Live update news
পেন্টাগন: যুদ্ধ চললেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনও অক্ষত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রায় তিন সপ্তাহ পরও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছে।   জিজ্ঞাসা করা হলে কেইন বলেন, “ইরান অনেক অস্ত্র নিয়ে এই যুদ্ধে নেমেছিল, তাই যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক এবং দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আমরা তাদের লক্ষ্য শনাক্ত করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানছি। তবে ইরানের কিছু সামরিক সক্ষমতা এখনও রয়েছে।”   তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য অর্জনে এগোচ্ছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানতে ৫ হাজার পাউন্ড (২,২৭০ কেজি) ওজনের পেনিট্রেটিভ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা কংক্রিট ভেদ করে কার্যকরী হয়।   জেনারেল কেইন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বদিকে ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করে ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করছে। এছাড়া এ-১০ ওয়ার্থগ বিমান ও এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দক্ষিণ ইরানজুড়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে, বিশেষত হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত আক্রমণকারী নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে। ইরাকেও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আঘাত চালানো হচ্ছে।   মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী যুদ্ধ পরিচালনা করছে, তবে সংঘাত কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করতে চায় না। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং নিশ্চিত করা যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।”   তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাত হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করেছে এবং সেনারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও তাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করছেন।

৩৪ সেকেন্ড Ago
কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে আরব মিত্রদের কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি ট্রাম্প প্রশাসনের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত যখন চরমে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে নিজেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও জর্ডানের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে হোয়াইট হাউজ। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে এক ‘জরুরি অবস্থা’ বিরাজ করছে। আর এই বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার নিয়মটি বাতিল করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অস্ত্র চুক্তির বিস্তারিত: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আমিরাতের জন্য প্রায় ৮.৪০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (AMRAAM), এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ এবং শত্রু ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম অত্যাধুনিক ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিফিট সিস্টেম’। এছাড়াও থাকছে দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা যা থাড (THAAD) মিসাইল ডিফেন্সের সাথে যুক্ত করা হবে। কুয়েত: আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে কুয়েতের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সেন্সর রাডার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্ডান: জর্ডানের জন্য ৭০.৫ মিলিয়ন ডলারের ‘এয়ারক্রাফট ও মিউনিশন সাপোর্ট’ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করা হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্রের দাবি জানিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই ইসরায়েলের কাছেও কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১২ হাজার বোমা বিক্রির অনুরূপ একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের সময় থমকে যাওয়া এই বিশাল অস্ত্র চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের পূর্ণ সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিল। তবে এই সরঞ্জামগুলো কবে নাগাদ পৌঁছাবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

৩০ মিনিট Ago
সাউথ পার্সে হামলা: মিথ্যাচার করে যেভাবে ধরা খেলেন ট্রাম্প

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যে তথ্যের চরম বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়েছে।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলা সম্পর্কে তার প্রশাসনের ‘অজ্ঞতার’ কথা দাবি করলেও রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলের এই আকস্মিক অভিযানের বিষয়ে ওয়াশিংটন আগে থেকে কিছুই জানত না। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরায়েল এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যার সাথে কাতারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে ট্রাম্প একই সাথে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরান যদি পুনরায় কাতারকে লক্ষ্যবস্তু করার মতো ‘বোকামি’ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সহায়তা ছাড়াই সাউথ পার্সে এমন বিধ্বংসী হামলা চালাবে যা তেহরান আগে কখনো দেখেনি।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, যদিও তিনি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চান না, তবে কাতারের এলএনজি (LNG) অবকাঠামো রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছুপা হবেন না। পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথও ট্রাম্পের সুরেই কথা বলেছেন। কিন্তু রয়টার্সের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই কৌশলগত অস্বীকারে তারা মোটেও বিস্মিত নন। ইতিপূর্বেও জ্বালানি ডিপোতে হামলার সময় একইভাবে দায় এড়িয়েছিল মার্কিন প্রশাসন, যা মূলত কূটনৈতিক কৌশলের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই সাউথ পার্স ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন। এই অঞ্চলে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় এবং এলএনজি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

৪৯ মিনিট Ago
ইরানি রাষ্ট্রনেতা হত্যাসহ বেসামরিক হামলা অগ্রহণযোগ্য: চীন

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে চীন এ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে। বেইজিং ইরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেও, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরানের হামলাকেও সমালোচনা করেছে।   ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাতের পর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের নিহত হওয়ার পর লারিজানি নিহত হওয়া সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল ইরানি নেতা ছিলেন।   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলোতে সবসময় শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করেছি। ইরানি রাষ্ট্রনেতাদের হত্যা এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অগ্রহণযোগ্য।”   তিনি আরও বলেন, “চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছে।”   বেইজিং এই সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন এই মাসে অঞ্চলটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। লিন জানান, ঝাই বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছেন, “অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা উচিত নয় এবং নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়।”   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, বেইজিং ইরান, লেবানন, জর্ডান ও ইরাককে মানবিক সহায়তা প্রদান করবে।

৫৮ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ব
কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে আরব মিত্রদের কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি ট্রাম্প প্রশাসনের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত যখন চরমে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে নিজেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও জর্ডানের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে হোয়াইট হাউজ। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে এক ‘জরুরি অবস্থা’ বিরাজ করছে। আর এই বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার নিয়মটি বাতিল করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অস্ত্র চুক্তির বিস্তারিত: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আমিরাতের জন্য প্রায় ৮.৪০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (AMRAAM), এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ এবং শত্রু ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম অত্যাধুনিক ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিফিট সিস্টেম’। এছাড়াও থাকছে দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা যা থাড (THAAD) মিসাইল ডিফেন্সের সাথে যুক্ত করা হবে। কুয়েত: আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে কুয়েতের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সেন্সর রাডার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্ডান: জর্ডানের জন্য ৭০.৫ মিলিয়ন ডলারের ‘এয়ারক্রাফট ও মিউনিশন সাপোর্ট’ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করা হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্রের দাবি জানিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই ইসরায়েলের কাছেও কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১২ হাজার বোমা বিক্রির অনুরূপ একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের সময় থমকে যাওয়া এই বিশাল অস্ত্র চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের পূর্ণ সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিল। তবে এই সরঞ্জামগুলো কবে নাগাদ পৌঁছাবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগন: যুদ্ধ চললেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনও অক্ষত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রায় তিন সপ্তাহ পরও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছে।   জিজ্ঞাসা করা হলে কেইন বলেন, “ইরান অনেক অস্ত্র নিয়ে এই যুদ্ধে নেমেছিল, তাই যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক এবং দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আমরা তাদের লক্ষ্য শনাক্ত করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানছি। তবে ইরানের কিছু সামরিক সক্ষমতা এখনও রয়েছে।”   তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য অর্জনে এগোচ্ছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানতে ৫ হাজার পাউন্ড (২,২৭০ কেজি) ওজনের পেনিট্রেটিভ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা কংক্রিট ভেদ করে কার্যকরী হয়।   জেনারেল কেইন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বদিকে ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করে ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করছে। এছাড়া এ-১০ ওয়ার্থগ বিমান ও এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দক্ষিণ ইরানজুড়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে, বিশেষত হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত আক্রমণকারী নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে। ইরাকেও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আঘাত চালানো হচ্ছে।   মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী যুদ্ধ পরিচালনা করছে, তবে সংঘাত কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করতে চায় না। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং নিশ্চিত করা যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।”   তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাত হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করেছে এবং সেনারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও তাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করছেন।

ছবি: সংগৃহীত
জুলাই হত্যা মামলায় ঢাকা উত্তর সিটির কাউন্সিলর হাসু গ্রেপ্তার

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে ডিএমপি আদাবর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।   ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসুকে আজ আদাবর এলাকা থেকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বর্তমানে থানায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলার পাশাপাশি একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।   আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্রে জানা যায়, হাসুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন তিনি। ২০০২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় অর্ধশতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট দখল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগও আদালতে বিবেচনাধীন রয়েছে।

বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) লোগো। ফাইল ছবি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি: ডব্লিউটিও

ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধ বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) প্রধান এনগোজি ওকোনজো-ইওয়েলা। তিনি আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে সচল রাখার আহ্বান জানান।   বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওকোনজো-ইওয়েলা বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সারসহ কৃষি উপকরণের সরবরাহ কমে গেছে, যা বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।”   বিশ্বের মোট নাইট্রোজেন সারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে করা হয়। তিনি জানান, “সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি বিঘ্ন ঘটলে কৃষকেরা কম সার ব্যবহার করতে বাধ্য হবেন এবং এমন ফসল চাষে মনোযোগ দেবেন যা কম সারেই ফলন দেয়।”   ওকোনজো-ইওয়েলা আরও জোর দিয়ে বলেন, “বিশ্বব্যাপী খাদ্য বাণিজ্যের পথগুলো উন্মুক্ত ও স্থিতিশীল রাখা জরুরি, যাতে খাদ্যের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয় অঞ্চলগুলোতে তা পৌঁছাতে পারে।”

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ফটো
হঠাৎ সক্রিয় হলেও অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার দরকার নেই: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হঠাৎ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়া কিছু ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, রাজনীতিকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে এবং গণতন্ত্রকেও স্বাভাবিক নিয়মে এগোতে দেওয়া উচিত।   বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “এরা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে আসে। এগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। রাজনীতি চলুক, গণতন্ত্র চলুক – তাদের নিজস্ব গতিতে।”   তিনি আরও বলেন, “বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখে রাজনীতিকে থামানো বা গণতন্ত্রকে আটকে দেওয়ার কোনো মানে নেই। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া উচিত।”   স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে। আওয়ামী লীগ কিছু চেষ্টা করলেও জনগণ তাদের রিজেক্ট করেছে। তাই লাভ হচ্ছে না।”

ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পেন্টাগন চায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত বরাদ্দ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন হোয়াইট হাউসের কাছে প্রস্তাব করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিচালনার জন্য ২০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত তহবিল অনুমোদন করার। প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টকে।   প্রস্তাবিত এই তহবিল বর্তমান বিমান হামলার খরচের পরিমাণও ছাড়িয়ে গেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো যুদ্ধে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বৃদ্ধি করা। গত তিন সপ্তাহে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী হাজার হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর ফলে গোলাবারুদ ফুরিয়ে যাওয়ায় নতুন সংগ্রহের জন্য এই বড় অঙ্কের তহবিল চাওয়া হয়েছে।   তবে হোয়াইট হাউস এখনও নির্ধারণ করেনি, কংগ্রেসে কতটুকু অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হবে। কিছু কর্মকর্তা পেন্টাগনের প্রস্তাব পাস হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।   প্রস্তাবিত তহবিল নিয়ে কংগ্রেসে রাজনৈতিক লড়াই শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধে জনসমর্থন সীমিত এবং ডেমোক্র্যাটরা এর কঠোর সমালোচনা করছেন। রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত অর্থায়নের পক্ষে থাকলেও সিনেটের ৬০ ভোটের সীমাবদ্ধতার কারণে স্পষ্ট আইনগত পথ এখনও দৃশ্যমান নয়।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অনুমোদিত ১৮৮ বিলিয়ন ডলারের ব্যয়ও তিনি সমালোচনা করেছিলেন। কিন্তু ইরান যুদ্ধের খরচ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে; কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম সপ্তাহেই খরচ ১১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।   পেন্টাগনের ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি স্টিভেন ফেইনবার্গ নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই প্রচেষ্টার। মূল লক্ষ্য হলো গোলাবারুদ ঘাটতি মেটানো এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, শ্রমিক ও উপকরণের সীমাবদ্ধতার কারণে উৎপাদন বাড়ানো সময়সাপেক্ষ হবে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগন: যুদ্ধ চললেও ইরানের সামরিক সক্ষমতা এখনও অক্ষত
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগনের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রায় তিন সপ্তাহ পরও ইরান তাদের সামরিক সক্ষমতা বজায় রেখেছে।   জিজ্ঞাসা করা হলে কেইন বলেন, “ইরান অনেক অস্ত্র নিয়ে এই যুদ্ধে নেমেছিল, তাই যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণাত্মক এবং দৃঢ় অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। আমরা তাদের লক্ষ্য শনাক্ত করছি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আঘাত হানছি। তবে ইরানের কিছু সামরিক সক্ষমতা এখনও রয়েছে।”   তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের লক্ষ্য অর্জনে এগোচ্ছে এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও নৌবাহিনীকে লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভূগর্ভস্থ লক্ষ্যবস্তুর ওপর আঘাত হানতে ৫ হাজার পাউন্ড (২,২৭০ কেজি) ওজনের পেনিট্রেটিভ অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যা কংক্রিট ভেদ করে কার্যকরী হয়।   জেনারেল কেইন আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র পূর্বদিকে ইরানি আকাশসীমায় প্রবেশ করে ড্রোন শনাক্ত ও ধ্বংস করছে। এছাড়া এ-১০ ওয়ার্থগ বিমান ও এএইচ–৬৪ অ্যাপাচি হেলিকপ্টার দক্ষিণ ইরানজুড়ে অভিযানে অংশ নিচ্ছে, বিশেষত হরমুজ প্রণালিতে দ্রুত আক্রমণকারী নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে। ইরাকেও ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়া গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আঘাত চালানো হচ্ছে।   মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অনুযায়ী যুদ্ধ পরিচালনা করছে, তবে সংঘাত কখন শেষ হবে তা নির্দিষ্ট করতে চায় না। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও নৌবাহিনী ধ্বংস করা এবং নিশ্চিত করা যে ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।”   তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাত হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুকে আঘাত করেছে এবং সেনারা নির্দিষ্ট লক্ষ্য ও তাদের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কাজ করছেন।

ছবি: সংগৃহীত
কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে আরব মিত্রদের কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি ট্রাম্প প্রশাসনের
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত যখন চরমে, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন কংগ্রেসের দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে নিজেদের বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কুয়েত ও জর্ডানের কাছে কয়েক বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করেছে হোয়াইট হাউজ। বৃহস্পতিবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে এক ‘জরুরি অবস্থা’ বিরাজ করছে। আর এই বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে অস্ত্র বিক্রির ক্ষেত্রে কংগ্রেসের বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার নিয়মটি বাতিল করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। অস্ত্র চুক্তির বিস্তারিত: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আমিরাতের জন্য প্রায় ৮.৪০ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র সহায়তা অনুমোদন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উন্নত মাঝারি পাল্লার আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য মিসাইল (AMRAAM), এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের গোলাবারুদ এবং শত্রু ড্রোন মোকাবিলায় সক্ষম অত্যাধুনিক ‘ইন্টিগ্রেটেড ডিফিট সিস্টেম’। এছাড়াও থাকছে দূরপাল্লার রাডার ব্যবস্থা যা থাড (THAAD) মিসাইল ডিফেন্সের সাথে যুক্ত করা হবে। কুয়েত: আকাশপথে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতে কুয়েতের কাছে ৮ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক সেন্সর রাডার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জর্ডান: জর্ডানের জন্য ৭০.৫ মিলিয়ন ডলারের ‘এয়ারক্রাফট ও মিউনিশন সাপোর্ট’ নিশ্চিত করা হয়েছে, যার আওতায় যুদ্ধবিমানের খুচরা যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবা প্রদান করা হবে। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্রমাগত ড্রোন ও মিসাইল হামলার মুখে নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে মিত্র দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে এই অস্ত্রের দাবি জানিয়ে আসছিল। উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুতেই ইসরায়েলের কাছেও কংগ্রেসকে এড়িয়ে ১২ হাজার বোমা বিক্রির অনুরূপ একটি জরুরি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাইডেন প্রশাসনের সময় থমকে যাওয়া এই বিশাল অস্ত্র চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তার মিত্রদের পূর্ণ সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার স্পষ্ট বার্তা দিল। তবে এই সরঞ্জামগুলো কবে নাগাদ পৌঁছাবে সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানানো হয়নি।

ইরানের দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্র। ছবি: সংগৃহীত
সাউথ পার্সে হামলা: মিথ্যাচার করে যেভাবে ধরা খেলেন ট্রাম্প
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে সাম্প্রতিক হামলাকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবের মধ্যে তথ্যের চরম বৈপরীত্য সৃষ্টি হয়েছে।  মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলা সম্পর্কে তার প্রশাসনের ‘অজ্ঞতার’ কথা দাবি করলেও রয়টার্সের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পূর্ণ সামরিক ও গোয়েন্দা সমন্বয়ের মাধ্যমেই পরিচালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের অফিসিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেন, সাউথ পার্স গ্যাস ফিল্ডে ইসরায়েলের এই আকস্মিক অভিযানের বিষয়ে ওয়াশিংটন আগে থেকে কিছুই জানত না। ট্রাম্পের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ক্ষুব্ধ হয়ে ইসরায়েল এই পদক্ষেপ নিয়েছে, যার সাথে কাতারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। তবে ট্রাম্প একই সাথে ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ইরান যদি পুনরায় কাতারকে লক্ষ্যবস্তু করার মতো ‘বোকামি’ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সহায়তা ছাড়াই সাউথ পার্সে এমন বিধ্বংসী হামলা চালাবে যা তেহরান আগে কখনো দেখেনি।" তিনি স্পষ্ট করেন যে, যদিও তিনি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চান না, তবে কাতারের এলএনজি (LNG) অবকাঠামো রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নিতে পিছুপা হবেন না। পেন্টাগন প্রধান পিট হেগসেথও ট্রাম্পের সুরেই কথা বলেছেন। কিন্তু রয়টার্সের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই কৌশলগত অস্বীকারে তারা মোটেও বিস্মিত নন। ইতিপূর্বেও জ্বালানি ডিপোতে হামলার সময় একইভাবে দায় এড়িয়েছিল মার্কিন প্রশাসন, যা মূলত কূটনৈতিক কৌশলের অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বের বৃহত্তম প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত এই সাউথ পার্স ইরান ও কাতারের যৌথ মালিকানাধীন। এই অঞ্চলে যেকোনো বড় ধরনের সামরিক সংঘাত বিশ্ব জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ বিপর্যয় এবং এলএনজি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানি রাষ্ট্রনেতা হত্যাসহ বেসামরিক হামলা অগ্রহণযোগ্য: চীন
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0

ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজানির নিহত হওয়ার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে চীন এ ঘটনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে ঘোষণা করেছে। বেইজিং ইরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হলেও, মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেহরানের হামলাকেও সমালোচনা করেছে।   ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলমান সংঘাতের পর মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং অন্যান্য শীর্ষ নেতাদের নিহত হওয়ার পর লারিজানি নিহত হওয়া সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল ইরানি নেতা ছিলেন।   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা আন্তর্জাতিক সম্পর্কগুলোতে সবসময় শক্তি প্রয়োগের বিরোধিতা করেছি। ইরানি রাষ্ট্রনেতাদের হত্যা এবং বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অগ্রহণযোগ্য।”   তিনি আরও বলেন, “চীন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে আহ্বান জানাচ্ছে।”   বেইজিং এই সংঘাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত চীনের বিশেষ দূত ঝাই জুন এই মাসে অঞ্চলটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। লিন জানান, ঝাই বৈঠকে জোর দিয়ে বলেছেন, “অসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করা উচিত নয় এবং নৌপথের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া উচিত নয়।”   চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার জানিয়েছে, বেইজিং ইরান, লেবানন, জর্ডান ও ইরাককে মানবিক সহায়তা প্রদান করবে।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
196 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
208 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
141 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়