গত বছরের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি 'বিধ্বস্ত' হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। বুধবার মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। শুনানি চলাকালীন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ গ্যাবার্ডের কাছে সরাসরি জানতে চান, গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী গত গ্রীষ্মের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কি না। জবাবে গ্যাবার্ড অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং স্পষ্টভাবে 'হ্যাঁ' বলেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই হামলার পর থেকে ইরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের আর কোনো প্রচেষ্টা চালায়নি। তবে ইরান এই হুমকি থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে গ্যাবার্ড কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি জানান, তাদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন এবং বৃদ্ধির ‘অভিপ্রায়’ বা ইচ্ছা ইরানের এখনো রয়েছে। ইরান বর্তমানে কোনো ‘আসন্ন পারমাণবিক হুমকি’ কি না—সিনেটর অসফের এমন প্রশ্নের জবাবে গ্যাবার্ড বলেন, কোনো বিষয়কে ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করা গোয়েন্দা সংস্থার কাজ নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্টই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন যে কোনটি দেশের জন্য জরুরি বিপদ আর কোনটি নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোতে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। ১৯৮৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই প্রভাবশালী নেতা তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গভীর সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত হন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভিও তেহরানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে হামলায় প্রাণ হারান। খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানিও ওই হামলায় নিহত হন, যিনি দেশটির পারমাণবিক ও নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ কারিগর ছিলেন। মার্চ মাসেও হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় বিমান হামলায় নিহত হন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি। একই ঘটনায় তার ছেলে ও এক সহযোগীও প্রাণ হারান। একই দিনে বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন। সবশেষ বুধবার (১৮ মার্চ) হামলায় নিহত হন গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, যিনি দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যু দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
উত্তর কোরিয়ার দোর্দণ্ডপ্রতাপ শাসক কিম জং উনের একনায়কতন্ত্র ও কঠোর শাসনের কথা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত না হলেও আতঙ্কিত হওয়ার মতো যথেষ্ট। সম্প্রতি দেশটিতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কিম জং উন ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি বিশাল ব্যবধান মনে হলেও, আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে বাকি ০.০৭ শতাংশ ভোটার। ১৯৫৭ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো নির্বাচনে শাসকের বিপক্ষে অর্থাৎ ‘না’ ভোট পড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। ইন্টারনেট দুনিয়ায় এখন একটাই প্রশ্ন—কারা এই দুঃসাহসী ০.০৭ শতাংশ মানুষ? গত সাত দশকে উত্তর কোরিয়ায় যা কেউ ভাবতেও পারেনি, সেই অসম্ভবকে সম্ভব করা এই ভোটারদের নিয়ে চলছে তুমুল জল্পনা। নেটিজেনরা মজা করে বলছেন, এই ০.০৭ শতাংশ মানুষই এখন উত্তর কোরিয়ার ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ তালিকার শীর্ষে। অনেকে আবার তাদের পরিণতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এই সাহসী মানুষদের জন্য এক মিনিট নীরবতা পালন করা উচিত’। ইতিহাস বলে, কিম জং উনের শাসনে অবাধ্যতার কোনো স্থান নেই। এমনকি নিজের আপন চাচাকেও ‘বিশ্বাসঘাতকতা’র অভিযোগে ১২০টি ক্ষুধার্ত কুকুরের মুখে ঠেলে দিতে দ্বিধা করেননি এই স্বৈরশাসক। এমন কঠোর মানসিকতার একজন মানুষের শাসনে থেকে যারা ‘না’ ভোট দেওয়ার সাহস দেখিয়েছেন, তারা কি তবে কোনো গণঅভ্যুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছেন? ভঙ্গুর অর্থনীতি আর দীর্ঘদিনের দমন-পীড়নের মাঝে এই সামান্য ভোট কি কিমের সাজানো সিংহাসনে কোনো কম্পন ধরাতে পারবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
