সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না। এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি। পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।
যুক্তরাজ্যে অসুস্থ এক তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে এমন একটি অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল, যা কোনো অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের করিডরে থাকার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে ঘটে। চলতি বছরের মে মাসে রোচডেল কোরোনার আদালতে অনুষ্ঠিত তদন্তে তাঁর চিকিৎসার শেষ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে। ক্ল্যারিসা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সৃজনশীল, প্রাণবন্ত এবং মানুষের সঙ্গে মিশুক তরুণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ক্ল্যারিসার প্রেমিক অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। আদালতে বলা হয়, এর আগের দুই দিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। মাথা ঘোরা, বমি এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁকে রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের একজন তাঁকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেছিলেন বলে তদন্তে জানানো হয়। এরপর দায়িত্বে থাকা নার্স মিশেল নিল ক্ল্যারিসাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন। কিন্তু সেটি কোনো অক্সিজেনের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। নিল আদালতে স্বীকার করেন, কেন তিনি এমন একটি মাস্ক দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না এবং এমনটি করা উচিত হয়নি। তিনি অবশ্য দাবি করেন, মাস্কটি ক্ল্যারিসার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল এবং তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ক্ল্যারিসার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং তাঁর হৃদস্পন্দনও দ্রুত ছিল। এরপরও তাঁকে চিকিৎসাকক্ষের পরিবর্তে হাসপাতালের করিডরে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। নিল জানান, তিনি ক্ল্যারিসার জন্য ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা এবং শিরার রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে তাঁর বিষয়টি একজন জ্যেষ্ঠ নার্সের কাছে তোলা হয়। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ নার্স ক্ল্যারিসা বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে তরল দেওয়া হয় এবং পরে আবার পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তবে ১৪ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পালমোনারি এমবোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ল্যারিসার এর আগেও ২০১৭ সালে পালমোনারি এমবোলিজম ও গভীর শিরায় রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ঘটনাটি সে সময়ের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তখন ছিল না। তদন্তে অবশ্য এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে তাঁর শরীরে কোনো অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৭ সালের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের পালমোনারি এমবোলিজম সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে জরুরি বিভাগে রোগী মূল্যায়ন, রোগীর উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে বয়স বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়া হয়নি। তবে ক্ল্যারিসার মৃত্যুর জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে এমনটি বলা ঠিক হবে না। কোরোনারের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগহীন মাস্ক দেওয়ার বিষয়টি নার্স নিজেই ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পর্যালোচনার কথা বলার পর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলোই আবারও দ্বীপগুলোর ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে জোরালো করেছেন। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনায় এগুলো ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্বের বিরোধের সবচেয়ে বড় অধ্যায় ছিল ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন এবং ব্রিটেনের ২৫৫ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। জুনে আর্জেন্টিনার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে যুদ্ধের পরও আর্জেন্টিনা দ্বীপগুলোর ওপর নিজের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাহার করেনি। অন্যদিকে দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালের গণভোটে ভোট দেওয়া ১ হাজার ৫১৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জনই ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনা করছেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটন দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে, যদিও বাস্তবে ব্রিটিশ প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে দ্রুত নিজের দেশের দাবির পক্ষে কাজে লাগান আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলোই। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার জন্য দ্বীপগুলো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি দ্বীপগুলোর আশপাশে তেল অনুসন্ধান নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মিলোইয়ের সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্পকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আর্জেন্টিনা এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে অবৈধ বলে মনে করলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তাদের অনুমোদন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া। মিলোইয়ের বক্তব্যে সামরিক সংঘাতের সরাসরি হুমকি না থাকলেও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি তাঁর সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি একই সঙ্গে দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলে আর্জেন্টিনার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন। এর মধ্যে ট্রাম্প ও মিলোইয়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মিলোই নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চয়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় মিলোইয়ের রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সাফল্যও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ব্রিটেন দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং তারা ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকতে চায়। দ্বীপবাসীদের এই অবস্থানের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ফকল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রত্যাশিত মাত্রায় সহযোগিতা না পাওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতেও ব্রিটেনের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ফকল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন নীতি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর ফকল্যান্ড ইস্যুতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আর হয়নি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি কখনো শেষ হয়নি। এখন ট্রাম্পের মন্তব্য, মিলোই সরকারের নতুন তৎপরতা এবং দ্বীপগুলোর সম্ভাব্য তেলসম্পদকে ঘিরে বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পুরোনো এই ভূখণ্ডগত বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল আফগান সাংবাদিক জাহরা জোয়ারকে। তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁর মা তাঁকে ছেলের পোশাক পরিয়ে ‘মোহাম্মদ’ নামে স্কুলে পাঠাতেন। বছরের পর বছর এভাবেই পরিচয় গোপন রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহরা। সেই শৈশবের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয় তাঁর জন্য। জাহরার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। ১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জাহরার সামনে তখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ ছিল না। কিন্তু শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ দেখে মা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েকে ছেলের মতো সাজিয়ে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর জাহরার নতুন পরিচয় হয় ‘মোহাম্মদ’। ছেলেদের পোশাক পরে তিনি প্রতিদিন স্কুলে যেতেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল তাঁর মায়ের। তবে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। জাহরা পরে স্মরণ করেছেন, তিনি সব সময় স্কুলে যেতে এবং ছেলেদের সঙ্গে বাইরে খেলতে চাইতেন। স্কুলে যাওয়ার পথটিও ছিল সহজ নয়। জাহরা তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতেন। সঙ্গে থাকত ছেলের পোশাক ও পরিচয়। পরিবারের একজন আত্মীয় তাঁকে ছেলেদের মতো চলাফেরা ও ফুটবল খেলার কৌশলও শেখাতেন, যাতে বাইরে কেউ তাঁর আসল পরিচয় বুঝতে না পারে। এই সময়টিতে ছেলের পরিচয়ে চলার কারণে জাহরা এমন কিছু স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা তখন আফগানিস্তানের মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রতিদিনই ছিল পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি নিজের পরিচয় লুকাতে চাননি, কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তখন তাঁর সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না। তালেবানের প্রথম শাসন ২০০১ সালে শেষ হওয়ার পর জাহরা আর ছেলের ছদ্মবেশে থাকতে বাধ্য হননি। এরপর তিনি প্রকাশ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিনি কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আফগান সমাজে নারীদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর অনেক সময় মূলধারার সংবাদে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে মনে করতেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই ২০২০ সালে জাহরা ‘রুখশানা মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে আফগান নারী ও মেয়েদের জীবন, অধিকার ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য কাজ করে। ২০২১ সালে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে জাহরার নিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের পরিচালিত আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন এবং পরে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। লন্ডন থেকে তিনি রুখশানা মিডিয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমটি দেশটির নারীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়। তালেবান শাসনের অধীনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাহরার কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছরে তিনি বিবিসির ‘১০০ উইমেন’-এর তালিকাতেও স্থান পান। তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে। বর্তমানে জাহরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউজ হলের বাই-ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়ে বলেছিল, আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে তাঁর কাজ এই স্বীকৃতির অন্যতম কারণ। শৈশবে নিজের পরিচয় গোপন করে স্কুলে যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা আজও জাহরার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে নিজের লিঙ্গপরিচয় গোপন করতে হয়েছিল শুধু পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার জন্য। পরে সেই শিশুই সাংবাদিক হয়ে আফগান নারীদের অধিকার ও শিক্ষার পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কথা বলার অন্যতম পরিচিত কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। জাহরার গল্প শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা নয়। এটি আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, সামাজিক স্বাধীনতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবিও। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও তীব্র হয়েছে। জাহরা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরছেন। সংবাদসূত্র: বিবিসি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, রুখশানা মিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান।
নিউইয়র্ক স্টেটে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে বিপুলসংখ্যক পদে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবেশ, আর্থিক সেবা, পরিবহনসহ বিভিন্ন বিভাগে একাধিক পদে আবেদন চলছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য প্রকাশিত চলমান নিয়োগ তালিকায় এসব পদ পাওয়া যাচ্ছে। নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়োগ তালিকায় সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অফিস সহকারী, প্রশাসনিক সহকারী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, নিরীক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, নিবন্ধিত নার্স, তথ্য বিশ্লেষক, পরিবেশবিষয়ক কর্মকর্তা, মানবাধিকারবিষয়ক তদন্তকারীসহ বিভিন্ন ধরনের পদ রয়েছে। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, নিয়োগের ধরন এবং আবেদনের শেষ তারিখ আলাদা। ১ সেপ্টেম্বরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতেই সহকারী ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট, নিবন্ধিত নার্স, রক্তের নমুনা সংগ্রহকারী, মোটরযান পরিদর্শক, পার্ক ও বিনোদন বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক এবং শিশু ও পরিবারসেবা বিভাগের বিভিন্ন পদসহ বেশ কয়েকটি চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখা যায়। পরদিনও নতুন করে তথ্যপ্রযুক্তি, মানবাধিকার, শিক্ষা, প্রশাসন ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগের প্রযুক্তি বিষয়ক ডেপুটি কমিশনার, তথ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এবং শিক্ষা বিভাগের প্রশাসনিক সহকারী ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদ রয়েছে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হলো ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচি। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন সংস্থা যোগ্য প্রার্থীদের কিছু পদে প্রচলিত প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রক্রিয়া ছাড়াই নিয়োগ দিতে পারে। সরকারি চাকরির জন্য তৈরি নিউইয়র্ক স্টেটের তথ্যপেজে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগপ্রক্রিয়া সহজ করে যোগ্য ও বৈচিত্র্যময় কর্মী দ্রুত নিয়োগের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। অভিবাসীদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তবে নিউইয়র্ক স্টেটের প্রতিটি সরকারি পদে একই যোগ্যতা প্রযোজ্য নয়। কোনো পদে নাগরিকত্ব বা নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান-সংক্রান্ত শর্ত থাকতে পারে, আবার কিছু পদে যোগ্যতা পূরণকারী অন্যান্য প্রার্থীর আবেদন করার সুযোগ থাকতে পারে। তাই অভিবাসী আবেদনকারীদের প্রতিটি চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে নাগরিকত্ব, কর্মসংস্থানের অনুমতি এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত ভালোভাবে দেখে আবেদন করা উচিত। চলমান নিয়োগ তালিকায় এমন অনেক পদও রয়েছে যেগুলোর আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি। যেমন, নিউইয়র্ক স্টেটের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে অফিস সহকারী ও প্রশাসনিক সহকারী পদে সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৪ তারিখ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগে কয়েকটি পদে আবেদনের শেষ তারিখ ১৫ থেকে ১৭ সেপ্টেম্বর। স্বাস্থ্য ও সংশ্লিষ্ট বিভাগেও বিভিন্ন পদে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত আবেদন নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া নিউইয়র্ক স্টেটের কর ও অর্থ বিভাগেও প্রশাসনিক সহকারী, করসংক্রান্ত তথ্য সহকারী এবং ব্যবসায়িক ব্যবস্থাপনা ও তথ্যপ্রযুক্তি-সংক্রান্ত পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। কিছু পদের আবেদনের শেষ তারিখ সেপ্টেম্বরের ১১ থেকে ১৭ তারিখের মধ্যে, আবার কিছু পদে আরও দীর্ঘ সময় আবেদন করা যাবে। আবেদনকারীদের মনে রাখতে হবে, সব সরকারি চাকরির জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। ‘এনওয়াই হেল্পস’ কর্মসূচির আওতাভুক্ত কিছু পদে পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে কিছু পদে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে। কোন পদে কী ধরনের নিয়োগপ্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ থাকে। নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইটে সাধারণ প্রার্থীদের জন্য বর্তমানে হাজারো চাকরির সুযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সেপ্টেম্বরের নিয়োগকে একটি নির্দিষ্ট এককালীন নিয়োগ পরীক্ষা হিসেবে না দেখে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে প্রকাশিত পৃথক শূন্যপদের সমষ্টি হিসেবে দেখা উচিত। আগ্রহী প্রার্থীরা নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট StateJobsNY-তে গিয়ে চলমান পদগুলো দেখতে পারবেন। সেখানে পদ অনুযায়ী যোগ্যতা, বেতন, কর্মস্থল, আবেদনের শেষ তারিখ এবং আবেদন করার পদ্ধতি দেওয়া থাকে। বিশেষ করে অভিবাসীদের ক্ষেত্রে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট পদের নাগরিকত্ব ও কর্মসংস্থানের যোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। শুধু পদটি সাধারণ প্রার্থীদের জন্য উন্মুক্ত দেখালেই প্রত্যেক অভিবাসী স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ্য হবেন, এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদন ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য নিউইয়র্ক স্টেটের সরকারি চাকরির ওয়েবসাইট: StateJobsNY
যুক্তরাষ্ট্রের পোর্ট অরেঞ্জ পুলিশ ডিপার্টমেন্টের লবিতে ঢুকে গুলি চালানোর পর পুলিশের পাল্টা গুলিতে ৭১ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও নিহতের পরিবার সংবাদমাধ্যম ডব্লিউইএসএইচ ২-কে নিশ্চিত করেছে। নিহত ওই নারীর নাম লিন্ডা জিন ক্রোটো। পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। পোর্ট অরেঞ্জ পুলিশের প্রধান ম্যানুয়েল মারিনো জানান, সকাল ৮টার দিকে লিন্ডা হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশ স্টেশনের লবিতে প্রবেশ করেন। সেখানে উপস্থিত কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি অস্ত্র বের করে কর্মীদের লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালান। এরপর তিনি লবি থেকে বেরিয়ে এলে বাইরে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হন। পুলিশ প্রধানের ভাষ্যমতে, কর্মকর্তাদের মুখোমুখি হওয়ার সময়ও লিন্ডার হাতে অস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিন পুলিশ কর্মকর্তা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তবে এই ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্য হতাহত হননি। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কালেব লেমনস রাস্তার উল্টো পাশ থেকে পুরো বিষয়টি দেখেছেন। তার বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী লবি থেকে বের হওয়ার সময় একেবারে জম্বির মতো হাঁটছিলেন। লেমনসের দাবি, পার্কিং লটে আসার পর ওই নারী তার অস্ত্রটি ফেলে দেন এবং রাস্তার পাশে বসে মাথায় হাত দিয়ে আত্মসমর্পণের ভঙ্গি করেন। এরপরই সেখানে মুহুর্মুহু গুলির শব্দ শোনা যায়। তবে প্রত্যক্ষদর্শীর এই দাবি অস্বীকার করেছে পুলিশ। নিহতের সৎ ছেলে জানিয়েছেন, লিন্ডা সম্প্রতি তার স্বামীকে হারিয়েছেন এবং এরপর থেকেই তিনি মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত সময় পার করছিলেন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব ল এনফোর্সমেন্ট (এফডিএলই)।
ফ্রান্সে জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের নতুন ঢেউ দেখা দিয়েছে। মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে এমন অনেক ফরাসি নারী, যারা সাধারণত হিজাব পরেন না, তারাও মাথায় স্কার্ফ বা হিজাব পরা ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করছেন। এই প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে উগ্র ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালি বা আরএনের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের পর। দলটির পক্ষ থেকে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তা কার্যকর করতে জরিমানার বিধান আনার কথা বলা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট ফরাসি সংবাদমাধ্যম বিএফএমটিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরএনের এমপি জঁ-ফিলিপ তাগি বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে জনপরিসরে হিজাব পরিধানের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সম্ভাব্য জরিমানাকে সিটবেল্ট না বাঁধার জন্য গাড়িচালকদের যে ধরনের জরিমানা করা হয়, তার সঙ্গে তুলনা করেন। তবে জরিমানার নির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো ঠিক করা হয়নি। এর পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। হিজাব না পরা বেশ কয়েকজন নারী নিজেদের মাথা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে তারা হিজাব পরা মুসলিম নারীদের প্রতি সংহতি জানান এবং পোশাক বেছে নেওয়ার স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান প্রকাশ করেন। তুরস্কের আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এমন একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আরব নিউজভিত্তিক আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের কেউ কেউ নিজেদের প্রকাশনায় মুসলিম নারীদের সঙ্গে সংহতির কথা জানিয়েছেন। কেউ কেউ আবার বলেছেন, হিজাব নিষিদ্ধ করার মতো আইন কার্যকর হলে তারাও প্রতিবাদ হিসেবে হিজাব পরবেন। জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের প্রস্তাবটি অবশ্য নতুন নয়। ন্যাশনাল র্যালির নেত্রী মারিন ল পেন দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১২ সাল থেকে তিনি জনপরিসরে হিজাব নিষিদ্ধের কথা বলে আসছেন এবং ২০১৭ ও ২০২২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণাতেও বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক অবস্থানের অংশ ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিষয়টি আবারও ফ্রান্সের রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ল পেন বর্তমানে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি অনিশ্চয়তা থাকলেও ন্যাশনাল র্যালি হিজাব, অভিবাসন ও ইসলামকে ঘিরে কঠোর অবস্থানকে নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তুলে ধরছে। ফ্রান্সে ধর্মীয় পোশাক নিয়ে এরই মধ্যে বেশ কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। সরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রকাশ্য ধর্মীয় প্রতীক পরিধান ২০০৪ সাল থেকে নিষিদ্ধ। সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের সময়ও দৃশ্যমান ধর্মীয় প্রতীক ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ন্যাশনাল র্যালির প্রস্তাবটি এর চেয়ে অনেক বিস্তৃত, কারণ এর লক্ষ্য জনপরিসরে হিজাব পরিধানকে নিয়ন্ত্রণ করা। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা মনে করছেন, এটি ব্যক্তির ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এ নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবটির সমালোচকেরা এর সাংবিধানিক বৈধতা ও বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি ন্যাশনাল র্যালির ভেতর থেকেও কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে দলটির নেতৃত্ব বলছে, হিজাবকে তারা ফ্রান্সের প্রজাতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও ধর্মনিরপেক্ষতার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে দেখে। ফ্রান্সের এই বিতর্কের সঙ্গে ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট হবে ১৮ এপ্রিল ২০২৭ এবং দ্বিতীয় দফার ভোট হবে ২ মে। ফ্রান্সের সংবিধান অনুযায়ী কোনো প্রেসিডেন্ট টানা দুই মেয়াদের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারেন না। ফলে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ২০২৭ সালের নির্বাচনে তৃতীয় টানা মেয়াদের জন্য প্রার্থী হতে পারবেন না। এই পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্বের প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে। ন্যাশনাল র্যালির জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। দলটির নেতারা অভিবাসন, জাতীয় পরিচয়, ইসলাম ও নিরাপত্তার মতো বিষয়কে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন। হিজাব নিষেধের প্রস্তাব সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক অবস্থানেরই একটি অংশ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে হিজাবকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাল্টা প্রচারণা দেখাচ্ছে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ নেই। মুসলিম নারীদের পোশাকের স্বাধীনতার প্রশ্নে তাদের পাশে দাঁড়াতে অমুসলিম নারীদের একাংশও প্রকাশ্যে অবস্থান নিচ্ছেন। ফলে ২০২৭ সালের নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে অসুস্থ এক তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে এমন একটি অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল, যা কোনো অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের করিডরে থাকার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে ঘটে। চলতি বছরের মে মাসে রোচডেল কোরোনার আদালতে অনুষ্ঠিত তদন্তে তাঁর চিকিৎসার শেষ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে। ক্ল্যারিসা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সৃজনশীল, প্রাণবন্ত এবং মানুষের সঙ্গে মিশুক তরুণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ক্ল্যারিসার প্রেমিক অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। আদালতে বলা হয়, এর আগের দুই দিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। মাথা ঘোরা, বমি এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁকে রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের একজন তাঁকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেছিলেন বলে তদন্তে জানানো হয়। এরপর দায়িত্বে থাকা নার্স মিশেল নিল ক্ল্যারিসাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন। কিন্তু সেটি কোনো অক্সিজেনের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। নিল আদালতে স্বীকার করেন, কেন তিনি এমন একটি মাস্ক দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না এবং এমনটি করা উচিত হয়নি। তিনি অবশ্য দাবি করেন, মাস্কটি ক্ল্যারিসার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল এবং তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ক্ল্যারিসার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং তাঁর হৃদস্পন্দনও দ্রুত ছিল। এরপরও তাঁকে চিকিৎসাকক্ষের পরিবর্তে হাসপাতালের করিডরে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। নিল জানান, তিনি ক্ল্যারিসার জন্য ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা এবং শিরার রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে তাঁর বিষয়টি একজন জ্যেষ্ঠ নার্সের কাছে তোলা হয়। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ নার্স ক্ল্যারিসা বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে তরল দেওয়া হয় এবং পরে আবার পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তবে ১৪ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পালমোনারি এমবোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ল্যারিসার এর আগেও ২০১৭ সালে পালমোনারি এমবোলিজম ও গভীর শিরায় রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ঘটনাটি সে সময়ের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তখন ছিল না। তদন্তে অবশ্য এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে তাঁর শরীরে কোনো অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৭ সালের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের পালমোনারি এমবোলিজম সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে জরুরি বিভাগে রোগী মূল্যায়ন, রোগীর উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে বয়স বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়া হয়নি। তবে ক্ল্যারিসার মৃত্যুর জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে এমনটি বলা ঠিক হবে না। কোরোনারের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগহীন মাস্ক দেওয়ার বিষয়টি নার্স নিজেই ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না। এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি। পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল আফগান সাংবাদিক জাহরা জোয়ারকে। তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁর মা তাঁকে ছেলের পোশাক পরিয়ে ‘মোহাম্মদ’ নামে স্কুলে পাঠাতেন। বছরের পর বছর এভাবেই পরিচয় গোপন রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহরা। সেই শৈশবের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয় তাঁর জন্য। জাহরার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। ১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জাহরার সামনে তখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ ছিল না। কিন্তু শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ দেখে মা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েকে ছেলের মতো সাজিয়ে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর জাহরার নতুন পরিচয় হয় ‘মোহাম্মদ’। ছেলেদের পোশাক পরে তিনি প্রতিদিন স্কুলে যেতেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল তাঁর মায়ের। তবে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। জাহরা পরে স্মরণ করেছেন, তিনি সব সময় স্কুলে যেতে এবং ছেলেদের সঙ্গে বাইরে খেলতে চাইতেন। স্কুলে যাওয়ার পথটিও ছিল সহজ নয়। জাহরা তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতেন। সঙ্গে থাকত ছেলের পোশাক ও পরিচয়। পরিবারের একজন আত্মীয় তাঁকে ছেলেদের মতো চলাফেরা ও ফুটবল খেলার কৌশলও শেখাতেন, যাতে বাইরে কেউ তাঁর আসল পরিচয় বুঝতে না পারে। এই সময়টিতে ছেলের পরিচয়ে চলার কারণে জাহরা এমন কিছু স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা তখন আফগানিস্তানের মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রতিদিনই ছিল পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি নিজের পরিচয় লুকাতে চাননি, কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তখন তাঁর সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না। তালেবানের প্রথম শাসন ২০০১ সালে শেষ হওয়ার পর জাহরা আর ছেলের ছদ্মবেশে থাকতে বাধ্য হননি। এরপর তিনি প্রকাশ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিনি কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আফগান সমাজে নারীদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর অনেক সময় মূলধারার সংবাদে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে মনে করতেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই ২০২০ সালে জাহরা ‘রুখশানা মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে আফগান নারী ও মেয়েদের জীবন, অধিকার ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য কাজ করে। ২০২১ সালে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে জাহরার নিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের পরিচালিত আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন এবং পরে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। লন্ডন থেকে তিনি রুখশানা মিডিয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমটি দেশটির নারীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়। তালেবান শাসনের অধীনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাহরার কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছরে তিনি বিবিসির ‘১০০ উইমেন’-এর তালিকাতেও স্থান পান। তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে। বর্তমানে জাহরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউজ হলের বাই-ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়ে বলেছিল, আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে তাঁর কাজ এই স্বীকৃতির অন্যতম কারণ। শৈশবে নিজের পরিচয় গোপন করে স্কুলে যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা আজও জাহরার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে নিজের লিঙ্গপরিচয় গোপন করতে হয়েছিল শুধু পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার জন্য। পরে সেই শিশুই সাংবাদিক হয়ে আফগান নারীদের অধিকার ও শিক্ষার পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কথা বলার অন্যতম পরিচিত কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। জাহরার গল্প শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা নয়। এটি আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, সামাজিক স্বাধীনতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবিও। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও তীব্র হয়েছে। জাহরা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরছেন। সংবাদসূত্র: বিবিসি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, রুখশানা মিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান।
রাজনীতি
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreসিডনির পশ্চিমাঞ্চলে সন্দেহভাজন গ্যাং হামলায় নিহত ৪০ বছর বয়সী জোশুয়া ম্যাকডোনাল্ডকে পরিবারের পক্ষ থেকে এমন একজন মানুষ হিসেবে স্মরণ করা হচ্ছে, যিনি গুলির মুখে নিজের জীবনের কথা না ভেবে বন্ধুর দুই শিশুকন্যাকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন। পুলিশ বলছে, ম্যাকডোনাল্ডের সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র ছিল না এবং ঘটনাটি ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে। বুধবার বিকেলে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলের মেরিল্যান্ডস ওয়েস্টের ব্রুস স্ট্রিটের একটি বাড়ির সামনে গুলিতে নিহত হন ম্যাকডোনাল্ড। তিনি পেশায় বৈদ্যুতিক কাজের ঠিকাদার ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, একটি চুরি যাওয়া ধূসর অডি গাড়িতে থাকা বন্দুকধারীরা ওই বাড়ির সামনে এসে গুলি চালায়। ম্যাকডোনাল্ড মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় ম্যাকডোনাল্ড তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু নিক ব্রাউন এবং ব্রাউনের দুই ছোট মেয়ের সঙ্গে বাড়িটির সামনে ছিলেন। গুলি শুরু হলে তিনি শিশুদের সামনে নিজেকে আড়াল হিসেবে দাঁড় করান। পরিবারের সদস্য ডার্লিন নর্টন জানিয়েছেন, তাঁর ভাগনে এমনই ছিলেন। বিপদে কাউকে দেখলে নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে সামনে দাঁড়াতেন তিনি। ব্রাউন নর্টন পরিবারকে পাঠানো এক বার্তায় ম্যাকডোনাল্ডকে তাঁর নিজের ও সন্তানদের ‘অভিভাবক দেবদূত’ হিসেবে স্মরণ করেছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা বলেন, তাঁর শেষ কাজটিও ছিল অন্যদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা। ঘটনার তদন্তে পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেছে। এতে একটি ধূসর অডি গাড়িকে ঘটনাস্থল থেকে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশের ধারণা, হামলাকারীরা যে ব্যক্তিকে লক্ষ্য করেছিল, ম্যাকডোনাল্ড সম্ভবত সেই ব্যক্তি ছিলেন না। যে বাড়িতে তিনি গিয়েছিলেন, সেটির সঙ্গে অপরাধজগতের সংশ্লিষ্টতার তথ্য থাকলেও পুলিশ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ম্যাকডোনাল্ড নিজে সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। ম্যাকডোনাল্ড হত্যার মাত্র এক দিন আগে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা ঘটে। ৩১ আগস্ট ভোরে মুখোশধারী কয়েকজন একটি বাড়িতে ঢুকে ২৩ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মার্কো তাপিয়াকে গুলি করে হত্যা করে। তাপিয়াও অপরাধজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে সেই ঘটনাও ভুল পরিচয়ের কারণে ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দুই ঘটনার মধ্যে মাত্র প্রায় ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধান থাকায় সিডনিতে সংগঠিত অপরাধীদের সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, পুলিশের তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এসব হামলার পেছনে একই অপরাধী চক্র বা বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খুঁজে দেখা। ম্যাকডোনাল্ডের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তাঁর খালা ডার্লিন নর্টন অভিযোগ করেন, হামলায় ব্যবহৃত গাড়িটি দীর্ঘ সময় ওই এলাকায় অবস্থান করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে আগে থেকে পুলিশি টহল বাড়ানো হলে হয়তো ঘটনাটি ঠেকানো সম্ভব হতো বলে তাঁর ধারণা। তবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সরকার ও পুলিশ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা কাজ করছে। পুলিশ কমিশনার ম্যাল ল্যানিয়ন জানিয়েছেন, সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হবে এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আদালতের মুখোমুখি করার চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীরা আরও খতিয়ে দেখছেন, বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীদের নির্দেশে স্থানীয় তরুণদের ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হচ্ছে কি না। এদিকে ম্যাকডোনাল্ডের স্বজনেরা তাঁকে পরিশ্রমী, সদয় ও পরিবারপ্রিয় মানুষ হিসেবে স্মরণ করছেন। তাঁর খালা জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগেই জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। জবাবে ম্যাকডোনাল্ড লিখেছিলেন, দেখা হওয়ার অপেক্ষায় আছেন তিনি। সেই সাক্ষাৎ আর হয়নি। পুলিশ এখনো দুই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তদন্তকারীরা হামলাকারীদের শনাক্ত করতে নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। সূত্র: ডেইলি মেইল, এবিসি নিউজ ও ৭নিউজ।
যুক্তরাজ্যে অসুস্থ এক তরুণীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ২৪ বছর বয়সী ক্ল্যারিসা স্ট্রিটকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁকে এমন একটি অক্সিজেন মাস্ক দেওয়া হয়েছিল, যা কোনো অক্সিজেন সরবরাহের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। পরে এক ঘণ্টারও বেশি সময় হাসপাতালের করিডরে থাকার পর তাঁর অবস্থার অবনতি হয় এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনাটি ২০২৪ সালের আগস্টে ইংল্যান্ডের রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে ঘটে। চলতি বছরের মে মাসে রোচডেল কোরোনার আদালতে অনুষ্ঠিত তদন্তে তাঁর চিকিৎসার শেষ সময়ের বিভিন্ন ঘটনা উঠে আসে। ক্ল্যারিসা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। তাঁর গবেষণার জন্য তিনি ডিনস অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে সৃজনশীল, প্রাণবন্ত এবং মানুষের সঙ্গে মিশুক তরুণী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট রাতে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ক্ল্যারিসার প্রেমিক অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। আদালতে বলা হয়, এর আগের দুই দিন ধরেই তিনি অসুস্থ বোধ করছিলেন। মাথা ঘোরা, বমি এবং বারবার অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তাঁকে রয়্যাল ওল্ডহ্যাম হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর অ্যাম্বুলেন্সকর্মীদের একজন তাঁকে অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন এবং আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে করেছিলেন বলে তদন্তে জানানো হয়। এরপর দায়িত্বে থাকা নার্স মিশেল নিল ক্ল্যারিসাকে একটি অক্সিজেন মাস্ক দেন। কিন্তু সেটি কোনো অক্সিজেনের উৎসের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল না। নিল আদালতে স্বীকার করেন, কেন তিনি এমন একটি মাস্ক দিয়েছিলেন তা তিনি জানেন না এবং এমনটি করা উচিত হয়নি। তিনি অবশ্য দাবি করেন, মাস্কটি ক্ল্যারিসার শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেছিল এবং তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, ক্ল্যারিসার রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কম ছিল এবং তাঁর হৃদস্পন্দনও দ্রুত ছিল। এরপরও তাঁকে চিকিৎসাকক্ষের পরিবর্তে হাসপাতালের করিডরে রাখা হয়। সেখানে তিনি প্রায় এক ঘণ্টা ছিলেন বলে আদালতে তথ্য উঠে আসে। নিল জানান, তিনি ক্ল্যারিসার জন্য ইসিজি, রক্ত পরীক্ষা এবং শিরার রক্তের গ্যাস পরীক্ষা করার অনুরোধ করেছিলেন। পরে তাঁর বিষয়টি একজন জ্যেষ্ঠ নার্সের কাছে তোলা হয়। নিলের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ নার্স ক্ল্যারিসা বয়সে তরুণ হওয়ায় তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁকে তরল দেওয়া হয় এবং পরে আবার পরীক্ষা করার কথা ছিল। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত তাঁকে আরও উচ্চপর্যায়ের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় এবং চিকিৎসক তাঁকে দেখেন। তবে ১৪ আগস্ট ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্ত ও তদন্তে তাঁর মৃত্যুর কারণ হিসেবে পালমোনারি এমবোলিজম বা ফুসফুসের রক্তনালিতে রক্ত জমাটের কথা বলা হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে ফ্যাটি লিভার রোগের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ল্যারিসার এর আগেও ২০১৭ সালে পালমোনারি এমবোলিজম ও গভীর শিরায় রক্ত জমাটের সমস্যা হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে রক্ত পাতলা রাখার ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। তবে আদালতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ঘটনাটি সে সময়ের চিকিৎসা নির্দেশিকা অনুযায়ী একটি নির্দিষ্ট কারণের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে বিবেচিত হয়েছিল। তাই দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা বা রক্তরোগ বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বাধ্যবাধকতা তখন ছিল না। তদন্তে অবশ্য এটিও স্বীকার করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত পরীক্ষা বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হলে তাঁর শরীরে কোনো অন্তর্নিহিত কারণ শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে ২০১৭ সালের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের পালমোনারি এমবোলিজম সরাসরি সম্পর্কিত ছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায়নি। ঘটনাটি যুক্তরাজ্যে জরুরি বিভাগে রোগী মূল্যায়ন, রোগীর উপসর্গকে গুরুত্ব দেওয়া এবং চিকিৎসার ক্ষেত্রে বয়স বা প্রাথমিক ধারণার প্রভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ক্ল্যারিসার শারীরিক অবস্থার কিছু গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসাকক্ষে নেওয়া হয়নি। তবে ক্ল্যারিসার মৃত্যুর জন্য সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে দায়ী করা হয়েছে এমনটি বলা ঠিক হবে না। কোরোনারের তদন্তের উদ্দেশ্য হলো মৃত্যুর পরিস্থিতি ও চিকিৎসার ধারাবাহিকতা খতিয়ে দেখা। অক্সিজেনের সঙ্গে সংযোগহীন মাস্ক দেওয়ার বিষয়টি নার্স নিজেই ভুল হিসেবে স্বীকার করেছেন।
ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সার্বভৌমত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নতুন করে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান পর্যালোচনার কথা বলার পর আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলোই আবারও দ্বীপগুলোর ওপর আর্জেন্টিনার দাবিকে জোরালো করেছেন। দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপপুঞ্জ ব্রিটিশ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর্জেন্টিনায় এগুলো ‘মালভিনাস’ নামে পরিচিত। দুই দেশের মধ্যে সার্বভৌমত্বের বিরোধের সবচেয়ে বড় অধ্যায় ছিল ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধ। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৪৯ জন এবং ব্রিটেনের ২৫৫ জন সামরিক সদস্য নিহত হন। জুনে আর্জেন্টিনার বাহিনী আত্মসমর্পণ করলে যুদ্ধের অবসান ঘটে। তবে যুদ্ধের পরও আর্জেন্টিনা দ্বীপগুলোর ওপর নিজের সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাহার করেনি। অন্যদিকে দ্বীপের বাসিন্দারা ব্রিটিশ শাসনের অধীনে থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। ২০১৩ সালের গণভোটে ভোট দেওয়া ১ হাজার ৫১৭ জনের মধ্যে ১ হাজার ৫১৩ জনই ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সম্প্রতি ট্রাম্পের মন্তব্যের পর পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, তিনি ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পর্যালোচনা করছেন। তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে আনুষ্ঠানিক কোনো পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। ঐতিহাসিকভাবে ওয়াশিংটন দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে, যদিও বাস্তবে ব্রিটিশ প্রশাসনকে স্বীকৃতি দিয়ে এসেছে। ট্রাম্পের এই বক্তব্যকে দ্রুত নিজের দেশের দাবির পক্ষে কাজে লাগান আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলোই। বৃহস্পতিবার দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে তিনি বলেন, আর্জেন্টিনার জন্য দ্বীপগুলো পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তিনি দ্বীপগুলোর আশপাশে তেল অনুসন্ধান নিয়েও কঠোর অবস্থানের কথা জানান। মিলোইয়ের সরকার ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের কাছে তেল অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে ‘সি লায়ন’ তেল প্রকল্পকে ঘিরে আর্জেন্টিনা ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। আর্জেন্টিনা এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমকে অবৈধ বলে মনে করলেও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো বলছে, তাদের অনুমোদন ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের সরকার এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাওয়া। মিলোইয়ের বক্তব্যে সামরিক সংঘাতের সরাসরি হুমকি না থাকলেও দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি তাঁর সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে। তিনি একই সঙ্গে দক্ষিণ আটলান্টিক অঞ্চলে আর্জেন্টিনার সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও বলেছেন। এর মধ্যে ট্রাম্প ও মিলোইয়ের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কও বিষয়টিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মিলোই নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র আর্জেন্টিনার অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের ঋণ নিশ্চয়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। সেই সময় মিলোইয়ের রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী সাফল্যও ওয়াশিংটনের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অন্যদিকে ব্রিটেন দ্বীপগুলোর ওপর নিজেদের অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি। ব্রিটিশ সরকার বলেছে, ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের অধিকার রয়েছে এবং তারা ব্রিটিশ ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে থাকতে চায়। দ্বীপবাসীদের এই অবস্থানের প্রতি ব্রিটেনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। ফকল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সম্পর্কের টানাপোড়েনও ভূমিকা রাখছে বলে বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে ব্রিটেনের প্রত্যাশিত মাত্রায় সহযোগিতা না পাওয়ায় ট্রাম্পের অসন্তোষের কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ নথিতেও ব্রিটেনের অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় ফকল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন নীতি পুনর্বিবেচনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। ১৯৮২ সালের যুদ্ধের পর ফকল্যান্ড ইস্যুতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাত আর হয়নি। কিন্তু আর্জেন্টিনার সার্বভৌমত্বের দাবি কখনো শেষ হয়নি। এখন ট্রাম্পের মন্তব্য, মিলোই সরকারের নতুন তৎপরতা এবং দ্বীপগুলোর সম্ভাব্য তেলসম্পদকে ঘিরে বিরোধ আবারও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে পুরোনো এই ভূখণ্ডগত বিরোধকে সামনে নিয়ে এসেছে।
মাত্র পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার জন্য ছদ্মবেশ নিতে হয়েছিল আফগান সাংবাদিক জাহরা জোয়ারকে। তালেবানের প্রথম দফার শাসনামলে মেয়েদের শিক্ষার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পর তাঁর মা তাঁকে ছেলের পোশাক পরিয়ে ‘মোহাম্মদ’ নামে স্কুলে পাঠাতেন। বছরের পর বছর এভাবেই পরিচয় গোপন রেখে পড়াশোনা চালিয়ে যান জাহরা। সেই শৈশবের অভিজ্ঞতাই পরবর্তী সময়ে আফগান নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার পথ তৈরি করে দেয় তাঁর জন্য। জাহরার বয়স তখন মাত্র পাঁচ বছর। ১৯৯৬ সালে তালেবান আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জাহরার সামনে তখন পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পথ ছিল না। কিন্তু শিক্ষার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ দেখে মা একটি ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। মেয়েকে ছেলের মতো সাজিয়ে স্কুলে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন তিনি। এরপর জাহরার নতুন পরিচয় হয় ‘মোহাম্মদ’। ছেলেদের পোশাক পরে তিনি প্রতিদিন স্কুলে যেতেন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ছদ্মবেশ নেওয়ার পরিকল্পনাটি ছিল তাঁর মায়ের। তবে স্কুলে যাওয়ার আগ্রহ ছিল সম্পূর্ণ তাঁর নিজের। জাহরা পরে স্মরণ করেছেন, তিনি সব সময় স্কুলে যেতে এবং ছেলেদের সঙ্গে বাইরে খেলতে চাইতেন। স্কুলে যাওয়ার পথটিও ছিল সহজ নয়। জাহরা তাঁর গ্রামের বাড়ি থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে শ্রেণিকক্ষে পৌঁছাতেন। সঙ্গে থাকত ছেলের পোশাক ও পরিচয়। পরিবারের একজন আত্মীয় তাঁকে ছেলেদের মতো চলাফেরা ও ফুটবল খেলার কৌশলও শেখাতেন, যাতে বাইরে কেউ তাঁর আসল পরিচয় বুঝতে না পারে। এই সময়টিতে ছেলের পরিচয়ে চলার কারণে জাহরা এমন কিছু স্বাধীনতা পেয়েছিলেন, যা তখন আফগানিস্তানের মেয়েদের জন্য প্রায় অসম্ভব ছিল। কিন্তু প্রতিদিনই ছিল পরিচয় প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। তাঁর নিজের ভাষায়, তিনি নিজের পরিচয় লুকাতে চাননি, কিন্তু পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তখন তাঁর সামনে অন্য কোনো পথও ছিল না। তালেবানের প্রথম শাসন ২০০১ সালে শেষ হওয়ার পর জাহরা আর ছেলের ছদ্মবেশে থাকতে বাধ্য হননি। এরপর তিনি প্রকাশ্যে পড়াশোনা চালিয়ে যান। ২০১১ সালে তিনি কাবুলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন এবং আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সাংবাদিকতা পেশায় যুক্ত হন। নিজের শৈশবের অভিজ্ঞতা তাঁর সাংবাদিকতার দৃষ্টিভঙ্গিকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে। আফগান সমাজে নারীদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠস্বর অনেক সময় মূলধারার সংবাদে যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না বলে মনে করতেন তিনি। সেই জায়গা থেকেই ২০২০ সালে জাহরা ‘রুখশানা মিডিয়া’ প্রতিষ্ঠা করেন। সংবাদমাধ্যমটি বিশেষভাবে আফগান নারী ও মেয়েদের জীবন, অধিকার ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার জন্য কাজ করে। ২০২১ সালে তালেবান আবার আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করলে জাহরার নিজের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে পড়ে। তিনি ব্রিটিশ সরকারের পরিচালিত আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নেওয়ার অভিযানের মাধ্যমে দেশ ছাড়েন এবং পরে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেন। লন্ডন থেকে তিনি রুখশানা মিডিয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংবাদমাধ্যমটি দেশটির নারীদের নিজেদের অভিজ্ঞতা ও কণ্ঠে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব দেয়। তালেবান শাসনের অধীনে আফগান নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও জনজীবনে অংশগ্রহণের ওপর আরোপিত বিভিন্ন বিধিনিষেধ নিয়েও প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। আফগানিস্তানের ভেতরে থাকা সাংবাদিকদের মাধ্যমেও এসব প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। জাহরার কাজ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০২২ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাঁকে ‘উইমেন অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। একই বছরে তিনি বিবিসির ‘১০০ উইমেন’-এর তালিকাতেও স্থান পান। তাঁর সাংবাদিকতার স্বীকৃতি হিসেবে আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার রয়েছে। বর্তমানে জাহরা যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন এবং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের হিউজ হলের বাই-ফেলো হিসেবে যুক্ত আছেন। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০২৪ সালে তাঁর নিয়োগের কথা জানিয়ে বলেছিল, আফগান নারী ও মেয়েদের অধিকার, বিশেষ করে শিক্ষার অধিকার নিয়ে তাঁর কাজ এই স্বীকৃতির অন্যতম কারণ। শৈশবে নিজের পরিচয় গোপন করে স্কুলে যাওয়ার সেই অভিজ্ঞতা আজও জাহরার কাজের কেন্দ্রে রয়েছে। যে বয়সে একটি শিশুর স্বাভাবিকভাবে স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তাঁকে নিজের লিঙ্গপরিচয় গোপন করতে হয়েছিল শুধু পড়াশোনার সুযোগ পাওয়ার জন্য। পরে সেই শিশুই সাংবাদিক হয়ে আফগান নারীদের অধিকার ও শিক্ষার পক্ষে আন্তর্জাতিকভাবে কথা বলার অন্যতম পরিচিত কণ্ঠে পরিণত হয়েছেন। জাহরার গল্প শুধু একজন সাংবাদিকের ব্যক্তিগত জীবনের ঘটনা নয়। এটি আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ, সামাজিক স্বাধীনতা এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিচ্ছবিও। ২০২১ সালে তালেবান পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর দেশটির নারী ও মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আবারও তীব্র হয়েছে। জাহরা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সেই বাস্তবতার কথাই তুলে ধরছেন। সংবাদসূত্র: বিবিসি, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, রুখশানা মিডিয়া ও দ্য গার্ডিয়ান।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক
সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা, নতুন গবেষণায় মিলছে সম্ভাবনার ইঙ্গিত
কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার
গোপনে বিয়ের পাঁচ মাসেই বিচ্ছেদ, ভেঙে গেল বাদশাহ-ইশার সংসার
সাপের কামড়ে বিষ ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে কেটে ফেললেন আঙুল! পরে জানলেন শাপটি বিষধর ছিল না
ব্রিটিশ গায়ক হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা, বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’
ডাক্তার বলেছিল,এই ওজন খুব শীঘ্রই কবরে নিয়ে যাবে! ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ মঞ্চে অ্যাম্বার উহলার,
হলিউডে সাফল্যের আগে অর্থকষ্ট, মস্তিষ্কে টিউমার, মার্ক রাফালোর কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন স্ত্রী
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
নিউইয়র্কে ৮০০টির বেশি সরকারি পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, যোগ্য অভিবাসীরাও করতে পারবেন আবেদন
এআই দিয়ে পরিকল্পনা করে পাহাড়ে উঠতে গিয়ে পথ হারালেন ৩ হাইকার, রাতভর আটকে থাকার পর উদ্ধার
নিউইয়র্কে ৪৫০% ভাড়া বৃদ্ধির রায় বাতিল, বিলিয়নিয়ারদের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে মধ্যবিত্তদের জয়
যুক্তরাষ্ট্রে বয়স্কদের টার্গেট করে ২৫ কোটি ডলারের প্রতারণা, মূলহোতা গ্রেপ্তার; অভিযুক্ত ৪০ জনের বেশি
৯/১১-এর উদ্ধারকাজে অসুস্থ হয়ে প্রাণ হারানো তিন কারারক্ষীকে মরণোত্তর সম্মাননা
একই ধরনের অটিজম বৈশিষ্ট্যের মানুষদের মধ্যেই বন্ধুত্ব-সম্পর্কের টান বেশি
ডোনার ছাড়াই বাঁচার নতুন আশা, ফ্রান্সের তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনে নতুন সম্ভাবনা
ট্রাম্পের আমেরিকা যখন চীনের রোবট নিয়ে হাসছে, তখন রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের চীন
'সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রযুক্তি' এআই, কেড়ে নিবে কোটি মানুষের চাকরি, ঘটতে পারে জৈবসন্ত্রাস: বিল গেটস
ল্যাবে তৈরি ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক ৫ বছর ধরে বাঁচিয়ে রাখলেন বিজ্ঞানীরা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত
অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা
সস্তা নাশতা খেয়ে ২৪ বছরেই সঞ্চয় ৯৭ হাজার ডলার! ৪০-এ অবসর যা পারছেন তাই করছেন
মার্কিন সহায়তা বন্ধের জেরে আফগানিস্তানে ১৬১ প্রতিরোধযোগ্য মৃ/ত্যু, ৮০ জনই মা
নতুন প্রজন্মকে বিজ্ঞানমুখী করতে সিনেমার তারকার বদলে চীনের বিলবোর্ডে বিজ্ঞানীদের ছবি
নেপালে কৈলাস তীর্থযাত্রায় গিয়ে ভূমিধসে নি হত টেক্সাসের ভারতীয়-আমেরিকান দম্পতি
মুসলিম পরিচয়ের কারণে দিল্লিতে দুই নারী সাংবাদিককে মারধর, পুলিশের নির্যাতন