পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে ইরানি প্রতিনিধিদল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান শান্তি আলোচনায় এটি ‘আন্তরিকতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছে তেহরান। শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানান, জব্দ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কত অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে আরেকটি ইরানি সূত্রের দাবি, কাতারে আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই তহবিলের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ২০১৮ সালে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির অর্থ আটকে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা করা হলেও, একই বছরের অক্টোবরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ায় তা আবার স্থগিত করা হয়। এরপর দোহায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় অর্থটি কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—যেমন খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায়—ব্যবহার করা যাবে এবং তা ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জব্দ তহবিল ছাড়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত বর্তমান আলোচনায় আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একটি ইস্যু।
পরীক্ষাকেন্দ্রে হঠাৎ হেলিকপ্টার নিয়ে উপস্থিত হওয়ার যুগ শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তাই দেশের শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন কেন্দ্রসচিবরা অংশ নেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন দূর থেকে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এ কারণে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের নিয়মিততা এবং শিক্ষার মানও নজরদারির আওতায় আনা হবে। নকল প্রতিরোধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতেও শিক্ষকদের সহযোগিতায় নকল বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ থাকলে আবারও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামীতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ধাপে ধাপে বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম। এর আগে সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি সেমিনারেও অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ২ মে তিনি এ সফরে যাবেন। আগে ঘোষণা ছিল, ৩০ এপ্রিল সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তবে সফরের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সফরের দিন তারেক রহমান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিয়া নদী খননকাজের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন তিনি। এর আগে ১ এপ্রিল সিলেট সফরে গিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ৩০ এপ্রিল সেখানে যাবেন। তবে পরবর্তীতে সেই সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি সিলেট থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন তারেক রহমান। পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে ইরানি প্রতিনিধিদল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সরঞ্জাম পাঠানো হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখতে পারে। কারণ, একদিকে চীন যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরান যুদ্ধবিরতির সুযোগে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে এবং এতে বিদেশি সহযোগিতাও পাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র—ম্যানপ্যাডস সরবরাহের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের অস্ত্র স্বল্প উচ্চতায় উড়ন্ত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত আগেও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ইরান দাবি করেছিল, তারা একটি ‘নতুন’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যদিও সেটির বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চীন কখনোই কোনো সংঘাতে কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি এবং এই অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’। তিনি আরও বলেন, চীন সবসময় আন্তর্জাতিক দায়িত্ব মেনে চলে এবং উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ইরানে এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। এদিকে, চীন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বরং তারা একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরপেক্ষ অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান শান্তি আলোচনায় এটি ‘আন্তরিকতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছে তেহরান। শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানান, জব্দ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কত অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে আরেকটি ইরানি সূত্রের দাবি, কাতারে আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই তহবিলের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ২০১৮ সালে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির অর্থ আটকে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা করা হলেও, একই বছরের অক্টোবরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ায় তা আবার স্থগিত করা হয়। এরপর দোহায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় অর্থটি কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—যেমন খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায়—ব্যবহার করা যাবে এবং তা ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জব্দ তহবিল ছাড়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত বর্তমান আলোচনায় আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একটি ইস্যু।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি আলোচনা আজ শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বহু মানুষ নিহত হন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। সেই প্রেক্ষাপটেই শুরু হচ্ছে এই আলোচনা। আলোচনার মূল বিষয়গুলো এই বৈঠকে উভয় পক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরবে। যুক্তরাষ্ট্র চায়— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা অন্যদিকে, ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে— আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি এছাড়া লেবাননে চলমান সংঘাতও আলোচনার অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান বলছে, সেখানে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে কার্যকর কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। আলোচনার ধরন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার প্রথম ধাপে দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে বসবে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা বার্তা আদান-প্রদান করবেন। পরবর্তীতে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ইসলামাবাদে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে একটি পাঁচতারকা হোটেলকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ফলাফল কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসার সম্ভাবনা কম। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। তবে সীমিত পর্যায়ে কিছু অগ্রগতি হতে পারে, যেমন— যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ গ্রহণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবানন ইস্যু এবং ইসরায়েলের ভূমিকা এই আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েল আলোচনায় সরাসরি অংশ না নেওয়ায় ভবিষ্যতে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক গুরুত্ব এই বৈঠককে একটি ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, চরম উত্তেজনার মধ্যেও দুই পক্ষের আলোচনায় বসা নিজেই একটি বড় অগ্রগতি। পাকিস্তানও এই উদ্যোগকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। দেশটি আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে অন্তত একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো সিলেট সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। নতুন সূচি অনুযায়ী আগামী ২ মে তিনি এ সফরে যাবেন। আগে ঘোষণা ছিল, ৩০ এপ্রিল সিলেটে যাওয়ার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তবে সফরের তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। শনিবার (১১ এপ্রিল) সিলেট সফরকালে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সফরের দিন তারেক রহমান সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিয়া নদী খননকাজের উদ্বোধন করবেন। পাশাপাশি সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন তিনি। এর আগে ১ এপ্রিল সিলেট সফরে গিয়ে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী ৩০ এপ্রিল সেখানে যাবেন। তবে পরবর্তীতে সেই সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২১ জানুয়ারি সিলেট থেকেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু করেছিলেন তারেক রহমান। পরে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে তিনি দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
পরীক্ষাকেন্দ্রে হঠাৎ হেলিকপ্টার নিয়ে উপস্থিত হওয়ার যুগ শেষ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানিয়েছেন, এখন প্রযুক্তির মাধ্যমে ঘরে বসেই পরীক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। তাই দেশের শ্রেণিকক্ষ ও পরীক্ষাকেন্দ্রে পর্যায়ক্রমে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজশাহীতে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ডা. কাইছার রহমান চৌধুরী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই সভায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন কেন্দ্রসচিবরা অংশ নেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন দূর থেকে সবকিছু পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব। এ কারণে পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শিক্ষকদের নিয়মিততা এবং শিক্ষার মানও নজরদারির আওতায় আনা হবে। নকল প্রতিরোধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, অতীতেও শিক্ষকদের সহযোগিতায় নকল বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। সরকারের সদিচ্ছা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক অংশগ্রহণ থাকলে আবারও শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষা খাতে বাজেট বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী আগামীতে বাজেটের প্রায় ৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছেন। তবে এই অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহারের সক্ষমতা তৈরি করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তাই ধাপে ধাপে বাজেট বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এরশাদ আলী ঈশা। সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আ ন ম মোফাখখারুল ইসলাম। এর আগে সকালে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আয়োজিত একটি সেমিনারেও অংশ নেন শিক্ষামন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং দক্ষতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
মো: আবদুর রহমান মিঞা
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে ইরানি প্রতিনিধিদল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ ছাড়তে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র—এমন তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। ইরানের এক জ্যেষ্ঠ সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান শান্তি আলোচনায় এটি ‘আন্তরিকতার গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত’ হিসেবে দেখছে তেহরান। শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র জানান, জব্দ অর্থ অবমুক্ত করার বিষয়টি হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌ-চলাচলের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্র ঠিক কত অর্থ ছাড়তে রাজি হয়েছে, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। তবে আরেকটি ইরানি সূত্রের দাবি, কাতারে আটকে থাকা প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের তহবিল ছাড়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এই তহবিলের ইতিহাসও বেশ দীর্ঘ। ২০১৮ সালে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর দক্ষিণ কোরিয়ায় ইরানের তেল বিক্রির অর্থ আটকে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে অর্থ ছাড়ের পরিকল্পনা করা হলেও, একই বছরের অক্টোবরে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ায় তা আবার স্থগিত করা হয়। এরপর দোহায় মধ্যস্থতার মাধ্যমে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় অর্থটি কাতারের ব্যাংকে স্থানান্তর করা হয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এই অর্থ শুধুমাত্র মানবিক খাতে—যেমন খাদ্য, ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনায়—ব্যবহার করা যাবে এবং তা ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে থাকবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জব্দ তহবিল ছাড়ার সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত বর্তমান আলোচনায় আস্থা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে এটি হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একটি ইস্যু।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেই ইরানকে নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য উঠে এসেছে মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের বরাতে জানা গেছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই সরঞ্জাম পাঠানো হতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই পদক্ষেপকে যুক্তরাষ্ট্র ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখতে পারে। কারণ, একদিকে চীন যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরানকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, ইরান যুদ্ধবিরতির সুযোগে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনে মনোযোগ দিচ্ছে এবং এতে বিদেশি সহযোগিতাও পাচ্ছে। বিশেষ করে কাঁধে বহনযোগ্য বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র—ম্যানপ্যাডস সরবরাহের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই ধরনের অস্ত্র স্বল্প উচ্চতায় উড়ন্ত যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করতে সক্ষম। এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের ইঙ্গিত আগেও পাওয়া গেছে। সম্প্রতি ইরান দাবি করেছিল, তারা একটি ‘নতুন’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করেছে, যদিও সেটির বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে চীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, চীন কখনোই কোনো সংঘাতে কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ করেনি এবং এই অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’। তিনি আরও বলেন, চীন সবসময় আন্তর্জাতিক দায়িত্ব মেনে চলে এবং উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে চায়। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই ইরানে এমন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করা হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হবে। এদিকে, চীন সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না বলেও ধারণা করা হচ্ছে। বরং তারা একদিকে ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিরপেক্ষ অবস্থান প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। সামগ্রিকভাবে, যুদ্ধবিরতির আলোচনার এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে দুর্বল করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জনগণের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তরিকভাবে চুক্তির পথে এগোয়, তাহলে তেহরানও একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত—এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। কালিবাফ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় বহু যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে তিনি বলেন, তেহরানের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ঘাটতি এখনো কাটেনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে কেবল শক্তি প্রদর্শন বা কৌশলগত প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে ইরান নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে জনগণের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে। কালিবাফ আরও বলেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ ও প্রত্যাশা। তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।