ভারত ও বাংলাদেশে আগামী ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে যখন শঙ্কা চলছে, তখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিনিয়োগ করা একটি ইউটিউব চ্যানেল টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের সবগুলোই বিনামূল্যে দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে. তবে এই দারুণ সুবিধাটি শুধুমাত্র ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তরাই উপভোগ করতে পারবেন. সম্প্রতি সৌদি প্রো লিগ চ্যাম্পিয়ন আল নাসরের ফুটবলার রোনালদো ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস মিডিয়া কোম্পানি ‘লাইভমোড’-এ বিনিয়োগ করেছেন এবং এই কোম্পানির অংশীদারত্বে থাকা ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ‘কেজটিভি’ ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে। ব্রাজিলিয়ান ইউটিউবার ও স্ট্রিমার কাসিমিরো মিগুয়েল লাইভমোড-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব করে ২০২২ সালে কেজটিভি চালু করেন, যা পূর্বেও বিশ্বকাপসহ অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্ট কাভার করেছে. আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের জন্য কেজটিভি ব্রাজিলের নাগরিকদের ফোরকে (4K) রেজোলিউশনে ম্যাচ স্ট্রিম করার পাশাপাশি তরুণ ভক্তদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনের পরিকল্পনা করেছে। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভারত বা বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা এই ইউটিউব কিংবা টুইচ চ্যানেল খুললেও সরাসরি সম্প্রচারকৃত ম্যাচগুলো দেখতে পারবেন না, কারণ লাইভমোড কেবল ব্রাজিলিয়ান অঞ্চলের জন্যই ডিজিটাল স্বত্ব কিনেছে. তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভক্তদের জন্য সুখবর হলো— আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না এলেও জানা গেছে, ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো সম্প্রচারের দৌড়ে এগিয়ে আছে ‘জি’. তারা মূলত নিজেদের স্পোর্টস চ্যানেল এবং ‘জিফাইভ’ অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচগুলো সম্প্রচার করতে পারে।
অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের মতো জর্জিয়ায়ও হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে (২৭ মে, বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করা হয়। ঈদের আগের রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের মত বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও জর্জিয়ার হাজার হাজার ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন মসজিদ ও কম্যুনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদুল আজাহার নামাজ আদায় করেন। এ অঙ্গরাজ্যে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় ডাউন টাউন আটলান্টার আল ফারুক মসজিদ অব আটলান্টায়। সেখানে যথাক্রমে সকাল ৮টা, পৌনে ৯টা, সাড়ে ৯ টায় ও সোয়া দশটায় ৪ টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ ওমর বিন আব্দুল আজিজ, লিলবার্ণে যথাক্রমে সকাল ৭ টা, সাড়ে ৮টা ও সকাল সাড়ে ৯টায় তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ আত্তাকয়া ডোরাভিলে সকাল পৌনে ৮টা ও পৌনে ৯টায় দুটি এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ ও কম্যুনিটি সেন্টারে এক বা একাধিক নামাজ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিজ বাড়ির আঙিনায় বা উন্মুক্ত স্থানে কোরবানি করার নিয়ম না থাকায়, স্থানীয় নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট হালাল ফার্ম (Halal Farms) বা জবাইখানা থেকে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অনেকে আবার স্থানীয় মুসলিম দোকানগুলোতে পশু কোরবানির অর্ডার দিয়ে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে এটি কোনো সরকারি জাতীয় ছুটি নয়, তাই অনেককেই নামাজ আদায় করেই নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটতে হয়। তবে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বা অফিসে মুসলিম কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটির আবেদন করার ব্যবস্থা থাকে। নামাজ শেষে প্রবাসীরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই উৎসবটি কোরবানির ঈদ নামেও সমধিক পরিচিত। ইসলামের ইতিহাসে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর হিজরি সনের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই উৎসব উদযাপিত হয়।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের হরিয়ানার একটি পরিবার। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা পারভীন রানী এবং তার ছেলে তুষার কুমার একই সময়ে পৃথক দুই কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বিরল নজির স্থাপন করেছেন। রোববার (২৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৩ সালে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতক থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমায় পরিবারটি। সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী তুষার কুমার এবং তার মা পারভীন রানী মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তুষার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তুষার কুমার এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর এক সপ্তাহ পর তার মা পারভীন রানী হার্টসমেয়ার বরো কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তুষারের বাবা সুনীল দাহিয়া টেলিফোনে পিটিআইকে জানান, গত ১৩ মে তুষার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০ মে তার স্ত্রী পারভীন রানী মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ী সুনীল দাহিয়া বলেন, “২০১৩ সালে যখন আমি, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে আসি, তখন আমাদের সামনে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। তুষারের বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। আজ একই সময়ে এক পরিবারের মা ও ছেলের মেয়র হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, তুষার ও তার মা সবসময় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। লন্ডনে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ২০ বছর বয়সে তুষার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এই অর্জনের পরও পরিবারটি তাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছে। হরিয়ানার রোহতকে এখনও তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য সেখানে বসবাস করেন। তারা প্রতি বছরই ভারতে যান। তুষার কুমারের মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়া কিংবা সমাজসেবায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে নির্দিষ্ট বয়সের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। লেবার পার্টির এই তরুণ নেতা ২০২৩ সালে এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালে ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক সিটিতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ম্যাচের দিনগুলোতে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য যানজট কমাতে বাসিন্দাদের গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ফিফথ অ্যাভিনিউ ও সিক্সথ অ্যাভিনিউর নির্দিষ্ট অংশকে বিশেষ বাস ও শাটল করিডোরে রূপান্তর করা হবে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের দিন টিকিটধারী দর্শকদের জন্য ম্যানহাটন থেকে সরাসরি এক্সপ্রেস শাটল বাস চালু থাকবে। বাসগুলো লিংকন টানেল ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে যাতায়াত করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করিডোরে কেবল অফিসিয়াল স্টেডিয়াম শাটল বাস, এমটিএ বাস, বিশ্বকাপ অনুমোদিত যানবাহন এবং জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ম্যাচ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে থেকে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ডেলিভারি ট্রাক চলাচলেও সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ৩০তম স্ট্রিট থেকে ৬০তম স্ট্রিট এবং ইস্ট রিভার থেকে হাডসন রিভার পর্যন্ত এলাকায় ম্যাচ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে এবং শেষের তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডেলিভারি ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। স্টেডিয়ামগামী দর্শকদের জন্য বিশেষ শাটল বাসের পিকআপ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনাল, কলম্বাস সার্কেল (মিডটাউন নর্থ) এবং গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল এলাকার মিডটাউন ইস্টে। বিশেষ বাস করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হবে ৪২তম স্ট্রিটের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ থেকে টুয়েলফথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ, সিক্সথ অ্যাভিনিউর ৪২তম স্ট্রিট থেকে ৫৯তম স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ, ফিফথ অ্যাভিনিউর ৪২তম স্ট্রিট থেকে ৫৯তম স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ, ওয়েস্ট ৪০তম স্ট্রিট এবং ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট। মেটলাইফ স্টেডিয়ামমুখী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পেন