Live update news
ছবি: সংগৃহীত
সৌদিতে প্রবাসীদের জন্য নতুন নিয়ম, প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি থাকলেও লাগবে কাজের অনুমতি

সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (অনূর্ধ্ব বা স্থায়ী বিশেষ আবাসন সুবিধা) হোল্ডারদের জন্য এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট কাজের অনুমতিপত্র বা ওয়ার্ক পারমিট নেওয়া সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিজিটাল শ্রম প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’ এই নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।   স্থানীয় দৈনিক ওকাজ পত্রিকার বরাতে জানা গেছে, এই বিশেষ ওয়ার্ক পারমিটটি পাওয়ার জন্য প্রতি আবেদনকারীকে ১০০ সৌদি রিয়াল ফি প্রদান করতে হবে। সম্প্রতি কিওয়া প্ল্যাটফর্মটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন, প্রশিক্ষণ চুক্তি, কর্মীদের পদত্যাগ এবং ভিসা সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার প্রক্রিয়া সহজ ও সুনির্দিষ্ট করতে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে।   নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কিওয়া প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের সাবস্ক্রিপশন ফি বা নিবন্ধন মাশুল এক রকম হবে না। প্রতিষ্ঠানের আকার এবং কোম্পানির ইউনিফাইড নম্বরের অধীনে নিবন্ধিত মোট কর্মকর্তা-कर्मचारियों সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এই ফি নির্ধারণ করা হবে। এই সেবামূল্য পরিশোধের জন্য গ্রাহকরা ব্যাংক কার্ড, সাদাদ পেমেন্ট নম্বর এবং কিওয়া ডিজিটাল ওয়ালেটের মতো বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করতে পারবেন।   এছাড়া, সৌদির জনপ্রিয় কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ‘তামহীর’-এর আওতাধীন চুক্তিগুলো এখন থেকে কিওয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক উপায়ে নথিভুক্ত করা যাবে। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই প্রশিক্ষণ চুক্তিগুলো সৌদিকরণ বা নির্দিষ্ট হারে স্থানীয় কর্মী নিয়োগের বাধ্যবতকতার হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে না। একই সাথে এটি কর্মসংস্থান চুক্তি ডকুমেন্টেশনের বর্তমান কমপ্লায়েন্স বা শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতায় কোনো প্রভাব ফেলবে না।   কর্মীদের পদত্যাগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা জানিয়েছে প্ল্যাটফর্মটি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কর্মী পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সর্বোচ্চ সাত দিনের মধ্যে তা প্রত্যাহার করার সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধাটি কেবল তখনই প্রযোজ্য হবে, যদি উক্ত সাত দিনের মধ্যে নিয়োগকর্তা বা কোম্পানি সেই পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ না করে থাকে কিংবা সিদ্ধান্ত স্থগিত না রাখে। পাশাপাশি, চাকরি ছাড়ার আগের নোটিশ পিরিয়ড বা সময়সীমা কেমন হবে, তা সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান চুক্তির শর্তাবলীর ওপর নির্ভর করবে এবং এটি ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে।   ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা এড়াতে কিওয়া স্পষ্ট করেছে যে একবার কোনো ভিসা ইস্যু হয়ে গেলে তার তথ্য আর সংশোধন বা পরিবর্তন করা যাবে না। যদি ভিসায় কোনো ভুল তথ্য ইনপুট দেওয়া হয়ে থাকে, তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সেই ভিসাটি বাতিল করতে হবে এবং সঠিক তথ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নতুনভাবে আরেকটি ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।

৫ মিনিট Ago
শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে | ছবি: সংগৃহীত
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে আমার পেছনে ঘুরেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোটি কোটি টাকা নিয়ে তাঁর কাছে ঘুরেছে, তবে তিনি কোনো প্রভাব বা প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার করেননি।   শনিবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রহমত ও মানুষের দোয়ার কারণে তিনি টাকার প্রতি কোনো লোভ করেননি এবং প্রধানমন্ত্রীর পূর্ণ সমর্থন নিয়েই লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, হাসপাতালটির বিরুদ্ধে নেওয়া এই সিদ্ধান্তকে তিনি একটি দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছেন, যা দেশের অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। তাঁর ভাষায়, এই ধরনের একটি পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ফিরবে।   অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর কিছু নেতার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কিছু মহল হাসপাতালের বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তকে অন্যভাবে উপস্থাপন করছে। তবে তিনি দাবি করেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর মতো ঘটনার পর কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া সম্ভব নয় এবং সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের সুযোগ নেই।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দলমত নির্বিশেষে সবার সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে এবং সরকারি সেবা গ্রহণে এখন আর ঘুষ দিতে হয় না বলে তিনি দাবি করেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে।   চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পাইলটিং স্কিমের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা প্রদানকারী দল ঘরে ঘরে গিয়ে রোগীদের অবস্থা মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে পাঠাবে।   তিনি আরও জানান, চীনের সহযোগিতায় ৩ হাজার বেডের দুটি বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যেখানে শিশু ও নারীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকবে।   অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

১৪ মিনিট Ago
মরক্কো ফুটবল দল | ছবি: সংগৃহীত
ব্রাজিলের সাথে খেলার আগেই মরক্কো দলে বড় ধাক্কা, চোটের কারণে ২ খেলোয়াড় বাদ

বিশ্বকাপের হাইভোল্টেজ প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মরক্কো ফুটবল দল। ওয়ানডে বা টেস্টের মতো ফুটবলেও ইনজুরি বা চোট দল গঠনে বড় প্রভাব ফেলে। আর সেই ইনজুরির কারণেই এবার মরক্কোর মূল দল থেকে ছিটকে গেছেন দুই গুরুত্বপূর্ণ তারকা খেলোয়াড়। যার ফলে ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই দলে দুটি বড় পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামতে হচ্ছে মরক্কোকে।   জানা গেছে, সম্প্রতি নরওয়ের বিরুদ্ধে খেলা একটি প্রীতি ম্যাচে হাঁটুর মারাত্মক ইনজুরিতে পড়েন রিয়াল বেটিসের তারকা ফরোয়ার্ড আবদে এজালজুলি। তিনি চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর তার পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে মরক্কো দলে ডাক পেয়েছেন এ্যাঙ্গার্সের তরুণ ফুটবলার আমিনে সাবাই।   অন্যদিকে, উরুর অস্ত্রোপচারের কারণে গত মার্চ মাসের পর থেকে আর কোনো ধরনের প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ বা মাঠে নামতে পারেননি মার্সেইর অভিজ্ঞ সেন্টার-ব্যাক নায়েফ অগার্ড। দলের এই নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডারকে নিয়ে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে কোনো ধরনের বাড়তি ঝুঁকি নিতে চায়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। যে কারণে মূল টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগেই অগার্ডের পরিবর্তে দলে ডেকে নেওয়া হয়েছে মারওয়ানে সাদানেকে।   দলের এই গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বা খেলোয়াড়দের চোটের বিষয়ে অবশ্য আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মরক্কোর টিম ম্যানেজমেন্ট। তবে দলের অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও পিএসজি তারকা আশরাফ হাকিমি ইনজুরি আক্রান্ত দুই সতীর্থের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট দিয়েছেন।   পিএসজি তারকা হাকিমি তার ব্যক্তিগত পোস্টে লিখেছেন, ফুটবল খেলাটা অনেক সময় সত্যিই ভীষণ নিষ্ঠুর হতে পারে। প্রথম দিন থেকে তোমরা এই দলটিকে যা দিয়েছো, তার জন্য তোমাদের দুজনকে অনেক ধন্যবাদ। মাঠে আমরা সবাই তোমাদের জন্য লড়াই করব এবং জয় ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করব। আমরা তোমাদের দুজনকে অনেক ভালোবাসি।   উল্লেখ্য, আগামী রোববার (১৪ জুন) ভোররাত চারটায় গ্রুপ-সি’র প্রথম হাইভোল্টেজ ম্যাচে নিউ জার্সিতে মুখোমুখি হবে মরক্কো ও ব্রাজিল। ২৪ বছরের ট্রফি খরা কাটিয়ে হেক্সা তথা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে নামা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে মরক্কো এই নতুন দল নিয়ে কেমন প্রতিরোধ গড়ে তোলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

৩১ মিনিট Ago
হাসান খান (৩৯) | ছবি: সংগৃহীত
জর্জিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আবারও শোকের ছায়া, না ফেরার দেশে হাসান খান

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের বৃহৎ আটলান্টার ডগলাসভিল এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দীর্ঘদিন স্বাস্থ্যজনিত জটিলতায় ভোগার পর স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির জনাব তারিক খানের ছেলে হাসান খান (৩৯) ইন্তেকাল করেছেন।   পরিবার ও কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়, হাসান খান গত সাত থেকে আট বছর ধরে স্কিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি এ রোগের সঙ্গে লড়াই করছিলেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসাও গ্রহণ করেন। শুক্রবার সকালে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ডগলাসভিলসহ আশপাশের এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়।   জর্জিয়া অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি আরেফিন বাবুল জানান, হাসান খানের মৃত্যুতে কমিউনিটির সদস্যরা গভীরভাবে মর্মাহত। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসান অসুস্থ ছিলেন এবং তার পরিবার অত্যন্ত কঠিন সময় পার করছিল। আজ তার মৃত্যুতে পরিবারটি এক অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে।   আরেফিন বাবুল আরও জানান, মৃত্যুর পর প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মরদেহ বর্তমানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে। পুলিশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এরপর পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে জানাজা ও দাফনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে এবং কমিউনিটিকে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।   প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। একই সঙ্গে তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেছেন।   হাসান খানের মৃত্যুতে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ বিরাজ করছে। কমিউনিটির পক্ষ থেকে সকলের কাছে মরহুমের জন্য দোয়া করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৪৪ মিনিট Ago
নিউইয়র্ক সিটি । ফাইল ছবি
আমেরিকা
নিউইয়র্কবাসীর জন্য কী কী সরকারি সুবিধা রয়েছে: শিশু থেকে প্রবীণ-কারা কী পাচ্ছেন

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল অঙ্গরাজ্য নিউইয়র্কে জীবনযাত্রার খরচ, বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটিতে বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, শিশু পরিচর্যা, শিক্ষা এবং দৈনন্দিন ব্যয় দেশটির অনেক এলাকার তুলনায় অনেক বেশি। এই উচ্চ ব্যয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় নিউইয়র্ক স্টেট সরকার এবং নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বিস্তৃত সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর লাখো বাসিন্দা এসব কর্মসূচির মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা, খাদ্য সহায়তা, আবাসন সুবিধা, শিশু পরিচর্যা, জ্বালানি ব্যয়, কর সুবিধা এবং বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা পেয়ে থাকেন। সাধারণ ধারণার বিপরীতে এসব সুবিধা শুধু নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সীমিত নয়, বরং শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী, কর্মজীবী পরিবার, নতুন বাবা-মা এবং নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্যও অনেক কর্মসূচি উন্মুক্ত।   নিউইয়র্কের সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্বাস্থ্যসেবা সহায়তা। সীমিত আয়ের পরিবার, শিশু, গর্ভবতী নারী এবং প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন স্বাস্থ্যবিমা ও চিকিৎসা সহায়তা কর্মসূচি চালু রয়েছে। অনেক পরিবার বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে চিকিৎসা, ওষুধ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। ক্রমবর্ধমান স্বাস্থ্য ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় এসব কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।   খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিও নিউইয়র্কের জনকল্যাণ ব্যবস্থার বড় একটি অংশ। যোগ্য পরিবারগুলো মাসিক খাদ্য কেনার জন্য সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে। সীমিত আয়ের কর্মজীবী পরিবার, প্রবীণ নাগরিক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য এই সহায়তা দৈনন্দিন ব্যয় কমাতে সহায়তা করছে।   গর্ভবতী নারী, নবজাতক শিশু এবং অল্পবয়সী শিশুদের জন্য আলাদা পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। এর মাধ্যমে পুষ্টিকর খাদ্য, স্বাস্থ্য পরামর্শ এবং শিশুদের সঠিক বিকাশে সহায়তা দেওয়া হয়, যা প্রতি বছর হাজারো পরিবারকে উপকৃত করে।   কর্মজীবী বাবা-মায়েদের জন্য শিশু পরিচর্যা ব্যয় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শিশু পরিচর্যা সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে অনুমোদিত ডে কেয়ার বা পরিচর্যা সেবার ব্যয়ের একটি অংশ বা উল্লেখযোগ্য অংশে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়, যার ফলে অনেক অভিভাবক কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করতে পারেন।   নতুন বাবা-মায়েদের জন্য বেতনসহ পারিবারিক ছুটির সুবিধাও নিউইয়র্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। সন্তান জন্ম, দত্তক গ্রহণ বা পরিবারের গুরুতর অসুস্থ সদস্যের পরিচর্যার ক্ষেত্রে কর্মরত ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বেতনসহ ছুটি পান, যা কাজ ও পারিবারিক জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।   অর্থনৈতিক সংকটে থাকা ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য নগদ সহায়তা কর্মসূচিও চালু রয়েছে। সাময়িক আর্থিক সমস্যায় পড়া পরিবারগুলো খাদ্য, বাসস্থান, বিদ্যুৎ বিল এবং অন্যান্য জরুরি ব্যয়ের জন্য সরকারি সহায়তার আবেদন করতে পারে। বিশেষ পরিস্থিতিতে জরুরি সহায়তার ব্যবস্থাও রয়েছে।   আবাসন ব্যয় নিউইয়র্কের দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ। উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক পরিবার সরকারি ভাড়া সহায়তা, ভর্তুকিযুক্ত আবাসন এবং বিশেষ আবাসন কর্মসূচির সুবিধা গ্রহণ করে। গৃহহীনতা প্রতিরোধ এবং স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে স্টেট ও সিটি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ পরিচালিত হচ্ছে।   শীতপ্রধান এই অঞ্চলে জ্বালানি ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। তাই নির্দিষ্ট আয়ের পরিবারগুলোর জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং গৃহ উষ্ণ রাখার ব্যয়ে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে গরম করার যন্ত্র মেরামত বা প্রতিস্থাপনের জন্যও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।   প্রবীণ নাগরিকদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি কর্মসূচি, পরিবহন সহায়তা, বাড়িভিত্তিক পরিচর্যা এবং সামাজিক অংশগ্রহণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। এসব উদ্যোগ প্রবীণদের নিরাপদ ও স্বাধীন জীবনযাপন নিশ্চিত করতে ভূমিকা রাখছে।   প্রতিবন্ধী এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্যও বিস্তৃত সহায়তা ব্যবস্থা রয়েছে। চিকিৎসা, পুনর্বাসন, ব্যক্তিগত পরিচর্যা, কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদেরও পরিচর্যা ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   চাকরি হারানো কর্মীদের জন্য বেকারত্বকালীন সহায়তা নিউইয়র্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। যোগ্য ব্যক্তিরা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান খুঁজে পেতে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ সেবা পান।   শিক্ষার্থী ও শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি। বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে খাবার, শিক্ষা সহায়তা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তার সুযোগ অনেক পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি শিশু কর সুবিধার মতো কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবারগুলো অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে।   নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারা স্টেট সরকারের পাশাপাশি নগর প্রশাসনের বিশেষ সেবাও পেয়ে থাকেন। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি সহায়তা, সামাজিক সেবা, অভিবাসী সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিচয়পত্র, আইনি সহায়তা, গৃহহীনদের আশ্রয় সেবা এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন সুবিধা। বর্তমানে এসব সেবার বড় অংশ অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আবেদন প্রক্রিয়া আরও সহজ হয়েছে।   এছাড়া কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য কর সুবিধা, প্রবীণদের জন্য সম্পত্তি কর ছাড় এবং বিভিন্ন শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচিও বিদ্যমান। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার সরাসরি নগদ সহায়তার যোগ্য না হলেও এসব কর সুবিধা ও পারিবারিক কর্মসূচির মাধ্যমে পরোক্ষভাবে উপকৃত হয়।   উচ্চ ব্যয়ের চাপের মধ্যে নিউইয়র্ক স্টেট এবং নিউইয়র্ক সিটি সরকারের এসব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি শিশু থেকে প্রবীণ পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের জন্য আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো হিসেবে কাজ করছে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নিশ্চিত করাই এসব কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৮:১৮
ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কের নদীতে যাত্রীবাহী বিমান দুর্ঘটনা, অলৌকিকভাবে বাঁচলেন ২ আরোহী

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের ইস্ট রিভারে একটি যাত্রীবাহী ছোট সি-প্লেন (পানিতে নামতে ও উড়তে পারা বিমান) ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে সৌভাগ্যবশত বিমানে থাকা দুই আরোহীর কেউই আহত হননি, তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার সকালে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট নিশ্চিত করেছে।   ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানায়, সকাল সাড়ে নয়টার ঠিক আগে কুইন্সের হোয়াইটস্টোন এবং থ্রগস নেক ব্রিজের কাছাকাছি নদীতে একটি ছোট বিমান ভেঙে পড়ার খবর আসে। খবর পাওয়া মাত্রই উদ্ধারকারী দল বড় ধরনের কারিগরি প্রস্তুতি নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।   ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমানটি পানিতে আছড়ে পড়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ভেতরে থাকা দুই যাত্রীকে ফায়ার সার্ভিসের নৌকায় তুলে নেওয়া হয়। উদ্ধার করার পর পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, তারা দুজনেই সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং কোনো আঘাত পাননি।   একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিকে নদী থেকে টেনে তোলা হচ্ছে। সূত্র জানিয়েছে, বিমানটিকে টেনে হোয়াইটস্টোনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই ঘটনার পর নিউ ইয়র্ক সিটির জরুরি ব্যবস্থাপনা দপ্তরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেছে।

টিজুয়ানা স্টেডিয়াম | ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি ভেন্যুর বাইরে গাড়ির ট্রাঙ্কে মিলল গলিত মরদেহ

ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে প্রস্তুতি চলার মধ্যেই মেক্সিকোর টিজুয়ানায় একটি স্টেডিয়ামের বাইরে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ট্রাঙ্ক থেকে এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে স্টেডিয়ামে বর্তমানে ইরান জাতীয় ফুটবল দল অনুশীলন করছে, তার অদূরেই এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহটি একটি প্লাস্টিকের ব্যাগে মোড়ানো অবস্থায় গাড়ির ট্রাঙ্কে রাখা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে লাশে গুরুতর সহিংসতার চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ কারণে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   স্টেডিয়ামের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকার বাইরে এমন ঘটনা সামনে আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনেও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাটির পূর্ণ তদন্ত চলছে।   পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়িটি বেশ কিছু সময় ধরে একই স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। পরে সেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বিষয়টি পুলিশের নজরে আনেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ গাড়ির ট্রাঙ্ক খুলে প্লাস্টিকে মোড়ানো মরদেহটি উদ্ধার করে।   ঘটনার পর ইরান জাতীয় ফুটবল দলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেডিয়াম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণও বাড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।   মেক্সিকান প্রশাসন জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র বা মাদক কার্টেলের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত এবং মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির আগে তেহরানে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ইরানের জরুরি বৈঠক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি খসড়া সমঝোতা চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার জোর গুঞ্জনের মধ্যেই ইরান তেহরানে রাশিয়া ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে জরুরি ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করেছে। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে অংশ নেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি।   ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ইসনা (ISNA)-এর বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক (MoU) এবং সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে দেওয়া বিবৃতিতে কাজেম ঘারিভাবাদি বলেন, ইরান, চীন এবং রাশিয়ার মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।   গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের বিভিন্ন বক্তব্যে সম্ভাব্য এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চললেও এখন পর্যন্ত চুক্তির সুনির্দিষ্ট শর্ত প্রকাশ করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীন দীর্ঘদিন ধরেই ইরানের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে চীন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। গত মাসে বেইজিং সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আলোচনায় পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাসও দেয় চীন।   অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিভিন্ন পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের বিষয়েও সহযোগিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ | ফাইল ছবি
ভারতের নতুন সেনাপ্রধান হচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ

ভারতের পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠকে নিয়োগ দিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে তার নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদীর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ১ জুলাই থেকে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।   লেফটেন্যান্ট জেনারেল ধীরাজ শেঠ ভারতের অন্যতম সম্মানজনক সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমি (এনডিএ), খড়গওয়াসলার প্রাক্তন শিক্ষার্থী। ১৯৮৬ সালের ডিসেম্বরে তিনি ভারতীয় সেনাবাহিনীর আর্মার্ড কর্পসে যোগ দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন।   দীর্ঘ প্রায় চার দশকের সামরিক জীবনে তিনি ভারতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন। মরুভূমি অঞ্চলে একটি আর্মার্ড রেজিমেন্টের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। পাশাপাশি তিনি পাটিয়ালা ভিত্তিক ৯৮ আর্মার্ড ব্রিগেডের কমান্ডিং অফিসার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন, যা একসময় সেনাবাহিনীর ১ স্ট্রাইক কর্পসের অধীনে পরিচালিত ছিল।   এছাড়া জম্মু ও কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে নিয়োজিত ডিভিশন পর্যায়ের একটি বিশেষ ইউনিটের নেতৃত্বও দিয়েছেন তিনি। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃত্ব ও অপারেশনাল অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বগুলোতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।   দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই কর্মকর্তার হাতেই এবার বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব যাচ্ছে, যা আগামী দিনে ভারতীয় সামরিক নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
অস্ট্রেলিয়ায় হাঙ্গরের কামড়ে তরুণী গুরুতর আহত, বাঁচালেন লাইফগার্ড

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির একটি জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকতে সাঁতার কাটার সময় এক তরুণী হাঙ্গরের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে সাহায্য করেছেন একজন স্থানীয় লাইফগার্ড।   পলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ওই তরুণীর বয়স পঁয়ত্রিশ বছর। গত শনিবার সকালে কুজি সৈকতে এই হাঙ্গরের আক্রমণের ঘটনা ঘটে। এতে তার হাত ও পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   অ্যাম্বুলেন্স কর্মকর্তা মাইকেল কর্লিস জানান, ওই তরুণী সমুদ্রের তীর থেকে প্রায় একশত ফুট দূরে তার দুই বন্ধুর সাথে সাঁতার কাটছিলেন। ঠিক তখনই হাঙ্গরটি আকস্মিকভাবে তার ওপর আক্রমণ করে বসে। লাইফগার্ড টনি ওয়ালার জানান, হাঙ্গরটি প্রায় এগারো ফুট লম্বা ছিল।   প্রথম উদ্ধারকারী হিসেবে এগিয়ে যাওয়া লাইফগার্ড চার্লি ভার্কো জানান, তিনি নিজের প্যাডেলবোর্ডে থাকার সময় হাঙ্গরটিকে পানি থেকে ওপরে উঠতে দেখেন। হাঙ্গরটির বিশাল আকৃতি দেখে তিনি পুরোপুরি চমকে গিয়েছিলেন।   চার্লি ভার্কো আরও জানান, তিনি তরুণীর দিকে প্যাডেলবোর্ড নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সময়ই হাঙ্গরটি তাকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। এর কয়েক সেকেন্ড পরেই ওই তরুণী আবার পানির ওপরে ভেসে ওঠেন।   সেই সময় সমুদ্রসৈকতে নিজের পরিবারের সাথে ছুটি কাটাচ্ছিলেন ইয়ান ফার্গুসন নামের একজন অফ-ডিউটি চিকিৎসক। তিনি জানান, আক্রমণের সাথে সাথেই সমুদ্রের পানির একটি বিশাল অংশ রক্তে লাল হয়ে গিয়েছিল।   লাইফগার্ড চার্লি জানান, আহত তরুণী এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের শক্তিতে প্যাডেলবোর্ডে উঠতে পারছিলেন না। তখন চার্লি তার হাত ধরে টেনে সমুদ্রের তীরের দিকে নিয়ে আসতে শুরু করেন। পরবর্তীতে তীরে থাকা অন্যান্য সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন।   সৈকতে নিয়ে আসার পর চিকিৎসক ফার্গুসন এবং উপস্থিত অন্যান্যরা মিলে দ্রুত ওই তরুণীর ক্ষতস্থানে রক্তক্ষরণ বন্ধের ব্যবস্থা করেন। ফার্গুসন জানান, তরুণীর উরুতে প্রায় বারো ইঞ্চি চওড়া কামড়ের দাগ ছিল এবং ভেতরের হাড় দেখা যাচ্ছিল। তার হাতেও একই ধরনের ক্ষত তৈরি হয়েছে।   গুরুতর আহত অবস্থায় ওই তরুণীকে হেলিকপ্টারে করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক এবং ক্ষত সারাতে অনেকগুলো অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে। এই ঘটনার পর ওই এলাকার সব সৈকত আগামী চব্বিশ ঘণ্টার জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
আমেরিকা বাংলা কোলাজ
ভারতে মুসলিম ফেরিওয়ালা ‘জয় শ্রীরাম’ না বলায় কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৭:১৩

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের পুরুলিয়া জেলায় এক মুসলিম ফেরিওয়ালাকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, নিহত ব্যক্তিকে হত্যার আগে ধর্মীয় স্লোগান দিতে বাধ্য করা হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চলমান ভয় ও বিদ্বেষের পরিবেশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। তবে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনো ভূমিকা থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৯ জুন ৪৭ বছর বয়সী আকবর মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। নিহতের ২০ বছর বয়সী ছেলে জুলফিকার মণ্ডল জানান, তার বাবা বন্দওয়ান অঞ্চলে ফেরিওয়ালা হিসেবে জীবিকা নির্বাহ করতেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি ঠেলাগাড়িতে স্টিলের বাসনপত্র বিক্রি করতে বের হন।   জুলফিকারের ভাষ্য অনুযায়ী, সুপুরদিহি গ্রামের একটি বাড়িতে আকবরকে হঠাৎ করে টেনে নেওয়া হয় এবং সেখানে এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালায়। প্রথমে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়, পরে কুড়াল দিয়ে আঘাত করা হয়। তিনি আরও জানান, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের ঘটনাও ঘটে।   পরিবারের দাবি, ঘটনার দিন দুপুরে বান্দওয়ান থানার একজন কর্মকর্তা ফোনে আকবরের মৃত্যুর খবর দেন এবং হাসপাতালে যেতে বলেন। পরে হাসপাতালে গিয়ে তারা তার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানান।   নিহতের ছেলে জুলফিকার অভিযোগ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং কিছু লোক তাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে হয়রানি করত। তিনি বলেন, দাড়ি থাকার কারণে তাদের ‘জয় শ্রীরাম’ বলতে বাধ্য করা হতো এবং ফেরিওয়ালা হিসেবে কাজ করতে বাধা দেওয়ার কথাও বলা হতো।   তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে এলাকায় ভয়ের পরিবেশ বেড়েছে এবং তার পরিবারসহ স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।   ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতের পরিবার। অন্যদিকে পুলিশ এ ঘটনায় ধর্মীয় বিদ্বেষের অভিযোগ অস্বীকার করে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে।

লেবাননের টাইর শহরে ইসরায়েলি হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবন পরিদর্শন করছেন এক ব্যক্তি। ছবি: EPA
দক্ষিণ লেবাননের ২০টি শহর ও গ্রামে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৭:২

দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ২০টি শহর ও গ্রামের বাসিন্দাদের অবিলম্বে ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।   লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ জানিয়েছে, টাইর জেলার মারাকেহ শহরে চালানো এক বিমান হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। দক্ষিণের জেজ্জিন জেলায় আর-রিহান পৌরসভার মেয়র আলি বাদি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন। এছাড়া নাবাতিয়ে জেলার দেইর আল-জাহরানি ও কাফর রেমানে পৃথক হামলায় আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।   এনএএ আরও জানায়, দক্ষিণ লেবাননের বিনত জবাইল এলাকায় ভোরের দিকে চালানো হামলায় একাধিক ঘরবাড়ি ও সরকারি ভবন ধ্বংস হয়েছে।   এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নাবাতিয়ে ও জেজ্জিন অঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম ও শহরের বাসিন্দাদের “তৎক্ষণাৎ এলাকা ত্যাগ করে জাহরানি নদীর উত্তরে চলে যাওয়ার” নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশের আওতায় রয়েছে দেইর আল-জাহরানি, আল-নামিরিয়ে, হারুফ, কফর রুমানসহ একাধিক এলাকা।   ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, উত্তরাঞ্চলীয় মেতুলা শহরে “লেবানন থেকে আসা একটি শত্রু ড্রোন অনুপ্রবেশ” শনাক্ত হওয়ার পর সেখানে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।   আল জাজিরার সাংবাদিক হেইডি পেট জানিয়েছেন, শুক্রবার থেকে রাত পর্যন্ত ইসরায়েলি বাহিনী এমন সব এলাকায় ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে, যেগুলো তারা “ইয়েলো লাইন” নামে পরিচিত সীমার অনেক উত্তরে অবস্থিত এলাকা হিসেবেও বিবেচনা করছে।

ছবি: সংগৃহীত
উত্তর ওয়াজিরিস্তানে অভিযানে ২১ সশস্ত্র ব্যক্তি নিহতের দাবি পাকিস্তানের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৫:১৭

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ২১ জন সশস্ত্র ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযান গত ৭২ ঘণ্টা ধরে চলেছে বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস (আইএসপিআর)।   আইএসপিআরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মিরানশাহ এলাকা এবং এর আশপাশে অবস্থিত একাধিক আস্তানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ব্যক্তিদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়।   বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, অভিযানে ভারত-সমর্থিত ‘ফিতনা-আল-খারিজি’র ২১ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজনকে সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছে আইএসপিআর। পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোকে বোঝাতে ‘ফিতনা-আল-খারিজি’ পরিভাষা ব্যবহার করে থাকে।   আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তিরা নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে তাদের কাছে তথ্য রয়েছে। অভিযান চলাকালে সশস্ত্র ব্যক্তিদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।   তবে ভারত-সমর্থনের অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্বাধীন যাচাই বা ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   সূত্র: ডন

ছবি: সংগৃহীত
সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভান্ডার আরও সুরক্ষিত করছে ইরান
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৩, ২০২৬ ৪:৫৪

পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা আলোচনার মধ্যেই নতুন একটি জটিলতার খবর সামনে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহে ইরান তাদের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের গোপন মজুতাগারগুলো আরও সুরক্ষিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কিছু ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এবং প্রবেশপথগুলোকে এমনভাবে সুরক্ষিত করা হচ্ছে, যাতে সেখানে পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়ে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে যে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, তার একটি বড় অংশ পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উপযোগী পর্যায়ের কাছাকাছি বলে পশ্চিমা দেশগুলোর ধারণা। এই মজুতের পরিমাণ প্রায় আধা টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।   সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেও এই ভান্ডারগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমান অবস্থার মতো ছিল না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইঙ্গিত দেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে। সে সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপায়ে ওই ইউরেনিয়াম জব্দ করার বিষয় বিবেচনা করতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সর্বশেষ পদক্ষেপ সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। কারণ আলোচনায় থাকা প্রস্তাবগুলোর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া, ধ্বংস করা অথবা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা। এদিকে জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশন এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। একইভাবে হোয়াইট হাউসও প্রকাশ্যে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   চলমান কূটনৈতিক আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র বারবার ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতকে আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে। শুক্রবার মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, দুই দেশ একটি সম্ভাব্য চুক্তির খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। তার দাবি, চুক্তি সম্পন্ন হলে ইরানকে তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে এবং তা অপসারণ বা নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়াও শুরু হবে।   তবে সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও দেখা যাচ্ছে ভিন্নতা। এর মধ্যেই ইরানের একটি আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমে কথিত চুক্তির একটি খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি প্রতিবেদনে বর্ণিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্যি হয়ে থাকে, তাহলে ওই ইউরেনিয়াম উদ্ধার বা স্থানান্তর করা আরও জটিল হয়ে উঠবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সাবেক কর্মকর্তা স্কট রোকার সিএনএনকে বলেন, এমন পরিস্থিতি বাস্তব হলে মজুত উপাদান যাচাই ও অপসারণের কাজ আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হবে।   তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে যদি ইরানকে পুরো মজুতের হিসাব দিতে হয়, তাহলে সব উপাদান উদ্ধার করা সম্ভব কি না, সেটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তার মতে, কোনো অংশ যদি অপ্রাপ্য বলে দাবি করা হয়, তাহলে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সন্দেহ থেকেই যাবে। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বড় অংশ মধ্য ইরানের Isfahan Nuclear Technology Center এলাকায় সংরক্ষিত থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ সামরিক অভিযানের মাধ্যমে এই উপাদান জব্দ করার একটি পরিকল্পনা বিবেচনা করেছিল। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি হওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে যদি কোনো সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, তাহলেও বাস্তবায়নের পর্যায়ে দীর্ঘ কারিগরি আলোচনা প্রয়োজন হবে। সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম শনাক্ত, যাচাই, অপসারণ এবং নিরাপদভাবে স্থানান্তরের মতো কাজ সম্পন্ন করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় প্রয়োজন হবে।   এ কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে রাজনৈতিক সমঝোতা হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে আরও সময় লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।  

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
481 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
421 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
511 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
367 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়