Live update news
৪০তম ফোবানা কনভেনশন সফল করতে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঐক্যবদ্ধ নেতৃবৃন্দ, আসছে টাউন হল সভা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল করার লক্ষ্যে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এক ঐক্য সভায় মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে হলিউডের অর্কিড কিচেন অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।   সভায় কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর স্বার্থে বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করার এখনই উপযুক্ত সময়। ফোবানা কনভেনশনকে কেন্দ্র করে ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি এবং সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।   সভায় উপস্থিত ছিলেন হোস্ট কমিটির কনভেনার ডা: জয়নুল আবেদীন, কো-কনভেনার হাবিব টিয়া এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইকবাল। এছাড়াও ফোবানার বিদায়ী চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি অব লস অ্যাঞ্জেলেসের সভাপতি মাসুদ রব চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।   স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া তরঙ্গ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিপার চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটির সভাপতি সেন্টু হক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম এবং আনন্দ মেলার মোহাম্মদ আলী।   সভায় বক্তারা জানান, আগামী ৪ জুন একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি কমিউনিটির সকল সদস্যকে সম্পৃক্ত করতে শিগগিরই বৃহৎ পরিসরে একটি “টাউন হল সভা” আয়োজন করা হবে। ওই সভায় ফোবানা কনভেনশন ঘিরে বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা হবে।   আয়োজকরা জানান, আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস অনুষ্ঠিত হবে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন। উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানা (FOBANA) প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে।   সভায় কনভেনশনের সার্বিক প্রস্তুতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অতিথি আপ্যায়ন এবং বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের ফোবানা কনভেনশন আরও সফল, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।   ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আয়োজকরা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের এবারের কনভেনশনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

৬ মিনিট Ago
চাকরি, চিকিৎসা ও আবাসন বন্ধ করে অভিবাসীদের কোণঠাসা করছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টরপন্থী কৌশলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের চাকরি, চিকিৎসাসেবা, আবাসন ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার মূল রূপকার স্টিফেন মিলারের তত্ত্বাবধানে ফেডারেল বিধিমালার ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করতে এই আমলাতান্ত্রিক কলকাঠি নাড়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এর প্রভাবে বিমানবন্দর ও বিভিন্ন সুরক্ষিত এলাকার চাকরি থেকে বহু অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বা টিপিএস সুবিধাভোগী কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং 'স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ' কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন।     নতুন নীতিমালায় গ্রিন কার্ডধারীসহ সব অনাগরিকের জন্য সরকার-সমর্থিত ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ এবং ট্রাকচালকদের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি, যেসব শিশুর মা-বাবার অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক নন, তাদের শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র বা ডে-কেয়ারের সরকারি ভর্তুকি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউএসসিআইএস এমন নিয়মের প্রস্তাব করেছে যা অনিবন্ধিত আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া কার্যত বন্ধ করে দেবে, যেখানে সংস্থাটির মুখপাত্র জ্যাক কাহলার মন্তব্য করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়।   প্রশাসন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আর্থিক পরিষেবা ও আবাসন ব্যবস্থা থেকেও বিচ্ছিন্ন করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যাংকে গ্রাহকদের অভিবাসন স্থিতি কঠোরভাবে যাচাইয়ের নির্বাহী আদেশের পাশাপাশি গৃহায়ণ ও নগর উন্নয়ন বিভাগ মিশ্র অভিবাসী পরিবারগুলোকে সরকারি বাসস্থানে থাকা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে, যার ফলে প্রায় ২০ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া করদাতার মা-বাবা অনিবন্ধিত অভিবাসী হওয়ায় মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও লাখ লাখ শিশু চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।     স্বাস্থ্যসেবা খাতেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে অভিবাসন স্থিতির প্রমাণ জমার বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গ্রেপ্তার, কারাবাস ও চিকিৎসা সুবিধা হারানোর ভয়ে সাধারণ অভিবাসীরা এখন ট্যাক্স জমা দিতে বা চিকিৎসকের কাছে যেতেও চরম আতঙ্ক বোধ করছেন।

৩৪ মিনিট Ago
গ্রিন কার্ড নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশনায় বিভ্রান্তি ও তীব্র উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সরকারি নির্দেশনা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও বড় ধরনের উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এই নির্দেশনার প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে আবেদনকারী ও তাঁদের পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   গত সপ্তাহে ঘোষিত এক প্রাথমিক নির্দেশনায় জানানো হয়েছিল, স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রত্যাশী অধিকাংশ আবেদনকারীকে গ্রিন কার্ডের পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজ দেশে গিয়ে অপেক্ষা করতে হতে পারে। ইউএসসিআইএস (USCIS) এই পরিবর্তনকে অভিবাসন ব্যবস্থা আরও 'ন্যায্য ও কার্যকর' করার উদ্যোগ বলে দাবি করলেও, এতে অভিবাসী মহলে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।   এই ঘোষণার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) একটি নতুন ব্যাখ্যা জারি করেছে। নতুন ব্যাখ্যায় তারা জানিয়েছে, এটি কোনো সার্বিক আইন বা নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বিবেচনাধিকার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা মাত্র।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে প্রশাসনিক নীতির মাধ্যমে একতরফাভাবে কংগ্রেসের প্রণীত এই আইন বাতিল করা সম্ভব নয় এবং নতুন নির্দেশনাটি পূর্ববর্তী আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করারও কোনো আইনি সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈধ অভিবাসনের পথ সংকুচিত করার এই উদ্যোগের ফলে উচ্চযোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের মধ্যে এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক যোগ্য আবেদনকারী মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে এখন বিকল্প গন্তব্য হিসেবে অন্য দেশের কথা ভাবছেন।

৪৪ মিনিট Ago
বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে নিউইয়র্কে ২০০ ডলারের রিবেট চেক দেবে সরকার

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিলের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্য সরকার নতুন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। নতুন বাজেটের অংশ হিসেবে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে, যার আওতায় যোগ্য বাসিন্দারা এককালীন রিবেট চেক পাবেন।   “প্রটেক্টিং আওয়ার ওয়ালেটস এনার্জি রিবেট” নামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে রিবেট অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাকযোগে পাঠানো হবে। এতে আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।   আয়ের ভিত্তিতে এই রিবেটের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথভাবে কর দাখিলকারীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিচে হলে ২০০ ডলার এবং ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে হলে ১৫০ ডলার দেওয়া হবে। একক করদাতাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ১০০ ডলার রিবেট দেওয়া হবে।   সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ করবর্ষে নিউইয়র্কের পূর্ণকালীন বাসিন্দা হতে হবে এবং সময়মতো ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং অন্য কারও ট্যাক্স রিটার্নে নির্ভরশীল হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা যাবে না।   রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই রিবেট চেক বিতরণ করা হবে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

৫৩ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
বিশ্ব
রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান দেশ ছাড়ার পথে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার উপায় জানতে খরচ করছেন শত শত ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।   গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।   বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।   জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।   অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।   ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।   ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।   ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।   তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৭:২
ছবি: সংগৃহীত
৪০তম ফোবানা কনভেনশন সফল করতে ক্যালিফোর্নিয়ায় ঐক্যবদ্ধ নেতৃবৃন্দ, আসছে টাউন হল সভা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে সফল করার লক্ষ্যে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এক ঐক্য সভায় মিলিত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে হলিউডের অর্কিড কিচেন অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।   সভায় কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ পারস্পরিক আলোচনা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর স্বার্থে বিভেদ ভুলে একসাথে কাজ করার এখনই উপযুক্ত সময়। ফোবানা কনভেনশনকে কেন্দ্র করে ক্যালিফোর্নিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ইতিবাচক পরিবেশ সৃষ্টি এবং সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।   সভায় উপস্থিত ছিলেন হোস্ট কমিটির কনভেনার ডা: জয়নুল আবেদীন, কো-কনভেনার হাবিব টিয়া এবং সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইকবাল। এছাড়াও ফোবানার বিদায়ী চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি অব লস অ্যাঞ্জেলেসের সভাপতি মাসুদ রব চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।   স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়া তরঙ্গ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শিপার চৌধুরী, বাংলাদেশ আমেরিকান সোসাইটির সভাপতি সেন্টু হক, কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব নজরুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম এবং আনন্দ মেলার মোহাম্মদ আলী।   সভায় বক্তারা জানান, আগামী ৪ জুন একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি কমিউনিটির সকল সদস্যকে সম্পৃক্ত করতে শিগগিরই বৃহৎ পরিসরে একটি “টাউন হল সভা” আয়োজন করা হবে। ওই সভায় ফোবানা কনভেনশন ঘিরে বিভিন্ন পরিকল্পনা, প্রস্তুতি এবং কমিউনিটির ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ সম্পর্কে সবাইকে অবহিত করা হবে।   আয়োজকরা জানান, আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেস অনুষ্ঠিত হবে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন। উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ফোবানা (FOBANA) প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এ সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে।   সভায় কনভেনশনের সার্বিক প্রস্তুতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অতিথি আপ্যায়ন এবং বিভিন্ন আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারের ফোবানা কনভেনশন আরও সফল, অংশগ্রহণমূলক ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।   ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আয়োজকরা যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিদের এবারের কনভেনশনে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

ছবি: সংগৃহীত
চাকরি, চিকিৎসা ও আবাসন বন্ধ করে অভিবাসীদের কোণঠাসা করছেন ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কট্টরপন্থী কৌশলের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের চাকরি, চিকিৎসাসেবা, আবাসন ও আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ট্রাম্পের অভিবাসন এজেন্ডার মূল রূপকার স্টিফেন মিলারের তত্ত্বাবধানে ফেডারেল বিধিমালার ক্ষমতা ব্যবহার করে অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করতে এই আমলাতান্ত্রিক কলকাঠি নাড়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এর প্রভাবে বিমানবন্দর ও বিভিন্ন সুরক্ষিত এলাকার চাকরি থেকে বহু অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা বা টিপিএস সুবিধাভোগী কর্মীকে ছাঁটাই করা হয়েছে এবং 'স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ' কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছেড়েছেন।     নতুন নীতিমালায় গ্রিন কার্ডধারীসহ সব অনাগরিকের জন্য সরকার-সমর্থিত ক্ষুদ্র ব্যবসা ঋণ এবং ট্রাকচালকদের বাণিজ্যিক ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা চলছে। পাশাপাশি, যেসব শিশুর মা-বাবার অন্তত একজন মার্কিন নাগরিক নন, তাদের শিশু দিবাযত্নকেন্দ্র বা ডে-কেয়ারের সরকারি ভর্তুকি বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউএসসিআইএস এমন নিয়মের প্রস্তাব করেছে যা অনিবন্ধিত আশ্রয়প্রার্থীদের কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট পাওয়া কার্যত বন্ধ করে দেবে, যেখানে সংস্থাটির মুখপাত্র জ্যাক কাহলার মন্তব্য করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করা একটি বিশেষ সুবিধা, কোনো অধিকার নয়।   প্রশাসন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের আর্থিক পরিষেবা ও আবাসন ব্যবস্থা থেকেও বিচ্ছিন্ন করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ব্যাংকে গ্রাহকদের অভিবাসন স্থিতি কঠোরভাবে যাচাইয়ের নির্বাহী আদেশের পাশাপাশি গৃহায়ণ ও নগর উন্নয়ন বিভাগ মিশ্র অভিবাসী পরিবারগুলোকে সরকারি বাসস্থানে থাকা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে, যার ফলে প্রায় ২০ হাজার পরিবার বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া করদাতার মা-বাবা অনিবন্ধিত অভিবাসী হওয়ায় মার্কিন নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও লাখ লাখ শিশু চাইল্ড ট্যাক্স ক্রেডিটের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।     স্বাস্থ্যসেবা খাতেও ট্রাম্প প্রশাসনের এই কঠোর নীতির নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কমিউনিটি হেলথ ক্লিনিকগুলোতে চিকিৎসা নিতে অভিবাসন স্থিতির প্রমাণ জমার বাধ্যবাধকতা আরোপ করায় ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের ক্লিনিকগুলোতে রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে গেছে। গ্রেপ্তার, কারাবাস ও চিকিৎসা সুবিধা হারানোর ভয়ে সাধারণ অভিবাসীরা এখন ট্যাক্স জমা দিতে বা চিকিৎসকের কাছে যেতেও চরম আতঙ্ক বোধ করছেন।

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নির্দেশনায় বিভ্রান্তি ও তীব্র উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের অনুমতি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সরকারি নির্দেশনা অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মধ্যে চরম বিভ্রান্তি ও বড় ধরনের উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া এই নির্দেশনার প্রকৃত প্রভাব কী হবে, তা নিয়ে আবেদনকারী ও তাঁদের পরিবারগুলোর মধ্যে তীব্র অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।   গত সপ্তাহে ঘোষিত এক প্রাথমিক নির্দেশনায় জানানো হয়েছিল, স্থায়ী বসবাসের অনুমতিপ্রত্যাশী অধিকাংশ আবেদনকারীকে গ্রিন কার্ডের পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিজ দেশে গিয়ে অপেক্ষা করতে হতে পারে। ইউএসসিআইএস (USCIS) এই পরিবর্তনকে অভিবাসন ব্যবস্থা আরও 'ন্যায্য ও কার্যকর' করার উদ্যোগ বলে দাবি করলেও, এতে অভিবাসী মহলে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়।   এই ঘোষণার এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) একটি নতুন ব্যাখ্যা জারি করেছে। নতুন ব্যাখ্যায় তারা জানিয়েছে, এটি কোনো সার্বিক আইন বা নীতিগত পরিবর্তন নয়, বরং কর্মকর্তাদের বিদ্যমান বিবেচনাধিকার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা মাত্র।   অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, বর্তমানে প্রায় ১০ লাখ আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে প্রশাসনিক নীতির মাধ্যমে একতরফাভাবে কংগ্রেসের প্রণীত এই আইন বাতিল করা সম্ভব নয় এবং নতুন নির্দেশনাটি পূর্ববর্তী আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োগ করারও কোনো আইনি সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বৈধ অভিবাসনের পথ সংকুচিত করার এই উদ্যোগের ফলে উচ্চযোগ্যতাসম্পন্ন বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তি খাতের পেশাজীবীদের মধ্যে এখন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রবণতা বাড়ছে। অনেক যোগ্য আবেদনকারী মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারিয়ে এখন বিকল্প গন্তব্য হিসেবে অন্য দেশের কথা ভাবছেন।

ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে নিউইয়র্কে ২০০ ডলারের রিবেট চেক দেবে সরকার

ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিলের চাপ কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্য সরকার নতুন আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। নতুন বাজেটের অংশ হিসেবে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের তহবিল বরাদ্দ করা হয়েছে, যার আওতায় যোগ্য বাসিন্দারা এককালীন রিবেট চেক পাবেন।   “প্রটেক্টিং আওয়ার ওয়ালেটস এনার্জি রিবেট” নামের এই কর্মসূচির মাধ্যমে রিবেট অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডাকযোগে পাঠানো হবে। এতে আলাদা করে আবেদন করার প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছে রাজ্য প্রশাসন।   আয়ের ভিত্তিতে এই রিবেটের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে। যৌথভাবে কর দাখিলকারীদের ক্ষেত্রে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের নিচে হলে ২০০ ডলার এবং ১ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৩ লাখ ডলারের মধ্যে হলে ১৫০ ডলার দেওয়া হবে। একক করদাতাদের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে ১০০ ডলার রিবেট দেওয়া হবে।   সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৪ করবর্ষে নিউইয়র্কের পূর্ণকালীন বাসিন্দা হতে হবে এবং সময়মতো ট্যাক্স রিটার্ন দাখিল করতে হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত আয়ের সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং অন্য কারও ট্যাক্স রিটার্নে নির্ভরশীল হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকা যাবে না।   রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই রিবেট চেক বিতরণ করা হবে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের কারণে সাধারণ মানুষের আর্থিক চাপ কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
গ্রিন কার্ড নীতি ঘিরে ইউ-টার্ন, অধিকাংশ আবেদনকারীকে দেশ ছাড়তে হবে না: যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে নতুন ব্যাখ্যা দিয়েছে দেশটির হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস)। সাম্প্রতিক এই ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ অভিবাসীকে গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়ার সময় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে না।   ডিএইচএস জানিয়েছে, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে কোনো বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন হয়নি। বরং আগের মতোই অভিবাসন কর্মকর্তারা প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন আবেদনকারীকে দেশেই থেকে প্রক্রিয়া চালাতে দেওয়া হবে কি না।   এর আগে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর একটি ঘোষণার পর ধারণা তৈরি হয়েছিল যে অধিকাংশ আবেদনকারীকে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে গ্রিন কার্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হতে পারে। এতে অভিবাসী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। তবে নতুন ব্যাখ্যায় ডিএইচএস বলেছে, এটি কোনো সার্বিক নীতি পরিবর্তন নয়, বরং কর্মকর্তাদের বিদ্যমান ক্ষমতা সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যামূলক নির্দেশনা।   ডিএইচএসের এক মুখপাত্র জানান, কিছু নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে যেমন ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া বা অন্যান্য অভিবাসন সংক্রান্ত জটিলতা থাকলে আবেদনকারীদের বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে। তবে অধিকাংশ আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে থেকেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।   অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ব্যাখ্যায় কিছুটা স্পষ্টতা এলেও এখনো একাধিক প্রশ্ন রয়ে গেছে। বিশেষ করে কোন পরিস্থিতিতে আবেদনকারীকে দেশ ছাড়তে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা অনুপস্থিত থাকায় অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, নীতিগত ব্যাখ্যার এই ধোঁয়াশা অভিবাসী ও নিয়োগদাতাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর আস্থাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বছরে প্রায় ১৪ লাখ গ্রিন কার্ড ইস্যু করা হয়, যার বড় একটি অংশ দেশটির ভেতর থেকেই আবেদন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়ে থাকে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

মতামত

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান দেশ ছাড়ার পথে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার উপায় জানতে খরচ করছেন শত শত ডলার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৭:২

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।   গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।   বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।   জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।   অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।   ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।   ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।   ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।   তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।

আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:৩৬

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

ড. তাহমিদ আহমেদ
এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় কলেরা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:১৫

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন।   ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে।   আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করল ফেরারি, দাম প্রায় ৬.৪ লাখ ডলার
শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম।   ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে।   নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।   চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।   ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
406 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
359 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
445 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
297 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
Advertisement
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়