দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রহস্য হয়ে থাকা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি সাংকেতিক চিঠির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ১৮০৯ সালে লেখা চিঠিটির মূল বার্তা ২১৭ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের প্রকৌশলী কার্টার চার্চ। চিঠিটি লেখা হয়েছিল ইউরোপে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার যুদ্ধের সময়। ১৮০৯ সালের মার্চে নেপোলিয়নের সৎপুত্র ও তৎকালীন ইতালির ভাইসরয় ইউজিন দ্য বোহারনে ফরাসি জেনারেল অগুস্ত দ্য মারমোঁকে চিঠিটি পাঠান। সে সময় মারমোঁর সেনারা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের অপর পারে ডালমাটিয়া অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন এবং অন্যান্য ফরাসি ও মিত্রবাহিনী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। চিঠিটির প্রথম লাইন ছিল স্বাভাবিক ফরাসি ভাষায়। এরপরের ২৪টি লাইনে দেখা যায় অক্ষর, সংখ্যা ও হাতে আঁকা বিভিন্ন প্রতীকের জটিল সমন্বয়। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ে এই সংকেত পড়ার জন্য একটি আলাদা চাবি বা নিয়মাবলি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতি হারিয়ে যায়। ফলে চিঠির বাকি অংশ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপাঠ্য থেকে যায়। কার্টার চার্চ সম্প্রতি চিঠিটির একটি ছবি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পুরো সংকেত বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এআইয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কাজটির সবচেয়ে কঠিন অংশ শুধু সংকেত ভাঙা ছিল না। বরং ছবির প্রতীকগুলো শনাক্ত করা, একই প্রতীকের ভিন্ন হাতের লেখার ধরন মিলিয়ে দেখা, সেগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং পরে অনুবাদ করে অর্থ বের করাও ছিল বড় কাজ। চার্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত ছবিটির আকার ছিল ১ হাজার ২০২ বাই ১ হাজার ৮৩৬ পিক্সেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রথমে ছবিটিকে সারিতে ভাগ করে প্রতীকগুলো শনাক্ত করে। এরপর হাতে আঁকা প্রায় ১৭৫টি আলাদা চিহ্নের মধ্যে কোনগুলো একই প্রতীকের ভিন্ন রূপ, তা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মূল সংকেত পাঠোদ্ধারের কাজ। পাঠোদ্ধারের পর জানা যায়, চিঠিতে মূলত যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে থাকা ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে মারমোঁকে জানাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকা মারমোঁকে মনোবল না হারানোর এবং সীমিতসংখ্যক শত্রুসেনা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে নেপোলিয়ন লিখেছিলেন, রুশ বাহিনী অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে এবং ফ্রিউলি অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর সংখ্যা তখন প্রায় ৮০ হাজার। ডালমাটিয়ায় থাকা সেনাদের সঙ্গে পেছনের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত রিজার্ভ বাহিনী যোগ করলে অস্ট্রিয়া একসঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়া পরাজয়ের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। মারমোঁকে নেপোলিয়ন আরও নির্দেশ দেন, অগ্রসর হওয়ার আদেশ পাওয়ার পর যেন তিনি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সেনাদল বা অনিয়মিতভাবে জড়ো হওয়া লোকজনের কারণে ভীত না হন। চিঠির শেষদিকে তিনি মারমোঁর কাছ থেকে খবর পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান। চিঠিটির সামরিক প্রেক্ষাপটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০৯ সালের মে মাসে ভিয়েনার কাছে অ্যাসপার্ন-এসলিংয়ের যুদ্ধে নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। যুদ্ধটিতে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি হয় এবং প্রায় ২৩ হাজার ফরাসি সেনা নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য ঐতিহাসিক নথিতে পাওয়া যায়। তবে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ন দ্রুত সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ওয়াগ্রামের যুদ্ধে তিনি আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীকে পরাজিত করেন। ওই বিজয়ের পর অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য হয় এবং ফ্রান্সবিরোধী পঞ্চম জোট কার্যত ভেঙে পড়ে। চিঠির সংকেত পাঠোদ্ধারকারী কার্টার চার্চ অবশ্য মনে করেন, সংকেতটি নিজে খুব জটিল ছিল না। তার মতে, পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম পেলে পেশাদার সংকেত বিশ্লেষকেরাও এটি সমাধান করতে পারতেন। তবে পুরো কাজটির জন্য ইতিহাস, পুরোনো হাতের লেখা শনাক্তকরণ, প্রতীক বিশ্লেষণ, ভাষা ও সংকেতবিদ্যার মতো একাধিক ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই বহুমাত্রিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছে বলেই তার দাবি। এই ঘটনা ইতিহাসের পুরোনো নথি পাঠোদ্ধারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে এমন নথি, যেখানে পুরোনো হাতের লেখা, অস্পষ্ট প্রতীক ও হারিয়ে যাওয়া সংকেত পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণে এ ধরনের প্রযুক্তি গবেষকদের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তবে ঐতিহাসিক নথির ক্ষেত্রে এআইয়ের পাঠোদ্ধারকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞদের যাচাই প্রয়োজন বলেও মনে করেন গবেষকেরা। কার্টার চার্চের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক সমস্যার ক্ষেত্রে, যেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও জনবল সাধারণত গবেষকদের হাতে থাকে না। নেপোলিয়নের এই চিঠির পাঠোদ্ধার সেই সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: কার্টার চার্চের গবেষণা প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক পোস্ট।
সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়ার চাপ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া বাজার নিয়ে জাম্পারের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরটিতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪০ ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেডরুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকো নিউইয়র্ক সিটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ দুই বেডরুমের বাসার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকোতে মধ্যম ভাড়া নিউইয়র্কের তুলনায় মাসে ৮৯০ ডলার বেশি। এক বেডরুমের ক্ষেত্রে অবশ্য নিউইয়র্ক এখনো এগিয়ে। নিউইয়র্কে এর মধ্যম ভাড়া ৪ হাজার ৫৮০ ডলার, সান ফ্রান্সিসকোতে ৪ হাজার ৪০০ ডলার। সান ফ্রান্সিসকোর এক বেডরুমের ভাড়া শুধু নিউইয়র্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে তা নয়, গত এক বছরে এর বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। জাম্পারের হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে এক বেডরুমের ভাড়া মাসিক হিসাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক হিসাবে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে মাসিক বৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ। জুলাই মাসেই দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া প্রথমবারের মতো ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল। ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জাম্পার জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে কর্মসংস্থানের দ্রুত বৃদ্ধি। সান ফ্রান্সিসকো ও আশপাশের এলাকায় এ খাতের নতুন কর্মসংস্থান বাড়ায় আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন আবাসন সরবরাহ সীমিত থাকায় ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। জাম্পারের প্রধান নির্বাহী শন মুলাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন একক কোনো ভাড়া বাজার নেই, বিভিন্ন শহরে আবাসন সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে উঠেছে। সান ফ্রান্সিসকোর এই পরিস্থিতি পুরো বে এরিয়া অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাম্পারের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, পাশের সান হোসেতে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ৮৯০ ডলার। অন্যদিকে ওকল্যান্ডে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ সান ফ্রান্সিসকোর ৪ হাজার ৪০০ ডলারের তুলনায় এই দুই শহরে ভাড়া অনেক কম। জাতীয় চিত্র আরও বড় পার্থক্য দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৫১৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার, যা বার্ষিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জাতীয় বাজারে ভাড়ার পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোতে বৃদ্ধি অনেক বেশি। জাম্পারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে এক বেডরুমের ভাড়া বৃদ্ধির দিক থেকেও শীর্ষে ছিল। এক বছরে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর শহরটির পরেই ছিল ভার্জিনিয়া বিচ, যেখানে এক বেডরুমের ভাড়া বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে অতিরিক্ত আবাসন সরবরাহের কারণে টেক্সাসের কয়েকটি শহরে ভাড়া কমেছে। ভাড়ার চাপ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরি চলতি মাসে শহরের আবাসন পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভাড়ার দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ভাড়া বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ভাড়াটিয়াদের আইনি সহায়তার জন্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৬৫০টি ভাড়ার বাসা তালিকাভুক্ত ছিল। শহরটির সামগ্রিক মধ্যম ভাড়া ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। তবে জাম্পারের হিসাব মূলত অনলাইনে প্রকাশিত ভাড়ার তালিকার মধ্যম মূল্যভিত্তিক। অর্থাৎ এটি শহরের প্রতিটি বাসার প্রকৃত চুক্তিভিত্তিক ভাড়া বা সব ভাড়াটিয়ার পরিশোধ করা অর্থের সরাসরি পরিমাপ নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জাতীয় ভাড়া সূচক যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার দিক থেকে ১০০টি বড় শহরের এক ও দুই বেডরুমের সক্রিয় ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়। সূত্র: রয়টার্স
উত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ম কিপুরের আগে ম্যানচেস্টারে হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়ম কিপুর ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র দিন। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী রহমান সালেহি ও ৩৬ বছর বয়সী সালাম আহমাদিয়ান। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়া বা অন্য কাউকে এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০৬-এর ৫ ধারার অধীনে করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দুই ব্যক্তি একটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যস্থলও তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে তারা বিদেশে থাকা এক তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি সম্ভবত ইরানে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ম্যানচেস্টার ও বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান এবং উভয়ের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটি ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি। তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিদেশে সমালোচকদের চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডে প্রক্সি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স বলেন, পবিত্র দিনগুলোর সময় কথিত হামলার পরিকল্পনার খবর ইহুদি সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক সিনাগগে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলার বর্ষপূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাকারী গাড়ি নিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে থাকা মানুষের ওপর আঘাত করার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে। এদিকে নতুন মামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরেকটি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের মামলায় অভিযুক্ত সালেহি ও আহমাদিয়ানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত কয়েক বছর আগে ছোট নৌকায় করে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যজনের আশ্রয়ের আবেদন তখনও চলমান ছিল। দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৩ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের পর আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা মনে করেছেন। তবে সেটি কোনোভাবেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সূত্র: রয়টার্স
