সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ
নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে এক কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক স্পর্শ এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং ২০ বছর বয়সী এক তরুণী জড়িত। অভিযোগগুলোর তদন্তের পর পুলিশের স্পেশাল ভিকটিমস স্কোয়াড চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগের একটি ঘটনা চিকিৎসকের ফ্লাশিং এলাকার চেম্বারে ঘটেছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ১৫ বছর বয়সী রোগীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দিয়েছিলেন চিকিৎসক। এ সময় তিনি ওই কিশোরীকে তাঁর সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ, জোরপূর্বক স্পর্শ এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে দোষ প্রমাণিত হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ ভুক্তভোগী হয়ে থাকলে তাঁদেরও সামনে এসে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার বা অভিযোগ গঠন মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হন।  

৬ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্মকর্তাদের তথ্য ফাঁসের ঘটনায় নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সাইবার হামলায় মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ৪১ হাজারের বেশি কর্মীর তথ্য ফাঁস

যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের ৪১ হাজারের বেশি কর্মী ও ঠিকাদারের তথ্য অনলাইনে ফাঁস হয়েছে। ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই (আইসিই), সীমান্তরক্ষা সংস্থা সিবিপি এবং অন্যান্য নিরাপত্তা বিভাগের কর্মীদের পরিচয় ও দাপ্তরিক তথ্য রয়েছে। এসব তথ্যের মধ্যে নাম, কর্মস্থলের ঠিকানা, যোগাযোগের বিবরণ এবং দায়িত্বসংক্রান্ত তথ্য থাকার কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ নামে একটি গোষ্ঠী তথ্য সংগ্রহের দাবি করেছে। পরে তথ্যগুলো ‘আইসেপিক’ নামে একটি অনুসন্ধানযোগ্য তথ্যভান্ডারে প্রকাশ করা হয়। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।   তথ্য ফাঁসের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিষয়ে অবগত এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। দপ্তরের এক মুখপাত্র বলেছেন, কর্মী ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো নিরাপত্তা হুমকিকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং তাঁদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। তবে কীভাবে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ঠিক কতটা সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্তের ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাঁস হওয়া তথ্যের মধ্যে ২১ হাজারের বেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন বা সীমান্তরক্ষা সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ৬ হাজার ৬০০ জন কাজ করেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিইতে। এ ছাড়া হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস, ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস এবং সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থার কর্মীদের তথ্যও রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কিছু নথিতে গোপন অভিযান, নজরদারি এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্য থাকার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।   ‘ডিপার্টমেন্ট অব পিস’ দাবি করেছে, তারা কর্মীদের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় প্রবেশের জন্য ব্যবহৃত একক সাইন-অন সেবার মাধ্যমে তথ্য পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে ওকটা নামের একটি পরিচয় যাচাই ও প্রবেশাধিকার ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তবে রয়টার্স পুরো তথ্যভান্ডারের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি এবং তথ্য সংগ্রহের পদ্ধতি সম্পর্কেও সব দাবি যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ওকটার এক মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবস্থা বা তথ্যভান্ডার আক্রান্ত হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পায়নি। ফলে তথ্য ফাঁসের প্রকৃত উৎস ও প্রযুক্তিগত দুর্বলতা এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।   তথ্য প্রকাশের পেছনে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্য রয়েছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী। ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সিক্রেটস নামের একটি সংগঠন এবং সাইবার নিরাপত্তা গবেষক মাইয়া আর্সন ক্রিউ এই তথ্য অনলাইনে প্রকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনটির সহপ্রতিষ্ঠাতা এমা বেস্টের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকাশিত তথ্যের মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব ও গোপন কার্যক্রমের তদারকি সম্পর্কে অনুসন্ধান করা সম্ভব হবে। তবে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ, এ ধরনের তথ্য প্রকাশের ফলে কর্মকর্তারা ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারেন এবং চলমান তদন্ত বা গোপন অভিযান ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের খবর সামনে এসেছে। গত মাসে ‘শাইনিহান্টার্স’ নামে একটি গোষ্ঠী এফবিআইয়ের কর্মীদের তথ্য চুরির দাবি করেছিল। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তথ্য ফাঁসের ঘটনাও ঘটেছে। নতুন এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অভিবাসন অভিযান ও বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের পরিচয় ও কাজের তথ্য প্রকাশের ফলে নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।   সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স।

২৭ মিনিট Ago
রুশ ডিজেল আমদানিতে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পুতিন-ট্রাম্প সমঝোতার আওতায় রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে তিন ট্যাংকার, ক্ষুব্ধ ইউক্রেন

রাশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর এই চালান পাঠানো হচ্ছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ তিনটিতে মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। তবে জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এবং চালানের আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর এএফপি ও নিউজউইকের।   জাহাজ তিনটির নাম অ্যাজিওই ফানেনদেস, লেরুও ও তালিসম্যান। এগুলো ১৬ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর ছেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাজিওই ফানেনদেসের গন্তব্য হিসেবে প্রথমে নিউ ইয়র্কের নাম দেখা গেলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে ‘নির্দেশের অপেক্ষায়’ দেখানো হয়। ফলে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোথায় পণ্য খালাস করবে, তা নিশ্চিত নয়। অন্য দুই জাহাজের সম্ভাব্য গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিনটি জাহাজের মধ্যে লেরুও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তালিসমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার পেছনে রুশ পণ্য পরিবহন এবং জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি বন্ধ রাখা ও জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের মতো কর্মকাণ্ডের বিষয় উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে এবং মার্কিন অনুমোদন অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   ট্রাম্প ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম কমানো এবং মার্কিন কৃষক, খামারি ও পণ্য পরিবহন খাতকে স্বস্তি দেওয়া এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিকল্পনায় প্রথমে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চালান পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল আমদানির নির্দিষ্ট লেনদেনের অনুমতি দিয়ে ছয় মাসের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বাড়লে মস্কো আরও রাজস্ব পাবে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নীতিতে শিথিলতা আনায় কিয়েভ ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের অবস্থান, রুশ জ্বালানি থেকে আয় বন্ধ করে মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখা জরুরি।   সমঝোতাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। দুই দলের কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্পকে সমঝোতা প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিলে ক্রেমলিন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, অথচ মার্কিন ভোক্তারা জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত। ট্রাম্প সমালোচনার জবাবে বলেছেন, রুশ জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করলে বৈশ্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই চালান যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। জাহাজ তিনটির মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতের দৈনিক ব্যবহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে কেপলারের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে একাধিক জাহাজের চালান যুক্তরাষ্ট্রে এলেই বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রুশ ডিজেল অন্য ক্রেতাদের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে তা বাজারে নতুন জ্বালানি যোগ করার পরিবর্তে বিদ্যমান সরবরাহের গন্তব্য বদলে দিতে পারে।   সূত্র: এএফপি, নিউজউইক।

৪১ মিনিট Ago
২০২৬ সালের ওয়ালেটহাব গবেষণায় চাকরি খোঁজার জন্য পেনসিলভানিয়া নিচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য সবচেয়ে খারাপ অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় পেনসিলভানিয়া, বলছে গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার জন্য তৃতীয় সবচেয়ে খারাপ অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্থান পেয়েছে পেনসিলভানিয়া। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের ২০২৬ সালের নতুন গবেষণায় দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে এই অবস্থানে রয়েছে অঙ্গরাজ্যটি। চাকরির বাজারের অবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার, বেকারত্ব, আয় এবং কর্মক্ষেত্রের চাপসহ ৩০টিরও বেশি সূচক বিবেচনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৯ জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ থাকলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশের সূচকে পিছিয়ে পড়েছে পেনসিলভানিয়া।   ওয়ালেটহাবের তালিকায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে পশ্চিম ভার্জিনিয়া। এরপর রয়েছে ওরেগন, আর তৃতীয় অবস্থানে পেনসিলভানিয়া। ফ্লোরিডা চতুর্থ এবং লুইজিয়ানা পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, চাকরি খোঁজার জন্য সেরা অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে নেব্রাস্কা। দ্বিতীয় স্থানে নর্থ ডাকোটা এবং তৃতীয় স্থানে মিনেসোটা। এসব অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলক কম বেকারত্ব, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ এবং চাকরির বিভিন্ন সুবিধা তালিকায় ভালো অবস্থান পেতে ভূমিকা রেখেছে।   পেনসিলভানিয়ার অবস্থান নিচের দিকে থাকার পেছনে অঙ্গরাজ্যটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ওয়ালেটহাব। গবেষণায় পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়, নতুন চাকরিতে গড় প্রারম্ভিক বেতন এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের সময়ের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে পেনসিলভানিয়ার মধ্যম আয় কখনো জাতীয় গড়ের নিচে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ওপরে রয়েছে। ফলে শুধু একটি আয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না।   তবে বেকারত্বের হারের ক্ষেত্রে পেনসিলভানিয়া জাতীয় গড়ের কাছাকাছি রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে ফক্স ২৯ জানিয়েছে। অর্থাৎ, অঙ্গরাজ্যটির নিচের দিকের অবস্থান কেবল বেকার মানুষের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। চাকরির সুযোগ কতটা সহজলভ্য, নতুন কর্মসংস্থান কত দ্রুত বাড়ছে, বেতন ও অন্যান্য সুবিধা কেমন এবং কর্মীদের যাতায়াতে কত সময় ব্যয় হয়, এসব বিষয়ও সামগ্রিক র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলেছে।   এ বছরের শুরুতে পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ শহরকে চাকরি খোঁজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ভালো শহর হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল ওয়ালেটহাব। শহরটিতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক ভালো হলেও পুরো অঙ্গরাজ্যের অবস্থান তাতে খুব বেশি বদলায়নি। কারণ, একটি শহরের চাকরির বাজারের সঙ্গে পুরো অঙ্গরাজ্যের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এক নয়। শহরভেদে চাকরির ধরন, বেতন, যাতায়াতের সুবিধা এবং নিয়োগের চাহিদায় পার্থক্য থাকতে পারে।   ওয়ালেটহাবের এই তালিকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তুলনা করার একটি উপায়। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনার সরাসরি পরিমাপ নয়। কারও দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কোন খাতে কাজ খুঁজছেন, তার ওপর বাস্তবে চাকরি পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই নির্ভর করে।   তথ্যসূত্র: ফক্স ২৯ ফিলাডেলফিয়া, ওয়ালেটহাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।

৫৮ মিনিট Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে তরুণরা, বড় কারণ এআই ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে এমবিএ প্রোগ্রামে পড়াশোনার আগ্রহ চরমভাবে হারাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। গ্র্যাজুয়েট ম্যানেজমেন্ট অ্যাডমিশন কাউন্সিলের (জিম্যাক) সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে শুরু হতে যাওয়া ২০২৮ ব্যাচের ফুল-টাইম এমবিএ প্রোগ্রামগুলোতে গত বছরের তুলনায় আবেদনের হার প্রায় ২৭ শতাংশ কমে গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের এই নিম্নমুখী চিত্রটি বৈশ্বিক প্রবণতাকেও ছাড়িয়ে গেছে, যেখানে বিশ্বব্যাপী এমবিএ আবেদনের হার কমেছে ১৩ শতাংশ। তবে যেসব নামিদামি ও অত্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে ভর্তির হার ৪০ শতাংশের নিচে, সেখানে আবেদন কমেছে মাত্র ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, যেসব প্রতিষ্ঠানে সহজে ভর্তি হওয়া যায় (ভর্তির হার ৮৫ শতাংশের ওপরে), সেখানে আবেদনের হার ২১ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা এই ধসের পেছনে ভিসা নীতির পরিবর্তন ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মতো বিভিন্ন কারণ উল্লেখ করলেও, জরিপে অংশ নেওয়া ৯০ শতাংশ বিজনেস প্রোগ্রামই মূলত অর্থনৈতিক পরিবর্তনকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ফোরচুন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দার আশঙ্কা, কর্মী ছাঁটাই এবং চাকরির বাজারের অস্থিতিশীলতার কারণে তরুণরা এমবিএ করার ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।   আগে অর্থনৈতিক সংকটের সময় মানুষ নিজেদের পেশাগত সম্ভাবনা বাড়াতে এমবিএ-র দিকে ঝুঁকলেও, এখন সেই ধারণা পাল্টেছে। জিম্যাকের করপোরেট রিক্রুটার্স সার্ভে বলছে, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নিয়োগকর্তা এখন এন্ট্রি-লেভেলের বা প্রারম্ভিক পর্যায়ের কাজগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে প্রতিস্থাপন করছেন, যা নতুন প্রজন্মের (জেন-জি) মধ্যে চাকরি প্রাপ্তি নিয়ে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বা 'এম৭' বিজনেস স্কুলগুলোর (যেমন- হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, কলম্বিয়া, ওয়ারটন ইত্যাদি) ২০২৫ সালের স্নাতকদের প্রায় ৯০ শতাংশই চাকরি পেয়েছেন, যাদের মধ্যম বেস স্যালারি অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার ডলার। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানে এমবিএ করতে কখনো কখনো ৩ লাখ ডলারেরও বেশি টিউশন ফি গুনতে হয়, যা শিক্ষার্থীদের মনে প্রশ্ন তুলছে যে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা আসলেই কতটা যৌক্তিক।   জিম্যাকের প্রধান নির্বাহী জয় জোনস ফোরচুনকে জানান, জেন-জি প্রজন্ম এখন শুধু উচ্চ বেতনের চাকরি চায় না; তারা এমন একটি পেশা চায় যা দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল, নমনীয় এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক। তাই এমবিএ প্রোগ্রামগুলোকে এখন পুনরায় শিক্ষার্থীদের আস্থা অর্জন করতে হলে পড়াশোনার প্রকৃত আর্থিক ও পেশাগত মূল্য বা 'রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট' আগে থেকেই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করতে হবে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ১৬:১৮
নিউ ইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনতে সরকারি সহায়তা, যা বললেন রিয়েলটর মোহাম্মদ হাসেম

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সহায়তা ও বিশেষ কর্মসূচি রয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির আওতায় কী ধরনের সুবিধা পাওয়া যাবে, কারা যোগ্য হবেন এবং কী শর্তে বাড়ি কেনা সম্ভব—তা নিয়ে আগ্রহী ক্রেতাদের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। প্রথমবার বাড়ি কিনতে সরকারি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ ও এর বাস্তব দিকগুলো নিয়ে কথা বলেছেন নিউইয়র্কের রিয়েলটর মোহাম্মদ হাসেম।   হাসেমের মতে, প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য কিছু সরকারি কর্মসূচি থাকলেও এসব সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। ক্রেতার আয়, ঋণ গ্রহণের যোগ্যতা, বাড়ির অবস্থান এবং বাড়ির দামের ওপর নির্ভর করে তিনি কোন কর্মসূচির আওতায় আসবেন, তা নির্ধারিত হতে পারে। কিছু কর্মসূচিতে বাড়ি কেনার প্রাথমিক খরচ বা ডাউন পেমেন্টের জন্যও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   তবে সরকারি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা থাকলেই যে ক্রেতা নিজের পছন্দের যেকোনো বাড়ি সহজে কিনতে পারবেন, বিষয়টি এমন নয় বলে মনে করেন এই রিয়েলটর। তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একজন সম্ভাব্য ক্রেতা তাঁকে জানিয়েছিলেন, সরকারি কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ সহায়তা পাবেন। পরে বিষয়টি বিস্তারিত আলোচনা করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই সহায়তার আওতায় বাড়ি কেনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু শর্ত ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। ফলে শুধু সহায়তার অর্থের পরিমাণ জানলেই হবে না, কোথায় এবং কীভাবে সেই অর্থ ব্যবহার করা যাবে, সেটিও আগে বুঝে নেওয়া জরুরি।   হাসেম আরও বলেন, যেসব এলাকায় বাড়ির দাম তুলনামূলক কম এবং ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা কম, সেখানে কিছু সরকারি সহায়তা কর্মসূচি কাজে লাগানোর সুযোগ বেশি হতে পারে। অন্যদিকে, জনপ্রিয় এলাকায় কোনো বাড়ির জন্য একাধিক ক্রেতা প্রস্তাব দিলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। বিশেষ করে যেসব বিক্রেতা দ্রুত বাড়ি বিক্রি করতে চান, তাঁরা কখনো কখনো দীর্ঘ ঋণপ্রক্রিয়ার পরিবর্তে দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন প্রস্তাবকে গুরুত্ব দিতে পারেন। তবে এটি সব সরকারি কর্মসূচি বা সব বিক্রেতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের উদ্দেশে মোহাম্মদ হাসেমের পরামর্শ, সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভর করে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। কোনো কোনো কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ বা শিক্ষামূলক কোর্স সম্পন্ন করার শর্তও থাকতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা বা অনুমোদিত ঋণদাতার সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের যোগ্যতা, সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ এবং বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য বিধিনিষেধ জেনে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।   নিউ ইয়র্কে যারা বাড়ি কিনতে আগ্রহী, তারা লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিয়েলটর মোহাম্মদ এ. হাসেমের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। বাড়ি কেনার বিষয়ে পরামর্শ ও সহযোগিতার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের ফোন নম্বর: ৩৪৭-৯০২-৮০৬৩। সব মিলিয়ে, প্রথমবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে সরকারি সহায়তা অনেকের জন্য একটি সম্ভাব্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে হলে আগে থেকেই পরিকল্পনা, সঠিক তথ্য যাচাই এবং নিজের আর্থিক যোগ্যতা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি ছেড়ে ডিজিটাল ব্যবসায় মাসে ১০ হাজার ডলার আয়, সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে যে তিন বই

যুক্তরাষ্ট্রের ৩৬ বছর বয়সী উদ্যোক্তা ও দুই সন্তানের মা র‍্যাচেল জিমেনেজ মাসে ১০ হাজার ডলার বা তার বেশি প্যাসিভ আয় করেন বলে জানিয়েছেন। একসময় উচ্চশিক্ষা প্রশাসনে পূর্ণকালীন চাকরি করতেন তিনি। চার বছর আগে সেই চাকরি ছেড়ে অনলাইন বাজার ইটসিতে ডিজিটাল পণ্য বিক্রি শুরু করেন। বর্তমানে তাঁর আয়ের চারটি উৎস রয়েছে। নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, অর্থ সম্পর্কে চিন্তাভাবনা বদলানো, নিয়মিত সঞ্চয় ও বিনিয়োগ এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী জীবন গড়ার ধারণা পেতে তিনটি বই তাঁকে বিশেষভাবে সাহায্য করেছে। তাঁর এই অভিজ্ঞতা প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসির ‘মেক ইট’ বিভাগ।   জিমেনেজের উল্লেখ করা প্রথম বইটি হলো মারিলি অ্যাডামসের ‘চেঞ্জ ইওর কোয়েশ্চনস, চেঞ্জ ইওর লাইফ’। বইটিতে নিজের সঙ্গে কথা বলার ধরন এবং প্রশ্ন করার পদ্ধতি কীভাবে সিদ্ধান্ত ও কাজের ফলাফলে প্রভাব ফেলে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখকের ধারণা অনুযায়ী, নিজের ভুল নিয়ে শুধু দোষারোপ না করে সমস্যা থেকে কী শেখা যায়, সেই প্রশ্ন করা বেশি কার্যকর। জিমেনেজ বলেন, ব্যবসা শুরু করার সময় সফল হতে পারবেন কি না, তা নিয়ে তাঁর সন্দেহ ছিল। কিন্তু নিজেকে নিরুৎসাহিত করার পরিবর্তে কীভাবে এগোনো যায়, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। এতে কাজগুলো ছোট ধাপে ভাগ করে এগিয়ে যাওয়ার মানসিকতা তৈরি হয়।   দ্বিতীয় বই জে এল কলিন্সের ‘দ্য সিম্পল পাথ টু ওয়েলথ’। ব্যক্তিগত অর্থ ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ নিয়ে লেখা এই বইয়ে আয় অনুযায়ী খরচ করা, ঋণ এড়িয়ে চলা এবং বাড়তি অর্থ বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বইটির পরামর্শ অনুসরণ করে জিমেনেজ ও তাঁর স্বামী বাজেট তৈরি করেন এবং ২০১৫ সালে নিজেদের আয়ের ৫০ শতাংশ সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন বলে তিনি জানিয়েছেন। তাঁরা কম খরচের সূচকভিত্তিক তহবিলে নিয়মিত বিনিয়োগ করেছেন, জটিল কৌশল বা বাজারের ওঠানামা অনুমান করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেননি। জিমেনেজের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় তাঁদের এমন আর্থিক ভিত্তি গড়ে তুলতে সাহায্য করেছে, যার কারণে এখন তাঁরা তুলনামূলক কম বেতনের হলেও পছন্দের কাজ বেছে নিতে পারেন।   তৃতীয় বই বিল বার্নেট ও ডেভ ইভান্সের ‘ডিজাইনিং ইয়োর লাইফ: হাউ টু বিল্ড আ ওয়েল-লিভড, জয়ফুল লাইফ’। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নকশাভিত্তিক চিন্তাপদ্ধতি থেকে অনুপ্রাণিত এই বইয়ে জীবনের জন্য নিখুঁত পরিকল্পনার অপেক্ষা না করে বিভিন্ন পথ পরীক্ষা করে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জিমেনেজ জানান, দ্বিতীয় সন্তান জন্মের পর ২০২০ সালে পূর্ণকালীন অফিসের চাকরিতে ফেরার চিন্তা তাঁকে উদ্বিগ্ন করছিল। বইটির অনুশীলন তাঁকে নিজের দক্ষতা ও আগ্রহের সঙ্গে মানানসই কাজ খুঁজতে সাহায্য করে। তিনি বুঝতে পারেন, দীর্ঘ বৈঠকের চেয়ে প্রকল্পভিত্তিক সৃজনশীল কাজ তাঁর কাছে বেশি স্বস্তিদায়ক।   তবে প্যাসিভ আয় শুরু করার পর জিমেনেজ উপলব্ধি করেন, শুধু অর্থ উপার্জনই তাঁর সন্তুষ্টির একমাত্র উৎস নয়। কর্মক্ষেত্রে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের অভাবও তিনি অনুভব করছিলেন। পরে নিজের কাজের ধরন নিয়ে নতুন করে ভাবতে গিয়ে শিক্ষকতা ও লেখালেখির মতো কাজ বেছে নেন, যেখানে সৃজনশীল প্রকল্পের পাশাপাশি অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও রয়েছে। তাঁর অভিজ্ঞতায়, জীবনের লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত সংশোধন করাও গুরুত্বপূর্ণ।   জিমেনেজের গল্পে তিনটি বইয়ের মূল শিক্ষা হলো, নিজের চিন্তাভাবনা বদলে সমস্যার সমাধান খোঁজা, আয়ের তুলনায় কম খরচ করে সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করা এবং নিজের দক্ষতা ও পছন্দ অনুযায়ী জীবন গড়ে তোলা। তবে তাঁর মাসিক আয়ের অভিজ্ঞতা সবার ক্ষেত্রে একই ফল দেবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ডিজিটাল পণ্য বিক্রির ব্যবসায় আয় নির্ভর করতে পারে পণ্যের চাহিদা, বিক্রির পরিমাণ, প্রতিযোগিতা, প্ল্যাটফর্মের খরচ এবং ব্যবসা গড়ে তুলতে দেওয়া সময়ের ওপর।   তথ্যসূত্র: সিএনবিসি মেক ইট, র‍্যাচেল জিমেনেজের ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট ‘মানি হ্যাকিং মামা’।

৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফ
নিউইয়র্কে কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নে বাংলাদেশি শিশু চিকিৎসক গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের কুইন্সে এক কিশোরী রোগীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী শিশু চিকিৎসক ডা. ফজল ইউসুফকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর গ্রেপ্তারের পর তাঁর বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন, জোরপূর্বক স্পর্শ এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী এবং ২০ বছর বয়সী এক তরুণী জড়িত। অভিযোগগুলোর তদন্তের পর পুলিশের স্পেশাল ভিকটিমস স্কোয়াড চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযোগের একটি ঘটনা চিকিৎসকের ফ্লাশিং এলাকার চেম্বারে ঘটেছে। প্রসিকিউটরদের দাবি, ১৫ বছর বয়সী রোগীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাত দিয়েছিলেন চিকিৎসক। এ সময় তিনি ওই কিশোরীকে তাঁর সৌন্দর্য নিয়ে মন্তব্য করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির যৌন নিপীড়নের দুটি অভিযোগ, জোরপূর্বক স্পর্শ এবং শিশুর কল্যাণ বিপন্ন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতে দোষ প্রমাণিত হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় অন্য কেউ ভুক্তভোগী হয়ে থাকলে তাঁদেরও সামনে এসে অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য অন্য ভুক্তভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করছে কর্তৃপক্ষ। যুক্তরাষ্ট্রে ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার বা অভিযোগ গঠন মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তি আইনত নির্দোষ বলে বিবেচিত হন।  

২০২৬ সালের ওয়ালেটহাব গবেষণায় চাকরি খোঁজার জন্য পেনসিলভানিয়া নিচের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির জন্য সবচেয়ে খারাপ অঙ্গরাজ্যগুলোর তালিকায় পেনসিলভানিয়া, বলছে গবেষণা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খোঁজার জন্য তৃতীয় সবচেয়ে খারাপ অঙ্গরাজ্য হিসেবে স্থান পেয়েছে পেনসিলভানিয়া। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ালেটহাবের ২০২৬ সালের নতুন গবেষণায় দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যের মধ্যে এই অবস্থানে রয়েছে অঙ্গরাজ্যটি। চাকরির বাজারের অবস্থা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির হার, বেকারত্ব, আয় এবং কর্মক্ষেত্রের চাপসহ ৩০টিরও বেশি সূচক বিবেচনা করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৯ জানিয়েছে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরির সুযোগ থাকলেও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশের সূচকে পিছিয়ে পড়েছে পেনসিলভানিয়া।   ওয়ালেটহাবের তালিকায় চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে পশ্চিম ভার্জিনিয়া। এরপর রয়েছে ওরেগন, আর তৃতীয় অবস্থানে পেনসিলভানিয়া। ফ্লোরিডা চতুর্থ এবং লুইজিয়ানা পঞ্চম স্থানে রয়েছে। অন্যদিকে, চাকরি খোঁজার জন্য সেরা অঙ্গরাজ্য হিসেবে শীর্ষে রয়েছে নেব্রাস্কা। দ্বিতীয় স্থানে নর্থ ডাকোটা এবং তৃতীয় স্থানে মিনেসোটা। এসব অঙ্গরাজ্যে তুলনামূলক কম বেকারত্ব, কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুযোগ এবং চাকরির বিভিন্ন সুবিধা তালিকায় ভালো অবস্থান পেতে ভূমিকা রেখেছে।   পেনসিলভানিয়ার অবস্থান নিচের দিকে থাকার পেছনে অঙ্গরাজ্যটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখিয়েছে ওয়ালেটহাব। গবেষণায় পরিবারের মধ্যম বার্ষিক আয়, নতুন চাকরিতে গড় প্রারম্ভিক বেতন এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের সময়ের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে পেনসিলভানিয়ার মধ্যম আয় কখনো জাতীয় গড়ের নিচে, আবার কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ওপরে রয়েছে। ফলে শুধু একটি আয়ের পরিসংখ্যান দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি বোঝা যায় না।   তবে বেকারত্বের হারের ক্ষেত্রে পেনসিলভানিয়া জাতীয় গড়ের কাছাকাছি রয়েছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে ফক্স ২৯ জানিয়েছে। অর্থাৎ, অঙ্গরাজ্যটির নিচের দিকের অবস্থান কেবল বেকার মানুষের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। চাকরির সুযোগ কতটা সহজলভ্য, নতুন কর্মসংস্থান কত দ্রুত বাড়ছে, বেতন ও অন্যান্য সুবিধা কেমন এবং কর্মীদের যাতায়াতে কত সময় ব্যয় হয়, এসব বিষয়ও সামগ্রিক র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রভাব ফেলেছে।   এ বছরের শুরুতে পেনসিলভানিয়ার পিটসবার্গ শহরকে চাকরি খোঁজার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ভালো শহর হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল ওয়ালেটহাব। শহরটিতে চাকরির সুযোগ তুলনামূলক ভালো হলেও পুরো অঙ্গরাজ্যের অবস্থান তাতে খুব বেশি বদলায়নি। কারণ, একটি শহরের চাকরির বাজারের সঙ্গে পুরো অঙ্গরাজ্যের কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এক নয়। শহরভেদে চাকরির ধরন, বেতন, যাতায়াতের সুবিধা এবং নিয়োগের চাহিদায় পার্থক্য থাকতে পারে।   ওয়ালেটহাবের এই তালিকা চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি তুলনা করার একটি উপায়। তবে এটি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনার সরাসরি পরিমাপ নয়। কারও দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং কোন খাতে কাজ খুঁজছেন, তার ওপর বাস্তবে চাকরি পাওয়ার সুযোগ অনেকটাই নির্ভর করে।   তথ্যসূত্র: ফক্স ২৯ ফিলাডেলফিয়া, ওয়ালেটহাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।

রুশ ডিজেল আমদানিতে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পুতিন-ট্রাম্প সমঝোতার আওতায় রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে তিন ট্যাংকার, ক্ষুব্ধ ইউক্রেন

রাশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর এই চালান পাঠানো হচ্ছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ তিনটিতে মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। তবে জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এবং চালানের আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর এএফপি ও নিউজউইকের।   জাহাজ তিনটির নাম অ্যাজিওই ফানেনদেস, লেরুও ও তালিসম্যান। এগুলো ১৬ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর ছেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাজিওই ফানেনদেসের গন্তব্য হিসেবে প্রথমে নিউ ইয়র্কের নাম দেখা গেলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে ‘নির্দেশের অপেক্ষায়’ দেখানো হয়। ফলে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোথায় পণ্য খালাস করবে, তা নিশ্চিত নয়। অন্য দুই জাহাজের সম্ভাব্য গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিনটি জাহাজের মধ্যে লেরুও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তালিসমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার পেছনে রুশ পণ্য পরিবহন এবং জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি বন্ধ রাখা ও জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের মতো কর্মকাণ্ডের বিষয় উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে এবং মার্কিন অনুমোদন অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   ট্রাম্প ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম কমানো এবং মার্কিন কৃষক, খামারি ও পণ্য পরিবহন খাতকে স্বস্তি দেওয়া এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিকল্পনায় প্রথমে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চালান পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল আমদানির নির্দিষ্ট লেনদেনের অনুমতি দিয়ে ছয় মাসের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বাড়লে মস্কো আরও রাজস্ব পাবে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নীতিতে শিথিলতা আনায় কিয়েভ ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের অবস্থান, রুশ জ্বালানি থেকে আয় বন্ধ করে মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখা জরুরি।   সমঝোতাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। দুই দলের কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্পকে সমঝোতা প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিলে ক্রেমলিন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, অথচ মার্কিন ভোক্তারা জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত। ট্রাম্প সমালোচনার জবাবে বলেছেন, রুশ জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করলে বৈশ্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই চালান যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। জাহাজ তিনটির মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতের দৈনিক ব্যবহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে কেপলারের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে একাধিক জাহাজের চালান যুক্তরাষ্ট্রে এলেই বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রুশ ডিজেল অন্য ক্রেতাদের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে তা বাজারে নতুন জ্বালানি যোগ করার পরিবর্তে বিদ্যমান সরবরাহের গন্তব্য বদলে দিতে পারে।   সূত্র: এএফপি, নিউজউইক।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
রুশ ডিজেল আমদানিতে ট্রাম্প-পুতিন সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
পুতিন-ট্রাম্প সমঝোতার আওতায় রুশ ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে তিন ট্যাংকার, ক্ষুব্ধ ইউক্রেন
প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ২৩:২৯

রাশিয়া থেকে ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে সমঝোতার পর এই চালান পাঠানো হচ্ছে। সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ তিনটিতে মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১১ নভেম্বরের মধ্যে এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে পারে। তবে জাহাজগুলোর চূড়ান্ত গন্তব্য এবং চালানের আইনি অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। খবর এএফপি ও নিউজউইকের।   জাহাজ তিনটির নাম অ্যাজিওই ফানেনদেস, লেরুও ও তালিসম্যান। এগুলো ১৬ থেকে ২২ অক্টোবরের মধ্যে রাশিয়ার বাল্টিক সাগর তীরবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর ছেড়েছে। কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাজিওই ফানেনদেসের গন্তব্য হিসেবে প্রথমে নিউ ইয়র্কের নাম দেখা গেলেও পরে সেটি পরিবর্তন করে ‘নির্দেশের অপেক্ষায়’ দেখানো হয়। ফলে জাহাজটি শেষ পর্যন্ত কোথায় পণ্য খালাস করবে, তা নিশ্চিত নয়। অন্য দুই জাহাজের সম্ভাব্য গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টিক উপকূল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   তিনটি জাহাজের মধ্যে লেরুও যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তালিসমানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞার পেছনে রুশ পণ্য পরিবহন এবং জাহাজের অবস্থান শনাক্ত করার প্রযুক্তি বন্ধ রাখা ও জাহাজ থেকে জাহাজে পণ্য স্থানান্তরের মতো কর্মকাণ্ডের বিষয় উঠে এসেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে এই চালান পাঠানোর ক্ষেত্রে কোন বিধান প্রযোজ্য হবে এবং মার্কিন অনুমোদন অন্য পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   ট্রাম্প ৯ অক্টোবর পুতিনের সঙ্গে আলোচনার পর রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহের সমঝোতার কথা জানান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম কমানো এবং মার্কিন কৃষক, খামারি ও পণ্য পরিবহন খাতকে স্বস্তি দেওয়া এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। পরিকল্পনায় প্রথমে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হয়েছিল। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত চালান পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় রুশ ডিজেল আমদানির নির্দিষ্ট লেনদেনের অনুমতি দিয়ে ছয় মাসের একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সমঝোতার সমালোচনা করেছেন। তাঁর আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির সুযোগ বাড়লে মস্কো আরও রাজস্ব পাবে, যা ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে রাশিয়ার সক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র রুশ জ্বালানি আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল। সেই নীতিতে শিথিলতা আনায় কিয়েভ ও তার মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনের অবস্থান, রুশ জ্বালানি থেকে আয় বন্ধ করে মস্কোর ওপর চাপ বজায় রাখা জরুরি।   সমঝোতাটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা প্রশ্ন তুলেছেন, এই পদক্ষেপ মার্কিন আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না। দুই দলের কয়েকজন সিনেটর ট্রাম্পকে সমঝোতা প্রত্যাহারের আহ্বানও জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, রুশ জ্বালানি বিক্রির অনুমতি দিলে ক্রেমলিন আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারে, অথচ মার্কিন ভোক্তারা জ্বালানির দামে উল্লেখযোগ্য স্বস্তি পাবেন কি না, তা অনিশ্চিত। ট্রাম্প সমালোচনার জবাবে বলেছেন, রুশ জ্বালানি সরবরাহ সীমিত করলে বৈশ্বিক বাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই চালান যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের দাম কতটা কমাতে পারবে, তা এখনই বলা কঠিন। জাহাজ তিনটির মোট ৯ লাখ ২৪ হাজার ব্যারেল ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন খাতের দৈনিক ব্যবহারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমান বলে কেপলারের হিসাব উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তবে একাধিক জাহাজের চালান যুক্তরাষ্ট্রে এলেই বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়বে, এমন নিশ্চয়তা নেই। রুশ ডিজেল অন্য ক্রেতাদের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হলে তা বাজারে নতুন জ্বালানি যোগ করার পরিবর্তে বিদ্যমান সরবরাহের গন্তব্য বদলে দিতে পারে।   সূত্র: এএফপি, নিউজউইক।

আর্জেন্টিনার কিলমেস শহরে গাছ থেকে অ্যাভোকাডো পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার পর ১২ দিনের নবজাতক লুকাস গোমেজের মৃত্যু হয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
মায়ের কোলে থাকা নবজাতকের মাথায় অ্যাভোকাডো পড়ে মৃত্যু, কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ
প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ২২:৫৬

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস প্রদেশের কিলমেস শহরে গাছ থেকে ঝরে পড়া অ্যাভোকাডোর আঘাতে ১২ দিনের এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শিশুটির নাম লুকাস সেবাস্তিয়ান গোমেজ। গত ২২ অক্টোবর একটি শিশুশিক্ষাকেন্দ্রের সামনে মায়ের কোলে থাকা অবস্থায় তার মাথায় ফলটি পড়ে। গুরুতর আঘাত নিয়ে কয়েক দিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ঘিরে গাছটির রক্ষণাবেক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার সকালে মা জুলিয়ানা গোমেজ তাঁর পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে কিলমেসের ৯৪৯ নম্বর শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে যান। এ সময় ১২ দিনের লুকাস ছিলেন তাঁর কোলে। শিক্ষাকেন্দ্রটির প্রবেশপথের কাছে থাকা একটি গাছ থেকে এক কেজির বেশি ওজনের অ্যাভোকাডোটি প্রায় ১০ মিটার ওপর থেকে পড়ে শিশুটির মাথায় আঘাত করে। এতে তার মাথার খুলিতে একাধিক হাড় ভেঙে যায় এবং গুরুতর শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।   ঘটনার পর আশপাশের অভিভাবক ও শিক্ষাকেন্দ্রের কর্মীরা মা ও শিশুটিকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, জরুরি চিকিৎসাসেবা পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় শিশুটির বাবা তাঁকে গাড়িতে করে কিলমেসের সানাতোরিও দে লা ত্রিনিদাদ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে লুকাসের অস্ত্রোপচার করা হয় এবং তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। চিকিৎসকদের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও কয়েক দিন পর শিশুটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পরিবারটি গভীর শোকের পাশাপাশি জরুরি সেবার সাড়া দেওয়ার সময় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।   লুকাসের মা ও পরিবারের অন্য সদস্যদের অভিযোগ, শিক্ষাকেন্দ্রটির সামনে থাকা গাছটি নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। তাঁদের দাবি, ফল পড়ে পথচারী ও শিশুদের আহত হওয়ার আশঙ্কায় গাছের ডাল ছাঁটা বা গাছটি সরানোর জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন করা হয়েছিল। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এজেন্সিয়া নোতিসিয়াস আর্জেন্তিনাস জানিয়েছে, শিক্ষাকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ২০২৫ সালের ৮ আগস্ট গাছটি সরানোর আবেদন করেছিল। পরিবারের অভিযোগ, সেই আবেদনের পরও দুর্ঘটনার আগে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।   পরিবারের সদস্যদের আরও দাবি, শিশুটির মৃত্যুর পর গাছটির ডাল ছাঁটা হয়। তবে পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য সম্পর্কে দ্য সান জানিয়েছে, গাছটি সুস্থ অবস্থায় ছিল এবং ফলটি স্বাভাবিকভাবেই ঝরে পড়েছিল। ফলে গাছটির অবস্থা, আগের আবেদন এবং রক্ষণাবেক্ষণে কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। পরিবারের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   ঘটনাটি তদন্ত করছে কিলমেসের বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে আঘাতজনিত ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও শিশুটির মৃত্যুর পর মামলাটি অবহেলাজনিত মৃত্যুর ধারায় নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তদন্তের অংশ হিসেবে শিশুটির চিকিৎসার নথি সংগ্রহ এবং ময়নাতদন্তের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তদন্তে গাছের রক্ষণাবেক্ষণ, আগের অভিযোগের নথি এবং দুর্ঘটনার পর জরুরি সেবা পৌঁছানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।   তথ্যসূত্র: আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম এজেন্সিয়া নোতিসিয়াস আর্জেন্তিনাস, লা নাসিওন ও যুক্তরাজ্যের দ্য সান।

মালিকের হাঁটার ধরন নকল করছে বিলি
মালিকের মতোই খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করল কুকুর, চিকিৎসায় ৪০০ ডলার খরচের পর মিলল মজার ব্যাখ্যা
প্রকাশ: অক্টোবর ২৮, ২০২৬ ৫:১৩

