বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বেড়াতে গিয়ে ভারতীয় পর্যটকদের নানা অদ্ভুত ও লাগামছাড়া কর্মকাণ্ড ইদানীং প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভাইরাল’ হচ্ছে। ভিয়েতনামের বিমানবন্দরে বিমানের সামনে নাচ থেকে শুরু করে ইন্দোনেশিয়ার বালির বিলাসবহুল হোটেল থেকে তোয়ালে ও হেয়ার ড্রায়ার চুরির মতো ঘটনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনা তৈরি করেছে। এসব অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের নেপথ্যে সংবাদ বিশ্লেষক ও গবেষকরা ৪টি মূল কারণ খুঁজে পেয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে প্রথম কারণটি হলো ‘ভাইরাল মিডিয়ার প্রতি পক্ষপাত’। টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের যুগে পর্যটনের স্বাভাবিক আচরণ বদলে গেছে। এখন পর্যটকরা জাদুঘর বা সমুদ্রতটে শান্ত সময় কাটানোর চেয়ে এমন কিছু করতে চান, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ইউজারদের মনোযোগ কাড়বে। দ্বিতীয় কারণটি হলো ‘পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি’। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে ভারতীয় পর্যটকদের সংখ্যা অবিশ্বাস্য হারে বেড়েছে। তিন কোটি পর্যটকের মধ্যে মাত্র এক শতাংশও যদি এমন আচরণ করেন, তবে তা বড় সংখ্যায় রূপ নেয়। তৃতীয় কারণ হিসেবে ‘বিদেশি সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা’কে দায়ী করা হচ্ছে। নিজ দেশের সংস্কৃতি নিয়ে অতিরিক্ত গর্বের কারণে অনেক পর্যটক অন্য দেশের আইন, পোশাকবিধি ও প্রচলিত রীতির তোয়াক্কা করেন না। কনসার্টে সিগারেট খাওয়া, সুইমিং পুলে জোরে গান বাজানো কিংবা থাইল্যান্ডের বিচ ক্লাবে গিয়ে নিয়ম ভাঙার মতো বিষয়গুলো ভারতের স্থানীয় প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিক মনে হলেও বিদেশি সংস্কৃতিতে তা বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চতুর্থ এবং সবচেয়ে বড় কারণটি হলো ‘কনটেন্ট-নির্ভর পর্যটন’। ভারতের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইদানীং পর্যটকরা ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করার চেয়ে ‘কনটেন্ট’ তৈরিতে বেশি মনোযোগ দেন। বিশেষ করে ‘জেন জি’ প্রজন্মের পর্যটকরা ‘ফোমো’ বা ফিয়ার অব মিসিং আউট-এর আশঙ্কায় ইনফ্লুয়েন্সারদের অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে এসব অদ্ভুত আচরণ করছেন। ফলে অল্প কিছু পর্যটকের কারণে বিদেশের মাটিতে গোটা জাতিকে নানা সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্র নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে ভারত। গ্লোবাল আর্মস ওয়াচডগ বা বিশ্বের শীর্ষ অস্ত্র-নজরদারি সংস্থা স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (এসআইপিআরআই) সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আজ মঙ্গলবার ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এই খবর প্রকাশ করেছে। এসআইপিআরআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তিকালীন সময়ে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করার এই সিদ্ধান্ত নয়া দিল্লির কয়েক দশকের পুরোনো সামরিক নীতি থেকে এক বিশাল বিচ্যুতি। এতদিন পর্যন্ত দেশটিতে পারমাণবিক বোমা বা ওয়ারহেড এবং সেগুলো বহনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা সম্পূর্ণ পৃথকভাবে ও আলাদা গুদামে সংরক্ষণ করা হতো। তবে এবারই প্রথম ভারতের পরমাণু অস্ত্রাগারের একটি অংশকে মজুত রাখার পরিবর্তে সরাসরি কার্যকরের জন্য মোতায়েনকৃত হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভারতের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র সাইলো এবং নতুন পারমাণবিক সাবমেরিনে (এসএসবিএন) উৎক্ষেপণের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় এই ১২টি পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিকালীন সময়েই ওয়ারহেডগুলোকে লঞ্চারের সঙ্গে যুক্ত করা বা সক্রিয় বাহিনীর ঘাঁটিতে স্থাপন করার এই পদক্ষেপ উচ্চ সামরিক সতর্কাবস্থার স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয়। এর মাধ্যমে মূলত গভীর সমুদ্রে ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পাবে। প্রতিবেদনে আরও জানা যায়, চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতের মোট পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বেড়ে প্রায় ১৯০টিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের চেয়ে সামান্য বেশি। ভারত মূলত ‘আগে ব্যবহার নয়’ নীতি অনুসরণ করে আসলেও সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও পরমাণু ত্রিমাত্রিক ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কারণে তাদের এই কৌশলগত পরিবর্তন। তবে ভারতের এই সক্ষমতা কোনো অস্ত্র প্রতিযোগিতার জন্য নয়, বরং কেবল সম্ভাব্য আক্রমণকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্য তৈরি বলে নীতিতে উল্লেখ রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরে ফুটবল দলের পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ থানাধীন হাজিরপাড়া ইউনিয়নের যাত্রাপুর তুলাগাছতলা এলাকায় এই বিরোধে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ওই যুবকের নাম আজাদ হোসেন (২৮) এবং তিনি স্থানীয় আব্দুর রহমানের ছেলে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার পরপরই আজাদ হোসেনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের পতাকা টাঙানোকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই দুই পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। গতকাল বিকেলে সেই উত্তেজনারই চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ ঘটে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এলাকায় বিরোধের একপর্যায়ে রিফাত হোসেন নামের এক ব্রাজিল সমর্থক যুবক লাঠিসোঁটা নিয়ে আজাদ হোসেনের ওপর হামলা চালান। হামলায় আজাদের মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগলে তিনি গুরুতর জখম হন। আহত যুবকের বড় ভাই মনির হোসেন দাবি করেছেন, অভিযুক্ত রিফাত এর আগেও তাদের পরিবারের সদস্যদের নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চান। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রিফাত হোসেন। তিনি দাবি করেন, তিনি কোনো হামলা করেননি এবং এলাকায় সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। এই ঘটনার বিষয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, থানায় এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি এবং অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে দেশের নির্বাচন-পরবর্তী সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন জাতীয় বাজেট নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং দুই দেশের সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে তারা নিজেদের মধ্যে মতবিনিময় করেন। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, সুশাসন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও এই কূটনৈতিক আলোচনায় স্থান পায়। বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সন্তোষ প্রকাশ করে জানান, আইনসভা অধিবেশনের অগ্রগতি নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা করতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। বৈঠকে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর এরিক গিলান এবং রাজনৈতিক কর্মকর্তা হারমানোশি বার্নার্ড উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং উপদেষ্টা দলের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠোর করেছে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস)। নতুন নীতিমালার আওতায় এখন থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ (এওএস) আবেদনকারীদের সম্পূর্ণ অভিবাসন ইতিহাস পর্যালোচনা করা হবে এবং শুধু যোগ্যতা অর্জন করলেই আবেদন অনুমোদিত হবে না। গত ২২ মে ২০২৬ প্রকাশিত নতুন নির্দেশনায় ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস আর স্বাভাবিক বা স্বয়ংক্রিয় সুবিধা নয়; বরং এটি প্রশাসনিক বিবেচনার ভিত্তিতে দেওয়া একটি বিশেষ সুযোগ। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অনেক অভিবাসীর জন্য গ্রিন কার্ড পাওয়ার পথ আগের তুলনায় আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত যোগ্য ব্যক্তিরা দেশ ছাড়াই স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা বা গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। তবে নতুন নীতির ফলে এই সুবিধা এখন কঠোর পর্যালোচনার আওতায় এসেছে। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, নতুন নীতির প্রভাব ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে দেখা যাচ্ছে। ড্রিমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দিমিত্রি লিটভিনভের মতে, ইউএসসিআইএস কর্মকর্তারা এখন আবেদনকারীদের জিজ্ঞাসা করছেন কেন তারা নিজ দেশে কনস্যুলার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন না করে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই স্ট্যাটাস পরিবর্তনের পথ বেছে নিয়েছেন। পাশাপাশি আবেদনকারীর অতীতের সব ধরনের ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত রেকর্ড খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, আগে অনেক ক্ষেত্রে যোগ্যতা পূরণ করাই যথেষ্ট ছিল। এখন আবেদনকারীকে আলাদাভাবে প্রমাণ করতে হচ্ছে কেন তার আবেদন অনুমোদন করা উচিত। তবে কিছু আইনজীবীর মতে, নতুন নির্দেশনার বাস্তব প্রয়োগ এখনো পুরোপুরি স্পষ্ট নয় এবং বিভিন্ন অফিসে এর প্রয়োগের ধরন ভিন্ন হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নির্দেশনার প্রধান প্রভাব পড়বে নন-ডুয়াল ইনটেন্ট ভিসাধারীদের ওপর। এর মধ্যে রয়েছে বি-১/বি-২ পর্যটক ভিসা, এফ-১ শিক্ষার্থী ভিসা, জে-১ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা এবং টিএন ভিসাধারীরা। অন্যদিকে এইচ-১বি ও এল-১ ভিসাধারীরা আপাতত নতুন নীতির মূল লক্ষ্যবস্তু নন। যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছেন, যেমন ইবি-৫ বিনিয়োগকারী বা কর্মসংস্থানভিত্তিক কিছু গ্রিন কার্ড আবেদনকারী, তারা তুলনামূলক কম বাধার মুখে পড়তে পারেন। এলসিআর ক্যাপিটাল পার্টনার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিলপা মেনন বলেন, এখন পর্যন্ত অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি এবং নতুন নির্দেশনার কারণে কোনো চলমান আবেদন প্রত্যাখ্যানের তথ্যও পাওয়া যায়নি। তবে এর প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। ইউএসসিআইএসের নতুন অবস্থান অনুযায়ী, স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা পাওয়ার স্বাভাবিক পথ হিসেবে এখন বিদেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ অর্থবছরে ৬ লাখ ৮ হাজারের বেশি ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ড পেয়েছিলেন। একই সময়ে বিদেশ থেকে অভিবাসী ভিসার মাধ্যমে স্থায়ী বাসিন্দা হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে কর্মসংস্থানভিত্তিক গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকেই এওএস প্রক্রিয়া ব্যবহার করতেন। নতুন নীতির পর সেই ধারণা আর নিশ্চিত নয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন থেকে কোনো আবেদনকারীকে ধরে নেওয়া উচিত নয় যে অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস তার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে উন্মুক্ত থাকবে। গোল্ডেন গেট গ্লোবালের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা অভিনব লোহিয়া বলেন, আবেদনকারীর অভিবাসন ইতিহাস, ভিসার ধরন, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময়কার উদ্দেশ্য, বর্তমান অভিবাসন অবস্থা এবং ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনা করেই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। তার মতে, প্রতিটি আবেদন এখন পৃথকভাবে মূল্যায়িত হবে এবং আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড আরও গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে বাড়ছে ব্যাপক উন্মাদনা। নিউইয়র্ক, আটলান্টা, ডালাস, মিশিগানসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতোমধ্যেই খেলা দেখার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। তবে অনেকের মধ্যেই একটি সাধারণ প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে—আমেরিকায় বসে কীভাবে সহজে, কম খরচে কিংবা ফ্রিতে বিশ্বকাপের খেলা দেখা যাবে? বিশ্বকাপ ফুটবলের সম্প্রচার স্বত্ব সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে বড় ক্রীড়া সম্প্রচার মাধ্যমগুলোর হাতে থাকে। এর মধ্যে ইংরেজি ভাষায় সবচেয়ে বড় সম্প্রচারক প্রতিষ্ঠান হলো ফক্স স্পোর্টস। প্রতিষ্ঠানটির টেলিভিশন চ্যানেল FOX এবং FS1-এ বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ সরাসরি দেখানো হয়। অনেক এলাকায় সাধারণ ডিজিটাল অ্যান্টেনা ব্যবহার করেই স্থানীয় FOX চ্যানেল ফ্রিতে দেখা সম্ভব। ফলে যাদের বাসায় স্মার্ট অ্যান্টেনা বা ওভার-দ্য-এয়ার টিভি সুবিধা রয়েছে, তারা কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই কিছু ম্যাচ উপভোগ করতে পারেন। এছাড়া বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কয়েকটি অনলাইন টিভি প্ল্যাটফর্ম নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য সীমিত সময়ের ফ্রি ট্রায়াল সুবিধা দিচ্ছে। এর মধ্যে ইউটিউব টিভি, ফুবো টিভি এবং হুলু লাইভ টিভি উল্লেখযোগ্য। এসব প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খুলে অনেকেই কয়েকদিন বিনামূল্যে খেলা দেখতে পারবেন। তবে ট্রায়াল মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সাবস্ক্রিপশন বাতিল না করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ কেটে নেওয়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে বলছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশি প্রবাসীদের একটি বড় অংশ আবার বাংলা ভাষায় খেলার আলোচনা, বিশ্লেষণ বা দক্ষিণ এশীয় সম্প্রচার দেখতে আগ্রহী। সে কারণে অনেকেই টফি, টি স্পোর্টস লাইভ কিংবা সনি লিভের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন। তবে এসব সেবার কিছু কনটেন্ট যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি নাও পাওয়া যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ভিপিএন ব্যবহার করে ব্যবহারকারীরা নিজ দেশের সম্প্রচার দেখতে চেষ্টা করেন। যদিও প্রযুক্তিগত ও নীতিগত কারণে এটি ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের নিয়ম জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কম খরচে পুরো বিশ্বকাপ উপভোগ করতে চাইলে মাসিক সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক কিছু সেবা প্রবাসীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্লিং টিভি তুলনামূলক কম খরচে ক্রীড়া চ্যানেল দেখার সুযোগ দেয়। অন্যদিকে ইউটিউব টিভি ও ফুবো টিভিতে উচ্চমানের সম্প্রচার, মোবাইল ও স্মার্ট টিভি সাপোর্ট এবং ম্যাচ রেকর্ড করার সুবিধাও রয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে অধিকাংশ দর্শক মোবাইল ফোন, স্মার্ট টিভি বা ট্যাব ব্যবহার করে খেলা দেখছেন। এজন্য প্রথমে নির্দিষ্ট অ্যাপ ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট খুলতে হয়। এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সাবস্ক্রিপশন নিয়ে সহজেই লাইভ ম্যাচ উপভোগ করা যায়। যারা পুরো ম্যাচ দেখার সময় পান না, তাদের জন্যও রয়েছে হাইলাইটস দেখার সুযোগ। ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলে ম্যাচ শেষে গোল, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং বিশ্লেষণ প্রকাশ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্ল্যাটফর্মেও সংক্ষিপ্ত হাইলাইটস পাওয়া যায়। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে বিশ্বকাপ ঘিরে সামাজিক আয়োজনও বাড়ছে। বিভিন্ন শহরে বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা একত্রে খেলা দেখার পরিকল্পনা করছেন। অনেক রেস্টুরেন্ট ও কমিউনিটি সেন্টারেও বড় পর্দায় ম্যাচ দেখানোর প্রস্তুতি চলছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে বসেও বিশ্বকাপের আবহ এখন অনেকটাই বাংলাদেশের মতো প্রাণবন্ত হয়ে উঠছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রভাবশালী জেনারেল আহমেদ ভাহিদি তেহরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার (৯ জুন) পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি ইরান সরকার। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনির্ভরযোগ্য সূত্রে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাজধানী তেহরানে চালানো বিমান হামলায় ভাহিদি প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন বা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আহমেদ ভাহিদি ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে তার প্রভাব দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কট্টর অবস্থান ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত এবং অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। ভাহিদি তার ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাকে ঘিরে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভাহিদি ও তার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে। তাদের অবস্থান সাধারণত কঠোর এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে আপসের বিপক্ষে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভাহিদির নিহত হওয়ার খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। কারণ আইআরজিসি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনায় মূল ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানবিরোধী মহলে নতুন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আইআরজিসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিছু বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কার্যক্রম মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তবে অতীতে একাধিকবার ভাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও সেগুলো পরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও নিশ্চিত তথ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপে নিজেদের সমর্থকদের উপস্থিতি বাধাগ্রস্ত করতে টিকিট নিয়ে বড় ধরনের অনিয়ম করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছে ইরান। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের দেওয়া এক বিবৃতির বরাত দিয়ে বিবিসি ফার্সি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বিশ্বকাপ শুরু হতে মাত্র তিন দিন বাকি থাকতে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এমন গুরুতর অভিযোগ তুলল দেশটি। ইরানের অভিযোগ, বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে তাদের জাতীয় দলের তিনটি ম্যাচের ভেন্যুতে যেন ইরানি সমর্থকরা উপস্থিত হতে না পারেন, সেই চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের প্রায় ৮ শতাংশ টিকিট সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়। এর ফলে সমর্থকরা অফিশিয়াল চ্যানেলের মাধ্যমে সহজেই টিকিট কিনতে পারেন। ইরান ফুটবল ফেডারেশনও সেই নিয়ম মেনে টিকিট বিক্রি শুরু করেছিল, কিন্তু হঠাৎ করেই তাদের সেই কোটা বাতিল করা হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের অফিশিয়াল টিকিট কোটা এভাবে কেড়ে নেওয়া আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মূল চেতনা এবং অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সমতার নীতির পরিপন্থী। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ফিফা কিংবা মার্কিন আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের বেশ কয়েকজন সহকারী স্টাফের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে ইরান দল তাদের প্রশিক্ষণ ক্যাম্প অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকো সীমান্তের টিজুয়ানা শহরে স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়। আগামী ১৫ই জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের অভিযান শুরু করবে ইরান।
ষোলো বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসন এই গণ-নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে একে বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী বলে দাবি করেছে। আমেরিকার এই প্রবল আপত্তি ও বিরোধিতাকে উপেক্ষা করেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এই কঠোর নিয়ম বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। লন্ডনে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এই নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ঢালাওভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধ না করে শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ওপর সুনির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। তাদের দাবি, বয়স নির্ধারণের বর্তমান প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি নির্ভুল নয় এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে আমেরিকার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো চরম ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়বে। তবে মার্কিন আপত্তির জবাবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের সরকার অন্য কোনো দেশের চাপ নয়, বরং দেশের পরিবারগুলোর ভবিষ্যতের জন্য যা সঠিক তা-ই করবে। যুক্তরাজ্যের প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী লিজ কেন্ডালও মার্কিন আপত্তির মুখে অনড় অবস্থান প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দেশের শিশুদের সুরক্ষায় যা করা উচিত, তা থেকে তাকে কোনোভাবেই বিচ্যুত করা যাবে না। অস্ট্রেলিয়ার আদলে অনূর্ধ্ব-১৬ শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ক্ষতিকর ও আসক্তি তৈরি করা ফিচারের ওপর কারফিউ জারির মতো বিকল্পগুলোও এখন ব্রিটিশ সরকারের টেবিলে রয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাজ্যে আয়োজিত সরকারি মতামত জরিপে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার নাগরিক অংশ নিয়েছেন, যা দেশটির ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সাড়াজাগানো ঘটনা। জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৯০ শতাংশ অভিভাবকই শিশুদের জন্য এই নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সমর্থন করেছেন। দেশটির প্রধান বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনখও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড়দের জন্য, শিশুদের জন্য নয়।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ক্রীড়া উৎসব ফুটবল বিশ্বকাপ মাঠে গড়ানোর মাত্র দুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি স্বাগতিক শহরের হোটেল এবং খাবার সরবরাহকারী শ্রমিকরা ধর্মঘটের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কম মজুরি এবং অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার কারণে হাজার হাজার শ্রমিকের এই অসন্তোষে টুর্নামেন্ট শুরুর মুখেই বড় ধরনের অচলাবস্থার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আজ মঙ্গলবার একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। আগামী ১২ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার সোফাই স্টেডিয়ামে প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই স্টেডিয়ামের প্রায় ২ হাজার কর্মী যেকোনো মুহূর্তে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শ্রমিকদের দাবি, বর্তমান মজুরি দিয়ে স্টেডিয়ামের কাছাকাছি থাকার খরচ চালানো অসম্ভব। তারা ঘণ্টায় ৩০ ডলারের বেশি মজুরি এবং কাজের জায়গায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের অভিযানের বিরুদ্ধে সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন। একই ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে সিয়াটল শহরের লুমেন ফিল্ড স্টেডিয়ামের কাছের একটি তারকা হোটেলও। সেখানে বিশ্বকাপের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই হোটেলের শত শত কর্মী বেতন বৃদ্ধি, বছরব্যাপী স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগের দাবিতে ধর্মঘটের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, করোনা মহামারির পর থেকে প্রতিটি বিভাগে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক কম কর্মী দিয়ে অতিরিক্ত কাজ করিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে ফিলাডেলফিয়ার ছয়টি বড় হোটেলের শ্রমিক ইউনিয়নও আগামী ১২ জুনের মধ্যে নতুন চুক্তি না হলে ধর্মঘটের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই শহরে বিশ্বকাপ উপলক্ষে প্রায় ৭৭ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা রয়েছে। শ্রমিকদের দাবি, হোটেলগুলো বিপুল অর্থ আয় করলেও সাধারণ কর্মীদের সন্তানদের পড়াশোনা বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কেনার মতো ন্যায্য মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। বিশ্বকাপের আয়োজক সংস্থা ফিফার একটি নতুন নীতি নিয়েও শ্রমিকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে, যেখানে কাজ করার জন্য কর্মীদের অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রায় দুইশত দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা এই টুর্নামেন্টে কাজ করবেন। ফলে এই নিয়মের কারণে কাজের জায়গায় বাড়তি হয়রানির আশঙ্কা করছেন শ্রমিক নেতারা। তবে ফিফা জানিয়েছে, এটি তাদের অভ্যন্তরীণ চুক্তিভিত্তিক বিষয় হওয়ায় এ নিয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবে না।
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি রহস্যময় পোস্ট ঘিরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। গত শনিবার রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে দেওয়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন, বিশ্লেষক মহল ও নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শনিবার রাত ১০টা ১৫ মিনিটে ফেসবুকে লিখেছিলেন, “আমিও রাষ্ট্রদূত হতে চাই। কারও কাছে প্রধানমন্ত্রীর নম্বর থাকলে দয়া করে শেয়ার করবেন কি?”—এই পোস্টটি প্রকাশের পরপরই তা সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের কাছ থেকে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা পোস্টটিতে হালকা ও রসাত্মক মন্তব্য করলেও সাধারণ মানুষের একাংশ এটিকে রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অসীম শাহ হাসির প্রতিক্রিয়া দিয়ে মন্তব্য করেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলে দেব।” শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের মুখপাত্র সস্মিত পোখারেল লেখেন, “আমি কি তাঁকে মেসেজ করব?” সংসদ সদস্য টিকা সাংগ্রৌলা কৌতুক করে বলেন, “আমার কাছে আছে, কিন্তু আপনাকে দেব না।” এ ধরনের প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদার অবমূল্যায়ন হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নীতি ও সংকটপূর্ণ ইস্যুগুলো থেকে জনদৃষ্টি সরাতে এ ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কর্মকাণ্ড ব্যবহার করা হচ্ছে। পর্যবেক্ষকদের দাবি, বিতর্কিত অধ্যাদেশ, ভূমিহীনদের উচ্ছেদ এবং বাজেটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতি অবহেলার অভিযোগে যখন সরকার চাপে রয়েছে, তখন এই ধরনের ‘ডিজিটাল নাটকীয়তা’ জনআলোচনাকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। জেন-জি প্রজন্মের নেত্রী তনুজা পান্ডে বলেন, “রাষ্ট্রীয় বিষয় এবং ব্যক্তিগত বিনোদনের সীমারেখা মুছে যাচ্ছে, যা উদ্বেগজনক। কূটনৈতিক পদ নিয়ে এভাবে প্রকাশ্যে রসিকতা করা দায়িত্বশীল আচরণ নয়।” সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী যাদব দেবকোটা মন্তব্য করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের আচরণ নির্বাহী পদের মর্যাদাকে খাটো করছে। একইভাবে সারিতা তিওয়ারি প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক পরিপক্বতা নিয়েও। এ বিতর্কের পটভূমিতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গত ৪ জুন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে সচিব কৃষ্ণ হরি পুষ্করকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ ছিল, তিনি ব্যক্তিগত বার্তার মাধ্যমে প্রশাসনিক নিয়ম ভঙ্গ করে নিজের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সাবেক জ্যেষ্ঠ আমলারা এই পদক্ষেপকে বিপজ্জনক নজির হিসেবে দেখছেন এবং বলছেন, এতে প্রশাসনে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি হতে পারে। এর আগে ২৭ এপ্রিল বিতর্কিত অধ্যাদেশ পাশ করাতে সংসদ অধিবেশন স্থগিতের সিদ্ধান্তও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সে সময়ও জনমনে ক্ষোভ বাড়তে থাকলে প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে নিজের একটি ছবি পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে মূল রাজনৈতিক বিতর্ককে আড়াল করে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে। মানবাধিকারকর্মী মজিদ আনসারি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আইনের ভিত্তিতে কাজ করতে হবে, কোনো ব্যক্তির ইচ্ছার ওপর নয়।” সমালোচকদের ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। তবে এই কৌশল দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য কতটা ক্ষতিকর হতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিনবারের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন করে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের তদন্তে তল্লাশি পরোয়ানা নিয়ে তার বাসভবনে পৌঁছেছে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭১ বছর বয়সী এই প্রবীণ রাজনীতিক এমন এক সময় এই তদন্তের মুখে পড়লেন, যখন তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরেই মতবিরোধ ও প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের ঘটনা সামনে আসছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, দলের কয়েকজন সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জাল করে বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছিল, যেখানে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনয়নের সমর্থন জানানো হয়। এই চিঠি ঘিরেই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত। তৃণমূলের দুই সংসদ সদস্য ঋতাব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহা গত ২৭ মে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে জানান, ৬ মে অনুষ্ঠিত দলের বৈঠকে বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অথচ দলীয়ভাবে পাঠানো চিঠিতে এমন দাবি করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, তারা বৈঠকের কার্যবিবরণীতে ১৯ মে স্বাক্ষর করেছিলেন, ৬ মে নয়। এই দুই সংসদ সদস্য আরও অভিযোগ করেন, ৬ মে তারিখ দেখিয়ে যে প্রস্তাবটি দেখানো হয়েছে, তা পরে তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে থাকা বেশ কিছু স্বাক্ষর জাল। তাদের দাবি, মোট ৭০টি স্বাক্ষরের মধ্যে অন্তত ১৪টি স্বাক্ষর বড় হাতের অক্ষরে লেখা, যা সন্দেহজনক। এ ঘটনার পর দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ঋতাব্রত ব্যানার্জী ও সন্দীপন সাহাকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়। অভিযোগ ওঠার কিছুক্ষণের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এনডিটিভি জানিয়েছে, বর্তমানে সিআইডির তিনটি পৃথক দল একযোগে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে। এর মধ্যে একটি দল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে ঘটনার সময় তিনি দিল্লিতে অবস্থান করছিলেন। অন্য একটি দল তার ভাতিজা ও সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কার্যালয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে, পাশাপাশি আরেকটি দল তার বাসভবনেও অনুসন্ধান করছে। এই ঘটনায় রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের মধ্যে এ ধরনের অভিযোগ ও তদন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে অভিযোগের বিষয়ে এখনো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বা তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্তের অগ্রগতির ওপরই নির্ভর করছে এই বিতর্কের পরবর্তী পরিস্থিতি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান মহররম মাসের প্রথম দশ দিন শেষ হওয়ার পর অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট স্মরণসভা কমিটি। মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। খবর দিয়েছে দেশটির আধাসরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের স্মরণে আয়োজিত জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান যথাযথ মর্যাদায় সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে আগত শোকাহতদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে। কমিটি জানায়, ইমাম হুসাইনের শোকানুষ্ঠানের প্রতি খামেনির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে আশুরার পরই এই আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ মহররমের প্রথম দশ দিনের ধর্মীয় কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে অনুষ্ঠান ঘিরে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সময়সূচি ও আয়োজনসংক্রান্ত জল্পনা-কল্পনা সম্পর্কে সতর্ক করেছে কমিটি। তাদের ভাষ্য, এসব তথ্য যাচাইবিহীন এবং বিভ্রান্তিকর, যার কোনো নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। স্মরণসভা কমিটির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানসংক্রান্ত চূড়ান্ত সময়সূচি ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য যথাসময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, খামেনির মৃত্যু এবং এর প্রেক্ষাপট নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা ও দাবি-প্রতিদাবি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে আনুষ্ঠানিক তথ্য ছাড়া অন্য কোনো খবরের ওপর নির্ভর না করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর প্রভাবশালী জেনারেল আহমেদ ভাহিদি তেহরানে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে মঙ্গলবার (৯ জুন) পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা দেয়নি ইরান সরকার। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনির্ভরযোগ্য সূত্রে ছড়িয়ে পড়া প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, রাজধানী তেহরানে চালানো বিমান হামলায় ভাহিদি প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো স্বাধীন বা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। আহমেদ ভাহিদি ইরানের আধা-সামরিক বাহিনী আইআরজিসির শীর্ষ পর্যায়ের একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে তার প্রভাব দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা বা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় কট্টর অবস্থান ধরে রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা আলী খামেনি আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি ওঠে। সেই ঘটনার পর থেকে তিনি জনসমক্ষে অনুপস্থিত এবং অজ্ঞাত স্থানে রয়েছেন বলে খবর ছড়ায়। ভাহিদি তার ঘনিষ্ঠ বলয়ের একজন সদস্য হিসেবে পরিচিত হওয়ায় তাকে ঘিরে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়েছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার’ এক প্রতিবেদনে বলেছে, ভাহিদি ও তার ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠী ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তার করে। তাদের অবস্থান সাধারণত কঠোর এবং পশ্চিমাদের সঙ্গে আপসের বিপক্ষে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি ভাহিদির নিহত হওয়ার খবর সত্য প্রমাণিত হয়, তবে তা ইরানের নিরাপত্তা ও সামরিক কাঠামোর জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হতে পারে। কারণ আইআরজিসি শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত কার্যক্রম পরিচালনায় মূল ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে, এই গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানবিরোধী মহলে নতুন তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পশ্চিমা ও ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি আইআরজিসির বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কিছু বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের কার্যক্রম মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তবে অতীতে একাধিকবার ভাহিদির মৃত্যুর গুজব ছড়ালেও সেগুলো পরে ভিত্তিহীন প্রমাণিত হয়েছে। ফলে বর্তমান পরিস্থিতিতেও নিশ্চিত তথ্যের জন্য আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।