সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের চিকিৎসাসেবা সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে।   তবে এই আদেশের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট বিস্তারিত কোনো আইনি ব্যাখ্যা দেয়নি। রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস এই নীতি কার্যকরের পক্ষে মত দিলেও বাকি বিচারপতিদের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগটি আপাতত আটকে গেল।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের পর কেন্দ্রীয় কারা ব্যুরো এই নতুন চিকিৎসা নীতি গ্রহণ করেছিল। নীতিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার, হরমোন থেরাপি এবং মেকআপ বা পরচুলা ব্যবহারের মতো সামাজিক সুবিধাগুলো বন্ধ করা, যাতে সরকারি তহবিলের অর্থ এ ধরনের কাজে ব্যয় না হয়।   তবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এই ধরনের চিকিৎসাসেবা কারাগারের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আইনজীবীরা এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানালে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ রয়েস ল্যাম্বার্থ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।   তিনি তার রায়ে উল্লেখ করেন, জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সঠিক চিকিৎসা না হলে তা বন্দীদের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যার প্রবণতার মতো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৬০০ জন ট্রান্সজেন্ডার বন্দী হরমোন থেরাপি গ্রহণ করছিলেন। হঠাৎ এই সেবা বন্ধ করে দিলে তা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান। এছাড়া, গত ৩০ বছর ধরে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের হরমোন থেরাপি দেওয়ার কারণে কারাগারে কোনো নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও সরকার দাখিল করতে পারেনি।   যদিও এর আগে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় নিষেধাজ্ঞা এবং নারীদের খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষেই রায় দিয়েছিল, তবে এবার বন্দীদের মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

২৩ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারিতে ১৫–৩০% সাশ্রয়ের সুযোগ, ডোরড্যাশ-উবার ইটসকে টক্কর দিতে ওলোর নতুন অ্যাপ
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার ডেলিভারিতে ১৫–৩০% সাশ্রয়ের সুযোগ, ডোরড্যাশ-উবার ইটসকে টক্কর দিতে ওলোর নতুন অ্যাপ

খাবার ডেলিভারি সেবায় ডোরড্যাশ ও উবার ইটসের মতো প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে কড়া প্রতিযোগিতায় ফেলতে নতুন একটি অ্যাপ চালু করার ঘোষণা দিয়েছে রেস্তোরাঁর অর্ডারিং সফটওয়্যার কোম্পানি 'ওলো' (Olo)। নতুন এই গ্রাহকমুখী অ্যাপটির সবচেয়ে বড় চমক হলো ‘জিরো মেন্যু মার্কআপ’।   অর্থাৎ, সরাসরি রেস্তোরাঁয় বসে খেলে গ্রাহকদের খাবারের যে দাম দিতে হয়, ওলোর অ্যাপে অর্ডার করলেও সেই একই দাম পরিশোধ করতে হবে। সাধারণত অন্যান্য থার্ড-পার্টি ডেলিভারি অ্যাপগুলো রেস্তোরাঁর মূল দামের চেয়ে বেশ চড়া মূল্যে খাবার বিক্রি করে থাকে। ওলোর দাবি, তাদের এই ইন-স্টোর প্রাইসিং বা মূল দামের সুবিধা গ্রহণ করে গ্রাহকরা প্রতিটি অর্ডারে ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ সাশ্রয় করতে পারবেন।   কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও নোয়াহ গ্লাস জানান, এই উদ্যোগটি ভোক্তাদের জন্য যেমন একটি দারুণ অভিজ্ঞতা তৈরি করবে, তেমনি রেস্তোরাঁগুলোর জন্যও এটি একটি টেকসই মডেল হিসেবে কাজ করবে। এর ফলে মেন্যুর দাম অকারণে বাড়বে না এবং রেস্তোরাঁ ও গ্রাহকের মাঝে কোনো অদৃশ্য দেয়াল থাকবে না।   বর্তমান সময়ে মানুষ অন্যান্য খাতের বাজেট কমালেও খাবার ডেলিভারির পেছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেন। তাই অ্যাপের নিজস্ব মার্কআপ ও ডেলিভারি চার্জ গ্রাহকদের বারবার অর্ডার করার ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে। এই বাজারে ডোরড্যাশ, উবার ইটস এমনকি ওয়ালমার্টের মতো জায়ান্টরাও যখন নিজেদের ডেলিভারি সেবা সম্প্রসারণ করছে, ঠিক তখনই ওলোর এই মূল্য-সাশ্রয়ী মডেল বাজারকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলবে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।   ২০০৫ সালে স্মার্টফোন যুগের আগে টেক্সট মেসেজের মাধ্যমে রেস্তোরাঁয় অর্ডার করার সুবিধা দিয়ে ওলো তাদের যাত্রা শুরু করেছিল। বর্তমানে কোম্পানিটি প্রায় ৮০০টি রেস্তোরাঁ ব্র্যান্ডের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ লাখ অর্ডার সফলভাবে পরিচালনা করছে। চমকপ্রদ বিষয় হলো, খাবার ডেলিভারির জন্য ওলোর নিজস্ব কোনো রাইডার বা কর্মী বাহিনী নেই।   এর পরিবর্তে তারা নিজেদের অত্যাধুনিক ডিসপ্যাচ সার্ভিস ব্যবহার করে গ্রাবহাবের (Grubhub) মতো অন্যান্য থার্ড-পার্টি ডেলিভারি পার্টনারদের অপশনগুলো তুলনা করে। এরপর খরচ ও গতির ওপর ভিত্তি করে তারা গ্রাহকের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও দ্রুততম অপশনটি বেছে নেয়। প্রাথমিকভাবে ফাইভ গাইজ (Five Guys) এবং ডেভস হট চিকেন-সহ (Dave's Hot Chicken) প্রায় ২৫০টি নামিদামি রেস্তোরাঁ থেকে গ্রাহকরা ওলোর নতুন এই ডেলিভারি অ্যাপের মাধ্যমে খাবার অর্ডার করার সুযোগ পাবেন।

৫০ মিনিট Ago
বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসায় নতুন জটিলতা, আবেদন পুনর্বিবেচনায় স্থগিতাদেশ
বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন অভিবাসী ভিসায় নতুন জটিলতা, আবেদন পুনর্বিবেচনায় স্থগিতাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার বিতর্কিত নীতি অবৈধ ঘোষণা করে দেওয়া নিম্ন আদালতের রায় বহাল রেখেছে দেশটির আপিল আদালত। তবে ওই নীতির কারণে বাতিল হওয়া ভিসার আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য নিম্ন আদালত যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সার্কিট আপিল আদালতের দেওয়া এই আদেশের ফলে ভিসা-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।   সরকারের করা স্থগিতাদেশের আবেদনটি বর্তমানে তিন বিচারকের একটি প্যানেলে পাঠানো হয়েছে এবং তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত পূর্বে প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলোর আইনি অবস্থান আপাতত অনিশ্চিতই থাকছে।   গত ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্টের একটি ফেডারেল আদালত ‘ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক (ক্লিনিক) বনাম রুবিও’ মামলার রায়ে ভিসা স্থগিতাদেশ নীতিকে মার্কিন সরকারের আইনগত ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন বলে অবৈধ ঘোষণা করে।   পরবর্তীতে ২৪ আগস্ট আদালত ওই নীতির কারণে বাতিল হওয়া আবেদনগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এই ৭৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং ২৮ আগস্ট মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়েছিল যে, ২১ আগস্ট থেকে ওই নীতি আর কার্যকর নেই।   তবে আপিল আদালতের নতুন আদেশের ফলে নীতিটি অবৈধ হিসেবে বাতিল থাকলেও, প্রত্যাখ্যাত ভিসা আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্বিবেচনার সুযোগ আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।   এই আইনি টানাপোড়েনের মধ্যে ভিসা প্রত্যাখ্যানের কারণগুলো আলাদাভাবে মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনে আবেদনকারীর আর্থিক সামর্থ্যের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার আশঙ্কায় ‘পাবলিক চার্জ’ বা ২১২(এ)(৪) ধারায় ভিসা প্রত্যাখ্যান এবং ২২১(জি) ধারায় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া বা অতিরিক্ত কাগজপত্রের জন্য ভিসা স্থগিতের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন।   তাই আপিল আদালতের সর্বশেষ আদেশের অর্থ এই নয় যে, সব বাংলাদেশি অভিবাসী ভিসা আবেদন নতুন করে স্থগিত হয়ে গেছে কিংবা পাবলিক চার্জের কারণে প্রত্যাখ্যাত আবেদনগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীকে তাদের ভিসা প্রত্যাখ্যানপত্রের ধারা, প্রকৃত কারণ ও দূতাবাসের নির্দিষ্ট নির্দেশনা বিবেচনা করেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে।

১ ঘন্টা Ago
স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করছিলেন স্বামী, দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলেন স্ত্রী
স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করছিলেন স্বামী, দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলেন স্ত্রী

স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন স্বামী। অফিসের বাইরে তাঁকে দেখতে পেয়ে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না স্ত্রী। দ্রুত বাইরে এসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন, দিলেন চুমু। স্বামীকে ঘিরে স্ত্রীর এমন ভালোবাসার মুহূর্ত আশপাশের মানুষের নজর কাড়ে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।   সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী যে অফিসে চাকরি করেন, তার বাইরেই পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন তাঁর স্বামী। স্বামী সেখানে কাজ করছেন, বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাইরে স্বামীকে দেখতে পেয়ে তিনি কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে আলিঙ্গন করে চুমু দিয়ে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।   ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা আশপাশের মানুষের কাছে মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনায় উঠে এসেছে। স্বামীর পেশা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হলেও স্ত্রীর ভালোবাসা প্রকাশে কোনো সংকোচ দেখা যায়নি। বরং প্রিয় মানুষটিকে সামনে পেয়ে তাঁর কাছে ছুটে যাওয়া এবং সবার সামনে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।   ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভালোবাসা, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পেশাকে সামাজিকভাবে কম মর্যাদার চোখে দেখা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর প্রকাশ্য ভালোবাসার এই মুহূর্তটি অনেকের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায় দম্পতির নাম, ঘটনাস্থল ও ঘটনার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রচারিত বর্ণনায় স্ত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার প্রকাশই মানুষের আবেগ ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ২০২৭ সালে সংকট আরও চরম আকারে বাড়াবে, স্যাকসের পূর্বাভাস

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অপেক্ষায় থাকা মানুষের জন্য আগামী বছরও স্বস্তি ফেরার সম্ভাবনা কম দেখছে গোল্ডম্যান স্যাকস। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, উচ্চ মর্টগেজ সুদ ও বাড়ির দামের চাপে ২০২৭ সালে আগে থেকে মালিকানায় থাকা বাড়ির বিক্রি আরও কমে ৩৯ লাখে নামতে পারে। এটি মহামারির আগের ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম।   ২০ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, মর্টগেজের সুদ আবার ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য ক্রেতাদের ঋণ নেওয়ার খরচ বেড়েছে। অন্যদিকে, আগে কম সুদে মর্টগেজ নেওয়া অনেক বাড়ির মালিকও বর্তমান বাড়ি বিক্রি করে নতুন বাড়িতে যেতে চাইছেন না। ফলে ক্রেতা ও বিক্রেতা, উভয় পক্ষের সিদ্ধান্তেই বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ঋণের খরচ।  গোল্ডম্যান স্যাকসের অর্থনীতিবিদ রনি ওয়াকার ১৯ অক্টোবর গ্রাহকদের দেওয়া এক নোটে জানান, আগামী বছর বাড়ি কেনার সামর্থ্যের সংকট বাজারের ওপর আরও বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাবে, ২০২৬ সালে বিদ্যমান বাড়ির বিক্রি হতে পারে প্রায় ৪০ লাখ। আগামী বছরের পূর্বাভাস সেই সংখ্যারও নিচে।  এই স্থবিরতার বড় কারণ পুরোনো ও নতুন মর্টগেজের সুদহারের ব্যবধান। গোল্ডম্যান স্যাকসের হিসাবে, বর্তমানে মর্টগেজ থাকা ঋণগ্রহীতাদের ৯৫ শতাংশের বেশি বাজারের চলতি হারের চেয়ে কম সুদ দিচ্ছেন। প্রায় ৬৫ শতাংশের সুদ চলতি হারের চেয়ে অন্তত ২ শতাংশ পয়েন্ট কম। তাঁদের অনেকের জন্য বাড়ি বদলানোর অর্থ কম সুদের ঋণ ছেড়ে বেশি সুদে নতুন মর্টগেজ নেওয়া। এতে মাসিক কিস্তি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় তাঁরা বিক্রির সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিচ্ছেন।  মর্টগেজ বাজার নিয়েও দুর্বল পূর্বাভাস দিয়েছে মর্টগেজ ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির হিসাবে, এক পরিবারের বসবাসযোগ্য বাড়ির জন্য মোট মর্টগেজ ঋণ বিতরণের অর্থমূল্য ২০২৬ সালের সম্ভাব্য ২ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে আগামী বছর প্রায় ৫ শতাংশ কমে ১ দশমিক ৯৯ ট্রিলিয়ন ডলারে নামতে পারে। এই হিসাবের মধ্যে বাড়ি কেনার ঋণ ও পুরোনো ঋণ রিফাইন্যান্স, দুটিই রয়েছে।  তবে মোট মর্টগেজ ঋণ কমার পূর্বাভাস মানেই বাড়ি কেনার ঋণও একই হারে কমবে, এমন নয়। সংগঠনটির হিসাবে, ২০২৭ সালে বাড়ি কেনার জন্য ঋণ বিতরণের অর্থমূল্য সামান্য বাড়তে পারে। বড় পতনের আশঙ্কা রিফাইন্যান্সে, যেখানে ঋণের অর্থমূল্য প্রায় ১৭ শতাংশ কমতে পারে। তাদের মূল পূর্বাভাসে আগামী বছরও ৩০ বছরের মর্টগেজের সুদ ৭ শতাংশের ওপরে থাকার কথা বলা হয়েছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৮:৪৩
স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ করছিলেন স্বামী, দেখে ছুটে এসে জড়িয়ে ধরে চুমু দিলেন স্ত্রী

স্ত্রীর অফিসের বাইরেই পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন স্বামী। অফিসের বাইরে তাঁকে দেখতে পেয়ে আর নিজেকে সামলে রাখতে পারলেন না স্ত্রী। দ্রুত বাইরে এসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরলেন, দিলেন চুমু। স্বামীকে ঘিরে স্ত্রীর এমন ভালোবাসার মুহূর্ত আশপাশের মানুষের নজর কাড়ে। ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।   সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনা অনুযায়ী, ওই নারী যে অফিসে চাকরি করেন, তার বাইরেই পরিচ্ছন্নতার কাজ করছিলেন তাঁর স্বামী। স্বামী সেখানে কাজ করছেন, বিষয়টি আগে তাঁর জানা ছিল না বলে বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে বাইরে স্বামীকে দেখতে পেয়ে তিনি কর্মস্থল থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর তাঁকে আলিঙ্গন করে চুমু দিয়ে নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।   ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা আশপাশের মানুষের কাছে মুহূর্তটি আবেগঘন হয়ে ওঠে বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বর্ণনায় উঠে এসেছে। স্বামীর পেশা পরিচ্ছন্নতাকর্মী হলেও স্ত্রীর ভালোবাসা প্রকাশে কোনো সংকোচ দেখা যায়নি। বরং প্রিয় মানুষটিকে সামনে পেয়ে তাঁর কাছে ছুটে যাওয়া এবং সবার সামনে জড়িয়ে ধরার দৃশ্য মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।   ঘটনাটি ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ভালোবাসা, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিনের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পেশাকে সামাজিকভাবে কম মর্যাদার চোখে দেখা হয়। এমন প্রেক্ষাপটে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর প্রকাশ্য ভালোবাসার এই মুহূর্তটি অনেকের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।   সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বর্ণনায় দম্পতির নাম, ঘটনাস্থল ও ঘটনার নির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করা হয়নি। ফলে ঘটনাটির বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে প্রচারিত বর্ণনায় স্ত্রীর এই স্বতঃস্ফূর্ত ভালোবাসার প্রকাশই মানুষের আবেগ ও আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের চিকিৎসা বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ট্রান্সজেন্ডার বা রূপান্তরকামীদের চিকিৎসাসেবা সীমিত করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতিটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকরের আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার দেওয়া এই আদেশের ফলে নিম্ন আদালতের দেওয়া চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশই আপাতত বহাল থাকছে।   তবে এই আদেশের পক্ষে সুপ্রিম কোর্ট বিস্তারিত কোনো আইনি ব্যাখ্যা দেয়নি। রক্ষণশীল বিচারপতি স্যামুয়েল অ্যালিটো এবং ক্ল্যারেন্স থমাস এই নীতি কার্যকরের পক্ষে মত দিলেও বাকি বিচারপতিদের সিদ্ধান্তে ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগটি আপাতত আটকে গেল।   প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশের পর কেন্দ্রীয় কারা ব্যুরো এই নতুন চিকিৎসা নীতি গ্রহণ করেছিল। নীতিটির মূল উদ্দেশ্য ছিল, ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের লিঙ্গ পরিবর্তনের অস্ত্রোপচার, হরমোন থেরাপি এবং মেকআপ বা পরচুলা ব্যবহারের মতো সামাজিক সুবিধাগুলো বন্ধ করা, যাতে সরকারি তহবিলের অর্থ এ ধরনের কাজে ব্যয় না হয়।   তবে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি ছিল, এই ধরনের চিকিৎসাসেবা কারাগারের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। কিন্তু ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের আইনজীবীরা এই নীতির বিরুদ্ধে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানালে মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ রয়েস ল্যাম্বার্থ চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেন।   তিনি তার রায়ে উল্লেখ করেন, জেন্ডার ডিসফোরিয়ার সঠিক চিকিৎসা না হলে তা বন্দীদের মধ্যে তীব্র বিষণ্ণতা, উদ্বেগ এবং আত্মহত্যার প্রবণতার মতো মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ৬০০ জন ট্রান্সজেন্ডার বন্দী হরমোন থেরাপি গ্রহণ করছিলেন। হঠাৎ এই সেবা বন্ধ করে দিলে তা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আইনজীবীরা যুক্তি দেখান। এছাড়া, গত ৩০ বছর ধরে ট্রান্সজেন্ডার বন্দীদের হরমোন থেরাপি দেওয়ার কারণে কারাগারে কোনো নিরাপত্তা সমস্যা তৈরি হয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণও সরকার দাখিল করতে পারেনি।   যদিও এর আগে ট্রান্সজেন্ডার তরুণদের চিকিৎসায় নিষেধাজ্ঞা এবং নারীদের খেলাধুলায় তাদের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষেই রায় দিয়েছিল, তবে এবার বন্দীদের মানবাধিকার ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির বিষয়টিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

স্নাতক ডিগ্রি নিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডির সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচ বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ছাড়াই পিএইচডির সুযোগ, জানুন বিস্তারিত তালিকা

মাস্টার্স না করেও স্নাতক ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। এসব প্রতিষ্ঠানে গবেষণা ও শিক্ষকতা সহকারী হিসেবে কাজ কিংবা ফেলোশিপের মাধ্যমে আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে। তবে ভর্তির যোগ্যতা ও ফান্ডিং বিভাগভেদে আলাদা। ফল ২০২৭ সেশনে সব প্রোগ্রামে নিশ্চিত পূর্ণ অর্থায়ন পাওয়া যাবে, এমন সাধারণ ঘোষণা হিসেবে বিষয়টি দেখার সুযোগ নেই।   সুযোগ থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো পারডিউ ইউনিভার্সিটি, জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইন এবং ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটি। প্রচারিত পোস্টে দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠানটির নাম ‘জর্জিয়া ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি’ লেখা হলেও সঠিক নাম জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, যা জর্জিয়া টেক নামে পরিচিত। পারডিউ ইউনিভার্সিটির ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভর্তি নির্দেশনায় স্নাতক ডিগ্রিধারীদের সরাসরি পিএইচডিতে বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, বিশেষভাবে ভালো স্নাতক ফল থাকা শিক্ষার্থীরা সরাসরি পিএইচডিতে আবেদন করতে পারেন। পারডিউ ইঞ্জিনিয়ারিং জানিয়েছে, অধিকাংশ পিএইচডি শিক্ষার্থী অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ বা ফেলোশিপের মাধ্যমে ফান্ডিং পান। তবে এটি প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য অর্থায়নের নিশ্চয়তা নয়।  জর্জিয়া টেকের রোবোটিকস পিএইচডি প্রোগ্রামে স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি নিয়ে আবেদন করা যায়। অন্যদিকে, কম্পিউটার সায়েন্সের পিএইচডি ভর্তি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সাধারণত রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ দেওয়া হয়। এতে স্টাইপেন্ড ও টিউশন মওকুফের সুবিধা থাকে। পিএইচডি করতে আগ্রহীদের সরাসরি ডক্টরাল প্রোগ্রামেই আবেদন করতে বলা হয়েছে।  মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্ল্যান্ট ব্রিডিং, জেনেটিকস অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি পিএইচডি প্রোগ্রামে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক অথবা মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারেন। সেখানে একজন উপযুক্ত শিক্ষকের গবেষণা তত্ত্বাবধানে নেওয়ার সম্মতিও প্রয়োজন। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিয়মেই উল্লেখ রয়েছে, কিছু বিভাগ পিএইচডিতে ভর্তির আগে মাস্টার্স চাইতে পারে। ফলে একটি বিভাগের সুযোগকে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিন্ন নিয়ম ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।  ফল ২০২৭ নিয়ে মিশিগান স্টেটের গণিত শিক্ষা বিষয়ক ডক্টরাল প্রোগ্রামের ওয়েবসাইটে আবেদন চালু থাকার তথ্য রয়েছে। ওই প্রোগ্রামে শর্তসাপেক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের সঙ্গে স্টাইপেন্ড, নির্ধারিত সীমার টিউশন সুবিধা ও হেলথ ইন্স্যুরেন্স দেওয়া হয়। সহায়তা অব্যাহত থাকা নির্ভর করে শিক্ষার্থীর অগ্রগতি, কাজের মান ও অর্থের প্রাপ্যতার ওপর। এটি ওই নির্দিষ্ট প্রোগ্রামের ঘোষণা।  ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আরবানা শ্যাম্পেইনের সিবেল স্কুল অব কম্পিউটিং অ্যান্ড ডেটা সায়েন্সের গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে আবেদনের জন্য চার বছরের স্নাতক বা গ্রহণযোগ্য সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। তাদের পিএইচডির কাঠামোয় আগে মাস্টার্স না থাকা শিক্ষার্থীদের জন্যও পড়াশোনার ব্যবস্থা রয়েছে। স্কুলটির তথ্য অনুযায়ী, অল্প কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া পিএইচডি শিক্ষার্থীরা রিসার্চ বা টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ পান, যার মধ্যে স্টাইপেন্ড ও পুরো টিউশন মওকুফ অন্তর্ভুক্ত।  ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটির এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস গ্র্যাজুয়েট প্রোগ্রামে প্রাসঙ্গিক বিষয়ে চার বছরের স্নাতক বা উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে আবেদন করা যায়। ভর্তির আগে গবেষণা তত্ত্বাবধায়ক নিশ্চিত করতে হয়। প্রোগ্রামটি জানিয়েছে, পিএইচডি শিক্ষার্থীদের এক বছরের অর্থায়ন তারা দেয় এবং বাকি সময়ের অর্থায়ন তত্ত্বাবধায়ক বহন করেন। তবে উভয় পক্ষের বাজেটের ওপর এই সহায়তা নির্ভরশীল।  এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট, মাস্টার্স ছাড়াই পিএইচডিতে আবেদনের সুযোগ এবং পূর্ণ অর্থায়ন দুটি আলাদা বিষয়। ফল ২০২৭ সেশনের জন্য আবেদন করতে হলে নির্বাচিত বিভাগের বিজ্ঞপ্তি, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা, আবেদনের শেষ সময় এবং অর্থায়নের লিখিত শর্ত মিলিয়ে নিতে হবে। টিউশন মওকুফের পাশাপাশি স্টাইপেন্ড, হেলথ ইন্স্যুরেন্স ও অর্থায়নের মেয়াদ কতটুকু থাকবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট অফারের শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

ভুক্তভোগী আজিজুল হক
বয়স্কভাতার কথা বলে টিপসই, বৃদ্ধের ১৪ শতক জমি তিন ভাইয়ের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ

বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে ৮৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের কাছ থেকে কাগজে টিপসই নেওয়ার পর তাঁর ১৪ শতক ফসলি জমি তিন ভাইয়ের নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আজিজুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা প্রতিকার চেয়ে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তবে জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো প্রতারণা হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য।   ঘটনাটি ঘটেছে গত ৪ অক্টোবর উল্লাপাড়া উপজেলার কয়ড়া ইউনিয়নের বাঘলপুর গ্রামে। ভুক্তভোগী আজিজুল হকের পরিবারের অভিযোগ, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ তাঁকে একটি বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে কয়েকটি কাগজে তাঁর টিপসই নেওয়া হয়। পরে তাঁর হাতে ২০, ৫০ ও ১০০ টাকার নোট মিলিয়ে মোট ৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এরপর তিনি জানতে পারেন, তাঁর নামে থাকা ১৪ শতক জমি অন্যদের নামে রেজিস্ট্রি হয়েছে।   দলিলের নকল ও সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বাঘলপুর মৌজার আরএস ২২১ নম্বর দাগে থাকা ১৪ শতক ফসলি জমি ৫ লাখ ৭১ হাজার টাকা মূল্য দেখিয়ে গত ৪ অক্টোবর নিবন্ধন করা হয়। দলিলগ্রহীতা হিসেবে নাম রয়েছে সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ এবং তাঁর দুই ভাই শাহ আলম ও শাহাদাৎ হোসেনের। দলিল সম্পাদনের সময় আজিজুল হক অসুস্থ থাকায় উল্লাপাড়া পৌর শহরের ঝিকিড়া মহল্লার একটি বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।   আজিজুল হকের ছেলে ফারুক সরকারের অভিযোগ, তাঁর বাবা মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন এবং চোখেও দেখতে পান না। আগে তাঁকে পাবনা মানসিক হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা করানো হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ফারুকের দাবি, বাবার শারীরিক ও মানসিক অসুস্থতার সুযোগ নিয়ে বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জমি লিখে নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দলিল বাতিল এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।   তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবুল কালাম আজাদ। তাঁর বক্তব্য, বয়স্কভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে জমি নেওয়া হয়নি; বরং আজিজুল হকের হাতে নগদ ৭ লাখ টাকা দিয়ে তাঁরা তিন ভাই জমিটি কিনেছেন। তাঁর দাবি, জমি কেনার ক্ষেত্রে কোনো অবৈধ পদ্ধতি বা জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়নি এবং সরকারি বিধিবিধান মেনেই দলিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে জমির মূল্য পরিশোধ, বৃদ্ধের সম্মতি এবং দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে।   দলিল লেখক আব্দুল মতিন জানান, আবুল কালাম আজাদ জমির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি দিয়ে দলিল প্রস্তুত করতে বলেছিলেন। সেই অনুযায়ী কমিশনের মাধ্যমে একটি বাড়িতে দলিল সম্পাদন করা হয়। পরে ঘটনাটি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগের কথা জানতে পারেন বলে তিনি জানান।   উল্লাপাড়ার সাব-রেজিস্ট্রার ফারহানা আজিজ জানান, আজিজুল হকের শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বাড়িতে কমিশনের মাধ্যমে দলিল সম্পাদনের আবেদন করা হয়েছিল। আবেদন মঞ্জুরের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি সেখানে গিয়ে দলিল সম্পাদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। পরে অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। এ ঘটনায় দলিল লেখককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে জবাব না দেওয়ায় তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।   এদিকে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রায়হানুল ইসলাম জানিয়েছেন, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ঘটনার মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে, জমি হস্তান্তরের সময় আজিজুল হক প্রকৃতপক্ষে কী বুঝেছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় জমি বিক্রিতে সম্মতি দিয়েছিলেন কি না এবং দাবিকৃত অর্থ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল কি না। এসব বিষয়ে তদন্তের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হবে। অভিযোগের সত্যতা এখনো চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। তাই সংশ্লিষ্ট নথি, অর্থ পরিশোধের প্রমাণ এবং দলিল সম্পাদনের পরিস্থিতি যাচাই করেই পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নির্ধারণ করতে হবে।

৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদ
ভোটার তালিকায় জীবিত মানুষ ‘মৃত’, ভোটাধিকার ফিরে পেতে দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন দর্জি

ভারতে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় জীবিত থাকা সত্ত্বেও নিজেকে মৃত হিসেবে দেখতে পেয়েছেন ৫৩ বছর বয়সী দর্জি কামতা প্রসাদ। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে নিয়মিত ভোট দিয়ে আসা এই ব্যক্তি এখন ভোটার তালিকায় নিজের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে সরকারি দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন। ঘটনাটি দেশটির ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির বাসিন্দা কামতা প্রসাদের নাম ভোটার তালিকায় ‘কান্তা প্রসাদ’ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। কিন্তু সংশোধিত তালিকায় তাঁকে মৃত হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে ভোটার তালিকা থেকে তাঁর নাম বাদ পড়ে। নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে গিয়ে তাঁকে কাজ ফেলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যেতে হচ্ছে। এতে দৈনিক মজুরির ওপর নির্ভরশীল তাঁর পরিবারের আর্থিক চাপও বাড়ছে।   ভারতের নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করতে বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, একাধিকবার নিবন্ধিত ভোটার এবং অন্য কারণে অযোগ্য ব্যক্তিদের নাম বাদ দেওয়া ও তালিকার নির্ভুলতা বাড়ানো। তবে এই সংশোধনের সময় প্রকৃত ভোটারদের নামও বাদ পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুসারে, দিল্লিতে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৪২ লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। দেশজুড়ে এই সংশোধন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার বিষয়টি ব্যাপক বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে নাম বাদ পড়া প্রত্যেক ব্যক্তিই যে ভুলভাবে বাদ পড়েছেন, তা নয়; তাঁদের মধ্যে মৃত, স্থানান্তরিত ও একাধিকবার নিবন্ধিত ব্যক্তিও থাকতে পারেন।   কামতা প্রসাদের মতো যাঁদের নাম ভুলভাবে বাদ পড়েছে, তাঁদের জন্য ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ, একাধিকবার সরকারি দপ্তরে যাতায়াত এবং সংশোধনের আবেদন করা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।   এ ঘটনায় ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনেও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং এতে প্রকৃত ভোটারদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাদের একাংশ নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।   অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখতে নিয়ম অনুযায়ী সংশোধন করা হচ্ছে। যাঁদের নাম ভুলভাবে বাদ পড়েছে, তাঁরা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করে নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ পেতে পারেন।   তবে শুধু ভোট দেওয়ার অধিকার নয়, ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অন্যান্য সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি এখন কেবল প্রশাসনিক ভুলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি নাগরিক অধিকার ও নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
বৈশ্বিক উষ্ণতা কমাতে দ্রুত পদক্ষেপের তাগিদ জাতিসংঘের
বিশ্বের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রিতে সীমিত রাখার লক্ষ্য ভেস্তে যাওয়ার পথে
প্রকাশ: অক্টোবর ২১, ২০২৬ ৭:৫২

বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে সীমিত রাখার লক্ষ্য অর্জন এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে পৃথিবীর তাপমাত্রা এই সীমা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে উষ্ণতা কতটা বাড়বে এবং কত দিন ধরে এই সীমার ওপরে থাকবে, তা নিয়ন্ত্রণের সুযোগ এখনো আছে। এ জন্য দ্রুত গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।   বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক কর্মসূচির (ইউএনইপি) নতুন ‘এমিশনস গ্যাপ রিপোর্ট ২০২৬’-এ এসব সতর্কতা তুলে ধরা হয়েছে। ‘দ্য পয়েন্ট অব রিটার্ন’ শিরোনামের এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় বিশ্ব যে গতিতে কাজ করছে, তা প্যারিস জলবায়ু চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তাপমাত্রার লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়। ২০১৫ সালে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে জলবায়ু চুক্তিতে সম্মত হয় বিশ্বের দেশগুলো। চুক্তির লক্ষ্য ছিল, শিল্পবিপ্লবের আগের সময়ের তুলনায় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশ নিচে রাখা এবং সম্ভব হলে তা ১.৫ ডিগ্রির মধ্যে সীমিত রাখা। জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাব কমাতে ১.৫ ডিগ্রির সীমাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন যথেষ্ট দ্রুত কমানো সম্ভব না হওয়ায় সেই লক্ষ্য অর্জন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক উষ্ণতা ১.৫ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পর তা আবার কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে। অর্থাৎ, এখন লক্ষ্য হবে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সর্বোচ্চ মাত্রা যতটা সম্ভব সীমিত রাখা এবং ২১০০ সালের মধ্যে আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে ফিরিয়ে আনা। তবে এই পথ সহজ নয়। এর জন্য বিপুল পরিমাণ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন কমানোর পাশাপাশি বায়ুমণ্ডল থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড অপসারণের প্রয়োজন হবে। প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে আশাবাদী পরিস্থিতিতেও চলতি শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১.৭ থেকে ১.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। এরপর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ২১০০ সালের মধ্যে তাপমাত্রা আবার ১.৫ ডিগ্রির নিচে নামিয়ে আনার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনা প্রায় ৫০ শতাংশ। অর্থাৎ, লক্ষ্য অর্জনের নিশ্চয়তা নেই। বর্তমান নীতিমালা অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি ২.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে। দেশগুলো তাদের ঘোষিত জলবায়ু প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়ন করলেও উষ্ণতা প্রায় ২.৬ ডিগ্রিতে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে বোঝা যায়, দেশগুলোর প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপের মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। এই পরিস্থিতি বদলাতে ২০২৫ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন ১৮ শতাংশ এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। ২০৪০ সালের মধ্যে নির্গমন কমাতে হবে ৬৯ শতাংশ। এ জন্য কয়লা, তেল ও গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো, বন উজাড় বন্ধ করা এবং শিল্প ও পরিবহন খাতে নির্গমন কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তাপমাত্রা যত বেশি বাড়বে এবং ১.৫ ডিগ্রির সীমার ওপরে যত বেশি সময় থাকবে, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিও তত বাড়বে। তীব্র তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। কিছু প্রাকৃতিক ব্যবস্থায় এমন পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা পরে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি বিশেষ উদ্বেগের। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততা, বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষতি এবং তীব্র গরমের প্রভাব মোকাবিলায় আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি সামলাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও প্রযুক্তিগত সহায়তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের প্রতিবেদনের মূল বার্তা হলো, ১.৫ ডিগ্রির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়লেও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার চেষ্টা থামানো যাবে না। এখন নির্গমন কমানোর গতি বাড়াতে পারলে তাপমাত্রা কতটা বাড়বে, সেই বৃদ্ধি কত দিন স্থায়ী হবে এবং ভবিষ্যতে পৃথিবীকে আবার নিরাপদ সীমায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে কি না—তার ওপর বড় প্রভাব ফেলা যাবে।

বিরল শারীরিক সমস্যায় মুখমণ্ডলে বড় ধরনের পরিবর্তনের শিকার চীনের শিয়া ইউয়ানহাই। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
বিরল রোগে বদলে গেছে চীনা ব্যক্তির মুখমণ্ডল, স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যাশা
প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ২৩:৪১

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ছংছিংয়ের লাওতু গ্রামের বাসিন্দা শিয়া ইউয়ানহাইয়ের মুখমণ্ডলে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। কৈশোরে তাঁর চেহারা ছিল অন্য সাধারণ কিশোরদের মতোই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মুখমণ্ডলের টিস্যু অস্বাভাবিকভাবে বাড়তে থাকায় তাঁর চেহারায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। দীর্ঘদিন ধরে ধীরে ধীরে এই পরিবর্তন ঘটায় শুরুর দিকে সমস্যাটির গুরুত্ব বুঝতে পারেননি তিনি ও তাঁর পরিবার।   চিকিৎসাবিষয়ক প্রতিবেদনে তাঁর অবস্থাকে হাইপারপ্লাসিয়া হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এ অবস্থায় কোষের সংখ্যা বেড়ে কোনো টিস্যু বা অঙ্গের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটতে পারে। ইউয়ানহাইয়ের ক্ষেত্রে মুখমণ্ডলের টিস্যু বৃদ্ধির সঙ্গে দাঁতের গুরুতর ক্ষতি এবং শ্রবণশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলার মতো সমস্যাও দেখা দেয়। নিজের বদলে যাওয়া চেহারা বোঝাতে তিনি ‘ভিনগ্রহের প্রাণীর মতো মুখ’ বলে উল্লেখ করেছেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।   ২০১৬ সালে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, তখন ৫৩ বছর বয়সী ইউয়ানহাইয়ের বড় ভাই শিয়া ইউয়ানছাংয়ের বয়স ছিল ৬৬ বছর। ভাইয়ের চিকিৎসা ও মুখমণ্ডলে অস্ত্রোপচারের খরচ জোগাড় করতে তাঁরা অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন। পরিবারের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হওয়ায় এত দিন প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।   চিকিৎসার লক্ষ্য শুধু মুখমণ্ডলের গঠন পরিবর্তন করা নয়, বরং রোগের কারণে তৈরি হওয়া শারীরিক সমস্যাগুলো মোকাবিলা করে তাঁর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা। তবে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ কতটা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়েছে, তিনি অস্ত্রোপচার করিয়েছেন কি না কিংবা বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন, তা সাম্প্রতিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি।   ইউয়ানহাইয়ের ঘটনা ২০১৬ সালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত স্প্যানিশ ভাষার সংবাদমাধ্যম উসোকলের প্রতিবেদনেও ঘটনাটি নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে। তবে পুরোনো ঘটনার বিবরণ ও বর্তমান পরিস্থিতির মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই তাঁর বর্তমান বয়স, চিকিৎসার অগ্রগতি বা শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।   সূত্র: উসোকল, ডেইলি মেইল।

বাবার ঠিক করা বিয়েতে রাজি না হওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তর প্রদেশে তরুণীকে গুলি করার অভিযোগ উঠেছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ভারতে বাবার পছন্দের পাত্রকে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় ঘুমন্ত মেয়ের মাথায় গুলি
প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ২১:৩৭

ভারতের উত্তর প্রদেশে নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করতে চাওয়ায় ১৯ বছর বয়সী মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় গুলি করার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত ওই তরুণী বর্তমানে হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় মেয়ের মায়ের করা মামলার পর অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার মৈনপুরী জেলার ভোঁগাও শহরে এ ঘটনা ঘটে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে পুলিশ।   গুলিবিদ্ধ তরুণীর নাম শাজিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তিনি ওই যুবককেই বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তবে তাঁর বাবা আসিন খান (৪৮) মেয়ের বিয়ে অন্য এক পাত্রের সঙ্গে ঠিক করেছিলেন। আগামী ১৯ নভেম্বর বিয়ের দিনও নির্ধারণ করা হয়েছিল। বাবার ঠিক করা বিয়েতে রাজি না হয়ে নিজের পছন্দের মানুষকে বিয়ে করার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে আসিন মেয়েকে গুলি করেন বলে অভিযোগ।   মৈনপুরী নগর পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট অরুণ কুমার সিং সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। ঘটনার বিস্তারিত জানতে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, শাজিয়া ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁর মাথায় গুলি করা হয়। গুলির শব্দ শুনে তাঁর মা খেরুন্নিসা দ্রুত কক্ষে গিয়ে মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।   পরে শাজিয়াকে প্রথমে স্থানীয় জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাইফাই মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করেন। সেখানে তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানানো হয়েছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   এ ঘটনায় স্বামী আসিন খানের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা করেছেন খেরুন্নিসা। পুলিশ জানিয়েছে, মেয়েকে গুলি করার পর আসিন ভোঁগাও থানার দিকে যাওয়ার পথে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিজের পছন্দে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়াকে কেন্দ্র করে এমন সহিংসতার ঘটনা ভারতে পারিবারিক সিদ্ধান্ত ও তরুণ-তরুণীদের বিয়ের স্বাধীনতা নিয়ে আবারও প্রশ্ন সামনে এনেছে।   সূত্র: ইত্তেফাক, সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘শিগগিরই প্যারিস মুসলিমদের শহর হবে’, ফ্রান্সের অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ০:২

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দেশটিতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্যারিস শিগগিরই মুসলিমদের শহর হয়ে যাবে।’ সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা এএফপি।   ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার পেছনে অভিবাসনই মূল কারণ, স্কুল বা অন্য কোনো বিষয় নয়। তাঁর ভাষ্য, তিনি অনেক আগেই ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষকে অবাধে ফ্রান্সে প্রবেশ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল। এবারও তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইউরোপ সীমান্ত বন্ধ না করলে এবং অপরাধীদের বের করে না দিলে মহাদেশটির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।   ফ্রান্সে গত সপ্তাহান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংকট এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং বহু নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনই প্রধান কারণ, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং সহিংসতায় জড়িতদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা খাতের সমস্যা এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষের সম্পর্ক রয়েছে।   ট্রাম্পের মন্তব্য ফ্রান্সের অভিবাসননীতি ও ইউরোপের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য, শহরের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো সরকারি পূর্বাভাস নয়। ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার নিরাপত্তা জোরদার ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি, বার্তা সংস্থা এএফপি।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়