মৌসুমের শেষভাগে এসে ছন্দ হারানো লিভারপুলকে হারিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগ নিশ্চিত করেছে অ্যাস্টন ভিলা। ভিলা পার্কে রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৪-২ গোলের জয়ে ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় নিজেদের জায়গা পাকা করেছে উনাই এমেরির দল। এই জয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার পর বড় মঞ্চে ফেরার স্বপ্ন আরও জোরালো হয়েছে বার্মিংহামের ক্লাবটির। আগামী বুধবার ইউরোপা লিগের ফাইনালে জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গের মুখোমুখি হওয়ার আগে এই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াবে ভিলার। নিজেদের মাঠে বল দখলে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও আক্রমণভাগে কার্যকর ছিল অ্যাস্টন ভিলা। ম্যাচের ৪২ মিনিটে মরগান রজার্স গোল করে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন। বিরতির পর ৫২ মিনিটে ভার্জিল ফন ডাইকের গোলে সমতায় ফেরে লিভারপুল। তবে পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে আবার এগিয়ে যায় ভিলা। ওলি ওয়াটকিন্স ৫৭ মিনিটে গোল করে দলকে সামনে নিয়ে যান। ৭৩ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করে নেয় স্বাগতিকরা। শেষদিকে লিভারপুল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ৮৯ মিনিটে জন ম্যাকগিনের গোলে ব্যবধান আরও বাড়ে। যোগ করা সময়ে ফন ডাইক নিজের দ্বিতীয় গোল করলেও হার এড়াতে পারেনি লিভারপুল। শেষ পর্যন্ত ৪-২ ব্যবধানে জয় পায় অ্যাস্টন ভিলা। এই হারে লিভারপুলের চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সম্ভাবনা বড় ধাক্কা খেয়েছে। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি তাদের ১৯তম হার। একই সঙ্গে নতুন কোচ আর্নে স্লটের অধীনে প্রথমবার এক ম্যাচে চার গোল হজম করল দলটি। প্রিমিয়ার লিগে ৩৭ ম্যাচ শেষে ৬২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে রয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। শেষ ম্যাচে হারলেও শীর্ষ পাঁচের বাইরে যাওয়ার শঙ্কা নেই তাদের। অন্যদিকে লিভারপুল ৫৯ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে রয়েছে এবং শেষ ম্যাচের আগে তাদের অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। ২৪ মে ব্রেন্টফোর্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি তাই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে। তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে। এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি। রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে: ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা। অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে। সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে। তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে। এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি। রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে: ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা। অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে। সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবিশ্বাস্য এক ঘটনায় মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উদ্ধার হলো ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিজয়ী লটারির টিকিট। নিউ জার্সি লটারির পিক-6 ড্রয়ের এই টিকিটটি কেনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২২ মে, রোজল্যান্ড এলাকার একটি এক্সন গ্যাস স্টেশন থেকে। কিন্তু টিকিট কেনার পর সেটি কোথায় রাখা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুলে যান ক্রেতা। লটারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া একটি বিজয়ী টিকিটের খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে টিকিটটি কোন গ্যাস স্টেশন থেকে কেনা হয়েছিল, সেটিও উল্লেখ করা হয়। খবরটি দেখে ওই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, এটি হয়তো তারই কেনা টিকিট হতে পারে, কারণ ওই গ্যাস স্টেশনটি ছিল তার নিয়মিত যাতায়াতের জায়গা। এরপর তিনি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মীরা জানান, তাদের এখানে নিয়মিত খুব কম সংখ্যক মানুষ Pick-6 টিকিট কিনতেন এবং তাকে বাড়িতে থাকা পুরোনো টিকিটগুলো ভালোভাবে খুঁজে দেখতে বলেন। পরে বাড়িতে ফিরে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে একটি পুরোনো প্যান্টের পকেটে কুঁচকানো অবস্থায় পাওয়া যায় বহু কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, টিকিটটির মেয়াদ শেষ হতে তখন বাকি ছিল মাত্র আট দিন। অর্থাৎ আর কিছুদিন দেরি হলে প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যেত। এই ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক বাস্তব ঘটনা।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে। তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে। এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি। রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে: ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা। অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে। সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ২০২৬–২০২৭ লায়ন্স বর্ষের নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন জেএফএম রাসেল। একই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন মাসুদ রানা তপন। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ এই ক্লাবের সদস্যদের সমর্থনে বর্তমান সভাপতি রাসেল আবারও নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন। তিনি এর আগে এক মেয়াদে সভাপতি, দুই মেয়াদে সেক্রেটারি, দুই মেয়াদে মেম্বারশিপ চেয়ারম্যান এবং দুই মেয়াদে জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, মাসুদ রানা তপন গত দুই মেয়াদে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সদস্যদের আস্থা অর্জন করেন। তার সততা, নেতৃত্বগুণ ও ক্লাবের প্রতি আন্তরিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিনি সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম সেরা ও সম্মানজনক ক্লাব হিসেবে পরিচিত। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর ৫১টি ক্লাবের মধ্যে সদস্য সংখ্যার দিক থেকে এই ক্লাব দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সেবামূলক প্রকল্পের দিক থেকে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্লাব। গত বছর ক্লাবটি স্থানীয় কমিউনিটি এবং দেশের বাইরের মানবসেবামূলক কার্যক্রমে ২ লক্ষ ডলারের বেশি সেবা প্রদান করেছে। নবনির্বাচিত সভাপতি লায়ন জেএফএম রাসেল এবং সেক্রেটারি লায়ন মাসুদ রানা তপন বলেন, “আমরা সকল লায়ন্স সদস্যকে একটি পরিবারের মতো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে কমিউনিটি, অসহায় মানুষ এবং দেশের বাইরের দরিদ্র মানুষের সেবায় আরও বড় পরিসরে কাজ করা। আমরা এই ক্লাবকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই এবং আগামী বছরকে একটি স্মরণীয় বছরে পরিণত করতে চাই।” নবনির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন, নির্বাচিত কমিটি এবং সকল সদস্যদের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অবিশ্বাস্য এক ঘটনায় মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে উদ্ধার হলো ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিজয়ী লটারির টিকিট। নিউ জার্সি লটারির পিক-6 ড্রয়ের এই টিকিটটি কেনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২২ মে, রোজল্যান্ড এলাকার একটি এক্সন গ্যাস স্টেশন থেকে। কিন্তু টিকিট কেনার পর সেটি কোথায় রাখা হয়েছিল, তা সম্পূর্ণ ভুলে যান ক্রেতা। লটারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া একটি বিজয়ী টিকিটের খবর প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে টিকিটটি কোন গ্যাস স্টেশন থেকে কেনা হয়েছিল, সেটিও উল্লেখ করা হয়। খবরটি দেখে ওই ব্যক্তি বুঝতে পারেন, এটি হয়তো তারই কেনা টিকিট হতে পারে, কারণ ওই গ্যাস স্টেশনটি ছিল তার নিয়মিত যাতায়াতের জায়গা। এরপর তিনি গ্যাস স্টেশনে গিয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। কর্মীরা জানান, তাদের এখানে নিয়মিত খুব কম সংখ্যক মানুষ Pick-6 টিকিট কিনতেন এবং তাকে বাড়িতে থাকা পুরোনো টিকিটগুলো ভালোভাবে খুঁজে দেখতে বলেন। পরে বাড়িতে ফিরে শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে একটি পুরোনো প্যান্টের পকেটে কুঁচকানো অবস্থায় পাওয়া যায় বহু কাঙ্ক্ষিত সেই টিকিট। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, টিকিটটির মেয়াদ শেষ হতে তখন বাকি ছিল মাত্র আট দিন। অর্থাৎ আর কিছুদিন দেরি হলে প্রায় ৫.৯ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অঙ্কের পুরস্কার সম্পূর্ণ বাতিল হয়ে যেত। এই ঘটনাটি ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, এটি যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানানো এক বাস্তব ঘটনা।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি পেলেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের জন্য আইসিসির ‘প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। এই পুরস্কারের জন্য প্রতিযোগিতায় ওমানের অধিনায়ক জতিন্দর সিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের পেসার অজয় কুমারকে পেছনে ফেলেন রানা। বৃহস্পতিবার আইসিসি তাদের অফিসিয়াল প্ল্যাটফর্মে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এপ্রিল মাসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে বল হাতে দারুণ ছন্দে ছিলেন এই ডানহাতি পেসার। সিরিজে মোট ৮টি উইকেট নেন তিনি, গড় ছিল ১৬.৭৫ এবং ইকোনমি ৪.৪৬। এর আগে মার্চে পাকিস্তানের বিপক্ষেও সমান সংখ্যক উইকেট নিয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের প্রমাণ দিয়েছেন ২৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম ও মেহেদী হাসান মিরাজ এই সম্মান জিতেছিলেন। তাদের পর চতুর্থ বাংলাদেশি হিসেবে আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পেলেন রানা, যা তার ক্যারিয়ারের প্রথম। পুরস্কার জয়ের প্রতিক্রিয়ায় রানা বলেন, শক্তিশালী নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে ভালো করে এই স্বীকৃতি পাওয়া তার জন্য বিশেষ গর্বের। দেশের মাটিতে এমন সাফল্য তাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে বলেও জানান তিনি। সতীর্থদের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভবিষ্যতেও দলের জয়ে অবদান রাখতে চান বলে উল্লেখ করেন এই পেসার। সিরিজের শুরুটা অবশ্য খুব ভালো ছিল না রানার। মিরপুরে প্রথম ম্যাচে ৬৫ রান খরচায় মাত্র একটি উইকেট পান তিনি। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই ঘুরে দাঁড়িয়ে মাত্র ৩২ রানে ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। পাওয়ার প্লেতেই গুরুত্বপূর্ণ দুই উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলেন, পরে আরও তিনটি উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেন। চট্টগ্রামে শেষ ম্যাচেও তার ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। সেই ম্যাচে আরও দুই উইকেট নিয়ে দলকে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিততে সহায়তা করেন। অসাধারণ এই পারফরম্যান্সের জন্য সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতার পর এবার আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও নিজের করে নিলেন নাহিদ রানা।