নিউইয়র্ক শহরের স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং গণপরিবহনে যাতায়াতকে আরও সাশ্রয়ী করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ বা ন্যায্য ভাড়া কর্মসূচির অধীনে সাবওয়ে, বাস ও প্যারাট্রানজিটে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে এই বিলটি পাস করা হয়। আগামী ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে স্পিকার জুলি মেনিন এবং সিটি কাউন্সিল এই কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের জন্য তহবিল নিশ্চিত করেছে। এর ফলে যোগ্যতার মাপকাঠি ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার নিম্ন আয়ের বাসিন্দা অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে এখন শহরটির প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসছেন। বর্তমানে এই সুবিধার যোগ্য নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ এই কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। সচেতনতার অভাব এবং আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণেই মূলত অংশগ্রহণের হার এত কম। এই হার বাড়াতেই কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন ‘ইন্ট্রোডাকশন ২৪৮-এ’ শীর্ষক বিলটি উত্থাপন করেন। নতুন এই আইনের মাধ্যমে সোশ্যাল সার্ভিসেস কমিশনারকে একটি সহজ ও সাবলীল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে, যারা বর্তমানে ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) বা নগদ আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তারা সুবিধাটি নবায়নের সময় শুধু একটি বক্সে টিক চিহ্ন দিয়েই খুব সহজে ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া যেসব যোগ্য ব্যক্তি এখনও এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সুবিধার কথা জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব টেম্পোরারি ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্সসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় শহরের সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, বিশেষ করে গণপরিবহনের খরচ শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় একটি বোঝা। তিনি আরও জানান, নতুন এই আইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যাতে যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা নিজেদের পকেট খালি না করেই গণপরিবহনে যাতায়াত করতে পারেন। অন্যদিকে, বিলটির প্রস্তাবক কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাবে এবং সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে। বিলটিতে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্তি ও ব্যবহার নিয়ে প্রতি বছর সিটি কাউন্সিলে প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে শহরের সব কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয় তালিকাভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় কাজ করার সময় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেয়েছিলেন মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. ফিরোজ সিধওয়া। গত ২৩ মার্চ খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে কাজ করার সময় একটি ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়েন তিনি। সেদিনের সেই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি জানান, বিস্ফোরণের তীব্রতায় আইসিইউর একটি দরজা ছিটকে সরাসরি তার মুখে এসে পড়েছিল। হাসপাতালে উপস্থিত ফিলিস্তিনিরা তাৎক্ষণিকভাবে বিপদের কথা বুঝতে পেরে তাকে রক্ষার জন্য ছুটে আসেন। ওই হামলায় ডা. সিধওয়ার এক রোগীসহ অন্তত দুজনের মৃত্যু হয়। এত বড় একটি ঘটনার পর পরিবারের তীব্র উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও তিনি পুনরায় গাজায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। নিজের মায়ের শত বারণ আর কান্নার জবাবে তিনি বলেছেন, কাউকে না কাউকে তো এই বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়াতেই হবে। জাতিসংঘের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে বিশ্বজুড়ে এক হাজারেরও বেশি ত্রাণকর্মী ও চিকিৎসাকর্মী নিহত হয়েছেন। স্বাধীন গবেষণা সংস্থা 'হিউম্যানিটেরিয়ান আউটকামস'-এর তথ্যমতে, ২০০০ সালের পর থেকে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ১৫০০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর গাজা, সুদান, দক্ষিণ সুদান এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে এমন হামলার ঘটনা ছিল সবচেয়ে বেশি। গাজার পাশাপাশি ইউক্রেনেও চিকিৎসাকর্মীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। মার্কিন ট্রমা সার্জন ডা. মাইকেল সামোতোওকা বছরে ৬ থেকে ১০ বার ইউক্রেনে চিকিৎসা দিতে যান। তিনি জানান, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে তার ব্যবহৃত একটি অপারেশন থিয়েটারেও মিসাইল হামলা চালানো হয়েছিল, যা মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করার মতো একটি ঘটনা। যুদ্ধের ময়দানে চিকিৎসাকর্মীদের ওপর এমন ধারাবাহিক ও পরিকল্পিত হামলার বিষয়ে এই দুই চিকিৎসকই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ডা. সামোতোওকা মনে করেন, যুদ্ধরত দেশগুলোর উচিত জেনেভা কনভেনশন মেনে চলা এবং যারা বেসামরিক নাগরিক ও চিকিৎসাকর্মীদের ওপর হামলা করে এই আইন অমান্য করছে, তাদের অবশ্যই শাস্তির আওতায় আনা। অন্যদিকে ডা. সিধওয়া একধাপ এগিয়ে মার্কিন নাগরিকদের তাদের কংগ্রেস সদস্যদের কাছে একটি বিশেষ দাবি তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যারা প্রতিনিয়ত চিকিৎসক ও নার্সদের হত্যা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে তাদের অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, চিকিৎসাকর্মী ও হাসপাতালের ওপর যেকোনো হামলার তারা তীব্র নিন্দা জানায় এবং এর সঙ্গে জড়িতদের জবাবদিহির আওতায় আনাকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনা পরোয়ানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) গ্রেপ্তার কমানো এবং নির্দোষ অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেক্স প্যাডিলা যৌথভাবে ‘ইমিগ্রেশন ওয়ারেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি প্রস্তাব করেছেন। আইসিই যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অথবা বর্ণবাদের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা এই বিল প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং আটকের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পরোয়ানার পাশাপাশি আটকের পর কবে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে হবে, তা-ও আটকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, আটকে রাখা প্রতিটি অনাগরিকের হেফাজতের বিষয়টি প্রতি ৬০ দিন পরপর কোনো ইমিগ্রেশন বা মার্কিন জেলা বিচারককে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে বিনা বিচারে কেউ দীর্ঘদিন আইসিই হেফাজতে না থাকেন। সিনেটর প্যাডিলা বলেন, এই আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ হবে। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি সহজে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ‘জননিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের যে সুযোগ আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে রাখা হয়েছে, তা অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা। টেক্সাস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইসেস-এর সহ-প্রধান নির্বাহী ফয়সাল আল-জুবুরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ সিভিল বা দেওয়ানি অপরাধের জন্য কাউকে আটকে রাখা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের (ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন) একটি ছাত্র সংগঠনের বেসমেন্ট থেকে ভয়ংকর র্যাগিং বা 'হেজিং'-এর শিকার অন্তত ৩০ জন তরুণকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 'আলফা এপসিলন পাই' নামের ওই ফ্র্যাটার্নিটির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের অর্ধনগ্ন ও জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সংগঠনটিকে এক দশক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। মূলত একগুচ্ছ নিয়মভঙ্গ এবং বেপরোয়া আচরণের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ওই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এই ফ্র্যাটার্নিটির একটি পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজনকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত করতে হয়েছিল। এই গুরুতর ঘটনার পর ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে নজরদারিতে বা প্রবেশনে রাখে। কিন্তু নজরদারিতে থাকা অবস্থায় এবং মদ পানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা অন্তত চারবার একই ধরনের অপরাধমূলক ও নিয়মবহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ে। বারংবার নিয়ম ভাঙার কারণে অবশেষে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলফা এপসিলন পাই-এর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় পর্যায়ের অনুমোদনের সুযোগ নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সবশেষ গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ম্যাডিসন পুলিশ ওই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, বাড়িটির নোংরা ও ৮১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চরম উত্তপ্ত একটি বেসমেন্ট থেকে ওই ৩০ জন তরুণকে (যাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছর) উদ্ধার করা হয়। তাদের গায়ে খাবার, সস এবং অন্যান্য তরল পদার্থ মাখানো ছিল এবং অনেকের শরীরেই শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবৈধভাবে র্যাগিং পরিচালনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ফ্র্যাটার্নিটির ২০ বছর বয়সী সভাপতি এবং সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করে ডেন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কীভাবে এমন একটি সংগঠন এত বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টন এলাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে ইমিগ্রেশন আবেদনের কথা বলে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া এবং যথাযথভাবে সেই আবেদন জমা না দেওয়ার অভিযোগে এক ইমিগ্রেশন আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪৪ বছর বয়সী আল্লা নোভোউইজস্কি নামের ওই আইনজীবীর বিরুদ্ধে মেইল জালিয়াতি এবং ইমিগ্রেশন আইনজীবী হিসেবে কাজের ক্ষেত্রে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়ার অভিযোগে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের ইউএস অ্যাটর্নি অফিস। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিট বা কাজের অনুমতির স্ট্যাটাস পরিবর্তন এবং ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার আশায় ক্লায়েন্টরা ওই আইনজীবীকে অর্থ প্রদান করেছিলেন। তবে অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে যে, তিনি কিছু আবেদন একেবারেই জমা দেননি, আর কিছু আবেদন জমা দিলেও সেগুলো ছিল অসম্পূর্ণ। শুধু অসম্পূর্ণ আবেদনই নয়, তদন্তকারীরা জানিয়েছেন যে তিনি ক্লায়েন্টদের এমন কিছু নথিপত্র এবং কেস নম্বর সরবরাহ করতেন, যেগুলো মূলত অন্য ব্যক্তিদের সক্রিয় ইমিগ্রেশন মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল। ওই ভুয়া নথিপত্রগুলো এমনভাবে উপস্থাপন করা হতো, যেন ক্লায়েন্টরা বিশ্বাস করেন যে তাদের নিজেদের ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত আবেদনগুলো কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা যথাযথ প্রক্রিয়ার মধ্যেই রয়েছে। এই জালিয়াতির তদন্তে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল, ইউএস পোস্টাল সার্ভিস অফিস অব ইন্সপেক্টর জেনারেল এবং হ্যারিস কাউন্টি কনস্টেবল অফিসের পাশাপাশি ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসও সহায়তা করেছে। যদি আল্লা নোভোউইজস্কি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাকে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে। তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড এবং আড়াই লাখ (২ লাখ ৫০ হাজার) ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। তবে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, এই অভিযোগগুলো এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়ায় দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত তাকে নির্দোষ হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে।
নিউইয়র্ক শহরের স্বল্প আয়ের মানুষদের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং গণপরিবহনে যাতায়াতকে আরও সাশ্রয়ী করতে একটি নতুন আইন পাস করেছে নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিল। ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ বা ন্যায্য ভাড়া কর্মসূচির অধীনে সাবওয়ে, বাস ও প্যারাট্রানজিটে অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা পেতে আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে এই বিলটি পাস করা হয়। আগামী ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটের অংশ হিসেবে স্পিকার জুলি মেনিন এবং সিটি কাউন্সিল এই কর্মসূচির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণের জন্য তহবিল নিশ্চিত করেছে। এর ফলে যোগ্যতার মাপকাঠি ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার ১৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন এই সিদ্ধান্তের কারণে অতিরিক্ত ৩ লাখ ৪০ হাজার নিম্ন আয়ের বাসিন্দা অর্ধেক ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ পাবেন। সব মিলিয়ে এখন শহরটির প্রায় ১৩ লাখ মানুষ এই সুবিধার আওতায় আসছেন। বর্তমানে এই সুবিধার যোগ্য নিউইয়র্কবাসীদের মধ্যে মাত্র ৪০ শতাংশ এই কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। সচেতনতার অভাব এবং আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতার কারণেই মূলত অংশগ্রহণের হার এত কম। এই হার বাড়াতেই কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন ‘ইন্ট্রোডাকশন ২৪৮-এ’ শীর্ষক বিলটি উত্থাপন করেন। নতুন এই আইনের মাধ্যমে সোশ্যাল সার্ভিসেস কমিশনারকে একটি সহজ ও সাবলীল রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়মে, যারা বর্তমানে ‘সাপ্লিমেন্টাল নিউট্রিশন অ্যাসিসট্যান্স প্রোগ্রাম’ (স্ন্যাপ) বা নগদ আর্থিক সহায়তা গ্রহণ করছেন, তারা সুবিধাটি নবায়নের সময় শুধু একটি বক্সে টিক চিহ্ন দিয়েই খুব সহজে ‘ফেয়ার ফেয়ারস’ কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারবেন। এছাড়া যেসব যোগ্য ব্যক্তি এখনও এই কর্মসূচির বাইরে রয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করে সুবিধার কথা জানাতে নিউইয়র্ক স্টেট অফিস অব টেম্পোরারি ডিসঅ্যাবিলিটি অ্যাসিস্ট্যান্সসহ অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কথাও বিলে উল্লেখ করা হয়েছে। সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিন বলেন, জীবনযাত্রার অতিরিক্ত ব্যয় শহরের সাধারণ মানুষকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে, বিশেষ করে গণপরিবহনের খরচ শ্রমজীবী পরিবারগুলোর ওপর বড় একটি বোঝা। তিনি আরও জানান, নতুন এই আইনের মাধ্যমে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা হবে, যাতে যোগ্য নিউইয়র্কবাসীরা নিজেদের পকেট খালি না করেই গণপরিবহনে যাতায়াত করতে পারেন। অন্যদিকে, বিলটির প্রস্তাবক কাউন্সিল মেম্বার ক্রিস্টাল হাডসন বলেন, স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্তির এই উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, যা মানুষের মূল্যবান সময় বাঁচাবে এবং সরকারি সেবাকে আরও জনবান্ধব করে তুলবে। বিলটিতে সুবিধাভোগীদের তালিকাভুক্তি ও ব্যবহার নিয়ে প্রতি বছর সিটি কাউন্সিলে প্রতিবেদন জমা দেওয়া এবং ভবিষ্যতে শহরের সব কল্যাণমূলক কর্মসূচিতে স্বয়ংক্রিয় তালিকাভুক্তির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি সমীক্ষা পরিচালনারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের (ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন) একটি ছাত্র সংগঠনের বেসমেন্ট থেকে ভয়ংকর র্যাগিং বা 'হেজিং'-এর শিকার অন্তত ৩০ জন তরুণকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। 'আলফা এপসিলন পাই' নামের ওই ফ্র্যাটার্নিটির আস্তানায় অভিযান চালিয়ে তাদের অর্ধনগ্ন ও জখম অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই সংগঠনটিকে এক দশক আগেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছিল। মূলত একগুচ্ছ নিয়মভঙ্গ এবং বেপরোয়া আচরণের কারণেই তাদের বিরুদ্ধে ওই কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ড অনুযায়ী, ২০১৩ সালে এই ফ্র্যাটার্নিটির একটি পার্টিতে মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরসহ দুজনকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিয়ে ‘ডিটক্স’ বা বিষমুক্ত করতে হয়েছিল। এই গুরুতর ঘটনার পর ইউডব্লিউ-ম্যাডিসন কর্তৃপক্ষ সংগঠনটিকে নজরদারিতে বা প্রবেশনে রাখে। কিন্তু নজরদারিতে থাকা অবস্থায় এবং মদ পানের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও তারা অন্তত চারবার একই ধরনের অপরাধমূলক ও নিয়মবহির্ভূত কাজে জড়িয়ে পড়ে। বারংবার নিয়ম ভাঙার কারণে অবশেষে ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আলফা এপসিলন পাই-এর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তা সত্ত্বেও, জাতীয় পর্যায়ের অনুমোদনের সুযোগ নিয়ে তারা ক্যাম্পাসের বাইরে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। সবশেষ গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ম্যাডিসন পুলিশ ওই ফ্র্যাটার্নিটির একটি বাড়িতে অভিযান চালায়। পুলিশ জানায়, বাড়িটির নোংরা ও ৮১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চরম উত্তপ্ত একটি বেসমেন্ট থেকে ওই ৩০ জন তরুণকে (যাদের বেশিরভাগের বয়স ১৮ বছর) উদ্ধার করা হয়। তাদের গায়ে খাবার, সস এবং অন্যান্য তরল পদার্থ মাখানো ছিল এবং অনেকের শরীরেই শারীরিক নির্যাতনের স্পষ্ট ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অবৈধভাবে র্যাগিং পরিচালনা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ফ্র্যাটার্নিটির ২০ বছর বয়সী সভাপতি এবং সহ-সভাপতিকে গ্রেপ্তার করে ডেন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও কীভাবে এমন একটি সংগঠন এত বছর ধরে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিল, তা নিয়ে বর্তমানে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিনা পরোয়ানায় ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) গ্রেপ্তার কমানো এবং নির্দোষ অভিবাসীদের অনির্দিষ্টকাল আটকে রাখার ক্ষমতা খর্ব করার লক্ষ্যে মার্কিন সিনেটে একটি নতুন বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাটিক দলের ইলিনয়ের সিনেটর ডিক ডারবিন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যালেক্স প্যাডিলা যৌথভাবে ‘ইমিগ্রেশন ওয়ারেন্ট রিফর্ম অ্যাক্ট’ নামের এই আইনটি প্রস্তাব করেছেন। আইসিই যাতে কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া অথবা বর্ণবাদের ভিত্তিতে কাউকে আটকে রাখতে না পারে, সেই লক্ষ্যেই বিলটি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে বৈধ কাগজপত্র থাকা অনেক অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিককেও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে, যা এই বিল প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান কারণ বলে জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, কাউকে আটক করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের অবশ্যই তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রশাসনিক পরোয়ানা বা ওয়ারেন্ট সংগ্রহ করতে হবে এবং আটকের কারণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। পরোয়ানার পাশাপাশি আটকের পর কবে ইমিগ্রেশন আদালতে হাজিরা দিতে হবে, তা-ও আটকদের স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন শুনানির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি, আটকে রাখা প্রতিটি অনাগরিকের হেফাজতের বিষয়টি প্রতি ৬০ দিন পরপর কোনো ইমিগ্রেশন বা মার্কিন জেলা বিচারককে পুনরায় পর্যালোচনা করতে হবে, যাতে বিনা বিচারে কেউ দীর্ঘদিন আইসিই হেফাজতে না থাকেন। সিনেটর প্যাডিলা বলেন, এই আইনটি পাস হলে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর জবাবদিহি আরও শক্তিশালী হবে এবং নির্বিচার গ্রেপ্তার বন্ধ হবে। তবে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিলটি সহজে আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। এদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী এবং আইনজীবীরা এই বিলের কিছু ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, ‘জননিরাপত্তার জন্য আসন্ন বিপদ’ হিসেবে কাউকে চিহ্নিত করে বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারের যে সুযোগ আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে রাখা হয়েছে, তা অপব্যবহারের আশঙ্কা করছেন তারা। টেক্সাস-ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা রাইসেস-এর সহ-প্রধান নির্বাহী ফয়সাল আল-জুবুরি প্রশ্ন তুলেছেন, সাধারণ সিভিল বা দেওয়ানি অপরাধের জন্য কাউকে আটকে রাখা এবং তার ব্যক্তিস্বাধীনতা হরণ করা কতটা যৌক্তিক। তিনি মনে করেন, এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা মৌলিক সাংবিধানিক সুরক্ষার সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
বিচারক হওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে পরামর্শ চাইতে গিয়ে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট উদাস গোস্বামীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল চৈতি বিশ্বাসের। সেই পরিচয় থেকে বিয়ে। এবার ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছেন চৈতি। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীর জীবনে যোগ হলো নতুন এক অধ্যায়। উদাস গোস্বামী নিজেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। চৈতির সঙ্গে তাঁর পরিচয় অবশ্য ক্যাম্পাসে পড়ার সময় হয়নি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উদাস জানান, তিনি চৈতির চার ব্যাচ সিনিয়র। বিচারক হওয়ার পর প্রস্তুতি নিয়ে যাঁরা তাঁর কাছে পরামর্শ চাইতেন, চৈতি ছিলেন তাঁদের একজন। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অনুষ্ঠানে তাঁদের প্রথম দেখা হয়। উদাসের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রথম দেখাতেই চৈতিকে তাঁর ভালো লাগে। এরপর দুই পরিবারের আলোচনায় তাঁদের বিয়ে হয়। চৈতি যখন বিজেএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তাঁকে সাহায্য করেছেন উদাস। কীভাবে বিষয়গুলো গুছিয়ে পড়তে হবে, উত্তর লেখার ধরন কেমন হতে পারে, এসব নিয়ে তাঁদের নিয়মিত আলোচনা হতো। তবে চৈতির সাফল্যের মূল কৃতিত্ব তাঁর নিজের অধ্যবসায়কেই দিয়েছেন উদাস। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চৈতি নিয়ম মেনে ধারাবাহিকভাবে পড়াশোনা করেছেন। কোনো বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হলে তা লিখে রাখতেন, পরে আলোচনা করে সমাধান খুঁজতেন। পড়ার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশ দেওয়ারও চেষ্টা করেছেন তিনি। ফল জানার মুহূর্তটির কথা বলতে গিয়ে উদাস জানান, প্রথমে তিনি কিছুক্ষণ কথা বলতে পারেননি। পরে পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের উচ্ছ্বাস দেখে আনন্দ আরও বেড়ে যায়। পঞ্চগড়ে কর্মরত উদাসের গ্রামের বাড়ি রংপুরে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, চৈতির সাফল্যের খবর পেয়ে গ্রামের মানুষও মিষ্টি বিতরণ করেছেন। চৈতি আপাতত বিচারক পদে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত। নিয়োগ ও যোগদানের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই তিনি দায়িত্ব পালন শুরু করবেন। সূত্র : দি ডেইলি ক্যাম্পাস
নারীদের জন্য নিরাপদ গণপরিবহন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশে চালু হওয়া ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর কথা জাতিসংঘের মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে তুলে ধরেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ২৩ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে ‘প্রযুক্তি ব্যবহার করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ বিষয়ক মন্ত্রী পর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তব্য দেন তিনি। বৈঠকটি আয়োজন করে ক্রোয়েশিয়া ও ইউএন উইমেন। বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে বাংলাদেশের বিভিন্ন আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। দ্রুত তদন্ত ও বিচার, আইনি সহায়তা, সামাজিক সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, পুনর্বাসন এবং মানসিক সহায়তার বিষয়গুলোও তার বক্তব্যে উঠে আসে। নারীদের গণপরিবহনে নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে তিনি বাংলাদেশের সম্প্রতি চালু হওয়া নারী-নির্দিষ্ট ‘পিঙ্ক বাস সার্ভিস’-এর বিষয়টি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সামনে তুলে ধরেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নারীদের জন্য গণপরিবহনকে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক করাই এই সেবার অন্যতম উদ্দেশ্য। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) ১৮ আগস্ট রাজধানীর তেজগাঁও বাস ডিপো থেকে পিঙ্ক বাস সার্ভিসের উদ্বোধন করে। প্রথম পর্যায়ে ১৪টি বাস নিয়ে এই সেবা চালু করা হয়। বিআরটিসির তথ্য অনুযায়ী, বাসগুলো ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, বগুড়া ও চট্টগ্রামের নির্ধারিত রুটে চলাচলের জন্য দেওয়া হয়। এই সেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো বাস পরিচালনায় নারী চালক ও নারী কন্ডাক্টরদের অংশগ্রহণ। উদ্যোগটির মাধ্যমে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের পাশাপাশি পরিবহন খাতে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও সামনে এসেছে। জাতিসংঘের বৈঠকে শামা ওবায়েদ নারীদের বিরুদ্ধে প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিষয়েও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানান।তিনি বাংলাদেশ নেতৃত্বাধীন ‘ঢাকা ডায়ালগ’ উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। ডিজিটাল হয়রানি প্রতিরোধ, ঘটনার তদন্ত এবং তা মোকাবিলায় স্বেচ্ছামূলক নির্দেশিকা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের। এ উদ্যোগের ‘গ্রুপ অব ফ্রেন্ডস’-এ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বৈঠকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে নারীদের বিরুদ্ধে তৈরি হওয়া নতুন ধরনের ডিজিটাল হুমকি নিয়েও আলোচনা হয়। এর মধ্যে অনলাইন হয়রানি, মানহানি, পরিচয় জালিয়াতি এবং এআই-নির্ভর নিপীড়নের মতো বিষয় ছিল। শামা ওবায়েদ সংঘাত ও বাস্তুচ্যুতির শিকার নারীদের সুরক্ষার বিষয়টিও জাতিসংঘের আলোচনায় তুলে ধরেন। তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদানের কথা উল্লেখ করেন।এ ছাড়া বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় নেওয়া বিভিন্ন মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন তিনি। নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে আইন ও প্রতিষ্ঠানভিত্তিক উদ্যোগের পাশাপাশি নিরাপদ গণপরিবহন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতা মোকাবিলার বিষয়গুলো একই আলোচনায় তুলে ধরে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তার বিভিন্ন উদ্যোগের চিত্র উপস্থাপন করেছে।
রাজনীতি
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreভারতের দিল্লি অঞ্চলে যমুনা নদীর তীর পরিষ্কার করে প্রায় ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহের কথা জানিয়েছেন ২১ বছর বয়সী সুরেন্দ্র সিং চৌধুরী। ‘বিট্টু তাবাহি’ নামে পরিচিত এই তরুণ ২০ সেপ্টেম্বর স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে সাড়ে চার ঘণ্টা পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালান। তাঁদের উদ্যোগের পর নদীর তীরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার প্রশ্ন উঠেছে। ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে স্বেচ্ছাসেবীদের নদীর তীর থেকে প্লাস্টিক, পূজার সামগ্রী, ফুলের মালাসহ বিভিন্ন বর্জ্য তুলতে দেখা যায়। চৌধুরীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, অভিযানে মোট ৫৮৫ কেজি বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। বর্জ্যের পরিমাণটি তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে জানিয়েছে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। ভিডিওটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান দিল্লিভিত্তিক উদ্যোক্তা ও উইকেন্ড ইনভেস্টিংয়ের প্রতিষ্ঠাতা অলোক জৈন। স্বেচ্ছাসেবীদের কাজের প্রশংসা করে তিনি একে স্থানীয় প্রশাসনের জন্য ‘কড়া বার্তা’ বলে মন্তব্য করেন। সামাজিক মাধ্যমের আলোচনায় অনেকে নাগরিকদের যেখানে সেখানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে মধ্যপ্রদেশের বিয়াওরা শহরে বর্জ্যে ভরা একটি নদী