যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা ও বর্তমান স্টেট সিনেটর নাবিলা ইসলাম পার্কস। লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পেতে তিনি এখন অংশ নিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ রানঅফ নির্বাচনে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন গড়ায় রানঅফে। জর্জিয়ার নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রাইমারিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন বা রানঅফ অনুষ্ঠিত হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী এখন মুখোমুখি হচ্ছেন নাবিলা ইসলাম পার্কস এবং আরেক ডেমোক্র্যাট নেতা ও স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রানঅফ নির্বাচন শুধু ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং জর্জিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ভোটাধিকার এবং অভিবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব—এসব ইস্যু ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। নাবিলা ইসলাম পার্কস বর্তমানে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৭ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবার ও নোয়াখালী মায়ের সন্তান হিসেবে তার এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জর্জিয়ায় বেড়ে ওঠা নাবিলা ইসলাম পার্কস প্রায়ই তার পারিবারিক সংগ্রাম এবং অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক প্রচারণায় তিনি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সরকারি স্কুলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নারীর অধিকার এবং ভোটাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি সাভানায় অনুষ্ঠিত একটি রানঅফ ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জর্জিয়ার বহু নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবার এখনও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তার মতে, মেডিকেইড সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করা জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অর্থসংকটে থাকা সরকারি স্কুলগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। ফোরামটি আয়োজন করে ঐতিহাসিক NAACP-এর সাভানা শাখা। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সাভানার ঐতিহাসিক ফার্স্ট আফ্রিকান ব্যাপটিস্ট চার্চ এ, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে সরব নাবিলা ইসলাম পার্কস। সম্প্রতি এক পোস্টে তিনি জানান, তার শিশু সন্তান আহসানকে নিয়ে জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা তার জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জর্জিয়ার দ্রুত পরিবর্তিত জনসংখ্যা এবং অভিবাসী কমিউনিটির বাড়তে থাকা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন বর্তমান স্টেট সিনেটরের রানঅফ নির্বাচনে অংশগ্রহণ শুধু জর্জিয়াতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। তবে খেলা শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’। বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলটি শুধু খেলার উপকরণ নয়, বরং প্রযুক্তির এক অনন্য বিস্ময়। তিন আয়োজক দেশের নামের সমন্বয়ে বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। ডিজাইন তৈরিতেও রাখা হয়েছে তিন দেশের পতাকার রং—নীল, লাল ও সবুজ। তবে বলটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভেতরের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নিখুঁত রেফারিং ও অফসাইডের সিদ্ধান্ত দ্রুত দিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ডিপ-সিম’ প্রযুক্তি এবং একটি ১৪ গ্রাম ওজনের ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর চিপ। এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য (ডেটা) সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বলটি কখন, কোথায়, কত গতিতে যাচ্ছে বা কোনো খেলোয়াড়ের শরীরের সামান্যতম স্পর্শ লেগেছে কি না—তা মুহূর্তের মধ্যেই জানা যাবে। এই সেন্সরটি বলের ভেতরে এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, বাউন্স বা গতিতে কোনো প্রভাব না পড়ে। এই স্মার্ট বলটির আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো এর পাওয়ার সিস্টেম। ভেতরের সেন্সরটি সচল রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে বলটি চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে বলটি টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারবে। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মনে হলেও এই বলের সেন্সর ও স্টেডিয়ামের ক্যামেরা একসঙ্গে কাজ করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত করবে।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে বহু বছর ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ দেশটিতে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ। মার্কিন সেনসাস ব্যুরো, পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী এসেছে মেক্সিকো থেকে। কয়েক দশক ধরেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে। অর্থনৈতিক সুযোগ, কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে লাখো মেক্সিকান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন। গবেষকদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটিরও বেশি মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী বসবাস করছেন। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে তাদের বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, সেবা ও ব্যবসাখাতে মেক্সিকান অভিবাসীদের বড় অবদান রয়েছে। মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। গত দুই দশকে ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও গবেষণাখাতে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় অংশ এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। বর্তমানে ভারতীয়-আমেরিকানরা দেশটির অন্যতম উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চ আয়ের অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও গবেষণাখাতে চীনা নাগরিকদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে শক্তিশালী চীনা কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। এছাড়া ফিলিপাইন, এল সালভাদর, ভিয়েতনাম, কিউবা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, গুয়াতেমালা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠী তৈরি করেছেন। অভিবাসন গবেষকদের মতে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ধরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতেন, এখন সেখানে এশিয়ার দেশগুলোর দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভারত, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। এই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও অভিবাসনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ থেকে তিন লাখের মধ্যে। সংখ্যার হিসেবে বাংলাদেশ সাধারণত বিশ্বের শীর্ষ ২৫ থেকে ৩০টি অভিবাসী উৎস দেশের মধ্যে অবস্থান করে। যদিও মেক্সিকো, ভারত বা চীনের তুলনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির আকার এখনো তুলনামূলক ছোট, তবে গত এক দশকে তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের বসবাস দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানরা স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষিত তরুণ পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তাদের কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, শিক্ষাভিসা, কর্মভিসা এবং বৈচিত্র্য ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কঠোর নীতির আলোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের জন্য দেশটিতে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজারো বিদেশি পেশাজীবীর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। তবে নতুন ব্যাখ্যায় মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন একটি নীতিগত নির্দেশনা জারি করে, যেখানে দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন সাধারণভাবে নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও আর্থিক খাতে কর্মরত বহু বিদেশি কর্মীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করে আসছিলেন। তবে রোববার ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রশাসন মূলত কংগ্রেসের “মূল উদ্দেশ্য” পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন অথবা জাতীয় স্বার্থে ভূমিকা পালন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যাক কাহলার বলেন, “যেসব আবেদন অর্থনৈতিকভাবে উপকারী অথবা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব আবেদনকারী সম্ভবত বর্তমান পথেই এগোতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু আবেদনকারীকে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে।” এই বক্তব্যের পর অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিখাতের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে নতুন নীতির কারণে যদি কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারত বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবস্থান মূলত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রচেষ্টার অংশ। প্রশাসনের দাবি, কংগ্রেস কখনোই অস্থায়ী ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের “স্বয়ংক্রিয় পথ” হিসেবে বিবেচনা করেনি। তাই ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা দেখা যেতে পারে। তবে এখনো অনেক বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন আবেদনকারী “জাতীয় স্বার্থ” বা “অর্থনৈতিক অবদান” ক্যাটাগরিতে পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাস্তব প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। আইনজীবীদের আশঙ্কা, যদি আবেদনকারীদের বিদেশে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেকেই দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আটকে পড়তে পারেন। কারণ ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ জট রয়েছে। আবার কিছু দেশে মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া নতুন নীতির কারণে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, চাকরিতে অনিশ্চয়তা এবং করপোরেট কার্যক্রমে বিঘ্নের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে পড়াশোনা করছে এবং পরিবার নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হলে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও সর্বশেষ ব্যাখ্যা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্ভর করবে ইউএসসিআইএস ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্দেশিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত হাজারো বিদেশি পেশাজীবীর মধ্যে সম্প্রতি উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিকে ঘিরে। বিশেষ করে এইচ-১বি ভিসাধারীদের অনেকেই আশঙ্কা করছিলেন, গ্রিন কার্ডের আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তাদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। তবে নতুন ব্যাখ্যায় মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট অনেক আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই তাদের গ্রিন কার্ডের আবেদন চালিয়ে যেতে পারবেন। মার্কিন সাময়িকী নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার ট্রাম্প প্রশাসন একটি নীতিগত নির্দেশনা জারি করে, যেখানে দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, অস্থায়ী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার আবেদন সাধারণভাবে নিজ দেশের মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। এই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা ও আর্থিক খাতে কর্মরত বহু বিদেশি কর্মীর মধ্যে অনিশ্চয়তা ছড়িয়ে পড়ে। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই এইচ-১বি ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেই “অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করে আসছিলেন। তবে রোববার ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার এক ই-মেইল বার্তায় জানান, প্রশাসন মূলত কংগ্রেসের “মূল উদ্দেশ্য” পুনর্ব্যক্ত করছে। তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন অথবা জাতীয় স্বার্থে ভূমিকা পালন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জ্যাক কাহলার বলেন, “যেসব আবেদন অর্থনৈতিকভাবে উপকারী অথবা জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেসব আবেদনকারী সম্ভবত বর্তমান পথেই এগোতে পারবেন। তবে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু আবেদনকারীকে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে বলা হতে পারে।” এই বক্তব্যের পর অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিখাতের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি শিল্পে ভারত, বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক দক্ষ কর্মী এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে কাজ করছেন। গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন, মেটা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন বিদেশি কর্মীদের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল। ফলে নতুন নীতির কারণে যদি কর্মীদের বাধ্যতামূলকভাবে নিজ দেশে ফিরে যেতে হতো, তাহলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারত বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অবস্থান মূলত অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার প্রচেষ্টার অংশ। প্রশাসনের দাবি, কংগ্রেস কখনোই অস্থায়ী ভিসাকে স্থায়ী বসবাসের “স্বয়ংক্রিয় পথ” হিসেবে বিবেচনা করেনি। তাই ভবিষ্যতে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকে আরও নিয়ন্ত্রিত করার চেষ্টা দেখা যেতে পারে। তবে এখনো অনেক বিষয় অস্পষ্ট রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন আবেদনকারী “জাতীয় স্বার্থ” বা “অর্থনৈতিক অবদান” ক্যাটাগরিতে পড়বেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বাস্তব প্রয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা। আইনজীবীদের আশঙ্কা, যদি আবেদনকারীদের বিদেশে গিয়ে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অনেকেই দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে আটকে পড়তে পারেন। কারণ ভারতসহ কয়েকটি দেশের জন্য গ্রিন কার্ডের দীর্ঘ জট রয়েছে। আবার কিছু দেশে মার্কিন দূতাবাসে অভিবাসন ভিসা কার্যক্রম ধীরগতিতে চলায় অপেক্ষার সময় আরও বাড়তে পারে। এ ছাড়া নতুন নীতির কারণে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, চাকরিতে অনিশ্চয়তা এবং করপোরেট কার্যক্রমে বিঘ্নের ঝুঁকিও রয়েছে। অনেক এইচ-১বি ভিসাধারীর সন্তান যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে পড়াশোনা করছে এবং পরিবার নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বসবাস করছেন। হঠাৎ করে বিদেশে গিয়ে আবেদন সম্পন্ন করতে হলে তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতি অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেও সর্বশেষ ব্যাখ্যা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্ভর করবে ইউএসসিআইএস ভবিষ্যতে কী ধরনের নির্দেশিকা ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি গ্রহণ করে তার ওপর।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে বহু বছর ধরেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। উন্নত জীবনযাত্রা, উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধার কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কোটি কোটি মানুষ দেশটিতে স্থায়ী কিংবা অস্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪ কোটিরও বেশি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ। মার্কিন সেনসাস ব্যুরো, পিউ রিসার্চ সেন্টার এবং অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি অভিবাসী এসেছে মেক্সিকো থেকে। কয়েক দশক ধরেই দেশটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের প্রধান উৎস হিসেবে রয়েছে। অর্থনৈতিক সুযোগ, কর্মসংস্থান, পারিবারিক পুনর্মিলন এবং ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে লাখো মেক্সিকান নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হয়েছেন। গবেষকদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এক কোটিরও বেশি মেক্সিকান বংশোদ্ভূত অভিবাসী বসবাস করছেন। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, টেক্সাস, অ্যারিজোনা ও ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে তাদের বড় কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। কৃষি, নির্মাণ, পরিবহন, সেবা ও ব্যবসাখাতে মেক্সিকান অভিবাসীদের বড় অবদান রয়েছে। মেক্সিকোর পর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। গত দুই দশকে ভারতীয় অভিবাসীদের সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও গবেষণাখাতে দক্ষ ভারতীয় পেশাজীবীদের বড় অংশ এইচ-১বি ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করছেন। বর্তমানে ভারতীয়-আমেরিকানরা দেশটির অন্যতম উচ্চশিক্ষিত ও উচ্চ আয়ের অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে পরিচিত। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চীন। উচ্চশিক্ষা, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও গবেষণাখাতে চীনা নাগরিকদের উপস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই উল্লেখযোগ্য। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও টেক্সাসে শক্তিশালী চীনা কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। এছাড়া ফিলিপাইন, এল সালভাদর, ভিয়েতনাম, কিউবা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, গুয়াতেমালা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিকরাও যুক্তরাষ্ট্রে বড় অভিবাসী জনগোষ্ঠী তৈরি করেছেন। অভিবাসন গবেষকদের মতে, গত দুই দশকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ধরণেও বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে যেখানে মূলত লাতিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতেন, এখন সেখানে এশিয়ার দেশগুলোর দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি এবং উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর চাহিদা বৃদ্ধির কারণে ভারত, চীন ও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর নাগরিকরা বেশি সুযোগ পাচ্ছেন। এই পরিবর্তনের ধারায় বাংলাদেশিদের উপস্থিতিও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। বিভিন্ন গবেষণা ও অভিবাসনভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এবং বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া মানুষের সংখ্যা প্রায় আড়াই লাখ থেকে তিন লাখের মধ্যে। সংখ্যার হিসেবে বাংলাদেশ সাধারণত বিশ্বের শীর্ষ ২৫ থেকে ৩০টি অভিবাসী উৎস দেশের মধ্যে অবস্থান করে। যদিও মেক্সিকো, ভারত বা চীনের তুলনায় বাংলাদেশি কমিউনিটির আকার এখনো তুলনামূলক ছোট, তবে গত এক দশকে তাদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, মিশিগান, টেক্সাস, ফ্লোরিডা ও জর্জিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশিদের বসবাস দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসে বড় বাংলাদেশি কমিউনিটি গড়ে উঠেছে। ছোট ব্যবসা, রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং শিক্ষা খাতে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশি-আমেরিকানরা স্থানীয় রাজনীতি, প্রশাসন, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চশিক্ষিত তরুণ পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তাদের কারণে বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবস্থানও ধীরে ধীরে শক্তিশালী হচ্ছে। পরিবারভিত্তিক অভিবাসন, শিক্ষাভিসা, কর্মভিসা এবং বৈচিত্র্য ভিসা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিবছর নতুন বাংলাদেশিরা যুক্তরাষ্ট্রে আসছেন। অভিবাসন নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং কঠোর নীতির আলোচনা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের অন্যতম আকর্ষণীয় অভিবাসী গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের জন্য দেশটিতে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যতেও বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১১ জুন থেকে পর্দা উঠছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব ফিফা বিশ্বকাপের। ইতিহাসে এবারই প্রথম ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর ১৬টি শহরে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে এই টুর্নামেন্ট। তবে খেলা শুরুর আগেই ফুটবলপ্রেমীদের নজর কেড়েছে বিশ্বকাপের অফিসিয়াল বল ‘ট্রাইওন্ডা’। বিখ্যাত ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের তৈরি এই বলটি শুধু খেলার উপকরণ নয়, বরং প্রযুক্তির এক অনন্য বিস্ময়। তিন আয়োজক দেশের নামের সমন্বয়ে বলটির নামকরণ করা হয়েছে ‘ট্রাইওন্ডা’। ডিজাইন তৈরিতেও রাখা হয়েছে তিন দেশের পতাকার রং—নীল, লাল ও সবুজ। তবে বলটির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ভেতরের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। নিখুঁত রেফারিং ও অফসাইডের সিদ্ধান্ত দ্রুত দিতে এতে ব্যবহার করা হয়েছে ‘ডিপ-সিম’ প্রযুক্তি এবং একটি ১৪ গ্রাম ওজনের ৫০০ হার্ৎজ মোশন সেন্সর চিপ। এই চিপটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ বার তথ্য (ডেটা) সংগ্রহ করতে পারে। ফলে বলটি কখন, কোথায়, কত গতিতে যাচ্ছে বা কোনো খেলোয়াড়ের শরীরের সামান্যতম স্পর্শ লেগেছে কি না—তা মুহূর্তের মধ্যেই জানা যাবে। এই সেন্সরটি বলের ভেতরে এমনভাবে বসানো হয়েছে যাতে বলের স্বাভাবিক ওজন, বাউন্স বা গতিতে কোনো প্রভাব না পড়ে। এই স্মার্ট বলটির আরেকটি চমকপ্রদ দিক হলো এর পাওয়ার সিস্টেম। ভেতরের সেন্সরটি সচল রাখতে ম্যাচ শুরুর আগে বলটি চার্জ করতে হবে। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে বলটি টানা ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপ দিতে পারবে। বাইরে থেকে দেখে সাধারণ মনে হলেও এই বলের সেন্সর ও স্টেডিয়ামের ক্যামেরা একসঙ্গে কাজ করে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও নিখুঁত করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের রাজনীতিতে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট নেতা ও বর্তমান স্টেট সিনেটর নাবিলা ইসলাম পার্কস। লেফটেন্যান্ট গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক মনোনয়ন পেতে তিনি এখন অংশ নিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ রানঅফ নির্বাচনে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে কোনো প্রার্থীই ৫০ শতাংশের বেশি ভোট না পাওয়ায় নির্বাচন গড়ায় রানঅফে। জর্জিয়ার নির্বাচনী আইন অনুযায়ী, প্রাইমারিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে শীর্ষ দুই প্রার্থীকে নিয়ে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন বা রানঅফ অনুষ্ঠিত হয়। সেই নিয়ম অনুযায়ী এখন মুখোমুখি হচ্ছেন নাবিলা ইসলাম পার্কস এবং আরেক ডেমোক্র্যাট নেতা ও স্টেট সিনেটর জশ ম্যাকলরিন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের রানঅফ নির্বাচন শুধু ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরীণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাই নয়, বরং জর্জিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ভোটাধিকার এবং অভিবাসী কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব—এসব ইস্যু ভোটারদের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। নাবিলা ইসলাম পার্কস বর্তমানে জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ডিস্ট্রিক্ট-৭ আসনের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২২ সালে নির্বাচিত হয়ে তিনি জর্জিয়ার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবার ও নোয়াখালী মায়ের সন্তান হিসেবে তার এ অর্জন প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জর্জিয়ায় বেড়ে ওঠা নাবিলা ইসলাম পার্কস প্রায়ই তার পারিবারিক সংগ্রাম এবং অভিবাসী জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক প্রচারণায় তিনি স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, সরকারি স্কুলে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, নারীর অধিকার এবং ভোটাধিকার সুরক্ষার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। সম্প্রতি সাভানায় অনুষ্ঠিত একটি রানঅফ ফোরামে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, জর্জিয়ার বহু নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবার এখনও পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তার মতে, মেডিকেইড সম্প্রসারণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করা জরুরি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে অর্থসংকটে থাকা সরকারি স্কুলগুলোর জন্য আরও শক্তিশালী আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করার ওপরও তিনি জোর দেন। ফোরামটি আয়োজন করে ঐতিহাসিক NAACP-এর সাভানা শাখা। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সাভানার ঐতিহাসিক ফার্স্ট আফ্রিকান ব্যাপটিস্ট চার্চ এ, যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার আন্দোলনের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান হিসেবে পরিচিত। নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে সরব নাবিলা ইসলাম পার্কস। সম্প্রতি এক পোস্টে তিনি জানান, তার শিশু সন্তান আহসানকে নিয়ে জর্জিয়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করার অভিজ্ঞতা তার জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণার। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জর্জিয়ার দ্রুত পরিবর্তিত জনসংখ্যা এবং অভিবাসী কমিউনিটির বাড়তে থাকা রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এমন বাস্তবতায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন বর্তমান স্টেট সিনেটরের রানঅফ নির্বাচনে অংশগ্রহণ শুধু জর্জিয়াতেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির মধ্যেও বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির ৩৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্ট থেকে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি সংগঠক মেরি জোবাইদা। দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ করা এই সংগঠক বলেছেন, সাধারণ কর্মজীবী পরিবারগুলোর জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়েই তিনি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। নিজের প্রচার ঘোষণায় মেরি জোবাইদা জানান, তিনি সাশ্রয়ী আবাসন, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য শিশু পরিচর্যা সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিতে চান। নিউইয়র্কের ৩৬ নম্বর ডিস্ট্রিক্টটি বহুজাতিক ও অভিবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানে দক্ষিণ এশীয়, লাতিনো এবং বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এলাকাটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, বাসাভাড়ার চাপ এবং স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে উদ্বেগ রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মেরি জোবাইদার পেশাগত অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি টেলিভিশন, আরবান হেলথ প্ল্যান এবং সংবাদ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে কাজ করার অভিজ্ঞতা। তিনি “বাংলাদেশি আমেরিকানস ফর পলিটিক্যাল প্রগ্রেস” নামের একটি সংগঠনের সহ-প্রতিষ্ঠাতাও। এছাড়া তিনি নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির স্নাতক। নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন কর্মজীবী মা, স্বাস্থ্যসেবা খাতের কর্মী এবং কমিউনিটি সংগঠক হিসেবে মানুষের বাস্তব সমস্যাগুলো খুব কাছ থেকে দেখেছেন। সেই অভিজ্ঞতাই তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়েছে। জোবাইদা আরও বলেন, তিনি এমন একটি নিউইয়র্ক গড়তে চান যেখানে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও অভিবাসী সম্প্রদায় সমান সুযোগ ও প্রতিনিধিত্ব পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে বাংলাদেশি-আমেরিকানদের অংশগ্রহণ গত কয়েক বছরে ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্থানীয় স্কুল বোর্ড থেকে শুরু করে সিটি কাউন্সিল ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থীদের উপস্থিতি এখন আগের তুলনায় বেশি দেখা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণও এ পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এভিয়েশন বা বিমান চলাচলের ইতিহাসে ‘প্যান আমেরিকান ওয়ার্ল্ড এয়ারওয়েজ’ বা সংক্ষেপে ‘প্যান অ্যাম’ একটি রূপকথার নাম। ১৯২৭ সালে যাত্রা শুরু করা এই মার্কিন বিমান সংস্থাই বিশ্ববাসীকে প্রথম দূরপাল্লার বিমান ভ্রমণের স্বাদ দিয়েছিল। তবে ভুল ব্যবসায়িক কৌশল আর বৈশ্বিক সংকটের কারণে ১৯৯১ সালে বন্ধ হয়ে যায় এই কিংবদন্তি ব্র্যান্ড। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর, সেই গৌরবময় সোনালী অতীতকে ফিরিয়ে আনতে একবিংশ শতাব্দীতে এক বিশাল ও উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্যালিফোর্নিয়ার উদ্যোক্তা ক্রেইগ কার্টারের নেতৃত্বাধীন একদল বিনিয়োগকারী প্যান অ্যামের সমস্ত স্বত্ব ও লাইসেন্স কিনে নেন। তাঁদের লক্ষ্য—প্যান অ্যামকে কেবল একটি বিমান সংস্থা হিসেবে নয়, বরং একটি প্রিমিয়াম লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করা। নস্টালজিয়ার জাদুতে সফল ‘এয়ার ক্রুজ’ দীর্ঘ ৩০ বছর বন্ধ থাকলেও বিমানপ্রেমীদের মনে প্যান অ্যামের আবেদন যে ফুরিয়ে যায়নি, তার প্রমাণ মেলে গত বছরের (২০২৫) জুন মাসে। সে সময় প্যান অ্যামের লোগো ও নীল-সাদা রঙে সজ্জিত একটি বিশেষ বিমান ১২ দিনের এক ঐতিহাসিক ‘এয়ার ক্রুজ’ বা বিমান সফরের আয়োজন করে। আইসল্যান্ড এয়ার থেকে লিজ নেওয়া বোয়িং ৭৫৭-২০০ বিমানটিতে মাত্র ৫০টি বিলাসবহুল আসন ছিল। নিউইয়র্ক থেকে রওনা হয়ে বারমুডা, লিসবন, মার্সেই, লন্ডন এবং আয়ারল্যান্ডের শ্যাননের মতো পুরোনো রুটে যাতায়াত করা এই সফরের টিকিটের মূল্য ছিল প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। চড়া দাম সত্ত্বেও মাত্র তিন দিনের মধ্যে সফরের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। এই সাফল্যই বিনিয়োগকারীদের বাণিজ্যিকভাবে আবারও আকাশে ফেরার আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে। বাণিজ্যিক ফ্লাইটে ফেরা ও নতুন পরিকল্পনা প্যান অ্যামের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এবং এভিয়েশন খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্ব এড ওয়েগেল জানান, প্যান অ্যামকে পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক বিমান সংস্থা হিসেবে আকাশে ফিরিয়ে আনার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। তবে এবার বোয়িং নয়, প্যান অ্যামের নতুন চালিকাশক্তি হবে ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের ‘এয়ারবাস এ২২০’ এবং ‘এ৩২০’ মডেলের বিমান। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমেরিকার মিয়ামি শহরকে প্রধান কেন্দ্র (বেস) করে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূল থেকে দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার বাজারগুলোকে লক্ষ্য করে চার্টার্ড এবং নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। এই বিমানগুলোতে ইকোনমি থেকে শুরু করে প্রিমিয়ার তিন শ্রেণির আসন বিন্যাস থাকবে। তবে বিমান সংকটের কারণে প্রথম ফ্লাইটের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ভবিষ্যতের প্যান অ্যাম হোটেল ও রেস্তোরাঁ: বিমান সংস্থার পাশাপাশি জীবনযাত্রার অন্যান্য খাতেও প্যান অ্যামের নাম যুক্ত হচ্ছে। আগামী ২০২৭ সালের মার্চ মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার কমার্স শহরে চালু হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম ‘প্যান অ্যাম হোটেল’। বিখ্যাত হোটেল চেইন হিলটনের ব্যবস্থাপনায় এই হোটেলে থাকবে আশির দশকের বিমান ভ্রমণের নস্টালজিক আবহ। এছাড়া ২০২৬ সালের অক্টোবরে নিউইয়র্কের একটি বিমানবন্দরে চালু হবে প্রথম ‘প্যান অ্যাম রেস্তোরাঁ’। ২০২৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্যান অ্যাম লাউঞ্জ এবং ঘড়ি ও লেগো সেটের মতো বিভিন্ন লাইসেন্সড পণ্য বাজারে আনার পরিকল্পনাও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনা প্যান অ্যামের এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তনকে এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা দারুণ এক রোমাঞ্চকর উদ্যোগ বললেও এর দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন অনেকে। বিমান শিল্প বিশ্লেষক অ্যাডিসন শোনল্যান্ডের মতে, বর্তমানের তীব্র প্রতিযোগিতাপূর্ণ বাজারে নতুন একটি প্রিমিয়াম বিমান সংস্থার টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে চলমান জ্বালানি সংকট যখন প্রতিষ্ঠিত বিমান সংস্থাগুলোকেই ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য করছে, তখন প্যান অ্যামের মতো ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডের ব্যবসায়িক ভবিষ্যৎ কতটা মসৃণ হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
বিশ্বজুড়ে মানসিক রোগই এখন সবচেয়ে বিস্তৃত স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। স্বাস্থ্যবিষয়ক সাময়িকী ল্যানসেট-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে বিশ্বের প্রায় ১২০ কোটির বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগেছেন, যা ১৯৯০ সালের তুলনায় প্রায় ৯৫ শতাংশ বেশি। গবেষণায় দেখা যায়, উদ্বেগজনিত সমস্যা এবং মারাত্মক বিষণ্নতার হার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। অ্যাংজাইটি ডিসঅর্ডার ১৫৮ শতাংশ এবং মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার ১৩১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এই দুই রোগকে সবচেয়ে বিস্তৃত মানসিক সমস্যায় পরিণত করেছে। ল্যানসেটের গবেষণায় মোট ১২ ধরনের সাধারণ মানসিক রোগ চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে উদ্বেগজনিত সমস্যা, বিষণ্নতা, ডিসথাইমিয়া, বাইপোলার ডিসঅর্ডার, সিজোফ্রেনিয়া, অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, কন্ডাক্ট ডিসঅর্ডার, এডিএইচডি, অ্যানোরেক্সিয়া, বুলিমিয়া এবং বুদ্ধিবিকাশজনিত প্রতিবন্ধকতা। গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, বেশিরভাগ মানসিক রোগে নারীদের আক্রান্ত হওয়ার হার তুলনামূলক বেশি। বিশেষ করে বিষণ্নতা, উদ্বেগ, বাইপোলার ডিসঅর্ডার ও খাওয়াজনিত সমস্যায় নারীদের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে, এডিএইচডি, অটিজম ও আচরণগত সমস্যাগুলো পুরুষদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এ গবেষণায় প্রথমবারের মতো উঠে এসেছে, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীদের ওপর মানসিক রোগের চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ছে। ২০৪টি দেশ ও অঞ্চলের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় সব দেশেই মানসিক রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তবে উন্নত দেশগুলোতে এর প্রভাব তুলনামূলক বেশি। গবেষণায় আরও বলা হয়, ‘মানসিক রোগের কারণে হারানো জীবনকাল’ সূচকে নেদারল্যান্ডসে প্রতি এক লাখে প্রায় ৩ হাজার ৫৫৫ জন আক্রান্ত, যেখানে ভিয়েতনামে এই সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩০২। মাঝারি আয়ের দেশগুলোতে প্রতি লাখে গড়ে ১ হাজার ৮৫৩ জন এবং উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে প্রায় ২ হাজার ১৮৪ জন মানুষ মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। মানসিক রোগ বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে গবেষকরা একাধিক বিষয় উল্লেখ করেছেন। প্রধান গবেষক ড. ডামিয়ান স্যান্টোমাউরো বলেন, এর পেছনে অনেক জটিল কারণ কাজ করছে। অন্যদিকে ড. রবার্ট ট্রেস্টম্যান মনে করেন, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ায় এখন অনেকেই নিজেদের সমস্যার কথা খোলামেলাভাবে বলছেন, ফলে রোগ নির্ণয়ও বেড়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রোগ নির্ণয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানসিক রোগীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে, যেখানে অটিজম ও এডিএইচডি শনাক্তকরণের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষণায় আধুনিক জীবনযাপনকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। একাকীত্ব, কম শারীরিক পরিশ্রম, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং অতিরিক্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের সঙ্গে মানসিক সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সঙ্গে বিষণ্নতা ও উদ্বেগের ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। কোভিড-১৯ মহামারির পর লকডাউন, বেকারত্ব ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণে মানসিক রোগীর সংখ্যা আরও বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
থাইল্যান্ড সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ৯০টির বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল অবস্থানের সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের বেশি দেশটিতে থাকতে হলে পর্যটকদের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, আগে কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি চাঙা করতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ৯৩টি দেশের পর্যটকদের ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভা সেই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। নতুন নীতিমালায় বিদেশি পর্যটকদের অবস্থানের সময়সীমা দেশভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করা হবে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়েছে। ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি ও স্পেন ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকদেরও ৩০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য ভিসা নিতে হবে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই দেশের নাগরিকদের জন্য একাধিক ভিসা সুবিধা থাকায় অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিচিত থাইল্যান্ডে ২০১৯ সালে প্রায় ৪ কোটি পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ নীতিগত এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
চীনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য। সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী আবাসন সংস্কৃতি। তবে ধীরগতির অর্থনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট সেই স্বপ্নকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, সেখানে গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। ম্যাককোয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের অর্থনীতিবিদেরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানান, নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ গত বছর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং এই নিম্নমুখী প্রবণতা দ্রুত থামার কোনো ইঙ্গিত নেই। বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। তিনি বলেন, ভাড়া বাসায় থাকলে অনেক সময় অস্থায়ী জীবনের অনুভূতি তৈরি হয় এবং নিজের ইচ্ছামতো ঘর সাজানোর স্বাধীনতা থাকে না। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভাড়াতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন। তার ভাষায়, “হিসাব করলে ভাড়া থাকাই বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তবে মনের ভেতরে নিজের একটি বাড়ির ইচ্ছা এখনো আছে।” চীনে বাড়ির মালিক হওয়া কেবল সম্পত্তির মালিকানা নয়, এটি পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক ফং বলেন, কনফুসীয় পারিবারিক মূল্যবোধ চীনা সমাজে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং পরিবারকে কেন্দ্র করেই জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার ধীরে ধীরে কর্মস্থলনির্ভর আবাসন ব্যবস্থা কমিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাকে উৎসাহিত করতে শুরু করে। ১৯৯০-এর দশকে ভর্তুকিনির্ভর নীতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়। ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক হুয়াং ইউচিন বলেন, অনেক মানুষ খুব কম দামে হঠাৎ করেই বাড়ির মালিক হয়ে যান। এতে বিপুলসংখ্যক ভাড়াটিয়া একসময় বাড়ির মালিক শ্রেণিতে পরিণত হন। চীনা সমাজে সঞ্চয়ের প্রবণতাও এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে। দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির দাম আবাসন খাতকে জনপ্রিয় বিনিয়োগে পরিণত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক গ্রামীণ অভিবাসী শহরে বাড়ি কিনে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন। আবার সন্তানদের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও বাবা-মায়েরা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন। বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ আবাসন মালিকানার হার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষার ঋণ ও বাড়ির বাড়তি মূল্য অনেক তরুণকে দীর্ঘ সময় ভাড়ায় থাকতে বাধ্য করছে। তবে চীনের আবাসন খাতের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বড় ঝুঁকিও। প্রবৃদ্ধির সময় অনেক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিপুল ঋণ নেয়। অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় ফাঁকা আবাসিক অঞ্চল ও অবিক্রীত প্রকল্প। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২০ সালে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আবাসন খাত, যা একসময় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৩০ শতাংশ জুড়ে ছিল, তা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়। এই পদক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কমলেও সম্পত্তির দাম দ্রুত পড়ে যায়। অনেক ক্রেতা অসম্পূর্ণ বা বিলম্বিত ফ্ল্যাটের মুখোমুখি হন। ঋণসংকটে পড়ে বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ধসে পড়ে। চীনের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রান্ডকে ২০২৪ সালে হংকংয়ের একটি আদালত বিলুপ্তির নির্দেশ দেয়। কান্ট্রি গার্ডেন ও ভ্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও আর্থিক চাপে পড়ে। এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতের আশঙ্কা। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা এখন আরও সতর্ক। কাই ইয়োচেং বলেন, তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কিনতে চান, তবে আগামী কয়েক বছরে সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন খাত এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মার্চ মাসেও দেশজুড়ে নতুন বাড়ির দাম কমেছে, যদিও কয়েকটি বড় শহরে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের কর্মকর্তা ঝ্যাং শিয়াওদুয়ান বলেন, সরকারের ইতিবাচক বার্তা থাকলেও বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতার বড় ধরনের পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে না। গত বছর চীন ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সেই প্রবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কুনমিং শহরের ৩০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী ম্যান্ডি ফেং বলেন, বাড়ির দাম কমলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করছে। তার ভাষায়, “মানুষ বাড়ি কিনতে চায় না, এমন নয়। কিন্তু আয় অনিশ্চিত এবং উপার্জন কম থাকলে কেউ ঋণ নিতে সাহস পায় না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আবাসন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। বেইজিংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ঝো ঝ্যাং বলেন, তিনি সম্ভবত নিজের সন্তানদের জন্য বাড়ি কিনবেন না, যদিও নিজের ফ্ল্যাট কিনতে বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছিলেন। তার মতে, চীনের আবাসন বাজার ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশের মতো হয়ে উঠছে, যেখানে ভবিষ্যতে ভাড়া বাসায় থাকার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।