সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক অর্থোডক্স ইহুদি ব্যক্তির গালে চুমু দিচ্ছেন এক মুসলিম ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিন কে সাপোর্ট করায় ইহুদির গালে মুসলিম ব্যক্তি চুমু

ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে এক অর্থোডক্স ইহুদি ব্যক্তি ব্যক্তির গালে চুমু দিচ্ছেন এক মুসলিম ব্যক্তি - এমন একটি মুহূর্তের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিচ্ছে । ছবিতে থাকা ইহুদি ব্যক্তি ইসরায়েলবিরোধী ও জিওনিজমবিরোধী সংগঠন নেটুরেই কার্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   নেটুরেই কার্তা একটি ছোট অর্থোডক্স ইহুদি গোষ্ঠী, যারা জিওনিজম এবং আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের বিরোধিতা করে। সংগঠনটির সদস্যদের বিভিন্ন সময়ে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সংগঠনটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, তারা ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে মুসলিমদের সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছে।    নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন স্থানে নেটুরেই কার্তার সদস্যদের ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে অংশ নেওয়ার নজির রয়েছে। ২০২২ সালে নিউইয়র্কে আল-আকসা ইস্যুতে একটি ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও মিছিলে সংগঠনটির ধর্মীয় ইহুদিরা অংশ নিয়েছিলেন।    তবে ভাইরাল হওয়া ছবিটির নির্দিষ্ট সময়, স্থান এবং ছবিতে থাকা দুই ব্যক্তির পরিচয় নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে ছবিটিকে কোনো নির্দিষ্ট সাম্প্রতিক বিক্ষোভের ঘটনা হিসেবে নিশ্চিতভাবে উপস্থাপন না করে, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনে মুসলিম ও ইহুদি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংহতির একটি প্রতীকী দৃশ্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।   নেটুরেই কার্তার সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই ফিলিস্তিনপন্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আসছেন। ২০২২ সালে লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল কুদস ডে উপলক্ষে মুসলিম ও ইহুদি ফিলিস্তিনপন্থীরা একসঙ্গে কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছিলেন।

১২ মিনিট Ago
৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত
৪৭ বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে সিরিয়া, ভিসা কার্ডে বিল দিলেন আল-শারা

দামেস্কে এক কাপ কফির বিল পরিশোধের ঘটনাটি সিরিয়ার জন্য কেবল একটি সাধারণ কেনাকাটা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক বিচ্ছিন্নতার অবসানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সিরিয়ার সরকারি সূত্র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কের পুরোনো শহরের একটি ক্যাফেতে ভিসা কার্ড ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ সাফওয়াত রাসলান।   এর ঠিক আগে, ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্তির অবস্থান থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, এর ফলে ওই তালিকার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো আর সিরিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে না।   ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে দেশটির ব্যাংক ও ব্যবসাগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে দীর্ঘদিন নানা বাধার মুখে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো ভিসা ও মাস্টারকার্ডের আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন চালু হওয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার সিরিয়ায় এই দুই বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রথম আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন সম্পন্ন হয়। ভিসা স্থানীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে, আর মাস্টারকার্ডও নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লেনদেন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে।   সিরিয়ায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম এর আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের কার্ডে বিল পরিশোধকে দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই ঘটনাকে আর্থিক খাতের জন্য নতুন শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সিরিয়ার ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় সিরিয়ার পূর্ণাঙ্গ পুনঃসংযোগ নির্ভর করবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা দ্রুত পুনর্গঠিত হয় তার ওপর।   সিরিয়ার নতুন সরকার অবশ্য এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশটির লক্ষ্য এখন দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।   একটি কফির বিল দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতীকী লেনদেন তাই সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর দেশটির নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও আন্তর্জাতিক কার্ড ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: রয়টার্স, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, আল জাজিরা ও ইউরোনিউজ।

২৭ মিনিট Ago
নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে তালিকা প্রকাশ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নিজেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের, অথচ ইতিহাসবিদদের মূল্যায়নে তিনি সবার নিচে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকেই দেশটির ইতিহাসের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। অথচ ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মূল্যায়নে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্টদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিজের প্রকাশ করা তালিকায় তিনি জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনের মতো ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্টদেরও ওপরে নিজেকে রেখেছেন।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি তালিকার ছবি প্রকাশ করেন। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত জরিপে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে কোন প্রেসিডেন্টকে তারা সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করেন, তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই জরিপে ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি পছন্দের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আব্রাহাম লিংকন ও রোনাল্ড রিগ্যানকে পেছনে ফেলেন।   এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি ‘সেরা’ তালিকা তুলে ধরেন। সেখানে নিজের নাম একেবারে শীর্ষে রাখেন তিনি। তবে তালিকাটি প্রকাশের পর এর নানা দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তালিকায় রোনাল্ড রিগ্যান ও জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নাম না থাকায় প্রশ্ন ওঠে। ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার ডব্লিউ জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প যেন রিগ্যান ও বুশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবস্থান নিয়েই কোনো মতামত দেননি।   আরেক মন্তব্যে ইতিহাস ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে কাজ করা মাইক রথশিল্ড দাবি করেন, ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকাটি আসলে ১৯৪৮ সালে লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি তালিকার আদলে তৈরি। তার দাবি, ওই পুরোনো তালিকার ওপর ট্রাম্প নিজের নাম যোগ করেছেন এবং যেসব ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টকে তিনি পছন্দ করেন না, তাদের নিচের দিকে রেখেছেন।   তবে ট্রাম্প নিজেকে যতই ওপরে রাখুন, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন তার সঙ্গে একেবারেই মেলে না। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী মাইকেল বেইলি সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রাম্পের সময়ে দুর্নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তা অতীতের অন্য প্রেসিডেন্টদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।   এর আগেও একই ধরনের মূল্যায়ন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের একটি জরিপে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টদের তালিকার একেবারে নিচে রাখা হয়েছিল। ওই জরিপে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৪তম অবস্থানে ছিলেন। শুধু বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেই ট্রাম্প পিছিয়ে নেই। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও তার জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপের চিত্র দেখা গেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের অনুমোদন হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে।   ইতিহাস নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টদের ছবি ও তাদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা নিয়ে একটি ‘ওয়াক অব ফেম’ স্থাপন করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের অবদান তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ইতিহাসবিদেরা ওই ফলকগুলোর তথ্যের পক্ষপাতদুষ্টতা ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।   একজন ইতিহাসবিদ মন্তব্য করেছিলেন, ওই ফলক তৈরিতে যে ধরনের গবেষণা করা হয়েছে, তা অন্যের ছবিতে গোঁফ এঁকে দেওয়ার মতোই দুর্বল। ট্রাম্পের ইতিহাসচর্চার আগ্রহ শুধু সাবেক প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে সংবেদনশীল ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে থাকা কিছু ফলক ও তথ্য সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এসব বিষয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ ও বৈষম্যের ইতিহাসও ছিল।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রদর্শনী ও সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। সমালোচকদের মতে, ইতিহাসের এমন অংশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকা তাই নতুন করে তার ইতিহাস দেখার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এখনো রয়েছে, অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে তার অবস্থান একেবারেই বিপরীত।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

৪৫ মিনিট Ago
হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে ডেলিভারি চালকের অস্বাভাবিক আচরণ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন অবস্থায় খাবার পৌঁছে দিলেন ডেলিভারিম্যান, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ল দৃশ্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর এক ডেলিভারি চালককে নগ্ন অবস্থায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক কিয়ান্তে ম্যাটলক।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, হোমস্টেড এলাকার কাছাকাছি ম্যাটলকের বাড়িতে। ম্যাটলক জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির ভেতরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। তার মেয়েও তখন বাড়িতে ছিল। মেয়ের কাছ থেকে ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসার কথা জানতে পেরে ম্যাটলক বুঝতে পারেন, তার খাবারের অর্ডার পৌঁছে গেছে। এরপর তিনি বাড়ির রিং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে অস্বাভাবিক দৃশ্যটি দেখতে পান।   ফুটেজে দেখা যায়, খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর ডেলিভারি চালকটি বাড়ির বাইরে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বলে জানান ম্যাটলক। ম্যাটলক নিয়মিত ডোরড্যাশ ব্যবহার করেন। তবে ওই দিনের খাবার তিনি আর গ্রহণ করেননি। পরে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ তার অর্ডারের অর্থ ফেরত দেয়।   ঘটনার বিষয়ে ডোরড্যাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৬ হিউস্টন। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ডোরড্যাশ সরাসরি ম্যাটলকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংশ্লিষ্ট চালকের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডোরড্যাশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অনুপযুক্ত আচরণ তারা মেনে নেয় না। ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগগুলো ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগ পর্যালোচনা করে। ডেলিভারির সময় কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বা উদ্বেগজনক আচরণের মুখে পড়লে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে অনিরাপদ মনে হলে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছে ডোরড্যাশ। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি নম্বরে ৯১১-এ ফোন করতে বলা হয়েছে।   এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছে ফক্স ২৬। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ির বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে জানানো এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। এর মধ্যে রিং ক্যামেরা, দরজার ক্যামেরা কিংবা বাড়ির অন্য কোনো নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সে জন্য আগে ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রয়োজন এবং এরপর পুলিশ তদন্ত করে দেখবে ঠিক কী ঘটেছিল।   ফক্স ২৬ জানিয়েছে, টেক্সাসের আইনে এ ধরনের আচরণ কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তা জানতে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছে। ঘটনাটি আবারও বাড়িতে খাবার বা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ক্যামেরার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মীর আচরণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: ফক্স ২৬ হিউস্টন (FOX 26), প্রতিবেদক লেসলি ডেলাসবোর।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
বিশ্বজুড়ে মার্কিন অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার স্থগিত, চরম অনিশ্চয়তায় গ্রিন কার্ড প্রত্যাশীরা

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন 'পাবলিক চার্জ' নিয়মের কারণে বিশ্বজুড়ে হঠাৎ স্থগিত করা হলো গ্রিন কার্ড ও অভিবাসী ভিসা সাক্ষাৎকার। এর ফলে আগে থেকেই দীর্ঘ অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের ভবিষ্যৎ আবারও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।   নতুন এই নিয়মের আওতায়, কোনো আবেদনকারী যদি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি আর্থিক সহায়তা বা সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হবেন বলে মনে হয়, তবে কনস্যুলার অফিসাররা তাঁর আবেদন বাতিল করে দিতে পারবেন।   মূলত দূতাবাস ও কনস্যুলার কর্মীদের এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্যই বিশ্বজুড়ে সাময়িকভাবে এই অভিবাসী ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট।   এই নতুন স্থগিতাদেশের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়বে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে ‘কনস্যুলার প্রসেসিং’-এর মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ বা গ্রিন কার্ড পেতে ইচ্ছুক আবেদনকারীদের ওপর। ন্যাশনাল ভিসা সেন্টারের মাধ্যমে দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত সাক্ষাৎকারের জন্য যারা অপেক্ষা করছিলেন, তাদের অনেকেই ইতোমধ্যে সাক্ষাৎকার বাতিল বা স্থগিত হওয়ার নোটিশ পেতে শুরু করেছেন।   তবে যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা স্ট্যাটাস পরিবর্তনের মাধ্যমে গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছেন, তাদের ওপর এই স্থগিতাদেশের তেমন কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানা গেছে।   এই স্থগিতাদেশের সময়কাল নিয়ে অভিবাসন আইনজীবীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। মেমফিসের সিসকাইন্ড সুসারের অংশীদার ও অভিবাসন আইনজীবী এলিসা তউব সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থবছর আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হতে যাচ্ছে।   এই সময়ের মধ্যে বরাদ্দকৃত সকল অভিবাসী ভিসা ইস্যু করার বদলে সরকার হঠাৎ করেই গণহারে সাক্ষাৎকার বাতিল করেছে এবং কবে নাগাদ এগুলোর কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি।   নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সরকার বরাদ্দকৃত সব ভিসা ব্যবহার করতে ব্যর্থ হলে সেগুলো চিরতরে বাতিল হয়ে যাবে, যা বছরের পর বছর অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য চরম হতাশাজনক।   এছাড়া তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, স্টেট ডিপার্টমেন্ট গোপনে নতুন নিয়ম তৈরি করছে, অথচ আবেদনকারীদের এ বিষয়ে প্রস্তুত হওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।   ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইনি অভিবাসন ব্যবস্থাকে সংকুচিত বা ধীর করার এটি প্রথম পদক্ষেপ নয়। এর আগে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের গ্রিন কার্ড প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল এবং কিছু নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ওপরও ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।   সব মিলিয়ে ভিসা সাক্ষাৎকার নতুন করে কবে শুরু হবে, সে বিষয়ে স্টেট ডিপার্টমেন্ট এখনও কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করেনি। যার ফলে পরিবার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখা বহু মানুষের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হলো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ১৫:৬
দাম বাড়ার আগেই যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার সুযোগ, রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের নজরে ৯ শহর

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বাড়ির দাম ও বন্ধকি ঋণের সুদহার বাড়তে থাকায় বড় শহরে বাড়ি কেনা অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে উঠেছে। তবে দেশটির কিছু শহরে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব শহরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণ ও আবাসনের চাহিদা বাড়ছে। ফলে আগামী দিনে এসব এলাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়তে পারে।   সম্প্রতি ট্রাভেল + লেজার-এর এক প্রতিবেদনে রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামত ও স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে এমন ৯টি শহরের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পূর্ব, মধ্য-পশ্চিম ও পশ্চিমাঞ্চলের শহর রয়েছে। প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সান ফ্রান্সিসকোতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ১৪ লাখ ডলার এবং মায়ামিতে তা প্রায় ৬ লাখ ডলারের কাছাকাছি। এর তুলনায় তালিকার শহরগুলোতে এখনো তুলনামূলক কম দামে বাড়ি পাওয়া যাচ্ছে।   র‍্যালি, নর্থ ক্যারোলাইনা   তালিকার শীর্ষে রয়েছে নর্থ ক্যারোলাইনার র‍্যালি। বিশেষ করে শহরের উত্তরাঞ্চল নর্থ র‍্যালিকে সম্ভাবনাময় এলাকা হিসেবে দেখছেন রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগকারী রায়ান স্মিথ। তার মতে, প্রযুক্তি খাতের নতুন উদ্যোগ, বড় ধরনের উন্নয়ন প্রকল্প এবং উচ্চ সম্পদশালী মানুষের আগমনের কারণে ওই এলাকায় আবাসনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। একই সময়ে সরবরাহ তুলনামূলক কম থাকায় বাড়ির দাম আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, র‍্যালিতে গড় বাড়ির মূল্য এখন ৫ লাখ ডলারের কিছুটা কম। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্প্রসারণের সঙ্গে আবাসনের চাহিদা বাড়তে থাকলে শহরটির তুলনামূলক সাশ্রয়ী অবস্থান বেশিদিন নাও থাকতে পারে।   গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, মিশিগান   মিশিগানের গ্র্যান্ড র‍্যাপিডসে ২০২০ সালের পর বাড়ির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তারপরও মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলের বড় শহরগুলোর মধ্যে এটি এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এখানে গড় বাড়ির মূল্য ৩ লাখ ডলারের কিছু বেশি। শহরটির রেস্তোরাঁ, সংস্কৃতি, শিল্পচর্চা, হাঁটার উপযোগী এলাকা এবং বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ তরুণ ক্রেতাদের আকৃষ্ট করছে। ফলে জীবনযাত্রার মান ও বাড়ির তুলনামূলক কম দামের সমন্বয় ভবিষ্যতে আবাসনের চাহিদা আরও বাড়াতে পারে।   গ্রিনভিল, সাউথ ক্যারোলাইনা   সাউথ ক্যারোলাইনার গ্রিনভিলও বিশেষজ্ঞদের নজরে রয়েছে। শহরটির কাছে পাহাড়, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যসেবা খাত রয়েছে। পাশাপাশি মিশেলিন নর্থ আমেরিকার সদর দপ্তরও এখানে অবস্থিত। রেড বার্ন হোমবায়ার্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেন করসিনি বলেন, মানুষ শুধু কম দামের কারণে গ্রিনভিলে যাচ্ছে না। উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগই অনেককে শহরটির দিকে টানছে। ফলে বাড়ির দাম বাড়লেও ভবিষ্যতে চাহিদা শক্তিশালী থাকতে পারে। গত এক বছরে গ্রিনভিলে গড় বাড়ির মূল্য ২ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৩ লাখ ৩০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   স্পোকেন, ওয়াশিংটন   যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন খুঁজছেন এমন ক্রেতাদের জন্য ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেনকে সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্পোকেনে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ডলার। একই অঙ্গরাজ্যের সিয়াটলের তুলনায় এটি অনেক কম। বিশেষ করে প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন পছন্দ করেন এবং সিয়াটলের উচ্চ বাড়ির দাম বহন করতে পারছেন না, এমন ক্রেতাদের কাছে স্পোকেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।   চ্যাটানুগা, টেনেসি   টেনেসির চ্যাটানুগাও তালিকায় রয়েছে। শহরটির বিশেষ আকর্ষণ হলো প্রকৃতিনির্ভর জীবনযাপন, বিকশিত শহরকেন্দ্র এবং তুলনামূলক কম বাড়ির দাম। কেন করসিনির মতে, কোনো শহরে যদি কর্মসংস্থান বাড়ে, বাইরে সময় কাটানোর সুযোগ থাকে এবং একই সঙ্গে আবাসন তুলনামূলক সাশ্রয়ী থাকে, তাহলে সেই বাজারের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ভালো হতে পারে। চ্যাটানুগায় গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার ডলার। এর তুলনায় কাছের বড় শহর ন্যাশভিলে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৩৫ হাজার ডলার। ফলে ন্যাশভিলের উচ্চ আবাসন ব্যয়ের কারণে অনেক ক্রেতা চ্যাটানুগার দিকে ঝুঁকতে পারেন বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।   রিচমন্ড, ভার্জিনিয়া   ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ইতোমধ্যে বাড়ির বাজার বেশ প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠেছে। জিলোর তথ্য অনুযায়ী, শহরটিতে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারে পৌঁছেছে। এখানে একটি বাড়ি বিক্রির চুক্তিতে যেতে গড়ে প্রায় ছয় দিন সময় লাগছে এবং প্রায় অর্ধেক বাড়ি তালিকাভুক্ত দামের চেয়েও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। ঐতিহাসিক আবাসিক এলাকা, খাবার ও শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ, বিনোদনের সুযোগ এবং বৈচিত্র্যময় অর্থনীতি নতুন বাসিন্দাদের আকৃষ্ট করছে। ওয়াশিংটন ডিসি ও উত্তর ভার্জিনিয়ার তুলনায় রিচমন্ড এখনো তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ায় ভবিষ্যতে এর চাহিদা আরও বাড়তে পারে।   এথেন্স, জর্জিয়া   জর্জিয়ার এথেন্সে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে ঘিরে বড় শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠী রয়েছে। এই শিক্ষার্থী আবাসন বাজারে বাড়ির চাহিদা স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় নতুন উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও সেখানে নির্মাণের জন্য জমির পরিমাণ সীমিত। বর্তমানে রিয়েল্টর ডটকমের হিসাবে বাজারটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। গত বছরের তুলনায় মধ্যম তালিকাভুক্ত বাড়ির দাম ৩ দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রায় ৪ লাখ ২৫ হাজার ডলারে নেমেছে। এতে ক্রেতাদের দর-কষাকষির কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে শহরের কেন্দ্রীয় এলাকায় বাড়ির দাম আবারও বাড়তে পারে বলে কেন করসিনি মনে করেন।   হিউস্টন, টেক্সাস   টেক্সাসের হিউস্টন দেশটির বড় শহরগুলোর মধ্যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী আবাসন বাজারের একটি। সম্প্রতি ১৫ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো শহরটিতে বাড়ির দাম কমেছে। বর্তমানে গড় বাড়ির মূল্য প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার ডলার। তবে হিউস্টনের বাজারকে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে এমন বলা হচ্ছে না। তারপরও রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞ কারেন কোস্টিউ শহরটির সম্ভাবনাকে শক্তিশালী বলে মনে করছেন। তার মতে, মহাকাশ, প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, জ্বালানি, বাণিজ্য, উৎপাদন ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যবসা বাড়ছে। দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশও শহরটির আকর্ষণ বাড়াচ্ছে। এর পাশাপাশি বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর কারণে হিউস্টনে খাবার, শিল্প ও সংস্কৃতিরও শক্তিশালী পরিবেশ তৈরি হয়েছে।   সিনসিনাটি, ওহাইও   ওহাইওর সিনসিনাটিকে আবাসন কেনার ক্ষেত্রে অন্যতম সম্ভাবনাময় শহর হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজ্যের সিনসিনাটি ও ক্লিভল্যান্ড তরুণ বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আকৃষ্ট করছে মূলত তুলনামূলক কম আবাসন ব্যয়, বিদ্যমান বাড়ির বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন এলাকার পুনর্গঠনের কারণে। সিনসিনাটিতে গড় বাড়ির মূল্য এখনো ২ লাখ ডলারের মাঝামাঝি। ঐতিহাসিক এলাকা, পেশাদার ক্রীড়া দল, রেস্তোরাঁ ও পানীয় সংস্কৃতি এবং বাড়তে থাকা শিল্প-সংস্কৃতির পরিবেশ শহরটির ভাবমূর্তি বদলে দিচ্ছে। রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতে, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগের কারণে শহরের বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা বাড়তে থাকলে বর্তমানে যে তুলনামূলক সাশ্রয়ী সুযোগ রয়েছে, তা দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞদের এই তালিকা কোনো শহরের বাড়ির দাম নিশ্চিতভাবে কতটা বাড়বে, তার পূর্বাভাস নয়। বরং কর্মসংস্থান, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, আবাসনের সরবরাহ, জীবনযাত্রার মান এবং আশপাশের ব্যয়বহুল শহর থেকে মানুষের স্থানান্তরের মতো বিষয় বিবেচনা করে সম্ভাবনাময় বাজারগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। ট্রাভেল + লেজারের প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয় ১৩ আগস্ট ২০২৬। প্রতিবেদনের জন্য রিয়েল এস্টেট বিশেষজ্ঞদের মতামতের পাশাপাশি স্থানীয় আবাসন বাজারের তথ্যও পর্যালোচনা করা হয়েছে।   ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যারা বাড়ি কেনার কথা ভাবছেন, তাদের জন্য র‍্যালি, গ্র্যান্ড র‍্যাপিডস, গ্রিনভিল, স্পোকেন, চ্যাটানুগা, রিচমন্ড, এথেন্স, হিউস্টন ও সিনসিনাটি নজরে রাখার মতো বাজার হতে পারে। তবে কোনো শহরে বাড়ি কেনার আগে স্থানীয় কর, বন্ধকি ঋণের সুদ, বীমা, সম্পত্তির কর, কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ আবাসন সরবরাহসহ আরও অনেক বিষয় যাচাই করা জরুরি।

নিজেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট ঘোষণা ট্রাম্পের, অথচ ইতিহাসবিদদের মূল্যায়নে তিনি সবার নিচে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকেই দেশটির ইতিহাসের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখিয়ে একটি তালিকা প্রকাশ করেছেন। অথচ ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মূল্যায়নে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্টদের একজন হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। নিজের প্রকাশ করা তালিকায় তিনি জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনের মতো ঐতিহাসিক প্রেসিডেন্টদেরও ওপরে নিজেকে রেখেছেন।   দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি তালিকার ছবি প্রকাশ করেন। এর আগে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত জরিপে রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে কোন প্রেসিডেন্টকে তারা সবচেয়ে বেশি শ্রদ্ধা করেন, তা নিয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছিল। ওই জরিপে ৫৩ শতাংশ রিপাবলিকান ট্রাম্পকে সবচেয়ে বেশি পছন্দের রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি আব্রাহাম লিংকন ও রোনাল্ড রিগ্যানকে পেছনে ফেলেন।   এই প্রেক্ষাপটেই ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রেসিডেন্টদের একটি ‘সেরা’ তালিকা তুলে ধরেন। সেখানে নিজের নাম একেবারে শীর্ষে রাখেন তিনি। তবে তালিকাটি প্রকাশের পর এর নানা দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে তালিকায় রোনাল্ড রিগ্যান ও জর্জ ডব্লিউ বুশের মতো সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টদের নাম না থাকায় প্রশ্ন ওঠে। ইতিহাসবিদ ক্রিস্টোফার ডব্লিউ জোন্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মন্তব্য করেন, ট্রাম্প যেন রিগ্যান ও বুশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অবস্থান নিয়েই কোনো মতামত দেননি।   আরেক মন্তব্যে ইতিহাস ও ষড়যন্ত্রতত্ত্ব নিয়ে কাজ করা মাইক রথশিল্ড দাবি করেন, ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকাটি আসলে ১৯৪৮ সালে লাইফ ম্যাগাজিনে প্রকাশিত একটি তালিকার আদলে তৈরি। তার দাবি, ওই পুরোনো তালিকার ওপর ট্রাম্প নিজের নাম যোগ করেছেন এবং যেসব ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্টকে তিনি পছন্দ করেন না, তাদের নিচের দিকে রেখেছেন।   তবে ট্রাম্প নিজেকে যতই ওপরে রাখুন, ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ন তার সঙ্গে একেবারেই মেলে না। জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিজ্ঞানী মাইকেল বেইলি সম্প্রতি নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ প্রেসিডেন্ট হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রাম্পের সময়ে দুর্নীতি এবং দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির যে ক্ষতি হয়েছে, তা অতীতের অন্য প্রেসিডেন্টদের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।   এর আগেও একই ধরনের মূল্যায়ন দেখা গেছে। ২০২৪ সালে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিজ্ঞানীদের একটি জরিপে ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্টদের তালিকার একেবারে নিচে রাখা হয়েছিল। ওই জরিপে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ১৪তম অবস্থানে ছিলেন। শুধু বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নেই ট্রাম্প পিছিয়ে নেই। সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও তার জনপ্রিয়তা নিয়ে চাপের চিত্র দেখা গেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে ট্রাম্পের অনুমোদন হার প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে।   ইতিহাস নিয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর হোয়াইট হাউসে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্টদের ছবি ও তাদের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা নিয়ে একটি ‘ওয়াক অব ফেম’ স্থাপন করেন। সেখানে বিভিন্ন প্রেসিডেন্টের অবদান তুলে ধরা হয়েছিল। তবে ইতিহাসবিদেরা ওই ফলকগুলোর তথ্যের পক্ষপাতদুষ্টতা ও নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন।   একজন ইতিহাসবিদ মন্তব্য করেছিলেন, ওই ফলক তৈরিতে যে ধরনের গবেষণা করা হয়েছে, তা অন্যের ছবিতে গোঁফ এঁকে দেওয়ার মতোই দুর্বল। ট্রাম্পের ইতিহাসচর্চার আগ্রহ শুধু সাবেক প্রেসিডেন্টদের মূল্যায়নের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তার প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানে সংবেদনশীল ঐতিহাসিক বিষয় নিয়ে থাকা কিছু ফলক ও তথ্য সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এসব বিষয়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবাদ ও বৈষম্যের ইতিহাসও ছিল।   এ ছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের প্রদর্শনী ও সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। সমালোচকদের মতে, ইতিহাসের এমন অংশ বাদ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা প্রেসিডেন্ট হিসেবে তুলে ধরে ট্রাম্পের প্রকাশ করা তালিকা তাই নতুন করে তার ইতিহাস দেখার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে রিপাবলিকানদের বড় একটি অংশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা এখনো রয়েছে, অন্যদিকে ইতিহাসবিদ ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে তার অবস্থান একেবারেই বিপরীত।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ে ডেলিভারি চালকের অস্বাভাবিক আচরণ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নগ্ন অবস্থায় খাবার পৌঁছে দিলেন ডেলিভারিম্যান, বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়ল দৃশ্য

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর এক ডেলিভারি চালককে নগ্ন অবস্থায় বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধরা পড়া ওই দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে যান বাড়ির মালিক কিয়ান্তে ম্যাটলক।   ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ আগস্ট হিউস্টনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে, হোমস্টেড এলাকার কাছাকাছি ম্যাটলকের বাড়িতে। ম্যাটলক জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়ির ভেতরে বসে ভিডিও গেম খেলছিলেন। তার মেয়েও তখন বাড়িতে ছিল। মেয়ের কাছ থেকে ফোনে একটি নোটিফিকেশন আসার কথা জানতে পেরে ম্যাটলক বুঝতে পারেন, তার খাবারের অর্ডার পৌঁছে গেছে। এরপর তিনি বাড়ির রিং নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে গিয়ে অস্বাভাবিক দৃশ্যটি দেখতে পান।   ফুটেজে দেখা যায়, খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর ডেলিভারি চালকটি বাড়ির বাইরে নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছেন। দৃশ্যটি দেখে তিনি প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না বলে জানান ম্যাটলক। ম্যাটলক নিয়মিত ডোরড্যাশ ব্যবহার করেন। তবে ওই দিনের খাবার তিনি আর গ্রহণ করেননি। পরে ডোরড্যাশ কর্তৃপক্ষ তার অর্ডারের অর্থ ফেরত দেয়।   ঘটনার বিষয়ে ডোরড্যাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ২৬ হিউস্টন। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র ঘটনাটিকে অত্যন্ত অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর ডোরড্যাশ সরাসরি ম্যাটলকের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সংশ্লিষ্ট চালকের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের সুযোগ স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডোরড্যাশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ধরনের যৌন হয়রানি বা অনুপযুক্ত আচরণ তারা মেনে নেয় না। ঘটনার তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রয়োজন হলে তাদের সহযোগিতা করার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   কোম্পানিটি আরও জানিয়েছে, তাদের অ্যাপের মাধ্যমে জমা পড়া অভিযোগগুলো ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগ পর্যালোচনা করে। ডেলিভারির সময় কোনো গ্রাহক অস্বাভাবিক বা উদ্বেগজনক আচরণের মুখে পড়লে দ্রুত অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে বলা হয়েছে। কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে অনিরাপদ মনে হলে স্থানীয় পুলিশকে জানানোর পরামর্শও দিয়েছে ডোরড্যাশ। তাৎক্ষণিক বিপদের আশঙ্কা থাকলে জরুরি নম্বরে ৯১১-এ ফোন করতে বলা হয়েছে।   এদিকে, ঘটনাটি নিয়ে হিউস্টন পুলিশের সঙ্গেও কথা বলেছে ফক্স ২৬। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাড়ির বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনা ঘটলে পুলিশকে জানানো এবং ঘটনার সম্ভাব্য প্রমাণ সংরক্ষণ করা উচিত। এর মধ্যে রিং ক্যামেরা, দরজার ক্যামেরা কিংবা বাড়ির অন্য কোনো নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে সম্ভাব্য ফৌজদারি অভিযোগের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে। তবে সে জন্য আগে ঘটনার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রয়োজন এবং এরপর পুলিশ তদন্ত করে দেখবে ঠিক কী ঘটেছিল।   ফক্স ২৬ জানিয়েছে, টেক্সাসের আইনে এ ধরনের আচরণ কোন পরিস্থিতিতে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তা জানতে তারা একজন আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গেও কথা বলার চেষ্টা করছে। ঘটনাটি আবারও বাড়িতে খাবার বা পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সময় নিরাপত্তা ক্যামেরার গুরুত্ব সামনে এনেছে। বিশেষ করে ডেলিভারি কর্মীর আচরণ নিয়ে কোনো উদ্বেগ তৈরি হলে ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো গুরুত্বপূর্ণ।   সূত্র: ফক্স ২৬ হিউস্টন (FOX 26), প্রতিবেদক লেসলি ডেলাসবোর।

ঘুমের মধ্যে মুখে বাদুড়ের সংস্পর্শে আসেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের ঘুমন্ত চিকিৎসকের মুখে ঢোকার চেষ্টা করছিল বাদুড়, ভয়ংকর অভিজ্ঞতার পর চিকিৎসকের সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার রিচমন্ডে ঘুমের মধ্যে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন চিকিৎসক ক্রিস্টা এডেলম্যান। স্বপ্নে ছোট একটি ইঁদুর মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে মনে হলেও ঘুম ভাঙার পর তিনি বুঝতে পারেন, বিষয়টি কোনো স্বপ্ন নয়। সত্যিই একটি বাদুড় তার ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল।   ঘটনাটি ঘটে রিচমন্ডে এডেলম্যানের প্রায় ১০০ বছরের পুরোনো বাড়িতে। তিনি একজন পরিপাকতন্ত্র বিশেষজ্ঞ। সম্প্রতি নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে অভিজ্ঞতাটি তুলে ধরে মানুষকে বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে কী ধরনের সতর্কতা নিতে হবে, সে বিষয়ে সচেতন করেছেন তিনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউটিভিআরও ঘটনাটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।   এডেলম্যান জানান, প্রথমে তিনি স্বপ্ন দেখছিলেন একটি ছোট মাঠের ইঁদুর তার মুখের কাছে এসে মুখের ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছে। ঘুম ভাঙার সময় তিনি মুখের কাছে হাত নিয়ে কিছু একটা স্পর্শ করেন। সেটি ছিল পিচ্ছিল, লোমশ এবং ঠান্ডা। কিছুক্ষণ পরই তিনি বুঝতে পারেন, সেটি ইঁদুর নয়, একটি বাদুড়।   পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি বাদুড়টিকে ধরে ঘরের অন্যদিকে ছুড়ে দেন এবং চিৎকার শুরু করেন। তার চিৎকারে স্বামীও জেগে ওঠেন। প্রথমে বাদুড়টিকে মেরে ফেলার কথা মনে হলেও চিকিৎসক হিসেবে এডেলম্যান জানতেন, সেটি করা ঠিক হবে না। বাদুড়টিকে ধরে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন, বিশেষ করে জলাতঙ্কের ভাইরাস রয়েছে কি না তা জানার জন্য।   পরে দ্রুত কী করা উচিত তা জানতে তিনি ফোনে খোঁজ করেন এবং একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ বন্ধুর সঙ্গে কথা বলেন। বন্ধুও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন। এরপর এডেলম্যান তার কর্মস্থল সেন্ট মেরিস হাসপাতালে জরুরি বিভাগে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে জলাতঙ্কের সম্ভাব্য সংস্পর্শ হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন।   এডেলম্যানের স্বামী শেষ পর্যন্ত বাদুড়টিকে একটি পাত্রে আটকে ফেলতে সক্ষম হন। এরপর প্রাণীটিকে জলাতঙ্ক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরীক্ষায় বাদুড়টির শরীরে জলাতঙ্কের ভাইরাস পাওয়া যায়নি। তবে সরাসরি সংস্পর্শের কারণে এবং আগে জলাতঙ্কের টিকা না নেওয়ায় এডেলম্যান সতর্কতামূলকভাবে জলাতঙ্কের টিকা ও ইমিউনোগ্লোবিউলিন গ্রহণ করেন।   ঘটনার পর এডেলম্যানের মূল বার্তা ছিল, বাড়িতে বাদুড় পাওয়া গেলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। বিশেষ করে ঘুমন্ত অবস্থায় কেউ বাদুড়ের সংস্পর্শে এলে তিনি আদৌ কামড় বা আঁচড়ের শিকার হয়েছেন কি না, তা সবসময় বোঝা সম্ভব নাও হতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র, সিডিসি বলছে, বাদুড়ের কামড়ের দাগ খুব ছোট হতে পারে এবং অনেক সময় তা চোখে পড়েও না। কোনো ব্যক্তি ঘুম থেকে উঠে ঘরে বাদুড় দেখতে পেলে এবং সরাসরি সংস্পর্শ হয়েছিল কি না নিশ্চিত না হলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে চিকিৎসা পরামর্শ নেওয়া উচিত।   বাদুড়ের ক্ষেত্রে জলাতঙ্কের ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে জলাতঙ্কে মানুষের মৃত্যুর ক্ষেত্রে বাদুড়ের সংস্পর্শ একটি প্রধান কারণ। দেশটিতে জলাতঙ্কে মারা যাওয়া অন্তত ১০ জনের মধ্যে সাতজনের সংক্রমণের সঙ্গে বাদুড়ের সম্পর্ক রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব বাদুড় জলাতঙ্কে আক্রান্ত। বরং যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ বাদুড় সুস্থ এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   জলাতঙ্কের চিকিৎসা সময়মতো শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাইরাসটির লক্ষণ প্রকাশের আগে সংস্পর্শের পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিলে রোগ প্রতিরোধ করা যায়। কিন্তু লক্ষণ প্রকাশের পর রোগটি প্রায় সবসময় প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাড়িতে বাদুড় ঢুকে পড়লে খালি হাতে সেটিকে ধরা উচিত নয়। নিরাপদে সম্ভব হলে উপযুক্ত সুরক্ষা নিয়ে পাত্রের মধ্যে আটকে রেখে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা প্রাণী নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত। তারা বাদুড়টি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে এবং মানুষের চিকিৎসা প্রয়োজন কি না, সে বিষয়ে পরামর্শ দিতে পারে।   বাদুড় সাধারণত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলে। তবে বাড়ির ছাদ, চিমনি, চিলেকোঠা কিংবা দেয়ালের ছোট ফাঁক দিয়ে তারা ঘরে ঢুকতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, বাদুড় প্রায় এক-চতুর্থাংশ ইঞ্চি বা ৬ মিলিমিটারের মতো ছোট ফাঁক দিয়েও ঢুকতে পারে। তাই পুরোনো বাড়ির ছাদ, দরজা, জানালা, চিমনি ও অন্যান্য সম্ভাব্য প্রবেশপথ নিয়মিত পরীক্ষা করে বন্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।   নিজের অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের উদ্দেশ্যও এডেলম্যান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, চিকিৎসক হয়েও এমন পরিস্থিতিতে ঠিক কী করা উচিত, তা নিয়ে মুহূর্তের মধ্যে তাকে তথ্য খুঁজতে হয়েছিল। তাই অন্য কেউ যেন একই পরিস্থিতিতে পড়ে বিভ্রান্ত না হন, সে কারণেই তিনি ঘটনাটি প্রকাশ্যে এনেছেন। তার অভিজ্ঞতা এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।   সূত্র: ডব্লিউটিভিআর

৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত
৪৭ বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে সিরিয়া, ভিসা কার্ডে বিল দিলেন আল-শারা

দামেস্কে এক কাপ কফির বিল পরিশোধের ঘটনাটি সিরিয়ার জন্য কেবল একটি সাধারণ কেনাকাটা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক বিচ্ছিন্নতার অবসানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সিরিয়ার সরকারি সূত্র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কের পুরোনো শহরের একটি ক্যাফেতে ভিসা কার্ড ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ সাফওয়াত রাসলান।   এর ঠিক আগে, ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্তির অবস্থান থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, এর ফলে ওই তালিকার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো আর সিরিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে না।   ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে দেশটির ব্যাংক ও ব্যবসাগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে দীর্ঘদিন নানা বাধার মুখে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো ভিসা ও মাস্টারকার্ডের আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন চালু হওয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার সিরিয়ায় এই দুই বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রথম আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন সম্পন্ন হয়। ভিসা স্থানীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে, আর মাস্টারকার্ডও নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লেনদেন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে।   সিরিয়ায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম এর আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের কার্ডে বিল পরিশোধকে দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই ঘটনাকে আর্থিক খাতের জন্য নতুন শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সিরিয়ার ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় সিরিয়ার পূর্ণাঙ্গ পুনঃসংযোগ নির্ভর করবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা দ্রুত পুনর্গঠিত হয় তার ওপর।   সিরিয়ার নতুন সরকার অবশ্য এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশটির লক্ষ্য এখন দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।   একটি কফির বিল দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতীকী লেনদেন তাই সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর দেশটির নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও আন্তর্জাতিক কার্ড ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: রয়টার্স, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, আল জাজিরা ও ইউরোনিউজ।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত৪৭ বছরের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়ে নতুন যুগে প্রবেশ করছে সিরিয়ার অর্থনীতি। ছবি: সংগৃহীত
৪৭ বছর পর বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার পথে সিরিয়া, ভিসা কার্ডে বিল দিলেন আল-শারা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ০:৮

দামেস্কে এক কাপ কফির বিল পরিশোধের ঘটনাটি সিরিয়ার জন্য কেবল একটি সাধারণ কেনাকাটা নয়, বরং দীর্ঘদিনের আর্থিক বিচ্ছিন্নতার অবসানের প্রতীক হয়ে উঠেছে। সিরিয়ার সরকারি সূত্র প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কের পুরোনো শহরের একটি ক্যাফেতে ভিসা কার্ড ব্যবহার করে বিল পরিশোধ করছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোহাম্মদ সাফওয়াত রাসলান।   এর ঠিক আগে, ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র’ হিসেবে তালিকাভুক্তির অবস্থান থেকে সরিয়ে নেয়। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের বৈদেশিক সম্পদ নিয়ন্ত্রণ দপ্তর জানিয়েছে, এর ফলে ওই তালিকার সঙ্গে যুক্ত নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞাগুলো আর সিরিয়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য থাকবে না।   ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্তকে সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্নতার কারণে দেশটির ব্যাংক ও ব্যবসাগুলো আন্তর্জাতিক লেনদেনে দীর্ঘদিন নানা বাধার মুখে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের পর আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সিরিয়ার সম্পর্ক পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।   এই পরিবর্তনের সবচেয়ে দৃশ্যমান দিকগুলোর একটি হলো ভিসা ও মাস্টারকার্ডের আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন চালু হওয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, বুধবার সিরিয়ায় এই দুই বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কের প্রথম আন্তর্জাতিক কার্ড লেনদেন সম্পন্ন হয়। ভিসা স্থানীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছে, আর মাস্টারকার্ডও নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লেনদেন গ্রহণের ব্যবস্থা চালু করেছে।   সিরিয়ায় ভিসা ও মাস্টারকার্ডের কার্যক্রম এর আগে ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল। ফলে প্রেসিডেন্টের কার্ডে বিল পরিশোধকে দেশটির বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় ফেরার একটি প্রতীকী মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। সিরিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও এই ঘটনাকে আর্থিক খাতের জন্য নতুন শুরুর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সিরিয়ার ওপর থাকা সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা একসঙ্গে উঠে গেছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী ও কার্যক্রমের বিরুদ্ধে কিছু নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় সিরিয়ার পূর্ণাঙ্গ পুনঃসংযোগ নির্ভর করবে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, নিয়ন্ত্রক কাঠামো, নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক কতটা দ্রুত পুনর্গঠিত হয় তার ওপর।   সিরিয়ার নতুন সরকার অবশ্য এই পরিবর্তনকে অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের বড় সুযোগ হিসেবে দেখছে। প্রেসিডেন্ট আল-শারা যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। দেশটির লক্ষ্য এখন দীর্ঘ যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে অবকাঠামো পুনর্গঠন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা।   একটি কফির বিল দিয়ে শুরু হওয়া এই প্রতীকী লেনদেন তাই সিরিয়ার অর্থনীতির জন্য বড় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে। দীর্ঘ সময় পর দেশটির নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবারও আন্তর্জাতিক কার্ড ও অর্থপ্রদানের ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তবে এই পরিবর্তন কত দ্রুত বাস্তব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।   সূত্র: রয়টার্স, মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়, আল জাজিরা ও ইউরোনিউজ।

নেপালের নুয়াকোটে বন্যার পর কাদায় ঢেকে গেছে ঘরবাড়ি ও আশপাশের এলাকা। ছবি: সংগৃহীত
‘স্ত্রীর হাত ধরে টানছিলাম, কিন্তু কাদার স্রোত তাকে নিয়ে গেল’: নেপালের বন্যা নিয়ে বৃদ্ধের হৃদয়বিদারক বর্ণনা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ২২:১৩

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি, সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। এর মধ্যেই ৬৮ বছর বয়সী কেশব প্রসাদ বারালের বেঁচে ফেরার গল্পটি সামনে এসেছে আরও এক করুণ বাস্তবতা নিয়ে। নিজের চোখের সামনে কাদার স্রোতে স্ত্রীকে হারিয়েছেন তিনি। চার ঘণ্টা পর হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হলেও এখনো স্ত্রীর কোনো সন্ধান পাননি এই বৃদ্ধ।   নেপালের নুয়াকোট জেলার বাসিন্দা কেশব গত বুধবার বাড়িতে ছিলেন। হঠাৎ পাহাড়ের দিক থেকে প্রবল গতিতে কাদা, পানি ও পাথরের স্রোত নেমে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেই স্রোত ঢুকে পড়ে তার বাড়িতে। কেশব তখন স্ত্রীকে নিয়ে ঘরের উঁচু অংশে ওঠার চেষ্টা করেন। রয়টার্সকে দেওয়া বর্ণনায় তিনি বলেন, কাদার স্রোত যখন বাড়ির ভেতরে ঢুকতে শুরু করে, তখন তিনি স্ত্রীর হাত ধরে তাকে বারান্দার দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই স্রোতের শক্তি তাদের আলাদা করে দেয়। স্ত্রী তার হাত থেকে ছিটকে কাদার নিচে হারিয়ে যান।   চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর একটি হেলিকপ্টার কেশবকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু স্ত্রীকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেশবের ভাষায়, তিনি এখনো কাদার নিচেই কোথাও আছেন এবং তার বেঁচে থাকার আশা নেই। কেশবের এই বর্ণনা নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। বুধবার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় পাহাড়ধসের সঙ্গে প্রবল বন্যা শুরু হয়। ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও কাদার স্রোত বিভিন্ন জনপদে ছড়িয়ে পড়ে। বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের পাশাপাশি পর্যটন ও তীর্থযাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পথও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের কারণ হিসেবে পাহাড়ি এলাকায় বরফ ও হিমবাহ ধসের কথা বলা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, হিমবাহের একটি অংশ ধসে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও মাটি নিচের দিকে নেমে আসায় এই ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তবে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহ এখনো চলছে। দুর্যোগের পর উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে, দেশটিতে শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৬৫টি মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছে রেডিও নেপাল। একই সময়ে নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, ৫৭৯ পর্যটকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। তাদের মধ্যে নেপালি ও বিদেশি পর্যটক উভয়েই রয়েছেন।   নিখোঁজদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক রয়েছেন। ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, মালয়েশিয়া, কানাডাসহ দুই ডজনের বেশি দেশের পর্যটকদের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। সীমান্তের অপর পাশে চীনের তিব্বতের গিরং এলাকায়ও শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্যোগের পর উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতুর কারণে। নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্যায় বহু সড়ক ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দুর্গম এলাকায় আটকে পড়াদের কাছে পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।   এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে রাজধানী কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতেও ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা। কেউ আহত স্বজনের খোঁজ করছেন, আবার কেউ নিখোঁজ স্বজনের কোনো তথ্য পাওয়ার আশায় সরকারি তালিকা ও উদ্ধারকেন্দ্রগুলোতে যোগাযোগ করছেন। কেশব প্রসাদ বারালের গল্প তাই শুধু একজন মানুষের বেঁচে ফেরার কাহিনি নয়। এটি কয়েক মুহূর্তের একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ কীভাবে একটি পরিবারের জীবন পুরোপুরি বদলে দিতে পারে, তারও নির্মম উদাহরণ। স্ত্রীকে বাঁচানোর শেষ চেষ্টা করেও তাকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। নিজে উদ্ধার হয়ে হাসপাতালে পৌঁছালেও এখনো অপেক্ষা করছেন এমন একটি খবরের জন্য, যা হয়তো আর কখনো আসবে না।   সূত্র: রয়টার্স, এএফপি, রেডিও নেপাল।

গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলি
গাজায় পানি সংগ্রহে যাওয়া শিশুদের লক্ষ্য করে ড্রোন থেকে গুলির অভিযোগ
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৮:৩

গাজার উত্তরাঞ্চলের বেইত লাহিয়ায় পানি সংগ্রহ করতে যাওয়া ফিলিস্তিনি শিশুদের লক্ষ্য করে একটি ইসরায়েলি সামরিক কোয়াডকপ্টার থেকে গুলি চালানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকালে পানি বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, শিশুরা ট্রলিতে জেরিক্যান নিয়ে পানি সংগ্রহ করছিল। এ সময় আকাশে থাকা কোয়াডকপ্টারটি তাদের দিকে গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ করা হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   বেইত লাহিয়া উত্তর গাজার অন্যতম সংঘাতপ্রবণ এলাকা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও সেখানে ড্রোন ও সামরিক বাহিনীর গুলিতে বেসামরিক মানুষ হতাহত হওয়ার একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। গত ২১ আগস্ট বেইত লাহিয়ায় একটি বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রের দিকে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে আহত ১৩ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর পরে মারা যায় বলে চিকিৎসা সূত্র জানিয়েছিল।   গাজায় দীর্ঘদিনের সংঘাতের কারণে নিরাপদ পানি পাওয়াও সাধারণ মানুষের জন্য বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপ, বাস্তুচ্যুতি এবং পানি ও স্যানিটেশন অবকাঠামোর ক্ষতির কারণে গাজায় পানিবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।   পানি সংগ্রহের মতো দৈনন্দিন ও মৌলিক প্রয়োজন মেটাতেও বেসামরিক মানুষকে ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হচ্ছে বলে বিভিন্ন মানবিক সংস্থা ও স্থানীয় সূত্রের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। শিশুদের পানি সংগ্রহের সময় গুলি চালানোর এই অভিযোগ সেই ঝুঁকিরই নতুন উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে ঘটনার স্বাধীনভাবে পূর্ণাঙ্গ যাচাই এখনো সম্ভব হয়নি।

ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশ
অ্যাসাইলামপ্রার্থীদের জন্য হোটেল ব্যবহার কমাচ্ছে যুক্তরাজ্য, ছোট নৌকায় পারাপারেও নিয়ন্ত্রণ
তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: আগস্ট ২৭, ২০২৬ ৭:৫৫

যুক্তরাজ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা গত এক বছরে প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। একই সময়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংখ্যাও কমেছে। নতুন পরিসংখ্যানের বরাতে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, সরকার আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা কমিয়ে বড় আবাসনকেন্দ্র ও সাবেক সামরিক স্থাপনায় তাদের সরিয়ে নিচ্ছে।   সরকারি হিসাবে, জুনে প্রায় ১৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থী হোম অফিস পরিচালিত হোটেলগুলোতে ছিলেন। এক বছর আগে এই সংখ্যা ছিল প্রায় দ্বিগুণ। জুনের শেষ দিকে যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছিল, হোটেলে আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ২০২৩ সালে হোটেলগুলোতে প্রায় ৫৬ হাজার আশ্রয়প্রার্থী ছিলেন। জুন ২০২৬-এ এ সংখ্যা প্রায় ২১ হাজারে নেমে এসেছিল।    হোটেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে সরকার সাবেক সামরিক ব্যারাকসহ বড় আবাসনকেন্দ্র ব্যবহারের দিকে যাচ্ছে। পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তির বসবাসের উপযোগী বাড়ি, অর্থাৎ এইচএমওতেও আশ্রয়প্রার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। জুনের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেলের সংখ্যা ১৭০টির নিচে নেমে আসে, যেখানে আগের সরকারের সময় এই সংখ্যা প্রায় ৪০০-তে পৌঁছেছিল।    সরকারের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ ২০২৬-এর শেষে যুক্তরাজ্যে মোট ৯৮ হাজার মানুষ আশ্রয় সহায়তা পাচ্ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২১ হাজার ছিলেন হোটেলে। এক বছর আগের তুলনায় হোটেলে থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৩৫ শতাংশ কমেছিল।    এদিকে ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে প্রবেশের সংখ্যাও কমেছে। ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত ১৫ হাজার ৮৯৭ জন ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৪৪ শতাংশ কম বলে বিবিসির সর্বশেষ তথ্য জানিয়েছে।    হাউস অব কমন্স লাইব্রেরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এক বছরে প্রায় ৩৯ হাজার মানুষ ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছিলেন। ২০১৮ সাল থেকে এ পথে আসা মানুষের ৯৫ শতাংশই পরে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।    যুক্তরাজ্যের হোম সেক্রেটারি শাবানা মাহমুদ বলেছেন, ছোট নৌকায় পারাপার কমলেও সরকার এ বিষয়ে আত্মতুষ্ট নয়। ফ্রান্সের উপকূলে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ বাড়ানো এবং অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে আসার প্রবণতা কমাতে নতুন আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   আশ্রয় ব্যবস্থায় চাপ কমানোর পাশাপাশি সরকার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং যাদের যুক্তরাজ্যে থাকার অধিকার নেই, তাদের ফেরত পাঠানোর ওপরও জোর দিচ্ছে। মার্চ ২০২৬-এর শেষে প্রাথমিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা আশ্রয়প্রার্থীর সংখ্যা ৪৯ হাজারে নেমে আসে, যা এক বছর আগের তুলনায় ৫৫ শতাংশ কম।    তবে আশ্রয়প্রার্থীদের আবাসন নিয়ে বিতর্ক পুরোপুরি শেষ হয়নি। নীতিবিশেষজ্ঞদের মতে, হোটেলে থাকা মানুষের সংখ্যা কমলেও আবেদন নিষ্পত্তি ও আপিল প্রক্রিয়া দ্রুত না হলে অনেক আশ্রয়প্রার্থীকে দীর্ঘ সময় সরকারি আবাসনে থাকতে হতে পারে। অন্যদিকে সরকার বলছে, হোটেলনির্ভর ব্যবস্থা বন্ধ করে আরও স্থায়ী ও কম ব্যয়বহুল আবাসন ব্যবস্থায় যাওয়াই তাদের লক্ষ্য।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.21K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
988 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.10K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
959 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়