দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সমাবেশ করে নিজের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি তার ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, রোববার কুইন্সে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সমাবেশে ৩৪ বছর বয়সী এই মেয়র বলেন, সমাজতান্ত্রিক শব্দটিকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কল্যাণে সরকারকে কাজে লাগাতে তিনি লজ্জাবোধ করেন না। মামদানি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শহরের সড়কে এক লাখের বেশি গর্ত মেরামত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করতে না পারলে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য হয় না। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ৮৪ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মামদানি বলেন, সিটি পরিচালিত মুদি দোকান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রথমটি আগামী বছর চালু হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে যত্নসেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাড়া বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিনামূল্যে বাসযাত্রা চালুর বিষয়টি এখনো অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। মেয়রের জনপ্রিয়তা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে তার অনুমোদন হার ৪৮ শতাংশ এবং ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, তার শিশু যত্ন উদ্যোগে ৫৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন এবং আবাসন ব্যয় নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপে ৪৯ শতাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে একই জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করেন, শহরটি সঠিক পথে এগোচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক কিছুটা সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে দু’বার হোয়াইট হাউস সফর করেছেন। অন্য এক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের ৫৯ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে মামদানি সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করছেন।
কঠোর শর্তে অচলাবস্থার কারণে যুদ্ধবিরতিতে একমত হতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে দুই পক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুখোমুখি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্যই বেশি নেতিবাচক। তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সক্ষমতা অর্জন বন্ধের শর্তে রাজি হয়নি ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো এতটাই কঠোর যে, তা মেনে নিলে ইরান চিকিৎসা খাতেও পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে তেহরানের পক্ষে এসব শর্ত মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে ইরান সরকার জানায়, প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা তাদের ছিল না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এক বৈঠকেই সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত নিয়েও তারা সন্তুষ্ট নয়। তিনি আরও জানান, তেহরান তার মিত্র দেশ ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বৈঠকে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরে, যার মধ্যে ছিল বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননসহ মিত্র দেশগুলোতে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। তবে লেবাননে হামলা বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল অনড় অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধে সমর্থন দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চাপের মুখে পড়ে ব্রিটেন ইরানের সঙ্গে কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং এটি উন্মুক্ত রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অপরিহার্য। তিনি জানান, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান বজায় রাখবে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে আগামী দুই মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানো হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট কর কমানো হবে। অন্যদিকে চীনও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের হামলায় একাধিক শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতে একটি আবেদন করেছে, যাতে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত নথি প্রকাশে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বাধ্য করা যায়। জাপানও এই সংকট নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি টোকিও। বরং তারা সংঘাত প্রশমন ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–সংকটের ৪৫তম দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ক্রমেই মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে। একদিকে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটেন ও চীনের মতো দেশগুলো উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহে সুবাতাস বইছে। গেল মাসে (মার্চ) দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সেই ধারা চলতি মাসেও (এপ্রিল) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১২১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।এর মধ্যে গত তিন দিনে (বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার) রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি মাসের প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ৭৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ২৮১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা।তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে শক্তিশালী ভিত গড়ে দেশের অর্থনীতি। রীতিমতো ঝলক দেখাচ্ছে প্রবাসী আয়। রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন কৌশলগত নীতিমালা ও কঠোর তদারকির ফলে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় দেশে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সমাবেশ করে নিজের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি তার ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, রোববার কুইন্সে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সমাবেশে ৩৪ বছর বয়সী এই মেয়র বলেন, সমাজতান্ত্রিক শব্দটিকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কল্যাণে সরকারকে কাজে লাগাতে তিনি লজ্জাবোধ করেন না। মামদানি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শহরের সড়কে এক লাখের বেশি গর্ত মেরামত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করতে না পারলে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য হয় না। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ৮৪ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মামদানি বলেন, সিটি পরিচালিত মুদি দোকান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রথমটি আগামী বছর চালু হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে যত্নসেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাড়া বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিনামূল্যে বাসযাত্রা চালুর বিষয়টি এখনো অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। মেয়রের জনপ্রিয়তা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে তার অনুমোদন হার ৪৮ শতাংশ এবং ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, তার শিশু যত্ন উদ্যোগে ৫৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন এবং আবাসন ব্যয় নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপে ৪৯ শতাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে একই জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করেন, শহরটি সঠিক পথে এগোচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক কিছুটা সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে দু’বার হোয়াইট হাউস সফর করেছেন। অন্য এক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের ৫৯ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে মামদানি সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধে সমর্থন দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চাপের মুখে পড়ে ব্রিটেন ইরানের সঙ্গে কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং এটি উন্মুক্ত রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অপরিহার্য। তিনি জানান, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান বজায় রাখবে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে আগামী দুই মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানো হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট কর কমানো হবে। অন্যদিকে চীনও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের হামলায় একাধিক শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতে একটি আবেদন করেছে, যাতে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত নথি প্রকাশে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বাধ্য করা যায়। জাপানও এই সংকট নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি টোকিও। বরং তারা সংঘাত প্রশমন ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–সংকটের ৪৫তম দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ক্রমেই মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে। একদিকে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটেন ও চীনের মতো দেশগুলো উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও মানসিক অবস্থাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পালন করা জন ব্রেনান বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাখা নিরাপদ নয়। তিনি মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর উল্লেখ করে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে পড়লে তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে এবং ট্রাম্প সেই অবস্থার উদাহরণ হতে পারেন। গত শনিবার এমএস নাউ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, “এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।” তিনি বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ব্রেনানের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত লাখো মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখা মানে বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী যেন ঠিক এমন পরিস্থিতির জন্যই প্রণীত। একজন প্রেসিডেন্টের হাতে যখন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তখন তার মানসিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্রেনান বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হতে হয় সুসংহত ও বিচক্ষণ। কিন্তু ট্রাম্পের আচরণে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরানো ছাড়া বিকল্প নেই। ব্রেনানের এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার অন্যতম কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখছে।
নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে চালানো বিমান বাহিনীর এক হামলা ‘ভুলবশত’ একটি জনবহুল বাজারে আঘাত হানায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্যের বরাতে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষ হামলাটি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করলেও বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, বর্নো রাজ্যের সীমান্তবর্তী ইয়োবি রাজ্যের একটি গ্রামে এই হামলা চালানো হয়, যেখানে অন্তত ১০০ জন নিহত হয়েছেন বলে জীবিতদের কাছ থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জিহাদি সহিংসতায় এই অঞ্চলটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলার লক্ষ্য ছিল জঙ্গিগোষ্ঠী বোকো হারামের একটি ঘাঁটি। তবে ভুলবশত কাছাকাছি একটি সাপ্তাহিক বাজারে অবস্থানরত সাধারণ মানুষ এতে হতাহত হন। নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে দুর্গম বনাঞ্চলে অবস্থান নেওয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযানে বেসামরিক হতাহতের ঘটনাও নতুন নয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সাল থেকে এ ধরনের অভিযানে অন্তত ৫০০ সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দুর্বল গোয়েন্দা তথ্য, লক্ষ্য নির্ধারণে ভুল এবং স্থলবাহিনী ও বিমান ইউনিটের মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি—এসব কারণেই এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে। এ বিষয়ে নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
হাইতির জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সিটাডেল লাফেরিয়েরে মর্মান্তিক পদদলিতের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইস্টার উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে শনিবার (১১ এপ্রিল) এই দুর্ঘটনা ঘটে। হাইতির নর্ড বিভাগের সিভিল প্রোটেকশনের প্রধান জেন হেনরি পিটিট জানান, বার্ষিক এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হওয়ায় হঠাৎ করে পদদলিতের ঘটনা ঘটে। তিনি সতর্ক করে বলেন, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যালিক্স দিদিয়ের ফিলস-অ্যামি গভীর শোক প্রকাশ করে জানান, মিলো শহরের ওই স্থানে বহু তরুণ-তরুণীর উপস্থিতিতে একটি পর্যটন অনুষ্ঠানের সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষকে মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দুর্গটির প্রতিষ্ঠা স্মরণে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থী উপস্থিত হয়। প্রবেশপথের কাছে হঠাৎ ভিড়ের চাপ তৈরি হলে পদদলিতের ঘটনা শুরু হয়। এ সময় আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। স্থানীয় একটি পত্রিকার বরাতে সিভিল প্রোটেকশন জানায়, ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। তবে সরকারি বিবৃতিতে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়নি। ফ্রান্সের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভের পরপরই নির্মিত এই ঐতিহাসিক দুর্গটি দেশটির স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত। বিপ্লবী নেতা অঁরি ক্রিস্তফ এটি নির্মাণ করেন। বর্তমানে এটি জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান।
এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের সিংহভাগ দায়ভার কেবল নারীদের ওপরেই বর্তাতো। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ধারায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী পুরুষদের জন্য বিশেষ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতি না করেই সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। গবেষণার প্রধান অধ্যাপক পলা কোহেনের মতে, এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো হরমোনাল জটিলতা নেই। এই প্রক্রিয়ায় অণ্ডকোষে প্রয়োগ করা ইনজেকশন বা পিল শুক্রাণুর গতিপথকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়, যা গর্ভধারণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। কোনো পুরুষ যদি পুনরায় সন্তান নিতে চান, তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা গেলে এটি পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
কঠোর শর্তে অচলাবস্থার কারণে যুদ্ধবিরতিতে একমত হতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে দুই পক্ষ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শনিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুখোমুখি হয় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও যুদ্ধ বন্ধে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স বলেন, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি, এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ইরানের জন্যই বেশি নেতিবাচক। তিনি জানান, পারমাণবিক অস্ত্র নির্মাণ, সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সক্ষমতা অর্জন বন্ধের শর্তে রাজি হয়নি ইরান। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্তগুলো এতটাই কঠোর যে, তা মেনে নিলে ইরান চিকিৎসা খাতেও পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে না। ফলে তেহরানের পক্ষে এসব শর্ত মেনে নেওয়া প্রায় অসম্ভব। অন্যদিকে ইরান সরকার জানায়, প্রথম বৈঠকেই কোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর প্রত্যাশা তাদের ছিল না। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেন, এক বৈঠকেই সমঝোতা হওয়ার সম্ভাবনা স্বাভাবিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শর্ত নিয়েও তারা সন্তুষ্ট নয়। তিনি আরও জানান, তেহরান তার মিত্র দেশ ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। বৈঠকে ইরান কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরে, যার মধ্যে ছিল বিদেশে জব্দকৃত সম্পদ ফেরত, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং লেবাননসহ মিত্র দেশগুলোতে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। তবে লেবাননে হামলা বন্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েল অনড় অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে সংলাপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথ খুঁজে পাওয়া যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত হরমুজ প্রণালির নৌ-অবরোধে সমর্থন দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। সোমবার (১৩ এপ্রিল) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, চাপের মুখে পড়ে ব্রিটেন ইরানের সঙ্গে কোনো সামরিক সংঘাতে জড়াবে না। স্টারমার জোর দিয়ে বলেন, হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ এবং এটি উন্মুক্ত রাখা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য অপরিহার্য। তিনি জানান, এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই অবস্থান বজায় রাখবে। এদিকে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জার্মানি বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জ ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি দিতে আগামী দুই মাসের জন্য পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমানো হবে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি লিটার ডিজেলে প্রায় ১৭ ইউরো সেন্ট কর কমানো হবে। অন্যদিকে চীনও এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, হরমুজ প্রণালির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, ড্রোন ও যুদ্ধবিমানের হামলায় একাধিক শহরে অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল আদালতে একটি আবেদন করেছে, যাতে ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি সংক্রান্ত নথি প্রকাশে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে বাধ্য করা যায়। জাপানও এই সংকট নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। দেশটির মন্ত্রিসভার মুখ্য সচিব মিনোরু কিহারা জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে সামরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি টোকিও। বরং তারা সংঘাত প্রশমন ও নৌ চলাচলের নিরাপত্তায় গুরুত্ব দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–সংকটের ৪৫তম দিনে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ক্রমেই মেরুকরণের দিকে যাচ্ছে। একদিকে মার্কিন অবরোধের ঘোষণা তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে ব্রিটেন ও চীনের মতো দেশগুলো উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানাচ্ছে।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত নৌ-অবরোধের হুমকিকে ‘অযৌক্তিক’ ও ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি। রোববার (১২ এপ্রিল) তেহরানে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপ ইরানের নৌবাহিনীর কঠোর নজরদারিতে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এই হুমকিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ আড়াল করার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি ইঙ্গিত দেন, ঘোষিত সময় অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ইরান তা গুরুত্ব দিচ্ছে না। শাহরাম ইরানি বলেন, ইরানের নৌবাহিনী এই অঞ্চলে উপস্থিত বিদেশি সামরিক শক্তির প্রতিটি গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতার পর এমন হুমকি তাদের দুর্বলতাই প্রকাশ করছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব ও সামরিক কমান্ডারদের ওপর হামলার পর শুরু হওয়া উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ইরানের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে চলা পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল। পরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে উভয় পক্ষের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ইরান ১০ দফা প্রস্তাব দেয়, যার মধ্যে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি ছিল। তবে ২১ ঘণ্টার আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা হয়নি। ইরানি প্রতিনিধিদল যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার অভাবের কথা জানিয়ে চুক্তি ছাড়াই তেহরানে ফিরে যায়। এরপরই ট্রাম্প হরমুজ প্রণালিতে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেন। ইরানের নৌবাহিনী প্রধানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত এবং তাদের নৌবাহিনী প্রয়োজনীয় জবাব দিতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবরোধ কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও মানসিক অবস্থাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন। বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পালন করা জন ব্রেনান বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাখা নিরাপদ নয়। তিনি মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর উল্লেখ করে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে পড়লে তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে এবং ট্রাম্প সেই অবস্থার উদাহরণ হতে পারেন। গত শনিবার এমএস নাউ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, “এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।” তিনি বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। ব্রেনানের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত লাখো মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখা মানে বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী যেন ঠিক এমন পরিস্থিতির জন্যই প্রণীত। একজন প্রেসিডেন্টের হাতে যখন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তখন তার মানসিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্রেনান বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হতে হয় সুসংহত ও বিচক্ষণ। কিন্তু ট্রাম্পের আচরণে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরানো ছাড়া বিকল্প নেই। ব্রেনানের এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার অন্যতম কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।