Live update news
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পথে আর্জেন্টিনা!

কাতারে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর পর এবার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই মেগা বিশ্বকাপে কোচ লিওনেল স্কালোনির মূল ভরসা আবারও মেসি। এবারের আর্জেন্টিনা দলে ২০২২ বিশ্বকাপের ১৭ জন অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশাপাশি ৯ জন নতুন তারকার দারুণ এক ভারসাম্য রয়েছে, যা শিরোপা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট।   ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো দলের সামনে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। প্রথম দল হিসেবে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং পরবর্তীতে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলের ব্রাজিল এই রেকর্ড গড়েছিল। গত ৬৪ বছরে আর কোনো দেশ এই অর্জনে নাম লেখাতে পারেনি। ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালে ফ্রান্স ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছিল।   তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ এবার আর্জেন্টিনাকে বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে। বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দলীয় স্থিতিশীলতা এবং ড্রেসিং রুমের চমৎকার পরিবেশ, যা স্কালোনির দলে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফলও এই ধারাবাহিকতার পক্ষেই কথা বলছে।   উদাহরণস্বরূপ, বড় বড় তারকাদের নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল একাত্মতা ও টিম স্পিরিটের জোরে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে থাকা পিএসজি গত ৩০ মে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে। ক্রিকেটেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) তারকা নির্ভরতা কমিয়ে দলগত সংহতির জোরে টানা দুই আসরে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। এছাড়া ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দু’বার লা লিগা এবং বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করেছে যে, স্থিতিশীলতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।   আর্জেন্টাইন শিবিরে এখন এই রহস্যমন্ত্রের সব উপাদানই রয়েছে। মেসির নেতৃত্বে দলটির ভেতরের এই অভূতপূর্ব ঐক্য যদি টুর্নামেন্টজুড়ে বজায় থাকে, তবে আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে আবারও বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতবে আলবিসেলেস্তেরা—এমনটাই ভাবছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

১ ঘন্টা Ago
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা জরুরি: জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেই কমতে পারে ঝুঁকি

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার বর্তমানে বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায় এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো জটিল রোগের অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।   বাংলাদেশে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ জানেন না যে তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি।   রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত সারা শরীরে প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্তনালীর দেয়ালে সৃষ্ট চাপের পরিমাপ। এটি সাধারণত দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়, যেমন ১২০/৮০। এর মধ্যে প্রথম সংখ্যা বা সিস্টোলিক চাপ হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। দ্বিতীয় সংখ্যা বা ডায়াস্টোলিক চাপ হৃদপিণ্ড শিথিল অবস্থায় থাকার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান এবং বংশগত কারণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।   অনেকেই মনে করেন মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা উচ্চ রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপ কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, চোখের ক্ষতি এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতার কারণ হতে পারে।   রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা রান্নায় লবণের পরিমাণ কমানো এবং খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি চিপস, চানাচুর, আচার, সস এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। ওজন নিয়ন্ত্রণেও রক্তচাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানোর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। এ কারণে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।   সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটা বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন জীবনে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করাও শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।   খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, বাদাম, দই এবং লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভাজাপোড়া খাবার, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার সীমিত রাখতে বলা হয়। গরু ও খাসির মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও সংযমের পরামর্শ দেওয়া হয়।   ধূমপান ও মদ্যপান উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। একটি সিগারেট গ্রহণের পর কিছু সময়ের জন্য রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে মদ্যপানও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপও উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ কারণে যোগব্যায়াম, ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পছন্দের কাজে সময় দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।   চিকিৎসকরা নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত মাসে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য ডিজিটাল রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে ঘরেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তবে পরিমাপের আগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া এবং ধূমপান বা ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।   যাদের জন্য চিকিৎসক ওষুধ নির্ধারণ করেছেন, তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   পটাসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু এবং মটরশুঁটিতে পর্যাপ্ত পটাসিয়াম পাওয়া যায়। তবে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পটাসিয়াম গ্রহণ করা উচিত নয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত চা ও কফি পান কমানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়। ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই দৈনিক চা বা কফির পরিমাণ সীমিত রাখা উপকারী হতে পারে।   চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা। অল্প বয়স থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।  