দুই এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১১ মাসের এক শিশুকে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার পর তাদের ধন্যবাদ জানাতে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটের স্টেশনে হাজির হয় শিশুটি। শুক্রবারের ওই সাক্ষাতে পরিবার ও দুই কর্মকর্তার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউজ ১২ ব্রঙ্কসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৬৮তম স্ট্রিট ও গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা জুলিও আরিয়াস ও ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া। তারা একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী তাদের থামিয়ে দেন। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় থাকা ২১ বছর বয়সী জ্যানিবেল মন্টানোর দিকে ইঙ্গিত করেন। তার কোলে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল ১১ মাসের ছেলে জাইহলার মন্টানো। পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নেন আরিয়াস। শিশুটিকে উপুড় করে ধরে তার পিঠে একের পর এক চাপড় দিতে থাকেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তখন ডাইনোসরের পোশাক পরা ছিল এবং তার এক পায়ে ডোরাকাটা মোজা ছিল। কয়েকবার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর হঠাৎ শিশুটি কেঁদে ওঠে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পান আরিয়াস। ভিডিওতে তাকে শিশুটিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, সে ঠিক আছে কি না। পরে সাংবাদিকদের কাছে আরিয়াস বলেন, শিশুটির কান্না শোনার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে সে ঠিক আছে। তার সঙ্গী আব্রেউ-গার্সিয়া এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রেডিওতে যোগাযোগ করছিলেন। আব্রেউ-গার্সিয়া বলেন, শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার মনে হয় যেন তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। পুরো ঘটনাটিতে দ্রুত সমন্বয় করে একজন কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার দিকে মন দেন, আর অন্যজন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার ৪৪তম প্রিসিন্কটে গিয়ে জ্যানিবেল মন্টানো দুই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জ্যানিবেল বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং একই সঙ্গে তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এমন পরিস্থিতিতে দুই কর্মকর্তাকে কীভাবে যথেষ্ট ধন্যবাদ জানাবেন, তা তিনি জানেন না বলেও জানান। আরিয়াস বলেন, শিশুটিকে বাঁচানোর সময় তার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর শিশুটি কিছু বের করে দেয়, যার সামান্য অংশ তার জুতায়ও লাগে। তবে তখন এসবের দিকে তার কোনো মনোযোগ ছিল না। শিশুটি ঠিক আছে কি না, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে তিনি শিশুটিকে এত জোরে পিঠে চাপড় দিতে হয়েছে বলে দুঃখও প্রকাশ করেন। দুই সন্তানের বাবা আরিয়াস জানান, পুলিশি প্রশিক্ষণ তাকে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করেছে। নিজের দুই মাস বয়সী সন্তান থাকার বিষয়টিও ওই মুহূর্তে তাকে পরিস্থিতিটি আরও দ্রুত বুঝতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন। জুলিও আরিয়াস ২০২২ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিন্কটের আওতায় ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম, গ্র্যান্ড কনকোর্স ও হাইব্রিজ এলাকার বড় একটি অংশ রয়েছে। ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া ২০২১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং তিনিও একই প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনার পর ধারণ করা শরীরে পরা ক্যামেরার ভিডিও এবং পরিবারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের পরবর্তী সাক্ষাতের ছবি ঘটনাটিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। শুক্রবারের সাক্ষাতে ছোট্ট জাইহলারকে কোলে নিয়ে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন সেই উদ্ধার অভিযানের একটি মানবিক পরিণতি হয়ে ওঠে। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের জন্য অপেক্ষারত আবেদনকারীদের জন্য অক্টোবর মাসটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নতুন অর্থবছর ২০২৭ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন অভিবাসন ক্যাটাগরিতে ভিসা নম্বরের নতুন বরাদ্দ এসেছে এবং কয়েকটি কাট-অফ তারিখে পরিবর্তন হয়েছে। একই সঙ্গে পাবলিক চার্জের নিয়মে পরিবর্তন এবং ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসার ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্তও কার্যকর হচ্ছে। প্রথম বড় পরিবর্তন এসেছে নতুন অর্থবছরের ভিসা নম্বর নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৭ অর্থবছর শুরু হয়েছে ১ অক্টোবর। আগের অর্থবছরে যেসব ক্যাটাগরির বার্ষিক ভিসা সীমা পূরণ হয়ে গিয়েছিল, নতুন অর্থবছরে সেগুলোতে আবার ভিসা নম্বর পাওয়া যাচ্ছে। এর ফলে বিশেষ করে ভারতের কিছু কর্মভিত্তিক গ্রিন কার্ড ক্যাটাগরিতে নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রে অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ নভেম্বর ২০১৩ নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ইবি-১ এগিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ এবং আনরিজার্ভড ইবি-৫-এর তারিখ ১ ডিসেম্বর ২০২৩ হয়েছে। তবে অন্য অনেক দেশের ক্ষেত্রে কিছু কর্মভিত্তিক ক্যাটাগরিতে তারিখ পিছিয়েও দেওয়া হয়েছে। যেমন, অধিকাংশ দেশের ইবি-২-এর ফাইনাল অ্যাকশন ডেট ১ জানুয়ারি ২০২৫ এবং ইবি-৩-এর ডেট ১৫ মে ২০২৪ করা হয়েছে। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অক্টোবর ২০২৬-এ যুক্তরাষ্ট্রে থাকা যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাসের জন্য ইউএসসিআইএস ডেটস ফর ফাইলিং চার্ট ব্যবহার করছে। অর্থাৎ কিছু আবেদনকারী তাদের প্রাইওরিটি ডেট অনুযায়ী ফর্ম আই-৪৮৫ জমা দিতে পারবেন, যদিও চূড়ান্ত গ্রিন কার্ড অনুমোদনের জন্য ফাইনাল অ্যাকশন ডেট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে। তৃতীয় পরিবর্তন এসেছে পাবলিক চার্জ নিয়মে। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২২ সালের পাবলিক চার্জ বিধি বাতিল করে নতুন কাঠামো কার্যকর হয়েছে। এতে আবেদনকারীর বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক পরিস্থিতি, আর্থিক অবস্থা, সম্পদ ও দায়, শিক্ষা এবং দক্ষতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে এই নিয়ম সব গ্রিন কার্ড আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয় এবং সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন বাতিল হবে—এমন নয়। চতুর্থ পরিবর্তন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী ভিসায়। ৩০ নভেম্বর থেকে প্রধান বিনিয়োগ আবেদন ফি ৩ হাজার ৬৭৫ ডলার থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৬১৫ ডলার হবে। আঞ্চলিক কেন্দ্রের মাধ্যমে করা বিনিয়োগকারীদের ফিও বেড়ে ৭ হাজার ৮৫০ ডলার হবে। নতুন একটি নির্দিষ্ট আবেদনের জন্য ১০ হাজার ৩৩০ ডলারের ফিও নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই গ্রিন কার্ডপ্রার্থীদের জন্য অক্টোবরের ভিসা বুলেটিনে নিজের ক্যাটাগরি, দেশভিত্তিক প্রাইওরিটি ডেট এবং ইউএসসিআইএসের ফাইলিং নির্দেশনা মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম ভিন্ন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে গত দুই বছরে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এমন মা-বাবার ৬৪ শতাংশ জানিয়েছেন, এ কারণে তাঁরা অন্তত কখনো কখনো আর্থিক চাপ অনুভব করেছেন। ২৮ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত লেন্ডিংট্রির জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আছে এমন মা-বাবার ৭১ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা জীবনের কোনো না কোনো সময়ে সন্তানকে অর্থ দিয়েছেন। গত দুই বছরে সহায়তা দিয়েছেন ৪৪ শতাংশ। তাঁদের মধ্যে ৩২ শতাংশ মাসে একাধিকবার অর্থ দিয়েছেন। গত দুই বছরে সহায়তা দেওয়া মা-বাবাদের ৫৩ শতাংশ সন্তানের খাবার বা বাজারের খরচে সাহায্য করেছেন। মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট বা সাবস্ক্রিপশনের খরচে সহায়তা করেছেন ৩৫ শতাংশ। সমানসংখ্যক মা-বাবা নিয়মিত বিল ও জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ দিয়েছেন। আবাসন খরচে সাহায্য করেছেন ২৫ শতাংশ। সন্তানকে সহায়তা দেওয়ায় দৈনন্দিন খরচ চালানোর সক্ষমতা কমেছে বলে জানিয়েছেন ১৮ শতাংশ মা-বাবা। ঋণ পরিশোধে প্রভাব পড়েছে ১৬ শতাংশের, সঞ্চয়ে ১৩ শতাংশের এবং অবসরের জন্য অর্থ জমানোয় ১১ শতাংশের। সহায়তা পাওয়া প্রাপ্তবয়স্কদের ৩৮ শতাংশ বলেছেন, মা-বাবার সাহায্য ছাড়া বর্তমান জীবনযাত্রার খরচ মেটানো তাঁদের জন্য কঠিন বা অসম্ভব হতো। মার্চে প্রকাশিত ওয়েলস ফার্গোর পৃথক জরিপে ১৮ থেকে ২৮ বছর বয়সী সন্তান আছে এমন মা-বাবার ৬৪ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের সন্তানেরা অর্থ, বাসস্থান বা অন্য সহায়তার জন্য তাঁদের ওপর নির্ভর করেন। ওই মা-বাবাদের ৫৬ শতাংশ জানিয়েছেন, এতে তাঁদের নিজেদের অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণনা ব্যুরোর হিসাবে, ২০২৪ সালে পরিবারের বাইরে থাকা ২১ বছর বা বেশি বয়সী ৩৭ লাখ সন্তানকে মোট ২ হাজার ৬৬০ কোটি ডলার সহায়তা দিয়েছেন প্রায় ২৬ লাখ মা-বাবা। যাঁরা সহায়তা দিয়েছেন, তাঁদের বার্ষিক অর্থের মধ্যক পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৭২৫ ডলার। বাড়িতে থাকা সন্তানদের পেছনে খরচ এই হিসাবে নেই। লেন্ডিংট্রির অনলাইন জরিপটি ৫ থেকে ৯ আগস্ট চালানো হয়। এতে অংশ নেওয়া ২ হাজার মার্কিন ভোক্তার মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান আছে এমন মা-বাবা ছিলেন ৫৯৪ জন।
সান ফ্রান্সিসকোতে বাড়িভাড়ার চাপ নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাড়া বাজার নিয়ে জাম্পারের সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, শহরটিতে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া মাসে ৪ হাজার ৪০০ ডলারে উঠেছে, যা এক বছর আগের তুলনায় ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। একই সময়ে দুই বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৩৪০ ডলারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বড় শহরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, দুই বেডরুমের ভাড়ার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকো নিউইয়র্ক সিটিকেও ছাড়িয়ে গেছে। নিউইয়র্কে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ৫ হাজার ৪৫০ ডলার। অর্থাৎ দুই বেডরুমের বাসার ক্ষেত্রে সান ফ্রান্সিসকোতে মধ্যম ভাড়া নিউইয়র্কের তুলনায় মাসে ৮৯০ ডলার বেশি। এক বেডরুমের ক্ষেত্রে অবশ্য নিউইয়র্ক এখনো এগিয়ে। নিউইয়র্কে এর মধ্যম ভাড়া ৪ হাজার ৫৮০ ডলার, সান ফ্রান্সিসকোতে ৪ হাজার ৪০০ ডলার। সান ফ্রান্সিসকোর এক বেডরুমের ভাড়া শুধু নিউইয়র্কের কাছাকাছি পৌঁছেছে তা নয়, গত এক বছরে এর বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। জাম্পারের হিসাব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে এক বেডরুমের ভাড়া মাসিক হিসাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বার্ষিক হিসাবে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। দুই বেডরুমের ক্ষেত্রে মাসিক বৃদ্ধি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং এক বছরের ব্যবধানে বৃদ্ধি ২৬ দশমিক ৮ শতাংশ। জুলাই মাসেই দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া প্রথমবারের মতো ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়েছিল। ভাড়ার এই ঊর্ধ্বগতির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জাম্পার জানিয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে কর্মসংস্থানের দ্রুত বৃদ্ধি। সান ফ্রান্সিসকো ও আশপাশের এলাকায় এ খাতের নতুন কর্মসংস্থান বাড়ায় আবাসনের চাহিদাও বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় নতুন আবাসন সরবরাহ সীমিত থাকায় ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। জাম্পারের প্রধান নির্বাহী শন মুলাহি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে এখন একক কোনো ভাড়া বাজার নেই, বিভিন্ন শহরে আবাসন সরবরাহ ও চাহিদার পার্থক্যের কারণে পরিস্থিতি আলাদা হয়ে উঠেছে। সান ফ্রান্সিসকোর এই পরিস্থিতি পুরো বে এরিয়া অঞ্চলের সঙ্গে তুলনা করলেও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জাম্পারের সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, পাশের সান হোসেতে এক বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ৮৯০ ডলার। অন্যদিকে ওকল্যান্ডে একই ধরনের বাসার মধ্যম ভাড়া ২ হাজার ১০০ ডলার। অর্থাৎ সান ফ্রান্সিসকোর ৪ হাজার ৪০০ ডলারের তুলনায় এই দুই শহরে ভাড়া অনেক কম। জাতীয় চিত্র আরও বড় পার্থক্য দেখাচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক বেডরুমের অ্যাপার্টমেন্টের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৫১৮ ডলার, যা এক বছর আগের তুলনায় মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ বেশি। দুই বেডরুমের মধ্যম ভাড়া ছিল ১ হাজার ৯০৩ ডলার, যা বার্ষিক হিসাবে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ জাতীয় বাজারে ভাড়ার পরিবর্তন তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকলেও সান ফ্রান্সিসকোতে বৃদ্ধি অনেক বেশি। জাম্পারের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে সান ফ্রান্সিসকো যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোর মধ্যে এক বেডরুমের ভাড়া বৃদ্ধির দিক থেকেও শীর্ষে ছিল। এক বছরে ২৫ দশমিক ৪ শতাংশ বৃদ্ধির পর শহরটির পরেই ছিল ভার্জিনিয়া বিচ, যেখানে এক বেডরুমের ভাড়া বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে অতিরিক্ত আবাসন সরবরাহের কারণে টেক্সাসের কয়েকটি শহরে ভাড়া কমেছে। ভাড়ার চাপ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়েও উদ্বেগ বাড়ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোর মেয়র ড্যানিয়েল লুরি চলতি মাসে শহরের আবাসন পরিস্থিতিকে ‘ভাড়া জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি ভাড়ার দ্রুত বৃদ্ধি এবং উচ্ছেদের আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষায় ভাড়া বৃদ্ধির সর্বোচ্চ সীমা ১০ শতাংশ নির্ধারণ এবং ভাড়াটিয়াদের আইনি সহায়তার জন্য প্রায় ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের তহবিলের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। জাম্পারের তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ সান ফ্রান্সিসকোতে তাদের প্ল্যাটফর্মে প্রায় ৬৫০টি ভাড়ার বাসা তালিকাভুক্ত ছিল। শহরটির সামগ্রিক মধ্যম ভাড়া ছিল প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় ১৩৭ শতাংশ বেশি। তবে জাম্পারের হিসাব মূলত অনলাইনে প্রকাশিত ভাড়ার তালিকার মধ্যম মূল্যভিত্তিক। অর্থাৎ এটি শহরের প্রতিটি বাসার প্রকৃত চুক্তিভিত্তিক ভাড়া বা সব ভাড়াটিয়ার পরিশোধ করা অর্থের সরাসরি পরিমাপ নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের জাতীয় ভাড়া সূচক যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যার দিক থেকে ১০০টি বড় শহরের এক ও দুই বেডরুমের সক্রিয় ভাড়ার তালিকা বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়। সূত্র: রয়টার্স
