সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে দ্রুত বিতাড়ন করার বিতর্কিত নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক আদেশে বস্টনের নিম্ন আদালতের এক বিচারকের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় শীর্ষ আদালত।   এর ফলে কোনো অভিবাসী সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশে গিয়ে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন কি না, তা আদালতে তুলে ধরার সুযোগ না দিয়েই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশান্তর করতে পারবে প্রশাসন। শীর্ষ আদালতের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই আদেশ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। আগামী ডিসেম্বরে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস জেলা জজ ব্রায়ান মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই তৃতীয় দেশে বিতাড়ন নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। বিচারক মারফির মতে, যথাযথ নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে অভিবাসীদের পাঠিয়ে দেওয়া মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর লঙ্ঘন।   অধিকার কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, নীতিটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ২৯টি দেশে পাঠানো হয়েছে, যার সিংহভাগই পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় থাকা দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও অনেককে পাঠানো হয়েছে।   আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল মন্তব্য করেছেন, এটি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী এবং সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার সমর্থকদের জন্য একটি ‘খারাপ দিন’। তবে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী ট্রিনা রিয়েলমুতো একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে যেখানে তারা চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। বাদীদের অভিযোগ, অতীতে বহু অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর সেখান থেকে তাদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অনেকেই মারধর, যৌন নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন।

১৩ মিনিট Ago
ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিরুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষোভ
ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিরুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষোভ

ইতালির স্কুলে ছাত্রীদের বোরকা ও নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। গত ২০ সেপ্টেম্বর মেলোনি তার দল ন্যাশনালিস্ট কনজারভেটিভ ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর এক সমাবেশে এই প্রস্তাব তুলে ধরে একে নারী সমতার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন।   মেলোনির মতে, স্কুলে মুখ খোলা রেখেই যেতে হবে এবং কোনো তথাকথিত ঐতিহ্যের নামে তরুণীদের মুখ লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা যাবে না। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, পুরো দেশটিতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন নারী শিক্ষার্থী এমন মুখ ঢাকা পোশাক ব্যবহার করেন। তাই মুসলিম নাগরিকদের মতে, এটি বাস্তব কোনো সমস্যা নয়, বরং একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বিতর্ক তৈরির অপচেষ্টা মাত্র।   শিক্ষক ও মুসলিম নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে 'অমানবিক' এবং 'অপ্রয়োজনীয়' বলে মন্তব্য করেছেন। মিলানের একটি বিদ্যালয়ের ৫৮ বছর বয়সী গণিত শিক্ষিকা মুলায়কা লরা এনরিয়েলো জানান, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরতে দেখেননি। অন্যদিকে মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ও ইতালিয়ান ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া পাল্লাভিচিনি এই উদ্যোগকে 'বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক রেনাতা পেপিচেল্লি এই ঘটনাকে ১৯৫৮ সালে আলজেরিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নারীদের প্রকাশ্যে পর্দা খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর মতে, নারীর পর্দা এখনও একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।   যদিও সরকারি আদেশে সরাসরি 'বোরকা' বা 'নিকাব' শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বলা হয়েছে স্কুলে পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো পোশাক পরা যাবে না। বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকো তন্তি জানান, ইতালির আইনে আগে থেকেই পরিচয় গোপনকারী পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, তবে ধর্মীয় চর্চাকে প্রায়শই বৈধ কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটির পেছনে মেলোনির সূক্ষ্ম রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে। ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেলোনি বর্তমানে চরম ডানপন্থি দলগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন, বিশেষ করে সাবেক জেনারেল রবার্তো ভানাচ্চির ন্যাশনাল ফিউচার পার্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাকে চাপে ফেলেছে। লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লোরেঞ্জো ক্যাস্তেলানির মতে, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মেলোনি মূলত নিজের কঠোর জাতীয়তাবাদী অবস্থান তুলে ধরে কট্টরপন্থি ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

২৭ মিনিট Ago
পেনসিলভেনিয়ায় ডেটা সেন্টার বানাতে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব
পেনসিলভেনিয়ায় ডেটা সেন্টার বানাতে পরিবারপ্রতি ১০ হাজার ডলারের প্রস্তাব, তবু রাজি নন স্থানীয়রা

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি ছোট শহরে বিশাল ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য প্রতিটি পরিবারকে ১০ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট নামের একটি কোম্পানি। তবে বিপুল এই অর্থের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও শহরটির বেশিরভাগ বাসিন্দা এই প্রকল্পের বিরোধিতা করছেন।   ডেটা সেন্টারগুলো মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবস্থা পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত হয়, যা প্রচুর পরিমাণে বিদ্যুৎ, জমি এবং অন্যান্য সম্পদের ব্যবহার করে থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে স্থানীয় সম্প্রদায়গুলো এ ধরনের প্রকল্পের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শুরু করেছে, যারই ধারাবাহিকতায় পেনসিলভেনিয়ার হ্যাজল টাউনশিপেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে।   ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নর্থপয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট পোকোনো পাদদেশের কাছাকাছি হ্যাজল টাউনশিপে প্রায় ১ হাজার ৩০০ একর জমির ওপর ১৫টি ভবন ও অন্যান্য অবকাঠামো সংবলিত একটি ডেটা সেন্টার ক্যাম্পাস নির্মাণ করতে চাইছে। গত জুন মাসে কোম্পানিটি শহরটির প্রায় সাড়ে চার হাজার পরিবারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এই প্রস্তাব দেয়।   এজন্য কোম্পানিটি ৪৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রকল্পটি অনুমোদন পেয়ে ২০২৭ সালের শেষের দিকে প্রথম ডেটা সেন্টারটি তাদের 'সার্টিফিকেট অব অকুপেন্সি' বা ব্যবহারের সনদ পেলেই কেবল পরিবারগুলো এই অর্থ পাবে। এছাড়া, আগামী ১৫ বছরে স্থানীয় পুলিশ বিভাগসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের উন্নয়নে আরও ১২০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে কোম্পানিটি।   তবে প্রায় ১০ হাজার ৪৬০ জন বাসিন্দার এই শহরে ১০ হাজার ডলারের চেকও মানুষের উদ্বেগ কমাতে পারেনি। স্থানীয়দের প্রধান শঙ্কা হলো—নির্মাণকাজ, শব্দদূষণ এবং এর ফলে সম্পত্তির দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা। জেফ ফাসনাকট নামের একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক জানান, তার সম্পত্তির যে পরিমাণ মূল্যহ্রাস ঘটবে, তার তুলনায় এই ১০ হাজার ডলার একেবারেই নগণ্য।   এড নেগ্রা নামের আরেক অবসরপ্রাপ্ত বাসিন্দা মনে করেন, এই প্রস্তাব হিতে বিপরীত হতে পারে, কারণ অনেকেই এটিকে ‘ঘুষ’ হিসেবে দেখছেন। যদিও নর্থপয়েন্টের চিফ মার্কেটিং অফিসার ব্রেন্ট মাইলস দাবি করেছেন যে, গত বছর একটি জনসভায় স্থানীয়দের দাবির প্রেক্ষিতেই সরাসরি এই আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।   চার্লি লেশকোর মতো কিছু বাসিন্দা এই অর্থ দিয়ে গাড়ি কেনা বা বাড়ির ডাউনপেমেন্ট দেওয়ার স্বপ্ন দেখলেও, কার্ল মাজুসিয়াকের মতো অনেকেই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তাদের এলাকায় এই ডেটা সেন্টারের কোনো প্রয়োজন নেই। এদিকে ডেটা সেন্টার ও এআই প্রযুক্তির প্রসার নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আতঙ্ক বাড়ছে।   সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক-এর সাবেক গবেষক জ্যাকব ককসন এবং ইভান হুবিঙ্গার সতর্ক করেছেন যে, উন্নত এআই প্রযুক্তি আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতির বিলুপ্তির কারণ হতে পারে। এমন সতর্কবার্তার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব বজায় রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেনএআই, মেটা এবং এনভিডিয়ার মতো প্রযুক্তি জায়ান্টদের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এআই-এর নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

৪৫ মিনিট Ago
মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী, দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি
মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবার নারী প্রধানমন্ত্রী, দায়িত্ব পেলেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি

উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কোর ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাতিমা জাহরা মানসুরি। দেশটির রাজা ষষ্ঠ মোহাম্মদ ৫০ বছর বয়সী এই নগর পরিকল্পনামন্ত্রী ও আইনজীবীকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা মরক্কোর জন্য একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত।   রাজপ্রাসাদ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত এই প্রধানমন্ত্রীকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, সদ্য সমাপ্ত সংসদীয় নির্বাচনের চার দিন পর এই ঘোষণা এলো, যেখানে ফাতিমা জাহরার মধ্যপন্থী দল 'অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি (প্যাম)' সর্বাধিক ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছে। তিউনিসিয়ার নাজলা বুদেনের পর ফাতিমা জাহরা মানসুরি পুরো আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী, যিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হলেন।   মরক্কোর নির্বাচন ব্যবস্থা অনুযায়ী কোনো একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বেশ কঠিন। তাই আশা করা হচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে ফাতিমা জাহরা একটি জোট সরকার গঠন করবেন। তার নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের কাঁধে এখন বিশাল দায়িত্ব।   বিশেষ করে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ তদারকির পাশাপাশি দেশে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, মজুরি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির মতো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে কাজ করবে তার প্রশাসন।   ২০১১ সালের আরব বসন্তের পর মরক্কোর সংবিধানে আনা সংস্কার অনুযায়ী, রাজা দেশের সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী হলেও সংসদীয় নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দল থেকেই তাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করতে হয়। এর আগে রাজা কোনো বিধিনিষেধ ছাড়াই প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ দিতে পারতেন।   ২০০৮ সালে রাজার বাল্যবন্ধু ও ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ফুয়াদ আলী এল হিম্মার হাত ধরে 'প্যাম' গঠিত হলে ফাতিমা জাহরা এই দলে যোগ দেন। ফ্রান্সের মন্টপিলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করা ফাতিমা ২০২৪ সালে দলের অন্যতম প্রধান নেতা হয়ে ওঠেন। এর আগে তিনি মারাকেশের মেয়র এবং সংসদ সদস্য হিসেবে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেছেন।   তার বাবা আবদেররহমান এল মানসুরি সংযুক্ত আরব আমিরাতে মরক্কোর সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং মারাকেশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছিলেন, যিনি 'মারাকেশের পাশা' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ফাতিমা জাহরা সম্প্রতি মারাকেশে জমি লেনদেনের বিষয়ে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে অজ্ঞাত হ্যাকারদের দ্বারা সমালোচিত হয়েছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগগুলোকে মানহানিকর আখ্যা দিয়ে তা অস্বীকার করেছেন এবং আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।   গত সপ্তাহের নির্বাচনে মরক্কোর ১ কোটি ৫৮ লাখ নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ১০ লাখ ভোটার প্যামকে সমর্থন দিয়েছেন, যা দলটির প্রতিষ্ঠার পর প্রথম বড় বিজয়। গত জুলাইয়ে সিউটা অভিবাসন সংকট এবং গত বছর তরুণদের নেতৃত্বে হওয়া প্রাণঘাতী বিক্ষোভের পর এটিই ছিল দেশের প্রথম নির্বাচন। এখন সবার দৃষ্টি পরবর্তী সরকার গঠনের দিকে।   প্যাম সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও, মধ্যপন্থী ইসলামি দল 'জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি' এবং বামপন্থী 'ফেডারেশন অব ডেমোক্রেটিক লেফট'-এর মতো কয়েকটি দল এরই মধ্যে বিরোধী দলে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের দুই ঈদ পেল সরকারি ছুটির স্বীকৃতি, কার্যকর নতুন আইন

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের সরকারি ছুটির তালিকায় এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রধান দুই ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা। গত ২৭ সেপ্টেম্বর অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্যাভিন নিউসম ‘এবি ২০১৭’ শীর্ষক একটি বিলে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে ঐতিহাসিক এই স্বীকৃতি কার্যকর করেন।   সান ফ্রান্সিসকোর অ্যাসেম্বলি সদস্য ম্যাট হ্যানি ‘স্টেট হলিডেজ: ঈদ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেছিলেন। আইনসভার বিভিন্ন ধাপে অনুমোদনের পর গত ৩০ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার উভয় কক্ষে বিলটি পাস হয় এবং পরবর্তীতে গভর্নরের চূড়ান্ত স্বাক্ষরের মাধ্যমে এটি আইনে পরিণত হয়। নতুন এই আইনের আওতায় ইসলামি চান্দ্রপঞ্জিকা অনুযায়ী শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং জিলহজ মাসের ১০ তারিখ ঈদুল আজহা হিসেবে সরকারি ছুটির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।   তবে এই সরকারি স্বীকৃতির অর্থ এই নয় যে, ক্যালিফোর্নিয়ার সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা আদালত বাধ্যতামূলকভাবে বন্ধ থাকবে। আইনে ঈদকে বিচারিক ছুটির তালিকা থেকে আলাদা রাখা হয়েছে, ফলে ঈদের দিন আদালত বা বেসরকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।   তবে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে এই আইনে। ঈদের নামাজ বা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেওয়ার জন্য কোনো শিক্ষার্থী স্কুলে অনুপস্থিত থাকলে তা ‘অনুমোদিত অনুপস্থিতি’ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া স্থানীয় স্কুল কর্তৃপক্ষ ও কমিউনিটি কলেজগুলো চাইলে নিজেদের সিদ্ধান্তে ঈদের দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে পারবে।   পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্যও উৎসব পালনের বিশেষ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত শর্ত মেনে সরকারি কর্মীরা ঈদ উপলক্ষে আট ঘণ্টার ছুটির সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন, যা তাদের অবকাশ বা ব্যক্তিগত ছুটি থেকে সমন্বয় করা যাবে। অ্যাসেম্বলি সদস্য আশ কালরা, স্টেফানি নগুয়েন এবং সিনেটর আইশা ওয়াহাবসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এই বিলটির সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন।   নতুন এই আইনের ফলে ক্যালিফোর্নিয়ায় মুসলিমদের ধর্মীয় উৎসবগুলো রাষ্ট্রীয়ভাবে অনন্য স্বীকৃতি পেল, যা ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ১৩:৪৫
যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে বিতাড়নে ট্রাম্প প্রশাসনকে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি

যুক্তরাষ্ট্রে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের তাদের নিজ দেশের পরিবর্তে তৃতীয় কোনো দেশে দ্রুত বিতাড়ন করার বিতর্কিত নীতি পুনরায় চালুর অনুমতি দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার এক আদেশে বস্টনের নিম্ন আদালতের এক বিচারকের দেওয়া স্থগিতাদেশ সাময়িকভাবে স্থগিত করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেয় শীর্ষ আদালত।   এর ফলে কোনো অভিবাসী সংশ্লিষ্ট তৃতীয় দেশে গিয়ে নির্যাতন বা নিপীড়নের শিকার হতে পারেন কি না, তা আদালতে তুলে ধরার সুযোগ না দিয়েই তাদের তাৎক্ষণিকভাবে দেশান্তর করতে পারবে প্রশাসন। শীর্ষ আদালতের ৬-৩ রক্ষণশীল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এই আদেশ দেওয়া হয়, যেখানে তিনজন উদারপন্থী বিচারপতি ভিন্নমত পোষণ করেন। আগামী ডিসেম্বরে এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর দায়ের করা একটি যৌথ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইউএস জেলা জজ ব্রায়ান মারফি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এই তৃতীয় দেশে বিতাড়ন নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। বিচারক মারফির মতে, যথাযথ নোটিশ এবং শুনানির সুযোগ না দিয়ে অভিবাসীদের পাঠিয়ে দেওয়া মার্কিন সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর লঙ্ঘন।   অধিকার কর্মীদের হিসাব অনুযায়ী, নীতিটি চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত ২৫ হাজারেরও বেশি অভিবাসীকে ২৯টি দেশে পাঠানো হয়েছে, যার সিংহভাগই পাঠানো হয় মেক্সিকোতে। এছাড়া রাজনৈতিকভাবে চরম অস্থিতিশীল ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ভ্রমণ সতর্কতায় থাকা দক্ষিণ সুদান, উগান্ডা, নিরক্ষীয় গিনি, লাইবেরিয়া এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতেও অনেককে পাঠানো হয়েছে।   আদালতের এই আদেশকে স্বাগত জানিয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির জেনারেল কাউন্সেল জেমস পারসিভাল মন্তব্য করেছেন, এটি অপরাধী অবৈধ অভিবাসী এবং সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার সমর্থকদের জন্য একটি ‘খারাপ দিন’। তবে ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন লিটিগেশন অ্যালায়েন্সের আইনজীবী ট্রিনা রিয়েলমুতো একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   তিনি সতর্ক করেন যে, কোনো প্রকার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাওয়ার আগেই অভিবাসীদের এমন দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে যেখানে তারা চরম নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হতে পারেন। বাদীদের অভিযোগ, অতীতে বহু অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর পর সেখান থেকে তাদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অনেকেই মারধর, যৌন নির্যাতন ও গুমের শিকার হয়েছেন।

ইতালিতে স্কুলে বোরকা-নিকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ, প্রধানমন্ত্রী মেলোনির বিরুদ্ধে মুসলিমদের ক্ষোভ

ইতালির স্কুলে ছাত্রীদের বোরকা ও নিকাব পরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার। গত ২০ সেপ্টেম্বর মেলোনি তার দল ন্যাশনালিস্ট কনজারভেটিভ ব্রাদার্স অব ইতালি (এফডিআই)-এর এক সমাবেশে এই প্রস্তাব তুলে ধরে একে নারী সমতার পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দেন।   মেলোনির মতে, স্কুলে মুখ খোলা রেখেই যেতে হবে এবং কোনো তথাকথিত ঐতিহ্যের নামে তরুণীদের মুখ লুকিয়ে রাখতে বাধ্য করা যাবে না। তবে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশটির মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনসার তথ্য অনুযায়ী, পুরো দেশটিতে মাত্র ৫০০ থেকে ৬০০ জন নারী শিক্ষার্থী এমন মুখ ঢাকা পোশাক ব্যবহার করেন। তাই মুসলিম নাগরিকদের মতে, এটি বাস্তব কোনো সমস্যা নয়, বরং একটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে কৃত্রিম বিতর্ক তৈরির অপচেষ্টা মাত্র।   শিক্ষক ও মুসলিম নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে 'অমানবিক' এবং 'অপ্রয়োজনীয়' বলে মন্তব্য করেছেন। মিলানের একটি বিদ্যালয়ের ৫৮ বছর বয়সী গণিত শিক্ষিকা মুলায়কা লরা এনরিয়েলো জানান, দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি কোনো শিক্ষার্থীকে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরতে দেখেননি। অন্যদিকে মিলানের আল-ওয়াহিদ মসজিদের ইমাম ও ইতালিয়ান ইসলামিক রিলিজিয়াস কমিউনিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া পাল্লাভিচিনি এই উদ্যোগকে 'বুদ্ধিবৃত্তিক অসততা' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   পিসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক রেনাতা পেপিচেল্লি এই ঘটনাকে ১৯৫৮ সালে আলজেরিয়ায় ফরাসি ঔপনিবেশিক শাসনামলের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যেখানে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে নারীদের প্রকাশ্যে পর্দা খুলতে বাধ্য করা হয়েছিল। তাঁর মতে, নারীর পর্দা এখনও একটি রাজনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে।   যদিও সরকারি আদেশে সরাসরি 'বোরকা' বা 'নিকাব' শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি, তবে বলা হয়েছে স্কুলে পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টিকারী কোনো পোশাক পরা যাবে না। বোলোনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক নিকো তন্তি জানান, ইতালির আইনে আগে থেকেই পরিচয় গোপনকারী পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে, তবে ধর্মীয় চর্চাকে প্রায়শই বৈধ কারণ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবটির পেছনে মেলোনির সূক্ষ্ম রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ কাজ করছে। ২০২৭ সালের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে মেলোনি বর্তমানে চরম ডানপন্থি দলগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে রয়েছেন, বিশেষ করে সাবেক জেনারেল রবার্তো ভানাচ্চির ন্যাশনাল ফিউচার পার্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা তাকে চাপে ফেলেছে। লুইস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক লোরেঞ্জো ক্যাস্তেলানির মতে, এই নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে মেলোনি মূলত নিজের কঠোর জাতীয়তাবাদী অবস্থান তুলে ধরে কট্টরপন্থি ভোটারদের সমর্থন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে ডাস্টবিনে মিলল ৬ মাসের শিশুকন্যার ম রদেহ, সন্দেহে আটক নারী

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে একটি ডাস্টবিন থেকে উদ্ধার হওয়া এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার রাতে শহরের সেন্ট্রাল আলামেডা এলাকার একটি ডাস্টবিনের ভেতর থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে মঙ্গলবার সকালে এক তরুণীকে আটক করেছে পুলিশ।   পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ইস্ট ৫২ নম্বর স্ট্রিটের ১৮০০ ব্লকে, হোমস অ্যাভিনিউ এলিমেন্টারি স্কুলের সামনের একটি ডাস্টবিনে ৪ থেকে ৬ মাস বয়সী ওই শিশুটিকে পাওয়া যায়। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এলএপিডি) জুভেনাইল ডিভিশনের লেফটেন্যান্ট ডেভ হসকিন্স জানান, এক ব্যক্তি সেখানে ময়লা ফেলতে গিয়ে কম্বলে মোড়ানো অবস্থায় শিশুটিকে দেখতে পান এবং জরুরি সেবা ৯১১-এ কল করেন।   প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তি শুরুতে শিশুটিকে একটি পুতুল ভেবেছিলেন। শিশুটির পরনে শর্টস ও হাতে গ্লাভস ছিল। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটিকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   মঙ্গলবার সকালে এক নারীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। তবে তিনি শিশুটির মা কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ। এদিকে, হারমান জনসন ও লরা লেসি নামের এক দম্পতি সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, আটক হওয়া নারী তাদের পালিত কন্যা এবং মৃত শিশুটি তারই সন্তান।   নখ দিয়ে যাতে আঁচড় কাটতে না পারে, সেজন্য শিশুটির হাতে গ্লাভস পরানো ছিল বলে জানান তারা। জনসন জানান, তার পালিত কন্যার আচরণ বেশ কিছুদিন ধরেই অস্বাভাবিক ছিল এবং মঙ্গলবার সকালে সে একেকবার একেক রকম কথা বলছিল। শিশুটিকে সামলাতে না পারায়, মাত্র দুই সপ্তাহ বয়স থেকেই জনসন ও লরা নিজেরাই শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন।   পালিত কন্যার এমন নিষ্ঠুর আচরণে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন লরা লেসি। তিনি বলেন, “তার প্রতি আমার কোনো ভালোবাসা নেই, কারণ ওই নিষ্পাপ শিশুটির প্রতি তার কোনো মমতা ছিল না।” তবে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি প্রশ্ন রাখেন, “কেন তুমি এমন করলে? আমি তো তোমার সন্তানের দেখাশোনা করছিলাম, আমিই তো তার দাদি ছিলাম।”   তদন্তে সহায়তা করার জন্য ওই দম্পতি পরে পুলিশ স্টেশন এবং মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয়ে যান। আটককৃত নারীর পরিচয় বা তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো বিস্তারিত কিছু জানায়নি।

পুলিশ সেজে ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সেই রহস্যময় ঘটনার প্রতীকী দৃশ্য
পুলিশ সেজে গু লি না চালিয়েই ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও, রহস্য আজও অমীমাংসিত

১৯৬৮ সালের ১০ ডিসেম্বর। জাপানের টোকিওতে পুলিশের পোশাক পরা এক ব্যক্তি চার ব্যাংককর্মীকে থামিয়ে এমন এক নাটক সাজিয়েছিলেন, যার পরিণতিতে প্রায় ৩০ কোটি ইয়েন নিয়ে উধাও হয়ে যান তিনি। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরও সেই অর্থ উদ্ধার হয়নি, ধরা পড়েনি ঘটনার মূল হোতাও।   সেদিন চার ব্যাংককর্মী একটি গাড়িতে করে টশিবার ফুচু কারখানার কর্মীদের বোনাসের টাকা নিয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে ছিল ২৯ কোটি ৪৩ লাখ ৭ হাজার ৫০০ ইয়েন। ১৯৬৮ সালের বিনিময় হারে যার মূল্য ছিল প্রায় ৮ লাখ ১৮ হাজার মার্কিন ডলার।   গন্তব্যের কাছাকাছি পৌঁছালে পুলিশের মোটরসাইকেল নিয়ে এক ব্যক্তি তাদের গাড়ি থামান। পুলিশের পোশাক পরা ওই ব্যক্তি দাবি করেন, ব্যাংক শাখা ব্যবস্থাপকের বাড়িতে বি স্ফো রণ ঘটেছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলেন, তাদের গাড়িতেও বো ম থাকতে পারে।   ভয় পেয়ে চার ব্যাংককর্মী গাড়ি থেকে নেমে আসেন। এরপর ওই ব্যক্তি গাড়ির নিচে ঢুকে পরীক্ষা করার ভান করেন। কিছুক্ষণ পর তিনি চিৎকার করে জানান, গাড়ির নিচে ডা য় না মাই ট পাওয়া গেছে এবং যেকোনো মুহূর্তে গাড়িটি বি স্ফো রিত হতে পারে।   পরিস্থিতিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে গাড়ির নিচে ধোঁয়া ও আগুনের মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। পরে জানা যায়, ওই ধোঁয়া ও আগুন আসলে একটি ফ্লেয়ার থেকে তৈরি করা হয়েছিল। আতঙ্কিত ব্যাংককর্মীরা গাড়ি থেকে দূরে সরে গেলে ভুয়া পুলিশ সদস্যটি গাড়িতে উঠে সেটি চালিয়ে পালিয়ে যান।   ঘটনাটি জাপানে ‘৩০ কোটি ইয়েন ডাকাতি’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। পুলিশ ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য তদন্তে যুক্ত হন এবং অসংখ্য সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের তথ্য যাচাই করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১২০টি আলামতও উদ্ধার করা হয়েছিল। পরে তদন্তকারীরা বুঝতে পারেন, এর কিছু ছিল তদন্তকে বিভ্রান্ত করার জন্য সাজানো।   তদন্তে একজন সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের নাম সামনে এসেছিল। তবে তাকে এই ঘটনার জন্য দায়ী করে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।   চুরি যাওয়া অর্থও আর কখনো উদ্ধার হয়নি। দীর্ঘ তদন্তের পরও প্রকৃত অপরাধীর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।   ১৯৬৮ সালের সেই ঘটনার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। কিন্তু জাপানের আলোচিত এই ডাকাতির রহস্য এখনো অমীমাংসিত। পুলিশের পোশাক, সাজানো বি স্ফো রণের ভয় এবং কয়েক মিনিটের অভিনয় ব্যবহার করে বিপুল অর্থ নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আজও জাপানের অন্যতম আলোচিত অমীমাংসিত অপরাধ হিসেবে পরিচিত।

(কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ
এআইয়ের অতিরিক্ত ব্যবহার নয়, সৃজনশীলতা ধরে রাখার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জনকল্যাণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)সহ আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি এআই যেন নিয়ন্ত্রণহীন ও যথেচ্ছভাবে ব্যবহৃত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।    মঙ্গলবার বঙ্গভবনে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।   রাষ্ট্রপতি বলেন, এআইয়ের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মানুষের চিন্তাশক্তি ও সৃজনশীল প্রতিভা কমিয়ে দিতে পারে। তাই মানুষের সৃজনশীলতা ও নিজস্ব চিন্তার সক্ষমতা বজায় রেখে জনকল্যাণে এবং পরিমিত মাত্রায় এআই ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।    একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি আধুনিক প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোপ্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর খাতে গবেষণা এবং নতুন উদ্ভাবনে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান। প্রযুক্তিকে শুধু ব্যবহার নয়, গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।    সাক্ষাৎকালে কুয়েটের উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক কার্যক্রম সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। এ সময় উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।   রাষ্ট্রপতি বলেন, উন্নত শিক্ষার সুযোগ শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক না রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তা আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।    বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা আরও বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও নতুন উদ্ভাবনকে দেশের উন্নয়ন এবং জনকল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।   এদিকে সাক্ষাৎকালে কুয়েটের আসন্ন সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য রাষ্ট্রপতিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ। রাষ্ট্রপতি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আশ্বাস দেন।    সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব এবং কুয়েটের অধ্যাপকরা উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্যে একদিকে প্রযুক্তি ও এআই গবেষণাকে উৎসাহিত করার কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে এর ব্যবহারে মানুষের নিজস্ব চিন্তা, সৃজনশীলতা ও জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।   উল্লেখ্য, সরকারি পর্যায়েও এআই ব্যবহারে সতর্কতার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। আগস্টে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সরকারি কর্মকর্তাদের অফিসিয়াল কাজে এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেয়। বিশেষ করে সংবেদনশীল ও গোপনীয় সরকারি তথ্য অননুমোদিতভাবে তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যাওয়ার ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়।   বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের জন্য জাতীয় পর্যায়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে। জাতীয় এআই নীতি ২০২৬–২০৩০-এর খসড়ায় দায়িত্বশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও উদ্ভাবনভিত্তিক এআই ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। 

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
তারেক রহমানের ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নেই
তারেক রহমানের ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নেই, বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৪:৪৭

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে আলোচনা ইতিবাচকভাবে চলছে, তবে সফরের দিনক্ষণ ঠিক করতে তাড়াহুড়োর কিছু নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সরকারপ্রধানের সুবিধাজনক সময়ে সফরটি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ত্রিবেদী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, তারেক রহমানকে ভারত সফরের যে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তা এখনো বহাল রয়েছে।   ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, সফর নিয়ে দুই দেশই ইতিবাচক। তবে নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী ভারতে যেতে পারেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের পক্ষে তিনি কোনো নিশ্চিত তথ্য দেননি। এখন পর্যন্ত সফরের নির্দিষ্ট তারিখ বা আনুষ্ঠানিক সূচিও ঘোষণা করা হয়নি।    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানিয়েছে, সৌজন্য সাক্ষাতে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে কাজ করার অঙ্গীকারও জানিয়েছে বাংলাদেশ।    চলতি মাসের ৭ সেপ্টেম্বরও তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আশাবাদ জানিয়েছিলেন ত্রিবেদী। মঙ্গলবারের বক্তব্যেও সেই অবস্থান বজায় রেখেছেন তিনি; সফরের নতুন কোনো দিনক্ষণ জানাননি। 

রাশিয়ায় আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি
রাশিয়ায় আরও ১০ হাজার উত্তর কোরীয় সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ৪:৮

রাশিয়ায় আরও ১০ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী সেনাদের বাছাই করা হচ্ছে; এরপর প্রশিক্ষণ দিয়ে তাঁদের রাশিয়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।   জেলেনস্কির হিসাবে, বর্তমানে রাশিয়ার ভূখণ্ডে আট হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা রয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন, রাশিয়া বিদেশি নাগরিকদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ বাড়াচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারকে সতর্ক করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।    ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের আরেক দাবি, সামরিক সহায়তার বিনিময়ে উত্তর কোরিয়াকে প্রযুক্তি দিচ্ছে রাশিয়া। রুশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় সেখানে শাহেদ ধরনের আক্রমণকারী ড্রোন উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। এই দাবির স্বাধীন নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি।   রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাবে ২০২৪ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সহায়তা করতে আনুমানিক ১৪ থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগকে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে আগের মোট সেনা পাঠানোর হিসাব এবং বর্তমানে রাশিয়ায় অবস্থানরত সেনার সংখ্যা এক নয়।   জেলেনস্কির বক্তব্যটি এসেছে ইউক্রেনে নতুন দফা হামলার পর। তাঁর দেওয়া হিসাবে, সোমবার দেশজুড়ে রুশ ড্রোন হামলায় নয়জন নিহত ও ৮০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ভোরেও কিয়েভে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।  

মাত্র ২৬ দিনে সবাইকে অবাক করে কোরআন মুখস্থ করেছে গাজার ১৪ বছরের মুহান্নাদ
মাত্র ২৬ দিনে সবাইকে অবাক করে কোরআন মুখস্থ করেছে গাজার ১৪ বছরের মুহান্নাদ
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২:৪৯

গাজার জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের মুহান্নাদ আল-হাসানি ২০১৫ সালে মাত্র ২৬ দিনে পবিত্র কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। তখন তাঁর বয়স ছিল ১৪ বছর। ওই বছরের ২৫ জুলাই প্রকাশিত আল জাজিরা নেটের প্রতিবেদনে তাঁর এই অর্জনের কথা উঠে আসে।    মুহান্নাদ জাবালিয়ার ‘আল-আওদা ইলাল্লাহ’ মসজিদে ‘আন-নুখবা’ নামের নিবিড় কোরআন মুখস্থ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। ফজরের নামাজের পর থেকে আসরের নামাজ পর্যন্ত তিনি সেখানে থাকতেন। প্রতিদিন প্রায় ২৫ পৃষ্ঠা মুখস্থ করে শিক্ষকের কাছে পড়ে শোনাতেন।    আল জাজিরাকে মুহান্নাদ বলেছিলেন, কর্মসূচিটি নিবিড় হলেও তাঁর কাছে বিরক্তিকর লাগেনি। কোরআন মুখস্থ শেষ করার পর তিনি তা মনে রাখার জন্য নিয়মিত পুনরাবৃত্তি করছিলেন। একই কর্মসূচিতে গাজার আরও কয়েকজন কিশোর কোরআন মুখস্থ করেছিলেন। ঘটনাটি ২০১৫ সালের; এটি সাম্প্রতিক কোনো অর্জনের খবর নয়।

সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত
সৌদি থেকে এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে ফেরত
প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৯, ২০২৬ ২:২৭

আবাসন, শ্রম ও সীমান্ত নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এক সপ্তাহে ১২ হাজার ৬২৮ অভিবাসীকে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে গালফ নিউজ জানিয়েছে, ১৭ থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দেশজুড়ে যৌথ অভিযান চালানো হয়।   ওই সপ্তাহের অভিযানে আটক হয়েছেন ১৩ হাজার ৬২৮ জন। তাঁদের মধ্যে ৬ হাজার ৫৯৩ জনকে আবাসনবিধি, ৩ হাজার ৫৩১ জনকে সীমান্ত নিরাপত্তাবিধি এবং ৩ হাজার ৫০৪ জনকে শ্রমবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।   অনুমতি ছাড়া সীমান্ত পেরিয়ে সৌদিতে প্রবেশের চেষ্টার সময় আরও ১ হাজার ১৯৭ জনকে আটক করা হয়। বিধি লঙ্ঘনকারীদের পরিবহন, আশ্রয় বা কাজে সহায়তার অভিযোগে আটক হয়েছেন ২২ জন।   সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, ভ্রমণ নথির জন্য ১৮ হাজার ৫৪৯ জনকে তাঁদের দেশের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো হয়েছে। আরও ৩ হাজার ৮১৫ জনের ফেরার টিকিটের ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।   সৌদি আরবে এমন অভিযান নিয়মিত চলছে। এর আগের সপ্তাহে, ১০ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর, ১২ হাজার ৬৩৫ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছিল। তার আগের সপ্তাহে ফেরত পাঠানো হয় ১২ হাজার ৫৭ জনকে।    সর্বশেষ ফেরত পাঠানো অভিবাসীদের দেশভিত্তিক পরিচয় সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রকাশ করেনি। ফলে তাঁদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, তা জানা যায়নি।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়