সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ জন বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ জন বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এমন অভিবাসীদের গ্রহণ করতে শুরু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া, যারা দেশটির নাগরিক নন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির আওতায় করা চুক্তির প্রথম ধাপে গত ২০ আগস্ট প্রায় ২০ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।    চুক্তি অনুযায়ী, আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ জনকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হতে পারে। এসব ব্যক্তির মধ্যে আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।    লাইবেরিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিরা দেশটির নাগরিক নন এবং তাদের ‘তৃতীয় দেশের নাগরিক’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তাদের মধ্যে যারা চাইবেন, তারা লাইবেরিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন।    প্রথম দলটি লুইজিয়ানা থেকে একটি বিমানে করে লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ার বাইরে রবার্টস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তবে বিমানটি অবতরণের পর কয়েকজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের গন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন।    পরে জানা যায়, প্রথম দফায় পাঠানো ছয়জন—চারজন কিউবার নাগরিক, একজন ব্রাজিলের নাগরিক এবং একজন ক্যামেরুনের নারী—বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের দাবি ছিল, লাইবেরিয়া তাদের নিজ দেশ নয় এবং সেখানে গেলে তারা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন।    লাইবেরিয়ার সরকার বলেছে, এই ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের কূটনৈতিক নোট বিনিময়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এটিকে মানবিক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ব্যক্তিদের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে।    যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটি এমন একটি নীতির অংশ, যার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে সম্ভব নয় বা যাদের নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতন কিংবা অন্য গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা করেছে।    তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নিজ দেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন জায়গায় বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের পাঠানো হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তী সময়ে তারা আবার অন্য দেশে পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।    লাইবেরিয়ার জন্য বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বড় একটি অংশ এমন জনগোষ্ঠীর বংশধর, যাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাস রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত মানুষদের গ্রহণের এই নতুন ভূমিকা দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্কের সঙ্গেও নতুন এক বৈপরীত্য তৈরি করেছে।    সব মিলিয়ে, লাইবেরিয়ায় প্রথম ২০ জনকে পাঠানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তৃতীয় দেশে বহিষ্কার’ নীতির নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরে আরও ১ হাজার ১৮০ জন পর্যন্ত মানুষকে সেখানে পাঠানো হলে এ ব্যবস্থা অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার ও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

২০ মিনিট Ago
ডেলাওয়ার ভ্যালিতে ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা
ডেলাওয়ার ভ্যালিতে ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাংলাদেশি স্থপতি, নগরবিদ, স্থাপত্য ইতিহাসবিদ, গবেষক ও লেখক ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা জানিয়েছে ডেলাওয়ার ভ্যালির বাংলাদেশি-আমেরিকান কমিউনিটি।   গত ২৩ আগস্ট রোববার ড্রেক্সেল হিলের শপ্তক কালচারাল সেন্টারে আয়োজিত এ সম্মাননা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্থাপত্য, নগরায়ণ, ঐতিহ্য সংরক্ষণ, পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ড. আশরাফের সহকর্মী, বন্ধু ও শিক্ষার্থীসহ বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশ নেন।   অনুষ্ঠানে ড. কাজী খালিদ আশরাফ তাঁর স্থাপত্যচিন্তা, গবেষণা ও বাংলাদেশের নগর ভবিষ্যৎ নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি তরুণ স্থপতিদের গতানুগতিক চিন্তার বাইরে গিয়ে সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী চিন্তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশেষভাবে নদী, খাল, জলাভূমি ও পরিবেশকে বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   ড. আশরাফ বুয়েট থেকে স্থাপত্যে ডিগ্রি অর্জনের পর এমআইটি থেকে মাস্টার্স এবং ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পর ২০১৫ সালে বাংলাদেশে ফিরে স্থাপত্য ও নগর গবেষণায় সক্রিয় হন। বর্তমানে তিনি বেঙ্গল ইনস্টিটিউট অব আর্কিটেকচার, ল্যান্ডস্কেপ অ্যান্ড সেটেলমেন্টসের ডিরেক্টর জেনারেল।   তাঁর গবেষণা ও লেখালেখির মধ্যে বাংলাদেশের স্থাপত্য ইতিহাস, নগরায়ণ, পরিবেশ, মাজহারুল ইসলাম ও লুই কানসহ আধুনিক স্থাপত্যের বিভিন্ন বিষয় উল্লেখযোগ্য। স্থাপত্য-গবেষণায় অবদানের জন্য তিনি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছেন।   অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক ছিলেন ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। সহযোগিতায় ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ডেলাওয়ার ভ্যালি, বাংলাদেশি আমেরিকান কমিউনিটি ফোরাম পেনসিলভানিয়া এবং ফিলাডেলফিয়া পত্রিকা।   অনুষ্ঠানে ডা. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিরা মতবিনিময়ে অংশ নেন। শেষ পর্বে প্রকৌশলী সালাউদ্দিন আহমেদ তারেক ও একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী কাদের কিবরিয়ার সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।   আয়োজকদের মতে, ড. কাজী খালিদ আশরাফকে সম্মাননা জানানোর পাশাপাশি এ আয়োজন প্রবাসী নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থাপত্য, জ্ঞানচর্চা ও সৃজনশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক সংযোগ তৈরি করেছে।

