সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
গ্রিন কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে ভুয়া বিয়ের ছবি
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভুয়া বিয়ের ব্যবসা, বছরে লাখ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের নেতৃত্বে থাকা ৪৩ বছর বয়সী জেনিফার গনজালেজ প্রতিটি বিয়ের আয়োজনের জন্য ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই কার্যক্রম থেকে তিনি বছরে কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় আইনজীবীরা।   ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারের বাসিন্দা গনজালেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সুবিধা পেতে আগ্রহীদের মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন। এসব বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল সম্পর্ককে প্রকৃত দাম্পত্য হিসেবে দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) কাছে আবেদন করা এবং গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন-সুবিধা পাওয়া। মামলায় গনজালেজের পাশাপাশি অভিযুক্ত হয়েছেন এরিকা ড্যানিয়েলস, ক্রেইসে আলেহান্দ্রো, আমারা পিউ, জেসিকা তাভারেস ও জেলিন হিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি, ভুয়া বিয়ের ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং এ কাজে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দাবি, গনজালেজের পরিচালিত এই কার্যক্রমে বছরে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি ভুয়া বিয়ের আয়োজন করা হতো। প্রায় ১২ বছর ধরে চলা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত মানুষ গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গনজালেজ নিজেও এক সহযোগী সাক্ষীর সঙ্গে কথোপকথনে দাবি করেছিলেন, তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ কাজ করছেন এবং এতে তিনি বেশ দক্ষ। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গনজালেজের কাছে সাধারণত প্রতিটি বিয়ের জন্য ৪০ হাজার ডলার চাওয়া হতো। এক পর্যায়ে তিনি এক সম্ভাব্য গ্রাহককে ৩৮ হাজার ডলারে ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে বিয়েতে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকের জন্য অতিরিক্ত অর্থও দিতে হতো। তদন্তকারীদের দাবি, শুধু বিয়ের ব্যবস্থা করেই থেমে থাকতেন না গনজালেজ। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্ককে বাস্তব বলে প্রমাণ করার জন্য কী ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন, সে বিষয়ে গ্রাহকদের নির্দেশনা দিতেন তিনি। এর মধ্যে ছিল যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, জীবনবিমা করা, একসঙ্গে বাসা ভাড়া নেওয়া এবং দম্পতি হিসেবে ছবি তোলা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলেও গ্রাহকদের জানানো হতো। অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে তাঁদের সঙ্গে চুক্তিও করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, একবারের বিয়ের জন্য অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে বিয়েতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিকে মাসে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। একটি ঘটনায় ব্রাজিলের এক নাগরিক এরিকা ড্যানিয়েলসের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করতে গনজালেজকে অর্থ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে চলাকালে ড্যানিয়েলসকে মাসে ৫০০ ডলার দেওয়ার বিষয়ে বার্তা বিনিময়ের তথ্যও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ড্যানিয়েলস, আলেহান্দ্রো, তাভারেস ও হিল এক বা একাধিক ভুয়া বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্য অর্থ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে পিউ এই কার্যক্রমে সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিয়ের ছবি ও একসঙ্গে বাইরে ঘোরার ছবি সংগ্রহ করা হতো, যাতে দম্পতির সম্পর্ককে প্রকৃত বলে দেখানো যায়। তদন্তের সময় রেকর্ড করা কথোপকথনে গনজালেজকে নতুন প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন আইন প্রয়োগ কঠোর হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই কথোপকথনে ম্যাসাচুসেটসকে অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়দাতা রাজ্য হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়া বিয়ের কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে গনজালেজ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে জমি, সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি সেখানে নিজের সম্পদ গড়ে তোলার কথা কথোপকথনে উল্লেখ করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি এসএনএপির সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কার্যক্রমটি পরিচালনার সময় গনজালেজ ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি খাদ্যসহায়তা ব্যবহার করেছিলেন। বুধবার, ২১ অক্টোবর, গনজালেজসহ পাঁচজনকে গ্রে প্তার করা হয়। অপর অভিযুক্ত হিল আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত একটি অপরাধে ম্যাসাচুসেটসের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রত্যেককেই নির্দোষ বলে বিবেচনা করা হবে।

১২ মিনিট Ago
অস্ট্রেলিয়ায় নারী রাজনীতিকদের ওপর হা মলা, কয়েক দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত দুই এমপি
অস্ট্রেলিয়ায় নারী রাজনীতিকদের ওপর হা মলা, কয়েক দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত দুই এমপি