ইরাকের আকাশসীমায় জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬ মার্কিন সেনার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ডোভারে পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউস থেকে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে তিনি ডেলাওয়ারের ডোভোর বিমান ঘাঁটিতে রওনা হন। এই শোকাবহ যাত্রায় তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। গত সপ্তাহে পশ্চিম ইরাকে একটি নিয়মিত অভিযান চলাকালীন মার্কিন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো শত্রু পক্ষের হামলা বা নিজেদের ভুলবশত গুলিতে নয়, বরং এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল। নিহতদের মধ্যে তিনজনই ওহিও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকছেন ওহিও’র গভর্নর মাইক ডিওয়াইন ও তাঁর স্ত্রী। উল্লেখ্য যে, চলতি মাসেই কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত আরও ৬ সেনার মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেনাদের এই ‘ডিগনিফাইড ট্রান্সফার’ বা শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া হামলাগুলোতে দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন, যা ইরানের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei। ১৯৮৯ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করা এই প্রভাবশালী নেতা তেহরানে নিজ বাসভবনে বিমান হামলায় নিহত হন। তার মৃত্যু ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে গভীর সংকট তৈরি করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। একই দিনে পৃথক হামলায় নিহত হন ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদোলরহিম মুসাভিও তেহরানে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক চলাকালে হামলায় প্রাণ হারান। খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা আলি শামখানিও ওই হামলায় নিহত হন, যিনি দেশটির পারমাণবিক ও নিরাপত্তা নীতির গুরুত্বপূর্ণ কারিগর ছিলেন। মার্চ মাসেও হামলার ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে। ১৭ মার্চ পারদিস এলাকায় বিমান হামলায় নিহত হন শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানি। একই ঘটনায় তার ছেলে ও এক সহযোগীও প্রাণ হারান। একই দিনে বাসিজ বাহিনীর প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও নিহত হন। সবশেষ বুধবার (১৮ মার্চ) হামলায় নিহত হন গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, যিনি দেশের গোয়েন্দা কার্যক্রমের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক ছিলেন এবং শীর্ষ নেতৃত্বের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, এত স্বল্প সময়ে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের এতজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির মৃত্যু দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন। এতে শুধু অভ্যন্তরীণ প্রশাসন নয়, মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
গত বছরের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি 'বিধ্বস্ত' হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। বুধবার মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। শুনানি চলাকালীন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ গ্যাবার্ডের কাছে সরাসরি জানতে চান, গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী গত গ্রীষ্মের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কি না। জবাবে গ্যাবার্ড অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং স্পষ্টভাবে 'হ্যাঁ' বলেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই হামলার পর থেকে ইরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের আর কোনো প্রচেষ্টা চালায়নি। তবে ইরান এই হুমকি থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে গ্যাবার্ড কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি জানান, তাদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন এবং বৃদ্ধির ‘অভিপ্রায়’ বা ইচ্ছা ইরানের এখনো রয়েছে। ইরান বর্তমানে কোনো ‘আসন্ন পারমাণবিক হুমকি’ কি না—সিনেটর অসফের এমন প্রশ্নের জবাবে গ্যাবার্ড বলেন, কোনো বিষয়কে ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করা গোয়েন্দা সংস্থার কাজ নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্টই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন যে কোনটি দেশের জন্য জরুরি বিপদ আর কোনটি নয়।
ইরাকের আকাশসীমায় জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৬ মার্কিন সেনার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ডোভারে পৌঁছেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউস থেকে এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে চড়ে তিনি ডেলাওয়ারের ডোভোর বিমান ঘাঁটিতে রওনা হন। এই শোকাবহ যাত্রায় তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। গত সপ্তাহে পশ্চিম ইরাকে একটি নিয়মিত অভিযান চলাকালীন মার্কিন বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কোনো শত্রু পক্ষের হামলা বা নিজেদের ভুলবশত গুলিতে নয়, বরং এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল। নিহতদের মধ্যে তিনজনই ওহিও অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত থাকছেন ওহিও’র গভর্নর মাইক ডিওয়াইন ও তাঁর স্ত্রী। উল্লেখ্য যে, চলতি মাসেই কুয়েতে ইরানি ড্রোন হামলায় নিহত আরও ৬ সেনার মরদেহে শ্রদ্ধা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেনাদের এই ‘ডিগনিফাইড ট্রান্সফার’ বা শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের এই উপস্থিতি শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর সংহতিরই বহিঃপ্রকাশ।
গাজীপুর মহানগরীর নাওজোর এলাকায় একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে ‘ড্রেস ইন স্টাইল লিমিটেড’ নামের ওই কারখানায় আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কারখানার নিচতলায় প্রথমে আগুন লাগে। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তিনতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে। আগুন লাগার পর স্থানীয় লোকজন ও কারখানার প্রহরীরা প্রাথমিকভাবে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে কোনাবাড়ী মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। সর্বমোট পাঁচটি ইউনিট আগুন নেভাতে কাজ করছে। কারখানার নৈশপ্রহরী দীন ইসলাম জানান, বিকেলে কারখানা ছুটি হওয়ার পর তিনি রাত ৮টার দিকে দায়িত্ব নেন। রাত ৯টার দিকে হঠাৎ ভেতর থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে তিনি এগিয়ে যান এবং আগুন দেখতে পেয়ে অন্যদের খবর দেন। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ইউনিট পাঠানো হয়েছে এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানা যায়নি। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত (রাত ১০টা ৩৪ মিনিট) আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।
ইরান বুধবার (১৮ মার্চ) সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার হুমকি দিয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রকাশিত সতর্কবার্তায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় অবস্থানরত নাগরিক, বাসিন্দা ও কর্মীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবরটি দিয়েছে রয়টার্স। সতর্কবার্তায় সৌদি আরবের সামরেফ রিফাইনারি ও জুবাইল পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হোসন গ্যাস ফিল্ড এবং কাতারের মেসাইদ পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্স, মেসাইদ হোল্ডিং কোম্পানি ও রাস লাফান রিফাইনারিকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই কেন্দ্রগুলো এখন সরাসরি ও বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে এবং আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হামলা চালানো হতে পারে। তাই সকলকে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।” ইরানের এই সতর্কতা আসে দেশটির দক্ষিণ পার্স এবং আসালুয়েহ অঞ্চলের তেল স্থাপনায় হামলার পরপরই। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের খবরে বলা হয়েছে, এসব হামলা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিচালিত হতে পারে, এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে এই ধরনের হুঁশিয়ারি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির সংকেত বহন করছে। ফলে তেল ও গ্যাস শিল্পের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক বাজারের স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো যাত্রীদের ভিড়ের মধ্যে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এলাকায় লঞ্চ দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুজন এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত দুইজন। বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল প্রায় ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রলারে করে আসা কয়েকজন যাত্রী ঢাকা-ইলিশা (ভোলা) রুটের একটি লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পেছন দিক থেকে জাকির সম্রাট-৩ নামের একটি লঞ্চ ট্রলারটিকে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার ফলে ট্রলারটি দুই লঞ্চের মাঝে চাপা পড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর অভিযুক্ত লঞ্চটি দ্রুত টার্মিনাল ত্যাগ করে বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেন। আহতদের মধ্যে এক নারীকে উদ্ধার করে মিটফোর্ড হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। তবে তিনি মানসিকভাবে ভীষণ আঘাতপ্রাপ্ত থাকায় এখনো বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ জানতে তদন্ত চলছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সময়ের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং তার প্রশাসনের সাবেক কর্মকর্তা ক্যারি প্রিজিন বোলার বর্তমান মার্কিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, মার্কিন সরকার বর্তমানে একটি বিদেশি রাষ্ট্র অর্থাৎ ইসরায়েলের দ্বারা ‘অধিকৃত’ বা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ট্রাম্পের জনপ্রিয় রাজনৈতিক স্লোগান ‘মাগা’ (MAGA- মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন) আন্দোলনকে তিনি ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করেছেন। সম্প্রতি ‘পিয়ার্স মরগান আনসেন্সরড’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বোলার এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি এখন আর আমাদের প্রেসিডেন্টকে (ট্রাম্প) চিনতে পারছি না। আমার মনে হয় আমরা এখন একটি অধিকৃত জাতি। একটি বিদেশি রাষ্ট্র আমাদের সরকারকে দখল করে রেখেছে এবং আমরা দেখছি মার্কিন প্রেসিডেন্ট সেই বিদেশি শক্তির দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছেন।” বোলার সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বারবার যুক্তরাষ্ট্র সফর এবং মার্কিন নীতিনির্ধারণীতে তার প্রভাবই ইরান যুদ্ধের মূল কারণ। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নেতানিয়াহু এখানে প্রায় আটবার এসেছেন। এটি লজ্জাজনক। আমরা কি করে একটি বিদেশি রাষ্ট্রকে আমাদের সরকার পরিচালনা করতে দিচ্ছি?” ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। সাধারণ মার্কিনীরা এই যুদ্ধের বিরুদ্ধে এবং তারা মনে করছে ট্রাম্প তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন। বোলারের মতে, ট্রাম্প যে ‘সোয়াম্প’ বা দুর্নীতির আখড়া পরিষ্কার করার এবং বিদেশি যুদ্ধ থেকে দূরে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন। উল্লেখ্য, গত মাসেই বোলারকে হোয়াইট হাউসের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তার এই সাম্প্রতিক মন্তব্য ট্রাম্পের কট্টর সমর্থকদের (MAGA base) মধ্যে বিদ্যমান বিভক্তিকে আরও উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক জো কেন্টও ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা করে সম্প্রতি পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন যে, ইরান কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না এবং শুধুমাত্র ইসরায়েল ও তাদের শক্তিশালী লবিংয়ের চাপেই যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার পর রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরে যে অসন্তোষ দানা বাঁধছিল, বোলারের এই বক্তব্য তারই বহিঃপ্রকাশ।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও সংঘাতের ইতি টানতে আবারও কূটনৈতিক তৎপরতায় সরব হয়ে উঠেছে আরব দেশগুলো। সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে সংবাদকর্মী জেইন বাসরভির পাঠানো তথ্যানুযায়ী, আসন্ন সপ্তাহে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বসছে আরব পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলন। দীর্ঘদিন ধরেই আরব প্রতিবেশীরা এই অঞ্চলে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধের জন্য এককভাবে দাবি জানিয়ে আসছে। বর্তমানে এই কূটনৈতিক যোগাযোগ একটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ইরান ও তার প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিদ্যমান বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও, উভয় পক্ষই একটি বিষয়ে একমত: এই যুদ্ধ ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে এবং যত সময় যাবে, এর ভয়াবহতা তত বাড়বে। আঞ্চলিক বিশ্লেষক ও নেতাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ইসরায়েল ও আমেরিকার নীতিই দায়ী। আরব বিশ্বের সাধারণ মানুষ ও নীতিনির্ধারকদের অভিযোগ, ইসরায়েল যুদ্ধের ক্ষেত্র প্রস্তুত করেছে আর আমেরিকা তাতে সরাসরি ইন্ধন জুগিয়েছে। দুবাইয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরে বসবাসরত নাগরিক ও নেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা মনে করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বারবার আরব বিশ্বের স্বার্থকে উপেক্ষা করে চলেছে। এই সংকট নিরসনে এবং নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষায় আরব দেশগুলো এখন এককাট্টা হয়ে রিয়াদের এই বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যারা সে দেশে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বুধবার ভিসাসংক্রান্ত এক বিশেষ বার্তায় দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বি১/বি২ (B1/B2) ভিজিটর ভিসায় গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া বা 'বার্থ ট্যুরিজম' আইনত অনুমোদিত নয়। দূতাবাসের বার্তায় ভিজিটর ভিসার সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে বলা হয়, শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সুযোগ এই ভিসায় নেই। এছাড়া, বি১/বি২ ভিসায় ভ্রমণকালীন আরও কিছু কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে: পেশাগত কাজ: যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া যায় এমন কোনো কাজে যুক্ত হওয়া যাবে না। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা: ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিটের জন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা এই ভিসায় অবৈধ। পারিশ্রমিকযুক্ত পারফরম্যান্স: কোনো ধরনের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেশাদার কোনো কাজে অংশ নেওয়া বা পারফর্ম করা অনুমোদিত নয়। মূলত ভ্রমণ এবং চিকিৎসার মতো সংক্ষিপ্ত প্রয়োজনে এই ভিসা ব্যবহৃত হলেও, নাগরিকত্ব পাওয়ার কৌশল হিসেবে একে ব্যবহার করা যাবে না বলে কঠোরভাবে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে ইরান যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে, তখন পাশ্ববর্তী মুসলিম দেশগুলোর নীরবতা এক বড় রহস্যের জন্ম দিয়েছে। তথাকথিত 'প্যান-ইসলামিক' সংহতির বুলি ছাপিয়ে কেন আরব দেশগুলো তেহরানের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিল, তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ কোনো দেশই ইরানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসছে না, বরং অনেকে দেশটিকে হুমকি হিসেবেও দেখছে। মুসলিম দেশগুলো তথাকথিত 'প্যান-মুসলিম' বা বৃহত্তর মুসলিম সংহতির কথা বারবার প্রচার করলেও সাম্প্রদায়িক বৈপরীত্য, পারস্পরিক অবিশ্বাস, নিজ নিজ জাতীয় স্বার্থ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতার মতো বাস্তব পরিস্থিতিরও মুখোমুখি। একইসাথে, একটি অনিশ্চিত পরিণতির যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ব্যাপারেও তাদের মধ্যে চরম অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে আরব বিশ্বের কাছে নিজেদেরকে ইসলামি সংহতির রক্ষক এবং সকল মুসলিমের জন্য একটি মানবিক বার্তার বাহক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে তেহরান। কিন্তু আজ সেই ইরানই রমজান মাসের মাঝখানে আরব দেশগুলোর ওপর হামলা চালাচ্ছে, বলছেন মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিনা আসরাগিস। পারমাণবিক শক্তি অর্জনের মধ্য দিয়ে একটি আঞ্চলিক প্রধান শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায় ইরান। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালানোর পর থেকে প্রতিবেশী আরব দেশগুলোতেও ইরান হামলা চালাচ্ছে। যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত ভুল বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, মুসলিম বিশ্ব কোনো একক বা অখণ্ড সত্তা নয়। প্রতিটি মুসলিম দেশ (যার বেশিরভাগই আরব) মূলত তাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ দ্বারাই পরিচালিত হয়। ফলে কেবল সংহতির খাতিরে তারা ইরানকে সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে ইচ্ছুক নয় বলেই মনে হচ্ছে। তাছাড়া, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোরও ইরানের প্রতি মনোভাব বেশ জটিল। ইরান কোনো আরব দেশ নয়, তারা ভিন্ন ভাষায় কথা বলে এবং জনসংখ্যার সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ শিয়া। যদিও বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই সুন্নি। বর্তমান যুদ্ধের সঙ্গে ধর্মের সম্পর্ক খুবই সামান্য, কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে ঐতিহাসিকভাবে ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে এই সুন্নি-শিয়া বিভাজন। ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর মিডল ইস্ট পলিসির বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিস ব্যালানশ বিবিসিকে বলছেন, "শিয়াদের সঙ্গে সুন্নিদের কোনো সংহতি হতে পারে না, বিশেষ করে যখন শিয়া অধ্যুষিত ইরান সুন্নি রাষ্ট্রগুলোতে হামলা চালায়।" তাছাড়া, ইরান তার সুন্নি প্রতিবেশীদের ওপর এমন একটি সময়ে হামলা চালিয়েছে যখন পবিত্র রমজান মাস চলছে। এমনকি ওই দেশগুলোকে আরও গুরুতর সংঘাতে টেনে আনার হুমকিও দিয়েছে, যা সরাসরি তাদের স্বার্থে আঘাত হানে। কী করতে চেয়েছিল ইরান? এই অঞ্চলে কিংবা বিশ্বজুড়ে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের খুব বেশি মিত্র কোনোকালেই ছিল না, কিন্তু এখন কার্যত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে দেশটি। প্রায় অর্ধশতাব্দীর ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি বিঘ্নকারী প্রধান দেশগুলোর একটিতে পরিণত করেছে। মুসলিম বিশ্বের অনেক দেশই ইরানকে সন্দেহের চোখে দেখে এবং প্রায়শই তাদের প্রতি প্রকাশ্যে শত্রুতা পোষণ করে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে, ইরান সুপরিকল্পিতভাবে নিজেকে একটি শক্তিশালী ইসলামি রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শুরু করে এবং মুসলিম বিশ্বের সংগ্রামের অগ্রনায়ক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি সুসংহত করার চেষ্টা চালায়। সাবেক বন্ধু দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের 'প্রধান শত্রু' এবং ইসরায়েলকে 'অপেক্ষাকৃত কম ক্ষতিকর শত্রু' হিসেবেও ঘোষণা করেছিল ইরান। তাদের লক্ষ্য ছিল নিজেদের ধর্মীয় শাসনব্যবস্থার মডেল অন্যান্য দেশে রপ্তানি করা। বিশেষ করে এই অঞ্চলের শিয়া সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়া ও অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা। ইরানের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে, বিশেষ করে সৌদি আরবকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি, যাদের ভূখণ্ডে ইসলামের প্রধান পবিত্র স্থানগুলো অবস্থিত। বহু বছর ধরে এই অঞ্চলে আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে একে অপরকে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে রিয়াদ এবং তেহরান। পারস্য উপসাগরের তেল-সমৃদ্ধ আরব দেশগুলোর রাজনৈতিক ব্যবস্থার (রাজতন্ত্র) সঙ্গে ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত ইরানের শাহ শাসনামলের মিল রয়েছে। ফলে, আরব দেশগুলো নিজেদের দেশেও ইরানের মতো গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়ে বেশ আতঙ্কিত। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলো বেশ আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। ফলে আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠা নিয়ে ইরানের উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাদের নিজস্ব স্বার্থের সাথে সরাসরি দ্বন্দ্ব তৈরি করে। মধ্যপ্রাচ্যের এই 'স্নায়ুযুদ্ধ' কয়েক দশক ধরে চলেছিল, যা অবশেষে ২০২৩ সালে এসে থামে। সে সময় চীনের মধ্যস্থতায় নিজেদের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করতে রাজি হয় রিয়াদ এবং তেহরান। আর এবার ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর, সৌদি আরব এবং অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলো এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ধারণা পেয়েছে যে, ইরান তাদের স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে হুমকির মুখে ফেলতে দ্বিধাবোধ করবে না। 'আটলান্টিক কাউন্সিল' এ এক মন্তব্যে 'মিডল ইস্ট গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিল'-এর নির্বাহী পরিচালক খালিদ আল-জাবের লিখেছেন, "চলমান সংঘাত যেদিকেই যাক না কেন, আঞ্চলিকভাবে ইরানের ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে সেটি ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। একবার আস্থা নষ্ট হয়ে গেলে, তা পুনরায় ফিরে পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।" এই অঞ্চলে নিজের প্রভাব সংহত করতে ইরান কয়েক দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তথাকথিত 'প্রতিরোধ অক্ষ' গড়ে তুলছে। লেবানন, সিরিয়া, বাহরাইন ও ইয়েমেনের সংঘাতে হস্তক্ষেপ করার পাশাপাশি লেবাননের শিয়া মিলিশিয়া 'হেজবুল্লাহ', ইয়েমেনের 'হুথি' এবং ইরাকের বিভিন্ন মিত্র বাহিনীকে অস্ত্র ও অর্থায়ন করেছে তেহরান। এমনকি হামাস ও ইসলামিক জিহাদকে সমর্থনের মাধ্যমে, ইরান মুসলিমদের রক্ষক হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠিত করতে ফিলিস্তিন ইস্যুকেও ব্যবহার করেছে। ইরানের এই পদক্ষেপগুলোকে ফিলিস্তিনিদের অধিকারের জন্য লড়াইয়ের থেকেও বরং তেহরানের নিজস্ব প্রভাব বিস্তার এবং এই অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হিসেবেই বেশি দেখেছে অনেক আরব দেশ। এছাড়া পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হওয়ার জন্য ইরানের আকাঙ্ক্ষা তার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যেও ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। আস্থার সংকট যে কারণে অনেক আরব দেশ মনে করে, অতীত কিংবা বর্তমান যেকোনো সময়েই, ইরানকে সাহায্য করার অর্থ হলো এমন একটি রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা, যাকে তারা আঞ্চলিক ভারসাম্য বিনষ্টকারী এবং নিজেদের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি বলে মনে করে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির পরিণতি কী হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়, কিন্তু এটি বোঝা যাচ্ছে যে, এর মধ্য দিয়ে এই অঞ্চলের ক্ষমতার ভঙ্গুর ভারসাম্য চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফরাসি বিশেষজ্ঞ ফ্যাব্রিস ব্যালানশ বলছেন, "উপসাগরীয় দেশগুলো বুঝতে পারছে যে ইরান মাত্র কয়েকটি আঘাতেই তাদের সমস্ত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধ্বংস করে দিতে পারে। সব মিলিয়ে ইরান আবারও এই অঞ্চলের প্রধান হুমকি হয়ে উঠছে।" ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউটের এই বিশেষজ্ঞ আরও যোগ করেন, "বর্তমান প্রেক্ষাপট অনিবার্যভাবে সৌদি আরবকে ইসরায়েলের আরও কাছাকাছি যেতে বাধ্য করবে।" "বিশেষ করে 'আয়রন ডোম'-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ পেতে, যা দেশটির (সৌদি আরব) সুরক্ষা ব্যবস্থাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে পারে," বলেন তিনি। এদিকে, ইরান সমর্থিত শিয়া বাহিনীগুলো তাদের পৃষ্ঠপোষকের সহায়তায় এগিয়ে আসতে চাইলেও বর্তমানে তাদের সেই সক্ষমতা ও সুযোগ খুবই সীমিত। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলা এবং পরবর্তী যুদ্ধের ফলে যে তথাকথিত 'প্রতিরোধের অক্ষ' গড়ে উঠেছিল, সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। হেজবুল্লাহর নেতৃত্বকে অনেকটাই নির্মূল করেছে ইসরায়েল, পঙ্গু করে দিয়েছে হামাসকেও। এছাড়া বিদ্রোহীদের হাতে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে মস্কো পালিয়ে গেছেন সিরিয়ার সাবেক নেতা ও ইরানের বন্ধু হিসেবে পরিচিত বাশার আল-আসাদ। সবশেষ ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে পারস্য উপসাগরীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর পাল্টা হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে ইসলামি বিশ্বে ইরানের প্রতি অবিশ্বাস আরও তীব্রতর হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞ ইয়াসমিনা আসরাগিস বলছেন, "তেহরান সম্ভবত ভেবেছিল যে উপসাগরীয় রাজতন্ত্রগুলোর ওপর চাপ বাড়লে, তারাও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টি করবে এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে ঠিক তার উল্টোটা ঘটছে।" পারস্য উপসাগরের কিছু দেশ ইরানের সাথেও ভালো সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করেছিল। ওমান এবং কাতার অনেকবারই ইরান সরকারের সাথে সংলাপে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করেছে। তবে ভবিষ্যতে এই দেশগুলো তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে কি না, সেটিও এখন দেখার বিষয়। সুন্নি এবং শিয়া বিশ্বের ১৮০ কোটি মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই সুন্নি (প্রায় ৮৫ থেকে ৯০ শতাংশ), যেখানে শিয়াদের সংখ্যা তুলনামূলক কম (প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ)। প্রধান শিয়া জনগোষ্ঠীগুলোর বসবাস মূলত ইরান, আজারবাইজান, ইরাক এবং পাকিস্তানে। মূলত ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে ইসলামের নবীর মৃত্যু পরবর্তী উত্তরাধিকার সংক্রান্ত বিরোধের মধ্য দিয়ে এই বিভাজনের সূত্রপাত হয়। সে সময় তার অনুসারীদের মধ্যে মতভেদ তৈরি হয়েছিল এই প্রশ্নে যে, কে মুসলিম উম্মাহর পরবর্তী নেতৃত্ব দেবেন? শিয়ারা (যাদের নামের অর্থই হলো আলীর 'অনুসারী' বা 'দল') নবীর রক্তের সম্পর্কীয় আত্মীয় আলী ইবনে আবি তালিবের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পক্ষে ছিলেন। তাদের দাবি ছিল যে, নবীর নিকটতম আত্মীয় এবং শিষ্য হিসেবে আলীরই খলিফা হওয়ার বৈধ অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, সুন্নিরা বিশ্বাস করত যে, নবীর সবচেয়ে যোগ্য এবং সম্মানিত সাহাবীদের মধ্য থেকেই মুসলিম সম্প্রদায়ের নেতা বেছে নেওয়া উচিত। ইসলামের নবীর অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু বকর প্রথম খলিফা নির্বাচিত হন। খেলাফতের এই ক্ষমতার লড়াই শেষ পর্যন্ত ৬৬১ খ্রিস্টাব্দে আলীর হত্যাকাণ্ডের দিকে মোড় নেয়। পরবর্তীতে তাঁর পুত্র হাসান ও হুসাইনও শাহাদাত বরণ করেন। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে কারবালা শহরের (বর্তমান ইরাক) কাছে হুসাইনের মৃত্যু আজও শিয়াদের কাছে একটি ঐতিহাসিক শোকাবহ ট্র্যাজেডি হিসেবে বিবেচিত। এর মধ্য দিয়ে প্রাথমিক রাজনৈতিক মতবিরোধ ধীরে ধীরে এক গভীর ধর্মীয় ও মতাদর্শগত বিভাজনে রূপান্তরিত হয়। মূলত ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবই এই ধর্মীয় সংঘাতকে একটি ভূ-কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রূপান্তরিত করেছিল। তখন থেকেই মুসলিম বিশ্বে আঞ্চলিক নেতৃত্বের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে শিয়া অধ্যুষিত ইরান এবং সুন্নি অধ্যুষিত সৌদি আরব। ইরানের নেতারা প্রকাশ্যে ইসলামের প্রধান দুই পবিত্র স্থান- মক্কা ও মদিনার রক্ষক হিসেবে সৌদি রাজবংশের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। এছাড়া হজের সময় ইরানিদের উস্কানিতে ঘটা বেশ কয়েকটি ঘটনা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তোলে। তেহরানের প্রভাব সীমিত রাখতে কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন নেটওয়ার্ক ও আন্দোলনকে অর্থায়ন করেছিল রিয়াদ। যেখান থেকে পরবর্তীতে এমন সব জিহাদি সংগঠনের উত্থান ঘটে যারা সৌদি আরবের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। মুসলমানদের উপর প্রভাব বিস্তার ইরান ও সৌদি আরবের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে চলা এই সংঘাত দীর্ঘকাল ধরে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। সৌদি আরবের শাসক মোহাম্মদ বিন সালমান দেশটিকে পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে চান। তিনি তার জাতীয় মহাপরিকল্পনা 'ভিশন ২০৩০'-এ তেল থেকে অর্জিত বিপুল রাজস্ব বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত। সৌদি আরব বর্তমানে সৌর ও বায়ু শক্তির উন্নয়ন ঘটাচ্ছে এবং বিশ্বের সবচেয়ে দামী ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে তাদের স্থানীয় ফুটবল লিগে খেলার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এসব কারণেই সৌদি আরব এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং ইরানসহ তার সমস্ত প্রতিবেশীদের সাথে একটি বাস্তবসম্মত সম্পর্ক বজায় রাখার চেষ্টা করছে। এই লক্ষ্যেই ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় রিয়াদ এবং তেহরান তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপনেও সম্মত হয়েছিল। বিশেষজ্ঞ ব্যালানশের মতে, যুবরাজ বিন সালমান যেকোনো মূল্যে এই স্থিতিশীলতা 'ধরে রাখতে' এবং সবার সাথে আলোচনা করতে আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু এখন সেই সম্ভাবনা হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, আমিরাতের আমেরিকান ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক নাজাত আল-সাইদ মনে করেন, ইরান কখনোই তার অতীত নীতিগুলো বাতিল করতে চায়নি, বরং তারা একটি 'বিপ্লবী আদর্শের রাষ্ট্র' হিসেবেই রয়ে গেছে। যা পারস্য উপসাগরের অন্য দেশগুলোর ঠিক বিপরীত, যারা অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক স্বার্থে আদর্শিক গোঁড়ামি থেকে সরে এসেছে। আল-সাইদ আরও উল্লেখ করেন যে, "সৌদি আরবের ধর্মীয় রাজনীতি থেকে জাতীয়তাবাদের দিকে বিবর্তন এবং আদর্শ নিয়ে ইরানের অনড় অবস্থান এটাই প্রমাণ করে যে, রাজনৈতিক ব্যবস্থা সময়ের প্রয়োজনে নিজেকে পরিবর্তন করতে সক্ষম। "কিন্তু আদর্শিক ব্যবস্থাগুলো সময়ের সাথে সাথে আরও বেশি অনড় হয়ে ওঠে, তাদের জন্য যেকোনো বড় ধরনের পরিবর্তন মানেই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে," বলেন তিনি। আবারও প্রধান হুমকি ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তিত হয় মূলত "আব্রাহাম অ্যাকর্ডস" চুক্তি স্বাক্ষরের পর। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে ২০২০ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান এবং পরবর্তীতে মরক্কো- ইসরায়েলের সাথে নিজেদের সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। এই নতুন আঞ্চলিক ব্যবস্থায় ক্রমেই বেশ কিছু আরব রাষ্ট্রের সাধারণ শত্রু হিসেবে আবির্ভূত হতে থাকে ইরান। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে সৌদি আরবও ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়টি বিবেচনা করেছিল, যদিও এই চুক্তির পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল ফিলিস্তিন ইস্যুটি। এখন মূল প্রশ্ন হলো, যুদ্ধের পর কী ঘটবে? তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা- যা দুর্বল হলেও এখনও টিকে আছে এবং হয়তো আরও বেশি বিপজ্জনক- সেটিই কি বহাল থাকবে, নাকি ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটবে? বিশেষজ্ঞ ব্যালানশ মনে করেন, "ঘটনাপ্রবাহ যেদিকেই যাক না কেন, একটি বিষয় পরিষ্কার যে- ইরানের পক্ষে খুব শিগগিরই তার অতীত ক্ষমতার স্তরে ফিরে যাওয়া অসম্ভব বলেই মনে হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "বর্তমান শাসনব্যবস্থা টিকে থাকুক বা নতুন কোনো নেতৃত্ব আসুক- ইরানকে তার প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে, যা শাহ শাসনামলে ছিল। যখন ইরান কার্যকরভাবে মধ্যপ্রাচ্যের "পুলিশম্যান" বা প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করত।"
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।