Live update news
ছবি: সংগৃহীত
বেসরকারি স্কুলে বাড়তি ট্যাক্স বসালেও কমেনি শিক্ষার্থী, দাবি ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রীর

যুক্তরাজ্যে বেসরকারি স্কুলের টিউশন ফির ওপর ২০ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা সত্ত্বেও সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের কোনো গণজোয়ার বা চাপ তৈরি হয়নি। ইংল্যান্ডের সর্বশেষ স্কুল ভর্তি সংক্রান্ত সরকারি তথ্য প্রকাশের পর এই দাবি করেছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন। লেবার সরকার ২০২৫ সালের শুরু থেকে বেসরকারি স্কুলের ফির ওপর এই কর আরোপ করে, যা আগে করমুক্ত ছিল। এর ফলে সরকারি স্কুলগুলো নতুন শিক্ষার্থী দিয়ে উপচে পড়বে বলে যে আশঙ্কা করা হয়েছিল, নতুন পরিসংখ্যানে তা পুরোপুরি ভুল প্রমাণিত হয়েছে।   নতুন প্রকাশিত এই ডাটাটি মূলত গত বছরের অক্টোবর মাসে আগামী সেপ্টেম্বর শিক্ষাবর্ষের জন্য করা আবেদনগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ব্রিটিশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের (ডিএফই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক উভয় স্তরের স্কুলেই মোট আবেদনের সংখ্যা আগের চেয়ে হ্রাস পেয়েছে। এমনকি লন্ডনের হ্যামারস্মিথ, ফুলহাম এবং কেনসিংটনের মতো ধনী এলাকাগুলোতেও, যেখানে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বেসরকারি স্কুলে পড়ে, সেখানেও সরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদনের হার গত দুই বছরের তুলনায় কম দেখা গেছে।   শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন এই প্রসঙ্গে সমালোচকদের ধুয়ে দিয়ে বলেন, "বেসরকারি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের সরকারি স্কুলে চলে যাওয়ার যে ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছিল, তা মোعتها ঘটেনি। সমালোচকরা বলেছিলেন সরকারি স্কুলগুলো নতুন শিক্ষার্থী সামলাতে হিমশিম খাবে এবং বেসরকারি স্কুলগুলো দলে দলে বন্ধ হয়ে যাবে, কিন্তু তাদের সেই ধারণা ভুল ছিল।" তিনি আরও জানান, সরকার এখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করছে যাতে সরকারি স্কুলে পড়া ৯৪ শতাংশ সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর মূল ফোকাস রাখা যায়।   শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা অবশ্য মনে করছেন, যুক্তরাজ্যে জন্মহার কমে যাওয়া এবং ব্রেক্সিট-পরবর্তী জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের কারণে এই ভ্যাট আরোপের আসল প্রভাব হয়তো পুরোপুরি দৃশ্যমান হচ্ছে না। ডিএফই-এর ২০২৬ সালের জরিপ অনুযায়ী, সব মিলিয়ে সামগ্রিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ দশমিক ২ শতাংশ কমলেও স্বাধীন বা বেসরকারি স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে, যা সংখ্যায় প্রায় ২২ হাজার। তবে ভ্যাট থেকে সরকারের আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি হচ্ছে এবং ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে এর পরিমাণ বছরে ১.৮ বিলিয়ন পাউন্ডে পৌঁছাবে।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের সময় বেসরকারি স্কুলের ওপর ভ্যাট আরোপ করা লেবার পার্টির একটি অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল। এই খাত থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অর্থ দিয়ে বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরকারি স্কুলগুলোর জন্য অতিরিক্ত ৬ হাজার ৫০০ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

১১ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে দুবাইয়ের আবাসন খাতে ধস, বিলাসবহুল বাড়ির দাম কমছে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুবাইয়ের বিলাসবহুল আবাসন খাতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল এই রিয়েল এস্টেট বাজারে বেচাকেনা আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে বলে বাজার বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন। দুবাই-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভ্যালুস্ট্র্যাট’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে আবাসন বিক্রি প্রায় ১৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বর্তমান লেনদেনের এই হার গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে।   ভ্যালুস্ট্র্যাট-এর আবাসন গবেষণা বিভাগের প্রধান হায়দার তুয়াইমা জানান, বৈশ্বিক মহামারির পর থেকে তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাটের বাজারে এত বড় ধরনের বার্ষিক পতন আর দেখা যায়নি। অন্যদিকে দুবাইয়ের আরেকটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘রেইডিন’-এর পৃথক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে মাসে দুবাইয়ে মাত্র ২২ দশমিক ৫ বিলিয়ন দিরহামের (৬.১ বিলিয়ন ডলার) সম্পত্তি বিক্রি হয়েছে, যা এপ্রিল মাসের তুলনায় ৪২ শতাংশ কম। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের মাসের তুলনায় এই বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক।   দুবাইয়ে গত কয়েক বছর ধরে শূন্য আয়কর নীতির কারণে বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের আগমনে আবাসন খাতে এক অভাবনীয় জোয়ার এসেছিল। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে যায়। বিশেষ করে মার্চ মাসে দুবাইয়ের বিখ্যাত পাম জুমেইরাহ এলাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পর পুরো বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন শান্তি চুক্তি হলেও বাজার কত দ্রুত স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।   আবাসন ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ধস ঠেকাতে বিলাসবহুল ভিলা ও ফ্ল্যাটের বিক্রেতারা এখন কোটি কোটি টাকা দাম কমাতে বাধ্য হচ্ছেন। অত্যন্ত দামি সম্পত্তি কেনাবেচায় নিয়োজিত এক এজেন্ট জানান, বর্তমানে যে দু-একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর দাম যুদ্ধপূর্ববর্তী মূল্যের চেয়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। গত দেড় বছরে দুবাইয়ে বাড়ি কেনা অতি-ধনী ক্রেতাদের প্রায় সবাই ইতিমধ্যে দুবাই ছেড়ে চলে গেছেন। বিশেষ করে পশ্চিম ইউরোপের ক্রেতারা এখন দুবাইয়ে সম্পত্তি কেনা থেকে দীর্ঘ মেয়াদে বিরত থাকছেন।   গত ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ লন্ডন, নিউইয়র্ক ও হংকংকে পেছনে ফেলে বিলাসবহুল আবাসনের ক্ষেত্রে দুবাই ছিল বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ততম শহর। কিন্তু ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দুবাইয়ের এই অবস্থান এখন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। আন্তর্জাতিক পরিব্রাজক অতি-ধনীরা এখন দুবাই ছেড়ে মিলান, লন্ডন এবং সিঙ্গাপুরের মতো নিরাপদ আন্তর্জাতিক শহরের দিকে ঝুঁকছেন। এই আকস্মিক ধসের কারণে দুবাইয়ে গড়ে ওঠা শত শত ছোট রিয়েল এস্টেট ব্রোকার এজেন্সি এখন ব্যবসা বন্ধ করার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