৩৮ মিনিট Ago
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে ১৫টি ঘাঁটির প্রবেশাধিকার হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক মার্কিন জেনারেল

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে।   ম্যাকক্যাফ্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১৫টি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ওয়াশিংটনকে নতুন করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম সৌদি আরব, ইসরায়েল ও দক্ষিণ ইউরোপে নতুন সামরিক প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে হতে পারে।   ম্যাকক্যাফ্রে দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে উপসাগরীয় যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসনেও দায়িত্ব পালন করেন।   তার এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার সময়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলটির মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।   ম্যাকক্যাফ্রের মতে, এর ফলে শুধু কয়েকটি সামরিক স্থাপনার বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রভাবের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।   তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রবেশাধিকার সীমিত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প ঘাঁটি ও নতুন সামরিক অংশীদার খুঁজতে হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।

১ ঘন্টা Ago
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত সমাধানে ‘একমাত্র পথ’ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান: জর্ডান-চীন

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।   সোমবার বেইজিংয়ে বৈঠকে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জনগণের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।   চীন সফরে বাদশাহ আবদুল্লাহ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন।   বৈঠকে জর্ডান ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আলোচনার পর বেইজিংয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   আগামী বছর জর্ডান ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খনিজ, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, মানবসম্পদ ও সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানায়, তাদের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে সবুজ অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত শিল্পখাতেও সম্প্রসারিত হবে।   বৈঠকে জর্ডান চীনের ‘ওয়ান-চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং।   এদিকে, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। জর্ডান ও চীন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথেই এগোতে হবে।   এ বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে জর্ডান ও চীনের অভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন। আগস্ট মাসের তুলনায় এফ ১, এফ ২বি, এফ ৩ এবং এফ ৪ ক্যাটাগরিতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট এক থেকে প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত এগিয়েছে।   ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে না থাকলেও ‘অল চার্জেবিলিটি এরিয়াস’ কলামের আওতায় এই অভাবনীয় অগ্রগতি দেশের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। নতুন বুলেটিন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকদের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ১ ক্যাটাগরি প্রায় ১৩ মাস এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি হয়েছে।   অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের এফ ২এ ক্যাটাগরি এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে আগে থেকেই ‘কারেন্ট’ অবস্থায় রয়েছে।   সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের এফ ৩ ক্যাটাগরিতে। এক মাসের ব্যবধানে এই ক্যাটাগরি প্রায় দুই বছর পাঁচ মাস এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর।   এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ভাইবোনদের জন্য নির্ধারিত এফ ৪ ক্যাটাগরি দুই বছর এক মাসেরও বেশি এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে এবং গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ২বি ক্যাটাগরি ১৯ মাসের বেশি এগিয়ে ২০১৯ সালের ২২ আগস্টে পৌঁছেছে।   তবে এত বড় অগ্রগতির পরও এফ ৪ ও এফ ৩ ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যথাক্রমে প্রায় ১৫ ও ১২ বছরের পুরোনো প্রায়োরিটি ডেট নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   সার্বিকভাবে এই বুলেটিনে বাংলাদেশ ও চীনের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছেন। ভারতের প্রথম চারটি ক্যাটাগরির অগ্রগতি বাংলাদেশের সমান হলেও ভাইবোনের এফ ৪ ক্যাটাগরিতে তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর পিছিয়ে রয়েছে।   মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাদের অধিকাংশ ক্যাটাগরি প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের বাবা-মায়েরা ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ হওয়ায় তারা বার্ষিক ভিসাসীমার বাইরে থাকেন, ফলে তাদের ক্ষেত্রে ভিসা বুলেটিনের এই কাট-অফ ডেটগুলোর কোনো প্রভাব পড়বে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৫:৪২
বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের নাগরিকদের জন্য স্বস্তি, ট্রাম্পের ভিসা স্থগিতাদেশ বাতিল মার্কিন আদালতে

