যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এফ-১ ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে অন্তত ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হতে পারে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ৭ অক্টোবর রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। সাধারণত এফ-১ ভিসাধারীরা পড়াশোনার সময় নির্দিষ্ট শর্তে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে যোগ্য ডিগ্রিধারীরা অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের সময় পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন। এই কর্মসূচি অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত জীবন শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনেকে ওপিটির মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি কর্মভিসার জন্য চেষ্টা করেন। নতুন প্রস্তাবের কারণে এই পথ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের খরচ প্রায় ৫০০ ডলারের কাছাকাছি হলেও প্রস্তাবিত ফি অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পর চাকরি খোঁজা ও কর্মজীবন শুরু করার পরিকল্পনায় বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি কোন কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। প্রশাসনের যুক্তি, নতুন ফি দিয়ে জালিয়াতি ঠেকানো, অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা, এত বড় অঙ্কের ফি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পড়াশোনার খরচ মেটাতে পরিবারের সঞ্চয়, শিক্ষা ঋণ বা সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য প্রস্তাবটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করা প্রয়োজন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিক করণীয় হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা, ওপিটি আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সরকারি নিয়মের আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। নতুন ফি প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এর কার্যকর হওয়ার তারিখ, প্রযোজ্য শিক্ষার্থীর শ্রেণি এবং বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের ‘এফ-৩৫’ স্টিল্থ যুদ্ধবিমান ভারতে এসে পৌঁছালেও সেগুলোর ধারেকাছেও কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না—সম্প্রতি এমনই এক রসাত্মক ও আক্ষেপের সুরে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। রাজস্থানের যোধপুরে সদ্য সমাপ্ত আন্তর্জাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’-র সমাপনী দিনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই মহড়ায় অংশ নিতে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে অবতরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। মহড়ার শেষ দিনে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ভারতীয় বিমানপ্রধান। সেখানে সাংবাদিকরা জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে কি না। জবাবে পাশে থাকা মার্কিন কমান্ডারের দিকে তাকিয়ে হাস্যরসের সুরে এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং বলেন, মার্কিন বাহিনী তো ভারতীয়দের এই বিমানের ধারেকাছেও যেতে দেয় না, সেখানে বিক্রির প্রস্তাব তো অনেক দূরের কথা! তবে পরক্ষণেই নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, কথাটি নিছকই কৌতুকচ্ছলে বলা হয়েছে এবং এটিকে গুরুতরভাবে নেওয়ার কিছু নেই। তিনি স্বীকার করেন যে, যেকোনো দেশই তাদের সংবেদনশীল ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তির সুরক্ষার স্বার্থে এমন কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখে, এমনকি ভারতও নিজেদের সব প্রযুক্তি অন্যদের সাথে ভাগ করে নেয় না। এ প্রসঙ্গে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডার জানান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি বা তথ্য কোন দেশের সাথে কতটুকু আদান-প্রদান করা যাবে, তা ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিরক্ষা নির্দেশিকা ও গাইডলাইনের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে প্রতিবেশী চীনের হাতে থাকা জে-২০ ও জে-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য নতুন বিমান সংগ্রহের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন ঘাটতি মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় বিমানপ্রধান জানিয়েছেন, রাশিয়া ইতিমধ্যে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের ‘সুখোই-৫৭’ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা ও আলাবামা অঙ্গরাজ্যে ঘূর্ণিঝড় আইসাইয়াসের আঘাতের পর উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলার কাজ চলছে। ঝড়ের অবশিষ্টাংশ উত্তর দিকে অগ্রসর হওয়ায় অ্যাপালাচিয়ান পার্বত্য অঞ্চল এবং মধ্য-আটলান্টিক এলাকার কয়েকটি স্থানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও টর্নেডোর ঝুঁকি নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামায় গাছ উপড়ে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সড়কে গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে চলাচল ব্যাহত হয়েছে। কিছু এলাকায় বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু করেছেন। ফ্লোরিডার প্যানহ্যান্ডল এলাকায় ঝড়ের কারণে বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আলাবামার কয়েকটি এলাকাতেও গাছ পড়ে ঘরবাড়ি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বহু পরিবারকে বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় থাকতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কখন পুরোপুরি ফিরবে, তা এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। ঝড়ের প্রভাব দক্ষিণাঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ভারী বৃষ্টির কারণে পশ্চিম নর্থ ক্যারোলাইনার নদীগুলোর পানি বেড়ে কিছু এলাকায় প্লাবন, ভূমিধস এবং পানিতে আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। ভার্জিনিয়া ও নর্থ ক্যারোলাইনার কিছু এলাকায় টর্নেডোর ঝুঁকির কথাও জানিয়েছে আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ফেডারেল সহায়তার ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জর্জিয়ার জন্য জরুরি অবস্থা অনুমোদন করেছেন; এর ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সহায়তা পাওয়ার পথ তৈরি হয়েছে। ফ্লোরিডা ও আলাবামার জন্যও আগে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বিভাগ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন মোকাবিলায় কৌশলগত মজুত থেকে অপরিশোধিত তেল বিনিময়ের জরুরি ব্যবস্থা অনুমোদন করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এর ফলে সাধারণ ভোক্তাদের জ্বালানির দাম কতটা পরিবর্তিত হবে, তা এখনই নিশ্চিত নয়। এদিকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে হারিকেন সাইমন মেক্সিকোর উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় সেখানে ভারী বৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, র্যাচেল নামের আরেকটি ঝড়ের অবশিষ্টাংশ দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে বড় ঢেউ, উপকূলীয় প্লাবন ও ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষের পরামর্শ হলো, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তর, জরুরি ব্যবস্থাপনা বিভাগ ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। বন্যার পানিতে ডুবে থাকা সড়কে গাড়ি চালানো এবং বিদ্যুতের তারের কাছে যাওয়া বিপজ্জনক।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (এনওয়াইপিডি) এক কর্মকর্তাকে অবৈধ অভিবাসীদের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নীরব থাকা, অথচ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অভিযানে এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সরব হওয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভর্নরের এমন আচরণকে চরম ‘ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় আইসিই এজেন্টদের হাত থেকে পালানোর সময় অস্কার বেলগাল নামের এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য গুলিবিদ্ধ হন, তবে তার আঘাত গুরুতর ছিল না। ওই অভিযানের সময় ৫ বছর বয়সী এক শিশু থাকা গাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে গভর্নর হোকুল আইসিই-এর বিরুদ্ধে এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনেন এবং এজেন্টদের শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার দাবি জানান। এর জবাবে রোববার ফক্স নিউজের শ্যানন ব্রিমের অনুষ্ঠানে মার্কওয়েন মুলিন গভর্নর হোকুল এবং অন্যান্য অভিবাসী-বান্ধব রাজনীতিবিদদের দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহেই (২ অক্টোবর) ব্রঙ্কসের একই এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের হাতে এনওয়াইপিডির অফ-ডিউটি ডিটেকটিভ হোসে মার্সিডিজ সাতবার ছুরিকাঘাতের শিকার হন। অথচ সেই ঘটনায় গভর্নর বা অন্য কোনো নেতা একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি, কোনো সংবাদ সম্মেলন বা প্রতিবাদও হয়নি। কিন্তু একজন চিহ্নিত অপরাধী গুলিবিদ্ধ হতেই তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান জানান, ডিটেকটিভ মার্সিডিজকে ছুরিকাঘাতে অভিযুক্ত ড্যানجেলো রাফায়েল জিন কারাবালো ও স্নাইডার মেজিয়া বাউতিস্তা এবং আইসিই-এর গুলিতে আহত অস্কার বেলগাল—এই তিনজনই ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাদের অনেক আগেই দেশ থেকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল। মুলিন আরও প্রকাশ করেন, তিন বছর আগে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর থেকে বেলগালের বিরুদ্ধে ডাকাতির চারটি, হামলার দুটি, মাদকের দুটি এবং চুরির দুটি গুরুতর ফৌজদারি (ফেলোনি) অভিযোগসহ অবৈধ অস্ত্র রাখার একাধিক মামলা জমা হয়েছে। নিউইয়র্ক প্রশাসন এসব অপরাধীদের বারবার ছেড়ে দেওয়ায় আইসিই-কে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, আহত পুলিশ কর্মকর্তা মার্সিডিজ ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তার ওপর হামলার ঘটনায় গভর্নরের নীরবতা নিয়ে ওঠা সমালোচনা রোববার প্রত্যাখ্যান করেছে হোকুলের কার্যালয়। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নরের মুখপাত্র জানান, এনওয়াইপিডির কঠোর পরিশ্রমী সদস্যদের প্রতি গভর্নরের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করার পরিবর্তে গভর্নর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তহবিল বাড়ানো, আইন কঠোর করা এবং ‘বেপরোয়া’ আইসিই এজেন্টদের হাত থেকে নিউইয়র্কবাসীকে রক্ষা করার মতো প্রকৃত কাজেই অগ্রাধিকার দেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ খুঁজছেন এমন দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক ইবি-২ গ্রিন কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবী এবং বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় বিশেষ দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করে এই শ্রেণিতে আবেদন করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও পরিবারের সদস্য হিসেবে অভিবাসনের সুযোগ পেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবার নিয়ম অনুযায়ী, ইবি-২ মূলত দুই ধরনের আবেদনকারীকে অন্তর্ভুক্ত করে। প্রথম শ্রেণিতে রয়েছেন উচ্চতর ডিগ্রিধারী পেশাজীবীরা। দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসায় সাধারণ মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিরা। এ ছাড়া জাতীয় স্বার্থে ছাড় বা ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার নামে একটি বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী ব্যক্তি নিয়োগকর্তার স্পনসর ছাড়াই নিজের আবেদন করতে পারেন। উচ্চতর ডিগ্রির ক্ষেত্রে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রির চেয়ে বেশি মানের শিক্ষাগত বা পেশাগত যোগ্যতা থাকতে হয়। এর মধ্যে মাস্টার্স ও ডক্টরেট ডিগ্রি অন্তর্ভুক্ত। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রির পর অন্তত পাঁচ বছরের ক্রমবর্ধমান দায়িত্ব ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাগত কাজ থাকলে সেটিকে মাস্টার্স ডিগ্রির সমতুল্য হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে। শুধু আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকলেই হবে না; যে পেশায় তিনি যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করতে চান, সেটিও সাধারণত উচ্চতর যোগ্যতাসম্পন্ন পেশাদার কাজ হতে হবে। অর্থাৎ সংশ্লিষ্ট পদে প্রবেশের জন্য সাধারণত অন্তত স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন হওয়া উচিত। উদাহরণ হিসেবে, প্রকৌশলে উচ্চতর ডিগ্রিধারী কেউ যুক্তরাষ্ট্রে প্রকৌশলী হিসেবে কাজের জন্য আবেদন করলে তাঁর যোগ্যতা বিবেচিত হতে পারে। কিন্তু একই ব্যক্তি এমন একটি কাজের জন্য আবেদন করলে, যেখানে সাধারণত ডিগ্রির প্রয়োজন নেই, সেখানে শুধু তাঁর উচ্চতর ডিগ্রি ইবি-২ যোগ্যতা নিশ্চিত করবে না। যাঁদের উচ্চতর ডিগ্রি নেই, তাঁরাও বিশেষ দক্ষতার ভিত্তিতে আবেদন করার সুযোগ পেতে পারেন। তবে তাঁদের প্রমাণ করতে হবে, বিজ্ঞান, শিল্পকলা বা ব্যবসার ক্ষেত্রে তাঁদের দক্ষতা সংশ্লিষ্ট পেশায় সাধারণত দেখা যায় এমন মানের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ জন্য নির্ধারিত ছয়টি মানদণ্ডের মধ্যে অন্তত তিনটি পূরণ করার প্রমাণ দিতে হয়। এসব মানদণ্ডের মধ্যে রয়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, একই পেশায় অন্তত ১০ বছরের পূর্ণকালীন কাজের অভিজ্ঞতার প্রমাণ, পেশাগত লাইসেন্স বা সনদ, বিশেষ দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন, পেশাজীবীদের সংগঠনের সদস্যপদ এবং সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অবদানের জন্য সহকর্মী, প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বীকৃতি। কাজের অভিজ্ঞতা প্রমাণে নিয়োগকর্তার চিঠিসহ প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারীর পেশা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রমাণের ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ ইবি-২ আবেদনে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়োগকর্তার চাকরির প্রস্তাব এবং শ্রম সনদসংক্রান্ত প্রক্রিয়া প্রয়োজন হয়। তবে ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট ওয়েইভার বা জাতীয় স্বার্থে ছাড়ের ক্ষেত্রে কিছু শর্ত শিথিল হতে পারে। এ ব্যবস্থায় যোগ্য ব্যক্তি নিজেই আবেদন করতে পারেন; নিয়োগকর্তার স্পনসর এবং প্রচলিত শ্রম সনদ প্রক্রিয়া থেকে ছাড় পাওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এই ছাড় স্বয়ংক্রিয় নয়। আবেদনকারীকে আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হয় যে তাঁর প্রস্তাবিত কাজের যথেষ্ট গুরুত্ব ও জাতীয় তাৎপর্য রয়েছে, তিনি সেই কাজ এগিয়ে নেওয়ার উপযুক্ত অবস্থানে আছেন এবং চাকরির প্রস্তাব ও শ্রম সনদের শর্ত মওকুফ করলে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক উপকার হবে। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক—অর্থাৎ স্টেম—ক্ষেত্রে উচ্চতর ডিগ্রিধারীদের আবেদনও এই ব্যবস্থায় বিবেচিত হতে পারে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ বা উদীয়মান প্রযুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণা ও কাজের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং প্রস্তাবিত কাজের প্রভাব গুরুত্ব পেতে পারে। তবে শুধু স্টেম বিষয়ে ডিগ্রি বা ডক্টরেট থাকলেই জাতীয় স্বার্থে ছাড় নিশ্চিত হয় না; নির্ধারিত শর্ত পূরণের প্রমাণ প্রয়োজন। কিছু নির্দিষ্ট পেশার ক্ষেত্রে শ্রম সনদসংক্রান্ত নিয়মে ব্যতিক্রম রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের ‘শিডিউল এ’ তালিকায় নির্দিষ্ট পেশা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই তালিকায় থাকা মানেই সব আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইবি-২ গ্রিন কার্ডের যোগ্য হবেন, এমন নয়। কোন অভিবাসন শ্রেণিতে আবেদন করা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট পেশার জন্য কী শর্ত প্রযোজ্য, তা আলাদাভাবে যাচাই করতে হয়। ইবি-২ আবেদনের জন্য সাধারণত আই-১৪০ ফরমের মাধ্যমে অভিবাসন আবেদন জমা দেওয়া হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে যোগ্য আবেদনকারীর স্বামী বা স্ত্রী এবং ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানরাও নির্ধারিত নিয়মে অভিবাসী মর্যাদার জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে শুধু আই-১৪০ অনুমোদন হলেই পরিবারের সবাই সঙ্গে সঙ্গে গ্রিন কার্ড পেয়ে যাবেন, এমন নয়। ভিসা পাওয়ার সুযোগ, প্রয়োজনীয় আবেদন এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হয়। সব মিলিয়ে, ইবি-২ দক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের একটি বিদ্যমান অভিবাসনপথ। তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, প্রস্তাবিত পেশা এবং প্রয়োজনীয় নথি—সবকিছুই আবেদন মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির বর্তমান নিয়ম ও যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক পঞ্চম প্রজন্মের ‘এফ-৩৫’ স্টিল্থ যুদ্ধবিমান ভারতে এসে পৌঁছালেও সেগুলোর ধারেকাছেও কাউকে ঘেঁষতে দেওয়া হচ্ছে না—সম্প্রতি এমনই এক রসাত্মক ও আক্ষেপের সুরে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং। রাজস্থানের যোধপুরে সদ্য সমাপ্ত আন্তর্জাতিক বিমান মহড়া ‘তরঙ্গ শক্তি’-র সমাপনী দিনের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এই মহড়ায় অংশ নিতে প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে অবতরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান। মহড়ার শেষ দিনে মার্কিন প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিমানবাহিনীর কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডারের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন ভারতীয় বিমানপ্রধান। সেখানে সাংবাদিকরা জানতে চান, যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান ভারতের কাছে বিক্রির কোনো আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছে কি না। জবাবে পাশে থাকা মার্কিন কমান্ডারের দিকে তাকিয়ে হাস্যরসের সুরে এয়ার চিফ মার্শাল এ পি সিং বলেন, মার্কিন বাহিনী তো ভারতীয়দের এই বিমানের ধারেকাছেও যেতে দেয় না, সেখানে বিক্রির প্রস্তাব তো অনেক দূরের কথা! তবে পরক্ষণেই নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, কথাটি নিছকই কৌতুকচ্ছলে বলা হয়েছে এবং এটিকে গুরুতরভাবে নেওয়ার কিছু নেই। তিনি স্বীকার করেন যে, যেকোনো দেশই তাদের সংবেদনশীল ও গোপনীয় সামরিক প্রযুক্তির সুরক্ষার স্বার্থে এমন কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখে, এমনকি ভারতও নিজেদের সব প্রযুক্তি অন্যদের সাথে ভাগ করে নেয় না। এ প্রসঙ্গে মার্কিন কমান্ডার জেনারেল কেভিন স্নাইডার জানান, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তি বা তথ্য কোন দেশের সাথে কতটুকু আদান-প্রদান করা যাবে, তা ওয়াশিংটনের সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিরক্ষা নির্দেশিকা ও গাইডলাইনের ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে ভারত নিজস্ব প্রযুক্তিতে পঞ্চম প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তবে সেটি পুরোপুরি প্রস্তুত হতে আরও বেশ কিছুটা সময় লাগবে। এদিকে প্রতিবেশী চীনের হাতে থাকা জে-২০ ও জে-৩৫ যুদ্ধবিমান এবং পাকিস্তানের সম্ভাব্য নতুন বিমান সংগ্রহের কারণে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখা ভারতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অন্তর্বর্তীকালীন ঘাটতি মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবছে নয়াদিল্লি। ভারতীয় বিমানপ্রধান জানিয়েছেন, রাশিয়া ইতিমধ্যে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের ‘সুখোই-৫৭’ যুদ্ধবিমান বিক্রির প্রস্তাব দিলেও ভারত সরকার এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (এনওয়াইপিডি) এক কর্মকর্তাকে অবৈধ অভিবাসীদের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নীরব থাকা, অথচ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) অভিযানে এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় সরব হওয়ায় নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান মার্কওয়েন মুলিন। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গভর্নরের এমন আচরণকে চরম ‘ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত গত বৃহস্পতিবার। ব্রঙ্কসের মার্বেল হিল এলাকায় আইসিই এজেন্টদের হাত থেকে পালানোর সময় অস্কার বেলগাল নামের এক সন্দেহভাজন গ্যাং সদস্য গুলিবিদ্ধ হন, তবে তার আঘাত গুরুতর ছিল না। ওই অভিযানের সময় ৫ বছর বয়সী এক শিশু থাকা গাড়িতে গুলি চালানোর অভিযোগ তুলে গভর্নর হোকুল আইসিই-এর বিরুদ্ধে এলাকায় ইচ্ছাকৃতভাবে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ আনেন এবং এজেন্টদের শহর ছেড়ে চলে যাওয়ার দাবি জানান। এর জবাবে রোববার ফক্স নিউজের শ্যানন ব্রিমের অনুষ্ঠানে মার্কওয়েন মুলিন গভর্নর হোকুল এবং অন্যান্য অভিবাসী-বান্ধব রাজনীতিবিদদের দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, গত সপ্তাহেই (২ অক্টোবর) ব্রঙ্কসের একই এলাকায় অবৈধ অভিবাসীদের হাতে এনওয়াইপিডির অফ-ডিউটি ডিটেকটিভ হোসে মার্সিডিজ সাতবার ছুরিকাঘাতের শিকার হন। অথচ সেই ঘটনায় গভর্নর বা অন্য কোনো নেতা একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি, কোনো সংবাদ সম্মেলন বা প্রতিবাদও হয়নি। কিন্তু একজন চিহ্নিত অপরাধী গুলিবিদ্ধ হতেই তারা রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ শুরু করেছেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান জানান, ডিটেকটিভ মার্সিডিজকে ছুরিকাঘাতে অভিযুক্ত ড্যানجেলো রাফায়েল জিন কারাবালো ও স্নাইডার মেজিয়া বাউতিস্তা এবং আইসিই-এর গুলিতে আহত অস্কার বেলগাল—এই তিনজনই ডোমিনিকান রিপাবলিকের নাগরিক। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তাদের অনেক আগেই দেশ থেকে বহিষ্কার করা উচিত ছিল। মুলিন আরও প্রকাশ করেন, তিন বছর আগে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর থেকে বেলগালের বিরুদ্ধে ডাকাতির চারটি, হামলার দুটি, মাদকের দুটি এবং চুরির দুটি গুরুতর ফৌজদারি (ফেলোনি) অভিযোগসহ অবৈধ অস্ত্র রাখার একাধিক মামলা জমা হয়েছে। নিউইয়র্ক প্রশাসন এসব অপরাধীদের বারবার ছেড়ে দেওয়ায় আইসিই-কে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদিকে, আহত পুলিশ কর্মকর্তা মার্সিডিজ ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তার ওপর হামলার ঘটনায় গভর্নরের নীরবতা নিয়ে ওঠা সমালোচনা রোববার প্রত্যাখ্যান করেছে হোকুলের কার্যালয়। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে গভর্নরের মুখপাত্র জানান, এনওয়াইপিডির কঠোর পরিশ্রমী সদস্যদের প্রতি গভর্নরের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাকে নিয়ে রাজনীতি করার পরিবর্তে গভর্নর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তহবিল বাড়ানো, আইন কঠোর করা এবং ‘বেপরোয়া’ আইসিই এজেন্টদের হাত থেকে নিউইয়র্কবাসীকে রক্ষা করার মতো প্রকৃত কাজেই অগ্রাধিকার দেবেন।
সমুদ্রের তলদেশে থাকা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ক্যাবল এবং জ্বালানি পাইপলাইনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে এক ভয়ঙ্কর গোপন যুদ্ধে মেতেছে রাশিয়া ও চীন। এই নাশকতা যদি পুরোপুরি সফল হয়, তবে আধুনিক বিশ্ব মুহূর্তেই ইন্টারনেট ও জ্বালানি হারিয়ে মধ্যযুগীয় অন্ধকারে বা অন্তত ১৮৫৮ সালের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে। আটলান্টিক কাউন্সিলের সিনিয়র ফেলো এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক এলিজাবেথ ব্র-এর সদ্য প্রকাশিত বই ‘আন্ডারসি ওয়ার: দ্য ব্যাটল টু কন্ট্রোল দ্য ক্যাবলস অ্যান্ড পাইপলাইনস দ্যাট কানেক্ট আওয়ার ওয়ার্ল্ড’-এ এই ভীতিকর বাস্তবতা উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর। রাশিয়ার উস্ত-লুগা বন্দর থেকে খনিজ সার বোঝাই করে বাল্টিক সাগরে প্রবেশ করে চীনা পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘ই পেং ৩’ (Yi Peng 3)। এর মাত্র দুই দিন পর জাহাজটি সুইডেন ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যকার সমুদ্রতলের যোগাযোগ ক্যাবলের ওপর দিয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই লাইনটি অচল হয়ে পড়ে। ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে ফিনল্যান্ড ও জার্মানির মধ্যকার একমাত্র যোগাযোগ ক্যাবলটির পাশ দিয়ে যায় জাহাজটি এবং সেটিও বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইউরোপীয় তদন্তকারীরা দ্রুতই বুঝতে পারেন যে ক্যাবল দুটি কেটে ফেলা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইনের সীমাবদ্ধতা ও চীনের অসহযোগিতার কারণে জাহাজটিকে আটকানো সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ ধরনের গোপন নাশকতাকে ‘হাইব্রিড অ্যাটাক’ বা ছায়াযুদ্ধ বলে অভিহিত করছেন, যা সরাসরি যুদ্ধ ও কূটনীতির মাঝামাঝি এক ধূসর অঞ্চলে (গ্রে-জোন) পরিচালিত হয়। কেবল সমুদ্রতলেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে এস্তোনিয়া, জার্মানি, পোল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র এবং বুলগেরিয়ার অস্ত্র কারখানায় রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। গত ২০ আগস্ট কৃষ্ণসাগরে একটি গ্যাস প্ল্যাটফর্মের কাছে সন্দেহজনক রোবোটিক বোট ধ্বংস করতে রোমানিয়ার বিমান বাহিনী দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পাঠায়। এছাড়া সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে অগ্নিসংযোগ ও হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যুক্ত পাঁচজনকে অভিযুক্ত করেছে এফবিআই। এমনকি গত আগস্টে জার্মানির বিমানবন্দরে থাকা বেসামরিক বিমানে বিস্ফোরকবাহী ড্রোন হামলার জন্যও রাশিয়াকে দায়ী করা হয়। এলিজাবেথ ব্র তার বইয়ে দেখিয়েছেন কীভাবে সমুদ্রতলের প্রায় ২০ হাজার মাইল দীর্ঘ তেল-গ্যাস পাইপলাইন এবং ১০ লাখ মাইল দীর্ঘ ফাইবার অপটিক ক্যাবল আধুনিক বিশ্বকে সচল রেখেছে। প্রতিদিনের ট্রিলিয়ন ডলারের আর্থিক লেনদেন, ইমেইল, জুম কল কিংবা ঘর গরম রাখার জ্বালানি—সবই নির্ভর করে এই ‘আন্ডারসি কিংডম’ বা সমুদ্রতলের সাম্রাজ্যের ওপর। অথচ যেকোনো সাধারণ জাহাজ থেকে একটি ভারী নোঙর ফেলেই এই সংবেদনশীল অবকাঠামো ধ্বংস করে দেওয়া সম্ভব। এর আগে ২০২৩ সালে তাইওয়ানের মাতসু দ্বীপের দুটি যোগাযোগ ক্যাবল কেটে দিয়েছিল চীনা কার্গো জাহাজ। ফলে মুহূর্তেই পুরো দ্বীপটি ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, অচল হয়ে যায় ডিজিটাল লেনদেন এবং হাসপাতালগুলোকে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়। একইভাবে ফিনল্যান্ডের জলসীমায় গ্যাস পাইপলাইন ও ক্যাবল ধ্বংসে জড়িত ছিল ‘নিউনিউ পোলার বিয়ার’ নামের আরেকটি জাহাজ, এবং ২০২২ সালে ইউক্রেনীয় নাশকতায় ধ্বংস হয় বিখ্যাত নর্ড স্ট্রিম পাইপলাইন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, সমুদ্রতলের এই ক্যাবল সুরক্ষার আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোটি ১৮৮৪ সালের প্যারিস কনভেনশনের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। জাতিসংঘের সমুদ্র আইন অনুযায়ী, কোনো জাহাজ ক্যাবল কাটলে তার বিচার বা তদন্তের দায়িত্ব কেবল ওই জাহাজটি যে দেশে নিবন্ধিত, সেই দেশের। ফলে অপরাধী জাহাজগুলো সহজেই দায়মুক্তি পেয়ে যায়। এই ভয়াবহ ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প বা অতিরিক্ত ক্যাবল (রিডান্ড্যান্সি) স্থাপনকেই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান বলে মনে করেন লেখক, যা বর্তমানে বাল্টিক সাগর ও তাইওয়ানের আশপাশে করা হচ্ছে। তবে উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে রয়টার্স জানায়, নরওয়ে উপকূলে ন্যাটোর এক যৌথ অভিযানে রুশ সাবমেরিনের একটি গোপন মহড়া ভণ্ডুল করে দেওয়া হয়েছে। রুশ সাবমেরিন যুদ্ধ পরিদপ্তরের (জিইউজিআই) তিনটি যান আর্কটিক অঞ্চলে কোনো চিহ্ন না রেখেই সমুদ্রতলের ডেটা ক্যাবল কাটার একটি নতুন অস্ত্রের পরীক্ষা চালাচ্ছিল, যা দীর্ঘ এক মাস ধরে অনুসরণ করে ব্রিটিশ সাবমেরিন। বিশ্লেষকদের মতে, সমুদ্রতলের এই নীরব যুদ্ধ হয়তো এখনো তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধায়নি, কিন্তু যেদিন হঠাৎ বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে, সেদিন বিশ্ববাসী ঠিকই এর ভয়াবহতা টের পাবে।
পূর্ব আফ্রিকার জিবুতির উপকূলে তিন শতাধিক অভিবাসী বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যের বরাত দিয়ে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস রোববার এ খবর প্রকাশ করে। নৌকাটি ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ইয়েমেনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই ডুবে যায়। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার জিবুতি কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, নৌকাটিতে অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারণে দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। এ ঘটনায় ৮০ জনের বেশি মানুষ বেঁচে গেছেন বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। জীবিতদের অধিকাংশই ইথিওপিয়ার নাগরিক। অন্তত ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের অনেককে পরিচয় শনাক্ত করা ছাড়াই সমাহিত করতে হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ সব মরদেহ শনাক্ত ও গণনা করা সম্ভব হয়নি। আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে ইয়েমেন হয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে পৌঁছানোর এই পথটি দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসীদের ব্যবহৃত একটি বিপজ্জনক রুট। সংঘাত, দারিদ্র্য ও কাজের সন্ধানে বহু মানুষ এই পথে যাত্রা করেন। কিন্তু অনিরাপদ নৌযান, অতিরিক্ত যাত্রী, মানবপাচারকারী চক্র এবং সমুদ্রের ঝুঁকির কারণে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সরকার ও দাতা সংস্থাগুলোর প্রতি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটির মতে, বিপজ্জনক পথ ব্যবহার কমাতে অভিবাসীদের জন্য নিয়মিত ও নিরাপদ যাত্রার ব্যবস্থা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এফ-১ ভিসায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে অন্তত ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হতে পারে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে আরও ৩০ হাজার ডলার ফি আরোপের প্রস্তাবও রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ৭ অক্টোবর রয়টার্স প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ঐচ্ছিক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেয়। সাধারণত এফ-১ ভিসাধারীরা পড়াশোনার সময় নির্দিষ্ট শর্তে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২০ ঘণ্টা কাজ করতে পারেন। যোগ্য শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পরও নির্দিষ্ট সময়ের জন্য প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ পেতে পারেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত বিষয়ে যোগ্য ডিগ্রিধারীরা অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের সময় পাওয়ার সুযোগও পেতে পারেন। এই কর্মসূচি অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পেশাগত জীবন শুরু করার গুরুত্বপূর্ণ পথ। বিশেষ করে প্রযুক্তি খাতে কাজ করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের অনেকে ওপিটির মাধ্যমে মার্কিন প্রতিষ্ঠানে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং পরবর্তী সময়ে এইচ-১বি কর্মভিসার জন্য চেষ্টা করেন। নতুন প্রস্তাবের কারণে এই পথ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের খরচ প্রায় ৫০০ ডলারের কাছাকাছি হলেও প্রস্তাবিত ফি অনেক বেশি। ফলে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পড়াশোনার পর চাকরি খোঁজা ও কর্মজীবন শুরু করার পরিকল্পনায় বড় আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে প্রস্তাবটি কোন কোন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত নয়। প্রশাসনের যুক্তি, নতুন ফি দিয়ে জালিয়াতি ঠেকানো, অভিবাসনব্যবস্থার স্বচ্ছতা বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, সমালোচকদের আশঙ্কা, এত বড় অঙ্কের ফি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পড়াশোনার খরচ মেটাতে পরিবারের সঞ্চয়, শিক্ষা ঋণ বা সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের ওপর নির্ভর করেন, তাঁদের জন্য প্রস্তাবটি বড় উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বাংলাদেশ, ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়া শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে অনুসরণ করা প্রয়োজন। তবে প্রস্তাবটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তর এবং যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর কাছ থেকে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী পরামর্শ নেওয়া ভালো। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের জন্য তাৎক্ষণিক করণীয় হলো—বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী দপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা, ওপিটি আবেদনের সময়সীমা সম্পর্কে সচেতন থাকা এবং সরকারি নিয়মের আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত গুজবের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত না নেওয়া। নতুন ফি প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এর কার্যকর হওয়ার তারিখ, প্রযোজ্য শিক্ষার্থীর শ্রেণি এবং বিদ্যমান আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে নিয়মটি কীভাবে প্রযোজ্য হবে, সেগুলোই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
রাজনীতি
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার
১০০ কোটি টাকা জামায়াতের থেকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নীতি: মানবিক সংকট নাকি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?
হাসনাতের ‘গণভিক্ষা’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, টাকা না দিতে হামিমের আহ্বান
‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য
গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত: শহীদ উদ্দীন এ্যানি
ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি কমিশনার
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। শহরের জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পানি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠির একটি অনুলিপি প্রকাশ করেন সমীরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বাসিন্দারা রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া ও বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীরুল ইসলাম জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকে লেখা চিঠিতে পানি সংকটকে গুরুতর মানবাধিকার সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকার মানুষকে নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত রাখা শুধু পৌর পরিষেবার ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতি নগর কলোনিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি মোল্লাপাড়া নামেও পরিচিত। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম হলেও হিন্দু পরিবারও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৯ জুলাই থেকে এলাকায় নিয়মিত পাইপলাইনের পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি না পাওয়ায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। রান্না, পানীয় জল সংগ্রহ, গোসল এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানির ট্যাংকারের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে। সমীরুল ইসলাম তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। জাতিসংঘও নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়াকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না করা তাদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তৃণমূলের এই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, জ্যোতি নগর কলোনির মুসলিম বাসিন্দাদের বিজেপির ভোটব্যাংকের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এ কারণেই তাঁদের এলাকায় পানির সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পরিকল্পিতভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। চিঠিতে সমীরুল ইসলাম আরও জানান, কলোনির বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা কিংবা বাড়তি সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তাঁদের দাবি কেবল দৈনন্দিন জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানীয় জল পাওয়ার নিশ্চয়তা। পানি সংকটের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি না পেলে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন তিনি। এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার কাছে কয়েকটি বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন সমীরুল ইসলাম। জ্যোতি নগর কলোনিতে কেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে না, তার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সংকটের স্থায়ী সমাধানে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য। পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তবে পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। জ্যোতি নগর কলোনির পানি সংকটকে কেন্দ্র করে এখন স্থানীয় নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি ধর্মীয় বৈষম্য ও মানবাধিকারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, পানি সরবরাহ বন্ধের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং বাসিন্দাদের জন্য নিয়মিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
বাংলাদেশে ডাকাতি করতে বিদেশ থেকে বিমানে আসছেন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যরা। ডাকাতি শেষে আবার ফিরে যাচ্ছেন ইউরোপে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় এমন একাধিক চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের গাড়ি থামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়া এবং টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করার অভিযোগ রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে। আরটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ডাকাত চক্রের সঙ্গে দেশি ও বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীরা জড়িত। কেউ বিদেশ থেকে দেশে এসে ডাকাতিতে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভাড়ায় এসে অপরাধ সংঘটিত করছেন। কাজ শেষ হলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন তাঁরা। তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত অভিযুক্তদের একজন বাগেরহাটের সৈয়দ নাসির উদ্দিন। তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে বিমানে ভারতে এসে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন তিনি। এরপর শ্যালক শামীমসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতিতে অংশ নিতেন। ডাকাতি শেষে একই পথে আবার ফ্রান্সে ফিরে যেতেন। তবে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেননি নাসির। রাজধানীর উত্তরায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। শুধু বিদেশ থেকে আসা অপরাধীরাই নন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী পেশাদার ডাকাতদেরও অর্থের বিনিময়ে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, আবার ডাকাতির সুযোগ পেলে সংগঠিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন। এমনই একজন পাবনার চাটমোহরের নবীন পূর্বপাড়ার মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩)। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ‘মেসার্স কৃষি ভান্ডার’ নামে তাঁর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ভাড়ায় ডাকাতিতে জড়িত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাকাতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া ও ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেন শহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁর বিরুদ্ধে সাভার, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ডাকাতির তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহিদুলের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজনের একটি দল রয়েছে। গত ২৩ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মোহাম্মদ রিয়াজ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রতন চৌধুরী ওরফে ডালিম নামে এক ব্যক্তি তাঁদের ভাড়া করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি বরিশালের খানপুরের মো. জলিল মোল্লা। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ধানমন্ডি ও মিরপুর মডেল থানায় একটি করে এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় দুটি মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় আল আমীন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক সোর্স শহীদের নেতৃত্বাধীন চক্রসহ কয়েকটি সংঘবদ্ধ দল সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে ডাকাতিতে অংশ নেয়। বিশেষ করে বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের বড় চালান লুটের ক্ষেত্রে ভাড়ার অঙ্ক কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। বিমানবন্দর এলাকায় সাধারণ যাত্রীরাও এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান কুষ্টিয়ার মো. রাশেদুল ইসলাম। ফ্লাইটের আগে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন তিনি। অভিযোগ অনুযায়ী, বাসটিতে আগে থেকেই যাত্রীবেশে পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাত অবস্থান করছিলেন। বাসের দরজা বন্ধ করে তাঁরা রাশেদুলের চোখ ও মুখ বেঁধে মারধর করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা মালামাল লুট করে এমইএস ফ্লাইওভারসংলগ্ন জসিমউদ্দীন গোলচত্বর এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যান। অনেক চেষ্টা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন। তবে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতার কারণে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। অন্যদিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধীরা অনেক সময় স্থান, সময় ও কৌশল পরিবর্তন করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেন। এসব অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন। বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ঘটনায় বিদেশফেরত যাত্রী, বিদেশগামী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তাঁর বাসা থেকে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে যুগান্তর। তবে আটকের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ধ্রুব রাঠি। কিন্তু বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁকে আটক করা হয়। নিউজ১৮-এর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ৪৮ মিনিটে দিল্লি পুলিশের একটি দল তাঁর বাসায় পৌঁছায়। সে সময় তাঁর মা দরজা খুলে দেন। প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে অবস্থিত তাঁর বাসার বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে তাঁকে কী কারণে আটক করা হয়েছে কিংবা কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও তাদের সহযোগী ছাত্রসংগঠনগুলো। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা সংশোধনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভ সামনে রেখে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও মেট্রো পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। বিক্ষোভের আগে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর একাধিক সদস্যকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ঠেকাতে তাঁদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে একই আন্দোলনের একটি সমাবেশে অংশ নেন ধ্রুব রাঠি। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সমাবেশে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধ্রুব রাঠি। ওই সমাবেশে তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং নির্বাচনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইউটিউব ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন ধ্রুব রাঠি। বিশেষ করে সরকারি নীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে তাঁর আলোচনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। শনিবার তাঁকে আটকের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ কিংবা পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থান এবং আটকের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
জন্ম থেকেই বিরল রোগ ক্লিপেল-ট্রেনোনে আক্রান্ত অ্যাবি ভ্লাদা স্মুটের জীবনে রয়েছে নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জ। তবে সেই সীমাবদ্ধতা তাঁর আনন্দ খুঁজে নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ওয়েক সার্ফিংয়ের মাধ্যমে পানির ওপর ঢেউয়ের সঙ্গে চলার অভিজ্ঞতায় তিনি খুঁজে পান মুক্তির স্বাদ। তাঁর জীবনযাপনের এই দিকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তাঁর ভাই। সেখানে অ্যাবির প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসিমুখে জীবন উপভোগ করার মানসিকতার কথা উঠে এসেছে। অ্যাবির ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্ম থেকেই তাঁর বোনকে এমন কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা অন্য অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ নয়। সাধারণ কাজও কখনো কখনো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে নিজের সীমাবদ্ধতার দিকে মনোযোগ দিয়ে থেমে থাকার পরিবর্তে অ্যাবি যেসব কাজ করতে পারেন, সেগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাইয়ের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে অ্যাবিকে কখনো অভিযোগ করতে শোনেননি তিনি। বরং অ্যাবি বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করেন এবং নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নিয়ে যান। অ্যাবির জীবনে ওয়েক সার্ফিং বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এ জলক্রীড়ায় নৌকার পেছনে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের ওপর বিশেষ বোর্ডের সাহায্যে ভারসাম্য রেখে চলতে হয়। পানির ওপর এই অভিজ্ঞতা অ্যাবিকে দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে স্বাধীনতার অনুভূতি দেয়। তাঁর ভাইয়ের প্রকাশিত ছবিতে ও ভিডিওতে সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো দেখা যায়। অ্যাবির গল্পে তাই শুধু একটি বিরল রোগের কথা নয়, নিজের পছন্দের কাজের মধ্য দিয়ে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ক্লিপেল-ট্রেনোনে সিনড্রোম একটি বিরল জন্মগত অবস্থা, যা রক্তনালি, নরম টিস্যু ও হাড়ের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। এ রোগে ত্বকে লালচে বা বেগুনি জন্মদাগ, অস্বাভাবিক শিরা এবং শরীরের কোনো একটি অঙ্গের অতিরিক্ত বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। সাধারণত একটি পা বেশি আক্রান্ত হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরের অন্য অংশেও লক্ষণ দেখা যায়। রোগটির উপসর্গ ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ক্লিপেল-ট্রেনোনে সিনড্রোমের নির্দিষ্ট কোনো নিরাময় নেই। তবে এর উপসর্গ ও জটিলতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, ফিজিওথেরাপি, চাপ প্রয়োগকারী বিশেষ পোশাক কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা হতে পারে। এই রোগ থাকলেই যে কেউ স্বাভাবিক জীবনযাপন বা পছন্দের কাজে অংশ নিতে পারবেন না, তা নয়। তবে শারীরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম বেছে নেওয়া জরুরি। অ্যাবির গল্পে তাঁর ভাই যে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন, তা হলো নিজের অক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতাকে জীবনের সবকিছু হয়ে উঠতে না দেওয়া। তিনি কী করতে পারেন না, তার বদলে কী করতে পারেন, সেদিকে মনোযোগী থাকার চেষ্টা করেন। তাঁর হাসিমুখে সময় কাটানো এবং ওয়েক সার্ফিংয়ের মতো পছন্দের কাজে অংশ নেওয়া পরিবারের কাছে আনন্দের বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবন ও তাঁদের ব্যক্তিগত আনন্দের জায়গাগুলোও আলোচনায় এসেছে। সূত্র: আপসোকল, গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হতেই সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, সৌদি নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২৩ ক্যারেট সোনায় তৈরি ট্রাম্পের ন গ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শিত
এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন বারাক ওবামা, ডেট্রয়েটে ২৪ অক্টোবর সমাবেশ
লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীন, বাড়ছে জনসমর্থন
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের
ঘুমানোর আগে খাবার খাওয়ার অভ্যাস যেভাবে বাড়াতে পারে যকৃতে চর্বি জমার ঝুঁকি
১৩ বছরে ২০ সন্তান হারিয়ে আশা ছেড়েছিলাম, এক মাস পরই. হলান যমজ সন্তানের মা
হামের সংক্রমণ বাড়ায় নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আক্রান্ত প্রায় চার হাজার
অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাধ্যতামূলক করার দাবি, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে চান কর্মীরা
স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর
কান উৎসবে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ কাপড়ের পোশাকে মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদ
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন, জানুন
জনপ্রিয় টিকটকার নিধির মৃত্যু, শেষ ফোনালাপের এক তরুণের তথ্য যাচাই করছে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের অধ্যাপক মোস্তফা হোসেনের ‘সিলিকন রিভার’, সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা
প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের বার্ধক্য ঠেকানোর চেষ্টা, মানুষের ওপর প্রথম পরীক্ষায় মিলল আশার ইঙ্গিত
স্টারলিংক চালুতে ভারতে বাধা, ক্ষমতাবান ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে দায়ী করলেন ইলন মাস্ক
২৫ বছরেই বিলিয়নিয়ার ভারতীয় তরুণ! তার ৬ হাজার কোটি ডলারের এআই প্রতিষ্ঠান কিনল স্পেসএক্স
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
যুক্তরাষ্ট্রে ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব, ফ্লোরিডা-আলাবামায় প্রাণহানি, লাখো মানুষ বিদ্যুৎবিহীন, বন্যার সতর্কতা জারি
নিউইয়র্কে পুলিশকে ৭ বার ছু রিকাঘাত, গভর্নরের নীরবতাকে ‘ভণ্ডামি’ বললেন মুলিন
যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতার আবেদন কম, তবে নতুন চাকরি খুঁজতে কর্মীদের বাড়ছে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রে অতর্কিত হা মলায় পুলিশ কর্মকর্তা নি হত, ১২ গুলি খেয়েও বেঁচে গেলেন সহকর্মী
ভোটার তালিকা যাচাইয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের পদ্ধতি বেআইনি ঘোষণা করলেন মার্কিন ফেডারেল বিচারক
লিংকডইন ব্যবহার করে যেভাবে খুঁজবেন মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতা আবেদন কমেছে, তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমছে দ্রুত
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
পানীয়তে মা দক শনাক্তের নেলপলিশ তৈরি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
প্রায় ১০ কোটি বছর আগের পোকার সন্ধান, শরীরের দ্বিগুণ লম্বা মুখ: নাম টেলিটাবিজের নু-নু
নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ
রোবটের আঙুলে এখন জীবন্ত মানবচামড়া, সাধারণ ব্যান্ডেজে নিজেই সারাল ক্ষত
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের চাকরির অনুমতিতে ৭০ হাজার ডলার ফি প্রস্তাব, উদ্বেগে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা
যুক্তরাজ্যে ফুল ফান্ডিংয়ে পিএইচডি! আলস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পাবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগে নতুন বাধা, ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত
নিউইয়র্কের স্কুলে ডিজিটাল যন্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই বিশেষ ছাড়, অনলাইনে পড়ার সুযোগ
বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্রে আবারও একই পরিবারের সাতজনসহ আটজনকে হত্যা, কারণ খুঁজছে পুলিশ
কুমড়া তুলতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, নিউ জার্সিতে প্রাণ হারাল দুই বছরের শিশু
নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি, গাড়িতে ছিল পাঁচ বছরের শিশু
নিউইয়র্কে ১৫ তলা থেকে মা ও শিশুকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার সাবেক প্রেমিক
শিশুর ঘুমের পানিতে ভয়ংকর অ্যালকোহল, যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ
প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ
নিউইয়র্কের বিরিয়ানি সম্রাট খলিল: ঢাবিতে গণিতে মাস্টার্স, আজ ৬ রেস্টুরেন্টের মালিক
মেয়ের বিয়েতে বাবাকে দেখে ভাই ভাবলেন অনেকে, তারুণ্য ধরে রাখার রহস্য জানালেন বাবা
পোষা প্রাণীর সঙ্গে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, বলছে গবেষণা
শতায়ু মানুষের পানীয়ের অভ্যাসে মিল, দীর্ঘায়ুর সঙ্গে যুক্ত তিন পানীয়ের কথা জানালেন গবেষক
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের
‘কাছেই ঘেঁষতে দেয় না, আবার বিক্রি!’ এফ-৩৫ নিয়ে ভারতীয় বিমানপ্রধানের রসিকতা
জিবুতির উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে নিহত ১৩৯, নিখোঁজ বহু মানুষ, চলছে উদ্ধার তৎপরতা
রাশিয়া থেকে ডিজেল কেনার চুক্তির ঘোষণা ট্রাম্পের, ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে নতুন বিতর্ক
রাশিয়া-চীনের বিরুদ্ধে সমুদ্রতলের ক্যাবল কাটার অভিযোগ, অচল হতে পারে বিশ্ব ইন্টারনেট
তুরস্কে ১৫ বছরের কম বয়সীদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিষিদ্ধ, অভিভাবকদের হাতে নিয়ন্ত্রণ
দুই মাসে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ডিসেম্বর থেকে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাসিনা ভারতে যা করছেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন হলে মোদি কি ঢাকায় আসতেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, জোর দিলেন নিরাপদ প্রত্যাবাসনে