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস ইবে (eBay) কে অধিগ্রহণের জন্য দেওয়া প্রায় ৫৫.৫ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা) প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবটি দিয়েছিল ভিডিও গেম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গেমস্টপ (GameStop) যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “মিম স্টক” হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ইবে (eBay) এর পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, গেমস্টপ (GameStop) এর প্রস্তাব “অযাচিত” এবং “বিশ্বাসযোগ্য বা আকর্ষণীয় নয়”। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, eBay বর্তমানে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং তাদের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সফলভাবেই এগোচ্ছে। eBay বোর্ডের পক্ষ থেকে গেমস্টপ (GameStop) এর সিইও রায়ান কোহেনকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, এই অধিগ্রহণ বাস্তবায়ন হলে নতুন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে গেমস্টপ (GameStop) এর পরিচালনা পর্ষদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে eBay। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত ছিল না। কারণ গেমস্টপ (GameStop) এর বাজারমূল্য eBay-এর তুলনায় অনেক কম। এছাড়া এত বড় চুক্তির অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটিও পরিষ্কার ছিল না। যদিও গেমস্টপ (GameStop) দাবি করেছিল, তারা টিডি সিকিউরিটিজের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় ঋণের চাপ ভবিষ্যতে eBay-এর ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। বর্তমানে Amazon, Etsy এবং Temu-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যেও eBay নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে গেমস্টপ (GameStop) এর সিইও রায়ান কোহেন এখনই পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি। তিনি জানিয়েছেন, বোর্ড প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি সরাসরি ইবে (eBay) এর শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ইবে (eBay) এর নিট মুনাফা বেড়ে ৪১৮.৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ফলে বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ প্রস্তাব সহজেই ফিরিয়ে দিতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন অনন্যা চন্দ জেসি। ডেট্রয়েটের ক্যাস টেক হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থী প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অনন্যা মিশিগানপ্রবাসী বিশ্বেশ্বর চন্দ ও শেলী শীল দম্পতির দ্বিতীয় কন্যা। তার এই সাফল্যের খবরে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনন্যা জানান, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রি-মেড’ বিষয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এই অর্জন তাকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনন্যা বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি মেট্রো ডেট্রয়েট অঞ্চলের মানুষের সেবায় কাজ করতে চান। শিক্ষাজীবনে অনন্যা একাডেমিক কৃতিত্বের পাশাপাশি নেতৃত্বমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ‘ন্যাশনাল অনার সোসাইটি’র সভাপতি এবং ‘অ্যাকাডেমিক গেমস’-এর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি মিশিগান মেডিসিনের অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ ইনিশিয়েটিভের রিচ বোর্ড এবং ‘ওমেন অব বাংলাটাউন ইউথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মেধার স্বীকৃতি হিসেবে অনন্যা ‘পালাজো স্ট্রজি’ পুরস্কারও অর্জন করেছেন। এই পুরস্কারের আওতায় ইতালিতে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। তবে সব সুযোগের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও মেন্টরদের অবদানের কথা উল্লেখ করে অনন্যা বলেন, তাদের সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনন্যার বার্তা, “কখনো নিজের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে না। মনে রাখবে, সাময়িক ব্যর্থতাও ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।”
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘানার একটি গ্রামের দরিদ্র যুবক আল-হাসান আবদুল্লাহকে ঘিরে একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভাইরাল হওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তুরস্কের একটি চলচ্চিত্র দলের ড্রোন একদিন তার গ্রামের কাছে পড়ে যায়। সেটি খুঁজতে গিয়ে দলটি আল-হাসানকে ড্রোনটি হাতে দেখতে পায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিবরণে বলা হয়, ওই সময় তিনি মজার ছলে প্রশ্ন করেন, “এর চেয়ে বড় কোনো ড্রোন আছে কি, যা আমাকে মক্কায় নিয়ে যেতে পারে?” এরপর তার এই মন্তব্য এবং মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দাবি করা হয়, ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আল-হাসানকে হজ পালনের জন্য স্পনসর করা হয় এবং তিনি হজে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মূলত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গল্প হিসেবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। গল্পটির শেষ অংশে বলা হয়, মানুষের জীবন কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে ঘিরে পরিবর্তিত হতে পারে এবং সুযোগ আসে এমন জায়গা থেকে, যা আগে কল্পনাও করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।