যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা যেকোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতা তৈরির ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আওতায় শুধু সরকার নয়—ইরানকে আর্থিক বা বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর ও সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার দিক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি; তবে আলোচনা আত্মসমর্পণের সমার্থক হতে পারে না। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনকে নিয়েও বিশেষ নজর রয়েছে, কারণ চীনের সঙ্গে ইরানের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর শুধু সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের তেল ও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।
নিউজিল্যান্ডে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিতে চাওয়া বিদেশিদের জন্য বেতন নির্ধারণের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় যে বেতনসীমা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে সেই সীমা বেড়ে গেলেও আবেদনকারীদের নতুন করে বাড়তি বেতনসীমা পূরণ করতে হবে না। নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, পরিবর্তনের ফলে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি এবং ওয়ার্ক টু রেসিডেন্স ভিসার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের নিয়ম আরও পূর্বানুমানযোগ্য হবে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা শুরু করার সময়কার বেতনসীমাই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমান নিয়মে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি রেসিডেন্ট ভিসার বেতনসীমা নিউজিল্যান্ডের মধ্যম বেতনের সঙ্গে যুক্ত। ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে এই মধ্যম বেতন ঘণ্টায় ৩৫ নিউজিল্যান্ড ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এএনজেডএসসিও দক্ষতার স্তর ১ থেকে ৩-এর কাজের ক্ষেত্রে অন্তত এই বেতনসীমা পূরণ করতে হয়। আর কিছু স্তর ৪ ও ৫-এর কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেতনসীমা এর দেড় গুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫২.৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার। নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একজন অভিবাসী যখন নিউজিল্যান্ডে প্রয়োজনীয় দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু করবেন, তখন যে মধ্যম বেতনসীমা কার্যকর থাকবে, পরবর্তী সময়ে বেতনসীমা বাড়লেও তাকে সেই নতুন উচ্চ সীমায় উঠতে হবে না। তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় তাকে কাজের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমার অন্তত সেই পুরোনো হার বজায় রাখতে হবে। এর ফলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাঝপথে বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ায় যোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমবে। অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট দক্ষতার কাজে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে। নিউজিল্যান্ড সরকার বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে সমস্যায় পড়তে পারেন এমন কিছু কর্মীর জন্য গ্রেস পিরিয়ডের ব্যবস্থাও রেখেছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কাজের ভিসা পাওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যে দক্ষ কাজ শুরু করা কর্মীরা ভিসা অনুমোদনের সময়কার বেতনসীমা ধরে রাখতে পারবেন। তবে এই পরিবর্তনকে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পুরোপুরি সহজ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যোগ্য পেশা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে। ২৪ আগস্ট থেকেই স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে আরও কিছু পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশার কর্মীদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষ কারিগরি ও টেকনিশিয়ান পেশার জন্য একটি নতুন পথও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরির অধীনে আবেদনকারীদের মোট ছয়টি দক্ষতা পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। পেশাগত নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আয় থেকে তিন থেকে ছয়টি পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে এবং নিউজিল্যান্ডে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সর্বোচ্চ আরও তিনটি পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দক্ষতার অধিকারী কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময়ও তুলনামূলক কম হতে পারে। যেমন ডক্টরেটধারী বা নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রার পেশাগত যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিরা বেশি পয়েন্ট পেতে পারেন। আবার উচ্চ আয়ের কিছু কর্মীর জন্যও দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিউজিল্যান্ডে কাজের ভিসা নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কাজের ধরন, বেতনসীমা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন নিয়মগুলো আগে থেকেই যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শুধু নির্দিষ্ট বেতন পেলেই নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে। অর্থাৎ, ২৪ আগস্টের পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো বেতনসীমা বৃদ্ধির কারণে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনরত অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শুরুতেই তাদের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমা সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা তৈরি করা। নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের পথ খুঁজছেন বিদেশিদের জন্য তাই নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আবেদন করার আগে ব্যক্তিগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বশেষ সরকারি শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রে টিপ দেওয়ার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রেস্তোরাঁর মতো প্রচলিত সেবার জায়গা ছাড়িয়ে এখন স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক, কাউন্টার এবং এমনকি কিছু স্বয়ংক্রিয় লেনদেনেও টিপ চাওয়ার প্রবণতা বাড়ায় ক্রেতাদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে অস্বস্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিপ মূলত সেবার স্বীকৃতি, তাই যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানে টিপ দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। সম্প্রতি একটি ভাইরাল ঘটনায় এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়। সল্টলেক সিটি বিমানবন্দরের শেক শ্যাকের একটি কিয়স্কে এক ক্রেতা অভিযোগ করেন, তিনি টিপ না দেওয়ার বিকল্প বেছে নেওয়ার পর তার খাবারের মোট দাম বেড়ে যায়। শেক শ্যাক অবশ্য পরে জানায়, দাম পরিবর্তনের ঘটনাটি ছিল একটি প্রযুক্তিগত ত্রুটি এবং টিপ না দেওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক ছিল না। তবু ঘটনাটি মার্কিন ভোক্তাদের দীর্ঘদিনের একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। যদি ক্রেতা নিজেই কিয়স্কে অর্ডার করেন, পেমেন্ট করেন এবং খাবার সংগ্রহ করেন, তাহলে অতিরিক্ত টিপটি আসলে কিসের জন্য? টিপিং ও ভোক্তা আচরণ নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করা কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম মাইকেল লিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে টিপ দেওয়ার বিষয়ে মানুষের বিরক্তি বাড়ছে। তার গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ৩২ শতাংশ মানুষ টিপিং ব্যবস্থা বিলুপ্ত করার পক্ষে ছিলেন। ২০২২ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ শতাংশে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টিপের পরিমাণ বাড়ার প্রবণতাও। একসময় রেস্তোরাঁয় ১৫ শতাংশ টিপকে সাধারণ হিসেবে ধরা হলেও এখন অনেক ডিজিটাল পেমেন্ট স্ক্রিনে ২০ শতাংশ থেকে শুরু করে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত টিপের বিকল্প দেখা যায়।টিপ চাওয়ার ক্ষেত্র বাড়ার পাশাপাশি চাওয়া টাকার পরিমাণও বাড়তে থাকায় মানুষের মধ্যে তৈরি হচ্ছে তথাকথিত টিপিং ক্লান্তি। শিষ্টাচার বিশেষজ্ঞ জ্যাকুলিন হুইটমোরের মতে, যেখানে কোনো কর্মী সরাসরি সেবা দিচ্ছেন না, সেখানে টিপ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় কিয়স্কে অর্ডার করার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের টিপ দিতে বাধ্য বোধ করার কোনো কারণ নেই। তবে খাবার প্যাক করে দেওয়া, বিশেষ অনুরোধ পূরণ করা বা ব্যক্তিগতভাবে অতিরিক্ত সেবা দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতে টিপ দেওয়া যুক্তিসংগত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা একই সঙ্গে আরেকটি বিষয় পরিষ্কার করেছেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের বিলে আগে থেকেই সার্ভিস চার্জ বা স্বয়ংক্রিয় গ্র্যাচুইটি যুক্ত থাকলে আলাদা করে টিপ দেওয়ার আগে সেটি যাচাই করা উচিত। প্রয়োজনে কর্মীকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা যায়, বিলে কোনো সার্ভিস চার্জ অন্তর্ভুক্ত আছে কি না। টিপ দেওয়ার বিষয়ে ডিজিটাল স্ক্রিন কেন মানুষের ওপর বেশি মানসিক চাপ তৈরি করে, তারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন গবেষকেরা। পুরোনো দিনের টিপ জারে টাকা না দিলেও সহজেই এড়িয়ে যাওয়া যেত। কিন্তু ডিজিটাল স্ক্রিনে টিপ না দিতে হলে সক্রিয়ভাবে ‘নো টিপ’ নির্বাচন করতে হয়। ফলে অন্যরা দেখছে এমন পরিস্থিতিতে অনেক ক্রেতা অস্বস্তি বোধ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে টিপিং সংস্কৃতির সঙ্গে শ্রমবাজারের কাঠামোরও সম্পর্ক রয়েছে। কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিনের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি দেশ যেখানে রেস্তোরাঁর মতো কিছু খাতে কর্মীদের মজুরি ব্যবস্থায় টিপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অনেক সময় কম মূল্যে খাবার বা সেবা দেওয়ার পাশাপাশি টিপের ওপর কর্মীদের আয়ের একটি অংশ নির্ভর করে রাখে। তবে অতিরিক্ত টিপ চাওয়ার প্রবণতা শেষ পর্যন্ত ব্যবসার জন্যও সমস্যার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। টিপের পরিমাণ বাড়লে কর্মীদের আয় বাড়তে পারে, কিন্তু একই সঙ্গে রেস্তোরাঁয় খাবারের প্রকৃত খরচও ভোক্তার কাছে বেশি মনে হতে পারে। পাশাপাশি টেবিলের সামনে কাজ করা কর্মী এবং রান্নাঘরের কর্মীদের আয়ের পার্থক্যও বাড়তে পারে। এ কারণে টিপিং বিশেষজ্ঞদের একটি পরামর্শ হলো, প্রচলিত সেবার ক্ষেত্রে ১৫ থেকে ২০ শতাংশের মতো একটি যুক্তিসংগত সীমা বজায় রাখা। আর স্বয়ংক্রিয় কিয়স্ক বা সম্পূর্ণ স্ব-সেবার ক্ষেত্রে টিপ না দিলেও ক্রেতার অপরাধবোধ করার প্রয়োজন নেই।
লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস। উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি। ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি। এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য। প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে। উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত। দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় আগামী ২৩ আগস্ট বসছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে ঘিরে বড় ধরনের প্রবাসী মিলনমেলা। বাংলাদেশ-আমেরিকান আইটি পিপলস অর্গানাইজেশন (বাইটপো) এর উদ্যোগে আলেকজান্দ্রিয়ার ফোর্ট হান্ট পার্কে দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকছে ঐতিহ্যবাহী মেজবানি খাবার, লাইভ সংগীত, ফ্যাশন শো, বিভিন্ন ধরনের গেমস, র্যাফেল ড্র এবং নানা বিনোদনমূলক আয়োজন। রোববার, ২৩ আগস্ট সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফোর্ট হান্ট পার্কের শেল্টার-০০এ১-এ অনুষ্ঠিত হবে অনুষ্ঠানটি। এর ঠিকানা ৮৯৯৯ ফোর্ট হান্ট রোড, আলেকজান্দ্রিয়া, ভার্জিনিয়া ২২৩০৮। বৃহত্তর ওয়াশিংটন ডিসি মেট্রো এলাকা ছাড়াও ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড ও আশপাশের স্টেটের বাংলাদেশিদের পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। এবারের আয়োজনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নকীব খানের লাইভ পারফরম্যান্স। আয়োজকরা জানান, ওয়াশিংটন ডিসি এলাকায় প্রথমবারের মতো নকীব খান এই অনুষ্ঠানে সরাসরি সংগীত পরিবেশন করবেন। তার পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের সংগীতশিল্পী প্রতীক হাসানও মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করবেন। নকীব খান বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অন্যতম পরিচিত শিল্পী, সুরকার, গীতিকার ও সংগীত পরিচালক। তার গান বাংলাদেশের একাধিক প্রজন্মের শ্রোতার কাছে জনপ্রিয়। ফলে প্রবাসের মাটিতে তার সরাসরি সংগীত পরিবেশনাকে ঘিরে বৃহত্তর ডিসি মেট্রো এলাকার বাংলাদেশি কমিউনিটিতে বাড়তি আগ্রহ তৈরি হয়েছে। মেজবানির মূল আকর্ষণ থাকছে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার। আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিপুলসংখ্যক অতিথির জন্য খাবার প্রস্তুতের লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আগের দিন থেকেই প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অনুষ্ঠানস্থলে অতিথিদের স্বাগত জানানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম শুরু হবে। দুপুরের দিকে মেজবানি খাবার পরিবেশন করা হবে। খাবারের পাশাপাশি দিনব্যাপী চলবে আড্ডা, পারিবারিক মিলন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিনোদনমূলক আয়োজন। আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়া জানান, পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের একসঙ্গে আনন্দময় সময় কাটানোর সুযোগ তৈরি করাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানকে কেন্দ্র করে প্রবাসের নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের একটি সংযোগ তৈরি করতেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন। আয়োজক শামসুদ্দিন মাহমুদের তথ্য অনুযায়ী, মেজবান সফল করতে আগের দিন থেকেই খাবার প্রস্তুতি ও অন্যান্য আয়োজনের কাজ শুরু হবে। রোববার সকাল থেকে অতিথিদের স্বাগত জানানো এবং অনুষ্ঠান পরিচালনার বিভিন্ন কার্যক্রম চলবে। একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক মঞ্চে সংগীত পরিবেশনাও থাকবে। মেজবানি ও সংগীতের পাশাপাশি এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে বিশেষ র্যাফেল ড্র। প্রথম পুরস্কার হিসেবে রয়েছে একটি হিরের আংটি। দ্বিতীয় পুরস্কার হিসেবে ৪কে টেলিভিশন এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে ল্যাপটপ দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের বিশেষ গেমসের আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ ফ্যাশন শোরও আয়োজন থাকছে।সারাহ, দিশা ও স্মিতার নাম ফ্যাশন শোর অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘পুট দ্য মাস্ট্যাশ অন আঙ্কেল স্যাম’ নামে একটি বিনোদনমূলক আয়োজনও থাকছে। এটি এনায়েত খান ও আবু রুমি আয়োজন করছেন বলে উল্লেখ রয়েছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের মেজবানকে আগের আয়োজনগুলোর তুলনায় আরও বড় ও বৈচিত্র্যময় করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুধু খাবার বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, পুরো দিনটিকে পরিবার ও কমিউনিটির মানুষের জন্য একটি আনন্দময় মিলনমেলায় পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও চট্টগ্রামের ঐতিহ্য তুলে ধরাও এবারের আয়োজনের গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্দেশ্য। মেজবানের খাবার, সংগীত, ফ্যাশন ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে ভিন্ন প্রজন্মের বাংলাদেশিদের একসঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আগাম রিজার্ভেশনের ব্যবস্থা রয়েছে। আয়োজকদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রচারপত্রে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে রিজার্ভেশন করা যাবে। জেল-এর মাধ্যমে যোগাযোগ বা অর্থ প্রদানের জন্য baitpodc@gmail.com ইমেইল ঠিকানাও দেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানসংক্রান্ত যোগাযোগের জন্য বাইটপোর ইভেন্ট ডিরেক্টর স্যাম রিয়ার ফোন নম্বর ৭০৩-৩৩২-৫৯৫৮ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে ছয় বছর বসবাসের পর সন্তানদের নিয়ে আবার যুক্তরাজ্যে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগস্টের শেষ দিকে তারা যুক্তরাজ্যে গিয়ে একটি ব্যক্তিগত বাড়িতে বসবাস শুরু করতে পারেন। তাদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট আগামী সেপ্টেম্বর থেকে যুক্তরাজ্যের স্কুলে পড়াশোনা শুরু করবে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ তারা আবার কর্মরত রাজপরিবারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন, এমন কোনো ইঙ্গিত নেই। ২০২০ সালে রাজপরিবারের সিনিয়র সদস্য হিসেবে দায়িত্ব ছাড়ার পর হ্যারি ও মেগান যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। এবার তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার পেছনে সবচেয়ে স্পষ্ট কারণ হিসেবে সামনে এসেছে সন্তানদের শিক্ষা। আর্চি ও লিলিবেটকে ইতোমধ্যে ব্রিটিশ স্কুলে ভর্তি করা হয়েছে এবং সেপ্টেম্বর থেকেই তাদের নতুন শিক্ষাজীবন শুরু হওয়ার কথা। হ্যারি ও মেগান যুক্তরাজ্যে কোনো রাজকীয় সম্পত্তিতে উঠবেন না। বরং লন্ডনের বাইরে একটি ব্যক্তিগত, রাজপরিবারের সম্পত্তির বাইরে থাকা বাড়িতে বসবাস করবেন বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার মন্টেসিটোর বাড়ির সঙ্গে সম্পর্কও পুরোপুরি ছিন্ন হচ্ছে না। ফলে এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সম্পূর্ণ বিদায় নাকি দুই দেশের মধ্যে বসবাসের নতুন ব্যবস্থা, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এই প্রত্যাবর্তনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজপরিবারের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক। দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর সাম্প্রতিক সময়ে তার বাবা কিং চার্লসের সঙ্গে যোগাযোগ কিছুটা বেড়েছে। গত জুলাইয়ে হ্যারি, মেগান ও তাদের দুই সন্তান হাইগ্রোভে কিং চার্লস ও কুইন ক্যামিলার সঙ্গে দেখা করেন। ২০২২ সালের পর সেটিই ছিল চার্লসের সঙ্গে আর্চি ও লিলিবেটের প্রথম সাক্ষাৎ। কিং চার্লসকে তাদের যুক্তরাজ্যে ফেরার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে গত রোববার জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে হ্যারি-মেগান গত মাসে যুক্তরাজ্য সফরের সময় তাকে তাদের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা জানাননি বলেও খবর এসেছে। হ্যারির জন্য যুক্তরাজ্যে থাকা শুধু পারিবারিক বিষয় নয়। তার গুরুত্বপূর্ণ দাতব্য উদ্যোগ ইনভিক্টাস গেমসের সঙ্গেও ব্রিটেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ২০২৭ সালের ইনভিক্টাস গেমস বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে যুক্তরাজ্যে তার ব্যক্তিগত ও দাতব্য কর্মকাণ্ডও আগের তুলনায় বেশি সময় দাবি করতে পারে। তবে নিরাপত্তা নিয়ে হ্যারির দীর্ঘদিনের উদ্বেগও এই প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রাজপরিবারের দায়িত্ব ছাড়ার পর যুক্তরাজ্যে তার সরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তিনি আইনি লড়াই করেছেন। চলতি বছরের শুরুতেও পরিবারকে নিয়ে ব্রিটেনে ফেরার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এসেছিল। হ্যারি ও মেগান ২০২০ সালে রাজকীয় দায়িত্ব ছাড়ার পর রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নিয়ে একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়। ২০২১ সালের অপরাহ উইনফ্রে সাক্ষাৎকার, হ্যারির স্মৃতিকথা ‘স্পেয়ার’ এবং নিরাপত্তা নিয়ে আইনি লড়াই সেই সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও প্রকাশ্যে নিয়ে আসে। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে অন্তত কিং চার্লসের সঙ্গে হ্যারির সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কিছু লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। তবে যুক্তরাজ্যে ফিরলেও হ্যারি ও মেগান আগের রাজকীয় দায়িত্বে ফিরছেন না। ২০২০ সালের চুক্তি অনুযায়ী তারা নন-ওয়ার্কিং রয়্যাল হিসেবেই থাকবেন। অর্থাৎ রাজপরিবারের সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের পরিবর্তন হলেও আনুষ্ঠানিকভাবে রাজকীয় দায়িত্ব পালনের কোনো নতুন ঘোষণা নেই। সব মিলিয়ে সন্তানদের শিক্ষা, যুক্তরাজ্যে পারিবারিক যোগাযোগ এবং হ্যারির দাতব্য কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করেই এই প্রত্যাবর্তন সবচেয়ে বেশি ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। ছয় বছর পর তাদের এই সিদ্ধান্ত রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথেও নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
লন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস। উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি। ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি। এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য। প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে। উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত। দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ।
নিউজিল্যান্ডে কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ নিতে চাওয়া বিদেশিদের জন্য বেতন নির্ধারণের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসছে। আগামী ২৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন নিয়ম কার্যকর হলে, দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সময় যে বেতনসীমা কার্যকর ছিল, পরবর্তীতে সেই সীমা বেড়ে গেলেও আবেদনকারীদের নতুন করে বাড়তি বেতনসীমা পূরণ করতে হবে না। নিউজিল্যান্ডের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ড জানিয়েছে, পরিবর্তনের ফলে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি এবং ওয়ার্ক টু রেসিডেন্স ভিসার ক্ষেত্রে বেতন নির্ধারণের নিয়ম আরও পূর্বানুমানযোগ্য হবে। বিশেষ করে যারা নির্দিষ্ট সময় কাজ করে স্থায়ী বসবাসের যোগ্যতা অর্জন করছেন, তাদের ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা শুরু করার সময়কার বেতনসীমাই গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হবে। বর্তমান নিয়মে স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরি রেসিডেন্ট ভিসার বেতনসীমা নিউজিল্যান্ডের মধ্যম বেতনের সঙ্গে যুক্ত। ৯ মার্চ ২০২৬ থেকে এই মধ্যম বেতন ঘণ্টায় ৩৫ নিউজিল্যান্ড ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে এএনজেডএসসিও দক্ষতার স্তর ১ থেকে ৩-এর কাজের ক্ষেত্রে অন্তত এই বেতনসীমা পূরণ করতে হয়। আর কিছু স্তর ৪ ও ৫-এর কাজের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বেতনসীমা এর দেড় গুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৫২.৫০ নিউজিল্যান্ড ডলার। নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, একজন অভিবাসী যখন নিউজিল্যান্ডে প্রয়োজনীয় দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন শুরু করবেন, তখন যে মধ্যম বেতনসীমা কার্যকর থাকবে, পরবর্তী সময়ে বেতনসীমা বাড়লেও তাকে সেই নতুন উচ্চ সীমায় উঠতে হবে না। তবে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার সময় তাকে কাজের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমার অন্তত সেই পুরোনো হার বজায় রাখতে হবে। এর ফলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের মাঝপথে বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ায় যোগ্যতা হারানোর আশঙ্কা কিছুটা কমবে। অভিবাসীদের জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ স্থায়ী বসবাসের আবেদন করার আগে কয়েক বছর ধরে নির্দিষ্ট দক্ষতার কাজে কাজ করার প্রয়োজন হতে পারে। নিউজিল্যান্ড সরকার বেতনসীমা বেড়ে যাওয়ার কারণে মাঝপথে সমস্যায় পড়তে পারেন এমন কিছু কর্মীর জন্য গ্রেস পিরিয়ডের ব্যবস্থাও রেখেছে। নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে কাজের ভিসা পাওয়ার পর পাঁচ মাসের মধ্যে দক্ষ কাজ শুরু করা কর্মীরা ভিসা অনুমোদনের সময়কার বেতনসীমা ধরে রাখতে পারবেন। তবে এই পরিবর্তনকে স্থায়ী বসবাসের নিয়ম পুরোপুরি সহজ হয়ে যাওয়া হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আবেদনকারীদের যোগ্য পেশা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা, বেতন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ করতে হবে। ২৪ আগস্ট থেকেই স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে আরও কিছু পরিবর্তন কার্যকর হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট পেশার কর্মীদের জন্য আলাদা পথ তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে দক্ষ কারিগরি ও টেকনিশিয়ান পেশার জন্য একটি নতুন পথও রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা, প্রাসঙ্গিক কাজের অভিজ্ঞতা এবং নিউজিল্যান্ডে নির্দিষ্ট সময়ের দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হবে। স্কিলড মাইগ্র্যান্ট ক্যাটাগরির অধীনে আবেদনকারীদের মোট ছয়টি দক্ষতা পয়েন্ট অর্জন করতে হয়। পেশাগত নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা বা আয় থেকে তিন থেকে ছয়টি পয়েন্ট পাওয়া যেতে পারে এবং নিউজিল্যান্ডে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা থেকে সর্বোচ্চ আরও তিনটি পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি দক্ষতার অধিকারী কর্মীদের জন্য অপেক্ষার সময়ও তুলনামূলক কম হতে পারে। যেমন ডক্টরেটধারী বা নির্দিষ্ট উচ্চমাত্রার পেশাগত যোগ্যতা থাকা ব্যক্তিরা বেশি পয়েন্ট পেতে পারেন। আবার উচ্চ আয়ের কিছু কর্মীর জন্যও দ্রুত স্থায়ী বসবাসের পথ রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের দক্ষ কর্মীদের জন্য এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিশেষ করে যারা নিউজিল্যান্ডে কাজের ভিসা নিয়ে গিয়ে ভবিষ্যতে স্থায়ী বসবাসের পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য কাজের ধরন, বেতনসীমা, প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা এবং ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর নতুন নিয়মগুলো আগে থেকেই যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার, শুধু নির্দিষ্ট বেতন পেলেই নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের অধিকার পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট ভিসার সব যোগ্যতা পূরণ করতে হবে এবং আবেদন ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় যাচাই হবে। অর্থাৎ, ২৪ আগস্টের পরিবর্তনের মূল সুবিধা হলো বেতনসীমা বৃদ্ধির কারণে দক্ষ কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনরত অভিবাসীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং শুরুতেই তাদের জন্য প্রযোজ্য বেতনসীমা সম্পর্কে আরও স্পষ্টতা তৈরি করা। নিউজিল্যান্ডে স্থায়ী বসবাসের পথ খুঁজছেন বিদেশিদের জন্য তাই নতুন নিয়মটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও, আবেদন করার আগে ব্যক্তিগত যোগ্যতা অনুযায়ী সর্বশেষ সরকারি শর্ত যাচাই করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকায় অনেক পরিবার খরচ কমাতে ডলার স্টোর থেকে খাবার কিনছেন। কিন্তু এসব দোকানে পাওয়া খাবারের মান ও পুষ্টিগুণ নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক একটি চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণায় ডলার স্টোরের আশপাশে বসবাস এবং স্থূলতা, টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য সমস্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রিভারসাইড ক্যাম্পাসের গবেষকেরা ২০২৬ সালে প্রকাশিত এই গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ডলার স্টোর ও প্রচলিত মুদি দোকানের অবস্থান এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে ‘বিএমসি পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে। গবেষণার প্রধান লেখক রায়ান ব্রুয়েলম্যানসহ গবেষক দল ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের দোকানের অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের ৫০০ সিটি প্রকল্পের স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবহার করেন। গবেষণায় বিশেষভাবে দেখা হয়েছে, কোনো আবাসিক এলাকা থেকে ডলার স্টোর বা প্রচলিত মুদি দোকানে পৌঁছাতে কতটা সহজ। এ জন্য ভৌগোলিক তথ্য বিশ্লেষণ সফটওয়্যার ব্যবহার করে দোকানগুলোর অবস্থান ও আশপাশের জনগোষ্ঠীর তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি আয়, বেকারত্বসহ সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকির বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। গবেষকদের পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, প্রচলিত মুদি দোকানের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো প্রতিকূল স্বাস্থ্য ফলাফলের তুলনামূলক কম সম্পর্ক পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ডলার স্টোরের কাছাকাছি বসবাসের সঙ্গে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক সম্পর্ক দেখা গেছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক বিভিন্ন অঞ্চলে বজায় ছিল। তবে গবেষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, গবেষকেরা ডলার স্টোরের খাবারকে এসব রোগের সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেননি। গবেষণাটি মূলত বিভিন্ন এলাকার খাবারের পরিবেশ এবং স্বাস্থ্যগত ফলাফলের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজেছে। অর্থাৎ কোনো এলাকায় ডলার স্টোর বেশি থাকার কারণেই সেখানকার মানুষ স্থূলতা বা ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছেন, এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত এই গবেষণা থেকে দেওয়া যায় না। গবেষক রায়ান ব্রুয়েলম্যানের মতে, মূল সমস্যা খাবারের দাম নয়, বরং কী ধরনের খাবার মানুষ সহজে কিনতে পারছেন সেটি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক পরিবার কম দামে বেশি প্রক্রিয়াজাত খাবারের দিকে ঝুঁকতে পারেন। ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবারের তুলনায় এ ধরনের খাবারের প্রাপ্যতা বেশি হলে সেটি দীর্ঘমেয়াদে জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত মুদি দোকান ও ডলার স্টোরের খাবারের ধরনে পার্থক্য রয়েছে। তাজা ফলমূল, শাকসবজি, সম্পূর্ণ শস্য এবং কম চর্বিযুক্ত প্রোটিনের মতো স্বাস্থ্যকর খাবার অনেক ডলার স্টোরে তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। অন্যদিকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায় এমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার ও হালকা খাবারের উপস্থিতি বেশি হওয়ার বিষয়টি আগের গবেষণাগুলোতেও উঠে এসেছে। ২০২৫ সালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাতেও ডলার স্টোর থেকে কেনা খাবার অন্যান্য বিক্রয়কেন্দ্র থেকে কেনা খাবারের তুলনায় সামগ্রিকভাবে কম স্বাস্থ্যকর বলে দেখা যায়। তবে সেই গবেষণায় এটাও দেখা হয়েছিল যে ডলার স্টোরে বেশি কেনাকাটা করা পরিবারগুলো অন্য জায়গা থেকে স্বাস্থ্যকর খাবার কিনে খাদ্যাভ্যাসের ভারসাম্য কিছুটা পূরণ করতে পারে। অন্যদিকে, কম আয়ের পরিবারের জন্য ডলার স্টোরের গুরুত্বও গবেষকেরা উপেক্ষা করেননি। এসব দোকানে খাবারের দাম তুলনামূলক কম এবং অনেক এলাকায় এগুলো সহজে পৌঁছানো যায়। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় কম আয়ের ডলার স্টোর ক্রেতারা জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী দাম ও সুবিধাজনক অবস্থানের কারণেই তারা এসব দোকানে কেনাকাটা করেন। তবে তাদের অনেকেই ডলার স্টোরে আরও বেশি ফল, শাকসবজি ও উন্নতমানের প্রোটিনজাত খাবার চান। এই বাস্তবতার কারণে গবেষকেরা ডলার স্টোর কমিয়ে দেওয়াকেই সমাধান হিসেবে দেখছেন না। বরং এসব দোকানেই স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিমাণ ও বৈচিত্র্য বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছেন। স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে ফল ও সবজি বিক্রি, স্থানীয় কৃষক বাজার বা খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমের প্রসার এবং ডলার স্টোরে স্বাস্থ্যকর খাবার সহজলভ্য করার মতো উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। পুষ্টিবিদ ও খাদ্যবিজ্ঞানী শাই বিষ্ণুমোহনও বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তার মতে, মানুষ সাধারণত নিজের বাজেট, সময় ও আশপাশে থাকা দোকানের সুযোগ বিবেচনা করেই খাবার বেছে নেন। তাই মানুষ কোথা থেকে কেনাকাটা করছেন, সেটিকে দায়ী করার বদলে সাশ্রয়ী দামে পুষ্টিকর খাবার পাওয়া যাচ্ছে কি না, সেটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রে ডলার স্টোরকে খাবারের দোকান হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টিও গবেষণার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রচলিত সরকারি শ্রেণিবিন্যাসে এসব প্রতিষ্ঠান অনেক সময় সাধারণ পণ্য বিক্রির দোকান হিসেবে চিহ্নিত হয়। ফলে খাদ্য পরিবেশ বা জনস্বাস্থ্য নিয়ে পরিচালিত বিভিন্ন বিশ্লেষণে এগুলো বাদ পড়ে যেতে পারে। গবেষকদের মতে, মানুষের খাদ্যাভ্যাস বোঝার ক্ষেত্রে ডলার স্টোরের ভূমিকা এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, গবেষণাটি যুক্তরাষ্ট্রের সাশ্রয়ী খাবার ও জনস্বাস্থ্যের মধ্যে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। কম দামের খাবার মানুষের নাগালের মধ্যে থাকলেও সেই খাবার কতটা পুষ্টিকর, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গবেষকদের মতে, স্বাস্থ্যকর খাবারকে শুধু বড় সুপারমার্কেটেই নয়, কম আয়ের মানুষ যেসব দোকানে নিয়মিত কেনাকাটা করেন, সেখানেও সহজলভ্য করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে সহায়তা করা যেকোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি ইরানের ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক চাপ ও বিচ্ছিন্নতা তৈরির ঘোষণা দেন। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির আওতায় শুধু সরকার নয়—ইরানকে আর্থিক বা বাণিজ্যিকভাবে সহায়তা করা আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যবসা, বিমানবন্দর ও সরকারি সংস্থাও পড়তে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে কী ধরনের নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি। ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা কার্যত অচলাবস্থায় রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ অব্যাহত। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বব্যাপী বাণিজ্য হওয়া তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি ট্রাম্পের বক্তব্যকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সমস্যার দিক থেকে মানুষের দৃষ্টি সরানোর চেষ্টা হিসেবে সমালোচনা করেছেন। তেহরান জানিয়েছে, তারা আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি; তবে আলোচনা আত্মসমর্পণের সমার্থক হতে পারে না। এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক ও আর্থিক লেনদেন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতা চীনকে নিয়েও বিশেষ নজর রয়েছে, কারণ চীনের সঙ্গে ইরানের বড় ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে। ফলে ট্রাম্পের হুমকি বাস্তবে কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনসহ অন্যান্য দেশের সম্পর্কেও নতুন উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। ট্রাম্পের সর্বশেষ হুঁশিয়ারি ইরানের ওপর শুধু সরাসরি নিষেধাজ্ঞা নয়, তৃতীয় দেশের মাধ্যমে ইরানের তেল ও বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার পথও সংকুচিত করার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ঘোষণাটির বাস্তব প্রয়োগের নির্দিষ্ট কাঠামো প্রকাশ করা হয়নি।
রাজনীতি
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreলন্ডনের ৩৫ বছর বয়সী অ্যাম্বার উইলিয়ামসের জীবনে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চলেছে অসহ্য ব্যথা, একের পর এক চিকিৎসা আর অনিশ্চয়তা। তার দাবি, তীব্র মাসিকের ব্যথাকে বছরের পর বছর স্বাভাবিক বলে এড়িয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস ও পিত্তথলির সমস্যার সন্দেহে তার অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণ করেন। পরে এসব অস্ত্রোপচারও তার দীর্ঘদিনের ব্যথার প্রকৃত কারণ খুঁজে দিতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালের জুলাইয়ে পরীক্ষায় ধরা পড়ে ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস। উইলিয়ামসের সমস্যা শুরু হয় মাত্র ১১ বছর বয়সে, প্রথম মাসিকের সময়। ১৪ বছর বয়সের মধ্যে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যেত। চিকিৎসকের কাছে একাধিকবার যাওয়ার পরও তাকে বলা হতো, মাসিকের সময় এমন ব্যথা স্বাভাবিক। কয়েক বছর জন্মনিয়ন্ত্রণের ওষুধ ব্যবহার করেও খুব একটা উপকার পাননি বলে জানান তিনি। ২০১২ সালে ২১ বছর বয়সে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে জরুরি বিভাগে গেলে চিকিৎসকেরা অ্যাপেন্ডিসাইটিস সন্দেহ করেন। তার অ্যাপেন্ডিক্স অপসারণ করা হয়। কিন্তু পরে উইলিয়ামসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে জানানো হয় যে অ্যাপেন্ডিক্সে উল্লেখযোগ্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অস্ত্রোপচারের পরও তার মূল সমস্যার কোনো ব্যাখ্যা মেলেনি। এরপরও বছরের পর বছর পেট ও পেলভিক ব্যথা চলতে থাকে। ২০১৬ সালে চিকিৎসকেরা গলস্টোন ও প্যানক্রিয়াটাইটিসের কথা জানান। সে সময় তার গলব্লাডারও অপসারণ করা হয়। উইলিয়ামসের দাবি, অস্ত্রোপচারের পর তাকেও বলা হয়েছিল যে অঙ্গটিতে উল্লেখযোগ্য সমস্যা পাওয়া যায়নি। এই সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। তিনি অতিরিক্ত রক্তপাত, বমি ও তীব্র ব্যথার কথা জানিয়েছেন। এমনকি ব্যথায় অজ্ঞান হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তিনি। একপর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যের সঙ্গেও তার শারীরিক সমস্যার যোগসূত্র খোঁজা হয় এবং তাকে অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল বলে তার ভাষ্য। প্রকৃত রোগের সন্ধান পেতে তাকে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও কয়েক বছর। ২০২৫ সালে স্বামীকে নিয়ে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করেও সফল না হওয়ার পর তিনি ফার্টিলিটি সেবার দ্বারস্থ হন। সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ তার দীর্ঘদিনের উপসর্গ ও এন্ডোমেট্রিওসিস নিয়ে উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়ে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠান। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ল্যাপারোস্কোপি করার পর চিকিৎসকেরা ব্যাপক এন্ডোমেট্রিওসিস ও অ্যাডেনোমায়োসিস শনাক্ত করেন। অস্ত্রোপচারের সময় তার ডিম্বাশয় পেলভিক দেয়ালের সঙ্গে জোড়া লেগে থাকার মতো জটিল অবস্থাও পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এন্ডোমেট্রিওসিস এমন একটি দীর্ঘমেয়াদি রোগ, যেখানে জরায়ুর ভেতরের আবরণের মতো টিস্যু জরায়ুর বাইরে বেড়ে ওঠে। এর ফলে তীব্র মাসিকের ব্যথা, অতিরিক্ত রক্তপাত, দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথা, পেট ফাঁপা এবং সন্তান ধারণে সমস্যা হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, প্রজননক্ষম বয়সী নারীদের প্রায় ১০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৯ কোটি মানুষ এ রোগে আক্রান্ত। সংস্থাটি বলছে, রোগটির কারণে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা ও বন্ধ্যাত্বসহ জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রেই রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। অন্যদিকে অ্যাডেনোমায়োসিসে জরায়ুর যে টিস্যু সাধারণত জরায়ুর ভেতরের আস্তরণ তৈরি করে, সেটি জরায়ুর পেশির দেয়ালের ভেতরে প্রবেশ করে। এর অন্যতম লক্ষণ তীব্র মাসিকের ব্যথা ও অতিরিক্ত রক্তপাত; কারও কারও ক্ষেত্রে পেলভিক ব্যথা ও যৌনমিলনের সময় ব্যথাও হতে পারে। উইলিয়ামসের ঘটনা চিকিৎসাব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাকে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এনেছে। তবে তার ক্ষেত্রে অ্যাপেন্ডিক্স ও গলব্লাডার অপসারণকে চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিতভাবে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলা যায় কি না, সে বিষয়ে স্বাধীন মেডিকেল মূল্যায়নের তথ্য প্রতিবেদনে নেই। তাই বিষয়টি তার নিজের অভিযোগ ও অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখা উচিত। দীর্ঘদিনের ব্যথা শেষ পর্যন্ত তার কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনেও বড় প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন উইলিয়ামস। এখনো মাসিকের প্রথম কয়েক দিন তিনি সর্বোচ্চ মাত্রার ব্যথা অনুভব করেন এবং নিয়মিত ব্যথানাশকের ওপর নির্ভর করতে হয় বলে জানান। সন্তান ধারণের সক্ষমতার ওপর দীর্ঘদিনের রোগের কী প্রভাব পড়েছে, সেটি নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন। তার অভিজ্ঞতা নতুন করে প্রশ্ন তুলছে, তীব্র ও বারবার ফিরে আসা মাসিকের ব্যথাকে শুধু ‘স্বাভাবিক’ বলে এড়িয়ে যাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, এমন ব্যথা যদি দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, অতিরিক্ত রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী পেলভিক ব্যথার সঙ্গে থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও শিক্ষার্থীদের প্রধান গন্তব্য। কিন্তু ভিসা নীতির পরিবর্তন, জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, পড়াশোনার খরচ এবং শ্রমবাজারের চাহিদার কারণে এখন অনেকেই বিকল্প দেশ বিবেচনা করছেন। তবে এর অর্থ এই নয় যে সবাই যুক্তরাষ্ট্রের নীতির কারণে দেশ বদলাচ্ছেন। বরং শিক্ষা, চাকরি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা, ব্যবসা ও তুলনামূলক সহজ অভিবাসন ব্যবস্থা মিলিয়ে নতুন গন্তব্যের তালিকা তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি ইউরোপ ও এশিয়ার নতুন শ্রমবাজার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে সৌদি আরব, কুয়েত ও কাতারের পাশাপাশি রোমানিয়া, পর্তুগাল, সেশেলসসহ বিভিন্ন দেশে কর্মী পাঠাচ্ছে। জাপানেও টেকনিক্যাল ইন্টার্ন ও দক্ষ কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম রয়েছে। জাপান এখন বাংলাদেশিদের জন্য সবচেয়ে আলোচিত বিকল্পগুলোর একটি। বিশেষ করে কারিগরি দক্ষতা, নির্মাণ, উৎপাদন ও বিভিন্ন নির্দিষ্ট পেশায় কর্মীর চাহিদা থাকায় বাংলাদেশ থেকে জাপানের শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের জনশক্তি রপ্তানির সরকারি প্ল্যাটফর্মেও জাপানের বিভিন্ন কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়াও গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। শিল্প ও উৎপাদন খাতে বিদেশি কর্মীর চাহিদা দেশটিকে এশিয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় শ্রমবাজারে পরিণত করেছে। বাংলাদেশি কর্মীদের পাশাপাশি এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণরাও দক্ষিণ কোরিয়াকে কাজের পাশাপাশি দক্ষতা অর্জনের সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ইউরোপে জার্মানি এখন দক্ষ কর্মীদের অন্যতম বড় বিকল্প। প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা ও শিল্পখাতে কর্মীর ঘাটতি পূরণে বিদেশি কর্মীদের ওপর দেশটির নির্ভরতা রয়েছে। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানভিত্তিক বিভিন্ন গাইডেও জার্মানিকে দক্ষ কর্মীদের জন্য শীর্ষ গন্তব্যগুলোর একটি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পর্তুগালও বাংলাদেশিসহ দক্ষিণ এশিয়ার অভিবাসীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশ সরকারও পর্তুগালকে বৈধ শ্রমবাজার হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে ইউরোপে যেতে আগ্রহীদের কাছে দেশটি ক্রমেই পরিচিত বিকল্পে পরিণত হচ্ছে। ইতালি অবশ্য নতুন গন্তব্যের চেয়ে বাংলাদেশিদের দীর্ঘদিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য। বৈধ শ্রমবাজারের পাশাপাশি অনিয়মিত অভিবাসনের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশিদের উপস্থিতি রয়েছে। তাই ইউরোপে অভিবাসনের প্রবণতা বিশ্লেষণ করতে গেলে ইতালিকে বাদ দেওয়া যায় না। আয়ারল্যান্ডও বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষ পেশাজীবীদের কাছে আকর্ষণীয় হচ্ছে। ইংরেজিভাষী দেশ হওয়া এবং প্রযুক্তি, ওষুধ ও আর্থিক খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকায় দেশটি যুক্তরাজ্যের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই প্রবণতায় ভারতীয় শিক্ষার্থীদের মধ্যেও জার্মানি, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে বিভিন্ন শিক্ষা-অভিবাসন বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও এই পরিবর্তনের বড় অংশ। বিশেষ করে দুবাই ও আবুধাবি ব্যবসা, প্রযুক্তি, পেশাদারি সেবা ও উদ্যোক্তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। তবে এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মতো স্থায়ী অভিবাসনের পথ নয়; কাজ ও ব্যবসার সুযোগের পাশাপাশি ভিসার ধরন ও দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের নিয়ম আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি তুলনামূলক কম খরচের বিকল্প হিসেবে পরিচিত এবং ২০২৬ সালে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। মালয়েশিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আকর্ষণের লক্ষ্য নিয়েছে। সিঙ্গাপুরও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রযুক্তি, আর্থিক সেবা ও উচ্চ দক্ষতার চাকরিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দেশটির দিকে তাকাচ্ছেন। তবে ছোট শ্রমবাজার এবং তুলনামূলক উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় এখানে বড় বিষয়। নিউজিল্যান্ডও যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার বাইরে ইংরেজিভাষী একটি বিকল্প। দক্ষ কর্মী, শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য দেশটির বিভিন্ন ভিসা ব্যবস্থা রয়েছে। তবে দূরত্ব এবং জীবনযাত্রার ব্যয় অনেকের জন্য বড় বাধা। এশিয়ার বাইরে আফ্রিকার কিছু দেশও নতুন সুযোগের কারণে নজরে আসছে। নাইজেরীয়দের ক্ষেত্রে ঘানা, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ আফ্রিকা ও কেনিয়া গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নাইরোবি আফ্রিকার প্রযুক্তি ও স্টার্টআপ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হওয়ায় প্রযুক্তি ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত তরুণদের আকর্ষণ করছে। মরিশাসও বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের জন্য একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প। পর্যটন, আর্থিক সেবা ও ব্যবসার পরিবেশ দেশটিকে আফ্রিকা অঞ্চলে আলাদা অবস্থান দিয়েছে। উত্তর আফ্রিকার মরক্কো এবং ইউরোপ-এশিয়ার সংযোগস্থল তুরস্কও ব্যবসা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের কারণে নতুন করে বিবেচনায় আসছে। তবে এসব দেশে সুযোগ থাকলেও ভাষা, ভিসা, স্থানীয় শ্রমবাজার এবং স্থায়ী বসবাসের নিয়ম দেশভেদে ভিন্ন। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের অভিবাসনের চিত্রে একটি পরিবর্তন স্পষ্ট। মানুষ শুধু একটি নির্দিষ্ট দেশের দিকে তাকিয়ে নেই। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার পাশাপাশি জার্মানি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, পর্তুগাল, ইতালি, আয়ারল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, নিউজিল্যান্ড, রোমানিয়া, গ্রিস, সার্বিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও রুয়ান্ডার মতো দেশও বিভিন্ন শ্রেণির অভিবাসী ও শিক্ষার্থীর কাছে বিকল্প হয়ে উঠছে। তবে প্রতিটি দেশের ক্ষেত্রে অভিবাসনের কারণ ও সুযোগ এক নয়। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো দেশকে শুধু “সহজে যাওয়ার দেশ” হিসেবে দেখলে ভুল হবে। ভিসা পাওয়া, কাজের অনুমতি, বেতন, কর, বাসাভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা এবং স্থায়ী বসবাসের সুযোগ সবকিছু যাচাই করেই সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বিশেষ করে ভিসামুক্ত বা সহজ প্রবেশের সুবিধা থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ বা স্থায়ী বসবাসের অধিকার দেয় না। অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির প্রভাব নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বিশ্বজুড়ে অভিবাসনের মানচিত্র এখন একমুখী নয়। নতুন প্রজন্মের অভিবাসীরা কোথায় বেশি সুযোগ, কম ঝুঁকি এবং ভালো ভবিষ্যৎ পাওয়া যেতে পারে, সেই হিসাবেই বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে।
ভিয়েতনামের ঘন জঙ্গলে বৃষ্টির মধ্যে আশ্রয় নিতে গিয়ে যে গুহাটির সন্ধান পেয়েছিলেন হো খান, সেটিই পরে পরিচিত হয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গুহা হিসেবে। কিন্তু প্রথম দেখার পর ঘন জঙ্গলের ভেতর গুহাটির অবস্থান হারিয়ে ফেলেছিলেন তিনি। এরপর প্রায় ১৮ বছর ধরে খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত ২০০৯ সালে আবার সেই গুহার সন্ধান পান তিনি। নাম দেওয়া হয় হ্যাং সন দুং। ঘটনাটির শুরু ১৯৯০ সালে। ভিয়েতনামের কোয়াং বিন প্রদেশের ফং না-ক্য বাং এলাকার জঙ্গলে ঘুরতে গিয়ে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা হো খান। আশ্রয়ের খোঁজে তিনি একটি গুহায় ঢোকেন। সেখানে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে আসতে এবং ভেতর থেকে নদীর পানির শব্দ শুনতে পান। তবে অন্ধকার ও অজানা পরিবেশের কারণে আর গভীরে যাওয়ার সাহস করেননি। পরে গুহাটির অবস্থান আবার খুঁজে বের করার চেষ্টা করলেও ঘন, চিহ্নহীন জঙ্গলের কারণে তা সম্ভব হয়নি। কিন্তু জায়গাটির কথা তিনি ভুলে যাননি। দীর্ঘ সময় ধরে খোঁজ চালানোর পর ২০০৯ সালে অবশেষে গুহাটির প্রবেশপথ আবার খুঁজে পান হো খান। এরপর ব্রিটিশ কেভ রিসার্চ অ্যাসোসিয়েশনের অভিযাত্রীদের একটি দল তার সঙ্গে সেখানে যায় এবং গুহাটির বিশালত্ব দেখে বিস্মিত হয়। সন দুংয়ের বিশালতা সাধারণ কোনো গুহার সঙ্গে তুলনা করার মতো নয়। ভিয়েতনামের সরকারি পর্যটন তথ্য অনুযায়ী, গুহাটি প্রায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ, কোনো কোনো অংশ প্রায় ২০০ মিটার উঁচু এবং ১৫০ মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত। এর বিশাল কক্ষগুলোর আকার এতটাই বড় যে একটি ৪০ তলা ভবনের সমান উচ্চতার কাঠামোও সেখানে কল্পনা করা যায়। গুহার ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে ভূগর্ভস্থ নদী। সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়গুলোর একটি হলো এর ছাদের বিশাল দুটি অংশ ধসে গিয়ে তৈরি হয়েছে ‘ডোলাইন’ বা প্রাকৃতিক উন্মুক্ত অংশ। সেখান দিয়ে সূর্যের আলো ও বৃষ্টির পানি গুহার গভীরে পৌঁছায়। ফলে মাটির নিচেই তৈরি হয়েছে ঘন সবুজ বনাঞ্চল, যেখানে গাছপালা স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠছে। শুধু বন নয়, গুহার ভেতরের পরিবেশও আলাদা। বিশাল ভূগর্ভস্থ কক্ষগুলোর নিজস্ব ক্ষুদ্র জলবায়ু তৈরি হয়। উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে মিশে সেখানে কুয়াশা ও মেঘের মতো পরিবেশ তৈরি করতে পারে। এ কারণেই সন দুংকে শুধু একটি গুহা নয়, বরং মাটির নিচে গড়ে ওঠা এক স্বতন্ত্র প্রাকৃতিক জগত হিসেবে দেখা হয়। গুহাটিতে রয়েছে বিশাল স্ট্যালাগমাইট, অনন্য পাথরের গঠন এবং ‘কেভ পার্ল’ নামে পরিচিত ক্যালসাইটের গোলাকার গঠন। কয়েক মিলিয়ন বছর ধরে পানি ও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার প্রভাবে তৈরি এসব গঠন গুহাটিকে আরও অনন্য করে তুলেছে। সন দুং অবস্থিত ফং না-ক্য বাং ন্যাশনাল পার্কে, যা ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। এই এলাকায় ৩০০টিরও বেশি গুহা ও ভূগর্ভস্থ নদীর সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে সন দুংয়ের পরিবেশ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সেখানে প্রবেশ ও অভিযান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। একসময় কাঠ সংগ্রহ ও শিকারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন হো খান। পরে তার খুঁজে পাওয়া এই গুহা বিশ্বজুড়ে পরিচিত হয়ে ওঠে এবং ফং না-ক্য বাং অঞ্চলের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে পরিণত হয়। তবে সন দুংয়ের গল্পের সবচেয়ে বিস্ময়কর অংশ হয়তো এর বিশালত্ব নয়, বরং একটি বৃষ্টিভেজা রাতের কৌতূহল কীভাবে প্রায় দুই দশক পর পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ প্রাকৃতিক বিস্ময়ের দরজা খুলে দিয়েছিল।
কানেকটিকাটের রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী মেরিয়াম খান। ১১ আগস্টের ডেমোক্রেটিক প্রাইমারিতে দ্বিতীয় স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্টে জয় পেয়ে তিনি এখন নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচনে জয়ী হলে কানেকটিকাটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হওয়ার মাইলফলক অর্জন করবেন তিনি। প্রাইমারিতে মেরিয়াম খান পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ ভোট। তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী উইন্ডসর বোর্ড অব এডুকেশনের প্রেসিডেন্ট আয়ানা টেলর পেয়েছেন ২ হাজার ৮৭৪ ভোট। বর্তমান স্টেট সিনেটর ডগ ম্যাকক্রোরি পেয়েছেন ২ হাজার ২৫৫ ভোট। এই ফলের মধ্য দিয়ে ম্যাকক্রোরিকে হারিয়ে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী হিসেবে নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনের টিকিট নিশ্চিত করেছেন খান। দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের মধ্যে হার্টফোর্ড, ব্লুমফিল্ড ও উইন্ডসরের কিছু অংশ রয়েছে। ১১ আগস্টের প্রাইমারির আগে মেরিয়াম খানই ডেমোক্রেটিক পার্টির দলীয় সমর্থন পেয়েছিলেন। মে মাসের দলীয় কনভেনশনে তিন দফা ভোটের পর তিনি সেই সমর্থন নিশ্চিত করেন। মেরিয়াম খানের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় কয়েক বছর আগে। ২০২২ সালের মার্চে বিশেষ নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি কানেকটিকাট স্টেট হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে প্রবেশ করেন। এরপর ২০২২ সালের নভেম্বরে পূর্ণ মেয়াদে নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালে আবারও জয় পান। স্টেট হাউসে নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়েই তিনি কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী আইনপ্রণেতা হিসেবে ইতিহাস গড়েন। তাঁর আগে মুসলিম আইনপ্রণেতা হিসেবে স্টেট সিনেটে নির্বাচিত হন সৌদ আনোয়ার। ফলে খান এবার সিনেটে জয়ী হলে মুসলিম নারীদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন অধ্যায় তৈরি হবে। রাজনীতিতে আসার আগে মেরিয়াম খান শিক্ষকতা করেছেন। বর্তমানে তিনি স্টেট হাউসের তিনটি কমিটিতে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিশেষ শিক্ষা বিষয়ক নির্বাচিত কমিটির কো-চেয়ার। শিক্ষা ও বিশেষ শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অভিজ্ঞতা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রাইমারির এই জয় শুধু ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অগ্রগতি নয়, কানেকটিকাটের মুসলিম ও অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মুসলিম নারী হিসেবে রাজ্যের আইনসভায় তাঁর সম্ভাব্য উত্থান যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় রাজনীতিতে দক্ষিণ এশীয় ও মুসলিম প্রতিনিধিত্বের বিস্তারের দিকটিও সামনে আনছে। তবে ইতিহাস গড়ার আগে মেরিয়াম খানের সামনে আরও একটি নির্বাচনী লড়াই বাকি। নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে জয় পেলেই দ্বিতীয় সিনেট ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি এবং কানেকটিকাটের প্রথম মুসলিম নারী স্টেট সিনেটর হিসেবে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবেন। বর্তমানে ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনের জন্য তাঁর প্রার্থিতা সক্রিয় রয়েছে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর আক্রান্ত ২ হাজার ৫৬৬
তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা
তুরস্কে ‘ডিসকাউন্টে’ বাট লিফট সার্জারি, অপারেশনের পরই ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যু
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে আদালতে মেটা
সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
নিউজিল্যান্ডে অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের পথে নতুন বেতন নিয়ম, ২৪ আগস্ট থেকে কার্যকর
টেক্সাসের সরকারি স্কুলে অভিবাসী শিক্ষক নিয়োগ নিষিদ্ধ করতে চান গভর্নর
নিউইয়র্কে বাড়ছে সরকারি চাকরির সুযোগ, ২০২৬ সালে এসব পদে রয়েছে নতুন সুযোগ
মায়ের জন্মের মাত্র এক বছর পরই ফ্রোজেন হয়েছিল ভ্রূণ, ২৪ বছর পর সেই ভ্রূণ থেকেই জন্ম নিলেন এমা
পরিবারের সঙ্গে থাকাই কি বোঝা! প্রতিবন্ধী প্রাপ্তবয়স্কদের এসএসআই সুবিধা বন্ধের উদ্যোগ ট্রাম্প প্রশাসনের
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি
ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ফুল ফান্ডিং, পরিবার নিয়েও যাওয়ার বড় সুযোগ
বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা
তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, সাড়ে তিন বছরেও স্কুলে ফেরেননি প্রধান শিক্ষক
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
অভিবাসী গ্রেপ্তারে স্থানীয় পুলিশকে ৫ লাখ ডলারের বীমা দিতে চায় আইস
কেন্টাকির পার্কে গুলিতে কিশোর নিহত, আহত ৪; গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ
গার্লফ্রেন্ডের ৩ বছরের কন্যাশিশুকে নির্যাতন হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন, সাজা শুরুর এক মাসেই কারাগারে মৃত্যু
ক্যান্সারের অভিযোগে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণে রাজি জনসন অ্যান্ড জনসন
মেয়ের বিছানার নিচে লুকিয়ে থাকা যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগে গ্রেপ্তার মা
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের বড় হুমকি, সহায়তা করলে দেশগুলোকেও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তির সতর্কতা
যেখানে সেবাই নেই, সেখানেও টিপের দাবি; যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ক্রেতাদের ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ছেন হ্যারি-মেগান, ছয় বছর পর কেন আবার যুক্তরাজ্যে ফিরছেন তারা?
একদিকে ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি, অন্যদিকে বন্দি ইরানিদের ফেরত, ফাঁস নথিতে ট্রাম্পের দ্বিমুখী নীতি