সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোকেন চক্র, ১৩ শিক্ষার্থীসহ এক অভিভাবক অভিযুক্ত I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোকেন চক্র, ১৩ শিক্ষার্থীসহ এক অভিভাবক অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল কোকেন পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং একজন অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীর বাবা।   পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নথিতে এই ১৪ জনের বিরুদ্ধে কোকেন সরবরাহ, বিতরণ থেকে শুরু করে তা ওজন করা, প্যাকেটজাত করা এবং গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।   তদন্তে জানা গেছে, এই মাদক চক্রটি মূলত ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেল্টা আপসিলন’ এবং ‘সিগমা চি’ নামের দুটি ফ্র্যাটার্নিটি (শিক্ষার্থী সংগঠন) হাউস থেকে পরিচালিত হতো। অগস্টিনো আবাতিয়েল্লো এবং থমাস রবিনসন নামের দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন।   তারা নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন সংগ্রহ করে ফ্র্যাটার্নিটি হাউসগুলোতে আনতেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই চক্রের নতুন সদস্যদের ফ্র্যাটার্নিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার (হাজিং বা র‍্যাগিং) শর্ত হিসেবে জোরপূর্বক কোকেন কাটা ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহার করা হতো।   অভিযুক্তদের মধ্যে আবাতিয়েল্লো, থমাস রবিনসন, মোহাম্মদ হুরাবি ও লার্স জিপভ্যাট নামের চারজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। রবার্ট জানোল্লা নামের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।   বাকি আট শিক্ষার্থী—লিয়াম স্মিথ, মাইকেল ব্রোগনো, ক্যাডেন হাওয়ে, কনর হারলে, সেথ বিয়ার্ডসলি, কাইল রিডপাথ, ড্যানিয়েল প্রাইস এবং চার্লস ওয়াইজম্যানের বিরুদ্ধে মাদক রাখা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বহনের মতো তুলনামূলক লঘু (মিসডিমিনর) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া থমাস রবিনসনের বাবা পল রবিনসনের (যিনি পেশায় একজন আইনজীবী) বিরুদ্ধে মাদক ও নগদ অর্থভর্তি একটি সিন্দুক লুকিয়ে রাখা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ১৪ জনকেই নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া হবে। পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ফ্র্যাটার্নিটিগুলোকে নিষিদ্ধ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

২২ মিনিট Ago
২০ বছর বয়সী আইনের ছাত্র লাইথ আলানিকে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর গ্যাটউইক ফেরত পাঠানোর একটি ফ্লাইটে তুলে দেওয়া হয়। ছবি: সারাহ লি/দ্য গার্ডিয়ান
মুসলিম হওয়ার কারণে, বৈধ ভিসা থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হলো ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে

বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। লাইথ আলানি নামের ২০ বছর বয়সী ওই তরুণের অভিযোগ, কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের বাসিন্দা এই আইন বিভাগের শিক্ষার্থী থিম পার্ক পরিদর্শন ও ক্যালিফোর্নিয়ায় আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে এক সপ্তাহের জন্য আড়াই হাজার পাউন্ড খরচ করে ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন।   কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) তাকে ৯ ঘণ্টা ধরে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আরও ১৪ ঘণ্টা একটি হোল্ডিং সেলে আটকে রাখে। শেষ পর্যন্ত তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে তাকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।   আলানির অভিযোগ, বিমানবন্দরে তাকে রীতিমতো অপহরণের মতো মানসিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, হার্টের সমস্যা এবং অটিজমে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তারা তাকে হাতকড়া পরানোর হুমকি দিয়ে একটানা জেরা করে গেছেন। জেরার সময় তার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, ব্যক্তিগত শখ এবং ভ্রমণের ইতিহাস নিয়ে নানা অবান্তর প্রশ্ন করা হয়।   এর আগে ইরাকে ভ্রমণের কারণে তার দ্রুতগতির ইএসটিএ (ESTA) ভিসা বাতিল হলেও তাকে ১০ বছর মেয়াদি মাল্টি-এন্ট্রি পর্যটক ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সময় জোরপূর্বক এমন একটি নথিতে সই নেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।   অন্যদিকে, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) দাবি করেছে যে, আলানির ভ্রমণ ইতিহাসের মধ্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়ায় তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জাতিগত বা ধর্মীয় কারণে হয়রানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী ফ্লাইট পেতে দেরি হওয়ার কারণেই তাকে এত দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখা হয়েছিল।   তবে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে মুসলিম পর্যটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত ও হয়রানি করার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীকে কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করেছে এবং এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি অ্যানেলিজ ডডস ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

১ ঘন্টা Ago
নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে এসইউভি (SUV) গাড়ি পড়ে অ্যালিসন রহমানি (৪০) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ও চার সন্তানের জননীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’র শিকার হয়েছিলেন তিনি।   এর ফলেই তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার হিউলেট এলাকায় নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ডুবন্ত গাড়ি থেকে অ্যালিসন নিজেই ৯১১ নম্বরে কল করে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।   পুলিশ এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কারণ দেখছে না, তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। সদ্য নিজের ৪০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করা অ্যালিসন ছিলেন হিব্রু অ্যাকাডেমির গণিত বিষয়ক কোঅর্ডিনেটর। রবিবার এক আবেগঘন পরিবেশে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।   হৃদয়বিদারক কাকতালীয় বিষয় হলো, এদিনই স্বামী ম্যাথিউ রহমানির সঙ্গে রোমান্টিক ছুটি কাটাতে তার প্যারিস যাওয়ার কথা ছিল। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শোকাহত স্বামী ম্যাথিউ ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের প্রার্থনা ‘উইমেন অব ভ্যালর’ পাঠ করে প্রিয় স্ত্রীকে স্মরণ করেন।   অন্যদিকে, অ্যালিসনের মা র‍্যাচেল রোহডে কান্নায় ভেঙে পড়ে উপস্থিত সবাইকে বলেন, “আমরা একেবারে ভেঙে পড়েছি, আমাদের জীবন আর কখনোই আগের মতো হবে না।”

১ ঘন্টা Ago
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর I ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন। আগস্ট মাসের তুলনায় এফ ১, এফ ২বি, এফ ৩ এবং এফ ৪ ক্যাটাগরিতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট এক থেকে প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত এগিয়েছে।   ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে না থাকলেও ‘অল চার্জেবিলিটি এরিয়াস’ কলামের আওতায় এই অভাবনীয় অগ্রগতি দেশের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। নতুন বুলেটিন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকদের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ১ ক্যাটাগরি প্রায় ১৩ মাস এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি হয়েছে।   অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের এফ ২এ ক্যাটাগরি এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে আগে থেকেই ‘কারেন্ট’ অবস্থায় রয়েছে।   সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের এফ ৩ ক্যাটাগরিতে। এক মাসের ব্যবধানে এই ক্যাটাগরি প্রায় দুই বছর পাঁচ মাস এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর।   এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ভাইবোনদের জন্য নির্ধারিত এফ ৪ ক্যাটাগরি দুই বছর এক মাসেরও বেশি এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে এবং গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ২বি ক্যাটাগরি ১৯ মাসের বেশি এগিয়ে ২০১৯ সালের ২২ আগস্টে পৌঁছেছে।   তবে এত বড় অগ্রগতির পরও এফ ৪ ও এফ ৩ ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যথাক্রমে প্রায় ১৫ ও ১২ বছরের পুরোনো প্রায়োরিটি ডেট নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   সার্বিকভাবে এই বুলেটিনে বাংলাদেশ ও চীনের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছেন। ভারতের প্রথম চারটি ক্যাটাগরির অগ্রগতি বাংলাদেশের সমান হলেও ভাইবোনের এফ ৪ ক্যাটাগরিতে তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর পিছিয়ে রয়েছে।   মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাদের অধিকাংশ ক্যাটাগরি প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের বাবা-মায়েরা ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ হওয়ায় তারা বার্ষিক ভিসাসীমার বাইরে থাকেন, ফলে তাদের ক্ষেত্রে ভিসা বুলেটিনের এই কাট-অফ ডেটগুলোর কোনো প্রভাব পড়বে না।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় বাংলাদেশিদের সুখবর, এগোল আড়াই বছর

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্যামিলি বেইজড গ্রিন কার্ডের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে ইউএস স্টেট ডিপার্টমেন্ট প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালের ভিসা বুলেটিন। আগস্ট মাসের তুলনায় এফ ১, এফ ২বি, এফ ৩ এবং এফ ৪ ক্যাটাগরিতে ফাইনাল অ্যাকশন ডেট এক থেকে প্রায় আড়াই বছর পর্যন্ত এগিয়েছে।   ভিসা বুলেটিনে বাংলাদেশের নাম আলাদাভাবে না থাকলেও ‘অল চার্জেবিলিটি এরিয়াস’ কলামের আওতায় এই অভাবনীয় অগ্রগতি দেশের আবেদনকারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে। নতুন বুলেটিন অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিকদের ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ১ ক্যাটাগরি প্রায় ১৩ মাস এগিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি হয়েছে।   অন্যদিকে, গ্রিন কার্ডধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তানের এফ ২এ ক্যাটাগরি এক মাস এগিয়ে ২০২৬ সালের ২২ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ডেটস ফর ফাইলিং চার্টে আগে থেকেই ‘কারেন্ট’ অবস্থায় রয়েছে।   সবচেয়ে বড় চমক এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিবাহিত ছেলে-মেয়েদের এফ ৩ ক্যাটাগরিতে। এক মাসের ব্যবধানে এই ক্যাটাগরি প্রায় দুই বছর পাঁচ মাস এগিয়ে ২০১৪ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা বহু বাংলাদেশি পরিবারের জন্য এটি একটি অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক খবর।   এছাড়া প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকদের ভাইবোনদের জন্য নির্ধারিত এফ ৪ ক্যাটাগরি দুই বছর এক মাসেরও বেশি এগিয়ে ২০১১ সালের ২২ অক্টোবর হয়েছে এবং গ্রিন কার্ডধারীর ২১ বছরের বেশি বয়সী অবিবাহিত সন্তানদের এফ ২বি ক্যাটাগরি ১৯ মাসের বেশি এগিয়ে ২০১৯ সালের ২২ আগস্টে পৌঁছেছে।   তবে এত বড় অগ্রগতির পরও এফ ৪ ও এফ ৩ ক্যাটাগরিতে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য যথাক্রমে প্রায় ১৫ ও ১২ বছরের পুরোনো প্রায়োরিটি ডেট নিয়ে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   সার্বিকভাবে এই বুলেটিনে বাংলাদেশ ও চীনের আবেদনকারীরা সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি লাভ করেছেন। ভারতের প্রথম চারটি ক্যাটাগরির অগ্রগতি বাংলাদেশের সমান হলেও ভাইবোনের এফ ৪ ক্যাটাগরিতে তারা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ বছর পিছিয়ে রয়েছে।   মেক্সিকো ও ফিলিপাইনের ক্ষেত্রেও বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি, তাদের অধিকাংশ ক্যাটাগরি প্রায় স্থির অবস্থায় রয়েছে। উল্লেখ্য, মার্কিন নাগরিকদের স্বামী বা স্ত্রী, ২১ বছরের কম বয়সী অবিবাহিত সন্তান এবং প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের বাবা-মায়েরা ‘ইমিডিয়েট রিলেটিভ’ হওয়ায় তারা বার্ষিক ভিসাসীমার বাইরে থাকেন, ফলে তাদের ক্ষেত্রে ভিসা বুলেটিনের এই কাট-অফ ডেটগুলোর কোনো প্রভাব পড়বে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ১৫:৪২
মুসলিম হওয়ার কারণে, বৈধ ভিসা থাকার পরও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো হলো ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে

বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ ২৩ ঘণ্টা আটকে রাখার পর যুক্তরাষ্ট্র থেকে এক ব্রিটিশ-মুসলিম শিক্ষার্থীকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। লাইথ আলানি নামের ২০ বছর বয়সী ওই তরুণের অভিযোগ, কেবল মুসলিম হওয়ার কারণেই অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে।   যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডের বাসিন্দা এই আইন বিভাগের শিক্ষার্থী থিম পার্ক পরিদর্শন ও ক্যালিফোর্নিয়ায় আত্মীয়ের সঙ্গে দেখা করতে এক সপ্তাহের জন্য আড়াই হাজার পাউন্ড খরচ করে ফ্লোরিডায় গিয়েছিলেন।   কিন্তু সেখানে পৌঁছানোর পর মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) তাকে ৯ ঘণ্টা ধরে একটানা জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং আরও ১৪ ঘণ্টা একটি হোল্ডিং সেলে আটকে রাখে। শেষ পর্যন্ত তার ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট তল্লাশি করে তাকে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে যুক্তরাজ্যে ফেরত পাঠানো হয়।   আলানির অভিযোগ, বিমানবন্দরে তাকে রীতিমতো অপহরণের মতো মানসিক নিপীড়নের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ, হার্টের সমস্যা এবং অটিজমে আক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তারা তাকে হাতকড়া পরানোর হুমকি দিয়ে একটানা জেরা করে গেছেন। জেরার সময় তার আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী, ব্যক্তিগত শখ এবং ভ্রমণের ইতিহাস নিয়ে নানা অবান্তর প্রশ্ন করা হয়।   এর আগে ইরাকে ভ্রমণের কারণে তার দ্রুতগতির ইএসটিএ (ESTA) ভিসা বাতিল হলেও তাকে ১০ বছর মেয়াদি মাল্টি-এন্ট্রি পর্যটক ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর সময় জোরপূর্বক এমন একটি নথিতে সই নেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল তিনি স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের আবেদন প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।   অন্যদিকে, মার্কিন কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রটেকশন (সিবিপি) দাবি করেছে যে, আলানির ভ্রমণ ইতিহাসের মধ্যে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়ায় তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। জাতিগত বা ধর্মীয় কারণে হয়রানির অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করে সংস্থাটি জানিয়েছে, পরবর্তী ফ্লাইট পেতে দেরি হওয়ার কারণেই তাকে এত দীর্ঘ সময় হেফাজতে রাখা হয়েছিল।   তবে মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন জানিয়েছে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে মুসলিম পর্যটকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জেরা, ডিভাইস বাজেয়াপ্ত ও হয়রানি করার ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে ভুক্তভোগীকে কনস্যুলার সহায়তা প্রদান করেছে এবং এ বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এমপি অ্যানেলিজ ডডস ব্রিটিশ সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোকেন চক্র, ১৩ শিক্ষার্থীসহ এক অভিভাবক অভিযুক্ত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়ার পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল কোকেন পাচার চক্রের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৪ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৩ জনই ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থী এবং একজন অভিযুক্ত এক শিক্ষার্থীর বাবা।   পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত নথিতে এই ১৪ জনের বিরুদ্ধে কোকেন সরবরাহ, বিতরণ থেকে শুরু করে তা ওজন করা, প্যাকেটজাত করা এবং গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে।   তদন্তে জানা গেছে, এই মাদক চক্রটি মূলত ২০২৩ ও ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ডেল্টা আপসিলন’ এবং ‘সিগমা চি’ নামের দুটি ফ্র্যাটার্নিটি (শিক্ষার্থী সংগঠন) হাউস থেকে পরিচালিত হতো। অগস্টিনো আবাতিয়েল্লো এবং থমাস রবিনসন নামের দুই জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে কাজ করতেন।   তারা নিউইয়র্ক ও ফিলাডেলফিয়া থেকে বিপুল পরিমাণ কোকেন সংগ্রহ করে ফ্র্যাটার্নিটি হাউসগুলোতে আনতেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, এই চক্রের নতুন সদস্যদের ফ্র্যাটার্নিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার (হাজিং বা র‍্যাগিং) শর্ত হিসেবে জোরপূর্বক কোকেন কাটা ও প্যাকেটজাত করার কাজে ব্যবহার করা হতো।   অভিযুক্তদের মধ্যে আবাতিয়েল্লো, থমাস রবিনসন, মোহাম্মদ হুরাবি ও লার্স জিপভ্যাট নামের চারজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধ অপরাধ ও ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর (ফেলোনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। রবার্ট জানোল্লা নামের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধেও অপরাধমূলক যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে।   বাকি আট শিক্ষার্থী—লিয়াম স্মিথ, মাইকেল ব্রোগনো, ক্যাডেন হাওয়ে, কনর হারলে, সেথ বিয়ার্ডসলি, কাইল রিডপাথ, ড্যানিয়েল প্রাইস এবং চার্লস ওয়াইজম্যানের বিরুদ্ধে মাদক রাখা ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জাম বহনের মতো তুলনামূলক লঘু (মিসডিমিনর) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া থমাস রবিনসনের বাবা পল রবিনসনের (যিনি পেশায় একজন আইনজীবী) বিরুদ্ধে মাদক ও নগদ অর্থভর্তি একটি সিন্দুক লুকিয়ে রাখা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।   অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে, আইন অনুযায়ী দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযুক্ত ১৪ জনকেই নির্দোষ বলে ধরে নেওয়া হবে। পেন স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ফ্র্যাটার্নিটিগুলোকে নিষিদ্ধ করে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।

গাজায়  মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়।   যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে।   গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।   খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।   হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।    পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না।   আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে।    এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।

নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না I কোলাজ: আমেরিকা বাংলা
নিউইয়র্কে সুইমিংপুলে গাড়ি পড়ে শিক্ষিকার মৃত্যু, ৯১১-এ ফোন করেও শেষ রক্ষা হলো না

যুক্তরাষ্ট্রের লং আইল্যান্ডে বাড়ির পেছনের সুইমিংপুলে এসইউভি (SUV) গাড়ি পড়ে অ্যালিসন রহমানি (৪০) নামে এক স্কুলশিক্ষিকা ও চার সন্তানের জননীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র নিউইয়র্ক পোস্টকে জানিয়েছে, গাড়ি চালানোর সময় হঠাৎ কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা ‘মেডিকেল ইমার্জেন্সি’র শিকার হয়েছিলেন তিনি।   এর ফলেই তিনি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন এবং ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ঘটে। গত শুক্রবার হিউলেট এলাকায় নিজেদের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, ডুবন্ত গাড়ি থেকে অ্যালিসন নিজেই ৯১১ নম্বরে কল করে সাহায্য চেয়েছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি; হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।   পুলিশ এই ঘটনার পেছনে কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা সন্দেহজনক কারণ দেখছে না, তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত এখনো অব্যাহত রয়েছে। সদ্য নিজের ৪০তম জন্মদিন উদ্‌যাপন করা অ্যালিসন ছিলেন হিব্রু অ্যাকাডেমির গণিত বিষয়ক কোঅর্ডিনেটর। রবিবার এক আবেগঘন পরিবেশে তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।   হৃদয়বিদারক কাকতালীয় বিষয় হলো, এদিনই স্বামী ম্যাথিউ রহমানির সঙ্গে রোমান্টিক ছুটি কাটাতে তার প্যারিস যাওয়ার কথা ছিল। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে শোকাহত স্বামী ম্যাথিউ ইহুদিদের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের প্রার্থনা ‘উইমেন অব ভ্যালর’ পাঠ করে প্রিয় স্ত্রীকে স্মরণ করেন।   অন্যদিকে, অ্যালিসনের মা র‍্যাচেল রোহডে কান্নায় ভেঙে পড়ে উপস্থিত সবাইকে বলেন, “আমরা একেবারে ভেঙে পড়েছি, আমাদের জীবন আর কখনোই আগের মতো হবে না।”

মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে দূরে রেখে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে শিশুদের পরিচয় করাচ্ছে চীনের বিশেষ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। ছবি: সংগৃহীত
জীবনের মূল্য শেখাতে সন্তানদের ‘কঠোর জীবনযাপনের ক্যাম্পে’ পাঠাচ্ছেন চীনা বাবা-মা

শহুরে জীবনের আরাম-আয়েশ থেকে সন্তানদের দূরে রেখে জীবনের কঠিন বাস্তবতা শেখাতে চীনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে ব্যতিক্রমী ধরনের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প। এসব ক্যাম্পে সন্তানদের মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট থেকে বিচ্ছিন্ন রেখে গ্রামের পরিবেশে কৃষিকাজ, কাঠ কাটা, পশুপাখির দেখাশোনা ও আলু খোঁড়ার মতো শারীরিক শ্রম করতে দেওয়া হচ্ছে।   চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সিচুয়ান, গুইঝো ও ইউনান প্রদেশে এ ধরনের ক্যাম্পের সংখ্যা বাড়ছে। শহরের শিশুদের গ্রামীণ জীবন ও কৃষিকাজের সঙ্গে পরিচিত করানো এবং পরিবার যে আরাম-সুবিধা দিয়ে তাদের বড় করছে, তার মূল্য বোঝানোই এসব কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য বলে আয়োজকেরা দাবি করছেন।   সাধারণ গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পের তুলনায় এসব কর্মসূচির ধরন বেশ কঠোর। শিশুদের ভোরে ঘুম থেকে উঠতে হয়। এরপর কৃষকদের দৈনন্দিন কাজের আদলে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে জমি থেকে আলু তোলা, সেই আলু বিক্রি করা, গাছের ছাল ছাড়ানো, কাঠ কাটা এবং গবাদিপশুকে খাবার দেওয়া।   কিছু ক্যাম্পে শিশুদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগও থাকে না। কাজের মাধ্যমে পয়েন্ট অর্জনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে কিছু কর্মসূচিতে। এসব পয়েন্ট দিয়ে প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন সামগ্রী সংগ্রহ করা যায়। তবে নির্ধারিত কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হলে শাস্তি হিসেবে শুধু সেদ্ধ আলু খেতে দেওয়া হয় এমন নিয়মের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   এই অভিজ্ঞতার জন্য বাবা-মাকেই উল্টো অর্থ পরিশোধ করতে হচ্ছে। কিছু ক্যাম্পে ১০ দিনের কর্মসূচির জন্য ৪ হাজার ইউয়ানের বেশি নেওয়া হয়। এক মাস পর্যন্ত চলা দীর্ঘ কর্মসূচির খরচ ১০ হাজার ইউয়ান ছাড়িয়ে যেতে পারে। অর্থাৎ সন্তানকে কৃষিকাজ ও কঠোর জীবনযাপনের অভিজ্ঞতা দিতে পরিবারগুলোকে কয়েক হাজার থেকে ১০ হাজারেরও বেশি ইউয়ান খরচ করতে হচ্ছে।   আয়োজকদের বক্তব্য, শহরের অনেক শিশু অর্থ উপার্জন কতটা কঠিন এবং দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় জিনিসের পেছনে কতটা শ্রম রয়েছে, তা বাস্তবে উপলব্ধি করতে পারে না। তাই তাদের সাময়িকভাবে এমন পরিবেশে পাঠানো হচ্ছে, যেখানে খাবার থেকে শুরু করে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস পেতেও শ্রম দিতে হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে অবশ্য এসব ক্যাম্প নিয়ে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। কিছু ভিডিওতে শিশুদের কান্না করতে এবং বাড়ি ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ কৃষিকাজের পরিবর্তে স্কুলের পড়াশোনায় ফিরে যেতে চাওয়ার কথাও বলেছে। কিছু কর্মসূচিতে সন্তানদের বাবা-মায়ের উদ্দেশে চিঠি লিখতেও বলা হয়। ক্যাম্প পরিচালনাকারীদের দাবি, এসব চিঠি ও ভিডিও দেখে অনেক বাবা-মা আবেগাপ্লুত হন এবং অন্যদেরও সন্তানদের এমন অভিজ্ঞতার জন্য পাঠাতে উৎসাহিত করেন।   তবে অভিজ্ঞতা নিয়ে অভিভাবকদের মত এক নয়। সিচুয়ানের গাও পদবির এক বাবা তার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভর্তি হওয়া মেয়েকে এমন একটি ক্যাম্পে পাঠিয়েছিলেন। তিনি জানান, মেয়ে কৃষিকাজ নিয়ে বারবার অভিযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত কাজটি উপভোগ করতে শুরু করে বলে তিনি অবাক হয়েছেন।   অন্যদিকে, সাংহাইয়ের এক মা তার সাত বছর বয়সী মেয়েকে ১০ দিনের কর্মসূচিতে পাঠিয়েছিলেন। তার ভাষ্য, ক্যাম্প শেষে মেয়ের অলসতা ও খাবার নিয়ে বাছবিচারের মতো পুরোনো অভ্যাস পুরোপুরি বদলায়নি। তবে মেয়েটি নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের গণ্ডির বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধরনের জীবন দেখার সুযোগ পেয়েছে এ বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখেছেন তিনি।   অন্য কিছু অভিভাবক দাবি করেছেন, আগে যারা সারাক্ষণ মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকত, ক্যাম্প থেকে ফিরে তাদের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেছে। আবার কেউ বলেছেন, ঘুম ও খাবারের পুরোনো অনিয়ম খুব দ্রুতই ফিরে এসেছে। ফলে এসব কর্মসূচি শিশুদের আচরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে পারছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।   এ নিয়েই এখন চীনে শিক্ষা ও অভিভাবকত্ব নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, শিশুদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কঠোর শারীরিক শ্রম করানো আসলেই কি তাদের দায়িত্বশীল ও আত্মনির্ভর করে তুলতে পারে? শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, অল্প সময়ের জন্য কঠোর পরিবেশে রেখে শিশুদের আচরণে পরিবর্তন দেখা গেলেও সেটি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। চাপের মধ্যে শিশুরা সাময়িকভাবে অনুগত বা অনুতপ্ত আচরণ করতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তনকে স্থায়ী মানসিক পরিবর্তন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   বিশেষজ্ঞদের আরও আশঙ্কা, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে অতিরিক্ত শ্রমে যুক্ত করলে উল্টো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একটি শিশুকে জীবনের বাস্তবতা শেখানোর জন্য শ্রমের সঙ্গে পরিচয় করানো যেতে পারে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার মাত্রা, নিরাপত্তা এবং শিশুর সম্মতির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।   এই প্রবণতার পেছনে চীনের প্রজন্মগত পরিবর্তনও আলোচনায় এসেছে। কয়েক দশক আগে চীনের অনেক পরিবার দারিদ্র্য ও কঠিন জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে বড় হয়েছে। তাদের একটি অংশ মনে করে, সেই কঠিন অভিজ্ঞতাই তাদের পরিশ্রমী ও দৃঢ় করে তুলেছিল। এখন তাদের সন্তানরা তুলনামূলক স্বচ্ছল পরিবেশে বড় হওয়ায় একই ধরনের দৃঢ়তা তাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে না—এমন উদ্বেগ থেকেই অনেক বাবা-মা সন্তানদের ‘কষ্টের অভিজ্ঞতা’ দিতে চাইছেন। তবে সমালোচকেরা বলছেন, সন্তানকে কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচিত করার দায়িত্ব শুধু অর্থের বিনিময়ে কোনো ক্যাম্পের হাতে তুলে দিলেই শেষ হয় না। পরিবারের দৈনন্দিন জীবন, দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়া, পরিশ্রমের মূল্য বোঝানো এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগও শিশুর মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   ফলে চীনের এই নতুন ধরনের ‘কষ্টের ক্যাম্প’ একদিকে যেমন সন্তানদের বাস্তব জীবনের সঙ্গে পরিচিত করানোর একটি অভিনব উদ্যোগ হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, অন্যদিকে শিশুদের ওপর অতিরিক্ত চাপ এবং এর দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষাগত ও মানসিক প্রভাব নিয়েও বিতর্ক বাড়ছে। আপাতত এ নিয়ে অভিভাবক, আয়োজক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
গাজায়  মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
গাজায় জীবিতদের আশ্রয় নেই, মৃতদেরও নেই শেষ ঠিকানা, ফুরিয়ে যাচ্ছে দাফনের জায়গাও
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৮:৫০

ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নিহতদের দাফনের জায়গাও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলা যুদ্ধে উপত্যকার ৪০টির বেশি কবরস্থান পুরোপুরি বা আংশিক ধ্বংস হয়েছে। ফলে অনেক পরিবারকে বাগান, তাঁবু, স্কুল, হাসপাতাল ও বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের মতো অস্থায়ী জায়গায় স্বজনদের দাফন করতে হচ্ছে। আলজাজিরার সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।   গাজার জেইতুন এলাকার ৪০ বছর বয়সী মোহাম্মদ আল-সাওহি গত ১০ জুন গুলিতে নিহত হন। তাঁর ছেলে ওমর বাবাকে দাফনের জন্য জেইতুন কবরস্থানে গেলে দেখতে পান, সেখানে নতুন কবর দেওয়ার মতো জায়গা প্রায় নেই। শেষ পর্যন্ত পরিবারের পুরোনো একটি কবরেই বাবাকে দাফন করতে হয়।   যুদ্ধের কারণে শুধু কবরের জায়গার সংকটই নয়, মৃতদের পরিচয় সংরক্ষণও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে কবরের ওপর পাথর, কাগজ বা ধ্বংস হওয়া ভবনের ইট-পাথর ব্যবহার করে মৃত ব্যক্তির নাম লেখা হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীর তীব্র সংকটের কারণে কোথাও কাদা ও ঢেউটিন দিয়েও অস্থায়ীভাবে কবর চিহ্নিত করা হচ্ছে।   গাজার ধর্মবিষয়ক কর্তৃপক্ষের হিসাবে, উপত্যকায় যুদ্ধের আগে প্রায় ৬০টি কবরস্থান ছিল। এর মধ্যে ৪০টির বেশি কবরস্থান ধ্বংস হয়েছে। ফলে যেসব কবরস্থান এখনো ব্যবহারযোগ্য, সেগুলোতেও দ্রুত জায়গা ফুরিয়ে যাচ্ছে। কবরস্থানে প্রবেশের ওপর বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধ থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।   খান ইউনিসের একটি কবরস্থানের কবরখোদক তাফেশ আবু হাতাব জানান, যুদ্ধের আগে সেখানে প্রায় ৬০টি কবর ছিল। এখন সেখানে কবরের সংখ্যা প্রায় ৬ হাজারে পৌঁছেছে। যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে তাকে দিনে প্রায় ৩৫টি পর্যন্ত কবর প্রস্তুত করতে হয়েছে।   হাসপাতালগুলোর প্রাঙ্গণও একপর্যায়ে অস্থায়ী দাফনস্থলে পরিণত হয়। গাজার কর্তৃপক্ষের হিসাবে, হাসপাতাল এলাকায় তৈরি সাতটি গণকবর থেকে ৫২৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যুদ্ধ ও অবরোধের কারণে অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এবং কিছু মরদেহ গণকবরেও দাফন করা হয়েছে। জাতিসংঘের একটি তদন্ত প্রতিবেদনেও গাজার হাসপাতাল এলাকায় ৫০০-এর বেশি মরদেহ গণকবরে পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।    পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ পেলেই অনেক পরিবার অস্থায়ী জায়গায় দাফন করা স্বজনদের মরদেহ তুলে স্থায়ী কবরস্থানে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে ধ্বংস হওয়া কবরস্থান, নতুন মরদেহের সংখ্যা এবং অনেক এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে সেই কাজও সহজ হচ্ছে না।   আলজাজিরার সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর গাজায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও অন্তত ১ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে গাজার কর্তৃপক্ষের তথ্য উদ্ধৃত করেছে সংবাদমাধ্যমটি। ফলে প্রতিদিনের প্রাণহানির সঙ্গে দাফনের জায়গার সংকটও আরও গভীর হচ্ছে।    এভাবে গাজায় যুদ্ধের প্রভাব শুধু জীবিত মানুষের বাসস্থান ও অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। ধ্বংস হচ্ছে কবরস্থানও, আর বহু পরিবার তাদের স্বজনদের শেষ ঠিকানাটুকু নিশ্চিত করতেও সংগ্রাম করছে।

গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
গাজায় হাসপাতালে হামলায় ৫ সাংবাদিক নিহত, তাদের একজন মরিয়ম আবু দাগ্গা
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৭:৪৪

গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় পাঁচ সাংবাদিকসহ অন্তত ২১ জন নিহত হন। নিহত সাংবাদিকদের একজন ছিলেন ৩৩ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক মরিয়ম আবু দাগ্গা, যিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার হয়ে কাজ করছিলেন।   ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট নাসের হাসপাতালে পরপর দুটি হামলা হয়। প্রথম হামলার পর সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে কয়েক মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় হামলা হয়। এতে সাংবাদিক ও উদ্ধারকর্মীদের মধ্যে হতাহতের ঘটনা ঘটে।   নিহত সাংবাদিকদের মধ্যে মরিয়ম আবু দাগ্গা ছাড়াও ছিলেন রয়টার্সের ক্যামেরাম্যান হুসাম আল-মাসরি, আলজাজিরার ক্যামেরাম্যান মোহাম্মদ সালামা এবং ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক মোয়াজ আবু তাহা ও আহমদ আবু আজিজ। হামলায় রয়টার্সের ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার হাতেম খালেদ আহত হন।   মরিয়ম গাজায় যুদ্ধের শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং শিশুদের অপুষ্টির চিত্র তুলে ধরছিলেন। হামলার কয়েক দিন আগেও নাসের হাসপাতালে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের নিয়ে তিনি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের জন্য প্রতিবেদন ও ছবি তৈরি করেছিলেন।   খান ইউনিসের বাসিন্দা মরিয়ম ছিলেন এক সন্তানের মা। যুদ্ধের কারণে নিরাপত্তার জন্য তার ১৩ বছর বয়সী ছেলে গাইথকে বাবার সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়েছিল। মরিয়ম নিজে গাজায় থেকে সাংবাদিকতা চালিয়ে যান।   তার সহকর্মীদের কাছে মরিয়ম পরিচিত ছিলেন গাজার মানুষের দুর্ভোগের ছবি তুলে ধরার জন্য। তিনি যুদ্ধের মধ্যে নাসের হাসপাতালকেই প্রায়ই সাংবাদিকতার অন্যতম ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করতেন।   হামলার পর অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্স যৌথভাবে ঘটনাটির স্বচ্ছ ব্যাখ্যা এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানায়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলেন।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী হামলার বিষয়টি স্বীকার করে জানিয়েছে, তারা সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা চালায় না এবং ঘটনায় কোনো অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হয়ে থাকলে তারা দুঃখিত। পরে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্তের কথা জানায়।   তবে ২০২৬ সালের ২৩ আগস্ট প্রকাশিত দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও ইন্ডিপেনডেন্ট আরাবিয়ার যৌথ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ভিডিও ও ছবির বিশ্লেষণের ভিত্তিতে হামলাটি নতুন করে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার ব্যাখ্যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের প্রমাণ থাকার দাবি করা হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নির্দিষ্ট অনুসন্ধান নিয়ে মন্তব্য না করে জানিয়েছে, তাদের পর্যালোচনা এখনো চলছে।   মরিয়মের মৃত্যু গাজায় সাংবাদিকদের জন্য তৈরি হওয়া ভয়াবহ পরিস্থিতিকেও সামনে এনেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও রয়টার্সের হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর অঞ্চলটিতে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী নিহতের সংখ্যা নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র
ইরানি হ্যাকারদের সাইবার হামলায় চার দিন বন্ধ ছিল যুক্তরাজ্যের বিদ্যুৎকেন্দ্র
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৪:৬

ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের একটি সাইবার হামলায় যুক্তরাজ্যের একটি ছোট বিদ্যুৎকেন্দ্র চার দিন বন্ধ ছিল বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ঘটনাটি গত মাসে ঘটলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে ২২ আগস্ট। এটিকে যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রথম সফল সাইবার হামলা হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।    তবে ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, আক্রান্ত স্থাপনাটি ছোট হওয়ায় এই হামলায় দেশটির সামগ্রিক বিদ্যুৎ সরবরাহ বা জাতীয় গ্রিডে কোনো প্রভাব পড়েনি। নিরাপত্তার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নামও প্রকাশ করা হয়নি।    প্রতিবেদন অনুযায়ী, হ্যাকাররা সাইবার হামলার মাধ্যমে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে সক্ষম হয়। কর্মীরা সিস্টেম পুনরায় চালু করতে কাজ করার পর প্রায় চার দিন পর কেন্দ্রটির কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।    ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি সেন্টার-কে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশটির জ্বালানি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হামলার বিষয়ে সতর্ক করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা দিয়েছে সরকার।    ব্রিটিশ কর্মকর্তারা সরাসরি হামলার জন্য ইরান সরকারকে দায়ী করে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি। তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের একাধিক প্রতিবেদনে ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকারদের এই হামলার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে।    ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো ইরান-সংশ্লিষ্ট সাইবার হামলার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে ইরানকে যুক্তরাজ্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ও অনির্দেশ্য রাষ্ট্রীয় হুমকির অন্যতম উৎস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।    এদিকে যুক্তরাজ্য সরকার বিদ্যুৎ খাতের সাইবার নিরাপত্তা আরও জোরদারের পরিকল্পনা করছে। সরকারের কৌশলপত্রে বিদ্যুৎ অবকাঠামোর বিরুদ্ধে     সফিস্টিকেটেড সাইবার অ্যাটাক প্রতিরোধ, দ্রুত শনাক্ত এবং হামলার পর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।    সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-হামলাটি জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো সংকট তৈরি না করলেও, একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থাপনার কার্যক্রম চার দিন বন্ধ করে দিতে সক্ষম হওয়া যুক্তরাজ্যের জ্বালানি অবকাঠামোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের
ব্রিটেনকে আবারও হুমকি পুতিনের, বেপরোয়া পদক্ষেপের আশঙ্কা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৩, ২০২৬ ৩:১২

ইউক্রেনকে ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলার অভিযোগের পর যুক্তরাজ্যকে আবারও ‘পরিণতি’ ভোগ করার হুমকি দিয়েছে মস্কো। এ নিয়ে রাশিয়া–ব্রিটেন উত্তেজনার মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, চাপের মুখে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আরও ঝুঁকিপূর্ণ কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন।    সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার গভীরে চালানো হামলায় ব্রিটিশ তৈরি ড্রোন ব্যবহার করেছে বলে খবর প্রকাশিত হয়। এর পরই লন্ডনে রুশ দূতাবাস অভিযোগ করে, যুক্তরাজ্য ইচ্ছাকৃতভাবে ইউক্রেন যুদ্ধের উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। তাদের হুঁশিয়ারি—সংঘাতে ব্রিটেনের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, দেশটির জন্য ‘মূল্য’ও তত বেশি হবে।    ব্রিটিশ তৈরি ড্রোনের মাধ্যমে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ যুক্তরাজ্য ইউক্রেনকে দীর্ঘপাল্লার অস্ত্র ও ড্রোনসহ সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার সামরিক শিল্প, জ্বালানি অবকাঠামো ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দূরপাল্লার হামলা বাড়িয়েছে।    তবে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম রাশিয়ার হুমকির জবাবে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইউক্রেনের পাশে ‘১০০ শতাংশ’ রয়েছে এবং রাশিয়ার হুমকির কারণে কিয়েভকে সমর্থন থেকে সরে আসবে না। ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, রাশিয়ার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।    রাশিয়ার হুমকি অবশ্য নতুন নয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ব্রিটেনের সামরিক সহায়তার প্রতিটি বড় ধাপের পর মস্কো বিভিন্ন ধরনের পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন—রাশিয়া যদি নিজেকে আরও কোণঠাসা ও মরিয়া মনে করে, তাহলে বেপরোয়া পদক্ষেপের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।    বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, ব্রিটেন সরাসরি সামরিক হামলার পাশাপাশি সাইবার হামলা, নাশকতা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাতের মতো হাইব্রিড হুমকির জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ। দেশটির বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও গ্যাস সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর একটি অংশ সমুদ্রের নিচের কেবলের ওপর নির্ভরশীল, যা নাশকতার লক্ষ্য হতে পারে।    এদিকে রাশিয়া ও ব্রিটেনের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কও আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিনও দায়িত্ব শেষে দেশ ছেড়েছেন এবং এখনো তার স্থলাভিষিক্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এতে দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।    অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, পুতিনের হুমকির অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে পশ্চিমা দেশগুলোকে ইউক্রেনের প্রতি সামরিক সহায়তা কমাতে চাপ দেওয়া। সরাসরি ব্রিটেনের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কা নিয়ে মতভেদ থাকলেও, রাশিয়ার সাইবার হামলা, নাশকতা ও অন্যান্য গোপন তৎপরতার ঝুঁকি যে বাস্তব—এ বিষয়ে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।   ফলে ইউক্রেনকে ব্রিটিশ সামরিক সহায়তা এবং রাশিয়ার পাল্টা হুমকিকে ঘিরে লন্ডন-মস্কো উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। সরাসরি সংঘাতে না গিয়েও এই পরিস্থিতি ইউরোপের নিরাপত্তা ও রাশিয়া-ন্যাটো সম্পর্কের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.17K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
952 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.07K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
923 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়