সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন ভারতীয় বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের খারাপ দিন আসছে, নির্বাচনের দিনে মার্কিনদের ধন্যবাদ দিয়ে ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠির মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র মন্তব্য করেছেন ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের খারাপ দিন আসতে চলেছে। একই সঙ্গে মার্কিন জনগণকে আগাম ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনের দিন নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   মঙ্গলবার নিজের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে হিন্দি ও ইংরেজি মিশিয়ে ধ্রুব রাঠি লেখেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের খারাপ দিন আসতে চলেছে। মার্কিন জনগণকে আগাম ধন্যবাদ।’ পোস্টটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ইমোজিও ব্যবহার করেন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি লাইভ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিক ধাক্কা খেতে পারে, এমন প্রত্যাশা থেকেই মন্তব্যটি করেছেন রাঠি।   যুক্তরাষ্ট্রে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের পাশাপাশি সিনেটের ৩৫টি আসনে ভোট হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর, আইনসভার সদস্য এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন। নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে আগামী দুই বছর কংগ্রেসে কোন দল কতটা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও ডেমোক্র্যাটরা সেই অবস্থান বদলানোর চেষ্টা করছে।   মধ্যবর্তী নির্বাচনকে প্রেসিডেন্টের প্রথম দুই বছরের শাসনামল সম্পর্কে ভোটারদের মূল্যায়ন হিসেবেও দেখা হয়। এবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বিষয়গুলো নির্বাচনী আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে। ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করছে। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা করনীতি, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক উদ্যোগকে নিজেদের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে।   ধ্রুব রাঠি এর আগেও ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন। গত ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত দ্য উইক সাময়িকীর এক সাক্ষাৎকারে তিনি ট্রাম্পের জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত নীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে অবস্থানের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, ট্রাম্পের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, আন্তর্জাতিক পরিবেশ ও রাজনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ভারতের বাইরের রাজনৈতিক বিষয় নিয়েও নিয়মিত ভিডিও তৈরি করেন।   ভারতের রাজনীতি, সামাজিক সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী ভিডিও প্রকাশ করে পরিচিতি পেয়েছেন ধ্রুব রাঠি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বিপুল অনুসারী রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমালোচনামূলক ভিডিওর জন্য তিনি বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। ট্রাম্পকে নিয়ে তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যও মূলত রাজনৈতিক মতামত এবং নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে ব্যক্তিগত প্রত্যাশার প্রকাশ।   তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে রিপাবলিকান পার্টি পিছিয়ে পড়লেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে না। বরং প্রতিনিধি পরিষদ কিংবা সিনেটের নিয়ন্ত্রণ বদলে গেলে তাঁর প্রশাসনের আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে নতুন রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে। নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশের পরই বোঝা যাবে ধ্রুব রাঠির প্রত্যাশা কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে।

১৬ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, ৩০ বছর পর প্রথম প্রাণহানি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে হামে আক্রান্ত হয়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ৩০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে অঙ্গরাজ্যটিতে হামের সঙ্গে সম্পর্কিত এটিই প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। সোমবার (২ নভেম্বর) নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল এবং অঙ্গরাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। চলতি বছর নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাসিন্দাদের টিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   নিউইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এবং লুইস কাউন্টি পাবলিক হেলথের যৌথ বিবৃতি অনুযায়ী, শিশুটি অঙ্গরাজ্যের উত্তরাঞ্চলের লুইস কাউন্টির বাসিন্দা ছিল। এলাকাটি সিরাকিউজ শহর থেকে প্রায় ৯৩ মাইল উত্তরে অবস্থিত। শিশুটির বয়স, পরিচয়, টিকাদানের অবস্থা এবং ঠিক কবে মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। পরিবারের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে এসব তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।   গভর্নর ক্যাথি হোকুল শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, একজন মা ও দাদি হিসেবে ওই পরিবার কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তা কল্পনা করাও কঠিন। পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের অর্জন দুর্বল হয়ে পড়লে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই মৃত্যু সেটিই মনে করিয়ে দিয়েছে।   নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যে মোট ১৭৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির বাইরে ১৭০ জন এবং নিউইয়র্ক সিটিতে আটজনের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যের গ্রামীণ ও উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। লুইস কাউন্টিতেও চলতি বছর একাধিক সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।   হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির কারণে গত ৫ অক্টোবর নিউইয়র্কে দুর্যোগকালীন জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন গভর্নর হোকুল। ওই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং স্বাস্থ্য বিভাগকে অতিরিক্ত সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন প্যারামেডিক, ফার্মাসিস্ট ও মিডওয়াইফদেরও হামের টিকা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলোকে সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষ শনাক্ত এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি ও শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে বাতাসে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। সাধারণত সংক্রমণের পর জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কয়েক দিন পর মুখ থেকে শুরু হয়ে শরীরের অন্যান্য অংশে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, হাম, মাম্পস ও রুবেলা প্রতিরোধী এমএমআর টিকার দুটি ডোজ হামের বিরুদ্ধে প্রায় ৯৭ শতাংশ সুরক্ষা দেয়। সাধারণত শিশুদের প্রথম ডোজ ১২ থেকে ১৫ মাস বয়সে এবং দ্বিতীয় ডোজ চার থেকে ছয় বছর বয়সে দেওয়া হয়। তবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে এমন এলাকায় বসবাস কিংবা ভ্রমণের ঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছয় মাস বয়স থেকেই অতিরিক্ত আগাম ডোজ দেওয়া যেতে পারে।   নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য বিভাগ অভিভাবকদের সন্তানদের টিকাদানের রেকর্ড যাচাই করতে বলেছে। কারও জ্বর ও ফুসকুড়ির সঙ্গে হামের উপসর্গ দেখা দিলে সরাসরি চিকিৎসাকেন্দ্রে না গিয়ে আগে ফোন করে জানাতে বলা হয়েছে, যাতে অন্য রোগীদের সংক্রমণের ঝুঁকি কমানো যায়। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগগুলো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

৩২ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি কেন্দ্র চালু করেছে ওপেনএআই। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ভুয়া তথ্য ঠেকাতে বিশেষ কেন্দ্র চালু ওপেনএআইয়ের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য, বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়ানো ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি কেন্দ্র চালু করেছে চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। ‘ইলেকশন অপারেশনস সেন্টার’ নামে এই কেন্দ্র ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বিশেষ সুরক্ষাব্যবস্থা নিয়েছে আরেক এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিন এসব উদ্যোগের বিস্তারিত সামনে এসেছে।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এবং বোস্টন ২৫ নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওপেনএআইয়ের বিশেষ কেন্দ্রে কয়েকশ কর্মী নির্বাচনের সময় এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য অপব্যবহার পর্যবেক্ষণ করবেন। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে কি না, ভুয়া নির্বাচনী তথ্য তৈরি হচ্ছে কি না কিংবা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে কি না, এসব বিষয় নজরদারির আওতায় থাকবে।   ওপেনএআইয়ের সিভিক অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক রিস্ক বিভাগের প্রধান জশ লসন জানিয়েছেন, নির্বাচনের সময় ব্যবহারকারীদের নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহ, প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং নির্বাচনসংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সহায়তা করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বিশেষ কেন্দ্রটি বিভিন্ন বিভাগের কর্মীদের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ দেবে, যাতে নতুন কোনো ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।   ভোটারদের সঠিক তথ্য দিতে ডেমোক্রেসি ওয়ার্কস নামের একটি নির্দলীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে ওপেনএআই। এর ফলে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীরা ভোটার নিবন্ধন, ভোট দেওয়ার সময়সীমা, ভোটকেন্দ্রের অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সম্পর্কে তথ্য জানতে পারবেন। তথ্যগুলো সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে সরবরাহ করা হবে। ইংরেজির পাশাপাশি অন্যান্য ভাষাতেও এই সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।   এ ছাড়া নির্বাচনের ফলাফল জানাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে ওপেনএআই। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর এপির সরবরাহ করা ভোট গণনার তথ্য চ্যাটজিপিটিতে দেখা যাবে। তবে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফলাফলের কর্তৃত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তাদের হাতেই থাকবে।   এদিকে নির্বাচনী বিভ্রান্তি ঠেকাতে এআই দিয়ে তৈরি ছবির ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থা নিয়েছে ওপেনএআই। ভোটগ্রহণে বাধা কিংবা ভোটারদের নিরুৎসাহিত করার মতো বিভ্রান্তিকর বাস্তবধর্মী ছবি তৈরির অনুরোধ এলে সেগুলোকে বাস্তব ফটোগ্রাফের পরিবর্তে কার্টুনধর্মী চিত্রে রূপান্তর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য কল্পিত দৃশ্যকে প্রকৃত ঘটনার ছবি হিসেবে প্রচারের ঝুঁকি কমানো। নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞাও বহাল রয়েছে।   অন্যদিকে ক্লড এআইয়ের নির্মাতা অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে, ভোটারদের সঠিক তথ্য দিতে তারাও ডেমোক্রেসি ওয়ার্কসের তথ্য ব্যবহার করছে। ক্লডের মাধ্যমে ভোটাররা নির্বাচনের তারিখ, ভোটকেন্দ্র এবং স্থানীয় ভোটদানের নিয়ম জানতে পারবেন। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটি রাজনৈতিক পক্ষপাত, ভুয়া প্রচারণা এবং নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারে এআইয়ের অপব্যবহার শনাক্ত করতে নিরাপত্তাব্যবস্থা শক্তিশালী করেছে।   অ্যানথ্রপিকের প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ক্লডের প্রায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কথোপকথনে রাজনীতি, সরকারি নীতি কিংবা সামাজিক বিষয় উঠে আসে। নির্বাচনের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রশ্ন রয়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ কথোপকথনে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ভুয়া সংবাদমাধ্যম তৈরি এবং বিদেশি প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টায় এআই ব্যবহার শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।   এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, জনপ্রিয় কয়েকটি এআই চ্যাটবট ভোটারদের জন্য তথ্য তৈরি করতে গিয়ে ভুল প্রার্থী, ভুল নির্বাচনী এলাকা এবং অস্তিত্বহীন নির্বাচনের তথ্যও দিয়েছে। ফলে নির্বাচনী তথ্যের ক্ষেত্রে শুধু এআইয়ের উত্তরের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সরকারি নির্বাচন দপ্তরের তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

৪৮ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে অংশ নিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী মারা গেছেন। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্ক ম্যারাথনে ফিনিশ লাইনের দুই মাইল আগে অসুস্থ হয়ে তরুণীর মৃত্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে অংশ নিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন ২৪ বছর বয়সী এক তরুণী। রোববার (১ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ম্যারাথনের শেষ পর্যায়ে ম্যানহাটনের সেন্ট্রাল পার্কে হঠাৎ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তখন ফিনিশ লাইনে পৌঁছাতে আর মাত্র দুই মাইল বাকি ছিল। জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ম্যারাথনের আয়োজক প্রতিষ্ঠান নিউইয়র্ক রোড রানার্স তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   নিহত তরুণীর নাম র‍্যাচেল আপা। তিনি পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের লুইসবেরি এলাকার বাসিন্দা। জীবনের প্রথম নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ জানিয়েছে, ২৬ দশমিক ২ মাইল দীর্ঘ প্রতিযোগিতার প্রায় ২৪ মাইল অতিক্রম করার পর সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়েন র‍্যাচেল। স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন দর্শনার্থী দ্রুত তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসেন। তাঁদের মধ্যে দুজন চিকিৎসক ছিলেন। তাঁরা র‍্যাচেলের শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃদ্‌স্পন্দন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করেন এবং সিপিআর দিতে শুরু করেন। পরে ম্যারাথনের চিকিৎসাকর্মীরা এসে ডিফিব্রিলেটর ব্যবহার করেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে মাউন্ট সিনাই মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা চিকিৎসার পর রাত ৯টা ৪০ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।   দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে র‍্যাচেলের বাবা স্টিভ আপা জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে শারীরিকভাবে সুস্থ ও খেলাধুলায় অভ্যস্ত ছিলেন। ম্যারাথনের সময়ও মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখছিলেন তিনি। ১৮ মাইল অতিক্রমের পর র‍্যাচেল বাবাকে শরীরে ব্যথার কথা জানিয়ে বার্তা পাঠান। ১৯ মাইল অতিক্রমের পর আবারও একই ধরনের বার্তা দেন। ২৩ মাইলের সময় জানান, তিনি প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। এর কিছুক্ষণ পরই তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।   র‍্যাচেলের মা মিশেল আপাও মেয়েকে উৎসাহ দিতে নিউইয়র্কে উপস্থিত ছিলেন। প্রতিযোগিতার ১৪ মাইলের মাথায় মেয়েকে হাসিমুখে দৌড়াতে দেখেছিলেন তিনি। পরে ম্যারাথনের ট্র্যাকিং অ্যাপে মেয়ের অবস্থান ২৪ মাইলের কাছে স্থির হয়ে থাকতে দেখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। দ্রুত ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হয়ে মেয়েকে হাসপাতালে নেওয়ার খবর জানতে পারেন।   পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, র‍্যাচেল বাকনেল ইউনিভার্সিটির সাবেক ফিল্ড হকি খেলোয়াড় ছিলেন। সম্প্রতি চার্লসটন সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে এমবিএ পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। ২০২২ সালে পারকিনসনস রোগে মারা যাওয়া দাদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তিনি ম্যারাথনে অংশ নেন। পারকিনসনস ফাউন্ডেশনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করাও ছিল তাঁর অন্যতম উদ্দেশ্য।   র‍্যাচেলের বাবা জানিয়েছেন, চিকিৎসকেরা তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে র‍্যাবডোমায়োলাইসিস নামের একটি গুরুতর শারীরিক সমস্যার কথা বলেছেন। অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রমসহ বিভিন্ন কারণে মাংসপেশির কোষ দ্রুত ভেঙে গিয়ে ক্ষতিকর উপাদান রক্তে মিশলে এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে কিডনি ও হৃদ্‌যন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে র‍্যাচেলের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে মেডিকেল এক্সামিনারের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন এখনো প্রকাশিত হয়নি।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, অস্বাভাবিক পেশিব্যথা, অতিরিক্ত দুর্বলতা এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাব এই রোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ। দীর্ঘ সময় কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের পর এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া প্রয়োজন।   এদিকে র‍্যাচেলের মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছে নিউইয়র্ক রোড রানার্স। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে ২০২৪ সালে নিউইয়র্ক সিটি ম্যারাথনে অংশ নেওয়া একজন দৌড়বিদ চিকিৎসাজনিত কারণে মারা গিয়েছিলেন।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেছেন? ক্রেডিট কার্ড পেতে বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রয়োজন নেই

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেই ক্রেডিট কার্ড পাওয়া সম্ভব নয়, এমন ধারণা নিয়ে অনেক প্রবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। অথচ দেশটিতে নতুন ক্রেডিট ব্যবহারকারী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ। কিছু কার্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর না থাকলেও আবেদন করা যায়। এমনকি অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রেখেছে। তবে আবেদন করলেই কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর বয়স, আয়, পরিচয় যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্তের ওপর অনুমোদন নির্ভর করে।   সম্প্রতি ভার্জিনিয়া থেকে এক বাংলাদেশি প্রবাসী ক্রেডিট কার্ড নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান আমেরিকা বাংলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বসবাস করছেন এবং গ্রিন কার্ডধারী। কিন্তু এখনো কোনো ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় একটি ব্যাংকে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে ৫০০ ডলার দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে ওই অর্থ কার্ডের ফি, নাকি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের নিরাপত্তা জামানত ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে বিষয়টি না বুঝতে পেরে তিনি আর আবেদন করেননি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঠিক তথ্যের অভাব বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনেক নতুন প্রবাসী ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য একটি পরিচিত বিকল্প হলো সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড। সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের ক্রেডিট ইতিহাস ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে ঋণসীমা নির্ধারণ করে। কিন্তু সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই জামানতের পরিমাণ অনুযায়ী কার্ডের ক্রেডিট লিমিট নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কার্ডের জন্য ২০০ বা ৫০০ ডলার জামানত জমা রাখতে হতে পারে। এই অর্থ সাধারণত ব্যাংকের কাছে নিরাপত্তা হিসেবে থাকে, এটি সরাসরি বার্ষিক ফি নয়। কার্ডের শর্ত অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে বকেয়া পরিশোধ করলে অথবা ব্যাংক কার্ডটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ডে উন্নীত করলে জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে আলাদা সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু স্টুডেন্ট কার্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ডিসকভারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কার্ডের ব্যবস্থা রেখেছে, যেগুলোর মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার ও সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেই কার্ড অনুমোদন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর আয়, বয়স এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করা হয়। ২১ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সাধারণত তাঁদের নিজস্ব আয় বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। অন্যথায় ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন যোগ্য ব্যক্তিকে কো-সাইনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। অন্যদিকে, ২১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যাংক আবেদনকারীর বর্তমান বা প্রত্যাশিত আয় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করে। তাই শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কার্ডের বয়স ও আয়ের শর্ত জেনে নেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার কিছু সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে কার্ডের ধরন ও আবেদনপ্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। অনেক ব্যাংক সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এসএসএন চায়। কিছু প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্তে আইটিআইএন বা অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ করতে পারে। আবার কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবেদনপ্রক্রিয়া রাখে। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের পরিচয়পত্র গ্রহণ করে, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়; আবার আবেদন করলেই অনুমোদন পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করতে সব সময় ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে। সাধারণত আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকানা, ফোন নম্বর, আয়ের তথ্য এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যও চাওয়া হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান দ্রুত প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানায়। তবে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই বা আর্থিক তথ্য পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে অনুমোদন পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন গ্রাহকরা ডিসকভার, ক্যাপিটাল ওয়ান এবং ব্যাংক অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডের শর্ত যাচাই করতে পারেন। ডিসকভারের কিছু স্টুডেন্ট ও সিকিউরড কার্ডে আবেদন করার জন্য আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ক্যাপিটাল ওয়ানের সিকিউরড কার্ড নতুন বা সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে এমন গ্রাহকদের জন্য একটি বিকল্প। ব্যাংক অব আমেরিকাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন করা যায়। তবে প্রতিটি কার্ডের বার্ষিক ফি, সুদের হার, জামানত এবং আবেদনসংক্রান্ত শর্ত আলাদা। ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। কার্ডের বার্ষিক ফি আছে কি না, সুদের হার কত, বিল পরিশোধের শেষ তারিখ কখন এবং দেরিতে বিল পরিশোধ করলে কত জরিমানা দিতে হবে, তা জেনে নিতে হবে। সিকিউরড কার্ডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জামানত কত এবং কোন শর্তে তা ফেরত পাওয়া যাবে, সেটিও পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া উচিত। আবেদন করার সময় ব্যাংক ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করলে ক্রেডিট স্কোরে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তাই একসঙ্গে অনেকগুলো কার্ডের জন্য আবেদন না করে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কার্ড নির্বাচন করাই ভালো। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পর দায়িত্বশীল ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে হবে। সম্ভব হলে পুরো বিল পরিশোধ করা উচিত, যাতে সুদের অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। নিয়মিত ও সময়মতো বিল পরিশোধ এবং সীমার মধ্যে কার্ড ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ক্রেডিট ইতিহাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে গাড়ি কেনার ঋণ, মর্টগেজ কিংবা বাড়ি ভাড়ার আবেদনের সময়ও ক্রেডিট ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেছেন বলে ক্রেডিট কার্ডের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। নিজের বয়স, আয়, পরিচয়পত্র এবং আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী স্টুডেন্ট বা সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের মতো বিকল্প খুঁজে দেখা যেতে পারে। সঠিক তথ্য জেনে অনলাইনে আবেদন করলে ঘরে বসেই প্রক্রিয়াটি শুরু করা সম্ভব। তবে কার্ড পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা এবং সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তোলা।

