সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
পরিবারসহ বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দিচ্ছে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ। ছবি: সংগৃহীত
পরিবারসহ পড়তে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ১৪টি দেশ, কোন দেশে কেমন নিয়ম ও কাজের সুযোগ

বিবাহিত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিবার পেছনে ফেলে যাওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তবে বিশ্বের এমন ১৪টি দেশ রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ডিপেন্ডেন্ট ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের মাধ্যমে এই সুযোগ দেওয়া হলেও দেশভেদে এই ভিসার নিয়মকানুন এবং কাজের অনুমতিতে রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা।   নাইজেরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লেজিট ডট এনজি এবং ভ্যানগার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের পূর্ণকালীন কাজের অধিকার দিলেও অন্য দেশগুলোতে এ ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   যেসব দেশে পরিবারের জন্য নিয়মকানুন অপেক্ষাকৃত সহজ, তার মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। দেশ দুটিতে শিক্ষার্থীরা মূল ভিসা আবেদনের সময়ই পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করতে পারেন কিংবা পরবর্তীতে আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীরা কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়া কাজ করার সুযোগ পান। তবে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা সাধারণত প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। কানাডায় যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীকে মূল ভিসার মেয়াদের সমান সময়ের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়।   জার্মানিতে অন্তত এক বছর মেয়াদি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবার নিয়ে যেতে পারেন। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, উপযুক্ত বাসস্থান, বিবাহ সনদ, সঙ্গীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ের জার্মান ভাষা জানার প্রমাণ দেখাতে হয়। জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের যোগ্য সঙ্গীরা কাজেরও অনুমতি পান।   ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ডও পরিবার নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। ডেনিশ এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন বা সিরি এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বসবাসের অনুমতি পেলে সঙ্গীরা পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন। এছাড়া সুইডেন এবং নিউজিল্যান্ডেও শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য বসবাসের অনুমতির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নেদারল্যান্ডসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা বসবাসের অনুমতি পেলেও সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পান না।   অন্যদিকে কিছু দেশ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের নীতিমালা কঠোর করেছে। নতুন নিয়মে কেবল পিএইচডি, অন্যান্য ডক্টরেট ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট কিছু গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরাই পরিবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহনকারী সরকারি বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের কোর্স ছয় মাসের বেশি, তারাও এই সুবিধা পান। এই সুবিধার আওতায় স্বামী, স্ত্রী বা অন্তত দুই বছর ধরে একসঙ্গে বসবাসকারী অবিবাহিত সঙ্গীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।   এদিকে পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসার আবেদন করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন সংস্থা ইউকেভিআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদনে দেরি হলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। আবেদনের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট এবং ক্যাস বা কনফার্মেশন অব এক্সেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ সহ ছয়টি মূল বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে এফ ১ ভিসা নিয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ ২ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এফ ২ ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজের অনুমতি নেই।   সিঙ্গাপুরে এই নিয়ম বেশ কঠোর। স্নাতক বা অধিকাংশ স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরা সাধারণ স্টুডেন্ট পাসের মাধ্যমে পরিবার নেওয়ার সুযোগ পান না। সেখানে পরিবারের সদস্যদের জন্য লং টার্ম ভিজিট পাসের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হতে পারে।   মালয়েশিয়ায় মাস্টার্স বা পিএইচডির মতো দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিবারের জন্য ডিপেন্ডেন্ট পাসের আবেদন করতে পারেন।   হংকংয়ে স্থানীয় পূর্ণকালীন ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে আলাদা অনুমতি ছাড়া তারা কাজ করতে পারেন না।   চীনে ১৮০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য এস ১ ভিসা এবং স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের জন্য এস ২ ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন।   শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিদেশে পড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।   সূত্র: লেজিট ডট এনজি ও ভ্যানগার্ড

২৮ মিনিট Ago
ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার, পাশেই জমে আছে নোংরা পানি। ছবি: সংগৃহীত
ইঁদুর, প্রস্রাব ও কুকুরের মুখ দেওয়া মাংস: লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট ফুড ঘিরে ১০ হাজার অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে

রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে ক্রেতাদের পরিবেশন করার আগে সেই মাংস খাচ্ছে একটি কুকুর। আরেকটি ফুড ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসছে তেলাপোকা। খোলা সস বা চাটনির পাশ দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। তীব্র গরমে রেফ্রিজারেটরের বাইরে রাখা আছে কাঁচা মাংস। এমনকি রান্নার সরঞ্জামের আশপাশেই লোকজন প্রস্রাব করছে। এগুলো কোনো কাল্পনিক হরর সিনেমার দৃশ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রাস্তার ধারের খাবার বা স্ট্রিট ফুডের বাস্তব চিত্র।   ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৯ হাজার ৭৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬৬২ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা তথ্যগুলো উঠে এসেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস চলতি সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ম ভঙ্গকারী স্ট্রিট ভেন্ডর বা রাস্তার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক এমন একটি সময়ে এই ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা জনসমক্ষে এল। সমালোচকরা মনে করছেন, মেয়রের এই পদক্ষেপের ফলে অনুমতিবিহীন খাবারের গাড়িগুলো শহরজুড়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে জমা পড়া এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নথিতে পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, হাথর্ন বুলেভার্ডের কাছের একটি টাকো স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মীদের হাত ধোয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং তারা গ্লাভস পরিবর্তন করছিলেন না। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি কুকুর থলে থেকে মাংস খাচ্ছিল এবং বিক্রেতা সেই থলে থেকেই ক্রেতাদের মাংস পরিবেশন করছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযোগের ফাইলটি কেবল বন্ধ বা ক্লোজড হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্স এর কাছাকাছি এলাকার আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে খোলা অবস্থায় সালসা ও অন্যান্য মশলা রাখা ছিল এবং সেখানে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। সেই অভিযোগটি বাতিল বা ক্যানসেলড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস সৈকত এলাকার একটি অভিযোগে বলা হয়, হট ডগ, বন রুটি এবং অন্যান্য খাবার সারাদিন রোদে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তগুলোর অর্থ বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের বদলে বড় সংগঠনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, যারা মূলত এই ফুটপাতের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।   লস অ্যাঞ্জেলেস বিজনেস ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ওয়াল্ডম্যান স্ট্রিট ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তালিকাকে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যদি তার কর্মীরা হাত না ধোয়, মাখন বাইরে ফেলে রাখে বা তাদের ফ্রিজ নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য গরম থাকে। অথচ রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের কোনো শৌচাগার নেই, কর্মীরা হাত ধুচ্ছেন না এবং তাদের কোনো রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও নেই।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বিজনেস ফেডারেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসন কমিটির কো চেয়ারম্যান জর্জ ফ্রান্সিসকো জানান, এই অভিযোগগুলো তার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য বিক্রেতাদের সিটি ভেন্ডিং পারমিট বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। যারা খাবার বিক্রি করেন, তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পারমিটও নিতে হয়। কাউন্টি মূলত খাদ্যের নিরাপত্তা তদারকি করে, আর শহর কর্তৃপক্ষ বিক্রেতারা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণ করে।   হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বিক্রেতা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬৮৭টি সক্রিয় ভেন্ডিং পারমিটের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি পারমিট ছিল খাবার বিক্রেতাদের জন্য।   মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্ট্রিট ভেন্ডরদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলেও বা স্থায়ী দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করলেও বিক্রেতাদের যেন অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা না হয়। তবে তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলওম্যান নিথিয়া রমন। তিনি মনে করেন, শহর কর্তৃপক্ষের উচিত বিক্রেতাদের পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একইসাথে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।   পিকো ইউনিয়ন এলাকার এল সালভাদর করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসিয়েছেন। রাস্তায় তেল ও নোংরা পানি গড়িয়ে পড়ছে। এল সালভাদর করিডোর অ্যাসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা রাউল ক্লারোস জানান, এই এলাকায় এখন ১২০ জনেরও বেশি স্ট্রিট ভেন্ডর ভিড় জমিয়েছেন। তিনি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ না করে তাদের পারমিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বাজারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে রেফ্রিজারেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকবে।   ফুটপাতে এই অবৈধ ব্যবসার কারণে স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এল কোরেডর রেস্তোরাঁর মালিক মিগুয়েল কারানজা এবং তার স্ত্রী ইরমা দিয়াজ জানান, তারা একসময় ফুটপাতেই ব্যবসা করতেন। এরপর তারা ফুড ট্রাক এবং ২০১০ সালে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কিন্তু এখন ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কারণ, ফুটপাতের বিক্রেতাদের রেস্তোরাঁর মতো ভাড়া বা অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় না। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ব্রেন্ডা মনটোয়া জানান, করোনা মহামারির আগে এই এলাকার অর্থনীতি অনেক ভালো ছিল, কিন্তু ফুটপাতে বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

১ ঘন্টা Ago
দাম্পত্য জীবনে রোমান্স ফেরাতে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন অনেক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যাওয়া অন্তরঙ্গতা ফেরাতে থেরাপিস্ট নয়, বরং এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন দম্পতিরা

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে।   জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না।   পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন।   সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়।   আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা।   জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়।   দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য।   আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।   গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি।   জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে।   দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।   এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে।   তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন।   এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।   তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি।   জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।   ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

১ ঘন্টা Ago
নিজের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে হাজারো প্রাণ বাঁচানো প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় স্কুল ভেসে যাওয়ার আগে ঘণ্টা বাজিয়ে ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বাঁচালেন প্রধান শিক্ষক

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঠিক আগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পানি ও কাদার প্রবল স্রোত স্কুল ভবনের দিকে এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে তিনি ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেন। পরে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনতলা স্কুল ভবনটি বন্যার স্রোতে ভেসে যায়।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ত্রিশূলী বাজার এলাকায়। সেখানে ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি ওই দিন ভয়াবহ বিপদের সতর্কবার্তা পান। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ৪৭ বছর বয়সী দাওয়াদির কাছে উজানের বেত্রাবতী এলাকা থেকে এক বন্ধু ফোন করেন। তিনি জানান, নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে নিচের দিকে আসছে এবং উজানের একটি এলাকা ইতোমধ্যে পানির স্রোতে ভেসে গেছে। স্কুলের দিকে বন্যার পানি এগিয়ে আসতে পারে বুঝতে পেরে দাওয়াদি আর সময় নষ্ট করেননি।   সেই সময় স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বাসে করে স্কুলের দিকে আসছিল। পরিস্থিতি বুঝে প্রধান শিক্ষক সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শুধু স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিলেই তিনি থামেননি। তিনি মনে করেন, স্কুলবাসে করে যারা তখনও আসছিল, তারাও একই বিপদের মধ্যে পড়তে পারে। এরপর তিনি একে একে বাসচালকদের ফোন করে ফিরে যেতে বলেন। কয়েকটি বাসকে তিনি স্কুলের দিকে না এসে নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে সক্ষম হন।   একটি বাসের চালকের সঙ্গে অবশ্য তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে সেটিকে স্কুলের কাছের একটি সেতু দিয়ে আসতে দেখে দাওয়াদি নিজেই চালককে থামার সংকেত দেন এবং ফিরে যেতে বলেন। বাসটি ফিরে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি বন্যার পানির চাপে ভেঙে পড়ে বলে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ভয়াবহ বন্যার স্রোত স্কুল এলাকায় পৌঁছে যায়।   ত্রিশূলী নদীর পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে তিনতলা স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। ভবনটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, পরে সেখানে কেবল ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্তর দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, নদীর স্রোত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ও সেতুসহ বিস্তীর্ণ এলাকার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান শিক্ষক দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বন্যার স্রোত আঘাত হানার আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।   তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। অনলাইনখবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল থেকে বের হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে প্রায় তিন দিন আটকে ছিলেন। পরে ২৮ আগস্ট দাওয়াদি ও আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় স্কুলের দুই কর্মীর মৃত্যুর কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তাদের মৃত্যুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর তথ্য এক নয়। তাই তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অতিরিক্ত দাবি করা হচ্ছে না।   নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। নেপালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এই দুর্যোগে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ত্রিশূলী উপত্যকার এই দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় স্কুলটির ধ্বংসের মধ্য দিয়ে। যে ভবনে সেদিন সকালেও শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেটি আর ছিল না। কিন্তু ভবনটি ধ্বংস হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটি বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   রাজেন্দ্র দাওয়াদির ঘটনাটি তাই শুধু একজন প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তের গল্প নয়। এটি দুর্যোগের সময় কয়েক মিনিটের সতর্কতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ। উজান থেকে পাওয়া একটি ফোনকলকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি যদি অপেক্ষা করতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। দুর্যোগের পর এখন স্কুলটি কোথায় এবং কীভাবে আবার চালু করা হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।   প্রকৃতির এমন আকস্মিক দুর্যোগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানই কখনো কখনো জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করে। ত্রিশূলী উপত্যকায় সেদিন রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্ত সেই কয়েক মিনিটকেই কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।   সংবাদসূত্র: দ্য টাইমস, বিডিনিউজ২৪

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
আটলান্টায় পার্কিং নিয়ে চালকদের ভোগান্তি কমাতে আসছে নতুন আইন, নাম ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ব্যক্তিগত পার্কিং লট পরিচালনাকারীদের আরও জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং চালকদের পার্কিংয়ের আগে সুস্পষ্ট তথ্য প্রদানের লক্ষ্যে নতুন একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের নেতারা প্রস্তাবিত এই নতুন আইনটির নাম দিয়েছেন ‘পার্কিং বিল অব রাইটস’।   আটলান্টার চালকরা দীর্ঘদিন ধরেই কোথায় এবং কীভাবে পার্কিংয়ের বিল পরিশোধ করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি ও ভোগান্তির অভিযোগ করে আসছিলেন। অনেকেই কিয়স্ক খুঁজে না পেয়ে বিরক্ত হয়ে জরিমানার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হন। এই বিশৃঙ্খলা দূর করতেই কাউন্সিল মেম্বার জেসন ডজিয়ার আইনটি প্রস্তাব করেছেন, যা সোমবার পূর্ণাঙ্গ কাউন্সিলের অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হতে পারে।   প্রস্তাবিত এই বিলটি অনুমোদিত হলে পার্কিং লটগুলোতে মূল্য তালিকা এবং মূল্য পরিশোধের মাধ্যমগুলো সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানো বাধ্যতামূলক হবে। শুধুমাত্র টেক্সট বা কিউআর কোডের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া হলে চালকদের তা আগেই জানাতে হবে অথবা বিকল্প ব্যবস্থা রাখতে হবে।   এছাড়া কোনো চালক পার্কিং লটে প্রবেশের পর যদি সেখানে গাড়ি না রাখার সিদ্ধান্ত নেন, তবে তাকে বিনা খরচে লট ত্যাগের জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘গ্রেস পিরিয়ড’ দিতে হবে।   নতুন নিয়মে লটগুলোতে কাস্টমার সার্ভিসের ফোন নম্বর বা ওয়েবসাইট, কার্য পরিচালনার সময়, পরিচালনাকারীর নাম এবং ধারণক্ষমতার তথ্যও স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করতে হবে। পাশাপাশি পার্কিং লটটি ক্যাশলেস কি না, কর্মী আছে কি না বা গেট রয়েছে কি না, সে বিষয়গুলোও পরিষ্কারভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।   জরিমানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রেও নতুন নিয়মে যুগান্তকারী স্বচ্ছতা আনা হয়েছে। পরিচালনাকারীদের এখন থেকে চালকদের লিখিত নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং কোনো ক্রেডিট বা কালেকশন এজেন্সির কাছে পাঠানোর আগে আপত্তির জন্য অন্তত ৩০ দিন সময় দিতে হবে।   বিরোধ চলাকালীন কোনো জরিমানা কার্যকর করা যাবে না। অন্যদিকে, পার্কিং লটে ব্যবহৃত লাইসেন্স প্লেট রিডার ক্যামেরার ব্যবহার নিষিদ্ধ না হলেও এর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি সাইনবোর্ডে জানাতে হবে এবং সংগৃহীত ডেটা মার্কেটিং বা বিজ্ঞাপনের কাজে বিক্রি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।   আইনটি গত বুধবার আটলান্টার ট্রান্সপোর্টেশন কমিটিতে সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে লট পরিচালনাকারীরা নিয়মগুলো বাস্তবায়নের জন্য ১৮০ দিন সময় পাবেন এবং এর ব্যত্যয় ঘটলে এক হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে।

আটলান্টা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ১৯:২৭
যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জন্মদিনের পার্টিতেই সুইমিংপুলে ডুবল ২ বছরের শিশু, সিপিআরে বাঁচল প্রাণ

যুক্তরাষ্ট্রের কব কাউন্টিতে নিজের জন্মদিনের পার্টিতে সুইমিংপুলে ডুবে গিয়ে প্রায় মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়েছিল দুই বছরের এক শিশু। তবে পার্টিতে উপস্থিত অতিথিদের তাৎক্ষণিক উপস্থিত বুদ্ধিতে শেষ পর্যন্ত শিশুটির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জ্ঞান ফেরার পর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য শিশুটিকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।   গত শনিবার রাত ৯টার পরপর কব কাউন্টির ৪৫০১ সার্কেল ৭৫ পার্কওয়েতে অবস্থিত স্টেডিয়াম ওয়াক অ্যাপার্টমেন্টে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শিশুটির জন্মদিন উদ্‌যাপনের জন্যই সেখানে একটি পুল পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল।   উৎসবের আনন্দের মাঝেই হঠাৎ উপস্থিত লোকজন শিশুটিকে সুইমিংপুলের পানিতে অচেতন অবস্থায় ভাসতে দেখেন। তাকে দ্রুত পানি থেকে উদ্ধার করা হলেও প্রাথমিকভাবে তার শরীরে কোনো সাড়াশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পার্টিতে উপস্থিত কয়েকজন কালক্ষেপণ না করে শিশুটিকে সিপিআর (CPR) দেওয়া শুরু করেন। তাদের এই সময়োচিত পদক্ষেপের ফলেই অলৌকিকভাবে শিশুটি জ্ঞান ফিরে পায়।   খবর পেয়ে কব কাউন্টি পুলিশের পাশাপাশি ম্যারিয়েটা ফায়ার সার্ভিসের জরুরি চিকিৎসা দলের (ইএমটি) সদস্যরাও ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং শিশুটির চিকিৎসায় সার্বিক সহায়তা করেন। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অপরাধমূলক তৎপরতা নেই; এটি নিছকই একটি অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা।

পরিবারসহ পড়তে যাওয়ার সুযোগ দিচ্ছে ১৪টি দেশ, কোন দেশে কেমন নিয়ম ও কাজের সুযোগ

বিবাহিত শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে পরিবার পেছনে ফেলে যাওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর একটি। তবে বিশ্বের এমন ১৪টি দেশ রয়েছে, যেখানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা তাঁদের পড়াশোনার পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকেন। ডিপেন্ডেন্ট ভিসা বা রেসিডেন্স পারমিটের মাধ্যমে এই সুযোগ দেওয়া হলেও দেশভেদে এই ভিসার নিয়মকানুন এবং কাজের অনুমতিতে রয়েছে ব্যাপক ভিন্নতা।   নাইজেরিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লেজিট ডট এনজি এবং ভ্যানগার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিছু দেশ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যদের পূর্ণকালীন কাজের অধিকার দিলেও অন্য দেশগুলোতে এ ক্ষেত্রে কড়াকড়ি বা পূর্বানুমতির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।   যেসব দেশে পরিবারের জন্য নিয়মকানুন অপেক্ষাকৃত সহজ, তার মধ্যে অন্যতম অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা। দেশ দুটিতে শিক্ষার্থীরা মূল ভিসা আবেদনের সময়ই পরিবারের সদস্যদের যুক্ত করতে পারেন কিংবা পরবর্তীতে আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। অস্ট্রেলিয়ায় স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীরা কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়া কাজ করার সুযোগ পান। তবে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা সাধারণত প্রতি পাক্ষিকে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। কানাডায় যোগ্য শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রীকে মূল ভিসার মেয়াদের সমান সময়ের জন্য ওপেন ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়।   জার্মানিতে অন্তত এক বছর মেয়াদি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবার নিয়ে যেতে পারেন। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত আর্থিক সক্ষমতা, উপযুক্ত বাসস্থান, বিবাহ সনদ, সঙ্গীর বয়স অন্তত ১৮ বছর হওয়া এবং প্রাথমিক পর্যায়ের জার্মান ভাষা জানার প্রমাণ দেখাতে হয়। জার্মানিতে শিক্ষার্থীদের যোগ্য সঙ্গীরা কাজেরও অনুমতি পান।   ডেনমার্ক এবং ফিনল্যান্ডও পরিবার নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক। ডেনিশ এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ইন্টিগ্রেশন বা সিরি এর মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বসবাসের অনুমতি পেলে সঙ্গীরা পূর্ণকালীন কাজ করতে পারেন। এছাড়া সুইডেন এবং নিউজিল্যান্ডেও শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য বসবাসের অনুমতির ব্যবস্থা রয়েছে। তবে নেদারল্যান্ডসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গীরা বসবাসের অনুমতি পেলেও সরাসরি বা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার সুযোগ পান না।   অন্যদিকে কিছু দেশ সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য নিয়মে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। যুক্তরাজ্য ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে তাদের নীতিমালা কঠোর করেছে। নতুন নিয়মে কেবল পিএইচডি, অন্যান্য ডক্টরেট ডিগ্রি বা নির্দিষ্ট কিছু গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরাই পরিবার নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার সম্পূর্ণ খরচ বহনকারী সরকারি বৃত্তি পাওয়া শিক্ষার্থীরা, যাদের কোর্স ছয় মাসের বেশি, তারাও এই সুবিধা পান। এই সুবিধার আওতায় স্বামী, স্ত্রী বা অন্তত দুই বছর ধরে একসঙ্গে বসবাসকারী অবিবাহিত সঙ্গীরা অন্তর্ভুক্ত হতে পারেন।   এদিকে পরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের দ্রুত ভিসার আবেদন করার তাগিদ দিয়েছে যুক্তরাজ্যের ভিসা ও অভিবাসন সংস্থা ইউকেভিআই। সংস্থাটি জানিয়েছে, আবেদনে দেরি হলে ভিসা প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। আবেদনের ক্ষেত্রে বৈধ পাসপোর্ট এবং ক্যাস বা কনফার্মেশন অব এক্সেপ্টেন্স ফর স্টাডিজ সহ ছয়টি মূল বিষয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রে এফ ১ ভিসা নিয়ে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরা এফ ২ ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে এফ ২ ভিসাধারীদের যুক্তরাষ্ট্রে কোনো ধরনের কাজের অনুমতি নেই।   সিঙ্গাপুরে এই নিয়ম বেশ কঠোর। স্নাতক বা অধিকাংশ স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষার্থীরা সাধারণ স্টুডেন্ট পাসের মাধ্যমে পরিবার নেওয়ার সুযোগ পান না। সেখানে পরিবারের সদস্যদের জন্য লং টার্ম ভিজিট পাসের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হতে পারে।   মালয়েশিয়ায় মাস্টার্স বা পিএইচডির মতো দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসের মাধ্যমে পরিবারের জন্য ডিপেন্ডেন্ট পাসের আবেদন করতে পারেন।   হংকংয়ে স্থানীয় পূর্ণকালীন ডিগ্রি কোর্সে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে আলাদা অনুমতি ছাড়া তারা কাজ করতে পারেন না।   চীনে ১৮০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য এস ১ ভিসা এবং স্বল্পমেয়াদি অবস্থানের জন্য এস ২ ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পরিবারের সদস্যরা দেশটিতে যাওয়ার আবেদন করতে পারেন।   শিক্ষাবিদ ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিদেশে পড়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি অভিবাসন ওয়েবসাইটের সর্বশেষ নীতিমালা যাচাই করে নেওয়া জরুরি।   সূত্র: লেজিট ডট এনজি ও ভ্যানগার্ড

গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন বহু দর্শনার্থী। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যা, ৬২ জনকে উদ্ধার, নিখোঁজ আরও ১৫

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৫ জন হাইকার ও ব্যাকপ্যাকার নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় হঠাৎ প্রবল বন্যা দেখা দিলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এর মধ্যে ৬২ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস (এনপিএস) জানিয়েছে, নিখোঁজদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তাদের মধ্যে কেউ ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিক করিডোরে হাঁটছিলেন, কেউ ক্যাম্পে অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ নর্থ কাইবাব ট্রেইল ধরে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের দিকে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বন্যার ভয়াবহতা এতটাই বেশি ছিল যে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের ওপর থাকা প্রায় সব পায়ে হাঁটার সেতু ধ্বংস হয়ে গেছে। পানির প্রবল স্রোতে কাদা, পাথর, গাছপালা ও বিভিন্ন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ ভেসে গিয়ে কলোরাডো নদীতেও পড়ে। এতে নদীপথে চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।   এনপিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ আগস্ট দুপুর আড়াইটার দিকে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যানিয়ন ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকায় আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। ৩০ আগস্ট সকাল পর্যন্ত ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ ও নর্থ কাইবাব ট্রেইলের নিচের অংশ থেকে ৬২ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজনকে কটনউড ক্যাম্পগ্রাউন্ড ও ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দক্ষিণ প্রান্তের মাসউইক লজ ক্যাফেটেরিয়ায় নেওয়া হয়, যেখানে আমেরিকান রেড ক্রস তাদের সহায়তা করছে। প্রথম দিকে পার্ক কর্তৃপক্ষ ২০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ বা নিখোঁজের মতো অবস্থায় থাকতে পারেন বলে জানিয়েছিল। পরে যাচাইয়ের পর সেই সংখ্যা প্রায় ১৫ জনে নেমে আসে। তাদের মধ্যে কারা রয়েছেন বা তারা কোন এলাকার বাসিন্দা, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই নিখোঁজ ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য দিতে জনসাধারণের সহায়তা চেয়েছে।   বিশেষ করে নর্থ কাইবাব ট্রেইলহেড থেকে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ পর্যন্ত যাতায়াত করা হাইকার, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ডে অবস্থানকারী ব্যক্তি এবং ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উত্তরে ‘দ্য বক্স’ নামে পরিচিত এলাকায় থাকা বা চলাচল করা ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কারও পরিচিত ব্যক্তি ওই এলাকায় ছিলেন বলে জানা থাকলে তার নাম, আনুমানিক অবস্থান, ভ্রমণ পরিকল্পনা, দলের সদস্যসংখ্যা কিংবা পোশাক ও ব্যাগের বর্ণনা দিয়ে তথ্য জানাতে বলা হয়েছে। বন্যার সময়ের বিভিন্ন ভিডিওতে ক্যানিয়নের ভেতর দিয়ে কাদা ও পানির প্রবল স্রোত নেমে আসতে দেখা গেছে। বড় বড় পাথর, গাছের অংশ এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পানির সঙ্গে ভেসে যায়। একজন হাইকার বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানান, বৃষ্টির পর তারা হঠাৎ করে খালে পানি বেড়ে যেতে, বিভিন্ন জায়গা থেকে জলপ্রপাতের মতো পানি নেমে আসতে এবং পাথর, কাদা ও ভূমিধস দেখতে পান।   প্রবল স্রোতে ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্রিকের গতিপথও বদলে গেছে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, বন্যায় ক্যানিয়নের বিভিন্ন অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনার মধ্যে রয়েছে সেতু, ট্রেইল, পানি ও অন্যান্য পরিষেবা অবকাঠামো। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনো চলছে। বন্যার পর ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চ, ব্রাইট অ্যাঞ্জেল ক্যাম্পগ্রাউন্ড এবং পুরো নর্থ কাইবাব ট্রেইল পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। কলোরাডো নদীর ওপরের ব্ল্যাক ব্রিজ ও সিলভার ব্রিজও বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে নদীতে ধাতব কাঠামো ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ পড়ে যাওয়ায় ওই এলাকায় নৌযান চলাচলও বন্ধ করা হয়েছে। এসব এলাকা কবে খুলবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।   আবহাওয়ার ঝুঁকিও এখনো কাটেনি। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, রোববার ও সোমবার আরও বজ্রঝড় এবং ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে নতুন করে আকস্মিক বন্যা, ধ্বংসাবশেষের স্রোত, পাথর ধস এবং ট্রেইল ও নদীর পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে। এই বন্যার পেছনে গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের দুর্গম ভূপ্রকৃতির পাশাপাশি গত বছরের ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের প্রভাব নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই দাবানলে নর্থ রিমের বিস্তীর্ণ এলাকা পুড়ে যায়। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি জলাধার ও উপত্যকায় ভারী বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশেষ করে খাড়া ভূখণ্ডে অল্প সময়ের ভারী বৃষ্টিতেও পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসতে পারে।   ড্রাগন ব্রাভো দাবানলের পর গ্র্যান্ড ক্যানিয়নের কর্মকর্তারা এ ধরনের বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক ছিলেন। ফ্ল্যাশ ফ্লাড বা আকস্মিক বন্যার আগাম সতর্কতা উন্নত করতে ফ্যান্টম র‍্যাঞ্চের উজানে অতিরিক্ত পানি প্রবাহ মাপার যন্ত্র ও অন্যান্য সেন্সর স্থাপন করা হয়েছিল। তবে এবারের বন্যার আকস্মিকতা ও স্রোতের শক্তি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত কঠিন করে তুলেছে। গ্র্যান্ড ক্যানিয়নে এমন আকস্মিক বন্যা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে ক্যানিয়নের গভীর ও খাড়া ভূপ্রকৃতির কারণে ওপরের দিকে বৃষ্টি হলেও নিচের অংশে হঠাৎ করে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস তাই দর্শনার্থীদের আবহাওয়ার সতর্কতা অনুসরণ করতে এবং বৃষ্টি না হলেও ক্যানিয়নের ভেতরের নদী, খাল বা নিচু এলাকায় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে থাকে।   এদিকে উদ্ধারকারী দল নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান অব্যাহত রেখেছে। পার্ক কর্তৃপক্ষ ও অ্যারিজোনা জননিরাপত্তা বিভাগ সমন্বয় করে উদ্ধার ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ করছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্যে কোনো আহত বা নিহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে আরও বৃষ্টি ও নতুন করে বন্যার আশঙ্কা থাকায় উদ্ধার অভিযান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো হচ্ছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে সময় যত গড়াচ্ছে, তাদের পরিবার ও স্বজনদের উদ্বেগও বাড়ছে। দুর্গম ক্যানিয়নের ভেতরে বন্যার পর বদলে যাওয়া ভূপ্রকৃতি, ধ্বংস হওয়া সেতু এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া পথ উদ্ধারকারীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপাতত সবার নজর নিখোঁজ হাইকারদের সন্ধান এবং নতুন করে কোনো প্রাণহানি ঠেকানোর দিকে।   সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং আল জাজিরা।

দাম্পত্য জীবনে রোমান্স ফেরাতে এআই প্রযুক্তির সাহায্য নিচ্ছেন অনেক দম্পতি। ছবি: সংগৃহীত
ব্যস্ত জীবনে হারিয়ে যাওয়া অন্তরঙ্গতা ফেরাতে থেরাপিস্ট নয়, বরং এআই চ্যাটবটের সাহায্য নিচ্ছেন দম্পতিরা

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে কাজ, সন্তান, সংসার ও নানা দায়িত্বের চাপে অনেক দম্পতির ব্যক্তিগত সম্পর্কেও দূরত্ব তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক দম্পতির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল। ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর কাজ ও সন্তান পালনের ব্যস্ততায় তাদের দাম্পত্য জীবনের ঘনিষ্ঠতা অনেকটাই কমে গিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত এআই-নির্ভর একটি অন্তরঙ্গতা সহায়ক সেবা ব্যবহার করে তারা নিজেদের সম্পর্কের নতুন দিক আবিষ্কার করেছেন বলে জানিয়েছেন।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে প্রতিবেদনে ‘জুনিপার’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। গোপনীয়তার কারণে তাঁর পুরো নাম প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর স্বামী জেফের সঙ্গে তাদের যমজ কন্যাসন্তান রয়েছে। দুজনই শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। পাশাপাশি তাদের রয়েছে আরও নানা দায়িত্ব। স্কুলে সন্তানদের নিয়ে যাওয়া, খেলাধুলার অনুষ্ঠান, রাতে পড়াশোনায় সহায়তা এবং বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখাশোনার পাশাপাশি দুজনেরই কাজের চাপ রয়েছে।   জুনিপারের ভাষায়, দিনের পর দিন এই ব্যস্ততার কারণে নিজেদের জন্য সময় ও শক্তি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছিল। কয়েক বছর ধরে মাসে এক বা দুইবারের বেশি তাদের অন্তরঙ্গ সময় কাটানোও সম্ভব হতো না। তিনি চেয়েছিলেন স্বামীর সঙ্গে আবার ঘনিষ্ঠ হতে, তবে কীভাবে সেই পরিবর্তন শুরু করবেন, তা বুঝতে পারছিলেন না।   পরিস্থিতি বদলাতে তারা প্রথমে দাম্পত্য পরামর্শকের কাছে যাওয়ার পরিবর্তে ‘আরিয়া’ নামের একটি সেবা ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দম্পতিদের সম্পর্ক ও অন্তরঙ্গতা নিয়ে কথা বলা, নতুন অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং নিজেদের পছন্দ-অপছন্দ বুঝতে সহায়তা করার জন্য এআই ও মানব বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে কাজ করে। আরিয়ার নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, এর এআই ব্যবস্থা সাধারণ প্রশ্নের উত্তর ও পরামর্শ দিতে পারে, আর জটিল বা সংবেদনশীল বিষয় সামনে এলে মানব বিশেষজ্ঞ যুক্ত হন।   সেবাটি ব্যবহারের শুরুতে জুনিপার ও জেফকে তাদের সম্পর্ক ও ব্যক্তিগত পছন্দ নিয়ে ২০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। এসব উত্তরের ভিত্তিতে সিস্টেম তাদের একটি নির্দিষ্ট ‘এরোটিক পারসোনা’ বা অন্তরঙ্গতার ধরন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করে। দম্পতির দুজনকেই ‘অ্যাডভেঞ্চারার’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ নতুনত্ব ও বৈচিত্র্যের প্রতি তাদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি বলে সিস্টেমটি ধরে নেয়।   আরিয়ার সেবায় ‘সিন’ নামে পরিচিত বিভিন্ন পরিকল্পিত অভিজ্ঞতা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কথোপকথনের বিষয়, পরিবেশ তৈরির পরামর্শ, নির্দেশনামূলক লেখা, ভিডিও এবং অন্যান্য উপকরণ থাকে। উদ্দেশ্য হলো দম্পতিদের নিজেদের ইচ্ছা ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বলার সুযোগ তৈরি করা এবং দীর্ঘদিনের একঘেয়েমি ভাঙতে সাহায্য করা।   জুনিপার জানান, এই ব্যবস্থার একটি বড় সুবিধা ছিল, এটি তাদের সরাসরি কথোপকথন শুরু করার সুযোগ করে দেয়। কখনো একজন অন্যজনকে কোনো কনটেন্ট পাঠিয়ে জানতে চাইতেন, সেটি একসঙ্গে চেষ্টা করতে আগ্রহী কি না। ফলে আগে যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলা কঠিন মনে হতো, সেগুলো নিয়েও আলোচনা সহজ হয়ে যায়।   দম্পতিটি তাদের ফোনও এই প্রক্রিয়ায় ব্যবহার করতেন। তারা একসঙ্গে বসে আরিয়ার দেওয়া নির্দেশনা পড়তেন এবং নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করতেন। তবে অন্তরঙ্গ মুহূর্তে তারা এআইয়ের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথন করতেন না। বরং ফোনটি ব্যবহার করতেন আগে থেকে দেওয়া নির্দেশনা ও পরিকল্পনা দেখার জন্য।   আরিয়ার সেবার সঙ্গে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট কিছু পণ্যও সরবরাহ করা হয়। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো তাদের পরিকল্পিত ‘সিন’-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাছাই করা হয় এবং গোপনীয় প্যাকেজিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।   গত এক বছরে নিজেদের সম্পর্কের পরিবর্তন নিয়ে সন্তুষ্ট জুনিপার বলেন, আগে তিনি জানতেন যে তাদের দাম্পত্য জীবনে আরও কিছু করা সম্ভব, কিন্তু কোথা থেকে শুরু করবেন সেটিই বুঝতেন না। নতুন এই পদ্ধতি তাকে নিজের পছন্দ ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে আরও খোলামেলা হতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর দাবি।   জেফও জানান, এই প্রক্রিয়ার ফলে তিনি সম্পর্কের অন্তরঙ্গ দিকটিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছেন। তার মতে, নিজেদের পছন্দ নিয়ে আলোচনা করার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দুজনের মধ্যে বোঝাপড়াও বেড়েছে।   দম্পতির জন্য সবচেয়ে বড় চমক ছিল, তারা এমন কিছু পছন্দ ও আগ্রহ আবিষ্কার করেন যেগুলো সম্পর্কে আগে একে অপরের ধারণা ছিল না। বিশেষ করে নিয়ন্ত্রিত ভূমিকা ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে কিছু নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে তারা আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। জেফের ভাষায়, এ ধরনের বিষয় নিয়ে আগে তাদের মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।   এই নতুন অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তাদের সম্পর্কের যোগাযোগও উন্নত হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন। জেফ বলেন, নতুন কিছু চেষ্টা করার আগে নিজেদের সীমা, পছন্দ ও সম্মতি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন হয়েছে। সেই অভ্যাস শোবার ঘরের বাইরেও তাদের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   আরিয়ার সম্পর্কবিষয়ক গবেষণা বিভাগের প্রধান নিকোলাস ভেলোটা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক সময় সমস্যা ভালোবাসার অভাব নয়, বরং অন্তরঙ্গতা নিয়ে সরাসরি কথা বলতে না পারা। তাঁর মতে, অনেক দম্পতির মধ্যে নিজেদের কৌতূহল বা আকাঙ্ক্ষা নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে অস্বস্তি থাকে। এ ধরনের প্রযুক্তি সেই কথোপকথনের শুরুটা সহজ করতে পারে।   তবে আরিয়ার ভূমিকা শুধু এআইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। কোম্পানির বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, এআই সাধারণ নির্দেশনা ও ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি এমন পরিস্থিতি শনাক্ত করার জন্য তৈরি, যেখানে একজন বাস্তব বিশেষজ্ঞের পরামর্শ প্রয়োজন। সে ক্ষেত্রে মানব বিশেষজ্ঞ কথোপকথনে যুক্ত হন।   এদিকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দাম্পত্য সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর এই প্রবণতা নিয়ে গবেষণাও শুরু হয়েছে। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকোলাস ভেলোটার একটি গবেষণায় আরিয়ার প্রথম ‘সিন’ ব্যবহারকারী ১৮০ জন সম্পর্কের অংশগ্রহণকারীর অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণাটি প্রাথমিক পর্যায়ের এবং এর ফলাফলকে সাধারণ সব দম্পতির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বলা যায় না। তবে এতে ডিজিটালভাবে পরিচালিত অন্তরঙ্গতা সহায়তার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে কিছু ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   আরিয়ার ওয়েবসাইটে বর্তমানে বার্ষিক সদস্যতার ক্ষেত্রে মাসিক খরচ ২৯ দশমিক ৯৫ ডলার থেকে শুরু হওয়ার কথা বলা হয়েছে। বিভিন্ন মেয়াদের সদস্যতায় দুই অংশীদারের অ্যাকাউন্ট, নির্দেশনামূলক কনটেন্ট, ‘সিন’, পরামর্শ সহায়তা এবং নির্বাচিত পণ্য অন্তর্ভুক্ত থাকে।   তবে এই দম্পতির অভিজ্ঞতাকে সবার জন্য একই ফল দেবে এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। তাদের ঘটনা মূলত একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত তথ্য কোনো প্রযুক্তি সেবায় দেওয়ার আগে গোপনীয়তা, তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নীতিও বিবেচনা করা জরুরি।   জুনিপার ও জেফের ক্ষেত্রে অবশ্য পরিবর্তনটি তাদের কাছে স্পষ্ট। তাদের দাবি, এখন তারা সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার একে অপরের সঙ্গে অন্তরঙ্গ সময় কাটান। কখনো কখনো টানা কয়েক দিনও তারা একসঙ্গে সময় কাটিয়েছেন।   ২৫ বছর একসঙ্গে থাকার পর এআই তাদের সম্পর্কের জায়গায় কোনো মানুষকে প্রতিস্থাপন করেনি। বরং তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রযুক্তিটি এমন কিছু কথোপকথনের দরজা খুলে দিয়েছে, যেগুলো তারা নিজেরা আগে শুরু করতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত সেই কথোপকথনই তাদের দাম্পত্য জীবনে নতুন করে ঘনিষ্ঠতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

ফুটপাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে খাবার, পাশেই জমে আছে নোংরা পানি। ছবি: সংগৃহীত
ইঁদুর, প্রস্রাব ও কুকুরের মুখ দেওয়া মাংস: লস অ্যাঞ্জেলেসের স্ট্রিট ফুড ঘিরে ১০ হাজার অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে

রাস্তার ধারের একটি খাবারের দোকান থেকে ক্রেতাদের পরিবেশন করার আগে সেই মাংস খাচ্ছে একটি কুকুর। আরেকটি ফুড ট্রাক থেকে বেরিয়ে আসছে তেলাপোকা। খোলা সস বা চাটনির পাশ দিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে ইঁদুর। তীব্র গরমে রেফ্রিজারেটরের বাইরে রাখা আছে কাঁচা মাংস। এমনকি রান্নার সরঞ্জামের আশপাশেই লোকজন প্রস্রাব করছে। এগুলো কোনো কাল্পনিক হরর সিনেমার দৃশ্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির রাস্তার ধারের খাবার বা স্ট্রিট ফুডের বাস্তব চিত্র।   ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে স্ট্রিট ফুড বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত ৯ হাজার ৭৪৬টি অভিযোগ জমা পড়েছে। সম্প্রতি ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের তথ্য অধিকার আইনের আওতায় করা এক আবেদনের প্রেক্ষিতে ৬৬২ পৃষ্ঠার এক বিশাল নথিতে এই চাঞ্চল্যকর ও গা শিউরে ওঠা তথ্যগুলো উঠে এসেছে।   লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র কারেন বাস চলতি সপ্তাহে লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টকে নিয়ম ভঙ্গকারী স্ট্রিট ভেন্ডর বা রাস্তার বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ঠিক এমন একটি সময়ে এই ভয়াবহ অভিযোগের তালিকা জনসমক্ষে এল। সমালোচকরা মনে করছেন, মেয়রের এই পদক্ষেপের ফলে অনুমতিবিহীন খাবারের গাড়িগুলো শহরজুড়ে অবাধে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে এবং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগে জমা পড়া এই অভিযোগগুলোর বিপরীতে কর্তৃপক্ষ কী ব্যবস্থা নিয়েছে, তার কোনো সুস্পষ্ট ধারণা নথিতে পাওয়া যায়নি। উদাহরণস্বরূপ, হাথর্ন বুলেভার্ডের কাছের একটি টাকো স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, সেখানে কর্মীদের হাত ধোয়ার কোনো জায়গা ছিল না এবং তারা গ্লাভস পরিবর্তন করছিলেন না। অভিযোগে আরও বলা হয়, একটি কুকুর থলে থেকে মাংস খাচ্ছিল এবং বিক্রেতা সেই থলে থেকেই ক্রেতাদের মাংস পরিবেশন করছিলেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই অভিযোগের ফাইলটি কেবল বন্ধ বা ক্লোজড হিসেবে চিহ্নিত করে রাখা হয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বা এলএএক্স এর কাছাকাছি এলাকার আরেকটি অভিযোগে বলা হয়, ময়লার ডাস্টবিনের পাশে খোলা অবস্থায় সালসা ও অন্যান্য মশলা রাখা ছিল এবং সেখানে ইঁদুর দৌড়াচ্ছিল। সেই অভিযোগটি বাতিল বা ক্যানসেলড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে ভেনিস সৈকত এলাকার একটি অভিযোগে বলা হয়, হট ডগ, বন রুটি এবং অন্যান্য খাবার সারাদিন রোদে ফেলে রাখা হয়েছিল। এই অভিযোগটিকে যৌক্তিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও পরবর্তীতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানানো হয়নি।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিভাগ এই সিদ্ধান্তগুলোর অর্থ বা এর ভিত্তিতে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এখন রাস্তার ধারের ক্ষুদ্র বিক্রেতাদের বদলে বড় সংগঠনগুলোর দিকে নজর দিচ্ছে, যারা মূলত এই ফুটপাতের ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে।   লস অ্যাঞ্জেলেস বিজনেস ফেডারেশনের প্রধান নির্বাহী স্টুয়ার্ট ওয়াল্ডম্যান স্ট্রিট ভেন্ডরদের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের তালিকাকে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, একটি স্থায়ী রেস্তোরাঁ বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে যদি তার কর্মীরা হাত না ধোয়, মাখন বাইরে ফেলে রাখে বা তাদের ফ্রিজ নির্ধারিত তাপমাত্রার চেয়ে সামান্য গরম থাকে। অথচ রাস্তার ধারের খাবার বিক্রেতাদের কোনো শৌচাগার নেই, কর্মীরা হাত ধুচ্ছেন না এবং তাদের কোনো রেফ্রিজারেশন ব্যবস্থাও নেই।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি বিজনেস ফেডারেশনের দায়িত্বশীল প্রশাসন কমিটির কো চেয়ারম্যান জর্জ ফ্রান্সিসকো জানান, এই অভিযোগগুলো তার কাছে মোটেও বিস্ময়কর নয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর চেয়েও খারাপ পরিস্থিতি দেখেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস শহরে ফুটপাতে ব্যবসা করার জন্য বিক্রেতাদের সিটি ভেন্ডিং পারমিট বা অনুমতিপত্রের প্রয়োজন হয়। যারা খাবার বিক্রি করেন, তাদের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জনস্বাস্থ্য বিষয়ক পারমিটও নিতে হয়। কাউন্টি মূলত খাদ্যের নিরাপত্তা তদারকি করে, আর শহর কর্তৃপক্ষ বিক্রেতারা কোথায় এবং কীভাবে কাজ করবেন, তা নির্ধারণ করে।   হিসাব অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেসজুড়ে প্রায় ৫০ হাজার বিক্রেতা ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনা করেন। তবে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মাত্র ৬৮৭টি সক্রিয় ভেন্ডিং পারমিটের রেকর্ড পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টি পারমিট ছিল খাবার বিক্রেতাদের জন্য।   মেয়র কারেন বাস জানিয়েছেন, তার প্রশাসন স্ট্রিট ভেন্ডরদের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে। তিনি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন, লাইসেন্স না থাকলেও বা স্থায়ী দোকানের সামনে বসে ব্যবসা করলেও বিক্রেতাদের যেন অপরাধী হিসেবে সাব্যস্ত করা না হয়। তবে তার এই অবস্থানের বিরোধিতা করেছেন মেয়র পদের প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলওম্যান নিথিয়া রমন। তিনি মনে করেন, শহর কর্তৃপক্ষের উচিত বিক্রেতাদের পারমিট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং একইসাথে আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা।   পিকো ইউনিয়ন এলাকার এল সালভাদর করিডোরে গিয়ে দেখা যায়, অনেক বিক্রেতা নিষিদ্ধ এলাকায় দোকান বসিয়েছেন। রাস্তায় তেল ও নোংরা পানি গড়িয়ে পড়ছে। এল সালভাদর করিডোর অ্যাসোসিয়েশনের সহ প্রতিষ্ঠাতা রাউল ক্লারোস জানান, এই এলাকায় এখন ১২০ জনেরও বেশি স্ট্রিট ভেন্ডর ভিড় জমিয়েছেন। তিনি বিক্রেতাদের উচ্ছেদ না করে তাদের পারমিট দেওয়া এবং নির্দিষ্ট একটি বাজারে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন, যেখানে রেফ্রিজারেশন, পরিচ্ছন্নতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সুবিধা থাকবে।   ফুটপাতে এই অবৈধ ব্যবসার কারণে স্থায়ী রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এল কোরেডর রেস্তোরাঁর মালিক মিগুয়েল কারানজা এবং তার স্ত্রী ইরমা দিয়াজ জানান, তারা একসময় ফুটপাতেই ব্যবসা করতেন। এরপর তারা ফুড ট্রাক এবং ২০১০ সালে স্থায়ী রেস্তোরাঁ চালু করেন। কিন্তু এখন ফুটপাতের বিক্রেতাদের সাথে তারা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। কারণ, ফুটপাতের বিক্রেতাদের রেস্তোরাঁর মতো ভাড়া বা অন্যান্য খরচ বহন করতে হয় না। একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ব্রেন্ডা মনটোয়া জানান, করোনা মহামারির আগে এই এলাকার অর্থনীতি অনেক ভালো ছিল, কিন্তু ফুটপাতে বিক্রেতাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় এখন তাদের বিক্রি প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।   সংবাদসূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
নিজের সাহসিকতা ও উপস্থিত বুদ্ধিতে হাজারো প্রাণ বাঁচানো প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাদাবি। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় স্কুল ভেসে যাওয়ার আগে ঘণ্টা বাজিয়ে ১,৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বাঁচালেন প্রধান শিক্ষক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ২১:৫৪