পরিষ্কারের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় আসেন চৌধুরী। যমুনার অভিযানের দুই দিন পর তিনি ও তাঁর দল গুরুগ্রামের খেড়কি দৌলাতেও পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন। দেশের অন্যান্য জায়গায় গিয়ে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে মানুষকে সচেতন করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ভারতের ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির ছেলে অনন্ত আম্বানিকে টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে ‘প্রফেসর অব প্র্যাকটিস’ মর্যাদা দিয়েছে যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়টি এ ঘোষণা দেওয়ার পর পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি ও কয়েকজন শিক্ষাবিদ সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করেছেন। অনন্তের প্রতিষ্ঠিত বন্য প্রাণী কেন্দ্র ভানতারার কার্যক্রম এবং তাঁর পরিবারের তেল ও গ্যাস ব্যবসার সঙ্গে টেকসই উন্নয়নের এই স্বীকৃতি কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাণীকল্যাণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশবিষয়ক কাজে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অনন্তকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। গুজরাটের জামনগরে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ভানতারাকে আহত ও বিপন্ন প্রাণী উদ্ধার এবং পুনর্বাসনের উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের নির্বাহী পরিচালক হিসেবে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিসংক্রান্ত উদ্যোগেও তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণায় এটি একটি ‘প্রফেসরশিপ অব প্র্যাকটিস’ স্বীকৃতি; তাঁকে নিয়মিত শিক্ষক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে বলে সেখানে বলা হয়নি। সিদ্ধান্তটির সমালোচনা করে ভারতীয় ইতিহাসবিদ রামচন্দ্র গুহ বলেছেন, ভারতে পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা আরও অনেক যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন। নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মীদের ইউনিয়ন শাখার সভাপতি অধ্যাপক ম্যাট পেরির ভাষ্য অনুযায়ী, পরিবেশগত উদ্বেগের কারণে কর্মীদের মধ্যেও এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি ছিল। এসব প্রতিক্রিয়ার কথা জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। ভানতারায় প্রাণী সংগ্রহের প্রক্রিয়া নিয়েও আগে পরিবেশবাদীরা প্রশ্ন তুলেছেন। তবে সমালোচনা বা তদন্তে ওঠা প্রশ্নকে প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একটি তদন্তে ভানতারার পরিচালকদের বিরুদ্ধে অনিয়ম পাওয়া যায়নি। অনন্তের পরিবার ও ভানতারাও প্রাণী পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। সমালোচনার মধ্যেও সিদ্ধান্তের পক্ষে রয়েছে নিউক্যাসল বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের বক্তব্য, ভানতারার কাজ এবং রিলায়েন্সের জ্বালানি রূপান্তর উদ্যোগে অনন্তের ভূমিকা বিবেচনা করেই তাঁকে এই মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। ফলে বিতর্কটি এখন কেবল একজনকে অধ্যাপকের পদবি দেওয়া নিয়ে নয়; পরিবেশবিষয়ক কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় কী মানদণ্ড অনুসরণ করেছে, সেই প্রশ্নেও গড়িয়েছে।
নাইজেরিয়ার ক্রস রিভার অঙ্গরাজ্য নিজেদের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার মধ্যেই স্থানীয় ২ হাজার তরুণকে তেল ও গ্যাস খাতের জন্য প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে তেল-গ্যাস খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণরা যেন প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও পেশাগত যোগ্যতা নিয়ে সরাসরি সেই বাজারে প্রবেশ করতে পারেন। বৃহস্পতিবার কালাবারে ‘স্কিল আপ ইন দ্য সিজন অব সুইটনেস’ নামে কর্মসূচিটির উদ্বোধন করা হয়। ক্রস রিভারের গভর্নর ব্যাসি এডেট ওতুর পক্ষে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য হাউস অব অ্যাসেম্বলির স্পিকার এলভার্ট আয়ামবেম। প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া তরুণদের সিপিডি-স্বীকৃত সার্টিফিকেট ও ডিপ্লোমা কর্মসূচির আওতায় আনা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, তেল ও গ্যাস খাত মানেই শুধু তেল উত্তোলন নয়। এই শিল্পে ইঞ্জিনিয়ারিং, লজিস্টিকস, মেরিন সার্ভিস, নিরাপত্তা, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, প্রোকিউরমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ ও ডেটা সার্ভিসের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে দক্ষ জনবলের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশিক্ষণে এসব সম্ভাব্য কর্মক্ষেত্রের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে। কর্মসূচির আয়োজক রিসার্চ গেটওয়ে ইনস্টিটিউটের পরিচালক থ্যাঙ্কগড আরং ওন্ডা জানিয়েছেন, প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীকে রাজ্য সরকারের অর্থায়নে ৫ লাখ নাইরা সমমূল্যের স্কলারশিপ দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ নিয়ে সংখ্যাগত অসামঞ্জস্য রয়েছে—প্রতি জন ৫ লাখ নাইরা হিসেবে ২ হাজার অংশগ্রহণকারীর সরল হিসাব ১০০ কোটি নাইরা হলেও একটি প্রতিবেদনে মোট বিনিয়োগ ৭০ কোটির বেশি নাইরা বলা হয়েছে। তাই মোট অর্থের অঙ্কটি সরকারি বিস্তারিত হিসাব ছাড়া নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে না। ওন্ডার ভাষ্য অনুযায়ী, এই প্রশিক্ষণের সঙ্গে ক্রস রিভারের তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। রাজ্যটি ৭৬টি তেলকূপ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছে এবং সেগুলো ঘিরে ভবিষ্যতে সুযোগ তৈরি হলে স্থানীয় তরুণদের যেন দক্ষতার অভাবে পিছিয়ে পড়তে না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শুধু কালাবারেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। আয়োজকেরা জানিয়েছেন, ক্রস রিভারের ১৮টি স্থানীয় সরকার এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। উত্তরাঞ্চলের জন্য ওগোজা এবং মধ্যাঞ্চলের জন্য ইকোমে আঞ্চলিক সেশন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এরপর চূড়ান্ত পর্ব ও গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠিত হবে। গভর্নরের বিশেষ উপদেষ্টা উকপং উমোহ বলেন, কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট দেওয়া নয়। তরুণদের এমন দক্ষতা অর্জন করতে হবে, যাতে তারা চাকরিপ্রার্থী হওয়ার পাশাপাশি উদ্যোক্তা, সেবাদাতা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী হিসেবেও তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে অংশ নিতে পারেন। তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের এই উদ্যোগ ক্রস রিভার সরকারের বৃহত্তর কর্মসংস্থান নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। রাজ্য সরকারের যুব ক্ষমতায়ন কর্মসূচিতে দক্ষতা অর্জন, উদ্যোক্তা তৈরি ও স্বনির্ভরতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক আরেকটি সরকারি কর্মসূচিতেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের ব্যবসা শুরু ও কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। ফলে ২ হাজার তরুণের এই প্রশিক্ষণকে শুধু একটি দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি হিসেবে নয়, বরং সম্ভাব্য তেল-গ্যাস অর্থনীতিতে স্থানীয় জনশক্তির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবেও দেখছে রাজ্য সরকার। তবে ৭৬টি তেলকূপ পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল এবং এর মাধ্যমে ঠিক কত কর্মসংস্থান তৈরি হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সূত্র: ক্রস রিভার ওয়াচ, লিডারশিপ, নিউ টেলিগ্রাফ, ক্রস রিভার স্টেট গভর্নমেন্ট
ইউরোপের দূরপাল্লার বাজারে দ্রুত প্রবেশের জন্য ভাড়ায় নেওয়া বোয়িং ৭৮৭-৯ উড়োজাহাজের কার্যক্রম গুটিয়ে নিচ্ছে ভারতের ইন্ডিগো। আগামী ২৫ অক্টোবর থেকে ওয়াইড-বডি কার্যক্রম বন্ধ করবে প্রতিষ্ঠানটি এবং একই সঙ্গে সাময়িকভাবে বন্ধ হবে লন্ডন হিথ্রো ফ্লাইট। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আকাশসীমার বিধিনিষেধ, জ্বালানির উচ্চ মূল্য ও বৈদেশিক মুদ্রার চাপের কারণে পরিচালন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেড়ে যাওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইন্ডিগোর এই সিদ্ধান্তকে শুধু একটি রুট বন্ধের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি ধরা পড়ে না। ২০২৫ সালের শুরুতে নরওয়ের নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ থেকে ছয়টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার ড্যাম্প লিজে নিয়ে দূরপাল্লার বাজারে প্রবেশ করেছিল ইন্ডিগো। নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর আসার আগেই ইউরোপের বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন, ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি এবং ভবিষ্যৎ আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল এই প্রকল্পের লক্ষ্য। এই উড়োজাহাজ দিয়েই যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাজারে প্রবেশ করে ইন্ডিগো। ২০২৫ সালের অক্টোবরে মুম্বাই থেকে লন্ডন হিথ্রোতে দৈনিক সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছিল। তখন লন্ডনকে ইন্ডিগোর আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ নতুন ধাপ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মধ্যেই সেই পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করার সিদ্ধান্ত এলো। ইন্ডিগো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন আকাশসীমায় বিধিনিষেধ তৈরি হয়েছে। এতে ইউরোপগামী ফ্লাইটের পথ দীর্ঘ হচ্ছে, বাড়ছে উড্ডয়ন সময় ও জ্বালানি খরচ। এর সঙ্গে উড়োজাহাজের জ্বালানির উচ্চ মূল্য এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ যোগ হয়ে রুটগুলোর কার্যকারিতা, সময়সূচি, কানেক্টিং ফ্লাইট ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতায় প্রভাব ফেলেছে। এই চাপ আগেই দৃশ্যমান হয়েছিল। ইন্ডিগো এর আগে কোপেনহেগেন পরিষেবা স্থগিত এবং দিল্লি-লন্ডন ও ম্যানচেস্টার রুটের ফ্লাইট কমিয়েছিল। পরে ৩১ আগস্ট থেকে ম্যানচেস্টার পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘতর উড্ডয়নপথ ও দ্রুত বাড়তে থাকা খরচের কারণে এসব রুট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছিল। এবার ২৫ অক্টোবর থেকে পুরো বোয়িং ৭৮৭-৯ ওয়াইড-বডি কার্যক্রমই বন্ধ হচ্ছে। আর নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে ছয়টি উড়োজাহাজের ড্যাম্প লিজ চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে ৩১ অক্টোবর। ড্যাম্প লিজ ব্যবস্থায় উড়োজাহাজ ও পাইলট সরবরাহ করছিল নর্স আটলান্টিক, আর কেবিন ক্রু ছিল ইন্ডিগোর। তবে ইউরোপ থেকে পুরোপুরি সরে যাচ্ছে না ইন্ডিগো। ২৫ অক্টোবর থেকেই মুম্বাই-আমস্টারডাম রুটে বোয়িং ৭৮৭-৯-এর পরিবর্তে এয়ারবাস এ৩২১এক্সএলআর ব্যবহার করবে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থাৎ আপাতত বড় ওয়াইড-বডির পরিবর্তে দীর্ঘপাল্লায় সক্ষম তুলনামূলক ছোট উড়োজাহাজের ওপর নির্ভর করে ইউরোপীয় নেটওয়ার্কের একটি অংশ ধরে রাখার কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ইন্ডিগো এটিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণ থেকে পিছু হটা হিসেবে দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, নর্স আটলান্টিকের সঙ্গে এই প্রকল্প থেকে দূরপাল্লার নেটওয়ার্ক পরিকল্পনা, যাত্রীসেবা, ক্রু অপারেশন, রক্ষণাবেক্ষণ, বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জিত হয়েছে। ভবিষ্যতে নিজস্ব ওয়াইড-বডি বহর পরিচালনায় এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে। ইন্ডিগোর নিজস্ব এয়ারবাস এ৩৫০-৯০০ বহরই হবে সেই পরবর্তী ধাপ। তবে এখানে সময় নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়েছে। ইন্ডিগোর ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর অফিসিয়াল বিবৃতিতে নিজস্ব এ৩৫০-৯০০ উড়োজাহাজ ২০২৮ সালের শুরু থেকে বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে। সর্বশেষ ঘোষণায় নির্দিষ্ট বছর উল্লেখ না করে বলা হয়েছে, এ৩৫০-৯০০ সরবরাহ পাওয়ার আগ পর্যন্ত লন্ডন হিথ্রো পরিষেবা বন্ধ থাকবে। লন্ডন রুটে আগে থেকে টিকিট কাটা যাত্রীদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থার কথাও জানিয়েছে ইন্ডিগো। ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে প্রয়োজন অনুযায়ী বিকল্প ফ্লাইট অথবা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে, ইন্ডিগোর বোয়িং ৭৮৭ অধ্যায় আপাতত শেষ হলেও ইউরোপ ও দূরপাল্লার বাজারের পরিকল্পনা শেষ হচ্ছে না। বরং ব্যয়বহুল ভাড়ার ওয়াইড-বডি কার্যক্রম থেকে সরে এসে এ৩২১এক্সএলআর দিয়ে কিছু ইউরোপীয় রুট ধরে রাখা এবং ভবিষ্যতে নিজস্ব এ৩৫০ বহর দিয়ে নতুন করে বড় পরিসরে দূরপাল্লার বাজারে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারতের বৃহত্তম এয়ারলাইনটি। সূত্র: ইন্ডিগো, রয়টার্স, ক্যাপা, নর্স আটলান্টিক এয়ারওয়েজ
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইরান হারবে: জাতিসংঘে নেতানিয়াহু
শি-ট্রাম্প মুখোমুখি, বৈঠকের বাইরেও যে প্রশ্নে নজর বিশ্বের
বিশ্বের চোখ আজ ট্রাম্পের দিকে: জাতিসংঘের মঞ্চে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কী বার্তা দেবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
আইফোন মালিকদের জন্য অ্যাপলের ২৫০ মিলিয়ন ডলারের সেটেলমেন্ট, অর্থ পেতে শুরু আবেদন প্রক্রিয়া
অ্যাপলের ২৫ কোটি ডলারের মামলার নিষ্পত্তি, আইফোন ব্যবহারকারীরা পেতে পারেন ৯৫ ডলার পর্যন্ত
অস্ট্রেলিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টিম কুকের প্রশংসা, নজরে শিশুদের নিরাপত্তা
তরুণদের সৃষ্টিশীলতার জায়গা দখল করছে এআই! হুঁশিয়ার না হলে যা হবে
রোবটই বানাচ্ছে রোবট, চীনের কারখানায় প্রতি ১০ মিনিটে তৈরি হচ্ছে একটি
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
নিউইয়র্কে অর্ধেক ভাড়ায় বাস-সাবওয়েতে যাতায়াত, আরও ৩ লাখ ৪০ হাজার মানুষ পাবেন সুবিধা
আইসিই’র নির্বিচার গ্রেপ্তার ঠেকাতে মার্কিন সিনেটে নতুন বিল প্রস্তাব
যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভয়ংকর র্যাগিং, নোংরা বেসমেন্ট থেকে উদ্ধার ৩০ অর্ধনগ্ন তরুণ
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা করিয়ে দেওয়ার নামে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, আইনজীবী গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআই সার্ভার হ্যাক, ৩৮ হাজার কর্মীর তথ্য চুরির দাবি হ্যাকারদের
চাকরির ইন্টারভিউতেই ম্যালওয়্যার, উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের নতুন ফাঁদ
উচ্চশিক্ষা নিয়েও মিলছে না চাকরি, দেশের ৩৬ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ বেকার: আইএমএফ
থাকতেন বস্তিতে, স্কুলের বেতন দিতে পারেনি মা, সেই ছেলে এখন নাসার বিজ্ঞানী
গুগলে ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলারের চাকরি ছেড়ে অবসর! ৩৭ বছর বয়সেই ১৫ লাখ ডলার সঞ্চয় নারীর
১৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ থেকে এমআইটি, গুগলে জ্যেষ্ঠ সফটওয়্যার প্রকৌশলী বৃষ্টি
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা সম্ভব, তবে কোরআন নিজেই সংবিধান নয়: আইনমন্ত্রী
পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল
মাদক-জুয়ার বিরুদ্ধে শিক্ষাঙ্গনে নতুন অভিযান, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হচ্ছে প্রতিরোধ কমিটি
আমেরিকায় ফুল ফান্ডেড মাস্টার্স বা পিএইচডিতে রিজেকশন হয় যেসব কারণে, জেনে নিন
যুক্তরাষ্ট্রের সেরা কলেজ-ইউনিভার্সিটি কোনগুলো? প্রকাশ হলো ২০২৭ সালের তালিকা
এইচএসসির আগেই এমআইটিতে ভর্তি! বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ফায়েজের অনন্য যাত্রা
আইইএলটিএসে ৯ এ ৯ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইসা শাম্মা, জেনে নিন তার পরামর্শ
ভারতের বাবরি মসজিদের আদলে একই নামে মসজিদ হচ্ছে ঢাকার কেরানীগঞ্জে
মক্কা-মদিনায় হামলার চেষ্টা হলে বিশ্ব মুসলিম ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে: ধর্মমন্ত্রী
কাবা ছুঁতে না পেরে কাঁদছিল ছোট্ট হাফেজ, পরে ছুঁয়ে ফেলতেই চোখে পানি
আলহামদুলিল্লাহ, ইনশাআল্লাহ নাকি মাশাআল্লাহ? কোন সময়ে কোন ইসলামি শব্দ ব্যবহার করবেন
আজ ১২ রবিউল আউয়াল: সারা দেশে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের
জাতিসংঘের অধিবেশনে গাজায় পুনর্গঠনে ২৪০ কোটি ডলারের অনুদান প্রস্তাব
গাজায় ইসরায়েলি হা মলা থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরা মার্কিন চিকিৎসকের আবারও ফেরার ঘোষণা
স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের প্রতিশোধ নিতে তাঁবুতে আগুন দিলেন প্রথম স্ত্রী, প্রা ণ গেল ৫৭ জনের!
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
ভাতিজিকে নিজ হাতে খু ন করেছিলেন হিটলার, ছিল প্রেমের গুঞ্জন - নতুন তথ্যে বদলাচ্ছে ইতিহাস
গাজায় নিজেদের ড্রোনের বিস্ফোরণেই নিহত দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা
নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে এক টেবিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আমার পিএইচডি রিসার্চের টপিক ঠিক করে দিয়েছিলেন তারেক রহমান, বললেন শিক্ষামন্ত্রী
জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক, ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের
বেকারত্বের লাগাম টানতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির