Live update news
২৩ বছর বয়সী এক যুবককে ৩৭ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। ঘটনাটি গত বছরের বিক্ষোভকে ঘিরে দায়ের করা মামলার রায়ের অংশ। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যান্টি-আইসিই বিক্ষোভে সহিংসতা: পুলিশের গাড়িতে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে অ্যান্টি-আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিক্ষোভে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ৩৭ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। আদালত তাকে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধেরও নির্দেশ দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াচুয়া মাউরিসিও ফ্লোরেস ২০২৫ সালের ৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে অংশ নেন। ওই সময় তিনি একটি জ্বলন্ত ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) গাড়ির ওপর লাইটার ফ্লুইড ঢেলে আগুন আরও ছড়িয়ে দেন। একই ঘটনায় একটি ফ্রিওয়ে ওভারপাস থেকে একটি বৈদ্যুতিক স্কুটারও নিচে ছুড়ে মারা হয়, যা নিচে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জীবনের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ফ্লোরেস দাঙ্গাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। প্রসিকিউটররা বলেন, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডে কর্মকর্তাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের জুনে, যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিষয়ক ফেডারেল অভিযানের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকটি স্বয়ংচালিত গাড়ি ও একটি সিএইচপি টহলযানে আগুন দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ওভারপাস থেকে পাথর, আতশবাজি, স্কুটার ও অন্যান্য বস্তু নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করে বলে তদন্তে উঠে আসে।   মামলার তদন্তে এফবিআই, ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) যৌথভাবে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওই সহিংসতার ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

১২ মিনিট Ago
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম। ছবি;সংগৃহীত
জাপানে গবেষণা ইন্টার্নশিপে সুযোগ পেলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (এনআইপিএস)-এর একটি প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা ইন্টার্নশিপে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নভেম্বরে তিনি জাপানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মলিকুলার নিউরোইমিউনোলজি ল্যাবরেটরিতে স্নায়ুবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।   এই ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে তাহিয়া বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ আলঝেইমার রোগ, স্মৃতিভ্রম এবং অন্যান্য স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ নিয়ে চলমান গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গবেষণায় মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, স্নায়ুকোষের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হবে।   তাহিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজ জীবন থেকেই গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর গবেষণাগারের সীমিত সুযোগ-সুবিধা তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার প্রস্তুতি নিতে অনুপ্রাণিত করে। নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছেন। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলেও বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।   তাহিয়া জানান, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং সিনিয়রদের দিকনির্দেশনা তাঁকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তাঁর লক্ষ্য ভবিষ্যতে মলিকুলার জেনেটিকস বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করা এবং মানবস্বাস্থ্যের জটিল রোগের সমাধানে অবদান রাখা।   স্থানীয় সূত্র এবং বিজ্ঞান সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রতিবছর খুব সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ধরনের গবেষণা ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে "প্রতি বছর মাত্র দুই থেকে তিনজন" নির্বাচিত হওয়ার দাবির স্বাধীন সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ তথ্যকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   তাহিয়ার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশ নিতে চাইলে শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, গবেষণার দক্ষতা, কার্যকর যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতি। তাঁর মতে, বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ তৈরি হয় নিজের সক্ষমতা গড়ে তোলার মাধ্যমে।

৩৯ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রের নাথান থমাস। ছবি:সংগৃহীত
১৮ বছরেই বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক, ৩০৬ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন যুক্তরাষ্ট্রের নাথান থমাস

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মেধাবী তরুণ নাথান থমাস মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন বয়সে কলেজে অধ্যাপনা শুরু করে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ পুরুষ অধ্যাপকের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি ৩০৬ বছর ধরে অটুট থাকা একটি বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছেন। সম্প্রতি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস তার এই অর্জনের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।    নাথান ২০২৩ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি ডেড কলেজে প্রকৌশল বিভাগের ‘সি ফর ইঞ্জিনিয়ার্স’ কোর্স পড়ানো শুরু করেন। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর ৩৪৬ দিন। এর ফলে তিনি ১৭১৭ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে অধ্যাপক হওয়া স্কটিশ গণিতবিদ কলিন ম্যাকলরিনের ৩০৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দেন।   শুধু পুরুষদের রেকর্ডই নয়, নাথান বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ অধ্যাপক হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন। তিনি ২০০৮ সালে ১৮ বছর ৩৬২ দিন বয়সে অধ্যাপক হওয়া আলিয়া সাবুরের রেকর্ডও ১৬ দিন কম বয়সে অতিক্রম করেন।    নাথানের অসাধারণ শিক্ষাজীবন শুরু হয় খুব অল্প বয়সেই। মাত্র ১০ বছর বয়সে তিনি মিয়ামি ডেড কলেজে ভর্তি হন। এরপর ১৪ বছর বয়সে ফ্লোরিডা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা শুরু করে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।    বর্তমানে ২১ বছর বয়সী নাথান অনলাইনে প্রকৌশল পড়ানোর পাশাপাশি ইউনিভার্সিটি অব মায়ামিতে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন। ভবিষ্যতে তিনি বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ (ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি) আইন নিয়ে কাজ করতে চান।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকার বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  ছবি:সংগৃহীত
ইরানের নেতৃত্বকে ‘চরম ভণ্ডামিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে ক্ষেপলেন ট্রাম্প

ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং এটিই তেহরানের জন্য “শেষ সুযোগ” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে ইরান। এরপরই দেশটির নেতৃত্বকে “চরম ভণ্ডামিপূর্ণ” বলে আখ্যা দিয়েছেন ট্রাম্প।   সোমবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং চলমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানোর এটিই ইরানের শেষ সুযোগ। তিনি সতর্ক করে বলেন, সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে তেহরানকে কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।   তবে ট্রাম্পের বক্তব্যের পরই ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকায়ি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা চলছে না। তিনি বলেন, ওমানের সঙ্গে যে যোগাযোগ রয়েছে, তা কেবল হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও নৌ-নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে; যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বা পারমাণবিক আলোচনা হচ্ছে না।   ইরানের এই বক্তব্যের কয়েক ঘণ্টা পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, ইরানের নেতারা “চরম ভণ্ডামিপূর্ণ” আচরণ করছেন। তার অভিযোগ, একদিকে তারা গোপনে আলোচনার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা নেই বলে দাবি করছে।   একই পোস্টে ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের “ওয়াল অব স্টিল” নিরাপত্তা বলয় কার্যকর রয়েছে এবং এর ফলে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে গ্রহণযোগ্য সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান অব্যাহত থাকবে।   সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে না বলে জানিয়ে আসছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী সেজে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণা, নিউ জার্সিতে গ্রেপ্তার দুই বাংলাদেশি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড টাউনশিপে ব্যাংকের নিরাপত্তাকর্মী পরিচয়ে এক নারীর কাছ থেকে ২৫ হাজার ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে চুরির অভিযোগে (থার্ড ডিগ্রি থেফট বাই ডিসেপশন) মামলা দায়ের করা হয়েছে।   রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী নারীর কম্পিউটারে একটি ভুয়া সতর্কবার্তা বা পপ-আপ আসে। সেখানে দাবি করা হয়, তার কম্পিউটার ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে এবং সহায়তার জন্য একটি নির্দিষ্ট নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। ওই নম্বরে ফোন করলে অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে ওয়েলস ফার্গো ব্যাংকের নিরাপত্তা বিভাগের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন।   প্রতারক ভুক্তভোগীকে জানায়, তার কম্পিউটারের সমস্যার কারণে ব্যাংকের নেটওয়ার্ক ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে এবং বিষয়টি এফবিআই পর্যন্ত গড়াতে পারে। কথিত সেই ঝুঁকি এড়াতে তাকে ব্যাংক থেকে ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে বাড়ির বাইরে একটি বাক্সে রেখে দিতে বলা হয়, যাতে ব্যাংকের নিরাপত্তা কর্মীরা এসে অর্থ সংগ্রহ করতে পারেন।   পুলিশ জানায়, নির্দেশনা অনুযায়ী ভুক্তভোগী ২৫ হাজার ডলার নগদ তুলে নির্ধারিত স্থানে রেখে দেন। কিছুক্ষণ পর একজন এসে সেই অর্থ নিয়ে চলে যায়। পরে প্রতারক চক্র আবার যোগাযোগ করে আরও ৩০ হাজার ডলার দাবি করলে ভুক্তভোগীর সন্দেহ হয়। এরপর তিনি বিষয়টি রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশকে জানান।   অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের গোয়েন্দারা ভুক্তভোগীর সহযোগিতায় অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন এবং আরও অর্থ দেওয়ার নামে একটি পরিকল্পিত অভিযান পরিচালনা করেন। নির্ধারিত সময়ে অর্থ নিতে এলে ঘটনাস্থল থেকেই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।   গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের নাম এমডি এন. ইসলাম (৪৮) এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম (৫৮)। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এমডি এন. ইসলাম নিউ জার্সির এগ হারবার টাউনশিপ এবং মোহাম্মদ জেড. ইসলাম ওয়েস্টভিল এলাকার বাসিন্দা। আদালতে হাজিরার সমনের শর্তে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।   বাংলাদেশি কমিউনিটির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া মোহাম্মদ জেড. ইসলামের বাড়ি চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় এবং এমডি এন. ইসলামের বাড়ি নড়াইল জেলায়। তবে এই তথ্য রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ বা মার্কিন মূলধারার সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেনি এবং স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   পুলিশ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাংক কর্মকর্তা, প্রযুক্তি সহায়তা কর্মী কিংবা সরকারি সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয়ে ফোন করে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য, কোনো ব্যাংক বা সরকারি সংস্থা কখনো গ্রাহককে ফোন করে নগদ অর্থ তুলে নির্দিষ্ট স্থানে রেখে যেতে বলে না। এ ধরনের নির্দেশনা পেলে সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অফিসিয়াল নম্বরে যোগাযোগ এবং স্থানীয় পুলিশকে বিষয়টি জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   রিভারসাইড টাউনশিপ পুলিশ একই ধরনের প্রতারণার শিকার ব্যক্তি বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা থাকলে তাদের গোয়েন্দা শাখার সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনে অভিযোগে নতুন তথ্য যুক্ত হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ২, ২০২৬ ১৯:৪৯
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, অথচ বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দরিদ্র দেশ: কোন ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের?

মার্কিন সরকারের নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নাম থাকলেও আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ সেই তালিকার বাইরে রয়েছে। তালিকা প্রকাশের পর বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসী ও ভিসাপ্রত্যাশীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কোন ভিত্তিতে এই দেশগুলো নির্বাচন করেছে যুক্তরাষ্ট্র? অর্থনৈতিক অবস্থান, নাকি অন্য কোনো মানদণ্ড?   মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১/বি-২) ইস্যুর সময় কনস্যুলার কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। তবে এই নিয়ম তালিকাভুক্ত দেশের সব আবেদনকারীর জন্য বাধ্যতামূলক নয়; প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হবে।   তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি নাইজেরিয়া, ইথিওপিয়া, উগান্ডা, মোজাম্বিক, বুরুন্ডিসহ বেশ কয়েকটি দেশের নাম রয়েছে। কিন্তু বিশ্বের নিম্ন আয়ের দেশ হিসেবে পরিচিত নাইজার, লাইবেরিয়া, মালি, চাদ ও মাদাগাস্কারের মতো কয়েকটি আফ্রিকান দেশ এই তালিকায় নেই। এখান থেকেই শুরু হয়েছে আলোচনা।   প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল দেশগুলোই হয়তো ভিসা বন্ডের আওতায় আসবে। কিন্তু স্টেট ডিপার্টমেন্টের প্রকাশিত নীতিমালা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে কোনো দেশের দারিদ্র্য, মাথাপিছু আয় বা অর্থনৈতিক অবস্থাই তালিকা তৈরির প্রধান ভিত্তি।   মার্কিন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ভিসার শর্ত মেনে চলা নিশ্চিত করা এবং ভিসার অপব্যবহার কমানো। এজন্য কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে থেকে যাওয়ার প্রবণতা (ভিসা ওভারস্টে), অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, নিজ দেশের নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে সংশ্লিষ্ট সরকারের সহযোগিতা, পরিচয় ও নথি যাচাইয়ের সক্ষমতা, কনস্যুলার ঝুঁকি এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত মূল্যায়ন।   অর্থাৎ, একই ধরনের অর্থনৈতিক অবস্থানে থাকা দুটি দেশের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত হতে পারে, যদি তাদের অভিবাসন-সংক্রান্ত ঝুঁকি বা ভিসা ব্যবহারের রেকর্ড এক না হয়। এই কারণেই বাংলাদেশ তালিকায় থাকলেও কিছু নিম্ন আয়ের আফ্রিকান দেশ বাইরে থাকতে পারে।   এখানে আরেকটি বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। ভিসা বন্ড কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়া মানেই ওই দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এমন ধারণা সঠিক নয়। স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, কেবল নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কনস্যুলার কর্মকর্তা ভিসা বন্ডের শর্ত আরোপ করতে পারবেন। আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর ভিসার সব শর্ত মেনে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ ত্যাগ করলে জমা রাখা অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   এই কর্মসূচি প্রথমে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছিল। পরবর্তী মূল্যায়নে এটিকে কার্যকর বলে বিবেচনা করার পর যুক্তরাষ্ট্র সরকার স্থায়ী নীতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, বন্ডের পরিমাণ আবেদনকারীর পরিস্থিতি বিবেচনায় নির্ধারণ করা হবে এবং তা সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   তবে নতুন নীতিকে ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের মতে, উচ্চ অঙ্কের ভিসা বন্ড অনেক বৈধ ভ্রমণকারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী বা পরিবারের সদস্যদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এতে বৈধ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ তালিকায় রয়েছে অথচ আফ্রিকার কয়েকটি নিম্ন আয়ের দেশ নেই এটি অর্থনৈতিক সক্ষমতার পার্থক্যের কারণে নয় বলে মার্কিন সরকারের নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে অভিবাসন আইন মেনে চলার রেকর্ড, ভিসা ওভারস্টে প্রবণতা, প্রত্যাবাসনে সহযোগিতা এবং জাতীয় নিরাপত্তাসহ একাধিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ভিত্তিতে। ফলে কোনো দেশ তালিকায় থাকা বা না থাকা সেই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অবস্থার প্রতিফলন নয়; বরং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন নীতির আওতায় করা একটি প্রশাসনিক ঝুঁকি মূল্যায়নের ফল।

অভিবাসন সুবিধায় কঠোর যাচাই শুরু, উচ্চ ঝুঁকির দেশগুলোর আবেদন আরও কড়াভাবে খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদেশি নাগরিকদের অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন যাচাই ও নিরাপত্তা পরীক্ষা আরও কঠোর করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, আগের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ঘাটতি ছিল, যার ফলে যথাযথ নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই কিছু আবেদন অনুমোদিত হয়েছিল।   ইউএসসিআইএসের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪১৬১ এবং সাম্প্রতিক দুটি প্রেসিডেন্সিয়াল প্রোক্লেমেশনের আওতায় নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ৩৯টি দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। এসব দেশের অনেক আবেদন সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে পুনরায় যাচাই করা হচ্ছে।   সংস্থাটি জানিয়েছে, আশ্রয়, স্থায়ী বাসিন্দা, ডাইভার্সিটি ভিসা এবং অন্যান্য অভিবাসন সুবিধার আবেদন নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম, আর্থিক তথ্য, বায়োমেট্রিক তথ্য, অপরাধমূলক রেকর্ড এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। প্রয়োজনে পুনরায় সাক্ষাৎকারও নেওয়া হচ্ছে।   ইউএসসিআইএস আরও জানায়, “অপারেশন প্যারিস” নামে একটি বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে শরণার্থী ও উচ্চ ঝুঁকির দেশের আবেদনকারীদের অতিরিক্ত ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাই জোরদার করা হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নতুন তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত করার ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।   সংস্থাটির দাবি, নতুন এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো অভিবাসন ব্যবস্থায় জালিয়াতি রোধ, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শুধুমাত্র যোগ্য ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে উত্তীর্ণ ব্যক্তিদেরই অভিবাসন সুবিধা প্রদান করা।   তবে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সব আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত নয়। যেসব আবেদন নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করেছে বা কম ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে, সেগুলো ধাপে ধাপে নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া আবারও শুরু করা হচ্ছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশি সন্ত্রাসবাদ, জালিয়াতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার সম্ভাব্য হুমকি থেকে সুরক্ষিত রাখতেই এই কঠোর যাচাই-বাছাই কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম। ছবি;সংগৃহীত
জাপানে গবেষণা ইন্টার্নশিপে সুযোগ পেলেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষার্থী এবং সন্দ্বীপের মেয়ে তাহিয়া তাবাসসুম জাপানের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ফিজিওলজিক্যাল সায়েন্সেস (এনআইপিএস)-এর একটি প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা ইন্টার্নশিপে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নভেম্বরে তিনি জাপানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মলিকুলার নিউরোইমিউনোলজি ল্যাবরেটরিতে স্নায়ুবিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।   এই ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে তাহিয়া বর্তমান বিশ্বের অন্যতম বড় স্বাস্থ্যচ্যালেঞ্জ আলঝেইমার রোগ, স্মৃতিভ্রম এবং অন্যান্য স্নায়বিক অবক্ষয়জনিত রোগ নিয়ে চলমান গবেষণায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গবেষণায় মস্তিষ্কের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, স্নায়ুকোষের পরিবর্তন এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা হবে।   তাহিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, কলেজ জীবন থেকেই গবেষক হওয়ার স্বপ্ন ছিল তাঁর। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর গবেষণাগারের সীমিত সুযোগ-সুবিধা তাঁকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার প্রস্তুতি নিতে অনুপ্রাণিত করে। নিয়মিত একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে নিজের দক্ষতা বাড়িয়েছেন। তাঁর লিংকডইন প্রোফাইলেও বাংলাদেশ বায়োলজি অলিম্পিয়াডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য উল্লেখ রয়েছে।   তাহিয়া জানান, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি গবেষণার প্রতি আগ্রহ, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের প্রস্তুতি এবং সিনিয়রদের দিকনির্দেশনা তাঁকে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছে। তাঁর লক্ষ্য ভবিষ্যতে মলিকুলার জেনেটিকস বিষয়ে উচ্চতর গবেষণা করা এবং মানবস্বাস্থ্যের জটিল রোগের সমাধানে অবদান রাখা।   স্থানীয় সূত্র এবং বিজ্ঞান সংগঠনের সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়া থেকে প্রতিবছর খুব সীমিতসংখ্যক শিক্ষার্থী এ ধরনের গবেষণা ইন্টার্নশিপের সুযোগ পান। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত পরিসংখ্যানে "প্রতি বছর মাত্র দুই থেকে তিনজন" নির্বাচিত হওয়ার দাবির স্বাধীন সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই এ তথ্যকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   তাহিয়ার বিশ্বাস, আন্তর্জাতিক গবেষণায় অংশ নিতে চাইলে শুধু ভালো ফলাফলই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, গবেষণার দক্ষতা, কার্যকর যোগাযোগ এবং ধারাবাহিক প্রস্তুতি। তাঁর মতে, বিশ্বমানের গবেষণার সুযোগ তৈরি হয় নিজের সক্ষমতা গড়ে তোলার মাধ্যমে।

২৩ বছর বয়সী এক যুবককে ৩৭ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আদালত। ঘটনাটি গত বছরের বিক্ষোভকে ঘিরে দায়ের করা মামলার রায়ের অংশ। ছবি: সংগৃহীত
লস অ্যাঞ্জেলেসে অ্যান্টি-আইসিই বিক্ষোভে সহিংসতা: পুলিশের গাড়িতে আগুন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের ২৩ বছর বয়সী এক বাসিন্দাকে অ্যান্টি-আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) বিক্ষোভে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ৩৭ মাসের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। আদালত তাকে ২ লাখ ৫৩ হাজার ৪১৫ মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ পরিশোধেরও নির্দেশ দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্ত ইয়াচুয়া মাউরিসিও ফ্লোরেস ২০২৫ সালের ৮ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে অংশ নেন। ওই সময় তিনি একটি জ্বলন্ত ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল (সিএইচপি) গাড়ির ওপর লাইটার ফ্লুইড ঢেলে আগুন আরও ছড়িয়ে দেন। একই ঘটনায় একটি ফ্রিওয়ে ওভারপাস থেকে একটি বৈদ্যুতিক স্কুটারও নিচে ছুড়ে মারা হয়, যা নিচে অবস্থানরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জীবনের জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করে।   আদালতের নথি অনুযায়ী, ফ্লোরেস দাঙ্গাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। প্রসিকিউটররা বলেন, অভিযুক্তের কর্মকাণ্ডে কর্মকর্তাদের মৃত্যু বা গুরুতর আহত হওয়ার বাস্তব ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের জুনে, যখন লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিষয়ক ফেডারেল অভিযানের প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকটি স্বয়ংচালিত গাড়ি ও একটি সিএইচপি টহলযানে আগুন দেওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ ওভারপাস থেকে পাথর, আতশবাজি, স্কুটার ও অন্যান্য বস্তু নিচে থাকা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করে বলে তদন্তে উঠে আসে।   মামলার তদন্তে এফবিআই, ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল এবং লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) যৌথভাবে কাজ করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ওই সহিংসতার ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি। ছবি: সংগৃহীত
গৃহহীনদের জন্য হোটেল ব্যবহারে ১৮৬ কোটি ডলারের চুক্তি নবায়ন করলেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির গৃহহীনদের জরুরি আশ্রয় নিশ্চিত করতে পাঁচটি বরোর বিভিন্ন হোটেল ব্যবহারের জন্য ১৮৬ কোটি ডলারের একটি চুক্তি নবায়ন করেছে মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসন। নতুন এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।   চুক্তিটি করা হয়েছে নিউইয়র্ক সিটি হোটেল অ্যাসোসিয়েশন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে, যারা প্রায় ৩০০টি হোটেলের প্রতিনিধিত্ব করে। তবে নগর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রয়োজন হলেই কেবল এসব হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হবে। পুরো ১৮৬ কোটি ডলারের অর্থ ব্যয় নাও হতে পারে।   নিউইয়র্ক সিটির গৃহহীন সেবা বিভাগ জানিয়েছে, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন সংকটের সময় তাদের বাণিজ্যিক হোটেলের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। একই সঙ্গে তারা স্থায়ী ও উন্নতমানের আশ্রয়কেন্দ্র চালু করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে বিশেষ করে শিশু থাকা পরিবারগুলোর জন্য হোটেলের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমানো যায়।   শহরের ‘রাইট টু শেল্টার’ আইন অনুযায়ী আশ্রয়প্রার্থী প্রত্যেককে থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হয়। এ কারণে প্রয়োজনীয় শয্যা ধরে রাখতে এই চুক্তি নবায়ন করা হয়েছে। গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে ৮২ হাজার ৯২৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু অবস্থান করছিলেন।   কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি ভিত্তিতে গৃহহীনদের নিরাপদ আশ্রয় দিতে হোটেল ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো হয়েছিল। পরে অভিবাসন সংকটের সময়ও হাজারো আশ্রয়প্রার্থীকে রাখার জন্য শহরের প্রায় ১৫০টি হোটেল, মোটেল ও সরাইখানাকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রূপান্তর করা হয়।   এদিকে একই কর্মসূচির আওতায় হোটেলে অবস্থানরত গৃহহীন ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর দৈনন্দিন সেবার জন্য দুটি সামাজিক সেবাদানকারী সংস্থাকেও ৮ কোটি ৭০ লাখ ডলারের বেশি মূল্যের দুটি আলাদা চুক্তি দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সমালোচকদের দাবি, হোটেলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করায় পর্যটন খাতের ওপর চাপ বাড়ছে এবং কক্ষের প্রাপ্যতা কমে যাচ্ছে। তবে গৃহহীনদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর মতে, পর্যাপ্ত স্থায়ী আবাসন গড়ে না ওঠা পর্যন্ত এই ব্যবস্থা একটি প্রয়োজনীয় বিকল্প।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের রুট নজরদারির অভিযোগে সন্দেহভাজন একটি গুপ্তচরবৃত্তি চক্রের তদন্তে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধি নজরদারির অভিযোগে জইশ-ই-মোহাম্মদের সন্দেহভাজন সদস্য গ্রেপ্তার
কলকাতা প্রতিনিধি প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৬:২৯

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের তথ্য সংগ্রহ এবং কথিত জইশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম)–সংশ্লিষ্ট একটি গুপ্তচর চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে আরও এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)।   সোমবার হাওড়ার বেলিলিয়াস রোড এলাকা থেকে আদিত্য সিং ওরফে রাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া হামিম মণ্ডল ও তার সহযোগী অর্পিতা সরকারের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এ অভিযান চালানো হয়। এ নিয়ে এই মামলায় মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।   তদন্তকারীদের দাবি, অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হামিম মণ্ডলের সঙ্গে আদিত্যর পরিচয় হয়। পরে তাকে কথিত গুপ্তচর নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চলাচল, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করে মূল হোতাদের কাছে পৌঁছে দিতেন।   পুলিশের তদন্তে আরও উঠে এসেছে, প্রধান অভিযুক্ত হামিম মণ্ডল পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর চলাচলের রুট এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের গতিবিধির তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। একই সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মোহাম্মদের সদস্যদের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী সংস্থা। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   ঘটনার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। রাজ্য সরকার তার জন্য একটি বিশেষ বুলেটপ্রুফ গাড়ির ব্যবস্থা করার প্রস্তুতি নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   তবে এখন পর্যন্ত জইশ-ই-মোহাম্মদ, আইএসআই কিংবা গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি ও আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
ট্রাম্পের যুদ্ধ বিরতি আলোচনার ইঙ্গিতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখালো ইরান
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৬:১১

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিতও প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।   পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা চলছে, তবে এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, এটি দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে নৌ চলাচল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা।    ইরানের দাবি, হরমুজ প্রণালির বর্তমান পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক নয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও আঞ্চলিক উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পরিবেশ তৈরি হয়নি। তেহরান বলছে, শুধু ওমানের সঙ্গে সমঝোতা হলেই নৌপথ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হবে না।    এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। তবে তেহরানের সর্বশেষ অবস্থান সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বর্তমানে ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা আলোচনার অনুরোধ নেই।    বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। তাই এই নৌপথের নিরাপত্তা এবং চলাচল স্বাভাবিক রাখা আন্তর্জাতিক বাজার ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিশ্লেষকদের মত।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
রাশিয়া এখনো শান্তি চায় না, যুদ্ধ দীর্ঘায়িতের পথেই পুতিন
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৫:২৮

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরুর জন্য নতুন কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা জানালেও ইউক্রেনের বিশ্লেষকদের দাবি, ক্রেমলিন এখনো যুদ্ধ বন্ধে আগ্রহী নয়।   ইউক্রেনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম Kyiv Post-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সাম্প্রতিক বক্তব্যে যুদ্ধ বন্ধের পরিবর্তে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত করার ইঙ্গিত মিলছে।   প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, পুতিন ইউক্রেনকে স্বাধীন জাতিসত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে আগের অবস্থানেই রয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধকে রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ঐক্য ও ক্ষমতার কাঠামো ধরে রাখার একটি হাতিয়ার হিসেবেও উপস্থাপন করছেন বলে বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়।   অন্যদিকে, সের্গেই লাভরভ সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে ইউক্রেনে পশ্চিমা সামরিক সহায়তা বন্ধ, রাশিয়ার দখল করা অঞ্চলগুলোর দাবিকে স্বীকৃতি এবং মস্কোর নিরাপত্তা শর্ত মেনে নেওয়ার ওপর জোর দেন। এসব অবস্থানকে শান্তি আলোচনার পথে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে Kyiv Post।   তবে রাশিয়া বরাবরের মতোই বলছে, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু তা হতে হবে তাদের নিরাপত্তা স্বার্থ ও ঘোষিত শর্তের ভিত্তিতে। মস্কো পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক সহায়তাকেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দায়ী করে আসছে।   এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটন ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবে। তবে উভয় পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনো বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেছেন।

আহত পুলিশ সদস্য ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানে জঙ্গি সহিংসতার অবসান ও শান্তি সমাবেশে আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত অন্তত ১৪
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৩, ২০২৬ ৫:১১

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলার কাবাল এলাকায় শান্তির দাবিতে আয়োজিত এক জনসমাবেশ শেষ হওয়ার পর আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং নয়জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। এছাড়া আহত হয়েছেন দুই ডজনেরও বেশি মানুষ।    রোববার কাবাল থানা চত্বরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দা ও নাগরিক সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত ‘সোয়াত পিপলস পিস আপরাইজিং’ সমাবেশে জঙ্গি সহিংসতার অবসান এবং উপত্যকায় স্থায়ী শান্তির দাবিতে শত শত মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা চলে যাওয়ার সময় আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরণ ঘটায়।   পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।   এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সন্দেহ করছেন, এর পেছনে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) বা তাদের সহযোগী কোনো গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোয়াত উপত্যকায় টিটিপির তৎপরতা আবারও বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা নিয়মিত শান্তি সমাবেশ করে আসছেন।    একসময় সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গিমুক্ত ঘোষণা করা সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আবারও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এ হামলা সেই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিল।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
964 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
780 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
900 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
744 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়