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরেকটি উদ্যোগ আদালতে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার প্রশাসনিক নীতি বাতিল করে দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত। শুক্রবার, ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের জেলা জজ জেনেট ভার্গাস এই রায় দেন।   রায়ের ফলে আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া, সোমালিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়ায় জাতীয়তার ভিত্তিতে আর ওই সামগ্রিক স্থগিতাদেশ প্রয়োগ করা যাবে না। আদালত বলেছে, কেবল কোনো ব্যক্তির জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা আটকে দেওয়ার এই নীতি ফেডারেল অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিও তাঁর আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই নীতি কার্যকর করেছিলেন।   জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতি চালু করে। প্রশাসনের যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট ৭৫টি দেশের সম্ভাব্য অভিবাসীদের একটি বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন। সে কারণে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছিল।   তবে আদালত মনে করেছে, অভিবাসন ভিসার যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। একজন আবেদনকারী সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হতে পারেন কি না, তা তাঁর জাতীয়তার ভিত্তিতে একযোগে ধরে নেওয়া আইনসম্মত নয়।   জজ ভার্গাস তাঁর রায়ে বলেন, ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জাতীয়তার ভিত্তিতে অভিবাসন ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে সামগ্রিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা কংগ্রেসের নির্ধারিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আদালতের মতে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে কনস্যুলার কর্মকর্তাদেরই ব্যক্তিভিত্তিকভাবে ভিসা আবেদনের যোগ্যতা নির্ধারণের দায়িত্ব রয়েছে।   আদালতের সিদ্ধান্তের আওতায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা, ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ রয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, উরুগুয়ে, বসনিয়া, আলবেনিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, রাশিয়া ও সোমালিয়ার মতো দেশও রয়েছে।   বাংলাদেশের জন্যও এই সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জানুয়ারিতে কার্যকর হওয়া স্থগিতাদেশের আওতায় বাংলাদেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াও পড়েছিল। ফলে যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারভিত্তিক বা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশিদের জন্য আদালতের রায়টি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে ভিসা পাওয়ার অর্থ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের নিশ্চয়তা নয়। সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রচলিত অভিবাসন আইন অনুযায়ী ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করা হবে।   এই নীতির বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুটি অলাভজনক সংগঠন এবং ১১ জন ব্যক্তি। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের পরিবারের সদস্যদের ভিসা আবেদন স্থগিত বা প্রত্যাখ্যাত হয়েছিল। অন্যরা কর্মসংস্থানভিত্তিক অভিবাসনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন। মামলাকারীদের মধ্যে ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্ক এবং আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও ছিল।   মামলাকারীরা আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। ক্যাথলিক লিগ্যাল ইমিগ্রেশন নেটওয়ার্কের নির্বাহী পরিচালক আনা গ্যালাঘার বলেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে ভিসা স্থগিতের কারণে আলাদা হয়ে থাকা কিছু পরিবার আবার তাদের অভিবাসন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। আফ্রিকান কমিউনিটিজ টুগেদারও রায়টিকে আইনের শাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিজয় হিসেবে উল্লেখ করেছে।   অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে আসছিল যে সম্ভাব্য অভিবাসীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, তাঁদের প্রবেশ সীমিত করা প্রয়োজন। পররাষ্ট্র দপ্তর এর আগে জানিয়েছিল, সরকারি সম্পদের ওপর সম্ভাব্য চাপ কমানো এবং আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই আরও কঠোর করাই এই নীতির অন্যতম উদ্দেশ্য। কর্মকর্তারা এমন তথ্যও তুলে ধরেছিলেন যে নির্দিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী-অধ্যুষিত ৩০ শতাংশের বেশি পরিবার কোনো না কোনো ধরনের সরকারি সহায়তা পেয়ে থাকে।   তবে আদালতের মূল আপত্তি ছিল, এই পরিসংখ্যান ব্যবহার করে একটি দেশের সব নাগরিককে একই ধরনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলা যায় কি না। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভিসার যোগ্যতা ব্যক্তির নিজস্ব আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করার আইনি কাঠামো রয়েছে।   এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আদালতের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় এসেছে। এর আগে জুনে আরেকটি ফেডারেল আদালত এমন একটি প্রশাসনিক পদক্ষেপ আটকে দেয়, যার মাধ্যমে অভিবাসীদের আশ্রয়, কাজের অনুমতি, গ্রিন কার্ড ও নাগরিকত্বসংক্রান্ত কিছু সুবিধা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফলে দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বাস্তবায়ন বারবার আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।   তবে আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর পররাষ্ট্র দপ্তর তাৎক্ষণিকভাবে জানায়নি, ঠিক কত দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হবে। প্রশাসন চাইলে উচ্চ আদালতে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিষয়টি আবারও উচ্চতর আদালতের বিবেচনায় যেতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অভিবাসন নীতিতে ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।   আদালতের বর্তমান রায়ে মূলত জাতীয়তার ভিত্তিতে আরোপ করা সামগ্রিক স্থগিতাদেশ বাতিল হয়েছে। যেসব ভিসা প্রত্যাখ্যান শুধুমাত্র ওই নীতির ভিত্তিতে করা হয়েছিল, সেগুলোও পুনর্বিবেচনার আওতায় আসতে পারে। ফলে ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অভিবাসনের প্রক্রিয়া আবার ব্যক্তিভিত্তিক মূল্যায়নের দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ওয়াশিংটন পোস্ট, এবিসি নিউজ

মামদানির সরকারি গ্রোসারি স্টোর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা অভিবাসী ব্যবসায়ীদের

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মামলা করেছেন অভিবাসী মালিকানাধীন গ্রোসারি ও বডেগা ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সরকারি অর্থ ও ভর্তুকির সুবিধায় পরিচালিত এসব স্টোর স্থানীয় ছোট ব্যবসার সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতা তৈরি করবে।   মামদানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, নিউইয়র্কের পাঁচ বরোতে পাঁচটি সরকারি গ্রোসারি স্টোর চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব স্টোরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নির্দিষ্ট একটি তালিকা বাজারদরের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ কম দামে বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।   শহর কর্তৃপক্ষের দাবি, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য নিউইয়র্কের বাসিন্দাদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় থেকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া। বিশেষ করে যেসব পরিবার খাদ্যপণ্যের বাড়তি দামের কারণে চাপে রয়েছে, তারা এসব স্টোর থেকে কম দামে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারবেন।   এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিউইয়র্ক সিটি প্রায় ৭ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। প্রথম সরকারি গ্রোসারি স্টোরটি ব্রঙ্কসের হান্টস পয়েন্ট এলাকায় ২০২৭ সালের মধ্যে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পাঁচ বরোতেই একটি করে স্টোর চালুর লক্ষ্য রয়েছে।   তবে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছেন অভিবাসী ও সংখ্যালঘু মালিকানাধীন ছোট ব্যবসার প্রতিনিধিরা। মাল্টিকালচারাল বিজনেস কোয়ালিশন-এর অধীনে থাকা ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে দুটি মামলা করা হয়েছে।   মামলাকারীদের অভিযোগ, সরকারি সহায়তা ও ভর্তুকি পাওয়া স্টোরের সঙ্গে সাধারণ ছোট ব্যবসার পক্ষে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হবে। কারণ বেসরকারি দোকানগুলোকে ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য পরিচালন ব্যয় নিজেদের বহন করতে হয়।   ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সরকারি গ্রোসারি স্টোরগুলো যদি দীর্ঘমেয়াদে কম দামে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে আশপাশের ছোট গ্রোসারি ও বডেগাগুলো ক্রেতা হারাতে পারে। এতে দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসী পরিবারগুলোর মালিকানায় পরিচালিত ব্যবসাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।   মামলাকারীরা এই উদ্যোগকে বড় খুচরা বিক্রেতা ওয়ালমার্টের সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাদের যুক্তি, বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ছোট দোকানের প্রতিযোগিতা যেমন কঠিন, তেমনি সরকারি অর্থে পরিচালিত কম দামের স্টোরও স্থানীয় ব্যবসার জন্য একই ধরনের চাপ তৈরি করতে পারে।   অন্যদিকে, মামদানির প্রশাসনের বক্তব্য, সরকারি গ্রোসারি স্টোরের উদ্দেশ্য ছোট ব্যবসা ধ্বংস করা নয়; বরং নিউইয়র্কবাসীর জন্য সাশ্রয়ী দামে স্বাস্থ্যকর ও প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য নিশ্চিত করা।   পরিকল্পনার আরেকটি দিক হলো, স্টোরগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম সরাসরি সরকারি কর্মীদের দিয়ে পরিচালনার বদলে অভিজ্ঞ বেসরকারি গ্রোসারি অপারেটরদের মাধ্যমে পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে।   ফলে মামদানির এই উদ্যোগ এখন একদিকে কম দামে খাদ্যপণ্য সরবরাহের প্রতিশ্রুতি, অন্যদিকে ছোট ও অভিবাসী মালিকানাধীন ব্যবসা রক্ষার দাবির মধ্যে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।   সরকারি গ্রোসারি স্টোরগুলো শেষ পর্যন্ত নিউইয়র্কবাসীর জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কতটা সফল হবে, আর একই সঙ্গে স্থানীয় ছোট ব্যবসার ওপর কী প্রভাব ফেলবে—আদালতের মামলার পাশাপাশি এখন সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ জন বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে ১,২০০ জন বহিষ্কৃত অভিবাসীদের নিতে শুরু করেছে লাইবেরিয়া

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত এমন অভিবাসীদের গ্রহণ করতে শুরু করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ লাইবেরিয়া, যারা দেশটির নাগরিক নন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির আওতায় করা চুক্তির প্রথম ধাপে গত ২০ আগস্ট প্রায় ২০ জনকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হয়েছে।    চুক্তি অনুযায়ী, আগামী এক বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ জনকে লাইবেরিয়ায় পাঠানো হতে পারে। এসব ব্যক্তির মধ্যে আফ্রিকা, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন।    লাইবেরিয়ার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ব্যক্তিরা দেশটির নাগরিক নন এবং তাদের ‘তৃতীয় দেশের নাগরিক’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। তাদের মধ্যে যারা চাইবেন, তারা লাইবেরিয়ায় আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন।    প্রথম দলটি লুইজিয়ানা থেকে একটি বিমানে করে লাইবেরিয়ার রাজধানী মনরোভিয়ার বাইরে রবার্টস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। তবে বিমানটি অবতরণের পর কয়েকজন বহিষ্কৃত ব্যক্তি বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের গন্তব্য নিয়ে আপত্তি তোলেন।    পরে জানা যায়, প্রথম দফায় পাঠানো ছয়জন—চারজন কিউবার নাগরিক, একজন ব্রাজিলের নাগরিক এবং একজন ক্যামেরুনের নারী—বিমান থেকে নামতে অস্বীকৃতি জানান। তাদের দাবি ছিল, লাইবেরিয়া তাদের নিজ দেশ নয় এবং সেখানে গেলে তারা নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়তে পারেন।    লাইবেরিয়ার সরকার বলেছে, এই ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের কূটনৈতিক নোট বিনিময়ের ভিত্তিতে করা হয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এটিকে মানবিক ব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেছে এবং জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসা ব্যক্তিদের অতিথি হিসেবে গ্রহণ করা হবে।    যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এটি এমন একটি নীতির অংশ, যার মাধ্যমে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো আইনগতভাবে সম্ভব নয় বা যাদের নিজ দেশে ফেরত গেলে নির্যাতন কিংবা অন্য গুরুতর ঝুঁকির আশঙ্কা রয়েছে, তাদের তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন ইতোমধ্যে আফ্রিকার কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের ব্যবস্থা করেছে।    তবে এই নীতি নিয়ে মানবাধিকার সংগঠন ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, নিজ দেশের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন জায়গায় বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের পাঠানো হলে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়তে পারে এবং পরবর্তী সময়ে তারা আবার অন্য দেশে পাঠানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।    লাইবেরিয়ার জন্য বিষয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৬০ লাখ মানুষের বড় একটি অংশ এমন জনগোষ্ঠীর বংশধর, যাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত কৃষ্ণাঙ্গদের ইতিহাস রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত মানুষদের গ্রহণের এই নতুন ভূমিকা দেশটির ঐতিহাসিক সম্পর্কের সঙ্গেও নতুন এক বৈপরীত্য তৈরি করেছে।    সব মিলিয়ে, লাইবেরিয়ায় প্রথম ২০ জনকে পাঠানোর মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘তৃতীয় দেশে বহিষ্কার’ নীতির নতুন একটি অধ্যায় শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরে আরও ১ হাজার ১৮০ জন পর্যন্ত মানুষকে সেখানে পাঠানো হলে এ ব্যবস্থা অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার ও দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে।
ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে ১৫টি ঘাঁটির প্রবেশাধিকার হারাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র: সাবেক মার্কিন জেনারেল

ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও কৌশলগত অবস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন চার তারকা জেনারেল ব্যারি আর. ম্যাকক্যাফ্রে।   ম্যাকক্যাফ্রের মূল্যায়ন অনুযায়ী, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রায় ১৫টি সামরিক ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার স্থায়ীভাবে হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তার মতে, এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে ওয়াশিংটনকে নতুন করে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতায় যেতে হতে পারে।   তিনি বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম সৌদি আরব, ইসরায়েল ও দক্ষিণ ইউরোপে নতুন সামরিক প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনা করতে হতে পারে।   ম্যাকক্যাফ্রে দীর্ঘ সামরিক ক্যারিয়ারে ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে উপসাগরীয় যুদ্ধ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের প্রশাসনেও দায়িত্ব পালন করেন।   তার এই মূল্যায়ন সামনে এসেছে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর লজিস্টিক ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনার সময়। পোস্টটিতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের পাল্টা হামলায় অঞ্চলটির মার্কিন ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনায় নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।   ম্যাকক্যাফ্রের মতে, এর ফলে শুধু কয়েকটি সামরিক স্থাপনার বিষয় নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি প্রয়োগের সক্ষমতা ও কৌশলগত প্রভাবের ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।   তার বক্তব্যের সারকথা হলো, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সামরিক প্রবেশাধিকার সীমিত হলে যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প ঘাঁটি ও নতুন সামরিক অংশীদার খুঁজতে হবে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে ওয়াশিংটনের সামরিক পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
গরুর মাংসের দাম কমাতে বিদেশি মাংস আমদানি, ট্রাম্পের পরিকল্পনার বিরোধিতায় খামারি ও রিপাবলিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড পর্যায়ে থাকা গরুর মাংসের দাম কমাতে আগামী ৯০ দিনের জন্য বিদেশ থেকে অতিরিক্ত মাংস আমদানির পরিকল্পনা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে তাঁর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানোর বদলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন দেশটির গরু খামারি ও পশুপালকেরা। এমনকি ট্রাম্পের নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাও পরিকল্পনাটির বিরোধিতা করেছেন।   ট্রাম্প শুক্রবার জানান, আগামী ৯০ দিনে সর্বোচ্চ ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা যাবে। এই পরিমাণ মাংস নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রমের পর যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়, তা ছাড়াই আমদানির সুযোগ পাবে। ট্রাম্পের দাবি, আমদানি করা এই মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে মার্কিন ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করা হবে।   হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিদেশি মাংস রপ্তানিকারকদের সঙ্গে এ বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে এবং তাঁরা ২৫ শতাংশ কম দামে মাংস সরবরাহে সম্মত হয়েছেন। তবে কোন কোন দেশ এই মাংস সরবরাহ করবে, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। প্রশাসন আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করার পরিকল্পনা করছে।   ট্রাম্পের এই উদ্যোগের পেছনে মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি। দেশটির গরুর পাল ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। দীর্ঘদিনের খরা, খাদ্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং মেক্সিকো থেকে গবাদিপশু আমদানিতে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন কারণে সরবরাহ কমেছে। একই সময়ে ভোক্তাদের মধ্যে গরুর মাংসের চাহিদা শক্তিশালী থাকায় দাম আরও বেড়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে গরু ও বাছুরের মাংসের দাম এক বছর আগের তুলনায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। মাটির গরুর মাংসের গড় দামও প্রতি পাউন্ডে প্রায় ৬ দশমিক ৮৯ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ মার্কিন পরিবারের নিত্যদিনের খাবারের তালিকায় থাকা এই পণ্যটি এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল।   তবে ট্রাম্পের পরিকল্পনা নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও সংশয় রয়েছে। কানসাস স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্লিন টনসর বলেছেন, ৩ লাখ মেট্রিক টন আমদানি যুক্তরাষ্ট্রে বছরে খাওয়া গরুর মাংসের মাত্র প্রায় ৩ শতাংশের সমান। ফলে এই পরিমাণ আমদানি বাজারদরে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।   টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতির অধ্যাপক ডেভিড অ্যান্ডারসনও প্রশ্ন তুলেছেন, এত অল্প সময়ে বিদেশি দেশগুলো আদৌ এত বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত মাংস যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে পারবে কি না।   অন্যদিকে, দেশটির গরু খামারিরা আশঙ্কা করছেন, সস্তা বিদেশি মাংস বাজারে ঢুকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গরুর দাম কমে যাবে। এতে বর্তমানে লাভজনক অবস্থায় থাকা খামারিরা নতুন করে গরুর পাল বাড়ানোর উৎসাহ হারাতে পারেন। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হিসেবে গরুর সংখ্যা বাড়ানোই বেশি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা।   যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাটলম্যানস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট জাস্টিন টাপার বলেন, আমেরিকান খামারিদের পেছনে রেখে দেশের স্বার্থ রক্ষা করা যায় না। তাঁর অভিযোগ, এই উদ্যোগ স্থানীয় বাজারকে দুর্বল করতে পারে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।   ন্যাশনাল ক্যাটলম্যানস বিফ অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান কলিন উডালও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পরিবর্তে স্বল্পমেয়াদি সমাধানের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।   রিপাবলিকান নেতাদের মধ্যেও আপত্তি দেখা গেছে। নেব্রাস্কার সিনেটর ডেব ফিশার বলেছেন, সবাই বাজারে কম দাম চান, কিন্তু তার জন্য মার্কিন পশুপালকদের ক্ষতির মুখে ফেলা উচিত নয়। তাঁর মতে, বিদেশি গরুর মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় পশুপালন শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   মন্টানার রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহিও ট্রাম্পের পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্টের উদ্দেশ্য সঠিক হলেও বিদেশি মাংস আমদানির এই উদ্যোগ মার্কিন খামারিদের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং গরুর পাল পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।   নেব্রাস্কার আরেক রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটসও সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশি মাংস দিয়ে বাজার ভরিয়ে দিলে স্থানীয় কৃষক ও পশুপালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। বিশেষ করে কম মানের মাংস বাজারে ঢোকার আশঙ্কা নিয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।   সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি খামারিদের ভালোবাসেন এবং তাঁদের কাজের প্রশংসা করেন। তবে তাঁর মতে, গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে কিছু সহায়তা প্রয়োজন। প্রশাসন একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব গরুর পাল বাড়ানোর কাজ চালিয়ে যাবে বলেও জানিয়েছে।   হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, আমদানি বাড়ানোকে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে না। বরং স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সময় পর্যন্ত বাজারে সরবরাহের ঘাটতি পূরণ করতে এটি একটি স্বল্পমেয়াদি পদক্ষেপ। আমদানি করা মাংস মূলত গরুর মাংসের কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন মাংসের অংশ হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ট্রাম্প প্রশাসন কিমা তৈরিতে ব্যবহৃত চর্বিহীন গরুর মাংস আমদানির জন্য শুল্কমুক্ত সীমা সাময়িকভাবে বাড়িয়েছিল। এবার ৯০ দিনের জন্য আরও বড় পরিসরে আমদানির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।   ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং নিত্যপণ্যের দাম রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমানোর চাপও প্রশাসনের ওপর রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম কমানোর স্বল্পমেয়াদি উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের কতটা স্বস্তি দেবে এবং স্থানীয় খামারিদের ওপর কতটা চাপ তৈরি করবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।   সংবাদসূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স, ফক্স বিজনেস ও এবিসি নিউজ

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাত সমাধানে ‘একমাত্র পথ’ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান: জর্ডান-চীন
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ১৫:৫১

ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী সমাধানে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানই একমাত্র পথ বলে মন্তব্য করেছেন জর্ডানের বাদশাহ আবদুল্লাহ দ্বিতীয় ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।   সোমবার বেইজিংয়ে বৈঠকে দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠায় ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি জনগণের জন্য পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ভিত্তিতে সমাধানের ওপর গুরুত্ব দেন।   চীন সফরে বাদশাহ আবদুল্লাহ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও বৈঠক করেন।   বৈঠকে জর্ডান ও চীনের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বিষয়েও আলোচনা হয়। দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে গত মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আলোচনার পর বেইজিংয়ে এসব বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   আগামী বছর জর্ডান ও চীন তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবে। এই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যে দুই দেশ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও খনিজ, কৃষি, পর্যটন, শিক্ষা, সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, গণমাধ্যম, মানবসম্পদ ও সামাজিক কল্যাণসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ জানায়, তাদের অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে সবুজ অর্থনীতি, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অন্যান্য উন্নত শিল্পখাতেও সম্প্রসারিত হবে।   বৈঠকে জর্ডান চীনের ‘ওয়ান-চায়না’ নীতির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। এ নীতির আওতায় তাইওয়ানকে চীনের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে বেইজিং।   এদিকে, ফিলিস্তিন ইস্যুতেও দুই দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়। জর্ডান ও চীন অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে বিপজ্জনক উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   গাজায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দিয়েছে দুই দেশ। তাদের মতে, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং ফিলিস্তিন-ইসরায়েল সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের পথেই এগোতে হবে।   এ বৈঠকের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে জর্ডান ও চীনের অভিন্ন অবস্থানের পাশাপাশি দুই দেশের কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের বিষয়টিও সামনে এসেছে।

ন্যাশনাল চিপ ফ্লাইট ডে
সস্তায় ফ্লাইট টিকিট কিনতে চান? কখন বুক করলে খরচ কম হতে পারে জেনে নিন
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৯:৪

গ্রীষ্মের ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বিমান টিকিটের দাম কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতি বছর ২৩ আগস্টকে ‘ন্যাশনাল চিপ ফ্লাইট ডে’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও এটি কোনো আনুষ্ঠানিক দিবস নয়। বরং আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর দিক পর্যন্ত সময়টিকে তুলনামূলক কম দামে ফ্লাইট পাওয়ার সম্ভাবনাময় সময় হিসেবে দেখা হয়।    গ্রীষ্মের ছুটি শেষ হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলতে শুরু করায় এই সময়ে ভ্রমণের চাহিদা সাধারণত কমে যায়। ফলে যাত্রী কমে যাওয়ার কারণে এয়ারলাইনগুলো আসন পূরণ করতে বিভিন্ন রুটে ভাড়া কমাতে পারে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরুর সময়টি এই কারণে বাজেট ভ্রমণকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হতে পারে।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সময়ে বুক করা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের গড় ভাড়া আগস্টের শুরুর তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ কম হতে পারে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ক্ষেত্রে কমার হার গড়ে প্রায় ১৭ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। তবে রুট, ভ্রমণের তারিখ ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করে প্রকৃত ভাড়া ভিন্ন হতে পারে।    ভ্রমণ বিশেষজ্ঞদের মতে, ২৩ আগস্টকে আলাদা কোনো ‘ম্যাজিক ডে’ হিসেবে দেখার প্রয়োজন নেই। বরং আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুর কয়েক সপ্তাহে ভাড়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা বেশি কার্যকর। Fareportal-এর প্রধান সাপ্লাই ও রেভিনিউ কর্মকর্তা যুবরাজ দত্তের মতে, গ্রীষ্মের চাহিদা কমার সময় বিভিন্ন বিকল্প তুলনা করে বুকিং করলে যাত্রীরা ভালো দামের সুযোগ পেতে পারেন।    ফ্লাইট বুকিংয়ের সময় নিয়েও প্রচলিত কিছু ধারণা নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে যাত্রার ৩০ থেকে ৬০ দিন আগে বুকিং করলে তুলনামূলক ভালো ভাড়া পাওয়ার সুযোগ থাকে। তাই শুধু একটি নির্দিষ্ট দিনে টিকিট কাটার অপেক্ষা না করে আগে থেকেই বিভিন্ন তারিখের ভাড়া তুলনা করা বেশি কার্যকর হতে পারে।    টিকিটের দাম কমানোর জন্য বারবার ব্রাউজারের কুকি মুছে ফেলা বা একই ফ্লাইট বারবার সার্চ করার মতো প্রচলিত কৌশলও খুব একটা কার্যকর নয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বরং ফ্লাইটের ভাড়া কমলে জানানোর জন্য ফেয়ার অ্যালার্ট চালু করা এবং আগে থেকে পাওয়া ট্রাভেল পয়েন্ট বা মাইল ব্যবহার করা সাশ্রয়ের ভালো উপায় হতে পারে।    তবে কম ভাড়ার সুযোগ পেলেই দ্রুত বুক করার আগে লাগেজ ফি, সিট নির্বাচন, পরিবর্তন বা বাতিলের নিয়ম এবং অন্যান্য অতিরিক্ত খরচ দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ কম মূল্যের টিকিটের সঙ্গে অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত হলে শেষ পর্যন্ত মোট খরচ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হতে পারে।   সব মিলিয়ে, গ্রীষ্মের ভ্রমণ মৌসুম শেষ হওয়ার এই সময়টি যাদের সামনে ভ্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের জন্য ভাড়া তুলনা করার ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারে। নির্দিষ্ট একটি দিনকে কেন্দ্র না করে আগস্টের শেষ থেকে সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত ভাড়ার ওঠানামা পর্যবেক্ষণ করাই হতে পারে তুলনামূলক কম দামে টিকিট পাওয়ার বাস্তবসম্মত কৌশল।

রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস
সন্তান থাকলে দম্পতিদের বিয়ে করা উচিত, বললেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার
সামিয়া ইসলাম প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৮:৩০

যুক্তরাজ্যে সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতিদের সামাজিক আবাসনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন রিফর্ম ইউকের ডেপুটি লিডার রিচার্ড টাইস। নতুন আবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেছেন, সন্তানদের বিবাহিত বাবা-মায়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা আদর্শ পরিস্থিতি এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা উচিত।    রিফর্ম ইউকের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্রিটিশ নাগরিকদের সামাজিক আবাসনের অপেক্ষমাণ তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এর পাশাপাশি সন্তানসহ বিবাহিত দম্পতি, কর্মরত ব্যক্তি ও সাবেক সেনাসদস্যদেরও অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।    টাইসকে জিজ্ঞেস করা হলে, সন্তানসহ বিবাহিত ব্রিটিশ দম্পতি একক ব্রিটিশ নাগরিকের চেয়ে সামাজিক আবাসনে অগ্রাধিকার পাবেন কি না, তিনি বলেন, হ্যাঁ। তাঁর যুক্তি, পরিবার সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং ব্রিটেনে জন্ম নেওয়া শিশুদের উৎসাহিত করা প্রয়োজন।   একক অভিভাবকদের প্রসঙ্গে টাইস বলেন, বাস্তব জীবনে অনেক পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। তবে তাঁর মতে, আদর্শ পরিস্থিতিতে সন্তানদের বিবাহিত দম্পতির সঙ্গে বেড়ে ওঠা বেশি কাম্য এবং এ বিষয়টি উৎসাহিত করা উচিত।    রিফর্ম ইউকের এই পরিকল্পনায় ব্রিটিশ নাগরিকদের আবাসনের তালিকায় এগিয়ে রাখার পাশাপাশি বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার আগের একটি প্রস্তাবও রয়েছে। দলটির দাবি, বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দিলে প্রায় ৫ লাখ ৪০ হাজার বাড়ি খালি হতে পারে।    তবে প্রস্তাবটির তীব্র সমালোচনা করেছে গৃহহীনতা নিয়ে কাজ করা দাতব্য সংস্থা শেল্টার। সংস্থাটির মতে, এমন নীতি বাস্তবায়ন হলে অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় অস্থায়ী আবাসনে আটকে থাকতে পারে। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের জন্য এটি গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।   ব্রিটেনের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিও পরিকল্পনাটির সমালোচনা করেছে। দলটির দাবি, সামাজিক আবাসনের সুযোগ নির্ধারণে আবাসনের প্রয়োজনের পরিবর্তে জাতীয়তা ও কর্মসংস্থানকে অগ্রাধিকার দিলে আরও বেশি পরিবার গৃহহীনতার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।   এর আগে জুন মাসে রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ বিদেশি নাগরিকদের সামাজিক আবাসন থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটি প্রস্তাব সামনে আনেন। তিনি বলেছিলেন, ক্ষমতায় গেলে সামাজিক আবাসনে থাকা বিদেশি নাগরিকদের বেসরকারি ভাড়া বাসায় যাওয়ার জন্য তিন মাস সময় দেওয়া হবে। তা না হলে তাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার হারানো এবং দেশ থেকে বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়ার কথা বলা হয়েছিল।

মোজতবা হোসেইনি খামেনি ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ইরানে ৭.৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সন্ধান, মূল্য ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৪, ২০২৬ ৭:৫৮

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশে নতুন একটি গ্যাসক্ষেত্রে ৭ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের বেশি প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধান পাওয়া গেছে। দেশটির তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ রোববার এ তথ্য জানিয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে, নতুন আবিষ্কৃত গ্যাসের পরিমাণ প্রায় ২১২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ঘনমিটার। তবে পুরো মজুত উত্তোলনযোগ্য নয়। আনুমানিক ৭২ শতাংশের বেশি পুনরুদ্ধার হার বিবেচনায় প্রায় ৫ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা সম্ভব হতে পারে বলে জানিয়েছেন পাকনেজাদ।    ইরানের তেলমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, নতুন ক্ষেত্রের গ্যাসকে ‘সুইট গ্যাস’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ধরনের গ্যাসে হাইড্রোজেন সালফাইডের মতো ক্ষতিকর উপাদান তুলনামূলকভাবে কম থাকায় এর উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয় কম হতে পারে।    নতুন গ্যাসক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গ্যাস কনডেনসেটও রয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকনেজাদ। তাঁর দাবি, গ্যাস ও কনডেনসেট মিলিয়ে এই আবিষ্কার ইরানের জন্য কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্পদ তৈরি করতে পারে।    আবিষ্কৃত উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণের গুরুত্ব বোঝাতে পাকনেজাদ বলেছেন, এটি ইরানের বৃহৎ সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রের একটি ধাপের প্রায় ১৫ বছরের উৎপাদনের সমান।    ইরানের গ্যাস খাত বর্তমানে নানা চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের কারণে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং উৎপাদন সক্ষমতা পুনরুদ্ধারে কাজ চলছে। যুদ্ধের আগে ইরানের দৈনিক প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন প্রায় ৬৫০ মিলিয়ন ঘনমিটার ছিল, যা বছরে প্রায় ৮ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুটের সমান।    নতুন এই আবিষ্কার ইরানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যৎ গ্যাস উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে নতুন ক্ষেত্র থেকে বাস্তবে গ্যাস উৎপাদন শুরু হতে সময় লাগতে পারে বলে জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.18K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
960 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.07K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
931 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়