সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
রাশিয়ার ইরকুৎস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণাগারের এক কর্মীর মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ল্যাবে কাজ করার সময় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে গবেষকের মৃত্যু, তিন হাসপাতাল লকডাউন

রাশিয়ার একটি গবেষণাগারে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যায়। ওই টেস্টটিউবে ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগের জীবাণু ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টেস্টটিউব ভাঙার কারণেই প্লেগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই ল্যাব সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিনটি হাসপাতাল লকডাউন করা হয়েছে।   পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুটস্কে অবস্থিত একটি অ্যান্টি-প্লেগ ল্যাবরেটরিতে এই ঘটনা ঘটে। এই গবেষণাগারটি মূলত বিরল রোগ নিয়ে কাজ করে। ইনডিপেনডেন্ট নিউজ আউটলেট ‘পিপল অব বৈকাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গত সপ্তাহে ওই ল্যাবে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার সময় ভুলবশত নিউমোনিক প্লেগ ধারণকারী টেস্টটিউবটি ভেঙে ফেলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।   মস্কো টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে দারিয়াকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মাথায় ১ অক্টোবর রাতে তিনি মারা যান।   দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতা হিসেবে অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের অন্যান্য কর্মীসহ প্রায় ১৮৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দারিয়ার অসুস্থ হওয়ার পর এরা তার সংস্পর্শে এসেছিলেন। ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, ল্যাবের এই ‘বিশেষত বিপজ্জনক সংক্রমণ’ নিয়ে আলোচনার জন্য সপ্তাহান্তে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে কর্তৃপক্ষ। ইরকুটস্ক হলো মঙ্গোলিয়ার উত্তরের একটি বিশাল অঞ্চল।   গভর্নর ইগর কোবজেভ আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা আর কারও মধ্যে এই রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে রাশিয়ায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব থাকায় সেখানকার এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তারিত তথ্য খুব একটা প্রকাশ পায়নি। এদিকে, রুশ ট্যাবলয়েড ম্যাশের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেশী অঞ্চল বুরিয়াটিয়া থেকে ফেরার পর ওই ল্যাব সহকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন, যেখানে আগে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল।   সাধারণত ইঁদুরের মতো প্রাণীর শরীরে থাকা সংক্রমিত মাছির কামড়ের মাধ্যমে প্লেগ ছড়ায়। ১৪ শতকে বিশ্বব্যাপী যে ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে যে প্লেগের কথা বলা হচ্ছে তা হলো নিউমোনিক প্লেগ। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

২২ মিনিট Ago
ফ্লোরিডার সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিনের পর্যটনভিত্তিক কাজের জন্য তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
১০ দিন ছুটি কাটালেই মিলবে ১০ হাজার ডলার, ফ্লোরিডায় ব্যতিক্রমী চাকরির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিন ঘুরে বেড়িয়ে স্থানীয় খাবার, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিনোদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিনিময়ে ১০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পিনেলাস কাউন্টির পর্যটন কর্তৃপক্ষ ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার এ জন্য তিনজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে। নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিমানভাড়া ও থাকার সুবিধাও পাবেন।   এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো পিনেলাস কাউন্টির পর্যটন আকর্ষণগুলোকে আরও বেশি মানুষের কাছে তুলে ধরা। নির্বাচিত তিনজনকে ১০ দিনের জন্য নির্ধারিত ভ্রমণসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে যেতে হবে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। কাজটি সাধারণ ছুটির ভ্রমণের মতো হলেও এর সঙ্গে কনটেন্ট তৈরি এবং এলাকার প্রচারের দায়িত্বও যুক্ত থাকবে।   তিনটি পদের মধ্যে প্রথমটির নাম ‘চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরার’। এই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে স্থানীয় খাবারের জগৎ ঘুরে দেখতে হবে এবং বিভিন্ন খাবার ও রন্ধনসংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয় পদ ‘চিফ সানসেট কিউরেটর’, যার দায়িত্ব হবে জাদুঘর, দেয়ালচিত্র, রঙিন পাড়া এবং এলাকার শিল্প-সংস্কৃতি ঘুরে দেখা। তৃতীয় পদ ‘চিফ ভাইবস অফিসার’-এর কাজ হবে স্থানীয় সংগীত, রাতের বিনোদন ও বিভিন্ন আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা।    প্রতিটি পদের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি ১০ হাজার ডলারের চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিক পাবেন। এর সঙ্গে ফ্লোরিডায় যাওয়ার বিমানভাড়া এবং থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। ভ্রমণের সময় তিনজনকে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবে কিছু ক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা বিষয় অনুসন্ধান করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের তৈরি কনটেন্ট একই এলাকার বিভিন্ন দিক মানুষের সামনে তুলে ধরবে।   ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা স্টিভ গ্রিমস ফক্স ১৩-কে জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রচারণামূলক কৌশলের নামে তৈরি কাল্পনিক চাকরি নয়, সত্যিই তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত ব্যক্তিরা ১০ হাজার ডলার পাবেন এবং সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর পাশাপাশি সেই অভিজ্ঞতা মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকা এবং নতুন অভিজ্ঞতাগুলো গল্পের মতো করে উপস্থাপন করতে পারা।   এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে তিন হাজারের বেশি মানুষ আবেদন করেছেন। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে কারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ভিডিওগুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব কারা পালন করবেন এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঠিক কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়েও পর্যটন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।   আবেদনকারীদের দুই মিনিটের একটি ভিডিও জমা দিতে হবে। সেখানে তাদের ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তারা এই কাজের জন্য উপযুক্ত এবং কীভাবে তারা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের অভিজ্ঞতা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। কনটেন্ট তৈরি, গল্প বলার দক্ষতা এবং ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবেদন করা যাবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।   নির্বাচিত তিনজনকে ৬ নভেম্বর থেকে ওই এলাকায় আসার প্রস্তুতি নিতে হবে। এরপর তাদের ১০ দিনের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। এই প্রচারণার মাধ্যমে পর্যটন কর্তৃপক্ষ এমন কিছু জায়গা ও অভিজ্ঞতাও সামনে আনতে চায়, যেগুলো সাধারণ পর্যটকদের অনেকেরই নজর এড়িয়ে যেতে পারে। দ্য দালি মিউজিয়ামের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা বেথ বেলও মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার পরিচিতির বাইরে থাকা অভিজ্ঞতাগুলো নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।   সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার ফ্লোরিডার পিনেলাস কাউন্টিতে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। সমুদ্রসৈকত, শিল্প-সংস্কৃতি, খাবার এবং বিনোদনের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। পর্যটন কর্তৃপক্ষের নতুন এই উদ্যোগে তাই প্রচলিত বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে সরাসরি মানুষের অভিজ্ঞতাকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচিত তিনজনের তৈরি কনটেন্টের মাধ্যমে সম্ভাব্য পর্যটকদের কাছে এলাকার বৈচিত্র্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই এর প্রধান লক্ষ্য।   সূত্র: ফক্স ১৩ টাম্পা বে

৩৬ মিনিট Ago
বাল্টিমোর থেকে মিয়ামিগামী আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে অশালীন আচরণের অভিযোগে আটক হন কেটি ইনজার। ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নারী যাত্রীর অশোভন আচরণ, তদন্তে এফবিআই