৩ ঘন্টা Ago
মাউস-কিবোর্ডের দিন শেষ! ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের জন্য এনভিডিয়ার নতুন 'সুপারচিপ'

কম্পিউটার প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি নতুন 'সুপারচিপ' উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়ার দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ভবিষ্যতে কম্পিউটার পরিচালনায় মানুষের ঐতিহ্যবাহী মাউস এবং কিবোর্ড ব্যবহারের আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না।   তাইওয়ানের 'কম্পিউটেক্স' সম্মেলনে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং 'আরটিএক্স স্পার্ক' (RTX Spark) নামের এই চিপটির ঘোষণা দেন। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই চিপটি কাজ করবে। চলতি বছরেই ডেল, লেনোভো, আসুস এবং এইচপির মতো শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার নির্মাতারা তাদের ডিভাইসে এই নতুন চিপ ব্যবহার শুরু করবে।   মাইক্রোসফটের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের যৌথ গবেষণায় তৈরি এই চিপটিতে মূলত একটি মাইক্রোপ্রসেসর ও গ্রাফিক্স চিপের সমন্বয় করা হয়েছে। তাইওয়ানের মিডিয়াটেক-এর সহায়তায় তৈরি এই চিপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দূরবর্তী ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের ভেতরেই এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারবে। ফলে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে, যা মাউস ও কিবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি কম্পিউটারের দুনিয়ায় আইফোন বা চ্যাটজিপিটির মতোই একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে সাধারণ পিসিগুলো একটি অতি-বুদ্ধিমান ডিজিটাল সহকর্মীতে রূপান্তরিত হবে। একই সম্মেলনে এনভিডিয়া তাদের 'ভেরা' (Vera) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটও উন্মোচন করেছে, যা ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কার বিষয়ে জেনসেন হুয়াং বলেন, "এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এআই প্রযুক্তির কারণে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে উল্টো আরও বেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।"

৩ ঘন্টা Ago
ইউটিউবের হরর গল্প দিয়ে মার্কিন বক্স অফিসে ২০ বছরের তরুণের বিশ্বরেকর্ড

মাত্র ২০ বছর বয়সে নিজের প্রথম চলচ্চিত্র দিয়ে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল করে ইতিহাস গড়েছেন তরুণ নির্মাতা কেন পারসন্স। তার পরিচালিত 'ব্যাকরুমস' নামের এই ভৌতিক ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তেই রেকর্ড পরিমাণ ৮ কোটি ১০ লাখ (৮১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ব্যবসা করে চলচ্চিত্র খাত বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি বিখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'এটুয়েন্টিফোর' (A24)-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড।   এর আগে ২০১১ সালে ২৭ বছর বয়সে 'ক্রনিকল' ছবি দিয়ে বক্স অফিসের শীর্ষে আসার রেকর্ড গড়েছিলেন নির্মাতা জশ ট্র্যাঙ্ক। পারসন্স তার চেয়েও সাত বছর কম বয়সে এই বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন। 'ব্যাকরুমস' ছবিটি মূলত পারসন্সের নিজেরই একটি জনপ্রিয় ইউটিউব সিরিজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ইন্টারনেটের কাল্পনিক হরর গল্প বা 'ক্রিপিপাস্তা' থেকে অনুপ্রাণিত। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত এবং মানসিকভাবে নাড়া দেওয়ার মতো বৈপ্লবিক ভৌতিক ছবি।   তবে পারসন্সের এত কম বয়সে এমন বিশাল সাফল্য ইন্টারনেটে কিছু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এত কম বয়সে তার একার পক্ষে এই ছবি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই গুজবের জবাবে ছবির অভিনেতা মার্ক ডুপ্লাস বলেন, "শুটিং সেটে কেন শতভাগ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তার চেয়ে তিনগুণ বেশি বয়সী অনেক পরিচালকের চেয়েও সে চমৎকারভাবে কাজটি করেছে।" নির্মাতা পারসন্স নিজেও রসিকতা করে এই গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন।   'ব্যাকরুমস'-এর এই অভাবনীয় সাফল্য স্বল্প বাজেটের ভৌতিক ছবির বাজারে নতুন জোয়ার এনেছে। এর ঠিক আগেই গত মে মাসে মুক্তি পাওয়া ২৬ বছর বয়সী নির্মাতা কারি বার্কারের কম বাজেটের ভৌতিক ছবি 'অবসেশন' চার সপ্তাহে ১০ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের ব্যবসা করে বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে।  

৩ ঘন্টা Ago
ক্তরাষ্ট্রের একটি শহরের রাস্তায় অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাসরত গৃহহীন মানুষদের দৃশ্য । ছবি: ফাইল ফটো
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা কমেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন

যুক্তরাষ্ট্রে গত এক বছরে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা সামগ্রিকভাবে কমেছে বলে মার্কিন গৃহায়ন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (HUD)–এর নতুন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে গৃহহীনতার উল্লেখযোগ্য হ্রাসের কথা বলা হয়েছে, যা গভর্নর গ্যাভিন নিউসামের নীতিগত উদ্যোগের আংশিক সফলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   HUD-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৩৪ জনে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়েও ২০১৬ সালের পর প্রথমবারের মতো গৃহহীনতার হার কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক রাতের গণনায় দেশটিতে মোট ৭ লাখ ৪৫ হাজার ৬৫২ জন গৃহহীন মানুষ পাওয়া যায়।   HUD-এর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, কিছু অঙ্গরাজ্যে গৃহহীনতা তুলনামূলকভাবে বেশি হারে কমেছে। এর মধ্যে ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশ, হাওয়াইতে ৪১ শতাংশ, ফ্লোরিডায় ১১ শতাংশ এবং নিউইয়র্কে ৮ শতাংশ হ্রাস দেখা গেছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কসহ বড় অঙ্গরাজ্যগুলোতে এখনো বিপুল সংখ্যক মানুষ খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের গৃহায়ন ও নগর উন্নয়ন বিভাগের প্রধান স্কট টার্নার এক বিবৃতিতে বলেন, বর্তমান নীতি কাঠামো গৃহহীনতা সমস্যার সমাধানে কার্যকর নয়। তিনি জানান, সরকার এখন পুনর্বাসন ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করার দিকে জোর দিচ্ছে এবং করদাতাদের অর্থ বাস্তব সুবিধাভোগীদের জন্য ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করতে চায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৩ সালের তুলনায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীনতার হার এখনো প্রায় ২৭ শতাংশ বেশি।   ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গৃহহীনতা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেন, যার লক্ষ্য ছিল দীর্ঘস্থায়ী গৃহহীন ক্যাম্প বা অস্থায়ী বসতি নিয়ন্ত্রণ করা। এছাড়া রাজ্যজুড়ে গৃহহীনতা মোকাবিলা, মাদকাসক্তি চিকিৎসা এবং আবাসন কর্মসূচি সম্প্রসারণে ৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের তহবিল অনুমোদিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   গৃহহীনতা বিষয়ক বিভিন্ন অধিকার সংগঠন বলছে, সাম্প্রতিক হ্রাস মূলত আগের বছরগুলোর আবাসন সহায়তা ও জরুরি ভাউচার কর্মসূচির ফল। তবে তারা সতর্ক করেছে যে সহায়তা কর্মসূচিতে কাটছাঁট হলে এই অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে। অন্যদিকে, ফেডারেল নীতির কিছু পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ফেডারেল আবাসন ভাউচার প্রাপকদের জন্য চিকিৎসা-সংক্রান্ত শর্ত আরোপ এবং কিছু এলাকায় ক্ষতি-হ্রাসমূলক উদ্যোগে সীমাবদ্ধতা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত দিলেও যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীনতার সংকট এখনো গভীর। বড় শহরগুলোতে আবাসন সংকট, মাদকাসক্তি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ৩১, ২০২৬ ১৭:১৫
ছবি: সংগৃহীত
টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের পথে আর্জেন্টিনা!

কাতারে ৩৬ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর পর এবার লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার সামনে রয়েছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠেয় ৪৮ দলের এই মেগা বিশ্বকাপে কোচ লিওনেল স্কালোনির মূল ভরসা আবারও মেসি। এবারের আর্জেন্টিনা দলে ২০২২ বিশ্বকাপের ১৭ জন অভিজ্ঞ ফুটবলারের পাশাপাশি ৯ জন নতুন তারকার দারুণ এক ভারসাম্য রয়েছে, যা শিরোপা ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট।   ফুটবল বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৬২ সালের পর এবারই প্রথম কোনো দলের সামনে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের সবচেয়ে জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে মাত্র দুটি দেশ এই কীর্তি গড়তে পেরেছে। প্রথম দল হিসেবে ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে ইতালি এবং পরবর্তীতে ১৯৫৮ ও ১৯৬২ বিশ্বকাপে পেলের ব্রাজিল এই রেকর্ড গড়েছিল। গত ৬৪ বছরে আর কোনো দেশ এই অর্জনে নাম লেখাতে পারেনি। ১৯৯০ সালে ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮ সালে ব্রাজিল এবং ২০২২ সালে ফ্রান্স ফাইনাল পর্যন্ত গেলেও স্বপ্নভঙ্গের বেদনায় পুড়তে হয়েছিল।   তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ এবার আর্জেন্টিনাকে বাকিদের চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে রাখছে। বড় টুর্নামেন্টে সাফল্যের জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো দলীয় স্থিতিশীলতা এবং ড্রেসিং রুমের চমৎকার পরিবেশ, যা স্কালোনির দলে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ের আধুনিক ক্রীড়াঙ্গনের ফলাফলও এই ধারাবাহিকতার পক্ষেই কথা বলছে।   উদাহরণস্বরূপ, বড় বড় তারকাদের নিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল একাত্মতা ও টিম স্পিরিটের জোরে কোচ লুইস এনরিকের অধীনে থাকা পিএসজি গত ৩০ মে আর্সেনালকে টাইব্রেকারে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতেছে। ক্রিকেটেও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) তারকা নির্ভরতা কমিয়ে দলগত সংহতির জোরে টানা দুই আসরে শিরোপার স্বাদ পেয়েছে। এছাড়া ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে টানা দু’বার লা লিগা এবং বায়ার্ন মিউনিখ বুন্দেসলিগায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রমাণ করেছে যে, স্থিতিশীলতাই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।   আর্জেন্টাইন শিবিরে এখন এই রহস্যমন্ত্রের সব উপাদানই রয়েছে। মেসির নেতৃত্বে দলটির ভেতরের এই অভূতপূর্ব ঐক্য যদি টুর্নামেন্টজুড়ে বজায় থাকে, তবে আগামী ১৯ জুলাই ফাইনালে আবারও বিশ্বজয়ের উল্লাসে মাতবে আলবিসেলেস্তেরা—এমনটাই ভাবছেন ফুটবল বোদ্ধারা।

ছবি: সংগৃহীত
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা জরুরি: জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেই কমতে পারে ঝুঁকি

উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসার বর্তমানে বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকদের ভাষায় এটি একটি ‘নীরব ঘাতক’, কারণ অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো দৃশ্যমান উপসর্গ ছাড়াই শরীরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করতে পারে। হৃদরোগ, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া এবং দৃষ্টিশক্তি হারানোর মতো জটিল রোগের অন্যতম প্রধান কারণ অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো শনাক্তকরণ, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক জীবনযাপনের মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।   বাংলাদেশে প্রতি তিনজন মানুষের মধ্যে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশ জানেন না যে তাদের রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি।   রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত সারা শরীরে প্রবাহিত হওয়ার সময় রক্তনালীর দেয়ালে সৃষ্ট চাপের পরিমাপ। এটি সাধারণত দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয়, যেমন ১২০/৮০। এর মধ্যে প্রথম সংখ্যা বা সিস্টোলিক চাপ হৃদপিণ্ড সংকুচিত হয়ে রক্ত পাম্প করার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। দ্বিতীয় সংখ্যা বা ডায়াস্টোলিক চাপ হৃদপিণ্ড শিথিল অবস্থায় থাকার সময়ের চাপ নির্দেশ করে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, মানসিক চাপ, ধূমপান, মদ্যপান এবং বংশগত কারণ উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এ ঝুঁকিও বাড়তে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি থাকে।   অনেকেই মনে করেন মাথাব্যথা বা মাথা ঘোরা উচ্চ রক্তচাপের প্রধান লক্ষণ। তবে বাস্তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উচ্চ রক্তচাপ কোনো উপসর্গ সৃষ্টি করে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত থাকলে এটি হৃদরোগ, হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হওয়া, চোখের ক্ষতি এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে রক্ত সঞ্চালনজনিত জটিলতার কারণ হতে পারে।   রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে লবণ কম খাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। চিকিৎসকরা রান্নায় লবণের পরিমাণ কমানো এবং খাবারের সঙ্গে অতিরিক্ত লবণ না খাওয়ার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি চিপস, চানাচুর, আচার, সস এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান। ওজন নিয়ন্ত্রণেও রক্তচাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা রয়েছে। অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা কমানোর মাধ্যমে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে। এ কারণে সুষম খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।   সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে হাঁটা বা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা অন্যান্য শারীরিক কার্যক্রম হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। দৈনন্দিন জীবনে লিফটের পরিবর্তে সিঁড়ি ব্যবহার করাও শারীরিক সক্রিয়তা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।   খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ডাল, মাছ, বাদাম, দই এবং লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ভাজাপোড়া খাবার, কোমল পানীয়, প্যাকেটজাত জুস এবং অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার সীমিত রাখতে বলা হয়। গরু ও খাসির মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রেও সংযমের পরামর্শ দেওয়া হয়।   ধূমপান ও মদ্যপান উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত। একটি সিগারেট গ্রহণের পর কিছু সময়ের জন্য রক্তচাপ বৃদ্ধি পেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে ধূমপান রক্তনালীর ক্ষতি করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। একইভাবে মদ্যপানও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মানসিক চাপও উচ্চ রক্তচাপ বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। এ কারণে যোগব্যায়াম, ধ্যান, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পছন্দের কাজে সময় দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।   চিকিৎসকরা নিয়মিত রক্তচাপ পরিমাপের ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সীদের অন্তত মাসে একবার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। বর্তমানে বাজারে সহজলভ্য ডিজিটাল রক্তচাপ মাপার যন্ত্র ব্যবহার করে ঘরেই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তবে পরিমাপের আগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া এবং ধূমপান বা ক্যাফেইন গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।   যাদের জন্য চিকিৎসক ওষুধ নির্ধারণ করেছেন, তাদের নিয়মিত ওষুধ সেবন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।   পটাসিয়ামসমৃদ্ধ খাবারও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু এবং মটরশুঁটিতে পর্যাপ্ত পটাসিয়াম পাওয়া যায়। তবে কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পটাসিয়াম গ্রহণ করা উচিত নয়। এ ছাড়া অতিরিক্ত চা ও কফি পান কমানোরও পরামর্শ দেওয়া হয়। ক্যাফেইন কিছু মানুষের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে রক্তচাপ বাড়াতে পারে। তাই দৈনিক চা বা কফির পরিমাণ সীমিত রাখা উপকারী হতে পারে।   চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সুষম খাদ্যাভ্যাস, শারীরিক সক্রিয়তা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা। অল্প বয়স থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে উচ্চ রক্তচাপজনিত জটিলতার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।  

