যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের হাইওয়েগুলোর নির্মাণাধীন এলাকায় অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর দিন শেষ হতে চলেছে। গত এক বছর ধরে চালকদের কেবল সতর্কবার্তা দেওয়া হলেও, এখন থেকে নিয়ম ভাঙলেই গুণতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। ১ জুলাই থেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য পরিবহন বিভাগ। পরিবহন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাস থেকে এ পর্যন্ত হাইওয়েগুলোতে নতুন প্রযুক্তির গতি মাপার ক্যামেরার মাধ্যমে ৮৫ হাজারেরও বেশি নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৭৭ হাজার চালককে প্রথমবার নিয়ম ভাঙার কারণে কোনো জরিমানা ছাড়াই কেবল সতর্কবার্তা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এখন থেকে প্রথমবার নিয়ম ভাঙলেই ১২৫ ডলার জরিমানা করা হবে এবং পরবর্তী প্রতিবারের জন্য চালকদের ২৪৮ ডলার করে গুণতে হবে। হাইওয়ের এই ক্যামেরাগুলো মূলত বিশেষ ট্রেলারে বসানো ত্রিমাত্রিক লেজার ক্যামেরা, যা নির্মাণাধীন এলাকায় গাড়ির গতিসীমা পর্যবেক্ষণ করে। গাড়ি নির্দিষ্ট সীমার চেয়ে বেশি গতিতে চললে এই ক্যামেরাগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাড়ির এবং লাইসেন্স প্লেটের ছবি তুলে নেয়। তবে সুরক্ষার স্বার্থে চালকের মুখমণ্ডলের কোনো ছবি এটি ধারণ করে না। ছবি সংগ্রহের পর সেগুলো পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়। তারা ছবিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে ৩০ দিনের মধ্যে চালকের ঠিকানায় জরিমানার নোটিশ পাঠিয়ে দেন। এই ক্যামেরাগুলো কেবল তখনই চালু রাখা হয় যখন রাস্তায় শ্রমিকরা কাজ করেন। চালকদের সতর্ক করার জন্য নির্দিষ্ট দূরত্বে সাইনবোর্ডও লাগানো থাকে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো হাইওয়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। বিগত বছরগুলোতে এই নির্মাণাধীন এলাকাগুলোতে অসতর্ক ড্রাইভিংয়ের কারণে বহু প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছে। তথ্য অনুযায়ী, গত বছরও এমন এলাকায় ১ হাজার ৫০০টিরও বেশি দুর্ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। নতুন এই ক্যামেরা ব্যবহারের ফলে গুরুত্বপূর্ণ হাইওয়েগুলোতে গতিসীমা লঙ্ঘনের হার ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজ্য সরকার এই ক্যামেরা কার্যক্রম আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে এবং আগামী বছর নাগাদ অন্তত ১৫টি ক্যামেরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচল করা হবে। এই কার্যক্রম থেকে আগামী ছয় বছরে ১৩৮ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূলত সড়ক নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রমে ব্যয় করা হবে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত এই প্রকল্প চালু রাখার আইনি অনুমোদন রয়েছে।
পূর্ব চীনের কৌশলগত সমুদ্রসীমা ও আকাশসীমায় চলতি সপ্তাহেই শুরু হতে যাচ্ছে পরাশক্তি চীন এবং রাশিয়ার নৌবাহিনীর বার্ষিক যৌথ সামরিক মহড়া। বেইজিংয়ের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় রোববার এক বিশেষ বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। দুই দেশের মধ্যকার এই সামরিক সহযোগিতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। চীনের অন্যতম প্রধান বন্দর নগরী চিংদাও উপকূলের এই মহড়াটি সোমবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে। আগামী ১৩ জুলাই পর্যন্ত এই যৌথ মহড়াটি চলমান থাকবে বলে জানানো হয়েছে। মহড়া সমাপ্ত হওয়ার পর দুই দেশের নৌবাহিনী প্রশান্ত মহাসাগরের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় যৌথ টহল পরিচালনা করবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই যৌথ মহড়ায় অংশ নিতে রাশিয়ার প্যাসিফিক ফ্লিটের একটি ক্রুজার, একটি কর্ভেট, একটি ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ ইতোমধ্যেই চিংদাও বন্দরে এসে পৌঁছেছে। রাশিয়ার এই শক্তিশালী নৌবহর মহড়ায় প্রধান ভূমিকা পালন করবে। অন্যদিকে, চীনের নর্দার্ন থিয়েটার কমান্ড জানিয়েছে যে তাদের পক্ষ থেকে দুটি ডেস্ট্রয়ার, একটি ফ্রিগেট, একটি সাবমেরিন, একটি সাপ্লাই জাহাজ এবং একটি উদ্ধারকারী জাহাজ এই মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। এবারের মহড়ায় দুই দেশের নৌবাহিনী মূলত শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ, আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা এবং সমুদ্রপৃষ্ঠে আকস্মিক হামলার মোকাবিলার মতো কৌশলগত প্রস্তুতিগুলো ঝালিয়ে নেবে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সামরিক মহড়াটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যার মাত্র দুই মাস আগে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চীন সফর করেছিলেন। সেই সফরে তিনি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নজিরবিহীন উচ্চতায় রয়েছে বলে অভিহিত করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও এই অংশীদারিত্বকে অটল ও অবিচল বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১২ সাল থেকে এই দুই পরাশক্তি নিয়মিতভাবে 'জয়েন্ট সি' নামের এই যৌথ নৌ মহড়া পরিচালনা করে আসছে। গত বছর এই মহড়াটি রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্তোক বন্দরের কাছে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর থেকে চীন কখনই এর সরাসরি নিন্দা জানায়নি, বরং নিজেদের একটি নিরপেক্ষ পক্ষ দাবি করে বেইজিং বরাবরই শান্তি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস বা সেমি-কুইনসেন্টেনিয়াল উপলক্ষে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির আকাশে ডজন ডজন যুদ্ধবিমানের গর্জন ও চোখ ধাঁধানো সামরিক প্রদর্শনীকে ‘কেয়ামত বা ধ্বংসযজ্ঞের’ সাথে তুলনা করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন নিউইয়র্ক টাইমসের খ্যাতনামা সাংবাদিক লুলু গার্সিয়া-নাভারো। মার্কিন বিমান বাহিনীর এই গৌরবময় শক্তি প্রদর্শনকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ভীতিকর’ বলে মন্তব্য করায় নেটিজেনরা তাঁকে ধুয়ে দিয়েছেন। আমেরিকার ঐতিহাসিক এই উদ্যাপনে বি-২ বোমারু বিমান, নাসার এফ-৫ যুদ্ধবিমান, থান্ডারবার্ডস ও এয়ার ফোর্স ওয়ানসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক সামরিক যান ওয়াশিংটনের আকাশ কাঁপিয়ে ওড়ে। এছাড়া ডিসির আকাশে রেকর্ডসংখ্যক ৮ লাখ ৫০ হাজার আতশবাজি ফোটানো হয়। উৎসবের শুরুতেই সাংবাদিক লুলু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (টুইটার) ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, "ডিসির আকাশে এত যুদ্ধবিমান কেন উড়ছে? এটি অত্যন্ত স্নায়ুচাপ তৈরি করছে। আমি ২৫০তম উদ্যাপন বুঝতে পারছি, কিন্তু এটা দেখে কেয়ামতের মতো মনে হচ্ছে।" তাঁর এই মন্তব্যের পর ডানপন্থী ও রক্ষণশীল শিবিরের সাংবাদিক এবং কলামিস্টরা তাঁকে তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেন। দ্য ফেডারেলিস্ট-এর প্রধান সম্পাদক মলি হেমিংওয়ে পাল্টা আক্রমণ করে লেখেন, "আপনার পত্রিকা আমেরিকার প্রতি যে ঘৃণা ছড়ায়, আমরা আশা করতে পারি যে এটি সত্যিই সেই ঘৃণার জন্য কেয়ামত।" অন্য এক সমালোচক ব্যঙ্গ করে লেখেন, "আমি নিশ্চিত হতে চেক করলাম এটি কোনো প্যারোডি অ্যাকাউন্ট কি না!" তীব্র ট্রোলের মুখে পড়ে লুলু গার্সিয়া-নাভারো পরবর্তীতে নিজের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, তিনি অতীতে কসোভো, কলম্বিয়া, আফগানিস্তান, ইসরায়েল এবং ইরাকে যুদ্ধক্ষেত্রের সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেছেন। যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কারণে যুদ্ধবিমানের শব্দ এবং আতশবাজি তাঁর পিটিএসডি (PTSD - পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার) বা মানসিক ট্রমাকে জাগিয়ে তোলে। তিনি আরও বলেন, দেশপ্রেম প্রকাশের অনেক পথ রয়েছে এবং যুদ্ধবিমানের বিকট শব্দ বা আতশবাজি অপছন্দ করার মানেই দেশদ্রোহিতা নয়।
নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলে বিনা পারিশ্রমিকে ইন্টার্নশিপ করার সময় প্রতি ঘণ্টায় ৩২ ডলার ‘জীবনযাত্রার উপযোগী মজুরি’ এবং পূর্ণ স্বাস্থ্যবিমার দাবিতে আন্দোলন করে চাকরি হারানো ২১ বছর বয়সী সমাজকর্মী মিনা ফারাহমান্দকে নিয়ে এক নতুন তথ্য সামনে এসেছে। নিজেকে 'নিপীড়িত ও ক্ষুধার্ত' দাবি করে সিটি কাউন্সিলের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেওয়া এই তরুণী আসলে এক ধনী কোটিপতি পরিবারের সন্তান। নিউইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মিনা ফারাহমান্দ ওয়াশিংটনের এক বিখ্যাত সার্জন বা শল্যচিকিৎসকের মেয়ে। তিনি ওয়াশিংটনের কোলভিলে ৩০ একর জমির ওপর নির্মিত একটি বিশাল আলিশান প্রাসাদে বড় হয়েছেন, যে বাড়িতে ৬টি বেডরুম এবং ৪টি বাথরুম রয়েছে। তাঁর বাবা মেহরদাদ ফারাহমান্দ ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান 'প্রভিডেন্স'-এর একজন জেনারেল সার্জন, যাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ মার্কিন ডলার। মিনা ফারাহমান্দ গত মে মাসে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি (এনওয়াইইউ) থেকে স্নাতক শেষ করেন। তিনি ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্ট অব আমেরিকার একজন সক্রিয় সদস্য এবং নিউইয়র্কের সমাজতন্ত্রী মেয়র প্রার্থী জোহরান মামদানির পক্ষেও নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছিলেন। গত মে মাসে তিনি ম্যানহাটনের কাউন্সিলর হার্ভে এপস্টাইনের অধীনে একজন আইনপ্রণেতা ইন্টার্ন হিসেবে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেন। ইন্টার্নশিপ শুরুর কিছুদিন পরই মিনা অন্য ইন্টার্নদের নিয়ে একটি গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু করেন এবং সিটি কাউন্সিলের স্পিকার জুলি মেনিনের কাছে নিউইয়র্কের বর্তমান ন্যূনতম মজুরি (ঘণ্টায় ১৭ ডলার)-এর চেয়ে দ্বিগুণ, অর্থাৎ ঘণ্টায় ৩২ ডলার মজুরি দাবি করেন। এর পরেই কর্মক্ষেত্রে ‘খারাপ পারফরম্যান্সের’ কারণে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। তবে মিনার দাবি, আন্দোলন করার কারণেই তাঁকে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনা সামনে আসার পর সমালোচকরা মিনাকে 'চামচ মুখে জন্মানো সমাজতন্ত্রী' এবং 'নেপো বেবি' (বংশমর্যাদার সুবিধাভোগী) বলে কটাক্ষ করছেন। সাবেক কাউন্সিলর রবার্ট হোল্ডেন বলেন, "ইনি হচ্ছেন আরেকজন ধনী আন্দোলনকারী যিনি নিজেই বিনা বেতনে ইন্টার্নশিপ করতে রাজি হয়েছিলেন, আর এখন কাজ শেষে টাকা দাবি করছেন।" তবে মিনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিনা বেতনে ইন্টার্ন খাটানো অবৈধ এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের দায়ে তাঁরা নিউইয়র্ক সিটির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি (ওএইচএসইউ) হাসপাতালের এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত হৃদরোগ সার্জনের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলার গুরুতর অভিযোগ এনে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলারের ক্ষতিপূরণ মামলা করেছেন ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাবা-মা। তাদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় কিশোরীর হার্টের কৃত্রিম ভালভ উল্টোভাবে বসানো হয়েছিল, যার ফলে সে কয়েক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে লাইফ সাপোর্টে ছিল। আদালতে দাখিল করা মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে কিশোরীর জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য ওএইচএসইউ হাসপাতালে ওপেন-হার্ট সার্জারি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে এবং হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ করছিল না। পরে চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। পরবর্তীতে কিশোরীকে সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানকার চিকিৎসকেরা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে জানতে পারেন, পূর্ববর্তী অস্ত্রোপচারের সময় হার্টের কৃত্রিম ভালভটি উল্টোভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ভালভটি সঠিকভাবে প্রতিস্থাপন করা হলে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হতে শুরু করে। মামলায় বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের ওই ভুলের কারণে কিশোরীকে দীর্ঘ সময় লাইফ সাপোর্টে থাকতে হয়েছে এবং তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। এ কারণে চিকিৎসা ব্যয়, ভবিষ্যৎ চিকিৎসা, শারীরিক ক্ষতি এবং মানসিক যন্ত্রণার ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার দাবি করেছেন তার বাবা-মা। মামলায় অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. অশোক মুরলিধরন ভারতে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা সম্পন্ন করার পর যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং বর্তমানে ওএইচএসইউতে হৃদরোগ সার্জন হিসেবে কর্মরত। তবে ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন থাকায় তারা মামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করবে না। হাসপাতাল এখন পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেনি এবং আদালতেও অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি। উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি সম্প্রতি ব্যাপকভাবে আলোচিত হলেও অভিযোগের ঘটনাটি ২০২৫ সালের আগস্টে ঘটে। পরে ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ দিকে কিশোরীর পরিবার মামলা দায়ের করলে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। জুনের শেষ পাঁচ দিনে দেশটির অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) প্রায় ১০ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করেছে। এতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ হাজার গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ বলে মনে করা হচ্ছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, এই তথ্য এমন একজন কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া গেছে, যিনি প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি। আইসিই সাধারণত নিয়মিত গ্রেপ্তারের বিস্তারিত পরিসংখ্যান প্রকাশ করে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন বড় শহরে প্রচারমুখী অভিযান চালানোর পরিবর্তে তুলনামূলক নীরব কৌশলে দেশজুড়ে অভিবাসন অভিযান পরিচালনা করছে। তবে কৌশল বদলালেও গ্রেপ্তারের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পাঁচ দিনে হওয়া এই ১০ হাজার গ্রেপ্তারের মধ্যে ঠিক কোন অঙ্গরাজ্য বা শহরে কতজনকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস প্রথম এ তথ্য প্রকাশ করে, পরে তা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও নিশ্চিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধভাবে অবস্থানকারী অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে। বিভাগটি বলেছে, হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন, গ্যাং অপরাধ ও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এদিকে জুন মাসে আইসিইর আটককেন্দ্রগুলোতে থাকা অভিবাসীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, জুনে আইসিইর হেফাজতে থাকা মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩৯ হাজারে পৌঁছেছে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত এই সংখ্যা মাসে গড়ে প্রায় ৩০ হাজারের মধ্যে ছিল। ইউসি বার্কলির ডিপোর্টেশন ডেটা প্রজেক্ট-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার গ্রেপ্তার সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে সর্বোচ্চ গড় ছিল প্রতিদিন ১ হাজার ২৮৩টি গ্রেপ্তার। জানুয়ারিতে দেশজুড়ে গড়ে ১ হাজার ২১২ জন এবং ফেব্রুয়ারিতে তা নেমে আসে ১ হাজার ৫৭ জনে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি বছরের শুরুতে মিনিয়াপোলিসে পরিচালিত উচ্চমাত্রার অভিবাসন অভিযানের সময় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরে প্রশাসন সেই ধরনের বড় আকারের প্রকাশ্য অভিযান থেকে সরে এসে তুলনামূলক কম প্রচারমুখী কৌশল গ্রহণ করে। তবে নতুন নেতৃত্বের অধীনেও ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির মূল লক্ষ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। সাবেক হোমল্যান্ড সিকিউরিটি প্রধান ক্রিস্টি নোয়েমের বিদায়ের পর দায়িত্ব নেন মার্কওয়েন মুলিন। তিনি অভিবাসন অভিযানকে তুলনামূলক কম প্রচারমুখী করার ইঙ্গিত দিলেও ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিই বাস্তবায়ন করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জুনের শেষ দিকে গ্রেপ্তারের এই ঊর্ধ্বগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ট্রাম্প প্রশাসন এখন দেশজুড়ে আরও সমন্বিত ও ধারাবাহিকভাবে অভিবাসন আইন প্রয়োগে জোর দিচ্ছে। তবে আইসিই নিয়মিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ না করায় আগের সময়ের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট তুলনা করা এখনও কঠিন।
স্বাধীনতা দিবসের আনন্দঘন উদযাপন মুহূর্তেই আতঙ্কে পরিণত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ডে। শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে আতশবাজি প্রদর্শন চলাকালে হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকে ছুটোছুটি শুরু হয়। এ ঘটনায় অন্তত আটজন গুলিবিদ্ধ হন, যাদের মধ্যে চারজনই শিশু। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (NYPD) জানিয়েছে, আহত শিশুদের বয়স ৬ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে। এছাড়া আহতদের মধ্যে ২১, ২৫, ৩৩ ও ৩৭ বছর বয়সী চারজন প্রাপ্তবয়স্ক রয়েছেন। তাদের সবাইকে দ্রুত আশপাশের হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত ২১ বছর বয়সী এক নারীর অবস্থা আশঙ্কাজনক, তবে অন্যদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আতশবাজি উপভোগ করতে হাজারো মানুষ সৈকতসংলগ্ন এলাকায় জড়ো হয়েছিলেন। হঠাৎ একের পর এক গুলির শব্দ শোনা গেলে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু করে। অনেক অভিভাবক শিশুদের কোলে নিয়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যান। ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে। তবে হামলাকারীর পরিচয়, কতজন জড়িত ছিল কিংবা হামলার উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়নি এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলেও জনসমাগমে এ ধরনের গুলির ঘটনা আবারও দেশটির জননিরাপত্তা ও অস্ত্র সহিংসতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবসের দিন নিউইয়র্ক সিটির কুইন্স বরোর সাউথ ওজোন পার্ক এলাকায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক পারিবারিক হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ৫৯ বছর বয়সী এক নারীকে নিজ বাড়িতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে তারই ৩০ বছর বয়সী মেয়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত পলাতক রয়েছে এবং তাকে ধরতে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে নিউইয়র্ক পুলিশ (NYPD)। পুলিশ জানায়, শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সাউথ ওজোন পার্কের ১২৮তম স্ট্রিট ও লিবার্টি অ্যাভিনিউ সংলগ্ন একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর নাম আউশা রামলাখান (Ausha Ramlakhan)। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ঘাড় ও কাঁধে একাধিক আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পরিবারের আরেক সদস্য বাড়িতে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ দেখতে পান। তিনি সঙ্গে সঙ্গে জরুরি নম্বরে ফোন করলে পুলিশ ও চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ৩০ বছর বয়সী মেয়ে হেঁটে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, সর্বশেষ তাকে নীল রঙের যোগা প্যান্ট, লাল ট্যাংক টপ এবং সাদা রঙের স্নিকার্স পরিহিত অবস্থায় দেখা গেছে। সন্দেহভাজনের ছবি ও পরিচয় নিশ্চিত করতে আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তকারীরা পারিবারিক বিরোধ, মানসিক অবস্থা বা অন্য কোনো কারণ জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছেন। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনাটি চলতি বছরে নিউইয়র্কের ১০৬তম প্রিসিঙ্কটে নথিভুক্ত প্রথম হত্যাকাণ্ড। একই সঙ্গে ওই এলাকায় চলতি বছরে গুরুতর অপরাধের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে। বিশেষ করে ডাকাতি, গুরুতর হামলা এবং চুরির ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। এ প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। নিউইয়র্ক পুলিশ জনসাধারণের কাছে তথ্য থাকলে তা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে এবং সন্দেহভাজনকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামিনি এর রাষ্ট্রীয় জানাজাকে কেন্দ্র করে রাজধানী তেহরানে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৭০টি দেশের প্রতিনিধি, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কূটনীতিক, ধর্মীয় নেতা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। কয়েক দিনব্যাপী এই রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানকে ইরান শুধু ধর্মীয় আয়োজন হিসেবেই নয়, বরং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদর্শন হিসেবেও তুলে ধরছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের প্রধান শোকানুষ্ঠানে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরাও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। ভারতসহ একাধিক দেশ উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি পাঠিয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ এবং আশপাশের সড়কে লাখো মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়। শোকযাত্রায় অংশ নেওয়া জনতা ইরানের জাতীয় পতাকা, কালো শোকপতাকা এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক বহন করেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং আকাশপথেও বিশেষ নজরদারি চালানো হয়। এদিকে জানাজা উপলক্ষে ইরানের নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা দেশগুলোর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিশেষ সুবিধা ও ছাড় দেওয়া হবে। এই নীতির আওতায় নির্দিষ্ট দেশগুলোর জাহাজকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে কোন কোন দেশ এই সুবিধা পাবে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্বের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালি। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই পথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে। সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে এই নৌপথে নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা ইরানের কৌশলগত অবস্থানেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। জানাজা উপলক্ষে ইরানের সরকার কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। রাজধানী তেহরানের বহু সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া শোকানুষ্ঠান চলাকালে কয়েকটি এলাকায় যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আকাশসীমার ওপরও অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা করিডোর তৈরি করা হয়েছে। বিদেশি প্রতিনিধিদের যাতায়াত এবং অবস্থানের জন্যও পৃথক নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ইরানের সরকার জানিয়েছে, প্রয়াত নেতার মরদেহ তেহরানের আনুষ্ঠানিক জানাজার পর দেশের আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহরে নেওয়া হবে। এরপর তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন হবে। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে আরও কয়েক দিন শোকানুষ্ঠান অব্যাহত থাকবে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ইরান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা কোনো আপস করবে না। একই সঙ্গে জানাজা চলাকালে কিংবা শোকপর্বে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে তেহরান। এই রাষ্ট্রীয় জানাজা শুধু একজন নেতার বিদায় অনুষ্ঠান নয়; বরং ইরানের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে বহু দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি এবং একই সময়ে হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন নীতিগত ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী ৭০টি দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন এবং হরমুজে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর জন্য ছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে—এ ধরনের তথ্য রাষ্ট্রীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে প্রকাশিত হলেও, সব দেশের পূর্ণাঙ্গ তালিকা বা ছাড়ের বিস্তারিত নীতিমালা এখনও স্বাধীনভাবে প্রকাশ বা যাচাই করা হয়নি।
উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচে সহ-আয়োজক কানাডাকে ৩-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে মরক্কো। ইতিহাস গড়ার এই জয়ের পর মাঠেই মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন মরক্কোর ফুটবলাররা। আবেগঘন সেই মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচের প্রথমার্ধে আক্রমণে এগিয়ে ছিল কানাডা। একের পর এক আক্রমণে মরক্কোর রক্ষণভাগকে চাপে ফেললেও গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনুর দুর্দান্ত সেভে গোলের দেখা পায়নি সহ-আয়োজকরা। ফলে বিরতিতে গোলশূন্য সমতায় মাঠ ছাড়ে দুই দল। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ৫০তম মিনিটে অধিনায়ক আশরাফ হাকিমির নিচু পাস থেকে বক্সের বাইরে থেকে দারুণ শটে গোল করে মরক্কোকে এগিয়ে দেন আজ্জেদিন উনাহি। এই গোলের পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় আফ্রিকার দলটি এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয়। ৮২তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াজের বাড়ানো বল থেকে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন উনাহি। এই জোড়া গোলের মাধ্যমে তিনি ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এক ম্যাচে দুই গোল করা প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন। নির্ধারিত সময়ের যোগ করা মিনিটে বদলি খেলোয়াড় সুফিয়ান রাহিমি আরও একটি গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয় মরক্কোর। এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে একাধিকবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার কীর্তিও গড়ে অ্যাটলাস লায়ন্সরা। অন্যদিকে, শেষ হয় কানাডার স্মরণীয় বিশ্বকাপ অভিযান। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন মরক্কোর খেলোয়াড়রা। এরপর তারা মাঠেই সারিবদ্ধভাবে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে মহান আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। আবেগঘন এই দৃশ্য দর্শক ও ফুটবলপ্রেমীদের প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হচ্ছে। কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হবে ফ্রান্স। আগামী ৯ জুলাই দুই দল শেষ চারের টিকিটের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি আগামী ৭ ও ৮ জুলাই দুই দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি ‘অ্যালিস ইন আঙ্কারা’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদপ্তর, মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্স (এমএসসি) এবং সেটার (SETA) যৌথ উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক ফোরামের আয়োজন করা হয়েছে। ঐতিহাসিক ‘আঙ্কারা প্যালাস’ ভবনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি-নির্ধারকদের উপস্থিতিতে মোট ৪৫টি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। অফিশিয়াল ন্যাটো সম্মেলনকে আরও ফলপ্রসূ করতে এবং মিত্র দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা বিষয়ে পারস্পরিক আলোচনার জন্য একটি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। দুই দিনব্যাপী এই কর্মসূচিতে বিভিন্ন প্যানেল আলোচনা ও গোলটেবিল বৈঠকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার নানা দিক নিয়ে কথা হবে। এর মধ্যে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামো, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং হাইব্রিড হুমকির মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। এছাড়াও ইউক্রেন যুদ্ধের নিরাপত্তা, জ্বালানি করিডোর সংকট এবং কৃষ্ণসাগর, মধ্যপ্রাচ্য ও ইন্দো-প্যাসিফিকের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও এতে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। এই আয়োজনের মাধ্যমে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনের সময়ে বৈশ্বিক কূটনীতি ও নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হতে যাচ্ছে আঙ্কারা।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর নতুন করে ফি আরোপের পরিকল্পনা জানিয়েছে ইরান। তবে দেশটির দাবি, এটি কোনো প্রচলিত ‘টোল’ নয়; বরং নিরাপত্তা ও সেবার বিনিময়ে নেওয়া একটি সমন্বিত চার্জ। একই সঙ্গে, যেসব দেশ সাম্প্রতিক সংকটকালে ইরানের পাশে থেকেছে, তাদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখার কথাও জানিয়েছে তেহরান। শনিবার (৪ জুলাই) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড পিস ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ ঘোষণা দেন দেশটিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আবদোলরেজা রাহমানি ফাজলি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ফাজলি বলেন, হরমুজ প্রণালি ইরানের আঞ্চলিক জলসীমার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য ফি নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে। তবে এটিকে কোনো ধরনের টোল হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও জানান, প্রতিবেশী দেশ ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। এই ব্যবস্থার আওতায় নৌপথের নিরাপত্তা জোরদার, জাহাজ চলাচলের কার্যকর নজরদারি এবং অতিরিক্ত জাহাজ চলাচলের কারণে সৃষ্ট পরিবেশগত চাপ মোকাবিলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ইরানের এই কূটনীতিক ইঙ্গিত দেন, রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তিতে কিছু দেশকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতে পারে। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশ কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করেছে এবং পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আমরা অবশ্যই বিশেষ বিবেচনা করব।’ বিশ্ব জ্বালানি বাজারে হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করে। ফলে এখানে কোনো ধরনের উত্তেজনা বা বাধা সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার সময় ইরান এই প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে কার্যত বাধা দিলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা দেখা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত প্রশমনে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর পর সেই বিধিনিষেধ তুলে নেয় তেহরান। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমিয়ে আনার লক্ষ্যে আলোচনা চলছে। এই প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরানের নতুন নীতির ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
ইরানের রাজধানী তেহরানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে সদ্য প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ। রোববার (৫ জুলাই) অনুষ্ঠিত এই জানাজায় তার তিন ছেলে—মাসুদ, মেয়সাম ও মোস্তফা—উপস্থিত ছিলেন। মার্কিন সংবাদ সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানায়, কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। জানাজার পুরো আয়োজন ঘিরে তেহরানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়, যেখানে সামরিক ও বেসামরিক বাহিনীর সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করেন। জানাজায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর শীর্ষ কমান্ডার আহমদ ওয়াহিদির উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। তার উপস্থিতি অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ও গুরুত্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে বলে পর্যবেক্ষকদের ধারণা। তবে খামেনির আরেক ছেলে এবং সম্ভাব্য দাপ্তরিক উত্তরাধিকারী হিসেবে আলোচনায় থাকা মোজতবা খামেনি এই জানাজায় সরাসরি অংশ নেননি। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে সম্ভাব্য প্রাণনাশের হুমকির কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় তাকে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। মূলত এই নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণেই শেষ মুহূর্তে মোজতবাকে জানাজার প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। খামেনির জানাজা ঘিরে দেশজুড়ে শোকের আবহ বিরাজ করছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ এই প্রভাবশালী নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বে থাকা খামেনির মৃত্যু দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব এবং আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণকে দেশটির জন্য ‘পারমাণবিক অস্ত্রের মতো’ কৌশলগত শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতাই তেহরানের অন্যতম বড় কৌশলগত সুবিধা বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মেদভেদেভ এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে ইরান শুধু হরমুজ প্রণালিই নয়, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে পারে। মেদভেদেভ সতর্ক করে বলেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেল ও বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। “আমি আশা করি, পরিস্থিতি এতদূর গড়াবে না। তবে যারা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াতে চায়, তাদের এ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত,” বলেন রাশিয়ার সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। সম্প্রতি ইরানের ওপর চালানো মার্কিন হামলারও সমালোচনা করেন তিনি। মেদভেদেভের দাবি, কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই এই হামলা চালানো হয়েছে এবং সে সময় দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছিল। তার মতে, তখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি ছিল না। তিনি আরও বলেন, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতে রাশিয়া আগেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রস্তাব দিয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা প্রচেষ্টা প্রসঙ্গে মেদভেদেভ বলেন, সংঘাতের চেয়ে আলোচনা সবসময়ই উত্তম পথ। তবে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না বলে তিনি মনে করেন। বিশেষ করে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং দেশটির পুনর্গঠনে অর্থায়নের মতো বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে। এছাড়া, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান মেদভেদেভ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে তার বৈঠকে এ বিষয়ে মতবিনিময় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এটি একটি আনুষ্ঠানিক সংস্থা বা চুক্তির রূপ নিতে পারে। তিনি দাবি করেন, কয়েক বছর আগে তেহরানের পক্ষ থেকেই প্রথম এই উদ্যোগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল এবং রাশিয়া শুরু থেকেই পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞাকে অবৈধ বলে আসছে। উল্লেখ্য, ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা উপলক্ষে গত শুক্রবার তেহরানে অবস্থানকালে মেদভেদেভ প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে শোক জানাতে তিনি ইরান সফরে গিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, মেদভেদেভের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ আরও বাড়াতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।