যুক্তরাষ্ট্রের বাল্টিমোর থেকে মিয়ামিগামী একটি আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে মদ্যপ অবস্থায় এক নারী অশালীন আচরণ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। উড়োজাহাজটি উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর তিনি নিজের পোশাক খুলে যৌন আচরণে লিপ্ত হন বলে এক সহযাত্রী অভিযোগ করেন। ঘটনাটি গত ১১ সেপ্টেম্বরের।   অভিযোগের ভিত্তিতে ৪৬ বছর বয়সী কেটি ইনজারকে ফ্লোরিডার মিয়ামিতে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। মিয়ামি-ডেড শেরিফস অফিসের নথিতে বলা হয়েছে, ফ্লাইটের এক যাত্রী বিষয়টি কেবিন ক্রুকে জানান। এরপর একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট ওই নারীর কাছে গিয়ে তাকে আচরণ বন্ধ করতে বলেন।   ঘটনার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাল্টিমোর থেকে মিয়ামির উদ্দেশে সন্ধ্যার ফ্লাইটটি উড্ডয়নের পরপরই ওই নারী তার প্যান্ট খুলে অশালীন যৌন আচরণ শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় তিনি অনুপযুক্ত শব্দ করছিলেন বলেও ওই সহযাত্রী অভিযোগ করেন। কেবিন ক্রু তার কাছে যাওয়ার পর ইনজার আচরণ বন্ধ করেন এবং আবার পোশাক পরেন। পরে তিনি পুরো ফ্লাইটজুড়ে ঘুমিয়ে ছিলেন বলে শেরিফস অফিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মিয়ামিতে ফ্লাইট পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইনজারের সঙ্গে কথা বলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, তার শরীর থেকে অ্যালকোহলের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল এবং চোখ ছিল রক্তাভ। তিনি ঘটনার কথা মনে করতে পারছিলেন না এবং ঘুমিয়ে পড়ার কথা জানান। ইনজার মেরিল্যান্ডের বাসিন্দা এবং পেশায় একজন বারটেন্ডার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে তিনি বা মিয়ামি-ডেড শেরিফস অফিস তাৎক্ষণিকভাবে সংবাদমাধ্যমের অনুরোধে কোনো মন্তব্য করেনি।   ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য স্মোকিং গান। পরে নিউইয়র্ক পোস্ট ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ঘটনাটি কোন এলাকার আইনি এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় বিষয়টি ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআইয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে এ বিষয়ে এফবিআইয়ের পক্ষ থেকে পরবর্তী কোনো তথ্য পাওয়া গেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। বিমানযাত্রায় এমন ঘটনা এর আগেও ঘটেছে। এর এক সপ্তাহ আগে রচেস্টার থেকে নিউয়ার্কগামী ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে এক নারী যাত্রীর পাশে বসা এক পুরুষ যাত্রী যৌন আচরণ করছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই নারী দাবি করেছিলেন, পরিস্থিতির কারণে তাকে ওই আসনেই থাকতে হয়েছিল এবং পরে তাকে ১০০ ডলারের একটি ক্রেডিট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।   বিমানে যৌন হয়রানি বা এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ প্রত্যক্ষ করলে দ্রুত কেবিন ক্রু অথবা গন্তব্যে পৌঁছানোর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন বিভাগ। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানের ভেতরে এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের অপরাধের মাত্রা বোঝাতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজে যৌন নিপীড়ন ও অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন আচরণের ১০৪টি ঘটনা তারা তদন্ত করেছে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

১ ঘন্টা Ago
এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জির বিরুদ্ধে বোল্ডারের জলবায়ু মামলার শুনানির সময় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিক্ষোভ।
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার

যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে সোমবার শুরু হয়েছে এমন একটি মামলা, যার রায় দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বহু মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। মামলায় কলোরাডোর বোল্ডার শহর ও কাউন্টি অভিযোগ করেছে, তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল ও সানকর এনার্জির জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবসা জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি বাড়িয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘদিন ধরে এসব ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে।   বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কোম্পানি দুটির কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া বিভিন্ন ক্ষতির জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাইছে। এর মধ্যে অবকাঠামো মেরামত, পরিবেশগত ক্ষতি, জরুরি ব্যবস্থাপনা এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর পড়া ব্যয়ের বিষয় রয়েছে।   এক্সনমোবিল ও সানকর অবশ্য এই মামলা এগিয়ে নেওয়ার বিরোধিতা করছে। তাদের দাবি, জলবায়ু পরিবর্তন এবং বায়ুদূষণসংক্রান্ত বিষয় মূলত ফেডারেল আইনের আওতায় পড়ে। তাই কোনো একটি শহর বা অঙ্গরাজ্যের আইন ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জীবাশ্ম জ্বালানি নির্গমনের জন্য কোম্পানিগুলোকে দায়ী করা উচিত নয়।   কোম্পানি দুটির পক্ষে ট্রাম্প প্রশাসনও অবস্থান নিয়েছে। সরকারের যুক্তি, বোল্ডারের মামলা এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলে অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারগুলো ফেডারেল পরিবেশনীতি পাশ কাটিয়ে জাতীয় পর্যায়ের জ্বালানি ও জলবায়ু নীতিতে প্রভাব ফেলতে পারবে।   মামলাটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকার একই ধরনের প্রায় ৬০টি মামলা করেছে। এসব মামলায় জীবাশ্ম জ্বালানি কোম্পানির কাছ থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির জন্য কোটি কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট যদি তেল কোম্পানিগুলোর পক্ষে রায় দেয়, তাহলে এর মধ্যে অনেক মামলা আটকে যেতে বা বাতিল হতে পারে।   অন্যদিকে বোল্ডারের পক্ষে রায় গেলে স্থানীয় সরকারগুলোর জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতির আর্থিক দায় নিয়ে জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করার পথ আরও শক্তিশালী হতে পারে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্পের ওপর ভবিষ্যতে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   মামলাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও অঙ্গরাজ্য সরকারের ক্ষমতার সীমা। সুপ্রিম কোর্টকে মূলত বিবেচনা করতে হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্যার ক্ষতির জন্য স্থানীয় আদালতে অঙ্গরাজ্যের আইন ব্যবহার করে জ্বালানি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা করা যায় কি না।   সুপ্রিম কোর্টের নয়জন বিচারপতির মধ্যে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিটো এই মামলায় অংশ নিচ্ছেন না। তার আর্থিক ঘোষণায় কয়েকটি তেল ও গ্যাস কোম্পানির শেয়ার থাকার বিষয় উল্লেখ রয়েছে। ফলে তিনি মামলাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন।   আলিটো অংশ না নেওয়ায় মামলাটিতে সমান সংখ্যক ভোট পড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে নিচের আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল থাকতে পারে। তবে সুপ্রিম কোর্ট কীভাবে বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।   বোল্ডারের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, তাদের মামলা তেল উৎপাদন বন্ধ করার দাবি নয়। বরং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় জনগণ ও করদাতাদের যে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে, তার একটি অংশের দায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ওপর দেওয়াই তাদের লক্ষ্য।   অন্যদিকে জ্বালানি কোম্পানিগুলো আশঙ্কা করছে, বোল্ডারের মামলা চলতে দিলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহর ও অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের অসংখ্য মামলা হতে পারে। এতে জ্বালানি শিল্পের ওপর বিপুল আর্থিক দায় তৈরি হতে পারে এবং জাতীয় জ্বালানি নীতিতে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভিন্নতা তৈরি হতে পারে।   এই মামলার রায় শুধু এক্সনমোবিল বা সানকর এনার্জির জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি শিল্প, স্থানীয় সরকার এবং জলবায়ু ক্ষতির আইনি দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।   সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী বছরের জুনের মধ্যে আসতে পারে। ততদিন পর্যন্ত বোল্ডারসহ একই ধরনের মামলাগুলোর ভবিষ্যৎ অনেকটাই এই মামলার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকবে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
বাড়তি খরচের চাপে মার্কিনীরা, মধ্যবর্তী নির্বাচনে অর্থনীতিই বড় ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ভোটারদের কাছে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার বাড়তি খরচ ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, খাবার থেকে শুরু করে বাড়ি কেনার খরচ, দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই চাপ অনুভব করছেন অনেক আমেরিকান। ফলে আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি ভোটারদের বড় বিবেচনা হয়ে উঠেছে কে কীভাবে জীবনযাত্রার খরচ সামলানোর পরিকল্পনা দিচ্ছেন। রয়টার্স ও ইপসসের আগস্টের এক জরিপে জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটারদের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে আসতে দেখা যায়। ৯৫১ জন নিবন্ধিত ভোটারের ওপর পরিচালিত ওই জরিপে ৩৬ শতাংশ মনে করেন, জীবনযাত্রার খরচ সামলাতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির পরিকল্পনা তুলনামূলক ভালো। রিপাবলিকানদের ওপর আস্থা রেখেছেন ২৮ শতাংশ। তবে ৩৭ শতাংশ ভোটার কোনো দলকেই এগিয়ে রাখেননি অথবা নিশ্চিত কোনো মত দেননি। এই উদ্বেগের পেছনে বড় কারণ মূল্যস্ফীতি। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিসটিকসের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। এক বছর আগের তুলনায় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে। একই সময়ে খাবারের দাম ২ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এনার্জির দাম ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি করছে জ্বালানি। আগস্টে শুধু এক মাসেই গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। আর এক বছর আগের তুলনায় গ্যাসোলিনের মূল্যসূচক বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪ শতাংশ। ফলে যেসব অঙ্গরাজ্যে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা বেশি, সেখানে পাম্পের বাড়তি খরচ সরাসরি পারিবারিক বাজেটে প্রভাব ফেলছে। মিশিগানের ৩১ বছর বয়সী ব্র্যান্ড স্ট্র্যাটেজিস্ট ও হাইস্কুল ফুটবল কোচ জ্যাক ওয়েনের অভিজ্ঞতাও সেই বাস্তবতার প্রতিফলন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, মিশিগানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে দুই থেকে চার ঘণ্টা গাড়ি চালানো অস্বাভাবিক নয়। তাই গ্যাসের দাম তাঁর মতো ভোটারদের কাছে শুধু অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান নয়, বরং প্রতিদিনের খরচের বিষয়। প্রার্থীরা গ্যাসের দাম কমানোর বিষয়ে কী পরিকল্পনা দিচ্ছেন, সেটিও তাঁর ভোটের সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুধু গ্যাস নয়, বিদ্যুতের বিল নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে দ্রুত বাড়তে থাকা এআই ডেটা সেন্টার ভবিষ্যতে সাধারণ গ্রাহকদের বিদ্যুতের খরচে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখন রাজনৈতিক আলোচনাতেও জায়গা পাচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের প্রার্থীরা বড় বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত খরচ এবং সাধারণ গ্রাহকদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কীভাবে সামলানো হবে, তা নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা তুলে ধরছেন। আবাসন খাতেও স্বস্তি নেই। বাড়ির দাম ও মর্টগেজ রেটের চাপ নতুন ক্রেতাদের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন করে তুলেছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা আস্থা প্রায় সাড়ে ১২ বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এর পেছনে জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ব্যয়বহুল মর্টগেজ এবং চাকরির বাজার নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে দুই প্রধান প্রার্থীও আবাসনের খরচ নিয়ে ভিন্ন পরিকল্পনা সামনে এনেছেন। রিপাবলিকান মাইক রজার্স ডাউন পেমেন্ট সহায়তা, বাড়ি কেনার খরচ কমানো এবং নতুন বাড়ি নির্মাণে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলছেন। ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ স্থানীয় বিধিনিষেধ সহজ করে বাড়ি নির্মাণ বাড়ানো, অ্যালগরিদমের মাধ্যমে রেন্ট নির্ধারণে বিধিনিষেধ এবং ডাউন পেমেন্ট সহায়তা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দিয়েছেন। ট্যারিফও নির্বাচনী অর্থনীতির আলোচনায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আরোপিত বিভিন্ন ট্যারিফ আমদানিনির্ভর ব্যবসার খরচে প্রভাব ফেলেছে। মেইনের রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্স কানাডার ওপর কিছু ট্যারিফের বিরোধিতা করেছেন। তাঁর যুক্তি, সীমান্তের দুই পাশের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক খাবার ও বাড়ি নির্মাণসহ বিভিন্ন খাতে খরচ বাড়াতে পারে। তাঁর ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রয় জ্যাকসনও ট্যারিফের বিরোধিতা করছেন। তবে অর্থনীতির চিত্র পুরোপুরি নেতিবাচক নয়। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশে ছিল। কিন্তু চাকরি থাকা সত্ত্বেও অনেক পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ রয়ে গেছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিয়োগের গতি কমেছে এবং মূল্যস্ফীতি মজুরি বৃদ্ধির একটি অংশ খেয়ে ফেলছে। ফলে অর্থনীতির সামগ্রিক সূচক এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।  এই বাস্তবতায় মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে অর্থনীতি শুধু কর্মসংস্থান বা শেয়ারবাজারের হিসাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না। গ্যাস স্টেশনে কত ডলার দিতে হচ্ছে, মাস শেষে বিদ্যুতের বিল কত আসছে, গ্রোসারির খরচ কতটা বেড়েছে এবং একটি বাড়ি কেনা কতটা নাগালের মধ্যে আছে, এসব দৈনন্দিন হিসাবই অনেক ভোটারের কাছে অর্থনীতির বাস্তব চেহারা। আগামী নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং সিনেটের ৩৫টি আসন ভোটের মুখোমুখি হচ্ছে। তাই জীবনযাত্রার খরচ কমানো এবং অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা দুই দলের প্রচারেই গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত ভোটাররা কোন দল বা প্রার্থীকে বেছে নেবেন, তা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ১০:৩০
মামদানিকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই চমক, বিশ্বের ১ নম্বর শহরের স্বীকৃতি পেল নিউইয়র্ক

মেয়র জোহরান মামদানিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বিতর্ক চললেও নিউইয়র্ক আবারও বিশ্বসেরা শহরের স্বীকৃতি পেয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্সে বিশ্বের ১ হাজার শহরের মধ্যে নিউইয়র্ক প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ ও শাসনব্যবস্থার মতো বিভিন্ন সূচকে মূল্যায়নের পর শহরটির সামগ্রিক স্কোর দাঁড়িয়েছে ১০০।   এই স্বীকৃতির সময় মামদানি প্রশাসন নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বেশ কিছু নীতি বাস্তবায়ন করছে। ভাড়ানিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া স্থির রাখা, বিনামূল্যে শিশু যত্নের সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের উদ্যোগ এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্কের ভাড়ানিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টগুলোর জন্য এক ও দুই বছরের লিজে ভাড়া না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাড়ির মালিকদের পক্ষ থেকে আইনি চ্যালেঞ্জও এসেছে। শিশু যত্নের ক্ষেত্রে মামদানি প্রশাসন চারটি কমিউনিটিতে বিনামূল্যে ২-K আসন চালু করেছে। এর লক্ষ্য ধাপে ধাপে পুরো শহরের দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে এই সুবিধা সম্প্রসারণ করা। এদিকে উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর অতিরিক্ত কর আরোপের পরিকল্পনাও মামদানির প্রশাসনের অন্যতম আলোচিত উদ্যোগ। এই নীতি নিয়েও আইনি বিরোধ তৈরি হয়েছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের সূচকে নিউইয়র্কের শীর্ষ অবস্থান অবশ্য শুধু বর্তমান মেয়র প্রশাসনের নীতির ওপর নির্ভর করে দেওয়া হয়নি। শহরের বিশাল অর্থনীতি, শক্তিশালী শ্রমবাজার, দক্ষ জনশক্তি এবং বৈশ্বিক প্রভাবও এই র‌্যাংকিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে মামদানিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক এবং তার প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি নিয়ে মতভেদ থাকলেও আন্তর্জাতিক সূচকে নিউইয়র্কের শক্ত অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে নতুন নীতিগুলো শহরের জীবনযাত্রা, আবাসন ও অর্থনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজর রাখার বিষয়।

হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

হাতে ১০ হাজার ডলার আছে, কিন্তু কোথায় বিনিয়োগ করবেন বুঝতে পারছেন না? শেয়ারবাজার, সোনা, সরকারি বন্ড নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংশ্লিষ্ট কোম্পানি—উচ্চ সুদের বর্তমান বাজারে এই প্রশ্ন এখন অনেক বিনিয়োগকারীর। এমন পরিস্থিতিতে আটজন বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, তাঁরা এখন ১০ হাজার ডলার হাতে পেলে কোন কোন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজতেন।   বাজারের হিসাব বদলে যাওয়ার অন্যতম কারণ সুদের হার। যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৩ সালের পর প্রথমবারের মতো সুদ বাড়ানোর চক্রের মুখোমুখি হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। একই সময়ে মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির বাড়তি দাম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগ বাজারে নতুন চাপ তৈরি করছে। ট্রেজারি বন্ডের ফলনও বহু বছরের উচ্চ পর্যায়ে উঠেছে। ফলে শুধু বেশি মুনাফার আশা নয়, ঝুঁকি সামলে কোথায় অর্থ রাখা যায়, সেটিও বড় বিবেচ্য হয়ে উঠেছে।  জেপিমরগ্যান প্রাইভেট ব্যাংকের বৈশ্বিক বিনিয়োগ কৌশলবিদ কৃতি গুপ্তা সুযোগ দেখছেন চারটি খাতে—ইউটিলিটি, শিল্প, প্রতিরক্ষা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। তাঁর ধারণা, সুদের হার তুলনামূলক বেশি থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজার এখন পর্যন্ত স্থিতিশীলতা দেখিয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে অবকাঠামো নির্মাণের প্রয়োজন শিল্প খাতকে সহায়তা করতে পারে। আর বেশি সুদের পরিবেশ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সুদ থেকে আয় বাড়াতে পারে। তবে সিবার্ট ফিন্যান্সিয়ালের প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তা মার্ক মালেকের কৌশল কিছুটা ভিন্ন। ১০ হাজার ডলার হলে তিনি ৩০ শতাংশ এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকে, ২০ শতাংশ এআই সংশ্লিষ্ট শেয়ারে এবং সবচেয়ে বড় অংশ—৩৫ শতাংশ—পাঁচ বছরের কম মেয়াদের মার্কিন ট্রেজারিতে রাখার কথা বলেছেন। বাকি ১৫ শতাংশ সোনা অথবা স্বল্পমেয়াদি ট্রেজারি বিলে রাখার পক্ষে তিনি। অর্থাৎ তাঁর কৌশলে প্রবৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি বাজারের ঝুঁকি সামলানোর ব্যবস্থাও রয়েছে। ইউএস ব্যাংক অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের রব হাওর্থ আবার ১০ হাজার ডলারের ৬৫ শতাংশ বৈশ্বিক শেয়ারে বিনিয়োগের কথা বলেছেন। এর বড় অংশ থাকবে যুক্তরাষ্ট্র ও উদীয়মান বাজারে। তাঁর পরিকল্পনায় আরও প্রায় ৩০ শতাংশ উচ্চমানের দীর্ঘমেয়াদি বন্ড এবং ৫ শতাংশ বৈশ্বিক অবকাঠামো খাতে রাখা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ ধরতেই শেষের এই বরাদ্দ। আরেক বিশেষজ্ঞ কিয়ারান অসবর্নের নজর ইন্টারভ্যাল ফান্ডে। এসব তহবিল বিকল্প ও বেসরকারি সম্পদে বিনিয়োগ করে এবং সাধারণত নির্দিষ্ট সময় পরপর সীমিত পরিমাণ অর্থ তোলার সুযোগ দেয়। তাঁর মতে, স্বল্পমেয়াদি সুদ বাড়লে এসব তহবিলের আয়ও বাড়তে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে—প্রয়োজনের সময় দ্রুত পুরো অর্থ তুলে নেওয়া কঠিন হতে পারে। অর্থাৎ সম্ভাব্য আয়ের পাশাপাশি তারল্যঝুঁকিও বিবেচনায় রাখতে হবে।  কনভেক্স ওয়েলথের মেলিসা কোরমেয়ার জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতে আরও সম্ভাবনা দেখছেন। অন্যদিকে ভ্যানগার্ডের কেভিন খাং মনে করছেন, এআই ঘিরে বাজার এমন পর্যায়ে এসেছে যেখানে শুধু খাত দেখে বিনিয়োগ করার বদলে সঠিক কোম্পানি বেছে নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। কোন প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করে বাস্তবে আয় বাড়াতে পারছে, সেই পার্থক্য এখন বিনিয়োগের ফলাফলে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।  এডওয়ার্ড জোন্সের মোনা মাহাজানের পছন্দ যোগাযোগসেবা ও শিল্প খাত। আর ইউবিএস গ্লোবাল ওয়েলথ ম্যানেজমেন্টের জেসন ড্রাহো এআই সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প ও ভোক্তানির্ভর খাতেও তিনি সম্ভাবনা দেখছেন।  আট বিশেষজ্ঞের মত ভিন্ন হলেও একটি বিষয় পরিষ্কার—বর্তমান বাজারে ১০ হাজার ডলার এক জায়গায় রাখার বদলে বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ও খাতে ভাগ করে বিনিয়োগের কৌশল গুরুত্ব পাচ্ছে। শেয়ার ও এআই থেকে প্রবৃদ্ধির সুযোগ নেওয়ার পাশাপাশি ট্রেজারি, বন্ড কিংবা সোনার মতো সম্পদ দিয়ে ঝুঁকি সামলানোর কথাও উঠে এসেছে তাঁদের পরামর্শে। তবে কারও হাতে ১০ হাজার ডলার আছে বলেই এই বিনিয়োগ কৌশল হুবহু অনুসরণ করা উচিত নয়। বয়স, আয়, ঋণ, জরুরি সঞ্চয়, কতদিন অর্থ বিনিয়োগ করে রাখা সম্ভব এবং কতটা ঝুঁকি নেওয়া যায়—এসবের ওপর ব্যক্তিগত বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নির্ভর করে।

ফোনে অচেনা মেসেজ? এক ক্লিকেই বিপদ—সতর্ক থাকুন, অন্যকেও সতর্ক করুন
ফোনে এই মেসেজ এলেই সাবধান! মুহূর্তেই ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা

ফোনে হঠাৎ ভেসে উঠল অচেনা একটি মেসেজ—‘আপনার জন্য চাকরির সুযোগ’, ‘সহজ শর্তে ঋণ’, কিংবা এমন কোনো প্রস্তাব, যার জন্য আপনি কখনো আবেদনই করেননি। কৌতূহলবশত অনেকে মেসেজটি খুলে দেখেন, কেউ আবার সঙ্গে থাকা লিংকে ক্লিক করেন। আর এই সামান্য অসতর্কতাকেই কাজে লাগিয়ে মুহূর্তের মধ্যে মানুষকে ফাঁ দে ফেলছে প্র তা রকরা।   নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোনকল ও খুদে বার্তা এখন প্র তা রকদের মানুষের কাছে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে। শুধু প্র তা রণার সংখ্যা বাড়ছে তা নয়, প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে প্র তা রকরা আগের তুলনায় অনেক দ্রুত এবং বড় পরিসরে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে।   যুক্তরাষ্ট্রের বেটার বিজনেস ব্যুরোর নতুন এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল ২০২২ সাল থেকে পাওয়া প্রায় ৪ লাখ ৪০ হাজার প্র তা রণার অভিযোগ বিশ্লেষণ করেছে। এতে দেখা গেছে, প্র তা রকরা মানুষের কাছে পৌঁছাতে এমন অনেক বৈধ ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করছে, যেগুলো সাধারণ মানুষ ও বৈধ ব্যবসার ক্ষেত্রেও নিয়মিত ব্যবহৃত হয়।   প্র তা রণার নতুন হাতিয়ার প্রযুক্তি   বেটার বিজনেস ব্যুরোর মুখপাত্র জশ প্লানোস বলেন, প্র তা রণা এখন একটি অত্যন্ত লাভজনক শিল্পে পরিণত হয়েছে। প্র তা রকরা তাদের কার্যক্রমকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করছে, যেগুলো সহজলভ্য এবং ব্যবহারে বড় কোনো বাধা নেই।   প্র তা রণার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে ভার্চুয়াল ও ইন্টারনেটভিত্তিক ফোন নম্বর, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক খুদে বার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা, সহজে ওয়েবসাইট তৈরির সরঞ্জাম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কণ্ঠস্বর ও ভিডিও এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা।   এর ফলে একজন প্র তা রককে প্রতিটি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীর সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। প্রযুক্তির সাহায্যে অল্প সময়েই হাজারো মানুষের কাছে একই ধরনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।   নম্বর বদলালেই কি প্র তা রক বদলে যায়?   প্র তা রকদের আরেকটি কৌশল নিয়েও সতর্ক করেছে বেটার বিজনেস ব্যুরো। কোনো একটি ফোন নম্বর বন্ধ হয়ে গেলে বা মানুষ সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করলে প্র তা রকরা দ্রুত নতুন নম্বর ব্যবহার করতে পারে।   তাই নতুন বা অপরিচিত নম্বর থেকে মেসেজ এলেই সেটিকে নতুন কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। একই প্র তা রণার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাই বারবার নম্বর পরিবর্তন করে নতুন করে মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।   চাকরি ও ঋণের মেসেজে বিশেষ সতর্কতা   বিশেষ করে এমন মেসেজ নিয়ে সতর্ক করেছে বেটার বিজনেস ব্যুরো, যেখানে এমন চাকরি বা ঋণের প্রস্তাব দেওয়া হয়, যার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি কখনো আবেদন করেননি।   এ ধরনের মেসেজের সঙ্গে অনেক সময় একটি লিংকও দেওয়া থাকতে পারে। সেখানে ক্লিক করে ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়া, কোনো ফরম পূরণ করা কিংবা আর্থিক তথ্য শেয়ার করা হলে প্র তা রকরা সেটি পরবর্তী প্র তা রণায় ব্যবহার করতে পারে।   তাই অপ্রত্যাশিত চাকরি বা ঋণের মেসেজ এলে কথোপকথন চালিয়ে না যাওয়াই নিরাপদ। অচেনা প্রেরকের পাঠানো কোনো লিংকেও ক্লিক না করার পরামর্শ দিয়েছে বেটার বিজনেস ব্যুরো।   আইনও কি প্র তা রকদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পারছে না?   প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে বর্তমান টেলিযোগাযোগ আইন তাল মেলাতে পারছে না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   জশ প্লানোসের মতে, বিদ্যমান অনেক টেলিযোগাযোগ বিধি এমন এক সময়ে তৈরি হয়েছিল, যখন ল্যান্ডলাইন ফোনই ছিল যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। বর্তমান সময়ে খুদে বার্তা, ভার্চুয়াল নম্বর এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এসব নিয়মের পরিধি আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।   তিনি যুক্তরাষ্ট্রের টেলিমার্কেটিং বিক্রয়বিধি এবং টেলিফোন ভোক্তা সুরক্ষা আইনের মতো বিদ্যমান বিধি আরও বিস্তৃতভাবে প্রয়োগের সুপারিশ করেছেন, যাতে খুদে বার্তাও আরও শক্তিশালী সুরক্ষার আওতায় আসে।   এখনই যে সতর্কতাটি নিতে পারেন   প্র তা রণা ঠেকাতে খুব জটিল কোনো প্রযুক্তির প্রয়োজন নেই। বেটার বিজনেস ব্যুরোর পরামর্শ, নিজের মুঠোফোনের অনাকাঙ্ক্ষিত বার্তা শনাক্ত করার ব্যবস্থা চালু করে রাখুন। এতে সন্দেহজনক কল ও মেসেজ শনাক্ত বা ফিল্টার করতে সহায়তা মিলতে পারে।   তবে শুধু এই ব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে ব্যবহারকারীকেও সচেতন থাকতে হবে। অচেনা নম্বর, অপ্রত্যাশিত চাকরি বা ঋণের অফার, সন্দেহজনক লিংক কিংবা জরুরি ভিত্তিতে তথ্য চাওয়া—এসবকে সতর্কতার সংকেত হিসেবে দেখা উচিত।   কারণ প্র তা রকরা নম্বর বদলাতে পারে, নতুন ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারে, এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বর বা ভিডিওও তৈরি করতে পারে।   তাই ফোনে আসা কোনো মেসেজ যতই আকর্ষণীয় হোক, যাচাই না করে তাতে সাড়া দেওয়া বা অচেনা লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকাই নিরাপদ।

রাশিয়ার ইরকুৎস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণাগারের এক কর্মীর মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ল্যাবে কাজ করার সময় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে গবেষকের মৃত্যু, তিন হাসপাতাল লকডাউন

