সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ ও ত্বকের যত্ন
প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ

ব্রণকে সাধারণত কৈশোরের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার পরও অনেকের মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও থেকে যায়, আবার কারও ত্বকে নতুন করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখের পাশাপাশি বুক, কাঁধ ও পিঠেও হতে পারে এই সমস্যা। সঠিক চিকিৎসা না নিলে ব্রণ থেকে ত্বকে কালচে দাগ ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে।   ফিলিপাইনে বসবাসকারী বিপণনকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতা গিলিয়ান মেগান মন্টালবোর অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। কৈশোরে তাঁর কপাল ও নাকে অল্প কয়েকটি ব্রণ উঠত। তখন সমস্যা তেমন গুরুতর ছিল না। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর ব্রণ আবার দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। গাল ও থুতনিতে ব্রণ হওয়ায় তিনি কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখের দিকে তাকাতেও অস্বস্তি বোধ করতেন। মন্টালবোর ভাষায়, এই সমস্যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারণার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। প্রায় এক বছরের মধ্যে তাঁর ব্রণ অনেকটাই সেরে যায়। তবে ত্বকে থেকে যাওয়া দাগ নিয়ে তাঁকে আরও কিছুদিন ভুগতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ একটি পরিচিত সমস্যা। এ নিয়ে লজ্জা পাওয়া বা একা একা কষ্ট সহ্য করার প্রয়োজন নেই। ব্রণের ধরন ও কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও এথনিক স্কিন প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. ক্রিস্টাল আগুহ বলেন, ব্রণের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ব্রণের সমস্যায় ভুগলে একা কষ্ট না পেয়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের কারণ কী? ত্বকের ক্ষুদ্র রন্ধ্র তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ তৈরি হতে পারে। সাধারণ ছোট ব্রণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে কমে যেতে পারে। কিন্তু বারবার ব্রণ উঠতে থাকলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা ত্বকের রং ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কৈশোরে সাধারণত কপাল, নাক ও গালে ব্রণ বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্রণ চোয়ালের রেখা ও থুতনির আশপাশে বেশি দেখা যেতে পারে। স্টেরয়েডজাতীয় কিছু ওষুধ ব্যবহারের কারণেও কারও কারও ব্রণ হতে পারে। ব্রণের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। মুখ ও শরীরের অন্য অংশে ব্রণ তৈরির প্রক্রিয়ায় মিল থাকলেও শরীরের ব্রণের ক্ষেত্রে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা কখনো কখনো বেশি হতে পারে। ব্রণ দেখতে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কিছু ব্রণ ছোট, সাদা ও ব্যথাহীন দানার মতো দেখা যায়। আবার কিছু ব্রণ লাল, ফুলে থাকা ও ব্যথাযুক্ত হতে পারে। ত্বকের গভীরে তৈরি হওয়া বড় ও যন্ত্রণাদায়ক গুটিকে সিস্টিক ব্রণ বলা হয়। ব্রণের ধরন বুঝে চিকিৎসা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণের চিকিৎসায় কী কী উপায় রয়েছে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রণের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা, কারণ এবং ত্বকের অবস্থার ওপর। হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কিংবা অ্যাডাপালিনের মতো উপাদানযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এসব উপাদান ত্বকের রন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্রেটিনয়েনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। গুরুতর সিস্টিক ব্রণ কিংবা অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে আইসোট্রেটিনয়েনের মতো ওষুধ বিবেচনা করা হয়। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। নারীদের হরমোনজনিত ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো ওষুধ দিতে পারেন। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হয়। কখনো কখনো দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট ব্রণের ফোলা ও প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা কর্টিসোন ইনজেকশন ব্যবহার করেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নয়। ব্রণ থেকে বের হওয়া তরল শোষণ করতে হাইড্রোকলয়েডযুক্ত প্যাচও ব্যবহার করা হয়। এসব প্যাচ ব্রণ খোঁচানো থেকে বিরত থাকতেও সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের ব্রণের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। ত্বকে দাগ বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্রণ খোঁচানো কেন ক্ষতিকর ব্রণ উঠলে অনেকেই তা নখ দিয়ে খুঁটতে বা চেপে বের করতে চান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফাইন ডার্মাটোলজির প্রতিষ্ঠাতা ডা. লরেন ফাইন বলেন, ব্রণ খোঁচানো বা চেপে ধরলে সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ত্বকের প্রদাহ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন ব্রণ তৈরি হওয়া, কালচে দাগ পড়া এবং স্থায়ী ক্ষতের ঝুঁকিও বাড়ে। গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে প্রদাহের পর অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ তৈরি হওয়ায় দাগ দূর হতে বেশি সময় লাগতে পারে। ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও ত্বকে দাগ থেকে যেতে পারে। এ ধরনের দাগ কমাতে গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত কিছু ত্বক পরিচর্যার পণ্য সহায়ক হতে পারে। অ্যাডাপালিন ও রেটিনলযুক্ত পণ্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তবে গভীর বা গুরুতর ক্ষতের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ লেজারের মতো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। চিকিৎসা শুরু করার পর ফল পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের শুরুতে কারও কারও ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনও দেখা যায়। তাই ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের যত্নের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও জরুরি মন্টালবোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ব্রণের প্রভাব শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বাবা নিজেও ব্রণের সমস্যায় ভুগেছিলেন। তিনিই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং উপযুক্ত পণ্য খুঁজে নিতে উৎসাহিত করেন। কঠিন সময়ে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সমর্থনও তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল। মন্টালবো জানান, ব্রণের সমস্যা যখন সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন ওই বন্ধু তাঁর সঙ্গে বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একসময় বন্ধু তাঁকে জানান, তাঁর মুখের ব্রণ কখনো খেয়ালই করেননি। এই অভিজ্ঞতা মন্টালবোকে বুঝতে সাহায্য করে, অন্যের কাছে একজন মানুষের চেহারার চেয়ে তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা ত্বকে কালচে দাগ ও ক্ষত তৈরি করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং কাছের মানুষের সহযোগিতা এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

১৫ মিনিট Ago
ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের আবাসস্থল
দর্শনার্থীদের সামনেই বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারালেন ব্যক্তি, বন্ধ হলো পার্ক

ইংল্যান্ডের একটি বন্যপ্রাণী পার্কে বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যক্তি। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে এ ঘটনা ঘটে। খাঁচায় প্রবেশের পর একটি বাঘ তাঁর ওপর আ ক্র ম ণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর পার্কটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সপ্তাহান্তের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের খাঁচায় একজন ব্যক্তির প্রবেশের খবর পায় তারা। পরে বাঘটি ওই ব্যক্তির ওপর আ ক্র ম ণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃ ত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা পরিবারটিকে সহায়তা করছেন। ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বাঘটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে ব্যক্তিটিকে বাঘের আ ক্র ম ণ থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে শোনা যায়। আশপাশে থাকা লোকজনও চিৎকার করে তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার ভিডিওটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হওয়ায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মানসিক কষ্ট আরও বাড়তে পারে। কীভাবে খাঁচায় প্রবেশ করলেন, তদন্ত চলছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা চালু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে পার্ক প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার পর বাঘের খাঁচার চারপাশে কালো পর্দা টাঙানো হয়। এতে দর্শনার্থীদের সরাসরি ঘটনাস্থল দেখার সুযোগ সীমিত করা হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পার্কের দর্শনার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আ ক্র ম ণের পর বাঘটি আহত হয়নি এবং খাঁচার ভেতরেই ছিল। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে কোনো ঝুঁকি নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা। তবে ওই ব্যক্তি কীভাবে দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত অংশ পেরিয়ে বাঘের আবাসস্থলে ঢুকলেন, তা এখনো জানা যায়নি। তিনি কোনো বাধা অতিক্রম করেছিলেন কি না, কিংবা কী পরিস্থিতিতে খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের ‘ল্যান্ড অব দ্য টাইগার্স’ এলাকায় বাঘ দেখার জন্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে তৈরি পথ রয়েছে। সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাঘের চলাফেরা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঘের আবাসস্থলটি প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। পার্কটি ২০০৯ সালে চালু হয়। পরে ২০১১ সালে বাঘের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রদর্শনী এলাকা চালু করা হয়। এখানে বিপন্ন প্রজাতির আমুর বা সাইবেরীয় বাঘ রাখা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে তৈরি আবাসস্থলে বাঘগুলো বিচরণ করে এবং দর্শনার্থীরা নির্ধারিত স্থান থেকে সেগুলো দেখতে পারেন। এ ধরনের বন্যপ্রাণী পার্কে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সীমানা ও প্রবেশপথ মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে দর্শনার্থীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইয়র্কশায়ারের এই ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থী, কর্মী ও প্রাণীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্ত চলাকালে পার্কটি বন্ধ রাখা হবে বলেও জানানো হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয়, বয়স কিংবা তিনি কী কারণে বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তাঁর পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একটি বন্যপ্রাণী পার্কে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রাণীদের আবাসস্থল সুরক্ষার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তদন্তে কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট হলে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানা যাবে।

৩২ মিনিট Ago
রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি
রূপালী জলপ্রপাতের পথে ছোট্ট গাইড মাহি, বান্দরবানের পর্যটনে নতুন এক মানবিক গল্প

পাহাড়ের আঁকাবাঁকা পথ, চারপাশে সবুজের সমারোহ, পাখির ডাক আর ঝরনার কলকল শব্দ—প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতি বছরই পর্যটকদের আকর্ষণ করে বাংলাদেশের পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। এখানকার প্রতিটি পাহাড়, ঝরনা আর জনপদের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আলাদা গল্প। সেই গল্পেরই একটি ছোট্ট অথচ তাৎপর্যপূর্ণ চরিত্র নয় বছর বয়সী মাহি। রূপালী জলপ্রপাতের পথে পর্যটকদের পথ দেখিয়ে সে যেন পরিচয় করিয়ে দেয় নিজের চেনা প্রকৃতি, এলাকার সৌন্দর্য আর মানুষের আন্তরিকতার সঙ্গে। মাহির গল্প শুধু একজন শিশুর পর্যটককে পথ দেখানোর গল্প নয়; এটি স্থানীয় মানুষের জ্ঞান, প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং পর্যটনকে ঘিরে তৈরি হওয়া নতুন সম্ভাবনার কথাও বলে। প্রকৃতির পথে মাহির ছোট্ট ভূমিকা   স্থানীয় একটি দরিদ্র পরিবারের মেয়ে মাহি। তার বাবা পানবরজে কাজ করেন। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা এই শিশুটি নিজের পরিচিত পরিবেশ ও পথঘাট সম্পর্কে ধারণাকে কাজে লাগিয়ে রূপালী জলপ্রপাত দেখতে আসা পর্যটকদের পথ দেখায়। একটি পরিবারের বর্ণনা অনুযায়ী, মাহি হাসিমুখে তাদের স্বাগত জানায় এবং জলপ্রপাতের পথে গাইড হিসেবে সহযোগিতা করে। তার আন্তরিক ব্যবহার, পরিচিত পথ সম্পর্কে ধারণা এবং পর্যটকদের প্রতি যত্নশীল আচরণ ভ্রমণটিকে আরও স্মরণীয় করে তোলে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে অনেক সময় পর্যটকেরা শুধু গন্তব্যে পৌঁছানোর কথা ভাবেন। কিন্তু স্থানীয় কারও চোখ দিয়ে একটি জায়গাকে দেখার অভিজ্ঞতা ভ্রমণে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। মাহির মতো স্থানীয় শিশুরা নিজেদের চেনা পরিবেশ সম্পর্কে যে ধারণা রাখে, তা পর্যটকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দিতে পারে। পথ চেনানোর পাশাপাশি প্রকৃতির প্রতি যত্ন   জলপ্রপাতের পথে চলাচলের সময় ভেজা ও পিচ্ছিল জায়গায় সতর্ক থাকা জরুরি। পাহাড়ি পথের সামান্য অসাবধানতাও বিপদের কারণ হতে পারে। পর্যটকদের নিরাপদে চলাচল, আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি না করার মতো বিষয়গুলোও দায়িত্বশীল ভ্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাহির গল্পে উঠে এসেছে, সে পর্যটকদের পথ দেখানোর পাশাপাশি সতর্কভাবে চলাচল ও পরিবেশের প্রতি যত্নশীল থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়। জলপ্রপাতের আশপাশে ছবি তোলার উপযোগী স্থান দেখিয়ে দেওয়ার মতো ছোট ছোট সহযোগিতাও পর্যটকদের অভিজ্ঞতাকে আনন্দময় করে তুলতে পারে। তবে পাহাড়ি পর্যটন এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধু স্থানীয় কারও ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। ঝুঁকিপূর্ণ পথ চিহ্নিত করা, নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া এবং প্রয়োজনে প্রশিক্ষিত প্রাপ্তবয়স্ক গাইডের ব্যবস্থা করা পর্যটন ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্যটনের সম্ভাবনা শুধু পাহাড় আর ঝরনায় সীমাবদ্ধ নয় বান্দরবানের পর্যটন সম্ভাবনার বড় শক্তি এর প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য। পাহাড়, বন, ঝরনা ও স্থানীয় সংস্কৃতি মিলিয়ে জেলাটি ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে বিশেষ আকর্ষণ তৈরি করে। তবে একটি পর্যটন গন্তব্যকে দীর্ঘমেয়াদে জনপ্রিয় করে তুলতে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন নিরাপদ যাতায়াত, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য তথ্য এবং স্থানীয় মানুষের আন্তরিক অংশগ্রহণ। পর্যটকেরা কোনো এলাকায় গেলে স্থানীয় পরিবহনচালক, খাবারের দোকান, আবাসনসেবা, হস্তশিল্পের উদ্যোক্তা ও গাইডদের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। পরিকল্পিত পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠলে এসব পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষের জন্য আয়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মাহির গল্প এই বৃহত্তর সম্ভাবনার কথাই মনে করিয়ে দেয়। স্থানীয় মানুষের কাছে কোনো এলাকার পথঘাট, আবহাওয়া, পরিবেশ ও সামাজিক রীতিনীতি সম্পর্কে যে অভিজ্ঞতা থাকে, তা পর্যটনকে আরও অর্থবহ করে তুলতে পারে। এই জ্ঞানকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে পর্যটকেরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণও বাড়বে। ছোট্ট মাহির স্বপ্নের আগে জরুরি তার শৈশব মাহির গল্পের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো তার বয়স। মাত্র নয় বছর বয়সে পর্যটকদের পথ দেখানোর অভিজ্ঞতা তার আত্মবিশ্বাস ও স্থানীয় পরিবেশ সম্পর্কে ধারণার পরিচয় দিতে পারে। কিন্তু কোনো শিশুর সম্ভাবনাকে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তার শিক্ষা, নিরাপত্তা ও শৈশবের অধিকারকে কখনোই আড়াল করা উচিত নয়। শিশুদের আগ্রহ ও দক্ষতা বিকাশের সুযোগ দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, কোনো কাজের কারণে তাদের স্কুলে যাওয়া, পড়াশোনা, বিশ্রাম কিংবা স্বাভাবিক শৈশব ব্যাহত হচ্ছে না। মাহির ক্ষেত্রেও পরিবার, স্থানীয় সম্প্রদায় এবং পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। তার প্রকৃতিপ্রীতি ও পথঘাট সম্পর্কে জ্ঞান ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে। সে বড় হয়ে পর্যটন, পরিবেশ সংরক্ষণ কিংবা আতিথেয়তা বিষয়ে আগ্রহী হলে শিক্ষার মাধ্যমে সেই আগ্রহকে আরও বিকশিত করার সুযোগ পেতে পারে। তবে ভবিষ্যতে সে কী হতে চায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তারই। এখন তার জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠা এবং মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পাওয়া। দায়িত্বশীল পর্যটন গড়ে তুলতে যা প্রয়োজন রূপালী জলপ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক গন্তব্যের সৌন্দর্য ধরে রাখতে পর্যটক, স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। জলপ্রপাত ও পাহাড়ি পথের পরিবেশ রক্ষায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ চলাচলের নির্দেশনা এবং পর্যটকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটকদেরও কিছু দায়িত্ব রয়েছে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ও খাবারের প্যাকেট না ফেলা, প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতি না করা, স্থানীয় সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে ছবি তুলতে গিয়ে অসতর্ক না হওয়া দায়িত্বশীল ভ্রমণের অংশ। একই সঙ্গে পর্যটন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব ভ্রমণব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। পর্যটনের সুফল যেন শুধু বাইরের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কাছেও পৌঁছায়, সেদিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। জলপ্রপাতের পথে একটি বড় বার্তা   রূপালী জলপ্রপাতের পথে মাহির উপস্থিতি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পর্যটনের গল্প শুধু পাহাড়ের উচ্চতা, ঝরনার সৌন্দর্য কিংবা ছবির আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জীবন, স্থানীয় জ্ঞান, আতিথেয়তা এবং উন্নত ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। একটি পর্যটন গন্তব্যকে সত্যিকার অর্থে সমৃদ্ধ করতে হলে প্রকৃতিকে রক্ষা করার পাশাপাশি সেখানকার মানুষের মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে তাদের আগ্রহকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, নিরাপত্তা ও শৈশবের অধিকার সবার আগে রাখতে হবে। ছোট্ট মাহি হয়তো এখনো জানে না, তার চেনা পথ ধরে পর্যটকদের এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতার মধ্যে কত বড় একটি বিষয় লুকিয়ে আছে। কিন্তু তার গল্প আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়—প্রকৃতির সৌন্দর্যকে মানুষের গল্প থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। বান্দরবানের পাহাড়, বন আর ঝরনা যেমন এই অঞ্চলের সম্পদ, তেমনি এখানকার মানুষের জ্ঞান, সংস্কৃতি ও জীবনও তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিকল্পিত, পরিবেশবান্ধব ও মানবিক পর্যটনব্যবস্থা গড়ে উঠলে রূপালী জলপ্রপাতের মতো গন্তব্য শুধু দর্শনার্থীদের আকর্ষণই বাড়াবে না, বরং স্থানীয় মানুষের জন্যও তৈরি করতে পারে সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের পথ।   লেখক- ড. মোহাম্মদ বদরুদ্দোজা তালুকদার সহযোগী অধ্যাপক অ্যান্ড  চেয়ারম্যান, কলেজ অফ ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, আইইউবিএটি।

৪৪ মিনিট Ago
হারপিসের চিকিৎসায় নতুন মুখে খাওয়ার ওষুধ
হারপিসের জটিল সংক্রমণে নতুন ওষুধের অনুমোদন দিল এফডিএ, আশার আলো রোগীদের

হারপিসের সংক্রমণে আক্রান্ত যেসব রোগীর শরীর প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে সাড়া দিচ্ছে না, তাঁদের চিকিৎসায় নতুন একটি ওষুধ ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)। ‘প্রিটেলিভির’ নামের মুখে খাওয়ার এই ওষুধটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, যাঁদের হারপিসের ঘা প্রচলিত চিকিৎসায় সারছে না।   গত ৯ অক্টোবর ওষুধটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর বাণিজ্যিক নাম হোভিলপ্রি। জাপানের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান আসাহি কাসেই ওষুধটি বাজারজাত করবে। তবে ওষুধটি সব ধরনের হারপিস সংক্রমণের জন্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু রোগীর ক্ষেত্রে প্রচলিত চিকিৎসায় কাজ না করলে এটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হারপিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের সংক্রমণে সাধারণত ঠোঁট, নাক, চোখ, যৌনাঙ্গ কিংবা ত্বক ও শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির অন্যান্য স্থানে ঘা বা ফোসকা দেখা দিতে পারে। ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর থেকে যায়। বর্তমানে এর সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল করার চিকিৎসা নেই। তবে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মাধ্যমে সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সাধারণত অ্যাসাইক্লোভির, ভ্যালাসাইক্লোভির ও ফ্যামসাইক্লোভিরের মতো ওষুধ হারপিসের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। কিন্তু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে এসব ওষুধে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যায় না। বিশেষ করে যাঁদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভাইরাস প্রচলিত ওষুধের বিরুদ্ধে প্রতিরোধক্ষমতাও তৈরি করে। ফলে ঘা সারানো কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন ওষুধটির বিশেষত্ব হলো, এটি প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের মতো একই পদ্ধতিতে কাজ করে না। প্রিটেলিভির ভাইরাসের বংশবৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় কিছু প্রোটিনের কার্যক্রমে বাধা দেয়। এর ফলে ভাইরাস নিজের জিনগত উপাদানের অনুলিপি তৈরি করতে পারে না এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। প্রচলিত কিছু অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ কাজ করার আগে ভাইরাসের একটি এনজাইমের মাধ্যমে সক্রিয় হতে হয়। ভাইরাসের জিনগত পরিবর্তনের কারণে এই প্রক্রিয়া ব্যাহত হলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। প্রিটেলিভিরের কাজ করার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় প্রচলিত চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়া কিছু সংক্রমণের ক্ষেত্রে এটি নতুন বিকল্প হতে পারে। ওষুধটির অনুমোদনের পেছনে রয়েছে ১০১ জন রোগীকে নিয়ে পরিচালিত শেষ পর্যায়ের একটি ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা। এতে অংশ নেওয়া রোগীদের মধ্যে যাঁরা প্রিটেলিভির পেয়েছিলেন, তাঁদের ৬২ দশমিক ৭ শতাংশের ঘা ২৮ দিনের মধ্যে পুরোপুরি সেরে যায়। অন্য চিকিৎসা পাওয়া রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৩৪ শতাংশ। পরীক্ষায় প্রিটেলিভিরের সঙ্গে চিকিৎসকদের বেছে নেওয়া অন্যান্য চিকিৎসার ফল তুলনা করা হয়। এসব চিকিৎসার মধ্যে ছিল শিরায় প্রয়োগ করা ফসকারনেট এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অনুমোদিত ব্যবহারের বাইরে প্রয়োগ করা সিডোফোভির ও ইমিকুইমড। ফসকারনেট এমন রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প, যাঁদের প্রচলিত অ্যান্টিভাইরাল ওষুধে কাজ হচ্ছে না। পরীক্ষায় প্রিটেলিভির গ্রহণকারীদের মধ্যে মাথাব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, বমি এবং মাথা ঘোরার মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তবে ওষুধের উপকারিতা ও ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি ব্যবহার করা প্রয়োজন। নতুন ওষুধ অনুমোদিত হওয়া মানেই এটি সব রোগীর জন্য উপযুক্ত বা ঝুঁকিমুক্ত—এমন নয়। ওষুধটির সম্ভাব্য বাজার নিয়েও প্রত্যাশা রয়েছে। আসাহি কাসেইয়ের আগের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন প্রায় ১৫ হাজার রোগীর জন্য প্রিটেলিভির কার্যকর চিকিৎসার বিকল্প হতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগের মধ্যে ওষুধটির বার্ষিক বিক্রি ৪০ কোটি ডলারের বেশি হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে এটি প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক অনুমান, নিশ্চিত বিক্রির হিসাব নয়। প্রিটেলিভিরের অনুমোদন এমন রোগীদের জন্য নতুন চিকিৎসার সুযোগ তৈরি করেছে, যাঁদের হারপিসের সংক্রমণ প্রচলিত ওষুধে নিয়ন্ত্রণে আসছে না। বিশেষ করে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়ায় যাঁদের সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে, তাঁদের ক্ষেত্রে মুখে খাওয়ার ওষুধটি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনাকে সহজ করতে পারে। তবে এর ব্যবহার নির্দিষ্ট রোগীদের মধ্যেই সীমিত থাকবে। রোগীর অবস্থা, আগের চিকিৎসার ফল এবং চিকিৎসকের মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওষুধটি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

১ ঘন্টা Ago
তথ্যপ্রযুক্তি
প্রাণ সৃষ্টির আগে পৃথিবীতে কী ঘটেছিল, নতুন গবেষণায় মিলল চিনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার ইঙ্গিত

পৃথিবীতে প্রাণের উৎপত্তি কীভাবে হয়েছিল, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান দীর্ঘদিনের। এবার সেই রহস্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র সামনে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা এমন একটি রাসায়নিক প্রক্রিয়ার সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান টিকে থাকতে সাহায্য করে থাকতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাইবোজ নামের এক ধরনের শর্করা বোরনকে খনিজ পদার্থ থেকে পানিতে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বোরনও রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এই পারস্পরিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তির পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন গবেষকেরা। গবেষণাটি ২০২৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর সায়েন্টিফিক রিপোর্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। এতে প্রাচীন পৃথিবীর মতো পরিবেশে বোরনযুক্ত বিভিন্ন খনিজ পদার্থের সঙ্গে রাইবোজের রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করা হয়। গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল, প্রকৃতিতে যেভাবে বোরন পাওয়া যায়, সেই পরিস্থিতিতে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হতে পারে, তা বোঝা। রাইবোজ কেন গুরুত্বপূর্ণ রাইবোজ হলো পাঁচ কার্বনবিশিষ্ট একটি সরল শর্করা। এটি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড বা আরএনএর মূল কাঠামো তৈরির অন্যতম উপাদান। আরএনএ কোষের মধ্যে জিনগত তথ্য ব্যবহার, প্রোটিন তৈরির প্রক্রিয়া এবং জিনের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিএনএর গঠনেও রাইবোজের পরিবর্তিত একটি রূপ থাকে, যার নাম ডিঅক্সিরাইবোজ। বিজ্ঞানীদের একটি ধারণা হলো, পৃথিবীতে প্রাণের সূচনালগ্নে আরএনএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে। এই ধারণা ‘আরএনএ ওয়ার্ল্ড হাইপোথিসিস’ নামে পরিচিত। এর মূল বক্তব্য, আধুনিক ডিএনএ ও প্রোটিনভিত্তিক জীবব্যবস্থা গড়ে ওঠার আগে আরএনএর মতো অণু জিনগত তথ্য সংরক্ষণ ও রাসায়নিক বিক্রিয়া পরিচালনার কাজে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে একটি বড় সমস্যা রয়েছে। রাইবোজ তুলনামূলকভাবে অস্থিতিশীল। তাপ, ক্ষারীয় পরিবেশ ও অন্যান্য রাসায়নিক পরিস্থিতিতে এটি সহজেই ভেঙে যেতে পারে। ফলে প্রাচীন পৃথিবীতে রাইবোজ তৈরি হলেও সেটি কীভাবে যথেষ্ট সময় ধরে টিকে ছিল, তা প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। বোরন কীভাবে সাহায্য করতে পারে গবেষণায় বোরনের ভূমিকা বিশেষভাবে উঠে এসেছে। বোরন একটি উপধাতব মৌল, যা প্রকৃতিতে বিভিন্ন খনিজ পদার্থে পাওয়া যায়। উপযুক্ত পরিস্থিতিতে বোরনযুক্ত যৌগ রাইবোজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে স্থিতিশীল রাসায়নিক জটিল যৌগ তৈরি করতে পারে। এমন যৌগ রাইবোজকে কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। তবে শুধু বোরন থাকলেই সমস্যার সমাধান হয় না। ক্যালসিয়ামের মতো উপাদানের উপস্থিতিতে বোরন পানিতে কম দ্রবণীয় যৌগ তৈরি করে খনিজের মধ্যে আটকে যেতে পারে। ফলে জীবনের প্রাথমিক রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার মতো দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ কমে যায়। এই সমস্যাটি বুঝতে গবেষকেরা পরীক্ষাগারে তৈরি সাধারণ বোরাক্সের পাশাপাশি প্রকৃতিতে পাওয়া তিন ধরনের বোরনযুক্ত খনিজ ব্যবহার করেন। এগুলো হলো কার্নাইট, কোলেম্যানাইট ও ইউলেক্সাইট। খনিজগুলোর মধ্যে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম অথবা উভয় উপাদান রয়েছে। এসব খনিজ পানিতে মেশানোর পর রাইবোজ ছাড়া এবং রাইবোজসহ দুই অবস্থায় বোরন কতটা দ্রবীভূত হয়, তা তুলনা করা হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, রাইবোজ যোগ করলে চার ধরনের বোরনযুক্ত উপাদান থেকেই পানিতে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ বাড়ে। ক্যালসিয়ামযুক্ত খনিজের ক্ষেত্রে প্রভাবটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ছিল। অর্থাৎ, রাইবোজ শুধু বোরনের সুরক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনাই তৈরি করে না, বরং বোরনকে খনিজের মধ্যে আটকে পড়া থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করতে পারে। প্রাকৃতিক পরিবেশেও পরীক্ষা গবেষণাটিকে আরও বাস্তবসম্মত করতে বিজ্ঞানীরা ভারতের লাদাখ অঞ্চলের পুগা জলতাপীয় ব্যবস্থা থেকে সংগ্রহ করা বাষ্পীভবনের ফলে তৈরি একটি খনিজসমৃদ্ধ ভূত্বকের নমুনা ব্যবহার করেন। এ ধরনের পরিবেশে গরম পানি, খনিজ ও রাসায়নিক উপাদানের পারস্পরিক ক্রিয়া ঘটে। প্রাচীন পৃথিবীর কিছু সম্ভাব্য রাসায়নিক পরিবেশ বোঝার জন্য এ ধরনের নমুনা গুরুত্বপূর্ণ। নমুনাটি পানিতে দেওয়ার পর প্রথমে দেখা হয়, রাইবোজ ছাড়াই কতটা বোরন দ্রবীভূত হয়। এরপর তাতে রাইবোজ যোগ করা হলে পানিতে নির্গত বোরনের পরিমাণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে যায়। ফলাফলটি ইঙ্গিত দেয়, কেবল বিশুদ্ধ রাসায়নিক ব্যবহার করে নয়, প্রকৃতিতে পাওয়া জটিল খনিজের ক্ষেত্রেও রাইবোজ বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে। গবেষকেরা আরও পরীক্ষা করেন, তাপে ও ক্ষারীয় পরিবেশে পরিবর্তিত বা ভেঙে যাওয়া রাইবোজ একই কাজ করতে পারে কি না। পরীক্ষায় দেখা যায়, পরিবর্তিত রাইবোজের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম। কোলেম্যানাইট থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ পরিবর্তিত রাইবোজ যোগ করলে ৫০ শতাংশ বাড়লেও, তাজা রাইবোজ যোগ করলে একই খনিজ থেকে দ্রবীভূত বোরনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন গুণ হয়েছিল। এ ছাড়া সুক্রোজ ও গ্লুকোজের মতো অন্যান্য শর্করাও বোরনের দ্রাব্যতা বাড়াতে পারে বলে পরীক্ষায় দেখা যায়। তবে রাইবোজের প্রভাব ছিল বেশি। গবেষকদের ধারণা, রাইবোজের অণুর বিশেষ গঠন বোরনের সঙ্গে স্থিতিশীল যৌগ তৈরির জন্য বেশি উপযোগী। রাসায়নিক চক্রের ধারণা   এসব ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকেরা একটি সম্ভাব্য পারস্পরিক নির্ভরতার চক্রের কথা বলেছেন। রাইবোজ বোরনকে পানিতে দ্রবীভূত থাকতে সাহায্য করে। দ্রবীভূত বোরন আবার রাইবোজকে ভেঙে যাওয়া থেকে রক্ষা করতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত রাইবোজ থাকলে আরও বেশি বোরন দ্রবীভূত থাকতে পারে, আর সেই বোরন আরও রাইবোজকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই প্রক্রিয়া সব পরিস্থিতিতে একইভাবে কাজ করবে, এমন নয়। গবেষণায় বলা হয়েছে, বোরনের যৌগ অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলে রাইবোজ তৈরির প্রক্রিয়াই বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি বোরনের পরিমাণ সীমিত রেখে রাইবোজ তৈরির অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখতে সাহায্য করে থাকতে পারে। পরে রাইবোজ ও বোরনের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও কার্যকর হয়ে উঠতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বিবেচনা করছেন গবেষকেরা। পরিবেশের অম্ল-ক্ষারত্বের মাত্রা বা পিএইচ পরিবর্তনও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। গরম পানির উৎস বা জলতাপীয় পরিবেশে পিএইচের পরিবর্তনের কারণে বোরনের সঙ্গে যুক্ত রাইবোজ মুক্ত হয়ে অন্য রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে। গবেষণাটি প্রাণের উৎপত্তি সরাসরি প্রমাণ করেনি। বরং এটি দেখিয়েছে, প্রাকৃতিক খনিজের সঙ্গে শর্করার মিথস্ক্রিয়া প্রাচীন পৃথিবীতে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় অণুগুলোকে টিকিয়ে রাখার সম্ভাব্য পথ তৈরি করতে পারে। পৃথিবীতে প্রাণের সূচনা কীভাবে হয়েছিল, সেই প্রশ্নের পূর্ণ উত্তর পেতে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রয়োজন। তবে রাইবোজ ও বোরনের এই রাসায়নিক সম্পর্ক প্রাণের উৎপত্তি নিয়ে ভবিষ্যৎ গবেষণায় নতুন দিক খুলে দিতে পারে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১৩:৩৮
. অপরাধে ভাড়ার ই-বাইক ও স্কুটারের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন, কঠোর নিয়মের দাবি ওয়াশিংটনে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার নিয়ে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। কয়েকটি অপরাধের ঘটনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা এসব যান ব্যবহার করে পালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর ভাড়া দেওয়ার নিয়ম ও ব্যবহারকারীর পরিচয় যাচাই নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অপরাধ ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানোর দাবিও উঠেছে।   সম্প্রতি ওয়াশিংটনের জাতীয় মহাফেজখানার কাছে একটি কথিত ছিনতাইয়ের পর কয়েকজন কিশোরকে ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারে পালাতে দেখা গেছে বলে পুলিশ সতর্ক করেছিল। তবে অভিযোগ উঠলেই কাউকে অপরাধী বলা যায় না। তদন্তের ফলাফল ও আদালতের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই অপরাধের দায় নির্ধারিত হয়। ওয়াশিংটনে বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার এখন যাতায়াতের পরিচিত মাধ্যম। অনেকেই কর্মস্থলে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো কিংবা কাছাকাছি কোথাও যেতে এসব যান ব্যবহার করেন। যানজট এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার কমাতেও এগুলো সহায়ক। তাই কয়েকটি অপরাধের অভিযোগের কারণে সব ব্যবহারকারীকে সন্দেহের চোখে দেখা ঠিক হবে না। ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ওয়াশিংটনে ভাড়ার বৈদ্যুতিক স্কুটারে ৩৮ লাখের বেশি এবং বৈদ্যুতিক সাইকেলে ৩০ লাখের বেশি যাত্রা হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব যাত্রার মধ্যে কতটি অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত, তার পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান নেই। ফলে অপরাধে এসব যান কতটা ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বড় কারণ হলো, যান ভাড়া নেওয়ার সময় ব্যবহারকারীর বয়স ও পরিচয় যাচাই কতটা কার্যকর। ওয়াশিংটনের নিয়ম অনুযায়ী, ভাড়ার বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটার চালাতে হলে বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। একটি ভাড়ার যান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ভাষ্য, বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যবহারকারীর মুখের ছবি অথবা পরিচয়পত্রের ছবি চাওয়া হয়। তবে কিছু কিশোর অন্যের ছবি ব্যবহার করে বা ছবি পরিবর্তন করে যাচাইব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। এ ধরনের অপব্যবহারের কারণে এক সপ্তাহে শতাধিক ব্যবহারকারীর হিসাব বন্ধ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানের এসব বক্তব্যের ভিত্তিতে অপরাধের প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যায় না। কতজন নিয়ম ভেঙেছেন, তাঁদের মধ্যে কতজন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং যাচাইব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে কতটি অপরাধ ঘটেছে, তা জানতে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন। অপরাধের পর কেউ বৈদ্যুতিক সাইকেল বা স্কুটারে পালিয়ে গেলে তাকে শনাক্ত করা তদন্তকারীদের জন্য কঠিন হতে পারে। তবে ভাড়ার হিসাব, যাত্রার সময় এবং যানটির অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য তদন্তে কাজে আসতে পারে। এসব তথ্যের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো যান কোথায় ছিল, তা যাচাই করার সুযোগ থাকে। প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য অনুযায়ী, আইনগত প্রক্রিয়া মেনে পুলিশ প্রয়োজনীয় তথ্য চাইতে পারে। তবে কোনো যান কোথাও ছিল—এমন তথ্য পাওয়া মানেই সেটি ব্যবহারকারী অপরাধ করেছেন, তা নয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য, অন্যান্য আলামত এবং তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে এসব তথ্য মিলিয়ে দেখতে হয়। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। অপরাধ তদন্তে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের তথ্য যথেচ্ছ ব্যবহার করা এক বিষয় নয়। তাই তদন্তে প্রযুক্তির ব্যবহার যেন আইন ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তার নিয়ম মেনে হয়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ওয়াশিংটনের এই পরিস্থিতি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে। যান ভাড়া নেওয়ার সময় বয়স যাচাই কীভাবে আরও নির্ভরযোগ্য করা যায়, অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে হিসাব খোলা কীভাবে ঠেকানো যায় এবং অপরাধের অভিযোগ উঠলে ভাড়া দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে পুলিশকে সহযোগিতা করবে—এসব বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা প্রয়োজন। তবে শুধু বৈদ্যুতিক সাইকেল ও স্কুটারের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলেই অপরাধ বন্ধ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যক্তিগত গাড়ি বা অন্য যান ব্যবহার করেও অপরাধের পর পালানো সম্ভব। তাই কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অপরাধের ধরন, তদন্তের ফলাফল এবং নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান বিবেচনা করা জরুরি। ব্যবহারকারীদেরও নিজেদের ভাড়ার হিসাব অন্যের হাতে না দেওয়া এবং ব্যক্তিগত পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সুরক্ষিত রাখা উচিত। বয়সসংক্রান্ত নিয়ম মেনে চলাও জরুরি। কেউ কোনো অপরাধের ঘটনা দেখলে নিজে সন্দেহভাজনকে ধাওয়া না করে নিরাপদ স্থানে থেকে পুলিশকে জানানো উচিত।

দর্শনার্থীদের সামনেই বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারালেন ব্যক্তি, বন্ধ হলো পার্ক

ইংল্যান্ডের একটি বন্যপ্রাণী পার্কে বাঘের খাঁচায় ঢুকে প্রাণ হারিয়েছেন এক ব্যক্তি। শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উত্তর ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কে এ ঘটনা ঘটে। খাঁচায় প্রবেশের পর একটি বাঘ তাঁর ওপর আ ক্র ম ণ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃ ত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনার পর পার্কটি খালি করে দেওয়া হয় এবং সপ্তাহান্তের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। দক্ষিণ ইয়র্কশায়ার পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের বাঘের খাঁচায় একজন ব্যক্তির প্রবেশের খবর পায় তারা। পরে বাঘটি ওই ব্যক্তির ওপর আ ক্র ম ণ করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। চিকিৎসাকর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে মৃ ত ঘোষণা করা হয়। নিহত ব্যক্তির পরিবারকে ঘটনার কথা জানানো হয়েছে। শোকাবহ এই পরিস্থিতিতে বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত কর্মকর্তারা পরিবারটিকে সহায়তা করছেন। ঘটনার সময় পার্কে উপস্থিত দর্শনার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে বাঘটির সঙ্গে ওই ব্যক্তির সংঘর্ষের দৃশ্য দেখা গেছে। ভিডিওতে ব্যক্তিটিকে বাঘের আ ক্র ম ণ থেকে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করতে শোনা যায়। আশপাশে থাকা লোকজনও চিৎকার করে তাঁকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন। তবে ঘটনার ভিডিওটি অত্যন্ত মর্মান্তিক হওয়ায় পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এমন দৃশ্য ছড়িয়ে পড়লে নিহত ব্যক্তির পরিবার ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের মানসিক কষ্ট আরও বাড়তে পারে। কীভাবে খাঁচায় প্রবেশ করলেন, তদন্ত চলছে ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা চালু করা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও জরুরি সেবাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে পার্ক প্রশাসন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার পর বাঘের খাঁচার চারপাশে কালো পর্দা টাঙানো হয়। এতে দর্শনার্থীদের সরাসরি ঘটনাস্থল দেখার সুযোগ সীমিত করা হয়। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে পার্কের দর্শনার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, আ ক্র ম ণের পর বাঘটি আহত হয়নি এবং খাঁচার ভেতরেই ছিল। এ কারণে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন করে কোনো ঝুঁকি নেই বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা। তবে ওই ব্যক্তি কীভাবে দর্শনার্থীদের জন্য নির্ধারিত অংশ পেরিয়ে বাঘের আবাসস্থলে ঢুকলেন, তা এখনো জানা যায়নি। তিনি কোনো বাধা অতিক্রম করেছিলেন কি না, কিংবা কী পরিস্থিতিতে খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সেসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ইয়র্কশায়ার ওয়াইল্ডলাইফ পার্কের ‘ল্যান্ড অব দ্য টাইগার্স’ এলাকায় বাঘ দেখার জন্য দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে তৈরি পথ রয়েছে। সেখান থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বাঘের চলাফেরা দেখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাঘের আবাসস্থলটি প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। পার্কটি ২০০৯ সালে চালু হয়। পরে ২০১১ সালে বাঘের জন্য নির্দিষ্ট এই প্রদর্শনী এলাকা চালু করা হয়। এখানে বিপন্ন প্রজাতির আমুর বা সাইবেরীয় বাঘ রাখা হয়। প্রাকৃতিক পরিবেশের আদলে তৈরি আবাসস্থলে বাঘগুলো বিচরণ করে এবং দর্শনার্থীরা নির্ধারিত স্থান থেকে সেগুলো দেখতে পারেন। এ ধরনের বন্যপ্রাণী পার্কে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সীমানা ও প্রবেশপথ মেনে চলা জরুরি। একই সঙ্গে প্রাণীদের স্বাভাবিক আবাসস্থল থেকে দর্শনার্থীদের আলাদা রাখার ব্যবস্থাও গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইয়র্কশায়ারের এই ঘটনায় নিরাপত্তাব্যবস্থায় কোনো ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ হওয়ার আগে নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ঘটনার পর পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থী, কর্মী ও প্রাণীদের নিরাপত্তা তাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তদন্ত চলাকালে পার্কটি বন্ধ রাখা হবে বলেও জানানো হয়। এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিচয়, বয়স কিংবা তিনি কী কারণে বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ তাঁর পরিবারের পাশে থাকার পাশাপাশি তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। একটি বন্যপ্রাণী পার্কে এমন মর্মান্তিক ঘটনা দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রাণীদের আবাসস্থল সুরক্ষার গুরুত্ব আবারও সামনে এনেছে। তদন্তে কীভাবে ওই ব্যক্তি বাঘের খাঁচায় প্রবেশ করেছিলেন, তা স্পষ্ট হলে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও জানা যাবে।

প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ ও ত্বকের যত্ন
প্রাপ্তবয়স্কদেরও হতে পারে ব্রণের সমস্যা, ত্বক সুস্থ রাখতে চিকিৎসকেরা দিচ্ছেন যেসব পরামর্শ

ব্রণকে সাধারণত কৈশোরের সমস্যা হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার পরও অনেকের মুখে ব্রণ দেখা দিতে পারে। কারও ক্ষেত্রে কৈশোরের ব্রণ প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও থেকে যায়, আবার কারও ত্বকে নতুন করে ব্রণ দেখা দেয়। মুখের পাশাপাশি বুক, কাঁধ ও পিঠেও হতে পারে এই সমস্যা। সঠিক চিকিৎসা না নিলে ব্রণ থেকে ত্বকে কালচে দাগ ও স্থায়ী ক্ষত তৈরি হতে পারে।   ফিলিপাইনে বসবাসকারী বিপণনকর্মী ও কনটেন্ট নির্মাতা গিলিয়ান মেগান মন্টালবোর অভিজ্ঞতা এর একটি উদাহরণ। কৈশোরে তাঁর কপাল ও নাকে অল্প কয়েকটি ব্রণ উঠত। তখন সমস্যা তেমন গুরুতর ছিল না। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পর ব্রণ আবার দেখা দেয় এবং ধীরে ধীরে বেড়ে যায়। গাল ও থুতনিতে ব্রণ হওয়ায় তিনি কর্মক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের চোখের দিকে তাকাতেও অস্বস্তি বোধ করতেন। মন্টালবোর ভাষায়, এই সমস্যা তাঁর আত্মবিশ্বাস ও নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারণার ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পরে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন তিনি। প্রায় এক বছরের মধ্যে তাঁর ব্রণ অনেকটাই সেরে যায়। তবে ত্বকে থেকে যাওয়া দাগ নিয়ে তাঁকে আরও কিছুদিন ভুগতে হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণ একটি পরিচিত সমস্যা। এ নিয়ে লজ্জা পাওয়া বা একা একা কষ্ট সহ্য করার প্রয়োজন নেই। ব্রণের ধরন ও কারণ বুঝে চিকিৎসা নিলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিনস স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ও এথনিক স্কিন প্রোগ্রামের পরিচালক ডা. ক্রিস্টাল আগুহ বলেন, ব্রণের কারণ ও চিকিৎসা সম্পর্কে চিকিৎসকদের যথেষ্ট জ্ঞান রয়েছে। তাই দীর্ঘদিন ব্রণের সমস্যায় ভুগলে একা কষ্ট না পেয়ে চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ব্রণের কারণ কী? ত্বকের ক্ষুদ্র রন্ধ্র তেল, মৃত কোষ ও ব্যাকটেরিয়ার কারণে বন্ধ হয়ে গেলে ব্রণ তৈরি হতে পারে। সাধারণ ছোট ব্রণ কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাসের মধ্যে কমে যেতে পারে। কিন্তু বারবার ব্রণ উঠতে থাকলে, দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে কিংবা ত্বকের রং ও গঠনে পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো। কৈশোরে সাধারণত কপাল, নাক ও গালে ব্রণ বেশি দেখা যায়। অন্যদিকে প্রাপ্তবয়স্কদের, বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনের পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্রণ চোয়ালের রেখা ও থুতনির আশপাশে বেশি দেখা যেতে পারে। স্টেরয়েডজাতীয় কিছু ওষুধ ব্যবহারের কারণেও কারও কারও ব্রণ হতে পারে। ব্রণের পেছনে বংশগত বৈশিষ্ট্য, হরমোন, পরিবেশ এবং খাদ্যাভ্যাসের মতো একাধিক বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। অতিরিক্ত দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণও কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ব্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রে কারণ এক নয়। মুখ ও শরীরের অন্য অংশে ব্রণ তৈরির প্রক্রিয়ায় মিল থাকলেও শরীরের ব্রণের ক্ষেত্রে ত্বকের ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা কখনো কখনো বেশি হতে পারে। ব্রণ দেখতে একেকজনের ক্ষেত্রে একেক রকম হয়। কিছু ব্রণ ছোট, সাদা ও ব্যথাহীন দানার মতো দেখা যায়। আবার কিছু ব্রণ লাল, ফুলে থাকা ও ব্যথাযুক্ত হতে পারে। ত্বকের গভীরে তৈরি হওয়া বড় ও যন্ত্রণাদায়ক গুটিকে সিস্টিক ব্রণ বলা হয়। ব্রণের ধরন বুঝে চিকিৎসা নির্বাচন করা গুরুত্বপূর্ণ। ব্রণের চিকিৎসায় কী কী উপায় রয়েছে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রণের চিকিৎসা নির্ভর করে সমস্যার তীব্রতা, কারণ এবং ত্বকের অবস্থার ওপর। হালকা ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা বেঞ্জয়েল পারঅক্সাইড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কিংবা অ্যাডাপালিনের মতো উপাদানযুক্ত ফেসওয়াশ বা ক্রিম ব্যবহারের পরামর্শ দিতে পারেন। এসব উপাদান ত্বকের রন্ধ্র পরিষ্কার রাখতে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করতে পারে। ব্রণ বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক বা ট্রেটিনয়েনজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতে পারে। গুরুতর সিস্টিক ব্রণ কিংবা অন্য চিকিৎসায় কাজ না হলে আইসোট্রেটিনয়েনের মতো ওষুধ বিবেচনা করা হয়। তবে এসব ওষুধের কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও ব্যবহারে বিশেষ সতর্কতা রয়েছে। তাই নিজে থেকে ওষুধ শুরু না করে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। নারীদের হরমোনজনিত ব্রণের ক্ষেত্রে চিকিৎসাপদ্ধতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা হরমোন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি কিংবা স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো ওষুধ দিতে পারেন। কোন চিকিৎসা উপযুক্ত হবে, তা ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে নির্ধারণ করতে হয়। কখনো কখনো দ্রুত কোনো নির্দিষ্ট ব্রণের ফোলা ও প্রদাহ কমাতে চিকিৎসকেরা কর্টিসোন ইনজেকশন ব্যবহার করেন। তবে এটি দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার বিকল্প নয়। ব্রণ থেকে বের হওয়া তরল শোষণ করতে হাইড্রোকলয়েডযুক্ত প্যাচও ব্যবহার করা হয়। এসব প্যাচ ব্রণ খোঁচানো থেকে বিরত থাকতেও সাহায্য করতে পারে। তবে সব ধরনের ব্রণের জন্য এগুলো উপযুক্ত নয়। ত্বকে দাগ বা অন্য সমস্যা দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ব্রণ খোঁচানো কেন ক্ষতিকর ব্রণ উঠলে অনেকেই তা নখ দিয়ে খুঁটতে বা চেপে বের করতে চান। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা এই অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফাইন ডার্মাটোলজির প্রতিষ্ঠাতা ডা. লরেন ফাইন বলেন, ব্রণ খোঁচানো বা চেপে ধরলে সমস্যা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে ত্বকের প্রদাহ আরও গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি নতুন ব্রণ তৈরি হওয়া, কালচে দাগ পড়া এবং স্থায়ী ক্ষতের ঝুঁকিও বাড়ে। গাঢ় ত্বকের মানুষের ক্ষেত্রে প্রদাহের পর অতিরিক্ত রঞ্জক পদার্থ তৈরি হওয়ায় দাগ দূর হতে বেশি সময় লাগতে পারে। ব্রণ সেরে যাওয়ার পরও ত্বকে দাগ থেকে যেতে পারে। এ ধরনের দাগ কমাতে গ্লাইকোলিক অ্যাসিডযুক্ত কিছু ত্বক পরিচর্যার পণ্য সহায়ক হতে পারে। অ্যাডাপালিন ও রেটিনলযুক্ত পণ্যও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজে লাগতে পারে। তবে গভীর বা গুরুতর ক্ষতের জন্য চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ লেজারের মতো চিকিৎসার পরামর্শ দিতে পারেন। চিকিৎসা শুরু করার পর ফল পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের শুরুতে কারও কারও ব্রণ সাময়িকভাবে বেড়ে যাওয়ার মতো পরিবর্তনও দেখা যায়। তাই ত্বকের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা এবং সমস্যা বাড়লে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা গুরুত্বপূর্ণ। ত্বকের যত্নের পাশাপাশি আত্মবিশ্বাসও জরুরি মন্টালবোর অভিজ্ঞতা দেখায়, ব্রণের প্রভাব শুধু ত্বকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি আত্মবিশ্বাস ও সামাজিক জীবনেও প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর বাবা নিজেও ব্রণের সমস্যায় ভুগেছিলেন। তিনিই তাঁকে চিকিৎসকের কাছে যেতে এবং উপযুক্ত পণ্য খুঁজে নিতে উৎসাহিত করেন। কঠিন সময়ে এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর সমর্থনও তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল। মন্টালবো জানান, ব্রণের সমস্যা যখন সবচেয়ে বেশি ছিল, তখন ওই বন্ধু তাঁর সঙ্গে বিদেশে বেড়াতে গিয়েছিলেন। একসময় বন্ধু তাঁকে জানান, তাঁর মুখের ব্রণ কখনো খেয়ালই করেননি। এই অভিজ্ঞতা মন্টালবোকে বুঝতে সাহায্য করে, অন্যের কাছে একজন মানুষের চেহারার চেয়ে তাঁর আচরণ ও ব্যক্তিত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে, বারবার ফিরে এলে কিংবা ত্বকে কালচে দাগ ও ক্ষত তৈরি করলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সঠিক চিকিৎসা, ধৈর্য এবং কাছের মানুষের সহযোগিতা এই সমস্যা মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পেন্টাগন এলাকায় আর্মি টেন-মাইলার দৌড় প্রতিযোগিতা
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রোববার আর্মি টেন-মাইলার দৌড় প্রতিযোগিতাকে কেন্দ্র করে যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সকাল থেকেই পর্যায়ক্রমে এসব নিয়ন্ত্রণ কার্যকর হওয়ায় প্রতিযোগিতার রুটের আশপাশে যাতায়াতকারী চালক ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। বিশেষ করে পেন্টাগন এলাকা এবং ওয়াশিংটন ডিসি ও ভার্জিনিয়ার মধ্যে চলাচলের ক্ষেত্রে বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। এবারের ৪২তম আর্মি টেন-মাইলার প্রতিযোগিতা পেন্টাগন এলাকা থেকে শুরু হচ্ছে। দৌড়বিদেরা প্রায় ১০ মাইল পথ অতিক্রম করবেন। এই আয়োজনে অংশ নিতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দৌড়বিদ ও দর্শকেরা আসেন। ফলে প্রতিযোগিতার শুরু ও শেষস্থলের কাছাকাছি সড়কে যানবাহনের চাপ বাড়তে পারে। পাশাপাশি পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা এবং সাময়িক সড়ক বন্ধ থাকার কারণে আশপাশের বাসিন্দা ও যাত্রীদের চলাচলে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর্লিংটন কাউন্টির নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ভোর ৫টা থেকে কয়েকটি সড়কে পর্যায়ক্রমে বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। আর্মি নেভি ড্রাইভের নির্দিষ্ট অংশ ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত বন্ধ রাখার কথা রয়েছে। লং ব্রিজ ড্রাইভের কিছু অংশেও সকালজুড়ে যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এ ছাড়া দক্ষিণমুখী ইন্টারস্টেট ৩৯৫-এর এক্সিট ৮সি সকাল ৮টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখার সূচি রয়েছে। একই সময়ে রুট ১১০-এর দক্ষিণমুখী অংশ সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকার কথা। এসব বিধিনিষেধের কারণে ওই সড়কগুলো ব্যবহারকারী চালকদের যাত্রার আগে বিকল্প পথ নির্ধারণ করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পেন্টাগন এলাকার পার্কিং ব্যবস্থাতেও বিধিনিষেধ থাকবে। কাউন্টির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পেন্টাগনের উত্তর দিকের পার্কিং লট এবং বাউন্ডারি চ্যানেল ড্রাইভে রোববার ভোর ৪টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত প্রবেশ ও বের হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকবে। পেন্টাগনের কর্মী এবং পেন্টাগন মেমোরিয়ালে যাওয়া নির্দিষ্ট দর্শনার্থীদের জন্য দক্ষিণের পার্কিং এলাকায় বিকল্প ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য আশপাশে পার্কিংয়ের জায়গা পাওয়া কঠিন হতে পারে। তাই ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে ওই এলাকায় যাওয়ার আগে নির্ধারিত প্রবেশপথ, পার্কিংয়ের নিয়ম এবং গন্তব্যে পৌঁছানোর বিকল্প ব্যবস্থা সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন। নিষিদ্ধ এলাকায় গাড়ি রাখলে জরিমানা কিংবা গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। প্রতিযোগিতার প্রভাব পড়বে ওয়াশিংটন ডিসির সড়কেও। ডিসি পুলিশের ট্রাফিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কী ব্রিজ, হোয়াইটহার্স্ট ফ্রিওয়ে, পটোম্যাক রিভার ফ্রিওয়ে এবং ১৪তম স্ট্রিটের কিছু অংশে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকবে। ফলে ভার্জিনিয়া থেকে ওয়াশিংটন ডিসিতে যাতায়াতকারী কিংবা উল্টো পথে চলাচলকারী যাত্রীদের বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হতে পারে। এসব এলাকায় কিছু সড়কে পার্কিংও নিষিদ্ধ থাকবে। তাই রাস্তার পাশে গাড়ি রাখার আগে অস্থায়ী সাইনবোর্ড ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি। প্রতিযোগিতা চলাকালে পুলিশের নির্দেশনা অনুসরণ করলে অপ্রত্যাশিত বিলম্ব ও জরিমানার ঝুঁকি এড়ানো সহজ হবে। গণপরিবহন ব্যবহারকারীদের জন্য পেন্টাগন ও পেন্টাগন সিটি মেট্রো স্টেশন সকাল ৬টা থেকে চালু থাকার কথা রয়েছে। প্রতিযোগিতার শুরু ও শেষস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় স্টেশন দুটি দর্শক এবং সংশ্লিষ্ট যাত্রীদের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। তবে যাত্রার আগে মেট্রোর সর্বশেষ সময়সূচি ও স্টেশনে প্রবেশের পরিস্থিতি যাচাই করে নেওয়া ভালো। রাইডশেয়ার ব্যবহারকারীদেরও নির্ধারিত ওঠানামার স্থান ব্যবহার করা উচিত। প্রতিযোগিতার রুটের কাছে ইচ্ছেমতো যাত্রী ওঠানো বা নামানোর চেষ্টা করলে যানজটের মধ্যে পড়তে হতে পারে। এ কারণে যাত্রা শুরুর আগে ট্রাফিকের সর্বশেষ অবস্থা দেখে বের হওয়া এবং প্রয়োজনে কিছুটা অতিরিক্ত সময় হাতে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যাঁদের কর্মস্থল, চিকিৎসাকেন্দ্র, হোটেল কিংবা অন্য কোনো জরুরি গন্তব্য এই এলাকার আশপাশে, তাঁদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছানোর প্রয়োজন থাকলে বন্ধ সড়কের ওপর নির্ভর করে যাত্রাপথ ঠিক করা ঠিক হবে না। নেভিগেশন অ্যাপ বিকল্প পথ খুঁজতে সাহায্য করতে পারে। তবে পুলিশের নির্দেশনা এবং সড়কে থাকা অস্থায়ী নির্দেশক চিহ্নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আর্মি টেন-মাইলার যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্কিত একটি বার্ষিক দৌড় প্রতিযোগিতা। এর উদ্দেশ্য সেনাবাহিনীর শারীরিক সক্ষমতা ও ফিটনেস কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং সামরিক সদস্যদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ বাড়ানো। প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া অর্থ সেনাসদস্য ও তাঁদের পরিবারের কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সহায়তা করে। দৌড়বিদদের কাছে আয়োজনটি উৎসবমুখর হলেও সড়ক বন্ধ, পার্কিংয়ের সীমাবদ্ধতা ও যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণের কারণে আশপাশের বাসিন্দা এবং চালকদের সাময়িক অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। তাই রোববার পেন্টাগন ও ওয়াশিংটন ডিসির আশপাশে যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে আগেই রুট যাচাই করা, বিকল্প পথ ঠিক রাখা এবং প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সময় হাতে নিয়ে বের হওয়াই সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা।

ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ক্যানসার গবেষণা যুক্তরাজ্যের প্রধান চিকিৎসা উপদেষ্টা হলেন অধ্যাপক মারিয়াম জামাল-হানজানি

ক্যান্সার গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দাতব্য সংস্থা ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের প্রধান চিকিৎসক বা চিফ ক্লিনিশিয়ান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি। এই নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ পদে থেকে তিনি সংস্থাটির ক্লিনিক্যাল গবেষণার রূপরেখা তৈরি এবং ক্যান্সার চিকিৎসার মান উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবেন। ক্যান্সার চিকিৎসায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সংস্থাটি দীর্ঘকাল ধরে কাজ করে যাচ্ছে। এই লক্ষ্য পূরণে তার মতো একজন অভিজ্ঞ গবেষকের অন্তর্ভুক্তি বিশেষ মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। নতুন এই দায়িত্ব পাওয়ার খবরটি চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মহলেও বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।   অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি বর্তমানে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনে বা ইউসিএলে ক্যান্সার জিনোমিকস এবং মেটাস্ট্যাসিস বিষয়ের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি একজন অত্যন্ত সুপরিচিত এবং স্বীকৃত গবেষক হিসেবে সমাদৃত। মানবদেহে ক্যান্সার কীভাবে বিবর্তিত হয় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে তা নিয়ে তিনি নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। পাশাপাশি প্রচলিত চিকিৎসার বিরুদ্ধে ক্যান্সার কোষগুলো কীভাবে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে সেই জটিল প্রক্রিয়া নিয়েও তার ব্যাপক গবেষণা রয়েছে। তার এই দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবার ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের ভবিষ্যত গবেষণার কাজে সরাসরি ব্যবহৃত হবে।   নতুন এই দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে অধ্যাপক মরিয়ম জামাল হানজানি অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন যে বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলোকে রোগীদের বাস্তব জীবনের কল্যাণে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের একটি অসাধারণ ও প্রমাণিত ইতিহাস রয়েছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যের অংশ হতে পারা এবং এই যাত্রায় ভূমিকা রাখার সুযোগ পাওয়াকে তিনি নিজের জন্য বিশাল এক প্রাপ্তি বলে মনে করছেন। রোগীদের জন্য নতুন এবং আরও কার্যকর চিকিৎসার উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করার বিষয়ে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।   বর্তমান বিশ্বে ক্যান্সার চিকিৎসায় মেটাস্ট্যাসিস বা ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা চিকিৎসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়। অধ্যাপক মরিয়মের জিনোমিক্স বিষয়ক দীর্ঘ গবেষণা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন করতে পারে। ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে বরাবরই গবেষণাগারের প্রাথমিক সাফল্যগুলোকে সরাসরি রোগীদের জন্য চিকিৎসা পদ্ধতিতে রূপান্তর করতে কাজ করে থাকে। প্রধান চিকিৎসক হিসেবে তিনি বিজ্ঞানীদের আধুনিক গবেষণা এবং রোগীদের সরাসরি চিকিৎসার মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করবেন। এর ফলে আগামী দিনে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে মানবজাতির লড়াই আরও বেশি সুসংহত ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   উৎস: ক্যান্সার রিসার্চ ইউকে প্রেস রিলিজ

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল এমপি
কলকাতায় মুসলিমদের পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ, জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাইলেন তৃণমূল এমপি
প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ২:১৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় মুসলিম অধ্যুষিত একটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। শহরের জ্যোতি নগর কলোনির বাসিন্দাদের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পানি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সংসদ সদস্য সমীরুল ইসলাম। এ ঘটনায় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দিয়েছেন তিনি।   শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে চিঠির একটি অনুলিপি প্রকাশ করেন সমীরুল ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতায় আসার পর কলকাতার জ্যোতি নগর কলোনিতে পানীয় জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা হওয়ায় বাসিন্দারা রাজনৈতিক বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আউটলুক ইন্ডিয়া ও বার্তা সংস্থা পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমীরুল ইসলাম জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারকে লেখা চিঠিতে পানি সংকটকে গুরুতর মানবাধিকার সমস্যা হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, দীর্ঘদিন ধরে কোনো এলাকার মানুষকে নিরাপদ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত রাখা শুধু পৌর পরিষেবার ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।   কলকাতার কাশীপুর এলাকার জ্যোতি নগর কলোনিতে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের বসবাস। স্থানীয়ভাবে এলাকাটি মোল্লাপাড়া নামেও পরিচিত। এখানকার অধিকাংশ বাসিন্দা মুসলিম হলেও হিন্দু পরিবারও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ২৯ জুলাই থেকে এলাকায় নিয়মিত পাইপলাইনের পানি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।   দীর্ঘদিন ধরে পানি না পাওয়ায় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি হয়েছে। রান্না, পানীয় জল সংগ্রহ, গোসল এবং অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। স্থানীয় সংগঠন ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে পানির ট্যাংকারের ব্যবস্থা করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত নয় বলে অভিযোগ রয়েছে।   সমীরুল ইসলাম তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন, বিশুদ্ধ পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন সুবিধা মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। জাতিসংঘও নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়াকে মানবাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জনগোষ্ঠীকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না করা তাদের স্বাস্থ্য, মর্যাদা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।   তৃণমূলের এই সংসদ সদস্যের অভিযোগ, জ্যোতি নগর কলোনির মুসলিম বাসিন্দাদের বিজেপির ভোটব্যাংকের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। এ কারণেই তাঁদের এলাকায় পানির সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে পরিকল্পিতভাবে পানি সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   চিঠিতে সমীরুল ইসলাম আরও জানান, কলোনির বাসিন্দারা কোনো বিশেষ সুবিধা কিংবা বাড়তি সরকারি সহায়তা চাইছেন না। তাঁদের দাবি কেবল দৈনন্দিন জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ পানীয় জল পাওয়ার নিশ্চয়তা।   পানি সংকটের কারণে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টিও সামনে এনেছেন তিনি। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বিশুদ্ধ পানি না পেলে পানিবাহিত ও সংক্রামক রোগের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক এবং দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন বলে সতর্ক করেছেন তিনি।   এ পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক সংস্থার কাছে কয়েকটি বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেছেন সমীরুল ইসলাম। জ্যোতি নগর কলোনিতে কেন দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছে না, তার কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।   পাশাপাশি বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, সংকটের স্থায়ী সমাধানে কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা কী এবং ঝুঁকিতে থাকা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেসব বিষয় খতিয়ে দেখার অনুরোধ করেছেন তৃণমূলের এই সংসদ সদস্য।   পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় রয়েছে। তবে পানি সরবরাহ বন্ধের অভিযোগের বিষয়ে রাজ্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জাতিসংঘ কোনো তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   জ্যোতি নগর কলোনির পানি সংকটকে কেন্দ্র করে এখন স্থানীয় নাগরিক পরিষেবার পাশাপাশি ধর্মীয় বৈষম্য ও মানবাধিকারের প্রশ্নও সামনে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ, পানি সরবরাহ বন্ধের প্রকৃত কারণ শনাক্ত এবং বাসিন্দাদের জন্য নিয়মিত নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।

ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা
ফ্রান্স থেকে দেশে এসে ভাড়ায় ডাকাতি, কাজ শেষে ইউরোপে ফিরে যান চক্রের লোকেরা
প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১:২৫

বাংলাদেশে ডাকাতি করতে বিদেশ থেকে বিমানে আসছেন সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্যরা। ডাকাতি শেষে আবার ফিরে যাচ্ছেন ইউরোপে। রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় এমন একাধিক চক্র সক্রিয় থাকার তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের গাড়ি থামিয়ে হাতকড়া পরিয়ে তুলে নেওয়া এবং টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করার অভিযোগ রয়েছে এসব চক্রের বিরুদ্ধে।   আরটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ডাকাত চক্রের সঙ্গে দেশি ও বিদেশে অবস্থানরত অপরাধীরা জড়িত। কেউ বিদেশ থেকে দেশে এসে ডাকাতিতে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভাড়ায় এসে অপরাধ সংঘটিত করছেন। কাজ শেষ হলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যাচ্ছেন তাঁরা।   তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, আলোচিত অভিযুক্তদের একজন বাগেরহাটের সৈয়দ নাসির উদ্দিন। তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে বিমানে ভারতে এসে সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন তিনি। এরপর শ্যালক শামীমসহ কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে ডাকাতিতে অংশ নিতেন। ডাকাতি শেষে একই পথে আবার ফ্রান্সে ফিরে যেতেন।   তবে শেষ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে পারেননি নাসির। রাজধানীর উত্তরায় একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি।   শুধু বিদেশ থেকে আসা অপরাধীরাই নন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী পেশাদার ডাকাতদেরও অর্থের বিনিময়ে কাজে লাগানো হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁদের কেউ ব্যবসায়ী পরিচয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন, আবার ডাকাতির সুযোগ পেলে সংগঠিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত হন।   এমনই একজন পাবনার চাটমোহরের নবীন পূর্বপাড়ার মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩)। সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ‘মেসার্স কৃষি ভান্ডার’ নামে তাঁর একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্থানীয়ভাবে ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত হলেও পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ভাড়ায় ডাকাতিতে জড়িত।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাকাতির জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক, হাতকড়া ও ওয়াকিটকিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করেন শহিদুল ও তাঁর সহযোগীরা। তাঁর বিরুদ্ধে সাভার, সিরাজগঞ্জ ও বগুড়ায় ডাকাতির তিনটিসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শহিদুলের সঙ্গে আরও ছয় থেকে সাতজনের একটি দল রয়েছে। গত ২৩ জুলাই রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকায় মোহাম্মদ রিয়াজ নামে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় এই চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। রতন চৌধুরী ওরফে ডালিম নামে এক ব্যক্তি তাঁদের ভাড়া করেছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।   একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত আরেক ব্যক্তি বরিশালের খানপুরের মো. জলিল মোল্লা। তাঁর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় ডাকাতির পাঁচটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর, ধানমন্ডি ও মিরপুর মডেল থানায় একটি করে এবং টাঙ্গাইলের মির্জাপুর থানায় দুটি মামলা রয়েছে।   আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বিমানবন্দর এলাকায় আল আমীন গ্রুপ, শাওন গ্রুপ এবং গোয়েন্দা পুলিশের সাবেক সোর্স শহীদের নেতৃত্বাধীন চক্রসহ কয়েকটি সংঘবদ্ধ দল সক্রিয় রয়েছে। এসব অপরাধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে।   অভিযোগ রয়েছে, এসব চক্র পাঁচ থেকে দশ লাখ টাকার বিনিময়ে ডাকাতিতে অংশ নেয়। বিশেষ করে বিমানবন্দর দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে আসা স্বর্ণের বড় চালান লুটের ক্ষেত্রে ভাড়ার অঙ্ক কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়।   বিমানবন্দর এলাকায় সাধারণ যাত্রীরাও এসব অপরাধের শিকার হচ্ছেন। ২০২৪ সালের ৬ এপ্রিল সিঙ্গাপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান কুষ্টিয়ার মো. রাশেদুল ইসলাম। ফ্লাইটের আগে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে ওভারসিজ ট্রেনিং সেন্টারে যাওয়ার জন্য একটি বাসে ওঠেন তিনি।   অভিযোগ অনুযায়ী, বাসটিতে আগে থেকেই যাত্রীবেশে পাঁচ থেকে ছয়জন ডাকাত অবস্থান করছিলেন। বাসের দরজা বন্ধ করে তাঁরা রাশেদুলের চোখ ও মুখ বেঁধে মারধর করেন। এরপর তাঁর সঙ্গে থাকা মালামাল লুট করে এমইএস ফ্লাইওভারসংলগ্ন জসিমউদ্দীন গোলচত্বর এলাকায় নামিয়ে দেওয়া হয়।   ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. ইলিয়াস কবির জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও উত্তরা এলাকায় অপরাধ সংঘটনের পর অভিযুক্তরা দ্রুত ঢাকার বাইরে চলে যান। অনেক চেষ্টা করে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হলেও অনেকে অল্প সময়ের মধ্যে জামিনে মুক্ত হয়ে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েন।   তবে পুলিশের নিয়মিত তৎপরতার কারণে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক ডাকাতির ঘটনা অনেকাংশে কমেছে বলে দাবি করেছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।   অন্যদিকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাই প্রতিরোধে নিয়মিত গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।   তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অপরাধীরা অনেক সময় স্থান, সময় ও কৌশল পরিবর্তন করে অপরাধ সংঘটনের চেষ্টা করেন। এসব অপরাধ পুরোপুরি বন্ধ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর সমন্বিত ও ধারাবাহিক অভিযান প্রয়োজন।   বিমানবন্দরকেন্দ্রিক এসব ঘটনায় বিদেশফেরত যাত্রী, বিদেশগামী ব্যক্তি এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতির অভিযোগ সাধারণ মানুষের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ
দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই ধ্রুব রাঠিকে আটক করল পুলিশ
প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ১:০

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই জনপ্রিয় ইউটিউবার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ধ্রুব রাঠিকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে হরিয়ানার গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকায় তাঁর বাসা থেকে দিল্লি পুলিশ তাঁকে আটক করেছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে যুগান্তর। তবে আটকের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকা বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ধ্রুব রাঠি। কিন্তু বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই তাঁকে আটক করা হয়। নিউজ১৮-এর বরাতে প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সকাল প্রায় ৭টা ৪৮ মিনিটে দিল্লি পুলিশের একটি দল তাঁর বাসায় পৌঁছায়। সে সময় তাঁর মা দরজা খুলে দেন।   প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬ এলাকার সেন্ট্রাল পার্ক বিহারে অবস্থিত তাঁর বাসার বাইরে প্রায় ৫০ জন পুলিশ সদস্য অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে তাঁকে কী কারণে আটক করা হয়েছে কিংবা কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   এদিকে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বড় ধরনের বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি ও তাদের সহযোগী ছাত্রসংগঠনগুলো। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।   আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁদের দাবি, এই প্রক্রিয়া ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। নির্বাচন কমিশনও ভোটার তালিকা সংশোধনকে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে তুলে ধরেছে।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবারের বিক্ষোভ সামনে রেখে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ও মেট্রো পরিষেবা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।   বিক্ষোভের আগে আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর একাধিক সদস্যকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে। ককরোচ জনতা পার্টির নেতাদের অভিযোগ, কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ ঠেকাতে তাঁদের সদস্যদের বিরুদ্ধে ধরপাকড় চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   এর আগে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে একই আন্দোলনের একটি সমাবেশে অংশ নেন ধ্রুব রাঠি। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ এবং ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে। সমাবেশে ভারতের নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ধ্রুব রাঠি।   ওই সমাবেশে তিনি জানান, সরকার পরিবর্তনের উদ্দেশ্যে নয়, বরং নির্বাচনব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে তিনি আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।   ভারতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন ইস্যুতে ইউটিউব ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন ধ্রুব রাঠি। বিশেষ করে সরকারি নীতি, নির্বাচনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক জবাবদিহি নিয়ে তাঁর আলোচনা ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।   শনিবার তাঁকে আটকের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, সে বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ কিংবা পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর বর্তমান অবস্থান এবং আটকের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।

বিরল রোগে আক্রান্ত হলেও জলের বুকে ওয়েক সার্ফিং করার সময় পরম স্বাধীনতা উপভোগ করেন অ্যাবি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
লাখে একজনের হওয়া বিরল রোগে আক্রান্ত অ্যাবি, সার্ফিংয়ে খুঁজে পেলেন জীবনের আনন্দ
প্রকাশ: অক্টোবর ১০, ২০২৬ ০:৩

জন্ম থেকেই বিরল রোগ ক্লিপেল-ট্রেনোনে আক্রান্ত অ্যাবি ভ্লাদা স্মুটের জীবনে রয়েছে নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জ। তবে সেই সীমাবদ্ধতা তাঁর আনন্দ খুঁজে নেওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। ওয়েক সার্ফিংয়ের মাধ্যমে পানির ওপর ঢেউয়ের সঙ্গে চলার অভিজ্ঞতায় তিনি খুঁজে পান মুক্তির স্বাদ। তাঁর জীবনযাপনের এই দিকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন তাঁর ভাই। সেখানে অ্যাবির প্রতিকূলতার মধ্যেও হাসিমুখে জীবন উপভোগ করার মানসিকতার কথা উঠে এসেছে।   অ্যাবির ভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্ম থেকেই তাঁর বোনকে এমন কিছু বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা অন্য অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ নয়। সাধারণ কাজও কখনো কখনো তাঁর জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। তবে নিজের সীমাবদ্ধতার দিকে মনোযোগ দিয়ে থেমে থাকার পরিবর্তে অ্যাবি যেসব কাজ করতে পারেন, সেগুলো উপভোগ করার চেষ্টা করেন। তাঁর ভাইয়ের কাছে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, জীবনের প্রতিকূলতা নিয়ে অ্যাবিকে কখনো অভিযোগ করতে শোনেননি তিনি। বরং অ্যাবি বর্তমান মুহূর্তকে উপভোগ করেন এবং নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নিয়ে যান।   অ্যাবির জীবনে ওয়েক সার্ফিং বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এ জলক্রীড়ায় নৌকার পেছনে তৈরি হওয়া ঢেউয়ের ওপর বিশেষ বোর্ডের সাহায্যে ভারসাম্য রেখে চলতে হয়। পানির ওপর এই অভিজ্ঞতা অ্যাবিকে দৈনন্দিন জীবনের সীমাবদ্ধতা থেকে কিছুটা দূরে গিয়ে স্বাধীনতার অনুভূতি দেয়। তাঁর ভাইয়ের প্রকাশিত ছবিতে ও ভিডিওতে সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো দেখা যায়। অ্যাবির গল্পে তাই শুধু একটি বিরল রোগের কথা নয়, নিজের পছন্দের কাজের মধ্য দিয়ে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।   ক্লিপেল-ট্রেনোনে সিনড্রোম একটি বিরল জন্মগত অবস্থা, যা রক্তনালি, নরম টিস্যু ও হাড়ের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে। এ রোগে ত্বকে লালচে বা বেগুনি জন্মদাগ, অস্বাভাবিক শিরা এবং শরীরের কোনো একটি অঙ্গের অতিরিক্ত বৃদ্ধি দেখা দিতে পারে। সাধারণত একটি পা বেশি আক্রান্ত হলেও কারও কারও ক্ষেত্রে শরীরের অন্য অংশেও লক্ষণ দেখা যায়। রোগটির উপসর্গ ও তীব্রতা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ।       চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ক্লিপেল-ট্রেনোনে সিনড্রোমের নির্দিষ্ট কোনো নিরাময় নেই। তবে এর উপসর্গ ও জটিলতা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, ফিজিওথেরাপি, চাপ প্রয়োগকারী বিশেষ পোশাক কিংবা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার বিবেচনা করা হতে পারে। এই রোগ থাকলেই যে কেউ স্বাভাবিক জীবনযাপন বা পছন্দের কাজে অংশ নিতে পারবেন না, তা নয়। তবে শারীরিক সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে কার্যক্রম বেছে নেওয়া জরুরি।       অ্যাবির গল্পে তাঁর ভাই যে বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেছেন, তা হলো নিজের অক্ষমতা বা সীমাবদ্ধতাকে জীবনের সবকিছু হয়ে উঠতে না দেওয়া। তিনি কী করতে পারেন না, তার বদলে কী করতে পারেন, সেদিকে মনোযোগী থাকার চেষ্টা করেন। তাঁর হাসিমুখে সময় কাটানো এবং ওয়েক সার্ফিংয়ের মতো পছন্দের কাজে অংশ নেওয়া পরিবারের কাছে আনন্দের বিষয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার মধ্য দিয়ে বিরল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জীবন ও তাঁদের ব্যক্তিগত আনন্দের জায়গাগুলোও আলোচনায় এসেছে।   সূত্র: আপসোকল, গ্রেট অরমন্ড স্ট্রিট হাসপাতাল।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়