দুই এনওয়াইপিডি কর্মকর্তা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ১১ মাসের এক শিশুকে শ্বাসরোধের পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার পর তাদের ধন্যবাদ জানাতে মায়ের সঙ্গে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটের স্টেশনে হাজির হয় শিশুটি। শুক্রবারের ওই সাক্ষাতে পরিবার ও দুই কর্মকর্তার মধ্যে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ ও নিউজ ১২ ব্রঙ্কসের প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৬ সেপ্টেম্বর। নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে ১৬৮তম স্ট্রিট ও গ্র্যান্ড কনকোর্স এলাকার কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা জুলিও আরিয়াস ও ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া। তারা একটি চিহ্নিত পুলিশ গাড়িতে করে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক পথচারী তাদের থামিয়ে দেন। তিনি আতঙ্কিত অবস্থায় থাকা ২১ বছর বয়সী জ্যানিবেল মন্টানোর দিকে ইঙ্গিত করেন। তার কোলে তখন অচেতন অবস্থায় ছিল ১১ মাসের ছেলে জাইহলার মন্টানো। পুলিশ কর্মকর্তাদের শরীরে থাকা ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত শিশুটিকে কোলে তুলে নেন আরিয়াস। শিশুটিকে উপুড় করে ধরে তার পিঠে একের পর এক চাপড় দিতে থাকেন তিনি। ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুটি তখন ডাইনোসরের পোশাক পরা ছিল এবং তার এক পায়ে ডোরাকাটা মোজা ছিল। কয়েকবার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর হঠাৎ শিশুটি কেঁদে ওঠে। শিশুটির কান্নার শব্দ শুনেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ইঙ্গিত পান আরিয়াস। ভিডিওতে তাকে শিশুটিকে উদ্দেশ করে বলতে শোনা যায়, সে ঠিক আছে কি না। পরে সাংবাদিকদের কাছে আরিয়াস বলেন, শিশুটির কান্না শোনার পরই তিনি বুঝতে পারেন যে সে ঠিক আছে। তার সঙ্গী আব্রেউ-গার্সিয়া এ সময় অ্যাম্বুলেন্সের জন্য রেডিওতে যোগাযোগ করছিলেন। আব্রেউ-গার্সিয়া বলেন, শিশুটিকে কাঁদতে দেখে তার মনে হয় যেন তিনি আবার স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতে পারছেন। পুরো ঘটনাটিতে দ্রুত সমন্বয় করে একজন কর্মকর্তা শিশুটিকে প্রাথমিক সহায়তা দেওয়ার দিকে মন দেন, আর অন্যজন জরুরি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করেন। শুক্রবার ৪৪তম প্রিসিন্কটে গিয়ে জ্যানিবেল মন্টানো দুই কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করেন। সেখানে শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করেন কর্মকর্তারা এবং পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জ্যানিবেল বলেন, তিনি অত্যন্ত আনন্দিত এবং একই সঙ্গে তাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এমন পরিস্থিতিতে দুই কর্মকর্তাকে কীভাবে যথেষ্ট ধন্যবাদ জানাবেন, তা তিনি জানেন না বলেও জানান। আরিয়াস বলেন, শিশুটিকে বাঁচানোর সময় তার পিঠে চাপড় দেওয়ার পর শিশুটি কিছু বের করে দেয়, যার সামান্য অংশ তার জুতায়ও লাগে। তবে তখন এসবের দিকে তার কোনো মনোযোগ ছিল না। শিশুটি ঠিক আছে কি না, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে তিনি শিশুটিকে এত জোরে পিঠে চাপড় দিতে হয়েছে বলে দুঃখও প্রকাশ করেন। দুই সন্তানের বাবা আরিয়াস জানান, পুলিশি প্রশিক্ষণ তাকে এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সাহায্য করেছে। নিজের দুই মাস বয়সী সন্তান থাকার বিষয়টিও ওই মুহূর্তে তাকে পরিস্থিতিটি আরও দ্রুত বুঝতে সহায়তা করেছে বলে তিনি মনে করেন। জুলিও আরিয়াস ২০২২ সালে এনওয়াইপিডিতে যোগ দেন এবং ব্রঙ্কসের ৪৪তম প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রিসিন্কটের আওতায় ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম, গ্র্যান্ড কনকোর্স ও হাইব্রিজ এলাকার বড় একটি অংশ রয়েছে। ক্যারোলিন আব্রেউ-গার্সিয়া ২০২১ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন এবং তিনিও একই প্রিসিন্কটে দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুটিকে উদ্ধারের ঘটনার পর ধারণ করা শরীরে পরা ক্যামেরার ভিডিও এবং পরিবারের সঙ্গে কর্মকর্তাদের পরবর্তী সাক্ষাতের ছবি ঘটনাটিকে জনসমক্ষে নিয়ে আসে। শুক্রবারের সাক্ষাতে ছোট্ট জাইহলারকে কোলে নিয়ে দুই কর্মকর্তার সঙ্গে পরিবারের পুনর্মিলন সেই উদ্ধার অভিযানের একটি মানবিক পরিণতি হয়ে ওঠে। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ
উত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ম কিপুরের আগে ম্যানচেস্টারে হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়ম কিপুর ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র দিন। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী রহমান সালেহি ও ৩৬ বছর বয়সী সালাম আহমাদিয়ান। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়া বা অন্য কাউকে এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০৬-এর ৫ ধারার অধীনে করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দুই ব্যক্তি একটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যস্থলও তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে তারা বিদেশে থাকা এক তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি সম্ভবত ইরানে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ম্যানচেস্টার ও বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান এবং উভয়ের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটি ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি। তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিদেশে সমালোচকদের চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডে প্রক্সি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স বলেন, পবিত্র দিনগুলোর সময় কথিত হামলার পরিকল্পনার খবর ইহুদি সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক সিনাগগে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলার বর্ষপূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাকারী গাড়ি নিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে থাকা মানুষের ওপর আঘাত করার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে। এদিকে নতুন মামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরেকটি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের মামলায় অভিযুক্ত সালেহি ও আহমাদিয়ানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত কয়েক বছর আগে ছোট নৌকায় করে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যজনের আশ্রয়ের আবেদন তখনও চলমান ছিল। দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৩ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের পর আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা মনে করেছেন। তবে সেটি কোনোভাবেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সূত্র: রয়টার্স
দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে রহস্য হয়ে থাকা ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্টের একটি সাংকেতিক চিঠির পাঠোদ্ধার করা হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায়। ১৮০৯ সালে লেখা চিঠিটির মূল বার্তা ২১৭ বছর পর উন্মোচিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সেন্টিনেলওয়ানের প্রকৌশলী কার্টার চার্চ। চিঠিটি লেখা হয়েছিল ইউরোপে ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়ার যুদ্ধের সময়। ১৮০৯ সালের মার্চে নেপোলিয়নের সৎপুত্র ও তৎকালীন ইতালির ভাইসরয় ইউজিন দ্য বোহারনে ফরাসি জেনারেল অগুস্ত দ্য মারমোঁকে চিঠিটি পাঠান। সে সময় মারমোঁর সেনারা অ্যাড্রিয়াটিক সাগরের অপর পারে ডালমাটিয়া অঞ্চলে অবস্থান করছিলেন এবং অন্যান্য ফরাসি ও মিত্রবাহিনী থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন ছিলেন। চিঠিটির প্রথম লাইন ছিল স্বাভাবিক ফরাসি ভাষায়। এরপরের ২৪টি লাইনে দেখা যায় অক্ষর, সংখ্যা ও হাতে আঁকা বিভিন্ন প্রতীকের জটিল সমন্বয়। ধারণা করা হয়, তৎকালীন সময়ে এই সংকেত পড়ার জন্য একটি আলাদা চাবি বা নিয়মাবলি ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই পদ্ধতি হারিয়ে যায়। ফলে চিঠির বাকি অংশ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে অপাঠ্য থেকে যায়। কার্টার চার্চ সম্প্রতি চিঠিটির একটি ছবি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে পুরো সংকেত বিশ্লেষণের উদ্যোগ নেন। তার দাবি, এআইয়ের সহায়তায় পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় লেগেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, কাজটির সবচেয়ে কঠিন অংশ শুধু সংকেত ভাঙা ছিল না। বরং ছবির প্রতীকগুলো শনাক্ত করা, একই প্রতীকের ভিন্ন হাতের লেখার ধরন মিলিয়ে দেখা, সেগুলো তালিকাভুক্ত করা এবং পরে অনুবাদ করে অর্থ বের করাও ছিল বড় কাজ। চার্চের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহৃত ছবিটির আকার ছিল ১ হাজার ২০২ বাই ১ হাজার ৮৩৬ পিক্সেল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রথমে ছবিটিকে সারিতে ভাগ করে প্রতীকগুলো শনাক্ত করে। এরপর হাতে আঁকা প্রায় ১৭৫টি আলাদা চিহ্নের মধ্যে কোনগুলো একই প্রতীকের ভিন্ন রূপ, তা নির্ধারণ করা হয়। এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শুরু হয় মূল সংকেত পাঠোদ্ধারের কাজ। পাঠোদ্ধারের পর জানা যায়, চিঠিতে মূলত যুদ্ধের সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল। নেপোলিয়ন ইউরোপের বিভিন্ন স্থানে থাকা ফরাসি ও মিত্রবাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে মারমোঁকে জানাচ্ছিলেন। একই সঙ্গে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে থাকা মারমোঁকে মনোবল না হারানোর এবং সীমিতসংখ্যক শত্রুসেনা দেখে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে নেপোলিয়ন লিখেছিলেন, রুশ বাহিনী অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে এবং ফ্রিউলি অঞ্চলে ফরাসি বাহিনীর সংখ্যা তখন প্রায় ৮০ হাজার। ডালমাটিয়ায় থাকা সেনাদের সঙ্গে পেছনের বিভিন্ন এলাকায় সংগঠিত রিজার্ভ বাহিনী যোগ করলে অস্ট্রিয়া একসঙ্গে বিভিন্ন দিক থেকে আক্রমণের মুখে পড়বে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই পরিস্থিতিতে অস্ট্রিয়া পরাজয়ের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল। মারমোঁকে নেপোলিয়ন আরও নির্দেশ দেন, অগ্রসর হওয়ার আদেশ পাওয়ার পর যেন তিনি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সেনাদল বা অনিয়মিতভাবে জড়ো হওয়া লোকজনের কারণে ভীত না হন। চিঠির শেষদিকে তিনি মারমোঁর কাছ থেকে খবর পাওয়ার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলেও জানান। চিঠিটির সামরিক প্রেক্ষাপটও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। ১৮০৯ সালের মে মাসে ভিয়েনার কাছে অ্যাসপার্ন-এসলিংয়ের যুদ্ধে নেপোলিয়ন অস্ট্রিয়ার আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীর কাছে পরাজিত হন। যুদ্ধটিতে উভয় পক্ষের ব্যাপক প্রাণহানি হয় এবং প্রায় ২৩ হাজার ফরাসি সেনা নিহত বা আহত হওয়ার তথ্য ঐতিহাসিক নথিতে পাওয়া যায়। তবে পরাজয়ের পর নেপোলিয়ন দ্রুত সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করেন। একই বছরের জুলাইয়ে ওয়াগ্রামের যুদ্ধে তিনি আর্চডিউক চার্লসের বাহিনীকে পরাজিত করেন। ওই বিজয়ের পর অস্ট্রিয়া ফ্রান্সের সঙ্গে শান্তিচুক্তিতে যেতে বাধ্য হয় এবং ফ্রান্সবিরোধী পঞ্চম জোট কার্যত ভেঙে পড়ে। চিঠির সংকেত পাঠোদ্ধারকারী কার্টার চার্চ অবশ্য মনে করেন, সংকেতটি নিজে খুব জটিল ছিল না। তার মতে, পর্যাপ্ত সময় ও শ্রম পেলে পেশাদার সংকেত বিশ্লেষকেরাও এটি সমাধান করতে পারতেন। তবে পুরো কাজটির জন্য ইতিহাস, পুরোনো হাতের লেখা শনাক্তকরণ, প্রতীক বিশ্লেষণ, ভাষা ও সংকেতবিদ্যার মতো একাধিক ক্ষেত্রের সমন্বয় প্রয়োজন ছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেই বহুমাত্রিক কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে পেরেছে বলেই তার দাবি। এই ঘটনা ইতিহাসের পুরোনো নথি পাঠোদ্ধারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনাও নতুন করে সামনে এনেছে। বিশেষ করে এমন নথি, যেখানে পুরোনো হাতের লেখা, অস্পষ্ট প্রতীক ও হারিয়ে যাওয়া সংকেত পদ্ধতি রয়েছে, সেগুলো বিশ্লেষণে এ ধরনের প্রযুক্তি গবেষকদের সময় কমিয়ে দিতে পারে। তবে ঐতিহাসিক নথির ক্ষেত্রে এআইয়ের পাঠোদ্ধারকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণের আগে বিশেষজ্ঞদের যাচাই প্রয়োজন বলেও মনে করেন গবেষকেরা। কার্টার চার্চের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ধরনের কাজের বড় সম্ভাবনা রয়েছে এমন অনেক ঐতিহাসিক সমস্যার ক্ষেত্রে, যেগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সময় ও জনবল সাধারণত গবেষকদের হাতে থাকে না। নেপোলিয়নের এই চিঠির পাঠোদ্ধার সেই সম্ভাবনার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। সূত্র: কার্টার চার্চের গবেষণা প্রতিবেদন, নিউইয়র্ক পোস্ট।
রাজনীতি
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার
১০০ কোটি টাকা জামায়াতের থেকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নীতি: মানবিক সংকট নাকি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?
