সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
যুক্তরাষ্ট্রে ২৬ আগস্ট নিয়মিত পেমেন্ট সূচি অনুযায়ী সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থ পাঠানো হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
২৬ আগস্ট সোশ্যাল সিকিউরিটির চেক, কারা পাচ্ছেন জেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাভোগীদের জন্য ২৬ আগস্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি তারিখ। বুধবার, ২৬ আগস্ট নিয়মিত পেমেন্ট সূচি অনুযায়ী, যেসব সুবিধাভোগীর জন্মদিন মাসের ২১ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে, তাদের সোশ্যাল সিকিউরিটির মাসিক সুবিধার অর্থ পাঠানোর কথা। তবে সব সুবিধাভোগী একই দিনে অর্থ পান না।   সোশ্যাল সিকিউরিটি প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের মে মাসের পর থেকে সুবিধা নেওয়া শুরু করা অনেক অবসরপ্রাপ্ত, মৃত কর্মীর পরিবারের সদস্য ও প্রতিবন্ধী সুবিধাভোগীর পেমেন্ট জন্মতারিখের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। মাসের ১ থেকে ১০ তারিখে জন্ম হলে সাধারণত দ্বিতীয় বুধবার, ১১ থেকে ২০ তারিখে জন্ম হলে তৃতীয় বুধবার এবং ২১ থেকে ৩১ তারিখে জন্ম হলে চতুর্থ বুধবার পেমেন্ট পাঠানো হয়।   আগস্ট মাসের সূচি অনুযায়ী, ১২ আগস্ট ১ থেকে ১০ তারিখে জন্ম নেওয়া যোগ্য সুবিধাভোগীদের পেমেন্ট পাঠানো হয়েছে। ১৯ আগস্ট ছিল ১১ থেকে ২০ তারিখে জন্মগ্রহণকারীদের পেমেন্টের তারিখ। আর ২৬ আগস্টের পেমেন্ট ২১ থেকে ৩১ তারিখে জন্ম নেওয়া সুবিধাভোগীদের জন্য নির্ধারিত।   তবে এই নিয়ম সব সোশ্যাল সিকিউটি সুবিধাভোগীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। যারা ১৯৯৭ সালের ৩০ এপ্রিল বা তার আগে সুবিধা পাওয়া শুরু করেছিলেন, তাদের অনেকের জন্য আলাদা পেমেন্ট সূচি রয়েছে। একইভাবে, সোশ্যাল সিকিউটির পাশাপাশি সম্পূরক নিরাপত্তা আয় বা এসএসআই পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও আলাদা নিয়ম প্রযোজ্য।   আগস্ট মাসে এসএসআই পেমেন্টের ক্ষেত্রেও রয়েছে ভিন্নতা। ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার হওয়ায় আগস্টের এসএসআই পেমেন্ট আগেই ৩১ জুলাই পাঠানো হয়েছে। এটি অতিরিক্ত কোনো পেমেন্ট নয়। সপ্তাহান্তের কারণে নির্ধারিত তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে সোশ্যাল সিকিউটি, এসএসআই অথবা উভয় ধরনের সুবিধা মিলিয়ে প্রায় ৭ কোটি ৫৭ লাখ মানুষ পেমেন্ট পাচ্ছেন। সোশ্যাল সিকিউটি প্রশাসনের জুলাই ২০২৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তাদের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৯৩ লাখ সুবিধাভোগীর বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি।   তাই ২৬ আগস্টের পেমেন্টের অপেক্ষায় থাকা সুবিধাভোগীদের নিজেদের জন্মতারিখ এবং ব্যক্তিগত সোশ্যাল সিকিউরিটি পেমেন্টের সূচি মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। একই ধরনের সুবিধা পেলেও সবার পেমেন্টের তারিখ এক নয়।

১২ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের পারমায় স্কুলবাসের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে গেছে এক নারীর ব্যবহৃত হুইলচেয়ার। ছবি: সংগৃহীত
স্কুলবাসের ধাক্কায় হুইলচেয়ারে থাকা নারী হাসপাতালে, আহত হয়নি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের পারমায় একটি স্কুলবাসের ধাক্কায় হুইলচেয়ারে থাকা এক নারী আহত হয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর ওই নারীকে মেট্রো হেলথ মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হয়েছে। বাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ আহত হয়নি।   পুলিশের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৮ জানিয়েছে, স্কুলবাসটি ওই নারীকে ধাক্কা দেওয়ার পর ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যরা পৌঁছান। পরে আহত নারীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।   দুর্ঘটনার সময় স্কুলবাসে থাকা শিক্ষার্থীদের কেউ আহত না হওয়ায় তাদের বিষয়ে বড় ধরনের কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে এবং দুর্ঘটনার জন্য কারও দায় রয়েছে কি না, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। দুর্ঘটনার বিস্তারিত কারণ বা আহত নারীর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

২২ মিনিট Ago
সারগোধা এলাকায় রাডার খুঁজতে পাঠানো ভারতীয় ড্রোনের একটি কিরানা হিলসে আঘাত করেছিল বলে জানিয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান। ছবি: এআই
পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভারতের ড্রোন, লক্ষ্য ছিল রাডার

অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের কিরানা হিলস এলাকায় একটি ভারতীয় ড্রোন বা ‘লোইটারিং মিউনিশন’ আঘাত করেছিল। তবে ওই এলাকায় পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান।   মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে অপারেশন সিঁদুরের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় বাহিনীর পাঠানো ড্রোনগুলোর মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের সারগোধা এলাকার আশপাশে রাডার শনাক্ত করা। লক্ষ্য খুঁজে না পেয়ে একটি ড্রোনের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করে থাকতে পারে। কিরানা হিলস সারগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এলাকাটি পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ে আসছে। ফলে অপারেশন সিঁদুরের সময় সেখানে বিস্ফোরণ বা ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবর নিয়ে ভারতীয় হামলার সম্ভাবনা ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল।   জেনারেল চৌহান বলেন, অপারেশন সিঁদুরের আগে সারগোধা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি লোইটারিং মিউনিশন পাঠানো হয়েছিল। এগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় ধরে অবস্থান করে লক্ষ্য খুঁজতে পারে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো লক্ষ্য শনাক্ত না হলে ডিভাইসটির জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়ে সেটি অন্য কোথাও আঘাত করতে পারে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করা ড্রোনটি সম্ভবত সারগোধার কাছে রাডার খুঁজছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য শনাক্ত করতে না পারার পর সেটি কিরানা হিলসের কোনো স্থাপনা বা পাহাড়ে আঘাত করে থাকতে পারে। তবে এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত ঘটনা, পরিকল্পিত হামলা নয়।   ভারতের সাবেক এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতীর বক্তব্যও উল্লেখ করেন। ভারতী এর আগে বলেছিলেন, কিরানা হিলসে পাকিস্তানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি। নতুন এই বক্তব্যে অবশ্য কিরানা হিলস এলাকায় ভারতীয় অস্ত্র আঘাত করার সম্ভাবনা নিয়ে আগের জল্পনার একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। একই সঙ্গে জেনারেল চৌহান স্পষ্ট করেছেন, ভারতের পরিকল্পিত সামরিক লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা নয়।   অপারেশন সিঁদুর শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৭ মে। ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওই অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হয় এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়। অনুষ্ঠানে জেনারেল চৌহান অপারেশন সিঁদুরের আরেকটি বিষয়ও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্কারদুতে হামলার অনুমোদন ভারতীয় বিমানবাহিনী পেয়েছিল। তবে পরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেখানে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।   এরপর বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে পাকিস্তানের ভোলারি এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভোলারির একটি হ্যাঙ্গারে ভারতীয় হামলার ছবি ও স্যাটেলাইটচিত্রও প্রকাশ্যে আসে। কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোনের আঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, কিরানা হিলসের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কোনো পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়নি। সেখানে ড্রোনের আঘাত ছিল লক্ষ্য শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ফল।   এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই ব্যাখ্যার বাইরে কিরানা হিলসে ঠিক কোন স্থাপনায় ড্রোনটি আঘাত করেছিল বা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।   সংবাদসূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

৩৬ মিনিট Ago
মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর পোশাকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি কচ্ছপ। ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বাসে লুকিয়ে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ নেওয়ার চেষ্টা, মিয়ামি বিমানবন্দরে ধরা পড়লেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর ব্রায়ের ভেতর থেকে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা স্ক্যানারে তার শরীরের বুকের অংশে অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত হওয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে কচ্ছপ দুটির সন্ধান পান পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) কর্মকর্তারা।   ঘটনাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটলেও টিএসএ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে জুলাইয়ে। ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়নি। টিএসএর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, কচ্ছপ দুটিকে গজের মতো কাপড় ও প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কচ্ছপগুলোর কোন প্রজাতির ছিল, তা সংস্থাটি জানায়নি।   নিরাপত্তা স্ক্যানারে প্রথমে ওই নারীর শরীরের বুকের অংশে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়ে। এরপর তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হলে পোশাকের ভেতর থেকে দুটি কচ্ছপ বেরিয়ে আসে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছেও ঘটনাটি ছিল বেশ অস্বাভাবিক। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো, দুটি কচ্ছপের একটি পরে মারা যায়। বেঁচে যাওয়া কচ্ছপটিকে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্দেশে অদ্ভুত কিন্তু স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয় টিএসএ। সংস্থাটি জানায়, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়া সম্ভব হলেও সেগুলো পোশাকের নিচে লুকিয়ে নেওয়া যাবে না। টিএসএর নিয়ম অনুযায়ী, ছোট পোষা প্রাণী নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রাণীকে তার বহনকারী খাঁচা বা ব্যাগ থেকে বের করে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় হাতে বহন করতে হয়। একই সঙ্গে বিমানে পোষা প্রাণী নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিজস্ব নিয়মও আগে জেনে নিতে হয়।   মায়ামির এই ঘটনা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যক্তিকে প্যান্টের ভেতরে একটি জীবন্ত কচ্ছপ লুকিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ওই কচ্ছপটি পরে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।   এ ছাড়া মায়ামি বিমানবন্দরে ২০২৩ সালে একটি ব্যাগ থেকে পাখির ডাক শোনার পর অ্যামাজন প্রজাতির পাখির ডিম ও জীবন্ত পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এক ব্যক্তিকে ব্যাগে সাপ নিয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা থেকে আটক করা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত যাত্রী, বিমান ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। তাই প্রাণী বহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে টিএসএ। বিশেষ করে প্রাণীকে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তার নিজের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি প্রাণীটির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।   মায়ামির ঘটনায় দুটি কচ্ছপের একটি মারা যাওয়ার বিষয়টি সেই ঝুঁকিকেই সামনে এনেছে। নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের পোষা প্রাণী পরিবহনের নিয়ম এবং টিএসএর নিরাপত্তা নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সংবাদসূত্র: সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।

৫২ মিনিট Ago
আমেরিকা
ভার্জিনিয়ায় মেজবানে খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা, দুঃখপ্রকাশ করে ভুল স্বীকার আয়োজকদের

গত ২৩ আগস্ট ভার্জিনিয়ায় বাইটপোর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মেজবানকে ঘিরে ব্যাপক মানুষের সমাগম হলেও খাবার বিতরণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা অনেকেই দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার না পাওয়ার অভিযোগ করেন।   অতিরিক্ত মানুষের উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি একপর্যায়ে কিছুটা বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে বলে অংশগ্রহণকারীদের অনেকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নানা আলোচনা ও সমালোচনা দেখা যায়।   আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার কিছু ভুল-ত্রুটি স্বীকার করা হয়েছে এবং আগামী আয়োজন আরও সুশৃঙ্খলভাবে করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।   আমেরিকা বাংলার হাতে আসা আয়োজকদের সেই লিখিত বক্তব্যটি হুবহু তুলে ধরা হলো— ডিএমভিতে স্মরণকালের সফল আয়োজন—বাইটপোর মেজবান: কৃতজ্ঞতা, ভুল-ত্রুটির স্বীকারোক্তি ও আগামী দিনের পরিকল্পনা   গত ২৩ আগস্ট বাইটপোর উদ্যোগে ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত মেজবান আমাদের জন্য ছিল অত্যন্ত আনন্দের, আবেগের এবং স্মরণীয় একটি আয়োজন। বিপুলসংখ্যক দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে ডিএমভি এলাকার অন্যতম বৃহৎ ও সফল কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত করেছে।   শুধু ডিএমভি নয়—পেনসিলভানিয়া, নিউ জার্সি, নিউইয়র্ক, টেক্সাসসহ বিভিন্ন স্টেট থেকে অনেকেই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আমাদের মেজবানে অংশ নিয়েছেন। আপনাদের প্রত্যেকের প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা।   শুরু থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল কেবল একটি খাওয়া-দাওয়ার অনুষ্ঠান আয়োজন করা নয়। আমরা চেয়েছিলাম আমাদের ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দিতে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা সন্তানদের শেকড়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করতে।   একদিকে অতিথিরা উপভোগ করেছেন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী ও অথেনটিক মেজবানি খাবারের স্বাদ, অন্যদিকে ডিএমভিতে প্রথমবারের মতো উপভোগ করেছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খানের গান। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় শিল্পী প্রতীক হাসানের পরিবেশনা এবং নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নাচ, গান ও ফ্যাশন শো অনুষ্ঠানটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছিল।   হাজারো দর্শক-শ্রোতা শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে থেকে পুরো আয়োজন উপভোগ করেছেন। একটি সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও সময়ানুবর্তী অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার চেষ্টা আমাদের ছিল, আর আপনাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই সেই প্রচেষ্টাকে সার্থক করেছে।   শুধু উপস্থিত অতিথিদের ধন্যবাদ জানালেই আমাদের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ সম্পূর্ণ হবে না। গত প্রায় তিন মাস ধরে যাঁরা নিজেদের মূল্যবান সময়, শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছেন—আমাদের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং নানাভাবে সহযোগিতা করা প্রত্যেক মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। আপনাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া এত বড় একটি আয়োজন কোনোভাবেই সম্ভব হতো না।   এত বড় একটি আয়োজনের অনেক সফলতার পাশাপাশি কিছু সীমাবদ্ধতা ও ভুল-ত্রুটিও ছিল। আমরা সেগুলো এড়িয়ে যেতে চাই না। আমাদের মেজবানি অনুষ্ঠান নিয়ে কমিউনিটিতে যে আলোচনা, সমালোচনা ও কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিছু বিষয় পরিষ্কার করা প্রয়োজন বলে মনে করছি।   প্রথমেই আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং ক্ষমাপ্রার্থী তাঁদের কাছে, যাঁরা অনুষ্ঠানে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও খাবার পাননি অথবা অন্য কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। আপনাদের কষ্ট আমাদেরও কষ্ট দিয়েছে।   আমাদের প্রস্তুতি মূলত রেজিস্ট্রেশনের সংখ্যাকে ভিত্তি করেই করা হয়েছিল। রেজিস্ট্রেশনের তুলনায় অনেক বেশি মানুষের জন্য—রেজিস্ট্রেশন থেকে তিনগুণ বেশি মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা আমরা করেছিলাম। কিন্তু অনুষ্ঠানের দিন আমাদের প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতি ঘটে।   পার্কটি চারদিক থেকে উন্মুক্ত হওয়ায় রেজিস্ট্রেশন ছাড়া অনেক মানুষও অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করেন। ফলে প্রবেশকারীর প্রকৃত সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা আমাদের পক্ষে অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে।   মেজবানির প্রতি কমিউনিটির ভালোবাসা এবং আমাদের আগের আয়োজনগুলোর প্রতি মানুষের আস্থার কারণে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত হবেন—এটি আমরা সঠিকভাবে অনুমান করতে পারিনি। এখানেই আমাদের পরিকল্পনার একটি বড় ঘাটতি ছিল, এবং আমরা সেটি স্বীকার করছি।   আগের ঘোষণা ও ভিডিওগুলোতেও আমরা বারবার জানিয়েছিলাম যে, যেহেতু কিংবদন্তি শিল্পী নকীব খানের কনসার্টসহ সাংস্কৃতিক আয়োজন ছিল, তাই দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যেই খাবার পরিবেশনের মূল পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। এরপর পুরো টিমকে কনসার্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে।   কিন্তু প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের উপস্থিতির কারণে খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। অতিরিক্ত চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাবার ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা আমরা যত দ্রুত করা প্রয়োজন ছিল, তত দ্রুত করতে পারিনি।   যেহেতু অনুষ্ঠানটি একটি পার্কে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল, তাই শেষ মুহূর্তে নতুন করে বিপুল পরিমাণ খাবার রান্না ও সরবরাহের ব্যবস্থা করাও বাস্তবসম্মতভাবে সম্ভব হয়নি। এসব কারণে যাঁরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছেন কিংবা শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি—তাঁদের কাছে আমরা আবারও আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও ক্ষমাপ্রার্থী।   অনুষ্ঠানে সংগৃহীত অর্থ নিয়ে কিছু আলোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই—এই আয়োজন কোনো ব্যবসায়িক বা লাভজনক উদ্দেশ্যে করা হয়নি। অনুষ্ঠানের ব্যয় নির্বাহে কমিউনিটির সদস্যরা স্বেচ্ছায় যে সহযোগিতা করেছেন, সেটিই ছিল সংগৃহীত অর্থের মূল উৎস।   কাউকে বাধ্যতামূলকভাবে অর্থ প্রদানের কথা বলা হয়নি। শিল্পী, খাবার, প্যান্ডেল, সাউন্ড, স্টেজ এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনাসহ এত বড় আয়োজন সম্পন্ন করতে যে পরিমাণ ব্যয় হয়েছে, তার তুলনায় সংগৃহীত অর্থ কোনোভাবেই ব্যবসায়িক লাভের পর্যায়ে ছিল না। প্রয়োজনে আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিউনিটির সামনে স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করতেও আমরা প্রস্তুত।   একটি অনুষ্ঠান সফল হয়েছে বলেই তার ভুলগুলো অস্বীকার করতে হবে—আমরা এমনটি বিশ্বাস করি না। বরং আমরা স্বীকার করছি, আমাদের পরিকল্পিত উপস্থিতি এবং বাস্তব উপস্থিতির মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছিল।   সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় খাবার বিতরণ, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং সারিবদ্ধ ব্যবস্থাপনায় আরও ভালো প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন ছিল। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা শিক্ষা নিচ্ছি।   ইনশাআল্লাহ, খুব শিগগিরই আগামী বছরের বাইটপোর মেজবানের তারিখ ঘোষণা করা হবে। আগামী আয়োজনে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। খাবারের পরিমাণ নির্ধারণ, প্রবেশব্যবস্থা, সারিবদ্ধতা, ভলান্টিয়ার টিম এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আরও বড় পরিসরে ও আরও সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি নেওয়া হবে।   বিশেষ করে, এ বছর যাঁরা রেজিস্ট্রেশন করেছিলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত খাবার পাননি, তাঁদের জন্য আগামী মেজবানে একটি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা আমরা শিগগিরই জানাব।   আমাদের লক্ষ্য খুব পরিষ্কার—এ বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আগামী বছরের আয়োজনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণবান্ধব করা।   একটি বড় কমিউনিটি আয়োজনের ভুল-ত্রুটি নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। আমরা সেই সমালোচনাকে সম্মান করি এবং তা থেকে শেখার চেষ্টা করি। তবে কিছু ফেইক আইডি থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার চালানোর বিষয়টিও আমাদের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা হয়েছে।   কমিউনিটির সবার প্রতি অনুরোধ—যাচাই না করে কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার করবেন না। গঠনমূলক পরামর্শ দিন, ভুল ধরিয়ে দিন এবং আমাদের জবাবদিহির মধ্যে রাখুন। একই সঙ্গে কমিউনিটির ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকে উৎসাহিত করুন, যাতে ভবিষ্যতে আমরা আরও বড় ও সুন্দর আয়োজন আপনাদের উপহার দিতে পারি।   আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন শুধু হাজারো মানুষের উপস্থিতি নয়। সবচেয়ে বড় অর্জন হলো—একটি মেজবানকে কেন্দ্র করে দূর-দূরান্তের মানুষ একত্রিত হয়েছেন, পুরোনো ও নতুন প্রজন্ম পাশাপাশি বসেছেন, আমাদের খাবার, গান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে উদ্‌যাপন করেছেন। এটাই ছিল আমাদের স্বপ্ন।   যেখানে ভুল হয়েছে, আমরা তা স্বীকার করছি। যেখানে ঘাটতি ছিল, আমরা তা সংশোধন করব। আর যেখানে আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি, সেটিকে সঙ্গে নিয়েই আরও ভালো কিছু করার পথে এগিয়ে যাব। বাইটপোর চট্টগ্রামের মেজবান আপনাদের অনুষ্ঠান—আপনাদের ভালোবাসা, অংশগ্রহণ ও সহযোগিতাই এর সবচেয়ে বড় শক্তি।   আবারও আমাদের সকল অতিথি, শিল্পী, কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক, ডোনার, স্পন্সর, সহযোগী ও শুভাকাঙ্ক্ষী এবং পুরো কমিউনিটির প্রতি জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা।   ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে, সাফল্যকে সঙ্গে নিয়ে—ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আবার দেখা হবে আরও বড়, আরও সুন্দর এবং আরও সুশৃঙ্খল বাইটপোর মেজবানে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ১৯:১২
চাকরির পাশাপাশি বাড়তি আয়ের সুযোগ: যে ১০টি কাজ বিবেচনা করতে পারেন

