মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কথা বলে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন অফিসে গত ৩ জুন সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে আটক হন কনর রিড নামের ওই তরুণ। প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাকে যুক্তরাজ্যে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টির চ্যাথামে জন্ম নেওয়া কনর রিড ২০০৭ সালে পরিবারের সঙ্গে শিক্ষার্থী ভিসার অধীনে নির্ভরশীল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি আমেরিকান স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন এবং জীবনের সিংহভাগ সময় দেশটিতে কাটালেও মাত্র একবার যুক্তরাজ্যে যান। ২০১১ সালে প্রথমবার তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, বয়সের কারণে তিনি 'ড্যাকা' (DACA) কর্মসূচির আওতায় আইনি সুরক্ষা ও কাজ করার অনুমতি পান। তবে পরবর্তীতে অ্যালকোহল গ্রহণ, মাদকের সরঞ্জাম রাখা এবং পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ২২ বছর বয়সে তার ড্যাকা স্ট্যাটাস নবায়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি অনুযায়ী তাকে ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে মার্কিন নাগরিক জায়লিনকে বিয়ে করেন কনর। তাদের তিন বছর বয়সী দুটি জমজ সন্তানও রয়েছে। বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের বা ‘গ্রিন কার্ড’ পেতে তিনি আবেদন করেছিলেন। ৩ জুন টাম্পার ইমিগ্রেশন সেন্টারে সাক্ষাৎকার চলাকালেই চারজন আইস কর্মকর্তা তাকে হঠাৎ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। তাকে প্রথমে পিনেল্যাস কাউন্টি জেলে এবং পরবর্তীতে লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। আইস (ICE)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন নির্দেশনায় গুরুতর ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হচ্ছে। কনর বর্তমানে এই চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে অন্তত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল এবং আভিলা প্রদেশে একাধিক স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযান, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল, ভিলা দেল প্রাদো, সান মার্তিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেসা এবং আলদেয়া দেল ফ্রেসনোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, সামরিক জরুরি বাহিনী, পানিবাহী উড়োজাহাজ ও উড়ন্তযান মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে স্পেনে ইতোমধ্যে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং দাবানলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী ফ্রান্সেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেও বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার আইনি প্রক্রিয়া আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে ১০ ধাপের একটি নির্দেশনা প্রকাশ করেছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। বিশেষ করে গ্রিন কার্ডধারীদের নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে কী কী ধাপ সম্পন্ন করতে হবে, সেই প্রক্রিয়াই এতে ধারাবাহিকভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, নাগরিকত্বের আবেদন করার আগে প্রথমেই নিশ্চিত হতে হবে যে আবেদনকারী ইতোমধ্যে কোনোভাবে মার্কিন নাগরিকত্বের অধিকারী কি না। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ না করলেও কিছু ক্ষেত্রে বাবা-মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। এমন কোনো সুযোগ না থাকলে আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশন বা আইনি প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদন করতে হবে। এরপর আবেদনকারীকে নাগরিকত্ব পাওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সাধারণভাবে আবেদনকারীর বয়স, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের সময়কাল, নির্দিষ্ট সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে শারীরিকভাবে অবস্থান এবং ভালো নৈতিক চরিত্রের মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী অতিরিক্ত যোগ্যতার শর্তও প্রযোজ্য হতে পারে। যোগ্যতা নিশ্চিত করার পর নাগরিকত্বের জন্য ফরম এন-৪০০, অর্থাৎ ন্যাচারালাইজেশনের আবেদনপত্র প্রস্তুত করতে হবে। ইউএসসিআইএসের অনলাইন অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অনেক আবেদনকারী অনলাইনে এই ফরম জমা দিতে পারেন। আবেদনকারীর পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়ক নথিও প্রস্তুত করতে হয়। পরবর্তী ধাপে ফরম এন-৪০০ জমা দেওয়া এবং নির্ধারিত আবেদন ফি পরিশোধ করতে হয়। আবেদন গ্রহণের পর ইউএসসিআইএস একটি রসিদ নোটিশ দেয়। অনলাইন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে আবেদনকারী নিজের মামলার অগ্রগতি ও আবেদনের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। কিছু আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিকস দেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইউএসসিআইএস নির্দিষ্ট তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নোটিশ পাঠায়। প্রয়োজন অনুযায়ী আঙুলের ছাপ, ছবি বা স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হতে পারে। বায়োমেট্রিকস ও প্রাথমিক যাচাইয়ের ধাপ শেষ হলে আবেদনকারীকে ইউএসসিআইএসের নির্ধারিত কার্যালয়ে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। এই সাক্ষাৎকারে আবেদনপত্রের তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি নাগরিকত্বের যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ইংরেজি ও নাগরিকত্ব জ্ঞান পরীক্ষার বিষয়গুলোও মূল্যায়ন করা হতে পারে। সাক্ষাৎকারের পর ইউএসসিআইএস আবেদনটির বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানায়। আবেদন অনুমোদিত হতে পারে, অতিরিক্ত নথি বা তথ্যের প্রয়োজন হলে সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হতে পারে, অথবা আবেদনকারী যোগ্য নন বলে আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হতে পারে। ইংরেজি বা নাগরিকত্ব পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রথমবার সফল না হলে আইন ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ থাকতে পারে। আবেদন অনুমোদিত হলে পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ওথ অব অ্যালিজিয়েন্স গ্রহণের জন্য ন্যাচারালাইজেশন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষাৎকারের দিনই শপথ গ্রহণের সুযোগ থাকতে পারে। তা সম্ভব না হলে ইউএসসিআইএস আলাদা নোটিশের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের তারিখ, সময় ও স্থান জানিয়ে দেয়। শপথ গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত আবেদনকারী আইনগতভাবে মার্কিন নাগরিক হিসেবে গণ্য হন না। অনুষ্ঠানে সাধারণত নির্ধারিত ফরমের প্রশ্নমালা পূরণ, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তাদের কাছে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গ্রিন কার্ড জমা দেওয়ার পর আনুগত্যের শপথ গ্রহণ করতে হয়। এরপর আবেদনকারীকে ন্যাচারালাইজেশনের সনদ দেওয়া হয়। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে নাগরিকত্বের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও নতুন নাগরিকের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন থাকাও এই প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মধ্যে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, জুরি হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান ও আইন মেনে চলার মতো নাগরিক দায়িত্ব রয়েছে। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নাগরিকত্বের আবেদনসংক্রান্ত ফরম, নির্দেশনা এবং আবেদনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের সরকারি ব্যবস্থা তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। তবে নাগরিকত্বের যোগ্যতা ও আবেদন প্রক্রিয়া ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে নিজের পরিস্থিতি অনুযায়ী ইউএসসিআইএসের সর্বশেষ সরকারি নিয়ম ও নির্দেশনা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
গৃহহীন সংকট মোকাবিলায় বছরে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত দুই বছরের টানা হ্রাসের পর ২০২৬ সালের নতুন তথ্য-উপাত্তে এই বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ও কাউন্টিতে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে রাস্তাঘাট, ফুটপাত এবং অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসকারী চরম গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭.৯ শতাংশ। সংকট নিরসনে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস-এর বিশেষ কর্মসূচি 'ইনসাইড সেফ'-এর পেছনে চলতি বছরই প্রায় ১০ কোটি ডলার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি গৃহহীন ব্যক্তির পেছনে শহরের প্রায় ৩৪ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এছাড়া 'প্রজেক্ট হোমকি' ও কাউন্টির ভোটারদের অনুমোদিত 'মেজার এ' সেলস ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক ১০০ কোটি ডলারসহ সিটি ও কাউন্টি প্রশাসন যৌথভাবে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল ব্যবহার করছে। তবে এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও সংকটের গভীরতা বাড়তে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো। তাদের মতে, প্রশাসনের ব্যর্থতা, সুনির্দিষ্ট রূপরেখার অভাব এবং জবাবদিহিতা না থাকায় বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ব্যর্থতার দায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়েছেন মেয়র ক্যারেন বাস। মেয়র কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে জ্বালানি, নিত্যপণ্য ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে কম আয়ের বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর তহবিল ছাঁটাইয়ের ফলে গৃহহীনদের জন্য রক্ষাকবচ দুর্বল হয়ে গেছে। তবে আসন্ন মেয়র নির্বাচনের মুখে লস অ্যাঞ্জেলেসে এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রমন এই অস্থায়ী আশ্রয় ব্যবস্থার সমালোচনা করলেও, তার নিজস্ব বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার খবরও সম্প্রতি গণমাধ্যমে সামনে এসেছে। এদিকে অঞ্চলটির গৃহহীন ব্যবস্থাপনা সমন্বয়কারী সংস্থা 'লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি' (LAHSA)-র পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। সাধারণত বছরের শুরুর দিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এবার ব্যাপক বিলম্বের পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলটি প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। এমনকি চরম অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে সংস্থাটির বেশ কিছু প্রস্তাবিত বরাদ্দ স্থগিত রেখেছে মার্কিন নির্দেশক কর্তৃপক্ষ। সার্বিকভাবে, বিশাল বাজেট সত্ত্বেও লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ইতিবাচক ফল না আসায় নগর প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
মাত্র ৯ বছর বয়স থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়ে ওঠা ২৯ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিককে গ্রিন কার্ডের সাক্ষাৎকার গ্রহণের কথা বলে ডেকে নিয়ে গ্রেপ্তার করেছে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)। ফ্লোরিডার টাম্পায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন অফিসে গত ৩ জুন সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে পরিবারের চোখ ফাঁকি দিয়ে আটক হন কনর রিড নামের ওই তরুণ। প্রায় দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে তাকে ইমিগ্রেশন হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং যেকোনো সময় তাকে যুক্তরাজ্যে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের কেন্ট কাউন্টির চ্যাথামে জন্ম নেওয়া কনর রিড ২০০৭ সালে পরিবারের সঙ্গে শিক্ষার্থী ভিসার অধীনে নির্ভরশীল হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। তিনি আমেরিকান স্কুলেই পড়াশোনা করেছেন এবং জীবনের সিংহভাগ সময় দেশটিতে কাটালেও মাত্র একবার যুক্তরাজ্যে যান। ২০১১ সালে প্রথমবার তাকে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, বয়সের কারণে তিনি 'ড্যাকা' (DACA) কর্মসূচির আওতায় আইনি সুরক্ষা ও কাজ করার অনুমতি পান। তবে পরবর্তীতে অ্যালকোহল গ্রহণ, মাদকের সরঞ্জাম রাখা এবং পুলিশকে কাজে বাধা দেওয়ার মতো কয়েকটি ছোটখাটো অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ২২ বছর বয়সে তার ড্যাকা স্ট্যাটাস নবায়নের সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি অনুযায়ী তাকে ‘অপরাধী অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ২০২০ সালে মার্কিন নাগরিক জায়লিনকে বিয়ে করেন কনর। তাদের তিন বছর বয়সী দুটি জমজ সন্তানও রয়েছে। বৈবাহিক সূত্রের ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের বা ‘গ্রিন কার্ড’ পেতে তিনি আবেদন করেছিলেন। ৩ জুন টাম্পার ইমিগ্রেশন সেন্টারে সাক্ষাৎকার চলাকালেই চারজন আইস কর্মকর্তা তাকে হঠাৎ গ্রেপ্তার করে নিয়ে যান। তাকে প্রথমে পিনেল্যাস কাউন্টি জেলে এবং পরবর্তীতে লুইজিয়ানার একটি ইমিগ্রেশন ডিটেনশন সেন্টারে পাঠায় কর্তৃপক্ষ। আইস (ICE)-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নতুন নির্দেশনায় গুরুতর ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত অবৈধ অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কার করা হচ্ছে। কনর বর্তমানে এই চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তবে এই আইনি লড়াইয়ের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে অন্তত ছয় মাস সময় লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা।
টেক্সাসে মালবাহী ট্রেনের একটি বন্ধ কনটেইনারে ১৪ বছরের এক শিশুসহ সাত অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। কয়েক মাস ধরে চলা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্সের তদন্তের পর চলতি সপ্তাহে টেক্সাসের ডেল রিওতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ২৪ জুলাই এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা এমন একটি মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যারা মেক্সিকো থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর পর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের আরও ভেতরে নিয়ে যেতে মালবাহী ট্রেন ব্যবহার করত। বিচার বিভাগের দাবি, চক্রটি অন্তত ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ১২ মে পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। অভিযুক্ত ১১ জন হলেন ডেল রিওর কারিনা গার্সিয়া, এডসন আলেহান্দ্রো পেরেজ ও মায়রা আলেহান্দ্রা হুয়ের্তা, মেক্সিকোর সেফেরিনো হুয়ের্তা-কাসিয়াস, মারিয়া নর্মা নেরি দে মোরান, দামিয়ান হুয়ের্তা আনালুকাস ও রোসারিও ক্রিস্টাল লোপেজ-সালদানা, হন্ডুরাসের জোনাস উলোয়া-আগুইলেরা ও ফ্র্যাঙ্কলিন উইলিয়ামস আয়ালা আগুইলেরা, টেক্সাসের ঈগল পাসের এরিক হার্নান্দেজ এবং গুয়াতেমালার পাসকুয়াল রাইমুন্ডো লোয়ারকা। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ৩৭ বছর বয়সী কারিনা গার্সিয়া একজন ইউএস সিটিজেন। তিনি এবং মেক্সিকান নাগরিক সেফেরিনো হুয়ের্তা-কাসিয়াস এখনও পলাতক। অন্যদিকে মায়রা আলেহান্দ্রা হুয়ের্তাকে ১২ মে ডেল রিও থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। গত সপ্তাহে মধ্য ও দক্ষিণ টেক্সাসে কয়েক দিনব্যাপী অভিযানে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মানবপাচার চক্রটি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিনিময়ে জনপ্রতি দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিত। অভিবাসী কিংবা তাদের পরিবার ও বন্ধুরা হন্ডুরাস, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা পাচারকারীদের এই অর্থ দিতেন। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ জনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি ঘটে গত মে মাসে। ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ দিকে অন্তত সাতজন অভিবাসীকে মেক্সিকোর আকুনিয়া থেকে টেক্সাসের ডেল রিও এলাকায় আনার ব্যবস্থা করে চক্রটি। ৯ মে তাদের সীমান্ত পার করিয়ে ডেল রিওতে ইউনিয়ন প্যাসিফিকের রেললাইনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন দুপুরে একটি ইউনিয়ন প্যাসিফিক ট্রেন সেখানে থেমে থাকার সময় পাচারকারীরা লাল রঙের বোল্ট কাটার দিয়ে একটি কনটেইনারের দরজার তালা কেটে সাতজনকে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কনটেইনারটিতে কোনো ভেন্টিলেশন বা কুলিং ব্যবস্থা ছিল না। বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়ায় ভেতর থেকেও দরজা খোলার সুযোগ ছিল না। তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন বাইরের তাপমাত্রা ছিল ৮৮ থেকে ৯২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে। কনটেইনারে থাকা সাতজনের একজনের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। ট্রেনটি পরে ডেল রিও থেকে সান আন্তোনিওর দিকে যাত্রা করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সান আন্তোনিও পৌঁছানোর পর পাচারকারীরা কনটেইনারের দরজা খুলে ভেতরের অভিবাসীদের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। একজনের মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয় এবং বাকিদের কনটেইনারের ভেতরেই রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরদিন ১০ মে ট্রেনটি লারেডোর দিকে যাওয়ার পর ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলইয়ার্ডের এক কর্মী কনটেইনার থেকে একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। পরে ভেতরে ছয়জনের মরদেহ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরে সান আন্তোনিওতে রেললাইনের পাশে সপ্তম ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত সাতজনের মধ্যে চারজন মেক্সিকোর এবং তিনজন হন্ডুরাসের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ বছরের শিশুটিও ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, কনটেইনারে আটকা পড়া অন্তত একজন মৃত্যুর আগে তার এক স্বজনকে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছিলেন। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগপত্রে ১১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মৃত্যুর কারণ হওয়া অবৈধ অভিবাসী পরিবহনের ষড়যন্ত্র এবং সেই পরিবহনে সহায়তার একটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জাস্টিন আর. সিমন্স শুক্রবার মামলার নতুন অভিযোগের তথ্য ঘোষণা করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্সের অধীনে একাধিক ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থা মামলাটির তদন্তে যুক্ত রয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে থাকা বিষয়গুলো এখনো কেবল অভিযোগ। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল এবং আভিলা প্রদেশে একাধিক স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযান, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল, ভিলা দেল প্রাদো, সান মার্তিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেসা এবং আলদেয়া দেল ফ্রেসনোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, সামরিক জরুরি বাহিনী, পানিবাহী উড়োজাহাজ ও উড়ন্তযান মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে স্পেনে ইতোমধ্যে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং দাবানলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী ফ্রান্সেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেও বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
গৃহহীন সংকট মোকাবিলায় বছরে প্রায় ৩০০ কোটি (৩ বিলিয়ন) ডলার ব্যয় করা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত দুই বছরের টানা হ্রাসের পর ২০২৬ সালের নতুন তথ্য-উপাত্তে এই বিপরীত চিত্র উঠে এসেছে। একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, লস অ্যাঞ্জেলেস সিটি ও কাউন্টিতে মোট গৃহহীন মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩.৪ শতাংশ বেড়েছে। এর মধ্যে রাস্তাঘাট, ফুটপাত এবং অস্থায়ী তাঁবুতে বসবাসকারী চরম গৃহহীন মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৭.৯ শতাংশ। সংকট নিরসনে লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ক্যারেন বাস-এর বিশেষ কর্মসূচি 'ইনসাইড সেফ'-এর পেছনে চলতি বছরই প্রায় ১০ কোটি ডলার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যেখানে প্রতিটি গৃহহীন ব্যক্তির পেছনে শহরের প্রায় ৩৪ হাজার ডলার পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। এছাড়া 'প্রজেক্ট হোমকি' ও কাউন্টির ভোটারদের অনুমোদিত 'মেজার এ' সেলস ট্যাক্স থেকে প্রাপ্ত বার্ষিক ১০০ কোটি ডলারসহ সিটি ও কাউন্টি প্রশাসন যৌথভাবে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি ডলারের বিশাল তহবিল ব্যবহার করছে। তবে এই বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও সংকটের গভীরতা বাড়তে থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় অধিকার রক্ষা সংস্থাগুলো। তাদের মতে, প্রশাসনের ব্যর্থতা, সুনির্দিষ্ট রূপরেখার অভাব এবং জবাবদিহিতা না থাকায় বিপুল অর্থ অপচয় হচ্ছে। অন্যদিকে, এই ব্যর্থতার দায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ওপর চাপিয়েছেন মেয়র ক্যারেন বাস। মেয়র কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অর্থনৈতিক নীতি ও মূল্যস্ফীতির কারণে জ্বালানি, নিত্যপণ্য ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধি পেয়ে কম আয়ের বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। একই সঙ্গে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর তহবিল ছাঁটাইয়ের ফলে গৃহহীনদের জন্য রক্ষাকবচ দুর্বল হয়ে গেছে। তবে আসন্ন মেয়র নির্বাচনের মুখে লস অ্যাঞ্জেলেসে এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। মেয়রের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ও সিটি কাউন্সিল সদস্য নিথিয়া রমন এই অস্থায়ী আশ্রয় ব্যবস্থার সমালোচনা করলেও, তার নিজস্ব বেশ কয়েকটি উদ্যোগ বাস্তবায়নে ব্যর্থতার খবরও সম্প্রতি গণমাধ্যমে সামনে এসেছে। এদিকে অঞ্চলটির গৃহহীন ব্যবস্থাপনা সমন্বয়কারী সংস্থা 'লস অ্যাঞ্জেলেস হোমলেস সার্ভিসেস অথরিটি' (LAHSA)-র পরিচালনা ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হচ্ছে। সাধারণত বছরের শুরুর দিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও, এবার ব্যাপক বিলম্বের পর শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফলটি প্রকাশ পেতে যাচ্ছে। এমনকি চরম অনিয়মের অভিযোগে বর্তমানে সংস্থাটির বেশ কিছু প্রস্তাবিত বরাদ্দ স্থগিত রেখেছে মার্কিন নির্দেশক কর্তৃপক্ষ। সার্বিকভাবে, বিশাল বাজেট সত্ত্বেও লস অ্যাঞ্জেলেসে গৃহহীনদের পুনর্বাসনে ইতিবাচক ফল না আসায় নগর প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠে এসেছে।
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে একটি যৌথ নিরাপত্তা চৌকিতে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই হামলায় ১২ জন সেনাসদস্যসহ মোট ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হতাহতের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আফগান সীমান্তের কাছে অবস্থিত ট্যাঙ্ক জেলায় বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারের মধ্যবর্তী রাতে এই প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। সামরিক বাহিনীর বিবৃতি অনুযায়ী, শুরুতে সশস্ত্র জঙ্গিরা সেনাবাহিনী ও পুলিশের ওই যৌথ নিরাপত্তা চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের তীব্র সংঘর্ষ হয়। তবে কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করতে ব্যর্থ হওয়ার পর, হামলাকারীরা একটি বিস্ফোরক বোঝাই গাড়ি নিয়ে চৌকির বাইরের দিকের শক্ত দেয়ালে সজোরে ধাক্কা দেয়। এই ভয়াবহ বিস্ফোরণেই বিপুল সংখ্যক হতাহতের ঘটনা ঘটে। এই আত্মঘাতী হামলায় ১২ জন সেনা সদস্যের পাশাপাশি ২ জন পুলিশ কর্মকর্তা এবং বন বিভাগের ১ জন সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এক আবেগঘন বার্তায় নিহতদের 'বীর সন্তান' আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে, তারা দেশের জন্য চূড়ান্ত আত্মত্যাগ স্বীকার করে শাহাদাত বরণ করেছেন। উল্লেখ্য, ট্যাঙ্ক জেলাসহ এই সীমান্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই সশস্ত্র জঙ্গিদের একটি শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের এই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা ও চোরাগোপ্তা হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে, ভয়াবহ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে স্থানীয় সশস্ত্র জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, এই হামলায় তাদের চারজন আত্মঘাতী সদস্য অংশ নিয়েছিল। প্রসঙ্গত, বর্তমান সরকার উৎখাত করে দেশটিতে নিজেদের কট্টর ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ২০০৭ সাল থেকে পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে আসছে এই তালেবান গোষ্ঠীটি।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেই স্পেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়াবহ হারে ইসলামফোবিয়া ও বর্ণবাদী আক্রোশ ছড়িয়ে পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ওবেরাক্স (OBERAXE) প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জুন মাসজুড়ে অনলাইনে শনাক্ত হওয়া ৪০ হাজারের বেশি বিদ্বেষমূলক বার্তার একটি বড় অংশই খেলাধুলা এবং বিশেষ করে মুসলিম ফুটবলারদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের প্রধান শিকার হয়েছেন স্পেন জাতীয় দলের তরুণ উদীয়মান তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের জাতীয় অভিবাসন সচিবালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান 'স্প্যানিশ অবজারভেটরি অন রেসিজম অ্যান্ড জেনোফোবিয়া' (OBERAXE) তাদের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং রিপোর্টে এই চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে ডিজিটাল মাধ্যমে সংগৃহীত মোট বিদ্বেষপূর্ণ ও উগ্র বার্তার প্রায় ১৬ শতাংশই সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ক্রীড়া ক্ষেত্রটিকে স্পেনে সামাজিক বিভেদ ও উগ্রতা ছড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রিপোর্টে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে স্প্যানিশ নাগরিক এবং পিতৃসূত্রে মরক্কো ও মাতৃসূত্রে বিষুবীয় গিনির বংশোদ্ভূত তারকা লামিনে ইয়ামালের ওপর নেমে আসা অপপ্রচারের কথা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোল উদযাপনের সময় ইয়ামালের ইসলামী রীতি অনুযায়ী সেজদা দেওয়া থেকেই উগ্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভের সূচনা হয়। মাঠে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের এই স্বাভাবিক প্রকাশের পরপরই তাঁর নাগরিকত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং স্প্যানিশ জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম আক্রমণাত্মক মন্তব্য ছড়াতে থাকে। সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামালকে উদ্দেশ্য করে "ঘৃণ্য আরব", "স্পেনে আরবদের স্থান নেই", "সে স্প্যানিশ হওয়ার যোগ্য নয়" এবং "আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে অপমান করা হয়েছে"—এমন নানা উগ্র বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। বিষয়টি বিশ্লেষণ করে ওবেরাক্স তাদের প্রতিবেদনে এক কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফুটবল মাঠের এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্রীড়াঙ্গন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত আক্রমণের জায়গা নয়, বরং এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কিত গোটা ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়কে নিগ্রহ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পশ্চিমাপন্থী ডানপন্থী মতাদর্শ ও মুসলিমবিদ্বেষ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় তা এখন অ্যাথলেটদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানছে। স্পেনের হয়ে অসাধারণ ফুটবল খেলার পরও একজন উদীয়মান মুসলিম তরুণ অ্যাথলেটের প্রতি এই ধরনের আচরণ বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু। একসময় ২২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা টেকরিওয়াল। ‘জেটসেটগো’ (JetSetGo)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তিনি এখন ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ। ২০২১ সালে ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর নারীদের তালিকায় স্থান পাওয়া কনিকাকে সম্প্রতি দেখা গেছে জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র পঞ্চম মৌসুমে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকাতেও জায়গা করে নেন। মাড়োয়ারি পরিবারে জন্ম নেওয়া কনিকার শৈশব কেটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি একটি সচ্ছল পরিবারে বিয়ে করবেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী কনিকা ভিন্ন স্বপ্ন দেখতেন। স্নাতক পড়তে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তার শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা। কনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক চিকিৎসক তাকে খুব অল্প সময় বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পরে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ক্যানসারকে পরাজিত করেন। এক সাক্ষাৎকারে কনিকা বলেন, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, জীবন খুবই ছোট। তাই অন্যের প্রত্যাশা নয়, নিজের স্বপ্নকেই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই তাকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে—বেসরকারি জেট পরিষেবা খাতে। ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। কনিকার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শুরু করতে তিনি নিজের পকেট থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে কোম্পানিটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টার বহর পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন শিল্পপতি পুনিত ডালমিয়া এবং সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরাও। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইসহ একাধিক শহরে রয়েছে কোম্পানির কার্যক্রম। তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পুরুষ-প্রধান এভিয়েশন শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কনিকার ভাষায়, অনেকেই তাকে ব্যবসার বদলে ‘কাপকেক বানানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে তাকে অহংকারী বলা হতো, যেখানে একই আচরণের জন্য পুরুষ উদ্যোক্তাদের ‘উদ্যমী’ হিসেবে দেখা হতো। সব বাধা অতিক্রম করেই আজ তিনি ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কনিকা টেকরিওয়াল হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। ২০২৬ সালের মে মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। কনিকার জীবনের গল্প আজ শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়; বরং এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম।
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একদিকে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে বিদ্যমান আইনে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সংশোধনী অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁস, সংঘবদ্ধ পরীক্ষা জালিয়াতি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকার শিগগিরই সংশোধনী বিলটি সংসদে উপস্থাপন করতে পারে। এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে রয়টার্স ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সরকার এ দাবিতে সাড়া দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। কেন্দ্রের অবস্থান হলো, কেবল একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার আনাই সরকারের অগ্রাধিকার। সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কয়েক দফা আলোচনা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। লাদাখভিত্তিক সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর চলমান অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে তাঁর অনশন প্রত্যাহারের সঙ্গে নিট আন্দোলনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একসূত্রে দেখানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগ ওঠায় দেশটির পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এবার সেই আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কঠোর আইন অপরাধ দমনে সহায়ক হলেও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শুধু শাস্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হবে। রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বললেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইটালির উত্তরাঞ্চলের শহর বোলোনিয়ায় পুলিশি হেফাজতে মরক্কোতে জন্ম নেওয়া ৪২ বছর বয়সী অভিবাসী আবদেররাহিম ফাকিরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্য ফাকিরকে মাটিতে উপুড় করে চেপে ধরে রেখেছেন। এ সময় তিনি বারবার “আমি শ্বাস নিতে পারছি না” বলে চিৎকার করছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাকে নিস্তেজ হয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফাকিরের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা দায়ীদের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস রূপ নিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে ইতালীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় প্রসিকিউটর কার্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের দেহে ধারণ করা ক্যামেরার ভিডিও জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। তদন্তে পুলিশ সদস্যদের বলপ্রয়োগ আইনসঙ্গত ছিল কি না এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হবে। ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। অন্যদিকে মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাকিরের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্য দিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, মানবাধিকারকর্মী এবং অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, এই ঘটনা ইটালিতে পুলিশি বলপ্রয়োগ, জবাবদিহি এবং অভিবাসীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক পর্যবেক্ষক ঘটনাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনার মিল খুঁজে দেখলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ফলে আবদেররাহিম ফাকিরের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
হারিকেন ফাউস্তোর গতিপথে নজর, আগামী সপ্তাহে হাওয়াইয়ের কাছে পৌঁছাতে পারে শক্তিশালী ঝড়। প্রশান্ত মহাসাগরে দ্রুত শক্তি সঞ্চয় করে ক্যাটাগরি–২ হারিকেনে পরিণত হয়েছে ‘ফাউস্তো’। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হারিকেন সেন্টারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়টি আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। যদিও তখন পর্যন্ত এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবুও ভারী বৃষ্টি, প্রবল ঢেউ, দমকা হাওয়া এবং বিপজ্জনক সামুদ্রিক পরিস্থিতির আশঙ্কায় পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হারিকেন ফাউস্তোটি হাওয়াইয়ের হিলো শহর থেকে প্রায় ১ হাজার ৬০০ মাইল পূর্বে এবং মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়ার দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থান করছিল। ঝড়টির সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১০০ মাইল (প্রায় ১৬১ কিলোমিটার)। আবহাওয়াবিদদের মতে, ফাউস্তো বর্তমানে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। সমুদ্রপৃষ্ঠের তুলনামূলক শীতল পানি ও শুষ্ক বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করায় এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে। তবে দুর্বল হলেও হাওয়াইয়ের কাছাকাছি পৌঁছানোর সময় এটি ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা, উঁচু ঢেউ এবং বিপজ্জনক স্রোতের সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে দ্বীপগুলোর পার্বত্য ভূপ্রকৃতির কারণে স্বল্প সময়ের ভারী বৃষ্টি বড় ধরনের ভূমিধস ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এদিকে, ফাউস্তোর প্রভাবে ইতোমধ্যেই মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপকূল এবং যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার কিছু এলাকায় বড় ঢেউ ও রিপ কারেন্টের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সমুদ্রসৈকতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে পানিতে না নামতে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। হাওয়াইয়ের জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা ও জাতীয় আবহাওয়া বিভাগ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। যদিও এখনো কোনো হারিকেন সতর্কতা জারি করা হয়নি, তবে বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রাখতে এবং সর্বশেষ সরকারি আবহাওয়া বুলেটিন অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পূর্বাভাসে সামান্য পরিবর্তন হলেও ঝড়ের সম্ভাব্য প্রভাবের মাত্রা বদলে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।