সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ তিন বছরে ২৪ শতাংশ বেড়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ বেড়েছে ২৪ শতাংশ, দায়ী চরম আবহাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ গত তিন বছরে ২৪ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশটির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে, যেখানে টর্নেডো, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত এ অঞ্চলে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম বেড়েছে ২৫ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় বেশি।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা ও বিমা বিষয়ে তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান নের্ডওয়ালেটের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ বাড়ির বার্ষিক বিমা খরচ ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ছিল ২ হাজার ৬৮ ডলার। ২০২৬ সালের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬৪ ডলারে। অর্থাৎ, তিন বছরে বছরে খরচ বেড়েছে ৪৯৬ ডলার। এ হিসাব করা হয়েছে ভালো ঋণ-ইতিহাস, বিমার ক্ষতিপূরণ দাবি না করা এবং ১৯৮৪ সালে নির্মিত বাড়ির মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ধরে।   অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের পর বিমার খরচ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যয় বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের চেয়েও অনেক বেশি। উইসকনসিনে তিন বছরে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম বেড়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। মিশিগানে এ হার ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া আইওয়ায় ২৭ দশমিক ৭, মিনেসোটায় ২৭ দশমিক ৩ এবং ইন্ডিয়ানায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।   নের্ডওয়ালেটের বিশ্লেষণে বিমার খরচ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চরম আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের (এনওএএ) ঝড়সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বড় শিলাবৃষ্টির ঘটনা আগের তিন বছরের তুলনায় মিসৌরিতে ২৭৬ শতাংশ এবং ইলিনয়ে ২৫৮ শতাংশ বেড়েছে। ইন্ডিয়ানায় বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ। এনওএএর সংজ্ঞা অনুযায়ী, শিলার ব্যাস অন্তত এক ইঞ্চি হলে তা বড় শিলাবৃষ্টির ঘটনা হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের ঝড়ে বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হলে বিমা কোম্পানির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যয়ও বাড়ে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিমার খরচ বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। ২০২৩ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শুরুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম বেড়েছিল ৭ শতাংশ। পরের এক বছরে বৃদ্ধি পায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের শুরুর মধ্যে বৃদ্ধির হার নেমে আসে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে। একই সময়ে ১৮টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বিমার খরচ কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে নর্থ ক্যারোলাইনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ, রোড আইল্যান্ডে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমা খরচ বৃদ্ধির গতি কমার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ২০২৫ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে তুলনামূলক শান্ত ঘূর্ণিঝড় মৌসুম এবং ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় বিমাবাজার স্থিতিশীল করতে নেওয়া কিছু সংস্কার এর মধ্যে রয়েছে। তবে সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি এক নয়। ২০২৬ সালেও চারটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম এক বছরে দুই অঙ্কের হারে বেড়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, অ্যারিজোনায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মিনেসোটায় ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।   নের্ডওয়ালেটের এ বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়েছে বিমা কোম্পানিগুলোর দাখিল করা মূল্য নির্ধারণের সূত্রের ভিত্তিতে কোয়াড্রান্ট ইনফরমেশন সার্ভিসেসের হিসাব করা ৮৪ কোটিরও বেশি বিমা-দর অনুমানের তথ্য থেকে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত প্রিমিয়াম বাড়ির অবস্থান, বয়স, বিমার আওতা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে।   সূত্র: নের্ডওয়ালেটের ২০২৬ সালের বাড়ির বিমার মূল্যসংক্রান্ত প্রতিবেদন; নিউজউইক।

২০ মিনিট Ago
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির অবস্থান আবারও জানালেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সরকার ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। মেক্সিকো সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আলোচনা প্রয়োজন। দেশটির এই অবস্থান নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা।       মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জানান, তাঁর সরকারের সময়ই ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাদিয়া রাশিদের পরিচয়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকলেও পূর্ণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শেইনবাউম বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ করা তাঁর সরকারের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।       মেক্সিকোর পররাষ্ট্রনীতিতে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশটির সরকার মনে করে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। এ অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও মেক্সিকোর বক্তব্যে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও মেক্সিকো পূর্ণ সদস্য না হয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।       ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে মেক্সিকোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মেক্সিকো সরকার বহুপক্ষীয় আলোচনা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সংকট সমাধানের পক্ষে রয়েছে। দেশটির এই অবস্থান ফিলিস্তিন প্রশ্নে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থনকে আবারও সামনে এনেছে।       সূত্র: মেক্সিকো সরকারের প্রেসিডেন্সি দপ্তর, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

৪৯ মিনিট Ago
উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে মহানবী (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী পড়ে শোনালেন রাজা চার্লস

যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। বুধবার, ২১ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে তিনি ওমানিদের সৌজন্যবোধ ও সহনশীলতার কথা তুলে ধরেন। রাজা চার্লস বলেন, মহানবী (সা.) ওমানের মানুষের চরিত্র সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ওমানের মানুষের কাছে গেলে তারা কাউকে গালিগালাজ বা শারীরিকভাবে আঘাত করত না। ওমানের সুলতানের যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রানি ক্যামিলা এবং দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।       রাজা চার্লসের উদ্ধৃত হাদিসটি সহিহ মুসলিমের সাহাবিদের মর্যাদাসংক্রান্ত অধ্যায়ে ওমানের মানুষের গুণাবলি প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটির বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) এক ব্যক্তিকে আরবের একটি গোত্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হলে তিনি ফিরে এসে বিষয়টি জানান। তখন মহানবী (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতেন, তাহলে তারা তাঁকে গালিগালাজ বা মারধর করত না। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে এই বাণী উল্লেখ করে ওমানের মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম ও শান্তিপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানান।       নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ রাজা যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে ওমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। চার্লসের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে ওমানের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।       ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক ১৯ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। পরদিন উইন্ডসর ক্যাসেলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। এই সফর ১৯৮২ সালের পর ওমানের কোনো সুলতানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।       সূত্র: ওমান অবজারভার

১ ঘন্টা Ago
প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডিধারী গবেষক জ্যাক ওয়েইস দুই হাজারের বেশি চাকরিতে আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
প্রিন্সটন থেকে পিএইচডি, নোবেল কমিটির স্বীকৃত গবেষণা, ২৩০০ আবেদন করেও মিলছে না চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি করেছেন। তাঁর গবেষণার উল্লেখও করেছে ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি। অথচ দুই বছর ধরে চাকরির খোঁজে ২ হাজার ৩০০টির বেশি আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি ৩০ বছর বয়সী জ্যাক ওয়েইস। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটির এই বাসিন্দা এখন বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছেন। গবেষণাগার ও জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পদ, এমনকি খাবার তৈরির কাজেও আবেদন করেছেন তিনি। তবু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর পাননি, আর কিছু আবেদন শেষ হয়েছে প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে তাঁর এই দীর্ঘ চাকরির লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।       ওয়েইসের শিক্ষাজীবনের রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল। তিনি রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন, যা শেষ হয় ২০২৪ সালে। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বরফ তৈরির রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং অণুর পারস্পরিক ক্রিয়া। ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যন্ত্রশিক্ষার প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর গবেষণার উল্লেখ করা হয়। তবে এই উল্লেখের অর্থ ওয়েইস নিজে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, এমন নয়। এত ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও পছন্দের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরেও কাজ খুঁজতে হয়েছে।       প্রথম দিকে ওষুধশিল্পের গবেষণাগার এবং জাতীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চতর গবেষণা বৃত্তিতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওয়েইস। কিন্তু অধিকাংশ আবেদনের কোনো জবাব আসেনি। পরে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের চাকরিতে আবেদন করেন। প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও উল্লেখযোগ্য সুযোগ পাননি। একপর্যায়ে হিমায়িত কাঁকড়ার কেক তৈরি ও বিক্রি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে খাবার প্রস্তুতের কাজেও আবেদন করেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত একজন গবেষকের চাকরি খোঁজার পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ।       ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য কাজ পেয়েছিলেন ওয়েইস। মারকর নামের প্রতিষ্ঠানটির হয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণের জন্য রাসায়নিক প্রকৌশলবিষয়ক প্রশ্ন তৈরি করতেন, মডেলের উত্তর যাচাই করতেন এবং সেগুলো আরও উন্নত করতে সহায়তা করতেন। ঘণ্টাপ্রতি ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেলেও কাজের পরিমাণ নিয়মিত ছিল না। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ পেতেন, আবার কোনো সপ্তাহে তা নেমে আসত মাত্র চার ঘণ্টায়। পরে কাজ কমতে কমতে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সুযোগও তাঁর জন্য স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি।       দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা ওয়েইসের পরিবারকেও বিস্মিত করেছে। তাঁর বাবা জন ওয়েইস একজন চিকিৎসক। ছেলের মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও কেন তিনি কাজ পাচ্ছেন না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই নিয়োগ পেতে সমস্যার কথা বলছেন। প্রায় ২১৮ জন চাকরিপ্রার্থীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করার পর নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের উদ্বিগ্ন করে। তীব্র প্রতিযোগিতা, বয়সভিত্তিক বৈষম্যের আশঙ্কা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।       এখন বিকল্প পেশার কথাও ভাবছেন ওয়েইস। আগামী নভেম্বরে আইন বিষয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এমন একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরির ধারণা নিয়ে কাজ করছেন, যাতে লাগানো এলইডি লেজারের সাহায্যে মির্টল স্পার্জ নামের ক্ষতিকর আগ্রাসী আগাছা ধ্বংস করা যায়। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে নীতিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, প্রচলিত চাকরির বাইরে নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের দক্ষতার ব্যবহার ঘটানোর সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। দুই হাজারের বেশি আবেদন করেও স্থায়ী চাকরি না পাওয়া ওয়েইসের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।       সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ২০২৭ সালে সংকট আরও চরম আকারে বাড়াবে, স্যাকসের পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা মানুষের জন্য আগামী বছরও স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম দেখছে গোল্ডম্যান স্যাকস। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উচ্চ মর্টগেজ সুদ ও বাড়ির দামের চাপে ২০২৭ সালে আগে থেকে মালিকানায় থাকা বাড়ির বিক্রি আরও কমে ৩৯ লাখে নামতে পারে। এটি মহামারির আগের ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম।   ২০ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মর্টগেজের সুদ আবার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, আগে কম সুদে মর্টগেজ নেওয়া অনেক বাড়ির মালিকও বর্তমান বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়িতে যেতে চাইছেন না। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা, উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের খরচ।  গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদ রনি ওয়াকার ১৯ অক্টোবর গ্রাহকদের দেওয়া এক নোটে জানান, আগামী বছর বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সংকট বাজারের ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৬ সালে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি হতে পারে প্রায় ৪০ লাখ। আগামী বছরের পূর্বাভাস সেই সংখ্যারও নিচে।  এই স্থবিরতার বড় কারণ পুরোনো ও নতুন মর্টগেজের সুদহারের ব্যবধান। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, বর্তমানে মর্টগেজ থাকা ঋণগ্রহীতাদের ৯৫ শতাংশের বেশি বাজারের চলতি হারের চেয়ে কম সুদ দিচ্ছেন। প্রায় ৬৫ শতাংশের সুদ চলতি হারের চেয়ে অন্তত ২ শতাংশ পয়েন্ট কম। তাঁদের অনেকের জন্য বাড়ি বদলানোর অর্থ কম সুদের ঋণ ছেড়ে বেশি সুদে নতুন মর্টগেজ নেওয়া। এতে মাসিক কিস্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাঁরা বিক্রির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।  মর্টগেজ বাজার নিয়েও দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির হিসাবে, এক পরিবারের বসবাসযোগ্য বাড়ির জন্য মোট মর্টগেজ ঋণ বিতরণের অর্থমূল্য ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে আগামী বছর প্রায় ৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৯৯ ট্রিলিয়ন ডলারে নামতে পারে। এই হিসাবের মধ্যে বাড়ি কেনার ঋণ ও পুরোনো ঋণ রিফাইন্যান্স, দুটিই রয়েছে।  তবে মোট মর্টগেজ ঋণ কমার পূর্বাভাস মানেই বাড়ি কেনার ঋণও একই হারে কমবে, এমন নয়। সংগঠনটির হিসাবে, ২০২৭ সালে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ বিতরণের অর্থমূল্য সামান্য বাড়তে পারে। বড় পতনের আশঙ্কা রিফাইন্যান্সে, যেখানে ঋণের অর্থমূল্য প্রায় ১৭ শতাংশ কমতে পারে। তাদের মূল পূর্বাভাসে আগামী বছরও ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশের ওপরে থাকার কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৮:৪৩
ক্যালিফোর্নিয়ায় ডোরড্যাশ চালককে পিটিয়ে হ ত্যার অভিযোগ, টেসলার ডিকিতে মিলেছিল লা শ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিখোঁজ এক ডোরড্যাশ চালককে পিটিয়ে হত্যার পর তার লাশ টেসলা গাড়ির ডিকিতে (ট্রাংক) লুকিয়ে রাখার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের তিন মাস পর ৩৯ বছর বয়সী ম্যানুয়েল সালসেদা নামের এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) জানিয়েছে, গত ৯ জুলাই মার্সিড কাউন্টির ১৫২ নম্বর স্টেট রুটের পাশে একটি টেসলা সেডান গাড়ির ভেতর থেকে ৪২ বছর বয়সী হ্যাভিয়ের বেসেরিল জুনিয়রের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে তার পরিবার তাকে নিখোঁজ বলে পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছিল। লাশ উদ্ধারের পর থেকেই এটিকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে মাঠে নামে পুলিশ।   তদন্তে জানা যায়, টেসলার ডিকিতে লাশ রাখার আগে হ্যাভিয়েরকে নির্মমভাবে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা পিটিয়ে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ তিন মাসের শ্বাসরুদ্ধকর তদন্ত শেষে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য আলামতের ভিত্তিতে পুলিশ ম্যানুয়েল সালসেদাকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে।   তদন্তকারীরা জানতে পারেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতে ঘাতক সালসেদা একাধিক ছদ্মনাম ব্যবহার করে আসছিলেন। অবশেষে গত ১১ অক্টোবর বে এরিয়ার বেশ কয়েকটি কাউন্টিতে টানা তল্লাশির পর উডল্যান্ডের ৫ নম্বর ইন্টারস্টেট হাইওয়ে সংলগ্ন একটি গ্যাস স্টেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।   সিএইচপির সেন্ট্রাল ডিভিশন মেজর ক্রাইম ইউনিটের এই সফল অভিযানের পর গত ২০ অক্টোবর মার্সিড কাউন্টির সুপিরিয়র কোর্টে সালসেদার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। সিএইচপি প্রধান ড্যামন গিলমোর জানিয়েছেন, অপরাধীকে বিচারের আওতায় আনতে তাদের গোয়েন্দারা একাধিক কাউন্টিতে দিনরাত এক করে শারীরিক প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ করেছেন।   চাঞ্চল্যকর এই হত্যারহস্যের জট খুলতে এবং ঘটনার সময়কার কোনো সূত্র পেতে পুলিশ টেসলা গাড়ির অনবোর্ড কম্পিউটার সিস্টেম ও ভিডিও ডেটাও নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করেছে বলে জানা গেছে।

ইলহান ওমরকে তিরস্কার প্রস্তাব থেকে রক্ষায় তার পক্ষে ভোট দিলে চার রিপাবলিকান

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরকে তিরস্কার এবং দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটি থেকে সরানোর প্রস্তাব আটকে দিতে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন চার রিপাবলিকান সদস্য। ২০২৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ভোটে ২১৪-২১৩ ব্যবধানে প্রস্তাবটি আলোচনার বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত পাস হয়। রিপাবলিকান চার সদস্য হলেন মাইক ফ্লাড, জেফ হার্ড, টম ম্যাকক্লিনটক ও কোরি মিলস। তাঁদের ভোটের কারণে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সরকারি ভোটের নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে।   প্রস্তাবটি উত্থাপন করেছিলেন সাউথ ক্যারোলাইনার রিপাবলিকান প্রতিনিধি ন্যান্সি মেস। এতে মিনেসোটার প্রতিনিধি ইলহান ওমরকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক কমিটি এবং বাজেট কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্কের মৃত্যুর পর ওমরের মন্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও পুনরায় প্রকাশ করাকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। মেসের অভিযোগ ছিল, ওমরের বক্তব্য কার্কের মৃত্যু নিয়ে অসম্মানজনক মনোভাব প্রকাশ করেছে। তবে ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি পরিষদ প্রস্তাবটি আর এগিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   প্রস্তাবটি আটকে দেওয়ার পক্ষে ২১৪ জন ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন ২১৩ জন। পক্ষে ভোট দেওয়া সদস্যদের মধ্যে ছিলেন ২১০ জন ডেমোক্র্যাট এবং চারজন রিপাবলিকান। অন্যদিকে, ভোটে অংশ নেওয়া ২১৩ জন বিপক্ষে অবস্থান নেন, যাঁদের সবাই রিপাবলিকান। পাঁচজন সদস্য ভোট দেননি। চার রিপাবলিকানের সমর্থন ছাড়া ফলাফল ভিন্ন হতে পারত এবং প্রস্তাবটি পরবর্তী পর্যায়ে যাওয়ার সুযোগ পেত। এই ভোটে মূলত প্রস্তাবটি বিবেচনা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সরাসরি ইলহান ওমরকে তিরস্কার করার পক্ষে বা বিপক্ষে চূড়ান্ত ভোট হয়নি।   চার রিপাবলিকানের অবস্থানের পেছনে প্রক্রিয়াগত ও নীতিগত যুক্তিও উঠে আসে। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রতিনিধি টম ম্যাকক্লিনটক মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টি সামনে আনেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ওমরের মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করা যেতে পারে, কিন্তু আপত্তিকর বক্তব্যও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত মতপ্রকাশের আওতায় থাকতে পারে। অন্যদিকে, নেব্রাস্কার প্রতিনিধি মাইক ফ্লাড বিষয়টি আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক পদক্ষেপে নেওয়ার আগে প্রতিনিধি পরিষদের নীতিশাস্ত্রবিষয়ক কমিটির মাধ্যমে তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের পক্ষে অবস্থান নেন। ফলে ভোটটি শুধু ওমরের মন্তব্য ঘিরে বিতর্কেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং আইনপ্রণেতাদের বক্তব্যের স্বাধীনতা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন সামনে আনে।   চার্লি কার্ক ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন পরিচিত রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী। ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ইউটাহ ভ্যালি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে গুলিতে নিহত হন তিনি। তাঁর মৃত্যুর পর রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ইলহান ওমর কার্কের কিছু রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্যের সমালোচনা করেছিলেন, যা রিপাবলিকানদের একাংশের ক্ষোভের কারণ হয়। সেই প্রেক্ষাপটে ন্যান্সি মেসের আনা প্রস্তাবটি প্রতিনিধি পরিষদে ওঠে। তবে ভোটের ফলাফলে স্পষ্ট হয়, রিপাবলিকান দলের সব সদস্য এ বিষয়ে একই অবস্থান নেননি।   ইলহান ওমর মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রগতিশীল রাজনীতির পরিচিত মুখ। তাঁর বিরুদ্ধে তিরস্কারের প্রস্তাব আটকে যাওয়ায় দুটি কমিটিতে তাঁর সদস্যপদ বহাল রাখার উদ্যোগটি সফল হয়। ঘটনাটি প্রতিনিধি পরিষদে দলীয় বিভাজনের পাশাপাশি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক বক্তব্যের জবাবদিহি নিয়ে চলমান বিতর্ককেও সামনে এনেছে।   সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের ক্লার্কের দপ্তর, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ তিন বছরে ২৪ শতাংশ বেড়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
তিন বছরে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ বেড়েছে ২৪ শতাংশ, দায়ী চরম আবহাওয়া

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার খরচ গত তিন বছরে ২৪ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে দেশটির মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে, যেখানে টর্নেডো, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ের কারণে বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি বেড়েছে। নতুন এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত এ অঞ্চলে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম বেড়েছে ২৫ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলগুলোর তুলনায় বেশি।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থা ও বিমা বিষয়ে তথ্য প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান নের্ডওয়ালেটের ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একটি সাধারণ বাড়ির বার্ষিক বিমা খরচ ২০২৩ সালের শুরুর দিকে ছিল ২ হাজার ৬৮ ডলার। ২০২৬ সালের শুরুতে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৫৬৪ ডলারে। অর্থাৎ, তিন বছরে বছরে খরচ বেড়েছে ৪৯৬ ডলার। এ হিসাব করা হয়েছে ভালো ঋণ-ইতিহাস, বিমার ক্ষতিপূরণ দাবি না করা এবং ১৯৮৪ সালে নির্মিত বাড়ির মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ধরে।   অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের পর বিমার খরচ সবচেয়ে বেশি বেড়েছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, ২০ দশমিক ৫ শতাংশ। দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েছে ১৯ দশমিক ২ শতাংশ এবং পশ্চিমাঞ্চলে ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ। তবে মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যয় বৃদ্ধির হার জাতীয় গড়ের চেয়েও অনেক বেশি। উইসকনসিনে তিন বছরে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম বেড়েছে ৪০ দশমিক ৯ শতাংশ। মিশিগানে এ হার ২৯ দশমিক ৯ শতাংশ। এ ছাড়া আইওয়ায় ২৭ দশমিক ৭, মিনেসোটায় ২৭ দশমিক ৩ এবং ইন্ডিয়ানায় ২৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি রেকর্ড করা হয়েছে।   নের্ডওয়ালেটের বিশ্লেষণে বিমার খরচ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে চরম আবহাওয়ার কথা বলা হয়েছে। জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসনের (এনওএএ) ঝড়সংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বড় শিলাবৃষ্টির ঘটনা আগের তিন বছরের তুলনায় মিসৌরিতে ২৭৬ শতাংশ এবং ইলিনয়ে ২৫৮ শতাংশ বেড়েছে। ইন্ডিয়ানায় বেড়েছে ১৮৩ শতাংশ। এনওএএর সংজ্ঞা অনুযায়ী, শিলার ব্যাস অন্তত এক ইঞ্চি হলে তা বড় শিলাবৃষ্টির ঘটনা হিসেবে গণ্য হয়। এ ধরনের ঝড়ে বাড়ির ছাদসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতি হলে বিমা কোম্পানির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যয়ও বাড়ে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিমার খরচ বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমেছে। ২০২৩ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শুরুর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম বেড়েছিল ৭ শতাংশ। পরের এক বছরে বৃদ্ধি পায় ১০ দশমিক ৮ শতাংশ। কিন্তু ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের শুরুর মধ্যে বৃদ্ধির হার নেমে আসে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে। একই সময়ে ১৮টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে বিমার খরচ কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে নর্থ ক্যারোলাইনায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশ, রোড আইল্যান্ডে ৭ দশমিক ৯ শতাংশ এবং ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশ।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমা খরচ বৃদ্ধির গতি কমার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ২০২৫ সালে আটলান্টিক মহাসাগরে তুলনামূলক শান্ত ঘূর্ণিঝড় মৌসুম এবং ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় বিমাবাজার স্থিতিশীল করতে নেওয়া কিছু সংস্কার এর মধ্যে রয়েছে। তবে সব অঙ্গরাজ্যে পরিস্থিতি এক নয়। ২০২৬ সালেও চারটি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির বিমার প্রিমিয়াম এক বছরে দুই অঙ্কের হারে বেড়েছে। এর মধ্যে পেনসিলভানিয়ায় ১৬ দশমিক ৪ শতাংশ, অ্যারিজোনায় ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং মিনেসোটায় ১০ দশমিক ৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।   নের্ডওয়ালেটের এ বিশ্লেষণ তৈরি করা হয়েছে বিমা কোম্পানিগুলোর দাখিল করা মূল্য নির্ধারণের সূত্রের ভিত্তিতে কোয়াড্রান্ট ইনফরমেশন সার্ভিসেসের হিসাব করা ৮৪ কোটিরও বেশি বিমা-দর অনুমানের তথ্য থেকে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত প্রিমিয়াম বাড়ির অবস্থান, বয়স, বিমার আওতা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভিন্ন হতে পারে।   সূত্র: নের্ডওয়ালেটের ২০২৬ সালের বাড়ির বিমার মূল্যসংক্রান্ত প্রতিবেদন; নিউজউইক।

প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডিধারী গবেষক জ্যাক ওয়েইস দুই হাজারের বেশি চাকরিতে আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
প্রিন্সটন থেকে পিএইচডি, নোবেল কমিটির স্বীকৃত গবেষণা, ২৩০০ আবেদন করেও মিলছে না চাকরি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাসায়নিক প্রকৌশলে পিএইচডি করেছেন। তাঁর গবেষণার উল্লেখও করেছে ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার প্রদানকারী কমিটি। অথচ দুই বছর ধরে চাকরির খোঁজে ২ হাজার ৩০০টির বেশি আবেদন করেও স্থায়ী কাজ পাননি ৩০ বছর বয়সী জ্যাক ওয়েইস। যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের সল্টলেক সিটির এই বাসিন্দা এখন বাবা-মায়ের বাড়িতে থাকছেন। গবেষণাগার ও জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের ফেলোশিপ থেকে শুরু করে সফটওয়্যার প্রকৌশলীর পদ, এমনকি খাবার তৈরির কাজেও আবেদন করেছেন তিনি। তবু অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোনো উত্তর পাননি, আর কিছু আবেদন শেষ হয়েছে প্রত্যাখ্যানের মধ্য দিয়ে। সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে তাঁর এই দীর্ঘ চাকরির লড়াইয়ের চিত্র উঠে এসেছে।       ওয়েইসের শিক্ষাজীবনের রেকর্ড ছিল বেশ উজ্জ্বল। তিনি রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ সম্মানসূচক ফল নিয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করেন, যা শেষ হয় ২০২৪ সালে। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল বরফ তৈরির রাসায়নিক প্রক্রিয়া এবং অণুর পারস্পরিক ক্রিয়া। ২০২৪ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণার সময় বৈজ্ঞানিক গবেষণায় যন্ত্রশিক্ষার প্রয়োগের উদাহরণ হিসেবে তাঁর গবেষণার উল্লেখ করা হয়। তবে এই উল্লেখের অর্থ ওয়েইস নিজে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, এমন নয়। এত ভালো শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও পছন্দের ক্ষেত্রে চাকরি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁকে নিজের বিশেষায়িত ক্ষেত্রের বাইরেও কাজ খুঁজতে হয়েছে।       প্রথম দিকে ওষুধশিল্পের গবেষণাগার এবং জাতীয় গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের উচ্চতর গবেষণা বৃত্তিতে কাজ পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ওয়েইস। কিন্তু অধিকাংশ আবেদনের কোনো জবাব আসেনি। পরে সফটওয়্যার প্রকৌশলসহ বিভিন্ন খাতের চাকরিতে আবেদন করেন। প্রিন্সটন ও রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী এবং পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও উল্লেখযোগ্য সুযোগ পাননি। একপর্যায়ে হিমায়িত কাঁকড়ার কেক তৈরি ও বিক্রি করে এমন একটি প্রতিষ্ঠানে খাবার প্রস্তুতের কাজেও আবেদন করেন তিনি। উচ্চশিক্ষিত একজন গবেষকের চাকরি খোঁজার পরিধি কতটা বিস্তৃত হতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা তারই উদাহরণ।       ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে অবশ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করা একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে অল্প সময়ের জন্য কাজ পেয়েছিলেন ওয়েইস। মারকর নামের প্রতিষ্ঠানটির হয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল প্রশিক্ষণের জন্য রাসায়নিক প্রকৌশলবিষয়ক প্রশ্ন তৈরি করতেন, মডেলের উত্তর যাচাই করতেন এবং সেগুলো আরও উন্নত করতে সহায়তা করতেন। ঘণ্টাপ্রতি ৭০ ডলার পারিশ্রমিক পেলেও কাজের পরিমাণ নিয়মিত ছিল না। কোনো সপ্তাহে ২০ ঘণ্টা কাজ পেতেন, আবার কোনো সপ্তাহে তা নেমে আসত মাত্র চার ঘণ্টায়। পরে কাজ কমতে কমতে একপর্যায়ে বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ওই সুযোগও তাঁর জন্য স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা করতে পারেনি।       দীর্ঘদিন চাকরি না পাওয়ার অভিজ্ঞতা ওয়েইসের পরিবারকেও বিস্মিত করেছে। তাঁর বাবা জন ওয়েইস একজন চিকিৎসক। ছেলের মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকার পরও কেন তিনি কাজ পাচ্ছেন না, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবার। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে সামগ্রিক বেকারত্বের হার তুলনামূলক কম থাকলেও চাকরিপ্রার্থীদের অনেকেই নিয়োগ পেতে সমস্যার কথা বলছেন। প্রায় ২১৮ জন চাকরিপ্রার্থীর ওপর পরিচালিত একটি জরিপে ৬১ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, চাকরির আবেদন করার পর নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে কোনো উত্তর না পাওয়ার বিষয়টি তাঁদের উদ্বিগ্ন করে। তীব্র প্রতিযোগিতা, বয়সভিত্তিক বৈষম্যের আশঙ্কা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।       এখন বিকল্প পেশার কথাও ভাবছেন ওয়েইস। আগামী নভেম্বরে আইন বিষয়ে পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছেন তিনি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এমন একটি চালকবিহীন উড়োজাহাজ তৈরির ধারণা নিয়ে কাজ করছেন, যাতে লাগানো এলইডি লেজারের সাহায্যে মির্টল স্পার্জ নামের ক্ষতিকর আগ্রাসী আগাছা ধ্বংস করা যায়। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার কাছে নীতিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাবও জমা দিয়েছেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, প্রচলিত চাকরির বাইরে নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে নিজের দক্ষতার ব্যবহার ঘটানোর সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। দুই হাজারের বেশি আবেদন করেও স্থায়ী চাকরি না পাওয়া ওয়েইসের অভিজ্ঞতা তাই শুধু একজন গবেষকের ব্যক্তিগত সংকট নয়, বরং উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে ব্যবধান নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।       সূত্র: দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট।

উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে মহানবী (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী পড়ে শোনালেন রাজা চার্লস

যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। বুধবার, ২১ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে তিনি ওমানিদের সৌজন্যবোধ ও সহনশীলতার কথা তুলে ধরেন। রাজা চার্লস বলেন, মহানবী (সা.) ওমানের মানুষের চরিত্র সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ওমানের মানুষের কাছে গেলে তারা কাউকে গালিগালাজ বা শারীরিকভাবে আঘাত করত না। ওমানের সুলতানের যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রানি ক্যামিলা এবং দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।       রাজা চার্লসের উদ্ধৃত হাদিসটি সহিহ মুসলিমের সাহাবিদের মর্যাদাসংক্রান্ত অধ্যায়ে ওমানের মানুষের গুণাবলি প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটির বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) এক ব্যক্তিকে আরবের একটি গোত্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হলে তিনি ফিরে এসে বিষয়টি জানান। তখন মহানবী (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতেন, তাহলে তারা তাঁকে গালিগালাজ বা মারধর করত না। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে এই বাণী উল্লেখ করে ওমানের মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম ও শান্তিপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানান।       নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ রাজা যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে ওমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। চার্লসের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে ওমানের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।       ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক ১৯ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। পরদিন উইন্ডসর ক্যাসেলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। এই সফর ১৯৮২ সালের পর ওমানের কোনো সুলতানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।       সূত্র: ওমান অবজারভার

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউম। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির অবস্থান আবারও জানালেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট
প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২২:২৯

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে মেক্সিকো। দেশটির প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শেইনবাউমের সরকার ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে দুটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। মেক্সিকো সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য উভয় রাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আলোচনা প্রয়োজন। দেশটির এই অবস্থান নতুন নয়, বরং দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা।       মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট শেইনবাউম ২০২৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জানান, তাঁর সরকারের সময়ই ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নাদিয়া রাশিদের পরিচয়পত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগে মেক্সিকোতে ফিলিস্তিনের কূটনৈতিক প্রতিনিধিত্ব থাকলেও পূর্ণ রাষ্ট্রদূত হিসেবে স্বীকৃতির ক্ষেত্রে এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। শেইনবাউম বলেন, ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল উভয় রাষ্ট্রের স্বীকৃতি এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা বন্ধ করা তাঁর সরকারের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।       মেক্সিকোর পররাষ্ট্রনীতিতে জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার, অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। দেশটির সরকার মনে করে, ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানের জন্য ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয় পক্ষকে অন্তর্ভুক্ত করে আলোচনা এগিয়ে নিতে হবে। এ অবস্থানের প্রতিফলন দেখা যায় গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েও মেক্সিকোর বক্তব্যে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজার জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পর্ষদে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেলেও মেক্সিকো পূর্ণ সদস্য না হয়ে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়।       ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে মেক্সিকোর অবস্থান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন উভয়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। মেক্সিকো সরকার বহুপক্ষীয় আলোচনা ও আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে সংকট সমাধানের পক্ষে রয়েছে। দেশটির এই অবস্থান ফিলিস্তিন প্রশ্নে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের প্রতি তাদের দীর্ঘদিনের সমর্থনকে আবারও সামনে এনেছে।       সূত্র: মেক্সিকো সরকারের প্রেসিডেন্সি দপ্তর, দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতানের সম্মানে আয়োজিত নৈশভোজে মহানবী (সা.)-এর হাদিস উদ্ধৃত করেন রাজা তৃতীয় চার্লস। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ব্রিটিশ রাজপ্রাসাদ উইন্ডসর ক্যাসেলে মহানবী (সা.)-এর বাণী পড়ে শোনালেন রাজা চার্লস
প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ২২:৮

যুক্তরাজ্যের উইন্ডসর ক্যাসেলে ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিকের সম্মানে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে ওমানের মানুষের প্রশংসা করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। বুধবার, ২১ অক্টোবরের ওই অনুষ্ঠানে তিনি ওমানিদের সৌজন্যবোধ ও সহনশীলতার কথা তুলে ধরেন। রাজা চার্লস বলেন, মহানবী (সা.) ওমানের মানুষের চরিত্র সম্পর্কে প্রশংসাসূচক মন্তব্য করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, ওমানের মানুষের কাছে গেলে তারা কাউকে গালিগালাজ বা শারীরিকভাবে আঘাত করত না। ওমানের সুলতানের যুক্তরাজ্য সফর উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রানি ক্যামিলা এবং দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।       রাজা চার্লসের উদ্ধৃত হাদিসটি সহিহ মুসলিমের সাহাবিদের মর্যাদাসংক্রান্ত অধ্যায়ে ওমানের মানুষের গুণাবলি প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। হাদিসটির বর্ণনায় এসেছে, মহানবী (সা.) এক ব্যক্তিকে আরবের একটি গোত্রের কাছে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে তাঁকে গালিগালাজ ও মারধর করা হলে তিনি ফিরে এসে বিষয়টি জানান। তখন মহানবী (সা.) বলেন, ওই ব্যক্তি যদি ওমানের মানুষের কাছে যেতেন, তাহলে তারা তাঁকে গালিগালাজ বা মারধর করত না। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে এই বাণী উল্লেখ করে ওমানের মানুষের দীর্ঘদিনের সুনাম ও শান্তিপ্রিয়তার প্রতি সম্মান জানান।       নৈশভোজে দেওয়া বক্তব্যে ব্রিটিশ রাজা যুক্তরাজ্য ও ওমানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের কথাও স্মরণ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বহু শতাব্দী ধরে বাণিজ্য, কূটনীতি, প্রতিরক্ষা ও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে ওমানের ঐতিহাসিক ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি। চার্লসের মতে, আঞ্চলিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে সংলাপ চালু রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ সচল রাখতে ওমানের প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি।       ওমানের সুলতান হাইথাম বিন তারিক ১৯ অক্টোবর চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাজ্যে পৌঁছান। পরদিন উইন্ডসর ক্যাসেলে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানান রাজা চার্লস ও রানি ক্যামিলা। এই সফর ১৯৮২ সালের পর ওমানের কোনো সুলতানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও কূটনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। রাজা চার্লস তাঁর বক্তব্যে আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতেও অটুট থাকবে এবং পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।       সূত্র: ওমান অবজারভার

বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপের তাগিদ জাতিসংঘের
বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার পথে
প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৭:৫২

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উষ্ণতা কতটা বাড়বে এবং কত দিন ধরে এই সীমার ওপরে থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এখনো আছে। এ জন্য দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।   বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) নতুন ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’-এ এসব সতর্কতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘দ্য পয়েন্ট অব রিটার্ন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব যে গতিতে কাজ করছে, তা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাপমাত্রার লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্বের দেশগুলো। চুক্তির লক্ষ্য ছিল, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশ নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে তা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব কমাতে ১.৫ ডিগ্রির সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন যথেষ্ট দ্রুত কমানো সম্ভব না হওয়ায় সেই লক্ষ্য অর্জন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তা আবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ, এখন লক্ষ্য হবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ মাত্রা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা এবং ২১০০ সালের মধ্যে আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে ফিরিয়ে আনা। তবে এই পথ সহজ নয়। এর জন্য বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ থেকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। দেশগুলো তাদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও উষ্ণতা প্রায় ২.৬ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে নির্গমন কমাতে হবে ৬৯ শতাংশ। এ জন্য কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বন উজাড় বন্ধ করা এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে নির্গমন কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাপমাত্রা যত বেশি বাড়বে এবং ১.৫ ডিগ্রির সীমার ওপরে যত বেশি সময় থাকবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও তত বাড়বে। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা পরে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি এবং তীব্র গরমের প্রভাব মোকাবিলায় আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, ১.৫ ডিগ্রির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়লেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চেষ্টা থামানো যাবে না। এখন নির্গমন কমানোর গতি বাড়াতে পারলে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, সেই বৃদ্ধি কত দিন স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে পৃথিবীকে আবার নিরাপদ সীমায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না—তার ওপর বড় প্রভাব ফেলা যাবে।

বিরল শারীরিক সমস্যায় মুখমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তনের শিকার চীনের শিয়া ইউয়ানহাই। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বিরল রোগে বদলে গেছে চীনা ব্যক্তির মুখমণ্ডল, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা
প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ২৩:৪১

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছংছিংয়ের লাওতু গ্রামের বাসিন্দা শিয়া ইউয়ানহাইয়ের মুখমণ্ডলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। কৈশোরে তাঁর চেহারা ছিল অন্য সাধারণ কিশোরদের মতোই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মুখমণ্ডলের টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় তাঁর চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন ঘটায় শুরুর দিকে সমস্যাটির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি তিনি ও তাঁর পরিবার।   চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনে তাঁর অবস্থাকে হাইপারপ্লাসিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ অবস্থায় কোষের সংখ্যা বেড়ে কোনো টিস্যু বা অঙ্গের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে পারে। ইউয়ানহাইয়ের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডলের টিস্যু বৃদ্ধির সঙ্গে দাঁতের গুরুতর ক্ষতি এবং শ্রবণশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। নিজের বদলে যাওয়া চেহারা বোঝাতে তিনি ‘ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো মুখ’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।   ২০১৬ সালে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তখন ৫৩ বছর বয়সী ইউয়ানহাইয়ের বড় ভাই শিয়া ইউয়ানছাংয়ের বয়স ছিল ৬৬ বছর। ভাইয়ের চিকিৎসা ও মুখমণ্ডলে অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করতে তাঁরা অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হওয়ায় এত দিন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   চিকিৎসার লক্ষ্য শুধু মুখমণ্ডলের গঠন পরিবর্তন করা নয়, বরং রোগের কারণে তৈরি হওয়া শারীরিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে তাঁর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। তবে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কতটা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, তিনি অস্ত্রোপচার করিয়েছেন কি না কিংবা বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, তা সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি।   ইউয়ানহাইয়ের ঘটনা ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম উসোকলের প্রতিবেদনেও ঘটনাটি নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে। তবে পুরোনো ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই তাঁর বর্তমান বয়স, চিকিৎসার অগ্রগতি বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   সূত্র: উসোকল, ডেইলি মেইল।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়