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঠিক আগে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীর জীবন রক্ষা করেছেন একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। পানি ও কাদার প্রবল স্রোত স্কুল ভবনের দিকে এগিয়ে আসছে বুঝতে পেরে তিনি ঘণ্টা বাজিয়ে শিক্ষার্থীদের দ্রুত উঁচু এলাকায় সরিয়ে নেন। পরে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে তিনতলা স্কুল ভবনটি বন্যার স্রোতে ভেসে যায়।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৬ আগস্ট সকালে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বিদুর পৌরসভার ত্রিশূলী বাজার এলাকায়। সেখানে ত্রিশূলী নদীর তীরে অবস্থিত ত্রিভুবন ত্রিশূলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি ওই দিন ভয়াবহ বিপদের সতর্কবার্তা পান। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সকাল প্রায় ৯টা ২০ মিনিটে ৪৭ বছর বয়সী দাওয়াদির কাছে উজানের বেত্রাবতী এলাকা থেকে এক বন্ধু ফোন করেন। তিনি জানান, নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে নিচের দিকে আসছে এবং উজানের একটি এলাকা ইতোমধ্যে পানির স্রোতে ভেসে গেছে। স্কুলের দিকে বন্যার পানি এগিয়ে আসতে পারে বুঝতে পেরে দাওয়াদি আর সময় নষ্ট করেননি।   সেই সময় স্কুলে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল। আরও প্রায় ৭০০ শিক্ষার্থী পায়ে হেঁটে বা বাসে করে স্কুলের দিকে আসছিল। পরিস্থিতি বুঝে প্রধান শিক্ষক সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে দেন এবং শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে উঁচু জায়গায় নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। শুধু স্কুলে থাকা শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নিলেই তিনি থামেননি। তিনি মনে করেন, স্কুলবাসে করে যারা তখনও আসছিল, তারাও একই বিপদের মধ্যে পড়তে পারে। এরপর তিনি একে একে বাসচালকদের ফোন করে ফিরে যেতে বলেন। কয়েকটি বাসকে তিনি স্কুলের দিকে না এসে নিরাপদ জায়গায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিতে সক্ষম হন।   একটি বাসের চালকের সঙ্গে অবশ্য তিনি যোগাযোগ করতে পারেননি। পরে সেটিকে স্কুলের কাছের একটি সেতু দিয়ে আসতে দেখে দাওয়াদি নিজেই চালককে থামার সংকেত দেন এবং ফিরে যেতে বলেন। বাসটি ফিরে যাওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সেতুটি বন্যার পানির চাপে ভেঙে পড়ে বলে দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপরই ভয়াবহ বন্যার স্রোত স্কুল এলাকায় পৌঁছে যায়।   ত্রিশূলী নদীর পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোতে তিনতলা স্কুল ভবনটি ধ্বংস হয়ে যায়। ভবনটি যেখানে দাঁড়িয়ে ছিল, পরে সেখানে কেবল ধ্বংসস্তূপ ও কাদার স্তর দেখা যায়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায়, নদীর স্রোত এতটাই শক্তিশালী ছিল যে নদীর তীরবর্তী বাড়িঘর ও সেতুসহ বিস্তীর্ণ এলাকার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রধান শিক্ষক দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্তের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীদের বন্যার স্রোত আঘাত হানার আগেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোট ১ হাজার ৬৪৩ শিক্ষার্থীকে বিপদ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।   তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। অনলাইনখবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুল থেকে বের হওয়ার পর প্রধান শিক্ষকসহ প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন শিক্ষার্থী ও কর্মী পাহাড়ি এলাকায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। বন্যায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা সেখানে প্রায় তিন দিন আটকে ছিলেন। পরে ২৮ আগস্ট দাওয়াদি ও আটকে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় স্কুলের দুই কর্মীর মৃত্যুর কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে তাদের মৃত্যুর বিষয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনগুলোর তথ্য এক নয়। তাই তাদের পরিচয় ও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নিয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো অতিরিক্ত দাবি করা হচ্ছে না।   নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর, সেতু, সড়ক ও অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। নেপালের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে এই দুর্যোগে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ত্রিশূলী উপত্যকার এই দুর্যোগের ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় স্কুলটির ধ্বংসের মধ্য দিয়ে। যে ভবনে সেদিন সকালেও শত শত শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেটি আর ছিল না। কিন্তু ভবনটি ধ্বংস হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় একটি বড় প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   রাজেন্দ্র দাওয়াদির ঘটনাটি তাই শুধু একজন প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তের গল্প নয়। এটি দুর্যোগের সময় কয়েক মিনিটের সতর্কতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, তারও একটি উদাহরণ। উজান থেকে পাওয়া একটি ফোনকলকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি যদি অপেক্ষা করতেন, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারত। দুর্যোগের পর এখন স্কুলটি কোথায় এবং কীভাবে আবার চালু করা হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে।   প্রকৃতির এমন আকস্মিক দুর্যোগে কয়েক মিনিটের ব্যবধানই কখনো কখনো জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য তৈরি করে। ত্রিশূলী উপত্যকায় সেদিন রাজেন্দ্র দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্ত সেই কয়েক মিনিটকেই কাজে লাগানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।   সংবাদসূত্র: দ্য টাইমস, বিডিনিউজ২৪

ইংল্যান্ডের নিচে সন্ধান মিলল ১০ লাখ পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রাচীন আগ্নেয়গিরির
ইংল্যান্ডের নিচে সন্ধান মিলল ১০ লাখ পারমাণবিক বোমার চেয়েও শক্তিশালী প্রাচীন আগ্নেয়গিরির
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৮:১৬

ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলের মাটির গভীরে ৪৫ কোটি বছরেরও বেশি পুরোনো একটি বিশাল সুপারভলকানোর অস্তিত্বের প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভে ও ইউনিভার্সিটি অব অসলো’র গবেষণায় জানা গেছে, প্রাচীন এই আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ছিল পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ ঘটনা।    গবেষকদের ধারণা, সুপারভলকানোটির কেন্দ্র বর্তমান ইংল্যান্ডের পূর্ব উপকূলের দ্য ওয়াশ এলাকার গভীরে চাপা পড়ে আছে। প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর আগে এর ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে কয়েকশ থেকে এক হাজার ঘনকিলোমিটার পর্যন্ত শিলা ও আগ্নেয় পদার্থ বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে ছড়িয়ে পড়েছিল। অগ্ন্যুৎপাতের শক্তি কয়েক হাজার হাইড্রোজেন বোমার সমান হতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।    এই আগ্নেয়গিরির অস্তিত্ব এত দিন সরাসরি বোঝা যায়নি। গবেষকরা প্রায় ৮০ বছর আগে নরফোকের নর্থ ক্রেক ও লিংকনশায়ারের ক্ল্যাক্সবি এলাকায় খনন করা বোরহোল থেকে সংগ্রহ করা পুরোনো শিলার নমুনা নতুন প্রযুক্তিতে পরীক্ষা করেন। সেখানে মানুষের চুলের ব্যাসের চেয়েও ছোট জিরকন ক্রিস্টাল বিশ্লেষণ করে আগ্নেয়গিরিটির বয়স নির্ধারণ করা হয়।    পরীক্ষায় দেখা যায়, নরফোক ও লিংকনশায়ারের নমুনাগুলোর জিরকন প্রায় একই সময়ে তৈরি হয়েছিল। এগুলোর বয়স প্রায় ৪৫ কোটি ৪৪ লাখ বছর। একই বয়সের আগ্নেয় ছাইয়ের স্তর স্ক্যান্ডিনেভিয়ার বিভিন্ন এলাকাতেও পাওয়া গেছে। রাসায়নিক বিশ্লেষণেও নমুনাগুলোর মধ্যে মিল পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বর্তমান ইংল্যান্ডের পূর্বাঞ্চলে ওই সুপারভলকানোর অগ্ন্যুৎপাত থেকে ছাই বাতাসে ভেসে প্রাচীন স্ক্যান্ডিনেভিয়ায় পৌঁছেছিল।    ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের প্রধান গবেষক টিম ফ্যারো বলেন, নতুন বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের গভীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘দ্য ওয়াশ ইগনিয়াস কমপ্লেক্স অব ইস্টার্ন ইংল্যান্ড’ শিরোনামের গবেষণাপত্রে।    তবে বর্তমান সময়ে এই আবিষ্কার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগ্নেয়গিরিটি বহু কোটি বছর আগেই বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে সেখানে কোনো অগ্ন্যুৎপাতের আশঙ্কা নেই।    গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু একটি প্রাচীন সুপারভলকানোর সন্ধান নয়, বরং কোটি কোটি বছর আগে পৃথিবীর ভূপ্রকৃতি, আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপ এবং ইংল্যান্ড ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ার মধ্যকার প্রাচীন ভূতাত্ত্বিক সম্পর্ক বোঝার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে।

নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু
নেপালি শিক্ষকের বুদ্ধিতে ভয়াবহ বন্যা থেকে বাঁচল ১,৬৪৩ শিশু
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৫:২৯

নেপালে হিমবাহ ধস থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর জীবন রক্ষা করেছেন এক স্কুলের প্রধান শিক্ষক। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে স্কুল খালি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে শিশুদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন ৪৭ বছর বয়সী ইংরেজির শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি।   বুধবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটে এক বন্ধুর কাছ থেকে ফোনে সতর্কবার্তা পান দাওয়াদি। তাকে জানানো হয়, পাহাড়ি নদীর পানি ভয়াবহ গতিতে বাড়ছে এবং গ্রামের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে নদীর স্রোতে বিলীন হয়ে গেছে।   প্রথমে দাওয়াদি মনে করেছিলেন, কংক্রিটের তৈরি তিনতলা স্কুল ভবনটি নিরাপদ। ভবনটি নদীর তলদেশ থেকে প্রায় ৬০ মিটার উঁচুতে ছিল। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক স্কুলে এসে জানান, পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে স্কুলের ঘণ্টা বাজিয়ে সব শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষ খালি করার নির্দেশ দেন তিনি। স্কুলবাসের চালকদেরও দ্রুত শিশুদের সরিয়ে নিতে বলেন। এর মধ্যে একটি বাস সেতু পার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেখে পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয়।   এরপর শিক্ষার্থীরা পায়ে হেঁটে উঁচু এলাকায় পালাতে শুরু করে। আতঙ্কে এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মোটরসাইকেলে করে নিরাপদ স্থানে নেওয়া হয়। অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দাওয়াদিও পেছন থেকে তাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে থাকেন।   শেষ পর্যন্ত শিশুরা একটি বোধি গাছের নিচে আশ্রয় নেয়। এর কিছুক্ষণ পরই ভয়াবহ বন্যার স্রোতে তাদের স্কুল ভবনসহ আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনা ভেসে যায়।   এই ঘটনায় ১ হাজার ৬৪৩ শিশুর সবাই প্রাণে বেঁচে যায়। তবে স্কুলের দুই কর্মী প্রাণ হারান। ইতিহাসের শিক্ষক ৩২ বছর বয়সী সান্তোষ পারিয়ার সকালের নাশতা রান্না করতে নদীর পাশের ভাড়া বাসায় ফিরে গিয়ে স্রোতে ভেসে যান। স্কুলের পরিচ্ছন্নতাকর্মী সুলতান লামাও দরজা বন্ধ করতে ফিরে গিয়ে মারা যান।   স্থানীয়রা দাওয়াদিকে বীর হিসেবে প্রশংসা করলেও তিনি নিজের ভূমিকা নিয়ে বলেন, “আমি আর কী করতে পারতাম?”   এই ভয়াবহ বন্যার সূত্রপাত হয় লাংটাং লিরুং শৃঙ্গের একটি বিশাল বরফ ও পাথরের অংশ ভেঙে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে লেন্দে খোলা নদীর ওপর পড়ে যাওয়ার পর। এতে পাহাড়ি নদীগুলোতে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথরের স্রোত নেমে আসে।

হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায়  ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের
হামলার শিকার ফিলিস্তিনিদের সাহায্য করায় ব্রিটিশ কর্মীকে আটক ইসরায়েলি পুলিশের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ৪:১৭

অধিকৃত পশ্চিম তীরের উম্ম আল-খায়ের গ্রামে এক ব্রিটিশ অধিকারকর্মীকে সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীরা আটক করে পরে ইসরায়েলি পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে ওই কর্মীর নাম ফিন জফিন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি মাসাফের ইয়াত্তায় ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের ওপর বসতিস্থাপনকারীদের হামলার মধ্যে তাদের পাশে থাকার জন্য পরিচালিত একটি ‘প্রটেকটিভ প্রেজেন্স’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সেখানে অবস্থান করছিলেন।   ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার (WAFA) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসতিস্থাপনকারীরা ওই বিদেশি কর্মীকে উম্ম আল-খায়ের থেকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে স্থাপিত একটি ইসরায়েলি বসতিতে নিয়ে যায়।   এ সময় এক বসতিস্থাপনকারী তার মুখে পিপার স্প্রে করলে ওই কর্মীর শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। আহতদের ঘটনাস্থলেই চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানায় ওয়াফা।   পরে ইসরায়েলি পুলিশ ওই কর্মীকে আটক করে অজ্ঞাত একটি স্থানে নিয়ে যায়।   তবে ঘটনার বিষয়ে ইসরায়েলি পুলিশের বক্তব্য ভিন্ন। পুলিশের দাবি, মাওন এলাকার একটি বসতির নিরাপত্তা দলের প্রধান ওই ব্যক্তিকে এক অপ্রাপ্তবয়স্কের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণের সন্দেহে আটক করেন। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ইসরায়েলি সংগঠন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নাদাভ ওয়েইমান অবশ্য বসতিস্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে ওই কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ তুলেছেন। তার দাবি, বসতির শিশুরা উম্ম আল-খায়েরের ফিলিস্তিনি শিশুদের একটি বল নিয়ে নেয়। এরপর সশস্ত্র প্রাপ্তবয়স্কদের ডেকে এনে ওই কর্মীকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।   ঘটনার দিন অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকাতেও ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।   তবে ব্রিটিশ কর্মীকে অপহরণের অভিযোগ এবং তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলি পুলিশের অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যই আলাদাভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে; বিষয়টির স্বাধীন যাচাই এখনো স্পষ্ট নয়।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.24K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.01K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.12K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
984 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়