Live update news
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।   নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস। জাতিসংঘের সদর দফতরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।   জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান ৯৯টি দেশের সমর্থন লাভ করেন। অন্যদিকে আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পান ৯১টি ভোট।   প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন পদ্ধতি অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের বহুপাক্ষিকতা-বিষয়ক বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকোরিস এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।   নির্বাচনে জয়ী হয়ে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।   জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরামগুলোর একটি হলো সাধারণ পরিষদ। এর সভাপতি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনার সমন্বয়, অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে কূটনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

২০ মিনিট Ago
মার্কিন ইমিগ্রান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ বহাল, ঢাকায় দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ শুরু হলেও মিলছে না ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্ট ভিসা কার্যক্রমের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলমান।   এদিকে স্থগিতাদেশ বহাল থাকলেও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ১ জুন থেকে ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে সব ধরনের ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। আবেদনকারীরা আগের মতোই আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। তবে বর্তমান স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ভিসা ইস্যু করা হবে না এবং আবেদনকারীরা পাসপোর্টে ভিসা পাবেন না।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কিছু অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বহন করেন, যা ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে।   তাদের দাবি, জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য সামগ্রিকভাবে ইমিগ্রান্ট ভিসা বন্ধ করে দেওয়া মার্কিন অভিবাসন আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে চলমান CLINIC v. Rubio মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদানে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে এবং ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর একযোগে নিষেধাজ্ঞা সেই আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।   মামলাটি ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। বাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টার, ডেমোক্র্যাসি ফরওয়ার্ড, লিগাল এইড সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসসহ একাধিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন। এছাড়া এমন কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও মামলায় যুক্ত আছেন, যারা এই নীতির কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারছেন না।   বাদীপক্ষ আদালতের কাছে চারটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে। তারা চায় আদালত এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করুক, স্থগিতাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিল করুক, স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আগের নিয়মে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিক এবং যেসব আবেদনকারী এই নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের নতুন করে সুযোগ দেওয়া হোক।   বর্তমানে মামলাটি ‘ক্রস-মোশন ফর পার্শিয়াল সামারি জাজমেন্ট’ পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।   আদালত বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান পুনরায় শুরু হতে পারে মূলত দুটি উপায়ে। প্রথমত, ফেডারেল আদালত স্থগিতাদেশ বাতিলের নির্দেশ দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন নিজ উদ্যোগে নীতিটি প্রত্যাহার করতে পারে।   উল্লেখযোগ্য যে, এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্রান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা অর্জনের জন্য আবেদনকারীরাই এর সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অ-অভিবাসী ভিসা, যেমন বি-১/বি-২, এফ-১ এবং এইচ-১বি, এই স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত নয়।   তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার একটি নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।   ফলে বর্তমানে ঢাকায় ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ চালু হলেও, স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। কবে আবার ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান স্বাভাবিক হবে, তার উত্তর নির্ভর করছে আদালতের রায় এবং মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

১ ঘন্টা Ago
বিশ্বকাপে সবচেয়ে প্রবীণ ও কনিষ্ঠ ফুটবলার কে, জানেন?

আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আলোচনায় উঠে এসেছে অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের বয়সের নানা রেকর্ড। একদিকে ৪০ পেরিয়েও মাঠ মাতাতে প্রস্তুত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে যাচ্ছেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা।   বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দিন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনের বয়স হবে ৪৩ বছর ১৬২ দিন। ফলে তিনি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন।    তবে গোলরক্ষকদের বাইরে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হবেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৪১ বছর ১২৬ দিন।   রোনালদো এবার রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। একই কীর্তি গড়তে পারেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়াও।   অন্যদিকে, এবারের আসরের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ফুটবলার হচ্ছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ১৭ বছর ২৪০ দিন। সবচেয়ে কম বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন বেলজিয়ামের মাইক পেন্ডার্স। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ২০ বছর ৩১৫ দিন। অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হবেন কানাডার আলফনসো ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনের দিন তাঁর বয়স হবে ২৫ বছর ২২১ দিন।   খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচদের মধ্যেও বয়সের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া কুরাসাওয়ের প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট হবেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ কোচ। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৭৮ বছর ২৫৭ দিন।   অন্যদিকে, জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান থাকবেন সবচেয়ে কম বয়সী কোচদের তালিকার শীর্ষে। বিশ্বকাপ শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ৩৮ বছর ৩২৩ দিন।

১ ঘন্টা Ago
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ! সময়মতো সচেতন না হলে বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

রক্তচাপ বেড়ে গেছে শুনলেই মনে হয় বুঝি সারাজীবনের জন্য ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু জানেন কি, সঠিক জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব? বাংলাদেশে প্রতি তিনজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অথচ অনেকেই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা আছে। রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ এটি নিজে কোনো উপসর্গ দেখায় না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের মতো মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো রক্তচাপ কী, কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। রক্তচাপ কী এবং কত হওয়া উচিত? রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত পাম্প করার সময় রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ পড়ে তার পরিমাপ। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র অনুযায়ী এটি দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয় যেমন ১২০/৮০। প্রথম সংখ্যাটি (সিস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি (ডায়াস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড শিথিল হওয়ার সময়ের চাপ।   উচ্চ রক্তচাপের কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু কারণে রক্তচাপ বাড়ে। এই কারণ সমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান ও মদ্যপান করা ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।   রক্তচাপ বেশি হলে কী হয়? অনেকেই ভাবেন মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা হলেই রক্তচাপ বেশি। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ থাকে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ), কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, চোখের ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।   রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় এবার জানবো কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।   লবণ কম খাওয়া এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় আলাদা লবণ একদমই নেওয়া যাবে না। প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।   ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রতি ১ কেজি ওজন কমালে রক্তচাপ ১ mmHg কমে যায়। যদি আপনার ওজন বেশি থাকে তাহলে ৫-১০ কেজি ওজন কমিয়ে দেখুন, রক্তচাপ তুলনামূলক কমে যাবে।   নিয়মিত ব্যায়াম করা সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম। সকালে বা বিকেলে দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো যেকোনো একটি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।   স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্থ জীবন যাপন করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। যেসকল খাবার আমাদের প্রতিনিয়ত খাওয়া উচিৎ তা হচ্ছে তাজা ফল ও সবজি, ডাল, বাদাম, মাছ, লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল এবং দই। আর যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং গরু ও খাসির মাংস সপ্তাহে ১ দিনের বেশি নয়।   ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া একটি সিগারেট খাওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত রক্তচাপ বেড়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান রক্তনালী শক্ত করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ায়। মদ্যপানও রক্তচাপ বাড়ায় এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমায়।   মানসিক চাপ কমান মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। অবসর সময়ে শখের কাজ যেমন বই পড়া, বাগান করা এসব করুন।   নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন ৪০ বছরের পর মাসে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপুন। বাড়িতে একটি ডিজিটাল BP মেশিন রাখতে পারেন। বর্তমান বাজারে ভালো মানের ডিজিটাল বিপি মেশিনের দাম ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মাপুন। পরিমাপের আগে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং এই সময় ধূমপান বা কফি খাবেন না।   নিয়মিত ওষুধ খান ডাক্তার যদি ওষুধ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত সময়মতো ওষধ খেতে হবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। অনেকে মনে করেন যে রক্তচাপ ১২০/৮০ হলেই ওষুধ ছেড়ে দেবেন, তবে এটা ভুল। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা বিপজ্জনক।   পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান পটাসিয়াম লবণের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি এসবে প্রচুর পটাসিয়াম আছে। তবে কিডনি রোগী হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি পটাসিয়াম খাবেন না।   ক্যাফেইন কমান দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা বা কফি খাবেন না। ক্যাফেইন সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য গ্রিন টি ভালো বিকল্প হতে পারে।   উচ্চ রক্তচাপ মানে জীবনের শেষ নয়, বরং সুস্থ জীবনের নতুন শুরু। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব। ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হন, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

৪ ঘন্টা Ago
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান | ছবি: সংগৃহীত
জাতীয়
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলেন ড. খলিলুর রহমান

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দফতরে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি ৯৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।   নির্বাচনে ড. খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস। জাতিসংঘের সদর দফতরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।   জাতিসংঘ সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৯০টি ভোটের মধ্যে ড. খলিলুর রহমান ৯৯টি দেশের সমর্থন লাভ করেন। অন্যদিকে আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পান ৯১টি ভোট।   প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক আবর্তন পদ্ধতি অনুযায়ী, ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদটি এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপের জন্য নির্ধারিত ছিল। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং সাইপ্রাসের বহুপাক্ষিকতা-বিষয়ক বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকোরিস এ পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।   নির্বাচনে জয়ী হয়ে ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবকের স্থলাভিষিক্ত হবেন।   জাতিসংঘের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী ফোরামগুলোর একটি হলো সাধারণ পরিষদ। এর সভাপতি সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আলোচনার সমন্বয়, অধিবেশনের কার্যক্রম পরিচালনা এবং বিভিন্ন বৈশ্বিক ইস্যুতে কূটনৈতিক সংলাপ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ২, ২০২৬ ০:৩
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে করণীয়
নীরব ঘাতক উচ্চ রক্তচাপ! সময়মতো সচেতন না হলে বাড়তে পারে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি

রক্তচাপ বেড়ে গেছে শুনলেই মনে হয় বুঝি সারাজীবনের জন্য ওষুধ খেতে হবে। কিন্তু জানেন কি, সঠিক জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসের মাধ্যমে রক্তচাপ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব? বাংলাদেশে প্রতি তিনজনে একজন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, অথচ অনেকেই জানেন না যে তাদের এই সমস্যা আছে। রক্তচাপকে ‘নীরব ঘাতক’ বলা হয় কারণ এটি নিজে কোনো উপসর্গ দেখায় না, কিন্তু হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং কিডনি রোগের মতো মারাত্মক সমস্যার কারণ হতে পারে। আজকের এই ব্লগে আমরা জানবো রক্তচাপ কী, কেন হয় এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। রক্তচাপ কী এবং কত হওয়া উচিত? রক্তচাপ হলো হৃদপিণ্ড থেকে রক্ত পাম্প করার সময় রক্তনালীর দেয়ালে যে চাপ পড়ে তার পরিমাপ। রক্তচাপ মাপার যন্ত্র অনুযায়ী এটি দুটি সংখ্যায় প্রকাশ করা হয় যেমন ১২০/৮০। প্রথম সংখ্যাটি (সিস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড সংকুচিত হওয়ার সময়ের চাপ এবং দ্বিতীয় সংখ্যাটি (ডায়াস্টোলিক) হলো হৃদপিণ্ড শিথিল হওয়ার সময়ের চাপ।   উচ্চ রক্তচাপের কারণ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বেশ কিছু কারণে রক্তচাপ বাড়ে। এই কারণ সমূহ হচ্ছে অতিরিক্ত লবণ খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম কম করা, মানসিক চাপে থাকা, ধূমপান ও মদ্যপান করা ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে বংশগত কারণেও হয়ে থাকে। সাধারণত ৪০ বছরের পর রক্তচাপ বাড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।   রক্তচাপ বেশি হলে কী হয়? অনেকেই ভাবেন মাথা ব্যথা, মাথা ঘোরা হলেই রক্তচাপ বেশি। কিন্তু আসলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কোনো উপসর্গ থাকে না। দীর্ঘদিন অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ থাকলে হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ), কিডনি নষ্ট হয়ে যাওয়া, চোখের ক্ষতি ও দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং পায়ে রক্ত চলাচল কমে যাওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দিতে পারে।   রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় এবার জানবো কীভাবে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখবেন। এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ছাড়াই রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব।   লবণ কম খাওয়া এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। রান্নায় লবণ কম দিতে হবে এবং খাওয়ার সময় আলাদা লবণ একদমই নেওয়া যাবে না। প্রক্রিয়াজাত খাবার যেমন চিপস, চানাচুর, আচার, সস, ফাস্ট ফুড যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।   ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা প্রতি ১ কেজি ওজন কমালে রক্তচাপ ১ mmHg কমে যায়। যদি আপনার ওজন বেশি থাকে তাহলে ৫-১০ কেজি ওজন কমিয়ে দেখুন, রক্তচাপ তুলনামূলক কমে যাবে।   নিয়মিত ব্যায়াম করা সপ্তাহে কমপক্ষে ৫ দিন ৩০ মিনিট হাঁটুন বা ব্যায়াম করুন। হাঁটা সবচেয়ে সহজ এবং কার্যকর ব্যায়াম। সকালে বা বিকেলে দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটার মতো যেকোনো একটি করুন। লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।   স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া সুস্থ জীবন যাপন করতে চাইলে স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে। যেসকল খাবার আমাদের প্রতিনিয়ত খাওয়া উচিৎ তা হচ্ছে তাজা ফল ও সবজি, ডাল, বাদাম, মাছ, লাল চাল বা ঢেঁকিছাঁটা চাল এবং দই। আর যে সকল খাবার এড়িয়ে চলা উচিৎ ভাজাপোড়া, কোমল পানীয় ও প্যাকেটজাত জুস, অতিরিক্ত মিষ্টি এবং গরু ও খাসির মাংস সপ্তাহে ১ দিনের বেশি নয়।   ধূমপান ও মদ্যপান ছেড়ে দেওয়া একটি সিগারেট খাওয়ার পর ২০ মিনিট পর্যন্ত রক্তচাপ বেড়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদী ধূমপান রক্তনালী শক্ত করে দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কয়েকগুণ বাড়ায়। মদ্যপানও রক্তচাপ বাড়ায় এবং ওষুধের কার্যকারিতা কমায়।   মানসিক চাপ কমান মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। পরিবার ও বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। অবসর সময়ে শখের কাজ যেমন বই পড়া, বাগান করা এসব করুন।   নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন ৪০ বছরের পর মাসে অন্তত একবার রক্তচাপ মাপুন। বাড়িতে একটি ডিজিটাল BP মেশিন রাখতে পারেন। বর্তমান বাজারে ভালো মানের ডিজিটাল বিপি মেশিনের দাম ২,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। সকালে ঘুম থেকে উঠে এবং রাতে ঘুমানোর আগে মাপুন। পরিমাপের আগে ১০ মিনিট বিশ্রাম নিন এবং এই সময় ধূমপান বা কফি খাবেন না।   নিয়মিত ওষুধ খান ডাক্তার যদি ওষুধ দিয়ে থাকেন, তাহলে নিয়মিত সময়মতো ওষধ খেতে হবে। রক্তচাপ স্বাভাবিক মনে হলেও নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। অনেকে মনে করেন যে রক্তচাপ ১২০/৮০ হলেই ওষুধ ছেড়ে দেবেন, তবে এটা ভুল। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ পরিবর্তন বা বন্ধ করা বিপজ্জনক।   পটাসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার খান পটাসিয়াম লবণের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। কলা, কমলা, টমেটো, পালং শাক, মিষ্টি আলু, মটরশুঁটি এসবে প্রচুর পটাসিয়াম আছে। তবে কিডনি রোগী হলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বেশি পটাসিয়াম খাবেন না।   ক্যাফেইন কমান দিনে ২-৩ কাপের বেশি চা বা কফি খাবেন না। ক্যাফেইন সাময়িক রক্তচাপ বাড়ায়। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য গ্রিন টি ভালো বিকল্প হতে পারে।   উচ্চ রক্তচাপ মানে জীবনের শেষ নয়, বরং সুস্থ জীবনের নতুন শুরু। সঠিক জীবনযাপন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং নিয়মিত ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চললে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্পূর্ণভাবে সম্ভব। ৩০ বছর বয়স থেকেই সচেতন হন, নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন।

ছবি: সংগৃহীত
সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কাজ বাধ্যতামূলক, ফুড স্ট্যাম্প হারানোর ঝুঁকিতে হাজারো মার্কিন নাগরিক

যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চালু থাকা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফেডারেল সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। অন্যথায় তারা খাদ্য সহায়তার সুবিধা হারাতে পারেন।   নতুন এই নিয়ম ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কসহ বড় শহরগুলোতে অনেক মানুষ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিউইয়র্ক শহরেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষ খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন।   খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। বাজারের উচ্চ মূল্য, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে লাখো মানুষ এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তবে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, নির্ভরশীল সন্তান ছাড়া কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত চাকরি, প্রশিক্ষণ অথবা অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে।   সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মানুষকে কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সামাজিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাদের মতে, যারা অনিয়মিত কাজ করেন বা স্থায়ী চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।   নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নতুন নীতির সমালোচনা করে বলেন, “মানুষকে কাজের সুযোগ না দিয়ে খাদ্য সহায়তায় কড়াকড়ি বাড়ালে ক্ষুধা ও দুর্ভোগই বাড়বে।” তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ আগে থেকেই কাজ করছেন, কিন্তু বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় এত বেশি যে শুধুমাত্র উপার্জনের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।   সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য সহায়তা পাওয়া অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে আয়মূলক কাজে যুক্ত কিন্তু খণ্ডকালীন চাকরি, কম মজুরি এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে তারা এখনো সরকারি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন।   নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর অনেক মানুষ তাদের যোগ্যতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন এখন মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। ফোন কল, সচেতনতামূলক প্রচার এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষকে নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানানো হচ্ছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে খাদ্য সহায়তা কমে গেলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সংকট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার, গৃহহীন ব্যক্তি এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন।   এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন কর্মক্ষম মানুষকে কাজের আওতায় আনার উদ্যোগ ইতিবাচক হতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করে এমন কঠোর নিয়ম সাধারণ মানুষের জন্য নতুন সংকট তৈরি করবে।

এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং | ছবি: সংগৃহীত
মাউস-কিবোর্ডের দিন শেষ! ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের জন্য এনভিডিয়ার নতুন 'সুপারচিপ'

কম্পিউটার প্রযুক্তির দুনিয়ায় এক নতুন যুগের সূচনা করতে যাচ্ছে সেমিকন্ডাক্টর জায়ান্ট এনভিডিয়া। প্রতিষ্ঠানটি ল্যাপটপ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত একটি নতুন 'সুপারচিপ' উন্মোচন করেছে। এনভিডিয়ার দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে ভবিষ্যতে কম্পিউটার পরিচালনায় মানুষের ঐতিহ্যবাহী মাউস এবং কিবোর্ড ব্যবহারের আর কোনো প্রয়োজনই থাকবে না।   তাইওয়ানের 'কম্পিউটেক্স' সম্মেলনে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং 'আরটিএক্স স্পার্ক' (RTX Spark) নামের এই চিপটির ঘোষণা দেন। মাইক্রোসফটের উইন্ডোজ সফটওয়্যারের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই চিপটি কাজ করবে। চলতি বছরেই ডেল, লেনোভো, আসুস এবং এইচপির মতো শীর্ষস্থানীয় কম্পিউটার নির্মাতারা তাদের ডিভাইসে এই নতুন চিপ ব্যবহার শুরু করবে।   মাইক্রোসফটের সঙ্গে দীর্ঘ তিন বছরের যৌথ গবেষণায় তৈরি এই চিপটিতে মূলত একটি মাইক্রোপ্রসেসর ও গ্রাফিক্স চিপের সমন্বয় করা হয়েছে। তাইওয়ানের মিডিয়াটেক-এর সহায়তায় তৈরি এই চিপের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, এটি দূরবর্তী ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি কম্পিউটারের ভেতরেই এআই এজেন্ট পরিচালনা করতে পারবে। ফলে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন এজেন্টগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কম্পিউটারের সব কাজ সম্পন্ন করতে পারবে, যা মাউস ও কিবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনবে।   প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই আবিষ্কারটি কম্পিউটারের দুনিয়ায় আইফোন বা চ্যাটজিপিটির মতোই একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে। এর মাধ্যমে সাধারণ পিসিগুলো একটি অতি-বুদ্ধিমান ডিজিটাল সহকর্মীতে রূপান্তরিত হবে। একই সম্মেলনে এনভিডিয়া তাদের 'ভেরা' (Vera) সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিটও উন্মোচন করেছে, যা ওপেনএআই, অ্যানথ্রোপিক এবং স্পেসএক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবহার করবে।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কার বিষয়ে জেনসেন হুয়াং বলেন, "এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এআই প্রযুক্তির কারণে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাবে এবং এর ফলে উল্টো আরও বেশি সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।"

বাংলাদেশের ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস | ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন ইমিগ্রান্ট ভিসা স্থগিতাদেশ বহাল, ঢাকায় দ্রুত প্রক্রিয়াকরণ শুরু হলেও মিলছে না ভিসা

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রান্ট ভিসা কার্যক্রমের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ এখনো বহাল রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষণায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়। সেই সিদ্ধান্ত এখনো কার্যকর রয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালতে আইনি লড়াই চলমান।   এদিকে স্থগিতাদেশ বহাল থাকলেও ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস ১ জুন থেকে ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন প্রক্রিয়ায় নতুন একটি ব্যবস্থা চালু করেছে। দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে সব ধরনের ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রক্রিয়াকরণ করা হবে। আবেদনকারীরা আগের মতোই আবেদন জমা দিতে এবং সাক্ষাৎকারে অংশ নিতে পারবেন। তবে বর্তমান স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেও ভিসা ইস্যু করা হবে না এবং আবেদনকারীরা পাসপোর্টে ভিসা পাবেন না।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই নীতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছে, তালিকাভুক্ত দেশগুলোর কিছু অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বহন করেন, যা ‘পাবলিক চার্জ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মী, আইনজীবী এবং বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন এই ব্যাখ্যার বিরোধিতা করেছে।   তাদের দাবি, জাতীয়তার ভিত্তিতে কোনো দেশের নাগরিকদের জন্য সামগ্রিকভাবে ইমিগ্রান্ট ভিসা বন্ধ করে দেওয়া মার্কিন অভিবাসন আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী। এ বিষয়ে নিউইয়র্কের ফেডারেল আদালতে চলমান CLINIC v. Rubio মামলায় বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দিয়েছেন যে, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট জাতীয়তার ভিত্তিতে ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদানে বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে এবং ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর একযোগে নিষেধাজ্ঞা সেই আইনের লঙ্ঘন হতে পারে।   মামলাটি ২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়। বাদীপক্ষের মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ল সেন্টার, ডেমোক্র্যাসি ফরওয়ার্ড, লিগাল এইড সোসাইটি অব নিউইয়র্ক, সেন্টার ফর কনস্টিটিউশনাল রাইটসসহ একাধিক অধিকারভিত্তিক সংগঠন। এছাড়া এমন কয়েকজন মার্কিন নাগরিকও মামলায় যুক্ত আছেন, যারা এই নীতির কারণে তাদের পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনতে পারছেন না।   বাদীপক্ষ আদালতের কাছে চারটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেছে। তারা চায় আদালত এই নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করুক, স্থগিতাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিল করুক, স্টেট ডিপার্টমেন্টকে আগের নিয়মে প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে মূল্যায়নের নির্দেশ দিক এবং যেসব আবেদনকারী এই নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের নতুন করে সুযোগ দেওয়া হোক।   বর্তমানে মামলাটি ‘ক্রস-মোশন ফর পার্শিয়াল সামারি জাজমেন্ট’ পর্যায়ে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে।   আদালত বা মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নতুন কোনো নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা সীমিত। ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান পুনরায় শুরু হতে পারে মূলত দুটি উপায়ে। প্রথমত, ফেডারেল আদালত স্থগিতাদেশ বাতিলের নির্দেশ দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, প্রশাসন নিজ উদ্যোগে নীতিটি প্রত্যাহার করতে পারে।   উল্লেখযোগ্য যে, এই স্থগিতাদেশ কেবল ইমিগ্রান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ফলে গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের মর্যাদা অর্জনের জন্য আবেদনকারীরাই এর সরাসরি প্রভাবের মুখে পড়েছেন। অন্যদিকে পর্যটন, শিক্ষা ও ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত অ-অভিবাসী ভিসা, যেমন বি-১/বি-২, এফ-১ এবং এইচ-১বি, এই স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত নয়।   তবে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য বি-১/বি-২ ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দেওয়ার একটি নতুন শর্ত যুক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।   ফলে বর্তমানে ঢাকায় ইমিগ্রান্ট ভিসা আবেদন দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ চালু হলেও, স্থগিতাদেশ বহাল থাকায় আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে। কবে আবার ইমিগ্রান্ট ভিসা প্রদান স্বাভাবিক হবে, তার উত্তর নির্ভর করছে আদালতের রায় এবং মার্কিন প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপে সবচেয়ে প্রবীণ ও কনিষ্ঠ ফুটবলার কে, জানেন?

আগামী বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আলোচনায় উঠে এসেছে অংশগ্রহণকারী ফুটবলারদের বয়সের নানা রেকর্ড। একদিকে ৪০ পেরিয়েও মাঠ মাতাতে প্রস্তুত ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে মাত্র ১৭ বছর বয়সেই বিশ্বকাপের মঞ্চে নামতে যাচ্ছেন মেক্সিকোর তরুণ মিডফিল্ডার গিলবার্তো মোরা।   বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার দিন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডনের বয়স হবে ৪৩ বছর ১৬২ দিন। ফলে তিনি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামবেন।    তবে গোলরক্ষকদের বাইরে সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হবেন পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৪১ বছর ১২৬ দিন।   রোনালদো এবার রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন। একই কীর্তি গড়তে পারেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি এবং মেক্সিকোর গোলরক্ষক গুইলার্মো ওচোয়াও।   অন্যদিকে, এবারের আসরের সবচেয়ে কনিষ্ঠ ফুটবলার হচ্ছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ১৭ বছর ২৪০ দিন। সবচেয়ে কম বয়সী গোলরক্ষক হিসেবে থাকছেন বেলজিয়ামের মাইক পেন্ডার্স। টুর্নামেন্ট শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ২০ বছর ৩১৫ দিন। অধিনায়কদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হবেন কানাডার আলফনসো ডেভিস। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপের উদ্বোধনের দিন তাঁর বয়স হবে ২৫ বছর ২২১ দিন।   খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচদের মধ্যেও বয়সের ব্যবধান চোখে পড়ার মতো। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাওয়া কুরাসাওয়ের প্রধান কোচ ডিক অ্যাডভোকাট হবেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে প্রবীণ কোচ। বিশ্বকাপ শুরুর দিন তাঁর বয়স হবে ৭৮ বছর ২৫৭ দিন।   অন্যদিকে, জার্মানির প্রধান কোচ ইউলিয়ান নাগলসমান থাকবেন সবচেয়ে কম বয়সী কোচদের তালিকার শীর্ষে। বিশ্বকাপ শুরুর সময় তাঁর বয়স হবে ৩৮ বছর ৩২৩ দিন।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

মতামত

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান দেশ ছাড়ার পথে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার উপায় জানতে খরচ করছেন শত শত ডলার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৭:২

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।   গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।   বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।   জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।   অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।   ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।   ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।   ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।   তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।

আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:৩৬

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

ড. তাহমিদ আহমেদ
এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় কলেরা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:১৫

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন।   ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে।   আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করল ফেরারি, দাম প্রায় ৬.৪ লাখ ডলার
শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম।   ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে।   নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।   চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।   ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
418 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
367 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
453 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
306 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
Advertisement
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়