মুজিববর্ষ উদযাপন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যয় নিয়ে জাতীয় সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি, ভাস্কর্য, বেদি, প্রতিকৃতি ও ডিজিটাল সময় গণনার বোর্ড নির্মাণে সরকারের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বছরের খাবারের পেছনে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। রবিবার জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টির মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা খরচ করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৩ কোটি ২০ হাজার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেছে। এই বিপুল সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত হবে কি না—এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষের ব্যয়ের বিষয়ে এখনো তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগের সরকারের আমলের বিভিন্ন খাতের ব্যয় পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এটি শুধু মুজিববর্ষ বা প্রধানমন্ত্রীর খাবারের খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এ ধরনের আরও অনেক ব্যয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এসব হিসাবের বিষয়ে ক্রমান্বয়ে স্টক চেকিং করছে এবং সার্বিক যাচাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের সম্পদ লুট করে যারা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে সরকার আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে অনড়। এছাড়া, মাহবুবুর রহমান বেলালের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত তিনটি লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ঋণচুক্তির আওতায় বর্তমানে দেশে সাতটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
২০২৬ সালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও শেনজেন অঞ্চলের বাইরে থাকা ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা বহাল রেখেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি কাজে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কোনো ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এই সুবিধাপ্রাপ্ত ৬২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে আগের নিয়মেই ভিসা সংগ্রহ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে ভ্রমণ করতে হবে। জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসামুক্ত সুবিধার আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকরা প্রতি ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন জার্মানিতে অবস্থানের সুযোগ পাবেন। এই সময়ে তারা পর্যটন, ব্যবসায়িক কাজ, কিংবা পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে এই স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে জার্মানিতে কোনো ধরনের চাকরি বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার বা কাজ করার সুযোগ থাকবে না। জার্মানির এই ভিসামুক্ত তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইসরায়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার দেশগুলো স্থান পেয়েছে। এছাড়া ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউক্রেন, জর্জিয়া, মলদোভা, তাইওয়ান, আলবেনিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, ভেনেজুয়েলা, পানামা ও সার্বিয়া। এর পাশাপাশি বাহামাস, বার্বাডোস, ব্রুনাই, চিলি, কোস্টারিকা, ডোমিনিকা, এল সালভাদর, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, হংকং, কিরিবাতি, কসোভো, ম্যাকাও, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মরিশাস, মাইক্রোনেশিয়া, মোনাকো, মন্টিনিগ্রো, উত্তর ম্যাসিডোনিয়া, নিকারাগুয়া, পালাউ, প্যারাগুয়ে, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সামোয়া, সান মারিনো, সেশেলস, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, তিমোর-লেস্তে, টোঙ্গা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু, উরুগুয়ে, ভানুয়াতু, অ্যান্ডোরা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ভ্যাটিকান সিটির নাগরিকরাও জার্মানিতে স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের এই বিশেষ সুবিধা উপভোগ করবেন।
কানাডার টরন্টো শহরের একটি ব্যস্ত রাস্তার উৎসবের কাছে গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো একক হামলাকারীর আক্রমণ নয়; বরং দুই ব্যক্তি একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক বারেডো জানান, শনিবার রাত ৮টা ১২ মিনিটে সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ওয়েস্ট এবং আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির খবর পাওয়া যায়। ওই সময় সেখানে লাতিন আমেরিকান সংস্কৃতির বার্ষিক ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ উৎসব চলছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে রাতের সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত দুজনই পুরুষ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই এলাকায় সক্রিয় বন্দুকধারীর আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এলাকাটি নিরাপদ। ডেপুটি চিফ বারেডো বলেন, প্রাথমিকভাবে সক্রিয় হামলাকারীর আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে তদন্তে জানা যায়, এটি দুই ব্যক্তির মধ্যে গুলির ঘটনা। তবে এ ধরনের ঘটনা উৎসবে থাকা অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দের পর উৎসবে থাকা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। কাছের একটি রেস্টুরেন্টে থাকা ভ্যালেরি রদ্রিগেজ বলেন, মানুষ একে অপরকে মাটিতে শুয়ে পড়ার জন্য বলছিলেন, কারণ কেউ বুঝতে পারছিলেন না কী ঘটছে। উৎসবের এক বিক্রেতা প্যাটসি গুতিয়েরেজ জানান, মুহূর্তের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন। পরে আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রতিবছর হাজারো মানুষ লাইভ সংগীত, নাচ, খাবার ও লাতিন সংস্কৃতির বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করতে জড়ো হন। ঘটনার পর টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এমন জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হিলসবরো কাউন্টিতে পুলিশের একটি হেলিকপ্টারের দিকে রাইফেলের আদলে তৈরি এয়ারগান তাক করার অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, শনিবার ভোরে লুটজ এলাকার একটি আবাসিক এলাকা থেকে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ঘোরাফেরার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তিনজনকে অস্ত্রসদৃশ বস্তু হাতে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের এভিয়েশন ইউনিট আকাশ থেকে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এ সময় নজরদারি হেলিকপ্টারটি তাদের অবস্থান শনাক্ত করলে তিন কিশোর সেটির দিকেই অস্ত্রের মতো দেখতে এয়ারগান তাক করে। ঘটনাটি হেলিকপ্টারের ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে তিনজন পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়লে মাটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পুলিশের নির্দেশে তারা কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই বাইরে এসে আত্মসমর্পণ করে। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পরে বিবি পেলেট নিক্ষেপকারী এয়ারগান বলে নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ১৯ বছর বয়সী জারট্রেল হ্যামিল্টন এবং ১৫ বছর বয়সী জাভিস হ্যামিল্টন ও ব্রেইডেন ইসন। হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে অস্ত্র বা অস্ত্রের মতো দেখতে কোনো বস্তু তাক করাও অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গুরুতর অপরাধ। এতে মাঠে ও আকাশে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের বিরুদ্ধেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
২০২৬ সালেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও শেনজেন অঞ্চলের বাইরে থাকা ৬২টি দেশের নাগরিকদের জন্য স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের সুবিধা বহাল রেখেছে জার্মানি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকরা পর্যটন, ব্যবসা কিংবা অন্যান্য স্বল্পমেয়াদি কাজে সর্বোচ্চ ৯০ দিন পর্যন্ত কোনো ভিসা ছাড়াই জার্মানিতে প্রবেশ করতে পারবেন। তবে এই সুবিধাপ্রাপ্ত ৬২টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের নাম নেই। ফলে আগের নিয়মেই ভিসা সংগ্রহ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের জার্মানিতে ভ্রমণ করতে হবে। জার্মান পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভিসামুক্ত সুবিধার আওতায় থাকা দেশগুলোর নাগরিকরা প্রতি ১৮০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৯০ দিন জার্মানিতে অবস্থানের সুযোগ পাবেন। এই সময়ে তারা পর্যটন, ব্যবসায়িক কাজ, কিংবা পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে এই স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত সুবিধা ব্যবহার করে জার্মানিতে কোনো ধরনের চাকরি বা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার বা কাজ করার সুযোগ থাকবে না। জার্মানির এই ভিসামুক্ত তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং ইসরায়েলের মতো গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদার দেশগুলো স্থান পেয়েছে। এছাড়া ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও ওশেনিয়া অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, মেক্সিকো, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইউক্রেন, জর্জিয়া, মলদোভা, তাইওয়ান, আলবেনিয়া, কলম্বিয়া, পেরু, ভেনেজুয়েলা, পানামা ও সার্বিয়া। এর পাশাপাশি বাহামাস, বার্বাডোস, ব্রুনাই, চিলি, কোস্টারিকা, ডোমিনিকা, এল সালভাদর, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, হংকং, কিরিবাতি, কসোভো, ম্যাকাও, মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ, মরিশাস, মাইক্রোনেশিয়া, মোনাকো, মন্টিনিগ্রো, উত্তর ম্যাসিডোনিয়া, নিকারাগুয়া, পালাউ, প্যারাগুয়ে, সেন্ট কিটস ও নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট ও গ্রেনাডাইনস, সামোয়া, সান মারিনো, সেশেলস, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, তিমোর-লেস্তে, টোঙ্গা, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, টুভালু, উরুগুয়ে, ভানুয়াতু, অ্যান্ডোরা, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা এবং ভ্যাটিকান সিটির নাগরিকরাও জার্মানিতে স্বল্পমেয়াদি ভিসামুক্ত প্রবেশের এই বিশেষ সুবিধা উপভোগ করবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে রেকর্ড সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশ দেশের আবাসন খাতের মূল্য বৃদ্ধি, ভাড়া বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের একটি সাম্প্রতিক কার্যপত্রে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। "ইউএস লেবার অ্যান্ড হাউজিং মার্কেটস"-এর ওপর অননুমোদিত অভিবাসনের প্রভাব শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মার্চ মাসে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশটির মোট জনসংখ্যায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছে, যা আইনি অভিবাসনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন মার্কিন অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বলে গবেষকেরা নথিপত্রে উল্লেখ করেছেন। এই অবৈধ অভিবাসন ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী। একই সময়ে আবাসন খাতে বাড়িঘরের দাম বাড়ার পেছনেও ৩০ শতাংশ ভূমিকা রেখেছে এই অননুমোদিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। এছাড়া সাধারণ মানুষের ফ্ল্যাট বা বাড়ি ভাড়ার খরচ বৃদ্ধির পেছনেও ২০ শতাংশ প্রভাব ফেলেছে এই একই সমস্যা। আরভিং এলাকার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বেথ ভ্যান ডুইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছিলেন, তখন তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন যে আমাদের বহিষ্কারের ওপর জোর দিতে হবে। ভ্যান ডুইন বলেন, বর্তমান প্রশাসনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে বা তারা নিজেরাই দেশ ছেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে আবাসন বাজারে দাম এখন কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি ভ্যান ডুইন টেক্সাসে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এইচ-ওয়ানবি ভিসার জালিয়াতি তদন্তের জন্য প্রশাসন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্টেট সেক্রেটারির প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ভুয়া ভিসা ধারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ায় মার্কিন নাগরিকেরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কম বেতনের বিদেশী কর্মীদের কারণে মজুরির হার কমে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আগামী ৬ই আগস্ট আর্লিংটনের গ্লোব লাইফ ফিল্ডে দেশের বৃহত্তম চাকরি মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছেন তিনি।
কানাডার টরন্টো শহরের একটি ব্যস্ত রাস্তার উৎসবের কাছে গুলির ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত এবং আরও চারজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এটি কোনো একক হামলাকারীর আক্রমণ নয়; বরং দুই ব্যক্তি একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক বারেডো জানান, শনিবার রাত ৮টা ১২ মিনিটে সেন্ট ক্লেয়ার অ্যাভিনিউ ওয়েস্ট এবং আর্লিংটন অ্যাভিনিউ এলাকায় গুলির খবর পাওয়া যায়। ওই সময় সেখানে লাতিন আমেরিকান সংস্কৃতির বার্ষিক ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ উৎসব চলছিল। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে রাতের সংবাদ সম্মেলন পর্যন্ত কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। নিহত দুজনই পুরুষ বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। ঘটনার পরপরই এলাকায় সক্রিয় বন্দুকধারীর আশঙ্কায় সাধারণ মানুষকে সেখান থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পুলিশ জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং এলাকাটি নিরাপদ। ডেপুটি চিফ বারেডো বলেন, প্রাথমিকভাবে সক্রিয় হামলাকারীর আশঙ্কা তৈরি হলেও পরে তদন্তে জানা যায়, এটি দুই ব্যক্তির মধ্যে গুলির ঘটনা। তবে এ ধরনের ঘটনা উৎসবে থাকা অসংখ্য সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ গুলির শব্দের পর উৎসবে থাকা মানুষ আতঙ্কিত হয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। কাছের একটি রেস্টুরেন্টে থাকা ভ্যালেরি রদ্রিগেজ বলেন, মানুষ একে অপরকে মাটিতে শুয়ে পড়ার জন্য বলছিলেন, কারণ কেউ বুঝতে পারছিলেন না কী ঘটছে। উৎসবের এক বিক্রেতা প্যাটসি গুতিয়েরেজ জানান, মুহূর্তের মধ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ আতঙ্কে এলাকা ছেড়ে চলে যেতে শুরু করেন। পরে আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। ‘সালসা অন সেন্ট ক্লেয়ার’ টরন্টোর অন্যতম বড় সাংস্কৃতিক উৎসব, যেখানে প্রতিবছর হাজারো মানুষ লাইভ সংগীত, নাচ, খাবার ও লাতিন সংস্কৃতির বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করতে জড়ো হন। ঘটনার পর টরন্টোর মেয়র অলিভিয়া চাও এমন জনসমাগমপূর্ণ স্থানে সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডও নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার কারণ এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের হিলসবরো কাউন্টিতে পুলিশের একটি হেলিকপ্টারের দিকে রাইফেলের আদলে তৈরি এয়ারগান তাক করার অভিযোগে তিন কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হিলসবরো কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানায়, শনিবার ভোরে লুটজ এলাকার একটি আবাসিক এলাকা থেকে সন্দেহজনক ব্যক্তিদের ঘোরাফেরার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, তিনজনকে অস্ত্রসদৃশ বস্তু হাতে এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের এভিয়েশন ইউনিট আকাশ থেকে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ শুরু করে। এ সময় নজরদারি হেলিকপ্টারটি তাদের অবস্থান শনাক্ত করলে তিন কিশোর সেটির দিকেই অস্ত্রের মতো দেখতে এয়ারগান তাক করে। ঘটনাটি হেলিকপ্টারের ক্যামেরায় ধারণ হয়। পরে তিনজন পাশের একটি বাড়িতে ঢুকে পড়লে মাটিতে থাকা পুলিশ সদস্যরা বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। পুলিশের নির্দেশে তারা কোনো প্রতিরোধ ছাড়াই বাইরে এসে আত্মসমর্পণ করে। তল্লাশিতে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো পরে বিবি পেলেট নিক্ষেপকারী এয়ারগান বলে নিশ্চিত করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন ১৯ বছর বয়সী জারট্রেল হ্যামিল্টন এবং ১৫ বছর বয়সী জাভিস হ্যামিল্টন ও ব্রেইডেন ইসন। হিলসবরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে অস্ত্র বা অস্ত্রের মতো দেখতে কোনো বস্তু তাক করাও অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং গুরুতর অপরাধ। এতে মাঠে ও আকাশে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়তে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনজনের বিরুদ্ধেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র দিয়ে হামলার চেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মুজিববর্ষ উদযাপন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যয় নিয়ে জাতীয় সংসদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি, ভাস্কর্য, বেদি, প্রতিকৃতি ও ডিজিটাল সময় গণনার বোর্ড নির্মাণে সরকারের মোট ৯৮২ কোটি ৯১ লাখ ৭৪ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এক বছরের খাবারের পেছনে সরকারি কোষাগার থেকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা খরচ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। রবিবার জাতীয় সংসদে স্পিকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলালের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের ৬২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ৪৩টির মাধ্যমে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৮৩ কোটি ১৫ লাখ টাকা খরচ করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। এছাড়া রেলপথ মন্ত্রণালয় ২০৬ কোটি ৭৩ লাখ ৭১ হাজার, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ১৪০ কোটি ৪৫ লাখ ৫০ হাজার, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ১৩৩ কোটি ৩ লাখ ২০ হাজার এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৪৭ কোটি ৬৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয় করেছে। পাশাপাশি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২৬ কোটি ২৬ লাখ ৪১ হাজার, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২৪ কোটি ৩০ লাখ ৪৩ হাজার, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ২৩ কোটি ২০ হাজার এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ২০ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ করেছে। এই বিপুল সরকারি অর্থের অপচয় নিয়ে কোনো নিরীক্ষা বা তদন্ত হবে কি না—এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, মুজিববর্ষের ব্যয়ের বিষয়ে এখনো তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে আগের সরকারের আমলের বিভিন্ন খাতের ব্যয় পর্যায়ক্রমে যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এটি শুধু মুজিববর্ষ বা প্রধানমন্ত্রীর খাবারের খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এ ধরনের আরও অনেক ব্যয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এসব হিসাবের বিষয়ে ক্রমান্বয়ে স্টক চেকিং করছে এবং সার্বিক যাচাই শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। অন্যদিকে, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের সম্পদ লুট করে যারা বিদেশে পাচার করেছে, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে মামলা ও তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সম্পত্তি জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানান, এই অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে সরকার আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণে অনড়। এছাড়া, মাহবুবুর রহমান বেলালের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি সংসদকে অবহিত করেন যে, সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত তিনটি লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) ঋণচুক্তির আওতায় বর্তমানে দেশে সাতটি প্রকল্প চলমান রয়েছে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি, বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ইরানের মেধাবী জনশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি। বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।” ইরানের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে বিনিয়োগ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তারই ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরির দাবি করে আসছে তেহরান। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা ইরানের ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। দেশটির বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল তাঁর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছে। বিতর্কের সূত্রপাত হয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে বালেন শাহ বলেন, শুধু ভারত নয়, নেপালও সীমান্তের কিছু এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনায় আসে। বক্তব্য প্রকাশের পর কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নেপালের জাতীয় অবস্থানকে দুর্বল করেছে। সংসদেও এ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয় এবং বিরোধীরা তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলে। এদিকে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ব্যাখ্যায় জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় উভয় দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন, নেপালের সার্বভৌম অবস্থান থেকে সরে আসেননি। ভারতও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লি পুনর্ব্যক্ত করেছে, ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত এবং তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকার প্রয়োজন নেই। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থনে ক্ষমতায় আসেন বালেন্দ্র (বালেন) শাহ। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সীমান্ত ইস্যুতে তাঁর মন্তব্য সেই সমর্থকদের একাংশের মধ্যেই অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে ওমানের মুসান্দাম অঞ্চলে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কাতারে ইরানি হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া কারও স্বার্থে নয়। ইসলামাবাদ কূটনৈতিক সংলাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। ওমানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় মুসান্দাম গভর্নরেটের কয়েকটি স্থানে ড্রোন আঘাত হেনেছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। অন্যদিকে কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলার সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পর পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক সংঘাতের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। একই সঙ্গে ওমান, কাতার ও পাকিস্তানসহ একাধিক মধ্যস্থতাকারী দেশ আবারও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে।
ওমান উপকূলের কাছে হামলার শিকার সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সি থেকে ১১ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও একজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানায়, মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলা চালায়। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফা হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে আগুন লাগে, ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হন। অন্যদিকে ইরানের দাবি, জাহাজটি অনুমোদনহীন নৌপথে চলাচল করছিল। তাই সেটির উদ্দেশে কেবল সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছিল, যা জাহাজে আঘাত হানে। বেইজিং বা অন্য কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত এই দুই পক্ষের দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার কারণে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। ভারতসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও শক্তিশালী টাইফুনের আঘাতে বিপর্যস্ত চীন। ‘বাভি’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ার পর অন্তত ১৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ফিলিপাইনে ঝড়টির প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ১৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় উপকূলীয় শহর তাইঝোতে প্রথম আঘাত হানে বাভি। প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই ঝড়টি মধ্যরাতে ওয়েনঝো শহরে দ্বিতীয়বার আঘাত করে। বর্তমানে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। রোববার সকালে ঝড়টি ঝেজিয়াং প্রদেশের রাজধানী হাংঝুতে পৌঁছায় এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশ অতিক্রম করে মঙ্গলবারের মধ্যে শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরে প্রবেশ করতে পারে। টাইফুনের প্রভাবে ঝেজিয়াং প্রদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল, অফিস এবং সব ধরনের বহিরাঙ্গন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমান ও রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে; ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে। ওয়েনঝো শহরে ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়া এবং গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় এক কোটি মানুষের এই শহরে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে রাজধানী বেইজিংয়েও আরও এক লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক শক্তি নিয়ে এগোয় বাভি। গত সোমবার গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানার সময় এটিকে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে এর প্রভাবে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় বহু মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন এখনো গত সপ্তাহের টাইফুন ‘মেসাক’-এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ওই ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারান এবং কৃষি ও পশুপালন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই বাভির নতুন আঘাত দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় অনেক এলাকায় সুপারমার্কেটগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে, তাই সতর্কতা অব্যাহত রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।