সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
নিউইয়র্কে বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মেয়র জোহরান মামদানি
জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নিউইয়র্কে মুখোমুখি ট্রাম্প-মামদানি, বৈঠক গ্রেসি ম্যানশনে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৈঠকে নিউইয়র্ক সিটি ও এর বাসিন্দাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় বা সময় সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়নি।   ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগে দুইবার সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার হোয়াইট হাউসে তাদের সাক্ষাৎ হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা বৈঠক করেন, যেখানে নিউইয়র্কের আবাসন উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   রাজনৈতিকভাবে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলেও আগের বৈঠকগুলোতে তাদের আলোচনার পরিবেশ ছিল তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক। ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। পরে অবশ্য মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।   ফেব্রুয়ারির বৈঠকে মামদানি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের আদলে তৈরি একটি বিশেষ পত্রিকার প্রথম পাতা উপহার দেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড’। ১৯৭৫ সালের আলোচিত ‘ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড’ শিরোনামের আদলে তৈরি করা ওই উপহার দিয়ে নিউইয়র্কে নতুন ফেডারেল আবাসন বিনিয়োগের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মামদানির সহযোগীরা জানিয়েছিলেন।   সোমবারের বৈঠকটি নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও মামদানির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। এর পর ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

১০ মিনিট Ago
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে—সিলিকন ভ্যালিতে চলমান এমন উদ্বেগ ও জল্পনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।   সম্প্রতি সিবিএস নিউজের সাংবাদিক জো লিং কেন্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এআই সংক্রান্ত সব ‘ডুমসডে ন্যারেটিভ’ বা বিশ্ব ধ্বংসের তত্ত্বকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। হুয়াং জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের কারণে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই এবং এর সম্ভাবনা একেবারে শূন্য শতাংশ। তিনি আরও যোগ করেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া অকারণে মানুষকে ভয় দেখানো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।   সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি ভাইরাল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের পর। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই ডেভেলপাররা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং দায়িত্বহীনভাবে সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার শামিল।   তাঁর এমন আশঙ্কার পর অ্যানথ্রপিক সিইও দারিও আমোদেউ এবং ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানসহ বেশ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা এআইয়ের উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানান। তবে জেনসেন হুয়াং এই ধরনের নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীকে ‘বিজ্ঞানসম্মত নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান এআই বিপ্লবে এনভিডিয়া অন্যতম প্রধান অংশীদার, যারা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ প্রায় সব বড় কোম্পানিকে তাদের মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহ করে থাকে।   এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো নীতিমালার বা ‘গার্ডরেইল’-এর প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতের সাথে সুর মিলিয়ে জানান যে, বর্তমান মার্কিন আইনই যথেষ্ট। সাইবার নিরাপত্তা, পণ্যের দায়বদ্ধতা এবং অননুমোদিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেই এআই খাতকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।   এনভিডিয়া সিইওর মতে, বিশ্ব ধ্বংসের মতো কাল্পনিক গল্পের দোহাই দিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করে তাদের বর্তমান আইনি কাঠামোর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।

১৪ মিনিট Ago
অবৈধ ভোটের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা
অবৈধ ভোট ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অ-মার্কিন নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করা এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।   ডিওজে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার মামলাগুলোর ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিভাগটি অবৈধভাবে মার্কিন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করেছে।   ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে বসবাসকারী আটজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আইডাহো, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, উইসকনসিন, নিউ জার্সি ও মিশিগানেও মামলা হয়েছে।   অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া। তদন্তে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি, তার জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে।   জর্জিয়ায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও ডিএসিএ সুবিধাভোগী অ্যানালিয়া মিলিসেন্ট একলেসের বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নয়বার ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।   আইডাহোতে বসবাসকারী মেক্সিকোর নাগরিক অ্যাভিলা গোমেজের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি এবং ২০২২ সালের মে ও ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও আনা হয়েছে।   নিউ জার্সিতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা সান্তানা কৌলিবালির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ২০১৮ ও ২০২০ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অস্থায়ী ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   নাইজেরিয়ার নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা গ্ল্যাডিস আদাইজে ওকাফোরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। ডিওজের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন।   ডিওজের ফ্রড বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এ পর্যন্ত ৫০ জন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আরও বড় পরিসরে তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টির বেশি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখের বেশি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।   তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবারের এসব মামলা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সব আসামিই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

২১ মিনিট Ago
শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় টিম কুক ও অ্যান্থনি আলবানিজ
অস্ট্রেলিয়ার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা নিয়ে টিম কুকের প্রশংসা, নজরে শিশুদের নিরাপত্তা

অস্ট্রেলিয়ার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞাসহ অনলাইন নিরাপত্তা উদ্যোগকে ‘বিশ্বসেরা’ বলে প্রশংসা করেছেন অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যান টিম কুক। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অ্যাপল পার্কে কুকের সঙ্গে বৈঠকের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এ কথা জানিয়েছেন।   রোববার অস্ট্রেলিয়ায় সম্প্রচারিত বক্তব্যে আলবানিজ বলেন, কুক তাকে যথেষ্ট সময় দিয়েছেন এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যে কাজ করছে, সেটিকে তিনি ‘বিশ্বসেরা’ হিসেবে দেখছেন। বৈঠকে শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা এবং নতুন প্রযুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়।   অস্ট্রেলিয়া গত ডিসেম্বরে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে। দেশটি এ ক্ষেত্রে বিশ্বের প্রথম এমন উদ্যোগ নেয়। চলতি মাসে অনলাইন নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে ব্যবহারকারীদের নিজেদের ফিডে কী ধরনের কনটেন্ট দেখতে চান, সে বিষয়ে আরও নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার পরিকল্পনাও এগিয়ে নিয়েছে সরকার।   বৈঠকে কুক আলবানিজকে অ্যাপলের নতুন কিছু নিরাপত্তা ফিচার দেখান। এসব ফিচারের মাধ্যমে অভিভাবকেরা সন্তানরা কী ধরনের কনটেন্ট দেখবে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করবে এবং কখন কোন অ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে—এসব বিষয় আরও সহজে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।   অ্যাপলের পক্ষ থেকেও কুকের বক্তব্যের বিষয়ে জানানো হয়েছে। কুক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, আলবানিজের সঙ্গে নতুন কিছু প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত এবং শিশুদের অনলাইনে নিরাপদ রাখতে শক্তিশালী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দেখানোর সুযোগ পেয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সফরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়েও কথা বলেছেন আলবানিজ। তার মতে, এআই প্রযুক্তি দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তাই এর ব্যবহারের জন্য একটি বৈশ্বিক কাঠামো প্রয়োজন এবং প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ মানুষের হাতেই থাকা উচিত। অস্ট্রেলিয়ার এই অবস্থান এআই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রণমূলক অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন।  

