যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে আগামীকাল ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ, আলোচনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন প্রার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কমিউনিটির নেতারা বলছেন, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকে মূলধারার রাজনীতিতে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জর্জিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলাহ পার্কেস। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের (এজেসি) এক জরিপে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়ছে। নাবিলাহ পার্কেস জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। ফলে তার বর্তমান প্রার্থিতা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এছাড়া জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসনে শেখ রহমানের প্রার্থিতাও বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত শেখ রহমানকে অনেকেই কমিউনিটির শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, জর্জিয়া স্টেট হাউস ডিস্ট্রিক্ট-৯৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী তানজিনা। স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। তার সমর্থকদের মতে, শিক্ষা, কমিউনিটি উন্নয়ন ও অভিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। বিভিন্ন পোস্টে ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, “ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব।” পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশী কমিউনিটি একটিভিস্টদের মতে, জর্জিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে ঘোষিত এই দলে সবচেয়ে বড় খবর হিসেবে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। রিও ডি জেনিরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে দীর্ঘ আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফেরানো হয় নেইমারকে। চোট, অস্ত্রোপচার ও ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তার পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নেইমারের ফেরায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হলেও রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা রদ্রিগোর বাদ পড়া বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে ঘোষিত দলে কিছু জায়গায় পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল এবার অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। কাসেমিরো, মারকিনিওস ও থিয়াগো সিলভার মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো তরুণদের নিয়েই সাজানো হয়েছে দল। ব্রাজিল খেলবে সি গ্রুপে। আগামী ১৩ জুন নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ১৯ জুন হাইতি
যুক্তরাষ্ট্রে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি ও ধরপাকড় অভিযানের কারণে আগামী ১০ বছরে ফেডারেল সরকারের প্রায় ৪৭৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রাজস্ব ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কর বিশেষজ্ঞ ও বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নথিপত্রহীন অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক বেড়ে যাওয়ায় তারা কর রিটার্ন দাখিল থেকে সরে আসছেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশটির রাজস্ব আয়ে। অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইর অভিযানের ভয়ে বহু নথিপত্রহীন অভিবাসী কর ফাইল করা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে ট্যাক্স পরামর্শকরা জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, করদাতাদের ব্যক্তিগত তথ্য অভিবাসন সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি নথিপত্রহীন অভিভাবকদের জন্য চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা বাতিল হওয়ায় কর দাখিলের আগ্রহ কমে গেছে। ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের একাধিক ট্যাক্স সেবা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, অনেক নিয়মিত ক্লায়েন্ট এবার কর রিটার্ন দাখিল করেননি। স্প্রিংফিল্ডের একটি ট্যাক্স কনসালটেন্সি প্রতিষ্ঠানের মালিক জানান, তাঁদের প্রায় ৭৫ শতাংশ নিয়মিত ক্লায়েন্ট কর ফাইল করেননি। মেরিল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ার আরেক ট্যাক্স সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান জানায়, তাদের ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ক্লায়েন্ট এবার কর দাখিল থেকে বিরত থেকেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে নথিপত্রহীন অভিবাসীদের জন্য কর প্রদান আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক হলেও বহু বছর ধরে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগ করদাতাদের তথ্য গোপন রাখার নীতি অনুসরণ করে আসছে। তবে গত বছর একটি বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যমে কিছু তথ্য হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলে উদ্বেগ আরও বাড়ে। পরে একটি ফেডারেল আদালত ওই চুক্তির ওপর স্থগিতাদেশ দেয়। তবুও করদাতাদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়ে গেছে। ইনস্টিটিউট অন ট্যাক্সেশন অ্যান্ড ইকোনমিক পলিসির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে নথিপত্রহীন অভিবাসীরা প্রায় ৯৬.৭ বিলিয়ন ডলার কর প্রদান করেছেন। ইয়েল ইউনিভার্সিটির বাজেট ল্যাবের হিসাব অনুযায়ী, কর ফাইল করার হার কমে গেলে আগামী এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতি ১৪৭ বিলিয়ন থেকে ৪৭৯ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে। অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের হিসাব বলছে, স্বেচ্ছায় কর প্রদান মাত্র ১ শতাংশ কমলেও বছরে প্রায় ৪৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। অভিবাসন নীতির প্রভাব শিশুদের ওপরও পড়ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, নথিপত্রহীন অভিভাবকের সন্তানরা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে প্রায় ২৭ লাখ শিশু এই সুবিধা হারাচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর প্রভাবে শিশু দারিদ্র্যের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের বড় একটি অংশ বর্তমানে বিতাড়নের আশঙ্কায় রয়েছে। অভিবাসন সংক্রান্ত আইনি বিশেষজ্ঞরা করদাতাদের তথ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে অভিবাসীরা আবারও কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন।
বিমসটেক ও ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। সোমবার (১৮ মে) ইউজিসিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেটওয়ার্কিং বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ইউজিসি সদস্য ও চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান, মালয়েশিয়ার হায়ার এডুকেশন লিডারশিপ একাডেমির পরিচালক ড. হারশিতা আইনি হারুন, ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলামসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, উচ্চশিক্ষা–সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশ্ব র্যাংকিং, শিক্ষার্থীদের চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর সাইদুর রহমান বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শিক্ষা এখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। এই নেটওয়ার্কিং ইভেন্টটি দুই দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থবহ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রায় ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, যা উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিকীকরণের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসম্পন্ন শিক্ষা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয় এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৪০১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যার বিচারে তৃতীয়। এদের অধিকাংশেরই পছন্দ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস (ইএমজিএস)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নভি তাজউদ্দীন সভায় একটি ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত বছরের তুলনায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গুণগত শিক্ষা ও আধুনিক একাডেমিক পরিবেশের কারণেই মূলত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উক্ত দ্বিপাক্ষিক সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি), উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি), কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার), রেজিস্ট্রার এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে আগামীকাল ১৯ মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। এ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যে বাড়ছে উৎসাহ, আলোচনা ও রাজনৈতিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কয়েকজন প্রার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রবাসী কমিউনিটিতে নতুন আশাবাদ তৈরি করেছে। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন থেকে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানানো হচ্ছে। কমিউনিটির নেতারা বলছেন, অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকে মূলধারার রাজনীতিতে আরও শক্তভাবে তুলে ধরতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এবারের নির্বাচনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন জর্জিয়ার সাবেক স্টেট সিনেটর নাবিলাহ পার্কেস। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে তিনি লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আটলান্টা জার্নাল-কনস্টিটিউশনের (এজেসি) এক জরিপে তাকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এগিয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার জনপ্রিয়তা বিশেষ করে তরুণ ভোটার ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে বাড়ছে। নাবিলাহ পার্কেস জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী এবং প্রথম দক্ষিণ এশীয় নারী হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েছিলেন। ফলে তার বর্তমান প্রার্থিতা শুধু রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এছাড়া জর্জিয়া স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট-৫ আসনে শেখ রহমানের প্রার্থিতাও বাংলাদেশি-আমেরিকানদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত শেখ রহমানকে অনেকেই কমিউনিটির শক্তিশালী কণ্ঠ হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, জর্জিয়া স্টেট হাউস ডিস্ট্রিক্ট-৯৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী তানজিনা। স্থানীয় কমিউনিটির বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততার কারণে তিনি ইতোমধ্যেই পরিচিত মুখে পরিণত হয়েছেন। তার সমর্থকদের মতে, শিক্ষা, কমিউনিটি উন্নয়ন ও অভিবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে তিনি সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। নির্বাচন সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে ব্যাপক প্রচারণা। বিভিন্ন পোস্টে ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, “ভোট শুধু অধিকার নয়, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব।” পাশাপাশি সংখ্যালঘু ও পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে। বাংলাদেশী কমিউনিটি একটিভিস্টদের মতে, জর্জিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের অংশগ্রহণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনৈতিক উপস্থিতিকে আরও দৃশ্যমান করে তুলছে। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানদের রাজনীতি ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছে ব্রাজিল। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্বে ঘোষিত এই দলে সবচেয়ে বড় খবর হিসেবে ফিরেছেন তারকা ফরোয়ার্ড নেইমার জুনিয়র। রিও ডি জেনিরোর মিউজিয়াম অব টুমরোতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে দীর্ঘ আড়াই বছর পর জাতীয় দলে ফেরানো হয় নেইমারকে। চোট, অস্ত্রোপচার ও ফিটনেস নিয়ে অনিশ্চয়তার পর তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনা চলছে। নেইমারের ফেরায় সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি হলেও রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা রদ্রিগোর বাদ পড়া বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফলে ঘোষিত দলে কিছু জায়গায় পরিবর্তন নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল দল ব্রাজিল এবার অভিজ্ঞতা ও তরুণ প্রতিভার সমন্বয়ে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবে। কাসেমিরো, মারকিনিওস ও থিয়াগো সিলভার মতো অভিজ্ঞদের সঙ্গে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, এন্দ্রিক ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো তরুণদের নিয়েই সাজানো হয়েছে দল। ব্রাজিল খেলবে সি গ্রুপে। আগামী ১৩ জুন নিউইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মরক্কোর বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ১৯ জুন হাইতি
দেশের ছয়টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে আরও ১০ কোটি মার্কিন ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ সোমবার (১৮ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান ডলার কেনার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাজারে এখন চাহিদার তুলনায় ডলারের সরবরাহ বেশি থাকায় রপ্তানিকারক ও প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষায় এবং বাজারমূল্য ধরে রাখতে গত জুলাই থেকে ডলার কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত বাজার থেকে মোট ৫৯৮ কোটি ৩৫ লাখ ডলার কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে চলতি মে মাসেই কেনা হয়েছে ৩১ কোটি মার্কিন ডলার। এবারের ডলারগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ (এফএক্স) নিলাম কমিটির মাধ্যমে মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে কেনা হয়েছে, যেখানে প্রতি মার্কিন ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। এর আগে দেশের রিজার্ভ ও ডলার বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় মার্কিন ডলার কিনেছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে গত বছরের ১৩ জুলাই ১৮টি ব্যাংক থেকে ১৭ কোটি ১০ লাখ ডলার এবং ১৫ জুলাই ৩১ কোটি ৩০ লাখ ডলার ও ২৩ জুলাই এক কোটি মার্কিন ডলার কেনা হয়েছিল। পরবর্তীতে গত বছরের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ধারাবাহিক অর্থায়নে গত ৭ আগস্ট চার কোটি ৫০ লাখ ডলার, ১০ আগস্ট আট কোটি ৩০ লাখ ডলার, ১৪ আগস্ট ১৭ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং ২৮ আগস্ট ১৪ কোটি ৯৫ লাখ ডলার কেনা হয়। এরপর সেপ্টেম্বরের বিভিন্ন দফায় যথাক্রমে চার কোটি ৭৫ লাখ, ১৩ কোটি ৪০ লাখ, ২৬ কোটি ৫০ লাখ, ৩৫ কোটি ৩০ লাখ এবং ১২ কোটি ৯০ লাখ ডলার কেনা হয়েছিল। এছাড়াও অক্টোবরের তিন দফায় যথাক্রমে ১০ কোটি ৪০ লাখ, ১০ কোটি ৭০ লাখ এবং তিন কোটি ৮০ লাখ ডলার কিনেছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিমসটেক ও ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে উচ্চশিক্ষায় অংশীদারিত্ব জোরদারে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করার জন্য মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন। সোমবার (১৮ মে) ইউজিসিতে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেটওয়ার্কিং বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক যৌথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। ইউজিসি সদস্য ও চেয়ারম্যান (রুটিন দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান, মালয়েশিয়ার হায়ার এডুকেশন লিডারশিপ একাডেমির পরিচালক ড. হারশিতা আইনি হারুন, ইউজিসি সচিব ড. ফখরুল ইসলামসহ দুই দেশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর আনোয়ার হোসেন বলেন, যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, উচ্চশিক্ষা–সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দেশ একসাথে কাজ করতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিশ্ব র্যাংকিং, শিক্ষার্থীদের চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। সভাপতির বক্তব্যে প্রফেসর সাইদুর রহমান বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা স্মরণ করে বলেন, শিক্ষা এখন দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ। এই নেটওয়ার্কিং ইভেন্টটি দুই দেশের উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থবহ অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। এই আয়োজনে বাংলাদেশের প্রায় ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন, যা উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ ও আন্তর্জাতিকীকরণের প্রতি যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান জানান, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসম্পন্ন শিক্ষা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয় এবং নিরাপদ পরিবেশের কারণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১১ হাজার ৪০১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন, যা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সংখ্যার বিচারে তৃতীয়। এদের অধিকাংশেরই পছন্দ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস (ইএমজিএস)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নভি তাজউদ্দীন সভায় একটি ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরে বলেন, গত বছরের তুলনায় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গুণগত শিক্ষা ও আধুনিক একাডেমিক পরিবেশের কারণেই মূলত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের এই আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। উক্ত দ্বিপাক্ষিক সভায় দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি), উপ-উপাচার্য (প্রো-ভিসি), কোষাধ্যক্ষ (ট্রেজারার), রেজিস্ট্রার এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নিউজিল্যান্ড। রোববার (১৭ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন এই আশ্বাসের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে সফল করতে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত অপরিহার্য। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির বড় অংশ তৈরি পোশাক খাতনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের নানা উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের এদেশের সম্ভাবনাময় খাতসমূহে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বৈঠকে জানান, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ উভয় দেশের জন্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধায় যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে নিউজিল্যান্ড বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বস্ত ও উচ্চমানসম্পন্ন হিসেবে সুপরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কাঠামো প্রতিষ্ঠায় নিউজিল্যান্ড গভীরভাবে আগ্রহী। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে বিদ্যমান আঞ্চলিক কাঠামোর কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নিয়মিত ডিম খাওয়ার অভ্যাস স্মৃতিভ্রম বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স্কদের মধ্যে নিয়মিত ডিম খাওয়ার সঙ্গে আলঝেইমার্স রোগের ঝুঁকি কমার সম্ভাব্য সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডা ইউনিভার্সিটির গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, যারা সপ্তাহে পাঁচ বা তার বেশি দিন ডিম খান, তাদের আলঝেইমার্সে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। সপ্তাহে দুই থেকে চার দিন ডিম খেলে ঝুঁকি কমে প্রায় ২০ শতাংশ এবং অনিয়মিতভাবে ডিম খেলেও কিছুটা ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ওপর ১৫ বছর ধরে পরিচালিত গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২ হাজার ৮৫৮ জনের শরীরে আলঝেইমার্স শনাক্ত হয়। গবেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যারা খাদ্যতালিকা থেকে ডিম বাদ দিয়েছিলেন, তাদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিমে থাকা কোলিন, ভিটামিন বি-১২, ভিটামিন ডি, সেলেনিয়াম, আয়োডিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এসব উপাদান জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে সহায়ক বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গবেষকেরা জানিয়েছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। তাই শুধু ডিম খেলেই আলঝেইমার্স পুরোপুরি প্রতিরোধ করা সম্ভব—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না। বরং ডিম খাওয়ার সঙ্গে রোগের ঝুঁকি কমার একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে ডিম খাওয়া নিরাপদ ও উপকারী। তারা বলছেন, ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কী ধরনের খাবার খাওয়া হচ্ছে, সেটিও স্বাস্থ্য উপকারিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
চীনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য। সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী আবাসন সংস্কৃতি। তবে ধীরগতির অর্থনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট সেই স্বপ্নকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, সেখানে গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। ম্যাককোয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের অর্থনীতিবিদেরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানান, নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ গত বছর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং এই নিম্নমুখী প্রবণতা দ্রুত থামার কোনো ইঙ্গিত নেই। বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। তিনি বলেন, ভাড়া বাসায় থাকলে অনেক সময় অস্থায়ী জীবনের অনুভূতি তৈরি হয় এবং নিজের ইচ্ছামতো ঘর সাজানোর স্বাধীনতা থাকে না। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভাড়াতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তার ভাষায়, “হিসাব করলে ভাড়া থাকাই বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তবে মনের ভেতরে নিজের একটি বাড়ির ইচ্ছা এখনো আছে।” চীনে বাড়ির মালিক হওয়া কেবল সম্পত্তির মালিকানা নয়, এটি পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক ফং বলেন, কনফুসীয় পারিবারিক মূল্যবোধ চীনা সমাজে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং পরিবারকে কেন্দ্র করেই জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার ধীরে ধীরে কর্মস্থলনির্ভর আবাসন ব্যবস্থা কমিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাকে উৎসাহিত করতে শুরু করে। ১৯৯০-এর দশকে ভর্তুকিনির্ভর নীতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়। ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক হুয়াং ইউচিন বলেন, অনেক মানুষ খুব কম দামে হঠাৎ করেই বাড়ির মালিক হয়ে যান। এতে বিপুলসংখ্যক ভাড়াটিয়া একসময় বাড়ির মালিক শ্রেণিতে পরিণত হন। চীনা সমাজে সঞ্চয়ের প্রবণতাও এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে। দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির দাম আবাসন খাতকে জনপ্রিয় বিনিয়োগে পরিণত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক গ্রামীণ অভিবাসী শহরে বাড়ি কিনে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন। আবার সন্তানদের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও বাবা-মায়েরা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ আবাসন মালিকানার হার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষার ঋণ ও বাড়ির বাড়তি মূল্য অনেক তরুণকে দীর্ঘ সময় ভাড়ায় থাকতে বাধ্য করছে। তবে চীনের আবাসন খাতের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বড় ঝুঁকিও। প্রবৃদ্ধির সময় অনেক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিপুল ঋণ নেয়। অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় ফাঁকা আবাসিক অঞ্চল ও অবিক্রীত প্রকল্প। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২০ সালে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আবাসন খাত, যা একসময় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৩০ শতাংশ জুড়ে ছিল, তা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়। এই পদক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কমলেও সম্পত্তির দাম দ্রুত পড়ে যায়। অনেক ক্রেতা অসম্পূর্ণ বা বিলম্বিত ফ্ল্যাটের মুখোমুখি হন। ঋণসংকটে পড়ে বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ধসে পড়ে। চীনের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রান্ডকে ২০২৪ সালে হংকংয়ের একটি আদালত বিলুপ্তির নির্দেশ দেয়। কান্ট্রি গার্ডেন ও ভ্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও আর্থিক চাপে পড়ে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতের আশঙ্কা। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা এখন আরও সতর্ক। কাই ইয়োচেং বলেন, তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কিনতে চান, তবে আগামী কয়েক বছরে সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন খাত এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মার্চ মাসেও দেশজুড়ে নতুন বাড়ির দাম কমেছে, যদিও কয়েকটি বড় শহরে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের কর্মকর্তা ঝ্যাং শিয়াওদুয়ান বলেন, সরকারের ইতিবাচক বার্তা থাকলেও বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতার বড় ধরনের পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে না। গত বছর চীন ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সেই প্রবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কুনমিং শহরের ৩০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী ম্যান্ডি ফেং বলেন, বাড়ির দাম কমলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করছে। তার ভাষায়, “মানুষ বাড়ি কিনতে চায় না, এমন নয়। কিন্তু আয় অনিশ্চিত এবং উপার্জন কম থাকলে কেউ ঋণ নিতে সাহস পায় না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আবাসন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। বেইজিংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ঝো ঝ্যাং বলেন, তিনি সম্ভবত নিজের সন্তানদের জন্য বাড়ি কিনবেন না, যদিও নিজের ফ্ল্যাট কিনতে বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছিলেন। তার মতে, চীনের আবাসন বাজার ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশের মতো হয়ে উঠছে, যেখানে ভবিষ্যতে ভাড়া বাসায় থাকার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।