সংযুক্ত আরব আমিরাতে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাবলীল করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দুবাই। বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য স্পনসর বা আয়োজক ছাড়াই পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিজিট ভিসা চালু করা হয়েছে। এই নতুন সুবিধার ফলে পর্যটকরা এখন থেকে একটিমাত্র ভিসার মাধ্যমেই আগামী পাঁচ বছর ধরে একাধিকবার দুবাইসহ পুরো আরব আমিরাতে অবাধে প্রবেশের দারুণ এক সুযোগ পাবেন। দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ) সম্প্রতি এই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ভিসার আওতায় একজন দর্শনার্থী প্রতিটি সফরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে পর্যটকরা চাইলে এই মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের একমাত্র শর্ত হলো, কোনোভাবেই এক বছরের মধ্যে মোট অবস্থানের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি অতিক্রম করা যাবে না। জিডিআরএফএ আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিকরাই এই আকর্ষণীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দাখিল করতে হবে। আবেদনের অত্যাবশ্যকীয় শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর সদ্য তোলা রঙিন ছবি এবং কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হবে। এছাড়া আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ন্যূনতম চার হাজার মার্কিন ডলার বা তার সমপরিমাণ ব্যালেন্স দেখাতে হবে। এর পাশাপাশি প্রত্যেক আবেদনকারীর বৈধ স্বাস্থ্য বীমা এবং দেশে ফেরার কনফার্মড রিটার্ন বিমান টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ করে যে কেউ দীর্ঘমেয়াদে আমিরাত ভ্রমণের সুবিধা নিতে পারবেন।
সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম রাডার স্যাটেলাইট ‘রাদ-১’ শিগগিরই উন্মোচন করতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির মহাকাশ সংস্থার চেয়ারম্যান হাসান সালারিয়েহ সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মহাকাশ গবেষণায় এটিকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জের কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি থেকে সামান্য পিছিয়ে গেলেও বর্তমানে স্যাটেলাইটটির চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে এবং এটি দ্রুতই আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ও মহাকাশ সংস্থার প্রধান সালারিয়েহ জানান, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ‘রাদ-১’ উন্মোচনের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। মহাকাশ প্রকল্পগুলোতে সচরাচর যেসব প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা যায়, তার কারণেই এই সামান্য বিলম্ব। তবে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ইরানের মহাকাশ শিল্পের সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি মনে করেন। একইসঙ্গে তিনি সুখবর দিয়েছেন যে, ইতিমধ্যে ‘রাদ-২’ নামে আরও উন্নত সংস্করণের একটি রাডার স্যাটেলাইটের উন্নয়নকাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। নতুন এই স্যাটেলাইটটি ‘রাদ-১’-এর তুলনায় আরও নিখুঁত ও উচ্চমানের ছবি ধারণে সক্ষম হবে। ইরানের মহাকাশ খাতের এই বিশাল অগ্রগতিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও ক্রমশ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন সালারিয়েহ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আগামী প্রজন্মের মাইক্রো ও ন্যানো স্যাটেলাইটগুলোর চিত্র ধারণ ক্ষমতা হবে আরও অত্যাধুনিক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বর্তমানে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও চিত্রভিত্তিক সেবার সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন খাতে দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মালয়েশিয়ার ভূখণ্ডে কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের উপস্থিতি শনাক্ত হলে তাদের বিরুদ্ধে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না এবং তাৎক্ষণিকভাবে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কঠোর অবস্থানের কথা দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার যে অনড় নীতি মালয়েশিয়ার রয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে কোনোভাবেই আপস করা হবে না। সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ ওঠে যে, দ্বিতীয় কোনো দেশের পাসপোর্ট এবং নাগরিকত্বের নথি ব্যবহার করে কয়েকজন ইসরায়েলি নাগরিক জোহর রাজ্যে প্রবেশ করেছেন। এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে জোরদার তদন্ত শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। যদি কোনো ইসরায়েলি নাগরিকের অনুপ্রবেশের সত্যতা মেলে, তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে বহিষ্কার করা হবে। এ বিষয়ে তদন্ত শেষে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী দাতুক সেরি ড. জামব্রি আবদুল কাদির শিগগিরই বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলেও আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এদিকে জোহর রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে অবস্থিত ‘নেটওয়ার্ক স্কুল’ নামের একটি প্রযুক্তিভিত্তিক আবাসিক কমিউনিটিকে ঘিরে সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায় সেখানেও ব্যাপক তদন্ত শুরু হয়েছে। জোহরের মুখ্যমন্ত্রী দাতুক ওন হাফিজ গাজির আহ্বানে গত ১৪ জুলাই মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগ (জেআইএম), রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ এবং অন্যান্য সংস্থা যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। জানা গেছে, ২০২৪ সালে প্রযুক্তি বিনিয়োগকারী বালাজি শ্রীনিবাসনের প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ৪০টি দেশের ২৬৬ জন বিদেশি নাগরিক বসবাস করছেন। মাসিক দেড় হাজার ডলার ফি দিয়ে পরিচালিত এই প্রতিষ্ঠানে ইসরায়েলি নাগরিকদের গোপন সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে জনমনে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে এই চিরুনি অভিযান চালানো হয়। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের মহাপরিচালক দাতুক জাকারিয়া শাবান এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, প্রাথমিক যাচাইয়ে বিদেশিদের কাছে বৈধ কাগজপত্র পাওয়া গেলেও তারা ইমিগ্রেশন আইন (১৯৫৯/৬৩) পুরোপুরি মেনে চলছেন কি না, তা নিশ্চিতে নিবিড় তদন্ত চলছে। পরিচয় গোপন, ভ্রমণ নথির জালিয়াতি কিংবা অভিবাসন সুবিধার অপব্যবহার প্রমাণিত হলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জাতীয় স্বার্থ, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অভিবাসন আইনের যেকোনো লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি দ্ব্যর্থহীনভাবে সতর্ক করেছেন।
ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে আগামী মাস থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এমন প্যাকেজিংয়ের ওপর নতুন ফি কার্যকর হতে যাচ্ছে। পরিবেশ দূষণ রোধে রাজ্য সরকারের নেওয়া এই প্রশংসনীয় উদ্যোগের বিপরীতে বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার জোরালো আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০২২ সালে পাস হওয়া ‘প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ ও প্যাকেজিং উৎপাদক দায়বদ্ধতা আইন’ বা সেনেট বিল ৫৪ (SB 54)-এর আওতায় এই নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই আইনের মূল লক্ষ্য হলো একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনা এবং ২০৩২ সালের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ায় বিক্রি হওয়া সব ধরনের প্যাকেজিং পুনর্ব্যবহারযোগ্য বা কম্পোস্টযোগ্য করা। নতুন নিয়মের ফলে পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম খরচের সুবিধা পাবে, অন্যদিকে যারা পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয় এমন প্যাকেজিং ব্যবহার করবে, তাদের অতিরিক্ত ফি গুণতে হবে। ক্যালিফোর্নিয়া সরকারের হিসাব অনুযায়ী, নতুন এই ফি কার্যকর হলে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের অতিরিক্ত খরচ পণ্যের দামের মাধ্যমে ভোক্তাদের ওপর চাপিয়ে দিতে পারে। ফলে প্রতিটি পরিবারকে বছরে অতিরিক্ত ৬৬ থেকে ১৯০ ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হতে পারে। রাজ্যের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সংস্থা ‘ক্যালরিসাইকেল’ জানিয়েছে, প্রায় ৫ হাজার ৭৪১টি প্রতিষ্ঠানকে নতুন বিধিমালা মেনে চলতে হবে, যাদের বার্ষিক গড় সম্মতি ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ লাখ ৫৭ হাজার ডলারে। তবে যেসব ছোট প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক মোট বিক্রি ১০ লাখ ডলারের কম, তারা এই আইনের অনেক শর্ত থেকেই ছাড় পাবে। ক্যালরিসাইকেলের হিসাবে, প্রায় ৭ হাজার ৮৭৪টি এমন ছোট প্রতিষ্ঠানের জন্য বছরে গড়ে মাত্র ১৫৫ ডলার প্রশাসনিক খরচ হতে পারে। উৎপাদকরা যদি নতুন ফি সামাল দিতে পণ্যের দাম বাড়ায়, তবে ক্যালিফোর্নিয়ার প্রায় ৫ লাখ ৪৬ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও পরোক্ষভাবে বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়বে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে বছরে গড়ে প্রায় ৪ হাজার ৮০৬ ডলার অতিরিক্ত খরচ করতে হতে পারে। তবে উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতারা যদি বাড়তি ব্যয়ের মাত্র ৩০ শতাংশ সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপায়, তবে একজন ভোক্তার বছরে গড়ে মাত্র ২০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় হবে বলে রাজ্য সরকার অনুমান করছে। তবে সরকারি এই হিসাবের বাইরে বিশেষজ্ঞদের ধারণা আরও উদ্বেগজনক। ডেইরি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাহী পরিচালক কেটি ডেভির মতে, বাস্তবে এই ব্যয় সরকারের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। তিনি সতর্ক করে জানান, নতুন বিধিমালার কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার একজন বাসিন্দাকে বছরে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলার অতিরিক্ত ব্যয় করতে হতে পারে। তিনি আরও বলেন, ক্যালিফোর্নিয়ায় জীবনযাত্রার ব্যয় এমনিতেই অনেক বেশি, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে পরিস্থিতি সাধারণ মানুষের জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে পর্যটকদের যাতায়াত আরও সহজ ও সাবলীল করতে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে দুবাই। বিশ্বের সব দেশের নাগরিকদের জন্য স্পনসর বা আয়োজক ছাড়াই পাঁচ বছর মেয়াদি মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিজিট ভিসা চালু করা হয়েছে। এই নতুন সুবিধার ফলে পর্যটকরা এখন থেকে একটিমাত্র ভিসার মাধ্যমেই আগামী পাঁচ বছর ধরে একাধিকবার দুবাইসহ পুরো আরব আমিরাতে অবাধে প্রবেশের দারুণ এক সুযোগ পাবেন। দুবাইয়ের জেনারেল ডিরেক্টরেট ফর আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স (জিডিআরএফএ) সম্প্রতি এই দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এই ভিসার আওতায় একজন দর্শনার্থী প্রতিটি সফরে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে পর্যটকরা চাইলে এই মেয়াদ আরও ৯০ দিনের জন্য বাড়ানোর সুযোগ পাবেন। এক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের একমাত্র শর্ত হলো, কোনোভাবেই এক বছরের মধ্যে মোট অবস্থানের মেয়াদ ১৮০ দিনের বেশি অতিক্রম করা যাবে না। জিডিআরএফএ আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিশ্বের যেকোনো দেশের নাগরিকরাই এই আকর্ষণীয় ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এজন্য আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র এবং আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দাখিল করতে হবে। আবেদনের অত্যাবশ্যকীয় শর্ত অনুযায়ী, আবেদনকারীর সদ্য তোলা রঙিন ছবি এবং কমপক্ষে ছয় মাস মেয়াদ আছে এমন পাসপোর্টের কপি জমা দিতে হবে। এছাড়া আর্থিক সচ্ছলতার প্রমাণ হিসেবে ব্যাংক স্টেটমেন্টে ন্যূনতম চার হাজার মার্কিন ডলার বা তার সমপরিমাণ ব্যালেন্স দেখাতে হবে। এর পাশাপাশি প্রত্যেক আবেদনকারীর বৈধ স্বাস্থ্য বীমা এবং দেশে ফেরার কনফার্মড রিটার্ন বিমান টিকিট থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই শর্তগুলো পূরণ করে যে কেউ দীর্ঘমেয়াদে আমিরাত ভ্রমণের সুবিধা নিতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির দাম ও মর্টগেজ সুদের হার ক্রমাগত বাড়তে থাকায় প্রথমবার বাড়ি কেনা অনেকের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওয়ালেটহাবের নতুন এক বিশ্লেষণে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ৩০০টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ফ্লোরিডার পাম বে। ওয়ালেটহাব ২২টি সূচকের ভিত্তিতে এই মূল্যায়ন করেছে। এতে বাড়ির সামর্থ্য, আবাসন বাজারের অবস্থা, জীবনযাত্রার মান, বসবাসের ব্যয়, সম্পত্তি কর, অপরাধের হার, স্কুলের মান এবং বাজারে বাড়ির প্রাপ্যতার মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পাম বেতে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত রয়েছে এবং নতুন আবাসন নির্মাণের অনুমোদনের হারও দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে শহরটিতে মিলেনিয়াল প্রজন্মের বাড়ির মালিকানার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যা তরুণ ক্রেতাদের জন্য বাজারটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য বলছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে পাম বেতে বাড়ির মূল্য প্রায় ১০৭ শতাংশ বেড়েছে, যা গবেষণায় অন্তর্ভুক্ত শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ। তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অ্যারিজোনার সারপ্রাইজ এবং তৃতীয় স্থানে গিলবার্ট। সারপ্রাইজ শহরটি নতুন বাড়ির সরবরাহ, তুলনামূলক কম অপরাধ এবং সক্রিয় আবাসন বাজারের কারণে উচ্চ অবস্থান অর্জন করেছে। অন্যদিকে গিলবার্টে সম্পত্তি করের হার কম, নতুন আবাসন নির্মাণের গতি ভালো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগও শক্তিশালী। শহরটিতে প্রায় ৪৬ শতাংশ মিলেনিয়াল নিজস্ব বাড়ির মালিক। প্রথমবার বাড়ি কেনার জন্য শীর্ষ ১০ শহরের মধ্যে রয়েছে— ১. পাম বে, ফ্লোরিডা ২. সারপ্রাইজ, অ্যারিজোনা ৩. গিলবার্ট, অ্যারিজোনা ৪. ট্যাম্পা, ফ্লোরিডা ৫. ইউমা, অ্যারিজোনা ৬. পিওরিয়া, অ্যারিজোনা ৭. বোইসি, আইডাহো ৮. চ্যান্ডলার, অ্যারিজোনা ৯. অরল্যান্ডো, ফ্লোরিডা ১০. মারফ্রিসবোরো, টেনেসি ওয়ালেটহাবের বিশ্লেষক চিপ লুপো বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাড়ির দাম ও সুদের হার বেড়ে যাওয়ায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কেনা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। তার মতে, আদর্শ শহর শুধু সাশ্রয়ী হলেই হবে না; সেখানে পর্যাপ্ত আবাসনের সুযোগ, কম অপরাধ এবং ভালো শিক্ষা ব্যবস্থাও থাকতে হবে। প্রতিবেদনটি এমন এক সময় প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। ওয়ালেটহাবের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর মোট বাড়ি ক্রেতার মাত্র ২১ শতাংশ ছিলেন প্রথমবারের ক্রেতা, যেখানে ঐতিহাসিকভাবে এই হার প্রায় ৪০ শতাংশ ছিল। এদিকে দীর্ঘমেয়াদি ৩০ বছরের মর্টগেজ ঋণের গড় সুদের হার আবারও সাড়ে ৬ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছেছে। উচ্চ সুদের কারণে ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়ে যাওয়ায় অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা বাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদের হার উচ্চ অবস্থানে থাকলে চলতি বছরও যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে প্রথমবারের ক্রেতাদের জন্য চ্যালেঞ্জ অব্যাহত থাকতে পারে।
স্কটল্যান্ডের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের একটি পরিবারকে দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং পরে সরাসরি তাদের বাসায় যাওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তদন্তে ঘটনাটি আন্তঃদেশীয় সাইবার হয়রানি ও স্টকিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে উঠে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্রায়ান নেভিন (৪১) স্কটল্যান্ডের এডিনবরার বাসিন্দা। তদন্তে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে একটি অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে মিসৌরির এক কিশোরের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। শুরুতে সাধারণ কথোপকথন হলেও পরে যোগাযোগের মাত্রা বাড়তে থাকে। কিশোরের পরিবারের দাবি, নেভিন নিয়মিত ব্যক্তিগত বার্তা পাঠাতে থাকেন এবং সম্পর্ক বজায় রাখতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে অভিযুক্তকে যোগাযোগ বন্ধ করার অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, এরপর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, নেভিন বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে কিশোর ও তার পরিবারের সদস্যদের কাছে বারবার বার্তা পাঠান। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের হুমকি দেন এবং পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেন। স্থানীয় পুলিশ অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালে ডিজিটাল বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের যোগাযোগের রেকর্ড এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়। তদন্তকারীরা জানান, অভিযুক্তকে ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ না করার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সতর্কবার্তার পরও ব্রায়ান নেভিন স্কটল্যান্ড থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করেন। তিনি মিসৌরির লিভিংস্টন কাউন্টির চিলিকোথি শহরে পৌঁছে পরিবারের বাসায় যান এবং তাদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেন। পরিবারের সদস্যরা পুলিশকে খবর দিলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে আটক করে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে স্টকিং (অনুসরণ করে হয়রানি), হয়রানি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। আদালতে উপস্থাপিত নথিতে প্রসিকিউটররা দাবি করেন, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ড ভুক্তভোগী পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। এ কারণে আদালত তাকে জামিন না দিয়ে আটক রাখার নির্দেশ দেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অনলাইন যোগাযোগের শুরু ছিল গেমিং প্ল্যাটফর্মে। বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ অনলাইন গেমের মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্ল্যাটফর্মে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশু-কিশোরদের কার্যক্রমে অভিভাবকদের নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যোগাযোগ অনেক সময় বাস্তব জীবনের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রূপ নিতে পারে। সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ভাষ্য, অনলাইন হয়রানির ঘটনাগুলো আগের তুলনায় অনেক বেশি আন্তঃদেশীয় হয়ে উঠেছে। একজন ব্যক্তি এক দেশে অবস্থান করেও অন্য দেশের ভুক্তভোগীকে লক্ষ্য করে অপরাধ সংঘটিত করতে পারেন। ফলে এ ধরনের মামলায় স্থানীয় পুলিশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্টকিং ও সাইবার স্টকিংকে গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ ধরনের অপরাধের জন্য কারাদণ্ড, জরিমানা এবং ভুক্তভোগীর সঙ্গে যোগাযোগে নিষেধাজ্ঞাসহ বিভিন্ন শাস্তির বিধান রয়েছে। যদি হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা অঙ্গরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে অপরাধ সংঘটিত হয়, তাহলে ফেডারেল আইনও প্রযোজ্য হতে পারে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে অনলাইন হয়রানি শুধু ভার্চুয়াল জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে তা বাস্তব জীবনে অনুসরণ, ভয়ভীতি বা সহিংসতার ঝুঁকি তৈরি করে। তাই অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত তদন্ত, ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণ এবং ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এদিকে, অভিযুক্ত ব্রায়ান নেভিনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখনো চলমান। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে অভিযুক্ত, দোষী নন। মামলার পরবর্তী শুনানিতে প্রসিকিউশন ও ডিফেন্স উভয় পক্ষ তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবে। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য—উভয় দেশেই অনলাইন নিরাপত্তা, শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল সুরক্ষা এবং আন্তঃদেশীয় সাইবার অপরাধ মোকাবিলা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের পরামর্শ দিচ্ছেন, সন্তানদের অনলাইন গেমিং ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিয়মিত নজরদারি রাখতে, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য ভাগ না করতে এবং কোনো ধরনের হুমকি বা সন্দেহজনক আচরণ দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে।
সম্পূর্ণ নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি প্রথম রাডার স্যাটেলাইট ‘রাদ-১’ শিগগিরই উন্মোচন করতে যাচ্ছে ইরান। দেশটির মহাকাশ সংস্থার চেয়ারম্যান হাসান সালারিয়েহ সম্প্রতি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মহাকাশ গবেষণায় এটিকে ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং যুগান্তকারী প্রকল্প হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রযুক্তিগত কিছু চ্যালেঞ্জের কারণে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি থেকে সামান্য পিছিয়ে গেলেও বর্তমানে স্যাটেলাইটটির চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজ চলছে এবং এটি দ্রুতই আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। ইরানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ও মহাকাশ সংস্থার প্রধান সালারিয়েহ জানান, ২০২৬ সালের শুরুর দিকে ‘রাদ-১’ উন্মোচনের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। মহাকাশ প্রকল্পগুলোতে সচরাচর যেসব প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা যায়, তার কারণেই এই সামান্য বিলম্ব। তবে এই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ ইরানের মহাকাশ শিল্পের সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি মনে করেন। একইসঙ্গে তিনি সুখবর দিয়েছেন যে, ইতিমধ্যে ‘রাদ-২’ নামে আরও উন্নত সংস্করণের একটি রাডার স্যাটেলাইটের উন্নয়নকাজও পুরোদমে এগিয়ে চলছে। নতুন এই স্যাটেলাইটটি ‘রাদ-১’-এর তুলনায় আরও নিখুঁত ও উচ্চমানের ছবি ধারণে সক্ষম হবে। ইরানের মহাকাশ খাতের এই বিশাল অগ্রগতিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণও ক্রমশ বাড়ছে বলে উল্লেখ করেন সালারিয়েহ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আগামী প্রজন্মের মাইক্রো ও ন্যানো স্যাটেলাইটগুলোর চিত্র ধারণ ক্ষমতা হবে আরও অত্যাধুনিক। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বর্তমানে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও চিত্রভিত্তিক সেবার সম্প্রসারণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন খাতে দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রথমবার সাক্ষাৎ করতে গিয়ে এক তরুণী মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ২১ বছর বয়সী আরিয়ানা বেইলি জোন্স নিখোঁজ হওয়ার কয়েক দিন পর মরুভূমির একটি নির্জন এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ২৪ বছর বয়সী ডমিনিক স্কট-গ্লেন রোডোলিকোকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, আরিয়ানা ও অভিযুক্তের পরিচয় হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের মধ্যে কথোপকথন চলছিল। পরে তারা প্রথমবারের মতো সরাসরি দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন। পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে আরিয়ানা ওই ব্যক্তির সঙ্গে বাইরে যান। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং পরিবারের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুই দিন ধরে কোনো খোঁজ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্ত শুরু হলে পুলিশ আরিয়ানার বাসায় গিয়ে দেখতে পায়, তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ঘরেই রয়েছে। এমনকি তার পোষা কুকুরটিও কয়েক দিন ধরে খাঁচার ভেতরে আটকে ছিল। এসব তথ্য থেকে তদন্তকারীরা ধারণা করেন, তিনি স্বেচ্ছায় কোথাও যাননি। এরপর পুলিশের নজর যায় সেই ব্যক্তির দিকে, যার সঙ্গে শেষবার দেখা গিয়েছিল আরিয়ানাকে। জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দাবি করেন, তারা মরুভূমির একটি এলাকায় গেলে দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা আরিয়ানাকে ছুরিকাঘাত করে এবং তিনি প্রাণ বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে যান। তবে তদন্তকারীরা অভিযুক্তের এই বক্তব্যের সঙ্গে ঘটনাস্থলের আলামত, নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও, মোবাইল ফোনের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং অন্যান্য প্রমাণের মিল খুঁজে পাননি। পরে মরুভূমির একটি অগভীর কবর থেকে আরিয়ানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন আলামতও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও হত্যার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তকারীরা ডিজিটাল তথ্য, ফরেনসিক পরীক্ষার ফল এবং ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করছেন। আদালতে হাজির করার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালত তার জামিন দুই মিলিয়ন মার্কিন ডলার নির্ধারণ করেছেন। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতে রাখা হবে। নিহত আরিয়ানা ছিলেন দুই বছর বয়সী এক শিশুপুত্রের মা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ভেঙে পড়েছে। আরিয়ানার মা গণমাধ্যমকে বলেন, তাদের পরিবার এখনো বিশ্বাস করতে পারছে না যে একটি সাধারণ সাক্ষাৎ এমন মর্মান্তিক পরিণতিতে শেষ হবে। তিনি বলেন, "এটি কোনোভাবেই ন্যায্য নয়। আমার মেয়ে আর কখনো তার সন্তানকে কোলে নিতে পারবে না।" এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে পরিচয়ের মাধ্যমে গড়ে ওঠা সম্পর্কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নাগরিকদের পরামর্শ দিয়েছে, প্রথমবার অনলাইনে পরিচিত কারও সঙ্গে দেখা করলে জনবহুল স্থান নির্বাচন করা, পরিবারের কাউকে অবস্থান জানানো এবং প্রয়োজনে বন্ধু বা স্বজনকে সঙ্গে রাখা উচিত। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং নতুন তথ্য পাওয়া গেলে আদালতে তা উপস্থাপন করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার আর প্রয়োজন রয়েছে বলে তার প্রশাসন মনে করছে না। তিনি আরও বলেন, সামরিক উপস্থিতি কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিও নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতোই ইরাকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে সাদ্দাম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরাকে টানা ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইরাক সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান সমাপ্ত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইরাকেও পড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার দায় এর আগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক স্বীকার করেছিল। এসব ঘটনার কারণে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি কমানোর কৌশল অব্যাহত রাখলেও, ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
জানালা ভেঙে কেবিনের বায়ুচাপ কমে যাওয়ায় আতঙ্ক ছড়ায় রায়ানএয়ারের ফ্লাইটে। গুরুতর আহত যাত্রী হাসপাতালে, ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল। গ্রিস থেকে জার্মানিগামী রায়ানএয়ারের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে মাঝ আকাশে জানালা ভেঙে এক যাত্রী প্রায় বাইরে ছিটকে পড়ছিলেন। শেষ মুহূর্তে তাঁর পা শক্ত করে ধরে এবং অন্য দুই যাত্রীর সহায়তায় তাঁকে ভেতরে টেনে এনে প্রাণে বাঁচান তাঁর স্ত্রী। ঘটনাটি গত শুক্রবার ঘটে। ভুক্তভোগী ৬১ বছর বয়সী লিউবিসা কারোভিচ স্ত্রী স্বেতলানা গ্রকোভিচের সঙ্গে গ্রিসের থেসালোনিকি থেকে জার্মানির মেমিংগেনে যাচ্ছিলেন। গ্রিসের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ইআরটির সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গ্রকোভিচ জানান, তাঁর স্বামী প্রায় দুই মিনিট বুক পর্যন্ত উড়োজাহাজের বাইরে ঝুলে ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পা শক্ত করে ধরে ফেলি। তখন শুধু মনে হচ্ছিল, যদি মরতে হয়, আমরা একসঙ্গেই মরব।” স্বেতলানার ভাষ্য, তাঁর স্বামীর পাশের আসনে বসা এক নারী যাত্রীর সহায়তায় এবং আরও একজনের সহযোগিতায় তাঁরা তিনজন মিলে কারোভিচকে কেবিনের ভেতরে টেনে আনেন। এ সময় উড়োজাহাজে অক্সিজেন মাস্ক নেমে আসে এবং যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঘটনাটির সময় বিস্ফোরণের মতো বিকট শব্দ শোনা যায়। এরপর কেবিনের ভেতরের বায়ুচাপ দ্রুত কমে যায় এবং উড়োজাহাজটি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৯ হাজার ফুট নিচে নেমে আসে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, কারোভিচের সিটবেল্ট বাঁধা থাকায় তিনি পুরোপুরি উড়োজাহাজের বাইরে ছিটকে পড়েননি। তাঁর মাথা ও কাঁধ কেবিনের বাইরে চলে গেলেও সিটবেল্ট এবং অন্য যাত্রীদের সহায়তায় তাঁকে ধরে রাখা সম্ভব হয়। স্বেতলানা জানান, তাঁর স্বামীর হাত গুরুতর জখম হয়েছে, শরীরে ঘর্ষণ ও পোড়ার মতো ক্ষত রয়েছে এবং ঘটনার ধাক্কায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তিনি বলেন, “আমার কাছে সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, তিনি বেঁচে আছেন। এখন তিনি ঠিকমতো কথা বলতে পারছেন না, এমনকি পুরো ঘটনাটিও তাঁর মনে নেই।” রায়ানএয়ার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, থেসালোনিকি থেকে মেমিংগেনগামী তাদের একটি ফ্লাইটে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর একটি জানালা ক্ষতিগ্রস্ত হলে উড়োজাহাজটি নিরাপদে ফিরে আসে। পরে এটি স্বাভাবিকভাবে অবতরণ করে এবং এক আহত যাত্রীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার কারণ নিয়ে তদন্ত চলছে। ভুক্তভোগী পরিবারের নিয়োগ করা এক বিশেষজ্ঞের দাবি, ডান দিকের ইঞ্জিনের একটি অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে জানালায় আঘাত করায় এটি ভেঙে যায়। তবে তদন্তকারীরা এখনো এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করেননি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ছিল বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের এবং এর বয়স প্রায় ১৮ বছর। ঘটনাটি উত্তর মেসিডোনিয়ার আকাশসীমায় ঘটায় সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। লিউবিসা কারোভিচ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ও ৯/১১ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ওসামা বিন লাদেনকে হত্যার আগে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে তার লুকিয়ে থাকার শেষ মুহূর্তের ঘটনা নিয়ে আবারও আলোচনায় এসেছে একাধিক পুরোনো সাক্ষ্য ও স্মৃতিচারণ। ২০১১ সালের ২ মে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী নেভি সিল টিম সিক্সের পরিচালিত ‘অপারেশন নেপচুন স্পিয়ার’-এ নিহত হওয়ার ঠিক আগে স্ত্রী আমাল আল-সাদাহকে কী বলেছিলেন, সে বর্ণনা নতুন করে প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। সানডে টাইমসকে ২০১৭ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওসামার সর্বকনিষ্ঠ স্ত্রী আমাল আল-সাদাহ জানান, গভীর রাতে হেলিকপ্টারের শব্দে তাদের ঘুম ভেঙে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই পুরো ভবন কেঁপে ওঠে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ওসামা তার এক ছেলেকে অস্ত্র নিয়ে ওপরে আসতে বলেন এবং স্ত্রীদের নিচতলায় চলে যেতে নির্দেশ দিয়ে বলেন, “ওরা আমাকে চায়, তোমাদের নয়।” তবে আমাল দুই বছরের ছেলে হুসাইনকে নিয়ে কক্ষেই থেকে যান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর সদস্যরা ভবনের ভেতরে প্রবেশের শব্দ শোনার পর ওসামা তার দিকে ফিরে শেষবারের মতো বলেন, “আলো জ্বালিও না।” আমালের দাবি, তিনি দরজার দিকে ছুটে গেলে গুলিবিদ্ধ হয়ে পায়ে আঘাত পান। এরপরই কক্ষে প্রবেশ করে নেভি সিল সদস্যরা এবং ওসামা বিন লাদেনকে গুলি করে হত্যা করে। ওই অভিযানের মাধ্যমে প্রায় এক দশক ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে আলোচিত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের সমাপ্তি ঘটে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাবোটাবাদের ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন ওসামা। বাড়িটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল যাতে বাইরের কেউ সহজে ভেতরে দেখতে না পারে। টাইম ম্যাগাজিনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযানের সময় ওসামার পোশাকের ভেতরে কিছু অর্থ সেলাই করা ছিল এবং তার কাছে দুটি ফোনও ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেগুলোর কোনোটিই তাকে পালাতে সাহায্য করেনি। অন্যদিকে, অভিযানে অংশ নেওয়া সাবেক নেভি সিল সদস্য রবার্ট জে. ও'নিল—যিনি নিজেকে ওসামাকে লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী গুলি ছোড়া ব্যক্তি হিসেবে দাবি করেন—নেটফ্লিক্সের তথ্যচিত্র ‘আমেরিকান ম্যানহান্ট: ওসামা বিন লাদেন’-এ সেই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ও'নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, কক্ষে ঢুকে তিনি মাত্র কয়েক ফুট দূরে ওসামাকে দেখতে পান। তার দাবি, ওসামা আত্মসমর্পণের কোনো ইঙ্গিত দেননি এবং তিনি তাকে তাৎক্ষণিক হুমকি হিসেবে বিবেচনা করেন। এরপর তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। তিনি আরও বলেন, অভিযানের সময় ওসামার দুই বছরের ছেলেকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। শিশুটির কোনো দায় ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে অভিযানের পর ওসামার মরদেহ আরব সাগরে দাফন করার সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত ছিলেন না বলেও জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছিল, সম্ভাব্য কোনো সমাধিস্থলকে উগ্রপন্থীদের তীর্থস্থানে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকাতেই সমুদ্রে দাফনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০১১ সালের এই অভিযানের মাধ্যমে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার পর শুরু হওয়া দীর্ঘ অনুসন্ধানের অবসান ঘটে। ওই হামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন এবং এর জবাব হিসেবেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান জোরদার করে।
দীর্ঘ ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটিয়ে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে সব সেনা প্রত্যাহার করবে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন সফররত ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈঠকের পর এ ঘোষণা আসে। হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরাকে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার আর প্রয়োজন রয়েছে বলে তার প্রশাসন মনে করছে না। তিনি আরও বলেন, সামরিক উপস্থিতি কমলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরাকের অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদিও নিশ্চিত করেছেন, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে মার্কিন সেনারা ইরাক ত্যাগ করবে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কোম্পানি, বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের মতোই ইরাকে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ২০০৩ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের নেতৃত্বে সাদ্দাম হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া মার্কিন সামরিক অভিযানের পর থেকে ইরাকে টানা ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটবে। এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইরাক সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-বিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান সমাপ্ত করার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবেই সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ওই চুক্তি স্বাক্ষরের সময় ইরাকে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সেনা প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়েছে এবং ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের প্রভাব ইরাকেও পড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং রাজধানী বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলার দায় এর আগে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র জোট ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক স্বীকার করেছিল। এসব ঘটনার কারণে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ উপস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। বিশ্লেষকদের ধারণা, সেনা প্রত্যাহারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক উপস্থিতি কমানোর কৌশল অব্যাহত রাখলেও, ইরাকের সঙ্গে নিরাপত্তা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে আবারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। বাহিনীটির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরানের আরোপ করা অবরোধ বহাল থাকবে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছে, নিজেদের সামরিক ব্যর্থতা ও দুর্বলতা আড়াল করতেই যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার অজুহাত তৈরি করাই ওই হামলার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে দাবি করেছে তেহরান। আইআরজিসি আরও বলেছে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের আরোপ করা অবরোধ ভেঙে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করেনি। তাদের ভাষ্য, কোনো জাহাজই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা করে অবরোধ অমান্য করার দুঃসাহস দেখায়নি। ফলে জাহাজে হামলা চালানোর মতো কোনো পরিস্থিতিও সৃষ্টি হয়নি। তবে ইরানের এসব দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি স্বাধীন কোনো সূত্র থেকেও আইআরজিসির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি হওয়া উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস এই জলপথ দিয়েই পরিবহন করা হয়। ফলে হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বাধা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত যত দীর্ঘায়িত হবে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তাও তত বাড়বে। এতে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।