যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজের প্রেমিকা ও ৮ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ১৫ তলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর এক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে অ্যাঞ্জেল কারাস্কো নামের ৩১ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে ব্রঙ্কসের ২৫৫০ অলিনভিল অ্যাভিনিউতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এতে ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকা নাথালি রামিরেজ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেও, অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেছে তাদের ছোট্ট শিশুটি। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে অনুতপ্ত হওয়ার বদলে ঘাতক কারাস্কোর মুখে দেখা গেছে পৈশাচিক হাসি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি থানা থেকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সে উপস্থিত জনতার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে হাসতে থাকে। ঘাতকের এমন আচরণ দেখে থানার বাইরে থাকা ক্ষুব্ধ জনতা তাকে 'কাপুরুষ' বলে চিৎকার করতে থাকে। উপস্থিত মোজেস হার্নান্দেজ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কারাস্কোকে যখন হাসতে হাসতে নামিয়ে আনা হচ্ছিল, তখন সেটি দেখে তার নিজেরই অত্যন্ত ঘৃণা ও ক্ষোভ হচ্ছিল। বুধবার রাতে ইউএস মার্শাল এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) একটি দল কারাস্কোকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, কারাস্কো এর আগে ওই একই অ্যাপার্টমেন্টে দুবার পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সম্প্রতি সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর আশায় সে ফুল হাতে নাথালির অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিল। কিন্তু নাথালি তাকে ফিরিয়ে দিলে কারাস্কো ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তাদের সন্তানকে বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রবিন মেন্ডজিস নামের এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি এক পুরুষ কণ্ঠে 'লাফ দে' বলে চিৎকার করতে শোনেন এবং এরপরই এক নারীর আর্তনাদ শুনতে পান, যিনি বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। নিহত নাথালি রামিরেজ ব্রঙ্কস লিডারশিপ একাডেমি হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বারুচ কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ম্যানহাটনের লিশন কনসালটিংয়ে কাজ করতেন, যেখানে সহকর্মীদের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিচে পড়ার সময় নাথালি নিজের শরীর দিয়ে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন, যার ফলে অলৌকিকভাবে আট মাসের ছোট্ট শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে জ্যাকোবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে সে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার আগে রাজ্যের ৫৬৩ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করার কথা বিবেচনা করছেন। সম্প্রতি টেনেসি রাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চেতনানাশকের দুটি ডোজ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি, বরং তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পরই ক্যালিফোর্নিয়ার কুখ্যাত অপরাধীদের গণহারে সাজা কমানো বা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নিউসম ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাই এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় পর্যায়ে তার ভাবমূর্তি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ‘ক্রাইম ভিকটিমস ইউনাইটেড’-এর প্রেসিডেন্ট টোপো প্যাডিলা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তারা এই খবরে চরমভাবে হতাশ। বিচারক ও জুরিদের দেওয়া রায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন একজন ব্যক্তি সেই রায় উল্টে দিতে পারেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে, পাইকের ঘটনার আগে থেকেই গণহারে মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য গভর্নরের ওপর চাপ বাড়ছিল। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক অপরাধে দণ্ডিতদের সাজা মওকুফের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এই গণ-মওকুফ কার্যকর হলে তা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমিয়ে আনবে। এর ফলে রিচার্ড অ্যালেন ডেভিস বা ১১টি খুনের দায়ে দণ্ডিত চার্লস এনজির মতো কুখ্যাত সিরিয়াল কিলাররাও প্রাণদণ্ড থেকে বেঁচে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকলেও ২০০৬ সালের পর থেকে সেখানে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। নিউসম নিজেই ২০১৯ সালে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। তখন তিনি মৃত্যুদণ্ডকে বৈষম্যমূলক ও অপচয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে এই স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও ক্যালিফোর্নিয়ার কৌঁসুলিরা এখনও মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। ২০০৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আরও ২০০ জনের বেশি অপরাধী ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পেয়েছেন। গভর্নর নিউসম এর আগে নিজের পডকাস্ট ‘দিস ইজ গ্যাভিন নিউসম’-এ এই বিষয়টি নিয়ে তার দোটানার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন, “আমি কি পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে বড় ডেথ রো বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সারি বিলুপ্ত করব? তাহলে ভুক্তভোগীদের আমি কী জবাব দেব?” প্রগতিশীল কর্মীরা এই গণ-মওকুফের প্রশংসা করলেও অনেকেই সতর্ক করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড সমর্থনকারী রাজ্য বা অঞ্চলগুলো থেকে এর চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। ডেমোক্রেটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট ম্যাট বেনেট নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, নিউসম এমনিতেই একটি অত্যন্ত উদারনৈতিক রাজ্যের গভর্নর। তিনি এমন অনেক কিছুই করেছেন যা সুইং স্টেটগুলোতে অকল্পনীয়, তাই এই তালিকায় নতুন করে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ যোগ করা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের দেল রিও শহরে পাঁচ সন্তানের এক মাকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ১৯ বছর বয়সী তরুণী আমায়া কুকি ডিয়াজ কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৫ জুন দিনেদুপুরে ক্যারোলিন "কারো" পেনা নামের ওই নারীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে কুকি, তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডার বা প্রথম মাত্রার খুনের অভিযোগ আনা হয়। এই সপ্তাহেই বিশাল অঙ্কের জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর মঙ্গলবার কুকি কারামুক্ত হন। ভ্যাল ভার্দে কাউন্টি শেরিফ অফিস ও সংশোধনাগারের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, কুকির ২০ লাখ ডলারের জামিন বন্ডের জন্য ডিয়াজ পরিবার নগদ ২ লাখ ডলার পরিশোধ করেছে। তবে তার বোন কিটি এখনও কারাগারেই বন্দি রয়েছেন। এল অ্যামিগো বন্ডিং নামের যে প্রতিষ্ঠানটি জামিনের ব্যবস্থা করেছে, তাদের একজন প্রতিনিধি জানান, জামিনের শর্ত ও বিস্তারিত তথ্য শুধু ওই পরিবারের মধ্যেই গোপন রাখা হয়েছে। তবে ওই প্রতিনিধি সতর্ক করে বলেন, "ইতোমধ্যেই নানা সমস্যা শুরু হয়েছে। কেউ খুন হলে ঝামেলা হবেই। তাই ডিয়াজ পরিবারকে এখন অনেকটা আড়ালে থাকতে হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমরা জানি শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচারই জয়লাভ করবে।" মামলার অভিযোগপত্র থেকে এই হত্যাকাণ্ডের রোমহর্ষক বিবরণ পাওয়া যায়। ফাজ পুলিশকে জানিয়েছিলেন, ক্যারোলিন পেনা গায়ে পড়ে ঝগড়া করতে তাদের বাড়িতে এসেছিলেন। তবে তদন্তকারীদের হাতে আসা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে আসার পরপরই কুকি ও কিটি সেখানে উপস্থিত হন। ভিডিওতে দেখা যায়, একটি কালো ক্রাইসলার গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডান হাতে একটি ছুরিজাতীয় বস্তু নিয়ে পেনার ওপর চড়াও হন এবং তার পিঠে আঘাত করেন। পুলিশের তথ্যমতে, এসময় কিটি এবং ফাজও পেনার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে বেধড়ক মারধর করে পালিয়ে যায়। পরে পেনার ভাতিজা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রায় সাত ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হত্যাকাণ্ডের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেপ্তার হওয়ার সময় ডিয়াজ বোনদের মুখে বিকৃত হাসি দেখা গিয়েছিল, যা জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করে। পুলিশ জানিয়েছে, তারা এই নৃশংস অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ারও চেষ্টা করেছিল। তবে এই ভয়াবহ হামলার পেছনে মূল উদ্দেশ্য কী ছিল বা পেনার সঙ্গে তাদের কী ধরনের সম্পর্ক ছিল, তা এখনো পরিষ্কার করেনি পুলিশ। আগামী ৪ নভেম্বর কুকির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে এক শুনানিতে কুকি ও কিটি উভয়ের জামিন ৫০ লাখ ডলার থেকে কমিয়ে ২০ লাখ ডলার করা হয়েছিল। অন্যদিকে, এই মামলায় নিজেকে নির্দোষ দাবি করা ফাজ বর্তমানে ৫২ লাখ ডলারের জামিন বন্ডে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন এবং আগামী ১১ ডিসেম্বর তার প্রাক-বিচার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।
বহু প্রতীক্ষিত বিদেশ ভ্রমণের আগে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলেও কেবল পাসপোর্টের একটি ছোট ভুলের কারণে ভেস্তে যেতে পারে আপনার পুরো পরিকল্পনা। অনেকেই মনে করেন, মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত পাসপোর্ট পুরোপুরি বৈধ। কিন্তু বাস্তব অভিজ্ঞতা ভিন্ন কথা বলে। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি কখনো পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করেন এবং পরবর্তীতে সেটি খুঁজেও পান, তবুও সেই পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করা যাবে না। আইভিসা-এর কাস্টমার এক্সপেরিয়েন্স ডিরেক্টর ভিক্টর জিমেনেজ জানান, একবার সিস্টেমে হারিয়ে যাওয়ার রিপোর্ট করা হলে পাসপোর্টটি স্থায়ীভাবে বাতিল হয়ে যায়। তাই আপাতদৃষ্টিতে সম্পূর্ণ বৈধ মনে হওয়া পাসপোর্টও বিমানবন্দরে বা ইমিগ্রেশনে বড় ধরনের বিপত্তির কারণ হতে পারে। পাসপোর্টের মেয়াদের ক্ষেত্রে একেক দেশের নিয়ম একেক রকম। সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদ ফেরার সম্ভাব্য তারিখের পর অন্তত তিন মাস থাকতে হয় এবং পাসপোর্টটি অবশ্যই গত ১০ বছরের মধ্যে ইস্যুকৃত হতে হয়। আবার অনেক দেশ পৌঁছানোর পর থেকে পাসপোর্টের ন্যূনতম ছয় মাসের মেয়াদ দাবি করে। শুধু মেয়াদই নয়, পাসপোর্টের ফাঁকা পাতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চীন বা ভারতের মতো দেশগুলো ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্পের জন্য অন্তত দুটি ফাঁকা পাতা দাবি করে। দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে আবার নিয়ম আরেকটু কড়া; সেখানে প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে পরপর দুটি সম্পূর্ণ ফাঁকা পাতা থাকা বাধ্যতামূলক। তাই ভ্রমণের আগে গন্তব্য দেশের এই ছোটখাটো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ নিয়মগুলো যাচাই করে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শিশুদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও অনেক সময় অভিভাবকরা ভুল করে থাকেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশেই শিশুদের পাসপোর্টের মেয়াদ প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ১০ বছর হয় না, বরং তা ৫ বছর হয়ে থাকে। তাই শিশুদের নিয়ে ভ্রমণের আগে তাদের পাসপোর্টের মেয়াদ যাচাই করার পাশাপাশি জন্মনিবন্ধন বা আইনি সম্পর্কের প্রমাণপত্র সাথে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়, এমনকি পদবি এক হলেও। অন্যদিকে, নববিবাহিতদের ক্ষেত্রে প্রায়ই নাম বিভ্রাটের সমস্যা দেখা যায়। অনেকেই বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন করলেও পাসপোর্টে তা আপডেট করতে ভুলে যান এবং নতুন নামে ফ্লাইটের টিকিট বুক করেন। পাসপোর্ট ও টিকিটের নামের এই অমিলের কারণে বিমানবন্দরে বোর্ডিং থেকে ছিটকে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। পাসপোর্টের বাহ্যিক অবস্থাও আপনার ভ্রমণের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। পানি লেগে নষ্ট হওয়া, ল্যামিনেশন উঠে যাওয়া, পাতা আটকে থাকা বা ছিঁড়ে যাওয়াকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করেন। পাসপোর্টের বায়োগ্রাফিক্যাল পাতায় (যেখানে ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য থাকে) কোনো ধরনের অননুমোদিত দাগ, স্টিকার বা শিশুদের আঁকিবুঁকি থাকলে সেটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে। তবে স্বাভাবিক ব্যবহারের কারণে মলাটে সামান্য দাগ পড়লে বা পাতা কিছুটা বাঁকা হলে সাধারণত সমস্যা হয় না। মূল বিষয় হলো, পাসপোর্টের তথ্যগুলো যাতে মেশিন রিডেবল বা স্ক্যান করার মতো অবস্থায় থাকে। অনেক গন্তব্যস্থল ‘ভিসা-মুক্ত’ হলেও এর অর্থ এই নয় যে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই সেখানে যাওয়া যাবে। যুক্তরাজ্য বা নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে ভিসা না লাগলেও যাত্রার আগে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) পূরণ করা বাধ্যতামূলক। এছাড়া, আপনি যদি নতুন পাসপোর্ট তৈরি করেন, তবে পুরোনো পাসপোর্টের ইটিএ বা কিছু ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুনটিতে স্থানান্তরিত হয় না। কারণ, নতুন পাসপোর্টের নম্বর ভিন্ন হয়। এক্ষেত্রে অনেক দেশ পুরোনো ও নতুন দুটি পাসপোর্টই সাথে রাখার পরামর্শ দেয়, আবার কিছু দেশ নতুন করে ইটিএ বা ভিসার আবেদন করতে বলে। বিশ্বজুড়ে ভ্রমণের নিয়মকানুন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাই যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ফ্লাইট বুকিংয়ের আগে এবং ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে গন্তব্য দেশের সরকারি ওয়েবসাইট ও এয়ারলাইন্সের নিয়মাবলি ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
নিউইয়র্কে বসবাসকারী কম আয়ের বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বাসা ভাড়া নিয়ে বিরোধ, উচ্ছেদের নোটিশ, ইমিগ্রেশন সমস্যা, বেতন না পাওয়া, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা গার্হস্থ্য সহিংসতার মতো বিষয়ে বিভিন্ন সরকারি অর্থায়নপ্রাপ্ত ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান আইনি পরামর্শ এবং যোগ্য ব্যক্তিদের আদালতে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা করে। অনেক সেবা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে পাওয়া যায়। তবে সব ধরনের মামলায় প্রত্যেকের জন্য বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি এসব সেবার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তাদের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথমে ফোন বা অনলাইনে যোগাযোগ করে নিজের আইনি সমস্যার ধরন জানাতে হয়। এরপর আয়ের পরিমাণ, বসবাসের এলাকা, মামলার ধরন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা অনুযায়ী সহায়তা পাওয়ার বিষয়টি নির্ধারিত হয়। নিউইয়র্ক সিটির হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধীনে পরিচালিত অফিস অব সিভিল জাস্টিস বিভিন্ন অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়ে থাকে। বিশেষ করে হাউজিং কোর্ট, ইমিগ্রেশন এবং চাকরিসংক্রান্ত কিছু মামলায় এই সহায়তা পাওয়া যায়। সিটির তথ্য অনুযায়ী, এসব সেবা পেতে আগে থেকে এইচআরএর কোনো বেনিফিট গ্রহণকারী হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। যোগ্য ব্যক্তিরা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষেও সেবা পেতে পারেন। যাঁরা বাসা থেকে উচ্ছেদের নোটিশ পেয়েছেন কিংবা বাড়িওয়ালার সঙ্গে গুরুতর বিরোধে জড়িয়েছেন, তাঁরা ৩১১ নম্বরে কল করে টেন্যান্ট হেল্পলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। এছাড়া হাউজিং কোর্ট অ্যানসার্সের ৭১৮-৫৫৭-১৩৭৯ নম্বরে সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যোগাযোগ করা যায়। নিউইয়র্ক সিটির ইউনিভার্সাল অ্যাকসেস টু লিগ্যাল সার্ভিসেস আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট আয়ের সীমার মধ্যে থাকা ভাড়াটিয়ারা হাউজিং কোর্টের যোগ্য উচ্ছেদ মামলায় বিনামূল্যে আইনজীবী পাওয়ার অধিকার রাখেন। এই সুবিধা পেতে ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস বাধা নয়। তবে মামলাটি নির্ধারিত ধরনের হতে হবে এবং আয়ের শর্ত পূরণ করতে হবে। দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি নিউইয়র্কের অন্যতম বড় অলাভজনক আইনি সহায়তা প্রতিষ্ঠান। প্রায় দেড় শ বছর ধরে সংস্থাটি কম আয়ের বাসিন্দাদের বিভিন্ন আইনি সমস্যায় সহায়তা দিয়ে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে হাউজিং, ইমিগ্রেশন, ক্রিমিনাল ডিফেন্স, শিশু ও পরিবারসংক্রান্ত মামলা এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার বিরোধ। প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৫৭৭-৩৩০০। নির্দিষ্ট আইনি সমস্যা অনুযায়ী সংস্থাটির সংশ্লিষ্ট বিভাগে যোগাযোগের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে ডিপোর্টেশন, ইমিগ্রেশন কোর্টে মামলা, সিটিজেনশিপ এবং অন্যান্য ইমিগ্রেশন সমস্যায় লিগ্যাল এইড সোসাইটির অভিজ্ঞ আইনজীবীদের সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর মামলা গ্রহণ করা হয় না। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত এবং আইনজীবীর প্রাপ্যতার ওপর বিষয়টি নির্ভর করে। অন্যদিকে নিউইয়র্ক লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ, সংক্ষেপে এনওয়াইএলএজি, কম আয়ের ব্যক্তিদের বিভিন্ন সিভিল আইনি সমস্যায় বিনামূল্যে সহায়তা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি হাউজিং, কনজিউমার ডেট, ইমিগ্রেশন, পাবলিক বেনিফিটস, পারিবারিক সমস্যা এবং আর্থিক পরামর্শের মতো বিষয়ে কাজ করে। এনওয়াইএলএজির সাধারণ যোগাযোগ নম্বর ২১২-৬১৩-৫০০০। প্রতিষ্ঠানটির অফিস ম্যানহাটনের ১০০ পার্ল স্ট্রিটের ১৯ তলায়। তবে সরাসরি অফিসে যাওয়ার আগে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হবে। সংস্থাটি জানিয়েছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফোনে যোগাযোগ অথবা অনলাইন ইনটেক ফর্ম পূরণের মাধ্যমে সহায়তার আবেদন শুরু করতে হয়। নিউইয়র্কের পাঁচটি বরোতে সেবা প্রদানকারী আরেকটি প্রতিষ্ঠান লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসি। কম আয়ের বাসিন্দারা এখান থেকে বিভিন্ন সিভিল আইনি বিষয়ে বিনামূল্যে সহায়তা চাইতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটির হটলাইন নম্বর ৯১৭-৬৬১-৪৫০০। সোমবার থেকে শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ফোন করা যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিভিন্ন ভাষায় ইনটেক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির ব্রুকলিন অফিসের নম্বর ৭১৮-২৩৭-৫৫০০, ব্রঙ্কসের ৭১৮-৯২৮-৩৭০০, ম্যানহাটনের ৬৪৬-৪৪২-৩১০০, কুইন্সের ৩৪৭-৫৯২-২২০০ এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের ৭১৮-২৩৩-৬৪৮০। তবে শুধু ফোন করলেই আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয় না। প্রথমে একজন ইনটেক স্পেশালিস্ট আবেদনকারীর সমস্যা, পারিবারিক আয় এবং অন্যান্য যোগ্যতার তথ্য সংগ্রহ করেন। এরপর প্রতিষ্ঠানটি সহায়তা করতে পারবে কি না, তা জানানো হয়। ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক সিটির মেয়রস অফিস অব ইমিগ্র্যান্ট অ্যাফেয়ার্সের বিশেষ হটলাইনেও যোগাযোগ করা যায়। নম্বর ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ইমিগ্রেশন লিগ্যাল বললেও প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যায়। এই হটলাইন থেকে নিজের এলাকার কাছাকাছি সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টারের তথ্য পাওয়া যায়। তবে হটলাইন কর্তৃপক্ষ সরাসরি আইনজীবীর অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণ করে না। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও যোগ্যতা যাচাইয়ের পর পরবর্তী সহায়তার সুযোগ তৈরি হয়। অনেকের প্রশ্ন, ফ্রি লিগ্যাল এইড পেতে কত আয় থাকতে হবে? এ ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি নির্দিষ্ট আয়ের সীমা নেই। তবে কিছু সিটি ফান্ডেড ইমিগ্রেশন কর্মসূচিতে পরিবারের আয় ফেডারেল পভার্টি লেভেলের ২০০ শতাংশের মধ্যে থাকতে হয়। ২০২৬ সালের ফেডারেল হিসাব অনুযায়ী, এই সীমা একজনের পরিবারের জন্য বছরে ৩১ হাজার ৯২০ ডলার, অর্থাৎ মাসে ২ হাজার ৬৬০ ডলার। চার সদস্যের পরিবারের জন্য বছরে ৬৬ হাজার ডলার বা মাসে ৫ হাজার ৫০০ ডলার। তবে হাউজিং, ফ্যামিলি কোর্ট কিংবা অন্য আইনি সহায়তার ক্ষেত্রে ভিন্ন আয়সীমা প্রযোজ্য হতে পারে। কোনো কোনো কর্মসূচিতে পারিবারিক পরিস্থিতি ও মামলার ধরন বিবেচনায় অতিরিক্ত শর্তও রয়েছে। তাই একটি প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতার শর্ত পূরণ না করলেও অন্য প্রতিষ্ঠানে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। ফ্যামিলি কোর্টে সন্তানের কাস্টডি, চাইল্ড সাপোর্ট অথবা অর্ডার অব প্রোটেকশন সংক্রান্ত সমস্যায় নিউইয়র্ক স্টেট কোর্ট সিস্টেমের ভলান্টিয়ার লইয়ার প্রোগ্রাম এবং আদালতের হেল্প সেন্টারগুলো থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য ও সীমিত আইনি পরামর্শ পাওয়া যেতে পারে। তবে বিনামূল্যে পরামর্শ পাওয়া এবং পুরো মামলায় একজন আইনজীবীর প্রতিনিধিত্ব পাওয়া এক বিষয় নয়। কিছু কর্মসূচিতে আইনজীবীরা আদালতের কাগজপত্র বুঝিয়ে দেওয়া, ফর্ম পূরণে সহায়তা কিংবা আইনি প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরামর্শ দিতে পারেন, কিন্তু পুরো মামলার দায়িত্ব নেন না। আবেদন করার আগে নিজের পরিচয়পত্র, বর্তমান ঠিকানা, আয়ের প্রমাণ এবং আইনি সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা ভালো। উচ্ছেদের নোটিশ, কোর্টের কাগজ, চাকরির পে-স্টাব, লিজ অথবা ইমিগ্রেশন নোটিশ থাকলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্দেশনা অনুযায়ী জমা দিতে হতে পারে। বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো ভাষাগত সহায়তা। অনেক প্রতিষ্ঠানে দোভাষীর মাধ্যমে নিজের সমস্যার কথা জানানোর সুযোগ রয়েছে। ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ না করলে ফোন করার শুরুতেই বাংলা ভাষায় সহায়তা প্রয়োজন বলে জানানো যেতে পারে। তবে সব প্রতিষ্ঠানে সব সময় সরাসরি বাংলাভাষী কর্মী পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আইনি সহায়তা নিতে গিয়ে প্রতারণা থেকেও সতর্ক থাকতে হবে। নিউইয়র্ক সিটির অফিস অব সিভিল জাস্টিস জানিয়েছে, সিটির পক্ষ থেকে বিনামূল্যে সেবা প্রদানকারী কোনো আইনজীবী সেই সেবার জন্য অর্থ দাবি করবেন না। কেউ অফিস অব সিভিল জাস্টিস কিংবা রাইট টু কাউন্সেল কর্মসূচির পরিচয় দিয়ে টাকা চাইলে বিষয়টি যাচাই করতে হবে। এ ধরনের সন্দেহজনক ঘটনা সম্পর্কে সিটির সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও অভিযোগ জানানো যায়। নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিনামূল্যে আইনি সহায়তার চাহিদা অনেক বেশি। ফলে সব যোগ্য আবেদনকারীকে সঙ্গে সঙ্গে আইনজীবী দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। অনেক সময় আবেদন গ্রহণের পর পরবর্তী যোগাযোগের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। তাই কোনো কোর্ট হিয়ারিংয়ের তারিখ থাকলে, বাসা ছাড়ার নোটিশ পেলে কিংবা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জরুরি সমস্যা দেখা দিলে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে দ্রুত যোগাযোগ করা উচিত। আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চললেও আদালতের নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার দায়িত্ব আবেদনকারীর থাকে। নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এসব সেবা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই আইনজীবীর উচ্চ ফি বহনের সামর্থ্য না থাকায় আইনি সহায়তা নিতে দেরি করেন। অথচ যোগ্যতা অনুযায়ী বিনামূল্যে পরামর্শ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরিতে সহায়তা এবং কিছু মামলায় আদালতে প্রতিনিধিত্ব পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আইনি সমস্যার ধরন অনুযায়ী সঠিক প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করাই প্রথম পদক্ষেপ। হাউজিং সমস্যায় ৩১১ বা টেন্যান্ট হেল্পলাইন, ইমিগ্রেশন সমস্যায় ৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ এবং অন্যান্য সিভিল আইনি বিষয়ে লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি অথবা লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে। এই প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক সিটি সরকার, নিউইয়র্ক স্টেট কোর্টস, দ্য লিগ্যাল এইড সোসাইটি, এনওয়াইএলএজি এবং লিগ্যাল সার্ভিসেস এনওয়াইসির প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ নয়। সেবার যোগ্যতা, কর্মসূচির পরিধি এবং যোগাযোগের সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন শিক্ষার্থী, সোনিশ কোথাগুন্ডলা এবং হাদি আব্দুল, তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার জন্য ‘বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারস’ (Boston Square Ventures) নামে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন। এর মূল লক্ষ্য হলো—শিক্ষার্থী উদ্যোক্তাদের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল, কম্পিউটিং রিসোর্স, মেন্টরশিপ এবং স্টার্টআপ নেটওয়ার্কের সাথে যুক্ত করা। প্ল্যাটফর্মটির প্রথম কোহর্টের (Cohort 1) আবেদন প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যার কার্যক্রম ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় অংশগ্রহণকারীরা ১ লাখ ডলার সমমূল্যের কম্পিউট ক্রেডিট, বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, মেন্টরশিপ, সাপ্তাহিক চেক-ইন, পিচ প্রস্তুতির সুযোগ এবং একটি ডেমো ডে-তে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্যোক্তাদের মতে, বর্তমান স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে সবচেয়ে বড় সমস্যা আইডিয়ার অভাব নয়, বরং সেটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের অসম বণ্টন। হাদি আব্দুল জানান, অনেকেরই চমৎকার আইডিয়া ও দক্ষতা থাকলেও তারা সঠিক মানুষদের সাথে যুক্ত হতে পারেন না। অন্যদিকে সোনিশ কোথাগুন্ডলার মতে, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করাটা বেশ কঠিন, কারণ এর জন্য শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও পরিচিতির প্রয়োজন হয়। লিংক ভেঞ্চারসের একজন বিনিয়োগকারী হার্ভার্ডের স্টার্টআপগুলোর সাথে যুক্ত হতে চাওয়ার পর সোনিশ ও হাদি এই প্ল্যাটফর্মটির প্রাথমিক ধারণা পান। পরবর্তীতে হার্ভার্ড ইনোভেশন ল্যাবসে বসে তারা এই ধারণাকে একটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন। বোস্টন শহরের বিখ্যাত বিভিন্ন স্কয়ারের (যেমন- হার্ভার্ড স্কয়ার, কেন্ডাল স্কয়ার ইত্যাদি) নামানুসারেই এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে প্রচলিত বিভিন্ন ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতেও কাজ করতে চান এই দুই শিক্ষার্থী। 'দ্য আমেরিকান বাজার'-এর সাথে এক সাক্ষাৎকারে হাদি জানান, প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার অভাবেই অনেক প্রতিভাবান উদ্যোক্তা তাদের আইডিয়াকে বাস্তবে রূপ দিতে পারেন না; যার ফলে তাদের প্রাথমিক পণ্যগুলোকে অনেক সময় নিচু মানের বলে অবজ্ঞা করা হয়। সোনিশ আরও জানান যে, বর্তমানে নতুন কোনো কোম্পানি খোলার জন্য শতভাগ নতুন আইডিয়ার চেয়ে সেই আইডিয়াটির দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিস্তারের দিকে বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন। উবার ও লিফটের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, একটি সাধারণ আইডিয়াও সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে সফল হতে পারে। বোস্টন স্কয়ার ভেঞ্চারসের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অন্তত ১০ লাখ উদ্যোক্তাকে সহায়তা করা। যদিও বোস্টন থেকে এর যাত্রা শুরু হয়েছে, তবে যেকোনো দেশ, বয়স বা অভিজ্ঞতার উদ্যোক্তারাই এতে আবেদন করতে পারবেন। আগামী ২০ নভেম্বর তাদের প্রথম ডেমো ডে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এবং এরপর প্রতি ছয় সপ্তাহ অন্তর এমন আয়োজন থাকবে। উদ্যোক্তারা তহবিল সংগ্রহ না করা পর্যন্ত এই প্ল্যাটফর্ম তাদের পাশে থাকবে। এই প্রসঙ্গে সোনিশ বলেন, "আমি মনে করি সবারই উদ্যোক্তা হওয়া উচিত। এখনই এর সঠিক সময়।" সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিঙ্কডইনে তাদের প্রথম পোস্টটিতে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ হাজার ইমপ্রেশন এসেছে, যা এই উদ্যোগের প্রতি তরুণদের ব্যাপক আগ্রহেরই প্রমাণ দেয়।
ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম আগামী জানুয়ারিতে দায়িত্ব ছাড়ার আগে রাজ্যের ৫৬৩ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফ করার কথা বিবেচনা করছেন। সম্প্রতি টেনেসি রাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের দণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়াটি ভয়াবহভাবে ব্যর্থ হয়। তাকে পেন্টোবারবিটাল নামক উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন চেতনানাশকের দুটি ডোজ দেওয়ার পরও তার মৃত্যু হয়নি, বরং তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পরই ক্যালিফোর্নিয়ার কুখ্যাত অপরাধীদের গণহারে সাজা কমানো বা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বিষয়ে আলোচনা জোরদার হয়েছে। নিউসম ২০২৮ সালে হোয়াইট হাউসের দৌড়ে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাই এই সিদ্ধান্তটি জাতীয় পর্যায়ে তার ভাবমূর্তি নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন ‘ক্রাইম ভিকটিমস ইউনাইটেড’-এর প্রেসিডেন্ট টোপো প্যাডিলা। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধের শিকার হওয়া ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে তারা এই খবরে চরমভাবে হতাশ। বিচারক ও জুরিদের দেওয়া রায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মেনে নিয়েছিল, কিন্তু এখন একজন ব্যক্তি সেই রায় উল্টে দিতে পারেন, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। অন্যদিকে, পাইকের ঘটনার আগে থেকেই গণহারে মৃত্যুদণ্ড মওকুফের জন্য গভর্নরের ওপর চাপ বাড়ছিল। তবে ক্যালিফোর্নিয়ার নিয়ম অনুযায়ী, একাধিক অপরাধে দণ্ডিতদের সাজা মওকুফের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। এই গণ-মওকুফ কার্যকর হলে তা সমগ্র যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা এক-চতুর্থাংশেরও বেশি কমিয়ে আনবে। এর ফলে রিচার্ড অ্যালেন ডেভিস বা ১১টি খুনের দায়ে দণ্ডিত চার্লস এনজির মতো কুখ্যাত সিরিয়াল কিলাররাও প্রাণদণ্ড থেকে বেঁচে যেতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যালিফোর্নিয়ায় থাকলেও ২০০৬ সালের পর থেকে সেখানে কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। নিউসম নিজেই ২০১৯ সালে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে রাজ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। তখন তিনি মৃত্যুদণ্ডকে বৈষম্যমূলক ও অপচয় হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তবে এই স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও ক্যালিফোর্নিয়ার কৌঁসুলিরা এখনও মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে পারেন। ২০০৬ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত আরও ২০০ জনের বেশি অপরাধী ক্যালিফোর্নিয়ায় মৃত্যুদণ্ডের আদেশ পেয়েছেন। গভর্নর নিউসম এর আগে নিজের পডকাস্ট ‘দিস ইজ গ্যাভিন নিউসম’-এ এই বিষয়টি নিয়ে তার দোটানার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন রেখেছিলেন, “আমি কি পশ্চিম গোলার্ধের সবচেয়ে বড় ডেথ রো বা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের সারি বিলুপ্ত করব? তাহলে ভুক্তভোগীদের আমি কী জবাব দেব?” প্রগতিশীল কর্মীরা এই গণ-মওকুফের প্রশংসা করলেও অনেকেই সতর্ক করেছেন যে, মৃত্যুদণ্ড সমর্থনকারী রাজ্য বা অঞ্চলগুলো থেকে এর চরম বিরূপ প্রতিক্রিয়া আসতে পারে। ডেমোক্রেটিক স্ট্র্যাটেজিস্ট ম্যাট বেনেট নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান, নিউসম এমনিতেই একটি অত্যন্ত উদারনৈতিক রাজ্যের গভর্নর। তিনি এমন অনেক কিছুই করেছেন যা সুইং স্টেটগুলোতে অকল্পনীয়, তাই এই তালিকায় নতুন করে মৃত্যুদণ্ড মওকুফ যোগ করা তার রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য সঠিক পদক্ষেপ নাও হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিজের প্রেমিকা ও ৮ মাস বয়সী কন্যাসন্তানকে ১৫ তলার বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেওয়ার মতো ভয়ংকর এক অপরাধের অভিযোগ উঠেছে অ্যাঞ্জেল কারাস্কো নামের ৩১ বছর বয়সী এক যুবকের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০ মিনিটে ব্রঙ্কসের ২৫৫০ অলিনভিল অ্যাভিনিউতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। এতে ২৩ বছর বয়সী প্রেমিকা নাথালি রামিরেজ ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারালেও, অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে গেছে তাদের ছোট্ট শিশুটি। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে অনুতপ্ত হওয়ার বদলে ঘাতক কারাস্কোর মুখে দেখা গেছে পৈশাচিক হাসি। বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের একটি থানা থেকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় সে উপস্থিত জনতার দিকে তাকিয়ে নির্লজ্জভাবে হাসতে থাকে। ঘাতকের এমন আচরণ দেখে থানার বাইরে থাকা ক্ষুব্ধ জনতা তাকে 'কাপুরুষ' বলে চিৎকার করতে থাকে। উপস্থিত মোজেস হার্নান্দেজ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, কারাস্কোকে যখন হাসতে হাসতে নামিয়ে আনা হচ্ছিল, তখন সেটি দেখে তার নিজেরই অত্যন্ত ঘৃণা ও ক্ষোভ হচ্ছিল। বুধবার রাতে ইউএস মার্শাল এবং নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) একটি দল কারাস্কোকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। বৃহস্পতিবার রাতেই ব্রঙ্কস ক্রিমিনাল কোর্টে তাকে হাজির করার কথা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, কারাস্কো এর আগে ওই একই অ্যাপার্টমেন্টে দুবার পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সম্প্রতি সম্পর্ক পুনরায় জোড়া লাগানোর আশায় সে ফুল হাতে নাথালির অ্যাপার্টমেন্টে গিয়েছিল। কিন্তু নাথালি তাকে ফিরিয়ে দিলে কারাস্কো ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ও তাদের সন্তানকে বারান্দা থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। রবিন মেন্ডজিস নামের এক প্রতিবেশী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি এক পুরুষ কণ্ঠে 'লাফ দে' বলে চিৎকার করতে শোনেন এবং এরপরই এক নারীর আর্তনাদ শুনতে পান, যিনি বাঁচার জন্য আকুতি জানাচ্ছিলেন। নিহত নাথালি রামিরেজ ব্রঙ্কস লিডারশিপ একাডেমি হাইস্কুল থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর বারুচ কলেজে পড়াশোনা করেছিলেন। তিনি ম্যানহাটনের লিশন কনসালটিংয়ে কাজ করতেন, যেখানে সহকর্মীদের কাছে তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সম্ভাবনাময় একজন কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিচে পড়ার সময় নাথালি নিজের শরীর দিয়ে শিশুটিকে আগলে রেখেছিলেন, যার ফলে অলৌকিকভাবে আট মাসের ছোট্ট শিশুটি প্রাণে বেঁচে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করে জ্যাকোবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে সে বর্তমানে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের জন্য ব্যবহৃত একটি ঘুমের পণ্য নিয়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বেবিজ ম্যাজিক টি ব্র্যান্ডের বেবি স্লিপ গ্রাইপ ওয়াটার নামের পণ্যটির একটি নির্দিষ্ট ব্যাচ বাজার থেকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। পরীক্ষায় পণ্যটিতে লেবেলে উল্লেখ না থাকা তিন ধরনের অ্যালকোহল পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন গত ৭ অক্টোবর এ বিষয়ে প্রত্যাহারের তথ্য প্রকাশ করেছে।পণ্যটি সাধারণত শিশুদের অস্বস্তি বা ঘুমের সমস্যা কমানোর উদ্দেশ্যে বাজারজাত করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এতে প্রায় ৮ দশমিক ৩ শতাংশ ইথানল, শূন্য দশমিক ৩৫ শতাংশ মিথানল এবং শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ আইসোপ্রোপানল পাওয়া গেছে। এসব উপাদান পণ্যের লেবেলে উল্লেখ ছিল না। বিশেষ করে মিথানল ও আইসোপ্রোপানল নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ এগুলো শিশুদের খাওয়ানোর জন্য স্বাভাবিক কোনো উপাদান নয়। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন বলেছে, পণ্যটি কতটা খাওয়া হয়েছে এবং ব্যবহারকারীর বয়স ও ওজনের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকি নির্ভর করতে পারে। প্রত্যাহার করা পণ্যটির ব্যাচ নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ। এর মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ডিসেম্বর ২০২৮। পণ্যটি চার তরল আউন্সের একটি বাদামি রঙের বোতলে ছিল এবং বোতলটি নীল রঙের বাক্সের মধ্যে রাখা হয়। সঙ্গে একটি মুখে খাওয়ানোর সিরিঞ্জও ছিল। এই ব্যাচের পণ্য অনলাইনের মাধ্যমে বিক্রি হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, পণ্যটি সিক্রেটস অব টি নামের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন বিক্রেতার কাছে বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে অ্যামাজনও ছিল। ফলে কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার দোকানের মধ্যে এটি সীমাবদ্ধ ছিল না। এখন পর্যন্ত এই নির্দিষ্ট পণ্য ব্যবহারের কারণে অসুস্থ হওয়ার কোনো খবর কোম্পানি পায়নি বলে জানিয়েছে। তবে সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে বাবা-মা ও অভিভাবকদের সতর্ক করা হয়েছে। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব পরিবার এই পণ্য কিনেছে তাদের প্রথমে বোতলের ব্যাচ নম্বর পরীক্ষা করতে হবে। যদি নম্বর ২৫১২২বিডব্লিউ হয়, তাহলে শিশুকে এটি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। পণ্যটি ফেলে দেওয়া অথবা যেখান থেকে কেনা হয়েছে সেখানে ফেরত দিয়ে অর্থ ফেরত নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই খবরটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ কারণ অনলাইনে শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের ঘুম, গ্যাস বা অস্বস্তি কমানোর পণ্য সহজেই কেনা যায়। অনেক বাবা-মা পণ্যের নাম ও বিজ্ঞাপন দেখে সেটিকে নিরাপদ মনে করতে পারেন। কিন্তু কোনো শিশুকে দেওয়ার আগে উপাদান, বয়সের উপযোগিতা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর অস্বাভাবিক ঘুম, খাওয়ার সমস্যা, কান্না বা পেটের অস্বস্তির কারণ বোঝার জন্য প্রয়োজন হলে শিশু চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শুধু কোনো অনলাইন পণ্য ব্যবহার করে সমস্যাটি সমাধানের চেষ্টা না করাই নিরাপদ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজেদের ঘরে থাকা পণ্যটি পরীক্ষা করা। বিশেষ করে যারা অ্যামাজন বা অন্য অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের পণ্য কেনেন, তাদের পুরোনো অর্ডারের তালিকা দেখেও যাচাই করা উচিত। খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রত্যাহার কোম্পানির স্বেচ্ছায় নেওয়া পদক্ষেপ এবং সংস্থার জ্ঞাতসারে পরিচালিত হচ্ছে। পণ্য ব্যবহারের পর কোনো ধরনের শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৭ কোটি শিশুর নামে নতুন বিনিয়োগ হিসাব তৈরি হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এই কর্মসূচির আওতায় ১৮ বছরের কম বয়সী এবং বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকা যোগ্য শিশুদের নামে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খোলা হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অক্টোবরের শুরুতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এই হিসাবের নাম ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট। এটি সাধারণ সঞ্চয় হিসাবের মতো শুধু টাকা জমিয়ে রাখার ব্যবস্থা নয়। মূলত দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। শিশুর নামে থাকা অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ব্যবস্থার মাধ্যমে বাড়ার সুযোগ পাবে। তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব তৈরি হওয়া মানেই শিশুর অ্যাকাউন্টে ১ হাজার ডলার জমা হয়ে গেছে—এমন নয়। অভিভাবককে প্রথমে সন্তানের হিসাবটি দাবি করতে হবে। এরপর যোগ্য শিশুর জন্য সরকারি প্রাথমিক অর্থ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য মার্কিন নাগরিক শিশুদের জন্য একবারের ১ হাজার ডলারের সরকারি প্রাথমিক অর্থ দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অন্য শিশুদের নামে হিসাব থাকলেও তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ১ হাজার ডলার পাবে না। অভিভাবকরা চাইলে সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য এই হিসাবে অতিরিক্ত অর্থও যোগ করতে পারবেন। পরিবার, বন্ধু, নিয়োগদাতা ও কিছু দাতা প্রতিষ্ঠান থেকেও অর্থ আসতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে টাকা বিনিয়োগ করা হলে শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক ভিত্তি পেতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে কর্মসূচি চালুর পর থেকে ইতোমধ্যে ৪৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ এসব হিসাবে জমা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক অর্থ, পরিবারের দেওয়া অর্থ এবং বিভিন্ন দাতার অর্থ রয়েছে। এই কর্মসূচির বড় পরিবর্তন এসেছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাব খোলার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে। আগে অভিভাবকদের নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে হিসাব খুলতে হতো।কিন্তু সেই পদ্ধতিতে অংশগ্রহণ প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম ছিল। নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য শিশুদের নামে আগে থেকেই হিসাব তৈরি করে রাখা হচ্ছে। এখন অভিভাবকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের সন্তানের নামে হিসাব তৈরি হয়েছে কি না এবং সেটি কীভাবে দাবি করতে হবে তা যাচাই করা। হিসাব দাবি করার পর অভিভাবক বা আইনগত অভিভাবক সেটি পরিচালনা করতে পারবেন এবং পরিবারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত অর্থ জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকিও রয়েছে। ব্যাংকের সাধারণ সঞ্চয় হিসাবে টাকা রাখলে যে ধরনের নিশ্চয়তা থাকে, শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগে তা থাকে না।বাজারের ওঠানামার কারণে বিনিয়োগের মূল্য বাড়তে বা কমতে পারে। তাই অভিভাবকদের নিয়মগুলো ভালোভাবে বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যেও আলোচনা রয়েছে। সমর্থকদের মতে, ছোট বয়স থেকেই বিনিয়োগের অভ্যাস তৈরি হলে ভবিষ্যতে শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা বাড়তে পারে। অন্যদিকে সমালোচকদের আশঙ্কা, যেসব পরিবার নিয়মিত অতিরিক্ত অর্থ দিতে পারবে, তাদের সন্তানদের হিসাব অন্যদের তুলনায় অনেক দ্রুত বড় হবে।অর্থাৎ সরকারি প্রাথমিক অর্থ সবার জন্য একই হলেও দীর্ঘমেয়াদে পরিবারের আর্থিক সক্ষমতা বড় পার্থক্য তৈরি করতে পারে।
রাজনীতি
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার
১০০ কোটি টাকা জামায়াতের থেকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন
সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ নীতি: মানবিক সংকট নাকি আঞ্চলিক আধিপত্যের রাজনীতি?
হাসনাতের ‘গণভিক্ষা’ ঘিরে তীব্র বিতর্ক, টাকা না দিতে হামিমের আহ্বান
‘আল্লাহর অশেষ রহমত’ আমার উপরে বিএনপির ট্যাগ নেই!রুমিন ফারহানার বিস্ফোরক মন্তব্য
গণতন্ত্র ধ্বংস করতে বিরোধী দল নতুন চক্রান্তে লিপ্ত: শহীদ উদ্দীন এ্যানি
ককটেল বিস্ফোরণ ইস্যুতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত: ডিএমপি কমিশনার
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮১টি সামরিক বিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অত্যাধুনিক এফ-১৫ ও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান, আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান এবং বিপুলসংখ্যক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন। মার্কিন কংগ্রেসের গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) সর্বশেষ প্রতিবেদনে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উঠে এসেছে। সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ৩৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) হালনাগাদ করা এই প্রতিবেদনের তথ্য বুধবার (৭ অক্টোবর) প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। প্রতিবেদনে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত বা হারানো বিমান ও ড্রোনের হিসাব তুলে ধরা হয়েছে। সিআরএস জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড, প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদন এবং বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য পর্যালোচনা করে এই হিসাব তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন বহরে। ইরানের সঙ্গে সামরিক অভিযানে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে মার্কিন বাহিনী। গোয়েন্দা নজরদারি এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য ব্যবহৃত এই ড্রোন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক প্রযুক্তি। গত ১৩ আগস্ট প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তিন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে অন্তত ৪৫টি রিপার ড্রোন হারানোর তথ্য সামনে আসে। নতুন কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সেই সংখ্যাই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শুধু রিপার ড্রোন নয়, ইরানের সামরিক অভিযানে আরও তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন এবং একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন ড্রোন হারানোর তথ্যও রয়েছে। এর মধ্যে এমকিউ-৪সি ট্রাইটন দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মানবচালিত যুদ্ধবিমানের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির কথা জানিয়েছে সিআরএস। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় মোট ১২টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস অথবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি বিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং আটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর আবারও ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে নিজেদের মিত্রবাহিনীর ভুলবশত গুলিতে তিনটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়। এ ধরনের ঘটনাকে সামরিক পরিভাষায় ফ্রেন্ডলি ফায়ার বলা হয়। এরপর ৫ এপ্রিল ইরানের আকাশে আরও একটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয় বলে জানিয়েছিল ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড। অন্যদিকে গত ৯ ও ১০ সেপ্টেম্বর জর্ডানের মুওয়াফফাক সালটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আটটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে সেগুলো মেরামত করে আবারও সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। মার্কিন বিমানবাহিনীর অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং টু যুদ্ধবিমানও ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। গত ১৯ মার্চ ইরানের আকাশে ভূমি থেকে চালানো হামলায় একটি এফ-৩৫এ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য প্রকাশিত হয়েছিল। এফ-৩৫ যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক স্টেলথ যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। শত্রুপক্ষের রাডার এড়িয়ে অভিযান পরিচালনার সক্ষমতার কারণে এই যুদ্ধবিমান মার্কিন সামরিক শক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। এছাড়া দুটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট টু যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে ৬ এপ্রিল শত্রুপক্ষের হামলায় একটি এ-১০ বিধ্বস্ত হয় বলে মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছিলেন। অন্যটি সেপ্টেম্বরে জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আকাশে জ্বালানি সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমানগুলোরও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে সাতটি কেসি-১৩৫ বিমানের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য রয়েছে। গত ১২ মার্চ ইরাকে দুটি কেসি-১৩৫ বিমান একটি ঘটনায় জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে একটি বিধ্বস্ত হয়ে ছয় মার্কিন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়। অন্য বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে সক্ষম হয়। এর দুই দিন পর সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় আরও পাঁচটি কেসি-১৩৫ বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও আকাশ প্রতিরক্ষা সমন্বয়ের জন্য ব্যবহৃত একটি ই-৩ সেন্ট্রি বিমানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্চের শেষ দিকে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে হামলায় বিমানটি ক্ষতির মুখে পড়ে। পরবর্তী প্রতিবেদনে বিমানটিতে সরাসরি আঘাত লাগার তথ্যও উঠে আসে। সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হেলিকপ্টারগুলোর মধ্যেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সিআরএসের হিসাবে, চারটি এএইচ-৬ লিটল বার্ড হেলিকপ্টার, একটি এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি, একটি এমএইচ-৬০ সি হক এবং একটি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন টু হেলিকপ্টার ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া বিশেষ সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহৃত দুটি এমসি-১৩০জে কমান্ডো টু বিমানও ধ্বংস হওয়ার তথ্য রয়েছে। এপ্রিল মাসে ইরানে ভূপাতিত একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের ক্রুদের উদ্ধারের অভিযানের সময় বিমান দুটি ধ্বংস করা হয়েছিল। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা ৮১টি বিমান ও ড্রোনের সবই ইরানের সরাসরি হামলায় ধ্বংস হয়নি। এর মধ্যে কিছু বিমান শত্রুপক্ষের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিছু বিধ্বস্ত হয়েছে দুর্ঘটনায়, আবার কিছু মিত্রবাহিনীর ভুলবশত হামলার শিকার হয়েছে। কয়েকটি বিমান উদ্ধার অভিযান পরিচালনার সময় মার্কিন বাহিনী নিজেরাই ধ্বংস করেছে। একইভাবে ৮১টি বিমানই স্থায়ীভাবে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে, এমন তথ্যও প্রতিবেদনে বলা হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি বিমান ইতোমধ্যে মেরামত করে সামরিক কার্যক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথভাবে সামরিক অভিযান শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের নাম দেয় অপারেশন এপিক ফিউরি। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বিমান হামলা, ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং সামরিক স্থাপনায় পাল্টাপাল্টি আক্রমণের মধ্য দিয়ে সংঘাত বিস্তৃত হয়। এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতির পর সামরিক তৎপরতা কিছুটা কমলেও পরবর্তী সময়ে আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এই দীর্ঘ সংঘাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সরঞ্জামের ক্ষয়ক্ষতি এবং প্রতিস্থাপন ব্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মার্কিন কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের সেপ্টেম্বর মাসের হিসাবে, ১ আগস্ট পর্যন্ত সামরিক সরঞ্জামের ক্ষতির পরিমাণ প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনার ওপর নির্ভর করে ১৯০ কোটি থেকে ৩৩০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে এই হিসাব শুধু বিমান ও ড্রোনের ক্ষতির জন্য নয়। এতে যুদ্ধের অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জামও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে ৮১টি বিমানের ক্ষতির আর্থিক মূল্য এককভাবে ৩৩০ কোটি ডলার বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিস সতর্ক করেছে, যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং নতুন তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু সামরিক তথ্য গোপনীয় হওয়ায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব নির্ধারণও কঠিন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে মার্কিন কংগ্রেসকে সামরিক বাজেট, নতুন বিমান কেনা, ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম মেরামত এবং সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করতে হতে পারে। বিশেষ করে ই-৩ সেন্ট্রির মতো পুরোনো কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানের ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঞ্চলের সামরিক প্রস্তুতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে প্রতিবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কত দ্রুত নতুন বিমান ও ড্রোন সরবরাহ করতে পারবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। উৎপাদন সক্ষমতা, যন্ত্রাংশ সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সামরিক চাহিদার কারণে প্রতিস্থাপন প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে। মার্কিন সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির হিসাব শুধু কতগুলো বিমান ধ্বংস হয়েছে, তা দিয়ে মূল্যায়ন করা যায় না। ক্ষতিগ্রস্ত বিমানের সামরিক গুরুত্ব, প্রতিস্থাপন ব্যয় এবং ভবিষ্যৎ অভিযানের সক্ষমতার ওপর এর প্রভাবও বিবেচনা করতে হয়। সর্বশেষ কংগ্রেশনাল প্রতিবেদনে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান ও ড্রোন বহর উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির কতটা স্থায়ী এবং ভবিষ্যতে সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনে কত ব্যয় হবে, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত সরকারি তথ্য প্রয়োজন।
ভারতে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মুসলিমসহ কোটি কোটি মানুষের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সংখ্যালঘু মুসলিম ও বিরোধী সমর্থকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে ভারতের চলমান ভোটার তালিকা বিতর্ক এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা থেকে লাখ লাখ মুসলিমের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য নতুন করে যাচাই এবং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের দাবি, মৃত ব্যক্তি, স্থায়ীভাবে অন্যত্র চলে যাওয়া ভোটার এবং একাধিকবার নিবন্ধিত ব্যক্তিদের নাম বাদ দিয়ে নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরি করাই এই কার্যক্রমের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতিতে গুরুতর অনিয়ম রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারা কিংবা তথ্যের অসংগতির কারণে অনেক বৈধ ভোটারের নামও বাদ পড়ছে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু মুসলিম, অভিবাসী শ্রমিক এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহে সমস্যায় পড়া মানুষের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সমালোচকেরা। ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন পর্যায়ে ভোটার তালিকা সংশোধনের পর প্রায় ১৩ কোটি নাম খসড়া ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এই বিপুলসংখ্যক নাম বাদ পড়ার ঘটনা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে বাদ পড়া ১৩ কোটি মানুষের সবাই মুসলিম নন। তাঁদের মধ্যে ঠিক কতজন মুসলিম এবং কতজন বৈধ ভোটার, তার নির্ভরযোগ্য পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশিত হয়নি। ফলে ভোটার তালিকা থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক মুসলিমকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের ভোটাধিকার ঝুঁকির মুখে ফেলা হয়েছে। দলটির দাবি, এই প্রক্রিয়ায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমর্থক এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ক্ষমতাসীন বিজেপিকে রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে। তাঁর নেতৃত্বে বিরোধী দলগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগও দাবি করছে। বুধবার নয়াদিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে রাহুল গান্ধীকে সাময়িকভাবে আটক করে পুলিশ। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের অংশ হিসেবে তিনি অন্য বিরোধী নেতাদের সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। বিক্ষোভে কংগ্রেসের পাশাপাশি বিভিন্ন বিরোধী দল, ছাত্র সংগঠন এবং তরুণদের নেতৃত্বাধীন আন্দোলনকারীরাও অংশ নিচ্ছেন। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টানা তৃতীয় দিনের মতো ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নয়াদিল্লির পাশাপাশি তেলেঙ্গানা, বিহার ও বেঙ্গালুরুতেও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে ভুলভাবে বাদ পড়া বৈধ নাগরিকদের নাম পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকা সংশোধনের পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এদিকে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও ঝাড়খণ্ডসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মুসলিম ভোটারদের নাম একসঙ্গে বাদ দেওয়ার আবেদন জমা পড়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। গত সেপ্টেম্বরে রাজ্যসভার সদস্য কপিল সিবাল অভিযোগ করেন, ঝাড়খণ্ডে বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য ব্যাপকভাবে আবেদন করেছেন। তাঁর দাবি, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র, দিল্লি ও ওড়িশাতেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। তবে তিনি দাবি করেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক হিন্দুও রয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়ায় ধর্ম নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফলে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রভাব শুধু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কি না, তা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন অবশ্য বারবার জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য কোনো ধর্মীয় বা রাজনৈতিক সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা নয়। এর আগে সুপ্রিম কোর্টে কমিশন জানিয়েছিল, ভোটার তালিকায় কারও ধর্মীয় পরিচয়ের তথ্য সংরক্ষণ করা হয় না। ফলে ধর্মের ভিত্তিতে কতজনের নাম বাদ পড়েছে, তার সরকারি হিসাবও নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই। কমিশনের বক্তব্য অনুযায়ী, মৃত্যু, স্থায়ীভাবে বাসস্থান পরিবর্তন, একাধিক নিবন্ধন এবং নির্ধারিত যাচাই প্রক্রিয়ায় অংশ না নেওয়ার মতো কারণে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, ভোটার তালিকা সংশোধনের ক্ষেত্রে শুধু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করলেই চলবে না। কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়লে তাঁকে যথাযথ নোটিশ দেওয়া, আপত্তি জানানোর সুযোগ রাখা এবং সহজে নাম পুনর্বহালের ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও জরুরি। এই বিতর্ক ইতোমধ্যে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন কার্যক্রমের বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক আবেদন উঠেছে। আদালতে আবেদনকারীদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে ভোটারদের যথাযথভাবে অবহিত না করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রেও দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী সমস্যায় পড়ছেন। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের দাবি, পুরো প্রক্রিয়া আইন অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে এবং বাদ পড়া ব্যক্তিদের জন্য আপত্তি ও সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের শনাক্ত করে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। কর্মকর্তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন নিবন্ধনের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভারতের মতো বিশাল গণতান্ত্রিক দেশে ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়ার ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রশ্ন তৈরি করেছে। একদিকে নির্বাচন কমিশন নির্ভুল ভোটার তালিকা তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে, অন্যদিকে বিরোধীরা আশঙ্কা করছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর বৈষম্যমূলক প্রভাব পড়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তা স্বাধীন ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যক্তিগতভাবে লাখ লাখ মুসলিম ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, এমন কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ অবস্থায় ভোটার তালিকা সংশোধনের স্বচ্ছতা, বাদ পড়া নাগরিকদের ভোটাধিকার পুনর্বহাল এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার দাবিতে ভারতে রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। বিক্ষোভের পাশাপাশি আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তও দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ভারতে বিরোধী দল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ও নেপালের মতো অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির দাবি, ক্ষমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। আর সেই উদ্দেশ্যে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে তাঁর দল। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এক ভিডিও বার্তায় এসব অভিযোগ করেন বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি। বুধবার নয়াদিল্লিতে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোর জোট ইন্ডিয়ার বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন। ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের বরাতে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড এ খবর জানিয়েছে। বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারির অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে আন্দোলনের নামে কংগ্রেস দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, বিরোধীদের আন্দোলনের ধরন দেখে বোঝা যাচ্ছে, তারা বাংলাদেশ ও নেপালের মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, কংগ্রেসের কৌশল হলো বাংলাদেশ ও নেপালের মতো ভারতে অরাজকতা ছড়িয়ে দেওয়া। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেসের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য শুধু নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা নয়, বরং আন্দোলনের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলা। বুধবারের বিক্ষোভের কয়েকটি ভিডিও ফুটেজ দেখিয়ে প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেন, আন্দোলনের সময় রাহুল গান্ধী, তাঁর বোন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং কংগ্রেসের কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়েছেন। একটি ভিডিওর প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের কয়েকজন কর্মী দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দিয়েছেন এবং লাথি মেরেছেন। অন্য একটি ভিডিওতে পুলিশ সদস্যরা রাহুল গান্ধীকে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার অনুরোধ জানাচ্ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। প্রদীপ ভান্ডারির আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের উপযোগী ভিডিও তৈরির উদ্দেশ্যে রাহুল গান্ধী নিজেও একজন পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়েছেন। পাশাপাশি প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর বিরুদ্ধেও পুলিশ সদস্যদের ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ বিজেপির মুখপাত্রের বক্তব্যের ভিত্তিতে উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট ভিডিওগুলোর মাধ্যমে তাঁর সব অভিযোগ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ভারতে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম, যা এসআইআর নামে পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় ভোটারদের নাম বাদ পড়া এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বৈধ ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান হলো, ভোটার তালিকা সংশোধনের উদ্দেশ্য হচ্ছে মৃত ব্যক্তি, অযোগ্য ভোটার এবং একাধিকবার অন্তর্ভুক্ত নাম শনাক্ত করে তালিকা হালনাগাদ করা। ক্ষমতাসীন বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে। গত মঙ্গলবার থেকে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জোরদার করেন বিরোধী নেতারা। বুধবারও রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা রাজপথে নামেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। পরে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের মধ্যেই দিল্লিতে এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিকে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারি দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত বিষয়টি ইতোমধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। ফলে রাজপথে বিক্ষোভের মাধ্যমে আদালতের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, রাহুল গান্ধী আন্দোলনের দৃশ্য ব্যবহার করে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এমনকি ভারতের অভ্যন্তরে অস্থিরতা তৈরিতে কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন বিজেপির এই মুখপাত্র। তবে তাঁর এ দাবির পক্ষে নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রদীপ ভান্ডারি বলেন, ভারতের গণতন্ত্র শক্তিশালী ও নিরাপদ রয়েছে। তাঁর দাবি, কংগ্রেস নেতৃত্ব দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ক্ষমতায় ফেরার বিষয়টিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে বিজেপির এসব অভিযোগের বিষয়ে কংগ্রেসের সুনির্দিষ্ট প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। বিরোধী দলগুলোর বক্তব্য, তাদের আন্দোলন নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভোটাধিকার রক্ষার দাবিতে পরিচালিত হচ্ছে। রাহুল গান্ধীও প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার অবস্থান জানিয়েছেন। ভারতের চলমান রাজনৈতিক সংঘাতে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ টেনে বিজেপির নতুন অভিযোগ দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির তুলনাকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে বাংলাদেশ ও নেপালের উদাহরণ দিয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অরাজকতা তৈরির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেটি বিজেপির রাজনৈতিক বক্তব্য। এ ধরনের পরিকল্পনার অস্তিত্ব স্বাধীনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে সরকার ও বিরোধীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যে ভারতের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। একদিকে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা, অন্যদিকে আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছে ক্ষমতাসীন বিজেপি। ফলে আগামী দিনগুলোতে ভোটার তালিকা ও নির্বাচন কমিশন ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে তাঁদের রক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে কাঁদানে গ্যাসের শিকার হয়েছেন সাঁ দেনি শহরের মেয়র বালি বাগায়োকো। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাজধানী প্যারিসে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার থামার আহ্বান জানাতে দেখা যায় তাঁকে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র। বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থা, শিক্ষকসংকট এবং শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দের দাবিতে চলমান আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন বাগায়োকো। বিক্ষোভের একপর্যায়ে শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে তিনি দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়ান। এ সময় পুলিশের উদ্দেশে তাঁকে বারবার থামতে বলতে শোনা যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বাগায়োকো নিজেও আক্রান্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাঁকে চোখের অস্বস্তিতে ভুগতে এবং অন্যদের সহায়তায় চোখে স্যালাইন নিতে দেখা যায়। পরে তাঁকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বুধবার (৭ অক্টোবর) রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাগায়োকো জানান, পুলিশ যখন শিক্ষার্থীদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর দাবি, উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থী পুলিশের প্রতি কোনো আক্রমণাত্মক আচরণ করেনি। তা সত্ত্বেও পুলিশ তাঁদের দিকে অগ্রসর হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মেয়র বলেন, রাস্তায় আন্দোলনরত স্কুলশিক্ষার্থীরা তাঁর নিজের সন্তানও হতে পারত। তাই তাঁদের পাশে দাঁড়ানো নিজের দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি। প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের সাঁ দেনি শহরটি তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাসের এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত সুযোগসুবিধা ও জনবলের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে। বাগায়োকোর মতে, বিত্তশালী এলাকার তুলনায় শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সরকারি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। ফ্রান্সে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। পরে তা বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অনেক স্কুলে শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত অবস্থাও সন্তোষজনক নয়। আন্দোলন চলাকালে প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। কোথাও গাড়ি ও আবর্জনার পাত্রে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। পুলিশের অভিযানে বহু শিক্ষার্থী আটক হয়েছে। অন্যদিকে সহিংসতায় পুলিশ সদস্যদের আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ফরাসি সরকার বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের বিশেষ ধরনের বিস্ফোরক গ্রেনেড ব্যবহারে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, একটি সংঘর্ষে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের হাত হারানোর ঘটনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পুলিশের বলপ্রয়োগসংক্রান্ত ১৮টি ঘটনার অভ্যন্তরীণ তদন্তও শুরু হয়েছে। এদিকে বিক্ষোভে বাগায়োকোর ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ফ্রান্সের বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস আঁসুমিজের সদস্য। চলতি বছরের মার্চে সাঁ দেনির মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। ফ্রান্সে জন্ম নেওয়া বাগায়োকোর বাবা-মা পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির নাগরিক ছিলেন। নিজ শহরের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি আলোচনায় রয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি নিয়ে প্রশাসনের একাংশের আপত্তিও রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্যারিসের পুলিশ প্রধান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অবরোধসংক্রান্ত আন্দোলনে কথিত আইনভঙ্গের উসকানির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। তবে বাগায়োকো সহিংসতাকে আন্দোলনের পদ্ধতি হিসেবে সমর্থন করার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মেয়রের বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের দাবি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে সমাধান করা প্রয়োজন। শুধু পুলিশ মোতায়েন করে শিক্ষাব্যবস্থার সংকট দূর করা সম্ভব নয়। তিনি শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি উসকানি এড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকেও শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পর্যালোচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু অক্টোবরের শেষ নাগাদ বাস্তবায়নযোগ্য কিছু প্রস্তাব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিরা দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি অব্যাহত রেখেছেন। এর মধ্যে বাগায়োকোর ঘটনাটি ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন এবং বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। একদিকে আন্দোলনকারীরা শিক্ষার পরিবেশ ও সুযোগের সমতা দাবি করছেন, অন্যদিকে সরকারকে জননিরাপত্তা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা
এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে ভারতের মুখোমুখি বাংলাদেশ, ফাইনালের পথে কঠিন পরীক্ষা
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হতেই সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, সৌদি নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২৩ ক্যারেট সোনায় তৈরি ট্রাম্পের ন গ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শিত
এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন বারাক ওবামা, ডেট্রয়েটে ২৪ অক্টোবর সমাবেশ
লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীন, বাড়ছে জনসমর্থন
সন্ত্রা সবাদ থেকে শুল্ক ইস্যুতে ট্রাম্পকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করছে মোদির ভারত
নিউইয়র্কে হামের সংক্রমণ বাড়ছে, ফেডারেল সহায়তা চাইলেন গভর্নর ক্যাথি হোকুল
মৌসুমি অ্যালার্জি নাকি ঠান্ডা, লক্ষণ দেখে যেভাবে সহজেই বুঝবেন পার্থক্য
আলঝেইমার রোগের চিকিৎসায় নতুন পথ দেখাচ্ছে আফ্রিকান বানর
রাশিয়ায় প্লেগ সংক্রমণের আশঙ্কা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানচিত্রে উঠে এলো আক্রান্ত দেশগুলো
নিউইয়র্কে হাম ছড়িয়ে পড়ায় রাজ্যজুড়ে জরুরি অবস্থা, বাড়ছে টিকাদান ও স্বাস্থ্য সতর্কতা
স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর
কান উৎসবে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ কাপড়ের পোশাকে মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদ
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন, জানুন
জনপ্রিয় টিকটকার নিধির মৃত্যু, শেষ ফোনালাপের এক তরুণের তথ্য যাচাই করছে পুলিশ
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
নিউইয়র্কে প্রেমিকা ও ৮ মাসের শিশুকে ১৫ তলা থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পরও মুখে হাসি
ক্যালিফোর্নিয়ায় ৫৬৩ মৃ ত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সাজা মওকুফের কথা ভাবছেন নিউসম
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে হ ত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত তরুণী ২০ লাখ ডলারের জামিনে মুক্ত
ভিসা থাকলেও পাসপোর্টের এই ৮ ভুলে আটকে যেতে পারেন বিমানবন্দরে
মূলধনের অভাবে থেমে যাবে না স্বপ্ন, তরুণ উদ্যোক্তাদের পাশে দুই দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত হার্ভার্ড শিক্ষার্থী
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
নিউইয়র্কে শিশুদের ভবিষ্যৎ শিক্ষার জন্য সঞ্চয়ের সুযোগ, বাংলাভাষী অভিভাবকদের জন্য বিশেষ কর্মশালা
ফেডারেল স্টুডেন্ট লোনে ইন্টারেস্ট কমানোর সুযোগ, অটোপেতে নাম লেখানোর সময় বাড়ল
১১ বছর সিকিউরিটি গার্ড, কলেজে ডিগ্রী অর্জনের পর অবশেষে সেই ব্যাংকেই অফিসার তিনি
চট্টগ্রাম মেডিকেল থেকে হার্ভার্ড, এখন ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মালবিকা সরকার
৩.৪৬ সিজিপিএ নিয়েই হার্ভার্ডে, গবেষণায় পথ খুলেছেন জাবির রিপন
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের
ইরানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ নিয়ে অনড় অবস্থান, মার্কিন চাপকে পাত্তা দিচ্ছে না তেহরান
বিমানের টিকিটের খরচ কমাতে ‘স্কিপল্যাগিং’, ধরা পড়লে পেতে পারেন নিষেধাজ্ঞা
দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রথম হাইপারসনিক অস্ত্রের সফল পরীক্ষা, নতুন বার্তা উত্তর কোরিয়াকে
টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় ঠিকাদার, বিপদে শ্রবণ প্রতিবন্ধী আলী দম্পতির পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন স্বেচ্ছাসেবীরা
সাহিত্যে নোবেল পেলেন কানাডার অ্যান কার্সন, সাফল্যের ঘোষণায় বিস্মিত লেখক
বিশ্ব পর্যটন মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অর্জন, এশিয়ার দায়িত্বে ডাল্টন জহির
বাংলাদেশে টেসলা-মার্সিডিজের চেয়েও বেশি শুল্ক মাল্টায়, চাপ বাড়ছে ক্রেতাদের
ফ্যামিলি কার্ডের আশায় টিপসই, পরে বিধবা জানলেন তার বিয়ে হয়ে গেছে
উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার তিন মাসের মাথায় সড়ক দুর্ঘটনায় ঢাবির সাবেক শিক্ষার্থীর মৃ ত্যু
নাটোর স্টেশনে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ-ক্যামেরাসহ ব্যাগ চু রি, সিসিটিভিতে সন্দেহভাজন শনাক্ত
ডিসেম্বর থেকে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাসিনা ভারতে যা করছেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন হলে মোদি কি ঢাকায় আসতেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, জোর দিলেন নিরাপদ প্রত্যাবাসনে
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশের উদ্যোগ