অস্ট্রেলিয়ায় নারী রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুজন নারী আইনপ্রণেতা ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি গাড়িচাপায় এক এমপির দুই পা হারানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক নারী মন্ত্রীর কার্যালয়ে 'নানচাকু' নিয়ে হামলার হুমকির ঘটনা ঘটেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার পার্থের শহরতলীতে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হান্না বিজলির নির্বাচনি কার্যালয়ে ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রবেশ করে। এ সময় সে মার্শাল আর্ট অস্ত্র 'নানচাকু' ঘুরিয়ে রীতিমতো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। ঘটনার সময় মন্ত্রী কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও তার কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে এবং বেআইনি কর্মকাণ্ড ও জনমনে ভীতি সঞ্চারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার তাকে পার্থের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   এর মাত্র কয়েকদিন আগে, গত সোমবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ৬৫ বছর বয়সী স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা হেলেন হেইন্সকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাড়িচাপা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে তিনি মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জীবন বাঁচাতে সার্জনরা এরই মধ্যে তার দুটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। এই ঘটনায় ব্রেন্ডন নুজেন্ট নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুটি হামলার মধ্যে পারস্পরিক কোনো যোগসূত্র নেই।   নারী রাজনীতিকদের ওপর এমন ধারাবাহিক হামলা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বেশ বিরল, যেখানে আইনপ্রণেতারা সাধারণত জনগণের খুব কাছাকাছি অবস্থান করেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ঘটনাগুলোকে 'হৃদয়বিদারক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী রাজনীতিকদের প্রতি বিষোদ্গার ও আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফেডারেল পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক নারী সদস্য হওয়ায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ ব্রিফিং ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

১৬ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধন
সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের তথ্যভান্ডারে প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানিয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ)। মৃত্যুর তারিখ ও নাগরিকত্বের তথ্য হালনাগাদের এই কার্যক্রমকে সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরের রেকর্ড সংশোধন উদ্যোগ বলা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএসএ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই কার্যক্রম চলছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পরিচয় যাচাই এবং ভুল ব্যক্তির কাছে অর্থ পরিশোধ ঠেকাতে তথ্যভান্ডারের নির্ভুলতা বাড়ানো এর উদ্দেশ্য।  কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১ কোটি ৭০ লাখ রেকর্ডে মৃত্যুর তারিখ যুক্ত করা হয়েছে। এসব রেকর্ডে আগে এই তথ্য ছিল না। সংস্থাটির নিজস্ব ব্যবস্থা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য ব্যবহার করে সেগুলো হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্বের তথ্য অনুপস্থিত ছিল, এমন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রেকর্ড হালনাগাদ করেছে এসএসএ। এ কাজে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা ‘সেভ’ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আরও ৮৫ লাখ রেকর্ডে নাগরিকত্বের ভুল তথ্য সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এসএসএর কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক বিসিগনানো বলেছেন, সরকারি সেবার যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের তথ্য নির্ভুল থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর বিভিন্ন সংস্থা পরিচয় যাচাইয়ে এই রেকর্ড ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে হাতে তথ্য প্রবেশ করানোর সময় ভুল কমাতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণও জোরদার করা হয়েছে। এসএসএর ভাষ্য, সঠিক তথ্য সংরক্ষণ সরকারি কর্মসূচিতে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং প্রাপ্য ব্যক্তির কাছে সুবিধা পৌঁছানোর ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে।  সূত্র: সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও কেটিভিইউ ফক্স ২

২৫ মিনিট Ago
উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা
দ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে বিরক্ত করতে সীমান্তে লাউডস্পিকার প্রস্তুত করছে উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তজুড়ে আবারও প্রচারমূলক সম্প্রচারের জন্য লাউডস্পিকার প্রস্তুত করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ এসব ব্যবস্থা প্রস্তুত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্তে নতুন সামরিক অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন। পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিউল হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সীমান্তের প্রতিরক্ষামূলক স্থাপনার নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন কিম। কিম ইয়ো জংয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা একাধিক স্থানে সতর্কবার্তা সম্প্রচার ও সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার হুমকি দেন কিম। দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য নিজেদের পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক বলে জানিয়েছে। সীমান্তে মতপার্থক্য নিরসন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে সিউলের সামরিক বাহিনী ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয়। সিউল জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া লাউডস্পিকারে সম্প্রচার আবার শুরু করলে সমানুপাতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৫ সালের জুনে নিজেদের সীমান্ত সম্প্রচার বন্ধ করে এবং আগস্টে স্থায়ী লাউডস্পিকার সরিয়ে নেয়। দুই কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে লাউডস্পিকার ব্যবহার করে পরস্পরবিরোধী প্রচার চালিয়ে এসেছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠিত অসামরিক অঞ্চল বা ডিএমজেড দুই দেশকে পৃথক করে রেখেছে। নতুন এই হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের বৈরিতা কমানোর প্রচেষ্টায় চাপ তৈরি করেছে। কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, ঘোষণার অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকার সঙ্গে সঙ্গেই চালু হবে। তবে শান্তিপূর্ণ যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং সীমান্তে সামরিক তৎপরতা মোকাবিলার মধ্যে সিউলকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য জাপান টাইমস ও দ্য কোরিয়া টাইমস

৪৩ মিনিট Ago
আমেরিকা
সোশ্যাল সিকিউরিটির প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের তথ্যভান্ডারে প্রায় ৫ কোটি রেকর্ড সংশোধনের কথা জানিয়েছে সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এসএসএ)। মৃত্যুর তারিখ ও নাগরিকত্বের তথ্য হালনাগাদের এই কার্যক্রমকে সংস্থাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরের রেকর্ড সংশোধন উদ্যোগ বলা হচ্ছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসএসএ জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে এই কার্যক্রম চলছে। সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে পরিচয় যাচাই এবং ভুল ব্যক্তির কাছে অর্থ পরিশোধ ঠেকাতে তথ্যভান্ডারের নির্ভুলতা বাড়ানো এর উদ্দেশ্য।  কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ১ কোটি ৭০ লাখ রেকর্ডে মৃত্যুর তারিখ যুক্ত করা হয়েছে। এসব রেকর্ডে আগে এই তথ্য ছিল না। সংস্থাটির নিজস্ব ব্যবস্থা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য ব্যবহার করে সেগুলো হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকত্বের তথ্য অনুপস্থিত ছিল, এমন প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ রেকর্ড হালনাগাদ করেছে এসএসএ। এ কাজে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের পরিচয় ও যোগ্যতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা ‘সেভ’ থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। আরও ৮৫ লাখ রেকর্ডে নাগরিকত্বের ভুল তথ্য সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এসএসএর কমিশনার ফ্র্যাঙ্ক বিসিগনানো বলেছেন, সরকারি সেবার যথাযথ ব্যবস্থাপনার জন্য সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরের তথ্য নির্ভুল থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সরকার ও অঙ্গরাজ্যগুলোর বিভিন্ন সংস্থা পরিচয় যাচাইয়ে এই রেকর্ড ব্যবহার করে। ভবিষ্যতে হাতে তথ্য প্রবেশ করানোর সময় ভুল কমাতে অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণও জোরদার করা হয়েছে। এসএসএর ভাষ্য, সঠিক তথ্য সংরক্ষণ সরকারি কর্মসূচিতে প্রতারণা প্রতিরোধ এবং প্রাপ্য ব্যক্তির কাছে সুবিধা পৌঁছানোর ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে।  সূত্র: সোশ্যাল সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ও কেটিভিইউ ফক্স ২

প্রকাশ: অক্টোবর ২২, ২০২৬ ৬:৪২
টেক্সাসে ২০২৭ সাল থেকে ব্লু ক্রসের মেডিকেয়ার পরিকল্পনা বন্ধ, নতুন বিমা বেছে নিতে হবে গ্রাহকদের

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ, প্রেসক্রিপশনের ওষুধ এবং সংশ্লিষ্ট বিশেষ স্বাস্থ্যবিমা পরিকল্পনা আর দেবে না ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস। প্রতিষ্ঠানটির এ সিদ্ধান্তের ফলে বর্তমানে এসব পরিকল্পনার আওতায় থাকা গ্রাহকদের নতুন বিমা বেছে নিতে হবে। কোম্পানির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের পরিকল্পনা বছরে তাদের এসব বিমা আর চালু থাকবে না।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বন্ধ হতে যাওয়া পরিকল্পনাগুলোর মধ্যে রয়েছে ব্লু ক্রস মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ, ব্লু ক্রস মেডিকেয়ারআরএক্স প্রেসক্রিপশন ড্রাগ প্ল্যান এবং ব্লু ক্রস মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ ডুয়াল কেয়ার প্লাস এইচএমও বিশেষ পরিকল্পনা। এসব পরিকল্পনায় থাকা গ্রাহকদের ২ অক্টোবরের আগেই ডাকযোগে চিঠি পাঠিয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। চিঠিতে বিকল্প বিমা বেছে নেওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যও দেওয়া হয়েছে।   কোম্পানির ভাষ্য, বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে নিজেদের মেডিকেয়ার পণ্য ও বাজারের কার্যকারিতা পর্যালোচনা করে। কোন পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে চালু রাখা সম্ভব, তা বিবেচনা করেই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বাজারে তারা স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়।   এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ারের বার্ষিক উন্মুক্ত নিবন্ধনপর্ব চলছে ১৫ অক্টোবর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এ সময় গ্রাহকেরা ২০২৭ সালের জন্য নিজেদের স্বাস্থ্যবিমা ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে অন্য পরিকল্পনায় যেতে পারবেন। এ সময়ে করা পরিবর্তন কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।   মেডিকেয়ার অ্যাডভান্টেজ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মেডিকেয়ার কর্মসূচির আওতায় অনুমোদিত বেসরকারি বিমা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত স্বাস্থ্যবিমা। এতে সাধারণত মেডিকেয়ারের আওতাভুক্ত চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি দাঁত, চোখ ও প্রেসক্রিপশনের ওষুধের মতো অতিরিক্ত সুবিধাও থাকতে পারে। তবে সুবিধা, খরচ এবং চিকিৎসক বা হাসপাতালের নেটওয়ার্ক পরিকল্পনাভেদে আলাদা হয়।   যেসব গ্রাহকের বর্তমান পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তাঁদের বিকল্প বিমা বেছে নেওয়ার আগে সুবিধা, খরচ এবং নিজেদের চিকিৎসকের সঙ্গে পরিকল্পনার সামঞ্জস্য যাচাই করা উচিত। প্রয়োজন হলে তাঁরা মেডিকেয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন, লাইসেন্সধারী বিমা পরামর্শকের সহায়তা নিতে পারেন অথবা স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত পরামর্শকেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।   সূত্র: ব্লু ক্রস অ্যান্ড ব্লু শিল্ড অব টেক্সাস, ফক্স ২৬ হিউস্টন।

অস্ট্রেলিয়ায় নারী রাজনীতিকদের ওপর হা মলা, কয়েক দিনের ব্যবধানে আক্রান্ত দুই এমপি

অস্ট্রেলিয়ায় নারী রাজনীতিকদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটিতে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে দুজন নারী আইনপ্রণেতা ভয়াবহ হামলার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি গাড়িচাপায় এক এমপির দুই পা হারানোর ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই আরেক নারী মন্ত্রীর কার্যালয়ে 'নানচাকু' নিয়ে হামলার হুমকির ঘটনা ঘটেছে।   পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার পার্থের শহরতলীতে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার রাজ্য সরকারের মন্ত্রী হান্না বিজলির নির্বাচনি কার্যালয়ে ৫৬ বছর বয়সী এক ব্যক্তি প্রবেশ করে। এ সময় সে মার্শাল আর্ট অস্ত্র 'নানচাকু' ঘুরিয়ে রীতিমতো ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করে। ঘটনার সময় মন্ত্রী কার্যালয়ে উপস্থিত না থাকলেও তার কর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ ওই ব্যক্তিকে আটক করে এবং বেআইনি কর্মকাণ্ড ও জনমনে ভীতি সঞ্চারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। বৃহস্পতিবার তাকে পার্থের আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   এর মাত্র কয়েকদিন আগে, গত সোমবার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ৬৫ বছর বয়সী স্বতন্ত্র আইনপ্রণেতা হেলেন হেইন্সকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গাড়িচাপা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, বর্তমানে তিনি মেলবোর্নের একটি হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। জীবন বাঁচাতে সার্জনরা এরই মধ্যে তার দুটি পা কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন। এই ঘটনায় ব্রেন্ডন নুজেন্ট নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হলেও হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনো জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুটি হামলার মধ্যে পারস্পরিক কোনো যোগসূত্র নেই।   নারী রাজনীতিকদের ওপর এমন ধারাবাহিক হামলা অস্ট্রেলিয়ার রাজনীতিতে বেশ বিরল, যেখানে আইনপ্রণেতারা সাধারণত জনগণের খুব কাছাকাছি অবস্থান করেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই ঘটনাগুলোকে 'হৃদয়বিদারক' বলে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান অসহিষ্ণুতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারী রাজনীতিকদের প্রতি বিষোদ্গার ও আক্রমণাত্মক আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফেডারেল পার্লামেন্টের প্রায় অর্ধেক নারী সদস্য হওয়ায় তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বর্তমানে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিশেষ ব্রিফিং ও পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

গ্রিন কার্ড জালিয়াতির অভিযোগে ভুয়া বিয়ের ছবি
এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভুয়া বিয়ের ব্যবসা, বছরে লাখ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যে ভুয়া বিয়ের মাধ্যমে অভিবাসীদের গ্রিন কার্ড পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে ছয়জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এই চক্রের নেতৃত্বে থাকা ৪৩ বছর বয়সী জেনিফার গনজালেজ প্রতিটি বিয়ের আয়োজনের জন্য ৩৮ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিতেন। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই কার্যক্রম থেকে তিনি বছরে কয়েক লাখ ডলার আয় করেছেন বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় আইনজীবীরা।   ম্যাসাচুসেটসের ফল রিভারের বাসিন্দা গনজালেজের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন-সুবিধা পেতে আগ্রহীদের মার্কিন নাগরিকদের সঙ্গে ভুয়া বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতেন। এসব বিয়ের উদ্দেশ্য ছিল সম্পর্ককে প্রকৃত দাম্পত্য হিসেবে দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার (ইউএসসিআইএস) কাছে আবেদন করা এবং গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন-সুবিধা পাওয়া। মামলায় গনজালেজের পাশাপাশি অভিযুক্ত হয়েছেন এরিকা ড্যানিয়েলস, ক্রেইসে আলেহান্দ্রো, আমারা পিউ, জেসিকা তাভারেস ও জেলিন হিল। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিবাসন-সংক্রান্ত জালিয়াতি, ভুয়া বিয়ের ষড়যন্ত্র, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া এবং এ কাজে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের দাবি, গনজালেজের পরিচালিত এই কার্যক্রমে বছরে গড়ে ১৮ থেকে ২০টি ভুয়া বিয়ের আয়োজন করা হতো। প্রায় ১২ বছর ধরে চলা এই ব্যবস্থার মাধ্যমে শত শত মানুষ গ্রিন কার্ড পেয়েছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। গনজালেজ নিজেও এক সহযোগী সাক্ষীর সঙ্গে কথোপকথনে দাবি করেছিলেন, তিনি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এ কাজ করছেন এবং এতে তিনি বেশ দক্ষ। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গনজালেজের কাছে সাধারণত প্রতিটি বিয়ের জন্য ৪০ হাজার ডলার চাওয়া হতো। এক পর্যায়ে তিনি এক সম্ভাব্য গ্রাহককে ৩৮ হাজার ডলারে ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে বিয়েতে অংশ নেওয়া মার্কিন নাগরিকের জন্য অতিরিক্ত অর্থও দিতে হতো। তদন্তকারীদের দাবি, শুধু বিয়ের ব্যবস্থা করেই থেমে থাকতেন না গনজালেজ। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে সম্পর্ককে বাস্তব বলে প্রমাণ করার জন্য কী ধরনের কাগজপত্র প্রয়োজন, সে বিষয়ে গ্রাহকদের নির্দেশনা দিতেন তিনি। এর মধ্যে ছিল যৌথ ব্যাংক হিসাব খোলা, জীবনবিমা করা, একসঙ্গে বাসা ভাড়া নেওয়া এবং দম্পতি হিসেবে ছবি তোলা। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় নথি প্রস্তুত করতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলেও গ্রাহকদের জানানো হতো। অর্থ পরিশোধ নিশ্চিত করতে তাঁদের সঙ্গে চুক্তিও করা হতো। তদন্তকারীদের দাবি, একবারের বিয়ের জন্য অর্থ নেওয়ার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে বিয়েতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিকে মাসে ৫০০ ডলার করে দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। একটি ঘটনায় ব্রাজিলের এক নাগরিক এরিকা ড্যানিয়েলসের সঙ্গে বিয়ের ব্যবস্থা করতে গনজালেজকে অর্থ দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। বিয়ে চলাকালে ড্যানিয়েলসকে মাসে ৫০০ ডলার দেওয়ার বিষয়ে বার্তা বিনিময়ের তথ্যও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ড্যানিয়েলস, আলেহান্দ্রো, তাভারেস ও হিল এক বা একাধিক ভুয়া বিয়েতে অংশ নেওয়ার জন্য অর্থ পেয়েছিলেন। অন্যদিকে পিউ এই কার্যক্রমে সচিবের দায়িত্ব পালন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব বিয়ের ছবি ও একসঙ্গে বাইরে ঘোরার ছবি সংগ্রহ করা হতো, যাতে দম্পতির সম্পর্ককে প্রকৃত বলে দেখানো যায়। তদন্তের সময় রেকর্ড করা কথোপকথনে গনজালেজকে নতুন প্রশাসনের অধীনে অভিবাসন আইন প্রয়োগ কঠোর হওয়ার বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। একই কথোপকথনে ম্যাসাচুসেটসকে অভিবাসীদের জন্য আশ্রয়দাতা রাজ্য হিসেবেও বর্ণনা করেছিলেন তিনি। তদন্তকারীদের দাবি, ভুয়া বিয়ের কার্যক্রম থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে গনজালেজ ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে জমি, সম্পত্তি ও অন্যান্য সম্পদ গড়ে তুলেছিলেন। তিনি সেখানে নিজের সম্পদ গড়ে তোলার কথা কথোপকথনে উল্লেখ করেছেন বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে। এ ছাড়া সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচি এসএনএপির সুবিধা নেওয়ার ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, কার্যক্রমটি পরিচালনার সময় গনজালেজ ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের বেশি খাদ্যসহায়তা ব্যবহার করেছিলেন। বুধবার, ২১ অক্টোবর, গনজালেজসহ পাঁচজনকে গ্রে প্তার করা হয়। অপর অভিযুক্ত হিল আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত একটি অপরাধে ম্যাসাচুসেটসের কারাগারে সাজা ভোগ করছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রত্যেককেই নির্দোষ বলে বিবেচনা করা হবে।

পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে তৎপর নিরাপত্তা বাহিনী
সাজেকে পর্যটকদের ওপর সশস্ত্র গোষ্ঠীর গু লি, আহত নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য

রাঙামাটির সাজেক থেকে খাগড়াছড়িতে ফেরার পথে উজো বাজার এলাকায় পর্যটকদের লক্ষ্য করে গু লি চালিয়েছে সশস্ত্র একটি গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এ ঘটনায় পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও আহত হয়েছেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা জবাবের মুখে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা পিছু হটে। প্রায় দুই হাজার পর্যটককে নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী।   নিরাপত্তা বাহিনীর সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পাহারায় সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন পর্যটকেরা। বেলা ১১টার দিকে তাঁদের বহর বাঘাইছড়ির উজো বাজার এলাকায় পৌঁছালে সেখানে তাঁদের লক্ষ্য করে গু লি চালানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপরও গু লি চালানো হয়। এতে কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আহত হন। এরপর নিরাপত্তা বাহিনী পাল্টা জবাব দেয়। দুপুর ১টা পর্যন্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে গু লি বিনিময় চলে। একপর্যায়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা পিছু হটে। পরে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে খাগড়াছড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব জানান, সাজেক ভ্যালি থেকে ফেরার পথে প্রায় দুই হাজার পর্যটক উজো বাজার এলাকায় আটকা পড়েছিলেন। ঘটনার পর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীর গু লি বিনিময় শুরু হয় বলে পুলিশ জানায়। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) সাজেক সড়কে তৃতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেয় ইউপিডিএফ প্রসীতপন্থী সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠন দুটি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে অবরোধ কার্যকর হবে। এ কারণে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অন্যদিকে, অবরোধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। বুধবার সন্ধ্যায় দেওয়া এক গণবিজ্ঞপ্তিতে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানান, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে সব পর্যটককে নিরাপদে সাজেক ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই পর্যটকেরা সাজেক ছাড়তে শুরু করেন। কিন্তু এলাকা থেকে বের হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই উজো বাজারে অবরোধকারীদের মুখোমুখি হন তাঁরা। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা বাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। সাজেক সড়কে চলমান অবরোধের পেছনে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চলের আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর মধ্যে বিরোধ। গত ১৫ অক্টোবর সকাল ৬টা থেকে দ্বিতীয় দফায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন। এর আগে ১১ অক্টোবরও একই দাবিতে অবরোধের ডাক দিয়েছিল সংগঠন দুটি। অবরোধকারীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু লারমা) সশস্ত্র সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া। সংগঠন দুটির অভিযোগ, ওই এলাকায় তাঁদের উপস্থিতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যার মুখে পড়ছেন। তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে জেএসএস। সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমার দাবি, সাজেকে সাধারণ মানুষের ওপর ইউপিডিএফের সশস্ত্র সদস্যদের দীর্ঘদিনের নিপীড়ন ও হয়রানির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। অবরোধ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং বৃহস্পতিবারের গু লির ঘটনায় সাজেকের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলেও আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর বিরোধের কারণে পর্যটনকেন্দ্রটির স্বাভাবিক কার্যক্রম কখন চালু হবে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষা রয়েছে।

উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সীমান্তে বাড়ছে উত্তেজনা
দ. কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে বিরক্ত করতে সীমান্তে লাউডস্পিকার প্রস্তুত করছে উত্তর কোরিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সীমান্তজুড়ে আবারও প্রচারমূলক সম্প্রচারের জন্য লাউডস্পিকার প্রস্তুত করার ঘোষণা দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং জানিয়েছেন, অক্টোবরের শেষ নাগাদ এসব ব্যবস্থা প্রস্তুত থাকবে। একই সঙ্গে সীমান্তে নতুন সামরিক অবস্থান নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রকাশিত বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং দক্ষিণ কোরিয়াকে কঠোর পরিণতির হুঁশিয়ারি দেন। পিয়ংইয়ংয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সিউল হস্তক্ষেপ অব্যাহত রাখছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এর আগে বুধবার সন্ধ্যায় জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সীমান্তের প্রতিরক্ষামূলক স্থাপনার নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন কিম। কিম ইয়ো জংয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়ার কৌশলগত সামরিক ইউনিটগুলো সীমান্তে নতুন অবস্থান নিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনারা একাধিক স্থানে সতর্কবার্তা সম্প্রচার ও সতর্কতামূলক গুলি ছুড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব গুলিতে উত্তর কোরিয়ার ভূখণ্ড বা সেনাসদস্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার হুমকি দেন কিম। দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য নিজেদের পদক্ষেপকে আইনসম্মত ও আত্মরক্ষামূলক বলে জানিয়েছে। সীমান্তে মতপার্থক্য নিরসন এবং অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘাত এড়াতে উত্তর কোরিয়াকে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে সিউলের সামরিক বাহিনী ও একীভূতকরণ মন্ত্রণালয়। সিউল জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়া লাউডস্পিকারে সম্প্রচার আবার শুরু করলে সমানুপাতিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়া ২০২৫ সালের জুনে নিজেদের সীমান্ত সম্প্রচার বন্ধ করে এবং আগস্টে স্থায়ী লাউডস্পিকার সরিয়ে নেয়। দুই কোরিয়া দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে লাউডস্পিকার ব্যবহার করে পরস্পরবিরোধী প্রচার চালিয়ে এসেছে। ১৯৫০ থেকে ১৯৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধ যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে শেষ হওয়ার পর প্রতিষ্ঠিত অসামরিক অঞ্চল বা ডিএমজেড দুই দেশকে পৃথক করে রেখেছে। নতুন এই হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের বৈরিতা কমানোর প্রচেষ্টায় চাপ তৈরি করেছে। কিউংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লিম উল-চুলের মতে, ঘোষণার অর্থ এই নয় যে লাউডস্পিকার সঙ্গে সঙ্গেই চালু হবে। তবে শান্তিপূর্ণ যোগাযোগের চেষ্টা অব্যাহত রাখা এবং সীমান্তে সামরিক তৎপরতা মোকাবিলার মধ্যে সিউলকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য জাপান টাইমস ও দ্য কোরিয়া টাইমস

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
মেয়ে আশুরার কোরআন মুখস্থের অর্জনের কথা জানিয়েছেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পবিত্র কোরআনের হাফেজা হলেন চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের মেয়ে আশুরা কাদিরভা
প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২৩:৪৫

চেচেন নেতা রমজান কাদিরভের মেয়ে আশুরা কাদিরভা পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ মুখস্থ করে হাফেজার মর্যাদা অর্জন করেছেন। ১৭ অক্টোবর চেচেনিয়ার রাজধানী গ্রোজনির মেয়র কার্যালয়ের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। একই খবর প্রকাশ করেছে ইসলামভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইসলামনিউজ। তাঁদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধ্যবসায়, ধৈর্য ও নিয়মিত চর্চার মধ্য দিয়ে এ অর্জন করেছেন আশুরা।   রমজান কাদিরভও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মেয়ের এ অর্জনের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আশুরার এই সাফল্যে তাঁদের পরিবার আনন্দিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন কোরআনের আয়াত মুখস্থ করার পাশাপাশি শব্দের অর্থ বোঝা ও শুদ্ধভাবে তিলাওয়াতের অনুশীলন করেছেন আশুরা। এ দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পরিবারের দোয়া ও সহযোগিতাও ছিল।   এ উপলক্ষে রমজান কাদিরভের বাসভবনে চেচেনিয়ার মুফতি সালাহ-হাজি মেজিয়েভের নেতৃত্বে ধর্মীয় আলেমরা যান। সেখানে তাঁরা দোয়া করেন এবং আশুরা পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত তিলাওয়াত করেন। কাদিরভ তাঁদের উপস্থিতি ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কোরআনের জ্ঞান আশুরার জীবনে পথনির্দেশক হয়ে থাকবে।   ইসলামি পরিভাষায়, যিনি সম্পূর্ণ পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেন, তাঁকে ‘হাফেজ’ এবং নারী হলে ‘হাফেজা’ বলা হয়। কোরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি এর অর্থ বোঝা ও শিক্ষা অনুযায়ী জীবনযাপনের ওপরও ইসলামি শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হয়। আশুরার এ অর্জনকে তাঁর পরিবার ধর্মীয় শিক্ষা ও পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে।   সূত্র: গ্রোজনি সিটি হল, ইসলামনিউজ।

সন্তান ধারণ ও অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে এনেছেন নিউজিল্যান্ডের ফ্র্যাঙ্কি ও রাওয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউজিল্যান্ডে বাবা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সন্তানের জন্ম দিলেন ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ
প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২৩:৩৩

সন্তান জন্ম দেওয়ার স্বপ্ন পূরণে একাধিকবার গর্ভপাতের বেদনা ও সামাজিক বিচার সহ্য করতে হয়েছে নিউজিল্যান্ডের ট্রান্সজেন্ডার পুরুষ ফ্র্যাঙ্কিকে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর সঙ্গী রাওয়ার সঙ্গে তিনি এখন ছেলে হিওয়াকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন তাঁদের পরিবার। তাঁদের এই যাত্রা উঠে এসেছে প্রামাণ্যচিত্র ‘ট্রান্স অ্যান্ড প্রেগন্যান্ট’-এ।   ফ্র্যাঙ্কি জন্মের সময় নারী হিসেবে চিহ্নিত হলেও নিজেকে পুরুষ হিসেবেই পরিচয় দেন। নিজের শরীরকে পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে তিনি স্তন অপসারণের অস্ত্রোপচার ও টেস্টোস্টেরন হরমোনের চিকিৎসা নিয়েছেন। দাড়ি গজানোসহ শরীরে নানা পরিবর্তন এসেছে। তবে পুরুষ হিসেবে নিজের পরিচয় নিয়ে স্বচ্ছন্দ হওয়ার পরও বাবা হওয়ার ইচ্ছা তাঁর কখনো হারিয়ে যায়নি।   সঙ্গী রাওয়ার সঙ্গে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর তাঁদের পথ সহজ ছিল না। সন্তান ধারণের চেষ্টা করতে গিয়ে একাধিকবার গর্ভপাতের মুখোমুখি হন তাঁরা। চিকিৎসাসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি পরিচিত-অপরিচিত মানুষের বিচারমূলক দৃষ্টিও তাঁদের মোকাবিলা করতে হয়েছে। পুরুষ পরিচয় বজায় রেখেই গর্ভধারণ ও সন্তান জন্ম দেওয়ার অভিজ্ঞতা ফ্র্যাঙ্কির জন্য ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে জটিল। এ সময়ে রাওয়া তাঁর পাশে থেকে তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন।   ২০২৩ সালে তাঁদের ছেলে হিওয়া-ই-তে-রাঙ্গির জন্ম হয়। এরপর ফ্র্যাঙ্কি ও রাওয়া তাঁদের অভিভাবকত্বের অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে ভাগ করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, যাতে ট্রান্সজেন্ডার ও লিঙ্গবৈচিত্র্যময় অন্য মানুষও পরিবার গড়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে জানতে পারেন। তাঁদের মতে, সন্তান ধারণের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়া এমন মানুষদের বাস্তবতা তুলে ধরার একটি উপায়, যাঁদের জীবন ও পরিবার সম্পর্কে সমাজে এখনও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে।   রামন তে ওয়েক পরিচালিত ‘ট্রান্স অ্যান্ড প্রেগন্যান্ট’ প্রামাণ্যচিত্রে এই দম্পতির সন্তান নেওয়ার চেষ্টা, গর্ভপাতের অভিজ্ঞতা এবং শেষ পর্যন্ত সন্তান জন্ম দেওয়ার কাহিনি তুলে ধরা হয়েছে। ২০২৪ সালে নির্মিত ৫৮ মিনিটের এই নিউজিল্যান্ডের প্রামাণ্যচিত্রটি ২০২৫ সালের ওশেনীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় এবং প্রথম বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়। চলচ্চিত্রটি শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং অভিভাবকত্ব, লিঙ্গপরিচয় এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে।   সূত্র: নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড; ওশেনীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (FIFO)।

ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির অবস্থান আবারও জানালেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট
প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২২:২৯

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সরকার ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। মেক্সিকো সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আলোচনা প্রয়োজন। দেশটির এই অবস্থান নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা।       মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জানান, তাঁর সরকারের সময়ই ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাদিয়া রাশিদের পরিচয়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকলেও পূর্ণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শেইনবাউম বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ করা তাঁর সরকারের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।       মেক্সিকোর পররাষ্ট্রনীতিতে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশটির সরকার মনে করে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। এ অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও মেক্সিকোর বক্তব্যে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও মেক্সিকো পূর্ণ সদস্য না হয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।       ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে মেক্সিকোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মেক্সিকো সরকার বহুপক্ষীয় আলোচনা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সংকট সমাধানের পক্ষে রয়েছে। দেশটির এই অবস্থান ফিলিস্তিন প্রশ্নে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থনকে আবারও সামনে এনেছে।       সূত্র: মেক্সিকো সরকারের প্রেসিডেন্সি দপ্তর, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে মহানবী (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী পড়ে শোনালেন রাজা চার্লস
প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২২:৮

যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। বুধবার, ২১ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে তিনি ওমানিদের সৌজন্যবোধ ও সহনশীলতার কথা তুলে ধরেন। রাজা চার্লস বলেন, মহানবী (সা.) ওমানের মানুষের চরিত্র সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ওমানের মানুষের কাছে গেলে তারা কাউকে গালিগালাজ বা শারীরিকভাবে আঘাত করত না। ওমানের সুলতানের যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রানি ক্যামিলা এবং দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।       রাজা চার্লসের উদ্ধৃত হাদিসটি সহিহ মুসলিমের সাহাবিদের মর্যাদাসংক্রান্ত অধ্যায়ে ওমানের মানুষের গুণাবলি প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটির বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) এক ব্যক্তিকে আরবের একটি গোত্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হলে তিনি ফিরে এসে বিষয়টি জানান। তখন মহানবী (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতেন, তাহলে তারা তাঁকে গালিগালাজ বা মারধর করত না। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে এই বাণী উল্লেখ করে ওমানের মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম ও শান্তিপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানান।       নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ রাজা যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে ওমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। চার্লসের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে ওমানের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।       ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক ১৯ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। পরদিন উইন্ডসর ক্যাসেলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। এই সফর ১৯৮২ সালের পর ওমানের কোনো সুলতানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।       সূত্র: ওমান অবজারভার

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়