রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে বড় আকারের এক বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির আওতায় রুশ বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে ফিরেছেন ১৬০ জন ইউক্রেনীয় সেনা। শুক্রবার (২৬ জুন) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর আরও ১৬০ ইউক্রেনীয় যোদ্ধা দেশে ফিরেছেন। এটি ছিল সমসংখ্যক বন্দি বিনিময় চুক্তি। এর আওতায় ইউক্রেনও নিজেদের হেফাজতে থাকা ১৬০ জন রুশ সেনাকে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুক্ত হওয়া ১৬০ জন সেনার সবাই ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার হাতে বন্দি ছিলেন। তারা ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, স্টেট বর্ডার গার্ড সার্ভিস এবং স্টেট স্পেশাল ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের সদস্য। মুক্তিপ্রাপ্ত সেনারা যুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা মারিউপোল, আজভস্তাল, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খারকিভ, জাপোরিঝিয়া, কিয়েভ, চেরনিহিভ এবং সুমি অঞ্চলে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ইউক্রেন জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১৫ জনই ছিলেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিউপোল শহরের প্রতিরক্ষায় অংশ নেওয়া যোদ্ধা। ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসনের শুরুর দিকে মারিউপোল ও আজভস্তাল ইস্পাত কারখানাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ও তীব্র যুদ্ধ হয়েছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া ১৬০ জন রুশ সেনাকে প্রথমে প্রতিবেশী বেলারুশে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনারের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাদের নিজ দেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক দফা বন্দি বিনিময় হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত থাকলেও মানবিক বিবেচনায় বন্দি বিনিময়কে যুদ্ধকালীন বিরল সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক সাভানা গাথ্রির মা ন্যান্সি গাথ্রির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। অপহরণকারীদের পরিচয় জানেন বলে দাবি করা এক রহস্যময় ব্যক্তি এবার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও একটি ভিডিওর বিনিময়ে এক বিটকয়েন দাবি করেছেন। বিনোদন ও সেলিব্রিটি সংবাদমাধ্যম টিএমজেড শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তাদের কাছে পাঠানো নতুন এক বার্তায় ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার কাছে ন্যান্সি গাথ্রির জীবনের শেষ দিনের বলে ধারণা করা সময়ের একটি ভিডিও রয়েছে। ভিডিওটিতে ন্যান্সি গাথ্রিকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন প্রধান ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বার্তাটি একই ব্যক্তির কাছ থেকে এসেছে, যিনি এর আগেও ন্যান্সি গাথ্রির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে এক বিটকয়েন দাবি করেছিলেন। বার্তায় রহস্যময় ব্যক্তি জানান, তিনি একটি মোবাইল ফোন নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রেখেছেন। ফোনটিতে এমন তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে যা অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়তা করতে পারে বলে তার দাবি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটিতে ন্যান্সি গাথ্রি ও কথিত প্রধান সন্দেহভাজনের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি, নাম, বয়স এবং ঠিকানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ফোনটি এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যার অবস্থান জানা থাকলে সহজেই উদ্ধার করা সম্ভব। তবে ফোনটির অবস্থান ও পাসওয়ার্ড জানাতে তিনি এক বিটকয়েন দাবি করেছেন। রহস্যময় ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ন্যান্সি গাথ্রির অপহরণের সঙ্গে অন্তত দুই ব্যক্তি জড়িত ছিল। টিএমজেড জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য ও বার্তার বিষয়টি ইতোমধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে অবহিত করেছে। অন্যদিকে, অ্যারিজোনার পিমা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, ৮৪ বছর বয়সী ন্যান্সি গাথ্রি গত ১ ফেব্রুয়ারি অ্যারিজোনার টাকসনে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত থাকলেও নতুন এই দাবির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
নিউইয়র্কের কুইন্সের জ্যামাইকার হিলসাইড অ্যাভিনিউ সংলগ্ন একটি পার্ক একদিনের জন্য যেন রূপ নিয়েছিল প্রাণচঞ্চল বাংলাদেশের এক ঐতিহ্যবাহী মেলায়। দেশীয় খাবারের সুবাস, বাংলা গানের সুর, শিশুদের হাসি-আনন্দ আর প্রবাসীদের মিলনমেলায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) নন-প্রফিট সংগঠন ‘ভালো’র উদ্যোগে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য মেলা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষের অংশগ্রহণে পরিণত হয় এক বহুসাংস্কৃতিক উৎসবে। দিনব্যাপী আয়োজনে বাংলাদেশি, আমেরিকান, চাইনিজ, হিস্প্যানিকসহ নানা সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রবাসে বসবাসরত বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সম্প্রীতি, পারস্পরিক সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও শক্তিশালী করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। মেলার উদ্বোধন করেন নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস এবং নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক অ্যাডভোকেট জুমানে উইলিয়ামস। অনুষ্ঠানে উপস্থিত স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও কমিউনিটি নেতাদের স্বাগত জানান ‘ভালো’ সংগঠনের প্রধান নির্বাহী শাহরিয়ার রহমান। উদ্বোধনী বক্তব্যে লেটিশিয়া জেমস বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি নিউইয়র্কবাসীর সামনে তুলে ধরতে ‘ভালো’ যে কাজ করছে, তা প্রশংসার দাবিদার। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সংস্কৃতি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এ ধরনের আয়োজন না হলে সেই সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ হতো না।” একই সঙ্গে তিনি সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানান। জুমানে উইলিয়ামস বলেন, বাংলাদেশি কমিউনিটি নিউইয়র্কে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ড অন্য সম্প্রদায়ের জন্যও অনুসরণীয়। তিনি কমিউনিটির উন্নয়নে ‘ভালো’র ভূমিকার প্রশংসা করেন। মেলা প্রাঙ্গণে ছিল দেশীয় খাবার, পোশাক, হস্তশিল্প, প্রসাধনী ও গৃহসজ্জার সামগ্রীর শতাধিক স্টল। ফুচকা, বিরিয়ানি, ভর্তা, বিভিন্ন ধরনের মিষ্টান্ন এবং আমের জুসসহ দেশীয় পানীয় দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। পুরো আয়োজন যেন তৈরি করেছিল এক টুকরো বাংলাদেশি বাজারের আবহাওয়া। ‘ভালো’র ডিরেক্টর অব পাবলিক রিলেশনস শাহরিয়ার নবী জানান, কমিউনিটির জন্য কিছু করার তাগিদ থেকেই এই মেলার আয়োজন। তিনি বলেন, “আমরা চাই এটি সবার মিলনমেলা হোক। একই সঙ্গে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্যও এটি একটি সুযোগের ক্ষেত্র তৈরি করুক।” তিনি জানান, মেলায় ৭০টিরও বেশি ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা অংশ নিয়েছেন। দর্শনার্থীদের অনেকেই জানান, এই আয়োজন তাদের শৈশবের দেশের মেলার স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে। জ্যামাইকার বাসিন্দা সামিনা আমিন বলেন, “এখানে এসে মনে হচ্ছে যেন বাংলাদেশেই আছি। খাবার থেকে পরিবেশ—সবকিছুই অসাধারণ। এমন আয়োজন প্রতিবছর হওয়া উচিত, যাতে নতুন প্রজন্ম নিজেদের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারে।” শিশুদের জন্য ছিল বিভিন্ন রাইড, গেমস ও বিনোদনের ব্যবস্থা। স্লাইড ও নানা খেলায় শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। অন্যদিকে বড়দের জন্য আয়োজন করা হয় ফুচকা খাওয়ার প্রতিযোগিতা এবং র্যাফেল ড্র, যা দর্শকদের মধ্যে বাড়তি আনন্দ যোগ করে। মেলায় বিভিন্ন সময় উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক ঠিকানার সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন, নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের ডেপুটি স্পিকার ড. নানতাশা উইলিয়ামস, কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণান, মেয়রের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা মীর বাশার, কংগ্রেস প্রার্থী চাক পার্ক, ইলহাম একাডেমির কর্ণধার মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, কুইন্স বরো প্রেসিডেন্টের অফিসের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ সাদেক, জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ফখরুল ইসলাম দেলোয়ারসহ আরও অনেকে। সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন বলেন, ‘ভালো’ দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটি ও বাংলাদেশের কল্যাণে নানা ইতিবাচক কাজ করে যাচ্ছে। তিনি ভবিষ্যতেও সংগঠনটির পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। মীর বাশার বলেন, “এটি শুধু একটি সাংস্কৃতিক মেলা নয়, বরং মানুষের মধ্যে সম্পর্ক, সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধন গড়ে তোলার একটি সামাজিক উদ্যোগ।” কাউন্সিলম্যান শেখর কৃষ্ণানও একই সুরে বলেন, “‘ভালো’ মানুষের সঙ্গে মানুষের সংযোগ তৈরির একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম।” মেলার আরেকটি বড় আকর্ষণ ছিল ফুটবল উন্মাদনা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বড় পর্দায় সরাসরি ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা করা হয়। খেলা উপভোগ করতে করতে দর্শনার্থীরা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেন। দিনভর চলা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় শিল্পীদের পাশাপাশি বিউটি দাস ও রাজীব রহমানের ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করেন। বাংলা গান, দেশীয় সুর এবং প্রবাস জীবনের আবেগ মিলেমিশে পুরো মেলা প্রাঙ্গণকে উৎসবের রঙে রাঙিয়ে তোলে।
নিউইয়র্কভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংগঠনের সদস্যপদ সংগ্রহ কার্যক্রমের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৮ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্যপদ সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আজীবন সদস্য এবং ৮০০ জন নতুন ও নবায়ন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো অনেক আবেদন জমা পড়ার বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ সময়ে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে এবং মোট ভোটার সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আজীবন সদস্যের জন্য ৫০০ ডলার এবং সাধারণ সদস্যের জন্য ২০ ডলার। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আজীবন সদস্য হলে একজনের ৫০০ ডলার ফি দিলেই দুজন সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুটি প্রধান প্যানেল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্যানেল কাজ করছে। অন্যদিকে আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল। দুই পক্ষই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সদস্য সংগ্রহ, মতবিনিময় এবং নির্বাচনী সমর্থন আদায়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। কমিউনিটিতে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা, সমীকরণ ও প্যানেলভিত্তিক কৌশল এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে আবু নাসেরের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে ১ জানুয়ারি। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর প্যানেল দাবি করছে, তাদের মেয়াদে কমিউনিটির উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত চাকরি বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ। তাদের দাবি, স্টেট থেকে প্রাপ্ত ৬৫ হাজার ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। অন্যদিকে কুনু-ফিরোজ প্যানেল নতুন নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করার অঙ্গীকার করছে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মতে, এবারের নির্বাচনে সদস্যপদই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। কারণ বৈধ সদস্যরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ কারণে ৩০ জুনের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ সোসাইটি এবার প্রথমবারের মতো অনলাইন সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়ন প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে প্রবাসীরা ঘরে বসেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ও ফি পরিশোধ করতে পারছেন। নির্বাচনী তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংগঠনের লাইফ মেম্বার ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির আলী খান পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন। নাসির আলী খান পলের অভিযোগ, একসময় সোসাইটির ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ছিল। বর্তমানে সেই অর্থের অবস্থান ও ব্যয়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাবি, নির্বাচন আয়োজনের আগে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে সব হিসাব সদস্যদের সামনে তুলে ধরা উচিত। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটির আর্থিক অবস্থান সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন সোসাইটির আর্থিক হিসাব নিয়ে সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বিগত তিন কমিটির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট দাবি করেন। নাসির আলী খান পল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সদস্য ফি এবং অন্যান্য খাত থেকে সংগৃহীত অর্থের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রতিবছর সিপিএ (সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট) দ্বারা হিসাব প্রস্তুত করা হয় এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের সংবিধানে বাধ্যতামূলক অডিটের বিধান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মোহাম্মদ আলীর দাবি, সোসাইটির ইতিহাসে কখনো ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের তহবিল ছিল না। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন হিসাব মিলিয়ে সংগঠনের প্রায় আড়াই লাখ ডলার রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা অর্থ, ফেরত পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য তহবিল অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে কবর কেনার জন্য ব্যয় করা অর্থের একটি অংশ তারা ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দায়িত্বকালে প্রতিবছর হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সদস্যদের সামনে পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরারও আশ্বাস দেন তিনি। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, বর্তমান কমিটির সময়ে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তার জানা নেই। তবে যেকোনো অভিযোগ সাধারণ সভায় উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে তিনি মত দেন। অন্যদিকে সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন দাবি করেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বর্তমান কমিটির কাছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ছিল। তবে এ বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বুঝে পেয়েছিলেন। এদিকে নাসির আলী খান পল সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্টে দাবি করেছেন, অভ্যন্তরীণ অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেছেন, বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী সিপিএ-নির্ভর হিসাব ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সদস্যরা চাইলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অডিট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সদস্যপদ সংগ্রহ, ভোটের প্রস্তুতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। কমিউনিটির অনেকের মতে, নির্বাচনের আগে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
কানাডায় চলতি বছরে অভিবাসন ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দেশটির স্থায়ী বাসিন্দা বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট গ্রহণের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় বিদেশি কর্মী, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় প্রায় ২৯ লাখ মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ তালিকায় কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও রয়েছেন। অভিবাসনসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, চলতি বছরে কানাডা মাত্র তিন লাখ ৮০ হাজার নতুন স্থায়ী বাসিন্দা গ্রহণের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অথচ দেশটিতে অবস্থানরত বিপুলসংখ্যক অস্থায়ী বাসিন্দা স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। ফলে চলতি বছরে ১০ লাখের বেশি মানুষের কানাডায় বৈধভাবে অবস্থানের পথ সংকুচিত হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তায় রয়েছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটধারীরা। তাঁদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও এই পরিস্থিতির প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন। এদের অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে কানাডার স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ ও খাদ্যশিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে দেশটির অর্থনীতিতে অবদান রেখে আসছেন। তথ্য অনুযায়ী, কানাডার মোট অস্থায়ী বাসিন্দাদের প্রায় অর্ধেকই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত। ফলে এই সংকটের প্রভাব দক্ষিণ এশীয় অভিবাসী সম্প্রদায়ের ওপর উল্লেখযোগ্যভাবে পড়তে পারে। বাংলাদেশ থেকে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া শিক্ষার্থী এবং কর্মীরাও এর বাইরে নন। এদিকে ওয়ার্ক পারমিটধারীদের জন্য স্টাডি পারমিট ছাড়া পড়াশোনার যে বিশেষ সুযোগ চালু ছিল, তা আগামী ২৭ জুন শেষ হতে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই তাঁদের ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ এবং ভবিষ্যৎ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি দায়িত্ব গ্রহণের পর অর্থনীতি ও উন্নয়নকে শক্তিশালী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে অভিবাসন নীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে অস্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকের ভবিষ্যৎ। অভিবাসনবিষয়ক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সরকারের বর্তমান নীতির লক্ষ্য অস্থায়ী বাসিন্দার সংখ্যা কমিয়ে আনা। তাঁদের ধারণা, এ নীতির ফলে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক টেম্পোরারি রেসিডেন্টকে কানাডা ছাড়তে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক সাভানা গাথ্রির মা ন্যান্সি গাথ্রির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। অপহরণকারীদের পরিচয় জানেন বলে দাবি করা এক রহস্যময় ব্যক্তি এবার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও একটি ভিডিওর বিনিময়ে এক বিটকয়েন দাবি করেছেন। বিনোদন ও সেলিব্রিটি সংবাদমাধ্যম টিএমজেড শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তাদের কাছে পাঠানো নতুন এক বার্তায় ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার কাছে ন্যান্সি গাথ্রির জীবনের শেষ দিনের বলে ধারণা করা সময়ের একটি ভিডিও রয়েছে। ভিডিওটিতে ন্যান্সি গাথ্রিকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন প্রধান ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বার্তাটি একই ব্যক্তির কাছ থেকে এসেছে, যিনি এর আগেও ন্যান্সি গাথ্রির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে এক বিটকয়েন দাবি করেছিলেন। বার্তায় রহস্যময় ব্যক্তি জানান, তিনি একটি মোবাইল ফোন নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রেখেছেন। ফোনটিতে এমন তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে যা অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়তা করতে পারে বলে তার দাবি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটিতে ন্যান্সি গাথ্রি ও কথিত প্রধান সন্দেহভাজনের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি, নাম, বয়স এবং ঠিকানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ফোনটি এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যার অবস্থান জানা থাকলে সহজেই উদ্ধার করা সম্ভব। তবে ফোনটির অবস্থান ও পাসওয়ার্ড জানাতে তিনি এক বিটকয়েন দাবি করেছেন। রহস্যময় ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ন্যান্সি গাথ্রির অপহরণের সঙ্গে অন্তত দুই ব্যক্তি জড়িত ছিল। টিএমজেড জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য ও বার্তার বিষয়টি ইতোমধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে অবহিত করেছে। অন্যদিকে, অ্যারিজোনার পিমা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, ৮৪ বছর বয়সী ন্যান্সি গাথ্রি গত ১ ফেব্রুয়ারি অ্যারিজোনার টাকসনে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত থাকলেও নতুন এই দাবির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
গত প্রায় তিন বছরে গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে পরিচালিত সামরিক অভিযানে ইসরায়েলের মোট ব্যয় প্রায় ২০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে বলে দেশটির একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হিব্রু ভাষার সংবাদমাধ্যম জমান ইসরায়েল—যা দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের হিব্রু সংস্করণ—এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটি পরে আন্তর্জাতিক মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডও উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতগুলোর ফলে ইসরায়েল সরকারের সরাসরি ব্যয়ই ১১৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ব্যাংক অব ইসরায়েলের তথ্যের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, এর মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৭১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে ৯ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার, বেসামরিক বিভিন্ন খাতে ব্যয় হয়েছে ১৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার এবং ঋণের সুদ পরিশোধে খরচ হয়েছে প্রায় ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সামরিক সহায়তার আর্থিক মূল্যও এই হিসাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জামসহ যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার পরিমাণ প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার। তবে ব্যয় শুধু সরকারি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সংঘাতের কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের উৎপাদন ক্ষতিও হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার বলে অনুমান করা হয়েছে। আর ২০২৬ সালের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্ত করলে তা ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। সব মিলিয়ে সরকারি ব্যয়, বিদেশি সামরিক সহায়তা এবং উৎপাদন ক্ষতি একত্রে বিবেচনা করলে সংঘাতগুলোর মোট অর্থনৈতিক প্রভাব প্রায় ২০৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই বিশ্লেষণে ব্যক্তিগত ক্ষতি বা বেসরকারি খাতের সব ধরনের লোকসান পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। ফলে প্রকৃত অর্থনৈতিক চাপ আরও বেশি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্টরা। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এই ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সরকারি ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় করের হার বৃদ্ধি পেয়েছে, জীবনযাত্রার খরচ বেড়েছে এবং এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদে প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর থেকে শুরু হওয়া এই ধারাবাহিক সংঘাতকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইসরায়েলের ইতিহাসের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক সময় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে প্রতিবেদনে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই যুদ্ধগুলোর আর্থিক অভিঘাত আগামী বহু বছর ধরে দেশটির অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজতে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশ আলোচনা শুরু করতে চাইলে চীন প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে বলে জানিয়েছে বেইজিং। শুক্রবার (২৬ জুন) চীনের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর এই তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট—দেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণভাবে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য সমাধান। এই লক্ষ্যেই সরকার কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে চায়। মাহদী আমিন আরও জানান, চীন আশ্বাস দিয়েছে—বাংলাদেশ যখন প্রয়োজন মনে করবে এবং মিয়ানমারের সঙ্গে সংলাপের উদ্যোগ নেবে, তখন তারা মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। অতীতেও বাংলাদেশের নেতৃত্বে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের কিছু উদ্যোগ সফল হয়েছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৈঠকের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট এখন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থানকে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র বিশ্লেষক হুমায়ুন কবির বলেন, অতীতে সরকারের দুর্বলতা ও পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমাবদ্ধতার কারণে সংকটটি জটিল আকার ধারণ করেছে। তবে বর্তমান সরকার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের পথে এগোতে চায়। তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে বাংলাদেশ নিজ উদ্যোগে আলোচনা শুরু করতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে চীনকে পাশে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার জেরে লাখো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রত্যাবাসনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা স্থায়ীভাবে সফল হয়নি। ফলে আন্তর্জাতিক মহলের সহায়তায় একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে বড় আকারের এক বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির আওতায় রুশ বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে ফিরেছেন ১৬০ জন ইউক্রেনীয় সেনা। শুক্রবার (২৬ জুন) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর আরও ১৬০ ইউক্রেনীয় যোদ্ধা দেশে ফিরেছেন। এটি ছিল সমসংখ্যক বন্দি বিনিময় চুক্তি। এর আওতায় ইউক্রেনও নিজেদের হেফাজতে থাকা ১৬০ জন রুশ সেনাকে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুক্ত হওয়া ১৬০ জন সেনার সবাই ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার হাতে বন্দি ছিলেন। তারা ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, স্টেট বর্ডার গার্ড সার্ভিস এবং স্টেট স্পেশাল ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের সদস্য। মুক্তিপ্রাপ্ত সেনারা যুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা মারিউপোল, আজভস্তাল, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খারকিভ, জাপোরিঝিয়া, কিয়েভ, চেরনিহিভ এবং সুমি অঞ্চলে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ইউক্রেন জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১৫ জনই ছিলেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিউপোল শহরের প্রতিরক্ষায় অংশ নেওয়া যোদ্ধা। ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসনের শুরুর দিকে মারিউপোল ও আজভস্তাল ইস্পাত কারখানাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ও তীব্র যুদ্ধ হয়েছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া ১৬০ জন রুশ সেনাকে প্রথমে প্রতিবেশী বেলারুশে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনারের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাদের নিজ দেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক দফা বন্দি বিনিময় হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত থাকলেও মানবিক বিবেচনায় বন্দি বিনিময়কে যুদ্ধকালীন বিরল সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব অব্যাহত রয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত সংক্রমণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৭০২ জনে পৌঁছেছে। আজ শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে আজ শুক্রবার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৬০৯ শিশু। এ ছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ৮৬৯ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৯৭ হাজার ৫২২। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগী শনাক্ত হয়েছে ১০৭ জন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট ১১ হাজার ৫৪৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এদিকে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮১ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৭৭ হাজার ৬১৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে মারা যাওয়া চার শিশু ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের বাসিন্দা।
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে নতুন করে বড় আকারের এক বন্দি বিনিময় চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির আওতায় রুশ বন্দিদশা থেকে মুক্ত হয়ে স্বদেশে ফিরেছেন ১৬০ জন ইউক্রেনীয় সেনা। শুক্রবার (২৬ জুন) ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর আরও ১৬০ ইউক্রেনীয় যোদ্ধা দেশে ফিরেছেন। এটি ছিল সমসংখ্যক বন্দি বিনিময় চুক্তি। এর আওতায় ইউক্রেনও নিজেদের হেফাজতে থাকা ১৬০ জন রুশ সেনাকে রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মুক্ত হওয়া ১৬০ জন সেনার সবাই ২০২২ সাল থেকে রাশিয়ার হাতে বন্দি ছিলেন। তারা ইউক্রেনীয় সশস্ত্র বাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, স্টেট বর্ডার গার্ড সার্ভিস এবং স্টেট স্পেশাল ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের সদস্য। মুক্তিপ্রাপ্ত সেনারা যুদ্ধের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তারা মারিউপোল, আজভস্তাল, দোনেৎস্ক, লুহানস্ক, খারকিভ, জাপোরিঝিয়া, কিয়েভ, চেরনিহিভ এবং সুমি অঞ্চলে রুশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ইউক্রেন জানিয়েছে, মুক্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১৫ জনই ছিলেন কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মারিউপোল শহরের প্রতিরক্ষায় অংশ নেওয়া যোদ্ধা। ২০২২ সালে রুশ আগ্রাসনের শুরুর দিকে মারিউপোল ও আজভস্তাল ইস্পাত কারখানাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ ও তীব্র যুদ্ধ হয়েছিল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের কাছ থেকে ফেরত পাওয়া ১৬০ জন রুশ সেনাকে প্রথমে প্রতিবেশী বেলারুশে নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া হবে। রাশিয়ার মানবাধিকার কমিশনারের তত্ত্বাবধানে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তাদের নিজ দেশে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে মস্কো। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কয়েক দফা বন্দি বিনিময় হয়েছে। দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত থাকলেও মানবিক বিবেচনায় বন্দি বিনিময়কে যুদ্ধকালীন বিরল সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় টেলিভিশন উপস্থাপক সাভানা গাথ্রির মা ন্যান্সি গাথ্রির নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। অপহরণকারীদের পরিচয় জানেন বলে দাবি করা এক রহস্যময় ব্যক্তি এবার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও একটি ভিডিওর বিনিময়ে এক বিটকয়েন দাবি করেছেন। বিনোদন ও সেলিব্রিটি সংবাদমাধ্যম টিএমজেড শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তাদের কাছে পাঠানো নতুন এক বার্তায় ওই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার কাছে ন্যান্সি গাথ্রির জীবনের শেষ দিনের বলে ধারণা করা সময়ের একটি ভিডিও রয়েছে। ভিডিওটিতে ন্যান্সি গাথ্রিকে অপহরণের সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহভাজন প্রধান ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায় বলে তিনি দাবি করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বার্তাটি একই ব্যক্তির কাছ থেকে এসেছে, যিনি এর আগেও ন্যান্সি গাথ্রির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তথ্য দেওয়ার বিনিময়ে এক বিটকয়েন দাবি করেছিলেন। বার্তায় রহস্যময় ব্যক্তি জানান, তিনি একটি মোবাইল ফোন নিরাপদ স্থানে লুকিয়ে রেখেছেন। ফোনটিতে এমন তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে যা অপহরণকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সহায়তা করতে পারে বলে তার দাবি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফোনটিতে ন্যান্সি গাথ্রি ও কথিত প্রধান সন্দেহভাজনের একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছবি, নাম, বয়স এবং ঠিকানাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ফোনটি এমন স্থানে রাখা হয়েছে, যার অবস্থান জানা থাকলে সহজেই উদ্ধার করা সম্ভব। তবে ফোনটির অবস্থান ও পাসওয়ার্ড জানাতে তিনি এক বিটকয়েন দাবি করেছেন। রহস্যময় ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ন্যান্সি গাথ্রির অপহরণের সঙ্গে অন্তত দুই ব্যক্তি জড়িত ছিল। টিএমজেড জানিয়েছে, প্রাপ্ত তথ্য ও বার্তার বিষয়টি ইতোমধ্যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে অবহিত করেছে। অন্যদিকে, অ্যারিজোনার পিমা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। উল্লেখ্য, ৮৪ বছর বয়সী ন্যান্সি গাথ্রি গত ১ ফেব্রুয়ারি অ্যারিজোনার টাকসনে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন। তদন্তকারীদের ধারণা, তিনি অপহরণের শিকার হয়েছেন। তবে কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত থাকলেও নতুন এই দাবির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে ঘটনাটি ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কমিউনিটিতে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংগঠনের সদস্যপদ সংগ্রহ কার্যক্রমের শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৩০ জুন। একই সঙ্গে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ১৮ অক্টোবর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেনি, তবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম ইতোমধ্যে জোরদার হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে সদস্যপদ সংগ্রহ ও ভোটার তালিকা প্রণয়ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ২১ জুন পর্যন্ত প্রায় এক হাজার আজীবন সদস্য এবং ৮০০ জন নতুন ও নবায়ন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তবে এখনো অনেক আবেদন জমা পড়ার বাকি রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, শেষ সময়ে সদস্যসংখ্যা আরও বাড়বে এবং মোট ভোটার সংখ্যা ২০ থেকে ২৫ হাজারের মধ্যে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটির সদস্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে আজীবন সদস্যের জন্য ৫০০ ডলার এবং সাধারণ সদস্যের জন্য ২০ ডলার। স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে আজীবন সদস্য হলে একজনের ৫০০ ডলার ফি দিলেই দুজন সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে দুটি প্রধান প্যানেল মাঠে সক্রিয় রয়েছে। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে একটি প্যানেল কাজ করছে। অন্যদিকে আজমল হোসেন কুনু ও ফিরোজ আলমের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্যানেল। দুই পক্ষই বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে। যদিও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়নি, সম্ভাব্য প্রার্থীরা ইতোমধ্যে সদস্য সংগ্রহ, মতবিনিময় এবং নির্বাচনী সমর্থন আদায়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। কমিউনিটিতে নির্বাচন ঘিরে আলোচনা, সমীকরণ ও প্যানেলভিত্তিক কৌশল এখন অন্যতম আলোচ্য বিষয়। নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে আবু নাসেরের নেতৃত্বে কমিশন গঠন করা হয়েছে। ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। বর্তমান কমিটির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত থাকলেও নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করবে ১ জানুয়ারি। বর্তমান সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলীর প্যানেল দাবি করছে, তাদের মেয়াদে কমিউনিটির উন্নয়নে বেশ কিছু পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি সেন্টারের উন্নয়ন, বিভিন্ন এলাকায় স্কুল প্রতিষ্ঠা এবং নিয়মিত চাকরি বিষয়ক সেমিনার আয়োজনের উদ্যোগ। তাদের দাবি, স্টেট থেকে প্রাপ্ত ৬৫ হাজার ডলারের একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হবে। অন্যদিকে কুনু-ফিরোজ প্যানেল নতুন নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা ও কমিউনিটির অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে। তারা সংগঠনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা যোগ করার অঙ্গীকার করছে। কমিউনিটির বিশিষ্টজনদের মতে, এবারের নির্বাচনে সদস্যপদই সবচেয়ে বড় নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে। কারণ বৈধ সদস্যরাই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। এ কারণে ৩০ জুনের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম নির্বাচনী ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে বাংলাদেশ সোসাইটি এবার প্রথমবারের মতো অনলাইন সদস্যপদ গ্রহণ ও নবায়ন প্রক্রিয়া চালু করেছে। ফলে প্রবাসীরা ঘরে বসেই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন ও ফি পরিশোধ করতে পারছেন। নির্বাচনী তৎপরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ সোসাইটির আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংগঠনের লাইফ মেম্বার ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসির আলী খান পল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্টে ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের আর্থিক লেনদেনের পূর্ণাঙ্গ অডিটের দাবি জানিয়েছেন। নাসির আলী খান পলের অভিযোগ, একসময় সোসাইটির ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলার ছিল। বর্তমানে সেই অর্থের অবস্থান ও ব্যয়ের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না। তার দাবি, নির্বাচন আয়োজনের আগে একটি স্বাধীন অভ্যন্তরীণ অডিটের মাধ্যমে সব হিসাব সদস্যদের সামনে তুলে ধরা উচিত। তিনি আরও বলেন, বর্তমান কমিটির আর্থিক অবস্থান সম্পর্কেও ভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মনে করেন সোসাইটির আর্থিক হিসাব নিয়ে সদস্যদের মধ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তিনি বিগত তিন কমিটির আয়-ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ অডিট দাবি করেন। নাসির আলী খান পল অভিযোগ করেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, সদস্য ফি এবং অন্যান্য খাত থেকে সংগৃহীত অর্থের বিস্তারিত হিসাব সদস্যদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। তিনি বলেন, বড় অঙ্কের ব্যয়ের ক্ষেত্রে ট্রাস্টি বোর্ডের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, প্রতিবছর সিপিএ (সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্ট) দ্বারা হিসাব প্রস্তুত করা হয় এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়। সংগঠনের সংবিধানে বাধ্যতামূলক অডিটের বিধান নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মোহাম্মদ আলীর দাবি, সোসাইটির ইতিহাসে কখনো ৯ লাখ ৪৫ হাজার ডলারের তহবিল ছিল না। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন হিসাব মিলিয়ে সংগঠনের প্রায় আড়াই লাখ ডলার রয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংকে জমা অর্থ, ফেরত পাওয়া অর্থ এবং অন্যান্য তহবিল অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে কবর কেনার জন্য ব্যয় করা অর্থের একটি অংশ তারা ফেরত আনতে সক্ষম হয়েছেন এবং কোনো অর্থ আত্মসাৎ বা অনিয়ম হয়নি। বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাদের দায়িত্বকালে প্রতিবছর হিসাব প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সাধারণ সভায় তা উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে সদস্যদের সামনে পূর্ণাঙ্গ হিসাব তুলে ধরারও আশ্বাস দেন তিনি। ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার বলেন, বর্তমান কমিটির সময়ে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়ম হয়েছে বলে তার জানা নেই। তবে যেকোনো অভিযোগ সাধারণ সভায় উত্থাপন করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত বলে তিনি মত দেন। অন্যদিকে সাবেক কোষাধ্যক্ষ নওশেদ হোসেন দাবি করেন, দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় বর্তমান কমিটির কাছে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের বেশি অর্থ ছিল। তবে এ বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, তারা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার ডলার বুঝে পেয়েছিলেন। এদিকে নাসির আলী খান পল সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি পোস্টে দাবি করেছেন, অভ্যন্তরীণ অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক অনুষ্ঠানে সোসাইটির সভাপতি অডিটের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। তবে সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী বলেছেন, বর্তমানে সংবিধান অনুযায়ী সিপিএ-নির্ভর হিসাব ব্যবস্থাই অনুসরণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সদস্যরা চাইলে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে অডিট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই সদস্যপদ সংগ্রহ, ভোটের প্রস্তুতি এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। কমিউনিটির অনেকের মতে, নির্বাচনের আগে এসব প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে সংগঠনের প্রতি সদস্যদের আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রচলিত ট্যাংক, কামান বা যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি এখন যুদ্ধক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর ও নির্ধারক অস্ত্র হিসেবে উঠে এসেছে ড্রোন। এই বাস্তবতায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করতে বড় উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটি পরিকল্পনা করেছে, তাদের প্রায় পাঁচ লাখ সেনাসদস্যকে ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তোলা হবে। শুক্রবার দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন গিউ-ব্যাক এক ঘোষণায় জানান, সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে যাতে তারা ব্যক্তিগত অস্ত্রের মতোই সহজভাবে ড্রোন ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের সমন্বিতভাবে ‘ড্রোন যোদ্ধা’ হিসেবে গড়ে তোলার এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ। আন গিউ-ব্যাক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দেখিয়ে দিয়েছে—ড্রোন এখন শুধু সহায়ক প্রযুক্তি নয়, বরং যুদ্ধের ফলাফল বদলে দেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রধান অস্ত্র। বিশেষ করে তুলনামূলক কম খরচে বিপুলসংখ্যক ড্রোন ব্যবহারের কৌশল যুদ্ধের প্রচলিত ধারণাকেই পাল্টে দিচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই পরিকল্পনার পেছনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও বড় ভূমিকা রাখছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া ধারাবাহিকভাবে তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, যা দক্ষিণ কোরিয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান হুমকি তৈরি করছে। নতুন কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে প্রায় ১১ হাজার বাণিজ্যিক ড্রোন সংগ্রহ করা হবে। পরবর্তী সময়ে, ২০২৯ সালের মধ্যে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ৬০ হাজারে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ হাজারের বেশি স্বল্পমূল্যের একবার ব্যবহারযোগ্য যুদ্ধ ড্রোন সংগ্রহের পরিকল্পনাও রয়েছে। শুধু ড্রোন ব্যবহার নয়, দেশীয় প্রযুক্তিতে উন্নত ড্রোন তৈরির দিকেও জোর দিচ্ছে সিউল। এর অংশ হিসেবে ‘কে-লুকাস’ নামের দূরপাল্লার আক্রমণাত্মক ড্রোন দ্রুত উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রযুক্তির ধারণা নেওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন মডেল থেকে, যার নকশা আবার ইরানের বহুল আলোচিত আত্মঘাতী ড্রোনের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। ইউক্রেন যুদ্ধে এ ধরনের ড্রোনের ব্যাপক ব্যবহার বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কেড়েছে। ড্রোনের পাশাপাশি প্রতিরোধব্যবস্থা শক্তিশালী করতেও কাজ করছে দক্ষিণ কোরিয়া। লেজার এবং উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন মাইক্রোওয়েভ অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে শত্রুপক্ষের ড্রোন দ্রুত শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা যায়। উত্তর কোরিয়ার ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২২ সালে উত্তর কোরিয়ার পাঁচটি ছোট ড্রোন দক্ষিণ কোরিয়ার আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করেছিল। এর মধ্যে একটি রাজধানী সিউলে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সংরক্ষিত এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। ওই সময় দক্ষিণ কোরিয়ার বাহিনী যুদ্ধবিমান ও আক্রমণ হেলিকপ্টার মোতায়েন করে প্রায় ১০০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে, কিন্তু কোনো ড্রোন ভূপাতিত করতে পারেনি। ঘটনাটি দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সামরিক সম্পর্কের ফলে উত্তর কোরিয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশল থেকে তারা সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে, যা সাধারণ অবস্থায় অর্জন করতে দীর্ঘ সময় লাগত। এদিকে উত্তর কোরিয়া জানিয়েছে, তাদের নেতা কিম জং-উন সম্প্রতি কৌশলগত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত রকেট আর্টিলারি ব্যবস্থার পরীক্ষানিরীক্ষা তদারক করেছেন। সব মিলিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ড্রোন-কেন্দ্রিক পরিকল্পনাকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধের প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।