কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ঘাঁটিতে শক্তিশালী মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটির সীমানার ভেতরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে। এতে সেখানে কর্মরত অন্তত তিনজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় মোট সাতটি মিসাইল শনাক্ত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে তিনটি মিসাইল মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, বাকি দুটি মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাঁটির আশপাশে আঘাত হানে। আহত তিন সেনাসদস্যের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তারা সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর ওই এলাকা এবং সংলগ্ন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার নাইনি শনিবার (১৪ মার্চ) বলেন, শত্রুপক্ষের হামলার পর ইরানের দুটি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংকের শাখাগুলোকে লক্ষ্য করেছি। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে সব মার্কিন ব্যাংক আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার পর সিটিগ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের সব শাখা বন্ধ করে একই নীতি কার্যকর করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: এএফপি
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে এবং ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারির জীবন নিয়ে লেখা একটি নতুন বইকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। হ্যারির এক মুখপাত্র এই বইটিতে উল্লিখিত দাবিগুলোকে "ভ্রান্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র" বলে আখ্যা দিয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে প্রিন্স হ্যারির মুখপাত্র জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই বইটিতে হ্যারি ও তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য এবং তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি একে স্রেফ কল্পকাহিনী এবং একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটিতে হ্যারির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাথে তার বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল। বিশেষ করে কিছু অপ্রমাণিত তথ্য সেখানে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা হ্যারির ভাবমূর্তিকে বিতর্কিত করে তোলে। বিবৃতিতে মুখপাত্র আরও বলেন, "এটি কোনো সত্যনিষ্ঠ লেখা নয়, বরং এক ধরনের বিকৃত মস্তিষ্কের ষড়যন্ত্র। পাঠকদের বিভ্রান্ত করতেই এমন কাল্পনিক গল্প সাজানো হয়েছে।" প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই তারা বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। নিজের আত্মজীবনী 'স্পেয়ার' (Spare) প্রকাশের পর হ্যারি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তবে নতুন এই বইটি নিয়ে তার পক্ষ থেকে যে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা রাজপরিবার এবং গণমাধ্যমের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন পর্যন্ত ওই বইটির লেখকের পক্ষ থেকে হ্যারির মুখপাত্রের এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন ইসরায়েলের একদল শান্তিকামী সাধারণ নাগরিক। সম্প্রতি তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ২০০ জন মানুষ একত্রিত হয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা 'স্কুলছাত্রীদের লাশের ওপর গণতন্ত্র গড়া যায় না' এবং 'পাইলটরা, বোমা ফেলা বন্ধ করো'—এরকম হূদয়স্পর্শী ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজপথ। আরব-ইসরায়েলি সাংবাদিক ইয়ানাল জাবারিনের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও এই ধরনের একাধিক সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল, যা পুলিশি অ্যাকশনে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৯৩ শতাংশ ইহুদি নাগরিক যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও, মাত্র ২৬ শতাংশ আরব-ইসরায়েলি এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন। জনমতের এই বিশাল পার্থক্যের মাঝেই হাবিমা স্কয়ারের এই প্রতিবাদ একটি ভিন্ন বার্তা বহন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন ইসরায়েলের একদল শান্তিকামী সাধারণ নাগরিক। সম্প্রতি তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ২০০ জন মানুষ একত্রিত হয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা 'স্কুলছাত্রীদের লাশের ওপর গণতন্ত্র গড়া যায় না' এবং 'পাইলটরা, বোমা ফেলা বন্ধ করো'—এরকম হূদয়স্পর্শী ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজপথ। আরব-ইসরায়েলি সাংবাদিক ইয়ানাল জাবারিনের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও এই ধরনের একাধিক সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল, যা পুলিশি অ্যাকশনে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৯৩ শতাংশ ইহুদি নাগরিক যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও, মাত্র ২৬ শতাংশ আরব-ইসরায়েলি এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন। জনমতের এই বিশাল পার্থক্যের মাঝেই হাবিমা স্কয়ারের এই প্রতিবাদ একটি ভিন্ন বার্তা বহন করছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার নাইনি শনিবার (১৪ মার্চ) বলেন, শত্রুপক্ষের হামলার পর ইরানের দুটি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংকের শাখাগুলোকে লক্ষ্য করেছি। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে সব মার্কিন ব্যাংক আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার পর সিটিগ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের সব শাখা বন্ধ করে একই নীতি কার্যকর করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: এএফপি
কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ঘাঁটিতে শক্তিশালী মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটির সীমানার ভেতরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে। এতে সেখানে কর্মরত অন্তত তিনজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় মোট সাতটি মিসাইল শনাক্ত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে তিনটি মিসাইল মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, বাকি দুটি মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাঁটির আশপাশে আঘাত হানে। আহত তিন সেনাসদস্যের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তারা সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর ওই এলাকা এবং সংলগ্ন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনা আর ভেন্যু নিয়ে দুই দেশের ফুটবল ফেডারেশনের অনড় অবস্থানের কারণে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ‘ফিনালিসিমা’ ম্যাচ। আগামী ২৭ মার্চ কাতারের দোহায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে তা এখন বাতিলের মুখে। আয়োজক সংস্থা উয়েফা ও কনমেবল নিরাপত্তার খাতিরে ম্যাচটি মাদ্রিদের সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। রিয়াল মাদ্রিদ ও স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন এই প্রস্তাবে একমত হলেও বাদ সেধেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। আর্জেন্টাইন সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, স্পেনে ম্যাচ খেললে স্বাগতিকরা বাড়তি সুবিধা পাবে। তার দাবি, ম্যাচটি আয়োজন করতে হবে বুয়েনোস আইরেসের মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে। দুই দেশের এই মতবিরোধের ফলে বর্তমানে তিনটি বিকল্প নিয়ে আলোচনা চলছে: বার্নাব্যুতে খেলা, লিসবন বা রোমের মতো নিরপেক্ষ কোনো ভেন্যুতে ম্যাচ সরিয়ে নেওয়া, অথবা ম্যাচটি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা। তবে হাতে সময় খুব কম থাকায় এবং ইউরোপের বড় স্টেডিয়ামগুলো খালি না পাওয়ায় ম্যাচটি পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। এদিকে স্প্যানিশ গণমাধ্যম দাবি করছে, আর্জেন্টিনা সম্ভবত এই মুহূর্তে ম্যাচটি খেলতে খুব একটা আগ্রহী নয়।
লেবাননের ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত বিমান হামলায় পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। দেশটির সরকারি তথ্যমতে, যুদ্ধের ভয়াবহতায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা মানুষের সংখ্যা এখন আকাশচুম্বী। লেবাননের 'ডিজাস্টার রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইউনিট' এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে লড়াই চরম আকার ধারণ করার পর এ পর্যন্ত প্রায় ৮,৩১,৮৮২ জন মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন। বৈরুতসহ দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে খোলা অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে এখন তিল ধারণের জায়গা নেই। প্রতিনিয়ত বোমা হামলার শব্দ আর স্বজন হারানোর আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠছে লেবাননের আকাশ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনে তাদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিজয়ের ফলাফল ভোট গণনার সময় প্রভাবিত করে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই পরিস্থিতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হিমালয় পার্কে আয়োজিত জাতীয় নাগরিক পার্টি পঞ্চগড় জেলা শাখার ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। সারজিস আলম বলেন, আমাদের ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এই দায় যেমন অন্যদের ওপর দেওয়া যায়, তেমনি এটাও সত্য যে আমরা আমাদের ভোট গণনার সময় যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারিনি। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, কোনো কেন্দ্রে যদি আমাদের ১০ জন ভোটার থাকে, সেই ১০টি ভোটও রক্ষা করতে হবে। আবার কোথাও যদি ১০০ জন ভোটারের মধ্যে ৯০টি আমাদের হয়, তাহলে সেই ৯০টি ভোটও নিশ্চিতভাবে সংরক্ষণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিরোধী দল হিসেবে সংসদে আছি। স্থানীয় নির্বাচন একসঙ্গে হবে নাকি আলাদাভাবে হবে—তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে যেভাবেই হোক, জনগণের দেওয়া ভোটের আমানত রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, মানুষ অনেক আশা ও পরিবর্তনের স্বপ্ন নিয়ে আমাদের ভোট দিয়েছে। সেই পরিবর্তনের লড়াই রাজপথ থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে। ভয় ও সাহসের প্রসঙ্গ টেনে সারজিস আলম বলেন, ভয় ছোঁয়াচে—ভয় পেলে মানুষ পিছিয়ে পড়ে। কিন্তু সাহস আরও বেশি ছোঁয়াচে। একজন মানুষ যখন সাহস দেখায়, তখন অন্যরাও সেই সাহস থেকে অনুপ্রাণিত হয়। স্থানীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু করতে হবে। আপনাদের মধ্য থেকেই কেউ মেম্বার, কেউ চেয়ারম্যান, কেউ উপজেলা চেয়ারম্যান কিংবা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমান ঘাঁটিতে শক্তিশালী মিসাইল হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, আহমেদ আল-জাবের বিমান ঘাঁটির সীমানার ভেতরে দুটি মিসাইল আঘাত হানে। এতে সেখানে কর্মরত অন্তত তিনজন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। কুয়েত প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটির আকাশসীমায় মোট সাতটি মিসাইল শনাক্ত করেছে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে তিনটি মিসাইল মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হলেও, বাকি দুটি মিসাইল লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে ঘাঁটির আশপাশে আঘাত হানে। আহত তিন সেনাসদস্যের আঘাত গুরুতর নয় বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে তারা সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার পর ওই এলাকা এবং সংলগ্ন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন ব্যাংকের শাখায় হামলাকে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসির মুখপাত্র সরদার নাইনি শনিবার (১৪ মার্চ) বলেন, শত্রুপক্ষের হামলার পর ইরানের দুটি ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ব্যাংকের শাখাগুলোকে লক্ষ্য করেছি। ভবিষ্যতে যদি একই ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি হয়, তাহলে সব মার্কিন ব্যাংক আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে। দুবাই আন্তর্জাতিক ফিন্যান্সিয়াল সেন্টার এলাকায় পরপর দুটি হামলার পর সিটিগ্রুপ ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকসহ বড় মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া এইচএসবিসি ব্যাংক কাতারে তাদের সব শাখা বন্ধ করে একই নীতি কার্যকর করেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু বানানো পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। সূত্র: এএফপি
ব্রিটিশ রাজপরিবারের ছোট ছেলে এবং ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারির জীবন নিয়ে লেখা একটি নতুন বইকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। হ্যারির এক মুখপাত্র এই বইটিতে উল্লিখিত দাবিগুলোকে "ভ্রান্ত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ষড়যন্ত্র" বলে আখ্যা দিয়েছেন। শনিবার (১৪ মার্চ, ২০২৬) এক বিবৃতিতে প্রিন্স হ্যারির মুখপাত্র জানান, সম্প্রতি প্রকাশিত ওই বইটিতে হ্যারি ও তার ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে যে ধরনের তথ্য এবং তত্ত্ব উপস্থাপন করা হয়েছে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। তিনি একে স্রেফ কল্পকাহিনী এবং একটি নির্দিষ্ট এজেন্ডা বাস্তবায়নের প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বইটিতে হ্যারির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অবস্থান এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সাথে তার বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছিল। বিশেষ করে কিছু অপ্রমাণিত তথ্য সেখানে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যা হ্যারির ভাবমূর্তিকে বিতর্কিত করে তোলে। বিবৃতিতে মুখপাত্র আরও বলেন, "এটি কোনো সত্যনিষ্ঠ লেখা নয়, বরং এক ধরনের বিকৃত মস্তিষ্কের ষড়যন্ত্র। পাঠকদের বিভ্রান্ত করতেই এমন কাল্পনিক গল্প সাজানো হয়েছে।" প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল ২০২০ সালে ব্রিটিশ রাজপরিবারের রাজকীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই তারা বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। নিজের আত্মজীবনী 'স্পেয়ার' (Spare) প্রকাশের পর হ্যারি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। তবে নতুন এই বইটি নিয়ে তার পক্ষ থেকে যে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে, তা রাজপরিবার এবং গণমাধ্যমের মধ্যকার চলমান স্নায়ুযুদ্ধকে আরও উসকে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এখন পর্যন্ত ওই বইটির লেখকের পক্ষ থেকে হ্যারির মুখপাত্রের এই অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাজপথে নেমেছেন ইসরায়েলের একদল শান্তিকামী সাধারণ নাগরিক। সম্প্রতি তেল আবিবের হাবিমা স্কয়ারে প্রায় ২০০ জন মানুষ একত্রিত হয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য যুদ্ধের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান। বিক্ষোভকারীরা 'স্কুলছাত্রীদের লাশের ওপর গণতন্ত্র গড়া যায় না' এবং 'পাইলটরা, বোমা ফেলা বন্ধ করো'—এরকম হূদয়স্পর্শী ও যুদ্ধবিরোধী স্লোগানে মুখরিত করে তোলেন রাজপথ। আরব-ইসরায়েলি সাংবাদিক ইয়ানাল জাবারিনের শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে কতটা উদ্বিগ্ন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও এই ধরনের একাধিক সমাবেশ আয়োজিত হয়েছিল, যা পুলিশি অ্যাকশনে ছত্রভঙ্গ করে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, দেশটির ৯৩ শতাংশ ইহুদি নাগরিক যুদ্ধের পক্ষে অবস্থান নিলেও, মাত্র ২৬ শতাংশ আরব-ইসরায়েলি এই সংঘাতকে সমর্থন করছেন। জনমতের এই বিশাল পার্থক্যের মাঝেই হাবিমা স্কয়ারের এই প্রতিবাদ একটি ভিন্ন বার্তা বহন করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।