যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দূতাবাস জানায়, পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে আপনার স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ান, তবে আপনার শিক্ষার্থী ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।’ ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্যতা নিয়েও সাবধান করেছে দূতাবাস। বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও চিরতরে হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ছাত্র হিসেবে নিজের বৈধ অবস্থান (স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস) বজায় রাখতে সব সময় ভিসার শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে প্রশ্নকারীকে কার্যত বেরিয়ে যেতে বলেন। সিবিএস নিউজের সাংবাদিক অলিভিয়া রিনাল্ডি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, ইরানি গানবোট দুটি জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী। প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে বলেন, “আউট। সবাইকে ধন্যবাদ।” এরপরই ব্রিফিং কার্যত শেষ হয়ে যায়। উপস্থিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টতই রাগান্বিত দেখাচ্ছিল। এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সামরিক সূত্রের দাবি, ইরানের দুটি গানবোট একটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের ঘটনার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিতিশীলতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
লিওনেল মেসি মানেই যেন এক জাদুর কাঠি। আবারও তার প্রমাণ মিলল মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। কলোরাডো র্যাপিডসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ডেনভারের এম্পাওয়ার ফিল্ডে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রেকর্ড গড়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে মায়ামি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেসির ক্রস থেকেই দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান বার্টরাম। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কলোরাডো। ৫৯ এবং ৬২ মিনিটে পরপর দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে, তখনই আবারও দৃশ্যপটে হাজির মেসি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে চারজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের কোণা থেকে এক অবিশ্বাস্য শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে টানা সাত ম্যাচে নিয়ে গেল। বর্তমানে লিগে ৭ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষেই রয়েছেন মেসি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলারমো হোয়োসের অধীনে এটি মায়ামির প্রথম জয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি খ্রিষ্টানদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসব ২০২৬’। বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন ইনকরপোরেটেড (বিসিএ)-এর উদ্যোগে গত ১২ এপ্রিল সিলভার স্প্রিং এলাকায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। রসকো নিক্স এলিমেন্টারি স্কুল প্রাঙ্গণে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রায় চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ। বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেগ উইম্স এবং মন্টগোমারি কাউন্টির কর্মকর্তা আনিস আহমেদ। শোভাযাত্রা শেষে সংগঠনের সেক্রেটারি বিভাস রোজারিও সঞ্চালনায় শুরু হয় মূল পর্ব। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও প্রার্থনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিসিএ’র সভাপতি বিপুল এলিট গনছালভেস ইস্টার ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে যিশু খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে মেরিল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী খাবার। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ঘর থেকে নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসে আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ইস্টার বানি’, যা তাদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। এ সময় মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের প্রার্থী রেদোয়ান চৌধুরী ও জেরেমিয়া পোপ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপস্থিতি ইতিবাচক বার্তা দেয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক জীবন পেরার তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে সংগীত, নৃত্য ও কৌতুক পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা। নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্জুরি নৃত্যালয় ও সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গনের পরিবেশনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বয়োজ্যেষ্ঠদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ। এছাড়া র্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশগামী বিমান টিকিট ছিল। অনুষ্ঠানে ফাদার সুবাস কস্তা, বিসিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুড ভি. গমেজসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ইস্টার ও বৈশাখ একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দূতাবাস জানায়, পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে আপনার স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ান, তবে আপনার শিক্ষার্থী ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।’ ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্যতা নিয়েও সাবধান করেছে দূতাবাস। বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও চিরতরে হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ছাত্র হিসেবে নিজের বৈধ অবস্থান (স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস) বজায় রাখতে সব সময় ভিসার শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
লিওনেল মেসি মানেই যেন এক জাদুর কাঠি। আবারও তার প্রমাণ মিলল মেজর লিগ সকারে (এমএলএস)। কলোরাডো র্যাপিডসের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লিওনেল মেসির জোড়া গোলে ৩-২ ব্যবধানের এক রোমাঞ্চকর জয় তুলে নিয়েছে ইন্টার মায়ামি। ডেনভারের এম্পাওয়ার ফিল্ডে প্রায় ৭৬ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে রেকর্ড গড়া ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য বজায় রাখে মায়ামি। ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন আর্জেন্টাইন খুদে জাদুকর। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মেসির ক্রস থেকেই দুর্দান্ত হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন জার্মান বার্টরাম। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় কলোরাডো। ৫৯ এবং ৬২ মিনিটে পরপর দুই গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরায় তারা। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি ড্রয়ের দিকে যাচ্ছে, তখনই আবারও দৃশ্যপটে হাজির মেসি। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে চারজন ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বক্সের কোণা থেকে এক অবিশ্বাস্য শটে জয়সূচক গোলটি করেন তিনি। এই জয়ের মাধ্যমে ইন্টার মায়ামি তাদের অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে টানা সাত ম্যাচে নিয়ে গেল। বর্তমানে লিগে ৭ গোল নিয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষেই রয়েছেন মেসি। অন্তর্বর্তীকালীন কোচ গুইলারমো হোয়োসের অধীনে এটি মায়ামির প্রথম জয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশি খ্রিষ্টানদের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ইস্টার পুনর্মিলনী ও বৈশাখী উৎসব ২০২৬’। বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন ইনকরপোরেটেড (বিসিএ)-এর উদ্যোগে গত ১২ এপ্রিল সিলভার স্প্রিং এলাকায় এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। রসকো নিক্স এলিমেন্টারি স্কুল প্রাঙ্গণে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে প্রায় চার শতাধিক প্রবাসী বাংলাদেশির মিলনমেলায় সৃষ্টি হয় এক টুকরো বাংলাদেশের আবহ। বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গ্রেগ উইম্স এবং মন্টগোমারি কাউন্টির কর্মকর্তা আনিস আহমেদ। শোভাযাত্রা শেষে সংগঠনের সেক্রেটারি বিভাস রোজারিও সঞ্চালনায় শুরু হয় মূল পর্ব। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও প্রার্থনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। বিসিএ’র সভাপতি বিপুল এলিট গনছালভেস ইস্টার ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে যিশু খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণের আহ্বান জানান। অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে মেরিল্যান্ডের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবদানের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে পরিবেশন করা হয় গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী খাবার। অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ ঘর থেকে নানা ধরনের খাবার নিয়ে এসে আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন। শিশুদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল ‘ইস্টার বানি’, যা তাদের মাঝে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। এ সময় মন্টগোমারি কাউন্টি কাউন্সিলের প্রার্থী রেদোয়ান চৌধুরী ও জেরেমিয়া পোপ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, মূলধারার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের উপস্থিতি ইতিবাচক বার্তা দেয়। সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক সম্পাদক জীবন পেরার তত্ত্বাবধানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। এতে সংগীত, নৃত্য ও কৌতুক পরিবেশনায় দর্শকদের মুগ্ধ করেন শিল্পীরা। নৃত্য পরিবেশনায় মঞ্জুরি নৃত্যালয় ও সৃষ্টি নৃত্যাঙ্গনের পরিবেশনা বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বয়োজ্যেষ্ঠদের অংশগ্রহণে ঐতিহ্যবাহী পুতুল নাচ। এছাড়া র্যাফেল ড্র-এর মাধ্যমে আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে গ্র্যান্ড পুরস্কার হিসেবে বাংলাদেশগামী বিমান টিকিট ছিল। অনুষ্ঠানে ফাদার সুবাস কস্তা, বিসিএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জুড ভি. গমেজসহ সংগঠনের বর্তমান ও সাবেক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকরা জানান, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে ইস্টার ও বৈশাখ একসঙ্গে উদযাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও দৃঢ় হয়।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকলেও বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। তার ভাষায়, এই মূল্যবৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
ওয়াশিংটন থেকে নতুন এক কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণার মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে নতুন এই নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বা প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন এই নীতির লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখা এবং বহিরাগত প্রভাব মোকাবিলা করা। বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গৃহীত এই পদক্ষেপ ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে চীনের বাড়তে থাকা বিনিয়োগ ও প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর পক্ষে কাজ করবে, অর্থায়ন দেবে কিংবা কৌশলগত সম্পদে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো কর্মকাণ্ডকেও এই নীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে। সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই নীতির মাধ্যমে বিদেশি সমালোচক বা রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। অতীতে রাজনৈতিক কারণে ভিসা বাতিলের নজির থাকায় এ আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে। ‘ডনরো ডকট্রিন’ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশে সাধারণত চৈত্র থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সুনামগঞ্জ ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রাঘাতে একদিনেই ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের আগস্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ১৭ জনের প্রাণহানি ছিল দেশের ইতিহাসে বজ্রপাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম। বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বজ্রঝড় সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়; এই সময়টুকু নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা জরুরি। গভীর ও উলম্ব কালো মেঘ দেখা দিলে ঘরের বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিশেষ প্রয়োজনে বের হলে রাবারের জুতা ব্যবহার করা উচিত। খোলা মাঠে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়তে হবে। কোনোভাবেই উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার বা ধাতব খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না। বজ্রপাতের সময় ভবন বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে অবস্থান করা সবচেয়ে নিরাপদ, তবে ভবনের ছাদে বা উঁচু স্থানে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বজ্রপাতের সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন—মোবাইল, কম্পিউটার, টেলিভিশন ও ফ্রিজের প্লাগ বিচ্ছিন্ন রাখা জরুরি। এছাড়া জলাশয় বা নদী থেকে দূরে থাকতে এবং মাছ ধরার নৌকা নিয়ে গভীর পানিতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা স্থানে অনেকে একত্রে থাকলে দ্রুত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং শিশুদের ঘরের ভেতরে নিরাপদে রাখা জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা স্নায়ুযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান। সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার আগে তেহরান শুধু তাদের আটকে থাকা অর্থই ফেরত চায়নি, বরং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এবং সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় সৃষ্ট আর্থিক লোকসান মিলিয়ে এই অংক করা হয়েছে, যা সময়ের সাথে আরও বাড়তে পারে। কোথায় এবং কীভাবে জব্দ আছে ইরানের সম্পদ? ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে আছে। এর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো: সময়কাল/উৎস সম্পদের পরিমাণ (আনুমানিক) বর্তমান অবস্থা ১৯৭৯ (জিমি কার্টার আমল) ৮ - ১১ বিলিয়ন ডলার মার্কিন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জব্দ। ২০১৫ (পারমাণবিক চুক্তি) ১০০ বিলিয়ন ডলার (ওবামা) চুক্তির পর আংশিক (২৯-৬০ বিলিয়ন) ব্যবহারের সুযোগ পায়। ২০১৮ (ট্রাম্প আমল) অনির্দিষ্ট চুক্তি থেকে সরে আসায় পুনরায় সম্পদ জব্দ করা হয়। ২০২৩ (কাতার মধ্যস্থতা) ৬ বিলিয়ন ডলার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, তবে বর্তমানে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। ইরানি সংবাদ সংস্থা প্রেস টিভির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশের ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে রয়েছে: সিটি ব্যাংক ও ব্যাংক অফ আমেরিকা, এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, বিএনপি পারিবাস ও ডয়েচে ব্যাংক। এছাড়াও শেল, টোটাল, সিমেন্স এবং বোয়িং-এর মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের প্রকল্প মাঝপথে ছেড়ে চলে যাওয়ায় ইরানের বিশাল পুঁজি আটকা পড়ে আছে। আস্থার সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৩ সালে কাতার ৫ ইরানি বন্দির বিনিময়ে যে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের ব্যবস্থা করেছিল, ২০২৪ সালে ইসরায়েল-ইরান উত্তজনা বৃদ্ধির পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সেই অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া কোনো আলোচনার বিষয় হতে পারে না (Non-negotiable)। এটি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির আশা করা বৃথা। তেহরানের মতে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে ওয়াশিংটনকে তাদের 'আন্তরিকতার পরীক্ষা' দিতে হবে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে।
সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা বা জটিল উদ্ধারকাজে ডুবুরিদের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো অক্সিজেন। সেই সংকট কাটাতে এবার যুগান্তকারী এক রোবোটিক ডাইভিং স্যুট উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা। দাবি করা হচ্ছে, এই ‘রোবো-ডাইভিং স্যুট’ ব্যবহার করলে একজন ডুবুরি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম অক্সিজেন খরচ করে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে অবস্থান করতে পারবেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ স্যুটটিতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত মানের অ্যালগরিদম যা ডুবুরির প্রতিটি নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে। ফলে ডুবুরিকে সাতার কাটতে বা হাত-পা নাড়াতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয় না, যা তার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি শুধু অক্সিজেন সাশ্রয়ই করবে না, বরং গভীর সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে। পানির নিচে ভারী কোনো যান্ত্রিক কাজ বা উদ্ধার তৎপরতার সময় এই রোবোটিক স্যুট ডুবুরিকে ‘শ্যাডো’ বা ছায়ার মতো সহায়তা করবে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং সামরিক ক্ষেত্রে এটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।
২০২৬ সালের ‘হরমুজ সংকট’ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ কৌশলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে রয়েছে জাপান। দেশটি তাদের কৌশলগত তেলের মজুত থেকে ইতোমধ্যে ৪৫ দিনের সরবরাহ ছেড়েছে এবং আরও ২০ দিনের রিজার্ভ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রুটে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ভারত তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মধ্যে কর কমানো, এলপিজি রেশনিং এবং বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান গুরুতর সংকটে পড়েছে। দেশটির জ্বালানির বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল রেশনিংয়ের পরিকল্পনাও করছে সরকার। মালয়েশিয়া বিশাল ভর্তুকির চাপ সামলাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং বায়োডিজেল ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে নেপাল ও ভুটান জ্বালানি ও রেমিট্যান্স সংকটে পড়েছে; নাগরিকদের বিকল্প জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তুরস্ক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপে পড়েছে। গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আফ্রিকায় মরক্কো আমদানি নির্ভরতার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ঋণের পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র বড় উৎপাদক হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং কৌশলগত মজুত কমে এসেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে রপ্তানিতে কর আরোপ করেছে। ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া মজুত থেকে জ্বালানি ছেড়ে এবং কর কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈশ্বিক সংকট থেকে বাংলাদেশ-এর মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম চুক্তি (হেজিং), এবং কৃষিতে জ্বালানি নির্ভরতা কমানো। বিশ্ব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
আফ্রিকা সফররত ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। সফরকালীন তাঁর কিছু বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অ্যাঙ্গোলা যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ লিও এই স্পষ্টীকরণ দেন। এর আগে ক্যামেরুন সফরকালে তিনি বলেছিলেন, "মুষ্টিমেয় কিছু স্বৈরাচারী শাসক বিশ্বকে ধ্বংস করছে।" তাঁর এই মন্তব্যটি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে পোপ বলেন, তাঁর সেই মন্তব্যগুলো মোটেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ছিল না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সব দিক থেকে সঠিক ছিল না।" মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে সরাসরি কোনো সংঘাতের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেন। সময়ের হিসাব তুলে ধরে পোপ লিও আরও যোগ করেন যে, বিতর্কিত ওই ভাষণটি অন্তত দুই সপ্তাহ আগে তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পোপের শান্তি প্রচারের বার্তার ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করার অনেক আগেই এই বক্তব্য ঠিক করা ছিল। ফলে এটি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য ছিল না। শান্তি, ন্যায়বিচার এবং বিশ্ব অস্থিরতার বিরুদ্ধে বার্তা দিতে বর্তমানে পোপ লিও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশজুড়ে ১০ দিনের এক সফরে রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।