সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও টেকসই করা। চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয় বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং বড় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা। তবে তিন দেশই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ব্যাখ্যা চুক্তিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো ‘সামরিক অক্ষ’ তৈরি করা নয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি Strategic Mutual Defense Agreement স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল। নতুন মক্কা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো পেয়েছে। চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নজর রাখছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষ্য অনুযায়ী এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো; আর সৌদি আরব স্পষ্টভাবেই বলছে, এর লক্ষ্য কোনো নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা নয়। অর্থাৎ, মক্কা থেকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হলেও এর প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তির অধীনে তারা কতটা যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে চলতি বছর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে দাবানল। ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যজুড়ে ৩ লাখের বেশি একর জমি আগুনে পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেস। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কিআইআরও ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুড়ে যাওয়া এই বিপুল এলাকা মূলত অঙ্গরাজ্যের সুরক্ষিত জমির অন্তর্ভুক্ত। দাবানলের বিস্তার নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশের পর অঙ্গরাজ্যজুড়ে চলমান আগুনের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ওয়াশিংটনের বিভিন্ন এলাকায় গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া, শুষ্ক উদ্ভিদ এবং আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার মতো পরিস্থিতি দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যের পূর্বাঞ্চলে বড় পরিসরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। ওয়াশিংটন ডিপার্টমেন্ট অব ন্যাচারাল রিসোর্সেসের তথ্য অনুযায়ী, দাবানল মোকাবিলায় দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা, বনাঞ্চলের ঝুঁকি কমানো এবং আগুনের বিস্তার ঠেকাতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম চালানো হয়। অঙ্গরাজ্যটির জন্য দাবানল নতুন কোনো ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওয়াশিংটনে বড় আকারের একাধিক দাবানল হয়েছে। ২০২৪ সালেও অঙ্গরাজ্যজুড়ে প্রায় ৩ লাখ ৭ হাজার ৭০০ একর এলাকায় দাবানলের প্রভাব পড়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ১ লাখ ২৩ হাজার ২০০ একর ছিল বনাঞ্চল। তবে ২০২৬ সালের মাত্র আগস্টেই ৩ লাখ একরের বেশি জমি পুড়ে যাওয়ার তথ্য চলতি দাবানল মৌসুমের তীব্রতা তুলে ধরছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে আগুনের ধোঁয়া, বাতাসের মান এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। দাবানলের ঝুঁকি মোকাবিলায় ওয়াশিংটন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বন ব্যবস্থাপনা, আগুনের ঝুঁকি কমানো এবং দ্রুত জরুরি সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। অঙ্গরাজ্যের বন ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় এসব উদ্যোগের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও আগুনের সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে সোমবার, ১০ আগস্ট, একসঙ্গে তীব্র গরম ও ঝড়-বৃষ্টির ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্থানীয় আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনের দ্বিতীয়ার্ধে এবং সন্ধ্যার দিকে নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকায় বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির কারণে সোমবারকে সতর্কতামূলক আবহাওয়ার দিন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড গরমের কারণে তাপমাত্রাজনিত অনুভূত তাপমাত্রা প্রায় ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি উঠতে পারে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় বাইরে আরও বেশি গরম অনুভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিকেল থেকে বজ্রঝড় শুরু হলে স্বল্প সময়ে ভারী বৃষ্টি, দমকা বাতাস এবং স্থানীয়ভাবে জলাবদ্ধতার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল ও দুর্বল নিষ্কাশনব্যবস্থার এলাকাগুলোতে হঠাৎ পানি জমার ঝুঁকি রয়েছে। নিউইয়র্কের আবহাওয়া সতর্কতা ব্যবস্থাতেও সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তাপ-সংক্রান্ত সতর্কতা কার্যকর থাকার তথ্য রয়েছে। নিউইয়র্কবাসীকে দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে অপ্রয়োজনে বাইরে না থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান করা এবং দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে অবস্থান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাইরে থাকলে ঝড়ের পূর্বাভাস সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট দেখার পাশাপাশি বজ্রপাত শুরু হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ রয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি শুধু নিউইয়র্ক সিটিতে সীমাবদ্ধ নয়; নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি ও কানেকটিকাট মিলিয়ে বৃহত্তর ট্রাই-স্টেট অঞ্চলেও ঝড়ের প্রভাব পড়তে পারে।
‘অলস’ বা ‘কুঁড়ে’ মানুষকে সাধারণত কেউ খুব একটা পছন্দ করেন না। বরং কাজ ফেলে রাখার জন্য তাদের প্রায়ই শুনতে হয় নানা কথা। কিন্তু জানেন কি, অলসতারও রয়েছে একটি বিশেষ দিন! আজ ১০ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে National Lazy Day বা জাতীয় অলস দিবস। দিনটি মূলত কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিয়ে আরাম করা এবং নিজের জন্য সময় কাটানোর একটি মজার উপলক্ষ। তাই যারা সারাবছর অলসতার জন্য বকুনি খান, তাদের জন্য আজ যেন একটু স্বস্তির দিন। ইচ্ছা করলে ঘুমিয়ে, শুয়ে-বসে, সিনেমা দেখে কিংবা কোনো কাজ না করেই দিনটি কাটিয়ে দিতে পারেন। ধারণা করা হয়, কাজের চাপ ও ব্যস্ত জীবন থেকে মানুষকে সাময়িক বিরতি দেওয়ার ভাবনা থেকেই দিবসটির প্রচলন। তবে ঠিক কে বা কারা, কবে এই দিবসটি চালু করেছিলেন—এ নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। আর এখানেই দিবসটির সবচেয়ে মজার দিক! মজা করে অনেকে বলেন, হয়তো যারা National Lazy Day চালু করেছিলেন, তারা এতটাই অলস ছিলেন যে দিবসটি চালুর ইতিহাস লিখে রাখতেও আলসেমি করেছিলেন! তবে মজার এই দিবসের পেছনে একটি বার্তাও রয়েছে—সবসময় কাজের পেছনে ছুটে চলার পাশাপাশি মাঝে মাঝে নিজেকে বিশ্রাম দেওয়াও প্রয়োজন। তাই আজ যদি আপনার কাজের তালিকা একটু লম্বা হয়, তাহলে সব কাজ একেবারে বাদ না দিলেও অন্তত কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখতেই পারেন। কারণ আজকের দিনটা যে অলসদের!
ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় মানুষের স্থানান্তর সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম আলোচিত অভ্যন্তরীণ অভিবাসন প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, তুলনামূলক বেশি রাজ্য আয়কর এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগের কারণে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পরিবার ক্যালিফোর্নিয়া ছেড়ে অ্যারিজোনায় বসতি গড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারি ব্যুরোর জনসংখ্যা ও অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের তথ্যেও দুই রাজ্যের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। একদিকে ক্যালিফোর্নিয়া জনসংখ্যা হারাচ্ছে, অন্যদিকে অ্যারিজোনা দ্রুত জনসংখ্যা বাড়ানো রাজ্যগুলোর একটি হয়ে উঠছে। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এগুলো হলো রাজ্য আয়কর, বাড়ির দাম এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ। প্রথম কারণ, আয়করের বড় পার্থক্য ক্যালিফোর্নিয়ায় ব্যক্তিগত আয়কর আয়ের স্তর অনুযায়ী ১ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৩ শতাংশ পর্যন্ত। এর পাশাপাশি ১০ লাখ ডলারের বেশি করযোগ্য আয়ের ওপর অতিরিক্ত ১ শতাংশ কর রয়েছে। ফলে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রাজ্য আয়করের হার দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ। অন্যদিকে, অ্যারিজোনায় ২০২৩ সাল থেকে ব্যক্তিগত আয়করের সমতল হার ২ দশমিক ৫ শতাংশ। ফলে উচ্চ আয়ের মানুষের জন্য দুই রাজ্যের আয়করের ব্যবধান বেশ বড়। তবে শুধু আয়কর দিয়েই একজন মানুষের মোট করের বোঝা নির্ধারিত হয় না। বাড়ির দাম, সম্পত্তি কর, বিক্রয় কর, বাড়ির বীমা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য জীবনযাত্রার ব্যয়ও হিসাব করতে হয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় কম রাজ্য আয়কর অ্যারিজোনাকে অনেক পরিবারের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। দ্বিতীয় কারণ, তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আবাসন ব্যয়। বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস, সান ডিয়েগো, অরেঞ্জ কাউন্টি ও সান ফ্রান্সিসকো বে এলাকার মতো ব্যয়বহুল অঞ্চলের তুলনায় অ্যারিজোনার অনেক এলাকায় একই বাজেটে বড় বাড়ি কেনা সম্ভব। রিয়েল এস্টেট কোম্পানি রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার বড় শহর ও মহানগর এলাকাগুলোতে বাড়ির দাম দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক বেশি। বিপরীতে ফিনিক্স ও টুসনের মতো অ্যারিজোনার বড় শহরগুলোতে তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার সুযোগ রয়েছে। তবে দুই রাজ্যের বাড়ির দাম সরাসরি তুলনা করার সময় শহর ও এলাকার পার্থক্য বিবেচনায় নিতে হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার সব এলাকার বাড়ির দাম যেমন সমান নয়, তেমনি অ্যারিজোনার সব এলাকাও সস্তা নয়। তারপরও ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় বহু পরিবারকে অন্য রাজ্যে যাওয়ার কথা ভাবতে বাধ্য করছে। অ্যারিজোনায় তুলনামূলক কম দামে বাড়ি কেনার পাশাপাশি অনেক পরিবার কম মাসিক ঋণের কিস্তির সুবিধাও পাচ্ছে। তৃতীয় কারণ, প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে নতুন কর্মসংস্থান অ্যারিজোনার আকর্ষণ শুধু কম আবাসন ব্যয় বা কম করের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। রাজ্যটি দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও অর্ধপরিবাহী শিল্পকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। তাইওয়ানের অর্ধপরিবাহী নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি অ্যারিজোনার ফিনিক্স এলাকায় বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। কোম্পানিটি সেখানে তিনটি কারখানা নির্মাণের জন্য ৬৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে প্রথম কারখানায় ৪ ন্যানোমিটার প্রযুক্তিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়েছে। পরবর্তী কারখানাগুলো চালু হলে অ্যারিজোনায় উন্নত প্রযুক্তির অর্ধপরিবাহী উৎপাদন আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি জায়ান্ট ইন্টেলও অ্যারিজোনার চ্যান্ডলারে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে দুটি নতুন অর্ধপরিবাহী কারখানা নির্মাণের প্রকল্প নিয়েছে। এসব বিনিয়োগের ফলে শুধু কারখানায় সরাসরি চাকরি নয়, প্রকৌশল, নির্মাণ, সরবরাহ ব্যবস্থা, পরিবহন, প্রযুক্তি ও অন্যান্য সহযোগী খাতেও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়া ছাড়ার প্রবণতা অবশ্য নতুন নয় ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অন্য রাজ্যে মানুষের চলে যাওয়ার প্রবণতা কয়েক বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে। উচ্চ আবাসন ব্যয়, জীবনযাত্রার খরচ, কর এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের অবস্থান পরিবর্তন এর পেছনে ভূমিকা রাখছে। অন্যদিকে অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নেভাদা ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যগুলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কারণে নতুন বাসিন্দাদের আকর্ষণ করছে। তবে অ্যারিজোনায় মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানেও আবাসনের চাহিদা ও দাম বাড়ছে। পানি, পরিবহন, বিদ্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য অবকাঠামোর ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। ফলে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে শুধু কম কর বা কম বাড়ির দামের হিসাব দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায় না। পরিবারের আয়, চাকরির ধরন, দূর থেকে কাজের সুযোগ, সন্তানদের শিক্ষা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ আর্থিক পরিকল্পনাও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তারপরও সাম্প্রতিক বছরগুলোর অভ্যন্তরীণ জনসংখ্যা স্থানান্তরের চিত্রে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে অ্যারিজোনার দিকে মানুষের আগমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা হিসেবে উঠে এসেছে। ক্যালিফোর্নিয়ার উচ্চ আবাসন ব্যয় ও করের চাপের বিপরীতে অ্যারিজোনার তুলনামূলক কম রাজ্য আয়কর, আবাসনের সুযোগ এবং প্রযুক্তি খাতে নতুন বিনিয়োগ অনেক পরিবারের কাছে নতুন করে বসতি গড়ার সম্ভাবনা তৈরি করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় লটারি 'পাওয়ারবল'-এর জ্যাকপট পুরস্কারের অঙ্ক ফুলেফেঁপে ৯০০ মিলিয়ন বা ৯০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গত শনিবারের ড্রতে কেউই চূড়ান্ত বিজয়ী না হওয়ায় সোমবারের (১০ আগস্ট) ড্রয়ের জন্য এই পুরস্কারের পরিমাণ বেড়ে ৯০ কোটি ৫ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি পাওয়ারবলের ইতিহাসে অষ্টম বৃহত্তম জ্যাকপট। তবে লটারি জেতার এই হাতছানি যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, পরিসংখ্যান বলছে এই পুরস্কার জেতার চেয়ে একজন মানুষের দুবার বজ্রপাতের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। পাওয়ারবল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, সোমবারের ড্রতে যদি কেউ এই বিপুল অঙ্কের জ্যাকপট জিতে নেন, তবে তিনি দুটি উপায়ে অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন। বিজয়ী চাইলে পরবর্তী ২৯ বছর ধরে ৩০টি কিস্তিতে পুরো অর্থ নিতে পারবেন, অথবা এককালীন নগদ অর্থ হিসেবে কর দেওয়ার আগে ৩৯ কোটি ২০ লাখ ডলার (৩৯২ মিলিয়ন) তুলে নিতে পারবেন। জানা গেছে, গত ২ মে-এর পর থেকে পাওয়ারবলের জ্যাকপট কেউ জিততে পারেননি। টানা কয়েক মাস ড্রগুলোতে বিজয়ী না থাকায় পুরস্কারের অঙ্ক ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। এর আগে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার এক ব্যক্তি পাওয়ারবলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২.০৪ বিলিয়ন বা ২০৪ কোটি ডলার জিতে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। পাঁচটি সাদা বল এবং একটি পাওয়ারবল মিলিয়ে জ্যাকপট জেতার সম্ভাবনা রীতিমতো শূন্যের কাছাকাছি। সংখ্যায় হিসাব করলে যা ২৯ কোটি ২২ লাখ ১ হাজার ৩৩৮ জনের মধ্যে মাত্র ১ জনের। ভবিষ্যদ্বাণী এবং পরিসংখ্যান নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠান ‘অডসরেফারেন্স’-এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, পাওয়ারবল জ্যাকপট জেতার চেয়ে মানুষের বজ্রপাতের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা ১৯ হাজার গুণ বেশি। অন্যান্য তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একজন মানুষের জীবদ্দশায় লটারি জেতার চেয়ে দুইবার বজ্রপাতের শিকার হওয়া, প্রাকৃতিকভাবে একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দেওয়া বা উল্কাপিন্ডের আঘাত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। শনিবারের ড্রতে মূল জ্যাকপটের ৮৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার কেউ না জিতলেও কয়েকজন ভাগ্যবান মোটা অঙ্কের অর্থ জিতেছেন। পাওয়ারবল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টেক্সাসের এক বাসিন্দা পাঁচটি সাদা বল এবং ‘পাওয়ার প্লে’ মিলিয়ে ২০ লাখ ডলার জিতেছেন। এছাড়া নিউইয়র্কসহ অন্যান্য স্থানে বিক্রি হওয়া আরও চারটি টিকিটে পাঁচটি সাদা বল মিলে যাওয়ায় প্রত্যেকে ১০ লাখ ডলার করে পুরস্কার পেয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি সোমবার, বুধবার এবং শনিবার পাওয়ারবলের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তী ড্র সোমবার (১০ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় সময় রাত ১১টার ঠিক আগে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
চীনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিয়ারস্টন প্রকল্পসহ অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতের কয়েকটি প্রকল্পে মার্কিন আগ্রহ বাড়ছে। সিয়ারস্টন প্রকল্পটি নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে স্ক্যান্ডিয়ামের বড় মজুত রয়েছে। স্ক্যান্ডিয়াম বিমান, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে অস্ট্রেলিয়ার সানরাইজ এনার্জি মেটালস। প্রকল্পটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চাহিদার কারণে। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সিয়ারস্টন প্রকল্প থেকে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১৫ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড কেনার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করে। প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান হতে পারে এই পরিমাণ। স্ক্যান্ডিয়াম বর্তমানে মূলত চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে স্ক্যান্ডিয়াম খনন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার প্রকল্পগুলো ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। সিয়ারস্টন প্রকল্পে উচ্চ বিশুদ্ধতার স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৬০ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব কমানো এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সিয়ারস্টনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ডাব্বো অঞ্চলের বিরল মাটি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্প নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিমান ও উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ এখন শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ট্রেলিয়া হয়ে উঠছে চীনের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নির্ভরযোগ্য উৎস গড়ে তোলার অন্যতম অংশীদার।
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি কোনো সামরিক অক্ষ বা ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয় বলে জানিয়েছে রিয়াদ। সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য, চুক্তিটির মূল লক্ষ্য হলো তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ানো, যৌথ প্রতিরোধ সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও টেকসই করা। চুক্তিটি কোনো পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কিত নয় বলে সৌদি পক্ষ জানিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিতিতে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এর ফলে কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশও যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আওতায় আসবে। এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ, সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি, তুরস্ক ন্যাটোর সদস্য এবং বড় প্রতিরক্ষা শিল্পের অধিকারী, আর পাকিস্তানের রয়েছে বড় সামরিক বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা। তবে তিন দেশই চুক্তিটিকে প্রতিরক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে। তুরস্কের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে পরিচালিত নয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো কিছু ব্যাখ্যা চুক্তিটির প্রকৃত উদ্দেশ্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করছে। চুক্তিটি এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ফলে নতুন এই প্রতিরক্ষা কাঠামোকে অনেকেই আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সম্ভাব্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। তবে সৌদি আরবের বক্তব্য হলো, এর উদ্দেশ্য নতুন কোনো ‘সামরিক অক্ষ’ তৈরি করা নয়। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের সামরিক সম্পর্ক নতুন নয়। ২০২৫ সালে দুই দেশ একটি Strategic Mutual Defense Agreement স্বাক্ষর করেছিল, যেখানে এক দেশের ওপর আগ্রাসনকে উভয়ের বিরুদ্ধে আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনার নীতি রাখা হয়েছিল। নতুন মক্কা চুক্তিতে তুরস্ক যুক্ত হওয়ায় সেই প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এখন ত্রিপক্ষীয় কাঠামো পেয়েছে। চুক্তির সম্ভাব্য প্রভাব শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। তিন দেশের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ, সমন্বয়, প্রতিরক্ষা শিল্প, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সহযোগিতা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের অভিজ্ঞতা সৌদি আরবের নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে, চুক্তির ভবিষ্যৎ প্রভাব নিয়ে ভারতসহ আঞ্চলিক শক্তিগুলোও নজর রাখছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উত্তেজনার কারণে তুরস্ক ও সৌদি আরবের সঙ্গে ইসলামাবাদের এই নতুন প্রতিরক্ষা কাঠামোকে দিল্লি কীভাবে মূল্যায়ন করে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এখনই এটিকে ন্যাটোর মতো পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোট হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। চুক্তির প্রকাশ্য ভাষ্য অনুযায়ী এটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাঠামো; আর সৌদি আরব স্পষ্টভাবেই বলছে, এর লক্ষ্য কোনো নতুন সামরিক অক্ষ তৈরি করা নয়। অর্থাৎ, মক্কা থেকে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হলেও এর প্রকৃত কৌশলগত প্রভাব কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে চুক্তির অধীনে তারা কতটা যৌথ সামরিক পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাস্তবায়ন করে তার ওপর।
হলিউড তারকা কিম কার্দাশিয়ানের যুক্তরাষ্ট্রের হিডেন হিলসের বিলাসবহুল প্রাসাদে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। দিনের আলোতে এক ব্যক্তি ওই প্রাসাদে প্রবেশ করে কিমের একটি দামি গাড়ি চুরি করে। শুধু তাই নয়, চুরি করা সেই বিলাসবহুল গাড়িটি নিয়ে আশপাশের এলাকায় বেশ কিছুক্ষণ ঘুরেও বেড়ায় ওই চোর। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম 'দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট'-এর এক প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত রোববার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটের দিকে এই ঘটনা ঘটে। মালিবু/লস্ট হিলস শেরিফ স্টেশনের কর্মকর্তারা একটি জরুরি কল পান। সেখানে জানানো হয়, একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি কিম কার্দাশিয়ানের বাড়িতে প্রবেশ করেছে এবং ভেতর থেকে জিনিসপত্র চুরি করছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের একটি দল। তারা ৬০ মিলিয়ন (৬ কোটি) ডলারেরও বেশি মূল্যের ওই সুবিশাল বাসভবনের ভেতর থেকে এক যুবককে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রমাণের ভিত্তিতে তাকে অনুপ্রবেশ, চুরি এবং গাড়ি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি শুধু বাড়িতেই অনুপ্রবেশ করেনি, বরং কিম কার্দাশিয়ানের একটি বিলাসবহুল গাড়ি বের করে নিয়ে হিডেন হিলস এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছে। পরবর্তীতে ওই যুবককে কারাগারে পাঠানো হয় এবং চুরির সন্দেহে তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়। লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফ বিভাগের (এলএএসডি) সার্জেন্ট ক্রিস সন্ডারলান্ড ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "পুরো বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা বর্তমানে তদন্তের একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছি। বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো সম্ভব হবে।" জানা গেছে, ঘটনার সময় কিম কার্দাশিয়ান বা তাঁর সন্তানদের কেউই ওই প্রাসাদে উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে বাড়িটির বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। তাই গত কয়েক মাস ধরে কিম তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে কাছাকাছি অন্য একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছেন। হিডেন হিলসের এই বিশাল সম্পত্তির পেছনের ইতিহাস বেশ পুরোনো। ২০১৪ সালে কিম কার্দাশিয়ান এবং তাঁর প্রাক্তন স্বামী বিখ্যাত র্যাপার ক্যানিয়ে ওয়েস্ট মিলে প্রায় ২০ মিলিয়ন (২ কোটি) ডলারে এই এস্টেটটি কিনেছিলেন। এরপর বাড়িটিকে নিজেদের মনের মতো করে সাজাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে সংস্কারকাজ চালান তারা। তিন বছর পর, ২০১৭ সালে তারা এই প্রাসাদে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে কিম ও ক্যানিয়ে ওয়েস্টের বিবাহবিচ্ছেদ চূড়ান্ত হয়। বিচ্ছেদের পর আইনি সমঝোতার মাধ্যমে এই বাড়ির মালিকানা পান কিম কার্দাশিয়ান। এরপর থেকে তিনি তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে এখানেই বসবাস করে আসছিলেন। তবে সম্প্রতি নতুন করে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় বাড়িটি আপাতত ফাঁকা ছিল, আর সেই সুযোগটিই কাজে লাগানোর চেষ্টা করে ওই চোর।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের একটি গুদামে অভিযান চালিয়ে অ্যানাকোন্ডা ও মারাত্মক বিষধর কোবরাসহ মোট ৪৯টি ভয়ংকর সরীসৃপ প্রাণী উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে গুদামের মালিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কানেকটিকাট এনভায়রনমেন্টাল কনজারভেশন পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে চলা একটি বিস্তারিত তদন্তের সূত্র ধরে হ্যামডেন এলাকার ওই গুদামে তল্লাশি চালানো হয়। অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে চালানো এই অভিযানে উদ্ধারকৃত প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে দুটি বড় আকারের অ্যানাকোন্ডা, একটি ওয়াটার মনিটর লিজার্ড বা গুইশাপ এবং ৪৬টি মারাত্মক বিষধর সাপ। উদ্ধার হওয়া ৪৬টি বিষধর সাপের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির র্যাটলস্নেক ও কোবরা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ১৩টি টিম্বার র্যাটলস্নেক, ছয়টি প্রেইরি র্যাটলস্নেক, পাঁচটি ডাস্কি পিগমি র্যাটলস্নেক, চারটি কেরেটারান ডাস্কি র্যাটলস্নেক এবং দুটি করে অ্যারিজোনা ব্ল্যাক, ব্ল্যাক-টেইলড, মটলড রক, নিওট্রপিক্যাল, উরাকোয়ান ও ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র্যাটলস্নেক। এ ছাড়াও সেখানে একটি ইস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র্যাটলস্নেক, একটি প্যানামিন্ট র্যাটলস্নেক, একটি অ্যালবিনো ওয়েস্টার্ন ডায়মন্ডব্যাক র্যাটলস্নেক এবং একটি ভয়ংকর কেপ কোবরা পাওয়া গেছে। এই বেআইনি কাজের দায়ে টাইলর ফস্টার এবং গুদামের মালিক ব্রায়ান রোমান নামের দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ অনুমতি ছাড়া বন্যপ্রাণী নিজেদের দখলে রাখা এবং বিপন্ন প্রজাতির প্রাণী আটকে রাখার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। কানেকটিকাট পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া এই প্রাণীগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক। বৈধ এবং সঠিক অনুমতিপত্র ছাড়া কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যে এই ধরনের প্রাণী ব্যক্তিগত দখলে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। উদ্ধার হওয়া সাপগুলোকে বর্তমানে একটি বিশেষায়িত কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এই দুই ব্যক্তি এতগুলো বিপজ্জনক ও বিষধর সাপ নিজেদের কাছে রেখেছিলেন, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। প্রাণীগুলো কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রাজনীতি
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View more‘অলস’ বা ‘কুঁড়ে’ মানুষকে সাধারণত কেউ খুব একটা পছন্দ করেন না। বরং কাজ ফেলে রাখার জন্য তাদের প্রায়ই শুনতে হয় নানা কথা। কিন্তু জানেন কি, অলসতারও রয়েছে একটি বিশেষ দিন! আজ ১০ আগস্ট, যুক্তরাষ্ট্রে পালিত হচ্ছে National Lazy Day বা জাতীয় অলস দিবস। দিনটি মূলত কাজের ব্যস্ততা থেকে একটু বিরতি নিয়ে আরাম করা এবং নিজের জন্য সময় কাটানোর একটি মজার উপলক্ষ। তাই যারা সারাবছর অলসতার জন্য বকুনি খান, তাদের জন্য আজ যেন একটু স্বস্তির দিন। ইচ্ছা করলে ঘুমিয়ে, শুয়ে-বসে, সিনেমা দেখে কিংবা কোনো কাজ না করেই দিনটি কাটিয়ে দিতে পারেন। ধারণা করা হয়, কাজের চাপ ও ব্যস্ত জীবন থেকে মানুষকে সাময়িক বিরতি দেওয়ার ভাবনা থেকেই দিবসটির প্রচলন। তবে ঠিক কে বা কারা, কবে এই দিবসটি চালু করেছিলেন—এ নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। আর এখানেই দিবসটির সবচেয়ে মজার দিক! মজা করে অনেকে বলেন, হয়তো যারা National Lazy Day চালু করেছিলেন, তারা এতটাই অলস ছিলেন যে দিবসটি চালুর ইতিহাস লিখে রাখতেও আলসেমি করেছিলেন! তবে মজার এই দিবসের পেছনে একটি বার্তাও রয়েছে—সবসময় কাজের পেছনে ছুটে চলার পাশাপাশি মাঝে মাঝে নিজেকে বিশ্রাম দেওয়াও প্রয়োজন। তাই আজ যদি আপনার কাজের তালিকা একটু লম্বা হয়, তাহলে সব কাজ একেবারে বাদ না দিলেও অন্তত কিছুটা সময় নিজের জন্য রাখতেই পারেন। কারণ আজকের দিনটা যে অলসদের!
চীনের ওপর গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বৈশ্বিক নির্ভরতা কমাতে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর অংশ হিসেবে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিয়ারস্টন প্রকল্পসহ অস্ট্রেলিয়ার গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতের কয়েকটি প্রকল্পে মার্কিন আগ্রহ বাড়ছে। সিয়ারস্টন প্রকল্পটি নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যাঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে স্ক্যান্ডিয়ামের বড় মজুত রয়েছে। স্ক্যান্ডিয়াম বিমান, প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও উন্নত উৎপাদন শিল্পে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ। প্রকল্পটি পরিচালনা করছে অস্ট্রেলিয়ার সানরাইজ এনার্জি মেটালস। প্রকল্পটির গুরুত্ব আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা খাতের চাহিদার কারণে। ২০২৫ সালে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন সিয়ারস্টন প্রকল্প থেকে পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ ১৫ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড কেনার সুযোগ পাওয়ার বিষয়ে একটি চুক্তি করে। প্রকল্পটির উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় এক-চতুর্থাংশের সমান হতে পারে এই পরিমাণ। স্ক্যান্ডিয়াম বর্তমানে মূলত চীন, রাশিয়া ও ইউক্রেন থেকে সরবরাহ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬৯ সালের পর থেকে বাণিজ্যিকভাবে স্ক্যান্ডিয়াম খনন হয়নি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে অস্ট্রেলিয়ার প্রকল্পগুলো ওয়াশিংটনের কাছে কৌশলগত গুরুত্ব পাচ্ছে। সিয়ারস্টন প্রকল্পে উচ্চ বিশুদ্ধতার স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৬০ টন স্ক্যান্ডিয়াম অক্সাইড উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়ানোর সম্ভাবনাও বিবেচনা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ নিয়ে সহযোগিতা সাম্প্রতিক সময়ে আরও জোরদার হয়েছে। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় চীনের প্রভাব কমানো এবং প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করাই এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সিয়ারস্টনের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ডাব্বো অঞ্চলের বিরল মাটি ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ প্রকল্প নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ব্যাটারি, প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, বিমান ও উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য তৈরিতে প্রয়োজনীয় খনিজের বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা গড়ে উঠতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজের সরবরাহ এখন শুধু বাণিজ্যিক বিষয় নয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। তাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ট্রেলিয়া হয়ে উঠছে চীনের বাইরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজের নির্ভরযোগ্য উৎস গড়ে তোলার অন্যতম অংশীদার।
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরায়েলি ও মার্কিন এক নাগরিকের মধ্যে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডার পর শারীরিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি নাগরিককে উদ্দেশ করে মার্কিন নাগরিকের কথিত আপত্তিকর মন্তব্যের জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি ম্যানিলার নিনয় অ্যাকুইনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন নাগরিক ওই ইসরায়েলি ব্যক্তিকে ‘শিশুহত্যাকারী’ বলে আখ্যা দেন। এরপর তিনি ইসরায়েলি ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘দুঃখের বিষয়, হিটলার কাজটা শেষ করতে পারেনি।’ হলোকাস্টের প্রসঙ্গ টেনে এমন মন্তব্যের পর দুই ব্যক্তির মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে যায়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের কর্মী ও আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে দুজনকে আলাদা করেন। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দুই ব্যক্তির মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং পরে তাদের আলাদা করার দৃশ্য দেখা গেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট সময়, দুই ব্যক্তির পরিচয় এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র রাজনৈতিক মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে এ নিয়ে বিক্ষোভ, বিতর্ক ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটলেও বিমানবন্দরের মতো জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন বিরোধ দ্রুত শারীরিক সংঘাতে রূপ নেওয়ার ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও পারস্পরিক সহনশীলতার বিষয়টি সামনে এনেছে।
কানাডায় থাকার বৈধতা হারানো বা অভিবাসন আইন না মানার কারণে দেশটি থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকদের তালিকায় শীর্ষ দশে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সির (সিবিএসএ) ৩০ জুন পর্যন্ত তথ্য অনুযায়ী, ৯৬৮ বাংলাদেশিকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। সিবিএসএর সর্বশেষ প্রকাশিত অভিবাসন অপসারণসংক্রান্ত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৩০ জুন পর্যন্ত কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা বিদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪০ হাজার ৮২৭। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতের নাগরিক, ৭ হাজার ৬৬৯ জন। এরপর মেক্সিকোর ৬ হাজার ৫৬১, যুক্তরাষ্ট্রের ২ হাজার ১৭৯, চীনের ১ হাজার ৮৯২, নাইজেরিয়ার ১ হাজার ৬৪৭, কলম্বিয়ার ১ হাজার ২৩৭, পাকিস্তানের ১ হাজার ১৩৯, ব্রাজিলের ১ হাজার ১১৮ এবং চিলির ১ হাজার ৩০ জন রয়েছেন। ৯৬৮ জন নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। সিবিএসএর তথ্য অনুযায়ী, এই ৪০ হাজার ৮২৭ জনের মধ্যে ৩৬ হাজার ৬২২ জন এমন শরণার্থী আবেদনকারী, যাদের আবেদন বা সংশ্লিষ্ট অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে কানাডা থেকে অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ১ হাজার ৫৯১ জন শরণার্থী আবেদনকারী নন এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিবাসন আইন না মানার অভিযোগে অপসারণ প্রক্রিয়া চলছে। অপরাধ, ভুল তথ্য দেওয়া, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য কারণেও কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। কানাডা থেকে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া এবং ইতোমধ্যে সম্পন্ন হওয়া ফেরত পাঠানো একই বিষয় নয়। সিবিএসএর হিসাবে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন দেশের মোট ১০ হাজার ৬০৭ জনকে কানাডা থেকে অপসারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ তালিকায় থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে এখনই দেশে ফেরত পাঠানো হবে, এমন নয়; অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া, ভ্রমণ নথি সংগ্রহসহ বিভিন্ন কারণে সময় লাগে। বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফেরত পাঠানোর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে ৩০৮ জন বাংলাদেশিকে কানাডা থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২৭ জনে। কানাডার অভিবাসন ব্যবস্থায় শরণার্থী আবেদনকারীদের একটি বড় অংশের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। তবে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে বাংলাদেশিদের জন্য শুধু কানাডা নয়, ইউরোপেও আশ্রয় পাওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের সর্বশেষ বার্ষিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকরা প্রায় ৩৭ হাজার আশ্রয় আবেদন করেন। আগের বছরের তুলনায় আবেদন কমলেও বাংলাদেশ তখনও ইউরোপে আশ্রয়ের আবেদন করা নাগরিকদের প্রধান উৎস দেশগুলোর একটি ছিল। প্রথম ধাপের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশিদের আশ্রয় পাওয়ার স্বীকৃতির হার ছিল মাত্র ৩ শতাংশ। ২০২৬ সালেও বাংলাদেশিদের আশ্রয় আবেদন ইউরোপে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এজেন্সি ফর অ্যাসাইলামের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে বাংলাদেশিরা প্রায় ৩ হাজার আশ্রয় আবেদন করেন এবং ২০২৫ সালের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের স্বীকৃতির হার ছিল ৩ শতাংশ। একই সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন আশ্রয় ব্যবস্থায় কম স্বীকৃতির হার থাকা দেশের নাগরিকদের নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুততর প্রক্রিয়ার আওতায় আনার ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। কানাডার ক্ষেত্রে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়ায় থাকা ৯৬৮ বাংলাদেশির সংখ্যা তাই দেশটির অভিবাসন ব্যবস্থায় বাংলাদেশিদের অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে শুধু এই পরিসংখ্যান দিয়ে বাংলাদেশিদের সবাই অবৈধভাবে কানাডায় অবস্থান করছেন বা সবাই একই কারণে ফেরত পাঠানোর মুখে রয়েছেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। সিবিএসএর তথ্যেই দেখা যাচ্ছে, অপসারণের পেছনে শরণার্থী আবেদন, অভিবাসন আইন না মানা, অপরাধ, ভুল তথ্যসহ বিভিন্ন ধরনের কারণ রয়েছে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়
ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট দেখাতে পারে, কেন হয় জানালেন বিশেষজ্ঞ
মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত
লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না
নৌভ্রমণে ক্যাটি পেরির বুকে সানস্ক্রিন মেখে দিলেন জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সে ধরা পড়ল প্রেমের অন্য রূপ
কেন বাবার পদবি বাদ দিলেন টম ক্রুজের মেয়ে? বাবা-মেয়ের দূরত্ব নিয়ে যা জানা গেছে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট
আইফোন ২০২৬ লঞ্চের প্রস্তুতি জোরদার, নির্বাচিত কর্মীদের লটারির সুযোগ দিচ্ছে অ্যাপল
বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে ফ্রী তে পড়ার সুযোগ! আবেদন করতে পারবেন যে কেউ
টিউশনের জমানো টাকায় বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি, এবার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করবেন উচ্ছাস
হার্ভার্ডে ফুল-ফান্ডেড ফেলোশিপের সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যে কেউ
মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী
ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে, নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া
পেনসিলভানিয়া দুর্ঘটনাগ্রস্ত একটি গাড়ি থেকে ৭০ বয়সী গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার
গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে আইসিইর হাতে স্ত্রী আটক, দেশের জন্য লড়েছি! এটাই কি তার প্রতিদান?’ মার্কিন সেনার ক্ষোভ
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, অথচ বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দরিদ্র দেশ: কোন ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের?
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাব
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে ট্রাম্প প্রশাসন, আজ থেকেই কার্যকর
নারী হয়েও অন্য এক নারীর প্রেমে পড়েছেন স্ত্রী, তবু দাবি ‘এটা প্রতারণা নয়’; অদ্ভুত যুক্তিতে হতবাক স্বামী
ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, উৎপাদন বাড়াতে কড়া নির্দেশ
সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি
মেয়ের জীবন বাঁচানো হাসপাতালকে ভুলেননি জনি ডেপ, কৃতজ্ঞতায় দিলেন লাখো ডলার অনুদান