Live update news
ইউরোপে ভয়াবহ দাবদাহ l ছবি: সংগৃহীত
একের পর এক নিভছে প্রাণ, ইউরোপে ভয়াবহ দাবদাহে মৃত্যু ১৩০০ ছাড়াল

ইউরোপজুড়ে বইছে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ দাবদাহ। গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ায় এখন পর্যন্ত ১,৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রাণহানির পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বনাঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, গলে যাচ্ছে সড়কের পিচ এবং ব্যাহত হচ্ছে রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি পরিষেবাগুলোকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন দেশে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। দাবদাহের এই তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স, যেখানে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।   ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে চরম দিনগুলোতে দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর গড় সংখ্যা স্বাভাবিক ৯০০ থেকে লাফিয়ে ১,৪০০ ছাড়িয়ে যায়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সেখানে অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যাঁদের ৮৫ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় সর্বোচ্চ 'রেড অ্যালার্ট' জারি করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   অন্যদিকে জার্মানিতেও ভেঙে গেছে তাপমাত্রার অতীত সব রেকর্ড। মকার্ন-ড্রেউইটজে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কুবশুৎজে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষদের চিকিৎসা দিতে বার্লিনে অতিরিক্ত ৫০০টি অ্যাম্বুলেন্স নামাতে হয়। এমনকি ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের কাছে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের শরীর ঠান্ডা রাখতে পুলিশকে জলকামান দিয়ে পানি ছিটাতেও দেখা গেছে।   জার্মানির বনাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত গরমের কারণে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাইসেনের বনে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়, কারণ সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার কিছু অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ আগুনের তাপে বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।   তাপে মহাসড়কের কংক্রিট ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি হামবুর্গ থেকে প্রাগগামী একটি ট্রেনের বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে গেলে ৬০০ যাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ সুইডেন, ডেনমার্ক এবং গ্রিসেও। সুইডেনের একটি পার্কে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন, ডেনমার্কে বয়ে গেছে তীব্র ঝড় এবং গ্রিসের একাধিক অঞ্চলে দাবানলের নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেউসুস এই পরিস্থিতিকে একটি 'নীরব ঘাতক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ এই চরম তাপমাত্রার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। একসময় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এমন দাবদাহের দেখা মিললেও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তা এখন প্রায় প্রতি বছরই আঘাত হানছে।   ইউরোপীয় জলবায়ু বিজ্ঞানীদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন-এর বিশ্লেষণ বলছে, মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কার্যত অসম্ভব ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, ৫০ বছর আগে এমন দাবদাহের কথা কল্পনাও করা যেত না, যা আজ থেকে ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ২০০ গুণ বেশি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

৩ মিনিট Ago
পাখির ভাষা বুঝতে জেব্রা ফিঞ্চের ডাক রেকর্ড করছেন গবেষক এলি | ছবি: উলফগ্যাং ফোর্স্টমেয়ার
পাখির ভাষা বুজে ১ লাখ ডলার পুরস্কার জিতলেন মার্কিন বিজ্ঞানী

পাখিরা নিজেদের মধ্যে কীভাবে যোগাযোগ করে এবং তাদের ডাকের আড়ালে কী অর্থ লুকিয়ে থাকে, তা প্রথমবারের মতো উন্মোচন করেছেন এক মার্কিন বিজ্ঞানী। পাখির এই ভাষা বা ‘বার্ডসং’ ডিকোড করার অভূতপূর্ব সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ ১ লাখ মার্কিন ডলার (প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ টাকা) পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলির গবেষক ড. জুলি এলি এ বছর ‘কলার-ডলিটল প্রাইজ ২০২৬’ লাভ করেছেন।   মানুষের সাথে পশুপাখির দ্বিমুখী যোগাযোগ স্থাপন করার বৈজ্ঞানিক প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য এই পুরস্কার দেওয়া হয়। ড. জুলি মূলত ‘জেব্রা ফিঞ্চ’ (Zebra Finch) নামক ছোট গায়ক পাখির ওপর দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে গবেষণা চালিয়েছেন। তিনি এই পাখির ডাকের ১১টি মূল ধরন এবং সেগুলোর সুনির্দিষ্ট অর্থ সফলভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন।   তার গবেষণায় দেখা গেছে, জেব্রা ফিঞ্চরা তাদের নির্দিষ্ট কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দেয়, তারা সে মুহূর্তে কী করছে তা অন্য পাখিদের জানায় এবং একে অপরকে চিনে রাখে। এই কাজের জন্য ড. জুলি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পাখিদের বিভিন্ন ডাক রেকর্ড করেন। পরবর্তীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্যে সেই আওয়াজগুলো বিশ্লেষণ করে তিনি এই ভাষা বুঝতে পারেন।   গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে ড. জুলি পাখিদের নিয়ে একটি বিশেষ পরীক্ষাও চালান। সেখানে পাখিদের সামনে একটি বোতাম রাখা হয়, যা চাপলে বিভিন্ন আওয়াজ তৈরি হতো। কিছু নির্দিষ্ট আওয়াজের পর পাখিদের পুরস্কার হিসেবে খাবার দেওয়া হতো। পরীক্ষা চলার একপর্যায়ে পাখিরা বুঝতে পারে কোন আওয়াজের পর খাবার পাওয়া যাবে না, এবং তারা স্মার্টফোনে ভিডিও স্ক্রোল করার মতো করে সেই আওয়াজগুলো বোতাম চেপে এড়িয়ে যেতে শুরু করে।   জেরেমি কলার ফাউন্ডেশন এবং তেল আবিব ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে ২০২৪ সাল থেকে এই পুরস্কার দেওয়া শুরু হয়। মানুষ ও প্রাণীর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের কোড উদ্ধার করার জন্য এই ফাউন্ডেশন ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি মহাপুরস্কারও ঘোষণা করে রেখেছে। ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ব্রিটিশ ধনকুবের জেরেমি কলার আশা প্রকাশ করেছেন যে, এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির কারণে ২০৩০ সালের মধ্যেই মানুষ পশুপাখির সাথে সরাসরি কথা বলতে সক্ষম হবে।   সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

২০ মিনিট Ago
টেক্সাসের আইনপ্রণেতার নিন্দা ও ডানপন্থীদের বিপুল অর্থ সহায়তা | ছবি: কোলাজ - আমেরিকা বাংলা
মুসলিম নারীদের অপমান করে চাকরি হারালেন মার্কিন নারী, পাশে দাঁড়াল কট্টরপন্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের কনরো এলাকার একটি গ্রোসারি শপে হিজাব পরিহিত দুই মুসলিম নারীকে বর্ণবাদী ও ইসলামবিদ্বেষী মন্তব্য করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনার পর টেক্সাসের এক আইনপ্রণেতা তীব্র নিন্দা জানালেও কট্টরপন্থী কনজারভেটিভ ও ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সাররা ওই নারীর সমর্থনে এগিয়ে এসেছেন। ক্রিশ্চিয়ান ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম ‘গিভসেন্ডগো’-এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে তার জন্য ১ লাখ ২৫ হাজার ডলারেরও বেশি (প্রায় দেড় কোটি টাকা) তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে।   ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যায়, মেডিকেল স্ক্রাব পরা এক নারী ওই গ্রোসারি শপে থাকা দুই মুসলিম নারীকে উদ্দেশ্য করে বলছেন, "আপনাদের এখান থেকে চলে যাওয়া উচিত। আপনাদের এখানে কোনো স্বাগত জানানো হবে না। এটি কোনো মুসলিম দেশ নয়, এটি একটি খ্রিস্টান দেশ।" ভিডিওটি টেক্সাসের বিখ্যাত চেইন শপ ‘এইচ-ই-বি’ (H-E-B)-এর ভেতরে ধারণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ওই নারী তার চাকরি হারিয়েছেন বলে তহবিলের বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে।   এই ঘটনার পর সুগার ল্যান্ডের ডেমোক্র্যাট স্টেট প্রতিনিধি সুলেমান লালানি এই বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "সবচেয়ে বিরক্তিকর বিষয় হলো, এই নারী বিশ্বাস করেন যে এইচ-ই-বি-তে কেনাকাটা করতে আসা তার প্রতিবেশীরা তার এবং তার দেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। এই ‘ঘৃণার ভাইরাস’ একটি সংক্রামক ব্যাধি, যা আমাদের তথ্য, সত্য এবং ঐক্য দিয়ে মোকাবিলা করতে হবে।"   অন্য দিকে, ডানপন্থী ইনফ্লুয়েন্সাররা ওই নারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ঠিকানা অনলাইনে ফাঁস হওয়ার পর তার সুরক্ষায় এই অর্থ সংগ্রহের প্রচারণা শুরু করেন। ফান্ড রাইজিংয়ের বর্ণনায় মুসলিম অভিবাসীদের ইঙ্গিত করে লেখা হয়েছে, "আমরা যখন নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করার চেষ্টা করছি, তখন তিনি গ্রোসারি শপের আইলে দাঁড়িয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আমাদের মনের লুকিয়ে থাকা কথাটিই উচ্চস্বরে বলেছেন।"   কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)-এর টেক্সাস শাখা এই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির হিউস্টন চ্যাপ্টারের পরিচালক ইমরান গনি এক বিবৃতিতে বলেন, "টেক্সাসের নির্বাচিত সরকারি কর্মকর্তারা যখন মুসলিমবিদ্বেষ ছড়াতে ঘৃণ্য বক্তব্য ব্যবহার করেন, তখন ঠিক এমনই ঘটে। মুসলিমরা প্রতিদিন মৌখিক ও শারীরিক আক্রমণের মুখোমুখি হচ্ছেন, আর এখন সময় এসেছে প্রতিটি নির্বাচিত নেতার এই ঘৃণার বিরুদ্ধে স্পষ্টভাবে কথা বলার।"   সূত্র: হিউস্টন ক্রনিকল

২৯ মিনিট Ago
ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত কেপ ভার্দের ফুটবলার রায়ান মেন্ডিস | ছবি: গেটি ইমেজেস
বিশ্বকাপের মাঝেই বড় কেলেঙ্কারি, নারী দোভাষীকে ধর্ষণের অভিযোগ ফুটবল অধিনায়কের বিরুদ্ধে

চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে চমক দেখানো আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের ফুটবল দলের অধিনায়ক রায়ান মেন্দেসের বিরুদ্ধে এক নারী দোভাষীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। দলের জন্য নিয়োজিত এক ব্রাজিলীয় দোভাষী দাবি করেছেন, মেন্দেস গত মার্চ মাসে নিউজিল্যান্ড সফর চলাকালীন তার হোটেল রুমে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে ধর্ষণ করেন। ব্রাজিলের অন্যতম শীর্ষ সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবো'র এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।   ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ঘটনার পর তিনি কেপ ভার্দে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের অন্তত তিনজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে বিচার চাইলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাননি। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করায় পরবর্তীতে তিনি নিউজিল্যান্ড পুলিশের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে নিউজিল্যান্ড পুলিশ অকল্যান্ডের ওই হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে এবং চূড়ান্ত ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে মেন্দেসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক চার্জশিট গঠনের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।   বিবৃতিতে ওই দোভাষী উল্লেখ করেন, ফিফা সিরিজের ম্যাচ চলাকালীন কেপ ভার্দে দলের দোভাষী হিসেবে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। চিলির বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ শেষে তাকে একটি রুমে আলোচনার কথা বলে ডাকা হয়। কিন্তু সেখানে কোনো দোভাষীর কাজ না থাকায় এবং সেটি একটি সামাজিক আড্ডা বুঝতে পেরে তিনি নিজের রুমে ফিরে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই ৩৬ বছর বয়সী ফুটবলার রায়ান মেন্দেস তার রুমের দরজায় নক করেন এবং দরজা খোলামাত্রই ভেতরে ঢুকে তার ওপর চড়াও হন।   আক্রান্ত নারী ইতিমধ্যে তার মুখে, গলায় এবং পায়ে লাগা আঘাতের বেশ কিছু ছবি পুলিশের কাছে প্রমাণ হিসেবে হস্তান্তর করেছেন। এই ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা (FIFA) রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা নিউজিল্যান্ড কর্তৃপক্ষের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে। যেকোনো ধরনের অসদাচরণের অভিযোগকে ফিফা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নেয়। তবে তদন্তাধীন বিষয় হওয়ায় তারা এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।   চলতি বিশ্বকাপে সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে নকআউট পর্বে জায়গা করে নিয়ে কেপ ভার্দে যখন ফুটবল বিশ্বে রূপকথা তৈরি করছে, ঠিক তখনই অধিনায়কের বিরুদ্ধে এমন কলঙ্কজনক অভিযোগ দলটিকে বড় ধরনের ধাক্কা দিল। কেপ ভার্দের হয়ে বিশ্বকাপের তিনটি ম্যাচেই খেলা এই তারকা ফুটবলার মেন্দেস অবশ্য এখনো এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে গণমাধ্যমের সামনে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

৩৬ মিনিট Ago
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
আমেরিকা
ট্রাম্পকে কড়া ভাষায় আক্রমণ, মঞ্চ ছাড়ার সময় পথ খুঁজতে গিয়ে বিড়ম্বনায় বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন মেরিল্যান্ডে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন। তবে বক্তব্য শেষ হওয়ার পর মঞ্চ ছাড়ার পথ খুঁজতে গিয়ে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন তিনি। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   শনিবার বাল্টিমোরের কাছে হ্যানোভারের লাইভ! ক্যাসিনো অ্যান্ড হোটেলে আয়োজিত মেরিল্যান্ড ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ‘ফাইট ব্যাক অ্যান্ড উইন’ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ৮৩ বছর বয়সী বাইডেন।   বক্তব্যে তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করেন। বাইডেন অভিযোগ করেন, ট্রাম্প ইচ্ছাকৃতভাবে ন্যাটোকে দুর্বল করার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি হোয়াইট হাউসে নতুন বলরুম নির্মাণের পরিকল্পনাকে তিনি ‘ব্যক্তিগত অহমিকার প্রকল্প’ বলে মন্তব্য করেন।   বক্তৃতার শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সংকট মোকাবিলার সক্ষমতার কথা তুলে ধরেন বাইডেন। এরপর মঞ্চ ছাড়তে গিয়ে তিনি একপাশে তাকিয়ে দিকনির্দেশনা চান। পরে দুই দিকেই ইশারা করে কোন পথে নামবেন তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা করেন। সঠিক পথ বুঝে নেওয়ার পর দর্শকদের দিকে পিঠ রেখে মঞ্চ ত্যাগ করেন।   এর কয়েকদিন আগেই শিকাগোতে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেনশিয়াল লাইব্রেরির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বাইডেন। ওই অনুষ্ঠানেও সমাপ্তির সময় তাকে কিছুটা বিভ্রান্ত দেখা যায়। সে সময় তিনি মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের নাতনিকে খুঁজছিলেন। পরে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তাকে পথ দেখান।   শনিবারের বক্তব্যে বাইডেন টেলিপ্রম্পটার ব্যবহার করেন। বক্তব্যের সময় কয়েকবার কাশি দিতেও দেখা যায় তাকে। তিনি দাবি করেন, তার প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান সময়ের তুলনায় ভালো ছিল।   ট্রাম্পকে উদ্দেশ করে বাইডেন বলেন, তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে এসে বিভিন্ন ব্যক্তিগত প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ দিচ্ছেন। হোয়াইট হাউসের ইস্ট উইংয়ে বলরুম নির্মাণ, কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করা এবং ন্যাশনাল মলের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কারের উদ্যোগেরও সমালোচনা করেন তিনি।   বাইডেন আরও অভিযোগ করেন, হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর ট্রাম্প বিপুল অর্থ উপার্জন করেছেন এবং এ বিষয়ে তার কোনো লজ্জাবোধ নেই। এর আগে প্রেসিডেন্ট থাকাকালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও জনসমাবেশে মঞ্চে চলাফেরা বা দিকনির্দেশনা নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কয়েকটি ঘটনা আলোচনায় এসেছিল।   বর্তমানে বাইডেন স্টেজ-৪ প্রোস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন। অন্যদিকে সাবেক ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন তার নতুন বইয়ের প্রচারণায় ব্যস্ত রয়েছেন। বইটিতে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কে বাইডেনের পারফরম্যান্স দেখে প্রথমে তার মনে হয়েছিল, তিনি হয়তো স্ট্রোকে আক্রান্ত হচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৬:৫৮
ছবি: সংগৃহীত
লন্ডনে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বইমেলার উদ্বোধন, প্রবাসে বাংলা সাহিত্যচর্চায় গুরুত্বারোপ

সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের উদ্যোগে পূর্ব লন্ডনের ব্রাডি আর্ট সেন্টারে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শুরু হয়েছে বইমেলা। শনিবার দুপুরে শুরু হওয়া এ আয়োজন সাহিত্যপ্রেমী, লেখক, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।   একুশে পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রধান অতিথি হিসেবে বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অনুবাদক আনিসুজ্জামান এবং কবি শামীম আজাদ।   বইমেলা উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ ইউকের সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উদয় শংকর দুর্জয়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য দেন।   উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অনুবাদক আনিসুজ্জামান বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বপরিসরে পৌঁছে দিতে অনুবাদের গুরুত্বের ওপর জোর দেন। কবি শামীম আজাদ বলেন, নতুন প্রজন্মের মধ্যে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই।   অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ লেখক মাসুক ইবনে আনিস এবং গবেষক ফারুক আহমদকে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া ‘বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করেন হেনা বেগম।   উদ্বোধনী পর্ব শেষে অতিথিরা বইমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে বই প্রদর্শনী ও বিক্রির পাশাপাশি ছিল সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা সাহিত্য, ভাষা ও সংস্কৃতির বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।  

ইউরোপে ভয়াবহ দাবদাহ l ছবি: সংগৃহীত
একের পর এক নিভছে প্রাণ, ইউরোপে ভয়াবহ দাবদাহে মৃত্যু ১৩০০ ছাড়াল

ইউরোপজুড়ে বইছে স্মরণকালের অন্যতম ভয়াবহ দাবদাহ। গত ২১ জুন থেকে শুরু হওয়া এই চরম ভাবাপন্ন আবহাওয়ায় এখন পর্যন্ত ১,৩০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। প্রাণহানির পাশাপাশি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বনাঞ্চলে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে, গলে যাচ্ছে সড়কের পিচ এবং ব্যাহত হচ্ছে রেল ও যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি পরিষেবাগুলোকে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন দেশে জারি করা হয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। দাবদাহের এই তাণ্ডবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ফ্রান্স, যেখানে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রায় এক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।   ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, তাপপ্রবাহের সবচেয়ে চরম দিনগুলোতে দেশটিতে দৈনিক মৃত্যুর গড় সংখ্যা স্বাভাবিক ৯০০ থেকে লাফিয়ে ১,৪০০ ছাড়িয়ে যায়। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে সেখানে অতিরিক্ত এক হাজার মানুষের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়, যাঁদের ৮৫ শতাংশেরই বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করে যে, ফ্রান্সের প্রায় তিন-চতুর্থাংশ এলাকায় সর্বোচ্চ 'রেড অ্যালার্ট' জারি করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।   অন্যদিকে জার্মানিতেও ভেঙে গেছে তাপমাত্রার অতীত সব রেকর্ড। মকার্ন-ড্রেউইটজে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং কুবশুৎজে রাতের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৯.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। তীব্র গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষদের চিকিৎসা দিতে বার্লিনে অতিরিক্ত ৫০০টি অ্যাম্বুলেন্স নামাতে হয়। এমনকি ব্র্যান্ডেনবার্গ গেটের কাছে জড়ো হওয়া সাধারণ মানুষ ও পর্যটকদের শরীর ঠান্ডা রাখতে পুলিশকে জলকামান দিয়ে পানি ছিটাতেও দেখা গেছে।   জার্মানির বনাঞ্চলগুলোতে অতিরিক্ত গরমের কারণে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ট্রাইসেনের বনে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের চরম বিপাকে পড়তে হয়, কারণ সেখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার কিছু অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ আগুনের তাপে বিস্ফোরিত হতে শুরু করে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।   তাপে মহাসড়কের কংক্রিট ফেটে যাওয়ার পাশাপাশি হামবুর্গ থেকে প্রাগগামী একটি ট্রেনের বিদ্যুৎ ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিকল হয়ে গেলে ৬০০ যাত্রীকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই বিরূপ আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ সুইডেন, ডেনমার্ক এবং গ্রিসেও। সুইডেনের একটি পার্কে বজ্রপাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন, ডেনমার্কে বয়ে গেছে তীব্র ঝড় এবং গ্রিসের একাধিক অঞ্চলে দাবানলের নতুন সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেউসুস এই পরিস্থিতিকে একটি 'নীরব ঘাতক' হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, ইউরোপ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হতে থাকা মহাদেশ, যা বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে উত্তপ্ত হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ১৫ কোটি মানুষ এই চরম তাপমাত্রার মধ্যে জীবনযাপন করছেন। একসময় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এমন দাবদাহের দেখা মিললেও, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তা এখন প্রায় প্রতি বছরই আঘাত হানছে।   ইউরোপীয় জলবায়ু বিজ্ঞানীদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন-এর বিশ্লেষণ বলছে, মানুষের তৈরি জলবায়ু পরিবর্তন ছাড়া এই পরিস্থিতি তৈরি হওয়া কার্যত অসম্ভব ছিল। বিজ্ঞানীদের মতে, ৫০ বছর আগে এমন দাবদাহের কথা কল্পনাও করা যেত না, যা আজ থেকে ২০ বছর আগের তুলনায় বর্তমানে প্রায় ২০০ গুণ বেশি নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু
হামের প্রকোপ থামছেই না: ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত হাজার ছাড়াল

দেশজুড়ে হামের বিস্তার এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়েই রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৫৭ জন শিশু, যা পরিস্থিতির ক্রমাগত অবনতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।   রোববার (২৮ জুন) বিকেলে প্রকাশিত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ হাম পরিস্থিতি প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত একদিনে হামে নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি। তবে উপসর্গ নিয়ে চার শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬১৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৩ শিশু। সব মিলিয়ে হামে ও এর উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭১২ জনে।   এদিকে সংক্রমণের হারও কমার লক্ষণ নেই। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় ১১৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে নতুন রোগী পাওয়া গেছে ৯৪১ জন। ফলে একদিনেই মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৫৭ জনে পৌঁছেছে।   হাসপাতালভিত্তিক তথ্য বলছে, একই সময়ে নতুন করে ৮৮৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৮৬৫ জন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৯ হাজার ২০৭ জনে। এর মধ্যে পরীক্ষার মাধ্যমে ১১ হাজার ৭১০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৮২ হাজার ৮৪৪ জন রোগী, যাদের মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭৯ হাজার ১৫২ জন।   জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া এবং সচেতনতার অভাব—এই তিনটি কারণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। তারা দ্রুত টিকাদান জোরদার এবং আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।   বর্তমান পরিস্থিতিতে শিশুদের সুরক্ষায় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ছবি: সংগৃহীত
‘বাংলাদেশকে সত্যিই ভালোবাসি, তাদের সমর্থন অসাধারণ’—মার্টিনেজ

বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা আবারও প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। ২০২৬ বিশ্বকাপের ব্যস্ত সূচির মধ্যেও বাংলাদেশি সমর্থকদের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসার বার্তা দিয়েছেন তিনি।   বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে ডালাস স্টেডিয়ামে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। জিওভানি লো সেলসো, লাউতারো মার্টিনেজ ও লিওনেল মেসির গোলে জয় নিশ্চিত করে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।   ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। এ সময় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাংলাদেশের মানুষের প্রতি নিজের বিশেষ অনুভূতির কথা তুলে ধরেন তিনি।   বাংলাদেশ সফরের স্মৃতিচারণ করে মার্টিনেজ বলেন, ‘বাংলাদেশে গিয়েছিলাম আমি। সত্যিই দেশটিকে ভালোবাসি।’   বাংলাদেশের আর্জেন্টিনা-সমর্থকদের উচ্ছ্বাসের প্রশংসা করে তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি তারা কতটা পাগল আমাদের জন্য। সেখানে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থেকে এটা বলতে পারি আমি। তাদের সমর্থন আমি ভালোবাসি। তারা যেভাবে আর্জেন্টিনাকে দেখে, আমার অনেক ভালো লাগে। আমার পূর্ণ ভালোবাসা বাংলাদেশের জন্য।’   ২০২৩ সালে সংক্ষিপ্ত সফরে ঢাকায় এসে লাখো সমর্থকের ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছিলেন এই গোলরক্ষক। সেই সফরের স্মৃতি এখনো তার মনে গেঁথে আছে বলেই আবারও বাংলাদেশি ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন তিনি।

ছবি: ফাইল ফটো
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোন পথে? নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে ‘রেড কার্ড’ প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ইস্যু আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রে উঠে এসেছে। একদিকে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস)-এর অভিযান ঘিরে দেশজুড়ে বিক্ষোভ, অন্যদিকে সীমান্ত পেরিয়ে আসা লাখো অভিবাসীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বাড়ছে অনিশ্চয়তা। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনে অভিবাসন সংস্কার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকজন নীতিনির্ধারক ও গবেষক ‘রেড কার্ড’ নামে একটি বিকল্প কর্মসূচির প্রস্তাব সামনে এনে বলছেন, বর্তমান সংকটের বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজতে হলে প্রচলিত রাজনৈতিক অবস্থানের বাইরে নতুন পথ খুঁজতে হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন সংকট কোনো একক প্রশাসনের সৃষ্টি নয়। কয়েক দশক ধরে আইন প্রয়োগে অসঙ্গতি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় দুর্বলতা এবং কংগ্রেসের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থার ফলে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক অনথিভুক্ত অভিবাসীর একটি অংশ মনে করেন, তারা সরাসরি বা পরোক্ষভাবে ফেডারেল সরকারের অনুমোদন বা প্রশাসনিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশে প্রবেশ করেছেন। বিশেষ করে বাইডেন প্রশাসনের সময়ে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক আবেদন ব্যবস্থা, মানবিক প্যারোল কর্মসূচি এবং অন্যান্য অস্থায়ী ব্যবস্থার আওতায় অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পান। ফলে এখন তাদের অনেকের দাবি, তাদের অবস্থানকে সরলভাবে ‘অবৈধ’ হিসেবে চিহ্নিত করা আইনি ও নৈতিক দুই দিক থেকেই জটিল।   আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত কয়েক মিলিয়ন মানুষের বিরুদ্ধে একযোগে বহিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা শুধু রাজনৈতিকভাবেই নয়, বাস্তবিক অর্থেও অত্যন্ত কঠিন। অভিবাসন আদালতগুলো ইতোমধ্যেই কয়েক মিলিয়ন মামলার জটে আটকে আছে। এর মধ্যে নতুন করে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান শুরু হলে বিচারিক ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে আইসের জনবল ও সম্পদও সীমিত। ফলে কোন অভিবাসীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বহিষ্কারের আওতায় আনা হবে এবং কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়েও নীতিগত বিতর্ক তৈরি হয়েছে।   এই আলোচনার মধ্যেই আবার সামনে এসেছে ডিফার্ড অ্যাকশন ফর চাইল্ডহুড অ্যারাইভালস (ডাকা) কর্মসূচি। শিশু অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে আসা অনথিভুক্ত তরুণদের সাময়িক সুরক্ষা দিতে চালু হওয়া এই কর্মসূচি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে কার্যকর থাকলেও কংগ্রেস এখনো এর স্থায়ী আইনি সমাধান করতে পারেনি। ফলে লাখো ডাকা সুবিধাভোগী এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রেই বড় হয়েছেন, পড়াশোনা শেষ করেছেন এবং কর্মজীবনে প্রবেশ করেছেন, কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি আইনি অবস্থান এখনও ঝুলে আছে।   এই প্রেক্ষাপটে কিছু নীতিনির্ধারক আবারও সামনে আনছেন তথাকথিত ‘রেড কার্ড’ মডেল। ২০১২ সালে অভিবাসন সংস্কারবিষয়ক গবেষক হেলেন ক্রিয়েবল প্রথম এই ধারণা উপস্থাপন করেন। পরে সাবেক হাউস স্পিকার নিউট গিংরিচসহ কয়েকজন রক্ষণশীল নেতা এ প্রস্তাবের প্রতি সমর্থন জানান।   রেড কার্ড ধারণার মূল ভিত্তি হলো নাগরিকত্বের পথ থেকে আলাদা একটি বৈধ কর্মসংস্থান অনুমতি ব্যবস্থা তৈরি করা। এই মডেলে যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত নন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করতে চান, তারা নিবন্ধনের মাধ্যমে কাজের অনুমতি পেতে পারেন। তবে এই অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ড বা মার্কিন নাগরিকত্বের পথ খুলে দেবে না।   সমর্থকদের মতে, এই ব্যবস্থা চালু হলে আইস তাদের সীমিত জনবল ও সম্পদ সহিংস অপরাধী, মাদক চক্র এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবে। একই সঙ্গে অনথিভুক্ত হলেও কর্মরত লাখো মানুষ বৈধ কর্মসংস্থানের আওতায় আসবেন এবং কর ব্যবস্থার মধ্যেও অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।   রেড কার্ড মডেলের আরেকটি বৈশিষ্ট্য হলো এটি বেসরকারি খাতনির্ভর। প্রস্তাব অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কর্মসংস্থান সংস্থাগুলো অভিবাসীদের পরিচয় যাচাই, নিরাপত্তা পরীক্ষা, নিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের প্রক্রিয়া পরিচালনা করবে। এতে সরকারের প্রশাসনিক ব্যয় কমবে বলে সমর্থকদের দাবি।   প্রস্তাবটির সমর্থকরা আরও বলছেন, অংশগ্রহণকারীদের বায়োমেট্রিক পরিচয় নিবন্ধন, নিরাপত্তা যাচাই এবং বাজারদরের সমপরিমাণ মজুরি নিশ্চিত করা হলে মার্কিন শ্রমিকদের সঙ্গে অন্যায্য প্রতিযোগিতার আশঙ্কাও কমবে।   তবে সমালোচকদের আপত্তিও রয়েছে। তাদের মতে, রেড কার্ড পরিকল্পনা কার্যকর হলে একটি নতুন ধরনের দীর্ঘমেয়াদি অস্থায়ী শ্রমিক শ্রেণি তৈরি হতে পারে, যারা বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করলেও স্থায়ী নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকবেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে হলে বৈধ স্থায়ী বসবাস বা নাগরিকত্বের একটি সুস্পষ্ট পথও থাকতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিতর্ক বর্তমানে দুই বিপরীত অবস্থানের মধ্যে আটকে আছে। এক পক্ষ অধিকাংশ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে দেশে থাকার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে, অন্য পক্ষ দ্রুত ও ব্যাপক বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবতা সম্ভবত এই দুই অবস্থানের মাঝামাঝি কোনো সমাধানের দিকেই ইঙ্গিত করছে।   অর্থনীতিবিদদের একটি অংশের মতে, কৃষি, নির্মাণ, আতিথেয়তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিভিন্ন সেবা খাত বর্তমানে উল্লেখযোগ্যভাবে অভিবাসী শ্রমশক্তির ওপর নির্ভরশীল। ফলে অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন শ্রমবাজার, ব্যবসা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।   ফলে প্রশ্ন এখন শুধু সীমান্ত নিরাপত্তা বা আইসের অভিযান নিয়ে নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে কী ধরনের অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, সেটিও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস যদি দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা ভেঙে কার্যকর আইন প্রণয়ন করতে না পারে, তাহলে ডাকা কর্মসূচি, আইসের অভিযান এবং লাখো অভিবাসীর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আগামী বহু বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও জননীতির অন্যতম প্রধান বিতর্ক হিসেবে থেকে যাবে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া
১৬ বছরের নিচে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে কঠোরতা বাড়াচ্ছে অস্ট্রেলিয়া, জরিমানা দ্বিগুণের ঘোষণা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:৫৫

