সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
আটক অভিবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ছবি: সংগৃহীত
আইসিই ডিটেনশন সেন্টারে শিশুদের খাবার কিনতে সপ্তাহে ১০ হাজার ডলার দিচ্ছেন এক মা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ডিলেতে আইসিইর সাউথ টেক্সাস ফ্যামিলি রেসিডেনশিয়াল সেন্টারে আটক অভিবাসী পরিবারগুলোর শিশুদের খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার ডলারের বেশি সহায়তা দিচ্ছেন ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ক্যাসি রেভকিন। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি গত বছর কেন্দ্রটি আবার চালু করার পর সেখানে আটক বাবা-মায়েরা খাবারে তেলাপোকা পাওয়ার এবং ট্যাপের পানি পান করে শিশুদের বমি করার অভিযোগ জানিয়েছিলেন। বিষয়টি জানার পরই পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন রেভকিন।  রেভকিন ‘ইচ স্টেপ হোম’ নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ডিলেতে আটক পরিবারগুলোর কমিসারি অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা দিচ্ছেন। ওই অর্থ দিয়ে অভিভাবকেরা বোতলজাত পানি, নুডলসসহ শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার এবং অন্যান্য সামগ্রী কিনতে পারছেন। গত সাত মাসে এভাবে তিনি শত শত পরিবারকে সহায়তা করেছেন বলে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।    ভেনেজুয়েলার এক আটক মা এডগারিয়ান্নি কোর্তেস গেরভিস ও তাঁর মেয়েও এই সহায়তা পেয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডিটেনশন সেন্টারে থাকা অবস্থায় কোর্তেস গেরভিসের ওজন কমছিল এবং তিনি ক্যাফেটেরিয়ার দেওয়া ভাত ও মাংসের মিশ্র খাবার খেতে পারছিলেন না। তাঁর মেয়েও খুব কম খাচ্ছিল এবং ডায়রিয়ায় ভুগছিল। পরে রেভকিনের সহায়তায় তারা কমিসারি থেকে নিজেদের পছন্দের খাবার ও বোতলজাত পানি কিনতে পারেন।    রেভকিন জানান, ডিলের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানার পর তিনি মনে করেছিলেন, কিছু একটা করা দরকার। তাঁর ভাষায়, শিশুদের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে জীবন কিছুটা সহজ করতে পারছেন, এটিই তাঁকে স্বস্তি দেয়।   ডিলেতে খাবার ও পানির মান নিয়ে অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক পরিবারগুলোর কাছ থেকে খাবার, পরিষ্কার পানির অভাব এবং চিকিৎসাসেবা নিয়ে অভিযোগের কথা উঠে এসেছে। মার্চে এবিসি নিউজ জানায়, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ডিলের কেন্দ্র থেকে একাধিক জরুরি ৯১১ কল করা হয়েছিল। এসব কলে খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থার কথা উঠে আসে।    অন্যদিকে, আইসিই এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেছে, ডিলেতে আটক ব্যক্তিদের চিকিৎসা, শিক্ষা, বিনোদন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সেবা দেওয়া হয়। কেন্দ্রটি বেসরকারি ঠিকাদার কোরসিভিক পরিচালনা করে। কোরসিভিকের দাবি, ডিলের পানির সরবরাহ শহরের অন্যান্য বাসিন্দাদের মতোই পরিষ্কার পানির ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে।    তবে অভিযোগের মধ্যেই রেভকিনের মতো বেসরকারি উদ্যোগগুলো আটক পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তায় পরিণত হয়েছে। তাঁর প্রতিষ্ঠান শুধু খাবার নয়, শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য সামগ্রী কেনার জন্যও অর্থ দিচ্ছে। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জন্মদিনের জন্য ক্যান্ডি থেকে শুরু করে ধুলোময় পরিবেশে থাকা শিশুদের নাকের স্প্রে পর্যন্ত বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে এই অর্থ ব্যবহার করা হচ্ছে।

১২ মিনিট Ago
স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তৈরি হয়েছে বড় আইনি বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেলেন এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সময়মতো সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থাকে। ওরেগনের কর্মী জোসে রদ্রিগেজের করা একাধিক সরকারি নথির অনুরোধের জেরে এসব সংস্থাকে মিলিয়ে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়েছে।   ফ্লক সেফটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা বা এএলপিআর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে। এসব ক্যামেরা সড়কে চলাচলকারী গাড়ির নম্বরপ্লেটের ছবি ধারণ করার পাশাপাশি গাড়ির অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন শহর ও স্থানীয় সরকারি সংস্থার কাছে মোট ৫৩টি সরকারি নথির অনুরোধ করেন। অনুরোধগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমিত পরিসরের ছিল। নির্দিষ্ট ক্যামেরা থেকে নির্দিষ্ট দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের ছবি ও তথ্য চেয়েছিলেন তিনি।   রদ্রিগেজের উদ্দেশ্য ছিল এসব ক্যামেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। তিনি চেয়েছিলেন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপ্তি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে।   কিন্তু সব সরকারি সংস্থা সময়মতো এসব তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এর একটি বড় কারণ ছিল তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। ক্যামেরাগুলো স্থানীয় সরকারি সংস্থার নিজস্ব কম্পিউটার ব্যবস্থায় তথ্য সংরক্ষণ করত না। বরং ফ্লক সেফটির ক্লাউড সার্ভারে এসব ছবি ও তথ্য রাখা হতো।   আরও বড় সমস্যা ছিল, ফ্লকের ব্যবস্থায় তথ্য ৩০ দিনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ফলে কোনো সরকারি সংস্থা অনুরোধ পাওয়ার পর দ্রুত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ না করলে ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি স্থায়ীভাবে মুছে যেতে পারত।   রদ্রিগেজের অনুরোধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলো চাওয়া তথ্য দিতে পারেনি। কয়েকটি সংস্থা জানিয়েছিল, তথ্য তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় নেই এবং ফ্লক সেফটির সার্ভারে রয়েছে। কিন্তু আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তে এই যুক্তি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি।   ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্ক্যাগিট কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক এলিজাবেথ নিডজউস্কি রায় দেন, স্থানীয় সরকারি সংস্থার ব্যবহৃত ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সরকারি নথি হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো সরকারি সংস্থা তথ্যগুলো নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করে রাখেনি, শুধু তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে সংরক্ষণ করেছে, এমন কারণ দেখিয়েও সরকারি নথি আইনের দায়িত্ব এড়ানো যাবে না বলে আদালতের সিদ্ধান্তে উঠে আসে।   এর ফলে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। রদ্রিগেজ যখন কোনো ছবি চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন, তখন সেই ছবি সরকারি নথি হিসেবে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর ছিল। কিন্তু ৩০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মুছে ফেলার নিয়মের কারণে অনুরোধের জবাব দেওয়ার আগেই অনেক ছবি আর পাওয়া যায়নি।   এরপর রদ্রিগেজ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন। কয়েকটি সরকারি সংস্থাও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলাগুলোর এক পর্যায়ে একাধিক স্থানীয় সরকার আদালতের বাইরে সমঝোতার পথ বেছে নেয়।   এ পর্যন্ত ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা রদ্রিগেজের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। প্রতিটি মামলায় অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে। এর মধ্যে সেড্রো-উলি ও স্ট্যানউড শহরকে মিলিয়ে ৮০ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এভারেট শহরও ২৫ হাজার ডলারের সমঝোতায় যায়।   তবে অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলো আর ফেরত পাওয়া যায়নি। কারণ ফ্লক সেফটির নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যেসব ছবি মুছে গেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেও আর ছিল না। ফলে মামলাগুলোর সমঝোতা মূলত সরকারি নথি সংরক্ষণে ব্যর্থতার দায় মেটানোর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।   রদ্রিগেজের আইনজীবী টিম হলের ভাষ্য, সরকারি সংস্থাগুলো শুরুতেই সঠিকভাবে অনুরোধগুলো প্রক্রিয়া করলে এসব মামলার প্রয়োজন হতো না। তার মতে, পুরো ঘটনায় করদাতাদের অর্থ আইনি লড়াইয়ে ব্যয় হয়েছে।   তবে বিষয়টি শুধু অর্থদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজের করা ৫৩টি অনুরোধের মধ্যে অন্তত ১৩টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা পরে তাদের ফ্লক ক্যামেরার চুক্তি বাতিল করেছে অথবা ক্যামেরাগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। আরও কয়েকটি সংস্থা সাময়িকভাবে ক্যামেরা বন্ধ রাখার পর আবার চালু করেছে।   ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য শুধু সরকারি নথি আইনেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব ক্যামেরা দিয়ে মানুষের গাড়ির চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ব্যাপক নজরদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। রদ্রিগেজও এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় মানুষ সম্পর্কে সরকারি সংস্থাগুলো কতটা তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের জানা উচিত।   এর মধ্যে ওয়াশিংটনে আইনও পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে গভর্নর বব ফার্গুসন এমন একটি আইন স্বাক্ষর করেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হয়। অর্থাৎ রদ্রিগেজের মামলাগুলো যে আইনি কাঠামোর মধ্যে শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই কাঠামোই বদলে গেছে।   তবে তার আগের অনুরোধ ও মামলাগুলোর ক্ষেত্রে পুরোনো আইন এবং আদালতের রায়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই আইনি ব্যাখ্যার ফলেই ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সংরক্ষণে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নতুন নজির তৈরি হয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। কোনো তথ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষিত থাকলেও সেটি যদি সরকারি উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থে সংগ্রহ করা হয়, তাহলে সেই তথ্যের ওপর সরকারের নথি সংরক্ষণ ও জবাবদিহির দায়িত্ব কতটা থাকবে, ওয়াশিংটনের এই ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

২৫ মিনিট Ago
অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় মহাসড়কে হঠাৎ থেমে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
অটোপাইলট মোডে আচমকা মহাসড়কে থেমে গেল টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত চালক

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।   গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়।   সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট।   তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে।   ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।

৪৯ মিনিট Ago
শান্তির দাবিতে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি ও ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ। ছবি: সংগৃহীত
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা

ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি পরিচয়ের পার্থক্য তাদের আলাদা করে রাখলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়েছেন দুই দেশের দুই মা। তাদের বার্তা, সন্তানদের যুদ্ধ, সহিংসতা কিংবা কারাগারের ভয় নিয়ে বড় হতে হবে না। তাদেরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে।   ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ এবং ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের নারীদের নিয়ে শান্তির পক্ষে কাজ করছেন। তারা যথাক্রমে ‘উইমেন অব দ্য সান’ এবং ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ ‘মাদার্স কল’-এর মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীদের একসঙ্গে এনে সহিংসতার অবসান ও শান্তি আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।   সম্প্রতি জেরুজালেমে ইসরায়েলি মায়েদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি নারীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা শান্তির দাবি তোলেন। তাদের অবস্থান ছিল, রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের মায়েদের উদ্বেগ একই।   রিম ও ইয়ায়েলের এই যৌথ অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারী জেরুজালেম ও মৃত সাগর এলাকায় শান্তির দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন। ওই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ ও ‘উইমেন অব দ্য সান’। তাদের লক্ষ্য ছিল রক্তপাতের চক্র বন্ধ করে দুই পক্ষের নেতৃত্বকে শান্তি আলোচনায় ফেরানো।   কিন্তু ওই সমাবেশের মাত্র তিন দিন পর, ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং এরপর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সংঘাতের মধ্যে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেও রিম ও ইয়ায়েল তাদের শান্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রিম আল-হাজাজরেহ ফিলিস্তিনি নারীদের সংগঠন ‘উইমেন অব দ্য সান’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ইয়ায়েল আদমি ‘উইমেন ওয়েজ পিস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। দুই সংগঠন ২০২২ সালে ‘মাদার্স কল’ নামে একটি যৌথ শান্তির আহ্বানও প্রকাশ করেছিল। সেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীরা তাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, স্বাধীনতা, সমতা, অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানান।   ২০২৬ সালেও তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চে রিম ও ইয়ায়েলের নেতৃত্বে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মায়েরা ইতালির রোমে খালি পায়ে শান্তির পদযাত্রায় অংশ নেন। ‘মাদার্স কল’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে তারা সহিংসতার অবসান এবং শান্তি আলোচনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের দাবি জানান।   রিম ও ইয়ায়েলের কাছে শান্তির প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয়। তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাদের মতে, কোনো মা চান না তার সন্তান যুদ্ধে মারা যাক, আহত হোক কিংবা সংঘাতের কারণে কারাগারে যাক। এই অভিন্ন মানবিক আকাঙ্ক্ষাই দুই সমাজের নারীদের একত্রিত করার শক্তি হয়ে উঠেছে।   তাদের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ সালে রিম আল-হাজাজরেহ ও ইয়ায়েল আদমিকে টাইম ম্যাগাজিনের ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই বছর তাদের দুই সংগঠন শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়।   সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং চলমান সহিংসতার মধ্যে দুই দেশের নারীদের এমন যৌথ অবস্থান হয়তো রাতারাতি কোনো রাজনৈতিক সমাধান এনে দেবে না। কিন্তু রিম ও ইয়ায়েলের মতো শান্তিকর্মীরা মনে করেন, বিভাজনের রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের কিছু মৌলিক চাওয়া একই। নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সন্তানদের জন্য একটি শান্ত ভবিষ্যৎ সেই চাওয়ারই অংশ।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত বিচারকের রায়ে আবারও আটকাল ট্রাম্পের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ আদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সর্বশেষ নির্বাহী আদেশ কার্যকর করার ওপর সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মেরিল্যান্ডের ফেডারেল বিচারক ডেবোরাহ এল. বোর্ডম্যান।   বুধবারের এই রায়ে বিচারক বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন উদ্যোগটি সংশ্লিষ্ট শিশুদের ক্ষেত্রে প্রায় নিশ্চিতভাবেই অসাংবিধানিক এবং এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছে।   বিচারক বোর্ডম্যান সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নিয়োগপ্রাপ্ত ফেডারেল বিচারক। তিনি এর আগে ট্রাম্পের ২০২৫ সালের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নির্বাহী আদেশ কার্যকরেও বাধা দিয়েছিলেন।   এবার ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন সংশোধিত আদেশের বিরুদ্ধেও তিনি প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বা প্রিলিমিনারী ইনজাংশন জারি করলেন।   গত ৬ আগস্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এর মাধ্যমে আগের আদেশের তুলনায় নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।   আদেশে বিশেষ করে বিদেশি সরকারের কর্মী, নির্দিষ্ট বিদেশি শত্রু হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের সন্তান এবং তথাকথিত বার্থ ট্যুরিজম বা সন্তান জন্ম দেওয়ার উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু পরিস্থিতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নতুন আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে এবং আদালতের সিদ্ধান্তে যেসব সীমিত ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর আওতায় কিছু শিশুকে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ থেকে বাদ দেওয়া যেতে পারে।   তবে বিচারক বোর্ডম্যান সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তাঁর মতে, যে শ্রেণির শিশুদের নিয়ে মামলাটি হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে নাগরিকত্বের অধিকার নিশ্চিত করেছে। ফলে নতুন কোনো নির্বাহী আদেশ দিয়ে সেই সাংবিধানিক অধিকার বাতিল করা যাবে না।   এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিচারকের এই রায় ট্রাম্পের নতুন নির্বাহী আদেশকে স্থায়ীভাবে বাতিল করেনি। বরং মামলাটি চলমান থাকা অবস্থায় নির্দিষ্ট শ্রেণির শিশুদের ওপর আদেশটি কার্যকর করা বন্ধ রাখা হয়েছে।   ফলে ভবিষ্যতে মামলার পরবর্তী ধাপ এবং উচ্চ আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর বিষয়টির চূড়ান্ত পরিণতি নির্ভর করবে।   গত ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের বার্থরাইট সিটিজেনশিপ উদ্যোগ নিয়ে রায়ে জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে যাদের বাবা-মা অবৈধভাবে বা সাময়িকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তারাও সাধারণভাবে সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর অধীনে জন্মের সময় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে।   সেই রায়ের পরই ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে অপেক্ষাকৃত সীমিত পরিসরে বার্থরাইট সিটিজেনশিপের নিয়ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়।   বুধবারের রায়ে বিচারক বোর্ডম্যান বলেন, নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এমন শিশুদের নাগরিকত্ব অস্বীকার করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যাদের নাগরিকত্বের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে অবস্থান স্পষ্ট করেছে।   তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মামলার আওতাভুক্ত শিশুদের নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দিতে বা নাগরিকত্বের নথি আটকে দিতে সরকারি সংস্থাগুলো ট্রাম্পের নতুন আদেশ ব্যবহার করতে পারবে না।   ট্রাম্প প্রশাসন অবশ্য আদালতের এই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নির্বাহী আদেশটি সুপ্রিম কোর্টের রায় বিবেচনা করেই তৈরি করা হয়েছে এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া হবে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বার্থরাইট সিটিজেনশিপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতের আইনি দ্বন্দ্ব আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১৮:৩০
নিউইয়র্কের চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি কাউন্সিলম্যান হলেন পারভেজ রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের বাফেলো সংলগ্ন চিকটোওয়াগা টাউন কাউন্সিলে প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মেম্বার বা কাউন্সিলম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পারভেজ রহমান। গত ২৫ আগস্ট অনুষ্ঠিত দলীয় ভোটে ৪-২ ব্যবধানে তার এই নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। সাবেক ডেমোক্র্যাট কাউন্সিল মেম্বার স্টিফেন নোইকির পদত্যাগের কারণে শূন্য হওয়া এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।   এই নিয়োগের মাধ্যমে নিউইয়র্কের স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বের এক নতুন মাইলফলক রচিত হলো।   পারভেজ রহমানের শেকড় বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ি উপজেলার ধীপুর ইউনিয়নের পলাশপুর গ্রামে। তিনি ওই এলাকার আতাউর রহমানের সন্তান।   পরিবারের দেওয়া তথ্যমতে, মূলধারার রাজনীতির পাশাপাশি পেশাগত জীবনে তিনি প্রিন্সিপাল ফিন্যান্স বিজনেস পার্টনার হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।   নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার পর পারভেজ রহমান চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত এই পদে অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।   এরপর আগামী নভেম্বরে আসনটিতে স্থায়ী প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিক ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে তার এই অনন্য অর্জনে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ব্যাপক আনন্দ ও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

মর্টগেজ রেট এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা আরও ব্যয়বহুল হচ্ছে

যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ বা গৃহঋণের সুদের হার এক বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মদদপুষ্ট মর্টগেজ প্রতিষ্ঠান ফ্রেডি ম্যাকের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। মূলত ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মূল্যস্ফীতির কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   ফ্রেডি ম্যাকের প্রাইমারি মর্টগেজ মার্কেট সার্ভের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৩০ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হার বেড়ে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত সপ্তাহে ছিল ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। ২০২৫ সালের ৩১ জুলাইয়ের পর এটিই সর্বোচ্চ গড় হার। ওই সময় ৩০ বছর মেয়াদি মর্টগেজের হার ছিল ৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। এক বছর আগে এই গড় হার ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।   অন্যদিকে, ১৫ বছর মেয়াদি ফিক্সড মর্টগেজের গড় হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত সপ্তাহের ৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ থেকে বেড়ে এই হার ৬ দশমিক ০৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সুদের হার বাড়লেও আবাসন বাজারের ক্রেতাদের আগ্রহে খুব একটা ভাটা পড়েনি। ফ্রেডি ম্যাকের প্রধান অর্থনীতিবিদ স্যাম খাটের বলেন, বাড়ি কেনার চাহিদা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। এটি পরিবর্তনশীল বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ক্রেতাদের অব্যাহত আগ্রহের একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।   মর্টগেজ রেট মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের নীতি এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যদিও মর্টগেজ রেট সরাসরি ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে এটি সাধারণত ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি ইয়েল্ড বা সরকারি বন্ডের আয়ের ওপর নির্ভর করে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এই ট্রেজারি ইয়েল্ডের হার ছিল প্রায় ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ।   চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই সুদের হার ক্রমশ বাড়ছে। রিয়েলটর ডটকমের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ জিয়াই শু বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত তেলের দামের ওপর ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে এবং তা ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে।   তিনি আরও জানান, যখন মনে হচ্ছিল সংঘাতের সমাধান হতে চলেছে, তখন বন্ড ইয়েল্ড কমেছিল এবং মর্টগেজ রেটও নিম্নমুখী হয়েছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার কারণে তেলের দাম আবার বেড়েছে, যা মূল্যস্ফীতির শঙ্কাকে উসকে দিয়েছে এবং ইয়েল্ড ও মর্টগেজ রেট আবারও বাড়িয়ে দিয়েছে।   সূত্র: ফক্স বিজনেস

শান্তির দাবিতে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি ও ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ। ছবি: সংগৃহীত
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা

ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি পরিচয়ের পার্থক্য তাদের আলাদা করে রাখলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়েছেন দুই দেশের দুই মা। তাদের বার্তা, সন্তানদের যুদ্ধ, সহিংসতা কিংবা কারাগারের ভয় নিয়ে বড় হতে হবে না। তাদেরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে।   ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ এবং ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের নারীদের নিয়ে শান্তির পক্ষে কাজ করছেন। তারা যথাক্রমে ‘উইমেন অব দ্য সান’ এবং ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ ‘মাদার্স কল’-এর মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীদের একসঙ্গে এনে সহিংসতার অবসান ও শান্তি আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।   সম্প্রতি জেরুজালেমে ইসরায়েলি মায়েদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি নারীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা শান্তির দাবি তোলেন। তাদের অবস্থান ছিল, রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের মায়েদের উদ্বেগ একই।   রিম ও ইয়ায়েলের এই যৌথ অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারী জেরুজালেম ও মৃত সাগর এলাকায় শান্তির দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন। ওই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ ও ‘উইমেন অব দ্য সান’। তাদের লক্ষ্য ছিল রক্তপাতের চক্র বন্ধ করে দুই পক্ষের নেতৃত্বকে শান্তি আলোচনায় ফেরানো।   কিন্তু ওই সমাবেশের মাত্র তিন দিন পর, ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং এরপর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সংঘাতের মধ্যে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেও রিম ও ইয়ায়েল তাদের শান্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রিম আল-হাজাজরেহ ফিলিস্তিনি নারীদের সংগঠন ‘উইমেন অব দ্য সান’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ইয়ায়েল আদমি ‘উইমেন ওয়েজ পিস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। দুই সংগঠন ২০২২ সালে ‘মাদার্স কল’ নামে একটি যৌথ শান্তির আহ্বানও প্রকাশ করেছিল। সেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীরা তাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, স্বাধীনতা, সমতা, অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানান।   ২০২৬ সালেও তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চে রিম ও ইয়ায়েলের নেতৃত্বে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মায়েরা ইতালির রোমে খালি পায়ে শান্তির পদযাত্রায় অংশ নেন। ‘মাদার্স কল’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে তারা সহিংসতার অবসান এবং শান্তি আলোচনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের দাবি জানান।   রিম ও ইয়ায়েলের কাছে শান্তির প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয়। তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাদের মতে, কোনো মা চান না তার সন্তান যুদ্ধে মারা যাক, আহত হোক কিংবা সংঘাতের কারণে কারাগারে যাক। এই অভিন্ন মানবিক আকাঙ্ক্ষাই দুই সমাজের নারীদের একত্রিত করার শক্তি হয়ে উঠেছে।   তাদের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ সালে রিম আল-হাজাজরেহ ও ইয়ায়েল আদমিকে টাইম ম্যাগাজিনের ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই বছর তাদের দুই সংগঠন শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়।   সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং চলমান সহিংসতার মধ্যে দুই দেশের নারীদের এমন যৌথ অবস্থান হয়তো রাতারাতি কোনো রাজনৈতিক সমাধান এনে দেবে না। কিন্তু রিম ও ইয়ায়েলের মতো শান্তিকর্মীরা মনে করেন, বিভাজনের রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের কিছু মৌলিক চাওয়া একই। নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সন্তানদের জন্য একটি শান্ত ভবিষ্যৎ সেই চাওয়ারই অংশ।

স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে তৈরি হয়েছে বড় আইনি বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে শহর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেলেন এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সময়মতো সংরক্ষণ ও সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়ে বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়েছে ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থাকে। ওরেগনের কর্মী জোসে রদ্রিগেজের করা একাধিক সরকারি নথির অনুরোধের জেরে এসব সংস্থাকে মিলিয়ে ৩ লাখ ডলারের বেশি অর্থ দিয়ে মামলা নিষ্পত্তি করতে হয়েছে।   ফ্লক সেফটি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের তৈরি স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরা বা এএলপিআর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো ব্যবহার করে। এসব ক্যামেরা সড়কে চলাচলকারী গাড়ির নম্বরপ্লেটের ছবি ধারণ করার পাশাপাশি গাড়ির অবস্থান ও চলাচল সম্পর্কিত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ করতে পারে।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের বিভিন্ন শহর ও স্থানীয় সরকারি সংস্থার কাছে মোট ৫৩টি সরকারি নথির অনুরোধ করেন। অনুরোধগুলো ইচ্ছাকৃতভাবেই সীমিত পরিসরের ছিল। নির্দিষ্ট ক্যামেরা থেকে নির্দিষ্ট দিনে মাত্র ৩০ মিনিটের ছবি ও তথ্য চেয়েছিলেন তিনি।   রদ্রিগেজের উদ্দেশ্য ছিল এসব ক্যামেরা স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পর্কে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের সামনে তুলে ধরা। তিনি চেয়েছিলেন ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে স্থানীয় পর্যায়ে নজরদারি ব্যবস্থার ব্যাপ্তি সম্পর্কে মানুষকে জানাতে।   কিন্তু সব সরকারি সংস্থা সময়মতো এসব তথ্য সরবরাহ করতে পারেনি। এর একটি বড় কারণ ছিল তথ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি। ক্যামেরাগুলো স্থানীয় সরকারি সংস্থার নিজস্ব কম্পিউটার ব্যবস্থায় তথ্য সংরক্ষণ করত না। বরং ফ্লক সেফটির ক্লাউড সার্ভারে এসব ছবি ও তথ্য রাখা হতো।   আরও বড় সমস্যা ছিল, ফ্লকের ব্যবস্থায় তথ্য ৩০ দিনের পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাওয়ার নিয়ম ছিল। ফলে কোনো সরকারি সংস্থা অনুরোধ পাওয়ার পর দ্রুত তথ্য সংগ্রহ বা সংরক্ষণ না করলে ৩০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি স্থায়ীভাবে মুছে যেতে পারত।   রদ্রিগেজের অনুরোধের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ক্ষেত্রে সরকারি সংস্থাগুলো চাওয়া তথ্য দিতে পারেনি। কয়েকটি সংস্থা জানিয়েছিল, তথ্য তাদের নিজস্ব ব্যবস্থায় নেই এবং ফ্লক সেফটির সার্ভারে রয়েছে। কিন্তু আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তে এই যুক্তি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হয়নি।   ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্ক্যাগিট কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক এলিজাবেথ নিডজউস্কি রায় দেন, স্থানীয় সরকারি সংস্থার ব্যবহৃত ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি সরকারি নথি হিসেবে বিবেচিত হবে। কোনো সরকারি সংস্থা তথ্যগুলো নিজের কম্পিউটারে ডাউনলোড করে রাখেনি, শুধু তৃতীয় পক্ষের সার্ভারে সংরক্ষণ করেছে, এমন কারণ দেখিয়েও সরকারি নথি আইনের দায়িত্ব এড়ানো যাবে না বলে আদালতের সিদ্ধান্তে উঠে আসে।   এর ফলে নতুন জটিলতা তৈরি হয়। রদ্রিগেজ যখন কোনো ছবি চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন, তখন সেই ছবি সরকারি নথি হিসেবে সংরক্ষণ করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট সংস্থার ওপর ছিল। কিন্তু ৩০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মুছে ফেলার নিয়মের কারণে অনুরোধের জবাব দেওয়ার আগেই অনেক ছবি আর পাওয়া যায়নি।   এরপর রদ্রিগেজ বিভিন্ন সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা করেন। কয়েকটি সরকারি সংস্থাও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়। মামলাগুলোর এক পর্যায়ে একাধিক স্থানীয় সরকার আদালতের বাইরে সমঝোতার পথ বেছে নেয়।   এ পর্যন্ত ১৫টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা রদ্রিগেজের সঙ্গে সমঝোতায় গেছে। প্রতিটি মামলায় অর্থের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার ডলারের মধ্যে। এর মধ্যে সেড্রো-উলি ও স্ট্যানউড শহরকে মিলিয়ে ৮০ হাজার ডলার দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়। এভারেট শহরও ২৫ হাজার ডলারের সমঝোতায় যায়।   তবে অর্থ দেওয়ার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া তথ্যগুলো আর ফেরত পাওয়া যায়নি। কারণ ফ্লক সেফটির নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর যেসব ছবি মুছে গেছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছেও আর ছিল না। ফলে মামলাগুলোর সমঝোতা মূলত সরকারি নথি সংরক্ষণে ব্যর্থতার দায় মেটানোর বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।   রদ্রিগেজের আইনজীবী টিম হলের ভাষ্য, সরকারি সংস্থাগুলো শুরুতেই সঠিকভাবে অনুরোধগুলো প্রক্রিয়া করলে এসব মামলার প্রয়োজন হতো না। তার মতে, পুরো ঘটনায় করদাতাদের অর্থ আইনি লড়াইয়ে ব্যয় হয়েছে।   তবে বিষয়টি শুধু অর্থদণ্ডের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এ ঘটনার পর ওয়াশিংটনের বিভিন্ন স্থানীয় সরকার ফ্লক ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টি নতুন করে পর্যালোচনা শুরু করে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রদ্রিগেজের করা ৫৩টি অনুরোধের মধ্যে অন্তত ১৩টি স্থানীয় সরকারি সংস্থা পরে তাদের ফ্লক ক্যামেরার চুক্তি বাতিল করেছে অথবা ক্যামেরাগুলো নিষ্ক্রিয় করেছে। আরও কয়েকটি সংস্থা সাময়িকভাবে ক্যামেরা বন্ধ রাখার পর আবার চালু করেছে।   ফ্লক ক্যামেরা নিয়ে বিতর্ক অবশ্য শুধু সরকারি নথি আইনেই সীমাবদ্ধ নয়। এসব ক্যামেরা দিয়ে মানুষের গাড়ির চলাচলের তথ্য সংগ্রহ করা হয় বলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও ব্যাপক নজরদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। রদ্রিগেজও এ কারণেই বিষয়টি নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালে তিনি জানিয়েছিলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচলের সময় মানুষ সম্পর্কে সরকারি সংস্থাগুলো কতটা তথ্য সংগ্রহ করছে, তা সাধারণ মানুষের জানা উচিত।   এর মধ্যে ওয়াশিংটনে আইনও পরিবর্তিত হয়েছে। ২০২৬ সালের মার্চে গভর্নর বব ফার্গুসন এমন একটি আইন স্বাক্ষর করেন, যেখানে স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকারী ক্যামেরায় ধারণ করা ছবি প্রকাশের ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ যুক্ত হয়। অর্থাৎ রদ্রিগেজের মামলাগুলো যে আইনি কাঠামোর মধ্যে শুরু হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই কাঠামোই বদলে গেছে।   তবে তার আগের অনুরোধ ও মামলাগুলোর ক্ষেত্রে পুরোনো আইন এবং আদালতের রায়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সেই আইনি ব্যাখ্যার ফলেই ফ্লক ক্যামেরায় ধারণ করা তথ্য সংরক্ষণে সরকারি সংস্থাগুলোর দায়িত্ব নিয়ে নতুন নজির তৈরি হয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহারের আরেকটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে। কোনো তথ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষিত থাকলেও সেটি যদি সরকারি উদ্দেশ্যে সরকারি অর্থে সংগ্রহ করা হয়, তাহলে সেই তথ্যের ওপর সরকারের নথি সংরক্ষণ ও জবাবদিহির দায়িত্ব কতটা থাকবে, ওয়াশিংটনের এই ঘটনাটি সেই বিতর্ককে আরও জোরালো করেছে।

অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় মহাসড়কে হঠাৎ থেমে যাওয়ায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত
অটোপাইলট মোডে আচমকা মহাসড়কে থেমে গেল টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় নিহত চালক

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের একটি ব্যস্ত মহাসড়কে অটোপাইলট মোডে চলা অবস্থায় হঠাৎ থেমে যায় একটি টেসলা গাড়ি। এরপর পেছন থেকে আসা একটি বিশাল আকৃতির ফোর্ড এফ ৩৫০ পিকআপ ট্রাকের সজোরে ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান টেসলার চালক। সম্প্রতি মার্কিন ট্রাফিক নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া নতুন নথিপত্র থেকে এই দুর্ঘটনার পেছনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে।   গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাত আনুমানিক তিনটার দিকে মেসা শহরের ইস্টবাউন্ড লুপ ২০২ মহাসড়কে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার শিকার গাড়িটি ছিল ২০২০ সালের মডেল ৩ টেসলা। গাড়িটি যখন মহাসড়ক দিয়ে দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই এটি হঠাৎ রাস্তার মাঝখানে পুরোপুরি থেমে যায়।   সে সময় স্থানীয় সংবাদমাধ্যম অ্যারিজোনাস ফ্যামিলি এবং টুয়েলভ নিউজ দুর্ঘটনার খবর প্রচার করলেও, সেখানে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কোনো উল্লেখ ছিল না। তবে সম্প্রতি ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বা এনএইচটিএসএ কাছে টেসলার জমা দেওয়া নথিপত্র থেকে চালকের মৃত্যুর জন্য দায়ী প্রযুক্তিগত ত্রুটির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।   প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলেকট্রিক এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্ঘটনার নথিতে নিশ্চিত করা হয়েছে যে মারাত্মক ওই সংঘর্ষের সময় টেসলার স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সিস্টেম চালু ছিল। এটি টেসলার সাধারণ অটোপাইলট কিংবা ব্যয়বহুল ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সফটওয়্যার হতে পারে। এছাড়া দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে গাড়িটির গতিবেগ ঘণ্টায় শূন্য মাইল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   এর কয়েক সপ্তাহ আগেই ফ্লোরিডার একটি মহাসড়কে প্রায় একই ধরনের একটি দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেখানেও টেসলার ড্রাইভার অ্যাসিস্ট সফটওয়্যারে চলা একটি মডেল ৩ গাড়ি মহাসড়কের মাঝখানে হঠাৎ থেমে যায় এবং পেছন থেকে অন্য একটি যানের ধাক্কায় টেসলার চালক নিহত হন। টেসলার গাড়িগুলোতে দীর্ঘকাল ধরেই ফ্যান্টম ব্রেকিং নামের এক অদ্ভুত প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। এই ত্রুটির ফলে সামনে কোনো বাধা ছাড়াই গাড়িগুলো হঠাৎ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক কষে। একটি গাড়ির ভিডিও, টেলিমেটিক্স এবং ইভেন্ট ডেটা রেকর্ডারসহ সব ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য টেসলার কাছে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গাড়িটি কেন হঠাৎ থেমে গিয়েছিল, তা কোম্পানিটির কাছে খুবই স্পষ্ট।   তবে ইলেকট্রিক জানিয়েছে, টেসলা এই দুর্ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি তথ্য গোপন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ, ব্যবহৃত সফটওয়্যারের সংস্করণ এবং গাড়িটি অনুমোদিত এলাকায় চলছিল কি না সেই তথ্য। এই তথ্যগুলোকে গোপন ব্যবসায়িক তথ্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টেসলা। জানা গেছে, কোম্পানিটি তাদের ৯৯ দশমিক ৯ শতাংশ দুর্ঘটনার প্রতিবেদনেই এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে।   ফ্যান্টম ব্রেকিং ত্রুটি নিয়ে ২০২২ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছিল ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। অটোপাইলট বা অ্যাডাপটিভ ক্রুজ কন্ট্রোল ব্যবহারের সময় মহাসড়কের দ্রুতগতিতে গাড়ি হঠাৎ থেমে যাওয়ার অসংখ্য অভিযোগ পাওয়ার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে চার বছর ধরে চলা সেই তদন্তটি চলতি বছরের গত জুলাই মাসে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। সংস্থাটি জানায়, এ ধরনের দুর্ঘটনার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে এবং তারা যান্ত্রিক ব্রেকের কোনো ত্রুটি বা অযৌক্তিক সংঘর্ষের ঝুঁকি খুঁজে পায়নি।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
শান্তির দাবিতে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছেন ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি ও ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ। ছবি: সংগৃহীত
বিভেদের দেয়াল পেরিয়ে শান্তির দাবিতে একসঙ্গে আন্দোলন করছেন ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি মায়েরা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২৩:১২

ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি পরিচয়ের পার্থক্য তাদের আলাদা করে রাখলেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে একই জায়গায় দাঁড়িয়েছেন দুই দেশের দুই মা। তাদের বার্তা, সন্তানদের যুদ্ধ, সহিংসতা কিংবা কারাগারের ভয় নিয়ে বড় হতে হবে না। তাদেরও নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যতের অধিকার রয়েছে।   ফিলিস্তিনি শান্তিকর্মী রিম আল-হাজাজরেহ এবং ইসরায়েলি শান্তিকর্মী ইয়ায়েল আদমি দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের নারীদের নিয়ে শান্তির পক্ষে কাজ করছেন। তারা যথাক্রমে ‘উইমেন অব দ্য সান’ এবং ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। দুই সংগঠনের যৌথ উদ্যোগ ‘মাদার্স কল’-এর মাধ্যমে তারা ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীদের একসঙ্গে এনে সহিংসতার অবসান ও শান্তি আলোচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।   সম্প্রতি জেরুজালেমে ইসরায়েলি মায়েদের সঙ্গে ফিলিস্তিনি নারীরাও বিক্ষোভে অংশ নেন। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা শান্তির দাবি তোলেন। তাদের অবস্থান ছিল, রাজনৈতিক ও জাতীয় পরিচয়ের ভিন্নতা থাকলেও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে দুই পক্ষের মায়েদের উদ্বেগ একই।   রিম ও ইয়ায়েলের এই যৌথ অবস্থান অবশ্য নতুন নয়। ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর প্রায় ১ হাজার ৫০০ ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারী জেরুজালেম ও মৃত সাগর এলাকায় শান্তির দাবিতে সমবেত হয়েছিলেন। ওই কর্মসূচির আয়োজন করেছিল ‘উইমেন ওয়েজ পিস’ ও ‘উইমেন অব দ্য সান’। তাদের লক্ষ্য ছিল রক্তপাতের চক্র বন্ধ করে দুই পক্ষের নেতৃত্বকে শান্তি আলোচনায় ফেরানো।   কিন্তু ওই সমাবেশের মাত্র তিন দিন পর, ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলা এবং এরপর গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযান শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সংঘাতের মধ্যে দুই পক্ষের সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ বাড়তে থাকে। এমন পরিস্থিতিতেও রিম ও ইয়ায়েল তাদের শান্তির প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।   রিম আল-হাজাজরেহ ফিলিস্তিনি নারীদের সংগঠন ‘উইমেন অব দ্য সান’-এর প্রতিষ্ঠাতা। ইয়ায়েল আদমি ‘উইমেন ওয়েজ পিস’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। দুই সংগঠন ২০২২ সালে ‘মাদার্স কল’ নামে একটি যৌথ শান্তির আহ্বানও প্রকাশ করেছিল। সেখানে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি নারীরা তাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শান্তি, স্বাধীনতা, সমতা, অধিকার ও নিরাপত্তার দাবি জানান।   ২০২৬ সালেও তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গত মার্চে রিম ও ইয়ায়েলের নেতৃত্বে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মায়েরা ইতালির রোমে খালি পায়ে শান্তির পদযাত্রায় অংশ নেন। ‘মাদার্স কল’ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আয়োজিত ওই কর্মসূচিতে তারা সহিংসতার অবসান এবং শান্তি আলোচনায় নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের দাবি জানান।   রিম ও ইয়ায়েলের কাছে শান্তির প্রশ্নটি কেবল রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয় নয়। তাদের বক্তব্যের কেন্দ্রে রয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ। তাদের মতে, কোনো মা চান না তার সন্তান যুদ্ধে মারা যাক, আহত হোক কিংবা সংঘাতের কারণে কারাগারে যাক। এই অভিন্ন মানবিক আকাঙ্ক্ষাই দুই সমাজের নারীদের একত্রিত করার শক্তি হয়ে উঠেছে।   তাদের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিকভাবেও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২৪ সালে রিম আল-হাজাজরেহ ও ইয়ায়েল আদমিকে টাইম ম্যাগাজিনের ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। একই বছর তাদের দুই সংগঠন শান্তির জন্য নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়।   সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাস, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং চলমান সহিংসতার মধ্যে দুই দেশের নারীদের এমন যৌথ অবস্থান হয়তো রাতারাতি কোনো রাজনৈতিক সমাধান এনে দেবে না। কিন্তু রিম ও ইয়ায়েলের মতো শান্তিকর্মীরা মনে করেন, বিভাজনের রাজনীতির বাইরে সাধারণ মানুষের কিছু মৌলিক চাওয়া একই। নিরাপত্তা, মর্যাদা এবং সন্তানদের জন্য একটি শান্ত ভবিষ্যৎ সেই চাওয়ারই অংশ।

বন্যার পানিতে আটকা পড়ে স্বামী হিলারিও রেয়নোসোকে আঁকড়ে ধরে ছিলেন এলোদিয়া রেয়েস। ছবি: সংগৃহীত
বন্যার পানিতে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে বেঁচে ফিরেছিলেন স্ত্রী, ১৭ দিন পর সেই স্বামীকেই দেখতে হলো স্ত্রীর শেষ বিদায়
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২২:২৭

হিলারিও রেইনোসার হাত দুটো রোদ আর বয়সের ভারে ক্লান্ত। কিন্তু মেক্সিকোর ভেরাক্রুজ রাজ্যের পোজা রিকা শহরের মোরেলোস এলাকায় তাদের বাড়িতে যখন বন্যার পানি ঢুকে পড়ে, তখন তার সেই হাত দুটোই ছিল পৃথিবীতে টিকে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জীবনসঙ্গীকে বাঁচাতে নিজের জীবনের সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়েছিলেন তিনি। গলাসমান পানিতে দীর্ঘক্ষণ স্বামীকে আঁকড়ে ধরে বেঁচেও ফিরেছিলেন স্ত্রী। কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাস, বন্যার ঠিক ১৭ দিন পর সেই স্ত্রীরই দাফন করতে হলো স্বামী হিলারিওকে।   সম্প্রতি আপসোকল নামের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সাংবাদিক কৃষ্ণা মেদিনার এক প্রতিবেদনে এই হৃদয়বিদারক ঘটনার বিস্তারিত উঠে এসেছে। ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে। মেক্সিকোর ক্যানজোনস নদীর পানি উপচে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। মুহূর্তের মধ্যেই সেই স্রোত ভাসিয়ে নিয়ে যায় অসংখ্য মানুষের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, স্মৃতিবিজড়িত ছবি, পোশাক এবং বছরের পর বছর ধরে তিল তিল করে গড়ে তোলা হাজারো পরিবারের স্বপ্ন। সেই প্রলয়ংকরী বন্যায় আটকে পড়েন হিলারিও এবং তার স্ত্রী ইলোডিয়া রেইস।   ইলোডিয়া সাঁতার জানতেন না। চারদিকে যখন কেবলই ঘোলা পানির স্রোত, তখন বাঁচার কোনো উপায় না পেয়ে হিলারিও তার স্ত্রীকে নিজের গলা শক্ত করে ধরে রাখতে বলেন। কারণ এছাড়া সামনে এগোনোর আর কোনো পথ খোলা ছিল না।   তারা কোনোমতে একটি উঁচু স্থানে পৌঁছান এবং একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অপেক্ষার প্রহর গুনতে থাকেন। তারা জানতেন না এভাবে কতক্ষণ তাদের থাকতে হবে। তবে একটি বিষয় তাদের কাছে পরিষ্কার ছিল, যদি মৃত্যু আসে তবে দুজনের একসঙ্গেই আসবে। বুকসমান ঘোলা পানিতে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে থাকা এই বৃদ্ধ দম্পতির একটি ছবি সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ছবিটি ভাইরাল হয়ে যায় পুরো বিশ্বে। বার্তা সংস্থা এএফপিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম নিশ্চিত করেছিল যে ছবিটি ওই দিন ওই জায়গারই ছিল।   টিকটকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অনেকেই তাদের উদ্ধারের জন্য সাহায্যের আবেদন জানান। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর এক প্রতিবেশী একটি ছোট নৌকায় করে তাদের সেই মৃত্যুপুরী থেকে উদ্ধার করেন। ততক্ষণে তারা তাদের জীবনের প্রায় সব সম্বল হারিয়ে ফেলেছেন। উদ্ধারের পর সবাই যখন এই দম্পতির বেঁচে ফেরার আনন্দে ভাসছিল, তখন কেউ জানত না তাদের জন্য সামনে কী অপেক্ষা করছে। ভাইরাল হওয়া ওই ছবিটির রেশ কাটতে না কাটতেই গত ২৭ অক্টোবর মারা যান ইলোডিয়া। যে বাড়িটি তারা হারিয়েছিলেন, সেখান থেকে ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে নারাঞ্জোস আমাতলান এলাকায় তাকে সমাহিত করা হয়।   ২৬ বছর ধরে একে অপরের সুখে দুঃখে পাশে ছিলেন হিলারিও এবং ইলোডিয়া। আজ ইলোডিয়া নেই, হিলারিওর কাছে রয়ে গেছে কেবল সেই ছবিটি। এটি যেন সেই মুহূর্তের এক নীরব সাক্ষী, যা প্রমাণ করে যে বন্যার পানি তাদের আলাদা করতে পারেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ইলোডিয়া তার স্বামীকে আঁকড়ে ধরেছিলেন, আর হিলারিও তাকে ছেড়ে যাননি।

যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু আমদানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার কথা ভাবছে জাপান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের আলুর ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পথে জাপান, শঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ২১:১০

জাপান যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে। তবে আলুর সঙ্গে দেশে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড় ঢুকে পড়ার আশঙ্কা এবং এতে জাপানের স্থানীয় আলুচাষিরা ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   জাপানের কৃষি, বন ও মৎস্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু সাধারণ বাজারে আমদানির অনুমতি দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়নের দ্বিতীয় ধাপে ২১ ধরনের রোগ ও পোকামাকড় চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো জাপানের কৃষিতে সম্ভাব্য হুমকি তৈরি করতে পারে কি না এবং কী ধরনের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, তা নিয়ে আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর অনলাইন ব্যাখ্যা সভা অনুষ্ঠিত হবে।   এরপর প্রতিটি রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি বিবেচনা করে আমদানির ক্ষেত্রে কী ধরনের উদ্ভিদ-স্বাস্থ্যবিধি বা কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নির্ধারণের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে কীটনাশক দিয়ে প্রক্রিয়াজাতকরণ, আলু পরীক্ষা এবং আমদানির আগে ও পরে বিভিন্ন পর্যায়ে পরিদর্শনের মতো ব্যবস্থা থাকতে পারে।   তবে নিষেধাজ্ঞা উঠলেই যে দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানের বাজারে ঢুকতে শুরু করবে, তা নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। জাপানের কৃষিমন্ত্রী নোরিকাজু সুজুকি বলেছেন, রোগ ও পোকামাকড়ের সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার দৃঢ় অবস্থান নিয়ে আলোচনা করবে।   জাপানে উদ্ভিদে ক্ষতিকর রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকাতে সাধারণভাবে বিদেশ থেকে তাজা আলু আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তবে ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আলু আমদানির ক্ষেত্রে সীমিত একটি ছাড় দেওয়া হয়। সেই ছাড়ের আওতায় শুধু আলুর চিপস তৈরির জন্য ব্যবহৃত আলু আমদানি করা যায়। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য তাজা আলু আমদানির অনুমতি এখনো নেই।   এই নিষেধাজ্ঞা শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধের পর। সাধারণ বাজারে বিক্রির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলু জাপানে প্রবেশের অনুমতি দিতে ওয়াশিংটন অনুরোধ জানালে জাপানের কৃষি মন্ত্রণালয় বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার স্যানিটারি অ্যান্ড ফাইটোস্যানিটারি বা এসপিএস চুক্তির কাঠামোর আওতায় বিষয়টি পর্যালোচনা শুরু করে।   আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াটি মোট তিনটি ধাপে পরিচালিত হচ্ছে। প্রথম ধাপে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর আমদানি নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে এমন রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করা হচ্ছে, যেগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা প্রয়োজন। এই ধাপেই ২১ ধরনের সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বরের ব্যাখ্যা সভার পর প্রক্রিয়াটি তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে যাওয়ার কথা রয়েছে।   চিহ্নিত রোগ ও পোকামাকড়ের মধ্যে জাপানের জন্য বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় রয়েছে। জাপানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তালিকায় আলুর সাদা সিস্ট কৃমি বা ‘পটেটো হোয়াইট সিস্ট নিমাটোড’ও রয়েছে। ২০১৫ সালে হোক্কাইডোর আবাশিরি এলাকায় প্রথমবার এটি শনাক্ত হয়েছিল এবং এরপর থেকে স্থানীয় আলু উৎপাদনে এর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।   জাপানের আলু উৎপাদনের ক্ষেত্রে হোক্কাইডো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট আলু উৎপাদনের প্রায় ৮০ শতাংশই এই অঞ্চল থেকে আসে। ফলে বিদেশি আলু আমদানি বাড়লে শুধু রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি নয়, স্থানীয় কৃষকদের জীবিকা ও উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   হোক্কাইডোর গভর্নর নাওমিচি সুজুকি গত ২১ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, রোগ ও পোকামাকড়ের প্রবেশ ঠেকানো এবং স্থানীয় উৎপাদন সুরক্ষার ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত প্রদেশটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া মেনে নিতে পারবে না।   দেশটির কৃষি সমবায়গুলোর কেন্দ্রীয় সংগঠন জাপান অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভসের কেন্দ্রীয় ইউনিয়নও সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। সংগঠনটি আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম বড় আলু উৎপাদক দেশ। দেশটির উৎপাদকরা দীর্ঘদিন ধরে জাপানের বড় ও লাভজনক তাজা আলুর বাজারে প্রবেশের সুযোগ চেয়ে আসছেন। ফলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের উদ্যোগটি শুধু কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় নয়, দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কের সঙ্গেও যুক্ত।   তবে বর্তমান প্রক্রিয়াকে এখনই আমদানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না জাপান। ১৮ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল প্রকাশের পর রোগ ও পোকামাকড়ের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা নিয়ে আরও আলোচনা হবে। এরপর প্রয়োজনীয় শর্ত নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মতামত নেওয়ার মধ্য দিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোবে দেশটি।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রের তাজা আলুর জন্য জাপানের বাজার পুরোপুরি খুলবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া যে গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যায়ে পৌঁছেছে, ১৮ সেপ্টেম্বরের ঝুঁকি মূল্যায়ন প্রকাশের পর বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।   সংবাদসূত্র: দ্য জাপান টাইমস

পাকিস্তানে শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ধসে বিতর্ক, ভাঙার অভিযোগ সংখ্যালঘুদের।
শতবর্ষী হিন্দু মন্দির ভেঙে মাদ্রাসা নির্মাণ, পাকিস্তানে ক্ষোভ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৮:১৪

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের নারোওয়াল জেলার সিরাজ গ্রামে শত বছরেরও বেশি পুরোনো একটি হিন্দু মন্দির ভেঙে পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ২১ আগস্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মন্দিরটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে পাশের একটি মাদ্রাসার জমির সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংখ্যালঘু অধিকারকর্মীরা। তবে পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অতিবৃষ্টির কারণে মন্দিরটির কাঠামো ধসে পড়েছে। প্রায় ১০০ থেকে ১২৫ বছরের পুরোনো মন্দিরটি প্রায় এক হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে ছিল। পাকিস্তান মাসিহা মিল্লাত পার্টির চেয়ারম্যান আসলাম পারভেজ সাহোত্রা অভিযোগ করেছেন, মন্দিরের ইট, গম্বুজের ধাতব অংশসহ বিভিন্ন সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি ২৮ আগস্ট পাঞ্জাবের অতিরিক্ত স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে লিখিত আবেদন করে ঘটনার তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।  সংখ্যালঘু সংগঠনগুলো মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ এবং ধর্মীয় স্থাপনাটির জমিতে কথিত দখল সরানোরও দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মন্দিরসংলগ্ন জমি আগে একটি মাদ্রাসার কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছিল।  তবে সংখ্যালঘুদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয় পাকিস্তানের সরকারি কর্তৃপক্ষ। দেশটির সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্বে থাকা ইভাকুই ট্রাস্ট প্রপার্টি বোর্ড জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির কারণে মন্দিরের কাঠামোর একটি অংশ ধসে পড়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে এখনো স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। ঘটনাটি পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় স্থাপনা সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.27K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.04K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.16K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.02K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়