এপ্রিলের গুলি হামলার আতঙ্ক কাটিয়ে আবারও বসছে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ, নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঘিরে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বার্তা দিতেই এই আয়োজন। কয়েক মাস আগের গুলি হামলার আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবুও ভয়কে পেছনে ফেলে আবারও আয়োজন করা হচ্ছে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ। এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আর এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য একই অনুষ্ঠানে এক সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন সিক্রেট সার্ভিস সদস্য আহত হন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি মাঝপথেই স্থগিত করা হয়। ঘটনার কয়েক মাস পর পুনরায় আয়োজন করা হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। এবার অতিথি সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে কঠোর পরিচয় যাচাই, বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশি এবং সিক্রেট সার্ভিসের অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের সংগঠন জানিয়েছে, এই নৈশভোজ শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক। হামলার ভয় দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখা যাবে না এবারের আয়োজন সেই বার্তাই দেবে। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তিনি বক্তব্যও দিতে পারেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে, অনুষ্ঠানে এপ্রিলের হামলায় আহত সিক্রেট সার্ভিস সদস্য এবং নিরাপত্তা কাজে সাহসিকতা দেখানো কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ ক্ষমায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি আবারও মাদক পাচার এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী ল্যাকেন্টো ব্রায়ান স্মিথ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই যাত্রায় তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সম্প্রতি মিশিগানের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার নথি উন্মুক্ত করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে জুরি বোর্ড স্মিথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি, হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঠিক কয়েকদিন আগে জো বাইডেন তার সাজা মওকুফ করেন। এরপর একই বছরের জুলাই মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ৮ বছরের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির (সুপারভাইজড রিলিজ) অধীনে টেক্সাসের হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রোবেশন অফিসের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে মুক্তির পর নতুন জীবনের সুযোগ পেয়েও তিনি পুরনো পথে হাঁটা শুরু করেন। আইআরএস (IRS) ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের স্পেশাল এজেন্ট জোসেফ ম্যাকের দায়ের করা ৩৩ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) এক ছদ্মবেশী এজেন্টের ফাঁদে পা দেন স্মিথ। ওই আন্ডারকভার এজেন্ট নিজেকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। স্মিথ তাকে জানান, তিনি টেক্সাসে থাকলেও তার মূল ব্যবসা মিশিগানে চলছে। এরপর মিশিগানের মাস্কেগনে থাকা তার এক সহযোগীর মাধ্যমে একটি ওয়ালমার্ট স্টোরের পার্কিং লটে ছদ্মবেশী আরেক নারী এজেন্টের কাছে ৮০ হাজার ডলারের অবৈধ অর্থ হস্তান্তর করেন স্মিথ। পরবর্তীতে এই অর্থ মেক্সিকোর ব্যাংকে পাচার করা হয়। এমনকি স্মিথ ওই এজেন্টের কাছে গর্ব করে বলেছিলেন, গত ২০ বছর আগে তিনি যখন রাস্তায় ছিলেন তখন বেশ বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং কারাগারে বসেও সপ্তাহে ২০ কিলোগ্রাম কোকেন পাচার নিয়ন্ত্রণ করতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ড চালানোর মধ্যেই গত ১৬ জুলাই স্মিথ আদালতে তার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ কমানোর আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি একটি ট্রাকিং কোম্পানি খুলেছেন এবং সমাজের একজন ইতিবাচক ও উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাকে দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছিলেন, তিনি আইন মেনে সৎ জীবনযাপন করছেন এবং এই সুযোগকে হেলায় হারাতে চান না। যদিও তার এই আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত, তবে তার আগেই মাদক ও অর্থ পাচারের নতুন অভিযোগে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন।
কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকদের ভিজিটর বা দর্শনার্থী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৬টি আবশ্যিক শর্তের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা নামে পরিচিত এই ভিসার মাধ্যমে মূলত পর্যটন, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন কাজের জন্য দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা ও অপরাধমূলক রেকর্ডের পাশাপাশি আবেদনকারীর সঙ্গে তার নিজ দেশের সম্পর্ক কতটা দৃঢ় এবং নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সদিচ্ছা আছে কি না—সেসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। ভিসা পাওয়ার প্রথম শর্ত অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রত্যেক আবেদনকারীর অবশ্যই একটি বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে এবং প্রয়োজনে তা প্রমাণে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন করতে হতে পারে। তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, কানাডার আইন অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য এমন কোনো অপরাধমূলক বা ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত রেকর্ড থাকলে আবেদনকারী ভিসার জন্য সরাসরি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। চতুর্থ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো, নিজ দেশের সাথে আবেদনকারীর দৃঢ় সম্পর্ক থাকা। নিজ দেশে আবেদনকারীর চাকরি, স্থাবর সম্পত্তি বা পরিবারের মতো শক্তিশালী কারণগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কানাডা যাচ্ছেন। চতুর্থ শর্তটির সাথেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছে পঞ্চম শর্তটি। এখানে আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি কানাডা ত্যাগ করবেন। এটি আবেদনের অন্যতম সংবেদনশীল দিক, যা প্রতিটি কেস অনুযায়ী ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সর্বশেষ ও ষষ্ঠ শর্তটি হলো আর্থিক সক্ষমতা। কানাডায় অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ খরচ বহনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে থাকতে হবে। ভ্রমণের সময়কাল এবং তিনি কোথায় থাকবেন (হোটেলে নাকি পরিচিত কারও বাসায়), তার ওপর ভিত্তি করে এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। এই ছয়টি মূল শর্তের বাইরেও অনেক সময় কানাডায় বসবাসরত কোনো আয়োজকের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র বা ইনভাইটেশন লেটার চাওয়া হতে পারে, যা ভিসা আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে। তবে ভিজিটর ভিসার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি, তাই আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপরই নির্ভর করে। এদিকে, আরেকটি পৃথক ঘোষণায় কানাডা তাদের 'প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রাম' (PGP)-এর আওতায় নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) জানিয়েছে, দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে টেকসই ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে ১১ মাসের শিশুকে বাসায় রেখে স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একটি পার্ক থেকে ওই স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি সম্ভাব্য হত্যার পর আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। নিহত নারী মেরি কেট গোল্ডিং (৩৪)। তিনি পেনসিলভানিয়ার বাকস কাউন্টির বাসিন্দা ছিলেন এবং কাউন্সিল রক হাই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থী। নিউইয়র্কে টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রের সেট ডেকোরেটর হিসেবে কাজ করতেন তিনি। পুলিশ জানায়, কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়ায় নিজেদের বাসা থেকে গোল্ডিংয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনার সময় দম্পতির ১১ মাস বয়সী শিশুটিও বাসার ভেতরে ছিল। তবে শিশুটি অক্ষত রয়েছে এবং পরে পরিবারের পরিচিত একজন তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। এর কয়েক ঘণ্টা পর কাছের অ্যাস্টোরিয়া পার্কে একটি গাছ থেকে গোল্ডিংয়ের স্বামী জোসেফ আজ্জারেত্তো (৩৩)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তকারীদের প্রাথমিক ধারণা, স্ত্রীকে হত্যার পর তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার আগে দম্পতির মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়েছিল। মৃত্যুর আগে আজ্জারেত্তো এক আত্মীয় ও এক বন্ধুকে ফোন করে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তবে এসব তথ্য এখনো পুলিশের আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। মেরি কেট গোল্ডিং নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি জনপ্রিয় টেলিভিশন সিরিজ ‘দ্য মার্ভেলাস মিসেস মেইজেল’ ও ‘গুজবাম্পস’-এর সেট ডেকোরেশন বিভাগে কাজ করেছেন। সহকর্মীরা তাকে মেধাবী ও সৃজনশীল পেশাজীবী হিসেবে স্মরণ করেছেন। পুলিশ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড ও আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে হত্যার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণ বা দম্পতির মধ্যে বিরোধের প্রকৃতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির পূর্ণ চিত্র স্পষ্ট হবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি বিদেশি নাগরিকদের ভিজিটর বা দর্শনার্থী ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে ৬টি আবশ্যিক শর্তের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। টেম্পোরারি রেসিডেন্ট ভিসা নামে পরিচিত এই ভিসার মাধ্যমে মূলত পর্যটন, পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং স্বল্পমেয়াদী বিভিন্ন কাজের জন্য দেশটিতে প্রবেশের সুযোগ পাওয়া যায়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চিকিৎসা ও অপরাধমূলক রেকর্ডের পাশাপাশি আবেদনকারীর সঙ্গে তার নিজ দেশের সম্পর্ক কতটা দৃঢ় এবং নির্দিষ্ট সময়ে দেশে ফিরে যাওয়ার সদিচ্ছা আছে কি না—সেসব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করা হবে। ভিসা পাওয়ার প্রথম শর্ত অনুযায়ী, ভিসা প্রক্রিয়ার শুরুতে প্রত্যেক আবেদনকারীর অবশ্যই একটি বৈধ পাসপোর্ট বা ট্রাভেল ডকুমেন্ট থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে এবং প্রয়োজনে তা প্রমাণে স্বাস্থ্য পরীক্ষাও সম্পন্ন করতে হতে পারে। তৃতীয় শর্তে বলা হয়েছে, কানাডার আইন অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য এমন কোনো অপরাধমূলক বা ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত রেকর্ড থাকলে আবেদনকারী ভিসার জন্য সরাসরি অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। চতুর্থ এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি হলো, নিজ দেশের সাথে আবেদনকারীর দৃঢ় সম্পর্ক থাকা। নিজ দেশে আবেদনকারীর চাকরি, স্থাবর সম্পত্তি বা পরিবারের মতো শক্তিশালী কারণগুলো প্রমাণ করে যে, তিনি শুধু নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই কানাডা যাচ্ছেন। চতুর্থ শর্তটির সাথেই ওতপ্রোতভাবে যুক্ত রয়েছে পঞ্চম শর্তটি। এখানে আবেদনকারীকে ইমিগ্রেশন অফিসারের কাছে সন্তোষজনকভাবে প্রমাণ করতে হবে যে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি কানাডা ত্যাগ করবেন। এটি আবেদনের অন্যতম সংবেদনশীল দিক, যা প্রতিটি কেস অনুযায়ী ভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়। সর্বশেষ ও ষষ্ঠ শর্তটি হলো আর্থিক সক্ষমতা। কানাডায় অবস্থানকালীন সম্পূর্ণ খরচ বহনের মতো পর্যাপ্ত অর্থ আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে থাকতে হবে। ভ্রমণের সময়কাল এবং তিনি কোথায় থাকবেন (হোটেলে নাকি পরিচিত কারও বাসায়), তার ওপর ভিত্তি করে এই অর্থের পরিমাণ পরিবর্তিত হতে পারে। এই ছয়টি মূল শর্তের বাইরেও অনেক সময় কানাডায় বসবাসরত কোনো আয়োজকের কাছ থেকে আমন্ত্রণপত্র বা ইনভাইটেশন লেটার চাওয়া হতে পারে, যা ভিসা আবেদনকে আরও শক্তিশালী করে। তবে ভিজিটর ভিসার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো আয়ের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি, তাই আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নিজস্ব বিবেচনার ওপরই নির্ভর করে। এদিকে, আরেকটি পৃথক ঘোষণায় কানাডা তাদের 'প্যারেন্টস অ্যান্ড গ্র্যান্ডপ্যারেন্টস প্রোগ্রাম' (PGP)-এর আওতায় নতুন আবেদন গ্রহণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করেছে। ইমিগ্রেশন, রিফিউজি অ্যান্ড সিটিজেনশিপ কানাডা (IRCC) জানিয়েছে, দেশের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাকে টেকসই ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থেই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।
টেক্সাসে মালবাহী ট্রেনের একটি বন্ধ কনটেইনারে ১৪ বছরের এক শিশুসহ সাত অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় ইউএস সিটিজেনসহ ১১ জনকে অভিযুক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি। কয়েক মাস ধরে চলা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্সের তদন্তের পর চলতি সপ্তাহে টেক্সাসের ডেল রিওতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ২৪ জুলাই এ তথ্য জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, অভিযুক্তরা এমন একটি মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যারা মেক্সিকো থেকে অবