পাইলট সেজে অভিনব কায়দায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে কোকেন পাচারের চেষ্টা করে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এক স্প্যানিশ নাগরিক। কার্লোস বারবেরিয়া হার্নান্দো নামের ওই ব্যক্তি গত ৯ জুলাই কলম্বিয়ার বোগোটার এল ডোরাডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্পেনের বার্সেলোনাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার পরনের পাইলট ইউনিফর্মটি কোনো পরিচিত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের পোশাকের সাথে না মেলায় সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। এরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলাদা করে তল্লাশি করা হয় এবং বেরিয়ে আসে পাচারের আসল সত্য, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। কলম্বিয়ার ন্যাশনাল পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তল্লাশির সময় কার্লোস তার গাঢ় রঙের ব্লেজার এবং সাদা শার্ট খুলে ফেলছেন। এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তা তার পেটের চারপাশে মোড়ানো টেপ খুলতে শুরু করেন এবং সেখানে লুকিয়ে রাখা মাদকের প্যাকেটগুলো আবিষ্কার করেন। তার পেটের পাশাপাশি পায়েও অভিনব কায়দায় বেশ কয়েকটি প্যাকেট লুকানো ছিল। ন্যাশনাল পুলিশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক জেনারেল উইলিয়াম কাস্তানো রামোস জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির পোশাকের নিচ থেকে মোট ১০টি প্যাকেটে ১০ কেজি বা ২২ পাউন্ড কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের মাদকবাজারে এই পরিমাণ কোকেনের মূল্য প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ মার্কিন ডলার। কলম্বিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'এল তিয়েম্পো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত কার্লোস এর আগে স্পেনে বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে স্পেন সরকারের তথ্যভাণ্ডার নিশ্চিত করেছে যে, বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো লাইসেন্স তিনি কখনো অর্জন করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইং স্কুল থেকেই পাইলট সাজার এই অভিনব কৌশলটি তার মাথায় এসেছিল। জেনারেল কাস্তানো রামোস দৃঢ়তার সাথে জানান, 'অপারেশন এসমেরালদা প্লাস' (Esmeralda Plus)-এর অংশ হিসেবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে মাদক পাচার রোধে ন্যাশনাল পুলিশের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘণ্টায় ১৪২ মাইল বেগে টেসলা গাড়ি চালিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর দায়ে এক চালককে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সান হোসে এলাকার ৮৭ নম্বর হাইওয়েতে ঘটা ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইভানা বালিসট্রেরি (৩০) নামের এক নারী এবং তাঁর দুই বছর বয়সি কন্যাসন্তান লিলিয়ানার মৃত্যু হয়। ৩১ বছর বয়সি অভিযুক্ত টেসলা চালকের নাম জাচারি চেরনিকি। প্রসিকিউটর ও ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রল (সিএইচপি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেও তিনি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এই মারাত্মক প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর ব্যস্ত ওই মহাসড়কে চার গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তদন্তের পর প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ১৫ সেকেন্ড আগে চেরনিকির টেসলার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল, ৫ সেকেন্ড আগে ১২৬ মাইল এবং লেক্সাস গাড়িটিকে ধাক্কা দেওয়ার মুহূর্তেও গতি ছিল ১০২ মাইল। সে সময় মহাসড়কে প্রচণ্ড যানজটের কারণে ইভানাদের লেক্সাস গাড়িটি থেমে ছিল। প্রচণ্ড গতির এই সংঘর্ষের জেরে দুটি টেসলা এবং ইভানাদের লেক্সাস গাড়িটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, মা ও শিশু দুজনেই গাড়ির ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে মারা যান। এই ঘটনায় লেক্সাসের চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও, অভিযুক্ত চেরনিকি কেবল সামান্য আঘাত পান। দুর্ঘটনার মূল কারণ ও দোষীকে চিহ্নিত করতে সিএইচপি কয়েক মাস ধরে নিবিড় তদন্ত চালায়। অবশেষে চেরনিকিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং চলতি বছরের ১৩ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেফ রোজেন এই চরম বেপরোয়া আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আইন অনুযায়ী কেউ যদি জনতার দিকে গুলি ছোঁড়ে, তবে তা নিঃসন্দেহে হত্যা। একইভাবে কেউ যখন ঘণ্টায় ১৪০ মাইল বেগে গাড়ি চালায়, তখন সেই চালক হয়ে ওঠেন বন্দুকধারী এবং তাঁর গাড়িটি বুলেটে পরিণত হয়।" উল্লেখ্য, ওই হাইওয়েতে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারিত ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। নিহত ইভানা ও তাঁর শিশুসন্তানের স্মরণে পরিবারের পক্ষ থেকে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু তাদের পরিবারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইভানাকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও পরোপকারী মনের মানুষ এবং ছোট্ট লিলিয়ানাকে তাদের জীবনের অমূল্য আনন্দ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে পরিবার। এদিকে, অভিযুক্ত চেরনিকির বিরুদ্ধে হত্যার দুটি সুস্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে দীর্ঘদিনের জন্য কারাবাস করতে হতে পারে। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ২৫ আগস্ট তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির করার দিন ধার্য করেছেন।
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন এবং আরও একজন নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে এটি সাম্প্রতিক পর্যায়ের অন্যতম বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, ১৭ জুলাই জর্ডানে মার্কিন ও মিত্রবাহিনী ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিহত করার সময় দুই সেনাসদস্য নিহত হন। একই ঘটনায় আরও একজন সেনাসদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি; তাদের পরিবারের সদস্যদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো না পর্যন্ত নাম গোপন রাখা হবে বলে জানিয়েছে মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন সামান্য আহত হয়ে চিকিৎসা শেষে আবার দায়িত্বে ফিরেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, হামলার লক্ষ্য ছিল জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি এয়ার বেস, যেখানে মার্কিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এই হতাহতের ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বল্পস্থায়ী যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে পড়েছে। গত কয়েক দিনে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন সামরিক অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা চালানোর পর ইরানও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্রদেশগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। ইরানের কর্মকর্তাদের দাবি, সর্বশেষ মার্কিন হামলায় দেশটির অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হরমোজগান প্রদেশের একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট ধ্বংস হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে মার্কিন সেনা নিহতের এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী সামরিক পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ভার্জিনিয়ায় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর পর এবার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের অর্কিড মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী আবুবকর হানিফ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ক্যাম্পাসের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ফারহানা হানিফসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আবুবকর হানিফ বলেন, “ভার্জিনিয়ায় আমাদের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর মাধ্যমে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছি। এটি শুধু একটি নতুন ক্যাম্পাস নয়, বরং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের শিক্ষা উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি অর্জন করবে না, বরং দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে।” অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবুবকর হানিফ জানান, WUST এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও জনশক্তি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক (PeopleNTech) এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের সফল কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করাই এই দুই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাস চালুর প্রশাসনিক কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। নতুন ক্যাম্পাসে প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক সময়ের চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিভার্সিটির চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার ফারাহানা হানিফ বলেন, “শিক্ষা মানুষের জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাসের মাধ্যমে আরও বেশি শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মজীবনের নতুন সুযোগ লাভ করবে।” তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য হবে এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশটির উচ্চশিক্ষা খাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (WUST) আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। ভার্জিনিয়ায় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর পর এবার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বিশ্ববিদ্যালয়টির দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশির উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সম্প্রসারণকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। লস অ্যাঞ্জেলেসের অর্কিড মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও চ্যান্সেলর বাংলাদেশি-আমেরিকান প্রকৌশলী আবুবকর হানিফ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ক্যাম্পাসের ঘোষণা দেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ফারহানা হানিফসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই এবং প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আবুবকর হানিফ বলেন, “ভার্জিনিয়ায় আমাদের নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার পর এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর মাধ্যমে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূলে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছি। এটি শুধু একটি নতুন ক্যাম্পাস নয়, বরং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের শিক্ষা উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু ডিগ্রি অর্জন করবে না, বরং দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করবে।” অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবুবকর হানিফ জানান, WUST এবং তাঁর প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ ও জনশক্তি উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান পিপলএনটেক (PeopleNTech) এর মাধ্যমে এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং শিক্ষার্থীদের সফল কর্মজীবনের জন্য প্রস্তুত করাই এই দুই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাস চালুর প্রশাসনিক কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে। নতুন ক্যাম্পাসে প্রযুক্তিনির্ভর ও কর্মমুখী উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা, উদ্ভাবন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসায় প্রশাসন, সাইবার সিকিউরিটি, ডেটা সায়েন্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ আধুনিক সময়ের চাহিদাসম্পন্ন বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ইউনিভার্সিটির চিফ ফিনান্সিয়াল অফিসার ফারাহানা হানিফ বলেন, “শিক্ষা মানুষের জীবন পরিবর্তনের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম। লস অ্যাঞ্জেলেস ক্যাম্পাসের মাধ্যমে আরও বেশি শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণ এবং কর্মজীবনের নতুন সুযোগ লাভ করবে।” তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়টি একাডেমিক উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, নেতৃত্বের বিকাশ এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা অর্জনের ওপরও সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় লস অ্যাঞ্জেলেসে দ্বিতীয় স্থায়ী ক্যাম্পাস চালুর ঘোষণা প্রতিষ্ঠানটির জাতীয় পর্যায়ে সম্প্রসারণের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আশা, নতুন ক্যাম্পাস চালু হলে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের উচ্চশিক্ষা আরও সহজলভ্য হবে এবং বাংলাদেশি-আমেরিকানদের প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশটির উচ্চশিক্ষা খাতে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।
মাকে প্রাণঘাতী স্নায়ুরোগে হারানোর বেদনাই যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (জর্জিয়া টেক)-এর শিক্ষার্থী মেঘনা আইয়ারকে এমন এক গবেষণার পথে নিয়ে যায়, যা ভবিষ্যতে ALS, আলঝেইমারস ও ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মতো জটিল স্নায়ুবিক রোগ নিয়ে গবেষণার ধরণ বদলে দিতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় তিনি ও তার গবেষণা দল প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ বায়োমেডিক্যাল গবেষণাপত্র বিশ্লেষণ করে এই তিনটি রোগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক সম্পর্কের সন্ধান পেয়েছেন। জর্জিয়া টেক জানিয়েছে, মেঘনার মা সুনীতি আইয়ার অ্যামিওট্রফিক ল্যাটেরাল স্ক্লেরোসিস (ALS) রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তিনি রোগটি সম্পর্কে গভীরভাবে জানার আগ্রহী হয়ে ওঠেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার প্রথম বছরেই তিনি অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের নেতৃত্বাধীন ‘ল্যাবরেটরি ফর প্যাথোলজি ডায়নামিকস’-এ গবেষণায় যুক্ত হন। গবেষণায় এআই ব্যবহার করে বিশাল সংখ্যক বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, ALS, আলঝেইমারস এবং ফ্রন্টোটেম্পোরাল ডিমেনশিয়ার মধ্যে এমন কিছু জৈবিক মিল রয়েছে, যা গবেষকদের রোগগুলোকে আলাদা করে নয়, বরং একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে বিশ্লেষণ করতে সহায়তা করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই সম্পর্ক নতুন চিকিৎসা আবিষ্কার করে না, তবে ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করে। ২০২৫ সালের জুনে মেঘনার মা মারা যান। মেয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের দিনটি তিনি দেখে যেতে পারেননি। কিন্তু ব্যক্তিগত সেই শোকই মেঘনাকে আরও দৃঢ় করে তোলে। মায়ের মৃত্যুর তিন সপ্তাহ পর তিনি আবার গবেষণাগারে ফিরে আসেন এবং গবেষণার কাজ সম্পন্ন করেন। পরে গবেষণাটি আন্তর্জাতিক পিয়ার-রিভিউ সাময়িকী Biomedicines-এ প্রকাশিত হয়। একজন স্নাতক শিক্ষার্থী হিসেবে গবেষণাপত্রটির প্রথম লেখক (ফার্স্ট অথর) হওয়ার বিরল কৃতিত্বও অর্জন করেন তিনি। মেঘনার গবেষণার ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে SemNet Explorer নামে একটি নতুন এআইভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে গবেষকরা কোটি কোটি বৈজ্ঞানিক গবেষণাপত্র দ্রুত বিশ্লেষণ করে রোগগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে বের করতে পারবেন। একই সঙ্গে এআই কীভাবে একটি নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে, তার ব্যাখ্যাও দেখতে পারবেন গবেষকরা, যা ভবিষ্যৎ গবেষণাকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য করতে সহায়তা করবে। জর্জিয়া টেকের অধ্যাপক ক্যাসি মিচেলের ভাষায়, মেঘনার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও গবেষণার প্রতি অঙ্গীকার এই প্রকল্পকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। আর মেঘনার আশা, তার মাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলেও এই গবেষণা একদিন হয়তো অন্য কোনো পরিবারকে একই ধরনের বেদনা থেকে রক্ষা করার পথ তৈরি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের অরোরায় অভিবাসন আটককেন্দ্রের বাইরে এক নারী বিক্ষোভকারীকে গুলি করার অভিযোগে কেন্দ্রটির এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ নারীকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাঁর আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানিয়েছে অরোরা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম ব্র্যান্ডন বুথ। ৪২ বছর বয়সী বুথ যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসের সরাসরি কর্মকর্তা নন। তিনি অরোরা আইস প্রসেসিং সেন্টার পরিচালনাকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপের কর্মী। ঘটনার সময় তিনি দায়িত্বে ছিলেন না বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, আটককেন্দ্রের প্রবেশপথে বিক্ষোভ চলায় বুথসহ কয়েকজন কর্মী নিজেদের গাড়িতে অপেক্ষা করছিলেন। বিক্ষোভ শেষ হলে তাঁদের কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। এ সময় বিক্ষোভে অংশ নেওয়া দুই নারী সেখানে থাকা কর্মীদের গাড়ির ছবি তোলেন এবং তাঁদের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। পুলিশের ভাষ্য, একপর্যায়ে ওই দুই নারী ঘটনাস্থল থেকে হেঁটে চলে যাচ্ছিলেন। তখন বুথ নিজের ব্যক্তিগত পিস্তল বের করে তাঁদের দিকে একটি গুলি ছোড়েন। গুলিটি এক নারীর শরীরের নিচের অংশে লাগে। এরপর বুথ গাড়ি নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান বলে অভিযোগ করেছে পুলিশ। গুলিবিদ্ধ নারীকে ২১ বছর বয়সী এমা ল্যান্ডিস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, গুলিটি তাঁর ডান পায়ের গোড়ালির কাছে লাগে। গুলিবিদ্ধ হওয়ার সময় তাঁর পেছন দিক হামলাকারীর দিকে ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা অপর নারী আহত হননি। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ নর্থ নোম স্ট্রিটের ৩১০০ ব্লকে পৌঁছে আহত নারীকে উদ্ধার করে। এর কিছুক্ষণ পর ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্লকেরও কম দূরত্বে বুথের গাড়ি থামিয়ে তাঁকে আটক করা হয়। গাড়ির ভেতর থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করে আলামত হিসেবে জব্দ করেছে পুলিশ। বুথকে হত্যার উদ্দেশ্যে দ্বিতীয় মাত্রার হামলার চেষ্টা, প্রথম মাত্রার শারীরিক হামলা, প্রথম মাত্রার হামলার চেষ্টা, অস্ত্র দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বেআইনিভাবে গোপন অস্ত্র বহনের সন্দেহে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার আদালতে তাঁর প্রাথমিক শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারক তাঁর জামিনের পরিমাণ পাঁচ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন। জিও গ্রুপ জানিয়েছে, বুথকে বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পূর্ণ সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রায় দেড় হাজার বন্দী ধারণক্ষমতার অরোরা কেন্দ্রটি আইসের সঙ্গে চুক্তির আওতায় পরিচালনা করে জিও গ্রুপ। অরোরা পুলিশ জানিয়েছে, গুলির ঘটনার তদন্ত এখনো চলছে। ঘটনাস্থল বা ঘটনার পরবর্তী সময়ের কোনো ভিডিও কিংবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য কারও কাছে থাকলে তা তদন্তকারীদের দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুথের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘণ্টায় ১৪২ মাইল বেগে টেসলা গাড়ি চালিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটানোর দায়ে এক চালককে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সান হোসে এলাকার ৮৭ নম্বর হাইওয়েতে ঘটা ওই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ইভানা বালিসট্রেরি (৩০) নামের এক নারী এবং তাঁর দুই বছর বয়সি কন্যাসন্তান লিলিয়ানার মৃত্যু হয়। ৩১ বছর বয়সি অভিযুক্ত টেসলা চালকের নাম জাচারি চেরনিকি। প্রসিকিউটর ও ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রল (সিএইচপি) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার মাত্র কয়েক সেকেন্ড আগেও তিনি অত্যন্ত বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন, যা শেষ পর্যন্ত এই মারাত্মক প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। গত ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর ব্যস্ত ওই মহাসড়কে চার গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ তদন্তের পর প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার ১৫ সেকেন্ড আগে চেরনিকির টেসলার গতি ছিল ঘণ্টায় ১৪২ মাইল, ৫ সেকেন্ড আগে ১২৬ মাইল এবং লেক্সাস গাড়িটিকে ধাক্কা দেওয়ার মুহূর্তেও গতি ছিল ১০২ মাইল। সে সময় মহাসড়কে প্রচণ্ড যানজটের কারণে ইভানাদের লেক্সাস গাড়িটি থেমে ছিল। প্রচণ্ড গতির এই সংঘর্ষের জেরে দুটি টেসলা এবং ইভানাদের লেক্সাস গাড়িটিতে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। সান্তা ক্লারা কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, মা ও শিশু দুজনেই গাড়ির ভেতরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মর্মান্তিকভাবে মারা যান। এই ঘটনায় লেক্সাসের চালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও, অভিযুক্ত চেরনিকি কেবল সামান্য আঘাত পান। দুর্ঘটনার মূল কারণ ও দোষীকে চিহ্নিত করতে সিএইচপি কয়েক মাস ধরে নিবিড় তদন্ত চালায়। অবশেষে চেরনিকিকে দোষী সাব্যস্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় এবং চলতি বছরের ১৩ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জেফ রোজেন এই চরম বেপরোয়া আচরণের নিন্দা জানিয়ে বলেন, "আইন অনুযায়ী কেউ যদি জনতার দিকে গুলি ছোঁড়ে, তবে তা নিঃসন্দেহে হত্যা। একইভাবে কেউ যখন ঘণ্টায় ১৪০ মাইল বেগে গাড়ি চালায়, তখন সেই চালক হয়ে ওঠেন বন্দুকধারী এবং তাঁর গাড়িটি বুলেটে পরিণত হয়।" উল্লেখ্য, ওই হাইওয়েতে গাড়ির সর্বোচ্চ গতিসীমা নির্ধারিত ছিল ঘণ্টায় ৬৫ মাইল। নিহত ইভানা ও তাঁর শিশুসন্তানের স্মরণে পরিবারের পক্ষ থেকে খোলা একটি 'গোফান্ডমি' (GoFundMe) পেজে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু তাদের পরিবারকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিয়েছে। ইভানাকে অত্যন্ত বিশুদ্ধ ও পরোপকারী মনের মানুষ এবং ছোট্ট লিলিয়ানাকে তাদের জীবনের অমূল্য আনন্দ হিসেবে উল্লেখ করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে পরিবার। এদিকে, অভিযুক্ত চেরনিকির বিরুদ্ধে হত্যার দুটি সুস্পষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁকে দীর্ঘদিনের জন্য কারাবাস করতে হতে পারে। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাঁর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ২৫ আগস্ট তাঁকে পুনরায় আদালতে হাজির করার দিন ধার্য করেছেন।
পাইলট সেজে অভিনব কায়দায় আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে কোকেন পাচারের চেষ্টা করে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন এক স্প্যানিশ নাগরিক। কার্লোস বারবেরিয়া হার্নান্দো নামের ওই ব্যক্তি গত ৯ জুলাই কলম্বিয়ার বোগোটার এল ডোরাডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্পেনের বার্সেলোনাগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু তার পরনের পাইলট ইউনিফর্মটি কোনো পরিচিত আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের পোশাকের সাথে না মেলায় সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। এরপরই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আলাদা করে তল্লাশি করা হয় এবং বেরিয়ে আসে পাচারের আসল সত্য, যা বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রীতিমতো ভাইরাল। কলম্বিয়ার ন্যাশনাল পুলিশের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তল্লাশির সময় কার্লোস তার গাঢ় রঙের ব্লেজার এবং সাদা শার্ট খুলে ফেলছেন। এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তা তার পেটের চারপাশে মোড়ানো টেপ খুলতে শুরু করেন এবং সেখানে লুকিয়ে রাখা মাদকের প্যাকেটগুলো আবিষ্কার করেন। তার পেটের পাশাপাশি পায়েও অভিনব কায়দায় বেশ কয়েকটি প্যাকেট লুকানো ছিল। ন্যাশনাল পুলিশের মাদক নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক জেনারেল উইলিয়াম কাস্তানো রামোস জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির পোশাকের নিচ থেকে মোট ১০টি প্যাকেটে ১০ কেজি বা ২২ পাউন্ড কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে। নিউইয়র্কের মাদকবাজারে এই পরিমাণ কোকেনের মূল্য প্রায় আড়াই থেকে তিন লাখ মার্কিন ডলার। কলম্বিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম 'এল তিয়েম্পো'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত কার্লোস এর আগে স্পেনে বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। তবে স্পেন সরকারের তথ্যভাণ্ডার নিশ্চিত করেছে যে, বিমান চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কোনো লাইসেন্স তিনি কখনো অর্জন করতে পারেননি। ধারণা করা হচ্ছে, ফ্লাইং স্কুল থেকেই পাইলট সাজার এই অভিনব কৌশলটি তার মাথায় এসেছিল। জেনারেল কাস্তানো রামোস দৃঢ়তার সাথে জানান, 'অপারেশন এসমেরালদা প্লাস' (Esmeralda Plus)-এর অংশ হিসেবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে মাদক পাচার রোধে ন্যাশনাল পুলিশের এই ধরনের কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পাল্টা জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে। এই সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা আন্তর্জাতিক তেলবাজারে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) বরাতে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির দক্ষিণে মাইনযুক্ত এলাকায় দুটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ওই অঞ্চল থেকে কোনও রাসায়নিক সার, এমনকি এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও রপ্তানি করতে দেয়া হবে না। রেভল্যুশনারি গার্ড জানিয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় প্রণালি দিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকারী চারটি অনুপ্রবেশকারী জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে থামিয়ে দেয়া হয়েছে। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে যাওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরান একে অপরের ধৈর্যের পরীক্ষা নিচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৭ জুলাই) ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় আমেরিকা। শনিবার, ১৮ জুলাই ভোরে হরমুজ প্রণালির উপকূলে ইরানের হরমুজগান প্রদেশেও যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, এসব হামলায় তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। এ ছাড়া দুটি সেতু ও একটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল 'ব্রেন্ট ক্রুড'-এর দাম ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো তেলের দাম বাড়ায় নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথগুলোর একটি। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হওয়া তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালি দিয়ে যায়। এই পথ বন্ধ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে, যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও উদ্বেগের কারণ। মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক ও কৌশলগত অঞ্চল, যেখানে ইসলামী সংস্কৃতি, জ্বালানি সম্পদ ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব একসঙ্গে বিদ্যমান । ইরান-আমেরিকা এই সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন উদ্বিগ্ন দৃষ্টিতে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে বেতন বৃদ্ধি নিয়ে সরকার ও সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। গভর্নর বব ফার্গুসনের প্রশাসনের বেতন প্রস্তাবকে ‘অপমানজনক’ আখ্যা দিয়ে আগামী ৩১ আগস্ট কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন ফেডারেশন অব স্টেট এমপ্লয়িজ । ৫০ হাজারের বেশি সরকারি ও পাবলিক সেক্টরের কর্মচারীর প্রতিনিধিত্বকারী এই ইউনিয়ন বর্তমানে ২০২৭-২০২৯ মেয়াদের নতুন চুক্তি নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছে। তবে ইউনিয়নের অভিযোগ, রাজ্যের বাজেট সংকটের অজুহাত দেখিয়ে গভর্নরের আলোচক দল কার্যত বেতন বৃদ্ধি না দেওয়ার অবস্থান নিয়েছে। ইউনিয়নের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা কঠিন আলোচনা আশা করেছিল, কিন্তু সরকারের প্রস্তাব ছিল ‘অপমানজনক’ এবং কর্মীদের প্রতি নিরুৎসাহজনক। তাদের দাবি, নতুন চুক্তিতে কর্মীদের পারিশ্রমিক বাড়ানোর জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়নি। ইউনিয়নের সভাপতি মাইক ইয়েসট্রামস্কি বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি দ্রুত বাড়লেও সরকারি কর্মীদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এছাড়া চুক্তির অন্যান্য বিষয়েও সরকারের পক্ষ থেকে দীর্ঘসূত্রিতা ও বিকল্প প্রস্তাব না দেওয়ায় কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের অফিস অব ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট জানিয়েছে, চলমান আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে নির্ধারিত ১ অক্টোবরের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে তারা ইউনিয়নের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের আগের চুক্তিতে সরকারি কর্মীরা দুই বছরে ৫ শতাংশ জীবনযাত্রার ব্যয়ভিত্তিক বেতন বৃদ্ধি পেয়েছিলেন। তবে ইউনিয়নের দাবি, বর্তমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সেই বৃদ্ধি কর্মীদের প্রকৃত আয় ধরে রাখতে যথেষ্ট নয়। সমঝোতা না হলে ৩১ আগস্টের কর্মবিরতি রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মহাকাশ অর্থনীতিতে বড় অংশীদার হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ভারত। সেই পথে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে দেশটির বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্কাইরুট অ্যারোস্পেস। শনিবার ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে দেশটির প্রথম বেসরকারিভাবে তৈরি অরবিটাল রকেট ‘বিক্রম-১’। ‘মিশন আগমন’ নামের এই পরীক্ষামূলক অভিযানে রকেটটি কয়েকটি বাণিজ্যিক ও গবেষণামূলক পেলোড বহন করে। উৎক্ষেপণের প্রায় ১৫ মিনিট পর এগুলোকে প্রায় ৪৫০ কিলোমিটার উচ্চতার নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে স্থাপন করতে সক্ষম হয় রকেটটি। স্কাইরুট অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, এই মিশনের মাধ্যমে রকেটের ইঞ্জিন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং উড্ডয়ন সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, ভবিষ্যতে নিয়মিত বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সেবা চালু করা। প্রায় ২২ মিটার উচ্চতার বিক্রম-১ রকেটটি নিম্ন পৃথিবী কক্ষপথে সর্বোচ্চ ৩৫০ কেজি পর্যন্ত পেলোড বহনে সক্ষম। এতে ব্যবহার করা হয়েছে তিনটি সলিড ফুয়েল স্টেজ এবং একটি তরল জ্বালানি চালিত অরবিটাল অ্যাডজাস্টমেন্ট মডিউল। ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত স্কাইরুট অ্যারোস্পেস ভারতের নতুন প্রজন্মের মহাকাশ স্টার্টআপগুলোর অন্যতম। চলতি বছরের শুরুতে প্রতিষ্ঠানটি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যায়ন পাওয়া ভারতের প্রথম মহাকাশ খাতের কোম্পানি হয়ে আলোচনায় আসে। ভারত ২০২০ সালে মহাকাশ খাত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্মুক্ত করে। এর আগে রকেট, স্যাটেলাইট ও উৎক্ষেপণ সেবার বড় অংশই পরিচালনা করত সরকারি প্রতিষ্ঠান ইসরো। সরকারের লক্ষ্য, বর্তমানে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের ভারতের মহাকাশ অর্থনীতিকে ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য পূরণে বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে দেখছে নয়াদিল্লি। বিশ্বের ছোট স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ বাজারে এখন তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্পেসএক্স-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিতে ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশও নিজস্ব বেসরকারি মহাকাশ শিল্প গড়ে তুলছে। স্কাইরুটের এই সফল উৎক্ষেপণ ভারতের জন্য শুধু প্রযুক্তিগত অর্জন নয়, বরং দ্রুত বাড়তে থাকা বৈশ্বিক মহাকাশ বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মেয়ের মৃত্যুর শোক কাটিয়ে এখন ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে নেমেছেন এক মা। মেয়ের রেখে যাওয়া ব্যক্তিগত ডায়েরির তথ্য ব্যবহার করে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন তিনি। স্পেনের ২৫ বছর বয়সী নোয়েলিয়া কাস্তিলো রামোস, যিনি গুরুতর শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর দেশটির আইনি প্রক্রিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন, মৃত্যুর দিন তার ডায়েরিটি মায়ের হাতে তুলে দেন। পরিবারের দাবি, ওই ডায়েরিতে নোয়েলিয়া তার জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বিস্তারিত লিখে গেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে হামলাকারীদের শনাক্ত করতে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন তার মা ইয়োলান্ডা রামোস। নোয়েলিয়ার জীবনে একাধিক যৌন নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছিল বলে পরিবার জানিয়েছে। ২০২২ সালে একটি আত্মহত্যার চেষ্টার পর তিনি মেরুদণ্ডে গুরুতর আঘাত পান এবং চলাচলের সক্ষমতা হারান। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর স্পেনের আদালত এবং ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালত তার নিজের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে বলে রায় দেয়। চলতি বছরের মার্চে বার্সেলোনার একটি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কয়েক দিন আগে এক সাক্ষাৎকারে নোয়েলিয়া বলেছিলেন, তিনি শান্তি চান এবং দীর্ঘদিনের কষ্ট থেকে মুক্তি পেতে চান। তার ঘটনা স্পেনে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করে। একদিকে পরিবার ও সমালোচকদের একটি অংশ বলছে, গুরুতর মানসিক আঘাতের শিকার একজন ব্যক্তিকে যথেষ্ট সহায়তা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে দেশটির আইন অনুযায়ী, অসহনীয় ও দীর্ঘস্থায়ী কষ্টে থাকা ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট শর্তে মৃত্যুবরণের সুযোগ রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর দাবিও ছড়ায়। তবে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নোয়েলিয়া তার ওপর হামলাকারীদের পরিচয় বা জাতীয়তা প্রকাশ্যে শনাক্ত করেননি। এখন মেয়ের ডায়েরিকে সম্ভাব্য প্রমাণ হিসেবে সামনে রেখে ইয়োলান্ডা রামোসের লক্ষ্য—ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করা এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা। তিনি বলেছেন, মেয়ের লেখা পড়ে তিনি অনেক অজানা বিষয় জানতে পেরেছেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বিচার পাওয়ার চেষ্টা করছেন।
ভারতের প্রখ্যাত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে অনশনের ২১তম দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছে দিল্লি পুলিশ। ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে অনশন শুরু করেন। তিনি ভারতের যুব সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এই কর্মসূচি নেন। সংগঠনটি মে মাসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন জাতীয় পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। শনিবার সকালে দিল্লির আন্দোলনস্থলে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ওয়াংচুককে সেখান থেকে সরিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে আন্দোলনকারীদেরও সরে যেতে বলা হয় এবং কয়েকজনকে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও দেখা যায়। দিল্লি পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সচিন শর্মা জানান, দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ, চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করেই তাকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এর আগে দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দিয়েছিল এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে নেওয়ার পর ওয়াংচুকের জ্ঞান ছিল এবং তার শারীরিক সূচক স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, পুলিশ জোরপূর্বক ওয়াংচুককে আন্দোলনস্থল থেকে সরিয়ে নিয়েছে। সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, একজন অনশনরত ব্যক্তিকে এভাবে নিয়ে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি একই সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, ২০ জুলাই ভারতের পার্লামেন্টের বর্ষাকালীন অধিবেশন শুরু হলে তারা সংসদ অভিমুখে মিছিল করবেন। তাদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি এবং জাতীয় পরীক্ষাব্যবস্থায় কার্যকর সংস্কার। উল্লেখ্য, লাদাখের বাসিন্দা সোনম ওয়াংচুক পরিবেশ সংরক্ষণ, শিক্ষা সংস্কার এবং লাদাখের সাংবিধানিক অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। গত বছর লাদাখে বিক্ষোভের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। কয়েক মাস কারাভোগের পর চলতি বছরের মার্চে তিনি মুক্তি পান। তিনি বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।