ইরানের অভ্যন্তরে গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জন ‘গুপ্তচর’ ও এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। তেহরানের দাবি, আটককৃতরা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিল। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসরায়েলি শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের হয়ে কাজ করা মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন এজেন্ট ও অভ্যন্তরীণ অপরেটিভ রয়েছে। তারা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে এবং দেশের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন নজরদারির পর ইরানের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে ৩০ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে আটককৃতদের জাতীয়তা বা তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং পশ্চিমাবিশ্বের মধ্যে বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরান প্রায়শই অভিযোগ করে থাকে যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই গ্রেফতারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হানল ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৩৪তম দফার এই অভিযানে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত ঘাঁটিগুলো। যেখানে যেখানে চালানো হয়েছে হামলা: ইরানের এই বিশাল মিসাইল বহর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি। বাহরাইন: জুফায়ার মার্কিন নৌ-ঘাঁটি ও সেনা স্থাপনা। ইসরায়েল: রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দর। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলের গোপন ও সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইপারসনিকের সাথে আরও তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার একটি নতুন কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়াকে পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা বিনাশের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের দোরগোড়ায় এই ধরনের "পেশি প্রদর্শন" এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফল "অকল্পনীয় ভয়াবহ" হতে পারে। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) দেশটির প্রভাবশালী নেত্রী এবং কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং-এর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "শত্রুপক্ষ যেন আমাদের ধৈর্য, ইচ্ছা এবং সক্ষমতা পরীক্ষা করার দুঃসাহস না দেখায়।" সোমবার থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী এই ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (Freedom Shield) মহড়ায় প্রায় ১৮,০০০ মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছে। যদিও সিউল এবং ওয়াশিংটন একে দীর্ঘদিনের প্রথাগত এবং রক্ষণাত্মক মহড়া হিসেবে দাবি করে আসছে, তবে উত্তর কোরিয়া একে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে। কিম ইয়ো জং তার বিবৃতিতে আরও বলেন, "সম্প্রতি বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং জটিল পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, শত্রুপক্ষ যখন যুদ্ধের ময়দানে মহড়া দেয়, তখন রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক প্রস্তুতির মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটকে ইঙ্গিত করেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের (Unification Ministry) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কিম ইয়ো জং-এর এবারের বিবৃতির ভাষা গতানুগতিক হুমকির চেয়ে কিছুটা সংযত। এতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হয়নি বা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম ধরে আক্রমণ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উত্তর কোরিয়া কেবল নির্দিষ্ট এই মহড়াকে কেন্দ্র করেই তাদের প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ রেখেছে। উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে, কারণ তাদের মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। গত বছর কিম জং উন ঘোষণা করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবে না, যা উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। বিশেষ করে সোমবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর প্রচার করে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নেতানিয়াহু নিজেই মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ইরানের শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, “এ পর্যন্ত যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা তাদের হাড় ভেঙে দিচ্ছি এবং আমরা এখনো সক্রিয়।” নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন, ইরানের জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থার নিপীড়ন থেকে মুক্ত করাই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তবে শেষ পর্যন্ত এই বিষয়টি নির্ভর করছে ইরানের জনগণের ওপর। তিনি এই বক্তব্য নিজের দফতরের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করেছেন। এটি নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজব উঠার পর তার প্রথম সরাসরি প্রতিক্রিয়া। এর আগে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়েছে, যা অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ফার্সি ভাষার প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর হামলার কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক ক্ষতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ খবর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলার দিনই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন নিহত হন। এরপর ইরানও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজশাহী টিটিসি মাঠে এনসিপির বিভাগীয় ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই দাবি জানান। নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা ১২ মার্চের জন্য অপেক্ষা করছি। ওই দিন জাতীয় সংসদে কোনো ফ্যাসিস্টের দোসরের বক্তব্য শোনার জন্য যাচ্ছি না। আমরা যাচ্ছি সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন এবং গণভোটের ‘হ্যাঁ’ রায় কার্যকর করার জন্য।” ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “অবিলম্বে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে গ্রেপ্তারের আওতায় আনা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সংস্কারের পক্ষে ও বিচারের পক্ষে আমাদের লড়াই চলমান থাকবে।” অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। অনুষ্ঠানে বিভাগের ৮ জেলার এনসিপি, যুবশক্তি ও নারীশক্তির প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
ইরানের অভ্যন্তরে গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জন ‘গুপ্তচর’ ও এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। তেহরানের দাবি, আটককৃতরা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিল। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসরায়েলি শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের হয়ে কাজ করা মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন এজেন্ট ও অভ্যন্তরীণ অপরেটিভ রয়েছে। তারা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে এবং দেশের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন নজরদারির পর ইরানের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে ৩০ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে আটককৃতদের জাতীয়তা বা তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং পশ্চিমাবিশ্বের মধ্যে বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরান প্রায়শই অভিযোগ করে থাকে যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই গ্রেফতারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হানল ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৩৪তম দফার এই অভিযানে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত ঘাঁটিগুলো। যেখানে যেখানে চালানো হয়েছে হামলা: ইরানের এই বিশাল মিসাইল বহর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি। বাহরাইন: জুফায়ার মার্কিন নৌ-ঘাঁটি ও সেনা স্থাপনা। ইসরায়েল: রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দর। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলের গোপন ও সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইপারসনিকের সাথে আরও তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার একটি নতুন কৌশল।
কাকাসাস অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনা কমিয়ে শান্তির বার্তা নিয়ে হাজির হলো আজারবাইজান। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ড্রোন হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে যখন চরম অস্থিরতা বিরাজ করছিল, ঠিক তখনই ইরানের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিল বাকু। আজারবাইজানের জরুরি অবস্থা বিষয়ক মন্ত্রণালয় আজ নিশ্চিত করেছে যে, তারা ইরানে বিশাল পরিমাণ মানবিক সহায়তা হিসেবে টন টন খাদ্যসামগ্রী এবং জরুরি ওষুধ পাঠিয়েছে। মূলত গত ৮ মার্চ আজারবাইজান ও ইরানের রাষ্ট্রপতির মধ্যে এক টেলিফোন আলাপের পর এই সহায়তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে তেহরান অভিযোগ করে আসছে যে, আজারি ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইসরায়েল তাদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তৎপরতা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মাঝেই আজারবাইজানের এই 'অলিভ ব্রাঞ্চ' বা শান্তির প্রস্তাব মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ফয়জুল ইসলাম : ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন একটাই প্রশ্নে—কার হাতে উঠবে এই ট্রফি? শুরু হয়ে গেলো বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত ওয়ানডে সিরিজের ট্রফি উন্মোচন। দুই দলের তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতিতে উন্মোচিত হলো সিরিজের কাঙ্ক্ষিত ট্রফি, আর সেখান থেকেই শুরু শিরোপার লড়াইয়ের উত্তেজনা। মাঠের পারফরম্যান্স, কৌশল আর লড়াই—সবকিছুর সমন্বয়ে নির্ধারিত হবে কে হবে শেষ হাসির মালিক। এখন দেখার বিষয়, টাইগারদের ঘরেই কি থাকবে ট্রফি, নাকি তা নিয়ে যাবে পাকিস্তান।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে থাকায় কিছু তেল–সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এ কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি দেশের ওপর আরোপিত তেলসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, “কিছু দেশের ওপর আমাদের নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিস্থিতি ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমরা সেগুলো তুলে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছি।” তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে যেখানে নতুন করে আর কোনো নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রয়োজনই হবে না। তার ভাষায়, “তারপর কে জানে? হয়তো এতটাই শান্তি থাকবে যে আর নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে না।” একই সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, সম্প্রতি তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি “খুব ভালো” ফোনালাপ করেছেন। তবে ঠিক কোন দেশের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে সাময়িকভাবে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যাতে সমুদ্রপথে আটকে থাকা রুশ তেল ক্রয়ের সুযোগ তৈরি হয়। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বৈশ্বিক তেলবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানের অভ্যন্তরে গুপ্তচরবৃত্তি এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জন ‘গুপ্তচর’ ও এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। তেহরানের দাবি, আটককৃতরা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থার হয়ে কাজ করছিল। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়। ইরানের গোয়েন্দা মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়েছে, আটককৃতদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা এবং ইসরায়েলি শত্রুভাবাপন্ন পক্ষের হয়ে কাজ করা মাঠ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন এজেন্ট ও অভ্যন্তরীণ অপরেটিভ রয়েছে। তারা ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে এবং দেশের অভ্যন্তরে স্পর্শকাতর তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন নজরদারির পর ইরানের গোয়েন্দা বাহিনীর একটি বিশেষ দল এই অভিযান পরিচালনা করে ৩০ জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। তবে আটককৃতদের জাতীয়তা বা তাদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান এবং পশ্চিমাবিশ্বের মধ্যে বিশেষ করে ইসরায়েলের সঙ্গে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তেহরান প্রায়শই অভিযোগ করে থাকে যে, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ‘মোসাদ’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিআইএ ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এই গ্রেফতারের বিষয়ে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেল আবিবের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েল ও মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে বড় ধরনের আঘাত হানল ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৩৪তম দফার এই অভিযানে প্রথমবারের মতো অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি আরও তিন ধরনের শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে তেহরান। মঙ্গলবার ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে আইআরজিসির বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এবং এর লক্ষ্যবস্তু ছিল মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ও ইসরায়েলি কৌশলগত ঘাঁটিগুলো। যেখানে যেখানে চালানো হয়েছে হামলা: ইরানের এই বিশাল মিসাইল বহর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হেনেছে বলে দাবি করা হয়েছে: সংযুক্ত আরব আমিরাত: আবুধাবির কাছে অবস্থিত মার্কিন সেনাদের গুরুত্বপূর্ণ আল-ধাফরা বিমানঘাঁটি। বাহরাইন: জুফায়ার মার্কিন নৌ-ঘাঁটি ও সেনা স্থাপনা। ইসরায়েল: রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটি এবং হাইফার বেসামরিক বিমানবন্দর। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, তাদের শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো তেল আবিবের পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলের গোপন ও সুরক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলোতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, হাইপারসনিকের সাথে আরও তিন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার প্রতিপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করার একটি নতুন কৌশল।
যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চলমান বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়াকে পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা বিনাশের অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। পিয়ংইয়ং সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্বের দোরগোড়ায় এই ধরনের "পেশি প্রদর্শন" এবং উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের ফল "অকল্পনীয় ভয়াবহ" হতে পারে। মঙ্গলবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ (KCNA) দেশটির প্রভাবশালী নেত্রী এবং কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং-এর একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, "শত্রুপক্ষ যেন আমাদের ধৈর্য, ইচ্ছা এবং সক্ষমতা পরীক্ষা করার দুঃসাহস না দেখায়।" সোমবার থেকে শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী এই ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (Freedom Shield) মহড়ায় প্রায় ১৮,০০০ মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় সেনা অংশ নিচ্ছে। যদিও সিউল এবং ওয়াশিংটন একে দীর্ঘদিনের প্রথাগত এবং রক্ষণাত্মক মহড়া হিসেবে দাবি করে আসছে, তবে উত্তর কোরিয়া একে সরাসরি যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবে দেখছে। কিম ইয়ো জং তার বিবৃতিতে আরও বলেন, "সম্প্রতি বিশ্বের ভূ-রাজনৈতিক সংকট এবং জটিল পরিস্থিতি প্রমাণ করে যে, শত্রুপক্ষ যখন যুদ্ধের ময়দানে মহড়া দেয়, তখন রক্ষণাত্মক বা আক্রমণাত্মক প্রস্তুতির মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রেক্ষাপটকে ইঙ্গিত করেই তিনি এই মন্তব্য করেছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার একীকরণ মন্ত্রণালয়ের (Unification Ministry) একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, কিম ইয়ো জং-এর এবারের বিবৃতির ভাষা গতানুগতিক হুমকির চেয়ে কিছুটা সংযত। এতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দেওয়া হয়নি বা সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম ধরে আক্রমণ করা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, বর্তমান আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উত্তর কোরিয়া কেবল নির্দিষ্ট এই মহড়াকে কেন্দ্র করেই তাদের প্রতিক্রিয়া সীমাবদ্ধ রেখেছে। উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের পর থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া প্রযুক্তিগতভাবে এখনো যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে, কারণ তাদের মধ্যে কোনো স্থায়ী শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। গত বছর কিম জং উন ঘোষণা করেছিলেন যে, উত্তর কোরিয়া আর দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে পুনর্মিলনের চেষ্টা করবে না, যা উপদ্বীপে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুঞ্জন উঠে এসেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে। বিশেষ করে সোমবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি একটি প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর প্রচার করে। এই পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার নেতানিয়াহু নিজেই মুখ খোলেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলের সামরিক অভিযানে ইরানের শাসন ব্যবস্থা ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। নেতানিয়াহু বলেছেন, “এ পর্যন্ত যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই যে আমরা তাদের হাড় ভেঙে দিচ্ছি এবং আমরা এখনো সক্রিয়।” নেতানিয়াহু আরও উল্লেখ করেন, ইরানের জনগণকে বর্তমান শাসনব্যবস্থার নিপীড়ন থেকে মুক্ত করাই ইসরায়েলের লক্ষ্য। তবে শেষ পর্যন্ত এই বিষয়টি নির্ভর করছে ইরানের জনগণের ওপর। তিনি এই বক্তব্য নিজের দফতরের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করেছেন। এটি নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজব উঠার পর তার প্রথম সরাসরি প্রতিক্রিয়া। এর আগে জেরুজালেম পোস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহু নিহত বা আহত হয়েছে এমন গুজব ছড়িয়েছে, যা অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। ফার্সি ভাষার প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর হামলার কোনো প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক ক্ষতির নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। তবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ খবর এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার করা হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে যৌথ সামরিক হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। হামলার দিনই দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ কয়েকজন নিহত হন। এরপর ইরানও পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে। তেল আবিব ও জেরুজালেমসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।