Live update news
ছবি: সংগৃহীত
ভিয়েতনামে মাংসের জন্য চুরি হওয়া ৪০০ বিড়াল উদ্ধার, বড় চক্রের সন্ধান

ভিয়েতনামের হো চি মিন সিটিতে মাংসের জন্য পোষা বিড়াল পাচারকারী একটি বড় চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিয়েছে দেশটির পুলিশ। কয়েক দিন ধরে চলা এই বিশেষ অভিযানে ৪শরও বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে পোষা প্রাণী চুরির এই চক্রটির সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে ভিয়েতনামের স্থানীয় গণমাধ্যম ও প্রাণী কল্যাণ সংস্থাগুলোর বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, হো চি মিন সিটিতে সাম্প্রতিক সময়ে বিপুলসংখ্যক পোষা বিড়াল চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই আন্তর্জাতিক অপরাধ চক্রের সন্ধান পায়। অভিযানে পুলিশ সন্দেহভাজনদের আস্তানা থেকে ৪৫টি খাঁচায় বন্দি অবস্থায় প্রায় ৪০০টি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করে। এছাড়া বরফ ভর্তি চারটি ফোমের বাক্সে আরও প্রায় ৮০টি মৃত বিড়াল এবং অন্য একটি আস্তানা থেকে আরও ২১টি জীবিত বিড়াল জব্দ করা হয়। উদ্ধার হওয়া মোট ৫০০টিরও বেশি বিড়ালের এই ঘটনাটিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভিয়েতনামের ইতিহাসে অন্যতম বড় প্রাণী উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।   পুলিশি জেরার মুখে আটককৃতরা স্বীকার করেছে যে, তারা গত তিন বছর ধরে হো চি মিন সিটি, তে নিন এবং আন গিয়াংসহ দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মানুষের পোষা বিড়াল ধরে এনে পাচার করছিল। আন্তর্জাতিক প্রাণী কল্যাণ সংস্থা 'হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস'-এর প্রতিনিধি কারানভির কুকরেজা বলেন, এই ঘটনাটি ভিয়েতনামে বিড়ালের মাংসের ব্যবসার বিশাল এবং ভয়াবহ রূপটিকে আবারও সবার সামনে এনেছে। উদ্ধারকৃত বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি গর্ভবতী ছিল এবং চলতি সপ্তাহে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থাতেই কিছু বাচ্চার জন্ম হয়েছে।   উদ্ধার অভিযানের পর গত কয়েক দিনে অন্তত ৪০টি বিড়ালকে তাদের আসল মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নির্মম পরিবেশে আটকে রাখার কারণে উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে বেশ কয়েকটি ইতিমধ্যে মারা গেছে। বিড়ালগুলোর সেবায় বর্তমানে স্থানীয় পশু চিকিৎসক এবং স্বেচ্ছাসেবকরা দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন। অনেক পরিবার তাদের হারিয়ে যাওয়া পোষা বিড়ালটিকে খুঁজতে এসে না পেয়ে চোখের জল ফেলছেন।   ভিয়েতনামে কুকুর এবং বিড়ালের মাংস খাওয়া ও বিক্রি করা আইনত বৈধ হলেও বিক্রেতাদের অবশ্যই প্রাণীর উৎসের বৈধ অনুমতিপত্র থাকতে হয়। তবে ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় কুকুরের মাংস নিষিদ্ধ হওয়ার পর ভিয়েতনাম সরকারও পোষা প্রাণীদের সুরক্ষায় আইন সংস্কারের পরিকল্পনা করছে। হো চি মিন সিটির স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, এই বড় ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিড়ালের মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক সচেতনতা তৈরি হবে।

১ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় আহত সোমালিয়ার ৭ বছরের শিশু, ৭৫০ ডলারের অভাবে পঙ্গুত্বের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রের এক ভয়াবহ বিমান হামলায় শরীরে বোমার স্প্লিন্টার বিদ্ধ হওয়া সাত বছর বয়সী এক সোমালি শিশু চিরতরে পঙ্গু হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, জরুরি ভিত্তিতে ৭৫০ ডলার (প্রায় ৯শ ডলার) খরচ করে অপারেশন না করালে শিশুটি আর কোনোদিন হাঁটতে পারবে না। কিন্তু চরম দরিদ্র পরিবারের পক্ষে এই অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রশাসন এই হামলায় কোনো সাধারণ নাগরিকের হতাহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করায় পরিবারটির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার আশাও শেষ হয়ে গেছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই বেদনাদায়ক তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ নভেম্বর সোমালিয়ার জামামে শহরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ড্রোন হামলায় আটটি শিশুসহ অন্তত ১২ জন সাধারণ নাগরিক নিহত হন। এটি ছিল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোমালিয়ায় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর চালানো সবচেয়ে বড় এবং মারাত্মক মার্কিন হামলা। এই হামলার সময় সাত বছর বয়সী আবদিলকাদির সালাহ নামের ওই শিশুটি তাদের বাড়ির বাইরের রাস্তায় খেলছিল। কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়াই হঠাৎ ড্রোন থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ শুরু হলে আবদিলকাদিরের পিঠ ও উরুর হাড়ের সংযোগস্থলে বোমার স্প্লিন্টার বা ধাতব টুকরো ঢুকে যায়।   শিশুটির মা মারিয়ান হাজি আবদি গুলেদ জানান, হামলায় তার আরও দুই সন্তান মারাত্মকভাবে জখম হয়। চারিদিকে অবিরাম বোমা বর্ষণের মধ্যে রক্তাক্ত সন্তানদের নিয়ে তিনি গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পালিয়ে যান এবং ড্রোনের পুনরুত্থানের ভয়ে সারারাত সেখানেই আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তিনি সন্তানদের নিয়ে রাজধানী মোগাদিশুর 'কাফি হাসপাতালে' পৌঁছান। সেখানে বড় মেয়ের মাথার স্প্লিন্টার বের করা সম্ভব হলেও অর্থের অভাবে আবদিলকাদিরের অপারেশন করানো সম্ভব হচ্ছে না। এক্স-রে রিপোর্টে দেখা গেছে, স্প্লিন্টারটি তার কোমরের হাড়ের নিচে এমনভাবে আটকে আছে যা দ্রুত অপসারণ না করলে সে হাঁটার ক্ষমতা হারাবে।   গার্ডিয়ানের অনুসন্ধানে এই ড্রোন হামলার পেছনে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের সততা এবং লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। কারণ যে সময়ে হামলাটি চালানো হয়েছিল, আকাশ থেকে স্পষ্ট বোঝার উপায় ছিল যে সেখানে শিশুরা অবস্থান করছে। এই যৌথ অভিযানটি মার্কিন সামরিক বাহিনীর আফ্রিকা কমান্ড এবং সোমালি স্থলবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত হলেও, প্রত্যক্ষদর্শীদের শতভাগ দাবি—সব ক্ষয়ক্ষতি ড্রোন থেকে ফেলা বোমার কারণেই হয়েছে।   দুর্ভাগ্যজনক বিষয় হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন প্রশাসন সম্প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর ঘটনায় জবাবদিহিতা ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার একটি আইনি কর্মসূচি নীরবে বাতিল করে দিয়েছে। ফলে সোমালিয়ায় মার্কিন হামলায় নিহত বা আহত কোনো বেসামরিক নাগরিককেই কোনো ধরনের ক্ষতিপূরণ দিচ্ছে না ওয়াশিংটন। আবদিলকাদিরের মা মারিয়ান আক্ষেপ করে বলেন, "আমেরিকানরাই আমাদের এই চরম দুর্ভোগের জন্য দায়ী। একজন মায়ের কাছে এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে, যখন সে টাকার অভাবে তার পঙ্গু হতে যাওয়া সন্তানের চিকিৎসা করাতে পারে না।" এই বিষয়ে মার্কিন যুদ্ধ দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার) সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করেনি।

