Live update news
যুদ্ধে বিভর্ণ ইরানিরা উদযাপন করছে নওরোজ

পরিবারকে সময় দেওয়া, নতুন পথচলা ও নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি বহন করে ‘নওরোজ’। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ এই দিনে ফারসি বর্ষবরণ উদযাপন করে। কিন্তু চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে এবার ইরানিদের নওরোজ উদযাপন ভিন্ন চিত্র ধারণ করেছে।   সিরিজ বোমাবর্ষণ ও সংঘর্ষের ফলে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং দেশের অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এবারের নওরোজ ইরানিদের কাছে ঘিরে আনছে উদ্বেগ ও ভয়।   তেহরানের ৩৬ বছর বয়সী নাজনীন বলেন, “ফারসি ঐতিহ্য মেনে বসন্তের জন্য ঘর সাজানোর বা প্রস্তুতির কোনো শক্তি আমার অবশিষ্ট নেই। পরিবারের সবাই এক জায়গায় মিলিত না হলে উদযাপন কীভাবে সম্ভব?” তিন সপ্তাহ ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কারণে ইরানিরা হতাশা ও ভয়ের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।   তবে তেহরানে নওরোজ সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি। বাজারে প্রচুর পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, আর শহরের গলিগুলোতে ঐতিহ্যবাহী ফুল ‘হায়াসিন্থ’-এর সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মেহরাদ বলেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও শহরটি যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া চমৎকার, আকাশ নীল, কুয়াশা কেটে গেছে—সব মিলিয়ে বসন্তের নিখুঁত পরিবেশ।”   বিভক্ত সমাজে বহু ইরানি এবারের নওরোজকে শুদ্ধি ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। ৪৫ বছর বয়সী আহমদ ও তাঁর স্ত্রী প্রতিবছরের মতো নওরোজ উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন। আহমদ বলেন, “যুদ্ধ ও মৃত্যুর আবহে জীবনকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। উৎসবের এই সুযোগ কেবলমাত্র আমাদের আনন্দের জন্য।”   যুদ্ধই নয়, অর্থনৈতিক সংকটও এবারের উদযাপনের ছাপ ফেলেছে। তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, তারা নওরোজ পালন করলেও ফুল, ঐতিহ্যবাহী খাবার বা অন্যান্য খরচে বাজেট সীমিত। “বাজারে পণ্য থাকলেও এখন এটি বিলাসিতা মনে হয়, বিশেষ করে যখন আগামীকাল কী হবে, তা অজানা।”   নওরোজ শুধু ইরানে নয়, ইরাক, তুরস্ক, আজারবাইজান, তুর্কমিনিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তানসহ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়। ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত এই প্রাচীন উৎসব বর্ষবরণের সঙ্গে নতুন সূচনা ও পুনর্জন্মের বার্তা বয়ে আনে।

৪ মিনিট Ago
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উভচর যুদ্ধজাহাজ ও অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী।   কর্মকর্তারা জানান, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলে নতুন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের উভচর নৌবহর ‘ইউএসএস বক্সার’ ও সঙ্গে থাকা মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এই সময় খবরটি প্রকাশ্যে আসে যখন মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অভিযান জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোথাও কোনো সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে পাঠালে, তা আমি সাংবাদিকদের জানাব না।”   সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সেনাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনও স্পষ্ট নয়। একজন কর্মকর্তা জানান, তারা পূর্বনির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে রওনা হয়েছেন।   এই মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে থাকা ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে দুইটি, যেখানে সাধারণত প্রতিটি ইউনিটে আড়াই হাজার সেনা থাকেন, যারা জাহাজ থেকে বিমান হামলা চালানো বা স্থলভাগে অভিযানে সক্ষম।   রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও খারগ দ্বীপে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। খারগ দ্বীপ থেকে ইরানের মোট রপ্তানি তেলের ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সেনা পাঠানো ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ সাধারণ মার্কিন জনগণের মধ্যে সমর্থন খুবই কম। চলমান রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প ইরানে স্থলযুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন, কিন্তু কেবল ৭ শতাংশই এ ধরনের সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন।

১১ মিনিট Ago
দেশের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।   শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উৎসব সমাজের সব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।   নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ঈদ মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।” তিনি বলেন, এবারের ঈদ দেশের মুসলিমদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা তিনি ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কারণে অনেক নেতা-কর্মী ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।   বার্তায় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের খোঁজখবর নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”   প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “যারা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।”   সর্বশেষে নাহিদ ইসলাম সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে।

৩৩ মিনিট Ago
ঈদ উপলক্ষে বেড়েছে রেমিট্যান্স, চাঙা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.২২ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) নির্ধারিত বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে এই রিজার্ভের পরিমাণ ২৯.৫২ বিলিয়ন ডলার।   এর আগে, ৩ মার্চ পর্যন্ত দেশের মোট রিজার্ভ ছিল ৩৫.৩২ বিলিয়ন ডলার, যা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ৩০.৫৮ বিলিয়ন ডলার হিসেবে ধরা হয়েছিল।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যে দেখা গেছে, চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনে প্রবাসীরা ২২০.৪৪ মিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২৭,০০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এই প্রবাহ দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে ঈদ উৎসবের আগে স্বস্তি যোগ করেছে।

৩৮ মিনিট Ago
বর্ষবরণের দিনে শোকমিছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছেন শোকার্ত ইরানিরা। তেহরান, ২০ মার্চ ২০২৬। ছবি: এএফপি
বিশ্ব
যুদ্ধে বিভর্ণ ইরানিরা উদযাপন করছে নওরোজ

পরিবারকে সময় দেওয়া, নতুন পথচলা ও নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি বহন করে ‘নওরোজ’। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ এই দিনে ফারসি বর্ষবরণ উদযাপন করে। কিন্তু চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে এবার ইরানিদের নওরোজ উদযাপন ভিন্ন চিত্র ধারণ করেছে।   সিরিজ বোমাবর্ষণ ও সংঘর্ষের ফলে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং দেশের অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এবারের নওরোজ ইরানিদের কাছে ঘিরে আনছে উদ্বেগ ও ভয়।   তেহরানের ৩৬ বছর বয়সী নাজনীন বলেন, “ফারসি ঐতিহ্য মেনে বসন্তের জন্য ঘর সাজানোর বা প্রস্তুতির কোনো শক্তি আমার অবশিষ্ট নেই। পরিবারের সবাই এক জায়গায় মিলিত না হলে উদযাপন কীভাবে সম্ভব?” তিন সপ্তাহ ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কারণে ইরানিরা হতাশা ও ভয়ের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।   তবে তেহরানে নওরোজ সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি। বাজারে প্রচুর পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, আর শহরের গলিগুলোতে ঐতিহ্যবাহী ফুল ‘হায়াসিন্থ’-এর সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মেহরাদ বলেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও শহরটি যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া চমৎকার, আকাশ নীল, কুয়াশা কেটে গেছে—সব মিলিয়ে বসন্তের নিখুঁত পরিবেশ।”   বিভক্ত সমাজে বহু ইরানি এবারের নওরোজকে শুদ্ধি ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। ৪৫ বছর বয়সী আহমদ ও তাঁর স্ত্রী প্রতিবছরের মতো নওরোজ উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন। আহমদ বলেন, “যুদ্ধ ও মৃত্যুর আবহে জীবনকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। উৎসবের এই সুযোগ কেবলমাত্র আমাদের আনন্দের জন্য।”   যুদ্ধই নয়, অর্থনৈতিক সংকটও এবারের উদযাপনের ছাপ ফেলেছে। তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, তারা নওরোজ পালন করলেও ফুল, ঐতিহ্যবাহী খাবার বা অন্যান্য খরচে বাজেট সীমিত। “বাজারে পণ্য থাকলেও এখন এটি বিলাসিতা মনে হয়, বিশেষ করে যখন আগামীকাল কী হবে, তা অজানা।”   নওরোজ শুধু ইরানে নয়, ইরাক, তুরস্ক, আজারবাইজান, তুর্কমিনিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তানসহ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়। ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত এই প্রাচীন উৎসব বর্ষবরণের সঙ্গে নতুন সূচনা ও পুনর্জন্মের বার্তা বয়ে আনে।

নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি সংগৃহীত
আয়রণ ডোমের গোপন তথ্য ইরানে পাচার; ইসরাইলি রিজার্ভিস্ট সেনা সদস্য গ্রেপ্তার

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর গর্ব অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রণ ডোম’-এর সংবেদনশীল তথ্য ইরানের কাছে পাচারের অভিযোগে এক সেনা সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) ইসরাইলি পুলিশ জানায়, আটককৃত ব্যক্তি সেনাবাহিনীর একজন রিজার্ভিস্ট (অস্থায়ী সেনা) এবং তার বিরুদ্ধে ইরানি গোয়েন্দা সংস্থার সাথে যোগসাজশের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সাথে সরাসরি যুদ্ধে লিপ্ত, ঠিক সেই সময়ে এই গ্রেপ্তারের খবরটি প্রকাশ্যে এল।   পুলিশের তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত সেনা সদস্যের নাম রাজ কোহেন (২৬), যিনি জেরুজালেমের বাসিন্দা। তিনি আয়রণ ডোম সিস্টেমে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় গত কয়েক মাস ধরে ইরানি গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। তাদের নির্দেশনায় তিনি বিভিন্ন নিরাপত্তা মিশনে অংশ নিয়েছেন এবং অত্যন্ত গোপনীয় সামরিক তথ্য তেহরানের কাছে পাঠিয়েছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যার পর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের জেরে ইরান দফায় দফায় ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারলেও কৌশলগত কিছু স্থানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানি ঘটেছে। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানি হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫ জন বেসামরিক নাগরিক এবং পশ্চিম তীরে ৪ জন ফিলিস্তিনি নারী নিহত হয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনাটি ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করেছে।

অপারেশন এপিক ফিউরিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ডেকে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানকে নির্দেশনা দিচ্ছেন মার্কিন নৌবাহিনীর একজন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উভচর যুদ্ধজাহাজ ও অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী।   কর্মকর্তারা জানান, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলে নতুন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের উভচর নৌবহর ‘ইউএসএস বক্সার’ ও সঙ্গে থাকা মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এই সময় খবরটি প্রকাশ্যে আসে যখন মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অভিযান জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোথাও কোনো সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে পাঠালে, তা আমি সাংবাদিকদের জানাব না।”   সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সেনাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনও স্পষ্ট নয়। একজন কর্মকর্তা জানান, তারা পূর্বনির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে রওনা হয়েছেন।   এই মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে থাকা ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে দুইটি, যেখানে সাধারণত প্রতিটি ইউনিটে আড়াই হাজার সেনা থাকেন, যারা জাহাজ থেকে বিমান হামলা চালানো বা স্থলভাগে অভিযানে সক্ষম।   রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও খারগ দ্বীপে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। খারগ দ্বীপ থেকে ইরানের মোট রপ্তানি তেলের ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সেনা পাঠানো ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ সাধারণ মার্কিন জনগণের মধ্যে সমর্থন খুবই কম। চলমান রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প ইরানে স্থলযুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন, কিন্তু কেবল ৭ শতাংশই এ ধরনের সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন।

ছবি: সংগৃহীত
দেশের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা জানালেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের মানুষসহ বিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এর আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম।   শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় নাহিদ ইসলাম বলেন, এক মাসের সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, এই উৎসব সমাজের সব ভেদাভেদ ভুলিয়ে দিয়ে শান্তি, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে।   নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “ঈদ মানুষের হৃদয়ে প্রশান্তি এনে দেয়, হিংসা-বিদ্বেষ দূর করে এবং পারস্পরিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।” তিনি বলেন, এবারের ঈদ দেশের মুসলিমদের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, যা তিনি ‘ফ্যাসিবাদ-উত্তর দ্বিতীয় ঈদ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক কারণে অনেক নেতা-কর্মী ঈদের প্রকৃত আনন্দ থেকে বঞ্চিত ছিলেন।   বার্তায় তিনি শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে বলেন, “শত শত শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ মুক্ত পরিবেশে ঈদ উদযাপন করছি। তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং আহতদের খোঁজখবর নেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”   প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “যারা পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থেকে দেশের অর্থনীতিকে সচল রাখছেন, তাদের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা উচিত।”   সর্বশেষে নাহিদ ইসলাম সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধুমাত্র ধর্মীয় নয়, মানবিক দায়িত্বও বটে।

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত
বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে ঈদের শিক্ষা অনুপ্রেরণা দেবে: রাষ্ট্রপতি

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশ-বিদেশে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি ও বিশ্ব মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন, ঈদের শিক্ষা একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠনে নতুন উদ্যম ও অনুপ্রেরণা জোগাবে।   শুক্রবার (২০ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, রমজান মাসের সিয়াম সাধনার মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি অর্জন করে এবং অন্যায়-অবিচার থেকে দূরে থাকার শিক্ষা পায়। এই শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।   তিনি আরও বলেন, ঈদুল ফিতর ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাইকে এক কাতারে দাঁড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করে এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন দৃঢ় করে। একটি শান্তিপূর্ণ, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গঠনে ঈদের তাৎপর্য অপরিসীম।   রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক, সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার, তা বাস্তবায়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঈদের চেতনা সবার মাঝে ইতিবাচক শক্তি জোগাবে।   বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাবের কথাও উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সমাজের সচ্ছল ও বিত্তবানদের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।   বাণীর শেষে রাষ্ট্রপতি দেশের সার্বিক কল্যাণ, শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এবং সবার জীবনে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ছবি: সংগৃহীত।
ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মিসাইল ছুড়ল ইরান

দখলদার ইসরাইলকে লক্ষ্য করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে এই হামলা চালানো হয় বলে জানা গেছে।   ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, নিক্ষেপ করা মিসাইলগুলো দখলকৃত জেরুজালেমের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। হামলার আশঙ্কায় শহরজুড়ে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।   সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ইরান ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ জোরদার করছে। বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত ইসরাইলকে লক্ষ্য করে মোট ১৩ দফা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।   এই ধারাবাহিক হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করছে এবং বৃহত্তর সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে।   সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

বিশ্ব

View more
বর্ষবরণের দিনে শোকমিছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত গোয়েন্দাবিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিবকে বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছেন শোকার্ত ইরানিরা। তেহরান, ২০ মার্চ ২০২৬। ছবি: এএফপি
যুদ্ধে বিভর্ণ ইরানিরা উদযাপন করছে নওরোজ
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0

পরিবারকে সময় দেওয়া, নতুন পথচলা ও নতুন সূচনার প্রতিশ্রুতি বহন করে ‘নওরোজ’। বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ এই দিনে ফারসি বর্ষবরণ উদযাপন করে। কিন্তু চলমান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার কারণে এবার ইরানিদের নওরোজ উদযাপন ভিন্ন চিত্র ধারণ করেছে।   সিরিজ বোমাবর্ষণ ও সংঘর্ষের ফলে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং দেশের অবকাঠামোর বড় অংশ ধ্বংস হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এবারের নওরোজ ইরানিদের কাছে ঘিরে আনছে উদ্বেগ ও ভয়।   তেহরানের ৩৬ বছর বয়সী নাজনীন বলেন, “ফারসি ঐতিহ্য মেনে বসন্তের জন্য ঘর সাজানোর বা প্রস্তুতির কোনো শক্তি আমার অবশিষ্ট নেই। পরিবারের সবাই এক জায়গায় মিলিত না হলে উদযাপন কীভাবে সম্ভব?” তিন সপ্তাহ ধরে দেশের রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতের কারণে ইরানিরা হতাশা ও ভয়ের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।   তবে তেহরানে নওরোজ সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়নি। বাজারে প্রচুর পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, আর শহরের গলিগুলোতে ঐতিহ্যবাহী ফুল ‘হায়াসিন্থ’-এর সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা মেহরাদ বলেন, “যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরও শহরটি যেন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। আবহাওয়া চমৎকার, আকাশ নীল, কুয়াশা কেটে গেছে—সব মিলিয়ে বসন্তের নিখুঁত পরিবেশ।”   বিভক্ত সমাজে বহু ইরানি এবারের নওরোজকে শুদ্ধি ও পুনর্জন্মের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। ৪৫ বছর বয়সী আহমদ ও তাঁর স্ত্রী প্রতিবছরের মতো নওরোজ উদযাপনের পরিকল্পনা করছেন। আহমদ বলেন, “যুদ্ধ ও মৃত্যুর আবহে জীবনকে সম্মান জানানো প্রয়োজন। উৎসবের এই সুযোগ কেবলমাত্র আমাদের আনন্দের জন্য।”   যুদ্ধই নয়, অর্থনৈতিক সংকটও এবারের উদযাপনের ছাপ ফেলেছে। তেহরানের এক বাসিন্দা জানান, তারা নওরোজ পালন করলেও ফুল, ঐতিহ্যবাহী খাবার বা অন্যান্য খরচে বাজেট সীমিত। “বাজারে পণ্য থাকলেও এখন এটি বিলাসিতা মনে হয়, বিশেষ করে যখন আগামীকাল কী হবে, তা অজানা।”   নওরোজ শুধু ইরানে নয়, ইরাক, তুরস্ক, আজারবাইজান, তুর্কমিনিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, পাকিস্তানসহ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বিভিন্ন দেশে উদযাপিত হয়। ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত এই প্রাচীন উৎসব বর্ষবরণের সঙ্গে নতুন সূচনা ও পুনর্জন্মের বার্তা বয়ে আনে।

অপারেশন এপিক ফিউরিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের ডেকে একটি এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট যুদ্ধবিমানকে নির্দেশনা দিচ্ছেন মার্কিন নৌবাহিনীর একজন নাবিক। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করছে যুক্তরাষ্ট্র
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬ 0

ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে উভচর যুদ্ধজাহাজ ও অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন করতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা, বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে শুক্রবার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী।   কর্মকর্তারা জানান, ইরানে সরাসরি সেনা পাঠানোর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ভবিষ্যতের সম্ভাব্য অভিযানের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলে নতুন সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের উভচর নৌবহর ‘ইউএসএস বক্সার’ ও সঙ্গে থাকা মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। এই সময় খবরটি প্রকাশ্যে আসে যখন মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে তাদের অভিযান জোরদার করার জন্য অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা করছে।   যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কোথাও কোনো সেনা পাঠাচ্ছি না। তবে পাঠালে, তা আমি সাংবাদিকদের জানাব না।”   সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, নতুন সেনাদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব এখনও স্পষ্ট নয়। একজন কর্মকর্তা জানান, তারা পূর্বনির্ধারিত সময়ের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে রওনা হয়েছেন।   এই মোতায়েন মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে থাকা ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে যুক্ত হবে। ফলে মেরিন এক্সপিডিশনারি ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে দুইটি, যেখানে সাধারণত প্রতিটি ইউনিটে আড়াই হাজার সেনা থাকেন, যারা জাহাজ থেকে বিমান হামলা চালানো বা স্থলভাগে অভিযানে সক্ষম।   রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উপকূলে সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা ও খারগ দ্বীপে মার্কিন উপস্থিতি বাড়ানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। খারগ দ্বীপ থেকে ইরানের মোট রপ্তানি তেলের ৯০ শতাংশ প্রক্রিয়াজাত হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে সেনা পাঠানো ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, কারণ সাধারণ মার্কিন জনগণের মধ্যে সমর্থন খুবই কম। চলমান রয়টার্স/ইপসোস জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন, ট্রাম্প ইরানে স্থলযুদ্ধের নির্দেশ দিতে পারেন, কিন্তু কেবল ৭ শতাংশই এ ধরনের সিদ্ধান্ত সমর্থন করছেন।

ছবি সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি ১৯ দিন ধরে বন্ধ; তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১৪৭ ডলার ছাড়ানোর শঙ্কা
ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২০, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। শুক্রবার (২০ মার্চ) তেলের দাম সামান্য কমলেও বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ ১৯ দিন ধরে কার্যত বন্ধ থাকায় এবং জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তেলের দাম দীর্ঘ সময় চড়া থাকবে। গোল্ডম্যান স্যাকসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই উচ্চমূল্য ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   বর্তমানে বৈশ্বিক তেলের মানদণ্ড ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেল প্রতি ১০৮ ডলার এবং মার্কিন মানদণ্ড ‘ডব্লিউটিআই’ ৯৪.৬ ডলারে নেমেছে। তবে সংঘাতের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কার সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ‘সাউথ পার্স’ ফিল্ডে ইসরাইলি হামলা এবং এর জবাবে কাতারের ‘রাস লাফান’ গ্যাস কেন্দ্রে ইরানের পাল্টা হামলার পর জ্বালানি বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কাতার এনার্জি জানিয়েছে, এই হামলার ফলে তাদের এলএনজি রপ্তানি ক্ষমতা ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে, যা মেরামত করতে পাঁচ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।   বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের ২০ শতাংশই পরিবাহিত হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গোল্ডম্যান স্যাকস আশঙ্কা করছে, যদি এই পথটি আরও দীর্ঘ সময় অবরুদ্ধ থাকে, তবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ড ব্যারেল প্রতি ১৪৭ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে এই জলপথ সহজে যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। জ্বালানি অবকাঠামোতে হওয়া সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদী সংকটের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।

ন্যাটোর প্রশিক্ষক ও উপদেষ্টারা। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা: ইরাক থেকে কর্মী সরাল ন্যাটো, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরার ইঙ্গিত
নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২০, ২০২৬ 0

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে ইরাক থেকে নিজেদের কর্মীদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করেছে ন্যাটো। নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা আবার ফিরে আসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।   ইরাকের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দপ্তরের উপদেষ্টা সাঈদ আল জায়াশি শুক্রবার আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের অবসান এবং ইরাকে স্থিতিশীলতা ফিরলে ন্যাটো কর্মীরা পুনরায় তাদের কার্যক্রম শুরু করতে দেশটিতে ফিরে আসবেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ঝুঁকি কমাতে এ ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা জোরালো হচ্ছে।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
202 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
214 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
143 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
আইন-আদালত
Advertisement
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়