হাসনাতের ‘গণভিক্ষা’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, টাকা না দিতে হামিমের আহ্বান
‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য
গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত: শহীদ উদ্দীন এ্যানি
ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি কমিশনার
তারেক রহমানের প্রথম জাতিসংঘ ভাষণ, নিউইয়র্কে প্রবাসী বিএনপির ব্যতিক্রমী স্বাগত
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreউত্তর ইংল্যান্ডের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলার প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগে দুই ইরানি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির পুলিশ জানিয়েছে, ইয়ম কিপুরের আগে ম্যানচেস্টারে হামলার প্রস্তুতির সঙ্গে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। ইয়ম কিপুর ইহুদি ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র দিন। অভিযুক্ত দুই ব্যক্তি হলেন ৩৫ বছর বয়সী রহমান সালেহি ও ৩৬ বছর বয়সী সালাম আহমাদিয়ান। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সংঘটনের প্রস্তুতি নেওয়া বা অন্য কাউকে এমন কর্মকাণ্ডে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে কার্যক্রম চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলাটি সন্ত্রাসবাদ আইন ২০০৬-এর ৫ ধারার অধীনে করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে যে দুই ব্যক্তি একটি ঘরে তৈরি বিস্ফোরক যন্ত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ ও সরঞ্জাম সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন। একই সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যস্থলও তারা পর্যবেক্ষণ করেছিলেন বলে পুলিশের দাবি। তদন্তকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কথিত পরিকল্পনার বিষয়ে তারা বিদেশে থাকা এক তৃতীয় ব্যক্তির সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি সম্ভবত ইরানে অবস্থান করছিলেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি ম্যানচেস্টার ও বৃহত্তর ম্যানচেস্টার এলাকায় ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। যুক্তরাজ্যের ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিসও জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম চলমান এবং উভয়ের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেছেন, দেশটি ইরানি সরকারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন ধরনের গুরুতর নিরাপত্তা হুমকির মুখোমুখি। তার দাবি, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাজ্যের ইহুদি সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা এবং বিদেশে সমালোচকদের চুপ করানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকে। এসব কর্মকাণ্ডে প্রক্সি ও অপরাধী নেটওয়ার্ক ব্যবহারের অভিযোগও করেন তিনি। তবে ইরান বরাবরই এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশের জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স বলেন, পবিত্র দিনগুলোর সময় কথিত হামলার পরিকল্পনার খবর ইহুদি সম্প্রদায় ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে যখন যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক সিনাগগে গত বছরের প্রাণঘাতী হামলার বর্ষপূর্তিও ঘনিয়ে এসেছে। ২০২৫ সালের ২ অক্টোবর ম্যানচেস্টারের হিটন পার্ক হিব্রু কংগ্রেগেশন সিনাগগে হামলার ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হন। যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলাকারী গাড়ি নিয়ে উপাসনালয়ের বাইরে থাকা মানুষের ওপর আঘাত করার পর ছুরি নিয়ে হামলা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হামলাকারীকে গুলি করে হত্যা করে। এদিকে নতুন মামলার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের আরেকটি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা তদন্তের কোনো সম্পর্ক নেই বলে পুলিশ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিকে ঘিরে কথিত হামলার পরিকল্পনার তদন্তে গত বৃহস্পতিবার এক দ্বৈত ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে শুক্রবারের মামলায় অভিযুক্ত সালেহি ও আহমাদিয়ানের সঙ্গে ওই ঘটনার কোনো যোগসূত্র পাওয়া যায়নি বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। যুক্তরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুই অভিযুক্ত কয়েক বছর আগে ছোট নৌকায় করে ইউরোপ থেকে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তাদের একজনকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং অন্যজনের আশ্রয়ের আবেদন তখনও চলমান ছিল। দুই অভিযুক্তকে শুক্রবার হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাদের ৩ অক্টোবর লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেটস কোর্টে হাজির করার কথা ছিল। ক্রাউন প্রসিকিউশন সার্ভিস জানিয়েছে, দ্রুত পরিচালিত সন্ত্রাসবিরোধী তদন্তের পর আদালতে অভিযোগ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রমাণ রয়েছে বলে প্রসিকিউটররা মনে করেছেন। তবে সেটি কোনোভাবেই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সমতুল্য নয়। সূত্র: রয়টার্স
কফির সুবাস ও স্বাদ উপভোগ করতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এক কাপ পানীয় হাতে নেন। কিন্তু বিশ্বের কিছু বিশেষ কফি রয়েছে, যেগুলোর উৎপাদনপ্রক্রিয়া সাধারণ কফির তুলনায় একেবারেই আলাদা। থাইল্যান্ডের ব্ল্যাক আইভরি কফি এবং ইন্দোনেশিয়ার কোপি লুওয়াক এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত দুটি নাম। দুই ক্ষেত্রেই কফির চেরি প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর মল থেকে আস্ত বিন সংগ্রহ করা হয়। পরে সেগুলো পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজার মাধ্যমে পান করার উপযোগী করা হয়। ব্ল্যাক আইভরি কফি তৈরি হয় থাইল্যান্ডে। এর জন্য নির্বাচিত আরাবিকা কফির পাকা চেরি হাতিদের স্বাভাবিক খাবারের সঙ্গে দেওয়া হয়। কফি চেরিগুলো খাওয়ার পর হাতির পরিপাকতন্ত্রে সেগুলো কয়েক ঘণ্টা থাকে। উৎপাদক প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এই সময় ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত হতে পারে। পরে হাতির মল থেকে কফির বিন আলাদা করে হাতে সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো ভালোভাবে ধুয়ে রোদে শুকানো এবং নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ভাজা হয়। এই কফির বিশেষত্বের একটি কারণ হিসেবে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানটি হাতির পরিপাকতন্ত্রে সংঘটিত জৈবিক গাঁজন প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে। তাদের দাবি, হাতির পরিপাকতন্ত্রের এনজাইম কফি চেরির কিছু প্রোটিন ভেঙে দেয়। এতে সাধারণ কফির তিক্ততা কমে এবং স্বাদে মাটির মতো ও ফলের আভাস তৈরি হয়। তবে এসব স্বাদগত বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা মূলত উৎপাদক ও কফি-বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। ব্ল্যাক আইভরির উৎপাদনও খুব সীমিত। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, বছরে প্রায় ৫০০ পাউন্ড বা ২২৭ কেজির মতো কফি উৎপাদন করা হয়। ২০২৫ সালের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ৪৯৫ পাউন্ড উৎপাদনের কথা জানিয়েছে। সীমিত উৎপাদন, হাতে বাছাই ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে এর দাম সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বিভিন্ন প্যাকেজের দাম বেশ চড়া, আর তাদের এক প্রতিবেদনে প্রতি কেজি কফির দাম প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে কোপি লুওয়াকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে এশিয়ান পাম সিভেট বা গন্ধগোকুলের নাম। ইন্দোনেশীয় ভাষায় ‘কোপি’ অর্থ কফি এবং ‘লুওয়াক’ বলতে গন্ধগোকুলকে বোঝায়। এই নিশাচর স্তন্যপায়ী প্রাণী কফি চেরি খাওয়ার পর ফলের বাইরের অংশ হজম করে। কিন্তু শক্ত কফির বীজ পুরোপুরি হজম না হয়ে মলের সঙ্গে বেরিয়ে আসে। পরে সেই বীজ সংগ্রহ করে পরিষ্কার, শুকানো ও ভাজা হয়। কফির এই অস্বাভাবিক উৎপাদনপ্রক্রিয়া থেকেই কোপি লুওয়াকের বিশেষত্বের ধারণা এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্র ও এর সঙ্গে যুক্ত অণুজীব কফির রাসায়নিক গঠনে পরিবর্তন আনতে পারে। তবে কোপি লুওয়াকের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের পার্থক্য কেবল প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রের কারণে তৈরি হয় কি না, তা নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে। একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রাণীটির বেছে বেছে পাকা কফি চেরি খাওয়ার বিষয়টিও চূড়ান্ত স্বাদের পার্থক্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কপি লুওয়াকের দামও সাধারণ কফির তুলনায় অনেক বেশি। সীমিত সরবরাহ, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিশেষত্ব এবং এর বিরলতার ধারণা এই কফিকে বিলাসবহুল পণ্যে পরিণত করেছে। তবে এই কফির বাজার নিয়ে প্রাণীকল্যাণের প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ২৯টি সিভেট কফি পর্যটন খামার নিয়ে করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে, সেখানে প্রাণীদের কল্যাণের মান নিয়ে গুরুতর ঘাটতি ছিল এবং কোনো সিভেটই গবেষণায় মূল্যায়ন করা পাঁচটি মৌলিক প্রাণীকল্যাণের স্বাধীনতা পুরোপুরি পূরণ করেনি। এ কারণে সব কোপি লুওয়াককে একইভাবে উৎপাদিত বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বন্য পরিবেশ থেকে সংগৃহীত কফি এবং খাঁচায় রাখা প্রাণী দিয়ে উৎপাদিত কফির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গবেষকেরা বিশেষ করে খাঁচায় রাখা সিভেটকে জোর করে কফি চেরি খাওয়ানো, সীমিত চলাচল ও অনুপযুক্ত পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ফলে এই কফি কেনার ক্ষেত্রে উৎপাদনপ্রক্রিয়া ও প্রাণীকল্যাণের বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শও উঠে এসেছে। আধুনিক গবেষণায় অবশ্য প্রাণী ব্যবহার না করেও কোপি লুওয়াকের মতো গাঁজন প্রক্রিয়া তৈরি করার চেষ্টা চলছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় গন্ধগোকুলের পরিপাকতন্ত্রের অণুজীব ব্যবহার করে পরীক্ষাগারে অনুরূপ জৈবিক গাঁজন পদ্ধতি তৈরির কথা জানানো হয়েছে। এর লক্ষ্য ছিল প্রাণীকে ব্যবহার না করেই একই ধরনের স্বাদ ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য পাওয়া। ফলে ব্ল্যাক আইভরি ও কোপি লুওয়াক শুধু অদ্ভুত উৎপাদনপ্রক্রিয়ার জন্যই আলোচিত নয়। সীমিত উৎপাদন, বিশেষ গাঁজন প্রক্রিয়া, বাজারের বিরলতার ধারণা এবং বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা মিলিয়ে এগুলো কফির দুনিয়ায় আলাদা জায়গা তৈরি করেছে। তবে দাম বা স্বাদের পাশাপাশি প্রাণীকল্যাণের বিষয়টিও এই বিশেষ কফিগুলোর আলোচনা থেকে বাদ দেওয়া যায় না। সূত্র: Black Ivory Coffee, গবেষণাপত্র ও PubMed।
পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে। পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম। নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।
মাঝ আকাশে সহকারী পাইলটের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত। কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও নিজের অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার জোরে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছা। দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা এই রোমহর্ষক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বন্দিত হচ্ছেন এই সাহসী পাইলট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—সবাই তাঁকে ‘বাস্তবের নায়ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের ওই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি। বিমানটি ওমানের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ককপিটের ভেতর ক্যাপ্টেন স্মিথের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরই এক সহকারী পাইলট। ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে যাত্রীবোঝাই বিমানটিকে বিধ্বস্ত করার ভয়ংকর উদ্দেশ্য নিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরও দমে যাননি স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যমতে, স্মিথ রক্তাক্ত অবস্থাতেই হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে ওই হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন। হামলাকারীকে প্রতিহত করার পর চরম সংকটাপন্ন অবস্থাতেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ক্যাপ্টেন স্মিথ। তিনি দ্রুত বিমানের গতিপথ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং তাবুক শহরের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির সফল জরুরি অবতরণ করান। তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী সিদ্ধান্তে মাঝ আকাশে একটি নিশ্চিত বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পান ফ্লাইটের সব যাত্রী ও ক্রু। পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের যাত্রীদের সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পেশাগত জীবনে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাপ্টেন স্মিথ ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দেওয়ার কথা নিজের পেশাগত বিবরণীতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যা তিনি বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে, মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার ইস্ট এলাকায় বসবাসরত স্মিথের পরিবারও এই দুঃসংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানো এই পাইলটের বীরত্ব এখন গোটা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
জনপ্রিয় টিকটকার নিধির মৃত্যু, শেষ ফোনালাপের এক তরুণের তথ্য যাচাই করছে পুলিশ
বন্ধু ও শিক্ষকদের ওয়াদা রাখতেই মুকুট নিয়ে আবুধাবিতে ফিরলেন মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া ২০২৬
অশি ক্ষি ত, চাঁ দা বা জ দিয়ে দেশটা ভরে গেছে, ক্ষুব্ধ সাদিয়া আয়মান
লিপস্টিকের মান পরীক্ষায় চু মু র দাগে ভরে যায় লোকটির মুখ, তার একমাত্র কাজই ছিল চু মু খাওয়া
অস্ট্রেলিয়ার পর্দায় বাংলাদেশের ‘মাস্টার’, এবার হাইকমিশনের পোস্টেও প্রশংসা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
নিউইয়র্কের চেয়েও ব্যয়বহুল সান ফ্রান্সিসকোর দুই বেডরুমের বাসা, ভাড়া ৬,৩৪০ ডলার
দমবন্ধ হয়ে আসা ১১ মাসের শিশুকে বাঁচালেন নিউইয়র্কের দুই পুলিশ কর্মকর্তা, মায়ের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে সহায়তা দেওয়া মা-বাবার ৬৪ শতাংশ আর্থিক চাপে
নিউইয়র্ক পুলিশে ডেপুটি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ ইসলাম
লস অ্যাঞ্জেলেসে শিক্ষার্থীর চারতলা থেকে পড়ে মৃত্যুর পর বুলিংয়ের অভিযোগ এনেছে পরিবার
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা সম্ভব, তবে কোরআন নিজেই সংবিধান নয়: আইনমন্ত্রী
পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল
আইইএলটিএসে ৯-এ ৯, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও কৌশল জানালেন মুস্তাবীন নূর
যে রাজ্যে শিক্ষাঋণের মাসিক কিস্তি সবচেয়ে বেশি, নতুন প্রতিবেদনে চমকপ্রদ তথ্য
১১৯ দল পেরিয়ে আন্তর্জাতিক খাদ্যব্যবস্থা উদ্ভাবন চ্যালেঞ্জে বিশ্বসেরা ছয়ে বাকৃবির শিক্ষার্থীরা
স্টুডেন্ট লোনে সুদ কমানোর সুযোগ বাড়ল, বাড়ানো হলো আবেদনের সময়সীমা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্বসেরা অক্সফোর্ডে মাস্টার্সের সুযোগ পেলেন ফারিহা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান
সাড়ে পাঁচ বছর পর ডলারের বিপরীতে শক্তিশালী টাকা, কমছে বৈদেশিক মুদ্রার চাপ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের
চীন-পাকিস্তানের সেনা অংশ নেওয়া রুশ মহড়া ৫৫টি দেশের প্রতিনিধিদলসহ পর্যবেক্ষণ করলেন পুতিন
চীনের অভিযানে চাঁদে যাচ্ছে পাকিস্তানের চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’
মাদুরোকে ধরার আগে এআইয়ের সহযোগীতা নিলেন ট্রাম্প, ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন ফাঁস!
চীনের বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা, ছয় মাসে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ১২ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার
চ্যাটজিপিটিকে বারবার ‘স্যার’ ডাকছেন ৭৭ বছরের ভারতীয় ব্যবসায়ী, মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ল তাঁর কাণ্ড
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নজরদারিতে নতুন সাইবার পুলিশ ইউনিট
এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার নয়, সৃজনশীলতা ধরে রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে এক টেবিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আমার পিএইচডি রিসার্চের টপিক ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান, বললেন শিক্ষামন্ত্রী