সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই রাজনীতিবীদ
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর, কমিউনিটিতে আনন্দের জোয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক শেখ রহমান ও এম ডি মাসুদুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নিজের আসন ধরে রেখেছেন শেখ রহমান। অন্যদিকে, কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন মাসুদুর রহমান। তাঁদের এই সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।   জর্জিয়ার পঞ্চম সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন শেখ রহমান। প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফলে তাঁর পক্ষে ৩৫ হাজারের বেশি ভোট পড়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম স্টেট সিনেটর হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা।   অন্যদিকে, কানেকটিকাটের চতুর্থ সিনেট ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে পরাজিত করে আবারও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা এম ডি মাসুদুর রহমান। তিনি ২০২২ সালে প্রথমবার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় আরও দুই বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় তাঁরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন।   শেখ রহমান ও মাসুদুর রহমানের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবর তাই শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বৃহত্তর বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের এই অর্জন আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।   সূত্র: জর্জিয়ার প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফল,

২৮ মিনিট Ago
হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া,
হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া, নেপথ্যে রহস্য কী ?

দেশের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হঠাৎ শুধু ‘স্যরি’ লিখে একটি পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। সংক্ষিপ্ত এই পোস্ট ঘিরে পাঠকদের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল ও বিভ্রান্তি। কেউ ধারণা করেন পেজটি হ্যাক হয়েছে, আবার কেউ মনে করেন এটি বিশেষ কোনো প্রচারণার অংশ।   তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, প্রথম আলোর এমন রহস্যময় পোস্টের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র একটি বিশেষ আয়োজন। পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রচারণা চালানো হয়।   পোস্টটি প্রকাশের পর ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবহারকারীরা। অনেকে জানতে চান, প্রথম আলোর মতো একটি সংবাদমাধ্যম হঠাৎ কেন ক্ষমা চাইছে। কেউ আবার বিষয়টিকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখেন।   ফেসবুক ব্যবহারকারী মির্জা হাসিব মন্তব্য করেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন প্রথম আলোর পেজ হ্যাক হয়েছে। পরে সম্পাদক মতিউর রহমানের পেজেও একই পোস্ট দেখে এবং রস+আলোর সাম্প্রতিক প্রচ্ছদের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়ে এটিকে প্রচারণার অংশ বলে ধারণা করেন।   সংবাদমাধ্যম জনবাণীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রস+আলোর বিশেষ সংখ্যার মূল বিষয় ছিল ‘আইডিয়া সংকট’। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন সংকটের সঙ্গে মিল রেখে রম্য লেখার নতুন ভাবনার সংকটকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।   রস+আলোর পক্ষ থেকে পাঠকদের জানানো হয়, উপযুক্ত আইডিয়ার অভাবে এবারের সংখ্যায় প্রত্যাশিত আনন্দ দিতে না পারায় তারা দুঃখিত। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই ফেসবুকে প্রকাশ করা হয় এক শব্দের ‘স্যরি’ পোস্ট।   অর্থাৎ, প্রথম আলোর এই পোস্ট কোনো হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নয়। রস+আলোর বিশেষ সংখ্যার প্রচারণার অংশ হিসেবেই অভিনব কৌশলটি ব্যবহার করা হয়েছে।

৪৯ মিনিট Ago
একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা না করার ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (৪ নভেম্বর) দেশটির পূর্ব উপকূল থেকে জাপান সাগরের দিকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এমন সামরিক তৎপরতায় কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ বুধবার উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় সোন্দক এলাকা থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে। ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর ধরন, পাল্লা এবং গতিপথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করছে।   গত এক মাসে এটি উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ দফা অস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনা। চলতি বছর দেশটি সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণকারী ড্রোনসহ বিভিন্ন অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে। এর মধ্যে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ৯০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে।   সর্বশেষ উৎক্ষেপণের কয়েক ঘণ্টা আগে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা নাকচ করেন। তিনি বলেন, ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার প্রতি বৈরী নীতি পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত আলোচনায় বসার প্রয়োজন দেখছে না পিয়ংইয়ং।   কিম ইয়ো জংয়ের এই বক্তব্য এসেছে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগের পর। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন বা এফবিআই দাবি করেছে, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ট্রেডারট্রেইটর নামের হ্যাকার গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে। গত বছর বাইবিট এক্সচেঞ্জ থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলার চুরির ঘটনাতেও একই গোষ্ঠীকে দায়ী করেছিল সংস্থাটি।   তবে কিম ইয়ো জং মার্কিন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে একে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বৈরী নীতির অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আলোচনার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে বৈঠক করা পিয়ংইয়ংয়ের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   এর আগে গত আগস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক করতে চান তিনি। প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হলেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়। নতুন বৈঠকের প্রস্তাবেও এখন পর্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেয়নি পিয়ংইয়ং।   এদিকে মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, তারা কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য তৈরি নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করেছে। দেশটির দাবি অনুযায়ী, এই অস্ত্র পাঁচ থেকে ছয় হেক্টর এলাকায় আঘাত হানতে সক্ষম। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আরও জানিয়েছে, কিম জং উন সম্প্রতি একটি ডেস্ট্রয়ার যুদ্ধজাহাজ নির্মাণকেন্দ্র পরিদর্শন করে নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান এরই মধ্যে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানিয়েছে। তবে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনায় অনীহার কারণে দুই পক্ষের কূটনৈতিক সম্পর্কের অচলাবস্থা আরও গভীর হচ্ছে।   সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স।

১ ঘন্টা Ago
মাস্কের রসিকতা
‘এবার স্পেস লেজার কাজ করেনি’, নির্বাচনে হারের পর মাস্কের রসিকতা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর নিজের ‘নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী স্পেস লেজার’ নিয়ে রসিকতা করেছেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনের দিন রিপাবলিকানদের ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেও ফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি।   নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাস্ক লেখেন, ‘মনে হচ্ছে, এবার আমার নির্বাচনে হস্তক্ষেপকারী স্পেস লেজারগুলো কাজ করেনি।’ এর কয়েক ঘণ্টা আগে আরেক পোস্টে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে লিখেছিলেন, ‘আজ লালকে ভোট দিন।’ যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে লাল রং রিপাবলিকান পার্টির প্রতীক।   মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, উভয় কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   এবারের নির্বাচনে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। নির্বাচনী অর্থায়ন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ওপেনসিক্রেটসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মোট নির্বাচনী ব্যয় প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।   বিবিসির প্রতিবেদনের বরাতে জানানো হয়েছে, ব্যক্তিগত দাতাদের মধ্যে রিপাবলিকানদের পক্ষে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করেছেন ইলন মাস্ক। তাঁর ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি ডলার। বিশেষ করে টেক্সাসে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে বিপুল অর্থ দিয়েছেন তিনি।   তবে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্পসমর্থিত রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করেছেন ডেমোক্র্যাট জেমস টালারিকো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে রাজ্যটিতে দীর্ঘ ৩৮ বছর পর সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের দাবি করা হচ্ছে।   রিপাবলিকানদের পক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয় ও প্রকাশ্য সমর্থনের পরও প্রত্যাশিত ফল না আসায় মাস্কের ‘স্পেস লেজার’ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সাইদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এল-সাইদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৩১ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্স পেয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৯৮ হাজার ১৬৩।   ডেটলাইন ডেট্রয়েটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। গণনায় এল-সাইদ পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৫৪ মিনিটের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এল-সাইদের সমর্থন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়। অর্থাৎ ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটের হারেও পরিবর্তন আসছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের যেমন জোর প্রচেষ্টা রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের লক্ষ্য আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া।   তবে প্রাথমিক ফলাফলে এল-সাইদ এগিয়ে থাকলেও এখনই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই। ভোট গণনা চলমান রয়েছে এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ২২:৩৯
ট্রাম্প-সমর্থিত প্রার্থীকে হারিয়ে উত্তর ক্যারোলাইনায় সিনেটর নির্বাচিত রয় কুপার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উত্তর ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী রয় কুপার। রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থনপুষ্ট মাইকেল হোয়াটলিকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন তিনি। ৪ নভেম্বর বুধবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নির্বাচনী পূর্বাভাসে কুপারকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এ জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের দখলে থাকা আসনটি ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেল। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার লড়াইয়েও এটি দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নির্বাচনে কুপার পেয়েছেন ২১ লাখ ৪৭ হাজার ৫৫৬ ভোট, যা মোট ভোটের ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ। অন্যদিকে মাইকেল হোয়াটলি পেয়েছেন ১৪ লাখ ৩০ হাজার ১২৯ ভোট, অর্থাৎ ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ। সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাসে কুপারের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। তবে এসব ভোটের হিসাব নির্বাচনের সময়কার প্রকাশিত ফলাফলের ভিত্তিতে, চূড়ান্ত প্রত্যয়িত ফল নয়।   ৬৯ বছর বয়সী রয় কুপার উত্তর ক্যারোলাইনার রাজনীতিতে পরিচিত মুখ। তিনি ২০১৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে অঙ্গরাজ্যটির গভর্নরের দায়িত্ব পালন করেছেন। নির্বাচনী প্রচারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও জ্বালানির উচ্চমূল্য কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যয় কমানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের সমালোচনা করেন। অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলি আগে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর পক্ষে সরাসরি প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।   এই জয়ের ফলে অবসর নিতে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের স্থলাভিষিক্ত হবেন কুপার। উত্তর ক্যারোলাইনা দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট আসন ডেমোক্র্যাটদের দখলে যাওয়াকে দলটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম অঙ্গরাজ্যটির একটি সিনেট আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী নির্বাচিত হলেন বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটে মোট আসন ১০০টি। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এর মধ্যে ৩৫টি আসনে ভোট হয়েছে। নির্বাচনের আগে সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ছিল ৫৩টি, আর ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানো প্রয়োজন। উত্তর ক্যারোলাইনায় কুপারের জয় সেই লক্ষ্য অর্জনের পথে দলটিকে এগিয়ে দিলেও সিনেটের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করছে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের ফলের ওপর। একই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেও ভোট হয়েছে।   সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও সিবিএস নিউজ।

যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে আবারও জয়ী দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সিনেটর, কমিউনিটিতে আনন্দের জোয়ার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আবারও জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত দুই ডেমোক্র্যাট রাজনীতিক শেখ রহমান ও এম ডি মাসুদুর রহমান। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জর্জিয়ার স্টেট সিনেটে নিজের আসন ধরে রেখেছেন শেখ রহমান। অন্যদিকে, কানেকটিকাটের স্টেট সিনেটে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন মাসুদুর রহমান। তাঁদের এই সাফল্য প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন।   জর্জিয়ার পঞ্চম সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন শেখ রহমান। প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফলে তাঁর পক্ষে ৩৫ হাজারের বেশি ভোট পড়েছে। এর আগে ২০১৮ সালে প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম স্টেট সিনেটর হিসেবে পরিচিতি পান তিনি। এরপর ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনে জয়ী হয়ে অঙ্গরাজ্যটির রাজনীতিতে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন এই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নেতা।   অন্যদিকে, কানেকটিকাটের চতুর্থ সিনেট ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী জেন জেনিংসকে পরাজিত করে আবারও জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট নেতা এম ডি মাসুদুর রহমান। তিনি ২০২২ সালে প্রথমবার স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে জয়ের মধ্য দিয়ে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় আরও দুই বছর দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় তাঁরা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করছেন।   শেখ রহমান ও মাসুদুর রহমানের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার খবর তাই শুধু তাঁদের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বৃহত্তর বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটির জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁদের এই অর্জন আগামী দিনে নতুন প্রজন্মের প্রবাসী বাংলাদেশিদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করছেন শুভাকাঙ্ক্ষীরা।   সূত্র: জর্জিয়ার প্রাথমিক নির্বাচনী ফলাফল,

হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া,
হঠাৎ ‘স্যরি’তে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া, নেপথ্যে রহস্য কী ?

দেশের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হঠাৎ শুধু ‘স্যরি’ লিখে একটি পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। সংক্ষিপ্ত এই পোস্ট ঘিরে পাঠকদের মধ্যে তৈরি হয় কৌতূহল ও বিভ্রান্তি। কেউ ধারণা করেন পেজটি হ্যাক হয়েছে, আবার কেউ মনে করেন এটি বিশেষ কোনো প্রচারণার অংশ।   তবে শেষ পর্যন্ত জানা গেছে, প্রথম আলোর এমন রহস্যময় পোস্টের পেছনে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির রম্য সাময়িকী ‘রস+আলো’র একটি বিশেষ আয়োজন। পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই পরিকল্পিতভাবে এই প্রচারণা চালানো হয়।   পোস্টটি প্রকাশের পর ফেসবুকে নানা ধরনের মন্তব্য করেন ব্যবহারকারীরা। অনেকে জানতে চান, প্রথম আলোর মতো একটি সংবাদমাধ্যম হঠাৎ কেন ক্ষমা চাইছে। কেউ আবার বিষয়টিকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখেন।   ফেসবুক ব্যবহারকারী মির্জা হাসিব মন্তব্য করেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন প্রথম আলোর পেজ হ্যাক হয়েছে। পরে সম্পাদক মতিউর রহমানের পেজেও একই পোস্ট দেখে এবং রস+আলোর সাম্প্রতিক প্রচ্ছদের সঙ্গে মিল খুঁজে পেয়ে এটিকে প্রচারণার অংশ বলে ধারণা করেন।   সংবাদমাধ্যম জনবাণীর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রস+আলোর বিশেষ সংখ্যার মূল বিষয় ছিল ‘আইডিয়া সংকট’। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন সংকটের সঙ্গে মিল রেখে রম্য লেখার নতুন ভাবনার সংকটকে হাস্যরসের মাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।   রস+আলোর পক্ষ থেকে পাঠকদের জানানো হয়, উপযুক্ত আইডিয়ার অভাবে এবারের সংখ্যায় প্রত্যাশিত আনন্দ দিতে না পারায় তারা দুঃখিত। সেই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই ফেসবুকে প্রকাশ করা হয় এক শব্দের ‘স্যরি’ পোস্ট।   অর্থাৎ, প্রথম আলোর এই পোস্ট কোনো হ্যাকিং বা প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে নয়। রস+আলোর বিশেষ সংখ্যার প্রচারণার অংশ হিসেবেই অভিনব কৌশলটি ব্যবহার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে ডেমোক্রেটিক পার্টি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে রিপাবলিকানরা, এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর মুখে পড়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি। নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে একের পর এক আসনে জয় পাচ্ছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থীরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানদের দখলে থাকা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনও হাতছাড়া হয়েছে। এনবিসি নিউজ ও সিএনএনের নির্বাচনী পূর্বাভাসে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। এমনটি হলে এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রতিনিধি পরিষদে সবচেয়ে বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে দলটি।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা বেশ কয়েকটি আসনে জয় নিশ্চিত করেন। রাত ১০টার দিকে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ঘোষিত ফলাফলে ডেমোক্র্যাটদের জয়ী আসনের সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের জয়ী আসন ছিল ৬২টি। তবে ওই সময়ও অনেক আসনের ভোট গণনা বাকি ছিল। প্রতিনিধি পরিষদের মোট ৪৩৫টি আসনের সব কটিতে নির্বাচন হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোনো দলকে অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে।   ফ্লোরিডায় রিপাবলিকানদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগও প্রত্যাশিত সুবিধা এনে দিতে পারেনি। ওই অঙ্গরাজ্যের অন্তত চারটি আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বীদের হারিয়েছেন বা জয়ের পথে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনায় ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও কৃষক জেমি অ্যাগার রিপাবলিকান প্রার্থী জেনিফার ক্যাপস বালকমকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পূর্বাভাসে অ্যাগারের পক্ষে ৬০ দশমিক ১ শতাংশ এবং বালকমের পক্ষে ৩৮ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট দেখানো হয়।   নিউ জার্সিতেও রিপাবলিকানদের একটি আসন হাতছাড়া হয়েছে। সেখানে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রেবেকা বেনেট রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টম কিন জুনিয়রকে ২০ শতাংশের বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। এ ছাড়া কেনটাকির ষষ্ঠ কংগ্রেসনাল আসনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জ্যাক ডেম্বোর জয়ের খবরও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব ফল রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।   নির্বাচনে রিপাবলিকানদের দুর্বল অবস্থানের পেছনে জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক অসন্তোষ বড় ভূমিকা রেখেছে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে উঠে এসেছে। খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষের বিষয়টি নির্বাচনী প্রচারেও গুরুত্ব পেয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের নেতা হাকিম জেফ্রিসের নেতৃত্বে দলটি এসব ইস্যুকে সামনে রেখে প্রচার চালায়। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন নির্বাচনের আগে নিজের দলের প্রতি সমর্থন ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছিলেন।   নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার আগে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিনি নিজের ভেটো ক্ষমতা ব্যবহার করবেন বলেও ইঙ্গিত দেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও তাঁর পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত শুরু করতে পারে বলেও রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ রয়েছে।   তবে প্রতিনিধি পরিষদের চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নিশ্চিত হতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়াসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনা ও যাচাই করতে সময় লাগতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, সব আসনের ফল নির্ধারণে বিলম্ব হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পূর্বাভাস থাকলেও চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট, সিবিএস নিউজ ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক মাইল দূরে বিমানের লেজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্লোরিডায় আছড়ে পড়ার আগেই মাঝ আকাশে ভেঙে পড়ছিল বিমান, ৪ মাইল দূরে মিলল লেজের অংশ

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ৯ জনের প্রাণহানির ঘটনায় বিধ্বস্ত একটি ব্যক্তিগত বিমানের লেজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ মাইল দূরে উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়। সংস্থাটির সদস্য টম চ্যাপম্যান জানান, বিমানের লেজের সঙ্গে যুক্ত ‘লেফট এলিভেটর’ নামের নিয়ন্ত্রণ অংশটি তিনটি খণ্ডে পাওয়া গেছে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরত্বের মধ্যে এসব অংশ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাটিতে আঘাত করার আগেই বিমানের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।   গত রোববার (১ নভেম্বর) ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকার্স এলাকায় লিয়ারজেট ৬০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা সাত যাত্রী এবং দুই পাইলটসহ মোট নয়জনের সবাই নিহত হন। বিমানটি একটি আবাসিক এলাকার সড়কে আছড়ে পড়ে এবং সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে বিমানের বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ। তদন্তের স্বার্থে স্থানীয় বাসিন্দাদের এসব অংশ স্পর্শ বা সরিয়ে না ফেলে কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে এনটিএসবি।   উদ্ধার হওয়া অংশটির নাম ‘লেফট এলিভেটর’। এটি বিমানের পেছনের অনুভূমিক লেজের সঙ্গে যুক্ত একটি চলমান নিয়ন্ত্রণ পৃষ্ঠ, যা বিমানের নাক ওপরে বা নিচে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তদন্তকারীদের মতে, এত দূরে তিন খণ্ডে এর সন্ধান পাওয়া বিমানটি আঘাতের আগেই ভেঙে পড়তে শুরু করেছিল কি না, তা বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। তবে এই অংশ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, নাকি নিচে নামার সময় অতিরিক্ত চাপের কারণে এটি ভেঙে যায়, তা এখনো নিশ্চিত নয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।   দুর্ঘটনার আগে বিমানের পাইলট ও সহকারী পাইলটের সঙ্গে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকক্ষের যোগাযোগের তথ্যও তদন্তের আওতায় রয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, উড্ডয়নের পর বিমানটির কর্মীরা বরফ জমা, মাঝারি মাত্রার বায়ুপ্রবাহের অস্থিরতা এবং বৃষ্টিপাতের কথা জানিয়েছিলেন। একপর্যায়ে বিমানটি দ্রুত নিচে নামতে শুরু করে এবং সহকারী পাইলট জরুরি বিপৎসংকেত পাঠান। যোগাযোগের রেকর্ডে বিমানটির দ্রুত উচ্চতা হারানোর বিষয়টি উঠে এসেছে। আবহাওয়াজনিত পরিস্থিতি দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।   নিহতদের মধ্যে ছিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন (৪৫), তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প (৪০), তাঁদের দুই সন্তান এমা (৪) ও চার্লি (২), পরিবারের পরিচর্যাকারী এবং দুই পারিবারিক বন্ধু। বিমানের পাইলট ছিলেন ৫৫ বছর বয়সী জেফ গ্রেগরি এবং সহকারী পাইলট ছিলেন ২০ বছর বয়সী নাথালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস। নাথালিয়া ছোটবেলা থেকেই বিমান চালানোর প্রতি আগ্রহী ছিলেন। ২০২৩ সালে স্কুলে পড়ার সময়ই তিনি ব্যক্তিগত বিমান চালানোর লাইসেন্স অর্জন করেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমান চালানোই ছিল তাঁর জীবনের অন্যতম বড় স্বপ্ন।   এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিমানের বিভিন্ন অংশ সংগ্রহ ও পরীক্ষা করছেন এনটিএসবি কর্মকর্তারা। তদন্তকারীরা বাসিন্দাদের সতর্ক করে বলেছেন, আশপাশে বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেলে সেটি সরানো বা স্পর্শ করা যাবে না। বরং দ্রুত স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কিংবা তদন্ত সংস্থাকে জানাতে হবে। সংস্থাটির মতে, উদ্ধার হওয়া লেজের অংশ দুর্ঘটনার আগের মুহূর্তে বিমানের অবস্থার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) ও রয়টার্স।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
যুক্তরাজ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত বাড়ানো হচ্ছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
যুক্তরাজ্যে পড়তে যেতে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাংকে দেখাতে হবে বাড়তি অর্থ, কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম
প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ২০:১

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে ইচ্ছুক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভিসা আবেদনে আর্থিক সক্ষমতার শর্ত আরও কঠোর হচ্ছে। আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানোর জন্য আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রমাণ দেখাতে হবে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, লন্ডনে পড়াশোনা করতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে পড়তে গেলে ১ হাজার ২০৩ পাউন্ড থাকার খরচের জন্য দেখাতে হবে। এই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি বা পড়াশোনার খরচের বাইরে আলাদাভাবে থাকতে হবে।   বর্তমানে লন্ডনে পড়তে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের প্রতি মাসে ১ হাজার ৫২৯ পাউন্ড এবং লন্ডনের বাইরে ১ হাজার ১৭১ পাউন্ডের আর্থিক সক্ষমতা দেখাতে হয়। নতুন নিয়মে লন্ডনে মাসিক প্রয়োজনীয় অর্থ বাড়ছে ৪১ পাউন্ড এবং অন্যান্য এলাকায় ৩২ পাউন্ড। নয় মাস বা তার বেশি মেয়াদের কোর্সের ক্ষেত্রে লন্ডনে মোট ১৪ হাজার ১৩০ পাউন্ড দেখাতে হবে, যা বর্তমানে ১৩ হাজার ৭৬১ পাউন্ড। অন্যদিকে, লন্ডনের বাইরে নয় মাসের জন্য প্রয়োজন হবে ১০ হাজার ৮২৭ পাউন্ড, যা আগে ছিল ১০ হাজার ৫৩৯ পাউন্ড। অর্থাৎ নয় মাসের হিসাবে শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত ৩৬৯ থেকে ২৮৮ পাউন্ডের ব্যবস্থা করতে হবে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের শুধু থাকা-খাওয়ার খরচ নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বকেয়া টিউশন ফি, ভিসা আবেদনের ফি এবং বাধ্যতামূলক অভিবাসন স্বাস্থ্য সারচার্জও বহন করার সক্ষমতা থাকতে হবে। সাধারণ নিয়মে প্রয়োজনীয় অর্থ আবেদনকারীর নিজের অথবা মা-বাবার ব্যাংক হিসাবে টানা অন্তত ২৮ দিন জমা থাকতে হবে। ব্যাংক হিসাবের শেষ দিনের ব্যালান্সসহ আর্থিক নথি ভিসা আবেদনের তারিখের ৩১ দিনের বেশি পুরোনো হওয়া যাবে না। তবে অনুমোদিত শিক্ষাঋণ অথবা সরকারি ও স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমেও এই শর্ত পূরণ করা সম্ভব।   তবে যুক্তরাজ্যে বৈধ অভিবাসন অনুমতি নিয়ে টানা অন্তত ১২ মাস বসবাস করেছেন, এমন শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সাধারণত নতুন করে আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হবে না। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে আবাসনের জন্য অগ্রিম অর্থ জমা দেওয়া থাকলে নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সেই অর্থ জীবনযাত্রার ব্যয়ের হিসাব থেকে বাদ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন নিয়মে এই ছাড়ের সর্বোচ্চ সীমাও ১ হাজার ৫৭০ পাউন্ড করা হচ্ছে।   যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে দেশটির স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য যে পরিমাণ আর্থিক সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জীবনযাত্রার ব্যয়ের শর্তও তার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। ৩ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত অভিবাসন বিধিমালার পরিবর্তনসংক্রান্ত নথিতে নতুন অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়। ভিসা আবেদনের তারিখের ভিত্তিতে পুরোনো ও নতুন নিয়ম প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ ২৯ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন জমা দিলে পুরোনো নিয়ম এবং ৩০ নভেম্বর বা তার পরে আবেদন করলে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে।   এদিকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী কমে যাওয়ায় যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক বছরে স্পনসরড স্টাডি ভিসার আবেদন আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কমেছে। উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের টিউশন ফির ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে নির্ভরশীল হওয়ায় এই প্রবণতা তাদের আর্থিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি করছে। নতুন আর্থিক শর্তের কারণে যুক্তরাজ্যে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যয় আরও সতর্কভাবে হিসাব করতে হবে।   বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় নির্বাচন, টিউশন ফি, আবাসন ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংক ব্যালান্সের বিষয়টিও আগেভাগে পরিকল্পনায় রাখতে হবে। ৩০ নভেম্বরের আগে বা পরে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নতুন আর্থিক শর্ত এবং ২৮ দিনের ব্যাংক ব্যালান্সের নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।   সূত্র: যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবর জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরানে আবারও হামলা চালাল যুক্তরাষ্ট্র, ৩ মার্কিন ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের
প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:৫২

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কেশম দ্বীপে সীমিত সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ভোরে দ্বীপটিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে তিনটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তবে ড্রোন ভূপাতিতের দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে পাঁচটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। একই সময়ে হরমোজগান প্রদেশের উপকূলীয় শহর বন্দর লেঙ্গেহেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। কেশম দ্বীপের বাসিন্দারা আকাশে দুটি উড়োজাহাজ উড়তে দেখেছেন বলেও জানিয়েছে আইআরএনএ। বিস্ফোরণে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   ইরানের সামরিক বাহিনীর দাবি, কেশম দ্বীপের দক্ষিণে ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দুটি মার্কিন এমকিউএম-১৭০ গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। এ ধরনের ড্রোন ইরানের হাতে জব্দের সংখ্যা চারটিতে পৌঁছেছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালির পূর্বদিকে একটি মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন শনাক্ত করে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। সব মিলিয়ে তিনটি ড্রোন ভূপাতিতের দাবি করেছে তেহরান। তবে এসব ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সীমিত ও প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এক কর্মকর্তা বলেছেন, ইরানের বাহিনী মার্কিন সামরিক সম্পদের দিকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় এই হামলা চালানো হয়। তবে এটি বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত নয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। পেন্টাগন এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে পাঠালেও তাদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।   সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে পরোক্ষ আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তাঁর ভাষায়, পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা ও গুরুত্ব বিবেচনায় আলোচনা ও পরামর্শ চলছে নিবিড়ভাবে। এ ক্ষেত্রে কাতার ও পাকিস্তান সক্রিয় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে এবং তেহরান দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতির কথা জানিয়েছেন। কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনায় সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৬ শতাংশের বেশি কমে যায় বলে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।   তবে আলোচনার পাশাপাশি সামরিক প্রস্তুতির কথাও জানাচ্ছে তেহরান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধান চাইলেও সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। নতুন করে হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। ফলে একদিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সামরিক তৎপরতা, দুই দেশের সম্পর্ককে অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে রেখেছে।   সূত্র: রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, এবিসি নিউজ।

বাইন্যান্সে রেকর্ড পরিমাণ ক্রিপ্টোকারেন্সি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের আনা অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে উত্তর কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরিতে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার উত্তর কোরিয়ার
প্রকাশ: নভেম্বর ২, ২০২৬ ২২:২৫

বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইন্যান্স থেকে ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের তদন্ত ও অভিযোগকে ‘গতানুগতিক উসকানি’ এবং ‘অযৌক্তিক বক্তব্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে এফবিআইয়ের দাবি, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটর এ চুরির সঙ্গে জড়িত।   মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় ধরনের সাইবার অপরাধের ঘটনা ঘটলেই যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করার চেষ্টা করে। তাঁর দাবি, দেশটির বিরুদ্ধে ভুল ধারণা ছড়িয়ে আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করতে চায় ওয়াশিংটন। এফবিআইয়ের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে তিনি উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী মনোভাবের আরেকটি প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন।   বাইন্যান্স গত শুক্রবার জানায়, তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে হ্যাকাররা ৬০০ কোটি ডলারের বেশি ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি করেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরির ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এফবিআই শনিবার জানায়, উত্তর কোরিয়াসংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটর’ নামের একটি হ্যাকার গোষ্ঠী এ ঘটনার জন্য দায়ী। সংস্থাটির মতে, একই গোষ্ঠী গত বছর ক্রিপ্টো বিনিময় প্ল্যাটফর্ম বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির সঙ্গেও জড়িত ছিল।   এফবিআইয়ের তদন্তে বলা হয়েছে, চুরি করা ডিজিটাল সম্পদের বড় অংশ ইথেরিয়ামে রূপান্তর করা হচ্ছে। এসব সম্পদ বিভিন্ন লেনদেনের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সংস্থাটি। অর্থ পাচার ঠেকাতে ক্রিপ্টো বিনিময় প্রতিষ্ঠান, ব্লকচেইন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সন্দেহজনক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ডিজিটাল ঠিকানাগুলো শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এফবিআই।   এদিকে বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তারা নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করবে। প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিপরীতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন অংশীদারের সহযোগিতায় প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের সম্পদ আটকে দেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পর ১ নভেম্বর থেকে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন আবার চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ওই দিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকেরা প্রায় ৪৬৪ কোটি ডলারের সম্পদ উত্তোলন করেন।   উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি ও অন্যান্য অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ নতুন নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার সংকটে থাকা দেশটি এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে বলে মনে করেন বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের ধারণা, এ ধরনের অর্থ দেশটির অর্থনীতি সচল রাখা এবং পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে ব্যয় মেটানোর কাজে ব্যবহার হতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা ২০২২ সালে জানিয়েছিল, আগের পাঁচ বছরে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা প্রায় ১১০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি ও অন্যান্য ভার্চুয়াল সম্পদ চুরি করেছে।   অতীতেও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক বড় সাইবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৩ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্ভারে হামলা, ২০১৪ সালে সনি পিকচার্স হ্যাকিং এবং ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ওয়ানাক্রাই ম্যালওয়্যার হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। তবে এসব ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ সাধারণত অস্বীকার করে আসছে পিয়ংইয়ং।   দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সোমবার জানিয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অবৈধ সাইবার কর্মকাণ্ড বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। এ ধরনের তৎপরতা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে সিউল। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, বাইন্যান্সের ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার সংশ্লিষ্টতা এখনো নিশ্চিত নয়। ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে এবং এ মুহূর্তে উত্তর কোরিয়াই দায়ী কি না, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।   বাইন্যান্সের ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল, যখন উত্তর কোরিয়া আবারও বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র পরীক্ষা বাড়িয়েছে। মঙ্গলবার দেশটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য নতুন ধরনের ক্লাস্টার ওয়ারহেড পরীক্ষা করার কথাও জানিয়েছে। ফলে ক্রিপ্টো চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইয়োনহাপ সংবাদ সংস্থা।

কোরআন অবমাননার ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ড ও জরিমানা করেছেন স্টকহোম জেলা আদালত। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সুইডেনে কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার দায়ে জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত
প্রকাশ: নভেম্বর ১, ২০২৬ ২২:৫৩

সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে পবিত্র কোরআন পোড়ানো ও অবমাননার ঘটনায় উগ্র ডানপন্থী কর্মী জেড স্যান্ডবার্গকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন দেশটির আদালত। ২০২৪ সালের ওই ঘটনার প্রায় দুই বছর পর গত ৩০ অক্টোবর স্টকহোম জেলা আদালত এ রায় দেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ডবার্গকে স্থগিত কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৩ হাজার সুইডিশ ক্রোনা জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই জরিমানার পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা।   তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি ও দেশটির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী স্যান্ডবার্গকে প্রতিদিন ১০০ ক্রোনা হিসাবে মোট ৩ হাজার ক্রোনা জরিমানা দিতে হবে। এ ছাড়া অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তা তহবিলে ১ হাজার ক্রোনা এবং সরকারি আইনজীবীর খরচ বাবদ রাষ্ট্রকে ১৭ হাজার ক্রোনা পরিশোধ করতে হবে। সব মিলিয়ে জরিমানা ও অন্যান্য খরচ বাবদ তার ওপর ২১ হাজার ক্রোনা আর্থিক দায় নির্ধারণ করা হয়েছে।   তবে ২০২৫ সালে স্টকহোমের একটি মসজিদের সামনে দেওয়া বক্তব্যের ঘটনায় স্যান্ডবার্গকে খালাস দিয়েছেন আদালত। ওই ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ‘আমরা আমাদের রাস্তায় কোনো মুসলিম দেখতে চাই না’ বলে স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ছিল। আদালত ওই বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেননি। ফলে ২০২৪ সালের কোরআন অবমাননার ঘটনায় দণ্ডিত হলেও পরের বছরের ওই অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন।   মামলার সূত্রপাত ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট। সেদিন স্টকহোমের ওডেনপ্লান স্কয়ারে প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআনের একটি কপি পোড়ান জেড স্যান্ডবার্গ। এরপর বইটিতে লাথি মারেন তিনি। পুরো ঘটনাটি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টে সরাসরি সম্প্রচার করেন। এ ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে আইনি অভিযোগ দায়ের করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করলেন।   সুইডেনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত হলেও দেশটির আইনে কোনো জাতিগত বা জাতীয় গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো কিংবা তাদের অবমাননা করাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। ধর্মীয় মতাদর্শের সমালোচনা এবং কোনো ধর্মাবলম্বী জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর বক্তব্য বা আচরণের মধ্যে আইনি পার্থক্য রয়েছে। স্যান্ডবার্গের মামলার রায়েও ২০২৪ সালের কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে দণ্ডিত করা হয়েছে, তবে ২০২৫ সালের বক্তব্য-সংক্রান্ত অভিযোগে খালাস দেওয়া হয়েছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, টিআরটি ওয়ার্ল্ড।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়