ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর এক মাসের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ “খুব শিগগিরই” শেষ হবে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের শেষসীমা দেখা যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন, তবে একই সময়ে সেনা মোতায়েন ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যুদ্ধের ৩৩তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে ত্রিমুখী হামলার শিকার হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত পরিবর্তন করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিন্ডা ব্লিমস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ করছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক জীবনযাত্রার সংকট’-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে এসে হামলা চালাতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টায় ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তি চায়। রয়টার্স–ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মানুষ দ্রুত যুদ্ধ শেষ চাইছে। ন্যাটো সম্পর্কেও ট্রাম্প নাড়াচাড়া করছেন; তিনি মনে করছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে জোটটি তাদের পাশে নেই এবং যুদ্ধ শেষে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা হবে। ইরানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বেড়ে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি হয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ, কাতারে তেলবাহী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত, কুয়েতে বিমানবন্দরে আগুন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “আমরা এই যুদ্ধে এখন খুব ক্লান্ত।”
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আমেরিকা তার সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ও আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে বিভিন্ন দেশ ধ্বংস করেছে। আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের ব্যাপারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই দেশগুলোকে তারা তছনছ করেছে এবং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নির্বাচিত সরকারে হস্তক্ষেপ চালাচ্ছে। এ মন্তব্য তিনি করেছেন বুধবার (১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজিত আলোচনা সভায়। সভার শিরোনাম ছিল “আল-আন্দালুস থেকে গ্রানাডা: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান ভাবনা”। সাদ্দাম বলেন, “আমেরিকার অর্থনীতি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। তারা বড় ধরনের যুদ্ধ সৃষ্টি করবে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করছে। সাম্রাজ্যকে রক্তপাতহীনভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে দেশগুলো ধ্বংস করছে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে হস্তক্ষেপ করছে এবং নির্বাচিত সরকারকে প্রতিস্থাপন করছে।” তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস যেমন করডোবার নগরীর শাসনকাল প্রমাণ করে, মুসলিমরা যুগে যুগে বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। “যখন মুসলমানেরা বিদ্যুতের বাতি আবিষ্কার করেছিল, ইউরোপ তা ব্যবহার করতে শতাব্দী পরে সক্ষম হয়। সেই সময় মুসলমানরা জ্ঞান ও ধর্মকে সমন্বিত করতে পারতেন,” তিনি উল্লেখ করেন। আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক নাজিব ওয়াদুদ, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, শাখা সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব এবং বিভিন্ন হল ও অনুষদের নেতৃবৃন্দ।
৫৩ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদের দিকে পাঠাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের মাধ্যমে নভোচারী চাঁদে পৌঁছেছিলেন। এবার আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে নতুন করে মানুষ্যবাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথে যাত্রা করবে। নাসা জানিয়েছে, অভিযানে চারজন নভোচারী থাকবেন। দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের পর ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু হবে। উড্ডয়নের জন্য দুই ঘণ্টা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে; আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিটের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী উড্ডয়ন হবে আজ ভোরের দিকে। অভিযানটির উড্ডয়নপর্ব ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। নভোচারীরা হবেন মার্কিন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তারা ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলে চাঁদের চারপাশে কক্ষপথে ঘুরে প্রায় ১০ দিনের মিশনের পর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। যদিও এই মিশনে চাঁদে অবতরণের কোনো পরিকল্পনা নেই, এটি পৃথিবী থেকে মানুষের দূরতম যাত্রা হিসেবে ইতিহাসে থাকবে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচি বহু বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানুষের যাত্রা সহজ করা। আর্টেমিস-২ এ এই কর্মসূচির প্রথম মানববাহী মিশন। মিশনের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাপরোধী ঢাল পরীক্ষা করা হবে। মিশনে ব্যবহৃত এসএলএস রকেটের মূল অংশ নির্মাণ করেছে বোয়িং, কঠিন জ্বালানির বুস্টার তৈরি করেছে নর্থরপ গ্রুম্যান এবং ওরিয়ন মহাকাশযান তৈরি করেছে লকহিড মার্টিন। চার নভোচারীর মধ্যে তিনজনের মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রিড ওয়াইজম্যান ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৫ দিন কাটিয়েছেন, ভিক্টর গ্লোভার ২০২০ সালে স্পেসএক্স ক্রু-১ মিশনে ১৬৮ দিন মহাকাশে ছিলেন, এবং ক্রিস্টিনা কচ ২০১৯ সালে টানা ৩২৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করেছেন। জেরেমি হ্যানসেনের এটি প্রথম মহাকাশযাত্রা। এই মিশনে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘটবে। ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের নিকটবর্তী অঞ্চলে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হবেন। ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে এ ধরনের মিশনে অংশ নেবেন। জেরেমি হ্যানসেন হবেন প্রথম অমার্কিন নভোচারী, যিনি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে পা রাখবেন।
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সার্চ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব এ এস এম কাসেম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বুধবার (১ এপ্রিল) এই তথ্য জানানো হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, সার্চ কমিটি কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভিসি নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। অন্যান্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোর্শেদ হাসান। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী তারা: ১. ভিসি প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবেন, ২. প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করবেন, ৩. বাছাইকৃত তিন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবেন। রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “এই কমিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও জবাবদিহিমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ইরান কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয়; বরং পুরো যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিই তাদের লক্ষ্য। আরাঘচি বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি নয়, সম্পূর্ণ যুদ্ধের অবসান চাই—শুধু ইরানে নয়, গোটা অঞ্চলে।” তিনি আরও বলেন, এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে ইরান কেবল তাৎক্ষণিক শান্তির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব এখনও তেহরান দেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো পাল্টা প্রস্তাব বা শর্তও তারা উত্থাপন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বার্তাকেও তারা আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ হিসেবে গ্রহণ করছে না। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়ে আরাঘচি বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি খোলা রয়েছে, তবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের জন্য এটি বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে স্থলযুদ্ধের জন্যও ইরান প্রস্তুত। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুলনামূলকভাবে নরম সুরে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে সদিচ্ছা রাখে, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ জরুরি—বিশেষ করে ভবিষ্যতে যেন এমন সংঘাত আর না ঘটে। তিনি এই অবস্থান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে ফোনালাপে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরানের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। ডাও জোন্স সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বক্তব্য নতুন কিছু না হলেও এটি সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিফলন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
৫৩ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদের দিকে পাঠাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের মাধ্যমে নভোচারী চাঁদে পৌঁছেছিলেন। এবার আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে নতুন করে মানুষ্যবাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথে যাত্রা করবে। নাসা জানিয়েছে, অভিযানে চারজন নভোচারী থাকবেন। দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের পর ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু হবে। উড্ডয়নের জন্য দুই ঘণ্টা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে; আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিটের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী উড্ডয়ন হবে আজ ভোরের দিকে। অভিযানটির উড্ডয়নপর্ব ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। নভোচারীরা হবেন মার্কিন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তারা ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলে চাঁদের চারপাশে কক্ষপথে ঘুরে প্রায় ১০ দিনের মিশনের পর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। যদিও এই মিশনে চাঁদে অবতরণের কোনো পরিকল্পনা নেই, এটি পৃথিবী থেকে মানুষের দূরতম যাত্রা হিসেবে ইতিহাসে থাকবে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচি বহু বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানুষের যাত্রা সহজ করা। আর্টেমিস-২ এ এই কর্মসূচির প্রথম মানববাহী মিশন। মিশনের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাপরোধী ঢাল পরীক্ষা করা হবে। মিশনে ব্যবহৃত এসএলএস রকেটের মূল অংশ নির্মাণ করেছে বোয়িং, কঠিন জ্বালানির বুস্টার তৈরি করেছে নর্থরপ গ্রুম্যান এবং ওরিয়ন মহাকাশযান তৈরি করেছে লকহিড মার্টিন। চার নভোচারীর মধ্যে তিনজনের মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রিড ওয়াইজম্যান ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৫ দিন কাটিয়েছেন, ভিক্টর গ্লোভার ২০২০ সালে স্পেসএক্স ক্রু-১ মিশনে ১৬৮ দিন মহাকাশে ছিলেন, এবং ক্রিস্টিনা কচ ২০১৯ সালে টানা ৩২৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করেছেন। জেরেমি হ্যানসেনের এটি প্রথম মহাকাশযাত্রা। এই মিশনে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘটবে। ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের নিকটবর্তী অঞ্চলে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হবেন। ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে এ ধরনের মিশনে অংশ নেবেন। জেরেমি হ্যানসেন হবেন প্রথম অমার্কিন নভোচারী, যিনি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে পা রাখবেন।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর এক মাসের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ “খুব শিগগিরই” শেষ হবে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের শেষসীমা দেখা যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন, তবে একই সময়ে সেনা মোতায়েন ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যুদ্ধের ৩৩তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে ত্রিমুখী হামলার শিকার হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত পরিবর্তন করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিন্ডা ব্লিমস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ করছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক জীবনযাত্রার সংকট’-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে এসে হামলা চালাতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টায় ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তি চায়। রয়টার্স–ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মানুষ দ্রুত যুদ্ধ শেষ চাইছে। ন্যাটো সম্পর্কেও ট্রাম্প নাড়াচাড়া করছেন; তিনি মনে করছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে জোটটি তাদের পাশে নেই এবং যুদ্ধ শেষে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা হবে। ইরানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বেড়ে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি হয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ, কাতারে তেলবাহী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত, কুয়েতে বিমানবন্দরে আগুন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “আমরা এই যুদ্ধে এখন খুব ক্লান্ত।”
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ওয়াকআউটের পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার সীমাহীন ত্যাগের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণের প্রেক্ষিতে তারা বঙ্গভবনে বসেছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তিনি জানান, “তিনি (রাষ্ট্রপতি) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং মঞ্জুর করেছেন।” এ আলোচনার পর তারা দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফেরার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে, তা নিরসনে জনগণের রায় বা গণভোটের দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের মনোভাবকে সমালোচনা করেন। তিনি জানান, যেহেতু সংসদে জনগণের ন্যায্য দাবি সম্মানিত হচ্ছে না, তাই আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব এবং গণভোটের মাধ্যমে রায় আদায়ের পথ অনুসরণ করব। সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আরও ঘোষণা দেন যে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদ এবং রাজপথ উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিগগিরই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেছেন, আমেরিকা তার সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ও আধিপত্য বজায় রাখতে গিয়ে বিভিন্ন দেশ ধ্বংস করেছে। আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনের ব্যাপারে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, এই দেশগুলোকে তারা তছনছ করেছে এবং মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নির্বাচিত সরকারে হস্তক্ষেপ চালাচ্ছে। এ মন্তব্য তিনি করেছেন বুধবার (১ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৫টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের আয়োজিত আলোচনা সভায়। সভার শিরোনাম ছিল “আল-আন্দালুস থেকে গ্রানাডা: ইতিহাসের শিক্ষা ও বর্তমান ভাবনা”। সাদ্দাম বলেন, “আমেরিকার অর্থনীতি ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। তারা বড় ধরনের যুদ্ধ সৃষ্টি করবে এবং তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনা তৈরি করছে। সাম্রাজ্যকে রক্তপাতহীনভাবে ধরে রাখা সম্ভব নয়। তারা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে দেশগুলো ধ্বংস করছে, মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে হস্তক্ষেপ করছে এবং নির্বাচিত সরকারকে প্রতিস্থাপন করছে।” তিনি আরও বলেন, মুসলিম বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস যেমন করডোবার নগরীর শাসনকাল প্রমাণ করে, মুসলিমরা যুগে যুগে বৈজ্ঞানিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিল। “যখন মুসলমানেরা বিদ্যুতের বাতি আবিষ্কার করেছিল, ইউরোপ তা ব্যবহার করতে শতাব্দী পরে সক্ষম হয়। সেই সময় মুসলমানরা জ্ঞান ও ধর্মকে সমন্বিত করতে পারতেন,” তিনি উল্লেখ করেন। আলোচনা সভার সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি মেহেদী হাসান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক নাজিব ওয়াদুদ, কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা, শাখা সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল, প্রচার সম্পাদক মেহেদী সজীব এবং বিভিন্ন হল ও অনুষদের নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দক্ষ করতে সার্চ কমিটি গঠন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলামকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব এ এস এম কাসেম স্বাক্ষরিত পরিপত্রে বুধবার (১ এপ্রিল) এই তথ্য জানানো হয়। পরিপত্র অনুযায়ী, সার্চ কমিটি কৃষি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভিসি নিয়োগের জন্য যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবে। ৬ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আব্দুল খালেক। অন্যান্য সদস্যরা হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য প্রফেসর মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের প্রফেসর ড. মো. মোর্শেদ হাসান। কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে থাকবেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব। কমিটির কার্যপরিধি অনুযায়ী তারা: ১. ভিসি প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবেন, ২. প্রার্থীদের যোগ্যতা যাচাই-বাছাই করবেন, ৩. বাছাইকৃত তিন প্রার্থীর মধ্যে একজনকে রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করবেন। রাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “এই কমিটির মাধ্যমে ভবিষ্যতে ভিসি নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও জবাবদিহিমূলক ও গ্রহণযোগ্য হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত শুরুর এক মাসের বেশি সময় পার হওয়া সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ “খুব শিগগিরই” শেষ হবে। এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উল্লেখ করেছেন, যুদ্ধের শেষসীমা দেখা যাচ্ছে এবং কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এরপর ট্রাম্প একাধিকবার যুদ্ধ শেষ করার কথা বলেছেন, তবে একই সময়ে সেনা মোতায়েন ও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। যুদ্ধের ৩৩তম দিনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরান, লেবানন ও ইয়েমেন থেকে ত্রিমুখী হামলার শিকার হয়। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত পরিবর্তন করছে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লিন্ডা ব্লিমস জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার খরচ করছে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ঐতিহাসিক জীবনযাত্রার সংকট’-এর মধ্যে উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রয়োজন পড়লে যুক্তরাষ্ট্র আবার ফিরে এসে হামলা চালাতে পারে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বুধবার রাত ৯টায় ট্রাম্প জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও দ্রুত যুদ্ধ সমাপ্তি চায়। রয়টার্স–ইপসসের জরিপে দেখা গেছে, ৬৬ শতাংশ মানুষ দ্রুত যুদ্ধ শেষ চাইছে। ন্যাটো সম্পর্কেও ট্রাম্প নাড়াচাড়া করছেন; তিনি মনে করছেন, যুদ্ধের ক্ষেত্রে জোটটি তাদের পাশে নেই এবং যুদ্ধ শেষে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা হবে। ইরানের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ক্রমশ বেড়ে ১ লাখ ১৫ হাজারের বেশি হয়েছে। তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ, কাতারে তেলবাহী জাহাজ আঘাতপ্রাপ্ত, কুয়েতে বিমানবন্দরে আগুন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরায় এক বাংলাদেশি নিহত হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, “আমরা এই যুদ্ধে এখন খুব ক্লান্ত।”
৫৩ বছর পর আবারও মানুষকে চাঁদের দিকে পাঠাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। সর্বশেষ ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ অভিযানের মাধ্যমে নভোচারী চাঁদে পৌঁছেছিলেন। এবার আর্টেমিস-২ মিশনের মাধ্যমে নতুন করে মানুষ্যবাহী মহাকাশযান চাঁদের কক্ষপথে যাত্রা করবে। নাসা জানিয়েছে, অভিযানে চারজন নভোচারী থাকবেন। দেশটির স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটের পর ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে যাত্রা শুরু হবে। উড্ডয়নের জন্য দুই ঘণ্টা সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে; আবহাওয়া ও প্রযুক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী এটি সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিট থেকে রাত ৮টা ২৪ মিনিটের মধ্যে হতে পারে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী উড্ডয়ন হবে আজ ভোরের দিকে। অভিযানটির উড্ডয়নপর্ব ইউটিউবসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। নভোচারীরা হবেন মার্কিন রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন। তারা ওরিয়ন ক্রু ক্যাপসুলে চাঁদের চারপাশে কক্ষপথে ঘুরে প্রায় ১০ দিনের মিশনের পর পৃথিবীতে ফিরে আসবেন। যদিও এই মিশনে চাঁদে অবতরণের কোনো পরিকল্পনা নেই, এটি পৃথিবী থেকে মানুষের দূরতম যাত্রা হিসেবে ইতিহাসে থাকবে। নাসার আর্টেমিস কর্মসূচি বহু বিলিয়ন ডলারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যার লক্ষ্য চাঁদে স্থায়ী মানব উপস্থিতি গড়ে তোলা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গলগ্রহে মানুষের যাত্রা সহজ করা। আর্টেমিস-২ এ এই কর্মসূচির প্রথম মানববাহী মিশন। মিশনের মাধ্যমে ওরিয়ন মহাকাশযানের জীবনরক্ষা ব্যবস্থা, নেভিগেশন, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তাপরোধী ঢাল পরীক্ষা করা হবে। মিশনে ব্যবহৃত এসএলএস রকেটের মূল অংশ নির্মাণ করেছে বোয়িং, কঠিন জ্বালানির বুস্টার তৈরি করেছে নর্থরপ গ্রুম্যান এবং ওরিয়ন মহাকাশযান তৈরি করেছে লকহিড মার্টিন। চার নভোচারীর মধ্যে তিনজনের মহাকাশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা রয়েছে। রিড ওয়াইজম্যান ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ১৬৫ দিন কাটিয়েছেন, ভিক্টর গ্লোভার ২০২০ সালে স্পেসএক্স ক্রু-১ মিশনে ১৬৮ দিন মহাকাশে ছিলেন, এবং ক্রিস্টিনা কচ ২০১৯ সালে টানা ৩২৮ দিন মহাকাশে অবস্থান করেছেন। জেরেমি হ্যানসেনের এটি প্রথম মহাকাশযাত্রা। এই মিশনে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত ঘটবে। ভিক্টর গ্লোভার চাঁদের নিকটবর্তী অঞ্চলে যাওয়া প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ নভোচারী হবেন। ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী নভোচারী হিসেবে এ ধরনের মিশনে অংশ নেবেন। জেরেমি হ্যানসেন হবেন প্রথম অমার্কিন নভোচারী, যিনি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথের বাইরে পা রাখবেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান আবারও স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ইরান কোনো সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি নয়; বরং পুরো যুদ্ধের স্থায়ী সমাপ্তিই তাদের লক্ষ্য। আরাঘচি বলেন, “আমরা যুদ্ধবিরতি নয়, সম্পূর্ণ যুদ্ধের অবসান চাই—শুধু ইরানে নয়, গোটা অঞ্চলে।” তিনি আরও বলেন, এই মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে ইরান কেবল তাৎক্ষণিক শান্তির চেয়ে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগ্রহী। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যে প্রস্তাবগুলো এসেছে, সেগুলোর কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব এখনও তেহরান দেয়নি। তিনি উল্লেখ করেন, কোনো পাল্টা প্রস্তাব বা শর্তও তারা উত্থাপন করেননি। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের বার্তাকেও তারা আনুষ্ঠানিক আলোচনার অংশ হিসেবে গ্রহণ করছে না। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির বিষয়ে আরাঘচি বলেন, এই জলপথ পুরোপুরি খোলা রয়েছে, তবে যারা ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তাদের জন্য এটি বন্ধ থাকবে। প্রয়োজনে স্থলযুদ্ধের জন্যও ইরান প্রস্তুত। অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তুলনামূলকভাবে নরম সুরে বলেছেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করতে সদিচ্ছা রাখে, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ জরুরি—বিশেষ করে ভবিষ্যতে যেন এমন সংঘাত আর না ঘটে। তিনি এই অবস্থান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কোস্তার সঙ্গে ফোনালাপে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইরানের এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অর্থবাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে বড় উত্থান হয়েছে। ডাও জোন্স সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪ পয়েন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ এবং নাসডাক সূচক ৩.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের বক্তব্য নতুন কিছু না হলেও এটি সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রতিফলন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য চীনের আরও সরাসরি এবং সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল নিকোলা ভোজুর। বুধবার প্যারিসে আয়োজিত ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে চীনের নৌযান সংখ্যা দেশটির চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত। অ্যাডমিরাল ভোজুর বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত চীনের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। চীন ও ইরানের মধ্যে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সংলাপ চলছে, কিন্তু তা পুরো নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে যথেষ্ট নয়। তিনি আরও যোগ করেন, এই অবস্থায় চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য এবং প্রণালিটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।