১৬ বছরের কম বয়সিদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। নিয়ম ভাঙার প্রবণতা ঠেকাতে এবার আইন লঙ্ঘনকারী প্ল্যাটফর্মগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানার পরিমাণ দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।   শনিবার (২৭ জুন) প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, নতুন আইনের আওতায় বড় ধরনের বা পদ্ধতিগত নিয়ম লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ জরিমানা বাড়িয়ে ৯ কোটি ৯০ লাখ অস্ট্রেলিয়ান ডলার করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৮ শত ৩৭ কোটি টাকার সমান। একই সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা তদারকি সংস্থা ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে আরও বেশি ক্ষমতা দেওয়া হবে।   সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক ও ইউটিউবসহ বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘনের বিষয়গুলো সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে এই স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো আইন মানার ক্ষেত্রে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিশু সক্রিয় রয়েছে, যা এই আইনের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।” তিনি আরও বলেন, নতুন পদক্ষেপগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে সরকার এই বিষয়ে কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে।   সরকারি সূত্র বলছে, নানা উপায়ে কিশোর-কিশোরীরা এই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাচ্ছে। বয়স্কদের নামে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার, ভুয়া পরিচয়ে নতুন অ্যাকাউন্ট খোলা কিংবা ব্যক্তিগত ব্রাউজিংয়ের মাধ্যমে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করছে।   অস্ট্রেলিয়ার এই উদ্যোগের দিকে নজর রাখছে বিশ্বের আরও কয়েকটি দেশ। যুক্তরাজ্য, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও নিউজিল্যান্ড ইতোমধ্যে একই ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বা বিবেচনা করছে।   তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চলতি মাসে ‘ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল’-এ প্রকাশিত এক সমকক্ষ-পর্যালোচিত গবেষণায় ৪০০ জনের বেশি তরুণের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা যায়, তারা বিভিন্ন উপায়ে নিয়ম ফাঁকি দিচ্ছে। বিশেষ করে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার কমার কোনো স্পষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তবে ১৪ থেকে ১৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কিছুটা কমেছে এবং ১৬ বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যবহার বেড়েছে।   সরকার বলছে, এখন পর্যন্ত ৫০ লাখেরও বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এ কারণে ‘ই-সেফটি’ কমিশনারকে প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তারা এখন কোম্পানিগুলোকে বাধ্য করতে পারবে—১৬ বছরের কম বয়সিদের অ্যাকাউন্ট খোলা ঠেকাতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তার প্রমাণ দিতে।   এছাড়া শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নয়, বয়স যাচাইকারী তৃতীয় পক্ষের প্রতিষ্ঠান বা অ্যাপ স্টোর সেবাদাতাদের কাছ থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে এই সংস্থাকে।   দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী আনিকা ওয়েলস বলেছেন, প্ল্যাটফর্মগুলো এখনো যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তার ভাষায়, “বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো পুরোনো কৌশলেই চলছে এবং দায়সারা কাজ করে পার পেতে চাইছে।” তিনি আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্ত থাকা কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে অনেক অভিভাবক এই ধরনের কঠোর বিধিনিষেধকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো সতর্ক করে বলেছে, অতিরিক্ত কড়াকড়ি আরোপ করলে কিশোররা আরও অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন প্ল্যাটফর্মে চলে যেতে পারে।   বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবহারকারীর বয়স যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপরই দেওয়া হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে ছবি দেখে বয়স অনুমান করার চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা সরকারি পরিচয়পত্র জমা দিয়েও নিজেদের বয়স নিশ্চিত করতে পারছেন।   সব মিলিয়ে, শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ার এই কঠোর অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩
ফ্রান্সে বিমান বিধ্বস্তে নিহত অন্তত ১৩, উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:১৫

ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বেসামরিক একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। রোববার (স্থানীয় সময়) সকালে তোম্বলেইন শহরের কাছাকাছি বিমানবন্দরের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্স।   প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটিতে কয়েকজন যাত্রী ছিলেন, যাদের একটি অংশ প্যারাসুট নিয়ে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ে।   ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও জরুরি উদ্ধারকারী সংস্থার সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   তোম্বলেইন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়াজনিত সমস্যা বা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে।   স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বিমানটি স্কাইডাইভিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল। এ ধরনের ফ্লাইট সাধারণত স্বল্প উচ্চতায় উঠানামা করে এবং নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করা হয়। ফলে এই দুর্ঘটনা কীভাবে ঘটল, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।   ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ছোট আকারের বেসামরিক বিমান দুর্ঘটনার কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে, তবে এমন বড় ধরনের প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বিরল। এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্তে কাজ চলছে বলে জানা গেছে।   তদন্তের অগ্রগতি ও প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দিকে এখন নজর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি
খামেনির শেষযাত্রায় দুই কোটির বেশি মানুষের সমাগমের প্রস্তুতি, ৪ জুলাই শুরু তেহরানে
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৮:৬

ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষযাত্রাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আয়োজকদের ধারণা, এ শোকযাত্রায় অংশ নিতে পারেন দুই কোটিরও বেশি মানুষ। নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে।   বার্তাসংস্থা মেহের নিউজ রোববার (২৮ জুন) এক প্রতিবেদনে জানায়, আগামী ৪ জুলাই রাজধানী তেহরান ও পবিত্র নগরী কোমে আনুষ্ঠানিকভাবে খামেনির শেষযাত্রা শুরু হবে। এরপর বিভিন্ন ধাপ শেষে ৯ জুলাই তার জন্মস্থান মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।   সরকারি সূত্র বলছে, পুরো আয়োজনটি নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ও পুলিশ যৌথভাবে কাজ করছে। বিপুল জনসমাগমের সম্ভাবনা থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।   এদিকে ইরাকের পবিত্র শহর কারবালাতেও খামেনির স্মরণে একটি শোকানুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এ আয়োজন এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে সরকারি প্রাসাদে অবস্থানকালে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় পরিবারের কয়েকজন সদস্যসহ প্রাণ হারান ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা। ঘটনার পরপরই তার শেষযাত্রার একটি প্রাথমিক পরিকল্পনা নেওয়া হলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তা স্থগিত রাখা হয় বলে সে সময় ইরানি গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল।   খামেনির মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোক নেমে আসে। তার শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রায় সবাই উপস্থিত থাকবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির দীর্ঘ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বের কারণে দেশের ভেতরে ও বাইরে তার প্রভাব ছিল ব্যাপক। তাই তার শেষযাত্রা ঘিরে এমন বড় পরিসরের জনসমাগম এবং আয়োজন স্বাভাবিকভাবেই ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হয়ে উঠতে যাচ্ছে।

ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু
ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যু
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৮, ২০২৬ ৭:৪৪

ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে ফ্রান্সে অতিরিক্ত অন্তত ১ হাজার মানুষের মৃত্যুর তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। রোববার দেশটির জনস্বাস্থ্যবিষয়ক সংস্থা স্যঁতে পাবলিক প্রকাশিত এক প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    একই সঙ্গে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, তাপপ্রবাহজনিত বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় আরও অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের তথ্য এখনো পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।   সংস্থাটি অতিরিক্ত মৃত্যুর প্রাথমিক হিসাব তুলে ধরে জানিয়েছে, নিহতদের বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। কেয়ার হোম ও ব্যক্তিগত বাসাবাড়িতে ঘটে যাওয়া মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ তথ্য হাতে এলে মৃত্যুর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   বর্তমানে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ তাপপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কোটি কোটি মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে ইতোমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে।    একই সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং বিভিন্ন অবকাঠামোও ক্ষতির মুখে পড়ছে।   বিজ্ঞানীদের মতে, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে রেকর্ড করা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি।    তারা বলছেন, বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় ইউরোপের জলবায়ু আরও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যার ফলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা ক্রমেই ঘন ঘন দেখা দিচ্ছে।   ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, তাপপ্রবাহ ধীরে ধীরে দেশটির পূর্বাঞ্চলের দিকে সরে যাচ্ছে। দেশের বেশিরভাগ এলাকায় চরম গরম কিছুটা কমলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি অঞ্চল এখনও তাপপ্রবাহের সতর্কবার্তার আওতায় রয়েছে।   ফ্রান্সের স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্তেফানি রিস্ট বলেছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও এই তাপপ্রবাহের স্বাস্থ্যগত প্রভাব প্রায় ১০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।   দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, "এই দুর্যোগ এখনও শেষ হয়ে যায়নি।"   স্যঁতে পাবলিক জানিয়েছে, মৃতদের অধিকাংশের বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি। তবে তীব্র গরমের স্বাস্থ্যঝুঁকি সব বয়সী মানুষের ওপরই প্রভাব ফেলেছে।   সূত্র: এএফপি

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
615 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
515 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
614 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
463 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়