১৯ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
ধনীদের ভোগবিলাসে পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ উচ্চ-ভোগকারী বা ‘মেগা-ভোক্তা’ মানুষের অতিরিক্ত খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেয়েও অনেক বড়। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক নতুন গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংকটের জন্য ধনী দেশগুলোর অতিরিক্ত ভোগবিলাসকে সরাসরি দায়ী করছে।   বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অতি-ভোগকারী বা মেগা-ভোক্তাদের সিংহভাগই মূলত বাস করেন ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গবেষকরা এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন, যা পৃথিবীর জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দুটি ক্ষেত্র হলো খাদ্য ও জ্বালানি। বিশেষ করে রেড মিট বা লাল মাংসের অতিরিক্ত চাহিদা বিশ্বজুড়ে বন উজাড়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘন ঘন বিমান ভ্রমণ এবং বাড়িঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম রাখার জন্য কয়লা, গ্যাস ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের এই ক্ষতিকে বহুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বার্ষিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশটি (৪৭-৫৬ শতাংশ) হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এবং বাকি ৩৬-৪৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় থাকা একজন মানুষের কারণে গড়ে বার্ষিক ২,৩০০ থেকে ৭,৫০০ ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়। তবে এই হিসাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও কয়েকগুণ বেশি, যেখানে জনপ্রতি বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১৯,০০০ থেকে ৬৩,০০০ ডলার। এদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ধনী পরিবারগুলোও দ্রুত এই তালিকায় এগিয়ে আসছে, যার ফলে বর্তমানে চীনের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের পরিবেশগত ক্ষতির গড় পরিমাণ জার্মানির শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে।   গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত পরিবেশগত খরচের পরিমাণ এই ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এই হিসাবে ধনীদের বিনিয়োগ বা শেয়ার বাজারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট যুক্ত করা হয়নি। পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের এক সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ শীর্ষ ধনীর আর্থিক বিনিয়োগের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা বিশ্বের সরকারগুলোকে ধনীদের বিলাসবহুল পণ্য, অতিরিক্ত সম্পদ এবং কার্বন ব্যবহারের ওপর বিশেষ ট্যাক্স বা কর আরোপের জোর সুপারিশ করেছেন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

২৭ মিনিট Ago
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ | ছবি: সংগৃহীত
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর, সুইজারল্যান্ড সফর স্থগিত করলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মাঝে বহুল প্রত্যাশিত শান্তি চুক্তি অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তি স্বাক্ষরের ঐতিহাসিক সাক্ষী হতে সুইজারল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা স্থগিত করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক মুখপাত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে এই সফরের স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।   প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি সংবাদমাধ্যমকে জানান, ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইতিমধ্যে ইলেকট্রনিক উপায়ে দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ও কার্যকর হয়েছে। বর্তমানে এই চুক্তিটি মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আর এই কারণেই প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের পূর্বনির্ধারিত প্রস্তাবিত সুইজারল্যান্ড সফরটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের পরবর্তী কৌশলগত ও আন্তর্জাতিক কয়েক স্তরের প্রক্রিয়ায় পাকিস্তানের সমর্থন ও সহযোগিতা সর্বদা অব্যাহত থাকবে।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, দুই দেশের মধ্যকার এই সমঝোতা স্মারক অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাৎক্ষণিকভাবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রধান রুট হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে এবং এর বিপরীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও ওই অঞ্চলে আরোপিত তাদের নৌ-অবরোধ অবিলম্বে প্রত্যাহার করে নেবে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সহযোগীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্বের শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন শেষে ফ্রান্সের প্যালেস অব ভার্সাইয়ে মোমবাতির আলোয় নৈশভোজের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। সেই বিশেষ মুহূর্তে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং উপস্থিত অন্যান্য বিশ্বনেতারা তালি দিয়ে এই চুক্তিকে স্বাগত জানান। প্রাসাদ থেকে বের হওয়ার সময় ট্রাম্প সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘‘এইমাত্র চুক্তিতে স্বাক্ষর করলাম।’’   অন্যদিকে এই চুক্তির চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরান প্রশাসনও। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির মূল দলিলটি দুই দেশের প্রেসিডেন্টদের আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মাধ্যমেই চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার অবসান ঘটবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল।   সূত্র: এএফপি এবং ডন

৩৫ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা
মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় আইনি অভিযান শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের পর এবার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) আমেরিকানদের টার্গেট করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জালিয়াতি বা তথ্য গোপন করে যারা মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাদের নাগরিকত্ব বাতিল করতে এক নজিরবিহীন আইনি অভিযান শুরু করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। আগামী অক্টোবর মাসের মধ্যে অন্তত ২৫০ জন মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে এই সংক্রান্ত মামলা করার চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের এক শীর্ষ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   আরো পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনা এখন বিলাসিতা, সাধারণ ‘স্টার্টার হোম’ কিনতেও লাগছে ১০ লাখ ডলার   প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের গত দুই মাসেরও কম সময়ে বিচার বিভাগ ইতিমধ্যে ২৯ জন বিদেশি-জাত মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। গত ২০০৮ থেকে ২০২৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত যেখানে বছরে গড়ে মাত্র ১০টির মতো নাগরিকত্ব বাতিলের (ডিন্যাচারালাইজেশন) মামলা হতো, সেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের এই গতি আগের সব রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত বিরল এবং জটিল হলেও ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।   ভিডিও দেখুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের স্বপ্ন দেখছেন? জেনে নিন গ্রিন কার্ড পাওয়ার সহজ পথ   পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন বিচার বিভাগ জালিয়াতি দমনসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ থেকে সিভিল আইনজীবীদের সরিয়ে এনে এই ‘নাগরিকত্ব বাতিল ইউনিটে’ নিয়োগ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়া একটি বিশেষ সুযোগ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃঢ় নেতৃত্বে এই প্রক্রিয়ার যেকোনো ধরনের অপব্যবহারের বিরুদ্ধে তাদের নীতি হলো ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা।   বিচার বিভাগ জানিয়েছে, মূলত যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার সময় বা তার আগে বড় ধরনের জালিয়াতি করেছেন, অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌন নিপীড়নে জড়িত ছিলেন, কিংবা সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সমর্থন ব্যক্ত করেছিলেন—তাদেরই নাগরিকত্ব বাতিলের জন্য চিহ্নিত করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন যদি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলায় জয়ী হয়, তবে ওই ব্যক্তি তার মার্কিন নাগরিকত্ব হারাবেন এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার আগের অভিবাসী স্ট্যাটাসে (যেমন- পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ড) ফিরে যাবেন। এমনকি অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টও করা হতে পারে।   তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগের প্রশাসনগুলো (যেমন- বাইডেন প্রশাসন চার বছরে মাত্র ২৪টি মামলা করেছিল) কেবল যুদ্ধাপরাধী বা বড় সন্ত্রাসীদের ক্ষেত্রেই এই পদক্ষেপ নিত। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন সাধারণ কাগজের ভুলত্রুটি বা ছোটখাটো তথ্য গোপনের বিষয়গুলোকেও এই আইনের আওতায় এনে চাপ সৃষ্টি করছে, যা আইনি প্রক্রিয়া ও আদালতের ওপর বিশাল চাপ তৈরি করবে। উল্লেখ্য, এই আইনটি কেবল অন্য দেশ থেকে এসে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে; যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়া আমেরিকানদের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর নয়।   সূত্র: সিএনএন

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:৩৫
ছবি: সংগৃহীত
এক ভিসায় ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও লাতিন আমেরিকার ২২ দেশ ভ্রমণের সুযোগ

বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে যুক্তরাজ্যের (ইউকে) ভিসা এখন আর শুধু ব্রিটেনে প্রবেশের অনুমতিপত্র নয়, বরং বহুদেশ ভ্রমণের একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবেও গুরুত্ব পাচ্ছে। বৈধ ও ব্যবহৃত ইউকে ভিসা অথবা যুক্তরাজ্যের আবাসিক অনুমতিপত্র থাকলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশে সহজ শর্তে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। ফলে একটি ভিসা ব্যবহার করেই একাধিক দেশ ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশি পর্যটক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের মধ্যে ইউকে ভিসার প্রতি আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে।   ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈধ ইউকে ভিসাধারী বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অন্তত ২২টি দেশে ভিসামুক্ত, অন-অ্যারাইভাল ভিসা কিংবা সহজীকৃত প্রবেশ সুবিধা পেতে পারেন। এতে আলাদা আলাদা ভিসার জন্য আবেদন, অতিরিক্ত ফি এবং দীর্ঘ অপেক্ষার ঝামেলা অনেকাংশে কমে যায়।   বর্তমানে ইউকে ভিসাধারীদের জন্য সুবিধাজনক গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে আলবেনিয়া, সার্বিয়া, মন্টিনিগ্রো, নর্থ মেসিডোনিয়া, জর্জিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, মিশর, আজারবাইজান, মেক্সিকো, কোস্টারিকা, পানামা, ডোমিনিকান রিপাবলিক, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, অ্যাঙ্গুইলা, ব্রিটিশ ভার্জিন দ্বীপপুঞ্জ এবং তুর্কস অ্যান্ড কাইকোস দ্বীপপুঞ্জ। এছাড়া যুক্তরাজ্যের অন্তর্ভুক্ত স্কটল্যান্ড, ওয়েলস, উত্তর আয়ারল্যান্ডসহ অন্যান্য অঞ্চলেও একই ভিসায় ভ্রমণ করা যায়।   ভ্রমণসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপের শেনজেনভুক্ত দেশগুলোর ভিসা পাওয়া তুলনামূলক কঠিন হয়ে উঠেছে। অনেক আবেদনকারী স্বল্পমেয়াদি ভিসা পাচ্ছেন, আবার আবেদন প্রক্রিয়াও দীর্ঘ ও জটিল হয়ে পড়েছে। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা আবেদনেও কঠোর যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়ার কারণে অনিশ্চয়তা থাকে।   এমন পরিস্থিতিতে ইউকে ভিসা আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবসম্মত বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। একবার যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া গেলে শুধু ব্রিটেন নয়, বরং ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের সুযোগ তৈরি হয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুপরিকল্পিত ভ্রমণসূচির মাধ্যমে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে একই সফরে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব। এতে শুধু সময়ই সাশ্রয় হয় না, সামগ্রিক ভ্রমণ ব্যয়ও কমে আসে। অনেক ভ্রমণকারী এখন ইউকে ভিসাকে ‘মাল্টি-ডেস্টিনেশন ট্রাভেল স্ট্র্যাটেজি’র অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।   তবে সব দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের সুবিধা প্রযোজ্য নয়। কোনো দেশে ভিসামুক্ত প্রবেশের সুযোগ থাকলেও অন্য কোনো দেশে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বা ইলেকট্রনিক ভিসার প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ইউকে ভিসা অবশ্যই ব্যবহার করা থাকতে হবে অথবা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে।   ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিভিন্ন দেশের অভিবাসন ও ভিসা নীতিমালা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাস, কনস্যুলেট বা সরকারি অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।   এদিকে ইউকে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা, আয়ের উৎস, পেশাগত তথ্য, ব্যাংক হিসাবের লেনদেন, ভ্রমণ ইতিহাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো ধরনের ভুয়া বা জাল কাগজপত্র ব্যবহার করলে শুধু আবেদন বাতিলই নয়, ভবিষ্যতে দীর্ঘমেয়াদি ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, স্বচ্ছ আর্থিক তথ্য, সঠিক নথিপত্র এবং সুস্পষ্ট ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে ইউকে ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। আর একবার সেই ভিসা হাতে এলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের একাধিক দেশ ঘুরে দেখার সুযোগও তৈরি হয়, যা বাংলাদেশি ভ্রমণপ্রেমীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে দুঃসাহসিক হামলার বিবরণ দিলেন ইরানি পাইলটরা

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে চালানো অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা প্রকাশ্যে এনেছেন ইরানের বিমানবাহিনীর কয়েকজন পাইলট। টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা ওই অভিযানের নানা দিক তুলে ধরেন এবং মিশনটির সফলতা নিয়ে একাধিক দাবি করেন।   ইরানি পাইলটদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মার্চে কুয়েতের ‘ক্যাম্প বুহরিং’ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ঘাঁটিটিতে হামলার পরিকল্পনা ইরানে বিদেশি হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।   অভিযানে অংশ নেওয়া এক কমান্ডার জানান, শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে যেতে তারা অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নের কৌশল গ্রহণ করেন। তার দাবি, কিছু এলাকায় যুদ্ধবিমানগুলো মাত্র ৫০ ফুট উচ্চতায় উড়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিচ দিয়েও অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, অভিযানের পুরো সময় তারা বেতার যোগাযোগে নীরবতা বজায় রেখেছিলেন, যাতে অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের জলসীমার কাছাকাছি অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   পাইলটদের দাবি অনুযায়ী, ইরানি যুদ্ধবিমানগুলো দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় প্রবেশ করে এবং ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা নিক্ষেপ করে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য তারা প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও জানান।   সাক্ষাৎকারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করা হয়। ইরানি কমান্ডারের ভাষ্যমতে, হামলার সময় সৃষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করে গুলি করে ভূপাতিত করে। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র বা আনুষ্ঠানিক মার্কিন-কুয়েতি নিশ্চিতকরণের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক পাইলট বলেন, মিশনে অংশ নেওয়ার সময় তারা নিজেদের জীবনের চেয়ে দেশের নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার দাবি, অভিযানে অংশ নেওয়া অনেকেই নিশ্চিত ছিলেন না যে তারা জীবিত ফিরে আসতে পারবেন।   ইরানি পাইলটদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো অভিযানটি প্রায় ৫০ মিনিট স্থায়ী ছিল এবং পরিকল্পনার বিষয়টি আগে থেকে খুব সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তার জানা ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে নানা দাবি করে থাকে। এ ধরনের বক্তব্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বাধীন সূত্র, স্যাটেলাইট তথ্য, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিভিন্ন সামরিক অভিযান, পাল্টা হামলা এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে তথ্যযুদ্ধও তীব্র হয়েছে। ফলে এমন দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা পাকিস্তানের

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে পাকিস্তান নৌবাহিনী। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ নৌ কর্মকর্তা বলেছেন, নতুন হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন বহর পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে আরও সক্রিয় উপস্থিতি নিশ্চিত করার সক্ষমতা দেবে।   সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার সংবাদপত্র দ্য মর্নিং–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন পাকিস্তান নৌবাহিনীর কমোডর ওমর ফারুক। সাক্ষাৎকারের তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সহায়তায় নির্মিত ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি আধুনিক সাবমেরিন সম্প্রতি পাকিস্তান নৌবাহিনীতে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাবমেরিনটি গ্রহণের জন্য পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন কমোডর ওমর ফারুক। চীন থেকে ফেরার পথে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে অবস্থানকালে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করেন।   সাক্ষাৎকারে কমোডর ফারুক বলেন, হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানের সামুদ্রিক সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। তার ভাষায়, এই শ্রেণির সাবমেরিন পাকিস্তানকে বঙ্গোপসাগরে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়ার সুযোগ করে দেবে।   তিনি আরও জানান, শুধু একটি নয়, একই শ্রেণির আরও সাতটি সাবমেরিন পর্যায়ক্রমে পাকিস্তান নৌবাহিনীতে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই বহর ভবিষ্যতে বঙ্গোপসাগর এলাকায় পাকিস্তানের নৌ উপস্থিতি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।   বিষয়টি বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে কারণ ১৯৭১ সালের পর থেকে বঙ্গোপসাগরে পাকিস্তানের নৌবাহিনীর উপস্থিতি কার্যত সীমিত হয়ে যায়। স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর ‘পিএনএস হ্যাঙ্গর’ নামের একটি সাবমেরিন এই অঞ্চলে মোতায়েন ছিল। তবে ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর পাকিস্তানের সামুদ্রিক কার্যক্রম মূলত আরব সাগরকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে বঙ্গোপসাগর শুধু আঞ্চলিক নয়, আন্তর্জাতিক কৌশলগত প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভারত, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোর জন্য এই জলসীমা বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং নিরাপত্তার দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশেষ করে ভারত দীর্ঘদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা ভোগ করে আসছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় নৌ কমান্ডের সদর দপ্তর বিশাখাপত্তনমে অবস্থিত। এছাড়া আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের অবস্থান ভারতকে এই অঞ্চলে বাড়তি সামুদ্রিক সক্ষমতা দিয়েছে। সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাকিস্তানের নতুন সাবমেরিন কর্মসূচি মূলত নৌ সক্ষমতা আধুনিকীকরণের অংশ। তবে বঙ্গোপসাগরে উপস্থিতি বৃদ্ধির পরিকল্পনা দক্ষিণ এশিয়ার সামুদ্রিক ভূরাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।   চীনের সহায়তায় নির্মিত হ্যাঙ্গর-শ্রেণির সাবমেরিনগুলোকে পাকিস্তান নৌবাহিনী তাদের ভবিষ্যৎ কৌশলগত সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছে। কমোডর ওমর ফারুক সাক্ষাৎকারে এই সাবমেরিনগুলোকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলেও উল্লেখ করেছেন।   তবে এ বিষয়ে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মোতায়েন পরিকল্পনা বা সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বঙ্গোপসাগরে এই উপস্থিতি কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে এখনো বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।   পর্যবেক্ষকদের মতে, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা ইস্যুর প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের এই পরিকল্পনা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কৌশলগত সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা | ছবি: সংগৃহীত
সেরা তরুণ বিজ্ঞানীর আন্তর্জাতিক তালিকায় স্থান পেলেন বাংলাদেশের অনন্যা

বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্টিফিক আমেরিকান-এর প্রথম ‘ইয়াং আমেরিকান সায়েন্টিস্টস’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জ্যোতির্পদার্থবিজ্ঞানী তনিমা তাসনিম অনন্যা। কর্মজীবনের শুরুতেই বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখছেন এবং ভবিষ্যতে নিজেদের ক্ষেত্রকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করতে পারেন, এমন গবেষকদের নিয়ে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্বের শত শত খ্যাতিমান বিজ্ঞানীর মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা অনন্য এই তালিকায় অনন্যাসহ বিশ্বের মাত্র ২৮ জন তরুণ গবেষক স্থান পেয়েছেন, যারা বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গবেষণা করছেন।   মহাবিশ্বের অজানা রহস্যের সমাধান খোঁজা তনিমা তাসনিম অনন্যা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েইন স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞান ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। এর আগে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ইয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় হচ্ছে সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল বা অতিভারী কৃষ্ণগহ্বর। ঢাকায় বেড়ে ওঠার সময় লোডশেডিংয়ের রাতে আকাশের তারার দিকে তাকিয়ে থাকার মুগ্ধতা থেকেই মূলত তাঁর মহাবিশ্ব নিয়ে কৌতূহলের জন্ম হয়।   অনন্যার বিজ্ঞানী হয়ে ওঠার পেছনে তাঁর মায়ের একটি অনুপ্রেরণামূলক ঘটনা রয়েছে। তাঁর বয়স যখন মাত্র পাঁচ বা ছয় বছর, তখন বাংলাদেশের এক মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে ওঠার সময় তাঁর গৃহিণী মা খবরের কাগজে মঙ্গল গ্রহে মার্স পাথফাইন্ডার মিশনের সফলতার খবর পড়ে দারুণ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। মায়ের সেই আনন্দ ও আলোচনা ছোট্ট অনন্যার মনে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং তিনি বুঝতে পারেন যে এই পৃথিবীর বাইরেও এক বিশাল ও বিস্ময়কর জগৎ রয়েছে। সেই কৌতূহলই পরবর্তীতে তাঁকে কৃষ্ণগহ্বর গবেষণার জগতে নিয়ে আসে।   আমাদের মায়াপথ মিল্কিওয়ের কেন্দ্রে থাকা ‘স্যাজিটেরিয়াস এ*’ নামক শান্ত সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোলটি অতীতে কতটা সক্রিয় ছিল এবং কীভাবে এটি পুরো ছায়াপথকে প্রভাবিত করে, তা অনন্যার গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয়। যেসব সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল দ্রুতগতিতে পদার্থ গ্রাস করে ‘অ্যাকটিভ গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস’ বা এজিএন সৃষ্টি করে, সেগুলোকে বোঝার চেষ্টা করছেন তিনি। এই ব্ল্যাকহোলগুলোকে ঘিরে থাকা গ্যাস ও ধূলিকণার বিশাল বলয় বা ‘টোরাস’ অনেক সময় পর্দার মতো কাজ করে আসল অংশকে আড়াল করে রাখে, যা সরাসরি দেখা কঠিন।   জটিল এই সমস্যার সমাধান খুঁজতে অনন্যা দৃশ্যমান আলো, অবলোহিত রশ্মি এবং এক্সরে পর্যবেক্ষণ একসঙ্গে বিশ্লেষণ করে কাজ করছেন। তাঁর গবেষণা থেকে জানা গেছে যে, ব্ল্যাকহোলকে আড়াল করে রাখা টোরাসের আকার ও অবস্থান মূলত ব্ল্যাকহোলের কেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণই নিয়ন্ত্রণ করে। সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাকহোল সম্পর্কে অনন্যা জানান, এই দানবাকার কৃষ্ণগহ্বর এবং তারা যে ছায়াপথে অবস্থান করে, দুটিই সম্ভবত একসঙ্গে বিবর্তিত হয়। তবে এদের এই গভীর সম্পর্কের অনেক দিকই এখনও বিজ্ঞানীদের কাছে রহস্যে ঘেরা রয়েছে।   সূত্র: সায়েন্টিফিক আমেরিকান

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে আটলান্টায় দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রবাসীদের মিলনমেলা

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টা শহরে চলমান ফিফা পুরুষ ফুটবল বিশ্বকাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও চেক প্রজাতন্ত্রের প্রবাসী কমিউনিটির মধ্যে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’-এর এই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে দুই দেশ। দুই দলের জন্যই টুর্নামেন্টে টিকে থাকার লড়াই হিসেবে দেখা দেওয়া এই ম্যাচটি নিয়ে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফলে আটলান্টায় বসবাসরত দক্ষিণ আফ্রিকান প্রবাসীদের মধ্যে এই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। ‘ইউএসএ-তে সাউথ আফ্রিকান চেম্বার অব কমার্স’-এর সভাপতি ও সদস্যরা দলবেঁধে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার প্রস্তুতি নিয়েছেন। স্যান্ডি স্প্রিংসের বাসিন্দা সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী ভান্দা সাইতোভিটস বলেন, "আসুন জয়ের জন্য খেলি, আমাদের জাতীয় সঙ্গীত গাই। প্রবাসী হিসেবে এই মঞ্চে আমরা অত্যন্ত গর্বিত।"   আটলান্টার আরেক সাউথ আফ্রিকান প্রবাসী নীল ডায়মন্ড বলেন, "এই ম্যাচটি আমাদের নিজ দেশের সাথে নতুন করে যুক্ত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। এটি আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত জাতীয় ঐক্য ও গর্বের অনুভূতি এনে দিয়েছে, যেন মনে হচ্ছে আমাদের নিজের বাড়িটাই আটলান্টার দোরগোড়ায় চলে এসেছে।" নীল ডায়মন্ড খেলা দেখার জন্য তার ঐতিহ্যবাহী রঙিন ‘মোকোরোতলো’ হ্যাট এবং স্টেডিয়াম কাঁপানোর ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘ভুবুজেলা’ নিয়ে মাঠে যাওয়ার প্রস্তুতি দেখান, যা দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রীড়া সংস্কৃতির অন্যতম বড় প্রতীক।   অন্যদিকে, চেক প্রজাতন্ত্রের সমর্থকরাও তাদের জাতীয় দলকে সমর্থন দিতে সমভাবে প্রস্তুত। ম্যাচটিকে সামনে রেখে হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক টার্মিনালে চেক প্রজাতন্ত্রের অনারারি কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে আগত আন্তর্জাতিক দর্শকদের জন্য একটি বিশেষ অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং সঙ্গীতের মাধ্যমে সেখানে চেক সমর্থকদের স্বাগত জানানো হয়।   আটলান্টায় বসবাসরত চেক প্রবাসী মিলাদা বোহাকোভা আত্মবিশ্বাসের সাথে বলেন, "আমরাই জিতব, এটা নিশ্চিত। ঠিক ৩০ বছর আগে এখানে (আটলান্টায়) অলিম্পিক অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেবার আমরা অনেক পদক জিতে সফল হয়েছিলাম। আমি আশা করি এবার আমরা বিশ্বকাপেও জয়ী হব।" উল্লেখ্য, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং চেক প্রজাতন্ত্র দুই দলই তাদের প্রথম ম্যাচে হেরে (০-১ ব্যবধানে) কিছুটা ব্যাকফুটে রয়েছে। ফলে টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম জয়ের খোঁজে থাকা দুই দলের জন্যই এই ম্যাচটি অত্যন্ত বাঁচা-মরার লড়াই।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
ধনীদের ভোগবিলাসে পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার, চাঞ্চল্যকর তথ্য
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ১২:২৬

বিশ্বের মাত্র ১০ শতাংশ উচ্চ-ভোগকারী বা ‘মেগা-ভোক্তা’ মানুষের অতিরিক্ত খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পৃথিবীর পরিবেশের বার্ষিক ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলার। এই ক্ষতির পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্র ও চীন ছাড়া বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির চেয়েও অনেক বড়। যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের গবেষকদের যৌথ এক নতুন গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা বৈশ্বিক জলবায়ু ও জীববৈচিত্র্য সংকটের জন্য ধনী দেশগুলোর অতিরিক্ত ভোগবিলাসকে সরাসরি দায়ী করছে।   বিশ্বখ্যাত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় এবং লাইডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই অতি-ভোগকারী বা মেগা-ভোক্তাদের সিংহভাগই মূলত বাস করেন ‘গ্লোবাল নর্থ’ বা বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে। যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেকেরও বেশি জনসংখ্যা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মানুষ অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। গবেষকরা এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ বলে বর্ণনা করেছেন, যা পৃথিবীর জীবন রক্ষাকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।   গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবেশের জন্য সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দুটি ক্ষেত্র হলো খাদ্য ও জ্বালানি। বিশেষ করে রেড মিট বা লাল মাংসের অতিরিক্ত চাহিদা বিশ্বজুড়ে বন উজাড়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে ঘন ঘন বিমান ভ্রমণ এবং বাড়িঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম রাখার জন্য কয়লা, গ্যাস ও তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের এই ক্ষতিকে বহুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই বার্ষিক ক্ষতির সবচেয়ে বড় অংশটি (৪৭-৫৬ শতাংশ) হচ্ছে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের কারণে এবং বাকি ৩৬-৪৫ শতাংশ ক্ষতি হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈশ্বিক শীর্ষ ১০ শতাংশের তালিকায় থাকা একজন মানুষের কারণে গড়ে বার্ষিক ২,৩০০ থেকে ৭,৫০০ ডলারের পরিবেশগত ক্ষতি হয়। তবে এই হিসাব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ক্ষেত্রে আরও কয়েকগুণ বেশি, যেখানে জনপ্রতি বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ১৯,০০০ থেকে ৬৩,০০০ ডলার। এদিকে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর ধনী পরিবারগুলোও দ্রুত এই তালিকায় এগিয়ে আসছে, যার ফলে বর্তমানে চীনের শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষের পরিবেশগত ক্ষতির গড় পরিমাণ জার্মানির শীর্ষ ১০ শতাংশ মানুষকেও ছাড়িয়ে গেছে।   গবেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, প্রকৃত পরিবেশগত খরচের পরিমাণ এই ৫.৭ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়েও অনেক বেশি হতে পারে, কারণ এই হিসাবে ধনীদের বিনিয়োগ বা শেয়ার বাজারের কার্বন ফুটপ্রিন্ট যুক্ত করা হয়নি। পরিবেশবাদী সংস্থা গ্রিনপিসের এক সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ শীর্ষ ধনীর আর্থিক বিনিয়োগের কারণে প্রতি বছর প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলারের জলবায়ু বিপর্যয় ঘটছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গবেষকরা বিশ্বের সরকারগুলোকে ধনীদের বিলাসবহুল পণ্য, অতিরিক্ত সম্পদ এবং কার্বন ব্যবহারের ওপর বিশেষ ট্যাক্স বা কর আরোপের জোর সুপারিশ করেছেন।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

ছবি: সংগৃহীত
কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে দুঃসাহসিক হামলার বিবরণ দিলেন ইরানি পাইলটরা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৮:৩১

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে চালানো অভিযানের বিস্তারিত বর্ণনা প্রকাশ্যে এনেছেন ইরানের বিমানবাহিনীর কয়েকজন পাইলট। টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারা ওই অভিযানের নানা দিক তুলে ধরেন এবং মিশনটির সফলতা নিয়ে একাধিক দাবি করেন।   ইরানি পাইলটদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত মার্চে কুয়েতের ‘ক্যাম্প বুহরিং’ সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত ঘাঁটিটিতে হামলার পরিকল্পনা ইরানে বিদেশি হামলা শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল বলে দাবি করেন তারা।   অভিযানে অংশ নেওয়া এক কমান্ডার জানান, শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে যেতে তারা অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড্ডয়নের কৌশল গ্রহণ করেন। তার দাবি, কিছু এলাকায় যুদ্ধবিমানগুলো মাত্র ৫০ ফুট উচ্চতায় উড়ে গেছে এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের নিচ দিয়েও অতিক্রম করেছে। তিনি বলেন, অভিযানের পুরো সময় তারা বেতার যোগাযোগে নীরবতা বজায় রেখেছিলেন, যাতে অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। একই সঙ্গে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের জলসীমার কাছাকাছি অত্যন্ত নিচু উচ্চতায় উড়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   পাইলটদের দাবি অনুযায়ী, ইরানি যুদ্ধবিমানগুলো দ্রুতগতিতে লক্ষ্যবস্তু এলাকায় প্রবেশ করে এবং ঘাঁটির বিভিন্ন স্থাপনায় বোমা নিক্ষেপ করে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য তারা প্রত্যক্ষ করেছেন বলেও জানান।   সাক্ষাৎকারে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি করা হয়। ইরানি কমান্ডারের ভাষ্যমতে, হামলার সময় সৃষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে কুয়েতের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে শনাক্ত করে গুলি করে ভূপাতিত করে। তবে এই দাবির পক্ষে স্বাধীন কোনো আন্তর্জাতিক সূত্র বা আনুষ্ঠানিক মার্কিন-কুয়েতি নিশ্চিতকরণের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   অভিযানে অংশ নেওয়া আরেক পাইলট বলেন, মিশনে অংশ নেওয়ার সময় তারা নিজেদের জীবনের চেয়ে দেশের নিরাপত্তাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তার দাবি, অভিযানে অংশ নেওয়া অনেকেই নিশ্চিত ছিলেন না যে তারা জীবিত ফিরে আসতে পারবেন।   ইরানি পাইলটদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো অভিযানটি প্রায় ৫০ মিনিট স্থায়ী ছিল এবং পরিকল্পনার বিষয়টি আগে থেকে খুব সীমিত সংখ্যক কর্মকর্তার জানা ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক সংঘাতের সময় বিভিন্ন পক্ষ নিজেদের সাফল্য তুলে ধরতে নানা দাবি করে থাকে। এ ধরনের বক্তব্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে স্বাধীন সূত্র, স্যাটেলাইট তথ্য, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার পর বিভিন্ন সামরিক অভিযান, পাল্টা হামলা এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও তাদের মিত্রদের মধ্যে তথ্যযুদ্ধও তীব্র হয়েছে। ফলে এমন দাবিগুলোর সত্যতা যাচাই নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি উত্তেজনার প্রভাবে হংকংয়ে ক্লড এআই নিষিদ্ধ জেপিমরগানের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৮:২০

বর্তমানে মূল ভূখণ্ড চীনে অনেক পশ্চিমা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার সীমিত বা নিষিদ্ধ। তবে হংকংয়ে তুলনামূলকভাবে কিছু আন্তর্জাতিক এআই সেবা এখনও সীমিত আকারে ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে জেপিমরগানের এই সিদ্ধান্ত বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়লেও তথ্যের গোপনীয়তা, গ্রাহক ডেটার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উদ্বেগও সমানভাবে বাড়ছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন এআই ব্যবহারে আরও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে।   এদিকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক অ্যানথ্রোপিককে তাদের কিছু উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল বিদেশি নাগরিকদের কাছে সরবরাহ সাময়িকভাবে সীমিত রাখার নির্দেশ দেন। তার দাবি, অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তি প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর সামরিক বা গোয়েন্দা কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   অ্যানথ্রোপিকের ‘মাইথোস’ এবং ‘ফেবল’ নামের উন্নত মডেলগুলো নিয়েও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, উন্নত এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার ভবিষ্যতে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু ব্যবসা বা প্রযুক্তির বিষয় নয়; এটি ক্রমেই ভূরাজনীতি, অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে কার্যক্রম পরিচালনাকারী বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও বাছাই করা নীতি অনুসরণ করতে হচ্ছে।   জেপিমরগানের সর্বশেষ এই পদক্ষেপও সেই বৃহত্তর বৈশ্বিক বাস্তবতারই একটি অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি: সংগৃহীত
‘ওরা ঈর্ষান্বিত, খারাপ লোক অথবা নির্বোধ’, ইরান চুক্তি নিয়ে সমালোচকদের ট্রাম্প
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৮, ২০২৬ ৭:৫৮

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা স্মারক নিয়ে নিজ দেশেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সমালোচকদের জবাবে এবার বেশ কড়া ভাষা ব্যবহার করেছেন তিনি। ইরানের বিষয়ে নিজের অবস্থানকে যথেষ্ট কঠোর নয় বলে যারা অভিযোগ করছেন, তাদের উদ্দেশে ট্রাম্প বলেছেন, তারা হয় “ঈর্ষান্বিত”, “খারাপ লোক” অথবা “নির্বোধ”।   বৃহস্পতিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের পদক্ষেপের ইতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে দেখা যাচ্ছে।   ট্রাম্প লিখেছেন, “যারা মনে করে আমি ইরানের বিরুদ্ধে যথেষ্ট কঠোর ছিলাম না, তারা হয় ঈর্ষান্বিত, নয়তো খারাপ লোক, অথবা স্রেফ নির্বোধ। কারণ শেয়ারবাজার এখন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং তেলের দামও দ্রুত কমছে।”   তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন সমঝোতা স্মারক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল বিতর্ক চলছে। দেশটির কিছু নীতিনির্ধারক, বিশ্লেষক এবং বিরোধী রাজনৈতিক মহলের দাবি, চুক্তির মাধ্যমে ইরানের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা দেখানো হয়েছে এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের জন্য কতটা উপকারী হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সাম্প্রতিক সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলছেন, চুক্তিটি একটি ‘পারফরম্যান্সভিত্তিক’ কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে আছে। অর্থাৎ ইরান চুক্তির শর্তগুলো মেনে চললে ধাপে ধাপে বিভিন্ন সুবিধা পাবে।   সম্প্রতি ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনার পর একটি সমঝোতা স্মারকে সম্মতি হয়। এতে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, বাণিজ্য এবং নিষেধাজ্ঞা ইস্যুসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ভবিষ্যৎ আলোচনার পথ তৈরি হয়েছে।   তবে চুক্তির অনেক বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলো নিয়ে সামনে আরও আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত নিজ সমর্থকদের আশ্বস্ত করার পাশাপাশি চুক্তি নিয়ে বাড়তে থাকা সমালোচনার জবাব। একই সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক সূচক, বিশেষ করে শেয়ারবাজার ও জ্বালানি তেলের দামকে নিজের নীতির সফলতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন।   এদিকে সমঝোতা স্মারকটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক অব্যাহত থাকলেও ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তিনি এটিকে নিজের পররাষ্ট্রনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখছেন।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
519 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
451 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
549 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
397 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়