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-টাইম চাকরি করেও অনেকের মাসিক আয় থেকে বাড়তি সঞ্চয় করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাড়িভাড়া, মর্টগেজ, গাড়ির খরচ, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, সন্তানের শিক্ষা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের কারণে অনেক পরিবারই মূল চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত আয়ের পথ খুঁজছে। বিশেষ করে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকের জন্য এমন কাজ গুরুত্বপূর্ণ, যা মূল চাকরির সময়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয় এবং সপ্তাহের সন্ধ্যা বা ছুটির দিনে করা যায়।   বর্তমানে পার্ট-টাইম কাজের সুযোগ শুধু রাইডশেয়ার বা ফুড ডেলিভারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা এবং হাতে থাকা সময় অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের কাজ থেকে অতিরিক্ত আয় করা সম্ভব। তবে কোন কাজ থেকে কত আয় হবে, তা নির্ভর করবে কাজের ধরন, অবস্থান, সময়, অভিজ্ঞতা এবং সংশ্লিষ্ট খরচের ওপর।   চাকরির পাশাপাশি বিবেচনা করা যেতে পারে এমন ১০টি কাজ হলো:   ১. রাইডশেয়ার ড্রাইভিং - নিজের গাড়ি থাকলে উবার বা লিফট এর মতো রাইডশেয়ার প্ল্যাটফর্মে ড্রাইভিং অনেকের জন্য অতিরিক্ত আয়ের একটি পরিচিত পথ। অফিসের আগে বা পরে কয়েক ঘণ্টা কিংবা সপ্তাহান্তে কাজ করা যায়। তবে আয় হিসাব করার সময় গ্যাস, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, ইনস্যুরেন্স এবং গাড়ির মূল্য কমে যাওয়ার মতো খরচও বিবেচনায় রাখতে হবে।   ২. ফুড ডেলিভারি - ডোরড্যাশ, উবারইটস সহ বিভিন্ন ডেলিভারি প্ল্যাটফর্মে পার্ট-টাইম কাজ করা যায়। বিশেষ করে সন্ধ্যার ডিনার সময় বা সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ রয়েছে। যারা যাত্রী বহনের পরিবর্তে খাবার বা পণ্য ডেলিভারি করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বিকল্প হতে পারে।   ৩. অনলাইন বা প্রাইভেট টিউটরিং - যাদের গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি, কম্পিউটার সায়েন্স বা অন্য কোনো বিষয়ে ভালো দক্ষতা রয়েছে, তারা শিক্ষার্থীদের টিউটরিং করতে পারেন। অনেক টিউটর সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তে কাজ করেন, ফলে এটি ফুল-টাইম চাকরির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া তুলনামূলকভাবে সহজ। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, টিউটরদের বড় একটি অংশ পার্ট-টাইম কাজ করেন এবং তাদের সময়সূচিতে সন্ধ্যা ও সপ্তাহান্তের কাজও রয়েছে।   ৪. ফ্রিল্যান্সিংআইটি, সফটওয়্যার টেস্টিং, গ্রাফিক ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, অ্যাকাউন্টিং, বুককিপিং, অনুবাদ বা কনটেন্ট তৈরির মতো দক্ষতা থাকলে ফ্রিল্যান্সিং হতে পারে বাড়তি আয়ের একটি সুযোগ। এ ক্ষেত্রে নতুন কোনো কাজ শেখার চেয়ে নিজের বর্তমান পেশাগত দক্ষতাকে কাজে লাগানো অনেকের জন্য বেশি কার্যকর হতে পারে।   ৫. ফটোগ্রাফি ও ভিডিওগ্রাফি - বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিয়ে, আকিকা, জন্মদিন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি প্রোগ্রামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন নিয়মিত হয়। যাদের ক্যামেরা পরিচালনা, ফটোগ্রাফি, ভিডিওগ্রাফি বা ভিডিও এডিটিংয়ের দক্ষতা রয়েছে, তারা মূল চাকরির পাশাপাশি সপ্তাহান্তে এসব কাজ করতে পারেন।   ৬. ক্লিনিং সার্ভিস - বাড়ি, অ্যাপার্টমেন্ট বা ছোট অফিস পরিষ্কারের কাজও পার্ট-টাইম আয়ের একটি সম্ভাব্য পথ। কেউ কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজ করতে পারেন, আবার প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক ও স্থানীয় নিয়মকানুন মেনে নিজস্ব ছোট ক্লিনিং সার্ভিসও গড়ে তুলতে পারেন। সপ্তাহান্তে কয়েক ঘণ্টা সময় দেওয়ার সুযোগ থাকায় অনেকের জন্য এই কাজটি সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সম্ভব।   ৭. চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিং - যাদের শিশুদের দেখাশোনার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারা পার্ট-টাইম চাইল্ডকেয়ার বা বেবিসিটিংয়ের কাজ বিবেচনা করতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে চাইল্ডকেয়ার সেক্টরে পার্ট-টাইম কাজ প্রচলিত এবং কিছু ক্ষেত্রে সন্ধ্যা বা রাতের সময়ও কাজের প্রয়োজন হয়। তবে শিশু দেখাশোনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, লাইসেন্স এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম অবশ্যই আগে জেনে নেওয়া প্রয়োজন।   ৮. হ্যান্ডিম্যান ও হোম সার্ভিস - ফার্নিচার অ্যাসেম্বলি, পেইন্টিং, ইয়ার্ডের কাজ বা ছোটখাটো মেরামতের মতো কাজে দক্ষ হলে সপ্তাহান্তে বাড়তি আয় করা সম্ভব। তবে ইলেকট্রিক্যাল, প্লাম্বিং বা লাইসেন্স প্রয়োজন এমন কোনো কাজ করার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নিয়ম জানা জরুরি।   ৯. অনলাইন রিসেলিং - বাড়িতে অব্যবহৃত জিনিসপত্র বিক্রি দিয়ে অনলাইন রিসেলিং শুরু করা যায়। পরে পোশাক, অ্যাকসেসরিজ, হস্তশিল্প বা অন্যান্য পণ্য নিয়ে ছোট পরিসরে ব্যবসা করা সম্ভব। তবে পণ্য কেনা, স্টোরেজ, শিপিং এবং প্ল্যাটফর্মের ফি হিসাব করে লাভ-ক্ষতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   ১০. সোশ্যাল মিডিয়া ও কনটেন্ট সার্ভিস - ছোট ব্যবসা বা কমিউনিটি সংগঠনের জন্য ফেসবুক পেজ পরিচালনা, ছবি তৈরি, ভিডিও এডিটিং, পোস্ট লেখা বা সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট তৈরির কাজও করা যেতে পারে। বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক ছোট ব্যবসা ও সংগঠনের নিয়মিত ডিজিটাল কনটেন্টের প্রয়োজন থাকায় এই ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।   তবে পার্ট-টাইম কাজ শুরু করার আগে শুধু সম্ভাব্য আয় নয়, সংশ্লিষ্ট খরচও হিসাব করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাইডশেয়ার বা ডেলিভারি কাজের ক্ষেত্রে গাড়ির গ্যাস, রক্ষণাবেক্ষণ ও অন্যান্য খরচ বাদ দেওয়ার পর প্রকৃত আয় কত থাকে, সেটি বিবেচনা করা উচিত।   এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে পার্ট-টাইম বা গিগ কাজের আয়ও ট্যাক্সের আওতায় পড়ে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, গিগ কাজ থেকে পাওয়া আয় পার্ট-টাইম, অস্থায়ী বা সাইড কাজের আয় হলেও তা ট্যাক্স রিটার্নে রিপোর্ট করতে হয়। কোনো ব্যক্তির self-employment থেকে নেট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণত self-employment tax-এর নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। আয় ও খরচের রেকর্ড এবং প্রয়োজনীয় রসিদ সংরক্ষণ করার পরামর্শও দিয়েছে আইআরএস।   তাই ফুল-টাইম চাকরির পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজ বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের সময়, দক্ষতা, খরচ এবং সম্ভাব্য নেট আয় বিবেচনা করা। সপ্তাহে কয়েক ঘণ্টার একটি পার্ট-টাইম কাজও সঠিকভাবে পরিকল্পনা করা গেলে পরিবারের মাসিক বাজেটে অতিরিক্ত অর্থের জোগান দিতে পারে।

বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসার আবেদন সাময়িক স্থগিত করল ট্রাম্প প্রশাসন, প্রভাব পড়বে বাংলাদেশিদের ওপরও

সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার লক্ষ্যে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নিবিড় প্রশিক্ষণ দিতে বিশ্বজুড়ে মার্কিন ইমিগ্র্যান্ট বা অভিবাসী ভিসা আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দূতাবাস ও কনস্যুলেটে যেসব ভিসা আবেদনকারীর সাক্ষাৎকারের সূচি নির্ধারিত ছিল, তাদের ইমেইল করে জানানো হয়েছে যে সেই সূচিগুলো পরিবর্তন করা হচ্ছে। পরবর্তীতে নতুন তারিখ ও সময় তাদের জানানো হবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র ব্রিটিশ গণমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেন, আরও সমৃদ্ধ আমেরিকা গড়ার অর্থ হলো, এটা নিশ্চিত করা যে ভিসা আবেদনকারীরা মার্কিন আইন ও বিধি অনুযায়ী কোনোভাবেই রাষ্ট্রের জন্য বোঝা বা পাবলিক চার্জ হয়ে দাঁড়াবেন না। পাশাপাশি, তারা যেন অভাবগ্রস্ত যোগ্য মার্কিন নাগরিকদের জন্য সংরক্ষিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।   মুখপাত্র আরও জানান, প্রতিটি ভিসা আবেদনকারীকে যেন সামগ্রিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে কনস্যুলার কর্মকর্তারা পুরোপুরি প্রস্তুত থাকেন, তা নিশ্চিত করতে চলতি মাসে একটি বৈশ্বিক প্রশিক্ষণ উদ্যোগ চালু করেছে পররাষ্ট্র দপ্তর।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথ আরও সংকুচিত করতে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে, আর বিশ্বজুড়ে ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘটনাটি সেগুলোরই সর্বশেষ সংযোজন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাকে অন্যতম প্রধান নীতি বানিয়েছেন। এর পাশাপাশি তিনি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের ওপর নতুন সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছেন এবং প্রায় সব ধরনের শরণার্থী পুনর্বাসন প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।   গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একজন ফেডারেল বিচারক ট্রাম্পের একটি নিষেধাজ্ঞা বাতিল করে দেওয়ার পরই ভিসা স্থগিতের এই নতুন সিদ্ধান্তটি এলো। ওই নিষেধাজ্ঞায় ৭৫টি দেশের অভিবাসীদের ভিসা আবেদন আটকে দেওয়া হয়েছিল। প্রশাসনের ধারণা ছিল, এসব দেশের নাগরিকদের সরকারি সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব দেশের বেশিরভাগই নিম্ন আয়ের দেশ।   ওয়াশিংটনভিত্তিক অভিবাসন আইন সংস্থা ফ্রেগোমেন এর আইনজীবী ব্রায়ান সিমন্স জানান, ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের অনেকেই নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে এরই মধ্যে হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন এবং নিজেদের দৈনন্দিন রুটিন ব্যাহত করেছেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাদের সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।   কবে নাগাদ এসব সাক্ষাৎকার পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্র দপ্তর নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি। দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি ভালোভাবে সম্পন্ন করতে ভিসা সেবার নির্ধারিত সূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।   ডোনাল্ড ট্রাম্প তার অভিবাসন নীতির কারণে বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। তার প্রথম মেয়াদের শুরুর দিকে সাতটি মুসলিম প্রধান দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার একটি উদ্যোগ ফেডারেল আদালত আটকে দিয়েছিল। পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট নীতিটির একটি সীমিত সংস্করণ কার্যকরের অনুমতি দেয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জজ জ্যানেট ভার্গাস গত শুক্রবার এক রায়ে জানান, ৭৫টি দেশের অভিবাসন আবেদনের ওপর ট্রাম্পের স্থগিতাদেশ কংগ্রেসের দেওয়া কনস্যুলার কার্যালয়গুলোর ভিসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাকে লঙ্ঘন করেছে। গত জানুয়ারিতে পররাষ্ট্র দপ্তর ওই স্থগিতাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল।   বিচারক ভার্গাস ট্রাম্পের এই নীতি এবং এর ভিত্তিতে হওয়া সব ভিসা প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত বাতিল করে দিয়েছেন। একইসঙ্গে, মামলার বাকি বিষয়গুলো সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছেন।   গত বছর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন নতুন নিয়ম করেছে যে, অভিবাসী ভিসা প্রত্যাশীদের নিজ দেশের নাগরিকত্ব থেকেই আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অথচ তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজ করছেন। এমনকি কেউ কেউ মার্কিন নাগরিকদের বিয়ে করেছেন বা তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক।   ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় এই সর্বশেষ বাধায় ইন্টারনেট মেসেজ বোর্ডগুলোতে মুম্বাই থেকে শুরু করে নেপলস পর্যন্ত অনেকেই চরম হতাশা প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে একজন লিখেছেন, মানুষজন এই কাজটুকু সম্পন্ন করার জন্য দেশের বাইরে ভ্রমণ করে আসে, আর তারা শেষ মুহূর্তে এসে সাক্ষাৎকার বাতিল করে দেয়, বিষয়টি সত্যিই খুব বিরক্তিকর।   আরেকজন সতর্ক করে লিখেছেন, প্রায় ৮ মাস আগে ভারতে এইচ-১বি ভিসার সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রেও হুবহু একই ঘটনা ঘটেছিল। তিনি আরও জানান, ওই ঘটনার কারণে এখনও অনেকে বিদেশে আটকা পড়ে আছেন এবং অনেকেই তাদের চাকরি হারিয়েছেন।   তথ্যসূত্র: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস

মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর পোশাকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি কচ্ছপ। ছবি: সংগৃহীত
অন্তর্বাসে লুকিয়ে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ নেওয়ার চেষ্টা, মিয়ামি বিমানবন্দরে ধরা পড়লেন নারী

যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক নারীর ব্রায়ের ভেতর থেকে দুটি জীবন্ত কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। বিমানে ওঠার আগে নিরাপত্তা স্ক্যানারে তার শরীরের বুকের অংশে অস্বাভাবিক কিছু শনাক্ত হওয়ার পর তল্লাশি চালিয়ে কচ্ছপ দুটির সন্ধান পান পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের (টিএসএ) কর্মকর্তারা।   ঘটনাটি ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে ঘটলেও টিএসএ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনে জুলাইয়ে। ওই নারীকে শনাক্ত করা হয়নি। টিএসএর প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যায়, কচ্ছপ দুটিকে গজের মতো কাপড় ও প্লাস্টিক দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় রাখা হয়েছিল। কচ্ছপগুলোর কোন প্রজাতির ছিল, তা সংস্থাটি জানায়নি।   নিরাপত্তা স্ক্যানারে প্রথমে ওই নারীর শরীরের বুকের অংশে সন্দেহজনক কিছু ধরা পড়ে। এরপর তাকে আলাদা করে তল্লাশি করা হলে পোশাকের ভেতর থেকে দুটি কচ্ছপ বেরিয়ে আসে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছেও ঘটনাটি ছিল বেশ অস্বাভাবিক। তবে এই ঘটনার সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো, দুটি কচ্ছপের একটি পরে মারা যায়। বেঁচে যাওয়া কচ্ছপটিকে ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।   ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্দেশে অদ্ভুত কিন্তু স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেয় টিএসএ। সংস্থাটি জানায়, ছোট পোষা প্রাণী নিয়ে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়া সম্ভব হলেও সেগুলো পোশাকের নিচে লুকিয়ে নেওয়া যাবে না। টিএসএর নিয়ম অনুযায়ী, ছোট পোষা প্রাণী নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে প্রাণীকে তার বহনকারী খাঁচা বা ব্যাগ থেকে বের করে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় হাতে বহন করতে হয়। একই সঙ্গে বিমানে পোষা প্রাণী নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিজস্ব নিয়মও আগে জেনে নিতে হয়।   মায়ামির এই ঘটনা অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে প্রাণী লুকিয়ে নেওয়ার প্রথম ঘটনা নয়। এর আগে নিউ জার্সির নিউয়ার্ক লিবার্টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক ব্যক্তিকে প্যান্টের ভেতরে একটি জীবন্ত কচ্ছপ লুকিয়ে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার চেষ্টা করতে দেখা যায়। ওই কচ্ছপটি পরে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।   এ ছাড়া মায়ামি বিমানবন্দরে ২০২৩ সালে একটি ব্যাগ থেকে পাখির ডাক শোনার পর অ্যামাজন প্রজাতির পাখির ডিম ও জীবন্ত পাখি উদ্ধার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালেও এক ব্যক্তিকে ব্যাগে সাপ নিয়ে বিমানে ওঠার চেষ্টা থেকে আটক করা হয় বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা মূলত যাত্রী, বিমান ও অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি। তাই প্রাণী বহনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলার ওপর জোর দিয়েছে টিএসএ। বিশেষ করে প্রাণীকে শরীরের সঙ্গে লুকিয়ে নেওয়ার চেষ্টা তার নিজের জন্য যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি প্রাণীটির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে।   মায়ামির ঘটনায় দুটি কচ্ছপের একটি মারা যাওয়ার বিষয়টি সেই ঝুঁকিকেই সামনে এনেছে। নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা না করে যাত্রার আগে এয়ারলাইনসের পোষা প্রাণী পরিবহনের নিয়ম এবং টিএসএর নিরাপত্তা নির্দেশনা জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   সংবাদসূত্র: সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)।

মন্টানার বিলিংসে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন একই পরিবারের আট সদস্য (ছবি: সংগৃহীত)
যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় একই পরিবারের ৮ জনকে গুলি করে হত্যা, নিহতদের মধ্যে রয়েছে চার শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যের বিলিংসে একটি বাড়িতে গুলির ঘটনায় একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার শিশুও রয়েছে। গুলির ঘটনার পর বাড়িটিতে আগুন ধরে যায়। সন্তান, স্ত্রী ও পরিবারের আরও সদস্যদের হারিয়ে শোকাহত বাবা অ্যাডাম ঘেকিয়েরে জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় ঘটনাটির খবর শুনে সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগের মরিয়া চেষ্টা করেছিলেন।   ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সন্ধ্যায় বিলিংসের ওয়েস্ট এন্ড এলাকায়। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১ মিনিটে বাড়িটিতে গুলির ঘটনা সম্পর্কে জরুরি নম্বরে ফোন আসে। ফোনে কথা বলার সময় পেছনে গুলির শব্দও শোনা যাচ্ছিল। প্রায় ১১ মিনিট পর প্রথম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর বাড়ির পেছন দিক থেকে আরও গুলির শব্দ শোনা যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই বাড়িটি আগুনে পুড়ে যেতে শুরু করে। ঘেকিয়েরে তখন একটি এয়ার শোতে উদ্ধারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় কাছাকাছি এলাকায় একটি গুরুতর ঘটনা ঘটার খবর শুনেই তার সন্দেহ হয়, ঘটনাটি তার শ্বশুরবাড়ির আশপাশে কি না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে ফোন করেন। কিন্তু কেউ ফোন ধরেনি।   পরে তিনি তার দুই সন্তান ল্যান্ডন ও শার্লটের অবস্থান জানার চেষ্টা করেন এবং তাদের ফোন করেন। কিন্তু কোনো সাড়া পাননি। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঘটনাস্থলের কাছে পৌঁছানোর পরও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীরা তাদের আর এগোতে দেননি, কারণ তখনও সেখানে সক্রিয় হামলার আশঙ্কা ছিল। সেই মুহূর্তেই তিনি সবচেয়ে খারাপ আশঙ্কা করেছিলেন। নিহতদের মধ্যে ঘেকিয়েরের ১৫ বছর বয়সী ছেলে ল্যান্ডন এবং ১২ বছর বয়সী মেয়ে শার্লট রয়েছে। তার স্ত্রী মেগান ঘেকিয়েরেও নিহত হয়েছেন। মেগানের দুই সন্তান, ১৩ বছর বয়সী ওউেন এবং ৭ বছর বয়সী ক্লোয়িও প্রাণ হারিয়েছে। পরিবারের আরও তিন সদস্যও নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে মেগানের বাবা-মা এবং ৯২ বছর বয়সী দাদি এভলিন স্মিথও ছিলেন।   ঘটনাটি একটি যৌথ পরিবারের চার প্রজন্মকে ছিন্নভিন্ন করেছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে ছোট ছিলেন ৭ বছরের ক্লোয়ে এবং সবচেয়ে প্রবীণ ছিলেন ৯০-এর বেশি বয়সী এক নারী। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চার শিশুসহ আটজনই একই পরিবারের সদস্য ছিলেন। ঘটনার পর পরিবারের এক সদস্য সংবাদমাধ্যমকে জানান, সন্দেহভাজন হামলাকারী পরিবারেরই একজন। তবে পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার উদ্দেশ্য প্রকাশ করেনি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পারিবারিক বিরোধ থেকে শুরু হওয়া ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এটি অপরিচিত ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে চালানো এলোমেলো হামলা ছিল না।   পুলিশ জানিয়েছে, সন্দেহভাজন ব্যক্তিও পরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যান। তার আঘাতকে আত্মঘাতী গুলির ক্ষত হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তার মৃত্যু হয়। ফলে ঘটনাটিতে সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট আটজন নিহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঘটনার সময় বাড়িটি দ্রুত আগুনে পুড়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও তদন্তকাজও কঠিন হয়ে পড়ে। পুলিশ ও দমকলকর্মীদের পাশাপাশি ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়, মন্টানা হাইওয়ে পেট্রোল এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি সেবাদাতা সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে কাজ করেন। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাস্থল এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছিল। পরে জানানো হয়, সাধারণ মানুষের জন্য আর কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি নেই।   নিহত দুই শিশু ল্যান্ডন ও শার্লটকে ঘিরে পরিবারের পক্ষ থেকে একটি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে ল্যান্ডনকে ধৈর্যশীল, সুরক্ষাদানকারী ও ভালো বড় ভাই হিসেবে স্মরণ করা হয়েছে। শার্লটকে বলা হয়েছে হাসিখুশি, বুদ্ধিদীপ্ত ও প্রাণবন্ত একটি শিশু, যার নিজের মতো করে চলার দৃঢ়তাও ছিল। অ্যাডাম ঘেকিয়েরের কাছে সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, ঘটনার সময় তিনি সন্তানদের কাছে ছিলেন না। জরুরি যোগাযোগব্যবস্থায় খবর শোনার পর তাদের ফোন করা, অবস্থান খোঁজা এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া, সবকিছুই ঘটেছিল কয়েক মিনিটের মধ্যে। কিন্তু সক্রিয় হামলার পরিস্থিতির কারণে তিনি বাড়ির কাছে যেতে পারেননি।   তদন্তকারীরা এখনো ঘটনার পূর্ণ কারণ ও ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখছেন। কেন পারিবারিক বিরোধ এমন ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নিল, হামলার আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং আগুন কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে কর্তৃপক্ষ। ইয়েলোস্টোন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ঘটনাটিকে অত্যন্ত জটিল তদন্ত হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিলিংসের এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্য, বন্ধু ও প্রতিবেশীরা নিহতদের স্মরণ করছেন এবং শেষকৃত্যসহ অন্যান্য ব্যয় মেটাতে সহায়তার জন্য অর্থ সংগ্রহ শুরু করেছেন। তদন্ত চলায় কর্তৃপক্ষ এখনো ঘটনার সব তথ্য প্রকাশ করেনি।   সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও সিবিএস নিউজ।

স্টেম সেল থেকে তৈরি মস্তিষ্কের অর্গানয়েড পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে ল্যাবে জীবিত ও বিকশিত রাখা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ৫ বছর ধরে বাঁচিয়ে রাখলেন বিজ্ঞানীরা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত

বিজ্ঞানীরা ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র আকারের কৃত্রিম মস্তিষ্ক বা মিনি ব্রেন প্রায় ছয় বছর ধরে জীবন্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, মানুষের প্রাকৃতিক মস্তিষ্কের মতোই এসব কৃত্রিম মস্তিষ্কেও বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা গেছে।   বিখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী ন্যাচার এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই যুগান্তকারী সাফল্যের কথা জানানো হয়েছে। গবেষকরা স্টেম সেল থেকে মস্তিষ্কের টিস্যুর সমন্বয়ে এই ব্রেন অর্গানয়েড তৈরি করেছেন, যা মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশের প্রক্রিয়াকে অনুকরণ করতে পারে। সাধারণত এ ধরনের অর্গানয়েড বা কৃত্রিম কোষের পরীক্ষাগুলো মাত্র কয়েক সপ্তাহ বা কয়েক মাস স্থায়ী হয়। কিন্তু এবার গবেষকরা এগুলোকে কয়েক বছর ধরে টিকিয়ে রাখতে পেরেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে কোষগুলো পরিণত হয়েছে এবং একইসঙ্গে তাদের বয়সের একটি সেলুলার রেকর্ড বা কোষীয় স্মৃতি ধরে রেখেছে।   গবেষকরা দেখেছেন, আসল মস্তিষ্কে যেসব সাধারণ কোষ থাকে, এই কৃত্রিম মস্তিষ্কেও ঠিক সে ধরনের কোষের বিকাশ ঘটেছে। জেনেটিক ও আণবিক পরিমাপ ব্যবহার করে তারা প্রমাণ পেয়েছেন যে, জৈব মস্তিষ্কের টিস্যুগুলো যেভাবে বিকশিত হয়, ল্যাবের এই টিস্যুগুলোও ঠিক একই পথ অনুসরণ করেছে। গবেষকরা যখন পুরনো অর্গানয়েডগুলোকে ভেঙে কাইমেরয়েডস হিসেবে নতুন করে তৈরি করেন, তখন দেখা যায় কোষগুলো তাদের আগের বয়সের স্মৃতি ধরে রেখেছে। এমনকি তারা বিকাশের এমন কিছু ধাপ এড়িয়ে গেছে যা তারা আগেই সম্পন্ন করেছিল।   এই গবেষণা বিজ্ঞানীদের জন্য মস্তিষ্ক বিকাশের প্রক্রিয়া বোঝার ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে আলঝেইমার্স এবং পারকিনসন্স এর মতো মারাত্মক স্নায়বিক রোগগুলো নিয়ে আরও বিশদ গবেষণার পথ খুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।   তবে এই মিনি ব্রেনগুলো সত্যিকারের মানুষের মস্তিষ্কের মতো সম্পূর্ণ নয়। এগুলোতে কোনো রক্তনালী নেই। এছাড়া মানুষের মস্তিষ্ক যেভাবে শারীরিক অনুভূতি বা স্নায়বিক তথ্য গ্রহণ করতে পারে, ল্যাবে তৈরি এই মস্তিষ্কগুলোর সেই সক্ষমতা নেই। অর্থাৎ তারা অনেক ধরনের তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে পারে না।   ল্যাবে দীর্ঘসময় জীবন্ত মস্তিষ্ক টিকিয়ে রাখার ফলে একটি নৈতিক প্রশ্নও সামনে এসেছে। এই কৃত্রিম মস্তিষ্কের কি নিজস্ব কোনো চেতনা বা অনুভূতি তৈরি হতে পারে? বিজ্ঞান বিষয়ক পত্রিকা সায়েন্টিফিক আমেরিকান কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গবেষণাপত্রটির জ্যেষ্ঠ লেখক পাওলা আরলোটা জানিয়েছেন, এই অর্গানয়েডগুলোর সামান্যতম চেতনা থাকার সম্ভাবনাও একেবারে নেই বললেই চলে। কোনো কিছুর চেতনা আছে কি না তা নির্ধারণ করা বেশ জটিল বিষয়। তাই এই বিতর্ক দীর্ঘ সময় ধরেই চলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আপাতত বিজ্ঞানীদের তৈরি এই মস্তিষ্কগুলো ল্যাবে রাখা কিছু স্নায়ুকোষের সমষ্টি মাত্র, যারা কেবল নিজেদের বয়স মনে রাখতে পারে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
সারগোধা এলাকায় রাডার খুঁজতে পাঠানো ভারতীয় ড্রোনের একটি কিরানা হিলসে আঘাত করেছিল বলে জানিয়েছেন জেনারেল অনিল চৌহান। ছবি: এআই
পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা এলাকায় আঘাত হেনেছিল ভারতের ড্রোন, লক্ষ্য ছিল রাডার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৬, ২০২৬ ০:৩

অপারেশন সিঁদুরের সময় পাকিস্তানের কিরানা হিলস এলাকায় একটি ভারতীয় ড্রোন বা ‘লোইটারিং মিউনিশন’ আঘাত করেছিল। তবে ওই এলাকায় পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি বলে জানিয়েছেন দেশটির সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান।   মঙ্গলবার নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে অপারেশন সিঁদুরের বিভিন্ন দিক নিয়ে কথা বলার সময় তিনি এ তথ্য জানান। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ভারতীয় বাহিনীর পাঠানো ড্রোনগুলোর মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের সারগোধা এলাকার আশপাশে রাডার শনাক্ত করা। লক্ষ্য খুঁজে না পেয়ে একটি ড্রোনের জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে সেটি কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করে থাকতে পারে। কিরানা হিলস সারগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত। এলাকাটি পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়ে আসছে। ফলে অপারেশন সিঁদুরের সময় সেখানে বিস্ফোরণ বা ধোঁয়া দেখা যাওয়ার খবর নিয়ে ভারতীয় হামলার সম্ভাবনা ঘিরে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছিল।   জেনারেল চৌহান বলেন, অপারেশন সিঁদুরের আগে সারগোধা ও আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি লোইটারিং মিউনিশন পাঠানো হয়েছিল। এগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় কিছু সময় ধরে অবস্থান করে লক্ষ্য খুঁজতে পারে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত কোনো লক্ষ্য শনাক্ত না হলে ডিভাইসটির জ্বালানি শেষ হয়ে গিয়ে সেটি অন্য কোথাও আঘাত করতে পারে। তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কিরানা হিলস এলাকায় আঘাত করা ড্রোনটি সম্ভবত সারগোধার কাছে রাডার খুঁজছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্য শনাক্ত করতে না পারার পর সেটি কিরানা হিলসের কোনো স্থাপনা বা পাহাড়ে আঘাত করে থাকতে পারে। তবে এটি ছিল অনিচ্ছাকৃত ঘটনা, পরিকল্পিত হামলা নয়।   ভারতের সাবেক এই শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এ প্রসঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শাল এ কে ভারতীর বক্তব্যও উল্লেখ করেন। ভারতী এর আগে বলেছিলেন, কিরানা হিলসে পাকিস্তানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ভারত হামলা চালায়নি। নতুন এই বক্তব্যে অবশ্য কিরানা হিলস এলাকায় ভারতীয় অস্ত্র আঘাত করার সম্ভাবনা নিয়ে আগের জল্পনার একটি ব্যাখ্যা পাওয়া গেল। একই সঙ্গে জেনারেল চৌহান স্পষ্ট করেছেন, ভারতের পরিকল্পিত সামরিক লক্ষ্য ছিল পাকিস্তানের রাডার ব্যবস্থা, পারমাণবিক স্থাপনা নয়।   অপারেশন সিঁদুর শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ৭ মে। ভারতের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করে ওই অভিযান চালানো হয়। পরবর্তী কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হয় এবং ১০ মে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা হয়। অনুষ্ঠানে জেনারেল চৌহান অপারেশন সিঁদুরের আরেকটি বিষয়ও তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্কারদুতে হামলার অনুমোদন ভারতীয় বিমানবাহিনী পেয়েছিল। তবে পরে খারাপ আবহাওয়ার কারণে সেখানে অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।   এরপর বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে পাকিস্তানের ভোলারি এলাকার একটি সামরিক স্থাপনা বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভোলারির একটি হ্যাঙ্গারে ভারতীয় হামলার ছবি ও স্যাটেলাইটচিত্রও প্রকাশ্যে আসে। কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোনের আঘাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জেনারেল চৌহানের বক্তব্য অনুযায়ী, কিরানা হিলসের পারমাণবিক অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে কোনো পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়নি। সেখানে ড্রোনের আঘাত ছিল লক্ষ্য শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার সম্ভাব্য ফল।   এদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই ব্যাখ্যার বাইরে কিরানা হিলসে ঠিক কোন স্থাপনায় ড্রোনটি আঘাত করেছিল বা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির নির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।   সংবাদসূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

বিড়ালের কান্না মনে করে বাইরে এসে পরিত্যক্ত জমিতে নবজাতককে খুঁজে পান স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজে। ছবি: সংগৃহীত
বিড়ালের ডাক ভেবে এগিয়ে যেতেই আবর্জনার স্তূপে মিলল নবজাতক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২২:৩০

ব্রাজিলের পারানার পিরাকোয়ারায় পরিত্যক্ত একটি জমিতে প্লাস্টিকের ব্যাগের ভেতর থেকে এক নবজাতক কন্যাশিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। শিশুটির নাড়ি তখনও সংযুক্ত ছিল। স্থানীয় এক নারী প্রথমে শব্দটি বিড়ালের কান্না ভেবে বাইরে বের হয়েছিলেন। পরে পাশের জমিতে খোঁজ করতে গিয়ে ব্যাগের ভেতর নবজাতককে দেখতে পান তিনি।   ঘটনাটি ঘটে সোমবার ভোরে কুরিতিবার মহানগর এলাকার পিরাকোয়ারা পৌরসভার গুয়ারিতুবা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজে জানান, নিজের একটি বিড়াল কাঁদছে মনে করে তিনি বাড়ির বাইরে বের হন। শব্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে পাশের একটি জমিতে স্বচ্ছ প্লাস্টিকের ব্যাগ দেখতে পান। ব্যাগটির ওপর কালো একটি তোয়ালে দেওয়া ছিল।   কাছাকাছি গিয়ে ব্যাগের ভেতরে নবজাতককে দেখতে পান কাটিয়া। শিশুটির নাড়ি তখনও কাটা হয়নি এবং তার শরীরে জন্মের পরের চিহ্ন ছিল। ঘটনাটি দেখে তিনি দ্রুত আশপাশের লোকজনকে জানান এবং জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাটিয়াকে শিশুটিকে কোলে নিয়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তিনি শিশুটিকে খুঁজে পাওয়ার জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা শিশুটিকে উদ্ধার করে কুরিতিবার হসপিটাল দে ক্লিনিকাসে নিয়ে যান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্ম পূর্ণ ৪০ সপ্তাহের গর্ভধারণের পর হয়েছে। তার ওজন ছিল ২ দশমিক ৮ কেজি। হাসপাতালে নেওয়ার সময় শিশুটির শরীরের তাপমাত্রা বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। তবে সে নিজে থেকেই শ্বাস নিচ্ছিল।   নবজাতককে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে দুটি হাড়ে আঘাতের চিহ্ন পান। এর মধ্যে কলারবোন ও উরুর হাড়ে ভাঙার মতো আঘাত ছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এসব আঘাত প্রসবের সময়ই হয়ে থাকতে পারে। শিশুটির জন্ম কোনো হাসপাতালে হয়নি বলেও প্রাথমিক পরীক্ষায় জানা গেছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।   ঘটনার তদন্তে নেমে পারানা সিভিল পুলিশ শিশুটির মাকে শনাক্ত করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরী, যিনি ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকায় বসবাস করেন। তদন্তকারীরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করেন। পরে কিশোরীটি স্বীকার করেন যে সোমবার ভোরে তিনি সন্তান জন্ম দিয়েছিলেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তা জোয়াও পাওলো পেলায়েজের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরীটি পুলিশকে বলেছেন, প্রসবের পর তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন এবং শিশুটি মৃত অবস্থায় জন্মেছে বলে মনে করেছিলেন। এরপর নবজাতককে একটি তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে প্লাস্টিকের ব্যাগে রেখে বাড়ির পাশের খালি জমিতে রেখে যান বলে তার বক্তব্য। পুলিশের কাছে কিশোরীটি আরও দাবি করেছেন, তার গর্ভধারণ একটি যৌন সহিংসতার ঘটনার ফল। সে কারণে পরিবার ও পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি গর্ভধারণের বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন বলে তদন্তকারীদের জানিয়েছেন। এই দাবির সত্যতা যাচাই করতেও আলাদা করে তদন্ত চলছে।   কিশোরী ও তার বাবা-মাকে পুলিশের কাছে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তবে ঘটনার সময় তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ফলে আপাতত তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং মামলার কার্যক্রম চলবে মুক্ত অবস্থায়। প্রাথমিকভাবে নবজাতককে পরিত্যাগের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। স্থানীয় প্রতিবেদনে মামলাটিকে নবজাতকের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের চেষ্টার দিক থেকেও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। শিশুটিকে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। ব্রাজিলের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা শেষ হওয়ার পর তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে আদালত ও শিশু সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। একটি প্রতিবেদনে কিশোরী ও তার বাবা-মায়ের শিশুটির সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞার কথাও জানানো হয়েছে।   পুলিশ এখন ঘটনার পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। কিশোরীর পরিবার গর্ভধারণের বিষয়টি আগে থেকে জানত কি না, শিশুটিকে পরিত্যাগের ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং শিশুটির শরীরে পাওয়া আঘাত কীভাবে হয়েছে, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দা কাটিয়া আন্দ্রেজা বেজের দ্রুত পদক্ষেপের কারণেই নবজাতককে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি যদি শব্দটি শুনে সেটিকে শুধু বিড়ালের কান্না মনে করে আর বাইরে না আসতেন, তাহলে শিশুটির কী পরিণতি হতো, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   ঘটনাটি ব্রাজিলের পারানা রাজ্যে নবজাতকের নিরাপত্তা ও শিশু সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে পুলিশ এখনো তদন্ত শেষ করেনি এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা ও শিশুটিকে পরিত্যাগের পূর্ণ কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।   সংবাদসূত্র: দ্য সান ও ইউওএল ব্রাজিল।

দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং যেতে গিয়ে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত। ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ কোরিয়া যেতে চেয়েছিলেন, শহরের নামের ভুলে পৌঁছে গেলেন উত্তর কোরিয়ায়
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ২১:৭

দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং শহরে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে চেয়েছিলেন কেনিয়ার ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত। কিন্তু গন্তব্যের নামের সামান্য ভুলে তার যাত্রা শেষ হয় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দেশে। দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ের বদলে ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের টিকিট কেটে ফেলেছিলেন তিনি। সেখানে পৌঁছানোর পর কয়েক ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় তাকে।   ঘটনাটি ঘটে ২০১৪ সালে। কেনিয়ার মাসাই সম্প্রদায়ের সদস্য সাপিত তখন জীববৈচিত্র্যবিষয়ক একটি জাতিসংঘ সম্মেলনে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাং যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার ভ্রমণ সংস্থা গন্তব্যের নাম গুলিয়ে পিয়ংচ্যাংয়ের পরিবর্তে পিয়ংইয়ংয়ের টিকিট করে দেয়। দুই শহরের নামের উচ্চারণ ও বানানে মিল থাকায় ভুলটি সময়মতো ধরা পড়েনি। সাপিতের ভাষ্য অনুযায়ী, বিমানে ওঠার পরও তিনি বুঝতে পারেননি যে গন্তব্য ভুল হয়েছে। বিমানটি যখন অবতরণের দিকে যাচ্ছিল, তখন জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে তার সন্দেহ হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার আধুনিক ও ঘনবসতিপূর্ণ নগরীর বদলে নিচে তার চোখে পড়ে তুলনামূলক ছোট একটি বিমানবন্দর ও ভিন্ন ধরনের পরিবেশ।   পরে উত্তর কোরিয়ার সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার পর ভুলটি তার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। সেখানে বিপুলসংখ্যক সামরিক সদস্য ও উত্তর কোরিয়ার নেতাদের ছবি দেখতে পান তিনি। তখনই বুঝতে পারেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে নয়, উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে এসে পৌঁছেছেন। উত্তর কোরিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের প্রবেশ অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সাপিতের কাছে বৈধ উত্তর কোরীয় ভিসা না থাকায় দেশটির কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে কয়েক ঘণ্টা আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তিনি কীভাবে ভুল করে সেখানে পৌঁছেছেন, তা ব্যাখ্যা করার সুযোগ পান।   সাপিতকে শেষ পর্যন্ত উত্তর কোরিয়া ছাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তার আগে তাকে একটি নথিতে স্বাক্ষর করতে হয় এবং প্রায় ৫০০ ডলার জরিমানা ও নতুন টিকিটের খরচ দিতে হয় বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এরপর তাকে সঠিক গন্তব্য দক্ষিণ কোরিয়ায় যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সাপিত পরে ঘটনাটি বর্ণনা করে বলেন, পিয়ংইয়ং ও পিয়ংচ্যাংয়ের নামের মধ্যে বিভ্রান্তি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বিশেষ করে বিদেশিদের জন্য দুই নামের মিল সহজেই ভুলের কারণ হতে পারে।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দক্ষিণ কোরিয়াতেও বিষয়টি বেশ আলোচিত হয়। কারণ পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের নামের মিল নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। পিয়ংচ্যাং দক্ষিণ কোরিয়ার গ্যাংওন প্রদেশের একটি শহর, আর পিয়ংইয়ং উত্তর কোরিয়ার রাজধানী। দুই শহর একই দেশ বা একই ধরনের গন্তব্য নয়, বরং দুই ভিন্ন রাষ্ট্রে অবস্থিত। পিয়ংচ্যাংয়ের নাম নিয়ে বিভ্রান্তি কমাতে পরে দক্ষিণ কোরিয়া শহরটির ইংরেজি বানানকে বিশেষভাবে “PyeongChang” হিসেবে প্রচার শুরু করে। নামের মাঝখানে বড় হাতের ‘C’ ব্যবহারের উদ্দেশ্য ছিল পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে পার্থক্য আরও স্পষ্ট করা। ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজনের সময় এই বানানটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়।   ২০১৮ সালের শীতকালীন অলিম্পিকের আয়োজক শহর ছিল পিয়ংচ্যাং। অলিম্পিকের প্রচারণার সময় আয়োজকেরা বিদেশি দর্শকদেরও সতর্ক করেছিলেন, যেন নামের মিলের কারণে কেউ ভুল করে উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ের দিকে না চলে যান। পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের বিভ্রান্তির এই ঘটনা শুধু একটি ভ্রমণ ভুলের গল্প নয়, দুই কোরিয়ার রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেও এটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়। দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া technically একই কোরীয় উপদ্বীপে অবস্থিত হলেও তাদের মধ্যে সীমান্ত বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত সীমান্ত। ফলে একটি দেশের নির্ধারিত গন্তব্যের বদলে অন্য দেশের রাজধানীতে ভুল করে পৌঁছে যাওয়া সাধারণ ভ্রমণভুলের মতো সহজ বিষয় নয়।   ড্যানিয়েল ওলোমায়ে ওলে সাপিত পরে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জাতিসংঘের নথিতেও তাকে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বকারী হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সাপিতের এই অভিজ্ঞতা পরে পিয়ংচ্যাংয়ের নামের বানান পরিবর্তনের আলোচনাতেও উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা মনে করেছিলেন, পিয়ংচ্যাংকে আলাদা করে চেনাতে ইংরেজি বানানে বড় হাতের ‘C’ ব্যবহার করলে পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বিভ্রান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।   একটি ভুল টিকিট কীভাবে একজন যাত্রীর গন্তব্যই বদলে দিতে পারে, সাপিতের ঘটনা তারই বিরল উদাহরণ। দক্ষিণ কোরিয়ায় একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সাধারণ ভ্রমণ পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তাকে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্বের অন্যতম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রের রাজধানীতে। কয়েক ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ, জরিমানা ও নতুন টিকিটের পর অবশেষে তিনি নিজের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পান।   এই ঘটনার পর পিয়ংচ্যাংয়ের নাম উচ্চারণ বা লেখার সময় সতর্কতার প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে আলোচনায় আসে। কারণ পিয়ংচ্যাং ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে পার্থক্য মাত্র কয়েকটি অক্ষরের হলেও, ভুল গন্তব্যে পৌঁছালে তার পরিণতি যে কতটা ভিন্ন হতে পারে, সাপিতের অভিজ্ঞতাই তার সবচেয়ে স্মরণীয় উদাহরণ।   সংবাদসূত্র: ইউপিআই ও দ্য কোরিয়া টাইমস।

৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে  সাজানো গাড়ি
৩ হাজার ৪০০ চুমুর দিয়ে সাজানো গাড়ি, শেষ পর্যন্ত গুনতে হলো জরিমানা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৫, ২০২৬ ৮:৫১

ভারতের মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি ট্রেন্ড অনুসরণ করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক তরুণ। তার গাড়িজুড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪০০টি লিপস্টিকের চুমুর দাগ দেওয়ার পর ছবিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। পরে সেই ছবি দেখে গাড়িটি শনাক্ত করে ট্রাফিক পুলিশ এবং নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ৫ হাজার ৫০০ রুপি জরিমানা করা হয়।   গাড়িটির মালিক আদিত্য সিকারওয়ার। জানা গেছে, অনলাইনে দেখা একটি ট্রেন্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তার প্রেমিকা গাড়িটিতে একের পর এক লিপস্টিকের ছাপ দেন। হাজার হাজার চুমুর দাগ দিতে সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা।   ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ট্রাফিক পুলিশের নজরেও আসে। ভাইরাল ছবিতে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর স্পষ্ট থাকায় সেটি শনাক্ত করতে পুলিশের বেশি সময় লাগেনি।   পরে পুলিশ গাড়িটি জব্দ করে আদিত্যকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গের অভিযোগে ৫ হাজার ৫০০ রুপি জরিমানা করে। পরে গাড়ি থেকে সব লিপস্টিকের দাগ পরিষ্কার করে সেটি ধুয়ে ফেলা হয়। নিজের ভুলও স্বীকার করেন আদিত্য।   প্রেমের অভিনব প্রকাশ হিসেবে শুরু হওয়া ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত জরিমানা ও গাড়ি পরিষ্কারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ট্রেন্ড ভাইরাল হলেই তা অনুসরণ করার আগে সংশ্লিষ্ট আইন ও নিয়ম সম্পর্কে সতর্ক থাকার বিষয়টিও সামনে এনেছে ঘটনাটি।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.19K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
970 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.08K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
941 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়