৫ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
মেক্সিকো ম্যাচের আগে ফিফার স্পন্সর হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার গ্রুপ পর্বের ম্যাচের আগে টুর্নামেন্টের অন্যতম প্রধান স্পন্সর প্রতিষ্ঠান হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। একটি বিতর্কিত খনি কোম্পানির সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্কের জেরে দক্ষিণ কোরিয়ান এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে মেক্সিকোর গুয়াদালাজারা শহরে বিক্ষোভের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বুধবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবেশবাদী সংগঠন 'মাইটি আর্থ'-এর ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে ‘নোংরা স্টিল সরবরাহ চেইনের’ সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়। হুন্দাই মূলত দক্ষিণ আমেরিকার খনি কোম্পানি 'টার্নিয়াম' থেকে ইস্পাত তৈরির জন্য বিপুল পরিমাণ আকরিক লোহা কেনে। এই টার্নিয়াম কোম্পানির বিরুদ্ধে পরিবেশ ধ্বংসের পাশাপাশি মেক্সিকোর দুজন মানবাধিকার কর্মীকে গুম করার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং মেক্সিকোর প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার নিখোঁজ মানুষের ভাগ্য নির্ধারণের দাবিতে গুয়াদালাজারার প্লাজা দে লা লিবেরাসিওনে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।   জানা গেছে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে টার্নিয়াম কোম্পানির গ্রামীণ এলাকা ধ্বংসের নীতির তীব্র সমালোচনা করার পর গুয়াদালাজারা থেকে দুজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন। তারা হলেন—বিখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী রিকার্ডো আরতুরো লাগুনেজ গাসকা এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের নেতা আন্তোনিও দিয়াজ ভ্যালেন্সিয়া। খনি বিরোধী এক সভা থেকে ফেরার পথে তারা নিখোঁজ হন এবং পরবর্তীতে তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি মহাসড়কের পাশে গুলিবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেলেও তাদের কোনো সন্ধান মেলেনি। আন্দোলনকারীরা হুন্দাইয়ের বিরুদ্ধে 'স্পোর্টসওয়াশিং' বা খেলাধুলার আড়ালে অপরাধ ঢাকার অভিযোগ এনেছেন এবং টার্নিয়াম কোম্পানিকে ‘লাল কার্ড’ দেখানোর দাবি তুলেছেন।   হুন্দাই এবং কিয়া বর্তমানে ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ফিফার অফিসিয়াল পার্টনার হিসেবে কাজ করছে। তারা খেলোয়াড়, রেফারি এবং কর্মকর্তাদের যাতায়াতের জন্য আমেরিকা, কানাডা এবং মেক্সিকো জুড়ে প্রায় ১ হাজার গাড়ি এবং ৫০০টিরও বেশি বাস সরবরাহ করেছে। বিশ্বকাপের মেক্সিকো অংশে এই বিক্ষোভ বেশ জোরালো হয়ে উঠেছে। এর আগে উদ্বোধনী ম্যাচের দিনও মেক্সিকোর আসতেকা স্টেডিয়ামের বাইরে আন্দোলনরত শিক্ষকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিলেন।   অবশ্য টার্নিয়াম মেক্সিকো কর্তৃপক্ষ এই গুমের ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, তারা সবসময় আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে এবং যেকোনো ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্ট। অন্যদিকে এই বিক্ষোভের বিষয়ে হুন্দাই কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

১৭ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকায় ১৯ জুন শুরু হচ্ছে বহুসাংস্কৃতিক উৎসব ‘ভালো মেলা ২০২৬’

নিউইয়র্কের কুইন্স বরোর জ্যামাইকা এলাকায় আগামী ১৯ জুন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুসাংস্কৃতিক কমিউনিটি উৎসব ‘ভালো মেলা ২০২৬’। স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন ভালো (বিএইচএএলও)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেলা বিকেল ৩টা থেকে শুরু হবে।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, গত বছরও একই মেলার আয়োজন করা হয়েছিল। এবারের আয়োজনকে আরও বিস্তৃত ও অংশগ্রহণমূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মেলার মূল লক্ষ্য বিভিন্ন বয়স ও সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য একসঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনোদন ও সামাজিক সম্পৃক্ততার সুযোগ তৈরি করা। আয়োজনস্থল হিসেবে কুইন্সের হিলসাইড অ্যাভিনিউ এবং ১৭৩ স্ট্রিট থেকে ১৭৫ স্ট্রিট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। দিনব্যাপী এই উৎসবে বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার, হস্তশিল্প, কমিউনিটি সেবা এবং পারিবারিক বিনোদনের নানা আয়োজন থাকবে।   মেলার অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্টল, স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য বিশেষ কার্যক্রম। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই আয়োজনের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।   এবারের মেলায় কমিউনিটি পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটি, এলহাম একাডেমি, সাপ্তাহিক ঠিকানা এবং বেঙ্গলিস অব নিউইয়র্ক (বনি)। পাশাপাশি নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামসও অনুষ্ঠানের সহযোগী অংশীদার হিসেবে যুক্ত রয়েছেন।   আয়োজকরা জানিয়েছেন, মেলায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী বিক্রেতা ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্য অনলাইন নিবন্ধনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিউআর কোডের মাধ্যমে নিবন্ধনের সুযোগ থাকছে। আয়োজক সংগঠন ভালো (বিএইচএএলও)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই আয়োজন কেবল একটি মেলা নয়, বরং এটি বিভিন্ন সংস্কৃতি ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরির একটি প্রয়াস। নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই তাদের মূল লক্ষ্য।

২৭ মিনিট Ago
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান | ফাইল ছবি
জাতীয়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্য আরও শক্তিশালী করবে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত সাম্প্রতিক চুক্তি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর–৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলনের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন। স্পিকার (মেজর অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্বটি টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।   সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি 'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড' (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির আওতায় মার্কিন তুলা ব্যবহার করে বাংলাদেশে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে মার্কিন বাজারে শূন্য শুল্ক সুবিধা (জিরো ট্যারিফ) নিশ্চিত হয়েছে। এই চুক্তিটি বাংলাদেশে বড় ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় (গ্লোবাল সাপ্লাই চেইন) বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।   বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।" তিনি আরও জানান, দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা বাড়াতে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে (ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি) বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।   বাজার সম্প্রসারণের কৌশল নিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের ওপর নির্ভরতা কাটিয়ে এখন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রেফারেনসিয়াল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (পিটিএ), ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) এবং কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সম্পাদনের আলোচনা ও প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সিইপিএ বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের কার্যক্রমও অনেকদূর এগিয়েছে। একই সাথে জিসিসি ও মারকুসুরসহ (MERCOSUR) বিভিন্ন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও যোগ করেন, সরকারের কার্যকর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে দেশের কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির প্রক্রিয়াটিও বর্তমানে চলমান রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৯:১২
ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি জুন কিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: বিএনপি মিডিয়া সেল
বাংলাদেশে প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া

বাংলাদেশে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা জানান ঢাকায় নিযুক্ত দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত জি জুন কিম।   প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।   বৈঠকে বিশেষভাবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।   সাক্ষাৎকালে দক্ষিণ কোরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া বাংলাদেশে বিশেষ করে ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও প্রযুক্তি খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগে আগ্রহী।   তিনি আরও উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদনশিল্পসহ সম্ভাবনাময় খাতগুলোতেও সহযোগিতা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে।   পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন অংশীদারত্বের প্রশংসা করেন। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং শিল্প সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।   তিনি বাংলাদেশে আরও বেশি দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

আইফোন চুরির অপবাদে হোস্টেলে স্কুলছাত্রকে ‘পিটিয়ে হত্যা’ অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি স্কুলের ছাত্রাবাসে আইফোন চুরির অপবাদে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত মেহেদী হাসান (১৪) ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমির ছাত্র ছিল। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়।   নিহতের পরিবার ও স্কুল সূত্রে জানা গেছে, সোনাপুর বাজার এলাকার রাঘবপুর গ্রামের জিয়া উদ্দিন ও শারমিন আক্তারের ছেলে মেহেদী হাসান একাডেমির ছাত্রাবাসে থেকে পড়াশোনা করত। গত ১৪ জুন কলেজ শাখার এক শিক্ষার্থীর আইফোন হারিয়ে গেলে মেহেদীর বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগ তোলা হয়।   একাডেমির আবাসিক শিক্ষক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ফোন হারানো শিক্ষার্থীসহ ৯ জন সিনিয়র ছাত্র মেহেদীকে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের নামে তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে সে গুরুতর আহত হয়ে মারা যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।   তার দাবি, মৃত্যুর ঘটনা আড়াল করতে অভিযুক্তরা মেহেদীর গলায় মাফলার পেঁচিয়ে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে, যাতে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হয়। পরে মেহেদীকে উদ্ধার করে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ৯ শিক্ষার্থী ছাত্রাবাস থেকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।   রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, স্কুল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে মেহেদীকে মারধর করা হয়েছিল। তবে শুধুমাত্র মারধরের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এ জন্য লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।   এদিকে শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে রাত ৮টার দিকে কয়েক শ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা স্কুলের সামনে জড়ো হন। পরে রাত ১১টার দিকে বিক্ষুব্ধ জনতা ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং কয়েকটি যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেয়। আবাসিক শিক্ষক ইসমাইল হোসেন দাবি করেন, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে প্রতিষ্ঠানের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।   রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী আতিকুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি জেলা সদর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত ২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি সাত দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।   বুধবার দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মেহেদীর লাশ নিয়ে রামগঞ্জ থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন ও স্থানীয়রা। তারা জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হয়।   নিহত শিক্ষার্থীর চাচা জুয়েল রানা বলেন, ‘আইফোন চুরির অপবাদ দিয়ে আমার ভাতিজাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।’ পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

ছবি: রয়টার্স
রাশিয়াকে প্রতিরোধে লাটভিয়ায় ৮৫০ সেনা পাঠাবে ডেনমার্ক

 ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী শরৎ মৌসুমে লাটভিয়ায় ৮৫০ সদস্যের একটি সামরিক ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করবে ডেনমার্ক। বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত সুইডিশ সেনা কন্টিনজেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ডেনিশ বাহিনী।   বুধবার ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েপে ব্রুস দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “রাশিয়াকে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে এবং বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর।”   ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে জোটভুক্ত দেশগুলো সামরিক উপস্থিতি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।   লাটভিয়াসহ বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলো ওই অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন বৃদ্ধি করছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের সময় পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।   এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। লাটভিয়ায় ডেনমার্কের নতুন সেনা মোতায়েনকে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জোটটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চায়।

ছবি: সংগৃহীত
১৯৬৫ সালের আইন পুনর্মূল্যায়নের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে মেরিটভিত্তিক অভিবাসন নিয়ে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। রক্ষণশীল নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন সংস্কারপন্থীদের একাংশের দাবি, বর্তমান ব্যবস্থায় জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থের তুলনায় পারিবারিক সম্পর্ককে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা শ্রমবাজার, অর্থনীতি এবং সামাজিক অবকাঠামোর ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় তারা শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক অবদানকে ভিত্তি করে একটি মেরিটভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থা চালুর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।   বর্তমান মার্কিন অভিবাসন কাঠামোর ভিত্তি গড়ে ওঠে ১৯৬৫ সালের অভিবাসন আইনের মাধ্যমে। এই আইনের ফলে পারিবারিক পুনর্মিলনকে অভিবাসনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক মানুষ গ্রিন কার্ড পান যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত আত্মীয়-স্বজনের স্পন্সরশিপের মাধ্যমে। সমালোচকদের মতে, এই ব্যবস্থায় আবেদনকারীর শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার বিষয়গুলো অনেক ক্ষেত্রে গৌণ হয়ে পড়ে।   অভিবাসন সংস্কারের সমর্থকরা বলছেন, একটি দেশের অভিবাসন নীতির প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা। তাদের মতে, পরিবার একত্রিত করার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রত্যেক অভিবাসীর বিস্তৃত পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের নীতি কাঠামোর অংশ হওয়া উচিত নয়।   তারা আরও দাবি করেন, বর্তমানে চালু কিছু কর্মসূচি এই চাপ আরও বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে ডাইভার্সিটি ভিসা লটারির সমালোচনায় বলা হচ্ছে, প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ শুধুমাত্র ভাগ্যের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ পান, যেখানে দক্ষতা বা অর্থনৈতিক অবদান রাখার সক্ষমতার মূল্যায়ন বাধ্যতামূলক নয়। অভিবাসন নীতি বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা অভিবাসীদের একটি বড় অংশকে নির্বাচিত করা হয়েছে পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে, দক্ষতা বা শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে নয়। তাদের দাবি, এর ফলে নিম্নদক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বেড়েছে এবং কিছু ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা ও সরকারি সেবার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের একাংশ বলছেন, পরিবারভিত্তিক অভিবাসন যুক্তরাষ্ট্রের সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা উল্লেখ করেন, বহু সফল উদ্যোক্তা, চিকিৎসক, প্রকৌশলী এবং ব্যবসায়ী প্রথমে পরিবারভিত্তিক ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এসে পরবর্তীতে দেশটির অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন।   তবুও মেরিটভিত্তিক অভিবাসনের পক্ষে আলোচনা ও চাপ ক্রমশ বাড়ছে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় আবেদনকারীদের শিক্ষা, পেশাগত দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞান, বয়স এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক অবদানের ভিত্তিতে পয়েন্ট নির্ধারণের কথা বলা হচ্ছে। সর্বোচ্চ পয়েন্টপ্রাপ্ত আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অভিবাসনের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এই ধরনের পয়েন্টভিত্তিক ব্যবস্থা কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতিনির্ধারকরা দাবি করেন, এতে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি আকর্ষণ করা সহজ হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই মেরিটভিত্তিক অভিবাসন ব্যবস্থার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি যুক্তি দেন, আধুনিক অর্থনীতির জন্য উচ্চশিক্ষিত ও দক্ষ অভিবাসী প্রয়োজন, যারা দ্রুত শ্রমবাজারে যুক্ত হয়ে কর প্রদান ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন।   প্রস্তাবিত সংস্কারের আওতায় নিম্নদক্ষ অভিবাসন সীমিত করা, ইংরেজি ভাষাজ্ঞানকে অগ্রাধিকার দেওয়া, আমেরিকান মূল্যবোধ ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার প্রদান এবং বিদেশি শ্রমিকের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের প্রতিস্থাপনের সুযোগ কমানোর বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে আশ্রয়, শরণার্থী এবং অস্থায়ী সুরক্ষা কর্মসূচির সংস্কারের কথাও আলোচনায় রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এসব কর্মসূচি মানবিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সীমিত থাকা উচিত এবং অর্থনৈতিক অভিবাসনের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া উচিত নয়।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, শুধুমাত্র অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতার ভিত্তিতে মানুষকে মূল্যায়ন করা যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক অভিবাসন নীতির মানবিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের শক্তি তার বৈচিত্র্য, পরিবারভিত্তিক সামাজিক কাঠামো এবং মানবিক মূল্যবোধের মধ্যেই নিহিত।   কংগ্রেস ভবিষ্যতে কোনো বড় অভিবাসন সংস্কার গ্রহণ করলে, সেখানে মূল বিতর্কের কেন্দ্রে থাকবে একটি মৌলিক প্রশ্ন—যুক্তরাষ্ট্র কি পরিবারভিত্তিক অভিবাসন কাঠামো বজায় রাখবে, নাকি মেরিটভিত্তিক ব্যবস্থাকে প্রাধান্য দিয়ে নতুন নীতি গঠন করবে। এই সিদ্ধান্তই আগামী দশকে দেশটির জনসংখ্যা, শ্রমবাজার এবং অভিবাসন নীতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর প্রস্তাবে আমেরিকায় গ্রাহকদের ক্ষোভ, কাঠগড়ায় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'এক্সেল এনার্জি' গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল বাড়ানোর একটি নতুন প্রস্তাব করায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গ্রাহকদের স্পষ্ট দাবি, নিয়মিত চড়া বিল পরিশোধ করলেও তারা কোনো নির্ভরযোগ্য বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা পাচ্ছেন না। গত মঙ্গলবার কলোরাডো পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের এক গণশুনানিতে সাধারণ মানুষ এই ক্ষোভের কথা জানান। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস কলোরাডোর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, এক্সেল এনার্জি শুরুতে রাজ্য সরকারের কাছে বিদ্যুৎ বিল বাবদ প্রায় ৩৫৫.৬ মিলিয়ন ডলার বাড়তি রাজস্ব আদায়ের আবেদন করেছিল। তবে গ্রাহকদের প্রবল আপত্তির মুখে একটি সমঝোতা চুক্তির মাধ্যমে সেই প্রস্তাব প্রায় ৩৭ শতাংশ কমিয়ে ২২৪.৯ মিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। এই নতুন প্রস্তাবটি চূড়ান্তভাবে পাস হলে কলোরাডোর একজন সাধারণ আবাসিক গ্রাহকের মাসিক বিদ্যুৎ বিল প্রায় ৫.৮৬ শতাংশ বা মাসে গড়ে ৬.১৩ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যাবে।   কলম্বাইন নোলস এলাকার বাসিন্দা ক্যারি কার্টার শুনানিতে প্রশ্ন তোলেন, যেখানে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত লোডশেডিংয়ের শিকার হচ্ছে, সেখানে কেন বাড়তি বিল দেওয়া হবে? তিনি জানান, ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে তাদের এলাকায় অন্তত ১০ থেকে ১২ বার কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই বিদ্যুৎ চলে যায়। কখনো কয়েক ঘণ্টা, আবার কখনো পুরো সপ্তাহান্ত জুড়ে বিদ্যুৎহীন থাকতে হয়েছে তাদের। এতে ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়া, ক্যাম্পিং স্টোভে রান্না করা এবং তীব্র গরমে বরফ কিনে খাবার তাজা রাখার মতো বাড়তি মানসিক ও আর্থিক কষ্টের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাদের। এমনকি অক্সিজেনের ওপর নির্ভরশীল এক বৃদ্ধ প্রতিবেশীকে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘর ছাড়তে হয়েছিল।   গণশুনানিতে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা বলেন, এক্সেল এনার্জি যেহেতু এই অঞ্চলে একচেটিয়া ব্যবসা করছে, তাই সেবার মান উন্নত না করে তাদের বিল বাড়ানোর কোনো অধিকার নেই।   এদিকে এক বিবৃতিতে এক্সেল এনার্জি জানিয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে তারা কলোরাডোর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার পোল পরিবর্তন, ৪০০ মাইলের বেশি নতুন সঞ্চালন লাইন এবং নতুন সাবস্টেশন স্থাপন করা হয়েছে। কোম্পানিটির দাবি, এই বিল বৃদ্ধির হার বর্তমান মূল্যস্ফীতির চেয়ে কম এবং কলোরাডোর মানুষের বিদ্যুৎ বিল এখনো আমেরিকার অন্যান্য রাজ্যের গড় বিলের চেয়ে কম রয়েছে।   তবে গ্রাহক ক্যারি কার্টারের মতে, এটি এখন স্রেফ বিশ্বাসের বিষয়। তিনি বলেন, "আমি তাদের কথা বিশ্বাস করি না, কারণ আমাদের এলাকায় সেবার কোনো উন্নতিই চোখে পড়েনি।" বিল বৃদ্ধির এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য বর্তমানে পাবলিক ইউটিলিটি কমিশনের পর্যালোচনায় রয়েছে এবং চলতি গ্রীষ্মের শেষের দিকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ছবি: রয়টার্স
রাশিয়াকে প্রতিরোধে লাটভিয়ায় ৮৫০ সেনা পাঠাবে ডেনমার্ক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৮:৪৫

 ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদারের অংশ হিসেবে আগামী শরৎ মৌসুমে লাটভিয়ায় ৮৫০ সদস্যের একটি সামরিক ব্যাটালিয়ন মোতায়েন করবে ডেনমার্ক। বর্তমানে দেশটিতে অবস্থানরত সুইডিশ সেনা কন্টিনজেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করবে ডেনিশ বাহিনী।   বুধবার ডেনমার্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়েপে ব্রুস দেশটির পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।   প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, “রাশিয়াকে প্রতিরোধের ক্ষেত্রে আমাদের ভূমিকা পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি যেভাবে এগোচ্ছে, তা সবাই দেখতে পাচ্ছে এবং বিষয়টি নিঃসন্দেহে অত্যন্ত গুরুতর।”   ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোপেনহেগেন। ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে জোটভুক্ত দেশগুলো সামরিক উপস্থিতি জোরদারের উদ্যোগ নিয়েছে।   লাটভিয়াসহ বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ন্যাটো সদস্য রাষ্ট্রগুলো ওই অঞ্চলে সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন বৃদ্ধি করছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের সময় পর্যাপ্ত সমর্থন না দেওয়ার অভিযোগ তুলে ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যদের সমালোচনা করেন। পাশাপাশি তিনি জার্মানিতে মোতায়েন মার্কিন সেনার সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনার কথাও জানান।   এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করছে। লাটভিয়ায় ডেনমার্কের নতুন সেনা মোতায়েনকে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সামরিক উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জোটটি সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সক্ষমতা বাড়াতে চায়।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির ১৪ দফা খসড়া প্রকাশ, যুদ্ধবিরতি থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের রূপরেখা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৮:১৮

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৪ দফার একটি খসড়া প্রকাশ্যে এসেছে। খসড়ায় দুই দেশের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান, হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করা, ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ধাপে ধাপে প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের হাতে আসা খসড়া নথি অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা, জি-৭ সম্মেলনে উপস্থিত এক কূটনীতিক এবং আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি সূত্র নথির বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পর চুক্তির চূড়ান্ত রূপ নির্ধারণে ৬০ দিনের একটি আলোচনা পর্ব শুরু হবে।   খসড়া অনুযায়ী, চুক্তি স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষ এবং তাদের মিত্ররা সব ধরনের সামরিক সংঘাত বন্ধ করবে। এই যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননের চলমান সংঘাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি দুই দেশ একে অপরের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ বা হুমকি থেকে বিরত থাকার অঙ্গীকার করবে।   চুক্তিতে দুই দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে পারস্পরিক অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।   খসড়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র অবিলম্বে ইরানের ওপর আরোপিত নৌ অবরোধ তুলে নেবে এবং সর্বোচ্চ ৩০ দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে সহযোগিতা করবে। চূড়ান্ত চুক্তি কার্যকর হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে।   অন্যদিকে ইরান পারস্য উপসাগর ও ওমান সাগরের মধ্যকার বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করার দায়িত্ব নেবে। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মাইন অপসারণ ও অন্যান্য কারিগরি বাধা দূর করার কথাও বলা হয়েছে।   অর্থনৈতিক দিক থেকে খসড়াটি ইরানের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার আঞ্চলিক অংশীদাররা ইরানের অর্থনৈতিক পুনর্গঠন ও উন্নয়নের জন্য অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনে কাজ করবে। এই তহবিলের কাঠামো ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ৬০ দিনের আলোচনার মধ্যে চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।   এছাড়া চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা আরোপিত নিষেধাজ্ঞাসহ সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতিও খসড়ায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।   পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরান পুনরায় ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ এবং অন্যান্য পারমাণবিক ইস্যুর ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত চুক্তির আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। আলোচনার সময় বর্তমান অবস্থা বজায় থাকবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে না বা অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করবে না।   খসড়া অনুযায়ী, সমঝোতা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের অপরিশোধিত তেল, পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট সেবা রপ্তানির জন্য বিশেষ ছাড়পত্র দেবে। এর মধ্যে ব্যাংকিং, বীমা ও পরিবহন খাতও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে স্থগিত বা জব্দ থাকা ইরানের অর্থ ও সম্পদ ধাপে ধাপে অবমুক্ত করা হবে এবং সেগুলো ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।   চুক্তির বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি যৌথ প্রক্রিয়াও গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে। খসড়ার শেষ দফায় উল্লেখ করা হয়েছে, চূড়ান্ত চুক্তিটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বাধ্যতামূলক প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদন করা হবে।   তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সিএনএনের হাতে আসা নথিটি চূড়ান্ত সমঝোতা স্মারকের হুবহু প্রতিফলন নয়। অন্যদিকে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থাও ফাঁস হওয়া খসড়ার যথার্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ফলে শুক্রবারের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের আগে চুক্তির কিছু ভাষা বা শর্ত পরিবর্তিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
অধিকৃত পশ্চিম তীরে মসজিদে আগুন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৭:৩৩

অধিকৃত পশ্চিম তীরে একটি গ্রামের মসজিদে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফিলিস্তিনি এক স্থানীয় কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, বুধবার রামাল্লার উত্তরে জিলজিলিয়া গ্রামের একটি মসজিদে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চালায়।   ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির সাংবাদিকরা মসজিদে আগুন ও ধোঁয়ার কারণে সৃষ্ট ক্ষতির চিহ্ন দেখতে পান। তাদের পর্যবেক্ষণে মসজিদের ছাদ, দেয়াল ও মেঝে কালো হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   জিলজিলিয়া গ্রামের কাউন্সিল প্রধান ওসামা আবদুল্লাহ বলেন, বসতি স্থাপনকারীরা মসজিদের ওজু করার কক্ষে আগুন দেয় এবং দেয়ালে বিদ্বেষমূলক স্লোগান লিখে রেখে যায়। তার ভাষায়, মধ্যরাত থেকে ভোরের মধ্যে এ ঘটনা ঘটে এবং মূল দরজা বন্ধ থাকায় নিচতলার অংশে আগুন লাগানো হয়।   এএফপির সাংবাদিকদের তথ্যানুযায়ী, মসজিদের দেয়ালে হিব্রু ভাষায় গ্রাফিতি লেখা দেখা গেছে, যেখানে “প্রতিশোধ” এবং “হিলটপ ইয়ুথের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা” লেখা ছিল। হিলটপ ইয়ুথকে পশ্চিম তীরে সক্রিয় একদল উগ্রপন্থী বসতি স্থাপনকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়, যাদের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।   স্থানীয় কর্মকর্তা ওসামা আবদুল্লাহ আরও জানান, মসজিদটি পুড়িয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বসতি স্থাপনকারীরা প্রবেশ করেছিল। তবে মসজিদের দরজা বন্ধ থাকায় তারা মূল ভবনে প্রবেশ করতে পারেনি এবং ওজু করার কক্ষেই আগুন দেয়। ঘটনার পর ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স কর্মী, স্থানীয় তরুণ এবং আশপাশের বাসিন্দারা মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।১৯৬৭ সাল থেকে ইসরায়েল পশ্চিম তীর দখল করে রেখেছে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে এই অঞ্চলে বর্তমানে ৫ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছে। একই এলাকায় প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন।  

ছবি: সংগৃহীত
ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেবে চীন
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৭, ২০২৬ ৬:৪০

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপটে ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তার অংশ হিসেবে বেইজিং এই সহায়তা প্রদান করবে।   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান রাজধানী বেইজিংয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ইরান ও লেবাননের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয়ে চীন গভীরভাবে মর্মাহত।   তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে চীন ইরান ও লেবাননকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশ দুটির জনগণকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন কার্যক্রমে সহায়তা করার পাশাপাশি অর্থনীতি ও জীবিকার উন্নয়নে সহযোগিতা করা হবে।”   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এই সহায়তার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মানবিক সংকট মোকাবিলা নয়, বরং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন কার্যক্রমকে সহায়তা করা।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো তেহরানের জন্য মানবিক সহায়তা ঘোষণা করল বেইজিং। এর আগে মার্চ মাসেও চীন ইরানের জন্য মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছিল।   এদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন সমঝোতার আলোচনা চলছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধের অবসান ও সমঝোতা প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মত হয়েছে। আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।   চীনের এই সহায়তা ঘোষণাকে বিশ্লেষকরা যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় বেইজিংয়ের সক্রিয় কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপস্থিতির অংশ হিসেবে দেখছেন।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
513 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
446 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
541 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
390 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়