Live update news
বস্টনে শপথ অনুষ্ঠান শেষে হাত উঁচিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন নতুন মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীরা | ছবি: এএফপি
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেও ছাড় নেই, ট্রাম্পের কড়া নিয়মে বিপাকে বিদেশি স্বামী-স্ত্রীরা!

আমেরিকায় বৈধভাবে আসার ও থাকার নিয়মগুলো আরও কঠিন করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার এই কড়া নিয়মের খড়্গ পড়েছে এমন এক দলের ওপর, যারা এতদিন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতেন। তারা হলেন—আমেরিকান নাগরিকদের বিদেশি (নন-সিটিজেন) স্বামী অথবা স্ত্রী।   সাধারণত কোনো আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করলে তার বিদেশি সঙ্গী সহজেই গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পেয়ে যেতেন এবং তাদের তাড়া করার ভয় থাকত না। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে, গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে করা হচ্ছে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল প্রশ্ন, এবং অবৈধভাবে থাকা মানুষদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার (ডিপোর্টেশন) নিয়ম আরও জোরালো করা হয়েছে।   এর ফলে অনেকেই এখন গ্রেফতার বা দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ভয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছেন। 'আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড' নামের একটি সংস্থার প্রধান জানান, এই আতঙ্কের কারণে অনেক বিদেশি সঙ্গী নিজেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এই সংকটে পড়ে তাদের সাহায্য চেয়েছেন।   আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক শারভারী দালাল-ধেইনি বলেন, "আইন অনুযায়ী আমেরিকান নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীরা সবসময় বিশেষ সুবিধা পেতেন। তাদের জন্য কোনো কোটা বা সংখ্যার সীমা থাকত না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের সাধারণ আর ১০ জন অবৈধ অভিবাসীর মতোই দেখছে।"   এদিকে ইমিগ্রেশন বিভাগের (USCIS) মুখপাত্র জ্যাক কাহলার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া যাচাই-বাছাই। তিনি সাফ বলেন, কোনো মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার পেয়ে যাবেন না। যারা নিয়ম না মেনে ভিসা ছাড়া দেশে ঢুকেছেন বা মেয়াদের চেয়ে বেশি দিন ধরে আছেন, তাদের ‘অবৈধ’ হিসেবেই ধরা হবে এবং প্রয়োজনে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।   আইনজীবীরা তাই সতর্ক করে বলছেন, আমেরিকানদের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের এখন থেকে আর ভাবার সুযোগ নেই যে বিয়ে করলেই আমেরিকায় থাকার শতভাগ অধিকার নিশ্চিত হয়ে যায়। এই নতুন কড়াকড়ির কারণে হাজার হাজার সাধারণ পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।   সূত্র: এনপিআর (NPR)

১০ মিনিট Ago
টানা ৪টি প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার পর অবশেষে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ক্যাসললেকের কাছে বিক্রি হতে রাজি হলো এভিয়েশন জায়ান্ট ইজিজেট | ছবি: সংগৃহীত
৬.৭ বিলিয়ন ডলারে ব্রিটিশ এয়ারলাইন ইজিজেট কিনে নিচ্ছে মার্কিন কোম্পানি ক্যাসললেক

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় বাজেট এয়ারলাইন (কম খরচে বিমানসেবা দাতা) 'ইজিজেট' (EasyJet) কিনে নিতে যাচ্ছে আমেরিকার বিখ্যাত প্রাইভেট ইকুইটি প্রতিষ্ঠান 'ক্যাসললেক' (Castlelake)। দীর্ঘ আলোচনার পর অবশেষে ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ৫ বিলিয়ন পাউন্ড) এই বিশাল অধিগ্রহণ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইজিজেট কর্তৃপক্ষ।   ইজিজেটের পরিচালনা পর্ষদ এবং ক্যাসললেক রবিবার জানায়, তারা চুক্তির বিষয়ে একটি নীতিগত সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। এর আগে মার্কিন প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া টানা চারটি প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিল ইজিজেট। এই চুক্তির খবর সামনে আসতেই সোমবার লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জে ইজিজেটের শেয়ারের দাম প্রায় ১০% বেড়ে যায়।   ক্যাসললেক প্রতি শেয়ারের জন্য ৬.৯০ পাউন্ড দাম দেওয়ার প্রস্তাব করেছে, যা ইজিজেটের বোর্ড শেয়ারহোল্ডারদের কাছে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ক্যাসললেককে আগামী ৩ আগস্টের মধ্যে আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে।   ইজিজেট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, "ক্যাসললেক আমাদের কর্মী ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী ও টেকসই এয়ারলাইন হিসেবে ইজিজেটের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিকীকরণ কর্মসূচিতে তারা পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।"   লন্ডন গ্যাটউইক বিমানবন্দরকে প্রধান হাব করে ১৯৯৫ সালে উদ্যোক্তা স্টেলিওস হাজি-আইওনুর হাত ধরে যাত্রা শুরু করেছিল ইজিজেট। ইউরোপজুড়ে কম খরচে বিমানসেবা দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের যুদ্ধের কারণে বিমানের জ্বালানি তেলের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ ও মুনাফা সংকটে পড়েছিল এয়ারলাইনটি।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপলিস-ভিত্তিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ক্যাসললেক প্রায় ৩৭ বিলিয়ন ডলারের তহবিল পরিচালনা করে। বর্তমানে তাদের নিজস্ব ৩৭৫টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যা তারা বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন এয়ারলাইনসকে লিজ বা ভাড়া দিয়ে থাকে।

২৫ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মের প্রতিটি শিশুর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক আমানত দেওয়ার ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের | ছবি: সংগৃহীত
১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ চালু, প্রতিটি শিশু পাবে ১ হাজার ডলার!

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিস থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ নামের একটি কর-সুবিধাপ্রাপ্ত বিশেষ বিনিয়োগ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। এই ঐতিহাসিক প্রকল্পের আওতায় ২০২৫ থেকে ২০৪৫ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া এবং বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুর নামে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আমানত হিসেবে ১ হাজার ডলার জমা দেওয়া হবে।   নতুন এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের একেবারে অল্প বয়স থেকেই সঞ্চয় ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করা। সরকারের দেওয়া প্রাথমিক ১ হাজার ডলারের পাশাপাশি বাবা-মা, অভিভাবক, আত্মীয়-স্বজন কিংবা বিভিন্ন নিয়োগকর্তারাও একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত অর্থ জমা করতে পারবেন। এই জমানো অর্থ শেয়ারবাজারভিত্তিক স্বল্প খরচের ইনডেক্স ফান্ড বা সূচক তহবিলে বিনিয়োগ করা হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে চক্রবৃদ্ধি হারে বাড়তে থাকবে।   হোয়াইট হাউসে কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রজন্মকে আর্থিকভাবে আরও সক্ষম ও শক্তিশালী করে তুলতেই এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একদম ছোটবেলা থেকেই বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়ার কারণে ভবিষ্যতে এই তরুণদের নিজেদের সম্পদ ও সঞ্চয় গঠনের সম্ভাবনা বহুগুণে বেড়ে যাবে।   মার্কিন ট্রেজারি (অর্থ) বিভাগ জানিয়েছে, এই অ্যাকাউন্টের অর্থগুলো বিশ্বের নামী বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরক, ভ্যানগার্ড এবং স্টেট স্ট্রিট-এর নির্বাচিত ইনডেক্স ফান্ডে খাটানো হবে। মূলত ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের একটি বিশেষ উপহার হিসেবে এই কর্মসূচিটি দেশজুড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে।   তবে এই নতুন স্কিমটি নিয়ে মার্কিন রাজনীতিতে ব্যাপক বিতর্ক ও সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধীদের মতে, সরকার শুরুতে ১ হাজার ডলার দিলেও যেসব ধনী পরিবার নিয়মিত এই অ্যাকাউন্টে অতিরিক্ত টাকা জমা করতে পারবে, দিনশেষে তারাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি লাভবান হবে। এর বিপরীতে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, পারিবারিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন—এই উদ্যোগ দেশের লাখো শিশুকে ছোট থেকেই আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় ও আধুনিক বিনিয়োগ সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলবে।

৪৫ মিনিট Ago
ছবি: বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতিতে গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় ও ফান্ডিংয়ের তথ্য নিয়ে পড়াশোনায় ব্যস্ত এক শিক্ষার্থী (প্রতীকী ছবি)
বিদেশে পড়তে চান? ফান্ডিং পাওয়ার আগে এই ৩ বিষয় অবশ্যই জেনে নিন

বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ফুলি ফান্ডেড সুযোগ পাওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর। তবে বাস্তবতা হলো, শত শত বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত ফান্ডিং পান না। যারা ফুল ফান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে এসেছেন তাদের অনেকের মতে, এর অন্যতম কারণ শুধু ভালো ফলাফলের অভাব নয়; বরং সঠিক পরিকল্পনা, গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রোগ্রাম নির্বাচন এবং ফান্ডিং ব্যবস্থার যথাযথ ধারণার অভাব।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে আবেদনকারীদের তিনটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত।   প্রথমত, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় নয়, গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রফেসর নির্বাচন করতে হবে। অনেক আবেদনকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাঙ্কিং দেখে আবেদন করলেও অধিকাংশ গবেষণাভিত্তিক মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামে অর্থায়নের বড় অংশ আসে সংশ্লিষ্ট প্রফেসরের গবেষণা অনুদান থেকে। তাই আবেদন করার আগে নিজের গবেষণার আগ্রহের সঙ্গে মিল রয়েছে এমন প্রফেসরের সাম্প্রতিক গবেষণা, প্রকাশনা, চলমান প্রকল্প এবং গবেষণাগারের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা নেওয়া জরুরি। গবেষণার মিল যত বেশি হবে, ফান্ডিং পাওয়ার সম্ভাবনাও তত বাড়বে।   দ্বিতীয়ত, ফান্ডিংয়ের কাঠামো সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। অনেকেই মনে করেন, ফান্ডিং মানেই স্কলারশিপ। কিন্তু বাস্তবে উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগ আরও বিস্তৃত। গবেষণা সহকারী (রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ), শিক্ষকতা সহকারী (টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্টশিপ), ফেলোশিপ, প্রশিক্ষণ অনুদান, বিভাগীয় পুরস্কার কিংবা গ্র্যাজুয়েট অ্যাসিস্ট্যান্টশিপের মাধ্যমেও পূর্ণ বা আংশিক অর্থায়ন পাওয়া যায়। আবেদন করার আগে জানা উচিত—ফান্ডিং কে দিচ্ছে, সেটি কি ভর্তির সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মিলবে, নাকি আলাদা প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচন করা হবে। একই সঙ্গে ফান্ডিংয়ের মেয়াদ, টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, স্বাস্থ্যবিমা ও গবেষণার ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে কি না, তাও নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।   তৃতীয়ত, শুধু একাডেমিক ফল নয়, নিজের গবেষণার সম্ভাবনাকেও তুলে ধরতে হবে। ভালো সিজিপিএ ও গবেষণা প্রকাশনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলোই একমাত্র বিবেচ্য নয়। অনেক আবেদনকারী তুলনামূলক সাধারণ একাডেমিক ফলাফল নিয়েও ফান্ডিং পান, কারণ তারা গবেষণার আগ্রহ, নতুন দক্ষতা অর্জনের সক্ষমতা এবং গবেষণা দলে কার্যকর অবদান রাখার সম্ভাবনা স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে সক্ষম হন। একটি শক্তিশালী জীবনবৃত্তান্ত সাক্ষাৎকার পর্যন্ত পৌঁছে দিতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে আবেদনকারীর ভবিষ্যৎ গবেষণা সম্ভাবনা ও পরিকল্পনা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সফল আবেদন কেবল বেশি সংখ্যক বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করার ওপর নির্ভর করে না। বরং সঠিক গবেষণার ক্ষেত্র নির্বাচন, উপযুক্ত প্রফেসরের সঙ্গে মিল খুঁজে বের করা, ফান্ডিংয়ের উৎস ও শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা এবং নিজের গবেষণা সক্ষমতাকে কার্যকরভাবে উপস্থাপন করাই সফলতার মূল চাবিকাঠি।   ফলে যারা বিদেশে ফুলি ফান্ডেড উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুঁজছেন, তাদের জন্য পরামর্শ হলো—সংখ্যার চেয়ে মানসম্মত আবেদনকে গুরুত্ব দিন। লক্ষ্যভিত্তিক প্রস্তুতি, গবেষণার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আবেদন এবং ফান্ডিং ব্যবস্থার সঠিক বোঝাপড়াই কাঙ্ক্ষিত সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে।

১ ঘন্টা Ago
ছবি: অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীবৃন্দের একাংশ। আমেরিকা বাংলা
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জর্জিয়ায় গাজী ফাউন্ডেশনের বিশেষ বারবিকিউ পার্টি

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে বিশেষ বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেছে গাজী ফাউন্ডেশন। আজ রবিবার (৫ জুলাই) স্থানীয় লাকি সোলস পার্কে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এ আয়োজনে বিভিন্ন বয়সী প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মৌসুমি ফলমূল ও চিকেন বারবিকিউসহ বিভিন্ন আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে উপস্থিত অতিথিরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং প্রবাসে সামাজিক বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার গুরুত্ব তুলে ধরেন।   আয়োজকরা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের পাশাপাশি প্রবাসে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তাদের মতে, এ ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া প্রবাসীরা বলেন, কর্মব্যস্ত জীবনের বাইরে এ ধরনের মিলনমেলা পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও ঘনিষ্ঠ করে এবং প্রবাসে বেড়ে ওঠা শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন গড়ে তুলতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের আনন্দ একসঙ্গে উদযাপনের সুযোগ পেয়ে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।   অনুষ্ঠান শেষে গাজী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান দিদারুল আলম গাজী উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি ভবিষ্যতেও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সম্প্রীতি, ঐক্য ও সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

মনজিলুর রহমান প্রকাশ: জুলাই ৫, ২০২৬ ১৯:২২
বস্টনে শপথ অনুষ্ঠান শেষে হাত উঁচিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছেন নতুন মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়া অভিবাসীরা | ছবি: এএফপি
মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেও ছাড় নেই, ট্রাম্পের কড়া নিয়মে বিপাকে বিদেশি স্বামী-স্ত্রীরা!

আমেরিকায় বৈধভাবে আসার ও থাকার নিয়মগুলো আরও কঠিন করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবার তার এই কড়া নিয়মের খড়্গ পড়েছে এমন এক দলের ওপর, যারা এতদিন বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতেন। তারা হলেন—আমেরিকান নাগরিকদের বিদেশি (নন-সিটিজেন) স্বামী অথবা স্ত্রী।   সাধারণত কোনো আমেরিকান নাগরিককে বিয়ে করলে তার বিদেশি সঙ্গী সহজেই গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব পেয়ে যেতেন এবং তাদের তাড়া করার ভয় থাকত না। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর ক্ষমতায় আসার পর থেকে পরিস্থিতি বদলে গেছে। এখন বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে, গ্রিন কার্ডের ইন্টারভিউতে করা হচ্ছে অত্যন্ত কঠিন ও জটিল প্রশ্ন, এবং অবৈধভাবে থাকা মানুষদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার (ডিপোর্টেশন) নিয়ম আরও জোরালো করা হয়েছে।   এর ফলে অনেকেই এখন গ্রেফতার বা দেশ থেকে বের করে দেওয়ার ভয়ে ইমিগ্রেশন বিভাগের মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছেন। 'আমেরিকান ফ্যামিলিজ ইউনাইটেড' নামের একটি সংস্থার প্রধান জানান, এই আতঙ্কের কারণে অনেক বিদেশি সঙ্গী নিজেই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে আমেরিকার ভেতরে ও বাইরে মিলিয়ে প্রায় ১৭ লাখ মানুষ এই সংকটে পড়ে তাদের সাহায্য চেয়েছেন।   আমেরিকান ইমিগ্রেশন লয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক শারভারী দালাল-ধেইনি বলেন, "আইন অনুযায়ী আমেরিকান নাগরিকদের স্বামী-স্ত্রীরা সবসময় বিশেষ সুবিধা পেতেন। তাদের জন্য কোনো কোটা বা সংখ্যার সীমা থাকত না। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন তাদের সাধারণ আর ১০ জন অবৈধ অভিবাসীর মতোই দেখছে।"   এদিকে ইমিগ্রেশন বিভাগের (USCIS) মুখপাত্র জ্যাক কাহলার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকানদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া যাচাই-বাছাই। তিনি সাফ বলেন, কোনো মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করলেই কেউ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পার পেয়ে যাবেন না। যারা নিয়ম না মেনে ভিসা ছাড়া দেশে ঢুকেছেন বা মেয়াদের চেয়ে বেশি দিন ধরে আছেন, তাদের ‘অবৈধ’ হিসেবেই ধরা হবে এবং প্রয়োজনে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হবে।   আইনজীবীরা তাই সতর্ক করে বলছেন, আমেরিকানদের বিদেশি জীবনসঙ্গীদের এখন থেকে আর ভাবার সুযোগ নেই যে বিয়ে করলেই আমেরিকায় থাকার শতভাগ অধিকার নিশ্চিত হয়ে যায়। এই নতুন কড়াকড়ির কারণে হাজার হাজার সাধারণ পরিবার এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন।   সূত্র: এনপিআর (NPR)

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
মেলোনি আমার প্রতি অতিরিক্ত আসক্ত, আইনি নিষেধাজ্ঞা দরকার’ ট্রাম্পের মন্তব্যে নতুন কূটনৈতিক বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে আবারও আলোচনার জন্ম দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি ব্যঙ্গাত্মকভাবে লিখেছেন, ‘আমার মনে হচ্ছে একটি আইনি নিষেধাজ্ঞা (রেস্ট্রেইনিং অর্ডার) দরকার।’ পোস্টটিতে তিনি এমন ইঙ্গিত দেন যে মেলোনি নাকি তার প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ দেখাচ্ছেন।   মন্তব্যটি প্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয় এবং এটি যুক্তরাষ্ট্র-ইতালি সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্ক তৈরি করে।   ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময় এসেছে, যখন ন্যাটো জোটের শীর্ষ সম্মেলনকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। ফলে তার ব্যক্তিগত এই মন্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।   এর আগে গত জুনে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের পরও ট্রাম্প একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি নাকি তার সঙ্গে ছবি তোলার জন্য বিশেষ আগ্রহ দেখিয়েছিলেন। তবে মেলোনি প্রকাশ্যে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তিনি কোনো সময়ই এমন অনুরোধ করেননি। ইতালির প্রধানমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইতালি একটি মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র এবং তিনি ব্যক্তিগত প্রচারের জন্য এমন কোনো আচরণ করেন না।   সাম্প্রতিক পোস্টে ট্রাম্প সরাসরি কোনো নতুন অভিযোগ তোলেননি। বরং তিনি রসিকতা ও ব্যঙ্গের ভঙ্গিতে ‘রেস্ট্রেইনিং অর্ডার’ বা আদালতের মাধ্যমে দূরে থাকার নির্দেশনার প্রসঙ্গ টানেন। যুক্তরাষ্ট্রে এই ধরনের আদেশ সাধারণত হয়রানি, হুমকি বা অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগের অভিযোগে আদালত থেকে জারি করা হয়। তবে ট্রাম্পের পোস্টে এমন কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা ছিল না।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও বিষয়টিকে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক মন্তব্য হিসেবেই তুলে ধরেছে।   ট্রাম্পের পোস্ট প্রকাশের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে ইতালির সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে, দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আগের মতোই শক্তিশালী রয়েছে এবং ব্যক্তিগত মন্তব্যকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সঙ্গে মিলিয়ে দেখছে না। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালি দীর্ঘদিনের ন্যাটো মিত্র। ইউরোপের নিরাপত্তা, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মন্তব্য বিতর্ক তৈরি করলেও তা দুই দেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ককে তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাবিত করবে—এমন কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্প অতীতেও বিভিন্ন বিদেশি নেতা সম্পর্কে ব্যক্তিগত মন্তব্য করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। তার বক্তব্য অনেক সময় সমর্থকদের কাছে রসিকতা হিসেবে বিবেচিত হলেও বিরোধীরা এগুলোকে অপ্রয়োজনীয় ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেন। জর্জিয়া মেলোনিকে নিয়ে তার সাম্প্রতিক মন্তব্যও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   অন্যদিকে, জর্জিয়া মেলোনি ইউরোপীয় রাজনীতির অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত। ইতালির প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ন্যাটো এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ট্রাম্প ও মেলোনির সাক্ষাৎ হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্য মন্তব্যের কারণে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের আগে ট্রাম্পের এই পোস্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে।   অনেক গণমাধ্যম উল্লেখ করেছে, এটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য এবং এর সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক আইনি উদ্যোগ বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের সম্পর্ক নেই। এখন পর্যন্ত ইতালি কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নতুন কোনো সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ফলে ঘটনাটি আপাতত রাজনৈতিক বাক্যযুদ্ধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তবে ন্যাটো সম্মেলনের সময় দুই নেতার সাক্ষাৎ বা নতুন কোনো মন্তব্য এ বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।   সর্বশেষ পরিস্থিতি অনুযায়ী, ট্রাম্পের মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও দুই দেশের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বা যৌথ নিরাপত্তা সহযোগিতায় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি বর্তমানে রাজনৈতিক বিতর্ক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

আমেরিকার রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
ধ্বংসের হুমকি দিলে যে কোনো ইরানি নেতার পরিণতিও হবে একই খামেনির বিদায়বেলায়

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেছেন, ভবিষ্যতে ইরানের কোনো নেতা যদি ইসরায়েলকে ধ্বংসের পরিকল্পনা করেন, তবে তাঁর পরিণতিও একই হবে। আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বিবৃতিতে কাটজ দাবি করেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে খামেনিকে ইসরায়েল লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল। তিনি বলেন, “যে ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, শেষ পর্যন্ত সে-ই ধ্বংস হয়েছে। ভবিষ্যতেও ইরানের কোনো নেতা যদি একই পথে এগোন, তবে তাঁকেও একইভাবে মোকাবিলা করা হবে।”   ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক পদক্ষেপ ইরানের কৌশলগত সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তার বিরুদ্ধে যে কোনো হুমকি মোকাবিলায় ইসরায়েল প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে এককভাবেও ব্যবস্থা নিতে সক্ষম।   অন্যদিকে, তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। রাজধানীর প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের ঢল নামে। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া অনেকের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী স্লোগান শোনা যায়।   ইরানের পক্ষ থেকে আগেই জানানো হয়েছে, দেশটির নেতৃত্ব, সামরিক স্থাপনা বা ভূখণ্ডের বিরুদ্ধে নতুন কোনো হামলা হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তেহরান দাবি করেছে, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।   সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরও ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আবারও আলোচনায় নিয়ে এসেছে। কূটনৈতিক মহল পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না।

ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা ছবি সংগৃহীত
ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের প্রাক্কালে ইউক্রেনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ১১

রাশিয়া সোমবার ভোরে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।     ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানিয়েছে, হামলায় একাধিক আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজধানীর কয়েকটি এলাকায় বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন। দমকল ও উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।   ইউক্রেনের বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া এই হামলায় ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন ব্যবহার করে। আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী অনেক ড্রোন ভূপাতিত করলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি, যার ফলে রাজধানীতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়।    প্রেসিডেন্ট Volodymyr Zelenskyy হামলার পর বলেন, বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষায় ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করা জরুরি। তিনি ন্যাটো মিত্রদের প্রতি দ্রুত অতিরিক্ত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের আহ্বান জানান।   এই হামলা এমন সময়ে হয়েছে, যখন তুরস্কের আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শুরু হওয়ার কথা। ইউক্রেন আশা করছে, সম্মেলনে দেশটির জন্য নতুন সামরিক সহায়তা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসবে।    অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ছিল ইউক্রেনের সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্প-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। তবে ইউক্রেন বলছে, হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবাসিক এলাকা এবং সাধারণ নাগরিকরা। এই দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   হামলার পর রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশাসন নাগরিকদের বিমান হামলার সতর্কবার্তা উপেক্ষা না করে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছে।   ইউক্রেন–রাশিয়া যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসেও সংঘাতের তীব্রতা কমেনি। বরং ন্যাটো সম্মেলনের ঠিক আগে সংঘটিত এই বড় হামলা ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। এখন আন্তর্জাতিক মহলের নজর ন্যাটো সম্মেলনে ইউক্রেনের জন্য কী ধরনের সামরিক ও রাজনৈতিক সহায়তার ঘোষণা আসে, সেদিকে।

ব্রিটেনের একটি কলেজের ছবি সংগৃহীত আমেরিকা বাংলা
ব্রিটেনে বেকারত্বের সংকট তীব্র, ভাতানির্ভর জীবনের ঝুঁকিতে বাড়ছে তরুণদের সংখ্যা

যুক্তরাজ্যে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের সংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দেশটির সামাজিক নীতিবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল জাস্টিস (সিএসজে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রতি Year 6 শ্রেণিতে গড়ে চারজন শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারে।   প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাঁচ বছর আগে একই হিসাব ছিল প্রতি শ্রেণিতে তিনজন। বর্তমানে এই সংখ্যা বেড়ে চারজনে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ২১ বছর বয়সী এক লাখের বেশি তরুণ বিভিন্ন ধরনের বেকারত্ব-সংক্রান্ত সরকারি ভাতা গ্রহণ করছেন। পাশাপাশি বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত হাজারো শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় কর্মহীন থাকার ঝুঁকিতে রয়েছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন না করেই শিক্ষাজীবন শেষ করছে। ফলে চাকরির বাজারে প্রবেশের সময় তারা পিছিয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষানবিশ কর্মসূচি এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সীমিত সুযোগও কর্মসংস্থানে বাধা তৈরি করছে।   এদিকে যুক্তরাজ্য সরকারের যুব কর্মসংস্থান পর্যালোচনায় জানানো হয়েছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রায় ১০ লাখ তরুণ এমন অবস্থায় রয়েছে, যারা চাকরি, শিক্ষা কিংবা কোনো ধরনের প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নয়। এই পরিস্থিতি পরিবর্তনে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   প্রতিবেদনে বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই কর্মমুখী শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষানবিশ কর্মসূচির সুযোগ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি তরুণদের বাস্তব কর্মদক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের দ্রুত শ্রমবাজারে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।   যুক্তরাজ্যে দীর্ঘমেয়াদি বেকারত্ব ও সরকারি ভাতার ওপর নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে দেশটির নীতিনির্ধারণী মহলে আলোচনা জোরদার হয়েছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
উত্তর কর্দোফানে ড্রোন হামলায় ১৮ শিশুর মৃত্যু; সুদানের সংঘাত নিয়ে ইউনিসেফের চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট | ছবি: সংগৃহীত
সুদানে বছরের প্রথম ৬ মাসে ৩৩০ শিশু হতাহত, চরম উদ্বেগে ইউনিসেফ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ১০:৫৭

সুদানে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অন্তত ৩৩০টি শিশু নিহত ও আহত হয়েছে। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক তহবিল (ইউনিসেফ) সোমবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে জানিয়েছে, সুদানের শিশুদের জন্য পরিস্থিতি দিন দিন আরও ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।   ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুদানের দারফুর এবং কর্দোফান রাজ্যে সবচেয়ে বেশি শিশু হতাহতের ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তর কর্দোফানের রাজধানী আল-ওবেইদ এবং এর আশেপাশের এলাকার পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। গত মে মাস থেকে শুরু হওয়া উপর্যুপরি ড্রোন হামলা ও অন্যান্য সশস্ত্র আক্রমণে এই রাজ্যে অন্তত ১৮টি শিশু নিহত এবং ১৭টি শিশু গুরুতর আহত হয়েছে।   সুদানে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, বর্তমানে সুদানের শিশুদের জন্য কোনো নিরাপদ স্থান অবশিষ্ট নেই। তারা নিজেদের ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বাজারঘাট এমনকি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাওয়ার পথেও অনবরত হামলার শিকার হচ্ছে। শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা এবং তাদের অধিকার রক্ষা করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সংস্থাটি আরও সতর্ক করেছে যে, অনবরত বোমা হামলা এবং বারবার বাসস্থান পরিবর্তন করার কারণে শিশুদের মধ্যে তীব্র ভয়, মানসিক ট্রমা ও বিষণ্ণতা তৈরি হচ্ছে। এই যুদ্ধ শিশুদের শুধু হত্যা বা আহতই করছে না, বরং তাদের জোরপূর্বক সশস্ত্র বাহিনীতে নিয়োগ, অপহরণ, যৌন সহিংসতা এবং স্কুল-হাসপাতালে হামলার মতো গুরুতর অপরাধের মুখোমুখি করছে।   গত ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুদানের নিয়মিত সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর মধ্যে এই গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। বিগত কয়েক বছরের এই সংঘাতের ফলে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং কয়েক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যা বর্তমান বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাও সতর্ক করেছে যে, আরএসএফ-এর অব্যাহত হামলার কারণে আল-ওবেইদ শহরটি সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র নয়, ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক ভারত
যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র নয়, ইসরায়েলের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক ভারত: নেতানিয়াহু
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৫:১০

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র—এমন ধারণা সঠিক নয়। তিনি ভারতকে ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান সমর্থক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে ভারত থেকে ধারাবাহিক সমর্থন পাচ্ছে ইসরায়েল।   মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন। সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রই ইসরায়েলের একমাত্র শক্তিশালী মিত্র। সেই বক্তব্যের জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের প্রতি ভারতের সমর্থন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশগুলোর একটি হিসেবে ভারত তেল আবিবের নির্ভরযোগ্য অংশীদার।   নেতানিয়াহু বলেন, ভারতের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক শুধু কূটনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়; প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি, কৃষি, উদ্ভাবন, সাইবার নিরাপত্তা এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা ধারাবাহিকভাবে সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, ভারত থেকে ইসরায়েল সবসময়ই উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা পেয়েছে।   সাক্ষাৎকারে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন। নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কে কোনো ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে তাঁর নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব আগের মতোই দৃঢ় বলে তিনি উল্লেখ করেন।   উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারত ও ইসরায়েলের সম্পর্ক প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা, প্রযুক্তি, কৃষি এবং বাণিজ্য খাতে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

মুষলধারে বৃষ্টিতে ভারতের মুম্বাইয়ে ভবন ধসে নিহত ৬
মুষলধারে বৃষ্টিতে ভারতের মুম্বাইয়ে ভবন ধসে নিহত ৬, নিহতদের মধ্যে ৫ শিশু
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৫:৪

ভারতের আর্থিক রাজধানী মুম্বাইয়ে টানা মৌসুমি বৃষ্টির মধ্যে একটি আবাসিক ভবন ধসে অন্তত ৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৫ শিশু রয়েছে। দুর্ঘটনার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি অভিযান চালানো হয়।     রোববার রাতে শহরের পূর্বাঞ্চলের মানখুর্দ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বৃষ্টির সময় একটি বহুতল ভবন ভেঙে পাশের কয়েকটি ঘরের ওপর পড়ে। এতে একই পরিবারের পাঁচ শিশু ও এক নারী প্রাণ হারান। অন্তত একজন আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে।     গত ২৪ ঘণ্টায় মুম্বাইয়ে ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে ভারতের আবহাওয়া বিভাগ। ভারী বৃষ্টিতে শহরের বহু সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে, যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় সোমবার রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।     বিরূপ আবহাওয়ার কারণে মুম্বাইয়ের সব স্কুল ও কলেজ এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় বাইরে বের না হওয়া এবং নিচু এলাকায় বসবাসকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।     প্রতি বছর জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অতি ভারী বৃষ্টি, জলাবদ্ধতা এবং পুরোনো ভবন ধসের মতো ঘটনা মুম্বাইয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা নগর অবকাঠামোর সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।

দাবানলে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স
দাবানলে বিপর্যস্ত দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্স, ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ৬, ২০২৬ ৪:৫৮

দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া একটি বড় দাবানলের কারণে স্পেন সীমান্তসংলগ্ন অন্তত দুই ডজন ছোট শহর ও গ্রাম থেকে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রবল বাতাসের কারণে আগুন আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।   ফ্রান্সের পিরেনিজ পর্বতমালার পাদদেশে শুরু হওয়া এ দাবানলে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর বন ও প্রাকৃতিক এলাকা পুড়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় শত শত দমকলকর্মী, অগ্নিনির্বাপণ যান এবং আকাশপথে পানি নিক্ষেপকারী বিমান মোতায়েন করা হয়েছে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে।   ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ ন্যুনেজ জানিয়েছেন, সোমবার সকালে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তাই নতুন করে আগুন নিয়ন্ত্রণের অভিযান জোরদার করা হয়েছে।   দাবানলের প্রভাব পড়েছে বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতা ট্যুর ডি ফ্রান্স-এর তৃতীয় ধাপেও। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিযোগিতার নির্ধারিত ফিনিশিং এলাকায় দর্শকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যাতে জরুরি সেবাকর্মীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন। তবে প্রতিযোগিতা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে।   ফ্রান্সে চলতি গ্রীষ্মের শুরু থেকেই তীব্র তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়েছে। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যে একের পর এক দাবানলের ঘটনা ঘটেছে, আর কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, অনুকূল আবহাওয়া না ফিরলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
682 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
569 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
678 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
522 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়