বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব জগতেই এবার মানুষের হারানো হাত কিংবা পা পুনরায় গজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একদল শক্তিশালী জিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা জীবদেহের অঙ্গ ও কোষ পুনরুত্পাদন বা রিঅ্যাক্টিভেশনের পুরো প্রক্রিয়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞান সাময়িকী 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস' (PNAS)-এ প্রকাশিত এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারটি আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস কিংবা দুর্ঘটনার কারণে অঙ্গ হারানো লাখ লাখ মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন হাড়, মাংসপেশি এবং টিস্যু গজানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বের তিনটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগার একযোগে কাজ করেছে। মেক্সিকান অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার নিয়ে কাজ করা ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী জশ কারি জানান, অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার, জেব্রাফিশ এবং ইঁদুর—এই তিনটি ভিন্ন প্রকৃতির জীবের অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রক্রিয়া গভীরভাবে তুলনা করে দেখা গেছে যে, তাদের মধ্যে একটি সার্বজনীন ও অভিন্ন জেনেটিক প্রোগ্রাম কাজ করছে। এই যৌথ প্রকল্পের অন্য দুই প্রধান গবেষক হলেন ডিউক ইউনিভার্সিটির প্লাস্টিক সার্জন ডেভিড এ. ব্রাউন, যিনি ইঁদুরের আঙুল পুনরুত্পাদন নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের কেনেথ ডি. পস, যার গবেষণার মূল বিষয় ছিল জেব্রাফিশের পাখনার পুনরুত্পাদন। প্রকৃতিতে অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার তার হারানো হাত-পা, লেজ, মেরুদণ্ডের টিস্যু এবং এমনকি হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুনরায় গজিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে, জেব্রাফিশ বারবার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পাখনা মেরামতের পাশাপাশি মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও কিডনি পুনর্গঠন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে ইঁদুরকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, কারণ মানুষের মতো ইঁদুরেরও কিছু ক্ষেত্রে নখের অংশ অক্ষত থাকলে আঙুলের ডগা পুনরুত্পাদনের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৬' (SP6) এবং 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৮' (SP8) নামের দুটি বিশেষ জিন যখন সক্রিয় বা 'অন' হয়, তখন এই প্রাণীদের শরীরে অলৌকিক নিরাময় ক্ষমতা জেগে ওঠে। গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা জিন-সম্পাদনার আধুনিক প্রযুক্তি 'ক্রিসপার' (CRISPR) ব্যবহার করে অ্যাক্সোলটলের শরীর থেকে 'SP8' জিনটি অপসারণ করেন। এর ফলে প্রাণীটি তাৎক্ষণিকভাবে তার হাড় ও অঙ্গ পুনরায় গজানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একইভাবে ইঁদুরের ক্ষেত্রেও একই ফলাফল দেখা যায়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরিবর্তনের নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঁদুরের শরীরে এই জিনটি আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনা হলে তাদের হাড় গজানোর ক্ষমতা আবার পুনরুদ্ধার হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হন, যাদের একটি বড় অংশই ডায়াবেটিসের জটিলতায় ভোগেন। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ অঙ্গহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের শরীরে সরাসরি হাত-পা গজানোর ক্ষমতা না থাকলেও, এই গবেষণার ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের শরীরের ভেতরেও প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগের প্রাচীন কোনো অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রোগ্রাম সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় করার অপেক্ষা রাখছে মাত্র।
ফুটবলকে অনেকেই কেবল খেলা হিসেবে দেখলেও এর ভেতরে থাকে সংগ্রাম, ত্যাগ আর স্বপ্ন পূরণের গল্প। তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম তিউনিসিয়ার স্ট্রাইকার হাজেম মাস্তুরি। জীবিকার অনিশ্চয়তায় যিনি একসময় দমকলকর্মী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তিনি এখন জাতীয় দলের আক্রমণের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তিউনিসে জন্ম নেওয়া মাস্তুরির ফুটবল যাত্রা শুরু হয় একেবারে নিচের স্তর থেকে। ২০১৯ সালে তিনি খেলতেন তৃতীয় বিভাগের দেগুচ এফসিতে। পরের বছর দ্বিতীয় বিভাগের এলপিএস তোজেউরে খেললেও বড় কোনো সাফল্য আসেনি। ২০২১ সালে শীর্ষ লিগের ইএস মেত্লাউইতে যোগ দিলেও সেখানে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। সীমিত আয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে একসময় পেশাদার ফুটবল ছেড়ে বিকল্প পেশা হিসেবে দমকলকর্মী হওয়ার চিন্তাও করেন তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্তের আগেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনে। ২০২৩ সালে ইরাকের আল নাজাফ এসসিতে যোগ দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণের চেষ্টা শুরু করেন মাস্তুরি। পরের বছর তিউনিসিয়ার ইউএস মোনাস্টিরে যোগ দেওয়ার পর তার ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। সেখানে এক মৌসুমে ১৭টি গোল করে আলোচনায় আসেন তিনি। এই পারফরম্যান্সের পর ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো তিউনিসিয়া জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করে ২০২৫ সালে রাশিয়ার ক্লাব এফসি ডায়নামো মাখাচকালায় যোগ দেন, ট্রান্সফার ফি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ইউরো বলে জানা যায়। বর্তমানে জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন মাস্তুরি। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অল্প কিছু বছর আগেও যিনি দমকল বাহিনীতে স্থায়ী চাকরির স্বপ্ন দেখছিলেন, আজ তিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে উঠে আসা মাস্তুরির গল্প এখন তিউনিসিয়ার ফুটবলে নতুন প্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঢাকা - স্টাফ রিপোর্টার: সোমালিয়ার মোগাদিশুর বিখ্যাত 'দারু সালাম ইউনিভার্সিটি' (ডিএসইউ)-র উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও প্রগতিশীল ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. শেখ আসিফ এস. মিজান। আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রশাসনের এই সর্বোচ্চ চূড়ায় লাল-সবুজের পতাকার প্রতিনিধিত্বকারী অধ্যাপক মিজানের এই শীর্ষ অবস্থান বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মেধা ও নেতৃত্বের এক অনন্য গৌরবগাথা। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি বিদেশের মাটিতে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ফেব্রুয়ারি ২০২৪ থেকে তিনি সাফল্যের সাথে উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব ও কর্তব্য দক্ষতা ও সুনামের সাথেই পালনে করে চলছেন। গৌরবোজ্জ্বল শিক্ষাজীবন ও পাণ্ডিত্য ড. মিজানের এই আন্তর্জাতিক সাফল্যের ভিত্তি গড়ে উঠেছে তাঁর অসামান্য শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞা ও দক্ষতার ওপর। তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের 'সরকার ও রাজনীতি' বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। দেশ-বিদেশের উচ্চশিক্ষা ইন্সটিটিউট থেকে তিনি অর্জন করেছেন তিনটি স্নাতকোত্তর (MSS, MACPM ও MIR&D) এবং 'সুশাসন ও মানবাধিকার' বিষয়ের ওপর পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা তাঁর শিক্ষকতা জীবনে তিনি সুশাসন, মানবাধিকার ও অপরাধবিজ্ঞানের (Criminology) মতো জটিল বিষয়ে পাঠদান ও গবেষণামূলক অবদান রেখে চলেছেন। সংগ্রাম ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতা অধ্যাপক মিজানের এই বর্ণিল সাফল্যগাথা স্রেফ এক দিনে আসেনি, এর পেছনে রয়েছে এক কঠিন রাজনৈতিক ত্যাগ ও লড়াইয়ের ইতিহাস। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ছাত্রনেতা হিসেবে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। স্বৈরাচার ও কর্তৃত্ববাদের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কারণে তিনি তীব্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। এর জের ধরে ২০০০ সালে তাঁকে অপহরণের চেষ্টা করা হয় এবং পরবর্তীতে একের পর এক মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার শিকার হয়ে, চরম নিপীড়নের মুখে ২০১৯ সালে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বিশ্বমঞ্চে পদচারণা ও সমাজসেবা রাজনৈতিক নির্বাসনে গিয়েও দমে যাননি বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাংতা গ্রামের এই কৃতি সন্তান। প্রয়াত শিক্ষাবিদ মৌলভি জোবায়েদ আলী ও নূরজাহান বেগমের সুযোগ্য পুত্র ড. মিজান বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের মেধার পরিচয় দিতে শুরু করেন। ডিএসইউ-এর উপাচার্য হওয়ার আগে তিনি সোমালিয়ার সিটি ইউনিভার্সিটি অব মোগাদিশু এবং বাংলাদেশের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের যথাক্রমে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ এবং সরকার ও রাজনীতি বিভগের বিভাগীয় প্রধান হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সোমালিয়ার আলফা ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব ব্যুরোতেও অধ্যাপক হিসেবে যুক্ত ছিলেন। শিক্ষাবৃত্তির পাশাপাশি একজন সমাজসেবক হিসেবে তিনি 'রোটারি ক্লাব অব ঢাকা স্কলারস'-এর প্রতিষ্ঠাতা যুগ্ম-সম্পাদকের ভূমিকাও পালন করছেন। মানবতা ও তরুণদের প্রতি বার্তা নিজের এই দীর্ঘ অভিযাত্রাকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক পরম বিজয় উল্লেখ করে অধ্যাপক মিজান বলেন, "স্বৈরাচার যেখানে আমার কণ্ঠ স্তব্ধ করতে চেয়েছিল, সৃষ্টিকর্তা সেখানে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেওয়ার পথ খুলে দিয়েছেন।" দেশ-বিদেশের তরুণ সমাজ ও বিশ্বজুড়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে এক অনুপ্রেরণামূলক বার্তায় তিনি আহ্বান জানান, কোনো জুলুম, নির্বাসন বা কঠিন পরিস্থিতি যেন কারও স্বপ্নের সীমানা কেড়ে নিতে না পারে। আত্মবিশ্বাস ও মেধাকে শাণিত রেখে সবাইকে মানবকল্যাণে উৎসর্গীকৃত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এশিয়া ও আফ্রিকার সহকর্মী এবং বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরার এই মহৎ মিশন কেবল শুরু।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের এলিসভিল শহরের এক মেধাবী শিক্ষার্থী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে আলোচনায় এসেছেন। জাইরেউনা কাউসেট নামের এই হাইস্কুল ছাত্রী কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা কর্মসূচি থেকে মোট ২০ লাখ ডলারেরও বেশি স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মোট ২,০০০,০৪৭ মার্কিন ডলারের স্কলারশিপ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের ব্যাচের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জিপিএ ছিল ৪.২৩, যা তাঁর ধারাবাহিক শিক্ষাগত সাফল্যেরই প্রতিফলন। জাইরেউনা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি থেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুরু করি। তবে আমার সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম শ্রেণি থেকেই, কারণ আমি কখনও ‘বি’ গ্রেড পাইনি।” তিনি আরও জানান, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন। স্কুলজীবনে তিনি শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্বগুণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। আগামী শরতে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হবেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (OB-GYN) হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। শিক্ষক ও কমিউনিটির সদস্যরা বলছেন, জাইরেউনার এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি বড় অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, লক্ষ্য স্থির রাখা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে বড় স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিতে পারে— তারই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের ডিগ্রি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি করা সম্ভব কি না—এ প্রশ্ন অনেক প্রবাসী, ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট এবং নতুন অভিবাসীদের মধ্যে প্রায়ই দেখা যায়। অভিজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের ডিগ্রি দিয়েই যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্পোরেট কোম্পানি, আইটি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, স্বাস্থ্যসেবা খাত এবং বিভিন্ন প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করা সম্ভব। এমনকি স্টেট ও ফেডারেল গভর্নমেন্টের চাকরিও করা যায়, বিশেষ কিছু ক্ষেত্র বাদে। তবে চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সার্টিফিকেট নয়, বরং আপনার দক্ষতা, কাজের অভিজ্ঞতা এবং রেজ্যুমি বা বায়োডাটার মান সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায়। পেশাজীবীরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি পাওয়ার অন্যতম প্রধান মাধ্যম হলো একটি শক্তিশালী, প্রফেশনাল এবং “ইউএস ফরম্যাট” বা আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী তৈরি রেজ্যুমি। এখানে বাংলাদেশের প্রচলিত অনেক তথ্য সাধারণত ব্যবহার করা হয় না। যেমন—বাবা-মায়ের নাম, বৈবাহিক অবস্থা, গ্রামের বাড়ি, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর বা পরিবারের বিস্তারিত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের রেজ্যুমিতে দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বরং রেজ্যুমিতে গুরুত্ব দিতে হয় আপনার প্রফেশনাল স্কিল, কাজের অভিজ্ঞতা, অর্জন এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতার ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, আপনি আপনার আগের চাকরিতে কী ধরনের কাজ করেছেন, কী কী দায়িত্ব পালন করেছেন, কোন কোন সফটওয়্যার, টুলস বা টেকনোলজিতে দক্ষ—এসব বিষয় বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করতে হবে। উদাহরণ হিসেবে, একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হলে তিনি কোন প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ, ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম বা অটোমেশন টুলে কাজ করেছেন, তা উল্লেখ করবেন। আবার একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হলে কোন ফিন্যান্স সফটওয়্যার বা রিপোর্টিং সিস্টেমে কাজ করেছেন, সেটি তুলে ধরতে হবে। এছাড়া পূর্ববর্তী চাকরিতে কোনো বড় অর্জন বা অ্যাচিভমেন্ট থাকলে সেগুলোও রেজ্যুমিতে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—টিম লিড করা, প্রজেক্ট সফলভাবে সম্পন্ন করা, প্রসেস ইমপ্রুভমেন্ট বা কোম্পানির পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে অবদান রাখা ইত্যাদি। রেজ্যুমির শেষ অংশে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করা হয়। কেউ যদি বাংলাদেশের ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বা অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে থাকেন, তাহলে আন্তর্জাতিক ফরম্যাটে সেটি উল্লেখ করা যায়। উদাহরণ হিসেবে: ব্যাচেলর অব সায়েন্স - ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা, বাংলাদেশ অথবা মাস্টার্স ইন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন - ইউনিভার্সিটি অব ঢাকা, বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কোম্পানি বিদেশি ডিগ্রি সরাসরি গ্রহণ করলেও কিছু প্রতিষ্ঠান “ক্রেডেনশিয়াল ইভ্যালুয়েশন” বা ডিগ্রির সমমান যাচাই দেখতে চাইতে পারে। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদিত কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশি ডিগ্রিকে আমেরিকান শিক্ষাব্যবস্থার সমমান হিসেবে মূল্যায়ন করে। তবে বাস্তবে অধিকাংশ প্রাইভেট কোম্পানি দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। বিশেষ করে আইটি, সফটওয়্যার, কাস্টমার সার্ভিস, বিজনেস অ্যানালাইসিস, ফিন্যান্স এবং বিভিন্ন কর্পোরেট চাকরিতে বাংলাদেশের ডিগ্রি নিয়ে সরাসরি আবেদন করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন অভিজ্ঞ পেশাজীবীরা। অন্যদিকে, কিছু লাইসেন্সভিত্তিক পেশা—যেমন ডাক্তার, আইনজীবী, নার্স বা নির্দিষ্ট সরকারি নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট চাকরিতে অতিরিক্ত পরীক্ষা, লাইসেন্স বা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশনের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন কর্মরত এক আইটি বিশেষজ্ঞ জানান, তিনি গত ১৫ বছরে বিভিন্ন কোম্পানিতে কাজ করেছেন এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাকে আলাদা ডিগ্রি ইভ্যালুয়েশন দেখাতে হয়নি। তবে কিছু কোম্পানি তাদের নিজস্ব নীতিমালার কারণে ইভ্যালুয়েশন চাইতে পারে। সবশেষে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—শুধু ডিগ্রি নয়, নিজের স্কিল উন্নয়ন, ইংরেজিতে দক্ষতা, লিংকডইন প্রোফাইল, নেটওয়ার্কিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রেজ্যুমি তৈরি করাই চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাবের ২০২৬–২০২৭ লায়ন্স বর্ষের নির্বাচনে বিপুল ভোটে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন জেএফএম রাসেল। একই নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন লায়ন মাসুদ রানা তপন। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর অন্যতম বৃহৎ ও মর্যাদাপূর্ণ এই ক্লাবের সদস্যদের সমর্থনে বর্তমান সভাপতি রাসেল আবারও নেতৃত্বের দায়িত্ব পেলেন। তিনি এর আগে এক মেয়াদে সভাপতি, দুই মেয়াদে সেক্রেটারি, দুই মেয়াদে মেম্বারশিপ চেয়ারম্যান এবং দুই মেয়াদে জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্যদিকে, মাসুদ রানা তপন গত দুই মেয়াদে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সদস্যদের আস্থা অর্জন করেন। তার সততা, নেতৃত্বগুণ ও ক্লাবের প্রতি আন্তরিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিনি সেক্রেটারি নির্বাচিত হন। ক্লাব নেতৃবৃন্দ জানান, নিউইয়র্ক বাংলাদেশি আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব বর্তমানে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম সেরা ও সম্মানজনক ক্লাব হিসেবে পরিচিত। ডিস্ট্রিক্ট ২০-আর২ এর ৫১টি ক্লাবের মধ্যে সদস্য সংখ্যার দিক থেকে এই ক্লাব দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং সেবামূলক প্রকল্পের দিক থেকে অন্যতম শীর্ষস্থানীয় ক্লাব। গত বছর ক্লাবটি স্থানীয় কমিউনিটি এবং দেশের বাইরের মানবসেবামূলক কার্যক্রমে ২ লক্ষ ডলারের বেশি সেবা প্রদান করেছে। নবনির্বাচিত সভাপতি লায়ন জেএফএম রাসেল এবং সেক্রেটারি লায়ন মাসুদ রানা তপন বলেন, “আমরা সকল লায়ন্স সদস্যকে একটি পরিবারের মতো নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে কমিউনিটি, অসহায় মানুষ এবং দেশের বাইরের দরিদ্র মানুষের সেবায় আরও বড় পরিসরে কাজ করা। আমরা এই ক্লাবকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাই এবং আগামী বছরকে একটি স্মরণীয় বছরে পরিণত করতে চাই।” নবনির্বাচিত সভাপতি ও সেক্রেটারি একটি সুন্দর, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন, নির্বাচিত কমিটি এবং সকল সদস্যদের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের এলিসভিল শহরের এক মেধাবী শিক্ষার্থী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে আলোচনায় এসেছেন। জাইরেউনা কাউসেট নামের এই হাইস্কুল ছাত্রী কলেজ ও বিভিন্ন শিক্ষা কর্মসূচি থেকে মোট ২০ লাখ ডলারেরও বেশি স্কলারশিপ অর্জন করেছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মোট ২,০০০,০৪৭ মার্কিন ডলারের স্কলারশিপ পেয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ২০২৬ সালের ব্যাচের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জিপিএ ছিল ৪.