উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) আগামী বছর তাদের ৪০তম কনভেনশনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সাল সিটির ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনব্যাপী এ সম্মেলন। “উন্নয়নের পথে আগামী প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের কনভেনশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পেশাগত সংযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং দেশীয় খাবার ও কারুশিল্প প্রদর্শনী। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার জন্য দেশ বিদেশের জনপ্রিয় একাধিক শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকিব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হবে। এবারের ফোবানা কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিএসি)। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বাংলা সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। প্রতি বছরের এ কনভেনশনকে ঘিরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ও নিবন্ধনের জন্য আয়োজকদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসন্ন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। মঙ্গলবার পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস এই দল ঘোষণা করেন। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বিশ্বমঞ্চে দারুণ কিছুর প্রত্যাশায় অভিজ্ঞ ও একঝাঁক তরুণ প্রতিভার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি। এবারের আসরেও রোনালদোর কাঁধেই থাকছে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, যা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য মাইলফলক যোগ করতে যাচ্ছে। ঘোষিত এই শক্তিশালী স্কোয়াডে রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের পরীক্ষিত তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোসের মতো ফরোয়ার্ডরা। দল ঘোষণার সময় কোচ মার্তিনেস এক আবেগঘন বার্তা দেন। গত বছর অকালে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া দলের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটাকে সম্মান জানিয়ে প্রতীকীভাবে তাকে এই স্কোয়াডের ‘২৭তম সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন কোচ, যা ফুটবলপ্রেমীদের বেশ আবেগাপ্লুত করেছে। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রোনালদোর দল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন মিয়ামিতে শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। ঘোষিত স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে আছেন দিওগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা ও রিকার্দো ভেলহো। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস ও দিওগো দালোতের মতো বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো ও গনসালো রামোস।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন কঠোর নীতি চালু করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের সামান্য ত্রুটিও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে, যা আবেদনকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতির আওতায় কোনো আবেদন ফর্মে বৈধ স্বাক্ষর না থাকলে তা গ্রহণ পর্যায়েই বাতিল করা হবে অথবা পরবর্তী যাচাই পর্যায়ে নাকচ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া বা অননুমোদিত স্বাক্ষরের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফটওয়্যার-নির্ভর স্বাক্ষর, কপি-পেস্ট করা ছবি বা অনুমোদনহীন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহারের কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, হাতে লেখা স্বাক্ষর অথবা মূল স্বাক্ষরের পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণযোগ্য হবে। তবে টাইপ করা নাম, ডিজিটালভাবে তৈরি স্বাক্ষর, সিগনেচার স্ট্যাম্প কিংবা অনুমোদনহীন ব্যক্তির দেওয়া স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায়। এসব আবেদন সাধারণত প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীদের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়, যেখানে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ছোট ত্রুটিও বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পরেও যদি কোনো পর্যায়ে স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে পুরো আবেদন বাতিল করা হতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের অনুমতি বা অভিবাসন স্ট্যাটাস ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারী ও নিয়োগদাতা উভয় পক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠবে। নতুন নীতির বিষয়ে জনমত গ্রহণ চলবে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে একই দিন থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, ফলে প্রস্তুতির সময় সীমিত।
‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক এবং প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন ডিজাইন ও সিরিজের পাঁচ টাকা মূল্যমানের কারেন্সি নোট বাজারে এনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মঙ্গলবার (১৯ মে) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে নতুন নোটটির সম্মুখভাগের বাম পাশে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী তারা মসজিদের ছবি এবং মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ডে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। নোটের পিছনভাগে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি-২০২৪’-এর ছবি। অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার স্বাক্ষরিত এই পাঁচ টাকার নোটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৭ মিলিমিটার × ৬০ মিলিমিটার। নোটটির নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে জলছাপ হিসেবে ‘রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ’ এবং তার নিচে উজ্জ্বল ইলেকট্রোটাইপ জলছাপ ‘5’। পাশাপাশি ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম’ও সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া নোটটিতে হালকা গোলাপি রঙের আধিক্য রাখা হয়েছে। নোটের বাম পাশে দুই মিলিমিটার প্রশস্ত নিরাপত্তা সুতা সংযোজন করা হয়েছে, যা কাগজের ভেতরে প্রবিষ্ট এবং আলোর বিপরীতে ধরলে দুই পাশ থেকেই দেখা যায়। নোটের সম্মুখভাগের নিচের অংশে গ্লিউইশ প্যাটার্নের ওপর মাইক্রো পয়েন্ট আকারে অসংখ্য ‘BANGLADESH’ শব্দও মুদ্রিত রয়েছে। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকেই প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস থেকে নতুন নোটটি ইস্যু করা হবে। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের অন্যান্য অফিস থেকেও এটি পাওয়া যাবে। একই সঙ্গে বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই চালু থাকবে বলেও জানানো হয়েছে। মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য নিয়মিত নোটের পাশাপাশি পাঁচ টাকা মূল্যমানের নমুনা (Specimen) নোটও মুদ্রণ করা হয়েছে। বিনিময় অযোগ্য এই নোট বাংলাদেশ ব্যাংক কারেন্সি মিউজিয়াম, মিরপুর থেকে নির্ধারিত মূল্যে সংগ্রহ করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্বাক্ষর সংক্রান্ত নতুন কঠোর নীতি চালু করতে যাচ্ছে ইউনাইটেড স্টেটস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে স্বাক্ষরের সামান্য ত্রুটিও আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে, যা আবেদনকারীদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১০ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নীতির আওতায় কোনো আবেদন ফর্মে বৈধ স্বাক্ষর না থাকলে তা গ্রহণ পর্যায়েই বাতিল করা হবে অথবা পরবর্তী যাচাই পর্যায়ে নাকচ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও থাকবে না। সংস্থাটি বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া বা অননুমোদিত স্বাক্ষরের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফটওয়্যার-নির্ভর স্বাক্ষর, কপি-পেস্ট করা ছবি বা অনুমোদনহীন ব্যক্তির স্বাক্ষর ব্যবহারের কারণে যাচাই প্রক্রিয়ায় জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছিল। নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, হাতে লেখা স্বাক্ষর অথবা মূল স্বাক্ষরের পরিষ্কার স্ক্যান কপি গ্রহণযোগ্য হবে। তবে টাইপ করা নাম, ডিজিটালভাবে তৈরি স্বাক্ষর, সিগনেচার স্ট্যাম্প কিংবা অনুমোদনহীন ব্যক্তির দেওয়া স্বাক্ষর গ্রহণযোগ্য হবে না। এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে এইচ-১বি ভিসা ও কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়ায়। এসব আবেদন সাধারণত প্রতিষ্ঠান বা আইনজীবীদের মাধ্যমে জমা দেওয়া হয়, যেখানে স্বাক্ষর সংক্রান্ত ছোট ত্রুটিও বড় জটিলতা তৈরি করতে পারে। ইউএসসিআইএস আরও জানিয়েছে, আবেদন জমা দেওয়ার পরেও