যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা বিশেষ বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার করে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুসান ডেল। তাঁদের ৬২৫ কোটি ডলারের অনুদানে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশু এই অর্থ পাবে না। পরিবারের বসবাসের এলাকার জিপ কোড, ওই এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয় এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহী অভিভাবকেরা অনলাইনে জিপ কোড দিয়ে তাঁদের এলাকা এই অনুদানের আওতায় পড়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। শিশুদের জন্য তৈরি এই বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টগুলো ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। মাইকেল ও সুসান ডেলের অর্থায়নে পরিচালিত অনুদান কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট আমেরিকা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে যোগ্য অ্যাকাউন্টগুলোতে ২৫০ ডলারের জমা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোনো শিশুর নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই সেখানে ডেল দম্পতির অনুদান জমা হয়েছে, এমন নয়। এই অনুদানের জন্য যোগ্য হতে হলে শিশুর জন্ম ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হতে হবে। পরিবারের বসবাসের জিপ কোডের মধ্যম পারিবারিক আয় হতে হবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ ডলার। এই আয়সীমা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইনভেস্ট আমেরিকা জানিয়েছে। এখানে পরিবারের নিজস্ব আয় নয়, সংশ্লিষ্ট জিপ কোডের মধ্যম পারিবারিক আয় বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো পরিবারের আয় ওই সীমার বেশি বা কম হলেই সরাসরি অনুদানের যোগ্যতা নির্ধারিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে বসবাসকারী নির্ধারিত বয়সসীমার যোগ্য শিশুরাও স্থানীয় জিপ কোডের আয়সীমা নির্বিশেষে এই অনুদানের আওতায় রয়েছে। ইনভেস্ট আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথমে অপেক্ষাকৃত কম মধ্যম পারিবারিক আয়ের এলাকাগুলোকে বিবেচনা করা হয়। এরপর নির্ধারিত ২ কোটি ৫০ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া পর্যন্ত যোগ্য এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়। তাই শুধু জিপ কোড দিয়ে এলাকা যোগ্য কি না জানা গেলেও, নির্দিষ্ট শিশুর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখতে হবে। যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ইনভেস্ট আমেরিকার নির্ধারিত ওয়েবপেজে যেতে হবে: https://investamerica.org/check-dell-250-eligibility/। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জিপ কোড লিখে যাচাই করা যাবে সংশ্লিষ্ট এলাকা ডেল দম্পতির অনুদানের আওতায় রয়েছে কি না। এরপর সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ জমা হয়েছে কি না দেখতে হবে। অ্যাকাউন্টের তথ্য ও দাবি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে সরকারি ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত। অচেনা বার্তা, অননুমোদিত ওয়েবসাইট কিংবা অর্থের বিনিময়ে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ডেল দম্পতির ২৫০ ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দেওয়া ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক অর্থের থেকে আলাদা। সরকারের এই অর্থ পাওয়ার জন্য সাধারণত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুর বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকতে হবে এবং অভিভাবক বা যোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট খোলা ও অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, এই ১ হাজার ডলারও সব শিশুর অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয় না। দুই কর্মসূচির জন্মসীমা ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা, তাই একটি অনুদানের যোগ্যতা দিয়ে অন্যটির যোগ্যতা ধরে নেওয়া যাবে না। ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন ও অন্যান্য অনুমোদিত ব্যক্তি নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থ জমা দিতে পারেন। ইনভেস্ট আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা বর্তমানে ৫ হাজার ডলার। অ্যাকাউন্টের অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ তহবিলে রাখা হয়, তাই এর মূল্য সময়ের সঙ্গে বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। ভবিষ্যতে কত অর্থ জমবে, তা নির্ভর করবে জমার পরিমাণ, বিনিয়োগের ফলাফল, খরচ ও সময়ের ওপর। ফলে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মূল্যকে নিশ্চিত আর্থিক লাভ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অ্যাকাউন্টধারী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষা, বাড়ি কেনা বা ব্যবসা শুরু করার মতো যোগ্য খাতে অর্থ ব্যবহারের কথা কর্মসূচির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কর এবং অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবক বা নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টটির তত্ত্বাবধান করেন। তাই অনুদানের অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগনীতি, ব্যবহারবিধি ও সম্ভাব্য করের বিষয়গুলোও অভিভাবকদের বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। সূত্র: ইনভেস্ট আমেরিকার ডেল অনুদান ও যোগ্যতা যাচাই পেজ; যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থা (আইআরএস)।
স্টেথোস্কোপের মতো ছোট একটি যন্ত্র হাতে নিয়ে রোগীর শরীরে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা, আর সেই পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা পাওয়া। চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই ধারণাকে বাস্তবে এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা-ইমেজিং এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে। এক্সোর লক্ষ্য, বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও রোগ নির্ণয়ের কিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হক ও সন্দীপ আকারাজু। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ইউসুফ হক জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। তবে এই ঘোষণা পরিকল্পনার কথা জানায়, বাংলাদেশে যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে না। এক্সোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ইউসুফ হক প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫টি পেটেন্টের সহ-স্বত্বাধিকারী এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন। এক্সো প্রতিষ্ঠার আগে ইউসুফ হক স্লাইসএক্স বা ক্রেস্ট সেমিকন্ডাক্টরসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দাঁতের ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। এরও আগে দুই দশকের বেশি সময় তিনি ম্যাক্সিম ইন্টিগ্রেটেড প্রোডাক্টসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ে তাঁর কাজের মধ্যে ছিল ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিংয়ের চিপসেট, রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপ, চিকিৎসা-আল্ট্রাসাউন্ডের ইলেকট্রনিক উপাদান এবং গাড়ির স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অতিস্বনক প্রযুক্তি। এক্সোর প্রোফাইল অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ৩০টিরও বেশি সমন্বিত সার্কিট পণ্য নকশায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দুই দশক ধরে আইইইইর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ইউসুফ হক, সন্দীপ আকারাজু, জানুস ব্রাইজেক ও জন কোকুলিস মিলে এক্সো ইমেজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা-ইমেজিং প্রযুক্তিকে আরও সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের তৈরি এক্সো আইরিস একটি হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব। প্রচলিত বড় আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্রের তুলনায় এটি আকারে ছোট এবং রোগীর কাছাকাছি গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে ছবির মান ও প্রয়োজনীয় দৃশ্য ধারণে সহায়তা করে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুইপএআই। এক্সোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি যন্ত্রের ভেতরেই কাজ করতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় ছবির মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রোবটি শরীরের ওপর দিয়ে চালানোর সময় সফটওয়্যার উপযুক্ত ছবি শনাক্ত করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য ধারণ হয়েছে কি না তা বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ক্লাউড বা ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সব রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করে ফেলে। এটি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। এক্সোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু ছবি তোলার মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইরিসে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়ক এআই ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা বা ফুসফুসের কিছু অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য প্রাথমিক মূল্যায়নে কাজে লাগতে পারে, তবে রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিকল্প নয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্সো সুইপএআই চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যবহারের আওতায় হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি সহায়তা করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফুসফুসে তরল জমা এবং ফুসফুসের টিস্যুতে ঘনত্ব বা ধসের মতো পরিবর্তন শনাক্তে সহায়ক এআই ব্যবস্থার জন্য এফডিএর ৫১০(কে) ছাড়পত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুনে এক্সো ফুসফুসের এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও তথ্য জানায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ব্যবহার ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব রোগ শনাক্ত করার সামগ্রিক অনুমোদন হিসেবে একে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র, প্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুযোগ সীমিত। রোগীকে পরীক্ষা করাতে দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর কাছাকাছি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে এর সুফল পেতে যন্ত্রের দাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা-তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এক্সোর প্রধান নির্বাহী সন্দীপ আকারাজু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে প্রযুক্তিটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য বড় হাসপাতাল হলেও ভবিষ্যতে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা সহজ হতে পারে। তবে কোন হাসপাতাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, কতটি যন্ত্র আনা হবে, এর মূল্য কত হবে এবং সাধারণ রোগীরা কখন থেকে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি। ইউসুফ হকের কর্মজীবন দেখায়, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, ইলেকট্রনিকস, চিপ নকশা, সফটওয়্যার ও প্রকৌশলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে এক্সো যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, তা রোগ নির্ণয়ের কিছু ধাপকে সহজ ও দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, ব্যয়, প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকর সংযোগের ওপর। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বহনযোগ্য ও এআই-সহায়ক পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এনেছে। সূত্র: এক্সোর অফিসিয়াল প্রোফাইল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন।
মুখের গড়ন অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ায় দীর্ঘদিন প্রতিবেশীদের কটূক্তি ও সামাজিক অবহেলার শিকার হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার মানুরুং পরিবার। পরিবারের চার ভাইবোনের মুখমণ্ডলে জন্মগত পার্থক্য থাকায় স্থানীয়ভাবে তাদের নিয়ে নানা কুসংস্কার ছড়িয়েছিল। এমনকি পরিবারটিকে অভিশপ্ত বলেও মন্তব্য করতেন কেউ কেউ। তবে এই ধারণার পেছনে অলৌকিক কোনো কারণ নেই। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোম নামের একটি বিরল জিনগত অবস্থা। ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রার কেদুংকাং গ্রামের এই পরিবারের জীবন ও ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম ইউপিএসওসিএল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছয় ভাইবোনের মধ্যে চারজনের মুখের গড়ন আলাদা। তাঁদের বাবা নিজেও একই জিনগত অবস্থার সঙ্গে বসবাস করছেন। পরিবারের সদস্যদের চেহারা নিয়ে মানুষের বিদ্রূপ ও কুসংস্কার তাঁদের সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে তাঁরা নিজেদের আড়ালে না রেখে দৈনন্দিন জীবন, কাজকর্ম ও হাস্যরসের নানা মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরতে শুরু করেন। ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোম মূলত মুখমণ্ডলের হাড় ও অন্যান্য টিস্যুর বিকাশকে প্রভাবিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের তথ্যভিত্তিক ওয়েবসাইট মেডলাইনপ্লাসের মতে, এ অবস্থায় গালের হাড় অপরিণত থাকতে পারে, চোয়াল ও থুতনি তুলনামূলক ছোট হতে পারে এবং কান বা চোখের আশপাশের গঠনে পার্থক্য দেখা দিতে পারে। লক্ষণের তীব্রতা ব্যক্তিভেদে আলাদা হয়। কারও ক্ষেত্রে পরিবর্তন সামান্য, আবার কারও ক্ষেত্রে তা বেশি স্পষ্ট হতে পারে। সাধারণত এ অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা স্বাভাবিক থাকে, যদিও কারও কারও শ্রবণশক্তি, শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্য শারীরিক বিষয়ে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন হতে পারে। সিনড্রোমটি জিনগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং কিছু ক্ষেত্রে বংশপরম্পরায় ছড়াতে পারে। মানুরুং পরিবারের বাবারও একই অবস্থা থাকার বিষয়টি সেই সম্ভাবনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের চিকিৎসাগত ইতিহাস বা নির্দিষ্ট জিনগত পরীক্ষার ফল প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়নি। তাই তাঁদের প্রত্যেকের অবস্থার তীব্রতা কিংবা সংশ্লিষ্ট জিনগত পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা অবশ্য পরিষ্কার, মুখের গড়নে পার্থক্য থাকা কোনো অভিশাপের প্রমাণ নয়; এটি জন্মগত শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা জিনগত অবস্থার অংশ হতে পারে। পরিবারটির সদস্য সূর্য জানান, কাজ খোঁজার সময় তাঁর চেহারা অনেক ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াত। যোগ্যতা বা কথা বলার সুযোগ পাওয়ার আগেই মানুষের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির মুখোমুখি হতে হতো তাঁকে। বারবার প্রত্যাখ্যানের অভিজ্ঞতা তাঁর আত্মবিশ্বাসেও প্রভাব ফেলেছিল। চেহারার কারণে কাউকে বিচার করা কিংবা সামাজিকভাবে দূরে সরিয়ে রাখার অভিজ্ঞতা যে একজন মানুষের কাজের সুযোগ ও আত্মমর্যাদায় প্রভাব ফেলতে পারে, তাঁর অভিজ্ঞতা সেই বাস্তবতাই তুলে ধরে। পরিস্থিতি বদলাতে পরিবারের সদস্যরা নিজেদের জীবন আড়াল না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন। টিকটক ও ইউটিউবে তাঁদের দৈনন্দিন কাজ, পারিবারিক মুহূর্ত এবং হাস্যরসাত্মক ভিডিও প্রকাশ পেতে থাকে। ইউপিএসওসিএলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁদের অনলাইন চ্যানেলগুলোতে এখন বিপুলসংখ্যক অনুসারী রয়েছে। একসময় যে চেহারার কারণে তাঁরা বিদ্রূপের শিকার হতেন, সেটিই এখন তাঁদের পরিচিতির অংশ হয়ে উঠেছে। অনলাইনে ভিডিও তৈরির মাধ্যমে তাঁরা জীবিকা অর্জনের সুযোগও পেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের বাবা তাঁদের চেহারার পার্থক্য মেনে নিয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপনের কথা বলেছেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কথা, তাঁদের মুখের গড়ন অন্যদের মতো না হলেও তাঁরা নিজেদের গ্রহণ করেন এবং নিজেদের মতো করেই জীবন কাটান। এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবারটির গল্পে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হয়ে ওঠার কাহিনি নয়, বরং মানুষের বাহ্যিক চেহারা নিয়ে তৈরি ধারণা ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরে। ট্রিচার কলিন্স সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও সহায়তার প্রয়োজন তাঁদের উপসর্গের ওপর নির্ভর করে। কারও শ্রবণশক্তির সমস্যা থাকলে শ্রবণসহায়ক যন্ত্র বা বিশেষজ্ঞের সহায়তা প্রয়োজন হতে পারে। মুখমণ্ডলের হাড়ের গঠনজনিত জটিলতার ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা প্রয়োজন অনুযায়ী অস্ত্রোপচারসহ বিভিন্ন চিকিৎসা বিবেচনা করেন। তবে এই অবস্থার সঙ্গে বসবাস করা মানেই বুদ্ধিবৃত্তিক অক্ষমতা বা স্বাভাবিক জীবনযাপনে অযোগ্যতা নয়। পরিবারটির গল্পও দেখায়, যথাযথ সুযোগ ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা একজন মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। মানুরুং পরিবারের অভিজ্ঞতা তাই কেবল একটি বিরল জিনগত অবস্থার পরিচয় নয়। এটি কুসংস্কার, বাহ্যিক চেহারা নিয়ে বিদ্রূপ এবং সামাজিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান গড়ে তোলার গল্প। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য যেখানে তাঁদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ব্যাখ্যা দেয়, সেখানে পরিবারের সদস্যদের নিজস্ব উদ্যোগ তাঁদের পরিচিতি ও জীবিকার নতুন পথ তৈরি করেছে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথের মেডলাইনপ্লাস।
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা। কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি। আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে। কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।
যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা আয়ের কর্মসূচির (এসএসআই) আওতায় অর্থ পাওয়া ব্যক্তিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা আসছে বুধবার। ২০২৭ সালে এসব ভাতা কতটা বাড়বে, তা নির্ধারণে প্রয়োজনীয় মূল্যস্ফীতির সর্বশেষ তথ্য প্রকাশ করা হবে ওই দিন। এরপর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয় বা ‘কোলা’ (সিওএলএ) সম্পর্কে চূড়ান্ত ঘোষণা আসার কথা। পূর্বাভাস অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা প্রায় ৭৫ ডলার পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এই অঙ্ক এখনো চূড়ান্ত নয়; সরকারি ঘোষণার আগে এটিকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখতে হবে। চলতি ২০২৬ সালে সামাজিক নিরাপত্তা ও এসএসআই ভাতা ২ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৭ সালের জন্য বিভিন্ন পূর্বাভাসে এর চেয়ে বেশি বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখানো হচ্ছে। প্রবীণদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করা সংস্থা সিনিয়র সিটিজেনস লিগের সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে সম্ভাব্য বৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন এএআরপি ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব দিয়েছে। ফলে শেষ পর্যন্ত সরকারি হিসাবে কত শতাংশ বাড়বে, তা জানতে বুধবারের ঘোষণার দিকে তাকিয়ে আছেন সুবিধাভোগীরা। এএআরপির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে অবসরপ্রাপ্তদের গড় মাসিক সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ছিল ২ হাজার ৮৬ ডলার। এই অঙ্কের ওপর ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি কার্যকর হলে মাসে প্রায় ৭৫ ডলার বেশি পাওয়া যেতে পারে। সে হিসাবে গড় মাসিক ভাতা দাঁড়াতে পারে প্রায় ২ হাজার ১৬১ ডলারে। তবে এটি কেবল পূর্বাভাসের ভিত্তিতে করা হিসাব। প্রত্যেক সুবিধাভোগী একই পরিমাণ অর্থ পাবেন না। কারও বর্তমান ভাতার পরিমাণ বেশি বা কম হলে তাঁর বাড়তি অর্থের অঙ্কও আলাদা হবে। বার্ষিক এই বৃদ্ধি নির্ধারণের মূল ভিত্তি হলো মূল্যস্ফীতি। সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন শহরাঞ্চলের মজুরিভোগী ও কেরানি কর্মীদের ভোক্তা মূল্যসূচক—সিপিআই-ডব্লিউ—ব্যবহার করে জীবনযাত্রার ব্যয় সমন্বয়ের হার হিসাব করে। সাধারণত জুলাই, আগস্ট ও সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসের সূচকের গড়ের সঙ্গে আগের বছরের একই সময়ের গড় তুলনা করা হয়। সেই তুলনা থেকেই বোঝা যায়, এক বছরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার দাম কতটা বেড়েছে এবং ভাতা কত শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন। এবারের হিসাবের জন্য সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের ভোক্তা মূল্যসূচক প্রকাশ করার কথা। এই তথ্য প্রকাশের পর ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির চূড়ান্ত হার নির্ধারণের পথ পরিষ্কার হবে। ভাতা বৃদ্ধির পূর্বাভাসে জ্বালানি ও তেলের দামের প্রভাবও রয়েছে। এসব খাতে ব্যয় বাড়লে পরিবহনসহ অন্যান্য পণ্য ও সেবার দামেও চাপ তৈরি হতে পারে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মূল্যস্ফীতির গতি কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এ কারণে সিনিয়র সিটিজেনস লিগ তাদের পূর্বাভাস জুলাইয়ের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে সেপ্টেম্বরে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ করেছে। অন্যদিকে, এএআরপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের অনুমান বলছে, ভাতা বৃদ্ধির হার গত বছরের তুলনায় বেশি হতে পারে। বুধবারের সরকারি হিসাব প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পূর্বাভাসকেই চূড়ান্ত ধরে নেওয়া যাবে না। সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বাড়লেও সুবিধাভোগীদের হাতে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা বেশি থাকবে, তা নির্ভর করতে পারে অন্য খরচের ওপরও। বিশেষ করে মেডিকেয়ারের পার্ট বি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের মাসিক প্রিমিয়াম সাধারণত সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা থেকেই কেটে নেওয়া হয়। ২০২৭ সালের মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়ামের পরিমাণ সাধারণত নভেম্বরে ঘোষণা করা হয়। তাই ভাতা বাড়ার পরও প্রিমিয়াম বৃদ্ধি পেলে সেই বাড়তি অর্থের একটি অংশ স্বাস্থ্যবিমার খরচ মেটাতে চলে যেতে পারে। সুবিধাভোগীদের জন্য শুধু ঘোষিত বৃদ্ধির হার নয়, সব ধরনের কর্তনের পর হাতে কত অর্থ থাকবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। ভাতা বাড়ানোর জন্য সুবিধাভোগীদের আলাদা করে আবেদন করতে হবে না। চূড়ান্ত হার ঘোষণা হওয়ার পর সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসন যোগ্য ব্যক্তিদের ভাতার সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন অঙ্ক যুক্ত করবে। নতুন ভাতার পরিমাণ জানিয়ে সুবিধাভোগীদের নোটিশও পাঠানো হবে। ফলে যাঁরা নিয়মিত সামাজিক নিরাপত্তা বা এসএসআইয়ের অর্থ পান, তাঁদের ঘোষণার পর নিজেদের নতুন ভাতার হিসাব ও নোটিশের দিকে নজর রাখা উচিত। নতুন হারে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে পাওয়া শুরু হবে। সাধারণ নিয়মে সুবিধাভোগীর জন্মতারিখ অনুযায়ী মাসের দ্বিতীয়, তৃতীয় অথবা চতুর্থ বুধবার অর্থ পাঠানো হয়। তবে যাঁরা ১৯৯৭ সালের মে মাসের আগে থেকে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা পাচ্ছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে সাধারণত মাসের ৩ তারিখে অর্থ দেওয়া হয়। যাঁরা একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও এসএসআইয়ের অর্থ পান, তাঁদের ক্ষেত্রেও এই তারিখ প্রযোজ্য হতে পারে। এসএসআইয়ের অর্থ সাধারণত প্রতি মাসের প্রথম দিনে পাঠানো হয়। তবে ২০২৭ সালের জানুয়ারির অর্থ আগেই, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পাঠানো হবে। কারণ ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল ছুটি। এ কারণে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক হিসাব বা অর্থ গ্রহণের ব্যবস্থা অনুযায়ী আগাম জমা হওয়া অর্থের বিষয়টি খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের ভাতা বৃদ্ধির হার অবসরপ্রাপ্ত ও সীমিত আয়ের মানুষের মাসিক বাজেটে প্রভাব ফেলতে পারে। সম্ভাব্য ৩ দশমিক ৫ থেকে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধির হিসাব অনুযায়ী গড় অবসরভাতায় মাসে প্রায় ৭৩ থেকে ৭৫ ডলার যোগ হতে পারে। তবে প্রকৃত অঙ্ক নির্ভর করবে বুধবার প্রকাশিত মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের চূড়ান্ত ঘোষণার ওপর। তাই আপাতত এই বাড়তি অর্থকে নিশ্চিত আয় হিসেবে ধরে নেওয়ার আগে সরকারি ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতে এখন অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে পারেন আবেদনকারীরা। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএসের (USCIS) ‘কেস স্ট্যাটাস অনলাইন’ সেবায় আবেদন জমা পড়েছে কি না, পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের তথ্য এসেছে কি না এবং সিদ্ধান্ত বা কার্ড পাঠানোর বিষয়ে কী আপডেট রয়েছে, তা দেখা যায়। এ জন্য সাধারণত আবেদন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে থাকা ১৩ অক্ষর ও সংখ্যার রিসিট নম্বর প্রয়োজন হয়। সরকারি এই সেবা ব্যবহার করতে আলাদা কোনো ফি লাগে না। ইউএসসিআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, রিসিট নম্বরটি তিনটি ইংরেজি অক্ষর দিয়ে শুরু হয় এবং এর সঙ্গে থাকে ১০টি সংখ্যা। IOE, SRC, LIN, EAC, WAC, NBC ও MSC এরকম বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে নম্বর শুরু হতে পারে। আবেদন বা পিটিশন গ্রহণের পর সংস্থার পাঠানো নোটিশে নম্বরটি পাওয়া যায়। নম্বর লেখার সময় মাঝখানে হাইফেন থাকলে তা বাদ দিতে হবে। আবেদনকারীর উচিত নম্বরটি সঠিকভাবে লিখে সরকারি ওয়েবসাইটেই কেসের অবস্থা যাচাই করা। কেসের অবস্থা দেখতে ইউএসসিআইএসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট https://egov.uscis.gov/casestatus/CaseStatus/Search-এ যেতে হবে। সেখানে নির্ধারিত ঘরে রিসিট নম্বর লিখে ‘Check Status’ বাটনে ক্লিক করলে আবেদনসংক্রান্ত সর্বশেষ প্রকাশিত অবস্থা দেখা যাবে। উদাহরণ হিসেবে, ‘Case Was Received’ দেখালে বোঝায় আবেদনটি গ্রহণ করা হয়েছে। ‘Biometrics Appointment Was Scheduled’ দেখালে বায়োমেট্রিকসের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট নির্ধারণের তথ্য পাওয়া যায়। আর ‘Case Was Approved’ দেখালে সংশ্লিষ্ট আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে জানানো হয়। তবে প্রতিটি আবেদনের ধাপ এক নয়, তাই প্রদর্শিত বার্তাটি মনোযোগ দিয়ে পড়া জরুরি। আরও বিস্তারিত তথ্য ও অনলাইন যোগাযোগের সুবিধা পেতে আবেদনকারীরা MyUSCIS অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারেন। https://my.uscis.gov/ ঠিকানায় গিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি বা প্রবেশ করে নিজের আবেদনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টটি যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। এই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কেসের তথ্য দেখা, কিছু নোটিশ বা বার্তা পাওয়া এবং নির্দিষ্ট অনলাইন সেবা ব্যবহার করা যায়। তবে কোন নোটিশ অনলাইনে পাওয়া যাবে, কী ধরনের আপডেট আসবে এবং কোন সুবিধা ব্যবহার করা যাবে, তা আবেদন ও কেসের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই অ্যাকাউন্ট খুললেই সব চিঠি বা প্রতিটি ধাপের তাৎক্ষণিক তথ্য পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। গ্রিন কার্ড তৈরি হয়ে ডাকযোগে পাঠানো হলে কেস স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা যেতে পারে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, স্ট্যাটাসে কার্ড পাঠানো হয়েছে বলে উল্লেখ থাকলে ডাক বিভাগের ট্র্যাকিং নম্বর পাওয়ার কথা। সেই নম্বর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের ডাক বিভাগ ইউএসপিএসের (USPS) ওয়েবসাইটে কার্ডের সরবরাহের অগ্রগতি দেখা যায়। কার্ড পাঠানোর তথ্য দেখা গেলেও নির্ধারিত সময়ে হাতে না পৌঁছালে ইউএসসিআইএসের ‘ই-রিকোয়েস্ট’ সেবায় ডাকযোগে কার্ড না পাওয়ার বিষয়ে অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে কেসের অবস্থা যাচাই করতে সমস্যা হলে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতর থেকে ইউএসসিআইএসের যোগাযোগকেন্দ্রে ১-৮০০-৩৭৫-৫২৮৩ নম্বরে ফোন করা যায়। শ্রবণ বা বাক্সংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্য টিটিওয়াই নম্বর ১-৮০০-৭৬৭-১৮৩৩। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ স্বয়ংক্রিয় ফোনসেবা ২৪ ঘণ্টা পাওয়া যায়। তবে সরাসরি প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময়সীমা আলাদা এবং সাধারণত সোমবার থেকে শুক্রবার, পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকে যোগাযোগের জন্য ইউএসসিআইএস ২১২-৬২০-৩৪১৮ নম্বরও উল্লেখ করেছে। কেসের অবস্থা দেখা আর আবেদন কত দিনে শেষ হবে, তা জানা এক বিষয় নয়। কোনো আবেদন দীর্ঘদিন একই অবস্থায় থাকলে সংশ্লিষ্ট ফরম ও আবেদনশ্রেণির ভিত্তিতে ইউএসসিআইএসের ‘প্রসেসিং টাইমস’ সেবায় আনুমানিক প্রক্রিয়াকরণ সময় দেখা যেতে পারে। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি দেরি হলে যোগ্য আবেদনকারীরা অনলাইনে কেসসংক্রান্ত অনুসন্ধানও জমা দিতে পারেন। শুধু অনলাইন স্ট্যাটাস দেখে আবেদন অনুমোদিত হবে কি না বা কবে কার্ড হাতে আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। আবেদনকারীদের সতর্ক থাকতে হবে, কারণ রিসিট নম্বর ব্যক্তিগত কেসের তথ্যের সঙ্গে যুক্ত। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নম্বরটি প্রকাশ না করে কেবল সরকারি ওয়েবসাইটে ব্যবহার করাই নিরাপদ। ইউএসসিআইএসের নামে পরিচালিত অননুমোদিত ওয়েবসাইট বা অর্থের বিনিময়ে স্ট্যাটাস দেখানোর প্রস্তাব এড়িয়ে চলা উচিত। আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা, অতিরিক্ত নথির অনুরোধ বা আইনি প্রশ্ন থাকলে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং প্রয়োজন হলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS), Case Status Online ও Contact Center; যুক্তরাষ্ট্র সরকারের USA.gov-এর অভিবাসন কেস স্ট্যাটাস নির্দেশনা।
নিউইয়র্কের কুইন্সের উডসাইড এলাকায় সাশ্রয়ী ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্ট পেতে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ‘৬৫ প্লেস অ্যাপার্টমেন্টস’ নামের নতুন আবাসন প্রকল্পে মাসে ৮৬৯ ডলার থেকে ভাড়ায় থাকার সুযোগ রাখা হয়েছে। পোষা প্রাণী রাখার সুবিধাসহ ভবনটিতে লিফট, নিজস্ব ওয়াশিং মেশিন ও ড্রায়ার, আধুনিক রান্নাঘর এবং ব্যক্তিগত প্যাটিও বা ব্যালকনির মতো সুবিধাও রয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির সরকারি আবাসন আবেদনব্যবস্থা ‘হাউজিং কানেক্ট’-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লটারির মাধ্যমে মোট আটটি অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর। উডসাইডের ৪২-৭৮, ৬৫ প্লেস ঠিকানায় অবস্থিত ভবনটিতে এক ও দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। সরকারি তালিকা অনুযায়ী, আটটি আবাসনের মধ্যে পাঁচটি এক শয়নকক্ষের এবং তিনটি দুই শয়নকক্ষের। পরিবারের বার্ষিক আয়, সদস্যসংখ্যা এবং নির্ধারিত যোগ্যতার ভিত্তিতে আবেদনকারীরা বিভিন্ন ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য বিবেচিত হবেন। এই প্রকল্পের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয়ের সর্বনিম্ন সীমা ৩৮ হাজার ৪৩৫ ডলার এবং সর্বোচ্চ সীমা ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলার। তবে সব আয়সীমা সব ধরনের পরিবারের জন্য প্রযোজ্য নয়। এক শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া মাসে ৮৬৯ ডলার থেকে শুরু। এই ভাড়ার তিনটি অ্যাপার্টমেন্টের জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ৩৮ হাজার ৪৩৫ থেকে ৬১ হাজার ৮০ ডলারের মধ্যে। একই ধরনের আরও দুটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৩৯৯ ডলার, যেখানে পরিবারের বার্ষিক আয়সীমা ৫৬ হাজার ৬০৬ থেকে ৯১ হাজার ৬২০ ডলার। আয়সীমার মধ্যে থাকলেও আবেদনকারীকে পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। দুই শয়নকক্ষের অ্যাপার্টমেন্টের ক্ষেত্রে তিনটি ভিন্ন ভাড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। একটি অ্যাপার্টমেন্টের মাসিক ভাড়া ১ হাজার ৬১১ ডলার এবং এর জন্য পরিবারের বার্ষিক আয়সীমা ৬৮ হাজার ৮১২ থেকে ১ লাখ ৯ হাজার ৯২০ ডলার। অন্য একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ২ হাজার ৮৮২ ডলার, যেখানে আয়সীমা ১ লাখ ১২ হাজার ৩৮৯ থেকে ১ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ ডলার। শেষ অ্যাপার্টমেন্টটির মাসিক ভাড়া ৩ হাজার ডলার এবং এর জন্য পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৫ থেকে ২ লাখ ৩৮ হাজার ১৬০ ডলারের মধ্যে। প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী সর্বোচ্চ আয়ের সীমা পরিবর্তিত হতে পারে। আবাসন প্রকল্পটির অন্যতম আকর্ষণ হলো পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি। নিউইয়র্কের ভাড়াবাসায় পোষা প্রাণী রাখার সুযোগ সব ভবনে সমান নয়, তাই এ সুবিধা অনেক আবেদনকারীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টে নিজস্ব ওয়াশিং মেশিন ও ড্রায়ার, ডিশওয়াশার এবং আধুনিক রান্নাঘরের সরঞ্জাম থাকার কথা জানিয়েছে প্রকল্পের তালিকা। পাশাপাশি রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের স্মার্ট প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ক্যামেরা, আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থা এবং লিফট। কিছু অ্যাপার্টমেন্টে ব্যক্তিগত প্যাটিও বা ব্যালকনিও রয়েছে। ভবনটি নয়তলা উঁচু এবং এর নির্মাণকাজ ২০২৪ সালের নভেম্বরে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছায়। প্রকল্পটির মোট আয়তন প্রায় ২৩ হাজার ৮৬১ বর্গফুট। ভবনটির আশপাশে হাঁটা, দৌড়ানো ও সাইকেল চালানোর পথ রয়েছে অথবা কাছাকাছি এমন পথ ব্যবহারের সুযোগ আছে বলে আবাসন তালিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। উডসাইড এলাকার অবস্থানের কারণে বাসিন্দারা নিউইয়র্কের গণপরিবহন ব্যবস্থার সুবিধাও নিতে পারবেন। তবে যাতায়াতের সুবিধা ও সময় নির্ভর করবে নির্দিষ্ট গন্তব্য এবং ব্যবহৃত পরিবহনের ওপর।, আবেদন করতে আগ্রহীদের প্রথমে নিজেদের পরিবারের মোট বার্ষিক আয় এবং সদস্যসংখ্যা প্রকল্পের নির্ধারিত শর্তের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। পরিবারের সব সদস্যের আয় একত্রে বিবেচনা করা হয়। পাশাপাশি নির্দিষ্ট অ্যাপার্টমেন্টের জন্য সম্পদের সীমাও প্রযোজ্য হতে পারে। সরকারি তালিকায় বলা হয়েছে, যোগ্যতা নির্ধারণের সময় আয়ের নির্দেশিকা পরিবর্তিত হতে পারে এবং সেকশন ৮সহ নির্দিষ্ট ভাড়াসহায়তা পাওয়া আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম আয়ের শর্ত ভিন্ন হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সর্বশেষ শর্তাবলি দেখে নেওয়া জরুরি। আবেদন জমা দেওয়ার জন্য নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট ওয়েবসাইট ব্যবহার করা যাবে। অনলাইনে আবেদন করতে এখানে ক্লিক করুন। যাঁরা ডাকযোগে কাগজের আবেদনপত্র চান, তাঁরা নিজেদের ঠিকানা লেখা ও ডাকটিকিটযুক্ত খাম পাঠাতে পারবেন এই ঠিকানায়: 42-78 65 Place Apartments, C/O Reside Affordable, 349 Keap Street, Brooklyn, NY 11211। আবেদন জমা দেওয়ার আগে পরিবারের তথ্য ও আয়ের হিসাব সঠিকভাবে পূরণ করা গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি পরিবারকে মাত্র একটি আবেদন জমা দিতে হবে। অনলাইনে আবেদন করার পাশাপাশি ডাকযোগে আরেকটি আবেদন পাঠালে একাধিক আবেদন হিসেবে গণ্য হয়ে অযোগ্য হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সরকারি হাউজিং কানেক্ট ব্যবস্থায় আবেদন করতে কোনো আবেদন ফি বা জামানত লাগে না। ফলে আবেদন জমা দেওয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অর্থ দাবি করলে সতর্ক থাকা উচিত। লটারিতে নির্বাচিত হওয়া মানেই সরাসরি অ্যাপার্টমেন্ট পাওয়া নয়; নির্বাচনের পরও আয়, পরিবারের সদস্যসংখ্যা এবং অন্যান্য কাগজপত্র যাচাই করা হবে। আবেদনের শেষ সময় সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬। আগ্রহীদের সময়সীমার আগেই আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ভাড়া, আয়ের সীমা, সম্পদের শর্ত এবং অন্যান্য যোগ্যতার সর্বশেষ তথ্য নিউইয়র্ক সিটির সরকারি হাউজিং কানেক্ট তালিকায় পাওয়া যাবে। সূত্র: নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং কানেক্ট, সিক্রেট এনওয়াইসি।
যুক্তরাষ্ট্রে শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য গড়ে তোলা বিশেষ বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে ২৫০ ডলার করে জমা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন ডেল টেকনোলজিসের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ডেল ও তাঁর স্ত্রী সুসান ডেল। তাঁদের ৬২৫ কোটি ডলারের অনুদানে ২০১৬ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া যোগ্য শিশুদের অ্যাকাউন্টে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশু এই অর্থ পাবে না। পরিবারের বসবাসের এলাকার জিপ কোড, ওই এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয় এবং নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগ্রহী অভিভাবকেরা অনলাইনে জিপ কোড দিয়ে তাঁদের এলাকা এই অনুদানের আওতায় পড়েছে কি না, তা যাচাই করতে পারবেন। শিশুদের জন্য তৈরি এই বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টগুলো ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ নামে পরিচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নাম যুক্ত এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করা। মাইকেল ও সুসান ডেলের অর্থায়নে পরিচালিত অনুদান কর্মসূচির দায়িত্বে রয়েছে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ইনভেস্ট আমেরিকা। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবরের মধ্যে যোগ্য অ্যাকাউন্টগুলোতে ২৫০ ডলারের জমা সম্পন্ন হয়েছে। তবে কোনো শিশুর নামে অ্যাকাউন্ট তৈরি হওয়া মানেই সেখানে ডেল দম্পতির অনুদান জমা হয়েছে, এমন নয়। এই অনুদানের জন্য যোগ্য হতে হলে শিশুর জন্ম ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে হতে হবে। পরিবারের বসবাসের জিপ কোডের মধ্যম পারিবারিক আয় হতে হবে সর্বোচ্চ ১ লাখ ১৭ হাজার ৩০০ ডলার। এই আয়সীমা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সার্ভের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে বলে ইনভেস্ট আমেরিকা জানিয়েছে। এখানে পরিবারের নিজস্ব আয় নয়, সংশ্লিষ্ট জিপ কোডের মধ্যম পারিবারিক আয় বিবেচনা করা হয়। ফলে কোনো পরিবারের আয় ওই সীমার বেশি বা কম হলেই সরাসরি অনুদানের যোগ্যতা নির্ধারিত হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে বসবাসকারী নির্ধারিত বয়সসীমার যোগ্য শিশুরাও স্থানীয় জিপ কোডের আয়সীমা নির্বিশেষে এই অনুদানের আওতায় রয়েছে। ইনভেস্ট আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, অর্থ বরাদ্দের ক্ষেত্রে প্রথমে অপেক্ষাকৃত কম মধ্যম পারিবারিক আয়ের এলাকাগুলোকে বিবেচনা করা হয়। এরপর নির্ধারিত ২ কোটি ৫০ লাখ শিশুর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়া পর্যন্ত যোগ্য এলাকার পরিধি বাড়ানো হয়। তাই শুধু জিপ কোড দিয়ে এলাকা যোগ্য কি না জানা গেলেও, নির্দিষ্ট শিশুর অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করতে অ্যাকাউন্টের তথ্য দেখতে হবে। যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য ইনভেস্ট আমেরিকার নির্ধারিত ওয়েবপেজে যেতে হবে: https://investamerica.org/check-dell-250-eligibility/। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের জিপ কোড লিখে যাচাই করা যাবে সংশ্লিষ্ট এলাকা ডেল দম্পতির অনুদানের আওতায় রয়েছে কি না। এরপর সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে অর্থ জমা হয়েছে কি না দেখতে হবে। অ্যাকাউন্টের তথ্য ও দাবি প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে সরকারি ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস ওয়েবসাইট বা অনুমোদিত অ্যাপ ব্যবহার করা উচিত। অচেনা বার্তা, অননুমোদিত ওয়েবসাইট কিংবা অর্থের বিনিময়ে অনুদান পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। ডেল দম্পতির ২৫০ ডলারের অনুদান যুক্তরাষ্ট্রের সরকারের দেওয়া ১ হাজার ডলারের প্রাথমিক অর্থের থেকে আলাদা। সরকারের এই অর্থ পাওয়ার জন্য সাধারণত ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক শিশুর বৈধ সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর থাকতে হবে এবং অভিভাবক বা যোগ্য ব্যক্তি কর্তৃক নির্ধারিত পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট খোলা ও অর্থ পাওয়ার আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ, এই ১ হাজার ডলারও সব শিশুর অ্যাকাউন্টে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হয় না। দুই কর্মসূচির জন্মসীমা ও যোগ্যতার শর্ত আলাদা, তাই একটি অনুদানের যোগ্যতা দিয়ে অন্যটির যোগ্যতা ধরে নেওয়া যাবে না। ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে অভিভাবক, আত্মীয়স্বজন ও অন্যান্য অনুমোদিত ব্যক্তি নির্ধারিত সীমার মধ্যে অর্থ জমা দিতে পারেন। ইনভেস্ট আমেরিকা ও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, সাধারণ অবদানের বার্ষিক সীমা বর্তমানে ৫ হাজার ডলার। অ্যাকাউন্টের অর্থ নির্দিষ্ট বিনিয়োগ তহবিলে রাখা হয়, তাই এর মূল্য সময়ের সঙ্গে বাড়তেও পারে, কমতেও পারে। ভবিষ্যতে কত অর্থ জমবে, তা নির্ভর করবে জমার পরিমাণ, বিনিয়োগের ফলাফল, খরচ ও সময়ের ওপর। ফলে সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ মূল্যকে নিশ্চিত আর্থিক লাভ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। অ্যাকাউন্টধারী ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে নির্ধারিত নিয়মে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়। শিক্ষা, বাড়ি কেনা বা ব্যবসা শুরু করার মতো যোগ্য খাতে অর্থ ব্যবহারের কথা কর্মসূচির বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। তবে অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে কর এবং অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। শিশু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিভাবক বা নির্ধারিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি অ্যাকাউন্টটির তত্ত্বাবধান করেন। তাই অনুদানের অর্থ পাওয়ার পাশাপাশি অ্যাকাউন্টের বিনিয়োগনীতি, ব্যবহারবিধি ও সম্ভাব্য করের বিষয়গুলোও অভিভাবকদের বুঝে নেওয়া প্রয়োজন। সূত্র: ইনভেস্ট আমেরিকার ডেল অনুদান ও যোগ্যতা যাচাই পেজ; যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব সংস্থা (আইআরএস)।
স্টেথোস্কোপের মতো ছোট একটি যন্ত্র হাতে নিয়ে রোগীর শরীরে আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা করা, আর সেই পরীক্ষার ছবি বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তা পাওয়া। চিকিৎসাপ্রযুক্তির এই ধারণাকে বাস্তবে এগিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান এক্সো। প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. ইউসুফ হক। তাঁর দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসা-ইমেজিং এবং ক্ষুদ্রাকৃতির ইলেকট্রনিক চিপ তৈরিতে। এক্সোর লক্ষ্য, বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রযুক্তির মাধ্যমে হাসপাতালের বাইরে, এমনকি প্রত্যন্ত এলাকাতেও রোগ নির্ণয়ের কিছু সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এক্সোর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইউসুফ হক ও সন্দীপ আকারাজু। বৈঠকে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় প্রতিষ্ঠানটির প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় ইউসুফ হক জানান, প্রথম পর্যায়ে দেশের বড় হাসপাতালগুলোতে যন্ত্রটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতেও এটি পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য তাঁদের। তবে এই ঘোষণা পরিকল্পনার কথা জানায়, বাংলাদেশে যন্ত্রটির ব্যাপক ব্যবহার ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এমনটি নিশ্চিত করে না। এক্সোর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত জীবনী অনুযায়ী, ইউসুফ হক প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা, প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা এবং প্রকৌশল বিভাগের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট। চিকিৎসা সরঞ্জাম ও সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে তাঁর কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫টি পেটেন্টের সহ-স্বত্বাধিকারী এবং ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পিএইচডি করেছেন কানাডার কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পরে যুক্তরাষ্ট্রের সান্তা ক্লারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনা ও পণ্য উন্নয়নেও তিনি কাজ করেছেন। এক্সো প্রতিষ্ঠার আগে ইউসুফ হক স্লাইসএক্স বা ক্রেস্ট সেমিকন্ডাক্টরসের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠানটি দাঁতের ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। এরও আগে দুই দশকের বেশি সময় তিনি ম্যাক্সিম ইন্টিগ্রেটেড প্রোডাক্টসে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কাজ করেন। ওই সময়ে তাঁর কাজের মধ্যে ছিল ডিজিটাল এক্স-রে ইমেজিংয়ের চিপসেট, রক্তে গ্লুকোজ পরিমাপের যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপ, চিকিৎসা-আল্ট্রাসাউন্ডের ইলেকট্রনিক উপাদান এবং গাড়ির স্বয়ংক্রিয় পার্কিং ব্যবস্থায় ব্যবহৃত অতিস্বনক প্রযুক্তি। এক্সোর প্রোফাইল অনুযায়ী, বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হওয়া ৩০টিরও বেশি সমন্বিত সার্কিট পণ্য নকশায় তাঁর ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি দুই দশক ধরে আইইইইর বিভিন্ন কারিগরি কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২০১৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার রেডউড সিটিতে ইউসুফ হক, সন্দীপ আকারাজু, জানুস ব্রাইজেক ও জন কোকুলিস মিলে এক্সো ইমেজিং প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসা-ইমেজিং প্রযুক্তিকে আরও সহজে বহনযোগ্য ও ব্যবহারযোগ্য করার ওপর গুরুত্ব দেয়। তাদের তৈরি এক্সো আইরিস একটি হাতে বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড প্রোব। প্রচলিত বড় আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্রের তুলনায় এটি আকারে ছোট এবং রোগীর কাছাকাছি গিয়ে পরীক্ষা করার জন্য নকশা করা হয়েছে। যন্ত্রটির সঙ্গে যুক্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সফটওয়্যার পরীক্ষার সময় চিকিৎসককে ছবির মান ও প্রয়োজনীয় দৃশ্য ধারণে সহায়তা করে। এই ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো সুইপএআই। এক্সোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এটি যন্ত্রের ভেতরেই কাজ করতে পারে এবং হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষার সময় ছবির মান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেয়। প্রোবটি শরীরের ওপর দিয়ে চালানোর সময় সফটওয়্যার উপযুক্ত ছবি শনাক্ত করতে এবং পর্যাপ্ত তথ্য ধারণ হয়েছে কি না তা বুঝতে সহায়তা করে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরীক্ষার জন্য ক্লাউড বা ইন্টারনেট সংযোগের ওপর নির্ভর করতে হয় না। তবে এর অর্থ এই নয় যে যন্ত্রটি নিজে থেকেই সব রোগের চূড়ান্ত নির্ণয় করে ফেলে। এটি চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীকে সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার একটি প্রযুক্তি। এক্সোর প্রযুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার শুধু ছবি তোলার মান যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, আইরিসে হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণে সহায়ক এআই ব্যবস্থা যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে হৃদ্যন্ত্রের কার্যকারিতা মূল্যায়ন এবং ফুসফুসের চারপাশে তরল জমা বা ফুসফুসের কিছু অংশে অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো বিষয় শনাক্ত করতে সহায়তা করা অন্তর্ভুক্ত। এসব তথ্য চিকিৎসকের জন্য প্রাথমিক মূল্যায়নে কাজে লাগতে পারে, তবে রোগীর উপসর্গ, অন্যান্য পরীক্ষার ফল এবং চিকিৎসকের সামগ্রিক মূল্যায়নের বিকল্প নয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক্সো সুইপএআই চালুর ঘোষণা দেয়। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) অনুমোদনপ্রাপ্ত ব্যবহারের আওতায় হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষায় এই প্রযুক্তি সহায়তা করে। পরে ২০২৫ সালের এপ্রিলে ফুসফুসে তরল জমা এবং ফুসফুসের টিস্যুতে ঘনত্ব বা ধসের মতো পরিবর্তন শনাক্তে সহায়ক এআই ব্যবস্থার জন্য এফডিএর ৫১০(কে) ছাড়পত্রের তথ্য প্রকাশিত হয়। একই বছরের জুনে এক্সো ফুসফুসের এসব বৈশিষ্ট্য শনাক্তে প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আরও তথ্য জানায়। এ ধরনের নিয়ন্ত্রক ছাড়পত্র নির্দিষ্ট ব্যবহার ও নির্দিষ্ট প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, সব রোগ শনাক্ত করার সামগ্রিক অনুমোদন হিসেবে একে দেখা ঠিক নয়। বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যসেবার একটি বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত। বড় শহরের বাইরে অনেক এলাকায় উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র, প্রশিক্ষিত কর্মী ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সুযোগ সীমিত। রোগীকে পরীক্ষা করাতে দূরের হাসপাতালে যেতে হলে সময় ও অর্থ দুটিই বেশি লাগে। বহনযোগ্য আল্ট্রাসাউন্ড যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের রোগীর কাছাকাছি গিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা করতে সহায়তা করতে পারে। তবে বাস্তবে এর সুফল পেতে যন্ত্রের দাম, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, মান নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসা-তথ্যের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজন হলে রোগীকে উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পাঠানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এক্সোর প্রধান নির্বাহী সন্দীপ আকারাজু ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের বৈঠকে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পর এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে প্রযুক্তিটি চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রাথমিক লক্ষ্য বড় হাসপাতাল হলেও ভবিষ্যতে গ্রামীণ ও কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এর ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ ধরনের উদ্যোগ সফল হলে দূরবর্তী এলাকায় প্রাথমিক পরীক্ষা সহজ হতে পারে। তবে কোন হাসপাতাল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে, কতটি যন্ত্র আনা হবে, এর মূল্য কত হবে এবং সাধারণ রোগীরা কখন থেকে সেবা পাবেন, সে বিষয়ে ঘোষণার সময় বিস্তারিত সময়সূচি জানানো হয়নি। ইউসুফ হকের কর্মজীবন দেখায়, চিকিৎসা-প্রযুক্তির উন্নয়নে শুধু চিকিৎসাবিদ্যা নয়, ইলেকট্রনিকস, চিপ নকশা, সফটওয়্যার ও প্রকৌশলের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নেতৃত্বে এক্সো যে প্রযুক্তি তৈরি করছে, তা রোগ নির্ণয়ের কিছু ধাপকে সহজ ও দ্রুত করার সম্ভাবনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এর ব্যবহার কতটা বিস্তৃত হবে, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়ন, ব্যয়, প্রশিক্ষণ এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার সঙ্গে প্রযুক্তিটির কার্যকর সংযোগের ওপর। আপাতত প্রতিষ্ঠানটির ঘোষিত পরিকল্পনা দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বহনযোগ্য ও এআই-সহায়ক পরীক্ষাপদ্ধতি যুক্ত করার একটি সম্ভাব্য পথ সামনে এনেছে। সূত্র: এক্সোর অফিসিয়াল প্রোফাইল ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রকাশনা; বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এর প্রতিবেদন।
নিউইয়র্কের কুইন্সে স্কুটার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ১৭ বছর বয়সী এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও অবৈধভাবে অস্ত্র রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৮ সেপ্টেম্বর রকওয়েজ এলাকায় মালাকি অ্যাডামস নামের ওই কিশোরকে গুলি করা হয়। এরপর তার স্কুটার নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় হামলাকারী বলে তদন্তকারীদের ধারণা। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে বিচ চ্যানেল ড্রাইভের কাছে বিচ ৫১ স্ট্রিটসংলগ্ন ওশান বে অ্যাপার্টমেন্টস এলাকায় মালাকির মুখোমুখি হয় সন্দেহভাজন। ঘটনাস্থলটি কুইন্সের রকওয়েজ এলাকায় অবস্থিত। পুলিশের সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্কুটারটি ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় মালাকি বাধা দেয়। এ সময় তাকে গুলি করা হয়। পরে তার বুক লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে স্কুটারটি নিয়ে চলে যায় হামলাকারী বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার সময় কাছাকাছি থাকা এক নারী গুলির শব্দ শুনেছেন বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন। ওশান বে অ্যাপার্টমেন্টসের ওই বাসিন্দা বলেন, তিনি দুটি গুলির শব্দ শুনেছিলেন। পরে বাস্কেটবল কোর্টের পাশের হাঁটার পথে কিশোরটিকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনাটি আবাসিক ভবনের কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছিল। এ ঘটনায় আশপাশের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। গুলিবিদ্ধ মালাকিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে কহেন চিলড্রেনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পরদিন নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ সন্দেহভাজনের একটি ছবি প্রকাশ করে এবং তাকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহায়তা চায়। কয়েক দিন তদন্ত চালানোর পর মঙ্গলবার ১৭ বছর বয়সী ওই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মালাকির মৃত্যুর পর শোক প্রকাশ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। নিহত কিশোরের খালা অ্যাশলি অ্যাডামস বলেন, মালাকি অন্য শিশু-কিশোরদের মতোই প্রাণবন্ত ছিল। পরিবারের সবাই তার মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত এবং পরিস্থিতি সামলে ওঠার চেষ্টা করছেন। অল্প বয়সে পরিবারের একজন সদস্যকে হারানোর এই ঘটনায় স্বজনেরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান তিনি। ঘটনাটি আবারও নিউইয়র্কে কিশোরদের নিরাপত্তা এবং ছিনতাইয়ের সময় সহিংসতার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ সামনে এনেছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার সব দিক নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। গ্রেপ্তার হওয়া ১৭ বছর বয়সী সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না। পুলিশি তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ সামনে আসবে। সূত্র: নিউইয়র্ক ডেইলি নিউজ, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি)।
রাজনীতি
‘জান্নাতি দাদু’ বলে জামায়াত আমিরকে রাশেদের কটাক্ষ, মিরপুরে উচ্ছেদ ঘিরে উত্তাপ
তারেক-মোদির বৈঠক হবে ‘১২০ শতাংশ নিশ্চিত’, বললেন দীনেশ ত্রিবেদী
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নিয়ে কটাক্ষ, এনসিপির ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টার
১০০ কোটি টাকা জামায়াতের থেকে নিয়ে জাতীয় নির্বাচন করেছে এনসিপি: রাশেদ খাঁন
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreজন্ম থেকেই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা। তবে সেই সীমাবদ্ধতা ব্রাজিলের ২৪ বছর বয়সী মারিয়া ভিটোরিয়া গোমেস দা সিলভার আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন থামাতে পারেনি। সহায়ক প্রযুক্তির সাহায্যে পড়াশোনা করে প্রথমবারেই আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি দেশটির গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি থেকে পেশাগত সনদও পেয়েছেন মারিয়া। তার এই অর্জন নতুন করে সামনে এনেছে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ এবং পেশাগত জীবনে অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব। মারিয়া ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের গোইয়ানেশিয়া শহরের বাসিন্দা। জন্মগত গ্লুকোমার কারণে জন্ম থেকেই তার দৃষ্টিশক্তি নেই। ছোটবেলায় তিনি ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়তে শেখেন। এরপর সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি একটি পুলিশ স্টেশন এবং গোইয়াস রাজ্যের সরকারি কৌঁসুলির দপ্তরে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করেন। এসব অভিজ্ঞতা তার আইন পেশায় প্রবেশের প্রস্তুতিকে আরও সমৃদ্ধ করে। গত ডিসেম্বরে স্নাতক সম্পন্ন করার পর তিনি আইনজীবী হওয়ার পরীক্ষায় অংশ নেন। ব্রাজিলে আইন বিষয়ে স্নাতক হলেই সরাসরি আইনজীবী হিসেবে কাজ করা যায় না। পেশাগত নিবন্ধন পেতে দেশটির আইনজীবী সমিতি, ওএবির আয়োজিত পরীক্ষা পাস করতে হয়। এই পরীক্ষায় দুটি ধাপ রয়েছে। মারিয়া প্রথমবার অংশ নিয়েই দুই ধাপ অতিক্রম করেন। পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় তিনি পর্দার লেখা পড়ে শোনায় এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করেন, যা কম্পিউটার বা মুঠোফোনে প্রদর্শিত লেখা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে শোনায়। এ ধরনের প্রযুক্তির সাহায্যে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা বই, নথি, অনলাইন পাঠ্যসামগ্রী ও পরীক্ষার প্রস্তুতির উপকরণ আরও স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে মারিয়া ফৌজদারি আইন বেছে নেন। সেখানে তাকে একটি মামলায় আসামিপক্ষের জবাব প্রস্তুত করার মতো ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন তিনি। আইনজীবী সমিতির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, একই পরীক্ষায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরেক তরুণী লরা সোয়ারেস ফেরেইরাও প্রথম চেষ্টায় উত্তীর্ণ হন। লরার দৃষ্টিশক্তি কম এবং পরীক্ষায় তিনি পাঠক ও লিখন-সহায়তাকারীর সহযোগিতা নেন। দুই তরুণীই দ্বিতীয় ধাপে ফৌজদারি আইন বেছে নিয়েছিলেন এবং একই ধরনের ব্যবহারিক প্রশ্নের উত্তর দেন। গত ২৮ সেপ্টেম্বর গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মারিয়া ও লরা আনুষ্ঠানিক শপথ নেন এবং পেশাগত পরিচয়পত্র গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে তাদের স্বাগত জানান সমিতির সভাপতি রাফায়েল লারা মার্তিন্স। তিনি নতুন আইনজীবীদের পেশাগত বিকাশ এবং অধিকার সুরক্ষায় সমিতির সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই অনুষ্ঠানে পরিচয় হওয়ার আগে দুই তরুণীর মধ্যে ব্যক্তিগত পরিচয় ছিল না। কিন্তু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা, প্রথমবারেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং ফৌজদারি আইন বেছে নেওয়ার মতো একাধিক মিল তাদের অভিজ্ঞতাকে কাছাকাছি নিয়ে আসে। আইনজীবী হিসেবে এখন মারিয়ার সামনে নতুন অধ্যায়। তিনি ফৌজদারি ও দেওয়ানি, দুই ধরনের মামলায় কাজ করার পরিকল্পনা করছেন। তার অর্জন দেখিয়েছে, উপযুক্ত সহায়ক প্রযুক্তি ও প্রবেশগম্য শিক্ষার সুযোগ থাকলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও জটিল পেশাগত পরীক্ষায় নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে পারেন। তবে এ ধরনের সাফল্য নিশ্চিত করতে শুধু ব্যক্তিগত অধ্যবসায়ই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পেশাগত সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা। পরীক্ষায় প্রবেশগম্য উপকরণ, উপযুক্ত প্রযুক্তি এবং সহায়তার ব্যবস্থা থাকলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পেশাগত ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের পথ আরও সহজ হতে পারে। সূত্র: ব্রাজিলের গোইয়াস অঙ্গরাজ্যের আইনজীবী সমিতি (ওএবি-জিও), মাইস গোইয়াস।
ফিলিপাইনের পাহাড়ি অঞ্চল আপায়াওয়ের দুই বছর বয়সী শিশু জারেন গামোগানের শরীরে জন্ম থেকেই অস্বাভাবিকভাবে ঘন লোম। মাথাভর্তি চুলের পাশাপাশি তার মুখ, গলা, পিঠ ও হাতের বিভিন্ন অংশেও কালো লোম রয়েছে। সন্তানের এমন শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রথমে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তার মা আলমা। একপর্যায়ে তিনি ধারণা করেন, গর্ভাবস্থায় বন্য বিড়াল খাওয়ার কারণেই হয়তো ছেলের এমন অবস্থা হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর কথায় সেই আশঙ্কা আরও বাড়ে। তবে পরে চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটির এই অবস্থার সঙ্গে মায়ের ওই খাবার খাওয়ার কোনো সম্পর্ক নেই বলে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। আলমার ভাষ্য অনুযায়ী, জারেনের জন্মের আগে গর্ভাবস্থায় তার বন্য বিড়ালের মাংস খাওয়ার প্রতি অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছিল। স্থানীয় এলাকায় এটি একটি পরিচিত খাবার হিসেবে বিবেচিত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একসময় গ্রামের কয়েকজন পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে কালো রঙের একটি বন্য বিড়াল খুঁজতে যান তিনি। পরে সেটি ভেষজ উপাদান দিয়ে রান্না করে খান। কিন্তু সন্তান জন্মের পর জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম দেখে তিনি নিজের ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শিশুটির শারীরিক অবস্থার সম্পর্ক খুঁজতে থাকেন। প্রতিবেশীদের কেউ কেউ বিষয়টিকে অভিশাপের সঙ্গে যুক্ত করলেও আলমা কুসংস্কারের ওপর নির্ভর না করে ছেলেকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। চিকিৎসকেরা জারেনের শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানোর কারণ হিসেবে হাইপারট্রাইকোসিস নামের একটি বিরল শারীরিক অবস্থার কথা জানান। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ অবস্থায় শরীরের এমন সব অংশে অতিরিক্ত লোম গজাতে পারে, যেখানে সাধারণত এত ঘন লোম থাকে না। এটি জন্মগত হতে পারে, আবার জীবনের পরবর্তী সময়েও দেখা দিতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে কোনো ব্যক্তির ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা দেয়, তা নির্ভর করে এর ধরন ও সংশ্লিষ্ট কারণের ওপর। জারেনের ক্ষেত্রে রোগটির নির্দিষ্ট ধরন বা জিনগত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনগুলোতে রোগটি অত্যন্ত বিরল বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যদিও ‘প্রতি এক শ কোটি মানুষের মধ্যে একজন’ আক্রান্ত হওয়ার হিসাবটির নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক পরিসংখ্যানগত ভিত্তি স্পষ্ট নয়। জারেন তিন ভাইবোনের মধ্যে মাঝের সন্তান। তার মা জানিয়েছেন, ছেলেটি হাসিখুশি ও খেলাধুলাপ্রিয়। তবে ভবিষ্যতে স্কুলে ভর্তি হলে অন্য শিশুদের আচরণ নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। শারীরিক গঠনে পার্থক্যের কারণে জারেনকে যেন কেউ উপহাস বা হয়রানি না করে, সেটিই এখন তার মায়ের বড় চিন্তা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, হাইপারট্রাইকোসিসের চিকিৎসা নির্ভর করে এর ধরন ও কারণের ওপর। কিছু ক্ষেত্রে লোম কমানোর বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা যায়, তবে সব ধরনের ক্ষেত্রে একই চিকিৎসা কার্যকর হয় না। জারেনের চিকিৎসা বা ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্যও প্রকাশিত প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। জারেনকে নিয়ে সংবাদটি ২০২৪ সালেও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। ফলে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে ঘটনাটি আবার সামনে এলেও একে সাম্প্রতিক কোনো জন্ম বা নতুন রোগনির্ণয়ের ঘটনা হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গর্ভাবস্থায় কোনো নির্দিষ্ট খাবার খাওয়ার কারণে হাইপারট্রাইকোসিস হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। শিশুটির অবস্থা সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা এবং তার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করাই গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: LADbible, ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক
সাশ্রয়ী খরচে মুখের গড়নে নারীত্বের ছাপ আনতে চেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রান্সজেন্ডার নারী রাজি নারিনসিংহ। কিন্তু লাইসেন্সধারী চিকিৎসকের পরিবর্তে কম খরচে সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পর তাঁর মুখে দেখা দেয় গুরুতর বিকৃতি। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ইনজেকশনে ব্যবহার করা হয়েছিল সিমেন্ট, খনিজ তেল এবং গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতে ব্যবহৃত এক ধরনের পদার্থ। পরে ক্ষতস্থান বন্ধ করতে ব্যবহার করা হয় সুপার গ্লু। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার। ২০০৫ সালের দিকে মুখের গড়ন পরিবর্তনের আশায় নারিনসিংহ ওনিল রন মরিসের কাছে যান। পরিচিতজনদের মাধ্যমে মরিসের কথা জানতে পেরেছিলেন তিনি। পেশাদার প্লাস্টিক সার্জনের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার মতো অর্থ তাঁর হাতে ছিল না। কম খরচে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনার আশায় তিনি মরিসের কাছে ইনজেকশন নেন। তবে পরে জানা যায়, যে পদার্থকে তিনি নিরাপদ সৌন্দর্যবর্ধক উপাদান বলে মনে করেছিলেন, তা আসলে চিকিৎসায় ব্যবহারের উপযোগী ছিল না। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ ও সিবিএস মায়ামির পুরোনো প্রতিবেদন অনুযায়ী, মরিস দক্ষিণ ফ্লোরিডার বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যক্তিগত স্থানে লাইসেন্স ছাড়াই সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশন দিতেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর কাছে যাওয়া কয়েকজনের ধারণা ছিল, তাঁদের শরীরে সিলিকনজাতীয় উপাদান প্রবেশ করানো হচ্ছে। কিন্তু তদন্তকারীরা জানান, কিছু ক্ষেত্রে ব্যবহৃত মিশ্রণে সিমেন্ট, খনিজ তেল, গাড়ির চাকার ছিদ্র মেরামতের পদার্থ এবং আঠার মতো উপাদান ছিল। ইনজেকশনের পর নারিনসিংহের মুখে দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন দেখা দেয়। গালের বিভিন্ন অংশ ফুলে ওঠে, ত্বকের নিচে শক্ত পিণ্ড তৈরি হয় এবং থুতনি ও ঠোঁটের স্বাভাবিক গড়নও বদলে যায়। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মুখের ভেতরে শক্ত হয়ে যাওয়া উপাদান সরানো ও ক্ষতিগ্রস্ত অংশের চিকিৎসা আরও জটিল হয়ে ওঠে। পরে তিনি লাইসেন্সধারী প্লাস্টিক সার্জনের সাহায্য নেন। নারিনসিংহের মুখের ক্ষতি সংশোধনে একাধিক ধাপে চিকিৎসা করতে হয়। তাঁর মুখে জমাট বেঁধে যাওয়া পদার্থের কিছু অংশ অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে বের করা হয়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, একটি অস্ত্রোপচারে গলফ বলের কাছাকাছি আকারের সিমেন্টের মতো শক্ত পিণ্ড সরানো সম্ভব হয়েছিল। তবে এ ধরনের পদার্থ শরীরের ভেতরে প্রবেশ করানোর পর তা সম্পূর্ণভাবে সরানো বা আগের গড়ন ফিরিয়ে আনা সহজ নয়। পরবর্তী সময়ে নারিনসিংহের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘বটচড’-এও তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানটিতে জটিলতা তৈরি হওয়া সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার পর রোগীদের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা দেখানো হয়। নারিনসিংহের ঘটনা আলোচনায় আসে মূলত মুখে জমে থাকা শক্ত পদার্থ অপসারণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত গড়ন সংশোধনের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার প্রাথমিক খরচ কম হলেও অনিরাপদ পদ্ধতির পরিণতি সামলাতে অনেক বেশি অর্থ, সময় ও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। যে ইনজেকশনের জন্য কয়েকশ ডলার খরচ হয়েছিল, তার পরবর্তী জটিলতা সংশোধনের জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ও একাধিক অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন দেখা দেয়। এ ক্ষেত্রে শুধু বাহ্যিক পরিবর্তন নয়, শরীরের টিস্যুতে অপরিচিত পদার্থের প্রভাব এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার ঝুঁকিও গুরুত্বপূর্ণ। মরিসের বিরুদ্ধে লাইসেন্স ছাড়া চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছিল। সিবিএস নিউজের ২০১১ ও ২০১২ সালের প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়, তাঁর কাছ থেকে ইনজেকশন নেওয়া একাধিক ব্যক্তি শারীরিক জটিলতার কথা সামনে আনেন। তাঁদের কয়েকজনের চিকিৎসার প্রয়োজন হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর সংক্রমণ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকির কথাও উঠে আসে। তবে প্রত্যেক রোগীর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পদার্থ ও ক্ষতির ধরন একই ছিল, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের ঘটনা বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ সৌন্দর্যবর্ধক ইনজেকশনে কী উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে, তা রোগী অনেক সময় নিশ্চিতভাবে জানতে পারেন না। চিকিৎসকের যোগ্যতা ও অনুমোদন যাচাই না করে কেবল পরিচিতজনের সুপারিশ বা কম খরচের প্রলোভনে সিদ্ধান্ত নিলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। শরীরে প্রবেশ করানোর জন্য অনুমোদিত নয়, এমন রাসায়নিক বা শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত পদার্থ টিস্যুর ক্ষতি, সংক্রমণ, বিকৃতি এবং দীর্ঘমেয়াদি জটিলতা তৈরি করতে পারে। নারিনসিংহের ঘটনাটি তাই শুধু একটি ব্যর্থ সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসার কাহিনি নয়; এটি অননুমোদিত চিকিৎসাসেবা ও অজানা উপাদান ব্যবহারের ঝুঁকিও সামনে আনে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, চিকিৎসাসেবাদাতার লাইসেন্স যাচাই করা এবং ইনজেকশনে ব্যবহৃত উপাদান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য জানা জরুরি। কাঙ্ক্ষিত বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে রোগীর নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই এ ধরনের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সূত্র: সিবিএস নিউজ, সিবিএস মায়ামি ও আপসোকল (Upsocl)।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও শিক্ষার্থী ভিসা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাকিস্তানের এক মেধাবী শিক্ষার্থী ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে ৯৩ লাখ রুপি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর ২৪ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের স্বর্ণপদকজয়ী লাইবা এজাজের মৃত্যু ঘিরে দেশটিতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। দেশটির পুলিশ ও ফেডারেল তদন্ত সংস্থা (এফআইএ) প্রতারণার অভিযোগ এবং শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের সারগোধার বাসিন্দা লাইবা এজাজের মরদেহ গত ৯ অক্টোবর রাজধানী ইসলামাবাদের জি-১০ এলাকার একটি সাপ্তাহিক বাজারসংলগ্ন স্থান থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাটিকে প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে তদন্ত করছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, তাঁর মৃত্যুর আগে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার জন্য দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ ও এর সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগের সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত চলছে। দ্য মিডিয়া লাইনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, লাইবা ও তাঁর পরিবারকে হার্ভার্ডে ভর্তি, বৃত্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিশ্চিত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মুহাম্মদ নওমান নামের এক ব্যক্তি। পরিবারের অভিযোগ, নওমান ও তাঁর এক সহযোগী ফাতিমা সরওয়ার মিলে ভুয়া ভর্তি-সংক্রান্ত চিঠি, বৃত্তির কাগজপত্র এবং অর্থ পরিশোধের রসিদ সরবরাহ করেন। এসব নথির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর পরিবারটি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নথিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করতে পারেনি। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, পরিবারের কাছ থেকে নেওয়া ৯৩ লাখ পাকিস্তানি রুপির মধ্যে ২৯ লাখ রুপি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে লেনদেন করা হয়েছিল। বাকি অর্থ নগদে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মূল্য বিনিময় হার অনুযায়ী উল্লেখযোগ্য অঙ্কের। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, লাইবার যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তাঁদের সঞ্চয় ও সম্পদ ব্যয় করতে হয়েছিল। জাল কাগজপত্রের বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি গভীর মানসিক চাপে পড়েছিলেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। লাইবা ইসলামাবাদের আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং স্বর্ণপদক পান। ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে চেয়েছিলেন। তাঁর পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পড়াশোনার সুযোগ খুঁজতে গিয়ে তিনি শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা নওমানের সঙ্গে পরিচিত হন। নওমান দাবি করেছিলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বৃত্তি ও ভিসার ব্যবস্থা করতে পারবেন। কিন্তু পরে তাঁর দেওয়া নথি নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে পুরো পরিকল্পনাটি ভেঙে পড়ে। লাইবার পরিবারের আর্থিক ত্যাগের বিষয়টিও ঘটনাটিকে আরও আলোচনায় এনেছে। তাঁর বাবা ১৯৯৪ সাল থেকে ইসলামাবাদের রাস্তায় দুধ ও দই বিক্রি করে সংসার চালান। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে না পারলেও চার মেয়ের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। লাইবা ছিলেন সাত সন্তানের মধ্যে সবার ছোট। তাঁর বড় বোন চীনে বৃত্তি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন এবং বর্তমানে লাহোরে একটি বড় চীনা প্রতিষ্ঠানে অনুবাদক হিসেবে কাজ করছেন। পরিবারের ভাষ্য, বোনের পথ অনুসরণ করে লাইবাও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পড়াশোনা করে নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে চেয়েছিলেন। মেয়ের পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাঁর বাবা পরিবারের জন্য কেনা একটি জমি বিক্রি করেন। লাইবার মা-ও অর্থের ব্যবস্থা করতে নিজের গয়না বন্ধক রাখেন বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাধ্যমে সৌদি আরবে বৃত্তি নিয়ে পড়ার সুযোগ পেলেও লাইবা যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আকাঙ্ক্ষা থেকে সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেননি। হার্ভার্ডে পড়ার স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিবারটি বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করলেও শেষ পর্যন্ত দেওয়া কাগজপত্রের সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দেয়। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইসলামাবাদ পুলিশের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলা হয় এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনার কথা জানানো হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী শোকাহত পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পুলিশ ও এফআইএ আলাদাভাবে মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং কথিত প্রতারণার আর্থিক লেনদেন তদন্ত করছে। এফআইএ ১০ অক্টোবর নওমান ও ফাতিমা সরওয়ারের বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করে। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে করা মামলায় বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশ করে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেওয়ার নামে অর্থ নিয়েছেন। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ ও বিজনেস রেকর্ডার জানিয়েছে, প্রধান সন্দেহভাজন নওমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালত তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতেও পাঠিয়েছেন বলে জিও নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলছে, তাই আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্তদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না। এফআইএ মহাপরিচালক উসমান আনোয়ার ঘটনাটিকে প্রচলিত শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের প্রতারণার চেয়ে পরিচয় জালিয়াতির ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে দ্য মিডিয়া লাইন জানিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, এক নারী নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত নওমানের পরিচিত হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন। লাইবার মামা আমজাদ উর রহমানের ভাষ্য, ওই নারীর মাধ্যমে বৃত্তি ও আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতার নথি পাওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। পরিবারটি পরে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মার্কিন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে নথি যাচাইয়ের চেষ্টা করে। মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নওমানের মোবাইল ফোনে অন্য প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড এবং নারীদের ব্ল্যাকমেইল করার সম্ভাব্য তথ্যও পাওয়া গেছে। এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তাধীন। সূত্রগুলো আরও দাবি করেছে, এর আগে কোয়েটায় দুর্নীতিবিরোধী বিভাগে কাজ করার সময়ও নওমানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি। ঘটনাটি পাকিস্তানে বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ করে দেওয়ার নামে প্রতারণার ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির এফআইএ এর আগেও ভুয়া বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি চিঠি, বৃত্তির নথি, ভিসা এবং অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে শিক্ষার্থী ও তাঁদের পরিবারকে প্রতারণার অভিযোগ তদন্ত করেছে। লাহোরভিত্তিক শিক্ষাবিষয়ক পরামর্শক বিলাল রাঞ্জার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য দ্রুত বা সহজ পথ খুঁজতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী অনির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারীদের ফাঁদে পড়েন। তবে তিনি তরুণদের মধ্যে জাল নথি ব্যবহারের যে উচ্চ হার উল্লেখ করেছেন, তার পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য পরিসংখ্যান উপস্থাপন করেননি। ইসলামাবাদভিত্তিক তরুণ অধিকারকর্মী নাহিদ খান এ ঘটনাকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সংকট, বেকারত্ব এবং দেশে সীমিত সুযোগের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশে পড়াশোনা ও কাজের সুযোগ খুঁজছেন অনেক তরুণ। এ পরিস্থিতিতে অনিয়ন্ত্রিত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রতারকদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং শিক্ষার্থী ও পরিবারের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা জরুরি। লাইবার মৃত্যুর পূর্ণাঙ্গ কারণ এবং এর সঙ্গে কথিত প্রতারণার সম্পর্ক নির্ধারণে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা আর্থিক প্রতারণার অভিযোগের বিচারিক প্রক্রিয়াও চলমান। এ ঘটনা বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদনকারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ওয়েবসাইট, সরকারি ভিসা নির্দেশনা এবং প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার গুরুত্ব সামনে এনেছে। সূত্র: দ্য মিডিয়া লাইন, ডন, জিও নিউজ
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের নথি নিয়ে ফিফা-উয়েফার আইনি বিরোধ
গাজায় প্রাণহানির প্রতিবাদে ইসরায়েলি ফুটবলারদের সাথে হাত মেলালেন না আইরিশ খেলোয়াড়রা
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
ইয়েমেনে সং ঘা ত তীব্র হতেই সক্রিয় মক্কা প্রতিরক্ষা জোট, সৌদি নিরাপত্তায় বাড়ছে উদ্বেগ
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ২৩ ক্যারেট সোনায় তৈরি ট্রাম্পের ন গ্ন ভাস্কর্য প্রদর্শিত
এল-সাঈদের পক্ষে প্রচারে নামছেন বারাক ওবামা, ডেট্রয়েটে ২৪ অক্টোবর সমাবেশ
লাতিন আমেরিকায় প্রভাব বিস্তারে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে চীন, বাড়ছে জনসমর্থন
শারীরিক অসুস্থতাকে মানসিক সমস্যা ভেবে ভুল, অটোইমিউন রোগ নির্ণয়ে পিছিয়ে নারীরা
মেডিকেয়ার গ্রাহকদের জন্য ৯০ ডলারের ফেরত, কারা পাবেন এই অর্থ?
যুক্তরাষ্ট্রে প্রসূতি বিভাগ বন্ধের ঝুঁকি, গ্রামীণ এলাকায় বাড়ছে চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার সুবিধা বাছাইয়ের সময় আসছে, লাখো প্রবীণকে নতুন পরিকল্পনা যাচাইয়ের পরামর্শ
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের
নিজে দাঁড়িয়ে থেকে প্রাক্তন স্ত্রীর বিয়ে দিলেন ‘স্পাইডার ম্যান’ অভিনেতা টোবি
স্বামীর বকুনির মধ্যেও ইংরেজি শেখানোর ভিডিও, গ্রামের যশোদার প্রশংসায় প্রিয়াঙ্কা চোপড়া
রোবট খনি, বিষাক্ত রাসায়নিক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ না করে ইমেইল লিখছে কেন! প্রশ্ন পাকিস্তানি অভিনেত্রীর
কান উৎসবে ঐতিহ্যবাহী ফিলিস্তিনি কেফিয়েহ কাপড়ের পোশাকে মার্কিন সুপারমডেল বেলা হাদিদ
৯০ কোটি রুপির ঋণ থেকে ৪ হাজার কোটির সম্পদ! যে কৌশলে ঘুরে দাঁড়ালেন অমিতাভ বচ্চন, জানুন
সিলিকন ভ্যালির অভিজ্ঞতায় এনায়েতুরের চার প্রকৌশলীর উল্কাসেমিতে এখন ছয় শতাধিক প্রকৌশলী
মা বাবাকে সময় দিতে যুক্তরাষ্ট্রে সবকিছু ছেড়ে নিজ দেশে মাইক্রোসফটের ভাইস প্রেসিডেন্ট
ক্যারিয়ারের শীর্ষে থেকেও বদলে গেল অগ্রাধিকার, বৃদ্ধ মা-বাবার জন্য মাইক্রোসফট ছাড়লেন কর্মকর্তা
১৯ বছরে এমআইটি ছেড়ে ২৪ বছরেই বিলিয়নিয়ার হওয়া ওয়াং এখন মেটার প্রযুক্তি নেতৃত্বে
যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ বিল বাড়ার আশঙ্কা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র নিয়ে উদ্বিগ্ন সাধারণ পরিবার
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
আপনার সন্তানের ট্রাম্প অ্যাকাউন্টে জমা হতে পারে ২৫০ ডলার, জিপ কোড দিয়ে যাচাই করুন যোগ্যতা
‘অভিশপ্ত পরিবার’ বলে দূরে সরিয়ে রাখা হতো, ইন্দোনেশিয়ার ‘টিকটিকি পরিবার’ এখন টিকটক তারকা
গ্রিন কার্ডের আবেদন কোন পর্যায়ে আছে, রিসিট নম্বর দিয়ে অনলাইনে যেভাবে জানবেন
সহকর্মীর চায়ে বিষ মিশিয়ে চীনে পালানোর সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে গ্রেপ্তার গবেষক
নিউইয়র্কের কুইন্সে স্কুটার ছিনিয়ে নিতে ১৪ বছরের কিশোরকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১৭ বছরের সন্দেহভাজন
লিংকডইন ব্যবহার করে যেভাবে খুঁজবেন মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা
নোবেলজয়ী বিজ্ঞানীর গবেষণা টিমে গবেষণা, বাংলাদেশের ডা. জাহিদুল ইসলামের পথচলা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি আছে, কিন্তু নিয়োগ ধীর; দীর্ঘদিন বেকারদের চাপ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে বেকার ভাতা আবেদন কমেছে, তবে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমছে দ্রুত
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
পানীয়তে মা দক শনাক্তের নেলপলিশ তৈরি করলেন যুক্তরাষ্ট্রের চার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী
প্রায় ১০ কোটি বছর আগের পোকার সন্ধান, শরীরের দ্বিগুণ লম্বা মুখ: নাম টেলিটাবিজের নু-নু
নোবেল জিতে সুখবর সবার আগে সন্তানদের দিলেন বাবা, নিজ হাতে বানালেন স্যান্ডউইচ
রোবটের আঙুলে এখন জীবন্ত মানবচামড়া, সাধারণ ব্যান্ডেজে নিজেই সারাল ক্ষত
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
১৫ দিনের মধ্যে এসএসসিতে ফেল শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ: শিক্ষামন্ত্রী
অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে যেতে চান! শিক্ষার্থী ভিসা ও পরিবারের আবেদন নিয়ে জেনে নিন নতুন নিয়ম
সিলেটের চা শ্রমিকের মেয়ে শান্তা এখন হার্ভার্ডের শিক্ষার্থী, পড়ছেন স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের লক্ষ্যে
চুয়েটে উপাচার্য অপসারণের দাবিতে শিক্ষক-কর্মচারীদের অসহযোগ, ২০ দিন ধরে বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা
টেক্সাসে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিনা ফিতে কলেজে আবেদনের সুযোগ, যেভাবে আবেদন করবেন
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
হাতে ১০ হাজার ডলার থাকলে এখন কোথায় বিনিয়োগ করবেন! যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি এবার বিদেশি অপারেটরের হাতে, সরকারের খসড়া চুক্তি অনুমোদন
তিন মাসের বদলে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমার প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন
বাংলাদেশে এআই খাতে ১০০ কোটি ডলার বিনিয়োগে মার্কিন কোম্পানির আগ্রহ: ববি হাজ্জাজ
বাংলাদেশে জ্বালানি নিয়ে আসা বিমানকে আকাশসীমায় ঢুকতে অনুমতি দেয়নি পাকিস্তান
পাউন্ডল্যান্ডে ২৬ দিনে ২৫ হাজার পাউন্ড আত্মসাৎ, ভারতীয় কর্মীর সাজা
ভুয়া শ্রোতা দিয়ে এআইয়ের গান চালিয়ে ৮০ লাখ ডলার আয়, যুক্তরাষ্ট্রে মাইকেল স্মিথের ১৮ মাসের কারাদণ্ড
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী তাজমিন হত্যা: ধর্ষণের আলামত খুঁজতে ডিএনএ পরীক্ষা, ফরেনসিকে যাচ্ছে মোবাইল
যুক্তরাষ্ট্রে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে স্ত্রী ও মেয়ের মৃত্যু, পরে নিজেরও প্রাণ গেল
টাকা চাইতে গিয়ে প্রাণ গেল মায়ের, পাওনা টাকার বিরোধে নারায়ণগঞ্জে মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড
চুল ঘন করার আশায় টাকা খরচের আগে জেনে নিন কোন পণ্য এড়িয়ে চলবেন
স্মার্টফোন ছাড়া জীবন কেমন, বদলে যেতে পারে আপনার প্রতিদিনের অভ্যাস
দুই সপ্তাহ কফি না খেয়ে শরীরের ভেতরে কী কী পরিবর্তন হয়, জানাল নতুন গবেষণা
১৪ বছর পর প্রথম মাংস খেয়েই “এত মজা!” বলে কেঁদে ফেললেন নিরামিষভোজী নারী
প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
মিডটার্ম নির্বাচনের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি চায় ইরান, জাতিসংঘে বার্তা প্রেসিডেন্টের
সৌদিকে সহায়তায় এরদোয়ানকে পাশে চান ট্রাম্প, ইসরায়েলের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিল রিয়াদ
অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত সড়কে সিজদারত অবস্থায় গাড়ির ধাক্কায় পাকিস্তানি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃ ত্যু
অক্সফোর্ডে আফগান নারীদের স্নাতকোত্তর পড়তে ২৫ লাখ ডলারের বৃত্তি চালু
ফিলিস্তিনকে সমর্থন করায় যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় চাকরি হারালেন ৭৬ শিক্ষাবিদ
ইসরায়েলগামী ফ্লাইটে বাংলাদেশসহ ৩১ দেশের ক্রুদের নিষিদ্ধ করল এয়ার ফ্রান্স
দুই মাসে এক হাজার খেলার মাঠ তৈরির নির্দেশ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
ডিসেম্বর থেকে ঘরে ঘরে জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
হাসিনা ভারতে যা করছেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন হলে মোদি কি ঢাকায় আসতেন: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
রোহিঙ্গাদের জন্য বৈশ্বিক সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, জোর দিলেন নিরাপদ প্রত্যাবাসনে