সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে শনাক্ত করা হয়। সেটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তা ভূপাতিত করে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে পড়ে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    আল-মালিকি এই ঘটনাকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও ওমরাহ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।    তবে হুতি গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সৌদি দাবিকে মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা, তাইফসহ কয়েকটি এলাকাও সতর্কতার আওতায় ছিল। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সৌদি জোটের দাবি, খামিস মুশাইত, আভা ও তাইফ এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। তাই নগরীর আকাশসীমার কাছাকাছি এমন কোনো সামরিক ঘটনা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা বেড়েছে।    মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দুই পক্ষের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পবিত্র নগরী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রভাব ফেলছে।

৫২ মিনিট Ago
মৃত মাকে এআই দিয়ে তৈরি করে কথা বলি
‘মৃত মাকে এআই দিয়ে তৈরি করে কথা বলি’, শোক পালন বদলে দিচ্ছে ‘এআই ঘোস্ট’ ও ডেথস্লপ

মৃত প্রিয়জনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিত্ব ও স্মৃতির তথ্য ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তাদের মতো কথা বলা ‘গ্রিফবট’ তৈরি করছেন কিছু মানুষ। শোক সামলানোর এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি কারও কাছে সাময়িক সান্ত্বনার মাধ্যম হলেও, এটি মানুষকে বাস্তব সামাজিক ও পারিবারিক সহায়তা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে উদ্বেগ জানিয়েছেন মনোবিজ্ঞানী ও শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরা। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এআইয়ের মাধ্যমে মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের একটি ডিজিটাল উপস্থিতি ধরে রাখার এই নতুন প্রবণতা।   গ্রিফবট তৈরি করতে ব্যবহারকারীরা মৃত স্বজনের ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত স্মৃতি, স্বভাব ও মূল্যবোধের তথ্য এআই সিস্টেমে দেন। এরপর সেই তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হয় একটি ডিজিটাল চরিত্র, যার সঙ্গে ব্যবহারকারী কথোপকথন করতে পারেন। সিয়াঁস, রিমেমোরি ও ভারসোনার মতো কিছু সেবা ইতোমধ্যে এ ধরনের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। এমনকি সাধারণ লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করেও মৃত স্বজনের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করার চেষ্টা করা সম্ভব।   এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতাও একরকম নয়। ভারসোনার প্রতিষ্ঠাতা জাস্টিন হ্যারিসন তাঁর মায়ের অসুস্থতার সময় এআই প্রতিরূপ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন। তাঁর মা জীবিত থাকতেই সেটি দেখেছিলেন এবং এতে সম্মতি দিয়েছিলেন। মায়ের মৃত্যুর পরও তিনি মাঝে মাঝে ওই বটের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর মতে, এটি ব্যক্তিগত সান্ত্বনা ও স্মৃতি ধরে রাখার একটি উপায়।   তবে সব ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির সম্মতি নেওয়া সম্ভব হয় না। কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের বোল্ডারের গবেষক জ্যাক ম্যানিং ডিজিটাল শোক ও এআইভিত্তিক ‘জেনারেটিভ ঘোস্ট’ নিয়ে গবেষণা করছেন। তাঁর নিজের বোন কিশোর বয়সে মারা যান। ম্যানিং বলেন, বোনের স্পষ্ট সম্মতি না থাকায় তিনি নিজে কোনো জেনারেটিভ ঘোস্ট ব্যবহার করেননি। তাঁর আশঙ্কা, প্রযুক্তি এমন কিছু বলতে পারে যা মৃত ব্যক্তির প্রকৃত ব্যক্তিত্ব বা স্মৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   এদিকে মৃত ব্যক্তিদের নিয়ে এআই তৈরি করা ছবি, ভিডিও ও গানও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এই ধরনের কনটেন্টকে ‘ডেথস্লপ’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি প্রয়াত গায়িকা ডলি পার্টনকে ঘিরেও এআই দিয়ে তৈরি গান ও ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে। তাঁর পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের ‘ফেক এআই’ কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মৃত ব্যক্তিদের ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি এসব কনটেন্ট পরিবারগুলোর জন্য কষ্টদায়ক হতে পারে বলেও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   প্রযুক্তিটির আইনগত ও নৈতিক দিক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। জীবিত অবস্থায় কেউ নিজের এআই অবতার মৃত্যুর পর ব্যবহারের অনুমতি দেবেন কি না, সেটি এখনো সাধারণ কোনো প্রক্রিয়ার অংশ নয়। ফলে কারও মৃত্যুর পর তাঁর কণ্ঠ, ছবি বা ব্যক্তিত্ব ব্যবহার করে এআই চরিত্র তৈরির ক্ষেত্রে সম্মতি, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং পরিবারের অধিকার নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বিতর্ক তৈরি হতে পারে।   তবে এআই দিয়ে শোক সামলানোর ব্যবহার এখনো সীমিত। জুনে প্রকাশিত এমপ্যাথির এক গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও কানাডার ৬ হাজার মানুষের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ জানিয়েছেন, প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তারা মেমোরিয়াল অ্যাপ বা গ্রিফবটের মতো ডিজিটাল টুলের ওপর নির্ভর করেছেন। তবে যারা এসব প্রযুক্তি ব্যবহার করেছেন, তাদের ৮৮ শতাংশ এটিকে সহায়ক বলে জানিয়েছেন।   শোক নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অবশ্য সতর্কতার কথাই বেশি শোনা যাচ্ছে। ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট ড্যান উলফসন মনে করেন, শোকের সময় মানুষের পারিবারিক ও সামাজিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর প্রশ্ন, এআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ মানুষকে প্রয়োজনীয় সময়ে বন্ধু ও পরিবারের কাছ থেকে সহায়তা নেওয়া থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে কি না।   ফলে গ্রিফবট নিয়ে বিতর্ক শুধু নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার ঘিরে নয়। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর স্মৃতি ধরে রাখার অধিকার, মৃত ব্যক্তির সম্মতি এবং শোকের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এআই যখন মানুষের ব্যক্তিগত স্মৃতি ও সম্পর্কের আরও গভীরে প্রবেশ করছে, তখন এই প্রযুক্তি সান্ত্বনার মাধ্যম হবে, নাকি বাস্তব মানুষের সঙ্গে সংযোগ আরও দুর্বল করবে, তা নিয়ে আলোচনা এখনো চলমান।

৫৯ মিনিট Ago
৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি
হার্ভার্ড, থেকে অক্সফোর্ড, ৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি

নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা ও ক্রিমসন এডুকেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেমি বিটনের শিক্ষাজীবন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি খুব অল্প বয়সেই হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল ও অক্সফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁর ব্যতিক্রমী একাডেমিক যাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।    বিটন ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাগনা কাম লডে স্নাতক হন। একই সময়ে তিনি অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিকসে মাস্টার্স ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তিন বছরে এই পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি রোডস স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হন এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক পলিসি নিয়ে ডিফিল করেন।    এরপর তাঁর শিক্ষাজীবনে যোগ হয় আরও কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি এমবিএ করেন। ইয়েল ল স্কুল থেকে অর্জন করেন জুরিস ডক্টর বা জেডি ডিগ্রি। অক্সফোর্ডে রোডস স্কলার হিসেবে পাবলিক পলিসিতে ডিফিল সম্পন্ন করেন। রোডস ট্রাস্টের জীবনী অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল অনলাইন লার্নিং ও পাবলিক পলিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়।    তবে এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন সময়ে সরাসরি ক্যাম্পাসে এবং অনলাইনে পড়াশোনা করে আরও একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন বিটন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে এডুকেশন এন্ট্রাপ্রেনারশিপ, স্ট্যানফোর্ড থেকে এডুকেশন, প্রিন্সটন থেকে ফাইন্যান্স, কর্নেল থেকে হেলথ পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিকস, ডার্টমাউথ থেকে ইমপ্লিমেন্টেশন সায়েন্স, কিংস কলেজ লন্ডন থেকে ওয়ার স্টাডিজ এবং বেইজিংয়ের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স।    সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ডিগ্রিটি তিনি শোয়ার্জম্যান স্কলার হিসেবে সম্পন্ন করেন। তাঁর একাডেমিক প্রোফাইলে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, অক্সফোর্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন, পেনসিলভানিয়া, সিংহুয়া এবং কিংস কলেজ লন্ডনের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত জীবনীতে তাঁর ডিগ্রির তালিকায় কিছু পার্থক্য থাকলেও একাধিক সূত্র তাঁর এই বিস্তৃত শিক্ষাজীবনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    বিটনের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তাঁর উদ্যোক্তা পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য। হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই তিনি ক্রিমসন এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, টিউটরিং এবং ক্যারিয়ার মেন্টরশিপ নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।    তাঁর এই শিক্ষাযাত্রা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয় কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি ক্লাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাসে বিটনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ধরন দেখে অধ্যাপক লিসা বেলকিন তাঁর পরিচয় সম্পর্কে জানতে গিয়ে তাঁর বিস্তৃত একাডেমিক পটভূমির সন্ধান পান। এরপরই সামনে আসে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে তাঁর একের পর এক ডিগ্রি অর্জনের গল্প।    জেমি বিটনের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই তিনি শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরামর্শ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাধিক ডিগ্রিধারী হয়ে ওঠেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী একাডেমিক পথ এখন উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

১ ঘন্টা Ago
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান, বাড়ছে প্রবাসী হওয়ার প্রবণতা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিদেশে বসবাসরত কিছু মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা মোট মার্কিন নাগরিকের তুলনায় এখনো খুবই ছোট একটি অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সাধারণ কোনো প্রশাসনিক ফরম পূরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। বিদেশে থাকা কোনো মার্কিন নাগরিককে সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয়। এরপর পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদন অনুমোদন করে Certificate of Loss of Nationality বা CLN ইস্যু করলে নাগরিকত্ব হারানোর বিষয়টি কার্যকর হয়।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত সাধারণত চূড়ান্ত এবং এটি সহজে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। CLN ইস্যু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন না। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে চাইলে অন্য বিদেশি নাগরিকের মতো তাকে নতুন করে ন্যাচারালাইজেশনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।   নাগরিকত্ব ত্যাগের সঙ্গে কর ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগকারী ব্যক্তি ‘কভার্ড এক্সপ্যাট্রিয়েট’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। এর ক্ষেত্রে আগের পাঁচ বছরের ফেডারেল ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়কর দায় অথবা ২০ লাখ ডলার বা তার বেশি নেট ওয়ার্থের মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়ার পর সম্পদের ওপর বিশেষ এক্সপ্যাট্রিয়েশন ট্যাক্সের বিধানও রয়েছে।   বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও এ আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদেশে বসবাস করলেও মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আয়কর রিটার্ন ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিক ও অন্যান্য করদাতারা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফেডারেল ট্যাক্স রিপোর্ট করেন।   তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক হারে মানুষ বেরিয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বাইরে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। একইভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা মোট মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় খুবই কম।   নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি, বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা, কর-সংক্রান্ত জটিলতা এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়সহ বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট কারণকে সামগ্রিক প্রবণতার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত সরকারি তথ্য নেই।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বিদেশে বসবাসকারী কোনো মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা বিবেচনা করলে সংশ্লিষ্ট আইনি ও কর-সংক্রান্ত পরিণতি সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

২ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
ডে-কেয়ারে ১০ মিলিয়ন ডলারের বিশাল জালিয়াতি! গ্রেপ্তার ১২ অভিবাসী

ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগো এলাকায় কম আয়ের পরিবারের শিশুদের ডে-কেয়ার খরচে সহায়তার জন্য দেওয়া সরকারি অর্থ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলারের বেশি জালিয়াতির অভিযোগে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তরা লাইসেন্সধারী বাড়িভিত্তিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার দাবি করে শিশুদের উপস্থিতি নিয়ে ভুয়া তথ্য জমা দিয়ে সরকারি ভর্তুকির অর্থ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।   বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে পরিচালিত সমন্বিত অভিযানে ২৫০ জনের বেশি ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। সান দিয়েগোর বিভিন্ন এলাকায় শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের দাবি করা ১২টি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে ১২ অভিযুক্তকেই গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে প্রাকৃতিকীকরণের মাধ্যমে মার্কিন নাগরিক হওয়া ব্যক্তি এবং বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাও রয়েছেন। বিচার বিভাগের নথিতে অভিযুক্তদের আদি দেশ হিসেবে সিরিয়া, সোমালিয়া, সুদান, আফগানিস্তান ও ইরাকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে সরকারি নথিতে অভিযুক্তদের সবাইকে শরণার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। তাদের নাগরিকত্ব বা অভিবাসন অবস্থার পাশাপাশি আদি দেশের তথ্যও দেওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো মূলত সরকারি শিশু পরিচর্যা ভর্তুকির অর্থ নিয়ে কথিত জালিয়াতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এসব অভিযোগ এখন আদালতে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়।   অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা ক্যালিফোর্নিয়ায় বাড়িভিত্তিক শিশু পরিচর্যা কেন্দ্র পরিচালনার লাইসেন্স নেন এবং শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএর মাধ্যমে পরিচালিত সরকারি ভর্তুকি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হন। এসব কর্মসূচির আওতায় যোগ্য কম আয়ের পরিবারগুলো শিশুদের জন্য অনুমোদিত ডে-কেয়ার সেবা নিতে পারে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেবা প্রদানকারীদের অর্থ পরিশোধ করা হয়। এই অর্থ পাওয়ার জন্য ডে-কেয়ার পরিচালকদের প্রতি মাসে কোন শিশু কোন দিন এবং কতক্ষণ তাদের তত্ত্বাবধানে ছিল, তার সঠিক উপস্থিতির হিসাব জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে।   ফেডারেল কৌঁসুলিদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা শিশুদের উপস্থিতির হিসাব সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য জমা দেন এবং সেগুলো সঠিক বলে শপথের আওতায় ঘোষণা করেন। তদন্তকারীরা নজরদারি ভিডিও, আর্থিক লেনদেন এবং সীমান্ত পারাপারের তথ্যসহ বিভিন্ন নথি যাচাই করে এসব হিসাবের সঙ্গে অসঙ্গতি পান।   বিচার বিভাগের দেওয়া একটি উদাহরণে বলা হয়েছে, আবদুররহমান আলাওয়াদ ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে যথাক্রমে ২৩ ও ২৫ শিশুকে নিয়মিত সেবা দেওয়ার দাবি করেছিলেন। কিন্তু ৫৭ দিনের নজরদারি ভিডিওতে তার ডে-কেয়ারে শিশু প্রবেশ বা বের হওয়ার ঘটনা মাত্র একদিন দেখা যায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ওই দিনই একজন অঙ্গরাজ্য পরিদর্শক আকস্মিক পরিদর্শনে সেখানে গিয়েছিলেন।   আরেক অভিযুক্ত তুরকিয়া মামদুহ আলাওয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়েছে, সীমান্ত পারাপারের তথ্য অনুযায়ী তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যান এবং প্রায় ৩০ দিন পর ফিরে আসেন। কিন্তু বিদেশে অবস্থানের সময়ও তিনি ডে-কেয়ার সেবা দেওয়ার উপস্থিতির হিসাব জমা দিয়েছেন বলে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেছেন। এরপর ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএ থেকে তার হিসাবে মোট ১৪ হাজার ৯৭০ ডলারের আটটি অর্থ জমা হয় বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   বিচার বিভাগের অভিযোগ অনুযায়ী, বিভিন্ন অভিযুক্ত কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর ধরে সরকারি কর্মসূচি থেকে কয়েক লাখ ডলার করে পেয়েছেন। ব্যক্তিভেদে কথিত অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ ৫ লাখ ৩৮ হাজার থেকে ১২ লাখ ডলারের মধ্যে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আবদুররহমান আলাওয়াদ ২০২৫ সালেই সান দিয়েগো কাউন্টি, শিশু পরিচর্যা সহযোগী সংস্থা ও ওয়াইএমসিএ থেকে ৩ লাখ ডলারের বেশি পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন অভিযুক্তের ক্ষেত্রে মোট অর্থপ্রাপ্তির পরিমাণ ১০ লাখ ডলার ছাড়িয়েছে।   মামলাটির তদন্তে ফেডারেল ও স্থানীয় একাধিক সংস্থা যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসও রয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি সুবিধা কর্মসূচির অর্থ নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে মার্কিন বিচার বিভাগের নতুন জাতীয় জালিয়াতি দমন বিভাগ গঠনের পর এটি তাদের প্রথম দিকের বড় ধরনের পদক্ষেপগুলোর একটি।   অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মূলত বৈদ্যুতিক যোগাযোগের মাধ্যমে জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে। কয়েকজনের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থ বৈধ করার অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট আইনে সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে অভিযোগপত্রে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত ১২ অভিযুক্তকেই আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং এ ঘটনায় ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ আনা হতে পারে বলে ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১:২১
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ছেন হাজারো আমেরিকান, বাড়ছে প্রবাসী হওয়ার প্রবণতা

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ছাড়ার ঘটনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিদেশে বসবাসরত কিছু মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা মোট মার্কিন নাগরিকের তুলনায় এখনো খুবই ছোট একটি অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রক্রিয়া সাধারণ কোনো প্রশাসনিক ফরম পূরণের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় না। বিদেশে থাকা কোনো মার্কিন নাগরিককে সাধারণত ব্যক্তিগতভাবে মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটে উপস্থিত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের শপথ নিতে হয়। এরপর পররাষ্ট্র দপ্তর আবেদন অনুমোদন করে Certificate of Loss of Nationality বা CLN ইস্যু করলে নাগরিকত্ব হারানোর বিষয়টি কার্যকর হয়।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, নাগরিকত্ব ত্যাগের সিদ্ধান্ত সাধারণত চূড়ান্ত এবং এটি সহজে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না। CLN ইস্যু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আর মার্কিন পাসপোর্ট ব্যবহার করতে পারেন না। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হতে চাইলে অন্য বিদেশি নাগরিকের মতো তাকে নতুন করে ন্যাচারালাইজেশনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।   নাগরিকত্ব ত্যাগের সঙ্গে কর ব্যবস্থারও গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। আইআরএসের নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব ত্যাগকারী ব্যক্তি ‘কভার্ড এক্সপ্যাট্রিয়েট’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। এর ক্ষেত্রে আগের পাঁচ বছরের ফেডারেল ট্যাক্স কমপ্লায়েন্স, নির্দিষ্ট পরিমাণ আয়কর দায় অথবা ২০ লাখ ডলার বা তার বেশি নেট ওয়ার্থের মতো শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। যোগ্য ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বিদেশে যাওয়ার পর সম্পদের ওপর বিশেষ এক্সপ্যাট্রিয়েশন ট্যাক্সের বিধানও রয়েছে।   বিদেশে বসবাসকারী মার্কিন নাগরিকদের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতাও এ আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিদেশে বসবাস করলেও মার্কিন নাগরিকদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আয়কর রিটার্ন ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য জমা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। আইআরএসের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে থাকা মার্কিন নাগরিক ও অন্যান্য করদাতারা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ফেডারেল ট্যাক্স রিপোর্ট করেন।   তবে নাগরিকত্ব ত্যাগের ঘটনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ব্যাপক হারে মানুষ বেরিয়ে যাওয়ার সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির বাইরে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন। একইভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগের সংখ্যা মোট মার্কিন নাগরিকদের তুলনায় খুবই কম।   নাগরিকত্ব ত্যাগের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতি, বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনা, কর-সংক্রান্ত জটিলতা এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়সহ বিভিন্ন কারণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে কোনো নির্দিষ্ট কারণকে সামগ্রিক প্রবণতার একমাত্র ব্যাখ্যা হিসেবে দেখার মতো পর্যাপ্ত সরকারি তথ্য নেই।   মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নাগরিকত্ব ত্যাগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিবর্তনীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে। ফলে বিদেশে বসবাসকারী কোনো মার্কিন নাগরিক নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা বিবেচনা করলে সংশ্লিষ্ট আইনি ও কর-সংক্রান্ত পরিণতি সম্পর্কে আগে থেকেই পরিষ্কার ধারণা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে শনাক্ত করা হয়। সেটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তা ভূপাতিত করে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে পড়ে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    আল-মালিকি এই ঘটনাকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও ওমরাহ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।    তবে হুতি গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সৌদি দাবিকে মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা, তাইফসহ কয়েকটি এলাকাও সতর্কতার আওতায় ছিল। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সৌদি জোটের দাবি, খামিস মুশাইত, আভা ও তাইফ এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। তাই নগরীর আকাশসীমার কাছাকাছি এমন কোনো সামরিক ঘটনা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা বেড়েছে।    মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দুই পক্ষের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পবিত্র নগরী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রভাব ফেলছে।

পাকিস্তানে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তি নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
পাকিস্তানে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তি নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা, দিচ্ছে না বৃত্তির অর্থ

পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের ঘোষিত ‘ফুললি ফান্ডেড’ বৃত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পর শেষ ধাপে গিয়ে সুবিধা কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর দাবি, শুরুতে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, বিমানভাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা বলা হলেও তাদের হাতে আসা অফার লেটারে এসবের বড় অংশের উল্লেখ নেই। ফলে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও এখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।   পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোরের আওতায় ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় পাঁচ বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উচ্চশিক্ষা কমিশন বা এইচইসির তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিগুলো আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের আওতায় দেওয়ার কথা। এর এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসাশিক্ষায় দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল।   পাকিস্তানের এইচইসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিটি পূর্ণ অর্থায়িত এবং এর আওতায় টিউশন ফি, স্টাইপেন্ড, হোস্টেল ও মেসের খরচ, সেটেলমেন্ট অ্যালাউন্স, বিমানভাড়া এবং বই ও স্টেশনারির খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। এই তথ্য এখনো এইচইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৃত্তির বিবরণে রয়েছে।   তবে মাস্টার্সে নির্বাচিত কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অভিযোগ, দীর্ঘ আবেদন, পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে পাওয়া অফার লেটারে ঘোষিত সুবিধাগুলোর সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফার লেটারে শুধু টিউশন ফি ও আবাসন ফি মওকুফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাসিক ভাতা, খাবার, যাতায়াত, বিমানভাড়া ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ নিজেদের বহন করতে হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।   শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আবেদন করার সময় তারা যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করেছিলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের সম্মতি ছাড়াই সেই পছন্দ পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে যারা পূর্ণ অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা এখন নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মাসিক ভাতা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার খরচ না থাকলে বিদেশে অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।   এদিকে পাকিস্তানের এইচইসি জানিয়েছে, নলেজ করিডোরের আওতায় দেওয়া বৃত্তি সম্পূর্ণ অর্থায়িত। তাদের প্রকাশিত শর্তে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট এইচইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। ২০২৬ সালের মে মাসে পাকিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এইচইসি জানিয়েছিল, প্রথম ধাপে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন। প্রকৌশল, মেডিকেল সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা ভর্তি হয়েছেন।   নলেজ করিডোরের দ্বিতীয় ধাপও ২০২৬ সালে চালু করা হয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপোর মাধ্যমে ২০টি পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলে ধরে। ওই সময়ও ৫০০টি ফুললি ফান্ডেড আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের কথা প্রচার করা হয়। ফলে ঘোষিত সুবিধা ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা অফার লেটারের শর্তের মধ্যে পার্থক্যের অভিযোগটি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। কারণ, সরকারি বৃত্তির প্রকাশিত শর্তে যে সুবিধাগুলোকে পূর্ণ অর্থায়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো চূড়ান্ত অফার লেটারে কীভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে, সেটিই এখন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রশ্ন। আপাতত এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

তুরস্কের আঙ্কারায় এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীদের বিক্ষোভ থেকে কয়েকজনকে আটক করছে পুলিশ। ছবি: সংগৃহীত
তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযান, গ্রেপ্তার কয়েক ডজন

তুরস্কে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও অধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের মধ্যে নতুন করে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার ইস্তাম্বুলের প্রধান আদালতের বাইরে সমাবেশ করতে জড়ো হওয়া ব্যক্তিদের আটক করা হয়। এর একদিন আগে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় এলজিবিটিকিউ অধিকারকর্মী, সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়েছিল।   মঙ্গলবারের সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা আগের অভিযানে আটক হওয়া অধিকারকর্মীদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছিলেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগান দেন। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ‘এলজিবিটিকিউ হওয়া অপরাধ নয়’ লেখা একটি ব্যানারও প্রদর্শন করেন। এরপর পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।   তুরস্কের সরকারের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক অভিযানকে ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ নামে একটি কর্মসূচির অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সরকারের ভাষ্য, এই উদ্যোগের লক্ষ্য পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষা করা। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, সাম্প্রতিক সময়ে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায় ও তাদের সংগঠনগুলোর ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে।   গত সপ্তাহে তুরস্কের বিভিন্ন প্রদেশে এলজিবিটিকিউ সংগঠনের কার্যালয়, সমকামীদের জন্য পরিচালিত বার এবং অধিকারকর্মীদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এসব অভিযানে কয়েক ডজন মানুষকে আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। কিছু সংগঠন ও গণমাধ্যমের ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাবেও প্রবেশাধিকার সীমিত বা বন্ধ করা হয়েছে বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।   তুরস্কের বিচারমন্ত্রী আকিন গুরলেকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ‘আমার পরিবার নিরাপদ’ অভিযানের আওতায় ১৫টি প্রদেশে ১৬২ ব্যক্তি, নয়টি সংগঠন এবং ১৩টি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আইনি কার্যক্রম চলছে। ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা, ইজমির, আইদিন ও মেরসিনের প্রধান কৌঁসুলিদের কার্যালয়ের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হচ্ছে বলে ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে।   তুরস্ক সরকার এসব কার্যক্রমের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অভিযোগের তদন্তের কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে যৌন ব্যবসায় সহায়তা, অশ্লীল উপকরণ তৈরি বা বিতরণ এবং শিশুদের এ ধরনের উপকরণের সংস্পর্শে আনার অভিযোগও রয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এলজিবিটিকিউ সংগঠনগুলোর বিদেশি ও সরকারি উৎস থেকে পাওয়া অর্থায়ন নিয়েও তদন্তের কথা বলা হয়েছে।   তবে এই অভিযানের পর ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনার মাইকেল ও’ফ্লাহার্টি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি এলজিবিটিকিউ নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকারকর্মীদের লক্ষ্য করে গ্রেপ্তার, অভিযান এবং ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হিসাব বন্ধের প্রতিবেদনে উদ্বেগ জানান।   ও’ফ্লাহার্টি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে অধিকার নিয়ে কাজ করা বা বৈষম্যহীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়া নিজে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির পরিচয়, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা, শান্তিপূর্ণ কর্মকাণ্ড বা বৈধ অর্থায়ন পাওয়ার কারণে নয়, বরং স্বীকৃত অপরাধের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্ত ও আটক হওয়া উচিত।   তিনি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, বিচারিক পর্যালোচনা এবং ন্যায়বিচারের অধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যেকোনো বিধিনিষেধ আইনসম্মত, প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।   তুরস্কে সমলিঙ্গের সম্পর্ক নিজে অপরাধ হিসেবে নিষিদ্ধ নয়। তবে দেশটিতে এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক রয়েছে। প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান অতীতে এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়কে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন এবং জনসংখ্যা ও পারিবারিক মূল্যবোধের আলোচনায় এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন।   সাম্প্রতিক অভিযানের পর অধিকার সংগঠনগুলোর উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দু এখন আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের কর্মকাণ্ডে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না। ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয় জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে।   মঙ্গলবারের বিক্ষোভ ও আটকের ঘটনায় তুরস্কে এলজিবিটিকিউ অধিকার, মতপ্রকাশ এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে চলমান তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।   সূত্র: বিবিসি, ইউরোপ কাউন্সিলের মানবাধিকার কমিশনারের কার্যালয়, এএফপি।

ঘুমের গভীরতা ও মান যাচাই করে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে জাপানের এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতায়। ছবি: সংগৃহীত
জাপানে ঘুমের প্রতিযোগিতা, ৯০ মিনিট ঘুমিয়ে জেতা যাবে প্রায় ১৬ লাখ টাকা

ঘুমিয়ে সময় কাটানো নয়, এবার ভালো ঘুমই হতে পারে পুরস্কার জেতার উপায়। জাপানের টোকিওতে এমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে যাচ্ছে কোরালা জেপি। ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ নামের এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ৯০ মিনিট ঘুমের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। সবচেয়ে ভালো ঘুমের জন্য বিজয়ী পাবেন ২২২ লাখ ইয়েনের পুরস্কার।   প্রতিযোগিতাটি আগামী ৫ অক্টোবর টোকিওর মিনামি আওয়ামার শেয়ার গ্রিন মিনামি আওয়ামা এলাকায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিযোগীদের কোরালা ম্যাট্রেসে শুয়ে ঘুমাতে হবে এবং বিশেষ ঘুম পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে তাদের ঘুমের তথ্য সংগ্রহ করা হবে।   শুধু কতক্ষণ ঘুমানো হলো, সেটিই এখানে মূল বিষয় নয়। ঘুম কতটা গভীর ও মানসম্মত ছিল, কত দ্রুত ঘুম এসেছে এবং ঘুম কতটা স্থিতিশীল ছিল, এসব বিষয় বিবেচনা করে প্রতিযোগীদের জন্য একটি বিশেষ ‘স্লিপ স্কোর’ তৈরি করা হবে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে এই স্কোর নির্ধারণ করা হবে বলে আয়োজকেরা জানিয়েছে। সর্বোচ্চ স্কোর পাওয়া প্রতিযোগী হবেন বিজয়ী।   তবে প্রতিযোগিতায় জিততে হলে আগে থেকেই সারারাত জেগে থাকা বা অতিরিক্ত ঘুমের ঘাটতি তৈরি করে আসার সুযোগ নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে ঘুম বঞ্চিত থাকা, ঘুমের ওষুধ বা ঘুম আনতে সহায়তা করে এমন ওষুধ ব্যবহার করাও নিষিদ্ধ। অর্থাৎ প্রতিযোগিতায় দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ার সুবিধা নিতে কেউ আগের রাতের ঘুম নষ্ট করতে পারবেন না।   প্রতিযোগিতা শুরুর আগে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকবে বিশেষ ধরনের ‘ঘুমের ব্যায়াম’। এরপর প্রত্যেককে এলোমেলোভাবে একটি করে ঘুম-সংক্রান্ত সামগ্রী দেওয়া হবে। এসব সামগ্রী ঘুমের পরিবেশে কিছুটা পরিবর্তন আনতে পারে এবং প্রতিযোগিতাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলবে।   এরপর শুরু হবে মূল ৯০ মিনিটের ঘুমের পর্ব। প্রতিযোগীরা যখন ঘুমানোর চেষ্টা করবেন, তখন আয়োজকেরা পরিকল্পিতভাবে কিছু বিঘ্ন ঘটাবেন। এর মাধ্যমে হঠাৎ কোনো বাধা তৈরি হলেও কে কতটা স্থিরভাবে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন, সেটিও যাচাই করা হবে। ফলে শুধু দ্রুত ঘুমিয়ে পড়াই নয়, পুরো সময়জুড়ে ঘুমের মান ধরে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।   মূল পুরস্কারের পাশাপাশি বিভিন্ন বিশেষ পুরস্কারের ব্যবস্থাও থাকছে। সবচেয়ে গভীর ঘুমের জন্য ‘ডিপ স্লিপ ডাইভ অ্যাওয়ার্ড’ এবং অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রমী ভঙ্গিতে ঘুমানোর জন্য ‘স্লিপ-টার্নিং অ্যাক্রোব্যাট অ্যাওয়ার্ড’ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   পুরো প্রতিযোগিতায় তিনটি পর্ব থাকবে। প্রতিটি পর্বে প্রায় ২০ জন করে অংশ নেবেন এবং প্রতিটি ঘুমের পর্বের সময় ৯০ মিনিট। পুরো আয়োজনটি দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। অংশগ্রহণের জন্য কোনো ফি নেই। আবেদনকারীর সংখ্যা নির্ধারিত আসনের চেয়ে বেশি হলে লটারির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী নির্বাচন করা হবে।   আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে ৪ সেপ্টেম্বর এবং ১৬ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছে।   জাপানে ঘুমের ঘাটতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। আয়োজকদের দাবি, এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মানুষের মধ্যে পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুমের গুরুত্ব তুলে ধরাই তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে ঘুমকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়েছে এমন একটি আয়োজন, যেখানে শারীরিক শক্তি বা দ্রুততার বদলে প্রতিযোগিতার মূল মাপকাঠি হবে বিশ্রামের মান।   কোরালা জেপি জানিয়েছে, ‘ম্যাটরেস বাই কোরালা’ তাদের কোরালা ম্যাট্রেসকে ঘিরে আয়োজিত একটি নতুন ধরনের অভিজ্ঞতাভিত্তিক অনুষ্ঠান। আয়োজনটির পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন ইভেন্ট নির্মাতা আফ্রোম্যান্স।   সূত্র: কোরালা জেপি, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা ‘কালো অধ্যায়’ হয়ে থাকবে: সৌদি আরব
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ৩:৩০

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে বলে বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, জানানো হয়েছে। ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা বাড়ছে।    সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, ১৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ড্রোনটি মক্কার দক্ষিণে শনাক্ত করা হয়। সেটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই সৌদি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তা ভূপাতিত করে। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ শহরের দক্ষিণে পড়ে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।    আল-মালিকি এই ঘটনাকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছিল। তিনি পবিত্র দুই মসজিদ ও ওমরাহ ও হজযাত্রীদের নিরাপত্তাকে সৌদি আরবের জন্য ‘রেড লাইন’ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।    তবে হুতি গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির পক্ষ থেকে সৌদি দাবিকে মিথ্যা প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত লক্ষ্য কী ছিল, তা নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।    ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা, তাইফসহ কয়েকটি এলাকাও সতর্কতার আওতায় ছিল। এর আগে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ ওঠে। সৌদি জোটের দাবি, খামিস মুশাইত, আভা ও তাইফ এলাকায় সাম্প্রতিক হামলায় ১৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন এবং কয়েকটি বাড়ি ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সেখানে যান। তাই নগরীর আকাশসীমার কাছাকাছি এমন কোনো সামরিক ঘটনা সৌদি আরবের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করে। একই সময়ে ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূল ও বাব আল-মান্দাবের আশপাশে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।    ২০১৪ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা ও দেশের বিভিন্ন অংশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দেশটিতে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুরু হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক হস্তক্ষেপ করে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সংঘাত আবার তীব্র হওয়ায় সৌদি আরবের ভূখণ্ডে হামলা এবং ইয়েমেনে পাল্টা সামরিক অভিযানের ঘটনা বেড়েছে।    মক্কার কাছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা ওআইসিও নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং সৌদি আরবের বেসামরিক মানুষের সুরক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের সংঘাত শুধু দুই পক্ষের সামরিক লড়াইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পবিত্র নগরী ও গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রভাব ফেলছে।

৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি
হার্ভার্ড, থেকে অক্সফোর্ড, ৩১ বছরের জেমি বিটন বিশ্বের সবচেয়ে শিক্ষিত ব্যক্তি
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ২:৩০

নিউজিল্যান্ডের উদ্যোক্তা ও ক্রিমসন এডুকেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা জেমি বিটনের শিক্ষাজীবন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি অর্জনের পাশাপাশি খুব অল্প বয়সেই হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, ইয়েল ও অক্সফোর্ডের মতো প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছেন তিনি। নিউইয়র্ক টাইমসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁর ব্যতিক্রমী একাডেমিক যাত্রার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।    বিটন ২০১৬ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যাগনা কাম লডে স্নাতক হন। একই সময়ে তিনি অ্যাপ্লাইড ম্যাথমেটিকসে মাস্টার্স ডিগ্রিও সম্পন্ন করেন। হার্ভার্ডের তথ্য অনুযায়ী, তিনি তিন বছরে এই পড়াশোনা শেষ করেছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি রোডস স্কলারশিপের জন্য নির্বাচিত হন এবং পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পাবলিক পলিসি নিয়ে ডিফিল করেন।    এরপর তাঁর শিক্ষাজীবনে যোগ হয় আরও কয়েকটি মর্যাদাপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তিনি এমবিএ করেন। ইয়েল ল স্কুল থেকে অর্জন করেন জুরিস ডক্টর বা জেডি ডিগ্রি। অক্সফোর্ডে রোডস স্কলার হিসেবে পাবলিক পলিসিতে ডিফিল সম্পন্ন করেন। রোডস ট্রাস্টের জীবনী অনুযায়ী, তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল অনলাইন লার্নিং ও পাবলিক পলিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়।    তবে এখানেই শেষ নয়। বিভিন্ন সময়ে সরাসরি ক্যাম্পাসে এবং অনলাইনে পড়াশোনা করে আরও একাধিক মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন বিটন। এর মধ্যে রয়েছে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে এডুকেশন এন্ট্রাপ্রেনারশিপ, স্ট্যানফোর্ড থেকে এডুকেশন, প্রিন্সটন থেকে ফাইন্যান্স, কর্নেল থেকে হেলথ পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিকস, ডার্টমাউথ থেকে ইমপ্লিমেন্টেশন সায়েন্স, কিংস কলেজ লন্ডন থেকে ওয়ার স্টাডিজ এবং বেইজিংয়ের সিংহুয়া ইউনিভার্সিটি থেকে গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স।    সিংহুয়া ইউনিভার্সিটির ডিগ্রিটি তিনি শোয়ার্জম্যান স্কলার হিসেবে সম্পন্ন করেন। তাঁর একাডেমিক প্রোফাইলে হার্ভার্ড, স্ট্যানফোর্ড, অক্সফোর্ড, ইয়েল, প্রিন্সটন, পেনসিলভানিয়া, সিংহুয়া এবং কিংস কলেজ লন্ডনের মতো প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত জীবনীতে তাঁর ডিগ্রির তালিকায় কিছু পার্থক্য থাকলেও একাধিক সূত্র তাঁর এই বিস্তৃত শিক্ষাজীবনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।    বিটনের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তাঁর উদ্যোক্তা পরিচয়ও উল্লেখযোগ্য। হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই তিনি ক্রিমসন এডুকেশন প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, টিউটরিং এবং ক্যারিয়ার মেন্টরশিপ নিয়ে কাজ করে। বর্তমানে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা।    তাঁর এই শিক্ষাযাত্রা নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয় কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির একটি ক্লাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্লাসে বিটনের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতির ধরন দেখে অধ্যাপক লিসা বেলকিন তাঁর পরিচয় সম্পর্কে জানতে গিয়ে তাঁর বিস্তৃত একাডেমিক পটভূমির সন্ধান পান। এরপরই সামনে আসে বিশ্বের বিভিন্ন শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে তাঁর একের পর এক ডিগ্রি অর্জনের গল্প।    জেমি বিটনের ক্ষেত্রে শিক্ষাজীবন শুধু ডিগ্রি অর্জনের তালিকায় সীমাবদ্ধ নয়। হার্ভার্ডে পড়ার সময়ই তিনি শিক্ষা ও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরামর্শ নিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাধিক ডিগ্রিধারী হয়ে ওঠেন। তাঁর এই ব্যতিক্রমী একাডেমিক পথ এখন উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায় একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

পাকিস্তানে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তি নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
পাকিস্তানে ‘ফুল ফান্ডেড’ বৃত্তি নিয়ে বিপাকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা, দিচ্ছে না বৃত্তির অর্থ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১:৫৬

পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশনের ঘোষিত ‘ফুললি ফান্ডেড’ বৃত্তিতে নির্বাচিত হওয়ার পর শেষ ধাপে গিয়ে সুবিধা কমে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন নির্বাচিত শিক্ষার্থীর দাবি, শুরুতে টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা, বিমানভাড়াসহ বিভিন্ন সুবিধার কথা বলা হলেও তাদের হাতে আসা অফার লেটারে এসবের বড় অংশের উল্লেখ নেই। ফলে পাকিস্তানে পড়তে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েও এখন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা।   পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোরের আওতায় ২০২৫ সালের আগস্টে পাকিস্তানের তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সময় পাঁচ বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং উচ্চশিক্ষা কমিশন বা এইচইসির তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিগুলো আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের আওতায় দেওয়ার কথা। এর এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসাশিক্ষায় দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছিল।   পাকিস্তানের এইচইসির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বৃত্তিটি পূর্ণ অর্থায়িত এবং এর আওতায় টিউশন ফি, স্টাইপেন্ড, হোস্টেল ও মেসের খরচ, সেটেলমেন্ট অ্যালাউন্স, বিমানভাড়া এবং বই ও স্টেশনারির খরচ অন্তর্ভুক্ত থাকার কথা। এই তথ্য এখনো এইচইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বৃত্তির বিবরণে রয়েছে।   তবে মাস্টার্সে নির্বাচিত কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর অভিযোগ, দীর্ঘ আবেদন, পরীক্ষা ও যাচাই-বাছাই শেষে পাওয়া অফার লেটারে ঘোষিত সুবিধাগুলোর সঙ্গে মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অফার লেটারে শুধু টিউশন ফি ও আবাসন ফি মওকুফের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাসিক ভাতা, খাবার, যাতায়াত, বিমানভাড়া ও চিকিৎসাসহ অন্যান্য খরচ নিজেদের বহন করতে হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে।   শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আবেদন করার সময় তারা যে বিশ্ববিদ্যালয় পছন্দ করেছিলেন, চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের সম্মতি ছাড়াই সেই পছন্দ পরিবর্তন করা হয়েছে। ফলে যারা পূর্ণ অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে পাকিস্তানে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, তারা এখন নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে মাসিক ভাতা ও অন্যান্য জীবনযাত্রার খরচ না থাকলে বিদেশে অবস্থান করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।   এদিকে পাকিস্তানের এইচইসি জানিয়েছে, নলেজ করিডোরের আওতায় দেওয়া বৃত্তি সম্পূর্ণ অর্থায়িত। তাদের প্রকাশিত শর্তে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্লেসমেন্ট এইচইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে। ২০২৬ সালের মে মাসে পাকিস্তানের শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এইচইসি জানিয়েছিল, প্রথম ধাপে ৭৪ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন। প্রকৌশল, মেডিকেল সায়েন্স, কম্পিউটার সায়েন্স, সাইবার সিকিউরিটি ও বায়োলজিক্যাল সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে তারা ভর্তি হয়েছেন।   নলেজ করিডোরের দ্বিতীয় ধাপও ২০২৬ সালে চালু করা হয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তান এডুকেশন এক্সপোর মাধ্যমে ২০টি পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সামনে বিভিন্ন উচ্চশিক্ষার সুযোগ তুলে ধরে। ওই সময়ও ৫০০টি ফুললি ফান্ডেড আল্লামা মুহাম্মদ ইকবাল স্কলারশিপের কথা প্রচার করা হয়। ফলে ঘোষিত সুবিধা ও নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা অফার লেটারের শর্তের মধ্যে পার্থক্যের অভিযোগটি এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। কারণ, সরকারি বৃত্তির প্রকাশিত শর্তে যে সুবিধাগুলোকে পূর্ণ অর্থায়নের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো চূড়ান্ত অফার লেটারে কীভাবে প্রযোজ্য হচ্ছে, সেটিই এখন নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের প্রধান প্রশ্ন। আপাতত এ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন মাস্টার্স পর্যায়ের কয়েকজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী।

মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন
মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের ড্রোন, আকাশেই ধ্বংস করল সৌদি প্রতিরক্ষা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২৬ ১:৪৯

সৌদি আরবের মক্কা নগরীর নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর একটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি শনাক্ত করে সৌদি রয়্যাল এয়ার ডিফেন্স বাহিনী ধ্বংস করে বলে সৌদি নেতৃত্বাধীন ইয়েমেন বিষয়ক জোট জানিয়েছে। ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় হুতিদের হামলা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে।    জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে ড্রোনটি বাধা দেওয়া হয়। এটি পবিত্র নগরীর জন্য নির্ধারিত নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ধ্বংস করা হয়েছে বলে তিনি জানান।    সৌদি কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের এমন প্রচেষ্টা এবারই প্রথম নয়। ২০১৭ সালের ২৭ জুলাই মক্কার দিকে একটি ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোড়ার অভিযোগও করেছিল সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। সেই ঘটনার পর এটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে উল্লেখ করেছেন আল-মালিকি।    মক্কা ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী এবং প্রতিবছর হজ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখ লাখ মুসল্লি সেখানে যান। সৌদি জোটের মুখপাত্র বলেছেন, দুই পবিত্র মসজিদ ও হাজিদের নিরাপত্তা তাদের জন্য ‘রেড লাইন’। ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।    তবে হুতিদের পক্ষ থেকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। হুতি মুখপাত্র হাজেম আল-আসাদ সৌদি দাবিকে প্রচারণা হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, মক্কা বা অন্য কোনো ধর্মীয় স্থাপনাকে লক্ষ্য করার দাবি সত্য নয়। ফলে ড্রোনটির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে।    ঘটনার আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের মক্কা ও জেদ্দাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে ইরানঘনিষ্ঠ যোদ্ধাদের একাধিক হামলার পর সৌদি আরবে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে। এর মধ্যে হুতিরা সৌদি ভূখণ্ডে কয়েকটি হামলার দাবি করেছে, যার মধ্যে একটি বিমানঘাঁটিতে হামলার দাবিও রয়েছে।    সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব সৌদি আরবের বাইরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেও পড়ছে। ইয়েমেনের লোহিত সাগর উপকূলের কিছু অংশ হুতিদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বাব আল-মান্দেব প্রণালি ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই নৌপথ বিশ্ব বাণিজ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও উদ্বেগ রয়েছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.40K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.15K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.27K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.13K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.08K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়