বিশ্বজুড়ে নারী শিক্ষা ও ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে নেওয়া একটি বড় আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রকল্প মাত্র দুই বছরের মাথায় বাতিল ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। আফ্রিকা, এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রায় ১০ লাখ মেয়েকে উচ্চশিক্ষার আওতায় এনে বিদ্যালয়ে ধরে রাখার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ কর্মসূচিটি হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্য বাজেটে বড় ধরনের কাটছাঁটের কারণে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পটির দরপত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। 'স্ট্রেনদেনিং হায়ার এডুকেশন ফর ফিমেল এমপাওয়ারমেন্ট' বা 'শেফে' নামের এই ফ্ল্যাগশিপ প্রোগ্রামটি দুই বছর আগে তৎকালীন কনজারভেটিভ সরকারের আমলে বেশ ধুমধামের সাথে চালু করা হয়েছিল। বিশ্বব্যাপী সুবিধাবঞ্চিত ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে এই প্রকল্পের জন্য ৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের একটি বিশাল বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের ফলে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও শিক্ষা খাতের এই বড় উদ্যোগটি পুরোপুরি ভেস্তে গেল। যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতের বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বর্তমান সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা মুখে নারী অধিকার ও সুরক্ষার কথা বললেও বাস্তবে আন্তর্জাতিক সাহায্য কমিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রান্তিক মেয়েদের উচ্চশিক্ষার অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন। এর আগে চলতি বছরের শুরুর দিকে দক্ষিণ সুদানে মেয়েদের এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষার জন্য নেওয়া ১৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের আরেকটি বড় প্রকল্পও বাতিল করেছিল ব্রিটিশ প্রশাসন। গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মেয়েরা উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়, তাদের বাল্যবিয়ের ঝুঁকি অন্তত ছয় গুণ কমে যায় এবং তারা পারিবারিক সহিংসতার শিকারও কম হয়। তবে কেবল প্রকল্প বাতিলই নয়, যুক্তরাজ্য সরকার সুদান, আফগানিস্তান, মিয়ানমার ও ক্যামেরুনের মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্টুডেন্ট ভিসাও বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে নিজ দেশে শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত বহু নারী আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ বা বৃত্তির মাধ্যমে জীবন পরিবর্তনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর লক্ষ্যেই মূলত এই বৈদেশিক সাহায্য বা আন্তর্জাতিক অনুদানের বাজেট কমানো হয়েছে। জাতিসংঘ যেখানে প্রতিটি উন্নত দেশকে তাদের জাতীয় আয়ের অন্তত শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যে বরাদ্দের লক্ষ্যমাত্রা দেয়, সেখানে যুক্তরাজ্যের এই বাজেট কমিয়ে আনাকে বৈশ্বিক শিক্ষা খাতের জন্য একটি বড় ধাক্কা ও চরম প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার নাপা শহরের দীর্ঘ এক দশক ধরে বন্ধ থাকা প্রধান ডাকঘর বা পোস্ট অফিস ভবনটিকে একটি বিলাসবহুল হোটেলে রূপান্তরের পরিকল্পনা আরও এক ধাপ এগিয়েছে। ঐতিহাসিক এই ভবনটিকে পুনরুজ্জীবিত করতে স্থানীয় নগর পরিকল্পনা কমিশন সর্বসম্মতভাবে একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এর ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মাঝে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে। গত ২০১৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে নাপার এই প্রধান পোস্ট অফিস ভবনটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কাঠামোগত বড় ধরনের ক্ষতির কারণে একপর্যায়ে ভবনটি ভেঙে ফেলারও পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে এটিকে একটি ঐতিহাসিক ভবন হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। দীর্ঘ ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই ঐতিহ্যবাহী ভবনটি লোহার বেষ্টনী দিয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। নতুন অনুমোদিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাক্তন এই পোস্ট অফিসের জায়গায় একটি পাঁচতলা বিশিষ্ট বুটিক লাক্সারি হোটেল নির্মাণ করা হবে। এই হোটেলে ৯৪টি কক্ষের পাশাপাশি একটি আধুনিক রেস্তোরাঁ এবং স্পা সুবিধা থাকবে। প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ডেভেলপার ডেভিড অলিভার জানান, নাপা কাউন্টির ঐতিহাসিক ভবন সংরক্ষণ বিষয়ক স্থানীয় সংগঠন 'নাপা কাউন্টি ল্যান্ডমার্কস' এই প্রকল্পে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। ভবনটির ঐতিহাসিক স্থাপত্যশৈলী যতখানি সম্ভব অক্ষুণ্ণ রেখেই এই হোটেলটি তৈরি করা হবে। ভবনটির ঠিক পাশেই 'কিন্ডলড অ্যান্ড গ্রাউন্ডেড' নামের একটি নতুন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক কোর্টনি লেস্টার এই উদ্যোগে অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ১০ বছর ধরে এই সড়কটি মৃতপ্রায় অবস্থায় ছিল। এখানে নতুন একটি হোটেল চালু হলে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়বে, যা স্থানীয় ছোট বড় সব ব্যবসার পরিধি বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে। নাপা শহরের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে ধরে রেখে এই পরিবর্তনকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অবশ্য নাপা উপত্যকায় নতুন হোটেলের চাহিদা নিয়ে কিছুটা বাজারভিত্তিক বিতর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এই অঞ্চলে হোটেলের রাজস্ব বাড়লেও কক্ষের বুকিং বা চাহিদা আশানুরূপ বাড়েনি। এছাড়া মদ্যপান ও ওয়াইন শিল্পের বাজারে কিছুটা মন্দা চলছে। তবে সমস্ত আশঙ্কা উড়িয়ে দিয়ে ডেভেলপার ডেভিড অলিভার জানান, সামগ্রিক ওয়াইন শিল্পে কিছুটা পরিবর্তন আসলেও নাপা শহরের প্রাণকেন্দ্র বা ডাউনটাউন এলাকার বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা অত্যন্ত আশাবাদী। চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটিকে আরও কিছু প্রক্রিয়া পার করতে হবে।
মিশিগানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে শুক্রবার (৩ জুলাই) সন্ধ্যায় আঘাত হানা শক্তিশালী বজ্রঝড় ও ঘণ্টায় ৬০ মাইলের বেশি গতির দমকা হাওয়ায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। ঝড়ে বহু গাছ উপড়ে পড়ে, বিদ্যুৎ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ডেট্রয়েট মেট্রো এলাকাসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে হাজার হাজার পরিবার বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ডিটিই এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ২ লাখ ৬৪ হাজার ৮৪০ জন গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিলেন। পরে রাত ১১টা নাগাদ ডিটিই ও কনজিউমার্স এনার্জির সেবা এলাকাসহ পুরো মিশিগানে বিদ্যুৎহীন গ্রাহকের সংখ্যা ৪ লাখেরও বেশি ছাড়িয়ে যায়। শনিবার সকাল পর্যন্তও অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ডিটিই এনার্জি জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ লাইন মেরামত, উপড়ে পড়া গাছ সরানো এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ পুনঃসংযোগের কাজ চলছে। এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মিশিগানে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক পরিবারও চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছে। তীব্র গরমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাড়িতে এয়ার কন্ডিশনার, ফ্যান ও রেফ্রিজারেটর বন্ধ রয়েছে। ফলে শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অনেক পরিবার। এ পরিস্থিতিতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে কথা বলেন মিশিগান স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ পদপ্রার্থী মিনহাজ চৌধুরী। তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝড়ের পর থেকে তার নিজের বাসাতেও বিদ্যুৎ নেই। মিনহাজ চৌধুরী বলেন, “গতকাল সন্ধ্যা থেকে আমাদের বাসায় বিদ্যুৎ নেই। প্রচণ্ড গরমে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খুব কষ্টে সময় কাটছে। শুধু আমাদের নয়, আশপাশের অনেক বাংলাদেশি পরিবারেরও একই অবস্থা। সবাই অপেক্ষা করছেন কখন বিদ্যুৎ ফিরে আসবে।” তিনি আরও বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় গাছ ভেঙে বিদ্যুৎ লাইনের ওপর পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। তবে ইউটিলিটি কোম্পানির কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরেই মিশিগানসহ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্য-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চল তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে রয়েছে। আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, উচ্চ তাপমাত্রা ও বিদ্যুৎ বিভ্রাট একসঙ্গে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান, অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া এবং বিদ্যুৎ না থাকলে নিরাপদ ও শীতল স্থানে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের এক নারী হোটেল রুমের গরম জলের কুণ্ডে (হট টাব) আলাপ হওয়া দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক হকি খেলোয়াড়কে যৌন নিপীড়নের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। এই জঘন্য অপরাধের পরও ওই নারীর স্বামী তাঁর পাশে থাকার এক অবিশ্বাস্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অ্যালিসন শার্ডিন নামের ওই অপরাধী নারী ইতিমধ্যে যৌন অপরাধীদের তালিকায় (সেক্স অফেন্ডার রেজিস্ট্রি) অন্তর্ভুক্ত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর স্বামী অ্যান্থনি শার্ডিন এখনও বৈবাহিক সম্পর্ক টিকিয়ে রেখেছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ৫২ বছর বয়সী অ্যান্থনি নিশ্চিত করেন যে তারা এখনও বিবাহিত এবং একসঙ্গে আছেন। তিনি জানান, পুরো বিষয়টি নিয়ে তারা এখন লোকচক্ষুর অন্তরালে বা আড়ালে থাকার চেষ্টা করছেন। ৪০ বছর বয়সী দুই সন্তানের জননী অ্যালিসন শার্ডিন তাঁর অপরাধের জন্য বড় মেয়াদের কারাদণ্ড এড়াতে সক্ষম হন। গত বছরের জানুয়ারিতে আদালতে দোষ স্বীকার করার পর তাঁকে মাত্র দুটি সপ্তাহান্তের (উইকেন্ড) জেল, সমাজসেবামূলক কাজ এবং পাঁচ বছরের প্রবেশন বা নজরদারির সাজা দেওয়া হয়। মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি অ্যালিসন তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে রোজভিলের একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন। সেখানে কলোরাডো থেকে খেলতে আসা ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোর অ্যাথলেটের সঙ্গে হট টাবে তাঁর আলাপ হয়। সেখানে ভিজতে ভিজতে অ্যালিসন ওই কিশোরদের কাছে নিজের স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক কলহের কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁর স্বামী উপর থেকে চিৎকার করে বলেন, "তুমি যদি এখনই উপরে না আসো, তবে আমাদের সম্পর্ক শেষ।" এরপরই অ্যালিসন ওই কিশোরদের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় করেন। পরবর্তীতে স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করে অ্যালিসন ওই কিশোরদের একজনের স্ন্যাপচ্যাটে বার্তা পাঠিয়ে তাদের রুমে যাওয়ার কথা বলেন। রুমে গিয়ে তিনি কিশোরদের ওপর যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করেন, যখন অপর এক কিশোর তা দেখছিল। ভুক্তভোগীদের একজন police-কে জানায়, তারা অত্যন্ত অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল এবং কীভাবে 'না' বলতে হয় তা তাদের জানা ছিল না। এই ঘটনার পরদিন অ্যালিসন ওই কিশোরদের খেলার মাঠেও তাড়া করেন এবং পরবর্তীতে ঘটনাটি প্রশাসনকে না জানাতে মেসেজ পাঠিয়ে অনুরোধ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেন। নথি অনুযায়ী, এই ঘটনার ঠিক চার সপ্তাহ আগে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে অ্যান্থনি তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের মামলা করেছিলেন। তবে স্ত্রী গ্রেপ্তার হওয়ার ছয় সপ্তাহ পর ২০২৪ সালের এপ্রিলে তারা যৌথভাবে সেই মামলাটি স্থগিত করার আবেদন জানান এবং এক বছর পর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাটি পুরোপুরি খারিজ হয়ে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভের ডিস্ট্রিক্ট-১৪ থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি নেতা মিনহাজ চৌধুরী। আগামী ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ভোটারদের সমর্থন কামনা করছেন। তার নির্বাচনী প্রচারণায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ কমিউনিটি এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে শ্রমিক অধিকার, কমিউনিটি সেবা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে অ্যালায়েন্স অব সাউথ এশিয়ান আমেরিকান লেবার (ASAAL)-এর মিশিগান চ্যাপ্টারের সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি সংগঠনটির জাতীয় বোর্ডের ভাইস প্রেসিডেন্ট। এর আগে তিনি মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ১৪তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট সংগঠনের ভাইস চেয়ার এবং ১৩তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্ট ডেমোক্র্যাটিক সংগঠনের অ্যাট-লার্জ বোর্ড সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি আমেরিকান মুসলিম পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (AMPAC)-এর মিশিগান চ্যাপ্টারের নির্বাহী বোর্ড সদস্য। পেশাগত জীবনে মিনহাজ চৌধুরী বর্তমানে ফোর্ড মোটর কোম্পানিতে কর্মরত। এর আগে তিনি আমেরিকান পোস্টাল ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সদস্য ছিলেন। তার ভাষায়, কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাই তাকে শ্রমজীবী মানুষ, অভিবাসী পরিবার এবং মধ্যবিত্তের বাস্তব সমস্যাগুলো কাছ থেকে জানার সুযোগ করে দিয়েছে। নির্বাচনী অঙ্গীকারে তিনি ভালো বেতনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ব্যবসায় সহায়তা, সরকারি শিক্ষার মানোন্নয়ন, সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সাশ্রয়ী আবাসন, প্রবীণ ও ভেটেরানদের জন্য উন্নত সেবা এবং সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। সম্প্রতি ভোটারদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় মিনহাজ চৌধুরী বলেন, নির্বাচিত হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে শিশু ও সব বাসিন্দার জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিরাপদ কমিউনিটি গড়ে তোলার বিষয়েও তিনি কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি আগামী ৪ আগস্টের প্রাইমারি নির্বাচনে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে গিয়ে অথবা অ্যাবসেন্টি ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। মিশিগানের ডিস্ট্রিক্ট-১৪-এর আওতায় সেন্টার লাইন, হ্যাজেল পার্ক, ম্যাডিসন হাইটস এবং ওয়ারেন শহরের অংশবিশেষ অন্তর্ভুক্ত। আগামী ৪ আগস্টের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে বিজয়ী প্রার্থী পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
মিশিগানের ম্যাডিসন হাইটসে একটি মসজিদে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ৩৫ বছর বয়সী এক গৃহহীন ব্যক্তির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকি ও কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটিকে ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হুমকির উদ্বেগজনক উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়, ধর্মীয় নেতারা এবং ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের কার্যালয়। ওকল্যান্ড কাউন্টি প্রসিকিউটরের দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ক্রিস্টোফার লর্ডের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হুমকির মিথ্যা অভিযোগ (False Threat of Terrorism) এবং কম্পিউটার ব্যবহার করে অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আদালত তার জামিন ৫ লাখ ডলার নগদে নির্ধারণ করেছেন। তদন্তে জানা গেছে, গত ২৮ জুন বিকেলে ম্যাডিসন হাইটসের আমেরিকান ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার-এর ভয়েসমেইলে একাধিক হুমকিমূলক বার্তা রেখে যায় অভিযুক্ত। সেখানে মসজিদের সদস্যদের হত্যার হুমকি, মুসলিমদের দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার হুমকি এবং সহিংসতার ভাষা ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর মিশিগানের মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যরা এবং ইমামস কাউন্সিল অব মিশিগান এক সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের হুমকির তীব্র নিন্দা জানান। ইমামস কাউন্সিল অব মিশিগানের সহসভাপতি স্টিভ মুস্তাফা এলতুর্ক বলেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে এ ধরনের হুমকি নতুন নয়। তবে ২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসলামবিদ্বেষমূলক ঘটনাগুলো আরও বেড়েছে বলে তাদের পর্যবেক্ষণ। ডিয়ারবর্ন হাইটসের ইসলামিক হাউস অব উইজডম-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমাম মোহাম্মদ আলী এলাহী বলেন, ইসলামবিদ্বেষ বহুদিন ধরেই সমাজে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। ধর্মীয় নেতারা জানান, চলতি বছরে মিশিগানে মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্য ও বিদ্বেষমূলক ঘটনার সংখ্যা তাদের নথিভুক্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে উপাসনালয়গুলোকে লক্ষ্য করে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা বেড়েছে। ধর্মীয় অধিকারকর্মী সাইয়েদ নাজাহ আল-হুসাইনি বলেন, এটি শুধু একটি মসজিদের বিরুদ্ধে হুমকি নয়, বরং সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে উপাসনার অধিকারের ওপর আঘাত। তার ভাষায়, গির্জা, সিনাগগ, মন্দির কিংবা মসজিদ, সব উপাসনালয়ই নিরাপদ থাকা উচিত। সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক ঘটনার ক্ষেত্রে প্রায়ই সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। তাদের দাবি, অন্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক অপরাধ ঘটলে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানালেও ম্যাডিসন হাইটসের এই ঘটনার পর এখন পর্যন্ত এফবিআই বা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ প্রকাশ্যে কোনো বক্তব্য দেয়নি। এমনকি বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এফবিআই মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগও করেনি বলে তারা দাবি করেন। এমলাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এফবিআই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। ওকল্যান্ড কাউন্টির প্রসিকিউটর ক্যারেন ম্যাকডোনাল্ড বলেন, মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিরাপদে ধর্মীয় উপাসনা করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত সংকট বা মাদকাসক্তির কারণ থাকলেও ধর্মীয় বিদ্বেষপ্রসূত হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, একই ব্যক্তি ট্রয় শহরের একটি রেস্তোরাঁর কর্মীকেও মদ্যপ অবস্থায় হুমকি দেওয়ার অভিযোগে পৃথক তদন্তের আওতায় রয়েছেন। মিশিগান শাখার কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR-MI)-এর নির্বাহী পরিচালক ইমাম দাউদ ওয়ালিদ বলেন, উপাসনালয়কে লক্ষ্য করে সহিংসতার হুমকিকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত এবং এ ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছে তাদের সংগঠন। এ ধরনের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে মসজিদ, সিনাগগ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা কিংবা হামলার হুমকির ঘটনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন গবেষণা ও নিরাপত্তা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সূত্র: MLive, Oakland County Prosecutor's Office
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি বলেন, দেশটির সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় সাময়িক বিরতি দিয়েছিল। তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির প্রশংসা করে বলেন, “আমরা বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সেনাবাহিনী গড়ে তুলেছি। আমরা দুটি বিশ্বযুদ্ধে জয়ী হয়েছি।” স্নায়ুযুদ্ধের সময় আমেরিকার প্রতিদ্বন্দ্বীদের ‘ইতিহাসের অতল গহ্বরে’ পাঠানো হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “আমরা একদিনে ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকে কঠিন শিক্ষা দিয়েছি। তারা এখন আপস করতে মরিয়া। আমরা মানবিকতার কারণে তাদের নেতার দাফনের জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছিলাম।” যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের ‘প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, আমেরিকানরা বিশ্বের সবচেয়ে স্বাধীন মানুষ এবং মানবকল্যাণ, ক্ষুধা মোকাবিলা ও রোগ নিরাময়ে তাদের অবদান অনন্য। দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়েও সতর্কবার্তা দেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রে ‘কমিউনিস্ট চিন্তার’ পুনরুত্থান ঘটছে, যা দেশের জীবনধারা ও সাফল্যের পরিপন্থী। তিনি কমিউনিজমকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, “এটি প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ কিংবা ৯/১১ হামলার চেয়েও বড় হুমকি হতে পারে।” আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ট্রাম্প বলেন, “আমেরিকা কখনো কমিউনিস্ট রাষ্ট্র হবে না। আমরা যদি নিজেরা পরাজয় মেনে না নিই, তবে হারার কোনো সুযোগ নেই।” এ সময় তিনি আরও দাবি করেন, ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ আইন পাস হলে রিপাবলিকান পার্টি আগামী এক শতাব্দী পর্যন্ত নির্বাচনে পরাজিত হবে না। ট্রাম্পের এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ—দুই ক্ষেত্রেই উত্তেজনা ও বিতর্ক চলছে।
তেহরানে ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে হাজারো মানুষের ভিড়ের মধ্যেও সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে একটি ছোট্ট কফিন। সেটিই ছিল তাঁর ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানির মরদেহবাহী কফিন। ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ছোট্ট কফিনটি বড় বড় কফিনের পাশে রাখা হয়। পাশে ছিল শিশুটির একটি ছবি। রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের বিশাল আয়োজনের মধ্যেও এই ছোট্ট কফিন অনেকের চোখে জল এনে দেয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি এবং ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বহু মানুষ নীরবে শিশুটির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। অনেককে আবেগাপ্লুত অবস্থায় দেখা যায়। রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার রাজনৈতিক গুরুত্বের বাইরে, ছোট্ট জাহরার কফিন মানবিক ক্ষতির একটি গভীর প্রতীক হিসেবে সামনে আসে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহরা মোহাম্মাদী গোলপায়গানি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত খামেনির পরিবারের সদস্যদের একজন। শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে তাঁর কফিন অন্য পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশেই রাখা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটি অসংখ্য মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, একটি শিশুর ছোট্ট কফিন যুদ্ধের মানবিক মূল্যকে সবচেয়ে নির্মমভাবে স্মরণ করিয়ে দেয়। জাহরার বিদায় তাই শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত শোকের ঘটনা নয়; বরং সংঘাতের মধ্যে নিরীহ মানুষের প্রাণহানির এক মর্মান্তিক স্মারক হিসেবেও বিশ্বজুড়ে আলোচনায় উঠে এসেছে। তাঁর ছোট্ট কফিন যেন মনে করিয়ে দেয়—প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য, আর যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য অনেক সময় নিরপরাধরাই দিয়ে থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরের ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার শপিং মলে সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো শপিং মলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রেতারা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনো এলোমেলো হামলা ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একে অপরের পরিচিত দুই তরুণ দলের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের কয়েকজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে পরিস্থিতি গোলাগুলিতে রূপ নেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং আরেকজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গোলাগুলির পরপরই শপিং মলটি খালি করে দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। আতঙ্কে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজন পথচারী একটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। তবে এই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তে সহায়তা করছে মিশিগান স্টেট পুলিশ। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত কোনো হুমকি নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শপিং মলটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।
পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ বা স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি যৌথ বাহিনীর কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেন। সেখানে তিনি কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। পুতিন বলেন, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর জবাবে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকা দোনবাস অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পূর্ব ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও শহরটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এর আগে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী শহরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করলেও এবার পুরো শহর দখলের দাবি করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিগুলো কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে বিধ্বস্ত ভবনের পাশে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকার পর প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকেও তারা অগ্রসর হচ্ছে। তাদের দাবি, পরবর্তী সামরিক অভিযানের জন্য শহরটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কৌশলগত কেন্দ্র। একই সফরে পুতিন আরও দাবি করেন, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড এখন রুশ-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী জেনারেল স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং লুহানস্ক অঞ্চলের "সম্পূর্ণ মুক্তি" সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা পুরোপুরি প্রতিহত করা এখনো সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। এর জবাবে পুতিন বলেন, "শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলার চেষ্টা করবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।" নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি আগের তুলনায় ধীর হয়ে গেছে। তাদের ভাষ্য, ইউক্রেনীয় বাহিনী কয়েকটি এলাকায় পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিছু অবস্থান পুনরুদ্ধারও করেছে। পুতিন অবশ্য ইউক্রেনের এসব দাবিকে "তথ্যযুদ্ধের অংশ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও এখন কার্যত স্থবির। গত মাসে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে পুতিনের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠালেও ক্রেমলিন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। এদিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টাও আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ উভয় পক্ষই জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য সফরের মাধ্যমে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আশা এখনও রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল করতে ২০২৬ সালে ভিসা নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন-অ্যারাইভাল ভিসা, পর্যটন ভিসা, আবাসন সুবিধা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই নতুন এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হয়েছে। ফলে প্রবাসী, পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি) এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত ছয়টি বড় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে খালিজ টাইমস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা ব্যবস্থায়। ১৪ দিন ও ৬০ দিনের এন্ট্রি ভিসার সুযোগ এখন আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা প্রধানত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়মে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া আবেদনকারীদের বসবাসের দেশের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এখন সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার বাসিন্দারাও এ সুবিধা পাবেন। পর্যটকদের জন্যও প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। দুবাই ভ্রমণ করতে ইচ্ছুকরা অনুমোদিত পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করলে এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একবার প্রবেশের অনুমতিসহ পর্যটন ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন। এই ভিসার মেয়াদ ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্যও নিয়মে এসেছে বড় পরিবর্তন। দুবাই কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত দুই বছরের রেসিডেন্সি পারমিটের শর্ত শিথিল করেছে। একক মালিকানার ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত ন্যূনতম ৭ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম মূল্যের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীকে সম্পত্তির একক মালিক হতে হবে। অন্যদিকে যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশীদারের শেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ৪ লাখ দিরহাম হতে হবে। এদিকে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) জরিমানার ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড়ও শেষ হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট জটিলতার কারণে যাদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য আইসিপি ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ভিসা নবায়ন বা বৈধ করতে হবে, নতুবা দেশ ত্যাগ করতে হবে। স্বাস্থ্যখাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বিদেশি রোগীদের জন্য চালু করা হচ্ছে ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’। জেনারেল ডিরেক্টরেট অব আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স এবং দুবাই হেলথ অথরিটির যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থায় রোগীদের ভিসা প্রক্রিয়া, চিকিৎসা এবং পরবর্তী সেবাকে একক ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে চিকিৎসা পর্যটন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বশেষ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইবোলা ভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং আইসিপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায় চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ঘানার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ন্যাডমো) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া মৃতদের মধ্যে রাজধানী আক্রাতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। সংস্থাটির পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক রিচার্ড অ্যামো ইয়ার্টে বলেন, নিখোঁজদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে নতুন করে মরদেহ পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় টেলিভিশন টিভি৩-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দল এখনো নিখোঁজদের খোঁজে তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ন্যাডমোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় দেশের সাতটি অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোট ৮৯ হাজার ৭৩৬ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রেটার আক্রা অঞ্চল, যেখানে ৫৪ হাজার ৭১২ জন মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এর পরেই রয়েছে সেন্ট্রাল অঞ্চল, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৮২ জন। এ ছাড়া ভোল্টা, ওয়েস্টার্ন, আশান্তি, ওয়েস্টার্ন নর্থ এবং ইস্টার্ন অঞ্চলেও হাজারো মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। তবে ইস্টার্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট এই বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বন্যার ব্যাপ্তি ও ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রুশ সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৩ জুলাই) দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনের সময় পুতিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেন। সেখানে কস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই দোনেৎস্ক অঞ্চলে তাদের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে শহরটি দখলের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে সেটি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়। তবে রাশিয়ার এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেন। যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য যাচাই করা কঠিন হওয়ায় উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় রুশ বাহিনী পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল ‘মুক্ত’ করার লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্লোভিয়ানস্ক–ক্রামাতোরস্ক–কস্তিয়ানতিনিভকা প্রতিরক্ষা বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এখন রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এর আগেও রাশিয়া জানিয়েছিল, শহরটির বিভিন্ন অংশ তাদের দখলে রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় কস্তিয়ানতিনিভকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গনগরী হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, যা পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা লাইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদিকে, পুতিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলা—বিশেষ করে রাশিয়ার তেলশিল্পকে লক্ষ্য করে হামলা—বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি কস্তিয়ানতিনিভকাকে ডনবাস অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবেও উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে মস্কো অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। কস্তিয়ানতিনিভকার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাই যুদ্ধের সামগ্রিক কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র থাইল্যান্ডের বিমানসংস্থাগুলোর পাইলট, কেবিন ক্রু ও অন্যান্য বিমানকর্মীদের টার্গেট করছে। আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ কিংবা সহজ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের একটি অংশকে মাদক বহনে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারকারী চক্রগুলো প্রথমে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জন করে বিদেশে ছোট প্যাকেট বা লাগেজ বহনের প্রস্তাব দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্যাকেটে যে অবৈধ মাদক রয়েছে, তা শুরুতে বহনকারীদের জানানো হয় না। থাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশি বিমানবন্দরে একাধিক থাই বিমানকর্মী মাদক বহনের অভিযোগে আটক হয়েছেন। এসব ঘটনার পর তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যোগসূত্র সামনে আসে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানকর্মীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে সহজে প্রবেশাধিকার থাকায় অপরাধচক্র তাদের ব্যবহার করতে আগ্রহী। তবে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, চাকরি হারানো এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থাই কর্তৃপক্ষ বিমানকর্মীদের জন্য সতর্কতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে আসা সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব বা লাগেজ বহনের অনুরোধ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।