২৩, যা তাঁর ধারাবাহিক শিক্ষাগত সাফল্যেরই প্রতিফলন। জাইরেউনা জানান, ছোটবেলা থেকেই তিনি পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণি থেকেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুরু করি। তবে আমার সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয় প্রথম শ্রেণি থেকেই, কারণ আমি কখনও ‘বি’ গ্রেড পাইনি।” তিনি আরও জানান, এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিয়মিত পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের সমর্থন। স্কুলজীবনে তিনি শুধু পড়াশোনাতেই নয়, নেতৃত্বগুণ ও বিভিন্ন কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে। আগামী শরতে তিনি হাওয়ার্ড ইউনিভারসিটিতে ভর্তি হবেন। সেখানে তিনি চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ (OB-GYN) হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যেতে চান। শিক্ষক ও কমিউনিটির সদস্যরা বলছেন, জাইরেউনার এই অর্জন শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং অন্য শিক্ষার্থীদের জন্যও একটি বড় অনুপ্রেরণা। কঠোর পরিশ্রম, লক্ষ্য স্থির রাখা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে বড় স্বপ্নও বাস্তবে রূপ নিতে পারে— তারই একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছেন তিনি।
প্রাচীন কাশ্মীরি সৌন্দর্য চর্চার ঐতিহ্য নতুন করে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। কোরিয়ান গ্লাস-স্কিন ট্রেন্ড ও আধুনিক বিউটি সিরামের জনপ্রিয়তার আগেই কাশ্মীরি পরিবারগুলো প্রাকৃতিক উপাদান ও আয়ুর্বেদিক জ্ঞাননির্ভর সৌন্দর্য রীতির চর্চা করত বলে জানা যায়। কাশ্মীরি ঐতিহ্য অনুযায়ী সৌন্দর্য চর্চায় প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার ছিল মূল ভিত্তি। বর্তমান সময়ে এই প্রাচীন রীতিগুলো আবারও মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ফিরে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাকৃতিক উপাদানভিত্তিক স্কিনকেয়ার নিয়ে নতুন আগ্রহ এই প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে তুলছে। কাশ্মীরি জাফরানকে দীর্ঘদিন ধরে সৌন্দর্য চর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ঐতিহ্যগতভাবে কাশ্মীরি নারীরা জাফরান দুধ বা গোলাপ জলে ভিজিয়ে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে ব্যবহার করতেন। বর্তমানে এর প্রদাহনাশক ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট গুণের কারণে এটি ফেস মাস্ক, সিরাম এবং বিভিন্ন স্কিনকেয়ার পণ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে। কাশ্মীরি কাহওয়া নামের ঐতিহ্যবাহী পানীয়ও সৌন্দর্য ও সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত হয়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে। জাফরান, সবুজ চা, বাদাম, দারুচিনি ও এলাচ দিয়ে তৈরি এই পানীয় হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়তা করে বলে প্রচলিত আছে। সমসাময়িক সময়ে এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এছাড়া কাশ্মীরি সৌন্দর্য রীতিতে বাদাম তেলের ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দীর্ঘদিন ধরে শুষ্ক আবহাওয়ায় ত্বক আর্দ্র রাখতে বাদাম তেল ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। বর্তমানে কোল্ড-প্রেসড আমন্ড অয়েল ত্বকের যত্ন, চোখের নিচের আর্দ্রতা রক্ষা এবং চুলের পুষ্টিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। কাশ্মীর অঞ্চলের আখরোটের খোসা দিয়ে তৈরি স্ক্রাবও ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য চর্চার অংশ হিসেবে পরিচিত। এটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে বলে ধারণা করা হয়। আধুনিক স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ডগুলোও এখন আখরোটভিত্তিক উপাদান ব্যবহার করছে। সূত্র অনুযায়ী, টাইমস এন্টারটেইনমেন্টে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব ঐতিহ্যবাহী সৌন্দর্য উপাদানের পুনরায় জনপ্রিয় হয়ে ওঠার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
ফুটবলকে অনেকেই কেবল খেলা হিসেবে দেখলেও এর ভেতরে থাকে সংগ্রাম, ত্যাগ আর স্বপ্ন পূরণের গল্প। তেমনই এক অনুপ্রেরণার নাম তিউনিসিয়ার স্ট্রাইকার হাজেম মাস্তুরি। জীবিকার অনিশ্চয়তায় যিনি একসময় দমকলকর্মী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তিনি এখন জাতীয় দলের আক্রমণের অন্যতম ভরসা হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নিয়েছেন। ১৯৯৭ সালে তিউনিসে জন্ম নেওয়া মাস্তুরির ফুটবল যাত্রা শুরু হয় একেবারে নিচের স্তর থেকে। ২০১৯ সালে তিনি খেলতেন তৃতীয় বিভাগের দেগুচ এফসিতে। পরের বছর দ্বিতীয় বিভাগের এলপিএস তোজেউরে খেললেও বড় কোনো সাফল্য আসেনি। ২০২১ সালে শীর্ষ লিগের ইএস মেত্লাউইতে যোগ দিলেও সেখানে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করতে পারেননি। সীমিত আয় ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের কারণে একসময় পেশাদার ফুটবল ছেড়ে বিকল্প পেশা হিসেবে দমকলকর্মী হওয়ার চিন্তাও করেন তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্তের আগেই ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা তাকে আবার মাঠে ফিরিয়ে আনে। ২০২৩ সালে ইরাকের আল নাজাফ এসসিতে যোগ দিয়ে নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণের চেষ্টা শুরু করেন মাস্তুরি। পরের বছর তিউনিসিয়ার ইউএস মোনাস্টিরে যোগ দেওয়ার পর তার ক্যারিয়ারে আসে বড় পরিবর্তন। সেখানে এক মৌসুমে ১৭টি গোল করে আলোচনায় আসেন তিনি। এই পারফরম্যান্সের পর ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো তিউনিসিয়া জাতীয় দলে ডাক পান তিনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজের সক্ষমতা প্রমাণ করে ২০২৫ সালে রাশিয়ার ক্লাব এফসি ডায়নামো মাখাচকালায় যোগ দেন, ট্রান্সফার ফি প্রায় সাড়ে ৩ লাখ ইউরো বলে জানা যায়। বর্তমানে জাতীয় দলের হয়ে ১২ ম্যাচে ৪ গোল করেছেন মাস্তুরি। বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। অল্প কিছু বছর আগেও যিনি দমকল বাহিনীতে স্থায়ী চাকরির স্বপ্ন দেখছিলেন, আজ তিনি ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। কঠিন বাস্তবতা পেরিয়ে উঠে আসা মাস্তুরির গল্প এখন তিউনিসিয়ার ফুটবলে নতুন প্রেরণা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কোনো গল্প নয়, বরং বাস্তব জগতেই এবার মানুষের হারানো হাত কিংবা পা পুনরায় গজিয়ে তোলার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি এক গবেষণায় বিজ্ঞানীরা এমন একদল শক্তিশালী জিনের সন্ধান পেয়েছেন, যা জীবদেহের অঙ্গ ও কোষ পুনরুত্পাদন বা রিঅ্যাক্টিভেশনের পুরো প্রক্রিয়াটিকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিজ্ঞান সাময়িকী 'প্রোসিডিংস অব দ্য ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস' (PNAS)-এ প্রকাশিত এই অভূতপূর্ব আবিষ্কারটি আগামী দিনে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ধারণাকে চিরতরে বদলে দিতে পারে। এর ফলে ভবিষ্যতে ডায়াবেটিস কিংবা দুর্ঘটনার কারণে অঙ্গ হারানো লাখ লাখ মানুষের শরীরে প্রাকৃতিকভাবেই নতুন হাড়, মাংসপেশি এবং টিস্যু গজানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই যুগান্তকারী গবেষণার জন্য বিশ্বের তিনটি শীর্ষস্থানীয় গবেষণাগার একযোগে কাজ করেছে। মেক্সিকান অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার নিয়ে কাজ করা ওয়েক ফরেস্ট ইউনিভার্সিটির জীববিজ্ঞানী জশ কারি জানান, অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার, জেব্রাফিশ এবং ইঁদুর—এই তিনটি ভিন্ন প্রকৃতির জীবের অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রক্রিয়া গভীরভাবে তুলনা করে দেখা গেছে যে, তাদের মধ্যে একটি সার্বজনীন ও অভিন্ন জেনেটিক প্রোগ্রাম কাজ করছে। এই যৌথ প্রকল্পের অন্য দুই প্রধান গবেষক হলেন ডিউক ইউনিভার্সিটির প্লাস্টিক সার্জন ডেভিড এ. ব্রাউন, যিনি ইঁদুরের আঙুল পুনরুত্পাদন নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন-ম্যাডিসনের কেনেথ ডি. পস, যার গবেষণার মূল বিষয় ছিল জেব্রাফিশের পাখনার পুনরুত্পাদন। প্রকৃতিতে অ্যাক্সোলটল স্যালামান্ডার তার হারানো হাত-পা, লেজ, মেরুদণ্ডের টিস্যু এবং এমনকি হৃদপিণ্ড, মস্তিষ্ক ও লিভারের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ পুনরায় গজিয়ে তোলার অসাধারণ ক্ষমতার জন্য সুপরিচিত। অন্যদিকে, জেব্রাফিশ বারবার তাদের ক্ষতিগ্রস্ত পাখনা মেরামতের পাশাপাশি মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড ও কিডনি পুনর্গঠন করতে পারে। বিজ্ঞানীরা এই গবেষণায় স্তন্যপায়ী প্রাণী হিসেবে ইঁদুরকে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, কারণ মানুষের মতো ইঁদুরেরও কিছু ক্ষেত্রে নখের অংশ অক্ষত থাকলে আঙুলের ডগা পুনরুত্পাদনের সীমিত ক্ষমতা রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৬' (SP6) এবং 'স্পেসিফিসিটি প্রোটিন ৮' (SP8) নামের দুটি বিশেষ জিন যখন সক্রিয় বা 'অন' হয়, তখন এই প্রাণীদের শরীরে অলৌকিক নিরাময় ক্ষমতা জেগে ওঠে। গবেষণার সত্যতা যাচাই করতে বিজ্ঞানীরা জিন-সম্পাদনার আধুনিক প্রযুক্তি 'ক্রিসপার' (CRISPR) ব্যবহার করে অ্যাক্সোলটলের শরীর থেকে 'SP8' জিনটি অপসারণ করেন। এর ফলে প্রাণীটি তাৎক্ষণিকভাবে তার হাড় ও অঙ্গ পুনরায় গজানোর ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। একইভাবে ইঁদুরের ক্ষেত্রেও একই ফলাফল দেখা যায়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরিবর্তনের নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে ইঁদুরের শরীরে এই জিনটি আংশিকভাবে ফিরিয়ে আনা হলে তাদের হাড় গজানোর ক্ষমতা আবার পুনরুদ্ধার হয়। বিশ্বজুড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৫ লাখ মানুষ অঙ্গচ্ছেদের শিকার হন, যাদের একটি বড় অংশই ডায়াবেটিসের জটিলতায় ভোগেন। বর্তমানে বিশ্বে প্রায় সাড়ে ৬ কোটি মানুষ অঙ্গহীন অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসকদের মতে, মানুষের শরীরে সরাসরি হাত-পা গজানোর ক্ষমতা না থাকলেও, এই গবেষণার ফলে প্রমাণিত হয়েছে যে মানুষের শরীরের ভেতরেও প্রায় ৩৫ কোটি বছর আগের প্রাচীন কোনো অঙ্গ পুনরুত্পাদন প্রোগ্রাম সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে, যা সঠিক প্রযুক্তির মাধ্যমে পুনরায় সক্রিয় করার অপেক্ষা রাখছে মাত্র।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘানার একটি গ্রামের দরিদ্র যুবক আল-হাসান আবদুল্লাহকে ঘিরে একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভাইরাল হওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তুরস্কের একটি চলচ্চিত্র দলের ড্রোন একদিন তার গ্রামের কাছে পড়ে যায়। সেটি খুঁজতে গিয়ে দলটি আল-হাসানকে ড্রোনটি হাতে দেখতে পায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিবরণে বলা হয়, ওই সময় তিনি মজার ছলে প্রশ্ন করেন, “এর চেয়ে বড় কোনো ড্রোন আছে কি, যা আমাকে মক্কায় নিয়ে যেতে পারে?” এরপর তার এই মন্তব্য এবং মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দাবি করা হয়, ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আল-হাসানকে হজ পালনের জন্য স্পনসর করা হয় এবং তিনি হজে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মূলত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গল্প হিসেবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। গল্পটির শেষ অংশে বলা হয়, মানুষের জীবন কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে ঘিরে পরিবর্তিত হতে পারে এবং সুযোগ আসে এমন জায়গা থেকে, যা আগে কল্পনাও করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।