প্রকাশ: অক্টোবর ৩১, ২০২৬ ১৫:৫৪
যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে কোটি ডলারের প্রতারণা, ১৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ইমিগ্রেশন আইনজীবী পরিচয়ে অভিবাসীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ১৩ বিদেশি নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযুক্তরা ব্রাজিল ও কিউবার নাগরিক। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বৈধ ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাঁরা অভিবাসীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, ভুয়া কাগজপত্র তৈরি এবং প্রতারণামূলক আবেদন জমা দিতেন। সোমবার (২ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে। ফ্লোরিডার অরেঞ্জ কাউন্টিতে লিগ্যাসি ইমিগ্রা সলিউশনস এলএলসি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে এই প্রতারণার অভিযোগ ওঠে। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞদের পরিচালিত সেবাকেন্দ্র হিসেবে পরিচয় দিত। আশ্রয় আবেদন, ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার কথা বলে অভিবাসীদের আকৃষ্ট করা হতো। অথচ তদন্তকারীদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটিতে যোগ্য ইমিগ্রেশন আইনজীবী ছিলেন না। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতেন ৫৪ বছর বয়সী ভ্যাগনার সোরারেস ডি আলমেইদা। তাঁর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন ৪৭ বছর বয়সী জুলিয়ানা কোলুচি এবং আরও কয়েকজন কর্মী। তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের ভুল ও বিভ্রান্তিকর আইনি পরামর্শ দেওয়া এবং ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নথিতে মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল অভিযোগপত্রে ওয়্যার ফ্রড বা ইলেকট্রনিক যোগাযোগের মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা, ভিসা জালিয়াতি, বিয়ের মাধ্যমে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার প্রতারণামূলক ষড়যন্ত্র এবং অনুমোদনহীন বিদেশি নাগরিকদের কর্মসংস্থানের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের কয়েকজন জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের অনুমতি নেই এমন ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়েছিলেন। সাতজনের বিরুদ্ধে বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণামূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে। এর আগে গত ২২ এপ্রিল অরেঞ্জ কাউন্টির শেরিফ জন মিনা প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারজনকে গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় তাঁদের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ প্রতারণা, চাঁদাবাজি এবং অনুমোদন ছাড়া আইন পেশা পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়। পুলিশের দাবি, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে আড়াই হাজার থেকে ২৬ হাজার ডলার পর্যন্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রতারণামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দুই কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছিল বলে তদন্তকারীরা ধারণা করছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২ নিউজ জানিয়েছে, অরেঞ্জ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় প্রায় ২০০ ভুক্তভোগীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ১৭ লাখ ডলারের কাছাকাছি অর্থ উদ্ধার করেছে। শেরিফ জন মিনা জানিয়েছেন, আরও অনেক অভিবাসী এই প্রতারণার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। বিশেষ করে ব্রাজিল থেকে আসা অভিবাসীদের একটি বড় অংশকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন নথি আটকে রাখার ভয় দেখিয়েও গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হতো। ফ্লোরিডার মধ্যাঞ্চলের ফেডারেল প্রসিকিউটর গ্রেগরি কিহো বলেন, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের অনেকে সঠিক নিয়মে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তাঁদের বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালিয়েছেন বলে অভিযোগ। সোমবার ১৩ অভিযুক্তের মধ্যে ১১ জন ফেডারেল বিচারকের সামনে প্রথমবার হাজির হন। ফেডারেল আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে ওয়্যার ফ্রডের প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছর, ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রে সর্বোচ্চ ১০ বছর এবং বিয়েসংক্রান্ত প্রতারণামূলক ষড়যন্ত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিচার এখনো শেষ হয়নি এবং অভিযুক্তরা আদালতে দোষী সাব্যস্ত হননি। সংবাদসূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ, ফ্লোরিডার মধ্যাঞ্চলীয় ফেডারেল প্রসিকিউটর কার্যালয় ।

যারা ভারতে আর্থিক সংকটে ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাদের বাড়ি-গাড়ি! প্রবাসজীবন নিয়ে বিতর্ক

ভারতে আর্থিক সংকটে থাকা পরিচিত ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় গিয়ে বড় বাড়ি, গাড়ি এবং তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবনযাপন করতে দেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন প্রণব ভরদ্বাজ নামের এক ব্যক্তি। তাঁর একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিদেশে গেলেই কি মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়, নাকি বাড়ি ও গাড়ির আড়ালে থাকে মর্টগেজ, ঋণ এবং জীবনযাত্রার বিপুল খরচ? এই প্রশ্নেই বিভক্ত হয়েছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীরা।   প্রণব ভরদ্বাজ তাঁর পোস্টে জানান, ভারতে থাকার সময় যেসব পরিচিত মানুষকে আর্থিকভাবে সংগ্রাম করতে দেখেছেন, তাঁদের কয়েকজন বিদেশে যাওয়ার পর সম্পূর্ণ ভিন্ন জীবনযাপন করছেন বলে মনে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাঁদের বড় বাড়ি, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং দৈনন্দিন জীবনে নানা সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। এই পরিবর্তন তাঁকে ভাবিয়েছে, একই ব্যক্তি এক দেশে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকলেও অন্য দেশে কীভাবে তুলনামূলক স্বচ্ছন্দ জীবন গড়ে তুলতে পারেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই নিজেদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে মিল খুঁজে পান। তাঁদের মতে, উন্নত দেশগুলোতে কর্মসংস্থান, আয় এবং বিভিন্ন পেশায় কাজের সুযোগের কারণে অনেক অভিবাসী নিজেদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করতে পারেন। বিশেষ করে যাঁরা নিজ দেশে সীমিত আয়ের কারণে বাড়ি বা গাড়ি কেনার সুযোগ পাননি, তাঁরা বিদেশে গিয়ে নিয়মিত আয়ের ভিত্তিতে এসব সম্পদ অর্জনের সুযোগ পেতে পারেন।   তবে অন্য একদল ব্যবহারকারী এই তুলনার সঙ্গে একমত নন। তাঁদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় বড় বাড়ি কিংবা দামি গাড়ি থাকলেই একজন মানুষ আর্থিকভাবে সচ্ছল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অনেক ক্ষেত্রে এসব সম্পদ মর্টগেজ ও গাড়ির ঋণের মাধ্যমে কেনা হয়। ফলে বাইরে থেকে স্বচ্ছন্দ জীবন মনে হলেও প্রতি মাসে বড় অঙ্কের ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মর্টগেজের পাশাপাশি প্রপার্টি ট্যাক্স, হোম ইন্স্যুরেন্স, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য খরচ বহন করতে হয়। একইভাবে গাড়ি কেনার পর মাসিক কিস্তি, অটো ইন্স্যুরেন্স, জ্বালানি ও মেরামতের খরচও রয়েছে। ফলে বাড়ি ও গাড়ির মালিকানা থাকলেও মাস শেষে একজন ব্যক্তির হাতে কত অর্থ অবশিষ্ট থাকে, সেটিই তাঁর প্রকৃত আর্থিক অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক।   কানাডার ক্ষেত্রেও আবাসন ব্যয় আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে বড় শহরগুলোতে বাড়ির দাম ও রেন্ট অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটের বড় অংশ দখল করে। এর সঙ্গে দৈনন্দিন খরচ, পরিবহন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় যোগ হয়। ফলে একজন অভিবাসীর আয় তুলনামূলক বেশি হলেও সেই আয়ের কতটা সঞ্চয় করা সম্ভব হচ্ছে, তা নির্ভর করে তাঁর বসবাসের শহর, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির ওপর। আলোচনায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে। ভারতে যে আয় দিয়ে একটি পরিবারের জীবনযাত্রা পরিচালনা করা কঠিন হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় একই ব্যক্তি ভিন্ন পেশা বা বেশি বেতনের চাকরিতে যুক্ত হয়ে নতুন সুযোগ পেতে পারেন। তবে দুই দেশের আয়ের সরাসরি তুলনা করার সময় স্থানীয় জীবনযাত্রার ব্যয়ও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। শুধু ডলারে আয়ের পরিমাণ বেশি হলেই প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বেশি হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে বিদেশে বসবাসের সঙ্গে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের বাইরেও বেশ কিছু বিষয় জড়িত। নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া, চাকরির স্থায়িত্ব, পরিবারের দায়িত্ব এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় গড়ে তোলার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা বাড়ি, গাড়ি কিংবা জীবনযাত্রার ছবি দিয়ে কারও সামগ্রিক আর্থিক পরিস্থিতি নির্ধারণ করা কঠিন।   প্রণব ভরদ্বাজের পোস্টটি মূলত ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে করা। এতে উল্লেখ করা পরিচিত ব্যক্তিদের আয়, ঋণ, সম্পদের মূল্য বা সঞ্চয়ের কোনো তুলনামূলক হিসাব দেওয়া হয়নি। তাই তাঁর অভিজ্ঞতাকে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা কিংবা ভারতের সব মানুষের আর্থিক অবস্থার প্রতিনিধিত্বকারী তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তবে পোস্টটি ঘিরে তৈরি হওয়া আলোচনা অভিবাসী জীবনের একটি পরিচিত বাস্তবতাকে সামনে এনেছে। বিদেশে বড় বাড়ি ও গাড়ি অর্জন করা যেমন আর্থিক অগ্রগতির লক্ষণ হতে পারে, তেমনি এসব সম্পদের বিপরীতে বড় অঙ্কের ঋণও থাকতে পারে। ফলে প্রবাসজীবনের সাফল্য বিচার করতে শুধু দৃশ্যমান সম্পদ নয়, আয়, ব্যয়, ঋণ এবং সঞ্চয়ের সামগ্রিক চিত্র বিবেচনা করা প্রয়োজন।    

বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর
সূর্য ও চাঁদ হিন্দুদের, ঈদ পালনে মুসলমানদের অনুমতি নিতে হবে: বিজেপি বিধায়ক রামেশ্বর

ভারতে মুসলমানদের ঈদ উদযাপনের আগে হিন্দুদের অনুমতি নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিধায়ক রামেশ্বর শর্মা। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে এক অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, সূর্য ও চাঁদ সনাতন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন মুসলিম নেতারা।   সংবাদমাধ্যম মানিকন্ট্রোল, এএনআই ও জি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোপালের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রামেশ্বর শর্মা চাঁদের সঙ্গে হিন্দুধর্মের দেবতা শিবের সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন। তাঁর যুক্তি, মুসলমানরাও চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করেন। অথচ সেই চাঁদ সনাতন ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত।   বিজেপির এই বিধায়ক দাবি করেন, সূর্য ও চাঁদ সনাতন ধর্মের অংশ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলমানরা যে চাঁদ দেখে ঈদ উদযাপন করেন, সেটিও সনাতন ধর্মের চাঁদ। এ কারণে ঈদ উদযাপনের সময় মুসলমানদের সনাতন ধর্মের প্রশংসা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   রামেশ্বর শর্মার বক্তব্যে ধর্মীয় উৎসব পালনের সঙ্গে অন্য ধর্মাবলম্বীদের অনুমতি নেওয়ার প্রসঙ্গ উঠে আসায় সমালোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদকে কেন্দ্র করে তাঁর মন্তব্যের বিরোধিতা করেন মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।   মুসলিম নেতা আব্বাস হাফিজ এই বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, মুসলমানদের কি এখন নিজেদের ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের জন্য বিজেপির কোনো বিধায়কের অনুমতি নিতে হবে? তিনি বলেন, মুসলমানরা কখনো ঈদ পালনের জন্য এ ধরনের অনুমতির প্রয়োজন অনুভব করেননি। ভবিষ্যতেও নিজেদের ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী ঈদ উদযাপন করবেন।   ইসলাম ধর্মে চাঁদ দেখার সঙ্গে রমজান মাসের শুরু ও শেষ এবং ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার সময় নির্ধারণের সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ঈদুল ফিতরের দিন নির্ধারণে শাওয়াল মাসের নতুন চাঁদ দেখার প্রচলন রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় ধর্মীয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঈদ উদযাপিত হয়।   ভারতের সংবিধানের ২৫ অনুচ্ছেদে ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত রয়েছে। এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের শর্ত সাপেক্ষে প্রত্যেক ব্যক্তির নিজ ধর্ম পালন, চর্চা ও প্রচারের স্বাধীনতা রয়েছে। ধর্মীয় উৎসব পালনের জন্য অন্য কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুমতি নেওয়ার সাধারণ কোনো সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই।   বিতর্কিত মন্তব্যের বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। জি নিউজের প্রতিবেদনে দলটির মুখপাত্র শাহওয়ার আলম বলেন, রামেশ্বর শর্মার বক্তব্যকে অন্যভাবে দেখা উচিত নয়। তাঁর মতে, ভারতে হিন্দু ও মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের বিভিন্ন ধর্মীয় আচার ও উৎসবের সঙ্গে চাঁদ দেখার সম্পর্ক রয়েছে।   এদিকে, বিজেপি বিধায়কের বক্তব্যের সমর্থন জানিয়েছেন অখিল ভারতীয় সন্ত সমিতির মধ্যপ্রদেশ শাখার সভাপতি স্বামী অনিলানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, সনাতন ধর্মে প্রাচীনকাল থেকেই চন্দ্র, সূর্যসহ প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদানের পূজার প্রচলন রয়েছে।   সূত্র: এএনআই, মানিকন্ট্রোল, জি নিউজ

বাইন্যান্সে রেকর্ড পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত ও অভিযোগকে ‘গতানুগতিক উসকানি’ এবং ‘অযৌক্তিক বক্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এফবিআইয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এ চুরির সঙ্গে জড়িত।   মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, দেশটির বিরুদ্ধে ভুল ধারণা ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করতে চায় ওয়াশিংটন। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বাইন্যান্স গত শুক্রবার জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে হ্যাকাররা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এফবিআই শনিবার জানায়, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। সংস্থাটির মতে, একই গোষ্ঠী গত বছর ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিল।   এফবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়েছে, চুরি করা ডিজিটাল সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব সম্পদ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। অর্থ পাচার ঠেকাতে ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ঠিকানাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।   এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিপরীতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর ১ নভেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন আবার চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকেরা প্রায় ৪৬৪ কোটি ডলারের সম্পদ উত্তোলন করেন।   উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অন্যান্য অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা দেশটি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, এ ধরনের অর্থ দেশটির অর্থনীতি সচল রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় মেটানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ২০২২ সালে জানিয়েছিল, আগের পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায় ১১০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে।   অতীতেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বড় সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে হামলা, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্স হ্যাকিং এবং ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওয়ানাক্রাই ম্যালওয়্যার হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সাধারণত অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং।   দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সিউল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, বাইন্যান্সের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়াই দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   বাইন্যান্সের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর কোরিয়া আবারও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে। ফলে ক্রিপ্টো চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা।

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবর জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে।   সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবর জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:৫২

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে।   সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।

বাইন্যান্সে রেকর্ড পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার
প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:২৫

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত ও অভিযোগকে ‘গতানুগতিক উসকানি’ এবং ‘অযৌক্তিক বক্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এফবিআইয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এ চুরির সঙ্গে জড়িত।   মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, দেশটির বিরুদ্ধে ভুল ধারণা ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করতে চায় ওয়াশিংটন। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বাইন্যান্স গত শুক্রবার জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে হ্যাকাররা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এফবিআই শনিবার জানায়, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। সংস্থাটির মতে, একই গোষ্ঠী গত বছর ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিল।   এফবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়েছে, চুরি করা ডিজিটাল সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব সম্পদ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। অর্থ পাচার ঠেকাতে ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ঠিকানাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।   এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিপরীতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর ১ নভেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন আবার চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকেরা প্রায় ৪৬৪ কোটি ডলারের সম্পদ উত্তোলন করেন।   উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অন্যান্য অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা দেশটি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, এ ধরনের অর্থ দেশটির অর্থনীতি সচল রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় মেটানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ২০২২ সালে জানিয়েছিল, আগের পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায় ১১০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে।   অতীতেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বড় সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে হামলা, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্স হ্যাকিং এবং ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওয়ানাক্রাই ম্যালওয়্যার হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সাধারণত অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং।   দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সিউল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, বাইন্যান্সের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়াই দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   বাইন্যান্সের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর কোরিয়া আবারও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে। ফলে ক্রিপ্টো চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা।

কোরআন অবমাননার ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন স্টকহোম জেলা আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার দায়ে জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত
প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২২:৫৩

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী কর্মী জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ৩০ অক্টোবর স্টকহোম জেলা আদালত এ রায় দেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।   তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্যান্ডবার্গকে প্রতিদিন ১০০ ক্রোনা হিসাবে মোট ৩ হাজার ক্রোনা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ১ হাজার ক্রোনা এবং সরকারি আইনজীবীর খরচ বাবদ রাষ্ট্রকে ১৭ হাজার ক্রোনা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে জরিমানা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার ওপর ২১ হাজার ক্রোনা আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে ২০২৫ সালে স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘আমরা আমাদের রাস্তায় কোনো মুসলিম দেখতে চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত ওই বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ২০২৪ সালের কোরআন অবমাননার ঘটনায় দণ্ডিত হলেও পরের বছরের ওই অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।   মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআনের একটি কপি পোড়ান জেড স্যান্ডবার্গ। এরপর বইটিতে লাথি মারেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন।   সুইডেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হলেও দেশটির আইনে কোনো জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাদের অবমাননা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা এবং কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য বা আচরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। স্যান্ডবার্গের মামলার রায়েও ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

বিওয়াইডির কর্মীসংখ্যা ১০ লাখ ২০ হাজার ছাড়ানোর তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১০ লাখের বেশি কর্মী নিয়ে শীর্ষে চীনের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিওয়াইডি, পেছনে ফেলল টেসলা, টয়োটা ও ফোর্ডকে
প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২২:১০

বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে চীনের বিওয়াইডি বিশ্বে এক নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর সংখ্যা এখন ১০ লাখ ২০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। বিওয়াইডির চেয়ারম্যান ওয়াং চুয়ানফু সম্প্রতি এই বিশাল অর্জনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটা, জেনারেল মোটরস, ফোর্ড এবং টেসলার সম্মিলিত কর্মীর সংখ্যার চেয়েও বিওয়াইডির কর্মীর সংখ্যা এখন বেশি। এই চারটি জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মী সংখ্যা প্রায় ৮ লাখ ৫১ হাজার। সেই হিসেবে বর্তমানে বিওয়াইডিতে তাদের তুলনায় প্রায় এক লাখ ৭০ হাজার বেশি কর্মী কাজ করছেন।   গত এক বছরে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৫ সালের শেষের দিকে বিওয়াইডির মোট কর্মী ছিল প্রায় ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৬০০ জন। আর মাত্র দশ মাসের ব্যবধানে ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে তা বেড়ে ১০ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বিশাল এই কর্মী বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার জনই চীনের অভ্যন্তরে কাজ করছেন। অন্যদিকে বিদেশের মাটিতে কর্মরত আছেন প্রায় ৬০ হাজার কর্মী। এর চেয়েও চমকপ্রদ তথ্য হলো প্রতিষ্ঠানটির অন্তত এক লাখ ২০ হাজার কর্মী কেবল গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগে কাজ করেন। তারা মূলত উন্নত মানের ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক মোটর, ইলেকট্রনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে গবেষণার কাজ করছেন।   বিওয়াইডির এত বিশাল কর্মী বাহিনীর পেছনে তাদের নিজস্ব উৎপাদন ব্যবস্থাই প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে। অন্যান্য গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো যেখানে বিভিন্ন যন্ত্রাংশের জন্য বাইরের কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল থাকে সেখানে বিওয়াইডি সম্পূর্ণ ভিন্ন পথে হাঁটছে। প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রয়োজনীয় ব্যাটারি, চিপ, মোটর থেকে শুরু করে অন্যান্য সব অত্যাবশ্যকীয় প্রযুক্তি নিজেদের কারখানাতেই তৈরি করে। শুধু গাড়ি নির্মাণেই নয় তাদের কার্যক্রম ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন, শক্তি সঞ্চয় এবং আধুনিক রেল পরিবহন ব্যবস্থা পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। সবকিছু নিজেদের তত্ত্বাবধানে তৈরি করার কারণেই প্রতিষ্ঠানটির এত বিপুল পরিমাণ জনবলের প্রয়োজন হয়।   কর্মী সংখ্যা বাড়লেও গাড়ি বিক্রির ক্ষেত্রে কিছুটা মিশ্র পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চীনা এই অটোমোবাইল জায়ান্ট। ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বজুড়ে মোট ৩১ লাখ ৩০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কম। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের গাড়ির বিক্রি অভাবনীয় হারে বেড়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তারা ১৩ লাখ ৪০ হাজার গাড়ি বিক্রি করেছে যা আগের বছরের তুলনায় ৯২ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। বর্তমানে তাদের মোট বিক্রির প্রায় ৪৩ শতাংশই আসছে বিদেশের বিভিন্ন বাজার থেকে যা কোম্পানিটির বৈশ্বিক সম্প্রসারণের একটি বড় প্রমাণ।   বিশ্বজুড়ে ব্যবসার প্রসার ঘটলেও প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর মাত্র ৬ শতাংশ এখন চীনের বাইরে কাজ করছেন। একটি বিষয় এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে বিওয়াইডির এই বিশাল কর্মী সংখ্যার মধ্যে তাদের ইলেকট্রনিক্স এবং অন্যান্য খাতের কর্মীরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। অর্থাৎ এই ১০ লাখ কর্মী যে শুধু গাড়ি নির্মাণের সঙ্গেই যুক্ত আছেন বিষয়টি এমন নয়। তাই কর্মী বেশি হওয়ার মানেই যে তাদের গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা অন্যদের চেয়ে জাদুকরীভাবে বেশি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তবে নিজেদের প্রয়োজনীয় সবকিছু নিজেরাই তৈরির এই নিজস্ব কৌশল বিওয়াইডিকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী গাড়ি নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করছে।   সংবাদ সূত্র: আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল সাময়িকী ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়