পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পত্তাশী বাজার এলাকার পঞ্চায়েত বাড়ির ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন পত্তাশী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম ফকির (৫৫), স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (৩৮), ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নাহিদ হোসেন (১৮), নাছির উদ্দীন ফকির (৫০) ও নাইম হোসেন (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাজার এলাকায় হঠাৎ চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে পাঁচজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ–এর নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আহত জাহিদ হোসেন দাবি করেন, পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দীন টুকুসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। অপর আহত নাছির ফকিরের অভিযোগ, টুকুর ছেলে রায়হান ও তার ভাই যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮–১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ হামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন টুকু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মারামারি থামাতে গিয়ে নিজেই আহত হয়েছেন এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম হাওলাদার জানান, মারামারির খবর পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দ্রুত খালাসে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বন্দর কার্যক্রমে গতি ফিরলে পণ্য খালাস দ্রুত হবে, উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং বাজারে মূল্যচাপ কিছুটা হলেও হ্রাস পাবে। শুক্রবার বিকেলে নগরীর মেহেদীবাগ এলাকায় নিজ বাসভবনে চট্টগ্রাম বন্দরের সেবাদানকারী বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, পণ্যমূল্য বৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। তবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ–কে ঘিরে চলমান কার্যক্রমের মধ্যেও ব্যয় বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। আমদানি করা পণ্য খালাসে বিলম্ব, অতিরিক্ত চার্জ এবং প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে ব্যয় বাড়ছে। সেই অতিরিক্ত ব্যয় শিল্প উৎপাদনে যুক্ত হয়ে শেষ পর্যন্ত বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, বন্দরের বিদ্যমান সমস্যাগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে। বৈঠকে কয়েকটি তাৎক্ষণিক সমাধানের বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় প্রয়োজন এমন কয়েকটি বিষয় চূড়ান্ত করতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজের কমিশনার শফিউদ্দিন, এডিশনাল কমিশনার তাফসির উদ্দিন ভুঁইয়া, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (হারবার অ্যান্ড মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ এবং পোর্ট ইউজারস ফোরামের আহ্বায়ক আমির হুমায়ূন মাহমুদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্টরা। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে বন্দর কার্যক্রমে গতি আসবে এবং রমজানকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এটি তার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রথম শ্রদ্ধা নিবেদন। শুক্রবার রাত ১২টা ২২ মিনিটে তিনি শহীদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিরোধীদলীয় হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এবং এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন। এছাড়া ১১ দলীয় জামায়াত জোটের শীর্ষ নেতারাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে ডা. শফিকুর রহমান আজিমপুর কবরস্থানে ভাষাশহীদদের মাজার জিয়ারত করবেন এবং তাদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করবেন। মহান একুশের প্রথম প্রহরে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী। শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ভাষাশহীদদের প্রতি পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান। তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন। এরপর রাত ১২টা ৬ মিনিটে তারেক রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে ভাষার অধিকারের জন্য জীবন উৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এ সময় তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করেন। পরবর্তীতে রাত ১২টা ১২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার সদস্যরা বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের স্মরণ করে মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনা পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পত্তাশী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে হামলার অভিযোগে বিএনপি নেতাসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে পত্তাশী বাজার এলাকার পঞ্চায়েত বাড়ির ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন পত্তাশী ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি ও স্থানীয় বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম ফকির (৫৫), স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জাহিদ হোসেন (৩৮), ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. নাহিদ হোসেন (১৮), নাছির উদ্দীন ফকির (৫০) ও নাইম হোসেন (২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাজার এলাকায় হঠাৎ চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে গিয়ে পাঁচজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জিয়ানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ–এর নেতাকর্মীরা অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। আহত জাহিদ হোসেন দাবি করেন, পত্তাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক নাসির উদ্দীন টুকুসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। অপর আহত নাছির ফকিরের অভিযোগ, টুকুর ছেলে রায়হান ও তার ভাই যুবলীগ নেতা আলাউদ্দিনের নেতৃত্বে ৮–১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তাদের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এ হামলা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা নাসির উদ্দীন টুকু অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মারামারি থামাতে গিয়ে নিজেই আহত হয়েছেন এবং তাকে মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হচ্ছে। এ বিষয়ে জিয়ানগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শামীম হাওলাদার জানান, মারামারির খবর পাওয়া গেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও সেবাকেন্দ্রিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। এ খাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও সর্বজনীন করতে সরকার কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য, মানুষ যেন চিকিৎসকের পেছনে ঘুরে না বেড়ায়; বরং চিকিৎসাসেবাই মানুষের কাছে পৌঁছে যায়—এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। নরসিংদীতে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ যেসব স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান এখনো চালু হয়নি, সেগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসিংদীতে দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন কিংবা যারা ভোট দেননি—সব নাগরিকের প্রতিই সরকারের সমান দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি। এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, সিভিল সার্জন সৈয়দ মো. আমিরুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. কলিমুল্লাহ, নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান-এর কন্যা জাইমা রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাবার প্রতি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। শুক্রবার বিকেলে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তিনি বাবার দেশপ্রেম ও নিষ্ঠার প্রশংসা করে পোস্টটি শেয়ার করেন। জাইমা রহমান লিখেছেন, ছোটবেলা থেকেই বাবা সন্তানদের কাছে আদর্শ হিসেবে থাকেন। তিনি তার বাবার পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান চরিত্রের প্রশংসা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে বাবার ওপর তিনি পূর্ণভাবে ভরসা রাখতে পারেন। পোস্টে তিনি তারেক রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও দেশের প্রতি মমত্ববোধের কথা তুলে ধরে লিখেছেন, বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দেশপ্রেমই তাকে আজকের অবস্থানে এনেছে। জাইমা আরও আশা প্রকাশ করেছেন, এই গুণাবলি ও নিষ্ঠাই তাকে একজন সফল প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এই পোস্ট প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে নেটিজেনরা ব্যাপক সমাদর জানিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ শুভকামনা জানিয়েছেন।
আগামী তিন বছরের (২০২৬-২০২৮) জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই কমিটি গঠন ও শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন এই কাঠামোতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পুনরায় সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বে যারা: ঘোষিত নতুন কমিটিতে ৪ জন নায়েবে আমির এবং ৭ জন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে রয়েছেন মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। শক্তিশালী নির্বাহী পরিষদ ও নারী প্রতিনিধিত্ব: ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বড় একটি অংশ স্থান পেয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন এবং ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১৭ জন নারী সদস্য রয়েছেন। সাংগঠনিক কাঠামোতে নারীর এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে দলের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চল ও নির্বাচন কমিশন: সারাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে পৃথক পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্টগ্রামে মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং সিলেটে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতো দক্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাওলানা এটিএম মাছুমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই নতুন কমিটির মূল লক্ষ্য হবে মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে পুনর্গঠন করা এবং আসন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত প্রস্তুতি সুসংহত করা। জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ঘোষণা করেছেন, তাঁর সরকারের মূলমন্ত্র হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যাবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করবে না। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় স্বার্থই আমাদের ‘রেডলাইন’ খলিলুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বারবার একটি কথা বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে দেশের সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তবে মনে রাখবেন, জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থ আমাদের জন্য ‘রেডলাইন’। আমরা আমাদের প্রতিটি পাওনা পই পই করে বুঝে নেব।” জিয়াউর রহমানের নীতিতে প্রত্যাবর্তন শহীদ রাষ্ট্রপতির আমলের কূটনৈতিক সাফল্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে সদস্যপদ পাওয়ার মাত্র চার বছরের মাথায় আমরা জাপানের মতো শক্তিশালী দেশকে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয়েছিলাম। এছাড়া সার্ক গঠন এবং আল-কুদস কমিটিতে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। বাংলাদেশ তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা রাখতে পারেনি এতদিন, আমরা সেই গৌরবময় অবস্থানেই দেশকে ফিরিয়ে নিতে চাই।” রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক রাজনীতি রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির ওপর তাঁর যে বিশেষ নজর ছিল, তা এখন আরও বাড়বে। তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এই সমস্যার একটি টেকসই ও দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।” ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমালোচনার জবাব নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন সমালোচনা এবং তাঁর নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়েছেন খলিলুর রহমান। নির্বাচনে ‘রেফারি’র ভূমিকা পালন করে এখন সরকারের অংশ হওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেন, “অনেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলছেন। তার মানে তো গণনা নিয়ে প্রশ্ন! আমার উত্তর খুব সহজ—সন্দেহ থাকলে গুনে নিন আরেকবার। গুনতে তো কোনো বাধা নেই।” নির্বাচনে তাঁর মন্ত্রিত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধারণা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব পেয়েছেন। গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রনীতি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের একটি ভুল তথ্য আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। আপনারা গুজবের কারখানা না হয়ে সত্যের বাহক হোন। আমাদের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে, আর সেই বার্তার যোগসূত্র হলেন আপনারা।”
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রসমাজের প্রাণপ্রিয় সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গত সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এই কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ছাত্রদল পরিবারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন। এ সময় তাঁরা প্রিয় নেতার সাথে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা করেন। শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বলেন, “দেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের সুদৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব আমাদের জন্য ধ্রুবতারার মতো। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে তাঁর দিকনির্দেশনা এই জাতিকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।” নেতৃবৃন্দ আরও জানান, শহীদ জিয়ার আদর্শিক উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের প্রতিটি আহ্বান বাস্তবায়নে ছাত্রদল রাজপথে সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করবে। সাক্ষাৎ শেষে তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সফল রাষ্ট্রনায়কত্ব কামনায় বিশেষ দোয়া করেন। নির্বাচন পরবর্তী এই সৌজন্য সাক্ষাৎ তৃণমূল পর্যায়ের ছাত্রনেতা ও কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই শক্তিশালী নেতৃত্ব আগামী দিনে দেশের শিক্ষাঙ্গন ও জাতীয় রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ভারত। একই সঙ্গে প্রতিবেশী দেশটিতে একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার প্রতি নিজেদের সমর্থনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছে নয়াদিল্লি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা অংশ নেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর কাছে নরেন্দ্র মোদীর একটি বিশেষ চিঠি হস্তান্তর করেন এবং দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর ওই চিঠিতে একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতি ও সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ভিত্তিতে নতুন প্রশাসনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী ভারত। বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে সব ধরনের দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলোচনা ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সূত্র: ট্রিবিউন নিউজ
চরম আর্থিক সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পাকিস্তানে ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছেন সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। সম্প্রতি তাঁকে দেশটির প্রথম ‘চিফ অফ ডিফেন্স ফোর্সেস’ (সিডিএফ) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— নির্বাচিত সরকার কি কেবল নামমাত্র, নাকি আড়ালে থেকে প্রকৃত ক্ষমতা পরিচালনা করছেন সেনাপ্রধানই। এই প্রেক্ষাপটে মুখ খুলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী খাজা আসিফ। নতুন দায়িত্ব পাওয়ার ফলে প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত সব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি পরমাণু অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ কর্তৃত্বও সেনাপ্রধানের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়েছে বলে আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি সেনাবাহিনীকে সন্তুষ্ট রেখে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চাইছেন, আর তাতেই প্রশাসনে সেনাবাহিনীর প্রভাব আগের চেয়ে বেড়েছে। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খাজা আসিফ বলেন, দেশের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। তিনি সরাসরি আসিম মুনিরকে ‘ডি-ফ্যাক্টো শাসক’ বলতে না চাইলেও, প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোতে সেনাপ্রধানের প্রভাব যে উল্লেখযোগ্য, তা কার্যত স্বীকার করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ-এর কঠোর শর্ত পূরণে ব্যস্ত শাহবাজ সরকার জনঅসন্তোষের মুখে পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতিতে সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণ আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। ফলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান-এর পতনের পর পাকিস্তানে গণতন্ত্র আবারও সেনাবাহিনীর প্রভাবের নিচে চলে যাচ্ছে কি না— সে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। খাজা আসিফের এই বক্তব্য পাকিস্তানের তথাকথিত ‘হাইব্রিড’ শাসনব্যবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ইতিহাসে নজিরবিহীন এক সংকট তৈরি করে রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর-এর সাবেক বাসভবন ও রাজকীয় প্রাসাদে তল্লাশি চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং সরকারি গোপনীয় নথি পাচারের অভিযোগে এই তদন্ত চলছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে অ্যান্ড্রুর পুলিশ স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসার ছবি প্রকাশের পর থেমস ভ্যালি পুলিশ এ তল্লাশি অভিযান শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার, নিজের ৬৬তম জন্মদিনে অ্যান্ড্রুকে ‘মিসকন্ডাক্ট ইন পাবলিক অফিস’ বা সরকারি পদে থেকে অসদাচরণের সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, যুক্তরাজ্যের বিশেষ বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আফগানিস্তান, ভিয়েতনাম ও সিঙ্গাপুরসংক্রান্ত স্পর্শকাতর সরকারি প্রতিবেদন এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত তথ্য জেফরি এপস্টাইনকে সরবরাহ করেছিলেন। পুলিশ হেফাজতে ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর অ্যান্ড্রুকে মুক্তি দেওয়া হলেও তিনি বর্তমানে ‘তদন্তাধীন’ অবস্থায় রয়েছেন। রয়টার্স প্রকাশিত এক ছবিতে তাকে রেঞ্জ রোভার গাড়ির পেছনের সিটে বিমর্ষ ও বিধ্বস্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ ঘটনায় বাকিংহাম প্যালেস থেকে এক বিবৃতিতে রাজা চার্লস তৃতীয় জানান, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং তদন্তে পুলিশের প্রতি পূর্ণ সহযোগিতা করা হবে। উল্লেখ্য, এর আগেই তিনি ভাই অ্যান্ড্রুকে রাজকীয় খেতাব ও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। শুক্রবার বার্কশায়ারের ‘রয়্যাল লজ’, যা দীর্ঘদিন অ্যান্ড্রুর বাসভবন ছিল, সেখানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি নরফোকের স্যান্ড্রিংহাম এস্টেটে অ্যান্ড্রুর বর্তমান বাসভবন ‘উড ফার্ম’-এও অভিযান চালায় পুলিশ। এই ঘটনায় ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অ্যান্ড্রুকে উত্তরাধিকার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জোরালো হয়েছে। বর্তমানে তিনি সিংহাসনের উত্তরাধিকারের তালিকায় অষ্টম স্থানে রয়েছেন। লিবারেল ডেমোক্র্যাট ও লেবার দলের একাধিক নেতা রাজপরিবারের ভাবমূর্তি ও জনআস্থা রক্ষায় দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ১৯৩৬ সালে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের সিংহাসন ত্যাগের পর এটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় সংকট। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তটি অত্যন্ত জটিল এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। তথ্য: রয়টার্স।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক আদেশে আদালত জানায়, একতরফাভাবে ব্যাপক হারে শুল্ক আরোপ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফেডারেল আইন লঙ্ঘন করেছেন। হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক ও পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত এই শুল্ক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে আদালতের এমন রায় ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর অভিবাসন নীতি, স্বাধীন সংস্থার প্রধানদের বরখাস্ত এবং সরকারি ব্যয় হ্রাসের মতো বিষয়ে এই রক্ষণশীল আদালত বারবার প্রেসিডেন্টের পক্ষে রায় দিলেও, এবারের সিদ্ধান্ত ভিন্ন তাৎপর্য বহন করছে। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস-এর লেখা ৬-৩ মেজরিটির রায়ে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে অসীম পরিমাণ, মেয়াদ ও পরিধির শুল্ক আরোপের যে ক্ষমতা দাবি করেছেন, তার জন্য কংগ্রেসের স্পষ্ট অনুমোদন আবশ্যক। আদালত স্পষ্ট করেছে, প্রেসিডেন্ট যে ‘জরুরি ক্ষমতা’ বা আইইইপিএ (IEEPA)-এর ওপর নির্ভর করেছিলেন, তা শুল্ক আরোপের জন্য পর্যাপ্ত নয়। রায়ে আরও বলা হয়, কংগ্রেস যখন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেয়, তখন তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সীমাবদ্ধ করে দেয়, যা এই ক্ষেত্রে মানা হয়নি। সংবিধানের আলোকে আদালতের কাজ কেবল আইনি সীমা নির্ধারণ করা এবং সেই অনুযায়ী প্রেসিডেন্টকে এই ক্ষমতা দেওয়া হয়নি বলেও উল্লেখ করা হয়। এই রায়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে একমত হন ট্রাম্পের আমলে নিয়োগ পাওয়া দুই রক্ষণশীল বিচারপতি অ্যামি কোনি ব্যারেট ও নিল গোরসাচ, পাশাপাশি তিন লিবারেল বিচারপতি। বিপক্ষে মত দেন বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস, স্যামুয়েল আলিটো ও ব্রেট কাভানফ। উল্লেখ্য, এই শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় ইতোমধ্যে ১৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। তবে এই অর্থের ভবিষ্যৎ বিষয়ে আদালত তাৎক্ষণিক কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেয়নি। রায়ের ফলে ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে এবং বাণিজ্য নীতি কার্যকরে প্রশাসনকে এখন কংগ্রেসের ওপর নির্ভর করতে হবে। তথ্যসূত্র: আলজাজিরা
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews