Live update news
টেক্সাসে নির্মাণের পরিকল্পনা করা টেরাফ্যাব প্রকল্পের নকশা। ছবি: সংগৃহীত
চীনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণ করছেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে টেসলা ও স্পেসএক্স। 'টেরাফ্যাব' নামে এই বিশাল সেমিকন্ডাক্টর কারখানার আয়তন হবে ১০ কোটি বর্গফুটেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম ভবনগুলোকেও আকারে অনেক পেছনে ফেলে দেবে।   টেসলা ও স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হিউস্টনের কাছে গ্রাইমস কাউন্টিতে যৌথভাবে নির্মিতব্য এই মেগা কারখানার প্রথম ধাপে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে মোট বিনিয়োগ ১১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।   ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন, এটি হবে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ভবন।" প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে অবস্থিত নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টারের রেকর্ড ভেঙে দেবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনটিই বিশ্বের বৃহত্তম ভবন হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রসৈকত, স্কি ঢালসহ নানা সুবিধা। প্রস্তাবিত টেরাফ্যাবের আয়তন হবে এর পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, অ্যাপল পার্ক এবং মল অব আমেরিকার সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড় হবে।   টেসলা ও স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে এখানে সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষার কাজ হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত যান, রোবট এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। সেই ঘাটতি পূরণেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, টেরাফ্যাবে তৈরি হওয়া চিপ টেসলার অপটিমাস মানবাকৃতি রোবট, স্বয়ংচালিত সাইবারক্যাব এবং স্পেসএক্সের পরিকল্পিত মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১ টেরাওয়াটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন। প্রকাশিত নকশায় দেখা গেছে, ভবনটির নকশা হবে ডানার মতো বিস্তৃত এবং ছাদ হবে স্বচ্ছ। ইলন মাস্কের ভাষায়, এটি হবে "বিজ্ঞান কল্পকাহিনির শহরের" মতো দেখতে।   প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স। নতুন কর্মীদের বড় অংশ গ্রাইমস কাউন্টি ও পাশের ব্রাজোস কাউন্টি থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলও এই প্রকল্পে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারখানাটি নির্মিত হবে গিবন্স ক্রিক রিজার্ভয়ার এলাকায়, যেখানে আগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার নিয়ে টেক্সাসে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ওই জলাধারের পানি ব্যবহার করবে।   এছাড়া প্রকল্পের জন্য দেওয়া কর-সুবিধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে শত শত বাসিন্দা সম্প্রতি এক কাউন্টি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাস এন্টারপ্রাইজ ফান্ড থেকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি রাজ্যের কর্মসংস্থান, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধাও পাবে।   প্রকল্পটি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এটি শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৬ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রে মর্টগেজ ঋণের সুদের হার নিয়ে নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
মর্টগেজে বছরে গড়ে ৩,৩০০ ডলার বেশি দিচ্ছেন লাখো মার্কিন বাড়ির মালিক

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাড়ির মালিক তাদের মর্টগেজ ঋণের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করছেন। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্যাংকরেটের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন ঋণগ্রহীতা বছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করছেন। দীর্ঘমেয়াদে ৩০ বছরের একটি মর্টগেজ ঋণে এই অতিরিক্ত ব্যয় গড়ে ৭৮ হাজার ১৮৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   নিউজউইকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নেওয়া ৩২ লাখ মর্টগেজ ঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যাংকরেট এ ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮৭ শতাংশ বাড়ি ক্রেতা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বাজারে উপলব্ধ সর্বনিম্ন সুদের হার পাননি। কারণ, অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব তুলনা না করেই একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ঋণদাতারাও সাধারণত গ্রাহককে আরও ভালো বিকল্পের কথা জানান না।   গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে নেওয়া সব মর্টগেজ ঋণ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণগ্রহীতারা বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করছেন। ব্যাংকরেট এই অতিরিক্ত ব্যয়কে "গোপন বাড়ির মালিকানা কর" হিসেবে উল্লেখ করেছে।   ব্যাংকরেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গবেষণার প্রধান লেখক ম্যাট ফেলোস বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবে শুধু বাজার পরিস্থিতিই নয়, ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াও অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী। তার ভাষায়, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার বাজারে রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা সেই সুযোগ সম্পর্কে জানতেই পারেন না।   তিনি বলেন, ঋণদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে একজন গ্রাহক গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৭৯ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। এই অর্থ অনেক পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার সক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের হার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। পেনসিলভানিয়ায় প্রায় ৯০ দশমিক ২ শতাংশ ঋণগ্রহীতা বছরে গড়ে ৩ হাজার ডলার বেশি দিচ্ছেন। ওরেগনে এই হার ৯০ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ডলার। অন্যদিকে আইওয়া, কলোরাডো, অ্যারিজোনা ও সাউথ ডাকোটায় তুলনামূলকভাবে কম মানুষ অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন।   তবে ঋণের মোট অঙ্কের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত ব্যয়ের হার সবচেয়ে বেশি নিউ হ্যাম্পশায়ার, ইলিনয়, নিউ জার্সি ও ফ্লোরিডায়। ব্যাংকরেটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক শহরে ঋণগ্রহীতারা তাদের প্রকৃত যোগ্যতার তুলনায় বেশি সুদের হারে ঋণ নিচ্ছেন। এর পেছনে স্থানীয় বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন ঋণদাতার প্রস্তাব তুলনা না করার প্রবণতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব। মর্টগেজ গ্রহণের আগে একাধিক ব্যাংক বা ঋণদাতার কাছ থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করে সুদের হার, ফি এবং অন্যান্য শর্ত তুলনা করা উচিত। একাধিক প্রস্তাব থাকলে গ্রাহক নিজের পছন্দের ঋণদাতার সঙ্গে আরও কম সুদের হার নিয়ে আলোচনার সুযোগও পান।   মর্টগেজ খাতের গবেষক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেক্সেই আলেকসান্দ্রভ বলেন, অনেকেই মনে করেন সব ঋণদাতা একই সুদের হার দেন। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। সুদের হারে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পার্থক্যও দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে।   এদিকে ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে। এটি জুলাই ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়।   এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকরেট দুটি নীতিগত পরিবর্তনেরও প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্রতিটি মর্টগেজ প্রস্তাবের সঙ্গে একই ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য প্রচলিত মানদণ্ডের সুদের হার উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বহু ঋণদাতা প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সনদ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। ব্যাংকরেটের দাবি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নতুন কোনো সরকারি কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না।

২০ মিনিট Ago
ওয়াশিংটনে সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কস্টকো কর্মী টাইলার সোরেনসেন। ছবি: সংগৃহীত
পছন্দের নারীকে জড়িয়ে ধরায় সহকর্মীকে গাড়ির ধাক্কায় হত্যা করলেন কস্টকো কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কস্টকোর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ঈর্ষা থেকে সহকর্মীকে মোটরসাইকেলসহ গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ধূসর রঙের সেডান গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দিলে চালক ছিটকে পাশের একটি ধাতব সাইনপোস্টে আঘাত করেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী টাইলার সোরেনসেন ও নিহত ২০ বছর বয়সী জনাথন ল্যাংডন দুজনেই ওয়াশিংটনের ইসাকুয়ায় অবস্থিত কস্টকোতে কর্মরত ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার আগে সোরেনসেন তার সহকর্মী সামান্থা পিটারসনকে ল্যাংডনের সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখেন। সামান্থার প্রতি তার একতরফা আকর্ষণ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই দৃশ্য দেখার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পার্কিং এলাকা থেকে ল্যাংডন মোটরসাইকেলে বের হলে নিজের গাড়ি নিয়ে তার পিছু নেন।   তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পার্কিং লটেই প্রথমে গাড়ি দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান সোরেনসেন। পরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ল্যাংডন বের হলে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে ল্যাংডন ছিটকে গিয়ে একটি সড়কচিহ্নের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করেন। মোটরসাইকেলটি চালক ছাড়াই সামনের দিকে কিছু দূর এগিয়ে যায়।   আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আঘাতের তীব্রতায় ল্যাংডনের শরীর ধাতব খুঁটির সঙ্গে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা তাকে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পরা হেলমেটের সামনের অংশও আঘাতে খুলে গিয়েছিল। শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন সাইনপোস্টের সঙ্গে মিলে যায় বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর সোরেনসেন থেমে আহত সহকর্মীকে সাহায্য করেননি কিংবা জরুরি সেবায় ফোনও করেননি। বরং তিনি কিছু দূরে গিয়ে নিজের গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করে সেখান থেকে চলে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে জরিমানা করেন। তখন ওই কর্মকর্তা জানতেন না, কয়েক মাইল দূরেই একটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটেছে।   পরে সোরেনসেনের বাবা ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গ্রেপ্তারের পর সোরেনসেন তদন্তকারীদের কাছে বলেন, "এটি বোকামি ছিল, কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই করেছি।" তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের আলিঙ্গন করতে দেখে তিনি আতঙ্কিত ও প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন।   তবে সামান্থা পিটারসন তদন্তকারীদের জানান, তার সঙ্গে সোরেনসেনের কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং তিনি একাধিকবার সোরেনসেনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছেন এবং তার থেকে দূরে থাকতে হবে।   এদিকে সোরেনসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তার জামিন ২০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৭ আগস্ট মামলার প্রাক-বিচার শুনানির জন্য আবারও আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার।   প্রকাশিত ভিডিওটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

৫২ মিনিট Ago
মই থেকে পড়ে গাছের ডাল মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছালেও সফল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রাণে বেঁচেছেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। ছবি: সংগৃহীত
মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে ঢুকে যায় গাছের ডাল, অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচলেন নিউ জার্সির এক ব্যক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে বাড়ির আঙিনায় গাছের ডাল কাটতে গিয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন ৪৫ বছর বয়সী ট্রয় হ্যাথাওয়ে। মই থেকে পড়ে যাওয়ার সময় গাছের একটি মোটা ভাঙা ডাল তার মুখ ভেদ করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত গুরুতর আঘাতের পরও তিনি তীব্র ব্যথা অনুভব করেননি। পরে চার ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসকেরা ডালটি সফলভাবে অপসারণ করেন।   সিবিএস ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউ জার্সির গ্লাসবোরো এলাকায় নিজের বাড়ির পেছনের উঠানে গাছের ডাল কাটছিলেন ট্রয় হ্যাথাওয়ে। এ সময় হঠাৎ মই ভেঙে গেলে তিনি প্রায় আট ফুট নিচে পড়ে যান। মাটিতে উঠে দাঁড়ানোর পর তার ধারণা ছিল, হয়তো চোয়াল ভেঙে গেছে। কিন্তু তিনি বুঝতেই পারেননি, গাছের একটি বড় ভাঙা ডাল তার চোয়াল ভেদ করে মুখের ভেতর দিয়ে নাক অতিক্রম করে মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে।   হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি অজ্ঞান হননি, বমি বমি ভাবও ছিল না। সামান্য ব্যথা ছাড়া নিজেকে মোটামুটি স্বাভাবিকই মনে হচ্ছিল। হাসপাতালে নেওয়ার পর এক্স-রে ও অন্যান্য পরীক্ষায় চিকিৎসকেরা দেখতে পান, ডালটি গাল, নাক এবং চোখের পাশ দিয়ে মস্তিষ্কের ভেতরে প্রবেশ করেছে। তবে সৌভাগ্যক্রমে এটি মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে গুরুতর ক্ষতি করেনি। পরিস্থিতির জটিলতা বিবেচনায় দ্রুত একজন নিউরোসার্জনের সহায়তা নেওয়া হয়।   অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেওয়া নিউরোসার্জন ডা. ক্রিস ফ্যারেল বলেন, ডালটি ছিল বেশ বড় এবং এটি রোগীর মুখ ভেদ করে মস্তিষ্কে পৌঁছে গিয়েছিল। তাই দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচার করা জরুরি ছিল। চিকিৎসকেরা মাথার খুলি কেটে অস্ত্রোপচার না করে নাকের ভেতর দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে ডালটি অপসারণের পরিকল্পনা করেন। মস্তিষ্কের কিছু টিউমার অপসারণেও একই ধরনের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়।   প্রায় চার ঘণ্টা ধরে চলা অস্ত্রোপচারে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ডালটি বের করে আনা হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো বড় ধরনের রক্তক্ষরণ বা অতিরিক্ত ক্ষতি হয়নি। অস্ত্রোপচারের পর কয়েকটি সেলাই, সামান্য ক্ষতচিহ্ন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের প্রেসক্রিপশন নিয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হন হ্যাথাওয়ে। বর্তমানে তার গালে একটি দাগ রয়েছে। তবে দৃষ্টিশক্তি, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বা সংক্রমণজনিত কোনো জটিলতা দেখা দেয়নি বলে তিনি জানিয়েছেন।   তিন সন্তানের বাবা হ্যাথাওয়ে বলেন, তিনি এখনও বিশ্বাস করতে পারেন না যে এত বড় দুর্ঘটনার পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। স্ত্রী ও সন্তানদের কাছে ফিরে যেতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছেন।   চিকিৎসকদের মতে, ডালটি যদি কয়েক মিলিমিটার ভিন্ন পথে প্রবেশ করত, তাহলে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত এবং পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারত।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
টেক্সাসে মার্কিন আইনপ্রণেতার তীব্র বিরোধিতা সত্ত্বেও নতুন মসজিদ নির্মাণের অনুমোদন

