সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
এফবিআইয়ের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির তালিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গোল্ডি ব্রার, ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার
এফবিআইয়ের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির তালিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গোল্ডি ব্রার, ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার

খুন, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর কেন্দ্রীয় অপরাধে অভিযুক্ত সতীন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে নিজেদের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির (টেন মোস্ট ওয়ান্টেড) তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে খুন, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে টার্গেট কিলিং, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অসংখ্য সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রারকে উত্তর আমেরিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ মাদক মজুত ও বিতরণের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক গ্র্যান্ডি জানিয়েছেন, গোল্ডি ব্রার একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি এবং তাকে গ্রেপ্তার করা এফবিআই ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ কারণেই তাকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত করে তার সন্ধানে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি এফবিআই-অধিভুক্ত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে তার ছবি ও তথ্য প্রচার করা হবে বলে জানান তিনি।   ১৯৫০ সালে এফবিআইয়ের 'টেন মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকা চালুর পর থেকে গোল্ডি ব্রার এই তালিকার ৫৪৩তম পলাতক আসামি। লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে অপরাধ সংঘটনের দায়ে এ পর্যন্ত ২৮ জনকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য প্রান্তে অপরাধ করে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ জন আসামি। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, গোল্ডি ব্রার চরম সহিংস এবং সবসময় সশস্ত্র থাকেন।   তিনি মূলত ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে এফবিআইয়ের টোল-ফ্রি নম্বর (১-৮০০-২২৫-৫৩২৪), স্থানীয় এফবিআই কার্যালয়, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস অথবা তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৯ মিনিট Ago
কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী
কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী

স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরল ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরিশালের এক স্কুলশিক্ষক। দীর্ঘদিনের কিডনি রোগে আক্রান্ত স্বামী সুদাম পালকে সুস্থ করে তুলতে নিজের কিডনি নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী মন্দিরা রানী পাল। কিডনি প্রতিস্থাপনের সব আইনি ও চিকিৎসাজনিত প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ভারতের দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন এই শিক্ষক দম্পতি।   বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা সুদাম পাল ২০০৩ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পরের বছর পটুয়াখালীর গলাচিপার মেয়ে মন্দিরা রানীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই মন্দিরা রানীও প্রধানশিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কটকস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে হৃদম পাল বর্তমানে সম্মান প্রথম বর্ষে এবং মেয়ে রাই পাল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে।   ২০১৯ সালে সুদাম পাল কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় ডোনার খুঁজেও ব্যর্থ হওয়ার পর, স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রী মন্দিরা রানী। এরপর আদালত এবং আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় জটিল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।   আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের কিডনি প্রতিস্থাপনের মূল প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, স্ত্রীর এমন নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা মন্দিরা রানীর মানবিকতার প্রশংসার পাশাপাশি এই দম্পতির সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছেন। দেশবাসীর কাছে নিজেদের সফল চিকিৎসার জন্য দোয়া চেয়েছেন এই শিক্ষক দম্পতি।

৫০ মিনিট Ago
নিউইয়র্কের রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার গৃহহীন, আশ্রয়কেন্দ্রসহ সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি
নিউইয়র্কের রাস্তায় প্রায় ৫ হাজার গৃহহীন, আশ্রয়কেন্দ্রসহ সংখ্যা দেড় লাখের কাছাকাছি

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম মেগাসিটি নিউইয়র্কে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শহরটিতে রাস্তা, পার্ক বা সাবওয়ের মতো উন্মুক্ত স্থানে বসবাসকারী গৃহহীনের সংখ্যা প্রায় পাঁচ হাজারে পৌঁছেছে।   তবে সরকারি ও বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষদের হিসাব ধরলে নিউইয়র্ক সিটির মোট গৃহহীন জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার। গত ১০ মার্চ রাতে পরিচালিত ‘হোমলেস আউটরিচ পপুলেশন এস্টিমেট’ বা হোপ জরিপে উন্মুক্ত স্থানে থাকা ৪ হাজার ৯৯১ জনকে শনাক্ত করা হয়, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ বেশি। তীব্র শীতের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ের বদলে মার্চ মাসে এই জরিপটি চালানো হয়েছিল।   স্টেট কম্পট্রোলার থমাস ডিনাপোলির কার্যালয়ের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৯ সালের তুলনায় শহরে মোট গৃহহীনের সংখ্যা প্রায় ৭৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, মোট গৃহহীন জনসংখ্যার ৯৭ শতাংশই কোনো না কোনো ধরনের আশ্রয়কেন্দ্রের সহায়তা পাচ্ছেন।   রাস্তার গৃহহীনদের সংখ্যা কয়েক হাজার হলেও, সামগ্রিক গৃহহীন জনসংখ্যার তুলনায় তা তুলনামূলক কম। পরিসংখ্যান বলছে, ২০১৯ সালে উন্মুক্ত স্থানে থাকা গৃহহীনের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫৮৮ জন, যা ২০২৫ অর্থবছরে বেড়ে ৪ হাজার ৫০৪ জন এবং ২০২৬ সালের জরিপে প্রায় পাঁচ হাজারে উন্নীত হয়েছে।   নিউইয়র্ক স্টেটের সার্বিক চিত্রও বেশ হতাশাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের হাউজিং অ্যান্ড আরবান ডেভেলপমেন্ট বিভাগের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত পুরো স্টেটে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৬০ জন। যদিও ২০২৪ সালের তুলনায় মোট সংখ্যা ৭ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে, তবে স্টেটের ২৫টি গৃহহীনতা-সেবা অঞ্চলের মধ্যে ১৭টিতেই এই সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে।   আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষসহ বিশাল এই গৃহহীন জনগোষ্ঠী প্রমাণ করে যে, সাশ্রয়ী মূল্যের বাসস্থানের অভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি আবাসন সংকট নিউইয়র্ক সিটি তথা পুরো স্টেটের জন্যই এখন অন্যতম প্রধান এক চ্যালেঞ্জ।

১ ঘন্টা Ago
নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, ৫ লাখ ডলার কম দামে বাড়ি কিনতে ফিলাডেলফিয়ায় ছুটছেন বাসিন্দারা
নিউইয়র্কে আকাশছোঁয়া বাড়ির দাম, ৫ লাখ ডলার কম দামে বাড়ি কিনতে ফিলাডেলফিয়ায় ছুটছেন বাসিন্দারা

আকাশছোঁয়া আবাসন ব্যয়ের হাত থেকে বাঁচতে নিউইয়র্কের বাসিন্দারা এখন তাদের পরিচিত প্রতিবেশী শহর ফিলাডেলফিয়াকে বেছে নিচ্ছেন। রিয়েল এস্টেট ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান রেডফিনের সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিউইয়র্ক মেট্রো এলাকায় একটি সাধারণ বাড়ির দাম প্রায় ৮ লাখ ৩২ হাজার ডলার।   অন্যদিকে নিউইয়র্ক থেকে মাত্র ৯০ মাইল দক্ষিণের শহর ফিলাডেলফিয়ায় একটি বাড়ির দাম গড়ে ৩ লাখ ৯ হাজার ডলার। প্রায় ৫ লাখ ২৩ হাজার ডলারের এই বিশাল ব্যবধানের কারণেই নিউইয়র্কারদের কাছে ফিলাডেলফিয়া এখন সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য।   রেডফিনের তথ্যমতে, বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে নিউইয়র্ক ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার খোঁজ করেছেন ২৭ হাজার ১৪৩ জনেরও বেশি মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১০০টি মেট্রো শহরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শহরত্যাগের হার, যেখানে ২৮ হাজার ৬৫২ জনের শহরত্যাগের হার নিয়ে তালিকার শীর্ষে রয়েছে লস অ্যাঞ্জেলেস।   তবে নিউইয়র্ক ছেড়ে যাওয়া মানুষদের কাছে ফিলাডেলফিয়ার পাশাপাশি ফ্লোরিডাও দারুণ জনপ্রিয়। স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো, মিয়ামি ও টাম্পার মতো রৌদ্রোজ্জ্বল শহরগুলোতে সবচেয়ে বেশি মানুষ নিউইয়র্ক থেকে পাড়ি জমাচ্ছেন।   রাজ্য হিসেবেও ফ্লোরিডা এখন স্থানান্তরের শীর্ষে রয়েছে; দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রায় ৩৮ হাজার ৯২২ জন মানুষ সেখানে যাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন, যা পরবর্তী তিনটি জনপ্রিয় রাজ্য অ্যারিজোনা, সাউথ ক্যারোলাইনা ও টেনেসির সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। অন্যদিকে, রাজ্যভিত্তিক শহরত্যাগের হারে ক্যালিফোর্নিয়ার পরই নিউইয়র্কের অবস্থান।   মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং বর্তমানে ঘরে বসে বা হাইব্রিড মডেলে কাজের সুযোগ প্রসারিত হওয়ার কারণেই আমেরিকানদের মধ্যে নিজেদের রাজ্য ছেড়ে সস্তা ও দূরবর্তী এলাকাগুলোতে পাড়ি জমানোর এই নতুন প্রবণতা তৈরি হয়েছে।   রেডফিন জানিয়েছে, দেশজুড়ে তাদের ব্যবহারকারীদের ১৮.৭ শতাংশই নিজেদের বর্তমান মেট্রো এলাকার বাইরে বাড়ি খুঁজছেন, যা ২০২১ সালের পর সর্বোচ্চ। যদিও বাসা খোঁজার এই প্রবণতা বেড়েছে, তবে সামগ্রিকভাবে বাড়ি কেনার হার ধীর হওয়ায় বাস্তব স্থানান্তরের সংখ্যা এখনো মহামারি চলাকালীন সময়ের তুলনায় কম রয়েছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশিদের জয়যাত্রা, কাজ করছেন এক হাজারের বেশি কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে (এনওয়াইপিডি) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূতদের অভাবনীয় উত্থান ঘটেছে। কয়েক দশক আগে এই বাহিনীতে বাংলাদেশিদের উপস্থিতি হাতেগোনা থাকলেও, বর্তমানে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন। এনওয়াইপিডি-র প্রায় ৩৩ হাজার ইউনিফর্মধারী সদস্যের মধ্যে এখন এক হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি-আমেরিকান কর্মকর্তা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।   এর পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের বিভিন্ন বেসামরিক পদেও কাজ করছেন আরও প্রায় দেড় হাজার বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কর্মী। নিউইয়র্কে বাংলাদেশি অভিবাসী সম্প্রদায়ের আকার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ বিভাগেও তাদের এই সম্মানজনক বিস্তৃতি ঘটেছে।   বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শামসুল হক ২০০৪ সালে যখন এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন, তখন সেখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। তার মতে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের মর্মান্তিক সন্ত্রাসী হামলার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশি ও মুসলিম তরুণদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়।   ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানো শামসুল হকের সামনে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে পড়াশোনা শেষে বেসরকারি খাতে ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু ৯/১১-এর হামলার পর পরিবারের সংশয়কে পেছনে ফেলে তিনি পুলিশ একাডেমিতে ভর্তির সাহসী সিদ্ধান্ত নেন। নিজ একাগ্রতার জোরে তিনি চলতি বছরের শুরুতে অবসরে যাওয়ার আগে নিউইয়র্ক পুলিশের ইতিহাসে প্রথম দক্ষিণ এশীয় এবং প্রথম মুসলিম লেফটেন্যান্ট কমান্ডার হিসেবে পদোন্নতি পেয়ে ইতিহাস গড়েন।   নতুন অভিবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নিউইয়র্ক পুলিশে প্রবেশের একটি দারুণ কার্যকর ধাপ হলো বাহিনীর বেসামরিক পদগুলো। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব না থাকলেও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, স্কুল নিরাপত্তা কিংবা জরুরি সেবা নম্বরের অপারেটর হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান অভিবাসীরা।   পরবর্তীতে নাগরিকত্ব পাওয়ার পর এই পূর্ব-অভিজ্ঞতার আলোকে তারা সহজেই পুলিশ একাডেমিতে আবেদন করে ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা হওয়ার সুযোগ পান। শামসুল হকের হিসাব অনুযায়ী, নিউইয়র্ক পুলিশের প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইউনিফর্মধারী কর্মকর্তা এই পথ অনুসরণ করেই মূল বাহিনীতে এসেছেন। এর মাধ্যমে তারা আগে থেকেই পুলিশের কর্মপরিবেশ ও দায়িত্বের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান, যা তাদের পেশাগত জীবনে দারুণ সহায়ক হয়।   কেবল সংখ্যাতেই নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পুলিশের নানা গুরুত্বপূর্ণ পদেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ কর্মকর্তাদের সংগঠনের বর্তমান সভাপতি সার্জেন্ট এরশাদুর সিদ্দিকের দেওয়া তথ্যমতে, বর্তমানে নিউইয়র্ক পুলিশে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১০ জন গোয়েন্দা (ডিটেকটিভ), ৮২ জন সার্জেন্ট, ২০ জন লেফটেন্যান্ট এবং চারজন ইন্সপেক্টর অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে কাজ করছেন।   কর্মরত এসব কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত নিজ কমিউনিটির তরুণ ও নতুন অভিবাসীদের এই সম্মানজনক পেশায় আসতে উৎসাহিত করছেন। উল্লেখ্য, বৈচিত্র্যময় নিউইয়র্ক পুলিশের বর্তমান ইউনিফর্মধারী সদস্যদের মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশ শ্বেতাঙ্গ, ৩৩ শতাংশ হিস্পানিক, ১৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ১২ শতাংশ এশীয়। একসময়ের সীমিত উপস্থিতি থেকে আজকের এই হাজার ছাড়ানো সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউনিটির পেশাগত সফলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ১৭:৪
যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা তৈরির ঘোষণা ট্রাম্পের, প্রকল্পে ১৫ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা (স্টিল প্ল্যান্ট) নির্মাণের মেগা প্রকল্প ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মিনেসোটাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মেসাবি মেটালিকস’ আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক হাজার ৫০০ কোটি (১৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার ব্যয়ে এই বিশালাকার কারখানাটি গড়ে তুলবে। সোমবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের কথা জানান।   হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬০-এর দশকের পর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত হতে যাওয়া প্রথম কোনো মেগা স্টিল প্ল্যান্ট হতে চলেছে এটি। ২০৩০ সালের মধ্যে পুরোপুরি উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ শুরু করছে প্রতিষ্ঠানটি। চালু হওয়ার পর এই কারখানা থেকে বছরে ৭৫ লাখ বা তার বেশি টন ইস্পাত উৎপাদিত হবে এবং আইওয়াতে অন্তত এক হাজার ৭৫০ জনের স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আইওয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এই কারখানাটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইস্পাত তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে লৌহ আকরিক আসবে মিনেসোটায় মেসাবি মেটালিকসেরই নতুন ২৫০ কোটি ডলারের একটি খনি থেকে।   বিদেশে উৎপাদিত পণ্যের তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে দেশীয় ইস্পাত শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে ট্রাম্প প্রশাসনের দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে এই বিশাল বিনিয়োগ আসছে। ওভাল অফিসে এই ঘোষণাকালে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক, এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংকের চেয়ারম্যান জন জোভানোভিচ, মেসাবি মেটালিকসের শীর্ষ নির্বাহী এবং আইওয়ার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা উপস্থিত ছিলেন।   হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র টেইলর রজার্স জানান, এই কারখানা মার্কিন সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোতেও কাঁচামাল সরবরাহে বড় ভূমিকা রাখবে।   আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাত্র ৪০ দিনেরও কম সময় বাকি থাকতে অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পের ঘোষণা এলো। আইওয়ায় গভর্নর পদ, সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে এবার ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস মিলছে। এরই মধ্যে স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছে, মেসাবি মেটালিকসকে কর ছাড় দেওয়ার বিষয়টি অনুমোদন করতে অঙ্গরাজ্যটির আইনপ্রণেতাদের আইনসভার বিশেষ অধিবেশনে ডাকার প্রস্তুতি চলছে।

এফবিআইয়ের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির তালিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের গোল্ডি ব্রার, ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ ডলার পুরস্কার

খুন, চাঁদাবাজি এবং মাদক ব্যবসার মতো গুরুতর কেন্দ্রীয় অপরাধে অভিযুক্ত সতীন্দরজিৎ সিং ওরফে গোল্ডি ব্রারকে নিজেদের শীর্ষ ১০ পলাতক আসামির (টেন মোস্ট ওয়ান্টেড) তালিকায় যুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। কুখ্যাত লরেন্স বিষ্ণোই অর্গানাইজড ক্রাইম গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাজুড়ে খুন, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বকে টার্গেট কিলিং, অপহরণ, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র ও মাদক পাচারের মতো অসংখ্য সহিংস অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এই গ্যাংস্টারের বিরুদ্ধে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত গোল্ডি ব্রারকে উত্তর আমেরিকায় লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাংয়ের প্রধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্রীয় আদালতে তার বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ, চাঁদাবাজির মাধ্যমে বাণিজ্যে হস্তক্ষেপ এবং অবৈধ মাদক মজুত ও বিতরণের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   এফবিআইয়ের সহকারী পরিচালক গ্র্যান্ডি জানিয়েছেন, গোল্ডি ব্রার একজন অত্যন্ত বিপজ্জনক ব্যক্তি এবং তাকে গ্রেপ্তার করা এফবিআই ও তাদের সহযোগী সংস্থাগুলোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ কারণেই তাকে মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় যুক্ত করে তার সন্ধানে ১০ লাখ (১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে প্রতিটি এফবিআই-অধিভুক্ত ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ফোনে তার ছবি ও তথ্য প্রচার করা হবে বলে জানান তিনি।   ১৯৫০ সালে এফবিআইয়ের 'টেন মোস্ট ওয়ান্টেড' তালিকা চালুর পর থেকে গোল্ডি ব্রার এই তালিকার ৫৪৩তম পলাতক আসামি। লস অ্যাঞ্জেলেস অঞ্চলে অপরাধ সংঘটনের দায়ে এ পর্যন্ত ২৮ জনকে এই তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, দেশের অন্যান্য প্রান্তে অপরাধ করে লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ জন আসামি। এফবিআইয়ের তথ্যমতে, গোল্ডি ব্রার চরম সহিংস এবং সবসময় সশস্ত্র থাকেন।   তিনি মূলত ক্যালিফোর্নিয়া এবং কানাডার বিভিন্ন অঞ্চলে আত্মগোপন করে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা থাকলে এফবিআইয়ের টোল-ফ্রি নম্বর (১-৮০০-২২৫-৫৩২৪), স্থানীয় এফবিআই কার্যালয়, নিকটস্থ মার্কিন দূতাবাস অথবা তাদের ওয়েবসাইটে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী
কিডনি দিতে স্ত্রীর ভারতে রওয়ানা: মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানশিক্ষক মন্দিরা রানী

স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরল ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বরিশালের এক স্কুলশিক্ষক। দীর্ঘদিনের কিডনি রোগে আক্রান্ত স্বামী সুদাম পালকে সুস্থ করে তুলতে নিজের কিডনি নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন স্ত্রী মন্দিরা রানী পাল। কিডনি প্রতিস্থাপনের সব আইনি ও চিকিৎসাজনিত প্রক্রিয়া শেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে ভারতের দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন এই শিক্ষক দম্পতি।   বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা সুদাম পাল ২০০৩ সাল থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। পরের বছর পটুয়াখালীর গলাচিপার মেয়ে মন্দিরা রানীর সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই মন্দিরা রানীও প্রধানশিক্ষক হিসেবে চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি কটকস্থল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে হৃদম পাল বর্তমানে সম্মান প্রথম বর্ষে এবং মেয়ে রাই পাল অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে।   ২০১৯ সালে সুদাম পাল কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লির ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত কিডনি প্রতিস্থাপনের পরামর্শ দেন। সম্ভাব্য সব জায়গায় ডোনার খুঁজেও ব্যর্থ হওয়ার পর, স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের কিডনি দেওয়ার সাহসী সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রী মন্দিরা রানী। এরপর আদালত এবং আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যাবতীয় জটিল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন তিনি।   আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে চিকিৎসকদের সঙ্গে তাদের কিডনি প্রতিস্থাপনের মূল প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে, স্ত্রীর এমন নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। নেটিজেনরা মন্দিরা রানীর মানবিকতার প্রশংসার পাশাপাশি এই দম্পতির সুস্থতা কামনা করে প্রার্থনা করছেন। দেশবাসীর কাছে নিজেদের সফল চিকিৎসার জন্য দোয়া চেয়েছেন এই শিক্ষক দম্পতি।

হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এ অংশ নেওয়া দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও তাঁদের প্রকল্পের সদস্যরা। ছবি: সংগৃহীত
এমআইটির হ্যাকাথনে স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জ জিতলেন দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) আয়োজিত হ্যাকএমআইটি ২০২৬ হ্যাকাথনের স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে সাফল্য পেয়েছেন ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটির দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী আশরাফুল ইসলাম ও মো. তানভীর ইবনে আলম। তাঁদের তৈরি মহাকাশ নিরাপত্তাবিষয়ক প্রকল্প ‘স্কুটারিস’ স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জের পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে।   হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি অনুযায়ী, এবারের আয়োজনে ৩০১টি প্রকল্প জমা পড়ে এবং ৯১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৮৮৩ জন হ্যাকার এতে অংশ নেন। স্পেসএক্সএআইয়ের ‘মেক ইট লেজেন্ডারি’ চ্যালেঞ্জে ৫০টি প্রকল্প অংশ নেয়। প্রকাশ্য বিজয়ী তালিকায় ‘স্কুটারিস’-এর নামও রয়েছে।   আশরাফুল ও তানভীরের প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা কৃত্রিম উপগ্রহ ও মহাকাশের আবর্জনা বা স্পেস ডেব্রিসের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত করা। প্রকল্পটির মাধ্যমে মহাকাশে সক্রিয় স্যাটেলাইট পরিচালনাকারীদের সম্ভাব্য ঝুঁকি বুঝতে এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবস্থা তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।   আশরাফুল ইসলামের বর্ণনা অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ একটি এআইচালিত কক্ষপথ নিরাপত্তা প্ল্যাটফর্ম। এতে সেলেসট্র্যাক থেকে সংগৃহীত ৯ হাজারের বেশি বাস্তব কক্ষপথের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় কোনো প্রশ্ন করলে ইলাস্টিকসার্চ সেই তথ্যভান্ডার থেকে সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির তথ্য খুঁজে বের করে। এরপর এআই ব্যবস্থার মাধ্যমে ঝুঁকিটি কয়েকটি ধাপে বিশ্লেষণ করা হয় এবং সম্ভাব্য করণীয় তুলে ধরা হয়।   প্রকল্পটিতে তথ্যকে শুধু লিখিত আকারে উপস্থাপন না করে দৃশ্যমান করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ত্রিমাত্রিক পৃথিবীর মডেলে বিভিন্ন স্যাটেলাইটের অবস্থান, তাদের কক্ষপথ, সম্ভাব্য সংঘর্ষের দূরত্ব এবং ঝুঁকির মাত্রা দেখানো যায়। ফলে মহাকাশের জটিল কক্ষপথ-সংক্রান্ত তথ্য তুলনামূলক সহজভাবে বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।   তানভীর ইবনে আলম জানান, হ্যাকএমআইটির বিভিন্ন চ্যালেঞ্জে অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ও তথ্য ব্যবহার করে প্রকল্প তৈরি করতে হয়। পরে বিচারকেরা প্রকল্পের সরাসরি প্রদর্শন বা ডেমো মূল্যায়ন করেন। তাঁদের দল স্পেসএক্সএআইয়ের চ্যালেঞ্জটি বেছে নেয় এবং বাস্তব মহাকাশ-সংক্রান্ত তথ্য ব্যবহার করে একটি কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির দিকে মনোযোগ দেয়।   হ্যাকএমআইটির এবারের আয়োজনে স্পেসএক্সএআই ছাড়াও ওপেনএআই, মেটা, মাইক্রোসফট, এনভিডিয়া, গুগলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের চ্যালেঞ্জ ছিল। আয়োজকদের প্রকাশ্য পরিসংখ্যানে দেখা যায়, স্পেসএক্সএআই চ্যালেঞ্জে অংশ নেওয়া প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ৫০।   আশরাফুল ইসলাম ট্রুম্যান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স ও ডেটা সায়েন্স নিয়ে পড়াশোনা করছেন। তাঁর নিজস্ব পোর্টফোলিওতে তাঁকে এআই গবেষক ও সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। সেখানে কম খরচের মাইক্রোস্কোপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে পানিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ নিয়ে তাঁর গবেষণার তথ্যও রয়েছে।   অন্যদিকে তানভীর ইবনে আলম ডেটা সায়েন্স ও জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি নাসার কেপলার ও টিইএসএস মিশন থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে গ্রহণকারী যুগল নক্ষত্র বা ইক্লিপসিং বাইনারি স্টার নিয়ে গবেষণা করছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি দুজনই বিভিন্ন গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রকল্পে সক্রিয়।   আন্তর্জাতিক পর্যায়ের এই সাফল্যকে নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন দুই শিক্ষার্থী। আশরাফুল বলেন, বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্বীকৃতি পাওয়া তাঁদের জন্য আনন্দের। বাস্তব মহাকাশের তথ্য ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে ব্যবহার করে স্যাটেলাইট সংঘর্ষের ঝুঁকি শনাক্ত ও বিশ্লেষণের একটি ব্যবহারিক উদাহরণ দেখানোই ছিল তাঁদের প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য।   হ্যাকএমআইটির প্রকাশ্য তথ্য অনুযায়ী, ‘স্কুটারিস’ পুরস্কারজয়ী প্রকল্পগুলোর তালিকায় রয়েছে। তবে প্রকাশ্য পরিসংখ্যান পাতায় প্রকল্পটির নির্দিষ্ট পুরস্কারের ধরন বা পুরস্কারের বিস্তারিত তথ্য আলাদাভাবে দেখা যাচ্ছে না।   সূত্র: প্রথম আলো, হ্যাকএমআইটি ২০২৬-এর প্রকাশ্য প্রকল্প গ্যালারি

অনিক তার মেয়ে
খুঁটিতে বাঁধা বাবাকে চা-রুটি খাওয়ানো তুবার পাশে প্রশাসন, পড়াশোনার দায়িত্ব নিলেন ইউএনও

বরিশালের উজিরপুরে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা বাবাকে চা ও রুটি খাওয়ানোর হৃদয়স্পর্শী দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনায় আসা সেই শিশুকন্যা তুবা বিনতে অরণির পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তার পড়াশোনার পুরো দায়িত্ব ব্যক্তিগতভাবে বহনের কথা জানিয়েছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। একই সঙ্গে তুবার বাবা অনিক সরদারকে চিকিৎসার জন্য মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   ঘটনাটি ঘটে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বামরাইল বাজারে। গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভোররাতে একটি দোকানে চুরির চেষ্টার অভিযোগে স্থানীয় কয়েকজন অনিক সরদারকে আটক করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে তাকে বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং মারধরের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে তার ৯ বছরের মেয়ে তুবা ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।   বাবাকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা অবস্থায় দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ে তুবা। একপর্যায়ে পাশের দোকান থেকে চা ও রুটি কিনে এনে নিজের হাতে বাবাকে খাওয়াতে শুরু করে সে। চায়ের মধ্যে রুটি ভিজিয়ে বাবার মুখে তুলে দেওয়ার পাশাপাশি মারধরের কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা পেয়েছেন কি না, সেটিও জানতে চায় শিশুটি। এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হলে অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   তুবা বামরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী। তার বাবা অনিকের পরিবারে আরও একটি ছোট মেয়ে রয়েছে। পরিবারের আর্থিক ও সামাজিক সংকটের মধ্যেও তুবার বাবার প্রতি মমতার দৃশ্যটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক আবেগ তৈরি করে। পরে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করে।   ঘটনার পর রোববার উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা ও থানার কর্মকর্তারা অনিকের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অনিকের কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানানো হয়। তাকে অটোভ্যান দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। তিনি নিজে তা চালাতে না পারলে তার স্ত্রীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথাও জানিয়েছেন ইউএনও।   অন্যদিকে অনিকের চিকিৎসার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখছে প্রশাসন। ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে বামরাইল এলাকার বাড়ি থেকে একটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যান বলে সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, তার চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে।   তুবার পড়াশোনা নিয়েও প্রশাসন সরাসরি উদ্যোগ নিয়েছে। ইউএনও মো. আলী সুজা জানিয়েছেন, তুবার লেখাপড়ার পুরো খরচ তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করবেন। ফলে বাবার চিকিৎসার পাশাপাশি শিশুটির শিক্ষাজীবন যেন থেমে না যায়, সেই বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।   তবে ঘটনাটির মূল অভিযোগ নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অনিকের বিরুদ্ধে চুরির চেষ্টা করার অভিযোগ ছিল। উজিরপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্যেও তার বিরুদ্ধে অতীতে ছোটখাটো চুরির অভিযোগ ও মাদকাসক্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে অনিক নিজে চুরির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চুরির অপবাদ দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনার পেছনে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। এসব দাবির স্বাধীন আইনি নিষ্পত্তি হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় স্থানীয়রা অনিককে আটক করে রাখলেও পুলিশ পৌঁছানোর আগেই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ হয়নি বলে উজিরপুর মডেল থানার ওসি মো. রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন। ফলে চুরির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনো আদালত বা তদন্ত সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।   এদিকে সোমবার বাবাকে তিন মাসের জন্য চিকিৎসার উদ্দেশ্যে বিদায় জানান তুবা। এ সময় সে কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং বাবাকে ভালো হয়ে ফিরে আসার প্রত্যাশা জানায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে শিশুটির বক্তব্য হিসেবে এসেছে, সে তার বাবাকে ভালো মানুষ বলে মনে করে এবং তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে বলে মনে করে।   ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের সংকটের চিত্রই সামনে আনেনি, বরং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, শিশুর সামনে একজন অভিভাবককে মারধর করা এবং সামাজিকভাবে বিপর্যস্ত একটি পরিবারের পাশে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।   সবশেষে তুবার গল্পটি মানুষের কাছে যে কারণে এতটা নাড়া দিয়েছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে একজন শিশুর বাবার প্রতি নিঃশর্ত ভালোবাসা। কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও বাবাকে না ছেড়ে চা ও রুটি নিয়ে তার পাশে দাঁড়ানো ছোট্ট তুবার সেই দৃশ্য এখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে একটি নতুন আশার গল্পে পরিণত হয়েছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শ্রীলঙ্কার নাগরিক শিবরাসা আনোজন। ছবি: সংগৃহীত
ফেসবুক পোস্টে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার দায়ে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান কর্মীর মৃত্যুদণ্ড
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৭:৬

ফেসবুকে দেওয়া মন্তব্যের মাধ্যমে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অভিযোগে সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কান প্রবাসী কর্মী আনোজন শিবরাসাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আপিল আদালত। শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিথা হেরাথ ২২ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্টে রায়ের বিষয়টি জানান। তাঁর সরকার রায় পুনর্বিবেচনার জন্য পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে।    শ্রীলঙ্কার কালমুনাইয়ের বাসিন্দা শিবরাসা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে কাজের জন্য সৌদি আরবে যান। তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত একটি মন্তব্যের পর ২০২৬ সালের ২ জুলাই তাঁকে আটক করা হয় বলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।    মামলায় প্রথমে সৌদি আরবের একটি আদালত তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করেন। সাজা কমাতে তাঁর আইনজীবীরা আপিল করেন। অন্যদিকে সাজা বাড়াতে আপিল করেন সৌদি কৌঁসুলি।    শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, আপিল আদালত কৌঁসুলির আবেদন গ্রহণ করেন। আদালত মন্তব্যটিকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে অবমাননার অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে আগের কারাদণ্ডের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই সঙ্গে আগের জরিমানাটি বাতিল করা হয়।    শিবরাসার পরিবার তাঁকে রক্ষায় সরকারের সহায়তা চেয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, সৌদি আরবের সর্বোচ্চ আদালতে রায় পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আইনি ব্যয় সরকার বহন করবে। দেশটির প্রেসিডেন্ট সৌদি বাদশাহর কাছে ক্ষমা বা সাজা লাঘবের আবেদন জানাবেন বলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন।    আপিল আদালতের রায়ের পরও আইনি ও কূটনৈতিক উদ্যোগ চলমান। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো তারিখ ঘোষণার তথ্য পাওয়া যায়নি।

মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন অভিবাসীরা। ছবি: সংগৃহীত
হন্ডুরাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৬০০ অভিবাসনপ্রত্যাশী
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৬:৫২

হন্ডুরাস থেকে যাত্রা শুরু করা ৬০০-এর বেশি অভিবাসীর একটি বহর বর্তমানে মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চল পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগোচ্ছে। ‘ফে ই এসপেরানজা’ বা ‘বিশ্বাস ও আশা’ নামের এই বহরে হন্ডুরাসের পাশাপাশি এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হাইতির নাগরিকরাও রয়েছেন।   স্প্যানিশ বার্তা সংস্থা ইএফইর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে নিউজউইক জানিয়েছে, গত ২০ সেপ্টেম্বর হন্ডুরাসের সান পেদ্রো সুলা থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৪০০ অভিবাসী ছোট ছোট দলে উত্তরমুখী যাত্রা শুরু করেন। তাদের প্রথম লক্ষ্য ছিল গুয়াতেমালার সীমান্তে পৌঁছানো।   এরপর মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে পৌঁছে বহরটির সদস্যসংখ্যা বাড়তে থাকে। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এতে ৬০০-এর বেশি মানুষ যুক্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। গত বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০০ সদস্য নিয়ে দলটি মেক্সিকোর সীমান্তবর্তী শহর তাপাচুলায় পৌঁছেছিল। পরে দক্ষিণ মেক্সিকোতে আগে থেকেই অবস্থান করা আরও অভিবাসীরা তাদের সঙ্গে যোগ দেন।   ফলে বর্তমানে ৬০০-এর বেশি মানুষের এই বহরকে শুধু হন্ডুরাস থেকে যাত্রা করা অভিবাসীদের দল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এতে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। অভিবাসীদের কয়েকজন ইএফইকে জানিয়েছেন, হন্ডুরাস ছাড়ার পেছনে অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক সংকট ও কাজের অভাব। দুই সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে যাত্রা করা এক নারী জানান, দেশে তার জন্য কোনো কাজ নেই। আরেক অভিবাসী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানো কঠিন হবে জানলেও তিনি চেষ্টা চালিয়ে যেতে চান।   সান পেদ্রো সুলার বাসিন্দা হোসে সেলাইয়া জানান, তিনি ২০ সেপ্টেম্বর পরিবারের সাত সদস্যকে নিয়ে হন্ডুরাস ছাড়েন। যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে কাজ করে দেশে থাকা স্বজনদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ইচ্ছার কথা জানান তিনি। অভিবাসীদের কেউ তাদের পরিচালনা করছে না বলেও দাবি করেন সেলাইয়া। তার ভাষায়, তাদের সামনে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো কেউ নেই, ক্ষুধা ও প্রয়োজনই তাদের এগিয়ে নিচ্ছে।   তবে এই বহর এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত থেকে অনেক দূরে। শেষ পর্যন্ত কতজন উত্তর মেক্সিকো পর্যন্ত যেতে পারবেন বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। অতীতেও মেক্সিকো হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাওয়া অভিবাসী বহরের অনেকগুলো সংগঠিত দল হিসেবে মার্কিন সীমান্তে পৌঁছাতে পারেনি।   মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ অতীতেও উত্তরমুখী অভিবাসী বহরগুলোকে থামিয়ে ছত্রভঙ্গ করেছে। কখনো অভিবাসীদের আটক করা হয়েছে, আবার কখনো তাদের মেক্সিকোর অন্য এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চলতি বছর আগস্টেও তাপাচুলা থেকে প্রায় ৮০০ অভিবাসীর একটি বহর মেক্সিকো সিটির দিকে যাত্রা করেছিল। ওই দলটির অনেক সদস্য যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিবর্তে মেক্সিকোতেই বৈধভাবে কাজ ও বসবাসের সুযোগ পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।   এবারের বহরের যাত্রা এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর নীতি অনুসরণ করছে। ট্রাম্প ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর দক্ষিণ সীমান্তে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। সীমান্ত নিরাপত্তায় সামরিক ও ন্যাশনাল গার্ড সদস্য মোতায়েন, আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশের সুযোগ সীমিত করা এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকারীদের আটক ও ফেরত পাঠানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   এসব নীতির পর যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে অবৈধ প্রবেশের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। নিউজউইকের প্রতিবেদনে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, আগস্ট ২০২৬-এ দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ৮ হাজার ৮৭০টি গ্রেপ্তারের ঘটনা রেকর্ড করেছে মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাইডেন প্রশাসনের সময়ের মাসিক গড়ের তুলনায় এটি ৯৪ শতাংশ কম। একই মাসে সীমান্তরক্ষী বাহিনী কাউকে যুক্তরাষ্ট্রে ছেড়ে দেয়নি এবং টানা ১৬ মাস ধরে এমন পরিস্থিতি বজায় রয়েছে।   মার্কিন কর্তৃপক্ষ নতুন বহরের সদস্যদের অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা না করারও সতর্কবার্তা দিয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর তেগুসিগালপায় মার্কিন দূতাবাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানায়, আইন ভঙ্গ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাদের ফেরত পাঠানো হবে। বিপজ্জনক যাত্রা থেকে বিরত থাকতে এবং মানবপাচারকারীদের কথায় বিশ্বাস না করতেও অভিবাসীদের সতর্ক করা হয়।   বহরটি যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দলের কয়েকজন রাজনীতিক এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও অভিবাসন ইস্যুতে গুরুত্ব দিয়েছেন। অন্যদিকে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জরি টেলর গ্রিন এই বহরের সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলে দাবি করেছেন, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অভিবাসন ইস্যুটিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তার এই বক্তব্য একটি রাজনৈতিক দাবি, যার পক্ষে প্রতিবেদনে স্বাধীন কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি।   মেক্সিকোর দক্ষিণ সীমান্তে তাপাচুলা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকাগামী অভিবাসীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি এলাকা। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতি কঠোর হওয়ার পর শহরটিতে বহু অভিবাসী আটকে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। চলতি বছরের আগস্টে ইএফই জানিয়েছিল, বিভিন্ন দেশের কয়েক হাজার অভিবাসী মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলে নথিপত্র ও বৈধ অবস্থানের সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।   বর্তমান বহরটি শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয় এবং মেক্সিকোর কর্তৃপক্ষ তাদের কীভাবে মোকাবিলা করে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তে পৌঁছানোর পর এই অভিবাসীরা প্রবেশের চেষ্টা করবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।   সূত্র: নিউজউইক

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে হ্রদের পানিতে ডুবে প্রাণ হারানো ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে পানিতে ডুবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৬:২৬

লন্ডন থেকে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়ে হ্রদের পানিতে ডুবে মোহাম্মদ নাঈম ইসলাম (২০) নামে এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৬ সেপ্টেম্বর এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টার অনুসন্ধানের পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   নাঈম লন্ডন থেকে দুই বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে ওয়েলসে বেড়াতে গিয়েছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে আরটিভি অনলাইন জানিয়েছে, একটি লেকের পাশে ওজু করার সময় প্রবল বাতাসে ভারসাম্য হারিয়ে পানিতে পড়ে যান তিনি। নাঈম সাঁতার জানতেন না বলে জানা গেছে।   নাঈম পানিতে পড়ে যাওয়ার পর পাশে থাকা এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তিনি পানিতে নেমে নাঈমকে খুঁজতে থাকলেও শেষ পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করতে পারেননি। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। এরপর স্থানীয় উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ লেকে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু করে।y   প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা ধরে অনুসন্ধানের পর নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ওয়েলসের একটি হ্রদে ২০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ বাংলাদেশি যুবকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল ও পুলিশ অনুসন্ধান চালানোর কথা জানানো হয়েছিল।   নাঈমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশে তার পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। নাঈমের মামা মাওলানা সিদ্দিকুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পরিবার জানতে পারে স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে। খবর পাওয়ার পর নাঈমের বাবা মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম পূর্ব লন্ডন থেকে দ্রুত ওয়েলসের উদ্দেশে রওনা হন।   পরিবারের দ্বিতীয় সন্তান নাঈম যুক্তরাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতেন। তার বাবা কেন্দ্রীয় কৃষক দলের একজন সদস্য বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নে। নাঈমের মরদেহ ২৮ সেপ্টেম্বর ওয়েলস থেকে লন্ডনে নেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে তার জানাজার সময় ও স্থান এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে পরে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।   ওয়েলসের প্রাকৃতিক হ্রদ ও জলাশয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে স্থানীয়ভাবে নিয়মিত সতর্ক করা হয়। বিশেষ করে ঠান্ডা পানি, প্রবল বাতাস, পানির গভীরতা এবং তলদেশের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি সাঁতার জানা ব্যক্তিদের জন্যও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। নাঈমের মৃত্যুর ঘটনায় যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   সূত্র: আরটিভি অনলাইন, দ্য ডেইলি ড্যাজলিং ডন

কন্যাসন্তান জন্মের পর এথেন্সের ক্লিনিকে চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে ক্রিস্টিনা রাপতি জেলেপি এবং তার স্বামী কনস্টান্টিনোস। ছবি: সংগৃহীত
২২ বছর হিমায়িত থাকা ভ্রূণ থেকে ৫৪ বছর বয়সে কন্যাসন্তানের মা হলেন গ্রিসের নারী
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২৬ ৫:৪৫

গ্রিসের এক দম্পতি ২২ বছর আগে সংরক্ষণ করে রাখা ভ্রূণ ব্যবহার করে কন্যাসন্তানের বাবা-মা হয়েছেন। এর কয়েক মাস আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় তাদের ২১ বছর বয়সী একমাত্র ছেলে মারা গিয়েছিল। সন্তানের মৃত্যুর পর নতুন করে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও গ্রিসের আইনে নারীদের আইভিএফের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৫৪ বছর হওয়ায় তাদের সামনে ছিল সময়ের কঠিন চাপ।   ৫৪ বছর বয়সী ক্রিস্টিনা রাপতি-তজেলেপি সেপ্টেম্বরের শুরুতে এথেন্সে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। চিকিৎসকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিশুটির জন্য ব্যবহৃত ভ্রূণটি ২০০৪ সালের ১৭ মার্চ সংরক্ষণ করা হয়েছিল। অর্থাৎ ভ্রূণটি সংরক্ষণের পর থেকে শিশুটির জন্ম পর্যন্ত সময় ছিল ২২ বছর পাঁচ মাসেরও বেশি।   ক্রিস্টিনা ও তার স্বামী কনস্তান্তিনোস রাপতিকে প্রায় ৩০ বছর আগে পরিচয়ের পর বিয়ে করেন। সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও তিন বছর সফল না হওয়ায় তারা আইভিএফের মাধ্যমে সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ২০০৪ সালে প্রথমবারের চেষ্টাতেই ক্রিস্টিনা গর্ভবতী হন এবং একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেন। তাদের ছেলে জর্জ একই ভ্রূণ সংরক্ষণ প্রক্রিয়া থেকে জন্ম নেওয়া সন্তানদের একজন ছিল।   তবে প্রসবের সময় জটিলতার কারণে জর্জকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দিতে হয়। চিকিৎসকেরা তখন ক্রিস্টিনাকে ভবিষ্যতে আরেকটি সন্তান নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। তার জরায়ুর গঠনসংক্রান্ত কিছু উদ্বেগের কারণে দ্বিতীয়বার গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে তাদের জানানো হয়। ফলে আরও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও দম্পতি সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। তবে আইভিএফের সময় তৈরি হওয়া অবশিষ্ট ১২টি ভ্রূণ তারা ক্লিনিকে সংরক্ষণ করে রাখেন।   ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ২১ বছর বয়সী জর্জ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গভীর শোকে ভেঙে পড়েন ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোস। কিন্তু সেই সময়ই তারা সংরক্ষিত ভ্রূণগুলোর কথা আবার ভাবতে শুরু করেন।   ক্রিস্টিনা বলেন, ছেলেকে হারানোর পর তারা মনে করেছিলেন, আরেকটি সন্তান হয়তো তাদের জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করার শক্তি দেবে। তার স্বামীও মনে করতেন, জর্জ চাইত তারা আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরুক এবং পরিবার হিসেবে সুখী হওয়ার চেষ্টা করুক।   কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি চাপ তৈরি হয়। গ্রিসের আইনে নারীদের সহায়ক প্রজনন বা আইভিএফ চিকিৎসা নেওয়ার সর্বোচ্চ বয়স ৫৪ বছর। ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে জাতীয় সহায়ক প্রজনন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও প্রয়োজন হয়। ২০২২ সালের আইন সংশোধনের মাধ্যমে গ্রিসে এই বয়সসীমা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ৫৪ করা হয়েছিল।   ফলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরেই চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু করতে হয় ক্রিস্টিনাকে। ২৩ ডিসেম্বর একটি ভ্রূণ তার জরায়ুতে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসক কনস্তান্তিনোস পান্তোসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই ভ্রূণটি ২০০৪ সালের একই ব্যাচের ছিল, যে ব্যাচ থেকে জর্জও জন্মেছিল।   চিকিৎসকদের মতে, গর্ভধারণের পুরো সময়টি প্রত্যাশার তুলনায় ভালোভাবেই এগিয়েছে। ৩৯ সপ্তাহ দুই দিন পর ক্রিস্টিনা একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। শিশুটির ওজন ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৪৯ কেজি। চিকিৎসক দল জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফলভাবে জন্ম নেওয়ার এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের দিক থেকেও উল্লেখযোগ্য। তাদের দাবি, আন্তর্জাতিক চিকিৎসা সাহিত্যে এর আগে ১৮ বছর তিন মাস এবং ১৭ বছর সংরক্ষিত ভ্রূণ থেকে সফল জন্মের ঘটনা নথিভুক্ত ছিল।   শিশুটির জন্মের পর পরিবারটির দীর্ঘ শোকের মধ্যেও নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। ক্রিস্টিনা বলেন, মেয়েকে প্রথমবার কোলে নেওয়ার মুহূর্তে তাদের মনে হয়েছে যেন আবার আলো ফিরে এসেছে। তার স্বামীর ভাষায়, এই সন্তান তাদের জীবনে নতুন করে শুরু করার সুযোগ দিয়েছে।   তবে মেয়ের জন্মের পরও তাদের আরেকটি ইচ্ছা পূরণ হওয়ার পথে বাধা রয়েছে। তাদের আরও নয়টি ভ্রূণ এখনো সংরক্ষিত রয়েছে এবং তারা মেয়েটির জন্য একজন ভাই বা বোন চান। কিন্তু গ্রিসের বর্তমান বয়সসীমার কারণে ক্রিস্টিনা দেশটিতে আর আইভিএফ করতে পারবেন না। তাই আইন পরিবর্তন না হলে তারা বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও ভাবছেন।   এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রিসের আইভিএফ আইন পরিবর্তনের দাবিও উঠেছে। চিকিৎসক পান্তোস মনে করেন, বয়সসীমা প্রয়োজন হলেও তা শুধু জন্মতারিখের ওপর নির্ভর করে কঠোরভাবে প্রয়োগ না করে ব্যক্তির স্বাস্থ্য, চিকিৎসাগত পরিস্থিতি এবং পারিবারিক বাস্তবতাও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।   গ্রিসে সন্তান জন্মদানের বয়সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়েছে। ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে প্রথমবার মা হওয়ার গড় বয়স ছিল ৩১ দশমিক ২ বছর, যেখানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের গড় ছিল ২৯ দশমিক ৯ বছর।   তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে বেশি বয়সে গর্ভধারণের সঙ্গে বাড়তি ঝুঁকি থাকতে পারে। এ কারণেই গ্রিসে ৫০ থেকে ৫৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমোদন ও চিকিৎসাগত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।   ক্রিস্টিনা ও কনস্তান্তিনোসের কাছে নতুন সন্তান তাদের হারানো ছেলের বিকল্প নয়। বরং ছেলেকে হারানোর পরও জীবনকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার একটি নতুন অধ্যায় হিসেবে তারা মেয়ের জন্মকে দেখছেন।   সূত্র: Newsweek

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়