ব্রিটেনের এক ব্যক্তির পায়ে চোট লাগার পর তাঁর পোষা কুকুরও খুঁড়িয়ে হাঁটতে শুরু করে। প্রিয় পোষা প্রাণীটির এমন আচরণ দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান মালিক। কুকুরটির পায়ে কোনো সমস্যা হয়েছে কি না, তা জানতে পশুচিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান তিনি। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এক্স-রে করাতে খরচ হয় প্রায় ৪০০ ডলার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত যে ব্যাখ্যা সামনে আসে, তা অবাক করার পাশাপাশি অনেকের মুখে হাসিও ফুটিয়েছে।   ঘটনাটি যুক্তরাজ্যের বাসিন্দা রাসেল জোনস ও তাঁর পোষা কুকুর বিলিকে ঘিরে। ২০২১ সালে তাঁদের এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কুকুরের আচরণ নিয়ে মানুষের মধ্যে তৈরি হয় ব্যাপক কৌতূহল। ঘটনার শুরু রাসেলের গোড়ালিতে চোট পাওয়ার পর। হাঁটাচলা করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবে পা ফেলতে পারছিলেন না তিনি। চলাফেরার জন্য ক্রাচের সাহায্য নিতে হচ্ছিল তাঁকে। চোটের কারণে রাসেল যখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছিলেন, তখন তাঁর পোষা কুকুর বিলিও সামনের একটি পা তুলে হাঁটতে শুরু করে। মালিকের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বিলির এই অস্বাভাবিক হাঁটার ধরন দেখে মনে হচ্ছিল, কুকুরটিরও বুঝি পায়ে ব্যথা হয়েছে। প্রথম দিকে বিষয়টি রাসেলের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রিয় কুকুরটির পায়ে সত্যিই কোনো আঘাত লেগেছে কি না, তা নিশ্চিত হতে তিনি পশুচিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিলির শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার পাশাপাশি এক্স-রেও করানো হয়। সব মিলিয়ে রাসেলের খরচ হয় প্রায় ৪০০ ডলার। কিন্তু পরীক্ষায় বিলির খুঁড়িয়ে হাঁটার পেছনে কোনো স্পষ্ট শারীরিক সমস্যা খুঁজে পাননি চিকিৎসকেরা। এরপর তাঁরা ধারণা দেন, বিলি হয়তো তার মালিকের হাঁটার ধরন অনুকরণ করছে। এই ধারণার পেছনে আরেকটি মজার বিষয় ছিল। বাড়িতে খেলাধুলা করার সময় বিলিকে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে দেখা যেত বলে জানা যায়। অথচ মালিকের পাশে হাঁটার সময়ই তার খুঁড়িয়ে চলার বিষয়টি বেশি চোখে পড়ত। ফলে কুকুরটির আচরণ নিয়ে চিকিৎসকদের ধারণাটি আরও আলোচনার জন্ম দেয়। তবে বিলি ঠিক কী কারণে এমন করছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। সে সচেতনভাবে মালিকের হাঁটার ভঙ্গি নকল করছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে এমন আচরণ করছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। চিকিৎসকদের ধারণাটি ছিল মূলত তার শারীরিক পরীক্ষার ফলাফল ও আচরণ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে। ২০২১ সালে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই বিলির আচরণকে মালিকের প্রতি মমতা ও সঙ্গ দেওয়ার একটি মজার উদাহরণ হিসেবে দেখেন। পোষা কুকুরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কতটা গভীর হতে পারে, তা নিয়েও শুরু হয় আলোচনা। কুকুর মানুষের আচরণ ও চলাফেরার ধরন অনুকরণ করতে পারে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে এমন আচরণের পেছনে একই কারণ থাকে না। বিলির গল্পও তাই একদিকে যেমন হাস্যরসের, অন্যদিকে তেমনি মানুষ ও পোষা প্রাণীর সম্পর্ক নিয়ে ভাবার মতো একটি ঘটনা। রাসেলের প্রায় ৪০০ ডলার খরচের এই অভিজ্ঞতা শেষ পর্যন্ত শুধু কুকুরের চিকিৎসার গল্প হয়ে থাকেনি। বরং মালিকের পাশে খুঁড়িয়ে হাঁটা বিলি হয়ে উঠেছে মানুষ ও তার পোষা প্রাণীর বন্ধনের এক স্মরণীয় উদাহরণ।

ভারতের উত্তর প্রদেশের ঝাঁসির একটি হোটেলে নববধূ মুসকানের মৃত্যুর ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে পুলিশ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
হোটেলের দরজায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে নববধূর মৃত্যু, স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ
প্রকাশ: অক্টোবর ২৬, ২০২৬ ২০:২৬

উত্তর প্রদেশের ঝাঁসিতে একটি হোটেলের কক্ষের দরজায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে এক নববধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আসার পর মৃত্যুর পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মুসকান নামের ওই নারীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তাঁর বাবা স্বামী নিলেশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ তুলেছেন। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস। ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।   ঘটনাটি ঘটে ঝাঁসির ঋষভ হোটেলে। ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতির সময় এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হোটেলের এক কর্মী ও স্বামীর সঙ্গে কক্ষের দিকে যাচ্ছিলেন মুসকান। তাঁর স্বামী ও ওই কর্মী কক্ষে প্রবেশ করার পর দরজার কাছে পৌঁছেই হঠাৎ মেঝেতে পড়ে যান তিনি। পরে স্বামী তাঁকে তুলে কক্ষের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর হোটেলকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।   মুসকানের বাবা রামজি লাল আহিরওয়ার অভিযোগ, মেয়ের মৃত্যুর পেছনে স্বামীর ভূমিকা থাকতে পারে। তাঁর দাবি, মুসকানের মাথায় আঘাতের চিহ্ন দেখে তাঁর সন্দেহ হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর মুসকান জানতে পারেন, তাঁর স্বামী নিলেশের আগে থেকেই বিয়ে হয়েছিল এবং আগের স্ত্রী মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে থাকেন। বিষয়টি জানার পর দম্পতির মধ্যে প্রায়ই বিরোধ হতো বলেও দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৯ জুন নিলেশের সঙ্গে মুসকানের বিয়ে হয়। নিলেশ মধ্যপ্রদেশের বিদিশার বাসিন্দা এবং একটি ব্যাংকে ব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। মুসকান রেলওয়ের জুনিয়র ইঞ্জিনিয়ার নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে ১০ অক্টোবর বাবার বাড়ি ঝাঁসিতে ফিরে এসেছিলেন বলে তাঁর বাবা জানিয়েছেন। ২৩ অক্টোবর নিলেশ সেখানে আসেন এবং পরদিন খালার বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে মুসকানকে সঙ্গে নিয়ে বের হন বলে অভিযোগ পরিবারের। পরে তাঁরা হোটেলে উঠেছিলেন বলে জানতে পারে পরিবার।   ঝাঁসি পুলিশের নগর পুলিশ সুপার প্রীতি সিং জানিয়েছেন, জেলা হাসপাতালে এক নারীকে মৃত অবস্থায় আনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করে এবং মুসকানের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। নিলেশ পুলিশকে জানান, সকালে হোটেল থেকে বের হওয়ার প্রস্তুতির সময় মুসকান হঠাৎ পড়ে অসুস্থ হয়ে যান। পরে হোটেলকর্মীদের সহায়তায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেছে এবং পরিবারের অভিযোগও খতিয়ে দেখছে।   হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মুসকানের মৃত্যুর কারণ হিসেবে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা উঠে এসেছে। তবে মৃত্যুর আগে ঠিক কী ঘটেছিল এবং পরিবারের তোলা অভিযোগের সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নির্ধারণে পুলিশ অন্যান্য তথ্যপ্রমাণও পরীক্ষা করছে। তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়