Live update news
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হুমকির তীব্র নিন্দা রাশিয়ার, সতর্কবার্তা লাভরভের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হুমকির কড়া নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।   সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা লিখিত বক্তব্যে লাভরভ এসব কথা বলেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং চাপ কমাতে রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।   রাশিয়ার শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার হুমকি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।   লাভরভ আরও সতর্ক করে বলেন, ‘বিদেশি প্ররোচনায় সৃষ্ট অস্থিরতা’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যদি ‘২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত আগ্রাসন’ আবারও পুনরাবৃত্তি করা হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।   এদিকে একই দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিনও জানায়, ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে মস্কো তার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।   ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ বা সংরক্ষণসংক্রান্ত বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব করে আসছে রাশিয়া, যাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ দূর করা যায় এবং উত্তেজনা হ্রাস পায়।   পেসকভ বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন দেশের জন্য বিরক্তিকর বা উদ্বেগজনক বিষয়গুলো দূর করার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে আসছে।   তিনি আরও জানান, রাশিয়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং সংঘাত উসকে দেওয়ার পরিবর্তে উত্তেজনা প্রশমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি

৩ ঘন্টা Ago
দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী মানুষের অংশগ্রহণ চান জাইমা রহমান

দেশ গড়ার পরিকল্পনায় প্রতিবন্ধী মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ চান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান। তিনি বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য কী কী করা দরকার, তা তাঁরাই সবচেয়ে ভালো জানেন। তাঁদের কাছ থেকে জানার ও শেখার অনেক কিছু রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর গুলশান সোসাইটি লেক পার্কে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জাইমা রহমান। বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শিরোনাম ছিল ‘প্রোসপারিং টুগেদার: অ্যান ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ’ (একসঙ্গে সমৃদ্ধি: অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ)।   অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা নানা বয়সী ২২ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি তাঁদের অভিজ্ঞতা, সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। খোলা পার্ক চত্বরে আয়োজিত এই সভায় কয়েকটি প্লাস্টিকের চেয়ার পেতে মাঝখানে বসেন জাইমা রহমান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইশারা ভাষা অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন। দেড় ঘণ্টাব্যাপী এই মতবিনিময়ে জাইমা রহমান মনোযোগ দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বক্তব্য শোনেন।   অনুষ্ঠানের শেষ দিকে সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জাইমা রহমান বলেন, প্রতিবন্ধী মানুষের সীমাবদ্ধতার মধ্যেও যে সক্ষমতা ও সাফল্য রয়েছে, তা দেশ ও জাতির জন্য গর্বের। তাঁদের বক্তব্য থেকে তিনি অনেক কিছু জেনেছেন ও শিখেছেন বলেও উল্লেখ করেন।   মতবিনিময়ে অংশ নেওয়া প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা শিক্ষা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের নানা বিষয় তুলে ধরেন। কেউ কেউ বলেন, সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে গিয়ে প্রতিবন্ধী শিশুরা নানা বাধার মুখে পড়ে। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত হওয়ায় অনেক প্রতিবন্ধী মানুষ আর্থিক সংকটে ভোগেন। এ সময় প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়িয়ে মাসে অন্তত পাঁচ হাজার টাকা করার দাবি ওঠে। ময়মনসিংহ থেকে আসা মোকাম্মল হোসেন বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ করতে গিয়ে সরকারি দপ্তর থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যায় না। তিনি উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন বাজেটের একটি অংশ প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব দেন। কুমিল্লা থেকে আসা এক প্রতিবন্ধী ব্যক্তি জানান, দুর্ঘটনায় একটি হাত হারানোর পরও তিনি কর্মজীবনে সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিবন্ধী নাগরিকদের অধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।   মতবিনিময়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ না হওয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। বক্তারা কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, চাকরি স্থায়ী করতে গড়িমসি এবং প্রতিবাদ করলে চাকরি হারানোর হুমকির অভিযোগ করেন।   একজন শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধী নারী কর্মস্থলে হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরে বলেন, প্রতিবন্ধী নারীদের সুরক্ষায় কঠোর আইন ও তার বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। চিকিৎসাসেবার সময় ইশারা ভাষা না বোঝার কারণে ভুল চিকিৎসার ঝুঁকি তৈরি হয় বলেও তিনি জানান।   এ সময় সরকারি প্রতিটি দপ্তর ও হাসপাতালে ইশারা ভাষার অনুবাদকারী নিয়োগের দাবি জানান অংশগ্রহণকারীরা। তাঁদের মতে, প্রতিবন্ধী মানুষের উন্নয়নে বরাদ্দ অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কার্যকর নজরদারিও জরুরি।   ইশারা ভাষা অনুবাদকারী আফরোজা খাতুন বলেন, তাঁর পরিবারের একাধিক সদস্য শ্রবণ ও বাক্‌প্রতিবন্ধী হওয়ায় যোগাযোগের সীমাবদ্ধতার কষ্ট তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও সেবাকেন্দ্রে দোভাষী নিয়োগে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।   অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা জিয়াউদ্দিন হায়দার, পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

৪ ঘন্টা Ago
অভিবাসন প্রশ্নে নতুন বিতর্ক— আদালতের রায়ে স্থগিত ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ঘিরে আবারও তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে এক ফেডারেল আদালতের রায়। তিন লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি হাইতিয়ান অভিবাসীর অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (TPS) বাতিলের উদ্যোগ আপাতত স্থগিত করেছে আদালত, যা বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে Donald Trump প্রশাসনের জন্য।   মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ Ana Reyes রায়ে বলেন, বিচারিক পর্যালোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাইতিয়ান নাগরিকদের আইনি অবস্থান বহাল থাকবে। তার মতে, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে যথাযথ নিরপেক্ষতা ছিল না এবং তা আগেভাগেই নির্ধারিত ছিল বলে প্রতীয়মান হয়।   রায়ে তিনি আরও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন Department of Homeland Security-এর সচিব Kristi Noem-কে। বিচারকের মন্তব্য অনুযায়ী, TPS বাতিলের পেছনে অশ্বেতাঙ্গ অভিবাসীদের প্রতি বিরূপ মনোভাব কাজ করেছে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যায়।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রায় শুধু হাইতিয়ান অভিবাসীদের জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ TPS বাতিল হলে লাখো মানুষ কাজ, বাসস্থান ও আইনি সুরক্ষা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তেন।   এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতির ইঙ্গিত মিললেও আপাতত আদালতের আদেশেই স্বস্তিতে রয়েছেন হাজারো হাইতিয়ান পরিবার। তবে অভিবাসন নীতি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

৪ ঘন্টা Ago
উত্তর আরব সাগরে সামরিক উত্তেজনা চরমে- মার্কিন বাহিনীর গুলিতে ইরানি ড্রোন ভেঙে পড়ে

উত্তর আরব সাগরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী USS Abraham Lincoln-এর দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে আসা একটি ইরানি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধবিমান।   মঙ্গলবার (স্থানীয় সময়) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে U.S. Central Command। বিবৃতিতে বলা হয়, ড্রোনটি রণতরীর নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি সৃষ্টি করায় প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে হামলা চালানো হয়।   মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানান, নৌবহরের কাছাকাছি অননুমোদিতভাবে ড্রোনের উপস্থিতি আন্তর্জাতিক জলসীমায় গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সংঘর্ষ এড়াতে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ও আরব সাগর ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই এই অঞ্চলে সামরিক নজরদারি ও উপস্থিতি বাড়িয়েছে।   এ ঘটনার বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এমন ঘটনাগুলো ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

৪ ঘন্টা Ago
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ
বিশ্ব রাজনীতি
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক হুমকির তীব্র নিন্দা রাশিয়ার, সতর্কবার্তা লাভরভের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক হুমকির কড়া নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো নতুন সামরিক আগ্রাসন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে।   সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনের জন্য প্রস্তুত করা লিখিত বক্তব্যে লাভরভ এসব কথা বলেন। তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে এবং চাপ কমাতে রাশিয়ার কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন।   রাশিয়ার শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন সামরিক হামলার হুমকি সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। এ ধরনের আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি পশ্চিম এশিয়া অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।   লাভরভ আরও সতর্ক করে বলেন, ‘বিদেশি প্ররোচনায় সৃষ্ট অস্থিরতা’কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যদি ‘২০২৫ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘটিত আগ্রাসন’ আবারও পুনরাবৃত্তি করা হয়, তাহলে তা বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।   এদিকে একই দিনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট কার্যালয় ক্রেমলিনও জানায়, ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা কমাতে মস্কো তার কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে।   ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রক্রিয়াকরণ বা সংরক্ষণসংক্রান্ত বিষয়ে বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব করে আসছে রাশিয়া, যাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উদ্বেগ দূর করা যায় এবং উত্তেজনা হ্রাস পায়।   পেসকভ বলেন, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন দেশের জন্য বিরক্তিকর বা উদ্বেগজনক বিষয়গুলো দূর করার একটি সম্ভাব্য পথ হিসেবে রাশিয়া ধারাবাহিকভাবে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়ে আসছে।   তিনি আরও জানান, রাশিয়া সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখছে এবং সংঘাত উসকে দেওয়ার পরিবর্তে উত্তেজনা প্রশমনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। সূত্র: প্রেস টিভি

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান
সমালোচনায় শালীনতার সীমা অতিক্রম না করার আহ্বান জামায়াত আমিরের

নির্বাচনী প্রচারণার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে রাজনৈতিক সৌজন্যবোধ ও শালীনতা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক সমালোচনা সবার অধিকার হলেও তা যেন কোনোভাবেই রুচি ও শালীনতার সীমা অতিক্রম না করে।   মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ স্ট্যাটাসের মাধ্যমে তিনি এই আহ্বান জানান। সেখানে তিনি সরাসরি তার সহকর্মী, কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। ডা. শফিকুর রহমান তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, ভোটের মাঠে প্রচারণা চালাতে গিয়ে অনেক সময় একে অপরকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার প্রবণতা দেখা দেয়। তিনি বলেন, “সমালোচনা করার অধিকার অবশ্যই সবার আছে। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তা শালীনতার সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়।”   তিনি আরও যোগ করেন যে, সমালোচনা অবশ্যই যুক্তি ও মার্জিত ভাষার মাধ্যমে হওয়া উচিত। কোনো ভাষা বা শব্দ এমন হওয়া উচিত নয়, যা শুনলে বক্তা নিজে কিংবা অন্য কেউ আহত হন। জামায়াত আমিরের মতে, যদি কেউ কোনো প্রিয় মানুষকে রুচিহীন বা কুরুচিপূর্ণভাবে আক্রমণ করে, তবে তার জবাবও হতে হবে যুক্তিপূর্ণ এবং অত্যন্ত মার্জিত ভাষায়। তিনি এই শিষ্টাচারকেই প্রকৃত শিক্ষার প্রতিফলন এবং ইসলামের মহান শিক্ষা হিসেবে চিহ্নিত করেন।   সবশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তার এই সামান্য পরামর্শটুকু দলের সকল স্তরের জনশক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করতে জামায়াত আমিরের এই আহ্বান একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত দেয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে উপস্থিত অতিথি ওশিক্ষার্থীরা
চবিতে অর্থনৈতিক বৈষম্যমুলকও নীতিগত সংকট নিয়ে সেমিনার

অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধিও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কেবল জিডিপি বৃদ্ধির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।এপ্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সবস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোই প্রকৃত উন্নয়নের শর্ত। অথচ বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হলেও আয়, সম্পদওসুযোগের বৈষম্য ক্রমেই বেড়েছে। রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সংকট, ন্যায়বিচারের দুর্বলতা, অর্থনীতিতে লিকেজ মডেলের বিস্তার এবং নীতিগত অকার্যকারিতার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সাধারণ মানুষের জীবনে প্রত্যাশিতভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগও বেসরকারি গবেষণাকারী সংস্থা পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টার (পিটিইআরসি) কর্তৃক যৌথভাবে আয়োজিত ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন আলোচকরা। সেমিনার অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্তও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি মানে শুধু জিডিপি বাড়ানো নয় বরং সেই প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব শ্রেণীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টিত হচ্ছে কিনা সেটিই মুখ্য বিষয়। বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক দশকে গড়ে৫-৬শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেলেও সাধারণ মানুষের জীবনে তার প্রত্যাশিত প্রভাব পড়েনি। আয়বৈষম্যের সূচক বর্তমানে প্রায় দশমিক ৫-এর কাছাকাছি,যা উচ্চ বৈষম্যের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দেশের১০ শতাংশ মানুষ প্রায় ৪০ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণে রাখছে,যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। তিনি আরো বলেন,খেলাপি ঋণ,অর্থ পাচার ওদুর্নীতির কারণে অর্থনীতির ওপর মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।এ অর্থ মূলত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সম্পদ যা একটি প্রভাবশালী শ্রেণী আত্মসাৎ করছে। এর ফলে ভবিষ্যৎ সরকারগুলোকে একটি,মেঘাচ্ছন্ন অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে বহন করতে হবে। সমতা নয় বরং ন্যায়সংগত বণ্টন, সুশাসনও সৎ নেতৃত্বের মাধ্যমেই অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি সম্ভব বলে আমি মনে করি।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তাসলিম উদ্দিন বলেন,উন্নয়ন মানে কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি নয়।জিডিপির আকার বড় হলেই উন্নয়ন নিশ্চিত হয়,—এমন ধারণা থেকে বিশ্ব অনেকআগেই সরে এসেছে। উন্নয়ন চিন্তায় ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ, হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স এবং সাম্প্রতিক সময়ে ইনক্লুসিভ ডেভেলপমেন্ট ধারণা গুরুত্ব পেয়েছে। ইনক্লুসিভ গ্রোথ মূলত নীতিনির্ভর ধারণা,যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব গোষ্ঠীর মধ্যে ন্যায্যভাবে বণ্টন হচ্ছে কিনা সেটি গুরুত্বপূর্ণ। অমর্ত্য সেনের ক্যাপাবিলিটি অ্যাপ্রোচ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইনক্লুসিভ গ্রোথের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দক্ষতাও সমবণ্টনের ভারসাম্য। এই ভারসাম্য আনতে প্রগ্রেসিভ ট্যাক্সেশন একটি কার্যকর নীতি হাতিয়ার। যার মাধ্যমে ধনীদের কাছ থেকে বেশি কর নিয়ে দরিদ্রদের সক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।একর রাজস্বের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত মানবসম্পদ উন্নয়ন,শিক্ষা, প্রশিক্ষণওস্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ। একই সঙ্গে গ্রাম ওশহরের মধ্যে অবকাঠামোগত বৈষম্য দূর করা, অর্থনীতির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল এমপাওয়ারমেন্ট নিশ্চিত করাও ইনক্লুসিভও টেকসই উন্নয়নের অপরিহার্য শর্ত।, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘জিডিপি বৃদ্ধি হলেও যদি তার সুফল সমানভাবে বণ্টিত না হয়, তবে প্রবৃদ্ধি অসম হয়ে পড়ে। বাস্তবে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভূমি, শ্রম, পুঁজিও উদ্যোক্তার অবদান সমান নয়,কারো আয় বেশি আবার কারো কম। ফলে সবাই সমানভাবে প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে পারে না।’ পিটিইআরসির চেয়ারম্যান মো. মাজেদুল হক বলেন,গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করলেও বাস্তবতায় আয়, ভোগ ও সম্পদবৈষম্য বেড়েছে। বৈষম্যের সূচক দশমিক৫-এ পৌঁছানো তারই প্রমাণ।জাতীয় সম্পদের বড় অংশ সীমিত জনগোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হওয়ার মূল কারণ হলো অর্থনীতিতে লিকেজ বা নিঃসরণ মডেলের বিস্তার। রাষ্ট্রীয় সম্পদ অনৈতিকভাবে ব্যক্তি খাতে প্রবাহিত হয়ে বিদেশে পাচার হচ্ছে, ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের কল্যাণে রূপ নিচ্ছে না। বাজেটও নীতিনির্ধারণে স্বচ্ছতার ঘাটতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাজেট ট্রান্সপারেন্সি কম,বাজেটও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন হার প্রত্যাশার নিচে। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে না পৌঁছানোয় দারিদ্র্য হ্রাস কার্যকর হচ্ছে না।দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়লেও ধনীদের ক্ষেত্রে কর ছাড় অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি রাজস্ব ওমুদ্রানীতির সমন্বয়হীনতায় মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়েছে। সুশাসনের ঘাটতি, দুর্নীতিও দুর্বল তথ্য ব্যবস্থাপনাএ সংকটকে আরো গভীর করেছে।’ সমাপনী বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যানও সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ শোয়েব বলেন,‘ইনক্লুসিভ গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট নতুন বিষয় নয়, তবে নতুন রিসোর্স পারসন ওনতুন ভাবনা জানার জন্য এ সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। দেশে সমস্যার অভাব নেই,,নীতিগত সমাধানও আছে, কিন্তু বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এর মূল কারণ দুটি,এক. অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশের অভাব এবং ২. ন্যায়বিচারের দুর্বলতা। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া বিচার নিশ্চিত করা যায় না। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি যখন সীমিত গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়,তখন লিকেজ মডেল তৈরি হয় এবং বিচার ব্যবস্থা প্রভাবিত হয়।এ দুই জায়গায় সংস্কার ছাড়া নীতির সুফল আসবে না।’ সেমিনারের শেষে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে আলোচকরা বলেন, ‘বাংলাদেশে দেশীয়ও বিদেশী বিনিয়োগ কম আসার প্রধান কারণ নীতিগত অস্থিতিশীলতা, দুর্বল দেশীয় রেটিং,দক্ষ শ্রমশক্তির ঘাটতি এবং বাজার বৈচিত্র্যের অভাব। বিনিয়োগ আকর্ষণে দীর্ঘমেয়াদিও স্থিতিশীল নীতি, দক্ষ মানবসম্পদ, আঞ্চলিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং বহুমুখী উৎপাদন কাঠামো জরুরি। গ্রামীণ অবকাঠামো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সমতা নিশ্চিত করলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী অর্থনীতিতে অন্তর্ভুক্ত হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফাহিম শাহারিয়ারের উপস্থাপনায় সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী রবিউল ইসলাম, মোহাম্মদ ফয়সাল, প্রভাষক কাজী মান্না ইয়াসমিন, ফারহানা ইয়াসমিন, মুবাসিরা চৌধুরী নাবিলা, যোগাযোগও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শহিদুল হকসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকও শিক্ষার্থীরা। সেমিনারে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিষয়ে অর্থনৈতিক গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন।এসব প্রস্তাবনার মধ্য থেকে তসলিমা জান্নাত,ওসমান ফারুকওসুমাইয়া তাবাসসুমের গবেষণা প্রস্তাবনাকে পুরস্কৃত করে পিটিইআরসি। পাশাপাশি গবেষণা প্রস্তাবনা উপস্থাপনকারী আরো পাঁচজন শিক্ষার্থীকে সংস্থাটির বিভিন্ন অর্থনৈতিক গবেষণা সহযোগী হিসেবে কাজ করার প্রস্তাব দেয়া হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।   প্রতিবেদক: শ্যামল সান্যাল

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
বিটিভিতে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান, জানা গেল সময়

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) ভাষণ দেবেন। নির্বাচন কমিশন বিটিভি মহাপরিচালককে এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছে।   মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বিটিভি মহাপরিচালককে এ বিষয়ে চিঠি দেন। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নির্বাচনী পরিবেশ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে।   বিটিভিতে দলীয় প্রধানের নির্বাচনী প্রচারের স্লট বরাদ্দ সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশনা অনুসরণের কথাও চিঠিতে বলা হয়। এক্ষেত্রে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর বিধি ৬ (জনসভা, পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠান)-এর উপবিধি (গ)-এর অনুসরণে লিখিত আবেদন প্রাপ্তির সময়ের ক্রমানুসারে স্লট নির্ধারণ করতে হবে।   এছাড়া বিটিভি কর্তৃক প্রতি রাজনৈতিক দলের প্রধানের জন্য স্লট বরাদ্দ এবং স্লটের মেয়াদ নির্ধারণ করতে হবে। প্রচারণা রেকর্ডিংয়ের তারিখ ও সময় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে বিটিভি নিষ্পত্তি করবে।   চিঠিতে আরো বলা হয়, যেসব রাজনৈতিক দল বিটিভিতে প্রচারণার সুযোগ চাইবে, তাদের আবেদনের সময়ের ক্রমানুয়ায়ী বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দিতে হবে। তবে বিএনপি ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দল হতে আবেদন পাওয়া যায়নি। তাই বিএনপির দলীয় প্রধানকে তাদের চাহিদা মোতাবেক ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ স্লটে বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দেওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিশন বিটিভিকে বলেছে।   এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৫১টি দল প্রার্থী দিয়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে তারা ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবে।   এবার বিএনপির ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ ২৯২ জন ভোটের মাঠে রয়েছে। এরপর আছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, দলটির প্রার্থী সংখ্যা ২৫৩। এই হিসাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সংখ্যায় তৃতীয় সর্বোচ্চ। আর জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোট ২২৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এছাড়া জাতীয় পার্টির ১৯২ জন, গণঅধিকার পরিষদের ৯০ জন এবং এনসিপির ৩২ জন প্রার্থী ভোটে রয়েছেন।   এর আগে ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনের আগে প্রচারণার শেষ সময়ে এসে প্রধান কয়েকটি দলের প্রধানদের ভাষণ প্রচার করা হয়। এ ধারাবাহিকতায় ২০১৩ সালে দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও দলীয় প্রধানদের ভাষণ প্রচার করা হয়েছে।  

পিটার ম্যান্ডেলসন
হাউজ অব লর্ডস থেকে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিদায়

ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সুর! দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পিটার ম্যান্ডেলসন অবশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডস থেকে স্থায়ীভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।   ৪ঠা ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে তার এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই বিদায় কি সাধারণ কোনো প্রস্থান, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?   খবরের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:   বিস্ফোরক অভিযোগ: কুখ্যাত 'এপস্টিন ফাইলে' নাম আসার পর থেকেই চাপে ছিলেন ম্যান্ডেলসন। ২০০৯ সালের দিকে সরকারের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য জেফরি এপস্টিনকে সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।   তদন্তের মুখে: বিষয়টি বর্তমানে ক্যাবিনেট অফিস থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই তথ্য পাচারের অভিযোগগুলো কতটা সত্য।   স্পিকারের ঘোষণা: লর্ড স্পিকার লর্ড ফোরসাইথ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবসরের বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, জনস্বার্থ এবং হাউজের মর্যাদা রক্ষার খাতিরেই ম্যান্ডেলসন এই নোটিশ দিয়েছেন।   দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকার পর ম্যান্ডেলসনের এই চূড়ান্ত বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।

বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর বিষয়ে একটি যুগান্তকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দেশের প্রতিরক্ষা খাতে আধুনিকায়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো।   প্রতিরক্ষা আধুনিকায়ন: এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত জাপানি প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম যুক্ত হবে। কূটনৈতিক সাফল্য: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দূরদর্শী কূটনীতির ফসল হিসেবে এই চুক্তিকে দেখা হচ্ছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। যৌথ গবেষণা ও উন্নয়ন: কেবল সরঞ্জাম ক্রয় নয়, বরং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের জন্য একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ও জাপানের কৌশলগত অংশীদারিত্বকে এটি আরও গভীর করবে এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তায় অবদান রাখবে। জাতিসংঘের নীতিমালা অনুসরণ: সম্পূর্ণ চুক্তিটি জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যেই সম্পাদিত হয়েছে।   আজ ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে রাষ্ট্রদূত সাইডা শিনিচি এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ২০২৩ সাল থেকে চলা নিরবচ্ছিন্ন আলোচনার সফল সমাপ্তি ঘটল এই চুক্তির মাধ্যমে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
পিটার ম্যান্ডেলসন
হাউজ অব লর্ডস থেকে পিটার ম্যান্ডেলসনের বিদায়
ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0

ব্রিটেনের রাজনীতিতে এক বিশাল পরিবর্তনের সুর! দীর্ঘদিনের আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব পিটার ম্যান্ডেলসন অবশেষে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউজ অব লর্ডস থেকে স্থায়ীভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন।   ৪ঠা ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর হতে যাচ্ছে তার এই সিদ্ধান্ত। কিন্তু এই বিদায় কি সাধারণ কোনো প্রস্থান, নাকি নেপথ্যে রয়েছে অন্য কোনো কারণ?   খবরের মূল পয়েন্টগুলো একনজরে:   বিস্ফোরক অভিযোগ: কুখ্যাত 'এপস্টিন ফাইলে' নাম আসার পর থেকেই চাপে ছিলেন ম্যান্ডেলসন। ২০০৯ সালের দিকে সরকারের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য জেফরি এপস্টিনকে সরবরাহ করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।   তদন্তের মুখে: বিষয়টি বর্তমানে ক্যাবিনেট অফিস থেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ এখন খতিয়ে দেখছে তার বিরুদ্ধে ওঠা এই তথ্য পাচারের অভিযোগগুলো কতটা সত্য।   স্পিকারের ঘোষণা: লর্ড স্পিকার লর্ড ফোরসাইথ আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই অবসরের বিষয়টি সংসদকে অবহিত করেন। তিনি জানান, জনস্বার্থ এবং হাউজের মর্যাদা রক্ষার খাতিরেই ম্যান্ডেলসন এই নোটিশ দিয়েছেন।   দীর্ঘদিন ছুটিতে থাকার পর ম্যান্ডেলসনের এই চূড়ান্ত বিদায় ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। পর্দার আড়ালে আসলে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা।

নরওয়ের রাজকুমারী মেত-মারিত
প্রকাশ্যে নরওয়ের রাজকুমারীর কুকীর্তি
ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0

বিশ্ব কাঁপানো ‘এপস্টেইন ফাইল’ যেন এক অন্ধকার জগতের প্যান্ডোরা বক্স! এবার সেই তালিকায় নাম এলো নরওয়ের রাজকুমারী তথা হবু রানি মেত-মারিতের। যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং ফ্লোরিডায় সেই বিতর্কিত বাড়িতে রাত কাটানোর চাঞ্চল্যকর নথিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে ইউরোপজুড়ে। শুধু তাই নয়, এই তালিকায় নাম জড়িয়েছে নোবেল কমিটির সাবেক সদস্য এবং নরওয়ের সাবেক প্রধানমন্ত্রীরও, যা প্রশ্নবিদ্ধ করছে খোদ নোবেল শান্তি পুরস্কারের নিরপেক্ষতাকে।   এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক:   ১০০০ বারের বেশি নাম: ফাঁস হওয়া নথিতে নরওয়ের রানির নাম এসেছে ১০০০ বারের বেশি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তাদের মধ্যে ছিল গভীর যোগাযোগ।   অশ্লীল কথোপকথন ও ছবি: ইমেলে এপস্টেইনকে ‘সুইট হার্ট’ বলে সম্বোধন এবং বিভিন্ন নারীদের আপত্তিকর ছবি পাঠানোর প্রমাণ মিলেছে।   ফ্লোরিডায় ৪ দিন: ২০১৩ সালে এপস্টেইনের ফ্লোরিডার বাড়িতে টানা ৪ দিন সময় কাটিয়েছেন রানি মেত-মারিত।   নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে বিতর্ক: নোবেল কমিটির সাবেক সদস্য থর্বজর্ন জাগল্যান্ডের নামও এই ফাইলে আসায় পুরো নরওয়ে সরকার এখন অস্বস্তিতে।   রানির স্বীকারোক্তি: ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে রানি মেত-মারিত জানিয়েছেন, সেই সময় তাঁর বিচারবুদ্ধি লোপ পেয়েছিল এবং এই সম্পর্কের জন্য তিনি এখন অনুতপ্ত।   বিশ্বের প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মুখোশ কি এভাবেই একের পর এক খুলে যাবে? আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

রাহুল গান্ধী ও নরেন্দ্র মোদি
দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন মোদি, রাহুল গান্ধীর বিস্ফোরক অভিযোগে তোলপাড় ভারত
ইসতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0

দিল্লি এখন উত্তপ্ত! লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী সরাসরি তোপ দাগলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে। তাঁর অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী কার্যত ‘দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন’। দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি রাতারাতি সই করার নেপথ্যে কি কোনো বিশেষ চাপ কাজ করছে?   রাহুল গান্ধীর দাবি, আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন মামলা এবং রহস্যময় 'এপস্টিন ফাইলস'-এর ভয়েই নাকি প্রধানমন্ত্রী এই আপস করেছেন। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদি এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সত্যটা ঠিক কোথায়?   কেন এই বিতর্ক? একনজরে দেখে নিন মূল পয়েন্টগুলো: তড়িঘড়ি চুক্তি: রাহুল গান্ধীর মতে, নিজের ভাবমূর্তি বাঁচাতে চাপের মুখে তাড়াহুড়ো করে এই বাণিজ্য চুক্তি সই করেছেন মোদি। সংসদে হট্টগোল: চীন ইস্যু এবং প্রাক্তন সেনাপ্রধানের স্মৃতিকথা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন বিরোধী দলনেতা। এপস্টিন ফাইলস ও আদানি কানেকশন: রাহুল দাবি করেছেন, আমেরিকার হাতে এমন কিছু তথ্য আছে যা মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তিকর, আর সেই কারণেই এই ‘আপস’। প্রধানমন্ত্রীর পাল্টা যুক্তি: এনডিএ বৈঠকে মোদি জানিয়েছেন, দীর্ঘ ধৈর্য এবং সঠিক কূটনৈতিক পদক্ষেপের ফলেই এই অর্থনৈতিক সাফল্য অর্জিত হয়েছে।   দেশের অর্থনীতি কি সত্যিই সুরক্ষিত, নাকি ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি রক্ষাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে? আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান।

কে এই কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন?
মোহাইমিনুল ইসলাম ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0

যৌন অপরাধ ও মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত মার্কিন ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল ও বিতর্ক চলমান।  ২০১৯ সালের ১০ আগস্ট নিউ ইয়র্কের একটি জেলখানায় বিচার চলাকালীন অবস্থায় রহস্যজনকভাবে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগে তিনি কিশোরীদের পাচার এবং একটি বিশাল যৌন চক্র চালানোর অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।  সম্প্রতি ২০২৫ সালের নভেম্বরে মার্কিন কংগ্রেস ‘এপস্টেইন ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’ পাসের পর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরে এই সংক্রান্ত গোপন নথিপত্র জনসমক্ষে আসার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় তার জীবনের অন্ধকার দিকগুলো পুনরায় আলোচনায় এসেছে।   গণিত শিক্ষক থেকে বিলিওনেয়ার  নিউ ইয়র্কে বেড়ে ওঠা এপস্টেইন সত্তরের দশকে একটি বেসরকারি স্কুলে গণিত ও পদার্থবিজ্ঞান পড়াতেন। এরপর নিজের মেধা ও কৌশলে ওয়াল স্ট্রিটের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক ‘বেয়ার স্টার্নস’-এ যোগ দেন। মাত্র চার বছরেই তিনি সেখানে পার্টনার হন এবং ১৯৮২ সালে নিজস্ব প্রতিষ্ঠান ‘জে এপস্টেইন অ্যান্ড কোং’ গঠন করেন। ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে তিনি দ্রুত ধনকুবেরে পরিণত হন এবং নিউ ইয়র্ক, ফ্লোরিডা ও নিউ মেক্সিকোতে বিলাসবহুল প্রাসাদ ও ব্যক্তিগত দ্বীপ গড়ে তোলেন।   ক্ষমতাধর বন্ধুদের বৃত্ত  এপস্টেইনের সামাজিক যোগাযোগ ছিল ঈর্ষণীয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে শুরু করে ব্রিটিশ রাজপরিবারের প্রিন্স অ্যান্ড্রু পর্যন্ত তার বন্ধু তালিকায় ছিলেন। ২০০২ সালে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তাকে ‘চমৎকার লোক’ হিসেবে অভিহিত করেছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প দাবি করেন যে এপস্টেইনের অসংলগ্ন আচরণের কারণে কয়েক দশক আগেই তিনি তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।  অন্যদিকে, প্রিন্স অ্যান্ড্রু এপস্টেইনের সাথে তার বন্ধুত্বের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৫ সালে নিজের রাজকীয় উপাধি হারান।     আইনি লড়াই ও ‘শতাব্দীর সেরা সমঝোতা’  ২০০৫ সালে প্রথম এক ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়। ২০০৮ সালে তিনি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এড়াতে এক বিতর্কিত ‘প্লি ডিল’ বা সমঝোতা করেন। এর ফলে তিনি মাত্র ১৩ মাস কারাগারে কাটান এবং দিনের ১২ ঘণ্টা নিজের অফিসে কাজ করার অনুমতি পান।  এই সমঝোতাকে পরবর্তী সময়ে ‘শতাব্দীর সেরা ডিল’ হিসেবে সমালোচনা করা হয়। তবে ২০১৯ সালে নতুন করে পাচারের অভিযোগ উঠলে তিনি পুনরায় গ্রেফতার হন এবং জেলের ভেতরেই তার জীবনের অবসান ঘটে।   গিজলেন ম্যাক্সওয়েল ও পরবর্তী প্রভাব এপস্টেইনের মৃত্যুর পর তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিজলেন ম্যাক্সওয়েলকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়। ২০২১ সালে কিশোরীদের পাচার ও প্ররোচিত করার অভিযোগে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ম্যাক্সওয়েল পরে আদালতে স্বীকার করেন যে এপস্টেইনের সাথে পরিচয় হওয়া তার জীবনের সবচেয়ে বড় অনুশোচনার বিষয়।  বর্তমানে মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিপত্রগুলো প্রকাশ করছে, যা বিশ্বের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সাথে তার সম্পর্ক এবং অপরাধের ধরণ সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য সামনে আনছে।

Follow us

Trending

ফেডারেল ইমিগ্রেশন এজেন্ট
অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা: এবার মেইনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযানের ঘোষণা

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরও স্পষ্ট হচ্ছে। সর্বশেষ মেইন (Maine) অঙ্গরাজ্যে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে Department of Homeland Security (ডিএইচএস)।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্রের বরাতে জানা গেছে, “Operation Catch of the Day” নামে এই বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে রাজ্যটিতে অবস্থানরত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা হবে। অভিযানটি পরিচালনায় ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় রয়েছে।   কর্তৃপক্ষ বলছে, এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সহিংস বা গুরুতর অপরাধে যুক্ত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা। ডিএইচএস আরও জানায়, আইন মেনে বসবাসকারী বা অপরাধে জড়িত নন—এমন অভিবাসীদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।   তবে মানবাধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর আশঙ্কা, এ ধরনের অভিযানে ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে এবং নিরপরাধ মানুষও হয়রানির শিকার হতে পারেন। এ নিয়ে তারা স্বচ্ছতা ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মেইনে এই অভিযান শুরুর মাধ্যমে ফেডারেল সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ আরও বিস্তৃত পরিসরে জোরদার হলো। এর প্রভাব স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটির পাশাপাশি রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও পড়তে পারে।  সূত্র: ABC News

জানুয়ারী ২১, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ধর্ম
Advertisement
বিশেষ প্রতিবেদন
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
সারাদেশ
জাতীয়