স্টেশনের আশপাশের কয়েকটি সড়কও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৩তম স্ট্রিটের সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে এইথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ৩২তম স্ট্রিটের সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে সেভেনথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ। গণপরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমটিএর সাবওয়ে ও বাস চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে মিডটাউন এলাকায় কিছু বাস রুটে ডাইভারশন, নির্দিষ্ট স্টপ বাতিল অথবা সময়সূচিতে বিলম্ব হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। লং আইল্যান্ড রেল রোড (এলআইআরআর) পেন স্টেশনে চলাচল চালিয়ে যাবে। তবে যাত্রীদের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল ম্যাডিসন অথবা আটলান্টিক টার্মিনাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটি ফেরি অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করবে। প্যাথ, মেট্রো-নর্থ এবং সিটি বাইক সেবাও স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য ম্যাচগুলোকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্ক সিটিতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ। ম্যাচের দিনগুলোতে ‘গ্রিডলক অ্যালার্ট’ জারি করা হবে বলে জানিয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। শহর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য যানজট কমাতে বাসিন্দাদের গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ সময় ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ফিফথ অ্যাভিনিউ ও সিক্সথ অ্যাভিনিউর নির্দিষ্ট অংশকে বিশেষ বাস ও শাটল করিডোরে রূপান্তর করা হবে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের দিন টিকিটধারী দর্শকদের জন্য ম্যানহাটন থেকে সরাসরি এক্সপ্রেস শাটল বাস চালু থাকবে। বাসগুলো লিংকন টানেল ব্যবহার করে স্টেডিয়ামে যাতায়াত করবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিশেষ করিডোরে কেবল অফিসিয়াল স্টেডিয়াম শাটল বাস, এমটিএ বাস, বিশ্বকাপ অনুমোদিত যানবাহন এবং জরুরি সেবার যানবাহন চলাচল করতে পারবে। ম্যাচ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে থেকে এবং ম্যাচ শেষ হওয়ার তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে। বিশ্বকাপ উপলক্ষে ডেলিভারি ট্রাক চলাচলেও সাময়িক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। ৩০তম স্ট্রিট থেকে ৬০তম স্ট্রিট এবং ইস্ট রিভার থেকে হাডসন রিভার পর্যন্ত এলাকায় ম্যাচ শুরুর ছয় ঘণ্টা আগে এবং শেষের তিন ঘণ্টা পর পর্যন্ত ডেলিভারি ট্রাক চলাচল নিয়ন্ত্রিত থাকবে। স্টেডিয়ামগামী দর্শকদের জন্য বিশেষ শাটল বাসের পিকআপ পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনাল, কলম্বাস সার্কেল (মিডটাউন নর্থ) এবং গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল এলাকার মিডটাউন ইস্টে। বিশেষ বাস করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হবে ৪২তম স্ট্রিটের ফার্স্ট অ্যাভিনিউ থেকে টুয়েলফথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ, সিক্সথ অ্যাভিনিউর ৪২তম স্ট্রিট থেকে ৫৯তম স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ, ফিফথ অ্যাভিনিউর ৪২তম স্ট্রিট থেকে ৫৯তম স্ট্রিট পর্যন্ত অংশ, ওয়েস্ট ৪০তম স্ট্রিট এবং ওয়েস্ট ৪১তম স্ট্রিট। মেটলাইফ স্টেডিয়ামমুখী যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে পেন স্টেশনের আশপাশের কয়েকটি সড়কও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ৩৩তম স্ট্রিটের সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে এইথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ এবং ৩২তম স্ট্রিটের সিক্সথ অ্যাভিনিউ থেকে সেভেনথ অ্যাভিনিউ পর্যন্ত অংশ। গণপরিবহন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এমটিএর সাবওয়ে ও বাস চলাচল অব্যাহত থাকবে। তবে মিডটাউন এলাকায় কিছু বাস রুটে ডাইভারশন, নির্দিষ্ট স্টপ বাতিল অথবা সময়সূচিতে বিলম্ব হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। লং আইল্যান্ড রেল রোড (এলআইআরআর) পেন স্টেশনে চলাচল চালিয়ে যাবে। তবে যাত্রীদের গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল ম্যাডিসন অথবা আটলান্টিক টার্মিনাল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিউইয়র্ক সিটি ফেরি অতিরিক্ত ট্রিপ পরিচালনা করবে। প্যাথ, মেট্রো-নর্থ এবং সিটি বাইক সেবাও স্বাভাবিকভাবে চালু থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাজ্যের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইতিহাস গড়েছেন ভারতের হরিয়ানার একটি পরিবার। ভারতীয় বংশোদ্ভূত মা পারভীন রানী এবং তার ছেলে তুষার কুমার একই সময়ে পৃথক দুই কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা যুক্তরাজ্যের স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বিরল নজির স্থাপন করেছেন। রোববার (২৪ মে) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম পিটিআই এ তথ্য জানিয়েছে। ২০১৩ সালে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের রোহতক থেকে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমায় পরিবারটি। সম্প্রতি ২৩ বছর বয়সী তুষার কুমার এবং তার মা পারভীন রানী মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পরিবারজুড়ে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তুষার যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তুষার কুমার এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন। এর এক সপ্তাহ পর তার মা পারভীন রানী হার্টসমেয়ার বরো কাউন্সিলের প্রথম ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তুষারের বাবা সুনীল দাহিয়া টেলিফোনে পিটিআইকে জানান, গত ১৩ মে তুষার মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২০ মে তার স্ত্রী পারভীন রানী মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ব্যবসায়ী সুনীল দাহিয়া বলেন, “২০১৩ সালে যখন আমি, আমার স্ত্রী ও দুই সন্তান যুক্তরাজ্যে আসি, তখন আমাদের সামনে নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্য ছিল না। তুষারের বয়স তখন মাত্র ১০ বছর। আজ একই সময়ে এক পরিবারের মা ও ছেলের মেয়র হওয়া আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়।” তিনি আরও বলেন, তুষার ও তার মা সবসময় সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহী ছিলেন। লন্ডনে কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মাত্র ২০ বছর বয়সে তুষার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এই অর্জনের পরও পরিবারটি তাদের শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক অটুট রেখেছে। হরিয়ানার রোহতকে এখনও তাদের পারিবারিক বাড়ি রয়েছে এবং পরিবারের কয়েকজন সদস্য সেখানে বসবাস করেন। তারা প্রতি বছরই ভারতে যান। তুষার কুমারের মতে, জনপ্রতিনিধি হওয়া কিংবা সমাজসেবায় যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে বয়স কোনো বাধা নয়। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের সেবায় এগিয়ে আসতে নির্দিষ্ট বয়সের জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। একই সঙ্গে নিজের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে সংযোগ বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। লেবার পার্টির এই তরুণ নেতা ২০২৩ সালে এলস্ট্রি অ্যান্ড বোরহ্যামউড টাউন কাউন্সিলে যোগ দেন। পরে ২০২৫ সালে ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের মতো জর্জিয়ায়ও হিজরি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী জিলহজ মাসের ১০ তারিখে (২৭ মে, বুধবার) পবিত্র ঈদুল আজহা পালন করা হয়। ঈদের আগের রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টিপাতের মত বৈরি আবহাওয়ার মধ্যেও জর্জিয়ার হাজার হাজার ধর্ম প্রাণ মুসলমানরা বিভিন্ন মসজিদ ও কম্যুনিটি সেন্টারে পবিত্র ঈদুল আজাহার নামাজ আদায় করেন। এ অঙ্গরাজ্যে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় ডাউন টাউন আটলান্টার আল ফারুক মসজিদ অব আটলান্টায়। সেখানে যথাক্রমে সকাল ৮টা, পৌনে ৯টা, সাড়ে ৯ টায় ও সোয়া দশটায় ৪ টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ ওমর বিন আব্দুল আজিজ, লিলবার্ণে যথাক্রমে সকাল ৭ টা, সাড়ে ৮টা ও সকাল সাড়ে ৯টায় তিনটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মসজিদ আত্তাকয়া ডোরাভিলে সকাল পৌনে ৮টা ও পৌনে ৯টায় দুটি এছাড়াও বিভিন্ন মসজিদ ও কম্যুনিটি সেন্টারে এক বা একাধিক নামাজ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে নিজ বাড়ির আঙিনায় বা উন্মুক্ত স্থানে কোরবানি করার নিয়ম না থাকায়, স্থানীয় নিয়ম মেনে নির্দিষ্ট হালাল ফার্ম (Halal Farms) বা জবাইখানা থেকে কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। অনেকে আবার স্থানীয় মুসলিম দোকানগুলোতে পশু কোরবানির অর্ডার দিয়ে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে এটি কোনো সরকারি জাতীয় ছুটি নয়, তাই অনেককেই নামাজ আদায় করেই নিজ নিজ কর্মস্থলে ছুটতে হয়। তবে বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বা অফিসে মুসলিম কর্মচারীদের জন্য বিশেষ ছুটির আবেদন করার ব্যবস্থা থাকে। নামাজ শেষে প্রবাসীরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও মিষ্টিমুখ করে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। মুসলিম উম্মাহর দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব হলো পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত এই উৎসবটি কোরবানির ঈদ নামেও সমধিক পরিচিত। ইসলামের ইতিহাসে হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগের স্মরণে প্রতি বছর হিজরি সনের জিলহজ মাসের ১০ তারিখে এই উৎসব উদযাপিত হয়।
রাজধানীর হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন। ঈদের প্রধান জামাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মুসল্লিরা অংশ নেন। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের পর খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও সেবামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজুর ব্যবস্থা এবং সংরক্ষিত নামাজের স্থান রাখা হয়। পাশাপাশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল। মুসল্লিদের সুবিধার্থে জাতীয় ঈদগাহে পর্যাপ্ত ওজুখানা, মেডিকেল টিম এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাড়ে তিন হাজার নারীসহ প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্বের আবহে জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সম্পন্ন হয়।
ইসলামে মক্কা ও মদিনা কেবল ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্থান নয়, বরং ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিশেষ বরকতময় নগরী হিসেবে পরিচিত। কোরআন ও হাদিসে এই দুই পবিত্র নগরীর নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অত্যধিক বলে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে উল্লেখিত ১০টি বিশেষ স্থান তুলে ধরা হলো- ১. মসজিদুল হারাম মক্কার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ অন্য মসজিদে এক লাখ রাকাতের সমান বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইবাদতের এই মহা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দোয়ার গুরুত্বও অত্যধিক। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬) ২. তাওয়াফের সময় কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফের সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নবীজি (সা.) দোয়া করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২) ৩. মুলতাজাম কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানকে মুলতাজাম বলা হয়। এখানে নবীজি (সা.) বুক লাগিয়ে দোয়া করেছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবিরাও এই স্থানে দোয়া করতেন। (বাইহাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৩৭৬৭) ৪. সাফা ও মারওয়া হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাফা-মারওয়া সাঈ। নবীজি (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দীর্ঘ দোয়া করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) ৫. আরাফার দিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান রুকন। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিনের দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫) ৬. মুজদালিফা আরাফাত থেকে ফেরার পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত যাপন করেন, যা ‘মাশআরুল হারাম’ নামে পরিচিত। এখানে ফজরের পর দীর্ঘ সময় দোয়া করার বর্ণনা রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) ৭. মিনা প্রান্তর মিনায় জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর দোয়া করা সুন্নত। নবীজি (সা.) প্রথম ও মধ্যম জামারাতে পাথর নিক্ষেপের পর দীর্ঘক্ষণ দোয়া করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৫২) ৮. জমজমের পানি জমজম কূপের পানি ইসলামে বরকতময় নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বলা হয়েছে, জমজম যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, আল্লাহ তা পূরণ করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২) ৯. মাকামে ইবরাহিম কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর পাথরকে মাকামে ইবরাহিম বলা হয়। এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২৫) ১০. রিয়াজুল জান্নাহ ও মসজিদে নববি মদিনায় নবীজি (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে রিয়াজুল জান্নাহ বলা হয়, যা বিশেষ ফজিলতের স্থান হিসেবে পরিচিত। পুরো মসজিদে নববিতেই ইবাদত ও দোয়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৩৫)
ভারত ও বাংলাদেশে আগামী ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিয়ে যখন শঙ্কা চলছে, তখন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিনিয়োগ করা একটি ইউটিউব চ্যানেল টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচের সবগুলোই বিনামূল্যে দেখানোর ঘোষণা দিয়েছে. তবে এই দারুণ সুবিধাটি শুধুমাত্র ব্রাজিলের ফুটবল ভক্তরাই উপভোগ করতে পারবেন. সম্প্রতি সৌদি প্রো লিগ চ্যাম্পিয়ন আল নাসরের ফুটবলার রোনালদো ব্রাজিলিয়ান স্পোর্টস মিডিয়া কোম্পানি ‘লাইভমোড’-এ বিনিয়োগ করেছেন এবং এই কোম্পানির অংশীদারত্বে থাকা ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম ‘কেজটিভি’ ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে। ব্রাজিলিয়ান ইউটিউবার ও স্ট্রিমার কাসিমিরো মিগুয়েল লাইভমোড-এর সঙ্গে অংশীদারত্ব করে ২০২২ সালে কেজটিভি চালু করেন, যা পূর্বেও বিশ্বকাপসহ অলিম্পিকের মতো বড় টুর্নামেন্ট কাভার করেছে. আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপের জন্য কেজটিভি ব্রাজিলের নাগরিকদের ফোরকে (4K) রেজোলিউশনে ম্যাচ স্ট্রিম করার পাশাপাশি তরুণ ভক্তদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক ও ইন্টারঅ্যাক্টিভ সেশনের পরিকল্পনা করেছে। ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে ভারত বা বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তরা এই ইউটিউব কিংবা টুইচ চ্যানেল খুললেও সরাসরি সম্প্রচারকৃত ম্যাচগুলো দেখতে পারবেন না, কারণ লাইভমোড কেবল ব্রাজিলিয়ান অঞ্চলের জন্যই ডিজিটাল স্বত্ব কিনেছে. তবে দক্ষিণ এশিয়ার ভক্তদের জন্য সুখবর হলো— আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা না এলেও জানা গেছে, ভারতে বিশ্বকাপ ম্যাচগুলো সম্প্রচারের দৌড়ে এগিয়ে আছে ‘জি’. তারা মূলত নিজেদের স্পোর্টস চ্যানেল এবং ‘জিফাইভ’ অ্যাপের মাধ্যমে ম্যাচগুলো সম্প্রচার করতে পারে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী। “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে। বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়। বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন। দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন। পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়। মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম। ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে। নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার এশিয়ার প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রকাশিত এই আন্তর্জাতিক তালিকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি দেশের বিজ্ঞান অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন প্রতিবছর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গবেষক, উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীদের কাজ মূল্যায়ন করে এই তালিকা প্রকাশ করে। ২০১৬ সাল থেকে চালু হওয়া এই স্বীকৃতিতে সাধারণত তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁরা নিজ নিজ গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অথবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের গবেষক মারজানা আক্তার প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় কাজ করছেন। বিশেষ করে পোল্ট্রির ভাইরাসজনিত সংক্রমণ নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আগ্রহ তৈরি করেছে। গবেষণা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিনি বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতে ‘চিকেন ইনফেকশাস অ্যানিমিয়া ভাইরাস’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে ভাইরাসটির নির্দিষ্ট একটি স্ট্রেইন দেশে প্রথম শনাক্তের দাবি নিয়ে এখনো বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ’-এ নির্বাচিত হন মারজানা আক্তার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত অল্প কয়েকজন তরুণ নারী গবেষকের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। ওই ফেলোশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। বাংলাদেশ থেকে এর আগেও কয়েকজন খ্যাতিমান নারী বিজ্ঞানী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফিরদৌসী কাদরী এবং শিশুস্বাস্থ্য গবেষক সেঁজুতি সাহা তাঁদের গবেষণা অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে মারজানা আক্তারের এই অর্জন ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নারী গবেষকদের জন্য এটি নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে তাঁর এই সাফল্য নিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।