৩৭ মিনিট Ago
আমেরিকা
অবৈধ ভোট ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অবৈধভাবে ভোট দেওয়া ও নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৬ জনকে অভিযুক্ত করেছে দেশটির বিচার বিভাগ (ডিওজে)। অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন অ-মার্কিন নাগরিক। তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় নিজেদের মার্কিন নাগরিক হিসেবে দাবি করা এবং নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে।   ডিওজে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের কেউ কেউ ২০২২ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। শুক্রবার মামলাগুলোর ঘোষণা দেওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বিভাগটি অবৈধভাবে মার্কিন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার চেষ্টা না করার জন্য সতর্ক করেছে।   ডিওজের তথ্য অনুযায়ী, টেক্সাসে বসবাসকারী আটজন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এছাড়া আইডাহো, জর্জিয়া, ম্যাসাচুসেটস, উইসকনসিন, নিউ জার্সি ও মিশিগানেও মামলা হয়েছে।   অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অ-মার্কিন নাগরিক হয়েও ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়া, ভোটার হিসেবে নিবন্ধন বা ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করা এবং নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া। তদন্তে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্র জালিয়াতি, তার জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও সামনে এসেছে।   জর্জিয়ায় ভেনেজুয়েলার নাগরিক ও ডিএসিএ সুবিধাভোগী অ্যানালিয়া মিলিসেন্ট একলেসের বিরুদ্ধে ২০০৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নয়বার ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে ভোট দেওয়া এবং ভোট দেওয়ার সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।   আইডাহোতে বসবাসকারী মেক্সিকোর নাগরিক অ্যাভিলা গোমেজের বিরুদ্ধে ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের সময় মিথ্যাভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব দাবি এবং ২০২২ সালের মে ও ২০২৪ সালের নভেম্বরে ভোট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে তার জালিয়াতি, পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রসংক্রান্ত জালিয়াতি এবং আগ্নেয়াস্ত্র-সংক্রান্ত অভিযোগও আনা হয়েছে।   নিউ জার্সিতে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা সান্তানা কৌলিবালির বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন, ২০১৮ ও ২০২০ সালের ফেডারেল নির্বাচনে ভোট এবং ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অস্থায়ী ব্যালট দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নাগরিকত্ব পাওয়ার আবেদনে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   নাইজেরিয়ার নাগরিক ও বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা গ্ল্যাডিস আদাইজে ওকাফোরের বিরুদ্ধেও মামলা হয়েছে। ডিওজের অভিযোগ, তিনি ২০২২ সালের নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনেও ভোট দিয়েছেন।   ডিওজের ফ্রড বিভাগের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল কলিন এম. ম্যাকডোনাল্ড জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে এ পর্যন্ত ৫০ জন অ-মার্কিন নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভোট দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।   এদিকে, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে আরও বড় পরিসরে তদন্ত চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১ হাজার ৬২০টির বেশি মামলা তদন্তাধীন রয়েছে এবং ১৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ লাখের বেশি সন্দেহজনক ঘটনা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।   তবে বিচার বিভাগ জানিয়েছে, শুক্রবারের এসব মামলা কেবল অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত সব আসামিই আইনগতভাবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ১৭:১৪
এআই মানবসভ্যতা ধ্বংস করবে না, ‘ডুমসডে’ তত্ত্ব উড়িয়ে দিলেন এনভিডিয়া সিইও

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দ্রুত বিকাশ মানবসভ্যতার জন্য হুমকিস্বরূপ হতে পারে—সিলিকন ভ্যালিতে চলমান এমন উদ্বেগ ও জল্পনাকে পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জেনসেন হুয়াং।   সম্প্রতি সিবিএস নিউজের সাংবাদিক জো লিং কেন্টের সাথে এক সাক্ষাৎকারে তিনি এআই সংক্রান্ত সব ‘ডুমসডে ন্যারেটিভ’ বা বিশ্ব ধ্বংসের তত্ত্বকে ভিত্তিহীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। হুয়াং জোর দিয়ে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে এআইয়ের কারণে পৃথিবীর ধ্বংস হওয়ার কোনো আশঙ্কাই নেই এবং এর সম্ভাবনা একেবারে শূন্য শতাংশ। তিনি আরও যোগ করেন, বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমাণ ছাড়া অকারণে মানুষকে ভয় দেখানো সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ।   সম্প্রতি প্রযুক্তি জগতে এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয় অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি ভাইরাল এক্স (সাবেক টুইটার) পোস্টের পর। ওই পোস্টে তিনি দাবি করেছিলেন, শীর্ষস্থানীয় এআই ডেভেলপাররা অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এবং দায়িত্বহীনভাবে সুপারইন্টেলিজেন্স তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা মানুষের জীবন নিয়ে জুয়া খেলার শামিল।   তাঁর এমন আশঙ্কার পর অ্যানথ্রপিক সিইও দারিও আমোদেউ এবং ওপেনএআই সিইও স্যাম অল্টম্যানসহ বেশ কয়েকজন প্রযুক্তি নেতা এআইয়ের উন্নয়ন কিছুটা ধীর করার আহ্বান জানান। তবে জেনসেন হুয়াং এই ধরনের নেতিবাচক ভবিষ্যদ্বাণীকে ‘বিজ্ঞানসম্মত নয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। উল্লেখ্য, বর্তমান এআই বিপ্লবে এনভিডিয়া অন্যতম প্রধান অংশীদার, যারা ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকসহ প্রায় সব বড় কোম্পানিকে তাদের মডেল প্রশিক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় চিপ সরবরাহ করে থাকে।   এআই নিয়ন্ত্রণে নতুন কোনো নীতিমালার বা ‘গার্ডরেইল’-এর প্রয়োজন আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে হুয়াং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতের সাথে সুর মিলিয়ে জানান যে, বর্তমান মার্কিন আইনই যথেষ্ট। সাইবার নিরাপত্তা, পণ্যের দায়বদ্ধতা এবং অননুমোদিত প্রবেশাধিকার সংক্রান্ত বিদ্যমান আইনগুলো যথাযথভাবে প্রয়োগ করলেই এআই খাতকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।   এনভিডিয়া সিইওর মতে, বিশ্ব ধ্বংসের মতো কাল্পনিক গল্পের দোহাই দিয়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নতুন করে কড়াকড়ি আরোপ করে তাদের বর্তমান আইনি কাঠামোর দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি দেওয়া উচিত নয়।

জাতিসংঘ অধিবেশনের আগে নিউইয়র্কে মুখোমুখি ট্রাম্প-মামদানি, বৈঠক গ্রেসি ম্যানশনে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে শহরের মেয়র জোহরান মামদানির সঙ্গে বৈঠক করবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় সোমবার নিউইয়র্কের মেয়রের সরকারি বাসভবন গ্রেসি ম্যানশনে এই বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   মামদানির যোগাযোগ পরিচালক আনা বারের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বৈঠকে নিউইয়র্ক সিটি ও এর বাসিন্দাদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউসও বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে, তবে আলোচনার নির্দিষ্ট বিষয় বা সময় সম্পর্কে অতিরিক্ত তথ্য দেয়নি।   ট্রাম্প ও মামদানির মধ্যে এর আগে দুইবার সরাসরি বৈঠক হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবার হোয়াইট হাউসে তাদের সাক্ষাৎ হয়। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও তারা বৈঠক করেন, যেখানে নিউইয়র্কের আবাসন উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   রাজনৈতিকভাবে দুই নেতার অবস্থানের মধ্যে বড় পার্থক্য থাকলেও আগের বৈঠকগুলোতে তাদের আলোচনার পরিবেশ ছিল তুলনামূলকভাবে সহযোগিতামূলক। ২০২৫ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানিকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন। পরে অবশ্য মামদানি মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর ট্রাম্প তার সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেন।   ফেব্রুয়ারির বৈঠকে মামদানি ট্রাম্পকে নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজের আদলে তৈরি একটি বিশেষ পত্রিকার প্রথম পাতা উপহার দেন। সেখানে লেখা ছিল ‘ট্রাম্প টু সিটি: লেটস বিল্ড’। ১৯৭৫ সালের আলোচিত ‘ফোর্ড টু সিটি: ড্রপ ডেড’ শিরোনামের আদলে তৈরি করা ওই উপহার দিয়ে নিউইয়র্কে নতুন ফেডারেল আবাসন বিনিয়োগের সম্ভাব্য ইতিবাচক প্রভাব তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে মামদানির সহযোগীরা জানিয়েছিলেন।   সোমবারের বৈঠকটি নিউইয়র্কে ট্রাম্প ও মামদানির প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ হতে যাচ্ছে। এর পর ট্রাম্প জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

ইমরান খানের বোন আলিমা খানকে ঘিরে পাকিস্তানে রাজনৈতিক উত্তেজনা
ইমরান খানের বোনকে গ্রে প্তার, ২৭ সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের আগে পাকিস্তানে উত্তেজনা

যুক্তরাষ্ট্রের অনেক মানুষের ধারণা, স্বচ্ছন্দে অবসরজীবন কাটাতে প্রায় ১২ লাখ ডলার সঞ্চয় থাকা দরকার। চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত শ্রোডার্সের এক জরিপেও এমন তথ্য উঠে এসেছে। তবে অবসরের পর এই অর্থ কতদিন চলবে, তা অনেকটাই নির্ভর করে আপনি যুক্তরাষ্ট্রের কোন রাজ্যে বসবাস করছেন তার ওপর।   ব্যক্তিগত অর্থব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান মানিলায়ন ১২ লাখ ডলার অবসর সঞ্চয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যে একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি কত বছর চলতে পারবেন, তার একটি হিসাব করেছে। এতে দুটি পরিস্থিতি বিবেচনা করা হয়েছে—একটি ক্ষেত্রে অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রতি মাসে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা পাবেন, অন্য ক্ষেত্রে পাবেন না।   হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে কম খরচের রাজ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ওকলাহোমা। সেখানে ৬৭ বছর বয়সে অবসর নিলে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ৪৪ দশমিক ৬ বছর চলতে পারে। অর্থাৎ সঞ্চয় শেষ হতে পারে ১১১ বছর বয়সের কাছাকাছি গিয়ে। সোশ্যাল সিকিউরিটি না থাকলেও এই অর্থ সেখানে প্রায় ২৩ দশমিক ৪ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে।   এরপর রয়েছে আলাবামা, মিসিসিপি, কানসাস ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া। এসব রাজ্যে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ ১২ লাখ ডলার যথাক্রমে প্রায় ৪৩ দশমিক ১, ৪২, ৪০ দশমিক ৮ ও ৪০ দশমিক ৫ বছর চলতে পারে। ইন্ডিয়ানা, আইওয়া, মিসৌরি, টেনেসি ও আরকানসাসেও একই অর্থ তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় চলার হিসাব পাওয়া গেছে। টেনেসিতে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধাসহ প্রায় ৩৯ দশমিক ৭ বছর এবং সুবিধা ছাড়া প্রায় ২২ বছর চলতে পারে।   অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয়বহুল রাজ্যগুলোতে একই পরিমাণ অর্থ অনেক দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মানিলায়নের বিশ্লেষণে হাওয়াইকে সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবস্থানগুলোর একটি হিসেবে পাওয়া গেছে। সেখানে সোশ্যাল সিকিউরিটি সুবিধা থাকলেও ১২ লাখ ডলারের সঞ্চয় প্রায় ১৩ বছর চলার হিসাব করা হয়েছে। হাওয়াইয়ের পর ম্যাসাচুসেটস, ক্যালিফোর্নিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, আলাস্কা ও নিউইয়র্কেও অবসরের নির্দিষ্ট বাজেট তুলনামূলক দ্রুত শেষ হওয়ার হিসাব পাওয়া গেছে।   তবে ১২ লাখ ডলারের লক্ষ্যে পৌঁছানোও অনেক আমেরিকানের জন্য কঠিন হয়ে উঠছে। শ্রোডার্সের জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ৩০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন, অবসরের বয়সে পৌঁছানোর আগে তারা সাত অঙ্কের সঞ্চয় করতে পারবেন।   সোশ্যাল সিকিউরিটি নিয়েও অনিশ্চয়তা   এদিকে সোশ্যাল সিকিউরিটির ভবিষ্যৎ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা চলছে। বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, ২০৩২ সালের দিকে কর্মসূচিটির তহবিল সংকটে পড়তে পারে এবং সংস্কার না হলে সুবিধা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   এ সমস্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে আইনপ্রণেতারা আলোচনা করছেন। সিনেটর ডিক ডারবিন ও বিল ক্যাসিডি এমন একটি উদ্যোগ নিয়েছেন, যার লক্ষ্য হলো সোশ্যাল সিকিউরিটির অবসর তহবিলকে অন্তত ৫০ বছর আর্থিকভাবে টেকসই রাখার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পথ তৈরি করা।   ক্যাসিডি ও সিনেটর টিম কেইন-এর আরেকটি প্রস্তাবে ৭৫ বছরের জন্য শেয়ারবাজারসহ তুলনামূলক ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে প্রাথমিক অর্থ ট্রেজারি বিভাগের অতিরিক্ত ঋণের মাধ্যমে জোগানের কথা রয়েছে।   অন্যদিকে, সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ও বার্নি মোরেনো সোশ্যাল সিকিউরিটির বেতনভিত্তিক করের সর্বোচ্চ সীমা তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। বর্তমানে বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ ডলার আয় পর্যন্ত এই কর প্রযোজ্য। তাদের যুক্তি, উচ্চ আয়ের মানুষের ওপর করের আওতা বাড়ালে সোশ্যাল সিকিউরিটির অর্থসংকট মোকাবিলায় অতিরিক্ত অর্থ পাওয়া যেতে পারে।   তবে রক্ষণশীল কয়েকটি সংগঠন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, কর বাড়লে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যয় বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে মজুরি ও কর্মসংস্থানে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
দেশে মেধাবী চিকিৎসকের অভাব নেই, তারপরও কেন বিদেশমুখী রোগীরা প্রশ্ন? স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

দেশে দক্ষ ও মেধাবী চিকিৎসক থাকার পরও চিকিৎসার জন্য বিপুলসংখ্যক রোগী ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন কেন?এ প্রশ্ন তুলেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তাঁর মতে, চিকিৎসকদের দক্ষতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম, অবকাঠামো ও উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে দেশের হাসপাতালেই অনেক উন্নত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।   রোববার (২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ইউনিটে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম সচেতনতা মাস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগীরা যদি দেশে মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেন, তাহলে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার প্রবণতা কমবে। একই সঙ্গে চিকিৎসার পেছনে দেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে চলে যাওয়াও কমানো সম্ভব হবে। এ জন্য ঢাকা বা বড় শহরের পাশাপাশি জেলা ও গ্রাম পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।   বিশেষ করে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সন্তান না হওয়ায় অনেক দম্পতিকে সামাজিক কটূক্তি ও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হয়। অথচ যথাযথ চিকিৎসার মাধ্যমে অনেক ক্ষেত্রেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের চিকিৎসকদের এ ধরনের চিকিৎসা দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে; প্রয়োজন সেই সক্ষমতাকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও শক্তিশালী করা।   ঢাকা মেডিকেল কলেজের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসাকেন্দ্রের সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং আগামী বাজেটে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি চিকিৎসকদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের হাসপাতালগুলোতে শয্যাসংকটের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, জনসংখ্যার তুলনায় হাসপাতালের শয্যা কম হলেও শুধু শয্যাসংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। স্বাস্থ্যসেবার সামগ্রিক পরিধি বাড়াতে হবে এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের পাশাপাশি দক্ষ জনবল নিশ্চিত করতে হবে।    সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক ডা. মুসারাত সুলতানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. মো. মাজহারুল শাহীন এবং হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন। 

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ

জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহার করে প্রায় ১৯ বছর দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে চাকরি করার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর অফিস সহকারী মোহাম্মদ গোলাম মাওলাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। শুধু চাকরি হারানোই নয়, দীর্ঘ কর্মজীবনে বেতন-ভাতা হিসেবে নেওয়া ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।    রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সাধারণ ও সংস্থাপন শাখা থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশে গোলাম মাওলাকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে নির্ধারিত পদ্ধতিতে পুরো অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।    অফিস আদেশের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর হাতিরপুল এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ গোলাম মাওলা জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ ব্যবহার করে হাইকোর্ট বিভাগের অফিস সহকারী পদে চাকরি নিয়েছিলেন। তিনি ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে চাকরিতে যোগ দেন। � BarTabazar দীর্ঘ সময় চাকরি করার পর তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ নিয়ে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ২০২১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা নম্বর ০৯/২০২১ করা হয়। বিভাগীয় কার্যক্রমে জাল শিক্ষাগত সনদ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর সরকারি বিধি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাঁকে চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়।   তবে বিষয়টি চাকরিচ্যুতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেয়, জাল ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদের ভিত্তিতে তাঁর নিয়োগ হওয়ায় চাকরিটি শুরু থেকেই বাতিল বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ, বৈধ শিক্ষাগত যোগ্যতা ছাড়া নিয়োগ পাওয়ার কারণে চাকরির পুরো সময়ের বেতন-ভাতার ওপর তাঁর অধিকারও স্বীকৃত হবে না—এমন অবস্থানই নেওয়া হয়েছে অফিস আদেশে।   হিসাব অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ৩১ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত গোলাম মাওলা বেতন ও বিভিন্ন ভাতা বাবদ মোট ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা গ্রহণ করেছেন। নিয়োগ শুরু থেকেই বাতিল হিসেবে গণ্য হওয়ায় পুরো অর্থ ফেরত চাওয়া হয়েছে।   সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশে তাঁকে ৩০ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে স্বয়ংক্রিয় চালান ব্যবস্থার মাধ্যমে ৪২ লাখ ৩ হাজার ৯০১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।    ঘটনাটি সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সময় শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও জাল বা ভুয়া সনদের ভিত্তিতে দীর্ঘদিন চাকরি করার একাধিক ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। যেমন, ২০২৬ সালে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের ৭৩ শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিও বন্ধ এবং তাঁদের কাছ থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকা ফেরত নেওয়ার নির্দেশের খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।    তবে সুপ্রিম কোর্টের এই ঘটনাটি আলাদা গুরুত্ব পাচ্ছে, কারণ অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই প্রায় দুই দশক চাকরি করেছেন। ২০০৭ সালে যোগদানের পর অভিযোগের ভিত্তিতে ২০২১ সালে বিভাগীয় মামলা এবং ২০২৬ সালে চাকরি থেকে অপসারণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ সময় ধরে বিস্তৃত।   এখন অফিস আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে ৪২ লাখের বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়ার বাধ্যবাধকতা রয়েছে গোলাম মাওলার। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাঁর পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো বক্তব্য বা তিনি সিদ্ধান্তটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন কি না, সে তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। 

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
গাজায় যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে মঞ্চে অভিনয় করছেন একদল স্থানীয় শিল্পী
মঞ্চে অভিনয় নাকি বাস্তব জীবন! গাজার অভিনেতাদের কাছে দুটোই এক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৫:৩০

গাজায় মঞ্চে উঠলেই তারা অন্য কোনো চরিত্র হয়ে যান—এমন নয়। যে ভয়, শোক, বাস্তুচ্যুতি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে তারা প্রতিদিন বেঁচে আছেন, মঞ্চে উঠে সেই জীবনই আবার অভিনয় করতে হয় তাদের। কারও চরিত্র একজন অসহায় বাবা, কারও চরিত্র যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া এক নারী, আবার কেউ অভিনয় করছেন এমন এক চিকিৎসকের ভূমিকায়, যিনি নিজের সন্তানকে বাঁচাতে পারছেন না। তাই গাজার এই অভিনেতাদের কাছে অভিনয় আর বাস্তব জীবনের সীমারেখা যেন প্রায় মুছে গেছে।   এই বাস্তবতাকে মঞ্চে তুলে ধরতেই তৈরি হয়েছে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটক। যুদ্ধের মধ্যেই নাটকটির মহড়া ও মঞ্চায়ন করেছেন আটজন অভিনেতা। তাদের কেউ নিজের বাড়ি হারিয়েছেন, কেউ পরিবারের সদস্য হারিয়েছেন, কেউ আবার স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় বদলেছেন। মঞ্চে তারা যে গল্প বলেন, তার অনেকটাই তাদের নিজেদের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়।   ৪২ বছর বয়সী আবু কুসাই কাদ্দুরার দিন শুরু হয় ভোর ৬টার দিকে। গাজার শেখ রাদওয়ান এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা কাদ্দুরা রান্না ও গরম থাকার জন্য জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করেন। এক কেজি কাঠের দাম প্রায় ৭ শেকেল বা ২ ডলার। সামর্থ্য না থাকলে ধ্বং স হয়ে যাওয়া বাড়ির কাঠ, কার্ডবোর্ড কিংবা অন্য কিছু সংগ্রহ করে আগুন জ্বালাতে হয় তাকে।   পরিবারের জন্য খাবার রান্না ও আগুন জ্বালানোর পর হাতে লেগে থাকা কালো ছাই ধুয়ে ফেলেন কাদ্দুরা। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টা হেঁটে তাকে যেতে হয় মহড়ার জায়গায়। ধ্বং স স্তূপে ভরা প্রধান সড়ক এড়িয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে তিনি গাজা সিটির রাশাদ আল-শাওয়া সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাছে পৌঁছান। সেখানে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুর ভেতর চলছে নাটকের মহড়া।   কাদ্দুরার চরিত্র একজন চিকিৎসকের। যুদ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে আটকা পড়া সেই চিকিৎসককে নিজের সন্তানকে বাঁচাতে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কোলে থাকা শিশুটির পা কেটে ফেলতে হয় তাকে। শেষ পর্যন্ত শিশুটি মা রা যায়।   দৃশ্যটি অভিনয়ের হলেও এর পেছনে রয়েছে গাজার এক বাবার বাস্তব অভিজ্ঞতা। তাই শিশুটিকে কোলে নেওয়ার সময় নিজের সন্তানদের কথাই মনে পড়ে কাদ্দুরার। মঞ্চে চরিত্রটি ধরে রাখতে পারলেও একপর্যায়ে নিজের সন্তানদের কথা মনে করে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। প্রায় ১৫ মিনিট এক পাশে বসে থাকার পর আবার মহড়ায় ফিরতে হয় তাকে।   যু দ্ধের আগে কাদ্দুরা ক্যামেরার পেছনে কাজ করতেন। স্থানীয় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে প্রোডাকশন ম্যানেজার ও সাউন্ড টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু উত্তর গাজার আল-তাওয়ামে ই স রা য়ে লি হামলায় তার বাড়ি ধ্বং স হয়ে যায়। এখন স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে ভাড়া করা একটি বাড়ির ছাদে প্লাস্টিকের ত্রিপলের নিচে একটি কক্ষে বসবাস করছেন তিনি।   ধ্বং স স্তূপ থেকেই তৈরি নাটকের মঞ্চ   নাটকটির পরিচালক আলী আবু ইয়াসিন গাজায় প্রায় ৩৭ বছর ধরে অভিনেতা, নাট্যকার ও পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তার নাটক গাজার বাইরেও মঞ্চস্থ হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ যু দ্ধে গাজার সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বং স হয়েছে।   ইউনেস্কোর হিসাবে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গাজায় ১৬৪টি সাংস্কৃতিক স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক ও শিল্প-সাংস্কৃতিক গুরুত্বসম্পন্ন ১২৮টি ভবন রয়েছে।   থিয়েটার ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবু ইয়াসিনের সামনে প্রশ্ন ছিল—নাটক তৈরি হবে কোথায়? শেষ পর্যন্ত উত্তর খুঁজে নেওয়া হয় তাঁবু, ধ্বং স স্তূপ আর অস্থায়ী জায়গার মধ্যেই।   ২০২৬ সালের এপ্রিলে ‘৫০ মিনিটস ইন গাজা’ নাটকের কাজ শুরু হয় একটি নাট্যলেখার কর্মশালা হিসেবে। শুরুতে ১৪ জন তরুণ-তরুণীর অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও যু দ্ধের কারণে কেউ আ হ ত হন, কেউ বাস্তুচ্যুত হন, আবার কেউ চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে চলে যান। শেষ পর্যন্ত আটজন এই নাটকটি মঞ্চে নিয়ে আসেন।   প্রথম দিকে অস্থায়ী কাপড় ও প্লাস্টিকের তাঁবুতে মহড়া হয়েছে। পরে ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ছোট কক্ষে চলে যায় মহড়া। বিদ্যুৎ ছিল অনিয়মিত, বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও ছিল সীমিত। সেট তৈরির জন্য নতুন কাঠ কেনার সুযোগ না থাকায় তাঁবুর ক্ষতিগ্রস্ত কাপড় ও পাওয়া কাঠের টুকরো ব্যবহার করেন অভিনেতারাই।   পরিচালক আবু ইয়াসিনের ভাষায়, নাটকটি যেন ধ্বং স স্তূপের নিচ থেকেই উঠে এসেছে।   বাস্তব জীবনের ভয়ই হয়ে উঠেছে অভিনয়ের অংশ   অভিনেত্রী ইমান ওদা নাটকে হানিন নামের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর চরিত্রে অভিনয় করেন। নয় বছর অপেক্ষার পর সন্তান ধারণ করা হানিন যু দ্ধের মধ্যে একটি হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করছে—এটাই তার চরিত্র।   একদিন মহড়ার মাঝেই কাছাকাছি বি স্ফো রণ ঘটে। ভবন কেঁপে ওঠে, ধুলা ঢুকে পড়ে মহড়ার জায়গায়। অভিনেতারা দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। এরপর প্রায় সবাই প্রথমে ফোন হাতে নেন—পরিবার নিরাপদে আছে কি না, সেটি জানার জন্য।   ওদা বলেন, যু দ্ধ তাদের শুধু অভিনয়ের গল্প দেয়নি, আকাশের শব্দ বোঝার অভিজ্ঞতাও দিয়েছে। হেলিকপ্টার বা নজরদারি ড্রোনের শব্দ শুনলে তাদের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। তবু অনেক সময় সেই শব্দের মধ্যেই মহড়া চালিয়ে যেতে হয়।   ওদার নিজের বাবার নাম ছিল ইউসুফ। যু দ্ধের সময় তিনি মা রা যান। পরে যে কবরস্থানে তাকে দা ফ ন করা হয়েছিল, সেটিও বুলডোজার দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবার তার কবরের অবস্থান আর খুঁজে পায়নি। তাই নাটকে ‘নিখোঁজ ইউসুফ’ নামের একটি চরিত্রের কথা উঠতেই ওদা কান্নায় ভেঙে পড়েন।   আরেক অভিনেতা তামের নাজমের জীবনও নাটকের গল্পের সঙ্গে মিশে গেছে। নাটকে তিনি খালেদ নামে এমন এক বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন, যিনি বহু বছর সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করার পর যু দ্ধের মধ্যে হাসপাতালে আটকা পড়েন।   বাস্তব জীবনেও নাজমের নিজের বাড়ি ধ্বং স হয়েছে। অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে তাকে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় আশ্রয় নিতে হয়েছে। বন্ধুর বাড়ি, শ্বশুরবাড়ি, রাস্তার পাশ কিংবা তাঁবু—বিভিন্ন জায়গায় দিন কাটিয়েছেন তারা। যু দ্ধের মধ্যেই তাদের দ্বিতীয় সন্তান জন্ম নেয়।   তাই মঞ্চে খালেদের চরিত্রে অভিনয় করার সময় নাজমের নিজের জীবনই সামনে চলে আসে। স্ত্রী ও অনাগত সন্তানকে নিয়ে বাস্তবে যে ভয় তিনি অনুভব করেছেন, মঞ্চে সেই ভয়ই আবার অভিনয় করতে হয় তাকে।   অবশেষে মিলল একটি থিয়েটার   অনেক বাধা পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত গাজা সিটির আল-ওয়েহদা স্ট্রিটের এ এম কাত্তান ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে নাটকটির মঞ্চায়নের সুযোগ হয়। কয়েক মাস তাঁবু, খোলা জায়গা ও ছোট কক্ষে মহড়া করার পর অবশেষে তারা একটি থিয়েটার মঞ্চে ফিরতে পারেন।   ১৯ জুলাই প্রথমবার দর্শকদের সামনে নাটকটি মঞ্চস্থ হয়। প্রায় ১৫০ আসনের হলটি দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। প্রবেশ ছিল বিনামূল্যে।   মঞ্চে ওঠার আগে অভিনেতাদের ভ য় ছিল—বিদ্যুৎ চলে যেতে পারে, আশপাশে হামলা হতে পারে কিংবা মাঝপথে নাটক বন্ধ করে দিতে হতে পারে। জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক বা মেকআপের ব্যবস্থাও ছিল না। বাস্তুচ্যুতদের তাঁবু থেকে পাওয়া সাধারণ পোশাক এবং মোবাইল ফোনের আলোয় যতটুকু সম্ভব, সেটুকু দিয়েই প্রস্তুতি নেন তারা।   এরপর আলো নিভে যায়। কাদ্দুরা মঞ্চে চিকিৎসক হয়ে ওঠেন, ওদা হয়ে যান যু দ্ধের মধ্যে সন্তান জন্ম দিতে যাওয়া হানিন, আর নাজম অভিনয় করেন পরিবারকে হারানোর আতঙ্কে থাকা খালেদের চরিত্রে।   ৫০ মিনিট ধরে মঞ্চে চলতে থাকে গাজার মানুষের যু দ্ধকালীন জীবনের নানা প্রতিচ্ছবি। দর্শকদের মধ্যে ছিলেন নাজমের পাঁচ বছরের মেয়েও। মঞ্চে বাবাকে ধুলায় ঢাকা ও ছেঁড়া পোশাকে দেখে সে কেঁদে ফেলে। পরে বাবাকে জানায়, মঞ্চে তার কান্না দেখে মনে হয়েছে তিনি যেন বাড়িতেও একইভাবে দুশ্চিন্তা করেন।   পরবর্তীতে নাটকটি গাজার বিভিন্ন এলাকায় মঞ্চস্থ করা হয়। দারাজ, দেইর আল-বালাহ, নুসেইরাত ও খান ইউনিসে এর প্রদর্শনী হয়। খান ইউনিসের একটি বিয়ের অনুষ্ঠানের হলেই পাঁচ শতাধিক মানুষ নাটকটি দেখেন।   পরিচালক আলী আবু ইয়াসিনের কাছে এই নাটক শুধু বিনোদন নয়। তার মতে, থিয়েটার ধ্বং স করা গেলেও মানুষের গল্প, অভিনয় ও সৃষ্টিশীলতাকে পুরোপুরি থামিয়ে দেওয়া যায় না। তাই থিয়েটার হল না থাকলেও রাস্তা বা অন্য কোনো জায়গায় দাঁড়িয়ে নাটক করা সম্ভব।   মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার পরও অবশ্য অভিনেতাদের গল্প শেষ হয় না। কাদ্দুরা পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আবার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে বাড়ির দিকে ফেরেন। সাত বছরের মেয়ে শাম ঘুমিয়ে পড়ায় তাকে কোলে করে নিয়ে হাঁটতে হয়।   রাতের অন্ধকারে পথ দেখাতে পরিবারের সদস্যরা মোবাইল ফোনের আলো ব্যবহার করেন। দূরে তখনও বি স্ফো রণের শব্দ শোনা যায়। ছাদে থাকা ছোট ঘরে পৌঁছে শামকে শুইয়ে দেন কাদ্দুরা। অন্য সন্তানরা তখনও খাবারের অপেক্ষায়।   দিনের শুরুতে যে আগুন জ্বালিয়েছিলেন পরিবারের জন্য, রাতেও সেই আগুনের কাছেই ফিরে আসেন তিনি। আবার আগুন জ্বালান কাদ্দুরা। এরপর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সন্তানদের জন্য রাতের খাবার রান্না শুরু করেন।   মঞ্চে ৫০ মিনিটের অভিনয় শেষ হলেও বাস্তব জীবনের সেই গল্প থেকে যায়। কারণ গাজার এই অভিনেতাদের কাছে পর্দা নামলেও যু দ্ধের বাস্তবতা থামে না।

মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর
মালিতে সেনাঘাঁটিতে হামলায় ৯৩ সেনাকে আটকের দাবি আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীর
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৪:৩৮

মালির মধ্যাঞ্চলের দিয়োরা সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে ৯৩ সেনাকে আটক এবং ১৫০ সেনাকে হত্যার দাবি করেছে আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’আত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন বা জেএনআইএম। ১০ সেপ্টেম্বরের ওই হামলার সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মালির সেনাবাহিনীও হতাহতের এমন সংখ্যা নিশ্চিত করেনি।   জেএনআইএম তাদের প্রচারমাধ্যম আজ-জালাকায় জানিয়েছে, হামলায় ১৫০ সেনা নিহত এবং ৯৩ জনকে আটক করা হয়েছে। পরে আটক সেনাদের কয়েকজনের ভিডিও প্রকাশ করা হয়। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ভিডিও ও হতাহতের সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।    হামলার পর মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, দিয়োরা এলাকায় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে স্থল ও আকাশপথে অভিযান চালানো হয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রকাশিত বিবৃতিতে কয়েক ডজন হামলাকারী নিহত এবং বেশ কিছু মোটরসাইকেল ও পিকআপ ধ্বংসের কথা বলা হয়। তবে সেনাবাহিনী নিজেদের হতাহতের বিস্তারিত সংখ্যা প্রকাশ করেনি।   হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর এএফপির প্রতিবেদনে স্থানীয়, নিরাপত্তা ও সামরিক সূত্রের বরাতে বলা হয়, দিয়োরায় অন্তত ১০০ মালিয়ান সেনা নিহত হয়েছেন এবং রাশিয়ার আফ্রিকা কর্পসের পাঁচ সদস্যও নিহত হয়েছেন। একই প্রতিবেদনে ৮০ জনের বেশি সেনাকে আটকের দাবির কথাও উঠে আসে।   এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অন্তত ৫০ মালিয়ান সেনা ও পাঁচ রুশ আফ্রিকা কর্পস সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কয়েকটি স্থানীয় সূত্র তখন নিহতের সংখ্যা ৬০ থেকে ৮০ পর্যন্ত হতে পারে বলে জানিয়েছিল। অর্থাৎ বিভিন্ন প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।   জেএনআইএম ২০১৭ সালে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর একীভূত হওয়ার মাধ্যমে গঠিত হয়। গোষ্ঠীটি মালিসহ পশ্চিম আফ্রিকার সাহেল অঞ্চলে সক্রিয় এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মালির সেনাবাহিনী ও সরকারি স্থাপনায় একাধিক বড় হামলা চালিয়েছে।   মালি ২০১২ সাল থেকে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা সংকটে রয়েছে। ২০২০ ও ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটির সামরিক সরকার পশ্চিমা অংশীদারদের বদলে রাশিয়ার সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে। একই সময়ে আল-কায়েদা ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলাও অব্যাহত রয়েছে।   দিয়োরা হামলার প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা এবং কতজন সেনা আটক হয়েছেন, তা মালির সরকার বা স্বাধীন কোনো পর্যবেক্ষক নিশ্চিত না করা পর্যন্ত জেএনআইএমের দাবিকে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি মালির সামরিক বাহিনীর জন্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হতে পারে।   Source: আরব নিউজ

মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী
মারামারির সময় মাথায় আঘাত করে স্ত্রীর নাক কামড়ে ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন স্বামী
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ৩:৩৫

ভারতের উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলায় পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে এক নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে গুরুতর হামলার অভিযোগ করেছেন। সাধনা নামের ২৭ বছর বয়সী ওই নারীর দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে স্বামী দীপক তার মাথায় আঘাত করেন, পরে কামড়ে তার নাকের একটি অংশ ছিঁড়ে নর্দমায় ফেলে দেন। ঘটনার পর পুলিশ স্বামীকে আটক করেছে এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের তদন্ত করছে।    পুলিশের বরাত দিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, ঘটনাটি বৃহস্পতিবার ঘটে। প্রায় আড়াই মাস আগে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে যাওয়ার পর সাধনা হঠাৎ সেখানে ফিরে আসেন। পুলিশ বলছে, প্রতিবেশীর বাড়ির ছাদ দিয়ে স্বামীর বাড়িতে প্রবেশের পর দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শারীরিক সংঘর্ষে রূপ নেয়।   সাধনার অভিযোগ, ওই সময় তার স্বামী দীপক তাকে মাথায় আঘাত করেন এবং কামড়ে তার নাকের অংশ ছিঁড়ে ফেলেন। পরে সেটি নর্দমায় ফেলে দেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেছেন। তার আরও অভিযোগ, শ্বশুর ও শাশুড়ি ওই সময় তার হাত ধরে রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই থানায় নিয়ে আসে। পরে দীপককে আটক করা হয়। আহত সাধনাকে প্রথমে সান্ডি কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে হারদই মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়।    তবে ঘটনার বিষয়ে স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকেও পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। দীপকের মা দাবি করেছেন, সাধনা প্রায় আড়াই মাস আগে স্থানীয় এক যুবকের সঙ্গে চলে গিয়েছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিষয়টি আগে পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং পরে দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছিল।   দীপকের মায়ের আরও অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সাধনা হঠাৎ বাড়িতে ফিরে এসে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সংঘর্ষ শুরু হলে সাধনাই প্রথমে তার স্বামীর শরীরের সংবেদনশীল অংশে কামড় দেন এবং পরে নিজের মাথায় আঘাত করেন বলে তিনি দাবি করেছেন। এসব অভিযোগও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।    পুলিশ জানিয়েছে, সাধনা ও দীপকের বিয়ে হয়েছে প্রায় ১০ বছর আগে। তাদের তিনটি মেয়ে রয়েছে, যাদের বয়স ৮, ৬ ও ৩ বছর। ঘটনার পর দুই পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থাকায় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও হামলার ধারাবাহিকতা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।   পুলিশের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধনার পক্ষ থেকে তখনও আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অন্যদিকে দীপকের মা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কার অভিযোগ কতটা সত্য, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি।    ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের হারদই জেলার সান্ডি থানা এলাকায় ঘটেছে। পুলিশ জানিয়েছে, উভয় পক্ষের অভিযোগ, আহতদের চিকিৎসা এবং ঘটনার পরিস্থিতি যাচাই করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ
গ্লাসগোতে বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ, নাকের হাড় স্থানচ্যুত
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬ ২:৪৪

স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো সিটি সেন্টারে এক বাংলাদেশি তরুণকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে সাউচিহল স্ট্রিটের একটি সুপারশপের কাছে এ ঘটনা ঘটে। ২৭ বছর বয়সী ইফতেখার উল ইসলাম নামের ওই তরুণের দাবি, সিগারেট দিতে অস্বীকার করার পর এক ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময় তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানানো হয়।   ইফতেখারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি সাউচিহল স্ট্রিটে একটি সুপারশপের কাছে দাঁড়িয়ে ধূমপান করছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি তার কাছে এসে একটি সিগারেট চান। অতিরিক্ত সিগারেট না থাকায় তিনি দিতে পারেননি। এরপর ওই ব্যক্তি তাকে পানীয় কিনে দেওয়ার কথা বলেন। ইফতেখার জানান, তার কাছে টাকা না থাকায় সেটিও দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি।   ইফতেখারের দাবি, সেখান থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় ওই ব্যক্তি পেছন থেকে তার ব্যাগ ধরে ফেলেন এবং মাথা ও নাকে একাধিক ঘুষি মারেন। এতে তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে শুরু করে এবং তিনি মাথা ঘোরার মতো অনুভব করেন। তিনি সাহায্যের জন্য চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেননি বলে জানান।   পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার নাকের হাড় স্থানচ্যুত হয়েছে বলে জানান। ঘটনার পর হামলাকারী ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় বলে ইফতেখার জানিয়েছেন। ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ফুটেজ রয়েছে বলেও তিনি জানান।   ইফতেখার ঘটনাটিকে বর্ণবাদী হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে হামলার পেছনে বর্ণবাদী উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটি এখনো পুলিশ তদন্ত করে নিশ্চিত করেনি। পুলিশ তদন্তের ফলের ভিত্তিতেই হামলার প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পূর্ণ পরিস্থিতি নির্ধারণ করা হবে।   পুলিশ স্কটল্যান্ড জানিয়েছে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৬টা ৫৫ মিনিটের দিকে গ্লাসগোর সাউচিহল স্ট্রিট এলাকায় এক ব্যক্তির ওপর হামলার খবর তারা পায়। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।   ঘটনার পর গ্লাসগোর বাংলাদেশি কমিউনিটিতে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা এবং হামলার ঘটনায় দ্রুত তদন্তের দাবি উঠেছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলার ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ।   ইফতেখারের দেওয়া তথ্য, স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং পুলিশ স্কটল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। তাই হামলাকারীর পরিচয়, উদ্দেশ্য কিংবা সম্ভাব্য বর্ণবাদী সংশ্লিষ্টতা নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.45K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.20K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.32K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.18K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.13K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়