সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার
ইলন মাস্কের টেসলা রোডস্টারের গবেষণায়  বাংলাদেশের বুয়েটের তারেক সরোয়ার! জানালেন অভিজ্ঞতা

টেসলার গাড়ির নিচের কাঠামো বা আন্ডারবডির দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব মূল্যায়নে কাজ করেছেন বাংলাদেশি প্রকৌশলী তারেক সরোয়ার। নিজের কাজের বিবরণে তিনি জানিয়েছেন, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটিতে ইন্টার্নশিপের সময় প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই কাঠামোর কার্যকারিতা বিশ্লেষণ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সেই মূল্যায়নের ফল পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট অংশের চূড়ান্ত নকশা তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে।   গাড়ির বাইরের নকশার আড়ালে থাকা এই কাঠামো নিয়েই ছিল তাঁর গবেষণা। তারেকের বর্ণনা অনুযায়ী, তীব্র গরম, প্রচণ্ড ঠান্ডা, বৃষ্টি ও লবণাক্ত পরিবেশে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর আন্ডারবডি কেমন অবস্থায় থাকবে, তা মূল্যায়ন করা ছিল তাঁর দায়িত্ব। কোনো যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারের বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেটির স্থায়িত্ব যাচাই করাও এই কাজের অংশ ছিল। তারেক তাঁর কাজকে টেসলার নতুন রোডস্টারের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তবে রোডস্টারের নির্দিষ্ট কোন অংশে তাঁর গবেষণার ফল প্রয়োগ করা হয়েছে, সে বিষয়ে টেসলার প্রকাশ্য নথিতে স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। একইভাবে পুরো আন্ডারবডি এক খণ্ডে তৈরি এবং প্রতি পাঁচ সেকেন্ডে এমন একটি অংশ উৎপাদনের দাবির পক্ষেও রোডস্টারসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এসব উৎপাদনসংক্রান্ত দাবিকে প্রতিষ্ঠিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।   তবে টেসলায় তাঁর ইন্টার্নশিপের বিষয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশনায় তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির ইইই বিভাগের স্টুডেন্ট হ্যান্ডবুকে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ৫ মে টেসলায় চাকরির প্রস্তুতি নিয়ে একটি ওয়েবিনারে বক্তব্য দেন তারেক সরোয়ার। সেখানে তাঁকে ম্যাটেরিয়ালস ইঞ্জিনিয়ার ইন্টার্ন হিসেবে পরিচয় করানো হয়। ওয়েবিনারে জীবনবৃত্তান্ত তৈরি, প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন, চাকরির আবেদন ও ইন্টারভিউয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।    তারেকের গবেষণার সঙ্গে মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির সংযোগও প্রকাশিত গবেষণাপত্রে পাওয়া যায়। ২০২১ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে ‘এমডি সরোয়ার তারেক’ নামের লেখকের প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়টির যন্ত্রকৌশল বিভাগের নাম রয়েছে। গবেষণাটি ছিল করোনাভাইরাস মহামারির সময় থ্রিডি প্রিন্টিংসহ অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে। এটি তাঁর গবেষণার পটভূমির তথ্য দেয়, তবে রোডস্টারের নকশায় অবদান রাখার দাবির স্বতন্ত্র প্রমাণ নয়।  সূত্র: আইবিএল ইন্টারন্যাশনাল  

১ ঘন্টা Ago
সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান
সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে গুগলের ডেটা সেন্টারে যোগ দিলেন মোস্তাফিজুর

ফিনল্যান্ডের হামিনায় গুগলের ডেটা সেন্টারের একটি প্রকল্পে কাজ শুরু করেছেন সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এলপিপি৭এ প্রকল্পের অধীনে জেনারেল অপারেটিভ (ইলেকট্রিক্যাল) পদে যোগ দিয়েছেন তিনি। পেশাগত কাজের পাশাপাশি ফিনল্যান্ডে মাস্টার অব সায়েন্স প্রোগ্রামের শেষ সেমিস্টারে পড়াশোনা করছেন।    মোস্তাফিজুরের এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। তাঁর নিষ্ঠা, কারিগরি দক্ষতা ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের প্রচেষ্টা বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের প্রধান মো. নিয়াজ মোরশেদুল হকও তাঁর সাফল্যকে বিভাগের জন্য আনন্দ ও গর্বের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  প্রকাশিত তথ্যে মোস্তাফিজুরের কর্মস্থল হিসেবে গুগলের ডেটা সেন্টার প্রকল্প এবং তাঁর পদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম, চাকরির চুক্তির ধরন কিংবা যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। ফলে এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সরাসরি গুগলের নিজস্ব কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাঁর যোগদানের বিষয়টি ডেটা সেন্টারের নির্দিষ্ট প্রকল্পে কাজ শুরুর তথ্য হিসেবেই উঠে এসেছে।    গুগলের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, হামিনার ডেটা সেন্টার গড়ে উঠেছে একটি পুরোনো কাগজকলের জায়গায়। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালে সুম্মা কাগজকল ও সংলগ্ন জমি কিনে সেখানে ডেটা সেন্টার নির্মাণ শুরু করে। ২০১১ সালে চালু হয় প্রথম ডেটা সেন্টার। এই স্থাপনায় যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে ফিনল্যান্ড উপসাগরের সমুদ্রের পানি ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সালে হামিনায় সপ্তম ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণাও দেয় গুগল।  সূত্র: spikestory  

১ ঘন্টা Ago
ব্রাজিলের উদ্যোক্তা লুয়ানা লোপেস লারা
৩০ বছরেই বিলিয়নিয়ার লুয়ানা, সম্পদ বাড়লেও দিনে কাজ করেন ১৪ ঘণ্টা