রাশিয়ার একটি গবেষণাগারে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যায়। ওই টেস্টটিউবে ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগের জীবাণু ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টেস্টটিউব ভাঙার কারণেই প্লেগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই ল্যাব সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিনটি হাসপাতাল লকডাউন করা হয়েছে।   পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুটস্কে অবস্থিত একটি অ্যান্টি-প্লেগ ল্যাবরেটরিতে এই ঘটনা ঘটে। এই গবেষণাগারটি মূলত বিরল রোগ নিয়ে কাজ করে। ইনডিপেনডেন্ট নিউজ আউটলেট ‘পিপল অব বৈকাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গত সপ্তাহে ওই ল্যাবে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার সময় ভুলবশত নিউমোনিক প্লেগ ধারণকারী টেস্টটিউবটি ভেঙে ফেলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।   মস্কো টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে দারিয়াকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মাথায় ১ অক্টোবর রাতে তিনি মারা যান।   দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতা হিসেবে অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের অন্যান্য কর্মীসহ প্রায় ১৮৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দারিয়ার অসুস্থ হওয়ার পর এরা তার সংস্পর্শে এসেছিলেন। ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, ল্যাবের এই ‘বিশেষত বিপজ্জনক সংক্রমণ’ নিয়ে আলোচনার জন্য সপ্তাহান্তে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে কর্তৃপক্ষ। ইরকুটস্ক হলো মঙ্গোলিয়ার উত্তরের একটি বিশাল অঞ্চল।   গভর্নর ইগর কোবজেভ আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা আর কারও মধ্যে এই রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে রাশিয়ায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব থাকায় সেখানকার এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তারিত তথ্য খুব একটা প্রকাশ পায়নি। এদিকে, রুশ ট্যাবলয়েড ম্যাশের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেশী অঞ্চল বুরিয়াটিয়া থেকে ফেরার পর ওই ল্যাব সহকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন, যেখানে আগে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল।   সাধারণত ইঁদুরের মতো প্রাণীর শরীরে থাকা সংক্রমিত মাছির কামড়ের মাধ্যমে প্লেগ ছড়ায়। ১৪ শতকে বিশ্বব্যাপী যে ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে যে প্লেগের কথা বলা হচ্ছে তা হলো নিউমোনিক প্লেগ। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

ফ্লোরিডার সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিনের পর্যটনভিত্তিক কাজের জন্য তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
১০ দিন ছুটি কাটালেই মিলবে ১০ হাজার ডলার, ফ্লোরিডায় ব্যতিক্রমী চাকরির সুযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারে ১০ দিন ঘুরে বেড়িয়ে স্থানীয় খাবার, শিল্প-সংস্কৃতি ও বিনোদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বিনিময়ে ১০ হাজার ডলার পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। পিনেলাস কাউন্টির পর্যটন কর্তৃপক্ষ ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার এ জন্য তিনজনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেবে। নির্বাচিত প্রত্যেক ব্যক্তি পারিশ্রমিকের পাশাপাশি বিমানভাড়া ও থাকার সুবিধাও পাবেন।   এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো পিনেলাস কাউন্টির পর্যটন আকর্ষণগুলোকে আরও বেশি মানুষের কাছে তুলে ধরা। নির্বাচিত তিনজনকে ১০ দিনের জন্য নির্ধারিত ভ্রমণসূচি অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে যেতে হবে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে তুলে ধরতে হবে। কাজটি সাধারণ ছুটির ভ্রমণের মতো হলেও এর সঙ্গে কনটেন্ট তৈরি এবং এলাকার প্রচারের দায়িত্বও যুক্ত থাকবে।   তিনটি পদের মধ্যে প্রথমটির নাম ‘চিফ ফ্লেভার এক্সপ্লোরার’। এই দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিকে স্থানীয় খাবারের জগৎ ঘুরে দেখতে হবে এবং বিভিন্ন খাবার ও রন্ধনসংস্কৃতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে হবে। দ্বিতীয় পদ ‘চিফ সানসেট কিউরেটর’, যার দায়িত্ব হবে জাদুঘর, দেয়ালচিত্র, রঙিন পাড়া এবং এলাকার শিল্প-সংস্কৃতি ঘুরে দেখা। তৃতীয় পদ ‘চিফ ভাইবস অফিসার’-এর কাজ হবে স্থানীয় সংগীত, রাতের বিনোদন ও বিভিন্ন আয়োজনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা।    প্রতিটি পদের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তি ১০ হাজার ডলারের চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিক পাবেন। এর সঙ্গে ফ্লোরিডায় যাওয়ার বিমানভাড়া এবং থাকার ব্যবস্থাও থাকবে। ভ্রমণের সময় তিনজনকে নিজেদের নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করতে হবে, তবে কিছু ক্ষেত্রে তারা একসঙ্গে কাজ করবেন। পর্যটন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রত্যেকে আলাদা আলাদা বিষয় অনুসন্ধান করলেও শেষ পর্যন্ত তাদের তৈরি কনটেন্ট একই এলাকার বিভিন্ন দিক মানুষের সামনে তুলে ধরবে।   ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা স্টিভ গ্রিমস ফক্স ১৩-কে জানিয়েছেন, এটি কোনো প্রচারণামূলক কৌশলের নামে তৈরি কাল্পনিক চাকরি নয়, সত্যিই তিনজনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত ব্যক্তিরা ১০ হাজার ডলার পাবেন এবং সমুদ্রসৈকতে সময় কাটানোর পাশাপাশি সেই অভিজ্ঞতা মানুষের কাছে তুলে ধরবেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কাজটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ক্যামেরার সামনে স্বচ্ছন্দ থাকা এবং নতুন অভিজ্ঞতাগুলো গল্পের মতো করে উপস্থাপন করতে পারা।   এই উদ্যোগে ইতোমধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ভিজিট সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে তিন হাজারের বেশি মানুষ আবেদন করেছেন। তবে আবেদনকারীদের মধ্যে কারা চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবেন, তা এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ভিডিওগুলো মূল্যায়নের দায়িত্ব কারা পালন করবেন এবং চূড়ান্ত ফলাফল ঠিক কবে প্রকাশ করা হবে, সে বিষয়েও পর্যটন কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত জানায়নি।   আবেদনকারীদের দুই মিনিটের একটি ভিডিও জমা দিতে হবে। সেখানে তাদের ব্যাখ্যা করতে হবে কেন তারা এই কাজের জন্য উপযুক্ত এবং কীভাবে তারা সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটারের অভিজ্ঞতা মানুষের সামনে তুলে ধরতে পারবেন। কনটেন্ট তৈরি, গল্প বলার দক্ষতা এবং ক্যামেরার সামনে উপস্থিত হওয়ার সক্ষমতাকে গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবেদন করা যাবে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।   নির্বাচিত তিনজনকে ৬ নভেম্বর থেকে ওই এলাকায় আসার প্রস্তুতি নিতে হবে। এরপর তাদের ১০ দিনের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে হবে। এই প্রচারণার মাধ্যমে পর্যটন কর্তৃপক্ষ এমন কিছু জায়গা ও অভিজ্ঞতাও সামনে আনতে চায়, যেগুলো সাধারণ পর্যটকদের অনেকেরই নজর এড়িয়ে যেতে পারে। দ্য দালি মিউজিয়ামের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা বেথ বেলও মনে করেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকার পরিচিতির বাইরে থাকা অভিজ্ঞতাগুলো নতুনভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।   সেন্ট পিট-ক্লিয়ারওয়াটার ফ্লোরিডার পিনেলাস কাউন্টিতে অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা। সমুদ্রসৈকত, শিল্প-সংস্কৃতি, খাবার এবং বিনোদনের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত। পর্যটন কর্তৃপক্ষের নতুন এই উদ্যোগে তাই প্রচলিত বিজ্ঞাপনের পরিবর্তে সরাসরি মানুষের অভিজ্ঞতাকে প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্বাচিত তিনজনের তৈরি কনটেন্টের মাধ্যমে সম্ভাব্য পর্যটকদের কাছে এলাকার বৈচিত্র্য ও ভ্রমণ অভিজ্ঞতা তুলে ধরাই এর প্রধান লক্ষ্য।   সূত্র: ফক্স ১৩ টাম্পা বে

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
রাশিয়ার ইরকুৎস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণাগারের এক কর্মীর মৃত্যুর পর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ায় ল্যাবে কাজ করার সময় প্লেগে আক্রান্ত হয়ে গবেষকের মৃত্যু, তিন হাসপাতাল লকডাউন
প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২১:২৬

রাশিয়ার একটি গবেষণাগারে কাজ করার সময় দুর্ঘটনাবশত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যায়। ওই টেস্টটিউবে ভয়াবহ ‘ব্ল্যাক ডেথ’ বা প্লেগের জীবাণু ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই টেস্টটিউব ভাঙার কারণেই প্লেগ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ওই ল্যাব সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং তিনটি হাসপাতাল লকডাউন করা হয়েছে।   পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুটস্কে অবস্থিত একটি অ্যান্টি-প্লেগ ল্যাবরেটরিতে এই ঘটনা ঘটে। এই গবেষণাগারটি মূলত বিরল রোগ নিয়ে কাজ করে। ইনডিপেনডেন্ট নিউজ আউটলেট ‘পিপল অব বৈকাল’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ বছর বয়সী দারিয়া শিপিলোভা গত সপ্তাহে ওই ল্যাবে টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করার সময় ভুলবশত নিউমোনিক প্লেগ ধারণকারী টেস্টটিউবটি ভেঙে ফেলেন। এরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।   মস্কো টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর শেলেখভ শহরের একটি হাসপাতালে দারিয়াকে ভর্তি করা হয়। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। হাসপাতালে ভর্তির দুই দিনের মাথায় ১ অক্টোবর রাতে তিনি মারা যান।   দারিয়া শিপিলোভার মৃত্যুর পর সতর্কতা হিসেবে অ্যান্টি-প্লেগ ইনস্টিটিউটের অন্যান্য কর্মীসহ প্রায় ১৮৯ জনকে কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দারিয়ার অসুস্থ হওয়ার পর এরা তার সংস্পর্শে এসেছিলেন। ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ জানিয়েছেন, ল্যাবের এই ‘বিশেষত বিপজ্জনক সংক্রমণ’ নিয়ে আলোচনার জন্য সপ্তাহান্তে একটি জরুরি বৈঠক ডেকেছে কর্তৃপক্ষ। ইরকুটস্ক হলো মঙ্গোলিয়ার উত্তরের একটি বিশাল অঞ্চল।   গভর্নর ইগর কোবজেভ আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে থাকা আর কারও মধ্যে এই রোগের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। তবে রাশিয়ায় সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অভাব থাকায় সেখানকার এই প্রাদুর্ভাবের বিস্তারিত তথ্য খুব একটা প্রকাশ পায়নি। এদিকে, রুশ ট্যাবলয়েড ম্যাশের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রতিবেশী অঞ্চল বুরিয়াটিয়া থেকে ফেরার পর ওই ল্যাব সহকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন, যেখানে আগে প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল।   সাধারণত ইঁদুরের মতো প্রাণীর শরীরে থাকা সংক্রমিত মাছির কামড়ের মাধ্যমে প্লেগ ছড়ায়। ১৪ শতকে বিশ্বব্যাপী যে ব্ল্যাক ডেথ বা প্লেগ ছড়িয়ে পড়েছিল তাতে প্রায় সাড়ে ৭ থেকে ২০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ। তবে বর্তমান ক্ষেত্রে যে প্লেগের কথা বলা হচ্ছে তা হলো নিউমোনিক প্লেগ। এটি শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে একজন থেকে অন্যজনে ছড়াতে পারে।   তথ্যসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

রাশিয়ায় গবেষণাকর্মীর মৃত্যুর পর প্লেগের আশঙ্কা
রাশিয়ায় গবেষণাকর্মীর মৃত্যুর পর প্লেগের আশঙ্কা, পর্যবেক্ষণে প্রায় ২০০ গবেষক
প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৪:৫৭

রাশিয়ার পূর্ব সাইবেরিয়ার ইরকুতস্ক অঞ্চলে প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানের এক নারী কর্মীর মৃত্যুর পর তাঁর সংস্পর্শে আসা প্রায় ২০০ জনকে চিকিৎসা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তবে প্লেগে তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়ালেও রাশিয়ার জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সর্বশেষ বিবৃতিতে রোগটিকে ‘অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়া’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।    স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায় মৃত নারীর নাম দারিয়া শিপিলোভা এবং বয়স ২৮ বছর। তিনি ইরকুতস্কের একটি প্লেগ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ২৯ সেপ্টেম্বর তীব্র নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে তিনি শেলেখভের একটি হাসপাতালে ভর্তি হন। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।   পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহের সময় জীবন্ত ব্যাকটেরিয়াযুক্ত একটি টেস্টটিউব ভেঙে যাওয়ার কথাও উঠে এসেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নারী চিকিৎসকদের ঘটনাটি জানিয়েছিলেন। তবে পরীক্ষাগারে দুর্ঘটনা থেকে তিনি সংক্রমিত হয়েছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হয়নি। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রসপত্রেবনাদজোর গবেষণা প্রতিষ্ঠানে রোগজীবাণু নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হওয়ার কথা অস্বীকার করেছে।    মেদুজা রেন টিভির বরাতে জানিয়েছে, ১৮৯ জনকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। ইরকুতস্কের গভর্নর ইগর কবজেভের ভাষ্য অনুযায়ী, রোগীর সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অসুস্থতার লক্ষণ নেই। তাঁদের পরীক্ষার ফল নেতিবাচক হওয়ার কথা জানা গিয়েছে ।    প্রতিবেশী বুরিয়াতিয়া প্রজাতন্ত্রের প্রধান আলেক্সেই সিদেনভ প্রথমে ওই নারীর প্লেগে মৃত্যুর কথা বলেছিলেন। পরে তিনি পোস্টের ভাষা সংশোধন করে প্লেগে মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে উল্লেখ করেন। বুরিয়াতিয়ায় প্লেগের প্রাদুর্ভাব নেই বলেও জানান তিনি। ফলে তাঁর প্রাথমিক বক্তব্যকে মৃত্যুর কারণের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাচ্ছে না।    রবিবার, ৪ অক্টোবর রসপত্রেবনাদজোর জানিয়েছে, ওই কর্মীর রোগ শনাক্ত করা হয়েছে অজ্ঞাত কারণে হওয়া নিউমোনিয়া হিসেবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের প্রতিবেদনে সংস্থাটির বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রোগীর নমুনার বিস্তৃত পরীক্ষায় তাঁর পেশাগত কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো অণুজীব পাওয়া যায়নি। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, ইরকুতস্ক অঞ্চল এবং ইরকুতস্ক ও শেলেখভ শহরের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের নজরেও এসেছে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন সন্দেহভাজন প্লেগ সংক্রমণ ও সংশ্লিষ্ট সতর্কতামূলক ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছে। তবে ওই নারীর প্লেগে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি। পর্যবেক্ষণে থাকা প্রায় ২০০ জনকেও নিশ্চিত প্লেগ রোগী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।    সূত্র: আরটিভি, তাস, মেদুজা, ইউরোনিউজ ও অ্যাক্সিওস।

