বাংলাদেশে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২৯ হাজারের বেশি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের ফলাফলের তুলনায় এবার পাসের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু পাসের হার নয়, সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের ক্ষেত্রেও গত বছরের তুলনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। এবারের ফলাফলে পাসের হারের দিক থেকে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী এবং ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন ছাত্র উত্তীর্ণ হয়েছেন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ছাত্ররা সামান্য এগিয়ে রয়েছেন। সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী। শিক্ষা বোর্ডভেদেও ফলাফলে পার্থক্য দেখা গেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং বরিশাল বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। মাদ্রাসা বোর্ডে এবার ৩ হাজার ২৫০ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে শনিবার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ পাবেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনপদ্ধতি, নির্ধারিত ফি এবং অন্যান্য নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে জানানো হবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন ফলাফল সেবা এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। এবারের ফলাফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা একসঙ্গে কমে যাওয়া। গত বছরের তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর অনুপাত কমার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে। তবে ফলাফলের এই পরিবর্তনের পেছনে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ফলাফলের সামগ্রিক পরিবর্তন বুঝতে শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
একটি জাপানি রেডিও কেনার শখে পাঁচ বিঘা জমি বিক্রি করেছিলেন সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার দেলোয়ার হোসেন মিঞা। পরে রেডিও চালানোর খরচ জোগাতে এবং সংসারের নানা প্রয়োজনে একে একে বিক্রি হয়ে যায় তাঁর পৈতৃক ২৬ বিঘা জমি। হারাতে হয় বসতবাড়িও। বহু বছর পর বাবার সেই প্রিয় রেডিওটি উদ্ধার করে বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন ছেলে আলতাফ হোসেন। জমিজমা হারানোর বেদনাময় স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রেডিওটি এখন তাঁর কাছে বাবার স্মৃতিচিহ্ন। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার সলঙ্গা থানার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন দেলোয়ার হোসেন মিঞা। ১৯৬৫ সালে গান ও খবর শোনার প্রবল আগ্রহ থেকে তিনি একটি রেডিও কেনার সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় পাঁচ বিঘা জমি ২৫০ টাকায় বিক্রি করে পাবনা থেকে জাপানি রেডিওটি কিনে আনেন। তখন গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে রেডিও ছিল দুর্লভ ও মূল্যবান একটি যন্ত্র। দেলোয়ার হোসেনের বাড়িতে রেডিও আসার পর আশপাশের গ্রামগুলোতে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ তাঁর বাড়িতে আসতেন গান ও খবর শুনতে। স্থানীয়দের কাছে বাড়িটি হয়ে ওঠে খবর জানার একটি পরিচিত জায়গা। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় গ্রামের মানুষ এই রেডিওতে যুদ্ধের খবর শুনতেন। ছেলে আলতাফ হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, রেডিওর মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের খবর ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে পাকিস্তানি সেনারা তাঁর বাবাকে নির্যাতন করে এবং তাঁদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে রেডিও কেনার পর সেটি সচল রাখাও দেলোয়ার হোসেনের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। বিদ্যুতের পরিবর্তে ব্যাটারিতে চলত যন্ত্রটি। ব্যাটারি কেনার অর্থ জোগাতে তাঁকে আরও জমি বিক্রি করতে হয়। পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মানুষের নানা আবদার পূরণ এবং নিজের শখ ধরে রাখতে গিয়ে ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যায় তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি। ১৯৬৯ সালে বিক্রি করতে হয় বসতবাড়িও। পরিবারের আর্থিক অবস্থার অবনতি হলে একপর্যায়ে প্রিয় রেডিওটিও হাতছাড়া হয়। আলতাফ হোসেনের দেওয়া একটি বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে মাত্র ১৮০ টাকায় রেডিওটি বিক্রি করে দেন তাঁর বাবা। তবে ২০২৩ সালে কালবেলায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে আলতাফের বক্তব্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৫ সালে অর্থের অভাবে রেডিওটি বন্ধক রাখা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর সময় সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য রয়েছে। ফলে রেডিওটি বিক্রি নাকি বন্ধক রাখা হয়েছিল এবং দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর সঠিক সাল কোনটি, তা নিয়ে প্রকাশিত বিবরণে অসংগতি রয়েছে। রেডিওটি হাতছাড়া হওয়ার বহু বছর পরও সেটির কথা ভুলতে পারেননি আলতাফ হোসেন। দীর্ঘদিন খোঁজাখুঁজির পর ২০২২ সালে তিনি বাবার সেই রেডিওটি উদ্ধার করেন। একটি প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, রেডিওটি স্থানীয় জিল্লার খন্দকার নামের এক ব্যক্তির কাছে ছিল। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে আমজাদের কাছ থেকে রেডিওটি ফেরত পান আলতাফ। বাবার স্মৃতিবিজড়িত যন্ত্রটি ফিরে পাওয়ার পর তিনি সেটি যত্ন করে সংরক্ষণ করতে থাকেন। রেডিওটির গায়ে জাপানের নিপ্পন ইলেকট্রনিক কোম্পানি লিমিটেডের নাম লেখা রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। যন্ত্রটি চালাতে একসঙ্গে আটটি বড় ব্যাটারির প্রয়োজন হতো। ২০২২ সালের বিবরণ অনুযায়ী, এসব ব্যাটারি কিনতে প্রায় ৪০০ টাকা লাগত। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে আলতাফ তখন রেডিওটি চালু করতে পারেননি। তবু বাবার স্মৃতি হিসেবে সেটি পরিষ্কার করে কাপড়ে মুড়িয়ে যত্নসহকারে রেখে দিতেন। ২০২৩ সালের ২০ মে প্রকাশিত কালবেলার এক প্রতিবেদনে আলতাফ হোসেনের এই রেডিও সংরক্ষণের গল্প তুলে ধরা হয়। সেখানে স্থানীয় রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম হিরোও জমি বিক্রি করে রেডিও কেনার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দেলোয়ার হোসেন তাঁর জমিজমা বিক্রি করে গিয়েছিলেন। বাবার সেই রেডিওর প্রতি আলতাফের ভালোবাসার কারণে এলাকায় তিনি ‘রেডিও আলতাফ’ নামেও পরিচিত হয়ে ওঠেন। একসময় যে রেডিও ঘিরে রহিমাবাদ গ্রামের মানুষের ভিড় জমত, বহু বছর পর সেই যন্ত্রই হয়ে ওঠে একটি পরিবারের অতীতের স্মারক। দেলোয়ার হোসেনের শখের রেডিওটি এখন আর শুধু গান বা খবর শোনার যন্ত্র নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জমিজমা হারানোর ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এবং বাবার প্রতি এক ছেলের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা। সূত্র : প্রথম আলো
হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভারতীয় চিকিৎসকদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে বিতর্কের মুখে পড়েছেন ইসরায়েলি বংশোদ্ভূত মার্কিন অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতা ইয়োসি মিজরাহি। তাঁর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ভারত ও ইসরায়েলের বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হিন্দু ধর্মে গরুর ধর্মীয় গুরুত্ব এবং ভারতীয়দের জীবনযাপন নিয়ে তাঁর মন্তব্যকে আপত্তিকর বলে উল্লেখ করছেন সমালোচকেরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মিজরাহিকে ভারতের গরু পূজার প্রচলিত ধারণা নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করতে দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি দাবি করেন, ভারতের কিছু মানুষ গোমূত্র পান করেন এবং তাঁদের মধ্যে চিকিৎসকরাও রয়েছেন। এ ছাড়া ঘরের ভেতরে গোমূত্র ব্যবহারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উপহাস করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তাঁর এসব বক্তব্যের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভিডিওতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির সড়কে গরুর উপস্থিতি এবং এর কারণে যানজট তৈরির বিষয় নিয়েও তিনি রসিকতা করেন বলে জানা গেছে। সমালোচকদের মতে, একটি দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সামাজিক রীতিনীতি নিয়ে এ ধরনের সাধারণীকরণ বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকদের মতো একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীকে ধর্মীয় অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করে মন্তব্য করায় বিতর্ক আরও বেড়েছে। ভারতে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের একটি বড় অংশের কাছে গরু ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ঐতিহ্যে গরুকে পবিত্র প্রাণী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ভারতের সব হিন্দু একইভাবে ধর্মীয় আচার পালন করেন না। অঞ্চল, সম্প্রদায় ও ব্যক্তিগত বিশ্বাস অনুযায়ী এসব রীতিনীতিতে পার্থক্য রয়েছে। ফলে কোনো একটি প্রচলিত আচরণকে সমগ্র ভারতীয় জনগোষ্ঠীর অভ্যাস হিসেবে তুলে ধরা যথাযথ নয়। গোমূত্রের ব্যবহার নিয়েও ভারতে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ও বিতর্ক হয়েছে। কিছু ঐতিহ্যগত ধর্মীয় ও লোকজ অনুশীলনে এর উল্লেখ থাকলেও তা সব ভারতীয় বা সব হিন্দুর সাধারণ অভ্যাস নয়। একইভাবে চিকিৎসকদের একটি পেশাজীবী গোষ্ঠী হিসেবে এ ধরনের অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নির্দিষ্ট তথ্য প্রয়োজন। মিজরাহির বক্তব্যে এমন তথ্যের উপস্থিতি নিশ্চিত করা যায়নি। বিতর্কিত মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ইসরায়েলি লেখক ইয়েশায়া রোজেনম্যানও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক পরিসরে ইসরায়েলের ভাবমূর্তির ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে অন্য দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কৃতি নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ইসরায়েল ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি, কৃষি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা খাতেও সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে। এ অবস্থায় একজন ইহুদি ধর্মীয় নেতার ভারতীয় সংস্কৃতি নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে মিজরাহির বক্তব্যকে ইসরায়েল সরকার কিংবা দেশটির ইহুদি জনগোষ্ঠীর সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তিনি একজন স্বতন্ত্র ধর্মীয় বক্তা এবং তাঁর ব্যক্তিগত মন্তব্য কোনো রাষ্ট্রীয় নীতির প্রতিনিধিত্ব করে না। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াকে ভারত বা ইসরায়েলের সব নাগরিকের মতামত হিসেবেও ধরে নেওয়া যায় না। ভিডিওটি ঠিক কবে ধারণ করা হয়েছে এবং কোন অনুষ্ঠানে মিজরাহি এসব মন্তব্য করেছেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিতর্কের পর তিনি প্রকাশ্যে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছেন কিংবা বক্তব্য প্রত্যাহার করেছেন কি না, তাও স্পষ্ট নয়। ফলে ভিডিওটির পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে আরও তথ্য প্রয়োজন। ঘটনাটি ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক অনুসারী থাকা ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মন্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক পরিসরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। ইয়োসি মিজরাহির ভিডিও ঘিরে চলমান বিতর্কেও সেই বিষয়টি সামনে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপ ও আর্থিক সহায়তার সুযোগ রয়েছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত সব বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনটি শিক্ষাস্তরেই ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পাওয়া যায়, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়, ডিগ্রি, বিভাগ এবং শিক্ষার্থীর যোগ্যতা অনুযায়ী আর্থিক সহায়তার সুযোগ ও শর্ত আলাদা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ বলতে সাধারণত টিউশন ফি মওকুফের পাশাপাশি জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট আর্থিক সহায়তাকে বোঝানো হয়। তবে সব স্কলারশিপে একই সুবিধা থাকে না। কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শুধু টিউশন ফি মওকুফ করে, আবার কোনো প্রতিষ্ঠান আবাসন, খাবার, স্বাস্থ্যবিমা কিংবা অন্যান্য খরচের জন্যও সহায়তা দেয়। বিশেষ করে গবেষণাভিত্তিক পিএইচডি প্রোগ্রামে টিউশন সহায়তার পাশাপাশি স্টাইপেন্ড পাওয়ার সুযোগ তুলনামূলক বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পারিবারিক আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন ভর্তি মূল্যায়নে বিবেচিত হতে পারে। অন্যদিকে বিভিন্ন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিতেও স্নাতক ও গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনভিত্তিক সহায়তা, ফেলোশিপ কিংবা গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে অর্থায়ন পেতে পারেন। তবে মাস্টার্স পর্যায়ের সব প্রোগ্রাম একই ধরনের অর্থায়নের আওতায় পড়ে না। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেস, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান ডিয়েগো, ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া সান্তা বারবারা এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসন উল্লেখযোগ্য। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য ফেলোশিপ, রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ এবং টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অর্থায়নের পরিমাণ ও যোগ্যতা সংশ্লিষ্ট বিভাগের নীতির ওপর নির্ভর করে। স্টেট ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্ক অ্যাট বাফেলো, সিরাকিউজ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব অ্যারিজোনা, ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্ট এবং ইউনিভার্সিটি অব কলোরাডো বোল্ডারেও বিভিন্ন পর্যায়ে স্কলারশিপ ও গবেষণাভিত্তিক অর্থায়নের ব্যবস্থা রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মেধা, একাডেমিক ফলাফল এবং গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় সহায়তা দেওয়া হয়। তবে ভর্তি হওয়া সব শিক্ষার্থী স্বয়ংক্রিয়ভাবে এসব সুবিধা পান না। যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেমন সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেল, টেক্সাস এঅ্যান্ডএম ইউনিভার্সিটি কিংসভিল, টেক্সাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব আরকানসাস এবং ইউনিভার্সিটি অব সিনসিনাটিতে বিভাগভিত্তিক স্কলারশিপ ও অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সুযোগ থাকতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভাগের অর্থায়ন নীতি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা এবং আবেদনের সময়সীমা যাচাই করা জরুরি। একইভাবে আরকানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব নটর ডেম, ভার্জিনিয়া টেক, বেমিডজি স্টেট ইউনিভার্সিটি, বেইলর ইউনিভার্সিটি এবং ইস্ট টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতেও বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম স্কলারশিপের তালিকায় থাকা মানেই সেখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়ার নিশ্চয়তা নয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ের অর্থায়নের পার্থক্য বোঝা। ব্যাচেলর পর্যায়ে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মেধাভিত্তিক বা প্রয়োজনভিত্তিক স্কলারশিপ দেয়। মাস্টার্স পর্যায়ে কিছু প্রোগ্রামে আংশিক স্কলারশিপ পাওয়া গেলেও সম্পূর্ণ অর্থায়ন তুলনামূলক সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে পিএইচডি পর্যায়ে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারীর দায়িত্বের মাধ্যমে টিউশন এবং জীবনযাপনের খরচের জন্য সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গবেষণার অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা হয়। কিছু প্রোগ্রামে জিআরই বা অন্যান্য পরীক্ষার স্কোর প্রয়োজন হতে পারে, আবার অনেক প্রোগ্রামে এসব পরীক্ষার বাধ্যবাধকতা নেই। তাই প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। স্কলারশিপের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আর্থিক সহায়তার মেয়াদ। কোনো প্রোগ্রামে এক বছরের জন্য সহায়তা দেওয়া হয়, আবার কিছু পিএইচডি প্রোগ্রামে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একাধিক বছরের অর্থায়নের ব্যবস্থা থাকে। অফার লেটারে টিউশন, স্টাইপেন্ড, স্বাস্থ্যবিমা, অতিরিক্ত ফি এবং অর্থায়নের মেয়াদ স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে কি না, তা দেখে নেওয়া প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় একই প্রতিষ্ঠানের নাম একাধিকবার এসেছে এবং কয়েকটি ক্রমিক নম্বর অনুপস্থিত রয়েছে। ফলে তালিকাটিকে ২৮টি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ের যাচাইকৃত পূর্ণাঙ্গ তালিকা হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়। পাশাপাশি এসব প্রতিষ্ঠানের সব ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ রয়েছে বলেও নিশ্চিত হওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের নামের চেয়ে নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের অর্থায়ন ব্যবস্থা যাচাই করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল অ্যাডমিশন, ফিন্যান্সিয়াল এইড এবং গ্র্যাজুয়েট ফান্ডিং বিভাগের তথ্য দেখে আবেদন করলে স্কলারশিপের প্রকৃত সুযোগ, শর্ত এবং সম্ভাব্য খরচ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যসহ নির্দিষ্ট শ্রেণির অভিবাসীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন স্থায়ী করেছে দেশটির সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলেও আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতির মেয়াদ বাড়বে না। ফলে নতুন অনুমোদন পেতে দেরি হলে অনেক অভিবাসীকে সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে। এই পরিবর্তন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ এইচ-১বি ভিসাধারীদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য, যাঁরা আলাদা ওয়ার্ক পারমিটের ওপর নির্ভরশীল। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস, ইউএসসিআইএস, নতুন চূড়ান্ত বিধিমালার মাধ্যমে আগের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে। ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথম অন্তর্বর্তী নিয়ম কার্যকর করা হয়েছিল। পরে ২০২৬ সালের অক্টোবরে সেই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে নির্দিষ্ট শ্রেণির ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের আবেদনে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধের নীতি স্থায়ী রূপ পেয়েছে। আগের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসী তাঁদের এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন ডকুমেন্ট বা ইএডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নবায়নের আবেদন করলে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিন পর্যন্ত স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা পেতে পারতেন। ইউএসসিআইএসের কাছে আবেদন বিচারাধীন থাকলেও যোগ্য আবেদনকারীরা নির্দিষ্ট শর্তে চাকরি চালিয়ে যেতে পারতেন। এতে নতুন কার্ড হাতে পেতে দেরি হলেও অনেকের আয় বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি কমত। কিন্তু ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর বা তার পরে জমা দেওয়া নির্দিষ্ট শ্রেণির নবায়ন আবেদনের ক্ষেত্রে সেই স্বয়ংক্রিয় সুবিধা আর প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ সময়মতো আবেদন জমা দেওয়া এবং ইউএসসিআইএসের কাছ থেকে রিসিট নোটিশ পাওয়া মানেই কাজের অনুমতির মেয়াদ বেড়ে যাওয়া নয়। পুরোনো অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নতুন অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কাজ বন্ধ রাখতে হতে পারে, যদি তাঁর অন্য কোনো বৈধ কাজের অনুমতি না থাকে। নতুন নিয়মের প্রভাব পড়তে পারে এইচ-৪ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত ব্যক্তিদের ওপর। সাধারণত এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত বিদেশি পেশাজীবীদের স্বামী বা স্ত্রী এবং নির্দিষ্ট পরিবারের সদস্যরা এইচ-৪ স্ট্যাটাসে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। তবে সব এইচ-৪ ভিসাধারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের অনুমতি পান না। নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণকারী স্বামী বা স্ত্রী ইউএসসিআইএসের কাছে আলাদা ইএডি কার্ডের আবেদন করতে পারেন। এইচ-৪ ভিসাধারী কোনো ব্যক্তির কাজের অনুমতি যদি ইএডি কার্ডের ওপর নির্ভর করে, তাহলে নবায়ন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব তাঁর চাকরির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার কাছাকাছি, তাঁদের জন্য আবেদন জমা দেওয়ার সময় এবং ইউএসসিআইএসের সিদ্ধান্ত পাওয়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন গ্রিন কার্ডের জন্য অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আবেদন জমা দেওয়া ব্যক্তিরা। তাঁদের মধ্যে অনেকে আই-৪৮৫ আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় আলাদা ওয়ার্ক পারমিট ব্যবহার করে চাকরি করেন। এই শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্যও নির্দিষ্ট শর্তে আগে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা ছিল। নতুন নিয়মে সেই সুবিধা বন্ধ হওয়ায় অনুমোদন পেতে দেরি হলে কর্মজীবনে বিরতি তৈরি হতে পারে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নতুন নিয়ম সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রযোজ্য নয়। যেসব অভিবাসী তাঁদের নিজস্ব ভিসা স্ট্যাটাসের ভিত্তিতেই কাজের অনুমতি পান, তাঁদের ক্ষেত্রে ইএডি কার্ডের নিয়ম আলাদা হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী এল-২ এবং ই ভিসাধারীদের স্বামী বা স্ত্রীরা তাঁদের বৈধ স্ট্যাটাসের ভিত্তিতে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। ফলে ইএডি কার্ডের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বন্ধ হওয়া মানেই তাঁদের সবার কাজের অনুমতি বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। নতুন বিধিমালায় আগের আবেদনকারীদের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। যাঁরা ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবরের আগে যোগ্য শ্রেণিতে সময়মতো ইএডি নবায়নের আবেদন করেছিলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে আগের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধা বহাল থাকতে পারে। তবে আবেদনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা দেওয়া, সঠিক ক্যাটাগরিতে থাকা এবং অন্যান্য শর্ত পূরণ করা জরুরি। ইউএসসিআইএসের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য পুরোনো আবেদনকারীরা তাঁদের মেয়াদোত্তীর্ণ ইএডি কার্ডের সঙ্গে নির্দিষ্ট আই-৭৯৭সি রিসিট নোটিশ ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৫৪০ দিনের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির সুবিধার প্রমাণ দেখাতে পারেন। তবে এই সুবিধা সব ধরনের ইএডি কার্ডের জন্য প্রযোজ্য নয়। আবেদনকারীর ক্যাটাগরি এবং রিসিট নোটিশের তারিখের ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে। এ ছাড়া টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বা টিপিএসের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচির আওতায় কিছু ব্যক্তির জন্য আলাদা আইন বা ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নির্দেশনার মাধ্যমে ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ বাড়ানোর ব্যবস্থা থাকতে পারে। এসব বিশেষ সুবিধা নতুন সাধারণ নিয়মের বাইরে বিবেচিত হতে পারে। তাই শুধু ইএডি কার্ডের মেয়াদ দেখে সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির সরকারি নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, নতুন নিয়মের উদ্দেশ্য হলো কাজের অনুমতি নবায়নের আগে আবেদনকারীর যোগ্যতা এবং নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য যাচাই নিশ্চিত করা। সরকারের অবস্থান হচ্ছে, শুধু নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার ভিত্তিতে নতুন মেয়াদের কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেওয়া উচিত নয়। নতুন সময়ের জন্য অনুমোদন দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন করতে চায় কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে এই পরিবর্তনের কারণে অভিবাসী কর্মী এবং তাঁদের নিয়োগকর্তাদের জন্য বাস্তব সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএসের আবেদন প্রক্রিয়াকরণে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। কোনো কর্মীর বর্তমান ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন অনুমোদন না এলে তাঁকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বিরত থাকতে হতে পারে। এতে পরিবারের নিয়মিত আয়, রেন্ট, মর্টগেজ এবং অন্যান্য খরচ পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে। নিয়োগকর্তাদের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী নিয়োগের সময় এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে কাজের অনুমতি যাচাই করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কোনো কর্মীর বৈধ কাজের অনুমতির মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে এবং অন্য কোনো অনুমোদন না থাকলে নিয়োগকর্তা তাঁকে আগের মতো কাজে বহাল রাখতে পারবেন না। ফলে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান উভয়েরই আগাম পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য এই পরিবর্তনের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশি পেশাজীবী এইচ-১বি ভিসায় কাজ করেন এবং তাঁদের যোগ্য স্বামী বা স্ত্রী এইচ-৪ স্ট্যাটাসে বসবাস করেন। আবার অনেকে গ্রিন কার্ডের আবেদন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ইএডি কার্ডের মাধ্যমে চাকরি করছেন। এসব পরিবারের কোনো সদস্যের কাজের অনুমতি নবায়নে বিলম্ব হলে তা পারিবারিক আয়ের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ আগামী কয়েক মাসের মধ্যে শেষ হবে, তাঁদের এখন থেকেই নবায়নের প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ইউএসসিআইএস সাধারণত যোগ্য আবেদনকারীদের বর্তমান ইএডি কার্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার সর্বোচ্চ ১৮০ দিন আগে নবায়নের আবেদন জমা দেওয়ার সুযোগ দেয়। তবে আবেদন আগে জমা দিলেই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়া নিশ্চিত নয়। নবায়নের জন্য সাধারণত ফর্ম আই-৭৬৫ ব্যবহার করা হয়। আবেদনকারীর বর্তমান অভিবাসন স্ট্যাটাস, কাজের অনুমতির ক্যাটাগরি এবং প্রয়োজনীয় সহায়ক নথির ওপর আবেদন প্রক্রিয়া নির্ভর করে। ভুল ক্যাটাগরি নির্বাচন, অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতির কারণে আবেদন প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত বিলম্ব হতে পারে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারীরা তাঁদের মামলার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফর্মের প্রসেসিং টাইম এবং সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত যাচাই করা যেতে পারে। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন বিচারাধীন থাকলে নির্দিষ্ট শর্তে কেস ইনকোয়ারি করার সুযোগও রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে কিছু আবেদনকারী দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের অনুরোধ করতে পারেন। তবে এক্সপেডাইট রিকোয়েস্ট অনুমোদন করা হবে কি না, তা ইউএসসিআইএসের নিজস্ব নীতিমালা এবং আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। শুধু চাকরি হারানোর আশঙ্কা থাকলেই দ্রুত অনুমোদন নিশ্চিত হয় না। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানের অনুমতি শেষ হয়ে যাওয়া সব সময় একই বিষয় নয়। কোনো ব্যক্তি বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস বজায় রেখেও সাময়িকভাবে কাজ করার অনুমতি হারাতে পারেন। আবার কিছু ভিসা ক্যাটাগরিতে ইএডি কার্ড ছাড়াও কাজের অনুমতি থাকতে পারে। তাই ব্যক্তির নির্দিষ্ট অভিবাসন পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ম বুঝতে হবে। ২০২৬ সালের অক্টোবরে চূড়ান্ত করা এই বিধিমালা মূলত ২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া পরিবর্তনকে স্থায়ী করেছে। এটি নতুন করে সব বিদেশি কর্মীর কাজের অনুমতি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নয়। বরং নির্দিষ্ট শ্রেণির ইএডি নবায়ন আবেদনকারীদের জন্য আগের স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে। যাঁরা বর্তমানে এইচ-৪, গ্রিন কার্ড আবেদনকারী কিংবা অন্য কোনো ইএডিনির্ভর ক্যাটাগরিতে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কার্ডের মেয়াদ, আবেদন জমা দেওয়ার তারিখ এবং নিজের ক্যাটাগরির নিয়ম যাচাই করা। প্রয়োজনে অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নিয়ে আগেভাগে নবায়নের ব্যবস্থা করলে অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মবিরতির ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া সহজ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য নতুন ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে জিলো হোম লোনস। ফেডারেল হাউজিং অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএইচএ) ঋণের মাধ্যমে বাড়ি কিনতে যোগ্য ক্রেতারা বাড়ির মূল্য বা নির্ধারিত মূল্যায়নের অঙ্কের সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ সহায়তা হিসেবে নিতে পারবেন। এ অর্থের ওপর কোনো সুদ দিতে হবে না, এমনকি প্রতি মাসে কিস্তি পরিশোধেরও প্রয়োজন হবে না। কর্মসূচিটি চালু হয়েছে ২৮ অক্টোবর। জিলোর ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৩টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসিতে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে অ্যারিজোনা, ডেলাওয়্যার, ফ্লোরিডা, ম্যাসাচুসেটস, নিউ ইয়র্ক, রোড আইল্যান্ড ও ভার্জিনিয়ায় কর্মসূচিটি কার্যকর হবে না। অর্থাৎ এসব অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা নতুন এ সহায়তার আওতায় বাড়ি কেনার সুযোগ পাবেন না। এ কর্মসূচির আওতায় পাওয়া অর্থ সরাসরি অনুদান নয়, বরং দ্বিতীয় একটি ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে পাঁচ বছর পর ঋণের পুরো অর্থ মওকুফ হয়ে যাবে। এ জন্য ক্রেতাকে মূল বন্ধকী ঋণের কিস্তি পাঁচ বছর সময়মতো পরিশোধ করতে হবে এবং পুরো সময় বাড়িটিতে নিজের বসবাস নিশ্চিত করতে হবে। পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে বাড়ি বিক্রি, ঋণ পুনঃঅর্থায়ন কিংবা অন্যত্র চলে গেলে সহায়তার অর্থ পুরোটা ফেরত দিতে হবে। কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। একইভাবে নির্দিষ্ট আয়ের সীমাও রাখা হয়নি। তবে আবেদনকারীর ক্রেডিট স্কোর কমপক্ষে ৬৪০ হতে হবে এবং জিলো হোম লোনসের মাধ্যমেই এফএইচএ ঋণ নিতে হবে। পাশাপাশি বাড়িটি নিজের বসবাসের জন্য কিনতে হবে এবং প্রচলিত ঋণ যাচাইয়ের নিয়ম অনুযায়ী মূল ঋণের মাসিক কিস্তি পরিশোধের আর্থিক সক্ষমতা থাকতে হবে। জিলোর নিয়ম অনুযায়ী, বাড়ির ক্রয়মূল্য অথবা মূল্যায়িত বাজারমূল্য, এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম, তার সর্বোচ্চ ৩ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে। ক্রেতা চাইলে নিজের অর্থ থেকে আরও সর্বোচ্চ ৬ দশমিক ৫ শতাংশ যোগ করে মোট ১০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিতে পারবেন। তবে এই সহায়তা বাড়ি কেনার অগ্রিম অর্থের জন্য, অন্যান্য সমাপনী খরচ বা ক্লোজিং কস্টের জন্য নয়। জিলো হোম লোনসের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মর্টগেজ বিভাগের প্রধান এরিক উইলসন বলেন, অনেক সম্ভাব্য ক্রেতার কাছে বাড়ির মাসিক কিস্তি পরিশোধের সক্ষমতা থাকলেও এককালীন ডাউন পেমেন্ট জোগাড় করাই বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে ঋণ ও ডাউন পেমেন্ট সহায়তা একই জায়গা থেকে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি। তবে সুদমুক্ত সহায়তা পাওয়া গেলেও বাড়ি কেনার অন্যান্য ব্যয় থেকে ক্রেতারা মুক্ত থাকবেন না। মূল এফএইচএ ঋণের জন্য প্রচলিত সুদের হার ও মাসিক কিস্তি দিতে হবে। পাশাপাশি এফএইচএ মর্টগেজ বিমার খরচও বহন করতে হবে। তাই শুধু ডাউন পেমেন্টের সুবিধা বিবেচনা না করে মূল ঋণের সুদের হার, বিমা ও অন্যান্য খরচ হিসাব করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জিলোর ওয়েবসাইটে সম্ভাব্য ক্রেতারা কর্মসূচির যোগ্যতা যাচাই ও প্রাথমিক আবেদন করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ মিনিটের একটি প্রাথমিক ফরম পূরণের মাধ্যমে প্রাক-যোগ্যতা যাচাই শুরু করা যায়। পরে ঋণ কর্মকর্তা আবেদনকারীর যোগ্যতা ও ঋণের শর্তগুলো নিশ্চিত করবেন। সূত্র: জিলো হোম লোনস, ফক্স ১৩ নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে গিয়ে সঞ্চয় কমিয়ে দিচ্ছেন বহু মানুষ। দেশটির ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার গত সেপ্টেম্বরে নেমে এসেছে ৩ দশমিক ৮ শতাংশে, যা প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। একই সময়ে জরুরি খরচ মেটানোর মতো অর্থ হাতে না থাকা, মাসিক বিল পরিশোধে সমস্যা এবং স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় নিয়ে উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন জরিপে। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি শুধু ব্যক্তিগত আর্থিক নিরাপত্তাকেই নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিসের (বিইএ) ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সেপ্টেম্বরে ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। আগস্টে এই হার ছিল ৪ শতাংশ এবং জুলাইয়ে ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যক্তিগত সঞ্চয়ের হার বলতে কর পরিশোধ ও ব্যয় মেটানোর পর মানুষের হাতে থাকা ব্যবহারযোগ্য আয়ের যে অংশ সঞ্চিত থাকে, তার অনুপাত বোঝায়। একই মাসে মানুষের ব্যক্তিগত আয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ২ শতাংশ, কিন্তু ভোগব্যয় বেড়েছে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ। বিইএর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে পণ্য কেনাকাটায় ব্যয় বেড়েছে ৩৫ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার এবং বিভিন্ন সেবায় ব্যয় বেড়েছে ৭৮ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলার। জ্বালানি, আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা ও বিমার মতো প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয়ের চাপও মানুষের সঞ্চয় কমার পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে এবিসি১৩-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে আয় বাড়লেও অনেক পরিবারের হাতে সঞ্চয়ের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ থাকছে না। পিউ রিসার্চ সেন্টারের ২০২৬ সালের জুলাই-আগস্টে পরিচালিত এক জরিপেও মানুষের আর্থিক সংকটের চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক জানিয়েছেন, তাঁরা যে ধরনের জীবনযাপন করতে চান, তার জন্য তাঁদের বর্তমান আয় যথেষ্ট নয়। ৫৩ শতাংশের কাছে এমন জরুরি তহবিল নেই, যা দিয়ে অন্তত তিন মাসের ব্যয় চালানো সম্ভব। এ ছাড়া ২৭ শতাংশ বলেছেন, সাধারণ কোনো মাসে তাঁরা কিছু বিল পরিশোধ করতে পারেন না অথবা আংশিক পরিশোধ করেন। জরিপে আরও দেখা গেছে, ৩২ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রায় প্রতিদিন স্বাস্থ্যসেবার খরচ ও নিজেদের ঋণের পরিমাণ নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন। নিম্ন আয়ের মানুষের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন। পিউর তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন আয়ের পরিবারের ৮২ শতাংশের বর্তমান আয় তাঁদের কাঙ্ক্ষিত জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়। একই গোষ্ঠীর ৭৭ শতাংশের কাছে তিন মাসের জরুরি ব্যয় মেটানোর মতো সঞ্চয় নেই এবং ৪৯ শতাংশ নিয়মিত মাসিক বিল পরিশোধে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। হিউস্টন অঞ্চলের পরিস্থিতিও একই ধরনের আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাইস ইউনিভার্সিটির কিন্ডার ইনস্টিটিউট ফর আরবান রিসার্চের ২০২৬ সালের বার্ষিক ‘কিন্ডার হিউস্টন এরিয়া সার্ভে’ অনুযায়ী, বছরে ২৫ হাজার ডলারের কম আয় করা পরিবারের ৭৯ শতাংশের পক্ষে হঠাৎ ৪০০ ডলারের খরচ সামলানো কঠিন। হ্যারিস, ফোর্ট বেন্ড ও মন্টগোমারি কাউন্টির প্রায় ৯ হাজার বাসিন্দার মতামতের ভিত্তিতে জরিপটি পরিচালিত হয়। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে সবচেয়ে বেশি আর্থিক চাপে থাকার চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের সঞ্চয় কমে গেলে তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বৃহত্তর অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। সঞ্চয়ের ঘাটতি পূরণ করতে অনেক পরিবার কেনাকাটা ও অন্যান্য ব্যয় কমিয়ে দেয়। এতে পণ্য ও সেবার চাহিদা কমতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের আয় ও কর্মসংস্থানে। সান ডিয়েগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক অ্যালান জিন এবিসি১৩-কে বলেন, মানুষের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কেউ কেউ সঞ্চয় কমাচ্ছেন, আবার কেউ ঋণের ওপর নির্ভর করছেন। এর পেছনে বাড়তি খরচ বড় ভূমিকা রাখছে। জিনের মতে, যাঁদের আয় স্থিতিশীল এবং চাকরি নিরাপদ, তাঁরা হয়তো তাৎক্ষণিকভাবে এই চাপ অনুভব করছেন না। কিন্তু অন্যরা যখন পণ্য ও সেবা কেনা কমিয়ে দেন, তখন সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আর প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা কমে গেলে কর্মীদের চাকরিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই মূল্যস্ফীতি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ভবিষ্যতে মানুষের সঞ্চয়ের সক্ষমতাকে কতটা প্রভাবিত করে, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব ইকোনমিক অ্যানালাইসিস, পিউ রিসার্চ সেন্টার, রাইস ইউনিভার্সিটির কিন্ডার ইনস্টিটিউট ও এবিসি১৩
বাংলাদেশে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশীয় পয়েন্ট। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২৯ হাজারের বেশি। শনিবার (৩১ অক্টোবর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অন্যদিকে প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেননি। গত বছর এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। ফলে টানা দ্বিতীয় বছরের ফলাফলের তুলনায় এবার পাসের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন ফলাফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন। প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, শুধু পাসের হার নয়, সর্বোচ্চ গ্রেড অর্জনের ক্ষেত্রেও গত বছরের তুলনায় বড় পরিবর্তন এসেছে। ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। এবার সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮৪ জনে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। এবারের ফলাফলে পাসের হারের দিক থেকে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। সব শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন ছাত্রী এবং ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন ছাত্র উত্তীর্ণ হয়েছেন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী পাস করেছেন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ এবং ছাত্রদের ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ছাত্ররা সামান্য এগিয়ে রয়েছেন। সর্বোচ্চ গ্রেড পেয়েছেন ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী। শিক্ষা বোর্ডভেদেও ফলাফলে পার্থক্য দেখা গেছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে চট্টগ্রাম বোর্ডে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং বরিশাল বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডেও গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। মাদ্রাসা বোর্ডে এবার ৩ হাজার ২৫০ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ৮৮৬ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এ বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি শিক্ষা বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রস্তুতের কাজ সম্পন্ন করে শনিবার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ পাবেন। শিক্ষা বোর্ডগুলোর ঘোষণা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আবেদনপদ্ধতি, নির্ধারিত ফি এবং অন্যান্য নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে জানানো হবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষা বোর্ডের নির্ধারিত অনলাইন ফলাফল সেবা এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন। এবারের ফলাফলে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা একসঙ্গে কমে যাওয়া। গত বছরের তুলনায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর অনুপাত কমার পাশাপাশি সর্বোচ্চ গ্রেড পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও প্রায় ৪২ শতাংশ কমেছে। তবে ফলাফলের এই পরিবর্তনের পেছনে পরীক্ষার প্রশ্নের ধরন, মূল্যায়ন পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি কিংবা অন্য কোনো নির্দিষ্ট কারণ কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে ফলাফলের সামগ্রিক পরিবর্তন বুঝতে শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক ও বিষয়ভিত্তিক বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০৩০ সালের স্নাতক ব্যাচে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীর হার বেড়ে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বিপরীতে, কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীর হার কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৩ সালে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয় বিবেচনার নীতি বাতিল করার পর ভর্তি হওয়া তিনটি ব্যাচের তথ্য বিশ্লেষণে এ পরিবর্তন দেখা গেছে। হার্ভার্ডের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৮ সালের ব্যাচে এশীয়-আমেরিকান শিক্ষার্থীর হার ছিল ৩৭ শতাংশ। ২০২৯ সালের ব্যাচে তা বেড়ে ৪১ শতাংশ হয়। সর্বশেষ ২০৩০ সালের ব্যাচে এই হার আরও বেড়ে ৪৩ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীর হার ২০২৮ সালের ব্যাচে ১৪ শতাংশ থাকলেও পরের বছর কমে ১১ দশমিক ৫ শতাংশ হয়। সর্বশেষ ব্যাচে তা আরও কমে ৯ দশমিক ৩ শতাংশে নেমেছে। জাতিগত পরিচয়ের হিসাবে হিস্পানিক বা লাতিনো শিক্ষার্থীর হার ২০৩০ সালের ব্যাচে ১১ দশমিক ৪ শতাংশ। আগের বছরের তুলনায় এ হার প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, আদিবাসী, নেটিভ হাওয়াইয়ান ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জের বংশোদ্ভূত শিক্ষার্থীর সম্মিলিত হার প্রায় ২ শতাংশ। তবে শ্বেতাঙ্গ শিক্ষার্থীদের অনুপাত প্রকাশ করেনি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রায় ৯ শতাংশ শিক্ষার্থী নিজেদের জাতিগত পরিচয় জানাননি। হার্ভার্ডের ভর্তি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ব্যাচে মোট ১ হাজার ৬৪৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে জাতিগত পরিচয়ের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে একটি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও স্থায়ী বাসিন্দাদের মধ্যে যাঁরা স্বেচ্ছায় নিজেদের জাতিগত পরিচয় জানিয়েছেন, তাঁদের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। কোনো শিক্ষার্থী একাধিক জাতিগত পরিচয় নির্বাচন করলে তাঁকে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি শ্রেণির হিসাবেই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিভিন্ন শ্রেণির শতাংশ যোগ করলে মোট সংখ্যা ১০০ শতাংশ নাও হতে পারে। ২০২৩ সালের জুনে সুপ্রিম কোর্ট ‘স্টুডেন্টস ফর ফেয়ার অ্যাডমিশনস বনাম হার্ভার্ড’ মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে জাতিগত পরিচয়কে সরাসরি বিবেচনার নীতির বিরুদ্ধে রায় দেয়। একই সঙ্গে নর্থ ক্যারোলাইনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি নীতিও আদালতের সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত জাতিগত অগ্রাধিকারভিত্তিক ভর্তি কার্যক্রমে বড় পরিবর্তন আসে। হার্ভার্ডের ২০২৮ সালের ব্যাচ ছিল ওই রায়ের পর ভর্তি হওয়া প্রথম ব্যাচ। নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি প্রক্রিয়ায় জাতিগত প্রতিনিধিত্ব নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। এশীয় শিক্ষার্থীদের অংশ বাড়ার পাশাপাশি কৃষ্ণাঙ্গ শিক্ষার্থীদের অংশ ধারাবাহিকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে শুধু এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টের রায়ই পরিবর্তনের একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। ভর্তি নীতির পাশাপাশি আবেদনকারীদের সংখ্যা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অন্যান্য বিষয়ও শিক্ষার্থীদের গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে। হার্ভার্ডের নতুন ব্যাচে ভর্তির জন্য আবেদনও বেড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের ব্যাচে ভর্তির জন্য আবেদন করেছিলেন ৫৫ হাজার ১০৪ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। এ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ৮৬টি দেশ থেকে এসেছেন। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর অংশ প্রায় ১৫ শতাংশ। সূত্র: হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরিসংখ্যান, দ্য হার্ভার্ড ক্রিমসন।
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে শিশুদের স্কুলবাস চালানোর সময় বিতর্কিত পোশাক পরা এবং বাসের নাম ‘ললিটা লাইন’ রাখাকে কেন্দ্র করে চাকরি হারানো এক চালক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন। এল.জেড. নামে পরিচিত ওই চালকের অভিযোগ, লিঙ্গপরিচয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড এবং বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডমার্ক বাস লাইনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল। ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৫ সালের জুনে। অন্টারিওর উডব্রিজ এলাকার সেন্ট মাইকেল দ্য আর্চেঞ্জেল ক্যাথলিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওই চালককে গোলাপি রঙের ছোট স্কার্ট, সাদা ফ্রিলযুক্ত পোশাক ও হাঁটু পর্যন্ত লম্বা মোজা পরা অবস্থায় দেখা যায়। বাসের সামনের জানালায় ‘ললিটা লাইন’ লেখা একটি সাইনবোর্ডও লাগানো ছিল। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন অভিভাবক চালকের সঙ্গে কথা বলেন এবং পোশাক ও বাসের নাম নিয়ে আপত্তি জানান। তখন চালক বলেন, প্রতিদিনই তিনি এভাবে কাজ করেন এবং এতে কোনো সমস্যা দেখেন না। ‘ললিটা’ নামটি রুশ-মার্কিন লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভের ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত উপন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। উপন্যাসটিতে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির ১২ বছর বয়সী একটি শিশুর প্রতি যৌন আসক্তি ও নির্যাতনের বিষয় উঠে এসেছে। এ কারণে স্কুলবাসের সঙ্গে নামটির ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই সময় ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড জানায়, অন্টারিওতে স্কুলবাস পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানি বিষয়টি জানার পর চালককে স্কুলটির রুট থেকে সরিয়ে দেয় এবং বোর্ডকে আশ্বস্ত করে যে ভবিষ্যতে ওই চালক তাদের কোনো স্কুলে শিক্ষার্থী পরিবহনের দায়িত্ব পালন করবেন না। বোর্ড আরও জানায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চাকরি হারানোর পর এল.জেড. গত ১৬ মার্চ ২০২৬ সালে অন্টারিওর মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গপরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কর্মসংস্থানে বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ও ল্যান্ডমার্ক বাস লাইনসকে বিবাদী করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, এল.জেড. নিজেকে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এদিকে, পরিচয় গোপন রাখার আবেদনও করেছিলেন ওই চালক। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি, হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তাঁর পরিচয় প্রকাশ না করার আবেদন মঞ্জুর করে। এ বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয় ২৩ অক্টোবর। ন্যাশনাল পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মামলাটির শুনানি এখনো শুরু হয়নি এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো রায়ও দেওয়া হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্টারিওর মানবাধিকার ট্রাইব্যুনাল বকেয়া বেতন, আর্থিক ক্ষতিপূরণ কিংবা পূর্বের পদে পুনর্বহালের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা খারিজও হতে পারে। ফলে চাকরিচ্যুতির পেছনে বৈষম্য ছিল কি না, তা নির্ধারণের বিষয়টি এখন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন। সংবাদসূত্র: ন্যাশনাল পোস্ট ও নাউ টরন্টো।
রাজনীতি
২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিলেন হলিউড অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে
কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের বল প্রয়োগ করে হিজাব খুলতে বাধ্য করছে ইসরাইলি বাহিনী
রাশিয়ার দিকে ট্রাম্প, চাপে ইউক্রেন! জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব বাড়ছে
সরকারি জালিয়াতির তথ্য দিলেই মিলবে ৩০ হাজার ডলার! নতুন উদ্যোগ ট্রাম্পের
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
জুয়েল সাদাত
বিশ্ব
View moreআজীবন সমুদ্রের বুকে ভাসমান একটি জাহাজে থাকার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়েছিলেন ৫৭ বছর বয়সী জোয়েল গ্রেইফ। পরিকল্পনা ছিল ১০, ২০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় কাটাবেন ভিলা ভি ওডিসি নামের আবাসিক ক্রুজ জাহাজে। কিন্তু সেই স্বপ্নের শুরু হওয়ার মাত্র ২৬ দিনের মাথায় জাহাজটির কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ২৭ অক্টোবর কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল বন্দরে জাহাজ থেকে নেমে যেতে বলা হয় যাত্রীদের। বিজনেস ইনসাইডারকে নিজের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে গ্রেইফ বলেন, জাহাজটিতে কাটানো অল্প সময় নিয়েও তিনি হতাশ নন। বরং সেখানে পাওয়া বন্ধু, পরিচিতজন এবং কর্মীদের সঙ্গে কাটানো দিনগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ। তবে দীর্ঘদিনের জন্য নতুন একটি বাড়ি খুঁজে পাওয়ার যে আশা করেছিলেন, তা আপাতত পূরণ হচ্ছে না। ২০২৪ সালের এপ্রিলে প্রথম ভিলা ভি ওডিসি সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন পড়ে আগ্রহী হন গ্রেইফ। পরে কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে নানা বিষয়ে খোঁজ নেন। ২০২৫ সালের মে মাসে চার দিনের জন্য জাহাজটিতে থাকার সুযোগ পান তিনি। গ্রেইফের ভাষ্য, জাহাজে ওঠার পাঁচ মিনিটের মধ্যেই তাঁর মনে হয়েছিল, এটাই তাঁর নতুন বাড়ি, এখানকার বাসিন্দারাই হবেন নতুন প্রতিবেশী। এরপর জাহাজের বাসিন্দাদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যোগাযোগ রাখেন তিনি। তাঁদের কাছে জানতে চান, জাহাজে বসবাসের সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁরা সন্তুষ্ট কি না। ইতিবাচক উত্তর পেয়ে সিদ্ধান্ত আরও পোক্ত হয়। চলতি বছরের আগস্টে ফ্লোরিডার বাড়ি ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় বন্ধু ও স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেন। সেপ্টেম্বরে ব্যাংকক হয়ে এশিয়ায় পৌঁছে ১ অক্টোবর ওডিসিতে ওঠেন তিনি। জাহাজে নিজের পরিচয় দিতেন ‘ফ্যান্টাস্টিক জোয়েল’ নামে। সেখানে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্যে সময় কাটত তাঁর। বাসিন্দাদের জন্য ছিল হাতের কাজ শেখা, নাটক, কারাওকে এবং ইহুদি সম্প্রদায়ের সদস্যদের জন্য সেডার ডিনারের মতো অনুষ্ঠান। জাহাজের কর্মীদের প্রতিও তাঁর বিশেষ ভালো লাগা তৈরি হয়। গ্রেইফ বলেন, কর্মীরা অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন এবং তাঁদের প্রশংসা প্রাপ্য। তবে জাহাজে ওঠার পরপরই আগের তুলনায় কিছু পরিবর্তন চোখে পড়ে তাঁর। ২০২৫ সালের মে মাসে যে সেবা ও সুযোগ-সুবিধা দেখেছিলেন, অক্টোবরে সেগুলোর মান কমে গেছে বলে মনে হয়। কাপড় ধোয়ার কাজ আগের মতো নিয়মিত হচ্ছিল না। আঙ্কর ওয়াট ভ্রমণে যাওয়ার আগে তাঁকে নিজের কাপড় নিজেকেই ধুতে হয়। ভ্রমণসূচিও বারবার বদলানো হচ্ছিল, কখনো কখনো কয়েক দিন সমুদ্রে অবস্থান করতে হচ্ছিল। এসব বিষয় নিয়ে তিনি খুব একটা উদ্বিগ্ন ছিলেন না বলে জানান। জাহাজের প্রধান নির্বাহী ও বাসিন্দাদের যোগাযোগের মাধ্যম ছিল ‘সার্কেল’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। সেখানেই ভ্রমণসূচি, ভিসা আবেদন এবং জাহাজের অন্যান্য বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হতো। ২৬ অক্টোবর রোববার বাসিন্দাদের জানানো হয়, মঙ্গলবারের মধ্যে অর্থের ব্যবস্থা না হলে জাহাজের যাত্রা চালানো সম্ভব হবে না। পরদিনও একই ধরনের বার্তা দেওয়া হয়। ২৭ অক্টোবর সকালে আঙ্কর ওয়াট ভ্রমণ শেষে বাসে করে জাহাজে ফিরছিলেন গ্রেইফ। কম্বোডিয়ার একটি বাসস্টেশনে ফোন চার্জ দিতে অপেক্ষা করার সময় সার্কেলে জাহাজ ছাড়ার নির্দেশনা পান তিনি। সকাল ৭টার দিকে পাঠানো বার্তায় জানানো হয়, দুপুর ২টার মধ্যে সবাইকে জাহাজ থেকে নেমে যেতে হবে। নিজের সব সম্পদ ছয়টি ব্যাগে গুছিয়ে এনেছিলেন গ্রেইফ। ফলে এক ঘণ্টার মধ্যেই জিনিসপত্র গোছাতে পেরেছিলেন। তবে যাঁরা দুই বছর ধরে জাহাজে বসবাস করছিলেন এবং ঘরের মতো করে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সাজিয়েছিলেন, তাঁদের জন্য কাজটি অনেক কঠিন ছিল। জাহাজ ছাড়ার পর প্রথমে কম্বোডিয়ার শান্ত শহর কামপটে চলে যান গ্রেইফ। সিহানুকভিলের কোলাহল, উঁচু ভবন ও ক্যাসিনোর পরিবেশ তাঁর ভালো লাগছিল না। পরে সেখানে এক মাসের জন্য তুলনামূলক কম ভাড়ায় দুই শয়নকক্ষের একটি অ্যাপার্টমেন্ট নেন। তবে জাহাজে ফিরে অন্য বাসিন্দাদের মালপত্র সরানো, থাকার জায়গা খুঁজে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কাজে সহায়তা করছেন তিনি। তাঁর মতে, কঠিন পরিস্থিতিতেও বাসিন্দারা একে অন্যের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। ওডিসিতে মাত্র ২৬ দিনের জন্য থাকার বিপরীতে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করেছিলেন গ্রেইফ। সেই অর্থ আর ফেরত পাবেন না বলেই মনে করছেন তিনি। তবে অর্থ হারানোর বিষয়টি নিয়ে খুব একটা চিন্তিত নন। তাঁর কাছে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো পরিবার ও বন্ধু, নতুন জায়গা দেখা, অভিজ্ঞতা অর্জন এবং অন্যদের পাশে দাঁড়ানো। ভিলা ভি ওডিসির কার্যক্রম আবার চালু হলে তিনি জাহাজে ফিরতে আগ্রহী। আর তা সম্ভব না হলে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাইয়ে বসবাসের কথা ভাবছেন। ফ্লোরিডা ছাড়ার সময় এটিকেই বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে রেখেছিলেন তিনি। জাহাজটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ভিলা ভি রেসিডেন্সেস ২৭ অক্টোবর কম্বোডিয়ায় কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এশিয়ার কিছু অঞ্চলে প্রতি কেবিনের বিপরীতে মাসিক জ্বালানি ব্যয় আগে গড়ে প্রায় ১ হাজার ৮০০ ডলার থাকলেও সম্প্রতি তা বেড়ে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিকে এই সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পুনর্গঠন ও নতুন অর্থায়নের পথ খোঁজার কথা জানালেও জাহাজটির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো নিশ্চয়তা নেই। সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার, ভিলা ভি রেসিডেন্সেস
ভারতের মধ্যপ্রদেশের দেওয়াস জেলায় ১৩ জনের মৃত্যুর ঘটনায় অবৈধ মদ তৈরির একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, চক্রটির মূল অভিযুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করেছিলেন। পরে রাসায়নিক সংগ্রহ করে তৈরি করা তরল পুরোনো মদের বোতলে ভরে বাজারে সরবরাহ করা হয় বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে ও দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল অভিযুক্ত অজয় রাঠোর ভারতের ইন্দোরের বাসিন্দা। গত সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এআইয়ের বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করে বাড়িতে মদ তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পুলিশের ভাষ্য, এআই থেকে পাওয়া তথ্য ছিল অসম্পূর্ণ। এরপর তিনি ইন্টারনেটে রাসায়নিক সরবরাহকারীদের খুঁজে বের করে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তদন্তকারীদের দাবি, ইন্দোরের ‘রাইজিং ব্রাদার্স’ নামের একটি দ্রাবক বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করেন অজয়। ১ অক্টোবর রাসায়নিক পাওয়ার পর সহযোগীদের নিয়ে বাড়িতে অবৈধভাবে মদ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। পরে পুরোনো ও ফেলে দেওয়া মদের বোতলে তৈরি তরল ভরে বিক্রি করা হয়। আসল মদের সঙ্গে নকল মদ মিশিয়ে দেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যমতে, ৬ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে এসব মদ স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বিক্রি করা হয়। মূলত গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পুরোনো বোতল এবং আসল মদের সঙ্গে মিশ্রণের কারণে ক্রেতাদের পক্ষে নকল পানীয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল। অবৈধ সরবরাহের সঙ্গে কয়েকটি বৈধ মদের দোকানের ব্যবস্থাপক ও বিক্রয়কর্মীদেরও সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। রাসায়নিক সরবরাহের অভিযোগে ইন্দোরের ব্যবসায়ী আমান কাসলিওয়ালকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। যে গুদাম থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করা হয়েছিল, সেটি সিল করে নমুনা সংগ্রহ করেছে পুলিশ। এ ছাড়া উদ্ধার করা মদের বোতল ও নিহত ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। দেওয়াস জেলার চান্দানা ও বিনজানা গ্রাম এবং আশপাশের এলাকায় ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৬ অক্টোবরের মধ্যে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা এসব মৃত্যুর সঙ্গে বিষাক্ত মদপানের সম্পর্ক থাকার দাবি করেছেন। তবে জেলা প্রশাসন শুরুতে বিষাক্ত মদপানে মৃত্যুর খবর অস্বীকার করেছিল। পরে বিষয়টি তদন্তে রাজ্য সরকার পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে। এ ঘটনায় ১৩ জনের মৃত্যুর খবর সামনে এলেও নকল মদের সঙ্গে মৃত্যুগুলোর সরাসরি যোগসূত্র এখনো নিশ্চিত হয়নি। নিহত দুজনের দেহের নমুনা, উদ্ধার করা মদ এবং অন্যান্য আলামত ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল ও তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, দ্য হিন্দু ও দ্য ডেইলি স্টার।
ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলায় যুক্তরাজ্যে চিকিৎসকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ব্রিটিশ-জর্ডানীয় চিকিৎসক ডা. নাদিম ক্রো। তাঁর দাবি, ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মত প্রকাশকারী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে পেশাগত নিয়ন্ত্রক সংস্থায় অভিযোগ করা হচ্ছে। এতে চিকিৎসকদের মধ্যে স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে ভীতি তৈরি হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যের জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের (জিএমসি) কাছে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন তিনি। গত ২৯ অক্টোবর কুদস নিউজ নেটওয়ার্কের এক প্রতিবেদনে ক্রোর বক্তব্য তুলে ধরা হয়। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাজ্যের ক্যাম্পেইন অ্যাগেইনস্ট অ্যান্টিসেমিটিজম (সিএএ), ইউকে লইয়ার্স ফর ইসরায়েল (ইউকেএলএফআই) এবং সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল ও টেলিগ্রাফের মধ্যে একটি সমন্বিত যোগাযোগব্যবস্থা রয়েছে বলে তাঁর মনে হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, এর মাধ্যমে বিশেষ করে চিকিৎসক ও অন্যান্য পেশাজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগের নথি বা তথ্যসংকলন প্রকাশ করা হয়, যা পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে অভিযোগ জানানোর ক্ষেত্রে ব্যবহার হতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর বক্তব্য ওই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ক্রোর নিজের অভিজ্ঞতাও এ বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট লন্ডনের রয়্যাল ফ্রি হাসপাতালে জরুরি বিভাগে দায়িত্ব পালনকালে তাঁকে কাজ থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁর ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে ইসরায়েলের সমালোচনা এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেওয়া কয়েকটি পোস্টের বিষয়ে এক সহকর্মী অভিযোগ জানানোর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ পদক্ষেপ নেয়। ক্রোর দাবি, অভিযোগের নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু তাঁকে প্রথমে জানানো হয়নি। পরে তাঁকে পোস্টগুলো মুছে ফেলতে বলা হয়, অন্যথায় পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে বলে তিনি মনে করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলো মুছে ফেলার পর ১৬ আগস্ট তাঁর ওপর থেকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং পরদিন তিনি আবার কাজ করেন। তবে নিজের সঙ্গে আচরণের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানোর পরও যথাযথ জবাব পাননি বলে দাবি করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত কর্মস্থলে আস্থা হারিয়ে অসুস্থতাজনিত কারণে কাজ থেকে বিরত থাকেন এবং পরে চাকরি ছেড়ে দেন। রয়্যাল ফ্রি লন্ডন এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগে ২০২৬ সালের জুনে কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন তিনি। মামলায় ক্রো অভিযোগ করেছেন, তাঁর ফিলিস্তিনপন্থী ও জায়নবাদবিরোধী রাজনৈতিক বিশ্বাস এবং আরবীয় বংশপরিচয়ের কারণে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন। তাঁর দাবি, একই ধরনের বিষয়ে অন্যদের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হলেও ফিলিস্তিনের পক্ষে মত প্রকাশ করায় তাঁকে বেশি কঠোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। মামলায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বৈষম্য, হয়রানি এবং চাকরি ছাড়তে বাধ্য হওয়ার অভিযোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে রয়্যাল ফ্রি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। তাদের বক্তব্য, ক্রোর বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি; বিষয়টি অনানুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছিল। যুক্তরাজ্যের চিকিৎসা পেশায় মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং পেশাগত আচরণবিধি নিয়ে এ ঘটনা নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। চিকিৎসকদের পেশাগত আচরণ ও রোগীদের নিরাপত্তা তদারকির দায়িত্বে থাকা জেনারেল মেডিকেল কাউন্সিলের কাছে অভিযোগ জমা পড়লে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হতে পারে। তবে কোনো অভিযোগ জমা পড়া মানেই সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক পেশাগত অসদাচরণ করেছেন, এমন নয়। অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণের ভিত্তিতেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। ক্রোর বক্তব্য, গাজায় মানবিক বিপর্যয় নিয়ে চিকিৎসকদের কথা বলার অধিকার থাকা উচিত। তাঁর মতে, রাজনৈতিক মতামত ও পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেই চিকিৎসকদের স্বাধীনভাবে মানবিক বিষয়ে অবস্থান জানানোর সুযোগ দিতে হবে। অন্যদিকে, রয়্যাল ফ্রি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মূল্যবোধ ও পেশাগত আচরণবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া প্রয়োজন। ক্রোর দায়ের করা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। সংবাদসূত্র: কুদস নিউজ নেটওয়ার্ক, দ্য ন্যাশনাল ও লেই ডে।
কানাডার অন্টারিও প্রদেশে শিশুদের স্কুলবাস চালানোর সময় বিতর্কিত পোশাক পরা এবং বাসের নাম ‘ললিটা লাইন’ রাখাকে কেন্দ্র করে চাকরি হারানো এক চালক মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে বৈষম্যের অভিযোগ করেছেন। এল.জেড. নামে পরিচিত ওই চালকের অভিযোগ, লিঙ্গপরিচয় ও জাতিগত পরিচয়ের কারণে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড এবং বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ল্যান্ডমার্ক বাস লাইনসের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনাল। ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে ২০২৫ সালের জুনে। অন্টারিওর উডব্রিজ এলাকার সেন্ট মাইকেল দ্য আর্চেঞ্জেল ক্যাথলিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে ওই চালককে গোলাপি রঙের ছোট স্কার্ট, সাদা ফ্রিলযুক্ত পোশাক ও হাঁটু পর্যন্ত লম্বা মোজা পরা অবস্থায় দেখা যায়। বাসের সামনের জানালায় ‘ললিটা লাইন’ লেখা একটি সাইনবোর্ডও লাগানো ছিল। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন অভিভাবক চালকের সঙ্গে কথা বলেন এবং পোশাক ও বাসের নাম নিয়ে আপত্তি জানান। তখন চালক বলেন, প্রতিদিনই তিনি এভাবে কাজ করেন এবং এতে কোনো সমস্যা দেখেন না। ‘ললিটা’ নামটি রুশ-মার্কিন লেখক ভ্লাদিমির নাবোকভের ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত উপন্যাসের সঙ্গে সম্পর্কিত। উপন্যাসটিতে মধ্যবয়সী এক ব্যক্তির ১২ বছর বয়সী একটি শিশুর প্রতি যৌন আসক্তি ও নির্যাতনের বিষয় উঠে এসেছে। এ কারণে স্কুলবাসের সঙ্গে নামটির ব্যবহার নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। ওই সময় ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড জানায়, অন্টারিওতে স্কুলবাস পরিচালনার দায়িত্ব বেসরকারি পরিবহন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট বাস কোম্পানি বিষয়টি জানার পর চালককে স্কুলটির রুট থেকে সরিয়ে দেয় এবং বোর্ডকে আশ্বস্ত করে যে ভবিষ্যতে ওই চালক তাদের কোনো স্কুলে শিক্ষার্থী পরিবহনের দায়িত্ব পালন করবেন না। বোর্ড আরও জানায়, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। চাকরি হারানোর পর এল.জেড. গত ১৬ মার্চ ২০২৬ সালে অন্টারিওর মানবাধিকার ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে জাতিগত পরিচয়, লিঙ্গপরিচয় ও লিঙ্গের ভিত্তিতে কর্মসংস্থানে বৈষম্যের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে ইয়র্ক ক্যাথলিক ডিস্ট্রিক্ট স্কুল বোর্ড ও ল্যান্ডমার্ক বাস লাইনসকে বিবাদী করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, এল.জেড. নিজেকে একজন ট্রান্সজেন্ডার নারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। এদিকে, পরিচয় গোপন রাখার আবেদনও করেছিলেন ওই চালক। তাঁর বক্তব্য, ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি, হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল তাঁর পরিচয় প্রকাশ না করার আবেদন মঞ্জুর করে। এ বিষয়ে লিখিত সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয় ২৩ অক্টোবর। ন্যাশনাল পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার বিষয়টি বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে মামলাটির শুনানি এখনো শুরু হয়নি এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনো রায়ও দেওয়া হয়নি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অন্টারিওর মানবাধিকার ট্রাইব্যুনাল বকেয়া বেতন, আর্থিক ক্ষতিপূরণ কিংবা পূর্বের পদে পুনর্বহালের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিতে পারে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তা খারিজও হতে পারে। ফলে চাকরিচ্যুতির পেছনে বৈষম্য ছিল কি না, তা নির্ধারণের বিষয়টি এখন ট্রাইব্যুনালের বিবেচনাধীন। সংবাদসূত্র: ন্যাশনাল পোস্ট ও নাউ টরন্টো।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা তুললেন বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী
নেইমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজকে দলে নিতে যাচ্ছে মেলবোর্ন রেনেগেডস, বিসিবির ছাড়পত্রের অপেক্ষা
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন
রাবণের দশ মাথায় ড. ইউনূস ও ইলন মাস্কের ছবি, লক্ষ্ণৌতে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
প্রচলিত কেমোথেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকর নতুন ওষুধ, কমেছে স্তন ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলো এআইয়ের তৈরি ভাইরাস
নার্সদের জন্য ৫০ হাজার ডলারের সহায়তা, তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ
ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত মিলতে পারে স্ক্যানে ধরা পড়ার ১৬ মাস আগেই
চোখের বিরল রোগে নতুন আশার আলো, চালের দানার সমান যন্ত্রে সুরক্ষিত থাকতে পারে দৃষ্টি
ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এয়ার ট্যাক্সি, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে উড়বে টাম্পা পর্যন্ত
টেসলার একটি সাইবারক্যাব থেকে বছরে ৫০ হাজার ডলার মুনাফার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কের বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি
এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের ত্রুটি স্বীকার করল অ্যাপল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নতুন ফোন দেওয়ার ঘোষণা
ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার চালু করছে কেন্ট জেলা
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
হোয়াইট হাউসে সোভিয়েত সেনাবাহিনীর পোশাকে শিশু, ট্রাম্পের হ্যালোইন অনুষ্ঠানে আলোচনা
নিউইয়র্কে রবিবার মিটার পার্কিং ফ্রি, জরিমানা এড়াতে জানুন গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম
নিউইয়র্ক পুলিশের ইউনিফর্মে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’! আবেগ আপ্লুতপ্রবাসীদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি
মিশিগানের হ্যামট্রামেকে মেয়র নির্বাচিত বাংলাদেশি মুহিত মাহমুদ, আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতেই হিমশিম খাচ্ছেন অনেকে
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগে চাকরির সুযোগ , নির্দিষ্ট পদে সাইনিং বোনাস ৩০ হাজার ডলার
পাঁচ বছরে আয় ৮ গুণের বেশি, তবু অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেন নাবিল খান
ইন্টেল থেকে টেসলায়! সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার বাংলাদেশি সারোয়ার মোর্শেদ
সৌদিতে ১৯ হাজার ৬১০টি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আবেদনের নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন, কর্মীদের মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও
দুই হাজার বছর পর রোমান স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হওয়া ব্যক্তির মুখ ফিরল ডিজিটাল প্রযুক্তিতে
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
জ্বালানি চুরি করতে গিয়ে ভুলে বাসের পয়োনিষ্কাশন ট্যাংকের বর্জ্যতে হাত দিয়ে বিপাকে চোর
ক্যাশ অ্যাপের ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, যোগ্য গ্রাহকদের টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদার, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা
রোদে পোড়া ব্রিটিশদের মতো লাল মুখ, ব্রাজিলে বানরের ডাকনাম ‘ইংলিশ মাঙ্কি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট, শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে রুমা
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে মরিয়া আইনি লড়াই, এবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে মাহমুদ খলিল
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ
কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী
যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন দুই বছর থাকার সুযোগ
পিএইচডি ও দুই মাস্টার্স ডিগ্রির পরও ৪১ বছর বয়সে এমবিএ করছেন ইন্টেলের কর্মকর্তা! লক্ষ্য এআইে দক্ষতা
সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কমিউনিটির বড় সহায়তা, ৮ লাখ ডলারের অনুদান
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র
লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!
১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিমায় নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের চিকিৎসা খরচ কমাতে যা করবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়াই আটকের পক্ষে আদালতের রায়
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
মিশিগানসহ ৪৩টি স্টেটস এ বাড়ির ডাউন পেমেন্টে সুদমুক্ত ঋণ দিবে জিলো
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স গড়ে ১৫ হাজার ডলার, অধিকাংশের সঞ্চয় অনেক কম
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস, খাবারের খরচ বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন অর্ধেক মানুষ
১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের গড় বয়স ছিল ৩৩ বছর, এখন ৫৬! নতুন ক্রেতার রেকর্ড পতন
আম্বানির শেয়ার কিনতে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড
ফ্লোরিডায় রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্পকে গুলি করার হুমকি দেয়ায় নারী গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় মানবপাচারবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ডিজনির ১৩ কর্মী, ডেপুটি, নৌবাহিনীর সদস্যসহ ২৮১
ব্রঙ্কসে ভয়াবহ আগুনে কিশোরের মৃত্যু, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পরিবারের আরও চারজন
যাত্রীদের সঙ্গে সংঘর্ষ করায় বিতর্ক, নিউ ইয়র্কে পর্যালোচনায় ভাড়া আদায়কারীদের প্রশিক্ষণ
ফ্লোরিডায় ফুটবল ম্যাচ শেষে গুলিবর্ষণ, আহত ১১; ১৫ বছর বয়সীর বিচার হবে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে
২৩ বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্স, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তিই দিতে চান স্বামী
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা
মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারবেন না, তাই মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা
ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের, ক্লান্তি নিয়েও উড়ছেন অনেকে
মাত্র ১৩ হাজার ডলারে ইতালিতে বাড়ি কিনে ১৮ হাজার ডলারে সংস্কার করলেন মার্কিন দম্পতি
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
হিন্দুরা গরুর মূত্র খায়! এবং গরুর পূজা করে, ভারত নিয়ে উপহাস ইসরায়েলি ধর্মীয় নেতার
১৫ বছরের বিশ্বভ্রমণের স্বপ্ন ভেঙে মাঝপথে জাহাজ থেকে নামিয়ে দেওয়া হলো মার্কিন যাত্রীদের
ক্রিপ্টো দুনিয়ায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুরি, ৬.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘটনায় সন্দেহ উত্তর কোরিয়াকে
ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি, মার্কিন সেনাবাহিনীর গণকবর খোঁড়ার মহড়া
ইরান সংঘাতে নি হত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ২৩, আহত ৮৬৫ জনের বেশি
এইচএসসিতে পাসের হার কমে ৫২ শতাংশ, জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার শিক্ষার্থী
একটি রেডিও কিনতে ৫ বিঘা জমি বিক্রি করেন! ব্যাটারি কিনতে খরচ হয় দেলোয়ার হোসেনের আরও ১ বিঘা
পরিবার মামলা না করলে তাহসিফের মৃ ত্যুর ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকেই হবে মামলা
শেষ কণ্ঠবার্তায় ‘মা, আমি আসছি’, পরদিন তুরাগ নদীতে মিলল সাবেক কর্মকর্তার ম রদেহ