সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান
থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্কুলের কাস্টোডিয়ান প্রায় ছয় মাস ধরে গোপনে ওই স্কুলেই বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি স্কুল ভবনের ভেতরেই নিজের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হন। তবে কীভাবে তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলে অবস্থান করতেন এবং বিষয়টি এতদিন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে তার সেখানে বসবাসের বিষয়টি জানতে পারেনি।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং ভবন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় ও দায়িত্বের বাইরে স্কুল ভবনে অবস্থানের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   তবে ওই কাস্টোডিয়ান কেন স্কুলে গোপনে বসবাস করছিলেন এবং তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি সামনে আসার পর স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

১৭ মিনিট Ago
শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার কারণে দীর্ঘদিন পুকুরের পানিতে থাকতেন মুর্শিদাবাদের কিশোর ইকবাল শেখ। ছবি: সংগৃহীত
শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া, পাঁচ বছর পুকুরের পানিতে দিন কাটানো কিশোরের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন অনন্ত আম্বানি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ১৬ বছর বয়সী ইকবাল শেখের জীবন যেন আটকে ছিল পুকুরের পানিতে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হওয়ায় পানি থেকে উঠতে পারতেন না তিনি। পুকুরের পানিতে থাকলেই কিছুটা স্বস্তি মিলত বলে দাবি ইকবালের। এভাবেই প্রায় পাঁচ বছর ধরে দিনের বড় একটি সময় পানিতে কাটাতে হয়েছে তাকে।   ইকবালের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে তাকে পুকুরের পানিতে বসে খাবার খেতেও দেখা যায়। পরে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে ভারতের শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি তার চিকিৎসায় সহায়তার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে ইকবালকে মুম্বাইয়ের স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।   মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা ইকবাল জানিয়েছেন, পানির বাইরে এলেই তার শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া শুরু হয়। সেই কষ্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে তিনি আবার পুকুরের পানিতে নেমে যেতেন। স্থানীয়ভাবে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসার খরচ বহন করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।   পরিস্থিতি বদলে যায় ইকবালের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে দীর্ঘ সময় পুকুরে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইকবালের চিকিৎসার জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেন অনন্ত আম্বানি। পরে তাকে বিমানে মুম্বাইয়ে নেওয়া হয় এবং স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   চিকিৎসকেরা এখনো ইকবালের সমস্যার চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে তার উপসর্গের সঙ্গে বিরল রোগ এরিথ্রোমেলালজিয়ার কিছু মিল রয়েছে বলে চিকিৎসকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। এ রোগে শরীরের বিশেষ করে হাত-পা বা অন্যান্য অংশে তীব্র জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত উষ্ণতা, লালচে হয়ে যাওয়া ও ব্যথা দেখা দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গও বেড়ে যায় এবং ঠান্ডা পরিবেশ বা পানিতে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে ইকবালের ক্ষেত্রে এই রোগের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।   দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকলে ত্বক নরম হয়ে যাওয়া, ক্ষত তৈরি হওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পুকুরের পানিতে অবস্থানকে চিকিৎসা হিসেবে না দেখে দ্রুত রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।   ইকবালের ঘটনা শুধু একটি বিরল শারীরিক সমস্যার গল্প নয়, বরং চিকিৎসা না পাওয়ার আর্থিক ও সামাজিক সংকটেরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান খুঁজলেও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বড় পরিসরে সামনে আসে এবং শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়।   এখন ইকবালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার শরীরে জ্বালাপোড়ার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা। মুম্বাইয়ের চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার সমস্যার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত তার রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় বা চিকিৎসার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকবালের ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ছড়ালেও চিকিৎসকেরা তার সমস্যার বৈজ্ঞানিক কারণ নির্ণয়ের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ায় এখন তার পরিবারও রোগটির প্রকৃত কারণ ও কার্যকর চিকিৎসার বিষয়ে আশাবাদী।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, বিজনেস টুডে, এএনআই ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

২১ মিনিট Ago
প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে তদন্তাধীন হোসে সেরানোকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠাল আইসিই, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ

ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে সেরানোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইকুয়েডরের তদন্তে থাকা সেরানো শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েডরে ফেরেন। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।   সেরানো ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতিও ছিলেন। ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিনি সাতজন সন্দেহভাজনের একজন হিসেবে রয়েছেন।   ইকুয়েডরের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের অভিযোগ, সেরানো মাদক চোরাচালানকারী গোষ্ঠী লস লোবোসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভিলাভিসেনসিওর চলাফেরা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   ভিলাভিসেনসিও ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট রাজধানী কুইটোতে নির্বাচনী প্রচারের একটি সমাবেশ শেষে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন। ওই সময় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন। হামলায় ছয়জন কলম্বীয় নাগরিককে হত্যাকারী হিসেবে আটক করা হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে কারাগারে ওই ছয়জনই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   সেরানোর বিরুদ্ধে তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। এর মধ্যে লস লোবোসের নেতা উইলমার ‘পিপো’ চাভারিয়া রয়েছেন। তিনি নিজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে আত্মগোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্পেনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তাকে ইকুয়েডরে প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে লস লোবোসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে ২০২৪ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে সেরানোর অবস্থানও ছিল দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে। তিনি ২০২১ সালের মে মাসে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পাঁচ মাস পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। ২০২৫ সালের আগস্টে ভিসার অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ আইসিই তাকে মিয়ামির বাসা থেকে আটক করে। এরপর তিনি অভিবাসন হেফাজতে ছিলেন।   চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন অভিবাসন বিচারক রোমি লার্নার সেরানোর আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করেন। তবে একই সঙ্গে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের আওতায় তার বহিষ্কার স্থগিত করা হয়। ইকুয়েডরে ফেরত পাঠালে তিনি নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কার কারণে ওই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।   তারপরও শেষ পর্যন্ত আইসিই সেরানোকে ইকুয়েডরে পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান পাবলো সেগুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্নীতি ও মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইন্টারপোলের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি সেরানোকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর বিদেশি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে না।   ইকুয়েডরে পৌঁছানোর পর সেরানোকে নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট রাতে তার বহনকারী বিমান গুয়ায়াকিলের জোসে জোয়াকিন দে ওলমেদো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার এল এনকুয়েন্ত্রোতে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে দেশটিতে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হেফাজতে রাখার আদেশ কার্যকর ছিল।   সেরানোকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ইকুয়েডরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেরানোকে এল এনকুয়েন্ত্রো কারাগারের নতুন ‘অতিথি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই পোস্টে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়ার দিকেও ইঙ্গিত করে লেখেন, ‘এবার আপনার পালা।’ কোরিয়া বর্তমানে বেলজিয়ামে বসবাস করছেন।   অন্যদিকে ভিলাভিসেনসিওর দুই মেয়ে আমান্ডা ও তামিয়া সেরানোর ইকুয়েডরে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা ঘটনাটিকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সেরানোর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বহিষ্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ড ইকুয়েডরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য পরিচিত এই রাজনীতিককে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে হত্যা করা হয়েছিল। তার হত্যার তদন্তে মাদক চক্র, কারাগার ও রাজনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সেরানোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানোর ফলে এখন তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার পরবর্তী ধাপ দেশটির আদালতেই এগোবে। তবে হত্যাকাণ্ডে তার প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।   সংবাদ সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

৪৫ মিনিট Ago
নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ মুসলিমদের

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে আরএসএসের আদর্শ এবং ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সংগঠনটির ভূমিকার সমালোচনা করা হয়।   মোহন ভাগবত শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে ‘সার্বজনীন একাত্মতা উদযাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আড়াই শতাধিক হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন যুক্ত ছিল এবং কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা ছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করা।   তবে অনুষ্ঠানের আগে থেকেই নিউইয়র্কে এর বিরোধিতা করে আসছিল বিভিন্ন আন্তধর্মীয়, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আরএসএসের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শ ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা মোহন ভাগবতের সফরকে আরএসএসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আরএসএসের আদর্শকে বর্জনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি ভেন্যুতে হওয়ায় সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি বাতিল করার এখতিয়ার নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন মোহন ভাগবতের ভিসা প্রত্যাহার এবং আরএসএসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। তবে এই সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয় এবং মার্কিন সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের হিন্দু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে।   মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সফরের অংশ। তাঁর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভারতীয়-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও আরএসএসের আদর্শ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সংগঠনটির আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
ফোবানা কনভেনশনে যোগ দিতে লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে পৌঁছেছেন ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ এর প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   শনিবার দুপুরে লস অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ফোবানা হোস্ট কমিটির কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, টাইটেল স্পন্সর মুনিরুল ইসলাম, চিফ প্যাট্রন শিপার চৌধুরীসহ হোস্ট কমিটির নেতৃবৃন্দ।   এ সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল, ক্যালিফোর্নিয়া বিএনপির সভাপতি বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু, সাধারণ সম্পাদক এম. ওয়াহিদ রহমান, জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মুনিম, সাধারণ সম্পাদক লায়েক আহমেদ, বাংলাদেশ ইউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেস (বাফলা)-এর সাধারণ সম্পাদক নাসির সৈয়দ জেবুলসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং মন্ত্রীর নিকটাত্মীয়রা উপস্থিত ছিলেন।   তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ লস অ্যাঞ্জেলেসের ইউনিভার্সাল সিটিতে অবস্থিত ইউনিভার্সল হিলটন এ অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর এ কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। ভেন্যুটির ঠিকানা ৫৫৫ Universal Hollywood Drive, Universal City, California কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকা ত্যাগ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।   উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে পরিচিত ফোবানা কনভেনশন। প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও প্রদেশ থেকে বাংলাদেশি-আমেরিকান ও বাংলাদেশি-কানাডিয়ানরা এ আয়োজনে অংশ নেন। এবারের ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া। লস অ্যাঞ্জেলেসের হলিউড সংলগ্ন ইউনিভার্সাল সিটিতে আয়োজন হওয়ায় এবারের কনভেনশনকে ঘিরে প্রবাসীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।   আয়োজকদেরা জানান, তিন দিনের এই কনভেনশনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা, বিভিন্ন প্রতিভা প্রদর্শন, যুব কার্যক্রম, সম্মাননা ও কমিউনিটি গ্যাদারিংয়ের পাশাপাশি খাবার, পরিবারকেন্দ্রিক আয়োজন ও বিভিন্ন কর্মশালার ব্যবস্থা থাকবে।   ফোবানা দীর্ঘদিন ধরে উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সংগঠন ও প্রবাসীদের একটি বৃহৎ প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে আসছে। বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের চর্চা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সহযোগিতা জোরদার করাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।   ৪০তম ফোবানা কনভেনশনে বাংলাদেশ সরকারের একজন মন্ত্রীর প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকে তাই প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   লস অ্যাঞ্জেলেসে মন্ত্রীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ফোবানা হোস্ট কমিটি ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা গেছে। কনভেনশনকে সফল করতে আয়োজকরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

নুরুল্লাহ সাইদ প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২২:৫৬
ইসরায়েলের সমালোচনা করা শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করতে পারবেন না ট্রাম্প, মার্কিন আদালতের রায়

যুক্তরাষ্ট্রে ইসরায়েলের গাজা যুদ্ধের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে মত প্রকাশের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল বা দেশ থেকে বহিষ্কার করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালত। আদালত বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বাক্‌স্বাধীনতার সুরক্ষা লঙ্ঘন করে।   সান হোসের ফেডারেল বিচারক নোয়েল ওয়াইজ শুক্রবার দেওয়া ৯০ পৃষ্ঠার রায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া কিছু অভিবাসন পদক্ষেপকে অসাংবিধানিক বলে উল্লেখ করেন। মামলাটি করেছিল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিচালিত সংবাদপত্র ‘দ্য স্ট্যানফোর্ড ডেইলি’। পত্রিকাটির দাবি ছিল, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে মত প্রকাশের কারণে বিদেশি শিক্ষার্থীরা ভিসা বাতিল ও বহিষ্কারের আশঙ্কায় নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত থাকছিলেন।   বিচারক ওয়াইজ তাঁর রায়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনী নাগরিকদের পাশাপাশি বৈধভাবে দেশটিতে অবস্থানরত অ-নাগরিকদেরও মত প্রকাশের অধিকার সুরক্ষিত করে। সরকারের পছন্দ নয় এমন মত প্রকাশ করলেই অভিবাসন আইন ব্যবহার করে কাউকে শাস্তি দেওয়া সেই অধিকারকে কার্যত সীমিত করে দেয়।   মামলার সূত্রপাত মূলত ২০২৫ সালের ঘটনাপ্রবাহ থেকে। সে সময় ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে যুক্ত কয়েকজন বিদেশি শিক্ষার্থী ও কর্মীকে ভিসা বাতিল, আটক এবং বহিষ্কারের উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মাহমুদ খলিল এবং টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের রুমাইসা ওজতুর্কের ঘটনাও ব্যাপক আলোচনায় আসে। এসব ঘটনার পর স্ট্যানফোর্ড ডেইলি আশঙ্কা প্রকাশ করে যে তাদের বিদেশি শিক্ষার্থী সাংবাদিকরাও একই ধরনের সরকারি পদক্ষেপের মুখে পড়তে পারেন।   আদালতের নথি অনুযায়ী, স্ট্যানফোর্ড ডেইলির কয়েকজন বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি শিক্ষার্থী ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নিয়ে লেখা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছিলেন। কেউ আগে প্রকাশিত লেখা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করেছেন, কেউ নতুন লেখা প্রকাশ থেকে বিরত থেকেছেন, আবার কেউ নিজেদের পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছেন। এমনকি কয়েকজন শিক্ষার্থী সংবাদপত্রটির কাজ থেকেও সরে দাঁড়িয়েছেন।   বিচারক ওয়াইজ বলেন, সরকারের পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে একটি ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে কার্যত এমন বার্তা পৌঁছেছিল যে ইসরায়েলের সমালোচনা বা ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে কথা বললে তাদের ভিসা বাতিল এবং বহিষ্কার করা হতে পারে। ফলে অনেকেই নিজেদের মত প্রকাশ থেকে বিরত হয়েছেন।   রায়ে বিচারক আরও বলেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি ও অভিবাসন বিষয়ে যথেষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। তবে সেই ক্ষমতা এমনভাবে প্রয়োগ করা যাবে না, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতেই না পারেন কোন ধরনের বক্তব্য আইনসম্মত এবং কোন বক্তব্যের কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তিনি এই ধরনের অস্পষ্ট মানদণ্ডকে অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন।   ওয়াইজের মতে, গণতন্ত্রে বাক্‌স্বাধীনতার অর্থ শুধু সরকারের সঙ্গে একমত হওয়ার অধিকার নয়। সরকারের নীতি, পররাষ্ট্রনীতি, সামরিক কর্মকাণ্ড বা যুদ্ধের সমালোচনা করার অধিকারও এর অংশ। এমনকি কোনো মতামত প্রচলিত রাজনৈতিক ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বা অনেকের কাছে অগ্রহণযোগ্য হলেও, সেটি প্রকাশের অধিকার সংবিধান সুরক্ষা দিতে পারে।   এই মামলায় স্ট্যানফোর্ড ডেইলির পক্ষে কাজ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন। সংগঠনটির আইনজীবী কনর ফিটজপ্যাট্রিক আদালতের রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাক্‌স্বাধীনতা শুধু সরকারের পছন্দের মত প্রকাশকারীদের জন্য নয়।   স্ট্যানফোর্ড ডেইলির প্রধান সম্পাদক জর্জ পোরটিয়াসও রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সংবাদকক্ষে কাজ করা সাংবাদিকদের কোনো প্রতিবেদন লেখার কারণে দেশ থেকে বহিষ্কারের ভয় পাওয়া উচিত নয়। তাঁর মতে, আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে সেই ভয় অনেকটাই দূর হবে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ রায়টির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। ফলে প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।   ক্যালিফোর্নিয়ার এই রায়টি এমন সময়ে এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন দমনের পদক্ষেপ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক আইনি লড়াই চলছে। এর আগে বোস্টনের একজন ফেডারেল বিচারকও রায় দিয়েছিলেন যে শুধু ফিলিস্তিনিদের সমর্থন বা ইসরায়েলের সমালোচনার কারণে অ-নাগরিকদের বহিষ্কারের উদ্যোগ সংবিধানবিরোধী।   সাম্প্রতিক রায়টি বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ আদালত স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রেও সাংবিধানিক বাক্‌স্বাধীনতার সুরক্ষা প্রযোজ্য এবং অভিবাসন আইনের ক্ষমতা ব্যবহার করে রাজনৈতিক মত প্রকাশ দমন করা যাবে না।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও স্ট্যানফোর্ড ডেইলি।

থাকার জায়গা না পেয়ে যে স্কুলে কাজ করতেন, সেখানেই গোপনে ৬ মাস থাকলেন কাস্টোডিয়ান

যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্কুলের কাস্টোডিয়ান প্রায় ছয় মাস ধরে গোপনে ওই স্কুলেই বসবাস করছিলেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।   নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি স্কুল ভবনের ভেতরেই নিজের থাকার ব্যবস্থা করে নিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি গোপন রাখতে সক্ষম হন। তবে কীভাবে তিনি নিয়মিতভাবে স্কুলে অবস্থান করতেন এবং বিষয়টি এতদিন কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলে কাস্টোডিয়ানের দায়িত্ব পালন করার সুযোগকে কাজে লাগিয়েই তিনি ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলেন। স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চললেও কর্তৃপক্ষ প্রথমদিকে তার সেখানে বসবাসের বিষয়টি জানতে পারেনি।   ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্কুলের নিরাপত্তা, কর্মীদের প্রবেশাধিকার এবং ভবন ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কর্মীদের দায়িত্ব পালনের সময় ও দায়িত্বের বাইরে স্কুল ভবনে অবস্থানের নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।   তবে ওই কাস্টোডিয়ান কেন স্কুলে গোপনে বসবাস করছিলেন এবং তার এমন সিদ্ধান্তের পেছনে নির্দিষ্ট কোনো কারণ ছিল কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।   ঘটনাটি সামনে আসার পর স্কুল ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কর্মীদের জন্য নির্ধারিত নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। ছবি: সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন আরএসএস প্রধানের অনুষ্ঠান ঘিরে বিক্ষোভ মুসলিমদের

নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে ভারতের হিন্দু জাতীয়তাবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএসের প্রধান মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ করেছেন মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার সংগঠনের নেতাকর্মীরা। শনিবার অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে আরএসএসের আদর্শ এবং ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সংগঠনটির ভূমিকার সমালোচনা করা হয়।   মোহন ভাগবত শনিবার ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের ইনফোসিস থিয়েটারে ‘সার্বজনীন একাত্মতা উদযাপন’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে আড়াই শতাধিক হিন্দু-আমেরিকান সংগঠন যুক্ত ছিল এবং কয়েক হাজার মানুষের অংশগ্রহণের কথা ছিল। আয়োজকদের দাবি, অনুষ্ঠানটির মূল লক্ষ্য ছিল বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক বোঝাপড়া জোরদার করা।   তবে অনুষ্ঠানের আগে থেকেই নিউইয়র্কে এর বিরোধিতা করে আসছিল বিভিন্ন আন্তধর্মীয়, মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, আরএসএসের হিন্দু জাতীয়তাবাদী আদর্শ ভারতের মুসলিম ও খ্রিস্টানসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা মোহন ভাগবতের সফরকে আরএসএসের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ও প্রভাব বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি অনুষ্ঠানের বিরোধিতা করে আরএসএসের আদর্শকে বর্জনমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তবে অনুষ্ঠানটি একটি বেসরকারি ভেন্যুতে হওয়ায় সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এটি বাতিল করার এখতিয়ার নেই বলেও তিনি জানিয়েছেন।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক কমিশন মোহন ভাগবতের ভিসা প্রত্যাহার এবং আরএসএসের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার সুপারিশ করেছে। তবে এই সুপারিশ বাধ্যতামূলক নয় এবং মার্কিন সরকার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে বলে নিশ্চিত তথ্য নেই। আরএসএস এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের হিন্দু সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন হিসেবে বর্ণনা করে।   মোহন ভাগবতের নিউইয়র্ক সফর আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্য সফরের অংশ। তাঁর ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের অনুষ্ঠানকে ঘিরে ভারতীয়-আমেরিকান কমিউনিটির মধ্যেও আরএসএসের আদর্শ, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং সংগঠনটির আন্তর্জাতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে।

প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে তদন্তাধীন হোসে সেরানোকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠাল আইসিই, প্রেসিডেন্ট প্রার্থী হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগ

ইকুয়েডরের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে সেরানোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করে নিজ দেশে পাঠানো হয়েছে। ২০২৩ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ইকুয়েডরের তদন্তে থাকা সেরানো শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েডরে ফেরেন। দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে।   সেরানো ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়ার সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ২০১২ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০১৭ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশটির জাতীয় পরিষদের সভাপতিও ছিলেন। ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডের তদন্তে তিনি সাতজন সন্দেহভাজনের একজন হিসেবে রয়েছেন।   ইকুয়েডরের সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয়ের অভিযোগ, সেরানো মাদক চোরাচালানকারী গোষ্ঠী লস লোবোসের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে ভিলাভিসেনসিওর চলাফেরা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত তথ্য সরবরাহ করেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে তিনি পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছিলেন। তবে এসব অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।   ভিলাভিসেনসিও ২০২৩ সালের ৯ আগস্ট রাজধানী কুইটোতে নির্বাচনী প্রচারের একটি সমাবেশ শেষে বের হওয়ার সময় গুলিতে নিহত হন। ওই সময় তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন। হামলায় ছয়জন কলম্বীয় নাগরিককে হত্যাকারী হিসেবে আটক করা হয়েছিল। পরে ২০২৩ সালের অক্টোবরে কারাগারে ওই ছয়জনই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।   সেরানোর বিরুদ্ধে তদন্তে আরও কয়েকজনের নাম এসেছে। এর মধ্যে লস লোবোসের নেতা উইলমার ‘পিপো’ চাভারিয়া রয়েছেন। তিনি নিজের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে আত্মগোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে স্পেনে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বর্তমানে তাকে ইকুয়েডরে প্রত্যর্পণের অপেক্ষায় রাখা হয়েছে। ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ডে লস লোবোসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচজনকে ২০২৪ সালে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।   যুক্তরাষ্ট্রে সেরানোর অবস্থানও ছিল দীর্ঘদিন ধরে অভিবাসনসংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে। তিনি ২০২১ সালের মে মাসে পর্যটন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং পাঁচ মাস পর রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। ২০২৫ সালের আগস্টে ভিসার অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থানের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ আইসিই তাকে মিয়ামির বাসা থেকে আটক করে। এরপর তিনি অভিবাসন হেফাজতে ছিলেন।   চলতি বছরের মে মাসে মার্কিন অভিবাসন বিচারক রোমি লার্নার সেরানোর আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করেন। তবে একই সঙ্গে জাতিসংঘের নির্যাতনবিরোধী কনভেনশনের আওতায় তার বহিষ্কার স্থগিত করা হয়। ইকুয়েডরে ফেরত পাঠালে তিনি নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কার কারণে ওই সুরক্ষা দেওয়া হয়েছিল।   তারপরও শেষ পর্যন্ত আইসিই সেরানোকে ইকুয়েডরে পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম গোলার্ধবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুয়ান পাবলো সেগুরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, দুর্নীতি ও মাদক চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ইন্টারপোলের কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি সেরানোকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর বিদেশি অপরাধীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল হবে না।   ইকুয়েডরে পৌঁছানোর পর সেরানোকে নিরাপত্তার মধ্যে কারাগারে নেওয়া হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ আগস্ট রাতে তার বহনকারী বিমান গুয়ায়াকিলের জোসে জোয়াকিন দে ওলমেদো বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর তাকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার কারাগার এল এনকুয়েন্ত্রোতে পাঠানো হয়। তার বিরুদ্ধে দেশটিতে আগে থেকেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হেফাজতে রাখার আদেশ কার্যকর ছিল।   সেরানোকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ইকুয়েডরের রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোড়ন তৈরি করেছে। প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেরানোকে এল এনকুয়েন্ত্রো কারাগারের নতুন ‘অতিথি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই পোস্টে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরিয়ার দিকেও ইঙ্গিত করে লেখেন, ‘এবার আপনার পালা।’ কোরিয়া বর্তমানে বেলজিয়ামে বসবাস করছেন।   অন্যদিকে ভিলাভিসেনসিওর দুই মেয়ে আমান্ডা ও তামিয়া সেরানোর ইকুয়েডরে ফেরাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা ঘটনাটিকে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে সেরানোর পরিবারের পক্ষ থেকে তার বহিষ্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   ফার্নান্দো ভিলাভিসেনসিও হত্যাকাণ্ড ইকুয়েডরের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ঘটনা। দুর্নীতি ও সংগঠিত অপরাধ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার জন্য পরিচিত এই রাজনীতিককে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে হত্যা করা হয়েছিল। তার হত্যার তদন্তে মাদক চক্র, কারাগার ও রাজনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য যোগসূত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   সেরানোকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইকুয়েডরে ফেরত পাঠানোর ফলে এখন তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার পরবর্তী ধাপ দেশটির আদালতেই এগোবে। তবে হত্যাকাণ্ডে তার প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে।   সংবাদ সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার কারণে দীর্ঘদিন পুকুরের পানিতে থাকতেন মুর্শিদাবাদের কিশোর ইকবাল শেখ। ছবি: সংগৃহীত
শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া, পাঁচ বছর পুকুরের পানিতে দিন কাটানো কিশোরের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন অনন্ত আম্বানি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ১৬ বছর বয়সী ইকবাল শেখের জীবন যেন আটকে ছিল পুকুরের পানিতে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হওয়ায় পানি থেকে উঠতে পারতেন না তিনি। পুকুরের পানিতে থাকলেই কিছুটা স্বস্তি মিলত বলে দাবি ইকবালের। এভাবেই প্রায় পাঁচ বছর ধরে দিনের বড় একটি সময় পানিতে কাটাতে হয়েছে তাকে।   ইকবালের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে তাকে পুকুরের পানিতে বসে খাবার খেতেও দেখা যায়। পরে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে ভারতের শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি তার চিকিৎসায় সহায়তার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে ইকবালকে মুম্বাইয়ের স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।   মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা ইকবাল জানিয়েছেন, পানির বাইরে এলেই তার শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া শুরু হয়। সেই কষ্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে তিনি আবার পুকুরের পানিতে নেমে যেতেন। স্থানীয়ভাবে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসার খরচ বহন করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।   পরিস্থিতি বদলে যায় ইকবালের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে দীর্ঘ সময় পুকুরে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইকবালের চিকিৎসার জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেন অনন্ত আম্বানি। পরে তাকে বিমানে মুম্বাইয়ে নেওয়া হয় এবং স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   চিকিৎসকেরা এখনো ইকবালের সমস্যার চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে তার উপসর্গের সঙ্গে বিরল রোগ এরিথ্রোমেলালজিয়ার কিছু মিল রয়েছে বলে চিকিৎসকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। এ রোগে শরীরের বিশেষ করে হাত-পা বা অন্যান্য অংশে তীব্র জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত উষ্ণতা, লালচে হয়ে যাওয়া ও ব্যথা দেখা দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গও বেড়ে যায় এবং ঠান্ডা পরিবেশ বা পানিতে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে ইকবালের ক্ষেত্রে এই রোগের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।   দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকলে ত্বক নরম হয়ে যাওয়া, ক্ষত তৈরি হওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পুকুরের পানিতে অবস্থানকে চিকিৎসা হিসেবে না দেখে দ্রুত রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।   ইকবালের ঘটনা শুধু একটি বিরল শারীরিক সমস্যার গল্প নয়, বরং চিকিৎসা না পাওয়ার আর্থিক ও সামাজিক সংকটেরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান খুঁজলেও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বড় পরিসরে সামনে আসে এবং শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়।   এখন ইকবালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার শরীরে জ্বালাপোড়ার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা। মুম্বাইয়ের চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার সমস্যার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত তার রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় বা চিকিৎসার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকবালের ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ছড়ালেও চিকিৎসকেরা তার সমস্যার বৈজ্ঞানিক কারণ নির্ণয়ের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ায় এখন তার পরিবারও রোগটির প্রকৃত কারণ ও কার্যকর চিকিৎসার বিষয়ে আশাবাদী।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, বিজনেস টুডে, এএনআই ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার কারণে দীর্ঘদিন পুকুরের পানিতে থাকতেন মুর্শিদাবাদের কিশোর ইকবাল শেখ। ছবি: সংগৃহীত
শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া, পাঁচ বছর পুকুরের পানিতে দিন কাটানো কিশোরের চিকিৎসায় এগিয়ে এলেন অনন্ত আম্বানি
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৩০, ২০২৬ ০:১২

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ১৬ বছর বয়সী ইকবাল শেখের জীবন যেন আটকে ছিল পুকুরের পানিতে। দীর্ঘদিন ধরে শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়ার অনুভূতি হওয়ায় পানি থেকে উঠতে পারতেন না তিনি। পুকুরের পানিতে থাকলেই কিছুটা স্বস্তি মিলত বলে দাবি ইকবালের। এভাবেই প্রায় পাঁচ বছর ধরে দিনের বড় একটি সময় পানিতে কাটাতে হয়েছে তাকে।   ইকবালের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে তাকে পুকুরের পানিতে বসে খাবার খেতেও দেখা যায়। পরে তার শারীরিক অবস্থার কথা জানতে পেরে ভারতের শিল্পপতি অনন্ত আম্বানি তার চিকিৎসায় সহায়তার উদ্যোগ নেন। বর্তমানে ইকবালকে মুম্বাইয়ের স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।   মুর্শিদাবাদের বেলডাঙার বাসিন্দা ইকবাল জানিয়েছেন, পানির বাইরে এলেই তার শরীরে অসহ্য জ্বালাপোড়া শুরু হয়। সেই কষ্ট থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে তিনি আবার পুকুরের পানিতে নেমে যেতেন। স্থানীয়ভাবে তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসার চেষ্টা করেছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না পাওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি বিশেষায়িত চিকিৎসার খরচ বহন করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।   পরিস্থিতি বদলে যায় ইকবালের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে দীর্ঘ সময় পুকুরে অবস্থান করতে দেখা যায়। বিষয়টি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ইকবালের চিকিৎসার জন্য সহায়তার উদ্যোগ নেন অনন্ত আম্বানি। পরে তাকে বিমানে মুম্বাইয়ে নেওয়া হয় এবং স্যার এইচএন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।   চিকিৎসকেরা এখনো ইকবালের সমস্যার চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে তার উপসর্গের সঙ্গে বিরল রোগ এরিথ্রোমেলালজিয়ার কিছু মিল রয়েছে বলে চিকিৎসকদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। এ রোগে শরীরের বিশেষ করে হাত-পা বা অন্যান্য অংশে তীব্র জ্বালাপোড়া, অতিরিক্ত উষ্ণতা, লালচে হয়ে যাওয়া ও ব্যথা দেখা দিতে পারে। শরীরের তাপমাত্রা বাড়লে অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গও বেড়ে যায় এবং ঠান্ডা পরিবেশ বা পানিতে সাময়িক স্বস্তি পাওয়া যেতে পারে। তবে ইকবালের ক্ষেত্রে এই রোগের বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।   দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণেও তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ পানিতে থাকলে ত্বক নরম হয়ে যাওয়া, ক্ষত তৈরি হওয়া এবং বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই পুকুরের পানিতে অবস্থানকে চিকিৎসা হিসেবে না দেখে দ্রুত রোগের প্রকৃত কারণ নির্ণয় ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা নেওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।   ইকবালের ঘটনা শুধু একটি বিরল শারীরিক সমস্যার গল্প নয়, বরং চিকিৎসা না পাওয়ার আর্থিক ও সামাজিক সংকটেরও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটির সমাধান খুঁজলেও প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি বড় পরিসরে সামনে আসে এবং শেষ পর্যন্ত মুম্বাইয়ে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়।   এখন ইকবালের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো তার শরীরে জ্বালাপোড়ার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা। মুম্বাইয়ের চিকিৎসকেরা প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে তার সমস্যার উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন। এখন পর্যন্ত তার রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় বা চিকিৎসার ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইকবালের ঘটনা নিয়ে নানা ধরনের ব্যাখ্যা ছড়ালেও চিকিৎসকেরা তার সমস্যার বৈজ্ঞানিক কারণ নির্ণয়ের ওপরই গুরুত্ব দিচ্ছেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর বিশেষায়িত চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ায় এখন তার পরিবারও রোগটির প্রকৃত কারণ ও কার্যকর চিকিৎসার বিষয়ে আশাবাদী।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে, এনডিটিভি, বিজনেস টুডে, এএনআই ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের দাবি, এল-আরাজ এলাকাতেই ছিল যিশুর সময়ের প্রাচীন বেথসাইদা শহর। ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলে যিশুর অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী সেই হারানো শহরের সন্ধান পেলেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২২:৩২

ইসরায়েলের গ্যালিলি সাগরের তীরে দীর্ঘদিনের প্রত্নতাত্ত্বিক খননে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন পাওয়ার পর প্রাচীন বেথসাইদা শহর শনাক্ত করার বিষয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়েছেন গবেষকেরা। খনন দলের একাডেমিক পরিচালক রবার্ট স্টিভেন নটলির দাবি, এ পর্যন্ত পাওয়া সম্মিলিত প্রমাণগুলো উত্তর ইসরায়েলের বর্তমান এল-আরাজ এলাকায় প্রাচীন বেথসাইদা শহরের অবস্থানের ধারণাকে শক্তিশালী করেছে।   বেথসাইদা খ্রিস্টীয় ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাচীন শহর। নতুন নিয়মের বর্ণনা অনুযায়ী, যিশু সেখানে কয়েকটি অলৌকিক ঘটনা ঘটিয়েছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। এর মধ্যে অন্ধ ব্যক্তির দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া এবং পাঁচটি রুটি ও দুটি মাছ দিয়ে হাজারো মানুষকে খাওয়ানোর ঘটনা উল্লেখযোগ্য। যিশুর তিন শিষ্য পিতর, আন্দ্রিয় ও ফিলিপও এই শহরের বাসিন্দা ছিলেন বলে ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে।   প্রাচীন এই শহরের অবস্থান নিয়ে অবশ্য বহু বছর ধরে প্রত্নতাত্ত্বিকদের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে। গ্যালিলি সাগরের উত্তর-পূর্ব তীরে অবস্থিত এল-আরাজ এবং কাছাকাছি এট-টেল, দুটি স্থানই বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার প্রধান দাবিদার ছিল। ২০১৬ সালে এল-আরাজ এলাকায় বড় আকারে খননকাজ শুরু করে বেথসাইদা-জুলিয়াস প্রত্নতাত্ত্বিক দল। ২০২৬ সালে এসে তারা খননের দশম মৌসুমে পৌঁছেছে। এবারের অভিযানে রোমান যুগের দেয়াল, মুদ্রা, প্রদীপ, প্রসাধনসামগ্রী, পাথরের তৈরি পেষণপাত্র এবং একটি জনসম্মুখের ভবন সাজাতে ব্যবহৃত হতে পারে এমন ডোরিক স্থাপত্যের একটি অংশ পাওয়া গেছে।   গবেষকদের মতে, এসব নিদর্শন এল-আরাজ এলাকায় খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীর সময়েও বসতি ছিল এমন ধারণাকে শক্তিশালী করে। বিশেষ করে হেরোদীয় আমলের বেশ কয়েকটি অক্ষত প্রদীপ এবং চুনাপাথরের তৈরি পাত্র পাওয়া গেছে। খনন দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেরুজালেমে খ্রিস্টীয় প্রথম শতাব্দীতে তৈরি হওয়া এসব প্রদীপ ইহুদি জনগোষ্ঠীর বসবাসের গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক চিহ্ন হিসেবে বিবেচিত হয়। খননস্থলে পাওয়া স্থাপত্য নিদর্শনও গবেষকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। রোমান যুগের দেয়ালের পাশাপাশি একটি অর্ধেক ডোরিক স্তম্ভের অংশ পাওয়া গেছে, যা কোনো গুরুত্বপূর্ণ জনসাধারণের ভবনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে এল-আরাজে গির্জা, মোজাইক, বসতবাড়ির দেয়াল এবং রোমান যুগের বিভিন্ন নিদর্শনও উদ্ধার করা হয়েছে।   প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, বেথসাইদা পরবর্তী সময়ে রোমান সাম্রাজ্যের অধীনে জুলিয়াস নামে একটি নগরীতে রূপ নেয়। এবারের খনন সেই রূপান্তর সম্পর্কে আরও তথ্য দিয়েছে। গবেষকদের মতে, প্রাচীন গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষকে শুধু দরিদ্র ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার প্রচলিত ধারণার সঙ্গেও এসব নিদর্শন পুরোপুরি মেলে না। বরং স্থাপত্য, নগর পরিকল্পনা ও পাওয়া সামগ্রী থেকে বোঝা যায়, অন্তত কিছু শহর ও জনপদ তখন যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিল। এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করার পক্ষে এর আগেও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২২ সালে সেখানে একটি বাইজেন্টাইন আমলের গির্জার মেঝেতে একটি শিলালিপি পাওয়া যায়, যেখানে পিতরের নামের সঙ্গে তাঁকে প্রেরিতদের প্রধান হিসেবে উল্লেখ করার ঐতিহ্যের প্রমাণ মিলেছে। গবেষকদের মতে, গির্জাটি পিতর ও আন্দ্রিয়ের বাড়ির ওপর নির্মিত হয়েছিল বলে পরবর্তী খ্রিস্টীয় ঐতিহ্যে যে দাবি রয়েছে, তার সঙ্গে এই আবিষ্কারের সম্পর্ক থাকতে পারে।   তবে বেথসাইদার অবস্থান নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি। অন্য একটি প্রত্নতাত্ত্বিক দল দীর্ঘদিন ধরে কাছের এট-টেল এলাকাকেই প্রাচীন বেথসাইদা হিসেবে চিহ্নিত করে আসছে। সেখানে লৌহ যুগের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং পরবর্তী সময়ের বিভিন্ন নিদর্শন পাওয়া গেছে। ফলে এল-আরাজকে বেথসাইদা হিসেবে শনাক্ত করার দাবি এখনো প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণার আলোচনার অংশ। এল-আরাজ খনন প্রকল্পের গবেষকেরা অবশ্য বলছেন, সময়ের সঙ্গে পাওয়া তথ্যগুলো একই দিকে ইঙ্গিত করছে। একাডেমিক পরিচালক স্টিভেন নটলির মতে, মাটির নিচ থেকে উদ্ধার হওয়া প্রতিটি নতুন নিদর্শন প্রাচীন বেথসাইদার সঙ্গে এল-আরাজের সম্পর্কের ধারণাকে আরও শক্তিশালী করছে। তিনি এই স্থানকে গসপেল বা সুসমাচারে উল্লেখিত হারিয়ে যাওয়া শহরগুলোর অন্যতম শেষ নিদর্শন হিসেবে দেখছেন।   প্রত্নতাত্ত্বিক খননের এই ধারাবাহিকতা শুধু একটি হারিয়ে যাওয়া শহরের অবস্থান শনাক্ত করার প্রশ্নেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। এর মাধ্যমে যিশুর সময়ের গ্যালিলি অঞ্চলের মানুষের জীবনযাপন, অর্থনীতি, ধর্মীয় পরিবেশ এবং রোমান শাসনের প্রভাব সম্পর্কেও নতুন তথ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। আরও খনন ও গবেষণার মাধ্যমে এল-আরাজের প্রকৃত পরিচয় নিয়ে বিতর্ক আরও পরিষ্কার হবে বলে আশা করছেন গবেষকেরা।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

ফ্রিডম এজ নামের এই বহুমাত্রিক মহড়ায় নৌ, বিমান ও সাইবার অভিযানের ওপর জোর দেওয়া হবে। ছবি: সংগৃহীত
জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৭ সেপ্টেম্বর, ক্ষুব্ধ হতে পারে উত্তর কোরিয়া
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২১:৪৫

জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে পাঁচ দিনের যৌথ সামরিক মহড়া শুরু করতে যাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ‘ফ্রিডম এজ ২৬’ নামের এই মহড়া ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপের পূর্ব ও দক্ষিণে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অনুষ্ঠিত হবে।   তিন দেশের সামরিক বাহিনীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মহড়ায় সমুদ্র, আকাশ ও সাইবার ক্ষেত্রসহ একাধিক ক্ষেত্রে সমন্বিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা, বিমান প্রতিরক্ষা, সাবমেরিনবিরোধী অভিযান এবং সমুদ্রপথে বাধাদানের মতো সামরিক কার্যক্রমও মহড়ার অংশ হবে। ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়া প্রথম শুরু হয় ২০২৪ সালে। এরপর ২০২৪ সালের জুন ও নভেম্বর এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে এর আয়োজন করা হয়। এবার চতুর্থ দফায় তিন দেশ একসঙ্গে এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে।   দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী বলছে, মহড়াটি নিয়মিত ও প্রতিরক্ষামূলক প্রকৃতির। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা থেকে সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য। তবে মহড়াটির ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কিছুটা শিথিল করার চেষ্টা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ ‘উলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ার সময়সীমা কমিয়ে দেওয়া হয়। ১৭ আগস্ট শুরু হওয়া ওই মহড়া ১১ দিনের পরিবর্তে পাঁচ দিনেই শেষ করা হয়। ট্রাম্পের নির্দেশেই এর সময় কমানো হয়েছিল বলে দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যম ও অন্যান্য প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নতুন করে আলোচনার পরিবেশ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে বড় আকারের সামরিক মহড়া উত্তর কোরিয়ার কাছে অপ্রয়োজনীয়ভাবে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা দিতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এর মধ্যেই জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন মহড়া উত্তর কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া উসকে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকেরা। বিশেষ করে মহড়াটি পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হলে পিয়ংইয়ং এটিকে সামরিক চাপ হিসেবে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চলমান প্রচেষ্টার গতি কিছুটা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।   তবে তিন দেশের যৌথ মহড়াকে শুধু উত্তর কোরিয়াকে কেন্দ্র করে দেখছেন না কিছু বিশ্লেষক। তাঁদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার দ্বিপক্ষীয় মহড়াগুলো মূলত উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য হামলার পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতির ওপর জোর দিলেও জাপানকে সঙ্গে নিয়ে ত্রিপক্ষীয় মহড়ার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বিস্তৃত। এটি পূর্ব এশিয়ায় চীনের সামরিক প্রভাব মোকাবিলায়ও একটি প্রতিরোধমূলক বার্তা দিতে পারে। এবারের ‘ফ্রিডম এজ’ মহড়ায় তিন দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও সমন্বয় আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এবার তাৎক্ষণিক তথ্য বিনিময় এবং তিন দেশের বাহিনীর সমন্বিত কার্যক্রমকে আরও উন্নত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক ও বিমান সক্ষমতার সমন্বিত ব্যবহার, উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা পরিস্থিতির অনুশীলন এবং আহত বা বিপদে পড়া ব্যক্তিদের সরিয়ে নেওয়ার প্রশিক্ষণও থাকবে।   মহড়ার নির্দিষ্ট সামরিক সরঞ্জাম, জাহাজ বা বিমানসংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে আগের আয়োজনগুলোর মতো এবারও এর সময়কাল প্রায় পাঁচ দিন থাকবে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে উত্তর কোরিয়া সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। চলতি আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ মহড়া চলাকালে পিয়ংইয়ং প্রায় ১০টি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   ফলে আগামী ৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রিপক্ষীয় মহড়াকে ঘিরে কোরীয় উপদ্বীপে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে। একদিকে ওয়াশিংটন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার পথ খোলার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মিত্র জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক প্রস্তুতিও অব্যাহত রাখছে। এই দুই ধারার মধ্যে ভারসাম্য রাখাই এখন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

হিমবাহ ধসের পর নদীগুলোর পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গিয়ে ভয়াবহ জলোচ্ছ্বাসের সৃষ্টি করে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যার কারণ ভূমিকম্প নয়, ভেঙে পড়েছিল হিমবাহ; ফের বন্যার আশঙ্কা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৯, ২০২৬ ২১:৪

নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পেছনে ভূমিকম্প নয়, একটি বিশাল হিমবাহ ধসে পড়াকে দায়ী করছে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস। হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে বরফ, পাথর ও ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত তৈরি করে। পরে তা নদীপথ আটকে দিয়ে হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি করে। এ ঘটনায় নেপাল ও তিব্বতে ইতোমধ্যে শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।   ২৬ আগস্ট সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে এই বিপর্যয় শুরু হয়। প্রথম দিকে ভূকম্পন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো ঘটনাটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে শনাক্ত করেছিল। পরে আরও বিশ্লেষণ, ভূকম্পন তরঙ্গের ধরন এবং উপগ্রহের ছবি পরীক্ষা করে ইউএসজিএস সিদ্ধান্তে আসে, এটি কোনো টেকটোনিক ভূমিকম্প ছিল না। বরং হিমবাহ ধস ও তার সঙ্গে তৈরি হওয়া ধ্বংসাবশেষের প্রবাহ থেকেই ভূকম্পনসদৃশ সংকেত তৈরি হয়েছিল।   ইউএসজিএসের হিসাবে, হিমবাহ ধসের শক্তি ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য ছিল। অর্থাৎ ভূগর্ভে কোনো বড় ধরনের ভূত্বকীয় নড়াচড়া হয়নি, বরং বরফ, পাথর ও অন্যান্য উপাদান পাহাড় থেকে প্রচণ্ড শক্তিতে নিচে নেমে আসার কারণেই এত শক্তিশালী ভূকম্পন সংকেত তৈরি হয়। ঘটনাটির প্রায় তিন ঘণ্টা পর ওই অঞ্চলে আরও একটি ভূমিধসের মতো ঘটনা রেকর্ড করা হয়, যার শক্তি ছিল ৪ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের সমতুল্য।   উপগ্রহের প্রাথমিক ছবি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় হিমবাহের নিচের অংশের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে। সেটি প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচে নেমে আসার সময় বিপুল পরিমাণ পাথর ও ধ্বংসাবশেষ সঙ্গে নিয়ে যায়। পরে এই বরফ-পাথরের স্রোত তিব্বতের লেন্দে নদীতে গিয়ে পড়ে এবং নদীর পানি সাময়িকভাবে আটকে দেয়।   প্রাকৃতিক সেই বাধা ভেঙে যাওয়ার পর বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, কাদা ও পাথর একসঙ্গে নিচের দিকে ছুটে যায়। প্রবল স্রোত ভোতে কোশি নদীতে প্রবেশ করে এবং পরে নেপালের ত্রিশূলী নদীর দিকে ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টায় প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। এই বন্যার সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য ছিল, প্রচলিত অর্থে এটি বৃষ্টির বন্যা ছিল না। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় সেখানে বৃষ্টি হয়নি। ফলে অনেক মানুষ পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি। বর্ষাকালে বন্যার সঙ্গে অভ্যস্ত স্থানীয়দের কাছে হঠাৎ করে পাহাড়ি নদীর পানি এভাবে বেড়ে যাওয়া ছিল অস্বাভাবিক।   নেপালের রাসুয়া জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। বন্যার স্রোত পরে নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ আরও নিচের এলাকাগুলোতে পৌঁছে যায়। সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্তত ১৯টি সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল।   হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট এই ধরনের বন্যাকে বিশেষজ্ঞরা হিমবাহজনিত হ্রদ বিস্ফোরণ বন্যা বা জিএলওএফের সঙ্গে তুলনা করছেন। অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব দ্য সানশাইন কোস্টের হিমবাহ বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান ম্যাককলাম ব্যাখ্যা করেছেন, হিমবাহ গলে পেছনে পানি জমতে পারে এবং সেই পানি প্রাকৃতিক পাথর ও মাটির বাঁধের পেছনে আটকে থাকে। কোনো কারণে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে গিয়ে পথের সবকিছুকে ভাসিয়ে নিতে পারে।   লাট্রোব বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ইতিহাসবিদ রুথ গ্যাম্বল এই বন্যার গতিকে একটি স্থলভাগের সুনামির সঙ্গে তুলনা করেছেন। তাঁর মতে, প্রবল পানির স্রোত ভোতে কোশি উপত্যকা দিয়ে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে মধ্য নেপালের দিকে ছুটে যায়। যে পথটি নেপাল ও তিব্বতের মধ্যে যাতায়াতকারী পর্যটকদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ।   তবে বিপর্যয় এখানেই শেষ হয়ে যায়নি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ এখন নতুন করে আরেকটি বন্যার আশঙ্কা। নেপাল ও চীন সীমান্তের দুই পাশে বন্যার পর তৈরি হওয়া বা পানি জমে থাকা দুটি হ্রদ নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এসব জলাধারের কোনো একটি প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে গেলে আবারও বড় ধরনের পানির ঢল নেমে আসতে পারে। নেপালের ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টবিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র, আইসিমোড জানিয়েছে, বন্যার সঙ্গে আসা ধ্বংসাবশেষ ত্রিশূলী নদীর একটি সরু অংশে সাময়িক বাধা তৈরি করেছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ধরনের প্রাকৃতিক বাধার পেছনে পানি জমে গেলে সেটি হঠাৎ ভেঙে পড়ার ঝুঁকি থাকে।   আইসিমোডের জলবায়ু ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিভাগের প্রধান কিয়াংগং ঝাং সতর্ক করে বলেছেন, নেপাল-চীন সীমান্তের উজানে যদি কোনো বাধা থেকে থাকে, সেটি নতুন ঢলের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সীমান্তের জিরং বন্দরের কাছাকাছি এলাকাতেও সম্ভাব্য দ্বিতীয় ঢলের আশঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   চীনা কর্তৃপক্ষও সীমান্তের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের হিসাবে, পরবর্তী কয়েক দিনে প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি একটি ইতোমধ্যে বাধাগ্রস্ত হ্রদে প্রবেশ করতে পারে। পরিমাণটি প্রায় ১ হাজার ২০০টি অলিম্পিক আকারের সুইমিং পুলের পানির সমান। পানির চাপ বাড়তে থাকলে প্রাকৃতিক বাধা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সেপ্টেম্বরের ১ তারিখের দিকে পানির প্রবাহ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কাও জানানো হয়েছিল। এর সঙ্গে আগামী কয়েক দিনের বৃষ্টির পূর্বাভাসও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গবেষক ঝু জিনফেং বলেছেন, পানির পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে ঝুঁকিও বাড়ছে।   তবে সর্বশেষ পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় বন্যার আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে তৈরি হওয়া একটি হ্রদের পানি ধীরে ধীরে কমেছে এবং উপগ্রহের ছবিতে হ্রদের তলদেশের কিছু অংশ দেখা যাচ্ছে। তারপরও সেখানে আরও একটি বড় হ্রদ শনাক্ত হওয়ায় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রেখেছে।   এদিকে এই হিমবাহ ধসের সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ দ্রুত গলে যাওয়া এবং পাহাড়ি ভূপ্রকৃতির অস্থিতিশীলতা নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগ বাড়ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে উষ্ণতা বৃদ্ধি হিমবাহ গলন, পাথরের অস্থিতিশীলতা এবং পারমাফ্রস্ট বা দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এসব পরিবর্তন ভবিষ্যতে ধস, আকস্মিক বন্যা ও অন্যান্য বিপদের সম্ভাবনা বাড়াতে পারে।   গবেষকেরা বলছেন, এই ঘটনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, শুধু বৃষ্টি ও নদীর পানির উচ্চতা পর্যবেক্ষণ করে সব ধরনের পাহাড়ি বন্যার আগাম সতর্কতা দেওয়া সম্ভব নয়। আকাশ পরিষ্কার থাকা অবস্থাতেও হিমবাহ ধসের মতো ঘটনা কয়েক মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ বন্যা তৈরি করতে পারে। সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান নাদের নাদেরপাজুহ বলেছেন, ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরীয় সুনামির পর যেভাবে আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা উন্নত করা হয়েছিল, হিমবাহ ও পাহাড়ি জলাধার পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রেও তেমন ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন। পানি জমে ওঠার বিষয়টি কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে। দ্রুত সতর্কতা ও প্রস্তুতি মানুষের জীবন রক্ষা এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   নেপালের এবারের বিপর্যয় তাই শুধু একটি আকস্মিক বন্যার ঘটনা নয়। হিমালয়ের দ্রুত পরিবর্তনশীল পরিবেশ, হিমবাহের অস্থিতিশীলতা এবং পাহাড়ি নদী অববাহিকায় আগাম সতর্কতা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়েও এটি নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।   সূত্র: ইউএসজিএস

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.23K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.00K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.12K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
974 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়