বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী লুৎফুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে টেনিওরড অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা ও গবেষণা করছিলেন। বগুড়ায় শিক্ষাজীবন শুরু করা লুৎফুর রহমান মর্তুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুৎফুর রহমান জানান, ২০১৬ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডে পিএইচডি শুরু করেন এবং ২০২০ সালে তা শেষ করেন। পরের বছর ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মি কমব্যাট ক্যাপাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট কমান্ড আর্মি রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে ভিজিটিং রিসার্চার ও ভিজিটিং রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪ সালের একটি কনফারেন্স প্রোগ্রামেও। সেখানে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বগুড়ার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বুয়েট, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাঙ্গনে লুৎফুর রহমানের পথচলা বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকতা ও গবেষণায় তাঁর এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সাফল্যের ধারাকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে। সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথিত ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বক্তব্যে জোলফাঘারি বলেন, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানি বাহিনী অঞ্চলটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জোলফাঘারি বলেন, “আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরানের পরবর্তী জবাব আরও “ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক” হবে। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকে এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর সামনে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ইরানের কর্মকর্তার করা নিহত ও আহতের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথ থাকায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদসূত্র: আলজাজিরা
মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি
মঙ্গলবার রাতে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় শিশুসহ কয়েকজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাণঘাতী হামলার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এবং ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সিরিক শহর ছাড়াও ইরানের কোনারাক কাউন্টি, জাস্ক এবং বন্দর লেঙ্গেহ শহরও মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফতে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিকে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আইআরআইবি আরও নিশ্চিত করেছে, কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে পাঁচটির বেশি এবং হরমুজ প্রণালির দিক থেকে আরও অন্তত চারটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি তেলের ট্যাংকারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, নিজ ভূখণ্ডে হামলার পরপরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে তেহরান। মঙ্গলবার রাতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের আইআরজিসি। আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ ফোর এবং এমকিউ নাইন ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্য করে তারা একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আইআরআইবিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন আমেরিকান ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যাওয়ার কথাও বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝপথেই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেয়। জর্ডানের সামরিক মুখপাত্র জানান, অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এর পাশাপাশি উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যাওয়া এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু ড্রোন প্রতিহত করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ভূপাতিত করার কারণেই মূলত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানায় তারা। কুয়েত এই ঘটনাকে ইরানের আগ্রাসনের অংশ বলে উল্লেখ করেছে। বাহরাইনেও হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে। অপারেশন থান্ডার নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। পারস্য উপসাগরে শেখ ঈসা ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারি উড়োজাহাজের কাজে ব্যবহৃত হয়। খবরের সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা ইস্যুতে চলা স্থগিতাদেশ বাতিল হওয়ার পর এখন সবচেয়ে বেশি অপেক্ষায় রয়েছেন তারা, যারা ইতোমধ্যে ভিসা ইন্টারভিউ দিয়েছেন কিন্তু এখনো ভিসা হাতে পাননি। ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে এই স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ফলে শুধু বাংলাদেশি নাগরিক হওয়ার কারণে অভিবাসী ভিসা আটকে রাখার আগের বাধাটি এখন আর নেই। তবে এর অর্থ এই নয় যে ইন্টারভিউ দেওয়া প্রত্যেক আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসা পেয়ে যাবেন। যারা ইন্টারভিউ দিয়েছেন এবং ইন্টারভিউয়ের পর ভিসা ইস্যু হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হলো তাদের কেসের বর্তমান অবস্থা। কোনো আবেদনকারীর কেস যদি শুধু ৭৫ দেশের ওপর আরোপ করা আগের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকে, তাহলে সেই বাধা এখন আর নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এসব অপেক্ষমাণ কেস আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর দিকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অভিবাসন আইনজীবীরাও বলছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশের কারণে আটকে থাকা কেসগুলো আবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে আইনজীবী রিচার্ড টি. হারম্যান সতর্ক করে বলেছেন, এর অর্থ সবার ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদন হয়ে যাওয়া নয়। আবেদনকারীর অন্য কোনো যাচাই বা আইনগত শর্ত বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে। তবে কোনো আবেদনকারীর কেস যদি প্রশাসনিক যাচাই, নিরাপত্তা যাচাই, অতিরিক্ত কাগজপত্র পর্যালোচনা বা অন্য কোনো আইনগত প্রক্রিয়ায় থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভিসা ইস্যু নাও হতে পারে। তাই ইন্টারভিউ পাস করলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য প্রতিটি কেসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষ হওয়া জরুরি। এখন বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, তাদের কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে এখনো সবার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। তাই ৭ দিন, ১৫ দিন বা ৩০ দিনের মধ্যে সব অপেক্ষমাণ কেস শেষ হয়ে যাবে, এমন দাবি করার মতো কোনো সরকারি তথ্য নেই। অন্যদিকে যারা এখনো ইন্টারভিউ দেননি, তাদের পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন। ৭৫ দেশের ওপর আগের ভিসা ইস্যু স্থগিতাদেশ বাতিল হলেও বর্তমানে অভিবাসী ভিসার ইন্টারভিউ নির্ধারণ নিয়ে আলাদা সাময়িক পরিবর্তন চলছে। ফলে পুরোনো স্থগিতাদেশ উঠে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই নতুন ইন্টারভিউয়ের তারিখ পেয়ে যাবেন, এমন নিশ্চয়তাও এখনো নেই। যারা ইতোমধ্যে ইন্টারভিউ দিয়েছেন, তাদের নতুন করে পুরো ভিসা আবেদন শুরু করার প্রয়োজন আছে, এমন কোনো সাধারণ নির্দেশনা এখন পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাদের উচিত নিজেদের সিইএসি কেসের অবস্থা নিয়মিত দেখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস থেকে কোনো নতুন ইমেইল বা নির্দেশনা এলে তা অনুসরণ করা। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো বাংলাদেশি আবেদনকারীর ভিসা ইন্টারভিউ হয়ে থাকলে এবং শুধুমাত্র ৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতাদেশের কারণে তার ভিসা আটকে থাকলে, সেই নির্দিষ্ট বাধা এখন আর কার্যকর নেই। তবে ভিসা ইস্যুর আগে অন্য কোনো যাচাই বা প্রক্রিয়া বাকি থাকলে সেটি সম্পন্ন হতে হবে। অর্থাৎ, ইন্টারভিউ দিয়ে যারা ভিসার অপেক্ষায় আছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি আগের চেয়ে ইতিবাচক। এখন অপেক্ষা হচ্ছে তাদের অপেক্ষমাণ কেস কত দ্রুত আবার প্রক্রিয়াকরণ ও ভিসা ইস্যুর পর্যায়ে এগিয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রে সন্তানদের পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবিত নতুন নির্দেশনায়, সন্তানের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার সময় বাবা-মা বা আইনগত অভিভাবকদের নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব কিংবা অভিবাসন status-এর প্রমাণ দিতে হতে পারে। রয়টার্সের পর্যালোচনা করা মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়া নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে শিশুদের পাসপোর্ট আবেদনের ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের পরিচয় ও সন্তানের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের প্রমাণ দিতে হয়। তবে বাবা-মা মার্কিন নাগরিক কি না, তা জানাতে আবেদনপত্রে ঘর পূরণ করলেও সাধারণত আলাদা করে নাগরিকত্বের প্রমাণ জমা দিতে হয় না। প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে বাবা-মাকে নিজেদের নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট বা জন্মসনদ দিতে হতে পারে। আর মার্কিন নাগরিক না হলে বৈধ অভিবাসন status-এর প্রমাণ হিসেবে স্থায়ী বসবাসের কার্ড, যেটি গ্রিন কার্ড নামে পরিচিত, কিংবা আই-৯৪-এর মতো নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব তথ্য ব্যবহার করে সরকার নির্ধারণ করবে, সংশ্লিষ্ট শিশু নতুন নির্বাহী আদেশের আওতায় মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য যোগ্য কি না। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের খসড়ায় বলা হয়েছে, সন্তানের পাসপোর্ট আবেদনের সময় বাবা-মায়ের তথ্য এবং তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর প্রমাণ সংগ্রহ করা হবে। এর উদ্দেশ্য হবে, সংশ্লিষ্ট শিশু প্রেসিডেন্টের নির্বাহী আদেশের আওতায় পড়ছে কি না, তা নির্ধারণ করা। তবে এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের আগে আরও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন জন্মসূত্রে নাগরিকত্বসংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ নিয়েও আদালতে মামলা চলছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর আগে ট্রাম্প এমন একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কিছু শিশুর স্বয়ংক্রিয় নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করা। সেই উদ্যোগের বিরুদ্ধে ব্যাপক আইনি চ্যালেঞ্জ হয়। ২০২৬ সালের জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের প্রচেষ্টাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দেয়। আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা মনে করেন, ওই আদেশ সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ববিষয়ক ধারার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এরপর ৬ আগস্ট ট্রাম্প আরও সীমিত পরিসরে নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন, যেখানে বিশেষভাবে তথাকথিত ‘জন্ম পর্যটন’ বন্ধ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। ‘জন্ম পর্যটন’ বলতে সাধারণত এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়, যেখানে কোনো নারী যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশটিতে ভ্রমণ করেন এবং সন্তানের জন্মের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। ট্রাম্পের নতুন আদেশে কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে এমন ক্ষেত্রে, যখন শিশুর বাবা-মায়ের একজন যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারের হয়ে কাজ করেন, নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রতারণা বা বাণিজ্যিক লেনদেনে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকে, অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘শত্রু বিদেশি’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এই নতুন নির্দেশনা নিয়ে ইতোমধ্যে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়েছে। শিশুদের হয়ে মামলা করা আইনজীবীরা দুটি পৃথক ফেডারেল আদালতে আবেদন করেছেন, যাতে ট্রাম্পের নতুন আদেশ কার্যকর হওয়া ঠেকানো যায়। এর মধ্যে একটি মামলা মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে মার্কিন জেলা বিচারক ডেবোরা বোর্ডম্যানের আদালতে রয়েছে। গত ২৮ আগস্ট তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আদেশটি স্থগিত করেননি। তবে এর আইনি ভিত্তি নিয়ে তিনি গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন এবং বাদীপক্ষকে তাদের মামলার আবেদন সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন, যাতে নতুন আদেশটি আটকে দেওয়া যায় কি না তা আদালত বিবেচনা করতে পারে। অন্যদিকে, মার্কিন বিচার বিভাগ বলেছে, নতুন নির্দেশনার বিরুদ্ধে এখনই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উপযুক্ত হবে না। কারণ, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো কীভাবে প্রেসিডেন্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা তখনও প্রকাশ করা হয়নি। বর্তমান মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবস্থায়ও শিশুদের নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হয়। পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, শিশুর মার্কিন জন্মসনদ, আগের বৈধ মার্কিন পাসপোর্ট কিংবা নাগরিকত্বের অন্য গ্রহণযোগ্য নথি দিয়ে তার নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যায়। ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুর পাসপোর্ট আবেদনে সাধারণত বাবা-মা বা অভিভাবকদের উপস্থিতি এবং তাদের পরিচয়পত্রও প্রয়োজন হয়। তবে নতুন প্রস্তাবের পার্থক্য হলো, সন্তানের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের পাশাপাশি বাবা-মায়ের নিজেদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন status-এর নথিও চাওয়া হতে পারে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর পাসপোর্ট আবেদনের প্রক্রিয়া আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের অর্থ ও মূল্য রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়াও সেই নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে। তবে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তা শুধু পাসপোর্ট প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক পরিবর্তন আনবে না, বরং জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সাংবিধানিক বিতর্ককেও আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের নাগরিকত্ব নির্ধারণে বাবা-মায়ের status কতটা গুরুত্বপূর্ণ হবে, সেটিই এখন আদালত ও প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। প্রস্তাবটি এখনো চূড়ান্ত না হওয়ায় ঠিক কবে থেকে এবং কোন কোন পরিবারের ক্ষেত্রে নতুন নথি বাধ্যতামূলক হবে, তা নিশ্চিত নয়। আদালতে চলমান মামলাগুলোর সিদ্ধান্তও এই নীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: রয়টার্স
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক শিক্ষার্থী লুৎফুর রহমান যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে টেনিওরড অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে শিক্ষকতা ও গবেষণা করছিলেন। বগুড়ায় শিক্ষাজীবন শুরু করা লুৎফুর রহমান মর্তুজাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন। এরপর বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট স্কুল ও কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। বুয়েটে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লুৎফুর রহমান জানান, ২০১৬ সালে তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, রিভারসাইডে পিএইচডি শুরু করেন এবং ২০২০ সালে তা শেষ করেন। পরের বছর ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসে অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর হিসেবে যোগ দেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রযুক্তি ও গবেষণাক্ষেত্রেও তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস আর্মি কমব্যাট ক্যাপাবিলিটিজ ডেভেলপমেন্ট কমান্ড আর্মি রিসার্চ ল্যাবরেটরিতে ভিজিটিং রিসার্চার ও ভিজিটিং রিসার্চ ইন্টার্ন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি, সান মার্কোসের সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায় বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪ সালের একটি কনফারেন্স প্রোগ্রামেও। সেখানে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বগুড়ার স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে বুয়েট, এরপর যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাঙ্গনে লুৎফুর রহমানের পথচলা বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। শিক্ষকতা ও গবেষণায় তাঁর এই অগ্রযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষাবিদদের সাফল্যের ধারাকেও আরও সমৃদ্ধ করেছে। সূত্র: দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ইনস্টাগ্রাম কি নতুন যুগে সিগারেটের জায়গা নিতে যাচ্ছে? মেটার প্রস্তাবিত নতুন কিছু বিধিনিষেধ অন্তত সেই ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অপ্রাপ্তবয়স্করা কীভাবে ইনস্টাগ্রাম এবং ফেসবুক ব্যবহার করবে, সে বিষয়ে সম্প্রতি একটি বড় ধরনের চুক্তিতে সম্মত হয়েছে মেটা। এই পদক্ষেপ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে ঠিক সেভাবেই বিবেচনা করতে শুরু করেছে, যেভাবে তারা একসময় সিগারেটকে করেছিল। অর্থাৎ এটিকে একটি আইনি ভোগ্যপণ্য হিসেবে ধরা হচ্ছে, যার ব্যবহারের ঝুঁকি কমানোর দায়ভার খোদ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তাবে। গত বুধবার ঘোষণা করা এই চুক্তিটি এখনও যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালতের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এটি কার্যকর হলে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ব্যবহারকারীদের জন্য ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রতিদিন সম্মিলিতভাবে দুই ঘণ্টার একটি সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। একইসঙ্গে রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে তাদের প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকবে। এছাড়া স্কুলের সময়টাতে নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং বয়স যাচাই প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার কথা বলা হয়েছে এই চুক্তিতে। মেটা ঠিকমতো এসব নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা তদারকি করবে একটি স্বাধীন নিরীক্ষক দল ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোর কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মূল দায়িত্ব পরিবারের ওপরই চাপিয়ে রাখা হয়েছিল। মেটা এতদিন অভিভাবকদের জন্য কিছু টুল বা সুবিধা দিয়ে আসছিল, যার মাধ্যমে তারা সন্তানদের অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করতে পারতেন। কিশোরদের ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হতো এবং অভিভাবকের তদারকিকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে প্রচার করা হতো। কিন্তু প্রস্তাবিত এই নতুন চুক্তি সেই পুরোনো ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিচ্ছে। এখন কোনো পরিবার আলাদাভাবে বিধিনিষেধ আরোপের অনুরোধ করুক বা না করুক, মেটাকে নিজ থেকেই সেই দায়িত্ব পালন করতে হবে। তামাক বা সিগারেট শিল্পের ক্ষেত্রেও ঠিক একই ধরনের পরিবর্তন দেখা গিয়েছিল। সেখানেও ব্যবহারকারীর আচরণ নিয়ন্ত্রণের বদলে পণ্য এবং বিক্রেতা কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা হয়েছিল। সিগারেট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি অনেক আগেই বদলাতে শুরু করেছিল। একসময় ধূমপানকে নিছকই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু নীতিনির্ধারকরা যখন বুঝতে পারলেন এটি মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তখন তারা পণ্যটি তৈরি ও বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর ওপর দায়বদ্ধতা চাপিয়ে দেন। ফলে সাধারণ সামাজিক জীবনের অংশ হিসেবে বিবেচিত ধূমপান এমন একটি পণ্যে পরিণত হয়, যা মূলত শিশু ও সাধারণ মানুষকে এর ঝুঁকি থেকে রক্ষার জন্য নানা বিধিনিষেধের বেড়াজালে আবদ্ধ। ১৯৯৮ সালের টোব্যাকো মাস্টার সেটেলমেন্ট অ্যাগ্রিমেন্ট এই পরিবর্তনকে একটি আনুষ্ঠানিক রূপ দিয়েছিল। ওই চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য বড় বড় সিগারেট প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। সেখানে তরুণদের লক্ষ্য করে চালানো বিজ্ঞাপন, প্রচার ও অন্যান্য কৌশলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল এবং কোম্পানিগুলোর ওপর বড় অঙ্কের আর্থিক দায়বদ্ধতা চাপানো হয়েছিল। মেটার নতুন প্রস্তাবিত চুক্তিটিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষেত্রে অনেকটা সেরকমই একটি মোড় ঘোরানো পরিবর্তন। সন্তান কতক্ষণ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করবে, তা কেবল অভিভাবকদের ওপর ছেড়ে দেওয়ার বদলে মেটাকে এখন নিজ থেকেই অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহারের ওপর লাগাম টানতে হবে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুমোদিত হয়, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায়ভার পণ্য ব্যবহারকারী পরিবারের কাছ থেকে সরাসরি পরিবেশক কোম্পানির কাঁধে চলে যাবে। অবশ্য সিগারেটের সঙ্গে এই তুলনার কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মানসিক ও সামাজিক নেতিবাচক প্রভাব থাকলেও সিগারেটের মতো সরাসরি শারীরিক স্বাস্থ্যঝুঁকি এর নেই। তবে নীতিনির্ধারকদের যুক্তি এখানে বেশ পরিচিত। যখন তারা দেখেন যে শুধুমাত্র দায়িত্বশীল ব্যবহারের পরামর্শ যথেষ্ট নয়, তখন তারা সরাসরি পণ্যটিকেই নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নেন। কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত আসক্তি এবং পরিসংখ্যানগত উদ্বেগের কথা বিবেচনা করলে এটি নিঃসন্দেহে একটি দুর্দান্ত সূচনা। তবে ইনস্টাগ্রামের ওপর দুই ঘণ্টার সীমাবদ্ধতা খুব একটা কাজে আসবে না, যদি কিশোররা সহজেই টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট বা ইউটিউবের মতো অন্য প্ল্যাটফর্মে চলে যাওয়ার সুযোগ পায়। কোনো স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে পুরো প্রযুক্তি শিল্পজুড়েই এ ধরনের বিধিনিষেধ কার্যকর হওয়া জরুরি। এখানেও সিগারেটের উদাহরণটি প্রাসঙ্গিক। তামাক নিয়ন্ত্রণ কেবল একটি কোম্পানি বা একটি চুক্তির মাধ্যমেই থেমে থাকেনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিধিনিষেধগুলো পুরো শিল্পের জন্য নিয়ম বদলে দিয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও সম্ভবত একই পথে এগোচ্ছে। আগামী দিনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে প্রযুক্তিপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এই ধরনের ব্যবহারিক সীমাবদ্ধতা হয়তো ব্যবসার একটি স্বাভাবিক শর্ত হয়ে দাঁড়াবে। আর যখন তা হবে, তখন এই চুক্তিটি কেবল কিশোররা দিনে কত ঘণ্টা ফোন ব্যবহার করতে পারবে সেই আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং এটি এমন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে যেখানে শিশুদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকেই অনেকটা অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হবে। খবরের সূত্র: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। তিনি দাবি করেছেন, মিথ্যা বলাটা ইরানিদের ধর্মের একটি অংশ। তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর দেশটিকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৫৪ বছর বয়সী মাইক জনসন এই মন্তব্য করেন। এ সময় তার পেছনে রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসন বলেন, ইরানিদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। আমাদের হতাশার মূল কারণ হলো তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পারা। তারা আলোচনার টেবিলে বসে এক কথা বলে, আর সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে ঠিক তার উল্টো কাজটি করে। তিনি আরও যোগ করেন, তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয় যে, যাদের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে, তাদের কাছে মিথ্যা বলাটা যেন তাদের ধর্মেরই একটি অংশ। রিপাবলিকান নেতার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এক্সে থাকা নেটিজেনরা। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি সেই পুরোনো কৌশল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা করছে, তার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। তিনি আরও লেখেন, এই কৌশল বেশিদিন টিকবে না। যারা আপনার কথায় বিশ্বাস করছে, সত্যটা সামনে এলে তারাই সবচেয়ে বেশি হতাশ হবে। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, স্পষ্টতই এটি মাইক জনসনের ধর্মের অংশ যে তিনি চাইলেই মিথ্যা বলতে পারেন। তিনি প্রতিবার কথা বলার সময় ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ও মিথ্যার আশ্রয় নেন। আমেরিকানরা তাকে বিশ্বাস করতে পারে না। এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। সোমবার সকালে ফক্স নিউজের ট্রে ইংস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। মূলত জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর হামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি। লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার পরই এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি। এর একটি মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের ছোড়া একটি ছাড়া বাকি সব কটি ক্ষেপণাস্ত্রই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে আটকে দিয়েছে। যে ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকানো যায়নি, সেটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাচ্ছিল না বলে এটিকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রকেট লঞ্চারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর হামলার পরই মূলত পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। এর মাধ্যমে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা থেমে থেমে যুদ্ধের এক মাসের বিরতির অবসান ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যদের সামুদ্রিক মাইনসহ রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। গত সপ্তাহেই ওই প্রণালীর আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ শেষ করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা ও দেশবাসী শহীদ ও আহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয় যে, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। সূত্র: এওএল, হাফপোস্ট, রয়টার্স
একটি স্মার্টফোনে গোপনে ঢুকে ব্যক্তিগত বার্তা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করতে পারে ‘গ্রাফাইট’ নামের শক্তিশালী স্পাইওয়্যার। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, এর কিছু আক্রমণে ফোনের মালিককে কোনো লিংকে ক্লিক করা, ফাইল খোলা কিংবা কোনো সফটওয়্যার ডাউনলোড করার প্রয়োজনও হয় না। এমন প্রযুক্তি তৈরি করা প্রতিষ্ঠান প্যারাগন সলিউশন্সের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর ২০ লাখ ডলারের একটি চুক্তি রয়েছে। গ্রাফাইটকে বাণিজ্যিক নজরদারি প্রযুক্তির একটি শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়। এটি সরকারের গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করা হয়। বহুল আলোচিত পেগাসাসের মতো গ্রাফাইটও এমন প্রযুক্তির অংশ, যেগুলো নির্দিষ্ট ব্যক্তির স্মার্টফোনে গোপনে প্রবেশ করে তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা দেয়। তবে প্যারাগনের প্রযুক্তির বিষয়ে সব তথ্য প্রকাশ্যে নেই। প্রতিষ্ঠানটি দাবি করে, তারা যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছেই প্রযুক্তি বিক্রি করে এবং সাংবাদিক বা নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে নজরদারির অনুমতি দেয় না। কিন্তু ইতালি ও ইউরোপের কয়েকটি ঘটনায় গবেষকেরা গ্রাফাইটের ব্যবহার নিয়ে ফরেনসিক প্রমাণ পাওয়ার পর প্রযুক্তিটির ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গ্রাফাইট কীভাবে ফোনে ঢোকে গ্রাফাইটের সবচেয়ে আলোচিত সক্ষমতার একটি হলো ‘জিরো-ক্লিক’ আক্রমণ। সাধারণ সাইবার হামলায় ব্যবহারকারীকে কোনো ক্ষতিকর লিংকে ক্লিক করতে, সংযুক্ত ফাইল খুলতে বা কোনো অ্যাপ ইনস্টল করতে হয়। কিন্তু জিরো-ক্লিক আক্রমণে ব্যবহারকারীর এমন কোনো ভুল করার প্রয়োজন নেই। স্মার্টফোনে আসা বার্তা, ছবি বা অন্য কোনো তথ্য প্রদর্শনের আগে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা ও প্রক্রিয়াজাত করে। এই প্রক্রিয়ার কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে বিশেষভাবে তৈরি তথ্য ফোনে পৌঁছালে আক্রমণকারী ডিভাইসে ক্ষতিকর কোড চালানোর সুযোগ পেতে পারে। এরপর ফোনের ভেতরে স্পাইওয়্যারের অংশ বসিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। সিটিজেন ল্যাবের গবেষণা অনুযায়ী, প্যারাগনের অবকাঠামো ও গ্রাফাইটের সঙ্গে যুক্ত একটি জিরো-ক্লিক আক্রমণ শনাক্ত করতে হোয়াটসঅ্যাপকে সহায়তা করেছিল তাদের গবেষণা। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াটসঅ্যাপ প্রায় ৯০ জন ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে জানায় যে তারা প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারেন। আক্রান্তদের মধ্যে সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যও ছিলেন। হোয়াটসঅ্যাপের ক্ষেত্রে আক্রমণের একটি পদ্ধতিতে ক্ষতিকর পিডিএফ ফাইল ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল। লক্ষ্যবস্তুদের একটি গ্রুপে যুক্ত করে তাদের কাছে ওই ধরনের ফাইল পাঠানো হয়েছিল। গবেষকদের কাছে এটিই গ্রাফাইটের জিরো-ক্লিক সক্ষমতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হয়ে ওঠে। এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনও কেন পুরোপুরি রক্ষা করতে পারে না গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো, হোয়াটসঅ্যাপ বা সিগন্যালের মতো অ্যাপের বার্তা যদি এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনে সুরক্ষিত থাকে, তাহলে সেগুলো কীভাবে পড়া সম্ভব? এর উত্তর হলো, এনক্রিপশন বার্তাকে এক ডিভাইস থেকে অন্য ডিভাইসে যাওয়ার সময় সুরক্ষা দেয়। কিন্তু বার্তাটি ব্যবহারকারীর ফোনে পৌঁছে অ্যাপ যখন সেটিকে পড়ার উপযোগী করে, তখন সেটি ডিভাইসের ভেতরেই দৃশ্যমান হয়ে যায়। স্পাইওয়্যার যদি আগে থেকেই সেই ফোনে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে এনক্রিপশন ভাঙার প্রয়োজন ছাড়াই ডিভাইসের ভেতরে থাকা তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হতে পারে। এই কারণেই গ্রাফাইটের মতো স্পাইওয়্যার শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা নয়, বরং পুরো ডিভাইসের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে। ইতালিতে সাংবাদিক ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের ফোনে গ্রাফাইট গ্রাফাইট নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তদন্তগুলোর একটি হয়েছে ইতালিতে। সিটিজেন ল্যাব কয়েকজন ইতালীয় নাগরিকের ফোন ফরেনসিকভাবে পরীক্ষা করে প্যারাগনের স্পাইওয়্যারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চিহ্ন খুঁজে পায়। লুকা কাসারিনি ও জুসেপ্পে কাচ্চি নামে দুই অভিবাসন অধিকারকর্মীর অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গ্রাফাইট-সংশ্লিষ্ট স্পাইওয়্যার ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। ইতালীয় সাংবাদিক ফ্রানচেস্কো কানচেল্লাতোকেও হোয়াটসঅ্যাপ সতর্ক করেছিল যে তার ফোন লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে। ২০২৬ সালের মার্চে রোম ও নেপলসের প্রসিকিউটরদের তদন্তে তিনটি ফোনেই ক্ষতিকর সফটওয়্যারের চিহ্ন পাওয়া যায়। তদন্তকারীদের মতে, কাসারিনি, কাচ্চি ও কানচেল্লাতোর ফোনে একই সময়ের কাছাকাছি অস্বাভাবিক কার্যক্রম দেখা যায় এবং সেগুলো গ্রাফাইটের কার্যপ্রণালির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ইতালীয় তদন্তে কাসারিনি ও কাচ্চির বিরুদ্ধে গ্রাফাইট ব্যবহারের সঙ্গে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার কার্যক্রমের সম্পর্ক পাওয়া গেলেও সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে একই ধরনের সরকারি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্ত এখনো তার ফোনে কে নজরদারি চালিয়েছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা করছে। ইতালীয় গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কাসারিনি ও কাচ্চির ওপর গ্রাফাইট ব্যবহার আইনগত অনুমোদনের ভিত্তিতে করা হয়েছিল। সাংবাদিক কানচেল্লাতোর ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই বলেও গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে। এই ঘটনায় একটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি দাবি করে যে তার প্রযুক্তি শুধু আইনসম্মত নজরদারির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, তাহলে বাস্তবে কোনো সরকারি সংস্থা সেই প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করছে, তা কতটা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব? প্যারাগনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের ছবিও আলোচনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গ্রাফাইট নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয় প্যারাগনের একজন শীর্ষ আইন কর্মকর্তার লিংকডইনে দেওয়া একটি ছবিকে ঘিরে। ছবিতে পেছনের একটি বড় পর্দায় গ্রাফাইটের নিয়ন্ত্রণ প্যানেলের মতো একটি ইন্টারফেস দেখা যায়। পরে পোস্টটি সরিয়ে নেওয়া হলেও সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা ছবিটি সংরক্ষণ করেন। ছবিতে একটি ফোন নম্বর, ‘ভ্যালেন্তিনা’ নামে একটি পরিচিতি, বার্তা ও তথ্য সংগ্রহের রেকর্ড এবং বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু বিভাগ দেখা যাচ্ছিল বলে সাইবার নিরাপত্তা গবেষকেরা জানান। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপ, সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ও লাইনসহ কয়েকটি যোগাযোগ অ্যাপের চিহ্নও দেখা যায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্যানেল থেকে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর ডিভাইসে নজরদারি পরিচালনা, সংগৃহীত তথ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং অনুমোদনের মেয়াদ সম্পর্কিত তথ্য দেখার সুযোগ থাকতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। প্যারাগনের প্রতিষ্ঠা ও মালিকানা প্যারাগন সলিউশন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ২০১৯ সালে ইসরায়েলে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে ছিলেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ বারাক এবং ইসরায়েলি সামরিক গোয়েন্দা ইউনিট ৮২০০-এর সাবেক কমান্ডার এহুদ শ্নোরসন। ২০২৪ সালের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান এই ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্টনার্স প্যারাগন অধিগ্রহণে সম্মত হয় বলে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। চুক্তিটির মূল্য কমপক্ষে ৫০ কোটি ডলার বলে তখন জানানো হয়েছিল। পরে প্যারাগনের শেয়ার যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মূল প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তরিত হওয়ার তথ্যও প্রকাশ্যে আসে। প্যারাগন নিজেকে অন্যান্য বিতর্কিত বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার প্রতিষ্ঠানের তুলনায় দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে তুলে ধরে। তাদের বক্তব্য, প্রযুক্তিটি গণতান্ত্রিক দেশের যাচাই করা সরকারি সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয় এবং সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের সদস্যদের বেআইনিভাবে লক্ষ্যবস্তু করা নিষিদ্ধ। কিন্তু ইতালির ঘটনাগুলো সেই দাবির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কারণ কোনো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে চুক্তিতে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা বাস্তবে কীভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে, তা বাইরের মানুষের পক্ষে যাচাই করা কঠিন। আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তি প্যারাগন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগ আরও বেড়েছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিইর সঙ্গে ২০ লাখ ডলারের চুক্তির কারণে। আইসিইর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস বিভাগের সঙ্গে প্যারাগনের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের এক বছরের চুক্তি ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তিটির মূল্য ছিল ২০ লাখ ডলার। কয়েক দিনের মধ্যেই সেটি নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয় এবং ৮ অক্টোবর ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য ছিল চুক্তিটি বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ২০২৩ সালের নির্বাহী আদেশে এমন বাণিজ্যিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যেগুলো জাতীয় নিরাপত্তা বা মানবাধিকার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রায় এক বছর পর, ২০২৫ সালের আগস্টের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত নথিতে জানানো হয়, আইসিইর চুক্তির ওপর থাকা ‘স্টপ-ওয়ার্ক’ আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে প্যারাগনের সঙ্গে চুক্তিটি কার্যকর করার পথ আবার খুলে যায়। তবে প্রকাশ্য চুক্তির নথিতে গ্রাফাইটের নাম সরাসরি উল্লেখ নেই। সেখানে প্যারাগনের কাছ থেকে কনফিগার করা মালিকানাধীন সমাধান, সফটওয়্যার লাইসেন্স, হার্ডওয়্যার, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রশিক্ষণের কথা রয়েছে। ফলে আইসিই ঠিক কোন নজরদারি সক্ষমতা পেয়েছে বা ব্যবহার করতে চায়, সে বিষয়ে প্রকাশ্যে পূর্ণাঙ্গ তথ্য নেই। এই জায়গাটিই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কারণ গ্রাফাইট যদি চুক্তির আওতায় থাকে বা ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হয়, তাহলে প্রচলিত তল্লাশি বা জিজ্ঞাসাবাদ ছাড়াই কোনো ব্যক্তির ফোন থেকে যোগাযোগ ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার হাতে চলে যেতে পারে। অভিবাসী ও সাংবাদিকদের ওপর ব্যবহারের আশঙ্কা আইসিই মূলত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইন প্রয়োগের দায়িত্বে থাকা সংস্থা। ফলে প্যারাগনের মতো শক্তিশালী নজরদারি প্রযুক্তির সঙ্গে তাদের চুক্তি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও গোপনীয়তা অধিকারকর্মীদের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে প্রশ্ন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভিবাসী, আইনজীবী, সাংবাদিক, অধিকারকর্মী বা অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে কি না। চুক্তির প্রকাশ্য নথিতে লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের নিয়ম, ব্যবহারের সীমা এবং স্বাধীন নজরদারির বিস্তারিত তথ্য নেই। বিতর্কের মূল জায়গা এখানেই। কোনো স্মার্টফোনে গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি সফলভাবে প্রবেশ করলে ব্যবহারকারী নিজে বিষয়টি বুঝতেই নাও পারেন। ফোনে কোনো অস্বাভাবিক বার্তা, পপ-আপ বা সতর্কতা দেখা না দিয়েও তথ্য সংগ্রহ হতে পারে। ফলে সাধারণ নিরাপত্তা সতর্কতা মেনে চলা একজন ব্যবহারকারীর পক্ষেও এমন আক্রমণ ঠেকানো কঠিন হতে পারে। সিটিজেন ল্যাবের গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া প্রায় ৯০টি ঘটনা সম্ভবত প্যারাগনের মোট নজরদারি কার্যক্রমের একটি অংশ মাত্র। কারণ সব ধরনের সংক্রমণ একই পদ্ধতিতে শনাক্ত করা সম্ভব নয় এবং অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি কখনোই সতর্কবার্তা পেতে পারেন না। ফলে গ্রাফাইটের ঘটনা শুধু একটি স্পাইওয়্যার বা একটি প্রতিষ্ঠানের বিতর্কে সীমাবদ্ধ নয়। এটি সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের সীমা, নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, সাংবাদিকদের তথ্যসূত্রের নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার জবাবদিহি নিয়ে বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ হলো, প্রযুক্তি ব্যবহারের পর কোনো ব্যক্তি যদি জানতে না পারেন যে তার ফোনে নজরদারি চালানো হয়েছে, তাহলে সেই নজরদারির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। আর এ কারণেই গ্রাফাইটের মতো প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে শুধু নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতি নয়, স্বাধীন তদারকি ও স্পষ্ট আইনি সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিচ্ছেন অধিকারকর্মীরা। সূত্র: দ্য সিটিজেন ল্যাব
রাজনীতি
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreমার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের মুখপাত্র কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের কথিত ‘অপরাধের জন্য অনুতপ্ত’ না হওয়া পর্যন্ত মার্কিন বাহিনীকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাবে ইরান। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিতে দেওয়া এক বক্তব্যে জোলফাঘারি বলেন, দক্ষিণ ইরানের সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানি বাহিনী অঞ্চলটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানি এই সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেন, এসব পাল্টা হামলায় মার্কিন সামরিক অবকাঠামো, স্থাপনা, অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে ‘উল্লেখযোগ্যসংখ্যক’ মার্কিন কমান্ডার ও সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। জোলফাঘারি বলেন, “আমেরিকানদের বিরুদ্ধে এসব আক্রমণাত্মক অভিযান চলতে থাকবে, যতক্ষণ না তারা তাদের অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হয়।” তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে সামরিক হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে তেহরানের পরবর্তী জবাব আরও “ভারী, বিস্তৃত ও ধ্বংসাত্মক” হবে। তাঁর বক্তব্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ইরানের এই সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সহযোগী দেশগুলোকেও সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে সহযোগিতা করা যেকোনো দেশকে এর ‘বিপজ্জনক পরিণতি’ মেনে নিতে হবে। এর আগে দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় মার্কিন হামলার খবর পাওয়া যায়। এর প্রতিক্রিয়ায় উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলো লক্ষ্য করে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর সামনে আসে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে সামরিক অভিযানের পরিধি আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত রয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে ইরানের কর্মকর্তার করা নিহত ও আহতের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক যোগাযোগপথ থাকায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংবাদসূত্র: আলজাজিরা
মধ্য গাজা উপত্যকার দেইর আল-বালাহ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে ইসরা আল-হিসি নামে সাত বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পূর্ব দেইর আল-বালাহ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে ফ্রান্স ২৪ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চিকিৎসাকর্মীদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহর পূর্বাঞ্চলে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় গুলি চালালে ইসরা গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ফ্রান্স ২৪-এর প্রতিবেদনে প্রকাশিত ছবির বর্ণনা অনুযায়ী, নিহত ইসরা আল-হিসির বয়স ছিল সাত বছর। তার মরদেহ দাফনের আগে পরিবারের সদস্যরা তাকে শেষবারের মতো বিদায় জানান। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় একই দিনে গাজায় আরও হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনি চিকিৎসাকর্মীরা জানিয়েছেন, পৃথক একটি হামলায় অন্তত দুই শিশু ও এক নারী নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা শহরের পশ্চিমাঞ্চলের একটি এলাকায় দুটি গাড়িও হামলার শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় নিরাপত্তা বাহিনীর জন্য হুমকি তৈরি করছে এমন কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে তারা হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরা আল-হিসির মৃত্যুর বিষয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে আলাদা কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গাজায় চলমান সংঘাতের মধ্যে বেসামরিক মানুষ, বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবারের ঘটনাগুলোও সেই উদ্বেগকে নতুন করে সামনে এনেছে। সূত্র: ফ্রান্স ২৪, বিবিসি আরবি
মঙ্গলবার রাতে ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলায় শিশুসহ কয়েকজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাণঘাতী হামলার পরপরই উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত অন্তত চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। পাল্টাপাল্টি এই হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এবং ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দক্ষিণ ইরানের সিরিক শহরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জন আহত হয়েছেন। সাধারণ মানুষের ওপর এমন হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, সিরিক শহর ছাড়াও ইরানের কোনারাক কাউন্টি, জাস্ক এবং বন্দর লেঙ্গেহ শহরও মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলীয় জিরোফতে একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে। এছাড়া হরমুজগান প্রদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসের পূর্ব দিকে বেশ কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। আইআরআইবি আরও নিশ্চিত করেছে, কেশম দ্বীপের মাসান গ্রামের আশপাশে পাঁচটির বেশি এবং হরমুজ প্রণালির দিক থেকে আরও অন্তত চারটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, বৃহত্তর সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে ইরানের সরকারি মালিকানাধীন দুটি তেলের ট্যাংকারেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানের ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার ঘটনা এটিই প্রথম। এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন বাহিনী মূলত ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আকাশ প্রতিরক্ষা স্থাপনা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সম্পদ ও স্থাপনা, মাইন স্থাপনের সক্ষমতা এবং সামরিক যোগাযোগ অবকাঠামো। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কড়া জবাব দিতে দেরি করেনি ইরান। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, নিজ ভূখণ্ডে হামলার পরপরই পাল্টা আক্রমণ শুরু করে তেহরান। মঙ্গলবার রাতেই উপসাগরীয় অঞ্চলের জর্ডান, ইরাক, কুয়েত ও বাহরাইনে থাকা মার্কিন সামরিক অবস্থানগুলোতে একযোগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরানের আইআরজিসি। আইআরজিসির দাবি, জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে দীর্ঘপাল্লার আরকিউ ফোর এবং এমকিউ নাইন ড্রোন রাখা হ্যাঙ্গারগুলো লক্ষ্য করে তারা একটি ভারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। আইআরআইবিতে প্রকাশিত আইআরজিসির বিবৃতিতে দাবি করা হয়, এই হামলায় বেশ কয়েকটি মার্কিন ড্রোন ধ্বংস হয়েছে এবং কয়েকজন আমেরিকান ফ্লাইট ও কারিগরি কর্মী নিহত হয়েছেন। এছাড়া অবকাঠামোর কয়েকটি অংশে আগুন ধরে যাওয়ার কথাও বলা হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়টি পুরোপুরি অস্বীকার করেছে। জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ড থেকে ছোড়া ১৩টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। জর্ডানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মাঝপথেই ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করে দেয়। জর্ডানের সামরিক মুখপাত্র জানান, অবশিষ্ট তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র লোকালয় থেকে অনেক দূরে প্রত্যন্ত অঞ্চলে পড়েছে এবং এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এর পাশাপাশি উত্তর ইরাকের এরবিল প্রদেশে অবস্থিত মার্কিন স্থাপনায় সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে আইআরজিসি। তাদের দাবি, এই হামলায় একটি মেরামত কেন্দ্র, কারিগরি সরঞ্জামের গুদাম এবং মার্কিন নজরদারি বেলুনের একটি গাইডেন্স সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। ঘাঁটির জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যাওয়া এবং বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনার নিহত হওয়ার কথাও জানিয়েছে আইআরজিসি। এদিকে কুয়েতের সশস্ত্র বাহিনী এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রু ড্রোন প্রতিহত করেছে। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন ভূপাতিত করার কারণেই মূলত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানায় তারা। কুয়েত এই ঘটনাকে ইরানের আগ্রাসনের অংশ বলে উল্লেখ করেছে। বাহরাইনেও হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম দেশটির সেনাবাহিনীর এক বিবৃতির বরাতে জানিয়েছে, বাহরাইনের শেখ ঈসা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা এলাকা ও রাডার স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে এক ঝাঁক ড্রোন ছোড়া হয়েছে। অপারেশন থান্ডার নামক সামরিক অভিযানের ২৯তম ধাপের অংশ হিসেবে এই হামলা চালানো হয়। পারস্য উপসাগরে শেখ ঈসা ঘাঁটিটি মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা হেলিকপ্টার রক্ষণাবেক্ষণ এবং নজরদারি উড়োজাহাজের কাজে ব্যবহৃত হয়। খবরের সূত্র: চ্যানেল টোয়েন্টিফোর
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। তিনি দাবি করেছেন, মিথ্যা বলাটা ইরানিদের ধর্মের একটি অংশ। তার এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলার পর দেশটিকে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্যাপিটল হিলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ৫৪ বছর বয়সী মাইক জনসন এই মন্তব্য করেন। এ সময় তার পেছনে রিপাবলিকান দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জনসন বলেন, ইরানিদের কোনোভাবেই বিশ্বাস করা যায় না। আমাদের হতাশার মূল কারণ হলো তাদের ওপর আস্থা রাখতে না পারা। তারা আলোচনার টেবিলে বসে এক কথা বলে, আর সেখান থেকে বেরিয়ে গিয়ে ঠিক তার উল্টো কাজটি করে। তিনি আরও যোগ করেন, তাদের কারও কারও ক্ষেত্রে এমনটা মনে হয় যে, যাদের সঙ্গে তাদের মতবিরোধ রয়েছে, তাদের কাছে মিথ্যা বলাটা যেন তাদের ধর্মেরই একটি অংশ। রিপাবলিকান নেতার এমন মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন এক্সে থাকা নেটিজেনরা। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এটি সেই পুরোনো কৌশল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যা করছে, তার দায় অন্যের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। তিনি আরও লেখেন, এই কৌশল বেশিদিন টিকবে না। যারা আপনার কথায় বিশ্বাস করছে, সত্যটা সামনে এলে তারাই সবচেয়ে বেশি হতাশ হবে। আরেকজন মন্তব্য করেছেন, স্পষ্টতই এটি মাইক জনসনের ধর্মের অংশ যে তিনি চাইলেই মিথ্যা বলতে পারেন। তিনি প্রতিবার কথা বলার সময় ভীতি প্রদর্শনের কৌশল ও মিথ্যার আশ্রয় নেন। আমেরিকানরা তাকে বিশ্বাস করতে পারে না। এদিকে এই উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত এখনই শেষ হচ্ছে না। সোমবার সকালে ফক্স নিউজের ট্রে ইংস্টের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কথা জানান। মূলত জর্ডানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে রাতভর হামলার বিষয়ে কথা বলছিলেন তিনি। লারাক দ্বীপে ইরানের রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হামলার পরই এই পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে যাচ্ছি। এর একটি মোক্ষম জবাব দেওয়া হবে। ট্রাম্প আরও জানান, ইরানের ছোড়া একটি ছাড়া বাকি সব কটি ক্ষেপণাস্ত্রই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে আটকে দিয়েছে। যে ক্ষেপণাস্ত্রটি আটকানো যায়নি, সেটি কোনো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুর দিকে যাচ্ছিল না বলে এটিকে আকাশসীমায় ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার হরমুজ প্রণালীতে ইরানের রকেট লঞ্চারগুলোতে মার্কিন বাহিনীর হামলার পরই মূলত পাল্টা আক্রমণ চালায় ইরান। এর মাধ্যমে ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা থেমে থেমে যুদ্ধের এক মাসের বিরতির অবসান ঘটে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানান, রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সদস্যদের সামুদ্রিক মাইনসহ রকেট নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। গত সপ্তাহেই ওই প্রণালীর আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের রুট থেকে সামুদ্রিক মাইন অপসারণের কাজ শেষ করেছিল মার্কিন সামরিক বাহিনী। অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, তাদের বেশ কয়েকজন যোদ্ধা ও দেশবাসী শহীদ ও আহত হয়েছেন। পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখানো হয় যে, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে ইরান। সূত্র: এওএল, হাফপোস্ট, রয়টার্স
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
হালান্ড-এমবাপেকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড ইয়ামালের
বাবাকে হারানোর পর জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি, শেষ হলো নীল-সাদা জার্সির পথচলা
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন
ট্রান্সজেন্ডার অনায়া ভারতে সুযোগ না পেলেও অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পেলেন
উসাইন বোল্টকে হারাল চীনের রোবট 'লাইটনিং', ১০০ মিটার দৌড়াল মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক
সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা, নতুন গবেষণায় মিলছে সম্ভাবনার ইঙ্গিত
কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার
গোপনে বিয়ের পাঁচ মাসেই বিচ্ছেদ, ভেঙে গেল বাদশাহ-ইশার সংসার
সাপের কামড়ে বিষ ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে কেটে ফেললেন আঙুল! পরে জানলেন শাপটি বিষধর ছিল না
ব্রিটিশ গায়ক হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা, বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’
ডাক্তার বলেছিল,এই ওজন খুব শীঘ্রই কবরে নিয়ে যাবে! ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ মঞ্চে অ্যাম্বার উহলার,
হলিউডে সাফল্যের আগে অর্থকষ্ট, মস্তিষ্কে টিউমার, মার্ক রাফালোর কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন স্ত্রী
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর হলেন বুয়েটের লুৎফুর রহমান
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্পের নতুন পদক্ষেপ, শিশুদের পাসপোর্ট পেতে বাবা মায়ের বৈধতার প্রমাণ দিতে হবে
আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ যুদ্ধ ঘোষণা না করায় সুবিধা বঞ্চিত ইরানে নিহত মার্কিন সেনার পরিবার
দিনে মাত্র ২ ঘণ্টা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের সুযোগ পাবে কিশোররা, নতুন নিয়ম আনছে মেটা
ফোনে গোপনে নজরদারি করতে পারে ‘গ্রাফাইট’, এই স্পাইওয়্যার নির্মাতার সঙ্গে আইসিইর ২০ লাখ ডলারের চুক্তি
অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা
সস্তা নাশতা খেয়ে ২৪ বছরেই সঞ্চয় ৯৭ হাজার ডলার! ৪০-এ অবসর যা পারছেন তাই করছেন
স্ত্রীর চুল কাটার বদলা নিতে ঘুমন্ত অবস্থার ছবি ট্যাটু করালেন স্বামী
২০০ দিন সমুদ্রে কাটিয়ে পাতায়ায় নোঙর করছে মার্কিন রণতরী, শুরু হয়েছে বিশেষ অভিযান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ২০০টির বেশি সামরিক বিমান ভূপাতিতের দাবি ইরানের
তিস্তা মহাপ্রকল্পের সঙ্গে চীনা যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কিনছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশিদের জন্য বড় সুখবর, অভিবাসী ভিসার স্থগিতাদেশ তুলে নিল যুক্তরাষ্ট্র