Live update news
ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রাণবন্ত মিছিল ছবি:সংগৃহীত
মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে ছুটি দেয় বহু মুসলিম দেশ, ব্যতিক্রম সৌদি আরবসহ কয়েকটি

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী বা মাওলিদুন্নবী পালিত হলেও সব দেশে এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি নেই। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বহু দেশে দিনটি সরকারি ছুটির তালিকায় থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি মুসলিম দেশে এর চিত্র ভিন্ন।   ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা হয়। অঞ্চলভেদে এটি ঈদে মিলাদুন্নবী, মাওলিদ আল-নবী কিংবা মাওলিদুন্নবী নামে পরিচিত। তবে চাঁদ দেখার ওপর ইসলামি মাস নির্ভর করায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে দেশভেদে পালনের তারিখে এক দিনের পার্থক্য হতে পারে।   লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর বড় একটি অংশ দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনেই, সেনেগাল, সোমালিয়া, সুদান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ রয়েছে। দেশভেদে ছুটির তারিখ অবশ্য স্থানীয় চাঁদ দেখা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।   বাংলাদেশেও ঈদে মিলাদুন্নবী সরকারি ছুটির দিন। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারে দিনটি ২৬ আগস্ট পড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। তবে ইসলামি মাসের তারিখ চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় চূড়ান্ত তারিখ সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।   পাকিস্তানেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটির প্রচলন রয়েছে। আফগানিস্তান, আলজেরিয়া ও বাহরাইনসহ আরও বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রেও মাওলিদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। তবে সব মুসলিম দেশ একই ধর্মীয় ও প্রশাসনিক পদ্ধতিতে দিনটি পালন করে না।   সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন সরকারি ছুটির অন্তর্ভুক্ত। দেশটির সরকার ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল সরকার ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের ২৮ আগস্ট বেতনসহ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ আগের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসে ২৫ আগস্টের কথা থাকলেও সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্তে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ আগস্ট।   অন্যদিকে সৌদি আরবে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে আলাদা সরকারি ছুটি নেই। দেশটিতে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত সরকারি ছুটির কাঠামো অন্য অনেক মুসলিম দেশের তুলনায় আলাদা। মাওলিদ পালন নিয়ে ইসলামী চিন্তাধারার মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে, আর সৌদি আরবে প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় দিনটিকে আলাদা উৎসব হিসেবে পালনের ঐতিহ্য নেই।   লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদনে সৌদি আরবের পাশাপাশি কাতারকেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে সরকারি ছুটি না দেওয়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দেশে সরকারি ছুটি না থাকার অর্থ সেখানে মহানবী (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা বা ধর্মীয় গুরুত্ব নেই - এমন নয়। মূল পার্থক্যটি দিনটিকে আলাদা ধর্মীয় উৎসব ও রাষ্ট্রীয় ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে।   ওমানে আবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশটি ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার আগেই প্রকাশ করেছে এবং সেখানে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন ধর্মীয় ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সূচিতে ২৭ আগস্ট এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।   ভারত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ না হলেও দেশটির সরকারি ছুটির তালিকায় মিলাদুন্নবী গেজেটেড হলিডে হিসেবে রয়েছে। ২০২৬ সালে সেখানে ২৬ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে মাওলিদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই সীমাবদ্ধ নয়।   সব মিলিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এটি পালনের রাষ্ট্রীয় রীতি সর্বত্র এক নয়। কোথাও দিনটি সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়, আবার কোথাও আলাদা সরকারি ছুটি নেই। এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে দেশভেদে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, ঐতিহ্য এবং সরকারি ছুটির নিজস্ব নীতি।

১২ মিনিট Ago
মুম্বাইয়ের বান্দ্রা কুরলা কমপ্লেক্সে (বিকেসি) অবস্থিত ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (এনএসই) ছবি:সংগৃহীত
তেলের দাম ও বৈশ্বিক বন্ডের চাপে ভারতের শেয়ারবাজারে টানা সপ্তম দিনের পতন

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় তেলের দাম বৃদ্ধি এবং বিশ্বজুড়ে সরকারি বন্ডের উচ্চ সুদের চাপ ভারতের শেয়ারবাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বুধবার ভারতের প্রধান দুই সূচক সেনসেক্স ও নিফটি আবারও নিচে নেমেছে। বিশেষ করে নিফটি টানা সপ্তম দিনের মতো পতনের মুখে পড়েছে।   বুধবারের লেনদেনে নিফটি ৫০ সূচক ০ দশমিক ৩৫ শতাংশ কমে ২৪ হাজার ৭০ দশমিক ৬৫ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে বিএসই সেনসেক্স ০ দশমিক ৩২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৯৯১ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে। টানা সাত সেশনে নিফটির মোট পতন হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ।   বাজারে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করছে আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনের সম্ভাবনা দুর্বল হয়ে পড়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯২ ডলারে উঠেছে। বুধবার ব্রেন্ট ক্রুড ৯১ দশমিক ৬২ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং টানা চতুর্থ দিনের মতো দাম বাড়ে।   ভারতের জন্য তেলের দাম বৃদ্ধি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক এবং নিজেদের প্রয়োজনের বড় অংশই বিদেশ থেকে কিনতে হয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে ভারতের আমদানি ব্যয় বাড়তে পারে, মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি হতে পারে এবং রুপির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।   এর সঙ্গে নতুন উদ্বেগ হিসেবে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক বন্ডবাজার। যুক্তরাষ্ট্রসহ উন্নত অর্থনীতিগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি বন্ডের সুদ প্রায় ২০ বছরের উচ্চতার আশপাশে অবস্থান করছে। উচ্চ বন্ড সুদ বিনিয়োগকারীদের জন্য শেয়ারের তুলনায় বন্ডকে বেশি আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে, যা ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।   বুধবার ভারতের বাজারে পতনও ছিল বেশ বিস্তৃত। রয়টার্সের হিসাবে, প্রধান ১৬টি খাতের মধ্যে ১৩টিই নিচে নেমেছে। মিড-ক্যাপ ও স্মল-ক্যাপ সূচকও প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করে কমেছে। ফলে শুধু কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দরপতন নয় - বাজারের বড় অংশেই বিক্রির চাপ দেখা গেছে।   ভারতের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক খাতও চাপের বাইরে থাকতে পারেনি। ফাইন্যান্সিয়াল স্টকগুলোর সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। তবে টানা দরপতনের পর তথ্যপ্রযুক্তি খাত কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং আইটি সূচক প্রায় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।   তবে নেতিবাচক বাজারেও কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারে বড় উত্থান হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি কয়লা সরবরাহ চুক্তি পাওয়ার পর প্রিজম জনসনের শেয়ার প্রায় ৮ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। সরকারি প্রণোদনার খবরে ইন্দ্রপ্রস্থ গ্যাস ও মহানগর গ্যাসের শেয়ারও বেড়েছে।   দিনের সবচেয়ে নজরকাড়া ঘটনা ছিল লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠান শিপরকেটের শেয়ারবাজারে অভিষেক। প্রায় ১৭ কোটি ডলারের আইপিওর পর প্রথম দিনের লেনদেনেই প্রতিষ্ঠানটির শেয়ার প্রায় ৩৫ শতাংশ লাফিয়ে ওঠে। সামগ্রিক বাজারে চাপ থাকলেও নতুন তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানটির ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীদের শক্তিশালী আগ্রহ দেখা গেছে।   এদিকে ভারতের বন্ডবাজারেও তেলের দাম ও আন্তর্জাতিক সুদের প্রভাব রয়েছে। বুধবার ভারতের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদ কিছুটা কমে প্রায় ৬ দশমিক ৮২ শতাংশে এলেও উচ্চ তেলের দাম এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা বাজারের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবেই রয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে ভারতের শেয়ারবাজারে বর্তমান চাপের পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ করপোরেট পরিস্থিতির চেয়ে আন্তর্জাতিক কারণই বড় হয়ে উঠেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কত দ্রুত কমে, হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন কতটা স্বাভাবিক হয় এবং বিশ্ববাজারে বন্ডের সুদ কোন দিকে যায় - আগামী কয়েক দিনে ভারতের শেয়ারবাজারের গতিপথ নির্ধারণে এই তিন বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

২৮ মিনিট Ago
আমেরিকান সুপারমার্কেট চেইন পাবলিক্স ছবি:সংগৃহীত।
সুপারমার্কেটে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফেডারেল কোর্টে ক্রেতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগে পাবলিক্সের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন এক ক্রেতা। দুর্ঘটনায় শারীরিক আঘাত ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। মামলাটি এখন টেনেসির ফেডারেল আদালতে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশভিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে পাবলিক্স সুপারমার্কেটে। ওই ব্যক্তি কেনাকাটার জন্য স্টোরে প্রবেশ করার পর ভেতরে পা পিছলে পড়ে যান। তার অভিযোগ, পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার হন এবং এর পর থেকে তাকে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।   মামলায় ওই ক্রেতার অভিযোগ, পাবলিক্সের দায়িত্ব ছিল স্টোরের ভেতরের পরিবেশ ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ রাখা। কোনো বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হলে সেটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অথবা ক্রেতাদের যথাযথভাবে সতর্ক করা উচিত ছিল। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন ফেডারেল আদালতে পৌঁছেছে। বাদীপক্ষ এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে এই অর্থ আদালতের দেওয়া কোনো ক্ষতিপূরণ নয়। মামলায় ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এটি।বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই নির্ধারণ করবে পাবলিক্সের কোনো দায় রয়েছে কি না এবং থাকলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কত হবে।   এ ধরনের মামলা যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ‘প্রিমাইসেস লায়াবিলিটি’ আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা আহত হলে শুধু দুর্ঘটনা ঘটেছে - এটুকু দিয়েই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করা যায় না।   বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল কি না, প্রতিষ্ঠানটি সেটি জানত বা যুক্তিসংগতভাবে জানা উচিত ছিল কি না এবং ক্রেতাকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না - এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।ফলে এই মামলার অন্যতম প্রশ্ন হবে, পাবলিক্সের ভেতরে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি পিছলে পড়েছিলেন এবং দুর্ঘটনার আগে সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টোর কর্তৃপক্ষ জানত কি না। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্টোরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার পর ওই ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত মামলায় আনা অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের দাবি। আদালত পাবলিক্সকে দায়ী করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে - এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিকেও চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষের নথি, সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পরই দায় নির্ধারণ করবেন আদালত।   যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেট, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় প্রায়ই এ ধরনের মামলা হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি মামলার ফল নির্ভর করে ঘটনার পরিস্থিতি ও প্রমাণের ওপর। বিশেষ করে নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান আগে থেকে জানত কি না - সেটিই অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।   ন্যাশভিলের এই মামলাতেও এখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবে ফেডারেল আদালত। কেনাকাটা করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ ডলারের আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে - তবে পাবলিক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত।

৪৪ মিনিট Ago
ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ শীর্ষ সম্মেলন চলাকালীন সময়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ছবি:সংগৃহীত
শেষ মুহূর্তে কানাডার ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক স্থগিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের, ‘চুক্তি হয়েছে’ দাবি

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে বড় ধরনের বাণিজ্য সংঘাত আপাতত শেষ মুহূর্তে এড়ানো গেল। কানাডা থেকে আমদানি করা নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত তিন দিনের জন্য স্থগিত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   বুধবার থেকে এই শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি, দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং এখন চূড়ান্ত নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলছে।   ⁠ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ‘চুক্তি’ হয়েছে। তবে সেটি এখনো প্রয়োজনীয় নথিপত্র চূড়ান্ত করার ওপর নির্ভরশীল। এই কারণেই কানাডার বিরুদ্ধে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ শুল্ক তিন দিনের জন্য স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।   ⁠প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর বিবৃতি দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি সরাসরি চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে এমন ঘোষণা না দিয়ে বলেন, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ এখনো শেষ করা বাকি। ⁠   মঙ্গলবার বিকেলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির মধ্যে ফোনে কথা হয়। চলতি সপ্তাহে এটি ছিল দুই নেতার দ্বিতীয় আলোচনা। এর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য কর্মকর্তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। শুল্ক কার্যকরের সময়সীমা যত ঘনিয়ে আসছিল, সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপও তত বাড়ছিল।   ⁠নতুন ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতায় প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের কানাডীয় পণ্য পড়ার কথা ছিল। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, হকি সরঞ্জাম এবং কাঠজাত পণ্যসহ বিভিন্ন খাতে এর প্রভাব পড়তে পারত। কানাডার মোট মার্কিনমুখী রপ্তানির তুলনায় এর পরিমাণ সীমিত হলেও ছোট ব্যবসা ও নির্দিষ্ট শিল্পের জন্য বড় চাপ তৈরির আশঙ্কা ছিল। ⁠   দুই দেশের আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল কানাডার বাজারে মার্কিন পণ্যের প্রবেশাধিকার। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তিতে মার্কিন পণ্যের জন্য বিস্তৃত বাজার প্রবেশাধিকার, অর্থনৈতিক নিরাপত্তাসংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং ডিজিটাল বাণিজ্যে সমন্বয়ের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   ⁠হোয়াইট হাউসের ঘোষণায় বলা হয়েছে, দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল ও মোটরযানের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের উদ্বেগ সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে কানাডা। বিশেষ করে কানাডার দুগ্ধ বাজারে প্রবেশাধিকার এবং বিভিন্ন প্রদেশে মার্কিন অ্যালকোহল বিক্রির বিধিনিষেধ নিয়ে ওয়াশিংটনের আপত্তি দীর্ঘদিনের। ⁠   গাড়ির ওপর শুল্কও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, কানাডায় তৈরি গাড়ির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ২৫ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে ১৫ শতাংশ করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। গাড়িতে কত শতাংশ মার্কিন যন্ত্রাংশ ব্যবহার করা হয়েছে, তার ভিত্তিতে শুল্ক আরও কমানোর ব্যবস্থাও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব বিষয় এখনো চূড়ান্ত চুক্তির অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। ⁠   এই আলোচনার মধ্যে আরেকটি পুরোনো প্রকল্প নতুন করে সামনে এনেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প - কিস্টোন এক্সএল তেল পাইপলাইন। কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে তেল পরিবহনের জন্য পরিকল্পিত বিতর্কিত প্রকল্পটি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময় বাতিল হয়েছিল।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নতুন যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সমঝোতার অংশ হিসেবে প্রকল্পটি আবারও আলোচনায় ফিরতে পারে।   ⁠তবে তিন দিনের শুল্ক স্থগিতাদেশকে এখনই যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা বাণিজ্য বিরোধের স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলছেন চুক্তি হয়েছে, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য তুলনামূলক সতর্ক। তার ভাষায়, উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা এখনো শেষ হয়নি। ⁠   কানাডার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশটির মোট রপ্তানির প্রায় ৭২ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ফলে নতুন করে বড় শুল্ক কার্যকর হলে কানাডার উৎপাদক, রপ্তানিকারক এবং কর্মসংস্থানে চাপ তৈরির আশঙ্কা ছিল। একই সঙ্গে পাল্টা ব্যবস্থা নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা ও ভোক্তাদের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারত।   ⁠ফলে তিন দিনের এই বিরতি মূলত ওয়াশিংটন ও অটোয়াকে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য আরও কিছুটা সময় দিল। এখন নজর থাকবে সেই নথিপত্রে - কারণ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষায় দুই দেশের ‘চুক্তি’ হয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির বক্তব্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার শুল্ক যুদ্ধ পুরোপুরি শেষ হয়েছে বলার সময় এখনো আসেনি।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
আর মাত্র ৫ দিন! ভার্জিনিয়ায় মেজবানি ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রথমবার বৃহত্তর ডিসি মেট্রোতে নকীব খানের সঙ্গীত

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুল প্রতীক্ষিত বার্ষিক মেজবানি ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের আর মাত্র পাঁচ দিন বাকি। আগামী ২৩ আগস্ট, রোববার আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার ওয়ানে বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী এই মেজবানি। আয়োজন ঘিরে এরই মধ্যে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। এবার বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খান। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকায় এবারই প্রথম নকীব খানের সঙ্গীত পরিবেশনা করবেন।   আমেরিকাপ্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সংগঠন বাংলাদেশি আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন বা বাইটপোর উদ্যোগে আয়োজিত এই মেজবানি প্রতি বছর প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি বড় মিলনমেলায় পরিণত হয়। এর আগে আমেরিকা বাংলার প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, এবারের আয়োজনকে আগের বছরগুলোর তুলনায় আরও বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।   চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ:   মেজবানির প্রধান আকর্ষণই থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই মেজবানির জন্য গরু জবাই ও রান্নার প্রস্তুতির কার্যক্রম শুরু হবে। বিপুলসংখ্যক অতিথির খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের বিষয়টি মাথায় রেখে আগেভাগেই মাঠপর্যায়ের কাজ শুরু করবেন স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকরা।   রোববার সকাল থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে মূল কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দুপুর ১২টার পর থেকে অতিথিদের জন্য মেজবানির খাবার পরিবেশন শুরু হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, মিলন এবং সাংস্কৃতিক আয়োজন।   নকীব খানকে ঘিরে বাড়তি আগ্রহ: এবারের আয়োজনের অন্যতম বড় আকর্ষণ বাংলাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী নকীব খান। তার পাশাপাশি সঙ্গীত পরিবেশনায় থাকছেন প্রতীক হাসানসহ আরও কয়েকজন শিল্পী।   নকীব খানের গান দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। বিশেষ করে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের জন্য এবারের আয়োজনটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে।   র‍্যাফেল ড্রতে থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার:   মেজবানি ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের জন্য থাকছে র‍্যাফেল ড্র। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি টিকিটের সঙ্গে র‍্যাফেল ড্রতে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকছে এবং প্রথম পুরস্কার হিসেবে থাকছে একটি হিরের আংটি। ফলে মেজবানির খাবার, সাংস্কৃতিক আয়োজন ও সঙ্গীত পরিবেশনার পাশাপাশি র‍্যাফেল ড্র নিয়েও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   প্রস্তুতি নিয়ে যা জানালেন স্যাম রিয়া ও শামসুদ্দিন মাহমুদ:   আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা স্যাম রিয়া এবং তার স্বামী শামসুদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, মেজবানিকে সফল করতে প্রস্তুতির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল থেকেই গরু জবাইসহ মেজবানির মূল প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে।   রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। দুপুরের পর শুরু হবে মেজবানির খাবার পরিবেশন। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে চলবে সঙ্গীত পরিবেশনা।   প্রবাসে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যের যোগসূত্র:   আয়োজকদের অন্যতম লক্ষ্য শুধু একটি খাবারের আয়োজন করা নয়, বরং প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক জায়গায় এনে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সৌহার্দ্য বাড়ানো। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি, চট্টগ্রামের মেজবানি এবং দেশের সামাজিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে চান আয়োজকরা।   স্যাম রিয়া এর আগে আমেরিকা বাংলাকে জানিয়েছিলেন, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসীদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণে দিনব্যাপী এই আয়োজন একটি প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।   ডিসি, ভার্জিনিয়া ও মেরিল্যান্ডের বাংলাদেশিদের আহ্বান:   আয়োজকদের পক্ষ থেকে বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের পাশাপাশি ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেট থেকে পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   মিডিয়া পার্টনার চ্যানেল আই ও আমেরিকা বাংলা:   এবারের মেজবানি আয়োজনের মিডিয়া পার্টনার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল চ্যানেল আই এবং যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাংলা সংবাদমাধ্যম আমেরিকা বাংলা। প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির এই বড় আয়োজনের খবর, প্রস্তুতি ও অনুষ্ঠানসংক্রান্ত বিভিন্ন আপডেট বৃহত্তর দর্শক-শ্রোতার কাছে পৌঁছে দিতে দুই গণমাধ্যমই মিডিয়া পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে।   আগামী ২৩ আগস্টের এই আয়োজন তাই শুধু চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির স্বাদ নেওয়ার সুযোগ নয়। প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে সামনে রেখে একসঙ্গে মিলিত হওয়ার পাশাপাশি নকীব খান ও অন্যান্য শিল্পীর সঙ্গীত উপভোগেরও সুযোগ থাকছে।   আর মাত্র পাঁচ দিন পরই আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে বসছে এই মিলনমেলা। আয়োজকদের প্রত্যাশা, বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের মেজবানি স্মরণীয় একটি কমিউনিটি আয়োজনে পরিণত হবে।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ১৮, ২০২৬ ১৯:৯
ছেলেকে বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ, নিজের জীবন দিয়ে সন্তানকে বাঁচালেন মা

যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যের লিবার্টিভিলে নদীতে ডুবে এক মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় ছেলে নদীতে পড়ে গেলে তাকে বাঁচাতে ডেস প্লেইনস নদীতে ঝাঁপ দেন ৩১ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেলিনা খলিমেন্দিক। ছেলেকে নিরাপদে তীরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হলেও নিজে আর ফিরতে পারেননি তিনি।   লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ ও লিবার্টিভিলের ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার পর ইন্ডিপেনডেন্স গ্রোভ ফরেস্ট প্রিজার্ভের কাছের নদীতে উদ্ধারকাজের জন্য তাদের ডাকা হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকর্মীরা ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন। তখন তিনি শ্বাস নিচ্ছিলেন না। দ্রুত তাকে অ্যাডভোকেট কন্ডেল মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   লেক কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, নিহত ওই নারী ইলিনয়ের হিনসডেল এলাকার বাসিন্দা। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ছেলেকে সাহায্য করতেই তিনি নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন। ছেলেকে নিরাপদে তীরে তুলে দেওয়ার পর তিনি নিজেই পানির নিচে তলিয়ে যান। ওই সময় এক আত্মীয় ও উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুত পানিতে নেমে অ্যাঞ্জেলিনাকে উদ্ধার করে ডাঙায় নিয়ে আসেন।   সোমবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। করোনার অফিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের ফলাফলে পানিতে ডুবেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বর্তমানে লেক কাউন্টি ফরেস্ট প্রিজার্ভ পুলিশ এবং লেক কাউন্টি করোনার অফিস যৌথভাবে এ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার দাবি, সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে ইসরায়েল।    আলাউদিনভ রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার।   তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলাউদিনভ বলেন, তার ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখানেই থামবে না, বরং আরও তীব্র হবে। তার অভিযোগ, সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পুরো ন্যাটো জোটকে এতে জড়ানোই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তার মতে, সেই চেষ্টা ইতোমধ্যে অনেকটাই সফল হচ্ছে।    এরপরই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি করেন রুশ এই জেনারেল। আলাউদিনভের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইসরায়েল নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করতে পারে এবং তার পরিণতিতে রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই সেখানে পড়তে হয় - এমন মন্তব্যও করেন তিনি।    আলাউদিনভ অবশ্য ইরানকে ঘিরে আগেও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করা উচিত রাশিয়ার। এমনকি রুশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিলে নিজেও ইরানে গিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ইউক্রেনকে যেভাবে সহায়তা করছে, তার পাল্টা হিসেবে ইরানকে সমর্থনের যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন এই রুশ কমান্ডার।    রাশিয়া এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় মস্কো সংঘাত কমানো এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল।

আমেরিকান সুপারমার্কেট চেইন পাবলিক্স ছবি:সংগৃহীত।
সুপারমার্কেটে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত, ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে ফেডারেল কোর্টে ক্রেতা

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির ন্যাশভিলে সুপারমার্কেটে কেনাকাটা করতে গিয়ে পিছলে পড়ে গুরুতর আহত হওয়ার অভিযোগে পাবলিক্সের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছেন এক ক্রেতা। দুর্ঘটনায় শারীরিক আঘাত ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ তুলে ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন তিনি। মামলাটি এখন টেনেসির ফেডারেল আদালতে নেওয়া হয়েছে।   ন্যাশভিলভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউকেআরএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে পাবলিক্স সুপারমার্কেটে। ওই ব্যক্তি কেনাকাটার জন্য স্টোরে প্রবেশ করার পর ভেতরে পা পিছলে পড়ে যান। তার অভিযোগ, পড়ে যাওয়ার কারণে তিনি গুরুতর শারীরিক আঘাতের শিকার হন এবং এর পর থেকে তাকে চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।   মামলায় ওই ক্রেতার অভিযোগ, পাবলিক্সের দায়িত্ব ছিল স্টোরের ভেতরের পরিবেশ ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ রাখা। কোনো বিপজ্জনক অবস্থা তৈরি হলে সেটি দ্রুত শনাক্ত ও সমাধান করা অথবা ক্রেতাদের যথাযথভাবে সতর্ক করা উচিত ছিল। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।   ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া আইনি লড়াই এখন ফেডারেল আদালতে পৌঁছেছে। বাদীপক্ষ এক মিলিয়ন বা ১০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। তবে এই অর্থ আদালতের দেওয়া কোনো ক্ষতিপূরণ নয়। মামলায় ওই ব্যক্তির পক্ষ থেকে দাবি করা অর্থের পরিমাণ এটি।বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতই নির্ধারণ করবে পাবলিক্সের কোনো দায় রয়েছে কি না এবং থাকলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কত হবে।   এ ধরনের মামলা যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত ‘প্রিমাইসেস লায়াবিলিটি’ আইনের আওতায় বিবেচিত হয়। অর্থাৎ কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ক্রেতা আহত হলে শুধু দুর্ঘটনা ঘটেছে - এটুকু দিয়েই প্রতিষ্ঠানটিকে দায়ী করা যায় না।   বিপজ্জনক পরিস্থিতি ছিল কি না, প্রতিষ্ঠানটি সেটি জানত বা যুক্তিসংগতভাবে জানা উচিত ছিল কি না এবং ক্রেতাকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না - এসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।ফলে এই মামলার অন্যতম প্রশ্ন হবে, পাবলিক্সের ভেতরে ঠিক কী কারণে ওই ব্যক্তি পিছলে পড়েছিলেন এবং দুর্ঘটনার আগে সেই পরিস্থিতি সম্পর্কে স্টোর কর্তৃপক্ষ জানত কি না। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্টোরের রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্ঘটনার পর ওই ব্যক্তির চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যও আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে এখন পর্যন্ত মামলায় আনা অভিযোগগুলো বাদীপক্ষের দাবি। আদালত পাবলিক্সকে দায়ী করে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত দিয়েছে - এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ১০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ দাবিকেও চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। উভয় পক্ষের নথি, সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পরই দায় নির্ধারণ করবেন আদালত।   যুক্তরাষ্ট্রে সুপারমার্কেট, রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পিছলে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনায় প্রায়ই এ ধরনের মামলা হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি মামলার ফল নির্ভর করে ঘটনার পরিস্থিতি ও প্রমাণের ওপর। বিশেষ করে নিরাপত্তার ঝুঁকি সম্পর্কে প্রতিষ্ঠান আগে থেকে জানত কি না - সেটিই অনেক ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার লড়াইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে দাঁড়ায়।   ন্যাশভিলের এই মামলাতেও এখন সেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজবে ফেডারেল আদালত। কেনাকাটা করতে গিয়ে ঘটে যাওয়া একটি দুর্ঘটনা শেষ পর্যন্ত ১০ লাখ ডলারের আইনি লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে - তবে পাবলিক্সকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে কি না, সেটি নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম পর্যন্ত।

ঈদে মিলাদুন্নবীর প্রাণবন্ত মিছিল ছবি:সংগৃহীত
মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে ছুটি দেয় বহু মুসলিম দেশ, ব্যতিক্রম সৌদি আরবসহ কয়েকটি

বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে ঈদে মিলাদুন্নবী বা মাওলিদুন্নবী পালিত হলেও সব দেশে এ উপলক্ষে সরকারি ছুটি নেই। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বহু দেশে দিনটি সরকারি ছুটির তালিকায় থাকলেও সৌদি আরবসহ কয়েকটি মুসলিম দেশে এর চিত্র ভিন্ন।   ইসলামি হিজরি বর্ষপঞ্জির রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন স্মরণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দিনটি পালন করা হয়। অঞ্চলভেদে এটি ঈদে মিলাদুন্নবী, মাওলিদ আল-নবী কিংবা মাওলিদুন্নবী নামে পরিচিত। তবে চাঁদ দেখার ওপর ইসলামি মাস নির্ভর করায় গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে দেশভেদে পালনের তারিখে এক দিনের পার্থক্য হতে পারে।   লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোর বড় একটি অংশ দিনটিকে সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আলজেরিয়া, বাহরাইন, ব্রুনেই, সেনেগাল, সোমালিয়া, সুদান ও সিরিয়াসহ বিভিন্ন দেশ রয়েছে। দেশভেদে ছুটির তারিখ অবশ্য স্থানীয় চাঁদ দেখা এবং সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে।   বাংলাদেশেও ঈদে মিলাদুন্নবী সরকারি ছুটির দিন। ২০২৬ সালের ক্যালেন্ডারে দিনটি ২৬ আগস্ট পড়ার সম্ভাবনা দেখানো হয়েছে। তবে ইসলামি মাসের তারিখ চাঁদ দেখার সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় চূড়ান্ত তারিখ সরকারি ঘোষণার মাধ্যমে নির্ধারিত হতে পারে।   পাকিস্তানেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে সরকারি ছুটির প্রচলন রয়েছে। আফগানিস্তান, আলজেরিয়া ও বাহরাইনসহ আরও বেশ কয়েকটি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্রেও মাওলিদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়। তবে সব মুসলিম দেশ একই ধর্মীয় ও প্রশাসনিক পদ্ধতিতে দিনটি পালন করে না।   সংযুক্ত আরব আমিরাতেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন সরকারি ছুটির অন্তর্ভুক্ত। দেশটির সরকার ইতোমধ্যে ২০২৬ সালের জন্য ফেডারেল সরকার ও বেসরকারি খাতের কর্মীদের ২৮ আগস্ট বেতনসহ সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে। অর্থাৎ আগের জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাসে ২৫ আগস্টের কথা থাকলেও সর্বশেষ সরকারি সিদ্ধান্তে ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে ২৮ আগস্ট।   অন্যদিকে সৌদি আরবে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন উপলক্ষে আলাদা সরকারি ছুটি নেই। দেশটিতে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত সরকারি ছুটির কাঠামো অন্য অনেক মুসলিম দেশের তুলনায় আলাদা। মাওলিদ পালন নিয়ে ইসলামী চিন্তাধারার মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে, আর সৌদি আরবে প্রচলিত ধর্মীয় ব্যাখ্যায় দিনটিকে আলাদা উৎসব হিসেবে পালনের ঐতিহ্য নেই।   লেজিট ডট এনজির প্রতিবেদনে সৌদি আরবের পাশাপাশি কাতারকেও মহানবী (সা.)-এর জন্মদিনে সরকারি ছুটি না দেওয়া মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ কোনো দেশে সরকারি ছুটি না থাকার অর্থ সেখানে মহানবী (সা.)-এর প্রতি শ্রদ্ধা বা ধর্মীয় গুরুত্ব নেই - এমন নয়। মূল পার্থক্যটি দিনটিকে আলাদা ধর্মীয় উৎসব ও রাষ্ট্রীয় ছুটি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে।   ওমানে আবার পরিস্থিতি ভিন্ন। দেশটি ২০২৬ সালের সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার আগেই প্রকাশ করেছে এবং সেখানে মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন ধর্মীয় ছুটি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওমানের শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সূচিতে ২৭ আগস্ট এই ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে।   ভারত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ না হলেও দেশটির সরকারি ছুটির তালিকায় মিলাদুন্নবী গেজেটেড হলিডে হিসেবে রয়েছে। ২০২৬ সালে সেখানে ২৬ আগস্ট সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে দেখানো হয়েছে। ফলে মাওলিদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি শুধু মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই সীমাবদ্ধ নয়।   সব মিলিয়ে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্মদিন বিশ্বের মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও এটি পালনের রাষ্ট্রীয় রীতি সর্বত্র এক নয়। কোথাও দিনটি সরকারি ছুটি ও বিভিন্ন ধর্মীয় আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়, আবার কোথাও আলাদা সরকারি ছুটি নেই। এই পার্থক্যের পেছনে রয়েছে দেশভেদে ধর্মীয় ব্যাখ্যা, ঐতিহ্য এবং সরকারি ছুটির নিজস্ব নীতি।

ডিভোর্সের প্রক্রিয়ায় থাকা এই দম্পতির দুই ছোট শিশু ঘটনার সময় বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। ছবি: সংগৃহীত
সন্তানদের নিতে এসে ফিরলেন লাশ হয়ে, টেক্সাসে স্বামীর হাতে স্ত্রীর মর্মান্তিক পরিণতি

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বিচ্ছিন্ন হয়ে বসবাস করা স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মর্মান্তিক এই ঘটনার সময় তাদের দুই শিশু সন্তান বাড়িতেই উপস্থিত ছিল। পুলিশের তল্লাশির সময় অভিযুক্ত স্বামীর শার্টে লেগে থাকা বিশাল রক্তের দাগ দেখে প্রথম সন্দেহ তৈরি হয়। পরবর্তীতে গ্যারেজে রাখা একটি গাড়ির ডিকি থেকে স্ত্রীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স৪-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ আগস্ট টেক্সাসের প্ল্যানো শহরে জেক বিগনি (৩৭) নামের ওই ব্যক্তির অ্যাপার্টমেন্টে যায় পুলিশ। ওইদিন সকালে তার স্ত্রী এলিয়ানা বিগনি এক বান্ধবীর সঙ্গে সকালের নাশতা করার কথা থাকলেও তিনি সেখানে যাননি। জেকের অতীতের সহিংস আচরণের কথা বিবেচনা করে ওই বান্ধবী এলিয়ানার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন। এরপরই পুলিশ জেকের বাসায় গিয়ে খোঁজ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলের হাতে আসা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হলফনামা থেকে জানা যায়, জেক যখন অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খোলেন, তখন তার শার্টে বিশাল একটি রক্তের দাগ ছিল। পুলিশ এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, ঘর পরিষ্কার করার সময় এই দাগ লেগেছে। তিনি পুলিশকে আরও জানান, এলিয়ানা ওইদিন সকালে এসেছিলেন, তবে কিছুক্ষণ পর চলেও গেছেন।   তবে পুলিশের সন্দেহ হওয়ায় তারা ভেতরে তল্লাশি চালান। সে সময় অ্যাপার্টমেন্টের মেঝেতে বিপুল পরিমাণ রক্ত ও রক্তের ছিটে দেখতে পান তারা। এরপর ওই অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের গ্যারেজে রাখা একটি সাদা হুন্দাই গাড়ির ডিকি থেকে এলিয়ানার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা গেছে, এলিয়ানা মূলত তার সন্তানদের নিতেই ওইদিন জেকের অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিলেন। কলিন কাউন্টি মেডিকেল এক্সামিনার এখনো তার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিক কারণ প্রকাশ করেননি।   লোমহর্ষক এই ঘটনার আরেকটি চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ পৌঁছানোর ঠিক ৩০ মিনিট আগে জেক তার মাকে ফোন করেছিলেন। ফোনে তিনি বলেন, "তোমাকে আমার কিছু বলার আছে। সে মারা গেছে।" জেক তার মায়ের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, "আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল এবং সে মারা গেছে।" এই কথা শোনার পরই আতঙ্কিত হয়ে তার মা পুলিশে খবর দেন।   বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়ার কারণে এই দম্পতি আলাদা থাকছিলেন। মাত্র এক বছর আগে জেকের চাকরির সুবাদে তারা সপরিবারে টেক্সাসে পাড়ি জমিয়েছিলেন। কিন্তু মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের সময় তাদের ২ ও ৫ বছর বয়সী দুই শিশু সন্তান ওই অ্যাপার্টমেন্টেই ছিল। তবে তারা শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   প্ল্যানো পুলিশের কর্মকর্তা জেরি মিনটন ফক্স৪-কে বলেন, "এমন একটি জঘন্য অপরাধের সময় ওই দুই শিশু ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। তারা ঠিক কী দেখেছে বা দেখেনি, তা নিয়ে আমি এখন কোনো অনুমান করতে চাই না, তবে তারা সেখানে ছিল।"   কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জেক বিগনিকে প্রাথমিকভাবে মৃতদেহ অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হলেও পরে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। বর্তমানে জামিন অযোগ্য অবস্থায় তাকে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের
যুদ্ধ আরও বাড়লে রাষ্ট্র হিসেবে বিলুপ্ত হতে পারে ইসরায়েল - রুশ জেনারেলের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৪:১৯

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার নিলে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল আপতি আলাউদিনভ। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তার দাবি, সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করে যুক্তরাষ্ট্র ও পুরো ন্যাটো জোটকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলতে চাইছে ইসরায়েল।    আলাউদিনভ রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সামরিক-রাজনৈতিক অধিদপ্তরের উপপ্রধান। একই সঙ্গে তিনি রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন আখমাত বিশেষ বাহিনীর কমান্ডার।   তাসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আলাউদিনভ বলেন, তার ধারণা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এখানেই থামবে না, বরং আরও তীব্র হবে। তার অভিযোগ, সংঘাতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি পুরো ন্যাটো জোটকে এতে জড়ানোই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তার মতে, সেই চেষ্টা ইতোমধ্যে অনেকটাই সফল হচ্ছে।    এরপরই ইসরায়েলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে কঠোর মন্তব্যটি করেন রুশ এই জেনারেল। আলাউদিনভের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ইসরায়েল নিজেদের সামরিক সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করতে পারে এবং তার পরিণতিতে রাষ্ট্র হিসেবে অস্তিত্ব হারানোর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। অন্যের জন্য গর্ত খুঁড়লে শেষ পর্যন্ত নিজেকেই সেখানে পড়তে হয় - এমন মন্তব্যও করেন তিনি।    আলাউদিনভ অবশ্য ইরানকে ঘিরে আগেও প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। চলতি বছরের মার্চে তিনি বলেছিলেন, ইরানকে সম্ভাব্য সব উপায়ে সহায়তা করা উচিত রাশিয়ার। এমনকি রুশ নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিলে নিজেও ইরানে গিয়ে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো ইউক্রেনকে যেভাবে সহায়তা করছে, তার পাল্টা হিসেবে ইরানকে সমর্থনের যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন এই রুশ কমান্ডার।    রাশিয়া এর আগে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কমাতে ভূমিকা রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। রুশ পক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই আলোচনায় মস্কো সংঘাত কমানো এবং অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকার কথা জানিয়েছিল।

ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা
ইসরায়েলি দখলদার থেকে রক্ষা পেতে বাড়ির ছাদে মার্কিন পতাকা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৩:৪৩

নিজের বাড়ির ছাদে উড়ছে বিশাল মার্কিন পতাকা। তবে এটি কোনো উৎসব কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সমর্থন জানানোর আয়োজন নয়। ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হাত থেকে নিজের বাড়ি ও পরিবারকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাকেই এক ধরনের প্রতীকী নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ব্যবহার করছেন ফিলিস্তিনি-মার্কিন নাগরিক লুই রিদি। ঘটনাটি ঘটেছে ইসরায়েল-অধিকৃত পশ্চিম তীরের নাবলুসের কাছে কুসরা গ্রামে।    ৪৬ বছর বয়সী লুই রিদি পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যে বসবাস করেন। কুসরাতেও তার একটি বাড়ি রয়েছে। এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে তার পরিবারসহ কয়েকটি ফিলিস্তিনি পরিবারের বাড়ি ঘিরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের অবস্থানের খবর পেয়ে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পশ্চিম তীরে ফিরে যান তিনি। বাড়িতে পৌঁছেই ছাদে বড় একটি মার্কিন পতাকা উড়িয়ে দেন রিদি।   পতাকাটি টাঙানোর পেছনে তার প্রত্যাশা ছিল পরিষ্কার - বাড়িটির মালিক একজন মার্কিন নাগরিক, এটি বুঝতে পারলে হয়তো বসতি স্থাপনকারীরা সেখানে হামলা বা দখলের চেষ্টা থেকে বিরত থাকবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের কাছেও নিজের পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টি দৃশ্যমান করতে চেয়েছেন তিনি। কিন্তু বাস্তবে মার্কিন পতাকাও তাকে পুরোপুরি নিরাপত্তা দিতে পারেনি।   মঙ্গলবার পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রয়টার্সের প্রত্যক্ষ করা ঘটনায় একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী রিদির জমিতে প্রবেশ করেন। তার হাতে একটি তোরাহ ছিল এবং তিনি ওই জায়গায় নিজের উপস্থিতির পক্ষে যুক্তি দিতে থাকেন। রিদি তাকে নিজের সম্পত্তি ছেড়ে চলে যেতে বলেন। একপর্যায়ে সেখানে থাকা ইসরায়েলি সেনারা ওই বসতি স্থাপনকারীকে এলাকা ছাড়তে বলে।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ভিডিওতেও রিদিকে বসতি স্থাপনকারীদের উদ্দেশে নিজের জমি থেকে সরে যেতে বলতে দেখা গেছে। তিনি ইসরায়েলি সেনাদের কাছেও তাদের সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রিদিকেই নিজের বাড়ির ভেতরে ফিরে যেতে বলা হয়। কারণ এলাকাটিকে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘ক্লোজড মিলিটারি জোন’ বা বন্ধ সামরিক এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে।   রিদির অভিযোগ, নিজের বাড়িতে থেকেও তিনি এখন স্বাধীনভাবে বাইরে যেতে পারছেন না। বাড়ি থেকে বের হওয়ার প্রয়োজন হলেও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও অনুমতির প্রয়োজন হচ্ছে। অন্যদিকে কয়েকজন বসতি স্থাপনকারী এখনো এত কাছাকাছি অবস্থান করছেন যে সেনাবাহিনী চলে গেলে তারা আবার ফিরে আসতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।   কুসরার পরিস্থিতি কয়েক দিন ধরেই উত্তপ্ত। বসতি স্থাপনকারীরা তিনটি ফিলিস্তিনি বাড়ির আশপাশে অবস্থান নিয়ে বাসিন্দাদের চলাচলে বাধা দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। খাবার ও পানির সরবরাহ নিয়েও সংকট তৈরি হয়েছিল। স্থানীয়দের আশঙ্কা, তাদের সরিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত বাড়ি ও জমি দখল করাই এই চাপের উদ্দেশ্য।   এই ঘটনায় বিরলভাবে কঠোর ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। কুসরার ঘটনায় জড়িত কিছু বসতি স্থাপনকারীকে তিনি ‘ইসরায়েলি সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেন। বিশেষ করে একজন মার্কিন নাগরিকের বাড়ি ও পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় ঘটনাটি ওয়াশিংটনেরও নজরে এসেছে।   তবে ঘটনাটি শুধু একটি মার্কিন নাগরিকের বাড়িকে কেন্দ্র করে নয়। পশ্চিম তীরে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি গ্রামগুলোতে হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৪৭৬টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হাতে ৮৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তারা।   কুসরার কাছাকাছি জালুদ গ্রামেও গত মাসে একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে বসতি স্থাপনকারীরা একটি ফিলিস্তিনি বাড়ি ঘিরে বাসিন্দাদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ আটকে দেয়। শেষ পর্যন্ত পরিবারটি বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হয় এবং আর ফিরে আসেনি। ফলে কুসরার পরিবারগুলোর আশঙ্কা - তাদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।   পশ্চিম তীরে মার্কিন পতাকাকে নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা কুসরাতেই সীমাবদ্ধ নয়। তুরমুস আইয়া নামে আরেকটি ফিলিস্তিনি এলাকায় বিপুলসংখ্যক বাসিন্দা মার্কিন নাগরিক। সেখানকার অনেক বাড়ির বারান্দা ও ছাদেও যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা দেখা যায়। বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বাড়তে থাকায় নিজেদের মার্কিন নাগরিকত্ব দৃশ্যমান করাকেও অনেকে নিরাপত্তার একটি উপায় হিসেবে দেখছেন।   আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে অবৈধ বলে মনে করে। ইসরায়েল এ অবস্থানের সঙ্গে একমত নয় এবং পশ্চিম তীরের সঙ্গে ঐতিহাসিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্কের যুক্তি তুলে ধরে। বর্তমানে সেখানে ২৮ লাখের বেশি ফিলিস্তিনির পাশাপাশি পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী বসবাস করছেন।   সবচেয়ে প্রতীকী হয়ে উঠেছে লুই রিদির বাড়ির ছাদের সেই মার্কিন পতাকা। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের নাগরিক হিসেবে নিজের পরিচয় দৃশ্যমান করে তিনি আশা করেছিলেন, অন্তত তার বাড়ি ও পরিবার নিরাপদ থাকবে। কিন্তু বাড়ির ছাদে পতাকা ওড়ানোর পরও যখন নিজের উঠানে দাঁড়ানোর স্বাধীনতা নিয়ে তাকে লড়তে হচ্ছে, তখন কুসরার ঘটনাটি পশ্চিম তীরে চলমান সংঘাতের আরও বড় একটি বাস্তবতাকেই সামনে আনছে।   মার্কিন পতাকা তাই সেখানে শুধু একটি দেশের প্রতীক হয়ে থাকেনি - একটি ফিলিস্তিনি পরিবারের কাছে সেটি এখন নিজের বাড়ি রক্ষার শেষ দিকের প্রতীকী ঢাল। কিন্তু লুই রিদির অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, ছাদের ওপর সেই পতাকা উড়লেও নিচের মাটিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এখনো আসেনি।

ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!
ইসলাম গ্রহণ করেছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি রবার্তো কার্লোসের!
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ৩:২০

ব্রাজিল ও রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফুটবলার রবর্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে সামাজিক যোগা যোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি দাবি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তুরস্কের ক্ষমতাসীন একে পার্টির একজন সংসদ সদস্য এই দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কার্লোস নিজে প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেননি। ফলে বিষয়টিকে এই মুহূর্তে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপনের সুযোগ নেই।   দাবিটির মূল সূত্র তুরস্কের একে পার্টির গাজিয়ানতেপের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। ব্রাজিল সফরের সময় স্থানীয় মুসলিম কমিউনিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রবার্তো কার্লোসের ধর্মান্তরের বিষয়টি সামনে আনেন।   শাহিন জানান, ব্রাজিলের মুসলিম নেতা শেখ জিহাদ হাম্মাদেহের কাছ থেকে তিনি কার্লোসের ইসলাম গ্রহণের কথা জেনেছেন। তার দাবি অনুযায়ী, কার্লোসের সঙ্গে হাম্মাদেহের আগে থেকেই যোগাযোগ ছিল এবং কয়েক সপ্তাহ আগে সাও পাওলোতে তাদের একটি সাক্ষাৎ হয়।   ওই সাক্ষাতের সময় রবার্তো কার্লোস শাহাদাত পাঠ করে ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেন শাহিন। একই সঙ্গে তিনি ব্রাজিলের সাবেক এই তারকাকে অভিনন্দন জানান।   শাহিনের বক্তব্যের পর তুরস্কের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফুটবলবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গোলও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ফুটবল সমর্থকদের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।   তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রবার্তো কার্লোস নিজে এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘোষণা দিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার নিজের আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেও ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য সামনে আসেনি।   এ কারণে আলি শাহিনের বক্তব্যকে একটি দাবি হিসেবেই বিবেচনা করতে হচ্ছে। কার্লোস নিজে অথবা তার অনুমোদিত প্রতিনিধি বিষয়টি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তার ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের খবর নিশ্চিতভাবে বলা সমীচীন নয়।   এর মধ্যেই রবার্তো কার্লোসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে। মরক্কোর বংশোদ্ভূত স্প্যানিশ নারী সুহাইলা এল তাহিরির সঙ্গে তার বিয়ের কিছু ছবি নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে তাদের সম্পর্ক বা বিয়ের বিষয়টি ব্যবহার করে কার্লোসের ধর্মীয় বিশ্বাস সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।   রবার্তো কার্লোস বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম সেরা লেফট ব্যাক হিসেবে পরিচিত। ব্রাজিলের হয়ে ২০০২ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ১২৫টির বেশি ম্যাচ খেলার পাশাপাশি দীর্ঘদিন রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে খেলেছেন এই তারকা।   রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনি একাধিক লা লিগা ও উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন। বিশেষ করে শক্তিশালী ফ্রি কিক, গতি এবং আক্রমণাত্মক ফুটবলের কারণে নব্বইয়ের দশক ও দুই হাজারের দশকের শুরুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন কার্লোস।   এত বড় একজন ফুটবল তারকার ধর্মান্তরের খবর হওয়ায় দাবিটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ধর্মীয় পরিচয় একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট বা তৃতীয় পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত ঘোষণা করা সাংবাদিকতার দৃষ্টিতে যথাযথ নয়।   এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবার্তো কার্লোস ইসলাম গ্রহণ করেছেন বলে দাবি করেছেন তুরস্কের সংসদ সদস্য আলি শাহিন। কিন্তু কার্লোস নিজে সেই দাবি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেননি। তার নিজের বক্তব্য বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ না আসা পর্যন্ত বিষয়টি দাবি হিসেবেই থাকছে।

নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি
নিকাব পরায় বাসে হত্যার হুমকি, লন্ডনে প্রতিদিন হেনস্থার শিকার তরুণী
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৯, ২০২৬ ২:৫৪

লন্ডনের বাসে নিকাব পরার কারণে গালিগালাজ থেকে শুরু করে হত্যার হুমকির মুখে পড়েছেন ২১ বছর বয়সী মুসলিম তরুণী সালসাবিল। তার অভিযোগ, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই থুতু ছোড়া, ধাক্কা দেওয়া এবং অপমানজনক আচরণের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। সাম্প্রতিক একটি ঘটনার ভিডিও সামনে আসার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন এবং মেট্রোপলিটন পুলিশ।   বিবিসিকে সালসাবিল বলেন, গত ৩১ জুলাই সেন্ট্রাল লন্ডন থেকে বাড়ি ফেরার সময় প্রথম একটি বাসে তার নিকাব নিয়ে মৌখিকভাবে অপমান করা হয়। পরিস্থিতি এড়াতে তিনি সেই বাস থেকে নেমে পরের বাসে ওঠেন। কিন্তু সেখানেও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।   দ্বিতীয় বাসে এক যাত্রী তার পোশাক নিয়ে গালিগালাজ শুরু করেন বলে অভিযোগ সালসাবিলের। তিনি বসতে গেলে ওই ব্যক্তি আক্রমণাত্মকভাবে তাকে বাধা দেন এবং মুখের নিকাব নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন।   সালসাবিলের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি তাকে বলেন, মুখে এমন পোশাক পরে তিনি সেখানে স্বাগত নন। একপর্যায়ে নিকাবকে 'সন্ত্রাসবাদ' বলে মন্তব্য করেন ওই যাত্রী এবং সালসাবিল নিজে নিকাব না খুললে জোর করে সেটি খুলে দেওয়ার হুমকি দেন।   পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন ওই ব্যক্তি তাকে হত্যার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সালসাবিল। সে সময় বাসের আরেক যাত্রী তার পক্ষে এগিয়ে আসেন। একপর্যায়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে ওই যাত্রীর হাতাহাতিও হয়।   সালসাবিল জানান, বাসে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ওই একজনই সরাসরি তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। পরে বাসের ড্রাইভার হস্তক্ষেপ করেন এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বাস থেকে নেমে যেতে বলা হয়। তিনি বাস থেকে নেমে গেলে সালসাবিলও উত্তর-পশ্চিম লন্ডনে নিজের নির্ধারিত স্টপে নেমে যান।   ঘটনার সময় তিনি গুরুতর আহত হওয়ার আশঙ্কা করেছিলেন বলে বিবিসিকে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যে যাত্রী তার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলেন, তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।   তবে সালসাবিলের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এমন অভিজ্ঞতা তার কাছে নতুন নয়। তার দাবি, ধর্মীয় পোশাকের কারণে লন্ডনে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনোভাবে অপমান বা হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়।   তিনি বলেন, কখনো তার দিকে থুতু ছোড়া হয়, কখনো ধাক্কা দেওয়া হয় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে শরীরে আঘাত করে চলে যাওয়া হয়। এত ঘনঘন এমন ঘটনা ঘটে যে সবকিছু রিপোর্ট করতে গেলে তাকে প্রায় সব সময়ই পুলিশ স্টেশনে থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।   ৩১ জুলাইয়ের বাসের ঘটনাটি সালসাবিল মেট্রোপলিটন পুলিশে রিপোর্ট করেননি। এর আগে ইসলামবিদ্বেষী হেইট ক্রাইমের একটি ঘটনা পুলিশকে জানিয়েও প্রত্যাশিত গুরুত্ব পাননি বলে তার অভিযোগ। সেই অভিজ্ঞতার কারণে নতুন করে পুলিশের কাছে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়েছেন তিনি।   লন্ডনে জন্ম ও বেড়ে ওঠা সালসাবিল জানান, শহরটিতে তিনি আগে সব সময় নিরাপদ বোধ করতেন। কিন্তু গত প্রায় এক বছর ধরে সেই অনুভূতি বদলে গেছে। বিশেষ করে পাবলিক ট্রান্সপোর্টে চলাচলের সময় নিরাপত্তাহীনতা বেশি অনুভব করছেন তিনি।   তার বক্তব্য, কোনো নারী হিজাব বা নিকাব পরবেন কি না, সেটি তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। পোশাকের কারণে কোনো নারীকে ভয় বা নির্যাতনের মধ্যে থাকতে হওয়া উচিত নয়।   ঘটনাটির ভিডিও দেখেছে বিবিসি। ভিডিও সামনে আসার পর ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডনের নিরাপত্তা, পুলিশিং ও এনফোর্সমেন্ট বিভাগের পরিচালক সিওয়ান হেওয়ার্ড ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, লন্ডনের পরিবহন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে গিয়ে কারও ভয় পাওয়া বা হয়রানির শিকার হওয়া উচিত নয়।   ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন জরুরি ভিত্তিতে ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে যারা ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন অথবা এ বিষয়ে তথ্য রয়েছে, তাদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।   মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, তারা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সম্পর্কে অবগত এবং সালসাবিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে। পুলিশ বলেছে, লন্ডনের কোনো কমিউনিটিকেই ভয়ভীতি বা নির্যাতন সহ্য করতে হওয়া উচিত নয় এবং সব ধরনের হেইট ক্রাইম মোকাবিলায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।   লন্ডনে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক অপরাধের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মেট্রোপলিটন পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে রিপোর্ট হওয়া ধর্মভিত্তিক হেইট ক্রাইম ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে রিপোর্ট হওয়া ইসলামবিদ্বেষী অপরাধ বেড়েছে ৩১ শতাংশ।   লন্ডনের ভিকটিমস কমিশনার আন্দ্রেয়া সাইমনও মনে করেন, সালসাবিলের অভিজ্ঞতাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিশেষ করে পোশাক দেখে যাদের মুসলিম বা অন্য কোনো ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষ হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যায়, তারা এমন ঘটনার বেশি ঝুঁকিতে থাকতে পারেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।   ঘটনাটি এখন লন্ডনের পাবলিক ট্রান্সপোর্টে মুসলিম নারীদের নিরাপত্তা এবং হেইট ক্রাইম রিপোর্ট করার ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের আস্থার বিষয়টি নতুন করে সামনে এনেছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.13K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
918 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.03K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
887 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়