দক্ষিণ লেবাননের কাফর তিবনিত গ্রামে হিজবুল্লাহর পৃথক দুটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ইসরাইলি ব্যাটালিয়ন প্রধানসহ অন্তত চার সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এই নতুন সহিংসতা চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-কে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর কাফর তিবনিত গ্রামে হিজবুল্লাহর একটি সন্দেহভাজন ড্রোন বা ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডোর গেদালিয়া বেন সিমহন এবং তার ট্যাংকের অন্য তিন ক্রু সদস্য নিহত হন। ৩২ বছর বয়সি বেন সিমহন গত এপ্রিল মাসে এই ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যখন এর আগের কমান্ডার দক্ষিণ লেবাননে গুরুতর আহত হন। এই প্রাণঘাতী হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর একই গ্রামে হিজবুল্লাহর আরেকটি বিস্ফোরক ড্রোন ইসরাইলি কমান্ডো ব্রিগেডের ওপর আঘাত হানে। এতে এক রিজার্ভ অফিসার গুরুতর আহত হওয়াসহ মোট পাঁচ ইসরাইলি সেনা জখম হন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরাইলি বিমান বাহিনী লেবাননের নাবাতিয়েহ ও বেকা উপত্যকাসহ অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু করে। আইডিএফের দাবি, হিজবুল্লাহর পুনঃপুন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এতে হিজবুল্লাহর একাধিক কমান্ড সেন্টার ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসসহ বেশ কিছু প্রতিরোধ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া এই ইসরাইলি বিমান হামলার কারণে বহু এলাকায় হতাহতদের উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা থাকলেও ইসরাইল এই চুক্তির অংশ ছিল না। ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তাদের নিয়ন্ত্রিত বাফার জোন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল বলে গণ্য করা হচ্ছে। এই চরম উত্তেজনার জের ধরেই সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। এই চুক্তিটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার কারণে ইসরাইলি কট্টরপন্থী নেতারা এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করছেন। ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ইসরাইলি সেনাদের রক্তের বিনিময়ে কোনো মার্কিন চুক্তির তোয়াক্কা করা হবে না এবং পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া উচিত।
ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ-এ অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ছবি তোলাকে কেন্দ্র করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যে তীব্র বাকযুদ্ধ শুরু হয়েছে। জি-৭ সম্মেলনের একটি ছবি তোলার জন্য মেলোনি তার কাছে ‘মিনতি’ করেছিলেন—ট্রাম্পের এমন দাবিকে সম্পূর্ণ ‘মনগড়া’ ও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হওয়ার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, যার জের ধরে ইতালির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তাজানি আগামী সপ্তাহের শুরুতে নির্ধারিত তার মার্কিন সফর বাতিল ঘোষণা করেছেন। ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে যে ফাটল ধরেছিল, এই প্রকাশ্য বিরোধের মাধ্যমে তা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠল। চলতি সপ্তাহে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং জর্জিয়া মেলোনিকে বেশ আন্তরিকভাবে সোফায় বসে কথা বলতে দেখা গিয়েছিল এবং মেলোনি তখন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন যে তাদের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সম্মেলন শেষে ইতালির ‘লা সেভেন’ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, মেলোনি তার সঙ্গে একটি ছবি তোলার জন্য রীতিমতো মিনতি করেছিলেন এবং দয়া পরবশ হয়ে তিনি সেই অনুরোধে রাজি হন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য ইতালীয় ভাষায় ডাব করে প্রচার করার পর পুরো ইতালিতে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর জবাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে নিজের সাত মিলিয়ন অনুসারীর উদ্দেশ্যে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তায় মেলোনি ট্রাম্পের এই দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে তিনি স্তব্ধ। মেলোনি প্রশ্ন তোলেন, কেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মিত্রদের সাথে এমন আচরণ করছেন। ট্রাম্পের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে পশ্চিমা বিশ্ব এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রকৃত শত্রুদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প এমন দৃঢ়তা দেখাতে পারেন না, উল্টো সেসব দেশের স্বৈরশাসকদের প্রতি তাকে অনেক বেশি নমনীয় দেখা যায়। একই সাথে ট্রাম্পকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে মেলোনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, তিনি নিজে বা ইতালি রাষ্ট্র—কেউ কখনো কারও কাছে ভিক্ষা বা মিনতি করে না। এই ঘটনার পর ইতালির রাজনৈতিক অঙ্গনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ক্ষোভের জোয়ার বইছে। ইতালির প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা তাৎক্ষণিকভাবে প্রধানমন্ত্রী মেলোনিকে ফোন করে তার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য ভুলে বিরোধী দলগুলোর নেতারাও মেলোনির পাশে দাঁড়িয়েছেন। বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেটর ফিলিপ্পো সেন্সি বলেন, ইতালির প্রধানমন্ত্রীর সাথে এমন অহংকারী ভাষায় কথা বলার অধিকার কারও নেই। অন্যদিকে ফাইভ স্টার মুভমেন্টের নেতা জুসেপ্পে কন্তে মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনের অনুগ্রহ পাওয়ার চেষ্টা কখনোই জাতীয় মর্যাদা ও স্বার্থের মূল্যে হওয়া উচিত নয়। মেলোনির দল 'ব্রাদার্স অব ইতালি'-র সিনেট নেতা লুসিও মালান বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্য মূলত তার নিজের ভাবমূর্তিকেই ক্ষুণ্ন করছে এবং ওয়াশিংটনের অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মেলোনির ‘না’ বলার সাহসী অবস্থানের কারণেই ট্রাম্প সম্ভবত ক্ষুব্ধ হয়েছেন। একই সুর মিলিয়ে মেলোনির সরকারি মিত্র মাত্তেও সালভিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মেলোনির ওপর আক্রমণ মানে পুরো ইতালির ওপর আক্রমণ। ২০২২ সালে নির্বাচিত হওয়া জর্জিয়া মেলোনি ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া একমাত্র ইউরোপীয় নেতা ছিলেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি দেশগুলো তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু মনে করত। তবে ইরানের সাথে মার্কিন যুদ্ধের তীব্র বিরোধিতা করায় গত এপ্রিল মাস থেকেই ট্রাম্প ও মেলোনির সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। এছাড়া, সম্প্রতি পোপ লিও চতুর্দশকে নিয়ে ট্রাম্পের আপত্তিকর মন্তব্যেরও কড়া সমালোচনা করেছিলেন মেলোনি, যা দুই নেতার বর্তমান বৈরিতাকে আরও উসকে দিয়েছে।
ফ্রান্সের ৫৩টি প্রশাসনিক এলাকাকে তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় এনেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেটেও-ফ্রান্স। শুক্রবার দুপুর থেকে এসব এলাকায় কমলা সতর্কতা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৬টি এলাকায় কমলা সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আরও ২৭টি এলাকা এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। মেটেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, চলতি বসন্ত মৌসুমে এটি দেশটির দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই তাপপ্রবাহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের মাসিফ সেন্ট্রাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও কর্সিকা অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে রাজধানী প্যারিস ও ইলে-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেটেও-ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি খুঁজতে প্যারিসের বিভিন্ন খোলা স্থান ও জলাশয়ের আশপাশে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্যানাল সেন্ট-মার্টিনের তীরেও অনেককে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ফ্রান্সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে তিন সাংবাদিক ও দুই রাকসু নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিভাগের সভাপতির উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার হয়েছেন রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান, দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক, রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির এবং রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল, তাহমিদ সোবহান সামি, ওমি, আহমেদ রিয়াদ, মাহমুদুল হাসান জিহাদ, সামির ও আতিকসহ কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন যে, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা তাদের মিট-আপের নামে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রেখে র্যাগিং করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে একজন সহকারী প্রক্টর ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের কয়েকটি সারিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করলে উপস্থিত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ভিডিও মুছে ফেলার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। তবে তারা ভিডিও মুছে দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের দাবি, একপর্যায়ে তাদের ঘিরে রাখা হয়, গালাগালি করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও রাকসুর দুই নেতা ঘটনাস্থলে গেলে তারাও উত্তেজনার মুখে পড়েন। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আলোচনা শেষে প্রক্টর অফিসে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রক্টর অফিসে যাওয়ার জন্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সাংবাদিক আবু বকর অনিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এরপর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে কিল-ঘুষি, থাপ্পড় ও লাথি মারেন। একই সময়ে অন্য সাংবাদিক এবং রাকসুর দুই নেতাকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর দুইজনকে নিজের গাড়িতে তুলে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও অন্যদের মারধর করা হয়। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল বলেন, “এটা ভুল তথ্য। সেখানে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।” তবে একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মাহির বলেন, মারধরের ঘটনা ঘটেছে, যদিও তিনি এতে অংশ নেননি। রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনিও আঘাতের শিকার হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিভাগে এসে সরাসরি কথা বললে ভালো হবে।” সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, “কাউকে মারধরের অধিকার কারও নেই। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন। দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমার সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধর করা হয়েছে। এটি জঘন্য অন্যায়। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” র্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে আমরা যে পরিস্থিতি দেখেছি, তাতে র্যাগিংয়ের সব লক্ষণই ছিল।”
দক্ষিণ লেবাননের কাফর তিবনিত গ্রামে হিজবুল্লাহর পৃথক দুটি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ইসরাইলি ব্যাটালিয়ন প্রধানসহ অন্তত চার সেনা নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে ইসরাইলি বিমান বাহিনী ব্যাপক পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এতে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এই নতুন সহিংসতা চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)-কে এক গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর কাফর তিবনিত গ্রামে হিজবুল্লাহর একটি সন্দেহভাজন ড্রোন বা ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৪০১তম আর্মার্ড ব্রিগেডের ৫২তম ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডোর গেদালিয়া বেন সিমহন এবং তার ট্যাংকের অন্য তিন ক্রু সদস্য নিহত হন। ৩২ বছর বয়সি বেন সিমহন গত এপ্রিল মাসে এই ব্যাটালিয়নের দায়িত্ব নিয়েছিলেন, যখন এর আগের কমান্ডার দক্ষিণ লেবাননে গুরুতর আহত হন। এই প্রাণঘাতী হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর একই গ্রামে হিজবুল্লাহর আরেকটি বিস্ফোরক ড্রোন ইসরাইলি কমান্ডো ব্রিগেডের ওপর আঘাত হানে। এতে এক রিজার্ভ অফিসার গুরুতর আহত হওয়াসহ মোট পাঁচ ইসরাইলি সেনা জখম হন। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর ইসরাইলি বিমান বাহিনী লেবাননের নাবাতিয়েহ ও বেকা উপত্যকাসহ অন্তত ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু করে। আইডিএফের দাবি, হিজবুল্লাহর পুনঃপুন যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা এই হামলা চালিয়েছে এবং এতে হিজবুল্লাহর একাধিক কমান্ড সেন্টার ও রকেট উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ধ্বংসসহ বেশ কিছু প্রতিরোধ যোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর থেকে শুরু হওয়া এই ইসরাইলি বিমান হামলার কারণে বহু এলাকায় হতাহতদের উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত অনেক বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চুক্তি অনুযায়ী লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের কথা থাকলেও ইসরাইল এই চুক্তির অংশ ছিল না। ইসরাইলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তাদের নিয়ন্ত্রিত বাফার জোন থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, যা ইরান ও হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে চুক্তি লঙ্ঘনের শামিল বলে গণ্য করা হচ্ছে। এই চরম উত্তেজনার জের ধরেই সুইজারল্যান্ডে নির্ধারিত মার্কিন-ইরান শান্তি আলোচনা আপাতত স্থগিত হয়ে গেছে। এই চুক্তিটি নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধও এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যার কারণে ইসরাইলি কট্টরপন্থী নেতারা এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করছেন। ইসরাইলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন যে, ইসরাইলি সেনাদের রক্তের বিনিময়ে কোনো মার্কিন চুক্তির তোয়াক্কা করা হবে না এবং পুরো লেবাননকে পুড়িয়ে ছারখার করে দেওয়া উচিত।
ফ্রান্সের ৫৩টি প্রশাসনিক এলাকাকে তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় এনেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেটেও-ফ্রান্স। শুক্রবার দুপুর থেকে এসব এলাকায় কমলা সতর্কতা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৬টি এলাকায় কমলা সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আরও ২৭টি এলাকা এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। মেটেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, চলতি বসন্ত মৌসুমে এটি দেশটির দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই তাপপ্রবাহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের মাসিফ সেন্ট্রাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও কর্সিকা অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে রাজধানী প্যারিস ও ইলে-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেটেও-ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি খুঁজতে প্যারিসের বিভিন্ন খোলা স্থান ও জলাশয়ের আশপাশে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্যানাল সেন্ট-মার্টিনের তীরেও অনেককে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ফ্রান্সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) বিল পুল্টে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের একদিন আগেই অফিসে হাজির হয়ে কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ওডিএনআই) থেকে শত শত কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পুল্টের আকস্মিক উপস্থিতি ওডিএনআই কর্মকর্তাদের বিস্মিত করে। এমনকি বিদায়ী জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডও তার এই সফর সম্পর্কে অল্প সময় আগে অবহিত হন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, পুল্টে শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুল্টে আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি ব্রিফিংয়ে তিনি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফ (পিডিবি) বাসায় নেওয়া সম্ভব কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। পিডিবি হলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সংকলন। একই ব্রিফিংয়ে তিনি নিজের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের স্তর, টপ-সিক্রেট অনুমোদন এবং সরকারি বিমান ব্যবহারের সুযোগ সম্পর্কেও জানতে চান বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সরবরাহ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পুল্টে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিম চেয়েছিলেন এবং সরকারি বিমানের সুবিধা নিয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা ও শিকাগোর মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতের বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে। ৩৮ বছর বয়সী বিল পুল্টে এর আগে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা গোয়েন্দা সংক্রান্ত কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই দেশের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকির দায়িত্ব পাচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তার যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পুল্টে নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করতে আগ্রহী। এদিকে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান পদে ট্রাম্পের স্থায়ী মনোনীত প্রার্থী জে ক্লেটনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় পুল্টে প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপে স্পেনের বিপক্ষে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে কেপ ভার্দেকে ঐতিহাসিক ড্র এনে দেওয়া গোলরক্ষক ভোজিনহার আবেগঘন এক আক্ষেপের অবসান হতে যাচ্ছে। ছেলের বিশ্বকাপের খেলা সরাসরি মাঠে বসে দেখতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন তার মা আনা কান্দিদা এভোরা। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করে আলোচনায় আসেন ভোজিনহা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে মায়ের কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। সে সময় তিনি জানান, অর্থসংকট ও ভিসা জটিলতার কারণে তার মা গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের স্বপ্নপূরণের মুহূর্তটি দেখতে পারেননি। ভোজিনহার সেই অশ্রুসিক্ত বক্তব্য দ্রুত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার মায়ের অনুপস্থিতির গল্প ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় স্পর্শ করে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো। কেপ ভার্দের সাও ভিসেন্তে দ্বীপের সেসারিয়া এভোরা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন আনা কান্দিদা এভোরা। যাত্রার আগে নাতি মারভিন জুনিয়র ও নাতনি লাইস সোফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে বিমানবন্দরে তোলা তার কয়েকটি আবেগঘন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ছবিগুলোতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার আনন্দঘন মুহূর্ত ফুটে উঠেছে। এর আগে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ভোজিনহা বলেছিলেন, বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণ হলেও মায়ের অনুপস্থিতি তাকে গভীরভাবে কষ্ট দিয়েছে। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের মুহূর্তটি তিনি মায়ের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান এই গোলরক্ষক। এবার সেই আক্ষেপ দূর হতে যাচ্ছে। গ্যালারিতে বসে ছেলের বিশ্বকাপের খেলা দেখার সুযোগ পাচ্ছেন আনা কান্দিদা এভোরা, যা ভোজিনহা ও তার পরিবারের জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত হয়ে উঠতে যাচ্ছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করাকে কেন্দ্র করে তিন সাংবাদিক ও দুই রাকসু নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও বিভাগের সভাপতির উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ঠাকুর অ্যাকাডেমিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার হয়েছেন রাবি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি ক্যাম্পাস প্রতিনিধি মারুফ হোসেন মিশন, ঢাকা পোস্টের প্রতিনিধি জুবায়ের জিসান, দৈনিক মানবকণ্ঠের প্রতিনিধি আবু বকর অনিক, রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির এবং রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন মার্কেটিং বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল, তাহমিদ সোবহান সামি, ওমি, আহমেদ রিয়াদ, মাহমুদুল হাসান জিহাদ, সামির ও আতিকসহ কয়েকজন। প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মার্কেটিং বিভাগের কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন যে, সিনিয়র শিক্ষার্থীরা তাদের মিট-আপের নামে দীর্ঘ সময় দাঁড় করিয়ে রেখে র্যাগিং করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে একজন সহকারী প্রক্টর ও সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, জুনিয়র শিক্ষার্থীদের কয়েকটি সারিতে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। এ সময় সাংবাদিকরা ভিডিও ধারণ করলে উপস্থিত সিনিয়র শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। ভিডিও মুছে ফেলার জন্য বারবার চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিকরা। তবে তারা ভিডিও মুছে দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাংবাদিকদের দাবি, একপর্যায়ে তাদের ঘিরে রাখা হয়, গালাগালি করা হয় এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। পরে আরও কয়েকজন সাংবাদিক ও রাকসুর দুই নেতা ঘটনাস্থলে গেলে তারাও উত্তেজনার মুখে পড়েন। ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান এবং মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। আলোচনা শেষে প্রক্টর অফিসে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের সিদ্ধান্ত হয়। তবে প্রক্টর অফিসে যাওয়ার জন্য ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় সাংবাদিক আবু বকর অনিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এরপর কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে কিল-ঘুষি, থাপ্পড় ও লাথি মারেন। একই সময়ে অন্য সাংবাদিক এবং রাকসুর দুই নেতাকেও মারধর করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রক্টর দুইজনকে নিজের গাড়িতে তুলে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী সাংবাদিক মারুফ হোসেন মিশন বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি ভিডিও ধারণ করেছিলেন। ভিডিও মুছে ফেলার জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও অন্যদের মারধর করা হয়। তিনি ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান হিমেল বলেন, “এটা ভুল তথ্য। সেখানে কিছু কথা-কাটাকাটি হয়েছিল, তবে কোনো মারধরের ঘটনা ঘটেনি।” তবে একই বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মাহির বলেন, মারধরের ঘটনা ঘটেছে, যদিও তিনি এতে অংশ নেননি। রাকসুর বিতর্ক ও সাহিত্য সম্পাদক ইমরান লস্কর বলেন, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনিও আঘাতের শিকার হয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন। মার্কেটিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. এম বোরাক আলী বলেন, “বিষয়টি নিয়ে বিভাগে এসে সরাসরি কথা বললে ভালো হবে।” সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক জহুরুল ইসলাম বলেন, “কাউকে মারধরের অধিকার কারও নেই। যদি এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তবে তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন। দোষীদের শাস্তি হওয়া উচিত।” বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়। আমার সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধর করা হয়েছে। এটি জঘন্য অন্যায়। যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” র্যাগিংয়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ঘটনাস্থলে আমরা যে পরিস্থিতি দেখেছি, তাতে র্যাগিংয়ের সব লক্ষণই ছিল।”
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪ শিশু। শুক্রবার (১৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড হয়নি। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৫৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। ফলে এ সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭০ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৯৬ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৭৮ জন। এ সময়ে নতুন করে ৯৭২ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৮৯৩ জন। অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯। এ পর্যন্ত মোট ৭৫ হাজার ১৫৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৩৯৬ জন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছে।
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
ফ্রান্সের ৫৩টি প্রশাসনিক এলাকাকে তাপপ্রবাহের সতর্কতার আওতায় এনেছে দেশটির আবহাওয়া দপ্তর মেটেও-ফ্রান্স। শুক্রবার দুপুর থেকে এসব এলাকায় কমলা সতর্কতা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে ২৬টি এলাকায় কমলা সতর্কতা ঘোষণা করা হয়েছিল। একদিনের ব্যবধানে আরও ২৭টি এলাকা এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে। মেটেও-ফ্রান্স জানিয়েছে, চলতি বসন্ত মৌসুমে এটি দেশটির দ্বিতীয় তাপপ্রবাহ। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, এই তাপপ্রবাহ ব্যাপক এলাকা জুড়ে দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শুক্রবার ফ্রান্সের পশ্চিমাঞ্চলের মাসিফ সেন্ট্রাল থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৪ থেকে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে। তবে ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরা ও কর্সিকা অঞ্চলের কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে রাজধানী প্যারিস ও ইলে-দ্য-ফ্রান্স অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে মেটেও-ফ্রান্স। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি খুঁজতে প্যারিসের বিভিন্ন খোলা স্থান ও জলাশয়ের আশপাশে মানুষের ভিড় দেখা যাচ্ছে। ক্যানাল সেন্ট-মার্টিনের তীরেও অনেককে সময় কাটাতে দেখা গেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশের মতো ফ্রান্সও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘন ঘন তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ডয়চে ভেলে বাংলা
উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি রয়েছে এমন দেশগুলোতে হামলা চালানোর উদ্দেশ্যে ইরাকে নতুন গোপন সেল গঠন করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)। গোয়েন্দা নজরদারি এড়িয়ে এবং ইরাকের পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে পাশ কাটিয়ে এসব সেল পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। ইরাকের আটটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি ইরাকে তিন থেকে চারটি গোপন সেল গঠন করেছে। প্রতিটি সেলে প্রায় ১০ জন করে বাছাই করা ইরাকি শিয়া যোদ্ধা রয়েছেন। তিনটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এসব সেল ২০ এপ্রিল থেকে ১৭ মে পর্যন্ত দক্ষিণ ইরাকের বসরা ও সামাওয়ার কাছাকাছি মরুভূমি এলাকা থেকে কুয়েত, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে অন্তত সাতটি ড্রোন হামলা চালিয়েছে। সূত্রগুলো জানিয়েছে, এসব সেলের অনেক সদস্যকে ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ থেকে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার যোদ্ধা নিয়ে গঠিত এই জোটটি ইরাকের কট্টরপন্থী শিয়া গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম। তবে নতুন সেলগুলো ওই জোটের প্রচলিত কমান্ড কাঠামোর বাইরে কাজ করছে এবং সরাসরি আইআরজিসির নির্দেশনা অনুসরণ করছে বলে দাবি করেছে রয়টার্সের সূত্রগুলো। আটটি সূত্রের মধ্যে রয়েছেন দুইজন ইরাকি সামরিক কর্মকর্তা, একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা এবং পাঁচজন স্থানীয় মিলিশিয়া কমান্ডার। রয়টার্স বলছে, ইরাকে এই ধরনের গোপন সেল গঠনের বিষয়টি আগে প্রকাশ্যে আসেনি। পাঁচজন মিলিশিয়া কমান্ডারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমে আসা এবং ইরানের সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি তাদের কৌশলে পরিবর্তন আনছে। শিয়া-অধ্যুষিত ইরাকে বহু সশস্ত্র গোষ্ঠী রয়েছে, যাদের অধিকাংশের সঙ্গে তেহরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। গাজা, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইরাকজুড়ে বিস্তৃত ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’ বা প্রতিরোধ বলয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় এসব গোষ্ঠী। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক পদক্ষেপের পর ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’-এর ব্যানারে পরিচালিত গোষ্ঠীগুলো ইরাকে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনার বিরুদ্ধে একাধিক ড্রোন ও রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও কয়েকটি প্রাণঘাতী বিমান হামলা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ বা প্রকাশ্য তৎপরতা দেখা যায়নি। গত বছর থেকে ইরাকের কয়েকটি প্রভাবশালী শিয়া গোষ্ঠী ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল যে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়াতে অস্ত্র সমর্পণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কার্যক্রমে বেশি মনোযোগ দিতে প্রস্তুত। শাসক শিয়া জোটের দুই আইনপ্রণেতা এবং ইরাকি সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল জসিম আল-বাহাদলি জানিয়েছেন, শিয়া গোষ্ঠীগুলোর এই অবস্থানের কারণেই আইআরজিসি সরাসরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নতুন দল গঠনের উদ্যোগ নিয়ে থাকতে পারে। ইরাকে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করার জন্য বাগদাদ সরকারের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রশাসনের এমন অবস্থানের পর চলতি মাসে ‘আসাইব আহল আল-হাক’ এবং ‘ইমাম আলী ব্রিগেডস’ নামে দুটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে অস্ত্র সমর্পণের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেয়। শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী বিষয়ে গবেষক জসিম আল-বাহাদলি বলেন, আইআরজিসির গড়ে তোলা নতুন দলগুলো আকারে ছোট হলেও মতাদর্শগতভাবে অধিক কঠোর এবং কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত। তার মতে, অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে নিজেদের সম্পদ ও প্রভাব ধরে রাখার কৌশলের অংশ হিসেবেই ইরান এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মনোনীত ভারপ্রাপ্ত জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক (ডিএনআই) বিল পুল্টে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের একদিন আগেই অফিসে হাজির হয়ে কর্মীদের তালিকা চেয়েছেন বলে জানিয়েছে সিএনএন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, অফিস অব দ্য ডিরেক্টর অব ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স (ওডিএনআই) থেকে শত শত কর্মী ছাঁটাইয়ের বিষয়টি বিবেচনা করছেন তিনি। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার পুল্টের আকস্মিক উপস্থিতি ওডিএনআই কর্মকর্তাদের বিস্মিত করে। এমনকি বিদায়ী জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ডও তার এই সফর সম্পর্কে অল্প সময় আগে অবহিত হন। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, পুল্টে শুক্রবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব শুরু করবেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পুল্টে আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ সময় তিনি সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রম ও প্রশাসনিক বিষয় সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি ব্রিফিংয়ে তিনি প্রেসিডেন্টস ডেইলি ব্রিফ (পিডিবি) বাসায় নেওয়া সম্ভব কি না সে বিষয়ে প্রশ্ন করেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। পিডিবি হলো যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সর্বোচ্চ গোপনীয় গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সংকলন। একই ব্রিফিংয়ে তিনি নিজের নিরাপত্তা ছাড়পত্রের স্তর, টপ-সিক্রেট অনুমোদন এবং সরকারি বিমান ব্যবহারের সুযোগ সম্পর্কেও জানতে চান বলে সূত্রগুলোর দাবি। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, পিডিবি বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতেও সরবরাহ করা হয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই পুল্টে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা টিম চেয়েছিলেন এবং সরকারি বিমানের সুবিধা নিয়ে একাধিকবার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। ওয়াশিংটন, ফ্লোরিডা ও শিকাগোর মধ্যে নিয়মিত যাতায়াতের বিষয়েও তিনি জানতে চেয়েছেন বলে জানা গেছে। ৩৮ বছর বয়সী বিল পুল্টে এর আগে ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ এই কর্মকর্তা গোয়েন্দা সংক্রান্ত কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই দেশের ১৮টি গোয়েন্দা সংস্থার তদারকির দায়িত্ব পাচ্ছেন। ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কিছু রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাও তার যোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সমালোচকদের আশঙ্কা, তিনি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ২০২০ সালের নির্বাচনে জালিয়াতির বিষয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিযোগের তদন্তে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প নিজেও সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে পুল্টে নির্বাচনী জালিয়াতি নিয়ে আরও অনুসন্ধান করতে আগ্রহী। এদিকে জাতীয় গোয়েন্দা প্রধান পদে ট্রাম্পের স্থায়ী মনোনীত প্রার্থী জে ক্লেটনের নিয়োগ প্রক্রিয়া বিলম্বিত হওয়ায় পুল্টে প্রত্যাশার তুলনায় দীর্ঘ সময় ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিব্বতে ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অববাহিকায় বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে চীন। অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই বিশাল প্রকল্পকে ঘিরে ভারতে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা জোরদার করছে নয়াদিল্লি। চীনের ৬০ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মেডোগ হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প বর্তমানে নির্মাণাধীন। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় প্রস্তাবিত ১১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি) বাস্তবায়নের উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান এনএইচপিসি পরিচালিত এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে এটি হবে ভারতের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র। প্রকল্পটি থেকে বছরে প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান। তবে দুই দেশের প্রকল্পের অগ্রগতিতে রয়েছে স্পষ্ট পার্থক্য। চীনের মেডোগ প্রকল্পের নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। অন্যদিকে ভারতের এসইউএমপি প্রকল্প এখনও সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক প্রস্তুতির পর্যায়ে রয়েছে। নির্মাণ-পূর্ব কার্যক্রমও এখনো শুরু হয়নি। ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতে প্রবেশের পর ‘সিয়াং’ নামে পরিচিত হয় এবং পরে ব্রহ্মপুত্র নদে রূপ নেয়। এই নদী অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, উজানে এত বড় বাঁধ নির্মিত হলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এর ফলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও স্থানীয় পরিবেশ ক্ষতির মুখে পড়ার পাশাপাশি আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিও বাড়তে পারে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি লোকসভায় লিখিত জবাবে জানিয়েছে, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় চীনের সব ধরনের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিম্ন অববাহিকার মানুষের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ও সংশোধনমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সরকার। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রকল্পে স্বচ্ছতা, তথ্য আদান-প্রদান এবং আগাম পরামর্শের বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আসছে। তবে এ ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি বলে জানা গেছে। ভারতের প্রস্তাবিত এসইউএমপি প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য হলো নিম্নাঞ্চলের মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং উজানের সম্ভাব্য পানি প্রত্যাহার বা প্রবাহ পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা। ফলে প্রকল্পটির অর্থনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও ব্যাপক। এদিকে সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যা পূর্বাভাস ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজও জোরদার করা হচ্ছে। সূত্র: এনডিটিভি
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।