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ম্যাকিনিতে একটি নতুন মসজিদ ও ইসলামিক সেন্টার নির্মাণের প্রস্তাবে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা বা কংগ্রেসম্যান কিথ সেলফ। তিনি ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিলের কাছে ৫ দশমিক ৫ একর জায়গার ওপর ‘ইসলামিক অ্যাসোসিয়েশন অব ম্যাকিনি’-এর এই জোনিং আবেদনটি বাতিল করার জোর দাবি জানান। তবে তার এই কড়া বিরোধিতা এবং বিভিন্ন উসকানিমূলক অভিযোগ সত্ত্বেও সিটি কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে মসজিদ নির্মাণের পক্ষেই রায় দিয়েছে। কাউন্সিল সদস্যদের মতে, মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাবটি শহরের সব নিয়মকানুনের সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ।   সিটি কাউন্সিলের শুনানিতে কিথ সেলফ তথাকথিত ‘পলিটিক্যাল ইসলাম’ বা রাজনৈতিক ইসলাম এবং শরিয়া আইনকে স্থানীয়দের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কাউন্সিল সদস্যদের সতর্ক করে তিনি দাবি করেন যে, বাল্যবিবাহ বা অনার কিলিংয়ের মতো ঘটনা এখানে ঘটবে না—এমনটি ভাবার কোনো সুযোগ নেই। তার ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় কোনো বাহিনী স্থানীয়দের বাঁচাতে আসবে না। এ ছাড়া তিনি যুক্তরাজ্যে ‘গ্রুমিং গ্যাং’-এর মাধ্যমে নির্যাতনের কিছু অভিযোগও তুলে ধরেন, যেখানে তিনি প্রায় আড়াই লাখ ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করেন। তবে সরকারি বা নির্ভরযোগ্য কোনো নথিতে তার এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করা যায়নি।   ভার্জিনিয়া পার্কওয়ে এবং ক্রুচার ক্রসিংয়ের কাছাকাছি প্রস্তাবিত এই মসজিদটি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকেই বিতর্ক চলে আসছিল। শুরুতে যানজট এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে কিছু উদ্বেগ থাকলেও পরবর্তীতে অ্যাসোসিয়েশন তাদের নকশা পরিবর্তন করে এবং যানজট ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নিজস্ব সমীক্ষা চালায়। মূলত উত্তর টেক্সাসে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহলের নজরদারি এবং রিপাবলিকান নেতাদের একাংশের কট্টর অবস্থানের কারণেই এই বিতর্ক বড় আকার ধারণ করে। এমনকি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে মসজিদটির নির্ধারিত স্থানে লাগানো একটি সাইনবোর্ডে বড় আকারের ক্রস চিহ্ন এঁকে এবং যিশু খ্রিস্টের নাম লিখে তা ভাঙচুর করার ঘটনাও ঘটেছিল।   শুনানিতে দেড় শতাধিক মানুষের দীর্ঘ মন্তব্য ও কিথ সেলফের মতো প্রভাবশালী রাজনীতিকের সরাসরি হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও ম্যাকিনি সিটি কাউন্সিল এই প্রকল্পটির জোনিং আবেদনটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করে। সিটি কাউন্সিলের সদস্য জাস্টিন বেলার এই প্রকল্প ঘিরে রাজনৈতিক বাগাড়ম্বরের তীব্র সমালোচনা করেন। বিষয়টিকে ‘নির্বাচনি বছরে ভীতি ছড়ানোর অপকৌশল’ হিসেবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মানুষকে আলাদা করে বা বিভাজন তৈরি করে ক্ষমতা লাভের চেষ্টা অত্যন্ত সস্তা একটি উপায়। জোনিং আবেদনটি পাস হলেও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ভবিষ্যতে প্রতিটি ধাপে আলাদাভাবে ভবন নির্মাণের চূড়ান্ত অনুমতি নিতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১৩:৫০
মর্টগেজে বছরে গড়ে ৩,৩০০ ডলার বেশি দিচ্ছেন লাখো মার্কিন বাড়ির মালিক

যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাড়ির মালিক তাদের মর্টগেজ ঋণের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করছেন। ব্যক্তিগত অর্থবিষয়ক ওয়েবসাইট ব্যাংকরেটের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, গড়ে একজন ঋণগ্রহীতা বছরে প্রায় ৩ হাজার ৩০০ ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করছেন। দীর্ঘমেয়াদে ৩০ বছরের একটি মর্টগেজ ঋণে এই অতিরিক্ত ব্যয় গড়ে ৭৮ হাজার ১৮৬ ডলারে পৌঁছাতে পারে।   নিউজউইকের প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে নেওয়া ৩২ লাখ মর্টগেজ ঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যাংকরেট এ ফলাফল প্রকাশ করেছে। গবেষণায় দেখা যায়, প্রায় ৮৭ শতাংশ বাড়ি ক্রেতা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী বাজারে উপলব্ধ সর্বনিম্ন সুদের হার পাননি। কারণ, অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব তুলনা না করেই একটি প্রতিষ্ঠানের ঋণ গ্রহণ করেন। অন্যদিকে ঋণদাতারাও সাধারণত গ্রাহককে আরও ভালো বিকল্পের কথা জানান না।   গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালের পর থেকে নেওয়া সব মর্টগেজ ঋণ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঋণগ্রহীতারা বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত পরিশোধ করছেন। ব্যাংকরেট এই অতিরিক্ত ব্যয়কে "গোপন বাড়ির মালিকানা কর" হিসেবে উল্লেখ করেছে।   ব্যাংকরেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও গবেষণার প্রধান লেখক ম্যাট ফেলোস বলেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের বাড়ির স্বপ্ন পূরণ করা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। তবে শুধু বাজার পরিস্থিতিই নয়, ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়াও অনেক ক্ষেত্রে এই সমস্যার জন্য দায়ী। তার ভাষায়, প্রতিযোগিতামূলক সুদের হার বাজারে রয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ ঋণগ্রহীতা সেই সুযোগ সম্পর্কে জানতেই পারেন না।   তিনি বলেন, ঋণদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হলে একজন গ্রাহক গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৭৯ ডলার পর্যন্ত সাশ্রয় করতে পারেন। এই অর্থ অনেক পরিবারের জন্য বাড়ি কেনার সক্ষমতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের হার অঙ্গরাজ্যভেদে ভিন্ন। পেনসিলভানিয়ায় প্রায় ৯০ দশমিক ২ শতাংশ ঋণগ্রহীতা বছরে গড়ে ৩ হাজার ডলার বেশি দিচ্ছেন। ওরেগনে এই হার ৯০ দশমিক ১ শতাংশ, যেখানে অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৪ হাজার ডলার। অন্যদিকে আইওয়া, কলোরাডো, অ্যারিজোনা ও সাউথ ডাকোটায় তুলনামূলকভাবে কম মানুষ অতিরিক্ত অর্থ দিচ্ছেন।   তবে ঋণের মোট অঙ্কের তুলনায় দীর্ঘমেয়াদি অতিরিক্ত ব্যয়ের হার সবচেয়ে বেশি নিউ হ্যাম্পশায়ার, ইলিনয়, নিউ জার্সি ও ফ্লোরিডায়। ব্যাংকরেটের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলের অনেক শহরে ঋণগ্রহীতারা তাদের প্রকৃত যোগ্যতার তুলনায় বেশি সুদের হারে ঋণ নিচ্ছেন। এর পেছনে স্থানীয় বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতা এবং বিভিন্ন ঋণদাতার প্রস্তাব তুলনা না করার প্রবণতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অতিরিক্ত ব্যয় এড়ানো সম্ভব। মর্টগেজ গ্রহণের আগে একাধিক ব্যাংক বা ঋণদাতার কাছ থেকে প্রস্তাব সংগ্রহ করে সুদের হার, ফি এবং অন্যান্য শর্ত তুলনা করা উচিত। একাধিক প্রস্তাব থাকলে গ্রাহক নিজের পছন্দের ঋণদাতার সঙ্গে আরও কম সুদের হার নিয়ে আলোচনার সুযোগও পান।   মর্টগেজ খাতের গবেষক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হাউজিং ফাইন্যান্স এজেন্সির সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ আলেক্সেই আলেকসান্দ্রভ বলেন, অনেকেই মনে করেন সব ঋণদাতা একই সুদের হার দেন। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই ভিন্ন। সুদের হারে মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ পার্থক্যও দীর্ঘমেয়াদে হাজার হাজার ডলার সাশ্রয় করতে পারে।   এদিকে ফ্রেডি ম্যাকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৬ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ বছরের নির্দিষ্ট সুদের মর্টগেজের গড় হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৬৯ শতাংশে। এটি জুলাই ২০২৫ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়।   এই পরিস্থিতিতে ব্যাংকরেট দুটি নীতিগত পরিবর্তনেরও প্রস্তাব দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, প্রতিটি মর্টগেজ প্রস্তাবের সঙ্গে একই ধরনের যোগ্যতা সম্পন্ন গ্রাহকদের জন্য প্রচলিত মানদণ্ডের সুদের হার উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক বহু ঋণদাতা প্ল্যাটফর্মে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি স্বেচ্ছাসেবী সনদ ব্যবস্থা চালু করা যেতে পারে। ব্যাংকরেটের দাবি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে নতুন কোনো সরকারি কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না।

ডিম্বাণু দান করেছিলেন টাকার জন্য, ১১ বছর পর তার বাড়িতেই অতিথি সেই ফরাসি কিশোরী

স্টেফানি ম্যাটোর কাছে জেড ঠিক কে, তা এক শব্দে প্রকাশ করা বেশ কঠিন। তিনি জেডের মা নন, খালাও নন, আবার নিছক কোনো পারিবারিক বন্ধুও নন। ২০১২ সালে নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে ডিম্বাণু দান করেছিলেন স্টেফানি। সেই ডিম্বাণু থেকেই জন্ম নেয় ফ্রান্সের এক সমকামী দম্পতির মেয়ে জেড, যার বয়স এখন ১১ বছর। তবে কেবল ডিম্বাণু দানের চুক্তিতেই এই গল্প শেষ হয়নি; বরং আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে এই দাতা ও গ্রহীতা পরিবারের মধ্যে গড়ে উঠেছে এক অবিচ্ছেদ্য ও আবেগময় সম্পর্ক।   বর্তমানে ৩৬ বছর বয়সী ফুল-টাইম কনটেন্ট ক্রিয়েটর স্টেফানি জানান, তরুণ বয়সে কেবল আর্থিক প্রয়োজনে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন সফলভাবে ডিম্বাণু দানের পর সবার পথ আলাদা হয়ে যাবে। কিন্তু জেডের বাবা ভিনসেন্ট ও জুলিয়েনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়।   ফ্রান্সে সারোগেসি নিষিদ্ধ হওয়ায় এই ফরাসি দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রে এসে কানেকটিকাটের একটি ফার্টিলিটি এজেন্সির মাধ্যমে স্টেফানিকে নির্বাচন করেন। সন্তান জন্মের আগে থেকেই তাদের মধ্যে চমৎকার বোঝাপড়া তৈরি হয়, যা পরে নিয়মিত ভিডিও কল ও দেখাসাক্ষাতের মাধ্যমে আরও গভীর হয়। সম্প্রতি জেডের ইংরেজি ভাষা চর্চার জন্য ভিনসেন্ট ও জুলিয়েন স্টেফানির কাছে যুক্তরাষ্ট্রে একটি ভালো 'হোস্ট ফ্যামিলি' বা আশ্রয়দাতা পরিবারের সন্ধান চাইলে স্টেফানি নিজেই জেডকে নিজের কাছে রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এরপর কানেকটিকাটে স্টেফানির বাড়িতে দুই সপ্তাহ কাটিয়ে যায় ফরাসি কিশোরী জেড।   স্টেফানি, তার প্রেমিক এবং মায়ের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়েছে জেড। তারা একসঙ্গে বেকিং করেছেন, ভয়ের সিনেমা দেখেছেন, নিউইয়র্ক শহর ঘুরে বেড়িয়েছেন এবং দীর্ঘ সময় গল্প করেছেন। জেডের বাবা ভিনসেন্ট জানান, তারা কখনোই জেডের জন্মের ইতিহাস গোপন করেননি। স্টেফানির সঙ্গে যোগাযোগ রাখাটাকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করেছেন, যাতে জেড নিজের শেকড় ও স্বাস্থ্যগত কোনো তথ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে সহজেই তা পেতে পারে।   প্রজনন আইন বিশেষজ্ঞ মেলিসা ব্রিসম্যানের মতে, সমকামী দম্পতিদের ক্ষেত্রে দাতার সঙ্গে এমন সম্পর্ক বজায় রাখা তুলনামূলকভাবে বেশ সাধারণ ঘটনা। তাছাড়া বর্তমানে উন্নত ডিএনএ পরীক্ষার যুগে দাতার পরিচয় পুরোপুরি গোপন রাখাও প্রায় অসম্ভব। তবে স্টেফানি ও জেডের পরিবারের এই গল্পটি কেবল আইনি পরিচয় বা চুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্টেফানি একসময় ভেবেছিলেন তিনি কেবল অন্য কাউকে একটি পরিবার গড়তে সাহায্য করছেন, কিন্তু বিনিময়ে তিনি নিজেই পরম মমতায় ভরা নতুন এক পরিবারের অংশ হয়ে গেছেন।

টেক্সাসে নির্মাণের পরিকল্পনা করা টেরাফ্যাব প্রকল্পের নকশা। ছবি: সংগৃহীত
চীনের রেকর্ড ভেঙে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণ করছেন ইলন মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে টেসলা ও স্পেসএক্স। 'টেরাফ্যাব' নামে এই বিশাল সেমিকন্ডাক্টর কারখানার আয়তন হবে ১০ কোটি বর্গফুটেরও বেশি। পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এটি বিশ্বের বর্তমান বৃহত্তম ভবনগুলোকেও আকারে অনেক পেছনে ফেলে দেবে।   টেসলা ও স্পেসএক্স বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, হিউস্টনের কাছে গ্রাইমস কাউন্টিতে যৌথভাবে নির্মিতব্য এই মেগা কারখানার প্রথম ধাপে বিনিয়োগ করা হবে ১৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন হলে মোট বিনিয়োগ ১১৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।   ইলন মাস্ক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে দাবি করেছেন, এটি হবে "পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে মূল্যবান ভবন।" প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদুতে অবস্থিত নিউ সেঞ্চুরি গ্লোবাল সেন্টারের রেকর্ড ভেঙে দেবে। বর্তমানে প্রায় ১ কোটি ৮৯ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই ভবনটিই বিশ্বের বৃহত্তম ভবন হিসেবে পরিচিত। এর ভেতরে রয়েছে কৃত্রিম সমুদ্রসৈকত, স্কি ঢালসহ নানা সুবিধা। প্রস্তাবিত টেরাফ্যাবের আয়তন হবে এর পাঁচ গুণেরও বেশি। এটি যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন, অ্যাপল পার্ক এবং মল অব আমেরিকার সম্মিলিত আয়তনের চেয়েও অনেক বড় হবে।   টেসলা ও স্পেসএক্সের তথ্য অনুযায়ী, একই ছাদের নিচে এখানে সেমিকন্ডাক্টর চিপের নকশা, উৎপাদন, প্যাকেজিং এবং পরীক্ষার কাজ হবে। প্রতিষ্ঠান দুটির দাবি, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বয়ংচালিত যান, রোবট এবং মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য বর্তমান বৈশ্বিক চিপ উৎপাদন যথেষ্ট নয়। সেই ঘাটতি পূরণেই এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে।   প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, টেরাফ্যাবে তৈরি হওয়া চিপ টেসলার অপটিমাস মানবাকৃতি রোবট, স্বয়ংচালিত সাইবারক্যাব এবং স্পেসএক্সের পরিকল্পিত মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারে ব্যবহার করা হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বছরে ১ টেরাওয়াটের বেশি কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য প্রয়োজনীয় চিপ উৎপাদন। প্রকাশিত নকশায় দেখা গেছে, ভবনটির নকশা হবে ডানার মতো বিস্তৃত এবং ছাদ হবে স্বচ্ছ। ইলন মাস্কের ভাষায়, এটি হবে "বিজ্ঞান কল্পকাহিনির শহরের" মতো দেখতে।   প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অন্তত ৩ হাজার নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে টেসলা ও স্পেসএক্স। নতুন কর্মীদের বড় অংশ গ্রাইমস কাউন্টি ও পাশের ব্রাজোস কাউন্টি থেকে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইন্টেলও এই প্রকল্পে অংশ নেবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে, যদিও তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   তবে প্রকল্পটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে কিছু উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। কারখানাটি নির্মিত হবে গিবন্স ক্রিক রিজার্ভয়ার এলাকায়, যেখানে আগে একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ছিল। ডেটা সেন্টারের পানির ব্যবহার নিয়ে টেক্সাসে আগে থেকেই বিতর্ক রয়েছে। এ কারণে স্পেসএক্স জানিয়েছে, তারা স্থানীয় ভূগর্ভস্থ পানির পরিবর্তে ওই জলাধারের পানি ব্যবহার করবে।   এছাড়া প্রকল্পের জন্য দেওয়া কর-সুবিধা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা না থাকার অভিযোগ তুলে শত শত বাসিন্দা সম্প্রতি এক কাউন্টি সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের কার্যালয় এই প্রকল্পের জন্য টেক্সাস এন্টারপ্রাইজ ফান্ড থেকে ৩ কোটি ডলারের অনুদান অনুমোদন করেছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি রাজ্যের কর্মসংস্থান, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন সুবিধাও পাবে।   প্রকল্পটি ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পন্ন হলে এটি শুধু আয়তনের দিক থেকেই নয়, আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিল্পকেন্দ্রে পরিণত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ওয়াশিংটনে সহকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত কস্টকো কর্মী টাইলার সোরেনসেন। ছবি: সংগৃহীত
পছন্দের নারীকে জড়িয়ে ধরায় সহকর্মীকে গাড়ির ধাক্কায় হত্যা করলেন কস্টকো কর্মী

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে কস্টকোর এক কর্মীর বিরুদ্ধে ঈর্ষা থেকে সহকর্মীকে মোটরসাইকেলসহ গাড়ির ধাক্কা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির একটি নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ধূসর রঙের সেডান গাড়ি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দিলে চালক ছিটকে পাশের একটি ধাতব সাইনপোস্টে আঘাত করেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট ও দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২২ বছর বয়সী টাইলার সোরেনসেন ও নিহত ২০ বছর বয়সী জনাথন ল্যাংডন দুজনেই ওয়াশিংটনের ইসাকুয়ায় অবস্থিত কস্টকোতে কর্মরত ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ঘটনার আগে সোরেনসেন তার সহকর্মী সামান্থা পিটারসনকে ল্যাংডনের সঙ্গে আলিঙ্গন করতে দেখেন। সামান্থার প্রতি তার একতরফা আকর্ষণ ছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। ওই দৃশ্য দেখার পর তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন এবং পার্কিং এলাকা থেকে ল্যাংডন মোটরসাইকেলে বের হলে নিজের গাড়ি নিয়ে তার পিছু নেন।   তদন্তসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, পার্কিং লটেই প্রথমে গাড়ি দিয়ে তাদের দিকে এগিয়ে যান সোরেনসেন। পরে প্রায় ১০ মিনিট অপেক্ষা করে ল্যাংডন বের হলে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে ধাক্কা দেন। এতে ল্যাংডন ছিটকে গিয়ে একটি সড়কচিহ্নের খুঁটিতে সজোরে আঘাত করেন। মোটরসাইকেলটি চালক ছাড়াই সামনের দিকে কিছু দূর এগিয়ে যায়।   আদালতে জমা দেওয়া নথিতে বলা হয়েছে, আঘাতের তীব্রতায় ল্যাংডনের শরীর ধাতব খুঁটির সঙ্গে আছড়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকারীরা তাকে উপুড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার পরা হেলমেটের সামনের অংশও আঘাতে খুলে গিয়েছিল। শরীরে থাকা আঘাতের চিহ্ন সাইনপোস্টের সঙ্গে মিলে যায় বলেও তদন্তকারীরা উল্লেখ করেছেন।   তদন্তকারীদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর সোরেনসেন থেমে আহত সহকর্মীকে সাহায্য করেননি কিংবা জরুরি সেবায় ফোনও করেননি। বরং তিনি কিছু দূরে গিয়ে নিজের গাড়ির ক্ষয়ক্ষতি পরীক্ষা করে সেখান থেকে চলে যান। পরে বাড়ি ফেরার পথে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এক পুলিশ কর্মকর্তা তাকে থামিয়ে জরিমানা করেন। তখন ওই কর্মকর্তা জানতেন না, কয়েক মাইল দূরেই একটি প্রাণঘাতী সংঘর্ষ ঘটেছে।   পরে সোরেনসেনের বাবা ঘটনাটি জানতে পেরে তাকে আবার ঘটনাস্থলে নিয়ে আসেন। এরপর তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গ্রেপ্তারের পর সোরেনসেন তদন্তকারীদের কাছে বলেন, "এটি বোকামি ছিল, কিন্তু আমি ইচ্ছা করেই করেছি।" তিনি আরও বলেন, সহকর্মীদের আলিঙ্গন করতে দেখে তিনি আতঙ্কিত ও প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলেন।   তবে সামান্থা পিটারসন তদন্তকারীদের জানান, তার সঙ্গে সোরেনসেনের কখনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং তিনি একাধিকবার সোরেনসেনকে জানিয়েছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত সীমা অতিক্রম করছেন এবং তার থেকে দূরে থাকতে হবে।   এদিকে সোরেনসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতে হাজির হয়ে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। বিচারক তার জামিন ২০ লাখ ডলার নির্ধারণ করেছেন এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৭ আগস্ট মামলার প্রাক-বিচার শুনানির জন্য আবারও আদালতে হাজির হওয়ার কথা রয়েছে তার।   প্রকাশিত ভিডিওটি তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অভিযোগগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের রায়ের ওপর নির্ভর করবে।

নববধূ সামান্থা মিলারের মৃত্যুর ঘটনায় দণ্ডিত জেমি কোমোরোস্কির নতুন ভিডিও প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের কয়েক ঘণ্টা পর কনেকে হত্যা, তিন বছর পর প্রকাশ্যে এলো অভিযুক্তের নতুন ভিডিও

যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনায় বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এক নববধূর প্রাণহানির ঘটনায় দণ্ডিত নারী চালক জেমি কোমোরোস্কিকে (Jamie Komoroski) নিয়ে নতুন ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। ভিডিওগুলোতে দুর্ঘটনার পর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার আচরণ এবং মদ্যপানের মাত্রা পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি উঠে এসেছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউসিএসসি (WCSC) ও গ্রে নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালের ২৮ এপ্রিল রাত প্রায় ১০টার দিকে সাউথ ক্যারোলিনার ফলি বিচ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। তদন্তে জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী জেমি কোমোরোস্কি ঘণ্টায় প্রায় ৬৫ মাইল গতিতে গাড়ি চালিয়ে একটি গলফকার্টের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেন। ওই গলফকার্টে ছিলেন সদ্য বিবাহিত সামান্থা মিলার, তার স্বামী এরিক হাচিনসন এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য।   দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই সামান্থা মিলারের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন তার স্বামী এরিক হাচিনসন এবং পরিবারের আরও দুই সদস্য। বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে স্বজনরা নবদম্পতিকে ভাড়ার বাসায় পৌঁছে দিতে গলফকার্টে করে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখনই মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, আটক হওয়ার পর কোমোরোস্কি বারবার কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার কাছে তার বাবাকে ফোন করার অনুমতি চাইছেন। একই সঙ্গে তিনি বারবার শ্বাসের মাধ্যমে অ্যালকোহলের মাত্রা (ব্রেথালাইজার) পরীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান।   পরে তাকে মেডিকেল ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যারোলিনায় নেওয়া হয়। সেখানে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য সাউথ ক্যারোলাইনা ল' এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনে পাঠানো হয়। পরীক্ষায় তার রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা পাওয়া যায় ০.২৬১ শতাংশ, যা যুক্তরাষ্ট্রে আইনগতভাবে অনুমোদিত সীমার তিন গুণেরও বেশি।   তদন্ত নথি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার পর কোমোরোস্কি পুলিশকে জানান, ঘটনার প্রায় এক ঘণ্টা আগে তিনি একটি বিয়ার এবং টেকিলা মিশ্রিত একটি পানীয় পান করেছিলেন। নিজেকে কতটা স্বাভাবিক মনে হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ১ থেকে ১০-এর স্কেলে তিনি নিজের অবস্থান '৮' বলে উল্লেখ করেন। ওই স্কেলে ১ মানে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ১০ মানে সর্বোচ্চ মাত্রায় মদ্যপ অবস্থায় থাকা।   দুর্ঘটনার দুই বছর পর সামান্থার স্বামী এরিক হাচিনসন কোমোরোস্কির বিরুদ্ধে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, দুর্ঘটনার দিন কোমোরোস্কি বিভিন্ন বারে ঘুরে ঘুরে মদ্যপান করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকটি প্রতিষ্ঠান দায়িত্বশীলভাবে অ্যালকোহল পরিবেশন করেনি। মামলায় বটল ক্যাপ হোল্ডিংস এলএলসি, এল গায়ো বার অ্যান্ড গ্রিল, স্ন্যাপার জ্যাকস, দ্য ক্র্যাব শ্যাক এবং দ্য ড্রপ-ইন বারের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়।   তবে 'টাকো বয়' নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে পরে মামলার বাইরে রাখা হয়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, দুর্ঘটনার দিন কোমোরোস্কি সেখানে প্রবেশই করেননি। যদিও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছিল, ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী হিসেবে তিনি সেদিন একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, যেখানে অতিরিক্ত মদ্যপান হয়েছিল। ফৌজদারি মামলায় দোষ স্বীকার করার পর কোমোরোস্কিকে গুরুতর মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালিয়ে মৃত্যু ঘটানো, গুরুতর শারীরিক ক্ষতির কারণ হওয়া এবং বেপরোয়া হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। আদালত তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেন।   সাম্প্রতিক ভিডিও প্রকাশের পর যুক্তরাষ্ট্রে আবারও মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর ঝুঁকি এবং সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয় যে, অ্যালকোহলের প্রভাবে গাড়ি চালানো শুধু চালকের জন্য নয়, নিরীহ মানুষের জীবনও মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিতে পারে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
যুদ্ধের এক দশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে উন্নয়নের বহু বছর পিছিয়ে ইয়েমেন
যুদ্ধের এক দশকে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে উন্নয়নের বহু বছর পিছিয়ে ইয়েমেন, দায় হুথিদের!
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১০:২৩

একটি দেশের অর্থনীতি গড়ে উঠতে লাগে বছরের পর বছর পরিকল্পনা, বিনিয়োগ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ। কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ভেঙে পড়া এবং দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত সেই অর্জনকে খুব অল্প সময়েই ধ্বংস করে দিতে পারে। ইয়েমেন তার অন্যতম কঠিন উদাহরণ। ২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীদের রাজধানী সানা দখল এবং পরের বছর পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এক দশকের বেশি সময় ধরে দেশটির অর্থনীতি ও উন্নয়নব্যবস্থা গভীর সংকটে পড়ে আছে। জাতিসংঘের সাম্প্রতিক হিসাব বলছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ইয়েমেনের অর্থনীতি ৫০ শতাংশের বেশি সংকুচিত হয়েছে এবং মাথাপিছু জিডিপি অর্ধেকেরও বেশি কমেছে।    ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথিরা সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর রাজনৈতিক সংকট দ্রুত সামরিক সংঘাতে রূপ নেয়। ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি আঞ্চলিক জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে সামরিক অভিযান শুরু করলে যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হয়। সংঘাতের প্রভাবে তেল ও গ্যাস উৎপাদন, বাণিজ্য, অবকাঠামো এবং সরকারি সেবাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, শুধু ২০১৫ সালেই ইয়েমেনের জিডিপি প্রায় ২৮ শতাংশ কমে যায় এবং বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিক থেকে তেল ও গ্যাস রপ্তানি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।    যুদ্ধের প্রভাব শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে সীমাবদ্ধ থাকেনি। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি বা ইউএনডিপির এক গবেষণায় দেখা যায়, ২০১৫ সাল থেকে যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনের প্রায় ৮৯ বিলিয়ন ডলারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হারিয়েছে। সংঘাত বাজার ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করেছে, ধ্বংস করেছে সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবকাঠামো এবং বাড়িয়েছে দারিদ্র্য ও বৈষম্য।   বর্তমানে ইয়েমেনের অর্থনীতি কার্যত বিভক্ত। বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান, মুদ্রা ও প্রশাসনিক কাঠামোর কারণে একটি অভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়েছে। তেল রপ্তানি বন্ধ থাকা, বৈদেশিক মুদ্রার সংকট, মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৫ সালে দেশটির প্রকৃত জিডিপি আরও ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে এবং ২০২৬ সালেও আরও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ সংকোচনের পূর্বাভাস রয়েছে।   এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের জীবনে। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের হিসাবে, ইয়েমেনে ২ কোটি ১০ লাখের বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। প্রায় ১ কোটি ৮৩ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মুখে রয়েছে এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে।   খাদ্য পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি এবং ইউনিসেফের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুধু সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতেই ২০২৬ সালের জুন থেকে সেপ্টেম্বর সময়ে প্রায় ৫৪ লাখ মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকটে পড়তে পারে।   অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে ভেঙে পড়েছে মৌলিক সেবাও। জাতিসংঘের হিসাবে, ইয়েমেনের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর মাত্র প্রায় ৫৯ শতাংশ পুরোপুরি কার্যকর রয়েছে। দেশটি খাদ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বৈশ্বিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও সরবরাহব্যবস্থার যেকোনো বিঘ্ন সরাসরি সাধারণ মানুষের ওপর চাপ তৈরি করে।    ইয়েমেনের এই সংকট দেখিয়ে দিচ্ছে, যুদ্ধ শেষ হলেও অর্থনীতিকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়া সহজ হবে না। ইউএনডিপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছিল, সংঘাতের কারণে ইয়েমেনের মানব উন্নয়ন বহু বছর পিছিয়ে গেছে এবং শান্তি ফিরে এলেও যুদ্ধের আগের উন্নয়নস্তরে ফিরতে কয়েক দশক সময় লাগতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতিতে ইয়েমেনের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শুধু যুদ্ধ বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। কার্যকর সরকারি প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, ব্যাংকিং ও মুদ্রাব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা আনা, তেল ও অন্যান্য রপ্তানি পুনরায় চালু করা, অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং মানুষের কর্মসংস্থান ও মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংকের মতে, স্থায়ী অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য শান্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি কার্যকর সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক সহায়তা জরুরি।

এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া!
এই ফল এই ন্যাটোর কোনো মিত্র দেশে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া! সতর্ক করল মার্কিন গোয়েন্দারা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ১০:১৬

রাশিয়া এ বছরের শরৎকাল থেকেই ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশকে সীমিত সামরিক বা বড় ধরনের হাইব্রিড হামলার মাধ্যমে পরীক্ষা করতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি নতুন গোয়েন্দা মূল্যায়ন। মার্কিন কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেন, যার লক্ষ্য হবে ন্যাটোর ঐক্য এবং বিশেষ করে জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষা অঙ্গীকার কতটা কার্যকর, তা যাচাই করা।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে ওয়াশিংটনের ধারণা ছিল ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ত থাকা অবস্থায় রাশিয়া সরাসরি কোনো ন্যাটো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে বড় ঝুঁকি নেবে না। তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা মূল্যায়নে সেই ধারণা বদলেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, এ বছরের শরৎ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে বড় আকারের হাইব্রিড হামলা, নাশকতা কিংবা সীমিত স্থল অনুপ্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   বিশেষভাবে নজরে রয়েছে বাল্টিক অঞ্চল ও পোল্যান্ড। লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্টাস কাউনাস সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়া ইউক্রেনের তৈরি ড্রোন ব্যবহার করে ভুয়া পতাকা হামলা চালাতে পারে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর চেষ্টা করতে পারে। তার মতে, এ ধরনের হামলার উদ্দেশ্য হতে পারে ন্যাটোর ভেতরে বিভক্তি তৈরি করা এবং ইউক্রেনের প্রতি পশ্চিমা সমর্থন দুর্বল করা।   গত কয়েক মাসে বাল্টিক অঞ্চলের আকাশসীমা এবং ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে একাধিক নিরাপত্তা ঘটনার পর উদ্বেগ আরও বেড়েছে। জার্মানির লাইপজিগ বিমানবন্দরে বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন শনাক্ত হওয়ার ঘটনাও ইউরোপে হাইব্রিড হামলার আশঙ্কাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। জার্মান কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে, যদিও প্রকাশ্যে রাশিয়াকে সরাসরি দায়ী করা হয়নি।   মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়নে আরও বলা হয়েছে, ইউক্রেনের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং যুদ্ধক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতি না হওয়া পুতিনকে নতুন কোনো কৌশলগত সাফল্য দেখানোর দিকে ঠেলে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে ন্যাটোর পূর্ব সীমান্তে সীমিত উসকানি দিয়ে জোটের প্রতিক্রিয়া যাচাই করার ঝুঁকি বাড়তে পারে।   এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে ন্যাটোর অনুচ্ছেদ ৫। এই ধারায় বলা হয়েছে, জোটের একটি সদস্য দেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সব সদস্যের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে রাশিয়ার কোনো সীমিত হামলাও দ্রুত বড় আন্তর্জাতিক সংকটে রূপ নিতে পারে।   এরই মধ্যে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে একাধিকবার সতর্ক করেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকিকে হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশও সামরিক ব্যয় বাড়ানো, পূর্ব সীমান্তে সেনা ও আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদার এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর নিরাপত্তা বাড়াতে পদক্ষেপ নিয়েছে।   তবে মার্কিন গোয়েন্দা মূল্যায়ন কোনো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। রাশিয়া সত্যিই ন্যাটো সদস্য দেশের বিরুদ্ধে হামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এমন প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি। মস্কোও দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমাদের এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং উল্টো ন্যাটোকেই রাশিয়ার সীমান্তে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য দায়ী করে।   তারপরও নতুন সতর্কবার্তাটি ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও স্পর্শকাতর করে তুলেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান থাকা অবস্থায় ন্যাটো সীমান্তে যেকোনো সামরিক বা হাইব্রিড ঘটনা এখন শুধু স্থানীয় নিরাপত্তা ইস্যু নয়, বরং পুরো জোটকে সরাসরি সংঘাতের মুখে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে

অ্যাসাইলাম সিকারদের জোর করে পলাতে বাধ্য করা হচ্ছে টানা তিনবারের মতো!
অ্যাসাইলাম সিকারদের জোর করে পলাতে বাধ্য করা হচ্ছে টানা তিনবারের মতো! থেটফোর্ডে উত্তেজনা থামছেই না
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৯:৪০

যুক্তরাজ্যের নরফোকের থেটফোর্ড শহরে আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার জন্য নির্ধারিত বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়িকে ঘিরে টানা কয়েক রাত ধরে সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে এলাকাজুড়ে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে।    পুলিশের তথ্যমতে, শতাধিক বিক্ষোভকারী আশ্রয়প্রার্থীদের থাকার কথা রয়েছে বলে ধারণা করা কয়েকটি বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গেলে পুলিশ সদস্যদের ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। একজন কর্মকর্তা পাথরের আঘাতে আহত হন, একজন নারী কর্মকর্তাকে কামড় দেওয়া হয় এবং আরেকজন কর্মকর্তার ওপর থুতু নিক্ষেপ করা হয়। এ ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত একজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।    সহিংসতার কারণে কয়েকজন আশ্রয়প্রার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট এলাকায় মুখ ঢেকে চলাফেরায় নিষেধাজ্ঞা, সন্দেহভাজনদের ছত্রভঙ্গ করার ক্ষমতা এবং অতিরিক্ত টহলসহ বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।    দক্ষিণ-পশ্চিম নরফোকের এমপি টেরি জার্মি এ ঘটনাকে গভীর উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা কোনো জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সহিংসতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, বাইরের উসকানিদাতারাও পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।    এই উত্তেজনার পেছনে রয়েছে থেটফোর্ডের কাছে অবস্থিত সাবেক আরএএফ বার্নহাম সামরিক ঘাঁটিতে বিপুলসংখ্যক আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার সরকারি পরিকল্পনা। কয়েক মাস ধরেই এ পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে প্রতিবাদ চলছিল। সাম্প্রতিক সহিংসতা সেই উত্তেজনাকেই আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।    নরফোক পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার সবার রয়েছে, তবে সহিংসতা, ভাঙচুর বা পুলিশ ও সাধারণ মানুষের ওপর হামলার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাগুলোর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং আরও গ্রেপ্তার হতে পারে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

মাত্র ২০ হাজার ডলারে তৈরি সৌরচালিত ইয়ট
মাত্র ২০ হাজার ডলারে তৈরি সৌরচালিত ইয়ট, জ্বালানি ছাড়াই পাড়ি ৩ হাজার নটিক্যাল মাইল
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৭, ২০২৬ ৯:৩৩

কোনো ধরনের জ্বালানি ব্যবহার না করেই ৩ হাজারের বেশি নটিক্যাল মাইল সমুদ্রপথ অতিক্রম করে নতুন নজির গড়েছেন উদ্ভাবক লুকাস শোমান। নিজের হাতে তৈরি ১১ মিটার দীর্ঘ সৌরচালিত ইয়ট ‘হেলিওস ১১’ নিয়ে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন উপকূল ঘুরে সম্পূর্ণ সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করে এই দীর্ঘ যাত্রা সফলভাবে শেষ করেছেন।    প্রচলিত বৈদ্যুতিক ইয়টের মতো ঘন ঘন মেরিনায় গিয়ে চার্জ নেওয়ার প্রয়োজন হয় না ‘হেলিওস ১১’-এর। ইয়টটির ছাদে বসানো রয়েছে ১০টি সাধারণ আবাসিক সৌর প্যানেল, যা একটি ২৪ কিলোওয়াট-ঘণ্টা ব্যাটারি প্যাককে চার্জ দেয়। সর্বোচ্চ সূর্যালোকে এটি প্রায় ৪ হাজার ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে, যা ৬ কিলোওয়াটের বৈদ্যুতিক আউটবোর্ড মোটর চালানোর পাশাপাশি নোঙর অবস্থায় ব্যাটারিও পূর্ণ চার্জ করতে সক্ষম।    আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, পুরো ইয়টটি নির্মাণে লুকাস শোমানের খরচ হয়েছে আনুমানিক ২০ হাজার ৭২৪ মার্কিন ডলার। তার হিসাবে, ব্যাটারি প্যাকে ব্যয় হয়েছে প্রায় ২ হাজার ৮৮১ ডলার, বৈদ্যুতিক মোটরে ৪ হাজার ৬০০ ডলার এবং সৌর প্যানেলের খরচ ৯০০ ডলারেরও কম। তুলনামূলকভাবে কম খরচে পরিবেশবান্ধব নৌযান তৈরি করা সম্ভব এটাই দেখাতে চেয়েছেন তিনি।    লুকাস শোমান জানান, প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ছিল প্রমাণ করা যে দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার জন্য জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তার আশা, এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের পরিবেশসচেতন নৌভ্রমণপ্রেমীদের অনুপ্রাণিত করবে।    'হেলিওস ১১'-এর আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর মাত্র আধা মিটার গভীর ড্রাফট। ফলে বড় ইয়ট যেখানে পৌঁছাতে পারে না, সেখানকার অগভীর উপকূল ও নিরিবিলি নোঙরস্থলেও সহজেই চলাচল করতে পারে এই নৌযান। নকশাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কম শক্তি ব্যবহার করেও দীর্ঘ সময় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে সমুদ্রে চলাচল সম্ভব হয়।    বিশেষজ্ঞদের মতে, সৌরশক্তিনির্ভর নৌযান এখনো মূলধারার প্রযুক্তি না হলেও ‘হেলিওস ১১’-এর মতো প্রকল্প ভবিষ্যতের পরিবেশবান্ধব সামুদ্রিক পরিবহনের সম্ভাবনাকে নতুনভাবে সামনে নিয়ে এসেছে। বাস্তব ব্যবহারে এমন প্রযুক্তির সফলতা টেকসই নৌপরিবহনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.01K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
819 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
937 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
784 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়