ব্রাজিলের উদ্যোক্তা লুয়ানা লোপেস লারা মাত্র ৩০ বছর বয়সে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নিজের উদ্যোগে সম্পদ গড়া নারী বিলিয়নিয়ার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। নিউইয়র্কভিত্তিক প্রেডিকশন মার্কেট প্ল্যাটফর্ম কালশির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা তিনি। ফোর্বসের ২৩ অক্টোবরের হিসাবে তাঁর আনুমানিক নিট সম্পদ ২৬০ কোটি ডলার। প্রতিষ্ঠানটিতে থাকা তাঁর শেয়ারের মূল্যই এই সম্পদের প্রধান ভিত্তি।  ফরচুনের ২১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, লুয়ানা এখনো প্রতিদিন ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা কাজ করেন, ছুটিও নেন খুব কম।  ফোর্বস ব্রাজিলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারেও তিনি জানিয়েছেন, সম্পদ বাড়লেও দৈনন্দিন জীবন প্রায় আগের মতোই আছে। আগে সকালে অফিসে এসে অনেক রাতে ফিরতেন, এখনো সেই অভ্যাস বজায় রয়েছে। তাঁর মনোযোগ কোম্পানির সেবা, ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা এবং পরবর্তী কাজের পরিকল্পনায়।    প্রযুক্তি ও আর্থিক ব্যবসায় আসার আগে লুয়ানার জীবন ছিল ব্যালেকে ঘিরে। ব্রাজিলে প্রশিক্ষণের পর তিনি অস্ট্রিয়ায় নয় মাস পেশাদার ব্যালে নৃত্যশিল্পী হিসেবে কাজ করেন। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়াশোনা করেন। সেখানেই পরিচয় হয় কালশির আরেক সহপ্রতিষ্ঠাতা তারেক মনসুরের সঙ্গে। নাচের মঞ্চ থেকে তাঁর কর্মজীবন মোড় নেয় প্রযুক্তি ও আর্থিক বাজারের দিকে।  কালশিতে ব্যবহারকারীরা ভবিষ্যতের কোনো ঘটনা ঘটবে কি না, সেই সম্ভাবনার ভিত্তিতে চুক্তি কেনাবেচা করেন। খেলাধুলার ফলাফল, নির্বাচন কিংবা বিনোদন জগতের পুরস্কারসহ বিভিন্ন বিষয় এই লেনদেনের আওতায় পড়ে। ফোর্বসের হিসাবে, প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১২ শতাংশ শেয়ারের মালিক লুয়ানা। ফলে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব মূলত কোম্পানিতে মালিকানার আনুমানিক মূল্যের সঙ্গে সম্পর্কিত, পুরো অর্থ তাঁর হাতে থাকা নগদ নয়।    বিনিয়োগকারীদের আগ্রহে কালশির মূল্যায়নও দ্রুত বেড়েছে। রয়টার্সের ২৯ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহের পর প্রতিষ্ঠানটির মূল্যায়ন দাঁড়ায় ২ হাজার ২০০ কোটি ডলারে। এরপর প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলার মূল্যায়নে আরও অর্থ সংগ্রহের আলোচনা চলছিল। তবে আলোচনায় প্রস্তাবিত মূল্যায়ন আর সম্পন্ন বিনিয়োগ চুক্তির মূল্যায়ন এক নয়।    ব্যবসার সম্প্রসারণের পাশাপাশি আইনি বিরোধও মোকাবিলা করছে কালশি। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির খেলাধুলাসংক্রান্ত চুক্তি অঙ্গরাজ্যের জুয়া আইনের আওতায় পড়ে। কালশির অবস্থান হলো, এসব চুক্তি ফেডারেল নিয়ন্ত্রকের অধীন আর্থিক পণ্য। রয়টার্সকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী তারেক মনসুর বলেছেন, নিয়ন্ত্রণের এখতিয়ার নিয়ে এই বিরোধ শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে।   সূত্র: যুগান্তর  

১ ঘন্টা Ago
আইফোন ডুও
বাজারে আসার কয়েক ঘণ্টায় আইফোন ডুওর মজুত শেষ, পুনর্বিক্রিতে দাম চাওয়া হচ্ছে ১০ হাজার ডলার!

অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডিং ফোন আইফোন ডুও বাজারে আসার দিনই পুনর্বিক্রির বিজ্ঞাপনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার দাম চাওয়া হয়েছে। ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিক্রি শুরুর পর নিউইয়র্কের অ্যাপল স্টোরগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা যায়। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরাসরি দোকানে আসা ক্রেতাদের জন্য বরাদ্দ ফোনের মজুত শেষ হয়ে যায়। এরপর ইবে ও ক্রেইগসলিস্টে বাড়তি দামে ফোনটি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেখা যায়।      ক্রেইগসলিস্টে নিউইয়র্কের এক বিক্রেতা আইফোন ডুওর দাম চেয়েছেন ৭ হাজার ৯৯৯ ডলার। তবে বিজ্ঞাপনে চাওয়া দাম আর বাস্তবে বিক্রি হওয়া দাম এক বিষয় নয়। সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলারের বিজ্ঞাপন পাওয়া গেলেও সেই দামে লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি। ফলে এই অঙ্ককে ফোনটির নিয়মিত বাজারদর হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    যুক্তরাষ্ট্রে আইফোন ডুওর ২৫৬ জিবি মডেলের নির্ধারিত দাম শুরু ১ হাজার ৯৯৯ ডলার থেকে। সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট স্টোরেজের সংস্করণের দাম ৩ হাজার ১৯৯ ডলার। ব্যারনসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কিছু অর্ডারের সম্ভাব্য ডেলিভারি সময় জানুয়ারির শেষ পর্যন্ত পিছিয়েছে। তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পেছনে ক্রেতার চাহিদার পাশাপাশি সরবরাহের সীমাবদ্ধতাও ভূমিকা রাখতে পারে।      অ্যাপলের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর ফোনটির প্রি অর্ডার শুরু হয়। বন্ধ অবস্থায় এতে রয়েছে ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চির বাইরের ডিসপ্লে। খুললে ভেতরের বড় পর্দায় ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও একাধিক কাজ করার সুবিধা পাওয়া যায়। অ্যাপল জানিয়েছে, খোলা অবস্থায় এর ভেতরের ডিসপ্লের আয়তন আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের ডিসপ্লের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।      ফোনটিতে এ২০ প্রো চিপ এবং দুটি ব্যাটারির সমন্বিত কাঠামো ব্যবহার করা হয়েছে। ফোল্ডিং নকশার সঙ্গে মানিয়ে পর্দা বদলানো ও পাশাপাশি দুটি অ্যাপ চালানোর সুবিধাও রয়েছে। তবে নতুন নকশার বড় পর্দার জন্য সব অ্যাপের ব্যবহার এখনো সমানভাবে উপযোগী হয়নি বলে প্রাথমিক পর্যালোচনায় উঠে এসেছে। বাজারে আসার প্রথম দিনের আগ্রহের পাশাপাশি সফটওয়্যার কতটা মানিয়ে নিতে পারে, সেটিও ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকছে। 

২ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
নিউ ইয়র্কে ভোটের দুই দিন আগে স্থগিত বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন

নিউইয়র্কে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আদালতের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে, শুক্রবার ২৩ অক্টোবর নিউইয়র্কের কুইন্স সুপ্রিম কোর্ট এ নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছে ঠিকানা নিউজ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টায় আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিচারক নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেন। তবে কোন আবেদন বা কী ধরনের আইনি যুক্তির ভিত্তিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি।   নির্বাচন স্থগিতের খবরে প্রার্থী, তাঁদের সমর্থক এবং ভোটারদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রস্তুতি ও প্রচার-প্রচারণার পর ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে এমন সিদ্ধান্ত আসায় নিউইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, তা এখন আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।   বাংলাদেশ সোসাইটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবু নাসের ঠিকানা নিউজকে জানিয়েছেন, নির্বাচন স্থগিতের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে নির্বাচন কমিশন সংবাদ সম্মেলন করবে। নির্বাচন কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ দুলালও জানিয়েছেন, শুক্রবার রাত ৮টায় বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। সেখানে আদালতের নির্দেশ এবং পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরার কথা রয়েছে।   বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপের ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। ২০১৮ সালেও ভোটার তালিকা, নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটগ্রহণের নিয়মকানুন নিয়ে বিরোধের জেরে আদালতে মামলা হয়েছিল। সংগঠনের সাবেক কর্মকর্তা ওসমান চৌধুরী সে সময় আদালতের দ্বারস্থ হন। একই বছরের অক্টোবরে আরও কয়েকজন সদস্য পৃথক মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে আইনি জটিলতার কারণে ওই বছরের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আট বছর পর আবারও নির্বাচনের ঠিক আগে আদালতের নির্দেশে ভোট স্থগিত হওয়ায় সংগঠনটির নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। ওই শুনানিতে কী সিদ্ধান্ত আসে এবং নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশ সোসাইটির বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে।   সূত্র: ঠিকানা নিউজ।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ২০:৪৬
যুক্তরাষ্ট্রে ইউনাইটেড হেলথ ও হিউমানার স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা বন্ধ, প্রভাব পড়বে প্রায় ১০ লাখ গ্রাহকের ওপর

যুক্তরাষ্ট্রের দুই বড় স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড হেলথকেয়ার ও হিউমানা ২০২৭ সালের জন্য তাদের কিছু মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে প্রায় ৯ লাখ ৯০ হাজার গ্রাহক প্রভাবিত হতে পারেন। এর মধ্যে ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার এবং হিউমানার প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক রয়েছেন। আগামী বছর থেকে তাঁদের বর্তমান বিমা পরিকল্পনা আর কার্যকর থাকবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সরকারি মেডিকেয়ার সুবিধা হারাবেন। তাঁদের নতুন বিমা পরিকল্পনা বেছে নিতে হবে অথবা প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার বিকল্প বিবেচনা করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ও সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চিকিৎসাসেবার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বিমা সুবিধা ব্যবহারের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি তাদের পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করছে। ইউনাইটেড হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে বিমা কার্যক্রম টেকসই রাখার লক্ষ্যেই ২০২৭ সালের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, গ্রাহকদের প্রয়োজনীয় সুবিধা ও চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বজায় রাখার বিষয়টি তাদের বিবেচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, হিউমানা জানিয়েছে, তাদের পরিকল্পনা পরিবর্তনের কারণে প্রভাবিত অধিকাংশ গ্রাহক প্রতিষ্ঠানটির অন্য কোনো মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।   এই পরিবর্তনের সময়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার বিমার বার্ষিক নিবন্ধন ও পরিকল্পনা পরিবর্তনের সময় চলছে। ১৫ অক্টোবর শুরু হওয়া এই সময়সীমা শেষ হবে ৭ ডিসেম্বর। এ সময় গ্রাহকেরা নিজেদের বর্তমান বিমার সুবিধা পর্যালোচনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নিতে পারবেন। বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলো ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং নতুন পরিকল্পনা সাধারণত ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। তাই যাঁদের বিমা পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।   মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির অধীনে বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা ব্যবস্থা। এতে চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্ক, ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের খরচ এবং কখনো কখনো দাঁত ও চোখের চিকিৎসার মতো অতিরিক্ত সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকে। তবে পরিকল্পনাভেদে এসব সুবিধা ও খরচের পার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন পরিকল্পনায় গেলে গ্রাহকদের চিকিৎসক বা হাসপাতাল বদলাতে হতে পারে, ওষুধের আওতা পরিবর্তিত হতে পারে কিংবা নিজের পকেট থেকে খরচ বাড়তে পারে।   ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের পরিবর্তন মূলত পছন্দের চিকিৎসক ও হাসপাতালের নেটওয়ার্কের বাইরে থেকেও চিকিৎসা নেওয়ার তুলনামূলক বেশি সুযোগ দেওয়া পিপিও পরিকল্পনাগুলোকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে, হিউমানা কম লাভজনক কিছু পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে। প্রতিষ্ঠানটির অর্থ বিভাগের প্রধান সেলেস্তে মেলেট আগে জানিয়েছিলেন, প্রায় ৬ লাখ গ্রাহক এ সিদ্ধান্তের আওতায় পড়বেন, যা তাদের মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ গ্রাহকের প্রায় ৮ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, প্রভাবিত গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে নিজেদের অন্য পরিকল্পনায় ধরে রাখার চেষ্টা করবে।   স্বাস্থ্যবিমা বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসা ব্যয় ও ওষুধের দাম বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পরিকল্পনার সংখ্যা কমাচ্ছে, কিছু অতিরিক্ত সুবিধা সীমিত করছে এবং গ্রাহকদের নিজস্ব খরচের অংশ বাড়াচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৭ সালেও দেশের ৯৯ শতাংশের বেশি মেডিকেয়ার গ্রাহকের অন্তত একটি মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় প্রবেশের সুযোগ থাকবে। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ ব্যবস্থায় গড় মাসিক প্রিমিয়াম ২০২৬ সালের ১৪ দশমিক ৩৭ ডলার থেকে ২০২৭ সালে ১২ ডলারে নেমে আসতে পারে।   যাঁদের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হচ্ছে, তাঁদের চিকিৎসক, হাসপাতাল, ওষুধের আওতা, মাসিক প্রিমিয়াম এবং চিকিৎসার সময় নিজের পকেট থেকে দিতে হবে এমন অর্থের পরিমাণ তুলনা করে নতুন পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। কেউ নতুন মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ পরিকল্পনায় যেতে পারেন, আবার কেউ প্রচলিত মেডিকেয়ার ব্যবস্থায় ফিরে গিয়ে আলাদা ব্যবস্থাপত্রের ওষুধের বিমা নিতে পারেন। কোন বিকল্পটি উপযুক্ত হবে, তা নির্ভর করবে ব্যক্তির চিকিৎসার প্রয়োজন ও আর্থিক সামর্থ্যের ওপর।   সূত্র: নিউজউইক, সিবিএস নিউজ ও যুক্তরাষ্ট্রের মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড সেবা কেন্দ্র।

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব অনুমোদন কমেছে ব্যাপক হারে, জমে আছে ৭ লাখের বেশি আবেদন

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ২০২৬ অর্থবছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৫৭ হাজার ৬৯৭টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করেছে। আগের বছরের একই সময়ে অনুমোদনের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে অনুমোদন কমেছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। একই সময়ে সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আবেদনের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ৪২ হাজার ১৩৮টিতে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের বিশ্লেষণে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব অনুমোদনের এই পতন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নতুন নাগরিকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ন্যাশনাল পার্টনারশিপ ফর নিউ আমেরিকানস (এনপিএনএ)। সংগঠনটির আশঙ্কা, নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা নতুন নাগরিকদের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার সুযোগ সীমিত করতে পারে। তবে অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়া বা আবেদনজট বাড়ার পরিসংখ্যান থেকে প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটাধিকার সীমিত করছে, এমন অভিযোগের স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এনপিএনএর নির্বাহী পরিচালক নিকোল মেলাকু নিউজউইককে বলেন, আবেদনগুলো দীর্ঘ সময় ধরে পড়ে থাকা এবং সেগুলোর নিষ্পত্তি না হওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য আবেদনকারীদের প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হলে তাঁদের নাগরিক অংশগ্রহণের সুযোগও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সংগঠনটি এ পরিস্থিতির কারণ এবং আবেদন নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।   ইউএসসিআইএসের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ২ লাখ ১৮ হাজার ৭২০টি নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল। ওই সময় অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৬২ হাজার ৯৭৪। ২০২৫ সালের একই সময়ে অনুমোদন বেড়ে ২ লাখ ৪১ হাজার ৩২৬টিতে পৌঁছায় এবং অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ২৯ হাজার ১৮। কিন্তু ২০২৬ সালের একই সময়ে অনুমোদন ব্যাপকভাবে কমে যায়, অন্যদিকে অপেক্ষমাণ আবেদনের সংখ্যা বেড়ে আগের দুই বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়।   আঞ্চলিক পর্যায়েও অনুমোদন কমার বড় ধরনের চিত্র উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার সান হোসে কার্যালয়ে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত ৯ হাজারের বেশি আবেদন অনুমোদিত হলেও ২০২৬ সালের একই সময়ে অনুমোদন নেমে আসে কয়েক শতে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে সান হোসেতে ৯ হাজার ৪১টি থেকে কমে ৩১৭টি অনুমোদনের কথা বলা হয়েছে, যা প্রায় ৯৬ দশমিক ৫ শতাংশ পতন। ওয়াশিংটনের সিয়াটলেও এক বছরে অনুমোদন কমেছে ৯০ শতাংশের বেশি। টেক্সাসের হিউস্টনেও অনুমোদন প্রায় অর্ধেকে নেমে আসে।   ক্যালিফোর্নিয়া, নিউইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও টেক্সাসের মতো অভিবাসী জনসংখ্যা বেশি এমন অঙ্গরাজ্যগুলোতেও এই পতন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া ভোটারদের ৫৫ শতাংশ এই চার অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। ফলে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এসব এলাকায় নতুন ভোটারদের অংশগ্রহণের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মীরা।   তবে নাগরিকত্বের আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন নয়। সাবেক স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা কর্মকর্তা ও গ্লোবালআই ডট এআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা অ্যাডাম ক্লেইন নিউজউইককে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেও নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব প্রদান ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তাঁর মতে, নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের আবেদন দীর্ঘদিন ঝুলে থাকলে তাঁরা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোট দিতে হলে নাগরিক হওয়া আবশ্যক।   অভিযোগের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন যথাযথ যাচাই ছাড়াই অনুমোদন দেওয়ার যে নীতি ছিল, তা থেকে সরে এসেছে ট্রাম্প প্রশাসন। বিভাগের এক মুখপাত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০ সালের নাগরিকত্ব পরীক্ষার পদ্ধতি পুনর্বহাল, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা যাচাই জোরদার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের তথ্য পর্যালোচনা এবং আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের বিষয়গুলো রয়েছে।   স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বক্তব্য, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেই আবেদন অনুমোদন দেওয়া হবে। অন্যদিকে, অভিবাসী অধিকারকর্মী ও সাবেক কর্মকর্তাদের বক্তব্য, যাচাই-বাছাই জোরদার করার পাশাপাশি যোগ্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ন্যায়সংগত ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করাও জরুরি। নাগরিকত্ব অনুমোদনের সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে প্রশাসনিক নীতি, যাচাই প্রক্রিয়া ও আবেদন নিষ্পত্তির সক্ষমতার কী ভূমিকা রয়েছে, তা নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা সংস্থার পরিসংখ্যান।

সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান
সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটি থেকে গুগলের ডেটা সেন্টারে যোগ দিলেন মোস্তাফিজুর

ফিনল্যান্ডের হামিনায় গুগলের ডেটা সেন্টারের একটি প্রকল্পে কাজ শুরু করেছেন সিলেটের লিডিং ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষার্থী মো. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এলপিপি৭এ প্রকল্পের অধীনে জেনারেল অপারেটিভ (ইলেকট্রিক্যাল) পদে যোগ দিয়েছেন তিনি। পেশাগত কাজের পাশাপাশি ফিনল্যান্ডে মাস্টার অব সায়েন্স প্রোগ্রামের শেষ সেমিস্টারে পড়াশোনা করছেন।    মোস্তাফিজুরের এই অর্জনে অভিনন্দন জানিয়েছেন লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন। তাঁর নিষ্ঠা, কারিগরি দক্ষতা ও পেশাগত উৎকর্ষ অর্জনের প্রচেষ্টা বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন উপাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইইই বিভাগের প্রধান মো. নিয়াজ মোরশেদুল হকও তাঁর সাফল্যকে বিভাগের জন্য আনন্দ ও গর্বের অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।  প্রকাশিত তথ্যে মোস্তাফিজুরের কর্মস্থল হিসেবে গুগলের ডেটা সেন্টার প্রকল্প এবং তাঁর পদের নাম উল্লেখ রয়েছে। তবে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের নাম, চাকরির চুক্তির ধরন কিংবা যোগদানের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। ফলে এই তথ্যের ভিত্তিতে তাঁকে সরাসরি গুগলের নিজস্ব কর্মী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। তাঁর যোগদানের বিষয়টি ডেটা সেন্টারের নির্দিষ্ট প্রকল্পে কাজ শুরুর তথ্য হিসেবেই উঠে এসেছে।    গুগলের আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, হামিনার ডেটা সেন্টার গড়ে উঠেছে একটি পুরোনো কাগজকলের জায়গায়। প্রতিষ্ঠানটি ২০০৯ সালে সুম্মা কাগজকল ও সংলগ্ন জমি কিনে সেখানে ডেটা সেন্টার নির্মাণ শুরু করে। ২০১১ সালে চালু হয় প্রথম ডেটা সেন্টার। এই স্থাপনায় যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতে ফিনল্যান্ড উপসাগরের সমুদ্রের পানি ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সালে হামিনায় সপ্তম ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণাও দেয় গুগল।  সূত্র: spikestory  

ফ্লোরিডার বার্টো শহরের একটি বার্গার কিং রেস্তোরাঁর সামনে গাড়িতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুর, জন্মদিনের চার দিন আগে মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের বার্টো শহরে খাবারের দোকানের গাড়ির সারিতে বাবার বন্দুকের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে তিন বছর বয়সী এক শিশু। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বার্গার কিংয়ের গাড়িতে বসে থাকা অবস্থায় শিশুটি বন্দুকটি হাতে পেয়ে গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। শিশুটির চতুর্থ জন্মদিন ছিল ঘটনার মাত্র চার দিন পর। পোল্ক কাউন্টির শেরিফ গ্রেডি জাড এ তথ্য জানিয়েছেন।   শেরিফের কার্যালয়ের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ২৩ মিনিটের দিকে শিশুটির বাবা রাতের খাবার কিনতে বার্গার কিংয়ের গাড়ির সারিতে ছিলেন। খাবারের দাম পরিশোধের সময় তাঁর ক্রেডিট কার্ডটি কাজ করছিল না। বিকল্প উপায়ে অর্থ পরিশোধের চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি গাড়িটি পার্ক করেন। এ সময় কোমরে রাখা গ্লক পিস্তলটি অস্বস্তির কারণে বের করে গাড়ির আসনে রাখেন বলে জানিয়েছেন শেরিফ। পেছনের আসনে থাকা শিশুটি তখন বন্দুকটি হাতে পেয়ে ট্রিগারে চাপ দেয়।   পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলির শব্দ শুনে শিশুটির বাবা আতঙ্কিত হয়ে গাড়ির চারপাশে ছোটাছুটি শুরু করেন। পাশের একটি গাড়িতে থাকা এক নারী জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। পরে উদ্ধারকর্মীরা শিশুটিকে দ্রুত লেকল্যান্ড রিজিওনাল হেলথ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সে মারা যায়। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজও পর্যালোচনা করেছেন।   ঘটনাটিকে ভয়াবহ মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন শেরিফ গ্রেডি জাড। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি প্রার্থনা করেন, তাহলে এই পরিবারের জন্য প্রার্থনা করুন।’ তিনি আরও জানান, ঘটনাটি তাঁর কর্মকর্তাদেরও মানসিকভাবে নাড়া দিয়েছে। বার্টো পুলিশের উপপ্রধান কাইল ডাউডি বলেন, এই ঘটনায় একটি পরিবার তাদের সন্তানকে হারিয়েছে এবং পুরো সম্প্রদায় শোকাহত। চার বছর বয়সে পা দেওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে শিশুটির এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   এ ঘটনায় শিশুটির বাবার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। শেরিফ জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার আইনে কোনো শিশুর নাগালের মধ্যে আগ্নেয়াস্ত্র থাকার কারণে সে নিজে বা অন্য কেউ আহত হলে অবহেলাজনিত অপরাধের অভিযোগ আনার সুযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে অঙ্গরাজ্যের সংশ্লিষ্ট কৌঁসুলির দপ্তর। প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে বাবার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ আনার পক্ষে তাঁর দপ্তরের বিশেষ আগ্রহ নেই বলেও জানিয়েছেন শেরিফ। তদন্তের তথ্য পর্যালোচনার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা জানিয়েছে, পরিবারটি ঘটনার প্রায় চার মাস আগে কানেকটিকাট থেকে ফ্লোরিডায় চলে এসেছিল। নতুন অঙ্গরাজ্যে এসে ক্রেডিট কার্ড দিয়ে অর্থ পরিশোধে সমস্যার মুখে পড়েছিলেন শিশুটির বাবা বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। তবে এ পরিস্থিতি কীভাবে ঘটনার দিকে গড়াল, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিশুটির মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় ও ফক্স ১৩ টাম্পা।

নিউইয়র্কের কুইন্সে ভবন থেকে ইট পড়ে আহত হয়েছে ছয় বছরের এক শিশু। চিকিৎসকেরা তার ভাঙা হাড়ে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ইট খসে পড়ে ৬ বছরের শিশুর পা ভাঙল

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে মায়ের সঙ্গে হাঁটার সময় ভবন থেকে ইট পড়ে গুরুতর আহত হয়েছে ছয় বছরের এক শিশু। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মাসপেথ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে শিশুটির মাথায় কেটে যাওয়ার ক্ষত তৈরি হয় এবং উরুর হাড় ভেঙে যায়। তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভাঙা হাড়ের চিকিৎসায় অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্ধ্যা প্রায় ৭টা ৩৫ মিনিটে মাসপেথ অ্যাভিনিউয়ের কাছে ৫৯তম স্ট্রিট এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। শিশুটির বাবা পাশের একটি ভবনে নির্মাণকাজ করছিলেন। এ সময় মা ও শিশুটি ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় বেড়ার একটি ফাঁক দিয়ে বাবাকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানাতে থামে। ঠিক সেই সময় একটি গুদামজাতীয় ভবনের বাইরের দেয়ালের ইটের অংশ খুলে নিচে পড়ে শিশুটির গায়ে লাগে।   শিশুটির বাবা সংবাদমাধ্যমটিকে জানান, ইট পড়ার ঘটনাটি কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ঘটে। তাঁর মেয়ে ফুটপাতে পড়ে চিৎকার করে ওঠে। কীভাবে ইটের অংশটি খুলে পড়ল, তা তিনি নিশ্চিতভাবে জানেন না বলেও জানান। ঘটনার পর শিশুটির মাথায় আঘাতের পাশাপাশি উরুর হাড় ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানা যায়। চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভাঙা হাড়ে স্ক্রু বসানোর পরিকল্পনা করেছেন।   পরে শিশুটিকে সচেতন অবস্থায় বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। শিশুটির বাবা বলেন, চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচার ঠিকভাবে সম্পন্ন হলে তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা ভালো। অস্ত্রোপচারের পর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে হাসপাতাল থেকে ছাড়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে এক বা দুই দিনের মধ্যে তাকে বাড়িতে নেওয়া সম্ভব হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।   ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী হাসান হামিদ জানান, আহত শিশুটিকে একজন কোলে করে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরে জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা তার অবস্থা পরীক্ষা করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশকেও দেখা যায়। আকস্মিক এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্মিত হন।   আহত হওয়ার পরও শিশুটি কিছুটা পড়াশোনা করেছে, বিশ্রাম নিয়েছে এবং টেলিভিশন দেখেছে বলে জানিয়েছেন তার বাবা। ব্যথা কমাতে তাকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা নিয়মিত তার অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। আপাতত মেয়ের সুস্থ হয়ে ওঠাই তাঁদের পরিবারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তিনি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
কাবার গিলাফের অংশ জেফরি এপস্টিনের কাছে পৌঁছানোর তথ্যকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এপস্টিনকে পবিত্র কাবার গিলাফ উপহার দেওয়ার অভিযোগ
প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ২৩:৪০

যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত যৌন অপরাধী ও অর্থদাতা জেফরি এপস্টিনের কাছে পবিত্র কাবার গিলাফের অংশ পাঠানোর তথ্যকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে কাবার গিলাফের সঙ্গে সম্পর্কিত কাপড় তাঁর কাছে পৌঁছানোর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনাকে সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে হুতিরা। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের মাধ্যমে কাবার গিলাফের অংশ এপস্টিনের কাছে পৌঁছেছিল। এসব কাপড়ে পবিত্র কোরআনের আয়াতের নকশা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিতে কাপড় পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেলেও এর সঙ্গে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। এপস্টিনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর যোগাযোগ নিয়ে প্রকাশিত নথিগুলো এর আগে থেকেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় রয়েছে।   সৌদি আরব ও হুতিদের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নতুন করে বিষয়টি সামনে এসেছে। গত মাসে পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছিল সৌদি আরব। হুতিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর হুতি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এপস্টিনের কাছে কাবার গিলাফের অংশ পাঠানোর খবর তুলে ধরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শুরু করে। হুতি গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত তাদের সংবাদমাধ্যমে বলেন, যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফ দিয়েছে, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এটি হুতি নেতৃত্বের বক্তব্য, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়।   নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিরা শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, ভিডিও, গান, বক্তৃতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদেরও এই প্রচারে যুক্ত করছে। এক্সে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকা ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মুস্তফা আল-মোমারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করে ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইয়েমেনের স্থানীয় শিল্পীরাও এ বিষয় নিয়ে গান তৈরি করেছেন। হুতি নেতা আব্দুল মালেক আল-হুতিও বিভিন্ন বক্তব্যে এপস্টিনের নথি উল্লেখ করে পশ্চিমা প্রভাবশালী মহলের সমালোচনা করেছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু সৌদি আরবের সামরিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, বরং ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষক হিসেবে দেশটির ভাবমূর্তিকেও চ্যালেঞ্জ করা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক, অন্যদিকে হুতিরা দেশটির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। এই বিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমও জনমত প্রভাবিত করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।   এপস্টিনের নথি নিয়ে হুতিদের বক্তব্যের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে নথিতে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা কোনো বস্তু পাঠানোর তথ্য থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হুতিদের রাজনৈতিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তাই এপস্টিনের কাছে গিলাফের অংশ পৌঁছানোর ঘটনা এবং মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে পৃথক বিষয় হিসেবে দেখা জরুরি।   সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও এনডিটিভি।

ইউরোপের ৮৫৪টি শহরে ২০২৬ সালের তীব্র গরমে ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইউরোপে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে ৫০ হাজারের বেশি মৃত্যু, গবেষকদের চোখ কপালে
প্রকাশ: অক্টোবর ২৩, ২০২৬ ৪:৪৪

ইউরোপের ৮৫৪টি শহর ও নগর এলাকায় ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টের তীব্র গরমে আনুমানিক ৫০ হাজার ৩৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন এক গবেষণায় এই হিসাব উঠে এসেছে। গবেষকদের অনুমান, এর মধ্যে ৩২ হাজার ৬১৯টি মৃত্যু ঘটেছে মানুষের কর্মকাণ্ডে সৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বেড়ে যাওয়া অতিরিক্ত তাপের প্রভাবে।    ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন ও লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা এই বিশ্লেষণে যুক্ত ছিলেন। গবেষণার আওতায় ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও সুইজারল্যান্ডের নগর এলাকা। তাঁদের ২০০০ থেকে ২০২৫ সালের তাপজনিত মৃত্যুর বিশ্লেষণ নেচার হেলথ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। একই সাময়িকীতে প্রকাশের জন্য গৃহীত হয়েছে ২০২৬ সালের গ্রীষ্ম নিয়ে গবেষণাটিও।    এই সংখ্যা প্রতিটি মৃত্যুসনদ থেকে সরাসরি গণনা করা হয়নি। তাপমাত্রার তথ্য, জনসংখ্যা এবং অতীতে গরমের সঙ্গে মৃত্যুহারের সম্পর্ক ব্যবহার করে গবেষকেরা সম্ভাব্য অতিরিক্ত মৃত্যু হিসাব করেছেন। এরপর জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে তাপমাত্রা কেমন থাকত, সেই পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করে বাড়তি উষ্ণায়নের প্রভাব নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে সংখ্যাগুলোকে পরিসংখ্যানভিত্তিক অনুমান হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমের বিপদ শুধু হিটস্ট্রোকে সীমিত নয়। শরীর নিজেকে ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করতে গিয়ে হৃদ্‌যন্ত্র ও কিডনির ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। এতে হৃদ্‌রোগ, শ্বাসতন্ত্রের অসুখ ও ডায়াবেটিসের মতো আগে থেকে থাকা রোগের জটিলতা বাড়তে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে দিন ও রাতের উচ্চ তাপমাত্রাও শরীরে ক্রমাগত চাপ তৈরি করে।    তবে এবারের হিসাবকে গোটা ইউরোপের সব তাপজনিত মৃত্যুর মোট সংখ্যা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। এটি নির্দিষ্ট নগর এলাকার বিশ্লেষণ। আগের বছরগুলোর সঙ্গে তুলনার ক্ষেত্রেও একই ভৌগোলিক এলাকা ও গবেষণাপদ্ধতি বিবেচনা করা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্ধৃত পৃথক গবেষণায় পুরো ইউরোপে ২০২২ সালের গ্রীষ্মে প্রায় ৬১ হাজার ৬৭২টি তাপজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর অনুমান দেওয়া হয়েছিল।    গবেষকেরা তাপপ্রবাহের আগাম সতর্কতা, ঝুঁকিতে থাকা মানুষের কাছে শীতল পরিবেশে থাকার সুবিধা পৌঁছানো এবং স্বাস্থ্যসেবার প্রস্তুতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, পরিকল্পিত জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থা ও যথাসময়ে পদক্ষেপের মাধ্যমে গরমের কারণে বহু মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের ঝুঁকি সীমিত করতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানো প্রয়োজন।

চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান নিয়ে সংসার চালাতে আর্থিক সংকটে আফগানিস্তানের মোহাম্মদ সাদিক। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
৫৭ বছর বয়সে ৫৮ সন্তানের বাবা, বিশাল পরিবারের ভরণপোষণে হিমশিম খাচ্ছেন সাদিক
প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ২৩:১৮

আফগানিস্তানের উরুজগান প্রদেশের ৫৭ বছর বয়সী মোহাম্মদ সাদিক চার স্ত্রী ও ৫৮ সন্তান নিয়ে বড় একটি পরিবার সামলাচ্ছেন। কিন্তু পরিবারের সদস্যদের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। অর্থের অভাবে কোনো কোনো শিশুকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যেতে হয়। পরিবারের সবার জন্য পর্যাপ্ত খাবার ও সন্তানদের পড়াশোনার ব্যবস্থা করাই এখন তার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।   বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাদিকের পক্ষে সব সন্তানের নাম মনে রাখাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেতে বসে কখনো কখনো সন্তানদের গুনে দেখতে হয়, কেউ বাড়িতে আছে কি না। দীর্ঘ সময়ে তার পরিবার ১৪ সন্তানকে হারিয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিশাল পরিবারের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে প্রতিদিনই নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তাকে।   সাদিক একটি গাড়ির শোরুমে কাজ করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি বিক্রি করতে পারলে তিনি প্রায় এক হাজার আফগানি আয় করেন। এই আয় দিয়ে এতজনের খাবার, পোশাক ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটানো কঠিন। সংসারের খরচ জোগাতে তার কয়েকজন সন্তানও কাজে নেমেছে। তাদের কেউ কেউ জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কাগজ ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে।   পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনও বেশ কষ্টের। সাধারণত দিনে দুই বেলা খাবার রান্না হয়, আর রান্নার দায়িত্ব পালন করেন দুই স্ত্রী। শীতকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতরে একসঙ্গে খেতে বসেন, গরমের সময়ে জড়ো হন উঠানে। ঘুমানোর ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়। কখনো ছয়-সাতজনকে একটি পাতলা কম্বল ভাগাভাগি করে রাত কাটাতে হয়।   বিবিসির প্রতিবেদনে বাড়িটির অপ্রতুল ব্যবস্থাপনার কথাও উঠে এসেছে। ঘরগুলোতে প্রচলিত দরজা-জানালার বদলে কোথাও কোথাও পাতলা পর্দা ব্যবহার করা হয়। গোসলের জায়গাটিই কাপড় ও থালাবাসন ধোয়ার কাজে ব্যবহৃত হয়; কখনো সেটিকে শৌচাগার হিসেবেও ব্যবহার করতে হয়। এমন পরিবেশে পরিবারের সবার জন্য পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখা কঠিন।   এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সন্তানদের স্কুলে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে জানান সাদিক। তবে শিক্ষার খরচ বহন করা তার পরিবারের জন্য বড় বাধা। তিনি পড়তে বা লিখতে পারেন না। সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন সাদিক এখন সরকার, ত্রাণ সংস্থা ও ব্যবসায়ীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চাইছেন, যাতে পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সন্তানদের শিক্ষার সুযোগও নিশ্চিত করা যায়।   সাদিকের ভাষ্য, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি বড় পরিবার গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু সন্তানদের নাম মনে রাখা ও তাদের দেখাশোনা করা যে কঠিন, তা-ও স্বীকার করেছেন তিনি। একবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে এক ধর্মীয় নেতার কাছে ভুল করে এক মেয়ের বদলে অন্য মেয়ের নাম বলে ফেলেন। অনেক সময় সন্তানদের নাম মনে করতে না পেরে তাদের ‘আমার ছেলে’ বা ‘আমার সন্তান’ বলে ডাকেন।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাদিকের চার স্ত্রী যখন তাকে বিয়ে করেন, তখন তাদের বয়স ছিল ১৩ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। প্রথম বিয়ের সময় সাদিকের বয়স ছিল ২০ বছর। প্রতিটি বিয়ের আগে কনের জন্য নির্ধারিত অর্থ জোগাড় করতে তাকে দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয় করতে হয়েছে।   সাদিকের পরিবারের পরিস্থিতি অল্প বয়সে বিয়ে, কৈশোরে গর্ভধারণ এবং ঘন ঘন সন্তান জন্মদানের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছে। কৈশোরে গর্ভধারণ মায়ের স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। পরপর গর্ভধারণের ফলে শারীরিক জটিলতার আশঙ্কাও বাড়তে পারে, বিশেষ করে যেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা সহজে পাওয়া যায় না।   এখন সাদিকের প্রধান চাওয়া, পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্য পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করা এবং সন্তানদের পড়াশোনার সুযোগ নিশ্চিত করা। সীমিত আয় ও বড় পরিবারের দায়িত্বের মধ্যে তিনি আর্থিক সহায়তাকেই এই সংকট সামাল দেওয়ার অন্যতম ভরসা হিসেবে দেখছেন।   সূত্র: বিবিসি, খামা প্রেস।

ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা পুনরায় শুরুর বিষয়ে রাশিয়ার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইউরোপ রাশিয়াকে হারাতে পারবে না, দাবি পুতিনের
প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ২২:৫১

রাশিয়াকে সামরিকভাবে পরাজিত করা ইউরোপের পক্ষে সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা আবারও শুরু করতে মস্কো নীতিগতভাবে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন তিনি। ইউরোপের দেশগুলোর সামরিক প্রস্তুতির সমালোচনা করে পুতিন বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর বিষয়ে ইউরোপের বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   রুশ সংবাদমাধ্যম তাসের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি এক সাংবাদিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পুতিন ইউক্রেনকে রাশিয়ার ‘ভ্রাতৃপ্রতিম জাতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি রুশ ও ইউক্রেনীয়দের ঐতিহাসিক ও জাতিগত ঘনিষ্ঠতার কথা তুলে ধরেন। তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সরকারের সমালোচনা করে তাঁর দাবি, কিয়েভের নেতৃত্ব সাধারণ মানুষকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠাচ্ছে। এসব বক্তব্য রুশ প্রেসিডেন্টের নিজস্ব অবস্থান হিসেবে এসেছে, স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে নয়।   ইউরোপের দেশগুলো রাশিয়ার সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ মোকাবিলায় প্রতিরক্ষা জোরদার করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পুতিন ইউরোপের যুদ্ধপ্রস্তুতিকে ‘রাজনৈতিক সিজোফ্রেনিয়া’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, ইউরোপের জনগণ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চায় না এবং মস্কোরও ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধ করার ইচ্ছা নেই। তাঁর দাবি, অতীতে যারা রাশিয়াকে পরাজিত করার চেষ্টা করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে শত্রুতার পরিবর্তে বন্ধুত্বের গুরুত্ব বুঝেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার প্রসঙ্গে পুতিন বলেন, রাশিয়া ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ও আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে সেন্ট পিটার্সবার্গে বৈঠকের পর এ বিষয়ে আলোচনা এগিয়েছে। সম্ভাব্য বৈঠকে রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন। তবে আলোচনার নির্দিষ্ট সময়সূচি ও আলোচ্যসূচি সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বৈঠকটি নিশ্চিত বলে ধরে নেওয়া যাচ্ছে না।   ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও দুই পক্ষের মধ্যে ভূখণ্ড, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে নতুন করে ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হলেও দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আলোচনার উদ্যোগ যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে, তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও সমঝোতার ওপর।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, তাস।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়