যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ওভারস্টে কমানো। নতুন এই নীতির ফলে পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠোর হতে পারে। কী এই ভিসা বন্ড? ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে নেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসাধারীরা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন এবং অনুমোদিত সময় শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা অন্যতম। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা ‘ভিসা ওভারস্টে’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশটির অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে একটি বন্ড জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারী বিশ্বের যে দেশ থেকেই আবেদন করুন না কেন, এই নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, চাকরি, আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে সম্মতি জানাতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আই-৩৫২ ফরমও পূরণ করতে হবে। ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তাহলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশত্যাগ করতে হবে। এসব বিমানবন্দর হলো বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কেন চালু করা হচ্ছে এই নীতি? মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত সময় পার হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভিসা বন্ড চালু হলে ওভারস্টের হার কমবে এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোন দেশগুলো প্রভাবিত হবে? সাম্প্রতিক ঘোষণায় মোট ৩৮টি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল। এছাড়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশও তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে কি? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড মওকুফ করা হতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি কাজে ভ্রমণ বা জরুরি মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে। তবে সাধারণ পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এ ধরনের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। আগে কি এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল? ভিসা বন্ডের ধারণা নতুন নয়। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা চালু করেছিল, যদিও পরে তা বাতিল করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু উচ্চ ঝুঁকির দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর পরিকল্পনা করেছিল, তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমে যাওয়ায় পরিকল্পনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাংলাদেশিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ লাখ টাকার বেশি হওয়ায় এটি অনেক আবেদনকারীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এই অর্থ ফেরতযোগ্য হওয়ায় যারা ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন, তারা বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন। ফলে এটিকে স্থায়ী ব্যয় হিসেবে নয়, অস্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিজিট ভিসায় এসে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী বা ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, ভিজিট ভিসায় এসে ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীরা ভবিষ্যতে নতুন ভিসা পাওয়া, বৈধ অভিবাসন সুবিধা গ্রহণ এবং পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় একজন ভিজিটরের জন্য যে সময়সীমা অনুমোদন করা হয়, সেই সময়সীমা অতিক্রম করলেই তাকে ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ বহাল থাকলেও আই-৯৪ রেকর্ডে নির্ধারিত থাকার সময় শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগত জটিলতায় পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৮০ দিনের কম সময় ওভারস্টে করলে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। তবে কেউ যদি ১৮০ দিনের বেশি কিন্তু এক বছরের কম সময় অবৈধভাবে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তাহলে তার ওপর তিন বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। আর এক বছরের বেশি সময় ওভারস্টে করলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের ক্ষেত্রে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের কারণে ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভিজিট ভিসায় অবস্থানকারীদের জন্য নতুন কোনো অভিবাসন সুবিধা বা বৈধতার সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অভিবাসন ফোরাম এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণেও দেখা যাচ্ছে, ওভারস্টে সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে আবেদন মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, যারা বর্তমানে ভিজিট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে ভিসা নবায়ন, স্থায়ী বসবাসের আবেদন কিংবা পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, ওভারস্টে-সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লে দ্রুত অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং যথাসময়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে এসে ওভারস্টে করলেও তার নিকটাত্মীয়, যেমন স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা বা সন্তান দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ছাড় পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে সেই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, অতীতে যারা ওভারস্টে করেছেন বা বর্তমানে ওভারস্টের অবস্থায় রয়েছেন, তারা ইমিগ্রেশন সুবিধার জন্য আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। খায়রুল বাশার আরও বলেন, যারা ওভারস্টে করে পরবর্তীতে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন আগের তুলনায় অনেক কম। তাই কেউ যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ওভারস্টে না করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে চাইলে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কোনো ক্যাটাগরিতে আবেদন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অনেকেই সামান্য ফি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজেরাই আবেদনপত্র জমা দেন। পরে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় আবেদন অনুমোদিত হয় না এবং বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই কোনো আবেদন করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। তিনি আরও বলেন, ওভারস্টে একটি গুরুতর সমস্যা। এর ফলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন ও নীতিমালায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসায় আবেদনকারী ও অপেক্ষমাণদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তবে যারা বর্তমানে কোনো বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের উচিত নিজেদের যোগ্যতা ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আইনজীবীর পরামর্শে অন্তত একটি বৈধ আবেদন দাখিল করা।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকদের জন্য বড় ধরনের কর ছাড়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন আইনপ্রণেতারা। নতুন এই উদ্যোগ অনুযায়ী, নিজস্ব বসতবাড়ির ক্ষেত্রে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর ছাড়ের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ ভোটে জনগণের মতামতের জন্য তোলা হবে। মঙ্গলবার গভর্নরের ডাকা বিশেষ অধিবেশনে ফ্লোরিডা সিনেট প্রস্তাবটি পাস করে। এতে বলা হয়েছে, যেসব বাড়িতে মালিক নিজে বসবাস করেন, সেসব বাড়ির ওপর নির্ধারিত কিছু সম্পত্তি কর কমানো হবে। তবে শিক্ষা খাতের কর এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে। ফ্লোরিডা সিনেটের সভাপতি বেন অ্যালব্রিটন বলেন, নিজের একটি বাড়ি থাকা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকান স্বপ্নের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এতে সাধারণ পরিবারগুলো আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবে। প্রস্তাবটির সমর্থক সিনেটর ব্রায়ান আভিলা বলেন, নিজের জমি ও বাড়িতে স্বাধীনভাবে বসবাস করা দেশটির মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। তিনি জানান, নতুন এই উদ্যোগ পরিবারগুলোর ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, সড়ক ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার অর্থায়ন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে নির্বাচনে অন্তত ৬০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ভোটাররা অনুমোদন দিলে ধাপে ধাপে এই কর ছাড় চালু করা হবে। এদিকে, নতুন পরিকল্পনায় একজন বাড়ির মালিক কত টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন, তা জানাতে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে। সেখানে বাসিন্দারা নিজেদের সম্ভাব্য কর ছাড়ের হিসাব দেখতে পারবেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লোরিডায় বাড়ির দাম ও সম্পত্তি কর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তদের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর কমানোর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
মঙ্গলবার, ২ জুন অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আইওয়া, নিউজার্সি থেকে নিউ মেক্সিকো পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ভোট শুধু প্রার্থীদের মনোনয়ন নির্ধারণ করেনি; বরং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব কতটা অটুট রয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটরা কোথায় নতুন ভোটার জোট গড়ে তুলতে পারছে, সে প্রশ্নগুলোর আংশিক উত্তর মিলেছে এই নির্বাচনী রাতে। সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রাইমারিতে। গভর্নর গেভিন নিউসমের দুই মেয়াদের সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্যে নেতৃত্বের নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে অংশ নেন ৬১ জন প্রার্থী। ভোট গণনায় সাবেক স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সেক্রেটারি জেভিয়ার বেসেরা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। রিপাবলিকান ভাষ্যকার স্টিভ হিলটন এবং ডেমোক্র্যাটিক বিলিয়নিয়ার ও পরিবেশকর্মী টম স্টেয়ার প্রায় সমান অবস্থানে থাকায় চূড়ান্ত ফল জানতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘টপ-টু’ প্রাইমারি পদ্ধতিতে দল নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ কারণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল ভোট বিভক্ত হলে দুই রিপাবলিকান প্রার্থীই নভেম্বরের নির্বাচনে জায়গা করে নিতে পারেন। আপাতত সেই সম্ভাবনা দূর হয়েছে। অন্যদিকে আইওয়ায় দেখা গেছে নির্বাচনী রাতের অন্যতম বড় চমক। রিপাবলিকান গভর্নর প্রাইমারিতে অধিকাংশ পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে কৃষক ও ব্যবসায়ী জ্যাক লান ট্রাম্প-সমর্থিত কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফিনস্ট্রাকে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনের আগে জ্যাক লানকে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তবে ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, আইওয়ার রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন। এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ট্রাম্পের সমর্থনকে বিজয়ের অন্যতম প্রধান নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হলেও আইওয়ার ফলাফল সেই ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ (এমএএইচএ) আন্দোলনের প্রভাবও দৃশ্যমান হয়েছে। স্বাস্থ্য ও খাদ্যনীতি-কেন্দ্রিক এই রাজনৈতিক ধারাটি রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইওয়ার সিনেট নির্বাচনও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্টের আসনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পেয়েছেন প্যারালিম্পিয়ান ও আইনপ্রণেতা জশ তুরেক। রিপাবলিকানদের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কংগ্রেসওম্যান অ্যাশলি হিনসন। নভেম্বরে এই লড়াই সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউজার্সিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ছিল ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর কংগ্রেসওম্যান বনি ওয়াটসন কোলম্যান অবসরের ঘোষণা দিলে আসনটি উন্মুক্ত হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে মনোনয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৩ জন প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন ডা. আদম হামাওয়ি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হামাওয়ি সাত মাস বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কমব্যাট ট্রমা সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাক যুদ্ধ এবং হাইতির বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে ইরাকে হেলিকপ্টার হামলায় আহত বর্তমান সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের জীবন রক্ষার ঘটনায় তিনি জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন। বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের সমর্থন তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করে। গাজায় চিকিৎসা মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তাকে মুসলিম, আরব এবং প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলের মুখোমুখি হবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসনটির অতীত ভোটের ধারা বিবেচনায় হামাওয়ি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি নিউজার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। নিউজার্সির সপ্তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টেও গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। সেখানে সাবেক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট রেবেকা বেনেট ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। নভেম্বরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বর্তমান রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম কিন জুনিয়র। তবে এই আসনের আলোচনায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি টম কিনের স্বাস্থ্যগত বিষয়ও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনসমক্ষে তার সীমিত উপস্থিতি রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে এটিকে এখন নিউজার্সির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং ডিস্ট্রিক্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে সিনেটর কোরি বুকার সহজেই নিজের প্রাইমারি জয় করে মূল নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নিউ মেক্সিকোতে সাবেক হোম সেক্রেটারি ডেব হালান্ড ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নেটিভ আমেরিকান ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবে পরিচিত হালান্ড এখন গভর্নর পদে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। মন্টানায় রিপাবলিকান মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যারন ফ্লিন্ট। অন্যদিকে সাউথ ডাকোটায় বর্তমান গভর্নর ল্যারি রোডেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন। ফলে এই দুই অঙ্গরাজ্যেও নভেম্বরের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে পুরো নির্বাচনী রাতের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতোই নিরঙ্কুশ রয়েছে কি না। আইওয়ার ফলাফল অন্তত ইঙ্গিত দিচ্ছে, রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ নতুন ধরনের নেতৃত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক বার্তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরাও নতুন ভোটার জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্য এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের ওপর। ২ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনকে তাই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অনিশ্চিত এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা বাংলাদেশিদের জন্য নতুন আর্থিক শর্ত যুক্ত হয়েছে। মার্কিন সরকারের ভিসা বন্ড কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ ৩৮টি দেশের নাগরিকদের ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত বা ‘ভিসা বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান বা ওভারস্টে কমানো। নতুন এই নীতির ফলে পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে আগ্রহী বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও কঠোর হতে পারে। কী এই ভিসা বন্ড? ভিসা বন্ড হলো এক ধরনের ফেরতযোগ্য আর্থিক জামানত, যা নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের কাছ থেকে অস্থায়ী ভিসা দেওয়ার আগে নেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো ভিসাধারীরা যেন ভিসার শর্ত মেনে চলেন এবং অনুমোদিত সময় শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী, পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে বি-১ (ব্যবসা) ও বি-২ (পর্যটন) ভিসা অন্যতম। এসব ভিসার মেয়াদ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। তবে অনুমোদিত সময় শেষ হওয়ার পরও কেউ যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে তা ‘ভিসা ওভারস্টে’ হিসেবে বিবেচিত হয়, যা দেশটির অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন। নতুন নিয়মে কী বলা হয়েছে? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকদের বি-১ ও বি-২ ভিসার ক্ষেত্রে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে একটি বন্ড জমা দিতে হতে পারে। আবেদনকারী বিশ্বের যে দেশ থেকেই আবেদন করুন না কেন, এই নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। ভিসা সাক্ষাৎকারের সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, চাকরি, আয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। বন্ড জমা দেওয়ার জন্য আবেদনকারীকে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম Pay.gov-এর মাধ্যমে সম্মতি জানাতে হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের আই-৩৫২ ফরমও পূরণ করতে হবে। ভিসাধারী যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন এবং ভিসার সব শর্ত মেনে চলেন, তাহলে জমা দেওয়া অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে। নির্দিষ্ট বিমানবন্দর ব্যবহার বাধ্যতামূলক পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির আওতায় ভিসা পাওয়া ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট কয়েকটি বিমানবন্দর দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ ও দেশত্যাগ করতে হবে। এসব বিমানবন্দর হলো বোস্টন লোগান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (জেএফকে) এবং ওয়াশিংটন ডুলাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। কেন চালু করা হচ্ছে এই নীতি? মার্কিন প্রশাসনের দাবি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসা ওভারস্টের হার তুলনামূলক বেশি, মূলত সেসব দেশকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারী অনুমোদিত সময় পার হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের ধারণা, ভিসা বন্ড চালু হলে ওভারস্টের হার কমবে এবং ভিসা ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা আসবে। এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ জোরদারের বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোন দেশগুলো প্রভাবিত হবে? সাম্প্রতিক ঘোষণায় মোট ৩৮টি দেশকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ভুটান ও নেপাল। এছাড়া আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশও তালিকাভুক্ত হয়েছে। তবে কানাডা, মেক্সিকো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ওয়েভার প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এই নিয়মের বাইরে থাকবেন। ছাড় পাওয়ার সুযোগ আছে কি? মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সীমিত কিছু ক্ষেত্রে ভিসা বন্ড মওকুফ করা হতে পারে। যেমন যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সরকারি কাজে ভ্রমণ বা জরুরি মানবিক প্রয়োজনের ক্ষেত্রে। তবে সাধারণ পর্যটক বা ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের জন্য এ ধরনের ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা সীমিত। আগে কি এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল? ভিসা বন্ডের ধারণা নতুন নয়। নিউজিল্যান্ড একসময় ওভারস্টে নিয়ন্ত্রণে এ ব্যবস্থা চালু করেছিল, যদিও পরে তা বাতিল করা হয়। ২০১৩ সালে যুক্তরাজ্যও কিছু উচ্চ ঝুঁকির দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড চালুর পরিকল্পনা করেছিল, তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি। এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালেও যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা বন্ড কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে করোনা মহামারির কারণে আন্তর্জাতিক ভ্রমণ কমে যাওয়ায় পরিকল্পনাটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। বাংলাদেশিদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের পরিকল্পনা করা অনেক পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীর জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলারের বন্ড বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৮ লাখ টাকার বেশি হওয়ায় এটি অনেক আবেদনকারীর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এই অর্থ ফেরতযোগ্য হওয়ায় যারা ভিসার শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করবেন, তারা বন্ডের অর্থ ফেরত পাবেন। ফলে এটিকে স্থায়ী ব্যয় হিসেবে নয়, অস্থায়ী আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভিজিট ভিসায় এসে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থানকারী বা ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। বিশেষ করে, ভিজিট ভিসায় এসে ছয় মাসের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারীরা ভবিষ্যতে নতুন ভিসা পাওয়া, বৈধ অভিবাসন সুবিধা গ্রহণ এবং পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে নানা জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় একজন ভিজিটরের জন্য যে সময়সীমা অনুমোদন করা হয়, সেই সময়সীমা অতিক্রম করলেই তাকে ওভারস্টে হিসেবে গণ্য করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে ভিসার মেয়াদ বহাল থাকলেও আই-৯৪ রেকর্ডে নির্ধারিত থাকার সময় শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আইনগত জটিলতায় পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, ১৮০ দিনের কম সময় ওভারস্টে করলে ভবিষ্যতে ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই-বাছাইয়ের সম্মুখীন হতে হয়। তবে কেউ যদি ১৮০ দিনের বেশি কিন্তু এক বছরের কম সময় অবৈধভাবে অবস্থান করে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন, তাহলে তার ওপর তিন বছরের পুনঃপ্রবেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হতে পারে। আর এক বছরের বেশি সময় ওভারস্টে করলে যুক্তরাষ্ট্রে পুনঃপ্রবেশের ক্ষেত্রে ১০ বছরের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগের কারণে ওভারস্টে করা ব্যক্তিদের আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছেন। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ভিজিট ভিসায় অবস্থানকারীদের জন্য নতুন কোনো অভিবাসন সুবিধা বা বৈধতার সুযোগ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন অভিবাসন ফোরাম এবং অভিজ্ঞ আইনজীবীদের পর্যবেক্ষণেও দেখা যাচ্ছে, ওভারস্টে সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে আবেদন মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিবাসন আইনজীবীরা সতর্ক করে বলেছেন, যারা বর্তমানে ভিজিট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাদের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। অন্যথায় ভবিষ্যতে ভিসা নবায়ন, স্থায়ী বসবাসের আবেদন কিংবা পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তারা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, ওভারস্টে-সংক্রান্ত কোনো সমস্যায় পড়লে দ্রুত অভিজ্ঞ অভিবাসন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করা এবং যথাসময়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি খায়রুল বাশার বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে এসে ওভারস্টে করলেও তার নিকটাত্মীয়, যেমন স্বামী-স্ত্রী, বাবা-মা বা সন্তান দেশটিতে বৈধভাবে অবস্থান করলে পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু ছাড় পাওয়া যেত। তবে বর্তমানে সেই সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তিনি বলেন, অতীতে যারা ওভারস্টে করেছেন বা বর্তমানে ওভারস্টের অবস্থায় রয়েছেন, তারা ইমিগ্রেশন সুবিধার জন্য আবেদন করলে অনেক ক্ষেত্রেই আবেদন প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়াচ্ছে। খায়রুল বাশার আরও বলেন, যারা ওভারস্টে করে পরবর্তীতে স্ট্যাটাস অ্যাডজাস্ট করার পরিকল্পনা করছেন, তাদের সফল হওয়ার সম্ভাবনা এখন আগের তুলনায় অনেক কম। তাই কেউ যেন ইচ্ছাকৃতভাবে ওভারস্টে না করেন। যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকতে চাইলে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কোনো ক্যাটাগরিতে আবেদন করা উচিত। এ ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, অনেকেই সামান্য ফি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নিজেরাই আবেদনপত্র জমা দেন। পরে দেখা যায়, প্রয়োজনীয় নথি ও আইনি বিষয়গুলো যথাযথভাবে উপস্থাপন না হওয়ায় আবেদন অনুমোদিত হয় না এবং বিভিন্ন ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হয়। তাই কোনো আবেদন করার আগে আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। তিনি আরও বলেন, ওভারস্টে একটি গুরুতর সমস্যা। এর ফলে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে অভিবাসন আইন ও নীতিমালায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আসায় আবেদনকারী ও অপেক্ষমাণদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। তবে যারা বর্তমানে কোনো বৈধ অভিবাসন স্ট্যাটাস ছাড়া অবস্থান করছেন, তাদের উচিত নিজেদের যোগ্যতা ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে আইনজীবীর পরামর্শে অন্তত একটি বৈধ আবেদন দাখিল করা।
মঙ্গলবার, ২ জুন অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের ছয়টি অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচন দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে আইওয়া, নিউজার্সি থেকে নিউ মেক্সিকো পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই ভোট শুধু প্রার্থীদের মনোনয়ন নির্ধারণ করেনি; বরং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক শক্তির অবস্থান, নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে রিপাবলিকান রাজনীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রভাব কতটা অটুট রয়েছে এবং ডেমোক্র্যাটরা কোথায় নতুন ভোটার জোট গড়ে তুলতে পারছে, সে প্রশ্নগুলোর আংশিক উত্তর মিলেছে এই নির্বাচনী রাতে। সবচেয়ে বেশি নজর ছিল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচনের প্রাইমারিতে। গভর্নর গেভিন নিউসমের দুই মেয়াদের সমাপ্তির পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে জনবহুল অঙ্গরাজ্যে নেতৃত্বের নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে অংশ নেন ৬১ জন প্রার্থী। ভোট গণনায় সাবেক স্বাস্থ্য ও মানবসেবা সেক্রেটারি জেভিয়ার বেসেরা স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় স্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। রিপাবলিকান ভাষ্যকার স্টিভ হিলটন এবং ডেমোক্র্যাটিক বিলিয়নিয়ার ও পরিবেশকর্মী টম স্টেয়ার প্রায় সমান অবস্থানে থাকায় চূড়ান্ত ফল জানতে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘টপ-টু’ প্রাইমারি পদ্ধতিতে দল নির্বিশেষে সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী মূল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এ কারণে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে আশঙ্কা ছিল ভোট বিভক্ত হলে দুই রিপাবলিকান প্রার্থীই নভেম্বরের নির্বাচনে জায়গা করে নিতে পারেন। আপাতত সেই সম্ভাবনা দূর হয়েছে। অন্যদিকে আইওয়ায় দেখা গেছে নির্বাচনী রাতের অন্যতম বড় চমক। রিপাবলিকান গভর্নর প্রাইমারিতে অধিকাংশ পূর্বাভাসকে ভুল প্রমাণ করে কৃষক ও ব্যবসায়ী জ্যাক লান ট্রাম্প-সমর্থিত কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফিনস্ট্রাকে পরাজিত করেছেন। নির্বাচনের আগে জ্যাক লানকে শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বীদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। তবে ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, আইওয়ার রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ প্রচলিত রাজনৈতিক ধারা থেকে ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছেন। এই ফলাফল জাতীয় রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান রাজনীতিতে ট্রাম্পের সমর্থনকে বিজয়ের অন্যতম প্রধান নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা হলেও আইওয়ার ফলাফল সেই ধারণাকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ (এমএএইচএ) আন্দোলনের প্রভাবও দৃশ্যমান হয়েছে। স্বাস্থ্য ও খাদ্যনীতি-কেন্দ্রিক এই রাজনৈতিক ধারাটি রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আইওয়ার সিনেট নির্বাচনও জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্টের আসনে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পেয়েছেন প্যারালিম্পিয়ান ও আইনপ্রণেতা জশ তুরেক। রিপাবলিকানদের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কংগ্রেসওম্যান অ্যাশলি হিনসন। নভেম্বরে এই লড়াই সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিউজার্সিতে সবচেয়ে আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতাগুলোর একটি ছিল ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর কংগ্রেসওম্যান বনি ওয়াটসন কোলম্যান অবসরের ঘোষণা দিলে আসনটি উন্মুক্ত হয়ে যায়। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে মনোনয়নের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৩ জন প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হন ডা. আদম হামাওয়ি। মিশরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হামাওয়ি সাত মাস বয়সে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও কমব্যাট ট্রমা সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ইরাক যুদ্ধ এবং হাইতির বিভিন্ন দুর্যোগপূর্ণ এলাকায় চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছেন তিনি। ২০০৪ সালে ইরাকে হেলিকপ্টার হামলায় আহত বর্তমান সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের জীবন রক্ষার ঘটনায় তিনি জাতীয় পরিচিতি লাভ করেন। বার্নি স্যান্ডার্স, আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং সিনেটর ট্যামি ডাকওয়ার্থের সমর্থন তার প্রচারণাকে আরও শক্তিশালী করে। গাজায় চিকিৎসা মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাও তাকে মুসলিম, আরব এবং প্রগতিশীল ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। নভেম্বরে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলের মুখোমুখি হবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আসনটির অতীত ভোটের ধারা বিবেচনায় হামাওয়ি তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। নির্বাচিত হলে তিনি নিউজার্সি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়বেন। নিউজার্সির সপ্তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টেও গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের ইঙ্গিত মিলেছে। সেখানে সাবেক নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার পাইলট রেবেকা বেনেট ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। নভেম্বরে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হবেন বর্তমান রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম কিন জুনিয়র। তবে এই আসনের আলোচনায় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি টম কিনের স্বাস্থ্যগত বিষয়ও উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে জনসমক্ষে তার সীমিত উপস্থিতি রিপাবলিকান শিবিরে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফলে এটিকে এখন নিউজার্সির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘সুইং ডিস্ট্রিক্ট’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এদিকে সিনেটর কোরি বুকার সহজেই নিজের প্রাইমারি জয় করে মূল নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নিউ মেক্সিকোতে সাবেক হোম সেক্রেটারি ডেব হালান্ড ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর প্রাইমারিতে বিজয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম নেটিভ আমেরিকান ক্যাবিনেট সদস্য হিসেবে পরিচিত হালান্ড এখন গভর্নর পদে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। মন্টানায় রিপাবলিকান মনোনয়ন পেয়েছেন অ্যারন ফ্লিন্ট। অন্যদিকে সাউথ ডাকোটায় বর্তমান গভর্নর ল্যারি রোডেন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন। ফলে এই দুই অঙ্গরাজ্যেও নভেম্বরের নির্বাচনী সমীকরণ অনেকটাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে পুরো নির্বাচনী রাতের সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন ছিল ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রভাব আগের মতোই নিরঙ্কুশ রয়েছে কি না। আইওয়ার ফলাফল অন্তত ইঙ্গিত দিচ্ছে, রিপাবলিকান ভোটারদের একটি অংশ নতুন ধরনের নেতৃত্ব এবং নতুন রাজনৈতিক বার্তার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন। একই সময়ে ডেমোক্র্যাটরাও নতুন ভোটার জোট গঠনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ভারসাম্য এখন অনেকটাই নির্ভর করছে আগামী নভেম্বরের নির্বাচনের ওপর। ২ জুনের প্রাইমারি নির্বাচনকে তাই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, অনিশ্চিত এবং রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে পরিণত হতে পারে।
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার কর্মসূচি ‘২-কে’-র আবেদন প্রক্রিয়া মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানির সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন চাইল্ড কেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের সব শ্রেণির পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে, যা শহরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে। শহর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে কেন্দ্রভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার সেবার জন্য পরিবারগুলোকে গড়ে বছরে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। কার্যক্রম অনুযায়ী, আগ্রহী পরিবারগুলো শিক্ষা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ‘মাইস্কুলস’-এ আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ৪ আগস্টের মধ্যে নির্বাচিত শিশুদের আসন বরাদ্দের তথ্য জানানো হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি বরো থেকে বাছাই করা উচ্চ-চাহিদাসম্পন্ন পাঁচটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে মোট ২ হাজার আসন নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। নির্বাচিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন হাইটস ও ইনউড, ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল ও ক্যানার্সি, ব্রঙ্কসের ফোর্ডহ্যাম ও বেলমন্ট এবং কুইন্সের ওজোন পার্ক ও রকঅ্যাওয়েজ অঞ্চল। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ হাজারে উন্নীত করা হবে। মেয়র মামদানি তার প্রথম মেয়াদের শেষ নাগাদ এই সুবিধা পুরো শহরে সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সময়সূচি কাঠামো। প্রচলিত ৩-কে ও প্রি-কে প্রোগ্রামে যেখানে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এবং সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সেবা দেওয়া হয়, সেখানে ২-কে কর্মসূচিতে ডিফল্ট সময় হবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং এটি সারা বছর ১২ মাস চালু থাকবে। এর ফলে স্কুল-পরবর্তী ও গ্রীষ্মকালীন চাইল্ড কেয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার চলতি বছরে ৭৩ মিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বাড়ির মালিকদের জন্য বড় ধরনের কর ছাড়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন আইনপ্রণেতারা। নতুন এই উদ্যোগ অনুযায়ী, নিজস্ব বসতবাড়ির ক্ষেত্রে আড়াই লাখ ডলার পর্যন্ত সম্পত্তি কর ছাড়ের সুবিধা চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এখন বিষয়টি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে সাধারণ ভোটে জনগণের মতামতের জন্য তোলা হবে। মঙ্গলবার গভর্নরের ডাকা বিশেষ অধিবেশনে ফ্লোরিডা সিনেট প্রস্তাবটি পাস করে। এতে বলা হয়েছে, যেসব বাড়িতে মালিক নিজে বসবাস করেন, সেসব বাড়ির ওপর নির্ধারিত কিছু সম্পত্তি কর কমানো হবে। তবে শিক্ষা খাতের কর এই সুবিধার আওতার বাইরে থাকবে। ফ্লোরিডা সিনেটের সভাপতি বেন অ্যালব্রিটন বলেন, নিজের একটি বাড়ি থাকা দীর্ঘদিন ধরেই আমেরিকান স্বপ্নের অংশ। যুক্তরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ২৫০ বছর পূর্তিকে সামনে রেখে এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার মতে, এতে সাধারণ পরিবারগুলো আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবে। প্রস্তাবটির সমর্থক সিনেটর ব্রায়ান আভিলা বলেন, নিজের জমি ও বাড়িতে স্বাধীনভাবে বসবাস করা দেশটির মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা। তিনি জানান, নতুন এই উদ্যোগ পরিবারগুলোর ব্যয় কমাতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, সড়ক ও অবকাঠামোর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবার অর্থায়ন যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে এই প্রস্তাব কার্যকর করতে হলে নির্বাচনে অন্তত ৬০ শতাংশ ভোটারের সমর্থন প্রয়োজন হবে। ভোটাররা অনুমোদন দিলে ধাপে ধাপে এই কর ছাড় চালু করা হবে। এদিকে, নতুন পরিকল্পনায় একজন বাড়ির মালিক কত টাকা সাশ্রয় করতে পারবেন, তা জানাতে অঙ্গরাজ্য প্রশাসন একটি নতুন ওয়েবসাইট চালু করেছে। সেখানে বাসিন্দারা নিজেদের সম্ভাব্য কর ছাড়ের হিসাব দেখতে পারবেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফ্লোরিডায় বাড়ির দাম ও সম্পত্তি কর উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও অবসরপ্রাপ্তদের ওপর আর্থিক চাপ বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কর কমানোর এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।
জর্জিয়ার আটলান্টায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বড় পরিসরের এক আয়োজনকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ জুন আল নূর ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “ফিস্ট অব ঈদ আল-আযহা” নামের বিশেষ ঈদ ফুড ফেস্টিভাল, যা আয়োজন করছে আটলান্টাভিত্তিক সংগঠন এটিএল ফেস্ট অ্যান্ড কোং। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠান নয়; বরং বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত পারিবারিক উৎসব হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের আয়োজনে ৬০টিরও বেশি খাবার ও শপিং স্টল থাকছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় খাবারের স্বাদ উপভোগের সুযোগও থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য। অনুষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা ও আয়োজক আব্দুল্লাহ পিয়াল বলেন, গত মার্চে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত “এটিএল সেহরি নাইট” প্রত্যাশার চেয়েও বড় সাড়া পেয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে চার হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে আয়োজকদের দাবি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত অন্যতম বৃহৎ সেহরি আয়োজন হিসেবে সেটি স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনায় আসে। তিনি বলেন, “ঈদকে ঘিরে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন। শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ যেন একসঙ্গে মিলিত হতে পারেন—সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন।” আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ও পার্কিং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য থাকবে নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ। আয়োজকরা আশা করছেন, ঈদের এই আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজন বড় পরিসরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ঈদ, বৈশাখ ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, “ফিস্ট অব ঈদ আল-আযহা” সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি বড় উদ্যোগ। অনুষ্ঠানটি ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণা চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনও এতে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ। বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান। অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান। ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়। ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন। তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী। “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে। বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়। বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন। দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন। পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়। মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম। ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে। নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।