ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei–এর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে University of Dhaka–এ। রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। জানাজা শেষে ডাকসুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর থেকে শুরু হয়ে হলপাড়া ঘুরে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আবু সাদিক কায়েম বলেন, মুসলিম বিশ্বে বিভাজনই আজকের সংকটের মূল কারণ। তিনি বাংলাদেশ থেকে মুসলিম বিশ্বের যুবসমাজ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, রাখাইন ও ইরানের প্রসঙ্গ তুলে বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ করেন। তাঁরা পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ডাকসুর নেতারা আরও বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। রোববার পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। কনস্যুলেটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে অন্তত ৯ বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩৪ জন আহত হন বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। কনস্যুলেটের প্রধান ফটকের বাইরে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দু শহরে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লাহোর ও রাজধানী ইসলামাবাদেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের মতো পাকিস্তানিরাও শোকাহত। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে অবস্থানরত পশ্চিমা দেশগুলোর মিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। ইরাক সরকার খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা Ali al-Sistani ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও কয়েক হাজার শিয়া মুসলিম বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীর ৯টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জাহাজগুলোর মধ্যে কিছু “বেশ বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ” ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, “আমরা বাকিগুলোর পেছনেও লেগেছি তারা খুব শীঘ্রই সমুদ্রের তলদেশে যাবে। আলাদা একটি হামলায় তাদের নৌ-সদর দপ্তরও প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তাদের নৌবাহিনী এখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে।” এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সতর্ক নজরে রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা
ইরানের সাম্প্রতিক নজিরবিহীন হামলার পর চিরচেনা দুবাই এখন এক অচেনা নিস্তব্ধ নগরী। পর্যটনের ভরা মৌসুমে যেখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না, সেখানে এখন শপিংমল থেকে সমুদ্রসৈকত সবই খাঁ খাঁ করছে। আকাশপথে বিমানের গর্জন নেই, ব্যস্ত মহাসড়কে নেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। দুবাই ম্যারিনার জমজমাট ইয়ট পার্টিগুলো থমকে যাওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটা ৬ বছর আগের কোভিড-১৯ লকডাউনের সেই স্থবিরতাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে স্কুলগুলো পুনরায় অনলাইন ক্লাসে ফিরে গেছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোদেলা আকাশ আর পাখির ডাক ছাড়া শহরজুড়ে এখন কেবলই অস্বাভাবিক নীরবতা। সুপারমার্কেটগুলোতে পণ্য মজুতের হিড়িক পড়েছে, আর ডেলিভারি অ্যাপগুলো বাড়তি চাহিদার চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় অনেক পর্যটক ও বাসিন্দা গাড়িতে করে ওমান সীমান্তের দিকে ছুটছেন। এমনকি ওমান সীমান্তের একটি হোটেল আটকা পড়া পর্যটকদের জন্য তাদের কনফারেন্স রুমকে অস্থায়ী আশ্রমে রূপান্তর করেছে। দুবাইয়ের মতো সুরক্ষিত শহরে সুনির্দিষ্ট কোনো বোম্ব শেল্টার না থাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা শনিবার রাত কাটিয়েছেন ভূগর্ভস্থ পার্কিং গ্যারেজে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে শিশুদের শান্ত রাখার চেষ্টায়। আকাশ কাঁপানো বিস্ফোরণের শব্দকে অভিভাবকরা শিশুদের কাছে 'রমজানের আতশবাজি' বা 'ইফতারের কামান' হিসেবে বর্ণনা করছেন, যাতে যুদ্ধের ভয়াবহতা শিশুদের মনে ভীতি ছড়াতে না পারে। স্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত এই শহরটি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের নৌবাহিনীর ৯টি যুদ্ধজাহাজ ধ্বংস করেছে। তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে, এই জাহাজগুলোর মধ্যে কিছু “বেশ বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ” ছিল। তিনি আরও লিখেছেন, “আমরা বাকিগুলোর পেছনেও লেগেছি তারা খুব শীঘ্রই সমুদ্রের তলদেশে যাবে। আলাদা একটি হামলায় তাদের নৌ-সদর দপ্তরও প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। তবে তাদের নৌবাহিনী এখনও কার্যক্রম চালাচ্ছে।” এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও সতর্ক নজরে রাখার প্রয়োজনীয়তা উঠেছে। সূত্র: আলজাজিরা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। রোববার পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। কনস্যুলেটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে অন্তত ৯ বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩৪ জন আহত হন বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। কনস্যুলেটের প্রধান ফটকের বাইরে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দু শহরে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লাহোর ও রাজধানী ইসলামাবাদেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের মতো পাকিস্তানিরাও শোকাহত। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে অবস্থানরত পশ্চিমা দেশগুলোর মিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। ইরাক সরকার খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা Ali al-Sistani ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও কয়েক হাজার শিয়া মুসলিম বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
ইসরায়েলি হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei–এর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে University of Dhaka–এ। রোববার (১ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ইমামতি করেন ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম। জানাজা শেষে ডাকসুর নেতৃত্বে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভিসি চত্বর থেকে শুরু হয়ে হলপাড়া ঘুরে টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে আবু সাদিক কায়েম বলেন, মুসলিম বিশ্বে বিভাজনই আজকের সংকটের মূল কারণ। তিনি বাংলাদেশ থেকে মুসলিম বিশ্বের যুবসমাজ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। বক্তারা ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, রাখাইন ও ইরানের প্রসঙ্গ তুলে বিভিন্ন অঞ্চলে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ করেন। তাঁরা পশ্চিমা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এবং ইরানের ইসলামী বিপ্লবকে একটি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ডাকসুর নেতারা আরও বলেন, একটি দেশের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করে হামলা আন্তর্জাতিক নীতির পরিপন্থী।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে সব মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে প্রবাসী শ্রমিক, ওমরাহযাত্রী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত জানানো হবে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার পর শনিবার সকালে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ পাঁচটি শহর লক্ষ্য করে এ হামলা হয়। একই সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলোতে সাইবার হামলার ঘটনাও ঘটে। এর জবাবে ইসরায়েলসহ আশপাশের দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কতদূর গড়াবে, কবে স্বাভাবিক হবে আকাশপথ—এ প্রশ্ন এখন সবার। সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)–এর চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক তারেক রহমান শহীদ ইউসুফ পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রোববার (১ মার্চ ২০২৬) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ঠান্ডা ভাত খেয়ে রোজা রাখছে জুলাই শহীদ পরিবার, মেলেনি ক্ষতিপূরণ, খোঁজ নেয় না কেউ” শীর্ষক একটি প্রতিবেদন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি তারেক রহমানের নজরে আসে। এর প্রেক্ষিতে আগামীকাল ২ মার্চ (সোমবার) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল শহীদ ইউসুফের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে। প্রতিনিধি দলে দলের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সম্পৃক্ত নেতাকর্মীরাও উপস্থিত থাকবেন।
পারস্য উপসাগর ও ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ আমির হাতামি ইরান নিউজ নেটওয়ার্ককে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কয়েকটি ধাপে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তবে অভিযানের বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে আজ রোববার সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, কাতারের দোহা এবং ইসরাইলের তেলআবিব শহরে নতুন করে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। দুবাইয়ে কয়েকটি বিকট বিস্ফোরণের আওয়াজ পাওয়া গেছে। দোহার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সেখানে অন্তত ১১টি বিস্ফোরণ ঘটেছে। এর আগে কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের হামলায় দেশটিতে আরও আটজন আহত হয়েছেন। হামলা শুরুর পর থেকে কাতারে মোট আহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সীমিত পরিসরে ক্ষয়ক্ষতির ঘটনাও ঘটেছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পাকিস্তান, ইরাক ও ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরসহ একাধিক অঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শনিবার সকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় খামেনিসহ ইরানের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়। রোববার পাকিস্তানের করাচিতে মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। কনস্যুলেটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীদের গুলিতে অন্তত ৯ বিক্ষোভকারী নিহত ও ৩৪ জন আহত হন বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। কনস্যুলেটের প্রধান ফটকের বাইরে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়া হয় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পাকিস্তানের গিলগিট-বালতিস্তানের স্কার্দু শহরে জাতিসংঘের একটি কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। লাহোর ও রাজধানী ইসলামাবাদেও মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনার সামনে বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Mohsin Naqvi বিক্ষোভকারীদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইরানের জনগণের মতো পাকিস্তানিরাও শোকাহত। উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানে অবস্থানরত পশ্চিমা দেশগুলোর মিশনে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে কড়া নিরাপত্তা সত্ত্বেও শত শত বিক্ষোভকারী মার্কিন দূতাবাসের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাঁদানে গ্যাস ও স্টান গ্রেনেড ব্যবহার করে। ইরাক সরকার খামেনির মৃত্যুতে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে। দেশটির শীর্ষ শিয়া ধর্মীয় নেতা Ali al-Sistani ইরানিদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও কয়েক হাজার শিয়া মুসলিম বিক্ষোভে অংশ নেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump–এর বিরুদ্ধেও স্লোগান দেওয়া হয়।
ইরানের সাম্প্রতিক নজিরবিহীন হামলার পর চিরচেনা দুবাই এখন এক অচেনা নিস্তব্ধ নগরী। পর্যটনের ভরা মৌসুমে যেখানে তিল ধারণের জায়গা থাকে না, সেখানে এখন শপিংমল থেকে সমুদ্রসৈকত সবই খাঁ খাঁ করছে। আকাশপথে বিমানের গর্জন নেই, ব্যস্ত মহাসড়কে নেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। দুবাই ম্যারিনার জমজমাট ইয়ট পার্টিগুলো থমকে যাওয়ায় পরিস্থিতি অনেকটা ৬ বছর আগের কোভিড-১৯ লকডাউনের সেই স্থবিরতাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে স্কুলগুলো পুনরায় অনলাইন ক্লাসে ফিরে গেছে। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোদেলা আকাশ আর পাখির ডাক ছাড়া শহরজুড়ে এখন কেবলই অস্বাভাবিক নীরবতা। সুপারমার্কেটগুলোতে পণ্য মজুতের হিড়িক পড়েছে, আর ডেলিভারি অ্যাপগুলো বাড়তি চাহিদার চাপে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে। আকাশসীমা বন্ধ থাকায় অনেক পর্যটক ও বাসিন্দা গাড়িতে করে ওমান সীমান্তের দিকে ছুটছেন। এমনকি ওমান সীমান্তের একটি হোটেল আটকা পড়া পর্যটকদের জন্য তাদের কনফারেন্স রুমকে অস্থায়ী আশ্রমে রূপান্তর করেছে। দুবাইয়ের মতো সুরক্ষিত শহরে সুনির্দিষ্ট কোনো বোম্ব শেল্টার না থাকায় আতঙ্কিত বাসিন্দারা শনিবার রাত কাটিয়েছেন ভূগর্ভস্থ পার্কিং গ্যারেজে। সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা গেছে শিশুদের শান্ত রাখার চেষ্টায়। আকাশ কাঁপানো বিস্ফোরণের শব্দকে অভিভাবকরা শিশুদের কাছে 'রমজানের আতশবাজি' বা 'ইফতারের কামান' হিসেবে বর্ণনা করছেন, যাতে যুদ্ধের ভয়াবহতা শিশুদের মনে ভীতি ছড়াতে না পারে। স্থিতিশীলতার জন্য পরিচিত এই শহরটি এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে আছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে এক বিস্ফোরক দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ দেশটির অন্তত ৪৮ জন শীর্ষস্থানীয় নেতা নিহত হয়েছেন। রোববার ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেন। অভিযানের অগ্রগতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি জানান, তাদের এই বিশেষ অভিযান অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এবং দ্রুততার সঙ্গে সফলতার দিকে এগিয়ে চলেছে। একই দিনে সিএনবিসিকে দেওয়া অপর একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প নিজের প্রশাসনের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, "এই সামরিক পদক্ষেপ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে নয়, বরং বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে।" তবে এই অভিযানের বিষয়ে এখন পর্যন্ত তেহরান বা নিরপেক্ষ কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সরকারি রেডিও ও টেলিভিশন সদরদপ্তরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। তবে পুরো কমপ্লেক্স নয়, ভবনের আংশিক অংশে আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম Islamic Republic of Iran Broadcasting (আইআরআইবি) হামলার তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছে, সম্প্রচার কার্যক্রম এখনো চালু রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে বলেছে, “প্রযুক্তি দল ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করছে।” উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালেও একই ভবন লক্ষ্য করে হামলা হয়েছিল। সেবার হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুনরায় সম্প্রচারে ফিরে আসে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews