ভোলার চরফ্যাসনে এক গৃহবধূর উপর রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পর গত শুক্রবার রাতে ভিকটিম নিজেই লিখিত এজাহার দিয়ে তিনজনকে আসামি করেন। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এ ঘটনার পর আসামিরা ভিকটিমকে হুমকি দিচ্ছে, ফলে চার সন্তান নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের দাবি, অভিযোগের তদন্ত শেষ হলে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ঘটনা মঙ্গলবার রাতে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে ঘটে। ভিকটিম জানিয়েছে, স্বামী কর্মসূত্রে অন্য জেলায় থাকায় তিনি সন্তানদের নিয়ে একাই বাড়িতে ছিলেন। ওই রাতে ঘরে থাকা জমি কেনার ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। এরপর চার সন্তানকে অন্য কক্ষে আটকে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভিকটিম পরে স্থানীয় স্বজনদের সাহায্যে চরফ্যাসন হাসাপাতালে ভর্তি হন। ভিকটিম বলেন, থানায় গিয়ে এজাহার দেওয়ার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে এবং তদন্ত চলমান; পরে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের পক্ষ থেকে ৩০টি আসনে ভোট পুনর্গণনার দাবি জানানো হয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, পুনর্গণনার আগ পর্যন্ত এসব আসনে ঘোষিত বিজয়ী প্রার্থীদের শপথ স্থগিত রাখারও দাবি জানিয়েছে দলটি। দাবিকৃত আসনগুলো হলো—ঢাকা ৭, ৮, ১০, ১৩ ও ১৭; পঞ্চগড়-১; ঠাকুরগাঁও ২; দিনাজপুর-৩ ও ৫; লালমনিরহাট-১ ও ২; গাইবান্ধা-৪; বগুড়া-৩; সিরাজগঞ্জ-১; যশোর-১; খুলনা-৩ ও ৫; বরগুনা-১ ও ২; ঝালকাঠি-১; পিরোজপুর-২; ময়মনসিংহ-১, ৪ ও ১০; কিশোরগঞ্জ-৩; গোপালগঞ্জ-২; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫; চাঁদপুর-৪; চট্টগ্রাম-১৪ এবং কক্সবাজার-৪। জুবায়ের অভিযোগ করেছেন, এই আসনের ফলাফল ইচ্ছাকৃতভাবে বদলে দেওয়া হয়েছে যাতে জামায়াত ও ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীরা হারতে পারে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কিছু কর্মকর্তা এই কাজের সঙ্গে জড়িত। সংবাদ সম্মেলনে দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন, যার মধ্যে ছিলেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মাওলানা আবদুল হালিম এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল। ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নানও অভিযোগ করেছেন যে ভোট গণনায় ‘কারসাজির’ মাধ্যমে তাকে হারানো হয়েছে। জুবায়ের জানান, বিষয়টি নিয়ে জামায়াতের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পঞ্চগড়-১ আসনের নির্বাচনী ফলাফল নিয়ে পরিকল্পিত কারচুপি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রার্থী সারজিস আলম। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে তিনি এই অভিযোগ জানিয়েছেন। সারজিস আলম লিখেছেন, পঞ্চগড়-১ আসনে ‘শাপলা কলি’ ভোটে হারেনি। প্রশাসন, বিএনপি এবং ডিপস্টেট মিলে পরিকল্পিতভাবে কারচুপি করে শাপলা কলিকে হারিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, ভোটকেন্দ্রে থাকা প্রশাসনের সদস্যের স্বীকারোক্তি, প্রধান পোলিং এজেন্টের স্বাক্ষর ছাড়া ফলাফলশীট, গণভোটের ব্যালটের চেয়ে এমপি ভোটে ২৫ হাজার বেশি ব্যালট, প্রথম ৮০টি কেন্দ্রে ৮ হাজার ভোটে এগিয়ে যাওয়ার পর দুই ঘন্টা ধরে ফলাফল প্রকাশ বন্ধ রাখা এবং পরবর্তী সব ফলাফলে অপ্রত্যাশিত মার্জিনে একসাথে ১৫০টি কেন্দ্রের ফলাফল প্রকাশের মতো ঘটনা সবই প্রমাণ হিসেবে আছে। সারজিস আলমের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব কৌশল ব্যবহার করে নির্বাচনের ফলাফল ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়েছে এবং অন্য পক্ষকে জয়ী করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়াকেই ‘সবচেয়ে ভালো উপায়’ হিসেবে দেখছেন। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর ঘোষণার মধ্যেই তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ মত প্রকাশ করেন। গত শুক্রবার নর্থ ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগ সামরিক ঘাঁটিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, মনে হয়, সেটাই সবচেয়ে ভালো হবে। এই মন্তব্যকে ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করার সবচেয়ে প্রকাশ্য আহ্বান হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও তিনি স্পষ্ট করেননি, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জায়গায় কাকে দেখতে চান। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছে। বিশ্বের বৃহত্তম যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড এবং ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অঞ্চলে অবস্থান করছে। ট্রাম্প জানান, যদি কোনো চুক্তি সম্ভব না হয়, তবে সামরিক পদক্ষেপের প্রয়োজন হবে। ইরানে গত মাসে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দমনের সময় বহু মানুষ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভকারীদের সহায়তায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকার ঘোষণা দিয়েছিল। ডিসেম্বরে তেহরানে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল মূল্যস্ফীতি ও রিয়ালের দরপতনের প্রেক্ষিতে। নির্বাসিত রেজা পাহলভি আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আবার আন্দোলনে নামার জন্য দেশ ও বিদেশের ইরানিদের উৎসাহিত করেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ওমানে পারমাণবিক ইস্যুতে বৈঠক হয়েছে। তেহরান গোপনে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সামরিক অভিযান শুরু করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্দেশ দিলেই তা কার্যকর হবে। পরিকল্পনা সফল হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সংঘাত আগের সব সংঘাতের তুলনায় অনেক বেশি গুরুতর রূপ নিতে পারে। এদিকে ওয়াশিংটনের আর্থিক নীতি ও ডলারের প্রভাবকে দায়ী করে আল-জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলে ইরানে মুদ্রা রিয়ালের দরপতন ঘটে, যা বিক্ষোভ উসকে দেয়। প্রতিবাদের মাত্রা এখনও কিছুটা কমলেও মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ভোলার চরফ্যাসনে এক গৃহবধূর উপর রাতের আঁধারে হামলা চালিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুটপাট ও দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পর গত শুক্রবার রাতে ভিকটিম নিজেই লিখিত এজাহার দিয়ে তিনজনকে আসামি করেন। তবে শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি। এ ঘটনার পর আসামিরা ভিকটিমকে হুমকি দিচ্ছে, ফলে চার সন্তান নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। পুলিশের দাবি, অভিযোগের তদন্ত শেষ হলে মামলার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। ঘটনা মঙ্গলবার রাতে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে ঘটে। ভিকটিম জানিয়েছে, স্বামী কর্মসূত্রে অন্য জেলায় থাকায় তিনি সন্তানদের নিয়ে একাই বাড়িতে ছিলেন। ওই রাতে ঘরে থাকা জমি কেনার ৪ লাখ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করা হয়। এরপর চার সন্তানকে অন্য কক্ষে আটকে রেখে গৃহবধূকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ভিকটিম পরে স্থানীয় স্বজনদের সাহায্যে চরফ্যাসন হাসাপাতালে ভর্তি হন। ভিকটিম বলেন, থানায় গিয়ে এজাহার দেওয়ার পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। থানার ওসি জাহাঙ্গীর বাদশা জানান, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে এবং তদন্ত চলমান; পরে মামলার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
নির্বাচন ও গণভোটের সফল আয়োজনে বাংলাদেশের জনগণকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন! বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশের এই অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল জাতিসংঘ। গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক: জাতীয় ঐক্যের ডাক: জাতিসংঘের মহাসচিব সকল রাজনৈতিক পক্ষকে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়েছেন। মানবাধিকার ও সুরক্ষা: আইনের শাসন সমুন্নত রাখা এবং সংখ্যালঘুসহ সকল নাগরিকের মানবাধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। উন্নয়ন ও সংস্কার: এলডিসি থেকে উত্তরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সংস্কারের পথে বাংলাদেশের এই অগ্রযাত্রাকে সাধুবাদ জানিয়েছে বিশ্বসংস্থা। এটি কেবল একটি অভিনন্দন বার্তা নয়, বরং একটি সমৃদ্ধ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের আগামীর পথপ্রদর্শক। জনগণের ম্যান্ডেট এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন—দুইয়ে মিলে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অধীনে অভিবাসীদের আটক রাখার প্রক্রিয়া নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে রয়টার্সের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। আদালতের পক্ষ থেকে অন্তত ৪,৪০০ বার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃক অভিবাসীদের আটক রাখাকে 'অবৈধ' ঘোষণা করা হলেও, এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়নি। রয়টার্সের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শত শত বিচারক ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। বিচারকদের মতে, প্রশাসন আইন অমান্য করে হাজার হাজার অভিবাসীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্দি করে রাখছে। এমনকি আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। পশ্চিম ভার্জিনিয়ার মার্কিন জেলা জজ থমাস জনস্টন একটি মামলায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক যে সরকার আদালতকে বর্তমান আইন উপেক্ষা করতে বলছে। আইন যেভাবে স্পষ্টভাবে লেখা আছে, সরকারকে তা মেনে চলতে হবে।” তিনি গত সপ্তাহে একজন ভেনেজুয়েলান বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দিয়ে এই মন্তব্য করেন। আইনি বিরোধের মূল কারণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই আইনি লড়াইয়ের মূলে রয়েছে প্রায় তিন দশকের পুরনো একটি ফেডারেল আইনের ব্যাখ্যা। ট্রাম্প প্রশাসন সেই ব্যাখ্যা থেকে সরে এসে নতুন নীতি গ্রহণ করেছে। আগে নিয়ম ছিল যে, অভিবাসীরা যারা ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন, তারা তাদের মামলার শুনানি চলাকালীন বন্ডের বিনিময়ে মুক্তি পেতে পারেন। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের মুক্তি না দিয়ে বন্দি করে রাখার নীতি বেছে নিয়েছে। রেকর্ড সংখ্যক বন্দি ট্রাম্প ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে আইসিই (ICE) হেফাজতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। চলতি মাসে এই সংখ্যা প্রায় ৬৮,০০০-এ পৌঁছেছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন বিরোধী কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন। হোয়াইট হাউসের অবস্থান এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন জানিয়েছেন, প্রশাসন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ম্যান্ডেট অনুযায়ী ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এভাবে মানুষকে বন্দি রাখা মানবাধিকার এবং বিচার ব্যবস্থার মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এদিকে, নিউ অরলিন্সের একটি রক্ষণশীল আপিল আদালত গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষে রায় দিয়ে অভিবাসীদের আটকে রাখার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। সার্কিট জজ এডিথ জোনস বলেন, আগের প্রশাসনগুলো এই আইন পুরোপুরি ব্যবহার করেনি মানে এই নয় যে তাদের সেই ক্ষমতা ছিল না। আদালতের এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং প্রশাসনের অনড় মনোভাব যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থায় এক চরম বিশৃঙ্খলা ও আইনি সংকট তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: রয়টার্স (১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)
রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী দলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির মৃত্যু নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, নাভালনিকে একটি বিষাক্ত ব্যাঙের বিষ (dart frog toxin) প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। জার্মানিতে চলমান ২০২৬ সালের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে (Munich Security Conference) এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার। পররাষ্ট্র সচিব কুপার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সরাসরি রুশ সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, "রাশিয়ার কারাগারে বন্দি থাকাকালীন নাভালনির ওপর এই মারাত্মক প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহারের সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ—সবই একমাত্র রুশ সরকারের ছিল।" কী এই ‘ডার্ট ফ্রগ টক্সিন’? এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার এক ধরণের বিশেষ প্রজাতির রঙিন ব্যাঙের দেহ থেকে নির্গত অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ। এটি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত অকেজো করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দিতে সক্ষম। অতীতেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের বিরোধীদের ওপর বিরল এবং অত্যাধুনিক বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত অ্যালেক্সেই নাভালনি ২০২৪ সালের শুরুতে রাশিয়ার একটি দুর্গম মেরু অঞ্চলের কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান। সেই সময় ক্রেমলিন দাবি করেছিল যে, স্বাভাবিক কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে নাভালনির পরিবার এবং সমর্থকরা শুরু থেকেই একে ‘রাষ্ট্রীয় মদতে হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছিলেন। মিউনিখ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের এই নতুন দাবি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পর রাশিয়ার ওপর নতুন করে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা এই তথ্যের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। ২৯৭টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৯৭ জন সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচিত এমপিদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশের সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত নানা ধরনের বেতন-ভাতাও সুযোগ–সুবিধা ভোগ করে থাকেন।এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছ,মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস), ১৯৭৩’ বা ‘সংসদ সদস্য (পারিশ্রমিকও ভাতা) আদেশ, ১৯৭৩’ অনুযায়ী। এটি বিভিন্ন সময়ে সংশোধন করা হয়েছে, সর্বশেষ ২০১৬ সালে এটি সংশোধিত হয়। আইন অনুযায়ী, একজন সংসদ সদস্য নিয়মিত মাসিক বেতন ছাড়াও পরিবহণ, অফিস, চিকিৎসা,ভ্রমণ, বিনা শুল্কে গাড়ি আমদানি, বীমাও নানা ধরনের ভাতা পান। একজন সংসদ সদস্য মাসিক৫৫ হাজার টাকা মূল বেতন পান। এর পাশাপাশি তিনি মাসে ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্বাচনি এলাকা ভাতা পান। এছাড়া মাসিক৫ হাজার টাকা আপ্যায়ন ভাতা দেওয়া হয়। সংসদ সদস্যরা মাসিক ৭০ হাজার টাকা পরিবহণ ভাতা পান। এই ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত থাকে। নির্বাচনি এলাকায় অফিস পরিচালনার জন্য মাসিক১৫ হাজার টাকা অফিস ব্যয় ভাতা দেওয়া হয়। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সংসদ সদস্যরা মাসে আরও কিছু ভাতা পান। এর মধ্যে রয়েছে এক হাজার ৫০০ টাকা লন্ড্রি ভাতা এবং ৬ হাজার টাকা বিবিধ ব্যয় ভাতা; যা বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য নির্ধারিত। সংসদ সদস্যদের জন্য বড় সুবিধাগুলোর একটি হলো শুল্ক ওকরমুক্ত গাড়ি আমদানি সুবিধা। একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে সরকার নির্ধারিত শর্তে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারেন শুল্ক, ভ্যাটওঅন্যান্য কর ছাড়াই। পাঁচ বছর পর একই শর্তে আবার নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগও রয়েছে। ভ্রমণ সুবিধার ক্ষেত্রে সংসদ সদস্যরা সংসদের অধিবেশন, কমিটির সভাও দায়িত্বসংক্রান্ত কাজে যাতায়াতের জন্য আলাদা ভাতা পান। রেল, বিমান বা নৌপথে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ ভাতা দেওয়া হয়। সড়কপথে যাতায়াতে কিলোমিটারপ্রতি ভাতা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া দেশের ভেতরে যাতায়াতের জন্য বছরে এক লাখ ২০হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা অথবা সমমূল্যের ট্রাভেল পাস সুবিধাও দেওয়া হয়। সংসদ অধিবেশন, সংসদীয় কমিটির সভা বা দায়িত্বসংক্রান্ত অন্য কোনো কাজে দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ সদস্যরা ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা ও ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পেয়ে থাকেন। সংসদ অধিবেশন বা কমিটির সভায় উপস্থিত থাকলে সদস্যরা দৈনিক ভাতাও পান। উপস্থিতির ভিত্তিতে প্রতিদিন ৮০০ টাকা দৈনিক ভাতাও ২০০ টাকা যাতায়াত ভাতা নির্ধারিত হারে প্রদান করা হয়। চিকিৎসা সুবিধার ক্ষেত্রেও সংসদ সদস্যও তাদের পরিবার সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। পাশাপাশি মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয়। নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংসদ সদস্যদের জন্য সরকারিভাবে১০ লাখ টাকার বীমা সুবিধা রাখা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে এই বীমা কার্যকর হয়। এছাড়া প্রত্যেক সংসদ সদস্য বছরে সর্বোচ্চ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহার করতে পারেন,যা নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ব্যয় করার বিধান রয়েছে। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসেবে সংসদ সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে একটি টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয় এবং মাসিক ৭হাজার৮০০ টাকা টেলিফোন ভাড়াওকল খরচ বাবদ প্রদান করা হয়। আইনে আরও বলা হয়েছে, সংসদ সদস্যরা যে সব ভাতা পান,সেগুলো আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এসব ভাতার ওপর কোনো আয়কর দিতে হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের পরিবেশ দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের প্রধান ও ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম নানা আকুফো আদো। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভোট প্রদান কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। নানা আকুফো আদো বলেন, “এখনো পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ খুব ভালো। এটা নিয়ে আমি খুব সন্তুষ্ট। এখানে এসে শান্তিপূর্ণ ভোট দেখছি। আশা করি, সারা দেশেও এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ ইতিবাচক থাকলে জনগণের আস্থা বাড়ে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী হয়। উল্লেখ্য, কমনওয়েলথ নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধি দলের প্রধান হিসেবে উইলিয়াম নানা আকুফো আদোর নেতৃত্বে সংস্থাটি বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছে। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
ড. মাহরুফ চৌধুরী
রাশিয়ার প্রয়াত বিরোধী দলীয় নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির মৃত্যু নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ সরকারের দাবি, নাভালনিকে একটি বিষাক্ত ব্যাঙের বিষ (dart frog toxin) প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। জার্মানিতে চলমান ২০২৬ সালের মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে (Munich Security Conference) এই বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার। পররাষ্ট্র সচিব কুপার সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের কাছে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে যে নাভালনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সরাসরি রুশ সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, "রাশিয়ার কারাগারে বন্দি থাকাকালীন নাভালনির ওপর এই মারাত্মক প্রাণঘাতী বিষ ব্যবহারের সামর্থ্য, উদ্দেশ্য এবং সুযোগ—সবই একমাত্র রুশ সরকারের ছিল।" কী এই ‘ডার্ট ফ্রগ টক্সিন’? এটি মূলত দক্ষিণ আমেরিকার এক ধরণের বিশেষ প্রজাতির রঙিন ব্যাঙের দেহ থেকে নির্গত অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ। এটি মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে দ্রুত অকেজো করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ করে দিতে সক্ষম। অতীতেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে তাদের বিরোধীদের ওপর বিরল এবং অত্যাধুনিক বিষ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত অ্যালেক্সেই নাভালনি ২০২৪ সালের শুরুতে রাশিয়ার একটি দুর্গম মেরু অঞ্চলের কারাগারে বন্দি অবস্থায় মারা যান। সেই সময় ক্রেমলিন দাবি করেছিল যে, স্বাভাবিক কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। তবে নাভালনির পরিবার এবং সমর্থকরা শুরু থেকেই একে ‘রাষ্ট্রীয় মদতে হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করে আসছিলেন। মিউনিখ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের এই নতুন দাবি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনার পর রাশিয়ার ওপর নতুন করে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে এই অভিযোগের বিষয়ে মস্কোর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শীর্ষ নেতারা এই তথ্যের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
উগ্রবাদ আর ঘৃণার বাজারে মানবিকতা ও সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ তৈরি করেছেন ভারতের উত্তরাখণ্ডের বাসিন্দা দীপক কুমার। উগ্রবাদী সংগঠনের হাত থেকে এক মুসলিম বৃদ্ধকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি নিজেকে পরিচয় দিয়েছেন ‘মোহাম্মদ দীপক’ নামে। এই একটি সাহসী পদক্ষেপ তাঁকে ভারতের ‘ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতীক’ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত করে তুলেছে। ঘটনাটি গত ২৬ জানুয়ারির। উত্তরাখণ্ডের কোটদ্বার শহরে ৬৮ বছর বয়সী ওয়াকিল আহমেদের ৩০ বছরের পুরোনো পোশাকের দোকানের নাম থেকে ‘বাবা’ শব্দটি বাদ দিতে চাপ দিচ্ছিল কট্টরপন্থী সংগঠন বজরং দলের কর্মীরা। তাদের দাবি ছিল, ‘বাবা’ শব্দটি কেবল হিন্দু মন্দিরের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। বৃদ্ধ আহমেদকে যখন একদল তরুণ মিলে নাজেহাল করছিল, ঠিক তখনই দেবদূতের মতো হাজির হন পাশের জিমের মালিক দীপক কুমার। ভিডিওতে দেখা যায়, ৪২ বছর বয়সী দীপক উগ্রবাদীদের সামনে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন করছেন, “মুসলিমরা কি এ দেশের নাগরিক নন?” যখন বজরং দলের কর্মীরা তাঁর নাম জানতে চান, তখন তিনি নির্ভীক চিত্তে উত্তর দেন— “আমার নাম মোহাম্মদ দীপক।” হিন্দু ও মুসলিম নামের এই অদ্ভুত সংমিশ্রণের মাধ্যমে তিনি বার্তা দিতে চেয়েছিলেন যে ভারত সবার এবং এখানে প্রতিটি মানুষের মর্যাদা নিয়ে বাঁচার অধিকার রয়েছে। দীপকের এই সাহসিকতা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্বের সাথে প্রচার হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী তাঁকে ‘ভারতের সত্যিকারের নায়ক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, “দীপক ঘৃণার বাজারে ভালোবাসা ছড়াচ্ছেন। আমাদের এমন আরও অনেক দীপক প্রয়োজন যারা সংবিধানের পক্ষে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।” ইন্সটাগ্রামে তাঁর একটি ভিডিওতে ইতিমধ্যেই ৫০ লাখের বেশি মানুষ লাইক দিয়ে সংহতি জানিয়েছেন। তবে এই বীরত্বের মূল্যও দিতে হচ্ছে দীপককে। উগ্রপন্থীরা তাঁকে ‘ধর্মের প্রতি বিশ্বাসঘাতক’ আখ্যা দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তাঁর জমজমাট জিমটি এখন প্রায় সদস্যশূন্য, কারণ ভয়ে অনেকে সেখানে আসছেন না। পরিবারও রয়েছে প্রচণ্ড মানসিক চাপে। তবে এত হুমকির মুখেও দমে যাননি তিনি। দীপক বলেন, “আমরা যদি আজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে নীরব থাকি, তবে আমাদের সন্তানরাও কেবল নীরবতাই শিখবে। আমি আবারও প্রয়োজনে রুখে দাঁড়াব।” দীপকের আর্থিক সংকটের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ভারতজুড়ে সাধারণ মানুষ তাঁর প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করছেন। অনেকেই দূর-দূরান্ত থেকে তাঁর জিমের সদস্যপদ কিনে তাঁকে সাহস জোগাচ্ছেন। দীপক কুমার আজ কেবল একজন জিম মালিক নন, তিনি হয়ে উঠেছেন বহুত্ববাদী ভারতের এক অবিনাশী কণ্ঠস্বর।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বৃদ্ধি করতে মধ্যপ্রাচ্যে আরও একটি বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে। পেন্টাগন নির্দেশ দিয়েছে, বর্তমানে ক্যারিবীয় সাগরে অবস্থানরত বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং অত্যাধুনিক রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হবে। রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর শক্তি দ্বিগুণ হবে। এর আগে, গত ২২ জানুয়ারি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে, ইরানের দিকে একটি ‘আরমাডা’ পাঠানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং তিনটি ডেস্ট্রয়ার। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায়, ওয়াশিংটন সামরিক প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যদি পরমাণু চুক্তি মানতে না চায়, তবে পরিস্থিতি ‘ভয়ঙ্কর’ হতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, এই হুমকি বাস্তবায়নের জন্যই জেরাল্ড আর ফোর্ডকে আব্রাহাম লিংকনের সঙ্গে পাঠানো হচ্ছে। গত জানুয়ারি মাসে জেরাল্ড আর ফোর্ড ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে ধরার অভিযানে অংশ নিয়েছিল। ক্যারিবীয় অঞ্চলের দায়িত্ব শেষ হওয়া মাত্র এটি ইরানের বিপরীতে ব্যবহার করার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। পারমাণবিক শক্তিচালিত এই রণতরি ৭৫টির বেশি যুদ্ধবিমান বহন করতে সক্ষম। এর সঙ্গে থাকবে গাইডেড-মিসাইল ক্রুজার নরম্যান্ডি এবং আরও কয়েকটি ডেস্ট্রয়ার। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্যারিবীয় সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে জাহাজটির অন্তত এক সপ্তাহ সময় লাগবে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঐতিহাসিক বিজয়ে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক বার্তায় তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। আনোয়ার ইব্রাহিম তার বার্তায় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের মানুষ অনেক প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ পার করে ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। এই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের সময়ে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য তিনি তার প্রিয় বন্ধু এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে বিশেষ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রী আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে মালয়েশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী হবে। তিনি দুই দেশের জনগণের সমৃদ্ধি কামনায় বাংলাদেশের নতুন নেতৃত্বের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews