সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
বাঁয়ে ওপরে আবদুল এল-সায়েদ, নিচে বারাক ওবামা। ডানে মাইক জনসন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
মূল্যস্ফীতি থেকে ইরান যু দ্ধ, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ৫ কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন কিছুটা কঠিন হলেও, রিপাবলিকানদের এই বিশাল পরাজয়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত দুই বছরের শাসনকালের প্রতি জনগণের চরম প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   এই ভরাডুবির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকলেও সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় দেশজুড়ে ভোটারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি রেকর্ড ৬.৫২ ডলারে পৌঁছায়।   প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের পরিবার চরম বা মাঝারি আর্থিক কষ্টের মুখে পড়েছে এবং এর জন্য অর্ধেকেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের নীতিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন।   মূল্যবৃদ্ধির এই সংকটের পেছনে বড় একটি কারণ ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের জেরে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের কাছে এই যুদ্ধ মোটেও জনপ্রিয় হয়নি; এমনকি 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে আর কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, কট্টর রিপাবলিকানরাও একে সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হিসেবে দেখেছেন। জরিপ বলছে, প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোটার কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সংঘাতকে মূল নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করেছেন।   এর পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অজনপ্রিয়তাও রিপাবলিকানদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধের দায়ভার সরাসরি তার ওপর পড়ায় রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও তার সমর্থন কমতে থাকে। নিজের মেয়াদের ব্যর্থতাগুলো আড়াল করতে গিয়ে তিনি নিজেকেই প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হয়েছে।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের সুশৃঙ্খল নির্বাচনী প্রচারণাও তাদের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জেমস ট্যালারিকো, অ্যানি অ্যান্ড্রুজ, আবদুল এল-সায়েদ কিংবা জন ওসফের মতো প্রার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে অত্যন্ত সুচারুভাবে সামনে এনেছেন। এমনকি খোদ ট্রাম্পও ডেমোক্র্যাটদের কৌশলের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন।   এর পাশাপাশি, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ পুনরায় ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছে। অভিবাসন নীতি ও আইসিই (ICE)-এর প্রতি ক্ষোভের কারণে টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনগুলো এবং মিসিসিপির মতো কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন। ভোটারদের এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের বাস্তবমুখী কৌশলের কাছেই মূলত রিপাবলিকানদের এমন শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে।

১৭ মিনিট Ago
রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?
রিপাবলিকানদের পরাজয়ে কি থেমে গেল ট্রাম্পের ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়ের পর নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ৫ হাজার ডলারের চেক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি। নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫ হাজার ডলার করে দেওয়া হবে।   কিন্তু নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা দুই কক্ষেই জয় পাওয়ায় সেই প্রতিশ্রুতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।   গত ১০ সেপ্টেম্বর ডালাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচনবিষয়ক সম্মেলনে ট্রাম্প এই ঘোষণা দেন। তিনি অর্থ বিতরণের প্রস্তাবটির নাম দিয়েছিলেন ‘ট্রাম্প ডিভিডেন্ড’। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সাফল্য এবং আমদানি শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের মাধ্যমে নাগরিকদের এই অর্থ দেওয়া সম্ভব হবে। এমনকি নির্বাচনের আগে অক্টোবর মাসেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি একই প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।   কিন্তু গতকাল ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে সেই রাজনৈতিক হিসাব পাল্টে গেছে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট উভয় কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে যুক্ত প্রধান শর্তটি আর পূরণ হচ্ছে না। নির্বাচনের ফলাফলের পর এখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের ৫ হাজার ডলার পাওয়ার আশাও শেষ?   তবে বিষয়টি শুধু নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৪০ থেকে ২৪৫ মিলিয়ন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে প্রত্যেককে ৫ হাজার ডলার করে দিতে হলে সরকারের ব্যয় হতো প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। এত বিপুল অর্থের সংস্থান কীভাবে হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। ট্রাম্প শুল্ক থেকে পাওয়া রাজস্বের কথা বললেও বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই আয় দিয়ে এত বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণ করা সম্ভব নয়।   এ ছাড়া ট্রাম্পের এই ঘোষণাটি কোনো অনুমোদিত সরকারি অর্থ বিতরণ কর্মসূচি ছিল না। এ ধরনের অর্থ বিতরণের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন হতো। ডেমোক্র্যাটদের হাতে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ায় প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সম্ভাবনাও নেই বললেই চলে।   সব মিলিয়ে নির্বাচনের আগে ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের আকৃষ্ট করার যে রাজনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন ট্রাম্প, নির্বাচনের ফলাফলে তার ভবিষ্যৎ এখন বড় প্রশ্নের মুখে। আপাতত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ৫ হাজার ডলারের কোনো চেক আসছে এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে, রিপাবলিকানরা জিতলে যে ৫ হাজার ডলারের প্রতিশ্রুতি ছিল, দলটির পরাজয়ের পর সেই প্রতিশ্রুতির কী হবে?

৫৩ মিনিট Ago
কোভিড ত্রাণের দেড় লাখ ডলার আত্মসাৎ, ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে মার্কিন কলেজ শিক্ষিকা
কোভিড ত্রাণের দেড় লাখ ডলার আত্মসাৎ, ৩০ বছরের কারাদণ্ডের মুখে মার্কিন কলেজ শিক্ষিকা

যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের একটি কলেজের অধ্যাপক মহামারি চলাকালীন ফেডারেল সরকারের কোভিড ত্রাণ তহবিল থেকে জালিয়াতি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের কথা স্বীকার করেছেন। পামেলা হামফ্রে (৪৪) নামের ওই নারী ফেয়েটভিল টেকনিক্যাল কমিউনিটি কলেজে শিক্ষকতা করেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রশাসনের (এসবিএ) কাছে একটি ভুয়া ঋণ আবেদন জমা দিয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার (দেড় লাখ) হাতিয়ে নেন। ‘ওয়্যার ফ্রড’ বা তারবার্তায় জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের এই অপরাধে তার সর্বোচ্চ ৩০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, রবেসন কাউন্টির একটি ব্যবসার কথা উল্লেখ করে পামেলা 'ইকোনমিক ইনজুরি ডিজাস্টার লোন'-এর (EIDL) জন্য আবেদন করেছিলেন। ঋণ পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করতে তিনি ওই ব্যবসার মোট আয় এবং কর্মচারীর সংখ্যা নিয়ে মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন।   এসবিএ আবেদনটি অনুমোদন করার পর পুরো অর্থ তার নিয়ন্ত্রিত একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়। সম্প্রতি ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নর্থ ক্যারোলাইনার ইউএস ম্যাজিস্ট্রেট জজ রবার্ট বি. জোনস জুনিয়রের আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন। সাজার পাশাপাশি আদালত তাকে আত্মসাৎকৃত ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার ফেরত দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে।   করোনা মহামারির সময় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তার জন্য এসবিএ পেচেক প্রোটেকশন প্রোগ্রাম ও দুর্যোগকালীন ঋণ হিসেবে প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলার বিতরণ করেছিল। তবে ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, এর মধ্যে একটি বিশাল অংকের অর্থ (প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার) প্রতারকদের হাতে চলে যায়।   পামেলার মামলাটি মূলত সেই প্রতারকদের ধরতে চালানো চলমান অভিযানেরই একটি অংশ। এই বিষয়ে নর্থ ক্যারোলাইনার ইউএস অ্যাটর্নি এলিস বয়েল কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, "করদাতাদের অর্থ যারা চুরি করবে, তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে এবং জেলের ভেতরে বসেই তাদের সেই অর্থ ফেরত দিতে হবে। প্রতারকরা কখনোই জয়ী হতে পারে না"।

১ ঘন্টা Ago
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি, প্রথম চেকড ব্যাগের ফি বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ ডলার

মার্কিন এয়ারলাইন্স কোম্পানি জেটব্লু তাদের পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানির বাড়তি দাম সামাল দিতে চেকড ব্যাগেজ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এই ফি বাড়াল নিউইয়র্কের কুইন্স-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে গত মার্চ মাসে তারা ব্যাগেজ ফি ৯ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ ইকোনমি ফ্লাইটের যাত্রীদের প্রথম চেকড ব্যাগের জন্য অফ-পিক বা সাধারণ সময়ে ৫০ ডলার (আগে ছিল ৩৯ ডলার) এবং পিক বা ব্যস্ত সময়ে ৫৫ ডলার (আগে ছিল ৪৯ ডলার) ফি গুনতে হবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।   সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেটব্লু জানিয়েছে, যাত্রীদের বেস ফেয়ার প্রতিযোগিতামূলক রাখতে এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনে ব্যাগ নেওয়ার স্বাধীনতা দিতেই এই ফি বাড়ানো হয়েছে। তবে যাত্রীরা যদি ফ্লাইটের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে ব্যাগেজ যুক্ত করেন, তবে প্রথম ব্যাগের ওপর ১৫ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাবেন।   এই বাড়তি খরচের হাত থেকে রেহাই পাবেন প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট কার্ডধারী ও বিশেষ সদস্যরা। জেটব্লু প্লাস, বিজনেস এবং প্রিমিয়ার কার্ডধারীরা নিজেদের ও তাদের তিন জন ভ্রমণসঙ্গীর জন্য একটি করে ব্যাগ বিনা মূল্যে চেক ইন করতে পারবেন। পাশাপাশি ট্রুব্লু মোজাইক সদস্যরা একটি এবং মোজাইক ২, ৩ ও ৪ সদস্যরা বিনা মূল্যে দুটি চেকড ব্যাগের সুবিধা পাবেন।   ব্যাগেজ ফি বাড়ানোর এই মিছিলে জেটব্লু অবশ্য একা নয়; গত এক বছরে জ্বালানির অস্থিতিশীল বাজারের কারণে ইউনাইটেড, ডেল্টা এবং সাউথওয়েস্টের মতো এয়ারলাইন্সগুলোও তাদের ফি বাড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের আগে এর দাম ছিল প্রতি গ্যালন ২.৩৯ ডলার, যা বর্তমানে ৪.৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   তবে ট্রাভেল বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম কমলেও বর্ধিত এই ব্যাগেজ ফি সম্ভবত আর কমানো হবে না।   সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা পুনর্গঠনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে জেটব্লু। চলতি মাসেই তারা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 'ভার্জিন ভয়েজেস'-এর সঙ্গে 'ডু নট ডিস্টার্ব' নামের একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যেখানে দুই জনের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২,৭৫০ ডলার। অন্যদিকে, নিজেদের ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়াতে গত জুনে নেওয়ার্ক ও লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে নিজেদের প্রধান কার্যক্রম গুটিয়ে ফ্লোরিডায় সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।   তবে এসবের বাইরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চালিয়ে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে টিকিটের দাম নির্ধারণ বা 'সার্ভেইল্যান্স প্রাইসিং' করার অভিযোগে সম্প্রতি এয়ারলাইন্সটির বিরুদ্ধে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সাইদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এল-সাইদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৩১ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্স পেয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৯৮ হাজার ১৬৩।   ডেটলাইন ডেট্রয়েটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। গণনায় এল-সাইদ পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৫৪ মিনিটের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এল-সাইদের সমর্থন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়। অর্থাৎ ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটের হারেও পরিবর্তন আসছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের যেমন জোর প্রচেষ্টা রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের লক্ষ্য আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া।   তবে প্রাথমিক ফলাফলে এল-সাইদ এগিয়ে থাকলেও এখনই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই। ভোট গণনা চলমান রয়েছে এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ২২:৩৯
মূল্যস্ফীতি থেকে ইরান যু দ্ধ, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের ৫ কারণ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়ে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচন কিছুটা কঠিন হলেও, রিপাবলিকানদের এই বিশাল পরাজয়কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত দুই বছরের শাসনকালের প্রতি জনগণের চরম প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   এই ভরাডুবির পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ থাকলেও সবচেয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়। জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ায় দেশজুড়ে ভোটারদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা গেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি ৩.৭ শতাংশে দাঁড়ায় এবং ডিজেলের দাম গ্যালনপ্রতি রেকর্ড ৬.৫২ ডলারে পৌঁছায়।   প্রায় ৭৯ শতাংশ ভোটার জানিয়েছেন, মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের পরিবার চরম বা মাঝারি আর্থিক কষ্টের মুখে পড়েছে এবং এর জন্য অর্ধেকেরও বেশি ভোটার ট্রাম্পের নীতিকেই সরাসরি দায়ী করেছেন।   মূল্যবৃদ্ধির এই সংকটের পেছনে বড় একটি কারণ ছিল গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ। এই যুদ্ধের জেরে তেহরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হয়। আমেরিকার সাধারণ নাগরিকদের কাছে এই যুদ্ধ মোটেও জনপ্রিয় হয়নি; এমনকি 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির অধীনে আর কোনো যুদ্ধে না জড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প দিয়েছিলেন, কট্টর রিপাবলিকানরাও একে সেই প্রতিশ্রুতির বরখেলাপ হিসেবে দেখেছেন। জরিপ বলছে, প্রায় ৭৪ শতাংশ ভোটার কংগ্রেস নির্বাচনে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে এই সংঘাতকে মূল নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করেছেন।   এর পাশাপাশি ট্রাম্পের ব্যক্তিগত অজনপ্রিয়তাও রিপাবলিকানদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধের দায়ভার সরাসরি তার ওপর পড়ায় রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও তার সমর্থন কমতে থাকে। নিজের মেয়াদের ব্যর্থতাগুলো আড়াল করতে গিয়ে তিনি নিজেকেই প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত হিতে বিপরীত হয়েছে।   অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের সুশৃঙ্খল নির্বাচনী প্রচারণাও তাদের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। জেমস ট্যালারিকো, অ্যানি অ্যান্ড্রুজ, আবদুল এল-সায়েদ কিংবা জন ওসফের মতো প্রার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয় এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যাগুলোকে অত্যন্ত সুচারুভাবে সামনে এনেছেন। এমনকি খোদ ট্রাম্পও ডেমোক্র্যাটদের কৌশলের প্রশংসা করতে বাধ্য হয়েছেন।   এর পাশাপাশি, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ পুনরায় ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকেছে। অভিবাসন নীতি ও আইসিই (ICE)-এর প্রতি ক্ষোভের কারণে টেক্সাস-মেক্সিকো সীমান্তের হিস্পানিক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনগুলো এবং মিসিসিপির মতো কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত অঞ্চলগুলোতে রিপাবলিকান প্রার্থীরা বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছেন। ভোটারদের এই জনতাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং ডেমোক্র্যাটদের বাস্তবমুখী কৌশলের কাছেই মূলত রিপাবলিকানদের এমন শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে।

ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির ক্রেতাদের জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ তহবিল পাস, তবে সুবিধা পেতে রয়েছে শর্ত

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নতুন বাড়ি ক্রেতাদের সহায়তার জন্য ২৫ বিলিয়ন ডলারের একটি ঐতিহাসিক ঋণ তহবিল অনুমোদিত হয়েছে। গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ‘প্রস্তাবনা ৩৭’ বা প্রপোজিশন ৩৭-এর পক্ষে ৬০ শতাংশ ভোটার ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ায় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) মঙ্গলবার রাতে এই বিল পাসের বিষয়টি নিশ্চিত করে।   নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দারা প্রচলিত ২০ শতাংশের পরিবর্তে মাত্র ৩ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দিয়েই নতুন বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন। তবে বিশাল এই তহবিলের কার্যক্রম ঠিক কীভাবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে এখনও সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।   প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়া হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বন্ড বিক্রি করে ২৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ঋণ সংগ্রহ করবে। পরবর্তীতে সেই অর্থ রাজ্যের সেসব মধ্যবিত্তদের বাড়ি কেনার জন্য ফিক্সড-রেট মর্টগেজ হিসেবে দেওয়া হবে, যাদের মাসিক কিস্তি পরিশোধের সামর্থ্য থাকলেও ২০ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার মতো নগদ অর্থ নেই।   এই ঋণ একটি বাড়ির মোট মূল্যের ১৭ শতাংশ পর্যন্ত কভার করবে। তবে এই সুবিধা পেতে বেশ কিছু কঠিন শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িটিকে অবশ্যই নতুন নির্মিত বা নতুনভাবে আবাসনে রূপান্তরিত হতে হবে, অর্থাৎ ঋণগ্রহীতাকে ওই বাড়ির প্রথম বাসিন্দা হতে হবে।   শুধু তাই নয়, এই সহায়তার জন্য বাড়ির দামের একটি নির্দিষ্ট সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়ির দাম সর্বোচ্চ ১ মিলিয়ন ডলার এবং লস অ্যাঞ্জেলেস, অরেঞ্জ কাউন্টি ও বে এরিয়ায় তা সর্বোচ্চ ১.৫ মিলিয়ন ডলার হতে পারবে। এছাড়া আবেদনকারীর আয় নিজ এলাকার মধ্যম আয়ের (মিডিয়ান ইনকাম) দ্বিগুণের বেশি হওয়া যাবে না। ঋণগ্রহীতারা ঋণ পরিশোধ করলে সেই অর্থ সুদসহ বন্ডহোল্ডারদের কাছে ফিরে যাবে।   তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ কীভাবে বাস্তবে পরিচালিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। 'লিগ অব উইমেন ভোটারস অব ক্যালিফোর্নিয়া' এবং 'রিফর্ম ক্যালিফোর্নিয়া'-এর মতো বিরোধী গোষ্ঠীগুলোর দাবি, রাজ্যের সরাসরি মর্টগেজ ঋণ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া মোটেও উচিত নয়। তাদের মতে, এই কর্মসূচি ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন ব্যয় অত্যধিক বৃদ্ধির মূল কারণগুলোর কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান করবে না।   উল্লেখ্য, গত ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ক্যালিফোর্নিয়ার ভোটাররা রাজ্যব্যাপী এমন ১৪টি ব্যালট প্রস্তাবনায় ভোট দিয়েছেন, যেগুলো নতুন আইন হিসেবে কার্যকর হতে সাধারণ ভোটারদের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি
যুক্তরাষ্ট্রের এয়ারলাইন্সে আবারও বাড়ল ব্যাগেজ ফি, প্রথম চেকড ব্যাগের ফি বেড়ে ৫০ থেকে ৫৫ ডলার

মার্কিন এয়ারলাইন্স কোম্পানি জেটব্লু তাদের পরিচালন ব্যয় ও জ্বালানির বাড়তি দাম সামাল দিতে চেকড ব্যাগেজ ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো এই ফি বাড়াল নিউইয়র্কের কুইন্স-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। এর আগে গত মার্চ মাসে তারা ব্যাগেজ ফি ৯ ডলার পর্যন্ত বাড়িয়েছিল।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বেশির ভাগ ইকোনমি ফ্লাইটের যাত্রীদের প্রথম চেকড ব্যাগের জন্য অফ-পিক বা সাধারণ সময়ে ৫০ ডলার (আগে ছিল ৩৯ ডলার) এবং পিক বা ব্যস্ত সময়ে ৫৫ ডলার (আগে ছিল ৪৯ ডলার) ফি গুনতে হবে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) থেকে নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে।   সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জেটব্লু জানিয়েছে, যাত্রীদের বেস ফেয়ার প্রতিযোগিতামূলক রাখতে এবং শুধুমাত্র প্রয়োজনে ব্যাগ নেওয়ার স্বাধীনতা দিতেই এই ফি বাড়ানো হয়েছে। তবে যাত্রীরা যদি ফ্লাইটের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে ব্যাগেজ যুক্ত করেন, তবে প্রথম ব্যাগের ওপর ১৫ ডলার পর্যন্ত ছাড় পাবেন।   এই বাড়তি খরচের হাত থেকে রেহাই পাবেন প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট কার্ডধারী ও বিশেষ সদস্যরা। জেটব্লু প্লাস, বিজনেস এবং প্রিমিয়ার কার্ডধারীরা নিজেদের ও তাদের তিন জন ভ্রমণসঙ্গীর জন্য একটি করে ব্যাগ বিনা মূল্যে চেক ইন করতে পারবেন। পাশাপাশি ট্রুব্লু মোজাইক সদস্যরা একটি এবং মোজাইক ২, ৩ ও ৪ সদস্যরা বিনা মূল্যে দুটি চেকড ব্যাগের সুবিধা পাবেন।   ব্যাগেজ ফি বাড়ানোর এই মিছিলে জেটব্লু অবশ্য একা নয়; গত এক বছরে জ্বালানির অস্থিতিশীল বাজারের কারণে ইউনাইটেড, ডেল্টা এবং সাউথওয়েস্টের মতো এয়ারলাইন্সগুলোও তাদের ফি বাড়িয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জেট ফুয়েলের দাম প্রায় ৮৬ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের আগে এর দাম ছিল প্রতি গ্যালন ২.৩৯ ডলার, যা বর্তমানে ৪.৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   তবে ট্রাভেল বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম কমলেও বর্ধিত এই ব্যাগেজ ফি সম্ভবত আর কমানো হবে না।   সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসা পুনর্গঠনে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে জেটব্লু। চলতি মাসেই তারা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য 'ভার্জিন ভয়েজেস'-এর সঙ্গে 'ডু নট ডিস্টার্ব' নামের একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, যেখানে দুই জনের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ২,৭৫০ ডলার। অন্যদিকে, নিজেদের ব্যবসায়িক মুনাফা বাড়াতে গত জুনে নেওয়ার্ক ও লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর থেকে নিজেদের প্রধান কার্যক্রম গুটিয়ে ফ্লোরিডায় সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি।   তবে এসবের বাইরেও সোশ্যাল মিডিয়ায় নজরদারি চালিয়ে গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে টিকিটের দাম নির্ধারণ বা 'সার্ভেইল্যান্স প্রাইসিং' করার অভিযোগে সম্প্রতি এয়ারলাইন্সটির বিরুদ্ধে একটি ক্লাস অ্যাকশন মামলাও দায়ের করা হয়েছে।

প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব পাস
ফ্লোরিডায় বাড়ির মালিকদের জন্য বড় সুখবর, প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর প্রস্তাব পাস

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকদের প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ‘অ্যামেন্ডমেন্ট ৩’ পাস হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ৬২ শতাংশ ভোটার প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এর ফলে নিজস্ব বাড়িতে বসবাসকারী যোগ্য বাসিন্দাদের জন্য হোমস্টেড এক্সেম্পশন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। নতুন নিয়মে অনেক বাড়ির মালিকের বছরে এক হাজার থেকে দুই হাজার ডলারের বেশি প্রপার্টি ট্যাক্স সাশ্রয় হতে পারে।   ফ্লোরিডা ডিভিশন অব ইলেকশনের প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী, অ্যামেন্ডমেন্ট ৩-এর পক্ষে ভোট পড়েছে প্রায় ৪৯ লাখ এবং বিপক্ষে প্রায় ৩০ লাখ। অঙ্গরাজ্যটির সংবিধান সংশোধনের জন্য কমপক্ষে ৬০ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। প্রস্তাবটি সেই সীমা অতিক্রম করায় ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২ নিউজ এবং সিবিএস মায়ামি ভোটারদের অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ির মালিকদের জন্য নন-স্কুল প্রপার্টি ট্যাক্সের হোমস্টেড এক্সেম্পশন ২০২৭ সালে বেড়ে হবে দেড় লাখ ডলার। ২০২৮ সালে তা আরও বাড়িয়ে আড়াই লাখ ডলার করা হবে। এরপর ২০২৯ সাল থেকে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করে এই সুবিধার পরিমাণ বাড়ানো হবে। বর্তমানে যোগ্য বাড়ির মালিকেরা সাধারণভাবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলারের প্রচলিত হোমস্টেড এক্সেম্পশন সুবিধা পান। নতুন ব্যবস্থায় তার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে।   হোমস্টেড এক্সেম্পশন হলো নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত বাড়ির করযোগ্য মূল্য থেকে নির্দিষ্ট অঙ্ক বাদ দেওয়ার সুবিধা। যেমন, কোনো বাড়ির নির্ধারিত করযোগ্য মূল্য চার লাখ ডলার হলে নতুন নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালে নন-স্কুল প্রপার্টি ট্যাক্স হিসাবের ক্ষেত্রে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত এক্সেম্পশন পাওয়া যেতে পারে। ফলে অবশিষ্ট মূল্যের ওপর সংশ্লিষ্ট ট্যাক্স নির্ধারণ করা হবে। তবে স্কুল পরিচালনার জন্য ধার্য প্রপার্টি ট্যাক্স এই ছাড়ের আওতায় পড়বে না।   করনীতি গবেষণা সংস্থা ফ্লোরিডা ট্যাক্সওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের গড় নন-স্কুল ট্যাক্স রেট বিবেচনায় একজন যোগ্য বাড়ির মালিক ২০২৭ সালে বছরে প্রায় ১ হাজার ৩৫ ডলার এবং ২০২৮ সালে প্রায় ২ হাজার ৮৫ ডলার সাশ্রয় করতে পারেন। তবে প্রকৃত সাশ্রয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে বাড়ির অ্যাসেসড ভ্যালু, কাউন্টি, স্থানীয় ট্যাক্স রেট এবং অন্যান্য প্রযোজ্য নিয়মের ওপর।   তবে ফ্লোরিডায় নতুন বসবাস শুরু করা ব্যক্তিদের জন্য আলাদা শর্ত রয়েছে। যাঁরা ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফ্লোরিডার বাসিন্দা হবেন না, তাঁরা যোগ্যতা অর্জনের পর প্রথমে প্রচলিত হোমস্টেড এক্সেম্পশন পাবেন। বাড়তি সুবিধা পেতে তাঁদের হোমস্টেড এক্সেম্পশন পাওয়ার পঞ্চম বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এই বিধান যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কার্যকর হবে। এ কারণে নতুন বাড়ির ক্রেতা ও ফ্লোরিডায় স্থানান্তরিত পরিবারগুলোর নিয়মটি বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।   অ্যামেন্ডমেন্ট ৩-এর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো ভাড়ার বাড়ি, দ্বিতীয় বাড়ি এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তির অ্যাসেসড ভ্যালু বৃদ্ধির বার্ষিক সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা। এতে এসব সম্পত্তির মালিকেরাও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কর বৃদ্ধির চাপ থেকে কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন। তবে ভাড়াটিয়ারা সরাসরি হোমস্টেড এক্সেম্পশনের সুবিধা পাবেন না।   এদিকে প্রপার্টি ট্যাক্স কমানোর সিদ্ধান্তে স্থানীয় সরকারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। ফ্লোরিডা ট্যাক্সওয়াচের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে স্থানীয় সরকারগুলোর প্রায় ৪ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার এবং পরবর্তী অর্থবছরে প্রায় ৮ দশমিক ৭১ বিলিয়ন ডলার রাজস্ব কমার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রাস্তা, পার্ক, লাইব্রেরি, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন স্থানীয় সেবার অর্থায়নে চাপ তৈরি হতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের মধ্যে এই পরিবর্তন বাড়ির মালিকদের বড় আর্থিক স্বস্তি দেবে।   ফ্লোরিডার বাড়ির মালিকেরা নিজ নিজ কাউন্টির প্রপার্টি অ্যাপ্রেইজার অফিসের মাধ্যমে হোমস্টেড এক্সেম্পশনের যোগ্যতা ও করযোগ্য সম্পত্তির মূল্য যাচাই করতে পারবেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর ব্যক্তিগত প্রপার্টি ট্যাক্স কতটা কমতে পারে, তা জানতে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক
দ্রুত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পাচ্ছে ২৩ দেশের নাগরিক, বাংলাদেশীদের জন্য দুঃসংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরে দ্রুত ইমিগ্রেশন ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সুবিধা পেতে পারবে ২৩টি দেশের যোগ্য নাগরিক। মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) পরিচালিত ‘গ্লোবাল এন্ট্রি’ কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত যাত্রীরা সাধারণ ইমিগ্রেশন লাইনে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা না করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সর্বশেষ ২৭ অক্টোবর সৌদি আরবকে এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে অংশীদার দেশের তালিকায় বাংলাদেশ নেই।   মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশনের তথ্য অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচি মূলত আগে থেকে নিরাপত্তা যাচাইয়ে অনুমোদিত এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত আন্তর্জাতিক যাত্রীদের জন্য। এই কর্মসূচির সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণকারী বিমানবন্দরে পৌঁছে বিশেষ গ্লোবাল এন্ট্রি পোর্টাল বা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দ্রুত পরিচয় যাচাই সম্পন্ন করতে পারেন। এতে দীর্ঘ ইমিগ্রেশন লাইনে অপেক্ষার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসতে পারে। তবে গ্লোবাল এন্ট্রি সদস্যপদ যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা দেয় না এবং প্রয়োজনীয় ভিসার বিকল্পও নয়।   সিবিপির ২৭ অক্টোবরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা অনুযায়ী, গ্লোবাল এন্ট্রির ২৩টি আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশ হলো আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ক্রোয়েশিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, জার্মানি, ভারত, জাপান, জর্ডান, মেক্সিকো, নেদারল্যান্ডস, পানামা, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাজ্য ও সৌদি আরব। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক নেক্সাস কর্মসূচি রয়েছে, যার অনুমোদিত সদস্যরাও নির্দিষ্ট শর্তে গ্লোবাল এন্ট্রির সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন।   বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখনো গ্লোবাল এন্ট্রির আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে শুধু বাংলাদেশি পাসপোর্ট ও মার্কিন ভিসা থাকা ব্যক্তি সাধারণভাবে এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না। তবে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা বৈধ গ্রিন কার্ডধারী, তাঁরা অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করে গ্লোবাল এন্ট্রির জন্য আবেদন করতে পারবেন। কারণ মার্কিন নাগরিক ও লফুল পার্মানেন্ট রেসিডেন্টদের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অংশীদার দেশের নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য নয়।   গ্লোবাল এন্ট্রির সদস্যপদ পেতে আবেদনকারীকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাস্টেড ট্রাভেলার প্রোগ্রামসের সরকারি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন ফি ১২০ ডলার, যা ফেরতযোগ্য নয়। এরপর আবেদনকারীর অপরাধসংক্রান্ত রেকর্ড, ইমিগ্রেশন ইতিহাস এবং অন্যান্য নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হয়। প্রাথমিক অনুমোদনের পর সিবিপির কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি ইন্টারভিউ দিতে হয়। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পাঁচ বছরের জন্য সদস্যপদ কার্যকর থাকে।   অপ্রাপ্তবয়স্করাও অভিভাবকের সম্মতিতে আবেদন করতে পারে। অভিভাবক আগে থেকেই অনুমোদিত সদস্য হলে অথবা তাঁর আবেদন প্রক্রিয়াধীন থাকলে নির্ধারিত শর্তে ১৮ বছরের কম বয়সীদের আবেদন ফি মওকুফ হতে পারে। গ্লোবাল এন্ট্রির অনুমোদিত সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে নির্দিষ্ট শর্তে টিএসএ প্রিচেক সুবিধাও পেতে পারেন। এতে বিমানবন্দরের সিকিউরিটি চেকিং প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার সুযোগ থাকে।   সিবিপি জানিয়েছে, গ্লোবাল এন্ট্রি কর্মসূচিতে সদস্যপদ পাওয়ার পরও নিয়মিত নিরাপত্তা যাচাই চলতে থাকে। ইমিগ্রেশন বা কাস্টমস আইন লঙ্ঘন করলে সদস্যপদ বাতিল করা হতে পারে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত বাড়ানো হচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ, কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম
প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ২০:১

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়তে গেলে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড থাকার খরচের জন্য দেখাতে হবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বা পড়াশোনার খরচের বাইরে আলাদাভাবে থাকতে হবে।   বর্তমানে লন্ডনে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে ১ হাজার ১৭১ পাউন্ডের আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। নতুন নিয়মে লন্ডনে মাসিক প্রয়োজনীয় অর্থ বাড়ছে ৪১ পাউন্ড এবং অন্যান্য এলাকায় ৩২ পাউন্ড। নয় মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের ক্ষেত্রে লন্ডনে মোট ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে, যা বর্তমানে ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে নয় মাসের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড, যা আগে ছিল ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩৬৯ থেকে ২৮৮ পাউন্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শুধু থাকা-খাওয়ার খরচ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বকেয়া টিউশন ফি, ভিসা আবেদনের ফি এবং বাধ্যতামূলক অভিবাসন স্বাস্থ্য সারচার্জও বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে। সাধারণ নিয়মে প্রয়োজনীয় অর্থ আবেদনকারীর নিজের অথবা মা-বাবার ব্যাংক হিসাবে টানা অন্তত ২৮ দিন জমা থাকতে হবে। ব্যাংক হিসাবের শেষ দিনের ব্যালান্সসহ আর্থিক নথি ভিসা আবেদনের তারিখের ৩১ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। তবে অনুমোদিত শিক্ষাঋণ অথবা সরকারি ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেও এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব।   তবে যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে টানা অন্তত ১২ মাস বসবাস করেছেন, এমন শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত নতুন করে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবাসনের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়া থাকলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সেই অর্থ জীবনযাত্রার ব্যয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এই ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমাও ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড করা হচ্ছে।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের শর্তও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অভিবাসন বিধিমালার পরিবর্তনসংক্রান্ত নথিতে নতুন অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ভিসা আবেদনের তারিখের ভিত্তিতে পুরোনো ও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২৯ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিলে পুরোনো নিয়ম এবং ৩০ নভেম্বর বা তার পরে আবেদন করলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।   এদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে স্পনসরড স্টাডি ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই প্রবণতা তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করছে। নতুন আর্থিক শর্তের কারণে যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যয় আরও সতর্কভাবে হিসাব করতে হবে।   বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, টিউশন ফি, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক ব্যালান্সের বিষয়টিও আগেভাগে পরিকল্পনায় রাখতে হবে। ৩০ নভেম্বরের আগে বা পরে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নতুন আর্থিক শর্ত এবং ২৮ দিনের ব্যাংক ব্যালান্সের নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবর জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:৫২

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে।   সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।

বাইন্যান্সে রেকর্ড পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার
প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:২৫

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত ও অভিযোগকে ‘গতানুগতিক উসকানি’ এবং ‘অযৌক্তিক বক্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এফবিআইয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এ চুরির সঙ্গে জড়িত।   মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, দেশটির বিরুদ্ধে ভুল ধারণা ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করতে চায় ওয়াশিংটন। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বাইন্যান্স গত শুক্রবার জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে হ্যাকাররা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এফবিআই শনিবার জানায়, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। সংস্থাটির মতে, একই গোষ্ঠী গত বছর ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিল।   এফবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়েছে, চুরি করা ডিজিটাল সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব সম্পদ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। অর্থ পাচার ঠেকাতে ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ঠিকানাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।   এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিপরীতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর ১ নভেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন আবার চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকেরা প্রায় ৪৬৪ কোটি ডলারের সম্পদ উত্তোলন করেন।   উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অন্যান্য অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা দেশটি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, এ ধরনের অর্থ দেশটির অর্থনীতি সচল রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় মেটানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ২০২২ সালে জানিয়েছিল, আগের পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায় ১১০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে।   অতীতেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বড় সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে হামলা, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্স হ্যাকিং এবং ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওয়ানাক্রাই ম্যালওয়্যার হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সাধারণত অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং।   দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সিউল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, বাইন্যান্সের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়াই দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   বাইন্যান্সের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর কোরিয়া আবারও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে। ফলে ক্রিপ্টো চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা।

কোরআন অবমাননার ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন স্টকহোম জেলা আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার দায়ে জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত
প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২২:৫৩

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী কর্মী জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ৩০ অক্টোবর স্টকহোম জেলা আদালত এ রায় দেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।   তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্যান্ডবার্গকে প্রতিদিন ১০০ ক্রোনা হিসাবে মোট ৩ হাজার ক্রোনা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ১ হাজার ক্রোনা এবং সরকারি আইনজীবীর খরচ বাবদ রাষ্ট্রকে ১৭ হাজার ক্রোনা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে জরিমানা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার ওপর ২১ হাজার ক্রোনা আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে ২০২৫ সালে স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘আমরা আমাদের রাস্তায় কোনো মুসলিম দেখতে চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত ওই বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ২০২৪ সালের কোরআন অবমাননার ঘটনায় দণ্ডিত হলেও পরের বছরের ওই অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।   মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআনের একটি কপি পোড়ান জেড স্যান্ডবার্গ। এরপর বইটিতে লাথি মারেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন।   সুইডেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হলেও দেশটির আইনে কোনো জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাদের অবমাননা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা এবং কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য বা আচরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। স্যান্ডবার্গের মামলার রায়েও ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়