বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়স্বাল। শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লি গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকারকে পাঠানো হয়েছিল এবং সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা বার্তাও দেওয়া হয়। জয়স্বাল জানান, ওই বার্তায় দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে কীভাবে আরও গভীর ও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সময় হলে তা জানানো হবে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। জয়স্বাল বলেন, সে সময় সংঘটিত নৃশংসতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবগত এবং এই গণহত্যার বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে ভারত সমর্থন করে। তিনি আরও বলেন, সেই সময়ে লাখো নিরীহ মানুষকে হত্যার পাশাপাশি নারীদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয় এবং অসংখ্য মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী ছিলেন, যা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পথেই থেমে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে ছেড়ে আসা বাসটি সন্ধ্যার দিকে কালিহাতীতে এসে তেল শেষ হয়ে থামে। বাসের কর্মীরা তেল আনতে গেলে যাত্রীরা নিচে নেমে আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী পাশের রেললাইনে গিয়ে বসেন। এ অবস্থায় ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি ট্রেন দ্রুতগতিতে এসে পড়লে পাঁচজন যাত্রী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ট্রেনের চালক হর্ন দিলেও নিহতরা সময়মতো সরে যেতে পারেননি বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নার্গিস (৩৫), তাঁর ছেলে নিরব (১২), দোলা (৩৫), সুলতান (৩৩) ও রিফা (২৩)। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, বাসটি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকে ক্লান্ত হয়ে রেললাইনে বসেছিলেন। হঠাৎ ট্রেন চলে আসায় কেউ সরে যেতে পারলেও কয়েকজন আর উঠতে পারেননি। টাঙ্গাইল রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলটি স্টেশন এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে সরাসরি তদারকি সম্ভব ছিল না। রেললাইনে অবস্থান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা না মানলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে, ঈদকে ঘিরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন।
ইরানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে রাশিয়া সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে ব্যবহার করতে চাইছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভাডিপুল এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান এবং বলেন, জার্মানির অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাডিপুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন আশা করছেন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড থেকে বিশ্বের নজর সরিয়ে দেবে। তবে এই কৌশল সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। রাশিয়া সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজ প্রণালিতে জার্মানি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান ভাডিপুল।
গাজায় চলমান গণহত্যার নৃশংসতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। বাবার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু করিমকে। তার কোমল শরীরে অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও পায়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে লোহার পেরেক। প্যালেস্টাইন টিভির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পৈশাচিক ঘটনাটি উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে আল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে। শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর নিজের জীবিকা ও ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ ইজরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির কবলে পড়েন। ইজরায়েলি সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে এবং সঙ্গে থাকা ১৮ মাসের শিশু করিমসহ সেনা শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে ওসামাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে জেরা ও অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু পাশবিকতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যখন ওসামার চোখের সামনেই তার ছোট্ট শিশুটির ওপর শুরু হয় বর্বরতা। টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক উল্লাস। শিশুটির আর্তচিৎকার ইজরায়েলি সেনাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি, বরং তারা হিংস্র উল্লাসে মেতে ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটিকে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হলেও ওসামা আবু নাসর এখনও ইজরায়েলি হেফাজতেই বন্দি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করিমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমার কারণে সে ঘুমের ঘোরেও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
গাজায় চলমান গণহত্যার নৃশংসতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। বাবার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু করিমকে। তার কোমল শরীরে অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও পায়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে লোহার পেরেক। প্যালেস্টাইন টিভির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পৈশাচিক ঘটনাটি উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে আল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে। শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর নিজের জীবিকা ও ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ ইজরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির কবলে পড়েন। ইজরায়েলি সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে এবং সঙ্গে থাকা ১৮ মাসের শিশু করিমসহ সেনা শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে ওসামাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে জেরা ও অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু পাশবিকতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যখন ওসামার চোখের সামনেই তার ছোট্ট শিশুটির ওপর শুরু হয় বর্বরতা। টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক উল্লাস। শিশুটির আর্তচিৎকার ইজরায়েলি সেনাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি, বরং তারা হিংস্র উল্লাসে মেতে ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটিকে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হলেও ওসামা আবু নাসর এখনও ইজরায়েলি হেফাজতেই বন্দি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করিমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমার কারণে সে ঘুমের ঘোরেও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
রাষ্ট্রীয় পদের মোহ আর প্রটোকলের বেড়াজাল ছিন্ন করে এক অনন্য মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী এমপি। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় এক সাধারণ নাগরিকের দাফন কাজে সরাসরি কবরে নেমে অংশ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) নান্দাইলের জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নে দুটি উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধন শেষে ফিরছিলেন প্রতিমন্ত্রী। ফেরার পথে রাস্তার পাশে একটি দাফন কাজ চলতে দেখে তিনি তাৎক্ষণিক নিজের গাড়ি বহর থামানোর নির্দেশ দেন। কোনো আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি কবরস্থানে চলে যান তিনি। সেখানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিমন্ত্রীর কবরে নেমে মরদেহ শায়িত করার দৃশ্য দেখে বিষ্মিত হন প্রত্যক্ষদর্শীরা। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষ জানান, একজন উচ্চপদস্থ জনপ্রতিনিধির এমন নিরহংকার আচরণ সচরাচর দেখা যায় না। দাফন শেষে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। পদের দাপট ভুলে মাটির মানুষের প্রতি এমন অকৃত্রিম ভালোবাসা বর্তমানে এক বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে রাশিয়ার দাগেস্তান প্রজাতন্ত্র থেকে ইরানে পৌঁছেছে প্রায় ১৫০ টন খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর একটি বিশাল মানবিক সহায়তা চালান। দাগেস্তানের গভর্নর সের্গেই মেলিকভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গভর্নর জানান, এই সহায়তা সামগ্রীগুলো ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে হস্তান্তর করা হবে, যারা পরবর্তীতে এগুলো দেশটির দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দাগেস্তান পরিবহন মন্ত্রণালয়, মাখাচকালায় অবস্থিত রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় এবং ‘পিওর হার্ট’ চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের যৌথ সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আজারবাইজানের আস্তারা সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৩০০ টনেরও বেশি ওষুধ ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে বিশ্বজুড়ে টালমাটাল জ্বালানি বাজার। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে ফিলিপাইনে, যেখানে তেলের দাম এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ডিজেল ও পেট্রোলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে শুক্রবার রাজধানী ম্যানিলাসহ দেশটির প্রধান শহরগুলোতে রাজপথে নেমে এসেছেন শত শত মানুষ। পরিবহন ইউনিয়নগুলোর ডাকা দুই দিনের দেশব্যাপী ধর্মঘটের প্রথম দিনেই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজপথ। বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের অভিমুখে যাত্রা করলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে, যা জীবনযাত্রার ব্যয়কে অসহনীয় পর্যায়ে নিয়ে গেছে। পাঁচ সন্তানের জনক ও স্থানীয় জিপনি চালক মাইকেল ল্যাবোর আর্তনাদ যেন সাধারণ ফিলিপিনোদেরই প্রতিধ্বনি। তিনি বলেন, "সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পর ৫০০ পেসো আয় করি। সন্তানদের স্কুলের খরচ মেটাতেই সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। দিনশেষে খাবার কেনার টাকা থাকছে না। কোম্পানিগুলো কেন প্রতিদিন দাম বাড়াচ্ছে, প্রেসিডেন্টকে এর জবাব দিতে হবে।" ৪৬ বছর বয়সী আরেক চালক অ্যালান জানান, এখন সন্তানদের স্কুলের টিফিন বা হাতখরচ দেওয়ার মতো সামর্থ্যও তার নেই। জ্বালানি সংকটের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে 'জরুরি অবস্থা' ঘোষণা করেছে ফিলিপাইন। প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেছেন, জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা এখন চরম হুমকির মুখে। দেশটির পররাষ্ট্র সচিব মারিয়া তেরেসা লাজারো সিএনএন-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, দেশে বর্তমানে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ দিনের পেট্রোলিয়াম মজুত রয়েছে। উল্লেখ্য, ফিলিপাইনের মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় ৯৮ শতাংশই আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটায় এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ফিলিপাইন এখন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সরকার তেলের মজুতদারি ও কারসাজি ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও সাধারণ মানুষের হাহাকার থামছে না।
বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান বহুমাত্রিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায় ভারত। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়স্বাল। শুক্রবার দিল্লিতে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লি গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের লোকসভার স্পিকারকে পাঠানো হয়েছিল এবং সে সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে একটি শুভেচ্ছা বার্তাও দেওয়া হয়। জয়স্বাল জানান, ওই বার্তায় দুই দেশের সম্পর্ককে ভবিষ্যতে কীভাবে আরও গভীর ও বিস্তৃত করা যায়, সে বিষয়ে ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও সফরের তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে সময় হলে তা জানানো হবে। এ ছাড়া ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর চালানো ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। জয়স্বাল বলেন, সে সময় সংঘটিত নৃশংসতা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অবগত এবং এই গণহত্যার বিচার চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থানকে ভারত সমর্থন করে। তিনি আরও বলেন, সেই সময়ে লাখো নিরীহ মানুষকে হত্যার পাশাপাশি নারীদের ওপর ব্যাপক সহিংসতা চালানো হয় এবং অসংখ্য মানুষ শরণার্থী হয়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ট্রেনে কাটা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত আটটার দিকে উপজেলার ধলাটেংগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রী ছিলেন, যা তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পথেই থেমে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে ছেড়ে আসা বাসটি সন্ধ্যার দিকে কালিহাতীতে এসে তেল শেষ হয়ে থামে। বাসের কর্মীরা তেল আনতে গেলে যাত্রীরা নিচে নেমে আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় কয়েকজন যাত্রী পাশের রেললাইনে গিয়ে বসেন। এ অবস্থায় ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জগামী একটি ট্রেন দ্রুতগতিতে এসে পড়লে পাঁচজন যাত্রী ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। ট্রেনের চালক হর্ন দিলেও নিহতরা সময়মতো সরে যেতে পারেননি বলে জানা গেছে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলার নার্গিস (৩৫), তাঁর ছেলে নিরব (১২), দোলা (৩৫), সুলতান (৩৩) ও রিফা (২৩)। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এক যাত্রী জানান, বাসটি দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকায় অনেকে ক্লান্ত হয়ে রেললাইনে বসেছিলেন। হঠাৎ ট্রেন চলে আসায় কেউ সরে যেতে পারলেও কয়েকজন আর উঠতে পারেননি। টাঙ্গাইল রেলওয়ে ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলটি স্টেশন এলাকা থেকে দূরে হওয়ায় সেখানে সরাসরি তদারকি সম্ভব ছিল না। রেললাইনে অবস্থান করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অসতর্কতার কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। রেলের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন, রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় সতর্কতা না মানলে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এদিকে, ঈদকে ঘিরে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে দেশে ৩৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৪ জন নিহত হয়েছেন।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরানকে হামলার লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে রাশিয়া সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ভাডিপুল। তিনি দাবি করেন, ইউক্রেনে চলমান রুশ হামলা থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরাতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে ব্যবহার করতে চাইছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভাডিপুল এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান এবং বলেন, জার্মানির অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ভাডিপুলের ভাষ্য অনুযায়ী, পুতিন আশা করছেন মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ইউক্রেনে রাশিয়ার কর্মকাণ্ড থেকে বিশ্বের নজর সরিয়ে দেবে। তবে এই কৌশল সফল হতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি জোর দেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি থেকে স্পষ্ট যে ইউক্রেন যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। রাশিয়া সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে তথ্য দিয়ে ইরানকে সহায়তা করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হরমুজ প্রণালিতে জার্মানি সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আগ্রহী বলেও জানান ভাডিপুল।
গাজায় চলমান গণহত্যার নৃশংসতা যেন সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে। এবার এক ১৮ মাসের দুগ্ধপোষ্য শিশুর ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর মধ্যযুগীয় বর্বরতার লোমহর্ষক চিত্র সামনে এসেছে। বাবার কাছ থেকে স্বীকারোক্তি আদায়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে নিষ্পাপ শিশু করিমকে। তার কোমল শরীরে অসংখ্য সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া ছাড়াও পায়ে গেঁথে দেওয়া হয়েছে লোহার পেরেক। প্যালেস্টাইন টিভির সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই পৈশাচিক ঘটনাটি উঠে এসেছে। ঘটনাটি ঘটে আল মাঘাজি শরণার্থী শিবিরে। শিশুটির বাবা ওসামা আবু নাসর নিজের জীবিকা ও ব্যবসা নিয়ে আলোচনা করার সময় হঠাৎ ইজরায়েলি সেনা ও হামাস যোদ্ধাদের মধ্যে গোলাগুলির কবলে পড়েন। ইজরায়েলি সেনারা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক করে এবং সঙ্গে থাকা ১৮ মাসের শিশু করিমসহ সেনা শিবিরে নিয়ে যায়। সেখানে ওসামাকে সম্পূর্ণ নগ্ন করে জেরা ও অকথ্য নির্যাতন শুরু হয়। কিন্তু পাশবিকতার চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করে যখন ওসামার চোখের সামনেই তার ছোট্ট শিশুটির ওপর শুরু হয় বর্বরতা। টানা ১০ ঘণ্টা ধরে চলে এই পৈশাচিক উল্লাস। শিশুটির আর্তচিৎকার ইজরায়েলি সেনাদের মনে বিন্দুমাত্র দয়া উদ্রেক করেনি, বরং তারা হিংস্র উল্লাসে মেতে ওঠে। নির্যাতনের পর শিশুটিকে রেডক্রস সোসাইটির মাধ্যমে পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হলেও ওসামা আবু নাসর এখনও ইজরায়েলি হেফাজতেই বন্দি আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, করিমের শরীরে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং মানসিক ট্রমার কারণে সে ঘুমের ঘোরেও যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠছে। বিশ্বজুড়ে এই অমানবিক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে।
বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে রাশিয়ার দাগেস্তান প্রজাতন্ত্র থেকে ইরানে পৌঁছেছে প্রায় ১৫০ টন খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর একটি বিশাল মানবিক সহায়তা চালান। দাগেস্তানের গভর্নর সের্গেই মেলিকভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গভর্নর জানান, এই সহায়তা সামগ্রীগুলো ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে হস্তান্তর করা হবে, যারা পরবর্তীতে এগুলো দেশটির দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে বিতরণ করবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দাগেস্তান পরিবহন মন্ত্রণালয়, মাখাচকালায় অবস্থিত রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যালয় এবং ‘পিওর হার্ট’ চ্যারিটি ফাউন্ডেশনের যৌথ সমন্বয়ে সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এর আগে রাশিয়ার জরুরি পরিস্থিতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আজারবাইজানের আস্তারা সীমান্ত দিয়ে প্রায় ৩০০ টনেরও বেশি ওষুধ ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাশিয়ার এই ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্বের শীর্ষ ধনী দেশগুলোর জোট জি-৭। ফ্রান্সের আয়োজনে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বিশেষ বৈঠক থেকে অবিলম্বে বেসামরিক জানমালের ওপর হামলা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোটের সদস্য দেশগুলো এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, যুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে সাধারণ মানুষ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। বিশেষ করে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নিরপরাধ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে দেশগুলো একমত হয়েছে। বিবৃতিতে বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ 'হরমুজ প্রণালী' নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। বিশ্ব বাজারে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে নিরাপদ এবং শুল্কমুক্ত জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা বিশ্ব অর্থনীতির নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি এবং জাপানসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই প্রভাবশালী জোট মনে করে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর ওপরও মারাত্মকভাবে পড়বে। তাই বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।