যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে একের পর এক আসনে জয় পাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনও হাতছাড়া হয়েছে। এনবিসি নিউজ ও সিএনএনের নির্বাচনী পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। এমনটি হলে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে দলটি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি আসনে জয় নিশ্চিত করেন। রাত ১০টার দিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ঘোষিত ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের জয়ী আসনের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জয়ী আসন ছিল ৬২টি। তবে ওই সময়ও অনেক আসনের ভোট গণনা বাকি ছিল। প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে নির্বাচন হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগও প্রত্যাশিত সুবিধা এনে দিতে পারেনি। ওই অঙ্গরাজ্যের অন্তত চারটি আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়েছেন বা জয়ের পথে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনায় ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও কৃষক জেমি অ্যাগার রিপাবলিকান প্রার্থী জেনিফার ক্যাপস বালকমকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পূর্বাভাসে অ্যাগারের পক্ষে ৬০ দশমিক ১ শতাংশ এবং বালকমের পক্ষে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট দেখানো হয়। নিউ জার্সিতেও রিপাবলিকানদের একটি আসন হাতছাড়া হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেবেকা বেনেট রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টম কিন জুনিয়রকে ২০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এ ছাড়া কেনটাকির ষষ্ঠ কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যাক ডেম্বোর জয়ের খবরও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব ফল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দুর্বল অবস্থানের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্ব পেয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিসের নেতৃত্বে দলটি এসব ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালায়। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন নির্বাচনের আগে নিজের দলের প্রতি সমর্থন ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে বলেও রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ রয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা ও যাচাই করতে সময় লাগতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সব আসনের ফল নির্ধারণে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্বাভাস থাকলেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিবিএস নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস। রিপাবলিকান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন আটলান্টার সাবেক এই মেয়র। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে নতুন নজির তৈরি হলো। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে তাঁর জয় নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচনে বটমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন। নির্বাচনের রাতে জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকার ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই বটমস এগিয়ে ছিলেন। আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের প্রকাশিত ফলাফলে ভোট গণনার এক পর্যায়ে তিনি ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, আর জ্যাকসনের পক্ষে ছিল ৪২ শতাংশ। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে বটমসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ৫৬ বছর বয়সী কিশা ল্যান্স বটমস এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আটলান্টার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের জনসম্পৃক্ততা কার্যালয়ের পরিচালক ছিলেন। রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বটমস। পাশাপাশি শিক্ষক, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে নিজের নির্বাচনী অবস্থান তুলে ধরেন এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন ছিলেন একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী। তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন পান। জ্যাকসন কর কমানো, জননিরাপত্তা জোরদার ও ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বটমসের কাছে পরাজিত হন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জর্জিয়ার গভর্নর পদ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয় পেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জর্জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। বটমসের জয় তাই শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়, অঙ্গরাজ্যটির ক্ষমতার সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সাইদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এল-সাইদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৩১ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্স পেয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৯৮ হাজার ১৬৩। ডেটলাইন ডেট্রয়েটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। গণনায় এল-সাইদ পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৫৪ মিনিটের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এল-সাইদের সমর্থন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়। অর্থাৎ ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটের হারেও পরিবর্তন আসছে। মিশিগানের এই সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের যেমন জোর প্রচেষ্টা রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের লক্ষ্য আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া। তবে প্রাথমিক ফলাফলে এল-সাইদ এগিয়ে থাকলেও এখনই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই। ভোট গণনা চলমান রয়েছে এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী রয় কুপার। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে কুপারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়েও এটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে কুপার পেয়েছেন ২১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৬ ভোট, যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে মাইকেল হোয়াটলি পেয়েছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজার ১২৯ ভোট, অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে কুপারের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে এসব ভোটের হিসাব নির্বাচনের সময়কার প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে, চূড়ান্ত প্রত্যয়িত ফল নয়। ৬৯ বছর বয়সী রয় কুপার উত্তর ক্যারোলাইনার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলি আগে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পক্ষে সরাসরি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই জয়ের ফলে অবসর নিতে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের স্থলাভিষিক্ত হবেন কুপার। উত্তর ক্যারোলাইনা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়াকে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটির একটি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে মোট আসন ১০০টি। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন। উত্তর ক্যারোলাইনায় কুপারের জয় সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে দলটিকে এগিয়ে দিলেও সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফলের ওপর। একই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেও ভোট হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও সিবিএস নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সাইদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এল-সাইদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৩১ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্স পেয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৯৮ হাজার ১৬৩। ডেটলাইন ডেট্রয়েটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। গণনায় এল-সাইদ পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৫৪ মিনিটের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এল-সাইদের সমর্থন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়। অর্থাৎ ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটের হারেও পরিবর্তন আসছে। মিশিগানের এই সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের যেমন জোর প্রচেষ্টা রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের লক্ষ্য আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া। তবে প্রাথমিক ফলাফলে এল-সাইদ এগিয়ে থাকলেও এখনই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই। ভোট গণনা চলমান রয়েছে এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী রয় কুপার। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে কুপারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়েও এটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে কুপার পেয়েছেন ২১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৬ ভোট, যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে মাইকেল হোয়াটলি পেয়েছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজার ১২৯ ভোট, অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে কুপারের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে এসব ভোটের হিসাব নির্বাচনের সময়কার প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে, চূড়ান্ত প্রত্যয়িত ফল নয়। ৬৯ বছর বয়সী রয় কুপার উত্তর ক্যারোলাইনার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলি আগে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পক্ষে সরাসরি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই জয়ের ফলে অবসর নিতে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের স্থলাভিষিক্ত হবেন কুপার। উত্তর ক্যারোলাইনা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়াকে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটির একটি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে মোট আসন ১০০টি। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন। উত্তর ক্যারোলাইনায় কুপারের জয় সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে দলটিকে এগিয়ে দিলেও সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফলের ওপর। একই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেও ভোট হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও সিবিএস নিউজ।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ৪০ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ কমিয়ে ৩২ ঘণ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। এ জন্য কংগ্রেসে ‘থার্টি-টু আওয়ার ওয়ার্কউইক অ্যাক্ট’ নামে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মীদের সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা কমলেও বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা আগের মতো রাখার বিধান থাকবে। গত সেপ্টেম্বরে সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও প্রতিনিধি মার্ক তাকানো বিলটি উত্থাপন করেন। তবে এটি এখনো আইনে পরিণত হয়নি। প্রস্তাবটি কংগ্রেসের সংশ্লিষ্ট কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। বিল অনুযায়ী, কর্মসপ্তাহের নির্ধারিত সময় ধাপে ধাপে ৪০ ঘণ্টা থেকে ৩২ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রতি বছর দুই ঘণ্টা করে কর্মঘণ্টা কমানোর কথা বলা হয়েছে। পরিবর্তনটি কার্যকর হলে নির্ধারিত সময়ের বেশি কাজ করলেই কর্মীরা অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পাওয়ার যোগ্য হবেন। সপ্তাহে ৩২ ঘণ্টার বেশি কাজের জন্য সাধারণ মজুরির দেড় গুণ হারে ওভারটাইম দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একইভাবে, দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত পারিশ্রমিকের বিধান রাখা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে দৈনিক কর্মঘণ্টার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। কোনো কর্মী দিনে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য সাধারণ মজুরির দেড় গুণ হারে পারিশ্রমিক দিতে হবে। আর দিনে ১২ ঘণ্টার বেশি কাজ করালে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দ্বিগুণ হারে পারিশ্রমিক দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মঘণ্টা কমানোর কারণে কোনো কর্মীর মোট বেতন বা অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা কমানো যাবে না। বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের মতে, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার উন্নতির ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। কিন্তু সেই উৎপাদনশীলতার আর্থিক সুফল সাধারণ কর্মীদের তুলনায় বড় প্রতিষ্ঠান ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছেই বেশি যাচ্ছে। তাই কর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন এবং কাজ ও ব্যক্তিগত জীবনের মধ্যে ভারসাম্য তৈরিতে কর্মসপ্তাহ কমানো জরুরি বলে মনে করেন তিনি। প্রস্তাবটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় শ্রমিক সংগঠনগুলোর মধ্যে অন্যতম এএফএল-সিআইও এবং ইউনাইটেড অটো ওয়ার্কার্সসহ বেশ কয়েকটি শ্রমিক অধিকার সংগঠন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ী সংগঠন ও ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এ উদ্যোগের বিরোধিতা করা হয়েছে। তাদের উদ্বেগ, কর্মঘণ্টা কমলেও বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অপরিবর্তিত রাখার বাধ্যবাধকতা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় বাড়াতে পারে। প্রস্তাবটি এখনো কংগ্রেসের উভয় কক্ষে অনুমোদন পায়নি। প্রতিনিধি পরিষদে মার্ক তাকানোর উত্থাপিত বিলটি শিক্ষা ও শ্রমবিষয়ক কমিটিতে এবং সিনেটে বার্নি স্যান্ডার্সের উত্থাপিত বিলটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শ্রম ও পেনশনবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে এখনই ৩২ ঘণ্টার কর্মসপ্তাহ চালু হচ্ছে না। প্রস্তাবটি আইন হিসেবে পাস হলে তবেই নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরিবর্তন কার্যকর হবে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সের কার্যালয়, প্রতিনিধি মার্ক তাকানোর কার্যালয় ও এনজে ডটকম।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কিশা ল্যান্স বটমস। রিপাবলিকান প্রার্থী ও ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসনকে হারিয়ে জয় পেয়েছেন আটলান্টার সাবেক এই মেয়র। তাঁর জয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কোনো অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচিত হওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী হিসেবে নতুন নজির তৈরি হলো। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে তাঁর জয় নিশ্চিত করা হয়। নির্বাচনে বটমসের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন রিপাবলিকান ব্যবসায়ী রিক জ্যাকসন। নির্বাচনের রাতে জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকার ভোট গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই বটমস এগিয়ে ছিলেন। আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের প্রকাশিত ফলাফলে ভোট গণনার এক পর্যায়ে তিনি ৫৮ শতাংশ ভোট পেয়েছিলেন, আর জ্যাকসনের পক্ষে ছিল ৪২ শতাংশ। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে বটমসকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ৫৬ বছর বয়সী কিশা ল্যান্স বটমস এর আগে ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত আটলান্টার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। এ ছাড়া হোয়াইট হাউসের জনসম্পৃক্ততা কার্যালয়ের পরিচালক ছিলেন। রাজনীতি ও প্রশাসনে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণে জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে তাঁর প্রার্থিতা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছিল। নির্বাচনী প্রচারে অর্থনৈতিক বৈষম্য কমানো, স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং অঙ্গরাজ্যের ন্যূনতম মজুরি ঘণ্টায় ১৫ ডলারে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বটমস। পাশাপাশি শিক্ষক, অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও পুলিশ সদস্যদের বেতন বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে নিজের নির্বাচনী অবস্থান তুলে ধরেন এই ডেমোক্র্যাট প্রার্থী। অন্যদিকে, রিপাবলিকান প্রার্থী রিক জ্যাকসন ছিলেন একজন ধনকুবের ব্যবসায়ী। তিনি নিজের নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করেন এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন পান। জ্যাকসন কর কমানো, জননিরাপত্তা জোরদার ও ব্যবসাবান্ধব নীতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বটমসের কাছে পরাজিত হন তিনি। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দুই দশকের বেশি সময় ধরে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে থাকা জর্জিয়ার গভর্নর পদ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। ১৯৯৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটিতে গভর্নর নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয় পেলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে জর্জিয়া গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। বটমসের জয় তাই শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অর্জন নয়, অঙ্গরাজ্যটির ক্ষমতার সমীকরণেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। সূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে একের পর এক আসনে জয় পাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনও হাতছাড়া হয়েছে। এনবিসি নিউজ ও সিএনএনের নির্বাচনী পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। এমনটি হলে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে দলটি। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি আসনে জয় নিশ্চিত করেন। রাত ১০টার দিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ঘোষিত ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের জয়ী আসনের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জয়ী আসন ছিল ৬২টি। তবে ওই সময়ও অনেক আসনের ভোট গণনা বাকি ছিল। প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে নির্বাচন হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগও প্রত্যাশিত সুবিধা এনে দিতে পারেনি। ওই অঙ্গরাজ্যের অন্তত চারটি আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়েছেন বা জয়ের পথে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনায় ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও কৃষক জেমি অ্যাগার রিপাবলিকান প্রার্থী জেনিফার ক্যাপস বালকমকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পূর্বাভাসে অ্যাগারের পক্ষে ৬০ দশমিক ১ শতাংশ এবং বালকমের পক্ষে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট দেখানো হয়। নিউ জার্সিতেও রিপাবলিকানদের একটি আসন হাতছাড়া হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেবেকা বেনেট রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টম কিন জুনিয়রকে ২০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এ ছাড়া কেনটাকির ষষ্ঠ কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যাক ডেম্বোর জয়ের খবরও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব ফল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দুর্বল অবস্থানের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্ব পেয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিসের নেতৃত্বে দলটি এসব ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালায়। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন নির্বাচনের আগে নিজের দলের প্রতি সমর্থন ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে বলেও রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ রয়েছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা ও যাচাই করতে সময় লাগতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সব আসনের ফল নির্ধারণে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্বাভাস থাকলেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিবিএস নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বিধ্বস্ত একটি ব্যক্তিগত বিমানের লেজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ মাইল দূরে উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির সদস্য টম চ্যাপম্যান জানান, বিমানের লেজের সঙ্গে যুক্ত ‘লেফট এলিভেটর’ নামের নিয়ন্ত্রণ অংশটি তিনটি খণ্ডে পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বের মধ্যে এসব অংশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটিতে আঘাত করার আগেই বিমানের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। গত রোববার (১ নভেম্বর) ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্স এলাকায় লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাত যাত্রী এবং দুই পাইলটসহ মোট নয়জনের সবাই নিহত হন। বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার সড়কে আছড়ে পড়ে এবং সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিমানের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব অংশ স্পর্শ বা সরিয়ে না ফেলে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এনটিএসবি। উদ্ধার হওয়া অংশটির নাম ‘লেফট এলিভেটর’। এটি বিমানের পেছনের অনুভূমিক লেজের সঙ্গে যুক্ত একটি চলমান নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ, যা বিমানের নাক ওপরে বা নিচে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তদন্তকারীদের মতে, এত দূরে তিন খণ্ডে এর সন্ধান পাওয়া বিমানটি আঘাতের আগেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছিল কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তবে এই অংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, নাকি নিচে নামার সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে এটি ভেঙে যায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার আগে বিমানের পাইলট ও সহকারী পাইলটের সঙ্গে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর বিমানটির কর্মীরা বরফ জমা, মাঝারি মাত্রার বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং সহকারী পাইলট জরুরি বিপৎসংকেত পাঠান। যোগাযোগের রেকর্ডে বিমানটির দ্রুত উচ্চতা হারানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন (৪৫), তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প (৪০), তাঁদের দুই সন্তান এমা (৪) ও চার্লি (২), পরিবারের পরিচর্যাকারী এবং দুই পারিবারিক বন্ধু। বিমানের পাইলট ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জেফ গ্রেগরি এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। নাথালিয়া ছোটবেলা থেকেই বিমান চালানোর প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ২০২৩ সালে স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি ব্যক্তিগত বিমান চালানোর লাইসেন্স অর্জন করেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমান চালানোই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন। এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিমানের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছেন এনটিএসবি কর্মকর্তারা। তদন্তকারীরা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, আশপাশে বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলে সেটি সরানো বা স্পর্শ করা যাবে না। বরং দ্রুত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা তদন্ত সংস্থাকে জানাতে হবে। সংস্থাটির মতে, উদ্ধার হওয়া লেজের অংশ দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানের অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও রয়টার্স।
রাজনীতি
আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দিলে আপনারা ‘পাগল’, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদিদের সতর্ক বললেন ট্রাম্প
‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলে ধর্ষণের অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
‘নিকি মিনাজকে এত সুন্দর আগে লাগেনি’ বললেন ট্রাম্প, রিপাবলিকানদের প্রচারে র্যাপার
২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিলেন হলিউড অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
মতামত
জুয়েল সাদাত
বিশ্ব
View moreযুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়তে গেলে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড থাকার খরচের জন্য দেখাতে হবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বা পড়াশোনার খরচের বাইরে আলাদাভাবে থাকতে হবে। বর্তমানে লন্ডনে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে ১ হাজার ১৭১ পাউন্ডের আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। নতুন নিয়মে লন্ডনে মাসিক প্রয়োজনীয় অর্থ বাড়ছে ৪১ পাউন্ড এবং অন্যান্য এলাকায় ৩২ পাউন্ড। নয় মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের ক্ষেত্রে লন্ডনে মোট ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে, যা বর্তমানে ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে নয় মাসের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড, যা আগে ছিল ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩৬৯ থেকে ২৮৮ পাউন্ডের ব্যবস্থা করতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শুধু থাকা-খাওয়ার খরচ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বকেয়া টিউশন ফি, ভিসা আবেদনের ফি এবং বাধ্যতামূলক অভিবাসন স্বাস্থ্য সারচার্জও বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে। সাধারণ নিয়মে প্রয়োজনীয় অর্থ আবেদনকারীর নিজের অথবা মা-বাবার ব্যাংক হিসাবে টানা অন্তত ২৮ দিন জমা থাকতে হবে। ব্যাংক হিসাবের শেষ দিনের ব্যালান্সসহ আর্থিক নথি ভিসা আবেদনের তারিখের ৩১ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। তবে অনুমোদিত শিক্ষাঋণ অথবা সরকারি ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেও এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব। তবে যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে টানা অন্তত ১২ মাস বসবাস করেছেন, এমন শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত নতুন করে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবাসনের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়া থাকলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সেই অর্থ জীবনযাত্রার ব্যয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এই ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমাও ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের শর্তও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অভিবাসন বিধিমালার পরিবর্তনসংক্রান্ত নথিতে নতুন অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ভিসা আবেদনের তারিখের ভিত্তিতে পুরোনো ও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২৯ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিলে পুরোনো নিয়ম এবং ৩০ নভেম্বর বা তার পরে আবেদন করলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। এদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে স্পনসরড স্টাডি ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই প্রবণতা তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করছে। নতুন আর্থিক শর্তের কারণে যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যয় আরও সতর্কভাবে হিসাব করতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, টিউশন ফি, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক ব্যালান্সের বিষয়টিও আগেভাগে পরিকল্পনায় রাখতে হবে। ৩০ নভেম্বরের আগে বা পরে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নতুন আর্থিক শর্ত এবং ২৮ দিনের ব্যাংক ব্যালান্সের নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।
ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে। সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।
বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত ও অভিযোগকে ‘গতানুগতিক উসকানি’ এবং ‘অযৌক্তিক বক্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এফবিআইয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এ চুরির সঙ্গে জড়িত। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, দেশটির বিরুদ্ধে ভুল ধারণা ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করতে চায় ওয়াশিংটন। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। বাইন্যান্স গত শুক্রবার জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে হ্যাকাররা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এফবিআই শনিবার জানায়, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। সংস্থাটির মতে, একই গোষ্ঠী গত বছর ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিল। এফবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়েছে, চুরি করা ডিজিটাল সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব সম্পদ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। অর্থ পাচার ঠেকাতে ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ঠিকানাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই। এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিপরীতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর ১ নভেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন আবার চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকেরা প্রায় ৪৬৪ কোটি ডলারের সম্পদ উত্তোলন করেন। উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অন্যান্য অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা দেশটি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, এ ধরনের অর্থ দেশটির অর্থনীতি সচল রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় মেটানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ২০২২ সালে জানিয়েছিল, আগের পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায় ১১০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে। অতীতেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বড় সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে হামলা, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্স হ্যাকিং এবং ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওয়ানাক্রাই ম্যালওয়্যার হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সাধারণত অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সিউল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, বাইন্যান্সের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়াই দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। বাইন্যান্সের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর কোরিয়া আবারও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে। ফলে ক্রিপ্টো চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা।
সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী কর্মী জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ৩০ অক্টোবর স্টকহোম জেলা আদালত এ রায় দেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্যান্ডবার্গকে প্রতিদিন ১০০ ক্রোনা হিসাবে মোট ৩ হাজার ক্রোনা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ১ হাজার ক্রোনা এবং সরকারি আইনজীবীর খরচ বাবদ রাষ্ট্রকে ১৭ হাজার ক্রোনা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে জরিমানা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার ওপর ২১ হাজার ক্রোনা আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ২০২৫ সালে স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘আমরা আমাদের রাস্তায় কোনো মুসলিম দেখতে চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত ওই বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ২০২৪ সালের কোরআন অবমাননার ঘটনায় দণ্ডিত হলেও পরের বছরের ওই অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআনের একটি কপি পোড়ান জেড স্যান্ডবার্গ। এরপর বইটিতে লাথি মারেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন। সুইডেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হলেও দেশটির আইনে কোনো জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাদের অবমাননা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা এবং কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য বা আচরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। স্যান্ডবার্গের মামলার রায়েও ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা তুললেন বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী
নেইমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজকে দলে নিতে যাচ্ছে মেলবোর্ন রেনেগেডস, বিসিবির ছাড়পত্রের অপেক্ষা
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন
রাবণের দশ মাথায় ড. ইউনূস ও ইলন মাস্কের ছবি, লক্ষ্ণৌতে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
বাস্তবেই আছে ভ্যাম্পায়ার ও ওয়্যারউলফের মতো বিরল রোগ, শরীরে দেখা দেয় অদ্ভুত লক্ষণ
প্রচলিত কেমোথেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকর নতুন ওষুধ, কমেছে স্তন ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলো এআইয়ের তৈরি ভাইরাস
নার্সদের জন্য ৫০ হাজার ডলারের সহায়তা, তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ
ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত মিলতে পারে স্ক্যানে ধরা পড়ার ১৬ মাস আগেই
ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এয়ার ট্যাক্সি, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে উড়বে টাম্পা পর্যন্ত
টেসলার একটি সাইবারক্যাব থেকে বছরে ৫০ হাজার ডলার মুনাফার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কের বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি
এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের ত্রুটি স্বীকার করল অ্যাপল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নতুন ফোন দেওয়ার ঘোষণা
ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার চালু করছে কেন্ট জেলা
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে রিপাবলিকানরা, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নারী গভর্নর হলেন কিশা ল্যান্স বটমস
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় সিনেটর নির্বাচিত রয় কুপার
দাদির কবর দেখতে গিয়ে নেশাগ্রস্ত চালকের গাড়িচাপায় নিহত শিশু, হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন বাবা
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগে চাকরির সুযোগ , নির্দিষ্ট পদে সাইনিং বোনাস ৩০ হাজার ডলার
পাঁচ বছরে আয় ৮ গুণের বেশি, তবু অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেন নাবিল খান
ইন্টেল থেকে টেসলায়! সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার বাংলাদেশি সারোয়ার মোর্শেদ
সৌদিতে ১৯ হাজার ৬১০টি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আবেদনের নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন, কর্মীদের মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও
দুই হাজার বছর পর রোমান স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হওয়া ব্যক্তির মুখ ফিরল ডিজিটাল প্রযুক্তিতে
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
জ্বালানি চুরি করতে গিয়ে ভুলে বাসের পয়োনিষ্কাশন ট্যাংকের বর্জ্যতে হাত দিয়ে বিপাকে চোর
ক্যাশ অ্যাপের ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, যোগ্য গ্রাহকদের টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদার, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা
রোদে পোড়া ব্রিটিশদের মতো লাল মুখ, ব্রাজিলে বানরের ডাকনাম ‘ইংলিশ মাঙ্কি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট, শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে রুমা
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে মরিয়া আইনি লড়াই, এবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে মাহমুদ খলিল
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
উচ্চশিক্ষায় স্কলারশিপ পেতে বিদেশি প্রফেসর খুঁজবেন রিসার্চ প্ল্যাটফর্মে, জেনে নিন বিস্তারিত
ইউরোপে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ! মাসে ১ লক্ষ টাকার বেশি ভাতা
তিন বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম হওয়া বুয়েটের সামিন থেকে গেলেন দেশে, বর্তমানে বিদ্যুৎ খাতের প্রকৌশলী
যুক্তরাষ্ট্রে পলিটিক্যাল সায়েন্স ও সোস্যাল সায়েন্সে পিএইচডি! আবেদন ও ফান্ডিং পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ
সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কমিউনিটির বড় সহায়তা, ৮ লাখ ডলারের অনুদান
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র
লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!
চারজনের পরিবার চালাতে বছরে ৩ লাখ ২৯ হাজার ডলার প্রয়োজন, সবচেয়ে ব্যয়বহুল ম্যাসাচুসেটস
এক রাতের আগুনে শেষ পুরো পরিবার, ব্রঙ্কসে প্রাণ গেল ১১ বছরের শিশুসহ চারজনের
ক্যানসার আক্রান্ত নারীকে হাসাতে সারা বছর বাড়িতে কঙ্কাল সাজিয়ে রাখলেন প্রতিবেশী
১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিমায় নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের চিকিৎসা খরচ কমাতে যা করবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়াই আটকের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ মাসের বেশি বেকার এমন মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, নির্বাচনের আগে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের সর্বনিম্নে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম
মিশিগানসহ ৪৩টি স্টেটস এ বাড়ির ডাউন পেমেন্টে সুদমুক্ত ঋণ দিবে জিলো
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স গড়ে ১৫ হাজার ডলার, অধিকাংশের সঞ্চয় অনেক কম
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস, খাবারের খরচ বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন অর্ধেক মানুষ
উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ে বিরোধ, ১০ বছরের ছেলের গুলিতে প্রাণ গেল কিশোরীর
ডেলাওয়্যারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে বন্দুক হামলা, সংকটাপন্ন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মাহমুদুল; গুলিবিদ্ধ ৬
ডেলাওয়্যারে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গুলিতে আহত ৬, আটক কিশোরের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা
নিউইয়র্কে জগিংয়ের সময় ছুরিকাঘাতে তরুণী গুরুতর আহত, লাইফ সাপোর্টে
ব্রুকলিনের সাবওয়ে স্টেশনে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত একজন, আহত আরও একজন
যারা ভারতে আর্থিক সংকটে ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাদের বাড়ি-গাড়ি! প্রবাসজীবন নিয়ে বিতর্ক
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা, বিলিয়নিয়াররা মিটিয়ে দেবেন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িভাড়া
২৩ বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্স, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তিই দিতে চান স্বামী
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা
মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারবেন না, তাই মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা
ফ্লোরিডায় প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত ২০ বছরের সহ-পাইলট নাথালিয়া, ১৭ বছরেই পেয়েছিলেন পাইলট লাইসেন্স
নিউইয়র্কে সন্ধ্যার পর বাড়ছে দুর্ঘ টনার ঝুঁকি, চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে পুলিশ
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
শতাব্দীর শেষ নাগাদ চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতি হবে ভারত: জেফ্রি স্যাক্স
বাংলাদেশের শ্রমিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নজর রাখছে ভারত, জানাল নয়াদিল্লি
কানাডার কুইবেকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখ টারবান ও মুসলিম নারীদের নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ
ঘুমের মধ্যে তাড়া করে বন্ধুর ‘প্রেতাত্মা’, ২০ দিন পর থানায় গিয়ে হ ত্যার স্বীকারোক্তি