলে নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্যে সেগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি চাকরির জন্য একই রিজিউমে ব্যবহার না করে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা সামনে আনা বেশি কার্যকর। ফেডারেল নিয়োগকারী এজেন্সি রিজিউমের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রার্থীর যোগ্যতা মূল্যায়ন করে। চাকরির বিজ্ঞপ্তি পুরোটা পড়ুন: ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার আগে শুধু পদের নাম ও বেতন দেখলেই হবে না। পুরো চাকরির বিজ্ঞপ্তি পড়তে হবে। প্রথমে দেখতে হবে চাকরিটি কার জন্য উন্মুক্ত। এরপর দায়িত্ব, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বিশেষ ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা এবং অন্যান্য শর্ত দেখতে হবে। এরপর কাজের স্থান এবং কাজের ধরন দেখতে হবে। চাকরিটি অফিসে গিয়ে করতে হবে, নাকি রিমোট, নাকি টেলিওয়ার্কের সুযোগ রয়েছে, সেটি বিজ্ঞপ্তিতেই পরিষ্কার করা থাকে। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকাও দেখতে হবে। কোনো চাকরিতে রিজিউমের পাশাপাশি শিক্ষাগত সনদ, ট্রান্সক্রিপ্ট, পেশাগত লাইসেন্স বা অন্য কোনো নথি প্রয়োজন হতে পারে। বাংলাদেশি চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের অনেকেই তথ্যপ্রযুক্তি, হেলথ কেয়ার, ফাইন্যান্স, অ্যাকাউন্টিং, ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবারসিকিউরিটি, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট এবং প্রশাসনিক বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। তাদের জন্য ফেডারেল চাকরি খোঁজার সময় নিজের বর্তমান পেশা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল রেখে নির্দিষ্ট পদের নাম ব্যবহার করা কার্যকর হতে পারে। তবে শুধু নিজের পেশার সঙ্গে মিলে গেলেই আবেদন করা উচিত নয়। প্রথমে নাগরিকত্বের শর্ত ও কারা আবেদন করতে পারবেন তা দেখতে হবে। এরপর অভিজ্ঞতা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। তারপর কাজের স্থান, রিমোট বা অফিসভিত্তিক কাজ, বেতন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখতে হবে। আরেকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, কোনো ব্যক্তি ফেডারেল সরকারের কোনো এজেন্সির জন্য প্রাইভেট কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করলেও তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফেডারেল সরকারের সরাসরি কর্মী হয়ে যান না। কন্ট্রাক্টর হিসেবে কাজ করা এবং সরাসরি ফেডারেল কর্মী হওয়া আলাদা বিষয়। ফেডারেল চাকরির ধরনও এক নয়। সরকারের চাকরি মূলত প্রতিযোগিতামূলক সার্ভিস, ব্যতিক্রমী সার্ভিস এবং সিনিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসসহ বিভিন্ন ব্যবস্থার অধীনে হতে পারে। প্রতিটি ব্যবস্থায় নিয়োগের নিয়ম আলাদা হতে পারে। সবশেষে, ফেডারেল চাকরিতে আবেদন করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক চাকরি খুঁজে বের করা এবং বিজ্ঞপ্তির প্রতিটি শর্ত মেনে আবেদন সম্পূর্ণ করা। নাগরিকদের জন্য সুযোগ তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত হলেও সব চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। নন-সিটিজেনদের ক্ষেত্রে সুযোগ আরও সীমিত এবং চাকরিভেদে নিয়ম আলাদা হতে পারে। আর যারা বাসা থেকে কাজ করতে চান, তাদের জন্য রিমোট চাকরি অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে রিমোট এবং টেলিওয়ার্কের পার্থক্য বুঝে আবেদন করা জরুরি। তাই ফেডারেল চাকরি খোঁজার সময় প্রথমে নিজের পেশা অনুযায়ী চাকরি খুঁজুন। এরপর কারা আবেদন করতে পারবেন তা যাচাই করুন। যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার শর্ত পড়ুন। কাজের স্থান ও কাজের ধরন দেখুন। প্রয়োজন অনুযায়ী রিজিউমে তৈরি করুন এবং “How to Apply” অংশের নির্দেশনা অনুসরণ করে আবেদন সম্পূর্ণ করুন। সঠিক চাকরি বেছে নিয়ে বিজ্ঞপ্তির সব শর্ত মেনে আবেদন করাই ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে সফলভাবে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিক নির্বাচনে বিজয়ের পর আবদুল এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে সামাজিক মাধ্যমে ইসলামবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক প্রচারণা প্রায় ২০ গুণ বেড়েছে বলে এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট (CSOH)-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৩ আগস্ট পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১৫৫টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্টে এল-সায়েদের নাম উল্লেখ করা হলেও ৪ থেকে ১০ আগস্টের মধ্যে সেই সংখ্যা প্রতিদিন গড়ে ৩ হাজার ৯৯টিতে পৌঁছে। অর্থাৎ মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে এ ধরনের পোস্টের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮৯৫ শতাংশ বেড়েছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এল-সায়েদকে লক্ষ্য করে মোট ৩৮ হাজার ২৮০টি ইসলামবিদ্বেষী পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ৪ থেকে ১০ আগস্টের সাত দিনেই করা হয়েছে প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ পোস্ট। সবচেয়ে বেশি পোস্ট করা হয় ৫ আগস্ট, সেদিন একদিনেই ৬ হাজার ৯২৩টি পোস্ট প্রকাশিত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ছড়ানো ৪ লাখ ৯ হাজার ৬৪০টি পোস্টও পর্যবেক্ষণ করেছে গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি। গ্রীষ্মকালজুড়ে এক দিনে সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৮৩টি এমন পোস্টও করা হয় ৫ আগস্ট। গবেষণা অনুযায়ী, বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বড় অংশজুড়ে এল-সায়েদকে ভিত্তিহীনভাবে "ইসলামি জিহাদি" হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে এবং তাকে হামাস, হিজবুল্লাহ ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জড়িয়ে নানা দাবি করা হয়েছে। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামী আইন চালু করতে চান, মুসলিম সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক অনুদানকে "সন্ত্রাসে অর্থায়ন" হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তথাকথিত "ইসলামপন্থী ও কমিউনিস্টদের দখলে চলে যাচ্ছে" এমন ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যও ছড়ানো হয়েছে। কিছু পোস্টে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনে এল-সায়েদকে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আবার কিছু পোস্টে পশ্চিমা দেশগুলো থেকে মুসলিমদের ব্যাপকভাবে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির মতে, এই প্রচারণার ধরন অনেকটাই নিউইয়র্ক সিটির মেয়র নির্বাচনে গত বছর মুসলিম প্রার্থী জোহরান মামদানির সফল প্রচারণার সময় দেখা ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্যের সঙ্গে মিল রয়েছে। কোনো মুসলিম প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে গেলে বা জয়ী হলে একই ধরনের বিদ্বেষমূলক ভাষা ও অভিযোগ বারবার সামনে আসে। আবদুল এল-সায়েদ মিশিগানের সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে তিনি কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন। স্টিভেন্সের পক্ষে প্রভাবশালী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (AIPAC) ৩ কোটি ডলারের বেশি ব্যয় করেছিল বলে বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যম জানিয়েছে। আগামী নভেম্বরে অবসর নিতে যাওয়া সিনেটর গ্যারি পিটার্সের শূন্য আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সায়েদ। ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই আসনটি সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নির্বাচনী প্রচারণায় এল-সায়েদ জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং ইসরায়েলসহ বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। সম্প্রতি সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "আমি রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমাতে চাই, মানুষের পকেটে অর্থ ফেরাতে চাই এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চাই।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সমালোচনাকে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক সমস্যাগুলো থেকে দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এল-সায়েদকে "র্যাডিক্যাল লেফট সোশ্যালিস্ট", "কমিউনিস্ট" এবং ইহুদি ও ইসরায়েলবিরোধী বলে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও এক নির্বাচনী বিতর্কে এল-সায়েদ নিজেকে সমাজতন্ত্রী নন উল্লেখ করে বলেন, "আমি সমাজতন্ত্রী নই। আমি এমন একজন পুঁজিবাদী, যিনি পুঁজিবাদ কীভাবে কাজ করে তা বোঝেন।" গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউসের এক গোলটেবিল বৈঠকে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ব্যঙ্গাত্মকভাবে তাকে "প্রেসিডেন্ট আবদুল এল-সায়েদ" বলে উল্লেখ করেন। স্বাধীন সংবাদমাধ্যম ডেমোক্রেসি নাউকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে এল-সায়েদ বলেন, তিনি প্রথম হওয়ার বিষয়টির চেয়ে নিজের অঙ্গরাজ্যের জন্য একজন কার্যকর সিনেটর হতে চান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি উন্মুক্ত, উদার ও বহুত্ববাদী দেশ, আর সেই মূল্যবোধই তিনি প্রতিনিধিত্ব করতে চান।
ওমান উপকূলে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেল ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের ট্যাংকারটিতে প্রায় ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ছিল। জুনে বিস্ফোরণের পর জাহাজটি ওমান উপকূলে আটকে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। স্যাটেলাইট চিত্রে এক পর্যায়ে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায় তেলের স্তর ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরিস্থিতি এরপর আরও গুরুতর হয়েছে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে তেল শুধু দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সাগরেই সীমাবদ্ধ নেই, ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতেও পৌঁছে গেছে। দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাবিলিয়াহ দ্বীপের উত্তরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের রাস মাদরাকাহ এলাকার সৈকতেও তেলদূষণ শনাক্ত হয়েছে। আরও উত্তরে অবস্থিত মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্বীপটির দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি। মৌসুমি প্রবল বাতাস ও সাগরের স্রোতের কারণে তেল দ্রুত উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ২৪৭ মিটার দীর্ঘ ক্যারোলিন বেজেঙ্গি মে মাসে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। জুনে ইয়েমেনের কাছাকাছি অবস্থানের সময় জাহাজটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ৩০ জুন এটি ওমানের কাবিলিয়াহ দ্বীপের কাছে আটকে যায়। বিস্ফোরণের কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং কোনো পক্ষও ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। ফলে জাহাজটির ক্ষতি দুর্ঘটনা, নাশকতা নাকি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত—তা এখনো নিশ্চিত নয়। জাহাজটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক পক্ষের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত পুরোনো ও মালিকানা কাঠামো অস্বচ্ছ এমন জাহাজগুলোর বহরকে সাধারণভাবে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলা হয়। তেল ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও প্যাক্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী বিশ্লেষণে দূষণের প্রভাব আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সামনে এসেছে। ফলে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের হিসাবটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, বর্তমান সর্বোচ্চ বিস্তার নয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে। ট্যাংকারটি যে এলাকায় আটকে রয়েছে, তার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল রয়েছে। সেখানে বিপন্ন অ্যারাবিয়ান সি হাম্পব্যাক তিমি, সামুদ্রিক পাখি এবং অন্যান্য বিরল প্রাণীর আবাস। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অপরিশোধিত তেল অগভীর পানি ও সৈকতে পৌঁছালে দীর্ঘমেয়াদে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তেলের স্তর মাছ, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ওমানের খারিফ মৌসুম। এ সময় শক্তিশালী বাতাস ও সাগরের স্রোত তেল দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। একই কারণে জাহাজে পৌঁছানো, তেল আটকে রাখা এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে এখন ক্যারোলিন বেজেঙ্গি উদ্ধারের কাজে যুক্ত হয়েছে। ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটিকে স্থিতিশীল করা এবং এর ভেতরে থাকা অবশিষ্ট তেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক তেলদূষণ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদেরও কাজে যুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখনো জাহাজটির ভেতরে থাকা তেল। প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল বহনক্ষমতার তেলবোঝাই ট্যাংকারটির সব তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েনি। জাহাজটি আরও ভেঙে গেলে কয়েক কোটি গ্যালন অপরিশোধিত তেল নতুন করে সাগরে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই বলছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি কাজ হচ্ছে ট্যাংকারটিকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা এবং অবশিষ্ট তেল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া। কারণ তেল ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতে পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় সামুদ্রিক তেলদূষণ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
ফ্লোরিডার প্রস্তাবিত সম্পত্তি কর সংশোধনী পাস হলে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির মুখে পড়তে পারে ক্লিয়ারওয়াটার শহর। শহর কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৮ ও ২০২৯ অর্থবছরে ঘাটতির পরিমাণ ২ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে। সেই ঘাটতি সামাল দিতে প্রায় ১৪০টি পদ বিলুপ্ত করার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবিত সাংবিধানিক সংশোধনীটি আগামী ৩ নভেম্বর ২০২৬ ফ্লোরিডার সাধারণ নির্বাচনে ভোটারদের সামনে যাবে। প্রস্তাবটি পাস করতে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। এতে ২০২৭ সালে বসতবাড়ির মালিকদের করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার এবং ২০২৮ সালে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে। ক্লিয়ারওয়াটার কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই পরিবর্তনের ফলে শহরের সাধারণ তহবিলে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব কমে যেতে পারে। ফলে ২০২৮ সালে প্রায় ৭৫টি পূর্ণকালীন পদ এবং ২০২৯ সালে আরও ৬৪টি পদ কমানোর প্রয়োজন হতে পারে। এই পদগুলো বিভিন্ন শহর বিভাগে ছড়িয়ে রয়েছে। সম্পত্তি কর থেকে পাওয়া অর্থ পুলিশ, অগ্নিনির্বাপণ, জনসেবা, পার্ক ও বিনোদনসহ শহরের বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। রাজস্ব কমে গেলে পুলিশ বিভাগের কিছু প্রযুক্তি ও তদন্ত-সহায়ক সরঞ্জামের বাজেট কমানো এবং পার্ক ও বিনোদনমূলক সেবায় কাটছাঁটের মতো পদক্ষেপও নিতে হতে পারে বলে শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এখনই এসব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। নির্বাচনের ফলাফল কী হবে, তা অনিশ্চিত থাকায় শহর কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম বাজেট পরিকল্পনা করছে। ঘাটতি সামাল দিতে বিকল্প আয়ের পথও খুঁজছে ক্লিয়ারওয়াটার। এর মধ্যে রয়েছে বিনোদনমূলক সেবার ফি বাড়ানো, শহরের বিভিন্ন স্থাপনার চুক্তি পুনর্বিন্যাস এবং বেকেয়ার সাউন্ডের টিকিট বিক্রির রাজস্ব ভাগাভাগির চুক্তি পুনরায় আলোচনা। পিয়ার ৬০ বেইট হাউসের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। ফ্লোরিডার সম্পত্তি কর সংস্কার নিয়ে ইতোমধ্যে রাজ্যজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমর্থকেরা বলছেন, এতে বাড়ির মালিকদের করের বোঝা কমবে। অন্যদিকে স্থানীয় সরকারগুলো আশঙ্কা করছে, কর রাজস্ব কমে গেলে পুলিশ, অবকাঠামো, পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ জনসেবায় চাপ তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্কুল ছুটি শেষে পুনরায় খুলতে শুরু করেছে, যেখানে শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনবিহীন শ্রেণিকক্ষের এক নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। অন্তত ৩৯টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসিতে স্কুলে ফোন ব্যবহারের ওপর নতুন নীতিমালা কার্যকর হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও অভিভাবকরা প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসলেও, এই নীতি নির্ধারণী আলোচনাগুলোতে তরুণদের মতামত অনেকটাই উপেক্ষিত ছিল। তবে অনেক শিক্ষার্থীই স্কুলে স্ক্রিন-টাইম কমানোর এই উদ্যোগকে সমর্থন করছেন। তাদের মতে, এসব নীতিমালা প্রায়শই অপরিকল্পিতভাবে প্রয়োগ করা হয় এবং এটি স্ক্রিন আসক্তির মূল কারণগুলোকে সমাধান করতে পারে না। এর ফলে, শিক্ষার্থীরা এখন নিজেদের 'ডিজিটাল সুস্থতা' নিশ্চিত করতে এবং প্রযুক্তিমুক্ত শিক্ষার পরিবেশে খাপ খাইয়ে নিতে অফলাইন সহায়তা ও বিকল্প কর্মসূচির দাবি তুলছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন আইনে স্কুলগুলোকে ক্যাম্পাসে ফোন ব্যবহার সীমিত করার নীতিমালা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অরেঞ্জ কাউন্টি স্কুল অব দ্য আর্টসের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী এলিস চোই মনে করেন, কেবল ডিভাইস আটকে রাখা খুব একটা কার্যকর হবে না, কারণ শিক্ষার্থীরা নিয়ম ভাঙার উপায় ঠিকই খুঁজে বের করবে। তার মতে, শিক্ষার্থীরা ডিভাইসে কতটা সময় কাটাচ্ছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সেই সময়টা তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলছে। চোই এবং তার মতো অনেক শিক্ষার্থী এখন স্কুলগুলোতে 'ডিজিটাল ওয়েলনেস এডুকেশন' বা ডিজিটাল সুস্থতা বিষয়ক শিক্ষার দাবি জানাচ্ছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়া ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তারা বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানোর কারণে তরুণদের মধ্যে অনিদ্রা ও মনোযোগহীনতা বাড়ছে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরেও ব্যাপক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। এদিকে, অনেক শিক্ষার্থী নিজেদের স্কুলেই স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার নীতিমালা তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। ক্যালিফোর্নিয়ার টাস্টিনের লিগ্যাসি ম্যাগনেট একাডেমির শিক্ষার্থী লিভ কংয়ের নেতৃত্বে একটি দল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা তৈরি করেছে। এক বছর আগে স্কুল কর্তৃপক্ষ একতরফাভাবে ফোন নিষিদ্ধ করলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। পরে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কেবল ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ এবং বিরতির সময় ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে নতুন নিয়ম চালু করা হয়। একইভাবে সান ডিয়েগোতে ফোন নিষেধাজ্ঞার পর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রশমনে কাজ করছেন ১৭ বছর বয়সী ভিহান ভরদ্বাজ। তিনি শিক্ষা কর্মকর্তাদের সাথে মিলে এমনভাবে নীতিমালাগুলো প্রচারের চেষ্টা করছেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে যে এসব নিয়ম তাদের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ নয়, বরং তাদের সহায়তার জন্যই করা হয়েছে। স্মার্টফোনের বিকল্প হিসেবে অফলাইন সংযোগ ও বিনোদনের ব্যবস্থা করতেও এগিয়ে আসছে শিক্ষার্থীরা। নিউইয়র্কে গত বছর ক্লাস চলাকালীন ফোন নিষিদ্ধ করার পর 'হ্যাশট্যাগ হাফ দ্য স্টোরি' নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সহায়তায় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তিমুক্ত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় একটি গ্রামীণ স্কুলে আর্ট প্রোগ্রাম চালুর জন্য 'ক্রাফটস কার্ট' স্থাপন করা হয়েছে। ব্রঙ্কসের ডেমোক্রেসি প্রেপ এন্ডুরেন্স হাইস্কুলের সাম্প্রতিক স্নাতক কেইডেন বোয়াহেন একটি অনুদানের সাহায্যে 'ওয়েলনেস ডে' আয়োজন করেন, যেখানে প্রায় ১০০ শিক্ষার্থী ফোন ছাড়াই খেলাধুলা ও আড্ডার মাধ্যমে একে অপরের সাথে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পায়। পাশাপাশি, লাজুক স্বভাবের বা ইন্ট্রোভার্ট শিক্ষার্থীদের সামাজিকীকরণে সহায়তার জন্য লং আইল্যান্ডের ভ্যালি স্ট্রিম নর্থ হাইস্কুলে এই শরৎকাল থেকে একটি 'ডিটক্স রুম' চালু হতে যাচ্ছে। বই ও স্ট্রেস রিলিজের খেলনা দিয়ে সাজানো এই রুমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও মানসিক প্রশান্তি খোঁজার সুযোগ পাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মার্টফোন নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি তরুণদের মানসিক বিকাশে এমন অফলাইন উদ্যোগগুলোই হয়ে উঠতে পারে আগামী দিনের শিক্ষার অন্যতম অনুষঙ্গ।
ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান ও সাংস্কৃতিক আয়োজন। বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে ফোর্ট হান্ট পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ডিএমভি এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের লাইভ সংগীত পরিবেশনার সুযোগ পাচ্ছেন প্রবাসীরা। দিনব্যাপী এই আয়োজনে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের পাশাপাশি থাকবে সংগীত পরিবেশনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, রাফেল ড্র এবং বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার। পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে আয়োজনটি বড় একটি মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নকীব খানের পাশাপাশি জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করবেন। ফলে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ গ্রহণের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন সরাসরি সংগীত ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। প্রায় পাঁচ দশকের সংগীতজীবনে তিনি সোলস ও রেনেসাঁর মতো ব্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশের ব্যান্ড সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর সংগীতজীবন ও দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে দ্য ডেইলি স্টারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বাইটপো যুক্তরাষ্ট্রের ডিএমভি অঞ্চলে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের একটি সংগঠন। সংগঠনটি পেশাগত কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজনও করে থাকে। এর আগে ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর আয়োজনে মেজবান ও পারিবারিক অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছে। এবারের র্যাফেল ড্রতেও থাকছে নানা আকর্ষণ। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, হীরার আংটি, ল্যাপটপ, টেলিভিশনসহ বিভিন্ন পুরস্কার জেতার সুযোগ থাকছে অংশগ্রহণকারীদের জন্য। আয়োজক কমিটি থেকে স্যাম রিয়া বলেন, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানের সঙ্গে সংগীত, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও র্যাফেল ড্র যুক্ত করায় পরিবার নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের জন্য দিনটি আরও আনন্দময় হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের পরিচয় আরও গভীরভাবে তৈরি করা সম্ভব। চট্টগ্রামের মেজবান শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। প্রবাসের মাটিতে সেই ঐতিহ্যকে তুলে ধরার পাশাপাশি বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষের মধ্যে যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানোও এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। আগামী ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার এ-০০১-এ অনুষ্ঠিত হবে এ আয়োজন। মেজবানের স্বাদ, নকীব খানের লাইভ সংগীত এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনাকে ঘিরে উত্তর ভার্জিনিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ইতোমধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রাজনীতি
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View moreওমান উপকূলে আটকে থাকা নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাংকার থেকে ছড়িয়ে পড়া অপরিশোধিত তেল ভয়াবহ পরিবেশগত সংকট তৈরি করেছে। রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর সঙ্গে যুক্ত ক্যারোলিন বেজেঙ্গি নামের ট্যাংকারটিতে প্রায় ৮ লাখ থেকে ১০ লাখ ব্যারেল রুশ অপরিশোধিত তেল ছিল। জুনে বিস্ফোরণের পর জাহাজটি ওমান উপকূলে আটকে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে সেখান থেকে তেল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। স্যাটেলাইট চিত্রে এক পর্যায়ে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকায় তেলের স্তর ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরিস্থিতি এরপর আরও গুরুতর হয়েছে। সর্বশেষ পর্যবেক্ষণে তেল শুধু দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সাগরেই সীমাবদ্ধ নেই, ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতেও পৌঁছে গেছে। দেশটির পরিবেশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাবিলিয়াহ দ্বীপের উত্তরে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের রাস মাদরাকাহ এলাকার সৈকতেও তেলদূষণ শনাক্ত হয়েছে। আরও উত্তরে অবস্থিত মাসিরাহ দ্বীপের দক্ষিণ উপকূলও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্বীপটির দূরত্ব ৩০০ কিলোমিটারের বেশি। মৌসুমি প্রবল বাতাস ও সাগরের স্রোতের কারণে তেল দ্রুত উত্তর দিকে ছড়িয়ে পড়ছে। ২৪৭ মিটার দীর্ঘ ক্যারোলিন বেজেঙ্গি মে মাসে রাশিয়ার কৃষ্ণসাগরীয় বন্দর নভোরোসিস্ক থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে যাত্রা শুরু করে। জুনে ইয়েমেনের কাছাকাছি অবস্থানের সময় জাহাজটিতে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে ৩০ জুন এটি ওমানের কাবিলিয়াহ দ্বীপের কাছে আটকে যায়। বিস্ফোরণের কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি এবং কোনো পক্ষও ঘটনার দায় স্বীকার করেনি। ফলে জাহাজটির ক্ষতি দুর্ঘটনা, নাশকতা নাকি চলমান আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে যুক্ত—তা এখনো নিশ্চিত নয়। জাহাজটি যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক পক্ষের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত পুরোনো ও মালিকানা কাঠামো অস্বচ্ছ এমন জাহাজগুলোর বহরকে সাধারণভাবে রাশিয়ার ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বলা হয়। তেল ছড়িয়ে পড়ার পরিমাণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। আগস্টের প্রথম সপ্তাহে পরিবেশবাদী সংগঠন গ্রিনপিস ও প্যাক্সের স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় তেল ছড়িয়ে পড়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরবর্তী বিশ্লেষণে দূষণের প্রভাব আরও বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সামনে এসেছে। ফলে ৮০০ বর্গকিলোমিটারের হিসাবটি একটি নির্দিষ্ট সময়ের স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, বর্তমান সর্বোচ্চ বিস্তার নয়। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে। ট্যাংকারটি যে এলাকায় আটকে রয়েছে, তার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সংরক্ষিত অঞ্চল রয়েছে। সেখানে বিপন্ন অ্যারাবিয়ান সি হাম্পব্যাক তিমি, সামুদ্রিক পাখি এবং অন্যান্য বিরল প্রাণীর আবাস। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অপরিশোধিত তেল অগভীর পানি ও সৈকতে পৌঁছালে দীর্ঘমেয়াদে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের ক্ষতি অনেক বেড়ে যেতে পারে। তেলের স্তর মাছ, সামুদ্রিক স্তন্যপায়ী প্রাণী, পাখি এবং উপকূলীয় জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে ওমানের খারিফ মৌসুম। এ সময় শক্তিশালী বাতাস ও সাগরের স্রোত তেল দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে। একই কারণে জাহাজে পৌঁছানো, তেল আটকে রাখা এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যামব্রে এখন ক্যারোলিন বেজেঙ্গি উদ্ধারের কাজে যুক্ত হয়েছে। ওমানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজটিকে স্থিতিশীল করা এবং এর ভেতরে থাকা অবশিষ্ট তেল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। আন্তর্জাতিক তেলদূষণ মোকাবিলা বিশেষজ্ঞদেরও কাজে যুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এখনো জাহাজটির ভেতরে থাকা তেল। প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল বহনক্ষমতার তেলবোঝাই ট্যাংকারটির সব তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়েনি। জাহাজটি আরও ভেঙে গেলে কয়েক কোটি গ্যালন অপরিশোধিত তেল নতুন করে সাগরে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই বলছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে জরুরি কাজ হচ্ছে ট্যাংকারটিকে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা এবং অবশিষ্ট তেল দ্রুত সরিয়ে নেওয়া। কারণ তেল ইতোমধ্যেই দুর্ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে ওমানের মূল ভূখণ্ডের সৈকতে পৌঁছে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা না গেলে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম বড় সামুদ্রিক তেলদূষণ বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে।
অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহের কথা বলে পরিচালিত ৩৪ মিলিয়ন ডলারের প্রতারণা মামলায় ২১ বছরের বেশি কারাদণ্ড পাওয়া পলাতক মাইকেল লিজাসো মারাসিগানকে ফিলিপাইনের ম্যানিলায় দেখা গেছে। এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় থাকা মারাসিগানকে ধরিয়ে দেওয়ার তথ্যের জন্য ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন। প্যাসিফিক ডেইলি নিউজের কর্মীদের তোলা একটি ছবির বরাত দিয়ে হাওয়াই নিউজ নাউ জানিয়েছে, গত ১৫ মার্চ ম্যানিলায় একটি ক্যাফে থেকে বের হওয়ার সময় মারাসিগানের ছবি তোলা হয়। ছবিটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর তার অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এফবিআইয়ের হনুলুলু ফিল্ড অফিস জানিয়েছে, মারাসিগান এখনও পলাতক এবং তাকে বিচারের মুখোমুখি করতে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। ৫৪ বছর বয়সী মারাসিগান যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের দ্বৈত নাগরিক। গুয়ামের হাফা আদাই বিঙ্গো নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত বিশাল প্রতারণা ও মানি লন্ডারিং স্কিমের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি হিসেবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। মামলাটি তদন্ত করে এফবিআই ও আইআরএস ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মারাসিগান ও তার সহযোগীরা গুয়াম শ্রাইন ক্লাবের হাফা আদাই বিঙ্গো পরিচালনা করেন। খেলোয়াড় ও সাধারণ মানুষকে বলা হতো, বিঙ্গো থেকে পাওয়া অর্থ অসুস্থ শিশু এবং তাদের একজন অভিভাবককে চিকিৎসার জন্য হাওয়াইয়ের শ্রাইনার্স হাসপাতালে পাঠানোর কাজে ব্যয় হবে। কিন্তু ফেডারেল আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র। ওই সময় বিঙ্গো কার্যক্রম থেকে প্রায় ৩৪ মিলিয়ন ডলার আয় হলেও এর মধ্যে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ব্যক্তিগত লাভের জন্য সরিয়ে নেওয়া ও পাচার করা হয়। বিচার বিভাগের হিসাবে, অ্যালোহা শ্রাইনার্সের পাওয়ার কথা ছিল এমন ১০ লাখ নয়, পুরো ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার সরিয়ে নিয়েছিলেন মারাসিগান ও তার সহযোগীরা। ব্যাংক রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে বিঙ্গো থেকে সংগৃহীত অর্থের মাত্র প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার অ্যালোহা শ্রাইনার্স এবং শিশুদের বিমানযাত্রার খরচে ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০২১ সালে বিঙ্গোর অর্থ থেকে সংগঠনটির ঘোষিত দাতব্য উদ্দেশ্যে কোনো অর্থই ব্যয় করা হয়নি বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ। ২০২৫ সালের ১৩ মে ফেডারেল জুরি মারাসিগান ও তার সহযোগীদের অবৈধ জুয়া ব্যবসা পরিচালনার ষড়যন্ত্র, মানি লন্ডারিং ষড়যন্ত্র এবং ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। মারাসিগানকে পৃথক কয়েকটি মানি লন্ডারিং অভিযোগেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য ফিলিপাইনে যাওয়ার অনুমতি পেয়েছিলেন মারাসিগান। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ফিরে না এসে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর ২০২৫ সালের জুনে প্রিট্রায়াল রিলিজের শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ফেডারেল অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট জারি করা হয়। পলাতক থাকা অবস্থাতেই ২০২৬ সালের ১৮ মে তাকে সাজা দেন গুয়ামের ফেডারেল আদালত। মারাসিগানকে ২৬২ মাস বা প্রায় ২১ বছর ১০ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অ্যালোহা শ্রাইনার্সকে ১ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার ৮০৪ ডলার ক্ষতিপূরণ, ৫৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৯৩ ডলার ফরফেইচার এবং ৬ হাজার ৫০০ ডলার বাধ্যতামূলক আদালত ফি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তাকে এফবিআইয়ের মোস্ট ওয়ান্টেড ফ্রডস্টারস তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তার অবস্থান শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়ক তথ্যের জন্য বর্তমানে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। এফবিআই তাকে পালিয়ে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে এবং জানিয়েছে, গুয়াম ও ফিলিপাইন উভয় জায়গাতেই তার যোগাযোগ রয়েছে। ম্যানিলায় মারাসিগানের সাম্প্রতিক ছবিকে তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত এফবিআই স্পেশাল এজেন্ট টম সাইমন হাওয়াই নিউজ নাউকে বলেছেন, ছবিটি সত্যি এবং সাম্প্রতিক হলে তদন্তকারীদের জন্য তার অবস্থান সংকুচিত করার বড় সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফিলিপাইনের সংশ্লিষ্ট কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মারাসিগানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ তাদের কাছে পৌঁছেছে কি না, সে বিষয়ে তখন পর্যন্ত নিশ্চিত তথ্য ছিল না। অন্যদিকে এফবিআইয়ের হনুলুলু অফিস স্পষ্ট করেছে, মারাসিগান এখনও তাদের ওয়ান্টেড তালিকায় রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে সংস্থাটি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যে অর্থ অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসার সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেই অর্থের কোটি কোটি ডলার ব্যক্তিগত স্বার্থে সরিয়ে নেওয়ার এই মামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা বিশেষভাবে গুরুতর বলে বর্ণনা করেছেন। এখন ম্যানিলায় মারাসিগানের সম্ভাব্য উপস্থিতির নতুন তথ্য সামনে আসায় দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এই দণ্ডিত প্রতারককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা আবারও নতুন মাত্রা পেয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে রাজি না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছেলেকে অভিনব কায়দায় শিক্ষা দিলেন এক মা। স্থানীয় এক পুলিশ অফিসারের সহায়তায় ছেলেকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে ‘গ্রেফতারের’ অভিনয় করানো হয়। তবে এটি কোনো সত্যিকারের গ্রেফতার ছিল না, পুরো ঘটনাটিই ছিল মা, ছেলে ও পুলিশ অফিসারের মজার আয়োজন। ঘটনাটি ঘটেছে কলোরাডোর কীনসবার্গে। পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী কোল্টন সোমবার সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে মায়ের সঙ্গে প্রথম দিনের প্রচলিত ‘ব্যাক টু স্কুল’ ছবি তুলতে রাজি হচ্ছিল না। মা আমান্ডা স্টলজ তখন স্থানীয় পুলিশ অফিসার জ্যাকের সহায়তা নেন। অফিসার জ্যাকও বিষয়টিকে মজার ছলে নেন। তিনি কোল্টনের হাতে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে বোঝানোর অভিনয় করেন যে, স্কুলের প্রথম দিনে মায়ের সঙ্গে ছবি তুলতে অস্বীকৃতি জানানো নাকি ‘আইনবিরোধী’। পরে ছেলেটিকে পুলিশ গাড়ির পেছনের সিটে বসিয়েও ছবি তোলা হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, পুরো ঘটনাটি উপভোগ করছে কোল্টন। হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায়ও তাকে হাসতে দেখা যায়। আরেকটি ছবিতে পুলিশ গাড়ির পেছনে বসে হাসছে সে, সামনে দাঁড়িয়ে আছেন অফিসার জ্যাক। অবশ্য কোল্টনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি এবং তাকে প্রকৃত অর্থে আটকও করা হয়নি। ঘটনাটি ছিল স্কুলের প্রথম দিনের স্মৃতি ধরে রাখতে মা ও স্থানীয় পুলিশ অফিসারের পরিকল্পিত কৌতুক। অমান্ডা পরে মজা করে লেখেন, তার ছেলে স্কুলে যাওয়ার আগে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় পড়েছিল। অফিসার জ্যাক তাকে বুঝিয়েছেন, স্কুলের প্রথম দিনের ছবি তুলতে মাকে অস্বীকার করা নাকি সত্যিই ‘আইনের বিরুদ্ধে’। ঘটনার পর অমান্ডা স্থানীয় পুলিশ অফিসারদের প্রশংসাও করেন। তার মতে, শিশুদের সঙ্গে এ ধরনের আনন্দঘন মুহূর্ত তৈরি করা তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকে এবং কমিউনিটির মানুষের সঙ্গে পুলিশ অফিসারদের সম্পর্ক তৈরিতেও ভূমিকা রাখে। অমান্ডা বলেন, শেষ পর্যন্ত তারা কোল্টনের স্কুলে ফেরার দিনের ছবিও পেয়ে গেছেন। ফলে যে ছবি তুলতে রাজি না হওয়া থেকে পুরো ঘটনার শুরু, পুলিশের মজার ‘গ্রেফতারের’ সুবাদে সেই ছবিই শেষ পর্যন্ত হয়ে উঠেছে পরিবারের জন্য ব্যতিক্রমী এক স্মৃতি।
বিষধর হাবু সাপের উপদ্রব কমাতে ১৯৭৯ সালে জাপানের আমামি ওশিমা দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল মাত্র ৩০টির মতো বেজি। উদ্দেশ্য ছিল বেজি সাপ ও ইঁদুর শিকার করবে এবং মানুষের জন্য ঝুঁকি কমাবে। কিন্তু পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল দেয়। সাপের বদলে দ্বীপের বিরল ও স্থানীয় প্রাণীদের শিকার করতে শুরু করে বেজি। কয়েক দশকের মধ্যে তাদের সংখ্যা বেড়ে আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছায়। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অভিযান চালিয়ে ২০২৪ সালে দ্বীপটিকে বেজিমুক্ত ঘোষণা করে জাপান সরকার। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আমামি ওশিমায় ছাড়া বেজিগুলো ছিল স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ। দ্বীপটিতে এ প্রাণী আনার পেছনে ছিল বিষধর হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের ভাবনা। তবে হাবু মূলত রাতে সক্রিয়, আর বেজি বেশি সক্রিয় দিনের বেলায়। ফলে যে সাপ দমনের জন্য বেজি আনা হয়েছিল, বাস্তবে তাদের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ ছিল তুলনামূলক কম। এর পরিবর্তে বেজির সহজ শিকারে পরিণত হয় আমামি ওশিমার স্থানীয় বন্যপ্রাণী। এর মধ্যে ছিল বিপন্ন আমামি খরগোশ এবং দ্বীপের বিভিন্ন প্রজাতির ব্যাঙ, ইঁদুর ও অন্যান্য প্রাণী। পর্যাপ্ত খাবার ও অনুকূল পরিবেশ পেয়ে বেজির বিস্তার দ্রুত বাড়তে থাকে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের আমামি ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে দ্বীপটিতে বেজির সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজারে পৌঁছেছিল। এই ঘটনার সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশেরও একটি ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। জাপানের সরকারি নথি অনুযায়ী, ১৯১০ সালে গঙ্গা নদীর মোহনা অঞ্চল, যা বর্তমানে বাংলাদেশের অংশ, সেখান থেকে বেজি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে। বিশ্ব ঐতিহ্যের মনোনয়নের জন্য জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা নথিতে বলা হয়েছে, সে সময় ১৭টি বেজি ওকিনাওয়ায় ছাড়া হয়েছিল। কয়েক দশক পর ১৯৭৯ সালে ওকিনাওয়া থেকেই প্রায় ৩০টি বেজি নিয়ে আমামি ওশিমায় ছাড়া হয়। শুরুতে যে সিদ্ধান্তকে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাব্য উপায় মনে করা হয়েছিল, পরে সেটিই স্থানীয় জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হয়। বেজির বিস্তারের সঙ্গে আমামি খরগোশসহ বিভিন্ন স্থানীয় প্রজাতির আবাস ও বিস্তৃতি সংকুচিত হওয়ার সম্পর্কও ধরা পড়ে সরকারি গবেষণায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯৯৩ সালে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ক্ষতিকর বন্যপ্রাণী হিসেবে বেজি ধরার কাজ শুরু করে। ১৯৯৬ সাল থেকে জাপানের পরিবেশ কর্তৃপক্ষ ও কাগোশিমা প্রিফেকচার আরও বিস্তৃতভাবে বেজির সংখ্যা, বিস্তার এবং ধরার পদ্ধতি নিয়ে কাজ শুরু করে। ২০০০ সালে শুরু হয় বড় পরিসরের নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। পরবর্তী বছরগুলোতে ফাঁদ, ক্যামেরা এবং প্রশিক্ষিত অনুসন্ধানী কুকুরসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ অভিযানের পর ২০১৮ সালের এপ্রিলে আমামি ওশিমায় সর্বশেষ বেজিটি ধরা পড়ে। এরপর কয়েক বছর আর কোনো বেজি পাওয়া যায়নি। কিন্তু শুধু বেজি ধরা না পড়ার ভিত্তিতে নির্মূল ঘোষণা করেনি জাপান। দ্বীপে কোনো প্রজননক্ষম বেজির জনগোষ্ঠী রয়ে গেছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ২০২৩ অর্থবছরের শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান ও নজরদারি অব্যাহত রাখা হয়। দুটি বৈজ্ঞানিক মডেল ব্যবহার করে শেষ পর্যন্ত বেজি নির্মূলের সম্ভাবনা হিসাব করা হয়। একটি মডেলে সফলতার সম্ভাবনা আসে ৯৯ দশমিক ৭ শতাংশ এবং অন্যটিতে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মূল্যায়নের পর ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করে, আমামি ওশিমা থেকে স্মল ইন্ডিয়ান মঙ্গুজ নির্মূল হয়েছে। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয় এই সাফল্যকে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিশেষ করে এত বড় একটি দ্বীপ থেকে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত বেজির প্রজননশীল জনগোষ্ঠী নির্মূলের ঘটনা বিশ্বেও বিরল। তবে আমামি ওশিমার অভিযান শেষ হলেও ওকিনাওয়ায় বেজির সমস্যা পুরোপুরি শেষ হয়নি। জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওকিনাওয়ার উত্তরাঞ্চলে এখনও বেজি নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চলছে। অর্থাৎ এক শতাব্দীরও বেশি আগে হাবু সাপ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে আনা প্রাণীটির পরিবেশগত প্রভাব জাপানের অন্য অংশে এখনও সামলাতে হচ্ছে। আমামি ওশিমার ঘটনাটি এখন বহিরাগত প্রজাতি দিয়ে কোনো স্থানীয় সমস্যার সমাধান করতে গেলে তার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিণতি কত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, তার উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। যে ৩০টি বেজি সাপের উপদ্রব কমানোর আশায় দ্বীপে ছাড়া হয়েছিল, তাদের সংখ্যা একসময় প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছায়। ১৯৭৯ সালে শুরু হওয়া সেই অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করতে জাপানকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়
ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট দেখাতে পারে, কেন হয় জানালেন বিশেষজ্ঞ
মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি
বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন কিয়ানু রিভসকে, পরক্ষণে সত্যিই হাজির হলেন হলিউড তারকা!
এক দশকের প্রেমের পর জর্জিনাকে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত
সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট
পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল সায়েন্স, অক্সফোর্ডে ফুল ফান্ডে নন্দিতা দেব
নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্সে, ডা. আবদুল্লাহ বাকীর গবেষণায় নতুন জীবন লাখো মা ও শিশুর
মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি আনছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
৩.০০ এর নিচে সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
নোবেলপ্রত্যাশী বিজ্ঞানীদের আলোচনায় বাংলাদেশের আধ্যাপক ড. জাহিদ হাসান
পড়তে-লিখতে পারছে না দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুলকে খুঁজছে এফবিআই
টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে মার্কিন রণতরী, নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ নৌসেনা নিহতের দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত, জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ১৮-চাকার ট্রাক থেকে ৪০ লাখ ডলারের ৭৯০ পাউন্ড মেথামফেটামিন জব্দ করেছে পুলিশ
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
বারবার মাথা তুলে মাকে খুঁজা সেই চার মাসের ভাইরাল শিশুর ঠাঁই হলো নানাবাড়িতে
ইসরায়েলিদের ফেরার পথ করতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ২৬ ফিলিস্তিনি ভবন
রোমে ইহুদি পর্যটককে ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগানে, দুই দিনে দুবার লাথি হামলার দাবি
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনা রাখার পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি