সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
গবেষণার অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশের স্কলারশিপে আবেদনের সুযোগ রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
রিসার্চ অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশে মাস্টার্সের সুযোগ, জেনে নিন পাঁচটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের বিস্তারিত

বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন থাকলেও গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী স্কলারশিপের আবেদন করতে দ্বিধায় পড়েন। তবে যুক্তরাজ্য, চীন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও জার্মানিতে এমন কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপ রয়েছে, যেখানে আবেদন করার জন্য আগে থেকে গবেষণাপত্র প্রকাশ বা গবেষণার অভিজ্ঞতা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। এসব স্কলারশিপের মাধ্যমে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত এবং অন্যান্য খরচের জন্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।   উচ্চশিক্ষাবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অ্যাম্বারের প্রকাশিত একটি তথ্যচিত্রে চিভনিং, ইয়েনচিং একাডেমি, ইরাসমাস মুন্ডাস, ডিএএডি ইপিওএস এবং ফুলব্রাইট নেহরু স্কলারশিপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। তবে স্কলারশিপগুলোর যোগ্যতা, আবেদনের সময়সীমা ও আর্থিক সুবিধা এক নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কোন কর্মসূচি উন্মুক্ত, তা যাচাই করা জরুরি।   যুক্তরাজ্যের চিভনিং স্কলারশিপ যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত চিভনিং স্কলারশিপের মাধ্যমে দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছরের মাস্টার্স করার সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপে সাধারণত টিউশন ফি, মাসিক ভাতা, যাতায়াত এবং ভিসাসংক্রান্ত নির্ধারিত খরচ বহন করা হয়। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরাও এই স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারেন।   চিভনিংয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক না হলেও নেতৃত্বের দক্ষতা, পেশাগত অভিজ্ঞতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ। আবেদনকারীর নির্ধারিত সময়ের কাজের অভিজ্ঞতাও থাকতে হয়। অ্যাম্বারের তথ্যচিত্রে ৭ নভেম্বর ২০২৬ আবেদনের শেষ সময় উল্লেখ করা হলেও নির্দিষ্ট আবেদনচক্রের সরকারি সময়সূচি যাচাই করেই আবেদন করতে হবে।   চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপ চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটির ইয়েনচিং একাডেমি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য চায়না স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্স প্রোগ্রাম পরিচালনা করে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, আবাসন, মাসিক ভাতা এবং নির্ধারিত যাতায়াত খরচের সহায়তা পান।   এই প্রোগ্রামে বিভিন্ন একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারেন। গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলেও ভালো একাডেমিক ফলাফল, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা, আগ্রহের বিষয় এবং আবেদনপত্রের মান গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যচিত্রে ২০ জানুয়ারি ২০২৭ সময়সীমা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদনকারীর ক্যাটাগরি অনুযায়ী ডেডলাইন আলাদা হতে পারে।   ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ইরাসমাস মুন্ডাস জয়েন্ট মাস্টার্স আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর বিশেষত্ব হলো, একই মাস্টার্স প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে একাধিক ইউরোপীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাওয়া যায়।   নির্বাচিত স্কলারশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সাধারণত মাসিক ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত সহায়তা পান। এই অর্থ জীবনযাপন, যাতায়াত ও অন্যান্য নির্ধারিত ব্যয় নির্বাহে সহায়ক। স্কলারশিপপ্রাপ্তদের কাছ থেকে সাধারণত প্রোগ্রামের অংশগ্রহণ ফি নেওয়া হয় না।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা অনুযায়ী বিভিন্ন ইরাসমাস মুন্ডাস প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারেন। তবে প্রতিটি প্রোগ্রামের বিষয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও ডেডলাইন আলাদা। অনেক প্রোগ্রামের আবেদন বছরের শেষ দিকে শুরু হয়ে পরবর্তী বছরের প্রথম কয়েক মাস পর্যন্ত চলে।   জার্মানির ডিএএডি ইপিওএস স্কলারশিপ জার্মানির ডিএএডি ইপিওএস স্কলারশিপ মূলত উন্নয়নশীল দেশের পেশাজীবীদের জন্য পরিচালিত হয়। উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ দেয় এই কর্মসূচি।   এতে মাসিক ভাতা, হেলথ ইন্স্যুরেন্স, নির্ধারিত যাতায়াত খরচ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়। তবে সব কোর্সের টিউশন ফি ও আর্থিক সুবিধা এক নয়।   বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই স্কলারশিপে সাধারণত সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অন্তত দুই বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলেও উপযুক্ত শিক্ষাগত যোগ্যতা ও কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদনের শেষ সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।   যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট নেহরু স্কলারশিপ যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য ফুলব্রাইট নেহরু মাস্টার্স ফেলোশিপ ভারতের শিক্ষার্থীদের একটি পরিচিত স্কলারশিপ কর্মসূচি। এতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ, যাতায়াত এবং স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সুবিধা দেওয়া হয়।   তবে এই স্কলারশিপের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে। ফুলব্রাইট নেহরু কর্মসূচি ভারতীয় নাগরিকদের জন্য নির্ধারিত। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা সরাসরি এই কর্মসূচিতে আবেদন করতে পারবেন না।   বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফুলব্রাইটের পৃথক সুযোগ রয়েছে। সেগুলোর যোগ্যতা, বিষয় ও আবেদনপ্রক্রিয়া আলাদা। তাই যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষায় আগ্রহীদের বাংলাদেশ থেকে আবেদনযোগ্য ফুলব্রাইট কর্মসূচির ঘোষণা অনুসরণ করতে হবে।   উচ্চশিক্ষা বিশেষজ্ঞদের সাধারণ পরামর্শ অনুযায়ী, স্কলারশিপ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে শুধু আর্থিক সুবিধা দেখলেই হবে না। নিজের একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড, কাজের অভিজ্ঞতা, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, পছন্দের বিষয় এবং আবেদনযোগ্যতা মিলিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলেও সুযোগ রয়েছে, তবে প্রতিটি স্কলারশিপে প্রতিযোগিতা ও নির্বাচনের শর্ত ভিন্ন।   তবে প্রকাশিত তথ্যচিত্রটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন সরকারি তথ্যের সঙ্গে মিলছে না। চিভনিংয়ের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ৬ অক্টোবর ২০২৬ শেষ হয়েছে। অন্যদিকে ইয়েনচিং একাডেমির ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের শেষ সময় ৩০ নভেম্বর ২০২৬, বেইজিং সময় সকাল ৯টা।   ইয়েনচিং একাডেমিতে আবেদন করার সুযোগ এখনো রয়েছে। ইরাসমাস মুন্ডাসের বিভিন্ন প্রোগ্রামেও আবেদন শুরু হচ্ছে। ফলে বিদেশে মাস্টার্স করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকেই প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং স্টেটমেন্ট অব পারপাস প্রস্তুত করার সময়।   যুক্তরাজ্যের চিভনিং, চীনের পিকিং ইউনিভার্সিটি, ইউরোপীয় কমিশন, জার্মানির ডিএএডি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফুলব্রাইট কর্মসূচির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গবেষণার অভিজ্ঞতা না থাকলেও উপযুক্ত যোগ্যতা ও প্রস্তুতির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের জন্য প্রতিযোগিতা করা সম্ভব।

১৯ মিনিট Ago
ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক
ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মিশিগানের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। বুধবার এনপিআর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমি মনে করি এই নীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট সঠিক অবস্থানে আছেন।"   তবে এল-সায়েদ শুধু বিনামূল্যে সহায়তা বন্ধেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তিনি ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের মার্কিন অস্ত্র বিক্রিও পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "যেসব অস্ত্র গণহত্যা ও বর্ণবাদের মতো জঘন্য কাজে ব্যবহৃত হয়, আমরা চাই ইসরায়েলের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হোক।"   গত মঙ্গলবার মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েন এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করাই ছিল তার প্রচারণার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। নিজের বিজয় ভাষণেও তিনি এ বিষয়ের পুনরুল্লেখ করেছেন।   এছাড়া তিনি মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতেও মার্কিন সামরিক সহায়তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থ বিদেশের বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নেই ব্যয় হওয়া উচিত।   এর আগে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে কয়েক মাস আগেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়েছে। 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজেই প্রথম এই সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   নেতানিয়াহুও এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলকে স্বাবলম্বী করতে এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান মজবুত করতে আগামী এক দশকের মধ্যে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চান তিনি। তবে সামরিক সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগের মতোই অটুট থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ট্রাম্প।

২৪ মিনিট Ago
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সামান্তা শারমিন। ছবি: সংগৃহীত
জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন সামান্তা শারমিন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কথা জানান।   নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে পদত্যাগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন সামান্তা শারমিন। তবে তাঁর পদত্যাগের কারণ কিংবা পরবর্তী রাজনৈতিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।   এদিকে গত ২৩ অক্টোবর এনসিপির ঘোষিত নতুন কমিটিতে সামান্তা শারমিনকে যুগ্ম আহ্বায়ক পদে রাখা হয়। এর আগে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। নতুন কমিটিতে তাঁর পদ পরিবর্তনকে পদাবনতি হিসেবে উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়। তবে এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁর পদত্যাগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   দলের সাংগঠনিক কাঠামোয় পরিবর্তনের পর সামান্তা শারমিনের পদত্যাগের ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে তিনি অন্য কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হবেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।

২৫ মিনিট Ago
ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সংস্কৃতি নিয়ে রসিকতা করে আলোচনায় এলেন আবদুল এল-সায়েদ। ছবি: সংগৃহীত
‘আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় হয়ে গেছি’, স্ত্রীকে নিয়ে আবদুল এল-সায়েদের রসিকতা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেট নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পাওয়া ডেমোক্র্যাট নেতা আবদুল এল-সায়েদ এবার আলোচনায় এসেছেন নিজের ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির সংস্কৃতি নিয়ে রসিকতার কারণে। প্রায় ২০ বছর ধরে দক্ষিণ ভারতীয় একটি পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এখন নিজেকে আরবের চেয়ে বেশি ভারতীয় মনে হয় তাঁর। এমনকি আরবদের তুলনায় দক্ষিণ এশীয়দের বেশি পছন্দ করা হয় বলেও রসিকতা করেছেন তিনি। পুরোনো একটি পডকাস্ট সাক্ষাৎকারের ভিডিও নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স্টপোস্টও বিষয়টি তুলে ধরেছে।   ৪২ বছর বয়সী আবদুল এল-সায়েদ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে মিশিগানের সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটর নির্বাচিত হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। মিশরের অভিবাসী পরিবারের সন্তান এল-সায়েদ এর আগে মিশিগানের জনস্বাস্থ্য বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। আগামী ৩ জানুয়ারি নতুন কংগ্রেসের মেয়াদ শুরু হলে তাঁর শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।   সম্প্রতি আলোচনায় আসা পডকাস্টের একটি ভিডিওতে এল-সায়েদ বলেন, দক্ষিণ ভারতীয় পরিবারে বিয়ে করার পর ২০ বছর কেটে গেছে এবং তিনি এখন সেই সংস্কৃতির সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত। তাঁর ভাষায়, আরব পরিচয়ের পাশাপাশি ভারতীয় সংস্কৃতিও এখন তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজের স্ত্রী ও দুই মেয়েকে ‘দেশি’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জীবনের বড় একটি সময় দক্ষিণ এশীয় নারীদের সান্নিধ্যেই কেটেছে তাঁর।   এল-সায়েদের স্ত্রী ডা. সারা জুকাকু একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে জন্মগ্রহণ করলেও তাঁর পরিবারের আদি নিবাস ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উপকূলীয় শহর ভাটকল। সারার বাবা ডা. তৈয়ব জুকাকু একজন কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ। তিনি বেঙ্গালুরুতে চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা শেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সারার দাদা জুকাকু শামসুদ্দিন ভারতের সাবেক মহীশূর রাজ্যে অর্থবিষয়ক উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।   আবদুল এল-সায়েদ ও সারা জুকাকুর পরিচয় হয় ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে পড়াশোনার সময়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমেও তাঁরা যুক্ত ছিলেন। বন্ধুত্ব থেকে তাঁদের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ২০০৬ সালের মে মাসে তাঁরা বিয়ে করেন। দুই দশকের দাম্পত্য জীবনে তাঁদের সংসারে এসেছে দুই মেয়ে, এমালি ও সিরিন। পরিবারটি মিশিগানের অ্যান আরবার এলাকায় বসবাস করে।   সারা জুকাকু কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে মেডিকেল ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে কর্নেল ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানে মনোরোগ চিকিৎসায় বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ নেন। বর্তমানে অ্যান আরবারে তিনি নিজস্ব চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি স্বামীর রাজনৈতিক জীবনেও গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দিয়ে আসছেন তিনি।   নির্বাচনের আগের দিন, ২ নভেম্বর ডেট্রয়েটে স্বামীর শেষ নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন সারা। সেখানে তিনি বলেন, আবদুল ব্যক্তিগত জীবন ও জনসমক্ষে একই মূল্যবোধ অনুসরণ করেন। কোনো করপোরেশন কিংবা ধনকুবের তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বলে উল্লেখ করেন সারা। এরপর হাসির ছলে বলেন, মাঝেমধ্যে তিনি নিজে অবশ্য স্বামীকে কী করতে হবে, তা বলে দেন। তাঁর এই মন্তব্যে উপস্থিত সমর্থকদের মধ্যে হাসির রোল পড়ে।   এল-সায়েদের নির্বাচনী জয়ের পর তাঁর স্ত্রীর ভারতীয় শিকড় এবং দুই সংস্কৃতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা পারিবারিক জীবন নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে মিশরের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক বজায় রেখে দক্ষিণ ভারতীয় সংস্কৃতিকে আপন করে নেওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর রসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাড়া ফেলেছে।

৩১ মিনিট Ago
আমেরিকা
মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে বড় ব্যবধানে এগিয়ে এল-সাইদ, রজার্সের চেয়ে বেশি ৯৮ হাজার ভোট!

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের সিনেট আসন ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে এগিয়ে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. আবদুল এল-সাইদ। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে ভোটের ব্যবধানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তৈরি হয়েছে। ৩ নভেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এল-সাইদ পেয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার ৪৩১ ভোট। অন্যদিকে মাইক রজার্স পেয়েছেন ৩ লাখ ৮২ হাজার ২৬৮ ভোট। অর্থাৎ দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান ৯৮ হাজার ১৬৩।   ডেটলাইন ডেট্রয়েটের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছিল। গণনায় এল-সাইদ পেয়েছিলেন প্রায় ৫৫ শতাংশ এবং রজার্স পেয়েছিলেন ৪৪ শতাংশ ভোট। পরবর্তী সময়ে রাত ৯টা ৫৪ মিনিটের একটি হালনাগাদ প্রতিবেদনে এল-সাইদের সমর্থন ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ এবং রজার্সের ৪৪ শতাংশ দেখানো হয়। অর্থাৎ ভোট গণনার সঙ্গে সঙ্গে প্রার্থীদের ভোটের হারেও পরিবর্তন আসছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। দীর্ঘ ১২ বছর দায়িত্ব পালনের পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স অবসরে যাওয়ায় আসনটি শূন্য হয়েছে। এই আসন ধরে রাখতে ডেমোক্র্যাটদের যেমন জোর প্রচেষ্টা রয়েছে, তেমনি রিপাবলিকানদের লক্ষ্য আসনটি নিজেদের দখলে নেওয়া।   তবে প্রাথমিক ফলাফলে এল-সাইদ এগিয়ে থাকলেও এখনই তাঁকে বিজয়ী ঘোষণা করার সুযোগ নেই। ভোট গণনা চলমান রয়েছে এবং বাকি ভোট গণনার পর ব্যবধান পরিবর্তিত হতে পারে। চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

প্রকাশ: নভেম্বর ৩, ২০২৬ ২২:৩৯
স্পেন থেকে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো হলো ১৬ আশ্রয়প্রার্থী, তালিকায় বাংলাদেশিও

স্পেনের ছিটমহল সিউটা (Ceuta) থেকে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও এশিয়ার এক ডজনেরও বেশি অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন সরকার। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর মরক্কো তাদের গ্রহণে সম্মতি জানালে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।   মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ফেরত পাঠানো ওই ১৬ জন ব্যক্তির মধ্যে সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ক্যামেরুন এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা রয়েছেন। গত জুলাই মাসে সিউটায় নজিরবিহীন গণ-অনুপ্রবেশের পর এ ধরনের বিতাড়ন বা ফেরত পাঠানোর ঘটনা এটাই প্রথম।   স্পেনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। অ্যামনেস্টির গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজ স্পেনের বামপন্থী সরকারের এই আচরণকে 'ভণ্ডামি' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিবাসীদের প্রতি মরক্কোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অতীত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও স্পেন তাদের সেখানে ফেরত পাঠিয়ে চরম ঝুঁকি তৈরি করছে।   তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চোখে মরক্কো একটি 'নিরাপদ দেশ' এবং সমস্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা মেনেই এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।   উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে স্পেনের সিউটা সীমান্তে প্রবেশ করেছিল। ইউরোপের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত হলো এই সিউটা ও মেলিলা। অনুপ্রবেশকারীদের বেশিরভাগই কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে গেলেও এখনও স্পেনের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন, যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।   আগামী ২৯ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই সিউটা সংকট সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দেশের সাধারণ জনগণের প্রবল চাপের মুখে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার।

ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধে ট্রাম্পকে সমর্থন এল-সায়েদের, চান অ স্ত্র বিক্রিও বন্ধ হোক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন মিশিগানের নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। বুধবার এনপিআর-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আমি মনে করি এই নীতির ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্ট সঠিক অবস্থানে আছেন।"   তবে এল-সায়েদ শুধু বিনামূল্যে সহায়তা বন্ধেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; তিনি ইসরায়েলের কাছে সব ধরনের মার্কিন অস্ত্র বিক্রিও পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, "যেসব অস্ত্র গণহত্যা ও বর্ণবাদের মতো জঘন্য কাজে ব্যবহৃত হয়, আমরা চাই ইসরায়েলের কাছে সেই অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হোক।"   গত মঙ্গলবার মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করে ইতিহাস গড়েন এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারণায় ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা দেওয়ার তীব্র বিরোধিতা করাই ছিল তার প্রচারণার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। নিজের বিজয় ভাষণেও তিনি এ বিষয়ের পুনরুল্লেখ করেছেন।   এছাড়া তিনি মিশর, সৌদি আরব, জর্ডান এবং পাকিস্তানের মতো দেশগুলোতেও মার্কিন সামরিক সহায়তা পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন। তার মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থ বিদেশের বদলে দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়নেই ব্যয় হওয়া উচিত।   এর আগে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের বিষয়ে কয়েক মাস আগেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার একটি চুক্তি হয়েছে। 'ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস'-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, নেতানিয়াহু নিজেই প্রথম এই সহায়তা বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিলেন।   নেতানিয়াহুও এর আগে জানিয়েছিলেন যে, ইসরায়েলকে স্বাবলম্বী করতে এবং আন্তর্জাতিক অবস্থান মজবুত করতে আগামী এক দশকের মধ্যে মার্কিন সহায়তার ওপর নির্ভরতা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চান তিনি। তবে সামরিক সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দুই দেশের মধ্যকার কৌশলগত অংশীদারিত্ব আগের মতোই অটুট থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছেন ট্রাম্প।

আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালত
অভিবাসন নীতির শর্তে সরকারি অনুদান বন্ধের চেষ্টা আটকাল আদালত, স্বস্তি পেল ২৩ অঙ্গরাজ্য

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনি বিরোধে নতুন মোড় এসেছে। অভিবাসন আইন প্রয়োগে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার শর্ত পূরণ না করলে কয়েকটি অঙ্গরাজ্যকে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা খাতের নির্দিষ্ট সরকারি অনুদান দেওয়া হবে না—এমন শর্ত আরোপের উদ্যোগ আটকে দিয়েছেন একজন ফেডারেল বিচারক।   রয়টার্সের ৪ নভেম্বর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোড আইল্যান্ডের ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল জুনিয়র এ বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষে রায় দেন। ২২টি অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসি কেন্দ্রীয় সরকারের ওই শর্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছিল। নিউ জার্সির নেতৃত্বে এই আইনি লড়াইয়ে অংশ নেয় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য।   বিচারকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ নির্দিষ্ট দুটি অনুদান কর্মসূচিতে অভিবাসন আইন প্রয়োগসংক্রান্ত যেসব শর্ত আরোপ করেছিল, সেগুলো আইনসম্মত নয়। আদালত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করে এসব শর্ত কার্যকর করা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারকে বিরত রেখেছেন।   বিতর্কের মূল বিষয় ছিল, অঙ্গরাজ্যগুলোকে নির্দিষ্ট ফেডারেল অনুদান পেতে হলে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। এর মধ্যে অঙ্গরাজ্যের হেফাজতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষকে প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং তাঁদের মুক্তির বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগকে অবহিত করার মতো শর্তও ছিল।   অঙ্গরাজ্যগুলোর যুক্তি ছিল, কংগ্রেসের অনুমোদিত অনুদান কর্মসূচিতে বিচার বিভাগ নিজ উদ্যোগে এমন অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করতে পারে না। তাদের দাবি, এ ধরনের শর্ত আরোপের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকার অঙ্গরাজ্যগুলোকে ফেডারেল অভিবাসন নীতির সঙ্গে বাধ্যতামূলকভাবে যুক্ত করার চেষ্টা করছে।   নিউ জার্সির অ্যাটর্নি জেনারেল জেনিফার ডেভেনপোর্ট আদালতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আইনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তার জন্য বরাদ্দ অর্থকে রাজনৈতিক বা অভিবাসন নীতির শর্তের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত নয়।   এই অনুদান কর্মসূচিগুলো অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন জননিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করে। এর আওতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সরঞ্জাম কেনা, মাদক পাচার মোকাবিলা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং শিশু-কিশোরদের বিচারব্যবস্থাসংক্রান্ত কর্মসূচিতে অর্থায়ন করা হয়।   এর আগে ২০২৫ সালে অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তার জন্য বরাদ্দ ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদানের সঙ্গে অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েও বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পরে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ওই অনুদানের শর্ত প্রত্যাহার করে প্রশাসন।   এবারের রায় নির্দিষ্ট কিছু ফেডারেল অনুদান কর্মসূচিতে অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত আরোপের বিরুদ্ধে অঙ্গরাজ্যগুলোর অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এটি আইসিইর অভিযান বা কেন্দ্রীয় সরকারের সব ধরনের অভিবাসন কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞাও নয়। আদালত মূলত নির্দিষ্ট সরকারি অনুদানের সঙ্গে যুক্ত করা শর্তগুলোর বৈধতা নিয়ে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় পর্যায়ের জননিরাপত্তা কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় অনুদানের ভূমিকা রয়েছে। তবে এই রায় কোনো ব্যক্তির অভিবাসন মর্যাদা, গ্রিন কার্ড, ভিসা বা নির্বাসনসংক্রান্ত মামলায় সরাসরি পরিবর্তন আনে না।   আদালতের সিদ্ধান্তের ফলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো নির্দিষ্ট অনুদান পাওয়ার ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ করা অভিবাসনসংক্রান্ত শর্তের মুখে পড়বে না। অভিবাসন নীতি ও অঙ্গরাজ্যের ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বিতর্কে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি ঘটনা।

নবনির্বাচিত তরুণ কংগ্রেস সদস্য মাইকেল আলফনসো। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জেন-জি প্রতিনিধি এবার যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে, ২৬ বছর বয়সেই নির্বাচিত মাইকেল আলফনসো

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একবিংশ শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া কোনো ব্যক্তি দেশটির কংগ্রেসের সদস্য হতে যাচ্ছেন। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের ৭ নম্বর কংগ্রেসনাল আসনে জয় পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল আলফনসো। ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী ফ্রেড ক্লার্ককে পরাজিত করে তিনি আসনটি নিশ্চিত করেছেন। ২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে জন্ম নেওয়া আলফনসো আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তাঁর এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আইনসভায় নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।   উইসকনসিনের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত ৭ নম্বর কংগ্রেসনাল আসনটি লেক সুপিরিয়রের সীমান্তবর্তী অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। নির্বাচনে আলফনসো প্রায় ৫৬ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্রেড ক্লার্ক পেয়েছেন প্রায় ৪৪ শতাংশ ভোট। এই আসনের আগের প্রতিনিধি রিপাবলিকান টম টিফানি এবার গভর্নর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় কংগ্রেসের আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য এবারের ভোট অনুষ্ঠিত হয়।   মাইকেল আলফনসো যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফির জামাতা। শন ডাফি এর আগে ২০১১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একই কংগ্রেসনাল আসনের প্রতিনিধি ছিলেন। আলফনসো আগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেননি। তবে নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, তরুণদের বাড়ি কেনার সুযোগ এবং স্বাস্থ্যসেবার খরচের মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাঁর বয়স নিয়েও নির্বাচনী প্রচারে আলোচনা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হতে ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর হতে হয়। আলফনসোর বয়স ২৬ হওয়ায় তিনি এই সাংবিধানিক যোগ্যতা পূরণ করেছেন।   এদিকে নতুন কংগ্রেসে সবচেয়ে কম বয়সী নারী প্রতিনিধি হতে যাচ্ছেন কলোরাডোর ২৯ বছর বয়সী মেলাট কিরোস। ডেমোক্রেটিক পার্টির এই প্রার্থী কলোরাডোর প্রথম কংগ্রেসনাল আসন থেকে জয় পেয়েছেন। তিনি ডেনভার ও অরোরার কিছু এলাকার প্রতিনিধিত্ব করবেন। নির্বাচনের আগে দলীয় প্রাথমিক ভোটে দীর্ঘদিনের প্রতিনিধি ডায়ানা ডিগেটকে পরাজিত করে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনায় আসেন কিরোস। পরে সাধারণ নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ক্রিস্টি পিটারসনকে হারিয়ে জয় নিশ্চিত করেন তিনি।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য ২৯ বছর বয়সী ডেমোক্র্যাট ম্যাক্সওয়েল ফ্রস্ট। নতুন কংগ্রেসের কার্যক্রম শুরু হলে আলফনসো তাঁর চেয়েও কম বয়সী সদস্য হবেন। অন্যদিকে বর্তমান কংগ্রেসের সবচেয়ে কম বয়সী নারী সদস্য ৩৪ বছর বয়সী ইয়াসামিন আনসারি। নতুন কংগ্রেসে মেলাট কিরোসের বয়স হবে ২৯ বছর। ফলে নারী প্রতিনিধিদের মধ্যেও বয়সের দিক থেকে নতুন অবস্থান তৈরি হবে।   সিনেটের ক্ষেত্রেও নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব বাড়ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, সিনেটর হতে ন্যূনতম বয়স ৩০ বছর হতে হয়। ফলে জেনারেশন জেডের কেউ এখনই সিনেটের সদস্য হতে পারছেন না। নতুন সিনেটে সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য হতে যাচ্ছেন টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট জেমস তালারিকো। ৩৭ বছর বয়সী এই রাজনীতিক অস্টিনের একজন স্টেট রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে ২০১৮ সাল থেকে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি রিপাবলিকান কেন প্যাক্সটনকে পরাজিত করে সিনেট নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।   যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের দুই কক্ষের সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে বয়সের পৃথক সাংবিধানিক শর্ত রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হতে কমপক্ষে ২৫ বছর এবং সিনেটর হতে কমপক্ষে ৩০ বছর বয়সী হতে হয়। সেই হিসাবে মাইকেল আলফনসোর বিজয় শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় রাজনীতিতে নতুন শতাব্দীতে জন্ম নেওয়া প্রজন্মের প্রবেশেরও একটি ঐতিহাসিক ঘটনা।   সূত্র: ১১অ্যালাইভ, উইসকনসিন পাবলিক রেডিও (ডব্লিউপিআর), অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও এনপিআর।

ইতালীয় পর্যটকের একুশ হাজার ডলার ও পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়ে সততার প্রমাণ দিলেন বাংলাদেশি তরুণ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
নিউ ইয়র্কে ইতালীয় পর্যটকের গাড়িতে ফেলে যাওয়া ২১ হাজার ডলার ফেরত দিলেন বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক

অর্থকষ্টের মধ্যেও সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে কর্মরত এক বাংলাদেশি ট্যাক্সিচালক। ২০০৯ সালের বড়দিনের আগের রাতে তাঁর গাড়িতে ফেলে যাওয়া এক ইতালীয় পর্যটকের ব্যাগে ছিল ২১ হাজার ডলারের বেশি নগদ অর্থ, মূল্যবান গয়না ও কয়েকটি পাসপোর্ট। ব্যাগটি পাওয়ার পর সেটি নিজের কাছে রেখে না দিয়ে মালিকের সন্ধানে প্রায় ৫০ মাইল পথ পাড়ি দেন তিনি। পরে সবকিছু অক্ষত অবস্থায় ফিরিয়ে দেন। এমনকি কৃতজ্ঞ পরিবার পুরস্কার দিতে চাইলেও তা গ্রহণ করেননি।   ওই চালকের নাম মোহাম্মদ ‘মুকাল’ আসাদুজ্জামান। ঘটনাটি ঘটার সময় তাঁর বয়স ছিল ২৮ বছর। বাংলাদেশের এই তরুণ তখন শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সপ্তাহের কয়েক দিন ট্যাক্সি চালিয়ে নিজের খরচ চালাতেন। ২০০৯ সালের ২৪ ডিসেম্বর নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন থেকে পেন স্টেশনে যাওয়ার পথে ৭২ বছর বয়সী ইতালীয় পর্যটক ফেলিসিয়া লেত্তিয়েরি তাঁর ব্যাগটি গাড়িতে ফেলে যান। ওই সময় তিনি পরিবারের আরও ছয় সদস্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বেড়াতে এসেছিলেন। ব্যাগে তাঁদের ভ্রমণের জন্য রাখা অর্থও ছিল।   ব্যাগটি হারানোর পর ফেলিসিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তবে ব্যাগটি ফিরে পাওয়ার আশা কম বলে তাঁদের জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, আসাদুজ্জামান ব্যাগের ভেতরে থাকা পরিচয় ও ঠিকানার সূত্র ধরে লং আইল্যান্ডের একটি বাড়ির সন্ধান পান। এরপর প্রায় ৫০ মাইল গাড়ি চালিয়ে সেখানে পৌঁছান। বাড়িতে কাউকে না পেয়ে নিজের ফোন নম্বরসহ একটি চিরকুট রেখে আসেন। সেখানে তিনি জানান, ফেলিসিয়ার ব্যাগটি নিরাপদে আছে, চিন্তার কোনো কারণ নেই।   পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন পেয়ে আবারও ওই ঠিকানায় যান আসাদুজ্জামান। এবার সঙ্গে নিয়ে যান ব্যাগে থাকা নগদ অর্থ, গয়না ও পাসপোর্টসহ সব জিনিসপত্র। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেন ফেলিসিয়া ও তাঁর স্বজনেরা। পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব করা হলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘আমি অভাবী, কিন্তু সৎ।’ তাঁর এই কথাটি পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আলোচিত হয়।   আসাদুজ্জামান জানিয়েছিলেন, সততার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। ছোটবেলা থেকেই তাঁকে সৎ থাকতে এবং কঠোর পরিশ্রম করতে শিখিয়েছিলেন তাঁর মা। ইসলামি বিশ্বাসও তাঁর সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পবিত্র কোরআনের সুরা আন-নিসার ৫৮ নম্বর আয়াতে আমানত তার প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে। আসাদুজ্জামানের কাজটি সেই নৈতিক শিক্ষারই একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হয়।   ২০১০ সালের ১২ ও ১৩ জানুয়ারি অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেলিসিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সততার প্রশংসা করেন। বিশেষ করে, ব্যাগের ভেতরে থাকা বিপুল অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী নিজের কাছে রাখার সুযোগ থাকলেও তিনি তা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ঘটনাটি প্রায় ১৭ বছর আগের হলেও সততা ও দায়িত্ববোধের উদাহরণ হিসেবে এখনো স্মরণযোগ্য।   সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, দ্য গার্ডিয়ান।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ম্বোডিয়ার সিহানুকভিলে আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে গিয়ে পড়েন এক নারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
আটতলা থেকে পড়ে আধঘণ্টা অচেতন, জ্ঞান ফিরেই নির্বিকার ভঙ্গিতে ২০ মিনিট মোবাইল ব্যবহার করলেন নারী
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২২:২৬

কম্বোডিয়ার সিহানুকভিল শহরে একটি ভবনের আটতলা থেকে পড়ে পাশের বাড়ির টিনের ছাদে গিয়ে পড়েছেন এক নারী। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার প্রায় আধঘণ্টা পর তাঁর জ্ঞান ফেরে। এরপর ছাদের ওপর বসে প্রায় ২০ মিনিট মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তিনি। পরে নিজেই ছাদ থেকে নেমে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। তবে এত উঁচু থেকে পড়ার পর তাঁর শরীরে কী ধরনের আঘাত লেগেছিল, কিংবা পরে চিকিৎসা নিয়েছিলেন কি না, তা এখনো জানা যায়নি।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরে। সিহানুকভিলের বাসিন্দারা বিকট শব্দ শুনে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। পরে পাশের একটি বাড়ির ঢেউটিনের ছাদের ওপর ওই নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। প্রথমে তাঁরা ধারণা করেছিলেন, এত উঁচু থেকে পড়ে নারীটির মৃত্যু হয়েছে অথবা তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। কিন্তু প্রায় ৩০ মিনিট পর তাঁকে নড়াচড়া করতে দেখা যায়। একপর্যায়ে তিনি উঠে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার শুরু করেন।   ঘটনাস্থলে ততক্ষণে আশপাশের মানুষের ভিড় জমে যায়। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি নিচ থেকে টর্চের আলো দিয়ে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছেন। নারীটিকে ধূসর রঙের পোশাক পরা অবস্থায় ছাদের ওপর বসে থাকতে দেখা যায়। প্রায় ২০ মিনিট ফোন ব্যবহারের পর তিনি ধীরে ধীরে উঠে ছাদের কিনারার দিকে এগিয়ে যান। পরে নিজেই নিচে নেমে সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে এই ঘটনার বেশ কিছু বিষয় এখনো অজানা। নারীর পরিচয়, তিনি কোন ভবন থেকে কীভাবে পড়ে গিয়েছিলেন এবং ঘটনার সময় সেখানে ঠিক কী ঘটেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তিনি পড়ে যাওয়ার পর কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন কি না, সেটিও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফলে তাঁকে গুরুতর কোনো আঘাত ছাড়াই বেঁচে ফিরেছেন বলে নিশ্চিতভাবে দাবি করার সুযোগ নেই।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম টিএনবি নিউজের বরাতে চীনা সংবাদমাধ্যম সিন চিউ ডেইলি প্রথম ঘটনাটি প্রকাশ করে। পরে সিঙ্গাপুরের সংবাদমাধ্যম মাদারশিপ, স্টম্পসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও খবরটি প্রকাশিত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বাইরে নারীর শারীরিক অবস্থা বা ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।   সূত্র: সিন চিউ ডেইলি, মাদারশিপ।

অসুস্থ মায়ের পাশে থাকতে পড়াশোনা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া চীনের শিক্ষার্থী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
অসুস্থ মায়ের সেবায় পড়াশোনা ছাড়ার সিদ্ধান্ত, পাশে দাঁড়াল সহপাঠীরা
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২২:১১

অসুস্থ মায়ের সেবা করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীনের আনহুই প্রদেশের এক শিক্ষার্থী। তার এই সিদ্ধান্তের কথা জানার পর পাশে দাঁড়িয়েছে সহপাঠীরা। নিজেদের প্রিয় সংগ্রহের জিনিসপত্র দান করে তারা আয়োজন করেছে তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ। এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী নিজের প্রিয় অনলাইন গেমের অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে পাওয়া খুচরা টাকা তুলে দিয়েছে তার হাতে। সহপাঠীদের এমন ভালোবাসা ও বন্ধুত্বের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর চীনের লাখো মানুষ আবেগাপ্লুত হয়েছেন।   শিক্ষার্থীর নাম ছাও ফেং। তিনি চীনের মধ্যাঞ্চলীয় আনহুই প্রদেশের ইউওয়াং মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর ৪৭ বছর বয়সী মা ছুইপিং দীর্ঘদিন ধরে জেনারালাইজড মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস নামের একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগে ভুগছেন। এতে শরীরের বিভিন্ন পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি তাঁর থাইমাস গ্রন্থিতে টিউমার রয়েছে। সম্প্রতি শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতার কারণে তাঁকে সাংহাইয়ের একটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।   পরিবারের আর্থিক অবস্থাও বেশ কঠিন। ছাও ফেংয়ের বাবা নিজেও টিউমারে আক্রান্ত। তারপরও তিনি প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা স্ত্রীর পাশে সময় কাটিয়ে বাকি সময় অনলাইনভিত্তিক যাত্রী পরিবহন সেবা দিয়ে গাড়ি চালান। দিনে প্রায় ১২ ঘণ্টা কাজ করেও পরিবারের চিকিৎসার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন তিনি। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০ হাজার ইউয়ান, যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারের সমান, খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।   পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট ছাও ফেং মনে করেছেন, পরিবারের এই সংকটে তাঁরও দায়িত্ব নেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের অন্য সদস্যরা আয় করার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তাঁর পক্ষে তখনই অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হচ্ছিল না। তাই মায়ের পাশে থেকে দেখাশোনার দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তাঁর বড় বোন স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়াশোনা করছেন। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে তিনিও পড়াশোনা ছেড়ে কাজে যোগ দেওয়ার কথা ভেবেছিলেন।   নিজের সিদ্ধান্তের কথা শিক্ষককে জানালে তিনি ছাও ফেংকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ, ছাত্রী হিসেবে তিনি বরাবরই ভালো ফল করেছেন এবং প্রতিবছর বৃত্তি পেয়েছেন। তবে মায়ের পাশে থাকার বিষয়ে ছাও ফেং ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পরে শিক্ষক লি এবং ২ কোটি ২০ লাখ অনুসারী থাকা অনলাইন ব্যক্তিত্ব লিয়াংতিয়ানের উদ্যোগে বিদ্যালয়ে তাঁর জন্য বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সহপাঠীরাও তাঁর পরিস্থিতি জেনে স্বেচ্ছায় নিজেদের প্রিয় জিনিসপত্র দান করতে শুরু করে।   বিদায় অনুষ্ঠানে ছাও ফেংয়ের এক ঘনিষ্ঠ বান্ধবী তাঁর হাতে একটি ব্যাগভর্তি খুচরা টাকা তুলে দেয়। জানায়, নিজের প্রিয় ‘অনার অব কিংস’ গেমের অ্যাকাউন্ট বিক্রি করে সে এই অর্থ সংগ্রহ করেছে। অন্য সহপাঠীরাও নিজেদের পছন্দের আলট্রাম্যান কার্ড, প্রিয় নাটকের স্মারক, হাতে তৈরি সামগ্রী, ব্যাজ, পছন্দের গায়কের গানের রেকর্ড এবং প্রিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড়ের জার্সি দান করে। এসব জিনিস বিক্রি করে পাওয়া অর্থ ছাও ফেংয়ের পরিবারের সহায়তায় ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।   বিদ্যালয় থেকে বিদায়ের সময় কয়েক শ সহপাঠী করিডরে দাঁড়িয়ে তাঁকে হাত নেড়ে শুভকামনা জানায়। সেই মুহূর্তের ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। লিয়াংতিয়ান ভিডিওটি প্রকাশ করার পর তাতে প্রায় এক কোটি পছন্দের প্রতিক্রিয়া এবং দুই লাখের বেশি মন্তব্য আসে। অনেকে ছাও ফেংয়ের মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেন, পাশাপাশি সহপাঠীদের ত্যাগ ও বন্ধুত্বেরও প্রশংসা করেন। একজন মন্তব্য করেন, বড়দের কাছে এসব জিনিসের আর্থিক মূল্য কম হতে পারে, কিন্তু শিশু-কিশোরদের কাছে সেগুলোই তাদের প্রিয় সম্পদ, যা বন্ধুকে সাহায্য করতে তারা স্বেচ্ছায় ছেড়ে দিয়েছে।   ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাও ফেংয়ের পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা পাঠাতে শুরু করেন অনেকে। তাঁর শিক্ষকদের পক্ষ থেকেও অর্থ সংগ্রহ করে একটি লাল খামে তাঁকে সহায়তা দেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছাও ফেংয়ের পড়াশোনা যেন পুরোপুরি বন্ধ না হয়ে যায়, সে জন্য শিক্ষকেরা প্রতিদিন দূর থেকে তাঁকে পড়াশোনায় সহায়তা করবেন এবং তাঁর মানসিক অবস্থারও খোঁজ রাখবেন।   বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ছাও ফেংকে ভবিষ্যতের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ‘গাওকাও’-এ অংশ নেওয়ার সুযোগ করে দিতে নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আবার বিদ্যালয়ে ফিরলে তাঁর বেতনও মওকুফ করা হবে। বর্তমানে মায়ের পাশে সাংহাইয়ে থাকা ছাও ফেং শিক্ষক ও সহপাঠীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার পড়াশোনা শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আশাও প্রকাশ করেছেন তিনি।   সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, দ্য পেপার।

ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মোজতবা খামেনেয়ী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ইরান যুদ্ধের প্রভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পালাবদল, ক্ষমতা হারানোর মুখে ট্রাম্পের দল
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২১:২৬

ইরানকে ঘিরে সামরিক সংঘাতের রাজনৈতিক প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ, কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দল বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানির দাম এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ ভোটারদের সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করেই নিউজউইক তাদের এক বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘ইরান যুক্তরাষ্ট্রে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটিয়েছে’।   প্রতিবেদনটির মূল বক্তব্য হলো, ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক সংঘাতে জড়িয়েছে, তার উল্টো প্রভাব পড়েছে ওয়াশিংটনের ক্ষমতার রাজনীতিতে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ এবং নতুন করে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে না জড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন এলাকায়। ইরানের পাল্টা পদক্ষেপ, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা এবং জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়েও।  ১৯৭৯ সালের ৪ নভেম্বর তেহরানে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস দখল করে ইরানি শিক্ষার্থী ও বিপ্লবী গোষ্ঠীর সদস্যরা। এ ঘটনায় ৫২ জন মার্কিন কূটনীতিক ও নাগরিককে ৪৪৪ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। সংকটটি তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের প্রশাসনকে বড় রাজনৈতিক চাপে ফেলে। ৪৭ বছর পর একই তারিখে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম কার্টার ও ট্রাম্পের ছবি পাশাপাশি প্রকাশ করে শিরোনাম দেয়, ‘কার্টার থেকে ট্রাম্প, কীভাবে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের বিপাকে ফেলেছে’। দুই প্রেসিডেন্টের ছবিতেই লাল ক্রস চিহ্ন দিয়ে ব্যঙ্গ করা হয়।   মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা সিনেটে অন্তত ৫৪টি এবং প্রতিনিধি পরিষদে ২২৮টি আসন নিশ্চিত করেছে বলে নির্বাচনের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে। ফলে আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে ট্রাম্পকে এখন বিরোধী দলের সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। নির্বাচনের ফল নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন, ইরান যুদ্ধ রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, এর একটি অংশ ছিল ইরান।’  নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিশ্লেষক ও যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সারির অধ্যাপক মার্ক শানাহান বলেন, এখন পর্যন্ত মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি তুলনামূলক কম হলেও যুদ্ধের পরোক্ষ প্রভাব হিসেবে দেশে পণ্যমূল্য বেড়েছে। তাঁর মতে, টেক্সাস, কানসাস ও আইওয়ার মতো অঙ্গরাজ্যের ভোটারদের কাছে পররাষ্ট্রনীতি মুখ্য বিষয় না হলেও দৈনন্দিন খরচ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি বড় উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু ইরান সেই প্রতিশ্রুতির অসারতা তুলে ধরেছে।   নির্বাচনের আগে পরিচালিত গ্যালাপের এক জরিপে ৭৭ শতাংশ ভোটার ইরান যুদ্ধকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ অথবা ‘খুব গুরুত্বপূর্ণ’ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন। অর্থনীতি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি যুদ্ধের বিষয়টিও ভোটারদের বিবেচনায় ছিল। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্পের ক্ষমতায় ফেরার পর যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিনের গড় দাম বেড়ে গ্যালনপ্রতি ৪ ডলার ২৭ সেন্টে পৌঁছেছিল, যা আগের তুলনায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় জ্বালানি ও কৃষি উপকরণের বাড়তি খরচ রিপাবলিকানদের জন্য রাজনৈতিক চাপ তৈরি করে।   ইরান যুদ্ধের বিরোধিতা শুধু ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রক্ষণশীল ভাষ্যকার ম্যাট ওয়ালশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে যুদ্ধকে গত দুই দশকের অন্যতম বড় রাজনৈতিক ভুল বলে মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল। অন্যদিকে, স্ট্যান্ড টুগেদারের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট রিড স্মিথ নির্বাচনের ফল প্রকাশের রাতে লেখেন, ‘এটা যুদ্ধের কারণেই হয়েছে।’   ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সভাপতি জামাল আবদি বলেন, নির্বাচনের আগে তেহরানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ থেকে সরে এলে ফল ভিন্ন হতে পারত। তাঁর ভাষ্য, যুদ্ধের প্রস্তুতি ও অবরোধ বজায় রাখতে মার্কিন করদাতাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর মতে, ডেমোক্র্যাটদের জয়কে ভোটারদের পক্ষ থেকে যুদ্ধ বন্ধের একটি স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা উচিত।   ইরানের নেতারাও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন ভোটারদের অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, মার্কিনরা যুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন এবং ইরান সেই বার্তাকে সমর্থন করে। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধানের উপদেষ্টা হামিদরেজা মোগাদ্দামফারও রিপাবলিকানদের পরাজয়কে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতির ব্যর্থতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।  তবে ইরান যুদ্ধকেই রিপাবলিকানদের পরাজয়ের একমাত্র কারণ হিসেবে দেখছেন না সব বিশ্লেষক। ফ্রান্সের এসইএসসি বিজনেস স্কুলের ভূরাজনীতি, প্রতিরক্ষা ও নেতৃত্ববিষয়ক কেন্দ্রের সহপরিচালক অরেলিয়াঁ কোলসন বলেন, অর্থনীতি নিয়ে মানুষের আস্থাহীনতা এবং ট্রাম্পের নেতৃত্বের প্রতি অসন্তোষ আগে থেকেই ছিল। ইরান যুদ্ধ সেই অসন্তোষকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ পররাষ্ট্রনীতির সিদ্ধান্ত সরাসরি মানুষের সংসারের খরচে প্রভাব ফেলেছে। তাঁর ভাষায়, যুদ্ধটি যখন পেট্রল পাম্পের দামে প্রভাব ফেলেছে, তখন সেটি আর শুধু পররাষ্ট্রনীতির বিষয় থাকেনি, হয়ে উঠেছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রশ্ন।   নির্বাচনের ফলের পর ট্রাম্পের সামনে কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণে থাকা দুই কক্ষের সঙ্গে কাজ করার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, স্বাস্থ্যসেবা খাতে পরিবর্তন এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত তদন্তের অঙ্গীকার করেছে। ফলে ইরান যুদ্ধের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিণতির পাশাপাশি এর রাজনৈতিক প্রভাবও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির বাকি দুই বছরকে কঠিন করে তুলতে পারে।   সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

চীনে শাওমির গাড়ি কারখানায় যন্ত্রাংশ বাছাই ও সাজানোর কাজে ব্যস্ত মানবাকৃতির রোবট। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
চীনের কারখানায় ৮ ঘণ্টার শিফট শেষ করে ইতিহাস গড়ল শাওমির হিউম্যানয়েড রোবট
প্রকাশ: নভেম্বর ৪, ২০২৬ ২০:৫৮

চীনে নিজেদের গাড়ি তৈরির কারখানায় মানবাকৃতির রোবটের সক্ষমতা পরীক্ষা করেছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান শাওমি। পরীক্ষায় রোবটগুলো ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিট ধরে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাছাই করে নির্দিষ্ট জায়গায় সাজানোর কাজ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের মানবাকৃতির রোবটের ক্ষেত্রে এটিই প্রথমবারের মতো আট ঘণ্টার বেশি সময় ধরে কারখানার কাজে অংশ নেওয়ার পরীক্ষা। এ উদ্যোগের মাধ্যমে গাড়ি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনা যাচাই করছে শাওমি।   পরীক্ষায় রোবটগুলোকে গাড়ির কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ অংশের দুই পাশের আবরণ বা প্যানেল নির্দিষ্ট স্থান থেকে তুলে সংরক্ষণের তাকের নির্ধারিত ঘরে রাখতে বলা হয়। এসব প্যানেল গাড়ির সামনের আসন দুটির মাঝখানে থাকা কেন্দ্রীয় কনসোলের পাশের অংশে ব্যবহার করা হয়। কাজটি করতে রোবটগুলোকে যন্ত্রাংশের বাক্স থেকে প্যানেল তুলে নির্দিষ্ট তাক পর্যন্ত নিয়ে যেতে হয়েছে। এরপর সেগুলো সঠিক অবস্থানে সাজাতে হয়েছে। শাওমির প্রকাশিত ভিডিওতে এই কাজের বিভিন্ন ধাপ দেখা যায়।   পরীক্ষার সময় রোবটগুলোকে দুইবার ব্যাটারি চার্জ দিতে হয়েছে। প্রথমবার ৩ ঘণ্টা ২ মিনিট কাজের পর এবং দ্বিতীয়বার ৬ ঘণ্টা ৩ মিনিটের মাথায় চার্জের জন্য বিরতি নেয় তারা। ফলে ৮ ঘণ্টা ৫ মিনিটের সময়টিকে একটানা বিরতিহীন কাজের সময় বলা যাবে না; এটি চার্জ দেওয়ার বিরতিসহ পরীক্ষায় নথিভুক্ত মোট কার্যক্রমের সময়। শাওমির প্রকাশিত ভিডিওতে কাজের সময় গণনার পাশাপাশি রোবটগুলোর চার্জ নেওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।   পরীক্ষায় একটি রোবটের হাত থেকে যন্ত্রাংশ পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। পরে চাকার ওপর চলাচলকারী আরেকটি রোবট এসে সেটি তুলে নেয়। শাওমির দাবি, তাদের মানবাকৃতির রোবট উৎপাদন লাইনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারে এবং কাজের মধ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা শনাক্ত করে সমাধানের চেষ্টা করতে পারে। তবে পড়ে যাওয়া যন্ত্রাংশ উদ্ধারের ঘটনাটি দেখিয়েছে, এ ধরনের কাজে একাধিক ধরনের রোবটের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।   তবে পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কিছু তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি শাওমি। আট ঘণ্টার বেশি সময়ে মোট কতটি যন্ত্রাংশ সাজানো হয়েছে, কতগুলো সঠিকভাবে নির্ধারিত স্থানে রাখা সম্ভব হয়েছে কিংবা পুরো প্রক্রিয়ায় কতবার মানুষের সহায়তা নিতে হয়েছে, তা জানায়নি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে শুধু কাজের সময়ের ভিত্তিতে রোবটগুলোর উৎপাদন দক্ষতা বা মানুষের সমান গতিতে কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা যাচ্ছে না। পরীক্ষাটি আপাতত কারখানার নির্দিষ্ট একটি কাজে রোবটের সক্ষমতা যাচাইয়ের উদ্যোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।   গাড়ি উৎপাদনে রোবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটি শাওমির প্রথম পরীক্ষা নয়। চলতি বছরের মার্চে প্রতিষ্ঠানটি বেইজিংয়ের বৈদ্যুতিক গাড়ি কারখানায় তিন ঘণ্টার একটি পরীক্ষায় মানবাকৃতির রোবট দিয়ে গাড়ির মেঝেতে নাট লাগানোর কাজ করিয়েছিল। সে সময় শাওমি জানিয়েছিল, দুই পাশে একসঙ্গে নাট লাগানোর কাজে রোবটের সাফল্যের হার ছিল ৯০ দশমিক ২ শতাংশ এবং প্রতিটি গাড়ির জন্য নির্ধারিত ৭৬ সেকেন্ডের উৎপাদন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে পেরেছিল। নতুন পরীক্ষায় যন্ত্রাংশ সাজানোর মতো ভিন্ন ধরনের কাজে রোবটের দীর্ঘ সময় কাজ করার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।   শাওমির এই উদ্যোগের লক্ষ্য ভবিষ্যতে গাড়ি উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপে মানবাকৃতির রোবট ব্যবহার করা। তবে পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফল এখনই ব্যাপকভাবে কারখানায় এসব রোবট ব্যবহারের প্রস্তুতি প্রমাণ করে না। কাজের গতি, নির্ভুলতা, ব্যাটারির কার্যক্ষমতা এবং মানুষের সহায়তা ছাড়াই কতটা নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করতে পারে, এসব বিষয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।   সূত্র: শাওমি টেকের প্রকাশিত ভিডিও ও ঘোষণা, ইন্টারেস্টিং ইঞ্জিনিয়ারিং, রোবোটিকা গাইড।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়