যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির বড় বড় হাউজিং মার্কেটের অনেকগুলোতেই বাড়ি মালিকেরা চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি শহরে চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হওয়া বাড়ির হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। রিয়েল এস্টেট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেডফিনের ৫০টি বড় আবাসন বাজার নিয়ে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বাড়ির ৫৫ শতাংশই মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালের পর মে মাসের হিসাবে এটি সবচেয়ে কম প্রতিযোগিতামূলক আবাসন বাজারগুলোর একটি। ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি দেখা গেছে টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে মে মাসে বিক্রি হওয়া ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ। সেখানে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। মায়ামিতে এই হার ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে ৮৪ শতাংশ। এই তালিকায় আরও রয়েছে হিউস্টন, ডালাস, টাম্পা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো ও ফোর্ট ওর্থ। হিউস্টনে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ডালাসে ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ, টাম্পায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ, ফিনিক্সে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ, অরল্যান্ডোতে ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফোর্ট ওর্থে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। রেডফিনের বিশ্লেষণ বলছে, এসব বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রবৃদ্ধি, বেশি হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ, বাড়ির মালিক সমিতির বাৎসরিক ফি এবং কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ির চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব আবাসন বাজারে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের আশপাশের কিছু এলাকা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এখনো বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। মে মাসে নিউআর্ক, নিউ জার্সিতে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে এই হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সান হোসেতে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। বাজারের এই পার্থক্যের পেছনে বাড়ির সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ভারসাম্য বড় ভূমিকা রাখছে। যেসব এলাকায় বিক্রির জন্য বাড়ি বেশি কিন্তু ক্রেতা তুলনামূলক কম, সেখানে বিক্রেতাদের দাম কমানো অথবা ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ির বিক্রেতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের অর্থ পরিশোধ, মেরামতের খরচ বহন কিংবা ঋণের সুদের হার কমানোর মতো সুবিধাও রয়েছে। অন্যদিকে, বেশি মর্টগেজ সুদের হার এবং বাড়ির তুলনামূলক বেশি দাম অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে বাজারের বাইরে রাখছে। ফলে যারা এখন বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখছেন, তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছে চাওয়া দাম কমানোর জন্য দর-কষাকষির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তবে চাওয়া দামের নিচে বাড়ি বিক্রি হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন শুরু হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো এলাকায় কতটা দর-কষাকষি করা সম্ভব, তা নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা, বাড়ির অবস্থা, একই এলাকার সাম্প্রতিক বিক্রয়মূল্য এবং বিক্রেতার পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মহামারির পরের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি বড় হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সময় মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে চুক্তি করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও মেহের নিউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ পেলেও এর পটভূমি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে না এসে আড়াল থেকেই দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বিভিন্ন নির্দেশনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হতো। মেহের নিউজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনও মেহের নিউজের বরাতে তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও প্রকাশিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ভিডিও প্রকাশ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: সিনহুয়া, মেহের নিউজ এজেন্সি
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের প্রথম বাড়ি কেনার স্বপ্ন এখন আগের তুলনায় আরও দেরিতে পূরণ হচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্যটিতে অর্ধেক মানুষ প্রথমবারের মতো বাড়ির মালিক হতে পৌঁছে যাচ্ছেন ৪৭ বছর বয়সে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাকি অংশে একই মাইলফলক গড়ে অর্জিত হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সে। অর্থাৎ, জাতীয় গড়ের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের প্রায় এক দশক বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়া (পিপিআইসি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বয়সে বাড়ির মালিকানার প্রবণতা পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্ধেক মানুষ ৩৯ বছর বয়সের মধ্যেই নিজেদের বাড়ির মালিক হয়ে যেতেন। এখন সেই গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ বছরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, ডাউন পেমেন্টের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের কঠিন বাস্তবতা এবং সীমিত আবাসন সরবরাহ এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০ বছরের অধিকাংশ সময় এবং ৪০ বছরের বড় একটি অংশ পর্যন্ত ভাড়াটিয়ার সংখ্যা বাড়ির মালিকদের তুলনায় বেশি। ফলে অনেকেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ভাড়াবাসেই কাটাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাড়ি কিনতে দেরি হওয়ার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তায়। সাধারণত বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে যে সম্পদ বা ইকুইটি তৈরি হয়, তা গড়ে তুলতে মানুষের হাতে সময় কমে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্যালিফোর্নিয়াবাসী অবসর গ্রহণের বয়সেও গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধ করে যাচ্ছেন। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সামগ্রিকভাবে বাড়ির মালিকানার হার ৫৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ৬৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শুধু নিউইয়র্কের হার আরও কম, যা ৫৪ শতাংশ। জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা তুলনামূলক কম বয়সে বাড়ির মালিক হতে পারলেও কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম বাড়ি কেনার গড় বয়স বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এশীয়দের মধ্যে বাড়ির মালিক হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে আগে দেখা যায়। শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গেও বাড়ির মালিকানার সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের অন্তত স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে, তারা সাধারণত অন্যদের তুলনায় কম বয়সেই প্রথম বাড়ি কিনতে সক্ষম হন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ায় নীতিগত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি শরতে ভোটারদের সামনে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে, যার লক্ষ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্টে সহায়তা করা। পাশাপাশি নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং যেসব পরিবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে পড়ছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন সংকট শুধু বাড়ি কেনার বিষয় নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, অবসর পরিকল্পনা এবং সম্পদ সৃষ্টির সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের জন্য কার্যকর নীতিগত সহায়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কানাডায় উড্ডয়নের ঠিক আগে এক শিশুর সিটবেল্ট না বাঁধাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি মেনে শিশুটিকে সিটবেল্ট পরানো সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সিটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেদিন পোর্টার এয়ারলাইন্সের পিডি৪৪৪ ফ্লাইটটি টরন্টোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিমানটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে যাওয়ার পর কেবিন ক্রুরা দেখতে পান, এক শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী উড্ডয়নের সময় প্রত্যেক যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক। এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, শিশুটির বাবা-মা এবং কেবিন ক্রুরা তাকে সিটবেল্ট পরানোর একাধিক চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপদ অবস্থায় না থাকায় বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। তাই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে বিমান থেকে নামানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে রাত সাড়ে ১২টার বেশি বেজে যায়। ওই সময়ের পর ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ ছিল না। ফলে যাত্রীদের রাতটি ভিক্টোরিয়াতেই কাটাতে হয়। পরদিন শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে একই ফ্লাইট আবার যাত্রা শুরু করে এবং নির্ধারিত গন্তব্য টরন্টোতে পৌঁছে। ঘটনার পর যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পোর্টার এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উড্ডয়নের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি এমন প্রথম ঘটনা নয়। গত মাসেও সুইডেনগামী একটি ফ্লাইটে এক শিশুকে সিটে বসিয়ে সিটবেল্ট পরানো না যাওয়ায় উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়েছিল। সেই ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট শিশুদের আচরণ অনেক সময় অনিশ্চিত হতে পারে। তবে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী সিটবেল্ট সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো যাত্রী, বিশেষ করে শিশু, নিরাপদ অবস্থানে না থাকলে বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয় না।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিরা যারা ইংরেজিতে ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দিতে কমফোর্ট ফিল করেন না বা ইংরেজিতে পরীক্ষা দিতে চান না, তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সুবিধা রয়েছে। নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি মিশিগান অঙ্গরাজ্যেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। মিশিগান ডিপার্টমেন্ট অব স্টেটের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের সব সেক্রেটারি অব স্টেট অফিসে ড্রাইভার নলেজ পরীক্ষার অনূদিত সংস্করণ দেওয়া হয়। এই পরীক্ষার ভাষার তালিকায় বাংলা স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ সাধারণ ড্রাইভার নলেজ টেস্ট দেওয়ার সময় বাংলা ভাষা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাংলা ভাষাভাষীদের জন্য এই সুবিধাটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ড্রাইভিং নলেজ টেস্টে ট্রাফিক আইন, সড়কের নিয়ম, ট্রাফিক সাইন, নিরাপদভাবে গাড়ি চালানো এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে চালকের করণীয় নিয়ে প্রশ্ন থাকে। ইংরেজিতে প্রশ্ন পড়া বা বোঝার ক্ষেত্রে যাদের অসুবিধা রয়েছে, তারা বাংলায় পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে ভাষাগত বাধা কিছুটা কমাতে পারেন। মিশিগানে বাংলা ছাড়াও আরবি, চীনা, হিন্দি, ফরাসি, কোরিয়ান, স্প্যানিশ, উর্দু, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন ভাষায় ড্রাইভার নলেজ পরীক্ষার ভাষা-সুবিধা রয়েছে। তবে সব ধরনের ড্রাইভিং পরীক্ষার ক্ষেত্রে একই ভাষার তালিকা প্রযোজ্য নয়। চাফার, মোপেড ও মোটরসাইকেলসহ কিছু বিশেষ পরীক্ষার ভাষার তালিকা আলাদা। নিউ ইয়র্কেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিএমভির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ক্লাস ডি লার্নার পারমিট পরীক্ষা ২০টি ভাষায় দেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলা রয়েছে। ফলে নিউ ইয়র্কে সাধারণ ক্লাস ডি লার্নার পারমিটের নলেজ টেস্টও বাংলায় দেওয়া যায়। (এনআই ডিএমভি) নিউ ইয়র্ক ডিএমভির তথ্য অনুযায়ী, বাংলা ছাড়াও স্প্যানিশ, আরবি, চীনা, ফরাসি, কোরিয়ান, নেপালি, উর্দুসহ আরও বেশ কয়েকটি ভাষায় ক্লাস ডি পারমিট পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। (এনওআই ডিএমভি ) তবে নলেজ টেস্ট এবং রোড টেস্ট এক বিষয় নয়। বাংলায় পরীক্ষার সুবিধাটি ড্রাইভিং নলেজ পরীক্ষার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। গাড়ি চালানোর বাস্তব দক্ষতা যাচাইয়ের রোড টেস্টের জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আলাদা নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। বাংলাভাষী প্রবাসীদের জন্য তাই ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন করার আগে পরীক্ষার ভাষা সম্পর্কে এই তথ্য জানা গুরুত্বপূর্ণ। ইংরেজিতে নলেজ টেস্ট দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে নিউ ইয়র্কের পাশাপাশি মিশিগানেও বাংলায় ড্রাইভিং নলেজ টেস্ট দেওয়ার সরকারি সুযোগ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে ক্রেতাদের দর-কষাকষির সুযোগ বাড়ছে। ২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশটির বড় বড় হাউজিং মার্কেটের অনেকগুলোতেই বাড়ি মালিকেরা চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বাড়ি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি শহরে চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হওয়া বাড়ির হার ৮০ শতাংশেরও বেশি। রিয়েল এস্টেট তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান রেডফিনের ৫০টি বড় আবাসন বাজার নিয়ে করা বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিক্রি হওয়া বাড়ির ৫৫ শতাংশই মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। বিপরীতে মাত্র ২৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। ২০২০ সালের পর মে মাসের হিসাবে এটি সবচেয়ে কম প্রতিযোগিতামূলক আবাসন বাজারগুলোর একটি। ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি দেখা গেছে টেক্সাসের অস্টিনে। সেখানে মে মাসে বিক্রি হওয়া ৮৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। এরপর রয়েছে ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচ। সেখানে ৮৫ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হয়েছে। মায়ামিতে এই হার ৮৪ দশমিক ১ শতাংশ এবং টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে ৮৪ শতাংশ। এই তালিকায় আরও রয়েছে হিউস্টন, ডালাস, টাম্পা, ফিনিক্স, অরল্যান্ডো ও ফোর্ট ওর্থ। হিউস্টনে ৭৯ দশমিক ৬ শতাংশ, ডালাসে ৭৯ দশমিক ৩ শতাংশ, টাম্পায় ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ, ফিনিক্সে ৭৬ দশমিক ১ শতাংশ, অরল্যান্ডোতে ৭৫ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ফোর্ট ওর্থে ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ি চাওয়া দামের নিচে বিক্রি হয়েছে। রেডফিনের বিশ্লেষণ বলছে, এসব বাজারে বিক্রির জন্য বাড়ির সরবরাহ তুলনামূলক বেশি থাকায় ক্রেতাদের দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে। নতুন বাড়ি নির্মাণের প্রবৃদ্ধি, বেশি হোম ইন্স্যুরেন্স খরচ, বাড়ির মালিক সমিতির বাৎসরিক ফি এবং কিছু এলাকায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিও বাড়ির চাহিদায় প্রভাব ফেলছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব আবাসন বাজারে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। নিউইয়র্কের আশপাশের কিছু এলাকা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার বে এরিয়ায় এখনো বাড়ি কেনার প্রতিযোগিতা তুলনামূলক বেশি। মে মাসে নিউআর্ক, নিউ জার্সিতে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ বাড়ি মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হয়েছে। সান ফ্রান্সিসকোতে এই হার ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ এবং সান হোসেতে ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ। বাজারের এই পার্থক্যের পেছনে বাড়ির সরবরাহ ও ক্রেতার চাহিদার ভারসাম্য বড় ভূমিকা রাখছে। যেসব এলাকায় বিক্রির জন্য বাড়ি বেশি কিন্তু ক্রেতা তুলনামূলক কম, সেখানে বিক্রেতাদের দাম কমানো অথবা ক্রেতাদের বাড়তি সুবিধা দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে। রেডফিনের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রায় ৪৬ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ির বিক্রেতা ক্রেতাদের কোনো না কোনো বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এর মধ্যে বাড়ি কেনার চূড়ান্ত খরচের অর্থ পরিশোধ, মেরামতের খরচ বহন কিংবা ঋণের সুদের হার কমানোর মতো সুবিধাও রয়েছে। অন্যদিকে, বেশি মর্টগেজ সুদের হার এবং বাড়ির তুলনামূলক বেশি দাম অনেক সম্ভাব্য ক্রেতাকে বাজারের বাইরে রাখছে। ফলে যারা এখন বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখছেন, তাদের হাতে আগের তুলনায় বেশি বিকল্প রয়েছে। একই সঙ্গে বিক্রেতার কাছে চাওয়া দাম কমানোর জন্য দর-কষাকষির সুযোগও তৈরি হচ্ছে। তবে চাওয়া দামের নিচে বাড়ি বিক্রি হওয়া মানেই যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারে বড় ধরনের মূল্যপতন শুরু হয়েছে, এমনটা ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। কোনো এলাকায় কতটা দর-কষাকষি করা সম্ভব, তা নির্ভর করে স্থানীয়ভাবে বিক্রির জন্য থাকা বাড়ির সংখ্যা, বাড়ির অবস্থা, একই এলাকার সাম্প্রতিক বিক্রয়মূল্য এবং বিক্রেতার পরিস্থিতির ওপর। বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হলো, মহামারির পরের তীব্র প্রতিযোগিতামূলক বাজারের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের অনেক এলাকায় এখন ক্রেতারা আগের চেয়ে বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। বিশেষ করে টেক্সাস ও ফ্লোরিডার কয়েকটি বড় হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সময় মালিকের চাওয়া দামের চেয়ে কম দামে চুক্তি করার সুযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের প্রথম বাড়ি কেনার স্বপ্ন এখন আগের তুলনায় আরও দেরিতে পূরণ হচ্ছে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, অঙ্গরাজ্যটিতে অর্ধেক মানুষ প্রথমবারের মতো বাড়ির মালিক হতে পৌঁছে যাচ্ছেন ৪৭ বছর বয়সে। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের বাকি অংশে একই মাইলফলক গড়ে অর্জিত হচ্ছে ৩৭ বছর বয়সে। অর্থাৎ, জাতীয় গড়ের তুলনায় ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দাদের প্রায় এক দশক বেশি অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পাবলিক পলিসি ইনস্টিটিউট অব ক্যালিফোর্নিয়া (পিপিআইসি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের সর্বশেষ তথ্য বিশ্লেষণ করে বিভিন্ন বয়সে বাড়ির মালিকানার প্রবণতা পর্যালোচনা করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ১৫ বছর আগেও ক্যালিফোর্নিয়ায় অর্ধেক মানুষ ৩৯ বছর বয়সের মধ্যেই নিজেদের বাড়ির মালিক হয়ে যেতেন। এখন সেই গড় বয়স বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৭ বছরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার, ডাউন পেমেন্টের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড়ের কঠিন বাস্তবতা এবং সীমিত আবাসন সরবরাহ এই পরিবর্তনের প্রধান কারণ। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ৩০ বছরের অধিকাংশ সময় এবং ৪০ বছরের বড় একটি অংশ পর্যন্ত ভাড়াটিয়ার সংখ্যা বাড়ির মালিকদের তুলনায় বেশি। ফলে অনেকেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় ভাড়াবাসেই কাটাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, বাড়ি কিনতে দেরি হওয়ার আরেকটি বড় প্রভাব পড়ছে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তায়। সাধারণত বাড়ির মূল্য বৃদ্ধি ও ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে যে সম্পদ বা ইকুইটি তৈরি হয়, তা গড়ে তুলতে মানুষের হাতে সময় কমে যাচ্ছে। এর ফলে অনেক ক্যালিফোর্নিয়াবাসী অবসর গ্রহণের বয়সেও গৃহঋণের কিস্তি পরিশোধ করে যাচ্ছেন। গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় সামগ্রিকভাবে বাড়ির মালিকানার হার ৫৬ শতাংশ, যেখানে জাতীয় হার ৬৬ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শুধু নিউইয়র্কের হার আরও কম, যা ৫৪ শতাংশ। জাতিগত বৈষম্যের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শ্বেতাঙ্গ ও এশীয় বংশোদ্ভূত বাসিন্দারা তুলনামূলক কম বয়সে বাড়ির মালিক হতে পারলেও কৃষ্ণাঙ্গ এবং লাতিনো জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম বাড়ি কেনার গড় বয়স বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া এশীয়দের মধ্যে বাড়ির মালিক হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে আগে দেখা যায়। শিক্ষাগত যোগ্যতার সঙ্গেও বাড়ির মালিকানার সম্পর্ক রয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। যাদের অন্তত স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে, তারা সাধারণত অন্যদের তুলনায় কম বয়সেই প্রথম বাড়ি কিনতে সক্ষম হন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ক্যালিফোর্নিয়ায় নীতিগত বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। চলতি শরতে ভোটারদের সামনে এমন একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে, যার লক্ষ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতাদের ডাউন পেমেন্টে সহায়তা করা। পাশাপাশি নতুন আবাসন নির্মাণ বাড়ানো এবং যেসব পরিবার বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে পড়ছে, তাদের জন্য অতিরিক্ত সহায়তার বিষয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আবাসন সংকট শুধু বাড়ি কেনার বিষয় নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা, অবসর পরিকল্পনা এবং সম্পদ সৃষ্টির সক্ষমতার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। তাই ক্যালিফোর্নিয়ায় আবাসন সরবরাহ বৃদ্ধি এবং ক্রেতাদের জন্য কার্যকর নীতিগত সহায়তা এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টা এলাকায় পরিচালিত একটি বড় অভিবাসন অভিযানে ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)। যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৭২০ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের অভিযোগ রয়েছে অথবা তারা আগে দণ্ডিত হয়েছেন। ডিএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, "অপারেশন সেফ কমিউনিটি, আটলান্টা" নামে পরিচালিত এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্ত ও আটক করা। আইসিইর এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশন্স বিভাগের নির্বাহী সহযোগী পরিচালক মার্কোস চার্লস ফক্স নিউজের "ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস" অনুষ্ঠানে বলেন, অভিযানে আটক হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা, মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোসহ বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি রয়েছেন। তার ভাষায়, "আমরা জর্জিয়ার আটলান্টা এলাকায় ১ হাজার ২০০-এর বেশি অবৈধ অভিবাসীকে আটক করেছি। তাদের অর্ধেকেরও বেশি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে।" চার্লস আরও বলেন, "এদের মধ্যে যৌন অপরাধ, হামলা, পারিবারিক সহিংসতা এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর মতো অপরাধ রয়েছে। তারা শুধু অপরাধের সঙ্গেই জড়িত নন, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন।" ডিএইচএস আরও জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যিনি অন্তত ৫০০ গ্রাম মেথামফেটামিন বিতরণের ষড়যন্ত্রে দণ্ডপ্রাপ্ত ছিলেন। এছাড়া মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগও ছিল তার বিরুদ্ধে। আরেকজন এল সালভাদরের নাগরিকের বিরুদ্ধে পারিবারিক সহিংসতা, শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ, বিশৃঙ্খল আচরণ এবং মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানোর অভিযোগে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়ার তথ্য প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। মার্কোস চার্লস বলেন, আইসিই কর্মকর্তারা প্রতিদিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেস প্রণীত অভিবাসন আইন কার্যকর করতে কাজ করছেন এবং ভবিষ্যতেও দেশজুড়ে একই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। তার দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বিক্ষোভ এবং অভিযানে বাধা দেওয়ার নানা প্রচেষ্টার কারণে আইসিই তাদের অভিযান পরিচালনার কৌশল পরিবর্তন করেছে। অতিরিক্ত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি অভিযুক্তদের শনাক্ত ও আটক করার পদ্ধতিতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এদিকে আইসিইর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই মাসে সংস্থাটি প্রায় ৫১ হাজার অভিবাসীকে আটক করেছে, যা তাদের ইতিহাসে এক মাসে সর্বোচ্চ। এর আগের মাস জুনে আটক হয়েছিল প্রায় ৪৩ হাজার মানুষ। এর আগে ডিএইচএস জানিয়েছিল, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আইসিই কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রগতিশীল আইনপ্রণেতা সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আইসিই বিলুপ্তির দাবিও তুলেছেন। ফলে অভিবাসন আইন প্রয়োগ এবং মানবাধিকার ইস্যু নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। উল্লেখ্য, আইসিই ও ডিএইচএসের দেওয়া এসব তথ্য সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া সংশ্লিষ্ট আদালতে নিষ্পত্তি হবে।
দীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও মেহের নিউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ পেলেও এর পটভূমি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে না এসে আড়াল থেকেই দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বিভিন্ন নির্দেশনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হতো। মেহের নিউজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনও মেহের নিউজের বরাতে তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও প্রকাশিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ভিডিও প্রকাশ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: সিনহুয়া, মেহের নিউজ এজেন্সি
যুক্তরাষ্ট্রের কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিতর্কিত শিক্ষার্থী অস্টিন ফ্রাঙ্কো আবারও আলোচনায় এসেছেন। ইহুদিবিদ্বেষী মন্তব্যের কারণে সম্প্রতি সংবাদ শিরোনামে আসা এই শিক্ষার্থী এবার দাবি করেছেন, তার বাসার জানালার বাইরে থাকা একটি ৫জি মোবাইল টাওয়ার থেকে আসা বিকিরণের কারণে তিনি মাথাব্যথা ও অস্বস্তিতে ভুগছেন। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে করা এক পোস্টে ১৯ বছর বয়সী ফ্রাঙ্কো অভিযোগ করেন, তার নতুন বাসার বাইরে স্থাপিত একটি ৫জি সরঞ্জাম থেকে নির্গত বিকিরণ তার মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলছে। তিনি লেখেন, গত এক ঘণ্টা ধরে তার কানে শব্দ হচ্ছে এবং তীব্র মাথাব্যথা অনুভব করছেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, ওই স্থানের বিকিরণের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি। তবে নিজের দাবির পক্ষে তিনি কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য বা প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। ফ্রাঙ্কো একই পোস্টে জানান, তিনি ওই বাসায় আর বেশিদিন থাকবেন না এবং অন্য কোথাও থাকার জন্য একটি কক্ষ খুঁজছেন। এর আগে জুন মাসে চাকরির জন্য যোগাযোগ করা একটি প্রতিষ্ঠানের ইহুদি সহপ্রতিষ্ঠাতাদের উদ্দেশে তিনি লিখেছিলেন, "আমি কোনো ইহুদির জন্য কাজ করতে আগ্রহী নই।" এই বার্তা প্রকাশ্যে আসার পর তা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে তার বাবা-মা নিউইয়র্ক পোস্টকে জানান, অনলাইন উগ্রবাদী বিষয়বস্তুর প্রভাবে তাদের ছেলে চরমপন্থী মতাদর্শে আকৃষ্ট হয়েছে। তারা স্পষ্ট করে বলেন, তার মতামত সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা সেগুলোর সঙ্গে একমত নন। সাম্প্রতিক সময়ে ফ্রাঙ্কো জানান, তার মতাদর্শের কারণে বাবা-মা তাকে ভার্জিনিয়ায় অবস্থিত পারিবারিক বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। এরপর তিনি অনলাইনে অর্থ সহায়তার আবেদন করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অনুদান সংগ্রহ প্ল্যাটফর্মে খোলা তহবিল থেকে তিনি ১০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি সংগ্রহ করেছেন। এর আগে আরেকটি পৃথক তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম থেকেও প্রায় ২৬ হাজার ডলার পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে মনোচিকিৎসক ও 'থেরাপি নেশন' বইয়ের লেখক জনাথন অ্যালপার্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, ইন্টারনেটে দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের উগ্র মতাদর্শের মধ্যে থাকলে একজন মানুষের স্বাভাবিক চিন্তাভাবনা ও বাস্তবতা মূল্যায়নের সক্ষমতা প্রভাবিত হতে পারে। তবে তিনি বলেন, সবকিছুর জন্য কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদমকে দায়ী করাও ঠিক নয়। ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অ্যালপার্ট আরও মন্তব্য করেন, ইন্টারনেটের একটি উদ্বেগজনক দিক হলো, অনেক সময় বিতর্কিত আচরণও আর্থিকভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে। তার মতে, এ ধরনের ব্যক্তিকে অর্থ সহায়তা দেওয়া কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং তার আচরণকে উৎসাহিত করার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। এদিকে নিউইয়র্ক পোস্ট জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে অস্টিন ফ্রাঙ্কোর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। উল্লেখ্য, বর্তমানে ৫জি প্রযুক্তির স্বাভাবিক ব্যবহারে মানবস্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়ে নির্ভরযোগ্য বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত রেখেছে। ফ্রাঙ্কোর দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনীতি
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
খামেনির জানাজায় যোগ দিতে ইরান যাচ্ছেন এনসিপি নেতা পাটওয়ারীসহ কয়েকজন শীর্ষ রাজনীতিক
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View moreদীর্ঘদিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত থাকার পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহের নিউজ এজেন্সি। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার মেহের নিউজ এজেন্সি তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করে। ভিডিওতে মোজতবা খামেনিকে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়। সেখানে তাঁকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা গেলেও ভিডিওটি কখন এবং কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিডিওতে উপস্থিত অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কেও মেহের নিউজ কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ভিডিওটি প্রকাশ পেলেও এর পটভূমি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর মোজতবা খামেনি দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর থেকে তিনি জনসমক্ষে আর দেখা দেননি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে তিনি নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রকাশ্যে না এসে আড়াল থেকেই দেশের নেতৃত্ব ও রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছিলেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মোজতবা খামেনির কোনো ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রকাশিত হয়নি। তাঁর বিভিন্ন নির্দেশনা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ অথবা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করা হতো। মেহের নিউজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে ভিডিওটি প্রকাশের কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। চীনা সংবাদমাধ্যম সিজিটিএনও মেহের নিউজের বরাতে তাদের ফেসবুক পেজে ভিডিওটি শেয়ার করেছে। তবে মেহের নিউজের ইংরেজি ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে কোনো প্রতিবেদন বা ভিডিও প্রকাশিত হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ অনুপস্থিতির পর এই ভিডিও প্রকাশ ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সর্বোচ্চ নেতার কার্যক্রম নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে। তবে ভিডিওটির ধারণের সময়, স্থান ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য না থাকায় এ নিয়ে নিশ্চিত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এ বিষয়ে ইরানের সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। সূত্র: সিনহুয়া, মেহের নিউজ এজেন্সি
কানাডায় উড্ডয়নের ঠিক আগে এক শিশুর সিটবেল্ট না বাঁধাকে কেন্দ্র করে শেষ মুহূর্তে একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। নিরাপত্তা বিধি মেনে শিশুটিকে সিটবেল্ট পরানো সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। পরে রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। ফলে যাত্রীদের পরদিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সিটিভি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সেদিন পোর্টার এয়ারলাইন্সের পিডি৪৪৪ ফ্লাইটটি টরন্টোর উদ্দেশে উড্ডয়নের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। বিমানটি টার্মিনাল ছেড়ে রানওয়ের দিকে যাওয়ার পর কেবিন ক্রুরা দেখতে পান, এক শিশু নিজের আসনে দাঁড়িয়ে রয়েছে এবং সিটবেল্ট বাঁধতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে। নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী উড্ডয়নের সময় প্রত্যেক যাত্রীর সিটবেল্ট বাঁধা বাধ্যতামূলক। এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তারা জানান, শিশুটির বাবা-মা এবং কেবিন ক্রুরা তাকে সিটবেল্ট পরানোর একাধিক চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি সম্ভব না হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি টার্মিনালে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পোর্টার এয়ারলাইন্স এক বিবৃতিতে জানায়, নিরাপদ অবস্থায় না থাকায় বিমানটি উড্ডয়ন করতে পারেনি। তাই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট পরিবারকে বিমান থেকে নামানোর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে রাত সাড়ে ১২টার বেশি বেজে যায়। ওই সময়ের পর ভিক্টোরিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেদিন আর ফ্লাইট পরিচালনার সুযোগ ছিল না। ফলে যাত্রীদের রাতটি ভিক্টোরিয়াতেই কাটাতে হয়। পরদিন শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৯ মিনিটে একই ফ্লাইট আবার যাত্রা শুরু করে এবং নির্ধারিত গন্তব্য টরন্টোতে পৌঁছে। ঘটনার পর যাত্রীদের ভোগান্তির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে পোর্টার এয়ারলাইন্স। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উড্ডয়নের ঝুঁকি নেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এটি এমন প্রথম ঘটনা নয়। গত মাসেও সুইডেনগামী একটি ফ্লাইটে এক শিশুকে সিটে বসিয়ে সিটবেল্ট পরানো না যাওয়ায় উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়েছিল। সেই ঘটনাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোট শিশুদের আচরণ অনেক সময় অনিশ্চিত হতে পারে। তবে বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিধি অনুযায়ী সিটবেল্ট সংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলা বাধ্যতামূলক। কোনো যাত্রী, বিশেষ করে শিশু, নিরাপদ অবস্থানে না থাকলে বিমান উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয় না।
ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা অস্ত্রের মজুত উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এতে ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি ভবিষ্যতে রাশিয়া বা চীনের মতো বড় সামরিক শক্তির সঙ্গে সংঘাত হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের ৪ আগস্টের প্রতিবেদনে তিনজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে মার্কিন সেনাবাহিনী আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের মতো দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বৈশ্বিক মজুতের প্রায় পুরোটাই ব্যবহার করেছে। একই সময়ে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং থাড ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৩৮ শতাংশ ব্যবহার হয়েছে। নৌবাহিনীর টমাহক ক্রুজ মিসাইলের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। নিউইয়র্ক টাইমসও এ বিষয়ে প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইরান যুদ্ধের চাহিদা মেটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্যান্য অঞ্চল, বিশেষ করে ইউরোপ ও এশিয়ার সামরিক মজুত থেকেও অস্ত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে সম্ভাব্য অন্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পত্রিকাটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কম থাকলে রাশিয়া ও চীন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে হিসাব করতে পারে। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত টমাহক, থাড ও প্যাট্রিয়টের মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কয়েক বছর লাগতে পারে। সংস্থাটির হিসাবে, এসব অস্ত্রের কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধপূর্ব মজুত পুনর্গঠনে তিন বছর বা তারও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। এই পরিস্থিতির কৌশলগত প্রভাব সবচেয়ে বেশি আলোচিত হচ্ছে চীন ও রাশিয়াকে ঘিরে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব অস্ত্রের মজুত কমে গেলে একই সময়ে একাধিক সামরিক সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রতিপক্ষরা নতুন করে হিসাব করতে পারে। তবে এর অর্থ রাশিয়া বা চীন যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে এমন নয়। উদ্বেগটি মূলত সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট ধরনের অস্ত্রের মজুত দীর্ঘ সময় কম থাকলে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষরা ভবিষ্যৎ সংঘাতের ঝুঁকি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা মূল্যায়নের সময় বিষয়টি বিবেচনায় নিতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র অস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। গত মাসে লকহিড মার্টিনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের জন্য সর্বোচ্চ ৫৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটি ২০৩০ সালের মধ্যে প্যাট্রিয়ট উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। তবে উৎপাদন বাড়ালেই দ্রুত ঘাটতি পূরণ হবে না। রাইনমেটালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আরমিন প্যাপারগার জানিয়েছেন, এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পুনর্গঠনে দুই বছরের বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ৬ আগস্ট বলেছেন, কিছু শক্তিশালী মার্কিন অস্ত্রের সরবরাহ এখনো পর্যাপ্ত থাকলেও কয়েকটি অস্ত্রের ক্ষেত্রে মজুত কমে এসেছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো উৎপাদন বাড়াচ্ছে। . ফলে ইরান যুদ্ধ এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বিষয় নয়। দীর্ঘ সংঘাতে অত্যাধুনিক অস্ত্র কত দ্রুত ব্যবহার হয়ে যেতে পারে এবং সেই মজুত পুনর্গঠনে কত সময় লাগে, সেটিও ওয়াশিংটনের জন্য বড় কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। মজুত দ্রুত পুনর্গঠন করা না গেলে ভবিষ্যতে রাশিয়া ও চীনের মতো প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির সঙ্গে সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনা আরও জটিল হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে কলেজে পড়ার খরচ জোগাড় করতে শিক্ষাঋণ না নিয়ে এক অভিনব পথ বেছে নিয়েছিলেন ১৮ বছর বয়সী মাইক হেইস। ১৯৮৭ সালে ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে পড়াশোনা শুরু করার সময় চার বছরের খরচ মেটাতে তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। সেই অর্থ সংগ্রহের জন্য তিনি লাখ লাখ মানুষের কাছে মাত্র এক সেন্ট করে সাহায্য চাওয়ার পরিকল্পনা করেন। তবে বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ছে, মাইক নিজে ২৮ লাখ মানুষের কাছে আলাদাভাবে চিঠি পাঠিয়েছিলেন এমনটি নয়। তিনি যোগাযোগ করেছিলেন শিকাগো ট্রিবিউনের জনপ্রিয় কলামিস্ট বব গ্রিনের সঙ্গে। গ্রিনের লেখা তখন যুক্তরাষ্ট্রের বহু সংবাদপত্রে প্রকাশিত হতো এবং তার পাঠকসংখ্যা ছিল কয়েক মিলিয়ন। মাইক বব গ্রিনকে জানান, যদি ২৮ লাখ মানুষ তাকে মাত্র এক সেন্ট করে পাঠান, তাহলে তার চার বছরের কলেজ খরচ উঠে যাবে। অভিনব পরিকল্পনাটি গ্রিনের পছন্দ হয় এবং তিনি ১৯৮৭ সালের সেপ্টেম্বরে নিজের কলামে মাইকের আবেদন প্রকাশ করেন। এরপরই শুরু হয় অভাবনীয় সাড়া। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চিঠির সঙ্গে আসতে থাকে এক সেন্টের কয়েন। অনেকে শুধু এক সেন্টেই থামেননি। কেউ পাঁচ সেন্ট, কেউ দশ বা ২৫ সেন্ট, আবার কেউ ডলার কিংবা চেক পাঠিয়েছেন। কানাডা ও মেক্সিকো থেকেও অনুদান আসে। অল্প সময়ের মধ্যেই এত চিঠি আসতে শুরু করে যে স্থানীয় পোস্ট অফিসেও চাপ তৈরি হয়। মাইকের ছোট্ট আবেদন জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসে এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও তার গল্প প্রচার হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত মাইক প্রায় ২৯ হাজার ডলার সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তার প্রয়োজন ছিল প্রায় ২৮ হাজার ডলার। ওই অর্থ দিয়েই ইউনিভার্সিটি অব ইলিনয়ে চার বছরের পড়াশোনার খরচ মেটান তিনি। পরে ১৯৯১ সালে ফুড সায়েন্সে ডিগ্রি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্র্যাজুয়েট করেন মাইক। প্রয়োজনের অতিরিক্ত প্রায় এক হাজার ডলার আরেকজন আর্থিকভাবে অসচ্ছল নবীন শিক্ষার্থীকে দেওয়ার কথাও পরবর্তী প্রতিবেদনে উঠে আসে। ঘটনাটি প্রায় চার দশক আগের হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেট ও অনলাইন ক্রাউডফান্ডিংয়ের যুগ শুরু হওয়ারও আগে একজন শিক্ষার্থী কীভাবে সংবাদপত্রের পাঠকদের ছোট ছোট অনুদান একত্র করে নিজের উচ্চশিক্ষার খরচ মেটাতে পেরেছিলেন, সেই কারণেই গল্পটি এখনো মানুষের আগ্রহ কাড়ে। মাইকের পরিকল্পনার মূল হিসাব ছিল খুবই সহজ। একজনের কাছে এক সেন্ট প্রায় মূল্যহীন মনে হতে পারে, কিন্তু লাখ লাখ মানুষ সামান্য করে সহযোগিতা করলে সেটিই বড় অঙ্কে পরিণত হতে পারে। তার ক্ষেত্রে সেই এক সেন্টের ধারণাই শেষ পর্যন্ত প্রায় ২৯ হাজার ডলারের কলেজ ফান্ডে পরিণত হয়েছিল।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনা ফের শুরু করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র
আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর
গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন হুমকি, চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী
ফিলিস্তিনি হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া, হামাস অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয় ইঙ্গিতে কঠোর অবস্থান
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
‘অল্প অ্যালকোহল স্বাস্থ্যের জন্য ভালো’—ধারণাটি ভুল প্রমাণিত নতুন গবেষণায়
ব্যায়ামের পর পুরুষাঙ্গ সাময়িকভাবে ছোট দেখাতে পারে, কেন হয় জানালেন বিশেষজ্ঞ
মিসক্যারেজের পরও মিলল না জরুরি চিকিৎসা, গভর্নরের দপ্তরে ফোন করেও লাভ হয়নি
ইসলাম ধর্মে শান্তি খুজে পেয়ে ইসলাম গ্রহণ করলেন ভারতীয় অভিনেত্রী দীপিকা
কানিয়ের সঙ্গে সংসার করা ছিল দুঃসহ, হুটহাট আমার ল্যাম্বরগিনিগুলো মানুষকে দিয়ে দিত
লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম যখন গিয়েছিলাম, তখন বাসাভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও ছিল না
নৌভ্রমণে ক্যাটি পেরির বুকে সানস্ক্রিন মেখে দিলেন জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সে ধরা পড়ল প্রেমের অন্য রূপ
কেন বাবার পদবি বাদ দিলেন টম ক্রুজের মেয়ে? বাবা-মেয়ের দূরত্ব নিয়ে যা জানা গেছে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
এআই দিয়ে তৈরি করা হলো নতুন ভাইরাস, বিজ্ঞানীদের যুগান্তকারী সাফল্যের সঙ্গে বাড়ছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট
আইফোন ২০২৬ লঞ্চের প্রস্তুতি জোরদার, নির্বাচিত কর্মীদের লটারির সুযোগ দিচ্ছে অ্যাপল
যুক্তরাষ্ট্রে ১০ হাউজিং মার্কেটে বাড়ি কেনার সুযোগ! চাওয়া দামের নিচেই বিক্রি হচ্ছে অধিকাংশ বাড়ি
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রথম বাড়ি কিনতে অপেক্ষা ৪৭ বছর পর্যন্ত, নতুন প্রতিবেদনে উঠে এলো আবাসন সংকট
বিতর্কিত মন্তব্যে পরিবার থেকে বিতাড়িত মার্কিন তরুণ, এবার ৫জি টাওয়ারের বিরুদ্ধে মস্তিষ্ক বিকৃতির অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে সাগরে ভাসমান নৌকায় বিড়ালের রাজত্ব, নেই কোনো মানুষ, রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্তে পুলিশ
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ডাকোটায় নিজ সন্তানদের ওপর মায়ের হামলা: দুই শিশুর মৃত্যু ও একজন গুরুতর আহত
টিউশনের জমানো টাকায় বিদেশ যাওয়ার প্রস্তুতি, এবার যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করবেন উচ্ছাস
হার্ভার্ডে ফুল-ফান্ডেড ফেলোশিপের সুযোগ, আবেদন করতে পারবেন যে কেউ
মেয়েদের আপত্তিকর ছবি তুলে লন্ডনে বয়ফ্রেন্ডের কাছে পাঠাতেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী
ডার্ক ম্যাটারের খোঁজে, নাসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিশনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশি বিজ্ঞানী ড. লামিয়া
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ, মিলবে প্রায় ১ কোটি টাকা
গ্রিন কার্ড ইন্টারভিউতে আইসিইর হাতে স্ত্রী আটক, দেশের জন্য লড়েছি! এটাই কি তার প্রতিদান?’ মার্কিন সেনার ক্ষোভ
ভিসা বন্ড তালিকায় বাংলাদেশ, অথচ বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দরিদ্র দেশ: কোন ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের?
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাব
এক প্রিন্সিপালের জীবনের পরাজয়: সম্মান থেকে সংগ্রাম, শেষে রেললাইনে নিথর দেহ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে ট্রাম্প প্রশাসন, আজ থেকেই কার্যকর
ইসরাইলি তরুণদের মধ্যে বাড়ছে ক্যানসারের ঝুঁকি
ধরপাকড় ও সহিংসতার মুখে দেশ ছাড়লেন ১ লাখ ৭৮ হাজার অভিবাসী
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি, হামলা হলে একসঙ্গে লড়বে তিন দেশ
হরমুজ প্রণালিতে আমিরাতের জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ইরানকে দায়ী করে সৌদির কড়া বার্তা
গড়ে প্রতিদিন ছয়টিরও বেশি ইসরায়েলি হামলার ঘটনা, চলতি বছর বাস্তুচ্যুত ২,৩০০ ফিলিস্তিনি
পঞ্চগড়ে বাংলাদেশিকে ধরে নিয়ে গেল বিএসএফ, ক্ষোভে ভারতীয়কে ধরে আনল গ্রামবাসী
সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা
প্রবাসীদের জন্য চালু হচ্ছে ‘প্রবাসী কার্ড’, রেমিট্যান্সে মিলবে ৩% প্রণোদনা
দুই বছর পর দেশে ফেরার ইচ্ছা সাকিবের, নিরাপত্তা পেলে বিচার মোকাবিলার পাশাপাশি বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান