যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে একসময় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। উচ্চ বেতন, দ্রুত পদোন্নতি এবং চাকরির নিরাপত্তার কারণে এই খাতকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক ছাঁটাই, নিয়োগের গতি কমে যাওয়া এবং একটি পদের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় অনেক অভিজ্ঞ আইটি পেশাজীবী মাসের পর মাস নতুন চাকরি খুঁজেও সফল হচ্ছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু নতুন গ্র্যাজুয়েটরাই নন, ৮ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার, কিউএ অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার এবং ডেটা পেশাজীবীরাও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। লিঙ্কডইন সহ বিভিন্ন পেশাদার নেটওয়ার্কে প্রতিদিনই শত শত আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীদের মধ্যেও একই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন পেশাজীবী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর নতুন সুযোগ খুঁজে পাওয়া আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। ভার্জিনিয়ার একজন বাংলাদেশি কিউএ অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার, যিনি এখানে ছদ্মনামে “কাকন” নামে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসি অঞ্চলের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট বছর কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনের সময় তিনি চাকরি হারান। এরপর থেকে কয়েকশ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো চাকরি পাননি। পরিবারের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি সাময়িকভাবে রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে গাড়ি চালানোর কাজ করছেন। জর্জিয়ার আরেক বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবী, যিনি এখানে “রহমান” ছদ্মনামে পরিচিত, একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চার বছর কাজ করেছেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চাকরি হারানোর পর থেকে তিনি নতুন সুযোগের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, চাকরি চলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০০ এপ্লিকেশন করেছি কিন্তু গুটিকয়েক রেসপন্স পেয়েছি যদিও কোন জব হয়নি শেষ পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে তিনি প্রযুক্তি খাতের বাইরে তুলনামূলক কম বেতনের একটি প্রশাসনিক পদে কাজ করছেন। তার ভাষায়, পরিবারের দায়িত্বের কারণে অপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। আটলান্টার আরেক বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবী “আলম” (ছদ্মনাম) একটি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি বিভাগে কয়েক বছর কাজ করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে চাকরি হারানোর পর তিনি নিয়মিত আবেদন করলেও এখনো আইটি খাতে ফিরতে পারেননি। পরিবারের খরচ চালানোর জন্য আপাতত ওয়াল গ্রীন এ কাজ করছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না, তবে সুযোগ পেলেই আবার প্রযুক্তি খাতে ফিরতে চান। এ ধরনের অভিজ্ঞতা শুধু কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীরা। অনেকেই মাসের পর মাস চাকরি খুঁজছেন, কিন্তু সামাজিক মর্যাদা, আত্মসম্মান কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়োগদাতার দৃষ্টিভঙ্গির কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে চান না। ফলে কমিউনিটির ভেতরে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে অনেক কম মানুষই এই সংকট সম্পর্কে জানেন। পেশাজীবীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ২০২৫ এর শুরু থেকে প্রযুক্তি খাতে বড় আকারের ছাঁটাই, প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সংকোচন, নিয়োগে সতর্কতা এবং একটি পদের বিপরীতে অস্বাভাবিক সংখ্যক আবেদন প্রতিযোগিতাকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন আবেদনপত্র প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা এআই-নির্ভর অ্যাপলিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করছে। ফলে যোগ্য প্রার্থীদের একটি বড় অংশ প্রথম ধাপেই বাদ পড়ছেন। ক্যারিয়ার স্পেশালিস্টদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু শত শত আবেদন পাঠানোই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিজ্যুমে প্রস্তুত করা, লিঙ্কডইন প্রোফাইল নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, রেফারেলের মাধ্যমে আবেদন করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের ওপর আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত এখনও বিশ্বের অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। তবে সাম্প্রতিক বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, অভিজ্ঞতা থাকলেই চাকরি নিশ্চিত এমন ধারণা আর আগের মতো সত্য নয়। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন, বাজারে সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সুযোগের জন্য এখন আগের তুলনায় অনেক দীর্ঘ অপেক্ষা, বেশি প্রতিযোগিতা এবং আরও বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেহা গুপ্তা (৩৬) তার চার বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার অভিযোগে বর্তমানে মিয়ামির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বিচারকার্যের অপেক্ষায় থাকা এই নারী সম্প্রতি বিচারকের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। নেহা গুপ্তার দাবি, তার সেল ব্লকের অন্য এক সহবন্দি তাকে বারবার মুখে ঘুষি মেরেছেন এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। নেহা গুপ্তার বিরুদ্ধে তার নিজের সন্তানকে হত্যার পর একটি এয়ারবিএনবি (Airbnb)-এর সুইমিংপুলে ফেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর নাটক সাজানোর মতো চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে এক মর্মান্তিক সত্য; পানিতে ফেলার আগেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। এই নৃশংস ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের (প্রথম মাত্রার খুনের) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় মিয়ামির কারাগারে দিন কাটছে এই অভিযুক্ত চিকিৎসকের।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের বেপরোয়া ই-বাইক ও ই-মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর জেরে কেবল শিশুরাই নয়, এবার তাদের অভিভাবকদেরও আইনি শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। সম্প্রতি অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি (ডিএ) অফিস জানিয়েছে, অবৈধভাবে ই-বাইক চালানো শিশুদের অভিভাবকদের বিরুদ্ধে দুই ডজনেরও বেশি তদন্ত চলছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে ই-বাইক আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো মোকাবিলায় প্রশাসন একটি বিশেষ ইউনিট গঠন করেছে। এর ফলে চলমান ২৬টি তদন্ত শেষ পর্যন্ত ফৌজদারি মামলায় রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অরেঞ্জ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি টড স্পিটজার জানান, এখানকার শিশুদের হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি হওয়ার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ই-বাইক ও ই-মোটরসাইকেল। তিনি এটিকে একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। গত এক বছরে অরেঞ্জ কাউন্টিতে এসব বাইকের কারণে বেশ কয়েকটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যাতে অনেকে আজীবনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন এবং অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে। ইতিমধ্যেই চারজন অভিভাবকের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এর মধ্যে এক কিশোরের ই-বাইকের ধাক্কায় ৮১ বছর বয়সী এক প্রবীণ নিহতের ঘটনায় ওই কিশোরের মায়ের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যা ও শিশু অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য একটি ঘটনায় ১২ বছরের ছেলের দুর্ঘটনার জেরে তার বাবার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার স্টেট আইন অনুযায়ী, ১৬ বছরের কম বয়সীদের ই-মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজ্যজুড়ে এ ধরনের দুর্ঘটনার বেশিরভাগই ঘটাচ্ছে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুরা। সম্প্রতি সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের ই-বাইক নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একাধিক রোমহর্ষক ঘটনা সামনে এসেছে। গত জুনে দুই শিশু ই-বাইক নিয়ে অরেঞ্জ কাউন্টির একটি ওয়ালমার্ট স্টোরের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ক্রেতাদের আতঙ্কিত করে তোলে। এছাড়া ট্রাফিক আইন অমান্য করে পালানোর সময় পুলিশের ধাওয়ার মুখে পড়া এক কিশোর এবং গত মে মাসে পুলিশের সাথে দীর্ঘ ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের গ্রেপ্তারের ঘটনাও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে 'টিপিং কালচার' বা বকশিস দেওয়ার সংস্কৃতি যে সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ কফির দোকান—সবখানেই এখন ক্রেতাদের কাছে বকশিস প্রত্যাশা করা হয়। সম্প্রতি এক ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, একটি ফাস্টফুডের দোকানে খাবার অর্ডার করার সময়ই মেশিনের স্ক্রিনে কিচেন স্টাফ বা বাবুর্চিদের জন্য আগাম বকশিস চাওয়া হয়। এতে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান এবং প্রশ্ন তোলেন, বকশিস না দিলে কি তার খাবারে ইচ্ছাকৃতভাবে নোংরা কিছু মিশিয়ে দেওয়া হবে? এই ভিডিওটি এক্সে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই ব্যক্তি জানান, প্রায় ১০-১৫ বছর পর তিনি 'শ্লটজস্কিস' নামের একটি পিৎজা ও স্যান্ডউইচের চেইন শপে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো ওয়েটার বা টেবিল সার্ভিস না থাকা সত্ত্বেও পেমেন্ট মেশিন তার কাছে বকশিস দাবি করে। তিনি ভিডিওতে বলেন, যেখানে তাকে কোনো সরাসরি সেবা দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে কেবল আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে কেন তাকে বকশিস দিতে হবে! এক্স প্ল্যাটফর্মে একজন ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেন, এই সংস্কৃতি এখন আর আতিথেয়তার পর্যায়ে নেই, বরং এটি ক্রেতাদের এক ধরনের মানসিক চাপে ফেলে টাকা আদায়ের শামিল। ভিডিওর নিচে মন্তব্য করতে গিয়ে অসংখ্য নেটিজেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, বকশিসের ওপর খাবারের মান নির্ভর করাটা এক ধরনের চাঁদাবাজির সমতুল্য। কেউ কেউ তো এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি অর্ডার বাতিল করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। আরেক নেটিজেনের মতে, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মীদের উপযুক্ত বেতন দেয় না, তাদের বয়কট করাই শ্রেয়। এই ঘটনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান টিপিং সংস্কৃতির প্রতি সাধারণ মানুষের চরম অসন্তোষের একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অনেকেই এখন নিজেদের জন্য নিয়ম করে নিয়েছেন যে, কাউন্টারে দাঁড়িয়ে অর্ডার করতে হলে তারা কোনো অবস্থাতেই বকশিস দেবেন না। পপমেন্যু (Popmenu)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপেও এই একই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ ক্রেতাই মনে করেন যে বর্তমান টিপিং কালচার একটি হাস্যকর ও অযৌক্তিক পর্যায়ে চলে গেছে। এ ছাড়া ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা লক্ষ্য করেছেন যে, রেস্তোরাঁগুলো এখন স্ক্রিনে বকশিসের প্রস্তাবিত পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে বকশিস এখন আর স্বেচ্ছায় দেওয়া কোনো উপহার বা সম্মানী নয়, বরং ক্রেতাদের জন্য এক অলিখিত বাধ্যতামূলক নিয়মে পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে।
নিউইয়র্ক শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার সরবরাহের লক্ষ্যে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। 'এনওয়াইসি গ্রোসারিজ' (NYC Groceries) নামের এই উদ্যোগের আওতায় শহরের পাঁচটি বরোতে পাঁচটি সরকারি সুপারমার্কেট স্থাপন করা হবে, যার জন্য ৭০ মিলিয়ন ডলারের বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে। এই সুপারমার্কেটগুলোতে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, মাংস, সামুদ্রিক মাছ, দুধ এবং ডিমের মতো প্রায় ২০টি প্রয়োজনীয় পণ্যের একটি 'কোর বাস্কেট' বাজারের গড় মূল্যের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রি করা হবে। মেয়রের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ পরিবারগুলোর মাসে প্রায় ৯০ ডলার এবং বছরে এক হাজার ডলারের বেশি সাশ্রয় হবে। এই সুপারমার্কেটগুলো সরাসরি সিটি প্রশাসন পরিচালনা করবে না; বরং প্রাইভেট অপারেটরদের মাধ্যমে এগুলো পরিচালিত হবে। শহরের ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন (EDC) ইতিমধ্যে বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের জন্য প্রস্তাবনা আহ্বান করেছে, যারা মূলত পণ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকবে। সরকার এই সুপারমার্কেটগুলোকে স্থান ভাড়া ও প্রপার্টি ট্যাক্স থেকে অব্যাহতি দেবে এবং কম দামে পণ্য বিক্রির ফলে যে আর্থিক ঘাটতি হবে, তা ভর্তুকি হিসেবে প্রদান করবে। স্থানীয় ছোট দোকান বা বোদেগাগুলোর (bodegas) ব্যবসায় যাতে নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, তাই এখানে সিগারেট, বিয়ার বা গরম খাবারের মতো পণ্যগুলো বিক্রি করা হবে না। প্রথম দুটি সুপারমার্কেট ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এবং ইস্ট হারলেমের লা মার্কেটা এলাকায় যথাক্রমে ২০২৭ ও ২০২৯ সালের মধ্যে চালু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই বিশাল উদ্যোগের সমালোচনাও কম হচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, নিউইয়র্কে সস্তা ও বড় সুপারমার্কেটের অভাব বা 'ফুড ডেজার্ট'-এর পেছনে মূল কারণ মুক্তবাজারের ব্যর্থতা নয়, বরং শহরের সেকেলে জোনিং আইন। ১৯৭০-এর দশকে তৈরি একটি আইনের কারণে ম্যানুফ্যাকচারিং বা 'এম' (M) জোনগুলোতে ১০ হাজার বর্গফুটের বেশি আয়তনের রিটেইল স্টোর নির্মাণ করতে হলে সিটি প্ল্যানিং কমিশন এবং সিটি কাউন্সিলের বিশেষ অনুমতির প্রয়োজন হয়। এই আইনি জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে বড় বড় বেসরকারি সুপারমার্কেট চেইনগুলো চাইলেও অনেক এলাকায় বিনিয়োগ করতে পারে না, যা প্রকারান্তরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়িয়ে দেয়। অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন যে, সরকারি ভর্তুকি ও মূল্য নিয়ন্ত্রণের এই নীতি হিতে বিপরীত হতে পারে। পণ্যের দাম স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশ কম থাকায় অসাধু ক্রেতারা এসব পণ্য বেশি করে কিনে কালোবাজারে বেশি দামে বিক্রি করার সুযোগ পেতে পারে। এর ফলে দোকানে দ্রুত মজুত ফুরিয়ে তাক খালি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং সাধারণ মানুষ পণ্য থেকে বঞ্চিত হতে পারে। সমালোচকদের মতে, সরকারি কোষাগারের বিপুল অর্থ ব্যয় করে বেসরকারি খাতের সাথে অসম প্রতিযোগিতায় না গিয়ে, মেয়রের উচিত জোনিং আইন সংস্কার করে বড় বড় সুপারমার্কেট চেইনগুলোকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। এতে বাজারে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদে ন্যায্যমূল্যে পণ্য কেনার সুযোগ পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাতে একসময় দক্ষ কর্মীদের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। উচ্চ বেতন, দ্রুত পদোন্নতি এবং চাকরির নিরাপত্তার কারণে এই খাতকে ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হতো। কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই চিত্র উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে গেছে। বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক ছাঁটাই, নিয়োগের গতি কমে যাওয়া এবং একটি পদের বিপরীতে বিপুল সংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় অনেক অভিজ্ঞ আইটি পেশাজীবী মাসের পর মাস নতুন চাকরি খুঁজেও সফল হচ্ছেন না। বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু নতুন গ্র্যাজুয়েটরাই নন, ৮ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার, কিউএ অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার এবং ডেটা পেশাজীবীরাও কঠিন প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। লিঙ্কডইন সহ বিভিন্ন পেশাদার নেটওয়ার্কে প্রতিদিনই শত শত আবেদন করেও সাক্ষাৎকারের সুযোগ না পাওয়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন অনেক চাকরিপ্রার্থী। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীদের মধ্যেও একই বাস্তবতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলা কয়েকজন পেশাজীবী পরিচয় গোপন রাখার শর্তে তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, চাকরি হারানোর পর নতুন সুযোগ খুঁজে পাওয়া আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠেছে। ভার্জিনিয়ার একজন বাংলাদেশি কিউএ অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার, যিনি এখানে ছদ্মনামে “কাকন” নামে উল্লেখ করা হয়েছে, ওয়াশিংটন ডিসি অঞ্চলের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় আট বছর কর্মরত ছিলেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠনের সময় তিনি চাকরি হারান। এরপর থেকে কয়েকশ প্রতিষ্ঠানে আবেদন করলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো চাকরি পাননি। পরিবারের নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের জন্য তিনি সাময়িকভাবে রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মে গাড়ি চালানোর কাজ করছেন। জর্জিয়ার আরেক বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবী, যিনি এখানে “রহমান” ছদ্মনামে পরিচিত, একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চার বছর কাজ করেছেন। গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে চাকরি হারানোর পর থেকে তিনি নতুন সুযোগের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, চাকরি চলে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত অন্তত ৫০০ এপ্লিকেশন করেছি কিন্তু গুটিকয়েক রেসপন্স পেয়েছি যদিও কোন জব হয়নি শেষ পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে কাঙ্ক্ষিত চাকরি না পাওয়ায় বর্তমানে তিনি প্রযুক্তি খাতের বাইরে তুলনামূলক কম বেতনের একটি প্রশাসনিক পদে কাজ করছেন। তার ভাষায়, পরিবারের দায়িত্বের কারণে অপেক্ষা করার সুযোগ ছিল না। আটলান্টার আরেক বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবী “আলম” (ছদ্মনাম) একটি বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি বিভাগে কয়েক বছর কাজ করেছেন। চলতি বছরের শুরুতে চাকরি হারানোর পর তিনি নিয়মিত আবেদন করলেও এখনো আইটি খাতে ফিরতে পারেননি। পরিবারের খরচ চালানোর জন্য আপাতত ওয়াল গ্রীন এ কাজ করছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না, তবে সুযোগ পেলেই আবার প্রযুক্তি খাতে ফিরতে চান। এ ধরনের অভিজ্ঞতা শুধু কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীরা। অনেকেই মাসের পর মাস চাকরি খুঁজছেন, কিন্তু সামাজিক মর্যাদা, আত্মসম্মান কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়োগদাতার দৃষ্টিভঙ্গির কথা বিবেচনা করে বিষয়টি প্রকাশ্যে বলতে চান না। ফলে কমিউনিটির ভেতরে বাস্তব পরিস্থিতির চেয়ে অনেক কম মানুষই এই সংকট সম্পর্কে জানেন। পেশাজীবীদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। ২০২৫ এর শুরু থেকে প্রযুক্তি খাতে বড় আকারের ছাঁটাই, প্রতিষ্ঠানের ব্যয় সংকোচন, নিয়োগে সতর্কতা এবং একটি পদের বিপরীতে অস্বাভাবিক সংখ্যক আবেদন প্রতিযোগিতাকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। একই সঙ্গে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন আবেদনপত্র প্রাথমিকভাবে বাছাই করতে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা এআই-নির্ভর অ্যাপলিক্যান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করছে। ফলে যোগ্য প্রার্থীদের একটি বড় অংশ প্রথম ধাপেই বাদ পড়ছেন। ক্যারিয়ার স্পেশালিস্টদের মতে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু শত শত আবেদন পাঠানোই যথেষ্ট নয়। প্রতিটি পদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রিজ্যুমে প্রস্তুত করা, লিঙ্কডইন প্রোফাইল নিয়মিত হালনাগাদ রাখা, পেশাগত নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা, রেফারেলের মাধ্যমে আবেদন করা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, সাইবার সিকিউরিটি ও ডেটা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো চাহিদাসম্পন্ন দক্ষতা অর্জনের ওপর আগের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি খাত এখনও বিশ্বের অন্যতম বড় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। তবে সাম্প্রতিক বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিচ্ছে, অভিজ্ঞতা থাকলেই চাকরি নিশ্চিত এমন ধারণা আর আগের মতো সত্য নয়। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি আইটি পেশাজীবীদের একটি অংশ দীর্ঘ সময় ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন। তাদের অনেকেই বিশ্বাস করেন, বাজারে সুযোগ রয়েছে, তবে সেই সুযোগের জন্য এখন আগের তুলনায় অনেক দীর্ঘ অপেক্ষা, বেশি প্রতিযোগিতা এবং আরও বেশি প্রস্তুতির প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে 'টিপিং কালচার' বা বকশিস দেওয়ার সংস্কৃতি যে সীমার বাইরে চলে যাচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের ঝড় উঠেছে। দামি রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে সাধারণ কফির দোকান—সবখানেই এখন ক্রেতাদের কাছে বকশিস প্রত্যাশা করা হয়। সম্প্রতি এক ক্রেতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করে এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, একটি ফাস্টফুডের দোকানে খাবার অর্ডার করার সময়ই মেশিনের স্ক্রিনে কিচেন স্টাফ বা বাবুর্চিদের জন্য আগাম বকশিস চাওয়া হয়। এতে তিনি রীতিমতো হতবাক হয়ে যান এবং প্রশ্ন তোলেন, বকশিস না দিলে কি তার খাবারে ইচ্ছাকৃতভাবে নোংরা কিছু মিশিয়ে দেওয়া হবে? এই ভিডিওটি এক্সে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। ঘটনার বিবরণ দিয়ে ওই ব্যক্তি জানান, প্রায় ১০-১৫ বছর পর তিনি 'শ্লটজস্কিস' নামের একটি পিৎজা ও স্যান্ডউইচের চেইন শপে গিয়েছিলেন। সেখানে কোনো ওয়েটার বা টেবিল সার্ভিস না থাকা সত্ত্বেও পেমেন্ট মেশিন তার কাছে বকশিস দাবি করে। তিনি ভিডিওতে বলেন, যেখানে তাকে কোনো সরাসরি সেবা দেওয়া হচ্ছে না, সেখানে কেবল আতঙ্কের বশবর্তী হয়ে কেন তাকে বকশিস দিতে হবে! এক্স প্ল্যাটফর্মে একজন ব্যবহারকারী ভিডিওটি শেয়ার করে লিখেন, এই সংস্কৃতি এখন আর আতিথেয়তার পর্যায়ে নেই, বরং এটি ক্রেতাদের এক ধরনের মানসিক চাপে ফেলে টাকা আদায়ের শামিল। ভিডিওর নিচে মন্তব্য করতে গিয়ে অসংখ্য নেটিজেন তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনেকেই জানান, বকশিসের ওপর খাবারের মান নির্ভর করাটা এক ধরনের চাঁদাবাজির সমতুল্য। কেউ কেউ তো এমন পরিস্থিতিতে সরাসরি অর্ডার বাতিল করে দেওয়ার কথাও বলেছেন। আরেক নেটিজেনের মতে, যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কর্মীদের উপযুক্ত বেতন দেয় না, তাদের বয়কট করাই শ্রেয়। এই ঘটনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান টিপিং সংস্কৃতির প্রতি সাধারণ মানুষের চরম অসন্তোষের একটি সুস্পষ্ট প্রতিফলন। ক্ষুব্ধ নেটিজেনদের অনেকেই এখন নিজেদের জন্য নিয়ম করে নিয়েছেন যে, কাউন্টারে দাঁড়িয়ে অর্ডার করতে হলে তারা কোনো অবস্থাতেই বকশিস দেবেন না। পপমেন্যু (Popmenu)-এর সাম্প্রতিক এক জরিপেও এই একই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ৭৮ শতাংশ ক্রেতাই মনে করেন যে বর্তমান টিপিং কালচার একটি হাস্যকর ও অযৌক্তিক পর্যায়ে চলে গেছে। এ ছাড়া ৭৪ শতাংশ উত্তরদাতা লক্ষ্য করেছেন যে, রেস্তোরাঁগুলো এখন স্ক্রিনে বকশিসের প্রস্তাবিত পরিমাণ আগের চেয়ে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে বকশিস এখন আর স্বেচ্ছায় দেওয়া কোনো উপহার বা সম্মানী নয়, বরং ক্রেতাদের জন্য এক অলিখিত বাধ্যতামূলক নিয়মে পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে অসন্তোষ বেড়েই চলেছে।
উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপুল অঙ্কের অর্থের এক আইনি লড়াইয়ে বড় জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক সংগঠন ‘ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা’ (ডিএসএ)। সম্প্রতি আদালতের এক রায়ে ৫২ লাখ ডলারের (৫.২ মিলিয়ন) এই তহবিল দলটির অনুকূলে হস্তান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা ডিএসএ-এর প্রায় এক বছরের আয়ের সমান। বিপুল এই অর্থ এমন এক সময়ে দলটির হাতে এল, যখন তারা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব ও বিস্তার বৃদ্ধিতে ব্যাপকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এই আইনি বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনওয়াইইউ) সমাজবিজ্ঞানের প্রয়াত অধ্যাপক ডেভিড গ্রিনবার্গ, যিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মারা যান। সারা জীবন বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই অধ্যাপক তার উইলে উল্লেখ করেছিলেন যে, মৃত্যুর পর তার এনওয়াইইউ অবসর তহবিলের অর্থ যেন তৎকালীন বামপন্থী সংগঠন ‘নিউ আমেরিকান মুভমেন্ট’ বা তাদের আইনানুগ কোনো উত্তরসূরি সংগঠন পায়। ঐতিহাসিক তথ্যমতে, ১৯৮২ সালে এই সংগঠনটিই একীভূত হয়ে বর্তমানের ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকা গঠিত হয়েছিল। তবে গ্রিনবার্গের ভাতিজা মার্টিন হেচট এই উইলের বিরোধিতা করে ২০২৫ সালের এপ্রিলে মামলা দায়ের করেন। তার দাবি ছিল, ডিএসএ আইনিভাবে সঠিক উত্তরসূরি হওয়ার প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেয়নি এবং উইলটি সঠিকভাবে যাচাই করতে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ও ব্যর্থ হয়েছে। তবে দীর্ঘ শুনানি শেষে বিচারক ডিএসএ-এর পক্ষেই রায় দেন। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৫ সালে নিউইয়র্কের মেয়র পদে জোহরান মামদানির জয় এবং ২০২৬ সালের প্রাইমারিতে ক্লেয়ার ভালদেজ ও ডারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের মতো ডিএসএ-সমর্থিত প্রার্থীদের অভাবনীয় সাফল্য দলটির আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে। ফিলাডেলফিয়া, কলোরাডো ও ওয়াশিংটন ডিসির মতো এলাকায় ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মূল ধারার প্রার্থীদের হারিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করেছে। নতুন পাওয়া এই ৫২ লাখ ডলার ডিএসএ কীভাবে ব্যয় করবে তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করলেও, ধারণা করা হচ্ছে এই অর্থ তাদের নির্বাচনী প্রচারণা, বিজ্ঞাপন এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মী সংগ্রহের কাজে বড় ভূমিকা রাখবে। ইতোমধ্যেই ১ লাখ ২০ হাজার সদস্য নিয়ে তারা নিজেদের যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সমাজতান্ত্রিক সংগঠন হিসেবে দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমার এক শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেহা গুপ্তা (৩৬) তার চার বছর বয়সী কন্যাকে হত্যার অভিযোগে বর্তমানে মিয়ামির একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। বিচারকার্যের অপেক্ষায় থাকা এই নারী সম্প্রতি বিচারকের কাছে নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদন করেছেন। নেহা গুপ্তার দাবি, তার সেল ব্লকের অন্য এক সহবন্দি তাকে বারবার মুখে ঘুষি মেরেছেন এবং তাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন। নেহা গুপ্তার বিরুদ্ধে তার নিজের সন্তানকে হত্যার পর একটি এয়ারবিএনবি (Airbnb)-এর সুইমিংপুলে ফেলে পানিতে ডুবে মৃত্যুর নাটক সাজানোর মতো চাঞ্চল্যকর ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বেরিয়ে আসে এক মর্মান্তিক সত্য; পানিতে ফেলার আগেই শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। এই নৃশংস ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের (প্রথম মাত্রার খুনের) অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় মিয়ামির কারাগারে দিন কাটছে এই অভিযুক্ত চিকিৎসকের।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবগামী বা সৌদি-সংশ্লিষ্ট আটটি জাহাজের চলাচল আটকে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। তারা জানায়, সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠন করছে। ইতোমধ্যে একাধিক দেশ এ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা কয়েকটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। অনেক শিপিং কোম্পানি ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, সামাজিক মাধ্যমে "সৌদির ৮টি জাহাজ আটক" শিরোনামটি ব্যাপকভাবে ছড়ালেও আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমগুলো এখন পর্যন্ত ৮টি জাহাজ জব্দ হওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি। বরং নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের নৌ অবরোধের কারণে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং কিছু জাহাজকে বিকল্প পথ নিতে হয়েছে।
রাজনীতি
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View moreযুক্তরাজ্যের ঐতিহ্যবাহী অক্সফোর্ড ইউনিয়নের এক বহুল আলোচিত বিতর্কে ইসলামবিরোধী একটি প্রস্তাব শেষ পর্যন্ত সদস্যদের ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। বিতর্কে প্রস্তাবের পক্ষে ছিলেন কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন এবং বিতর্কিত রাজনৈতিক ভাষ্যকার লরেন্স ফক্স। অন্যদিকে প্রস্তাবের বিপক্ষে অবস্থান নেন অক্সফোর্ড ইউনিয়নের সভাপতি, গাজার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম শিক্ষার্থী আরওয়া এলরায়েস এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগ। গত ১৭ জুন অনুষ্ঠিত বিতর্কের বিষয় ছিল, ‘পশ্চিমা বিশ্বের ইসলামের প্রতি সন্দিহান হওয়া উচিত।’ দীর্ঘ আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর শেষে সদস্যদের ভোটে ৩৩–৩০ এবং চেম্বারের ভোটে ৫৭–৪১ ব্যবধানে প্রস্তাবটি নাকচ হয়ে যায়। বিতর্কে টমি রবিনসন ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন ধর্মীয় উদ্ধৃতি তুলে ধরে দাবি করেন, ইসলাম অন্য ধর্মের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানকে উৎসাহিত করে না। এর জবাবে আরওয়া এলরায়েস বলেন, ধর্মীয় গ্রন্থের বক্তব্যকে প্রাসঙ্গিক ব্যাখ্যা ছাড়া উদ্ধৃত করলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে। তিনি যুক্তি দেন, উগ্রবাদী গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডকে সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশ্বাস ও আচরণের প্রতিফলন হিসেবে দেখানো ন্যায়সঙ্গত নয়। তিনি বলেন, সন্দেহের লক্ষ্য হওয়া উচিত সেই সব উগ্রবাদী গোষ্ঠী, যারা ধর্মের অপব্যাখ্যা করে সহিংসতা ছড়ায়—কোনো ধর্ম বা তার অনুসারীরা নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের মুসলমানরাও সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে থাকেন এবং অনেক মুসলিম নারীও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। তার বক্তব্যের বিভিন্ন অংশে উপস্থিত দর্শকদের করতালি ও সমর্থন দেখা যায়। অন্যদিকে লরেন্স ফক্স বিতর্কে দাবি করেন, ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং একটি ‘যুদ্ধযন্ত্রের’ মতো। এর প্রতিবাদ করে আরওয়া এলরায়েস কোরআনের ধর্মীয় সহনশীলতা, ন্যায়বিচার এবং ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি আচরণ সম্পর্কিত শিক্ষার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি ধর্মকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা উগ্র গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের পরিবর্তে মূল ধর্মীয় শিক্ষা ও বৃহত্তর অনুসারীদের বাস্তব অবস্থান বিবেচনা করা উচিত। বিতর্কে সাবেক কনজারভেটিভ মন্ত্রী জ্যাকব রিস-মগও ইসলামবিরোধী প্রস্তাবের বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, কিছু চরমপন্থীর কর্মকাণ্ডের জন্য পুরো মুসলিম সম্প্রদায়কে দায়ী করা যায় না। তার মতে, যুক্তরাজ্যের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও আইনের শাসন যথেষ্ট শক্তিশালী এবং একটি ধর্মকে সামগ্রিকভাবে সন্দেহের চোখে দেখার যৌক্তিক ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, ব্রিটিশ মুসলিম জনগোষ্ঠীকে ভয়ের কারণ হিসেবে উপস্থাপন করা কিংবা শরিয়া আইন ব্রিটিশ আইনের বিকল্প হয়ে উঠবে—এ ধরনের আশঙ্কার পক্ষে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। অক্সফোর্ড ইউনিয়নের বিতর্কগুলো দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও নীতিগত বিষয় নিয়ে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক এই বিতর্কের ভিডিও ও বিশেষ করে আরওয়া এলরায়েসের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তার উপস্থাপিত যুক্তি, পাল্টা প্রশ্ন এবং বিতর্ক পরিচালনার ধরন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আবারও কেঁপে উঠেছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ। ইউক্রেনীয় বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাজধানী লক্ষ্য করে ছোড়া ২৭টি রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি রাশিয়া ড্রোন ব্যবহার করেও একযোগে আক্রমণ চালায়। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চ গতি ও স্বল্প সময়ের সতর্কবার্তার কারণে অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। দেশটির বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলায় তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে উন্নত প্রযুক্তির প্যাট্রিয়টের মতো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এসব প্রতিরক্ষা অস্ত্রের ঘাটতির বিষয়েও ইউক্রেন বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিয়েভ সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছেন। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব এবং হতাহতের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানানো সম্ভব হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের রাজধানীসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাত্রা বেড়েছে। এর ফলে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও জোরদারের দাবি নতুন করে সামনে এসেছে। ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর প্রকাশিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়াও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