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং | ছবি: সংগৃহীত
মাউস-কিবোর্ডের দিন শেষ! ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের জন্য এনভিডিয়ার নতুন 'সুপারচিপ'

কম্পিউটার প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি নতুন 'সুপারচিপ' উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়ার দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ভবিষ্যতে কম্পিউটার পরিচালনায় মানুষের ঐতিহ্যবাহী মাউস এবং কিবোর্ড ব্যবহারের আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না।   তাইওয়ানের 'কম্পিউটেক্স' সম্মেলনে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং 'আরটিএক্স স্পার্ক' (RTX Spark) নামের এই চিপটির ঘোষণা দেন। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই চিপটি কাজ করবে। চলতি বছরেই ডেল, লেনোভো, আসুস এবং এইচপির মতো শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার নির্মাতারা তাদের ডিভাইসে এই নতুন চিপ ব্যবহার শুরু করবে।   মাইক্রোসফটের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের যৌথ গবেষণায় তৈরি এই চিপটিতে মূলত একটি মাইক্রোপ্রসেসর ও গ্রাফিক্স চিপের সমন্বয় করা হয়েছে। তাইওয়ানের মিডিয়াটেক-এর সহায়তায় তৈরি এই চিপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দূরবর্তী ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের ভেতরেই এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারবে। ফলে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে, যা মাউস ও কিবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি কম্পিউটারের দুনিয়ায় আইফোন বা চ্যাটজিপিটির মতোই একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে সাধারণ পিসিগুলো একটি অতি-বুদ্ধিমান ডিজিটাল সহকর্মীতে রূপান্তরিত হবে। একই সম্মেলনে এনভিডিয়া তাদের 'ভেরা' (Vera) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটও উন্মোচন করেছে, যা ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কার বিষয়ে জেনসেন হুয়াং বলেন, "এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এআই প্রযুক্তির কারণে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে উল্টো আরও বেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।"

তরুণ নির্মাতা কেন পারসন্স | ছবি: সংগৃহীত
ইউটিউবের হরর গল্প দিয়ে মার্কিন বক্স অফিসে ২০ বছরের তরুণের বিশ্বরেকর্ড

মাত্র ২০ বছর বয়সে নিজের প্রথম চলচ্চিত্র দিয়ে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসের শীর্ষস্থান দখল করে ইতিহাস গড়েছেন তরুণ নির্মাতা কেন পারসন্স। তার পরিচালিত 'ব্যাকরুমস' নামের এই ভৌতিক ছবিটি প্রথম সপ্তাহান্তেই রেকর্ড পরিমাণ ৮ কোটি ১০ লাখ (৮১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলারের ব্যবসা করে চলচ্চিত্র খাত বিশেষজ্ঞদের চমকে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি বিখ্যাত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান 'এটুয়েন্টিফোর' (A24)-এর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড।   এর আগে ২০১১ সালে ২৭ বছর বয়সে 'ক্রনিকল' ছবি দিয়ে বক্স অফিসের শীর্ষে আসার রেকর্ড গড়েছিলেন নির্মাতা জশ ট্র্যাঙ্ক। পারসন্স তার চেয়েও সাত বছর কম বয়সে এই বিশ্বরেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন। 'ব্যাকরুমস' ছবিটি মূলত পারসন্সের নিজেরই একটি জনপ্রিয় ইউটিউব সিরিজের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যা ইন্টারনেটের কাল্পনিক হরর গল্প বা 'ক্রিপিপাস্তা' থেকে অনুপ্রাণিত। চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, এটি একটি অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্ত এবং মানসিকভাবে নাড়া দেওয়ার মতো বৈপ্লবিক ভৌতিক ছবি।   তবে পারসন্সের এত কম বয়সে এমন বিশাল সাফল্য ইন্টারনেটে কিছু বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দাবি করছেন, এত কম বয়সে তার একার পক্ষে এই ছবি পরিচালনা করা সম্ভব নয়। এই গুজবের জবাবে ছবির অভিনেতা মার্ক ডুপ্লাস বলেন, "শুটিং সেটে কেন শতভাগ নিয়ন্ত্রণে ছিল। তার চেয়ে তিনগুণ বেশি বয়সী অনেক পরিচালকের চেয়েও সে চমৎকারভাবে কাজটি করেছে।" নির্মাতা পারসন্স নিজেও রসিকতা করে এই গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন।   'ব্যাকরুমস'-এর এই অভাবনীয় সাফল্য স্বল্প বাজেটের ভৌতিক ছবির বাজারে নতুন জোয়ার এনেছে। এর ঠিক আগেই গত মে মাসে মুক্তি পাওয়া ২৬ বছর বয়সী নির্মাতা কারি বার্কারের কম বাজেটের ভৌতিক ছবি 'অবসেশন' চার সপ্তাহে ১০ কোটি ৪৭ লাখ ডলারের ব্যবসা করে বক্স অফিসে রীতিমতো ঝড় তুলেছে।  

ছবি: সংগৃহীত
বিনামূল্যে বিশ্বকাপ ফুটবল উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ১৪ হাজার দর্শক

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগে টিকিটের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে তুমুল সমালোচনা চললেও মেক্সিকোর ১৪ হাজার দর্শক একেবারে বিনামূল্যে উদ্বোধনী ম্যাচ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে আদালতের রায়ে তারা নিজেদের ঐতিহাসিক অধিকার ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে এই বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে।   এই ঘটনার সূত্রপাত প্রায় ৬০ বছর আগে। ১৯৬০-এর দশকে আজটেকা স্টেডিয়ামটি নির্মাণের সময় অর্থসংকটে পড়ে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। তখন ক্রেতাদের শর্ত দেওয়া হয়েছিল যে, ২০৬৫ সাল পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামে আয়োজিত যেকোনো ইভেন্ট তারা অতিরিক্ত কোনো টিকিট ছাড়াই দেখতে পারবেন। বর্তমানে এই সুবিধাভোগীদের মোট আসনসংখ্যা প্রায় ১৪ হাজার।   এর আগে ১৯৮৬ বিশ্বকাপেও ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এই আসনগুলোর ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চেয়ে ব্যর্থ হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে আবারও ফিফা ও স্টেডিয়াম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আসনগুলো নিজেদের টিকিট বিক্রির আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতের দ্বারস্থ হয়। শেষ পর্যন্ত আদালত আসন মালিকদের পক্ষেই রায় দেয় এবং এই আসনগুলো বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও দিতে হয়েছে।   আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা আদালতের এই স্বীকৃতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে বিশ্বকাপের এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে না পৌঁছানোয় তিনি সতর্ক করে বলেছেন, স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া না হলে তারা আবারও বলপ্রয়োগের আইনি ব্যবস্থা চাইবেন। সমস্ত নাটকীয়তার মধ্যেও ১৪ হাজার আসনের মালিকরা ফ্রিতে এই বিশ্বমঞ্চের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাখছেন।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

মতামত

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান দেশ ছাড়ার পথে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার উপায় জানতে খরচ করছেন শত শত ডলার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৭:২

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।   গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।   বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।   জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।   অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।   ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।   ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।   ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।   তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।

আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:৩৬

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

ড. তাহমিদ আহমেদ
এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় কলেরা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:১৫

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন।   ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে।   আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করল ফেরারি, দাম প্রায় ৬.৪ লাখ ডলার
শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম।   ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে।   নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।   চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।   ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
412 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
363 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
448 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
301 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
Advertisement
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়