নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি মেরামত করাতে গিয়ে অনেকেই অপ্রত্যাশিত বড় বিলের মুখে পড়েন। কোনো কাজের খরচ আগে পরিষ্কার না করা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করানো কিংবা যন্ত্রাংশ ও শ্রমের খরচ সম্পর্কে না জানার কারণে শেষ পর্যন্ত গুনতে হতে পারে অতিরিক্ত টাকা। তবে মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করলে অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রথমেই গাড়ির সমস্যার প্রাথমিক তথ্য জেনে নিন। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ত্রুটির সংকেত জ্বললে সরাসরি বড় ধরনের মেরামতের সিদ্ধান্ত না নিয়ে ওবিডি স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্যার সংকেত জানা যেতে পারে। কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকানে এই ধরনের স্ক্যান বিনামূল্যে করা হয়, তবে সেবার নিয়ম ও খরচ দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে। সমস্যার সংকেত জানা থাকলে মেকানিকের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে শুধু স্ক্যানের সংকেত দেখে কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। প্রকৃত কারণ জানতে পেশাদারভাবে গাড়ি পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কাজ শুরু করার আগে লিখিত খরচের হিসাব নিন। সেখানে কী সমস্যা, কোন যন্ত্রাংশ লাগবে, শ্রমের খরচ কত এবং মোট সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। ফেডারেল ট্রেড কমিশনও গাড়ি মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেয়। ব্যয়বহুল বা জটিল মেরামতের ক্ষেত্রে একাধিক দোকান থেকে হিসাব নিয়ে তুলনা করাও ভালো। গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা কোনো ফি আছে কি না, সেটিও আগে জেনে নিন। নিউইয়র্কে গাড়ির মালিকদের জন্য লিখিত হিসাব এবং অনুমতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহক চাইলে মেরামতের দোকানকে খরচের হিসাব দিতে হয়। অনুমোদিত হিসাবের চেয়ে বেশি খরচ করতে হলে অতিরিক্ত কাজের জন্য গ্রাহকের অনুমতি প্রয়োজন। তাই মুখের কথায় কাজ শুরু না করে লিখিত কাগজে মেরামতের ধরন ও সম্ভাব্য খরচ পরিষ্কার করে নেওয়া নিরাপদ। তৃতীয়ত, গাড়িতে কোন ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে তা জেনে নিন। প্রস্তুতকারকের মূল যন্ত্রাংশ, বিকল্প প্রস্তুতকারকের যন্ত্রাংশ, পুনর্নির্মিত যন্ত্রাংশ এবং ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দামও এক নয়। সব ক্ষেত্রে সবচেয়ে দামি যন্ত্রাংশই প্রয়োজনীয়, এমন নয়। আবার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক বা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সস্তা বিকল্প নেওয়ার আগে এর মান, গাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং গ্যারান্টি সম্পর্কে জানতে হবে। সম্ভব হলে হিসাবের কাগজে যন্ত্রাংশের নাম ও নম্বর লিখিয়ে রাখুন। চতুর্থত, শ্রমের ঘণ্টাপ্রতি খরচ এবং গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার ফি আগে জেনে নিন। কোনো দোকান ঘণ্টা হিসেবে শ্রমের খরচ নেয়, আবার কোনো কাজের জন্য নির্ধারিত হারে খরচ নেয়। একইভাবে গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা ফি থাকতে পারে। মেরামতের কাজ করালে সেই ফি মোট বিল থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সেটিও আগে জেনে নেওয়া উচিত। কাজ শুরুর আগেই দোকানটি কীভাবে শ্রমের খরচ হিসাব করে, তা পরিষ্কার করে নিন। পঞ্চমত, পুরনো যন্ত্রাংশের বিষয়ে আগে থেকেই কথা বলুন। বদলে দেওয়া যন্ত্রাংশ দেখতে বা ফেরত নিতে চাইলে কাজ শুরুর আগেই দোকানকে জানানো ভালো। নিউইয়র্কে গ্রাহক আগে লিখিতভাবে অনুরোধ করলে বদলে দেওয়া কিছু যন্ত্রাংশ ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, যদিও এর কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। কাজ শেষে বিস্তারিত বিল নিন। সেখানে কোন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং শ্রমের জন্য কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা দেখে নিন। ষষ্ঠত, গ্যারান্টির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে নিন। শুধু গ্যারান্টি আছে শুনে কাজ করাবেন না। কোন যন্ত্রাংশের ওপর গ্যারান্টি রয়েছে, কতদিন বা কত মাইল পর্যন্ত তা কার্যকর, যন্ত্রাংশ ও শ্রম দুটোই এর আওতায় রয়েছে কি না এবং কোনো বিশেষ শর্ত আছে কি না, লিখিতভাবে জেনে নিন। গাড়ির মেরামতের সঙ্গে কোনো সেবা চুক্তি থাকলে কোন কাজ বা যন্ত্রাংশ তার আওতায় পড়বে, সেটিও আগে দেখে নেওয়া উচিত। সপ্তমত, মেরামতের দোকানের সুনাম ও মেকানিকের যোগ্যতা যাচাই করুন। পরিচিত মানুষ বা বিশ্বস্ত কমিউনিটির কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া যেতে পারে। অনলাইন পর্যালোচনা দেখার সময় শুধু সামগ্রিক নম্বর নয়, সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং গ্রাহকদের বিস্তারিত অভিজ্ঞতাও পড়ুন। এএসই সনদ থাকা মেকানিকদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মানদণ্ড পূরণের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু সনদ দেখেই কোনো দোকানকে ভালো বা বিশ্বস্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বড় ধরনের গাড়ি মেরামতের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। একই সমস্যার জন্য সম্ভব হলে একাধিক দোকান থেকে লিখিত হিসাব নিন এবং কোন কাজটি জরুরি, আর কোনটি পরে করা যেতে পারে, তা মেকানিককে জিজ্ঞেস করুন। গাড়ি মেরামতের সব হিসাব, অনুমতিপত্র এবং যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। এতে ভুল বিল বা অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত কাজ নিয়ে কোনো সমস্যা হলে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন। নিউইয়র্কে নিবন্ধিত কোনো গাড়ি মেরামতের দোকান নিয়ে অভিযোগ থাকলে গ্রাহক স্টেট ডিএমভির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান। তবে গাড়ি মেরামতসংক্রান্ত আইন ও গ্রাহকের অধিকার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই বড় ধরনের মেরামতের আগে নিজের অঙ্গরাজ্যের নিয়ম জেনে নেওয়া এবং লিখিত হিসাব ও অনুমতি ছাড়া বড় অঙ্কের কাজে সম্মতি না দেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বিমানবাহিনীর মন্ত্রী ট্রয় মেইঙ্ক জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর কাছে কক্ষপথে থাকা ‘স্পেস কন্ট্রোল উইপনস’ রয়েছে, যেগুলো শত্রুপক্ষের হামলা মোকাবিলা এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তৈরি। ১৪ সেপ্টেম্বর মেরিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার বিষয়ে ওয়াশিংটন প্রথমবারের মতো সরাসরি অবস্থান জানাল। মেইঙ্ক বলেন, মহাকাশ এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন ও রাশিয়ার মহাকাশ সক্ষমতা দ্রুত বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ব্যবস্থা নিতে হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে কক্ষপথে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক বাহিনীকে সুরক্ষা দেওয়া যায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন এমন কক্ষপথভিত্তিক মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখছে, যা সম্ভাব্য শত্রুর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক বাহিনীকে প্রতিরক্ষায় সহায়তা করতে পারে। তিনি আরও জানান, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রাধান্য ধরে রাখা ওয়াশিংটনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র কক্ষপথে রয়েছে, সেগুলো কীভাবে কাজ করে কিংবা কোথায় মোতায়েন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি মার্কিন সরকার। মেইঙ্ক বলেন, অস্ত্রগুলোর সক্ষমতা ও পরীক্ষার বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হবে না। তিনি মহাকাশভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুটি কর্মসূচির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেন। এর মধ্যে রয়েছে স্পেস বেইজড ইন্টারসেপ্টর কর্মসূচি এবং স্পেস বেইজড এয়ার মুভিং টার্গেট ইন্ডিকেশন ব্যবস্থা। স্পেস বেইজড ইন্টারসেপ্টর কর্মসূচিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা উদ্যোগের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মহাকাশকে ঘিরে ওয়াশিংটন, বেইজিং ও মস্কোর মধ্যে সামরিক প্রতিযোগিতা বাড়ছে। মার্কিন মহাকাশ বাহিনীর কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছেন, চীন দ্রুত এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যা মহাকাশে থাকা লক্ষ্য শনাক্ত, অনুসরণ এবং প্রয়োজন হলে অকার্যকর করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। রাশিয়াও মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করছে বলে মার্কিন কর্মকর্তারা মনে করেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র মহাকাশে সামরিক স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের গতিবিধি নিয়েও নতুন ধরনের সামরিক মহড়া পরিচালনা করেছে। মহাকাশে সামরিক অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি কক্ষপথে পারমাণবিক অস্ত্রসহ গণবিধ্বংসী অস্ত্র স্থাপন নিষিদ্ধ করেছে। তবে চুক্তিটি সব ধরনের প্রচলিত মহাকাশভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করে না। ফলে স্যাটেলাইটকে জ্যাম করা, অন্য স্যাটেলাইটের গতিবিধি বাধাগ্রস্ত করা কিংবা কক্ষপথে থাকা কোনো ব্যবস্থাকে অকার্যকর করার মতো প্রযুক্তি নিয়ে বিভিন্ন দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বহুদিন ধরেই চলছে। নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের কক্ষপথভিত্তিক অস্ত্রের অস্তিত্ব স্বীকার করা সেই প্রতিযোগিতাকে আরও প্রকাশ্য করে তুলল। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, মহাকাশে অস্ত্রের উপস্থিতি প্রকাশ্যে আসার ফলে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে নতুন ধরনের সামরিক প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে। পৃথিবীর কক্ষপথ ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক বাণিজ্যিক ও সামরিক স্যাটেলাইটে ভরে উঠছে। এসব স্যাটেলাইট যোগাযোগ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, নেভিগেশন, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং সামরিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো সংঘাতে স্যাটেলাইট অকার্যকর হলে তার প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বেসামরিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রমেও পড়তে পারে। মহাকাশে অস্ত্রের বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠেছে মহাকাশের আবর্জনার কারণে। কোনো স্যাটেলাইট ধ্বংস হলে তার অসংখ্য ধ্বংসাবশেষ কক্ষপথে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা অন্য স্যাটেলাইট ও মহাকাশযানের জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। একই সময়ে স্পেসএক্সের স্টারলিংকের মতো বিশাল স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক দ্রুত বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে মহাকাশে সামরিক সংঘাত হলে তার প্রভাব কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বীকারোক্তি তাই শুধু একটি নতুন অস্ত্রের খবর নয়। এটি দেখাচ্ছে, আধুনিক সামরিক প্রতিযোগিতার পরবর্তী বড় ক্ষেত্র হিসেবে মহাকাশকে যুক্তরাষ্ট্র কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে ঠিক কী অস্ত্র কক্ষপথে রয়েছে এবং সেগুলোর প্রকৃত সক্ষমতা কতটা, সে বিষয়ে গোপনীয়তা বজায় রেখেছে ওয়াশিংটন। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশভিত্তিক সামরিক সক্ষমতার পূর্ণ চিত্র এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
একসঙ্গে কোরআনের হাফেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশলী এবং মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন জুবায়ের হোসাইন। পাশাপাশি তথ্যবিজ্ঞান ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাযাত্রার গল্প সম্প্রতি ‘শর্ট স্টোরিজ’-এর এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। সেখানে জুবায়ের নিজের পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। জুবায়েরের শিক্ষাজীবনের শুরু টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ২৭৩তম স্থান অর্জন করেন। একই সময়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান তিনি। তবে প্রকৌশল শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থেকেই শেষ পর্যন্ত বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়ার সময়ই প্রচলিত পড়াশোনার বাইরে নিজের আগ্রহের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ শুরু করেন জুবায়ের। তড়িৎ প্রকৌশলের পাশাপাশি কোডিং প্রতিযোগিতা, তথ্যবিজ্ঞান ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যবিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে চাকরিতেও যুক্ত হন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এসব কাজের বেশ কয়েকটি ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূরবর্তীভাবে পরিচালিত। স্নাতক শেষ করার পর জুবায়ের তড়িৎ প্রকৌশলেই স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেন। একই সময়ে জীবচিকিৎসা প্রকৌশল নিয়ে একটি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরিবারের একজন সদস্য ক্যানসারে মারা যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাকে নির্ভুল চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে বলে জানান তিনি। এরপর চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য জীবনের আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেন জুবায়ের। ২০২০ সালে আবারও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সমমানের ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষায় অংশ নেন। তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশেই কোনো মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা। চেষ্টা করেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেশে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে কিরগিজস্তানের কিরগিজ স্টেট মেডিকেল একাডেমিতে ভর্তি হন। সাক্ষাৎকারের সময় তিনি সেখানে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন বলে জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন জুবায়ের। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তথ্যবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রকস্ট্রিমে কাজ করেছেন। এর আগে বিস্তা সলিউশনস ইনকরপোরেটেডে জ্যেষ্ঠ যন্ত্রশিক্ষা প্রকৌশলী হিসেবেও কাজ করেছেন। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও তথ্যবিজ্ঞানের পেশাগত কাজও তার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। জুবায়েরের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তিনি কোরআনের হাফেজ। ছোটবেলায় তিনি এমন একটি সমন্বিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে হিফজের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের পড়াশোনাও করানো হতো। সেখানেই তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ করেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান। হিফজ শেষ করার পরও নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও তারাবির নামাজের মাধ্যমে মুখস্থ পড়া ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে প্রতি রমজানে তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন বলে জানান জুবায়ের। ঢাকায় অবস্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে কয়েক বছর তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন। পরে কিরগিজস্তানে যাওয়ার পরও স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষা ও কর্মজীবনের একাধিক ভিন্ন পথে এগিয়ে চললেও জুবায়েরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশকে ঘিরে। দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি নিজের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তার। প্রকৌশল, তথ্যবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে তার যে পথচলা, সেটিই তার শিক্ষাজীবনকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে। জুবায়ের হোসাইনের গল্পটি প্রচলিত শিক্ষাপথের বাইরে নিজের আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী একাধিক জ্ঞানক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ। তবে তার শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনগুলোর তথ্য তার নিজের বক্তব্য এবং ‘শর্ট স্টোরিজ’-এর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে। তার পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আগ্রহ ধরে রেখে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। সূত্র: প্রথম আলো
তুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি। গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।
নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় গাড়ি মেরামত করাতে গিয়ে অনেকেই অপ্রত্যাশিত বড় বিলের মুখে পড়েন। কোনো কাজের খরচ আগে পরিষ্কার না করা, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাজ করানো কিংবা যন্ত্রাংশ ও শ্রমের খরচ সম্পর্কে না জানার কারণে শেষ পর্যন্ত গুনতে হতে পারে অতিরিক্ত টাকা। তবে মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় নিশ্চিত করলে অপ্রয়োজনীয় খরচের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। প্রথমেই গাড়ির সমস্যার প্রাথমিক তথ্য জেনে নিন। বিশেষ করে ইঞ্জিনের ত্রুটির সংকেত জ্বললে সরাসরি বড় ধরনের মেরামতের সিদ্ধান্ত না নিয়ে ওবিডি স্ক্যানের মাধ্যমে সমস্যার সংকেত জানা যেতে পারে। কিছু গাড়ির যন্ত্রাংশের দোকানে এই ধরনের স্ক্যান বিনামূল্যে করা হয়, তবে সেবার নিয়ম ও খরচ দোকানভেদে ভিন্ন হতে পারে। সমস্যার সংকেত জানা থাকলে মেকানিকের সঙ্গে কথা বলার সময় বিষয়টি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়। তবে শুধু স্ক্যানের সংকেত দেখে কোনো যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। প্রকৃত কারণ জানতে পেশাদারভাবে গাড়ি পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। দ্বিতীয়ত, কাজ শুরু করার আগে লিখিত খরচের হিসাব নিন। সেখানে কী সমস্যা, কোন যন্ত্রাংশ লাগবে, শ্রমের খরচ কত এবং মোট সম্ভাব্য ব্যয় কত হতে পারে, তা পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকা উচিত। ফেডারেল ট্রেড কমিশনও গাড়ি মেরামতের আগে লিখিত খরচের হিসাব নেওয়ার পরামর্শ দেয়। ব্যয়বহুল বা জটিল মেরামতের ক্ষেত্রে একাধিক দোকান থেকে হিসাব নিয়ে তুলনা করাও ভালো। গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা কোনো ফি আছে কি না, সেটিও আগে জেনে নিন। নিউইয়র্কে গাড়ির মালিকদের জন্য লিখিত হিসাব এবং অনুমতির বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিকলসের নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাহক চাইলে মেরামতের দোকানকে খরচের হিসাব দিতে হয়। অনুমোদিত হিসাবের চেয়ে বেশি খরচ করতে হলে অতিরিক্ত কাজের জন্য গ্রাহকের অনুমতি প্রয়োজন। তাই মুখের কথায় কাজ শুরু না করে লিখিত কাগজে মেরামতের ধরন ও সম্ভাব্য খরচ পরিষ্কার করে নেওয়া নিরাপদ। তৃতীয়ত, গাড়িতে কোন ধরনের যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হবে তা জেনে নিন। প্রস্তুতকারকের মূল যন্ত্রাংশ, বিকল্প প্রস্তুতকারকের যন্ত্রাংশ, পুনর্নির্মিত যন্ত্রাংশ এবং ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দামও এক নয়। সব ক্ষেত্রে সবচেয়ে দামি যন্ত্রাংশই প্রয়োজনীয়, এমন নয়। আবার গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক বা নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রে সস্তা বিকল্প নেওয়ার আগে এর মান, গাড়ির সঙ্গে সামঞ্জস্য এবং গ্যারান্টি সম্পর্কে জানতে হবে। সম্ভব হলে হিসাবের কাগজে যন্ত্রাংশের নাম ও নম্বর লিখিয়ে রাখুন। চতুর্থত, শ্রমের ঘণ্টাপ্রতি খরচ এবং গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার ফি আগে জেনে নিন। কোনো দোকান ঘণ্টা হিসেবে শ্রমের খরচ নেয়, আবার কোনো কাজের জন্য নির্ধারিত হারে খরচ নেয়। একইভাবে গাড়ির সমস্যা শনাক্ত করার জন্য আলাদা ফি থাকতে পারে। মেরামতের কাজ করালে সেই ফি মোট বিল থেকে বাদ দেওয়া হবে কি না, সেটিও আগে জেনে নেওয়া উচিত। কাজ শুরুর আগেই দোকানটি কীভাবে শ্রমের খরচ হিসাব করে, তা পরিষ্কার করে নিন। পঞ্চমত, পুরনো যন্ত্রাংশের বিষয়ে আগে থেকেই কথা বলুন। বদলে দেওয়া যন্ত্রাংশ দেখতে বা ফেরত নিতে চাইলে কাজ শুরুর আগেই দোকানকে জানানো ভালো। নিউইয়র্কে গ্রাহক আগে লিখিতভাবে অনুরোধ করলে বদলে দেওয়া কিছু যন্ত্রাংশ ফেরত দেওয়ার নিয়ম রয়েছে, যদিও এর কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে। কাজ শেষে বিস্তারিত বিল নিন। সেখানে কোন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে এবং শ্রমের জন্য কত টাকা নেওয়া হয়েছে, তা দেখে নিন। ষষ্ঠত, গ্যারান্টির বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝে নিন। শুধু গ্যারান্টি আছে শুনে কাজ করাবেন না। কোন যন্ত্রাংশের ওপর গ্যারান্টি রয়েছে, কতদিন বা কত মাইল পর্যন্ত তা কার্যকর, যন্ত্রাংশ ও শ্রম দুটোই এর আওতায় রয়েছে কি না এবং কোনো বিশেষ শর্ত আছে কি না, লিখিতভাবে জেনে নিন। গাড়ির মেরামতের সঙ্গে কোনো সেবা চুক্তি থাকলে কোন কাজ বা যন্ত্রাংশ তার আওতায় পড়বে, সেটিও আগে দেখে নেওয়া উচিত। সপ্তমত, মেরামতের দোকানের সুনাম ও মেকানিকের যোগ্যতা যাচাই করুন। পরিচিত মানুষ বা বিশ্বস্ত কমিউনিটির কাছ থেকে সুপারিশ নেওয়া যেতে পারে। অনলাইন পর্যালোচনা দেখার সময় শুধু সামগ্রিক নম্বর নয়, সাম্প্রতিক অভিযোগ এবং গ্রাহকদের বিস্তারিত অভিজ্ঞতাও পড়ুন। এএসই সনদ থাকা মেকানিকদের নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার মানদণ্ড পূরণের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে শুধু সনদ দেখেই কোনো দোকানকে ভালো বা বিশ্বস্ত ধরে নেওয়া উচিত নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বড় ধরনের গাড়ি মেরামতের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। একই সমস্যার জন্য সম্ভব হলে একাধিক দোকান থেকে লিখিত হিসাব নিন এবং কোন কাজটি জরুরি, আর কোনটি পরে করা যেতে পারে, তা মেকানিককে জিজ্ঞেস করুন। গাড়ি মেরামতের সব হিসাব, অনুমতিপত্র এবং যোগাযোগের রেকর্ড সংরক্ষণ করুন। এতে ভুল বিল বা অনুমতি ছাড়া অতিরিক্ত কাজ নিয়ে কোনো সমস্যা হলে নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে পারবেন। নিউইয়র্কে নিবন্ধিত কোনো গাড়ি মেরামতের দোকান নিয়ে অভিযোগ থাকলে গ্রাহক স্টেট ডিএমভির মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর সুযোগ পান। তবে গাড়ি মেরামতসংক্রান্ত আইন ও গ্রাহকের অধিকার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই বড় ধরনের মেরামতের আগে নিজের অঙ্গরাজ্যের নিয়ম জেনে নেওয়া এবং লিখিত হিসাব ও অনুমতি ছাড়া বড় অঙ্কের কাজে সম্মতি না দেওয়াই নিরাপদ পদ্ধতি।
নিউইয়র্কের বাসিন্দা জোডি স্মিথের জীবনে দীর্ঘদিন ধরে ভয় ও প্যানিক অ্যাটাক ছিল নিত্যসঙ্গী। পরে এপিলেপসি ধরা পড়ার পর ওষুধে নিয়ন্ত্রণ না আসায় ২৮ বছর বয়সে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারে ডান পাশের অ্যামিগডালা, হিপোক্যাম্পাস এবং ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশের টিস্যু অপসারণ করা হয়। এরপর স্মিথের দাবি, তার জীবনে ভয় অনুভব করার বিষয়টিই যেন বদলে যায়। স্মিথের সমস্যার শুরু হয়েছিল অতিরিক্ত উদ্বেগ ও বারবার প্যানিক অ্যাটাক দিয়ে। পরে তার এপিলেপসি শনাক্ত হয় এবং প্রায় দুই বছর বিভিন্ন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু খিঁচুনি নিয়ন্ত্রণে না আসায় চিকিৎসকেরা শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। চিকিৎসকদের লক্ষ্য ছিল মস্তিষ্কের যে অংশ থেকে খিঁচুনির সূত্রপাত হচ্ছে, সেটি শনাক্ত করে সমস্যা কমানো। অস্ত্রোপচারের আগে চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্কে বিশেষ প্রোব বসিয়ে কয়েক দিন ধরে খিঁচুনির উৎস শনাক্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ডান টেম্পোরাল লোবের সামনের অংশ, ডান অ্যামিগডালা ও ডান হিপোক্যাম্পাসে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের কয়েক দিনের মধ্যেই স্মিথ হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরেন। এরপর তিনি নিজের মধ্যে অস্বাভাবিক এক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। আগে যে পরিস্থিতিতে তীব্র ভয় বা আতঙ্ক তৈরি হতো, সেসব ঘটনায় তার প্রতিক্রিয়া অনেকটাই বদলে যায়। স্মিথের ভাষ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর ভয়ও আগের মতো অনুভূত হচ্ছিল না। নিউইয়র্কের ব্যস্ত পরিবেশ কিংবা অন্য কোনো ভীতিকর পরিস্থিতিতেও তিনি তুলনামূলক শান্ত থাকতে পারছিলেন। এক ঘটনায় নিউ জার্সিতে পাঁচজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরেছিল বলে স্মিথ জানিয়েছেন। তার দাবি, পরিস্থিতিটি ছিনতাইয়ের মতো মনে হলেও তিনি আগের মতো আতঙ্কিত হননি এবং সেখান থেকে হেঁটে চলে যান। মাকড়সার মতো বিষয় নিয়েও তার ভয় অনেকটাই কমে যায় বলে তিনি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন। তবে এসব ঘটনা তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বর্ণনার ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়েছে। মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা মানুষের ভয় ও হুমকির প্রতিক্রিয়া তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ কারণেই অ্যামিগডালার কার্যক্রমে পরিবর্তনের পর ভয় অনুভূতিতে পরিবর্তন দেখা দেওয়ার বিষয়টি চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত নয়। তবে চিকিৎসকেরা সাধারণ মানুষের ভয় দূর করার জন্য এ ধরনের অস্ত্রোপচার করেন না। স্মিথের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের মূল উদ্দেশ্য ছিল গুরুতর এপিলেপসি নিয়ন্ত্রণ করা। অস্ত্রোপচারের পর ভয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি স্মিথ কিছু স্মৃতি ও মনোযোগের সমস্যার কথাও জানিয়েছেন। এ ধরনের পরিবর্তন দেখায়, ভয় শুধু একটি নেতিবাচক অনুভূতি নয়, বরং বিপদ শনাক্ত করে মানুষকে সতর্ক রাখার গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের মতে, এপিলেপসি বা নির্দিষ্ট নিউরোলজিক্যাল সমস্যার ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের ত্রুটিপূর্ণ ভয়-প্রতিক্রিয়া কমানো উপকারী হতে পারে, কিন্তু স্বাভাবিক মানুষের ক্ষেত্রে ভয় সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলা নিরাপদ বা কাঙ্ক্ষিত বিষয় নয়। জোডি স্মিথের ঘটনাটি তাই শুধু একজন মানুষের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতার গল্প নয়, মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ কীভাবে ভয়, স্মৃতি, আবেগ ও আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝার ক্ষেত্রেও একটি আলোচিত উদাহরণ। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার এপিলেপসি চিকিৎসার পাশাপাশি ভয় অনুভবের ক্ষমতায় যে পরিবর্তন এসেছে বলে তিনি জানিয়েছেন, সেটিই পরবর্তীতে তাকে চিকিৎসাবিজ্ঞান ও মস্তিষ্ক নিয়ে আলোচনার একটি আলোচিত চরিত্রে পরিণত করেছে।
একসঙ্গে কোরআনের হাফেজ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ প্রকৌশলী এবং মেডিকেল শিক্ষার্থী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন জুবায়ের হোসাইন। পাশাপাশি তথ্যবিজ্ঞান ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়েও কাজ করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাযাত্রার গল্প সম্প্রতি ‘শর্ট স্টোরিজ’-এর এক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। সেখানে জুবায়ের নিজের পড়াশোনা, কর্মজীবন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেছেন। জুবায়েরের শিক্ষাজীবনের শুরু টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে। এরপর তিনি ঢাকার নটর ডেম কলেজে পড়াশোনা করেন এবং ২০১৩ সালে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ২৭৩তম স্থান অর্জন করেন। একই সময়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান তিনি। তবে প্রকৌশল শিক্ষার প্রতি আগ্রহ থেকেই শেষ পর্যন্ত বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল বিভাগে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়ার সময়ই প্রচলিত পড়াশোনার বাইরে নিজের আগ্রহের বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে কাজ শুরু করেন জুবায়ের। তড়িৎ প্রকৌশলের পাশাপাশি কোডিং প্রতিযোগিতা, তথ্যবিজ্ঞান ও যন্ত্রশিক্ষা নিয়ে পড়াশোনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের শেষ দিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্যবিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরে চাকরিতেও যুক্ত হন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এসব কাজের বেশ কয়েকটি ছিল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূরবর্তীভাবে পরিচালিত। স্নাতক শেষ করার পর জুবায়ের তড়িৎ প্রকৌশলেই স্নাতকোত্তর পড়াশোনা শুরু করেন। একই সময়ে জীবচিকিৎসা প্রকৌশল নিয়ে একটি গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। পরিবারের একজন সদস্য ক্যানসারে মারা যাওয়ার অভিজ্ঞতাও তাকে নির্ভুল চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আরও আগ্রহী করে তোলে বলে জানান তিনি। এরপর চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য জীবনের আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত নেন জুবায়ের। ২০২০ সালে আবারও মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক সমমানের ও-লেভেল ও এ-লেভেল পরীক্ষায় অংশ নেন। তার লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশেই কোনো মেডিকেল প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা। চেষ্টা করেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে দেশে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি। পরে কিরগিজস্তানের কিরগিজ স্টেট মেডিকেল একাডেমিতে ভর্তি হন। সাক্ষাৎকারের সময় তিনি সেখানে দ্বিতীয় বর্ষে পড়াশোনা করছিলেন বলে জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের কাজও চালিয়ে যাচ্ছেন জুবায়ের। প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তথ্যবিজ্ঞানী হিসেবে গ্রকস্ট্রিমে কাজ করেছেন। এর আগে বিস্তা সলিউশনস ইনকরপোরেটেডে জ্যেষ্ঠ যন্ত্রশিক্ষা প্রকৌশলী হিসেবেও কাজ করেছেন। ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও তথ্যবিজ্ঞানের পেশাগত কাজও তার পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। জুবায়েরের জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তিনি কোরআনের হাফেজ। ছোটবেলায় তিনি এমন একটি সমন্বিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন, যেখানে হিফজের পাশাপাশি ইংরেজি মাধ্যমের পড়াশোনাও করানো হতো। সেখানেই তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ করেন বলে সাক্ষাৎকারে জানান। হিফজ শেষ করার পরও নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াত ও তারাবির নামাজের মাধ্যমে মুখস্থ পড়া ঝালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তিনি। প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে প্রতি রমজানে তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন বলে জানান জুবায়ের। ঢাকায় অবস্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হলে কয়েক বছর তারাবির নামাজ পড়িয়েছেন। পরে কিরগিজস্তানে যাওয়ার পরও স্থানীয় মসজিদে তারাবির নামাজ পড়ানোর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন তিনি। শিক্ষা ও কর্মজীবনের একাধিক ভিন্ন পথে এগিয়ে চললেও জুবায়েরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাংলাদেশকে ঘিরে। দেশে ফিরে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি নিজের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার স্বপ্ন রয়েছে তার। প্রকৌশল, তথ্যবিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বয়ে তার যে পথচলা, সেটিই তার শিক্ষাজীবনকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে তুলেছে। জুবায়ের হোসাইনের গল্পটি প্রচলিত শিক্ষাপথের বাইরে নিজের আগ্রহ ও লক্ষ্য অনুযায়ী একাধিক জ্ঞানক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার একটি উদাহরণ। তবে তার শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জনগুলোর তথ্য তার নিজের বক্তব্য এবং ‘শর্ট স্টোরিজ’-এর প্রকাশিত সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে জানা গেছে। তার পথচলা দেখায়, একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ে আগ্রহ ধরে রেখে দীর্ঘ সময়ের পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। সূত্র: প্রথম আলো
অভিবাসীদের সরকারি সুবিধা গ্রহণের বিষয়টি ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদন মূল্যায়নে বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ বাড়ানো ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছে নিউইয়র্ক সিটি। মেয়র জোহান মামদানি সোমবার এ তথ্য জানিয়েছেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে করা মামলায় নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে একাধিক স্থানীয় সরকার এই নীতির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছে। মামলাকারীদের দাবি, নতুন বিধির মাধ্যমে ফেডারেল সরকার ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার প্রচলিত ও দীর্ঘদিনের আইনি ব্যাখ্যার সীমা অতিক্রম করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জুলাইয়ে নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধি প্রকাশ করে। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন বিধির আওতায় নির্দিষ্ট ভিসা ও গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীরা ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন কি না, তা মূল্যায়নের সময় আগের তুলনায় বিস্তৃত পরিসরের সরকারি সুবিধা বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে। এর মধ্যে আয়ভিত্তিক সরকারি স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা এবং আবাসন সহায়তার মতো সুবিধা রয়েছে। তবে কোনো অভিবাসী এসব সুবিধার একটি গ্রহণ করলেই তার ভিসা বা গ্রিন কার্ডের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন বিধান নেই। কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সামগ্রিক আর্থিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন। নিউইয়র্ক সিটির মামলায় বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ শব্দটি দীর্ঘদিন ধরে এমন ব্যক্তিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে, যিনি মূলত সরকারের কাছ থেকে নগদ সহায়তার ওপর জীবিকা নির্বাহের জন্য নির্ভরশীল। মামলাকারীদের মতে, সাময়িক, সম্পূরক বা নগদ নয় এমন সরকারি সুবিধাকে এই ধারণার আওতায় বিস্তৃতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা ঐতিহাসিক আইনি ব্যাখ্যার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। মামলায় আরও দাবি করা হয়েছে, কংগ্রেস অতীতে ‘পাবলিক চার্জ’ ধারণার পরিধি বাড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে প্রশাসনিকভাবে নতুন বিধির মাধ্যমে এর অর্থ ও প্রয়োগের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। মেয়র মামদানি বলেন, নতুন নীতি অভিবাসী পরিবারগুলোকে এমন সরকারি কর্মসূচি থেকেও দূরে সরিয়ে দিতে পারে, যেগুলো তারা আইন অনুযায়ী পাওয়ার অধিকার রাখে। তার আশঙ্কা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা বা আবাসন সহায়তা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিবাসীদের মধ্যে ভয় তৈরি হতে পারে। মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের অভিবাসী সম্প্রদায় কোনো বোঝা নয়। তারা শহর ও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে শহর কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সব আইনি পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান তিনি। নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে শিকাগো ও সিয়াটলসহ আরও কয়েকটি স্থানীয় সরকার এই আইনি চ্যালেঞ্জে যুক্ত হয়েছে। তাদের মূল উদ্বেগ হলো, নতুন নীতি কার্যকর হলে বৈধভাবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্য অভিবাসীরাও প্রয়োজনীয় সুবিধা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সরকার অবশ্য নতুন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকারের বক্তব্য, অভিবাসন আইনে আবেদনকারীদের ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার সম্ভাবনা বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং নতুন বিধি সেই আইনগত কাঠামোকে আরও কার্যকরভাবে প্রয়োগ করবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা জানিয়েছে, অভিবাসীদের নিজেদের আর্থিকভাবে সক্ষম থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কোনো আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় শুধু একটি সরকারি সুবিধা গ্রহণের তথ্য নয়, বরং তার বয়স, স্বাস্থ্য, আয়, সম্পদ, পারিবারিক পরিস্থিতি, চাকরি এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি দীর্ঘদিনের। তবে এর ব্যাখ্যা ও প্রয়োগ নিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনের সময়ে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৯ সালে এই নীতির পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে বাইডেন প্রশাসন ২০২২ সালে সেই বিস্তৃত বিধান বাতিল করে তুলনামূলকভাবে সীমিত কাঠামো চালু করে। নতুন বিধি কার্যকর হওয়ার আগেই নিউইয়র্কসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকারের করা মামলার কারণে বিষয়টি আবার আদালতের সামনে এসেছে। এখন আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নীতি নির্ধারিত সময়ে কার্যকর হবে কি না এবং এর কতটা অংশ বাস্তবে প্রয়োগ করা যাবে। নিউইয়র্ক সিটির মেয়রের অভিবাসনবিষয়ক কার্যালয় অভিবাসন-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রয়োজন এমন বাসিন্দাদের নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তার জন্য শহরের হটলাইনে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
একজন নারীকে আগুনের হাত থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের মুখ ও শরীরের গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপির স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী প্যাট্রিক হার্ডিসনের। ১৪ বছর ধরে একের পর এক অস্ত্রোপচারের পরও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি তিনি। শেষ পর্যন্ত ২০১৫ সালে নিউইয়র্কে ২৬ ঘণ্টার এক জটিল মুখ প্রতিস্থাপন অস্ত্রোপচার বদলে দেয় তার জীবন। ২০০১ সালের সেপ্টেম্বর। মিসিসিপির সেনাটোবিয়ায় একটি জ্বলন্ত বাড়িতে আটকে থাকা এক নারীকে খুঁজতে ঢুকেছিলেন হার্ডিসন। তিনি তখন স্বেচ্ছাসেবী দমকলকর্মী। উদ্ধার অভিযানের সময় হঠাৎ ভবনের ছাদ ধসে পড়ে তার ওপর। কোনোভাবে একটি জানালা দিয়ে বেরিয়ে আসতে পারলেও ততক্ষণে তার মাথা ও শরীরের ওপরের অংশে আগুন ধরে যায়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনায় তার চোখের পাতা, কান, ঠোঁট এবং নাকের বড় একটি অংশ নষ্ট হয়ে যায়। মাথা থেকে বুক পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় তৈরি হয় গুরুতর ক্ষত ও দাগ। পরবর্তী ১৪ বছরে স্বাভাবিক চেহারা ও শরীরের কার্যক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে তাকে ৭১টি পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কিন্তু এত চিকিৎসার পরও তিনি স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে বা পলক ফেলতে পারতেন না। চোখের পাতা না থাকায় তার চোখ সবসময় খোলা থাকত। এতে চোখের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ও পরিষ্কার রাখার প্রক্রিয়া ব্যাহত হতো এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। খাওয়াদাওয়া ও হাসার মতো স্বাভাবিক কাজও তার জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছিল। বাইরে বের হলে মানুষের দৃষ্টিও তার দৈনন্দিন জীবনের একটি বড় অস্বস্তির কারণ ছিল। ২০১৫ সালে তার সামনে আসে চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি অভূতপূর্ব সুযোগ। নিউইয়র্কের এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন মেডিকেল সেন্টারের প্লাস্টিক সার্জন এডুয়ার্ডো রদ্রিগেজের নেতৃত্বে ১০০ জনের বেশি চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য চিকিৎসাকর্মী দীর্ঘ প্রস্তুতির পর হার্ডিসনের মুখ প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন। ১৪ আগস্ট ২০১৫ সকালে শুরু হয় অস্ত্রোপচার। প্রায় ২৬ ঘণ্টা ধরে দুইটি পাশাপাশি অপারেশন কক্ষে চলে জটিল চিকিৎসা প্রক্রিয়া। হার্ডিসনের ক্ষতিগ্রস্ত মুখ ও মাথার টিস্যু সরিয়ে সেখানে একজন মৃতদাতার মুখ, মাথার ত্বক, কান, নাকের কাঠামো, ঠোঁট এবং চোখের পাতা প্রতিস্থাপন করা হয়। চোখের পাতা ও পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি প্রতিস্থাপন ছিল এই অস্ত্রোপচারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক। হার্ডিসনের নতুন মুখের দাতা ছিলেন ২৬ বছর বয়সী ডেভিড রোডবগ। সাইক্লিং দুর্ঘটনায় গুরুতর মাথায় আঘাত পাওয়ার পর তিনি মস্তিষ্ক-মৃত অবস্থায় ছিলেন। তিনি নিবন্ধিত অঙ্গদাতা ছিলেন। তার পরিবার মুখসহ অন্যান্য অঙ্গ দানের সিদ্ধান্ত নেয়। রোডবগের হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও যকৃতও অন্য রোগীদের প্রতিস্থাপনের জন্য দান করা হয়েছিল। রোডবগের মুখ হার্ডিসনের সঙ্গে শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও টিস্যুর সামঞ্জস্যের দিক থেকে ভালোভাবে মিলে যায়। চিকিৎসকেরা এই মিলকে অস্ত্রোপচারের সাফল্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করেছিলেন। মুখ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে শুধু রক্তের গ্রুপ বা টিস্যুর মিল নয়, মুখের গঠন ও অন্যান্য শারীরিক বৈশিষ্ট্যও বিবেচনায় নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকেরা ত্রিমাত্রিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। দাতা ও গ্রহীতার মাথার সিটি স্ক্যানের ভিত্তিতে বিশেষ কাটিং গাইড তৈরি করা হয়েছিল, যাতে রোডবগের মুখের হাড় হার্ডিসনের মুখের কাঠামোর সঙ্গে যথাসম্ভব নিখুঁতভাবে বসানো যায়। মুখের হাড়কে নির্দিষ্ট অবস্থানে ধরে রাখতে বিশেষ ধাতব প্লেট ও স্ক্রুও ব্যবহার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষ হওয়ার পর শুরু হয় আরও কঠিন পুনর্বাসন। হার্ডিসনকে নতুন মুখের মাধ্যমে কথা বলা, গিলতে পারা এবং বিভিন্ন মুখের পেশি ব্যবহার করার জন্য আবার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি নতুন চোখের পাতা ব্যবহার করে পলক ফেলতে সক্ষম হন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কথা বলা ও শক্ত খাবার খাওয়ার ক্ষমতাও ফিরে আসতে শুরু করে। প্রতিস্থাপনের সবচেয়ে বড় সাফল্যগুলোর একটি ছিল তার চোখ বন্ধ ও পলক ফেলার ক্ষমতা ফিরে পাওয়া। এর ফলে চোখ আর্দ্র রাখা ও পরিষ্কার করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া পুনরায় কাজ করতে শুরু করে। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা জানান, এর মাধ্যমে তার দৃষ্টিশক্তি হারানোর যে ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, তা আর আগের মতো ছিল না। এক বছর পর হার্ডিসন স্বাভাবিকভাবে চোখ বন্ধ করতে, বিভিন্ন মুখের অভিব্যক্তি তৈরি করতে এবং ব্যথা ছাড়াই খেতে পারছিলেন। তিনি গাড়ি চালানোর সক্ষমতাও ফিরে পান। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে প্রতিস্থাপনের পর শরীর নতুন মুখের টিস্যু প্রত্যাখ্যান করবে কি না, সেটিও ছিল বড় উদ্বেগ। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের প্রথম বছর তিনি বড় ধরনের প্রত্যাখ্যানজনিত জটিলতার মুখে পড়েননি। চিকিৎসকেরা মনে করেন, দাতার সঙ্গে ভালো টিস্যু মিল এবং বিশেষ ওষুধ ব্যবহারের কারণে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছিল। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের তথ্য অনুযায়ী, এই অস্ত্রোপচার সে সময় পর্যন্ত করা সবচেয়ে বিস্তৃত মুখ প্রতিস্থাপন ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল প্রথমবারের মতো কোনো প্রথম সারির জরুরি সেবাকর্মীর মুখ প্রতিস্থাপন। মুখের পাশাপাশি চোখের পাতা, পলক ফেলার সঙ্গে যুক্ত পেশি, কান এবং নির্দিষ্ট মুখের হাড় প্রতিস্থাপন এই অস্ত্রোপচারকে বিশেষ করে তুলেছিল। হার্ডিসনের জন্য এই অস্ত্রোপচার শুধু চেহারা পরিবর্তনের বিষয় ছিল না। দুর্ঘটনার পর যে কাজগুলো তিনি বছরের পর বছর করতে পারেননি, সেগুলোর অনেকটাই আবার সম্ভব হয়। চোখ বন্ধ করে ঘুমানো, পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে সময় কাটানো, গাড়ি চালানো এবং মানুষের সামনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করার সুযোগ ফিরে আসে তার জীবনে। এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পরে তিনি পরিবারের সঙ্গে ছুটিতে গিয়ে সাঁতারও কাটেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে হার্ডিসনের ঘটনা মুখ প্রতিস্থাপনের সম্ভাবনাকে নতুন মাত্রা দেয়। একই সঙ্গে এটি দেখায়, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে একজন মানুষের মৃত্যুর পর অন্য একজনের জীবনে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারে। ডেভিড রোডবগের পরিবার তার অঙ্গ ও মুখ দানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় হার্ডিসন আবারও স্বাভাবিক জীবনের অনেকটা ফিরে পাওয়ার সুযোগ পান। হার্ডিসনের অস্ত্রোপচারের পর মুখ প্রতিস্থাপন চিকিৎসাবিজ্ঞানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আরও এগিয়েছে। তবে এটি এখনো অত্যন্ত জটিল ও বিরল চিকিৎসা পদ্ধতি। দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ সেবন, শরীরের প্রতিস্থাপিত টিস্যু প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি এবং দীর্ঘ পুনর্বাসন প্রক্রিয়া এর সঙ্গে জড়িত। হার্ডিসনের ক্ষেত্রে সফল ফলাফল চিকিৎসকদের এই পদ্ধতি নিয়ে আরও গবেষণা ও উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা দিয়েছে। সূত্র: এনওয়াইইউ ল্যাঙ্গোন হেলথ, নিউইয়র্ক।
চার বছর বয়স পর্যন্ত কথা বলতে পারেননি ফক্স রাইকার। ওই বয়সে তার অটিজম স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার শনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন, ভবিষ্যতে তিনি স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট অনিশ্চয়তা রয়েছে। কিন্তু সেই আশঙ্কাকে ভবিষ্যতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে মেনে নেয়নি তার পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা ফক্সের শৈশব কেটেছে যোগাযোগ ও সামাজিক দক্ষতা শেখার দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। তিনি চারটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়েছেন এবং প্রায় এক দশক বিভিন্ন ধরনের থেরাপি নিয়েছেন। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলায় কথোপকথন শুরু করা, অন্যের মুখের অভিব্যক্তি বোঝা এবং সামাজিক পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, এসব বিষয় আলাদাভাবে অনুশীলন করতে হয়েছে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ফক্স শুধু যোগাযোগের দক্ষতাই অর্জন করেননি, একাডেমিক ক্ষেত্রেও নিজের সক্ষমতার প্রমাণ দেন। সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং সম্মানসহ পড়াশোনা শেষ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি ২০২২ সালে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক হন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অটিজম সহায়তা কর্মসূচির প্রথম শিক্ষার্থী হিসেবে চিকিৎসাবিদ্যায় ভর্তি হওয়ার সুযোগ পান। স্নাতক শেষ করার পর ফক্স পেনসিলভানিয়ার পাওলি হাসপাতালে জরুরি বিভাগের প্রযুক্তিবিদ হিসেবে কাজ করেন। সেখানে গুরুতর অসুস্থ বা জরুরি অবস্থায় আসা রোগীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার চিকিৎসক হওয়ার আগ্রহকে আরও দৃঢ় করে। ২০২৩ সালে সিবিএস ফিলাডেলফিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফক্স জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকেরা একসময় মনে করেছিলেন তিনি হয়তো স্বাবলম্বীভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন না। কিন্তু হাসপাতালের সহকর্মীরা পরে তার কাজের প্রশংসা করেন। পাওলি হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক স্টুয়ার্ট ব্রিল্যান্ট জানিয়েছিলেন, ফক্সকে দেখে কর্মক্ষেত্রে তার অটিজম বোঝার উপায় ছিল না। তিনি ফক্সকে পরিশ্রমী, দায়িত্বশীল ও সহানুভূতিশীল কর্মী হিসেবে বর্ণনা করেন। চিকিৎসাবিদ্যায় পড়ার সুযোগ পাওয়ার পরও ফক্স নিজের অটিজমের বিষয়টি আড়াল করেননি। বরং মেডিকেল স্কুলের আবেদনে তিনি বিষয়টি উল্লেখ করেন। তার মতে, এটি তার জীবনের একটি অংশ এবং অটিজমের সঙ্গে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের বুঝতে তাকে আলাদা দৃষ্টিভঙ্গি দিতে পারে। বর্তমানে ফক্স ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিনে চিকিৎসাবিদ্যা পড়ছেন। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির প্রকাশিত এক লেখায় তিনি নিজেই তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, অটিজম তার জন্য শুধু একটি চ্যালেঞ্জ নয়, রোগীদের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে একটি ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতাও তৈরি করেছে। বিশেষ করে অটিজমে আক্রান্ত রোগীরা জরুরি বিভাগে এলে তাদের আচরণ ও প্রয়োজন বুঝতে নিজের অভিজ্ঞতা তাকে সহায়তা করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ফক্স আরও জানান, সামাজিক যোগাযোগের কিছু বিষয় তার জন্য এখনো সচেতনভাবে পরিচালনা করতে হয়। চোখে চোখ রাখা, অন্যের অঙ্গভঙ্গি বোঝা কিংবা কথার অন্তর্নিহিত অর্থ ধরার মতো বিষয়গুলো তিনি দীর্ঘদিনের অনুশীলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করেছেন। কখনো কখনো কোনো কথাকে আক্ষরিক অর্থে নেওয়ার কারণে ভুল বোঝাবুঝিও হতে পারে। তবে এসব অভিজ্ঞতাই তাকে অন্য মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও সচেতন করেছে। চিকিৎসাবিদ্যায় তার যাত্রা এখন শেষ পর্যায়ের দিকে। তার সাম্প্রতিক পেশাগত তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে চিকিৎসাবিদ্যার চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফক্সের গল্পটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের ঘটনা নয়, অটিজম নিয়ে প্রচলিত কিছু ধারণাকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। অটিজমে আক্রান্ত প্রত্যেক ব্যক্তির সক্ষমতা, প্রয়োজন ও বিকাশের পথ এক নয়। তাই শৈশবের একটি নির্ণয় দিয়ে কোনো শিশুর ভবিষ্যৎ কতটা দূর যেতে পারবে, তা আগেভাগে নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করার অন্যতম উদ্দেশ্যও সেটিই বলে জানিয়েছেন ফক্স। তার মতে, অটিজম বা অন্য কোনো স্নায়ুবৈচিত্র্য একজন মানুষের পরিচয়ের একটি অংশ হতে পারে, কিন্তু সেটিই তার সক্ষমতার পুরো পরিচয় নয়। চিকিৎসক হওয়ার পথে এগিয়ে গিয়ে তিনি এখন এমন একটি পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে নিজের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে রোগীদের আরও ভালোভাবে বুঝতে কাজে লাগাতে চান। চার বছর বয়সে যাকে নিয়ে স্বাবলম্বী জীবনযাপন সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল, সেই ফক্স রাইকার এখন নিজের চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি। তার যাত্রা দেখাচ্ছে, একটি শিশুর ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা বা আশঙ্কা সবসময় তার শেষ পরিণতি নির্ধারণ করে না। সূত্র: ফক্স রাইকারের লেখা, ফিলাডেলফিয়া কলেজ অব অস্টিওপ্যাথিক মেডিসিন, সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও সেন্ট জোসেফস ইউনিভার্সিটি।
রাজনীতি
১১ দলের নেতারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে আমাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছেন: কর্নেল অলি
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreতুরস্কের হাতায় প্রদেশের ইস্কেন্দেরুনে অ্যাসিড হামলায় মুখ ও ডান চোখের গুরুতর ক্ষতির শিকার হয়েছিলেন বারফিন ওজেক। হামলার প্রায় দুই বছর পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরে তিনি সেই সাবেক প্রেমিক কাসি ওজান চেলতিককেই বিয়ে করেন, যিনি তার মুখে অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনায় ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড পেয়েছিলেন। বিয়ের খবর প্রকাশ্যে আসার পর তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশে ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০১৯ সালের ১৫ জানুয়ারি। ১৯ বছর বয়সী বারফিন একটি কোচিং সেন্টার থেকে বাড়ি ফেরার সময় তার কিছুদিন আগে বিচ্ছেদ হওয়া প্রেমিক কাসিম ওজান চেলতিকের অ্যাসিড হামলার শিকার হন। হামলায় তার মুখে গুরুতর দগ্ধের চিহ্ন তৈরি হয়। চিকিৎসার পরও মুখে স্থায়ী ক্ষতচিহ্ন থেকে যায় এবং তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। চোখের পাতা ও ঠোঁটেও পরবর্তী সময়ে অস্ত্রোপচার করা হয়। হামলার পর চেলতিককে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে আহত করার অপরাধে ১৩ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কিন্তু মামলার পরবর্তী পর্যায়ে বারফিন তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেন। ২০২০ সালের এপ্রিলে তিনি আদালতে এ বিষয়ে আবেদন করেছিলেন। পরে নিজের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত হওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন এবং সে সময় তিনি গভীর মানসিক ট্রমার মধ্যে ছিলেন বলে তুরস্কের সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়। এরপর মামলার শেষ পর্যায়ে চেলতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। বারফিন ও চেলতিকের মধ্যে আবার সম্পর্ক তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর হাতায়ের কুমলু জেলার একটি বিবাহ নিবন্ধন কার্যালয়ে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। সেই বিয়ের খবর ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ঘটনার সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল, যে ব্যক্তির হামলায় বারফিন গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন এবং দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছিলেন, পরবর্তী সময়ে তাকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নেন। এ সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান দেখানোর কথা বলেন, আবার অনেকে এমন সম্পর্কের পেছনে মানসিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বারফিনের বাবা ইয়াশার ওজেকও সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন যে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিয়ের খবর জানতে পেরেছিলেন এবং এই বিয়েতে তিনি সম্মতি দেননি। গার্হস্থ্য সহিংসতার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত সবসময় সরল বা তাৎক্ষণিক হয় না। ভয়, মানসিক আঘাত, নির্ভরশীলতা, সামাজিক চাপ, অপরাধীর ওপর আবেগগত টান এবং সম্পর্কের জটিলতা একজন ভুক্তভোগীর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই বাইরে থেকে কোনো সিদ্ধান্তকে সহজভাবে বিচার না করে সহিংসতার শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও প্রয়োজনীয় সহায়তাকে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন বিশেষজ্ঞরা। বারফিনের ঘটনাটি একই সঙ্গে অ্যাসিড সহিংসতার ভয়াবহতাও সামনে আনে। অ্যাসিড হামলার শারীরিক ক্ষতি অনেক সময় চিকিৎসার পরও দীর্ঘস্থায়ী হয়। মুখের দাগ, দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক চাপের মধ্য দিয়েও যেতে হতে পারে। বারফিনের ক্ষেত্রেও হামলার পর মুখের গুরুতর ক্ষতি ও ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারানোর বিষয়টি তুরস্কের একাধিক সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২১ সালে বিয়ের খবর প্রকাশের পর বারফিনের গল্প আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। তবে ঘটনাটিকে শুধু একটি বিস্ময়কর বিয়ের গল্প হিসেবে দেখলে এর মূল বাস্তবতা আড়ালে পড়ে যায়। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি গুরুতর অ্যাসিড হামলা, দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতি, একটি ফৌজদারি মামলা এবং পরবর্তী সময়ে ভুক্তভোগীর নেওয়া অত্যন্ত বিতর্কিত ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। ঘটনাটি গার্হস্থ্য সহিংসতার পর ভুক্তভোগীদের সম্পর্ক, নিরাপত্তা ও মানসিক অবস্থাকে আরও গভীরভাবে বোঝার প্রয়োজনীয়তার কথাও সামনে আনে।
রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা জোরদার করতে লিথুয়ানিয়ায় জার্মান সেনা মোতায়েন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জার্মানি। প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্তোরিয়াসের নির্দেশে চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ প্রথম দফায় কয়েক শ সেনাকে বাধ্যতামূলকভাবে এই দায়িত্বে পাঠানো হতে পারে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির প্যানজারব্রিগেড ৪৫ ‘লিটাউয়েন’ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এই সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে। জার্মান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ব্রিগেডটির প্রয়োজনীয় পদগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে স্বেচ্ছাসেবী সেনাদের মাধ্যমে পূরণ হয়েছে। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে এখনও জনবলের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও লজিস্টিকস কর্মীর মতো দক্ষ জনবলের সংকট রয়েছে। এই ঘাটতি পূরণে আগে স্বেচ্ছাসেবার ওপর জোর দেওয়া হলেও এখন প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জার্মান সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ব্রিগেডটির প্রায় ২০ শতাংশ পদ এমন বাধ্যতামূলক নিয়োগের আওতায় পড়তে পারে। তবে জার্মান সেনাবাহিনী সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই হার ১০ শতাংশের কাছাকাছি নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির এই সামরিক উপস্থিতি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জার্মানি ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ লিথুয়ানিয়ায় প্রায় ৪ হাজার ৮০০ সেনা এবং প্রায় ২০০ বেসামরিক কর্মী নিয়ে একটি স্থায়ী সামরিক ব্রিগেড গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। পুরো ব্রিগেডের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৫ হাজারে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। রাশিয়ার ইউক্রেন যুদ্ধের পর ন্যাটো পূর্বাঞ্চলীয় সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করছে। বিশেষ করে লিথুয়ানিয়া, লাটভিয়া, এস্তোনিয়া ও পোল্যান্ডকে ঘিরে ন্যাটোর সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে। লিথুয়ানিয়ায় জার্মানির নেতৃত্বে ন্যাটোর বহুজাতিক সামরিক উপস্থিতি ২০১৭ সাল থেকেই রয়েছে। ২০২৩ সালের ন্যাটো ভিলনিয়াস সম্মেলনের পর পূর্বাঞ্চলীয় প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে জার্মানি সেখানে পূর্ণাঙ্গ একটি ব্রিগেড মোতায়েনের উদ্যোগ নেয়। ন্যাটো জানিয়েছে, জার্মান ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। এতে ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, আর্টিলারি ও এয়ার ডিফেন্স সক্ষমতা রয়েছে। ২০২৬ সালের জুনে ব্রিগেডটি লিথুয়ানিয়ায় বড় পরিসরের সামরিক মহড়াতেও অংশ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধকে ঘিরে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত রোববার লিথুয়ানিয়ার আকাশে সন্দেহজনক ড্রোন দেখা যাওয়ার পর ভিলনিয়াস বিমানবন্দর সাময়িকভাবে বন্ধ করে ন্যাটোর একটি যুদ্ধবিমান পাঠানো হয়েছিল। পরে সেটি ড্রোন নয়, পাখির ঝাঁক বলে নিশ্চিত করা হয়। এর কয়েক দিন আগে ইউক্রেন-পোল্যান্ড সীমান্তের কাছে রুশ ড্রোন হামলার ঘটনাও ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করে। জার্মান সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, লিথুয়ানিয়ায় পূর্ণাঙ্গ জার্মান ব্রিগেড ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সম্পূর্ণভাবে কার্যক্ষম হওয়ার কথা। এর মাধ্যমে রাশিয়ার কাছাকাছি ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলে জার্মানির স্থায়ী সামরিক উপস্থিতি আরও বড় আকার নেবে।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের ৩৫ বছর বয়সী লুক উডহাউসের কাছে দাঁতের ব্যথাটি শুরুতে তেমন গুরুতর কিছু মনে হয়নি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই ব্যথার সঙ্গে জ্বর, কাঁপুনি, প্রচণ্ড ঘাম, বুকে চাপ এবং মাথায় তীব্র জ্বালাপোড়া শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত হাসপাতালে গিয়ে জানা যায়, তার শরীরে সেপসিস হয়েছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে হৃদযন্ত্রের ভালভ পর্যন্ত। জীবন বাঁচাতে তাকে ওপেন হার্ট সার্জারি করে ক্ষতিগ্রস্ত ভালভের বদলে মেকানিক্যাল ভালভ বসাতে হয়। কুইন্সল্যান্ডের মোরেটন বে এলাকার বাসিন্দা লুকের কোনো বড় ধরনের আগের স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না। একটি বৃহস্পতিবার কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় তিনি দাঁতে ব্যথা অনুভব করেন। পরে বিকেলের দিকে অসুস্থ লাগার সঙ্গে জ্বরও আসে। বিষয়টিকে তিনি সাধারণ ভাইরাল অসুস্থতা ভেবে তেমন গুরুত্ব দেননি। কুইন্সল্যান্ড হেলথকে তিনি জানান, তার ধারণা ছিল ঘুমিয়ে নিলে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু ওই রাতেই পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়। প্রচণ্ড কাঁপুনি শুরু হয় এবং এত বেশি ঘাম হয় যে সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি দেখেন বিছানা ভিজে গেছে। এরপর রবিবার তার মাথায় একটানা তীব্র জ্বালাপোড়া এবং বুকে চাপ অনুভূত হতে থাকে। তখন তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি আর সাধারণ অসুস্থতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। লুকের স্ত্রী জেনিফার তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। রেডক্লিফ হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তার হৃদযন্ত্রের চারপাশে প্রদাহের লক্ষণ দেখতে পান। পরে তাকে জানানো হয়, তার রক্তে সংক্রমণ হয়েছে এবং তিনি সেপসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর সংক্রমণজনিত জটিলতায় তার ইনফেকটিভ এন্ডোকার্ডাইটিস ধরা পড়ে। এটি হৃদযন্ত্রের ভেতরের আবরণ ও ভালভে হওয়া গুরুতর সংক্রমণ, যা দ্রুত চিকিৎসা না পেলে জীবনহানির কারণ হতে পারে। লুকের ক্ষেত্রে সংক্রমণ এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে তার হৃদযন্ত্রের একটি ভালভ নষ্ট হয়ে যায়। ব্রিসবেনের দ্য প্রিন্স চার্লস হাসপাতালে চিকিৎসকেরা তাকে জানান, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে তার আর বেশি দিন বেঁচে থাকা সম্ভব নাও হতে পারে। সেই সপ্তাহেই তার ওপেন হার্ট সার্জারি করা হয়। সংক্রমিত ভালভটি অপসারণ করে সেখানে একটি মেকানিক্যাল ভালভ বসানো হয়। অস্ত্রোপচারের আগে লুকের স্ত্রী জেনিফারের জন্য সময়টি ছিল অত্যন্ত উদ্বেগের। চিকিৎসকেরা তার মস্তিষ্ক, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। জেনিফার পরিচিত কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গেও যোগাযোগ করে জানতে চেয়েছিলেন, তার স্বামী শেষ পর্যন্ত বাড়ি ফিরতে পারবেন কি না। কুইন্সল্যান্ড হেলথ জানিয়েছে, অস্ট্রেলিয়ায় প্রতি বছর ৫৫ হাজারের বেশি মানুষ সেপসিসে আক্রান্ত হন এবং ৮ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এ কারণে। কুইন্সল্যান্ডের সরকারি হাসপাতালগুলোতেই বছরে ১৮ হাজারের বেশি রোগী সেপসিসের চিকিৎসা নেন। সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরের প্রতিক্রিয়া যখন নিজের সুস্থ টিস্যু ও অঙ্গের ক্ষতি করতে শুরু করে, তখন সেপসিস দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি কিডনি বিকল হওয়া, লাইফ সাপোর্টের প্রয়োজন, অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। লুকের অস্ত্রোপচার সফল হয়। তবে এক বছর পরও তাকে নতুন কিছু দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হচ্ছে। মেকানিক্যাল হার্ট ভালভ নিয়ে তাকে ভবিষ্যতেও নিয়মিত যত্ন ও চিকিৎসা অনুসরণ করতে হবে। তিনি জানান, এই অভিজ্ঞতার পর সাধারণ জীবনের ছোট ছোট বিষয়, যেমন গিটার বাজানো বা ছবি আঁকার মতো কাজও তার কাছে অনেক বেশি মূল্যবান হয়ে উঠেছে। নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অন্যদের সতর্ক করতে চান লুক। তার মতে, গুরুতর অসুস্থতা সব সময় শুরুতেই স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। জ্বর, কাঁপুনি, দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট, দ্রুত হৃদস্পন্দন, প্রস্রাব কমে যাওয়া, বমি, অস্বাভাবিক ক্লান্তি, বিভ্রান্তি কিংবা অস্বাভাবিক ব্যথার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কুইন্সল্যান্ড হেলথের তথ্য অনুযায়ী, সেপসিসের একটি নির্দিষ্ট উপসর্গ নেই। তাই সংক্রমণের সঙ্গে শরীরের অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে বিষয়টিকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। লুকের নিজের অভিজ্ঞতার পরামর্শও একই, শরীরের অস্বাভাবিক সংকেতকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের কাছে সেপসিসের সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে হবে। দাঁতের ব্যথা থেকে শুরু হওয়া এই ঘটনা লুকের জন্য শুধু একটি জরুরি চিকিৎসা পরিস্থিতিই তৈরি করেনি, বরং একটি সাধারণ উপসর্গও কখনো কখনো গুরুতর সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে, সেই সতর্কতাও সামনে এনেছে। এক বছর পর সুস্থ হয়ে উঠলেও হৃদযন্ত্রে মেকানিক্যাল ভালভ নিয়ে তাকে বাকি জীবন সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে।
ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে গরুর মাংসের নামে শূকরের মাংস বিক্রির দায়ে এক কসাইকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দেশটির সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই কসাইয়ের কাছ থেকে ৭৫ কেজি শূকরের মাংস উদ্ধার করা হয়েছিল। তিনি মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করছিলেন বলে আদালতে বিষয়টি উঠে এসেছে। সোমবার নাজাফের ফৌজদারি আদালত ওই ব্যক্তিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। ইরাকের সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এক বিবৃতিতে জানায়, মানবদেহের জন্য অনুপযোগী মাংস বিক্রির দায়ে তাকে এই সাজা দেওয়া হয়েছে। আদালত ১৯৯৮ সালের একটি আইনের আওতায় এই রায় দিয়েছেন। ওই আইনে কুকুর, গাধা কিংবা অন্য কোনো প্রাণীর এমন মাংস বিক্রি অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা মানুষের খাওয়ার উপযোগী নয়। আদালতের রায়ে মূলত মাংসটি মানুষের খাদ্য হিসেবে অনুপযোগী হওয়ার বিষয়টিকেই আইনি ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। ইরাকে শূকরের মাংস বিক্রি নিষিদ্ধ করার জন্য সরাসরি কোনো আইন নেই। দেশটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও সেখানে খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করেন। তবে মুসলিমদের জন্য শূকরের মাংস খাওয়া ইসলামে নিষিদ্ধ হওয়ায় দেশটির সামাজিক ও ধর্মীয় বাস্তবতায় বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নাজাফ ইরাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী। শহরটিতে শিয়া মুসলিমদের অন্যতম পবিত্র স্থাপনা ইমাম আলীর মাজার অবস্থিত। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মানুষ সেখানে ধর্মীয় সফরে আসেন। ফলে শহরের খাবারের মান ও নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের পাশাপাশি দর্শনার্থীদেরও উদ্বেগ রয়েছে। পুলিশ চলতি মাসে ওই কসাইকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তার কাছে বিপুল পরিমাণ শূকরের মাংস পাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মাংসটি গরুর মাংস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ইরাকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজারে মাংসের উৎস যাচাইয়ের বিষয়ে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। আবার অনেকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে রসিকতাও করেছেন এবং শূকরের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। নাজাফের বাসিন্দা আহমেদ আল-মানসুরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে রসিকতা করে বলেছেন, গত কয়েক বছরে তিনি গরু বা খাসির মাংসের চেয়ে বেশি শূকরের মাংস খেয়ে থাকতে পারেন। তিনি জানান, নিয়মিত যে কসাইয়ের কাছ থেকে মাংস কিনতেন, সেখান থেকেই তিনি প্রতারিত হয়েছেন। মানসুরির ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি ওই দোকান থেকে এক কেজি কিমা করা মাংস কিনেছিলেন। মাংসটির মান ভালো এবং বাজারদরের তুলনায় দাম কম হওয়ায় তিনি সেটিকে গরুর মাংস হিসেবেই ধরে নিয়েছিলেন। মাংস পছন্দ হওয়ায় তিনি পরে ওই কসাইয়ের দোকানে আরও নিয়মিত যাতায়াত শুরু করেন। পরে কসাইকে শূকরের মাংস বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করার খবর পেয়ে তিনি ও অন্য ক্রেতারা বিস্মিত হন। মানসুরি বলেন, তারা এতদিন যে মাংস কিনেছেন, সেটি আসলে কী ছিল তা জানতে পেরে বিষয়টি তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। ঘটনাটি খাদ্য বিক্রির ক্ষেত্রে পণ্যের পরিচয় ও মান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বও সামনে এনেছে। বিশেষ করে গরু, খাসি বা অন্যান্য মাংসের নামে ভিন্ন প্রাণীর মাংস বিক্রি করা হলে তা শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের বিষয় নয়, ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রশ্নও তৈরি করে। ইরাকি আদালতের এই রায় এমন এক সময়ে এলো, যখন নাজাফে ধর্মীয় পর্যটন ও তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। শহরের খাবারের বাজারে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে আসা মানুষেরও নির্ভরতা রয়েছে। তাই খাদ্যপণ্যের উৎস ও মান নিয়ে আস্থা বজায় রাখা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: দ্য নিউ আরব ও এএফপি।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার
ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে! গবেষণায় নতুন তথ্য
নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার
মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
আমেরিকায় গাড়ি মেরামতের দোকানে যাওয়ার আগে জানুন এই ৭ বিষয়, বাঁচবে বাড়তি খরচ
চীন-রাশিয়াকে চাপে রাখতে প্রথমবারের মতো মহাকাশে অস্ত্র রাখার কথা স্বীকার করল যুক্তরাষ্ট্র
কিছুতেই ভয় পেতে চান না নিউইয়র্কের জোডি স্মিথ, তাই অপসারণ করালেন মস্তিষ্কের বিশেষ অংশ
মর্টগেজ রেট বাড়ার শঙ্কা, বাড়ি কিনতে গিয়ে বাড়তি চাপে পরবেন ক্রেতারা
পেনসিলভানিয়ায় দুই গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষে বাংলাদেশি আবুল কালাম নিহত
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
ওজন কমানোর ইনজেকশনে বদলাচ্ছে খাবারের অভ্যাস, ব্যবসা হারাচ্ছে রেস্তোরাঁ
বামহাতিদের জন্য নয় আইফোন ডুও, নকশা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন ও বিতর্ক
‘ভালো ঘুম’ দেখালেও আসলে তা নাও হতে পারে, ট্র্যাকার নিয়ে গবেষণায় সতর্কতা
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম
বিদায়ের বার্তা দিয়েছিলেন আগেই, ইরানি ব্লগারের মৃ ত্যু দ ণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্য
বিমান ছাড়তে ৩০ মিনিট, হারাল ৩ লাখ রুপি—৩৫ মিনিটে ব্যাগ উদ্ধার করে সুনাম কুড়াল দিল্লি পুলিশ
সৌদি আরবে ১১ কোটি টন ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিক, বড় খনিজ সম্পদের সন্ধান
২০ বছর ধরে স্ত্রীর অজান্তে গুরুতর নি র্যাতনের অভিযোগ, ষাটোর্ধ্ব স্বামীর আদালতে স্বীকারোক্তি
১১ বছর কেমোথেরাপির পর জানলেন মস্তিষ্কে কখনো ক্যানসারই ছিল না
একইসাথে বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার ও কুরআনের হাফেজ জুবায়ের হোসাইন
প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হয়েও ঢাবির ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রত্যাখ্যান ছাত্রদলের তাহসিনের
ডাকসুর সংগ্রহশালায় ‘গো লাম আযমকে জু তাপে টার ছবি’ টানিয়ে প্রতিবাদ জানাল ছাত্র ফেডারেশন
নির্বাচনে হেরেও রাখলেন প্রতিশ্রুতি, রাবিতে ৭২৫টি গাছ দিলেন আরিফ