যদি কোনো পর্যায়ে স্বাক্ষর নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়, তাহলে পুরো আবেদন বাতিল করা হতে পারে। এমন সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, ফলে আবেদনকারীদের আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের অনুমতি বা অভিবাসন স্ট্যাটাস ঝুঁকিতে পড়তে পারে। অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আবেদনকারী ও নিয়োগদাতা উভয় পক্ষকে আরও সতর্ক হতে হবে। প্রতিটি স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে যথাযথ অনুমোদন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংরক্ষণ করা জরুরি হয়ে উঠবে। নতুন নীতির বিষয়ে জনমত গ্রহণ চলবে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। তবে একই দিন থেকেই এটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, ফলে প্রস্তুতির সময় সীমিত।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে ঘোষিত এই দলে সবচেয়ে বড় খবর হিসেবে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। রিও ডি জেনিরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে দীর্ঘ আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফেরানো হয় নেইমারকে। চোট, অস্ত্রোপচার ও ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তার পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নেইমারের ফেরায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হলেও রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা রদ্রিগোর বাদ পড়া বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে ঘোষিত দলে কিছু জায়গায় পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল এবার অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। কাসেমিরো, মারকিনিওস ও থিয়াগো সিলভার মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো তরুণদের নিয়েই সাজানো হয়েছে দল। ব্রাজিল খেলবে সি গ্রুপে। আগামী ১৩ জুন নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ১৯ জুন হাইতি
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য রাস্তায় পুলিশি তল্লাশির মুখে পড়া একটি পরিচিত অভিজ্ঞতা। এ মুহূর্তে আতঙ্কিত না হয়ে কী করতে হবে এবং আমেরিকার সংবিধান একজন সাধারণ নাগরিককে কতটা সুরক্ষা দেয়, সে বিষয়ে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। সঠিক তথ্য জানা থাকলে এ ধরনের পরিস্থিতি শান্তভাবে এবং আইনসম্মতভাবে সামলানো সম্ভব। প্রথম করণীয়: শান্ত থাকুন পুলিশের সাইরেন শুনলে প্রথমেই আতঙ্কিত হওয়া যাবে না। ধীরে ধীরে রাস্তার ডান পাশে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে হবে। দুই হাত স্টিয়ারিং হুইলের ওপর রাখুন, যাতে পুলিশ বাইরে থেকে স্পষ্ট দেখতে পান। হঠাৎ কোনো অঙ্গভঙ্গি বা তাড়াহুড়ো করলে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে। পুলিশ না বললে গাড়ি থেকে নামবেন না। কাগজপত্র দেখানো বাধ্যতামূলক পুলিশ কাছে এলে গাড়ির জানালা অর্ধেক নামান এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স, গাড়ির রেজিস্ট্রেশন ও ইন্স্যুরেন্সের কাগজ দেখান। এগুলো দেখানোর আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কাগজ খোঁজার আগে পুলিশকে জানিয়ে নিন, যাতে হাত নাড়াচাড়াকে ভুলভাবে না দেখা হয়। চুপ থাকার অধিকার: ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ প্রশ্ন করতে শুরু করলে জেনে রাখুন, আমেরিকার সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনী অনুযায়ী আপনি নিজের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন কোনো বক্তব্য দিতে বাধ্য নন। শান্তভাবে বলতে পারেন, 'আমি আইনজীবীর সঙ্গে কথা না বলে কিছু বলতে চাই না।' এটি আপনার সাংবিধানিক অধিকার এবং পুলিশ সেই অধিকারকে সম্মান দেখাতে বাধ্য। গ্রেপ্তারের মুখে পড়লে: সিক্সথ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ যদি গ্রেপ্তার করতে চায়, তাহলে সংবিধানের ষষ্ঠ সংশোধনী অনুযায়ী আইনজীবীর সাহায্য চাওয়ার অধিকার আপনার আছে। স্পষ্টভাবে বলুন, 'আমি আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলতে চাই।' এই মুহূর্তে যত কম কথা বলবেন, ততই নিরাপদ। কারণ আপনার প্রতিটি কথা আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে। তল্লাশির ক্ষেত্রে: ফোর্থ অ্যামেন্ডমেন্ট পুলিশ গাড়ি বা ব্যাগ তল্লাশি করতে চাইলে প্রশ্ন করুন সার্চ ওয়ারেন্ট আছে কিনা। সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী নাগরিকদের অযৌক্তিক তল্লাশি থেকে সুরক্ষা দেয়। তল্লাশিতে আপনার সম্মতি না থাকলে তা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিন। সম্মতি ছাড়া তল্লাশি আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। ভাষা সমস্যায় অনুবাদক চাওয়ার অধিকার ইংরেজিতে সাবলীল না হলে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। ১৯৬৪ সালের সিভিল রাইটস অ্যাক্ট অনুযায়ী আপনি অনুবাদক চাইতে পারেন। সরাসরি বলুন, 'আমি বাংলায় কথা বলি, অনুবাদক চাই।' এই অনুবাদক সহায়তা আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পত্তির বাইরে যেকোনো সর্বজনীন স্থানে পুলিশের কার্যক্রম রেকর্ড করা যাবে। সংবিধানের প্রথম সংশোধনী মত প্রকাশের এই স্বাধীনতা দেয়। তবে রেকর্ড করার বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে করুন এবং তাদের কাজে কোনোভাবে বাধা দেবেন না। ঘটনার সময়, স্থান, পুলিশ অফিসারের নাম ও ব্যাচ নম্বর লিখে রাখুন। মনে হলে স্থানীয় সিভিল লিবার্টি সংস্থায় অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। আমেরিকার সংবিধান প্রতিটি মানুষকে এই সুরক্ষা দেয়। তবে সেই সুরক্ষা তখনই কাজে আসে, যখন একজন নাগরিক নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানা (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) আগামী বছর তাদের ৪০তম কনভেনশনের আয়োজন করতে যাচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ায়। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সাল সিটির ইউনিভার্সাল হিলটন হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে তিনদিনব্যাপী এ সম্মেলন। “উন্নয়নের পথে আগামী প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” — এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এবারের কনভেনশনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও পেশাগত সংযোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেবেন। আয়োজকরা আরও জানিয়েছেন, এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, সেমিনার, সাহিত্য ও কবিতা আসর, যুব ফোরাম, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশবিষয়ক আলোচনা, ট্যালেন্ট শো, ফোবানা স্কলারশিপ কার্যক্রম এবং দেশীয় খাবার ও কারুশিল্প প্রদর্শনী। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার জন্য দেশ বিদেশের জনপ্রিয় একাধিক শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিত শিল্পীদের তালিকায় রয়েছেন লুইপা, ঋতুপর্ণা, মিলা, সাগর বাউল, নকিব খান, রবি চৌধুরী, রোমেল খান, মুজা ও আলিফ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সময়ের সঙ্গে আরও শিল্পীর নাম ঘোষণা করা হবে। এবারের ফোবানা কনভেনশনের আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (বিএসি)। আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ ইকবাল। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বাংলা সংস্কৃতিকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। প্রতি বছরের এ কনভেনশনকে ঘিরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। অনুষ্ঠান সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য ও নিবন্ধনের জন্য আয়োজকদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আসন্ন উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের জন্য ৪১ বছর বয়সী মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে অধিনায়ক করে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে পর্তুগাল। মঙ্গলবার পর্তুগিজ কোচ রবের্তো মার্তিনেস এই দল ঘোষণা করেন। ঘোষিত এই স্কোয়াডে বিশ্বমঞ্চে দারুণ কিছুর প্রত্যাশায় অভিজ্ঞ ও একঝাঁক তরুণ প্রতিভার চমৎকার সমন্বয় ঘটিয়েছেন তিনি। এবারের আসরেও রোনালদোর কাঁধেই থাকছে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার গুরুদায়িত্ব, যা তাঁর ফুটবল ক্যারিয়ারে আরও একটি অনন্য মাইলফলক যোগ করতে যাচ্ছে। ঘোষিত এই শক্তিশালী স্কোয়াডে রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ইউরোপীয় ফুটবলের পরীক্ষিত তারকা ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, জোয়াও ফেলিক্স ও গনসালো রামোসের মতো ফরোয়ার্ডরা। দল ঘোষণার সময় কোচ মার্তিনেস এক আবেগঘন বার্তা দেন। গত বছর অকালে না-ফেরার দেশে চলে যাওয়া দলের ফরোয়ার্ড দিয়োগো জোটাকে সম্মান জানিয়ে প্রতীকীভাবে তাকে এই স্কোয়াডের ‘২৭তম সদস্য’ হিসেবে উল্লেখ করেন কোচ, যা ফুটবলপ্রেমীদের বেশ আবেগাপ্লুত করেছে। এবারের বিশ্বকাপে গ্রুপ ‘কে’-তে খেলবে সাবেক ইউরো চ্যাম্পিয়নরা, যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে রোনালদোর দল। এরপর ২৩ জুন উজবেকিস্তান এবং ২৮ জুন মিয়ামিতে শক্তিশালী কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। ঘোষিত স্কোয়াডে গোলকিপার হিসেবে আছেন দিওগো কস্তা, জোসে সা, রুই সিলভা ও রিকার্দো ভেলহো। রক্ষণভাগ সামলানোর দায়িত্বে থাকছেন রুবেন দিয়াস, জোয়াও কানসেলো, নুনো মেন্দেস ও দিওগো দালোতের মতো বিশ্বমানের ডিফেন্ডাররা। এছাড়া মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের ধার বাড়াতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সঙ্গে থাকছেন ব্রুনো ফার্নান্দেস, ভিতিনহা, জোয়াও নেভেস, বার্নার্দো সিলভা, রাফায়েল লেয়াও, পেদ্রো নেতো ও গনসালো রামোস।
ঢাকা টেস্ট জয়ের পর সিলেট টেস্টেও পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ এসেছে বাংলাদেশের সামনে। ম্যাচের পঞ্চম ও শেষ দিনে পাকিস্তানের বাকি ৩টি উইকেট তুলে নিতে পারলেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করবে টাইগাররা। অন্যদিকে পাকিস্তানের জয়ের জন্য এখনো প্রয়োজন ১৩৭ রান। চতুর্থ দিনের খেলা শেষে উইকেট এখনো ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী বলে মনে করলেও শেষ দিনে পাকিস্তানকে অলআউট করে দেওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দলের পেস বোলিং কোচ শন টেইট। মঙ্গলবার (১৯ মে) চতুর্থ দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে টেইট বলেন, "আমার মনে হয় ক্রিকেটের জন্য দিনটা বেশ ভালো কেটেছে, কারণ দুই দলই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে। তারা খুব ভালো ব্যাটিং করেছে এবং সত্যি বলতে আজকের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ উপযোগী ছিল। তবে আমাদের ছেলেরা লড়াইয়ে ছিল। একটা সময় তারা আমাদের ওপর চেপে বসেছিল, কিন্তু দিনের শেষের দিকে ওই দুটি উইকেট তুলে নেওয়ার পর ড্রেসিংরুমে ফেরার সময় সবাই বেশ খুশি ছিল।" আজ দলের কঠিন সময়ে পাকিস্তানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে ব্রেক-থ্রু এনে দেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। সেই রোমাঞ্চকর মুহূর্ত নিয়ে কোচ বলেন, "বিশেষ করে ওই রান আউটের সুযোগটা যখন হাতছাড়া হলো, আমাদের মনে হয়েছিল সেটাই হয়তো কাঙ্ক্ষিত ব্রেকথ্রু হতে পারত। এরপর তাইজুলের মাধ্যমে সেই সাফল্য আসে। ডাগআউটে রোমাঞ্চ ছিল। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি একদমই চিন্তিত ছিলাম না।" কঠিন কন্ডিশনেও দল ভালো অবস্থানে রয়েছে দাবি করে টেইট আরও বলেন, "আজকের কন্ডিশনটা বেশ কঠিন ছিল, মনে হয়েছে এটাই সবচেয়ে গরম দিন। উইকেটও ব্যাটিংয়ের জন্য সত্যিই ভালো হয়ে উঠেছিল। তবে এগুলো কোনো অজুহাত নয়। দিনশেষে আমরা এখন ভালো অবস্থানে আছি, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শেষ দিনের কথা বললে, আমার মনে হয় আমরা কাল তাদের অলআউট করে দেব। আশা করি এটাই হবে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
চীনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য। সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী আবাসন সংস্কৃতি। তবে ধীরগতির অর্থনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট সেই স্বপ্নকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, সেখানে গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। ম্যাককোয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের অর্থনীতিবিদেরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানান, নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ গত বছর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং এই নিম্নমুখী প্রবণতা দ্রুত থামার কোনো ইঙ্গিত নেই। বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। তিনি বলেন, ভাড়া বাসায় থাকলে অনেক সময় অস্থায়ী জীবনের অনুভূতি তৈরি হয় এবং নিজের ইচ্ছামতো ঘর সাজানোর স্বাধীনতা থাকে না। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভাড়াতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তার ভাষায়, “হিসাব করলে ভাড়া থাকাই বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তবে মনের ভেতরে নিজের একটি বাড়ির ইচ্ছা এখনো আছে।” চীনে বাড়ির মালিক হওয়া কেবল সম্পত্তির মালিকানা নয়, এটি পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক ফং বলেন, কনফুসীয় পারিবারিক মূল্যবোধ চীনা সমাজে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং পরিবারকে কেন্দ্র করেই জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার ধীরে ধীরে কর্মস্থলনির্ভর আবাসন ব্যবস্থা কমিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাকে উৎসাহিত করতে শুরু করে। ১৯৯০-এর দশকে ভর্তুকিনির্ভর নীতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়। ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক হুয়াং ইউচিন বলেন, অনেক মানুষ খুব কম দামে হঠাৎ করেই বাড়ির মালিক হয়ে যান। এতে বিপুলসংখ্যক ভাড়াটিয়া একসময় বাড়ির মালিক শ্রেণিতে পরিণত হন। চীনা সমাজে সঞ্চয়ের প্রবণতাও এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে। দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির দাম আবাসন খাতকে জনপ্রিয় বিনিয়োগে পরিণত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক গ্রামীণ অভিবাসী শহরে বাড়ি কিনে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন। আবার সন্তানদের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও বাবা-মায়েরা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ আবাসন মালিকানার হার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষার ঋণ ও বাড়ির বাড়তি মূল্য অনেক তরুণকে দীর্ঘ সময় ভাড়ায় থাকতে বাধ্য করছে। তবে চীনের আবাসন খাতের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বড় ঝুঁকিও। প্রবৃদ্ধির সময় অনেক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিপুল ঋণ নেয়। অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় ফাঁকা আবাসিক অঞ্চল ও অবিক্রীত প্রকল্প। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২০ সালে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আবাসন খাত, যা একসময় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৩০ শতাংশ জুড়ে ছিল, তা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়। এই পদক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কমলেও সম্পত্তির দাম দ্রুত পড়ে যায়। অনেক ক্রেতা অসম্পূর্ণ বা বিলম্বিত ফ্ল্যাটের মুখোমুখি হন। ঋণসংকটে পড়ে বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ধসে পড়ে। চীনের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রান্ডকে ২০২৪ সালে হংকংয়ের একটি আদালত বিলুপ্তির নির্দেশ দেয়। কান্ট্রি গার্ডেন ও ভ্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও আর্থিক চাপে পড়ে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতের আশঙ্কা। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা এখন আরও সতর্ক। কাই ইয়োচেং বলেন, তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কিনতে চান, তবে আগামী কয়েক বছরে সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন খাত এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মার্চ মাসেও দেশজুড়ে নতুন বাড়ির দাম কমেছে, যদিও কয়েকটি বড় শহরে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের কর্মকর্তা ঝ্যাং শিয়াওদুয়ান বলেন, সরকারের ইতিবাচক বার্তা থাকলেও বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতার বড় ধরনের পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে না। গত বছর চীন ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সেই প্রবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কুনমিং শহরের ৩০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী ম্যান্ডি ফেং বলেন, বাড়ির দাম কমলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করছে। তার ভাষায়, “মানুষ বাড়ি কিনতে চায় না, এমন নয়। কিন্তু আয় অনিশ্চিত এবং উপার্জন কম থাকলে কেউ ঋণ নিতে সাহস পায় না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আবাসন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। বেইজিংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ঝো ঝ্যাং বলেন, তিনি সম্ভবত নিজের সন্তানদের জন্য বাড়ি কিনবেন না, যদিও নিজের ফ্ল্যাট কিনতে বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছিলেন। তার মতে, চীনের আবাসন বাজার ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশের মতো হয়ে উঠছে, যেখানে ভবিষ্যতে ভাড়া বাসায় থাকার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।