Live update news
কুইন্সল্যান্ডে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার পর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
অবরুদ্ধ বাড়ি থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচালেন পুলিশ, মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ গেল গর্ভবতী মায়ের

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চার্লভিলে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী এবং ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় রক্তমাখা এক ছোট শিশুকে উদ্ধার করে মানবিক সাহসিকতার নজির গড়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ডেইলি মেইল ও কুইন্সল্যান্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ছোট শহরে।   পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার পর এক গুরুতর হামলার খবর পেয়ে জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে তারা একটি সহিংস পরিস্থিতির মুখে পড়ে এবং অস্ত্রের আশঙ্কায় সরে যেতে বাধ্য হয়। তবে ওই সময়ই এক কর্মকর্তা বাড়ির সামনের সিঁড়ির কাছে রক্তে ভেজা এক শিশুকে দেখতে পান। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশুটিকে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসেন।   পরে শিশুটিকে পুলিশের গাড়ির পাশে বসিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় ওই কর্মকর্তাকে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী ম্যাকেনজি-গ্রেস স্মিথ Courier Mail-কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাটি শিশুটিকে এমনভাবে ধরে রেখেছিলেন, যেন সে ঘটনাস্থলের দিক না তাকায়। তার ভাষায়, ওই কর্মকর্তা এক হাতে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন এবং অন্য হাত দিয়ে তার মুখ সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন।   স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে শান্ত ছিল, যদিও তার টি-শার্টে রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিশুটি পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিল।   ঘটনাস্থলে পরে বিশেষায়িত পুলিশ দল পৌঁছে বৃহস্পতিবার ভোর ১টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে জুলিয়া ব্রান্সডন (২৩) এবং মাইকেল ওয়াল্টকে (৪৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশের সহকারী কমিশনার ম্যাথিউ ভ্যান্ডারবাইল ওই কর্মকর্তার পদক্ষেপকে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।   সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইল বলেন, ঘটনাটি খুবই জটিল এবং নিহত দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার আগে ওই ঠিকানায় পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ তাদের কাছে ছিল না।   তদন্তে জানা গেছে, জুলিয়া ব্রান্সডন ও মাইকেল ওয়াল্টকে চার্লভিলের ওই বাড়ি কিনেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে। এর আগে তারা বান্ডাবার্গভিত্তিক প্রতিবন্ধী সহায়তা প্রতিষ্ঠান এম.আর. এবিলিটি সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং ইউনিভার্সাল সাপোর্ট কো-অর্ডিনেশন নামে দুটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ডেইলি মেইলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুলিয়ার এক আত্মীয় রব ব্রান্সডনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল।   আরও জানা গেছে, জুলিয়া গর্ভবতী ছিলেন এবং তার সন্তানের সঙ্গেও তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পরে বন্ধুদের বরাতে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাটির পর স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেশী ভেরোনিকা হিকসন বলেন, নিজেদের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকেই এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভয় পেয়ে যান। অন্যদিকে চার্লভিলের মেয়র শন র‍্যাডনেজ বলেন, ছোট এই শহরের মানুষ ঘটনাটিতে গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর ভাষায়, “এই শিশুটি বেঁচে গেছে”—এটি স্বস্তির বিষয়, তবে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন।   চার্লভিলের মতো ছোট জনপদে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু তদন্তের বিষয় নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের মানসিক আঘাতেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইলও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ, স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয় মানুষদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে।

১৩ মিনিট Ago
আসমা আলী, মিসিসিপির একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আসমা আলী, মিসিসিপিতে প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।    আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথম দিকের প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তাগুলোর একটি হিসেবে লিংকডইনে শেয়ার করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তিনি আরও লেখেন, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।   ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা-মা ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর পেশাগত কাজের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন।   মিসিসিপিতে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।    এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ বা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক এই দাবিটি বর্তমানে ড. ডেবি আলমন্টাসারের লিংকডইন পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

৫১ মিনিট Ago
লেক মিশিগানে ডুবে মারা যাওয়া শিক্ষিকা হান্নাহ জভেইগ ও তার ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। ছবি: সংগৃহীত
লেকে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না, ডুবে মারা গেলেন তরুণ শিক্ষিকা ও তার ভাই

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ড এলাকার অ্যাডামস হাই স্কুলের জনপ্রিয় এক শিক্ষিকা এবং তার ছোট ভাই লেক মিশিগানে ডুবে মারা গেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএনডিইউ (WNDU)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষিকার নাম হান্নাহ জভেইগ (২১)। তিনি সাউথ বেন্ডের অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনদক্ষতা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে লেকে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। পানিতে ডুবে দুজনই মারা যান।   কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি। কী পরিস্থিতিতে তারা পানিতে ডুবে যান, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। অ্যাডামস হাই স্কুলের অধ্যক্ষ জিম সাইটজ হান্নাহকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, নিবেদিতপ্রাণ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক।   তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে হান্নাহ তাকে একটি ই-মেইল পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে যাচ্ছেন এবং অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। সেই ই-মেইল থেকেই তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।   গত বছর শিক্ষকতা শুরু করার পর খুব অল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। অধ্যক্ষের ভাষায়, একজন ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষককে সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলবাস থেকে নামার পর থেকে বিকেলে বাসে ওঠা পর্যন্ত তাদের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। হান্নাহ এ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন।   জিম সাইটজ বলেন, হান্নাহ তার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য যেকোনো শিক্ষকের তুলনায় তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে বেশি কথা বলতেন, যাতে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ বেন্ড কমিউনিটি স্কুল করপোরেশন তাকে ‘রুকি টিচার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করে।   সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হান্নাহ সব সময় অন্যদের এগিয়ে নিতে কাজ করতেন। স্কুলে বিভিন্ন উদ্যোগ আয়োজনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সাফল্যও তিনি সবার সামনে তুলে ধরতেন। নিজের অর্জনের চেয়ে অন্যের সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়াই ছিল তার স্বভাব।   পরিবারের ঘনিষ্ঠদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছোট ভাই ইয়োসেফ ছিলেন হান্নাহর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবাসার অন্যতম কারণ হিসেবেও তিনি ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাই অনেকের মতে, জীবনের শেষ যাত্রাতেও ভাই-বোন একসঙ্গেই রয়ে গেলেন।   ঘটনার পর অ্যাডামস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই হান্নাহকে একজন মানবিক, কর্মঠ এবং শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দিতে নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করছেন।

১ ঘন্টা Ago
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নতুন ব্যাকটেরিওফাজ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নতুন এবং পরীক্ষাগারে কার্যকরভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। বিজ্ঞানীদের মতে, জিনোম নকশায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং জৈবনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।   গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ। গবেষণায় তৈরি ১৬টি নতুন ভাইরাসই ব্যাকটেরিওফাজ, অর্থাৎ এমন ভাইরাস যা কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো মানুষের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না এবং মানুষের শরীরকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা নেই।   স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হাই বিবিসিকে বলেন, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জিনোম তৈরি করা এই প্রথম, যা জীবন্ত কোষে প্রবেশ করে সফলভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি গবেষণার ক্ষেত্র ছিল।"   গবেষণায় ইভো-১ ও ইভো-২ নামে দুটি এআই মডেল ব্যবহার করা হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের বিপুল পরিমাণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজের জিনোম তৈরি করার জন্য এগুলোকে আরও উন্নত করা হয়।   গবেষকরা এআইয়ের তৈরি ৩০২টি সম্ভাব্য জিনোম নকশা পরীক্ষাগারে বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ইশেরিশিয়া কোলাই (ই. কোলাই) ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। গবেষক দলের সদস্য স্যামুয়েল কিং জানান, পেট্রি ডিশে ব্যাকটেরিয়ার স্তরের মধ্যে পরিষ্কার দাগ দেখা যাওয়ার পরই তারা বুঝতে পারেন যে নতুন ভাইরাসগুলো কার্যকর হয়েছে। ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গবেষণাগারে উপস্থিত গবেষকেরা আনন্দে করতালি দেন।   বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ধরনের চিকিৎসা উদ্ভাবনে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ফাজ থেরাপি বা ব্যাকটেরিওফাজভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়নে এআই-নির্ভর জিনোম নকশা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।   তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি জৈবনিরাপত্তা ও জৈব সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষক থমাস ইংলসবাই এবং মরিটজ হ্যাঙ্কে বলেন, এই গবেষণা দেখিয়ে দিয়েছে যে এআই দিয়ে কার্যকর ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রযুক্তিটি যেন কোনোভাবেই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে।   তাদের মতে, ভবিষ্যতে রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন নতুন ভাইরাস তৈরির গবেষণা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং এ ধরনের গবেষণায় আরও কঠোর নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। গবেষক দল জানিয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন কোনো ভাইরাসকে প্রশিক্ষণ ডেটায় অন্তর্ভুক্ত করেননি, যা মানুষ বা অন্যান্য জটিল প্রাণীকে সংক্রমিত করতে পারে। এছাড়া পুরো গবেষণাই উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন পরীক্ষাগারে পরিচালিত হয়েছে।   ব্রায়ান হাইয়ের মতে, বর্তমানে বিদ্যমান গবেষণাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নৈতিক তদারকি এই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে স্পেনের পম্পেউ ফাবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনথেটিক বায়োলজি গবেষণাগারের অধ্যাপক মার্ক গুয়েল এই গবেষণাকে "জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়" বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের সাহায্যে নতুন জীববৈজ্ঞানিক নকশা তৈরি করে তা বাস্তবে কার্যকর প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে।   ম্যানচেস্টার ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক প্যাট্রিক কাই বলেন, এই গবেষণা শুধু ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রমাণ করেছে, এআইভিত্তিক জিনোম ভাষা মডেলগুলো ধীরে ধীরে জীবের বিবর্তনের মৌলিক নীতিও বুঝতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এটি এআই-সহায়তায় নতুন জিনোম নকশা ও চিকিৎসা প্রযুক্তির বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে ইতিহাস গড়লেন আসমা আলী, মিসিসিপিতে প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী বিচারক

মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের একটি মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভিবাসন আইনজীবী আসমা আলী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারকের দায়িত্বে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তবে এই তথ্যের বিষয়ে এখনো মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।    আসমা আলীর নিয়োগের খবরটি প্রথম দিকের প্রকাশ্য অভিনন্দন বার্তাগুলোর একটি হিসেবে লিংকডইনে শেয়ার করেন নিউইয়র্কভিত্তিক শিক্ষাবিদ, কমিউনিটি নেতা এবং ব্রিজিং কালচারস গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ডেবি আলমন্টাসার। তিনি তাঁর পোস্টে জানান, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে আসমা আলীকে চেনেন এবং শুরু থেকেই বিশ্বাস করতেন যে তিনি একদিন বড় অর্জনের স্বাক্ষর রাখবেন। তিনি আরও লেখেন, এই নিয়োগ ইয়েমেনি-আমেরিকান, মুসলিম ও হিজাবি নারীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণার মাইলফলক।   ড. আলমন্টাসারের পোস্ট অনুযায়ী, আসমা আলী ইয়েমেনি অভিবাসী পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা-মা ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ভবিষ্যতের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করেন। পরে তিনি নিজস্ব অভিবাসন আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন এবং দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে আসছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসনসংক্রান্ত মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন, জাতীয় পর্যায়ের আইনি সম্মেলনে বক্তব্য দিয়েছেন এবং তাঁর পেশাগত কাজের জন্য স্বীকৃতিও অর্জন করেছেন।   মিসিসিপিতে মিউনিসিপাল কোর্টের বিচারক নিয়োগের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের হাতে থাকে এবং অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী বিচারক হিসেবে নিয়োগ পেতে নির্ধারিত আইনি যোগ্যতা পূরণ করতে হয়।    এই প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত আসমা আলীর নিয়োগ নিয়ে মিসিসিপির সংশ্লিষ্ট আদালত, পৌর কর্তৃপক্ষ বা অঙ্গরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাওয়া যায়নি। তাই তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম ইয়েমেনি-আমেরিকান মুসলিম হিজাবি নারী মিউনিসিপাল কোর্ট বিচারক এই দাবিটি বর্তমানে ড. ডেবি আলমন্টাসারের লিংকডইন পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট কমিউনিটির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২২:৪২
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন অধরাই থেকে যাচ্ছে, একটি বাড়ি কিনতে এখনো দরকার লাখ ডলারের বেশি আয়

যুক্তরাষ্ট্রে নিজের একটি বাড়ির মালিক হওয়ার স্বপ্ন সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য এখনো এক কঠিন বাস্তবতা হয়ে রয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছরের ধারাবাহিক পতনের পর দেশটির আবাসন খাতের সামর্থ্যের সূচক কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, একটি বাড়ি কিনতে এখনো বছরে ৬ অঙ্কের বা কমপক্ষে এক লাখ মার্কিন ডলারের বেশি উপার্জনের প্রয়োজন পড়ছে।   আবাসন খাতের স্বনামধন্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেডফিন’-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। সংস্থাটির উপাত্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি গড়পরতার বাড়ি কেনা এবং তার বিপরীতে আয়ের সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশের মধ্যে মাসিক ঋণের কিস্তি (মর্গেজ) সীমাবদ্ধ রাখার জন্য একটি পরিবারের বার্ষিক আয় প্রয়োজন অন্তত ১ লাখ ৯ হাজার ৭৯৬ ডলার। যদিও এক বছর আগে রেকর্ড ১ লাখ ১০ হাজার ৩৮২ ডলারের তুলনায় এই অঙ্ক মাত্র ০.৫ শতাংশ কমেছে, তবুও তা বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকের আয়ের সাধ্যের বাইরে।   বাস্তবতার সঙ্গে এই প্রয়োজনীয় আয়ের বড় ফারাক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সাধারণ পরিবারের গড় বার্ষিক আয় বর্তমানে ৮৭ হাজার ৫৯৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ৪ শতাংশ বাড়লেও বাড়ি কেনার জন্য দরকারি অঙ্কের চেয়ে অনেক কম। হিসাব অনুযায়ী, একজন গড় আয়ের আমেরিকান পরিবার যদি একটি মাঝারি দামের বাড়ি কিনতে যায়, তবে তাদের মোট বার্ষিক আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশই চলে যাবে কেবল বাড়ির কিস্তি মেটাতে।   পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে রেডফিনের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ইয়িংকি সু জানান, কয়েক বছর টানা অবস্থা খারাপ হওয়ার পর বাড়ি কেনার প্রয়োজনীয় আয়ের অঙ্কটি কিছুটা থমকে দাঁড়িয়েছে বা স্থিতিশীল হয়েছে। তবে এর মানে এই নয় যে সাধারণ আমেরিকানদের কাছে বাড়ি কেনা সহজ বা সাশ্রয়ী হয়ে গেছে। এখনো একজন সাধারণ মানুষের প্রকৃত আয় এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি কেনার খরচের মধ্যে দুই অঙ্কের শতাংশের এক বিশাল ব্যবধান রয়ে গেছে। ফলে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে চাওয়া বহু প্রাক-ক্রেতা বাজারের বাইরে অবস্থান নিতে বাধ্য হচ্ছেন।   তবে এই সংকটের মধ্যেও অর্থনীতির খাতায় সামান্য কিছু স্বস্তির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। প্রয়োজনীয় আয় ও প্রকৃত আয়ের মধ্যবর্তী ঘাটতি গত দুই বছরের তুলনায় কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। দুই বছর আগে যেখানে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২৮ হাজার ৮৩৪ ডলার এবং গত বছর ছিল ২৬ হাজার ১২৫ ডলার, তা বর্তমানে কমে দাঁড়িয়েছে ২২ হাজার ১৯৭ ডলারে। পাশাপাশি বাজারে সক্রিয় বিক্রির জন্য থাকা মোট বাড়ির ৩৪.২ শতাংশ এখন সাধারণের কেনার সামর্থ্যের মধ্যে রয়েছে, যা এক বছর আগে ছিল ৩০.৫ শতাংশ।   অন্যদিকে যারা জীবনে প্রথমবারের মতো প্রারম্ভিক স্তরের (এন্ট্রি-লেভেল) বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে খরচ সামান্য কমেছে। এ ধরনের বাড়ি কেনার জন্য বর্তমানে বার্ষিক ৭০ হাজার ৬৯৩ ডলার আয়ের প্রয়োজন, যা এক বছর আগের চেয়ে ১.৫ শতাংশ কম। যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল এবং সান হোসে-এর মতো প্রধান প্রধান মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে আবাসন সাশ্রয়ের সূচকে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে কেবল সেন্ট লুইস, ইন্ডিয়ানাপলিস এবং পিটসবার্গ এই তিনটি শহরেই সাধারণ পরিবারের বর্তমান গড় আয় দিয়ে একটি মাঝারি মানের বাড়ি কেনা সম্ভব হচ্ছে।

শব্দদূষণ নিয়ে তুচ্ছ তর্ক: যুক্তরাষ্ট্রে মা ও ১৭ বছরের কিশোরীকে গুলি করে হত্যা প্রতিবেশীর

যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে প্রতিবেশীর করা শব্দের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক মর্মান্তিক ঘটনায় এক মা ও তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এ ঘটনায় ৭৩ বছর বয়সী প্রতিবেশী রবার্ট উইঙ্কেলম্যানের বিরুদ্ধে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর তিনি নিজেকেও গুলি করেন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউওডব্লিউটি (WOWT), কেএসডিকে (KSDK) এবং জেফারসন কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জুলাই রাতে মিসৌরির জেফারসন কাউন্টির হাউস স্প্রিংস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ৩৮ বছর বয়সী জেসিকা ল্যাশলি এবং তার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে জার্সি গ্রিয়ার। দুজনকেই মাথায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে দুই দিন পর তাদের মৃত্যু হয়। তদন্তে জানা গেছে, রবার্ট উইঙ্কেলম্যান নিজের বাড়ি থেকে পাশের বাড়িতে গিয়ে সেখানে চলা কর্মকাণ্ড ও শব্দ নিয়ে আপত্তি জানান। একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হলে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে জেসিকা ল্যাশলিকে গুলি করেন। মাকে বাঁচাতে ছুটে আসেন জার্সি গ্রিয়ার। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকেও মাথায় গুলি করা হয়। এরপর ঘটনাস্থলে থাকা আরেক ব্যক্তিকে ধাওয়া করা হলেও তিনি গুলিবিদ্ধ হননি।   শেরিফের দপ্তর জানায়, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি নিজের মাথায় গুলি করেন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও ২ আগস্ট তিনি মারা যান। জীবিত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে প্রথম ডিগ্রির হত্যা এবং সশস্ত্র অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছিল।   নিহত জার্সির যমজ বোন জাস্টিস গ্রিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেএসডিকেকে বলেন, তার বোন ছিলেন অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয় একজন মানুষ। তিনি বলেন, "ওর শেষ মুহূর্তেও সে মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। এটাই প্রমাণ করে সে কতটা সাহসী ছিল।" দুই বোনেরই ভবিষ্যতে কলেজ পর্যায়ে ল্যাক্রোস খেলার স্বপ্ন ছিল বলেও জানান তিনি।   পরিবারের প্রকাশিত শোকবার্তায় বলা হয়েছে, জার্সি গ্রিয়ার হাউস স্প্রিংসের নর্থওয়েস্ট হাই স্কুলে শেষ বর্ষে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খেলাধুলা, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং পরিবারের সঙ্গে থাকা ছিল তার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। অন্যদিকে জেসিকা ল্যাশলি ছিলেন একজন পরিশ্রমী একক মা। তিনি একটি ট্রি সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে অফিস ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন এবং দুই মেয়েকেই জীবনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হিসেবে দেখতেন।   এ ঘটনার পর নিহতদের পরিবারের চিকিৎসা ও শেষকৃত্যের ব্যয় নির্বাহে সহায়তার জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ঘটনাটি গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। পুলিশ বলছে, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এখনও চলছে এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের কোনো বিরোধ ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিয়েছেন ডেনমার্কের রাজকুমারী ইসাবেলা। ছবি: সংগৃহীত
রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে যোগ দিলেন ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা

ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিয়েছেন। ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক যখন সামরিক নিয়োগ সম্প্রসারণ করছে, ঠিক সেই সময়েই দেশটির রাজপরিবারের এই সদস্যের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   রাজকুমারী ইসাবেলা হলেন ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডেরিক এবং রানি মেরির কন্যা। রাজপরিবারের সদস্য হলেও দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ১ হাজার ৬০০ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যের সঙ্গে মোট ১১ মাসের সামরিক সেবা সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ মাস থাকবে মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী ছয় মাস থাকবে কার্যকরী সামরিক দায়িত্ব। তিনি স্লাগেলসে শহরে অবস্থিত গার্ড হুসার রেজিমেন্টে প্রশিক্ষণ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।   রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং উত্তর ইউরোপে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যও ডেনমার্কে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।   ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কৌশলগত ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—দুই পক্ষই বারবার স্পষ্ট করেছে, অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের দাবি তারা গ্রহণ করবে না।   প্রতিরক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক সামরিক নিয়োগে নারীদেরও বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে আগে যেখানে সামরিক সেবার মেয়াদ ছিল চার মাস, এখন তা বাড়িয়ে ১১ মাস করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যের সংখ্যা আরও আড়াই হাজার বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।   রাজকুমারী ইসাবেলা তার বড় ভাই যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানের পথ অনুসরণ করছেন। যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানও একই গার্ড হুসার রেজিমেন্টে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছিলেন।   ডেনিশ সংবাদমাধ্যম বিটি (BT)-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজকুমারীর সামরিক সেবার সব ব্যয় বহন করবেন রাজা ফ্রেডেরিক ও রানি মেরি। তবে ইসাবেলা সেনাসদস্যদের জন্য নির্ধারিত খাবার ভাতা ও বেতন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৫ সালে ডেনিশ রাজপরিবারের জন্য বরাদ্দ বাজেট ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ ডেনিশ ক্রোনার।   রাজপরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সেবাস্টিয়ান ওলডেন-ইয়র্গেনসেন স্প্যানিশ সাময়িকী হোলা!-কে বলেন, ইসাবেলার এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পেশায় যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষায়, যদি তিনি ভবিষ্যতে সামরিক কর্মকর্তা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, তাহলে নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর মতো অন্য কোনো শাখা বেছে নেওয়াই বেশি স্বাভাবিক হতো।   গত মাসে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, জোটের প্রতিটি ভূখণ্ড রক্ষায় তাদের দেশ প্রস্তুত, যার মধ্যে ডেনমার্কের নিজস্ব ভূখণ্ডও রয়েছে।   ডেনমার্কের পাশাপাশি সুইডেন ও নরওয়েও নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালু করেছে। অন্যদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, সব সদস্যদেশ এখনো সেই লক্ষ্য পূরণের পথে সমানভাবে এগোতে পারেনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তৈরি নতুন ব্যাকটেরিওফাজ নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা। ছবি: সংগৃহীত
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নতুন এবং পরীক্ষাগারে কার্যকরভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম ভাইরাস তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। বিজ্ঞানীদের মতে, জিনোম নকশায় এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে একই সঙ্গে এই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং জৈবনিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগও তৈরি হয়েছে।   গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স-এ। গবেষণায় তৈরি ১৬টি নতুন ভাইরাসই ব্যাকটেরিওফাজ, অর্থাৎ এমন ভাইরাস যা কেবল ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করে। গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এগুলো মানুষের জন্য কোনো হুমকি সৃষ্টি করে না এবং মানুষের শরীরকে সংক্রমিত করার ক্ষমতা নেই।   স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ব্রায়ান হাই বিবিসিকে বলেন, জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে এমন একটি পূর্ণাঙ্গ জিনোম তৈরি করা এই প্রথম, যা জীবন্ত কোষে প্রবেশ করে সফলভাবে বংশবিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, "আমাদের জন্য এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি গবেষণার ক্ষেত্র ছিল।"   গবেষণায় ইভো-১ ও ইভো-২ নামে দুটি এআই মডেল ব্যবহার করা হয়। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ এবং মানুষের বিপুল পরিমাণ জিনগত তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই মডেলগুলোকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত করতে সক্ষম ব্যাকটেরিওফাজের জিনোম তৈরি করার জন্য এগুলোকে আরও উন্নত করা হয়।   গবেষকরা এআইয়ের তৈরি ৩০২টি সম্ভাব্য জিনোম নকশা পরীক্ষাগারে বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে ১৬টি সফলভাবে ইশেরিশিয়া কোলাই (ই. কোলাই) ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত ও ধ্বংস করতে সক্ষম হয়। গবেষক দলের সদস্য স্যামুয়েল কিং জানান, পেট্রি ডিশে ব্যাকটেরিয়ার স্তরের মধ্যে পরিষ্কার দাগ দেখা যাওয়ার পরই তারা বুঝতে পারেন যে নতুন ভাইরাসগুলো কার্যকর হয়েছে। ফলাফল নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গবেষণাগারে উপস্থিত গবেষকেরা আনন্দে করতালি দেন।   বিজ্ঞানীদের মতে, ভবিষ্যতে অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন ধরনের চিকিৎসা উদ্ভাবনে এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে ফাজ থেরাপি বা ব্যাকটেরিওফাজভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতির উন্নয়নে এআই-নির্ভর জিনোম নকশা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।   তবে এই অগ্রগতির পাশাপাশি জৈবনিরাপত্তা ও জৈব সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটির গবেষক থমাস ইংলসবাই এবং মরিটজ হ্যাঙ্কে বলেন, এই গবেষণা দেখিয়ে দিয়েছে যে এআই দিয়ে কার্যকর ভাইরাসের জিনোম তৈরি করা সম্ভব। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রযুক্তিটি যেন কোনোভাবেই অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি না করে।   তাদের মতে, ভবিষ্যতে রোগ সৃষ্টি করতে পারে এমন নতুন ভাইরাস তৈরির গবেষণা থেকে বিরত থাকা উচিত এবং এ ধরনের গবেষণায় আরও কঠোর নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ করা প্রয়োজন। গবেষক দল জানিয়েছে, তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এমন কোনো ভাইরাসকে প্রশিক্ষণ ডেটায় অন্তর্ভুক্ত করেননি, যা মানুষ বা অন্যান্য জটিল প্রাণীকে সংক্রমিত করতে পারে। এছাড়া পুরো গবেষণাই উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন পরীক্ষাগারে পরিচালিত হয়েছে।   ব্রায়ান হাইয়ের মতে, বর্তমানে বিদ্যমান গবেষণাগারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং নৈতিক তদারকি এই প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে স্পেনের পম্পেউ ফাবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনথেটিক বায়োলজি গবেষণাগারের অধ্যাপক মার্ক গুয়েল এই গবেষণাকে "জীববিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়" বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, প্রথমবারের মতো কম্পিউটারের সাহায্যে নতুন জীববৈজ্ঞানিক নকশা তৈরি করে তা বাস্তবে কার্যকর প্রমাণ করা সম্ভব হয়েছে।   ম্যানচেস্টার ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজির অধ্যাপক প্যাট্রিক কাই বলেন, এই গবেষণা শুধু ব্যাকটেরিওফাজ তৈরির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি প্রমাণ করেছে, এআইভিত্তিক জিনোম ভাষা মডেলগুলো ধীরে ধীরে জীবের বিবর্তনের মৌলিক নীতিও বুঝতে শুরু করেছে। ভবিষ্যতে এটি এআই-সহায়তায় নতুন জিনোম নকশা ও চিকিৎসা প্রযুক্তির বিকাশে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

লেক মিশিগানে ডুবে মারা যাওয়া শিক্ষিকা হান্নাহ জভেইগ ও তার ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। ছবি: সংগৃহীত
লেকে বেড়াতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না, ডুবে মারা গেলেন তরুণ শিক্ষিকা ও তার ভাই

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের সাউথ বেন্ড এলাকার অ্যাডামস হাই স্কুলের জনপ্রিয় এক শিক্ষিকা এবং তার ছোট ভাই লেক মিশিগানে ডুবে মারা গেছেন। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুরো সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল ডব্লিউএনডিইউ (WNDU)-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত শিক্ষিকার নাম হান্নাহ জভেইগ (২১)। তিনি সাউথ বেন্ডের অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য জীবনদক্ষতা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার সঙ্গে লেকে ছিলেন ১৮ বছর বয়সী ছোট ভাই ইয়োসেফ জভেইগ। পানিতে ডুবে দুজনই মারা যান।   কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ প্রকাশ করেনি। কী পরিস্থিতিতে তারা পানিতে ডুবে যান, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে। অ্যাডামস হাই স্কুলের অধ্যক্ষ জিম সাইটজ হান্নাহকে স্মরণ করে বলেন, তিনি ছিলেন অত্যন্ত সহানুভূতিশীল, নিবেদিতপ্রাণ এবং শিক্ষার্থীদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় একজন শিক্ষক।   তিনি জানান, প্রায় দুই বছর আগে হান্নাহ তাকে একটি ই-মেইল পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করতে যাচ্ছেন এবং অ্যাডামস হাই স্কুলে ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষক হিসেবে কাজ করতে আগ্রহী। সেই ই-মেইল থেকেই তার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি আন্তরিকতা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল।   গত বছর শিক্ষকতা শুরু করার পর খুব অল্প সময়েই তিনি শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং সহকর্মীদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করেন। অধ্যক্ষের ভাষায়, একজন ‘লাইফ স্কিলস’ শিক্ষককে সকালে শিক্ষার্থীরা স্কুলবাস থেকে নামার পর থেকে বিকেলে বাসে ওঠা পর্যন্ত তাদের সার্বিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। হান্নাহ এ দায়িত্ব অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতেন।   জিম সাইটজ বলেন, হান্নাহ তার শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। অনেক ক্ষেত্রেই অন্য যেকোনো শিক্ষকের তুলনায় তিনি অভিভাবকদের সঙ্গে বেশি কথা বলতেন, যাতে শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা যায়। তার অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাউথ বেন্ড কমিউনিটি স্কুল করপোরেশন তাকে ‘রুকি টিচার অব দ্য ইয়ার’ সম্মাননায় ভূষিত করে।   সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হান্নাহ সব সময় অন্যদের এগিয়ে নিতে কাজ করতেন। স্কুলে বিভিন্ন উদ্যোগ আয়োজনের পাশাপাশি সহকর্মীদের সাফল্যও তিনি সবার সামনে তুলে ধরতেন। নিজের অর্জনের চেয়ে অন্যের সাফল্যকে গুরুত্ব দেওয়াই ছিল তার স্বভাব।   পরিবারের ঘনিষ্ঠদের বরাতে প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ছোট ভাই ইয়োসেফ ছিলেন হান্নাহর জীবনের অন্যতম অনুপ্রেরণা। শিক্ষকতা পেশাকে ভালোবাসার অন্যতম কারণ হিসেবেও তিনি ভাইয়ের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাই অনেকের মতে, জীবনের শেষ যাত্রাতেও ভাই-বোন একসঙ্গেই রয়ে গেলেন।   ঘটনার পর অ্যাডামস হাই স্কুলের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। অনেকেই হান্নাহকে একজন মানবিক, কর্মঠ এবং শিক্ষার্থীদের জীবন বদলে দিতে নিবেদিত শিক্ষক হিসেবে স্মরণ করছেন।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
কুইন্সল্যান্ডে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার পর তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
অবরুদ্ধ বাড়ি থেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিশুর প্রাণ বাঁচালেন পুলিশ, মর্মান্তিক এই ঘটনায় প্রাণ গেল গর্ভবতী মায়ের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২৩:১৯

অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের চার্লভিলে সন্দেহভাজন হত্যা-আত্মহত্যার এক মর্মান্তিক ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারী এবং ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় রক্তমাখা এক ছোট শিশুকে উদ্ধার করে মানবিক সাহসিকতার নজির গড়েছেন এক পুলিশ কর্মকর্তা। ডেইলি মেইল ও কুইন্সল্যান্ড পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার বিকেলে ব্রিসবেন থেকে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই ছোট শহরে।   পুলিশ জানায়, বিকেল ৫টার পর এক গুরুতর হামলার খবর পেয়ে জরুরি সেবা দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেখানে পৌঁছে তারা একটি সহিংস পরিস্থিতির মুখে পড়ে এবং অস্ত্রের আশঙ্কায় সরে যেতে বাধ্য হয়। তবে ওই সময়ই এক কর্মকর্তা বাড়ির সামনের সিঁড়ির কাছে রক্তে ভেজা এক শিশুকে দেখতে পান। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাড়ির ভেতরে ঢুকে শিশুটিকে দ্রুত বাইরে নিয়ে আসেন।   পরে শিশুটিকে পুলিশের গাড়ির পাশে বসিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় ওই কর্মকর্তাকে। প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী ম্যাকেনজি-গ্রেস স্মিথ Courier Mail-কে বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাটি শিশুটিকে এমনভাবে ধরে রেখেছিলেন, যেন সে ঘটনাস্থলের দিক না তাকায়। তার ভাষায়, ওই কর্মকর্তা এক হাতে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন এবং অন্য হাত দিয়ে তার মুখ সরিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলেন।   স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুটি অস্বাভাবিকভাবে শান্ত ছিল, যদিও তার টি-শার্টে রক্তের দাগ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়। কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিশুটি পায়ে সামান্য আঘাত পেয়েছিল।   ঘটনাস্থলে পরে বিশেষায়িত পুলিশ দল পৌঁছে বৃহস্পতিবার ভোর ১টার দিকে বাড়ির ভেতর থেকে জুলিয়া ব্রান্সডন (২৩) এবং মাইকেল ওয়াল্টকে (৪৫)-এর মরদেহ উদ্ধার করে। কুইন্সল্যান্ড পুলিশের সহকারী কমিশনার ম্যাথিউ ভ্যান্ডারবাইল ওই কর্মকর্তার পদক্ষেপকে “অসাধারণ” বলে উল্লেখ করেন এবং জানান, পুলিশ সদস্যরা প্রতিদিনই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন।   সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইল বলেন, ঘটনাটি খুবই জটিল এবং নিহত দম্পতির সম্পর্ক নিয়ে এখনই বিস্তারিত মন্তব্য করা সম্ভব নয়। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনার আগে ওই ঠিকানায় পারিবারিক সহিংসতার কোনো অভিযোগ তাদের কাছে ছিল না।   তদন্তে জানা গেছে, জুলিয়া ব্রান্সডন ও মাইকেল ওয়াল্টকে চার্লভিলের ওই বাড়ি কিনেছিলেন প্রায় দুই বছর আগে। এর আগে তারা বান্ডাবার্গভিত্তিক প্রতিবন্ধী সহায়তা প্রতিষ্ঠান এম.আর. এবিলিটি সাপোর্ট সার্ভিসেস এবং ইউনিভার্সাল সাপোর্ট কো-অর্ডিনেশন নামে দুটি ব্যবসা শুরু করেছিলেন। ডেইলি মেইলের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, জুলিয়ার এক আত্মীয় রব ব্রান্সডনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল।   আরও জানা গেছে, জুলিয়া গর্ভবতী ছিলেন এবং তার সন্তানের সঙ্গেও তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পরে বন্ধুদের বরাতে চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাটির পর স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রতিবেশী ভেরোনিকা হিকসন বলেন, নিজেদের বাড়ির ঠিক উল্টো দিকেই এমন ঘটনা ঘটায় তিনি ভয় পেয়ে যান। অন্যদিকে চার্লভিলের মেয়র শন র‍্যাডনেজ বলেন, ছোট এই শহরের মানুষ ঘটনাটিতে গভীরভাবে মর্মাহত। তাঁর ভাষায়, “এই শিশুটি বেঁচে গেছে”—এটি স্বস্তির বিষয়, তবে পুরো সম্প্রদায়ের জন্য এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক দিন।   চার্লভিলের মতো ছোট জনপদে এ ধরনের সহিংস ঘটনা শুধু তদন্তের বিষয় নয়, বরং পুরো সম্প্রদায়ের মানসিক আঘাতেরও কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে মন্তব্য করেছে পুলিশ। সহকারী কমিশনার ভ্যান্ডারবাইলও বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ, স্বজন, বন্ধু এবং স্থানীয় মানুষদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়বে।

বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিয়েছেন ডেনমার্কের রাজকুমারী ইসাবেলা। ছবি: সংগৃহীত
রাজপ্রাসাদ ছেড়ে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণে যোগ দিলেন ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ২১:৪১

ডেনমার্কের ১৯ বছর বয়সী রাজকুমারী ইসাবেলা বাধ্যতামূলক সামরিক সেবায় যোগ দিয়েছেন। ইউরোপজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক যখন সামরিক নিয়োগ সম্প্রসারণ করছে, ঠিক সেই সময়েই দেশটির রাজপরিবারের এই সদস্যের সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   রাজকুমারী ইসাবেলা হলেন ডেনমার্কের রাজা দশম ফ্রেডেরিক এবং রানি মেরির কন্যা। রাজপরিবারের সদস্য হলেও দেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী তিনি সামরিক প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন। তিনি ১ হাজার ৬০০ নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যের সঙ্গে মোট ১১ মাসের সামরিক সেবা সম্পন্ন করবেন। এর মধ্যে প্রথম পাঁচ মাস থাকবে মৌলিক প্রশিক্ষণ এবং পরবর্তী ছয় মাস থাকবে কার্যকরী সামরিক দায়িত্ব। তিনি স্লাগেলসে শহরে অবস্থিত গার্ড হুসার রেজিমেন্টে প্রশিক্ষণ নেবেন বলে জানানো হয়েছে।   রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়া, আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন এবং উত্তর ইউরোপে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের প্রেক্ষাপটে ডেনমার্ক সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যও ডেনমার্কে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নিয়ে আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দিয়েছে।   ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কৌশলগত ও প্রাকৃতিক সম্পদসমৃদ্ধ হওয়ায় আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক—দুই পক্ষই বারবার স্পষ্ট করেছে, অঞ্চলটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে কোনো ধরনের দাবি তারা গ্রহণ করবে না।   প্রতিরক্ষা সংস্কারের অংশ হিসেবে ডেনমার্ক সামরিক নিয়োগে নারীদেরও বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করেছে। একই সঙ্গে আগে যেখানে সামরিক সেবার মেয়াদ ছিল চার মাস, এখন তা বাড়িয়ে ১১ মাস করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত সদস্যের সংখ্যা আরও আড়াই হাজার বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।   রাজকুমারী ইসাবেলা তার বড় ভাই যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানের পথ অনুসরণ করছেন। যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানও একই গার্ড হুসার রেজিমেন্টে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছিলেন।   ডেনিশ সংবাদমাধ্যম বিটি (BT)-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজকুমারীর সামরিক সেবার সব ব্যয় বহন করবেন রাজা ফ্রেডেরিক ও রানি মেরি। তবে ইসাবেলা সেনাসদস্যদের জন্য নির্ধারিত খাবার ভাতা ও বেতন গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ২০২৫ সালে ডেনিশ রাজপরিবারের জন্য বরাদ্দ বাজেট ছিল ১ কোটি ৭২ লাখ ডেনিশ ক্রোনার।   রাজপরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ সেবাস্টিয়ান ওলডেন-ইয়র্গেনসেন স্প্যানিশ সাময়িকী হোলা!-কে বলেন, ইসাবেলার এই সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক পেশায় যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তার ভাষায়, যদি তিনি ভবিষ্যতে সামরিক কর্মকর্তা হওয়ার পরিকল্পনা করতেন, তাহলে নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনীর মতো অন্য কোনো শাখা বেছে নেওয়াই বেশি স্বাভাবিক হতো।   গত মাসে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, জোটের প্রতিটি ভূখণ্ড রক্ষায় তাদের দেশ প্রস্তুত, যার মধ্যে ডেনমার্কের নিজস্ব ভূখণ্ডও রয়েছে।   ডেনমার্কের পাশাপাশি সুইডেন ও নরওয়েও নারীদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগ চালু করেছে। অন্যদিকে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা ব্যয় মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, সব সদস্যদেশ এখনো সেই লক্ষ্য পূরণের পথে সমানভাবে এগোতে পারেনি।

ভারতের আসামে বন্যায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে । ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, ২৫ জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৭:৩০

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের ২৫টি জেলায় এখনো ১১ লাখের বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রহ্মপুত্রসহ রাজ্যের একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি।    আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এএসডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শতাধিক ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।    উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় নৌকায় করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।    বন্যার প্রভাব পড়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানেও। প্রতিবছরের মতো এবারও উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বন্যপ্রাণী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণসহ বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।    আসামে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের বন্যা দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের বন্যাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন কর্মকর্তারা। আবহাওয়া বিভাগ আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Iran, Oman deal ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলছে না, নতুন নৌচলাচল ব্যবস্থায় সমঝোতার পথে ইরান-ওমান
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৭:১৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনায় সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। তবে এটি প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার চুক্তি নয় বলে স্পষ্ট করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এবং দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা।   আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় এমন একটি নতুন কাঠামো নিয়ে কাজ হচ্ছে, যার আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের জলসীমা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং ওমানের জলসীমা দিয়ে বের হবে। তেহরানের দাবি, এটি গত ৬০ বছরের প্রচলিত নৌচলাচল ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।   তবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের প্রথম সচিব বেহনাম সাঈদি স্পষ্ট করে বলেছেন, চলমান আলোচনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে নয়; বরং জাহাজ চলাচলের রুট ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ না করা, ইরানি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার না করা, অঞ্চল থেকে সেনা না সরানো এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রশ্নই আসে না।   সাঈদির ভাষায়, “হরমুজ প্রণালি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি কৌশলগত সম্পদ এবং প্রতিরোধের কার্যকর হাতিয়ার। বর্তমান আলোচনা যেন প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আলোচনা হিসেবে কেউ ভুলভাবে না বোঝে।”   তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে, সামরিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকবে না এবং নির্ধারিত বিধি মেনে সার্ভিস ফি পরিশোধ করতে হবে। ওমান ইরানের শর্ত মেনে নিলে চুক্তি হতে পারে বলেও জানান তিনি।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি মিল রেখে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।   বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এ জলপথের নিরাপত্তা ও চলাচল ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর এ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে—এমন সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও নাকচ করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
995 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
804 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
923 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
769 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়