গাজায় চলমান যুদ্ধের কারণে অন্তত একজন অভিভাবক হারানো ১০০ শিশু দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে আয়োজিত ৫০০ মিটারের একটি দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। যুদ্ধে অনাথ হয়ে পড়া শিশুদের মানসিকভাবে সাহস জোগানো এবং সমাজের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। আয়োজকেরা জানান, প্রতিযোগিতাটি শুধু একটি ক্রীড়া আয়োজন নয়; বরং যুদ্ধের মানসিক আঘাত কাটিয়ে উঠতে শিশুদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরির একটি প্রচেষ্টা। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া শিশুদের জন্য বিভিন্ন বিনোদনমূলক ও সামাজিক কার্যক্রমও রাখা হয়। অংশগ্রহণকারী শিশুদের পরিবারের সদস্যরা বলেন, যুদ্ধ তাদের জীবন আমূল বদলে দিয়েছে। অনেক শিশু বাবা, মা অথবা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে। তবুও দৌড়ে অংশ নেওয়ার মাধ্যমে তারা দেখিয়েছে, কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও সামনে এগিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাশক্তি হারিয়ে যায়নি। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা বহুবার সতর্ক করেছে, গাজায় যুদ্ধের ফলে হাজার হাজার শিশু এতিম হয়েছে বা পরিবারের প্রধান অভিভাবককে হারিয়েছে। এসব শিশুর জন্য খাদ্য, আশ্রয় ও চিকিৎসার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মানসিক স্বাস্থ্যসেবারও জরুরি প্রয়োজন রয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরে চলা সংঘাতে খান ইউনিসসহ গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে। বহু পরিবার বারবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং শিশুদের বড় একটি অংশ শিক্ষা ও স্বাভাবিক শৈশব থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এই বাস্তবতায় আয়োজকেরা বলছেন, এমন সামাজিক উদ্যোগ শিশুদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আশা জাগাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা ফের শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর
গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন হুমকি, চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী
ফিলিস্তিনি হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া, হামাস অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয় ইঙ্গিতে কঠোর অবস্থান
লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না
নৌভ্রমণে ক্যাটি পেরির বুকে সানস্ক্রিন মেখে দিলেন জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সে ধরা পড়ল প্রেমের অন্য রূপ
কেন বাবার পদবি বাদ দিলেন টম ক্রুজের মেয়ে? বাবা-মেয়ের দূরত্ব নিয়ে যা জানা গেছে
বাবার সাথে সম্পর্ক ছেদ করলেন টম ক্রুজের মেয়ে, নথিতে এখন নতুন পরিচয়
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ফাঁস, তিন ঘণ্টার কম সময়েই লাখ লাখ ভিউ
৫০০ আবেদনেও মিলছে না চাকরি: যুক্তরাষ্ট্রের আইটি খাতে দীর্ঘ বেকারত্বে বাড়ছে বাংলাদেশিদের উদ্বেগ
মিয়ামিতে ৪ বছরের কন্যা হত্যা মামলায় কারাবন্দি মা, এবার জেলেই সহবন্দীর হামলার শিকার
ক্যালিফোর্নিয়ায় শিশুদের বেপরোয়া ই-বাইক চালানোয় অভিভাবকদের বিরুদ্ধে মামলা
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার থেকে কফি সবখানেই বকশিসের চাপ, টিপিং কালচারকে অযৌক্তিক মনে করেন ৭৮% ক্রেতা
নিউইয়র্কে ট্রাম্প টাওয়ারের ওপর দিয়ে আর উড়বে না কোনো বিমান, স্থায়ী নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাব
এক প্রিন্সিপালের জীবনের পরাজয়: সম্মান থেকে সংগ্রাম, শেষে রেললাইনে নিথর দেহ
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক গুগল নির্বাহীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার
ডালাসে ইনডোর ওয়াটার পার্কে ঈদুল আজহা উদযাপন, মুসলিম পরিবারগুলোর ব্যতিক্রমী আয়োজন আলোচনায়
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে ট্রাম্প প্রশাসন, আজ থেকেই কার্যকর
চাঁদা না দেয়ায় চিঠি দিয়ে পাঁচ হিন্দু পরিবারকে হত্যার হুমকি
বসুন্ধরায় ভুয়া চাকরির প্রলোভনে প্রতারণার আস্তানা: ৬ হাজার সক্রিয় সিমসহ বিদেশি চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার
এইচএসসি পরীক্ষার আগেই এমআইটিতে ১০ কোটি টাকার স্কলারশিপ অর্জন চাঁদপুরের সিফাতের
‘শয়তানের ধোঁকায় পড়ে শুরু করেছিলাম, দেখে ফেলায় শেষ করতে পারিনি’