Live update news
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান ডিজাইন / গেটি ইমেজেস
আমেরিকায় ইতিহাস গড়লেন মুসলিম মেয়র মামদানি, হোয়াইট হাউসের দৌড়ে বড় চমক

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে কট্টর পুঁজিবাদ ও ইসরায়েলের প্রতি অন্ধ সমর্থনের দীর্ঘদিনের চেনা সমীকরণ ভেঙে প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রের এক নতুন জোয়ার তৈরি হয়েছে। দেশটির সবচেয়ে ধনী শহর নিউইয়র্কের প্রথম মুসলিম ও ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট মেয়র জোহরান মামদানির হাত ধরে মার্কিন রাজনীতিতে এই পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে, যা রাজনৈতিক মহলে ‘মামদানি ইফেক্ট’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। সম্প্রতি নিউইয়র্ক ও ওয়াশিংটন ডিসির অভ্যন্তরীণ দলীয় নির্বাচনে মূলধারার ডেমোক্র্যাটদের হারিয়ে প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রী প্রার্থীদের বড় জয় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বামপন্থী শক্তির জোরালো আবির্ভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   নিউইয়র্কের প্রাথমিক নির্বাচনে মেয়র মামদানির সমর্থনে ব্র্যাড ল্যান্ডার, ড্যারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ার এবং ক্লেয়ার ভালদেজের মতো সমাজতন্ত্রী প্রার্থীরা হেভিওয়েট ও ঐতিহ্যবাহী ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধিদের পরাজিত করেছেন। এই বিজয়ী প্রার্থীরা সরাসরি ইসরায়েলের গাজা নীতি এবং ধনকুবেরদের একচেটিয়া পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে প্রচার চালিয়েছিলেন। প্রগতিশীল এই নতুন ধারাকে ওয়াশিংটনের রাজনীতিতে এখন ‘স্কোয়াড ২.০’ বলা হচ্ছে, যা আগামীতে হাউস লিডারদের ওপর বড় প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, আমেরিকার ব্লু স্টেট বা ডেমোক্র্যাটদের মূল ঘাঁটিগুলোতে সমাজতন্ত্র এখন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। তরুণ ভোটারদের মধ্যে পুঁজিবাদের চেয়ে সমাজতন্ত্রের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ৩০ বছরের কম বয়সী ডেমোক্র্যাট ভোটারদের একটি বিশাল অংশ এখন আবাসন সংকট, চড়া বাড়িভাড়া এবং করপোরেট সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সমাজতন্ত্রীদের দেওয়া বিনামূল্যে শিশু যত্ন ও বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণের মতো নীতিগুলোকে সমর্থন করছে।   তবে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই বামপন্থী রূপান্তর নিয়ে দলের ভেতরেই তীব্র কোন্দল ও আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। মধ্যপন্থী ডেমোক্র্যাট নেতারা সতর্ক করেছেন যে, সমাজতন্ত্র বা পুলিশের ফান্ড বন্ধ করার মতো চরমপন্থী স্লোগানগুলো আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে দলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। রিপাবলিকানরা এই প্রগতিশীল এজেন্ডাগুলোকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে সুইং স্টেট বা দোদুল্যমান রাজ্যগুলোর সাধারণ ভোটারদের ডেমোক্র্যাটদের থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।   অন্য দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রক্ষণশীল নেতারা ডেমোক্র্যাটদের এই অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনকে পুঁজি করে রাজনৈতিক আক্রমণ শুরু করেছেন। ট্রাম্প একে কমিউনিস্টদের চাল আখ্যা দিয়ে সমাজ যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তা সত্ত্বেও প্রগতিশীল ঘরানার নেতারা মনে করেন, মার্কিন তরুণ সমাজ বর্তমান বৈষম্যমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে পরিবর্তনের জন্য ক্ষুধার্ত এবং গাজা যুদ্ধে মার্কিন সরকারের ভূমিকার কারণে তারা মূলধারা থেকে মুখ ফিরিয়ে প্রগতিশীলদের দিকে ঝুঁকছে।

১ মিনিট Ago
পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে আসার ঠিক আগমুহূর্তে সরকারের সিদ্ধান্তে হতাশ প্রিন্স হ্যারি | ছবি: গেটি ইমেজেস
নিরাপত্তা না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে ব্রিটেনের সফর বাতিল করলেন প্রিন্স হ্যারি

যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ পুলিশি নিরাপত্তা না পাওয়ায় শেষ মুহূর্তে সপরিবারে ব্রিটেন সফর বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছেন ডিউক অব সাসেক্স প্রিন্স হ্যারি। আগামী জুলাই মাসে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিতব্য ‘ইনভিক্টাস গেমস’-এর বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নিতে দীর্ঘ চার বছর পর পুরো পরিবার নিয়ে যুক্তরাজ্যে আসার পরিকল্পনা ছিল হ্যারি ও মেগান দম্পতির। কিন্তু সরকারের এই নেতিবাচক সিদ্ধান্তের কারণে তাদের সেই পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।   সফরটি বাতিল হওয়ায় প্রিন্স হ্যারি প্রচণ্ড মর্মাহত হয়েছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। হ্যারির মূল লক্ষ্য ছিল আগামী মাসের শুরুতে এই সফরের মাধ্যমে তার দুই সন্তান— সাত বছর বয়সী প্রিন্স আর্চি এবং পাঁচ বছর বয়সী প্রিন্সেস লিলিবেটকে তাদের দাদা রাজা চার্লসের সাথে দেখা করানো। ২০২২ সালে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্ল্যাটিনাম জুবিলি উদযাপনের পর থেকে রাজা চার্লস তার এই ছোট নাতি-নাতনিদের সামনাসামনি দেখেননি।   তবে রাজকীয় বাসভবনের বাইরে সরকারি পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়ার অনুরোধ ব্রিটিশ সরকার প্রত্যাখ্যান করায় এই পারিবারিক সফর এখন গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। হ্যারির ঘনিষ্ঠ সূত্রটি জানায়, "একেবারে শেষ মুহূর্তে তাদের পা তলা থেকে মাটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। হ্যারি তার সন্তানদের এমন কোনো পরিস্থিতিতে ফেলতে চান না, যেখানে বিমান থেকে নামার পর থেকেই পাপারাজ্জিরা (সাংবাদিকরা) তাদের তাড়া করবে।" হ্যারি বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে আসার চেষ্টা করলেও তা কতটুকু সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।   এর আগে যুক্তরাজ্যে আসার সময় স্বয়ংক্রিয় পুলিশি নিরাপত্তার দাবিতে ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (হোম অফিস) বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে হেরে গিয়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি। এরপর রাজকীয় ও ভিআইপি নির্বাহী কমিটি তার নিরাপত্তার বিষয়টি মূল্যায়ন করছিল, যাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই এই সুরক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। তবে ব্রিটিশ সরকারের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কঠোর ও আনুপাতিক এবং নীতিগত কারণে এই নিরাপত্তার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে বসবাসকারী হ্যারি ও মেগানের এই সফর বাতিলের ফলে রাজা চার্লসের সাথে তাদের সম্পর্ক জোড়া লাগার প্রক্রিয়া আবারও বাধাগ্রস্ত হলো। গত সেপ্টেম্বর মাসে লন্ডনের ক্লারেন্স হাউসে বাবা-ছেলের শেষ দেখা হয়েছিল, যা তাদের মধ্যকার শীতল সম্পর্ক কিছুটা উষ্ণ করার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কিন্তু নিরাপত্তার এই নতুন জটিলতা রাজপরিবারের এই পুনর্মিলনকে আবারও দূরে ঠেলে দিল।

১০ মিনিট Ago
ফ্রান্সের নান্সি শহরের কাছে সড়ক দুর্ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল | ছবি: রয়টার্স
ফ্রান্সে পর্যটকবাহী স্কাইডাইভিং বিমান ভেঙে পড়ে নিহত ১১, রানওয়ের কাছেই বড় বিপর্যয়

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটসহ ১১ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। রোববার স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে ন্যান্সি শহরের কাছে একটি স্কাইডাইভিং স্কুলের বিমান উড্ডয়নের পরপরই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে খাড়াভাবে মাটিতে আছড়ে পড়ে। নিহতদের মধ্যে ৫ জন স্কাইডাইভিংয়ের শিক্ষার্থী এবং ৫ জন প্রশিক্ষক ছিলেন।   ম্যুর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভস সেগুই জানান, বিমানটি ন্যান্সি-এসে বিমানবন্দর থেকে ওড়ার পরপরই হঠাৎ এর ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই রানওয়ের একদম কাছেই এটি আছড়ে পড়ে। তিনি আরও জানান, বিমানটি যদি আর মাত্র কয়েক ডজন মিটার দূরে গিয়ে আছড়ে পড়ত, তবে লোকালয়ে বড় ধরনের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারত। তবে সৌভাগ্যবশত মাটিতে থাকা কোনো সাধারণ মানুষ হতাহত হননি।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এবং নার্সিং কাউন্সিলের প্রধান থিয়েরি পেচেই নিশ্চিত করেছেন যে, নিহত ৫ শিক্ষার্থী পেশায় নার্স ছিলেন। তারা সবাই সহকর্মী এবং চলমান তীব্র তাপদাহের ক্লান্তি দূর করে একটু মানসিক শান্তির খোঁজে প্রথমবারের মতো দল বেঁধে স্কাইডাইভিং করতে এসেছিলেন। তারা সবাই একজন করে প্রশিক্ষকের সাথে যুক্ত হয়ে ‘ট্যান্ডেম জাম্প’ বা যৌথভাবে লাফ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।   ন্যান্সির মেয়র ম্যাথিউ ক্লেইন জানিয়েছেন, স্কাইডাইভিং দেখতে আসা নিহতদের বেশ কয়েকজন বন্ধু ও পরিবারের সদস্য রানওয়ের পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। চোখের সামনে বিমানটিকে আকাশ থেকে মাটিতে আছড়ে পড়তে দেখে তারা চরম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মনস্তাত্ত্বিক চিকিৎসা ও সহযোগিতা দেওয়া শুরু করেছে।   জন কুরাকু নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, তিনি তার বাগানে কাজ করার সময় হঠাৎ বিমানের ইঞ্জিন বন্ধ হওয়ার শব্দ পান এবং এর পরপরই বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। তিনি দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন বিমানের ভেতর আর কেউ বেঁচে নেই এবং প্রচণ্ড ধাক্কায় দুটি মরদেহ বিমান থেকে কয়েক মিটার দূরে ছিটকে পড়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস জরুরি ভিত্তিতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

১৫ মিনিট Ago
তীব্র গরম থেকে বাঁচতে চেক প্রজাতন্ত্রের ভ্লতাভা নদীতে মানুষের ভিড় | ছবি: এএফপি/গেটি ইমেজেস
ইউরোপে আগুন গরম: ৪০ ডিগ্রি ছাড়াল তাপমাত্রা, গরমে মারা গেলেন হাজারেরও বেশি মানুষ

ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে শত শত মানুষের মৃত্যুর পর এবার তীব্র তাপদাহ বা হিটওয়েভ পূর্ব ইউরোপের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পোল্যান্ড, চেকিয়া (চেক প্রজাতন্ত্র) এবং স্লোভাকিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তীব্র গরমের কারণে জার্মানি থেকে হাঙ্গেরি পর্যন্ত ইউরোপের প্রায় ১৯ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে ৩৫ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রার মুখোমুখি হচ্ছেন।   পোল্যান্ডে ১৯২১ সালের পর এবারই প্রথম সর্বোচ্চ তাপমাত্রার শত বছরের রেকর্ড ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশটির সরকারি নিরাপত্তা সংস্থা নাগরিকদের তীব্র রোদ ও কঠোর পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পাশাপাশি প্রচুর পানি পানের পরামর্শ দিয়েছে। চেকিয়ার আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, অনেক স্থানেই তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং সেখানে রাতকালীন তাপমাত্রাও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।   জার্মানিতেও তীব্র গরমের কারণে রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বার্লিনে নাগরিকদের স্বস্তি দিতে পুলিশ জলকামান দিয়ে পানি ছিটানোর ব্যবস্থা করেছে এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। স্লোভাকিয়ার আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, ১৮৭১ সালের পর দেশটিতে এবারই প্রথম টানা তিন দিন তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ওপরে থাকতে পারে।   এদিকে ফ্রান্সে এই তাপদাহে মৃত্যুর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। দেশটির জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দিনে স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত ১,০০০ মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। এদের মধ্যে বেশির ভাগই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী এবং অনেকে ঘরে একা থাকা অবস্থায় মারা গেছেন। এছাড়া স্পেনেও তাপদাহের কারণে ৩০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।   তীব্র এই গরমের মাঝেই উত্তর ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামে আকস্মিক ও শক্তিশালী ঝড় আঘাত হেনেছে। ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের কারণে বহু গাছপালা উপড়ে গেছে এবং ৬০ হাজারের বেশি ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের কাছে চলন্ত গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বজ্রপাতের কারণে সৃষ্ট আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

২৪ মিনিট Ago
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
আমেরিকা
ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ, মঞ্চ ছাড়ার সময় পথ খুঁজতে গিয়ে বিড়ম্বনায় বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চ ছাড়ার পথ খুঁজতে গিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   শনিবার বাল্টিমোরের কাছে হ্যানোভারের লাইভ! ক্যাসিনো অ্যান্ড হোটেলে আয়োজিত মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘ফাইট ব্যাক অ্যান্ড উইন’ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন।   বক্তব্যে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। বাইডেন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে ন্যাটোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনাকে তিনি ‘ব্যক্তিগত অহমিকার প্রকল্প’ বলে মন্তব্য করেন।   বক্তৃতার শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন বাইডেন। এরপর মঞ্চ ছাড়তে গিয়ে তিনি একপাশে তাকিয়ে দিকনির্দেশনা চান। পরে দুই দিকেই ইশারা করে কোন পথে নামবেন তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। সঠিক পথ বুঝে নেওয়ার পর দর্শকদের দিকে পিঠ রেখে মঞ্চ ত্যাগ করেন।   এর কয়েকদিন আগেই শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বাইডেন। ওই অনুষ্ঠানেও সমাপ্তির সময় তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত দেখা যায়। সে সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের নাতনিকে খুঁজছিলেন। পরে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তাকে পথ দেখান।   শনিবারের বক্তব্যে বাইডেন টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার করেন। বক্তব্যের সময় কয়েকবার কাশি দিতেও দেখা যায় তাকে। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান সময়ের তুলনায় ভালো ছিল।   ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বাইডেন বলেন, তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করা এবং ন্যাশনাল মলের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।   বাইডেন আরও অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এ বিষয়ে তার কোনো লজ্জাবোধ নেই। এর আগে প্রেসিডেন্ট থাকাকালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও জনসমাবেশে মঞ্চে চলাফেরা বা দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছিল।   বর্তমানে বাইডেন স্টেজ-৪ প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তার নতুন বইয়ের প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স দেখে প্রথমে তার মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৬:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন, প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বারোপ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে বইমেলা। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া এ আয়োজন সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।   একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং কবি শামীম আজাদ।   বইমেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন।   উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুবাদক আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। কবি শামীম আজাদ বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই।   অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখক মাসুক ইবনে আনিস এবং গবেষক ফারুক আহমদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন হেনা বেগম।   উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, জরিমানা দ্বিগুণের ঘোষণা

১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিয়ম ভাঙার প্রবণতা ঠেকাতে এবার আইন লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।   শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন আইনের আওতায় বড় ধরনের বা পদ্ধতিগত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ শত ৩৭ কোটি টাকার সমান। একই সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে।   সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে এই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইন মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিশু সক্রিয় রয়েছে, যা এই আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি আরও বলেন, নতুন পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সরকার এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।   সরকারি সূত্র বলছে, নানা উপায়ে কিশোর-কিশোরীরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ভুয়া পরিচয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করছে।   অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের দিকে নজর রাখছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে।   তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণায় ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন উপায়ে নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার কমার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়েছে।   সরকার বলছে, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ কারণে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে পারবে—১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে।   এছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বয়স যাচাইকারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই সংস্থাকে।   দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পুরোনো কৌশলেই চলছে এবং দায়সারা কাজ করে পার পেতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক অভিভাবক এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করলে কিশোররা আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।   বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি দেখে বয়স অনুমান করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নিজেদের বয়স নিশ্চিত করতে পারছেন।   সব মিলিয়ে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের প্রকোপ থামছেই না: ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজার ছাড়াল

দেশজুড়ে হামের বিস্তার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন শিশু, যা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।   রোববার (২৮ জুন) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে হামে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে।   এদিকে সংক্রমণের হারও কমার লক্ষণ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় ১১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ৯৪১ জন। ফলে একদিনেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭ জনে পৌঁছেছে।   হাসপাতালভিত্তিক তথ্য বলছে, একই সময়ে নতুন করে ৮৮৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ জন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ জন রোগী, যাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং সচেতনতার অভাব—এই তিনটি কারণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তারা দ্রুত টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।   বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ছবি: সংগৃহীত
‘বাংলাদেশকে সত্যিই ভালোবাসি, তাদের সমর্থন অসাধারণ’—মার্টিনেজ

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা আবারও প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও বাংলাদেশি সমর্থকদের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন তিনি।   বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। জিওভানি লো সেলসো, লাউতারো মার্টিনেজ ও লিওনেল মেসির গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।   ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ সময় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি নিজের বিশেষ অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি।   বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণ করে মার্টিনেজ বলেন, ‘বাংলাদেশে গিয়েছিলাম আমি। সত্যিই দেশটিকে ভালোবাসি।’   বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি তারা কতটা পাগল আমাদের জন্য। সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলতে পারি আমি। তাদের সমর্থন আমি ভালোবাসি। তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে দেখে, আমার অনেক ভালো লাগে। আমার পূর্ণ ভালোবাসা বাংলাদেশের জন্য।’   ২০২৩ সালে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসে লাখো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন এই গোলরক্ষক। সেই সফরের স্মৃতি এখনো তার মনে গেঁথে আছে বলেই আবারও বাংলাদেশি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তিনি।

ছবি: ফাইল ফটো
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোন পথে? নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে ‘রেড কার্ড’ প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একদিকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযান ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে অভিবাসন সংস্কার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন নীতিনির্ধারক ও গবেষক ‘রেড কার্ড’ নামে একটি বিকল্প কর্মসূচির প্রস্তাব সামনে এনে বলছেন, বর্তমান সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে হলে প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে নতুন পথ খুঁজতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোনো একক প্রশাসনের সৃষ্টি নয়। কয়েক দশক ধরে আইন প্রয়োগে অসঙ্গতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং কংগ্রেসের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীর একটি অংশ মনে করেন, তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ফেডারেল সরকারের অনুমোদন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করেছেন। বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা, মানবিক প্যারোল কর্মসূচি এবং অন্যান্য অস্থায়ী ব্যবস্থার আওতায় অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পান। ফলে এখন তাদের অনেকের দাবি, তাদের অবস্থানকে সরলভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনি ও নৈতিক দুই দিক থেকেই জটিল।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েক মিলিয়ন মানুষের বিরুদ্ধে একযোগে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, বাস্তবিক অর্থেও অত্যন্ত কঠিন। অভিবাসন আদালতগুলো ইতোমধ্যেই কয়েক মিলিয়ন মামলার জটে আটকে আছে। এর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান শুরু হলে বিচারিক ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে আইসের জনবল ও সম্পদও সীমিত। ফলে কোন অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কারের আওতায় আনা হবে এবং কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও নীতিগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   এই আলোচনার মধ্যেই আবার সামনে এসেছে ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচি। শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা অনথিভুক্ত তরুণদের সাময়িক সুরক্ষা দিতে চালু হওয়া এই কর্মসূচি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকলেও কংগ্রেস এখনো এর স্থায়ী আইনি সমাধান করতে পারেনি। ফলে লাখো ডাকা সুবিধাভোগী এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রেই বড় হয়েছেন, পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি অবস্থান এখনও ঝুলে আছে।   এই প্রেক্ষাপটে কিছু নীতিনির্ধারক আবারও সামনে আনছেন তথাকথিত ‘রেড কার্ড’ মডেল। ২০১২ সালে অভিবাসন সংস্কারবিষয়ক গবেষক হেলেন ক্রিয়েবল প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করেন। পরে সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচসহ কয়েকজন রক্ষণশীল নেতা এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।   রেড কার্ড ধারণার মূল ভিত্তি হলো নাগরিকত্বের পথ থেকে আলাদা একটি বৈধ কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থা তৈরি করা। এই মডেলে যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত নন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে চান, তারা নিবন্ধনের মাধ্যমে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। তবে এই অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকত্বের পথ খুলে দেবে না।   সমর্থকদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে আইস তাদের সীমিত জনবল ও সম্পদ সহিংস অপরাধী, মাদক চক্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে। একই সঙ্গে অনথিভুক্ত হলেও কর্মরত লাখো মানুষ বৈধ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবেন এবং কর ব্যবস্থার মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।   রেড কার্ড মডেলের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি বেসরকারি খাতনির্ভর। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্মসংস্থান সংস্থাগুলো অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এতে সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমবে বলে সমর্থকদের দাবি।   প্রস্তাবটির সমর্থকরা আরও বলছেন, অংশগ্রহণকারীদের বায়োমেট্রিক পরিচয় নিবন্ধন, নিরাপত্তা যাচাই এবং বাজারদরের সমপরিমাণ মজুরি নিশ্চিত করা হলে মার্কিন শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও কমবে।   তবে সমালোচকদের আপত্তিও রয়েছে। তাদের মতে, রেড কার্ড পরিকল্পনা কার্যকর হলে একটি নতুন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী শ্রমিক শ্রেণি তৈরি হতে পারে, যারা বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করলেও স্থায়ী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে হলে বৈধ স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের একটি সুস্পষ্ট পথও থাকতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিতর্ক বর্তমানে দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে আটকে আছে। এক পক্ষ অধিকাংশ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দেশে থাকার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে, অন্য পক্ষ দ্রুত ও ব্যাপক বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি কোনো সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত করছে।   অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, কৃষি, নির্মাণ, আতিথেয়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সেবা খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন শ্রমবাজার, ব্যবসা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।   ফলে প্রশ্ন এখন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা বা আইসের অভিযান নিয়ে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কী ধরনের অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, সেটিও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস যদি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে না পারে, তাহলে ডাকা কর্মসূচি, আইসের অভিযান এবং লাখো অভিবাসীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আগামী বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও জননীতির অন্যতম প্রধান বিতর্ক হিসেবে থেকে যাবে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, জরিমানা দ্বিগুণের ঘোষণা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:৫৫

১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিয়ম ভাঙার প্রবণতা ঠেকাতে এবার আইন লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।   শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন আইনের আওতায় বড় ধরনের বা পদ্ধতিগত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ শত ৩৭ কোটি টাকার সমান। একই সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে।   সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে এই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইন মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিশু সক্রিয় রয়েছে, যা এই আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি আরও বলেন, নতুন পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সরকার এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।   সরকারি সূত্র বলছে, নানা উপায়ে কিশোর-কিশোরীরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ভুয়া পরিচয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করছে।   অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের দিকে নজর রাখছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে।   তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণায় ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন উপায়ে নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার কমার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়েছে।   সরকার বলছে, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ কারণে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে পারবে—১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে।   এছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বয়স যাচাইকারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই সংস্থাকে।   দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পুরোনো কৌশলেই চলছে এবং দায়সারা কাজ করে পার পেতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক অভিভাবক এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করলে কিশোররা আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।   বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি দেখে বয়স অনুমান করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নিজেদের বয়স নিশ্চিত করতে পারছেন।   সব মিলিয়ে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩
ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:১৫

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার (স্থানীয় সময়) সকালে তোম্বলেইন শহরের কাছাকাছি বিমানবন্দরের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিতে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন, যাদের একটি অংশ প্যারাসুট নিয়ে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।   ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তোম্বলেইন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিমানটি স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ ধরনের ফ্লাইট সাধারণত স্বল্প উচ্চতায় উঠানামা করে এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। ফলে এই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।   ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট আকারের বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, তবে এমন বড় ধরনের প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বিরল। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।   তদন্তের অগ্রগতি ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি
খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি, ৪ জুলাই শুরু তেহরানে
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের ধারণা, এ শোকযাত্রায় অংশ নিতে পারেন দুই কোটিরও বেশি মানুষ। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।   বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ রোববার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরান ও পবিত্র নগরী কোমে আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির শেষযাত্রা শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন ধাপ শেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।   সরকারি সূত্র বলছে, পুরো আয়োজনটি নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইরাকের পবিত্র শহর কারবালাতেও খামেনির স্মরণে একটি শোকানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এ আয়োজন এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে সরকারি প্রাসাদে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ প্রাণ হারান ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা। ঘটনার পরপরই তার শেষযাত্রার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা স্থগিত রাখা হয় বলে সে সময় ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল।   খামেনির মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে। তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রায় সবাই উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের কারণে দেশের ভেতরে ও বাইরে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। তাই তার শেষযাত্রা ঘিরে এমন বড় পরিসরের জনসমাগম এবং আয়োজন স্বাভাবিকভাবেই ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৭:৪৪

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা স্যঁতে পাবলিক প্রকাশিত এক প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, তাপপ্রবাহজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের তথ্য এখনো পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   সংস্থাটি অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। কেয়ার হোম ও ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে এলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।    একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ছে।   বিজ্ঞানীদের মতে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি।    তারা বলছেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপের জলবায়ু আরও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।   ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় চরম গরম কিছুটা কমলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঞ্চল এখনও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে।   ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট বলেছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এই তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই দুর্যোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি।"   স্যঁতে পাবলিক জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। তবে তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি সব বয়সী মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলেছে।   সূত্র: এএফপি

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
615 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
515 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
614 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
462 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়