ধূমপানের বিকল্প ভেবে অনেকেই ভেপ বা ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন। কেউ নেন কৌতূহল থেকে, কেউ স্বাদের জন্য, আবার কেউ মনে করেন এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণা বিভ্রান্তিকর। নিকোটিন, বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং ফুসফুস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে আছে ভেপের বাষ্পে। একসময় ভেপের ব্যবহার সীমিত ছিল। ধূমপানের বিকল্প কিংবা আধুনিক অভ্যাস হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন অনেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ-বিদেশে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা। চলতি ভাষায় ভেপ বলা হলেও এর আনুষ্ঠানিক নাম ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট। অনেকের ধারণা, এটি ধূমপানের তুলনায় নিরাপদ। তবে গবেষণার তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিত ভেপ ব্যবহার করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৯ সালে ভেপ ব্যবহারকারীর হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ভেপ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম এবং যুক্তরাজ্যে ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে ভেপ বিক্রি নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য সীমিত। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত "Electronic Cigarettes (Vaping) Preferences Among University Students in Bangladesh" শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার ই-সিগারেট ব্যবহার করেছেন অথবা নিয়মিত ভেপিংয়ে অভ্যস্ত। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। একই সঙ্গে ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ জানিয়েছেন, ই-সিগারেট তাদের তামাকজাত পণ্যের প্রতি আসক্ত করে তুলেছে। কীভাবে কাজ করে ভেপ ডিজাইনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ভেপের কাঠামো একই ধরনের। এতে একটি ট্যাংকে থাকে ই-লিকুইড বা ভেপের জুস। হিটিং এলিমেন্টের মাধ্যমে এই তরল উত্তপ্ত হয়ে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়। ব্যবহারকারী মাউথপিস দিয়ে সেই বাষ্পসদৃশ মিশ্রণ ফুসফুসে টেনে নেন। ভেপের জুসে সাধারণত থাকে নিকোটিন, বিভিন্ন ফ্লেভার এবং প্রোপিলিন গ্লিসারল বা গ্লিসারিনের মতো দ্রাবক। কোন উপাদান কতটা ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, ভেপের প্রায় প্রতিটি উপাদানই স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। নিকোটিন একটি আসক্তিকর রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এর ফলে হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত গবেষণায় এ ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রোপিলিন গ্লিসারল ও গ্লিসারিন সরাসরি বিষাক্ত না হলেও দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে কাশি, ফুসফুসের সক্ষমতা হ্রাস এবং বুকে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভেপের বিভিন্ন স্বাদের জন্য ব্যবহৃত ডাইএসিটিল, এসিটিলপ্রোপিলিন, মেন্থল, কফি ও স্ট্রবেরি ফ্লেভারের কিছু রাসায়নিক কোষে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যবহৃত সুক্রোজ ও গ্লুকোজ উত্তপ্ত হয়ে রিয়েকটিভ এলডিহাইডে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া ভেপ ব্যবহারের সময় নিকেল-ক্রোমিয়াম সংকরের মতো ভারী ধাতুও উৎপন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ধাতুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেপ যত বেশি ব্যবহার করা হয়, ভারী ধাতুর নির্গমনও তত বাড়তে থাকে। প্রথম ৫০ টানের তুলনায় ১০১ থেকে ১৫০তম টানে প্রায় ৬০ গুণ বেশি ভারী ধাতু উৎপন্ন হওয়ার তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জৈব যৌগও ভেপের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে কী বলছে গবেষণা ভেপের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। ৫৪ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপের বাষ্প গ্রহণকারী প্রাণীদের মধ্যে ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি ছিল। তবে গবেষকেরা বলছেন, প্রাণীর ক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভেপ কি ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করে? গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপ ব্যবহারকারীদের প্রায় ২৩ শতাংশ পরবর্তীতে ধূমপানও শুরু করেছেন। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান ছেড়ে ভেপে আসা কিছু মানুষ ছয় মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে সরে যেতে পেরেছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সহায়ক হিসেবে ভেপ ব্যবহার করতে হলেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। নিজ উদ্যোগে ভেপকে নিরাপদ বিকল্প মনে করা ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতনতার বিকল্প নেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান, তামাক ও ভেপসহ নিকোটিননির্ভর সব পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ক্ষতিকর জেনেও অনেকেই অভ্যাস থেকে সরে আসতে পারেন না। অথচ দীর্ঘদিন ভেপ ব্যবহারের ফলে যে ক্ষতি হয়, তার অনেকটাই স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। তাই সাময়িক স্বাদ বা বিনোদনের জন্য ভেপ ব্যবহার ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সচেতন সিদ্ধান্তই এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টক শোতে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং ভিসানীতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করবে, তার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশ যদি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু না কেনে, তাহলে সেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না। ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে এর শর্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কাস্টমস ব্যবস্থা, শ্রম খাত এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে। এসব সংস্কার বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নতমানের গম ও কৃষিপণ্য আমদানি করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন গমে অপচয়ের হার প্রায় ২ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা গমের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হতো। তিনি আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ খাতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী। তবে তাদের জন্য সরকারের দেওয়া শর্তগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া প্রয়োজন। ভিসানীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেক আবেদনকারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করেন অথবা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। জাল কাগজপত্র ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের উন্নতমানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। তিনি জানান, যক্ষ্মা ও হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে খুব শিগগিরই পাঁচ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার লাল, সাদা ও নীল রঙে সাজানো হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আলোচনার শেষদিকে বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মার্কিন দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তের ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, জনগণের স্বার্থ ও জাতীয় প্রয়োজন বিবেচনায় বাংলাদেশ নিজস্ব সিদ্ধান্তেই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এ প্রকল্প নিয়ে অন্য কোনো দেশের 'কনসার্ন' বা উদ্বেগ থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিস্তা পাড়ের মানুষের সংকট অত্যন্ত গভীর ও মানবিক। বর্ষায় নদীভাঙন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির তীব্র সংকটে উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো নদী শাসন, ড্রেজিং এবং পানি সংরক্ষণ। এসব কাজে চীনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও অর্থায়নের সক্ষমতা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শুরুর নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। প্রকল্পটি নিয়ে ভূরাজনৈতিক কোনো চ্যালেঞ্জ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। এ ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পে অন্য কোনো দেশের উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ তিনি দেখেন না। তিনি আরও বলেন, ভারত বা অন্য যেকোনো দেশ বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবেই সম্পর্ক বজায় রাখবে। কোনো দেশের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে বাংলাদেশ তা বিবেচনায় নেবে, তবে জাতীয় স্বার্থ ও সংবেদনশীল বিষয়ে কোনো আপস করবে না। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আগের সরকারের সময় জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা করে একাধিক দেশের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। তিনি বলেন, এখন যেকোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে পারস্পরিক সম্মান ও রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন মানে বাংলাদেশ নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি থেকে সরে আসছে না বলেও স্পষ্ট করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, তিস্তা ও গঙ্গাসহ অভিন্ন ৫৩টি নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে দেশের স্বার্থে নদী শাসন ও সুরক্ষায় অভ্যন্তরীণ ডাউনস্ট্রিম ব্যারাজ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য উপদেষ্টা আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীন কার্যক্রম এবং নতুন তথ্য কমিশন গঠনের অগ্রগতি নিয়েও সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রিয়াসাত আল ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য ‘বড় ধরনের সমস্যা’ অপেক্ষা করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবশ্যই অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অন্যায্যভাবে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রাম্প বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যদি এটি না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে। প্রতি গ্যালন প্রায় আড়াই ডলারের পর্যায়ে দাম নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।” তিনি আরও লেখেন, “খুচরা বিক্রেতাদের উচিত এই বক্তব্যের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তারা যা সঠিক বলে জানে, সেটিই করা। আমাদের মহান মার্কিন জনগণের জন্য দাম কমিয়ে দেওয়া।” ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে অঙ্গরাজ্যটির পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই করের পরিমাণ পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নেবে না, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণও মেনে নেবে না। তারা এই অযৌক্তিক কর এবং নিজেদের সরকারের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।” ডেমোক্র্যাট নেতা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও জোরদার করছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে প্রশাসন। এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। গত ২৪ জুন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “বড় তেল কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে যে হারে কম দামে তেল কিনছে, সেই অনুপাতে তারা পাম্পে পেট্রোলের দাম কমাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্য কথায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আমি বিচার বিভাগকে অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।” ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম “পাথরের মতো দ্রুত” কমে যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জ্বালানির দামে তার প্রতিফলনও দেখা যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি শক্ত অবস্থানে থাকলেও দেশটির শেয়ারবাজারে চাপ বাড়ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শক্তিশালী ভোক্তা ব্যয় এবং উন্নত ভোক্তা আস্থার মতো ইতিবাচক অর্থনৈতিক সূচক অর্থনীতিকে সহায়তা করলেও প্রযুক্তি খাতের শেয়ারদর পতন, সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিপুল বিনিয়োগের ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। জুন মাসে স্পেসএক্সের রেকর্ড গড়া প্রাথমিক শেয়ার ছাড়ার (আইপিও) প্রস্তুতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের নতুন প্রধান কেভিন ওয়ার্শের প্রথম নীতিনির্ধারণী বৈঠকসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্যেও শেয়ারবাজারে বৈপরীত্য দেখা গেছে। একদিকে ইতিবাচক অর্থনৈতিক তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির স্থিতিশীলতা তুলে ধরেছে। অন্যদিকে একই সময়ে নাসডাক ও এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক নিম্নমুখী ছিল। বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারও একটি সূচক অনুযায়ী ১০ শতাংশের বেশি কমেছে। এদিকে তিন বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের দাম বেড়েছে এবং ফলন কমেছে। ফিলাডেলফিয়াভিত্তিক বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান জ্যানি মন্টগোমারি স্কটের প্রধান স্থির-আয় কৌশলবিদ গাই লে বাস বলেন, জ্বালানির দাম বাড়লেও ভোক্তারা জ্বালানিবহির্ভূত পণ্য ও সেবায় ব্যয় অব্যাহত রেখেছেন। তার মতে, এটি প্রমাণ করে যে বছরের শুরুতে ধারণার তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি অনেক বেশি স্থিতিশীল, সহনশীল এবং শক্তিশালী। ফলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আরও বাড়তে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রভাবে মূল্যস্ফীতি সমন্বয় করা প্রকৃত সুদের হার বাড়তে থাকায় বিনিয়োগকারীরা নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছেন। ফেডপ্রধান কেভিন ওয়ার্শের কঠোর অবস্থানের পর বাজারে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। যদিও অনেক বিশ্লেষকের মতে, আর্থিক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই কঠোর হয়ে যাওয়ায় বাস্তবে আর সুদের হার বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। এদিকে স্বর্ণ, বিটকয়েন, মাইক্রোসফট ও মেটার মতো বিভিন্ন সম্পদের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। ওয়াল স্ট্রিটে নতুন শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রি রেকর্ড গতিতে চলছে। এর বড় অংশই ব্যবহৃত হচ্ছে এআই খাতে বিনিয়োগে। যদিও অনেক বিনিয়োগকারী এ খাতে অতিমূল্যায়নের ঝুঁকির কথা বলছেন, তবুও বিনিয়োগের গতি এখনো কমেনি। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক কামাক্ষ্য ত্রিবেদী বলেন, যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যাওয়া এবং তেলের দাম হ্রাস পাওয়ায় বাজার আবার অর্থনীতির মৌলিক ভিত্তির দিকে নজর দিচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই শেয়ারের উচ্চ মূল্যায়নে প্রতিফলিত হয়েছে। তার মতে, এআই খাতেই সবচেয়ে বেশি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং এটিই বর্তমানে বাজারের অস্থিরতার অন্যতম কারণ। বাজারের অস্থিরতার বড় একটি কারণ হলো বিনিয়োগকারীদের দ্রুত এক খাত থেকে অন্য খাতে বিনিয়োগ স্থানান্তর। মার্চের শেষ দিকে যুদ্ধসংক্রান্ত উদ্বেগ কমে যাওয়ার পর থেকে সেমিকন্ডাক্টর সূচক ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। চলতি বছরে সূচকটির মূল্য বেড়েছে ৮৭ শতাংশ। একই সময়ে মাইক্রনের শেয়ার চার গুণ এবং ইন্টেল ও মার্ভেল টেকনোলজির শেয়ার প্রায় তিন গুণ বেড়েছে। অন্যদিকে এনভিডিয়া, অ্যাপল ও অ্যালফাবেটের নেতৃত্বাধীন ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’ গ্রুপ চলতি বছরে নিম্নমুখী রয়েছে। অথচ ২০২৫ সালে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকের মোট প্রবৃদ্ধির প্রায় ৪০ শতাংশ এসেছিল এই সাত প্রতিষ্ঠানের শেয়ারদর বৃদ্ধি ও লভ্যাংশ থেকে। বিশ্লেষকদের মতে, এআই অবকাঠামো নির্মাণে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল ব্যয় নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। গত বছরের শেষ দিকে ওরাকলসহ কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান ব্যাপক ঋণ নেওয়া শুরু করার পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে। গত ১২ মাসে অ্যামাজন ও অ্যালফাবেট বিভিন্ন মুদ্রায় প্রায় ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বন্ড ইস্যু করেছে। এআই অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ-যোগ্য বন্ড বিক্রির পরিমাণ ইতোমধ্যেই ২০২৫ সালের মোট বিক্রির পরিমাণ ছাড়িয়ে গেছে। বিএনপি পারিবাসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর এই সংখ্যা ২৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে। ওকলাহোমাভিত্তিক লংবো অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেক ডলারহাইড বলেন, এআই প্রযুক্তি চিপ নির্মাতাদের জন্য ইতিবাচক হলেও যেসব প্রতিষ্ঠান এই প্রযুক্তিতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করছে, তারা এখনো প্রত্যাশিত আর্থিক সুফল পাচ্ছে না। এ কারণেই চলতি বছরে ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেনের শেয়ারদর চাপে রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারদর আরও কমতে পারে। গত সপ্তাহে ইউবিএস তাদের এআইভিত্তিক বিনিয়োগ পোর্টফোলিওতে সেমিকন্ডাক্টর ও হার্ডওয়্যার খাতে বিনিয়োগ কমিয়েছে। তাদের ধারণা, শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে এআই অবকাঠামোয় মূলধনি ব্যয় কমাতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমনটি হলে এর প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। কারণ, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের পরিমাণ অত্যন্ত বড়। গাই লে বাস বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি করপোরেট বিনিয়োগ। সবচেয়ে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী কয়েক বছরে ৭০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি মূলধনি ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। তাই এই বিনিয়োগ অব্যাহত থাকলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক মন্দার সম্ভাবনা তুলনামূলক কম। তবে তার মতে, মূলধনি ব্যয় কমে যাবে বলে এখনই নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজার একাধিকবার ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা দেখিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য ‘বড় ধরনের সমস্যা’ অপেক্ষা করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবশ্যই অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অন্যায্যভাবে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রাম্প বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যদি এটি না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে। প্রতি গ্যালন প্রায় আড়াই ডলারের পর্যায়ে দাম নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।” তিনি আরও লেখেন, “খুচরা বিক্রেতাদের উচিত এই বক্তব্যের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তারা যা সঠিক বলে জানে, সেটিই করা। আমাদের মহান মার্কিন জনগণের জন্য দাম কমিয়ে দেওয়া।” ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে অঙ্গরাজ্যটির পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই করের পরিমাণ পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নেবে না, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণও মেনে নেবে না। তারা এই অযৌক্তিক কর এবং নিজেদের সরকারের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।” ডেমোক্র্যাট নেতা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও জোরদার করছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে প্রশাসন। এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান। গত ২৪ জুন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “বড় তেল কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে যে হারে কম দামে তেল কিনছে, সেই অনুপাতে তারা পাম্পে পেট্রোলের দাম কমাচ্ছে না।” তিনি আরও বলেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্য কথায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আমি বিচার বিভাগকে অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।” ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম “পাথরের মতো দ্রুত” কমে যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জ্বালানির দামে তার প্রতিফলনও দেখা যেতে পারে।
ইরান সংঘাতের প্রভাব এবং সৌদি আরবের ভিসা বিধিনিষেধ কঠোর হওয়ার কারণে উপসাগরীয় দেশগুলোতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো কমেছে। এর ফলে চলতি বছরের প্রথমার্ধে সামগ্রিক বিদেশগামী কর্মসংস্থান কমলেও ইউরোপে বৈধভাবে বাংলাদেশি কর্মী যাওয়ার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত ১৮ হাজার ২২০ জন বাংলাদেশি বৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গেছেন। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১২ হাজার ৪৪৫ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে ইউরোপে বৈধ অভিবাসন বেড়েছে ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ। অন্যদিকে একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মী নিয়োগ ৩৮ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২ লাখ ৫৭ হাজার ৯৬৭ জনে নেমেছে। গত বছরের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ১৭ হাজার ৩৪৩। ফলে বাংলাদেশের মোট বিদেশগামী কর্মসংস্থানও বছরওয়ারি হিসাবে প্রায় ২৮ শতাংশ কমেছে। বিএমইটির তথ্য বলছে, ২০২৫ সালে ইউরোপে বৈধ অভিবাসনে বড় ধরনের পুনরুদ্ধারের ধারা চলতি বছরও অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালে ইউরোপে ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন বাংলাদেশি বৈধভাবে কর্মসংস্থানের সুযোগ পান, যা ২০২৪ সালে ছিল ২২ হাজার ২৭১ জন। এর আগে ২০২৩ সালের ৪৬ হাজার ৪৫৫ জন থেকে ২০২৪ সালে ইউরোপমুখী বৈধ অভিবাসন অর্ধেকেরও বেশি কমে গিয়েছিল। বিএমইটির মতে, ইরান সংঘাত এবং সৌদি আরবের ভিসা নীতির কড়াকড়ি উপসাগরীয় শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেললেও ইউরোপে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা স্থিতিশীল রয়েছে। ইউরোপে এই প্রবৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে ইতালিকে কেন্দ্র করে। মানবপাচার প্রতিরোধ এবং বৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করতে বাংলাদেশ ও ইতালি সরকারের যৌথ উদ্যোগের পর দেশটি বাংলাদেশি কর্মীদের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজারে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ইতালি ৪ হাজার ৬৪৫ জন বাংলাদেশি কর্মী নিয়েছে। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ৩৬৫ জন, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল মাত্র ১ হাজার ১৬২। ইতালি মূলত কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে মৌসুমি কর্মী নিয়োগ দিয়ে থাকে। এ ছাড়া পর্তুগাল, সার্বিয়া, রোমানিয়া, রাশিয়া ও বেলারুশেও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বেড়েছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বাইরে শ্রমবাজার বৈচিত্র্যকরণের সরকারি প্রচেষ্টা এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতালির সাফল্যের পর সরকার সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল ও রাশিয়াসহ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির মাধ্যমে শ্রম অভিবাসন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পর উপসাগরীয় শ্রমবাজারের ওপর নির্ভরতা কমাতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৫ এপ্রিল সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার ইউরোপে বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজে বের করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উপসাগরীয় দেশগুলোতে কর্মী নিয়োগ কমে যাওয়া এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার প্রায় দুই বছর ধরে সীমিত থাকায় ইউরোপে এই প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক। তবে বাংলাদেশের মোট বিদেশগামী কর্মসংস্থানে ইউরোপের অংশ এখনো তুলনামূলকভাবে কম। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ইউরোপে গেছেন ১৮ হাজার ২২০ জন বাংলাদেশি, যা মোট বিদেশগামী কর্মসংস্থানের মাত্র ৫ শতাংশের কিছু বেশি। শ্রম রপ্তানিকারকরা বলছেন, দক্ষ কর্মীর ঘাটতি, নথি জালিয়াতির কারণে ভিসা অনুমোদনের হার কমে যাওয়া এবং নিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাসের কারণে ইউরোপের বাড়তে থাকা শ্রমিক চাহিদার পুরো সুযোগ নিতে পারছে না বাংলাদেশ। পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, বুলগেরিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, কসোভো, আলবেনিয়া ও মন্টেনেগ্রোর মতো দেশগুলোর অনেক নিয়োগকারী বাংলাদেশি কর্মীদের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, অনেক কর্মী গন্তব্য দেশে পৌঁছে পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপে বেশি মজুরির চাকরির উদ্দেশ্যে চলে যান। তবে পর্তুগাল, সাইপ্রাস, মলদোভা, বেলারুশ, সার্বিয়া, নর্থ মেসিডোনিয়া এবং বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার মতো উদীয়মান শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়ছে। ইউরোপে কর্মী পাঠানো প্রতিষ্ঠান ইনফিনিটি এইচসিএম লিমিটেড চলতি বছর মলদোভায় ৩৭ জন কর্মী পাঠিয়েছে। তাদের মধ্যে ১৯ জন কংক্রিট শ্রমিক, ছয়জন পেভিং স্টোন ইনস্টলার এবং চারজন কৃষি শ্রমিক রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মলদোভায় ওয়েল্ডার, মেকানিক, ভারী যন্ত্রপাতি চালক এবং নির্মাণ ও কৃষি খাতে দক্ষ ও অদক্ষ উভয় ধরনের কর্মীর চাহিদা রয়েছে। দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে মাসিক বেতন সাধারণত ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলারের বেশি হয়ে থাকে। ইনফিনিটি এইচসিএম লিমিটেডের চেয়ারম্যান শারমিন আফরোজ সুমি বলেন, হাতে-কলমে দক্ষতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কর্মীদেরই নিয়োগকারীরা অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মীর ঘাটতি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। তিনি আরও বলেন, কিছু কর্মী গন্তব্য দেশে পৌঁছে অবৈধভাবে অন্য ইউরোপীয় দেশে চলে যাওয়ার চেষ্টা করায় নিয়োগকারীদের আস্থা কমেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও কঠোর হয়েছে। ইউরোপে বৈধ অভিবাসনের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনও বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সমুদ্র ও স্থলপথে ২৪ হাজার ৩১৮ জন বাংলাদেশি অনিয়মিতভাবে ইউরোপে পৌঁছেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৯ শতাংশ বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে যুক্তরাজ্যে থাকা বাংলাদেশিরা প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে এসেছে ২ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, যদিও সেখানে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা যুক্তরাজ্যের প্রায় দ্বিগুণ। আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপে প্রায় ৯ লাখ ৪৪ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছিলেন। এর মধ্যে ৬ লাখ ৫২ হাজার ছিলেন যুক্তরাজ্যে। অনানুষ্ঠানিক হিসাবে ইউরোপে বাংলাদেশির সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ১৫ লাখ। উপসাগরীয় দেশগুলোতে এ সংখ্যা ৬০ লাখের বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশের মোট রেমিট্যান্সের ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ এসেছে ইউরোপ থেকে। একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর অবদান ছিল ৪৩ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি বছরের ২৫ জুন পর্যন্ত কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে যাওয়া ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৫০ জন বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় ৭২ শতাংশ গেছেন উপসাগরীয় দেশগুলোতে। ইউরোপে গেছেন মাত্র ৫ শতাংশ। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউরোপে নির্মাণ, উৎপাদন, কৃষি, পরিবহন, আতিথেয়তা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও দক্ষ কর্মী তৈরি এবং নিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে না পারলে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় এই বাজারের পূর্ণ সুবিধা নিতে পারবে না। বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীমা আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, গন্তব্য দেশে পৌঁছে কিছু কর্মীর অবৈধভাবে অন্য দেশে চলে যাওয়ার ঘটনায় অনেক দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করেছে। তিনি বলেন, অনেক কর্মী প্রয়োজনীয় কারিগরি দক্ষতা ও কাজের মানে নিয়োগকারীদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেন না, যা ভবিষ্যৎ নিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তিনি আরও জানান, ইউরোপের কয়েকটি দেশের ভিসা আবেদন বাংলাদেশে নয়, ভারতে অবস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে প্রক্রিয়া করা হয়। ভারতের ভিসা পেতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে নিয়োগ প্রক্রিয়াও বিলম্বিত হয়।
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দেশে ফেরার পথে কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখা হচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলকে। প্রধান কোচ হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে লক্ষ্য করে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদত্যাগ করেছেন হং। ৫৭ বছর বয়সী হং মিয়ুং-বোর অধীনে এবারের বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে উঠতে পারেনি দক্ষিণ কোরিয়া। শুরুতে চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়ে আশা জাগিয়েছিল দলটি। তবে পরে গ্রুপ 'এ'-তে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর কাছে টানা দুই ম্যাচে হেরে যায়। বিশ্বকাপের সম্প্রসারিত আসরে সেরা আটটি তৃতীয় হওয়া দলের একটি হিসেবে শেষ ৩২-এ ওঠার সম্ভাবনা ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার। কিন্তু শনিবার ডিআর কঙ্গো ৩-১ গোলে উজবেকিস্তানকে হারানোর পর সেই সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়। ব্যর্থতার দায় নিয়ে কোচ হং মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং তাকে "অযোগ্য" বলে মন্তব্য করেছেন। দলটি মঙ্গলবার দেশে ফিরলে ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৬০ জন দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও বিমানবন্দর পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে ইনচন মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি। পাশাপাশি ইনচন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন বিশেষ নিরাপত্তাকর্মীসহ আরও ২৫ জন অতিরিক্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেবে, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়। বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হং মিয়ুং-বোকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ছাড়া একটি জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেল তার মুখ অপরাধীদের মতো ঝাপসা করে সম্প্রচার করায় ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে। পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দল দেশে ফেরার সময় সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বস্তু নিক্ষেপসহ যেকোনো বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দলের পারফরম্যান্স নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ুং জাতীয় দলের পুরো কার্যক্রম পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, "একসময় আমি একটি পেশাদার ফুটবল ক্লাবের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ছিলাম এবং হৃদয়ে এখনও রেড ডেভিলসের একজন সমর্থক। তাই এই অপ্রত্যাশিত ফল বিস্ময়ের পাশাপাশি গভীর হতাশাও তৈরি করেছে।" তিনি আরও বলেন, "আবারও প্রমাণ হলো, সঠিক ব্যক্তি নির্বাচনই সবকিছু নির্ধারণ করে। যোগ্যতার বদলে আনুগত্য ও গোষ্ঠীপ্রীতিকে গুরুত্ব দিয়ে অযোগ্য কাউকে নেতৃত্বে বসানো হলে ফল কী হবে, তা আগুনের মতোই স্পষ্ট।" দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রেসিডেন্ট বলেন, "এই অযৌক্তিক পরিস্থিতিতে জনগণকে যে হতাশার মুখে পড়তে হয়েছে, তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, সে জন্য দ্রুত ক্রীড়া প্রশাসনে সংস্কার আনা হবে।" এটি ছিল দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের দায়িত্বে হং মিয়ুং-বোর দ্বিতীয় মেয়াদ। এর আগে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও তার অধীনেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিয়েছিল দলটি। দক্ষিণ কোরিয়া টানা ১১টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে। ২০০২ সালে নিজেদের মাটিতে যৌথ আয়োজক হিসেবে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল দেশটি।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টক শোতে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং ভিসানীতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করবে, তার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিও বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশ যদি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু না কেনে, তাহলে সেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না। ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে এর শর্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কাস্টমস ব্যবস্থা, শ্রম খাত এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে। এসব সংস্কার বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নতমানের গম ও কৃষিপণ্য আমদানি করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন গমে অপচয়ের হার প্রায় ২ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা গমের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হতো। তিনি আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ খাতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী। তবে তাদের জন্য সরকারের দেওয়া শর্তগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া প্রয়োজন। ভিসানীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেক আবেদনকারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করেন অথবা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। জাল কাগজপত্র ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের উন্নতমানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। তিনি জানান, যক্ষ্মা ও হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে খুব শিগগিরই পাঁচ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার লাল, সাদা ও নীল রঙে সাজানো হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে। আলোচনার শেষদিকে বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মার্কিন দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান তিনি।
ধূমপানের বিকল্প ভেবে অনেকেই ভেপ বা ই-সিগারেট ব্যবহার করছেন। কেউ নেন কৌতূহল থেকে, কেউ স্বাদের জন্য, আবার কেউ মনে করেন এটি তুলনামূলক নিরাপদ। তবে সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো বলছে, এই ধারণা বিভ্রান্তিকর। নিকোটিন, বিষাক্ত রাসায়নিক, ভারী ধাতু এবং ফুসফুস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকিসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি লুকিয়ে আছে ভেপের বাষ্পে। একসময় ভেপের ব্যবহার সীমিত ছিল। ধূমপানের বিকল্প কিংবা আধুনিক অভ্যাস হিসেবে এটি ব্যবহার করতেন অনেকে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ-বিদেশে এর জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে এর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে গবেষণা। চলতি ভাষায় ভেপ বলা হলেও এর আনুষ্ঠানিক নাম ইলেকট্রনিক সিগারেট বা ই-সিগারেট। অনেকের ধারণা, এটি ধূমপানের তুলনায় নিরাপদ। তবে গবেষণার তথ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নিউ সায়েন্টিস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে বর্তমানে প্রায় ৪৫ লাখ মানুষ নিয়মিত বা অনিয়মিত ভেপ ব্যবহার করেন, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্রে কলেজশিক্ষার্থীদের মধ্যে ২০১৯ সালে ভেপ ব্যবহারকারীর হার ছিল ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে ২০২২ সালে ১১ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের মধ্যে ভেপ ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে ১৮ বছরের কম এবং যুক্তরাজ্যে ২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে ভেপ বিক্রি নিষিদ্ধ। বাংলাদেশে এ বিষয়ে বিস্তৃত তথ্য সীমিত। তবে ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত "Electronic Cigarettes (Vaping) Preferences Among University Students in Bangladesh" শীর্ষক গবেষণায় দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ৩১ দশমিক ২৭ শতাংশ জীবনে অন্তত একবার ই-সিগারেট ব্যবহার করেছেন অথবা নিয়মিত ভেপিংয়ে অভ্যস্ত। সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের ৬০ শতাংশ ই-সিগারেটের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। একই সঙ্গে ৩৫ দশমিক ৪৮ শতাংশ জানিয়েছেন, ই-সিগারেট তাদের তামাকজাত পণ্যের প্রতি আসক্ত করে তুলেছে। কীভাবে কাজ করে ভেপ ডিজাইনে পার্থক্য থাকলেও প্রায় সব ভেপের কাঠামো একই ধরনের। এতে একটি ট্যাংকে থাকে ই-লিকুইড বা ভেপের জুস। হিটিং এলিমেন্টের মাধ্যমে এই তরল উত্তপ্ত হয়ে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হয়। ব্যবহারকারী মাউথপিস দিয়ে সেই বাষ্পসদৃশ মিশ্রণ ফুসফুসে টেনে নেন। ভেপের জুসে সাধারণত থাকে নিকোটিন, বিভিন্ন ফ্লেভার এবং প্রোপিলিন গ্লিসারল বা গ্লিসারিনের মতো দ্রাবক। কোন উপাদান কতটা ক্ষতিকর চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, ভেপের প্রায় প্রতিটি উপাদানই স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে যুক্ত। নিকোটিন একটি আসক্তিকর রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে উত্তেজিত করে। এর ফলে হৃদ্স্পন্দন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে হৃদ্যন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশিত গবেষণায় এ ধরনের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রোপিলিন গ্লিসারল ও গ্লিসারিন সরাসরি বিষাক্ত না হলেও দীর্ঘদিন শ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণ করলে কাশি, ফুসফুসের সক্ষমতা হ্রাস এবং বুকে ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। ভেপের বিভিন্ন স্বাদের জন্য ব্যবহৃত ডাইএসিটিল, এসিটিলপ্রোপিলিন, মেন্থল, কফি ও স্ট্রবেরি ফ্লেভারের কিছু রাসায়নিক কোষে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। মিষ্টি স্বাদের জন্য ব্যবহৃত সুক্রোজ ও গ্লুকোজ উত্তপ্ত হয়ে রিয়েকটিভ এলডিহাইডে পরিণত হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া ভেপ ব্যবহারের সময় নিকেল-ক্রোমিয়াম সংকরের মতো ভারী ধাতুও উৎপন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব ধাতুর দীর্ঘমেয়াদি সংস্পর্শ ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর এবং ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভেপ যত বেশি ব্যবহার করা হয়, ভারী ধাতুর নির্গমনও তত বাড়তে থাকে। প্রথম ৫০ টানের তুলনায় ১০১ থেকে ১৫০তম টানে প্রায় ৬০ গুণ বেশি ভারী ধাতু উৎপন্ন হওয়ার তথ্যও গবেষণায় উঠে এসেছে। এ ছাড়া কার্বন মনোক্সাইডসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর জৈব যৌগও ভেপের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে। ক্যানসারের ঝুঁকি নিয়ে কী বলছে গবেষণা ভেপের সঙ্গে ক্যানসারের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা এখনও চলমান। ৫৪ সপ্তাহ ধরে ইঁদুরের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপের বাষ্প গ্রহণকারী প্রাণীদের মধ্যে ফুসফুস ও মূত্রথলির ক্যানসারের প্রবণতা বেশি ছিল। তবে গবেষকেরা বলছেন, প্রাণীর ক্ষেত্রে পাওয়া ফলাফল সরাসরি মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভেপ কি ধূমপান ছাড়তে সহায়তা করে? গবেষণায় দেখা গেছে, ভেপ ব্যবহারকারীদের প্রায় ২৩ শতাংশ পরবর্তীতে ধূমপানও শুরু করেছেন। আবার কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ধূমপান ছেড়ে ভেপে আসা কিছু মানুষ ছয় মাসের মধ্যে ধীরে ধীরে নিকোটিন ও তামাকজাত পণ্য থেকে দূরে সরে যেতে পেরেছেন। তবে চিকিৎসকদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সহায়ক হিসেবে ভেপ ব্যবহার করতে হলেও অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন। নিজ উদ্যোগে ভেপকে নিরাপদ বিকল্প মনে করা ঝুঁকিপূর্ণ। সচেতনতার বিকল্প নেই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপান, তামাক ও ভেপসহ নিকোটিননির্ভর সব পণ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। ক্ষতিকর জেনেও অনেকেই অভ্যাস থেকে সরে আসতে পারেন না। অথচ দীর্ঘদিন ভেপ ব্যবহারের ফলে যে ক্ষতি হয়, তার অনেকটাই স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। তাই সাময়িক স্বাদ বা বিনোদনের জন্য ভেপ ব্যবহার ভবিষ্যতে গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ হয়ে উঠতে পারে। সচেতন সিদ্ধান্তই এ ধরনের ঝুঁকি কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। সূত্র: নিউ সায়েন্টিস্ট
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রায় ৫০ জন সদস্য ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ভূমিকা এবং পুরস্কার প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের অভিযোগ, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বচ্ছভাবে পরিচালিত হয়েছে এবং এতে ফিফার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান করেন। ২০২৬ সালের উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ চলাকালে সোমবার (২৯ জুন) ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কয়েকজন সদস্য ফিফার নেতৃত্ব এবং সংস্থাটির তথাকথিত স্বাধীন নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠান। এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেন আয়ারল্যান্ডের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ব্যারি অ্যান্ড্রুজ, নেদারল্যান্ডসের লারা ওলটার্স এবং ডেনমার্কের নিলস ফুগলসাং। ফরাসি দৈনিক ল্য মোঁদ-এর দেখা ওই চিঠিতে আইনপ্রণেতারা ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটিকে ইনফান্তিনোর ভূমিকা এবং পুরস্কার প্রদানের "অত্যন্ত অস্পষ্ট পরিস্থিতি" সর্বোচ্চ দ্রুততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে তদন্ত করার আহ্বান জানান। ল্য মোঁদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ফিফার ১০ জনেরও কম কর্মী যুক্ত ছিলেন, যদিও এর অর্থায়ন করেছিল সংস্থাটি নিজেই।প্রতিবেদন অনুযায়ী, লেবানিজ-ইতালীয়-সুইস বংশোদ্ভূত ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো নির্দেশ দিয়েছিলেন, পুরো উদ্যোগটি যেন সংস্থার অভ্যন্তরে গোপন রাখা হয়। এরপর থেকে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ল্য মোঁদের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র অনুষ্ঠানে আয়োজিত পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে বা পরে ইনফান্তিনো ফিফা কাউন্সিলের কোনো সদস্যকে বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত করেননি। চিঠিতে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা জানান, তারা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাজ্যভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ফেয়ারস্কয়ার ফিফার নীতিশাস্ত্র কমিটির কাছে যে অভিযোগ দায়ের করেছিল, তার প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন। পরে ২০২৬ সালের ২ জুন নরওয়ের ফুটবল ফেডারেশনও ওই অভিযোগের প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানায়। আইনপ্রণেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফেয়ারস্কয়ার অভিযোগ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের পক্ষে ইনফান্তিনোর প্রকাশ্য অবস্থানের মাধ্যমে তিনি ফিফার নীতিশাস্ত্র বিধির ১৫ নম্বর ধারায় উল্লেখিত রাজনৈতিক নিরপেক্ষতার দায়িত্ব চারবার লঙ্ঘন করেছেন।এ ছাড়া, একাধিক প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় ফিফা কাউন্সিলকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পুরস্কার প্রদানের চূড়ান্ত প্রক্রিয়াও এখনো স্পষ্ট নয়। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যরা তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ইতোমধ্যেই টিকিটের উচ্চ মূল্য এবং ভিসা-সংক্রান্ত নানা সমস্যার কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তাদের মতে, এসবের মধ্যেও সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ প্রদান। চিঠিতে বলা হয়, বিশ্বকাপ চলাকালে যখন বিশ্বের দৃষ্টি ফিফার দিকে, তখন সংস্থাটির উচিত ফেয়ারস্কয়ারের নীতিশাস্ত্রবিষয়ক অভিযোগ নিষ্পত্তি করে ন্যায্যতা, সমতা ও মানব মর্যাদার প্রতি নিজেদের অঙ্গীকার প্রমাণ করা। আইনপ্রণেতাদের মতে, এই তদন্ত ফিফার জন্য রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতার প্রতি নিজেদের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। ব্যারি অ্যান্ড্রুজ ল্য মোঁদকে বলেন, বিশ্বকাপ বিশ্বের অন্যতম বড় আন্তর্জাতিক আয়োজন এবং এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষকে একত্রিত করা। তিনি বলেন, "ফিফার সভাপতি যখন একজন রাষ্ট্রপ্রধানকে অন্যজনের তুলনায় বেশি গুরুত্ব দেন, তখন তা ফিফা এবং পুরো বিশ্বকাপের সুনাম ক্ষুণ্ন করে।" অ্যান্ড্রুজ জানান, তাদের একমাত্র দাবি হলো প্রথম ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ ট্রাম্পকে দেওয়ার পুরো প্রক্রিয়া যেন নীতিশাস্ত্র কমিটি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করে। ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব নিয়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের উদ্বেগ এই প্রথম নয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বহু ইউরোপীয় আইনপ্রণেতা ২০৩৪ সালের পুরুষদের বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে সৌদি আরবকে নির্বাচনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে ফিফা সভাপতির কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। সেই চিঠির কোনো জবাব ফিফা দেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বরং অভিযোগ অনুযায়ী, পরে ফিফা সৌদি আরবের জাতীয় তেল ও গ্যাস কোম্পানির সঙ্গে একটি বড় পৃষ্ঠপোষকতা চুক্তি স্বাক্ষর করে, যার মাধ্যমে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়। ল্য মোঁদের পর্যালোচনা করা একটি চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মার্চে ফিফা লন্ডনভিত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান টেন টোজ মিডিয়ার সঙ্গে একটি চুক্তি করে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত সেবা প্রদানের জন্য প্রতিষ্ঠানটিকে প্রায় ৩০ লাখ ইউরো পরিশোধ করবে ফিফা। এর আওতায় ফিফা এবং সংস্থার শীর্ষ নেতৃত্বের যোগাযোগ কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পরিচালনার দায়িত্বও রয়েছে। এ বিষয়ে ল্য মোঁদকে পাঠানো এক ই-মেইলে ফিফা জানায়, কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব পরিচালনা করে এমন দাবি "মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর"। সংস্থাটি আরও জানায়, ব্যক্তিগত চুক্তির তথ্য প্রকাশ করা হলে প্রয়োজনে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার ফিফা সংরক্ষণ করে। ফিফার ভাষ্য, বিশ্বের অন্যান্য বড় আন্তর্জাতিক সংস্থার মতো ব্যস্ত সময়ে, বিশেষ করে বিশ্বকাপ চলাকালে, জনবল ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কার্যক্রমে নমনীয়তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়া হয়। তবে ‘ফিফা শান্তি পুরস্কার’ কিংবা ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্যদের পাঠানো চিঠি সম্পর্কে ল্য মোঁদের প্রশ্নের কোনো জবাব দেয়নি ফিফা।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তিকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ভারতের পানি ব্যবহারের পরিকল্পনার জবাবে পাকিস্তানের এক মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের প্রাপ্য পানির ওপর কেউ হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে। ভারতের কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী সি আর পাতিল সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে ভারতের অংশের সব পানি দেশটির ভেতরেই পুরোপুরি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে। ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের জন্য নির্ধারিত পানিপ্রবাহ বন্ধ করতে চায়। তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষের জীবিকা কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তাই অন্য কোনো দেশ তাদের খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি ও অর্থনীতিকে নিয়ন্ত্রণ করবে—এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। মুসাদিক মালিক বলেন, “আমাদের পানির অধিকার খর্ব করার চেষ্টা হলে তার মূল্য দিতে হবে। কেউ আমাদের পানির ওপর হাত বাড়ালে সেই হাত কেটে দেওয়া হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক প্রথা অনুযায়ী উজানের কোনো দেশ ভাটির দেশের পানিপ্রবাহ একতরফাভাবে বন্ধ করতে পারে না। ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের কথাও জানান পাকিস্তানের এই মন্ত্রী। একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি আইনগতভাবে এখনো বহাল রয়েছে এবং কোনো দেশ একতরফাভাবে এটি বাতিল বা সংশোধন করতে পারে না। তিনি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের বক্তব্য পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সিন্ধু নদ পাকিস্তানের জন্য জীবনরেখা এবং এ বিষয়ে তাদের অবস্থান ‘রেড লাইন’। অন্যদিকে ভারতের অবস্থানও কঠোর। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে হামলায় ২৫ জন পর্যটকসহ ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি সিন্ধু নদ পানিবণ্টন চুক্তি স্থগিত রাখার ঘোষণা দেয়। ভারতের দাবি, পাকিস্তান তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসী অবকাঠামোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃশ্যমান প্রমাণ না দেওয়া পর্যন্ত এই চুক্তি পুনরায় কার্যকর করা হবে না। সূত্র: এনডিটিভি
চীনের মহাকাশ প্রযুক্তি দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে এবং জিপিএস-ধরনের নেভিগেশন ব্যবস্থা, আকাশ থেকে নজরদারি (রিকনেসান্স) ও স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন ফাউন্ডেশন (আইটিআইএফ)। এ তথ্য প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত আইটিআইএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শক্তিশালী সরকারি সহায়তা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফলে চীন দ্রুত একটি শক্তিশালী বাণিজ্যিক মহাকাশ খাত গড়ে তুলেছে। এর ফলে মহাকাশ প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উদ্ভাবনের ব্যবধানও দ্রুত কমছে। প্রতিবেদনটি সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আগামী দশকে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক মহাকাশ অর্থনীতিতে নেতৃত্ব চীনের হাতে চলে যেতে পারে। প্রতিবেদনে মহাকাশ প্রযুক্তির ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ খাতের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে এখনো যুক্তরাষ্ট্রের সুস্পষ্ট আধিপত্য রয়েছে। স্পেসএক্সের স্টারলিংক এবং অ্যামাজনের প্রজেক্ট কুইপার চীনের কিয়ানফান ও গুয়াওয়াং প্রকল্পের তুলনায় এগিয়ে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে সীমাবদ্ধতা চীনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। নেভিগেশন, অবস্থান নির্ধারণ ও সময় সমন্বয় (পিএনটি): চীনের বেইদু নেভিগেশন সিস্টেম আন্তর্জাতিকভাবে দ্রুত বিস্তৃত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক স্যাটেলাইট ও বৈশ্বিক ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে এ ক্ষেত্রে চীনকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। রিমোট সেন্সিং ও স্যাটেলাইট চিত্রায়ন: গাওফেন ও জিলিন-১সহ সরকারি ও বেসরকারি স্যাটেলাইটের সমন্বয়ে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে চীন। ফলে এই খাতেও দেশটিকে এগিয়ে বলা হয়েছে। মহাকাশ স্টেশন: এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে প্রায় সমানে সমান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের (আইএসএস) দীর্ঘ অভিজ্ঞতার বিপরীতে চীন দ্রুত তিয়ানগং মহাকাশ স্টেশনের সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। স্যাটেলাইট বিধ্বংসী প্রযুক্তি (কাউন্টারস্পেস): প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাইনেটিক ইন্টারসেপ্টর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং ডাইরেক্টেড এনার্জি অস্ত্রে চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এমনকি কক্ষপথে স্যাটেলাইট-টু-স্যাটেলাইট কৌশলগত সক্ষমতা উন্নয়নেও দেশটি অনেক দূর এগিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট: এই খাতে এখনো যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে এগিয়ে। স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯-এর পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তির সমপর্যায়ের সক্ষমতা চীন এখনো পুরোপুরি অর্জন করতে পারেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাফল্যের পেছনে রয়েছে নাসা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব। অন্যদিকে চীন সামরিক ও বেসামরিক খাতের সমন্বিত নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, শিল্প ও গবেষণাকে একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে। ২০১৪ সালে মহাকাশ খাতের কিছু অংশ বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার পর দেশটিতে ৫০০টির বেশি মহাকাশ কোম্পানি গড়ে উঠেছে। ল্যান্ডস্পেস, গ্যালাকটিক এনার্জি ও আইস্পেসের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। প্রতিবেদনের লেখক এলিস শেরার বলেন, উৎপাদন সক্ষমতায় চীন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেট প্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকাতে এখনো সময় লাগবে। তবে আইটিআইএফ সতর্ক করে বলেছে, মহাকাশ প্রযুক্তিতে চীন যদি যুক্তরাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক বিমান হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ভারত। নয়া দিল্লি এ সামরিক পদক্ষেপকে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, রোববার ও সোমবারের মধ্যবর্তী রাতে আফগানিস্তানের ভেতরে পাকিস্তানের চালানো বিমান হামলা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। ভারতের দাবি, নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তান প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। বিবৃতিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত আফগান বেসামরিক নাগরিকদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি ভারতের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়। অন্যদিকে আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকার জানিয়েছে, পাকিস্তানের বিমান হামলায় দেশটির পূর্বাঞ্চলের তিনটি সীমান্তবর্তী প্রদেশে অন্তত ৩৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হয়েছেন। পাক্তিয়া প্রদেশের বাসিন্দা ৬৩ বছর বয়সী আদম খান বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, হাসপাতালে আহত শিশুদের অবস্থা এবং স্বজনদের আহাজারি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। পাক্তিকা প্রদেশের স্থানীয় সমাজকর্মী আমিন মঙ্গালের দাবি, একটি পরিবারের বাড়িতে বোমা হামলায় একই পরিবারের ছয় সদস্য ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত অভিযোগ করেন, প্রথম দফার হামলার পর উদ্ধারকাজে মানুষ জড়ো হলে একই স্থানে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো হয়। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার দাবি করেন, অভিযানে পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি)-এর সহযোগী সংগঠন জামাত-উল-আহরারের অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে ২৯ জন সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চে কাবুলের একটি মাদক নিরাময় কেন্দ্রে পাকিস্তানের হামলার পর এটিই দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী সীমান্ত সংঘাত। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ইসলামাবাদ ও কাবুলের সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। বিশেষ করে গত ফেব্রুয়ারি থেকে সীমান্ত পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। আফগান কর্তৃপক্ষ বরাবরই তাদের ভূখণ্ডে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।