মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেল সংকটের মুখোমুখি। অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ ও এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের চালানগুলো যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে থাকা জরুরি মজুত বা 'ডেড স্টক' ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিটকে রক্ষণাবেক্ষণের (মেইনটেনেন্স) কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ চালানের পর থেকে আর কোনো তেল আসেনি। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট জটিলতায় মার্চ মাসের প্রায় দুই লাখ টন তেলের চালান আটকে আছে। তবে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন একটি চালান আসার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। রিফাইনারির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসলেও দেশে তেলের সংকট হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন সরাসরি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের মতে, এ মাসে আসার কথা থাকা ১৭টি কার্গোর মধ্যে ১৪টি নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। ১৯৬৮ সালে নির্মিত এই পুরনো শোধনাগারটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চমানের ক্রুড পরিশোধন করতে পারে। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করতে ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ যে কোনো দেশের সস্তা ক্রুড অয়েল পরিশোধন করতে পারবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ড. ইজাজ হোসেন ও অধ্যাপক ম তামিমের মতে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও ডলার সংকটের সময়ে এত ব্যয়বহুল প্রকল্প কতটা লাভজনক হবে তা দেখার বিষয়। এছাড়া অতিরিক্ত পেট্রোল উৎপাদনের ফলে তা রপ্তানির প্রয়োজন হতে পারে, যার বাজার ধরা চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ফসিল ফুয়েলে এত বড় বিনিয়োগ না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিপিসি। মহেশখালীতে এসপিএম টার্মিনাল ও পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় তেল খালাসের অবকাঠামো এখন প্রস্তুত।
ভারতের পার্লামেন্টে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬' শুক্রবার রাতে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়েও আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিলটি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারের প্রস্তাব ছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে—এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বা সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে নয়। বিরোধী ও সরকারি শিবিরের যুক্তি: অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে এবং তারা নানা অজুহাতে ওবিসি ও তফশীলি জাতি-উপজাতির অধিকার হরণ করতে চাইছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের আসন কমার আশঙ্কাকে 'ভিত্তিহীন আখ্যান' বলে উড়িয়ে দেন। রাহুল গান্ধী: বিরোধী দলনেতা এই বিলটিকে 'দেশবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আসলে নারী সংরক্ষণ নয় বরং দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানিমোঝি: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ডিলিমিটেশন হলে উত্তর প্রদেশ ও বিহার লাভবান হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। বর্তমানে ভারতে নির্বাচনী আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ। সরকারের বিলে এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের আপত্তির মুখে এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আপাতত ঝুলেই রইল ভারতের নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রস্তাব সমর্থন করলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে এবং একতরফা সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা ঠেকানো যাবে। আগামী ২১ এপ্রিলের এই গণভোটে মূল প্রশ্ন হচ্ছে—রাজ্যের আইনসভা নতুন করে কংগ্রেশনাল আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে পারবে কি না। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবটি পাস হলে চারটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে, যা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই পরিবর্তন জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি, এর আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে যেসব আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তবে বিরোধীরা এটিকে পক্ষপাতদুষ্ট উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করছে। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জেন কিগগান্স বলেন, একটি বহুমাত্রিক রাজ্যে একদলীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা ভবিষ্যতে নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন, যা রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে। গণভোট ঘিরে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা তুলনামূলক বেশি অর্থ ও জনসমর্থন পাচ্ছে। এতে হলিউড অভিনেত্রী ক্যারি ওয়াশিংটন এবং সংগীতশিল্পী জন লিজেন্ডের মতো পরিচিত মুখও যুক্ত হয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতরেও একমত নয় সবাই। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনী মানচিত্র এভাবে বদলানো ন্যায্যতার প্রশ্ন তোলে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অল্প ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে তারা বেশি সক্রিয় হতে পারেন; অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখা যেতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তাকে ঘিরে এনসিপিতে যোগদানের যে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। শুক্রবার জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেননি এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনায়ও যাননি। রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যান্য দলের মতো এনসিপিও তাকে সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এনসিপিতে যোগ দিলে সংসদে কথা বলার সুযোগ বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের জন্য তিনি কোনো দলে যোগ দেবেন না। তার মতে, নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান বিসর্জন দিয়ে শুধু সংসদে কথা বলার সুযোগ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেল সংকটের মুখোমুখি। অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ ও এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের চালানগুলো যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে থাকা জরুরি মজুত বা 'ডেড স্টক' ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিটকে রক্ষণাবেক্ষণের (মেইনটেনেন্স) কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ চালানের পর থেকে আর কোনো তেল আসেনি। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট জটিলতায় মার্চ মাসের প্রায় দুই লাখ টন তেলের চালান আটকে আছে। তবে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন একটি চালান আসার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। রিফাইনারির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসলেও দেশে তেলের সংকট হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন সরাসরি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের মতে, এ মাসে আসার কথা থাকা ১৭টি কার্গোর মধ্যে ১৪টি নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। ১৯৬৮ সালে নির্মিত এই পুরনো শোধনাগারটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চমানের ক্রুড পরিশোধন করতে পারে। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করতে ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ যে কোনো দেশের সস্তা ক্রুড অয়েল পরিশোধন করতে পারবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ড. ইজাজ হোসেন ও অধ্যাপক ম তামিমের মতে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও ডলার সংকটের সময়ে এত ব্যয়বহুল প্রকল্প কতটা লাভজনক হবে তা দেখার বিষয়। এছাড়া অতিরিক্ত পেট্রোল উৎপাদনের ফলে তা রপ্তানির প্রয়োজন হতে পারে, যার বাজার ধরা চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ফসিল ফুয়েলে এত বড় বিনিয়োগ না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিপিসি। মহেশখালীতে এসপিএম টার্মিনাল ও পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় তেল খালাসের অবকাঠামো এখন প্রস্তুত।
ভারতের পার্লামেন্টে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬' শুক্রবার রাতে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়েও আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিলটি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারের প্রস্তাব ছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে—এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বা সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে নয়। বিরোধী ও সরকারি শিবিরের যুক্তি: অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে এবং তারা নানা অজুহাতে ওবিসি ও তফশীলি জাতি-উপজাতির অধিকার হরণ করতে চাইছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের আসন কমার আশঙ্কাকে 'ভিত্তিহীন আখ্যান' বলে উড়িয়ে দেন। রাহুল গান্ধী: বিরোধী দলনেতা এই বিলটিকে 'দেশবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আসলে নারী সংরক্ষণ নয় বরং দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানিমোঝি: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ডিলিমিটেশন হলে উত্তর প্রদেশ ও বিহার লাভবান হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। বর্তমানে ভারতে নির্বাচনী আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ। সরকারের বিলে এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের আপত্তির মুখে এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আপাতত ঝুলেই রইল ভারতের নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি।
গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা একটি ‘সঠিক পদক্ষেপ’। জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধার জরুরি এবং তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্বারা সম্মানিত হওয়া উচিত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান সংলাপকেও এটি আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি খোলা রাখা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। সূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ একই পথে চলাচল করছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত তিনটার দিকে জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ইরান সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ অতিক্রমের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে তেল সংগ্রহ (ব্যাংকারিং) করা হবে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য নির্ধারিত রয়েছে আফ্রিকার মোজাম্বিক অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং করে তা দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ার অ্যালাউন্স। উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সংঘাতের কারণে জাহাজটির যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফেরত আনা হলেও অবশেষে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আবারও গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি বছরও সীমিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছি। অথচ হজের প্রস্তুতি তার আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও আমরা প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমাতে পেরেছি।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি এনে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা সুস্থভাবে ফিরে আসবেন—এই কামনা করি।” অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর প্রথম হজ ফ্লাইট ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব-এর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
নিজেকে ভালোবাসতে না পারলে অন্যকে ভালোবাসা সম্ভব নয়—জনপ্রিয় এই প্রবাদটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং অনেকের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করেছেন মনোবিদরা। আপাতদৃষ্টিতে অনুপ্রেরণামূলক মনে হলেও পোর্টল্যান্ডের মনোবিদ জেফ গুয়েন্থার জানান, এ কথাটি আক্ষরিক অর্থে মোটেও সত্যি নয় এবং মানুষের ভালোবাসা পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ যোগ্যতা বা শর্তের প্রয়োজন পড়ে না। জেফ গুয়েন্থার এই জনপ্রিয় প্রবাদের নেপথ্যে থাকা মনস্তাত্ত্বিক ফাঁদ নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, যারা মারাত্মক আত্মবিশ্বাসের অভাব বা বিষণ্ণতায় ভোগেন, তারাও সন্তানদের প্রাণ দিয়ে ভালোবাসেন কিংবা বন্ধুর প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ান। নিজের প্রতি অনুরাগের অভাব থাকলেও মানুষের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা বিলিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা কোনোভাবেই খর্ব হয় না। সুতরাং ভালোবাসা দেওয়ার ক্ষমতা নিজের প্রতি অনুরাগের ওপর নির্ভর করে না। এই উক্তিটি প্রায়ই ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ব্যক্তিদের মধ্যে অপরাধবোধ তৈরি করে বলে মনে করেন এই মনোবিদ। তাদের বোঝানো হয় যে, আগে নিজেদের মানসিক সমস্যা ‘ঠিক’ বা ‘ফিক্স’ করতে হবে, তবেই তারা অন্যের ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য হবেন। এর ফলে অনেক মানুষ নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন এবং এই একাকীত্বকে ‘নিজের ওপর কাজ করা’ বলে চালিয়ে দেন। মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক সময় অন্যকে ভালোবাসার মাধ্যমেই মানুষের হারানো আত্মসম্মানবোধ ফিরে আসে। সম্পর্কে থেকে কঠিন সময়ে সঙ্গীর পাশে থাকা বা বিশ্বস্ত থাকাই প্রমাণ করে যে ওই ব্যক্তি অন্যদের চেয়েও অনেক বেশি সক্ষম। এটিই অনেক সময় মানসিক নিরাময়ের প্রকৃত পথ হিসেবে কাজ করতে পারে। জেফ গুয়েন্থার আরও উল্লেখ করেন, এই উক্তিটি মূলত যা বোঝাতে চায় তা হলো—অতীতের অমীমাংসিত সমস্যাগুলো সম্পর্কের ক্ষেত্রে কিছু জটিল প্যাটার্ন তৈরি করে। তবে একে ‘ভালোবাসতে না পারা’ বলা সম্পূর্ণ ভুল। এগুলো মূলত স্নায়বিক সিস্টেমের কিছু অভ্যাস, যা ছোটবেলার অভিজ্ঞতা থেকে তৈরি হয় এবং এটি অবশ্যই নিরাময়যোগ্য।
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ভারতের পার্লামেন্টে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬' শুক্রবার রাতে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়েও আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিলটি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারের প্রস্তাব ছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে—এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বা সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে নয়। বিরোধী ও সরকারি শিবিরের যুক্তি: অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে এবং তারা নানা অজুহাতে ওবিসি ও তফশীলি জাতি-উপজাতির অধিকার হরণ করতে চাইছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের আসন কমার আশঙ্কাকে 'ভিত্তিহীন আখ্যান' বলে উড়িয়ে দেন। রাহুল গান্ধী: বিরোধী দলনেতা এই বিলটিকে 'দেশবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আসলে নারী সংরক্ষণ নয় বরং দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানিমোঝি: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ডিলিমিটেশন হলে উত্তর প্রদেশ ও বিহার লাভবান হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। বর্তমানে ভারতে নির্বাচনী আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ। সরকারের বিলে এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের আপত্তির মুখে এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আপাতত ঝুলেই রইল ভারতের নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ভার্জিনিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, এই প্রস্তাব সমর্থন করলে নির্বাচনী ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনা সম্ভব হবে এবং একতরফা সুবিধা নেওয়ার প্রবণতা ঠেকানো যাবে। আগামী ২১ এপ্রিলের এই গণভোটে মূল প্রশ্ন হচ্ছে—রাজ্যের আইনসভা নতুন করে কংগ্রেশনাল আসনের সীমানা নির্ধারণ করতে পারবে কি না। এরই মধ্যে প্রায় ১০ লাখের বেশি ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রস্তাবটি পাস হলে চারটি আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হতে পারে, যা ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে সুবিধাজনক হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের অল্প ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় এই পরিবর্তন জাতীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের যুক্তি, এর আগে রিপাবলিকানদের পক্ষে যেসব আসন পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে, তার প্রতিক্রিয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তবে বিরোধীরা এটিকে পক্ষপাতদুষ্ট উদ্যোগ হিসেবে সমালোচনা করছে। রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য জেন কিগগান্স বলেন, একটি বহুমাত্রিক রাজ্যে একদলীয় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা ভবিষ্যতে নেতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভার্জিনিয়ায় উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছিলেন, যা রাজ্যের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাজনৈতিক অবস্থানকে নির্দেশ করে। গণভোট ঘিরে ‘হ্যাঁ’ প্রচারণা তুলনামূলক বেশি অর্থ ও জনসমর্থন পাচ্ছে। এতে হলিউড অভিনেত্রী ক্যারি ওয়াশিংটন এবং সংগীতশিল্পী জন লিজেন্ডের মতো পরিচিত মুখও যুক্ত হয়েছেন। তবে ডেমোক্র্যাট শিবিরের ভেতরেও একমত নয় সবাই। কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনী মানচিত্র এভাবে বদলানো ন্যায্যতার প্রশ্ন তোলে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অল্প ব্যবধানে ‘হ্যাঁ’ পক্ষ এগিয়ে থাকলেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি রিপাবলিকান ভোটারদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, ফলে তারা বেশি সক্রিয় হতে পারেন; অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে তুলনামূলক কম আগ্রহ দেখা যেতে পারে।
গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান। প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার দাবির মধ্যেই নৌপরিবহন খাতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। বিবিসি-র ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ নিয়ে যেকোনো ইতিবাচক অগ্রগতি অবশ্যই স্বাগত। তবে বর্তমানে যে তথ্যগুলো প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো এখনো যাচাই করা হচ্ছে। ডোমিঙ্গেজ জানান, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ এখনো আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও তা যেন নিরাপদভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক শিপিং শিল্পকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান আইএমও মহাসচিব। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।