Live update news
ছবি: রয়টার্স
কাতারের রাস লাফান গ্যাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮

কাতারের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনাল রাস লাফানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) রাতে যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির পর টার্মিনালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রচেষ্টার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।   রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এ বিস্ফোরণের ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক দেশ কাতার। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় কাতার তার আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে দেশটি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।   যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায় ইরান পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাতার পুনরায় রপ্তানি টার্মিনাল চালুর কাজ শুরু করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, রোববার রাতে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   বিস্ফোরণে কী পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বেশি হতাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ হিসাবে ৫৪ জন আহত এবং ১৮ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে।   বারজান প্ল্যান্টে দৈনিক প্রায় ১৪০ কোটি স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট বিক্রয়যোগ্য গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণমুক্ত পানি উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনায় এ গ্যাস ব্যবহার করে থাকে।   প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের হাতে রয়েছে। এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফান এলাকায় আঘাত হানে। এতে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও হামলার কারণে এর আগেই সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছিল কাতার। সর্বশেষ টার্মিনালটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগের মধ্যেই নতুন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।  

১০ মিনিট Ago
মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তারেক রহমান। ছবি: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়
শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দিতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার এবং আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর বিষয়ও উত্থাপন করেছেন।   সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’য় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর। আমি মান্যবর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি যেন আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হয়।”   তারেক রহমান বলেন, বৈঠকে অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলোও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং সাশ্রয়ী। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কর্মীদের ব্যয়ও হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।   বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগসংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব দলিল বিনিময় করেন।   পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।   তিনি বলেন, “আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দ্বিপাক্ষিক পরামর্শসহ বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছি।”   তারেক রহমান জানান, আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাত স্থান পেয়েছে।   দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।   রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি শক্তিশালী ম্যান্ডেট লাভ করেছে। তিনি বলেন, “জনগণের বিপুল সমর্থনে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের এখনকার অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।”   বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।   তারেক রহমান বলেন, বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ চায় এবং ‘আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আরসিইপিতে যোগ দিতে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।   উভয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারেক রহমান বলেন, “আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় আমি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।”   দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। আমরা আঞ্চলিক শান্তি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করতে উন্মুখ।”   বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছিল এবং দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছিল এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়েছিল।   তারেক রহমান জানান, ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যে কয়েকটি ফোনকল তিনি পেয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ফোন।   তিনি বলেন, “তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে এখানে আসতে পেরে আমি ও আমার স্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত।”   প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশটির সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।   দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।   সংবাদ সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন ‘সেরি পারদানা কমপ্লেক্স’-এ রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। সেখানে মালয়েশিয়ার শিল্পীরা বাংলা ও মালয় ভাষায় গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।   এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ‘পারদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাকে স্বাগত জানান। মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।   পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রিসভার সদস্য ও কর্মকর্তাদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার রাতে কুয়ালালামপুর পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

১৭ মিনিট Ago
ছবি: রয়টার্স
দুই ইস্যুতে ‘ব্যর্থ’, তাই পদত্যাগ করবেন স্টারমার: দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগ করবেন। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।   রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।” তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা সূত্র উল্লেখ করেননি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে শেষবারের মতো ট্রাম্প ও স্টারমারের সাক্ষাৎ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে।   স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “অভিবাসন ও জ্বালানি—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।” একই পোস্টে তিনি উত্তর সাগরে নতুন করে তেল উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান।   দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও তিনি একাধিকবার সমালোচনা করেছেন।   একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে স্টারমারকে ‘ট্রাম্প হুইস্পারার’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে।   স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি, আর আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।”   এদিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, প্রধানমন্ত্রী সেটিই করবেন।”   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সোমবার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।

২২ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে আবেগঘন বার্তা রেখে গেল ইরান, স্মরণে মিনাবের শিশুরা

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তা রেখে গেছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ খেলার পর বিদায়ী ওই বার্তায় শহরটির আতিথেয়তা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি স্মরণ করা হয়েছে ইরানের মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত শিশুদের।   চলমান বিশ্বকাপে অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮ ঘণ্টার বেশি অবস্থানের অনুমতি পায়নি ইরান দল। সে কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ শেষ করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা একটি বার্তা রেখে যায়।   রোববার বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ইরান টুর্নামেন্টে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচ পর্যন্ত টিকে থাকা নিশ্চিত করে। তাদের পরবর্তী ম্যাচ সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে। দলটির রেখে যাওয়া বার্তার শুরুতে লেখা ছিল, “হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের আত্মা আজও জীবিত এবং দৃঢ়ভাবে স্থির রয়েছে।”   বার্তাটিতে #১৬৮ এবং #মিনাব হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়। এটি মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘটিত হামলায় নিহতদের স্মরণে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য থাকলেও হামলাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে।   বার্তায় আরও লেখা হয়, “আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।” এতে আরও বলা হয়, “লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে প্রতিটি ইরানিকে ধন্যবাদ, যারা এই ১৮০ মিনিট জুড়ে ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা উজাড় করে দিয়েছে।”   বার্তার শেষাংশে বলা হয়, “সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।” বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইরান দলকে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের কারণে দলটিকে তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসন থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় সরিয়ে নিতে হয়। ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া ইরানি ফুটবলারদের হাতে লেখা চিঠি। ছবি: ডেইল মেইল   নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে ইরান দল ম্যাচের আগের দিন লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয়। এ ছাড়া দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর খেলোয়াড় মেহদি তোরাবির একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে নতুন ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়।   ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই এই বিধিনিষেধের সমালোচনা করে তার দলকে “পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল” বলে উল্লেখ করেছেন।

৫৮ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
খেলাধুলা
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে আবেগঘন বার্তা রেখে গেল ইরান, স্মরণে মিনাবের শিশুরা

যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে একটি হাতে লেখা বার্তা রেখে গেছে ইরানের জাতীয় ফুটবল দল। লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ খেলার পর বিদায়ী ওই বার্তায় শহরটির আতিথেয়তা ও সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি স্মরণ করা হয়েছে ইরানের মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে হামলায় নিহত শিশুদের।   চলমান বিশ্বকাপে অভিবাসন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ৪৮ ঘণ্টার বেশি অবস্থানের অনুমতি পায়নি ইরান দল। সে কারণে লস অ্যাঞ্জেলেসে দুটি ম্যাচ শেষ করে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার আগে ড্রেসিংরুমে হাতে লেখা একটি বার্তা রেখে যায়।   রোববার বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে ইরান টুর্নামেন্টে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচ পর্যন্ত টিকে থাকা নিশ্চিত করে। তাদের পরবর্তী ম্যাচ সিয়াটলে মিসরের বিপক্ষে। দলটির রেখে যাওয়া বার্তার শুরুতে লেখা ছিল, “হাজার বছরের প্রাচীন পারস্য থেকে আজকের সভ্য ইরান পর্যন্ত, ইরানের আত্মা আজও জীবিত এবং দৃঢ়ভাবে স্থির রয়েছে।”   বার্তাটিতে #১৬৮ এবং #মিনাব হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করা হয়। এটি মিনাব শহরের একটি বিদ্যালয়ে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘটিত হামলায় নিহতদের স্মরণে উল্লেখ করা হয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্য থাকলেও হামলাটির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করা হয়েছে।   বার্তায় আরও লেখা হয়, “আমরা গর্ব নিয়ে লস অ্যাঞ্জেলেসে এসেছি, সম্মানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি এবং মর্যাদার সঙ্গে বিদায় নিচ্ছি।” এতে আরও বলা হয়, “লস অ্যাঞ্জেলেস, তোমাদের আতিথেয়তার জন্য ধন্যবাদ। সেই সঙ্গে প্রতিটি ইরানিকে ধন্যবাদ, যারা এই ১৮০ মিনিট জুড়ে ইরানের জন্য তাদের হৃদয়, কণ্ঠ এবং আত্মা উজাড় করে দিয়েছে।”   বার্তার শেষাংশে বলা হয়, “সব জাতির মধ্যে শান্তি, সম্মান এবং বন্ধুত্ব বজায় থাকুক।” বিশ্বকাপ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান নিয়ে নানা জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে ইরান দলকে। অভিবাসন কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধের কারণে দলটিকে তাদের বেস ক্যাম্প অ্যারিজোনার টুসন থেকে মেক্সিকোর তিহুয়ানায় সরিয়ে নিতে হয়। ড্রেসিংরুমে রেখে যাওয়া ইরানি ফুটবলারদের হাতে লেখা চিঠি। ছবি: ডেইল মেইল   নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে ইরান দল ম্যাচের আগের দিন লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছায়। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের আবার মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হয়। এ ছাড়া দলের কয়েকজন কর্মকর্তা ও সহায়ক কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি। নিউজিল্যান্ড ম্যাচের পর খেলোয়াড় মেহদি তোরাবির একবার প্রবেশযোগ্য ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাকে নতুন ভিসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে আবেদন করতে হয়।   ইরানের প্রধান কোচ আমির গালেনোই এই বিধিনিষেধের সমালোচনা করে তার দলকে “পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দল” বলে উল্লেখ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ৩:৪৭
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি
ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবমুক্ত হচ্ছে আটকে থাকা সম্পদের অংশ: আরাগচি

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রথম দফা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশও অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছাড় করা হয়েছে।   তবে অবমুক্ত করা সম্পদের পরিমাণ কিংবা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।   এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হোসেইন গোরবানজাদেহ বলেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।   এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।   তিনি বলেন, তাদের সামনে এখন প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে লেবানন ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে সম্মত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ওপর রাজনৈতিক তদারকি বজায় রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয়েছে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবেন।   এ ছাড়া পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ রূপরেখায় একমত হয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।   লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনেও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরতিহীনভাবে আলোচনা চলে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে ছিলেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।   তবে বৈঠক শুরুর সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এবং ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতি একাধিক কঠোর বার্তা দেন।   ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন এবং বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাদের দাবি, ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ওই অনুচ্ছেদে আলোচনা চলাকালে কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।   বৈঠকে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে তারা আলোচনাস্থল ত্যাগ করবেন। তবে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র এবং একজন মার্কিন কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে তা ঘটেনি এবং দিনভর আলোচনা অব্যাহত ছিল।   মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে আলোচনা ছিল বেশ কঠিন ও দীর্ঘ। একজন মার্কিন কূটনীতিক অ্যাক্সিওসকে বলেন, বৈঠকের প্রধান গুরুত্ব ছিল সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এবং সেটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই কূটনীতিক আরও বলেন, আলোচনার অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা সন্তুষ্ট। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং প্রথম দফার আলোচনা ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছে।

ছবি: রয়টার্স
দুই ইস্যুতে ‘ব্যর্থ’, তাই পদত্যাগ করবেন স্টারমার: দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগ করবেন। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।   রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।” তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা সূত্র উল্লেখ করেননি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে শেষবারের মতো ট্রাম্প ও স্টারমারের সাক্ষাৎ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে।   স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “অভিবাসন ও জ্বালানি—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।” একই পোস্টে তিনি উত্তর সাগরে নতুন করে তেল উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান।   দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও তিনি একাধিকবার সমালোচনা করেছেন।   একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে স্টারমারকে ‘ট্রাম্প হুইস্পারার’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে।   স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি, আর আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।”   এদিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, প্রধানমন্ত্রী সেটিই করবেন।”   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সোমবার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।

মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন তারেক রহমান। ছবি: মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়
শ্রমবাজার দ্রুত খুলে দিতে মালয়েশিয়ার প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, আরও বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য তাদের শ্রমবাজার দ্রুত উন্মুক্ত করার এবং আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের দেশে ফেরানোর বিষয়ও উত্থাপন করেছেন।   সোমবার (২২ জুন) মালয়েশিয়ার পুত্রজায়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘পারদানা পুত্রা’য় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক শেষে আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।   প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মালয়েশিয়ায় থাকা বাংলাদেশি কর্মী, শিক্ষার্থী, পেশাজীবী এবং উদ্যোক্তারা দুই দেশের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করছেন। তাদের অবদান আমাদের উভয় দেশের অর্থনীতি ও সমাজের জন্য কল্যাণকর। আমি মান্যবর প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমকে অনুরোধ করেছি যেন আরও বেশি বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হয় এবং যত দ্রুত সম্ভব শ্রমবাজার উন্মুক্ত করা হয়।”   তারেক রহমান বলেন, বৈঠকে অনিয়মিত কর্মীদের নিয়মিতকরণ এবং মালয়েশিয়ায় আটক বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসনের বিষয়গুলোও আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, নিয়োগ প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, ন্যায়সঙ্গত এবং সাশ্রয়ী। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কর্মীদের ব্যয়ও হ্রাস পাবে। এ বিষয়ে উভয় প্রধানমন্ত্রী একমত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।   বৈঠকের পর দুই প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় গবেষণা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগসংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল বিনিময় করা হয়। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এসব দলিল বিনিময় করেন।   পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন তারেক রহমান ও আনোয়ার ইব্রাহিম। প্রধানমন্ত্রী জানান, বৈঠকে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।   তিনি বলেন, “আমরা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর মতবিনিময় করেছি। আজ আমরা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক জোরদারে আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। আমরা উভয় দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে যৌথ কমিশন বৈঠক এবং দ্বিপাক্ষিক পরামর্শসহ বিদ্যমান ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছি।”   তারেক রহমান জানান, আলোচনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জ্বালানি, অবকাঠামো, জনশক্তি, হালাল শিল্প, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রতিরক্ষা, ডিজিটাল অর্থনীতি এবং সেমিকন্ডাক্টরসহ বিভিন্ন উচ্চমূল্যের খাত স্থান পেয়েছে।   দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির বিষয়কে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি’ নিয়ে আলোচনা এগিয়ে নিতে একমত হয়েছে। বাংলাদেশে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ এবং বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি মালয়েশিয়ার ব্যবসায়ীদের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।   রাজনৈতিক প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত সংসদীয় নির্বাচনে বিএনপি শক্তিশালী ম্যান্ডেট লাভ করেছে। তিনি বলেন, “জনগণের বিপুল সমর্থনে আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে এনেছি। আমাদের এখনকার অগ্রাধিকার হলো কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করা।”   বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।   তারেক রহমান বলেন, বৈঠকে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে। বাংলাদেশ আসিয়ানের সঙ্গে আরও নিবিড় যোগাযোগ চায় এবং ‘আসিয়ান সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আরসিইপিতে যোগ দিতে আগ্রহী বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে মালয়েশিয়ার সমর্থনের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী।   উভয় প্রধানমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে মতবিনিময় করেন। তারেক রহমান বলেন, “আমরা জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতিত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন করায় আমি মালয়েশিয়াকে ধন্যবাদ জানাই।”   দ্বিপাক্ষিক দলিল স্বাক্ষরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে। তিনি বলেন, “আমি আত্মবিশ্বাসী যে আজকের আলোচনা বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচনা করবে। আমরা আঞ্চলিক শান্তি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার জন্য নিবিড়ভাবে কাজ করতে উন্মুখ।”   বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী ১৯৭৯ সালের এপ্রিলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মালয়েশিয়া সফরের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ওই সফর রাজনৈতিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করেছিল এবং দুই দেশের শ্রম সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করেছিল। এ ছাড়া ১৯৯৩ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মালয়েশিয়া সফরের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সফর দুই দেশের বন্ধুত্বকে আরও গভীর করেছিল এবং সহযোগিতার পরিধি বাড়িয়েছিল।   তারেক রহমান জানান, ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম যে কয়েকটি ফোনকল তিনি পেয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের ফোন।   তিনি বলেন, “তিনি আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন এবং মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি তাঁর আমন্ত্রণ গ্রহণ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমার প্রথম বিদেশ সফরে এখানে আসতে পেরে আমি ও আমার স্ত্রী অত্যন্ত আনন্দিত।”   প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও তার স্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান তারেক রহমান। মালয়েশিয়াকে বাংলাদেশের একটি বিশ্বস্ত ও দীর্ঘস্থায়ী অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি দেশটির সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ জানান।   দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলে ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, শিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।   সংবাদ সম্মেলনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, ডা. জোবায়দা রহমান এবং বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল আনোয়ার ইব্রাহিমের সরকারি বাসভবন ‘সেরি পারদানা কমপ্লেক্স’-এ রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন। সেখানে মালয়েশিয়ার শিল্পীরা বাংলা ও মালয় ভাষায় গানসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।   এর আগে সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ‘পারদানা পুত্রা’য় পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আনোয়ার ইব্রাহিম এবং তার স্ত্রী দাতুক সেরি ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইল তাকে স্বাগত জানান। মালয়েশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়।   পরে উভয় প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ মন্ত্রিসভার সদস্য ও কর্মকর্তাদের একে অপরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার রাতে কুয়ালালামপুর পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

ছবি: রয়টার্স
কাতারের রাস লাফান গ্যাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮

কাতারের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনাল রাস লাফানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) রাতে যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির পর টার্মিনালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রচেষ্টার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।   রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এ বিস্ফোরণের ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক দেশ কাতার। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় কাতার তার আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে দেশটি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।   যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায় ইরান পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাতার পুনরায় রপ্তানি টার্মিনাল চালুর কাজ শুরু করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, রোববার রাতে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   বিস্ফোরণে কী পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বেশি হতাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ হিসাবে ৫৪ জন আহত এবং ১৮ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে।   বারজান প্ল্যান্টে দৈনিক প্রায় ১৪০ কোটি স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট বিক্রয়যোগ্য গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণমুক্ত পানি উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনায় এ গ্যাস ব্যবহার করে থাকে।   প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের হাতে রয়েছে। এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফান এলাকায় আঘাত হানে। এতে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও হামলার কারণে এর আগেই সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছিল কাতার। সর্বশেষ টার্মিনালটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগের মধ্যেই নতুন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।  

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে আরও কঠোর হামলার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হলেও মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। বরং আলোচনার টেবিল বসার মধ্যেই নতুন করে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। লেবাননে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে তেহরান ব্যর্থ হলে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, লেবাননে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোকে অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে ইরান কার্যকর পদক্ষেপ নিতে না পারলে যুক্তরাষ্ট্র আরও শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে। ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এই আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।   তবে আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলেছে লেবাননের চলমান পরিস্থিতি। গত কয়েক দিনে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে সংঘর্ষ বৃদ্ধি পাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনায় উঠে এসেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার পূর্ব ও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হন। পরে সন্ধ্যার দিকে সংঘর্ষ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হতে শুরু করে।   এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। সেখানে লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং বৈরিতা হ্রাসে উভয় পক্ষ নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় সুইজারল্যান্ডে চলমান বৈঠককে সম্ভাবনাময় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছিল।   আলোচনা শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন। ভ্যান্স আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লেবাননের সংঘাত নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।   বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যখন ওয়াশিংটন ও তেহরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ের সংঘাত ও রাজনৈতিক চাপ আলোচনার ভবিষ্যৎকে অনিশ্চিত করে তুলতে পারে। বিশেষ করে লেবানন ইস্যুতে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে চলমান শান্তি প্রক্রিয়া নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।   এখন নজর রয়েছে সুইজারল্যান্ডের আলোচনার ফলাফলের দিকে। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর এই সংলাপ মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার সুযোগ তৈরি করবে নাকি নতুন করে উত্তেজনা বাড়বে, তা সময়ই বলে দেবে।   সূত্র: এএফপি

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ছবি: রয়টার্স
কাতারের রাস লাফান গ্যাস টার্মিনালে বিস্ফোরণ, আহত ৫৪; নিখোঁজ ১৮
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ৪:১৪

কাতারের অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি টার্মিনাল রাস লাফানে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২১ জুন) রাতে যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির পর টার্মিনালটির কার্যক্রম পুনরায় চালুর প্রচেষ্টার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫৪ জন আহত হয়েছেন এবং আরও ১৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন।   রাস লাফান শিল্পাঞ্চলে সংঘটিত এ বিস্ফোরণের ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদক দেশ কাতার। যুদ্ধ চলাকালে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ জোরদার করায় কাতার তার আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের কাছে গ্যাস সরবরাহ করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে দেশটি উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়।   যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চলমান থাকায় ইরান পরবর্তীতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাতার পুনরায় রপ্তানি টার্মিনাল চালুর কাজ শুরু করে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান কাতারএনার্জি জানিয়েছে, রোববার রাতে পুনরায় কার্যক্রম শুরুর কাজ চলাকালে বারজান গ্যাস সরবরাহ স্থাপনায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।   বিস্ফোরণে কী পরিমাণ অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, অল্প কয়েকজন আহত হয়েছেন। তবে কয়েক ঘণ্টা পর কাতারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বেশি হতাহত হওয়ার তথ্য প্রকাশ করে। সর্বশেষ হিসাবে ৫৪ জন আহত এবং ১৮ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানানো হয়েছে।   বারজান প্ল্যান্টে দৈনিক প্রায় ১৪০ কোটি স্ট্যান্ডার্ড ঘনফুট বিক্রয়যোগ্য গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। কাতার মূলত স্থানীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং আরব উপদ্বীপের মরুভূমি অঞ্চলে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ লবণমুক্ত পানি উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনায় এ গ্যাস ব্যবহার করে থাকে।   প্ল্যান্টটির প্রায় পুরো মালিকানাই কাতারের হাতে রয়েছে। এর একটি ছোট অংশের মালিক যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক তেল কোম্পানি এক্সনমোবিল। তবে বিস্ফোরণের ঘটনায় মন্তব্যের অনুরোধে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।   কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত মার্চ মাসে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র রাস লাফান এলাকায় আঘাত হানে। এতে আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও হামলার কারণে এর আগেই সেখানে উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত করেছিল কাতার। সর্বশেষ টার্মিনালটি পুনরায় সচল করার উদ্যোগের মধ্যেই নতুন এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটল।  

ছবি: রয়টার্স
দুই ইস্যুতে ‘ব্যর্থ’, তাই পদত্যাগ করবেন স্টারমার: দাবি ট্রাম্পের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ৪:২

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিতে ব্যর্থতার কারণে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শিগগিরই পদত্যাগ করবেন। এমন এক সময় তিনি এ মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্টারমারের সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে জোর আলোচনা চলছে।   রোববার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “কিয়ার স্টারমার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন।” তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্য বা সূত্র উল্লেখ করেননি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে শেষবারের মতো ট্রাম্প ও স্টারমারের সাক্ষাৎ হয়। এরপর দুই নেতার মধ্যে আর কোনো যোগাযোগ হয়নি বলে জানা গেছে।   স্টারমারের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, দুটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। ট্রাম্পের ভাষায়, “অভিবাসন ও জ্বালানি—এই দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।” একই পোস্টে তিনি উত্তর সাগরে নতুন করে তেল উত্তোলনের অনুমতি দেওয়ার আহ্বানও জানান।   দীর্ঘদিন ধরেই উত্তর সাগরে নতুন তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের লাইসেন্স ইস্যুতে ব্রিটিশ সরকারের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়েও তিনি একাধিকবার সমালোচনা করেছেন।   একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে কার্যকর সম্পর্ক বজায় রাখার কারণে স্টারমারকে ‘ট্রাম্প হুইস্পারার’ বলেও আখ্যায়িত করা হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে স্পষ্ট দূরত্ব তৈরি হয়েছে।   স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন। শুক্রবার স্টারমার বলেছিলেন, “এখনও অনেক কাজ বাকি, আর আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।”   এদিকে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যমন্ত্রী পিটার কাইল বলেন, স্টারমার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে ভাবছেন। তিনি বলেন, “দেশের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, প্রধানমন্ত্রী সেটিই করবেন।”   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোতে জোর গুঞ্জন রয়েছে, সোমবার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন ম্যানচেস্টারের বিদায়ী মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি সম্প্রতি একটি উপনির্বাচনে উল্লেখযোগ্য জয় পেয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে সুইজারল্যান্ডে পৌঁছানোর পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ছবি: এপি
ইরানের তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অবমুক্ত হচ্ছে আটকে থাকা সম্পদের অংশ: আরাগচি
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ৩:১২

সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠকের প্রথম দফা শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি দাবি করেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশে আটকে থাকা ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পদের একটি অংশও অবমুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।   রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি বলেন, ইরানের জন্য একটি বড় পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, বিদেশে আটকে থাকা ইরানি সম্পদের একটি অংশ ছাড় করা হয়েছে।   তবে অবমুক্ত করা সম্পদের পরিমাণ কিংবা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিস্তারিত বিষয়ে তিনি কোনো তথ্য দেননি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে যোগাযোগ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।   এর আগে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানি প্রতিনিধি দলের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা হোসেইন গোরবানজাদেহ বলেছেন, ইরানের তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞায় সাময়িক ছাড় দেওয়ার খসড়া চুক্তি ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়েছে।   এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি আরও দাবি করেন, পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় লেবানন যুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।   তিনি বলেন, তাদের সামনে এখন প্রথম বড় পরীক্ষা হতে যাচ্ছে লেবানন ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’। মধ্যস্থতাকারী কাতার ও পাকিস্তানের ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এই সেল গঠনে সম্মত হয়েছে। লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এদিকে মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার ও পাকিস্তান এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, সদ্য সমাপ্ত আলোচনাটি ইতিবাচক ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং এতে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হয়েছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার ওপর রাজনৈতিক তদারকি বজায় রাখতে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনে ওয়াশিংটন ও তেহরান সম্মত হয়েছে। প্রধান আলোচকরা নিয়মিত এই কমিটিকে অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করবেন।   এ ছাড়া পারমাণবিক ইস্যু, নিষেধাজ্ঞা এবং সমঝোতা স্মারকের বাস্তবায়ন তদারকির জন্য একটি মনিটরিং ও বিরোধ নিষ্পত্তি গ্রুপ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।   যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে উভয় পক্ষ রূপরেখায় একমত হয়েছে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে চলতি সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে বাকি অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত থাকবে।   লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের সহায়তায় লেবাননকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ গঠনেও সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার গভীর রাত পর্যন্ত প্রায় বিরতিহীনভাবে আলোচনা চলে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধি দলে ছিলেন হোয়াইট হাউসের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।   তবে বৈঠক শুরুর সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল এবং ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের প্রতি একাধিক কঠোর বার্তা দেন।   ইরানি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেন এবং বৈঠকেও বিষয়টি উত্থাপন করেন। তাদের দাবি, ট্রাম্পের বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের প্রথম অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। ওই অনুচ্ছেদে আলোচনা চলাকালে কোনো পক্ষ অপর পক্ষকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিতে পারবে না বলে উল্লেখ রয়েছে।   বৈঠকে অংশ নেওয়া সাংবাদিকদের ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রতিবাদে তারা আলোচনাস্থল ত্যাগ করবেন। তবে মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র এবং একজন মার্কিন কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, বাস্তবে তা ঘটেনি এবং দিনভর আলোচনা অব্যাহত ছিল।   মধ্যস্থতাকারী একটি দেশের সূত্র জানিয়েছে, লেবানন ইস্যুতে আলোচনা ছিল বেশ কঠিন ও দীর্ঘ। একজন মার্কিন কূটনীতিক অ্যাক্সিওসকে বলেন, বৈঠকের প্রধান গুরুত্ব ছিল সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এবং সেটি বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের অবস্থানও আলোচনায় এসেছে।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখতে হবে। এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই কূটনীতিক আরও বলেন, আলোচনার অগ্রগতিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিরা সন্তুষ্ট। মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষের মতপার্থক্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন এবং প্রথম দফার আলোচনা ভবিষ্যতে পারস্পরিক আস্থা গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি করেছে।

তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে ইউরোপ, ভাঙতে পারে জুনের সব রেকর্ড
তীব্র তাপপ্রবাহে জ্বলছে ইউরোপ, ভাঙতে পারে জুনের সব রেকর্ড
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২২, ২০২৬ ২:৩৬

জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবে ইউরোপজুড়ে আবারও তীব্র তাপপ্রবাহ আঘাত হেনেছে। মহাদেশটির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই অস্বাভাবিক গরম পরিস্থিতি জুন মাসের আগের সব তাপমাত্রার রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আবহাওয়াবিদেরা।   ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি, বেলজিয়ামসহ একাধিক দেশে ইতোমধ্যে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কোথাও জনসমাগমে মদ্যপান নিষিদ্ধ, কোথাও আবার ক্রীড়া আয়োজন স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন কর্তৃপক্ষ।   গত মে মাসেই ইউরোপের কয়েকটি দেশে রেকর্ড তাপপ্রবাহ দেখা গিয়েছিল। তার এক মাস না পেরোতেই আবারও চরম আবহাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে অঞ্চলটি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আগামী কয়েক দিনে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে।   বিজ্ঞানীদের মতে, এমন ঘন ঘন তাপপ্রবাহ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি প্রভাব। জীবাশ্ম জ্বালানি—বিশেষ করে কয়লা, তেল ও গ্যাসের অতিরিক্ত ব্যবহারই এর প্রধান কারণ। ভবিষ্যতে এ ধরনের তাপপ্রবাহ আরও দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।   ফ্রান্সে রোববার তাপপ্রবাহের কারণে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি থাকা এলাকাগুলোতে জনসমাগমে মদ্যপান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী ‘ফেত দে লা মিউজিক’ উৎসব চললেও প্যারিসের ল্যুভর পিরামিডের নিচে একটি বড় কনসার্ট বাতিল করা হয়েছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পিসোস শহরে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ইতোমধ্যে দেশের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল ‘রেড অ্যালার্ট’-এর আওতায় আনা হয়েছে।   জার্মানির রাজধানী বার্লিনেও তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রির ওপরে ওঠে। তীব্র বজ্রঝড়ের কারণে বার্লিন ওপেন টেনিস টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। নিরাপত্তার জন্য দর্শক ও খেলোয়াড়দের সরিয়ে নেওয়া হয়।   বেলজিয়ামে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে এবং আগামী সপ্তাহে দেশটিতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদেরা। প্রচণ্ড গরমে রেল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় কিছু ট্রেন চলাচল বাতিল করেছে দেশটির রেল কর্তৃপক্ষ।   স্পেনে চলতি বছরের প্রথম আনুষ্ঠানিক তাপপ্রবাহ ঘোষণা করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে। গরমের কারণে মাদ্রিদে বিশ্বকাপ ফুটবল ম্যাচের সরাসরি প্রদর্শনী বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্পেন ও পর্তুগালের সমুদ্রসৈকতগুলোতে মানুষের ভিড় বেড়েছে।   সুইজারল্যান্ডেও তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। নিম্নাঞ্চলে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।   বলকান অঞ্চলের কয়েকটি দেশে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারির প্রস্তুতি চলছে। ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, বসনিয়া ও আশপাশের এলাকাগুলোতে তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি ছাড়ানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জনগণকে পর্যাপ্ত পানি পান এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে।   অন্যদিকে যুক্তরাজ্যেও চরম গরমের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। দেশটির কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা জুন মাসের আগের রেকর্ড ভেঙে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, রাতেও তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেশি থাকবে—যাকে ‘ট্রপিক্যাল নাইটস’ বলা হয়।   রয়্যাল মেটিওরোলজিক্যাল সোসাইটির প্রধান নির্বাহী লিজ বেন্টলি বলেন, এ সপ্তাহে যুক্তরাজ্যে নজিরবিহীন তাপপ্রবাহ দেখা দিতে পারে। একইসঙ্গে ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের গবেষক অক্ষয় দেওরাস সতর্ক করেছেন, এই তাপপ্রবাহ জনস্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও জরুরি সেবায় বড় চাপ সৃষ্টি করতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপের এই পরিস্থিতি শুধু একটি মৌসুমি ঘটনা নয়; বরং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট সংকেত। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।   সূত্র: এএফপি

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
561 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
474 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
571 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
424 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়