প্রথম শ্রেণিতে ওঠার আনন্দ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল ছয় বছরের ছোট্ট শিশু এমারসন 'এমি' ব্রিজার্সের। কিন্তু একটি সাধারণ টনসিল অপারেশনের ঠিক আগেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় স্কুল ও কমিউনিটিতে। বার্টো কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, এমির টনসিল সার্জারি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর করা সম্ভব হয়নি। ঠিক কী কারণে অপারেশনের আগেই শিশুটির মৃত্যু হলো, তা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। করোনার জোয়েল গায়টন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে এমিকে কী ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে তারা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) ময়নাতদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউহার্লি এলিমেন্টারি স্কুল থেকে কিন্ডারগার্টেন শেষ করে প্রথম শ্রেণিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল এমি। স্কুল কর্তৃপক্ষের এক আবেগঘন শোকবার্তায় বলা হয়, "এমি ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা, তার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হবে।" অন্যদের প্রতি যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণের কারণে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা মিসেস রোজ ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিলেন 'লিটল মামা'। স্কুলের ওপেন হাউস অনুষ্ঠানের জন্য সে গোলাপের থিমযুক্ত একটি বিশেষ পোশাকও পছন্দ করে রেখেছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের আক্ষেপ, "নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ওর শূন্য আসন এবং না পরা পোশাকটির কথা ভাবাই আমাদের জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক।" এমির পরিবারের সহায়তায় খোলা একটি 'গোফান্ডমি' ক্যাম্পেইনের সংগঠক হিদার স্মিথ জানান, মঙ্গলবার শিশুটির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় একটি ফিউনারেল হোম শেষকৃত্যের সব খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে। ছোট্ট এমিকে স্মরণ করতে একটি বিশেষ মোটরসাইকেল রাইডের আয়োজন করা হবে, যেখানে তার প্রিয় রঙের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই গোলাপি রঙের পোশাক পরে অংশগ্রহণ করবেন।
ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেই চেনা শহরেই ফিরে এলেন তিনি। দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উচ্ছ্বসিত তসলিমা বলেন, "আমার খুব ভালো লাগছে, আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ"। মূলত ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তাঁর এই কলকাতা সফর। 'সেকুলার মিশন ট্রাস্ট' এবং 'হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটারস ফাউন্ডেশন (এইচআরবিএফএফ)'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপন্যাস 'লজ্জা'-কে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও একাধিক ফতোয়া জারির পর ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন তসলিমা। এরপর ইউরোপ ও আমেরিকায় বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে এবং সুইডিশ নাগরিকত্ব লাভের পর তিনি কলকাতায় থিতু হন। প্রায় ১৪ বছর সেখানে বসবাসের পর ২০০৭ সালে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ইসলামি সংগঠনগুলোর তীব্র ও সহিংস বিক্ষোভের জেরে তিনি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন। এর আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'দ্বিখণ্ডিত' নিষিদ্ধ করেছিল, যদিও দুই বছর পর কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এমনকি ২০০৬ সালে এক ইমাম তসলিমার মুখে কালি মাখানোর জন্য আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় পরের বছর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
জুলাই মাসের শেষ ভাগের অস্বস্তিকর গরমের পর এবার পুরো ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহান্তে উত্তর ও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাবে, যা রাজ্যের জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মূলত রোববারে গরমের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূল থেকে দূরের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ভয়াবহ রূপ নেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস মূল শহরে তাপমাত্রা ৮০-এর কোঠার ওপরের দিক থেকে ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকলেও, সান ফার্নান্দো ভ্যালির বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভ্যালি অঞ্চলে তাপমাত্রা অনায়াসেই তিন অঙ্কের ঘরে (ট্রিপল ডিজিট) পৌঁছে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) তাদের এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে হিট স্ট্রোক ও চরম ক্লান্তির মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সকাল বা সন্ধ্যার আগে বাড়ির বাইরে যেকোনো ধরনের পরিশ্রমের কাজ থেকে বিরত থাকা এবং প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই চরম আবহাওয়া সতর্কতা বহাল থাকবে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের হাইড্রেটেড থাকার পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবেশী দুর্বল সদস্যদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইতিমধ্যে গত বৃহস্পতিবার ল্যাঙ্কাস্টার ও পামডেলের মতো অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে এবং শুক্রবার পাম স্প্রিংসে তা ১১০ ডিগ্রিতে গিয়ে ঠেকেছে। শনিবারের জন্য পূর্ব সান গ্যাব্রিয়েল পর্বতমালায় ৯১ থেকে ১০১ ডিগ্রি তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়। পিছিয়ে নেই উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াও; স্যাক্রামেন্টোসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে ইউএস ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা জানিয়েছে যে, স্যাক্রামেন্টো ভ্যালির অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা ৯০-এর কোঠায় থাকলেও উত্তরাংশে তা ১০০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। অস্বাভাবিক এই তাপমাত্রা ও শুষ্ক বাতাসের সংমিশ্রণ পুরো ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি তৈরি করেছে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দমকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ইঞ্জিন ও কর্মী মোতায়েন করছে। সপ্তাহান্তের পর গরমের তীব্রতা সামান্য কমার পূর্বাভাস থাকলেও, আগামী পুরো সপ্তাহজুড়েই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেরে উপকূলে সাঁতার কাটার সময় নিখোঁজ হওয়া এক নারী ট্রায়াথলেটের মৃত্যুর মর্মান্তিক কারণ প্রকাশ পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, ৫৫ বছর বয়সী এরিকা ফক্স একটি হাঙরের ভয়ংকর হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। গত ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ১৪ জন সঙ্গীর সাথে মন্টেরে-এর বরফশীতল জলে সাঁতার কাটার সময় তিনি নিখোঁজ হন। এক সপ্তাহ পর সান্তা ক্রুজ কাউন্টির ডেভেনপোর্ট বিচের কাছে প্রায় ২৫ মাইল দূরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার পরনে থাকা কালো রঙের ওয়েটসুটটি আংশিক ছেঁড়া অবস্থায় ছিল। সান্তা ক্রুজ কাউন্টির শেরিফ-করোনার অফিস চলতি সপ্তাহে জানিয়েছে, হাঙরের কামড়ের ফলে সৃষ্ট গভীর ক্ষত ও পানিতে ডুবে যাওয়ার কারণেই এরিকার মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষের মতে, তার পেট থেকে হাঁটু পর্যন্ত হাঙরের দাঁতের অর্ধবৃত্তাকার ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। হাঙরের একটিমাত্র কামড়ে তার পেলভিস বা শ্রোণিচক্র ভেঙে যায় এবং একটি প্রধান ধমনী বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির শার্ক ল্যাবের মেরিন বায়োলজির অধ্যাপক ক্রিস লোয়ে ধারণা করছেন, হাঙরটি হয়তো এরিকাকে কোনো সিল বা সি লায়ন ভেবে ভুল করেছিল। তার মতে, হাঙরের বিশাল আকারের কারণে প্রথম আঘাতেই এরিকা সম্ভবত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিলেন। স্বামী জিন-ফ্রান্সিস ভ্যানরিউসেলের সাথে প্যাসিফিক গ্রোভে 'কেল্প ক্রলারস' নামের একটি সুইমিং ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এরিকা। মর্মান্তিক ওই ঘটনার দিন তিনি এই ক্লাবের সাপ্তাহিক সাঁতারে অংশ নিচ্ছিলেন। হঠাৎ পানিতে বিশাল একটি শব্দ (স্প্ল্যাশ) শুনে সাঁতারুরা হাঙরের আক্রমণের আশঙ্কা করেন। বাকিরা নিরাপদে তীরে ফিরতে পারলেও এরিকার আর খোঁজ মেলেনি। কোস্টগার্ডের তথ্যমতে, সে সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি হাঙরকে তার মুখে মানুষের শরীর নিয়ে পানিতে ডুব দিতে দেখেছিলেন, যা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এরিকা ফক্স একসময় তার সোশ্যাল মিডিয়ায় গ্রেট হোয়াইট শার্কের পাশে একজন ডুবুরির সাঁতার কাটার ছবি শেয়ার করে মজা করে লিখেছিলেন, 'এটি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রাণী (মানুষ), আর তার পাশেই একটি হাঙর শান্তভাবে সাঁতার কাটছে।' তার মৃত্যুর পর কেল্প ক্রলারসের ফেসবুক পেজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অনেকেই শোক প্রকাশ করার পাশাপাশি হাঙরের আক্রমণ থেকে বাঁচতে শিকারের মতো দেখতে কালো ওয়েটসুটের বদলে ভিন্ন রঙের বা ওর্কা (কিলার হোয়েল) প্যাটার্নের ওয়েটসুট তৈরির দাবি তুলেছেন। কেউ কেউ আবার এলইডি লাইট ব্যবহার করে হাঙর তাড়ানোর আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার কথাও উল্লেখ করেছেন। ২০২২ সালের জুনের পর লাভার্স পয়েন্টে এটি তৃতীয় হাঙরের আক্রমণ। এর আগে কেল্প ক্রলারসের আরেক সদস্য ৬২ বছর বয়সী স্টিভ ব্রুমার হাঙরের হামলায় গুরুতর আহত হলেও সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন।
জুলাই মাসের শেষ ভাগের অস্বস্তিকর গরমের পর এবার পুরো ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে শুরু হয়েছে ভয়াবহ গ্রীষ্মকালীন তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহান্তে উত্তর ও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে যাবে, যা রাজ্যের জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। মূলত রোববারে গরমের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে উপকূল থেকে দূরের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ভয়াবহ রূপ নেবে বলে সতর্ক করা হয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলেস মূল শহরে তাপমাত্রা ৮০-এর কোঠার ওপরের দিক থেকে ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকলেও, সান ফার্নান্দো ভ্যালির বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, ভ্যালি অঞ্চলে তাপমাত্রা অনায়াসেই তিন অঙ্কের ঘরে (ট্রিপল ডিজিট) পৌঁছে যাওয়ার কারণে পরিস্থিতি বেশ বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) তাদের এক বিশেষ সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, অতিরিক্ত তাপের কারণে হিট স্ট্রোক ও চরম ক্লান্তির মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সকাল বা সন্ধ্যার আগে বাড়ির বাইরে যেকোনো ধরনের পরিশ্রমের কাজ থেকে বিরত থাকা এবং প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। রবিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এই চরম আবহাওয়া সতর্কতা বহাল থাকবে। কর্তৃপক্ষ নাগরিকদের হাইড্রেটেড থাকার পাশাপাশি শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবেশী দুর্বল সদস্যদের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার আহ্বান জানিয়েছে। ইতিমধ্যে গত বৃহস্পতিবার ল্যাঙ্কাস্টার ও পামডেলের মতো অঞ্চলে তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি অতিক্রম করেছে এবং শুক্রবার পাম স্প্রিংসে তা ১১০ ডিগ্রিতে গিয়ে ঠেকেছে। শনিবারের জন্য পূর্ব সান গ্যাব্রিয়েল পর্বতমালায় ৯১ থেকে ১০১ ডিগ্রি তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করা হয়। পিছিয়ে নেই উত্তর ক্যালিফোর্নিয়াও; স্যাক্রামেন্টোসহ বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের তাপমাত্রার সতর্কতা জারি করেছে ইউএস ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা জানিয়েছে যে, স্যাক্রামেন্টো ভ্যালির অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা ৯০-এর কোঠায় থাকলেও উত্তরাংশে তা ১০০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। অস্বাভাবিক এই তাপমাত্রা ও শুষ্ক বাতাসের সংমিশ্রণ পুরো ক্যালিফোর্নিয়াজুড়ে বড় ধরনের দাবানলের ঝুঁকি তৈরি করেছে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থা দমকল বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজনীয় অগ্নিনির্বাপণ ইঞ্জিন ও কর্মী মোতায়েন করছে। সপ্তাহান্তের পর গরমের তীব্রতা সামান্য কমার পূর্বাভাস থাকলেও, আগামী পুরো সপ্তাহজুড়েই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অস্বাভাবিক মাত্রায় বেশি থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
প্রথম শ্রেণিতে ওঠার আনন্দ নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল ছয় বছরের ছোট্ট শিশু এমারসন 'এমি' ব্রিজার্সের। কিন্তু একটি সাধারণ টনসিল অপারেশনের ঠিক আগেই মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে তার। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ার এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্থানীয় স্কুল ও কমিউনিটিতে। বার্টো কাউন্টি করোনার অফিস জানিয়েছে, এমির টনসিল সার্জারি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আর করা সম্ভব হয়নি। ঠিক কী কারণে অপারেশনের আগেই শিশুটির মৃত্যু হলো, তা নিয়ে বর্তমানে তদন্ত চলছে। করোনার জোয়েল গায়টন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর আগে এমিকে কী ধরনের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে তারা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। পাশাপাশি, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে জর্জিয়া ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (জিবিআই) ময়নাতদন্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ইউহার্লি এলিমেন্টারি স্কুল থেকে কিন্ডারগার্টেন শেষ করে প্রথম শ্রেণিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল এমি। স্কুল কর্তৃপক্ষের এক আবেগঘন শোকবার্তায় বলা হয়, "এমি ছিল অন্য সবার চেয়ে আলাদা, তার অভাব গভীরভাবে অনুভূত হবে।" অন্যদের প্রতি যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল আচরণের কারণে কিন্ডারগার্টেন শিক্ষিকা মিসেস রোজ ভালোবেসে তার নাম দিয়েছিলেন 'লিটল মামা'। স্কুলের ওপেন হাউস অনুষ্ঠানের জন্য সে গোলাপের থিমযুক্ত একটি বিশেষ পোশাকও পছন্দ করে রেখেছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষের আক্ষেপ, "নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগে ওর শূন্য আসন এবং না পরা পোশাকটির কথা ভাবাই আমাদের জন্য চরম যন্ত্রণাদায়ক।" এমির পরিবারের সহায়তায় খোলা একটি 'গোফান্ডমি' ক্যাম্পেইনের সংগঠক হিদার স্মিথ জানান, মঙ্গলবার শিশুটির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হবে। শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় একটি ফিউনারেল হোম শেষকৃত্যের সব খরচ বহনের ঘোষণা দিয়েছে। ছোট্ট এমিকে স্মরণ করতে একটি বিশেষ মোটরসাইকেল রাইডের আয়োজন করা হবে, যেখানে তার প্রিয় রঙের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই গোলাপি রঙের পোশাক পরে অংশগ্রহণ করবেন।
বেইজিংয়ের পারমাণবিক কৌশলে যুক্ত হলো নতুন ও ভয়ংকর এক মাত্রা। নিজেদের উপকূলীয় জলসীমা থেকেই সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘জেএল-৩’ (JL-3)-এর সফল পরীক্ষা চালিয়েছে চীন। শনিবার (১ আগস্ট) সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত মাসে প্রশান্ত মহাসাগরে পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) এই যুগান্তকারী পরীক্ষা চালায়। ৬ জুলাইয়ের ওই উৎক্ষেপণে একটি ডামি (নকল) ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়, যা প্রায় আট হাজার কিলোমিটার (পাঁচ হাজার মাইল) দূরত্ব অতিক্রম করে নির্দিষ্ট স্থানে পতিত হয়। ১৯৮২ সালের পর এটিই চীনের প্রথম নিশ্চিত সাবমেরিন-ভিত্তিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা এবং পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন থেকে পরিচালিত প্রথম প্রকাশ্যে আসা উৎক্ষেপণ। যদিও সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের ধরনটি সরকারিভাবে নির্দিষ্ট করা হয়নি, তবে চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম পিপলস ডেইলি-র মালিকানাধীন ‘গ্লোবাল টাইমস’ ইঙ্গিত দিয়েছে যে, পরীক্ষিত এই আধুনিক সমরাস্ত্রটি মূলত জেএল-৩। ১৯৬০-এর দশকে শুরু হওয়া চীনের ‘জুলাং’ (গ্রেট ওয়েভ) কর্মসূচির সর্বশেষ ও সবচেয়ে বিধ্বংসী সংযোজন হলো এই জেএল-৩। এর আগে ১৯৮৬ সালের দিকে প্রথম প্রজন্মের জেএল-১ (যার পাল্লা ছিল মাত্র ১,৭৭০ কিলোমিটার) এবং পরবর্তীতে ২০১৫ সালের দিকে দ্বিতীয় প্রজন্মের জেএল-২ (৭,২০০ কিলোমিটার পাল্লা) পরিষেবায় যুক্ত হয়। তবে জেএল-২ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে হলে চীনা সাবমেরিনগুলোকে প্রশান্ত মহাসাগরের কৌশলগত ‘ফার্স্ট আইল্যান্ড চেইন’ অতিক্রম করতে হতো, যা চীনের জন্য বড় ধরনের একটি প্রতিরক্ষা প্রতিবন্ধক। এই সীমাবদ্ধতা চিরতরে দূর করতেই জেএল-৩ তৈরি করা হয়েছে। এর পাল্লা ১০ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে এখন আর ঝুঁকি নিয়ে উন্মুক্ত জলসীমায় না গিয়ে নিজেদের নিরাপদ উপকূল থেকেই মার্কিন ভূখণ্ডে পারমাণবিক হামলা চালানো সম্ভব হবে। অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে তৈরি হওয়া এই জেএল-৩ মূলত একটি তিন ধাপবিশিষ্ট কঠিন জ্বালানিচালিত (সলিড-ফুয়েল) ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। কঠিন জ্বালানি হওয়ায় এটি তরল জ্বালানির তুলনায় বেশি নিরাপদ, রক্ষণাবেক্ষণে সহজ এবং সাবমেরিন থেকে যেকোনো মুহূর্তে দ্রুত উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত রাখা যায়। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এর সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হলো ‘মার্ভ’ (MIRV) প্রযুক্তির ব্যবহার। এর ফলে একটিমাত্র ক্ষেপণাস্ত্র থেকে একাধিক স্বাধীন লক্ষ্যভেদী পারমাণবিক ওয়ারহেড নিক্ষেপ করা যায়। ধারণা করা হয়, এর প্রতিটি ওয়ারহেডের বিস্ফোরণ ক্ষমতা ২৫০ থেকে ১,০০০ কিলোটন, যা দিয়ে একসঙ্গে একাধিক লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা সম্ভব। ২০১৮ সালের নভেম্বরে বোহাই সাগরে জেএল-৩-এর কোল্ড-লঞ্চ ইজেকশন সিস্টেম পরীক্ষার মাধ্যমে এই কর্মসূচির সূচনা হয়েছিল। এরপর টাইপ-০৩২ ডিজেল-ইলেকট্রিক এবং টাইপ-০৯৪ পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে আরও কয়েকটি পরীক্ষা চালানো হয়। বর্তমানে চীনের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক অস্ত্র বহনের প্রধান ভরসা হলো টাইপ-০৯৪ (জিন-শ্রেণি) সাবমেরিন। প্রচলিত সাবমেরিনের চেয়ে এগুলোর গোপন চলাচলের সক্ষমতা এবং সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ক্ষমতা অনেক বেশি। বর্তমানে চীনের অন্তত ছয়টি এমন পারমাণবিক সাবমেরিন সক্রিয় রয়েছে, যার প্রতিটিতে ১২টি করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ নল রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সফল পরীক্ষাগুলোর ধারাবাহিকতায় জেএল-৩ ক্ষেপণাস্ত্রটি ২০২২ সালেই আনুষ্ঠানিকভাবে চীনের নৌবহরে যুক্ত হয়েছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নতুন উদ্বেগের কারণ।
ধর্মীয় কট্টরপন্থীদের লাগাতার বিক্ষোভের মুখে ২০০৭ সালে কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর অবশেষে শুক্রবার (৩১ জুলাই) সেই চেনা শহরেই ফিরে এলেন তিনি। দিল্লি থেকে কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে উচ্ছ্বসিত তসলিমা বলেন, "আমার খুব ভালো লাগছে, আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ"। মূলত ধর্মীয় মৌলবাদের বিরুদ্ধে আয়োজিত একটি বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতেই তাঁর এই কলকাতা সফর। 'সেকুলার মিশন ট্রাস্ট' এবং 'হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাইটারস ফাউন্ডেশন (এইচআরবিএফএফ)'-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীরও উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৯৩ সালে প্রকাশিত তাঁর আলোড়ন সৃষ্টিকারী উপন্যাস 'লজ্জা'-কে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক ও একাধিক ফতোয়া জারির পর ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হন তসলিমা। এরপর ইউরোপ ও আমেরিকায় বেশ কয়েক বছর কাটিয়ে এবং সুইডিশ নাগরিকত্ব লাভের পর তিনি কলকাতায় থিতু হন। প্রায় ১৪ বছর সেখানে বসবাসের পর ২০০৭ সালে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে ইসলামি সংগঠনগুলোর তীব্র ও সহিংস বিক্ষোভের জেরে তিনি কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন। এর আগে ২০০৩ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট সরকার তাঁর আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ 'দ্বিখণ্ডিত' নিষিদ্ধ করেছিল, যদিও দুই বছর পর কলকাতা হাইকোর্ট সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেয়। এমনকি ২০০৬ সালে এক ইমাম তসলিমার মুখে কালি মাখানোর জন্য আর্থিক পুরস্কারও ঘোষণা করেছিলেন, যার ধারাবাহিকতায় পরের বছর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়ে ওঠে।
আগস্ট মাসজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে নতুন করে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করেছে শতাধিক প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তি, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, খুচরা বিক্রয়, উৎপাদন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানিগুলো কর্মী কমানোর নোটিশ জমা দিয়েছে। এতে হাজারো কর্মীর চাকরি ঝুঁকিতে পড়েছে বলে জানা গেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জমা পড়া ‘ওয়ার্কার অ্যাডজাস্টমেন্ট অ্যান্ড রিট্রেনিং নোটিফিকেশন (WARN)’ নোটিশের ভিত্তিতে আগস্টে অন্তত শতাধিক প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এসব নোটিশ যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বড় পরিসরের ছাঁটাইয়ের আগে নিয়োগকর্তাদের বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হয়। ছাঁটাইয়ের তালিকায় রয়েছে মাইক্রোসফট, ওয়েলস ফার্গো, সিভিএস হেলথ, টার্গেট, নর্ডস্ট্রম, জেপি মরগান চেজ, অ্যামাজন ফ্রেশ, ওয়ালমার্ট, ম্যাকডোনাল্ডস, অ্যাকসেঞ্চার, ডিএইচএল, বায়োটেক ও ওষুধ শিল্পের একাধিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন খাতের কোম্পানি। তবে সব প্রতিষ্ঠানে একই পরিমাণ কর্মী ছাঁটাই হবে না; কোথাও কয়েকজন, আবার কোথাও শত শত কর্মী চাকরি হারাতে পারেন। এসব ছাঁটাইয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, আবার কেউ ব্যবসায়িক পুনর্গঠন, ব্যয় কমানো বা বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে। কর্মী ছাঁটাই বাড়লেও এর অর্থ সব খাতে অর্থনৈতিক মন্দা শুরু হয়েছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। অনেক কোম্পানি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিবর্তনের অংশ হিসেবেও কর্মীসংখ্যা পুনর্বিন্যাস করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে এবং কর্মীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। চলতি বছরজুড়েই প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা, খুচরা বিক্রয় এবং উৎপাদন খাতে বড় বড় প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করেছে। বিশেষ করে এআইভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের কৌশল অনেক প্রতিষ্ঠানের জনবল নীতিতে বড় পরিবর্তন আনছে। ([যুক্তরাষ্ট্রে আগস্টজুড়ে ছাঁটাইয়ের ঢেউ, শতাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি হারানোর শঙ্কা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের জেরে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবগামী বা সৌদি-সংশ্লিষ্ট আটটি জাহাজের চলাচল আটকে দিয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হুথিরা সম্প্রতি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণা করে। তারা জানায়, সৌদি-সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। এরপর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট তাদের জাহাজের নিরাপত্তা জোরদার এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেয়। এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠন করছে। ইতোমধ্যে একাধিক দেশ এ উদ্যোগে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতেও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরান দাবি করেছে, তারা কয়েকটি জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে, কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবাহিত হয়। হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর—দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। অনেক শিপিং কোম্পানি ইতোমধ্যে বিকল্প রুট ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। উল্লেখ্য, সামাজিক মাধ্যমে "সৌদির ৮টি জাহাজ আটক" শিরোনামটি ব্যাপকভাবে ছড়ালেও আন্তর্জাতিকভাবে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমগুলো এখন পর্যন্ত ৮টি জাহাজ জব্দ হওয়ার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি। বরং নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী, হুথিদের নৌ অবরোধের কারণে সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং কিছু জাহাজকে বিকল্প পথ নিতে হয়েছে।
রাজনীতি
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View moreহামাসকে অর্থ, খাদ্য ও অন্যান্য রসদ সরবরাহের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে যুক্তরাজ্যে তুরস্কের এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ৪৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ হাসনা একটি ভুয়া আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে হামাসের জন্য অর্থ ও সরঞ্জাম সংগ্রহে কাজ করতেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যে আইনি প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তাকে নিউইয়র্কে নেওয়া হবে। সেখানে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের ষড়যন্ত্র এবং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের অভিযোগে বিচার হবে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অন্তত ২০২৩ সাল থেকে হাসনা হামাসের শীর্ষ নেতা গাজী হামাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তিনি বিভিন্ন উপায়ে সংগঠনটির জন্য অর্থ, খাদ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় রসদ সংগ্রহ ও সরবরাহে ভূমিকা রাখেন বলে তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয় ব্যবহার করে নিজের কার্যক্রম আড়াল করার চেষ্টা করেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ওই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তিনি হামাসের জন্য সহায়তা সংগ্রহ ও স্থানান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা প্রতিটি অভিযোগে সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর অর্থায়ন ও সরবরাহ নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই মামলাটিও সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত শহর সিউতা আবারও ইউরোপের অভিবাসন সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে মরক্কো থেকে হাজার হাজার মানুষ সমুদ্র সাঁতরে, রাবারের টিউব ব্যবহার করে এবং স্থলসীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ঢলে অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজিরবিহীন মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে। সিউতা আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত হলেও এটি স্পেনের অংশ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহিঃসীমান্ত। ফলে সেখানে পৌঁছাতে পারলেই ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন বিশ্বাস বহু বছর ধরেই আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের আকৃষ্ট করে আসছে। তবে এবারের ঢল অতীতের অনেক ঘটনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ একসঙ্গে কাজ করেছে। মরক্কোর অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং উন্নত জীবনের আশায় ইউরোপে যাওয়ার প্রবণতা আগেই ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। মানবপাচারকারী চক্র বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার চালায় যে, সিউতায় পৌঁছাতে পারলে স্পেন আর দ্রুত কাউকে ফেরত পাঠাতে পারবে না। এই তথ্যের সত্যতা না থাকলেও হাজারো মানুষ সেই প্রচারণায় বিশ্বাস করে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামেন। স্পেনের একটি আদালতের সাম্প্রতিক রায়কে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে এই গুজব আরও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। অনেক অভিবাসী মনে করেন, সীমান্ত অতিক্রম করতে পারলেই তারা ইউরোপে থেকে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। বাস্তবে স্পেন সরকার জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই প্রত্যেক অভিবাসীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের অনেককেই মরক্কোতে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পেন সীমান্তে অতিরিক্ত সেনা, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করেছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মানবিক দায়িত্বও পালন করা হবে। একই সঙ্গে মরক্কোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ঘটনার পর ইউরোপজুড়ে অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়ালেই সমস্যার সমাধান হবে না। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মানবপাচারকারী চক্রের কার্যক্রম বন্ধ না হলে মানুষ জীবন বাজি রেখে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা চালিয়েই যাবে। সিউতার সাম্প্রতিক সংকট আবারও দেখিয়ে দিল, ইউরোপের অভিবাসন সমস্যা শুধু সীমান্ত নিরাপত্তার বিষয় নয়; এটি মানবিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতারও বড় একটি চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য অভিবাসনের মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দিচ্ছেন নীতিনির্ধারক ও অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা।
অস্ট্রেলিয়ায় আবাসন সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে বাড়িভাড়া ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকায় অনেক পরিবারের আয়ের বড় একটি অংশ এখন শুধু ভাড়া পরিশোধেই ব্যয় হচ্ছে। বিশেষ করে কম ও মধ্যম আয়ের মানুষ সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন বলে আবাসন খাতের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত আবাসন বাজার, সংক্রান্ত বিশ্লেষণ ও ভাড়ার তথ্য অনুযায়ী, সিডনি, ব্রিসবেন, পার্থসহ বড় শহরগুলোতে ভাড়া নতুন রেকর্ডে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে সাপ্তাহিক মধ্যম ভাড়া গত পাঁচ বছরে ৪০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। একই সময়ে শূন্য বাসার হার খুবই কম থাকায় ভাড়াটিয়াদের মধ্যে প্রতিযোগিতা আরও বেড়েছে। উচ্চ সুদের হার, নতুন আবাসন নির্মাণের ধীরগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং ভাড়ার জন্য পর্যাপ্ত বাড়ির সংকট বাজারকে আরও চাপের মুখে ফেলেছে। ফলে অনেক পরিবারকে আয়ের এক-তৃতীয়াংশ বা তারও বেশি শুধু বাড়িভাড়ার জন্য ব্যয় করতে হচ্ছে, যা জীবনযাত্রার অন্যান্য খরচ সামলানো কঠিন করে তুলছে। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল বাজেটে বিনিয়োগ সম্পর্কিত কর নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণার পর অনেক বিনিয়োগকারী নতুন ভাড়ার সম্পত্তি কেনা থেকে সরে আসছেন বলে আবাসন খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তাদের মতে, এতে ভাড়ার জন্য নতুন বাড়ির সরবরাহ আরও কমে যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে ভাড়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে। আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ভাড়া নিয়ন্ত্রণ নয়, সংকট মোকাবিলায় দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণ, ভাড়ার বাজারে সরবরাহ বৃদ্ধি এবং প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে ইচ্ছুকদের জন্য কার্যকর সহায়তা প্রয়োজন। অন্যথায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও আবাসন–সংকট দীর্ঘমেয়াদে আরও গভীর হতে পারে।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রতিবাদে আয়োজিত এক শিক্ষার্থী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজেকে এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তবে ঘটনার জেরে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি এ বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি যন্তর মন্তরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এক নারী শিক্ষার্থীর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে গত ২৩ জুলাই তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা হয়। ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, “যন্তর মন্তরে যা ঘটেছে, তা গোটা দেশ ও বিশ্ব দেখেছে। কিছু বিপথগামী তরুণ এমন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। শুধু আমাকে নয়, আমার প্রয়াত মাকেও তারা অপমান করেছে।” ভিডিওর সঙ্গে দেওয়া বার্তায় তিনি লেখেন, “গালিগালাজ করে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না। আসুন, বিপথগামীদের সঠিক পথ দেখাই। সবাই মিলে ভারতের সমৃদ্ধির জন্য কাজ করি।” তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের পক্ষে নন বলেও জানান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী। তার ভাষায়, তরুণ বয়সে মানুষ ভুল করতে পারে এবং সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও থাকা উচিত। মোদি বলেন, “সমাজে যে ক্ষোভ রয়েছে, তা আমি বুঝি। কিন্তু এই তরুণদের দূরে ঠেলে দেওয়া বা আদালতে টেনে হয়রানি করা কোনো সমাধান নয়। এরা আমাদেরই সন্তান। ভালোবাসা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা আমাদের দায়িত্ব।” ভিডিও বার্তায় তিনি ব্যক্তিগতভাবে ওই তরুণ-তরুণীদের ক্ষমা করে দেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিও তাদের প্রতি সহনশীল ও উদার মনোভাব প্রদর্শনের আহ্বান জানান। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে নোয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার কয়েকটি ধারায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে শান্তিভঙ্গের উসকানি, বিভ্রান্তি ছড়ানো এবং মানহানির বিষয় রয়েছে। পরে জিরো এফআইআরের বিধান অনুযায়ী মামলাটি তদন্তের জন্য দিল্লির পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় হস্তান্তর করা হয়। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে আন্দোলনের আয়োজক সংগঠন। সংগঠনটির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ব্যবহৃত ভাষার শালীনতা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিবাদী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের গণতান্ত্রিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক প্রতিবাদ এবং আইন প্রয়োগের সীমা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির ক্ষমার আহ্বানও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর
গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন হুমকি, চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী
ফিলিস্তিনি হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া, হামাস অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয় ইঙ্গিতে কঠোর অবস্থান
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরেই ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, দুই দিনে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত
নৌভ্রমণে ক্যাটি পেরির বুকে সানস্ক্রিন মেখে দিলেন জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সে ধরা পড়ল প্রেমের অন্য রূপ
কেন বাবার পদবি বাদ দিলেন টম ক্রুজের মেয়ে? বাবা-মেয়ের দূরত্ব নিয়ে যা জানা গেছে
বাবার সাথে সম্পর্ক ছেদ করলেন টম ক্রুজের মেয়ে, নথিতে এখন নতুন পরিচয়
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ফাঁস, তিন ঘণ্টার কম সময়েই লাখ লাখ ভিউ
'আমার সঙ্গী ভারতীয়' ছেলের নাম শেখর, রেসিজম ও মুসলিমবিদ্বেষীর অভিযোগে জবাব দিলেন ইলন মাস্ক
জর্জিয়ায় অপারেশন থিয়েটারে যাওয়ার আগেই মৃত্যু হলো ৬ বছরের শিশুর
ক্যালিফোর্নিয়ায় তাপমাত্রার পারদ ১১০ ডিগ্রিতে, বাড়ছে হিট স্ট্রোকের শঙ্কা
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাগরে নামার পর নিখোঁজ, এক সপ্তাহ পর মিলল হাঙরের শিকার ট্রায়াথলেটের মরদেহ
নিউইয়র্কে আবাসন সংকটের সমাধানে পড়ে থাকা সরকারি জমিতে ৫০ হাজার বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা মামদানির
মেড ইন ইউএসএ দেখলেই কি সত্যিই আমেরিকায় তৈরি? অ্যামাজন ও ওয়ালমার্টের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্যের অভিযোগ
চুরি ও গবেষণা অনিয়মে প্রত্যাহার ৩২৫ বাংলাদেশি গবেষণাপত্র, প্রশ্নের মুখে গবেষণার মান
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি কেন জনপ্রিয়? সম্ভাবনা ও বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষে কাজ করতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য লাগবে ১ লাখ ডলারের ফি
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাব
এক প্রিন্সিপালের জীবনের পরাজয়: সম্মান থেকে সংগ্রাম, শেষে রেললাইনে নিথর দেহ
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক গুগল নির্বাহীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার