মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের বুক চিরে ভেসে এল এক শক্তিশালী সংকেত। প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই 'মেগা লেজার' রশ্মি দেখে রীতিমতো বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার 'মিরক্যাট' (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত মহাকাশে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় যেকোনো সংকেত ক্রমশ দুর্বল হয়ে একসময় মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই সংকেতটি তার উজ্জ্বলতা ও তীব্রতা বজায় রেখে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত অনেক বৈজ্ঞানিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই শক্তিশালী রশ্মিটি আসলে একটি ‘হাইড্রক্সিল মেগামেসার’। মহাকাশে দুটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যখন গ্যাস সংকুচিত হয়, তখন হাইড্রক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে এই ধরণের তীব্র বিকিরণ ঘটায়। তবে এবারের সংকেতটি এতটাই শক্তিশালী যে একে বিজ্ঞানীরা ‘গিগামেসার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকেও কেন এই সংকেত ম্লান হলো না? এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা ‘মহাকর্ষীয় লেন্সিং’ (Gravitational Lensing)-এর কথা বলছেন। তাদের মতে, সংকেতটি আসার পথে সামনে থাকা কোনো একটি ছায়াপথ ‘আতস কাঁচের’ মতো কাজ করেছে, যা সংকেতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়তে সাহায্য করেছে। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদি গঠন এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য আর সামরিক জীবনের কঠিন শৃঙ্খলা— এই দুই বিপরীত মেরুকে এক সুতোয় বেঁধে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কাশিশ মেথওয়ানি। ২০২৩ সালে ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া’র মুকুট জয়ী এই সুন্দরী এখন আর কেবল র্যাম্পের মডেল নন, তিনি এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত লেফটেন্যান্ট। ভারতের পুণের সাবিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কাশিশের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাঁর মনে ছিল দেশসেবার অদম্য বাসনা। ২০২৩ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শীর্ষবিন্দু ছোঁয়ার পর তিনি থেমে থাকেননি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে যোগ দেন কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস (সিডিএস) পরীক্ষায়। সেখানেও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি, অর্জন করেন সর্বভারতীয় দ্বিতীয় র্যাঙ্ক। চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে টানা ১১ মাসের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন তিনি। কাশিশ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে একই অঙ্গে রূপ আর শৌর্যের মিলন ঘটানো সম্ভব। উল্লেখ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও কাশিশ পিছিয়ে নেই। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কজ’ নামক একটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল রক্তদান ও অঙ্গদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। র্যাম্পের মোহময়ী জগত ছেড়ে দেশের সীমান্ত রক্ষার এই কঠিন পথ বেছে নেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এই নতুন সেনাসদস্য।
লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির তেল শোধনাগারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় ১৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকল শ্রমিককে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে এবং পুরো অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনায় পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে সীমিত পরিসরে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই জ্বালানি চাপে ছিল, আর এই অগ্নিকাণ্ড সেই সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।
মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের বুক চিরে ভেসে এল এক শক্তিশালী সংকেত। প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই 'মেগা লেজার' রশ্মি দেখে রীতিমতো বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার 'মিরক্যাট' (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত মহাকাশে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় যেকোনো সংকেত ক্রমশ দুর্বল হয়ে একসময় মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই সংকেতটি তার উজ্জ্বলতা ও তীব্রতা বজায় রেখে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত অনেক বৈজ্ঞানিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই শক্তিশালী রশ্মিটি আসলে একটি ‘হাইড্রক্সিল মেগামেসার’। মহাকাশে দুটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যখন গ্যাস সংকুচিত হয়, তখন হাইড্রক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে এই ধরণের তীব্র বিকিরণ ঘটায়। তবে এবারের সংকেতটি এতটাই শক্তিশালী যে একে বিজ্ঞানীরা ‘গিগামেসার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকেও কেন এই সংকেত ম্লান হলো না? এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা ‘মহাকর্ষীয় লেন্সিং’ (Gravitational Lensing)-এর কথা বলছেন। তাদের মতে, সংকেতটি আসার পথে সামনে থাকা কোনো একটি ছায়াপথ ‘আতস কাঁচের’ মতো কাজ করেছে, যা সংকেতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়তে সাহায্য করেছে। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদি গঠন এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সংলাপের বিকল্প নেই এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে।' আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দেশটি শুরু থেকেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি ধরে রেখে তা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংলাপকে আরও এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতার সফর শেষে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক/নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হবে ‘হাফ-টাইম শো’। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘সিমেফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সামিটে’ এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ‘সুপার বোল’-এর আদলে এই সংগীত আয়োজনকে কিউরেট করছেন ব্রিটিশ পপ ব্যান্ড কোল্ডপ্লে এবং তাদের ফ্রন্টম্যান ক্রিস মার্টিন। ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এটি হবে পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি শো। কারা পারফর্ম করবেন তা এখনই প্রকাশ না করলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, একাধিক বিশ্বখ্যাত শিল্পী এই মঞ্চ মাতাবেন। ফুটবলে ১৫ মিনিটের বিরতিতে এ ধরনের বড় সংগীত আয়োজন বিরল এবং অতীতে জার্মানির মতো দেশে এমন উদ্যোগ দর্শকদের অসন্তোষের মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র, তাই এখানকার ক্রীড়া সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই শো-টি দর্শকদের দারুণ বিনোদন দেবে বলে আত্মবিশ্বাসী ফিফা প্রধান। ফুটবল ও সংগীতের এই মিলনমেলা ফাইনালের উত্তেজনাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
মহাবিশ্বের অসীম রহস্যের বুক চিরে ভেসে এল এক শক্তিশালী সংকেত। প্রায় ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকে আসা এই 'মেগা লেজার' রশ্মি দেখে রীতিমতো বিস্মিত জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। দক্ষিণ আফ্রিকার 'মিরক্যাট' (MeerKAT) রেডিও টেলিস্কোপে ধরা পড়েছে এই বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, সাধারণত মহাকাশে এত দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার সময় যেকোনো সংকেত ক্রমশ দুর্বল হয়ে একসময় মিলিয়ে যায়। কিন্তু এই সংকেতটি তার উজ্জ্বলতা ও তীব্রতা বজায় রেখে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত অনেক বৈজ্ঞানিক ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। গবেষকদের মতে, এই শক্তিশালী রশ্মিটি আসলে একটি ‘হাইড্রক্সিল মেগামেসার’। মহাকাশে দুটি গ্যালাক্সি বা ছায়াপথের মধ্যে সংঘর্ষের ফলে যখন গ্যাস সংকুচিত হয়, তখন হাইড্রক্সিল অণুগুলো উত্তেজিত হয়ে এই ধরণের তীব্র বিকিরণ ঘটায়। তবে এবারের সংকেতটি এতটাই শক্তিশালী যে একে বিজ্ঞানীরা ‘গিগামেসার’ হিসেবে অভিহিত করছেন। কিন্তু ৮০০ কোটি আলোকবর্ষ দূর থেকেও কেন এই সংকেত ম্লান হলো না? এর উত্তরে বিজ্ঞানীরা ‘মহাকর্ষীয় লেন্সিং’ (Gravitational Lensing)-এর কথা বলছেন। তাদের মতে, সংকেতটি আসার পথে সামনে থাকা কোনো একটি ছায়াপথ ‘আতস কাঁচের’ মতো কাজ করেছে, যা সংকেতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়ে আমাদের টেলিস্কোপে ধরা পড়তে সাহায্য করেছে। এই আবিষ্কার মহাবিশ্বের আদি গঠন এবং বিবর্তন বুঝতে বিজ্ঞানীদের নতুন পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির মেলবোর্নের দক্ষিণ-পশ্চিমে জিলং শহরের কোরিও এলাকায় অবস্থিত ভিভা এনার্জির তেল শোধনাগারে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, বুধবার মধ্যরাতের কিছু আগে বিস্ফোরণের পর আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় ১৩ ঘণ্টার চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। ঘটনার সময় শোধনাগারে কর্মরত সকল শ্রমিককে দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এই শোধনাগারটি ভিক্টোরিয়া অঙ্গরাজ্যের অর্ধেকের বেশি জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে এবং পুরো অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে অগ্নিকাণ্ডের প্রভাব জ্বালানি বাজারে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস বোয়েন এক বিবৃতিতে জানান, এই ঘটনায় পেট্রোল উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। তবে সীমিত পরিসরে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন এক সময়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অস্ট্রেলিয়া আগে থেকেই জ্বালানি চাপে ছিল, আর এই অগ্নিকাণ্ড সেই সংকটকে আরও তীব্র করতে পারে।
হাঙ্গেরিতে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সরকার গঠনের আমন্ত্রণ পাওয়ার পরপরই দেশটির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী পেতের ম্যাজিয়ার প্রেসিডেন্ট তামাশ সুয়োককে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ম্যাজিয়ার সরাসরি প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করে বলেন, তিনি হাঙ্গেরীয় জাতির ঐক্যের প্রতিনিধিত্ব করার উপযুক্ত নন এবং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি আরও জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সুয়োকের পদত্যাগ করা উচিত। প্রেসিডেন্ট তামাশ সুয়োক বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ফলে নতুন সরকারের সঙ্গে তার অবস্থান নিয়ে শুরু থেকেই রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ম্যাজিয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রেসিডেন্ট স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে তার দল জনসমর্থনের ভিত্তিতে সংবিধান ও আইন সংশোধনের পথে হাঁটবে। একই সঙ্গে অরবানের নিয়োগ দেওয়া অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও অপসারণের ইঙ্গিত দেন তিনি। এদিকে সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন ম্যাজিয়ার, যেখানে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে একা একটি ব্যালকনিতে হাঁটতে দেখা যায়। ভিডিওটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে আলোচনায় এসেছে। গত ১২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয় পায় ম্যাজিয়ারের দল তিসা পার্টি। এর মাধ্যমে ভিক্টর অরবানের টানা ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। নতুন সরকার দুর্নীতি দমন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ম্যাজিয়ার জানিয়েছেন, আগামী মে মাসের মাঝামাঝি তার মন্ত্রিসভা শপথ নিতে পারে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্থগিত তহবিল ছাড় করানো এবং প্রশাসনিক সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।