Live update news
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে সাইকেল ও হেলমেট উপহার
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে সাইকেল ও হেলমেট উপহার

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাল 'উইশ ফর হুইলস' এবং 'ক্রোয়েঙ্কে স্পোর্টস চ্যারিটিজ'। এক যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা ডেনভার মেট্রো এলাকার ২০০ জনেরও বেশি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ নতুন সাইকেল এবং হেলমেট উপহার দিয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই শিশুদের কাছে একটি সাইকেল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি তাদের জন্য স্বাধীনতা, শরীরচর্চা এবং নতুন রোমাঞ্চের প্রতীক।   'উইশ ফর হুইলস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্র্যাড অ্যাপেল জানান, নিউ ইয়র্ক সিটিতে কাটানো তার নিজের শৈশব থেকেই এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় রাস্তায় বাতি জ্বলার আগ পর্যন্ত তিনি সাইকেল চালাতেন। কিন্তু কলোরাডোতে আসার পর তিনি উপলব্ধি করেন, এখানকার অনেক শিশুর সেই সুযোগ নেই এবং তারা সাইকেল চালানোর মতো আনন্দদায়ক কাজের সাথে তেমন যুক্ত নয়। মূলত এরপর থেকেই শিশুদের মাঝে সাইকেল বিতরণের এই উদ্যোগ নেন তিনি।   এই কর্মসূচির জন্য মূলত আর্থিক টানাপোড়েনে থাকা পরিবারগুলোর শিশুদের সাহায্যার্থে পরিচালিত স্কুলগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার পেয়ে থাকে।   থর্নটনের নর্থ স্টার এলিমেন্টারি এবং কমার্স সিটির অ্যালসাপ ও কেম্প এলিমেন্টারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সাইকেলগুলো দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার 'বল অ্যারেনা'-তে আয়োজিত এক বিশেষ ইভেন্টে ক্রোয়েঙ্কে স্পোর্টসের কর্মী, মাসকট এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে সাইকেলগুলো জোড়া লাগানোর কাজ করেন। পরে সেগুলো স্কুলে গিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের সাইকেল চালানো শেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।   অ্যালসাপ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষিকা টেলর হার্টে জানান, তার ক্লাসের অনেক শিশুই কখনো সাইকেল চালাতে শেখেনি। নতুন সাইকেল পেয়ে তারা এখন নতুন কিছু শেখার দারুণ সুযোগ পেল। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উপহার শিশুদের কেবল বিনোদনই দেবে না, বরং তাদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে এটি পরিবারগুলোর জন্য যাতায়াতের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এবং শিশুদের নিজেদের চারপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

১২ মিনিট Ago
চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চান
চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছে ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে এক অভাবনীয় ও অদ্ভুত আইনি লড়াইয়ের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি করতে গিয়ে মালিকের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া এক গৃহহীন ব্যক্তি এখন উল্টো ওই মালিকের কাছেই ১০ মিলিয়ন বা এক কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।   কেনেথ ভয়েলস নামের ওই ব্যক্তির অভিযোগ, এই ঘটনার কারণে তিনি চরম ‘মানসিক আঘাত’ বা ইমোশনাল ডিস্ট্রেসের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে পোর্টল্যান্ড-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'টাচস্টোন গ্রানাইট অ্যান্ড মার্বেল ইনকর্পোরেটেড' এবং এর মালিক জেমস গ্রান্টের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, হামলা, অবহেলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মানসিক আঘাত দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন।   মাল্টনোমাহ কাউন্টির আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ ভোরে কেনেথ ভয়েলস একটি ড্রিল মেশিনের ব্যাগ চুরির উদ্দেশ্যে জেমস গ্রান্টের বন্ধ দোকানে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে চুরি করাই তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। ভয়েলসের দাবি, মালিক জেমস গ্রান্ট হঠাৎ দোকানে চলে এলে তিনি ভয় পেয়ে ক্ষমা চান এবং দরজার দিকে দৌড় দেন।   এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রান্ট তার দিকে কফির মগ ও ভারী টাইলস ছুড়ে মারেন এবং একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তবে মালিক জেমস গ্রান্ট এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভয়েলস একটি বোল্ট কাটার হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার দিকে তেড়ে আসছিলেন। নিজের প্রাণ বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেই তিনি বাধ্য হয়ে গুলি চালিয়েছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।   মামলার এজাহারে ভয়েলস উল্লেখ করেছেন, তিনটি গুলি লাগার কারণে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তার ফুসফুস ফুটো হয়ে যায়, বুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ডান হাতের হাড় ভেঙে যায়, যার জন্য তাকে ভাস্কুলার মেরামতসহ একাধিক জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫ মিলিয়ন ডলার এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন।   একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলার জন্য কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে উল্টো মালিকের বিরুদ্ধে এমন মামলার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা একে একটি 'ভিত্তিহীন ও হাস্যকর' মামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন, যে ব্যক্তি নিজেই চুরির কথা স্বীকার করেছেন, তার এমন আইনি পদক্ষেপ নেওয়াটা আইনের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।

৩৬ মিনিট Ago
ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘প্রয়োজন হলে পা ভেঙে দেব’: ইরানের সেনাপ্রধান I গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘প্রয়োজন হলে পা ভেঙে দেব’: ইরানের সেনাপ্রধান

হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ইরান। যেকোনো ধরনের হুমকি মোকাবিলায় ইরানি সেনারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত উল্লেখ করে দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, সুযোগ পেলে তারা ট্রাম্পের ‘পা ভেঙে’ দিতেও পিছপা হবেন না। সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া বার্তা দেন, যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও বেশ গুরুত্বের সঙ্গে প্রচার করা হচ্ছে।   মেজর জেনারেল হাতামি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যকে নিছক ঠাট্টা বা তামাশা হিসেবে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তার দাবি, আরব উপসাগর, ওমান সাগর এবং হরমুজ প্রণালি থেকে ইতোমধ্যে মার্কিন সেনাদের বিতাড়িত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে তাদের আর কোনোভাবেই প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।   এমনকি মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার যেকোনো মার্কিন প্রচেষ্টাও ইরান কঠোরভাবে প্রতিহত করবে বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান।   উল্লেখ্য, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভূখণ্ড’ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তার এই মন্তব্যের জেরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও চরম আকার ধারণ করেছে। ট্রাম্পের এমন অযৌক্তিক দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ও সার্বভৌমত্বের কথা পুনরায় নিশ্চিত করেছে ইরান।   এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ইরানের সেনাপ্রধানের এমন কঠোর বার্তা দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

১ ঘন্টা Ago
সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নিহত, আহত ৩৭ I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ড যাওয়ার পথে পর্যটকবাহী বাস উল্টে ১২ জন নি হত, আ হত ৩৭

হাঙ্গেরির পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং আরও ৩৭ জন আহত হয়েছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) ভোরে মেজোকোভেসদ শহরের কাছে এম-৩ মহাসড়কে সার্বিয়া থেকে পোল্যান্ডগামী একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে গেলে এই মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।   জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা এবং রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এমটিআই-এর দেওয়া তথ্যমতে, পোল্যান্ডে নিবন্ধিত ওই বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুজন চালক ছিলেন। মহাসড়ক দিয়ে নিয়েরেজহাজা শহরের দিকে যাওয়ার সময় সোজা রাস্তা থেকে হঠাৎ ছিটকে পড়ে বাসটি একপাশে কাত হয়ে যায়।   দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই ছিল যে, ঘটনাস্থলেই ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয় এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসের জানালা ভেঙে আটকে পড়া যাত্রীদের উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ধারণা, চলন্ত অবস্থায় চালক ঘুমিয়ে পড়ার কারণেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি খাদে পড়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতিমধ্যে চালককে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক ও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী এবং পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোৎস্কি। পোল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাদোস্লাভ সিকোরস্কি এক বার্তায় জানিয়েছেন, হাঙ্গেরি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে এবং জরুরি কনস্যুলার সেবা চালু করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে শিওফোকে ট্রেনের ধাক্কায় একটি জার্মান পর্যটকবাহী বাসে ৩৩ জন নিহত হওয়ার পর, এটিই হাঙ্গেরির ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
ঋণ, প্রত্যাখ্যান আর ভিসা লটারির ব্যর্থতা, শেষ পর্যন্ত মার্কিন নাগরিকত্ব পেলেন ভারতের সাইমন শেঠি

ভারতের কর্ণাটকের ছোট্ট একটি গ্রাম থেকে শুরু হয়েছিল তার অদম্য এক যাত্রা। যুক্তরাষ্ট্রে পা রাখার সময় পকেটে পর্যাপ্ত টাকা বা চেনা-পরিচিত কেউই ছিল না তার। সেই কপর্দকশূন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী থেকে আজ তিনি একজন সফল টেক-উদ্যোক্তা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গর্বিত নাগরিক। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের এই দীর্ঘ ও কঠিন লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরেছেন সাইমন শেঠি।   কর্ণাটকে বেড়ে ওঠা সাইমন বিশ্বেশ্বরায় টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে পাড়ি জমান যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। বিএসএনএল-এ ইন্টার্ন হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেও পরবর্তীতে টেসলা এবং লিফ্ট-এর মতো শীর্ষস্থানীয় ও বিশ্বমানের কোম্পানিতে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। তবে আরামদায়ক ও উচ্চ বেতনের চাকরির মোহ ছেড়ে ২০২৩ সালে তিনি নিজের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেন, যা তার জীবনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আসে।   স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় তার পথচলা মোটেও মসৃণ ছিল না। ঋণের বোঝা, বারবার চাকরির সাক্ষাৎকারে প্রত্যাখ্যান এবং এইচ-ওয়ানবি (H-1B) ভিসা লটারিতে সুযোগ না পাওয়ার মতো হতাশা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি আসে যখন একসময়ের পরিচিত কিছু মানুষ তার বিরুদ্ধে মার্কিন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে জালিয়াতির মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে।   তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার হীন উদ্দেশ্যেই এই ভিত্তিহীন অভিযোগ করা হয়েছিল। তবে সঠিক পর্যালোচনার পর মার্কিন বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে সত্যের জয় হয় এবং তিনি নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে সক্ষম হন।   নাগরিকত্ব পাওয়ার এই আনন্দঘন মুহূর্তে সাইমন সেইসব অভিবাসীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছেন, যারা এখনও এফ-১ (F-1), এইচ-ওয়ানবি (H-1B), ও-১ (O-1), এল-১ (L-1) ভিসা বা গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় দিন গুনছেন এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের উদ্দেশ্যে সাইমনের সহজ বার্তা— ধৈর্য রাখুন, নিয়ম মেনে চলুন এবং নিজের লক্ষ্যের প্রতি অবিচল থাকুন।   নিজের পোস্টে সাইমন লিখেছেন, "ট্রলরা চেয়েছিল আমাকে নির্বাসনে পাঠাতে। কিন্তু তার বদলে আজ আমি একজন আমেরিকান।" তার এই অনুপ্রেরণাদায়ক পোস্টে নেটিজেনরা অভিবাদন ও প্রশংসার বন্যা বইয়ে দিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১৩:৩৫
টেক্সাস গভর্নরের হস্তক্ষেপের পর ডালাস বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর স্থান (ওজুখানা) নির্মাণের একটি পরিকল্পনা তীব্র বিতর্কের মুখে বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বড় বিমানবন্দরে ধর্মীয় সুবিধার নামে কোনো বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য সরকারি অনুদান খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।   গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর অ্যাবট বলেন, "সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ইসলামিক ওজুর জায়গা নির্মাণের পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সম্ভাব্য অনুদান বাতিলের জন্য রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরের সব সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি তদন্তের জন্য বিষয়টি মার্কিন পরিবহন বিভাগের (ইউএসডিওটি) কাছে পাঠিয়েছি।"   তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বেআইনি ধর্মীয় বৈষম্য বরদাশত করবে না টেক্সাস। গভর্নরের এই কড়া বার্তার পরই ডালাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, তারা তাদের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল (টার্মিনাল ডি)-এর নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে যাত্রীদের জন্য একটি ওজুখানা স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছিল। কিন্তু জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং প্রকল্পটি নিয়ে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ধরনের পরিচালনগত সুবিধার আশা করা হয়েছিল, সেটি পূরণ হবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত।   এর আগে গত ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের কাছে প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়নের উৎসের জায়গায় ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ উল্লেখ করা হয়েছিল। কথা ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।   তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, নথিপত্রে উল্লেখ করা এসব তথ্য আসলে তাদের বহিরাগত নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘করণিক ভুল’ ছিল। বিমানবন্দরটির একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, ৩ লাখ ডলারের হিসাবটি ছিল একটি প্রাথমিক উচ্চ ধারণা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এর প্রকৃত ব্যয় হতো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ কথাটিও ভুলবশত লেখা হয়েছিল। অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পেও বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা ছিল। বিমানবন্দরটি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে না, বরং পার্কিং ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একটি ওজুখানা এবং এর সংলগ্ন একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে।   মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর অ্যাবট মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উভয় বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "এই ওজুখানাগুলো দৃশ্যত নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধানে এ ধরনের বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া নিষেধ। সরকার যেমন পবিত্রতার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, তেমনি অন্য সব মতাদর্শের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকেও বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।"   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোতেও, যেমন, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ধরনের নিচু বেসিন বা ওজুখানা এবং সর্বজনীন প্রার্থনার স্থান রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোতে ২০০ সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে বিনামূল্যে সাইকেল ও হেলমেট উপহার

যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাল 'উইশ ফর হুইলস' এবং 'ক্রোয়েঙ্কে স্পোর্টস চ্যারিটিজ'। এক যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা ডেনভার মেট্রো এলাকার ২০০ জনেরও বেশি দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণ নতুন সাইকেল এবং হেলমেট উপহার দিয়েছে। আয়োজকদের মতে, এই শিশুদের কাছে একটি সাইকেল শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি তাদের জন্য স্বাধীনতা, শরীরচর্চা এবং নতুন রোমাঞ্চের প্রতীক।   'উইশ ফর হুইলস'-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্র্যাড অ্যাপেল জানান, নিউ ইয়র্ক সিটিতে কাটানো তার নিজের শৈশব থেকেই এই উদ্যোগের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন তিনি। ছোটবেলায় রাস্তায় বাতি জ্বলার আগ পর্যন্ত তিনি সাইকেল চালাতেন। কিন্তু কলোরাডোতে আসার পর তিনি উপলব্ধি করেন, এখানকার অনেক শিশুর সেই সুযোগ নেই এবং তারা সাইকেল চালানোর মতো আনন্দদায়ক কাজের সাথে তেমন যুক্ত নয়। মূলত এরপর থেকেই শিশুদের মাঝে সাইকেল বিতরণের এই উদ্যোগ নেন তিনি।   এই কর্মসূচির জন্য মূলত আর্থিক টানাপোড়েনে থাকা পরিবারগুলোর শিশুদের সাহায্যার্থে পরিচালিত স্কুলগুলোকে বেছে নেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রায় ৮০ থেকে ১০০ শতাংশ শিক্ষার্থীই বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার পেয়ে থাকে।   থর্নটনের নর্থ স্টার এলিমেন্টারি এবং কমার্স সিটির অ্যালসাপ ও কেম্প এলিমেন্টারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের এই সাইকেলগুলো দেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার 'বল অ্যারেনা'-তে আয়োজিত এক বিশেষ ইভেন্টে ক্রোয়েঙ্কে স্পোর্টসের কর্মী, মাসকট এবং স্বেচ্ছাসেবকরা মিলে সাইকেলগুলো জোড়া লাগানোর কাজ করেন। পরে সেগুলো স্কুলে গিয়ে শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের সাইকেল চালানো শেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়।   অ্যালসাপ এলিমেন্টারি স্কুলের শিক্ষিকা টেলর হার্টে জানান, তার ক্লাসের অনেক শিশুই কখনো সাইকেল চালাতে শেখেনি। নতুন সাইকেল পেয়ে তারা এখন নতুন কিছু শেখার দারুণ সুযোগ পেল। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উপহার শিশুদের কেবল বিনোদনই দেবে না, বরং তাদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করবে। একইসঙ্গে এটি পরিবারগুলোর জন্য যাতায়াতের একটি বিকল্প মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে এবং শিশুদের নিজেদের চারপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখার সুযোগ তৈরি করে দেবে।

চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ চান
চুরি করতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ চোর, এখন মালিকের কাছে ১০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগনে এক অভাবনীয় ও অদ্ভুত আইনি লড়াইয়ের খবর প্রকাশ্যে এসেছে। একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চুরি করতে গিয়ে মালিকের হাতে গুলিবিদ্ধ হওয়া এক গৃহহীন ব্যক্তি এখন উল্টো ওই মালিকের কাছেই ১০ মিলিয়ন বা এক কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন।   কেনেথ ভয়েলস নামের ওই ব্যক্তির অভিযোগ, এই ঘটনার কারণে তিনি চরম ‘মানসিক আঘাত’ বা ইমোশনাল ডিস্ট্রেসের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরের মে মাসে পোর্টল্যান্ড-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'টাচস্টোন গ্রানাইট অ্যান্ড মার্বেল ইনকর্পোরেটেড' এবং এর মালিক জেমস গ্রান্টের বিরুদ্ধে ব্যাটারি, হামলা, অবহেলা এবং ইচ্ছাকৃতভাবে মানসিক আঘাত দেওয়ার অভিযোগ এনে তিনি এই মামলাটি দায়ের করেন।   মাল্টনোমাহ কাউন্টির আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৬ মার্চ ভোরে কেনেথ ভয়েলস একটি ড্রিল মেশিনের ব্যাগ চুরির উদ্দেশ্যে জেমস গ্রান্টের বন্ধ দোকানে অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন যে চুরি করাই তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল। ভয়েলসের দাবি, মালিক জেমস গ্রান্ট হঠাৎ দোকানে চলে এলে তিনি ভয় পেয়ে ক্ষমা চান এবং দরজার দিকে দৌড় দেন।   এ সময় ক্ষুব্ধ গ্রান্ট তার দিকে কফির মগ ও ভারী টাইলস ছুড়ে মারেন এবং একপর্যায়ে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালান। তবে মালিক জেমস গ্রান্ট এই অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, ভয়েলস একটি বোল্ট কাটার হাতে নিয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তার দিকে তেড়ে আসছিলেন। নিজের প্রাণ বাঁচাতে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতেই তিনি বাধ্য হয়ে গুলি চালিয়েছিলেন বলে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন।   মামলার এজাহারে ভয়েলস উল্লেখ করেছেন, তিনটি গুলি লাগার কারণে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। তার ফুসফুস ফুটো হয়ে যায়, বুকে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং ডান হাতের হাড় ভেঙে যায়, যার জন্য তাকে ভাস্কুলার মেরামতসহ একাধিক জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিনি ৫ মিলিয়ন ডলার এবং শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ হিসেবে আরও ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছেন।   একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানে অনুপ্রবেশকারীদের মোকাবিলার জন্য কর্মীদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকার অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে চুরির উদ্দেশ্যে ঢুকে উল্টো মালিকের বিরুদ্ধে এমন মামলার খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নেটিজেনরা একে একটি 'ভিত্তিহীন ও হাস্যকর' মামলা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলছেন, যে ব্যক্তি নিজেই চুরির কথা স্বীকার করেছেন, তার এমন আইনি পদক্ষেপ নেওয়াটা আইনের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়।

মেজর জেনারেল আমির হাতামি। ছবি:সংগৃহীত
মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার ঘোষণা ইরানের সেনাপ্রধানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে প্রতিটি মার্কিন সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে ৩০ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ মেজর জেনারেল আমির হাতামি।   রোববার ইরানের সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে হাতামি এ ঘোষণা দেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ইরানি বাহিনীর কোনো সদস্য একজন মার্কিন ‘আগ্রাসী’ সেনাকে হত্যা বা বন্দি করতে পারলে জনগণের অংশগ্রহণে তাকে এই অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে।   হাতামির এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাতের কোনো স্থায়ী সমাধান এখনো হয়নি। যুদ্ধবিরতি ও অন্তর্বর্তী সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা থাকলেও সর্বশেষ আলোচনাতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।   সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়েই নিয়ন্ত্রণের দাবি করছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলো ঘিরে নৌ অবরোধ বজায় রাখার কথা জানিয়েছে এবং প্রয়োজনে সেটি অনির্দিষ্টকাল চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার কথাও বলেছে।   অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা দাবি করছেন, হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সত্ত্বেও ইরান নিজেদের শর্ত ছাড়া নৌপথটি স্বাভাবিকভাবে খুলবে না। এর ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এই সংঘাতের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রও মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক উপস্থিতি বজায় রেখেছে। মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ২৪০ দিনের বেশি সময় ধরে মোতায়েন রয়েছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকার কারণে রণতরীটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য, পানি ও অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগের কথা মার্কিন আইনপ্রণেতারা জানিয়েছেন।   এই দীর্ঘমেয়াদি মোতায়েনের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর ফলে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাময়িকভাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরীর উপস্থিতি কমে যাচ্ছে, যা চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার মধ্যে নতুন কৌশলগত উদ্বেগ তৈরি করেছে।   এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ইরানের হামলায় মার্কিন সেনা নিহত হলে তেহরানকে এর জন্য বড় মূল্য দিতে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। একই সময়ে ইরানও যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।   ফলে দুই দেশের মধ্যে শুধু সামরিক সংঘাতই নয়, পাল্টাপাল্টি হুমকি, অবরোধ, পুরস্কার ঘোষণা এবং কূটনৈতিক চাপও ক্রমেই বাড়ছে।   আমির হাতামির ৩০ হাজার ডলারের এই ঘোষণা সেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। তবে ঘোষণাটি বাস্তবে কীভাবে কার্যকর করা হবে, পুরস্কারের অর্থ কে দেবে এবং এ ধরনের কোনো পুরস্কার ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার পথ পুরোপুরি বন্ধ না হলেও হরমুজ প্রণালি, নৌ অবরোধ, সামরিক অভিযান এবং ক্ষতিপূরণের মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশের অবস্থান এখনো ব্যাপকভাবে ভিন্ন। ফলে সামরিক উত্তেজনা কমানোর বদলে পাল্টাপাল্টি চাপের এই পরিস্থিতি আরও কতদিন চলবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সামরিক পরিবারের জন্য বিশেষ সুবিধার আবেদন চলাকালীনই মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ে গ্রেস ওর্তেগার বাবা হুয়ান ওর্তেগাকে মেক্সিকোয় বহিষ্কার করা হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন সেনাসদস্য মেয়ের আবেদনও রক্ষা করতে পারল না বাবাকে, মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দিল ট্রাম্প প্রশাসন

মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত গ্রেস ওর্তেগার বাবা হুয়ান ওর্তেগাকে গত ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্র থেকে মেক্সিকোয় ফেরত পাঠানো হয়েছে। মেয়ের মাধ্যমে সামরিক পরিবারের সদস্যদের জন্য দেওয়া বিশেষ থাকার অনুমতির আবেদন চলমান থাকা অবস্থাতেই তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরিবারের দাবি, মেক্সিকোতে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করেননি হুয়ান।   গ্রেস ওর্তেগা ২০২৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তাঁর সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার অন্যতম কারণ ছিল সামরিক বাহিনীর একটি কর্মসূচি, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে অনুমতি ছাড়া থাকা সেনাসদস্যদের নিকট পরিবারের সদস্যদের জন্য সাময়িকভাবে থাকার অনুমতি পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। হুয়ানও মেয়ের মাধ্যমে এই সুবিধার জন্য আবেদন করেছিলেন।   গ্রেস জানান, ভালো একটি চাকরি পাওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করার পাশাপাশি পরিবারের সুরক্ষার আশাতেও তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর বাবা বহিষ্কারের শিকার হওয়ায় তিনি নিজের দেশের কাছ থেকে বিশ্বাসঘাতকতার অনুভূতি পেয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হুয়ান অভিবাসন কর্মকর্তাদের জানিয়েছিলেন যে মেয়ের মাধ্যমে তাঁর থাকার অনুমতির আবেদন চলমান রয়েছে।   পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, হুয়ানকে মে মাসে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকেই বহিষ্কারের চূড়ান্ত আদেশ ছিল বলে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে। সংস্থাটি আরও বলেছে, ২০১৬ সালে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে তাঁর একটি গ্রেপ্তারের ঘটনা ছিল এবং ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ দেওয়া হয়। তবে সংস্থাটি ওই গ্রেপ্তারের কোনো প্রমাণ দেয়নি এবং তখন তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল কি না, সেটিও জানায়নি।   হুয়ান গ্রেপ্তারের পরও মেয়ের মাধ্যমে করা সামরিক পরিবারের জন্য থাকার অনুমতির আবেদন থেকে আশাবাদী ছিলেন। তিনি তাঁর অভিবাসন মামলা পুনরায় খোলার আবেদনও করেছিলেন এবং মেয়ের সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকার বিষয়টি তার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তবে তাঁর আবেদনগুলো বহিষ্কারের পরও কার্যকর ছিল কি না, তা স্পষ্ট হয়নি।   গ্রেসের বাবা প্রায় ছয় সপ্তাহ অভিবাসন আটককেন্দ্রে ছিলেন। গ্রেস জানান, সেখানে থাকার সময় তাঁর বাবা প্রায় ১৪ কেজি ওজন হারান এবং হার্নিয়ায় আক্রান্ত হন। হুয়ান আটককেন্দ্রের খাবার, ঘুমানোর ব্যবস্থা, পানির ব্যবস্থা ও গোসলের সুযোগ নিয়েও অভিযোগ করেন।   হুয়ানের আইনজীবী তাঁকে মুক্ত করার জন্য আদালতে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু ওই আবেদনের পরপরই ৪ জুলাই তাঁকে মেক্সিকোয় পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। হুয়ানের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁকে মেক্সিকোর চিয়াপাসে নিয়ে যাওয়া হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্তবর্তী পরিবারের কাছ থেকে অনেক দূরের একটি এলাকা।   মেক্সিকোয় পৌঁছানোর পর হুয়ান ও অন্য বহিষ্কৃত ব্যক্তিরা বাসস্টেশনে যাওয়ার জন্য গাড়ি খুঁজছিলেন। তাঁর দাবি, কয়েকজন চালক তাঁদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করে এবং অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা পরিবারের কাছ থেকে আরও অর্থ নেওয়ার হুমকি দেয়। হুয়ানের কাছে থাকা ৪০০ মেক্সিকান মুদ্রা দেওয়ার পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে তিনি জানান। পরে তিনি মেক্সিকোর সিউদাদ হুয়ারেসে থাকা পরিবারের সদস্যদের কাছে পৌঁছান।   হুয়ান এখন মেক্সিকোয় পরিবারের সঙ্গে থাকার চেষ্টা করছেন। তবে তাঁর স্ত্রী ও চার সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে রয়ে গেছেন। গ্রেস জানান, তাঁর বাবা আগে পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী ছিলেন। পরিবারের ছোট ছেলেটির বয়স সাত বছর এবং সে সেরিব্রাল পালসিতে আক্রান্ত। তার নিয়মিত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে হুয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন।   মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্য সেনাবাহিনীতে কর্মরত থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সামরিক থাকার অনুমতি, বৈধ অভিবাসন মর্যাদা বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থা থেকে ছাড় পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষও সামরিক পরিবারের সদস্যদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সাময়িক থাকার অনুমতি বা অন্য কিছু সুবিধা দেওয়ার সুযোগ রাখে বলে জানিয়েছে।   এদিকে গ্রেসের ঘটনায় সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার নিয়ে বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে সক্রিয় দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্যদের অন্তত ৫২ জন বাবা-মা ও স্বামী বা স্ত্রীকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ গ্রেপ্তার করে আটক করেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ছয়জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং একজন নিজে থেকে যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন।   গ্রেস ওর্তেগার ক্ষেত্রে তাঁর বাবার আবেদন চলমান থাকা সত্ত্বেও তাঁকে মেক্সিকোয় পাঠানো হয়েছে। গ্রেস বলেন, তিনি দেশের জন্য কাজ করতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন এবং বাবাকে সুরক্ষা দেওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও আশা করেছিলেন। বাবাকে বহিষ্কারের পর সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
মুসলিম হওয়ায় ১৭ দিন ধরে পানি-বিদ্যুৎহীন কলকাতার ৫০০ পরিবার
মুসলিম হওয়ায় ১৭ দিন ধরে পানি-বিদ্যুৎহীন কলকাতার ৫০০ পরিবার
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ৪:৪২

পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে বৈষম্যের অভিযোগের মধ্যেই কলকাতার কাশীপুরের জ্যোতিনগর কলোনিতে নাগরিক সুবিধা নিয়ে নতুন করে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গত ১৭ দিন ধরে কলোনির প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার সুপেয় পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে চরম দুর্ভোগে রয়েছে।   কলকাতা সিটি করপোরেশনের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীপুর জেটিসংলগ্ন এই কলোনিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছেন এসব পরিবার। স্থানীয়দের দাবি, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে তাদের মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।   বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘ ১৭ দিন ধরে কলোনিতে সুপেয় পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরলেও অনেক ল্যাম্পপোস্টে এখনো বিদ্যুৎ নেই বলে অভিযোগ তাদের। ফলে রাতের বেলায় চলাচলসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বাসিন্দাদের।   জ্যোতিনগর কলোনির অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ। অনেক পরিবার ৫০ থেকে ৬০ বছর, আবার কেউ কেউ প্রায় ৭০ বছর ধরে বংশপরম্পরায় সেখানে বসবাস করছেন। দীর্ঘদিনের বসবাস সত্ত্বেও মৌলিক নাগরিক সুবিধার জন্য তাদের বারবার কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।   পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় অনেক পরিবার এখন কলোনির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গঙ্গা থেকে পানি সংগ্রহ করে রান্নাসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে। তবে নদীতে বিভিন্ন স্থান থেকে দূষিত পানি মেশার কারণে এই পানি ব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।   কলোনিতে পাঁচটি পানির কল রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, এসব কলের পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার ফলে প্রায় ৫০০ মুসলিম পরিবার চরম সংকটে পড়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য কলকাতা সিটি করপোরেশন ও প্রশাসনের কাছে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কার্যকর ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে দাবি তাদের।   স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, পানি ও বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে ধর্মীয় পরিচয়ের পাশাপাশি রাজনৈতিক কারণও রয়েছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজেপিকে ভোট না দেওয়ার কারণে তাদের ওপর ক্ষোভ থেকে এমন বৈষম্যমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করছেন তারা।   কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির রিতেশ তিওয়ারি নির্বাচিত হওয়ার পর মুসলিমদের ভোট না পাওয়ার বিষয়ে তাঁর প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই বক্তব্যের পর তাদের আশঙ্কা আরও বেড়েছে যে ভোটের কারণে তাদের এলাকার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে।   তবে পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সঙ্গে বিধায়কের ওই বক্তব্য বা কোনো নির্দিষ্ট নির্দেশের সরাসরি সম্পর্কের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ সামনে আসেনি।   এদিকে, স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, পানি সরবরাহ বন্ধ রাখার পেছনে কলোনি উচ্ছেদের পরিকল্পনাও থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের পক্ষেও এখনো কোনো সরকারি নথি বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   সব মিলিয়ে, ১৭ দিন ধরে সুপেয় পানি না থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি ও দিনমজুর পরিবারগুলো। দ্রুত পানি সরবরাহ পুনরায় চালু, বিদ্যুৎ সংযোগ পুরোপুরি ফিরিয়ে দেওয়া এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন জ্যোতিনগর কলোনির বাসিন্দারা।   নাগরিক সুবিধা বন্ধের প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে ধর্মীয় পরিচয় বা রাজনৈতিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না—তা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:৫২

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে।   স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে।   হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে।   হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।   স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।   স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক।   হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার মানুষ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:১

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক, ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।    শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূকম্পন ও আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাজেওকেও এলাকার কাছে সমুদ্রের নিচে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার।    ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং অনেক মানুষ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিক্কা, নাজেওকেও, মাঙ্গারাই ও পূর্ব মাঙ্গারাই। সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছেন।    ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।    ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছিল।    উদ্ধারকাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।   ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে হাজার হাজার সামরিক ও পুলিশ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানো, আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফটারশক অব্যাহত থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভূমিকম্পে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।   বর্তমান ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের
চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১:৫৪

সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির তত্ত্বাবধানে বিধ্বস্ত ইউএফও থেকে উদ্ধার করা জীবন্ত ‘এলিয়েন’ আটকে রাখার একটি ঘটনা পরিচালিত হয়েছিল—এমন দাবি করেছেন ইউএফও-বিষয়ক হুইসেলব্লোয়ার ডেভিড গ্রুশ।   বৃহস্পতিবার ‘দ্য ড. ফিল পডকাস্টে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা গ্রুশ দাবি করেন, তিনি এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে চেনেন, যারা কথিত এলিয়েনদের আটকে রাখার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।   গ্রুশ বলেন, তিনি সাবেক এক মন্ত্রিসভা সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি একজন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের হয়ে এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাজ করতেন। ওই ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিচয় বোঝাতে তিনি ‘ডার্থ ভেডার’ নামটি ব্যবহার করেন। ডিক চেনি জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাঁর সমালোচকেরা প্রায়ই এই নামে অভিহিত করতেন।   গ্রুশের দাবি, কথিত এলিয়েন ও মানুষের মধ্যে একধরনের চেতনা-নির্ভর যোগাযোগ হয়েছিল। প্রচলিত ভাষায় যাকে টেলিপ্যাথি বলা হয়, সেই ধরনের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে কীভাবে এই যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন বলে জানান।   এর আগে ২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে গ্রুশ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউএফও থেকে উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এবং এগুলো নিয়ে গোপন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   নতুন সাক্ষাৎকারে গ্রুশ আরও দাবি করেন, মার্কিন সরকারের কাছে ২৫ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ইউএফও থাকতে পারে। এসব ইউএফও থেকে ‘পাইলট’ উদ্ধারের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।   তবে জীবন্ত এলিয়েন উদ্ধার, তাদের আটকে রাখা কিংবা মানুষের সঙ্গে কথিত টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রুশের বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়, তাঁর করা দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ডিক চেনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে মারা যান।   গ্রুশের নতুন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন ইউএফও কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সরকারি নথি প্রকাশের বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.10K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
889 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.01K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
862 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়