হরমুজে স্বাভাবিক চলাচল ফেরাতে সাত শর্তে অনড় ইরান
হরমুজে স্বাভাবিক চলাচল ফেরাতে সাত শর্তে অনড় ইরান, হামলার মধ্যেও বেড়েছে তেল রপ্তানি
প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ৩:৪৩

হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাতটি শর্ত মানতে হবে বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। এদিকে জাহাজে হামলার ঝুঁকি অব্যাহত থাকলেও মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের কয়েকটি দিনে যুদ্ধ শুরুর আগের দৈনিক গড় ছাড়িয়েছে। সোমবার, ৫ অক্টোবর প্রকাশিত জাহাজ চলাচলের তথ্যের ভিত্তিতে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।   গালিবাফ রোববার বলেন, জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী সমঝোতায় ইরান যে সাতটি শর্ত দিয়েছিল, সেগুলো পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক চলাচল ফিরবে না। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে ইরান একটি প্রস্তাব দিয়েছিল। তাতে শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে স্বাভাবিক নৌচলাচল ফেরানোর কথা বলা হয়। কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ওই প্রস্তাবের জবাব দিয়েছে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, ওয়াশিংটনের জবাবের বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তেহরানের অবস্থান জানানো হয়েছে; আরও কিছু বিষয় জানানো বাকি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই পর্যায়ে ইরানের মনোযোগ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ফেরানোর দিকে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক পথেই অগ্রগতি চায়, তবে নতুন মার্কিন সামরিক হামলা হলে জবাব দিতে প্রস্তুত।   কূটনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেও তেল পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ নেই। জাহাজ চলাচলের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের প্রাথমিক হিসাবে, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে চার দিন মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যুদ্ধের আগের দৈনিক গড় ছাড়ায়। ওই দিনগুলোতে রপ্তানির পরিমাণ ছিল দিনে প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ ব্যারেল। যুদ্ধ শুরুর আগের বছরটিতে দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল। তবে এই আঞ্চলিক হিসাবে হরমুজ প্রণালির পাশাপাশি অন্য পথ ও টার্মিনাল দিয়ে যাওয়া তেলও রয়েছে।   রপ্তানি বাড়লেও জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। সামুদ্রিক নিরাপত্তাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ম্যারিস্কস জানিয়েছে, হরমুজ ও আশপাশে অন্তত সাতটি জাহাজে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য পরিচালনা সংস্থা জানিয়েছে, ২ অক্টোবর থেকে হরমুজ প্রণালি অথবা এডেন উপসাগরে প্রতিদিন অন্তত একটি হামলার খবর পেয়েছে তারা। তাই তেল রপ্তানির সাময়িক বৃদ্ধি দিয়ে নৌপথটি পুরোপুরি নিরাপদ হয়ে গেছে বলা যায় না।   যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। তার আগে বৈশ্বিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এখন এই নৌপথে স্বাভাবিক চলাচল ফেরানোই ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়।   সূত্র: রয়টার্সের ৪ ও ৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন।

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, ৫০০ হাইস্কুলে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা
শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ফ্রান্স, ৫০০ হাইস্কুলে ক্লাস বন্ধ ঘোষণা
প্রকাশ: অক্টোবর ৫, ২০২৬ ২:৪৫

শিক্ষার্থীদের টানা বিক্ষোভ, অবরোধ এবং বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে ফ্রান্সের প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ হাইস্কুলে সোমবার ক্লাস পুরোপুরি অথবা আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় পরিবেশ না থাকায় এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাভাবিক পাঠদান সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী এদোয়ার গেফ্রে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন এখন ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষার্থী আন্দোলনগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।    ফ্রান্সে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ হাইস্কুল রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ৪০০ থেকে ৫০০ প্রতিষ্ঠানে ক্লাস পুরোপুরি বা আংশিকভাবে স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুধু ইল দ্য ফ্রান্স অঞ্চলেই ১৬০টির বেশি হাইস্কুল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ধাপে ধাপে ক্লাস চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।    শিক্ষার্থীরা মূলত শিক্ষা খাতে আরও জনবল ও অর্থ বরাদ্দের দাবি জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছে। তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে শিক্ষক সংকট, অনুপস্থিত শিক্ষকদের বদলি না হওয়া, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, দীর্ঘ ও চাপপূর্ণ ক্লাস সূচি এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির প্ল্যাটফর্ম পারকুরসুপ ঘিরে বৈষম্যের অভিযোগ। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে রাজধানীর বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। নঁত, মার্সেইসহ বিভিন্ন বড় শহর ও ছোট এলাকায় শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে।    গত সপ্তাহে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শুক্রবার শত শত হাইস্কুলে বিক্ষোভ ও কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটে। শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর অন্তত ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অগ্নিসংযোগ বা ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। একই সময়ে শিক্ষা বিভাগের অন্তত ৭৮ জন কর্মী আহত হয়েছেন। সরকারের দাবি, এসব সহিংসতার অনেক ঘটনায় স্কুলের বাইরের ব্যক্তিরাও জড়িত ছিল।    বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড়ও হয়েছে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনেজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের কয়েক দিনের অভিযানে পাঁচ হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। তাদের প্রায় ৮৫ শতাংশ অপ্রাপ্তবয়স্ক। শুধু শুক্রবারই ১ হাজার ৭৪৭ জনকে আটক করা হয়। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার আটক করা হয়েছিল প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে। শুক্রবার ১৫৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে কর্তৃপক্ষ।    তবে পুলিশের কঠোর অবস্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো অভিযোগ করছে, তাদের মূল দাবি নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা না করে সরকার নিরাপত্তা ও সহিংসতার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। শুক্রবার শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা জানিয়েছে, তারা প্রত্যাশিত সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপের আশ্বাস পায়নি। ফলে মঙ্গলবার আরও বড় কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নও ওই কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।    অন্যদিকে ফরাসি সরকার বলছে, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে অস্বীকার করা হচ্ছে না। শিক্ষামন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুপস্থিত শিক্ষকদের দ্রুত বদলি নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন শিক্ষা কার্যক্রমের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুও শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত সমস্যাগুলো নিয়ে কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক কাজ নির্ধারণ করেছেন। চলতি মাসের শেষ নাগাদ কিছু বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। একই সঙ্গে যেখানে নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে থাকবে, সেখানে দ্রুত ক্লাস পুনরায় চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।    সরকারের কয়েকজন সদস্য অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনে কিছু রাজনৈতিক ও উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তবে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শিক্ষক ও শিক্ষা খাতে জনবল সংকট, ভবনের দুরবস্থা এবং শিক্ষাব্যবস্থার চাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ থেকেই বর্তমান আন্দোলনের জন্ম হয়েছে। সরকারও আন্দোলনের প্রাথমিক দাবিগুলোর যৌক্তিকতা পুরোপুরি অস্বীকার করেনি।    সোমবার শত শত প্রতিষ্ঠানে ক্লাস বন্ধ থাকলেও সংকটের এখানেই অবসান হচ্ছে না। মঙ্গলবারের নতুন দেশব্যাপী কর্মসূচিকে সামনে রেখে ফরাসি সরকার, শিক্ষা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। শিক্ষার্থীদের দাবি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে চলমান আন্দোলন আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়