উত্তর আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ দেশ মরক্কো শুধু ভৌগোলিক অবস্থানের কারণেই নয়, ইসলামি ইতিহাস ও সভ্যতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবেও সুপরিচিত। আটলান্টিক মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরের সংযোগস্থলে অবস্থিত দেশটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন সভ্যতার উত্থান-পতনের সাক্ষী হয়েছে। তবে সপ্তম শতাব্দীতে ইসলামের আগমন মরক্কোর ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে। ঐতিহাসিক সূত্র অনুযায়ী, আরবি ভাষায় মরক্কোকে ‘আল-মাগরিব’ বলা হয়, যার অর্থ ‘দূরতম পশ্চিম’। ইসলাম আগমনের আগে এই অঞ্চল বারবার, ফোনেশীয়, রোমান, ভ্যান্ডাল ও বাইজেন্টাইনদের শাসনের অধীনে ছিল। বিশেষ করে বাইজেন্টাইন শাসনের শেষ দিকে স্থানীয় বারবার জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন ও বৈষম্য বেড়ে যায়। খোলাফায়ে রাশেদার যুগের পর উমাইয়া খিলাফতের প্রতিষ্ঠাতা হজরত মুয়াবিয়া (রা.) মুসলিম রাষ্ট্রকে প্রশাসনিকভাবে বিভিন্ন প্রদেশে ভাগ করেন। সে সময় উত্তর আফ্রিকার দায়িত্ব দেওয়া হয় মুসলিম সেনাপতি হজরত উকবা ইবনে নাফে (রা.)-কে এবং মিসরের শাসনভার ছিল হজরত আমর ইবনে আস (রা.)-এর হাতে। ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, রোমান ও বাইজেন্টাইনদের নিপীড়নে অতিষ্ঠ হয়ে উত্তর আফ্রিকার বারবার জনগোষ্ঠী মুসলিম শাসকদের কাছে সহায়তা চায়। এরপর খলিফা মুয়াবিয়া (রা.) উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে একটি সুসজ্জিত বাহিনী উত্তর আফ্রিকায় পাঠান। দীর্ঘ অভিযানের পর ৬৮৩ খ্রিস্টাব্দে উকবা ইবনে নাফে (রা.)-এর নেতৃত্বে মরক্কোতে মুসলিম বাহিনী প্রবেশ করে এবং সেখানে মুসলিম শাসনের সূচনা হয়। এরপর মরক্কো উমাইয়া খিলাফতের অধীনে ইফ্রিকিয়া প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর স্থানীয় জনগণকে জোরপূর্বক ধর্মান্তরিত করার কোনো প্রমাণ নির্ভরযোগ্য ঐতিহাসিক সূত্রে পাওয়া যায় না। বরং মুসলিম প্রশাসনের ন্যায়বিচার, সুশাসন, মানবিক আচরণ এবং ইসলামের সহজ-সরল জীবনব্যবস্থায় আকৃষ্ট হয়ে অনেক বারবার স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করেন। এর ফলে মরক্কোতে ইসলাম দ্রুত বিস্তার লাভ করে এবং বারবার জনগোষ্ঠী মুসলিম বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়। পরবর্তী সময়ে উত্তর আফ্রিকা ও আন্দালুসে মুসলিম সভ্যতার বিকাশেও মরক্কোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। মরক্কো শুধু মুসলিম শাসনের জন্যই নয়, জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবেও ইতিহাসে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে ফেস শহরে ফাতিমা আল-ফিহরি প্রতিষ্ঠা করেন আল-কারাউইন বিশ্ববিদ্যালয়, যাকে বিশ্বের প্রাচীনতম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এছাড়া বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মুসলিম পর্যটক ও ভ্রমণকারী ইবনে বতুতা-র জন্মও মরক্কোর তাঞ্জিয়ার শহরে। তাঁর বিখ্যাত ভ্রমণগ্রন্থ ‘আর-রিহলা’ মধ্যযুগীয় বিশ্বের ইতিহাস ও ভূগোল সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। বর্তমানেও মরক্কো ইসলামি ঐতিহ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহাসিক স্থাপত্যের জন্য বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুসলিম দেশ হিসেবে পরিচিত।
বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল-এর শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ আবেদন গ্রহণ চলছে। সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত আট সপ্তাহের এই অনলাইন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক নয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকদের উদ্যোগে চালু হয়। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাদের প্রস্তুত করা। প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং মোট আট সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত হবে। এতে তিনটি মডিউলের মাধ্যমে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তব দক্ষতা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগে এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস প্রোগ্রাম’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক বা আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত কিংবা সম্প্রতি এসব ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীকে পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে। প্রোগ্রামে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে অংশ নেওয়া, বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ থাকবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। আগ্রহীদের আগামী ১০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে। প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন। মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় অবৈধ আতশবাজি বিস্ফোরণে দুই কিশোর গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের একজনের হাতের একাধিক আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং চিকিৎসকেরা তার হাত রক্ষার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটির পর অবৈধ আতশবাজির উৎস খুঁজে বের করতে পুলিশের প্রতি তদন্তের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী পরিবার। দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট ও সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৪ জুলাই অরেঞ্জ কাউন্টির অ্যানাহাইমে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের একজনের মা মারিয়া এসকালান্তে জানান, তার যমজ ছেলেদের একজন এবং তার এক বন্ধু রাস্তা থেকে পাওয়া একটি অবৈধ আতশবাজিতে আগুন দিলে সেটি মুহূর্তেই তাদের হাতে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে তার ছেলের ডান হাতের কয়েকটি আঙুল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন এবং তার দুই হাতেই ব্যান্ডেজ করা রয়েছে। মারিয়া এসকালান্তে বলেন, তার ছেলে অন্তত দুই মাস হাসপাতালে থাকতে পারে। চিকিৎসকেরা পুনর্গঠনমূলক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাত বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। তবে অবশিষ্ট আঙুলগুলোতে স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালন না থাকলে কিছু আঙুল কেটে ফেলতে হতে পারে বলেও চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন, কিন্তু এখনই কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছেন না। প্রথমে তারা দেখবেন অবশিষ্ট আঙুলে পর্যাপ্ত রক্ত সঞ্চালন রয়েছে কি না। সেটির ওপরই পরবর্তী চিকিৎসা নির্ভর করবে। ঘটনার সময় উপস্থিত থাকা আহত কিশোরের যমজ ভাই পুরো বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখেছেন। পরিবারের দাবি, ঘটনার পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। ঘটনার পর মারিয়া এসকালান্তে অ্যানাহাইমের সাউথ মাউন্টেন ভিউ অ্যাভিনিউ এলাকায় ঘটনাস্থলে ফিরে যান। সেখানে তিনি অবৈধ আতশবাজির বিভিন্ন অংশ খুঁজে পান। এরপর তিনি অ্যানাহাইম পুলিশ বিভাগের প্রতি এই অবৈধ আতশবাজি কোথা থেকে বিক্রি হচ্ছে, তা খুঁজে বের করার আহ্বান জানান। তার দাবি, অন্য আহত কিশোরের মা তাকে জানিয়েছেন যে প্রতি বছর ওই এলাকায় অবৈধ আতশবাজি বিক্রি হয়। তাই এ বিষয়ে পুলিশকে আরও কঠোর তদন্ত চালানো উচিত। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরণে আহত অপর কিশোরের দুই হাতও গুরুতরভাবে জখম হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির কারণে প্রতিবছরই বহু দুর্ঘটনা ঘটে। ক্যালিফোর্নিয়া ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ-এর ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, আতশবাজি-সংক্রান্ত দুর্ঘটনায় ওই বছর অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৭১৮ জন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেন এবং আরও ২০০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যালিফোর্নিয়ায় নিষিদ্ধ আতশবাজির বড় একটি অংশ পাশের নেভাডা অঙ্গরাজ্য থেকে অবৈধভাবে নিয়ে আসা হচ্ছে। গত বছরও স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে অবৈধ ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন আতশবাজি বিস্ফোরণে আট বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পরও ক্যালিফোর্নিয়ায় অবৈধ আতশবাজির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবস্থিত পাম বিচ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে 'প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট' রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে এই নতুন নাম কার্যকর হলেও, যাত্রীদের পরিচিত তিন অক্ষরের পুরোনো এয়ারপোর্ট কোডটি (PBI) বদলাতে আরও বেশ কিছুদিন সময় লাগবে। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডিস্যান্টিস গত মার্চ মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্মানে এই নাম পরিবর্তনের আইনে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) নির্দেশনা অনুযায়ী গত ৯ জুলাই থেকে নতুন এই নাম কার্যকর করা হয়েছে। নাম পরিবর্তন হলেও আগামী ১৮ আগস্টের আগে বিমানবন্দরের কোড ‘PBI’ পরিবর্তন করে নতুন কোড ‘DJT’ করা হচ্ছে না। এর অর্থ হলো, মাঝের এই ৪০ দিন পাইলট, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার এবং এভিয়েশন সংশ্লিষ্টরা নতুন কোড ব্যবহার করলেও সাধারণ যাত্রীরা টিকেটিং এবং ফ্লাইটের তথ্যের জন্য পুরোনো কোডই ব্যবহার করবেন। অ্যাটমোস্ফিয়ার রিসার্চ গ্রুপের এয়ারলাইন শিল্প বিশ্লেষক হেনরি হার্টেভেল্ড জানান, যাত্রীদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় এবং লাগেজ যেন সঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়, সেজন্য এয়ারলাইনগুলো তাদের সিস্টেমে বিশেষ ব্যবস্থা বা ‘হার্ড কোডিং’ যুক্ত করেছে। ফলে যাত্রীরা ওয়েবসাইটে পুরোনো কোড লিখে সার্চ দিলেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন নামের ফ্লাইটের তথ্যই দেখতে পাবেন। এছাড়া ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদেরও নতুন নামের পরিবর্তে শুধু 'ওয়েস্ট পাম বিচ'-এ স্বাগত জানানোর স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। সাধারণত ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন (আয়াটা) খুব সহজে এয়ারপোর্ট কোড পরিবর্তনের অনুমোদন দেয় না। বিমান চলাচল নিরাপত্তার মতো জোরালো কারণ ছাড়া এটিকে স্থায়ী হিসেবেই ধরা হয়। তবে পাম বিচ বিমানবন্দরে চলাচলকারী শীর্ষস্থানীয় মার্কিন এয়ারলাইন্স, যেমন- ডেল্টা, ইউনাইটেড, আমেরিকান এয়ারলাইন্স, জেটব্লু এবং সাউথওয়েস্টের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এই কোড পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দরটির নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকেও যাত্রীদের আগামী আগস্ট পর্যন্ত পুরোনো কোডটিই ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ৮০ লাখ যাত্রী এই বিমানবন্দরটি ব্যবহার করেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও তার ফ্লোরিডার বিলাসবহুল রিসোর্ট মার-এ-লাগোতে যাতায়াতের জন্য নিয়মিত এটি ব্যবহার করে থাকেন। গত মে মাসে পাম বিচ কাউন্টির কমিশনাররা এই নামকরণের লাইসেন্সিং চুক্তিতে অনুমোদন দেন। ট্রাম্প অর্গানাইজেশনের পক্ষ থেকে যেকোনো বিমানবন্দরে প্রেসিডেন্টের নাম ব্যবহারের জন্য ট্রেডমার্কের আবেদন করার পরই এই চুক্তিটি হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের প্রচারণায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম, ছবি বা অবয়ব ব্যবহার করতে পারলেও, এই বিমানবন্দর থেকে বিক্রি হওয়া কোনো পণ্য বা সেবা থেকে ট্রাম্প নিজে কোনো রয়্যালটি বা লভ্যাংশ পাবেন না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্টদের নামে নামকরণের দিক থেকে এটি দেশের ১২তম বিমানবন্দর।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে বৈধভাবে বসবাসের পরও ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে নামের এক গ্রিন কার্ডধারীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও কাস্টমস প্রয়োগকারী সংস্থা (আইস)। জ্যামাইকায় ছুটি কাটিয়ে শিকাগোর ও’হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মার্কিন প্রশাসন অভিবাসন আইন কঠোর করার পর থেকে লিন্ডসের মতো বহু বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদেরও এখন অভিবাসন দপ্তরের কড়াকড়ির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) এবং আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটন আন্দ্রে লিন্ডসে মূলত জ্যামাইকার নাগরিক হলেও গত প্রায় তিন দশক ধরে বৈধ পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট বা গ্রিন কার্ডধারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। তিনি ইলিনয়ের জোলিয়েটে একটি ওয়ালমার্ট ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টারে কাজ করার পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকটি রেস্তোরাঁয় শেফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি ও তার স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে গত ছয় বছর ধরে বিবাহিত জীবন কাটাচ্ছেন এবং তাদের যৌথ পরিবারে ৫ সন্তান ও ৭ নাতি-নাতনি রয়েছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ও’হেয়ার বিমানবন্দরে নামার পর অভিবাসন কর্মকর্তারা লিন্ডসেকে আটকে দেন। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি অত্যন্ত কঠোর করায় বিমানবন্দরে সাধারণ গ্রিন কার্ডধারীদের নথিপত্র এবং অতীত ইতিহাস পুনরায় নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হচ্ছে। আদালতের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা গেছে, ২০১৪ সালে লিন্ডসের বিরুদ্ধে একটি পারিবারিক সাধারণ সহিংসতার (মিসডিমিনর ডোমেস্টিক ব্যাটারি) অভিযোগ এবং প্রায় ১০ বছর আগে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর (ডিইউআই) একটি ট্রাফিক মামলা ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যম ডব্লিউজিএন ৯ (WGN 9) জানায়, লিন্ডসে এর আগেও বহুবার কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত করেছেন। আদালতের রায়ে বিচারক উল্লেখ করেছেন যে, লিন্ডসের অতীত অপরাধগুলো এককভাবে বিবেচনা করলে তেমন গুরুতর নয়, তবে একসঙ্গে দেখলে তা আইনের প্রতি এক ধরনের অবজ্ঞার ইঙ্গিত দেয়। লিন্ডসে জামিন পাওয়ার যোগ্য হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে মুক্তি না দিয়ে কেন্টাকির হপকিন্স কাউন্টি জেলে বন্দি রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর লিন্ডসের স্ত্রী বেঞ্জি লিন্ডসে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “তার বিরুদ্ধে কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নেই, কোনো গুরুতর অপরাধের রেকর্ডও নেই। সে শতভাগ বৈধ একজন মানুষ, তাও আইস তাকে অন্যায়ভাবে আটকে রেখেছে।” দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কারণে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। লিন্ডসের আইনজীবীরা গত জুন মাসে কেন্টাকির ফেডারেল আদালতে একটি ‘হেবিয়াস কর্পাস’ (অবৈধ আটকাদেশ চ্যালেঞ্জকারী রিট) পিটিশন দায়ের করেছেন। প্রোপাবলিকার এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে আইসের এই ধরপাকড় চ্যালেঞ্জ করে এ পর্যন্ত প্রায় ৬০ হাজারেরও বেশি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করা হয়েছে, যা বিগত তিনটি প্রশাসনের সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। কেন্টাকির যে কেন্টাকি ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে লিন্ডসের মামলাটি বিচারাধীন, সেখানে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৫০০টিরও বেশি রিট আবেদন জমা পড়েছে। ইউসি বার্কলের ‘ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে আইস গ্রেপ্তার করেছে। জুন মাসের শেষ দিকে মাত্র ৫ দিনে ১০ হাজার মানুষকে আটক করা হয়। বর্তমানে আইসের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে বন্দির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার। অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, শুধু লিন্ডসে একাই নন, কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির স্নাতক মাহমুদ খলিল এবং মিলওয়াকি ইসলামিক সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সালাহ সারসুরের মতো দীর্ঘদিনের গ্রিন কার্ডধারীদেরও সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক মাস করে আটকে রাখা হয়েছিল, যদিও পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে তারা মুক্তি পান। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগের এক মুখপাত্র অবশ্য জানিয়েছেন, যারা অবৈধ বা নিয়মের বাইরে আছেন, তাদের নিজ খরচে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, অন্যথায় গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান থাকবে। লিন্ডসের পরিবার এখন আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে একটি ডেটিং সাইটে পরিচয়ের সূত্র ধরে এক ফেডারেল সরকারি কর্মচারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ডলারের বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৭২ বছর বয়সী এক নারীকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন আদালত। দোষী সাব্যস্ত ওই নারীর সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত নারীর নাম জেনি সিয়ার্স। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি নিজেকে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষিত সফল ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করেন এবং পরে বড় অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্যমতে, ৫০ বছর বয়সী এক ফেডারেল কর্মচারীর সঙ্গে একটি ডেটিং সাইটে সিয়ার্সের পরিচয় হয়। পরে তিনি ভুক্তভোগীকে নিজের বাড়িতে থাকতে রাজি করান। ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে প্রতারণার ঘটনাগুলো ঘটে। প্রসিকিউটরদের দাবি, সিয়ার্স ভুক্তভোগীকে জানান যে তিনি তার অর্থ ফাইজারের শেয়ারে বিনিয়োগ করবেন। সেই বিশ্বাসে ভুক্তভোগী চেক, ব্যাংক ট্রান্সফার এবং নগদ অর্থের মাধ্যমে ৪ লাখ ডলারের বেশি তার হাতে তুলে দেন। তবে তদন্তে দেখা যায়, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের পরিবর্তে ওই অর্থ ব্যক্তিগত বিলাসিতায় ব্যয় করেন সিয়ার্স। প্রসিকিউশন জানায়, তিনি অর্থের একটি অংশ দিয়ে একটি আলফা রোমিও গাড়ি কেনেন এবং এমজিএম-সহ বিভিন্ন ক্যাসিনোতে ১ লাখ ডলারের বেশি জুয়া খেলেন। মামলার বিচার চলাকালে জুরিদের সামনে ব্যাংক লেনদেন ও অর্থের প্রবাহসংক্রান্ত বিভিন্ন নথি উপস্থাপন করা হয়, যেখানে ভুক্তভোগীর অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। দুই দিনব্যাপী বিচার শেষে মাত্র ৭৫ মিনিটের আলোচনার পর মন্টগোমারি কাউন্টির জুরি বোর্ড সিয়ার্সকে সিকিউরিটিজ জালিয়াতি, এক লাখ ডলারের বেশি অর্থ আত্মসাতের পরিকল্পনা এবং অর্থ তছরুপের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে। আদালতের রায় অনুযায়ী, এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ২৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সর্বোচ্চ সাজা হলে ৯৫ বছর বয়স পর্যন্ত তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে। আদালত আগামী ২৮ আগস্ট তার সাজা ঘোষণা করবেন। মন্টগোমারি কাউন্টি স্টেটস অ্যাটর্নির কার্যালয় জানিয়েছে, অনলাইন পরিচয়ের মাধ্যমে আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিনিয়োগের নামে বড় অঙ্কের অর্থ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় ভালোভাবে যাচাই করার পরামর্শও দিয়েছে তারা।
বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল-এর শিক্ষকদের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’-এ আবেদন গ্রহণ চলছে। সম্পূর্ণ অর্থায়নে পরিচালিত আট সপ্তাহের এই অনলাইন নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তরুণ-তরুণীরা অংশ নিতে পারবেন। বিশেষ সুবিধা হলো, এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে আইইএলটিএস বা অন্য কোনো ইংরেজি ভাষা দক্ষতার পরীক্ষার স্কোর বাধ্যতামূলক নয়। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকদের উদ্যোগে চালু হয়। এর লক্ষ্য হলো সামাজিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বের দক্ষতা গড়ে তোলা এবং নিজ নিজ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে তাদের প্রস্তুত করা। প্রোগ্রামটি সম্পূর্ণ অনলাইনভিত্তিক এবং মোট আট সপ্তাহব্যাপী পরিচালিত হবে। এতে তিনটি মডিউলের মাধ্যমে নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত উন্নয়ন, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা এবং বাস্তব দক্ষতা নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগে এই কর্মসূচির নাম ছিল ‘ক্রসরোডস ইমার্জিং লিডারস প্রোগ্রাম’। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। বিশেষ করে যেসব শিক্ষার্থী সামাজিক বা আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছেন, তাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আবেদনকারীর বয়স ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অধ্যয়নরত কিংবা সম্প্রতি এসব ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন, এমন শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া আবেদনকারীকে পরিবারের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী হতে হবে। প্রোগ্রামে নির্বাচিত অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন। পাশাপাশি হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে অংশ নেওয়া, বিশ্বমানের একাডেমিক ও ক্যারিয়ার উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ গ্রহণ, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক তৈরির সুযোগ থাকবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা বাস্তবায়নের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগও রয়েছে। আগ্রহীদের আগামী ১০ জুলাই ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা এবং অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামের নির্ধারিত ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে বিভিন্ন খুচরা বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তিনি চারটি পৃথক ঘটনায় ৯ হাজার ১০০ ডলারেরও বেশি মূল্যের প্রসাধনী, রান্নাঘরের সরঞ্জাম এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চুরি করেছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS12-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফোর্ট লডারডেলের বাসিন্দা লিয়ানা প্লাউ-এর বিরুদ্ধে পাম বিচ কাউন্টির বিভিন্ন উল্টা বিউটি (Ulta Beauty), লোয়েজ হোম ইমপ্রুভমেন্ট (Lowe's) এবং হোম ডিপো (Home Depot) শাখায় সংঘটিত চারটি চুরির ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্ত শেষে গত ৮ জুলাই তাকে পাম বিচ কাউন্টি কারাগারে নেওয়া হয়। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ওয়েলিংটনের একটি উল্টা বিউটি স্টোরে। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ানা প্লাউ ও তার সঙ্গে থাকা আরেক নারী দোকানে প্রবেশ করে বিভিন্ন প্রসাধনী ও তিনটি উচ্চমূল্যের চুলের স্টাইলিং যন্ত্র ব্যাগে ভরে মূল্য পরিশোধ না করেই বেরিয়ে যান। চুরি হওয়া পণ্যের মোট মূল্য ছিল ১ হাজার ৮৭৩ দশমিক ৮৯ ডলার। পুলিশ জানায়, পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি ডাইসন এয়ারর্যাপ স্টাইলিং যন্ত্র মাটিতে পড়ে যায়, যার মূল্য ছিল ৬৪৯ দশমিক ৯৯ ডলার। পরে সেটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী ছবি দেখে লিয়ানা প্লাউকে শনাক্ত করেন। এ ছাড়া তদন্তে উঠে এসেছে, ৫ ডিসেম্বর বোকা রাটনের একটি লোয়েজ স্টোর থেকে তিনি দুই সহযোগীকে নিয়ে ১০টি কোহলার ব্র্যান্ডের রান্নাঘরের কল চুরি করেন। তদন্তকারীদের দাবি, তারা একটি ট্রলিতে কলগুলো তুলে বাগান বিভাগের বের হওয়ার পথ ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান ছেড়ে যান। চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৪০ ডলার। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, পরে এসব পণ্য একটি হোন্ডা সিআর-ভি গাড়িতে তোলা হয়। ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব কারেকশনের এক প্রবেশন কর্মকর্তা নজরদারির ছবি দেখে লিয়ানা প্লাউকে শনাক্ত করেন। তিনি আগে থেকেই গুরুতর অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তদারকির সময় প্লাউকে চিনতেন বলে তদন্ত নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও তার পরিচয় নিশ্চিত করে। এর মাত্র নয় দিন পর, ১৪ ডিসেম্বর, রয়্যাল পাম বিচের আরেকটি লোয়েজ স্টোরে একই ধরনের আরেকটি চুরির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, দোকানের পেছনের জরুরি বহির্গমন পথের অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর কর্মীরা বিষয়টি টের পান। নজরদারি ফুটেজে দেখা যায়, লিয়ানা প্লাউ ও তার সহযোগী একাধিক কোহলার রান্নাঘরের কল নিয়ে সব ধরনের বিক্রয় কাউন্টার এড়িয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে যান। পরে সেগুলো একটি রুপালি রঙের টয়োটা ক্যামরি গাড়িতে তোলা হয়। চুরি হওয়া পণ্যের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৬৯৮ ডলার। পাম বিচ কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের দাবি, এই ঘটনাটি সংঘবদ্ধ খুচরা পণ্য চুরির একটি বড় চক্রের অংশ হতে পারে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের চুরি এবং প্রতারণার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তের আরেকটি ঘটনায় দেখা যায়, ৮ ডিসেম্বর লান্টানার একটি হোম ডিপো শাখা থেকে লিয়ানা প্লাউ ও তার সহযোগী প্রবেশমুখের কাছে রাখা মিলওয়াকি ব্র্যান্ডের পাঁচটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র নিয়ে মূল্য পরিশোধ ছাড়াই দোকান ছেড়ে যান। এসব পণ্যের মূল্য ছিল ৪৯৫ ডলার। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে ছোট পরিসরের চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, ল্যাট্রিস হোয়াইট নামে ৪৭ বছর বয়সী এক নারীকে একাধিক মামলায় সহ-আসামি হিসেবে শনাক্ত করেছেন তদন্তকারীরা। তাদের দাবি, বিভিন্ন দোকান থেকে উচ্চমূল্যের পণ্য পরিকল্পিতভাবে চুরি করার ক্ষেত্রে একই ধরনের কৌশল ও একই ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। তদন্তকারীরা বলছেন, নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীর শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতেই লিয়ানা প্লাউকে চারটি পৃথক চুরির মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম এখন আদালতে চলবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের রচেস্টার হিলসের বাসিন্দা ১৮ বছর বয়সী ব্রুক ওয়েস্ট গুরুতর স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত হয়ে টানা কয়েক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। ছয় দিন কোমায় থাকার কারণে তিনি নিজের স্কুলের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানেও অংশ নিতে পারেননি। তবে চিকিৎসকদের নিরলস প্রচেষ্টায় সুস্থ হয়ে এবার সেই হাসপাতালেই ফিরে গিয়ে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি। দ্য ডেট্রয়েট নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শেষ দিকে ব্রুক ওয়েস্টকে কোরওয়েল হেলথ বোমন্ট ট্রয় হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা তার শরীরে অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিস (ADEM) নামে একটি বিরল স্নায়বিক রোগ শনাক্ত করেন। এ রোগে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডে হঠাৎ করে ব্যাপক প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং রোগীর চলাফেরা, স্মৃতিশক্তি ও স্নায়ুতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্রুক জানান, গত ৮ মে স্কুলের সিনিয়র প্রম অনুষ্ঠানের আগে তার তীব্র মাথাব্যথা শুরু হয় এবং হাঁটতে সমস্যা হচ্ছিল। কয়েক দিন জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি ওয়াকার ব্যবহার করে প্রম অনুষ্ঠানে অংশ নেন। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। তিনি ঠিকমতো হাঁটতে পারছিলেন না, চিন্তাভাবনায় অস্পষ্টতা দেখা দেয় এবং আবারও হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। ব্রুকের মা বনি ওয়েস্ট জানান, আইসিইউতে চিকিৎসকেরা রোগ নির্ণয়ের জন্য স্পাইনাল ট্যাপ, সিটি স্ক্যানসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করেন। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে ব্রুক খিঁচুনিতে আক্রান্ত হন। এরপর তাকে ভেন্টিলেশনে রেখে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা দিতে হয়। ব্রুকের বাবা জেসন ওয়েস্ট বলেন, শুরুতে চিকিৎসকেরা নিশ্চিত ছিলেন না ঠিক কী রোগে তিনি আক্রান্ত হয়েছেন। এতে পুরো পরিবার অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগের মধ্যে ছিল। ছয় দিন অচেতন অবস্থায় থাকার পর চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হন যে তিনি অ্যাকিউট ডিসেমিনেটেড এনসেফালোমাইলাইটিসে আক্রান্ত। এরপর তার পাঁচ দিন ধরে প্লাজমা এক্সচেঞ্জ থেরাপি করা হয়, যা তার অবস্থার উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এদিকে হাসপাতালে ভর্তি থাকায় ব্রুক নিজের স্নাতক সমাপনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও কর্মীরা তার জন্য বিশেষ আয়োজন করেন। পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের একটি করিডোরজুড়ে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ান চিকিৎসাকর্মীরা। পরে তার স্কুলের সুপারিনটেনডেন্ট হাসপাতালে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে তার হাতে স্নাতক সনদ তুলে দেন। ব্রুক বলেন, প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন ছোট একটি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু হাসপাতালের সবাই যেভাবে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন, সেটি তার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ। যদিও এখনও শারীরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ফিরে পেতে ফিজিক্যাল ও অকুপেশনাল থেরাপি নিচ্ছেন। এই অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি তার আগ্রহ আরও বেড়েছে। আগামী শরৎ মৌসুমে তিনি গ্র্যান্ড ভ্যালি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে বায়োমেডিক্যাল সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করবেন। ব্রুক বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতাই তাকে এই সিদ্ধান্ত নিতে অনুপ্রাণিত করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি আবার কোরওয়েল হাসপাতালে ফিরে গেলে চিকিৎসক ও নার্সরা তাকে করতালি, হাসি আর আলিঙ্গনের মাধ্যমে স্বাগত জানান। হাসপাতালের নার্স ক্যাথি হামামেহ বলেন, ব্রুক তার সবচেয়ে স্মরণীয় রোগীদের একজন। একজন মা হিসেবে তিনি ব্রুকের মায়ের উদ্বেগ ও ভালোবাসার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে দেখতে পেরেছিলেন। তাই ব্রুকের সুস্থ হয়ে ওঠা তাকে ব্যক্তিগতভাবেও আনন্দ দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, অধিকাংশ রোগীর পরবর্তী জীবনের খবর তারা জানতে পারেন না। কিন্তু ব্রুকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় তার সুস্থ হয়ে ওঠার পুরো যাত্রা কাছ থেকে দেখতে পেরেছেন, যা একজন স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে তার জন্য অত্যন্ত তৃপ্তিদায়ক।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে ছুটি কাটাতে গিয়ে নিহত হওয়া মার্কিন নাগরিক ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কিকে হত্যার দায়ে এক আইরিশ নাগরিককে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে সাজা শেষ হলে তাকে হাঙ্গেরি থেকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এবং ডব্লিউকেবিডব্লিউ ৭ নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বুদাপেস্ট মেট্রোপলিটন কোর্ট এই রায় দেন। নিহত ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কি (৩১) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ফ্রেডোনিয়ার বাসিন্দা ছিলেন। পরে তিনি ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে বসবাস শুরু করেন। ২০২৪ সালের নভেম্বরে তিনি হাঙ্গেরিতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গত বছরের ৫ নভেম্বর বুদাপেস্টের একটি নাইটক্লাব থেকে বের হওয়ার পর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে তার পরিবার নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের সময় আশপাশের নাইটক্লাবগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে পুলিশ দেখতে পায়, নিখোঁজ হওয়ার রাতে ম্যাকেঞ্জি এক ব্যক্তির সঙ্গে বিভিন্ন ক্লাবে ছিলেন। পরে সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে ৭ নভেম্বর আটক করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি, যাকে আদালতের নথিতে এল.টি.এম. নামে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তদন্তে জানা যায়, নাইটক্লাবে পরিচয়ের পর দুজন অভিযুক্তের ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে যান। সেখানে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের সময় একপর্যায়ে অভিযুক্ত ম্যাকেঞ্জিকে মারধর ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। ঘটনার পর তিনি এটিকে দুর্ঘটনা বলে দাবি করলেও তদন্তকারীরা জানান, হত্যার পর তিনি ঘটনাটি গোপন করার চেষ্টা করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রথমে অ্যাপার্টমেন্ট পরিষ্কার করেন, পরে মরদেহ একটি আলমারিতে লুকিয়ে রাখেন। এরপর একটি বড় স্যুটকেস কিনে মরদেহ সেটির মধ্যে রাখেন। এরপর একটি গাড়ি ভাড়া নিয়ে বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে বালাটন হ্রদের কাছে সিজলিগেট এলাকার একটি বনাঞ্চলে মরদেহ ফেলে দেন। তদন্তকারীরা আরও জানান, গ্রেপ্তারের আগে অভিযুক্ত ইন্টারনেটে কীভাবে মরদেহ গোপন করা যায়, নিখোঁজ ব্যক্তির মামলায় পুলিশের তদন্ত পদ্ধতি কী, মৃতদেহ প্রাণী খেয়ে ফেলে কি না এবং বালাটন হ্রদ এলাকায় বুনো শূকর রয়েছে কি না, এমন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। পুলিশ প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, পরে অভিযুক্ত নিজেই তদন্তকারীদের মরদেহ ফেলে দেওয়া স্থানে নিয়ে যান। বিচার শেষে আদালত তাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দেন। রায় অনুযায়ী, ইতোমধ্যে আটক অবস্থায় কাটানো প্রায় দেড় বছর এই সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে। এছাড়া তাকে আদালতের ব্যয় বাবদ ২৫ লাখ হাঙ্গেরিয়ান ফরিন্ট (প্রায় ৮ হাজার মার্কিন ডলার) পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযুক্তের আইনজীবী এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। ম্যাকেঞ্জি মিচালস্কির মৃত্যুর পর যুক্তরাষ্ট্রের ফ্রেডোনিয়া এবং হাঙ্গেরির বুদাপেস্টে তার স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ও হাঙ্গেরি উভয় দেশেই ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
গ্রিসের জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সময় একটি এফ-১৬সি ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমানে আগুন ধরে যায়। তবে দক্ষতার সঙ্গে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হন পাইলট এবং তিনি অক্ষত রয়েছেন বলে জানিয়েছে গ্রিক বিমান বাহিনী। ঘটনার পর বিমানবন্দরের রানওয়েতে দমকলকর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং সাময়িকভাবে বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে গ্রিসের হেলেনিক এয়ার ফোর্সের ৩৩৫তম স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান প্রশিক্ষণ মিশনে অংশ নেওয়ার সময় যান্ত্রিক ত্রুটির মুখে পড়ে। বিমানটি উত্তর-পশ্চিম গ্রিসের আরাকসোস বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় পাইলট নিকটতম বিমানবন্দর জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের সিদ্ধান্ত নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, রানওয়েতে নামার পর যুদ্ধবিমানটির নিচের অংশে আগুন জ্বলে ওঠে। আগে থেকেই প্রস্তুত থাকা বিমানবন্দরের দমকলকর্মীরা সঙ্গে সঙ্গে ফোম ও পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাইলট নিরাপদে বিমান থেকে বেরিয়ে আসেন। গ্রিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বিমানটির ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনার কারণে জাকিনথোস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একমাত্র রানওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ফলে নির্ধারিত বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বিলম্বিত বা বাতিল হয় এবং যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই দুর্ঘটনার কয়েক দিন আগেই গ্রিসের ১১৬তম কমব্যাট উইং তাদের এফ-১৬ বহর আধুনিকীকরণের ঘোষণা দিয়েছিল। যদিও সাম্প্রতিক এই ঘটনার সঙ্গে সেই আধুনিকীকরণ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামরিক বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে পাইলটদের কঠোর জরুরি প্রোটোকল অনুসরণ করতে হয়। এ ক্ষেত্রে পাইলট নিরাপদে বিমানটি অবতরণ করাতে সক্ষম হওয়ায় বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো গেছে। তদন্ত শেষ হলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মোদির সফর উপলক্ষে মেলবোর্নে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় অংশ তাঁকে স্বাগত জানায়। বিমানবন্দর ও সফরস্থল এলাকায় তাঁর সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে একই সময়ে মানবাধিকারকর্মী ও প্রবাসী ভারতীয়দের আরেকটি অংশ বিক্ষোভ করে। তাদের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার সরকার যেন মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে মানবাধিকার পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করে এবং এসব বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। নরেন্দ্র মোদির এই সফরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ইউরেনিয়াম রপ্তানি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের আলোচনা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশ তাদের কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও কর্মীরা মোদির বিদেশ সফরগুলোর সময় প্রায়ই মানবাধিকার ইস্যু সামনে এনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
ভেনেজেলার লা গুয়াইরা শহরে গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তুরস্কের নাগরিক ইব্রাহিম এসের। নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর তিনি ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেমে পড়েন এবং খালি হাতে অন্তত ৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। ২২ বছর ধরে ভেনেজেলায় বসবাসকারী ইব্রাহিম জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি অফিসে কাজ করছিলেন। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী কম্পনে তাঁর অফিসের আসবাবপত্র ভেঙে পড়তে শুরু করে। তখনই তাঁর প্রথম চিন্তা ছিল স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে, কারণ তাঁদের বাসার পাশের একটি ভবন ধসে পড়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি দেখেন চারদিকে আতঙ্ক। ভবন থেকে আসবাবপত্র পড়ছে, মানুষ আহত হয়ে রাস্তায় ছুটছে। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আছেন নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি আবার ঘটনাস্থলে ফিরে যান এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অংশ নেন। ইব্রাহিম জানান, পরদিন সকাল পর্যন্ত তিনি টানা কয়েক ঘণ্টা উদ্ধারকাজ চালিয়ে ৩৮ জনকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন। তবে সবাইকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া সান্তিয়াগো নামের এক ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য তিনি এক ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা করেন। কিন্তু ভারী কংক্রিট ভাঙার মতো যন্ত্রপাতি না থাকায় তাঁকে আর উদ্ধার করা যায়নি। পরে তিনি কাছাকাছি একটি হোটেলে আটকে পড়া টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ক্রু সদস্যদের উদ্ধারেও সহায়তা করেন। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি “ভূমিকম্পের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো” বলে বর্ণনা করেন। ২৪ জুন ভেনেজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ইব্রাহিম এসেরের সাহসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।