সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
কানাডায় বাড়ির কাছে হাঁটতে গিয়ে ভাল্লুকের হা মলায় মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃ ত্যু
কানাডায় বাড়ির কাছে হাঁটতে গিয়ে ভাল্লুকের হা মলায় মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃ ত্যু

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বাড়ির কাছেই একটি পরিচিত ট্রেইলে হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া মা ও মেয়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বন বিভাগের ধারণা, মা ও মেয়ে দুজনেই গ্রিজলি ভাল্লুকের মর্মান্তিক হামলার শিকার হয়েছেন। নিহতরা হলেন— ৪৮ বছর বয়সী আর্ট থেরাপিস্ট জেনিফার ব্যালকারাস এবং তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলাহ রিড।   ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বেলা কুলা এলাকায় নিজেদের বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বের ‘স্নুকা ওয়েস্ট ট্রেইল’-এ গত শনিবার সাধারণ নৈমিত্তিক হাঁটার উদ্দেশে বেরিয়ে তারা নিখোঁজ হন। চার সন্তানের জননী জেনিফার তার নির্ধারিত একটি অনলাইন মিটিংয়ে উপস্থিত না হলে তার ভাই ম্যাট ব্যালকারাস প্রথম শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।   নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সোমবার জেনিফারের এবং ঠিক পরদিন মঙ্গলবার তার মেয়ে সেলাহ রিডের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কনজারভেশন অফিসার সার্ভিসের কর্মকর্তা জেফ টায়ার জানান, ঘটনাস্থলের আলামত দেখে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে সেখানে গ্রিজলি ভাল্লুকের সম্পৃক্ততা ছিল।   তবে হামলায় একাধিক ভাল্লুক জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ওই ভাল্লুকটিকে শনাক্ত ও ধরার চেষ্টা চলছে এবং মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   এমন অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেনিফারের আরেক ভাই জশ জানান, মা ও মেয়ে দুজন সবসময় বন্ধুর মতো একসঙ্গেই থাকতেন। তারা শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতি উপভোগ করতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাই পাহাড়ি ওই পথটি তাদের কাছে মোটেও অপরিচিত ছিল না।   জীবনের নতুন অধ্যায় ও ক্যারিয়ার শুরু করতে জেনিফার সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ২৬৮ মাইল দূরের এই বেলা কুলা অঞ্চলে চলে এসেছিলেন। হঠাৎ তাদের এমন মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। জেনিফারের বেঁচে থাকা অপর তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পাশে দাঁড়াতে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ মেটাতে এরই মধ্যে বন্ধুদের উদ্যোগে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) তহবিল গঠন করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, বেলা কুলা এলাকায় ভাল্লুকের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এক বছরেরও কম সময় আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই এলাকায় দুটি শাবকসহ একটি ভাল্লুকের হামলায় ১১ জন আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সেই আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মা ও মেয়ের এমন করুণ মৃত্যু স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে ভীতি তৈরি করেছে।

১৫ মিনিট Ago
গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা
গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা, উপহার ও চিঠি পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় আহত সাত বছর বয়সী এক শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির অসংখ্য মানুষ। শিশুটির চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে সহায়তা দিতে পাঠানো হচ্ছে অর্থ, উপহার, শুভেচ্ছা কার্ড ও ভালোবাসার বার্তা। মানুষের এই বিপুল ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত পরিবার এখন নতুন করে উপহার পাঠানো সাময়িক বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিজেডের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত শিশুটির নাম সাইলর গ্রাহাম-পোয়ার্চ। গত ১৫ অক্টোবর বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে গুলির ঘটনায় সে আহত হয়। ওই হামলায় তিন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন। আরও একজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক আহত হন।   ঘটনার পর থেকেই সাইলরের চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য পরিবারকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন অসংখ্য মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনেকে অর্থ সহায়তা পাঠান। পাশাপাশি শিশুটির জন্য খেলনা, উপহার, চিঠি ও শুভেচ্ছা কার্ড পাঠাতে থাকেন।   সাইলরের মা ড্যানিয়েল গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেয়ের জন্য এত বেশি উপহার ও শুভেচ্ছা এসেছে যে সবকিছু খুলে দেখা এবং পড়তে পরিবারের অনেক সময় লাগবে।   তাই আপাতত নতুন করে কোনো উপহার বা কার্ড না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের উদ্দেশ্য, আগে পাওয়া উপহারগুলো সময় নিয়ে খুলে দেখা এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইলরের জন্য তৈরি দুটি অর্থসহায়তা তহবিলে মোট ১১ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে। একটি তহবিলের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত আরেক ব্যক্তি দ্বিতীয় তহবিলটি চালু করেছিলেন। এই অর্থ শিশুটির প্রয়োজন ও সুস্থতার পথে পরিবারকে সহায়তা করবে।   একই হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলোর জন্যও অর্থসহায়তা সংগ্রহ করা হয়েছে। কেটিভিজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত হামলাসংশ্লিষ্ট ১১টি যাচাইকৃত গোফান্ডমি তহবিলে মোট প্রায় ২১ লাখ ডলার জমা হয়েছিল।   এই ঘটনায় হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা এক অভিভাবক কাইলুব জিয়ামানকোর পরিবারের জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা জমা হয়েছে। হামলার সময় তিনি স্কুলের ভেতরে বন্দুকধারীকে অনুসরণ করেন এবং গুলি চালিয়ে হামলা থামান। পরে তাঁর পরিবারকে নিরাপদে সময় কাটাতে স্থানীয় কয়েকটি হোটেল সহযোগিতা করে।   সাইলরের পরিবারের প্রতি মানুষের এই সহায়তা শুধু আর্থিক অনুদানে সীমাবদ্ধ নয়। দূরদূরান্ত থেকে পাঠানো চিঠি, খেলনা ও শুভেচ্ছাবার্তা শিশুটির পাশে থাকার এক মানবিক বার্তা হয়ে উঠেছে। ভয়াবহ ঘটনার পর একটি শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার পথে এত মানুষের ভালোবাসা পরিবারকে মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।   তবে স্কুলে ঘটে যাওয়া এই হামলার ক্ষত সহজে মুছে যাওয়ার নয়। নিহত শিশু ও শিক্ষকের পরিবারগুলো এখনো শোকের মধ্যে রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে।   মানুষের এই সহমর্মিতা দেখিয়ে দিয়েছে, একটি ভয়াবহ ঘটনার পরও বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন অসংখ্য অপরিচিত মানুষ। সাইলরের মা তাই সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আপাতত নতুন উপহার পাঠানো বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন—যাতে পরিবার আগে পাওয়া ভালোবাসাগুলো সময় নিয়ে গ্রহণ করতে পারে।

২৫ মিনিট Ago
‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এল-সায়েদের জয় নিয়ে ইলহান ওমরের উচ্ছ্বাস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘ইনশাআল্লাহ’ থেকে ‘আলহামদুলিল্লাহ’, এল-সায়েদের জয় নিয়ে ইলহান ওমরের উচ্ছ্বাস

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেটে আবদুল এল-সায়েদের ঐতিহাসিক বিজয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমর।   এল-সায়েদকে অভিনন্দন জানিয়ে নিজের অফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, "তুমি 'ইনশাআল্লাহ'-কে 'আলহামদুলিল্লাহ'-তে পরিণত করেছ।"   মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিম আমেরিকানদের ক্রমাগত উত্থান ও সাফল্যের কথা উল্লেখ করে ইলহান জানান, এখন থেকে মার্কিন কংগ্রেসে মোট আটজন মুসলিম প্রতিনিধি দায়িত্ব পালন করবেন জেনে তিনি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত।   দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নানা ধরনের বাধা পেরিয়ে আসার কথা স্মরণ করে তিনি তার বার্তায় আরও লেখেন, "তারা আমাদের বলেছিল যে আমরা কথা বলতে পারব না, বিদ্যমান ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করতে পারব না এবং এত দূর পর্যন্ত আসতে পারব না।   কিন্তু আমরা তা পেরে দেখিয়েছি, আলহামদুলিল্লাহ।" এল-সায়েদের এই বিজয় মার্কিন রাজনীতিতে মুসলিমদের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে, আর ইলহান ওমরের এই বার্তা যেন সেই ঐতিহাসিক সাফল্যেরই এক উদ্‌যাপন।

৩১ মিনিট Ago
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে ও তিন কুকুর
বন্যার পানিতে আটকে মা-ছেলে ও তিন কুকুর, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার করল দুই কিশোর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বে এলাকায় ভয়াবহ বন্যার পানিতে ঘরের ভেতর আটকে পড়েছিলেন এক মা ও তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে। তাঁদের সঙ্গে ছিল তিনটি পোষা কুকুর। চারদিকে পানি বাড়তে থাকায় ঘর থেকে বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে সাহায্যের আবেদন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করেন ওই মা। তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে আসে দুই কিশোর ভাই। নিজেদের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা উদ্ধার করে মা, শিশুসন্তান ও তিনটি কুকুরকে।   ঘটনাটি নিয়ে ৩ নভেম্বর স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ক্লিকঅরল্যান্ডো প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ৫ নভেম্বর ওয়াশিংটন পোস্টেও ঘটনাটি উঠে আসে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বন্যার পানিতে আটকে পড়া ওই মায়ের নাম ব্রিটানি গ্র্যান্ট। সোমবার থেকে তাঁর বাড়িতে পানি ঢুকতে শুরু করে। প্রথমে দরজার সামনে বালুর বস্তা দিয়ে পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি খারাপ হলে তিনি জরুরি সহায়তার জন্য ৯১১ নম্বরে ফোন করেন। তবে বন্যার কারণে উদ্ধারকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছাতে পারছিলেন না বলে তাঁকে জানানো হয়।   পানি বাড়তে থাকায় গ্র্যান্ট তাঁর ১১ বছর বয়সী ছেলে নিকোয়া ও তিনটি কুকুরকে নিয়ে প্রথমে বিছানার ওপর আশ্রয় নেন। পরে পানি আরও ওপরে উঠে গেলে তাঁরা রান্নাঘরের কাউন্টারের ওপর উঠে অপেক্ষা করতে থাকেন। ঘরের চেয়ার ও অন্যান্য জিনিসপত্র পানিতে ভাসতে শুরু করে। প্রিয় কুকুরগুলোকে ফেলে যাওয়ার কথাও ভাবতে পারছিলেন না তিনি।   শেষ পর্যন্ত ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশ করে সাহায্যের আবেদন জানান গ্র্যান্ট। তাঁর ভিডিওটি অনেক মানুষ ছড়িয়ে দেন। একই এলাকার বাসিন্দা স্টেফানি ফ্যাঙ্গুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি দেখে বুঝতে পারেন, বিপদে পড়া পরিবারটি তাঁর কাছাকাছিই থাকে। তিনি নিজের দুই ছেলে ১৭ বছর বয়সী লুকাস মার্শাল ও ১৫ বছর বয়সী জোনাহ মার্শালকে সাহায্যের জন্য পাঠান।   লুকাস একটি প্যাডেলবোর্ড নিয়ে পানির মধ্যে এগিয়ে যান। অন্যদিকে জোনাহ প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি কায়াক বা ছোট নৌকা ধার করে নেন। তাঁদের সঙ্গে আরও একজন প্রতিবেশীও সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন।   উদ্ধারের সময় প্রথমে শিশুটিকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান লুকাস। প্রায় ১০০ গজ পানির পথ পাড়ি দিয়ে তাঁকে শুকনো জায়গায় পৌঁছে দেন। এরপর কুকুরগুলোকে উদ্ধারে ফিরে যান তিনি। একটি ছোট কুকুর ও একটি বড় কুকুরকে প্যাডেলবোর্ডে তোলেন। অন্য কুকুরটিকে কায়াকে করে নিয়ে যান জোনাহ। পরে জোনাহ আবার ফিরে গিয়ে গ্র্যান্টকেও উদ্ধার করেন।   বন্যার পানিতে ডুবে থাকা গাড়ি ও ডাকবাক্সের পাশ দিয়ে তাঁদের এই উদ্ধার অভিযান চালাতে হয়। পরে এক প্রতিবেশী গাড়ি নিয়ে এসে গ্র্যান্ট, তাঁর ছেলে ও কুকুরগুলোকে নিরাপদ এলাকায় নিয়ে যান।   উদ্ধারের সময় শিশুটিকে ভয়মুক্ত রাখতে লুকাস তাঁর সঙ্গে কথা বলছিলেন। স্কুল কেমন চলছে, নাম কী—এমন সাধারণ প্রশ্ন করে শিশুটির মনোযোগ অন্যদিকে রাখার চেষ্টা করেন তিনি। ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেও একজন শিশুকে স্বাভাবিক রাখার এই প্রচেষ্টা ঘটনাটিকে আরও মানবিক করে তুলেছে।   উদ্ধারের পর গ্র্যান্ট বলেন, প্রতিবেশীরা সবাই মিলে তাঁদের জীবন বাঁচিয়েছেন। তাঁদের সহায়তা না পেলে কী হতো, তা তিনি জানেন না। আগে যেসব প্রতিবেশীর সঙ্গে তাঁর পরিচয়ও ছিল না, তাঁদের কাছ থেকেই এমন সহায়তা পেয়ে মানুষের প্রতি তাঁর বিশ্বাস আবার ফিরে এসেছে।   উদ্ধারের পর গ্র্যান্ট ও তাঁর ছেলে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে ফিরে তাঁরা দেখতে পান, ঘরটি পুরোপুরি ধসে না পড়লেও অনেক আসবাব ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পরিবারের সবাই নিরাপদে থাকায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেন।   ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পরও লুকাস নিজের প্যাডেলবোর্ড নিয়ে এলাকায় থেকে যান। অন্য কেউ বিপদে আছে কি না, তা দেখার চেষ্টা করেন। ভবিষ্যতে কলেজে নার্সিং বিষয়ে পড়াশোনা করে মানুষের সেবায় কাজ করার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন তিনি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লোরিডার মধ্য উপকূলীয় কিছু এলাকায় রোববার থেকে সোমবারের মধ্যে প্রায় ২৮ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এতে বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়।   প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারানোর আশঙ্কার মধ্যেও দুই কিশোরের এই উদ্যোগ দেখিয়েছে, বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়াতে বয়স বড় বাধা নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা একটি সাহায্যের আবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে তাঁরা যে সাহসিকতা ও মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন, তা স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি বৃহত্তর পাঠকমহলেও প্রশংসা পাচ্ছে।

৪৮ মিনিট Ago
আমেরিকা
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সাইদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এল-সাইদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৩১ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্স পেয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৯৮ হাজার ১৬৩।   ডেটলাইন ডেট্রয়েটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। গণনায় এল-সাইদ পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৫৪ মিনিটের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এল-সাইদের সমর্থন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়। অর্থাৎ ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটের হারেও পরিবর্তন আসছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের যেমন জোর প্রচেষ্টা রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের লক্ষ্য আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া।   তবে প্রাথমিক ফলাফলে এল-সাইদ এগিয়ে থাকলেও এখনই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই। ভোট গণনা চলমান রয়েছে এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ২২:৩৯
বুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও ফ্লোরিডার অধ্যাপক গ্রেপ্তার, প্রাণীর সঙ্গে যৌনতার অভিযোগের নেপথ্যে কী?

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার (USF) বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর রাইয়ান আবদুল বাতেনের গ্রেপ্তার ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। বিশেষ করে প্রাণীর সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রচার করা হচ্ছে। তবে প্রকাশিত অ্যারেস্ট রেকর্ডে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও ধারণ, বিতরণ অথবা সংরক্ষণসংক্রান্ত আইনে অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তিনি নিজে কোনো প্রাণীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে অংশ নিয়েছেন, এমন অভিযোগের তথ্য প্রকাশিত রেকর্ডে পাওয়া যায়নি।   গত ২৮ অক্টোবর ফ্লোরিডার হিলসবোরো কাউন্টিতে বাতেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনাটি নিয়ে আমেরিকা বাংলা ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার একাধিক শিক্ষার্থী, পিএইচডি ও পোস্টডক্টরাল গবেষক এবং তাঁর পরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেছে। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে ২০১৩ সালে বাতেনের জিমেইল ঠিকানা ব্যবহার করে খোলা একটি পুরোনো ড্রপবক্স অ্যাকাউন্ট। ওই অ্যাকাউন্টে সংরক্ষিত বিপুলসংখ্যক ছবি ও ভিডিওর মধ্যে প্রাণীর সঙ্গে মানুষের যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত (পর্ন ভিডিও) কিছু উপাদান পাওয়ার বিষয়টি তদন্তে উঠে আসে।   সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রপবক্স অ্যাকাউন্টটিতে দীর্ঘদিনের পুরোনো ব্যক্তিগত ফাইলও সংরক্ষিত ছিল। তবে আলোচিত আপত্তিকর ফাইলগুলো কখন, কীভাবে এবং কার মাধ্যমে সেখানে সংরক্ষিত হয়েছিল, তা নির্ধারণে ডিজিটাল ফরেনসিক প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাকাউন্টটি বাতেনের ইমেইল ঠিকানায় খোলা হলেও প্রতিটি ফাইল তিনি নিজে আপলোড করেছেন কিংবা সেগুলোর বিষয়ে তাঁর প্রত্যক্ষ জ্ঞান ছিল এমন সিদ্ধান্ত কেবল অ্যাকাউন্টের পরিচয় থেকে প্রতিষ্ঠিত হয় না। একইভাবে অ্যাকাউন্টে অন্য কারও প্রবেশের সম্ভাবনা থাকলেও সেটিকে প্রমাণিত হ্যাকিংয়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই।   অনলাইন প্ল্যাটফর্মে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান শনাক্ত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সেন্টার ফর মিসিং অ্যান্ড এক্সপ্লয়টেড চিলড্রেন (NCMEC) এর কাছে রিপোর্ট পাঠানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বাতেনের মামলায়ও ড্রপবক্সের ফাইল নিয়ে এমন সতর্কবার্তার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। তবে সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট ও আদালতের সার্চ ওয়ারেন্টের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ ছাড়া সতর্কবার্তায় কী উল্লেখ ছিল, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। প্রকাশিত অভিযোগের তথ্যেও তাঁর বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান সংরক্ষণের পৃথক চার্জ নিশ্চিত করা যায়নি।   ফ্লোরিডার 828.126(6) ধারা অনুযায়ী, প্রাণীর সঙ্গে মানুষের নিষিদ্ধ যৌন কার্যকলাপসংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও জেনেশুনে ধারণ, বিতরণ কিংবা সংরক্ষণ করা থার্ড-ডিগ্রি ফেলোনি। ফলে এই মামলায় অভিযোগের প্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রে সরাসরি যৌন কার্যকলাপে অংশ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ডিজিটাল উপাদান ধারণ, বিতরণ বা সংরক্ষণের আইনি পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ফাইলের সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির জ্ঞাতসারে সম্পৃক্ততার বিষয়টিও বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হবে।   এদিকে বাতেনের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা দাবি ছড়ানো হচ্ছে। বিশেষ করে তাঁকে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তবে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ও গবেষক জানিয়েছেন, বাতেনের কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য তাঁদের জানা নেই। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মূলত পড়াশোনা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আগে ও আন্দোলন চলাকালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি করেছেন এবং আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার ছিলেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর পরিচিতরা। তবে আন্দোলনে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সদস্যপদের প্রমাণ নয়। তাঁর সঙ্গে জামায়াত-শিবির বা অন্য কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততার নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।   গ্রেপ্তারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর পেশাগত অবস্থান এবং তাঁর অধীনে গবেষণারত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, গবেষকদের সুপারভিশন পরিবর্তন কিংবা বাতেনের জামিনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তিও এখনো হয়নি।   সূত্র: প্রকাশিত হিলসবোরো কাউন্টি অ্যারেস্ট রেকর্ড, ফ্লোরিডা স্ট্যাটিউট 828.126(6) এবং আমেরিকা বাংলার কাছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য।

কানাডায় বাড়ির কাছে হাঁটতে গিয়ে ভাল্লুকের হা মলায় মা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃ ত্যু

কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় বাড়ির কাছেই একটি পরিচিত ট্রেইলে হাঁটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া মা ও মেয়ের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বন বিভাগের ধারণা, মা ও মেয়ে দুজনেই গ্রিজলি ভাল্লুকের মর্মান্তিক হামলার শিকার হয়েছেন। নিহতরা হলেন— ৪৮ বছর বয়সী আর্ট থেরাপিস্ট জেনিফার ব্যালকারাস এবং তার ২০ বছর বয়সী মেয়ে সেলাহ রিড।   ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার বেলা কুলা এলাকায় নিজেদের বাড়ি থেকে মাত্র পাঁচ মিনিটের দূরত্বের ‘স্নুকা ওয়েস্ট ট্রেইল’-এ গত শনিবার সাধারণ নৈমিত্তিক হাঁটার উদ্দেশে বেরিয়ে তারা নিখোঁজ হন। চার সন্তানের জননী জেনিফার তার নির্ধারিত একটি অনলাইন মিটিংয়ে উপস্থিত না হলে তার ভাই ম্যাট ব্যালকারাস প্রথম শঙ্কা প্রকাশ করেন এবং তাদের খোঁজাখুঁজি শুরু হয়।   নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর সোমবার জেনিফারের এবং ঠিক পরদিন মঙ্গলবার তার মেয়ে সেলাহ রিডের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া কনজারভেশন অফিসার সার্ভিসের কর্মকর্তা জেফ টায়ার জানান, ঘটনাস্থলের আলামত দেখে স্পষ্টভাবে বোঝা যাচ্ছে যে সেখানে গ্রিজলি ভাল্লুকের সম্পৃক্ততা ছিল।   তবে হামলায় একাধিক ভাল্লুক জড়িত ছিল কি না, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। ওই ভাল্লুকটিকে শনাক্ত ও ধরার চেষ্টা চলছে এবং মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে সেটিকে মেরে ফেলা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   এমন অপ্রত্যাশিত ও মর্মান্তিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জেনিফারের আরেক ভাই জশ জানান, মা ও মেয়ে দুজন সবসময় বন্ধুর মতো একসঙ্গেই থাকতেন। তারা শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতি উপভোগ করতে অভ্যস্ত ছিলেন, তাই পাহাড়ি ওই পথটি তাদের কাছে মোটেও অপরিচিত ছিল না।   জীবনের নতুন অধ্যায় ও ক্যারিয়ার শুরু করতে জেনিফার সম্প্রতি ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় ২৬৮ মাইল দূরের এই বেলা কুলা অঞ্চলে চলে এসেছিলেন। হঠাৎ তাদের এমন মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবারটি। জেনিফারের বেঁচে থাকা অপর তিন প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানের পাশে দাঁড়াতে এবং অপ্রত্যাশিত খরচ মেটাতে এরই মধ্যে বন্ধুদের উদ্যোগে একটি ‘গোফান্ডমি’ (GoFundMe) তহবিল গঠন করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, বেলা কুলা এলাকায় ভাল্লুকের হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এক বছরেরও কম সময় আগে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে একই এলাকায় দুটি শাবকসহ একটি ভাল্লুকের হামলায় ১১ জন আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে তিন শিশুর অবস্থা ছিল অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সেই আতঙ্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মা ও মেয়ের এমন করুণ মৃত্যু স্থানীয়দের মাঝে নতুন করে ভীতি তৈরি করেছে।

গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা
গুলিতে আহত সাত বছরের শিশুকে ঘিরে ভালোবাসার বার্তা, উপহার ও চিঠি পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবার

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভয়াবহ গুলির ঘটনায় আহত সাত বছর বয়সী এক শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন দেশটির অসংখ্য মানুষ। শিশুটির চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সময়ে সহায়তা দিতে পাঠানো হচ্ছে অর্থ, উপহার, শুভেচ্ছা কার্ড ও ভালোবাসার বার্তা। মানুষের এই বিপুল ভালোবাসায় আবেগাপ্লুত পরিবার এখন নতুন করে উপহার পাঠানো সাময়িক বন্ধ রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেটিভিজেডের ৩ নভেম্বরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত শিশুটির নাম সাইলর গ্রাহাম-পোয়ার্চ। গত ১৫ অক্টোবর বেন্ড শহরের সিলভার রেইল এলিমেন্টারি স্কুলে গুলির ঘটনায় সে আহত হয়। ওই হামলায় তিন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক নিহত হন। আরও একজন শিক্ষার্থী ও একজন শিক্ষক আহত হন।   ঘটনার পর থেকেই সাইলরের চিকিৎসা ও সুস্থতার জন্য পরিবারকে সহায়তা করতে এগিয়ে আসেন অসংখ্য মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে অনেকে অর্থ সহায়তা পাঠান। পাশাপাশি শিশুটির জন্য খেলনা, উপহার, চিঠি ও শুভেচ্ছা কার্ড পাঠাতে থাকেন।   সাইলরের মা ড্যানিয়েল গ্রাহাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মেয়ের জন্য এত বেশি উপহার ও শুভেচ্ছা এসেছে যে সবকিছু খুলে দেখা এবং পড়তে পরিবারের অনেক সময় লাগবে।   তাই আপাতত নতুন করে কোনো উপহার বা কার্ড না পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। পরিবারের উদ্দেশ্য, আগে পাওয়া উপহারগুলো সময় নিয়ে খুলে দেখা এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করা।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাইলরের জন্য তৈরি দুটি অর্থসহায়তা তহবিলে মোট ১১ লাখ ডলারের বেশি জমা হয়েছে। একটি তহবিলের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত আরেক ব্যক্তি দ্বিতীয় তহবিলটি চালু করেছিলেন। এই অর্থ শিশুটির প্রয়োজন ও সুস্থতার পথে পরিবারকে সহায়তা করবে।   একই হামলার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত অন্য পরিবারগুলোর জন্যও অর্থসহায়তা সংগ্রহ করা হয়েছে। কেটিভিজেডের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ নভেম্বর পর্যন্ত হামলাসংশ্লিষ্ট ১১টি যাচাইকৃত গোফান্ডমি তহবিলে মোট প্রায় ২১ লাখ ডলার জমা হয়েছিল।   এই ঘটনায় হামলাকারীকে থামাতে এগিয়ে আসা এক অভিভাবক কাইলুব জিয়ামানকোর পরিবারের জন্যও উল্লেখযোগ্য অর্থ সহায়তা জমা হয়েছে। হামলার সময় তিনি স্কুলের ভেতরে বন্দুকধারীকে অনুসরণ করেন এবং গুলি চালিয়ে হামলা থামান। পরে তাঁর পরিবারকে নিরাপদে সময় কাটাতে স্থানীয় কয়েকটি হোটেল সহযোগিতা করে।   সাইলরের পরিবারের প্রতি মানুষের এই সহায়তা শুধু আর্থিক অনুদানে সীমাবদ্ধ নয়। দূরদূরান্ত থেকে পাঠানো চিঠি, খেলনা ও শুভেচ্ছাবার্তা শিশুটির পাশে থাকার এক মানবিক বার্তা হয়ে উঠেছে। ভয়াবহ ঘটনার পর একটি শিশুর সুস্থ হয়ে ওঠার পথে এত মানুষের ভালোবাসা পরিবারকে মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।   তবে স্কুলে ঘটে যাওয়া এই হামলার ক্ষত সহজে মুছে যাওয়ার নয়। নিহত শিশু ও শিক্ষকের পরিবারগুলো এখনো শোকের মধ্যে রয়েছে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি স্থানীয় সম্প্রদায়ও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছে।   মানুষের এই সহমর্মিতা দেখিয়ে দিয়েছে, একটি ভয়াবহ ঘটনার পরও বিপর্যস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে পারেন অসংখ্য অপরিচিত মানুষ। সাইলরের মা তাই সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আপাতত নতুন উপহার পাঠানো বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছেন—যাতে পরিবার আগে পাওয়া ভালোবাসাগুলো সময় নিয়ে গ্রহণ করতে পারে।

নবনির্বাচিত তরুণ কংগ্রেস সদস্য মাইকেল আলফনসো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জেন-জি প্রতিনিধি এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে, ২৬ বছর বয়সেই নির্বাচিত মাইকেল আলফনসো

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একবিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি দেশটির কংগ্রেসের সদস্য হতে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ৭ নম্বর কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল আলফনসো। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ফ্রেড ক্লার্ককে পরাজিত করে তিনি আসনটি নিশ্চিত করেছেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া আলফনসো আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভায় নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।   উইসকনসিনের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ৭ নম্বর কংগ্রেসনাল আসনটি লেক সুপিরিয়রের সীমান্তবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। নির্বাচনে আলফনসো প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রেড ক্লার্ক পেয়েছেন প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট। এই আসনের আগের প্রতিনিধি রিপাবলিকান টম টিফানি এবার গভর্নর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কংগ্রেসের আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য এবারের ভোট অনুষ্ঠিত হয়।   মাইকেল আলফনসো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফির জামাতা। শন ডাফি এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একই কংগ্রেসনাল আসনের প্রতিনিধি ছিলেন। আলফনসো আগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। তবে নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, তরুণদের বাড়ি কেনার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর বয়স নিয়েও নির্বাচনী প্রচারে আলোচনা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হতে ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর হতে হয়। আলফনসোর বয়স ২৬ হওয়ায় তিনি এই সাংবিধানিক যোগ্যতা পূরণ করেছেন।   এদিকে নতুন কংগ্রেসে সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রতিনিধি হতে যাচ্ছেন কলোরাডোর ২৯ বছর বয়সী মেলাট কিরোস। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী কলোরাডোর প্রথম কংগ্রেসনাল আসন থেকে জয় পেয়েছেন। তিনি ডেনভার ও অরোরার কিছু এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন। নির্বাচনের আগে দলীয় প্রাথমিক ভোটে দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি ডায়ানা ডিগেটকে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন কিরোস। পরে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ক্রিস্টি পিটারসনকে হারিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য ২৯ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট। নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে আলফনসো তাঁর চেয়েও কম বয়সী সদস্য হবেন। অন্যদিকে বর্তমান কংগ্রেসের সবচেয়ে কম বয়সী নারী সদস্য ৩৪ বছর বয়সী ইয়াসামিন আনসারি। নতুন কংগ্রেসে মেলাট কিরোসের বয়স হবে ২৯ বছর। ফলে নারী প্রতিনিধিদের মধ্যেও বয়সের দিক থেকে নতুন অবস্থান তৈরি হবে।   সিনেটের ক্ষেত্রেও নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, সিনেটর হতে ন্যূনতম বয়স ৩০ বছর হতে হয়। ফলে জেনারেশন জেডের কেউ এখনই সিনেটের সদস্য হতে পারছেন না। নতুন সিনেটে সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হতে যাচ্ছেন টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো। ৩৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিক অস্টিনের একজন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের পৃথক সাংবিধানিক শর্ত রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হতে কমপক্ষে ২৫ বছর এবং সিনেটর হতে কমপক্ষে ৩০ বছর বয়সী হতে হয়। সেই হিসাবে মাইকেল আলফনসোর বিজয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের প্রবেশেরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।   সূত্র: ১১অ্যালাইভ, উইসকনসিন পাবলিক রেডিও (ডব্লিউপিআর), অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনপিআর।

ইতালীয় পর্যটকের একুশ হাজার ডলার ও পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়ে সততার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশি তরুণ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কে ইতালীয় পর্যটকের গাড়িতে ফেলে যাওয়া ২১ হাজার ডলার ফেরত দিলেন বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক

অর্থকষ্টের মধ্যেও সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কর্মরত এক বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক। ২০০৯ সালের বড়দিনের আগের রাতে তাঁর গাড়িতে ফেলে যাওয়া এক ইতালীয় পর্যটকের ব্যাগে ছিল ২১ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ, মূল্যবান গয়না ও কয়েকটি পাসপোর্ট। ব্যাগটি পাওয়ার পর সেটি নিজের কাছে রেখে না দিয়ে মালিকের সন্ধানে প্রায় ৫০ মাইল পথ পাড়ি দেন তিনি। পরে সবকিছু অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। এমনকি কৃতজ্ঞ পরিবার পুরস্কার দিতে চাইলেও তা গ্রহণ করেননি।   ওই চালকের নাম মোহাম্মদ ‘মুকাল’ আসাদুজ্জামান। ঘটনাটি ঘটার সময় তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর। বাংলাদেশের এই তরুণ তখন শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সপ্তাহের কয়েক দিন ট্যাক্সি চালিয়ে নিজের খরচ চালাতেন। ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন থেকে পেন স্টেশনে যাওয়ার পথে ৭২ বছর বয়সী ইতালীয় পর্যটক ফেলিসিয়া লেত্তিয়েরি তাঁর ব্যাগটি গাড়িতে ফেলে যান। ওই সময় তিনি পরিবারের আরও ছয় সদস্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসেছিলেন। ব্যাগে তাঁদের ভ্রমণের জন্য রাখা অর্থও ছিল।   ব্যাগটি হারানোর পর ফেলিসিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে ব্যাগটি ফিরে পাওয়ার আশা কম বলে তাঁদের জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, আসাদুজ্জামান ব্যাগের ভেতরে থাকা পরিচয় ও ঠিকানার সূত্র ধরে লং আইল্যান্ডের একটি বাড়ির সন্ধান পান। এরপর প্রায় ৫০ মাইল গাড়ি চালিয়ে সেখানে পৌঁছান। বাড়িতে কাউকে না পেয়ে নিজের ফোন নম্বরসহ একটি চিরকুট রেখে আসেন। সেখানে তিনি জানান, ফেলিসিয়ার ব্যাগটি নিরাপদে আছে, চিন্তার কোনো কারণ নেই।   পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন পেয়ে আবারও ওই ঠিকানায় যান আসাদুজ্জামান। এবার সঙ্গে নিয়ে যান ব্যাগে থাকা নগদ অর্থ, গয়না ও পাসপোর্টসহ সব জিনিসপত্র। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ফেলিসিয়া ও তাঁর স্বজনেরা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘আমি অভাবী, কিন্তু সৎ।’ তাঁর এই কথাটি পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়।   আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, সততার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই তাঁকে সৎ থাকতে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে শিখিয়েছিলেন তাঁর মা। ইসলামি বিশ্বাসও তাঁর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতে আমানত তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। আসাদুজ্জামানের কাজটি সেই নৈতিক শিক্ষারই একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।   ২০১০ সালের ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেলিসিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সততার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, ব্যাগের ভেতরে থাকা বিপুল অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিজের কাছে রাখার সুযোগ থাকলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঘটনাটি প্রায় ১৭ বছর আগের হলেও সততা ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে এখনো স্মরণযোগ্য।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য গার্ডিয়ান।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে গিয়ে পড়েন এক নারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আটতলা থেকে পড়ে আধঘণ্টা অচেতন, জ্ঞান ফিরেই নির্বিকার ভঙ্গিতে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার করলেন নারী
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২২:২৬

কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল শহরে একটি ভবনের আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে গিয়ে পড়েছেন এক নারী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পর তাঁর জ্ঞান ফেরে। এরপর ছাদের ওপর বসে প্রায় ২০ মিনিট মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তিনি। পরে নিজেই ছাদ থেকে নেমে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। তবে এত উঁচু থেকে পড়ার পর তাঁর শরীরে কী ধরনের আঘাত লেগেছিল, কিংবা পরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে। সিহানুকভিলের বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে পাশের একটি বাড়ির ঢেউটিনের ছাদের ওপর ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। প্রথমে তাঁরা ধারণা করেছিলেন, এত উঁচু থেকে পড়ে নারীটির মৃত্যু হয়েছে অথবা তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর তাঁকে নড়াচড়া করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি উঠে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করেন।   ঘটনাস্থলে ততক্ষণে আশপাশের মানুষের ভিড় জমে যায়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিচ থেকে টর্চের আলো দিয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। নারীটিকে ধূসর রঙের পোশাক পরা অবস্থায় ছাদের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। প্রায় ২০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর তিনি ধীরে ধীরে উঠে ছাদের কিনারার দিকে এগিয়ে যান। পরে নিজেই নিচে নেমে সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এই ঘটনার বেশ কিছু বিষয় এখনো অজানা। নারীর পরিচয়, তিনি কোন ভবন থেকে কীভাবে পড়ে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার সময় সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিনি পড়ে যাওয়ার পর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই বেঁচে ফিরেছেন বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করার সুযোগ নেই।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএনবি নিউজের বরাতে চীনা সংবাদমাধ্যম সিন চিউ ডেইলি প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ করে। পরে সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম মাদারশিপ, স্টম্পসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও খবরটি প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বাইরে নারীর শারীরিক অবস্থা বা ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: সিন চিউ ডেইলি, মাদারশিপ।

অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে পড়াশোনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া চীনের শিক্ষার্থী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
অসুস্থ মায়ের সেবায় পড়াশোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত, পাশে দাঁড়াল সহপাঠীরা
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২২:১১

অসুস্থ মায়ের সেবা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনের আনহুই প্রদেশের এক শিক্ষার্থী। তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানার পর পাশে দাঁড়িয়েছে সহপাঠীরা। নিজেদের প্রিয় সংগ্রহের জিনিসপত্র দান করে তারা আয়োজন করেছে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ। এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নিজের প্রিয় অনলাইন গেমের অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে পাওয়া খুচরা টাকা তুলে দিয়েছে তার হাতে। সহপাঠীদের এমন ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের লাখো মানুষ আবেগাপ্লুত হয়েছেন।   শিক্ষার্থীর নাম ছাও ফেং। তিনি চীনের মধ্যাঞ্চলীয় আনহুই প্রদেশের ইউওয়াং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর ৪৭ বছর বয়সী মা ছুইপিং দীর্ঘদিন ধরে জেনারালাইজড মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস নামের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। এতে শরীরের বিভিন্ন পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তাঁর থাইমাস গ্রন্থিতে টিউমার রয়েছে। সম্প্রতি শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে তাঁকে সাংহাইয়ের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।   পরিবারের আর্থিক অবস্থাও বেশ কঠিন। ছাও ফেংয়ের বাবা নিজেও টিউমারে আক্রান্ত। তারপরও তিনি প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা স্ত্রীর পাশে সময় কাটিয়ে বাকি সময় অনলাইনভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সেবা দিয়ে গাড়ি চালান। দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করেও পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ইউয়ান, যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের সমান, খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।   পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছাও ফেং মনে করেছেন, পরিবারের এই সংকটে তাঁরও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের অন্য সদস্যরা আয় করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাঁর পক্ষে তখনই অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই মায়ের পাশে থেকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর বড় বোন স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনিও পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন।   নিজের সিদ্ধান্তের কথা শিক্ষককে জানালে তিনি ছাও ফেংকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, ছাত্রী হিসেবে তিনি বরাবরই ভালো ফল করেছেন এবং প্রতিবছর বৃত্তি পেয়েছেন। তবে মায়ের পাশে থাকার বিষয়ে ছাও ফেং ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরে শিক্ষক লি এবং ২ কোটি ২০ লাখ অনুসারী থাকা অনলাইন ব্যক্তিত্ব লিয়াংতিয়ানের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে তাঁর জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহপাঠীরাও তাঁর পরিস্থিতি জেনে স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রিয় জিনিসপত্র দান করতে শুরু করে।   বিদায় অনুষ্ঠানে ছাও ফেংয়ের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাঁর হাতে একটি ব্যাগভর্তি খুচরা টাকা তুলে দেয়। জানায়, নিজের প্রিয় ‘অনার অব কিংস’ গেমের অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে সে এই অর্থ সংগ্রহ করেছে। অন্য সহপাঠীরাও নিজেদের পছন্দের আলট্রাম্যান কার্ড, প্রিয় নাটকের স্মারক, হাতে তৈরি সামগ্রী, ব্যাজ, পছন্দের গায়কের গানের রেকর্ড এবং প্রিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের জার্সি দান করে। এসব জিনিস বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ছাও ফেংয়ের পরিবারের সহায়তায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   বিদ্যালয় থেকে বিদায়ের সময় কয়েক শ সহপাঠী করিডরে দাঁড়িয়ে তাঁকে হাত নেড়ে শুভকামনা জানায়। সেই মুহূর্তের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। লিয়াংতিয়ান ভিডিওটি প্রকাশ করার পর তাতে প্রায় এক কোটি পছন্দের প্রতিক্রিয়া এবং দুই লাখের বেশি মন্তব্য আসে। অনেকে ছাও ফেংয়ের মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন, পাশাপাশি সহপাঠীদের ত্যাগ ও বন্ধুত্বেরও প্রশংসা করেন। একজন মন্তব্য করেন, বড়দের কাছে এসব জিনিসের আর্থিক মূল্য কম হতে পারে, কিন্তু শিশু-কিশোরদের কাছে সেগুলোই তাদের প্রিয় সম্পদ, যা বন্ধুকে সাহায্য করতে তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছে।   ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাও ফেংয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠাতে শুরু করেন অনেকে। তাঁর শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে একটি লাল খামে তাঁকে সহায়তা দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাও ফেংয়ের পড়াশোনা যেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য শিক্ষকেরা প্রতিদিন দূর থেকে তাঁকে পড়াশোনায় সহায়তা করবেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থারও খোঁজ রাখবেন।   বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ছাও ফেংকে ভবিষ্যতের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ‘গাওকাও’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আবার বিদ্যালয়ে ফিরলে তাঁর বেতনও মওকুফ করা হবে। বর্তমানে মায়ের পাশে সাংহাইয়ে থাকা ছাও ফেং শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পড়াশোনা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।   সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য পেপার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনেয়ী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২১:২৬

ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই নিউজউইক তাদের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে’।   প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য হলো, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে, তার উল্টো প্রভাব পড়েছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও।  ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল করে ইরানি শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্যরা। এ ঘটনায় ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সংকটটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনকে বড় রাজনৈতিক চাপে ফেলে। ৪৭ বছর পর একই তারিখে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম কার্টার ও ট্রাম্পের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, ‘কার্টার থেকে ট্রাম্প, কীভাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিপাকে ফেলেছে’। দুই প্রেসিডেন্টের ছবিতেই লাল ক্রস চিহ্ন দিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়।   মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২২৮টি আসন নিশ্চিত করেছে বলে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। ফলে আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে এখন বিরোধী দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান।’  নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সারির অধ্যাপক মার্ক শানাহান বলেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে দেশে পণ্যমূল্য বেড়েছে। তাঁর মতে, টেক্সাস, কানসাস ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের কাছে পররাষ্ট্রনীতি মুখ্য বিষয় না হলেও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ইরান সেই প্রতিশ্রুতির অসারতা তুলে ধরেছে।   নির্বাচনের আগে পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে ৭৭ শতাংশ ভোটার ইরান যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অথবা ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়টিও ভোটারদের বিবেচনায় ছিল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ২৭ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি খরচ রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।   ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রক্ষণশীল ভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুদ্ধকে গত দুই দশকের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ভুল বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। অন্যদিকে, স্ট্যান্ড টুগেদারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিড স্মিথ নির্বাচনের ফল প্রকাশের রাতে লেখেন, ‘এটা যুদ্ধের কারণেই হয়েছে।’   ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সভাপতি জামাল আবদি বলেন, নির্বাচনের আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে এলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অবরোধ বজায় রাখতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ভোটারদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা উচিত।   ইরানের নেতারাও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মার্কিনরা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন এবং ইরান সেই বার্তাকে সমর্থন করে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধানের উপদেষ্টা হামিদরেজা মোগাদ্দামফারও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।  তবে ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না সব বিশ্লেষক। ফ্রান্সের এসইএসসি বিজনেস স্কুলের ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও নেতৃত্ববিষয়ক কেন্দ্রের সহপরিচালক অরেলিয়াঁ কোলসন বলেন, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের আস্থাহীনতা এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ আগে থেকেই ছিল। ইরান যুদ্ধ সেই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের সংসারের খরচে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধটি যখন পেট্রল পাম্পের দামে প্রভাব ফেলেছে, তখন সেটি আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্ন।   নির্বাচনের ফলের পর ট্রাম্পের সামনে কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই কক্ষের সঙ্গে কাজ করার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদন্তের অঙ্গীকার করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিণতির পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রভাবও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরকে কঠিন করে তুলতে পারে।   সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

চীনে শাওমির গাড়ি কারখানায় যন্ত্রাংশ বাছাই ও সাজানোর কাজে ব্যস্ত মানবাকৃতির রোবট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২০:৫৮

চীনে নিজেদের গাড়ি তৈরির কারখানায় মানবাকৃতির রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। পরীক্ষায় রোবটগুলো ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিট ধরে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাছাই করে নির্দিষ্ট জায়গায় সাজানোর কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের মানবাকৃতির রোবটের ক্ষেত্রে এটিই প্রথমবারের মতো আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কারখানার কাজে অংশ নেওয়ার পরীক্ষা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গাড়ি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে শাওমি।   পরীক্ষায় রোবটগুলোকে গাড়ির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অংশের দুই পাশের আবরণ বা প্যানেল নির্দিষ্ট স্থান থেকে তুলে সংরক্ষণের তাকের নির্ধারিত ঘরে রাখতে বলা হয়। এসব প্যানেল গাড়ির সামনের আসন দুটির মাঝখানে থাকা কেন্দ্রীয় কনসোলের পাশের অংশে ব্যবহার করা হয়। কাজটি করতে রোবটগুলোকে যন্ত্রাংশের বাক্স থেকে প্যানেল তুলে নির্দিষ্ট তাক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়েছে। এরপর সেগুলো সঠিক অবস্থানে সাজাতে হয়েছে। শাওমির প্রকাশিত ভিডিওতে এই কাজের বিভিন্ন ধাপ দেখা যায়।   পরীক্ষার সময় রোবটগুলোকে দুইবার ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়েছে। প্রথমবার ৩ ঘণ্টা ২ মিনিট কাজের পর এবং দ্বিতীয়বার ৬ ঘণ্টা ৩ মিনিটের মাথায় চার্জের জন্য বিরতি নেয় তারা। ফলে ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিটের সময়টিকে একটানা বিরতিহীন কাজের সময় বলা যাবে না; এটি চার্জ দেওয়ার বিরতিসহ পরীক্ষায় নথিভুক্ত মোট কার্যক্রমের সময়। শাওমির প্রকাশিত ভিডিওতে কাজের সময় গণনার পাশাপাশি রোবটগুলোর চার্জ নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।   পরীক্ষায় একটি রোবটের হাত থেকে যন্ত্রাংশ পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে চাকার ওপর চলাচলকারী আরেকটি রোবট এসে সেটি তুলে নেয়। শাওমির দাবি, তাদের মানবাকৃতির রোবট উৎপাদন লাইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারে এবং কাজের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত করে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে। তবে পড়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধারের ঘটনাটি দেখিয়েছে, এ ধরনের কাজে একাধিক ধরনের রোবটের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কিছু তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি শাওমি। আট ঘণ্টার বেশি সময়ে মোট কতটি যন্ত্রাংশ সাজানো হয়েছে, কতগুলো সঠিকভাবে নির্ধারিত স্থানে রাখা সম্ভব হয়েছে কিংবা পুরো প্রক্রিয়ায় কতবার মানুষের সহায়তা নিতে হয়েছে, তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে শুধু কাজের সময়ের ভিত্তিতে রোবটগুলোর উৎপাদন দক্ষতা বা মানুষের সমান গতিতে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা যাচ্ছে না। পরীক্ষাটি আপাতত কারখানার নির্দিষ্ট একটি কাজে রোবটের সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   গাড়ি উৎপাদনে রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি শাওমির প্রথম পরীক্ষা নয়। চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি বেইজিংয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ি কারখানায় তিন ঘণ্টার একটি পরীক্ষায় মানবাকৃতির রোবট দিয়ে গাড়ির মেঝেতে নাট লাগানোর কাজ করিয়েছিল। সে সময় শাওমি জানিয়েছিল, দুই পাশে একসঙ্গে নাট লাগানোর কাজে রোবটের সাফল্যের হার ছিল ৯০ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্ধারিত ৭৬ সেকেন্ডের উৎপাদন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পেরেছিল। নতুন পরীক্ষায় যন্ত্রাংশ সাজানোর মতো ভিন্ন ধরনের কাজে রোবটের দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।   শাওমির এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভবিষ্যতে গাড়ি উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে মানবাকৃতির রোবট ব্যবহার করা। তবে পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফল এখনই ব্যাপকভাবে কারখানায় এসব রোবট ব্যবহারের প্রস্তুতি প্রমাণ করে না। কাজের গতি, নির্ভুলতা, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা এবং মানুষের সহায়তা ছাড়াই কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, এসব বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।   সূত্র: শাওমি টেকের প্রকাশিত ভিডিও ও ঘোষণা, ইন্টারেস্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিকা গাইড।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়