Live update news
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।   নতুন চার মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের একই দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।   আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।   বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। অন্যদিকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।   প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য। হুমায়ুন কবির এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   নতুন ছয় সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও বিস্তৃতি ঘটল। তাদের দায়িত্ব বণ্টন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে নতুন করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে।

৫ মিনিট Ago
ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আয়েশা ওয়াহাব
ইসরাইলপন্থি মেলিসাকে হারিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে আয়েশা ওয়াহাব

ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আয়েশা ওয়াহাব। এর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম আফগান-আমেরিকান হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এরিক সোয়ালওয়েল পদত্যাগের পর শূন্য হওয়া আসনটি পূরণ করতে এই বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।    মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ভোটের ফল বৃহস্পতিবার রাতে স্পষ্ট হওয়ার পর ওয়াহাবের জয় নিশ্চিত হয়। চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী তিনি ৫৩.১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট মেলিসা হার্নান্দেজ পেয়েছেন ৪৬.৯ শতাংশ। আলামেডা কাউন্টির ফলাফলেও ওয়াহাবের ৫৩.০৯ শতাংশ এবং হার্নান্দেজের ৪৬.৯১ শতাংশ ভোট পাওয়ার তথ্য রয়েছে।   সোয়ালওয়েল চলতি বছরের এপ্রিলে যৌন অসদাচরণ ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগের মধ্যে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার পদত্যাগের পর ক্যালিফোর্নিয়ার ইস্ট বে এলাকার এই আসনটি শূন্য হয়ে যায়।    ওয়াহাবের জয় শুধু একটি আসন পূরণের ঘটনা নয়, যুক্তরাষ্ট্রের আফগান-আমেরিকান সম্প্রদায়ের জন্যও এটি একটি ঐতিহাসিক অর্জন। এর আগে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম ও প্রথম আফগান-আমেরিকান সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। এবার সেই পথ পেরিয়ে তিনি ফেডারেল পর্যায়ে কংগ্রেসে জায়গা করে নিলেন।    বিশেষ নির্বাচনের প্রচারণায় ওয়াহাব প্রগ্রেসিভ ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত অবস্থান ধরে রাখেন। আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ এবং সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক চাপ তার প্রচারণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ইস্যুতে তার অবস্থানও নির্বাচনী লড়াইয়ে আলোচনায় আসে।    অন্যদিকে হার্নান্দেজ তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থি ডেমোক্র্যাট হিসেবে প্রচারণা চালান। নির্বাচনী লড়াইয়ে তার পক্ষে বাইরের রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। এআইপিএসি-সংশ্লিষ্ট একটি সুপার প্যাক ওয়াহাবকে আক্রমণ করে বিজ্ঞাপনে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় করে বলে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।    আয়েশা ওয়াহাব তার জয়ের পর প্রচারণায় বিপুল বাইরের অর্থের প্রবাহ ও তার বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে ভোটারদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এসবের মধ্যেও তার নির্বাচনী এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে সমর্থন করেছেন।   তবে এই জয় ওয়াহাবের জন্য আপাতত পূর্ণ মেয়াদের কংগ্রেস সদস্যপদ নিশ্চিত করছে না। বিশেষ নির্বাচনে তিনি সোয়ালওয়েলের অবশিষ্ট মেয়াদ পূরণ করবেন, যা জানুয়ারিতে শেষ হবে। এরপর ৩ নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে একই আসনের পূর্ণ দুই বছরের মেয়াদের জন্য আবারও ওয়াহাব ও হার্নান্দেজ মুখোমুখি হবেন।    হার্নান্দেজ ইতোমধ্যে নভেম্বরের লড়াই নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। নতুন করে নির্ধারিত ১৪তম ডিস্ট্রিক্টের সীমানায় প্রায় ২৬ হাজার নতুন ভোটার যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আশা করছেন, নিজের সাবেক মেয়র এলাকা ডাবলিন থেকে আরও সমর্থন আদায় করতে পারবেন।   ফলে বিশেষ নির্বাচনে ইতিহাস গড়ার পর ওয়াহাবের সামনে এখন আরও বড় পরীক্ষা। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলে তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার এই ডেমোক্র্যাট-প্রধান আসন থেকে পূর্ণ দুই বছরের জন্য কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন করবেন।

২১ মিনিট Ago
ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্কের রাস্তায় বন্যা, পানিতে আটকে পড়ে যানবাহন ও যাত্রী
ভারী বৃষ্টিতে নিউইয়র্কের রাস্তায় বন্যা, পানিতে আটকে পড়ে যানবাহন ও যাত্রী

নিউইয়র্ক সিটিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রঝড়ে বিভিন্ন সড়ক মুহূর্তের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়। কুইন্স ও ব্রুকলিনের কয়েকটি এলাকায় রাস্তাগুলো কার্যত নদীর মতো হয়ে পড়ে, যানবাহন আটকে যায় এবং জনজীবনে ব্যাপক ভোগান্তি দেখা দেয়। লং আইল্যান্ডে কোথাও কোথাও প্রায় ৩ ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।  কুইন্সে বন্যার পানির কারণে লং আইল্যান্ড এক্সপ্রেসওয়ের দুই দিকের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ব্রুকলিনের বুশউইকসহ কয়েকটি এলাকায় অতিরিক্ত পানিতে স্টর্ম ড্রেনেজ ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ে। কিছু স্থানে পানির উচ্চতা এতটাই বেড়ে যায় যে চালকদের গাড়ির ছাদে উঠে অপেক্ষা করতে দেখা যায়।  নিউইয়র্ক সিটি ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট আগেই সতর্ক করেছিল, শক্তিশালী বজ্রঝড়ে অল্প সময়ে প্রতি ঘণ্টায় ১ থেকে ২ ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার জন্য শহর ও আশপাশের এলাকাকে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার মাঝারি ঝুঁকিতে রাখা হয়েছিল। পরে নগর কর্তৃপক্ষ ফ্ল্যাশ ফ্লাড ওয়ার্নিং জারি হওয়ার কথা জানায়।  বন্যার কারণে নিউইয়র্কের বিভিন্ন সড়কে যানজট ও বন্ধের পাশাপাশি সাবওয়ে সার্ভিসেও ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি জরুরি সতর্কতায় একাধিক এমটিএ ট্রেনে দেরি ও সার্ভিস পরিবর্তনের কথা জানানো হয়। জ্যাকি রবিনসন পার্কওয়েতেও বন্যার পানির কারণে ব্যাপক যানজট তৈরি হয়।  শুধু নিউইয়র্ক সিটিই নয়, নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির আরও কয়েকটি এলাকায়ও প্রবল বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। নিউ জার্সির জার্সি সিটিতে বন্যার পানিতে আটকে পড়া ৬৯ জনকে জরুরি উদ্ধারকারী দল ইনফ্ল্যাটেবল রাফট ব্যবহার করে উদ্ধার করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।  লং আইল্যান্ডের আটলান্টিক বিচ এলাকায় ঝড়ে একটি সম্ভাব্য টর্নেডোর আঘাতে সান অ্যান্ড সার্ফ বিচ ক্লাবের ব্যাপক ক্ষতি হয়। নাসাউ কাউন্টি পরে ওই এলাকায় স্টেট অব ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং গুরুতর আহতের ঘটনাও জানানো হয়নি।  ঝড়ের আগেই নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের বিশেষ করে বেসমেন্ট অ্যাপার্টমেন্টে বসবাসকারীদের সতর্ক থাকতে বলেছিল। নগর কর্তৃপক্ষ জানায়, বন্যার পানি দ্রুত বাড়তে পারে এবং পানির নিচে রাস্তার গর্ত, ধ্বংসাবশেষ বা বৈদ্যুতিক ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই পানিতে ডুবে থাকা রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালানো, হাঁটা বা সাইকেল চালানো থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।  আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি নিউইয়র্কে হঠাৎ ভারী বৃষ্টির সময় নগর বন্যার ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে। শহরের সরকারি তথ্যমতে, ভারী বৃষ্টির সময় স্বল্প সময়ের মধ্যেই নিচু এলাকা, দুর্বল ড্রেনেজের রাস্তা ও আন্ডারপাসে পানি জমে যেতে পারে।

৪৮ মিনিট Ago
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন ইসরাত জাহান। ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগ থেকে শুরু হওয়া তাঁর শিক্ষাজীবনের পথ পেরিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ পর্যন্ত। সেখানে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর শেষ করার পর তিনি পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে ভর্তি হন এবং মেমফিসে সমাজবিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষকতাও করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যেও তাঁর স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পরবর্তী সময়ে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।   কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ইসরাত। সুযোগ না পেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ময়মনসিংহের মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছেন বলে নিজেকে কখনো পিছিয়ে থাকা মনে করেননি। বরং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষতা বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিয়েছেন।   শিক্ষাজীবনের শুরুটাও তাঁর জন্য খুব সহজ ছিল না। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন পড়াশোনায় দীর্ঘ সেশনজটের কারণে ২০১০ সালে শুরু করা স্নাতক পড়াশোনার চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে তাঁকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে বিদেশে উচ্চশিক্ষার কথা ভাবেন তিনি।   তখন ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা করলেও ইংরেজিতে কথা বলা ও অনেক বিষয় বুঝতে তাঁর সমস্যা হতো। সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে নিয়মিত চেষ্টা করেন। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য জিআরই পরীক্ষাও দেন দুইবার। প্রথমবার প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর দ্বিতীয়বার আরও প্রস্তুতি নিয়ে পরীক্ষা দেন।   এরপর শুরু হয় উপযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় খোঁজার পালা। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষাগত পটভূমি বিবেচনা করা হবে, কোথায় জিআরই বাধ্যতামূলক নয় এবং ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়ে পড়ার সুযোগ আছে কি না, এসব তথ্য তিনি বিভিন্ন উচ্চশিক্ষাবিষয়ক গ্রুপ ও বিভিন্ন সূত্র থেকে খুঁজে বের করেন। পরে নিজের যোগ্যতার সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেন।   সেই চেষ্টার ফল আসে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে। সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পূর্ণ তহবিলের সহায়তায় স্নাতকোত্তর পড়ার সুযোগ পান ইসরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের নথি অনুযায়ী, তিনি বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৬ সালে স্নাতক এবং ২০১৮ সালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিস থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। তাঁর স্নাতকোত্তর গবেষণার বিষয় ছিল বাংলাদেশি নারীদের আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে প্রজনন আচরণের সম্পর্ক।   স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে পিএইচডি শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রোফাইলে তাঁর গবেষণার আগ্রহের মধ্যে নারীর স্বাস্থ্য, জনমিতি, স্বাস্থ্য বৈষম্য ও চিকিৎসা সমাজবিজ্ঞান উল্লেখ রয়েছে। একই প্রোফাইলে ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসে সমাজবিজ্ঞানের দুটি কোর্স পড়ানোর তথ্যও রয়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব মেমফিসের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর ইসরাত জাহান পিএইচডির জন্য ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয় আর্বানা-শ্যাম্পেইনে যান। মেমফিস বিশ্ববিদ্যালয়ের নথিতে তাঁর পদ হিসেবে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অ্যাডজাঙ্কট ইনস্ট্রাক্টরের তথ্যও রয়েছে।   একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজে পড়াশোনা করাকে ঘিরে নানা ধরনের কটাক্ষ শুনতে হয়েছিল ইসরাতকে। সেই পথ পেরিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা ও শিক্ষকতায় পৌঁছানোর গল্পটি দেখায়, শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শুধু কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছে তার ওপর নির্ভর করে না। নিজের দক্ষতা তৈরি, সঠিক তথ্য খোঁজা এবং সুযোগের জন্য ধারাবাহিক চেষ্টা করাও উচ্চশিক্ষার পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

৫৪ মিনিট Ago
আমেরিকা
বাংলা, স্প্যানিশ ও ম্যান্ডারিনে কথা বলে নেটদুনিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন নিউইয়র্কের মেয়র

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ব্রডওয়ে থিয়েটারের টিকিট দেওয়ার একটি নতুন উদ্যোগের প্রচারণায় ইংরেজি ছাড়াও বাংলা, ম্যান্ডারিন এবং স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন শহরের মেয়র জোহরান মামদানি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা ওই ভিডিওগুলোতে মেয়র মামদানি তিন ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলে এই বিশেষ কর্মসূচির কথা তুলে ধরেন। নিউইয়র্ক সিটি এবং থিয়েটার ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (টিডিএফ) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচির আওতায় একটি উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের দুই হাজারেরও বেশি ফ্রি ব্রডওয়ে টিকিট দেওয়া হবে।   মেয়রের এমন ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় সাবলীলভাবে কথা বলার দক্ষতা দেখে অবাক হয়েছেন সাধারণ নেটিজেনরা। সামাজিক মাধ্যমে তাঁর নিখুঁত উচ্চারণ এবং বাচনভঙ্গির ভূয়সী প্রশংসা করছেন অনেকেই। বাংলা ভিডিওটির নিচে একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করেন, "মাতৃভাষা বাংলা এমন একজন মানুষ হিসেবে বলছি, এই ব্যক্তি বাংলাদেশের বর্তমান জেন-জি প্রজন্মের চেয়েও ভালো বাংলা বলছেন।"   আরেকজন ব্যবহারকারী বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিভাকে 'অতুলনীয়' বলে আখ্যা দিয়েছেন। একইভাবে, ম্যান্ডারিন ভাষায় তাঁর সতর্ক ও নিখুঁত উচ্চারণের প্রশংসাও করেছেন অনেকে, যেখানে একজন মন্তব্য করেছেন যে মেয়রের ম্যান্ডারিন তাঁর নিজের চেয়েও ভালো।   অবশ্য রাজনৈতিক প্রচারণায় মামদানির এই বহুমাত্রিক ভাষার ব্যবহার নতুন কোনো বিষয় নয়। আন্তর্জাতিক পরিসরেও মেয়রের এই দক্ষতার কথা বেশ আলোচিত। নিজের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ও তিনি নিউইয়র্কের বৈচিত্র্যময় অভিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে বাংলা, স্প্যানিশ ও উর্দু ভাষার ব্যবহার করেছিলেন।   মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি ইংরেজি ছাড়াও অন্যান্য ভাষা ব্যবহার করে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের কাছে শহরের নানা উদ্যোগ পৌঁছে দেওয়ার সেই ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ব্রডওয়ে টিকিট কর্মসূচির সর্বশেষ এই ভিডিওগুলো তাই কেবল লটারির খবরই দিচ্ছে না, বরং শহরের বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর অনন্য যোগাযোগ সক্ষমতাকেও নতুন করে সামনে এনেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২০, ২০২৬ ১৯:২০
সাবেক প্রেমিকাকে হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে চ্যাটজিপিটিতে আলোচনা, গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়ে দিলো এআই

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় সাবেক প্রেমিকাকে অপহরণ, যৌন নির্যাতন ও হত্যার রোমহর্ষক পরিকল্পনা করার অভিযোগে ড্যারেন ঝো নামের ২৫ বছর বয়সী এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই ভয়ংকর অপরাধের পুরো ছকটি তিনি কষেছিলেন জনপ্রিয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র সঙ্গে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি তার। চ্যাটজিপিটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই ওই যুবকের অস্বাভাবিক কথোপকথন শনাক্ত করে এবং বিষয়টি কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইকে জানিয়ে দেয়। এরপরই তদন্তে নেমে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মার্কিন আইনি সংবাদমাধ্যম ম্যাসাচুসেটস লয়্যারস উইকলি এবং এনডিটিভির প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য সামনে এসেছে।   আদালতের নথির তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ড্যারেন ঝো ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে বিশ্বখ্যাত বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকসে একজন বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। চলতি বছরের মার্চ মাসে তার ছয় মাসের প্রেমের সম্পর্কের অবসান ঘটে। এরপর থেকেই তিনি সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলা শুরু করেন। তদন্তকারীদের কাছে ঝো স্বীকার করেছেন যে, বিচ্ছেদের পর সাবেক প্রেমিকার আশপাশে অন্য পুরুষদের উপস্থিতি নিয়ে তিনি প্রচণ্ড ঈর্ষান্বিত ছিলেন।   তদন্তকারী কর্মকর্তাদের দাবি, চ্যাটজিপিটির সঙ্গে ঝোর কথোপকথনগুলো কেবল আবেগ বা ক্ষোভ প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং মাসের পর মাস ধরে সেখানে নিখুঁতভাবে সহিংসতার পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছিল। এমনকি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হলে তা কীভাবে সামাল দিতে হবে, তারও বিস্তারিত আলোচনা ছিল ওই চ্যাটে। একপর্যায়ে ঝো চ্যাটজিপিটিকে জানান, তিনি ফুল হাতে তার সাবেক প্রেমিকার জিমের পার্কিং এলাকায় অপেক্ষা করবেন এবং সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর প্রস্তাব দেবেন। যদি তরুণী সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন, তবে তাকে গুলি করে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করবেন।   পরবর্তীতে এই পরিকল্পনার মাত্রা আরও ভয়ংকর রূপ নেয়। চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আলোচনায় ঝো তার সাবেক প্রেমিকাকে জিম্মি করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার এবং সেখানে আটকে রেখে যৌন নির্যাতন করার ছক কষেন। পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী হস্তক্ষেপ করলে তাদের ওপরও হামলা চালানোর পাশাপাশি তরুণীর পরিবারের সদস্যদেরও ক্ষতি করার হুমকি উঠে আসে ওই কথোপকথনে। এই ঘটনাগুলো আঁচ করতে পেরেই ওপেনএআই কর্তৃপক্ষ এফবিআইকে সতর্ক করে।   তদন্তের অংশ হিসেবে ২১ বছর বয়সী ওই ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গেও কথা বলে পুলিশ। তিনি জানান, ড্যারেন ঝোর অস্বাভাবিক, সন্দেহবাতিক ও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণের কারণেই তিনি সম্পর্কটি শেষ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি ঝোর উগ্র আচরণে এতটাই ভয় পেয়েছিলেন যে, সামনাসামনি কথা না বলে ফোনেই তিনি বিচ্ছেদের কথা জানান। ওই তরুণীর অভিযোগ, বিচ্ছেদের পরও ঝো ফোন, খুদে বার্তা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ক্রমাগত হয়রানি করতে থাকেন। অন্য পুরুষদের নিয়ে অবান্তর প্রশ্ন করা এবং তিনি দ্রুত নতুন সম্পর্কে জড়িয়েছেন—এমন ভিত্তিহীন অভিযোগও করতেন ঝো।   একপর্যায়ে অতিষ্ঠ হয়ে তরুণী ঝোর ফোন নম্বর ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট ব্লক করে দেন। কিন্তু এরপর বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে নতুন নতুন ভুয়া নম্বর থেকে ঝো যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। এসব বার্তায় চরম হয়রানি, অপমানজনক বক্তব্য, যৌন ইঙ্গিত এবং হত্যার হুমকি দেওয়া হতো। প্রমাণ হিসেবে ওই তরুণী এসব কথোপকথনের স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন।   গ্রেপ্তারের মাত্র ছয় দিন আগে এফবিআই পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়কে ঝোর এই ভয়ংকর কথোপকথনের বিষয়ে সতর্ক করে। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের একজন ডেপুটি জানান, তদন্তে তারা চ্যাটজিপিটির প্রায় দুই মাসের চ্যাট হিস্ট্রি বা কথোপকথনের ইতিহাস পর্যালোচনা করেছেন। সেখানে দেখা গেছে, এটি কেবল হতাশা বা রাগের বহিঃপ্রকাশ ছিল না, বরং অত্যন্ত সুপরিকল্পিত একটি অপরাধের প্রস্তুতি ছিল।   গত মে মাসে ড্যারেন ঝোকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে দুই দিন বন্দি থাকার পর এক লাখ ডলারের মুচলেকায় তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার বিরুদ্ধে বর্তমানে গুরুতরভাবে অনুসরণ বা হয়রানি করা (স্টকিং), লিখিতভাবে হত্যার হুমকি দেওয়া এবং মোবাইল ফোনের অবৈধ ব্যবহারের মতো সুনির্দিষ্ট ও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার ও নজরদারির ক্ষেত্রে নতুন এক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ

বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন করে ছয়জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যুক্ত হয়েছেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাদের শপথ পড়ান।   নতুন চার মন্ত্রী হলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এবং জামালপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।   এর আগে সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের একই দরবার হলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল তাকে শপথবাক্য পাঠ করান।   আবদুল মঈন খান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং নরসিংদী-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। আন্দালিভ রহমান পার্থ বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হিসেবে ভোলা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।   বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক। অন্যদিকে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জামালপুর-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য। এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।   প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন গাইবান্ধা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য। হুমায়ুন কবির এর আগে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   নতুন ছয় সদস্যের শপথের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় আরও বিস্তৃতি ঘটল। তাদের দায়িত্ব বণ্টন ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমে নতুন করে দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে।

ইবি-৩ ভিসায় চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রতিশ্রুতি
ইবি-৩ ভিসায় চাকরি ও গ্রিন কার্ডের প্রতিশ্রুতি! টাকা দেওয়ার আগে যা যাচাই করবেন

যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী চাকরি ও গ্রিন কার্ডের সুযোগের কথা বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইবি-৩ ভিসার নামে নানা ধরনের অফার প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রস্তাবে অর্থ দেওয়ার আগে চাকরির নিয়োগকর্তা, পদের শর্ত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পুরো ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া যাচাই করা জরুরি। কারণ ইবি-৩ কোনো দ্রুত বা নিশ্চিত গ্রিন কার্ড পাওয়ার ব্যবস্থা নয়। এটি নির্দিষ্ট যোগ্যতা, নিয়োগকর্তার আবেদন, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শ্রম সনদ, মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোয়।  ইবি-৩ হলো কর্মসংস্থানভিত্তিক তৃতীয় অগ্রাধিকার শ্রেণির অভিবাসী ভিসা। এর আওতায় তিন ধরনের আবেদনকারী রয়েছেন: দক্ষ কর্মী, পেশাজীবী এবং অন্যান্য কর্মী। দক্ষ কর্মীর ক্ষেত্রে সাধারণত অন্তত দুই বছরের প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। পেশাজীবী শ্রেণিতে সাধারণত স্নাতক ডিগ্রি বা সমমানের বিদেশি ডিগ্রি প্রয়োজন। আর অন্যান্য কর্মী শ্রেণিতে দুই বছরের কম প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা প্রয়োজন এমন স্থায়ী, অস্থায়ী বা মৌসুমি নয় এমন কাজ অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।  অনেক ইবি-৩ আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগকর্তাকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ থেকে শ্রম সনদ নিতে হয়। এরপর নিয়োগকর্তা মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবায় কর্মীর জন্য আই-১৪০ আবেদন জমা দেন। তবে সব চাকরি বা ক্ষেত্রে একই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য নয়। তাই কোনো এজেন্সি বা মধ্যস্থতাকারীর দেওয়া কাগজে শুধু ইবি-৩ লেখা আছে বলেই সেটিকে বৈধ চাকরির অফার ধরে নেওয়া উচিত নয়।  বিদেশে থাকা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে পরবর্তী ধাপে জাতীয় ভিসা কেন্দ্রের মাধ্যমে নথিপত্রের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাক্ষাৎকারে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ভিসা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করেন। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত নথি বা তথ্যও চাওয়া হতে পারে।  তাই ইবি-৩ সাক্ষাৎকারের আগে নিজের আবেদনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকা দরকার। সম্ভাব্য নিয়োগকর্তার নাম, প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের ব্যবসা করে, আপনার পদের নাম, কাজের দায়িত্ব, কর্মস্থল এবং ওই পদের জন্য কী ধরনের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ বা অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে, এসব তথ্য আবেদনপত্র ও অন্যান্য নথির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে জানা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার তথ্যও ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে। যে পদের জন্য আবেদন করা হয়েছে, সেই পদের শ্রম সনদে কী যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে এবং আপনার নথি সেই শর্ত পূরণ করে কি না, তা আগে থেকেই মিলিয়ে দেখা উচিত। একইভাবে আগের যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা, ভ্রমণ, অভিবাসন আবেদন এবং প্রযোজ্য অন্যান্য তথ্য সম্পর্কেও সঠিক উত্তর দিতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল তথ্য দেওয়া গুরুতর অভিবাসন জটিলতার কারণ হতে পারে।   ঢাকায় অভিবাসী ভিসার সাক্ষাৎকারের জন্য কর্মসংস্থানভিত্তিক আবেদনকারীদের এক মাসের কম পুরোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার চিঠি আনতে বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি নির্ধারিত অন্যান্য নথিও প্রয়োজন হয়। মার্কিন দূতাবাস, ঢাকার বর্তমান নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদনকারীদের মূল নথি ও প্রয়োজনীয় কপি সঙ্গে আনতে হয় এবং সাক্ষাৎকারের আগে নির্ধারিত নথিপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।  ভিসা সাক্ষাৎকার দিলেই ভিসা নিশ্চিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাক্ষাৎকারের পর অতিরিক্ত নথি প্রয়োজন হলে বা প্রশাসনিক যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদন প্রক্রিয়ায় আরও সময় লাগতে পারে। প্রশাসনিক যাচাইয়ের সময়কাল প্রতিটি মামলার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।    ইবি-৩ নিয়ে প্রতারণা এড়াতে সম্ভাব্য নিয়োগকর্তা বাস্তব ও বৈধ প্রতিষ্ঠান কি না, চাকরির প্রস্তাবটি সত্যি কি না এবং আপনার নামে করা অভিবাসন আবেদনের তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মেলে কি না, তা যাচাই করা উচিত। শ্রম সনদ প্রয়োজন হলে সেটির তথ্যও পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো মধ্যস্থতাকারী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিশ্চিত গ্রিন কার্ড বা নিশ্চিত ভিসার প্রতিশ্রুতি দিলে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।   ইবি-৩ প্রক্রিয়ার সময়ও সবার জন্য এক নয়। ভিসা সংখ্যার সীমা, আবেদনকারীর অগ্রাধিকার তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ভিসা শ্রেণিতে ভিসা কতটা সহজলভ্য, তার ওপর অপেক্ষার সময় নির্ভর করতে পারে। তাই ছয় মাসে নিশ্চিত গ্রিন কার্ডের মতো প্রতিশ্রুতিকে সরকারি তথ্যের সঙ্গে যাচাই না করে বিশ্বাস করা ঠিক নয়।   কোনো ইবি-৩ অফারে টাকা দেওয়ার আগে নিয়োগকর্তা, চাকরির শর্ত, শ্রম সনদ, আই-১৪০ আবেদন এবং পরবর্তী ভিসা প্রক্রিয়ার তথ্য সরকারি নথির সঙ্গে মিলিয়ে দেখা উচিত। জটিলতা থাকলে যুক্তরাষ্ট্রে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।   দাবিত্যাগ: এই প্রতিবেদনটি জনসচেতনতার উদ্দেশ্যে তৈরি। এটি কোনো আইনি পরামর্শ নয়। প্রতিটি অভিবাসন আবেদনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট মার্কিন সরকারি কর্তৃপক্ষ প্রযোজ্য আইন ও আবেদনকারীর নথিপত্র যাচাই করে গ্রহণ করে।

কুয়েতি পাসপোর্ট ছবি:সংগৃহীত
কুয়েতে ভিসার স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বাড়ানোর সুবিধা বন্ধ হচ্ছে ১ সেপ্টেম্বর

কুয়েতে ভিজিট ভিসা এবং দেশের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ানোর বিশেষ সুবিধা আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ হচ্ছে। এরপর থেকে ভিসা ও ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রে নির্ধারিত বৈধতার সময়সীমাই কার্যকর হবে।   কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১ সেপ্টেম্বর থেকে বিভিন্ন শ্রেণির ভিজিট ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। একইভাবে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ছুটির অনুমতিপত্রের ক্ষেত্রেও বিশেষভাবে দেওয়া অতিরিক্ত সময়ের সুবিধা শেষ হবে।   চলতি বছরের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে কুয়েতসহ এ অঞ্চলে বিমান চলাচল ও আন্তর্জাতিক যাতায়াতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এর ফলে অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ে কুয়েত ছাড়তে পারেননি। একই সময়ে কুয়েতের বাইরে থাকা অনেক প্রবাসীও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশটিতে ফিরতে পারেননি।   এ পরিস্থিতিতে অনিচ্ছাকৃতভাবে ভিসা ও আবাসন আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি কমাতে কুয়েত সরকার সাময়িকভাবে স্বয়ংক্রিয় মেয়াদ বৃদ্ধির ব্যবস্থা চালু করেছিল। এর আওতায় নির্দিষ্ট সময়ের পর মেয়াদ শেষ হওয়া ভিজিট ভিসা এবং কুয়েতের বাইরে থাকা কিছু প্রবাসীর ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদও অতিরিক্ত সময়ের জন্য বাড়ানো হয়।   তবে এটি কোনো স্থায়ী ভিসা ব্যবস্থা ছিল না। বিশেষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেওয়া অস্থায়ী প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবেই সুবিধাটি চালু করা হয়েছিল।   ১ সেপ্টেম্বর থেকে ভিজিট ভিসার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে আগের মতো স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে না। ভিসাধারীদের ভিসায় উল্লেখ করা শেষ বৈধ তারিখ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।   কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তাদের ছুটির অনুমতিপত্রের নির্ধারিত মেয়াদই কার্যকর হবে। বিশেষ মেয়াদ বৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে অতিরিক্ত সময় নিয়ে কুয়েতে ফেরার সুযোগ থাকবে না।   এ কারণে কুয়েতের বাইরে থাকা প্রবাসীদের নিজেদের ছুটির অনুমতিপত্রের বর্তমান বৈধতা আগেই যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া আবাসন অনুমতিপত্রের অবস্থাসংক্রান্ত সনদকে ছুটির অনুমতিপত্রের মেয়াদ যাচাইয়ের সরকারি রেফারেন্স হিসেবে বিবেচনা করা হবে।   তাই পুরোনো কাগজপত্র, আগের বার্তা কিংবা নিয়োগকর্তার মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সাহেল অ্যাপের মাধ্যমে বর্তমান বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   ছুটির অনুমতিপত্রের বৈধ সময় শেষ হওয়ার পরও কোনো প্রবাসী কুয়েতে ফিরে না এলে তার আবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। একইভাবে নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ভিজিট ভিসায় কুয়েতে অবস্থান করলে তা আবাসন আইন লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।   এ ধরনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আবাসন আইনের আওতায় জরিমানা বা অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার হার চালু হচ্ছে, এমন ঘোষণা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো নির্দিষ্ট জরিমানার অঙ্ককে তাই সরকারি ঘোষণা হিসেবে গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য জরিমানা বা আইনগত ব্যবস্থা ব্যক্তির ভিসা বা আবাসনের ধরন এবং কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করবে।

শরনার্থী ছবি:সংগৃহীত
সোমালিদের টিপিএস বাতিল কার্যকর হচ্ছে, আদালতের রায়ে নির্বাসনের ঝুঁকিতে প্রায় ১,১০০ জন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১,১০০ সোমালি নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষিত অবস্থান বা টিপিএস বাতিলের পথে আর আদালতের বাধা নেই। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক অ্যালিসন বারোজ আগের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন সোমালিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, সোমালিয়ার টিপিএস ১৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়েছে।   টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী অভিবাসন সুরক্ষা, যার আওতায় যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য গুরুতর পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। সোমালিয়া ১৯৯১ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় ছিল।   ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোমালিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের যুক্তি ছিল, সোমালিয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং দেশটি আর টিপিএসের আইনি শর্ত পূরণ করে না। তবে সোমালিয়ায় এখনো নিরাপত্তা সংকট ও আল-শাবাবের সঙ্গে সংঘাত রয়েছে।   প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টিপিএস ১৭ মার্চ থেকে বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্চে বিচারক বারোজ সাময়িকভাবে সিদ্ধান্তটি আটকে দেন। চারজন সোমালি টিপিএসধারী এবং দুটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় ও জাতিগত পক্ষপাতের প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।   আগস্টে বিচারক আগের স্থগিতাদেশ তুলে নেন। এর পেছনে জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ও ভূমিকা রাখে। ওই রায়ে টিপিএস বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত করা হয়। এরপর হাইতি, সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রেও প্রশাসন আইনি অগ্রগতি পায়।   টিপিএস বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সোমালি নাগরিকদের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সোমালিয়ার টিপিএস ১৪ আগস্ট থেকেই বাতিল এবং এই কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের টিপিএস-ভিত্তিক বৈধতা আর কার্যকর নেই। টিপিএসের ভিত্তিতে দেওয়া কর্মসংস্থানের অনুমতিও পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে।   তবে টিপিএস বাতিল হয়েছে মানেই ১,১০০ জনকে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ভিত্তি নেই, তারা ভবিষ্যতে নির্বাসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন। অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস, আবেদন বা আইনি সুরক্ষা থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের বক্তব্য, সোমালিয়ায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি এখনো এমন নয় যে সেখানে থাকা সোমালি নাগরিকদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো যায়। মামলার আইনি লড়াইও পুরোপুরি শেষ হয়নি।   ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সোমালিয়ার টিপিএস বাতিল বৃহত্তর অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের অংশ। প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, টিপিএস অস্থায়ী সুরক্ষা হিসেবে তৈরি হলেও অনেক দেশের নাগরিক বছরের পর বছর এই ব্যবস্থার আওতায় থেকে যাচ্ছেন। তাই নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুরক্ষা প্রত্যাহার করে অভিবাসন আইন কার্যকর করা উচিত।   অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো দেশের পরিস্থিতি বাস্তবে কতটা নিরাপদ হয়েছে এবং সেখানে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে, সেই মূল্যায়ন যথেষ্টভাবে করা হচ্ছে কি না।   সোমালি টিপিএসধারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ভিত্তি আছে কি না। টিপিএস বাতিলের পর বৈধ স্ট্যাটাস ও কাজের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে যাদের অনিশ্চয়তা রয়েছে, তাদের নিজেদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট
বাগদাদের আকাশে ক্ষতবিক্ষত যুদ্ধবিমান, হাইড্রলিক নষ্ট হওয়ার পরও উড়িয়ে নিরাপদে ফিরলেন নারী পাইলট
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৫৭

২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ইরাকের বাগদাদের আকাশে স্থলবাহিনীকে আকাশপথে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলট ক্যাপ্টেন কিম ক্যাম্পবেল। হঠাৎ তাঁর এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমানের পেছনের অংশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লাগে। এতে বিমানের সব হাইড্রলিক লাইন ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটির দিকে কাত হয়ে পড়লেও ক্যাম্পবেল বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেননি। বরং বিকল্প যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি নিরাপদে কুয়েতে ফিরিয়ে আনেন তিনি।   সেদিন ক্যাম্পবেল ৭৫তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের হয়ে বাগদাদের ওপর স্থলবাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন। মিশন শেষ করে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক পাইলট এলাকা ছাড়ার সময় হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশে তীব্র আঘাত অনুভব করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ককপিটে একের পর এক সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠে এবং বিমানের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অচল হয়ে যায়।   আঘাতের পর এ-১০ বিমানটি বাম দিকে তীব্রভাবে কাত হয়ে মাটির দিকে নেমে যেতে শুরু করে। ক্যাম্পবেল নিয়ন্ত্রণব্যবহার করে বিমানটিকে সামলানোর চেষ্টা করলেও সেটি কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর এমন অবস্থায় বিমান থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল।   তখন ক্যাম্পবেল বিমানের জরুরি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেন, যাকে বলা হয় ম্যানুয়াল রিভারশন। স্বাভাবিক হাইড্রলিক ব্যবস্থা কাজ না করলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যান্ত্রিক কেবল ও সংযোগের সাহায্যে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায়। ব্যবস্থা চালু করার পর বিমানটি ধীরে ধীরে তাঁর নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে এবং মাটির দিকে নেমে যাওয়ার পরিবর্তে আবার ওপরে উঠতে শুরু করে।   তবে বিপদ তখনও কাটেনি। বিমানের পেছনের অংশ, লেজ এবং অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ককপিট থেকে ক্যাম্পবেলের পক্ষে বিমানের পেছনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা সম্ভব ছিল না। তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট পাশ থেকে বিমানটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানাচ্ছিলেন।   পরে বিমানের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর কাঠামোর বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। এমনকি ডান পাশের অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশেও বড় একটি গর্ত হয়েছিল। এত ব্যাপক ক্ষতি সত্ত্বেও বিমানটি আকাশে টিকে ছিল এবং ক্যাম্পবেল সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন।   বাগদাদ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও বিমানটি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ক্যাম্পবেল ও তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে কুয়েতের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুরো পথেই তাঁকে স্বাভাবিক হাইড্রলিক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বিকল্প যান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়।   ঘাঁটির কাছে পৌঁছানোর পর শুরু হয় আরও কঠিন পরীক্ষা। হাইড্রলিক ব্যবস্থা নষ্ট থাকায় বিমানের গতি কমানোর বিশেষ ব্যবস্থা, স্বাভাবিক ব্রেক এবং দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণও কাজ করছিল না। জরুরি পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্যাম্পবেল অবতরণের জন্য চাকার ব্যবস্থা নামান। তিনটি চাকাই ঠিকভাবে স্থির হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি রানওয়ের দিকে এগিয়ে যান।   অবতরণের শেষ মুহূর্তেও বিমানটি একদিকে কাত হয়ে যায়। কিন্তু ক্যাম্পবেল দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এ-১০-কে নিরাপদে রানওয়েতে নামাতে সক্ষম হন।   মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই মিশনে অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার জন্য ক্যাম্পবেল ডিস্টিংগুইশড ফ্লাইং ক্রস পদকে ভূষিত হন। যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি যুদ্ধবিমানকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ঘটনা তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে।   পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পবেল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ২০০৪ সালে ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামেও তিনি ওই মিশনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কীভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের বিকল্প নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে সেটিকে আকাশে ধরে রেখেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান।   ক্যাম্পবেলের ব্যবহৃত এ-১০ যুদ্ধবিমানটি পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করা হয়। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়ও বিমানটির নিরাপদে ফিরে আসার ঘটনা এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২-এর শক্তিশালী কাঠামো ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়।

ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল
ইসরায়েলি পতাকা প্রদর্শন করায় আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণজয়ী কিশোরের সনদ বাতিল
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৫১

উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করায় বিতর্কে জড়িয়েছেন ১৭ বছর বয়সী ইসরায়েলি শিক্ষার্থী ইয়োতাম বুদনিক। পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় আয়োজকেরা তার সনদ বাতিল করেছেন এবং প্রতিযোগিতার সরকারি ফলাফলের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দিয়েছেন। তবে স্বর্ণপদক ফেরত দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ইসরায়েলের রেহোভট শহরের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বুদনিক ৯ থেকে ১৬ আগস্ট উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে অংশ নেন। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই কম্পিউটারভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ ফল করে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন।   পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঞ্চে ওঠার পর বুদনিক নিজের সঙ্গে থাকা একটি ইসরায়েলি পতাকা বের করে কাঁধে জড়িয়ে নেন। পরে এই পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।   আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের সাধারণ পরিষদ ২০২৪ সালে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ইসরায়েলকে আর আলাদা জাতীয় দল হিসেবে প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। তবে দেশটির সর্বোচ্চ চারজন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন এবং তাদের অংশগ্রহণ হবে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পতাকার অধীনে।   এই সিদ্ধান্তের ফলে বুদনিকসহ ইসরায়েলি শিক্ষার্থীরা জাতীয় দলের পরিচয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। এরপর স্বর্ণপদক পাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করেন।   ঘটনার পর আয়োজকেরা তার কাছে স্বর্ণপদক ফেরত দেওয়ার দাবি জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বুদনিক পদক ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর পর তার সনদ প্রত্যাহার করা হয় এবং সরকারি ফলাফলের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হয়।   বুদনিক তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনার ফল। তার মতে, বিজ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বিষয়কে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া উচিত নয়।   আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াড বিশ্বের প্রধান আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। এতে বিভিন্ন দেশের স্কুলশিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তরুণদের মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা।   ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও তারা জাতীয় দলের পরিচয়ে অংশ নিতে পারবেন না। তাদের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পতাকার অধীনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়।   বুদনিকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় জাতীয় পরিচয়, পতাকা প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আয়োজকেরা প্রতিযোগিতার নির্ধারিত নিয়ম ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করার অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে বুদনিকের পদক্ষেপ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ও জাতীয় পরিচয় প্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর
ইমরান খান মুক্তি পেলে সেনাপ্রধানের সঙ্গে সংঘাতে না যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ঘনিষ্ঠ সহযোগীর
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:৩২

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশটির সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।   বুখারির এই বক্তব্যকে ইমরান খানের দল ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইমরান নিজে এমন কোনো অবস্থান নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তার সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্যও খুব সীমিত।   বুখারি বলেন, ইমরান খান মুক্তি পেলে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যা দেশের ক্ষতি করতে পারে। তার ভাষায়, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।   তিনি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুনির চাইলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এমনকি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাপ্রধান উদ্যোগ নিলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পথও তৈরি হতে পারে।   তবে বুখারি স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি নিজেও বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন।   ইমরান খান ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্ক ২০২২ সালে তার সরকারের পতনের পর থেকেই তীব্র বিরোধে রূপ নেয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার, দুর্নীতি, সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সহিংস হামলায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ একাধিক মামলা হয়। ইমরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তার দল মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বেশির ভাগ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যদিও একটি মামলার সাজা বহাল রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে আপিল চলছে।   এর মধ্যেই ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার নির্দেশও দেয়।    তবে পরে সরকার ওই আদেশের পুনর্বিবেচনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সরকারের যুক্তি ছিল, কারাগারের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন রয়েছে।    শেষ পর্যন্ত ২০ আগস্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইমরানের দল আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, চিকিৎসা পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক গুরুতর শারীরিক সমস্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।    ইমরানের দল সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আপাতত কোনো আলোচনায় না গেলেও সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বুখারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি হবে।   বুখারির সাম্প্রতিক বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনীতিতে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও এটিকে এখনই সামরিক বাহিনী ও ইমরান খানের দলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ ইমরান নিজে এমন কোনো সমঝোতার বার্তা দেননি এবং তার দলের পক্ষ থেকেও সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের ঘোষণা বহাল রয়েছে।  

সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক
পার্কে ডেটে গিয়েছিলেন তরুণী, সঙ্গীর গলায় ছুরি ধরে তরুণীকে ধর্ষণ করে দুই আফগান নাগরিক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২১, ২০২৬ ৯:১৯

পূর্ব লন্ডনের একটি পার্কে প্রথম ডেটে গিয়ে তারার আকাশ দেখার সময় এক তরুণীকে ছুরি দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় দুই আফগান নাগরিককে দোষী সাব্যস্ত করেছে আদালত। ২০২৫ সালের ১৬ আগস্ট বার্কিং পার্কে ঘটে যাওয়া ওই ঘটনায় খান আগাহ ও নূরুল্লাহ আহমদজাই নামে দুই ব্যক্তি তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষকে আক্রমণ করেন। আদালতে মামলার বিচার শেষে দুজনকেই একাধিক গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।   আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ওই তরুণী ও তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ সেদিন প্রথমবারের মতো দেখা করেছিলেন। তাঁরা পার্কে বসে তারার আকাশ দেখছিলেন। ওই সময় দুজন হামলাকারী তাঁদের কাছে গিয়ে আক্রমণ শুরু করেন।   একজন হামলাকারী ওই পুরুষের গলায় ছুরি ধরে তাঁকে ভয় দেখান এবং পুলিশকে খবর দিলে হত্যার হুমকি দেন। অন্যজন তরুণীকে ধর্ষণ করেন। পরে দুজন নিজেদের ভূমিকা বদলে নেন এবং পালাক্রমে ওই তরুণীকে যৌন নির্যাতন করেন বলে আদালতে জানানো হয়।   মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে ভয়াবহ ছুরি দেখিয়ে সংঘটিত যৌন হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হয়। আদালতকে জানানো হয়, হামলাকারীরা ওই নারী ও তাঁর সঙ্গীকে সম্পূর্ণ অপরিচিত অবস্থায় আক্রমণ করেছিলেন।   তরুণীকে আদালতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে হয়। দীর্ঘ ও কঠিন জেরার মধ্যেও তিনি ঘটনার বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তাঁর সাহসের প্রশংসা করা হয়।   দুই আসামির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখানো, যৌন নিপীড়ন এবং বেআইনিভাবে আটকে রাখাসহ একাধিক অভিযোগ ছিল। বিচার শেষে দুজনকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।   আদালতের কার্যক্রমে আরও উঠে আসে, নূরুল্লাহ আহমদজাই ২০২৩ সালে ছোট নৌকায় করে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন। পরে তিনি সরকারি ব্যবস্থাপনায় থাকা আবাসনে ছিলেন। তাঁর আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল বলে মামলার তথ্য থেকে জানা যায়। খান আগাহ কীভাবে যুক্তরাজ্যে প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট নয়।   দুজনের সাজা পরে ঘোষণা করার কথা রয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক কার্যক্রমেও তাঁদের মামলার বিচারপ্রক্রিয়া নথিভুক্ত হয়েছে।   ঘটনার বিষয়ে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা মেগান লেলিয়ট ভুক্তভোগী নারীর সাহসের প্রশংসা করেছেন। যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। সাজা ঘোষণার পর দুই আসামিকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   ঘটনাটি পূর্ব লন্ডনে পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে মামলার সঙ্গে অভিবাসন পরিস্থিতির বিষয়টি যুক্ত হলেও অপরাধের দায় ব্যক্তিগতভাবে দোষী সাব্যস্ত দুই ব্যক্তির ওপরই বর্তায়।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.15K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
937 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.05K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
906 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়