আমেরিকায় আয়কর বিবরণী জমা দিলেই সরকারকে বাড়তি টাকা দিতে হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকের বেতন থেকে সারা বছর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আয়কর কেটে রাখা হয়। আবার সন্তান, স্বল্প ও মাঝারি আয় কিংবা উচ্চশিক্ষার খরচের কারণে অনেকে বিশেষ করছাড়ের যোগ্য হন। এসব ক্ষেত্রে বছর শেষে আয়কর হিসাব করার পর শত শত কিংবা হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া সম্ভব। তবে সবার ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর ফেরত পাওয়া কোনো সরকারি উপহার বা অতিরিক্ত ভাতা নয়। একজন করদাতার কাছ থেকে সারা বছর যে পরিমাণ আয়কর কেটে রাখা হয়েছে, চূড়ান্ত হিসাবে তার প্রকৃত করের পরিমাণ এর চেয়ে কম হলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ফেরতযোগ্য করছাড় যুক্ত হলে ফেরতের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার একটি হলো শিশু করছাড়। ২০২৫ করবর্ষে যোগ্য প্রতিটি সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত শিশু করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে করবর্ষের শেষে সন্তানের বয়স ১৭ বছরের নিচে থাকতে হয়। পাশাপাশি সন্তানকে নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে দেখানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এই শিশু করছাড়ের একটি অংশ ফেরতযোগ্য হতে পারে। অর্থাৎ কারও প্রদেয় আয়কর কমে শূন্য হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যোগ্য হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে পরিবারের আয়, কর জমার ধরন এবং সন্তানের যোগ্যতার ওপর প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করে। কম ও মাঝারি আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অর্জিত আয় করছাড়। এটি ফেরতযোগ্য করছাড়। ফলে যোগ্য ব্যক্তির প্রদেয় কর শূন্য হলেও করছাড়ের একটি অংশ অর্থ হিসেবে ফেরত পাওয়া সম্ভব। সন্তান রয়েছে এমন অনেক নিম্ন ও মাঝারি আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। পড়াশোনার খরচের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করসুবিধা রয়েছে। যোগ্য কলেজ বা উচ্চশিক্ষার ব্যয়ের জন্য একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত বিশেষ শিক্ষা করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। এর একটি অংশ ফেরতযোগ্যও হতে পারে। তবে শুধু পড়াশোনার জন্য টাকা খরচ করলেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীর অবস্থান, যোগ্য শিক্ষা ব্যয় এবং পরিবারের আয়ের সীমাসহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। কাজের জন্য গাড়ি ব্যবহার করলেও কিছু ক্ষেত্রে বৈধভাবে ব্যবসায়িক খরচ দেখানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব চাকরিজীবীর জন্য নয়। যারা নিজের ব্যবসা করেন বা স্বাধীনভাবে কাজ করে আয় করেন, তারা ব্যবসার কাজে গাড়ি ব্যবহারের যোগ্য অংশ নির্দিষ্ট নিয়মে খরচ হিসেবে দেখাতে পারেন। ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহার কিংবা বাসা থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ সাধারণভাবে ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে দেখানো যায় না। এ ধরনের সুবিধা দাবি করতে হলে ব্যবসার কাজে কত মাইল গাড়ি চালানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাসার একটি অংশ অফিস হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। যারা নিজের ব্যবসা বা স্বাধীন পেশার কাজ করেন এবং বাসার একটি নির্দিষ্ট জায়গা নিয়মিত ও শুধু ব্যবসার কাজে ব্যবহার করেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে গৃহ কার্যালয় বাবদ করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বেতনভুক্ত কর্মী শুধু বাসা থেকে কাজ করছেন বলে কেন্দ্রীয় আয়কর বিবরণীতে গৃহ কার্যালয়ের খরচ দেখাতে পারেন না। ফলে কোন খরচ বৈধভাবে বাদ দেওয়া যাবে, সেটি নিজের কর্মসংস্থানের ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি। বেতনভুক্ত চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ, গাড়িতে যাত্রী পরিবহন, খাবার সরবরাহ, অনলাইনে কাজ কিংবা ছোট ব্যবসা থেকে আয় করা ব্যক্তিদের আয়কর হিসাব আরও জটিল হতে পারে। কারণ স্বাধীন কাজের আয় থেকে সাধারণ চাকরির বেতনের মতো সবসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর কেটে রাখা হয় না। স্বাধীনভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় আয়করের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্মসূচির জন্য স্বনিয়োজিত করও দিতে হতে পারে। স্বনিয়োজিত কাজ থেকে নিট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে এই কর প্রযোজ্য হতে পারে। অনেকের আরেকটি ভুল ধারণা হলো নগদ অর্থে আয় করলে সেটি আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হয় না। বাস্তবে করযোগ্য আয় নগদে পাওয়া হলেও সাধারণভাবে তা দেখাতে হয়। কোনো কাজের জন্য আলাদা আয়সংক্রান্ত কাগজ পাওয়া যায়নি বলেই সেই আয় করমুক্ত হয়ে যায় না। একই কারণে বৈধ খরচ দেখানোর পাশাপাশি সব করযোগ্য আয় সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক খরচের রসিদ, গাড়ি চালানোর হিসাব, শিক্ষা ব্যয়ের কাগজপত্র, সন্তান দেখাশোনার খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করলে আয়কর জমা দেওয়ার সময় ভুলের ঝুঁকি কমে। যারা আগের বছরগুলোতে আয়কর বিবরণী জমা দেননি, তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারও নামে আগের কোনো বছরের অর্থ ফেরত পাওনা থাকলেও অনির্দিষ্টকাল সেই অর্থ দাবি করার সুযোগ থাকে না। সাধারণভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরোনো আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে ফেরত দাবি করতে হয়। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রাপ্য অর্থ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই “আমেরিকায় আয়কর জমা দিলেই টাকা কেটে নেয়” যেমন ভুল ধারণা, তেমনি “আয়কর জমা দিলেই হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া যায়” কথাটিও সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়। কেউ বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত পেতে পারেন, আবার কাউকে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হতে পারে। কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে বা দিতে হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির মোট আয়, সারা বছর কেটে রাখা কর, বিবাহ ও পারিবারিক অবস্থা, সন্তান, যোগ্য করছাড়, ব্যবসায়িক আয় এবং বৈধ খরচের ওপর। বিশেষ করে চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ বা ব্যবসা থেকে আয় থাকলে একজন অনুমোদিত হিসাবরক্ষক বা যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কোনো করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলে শুধু বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় সেটি দাবি করা উচিত নয়। আমেরিকায় আয়কর ব্যবস্থাকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে নিজের বৈধ সুযোগগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে আয়কর বিবরণী জমা দিলে একদিকে যেমন করসংক্রান্ত আইন মেনে চলা যায়, অন্যদিকে নিজের প্রাপ্য করছাড় ও অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থও ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত আয়কর, আর্থিক বা আইনি পরামর্শ নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধ তহবিলে দেওয়া ৩৫ হাজার রুপি ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়ে আলোচনায় এসেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি পরিবার। ১৯১৭ সালের একটি পুরোনো সনদকে ভিত্তি করে ওই অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছে সিহোরের রুঠিয়া পরিবার। তাদের আবেদনের পর যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস আরও নথিপত্র চেয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গিল্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়েছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো অর্থ পাওনা থাকার দাবি স্বীকার করেনি। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সেঠ জুম্মা লাল রুঠিয়া। পরিবারের কাছে থাকা ১৯১৭ সালের ৪ জুনের সনদে উল্লেখ রয়েছে, ভোপাল স্টেটের ‘সেঠ রামা কিশান জাসকারান রুঠিয়া’ প্রতিষ্ঠানের জুম্মা লাল ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোনে’ ৩৫ হাজার রুপি সাবস্ক্রাইব করেছিলেন। সনদটিতে তৎকালীন ভোপালের ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট ডব্লিউ এস ডেভিসের স্বাক্ষর রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ সরকার বিপুল যুদ্ধব্যয় মেটাতে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধঋণ ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। ব্রিটিশ ভারতেও সেই তহবিল সংগ্রহের অংশ হিসেবে ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ চালু হয়। রুঠিয়া পরিবারের কাছে থাকা সনদটি সেই কর্মসূচিতে জুম্মা লালের ৩৫ হাজার রুপি দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে তারা উপস্থাপন করছে। পরিবারটির দাবি, ওই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল এমন কোনো নথি তারা খুঁজে পায়নি। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ১৯১৭ সালের সনদটি অর্থ দেওয়ার তথ্য সমর্থন করলেও সেই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল কি না অথবা অন্য কোনোভাবে হিসাব নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। রুঠিয়া পরিবারের সদস্য বিনয় ও বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, পুরোনো পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে সনদটি পাওয়ার পর তারা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কয়েক মাস পর ব্রিটিশ পক্ষ থেকে তাদের আবেদনের জবাব আসে। ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের জবাবে পরিবারটিকে বলা হয়েছে, তারা যদি মনে করে কোনো দাবি না করা অর্থ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে, তাহলে গিল্ট রেজিস্ট্রার কম্পিউটারশেয়ার ইনভেস্টর সার্ভিসেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পরিবারটির পাঠানো তথ্য ও নথি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানোর কথাও জানিয়েছে ডিএমও। একই সঙ্গে মূল সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট পুরোনো চিঠিপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। ফলে ব্রিটিশ সরকারের এই জবাবকে ঋণ স্বীকার বা অর্থ ফেরতের সম্মতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপাতত এটি শতাব্দী পুরোনো দাবিটির নথিপত্র যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক ধাপ। পরিবারটির সদস্য বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন তাদের কাছে শুধু অর্থের হিসাব নয়। তারা জানতে চান, তাদের পূর্বপুরুষের দেওয়া অর্থের শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল এবং সেই ঋণ কখনো নিষ্পত্তি করা হয়েছিল কি না। পরিবারটির কাছে থাকা নথি অনুযায়ী জুম্মা লাল রুঠিয়া ১৯৩৭ সালে মারা যান। পরিবারটি শেষ পর্যন্ত কত অর্থ দাবি করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে তাদের বক্তব্য, মূল ৩৫ হাজার রুপির সঙ্গে প্রযোজ্য সুদ এবং শত বছরের বেশি সময়ের মূল্য পরিবর্তন বিবেচনায় নিলে অঙ্কটি বর্তমান হিসাবে কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি রুপির বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে এটি তাদের নিজস্ব হিসাব এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এমন কোনো অঙ্ক স্বীকার করেনি। পরিবারটির দাবির সঙ্গে ব্রিটেনের প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন পুরোনো সরকারি ঋণ পরিশোধের ইতিহাসও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছিল, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ‘ওয়ার লোন’-এর বকেয়া প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড ২০১৫ সালের ৯ মার্চ সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। ওই বন্ডটি ১৯৩২ সালে ইস্যু করা হলেও এর উৎস ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেওয়া সরকারি ঋণ পুনঃঅর্থায়ন। ব্রিটিশ সরকার সে সময় আরও কয়েকটি পুরোনো মেয়াদহীন সরকারি বন্ডও পরিশোধের উদ্যোগ নেয়। তবে ২০১৫ সালে পরিশোধ করা ওই ব্রিটিশ সরকারি বন্ডগুলোর সঙ্গে জুম্মা লাল রুঠিয়ার ১৯১৭ সালের ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ সাবস্ক্রিপশনের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একই ঋণ হিসেবে ধরে নেওয়া সঠিক হবে না। রুঠিয়া পরিবারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো ১০৯ বছরের পুরোনো আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা। মূল সনদের পাশাপাশি উত্তরাধিকার সম্পর্কিত নথি এবং ঋণটি পরবর্তীতে পরিশোধ বা রূপান্তরিত হয়েছিল কি না, তার রেকর্ডই দাবিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে পড়ে থাকা একটি সনদ এভাবেই এখন যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছে। রুঠিয়া পরিবার চাইছে, ১৯১৭ সালের সেই ৩৫ হাজার রুপির হিসাব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থেমেছিল, তার আনুষ্ঠানিক উত্তর দিক ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ডে বাসা থেকে বের হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৫৫টি শিশু সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যু হয়েছে। সমুদ্রের দিকে যাওয়ার বদলে কৃত্রিম আলোয় বিভ্রান্ত হয়ে তারা বিপরীত দিকে চলে যায়। পরে সড়কের কাছে মৃত অবস্থায় কচ্ছপগুলোকে পাওয়া যায়। টাম্পাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডব্লিউএফএলএ জানিয়েছে, অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ড টার্টল ওয়াচ অ্যান্ড শোরবার্ড মনিটরিংয়ের স্বেচ্ছাসেবীরা সকালে টহলের সময় শিশু কচ্ছপগুলোকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। ঘটনাটিকে হৃদয়বিদারক বলে বর্ণনা করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। সামুদ্রিক কচ্ছপের বাচ্চারা সাধারণত রাতের অন্ধকারে বালুর নিচের বাসা থেকে বের হয়। জন্মগত প্রবৃত্তির কারণে তারা সবচেয়ে উজ্জ্বল ও খোলা দিগন্তের দিকে এগিয়ে যায়। প্রাকৃতিক পরিবেশে সমুদ্রের ওপর রাতের আকাশের আলো তাদের পানির দিকে যেতে সাহায্য করে। কিন্তু সৈকতের আশপাশের বাড়ি, হোটেল, রাস্তা, গাড়ি কিংবা অন্যান্য স্থাপনার কৃত্রিম আলো অনেক সময় তাদের সেই স্বাভাবিক দিকনির্দেশনা নষ্ট করে দেয়। ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, কৃত্রিম আলোয় বিভ্রান্ত হয়ে প্রতি বছর ফ্লোরিডায় হাজার হাজার শিশু সামুদ্রিক কচ্ছপ মারা যায়। অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ডে চলতি মৌসুমে সমস্যাটি বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত সেখানে যে ২৭টি সামুদ্রিক কচ্ছপের বাসা থেকে বাচ্চা বের হয়েছিল, তার মধ্যে ১৫টির বাচ্চাদের কৃত্রিম আলোর কারণে দিক হারানোর ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ব্র্যাডেনটন বিচে ১০টি এবং হোমস বিচে পাঁচটি বাসায় এমন ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের মতে, ২০২৪ সালের হারিকেন হেলেন ও মিল্টনের কারণে উপকূলের অনেক প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব বালিয়াড়ি আগে সৈকতের দিকে আসা কৃত্রিম আলো অনেকাংশে আটকে দিত। সেগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন আশপাশের আলো আরও সহজে সৈকতে পৌঁছাচ্ছে। ফ্লোরিডায় মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সামুদ্রিক কচ্ছপের প্রধান নেস্টিং সিজন। এ সময় অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকায় সৈকতের দিকে দৃশ্যমান কৃত্রিম আলো নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নিয়ম রয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বাসিন্দা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটকদের রাতের বেলায় অপ্রয়োজনীয় বাইরের আলো বন্ধ রাখা এবং জানালার পর্দা টেনে রাখার আহ্বান জানিয়ে আসছে। ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন বলছে, সৈকত থেকে দেখা যায় এমন যেকোনো কৃত্রিম আলো শিশু কচ্ছপের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কাছাকাছি কোনো বাতির আলো তাদের কাছে সমুদ্রের দিগন্তের চেয়েও উজ্জ্বল মনে হতে পারে। তখন তারা পানির দিকে না গিয়ে সেই আলোর উৎসের দিকে এগিয়ে যায়। দিক হারানোর পর শিশু কচ্ছপগুলো দীর্ঘ সময় বালুর ওপর ঘুরতে থাকলে দ্রুত পানিশূন্যতা ও ক্লান্তিতে আক্রান্ত হতে পারে। একই সঙ্গে গাড়ির নিচে চাপা পড়া এবং শিকারি প্রাণীর কবলে পড়ার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ড টার্টল ওয়াচ বাসিন্দা ও পর্যটকদের রাতের বেলায় সৈকতের দিকে মুখ করা আলো কমিয়ে দিতে বলেছে। জানালার ব্লাইন্ড বা পর্দা বন্ধ রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া সৈকতে ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার না করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। সামুদ্রিক কচ্ছপের জীবনচক্রের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময়গুলোর একটি জন্মের পর সমুদ্রে পৌঁছানোর এই ছোট পথ। ফ্লোরিডার বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, জন্ম নেওয়া প্রতি এক হাজার সামুদ্রিক কচ্ছপের মধ্যে আনুমানিক একটি পূর্ণবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকে। ফলে অ্যানা মারিয়া আইল্যান্ডে একসঙ্গে ৫৫টি শিশু কচ্ছপের মৃত্যু স্থানীয় সংরক্ষণকর্মীদের জন্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম ছয় মাসে শহরের বাস থেকে ভাড়া আদায় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১ মিলিয়ন ডলার কমেছে। একই সময়ে বাসে ভাড়া না দিয়ে যাতায়াতের হারও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। মেট্রোপলিটন ট্রান্সপোর্টেশন অথরিটির হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় অর্ধেক বাসযাত্রী নির্ধারিত ৩ ডলার ভাড়া পরিশোধ করছেন না। ফক্স নিউজ ও নিউইয়র্কের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম গথামিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুনে বাসে ভাড়া পরিশোধ করা যাত্রীর সংখ্যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে সাবওয়ে ও কমিউটার রেলে ভাড়া থেকে আয়ের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। এই পরিস্থিতির মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে মামদানির বহুল আলোচিত বাসভাড়া ফ্রি করার পরিকল্পনা। ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনের ক্যাম্পেইনে নিউইয়র্ক সিটির বাসে ভাড়া তুলে দেওয়াকে নিজের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি করেছিলেন তিনি। তবে এখন পর্যন্ত নিউইয়র্কের বাস ফ্রি করা হয়নি এবং যাত্রীদের নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধের নিয়ম বহাল রয়েছে। নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমটিএ সিটি সরকারের অধীন নয়। এটি নিউইয়র্ক স্টেটের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পাবলিক অথরিটি। ফলে মেয়র একক সিদ্ধান্তে বাসের ভাড়া বাতিল করতে পারেন না। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে স্টেট পর্যায়ে অনুমোদন ও অর্থায়নের ব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। এমটিএ চেয়ারম্যান ও সিইও জানো লিবারের বক্তব্যে মামদানির ফ্রি বাসের রাজনৈতিক প্রচারণার সঙ্গে ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধির সম্ভাব্য সম্পর্কের বিষয়টি উঠে এসেছে। তার যুক্তি, বাস ফ্রি করার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে আলোচনা চলতে থাকায় কিছু যাত্রীর মধ্যে ভাড়া না দেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারে। ট্রানজিট কর্মীদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের একজন কর্মকর্তাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো সেবাকে ভবিষ্যতে ফ্রি করার কথা বারবার বলা হলে কিছু মানুষের মধ্যে সেটির জন্য এখনই অর্থ না দেওয়ার মনোভাব তৈরি হতে পারে। তবে বাসে ফেয়ার ইভেশন বা ভাড়া ফাঁকি দেওয়ার সমস্যার জন্য শুধু মামদানির ক্যাম্পেইনকে দায়ী করার মতো প্রমাণ নেই। নিউইয়র্কে বাসভাড়া ফাঁকি দেওয়ার হার মামদানি মেয়র হওয়ার অনেক আগে থেকেই অত্যন্ত বেশি ছিল। নিউইয়র্ক স্টেট কম্পট্রোলারের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাসে ফেয়ার ইভেশনের গড় হার ছিল প্রায় ৪৭ শতাংশ। ২০২৫ সালের প্রথম তিন মাসে তা কিছুটা কমে ৪৪ শতাংশে নেমেছিল। কোভিড মহামারির সময়ও নিউইয়র্ক সিটির বাসে সাময়িকভাবে ভাড়া নেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে আবার ভাড়া চালু হলেও বাসে ফেয়ার ইভেশন দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা হিসেবে থেকে যায়। ফলে বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে মামদানির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে এমটিএ কর্মকর্তা ও মেয়র প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। এর আগে নিউইয়র্কে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি বাস রুটে ফ্রি সার্ভিস চালু করা হয়েছিল। ২০২৩ সালে শুরু হওয়া ওই কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হয়নি। কর্মসূচিটি ২০২৪ সালে শেষ হয়। মামদানি বরাবরই যুক্তি দিয়ে আসছেন, বাসভাড়া তুলে দিলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের নিউইয়র্কবাসীর দৈনন্দিন খরচ কমবে এবং গণপরিবহন আরও সহজলভ্য হবে। তার প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ফ্রি বাস পরিকল্পনার পক্ষে অবস্থান বহাল রাখা হয়েছে। অন্যদিকে এমটিএর সামনে বড় প্রশ্ন অর্থায়ন। বাস থেকে ভাড়া আদায় কমে গেলে সেই ঘাটতি কোথা থেকে পূরণ হবে, তা নিয়েই মূল বিতর্ক। কারণ বাস পরিচালনা, কর্মীদের বেতন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং পুরো ট্রানজিট ব্যবস্থার আর্থিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে ভাড়া থেকে পাওয়া রাজস্ব সরাসরি যুক্ত। ফলে নিউইয়র্কে বিতর্ক এখন শুধু বাস ফ্রি হবে কি না, সেই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই। বাস এখনো ফ্রি না হলেও কেন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ভাড়া দিচ্ছেন না এবং বছরে শত শত মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য রাজস্ব হারানোর চাপ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, সেটিই এমটিএ ও মামদানি প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য সরকারি চাকরি হতে পারে স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। সিটি, কাউন্টি, স্টেট এবং ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রশাসন, হিসাবরক্ষণ, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, জননিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, ইঞ্জিনিয়ারিং, রক্ষণাবেক্ষণসহ নানা ধরনের পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে সরকারি চাকরিতে আবেদন করার নিয়ম বেসরকারি চাকরির মতো নয়। কোথায় চাকরিটি, কোন দপ্তরের অধীনে এবং পদটির জন্য পরীক্ষা বা বিশেষ যোগ্যতা প্রয়োজন কি না, তার ওপর পুরো প্রক্রিয়া নির্ভর করে। সবচেয়ে আগে বুঝতে হবে, সিটি জব, স্টেট জব এবং ফেডারেল জব আলাদা। কোনো শহরের চাকরি হলে সেটি সিটি সরকারের অধীনে, স্টেট জব হলে রাজ্য সরকারের অধীনে এবং ফেডারেল জব হলে কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে। তাই চাকরি খোঁজার জায়গাটিও আলাদা। ইউএসএ গভ-এর তথ্য অনুযায়ী, ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস প্রধান সরকারি প্ল্যাটফর্ম। আর স্টেট সরকারের চাকরির জন্য সংশ্লিষ্ট স্টেটের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টালে যেতে হয়। স্থানীয় সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সিটি বা কাউন্টির সরকারি ওয়েবসাইট দেখতে হয়। নিউইয়র্ক সিটির চাকরি এর একটি ভালো উদাহরণ। নিউইয়র্ক সিটি সরকারের অধীনে তিন লাখের বেশি কর্মী এবং প্রায় ৮০টি এজেন্সি রয়েছে। ক্লেরিক্যাল ও প্রশাসনিক কাজ থেকে শুরু করে অর্থ ও হিসাব, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, সামাজিক সেবা, প্রকৌশল, রক্ষণাবেক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং বিভিন্ন কারিগরি পেশায় চাকরির সুযোগ রয়েছে। তবে নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। সিটির ৮০ শতাংশের বেশি চাকরিতে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা প্রয়োজন। অর্থাৎ শুধু চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে জীবনবৃত্তান্ত পাঠালেই অনেক ক্ষেত্রে হবে না। প্রথমে সংশ্লিষ্ট পদের জন্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে হতে পারে। যে পদে পরীক্ষা প্রয়োজন, তার জন্য প্রথমে ওই পদের পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশ ভালোভাবে পড়তে হবে। সেখানে কাজের ধরন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, কাজের অভিজ্ঞতা, পরীক্ষার পদ্ধতি, আবেদন করার সময়সীমা এবং পরীক্ষার ফি সম্পর্কে তথ্য থাকে। যোগ্যতা পূরণ করলে নিউইয়র্ক সিটির ডিপার্টমেন্ট অব সিটিওয়াইড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসেসের অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন সিস্টেমের মাধ্যমে পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যায়। চাইলে নির্দিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেও আবেদন করা যায়। পরীক্ষার ধরনও সব পদের জন্য এক নয়। কিছু পরীক্ষা নির্দিষ্ট দিনে অনুষ্ঠিত হয়। আবার কিছু পদে শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অনলাইনে মূল্যায়ন করা হয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীর নাম নির্দিষ্ট তালিকায় আসে এবং নিয়োগকারী সিটি এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী প্রার্থীদের ইন্টারভিউতে ডাকতে পারে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক সিটির সব চাকরিতে পরীক্ষা লাগে না। কিছু পদে সরাসরি আবেদন করা যায়। এসব চাকরি সাধারণত সিটির চাকরির পোর্টালে প্রকাশ করা হয়। তাই শুধু সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার তালিকা দেখলেই হবে না, সরাসরি আবেদন করা যায় এমন চাকরিগুলোও নিয়মিত দেখা দরকার। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিদেশি ডিগ্রির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্ক সিটির কিছু চাকরিতে বিদেশ থেকে নেওয়া শিক্ষাগত যোগ্যতার সমমান যাচাই করতে হতে পারে। তাই বাংলাদেশ থেকে ডিগ্রি নিয়ে আসা কেউ সরকারি চাকরিতে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে বিদেশি শিক্ষাগত যোগ্যতার মূল্যায়ন সম্পর্কে কী বলা হয়েছে, সেটি দেখে নেওয়া উচিত। এবার আসা যাক স্টেট সরকারের চাকরিতে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি স্টেটের নিজস্ব চাকরির ব্যবস্থা রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে জর্জিয়ায় সরকারি চাকরির জন্য টিম জর্জিয়া ক্যারিয়ার্স পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। সেখানে রাজ্য সরকারের প্রায় ১০০টি এজেন্সিতে বিভিন্ন ধরনের চাকরির সুযোগ রয়েছে। চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রে কাউন্টি, কাজের ক্ষেত্র এবং পদের ধরন অনুযায়ী অনুসন্ধান করা যায়। জর্জিয়া স্টেটের চাকরিতে শিক্ষা, সাধারণ প্রশাসন, নিয়ন্ত্রক কাজ, আইন প্রয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে সুযোগ রয়েছে। আবেদন করার আগে চাকরির দায়িত্ব, যোগ্যতা এবং আবেদনের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হয়। সব পদে একই ধরনের যোগ্যতা বা আবেদন পদ্ধতি থাকে না। অন্য স্টেটেও একইভাবে সংশ্লিষ্ট স্টেট সরকারের অফিসিয়াল ক্যারিয়ার পোর্টাল ব্যবহার করতে হয়। অর্থাৎ আপনি নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, নিউ জার্সি, টেক্সাস, ফ্লোরিডা, ক্যালিফোর্নিয়া কিংবা অন্য কোনো স্টেটে থাকলে প্রথমে সেই স্টেট সরকারের অফিসিয়াল চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। পাশাপাশি নিজের শহর ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পেজও দেখা উচিত। ফেডারেল সরকারের চাকরির প্রক্রিয়া আবার কিছুটা আলাদা। ফেডারেল চাকরির জন্য ইউএসএজবস হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্ম। আবেদন শুরু করতে প্রথমে লগইন ডট গভ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হয়। এরপর ইউএসএজবস প্রোফাইল তৈরি করে জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করা যায়। চাকরি খোঁজার সময় শুধু পদের নাম দেখলেই হবে না। ফেডারেল চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে “হু মে অ্যাপ্লাই” এবং “হাউ টু অ্যাপ্লাই” অংশ বিশেষভাবে পড়তে হয়। কারণ সব ফেডারেল চাকরি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। কোনো পদ সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকতে পারে, আবার কোনো পদ নির্দিষ্ট যোগ্যতা বা বিশেষ নিয়োগের আওতায় থাকতে পারে। ফেডারেল চাকরির আবেদন প্রক্রিয়ায় ইউএসএজবস সাধারণত জীবনবৃত্তান্ত ও প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট সংযুক্ত করার পর আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট সরকারি এজেন্সির নিজস্ব আবেদন ব্যবস্থায় নিয়ে যায়। সেখানে অতিরিক্ত তথ্য, প্রশ্নপত্র বা ডকুমেন্ট জমা দিতে হতে পারে। তাই ইউএসএজবসে “অ্যাপ্লাই” চাপার পরেই আবেদন সম্পূর্ণ হয়েছে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। আবেদন শেষ হওয়ার পর অ্যাকাউন্টে গিয়ে আবেদনটি সফলভাবে জমা হয়েছে কি না নিশ্চিত করা উচিত। আবেদন করার পর শুরু হয় বাছাই প্রক্রিয়া। সরকারি চাকরিতে অনেক সময় আবেদন পাওয়ার পর যোগ্যতা যাচাই, প্রাথমিক বাছাই, ইন্টারভিউ, নির্বাচন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মতো একাধিক ধাপ থাকে। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগকারী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়। এরপর ইন্টারভিউ হতে পারে। নির্বাচিত প্রার্থীকে প্রথমে শর্তসাপেক্ষ চাকরির অফার দেওয়া হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকগ্রাউন্ড বা নিরাপত্তা যাচাই শেষ হওয়ার পর চূড়ান্ত অফার দেওয়া হয়। সরকারি চাকরির অন্যতম আকর্ষণ হলো বেনিফিট। তবে সব সরকারি চাকরিতে একই সুবিধা পাওয়া যায় না। স্টেট, সিটি বা ফেডারেল সরকারের নিয়ম এবং চাকরির ধরন অনুযায়ী সুবিধা পরিবর্তিত হয়। ফেডারেল সরকারের যোগ্য কর্মীরা হেলথ, ডেন্টাল, ভিশন ও লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ফ্লেক্সিবল স্পেন্ডিং অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ক্ষেত্রে লং টার্ম কেয়ার ইন্স্যুরেন্সের সুবিধা পেতে পারেন। ফেডারেল কর্মীদের জন্য অবসরকালীন সুবিধার ব্যবস্থাও রয়েছে। জর্জিয়া স্টেটের সরকারি কর্মীদের জন্য মেডিকেল ও ডেন্টাল কভারেজ, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং অন্যান্য কর্মী সুবিধার ব্যবস্থা রয়েছে। স্টেট সরকারের চাকরির সুবিধার মধ্যে কর্মীদের জন্য বিভিন্ন ধরনের অবসর পরিকল্পনাও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির চাকরির ক্ষেত্রেও বেতন ছাড়াও বিভিন্ন কর্মী সুবিধা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো কর্মী কোন সুবিধা পাবেন, সেটি তার পদ, চাকরির শ্রেণি, ইউনিয়ন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই কোনো চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখে শুধু বেতন নয়, সেই পদের বেনিফিট সম্পর্কিত তথ্যও দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরির কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অনেক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বেশি সময় নিতে পারে। সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা, যোগ্যতার তালিকা, ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা একাধিক ধাপের কারণে চাকরি পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক সিটির পরীক্ষাভিত্তিক চাকরিতে পরীক্ষার ফল প্রকাশ এবং পরবর্তী নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে। আরেকটি বিষয় হলো, সরকারি চাকরিতে আবেদন করার সময় সাধারণ একটি জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দিলেই সব সময় কাজ হয় না। চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে যে যোগ্যতা চাওয়া হয়েছে, জীবনবৃত্তান্ত ও আবেদনপত্রে সেই যোগ্যতার সঙ্গে নিজের শিক্ষা ও কাজের অভিজ্ঞতার মিল পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হয়। ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রশ্নপত্র বা অতিরিক্ত ডকুমেন্টও লাগতে পারে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য নাগরিকত্বের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। সব সরকারি চাকরিতে নাগরিকত্বের নিয়ম এক নয়। বিশেষ করে ফেডারেল চাকরির ক্ষেত্রে বিজ্ঞপ্তির “হু মে অ্যাপ্লাই” অংশে কারা আবেদন করতে পারবেন, সেটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে। তাই ইউএস সিটিজেন, গ্রিন কার্ডধারী বা অন্য কোনো ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস থাকলেই সব সরকারি চাকরিতে আবেদন করা যাবে, এমন ধারণা করা উচিত নয়। প্রতিটি পদের যোগ্যতা আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে। সরকারি চাকরিতে আবেদন করার ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো প্রতারণা থেকে সাবধান থাকা। সরকারি চাকরির জন্য কোনো ব্যক্তিকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। চাকরির আবেদন সব সময় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে করা উচিত। কেউ যদি চাকরি নিশ্চিত করার কথা বলে আগে টাকা চায় বা অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার বাইরে ব্যক্তিগত তথ্য ও ব্যাংকিং তথ্য চায়, তাহলে সতর্ক হওয়া জরুরি। তাহলে একজন বাংলাদেশি কোথা থেকে শুরু করবেন? প্রথমে নিজের স্টেট, সিটি ও কাউন্টির সরকারি চাকরির পোর্টাল খুঁজে বের করতে হবে। এরপর নিজের শিক্ষা, কাজের অভিজ্ঞতা, লাইসেন্স এবং দক্ষতার সঙ্গে মেলে এমন পদ খুঁজতে হবে। চাকরির বিজ্ঞপ্তিটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে দেখতে হবে পদটির জন্য কোনো পরীক্ষা দরকার কি না, ন্যূনতম যোগ্যতা কী, আবেদন কখন শেষ হবে এবং কী কী ডকুমেন্ট লাগবে। এরপর জীবনবৃত্তান্ত ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুত করে অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। নিউইয়র্কে থাকলে সিটি জবের পাশাপাশি নিউইয়র্ক স্টেট ও নিজের কাউন্টির চাকরিও দেখা যেতে পারে। জর্জিয়ায় থাকলে স্টেট সরকারের পাশাপাশি কাউন্টি ও সিটি সরকারের চাকরি খোঁজা উচিত। একইভাবে অন্য স্টেটেও স্থানীয় সরকার, কাউন্টি এবং স্টেট সরকারের আলাদা আলাদা চাকরির সুযোগ থাকে। ফেডারেল চাকরির জন্য আলাদাভাবে ইউএসএজবস ব্যবহার করতে হবে। সরকারি চাকরি সবার জন্য একই রকম নয় এবং সব পদের বেতন বা সুবিধাও এক নয়। তবে স্থায়ী ক্যারিয়ার, নিয়মিত আয়, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, অবসরকালীন সুবিধা, পেইড টাইম অফ এবং দীর্ঘমেয়াদি কর্মজীবনের সুযোগ খুঁজছেন এমন বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য সরকারি চাকরি একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার অপশন হতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পরিচিত কারও কাছ থেকে শোনা তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রতিটি চাকরির অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি পড়ে আবেদন করা। কারণ একটি সিটি বা স্টেটের নিয়ম অন্য সিটি বা স্টেটে একই নাও হতে পারে। সঠিক জায়গায় চাকরি খোঁজা, যোগ্যতা যাচাই করা এবং আবেদন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ ঠিকভাবে অনুসরণ করাই সরকারি চাকরিতে আবেদন করার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর স্থান (ওজুখানা) নির্মাণের একটি পরিকল্পনা তীব্র বিতর্কের মুখে বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বড় বিমানবন্দরে ধর্মীয় সুবিধার নামে কোনো বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য সরকারি অনুদান খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর। গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর অ্যাবট বলেন, "সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ইসলামিক ওজুর জায়গা নির্মাণের পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সম্ভাব্য অনুদান বাতিলের জন্য রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরের সব সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি তদন্তের জন্য বিষয়টি মার্কিন পরিবহন বিভাগের (ইউএসডিওটি) কাছে পাঠিয়েছি।" তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বেআইনি ধর্মীয় বৈষম্য বরদাশত করবে না টেক্সাস। গভর্নরের এই কড়া বার্তার পরই ডালাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, তারা তাদের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল (টার্মিনাল ডি)-এর নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে যাত্রীদের জন্য একটি ওজুখানা স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছিল। কিন্তু জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং প্রকল্পটি নিয়ে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ধরনের পরিচালনগত সুবিধার আশা করা হয়েছিল, সেটি পূরণ হবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত। এর আগে গত ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের কাছে প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়নের উৎসের জায়গায় ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ উল্লেখ করা হয়েছিল। কথা ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে। তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, নথিপত্রে উল্লেখ করা এসব তথ্য আসলে তাদের বহিরাগত নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘করণিক ভুল’ ছিল। বিমানবন্দরটির একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, ৩ লাখ ডলারের হিসাবটি ছিল একটি প্রাথমিক উচ্চ ধারণা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এর প্রকৃত ব্যয় হতো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ কথাটিও ভুলবশত লেখা হয়েছিল। অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পেও বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা ছিল। বিমানবন্দরটি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে না, বরং পার্কিং ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একটি ওজুখানা এবং এর সংলগ্ন একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে। মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর অ্যাবট মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উভয় বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "এই ওজুখানাগুলো দৃশ্যত নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধানে এ ধরনের বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া নিষেধ। সরকার যেমন পবিত্রতার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, তেমনি অন্য সব মতাদর্শের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকেও বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।" উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোতেও, যেমন, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ধরনের নিচু বেসিন বা ওজুখানা এবং সর্বজনীন প্রার্থনার স্থান রয়েছে।
আমেরিকায় আয়কর বিবরণী জমা দিলেই সরকারকে বাড়তি টাকা দিতে হবে, এমন ধারণা সঠিক নয়। অনেকের বেতন থেকে সারা বছর প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আয়কর কেটে রাখা হয়। আবার সন্তান, স্বল্প ও মাঝারি আয় কিংবা উচ্চশিক্ষার খরচের কারণে অনেকে বিশেষ করছাড়ের যোগ্য হন। এসব ক্ষেত্রে বছর শেষে আয়কর হিসাব করার পর শত শত কিংবা হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া সম্ভব। তবে সবার ক্ষেত্রে অর্থ ফেরত পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, আয়কর ফেরত পাওয়া কোনো সরকারি উপহার বা অতিরিক্ত ভাতা নয়। একজন করদাতার কাছ থেকে সারা বছর যে পরিমাণ আয়কর কেটে রাখা হয়েছে, চূড়ান্ত হিসাবে তার প্রকৃত করের পরিমাণ এর চেয়ে কম হলে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়। এর সঙ্গে ফেরতযোগ্য করছাড় যুক্ত হলে ফেরতের অঙ্ক আরও বাড়তে পারে। সন্তান রয়েছে এমন পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধার একটি হলো শিশু করছাড়। ২০২৫ করবর্ষে যোগ্য প্রতিটি সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ২ হাজার ২০০ ডলার পর্যন্ত শিশু করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। সাধারণভাবে করবর্ষের শেষে সন্তানের বয়স ১৭ বছরের নিচে থাকতে হয়। পাশাপাশি সন্তানকে নির্ভরশীল সদস্য হিসেবে দেখানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা নম্বরসহ অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বিভাগের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হয়। এই শিশু করছাড়ের একটি অংশ ফেরতযোগ্য হতে পারে। অর্থাৎ কারও প্রদেয় আয়কর কমে শূন্য হয়ে যাওয়ার পরও তিনি যোগ্য হলে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ফেরত পেতে পারেন। তবে পরিবারের আয়, কর জমার ধরন এবং সন্তানের যোগ্যতার ওপর প্রকৃত সুবিধা নির্ভর করে। কম ও মাঝারি আয়ের কর্মজীবী মানুষের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো অর্জিত আয় করছাড়। এটি ফেরতযোগ্য করছাড়। ফলে যোগ্য ব্যক্তির প্রদেয় কর শূন্য হলেও করছাড়ের একটি অংশ অর্থ হিসেবে ফেরত পাওয়া সম্ভব। সন্তান রয়েছে এমন অনেক নিম্ন ও মাঝারি আয়ের পরিবারের ক্ষেত্রে এই সুবিধা কয়েক হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে। পড়াশোনার খরচের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট করসুবিধা রয়েছে। যোগ্য কলেজ বা উচ্চশিক্ষার ব্যয়ের জন্য একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত বিশেষ শিক্ষা করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। এর একটি অংশ ফেরতযোগ্যও হতে পারে। তবে শুধু পড়াশোনার জন্য টাকা খরচ করলেই এই সুবিধা পাওয়া যায় না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীর অবস্থান, যোগ্য শিক্ষা ব্যয় এবং পরিবারের আয়ের সীমাসহ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হয়। কাজের জন্য গাড়ি ব্যবহার করলেও কিছু ক্ষেত্রে বৈধভাবে ব্যবসায়িক খরচ দেখানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এই সুবিধা সব চাকরিজীবীর জন্য নয়। যারা নিজের ব্যবসা করেন বা স্বাধীনভাবে কাজ করে আয় করেন, তারা ব্যবসার কাজে গাড়ি ব্যবহারের যোগ্য অংশ নির্দিষ্ট নিয়মে খরচ হিসেবে দেখাতে পারেন। ব্যক্তিগত কাজে গাড়ি ব্যবহার কিংবা বাসা থেকে নিয়মিত কর্মস্থলে যাতায়াতের খরচ সাধারণভাবে ব্যবসায়িক খরচ হিসেবে দেখানো যায় না। এ ধরনের সুবিধা দাবি করতে হলে ব্যবসার কাজে কত মাইল গাড়ি চালানো হয়েছে, তার সঠিক হিসাব ও প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা গুরুত্বপূর্ণ। বাসার একটি অংশ অফিস হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। যারা নিজের ব্যবসা বা স্বাধীন পেশার কাজ করেন এবং বাসার একটি নির্দিষ্ট জায়গা নিয়মিত ও শুধু ব্যবসার কাজে ব্যবহার করেন, তারা নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে গৃহ কার্যালয় বাবদ করছাড়ের সুযোগ পেতে পারেন। তবে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাধারণ বেতনভুক্ত কর্মী শুধু বাসা থেকে কাজ করছেন বলে কেন্দ্রীয় আয়কর বিবরণীতে গৃহ কার্যালয়ের খরচ দেখাতে পারেন না। ফলে কোন খরচ বৈধভাবে বাদ দেওয়া যাবে, সেটি নিজের কর্মসংস্থানের ধরন অনুযায়ী যাচাই করা জরুরি। বেতনভুক্ত চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ, গাড়িতে যাত্রী পরিবহন, খাবার সরবরাহ, অনলাইনে কাজ কিংবা ছোট ব্যবসা থেকে আয় করা ব্যক্তিদের আয়কর হিসাব আরও জটিল হতে পারে। কারণ স্বাধীন কাজের আয় থেকে সাধারণ চাকরির বেতনের মতো সবসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে আয়কর কেটে রাখা হয় না। স্বাধীনভাবে কাজ করা ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় আয়করের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও চিকিৎসা কর্মসূচির জন্য স্বনিয়োজিত করও দিতে হতে পারে। স্বনিয়োজিত কাজ থেকে নিট আয় ৪০০ ডলার বা তার বেশি হলে সাধারণভাবে এই কর প্রযোজ্য হতে পারে। অনেকের আরেকটি ভুল ধারণা হলো নগদ অর্থে আয় করলে সেটি আয়কর বিবরণীতে দেখাতে হয় না। বাস্তবে করযোগ্য আয় নগদে পাওয়া হলেও সাধারণভাবে তা দেখাতে হয়। কোনো কাজের জন্য আলাদা আয়সংক্রান্ত কাগজ পাওয়া যায়নি বলেই সেই আয় করমুক্ত হয়ে যায় না। একই কারণে বৈধ খরচ দেখানোর পাশাপাশি সব করযোগ্য আয় সঠিকভাবে উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িক খরচের রসিদ, গাড়ি চালানোর হিসাব, শিক্ষা ব্যয়ের কাগজপত্র, সন্তান দেখাশোনার খরচ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করলে আয়কর জমা দেওয়ার সময় ভুলের ঝুঁকি কমে। যারা আগের বছরগুলোতে আয়কর বিবরণী জমা দেননি, তাদের ক্ষেত্রেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারও নামে আগের কোনো বছরের অর্থ ফেরত পাওনা থাকলেও অনির্দিষ্টকাল সেই অর্থ দাবি করার সুযোগ থাকে না। সাধারণভাবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পুরোনো আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে ফেরত দাবি করতে হয়। সময়সীমা পেরিয়ে গেলে প্রাপ্য অর্থ হারানোর ঝুঁকি রয়েছে। তাই “আমেরিকায় আয়কর জমা দিলেই টাকা কেটে নেয়” যেমন ভুল ধারণা, তেমনি “আয়কর জমা দিলেই হাজার হাজার ডলার ফেরত পাওয়া যায়” কথাটিও সবার ক্ষেত্রে সত্য নয়। কেউ বড় অঙ্কের অর্থ ফেরত পেতে পারেন, আবার কাউকে অতিরিক্ত কর পরিশোধ করতে হতে পারে। কত টাকা ফেরত পাওয়া যাবে বা দিতে হবে, তা নির্ভর করে ব্যক্তির মোট আয়, সারা বছর কেটে রাখা কর, বিবাহ ও পারিবারিক অবস্থা, সন্তান, যোগ্য করছাড়, ব্যবসায়িক আয় এবং বৈধ খরচের ওপর। বিশেষ করে চাকরির পাশাপাশি স্বাধীন কাজ বা ব্যবসা থেকে আয় থাকলে একজন অনুমোদিত হিসাবরক্ষক বা যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। কোনো করছাড় পাওয়ার যোগ্যতা না থাকলে শুধু বেশি অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় সেটি দাবি করা উচিত নয়। আমেরিকায় আয়কর ব্যবস্থাকে ভয় পাওয়ার পরিবর্তে নিজের বৈধ সুযোগগুলো জানা গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে আয়কর বিবরণী জমা দিলে একদিকে যেমন করসংক্রান্ত আইন মেনে চলা যায়, অন্যদিকে নিজের প্রাপ্য করছাড় ও অতিরিক্ত পরিশোধ করা অর্থও ফেরত পাওয়ার সুযোগ থাকে। এই প্রতিবেদন সাধারণ তথ্য ও সচেতনতার জন্য। এটি ব্যক্তিগত আয়কর, আর্থিক বা আইনি পরামর্শ নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যোগ্য আয়কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে টানা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকা মার্কিন এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নাবিকদের জীবনযাপন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও তা গুরুত্ব দিতে নারাজ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি বলেন, জাহাজটি সমুদ্রে যে সময় কাটিয়েছে, তা “যথেষ্ট দীর্ঘ নয়।” একই সঙ্গে তিনি জানান, শিগগিরই অন্য একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার আব্রাহাম লিংকনের জায়গা নেবে। শুক্রবার নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্পের কাছে জাহাজটিতে দীর্ঘদিন ধরে থাকা নাবিকদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে তিনি উদ্বেগের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন। প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক ও মেরিন বহনকারী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন কয়েক মাস ধরে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজটি ২৪০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টানা সমুদ্রে রয়েছে। কোনো বন্দরে না থেমে ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে থাকার ঘটনাও আধুনিক মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য রেকর্ড হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে। দীর্ঘ এই ডিপ্লয়মেন্ট নিয়ে নাবিকদের পরিবার এবং কংগ্রেসের কয়েকজন সদস্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সবচেয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে। সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে জাহাজের কয়েকজন সদস্যের গুরুতর মানসিক সংকটে পড়ার অভিযোগ উঠে এসেছে। একজন নাবিক সমুদ্রে পড়ে যাওয়ার পর তাকে উদ্ধার করা হয়। তবে মার্কিন নৌবাহিনী বলছে, জাহাজে আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে বলে যে ধারণা তৈরি হয়েছে, তা নিশ্চিত করার মতো তথ্য তাদের কাছে নেই। জাহাজের খাবার, পানি, স্যানিটেশন এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রীর ঘাটতি নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। নাবিকদের পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ বলেছেন, দীর্ঘদিন বন্দরে ভিড়তে না পারায় ক্রুদের ওপর শারীরিক ও মানসিক চাপ বেড়েছে। তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এসব প্রতিবেদনের বড় অংশকে অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। ট্রাম্পও একই অবস্থান নিয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আব্রাহাম লিংকন “যথেষ্ট দীর্ঘ সময়” সেখানে ছিল না। নাবিকদের পরিবার উদ্বিগ্ন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার জানা মতে তারা উদ্বিগ্ন নয়। তিনি আরও জানান, জাহাজটি শিগগিরই ফিরিয়ে আনা হবে এবং তার জায়গায় আরেকটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার পাঠানো হচ্ছে। ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনকে প্রতিস্থাপনের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। জাহাজটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে জুলাইয়ের শেষ দিকে এটি ভিয়েতনামের দা নাং বন্দরে অবস্থান করেছিল। আব্রাহাম লিংকনের বর্তমান ডিপ্লয়মেন্ট শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের নভেম্বরে। প্রথমে এটি ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করছিল। পরে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়লে জাহাজটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়। মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও এটি আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের অপারেশন এলাকায় মোতায়েন ছিল। দীর্ঘ ডিপ্লয়মেন্টের পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসেও প্রশ্ন উঠেছে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতা জাহাজের নাবিকদের স্বাস্থ্য, খাবার, স্যানিটেশন এবং সামগ্রিক কর্মপরিবেশ সম্পর্কে পেন্টাগনের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। তারা দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থানের ফলে সামরিক সদস্যদের ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়ছে, সেটিও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে আব্রাহাম লিংকন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ সম্পদ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ধরনের নিমিৎজ শ্রেণির এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার থেকে যুদ্ধবিমান পরিচালনার পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপের মাধ্যমে আকাশ ও সমুদ্রপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব। এখন ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছানোর পর আব্রাহাম লিংকন কখন নিজ ঘাঁটি সান ডিয়েগোতে ফিরবে, সেটিই জাহাজে থাকা হাজারো নাবিক ও তাদের পরিবারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
শিল্পীর ক্যানভাসে কল্পনার রঙে আঁকা ছবি কখনো কখনো যে বাস্তবের রূপ নিতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য ও রোমান্টিক প্রমাণ হয়ে উঠলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদি। নিজের কল্পনায় স্বপ্নের এক নারীর প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন তিনি। তখনো জানতেন না, এই নারী বাস্তবে শুধু অস্তিত্বই রাখেন না, বরং একদিন তিনিই হতে যাচ্ছেন তার জীবনসঙ্গী। রূপকথার গল্পকেও হার মানানো এই নিখাদ প্রেমের কাহিনী এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার শুরু ২০০৮ সালে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় পরিবার থেকে, বিশেষ করে মায়ের তরফ থেকে বিয়ের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল আহাদকে। কিন্তু মনের মতো সঙ্গী না পাওয়ায় বিয়েতে কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না তিনি। মায়ের চাপ সামলাতে না পেরে অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের স্বপ্নের জীবনসঙ্গীকে অন্তত শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলবেন। তার মাথায় কোনো নির্দিষ্ট মানুষের চেহারা ছিল না; সম্পূর্ণ নিজের কল্পনা থেকে তিনি একটি মুখচ্ছবি তৈরি করেন। এই ছবি আঁকতে তিনি কোনো সাধারণ রং-তুলি ব্যবহার করেননি। তিনি ব্যবহার করেছিলেন 'আজারনেগারি' নামের এক বিশেষ ইরানি শিল্পরীতি, যেখানে আগুন ও কাপড়ের সমন্বয়ে অর্থাৎ কাপড় পুড়িয়ে নিখুঁত সব ছবি তৈরি করা হয়। ছবি তো তৈরি হলো, কিন্তু মূল চমকের তখনও বাকি। ২০০৯ সালের শেষের দিকে ইরানের তাবরিজ শহরের একটি আর্ট গ্যালারিতে নিজের শিল্পকর্মগুলোর প্রদর্শনী করেন আহাদ। সেই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থী হিসেবে আসেন পারিসা করমনেজাদ নামের আরেকজন শিল্পী। গ্যালারি ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ ওই ছবিটির সামনে এসে থমকে দাঁড়ান তিনি। পারিসা যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ছবির মেয়েটির কোঁকড়ানো চুল, চোখের দৃষ্টি, মুখের গড়ন—সবকিছু হুবহু তার মতো! বিস্ময়ে হতবাক পারিসার দিকে নজর পড়ে আহাদেরও। তিনি নিজেও চমকে ওঠেন। কিন্তু সে সময় পারিসা অন্য একটি সম্পর্কে যুক্ত থাকায় তাদের মধ্যে আর কথা এগোয়নি। দুজনেই সেদিনের মতো নিজেদের গন্তব্যে পা বাড়ান। তবে নিয়তি হয়তো তাদের মিলনের জন্যই সবকিছু গুছিয়ে রেখেছিল। ওই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পারিসাকে খুঁজে পান আহাদ। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, পারিসার আগের সম্পর্কটি ভেঙে গেছে এবং তিনি এখন একাই আছেন। এরপর আর কালক্ষেপণ করেননি আহাদ। পারিসাকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান তিনি। পারিসাও সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেন। একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সময়, একে অপরকে খুব বেশি না জানা সত্ত্বেও, হঠাৎ করেই পারিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন এই শিল্পী। পারিসা সেই রাতে কোনো উত্তর দেননি। তবে গল্পটা অসম্পূর্ণ থাকেনি। পরের দিন সকালেই আহাদকে ফোন করে তার প্রস্তাবে সম্মতি জানান পারিসা। এ যেন বাস্তবের বুকে জন্ম নেওয়া এক নিখুঁত প্রেমের উপাখ্যান। কল্পনার তুলিতে যে মানুষকে তিনি এঁকেছিলেন, তাকেই বাস্তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে আহাদ ও পারিসা জুটি এখন দারুণ সুখী। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং নিয়তির এক অদ্ভুত খেলায় তারা আজ এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন।
টেক্সাসের ফোর্ট হুডের কাছে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে দুই মার্কিন সেনা পাইলট নিহত হয়েছেন। বুধবার সালাডোর কাছে রক্ষণাবেক্ষণ পরীক্ষার ফ্লাইট চলাকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দুই সেনা সদস্য হলেন ৩৪ বছর বয়সী চিফ ওয়ারেন্ট অফিসার-২ ডিওন্ট্রে টি. হুই এবং ২৫ বছর বয়সী ওয়ারেন্ট অফিসার শেথ এল. ওলমস্টেড। সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এএইচ-৬৪ই অ্যাপাচি হেলিকপ্টারটিতে ওই দুই পাইলটই ছিলেন। ফোর্ট হুড থেকে প্রায় ৩০ মাইল দূরে সালাডোর একটি মাঠে হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে আশপাশের প্রায় ১৫৫ একর এলাকা পুড়ে যায়। নিহত ডিওন্ট্রে হুই কিলিন, টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০১৪ সালে মার্কিন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০২২ সাল থেকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শেথ ওলমস্টেড বেলটন, টেক্সাসের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ওই ইউনিটে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দুই সেনা সদস্যই ১ম ক্যাভালরি ডিভিশনের ১ম এয়ার ক্যাভালরি ব্রিগেডের ২২৭তম এভিয়েশন রেজিমেন্টের ১ম ব্যাটালিয়নের ব্রাভো কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। ফোর্ট হুড ও থার্ড আর্মর্ড কোরের কমান্ডিং জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল কেভিন ডি. অ্যাডমিরাল নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে বলেন, সেনাবাহিনী একটি পরিবার এবং এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা পুরো বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কমিউনিটিকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি। ফোর্ট রাকার, আলাবামা-ভিত্তিক ইউএস আর্মি কমব্যাট রেডিনেস সেন্টারের একটি নিরাপত্তা তদন্ত দল দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাপাচি হেলিকপ্টারের প্রশিক্ষণ ফ্লাইট সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। তবে এ সিদ্ধান্তের আওতায় অ্যাপাচির যুদ্ধ মিশন বন্ধ করা হয়নি। ফোর্ট হুড যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় সামরিক ঘাঁটি। ভারী সামরিক বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনের প্রস্তুতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ঘাঁটিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অ্যাপাচি হেলিকপ্টার মার্কিন সেনাবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আক্রমণাত্মক হেলিকপ্টার। দুই সদস্যের ক্রু নিয়ে এটি পরিচালিত হয়, যেখানে পাইলট পেছনের আসনে এবং সহকারী পাইলট ও অস্ত্র পরিচালনাকারী সদস্য সামনের আসনে অবস্থান করেন। এই দুর্ঘটনার পর এর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে দুর্ঘটনার মূল কারণ অনুসন্ধানে গুরুত্ব দিচ্ছে সেনাবাহিনী।
রাজনীতি
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View moreপ্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকারের যুদ্ধ তহবিলে দেওয়া ৩৫ হাজার রুপি ১০৯ বছর পর সুদসহ ফেরত চেয়ে আলোচনায় এসেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি পরিবার। ১৯১৭ সালের একটি পুরোনো সনদকে ভিত্তি করে ওই অর্থ ফেরতের দাবি তুলেছে সিহোরের রুঠিয়া পরিবার। তাদের আবেদনের পর যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিস আরও নথিপত্র চেয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট গিল্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠিয়েছে। তবে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এখনো অর্থ পাওনা থাকার দাবি স্বীকার করেনি। ঘটনার কেন্দ্রে রয়েছেন সেঠ জুম্মা লাল রুঠিয়া। পরিবারের কাছে থাকা ১৯১৭ সালের ৪ জুনের সনদে উল্লেখ রয়েছে, ভোপাল স্টেটের ‘সেঠ রামা কিশান জাসকারান রুঠিয়া’ প্রতিষ্ঠানের জুম্মা লাল ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোনে’ ৩৫ হাজার রুপি সাবস্ক্রাইব করেছিলেন। সনদটিতে তৎকালীন ভোপালের ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট ডব্লিউ এস ডেভিসের স্বাক্ষর রয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে ব্রিটিশ সরকার বিপুল যুদ্ধব্যয় মেটাতে বিভিন্ন ধরনের যুদ্ধঋণ ও বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিল। ব্রিটিশ ভারতেও সেই তহবিল সংগ্রহের অংশ হিসেবে ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ চালু হয়। রুঠিয়া পরিবারের কাছে থাকা সনদটি সেই কর্মসূচিতে জুম্মা লালের ৩৫ হাজার রুপি দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে তারা উপস্থাপন করছে। পরিবারটির দাবি, ওই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল এমন কোনো নথি তারা খুঁজে পায়নি। তবে এই দাবি এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি। ১৯১৭ সালের সনদটি অর্থ দেওয়ার তথ্য সমর্থন করলেও সেই অর্থ পরবর্তীতে ফেরত দেওয়া হয়েছিল কি না অথবা অন্য কোনোভাবে হিসাব নিষ্পত্তি হয়েছিল কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন। রুঠিয়া পরিবারের সদস্য বিনয় ও বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, পুরোনো পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে সনদটি পাওয়ার পর তারা একজন আইনজীবীর মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কয়েক মাস পর ব্রিটিশ পক্ষ থেকে তাদের আবেদনের জবাব আসে। ডেট ম্যানেজমেন্ট অফিসের জবাবে পরিবারটিকে বলা হয়েছে, তারা যদি মনে করে কোনো দাবি না করা অর্থ পাওয়ার অধিকার তাদের রয়েছে, তাহলে গিল্ট রেজিস্ট্রার কম্পিউটারশেয়ার ইনভেস্টর সার্ভিসেসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। পরিবারটির পাঠানো তথ্য ও নথি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে পাঠানোর কথাও জানিয়েছে ডিএমও। একই সঙ্গে মূল সার্টিফিকেট ও সংশ্লিষ্ট পুরোনো চিঠিপত্রসহ অতিরিক্ত প্রমাণ দিতে বলা হয়েছে। ফলে ব্রিটিশ সরকারের এই জবাবকে ঋণ স্বীকার বা অর্থ ফেরতের সম্মতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আপাতত এটি শতাব্দী পুরোনো দাবিটির নথিপত্র যাচাইয়ের একটি প্রাথমিক ধাপ। পরিবারটির সদস্য বিবেক রুঠিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি এখন তাদের কাছে শুধু অর্থের হিসাব নয়। তারা জানতে চান, তাদের পূর্বপুরুষের দেওয়া অর্থের শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল এবং সেই ঋণ কখনো নিষ্পত্তি করা হয়েছিল কি না। পরিবারটির কাছে থাকা নথি অনুযায়ী জুম্মা লাল রুঠিয়া ১৯৩৭ সালে মারা যান। পরিবারটি শেষ পর্যন্ত কত অর্থ দাবি করবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে তাদের বক্তব্য, মূল ৩৫ হাজার রুপির সঙ্গে প্রযোজ্য সুদ এবং শত বছরের বেশি সময়ের মূল্য পরিবর্তন বিবেচনায় নিলে অঙ্কটি বর্তমান হিসাবে কয়েক কোটি রুপিতে পৌঁছাতে পারে। কিছু প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে ১০ কোটি রুপির বেশি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে এটি তাদের নিজস্ব হিসাব এবং ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ এমন কোনো অঙ্ক স্বীকার করেনি। পরিবারটির দাবির সঙ্গে ব্রিটেনের প্রথম বিশ্বযুদ্ধকালীন পুরোনো সরকারি ঋণ পরিশোধের ইতিহাসও সামনে এসেছে। যুক্তরাজ্যের ট্রেজারি ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ঘোষণা করেছিল, ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ‘ওয়ার লোন’-এর বকেয়া প্রায় ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন পাউন্ড ২০১৫ সালের ৯ মার্চ সম্পূর্ণ পরিশোধ করা হবে। ওই বন্ডটি ১৯৩২ সালে ইস্যু করা হলেও এর উৎস ছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেওয়া সরকারি ঋণ পুনঃঅর্থায়ন। ব্রিটিশ সরকার সে সময় আরও কয়েকটি পুরোনো মেয়াদহীন সরকারি বন্ডও পরিশোধের উদ্যোগ নেয়। তবে ২০১৫ সালে পরিশোধ করা ওই ব্রিটিশ সরকারি বন্ডগুলোর সঙ্গে জুম্মা লাল রুঠিয়ার ১৯১৭ সালের ‘ইন্ডিয়ান ওয়ার লোন’ সাবস্ক্রিপশনের সরাসরি সম্পর্ক ছিল কি না, তার কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একই ঋণ হিসেবে ধরে নেওয়া সঠিক হবে না। রুঠিয়া পরিবারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো ১০৯ বছরের পুরোনো আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা প্রমাণ করা। মূল সনদের পাশাপাশি উত্তরাধিকার সম্পর্কিত নথি এবং ঋণটি পরবর্তীতে পরিশোধ বা রূপান্তরিত হয়েছিল কি না, তার রেকর্ডই দাবিটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে পারিবারিক কাগজপত্রের মধ্যে পড়ে থাকা একটি সনদ এভাবেই এখন যুক্তরাজ্যের সরকারি ঋণ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পর্যন্ত পৌঁছেছে। রুঠিয়া পরিবার চাইছে, ১৯১৭ সালের সেই ৩৫ হাজার রুপির হিসাব শেষ পর্যন্ত কোথায় গিয়ে থেমেছিল, তার আনুষ্ঠানিক উত্তর দিক ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ।
ফিলিস্তিনি-আমেরিকান ২০ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সামা সাফিকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ছাড়াই ইসরায়েলি সামরিক হেফাজতে রাখার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসওম্যান রাশিদা তালিব। সামার মুক্তির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সামা সাফি পশ্চিম তীরের বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। গত ২ জুন ভোরে রামাল্লার কাছে পরিবারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাকে আটক করে। একই অভিযানে বিরজেইত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন নারী শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, ওইদিন পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক অভিযান চালিয়ে মোট ৩১ জনকে আটক করা হয়েছিল। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দাবি, সামা ও অন্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বৈরী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে প্রচার এবং অন্যান্য সন্ত্রাস-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত থাকার সন্দেহ রয়েছে। তবে সামার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়নি বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার আইনজীবীও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের অভিযোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। সামার পরিবার জানিয়েছে, তার একটি দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে এবং নিয়মিত ওষুধ ও চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। এ কারণে হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার স্বাস্থ্য নিয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারাও তার আটকের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। সামার মুক্তির দাবিতে এরই মধ্যে কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা সরব হয়েছেন। ১২ জুন দেওয়া এক বক্তব্যে রাশিদা তালিব বলেন, সামা একজন ২০ বছর বয়সী মার্কিন নাগরিক ও শিক্ষার্থী এবং তার একটি দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে। তার জীবন ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে মার্কিন সরকারকে তাকে মুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি। মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেনও সামার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি বাহিনী ভোরে সামাকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে গেলেও তাকে কেন আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার পরিবার বা মার্কিন দূতাবাসকে যথাযথভাবে জানানো হয়নি। সামাকে প্রথমে পশ্চিম তীরের ওফার সামরিক কারাগারে নেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তাকে জেরুজালেমের একটি ইন্টারোগেশন সেন্টারে স্থানান্তরের তথ্যও এসেছে। সামার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে নিরাপত্তা-সংক্রান্ত হেফাজতে রয়েছেন। সামার ঘটনা পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের আটকের বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এসব আটকের পক্ষে অবস্থান নিলেও, ফিলিস্তিনি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো অভিযোগ ছাড়াই দীর্ঘ সময় আটকে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।
যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হিসেবে পরিচিতি পাওয়া ব্রিটিশ সমাজবিজ্ঞানী জেসন আরডে মারা গেছেন। শুক্রবার ১৪ আগস্ট দক্ষিণ লন্ডনের ব্যাটারসির একটি বাড়িতে ৪১ বছর বয়সী আরডেকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মাত্র নয় দিন আগে একাডেমিক গবেষণায় চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ ও নিজের কিছু অর্জন নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর তিনি কেমব্রিজ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের কাছ থেকে খবর পেয়ে কর্মকর্তারা ব্যাটারসির ওই ঠিকানায় যান। সেখানে ৪১ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশ তার মৃত্যুকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে দেখছে, তবে এখন পর্যন্ত সন্দেহজনক কোনো পরিস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। জেসন আরডে ২০২৩ সালে ৩৭ বছর বয়সে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা অনুষদে সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যাপক হন। প্রতিকূলতা পেরিয়ে তার এই অবস্থানে পৌঁছানোর গল্প সে সময় ব্রিটেনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। তবে সম্প্রতি তার একাডেমিক কাজ নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে জমা দেওয়া তার পিএইচডি থিসিসের কিছু অংশ অন্য একটি গবেষণার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে মিলে যাওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। আরডে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। তবে নিজের একাডেমিক জীবনে কিছু ভুল হয়েছিল বলে স্বীকার করেছিলেন তিনি। বিতর্ক শুধু তার গবেষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দাতব্য তহবিল সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ দূরত্ব দৌড়ানোর বিষয়ে আরডের বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পুরোনো পরিচিতিতে ছয় দিনে ৬০০ মাইল দৌড়ানোর কথা উল্লেখ থাকলেও পরে অন্তত একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে তা পরিবর্তন করে ১২ দিনে ৬০০ মাইল করা হয়। এসব দাবি ঘিরে সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক অনুসন্ধান শুরু হয়। অভিযোগ ও বিতর্কের মধ্যে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় তার নিয়োগ এবং সেখানে দায়িত্ব পালনের সময়কার বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। এর মধ্যেই গত ৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদত্যাগ করেন আরডে। তার পদত্যাগের পরও বিষয়টি নিয়ে কেমব্রিজের শিক্ষক ও একাডেমিক মহলে বিতর্ক চলছিল। আরডের মৃত্যুর পর তার পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা গভীর শোক ও হতবাক অবস্থার মধ্যে রয়েছে। পরিবারের দাবি, ২০২৩ সালে কেমব্রিজে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে আরডেকে ঘিরে ভুল তথ্য, ব্যক্তিগত আক্রমণ ও হয়রানির একটি ধারাবাহিক প্রচার চলছিল। তবে এসব অভিযোগের সঙ্গে তার মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ কিছু জানায়নি। আরডের কর্মজীবন শুরু হয়েছিল উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক বৈষম্য নিয়ে গবেষণার মধ্য দিয়ে। কেমব্রিজে যোগ দেওয়ার আগে তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। শিক্ষা, জাতিগত বৈষম্য এবং উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল তার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র। তার মৃত্যুর পর কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের শিক্ষা অঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। জেসন আরডের মৃত্যুর তদন্ত এখন পুলিশের সেন্ট্রাল সাউথ কমান্ড ইউনিটের অধীনে রয়েছে। প্রাথমিকভাবে মৃত্যুকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা না করলেও পরবর্তী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা হবে।
শিল্পীর ক্যানভাসে কল্পনার রঙে আঁকা ছবি কখনো কখনো যে বাস্তবের রূপ নিতে পারে, তার এক অবিশ্বাস্য ও রোমান্টিক প্রমাণ হয়ে উঠলেন ইরানি শিল্পী আহাদ সাদি। নিজের কল্পনায় স্বপ্নের এক নারীর প্রতিকৃতি এঁকেছিলেন তিনি। তখনো জানতেন না, এই নারী বাস্তবে শুধু অস্তিত্বই রাখেন না, বরং একদিন তিনিই হতে যাচ্ছেন তার জীবনসঙ্গী। রূপকথার গল্পকেও হার মানানো এই নিখাদ প্রেমের কাহিনী এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনার শুরু ২০০৮ সালে। বয়স বেড়ে যাওয়ায় পরিবার থেকে, বিশেষ করে মায়ের তরফ থেকে বিয়ের জন্য বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল আহাদকে। কিন্তু মনের মতো সঙ্গী না পাওয়ায় বিয়েতে কিছুতেই রাজি হচ্ছিলেন না তিনি। মায়ের চাপ সামলাতে না পেরে অবশেষে তিনি সিদ্ধান্ত নেন, নিজের স্বপ্নের জীবনসঙ্গীকে অন্তত শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলবেন। তার মাথায় কোনো নির্দিষ্ট মানুষের চেহারা ছিল না; সম্পূর্ণ নিজের কল্পনা থেকে তিনি একটি মুখচ্ছবি তৈরি করেন। এই ছবি আঁকতে তিনি কোনো সাধারণ রং-তুলি ব্যবহার করেননি। তিনি ব্যবহার করেছিলেন 'আজারনেগারি' নামের এক বিশেষ ইরানি শিল্পরীতি, যেখানে আগুন ও কাপড়ের সমন্বয়ে অর্থাৎ কাপড় পুড়িয়ে নিখুঁত সব ছবি তৈরি করা হয়। ছবি তো তৈরি হলো, কিন্তু মূল চমকের তখনও বাকি। ২০০৯ সালের শেষের দিকে ইরানের তাবরিজ শহরের একটি আর্ট গ্যালারিতে নিজের শিল্পকর্মগুলোর প্রদর্শনী করেন আহাদ। সেই প্রদর্শনীতে দর্শনার্থী হিসেবে আসেন পারিসা করমনেজাদ নামের আরেকজন শিল্পী। গ্যালারি ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ ওই ছবিটির সামনে এসে থমকে দাঁড়ান তিনি। পারিসা যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। ছবির মেয়েটির কোঁকড়ানো চুল, চোখের দৃষ্টি, মুখের গড়ন—সবকিছু হুবহু তার মতো! বিস্ময়ে হতবাক পারিসার দিকে নজর পড়ে আহাদেরও। তিনি নিজেও চমকে ওঠেন। কিন্তু সে সময় পারিসা অন্য একটি সম্পর্কে যুক্ত থাকায় তাদের মধ্যে আর কথা এগোয়নি। দুজনেই সেদিনের মতো নিজেদের গন্তব্যে পা বাড়ান। তবে নিয়তি হয়তো তাদের মিলনের জন্যই সবকিছু গুছিয়ে রেখেছিল। ওই ঘটনার প্রায় দেড় বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পারিসাকে খুঁজে পান আহাদ। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, পারিসার আগের সম্পর্কটি ভেঙে গেছে এবং তিনি এখন একাই আছেন। এরপর আর কালক্ষেপণ করেননি আহাদ। পারিসাকে নৈশভোজের আমন্ত্রণ জানান তিনি। পারিসাও সেই আমন্ত্রণে সাড়া দেন। একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার সময়, একে অপরকে খুব বেশি না জানা সত্ত্বেও, হঠাৎ করেই পারিসাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে বসেন এই শিল্পী। পারিসা সেই রাতে কোনো উত্তর দেননি। তবে গল্পটা অসম্পূর্ণ থাকেনি। পরের দিন সকালেই আহাদকে ফোন করে তার প্রস্তাবে সম্মতি জানান পারিসা। এ যেন বাস্তবের বুকে জন্ম নেওয়া এক নিখুঁত প্রেমের উপাখ্যান। কল্পনার তুলিতে যে মানুষকে তিনি এঁকেছিলেন, তাকেই বাস্তবে জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়ে আহাদ ও পারিসা জুটি এখন দারুণ সুখী। শিল্পের প্রতি ভালোবাসা এবং নিয়তির এক অদ্ভুত খেলায় তারা আজ এক ছাদের নিচে বসবাস করছেন।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়
ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট দেখাতে পারে, কেন হয় জানালেন বিশেষজ্ঞ
মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি
বিয়েতে নিমন্ত্রণ করেছিলেন কিয়ানু রিভসকে, পরক্ষণে সত্যিই হাজির হলেন হলিউড তারকা!
এক দশকের প্রেমের পর জর্জিনাকে বিয়ে করলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
'ওই সময় মানসিক যন্ত্রণা এতটাই তীব্র ছিল আত্মহত্যার কথা মাথায় এসেছিল', ব্র্যাড পিটের স্বীকারোক্তি
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত
সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট
আমেরিকায় ট্যাক্স ফাইল করছেন? যে ভুলে হাতছাড়া হতে পারে হাজার ডলারের রিফান্ড
কৃত্রিম আলোয় পথ হারিয়ে ফ্লোরিডায় ৫৫ সামুদ্রিক কচ্ছপের মৃত্যু
নিউইয়র্কে অর্ধেক যাত্রী দিচ্ছেন না বাসভাড়া, মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি! চাপে মামদানির প্রতিশ্রুতি
‘ট্রাম্প বাস্তবতা থেকে অনেক দূরে’, খাবার সংকটে থাকা মার্কিন যুদ্ধজাহাজের নাবিকের স্ত্রীর ক্ষোভ
হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড ঘোষণা করছেন ট্রাম্প!
ইরাসমাস মুন্ডাসে ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ, যেভাবে স্টেপ বাই স্টেপ আবেদন করবেন
পদার্থবিজ্ঞান থেকে মেডিকেল সায়েন্স, অক্সফোর্ডে ফুল ফান্ডে নন্দিতা দেব
নোয়াখালী থেকে যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্সে, ডা. আবদুল্লাহ বাকীর গবেষণায় নতুন জীবন লাখো মা ও শিশুর
মানসিক চাপ কমাতে প্রথম সেমিস্টারে নতুন গ্রেডিং পদ্ধতি আনছে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়
৩.০০ এর নিচে সিজিপিএ নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে উচ্চশিক্ষার সুযোগ
নতুন প্রবাসীদের বাংলাদেশিদের জন্য নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সের এ টু জেড
পড়তে-লিখতে পারছে না দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা, ক্লাসেই কান্নায় ভেঙে পড়লেন শিক্ষক
যুক্তরাষ্ট্রে রোগীকে ধর্ষণের অভিযোগ: ৩০ বছর ধরে পলাতক বাংলাদেশি চিকিৎসক জাহিদুলকে খুঁজছে এফবিআই
টানা ২০৭ দিন সমুদ্রে মার্কিন রণতরী, নিজেদের মধ্যে গোলাগুলিতে ৭ নৌসেনা নিহতের দাবি ইরানি সংবাদমাধ্যমের
যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে দুর্বলতার ইঙ্গিত, জুলাইয়ে কর্মসংস্থান কমেছে।
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর
পানির প্রতিটি ফোঁটা পাকিস্তানের ‘রেড লাইন’, ভারতকে শাহবাজের কঠোর হুঁশিয়ারি
ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে না দিলে ২০ লাখ লোক নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি আফ্রিদির
ডিসঅ্যাবিলিটি সুবিধার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তিতে নতুন ১৪ রোগ যুক্ত করল সোশ্যাল সিকিউরিটি
মালয়েশিয়ায় ভুয়া পাসপোর্ট চক্রে ২ বাংলাদেশি গ্রেপ্তার, জব্দ বিপুল নথি
‘খেলা নয়, এবার যুদ্ধ হবে’: শামীম ওসমান
“বিএনপি মহাসচিব থেকে বাংলাদেশের মহাসচিব হয়ে যাওয়া মির্জা ফখরুল ইসলামকে মিস করবো”—আমানউল্লাহ
মির্জা ফখরুলকেই রাষ্ট্রপতি পদে বেছে নিলেন তারেক রহমান
চাকরি হারালেন রাব্বানীর ভাই ও বিপ্লব কুমারসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা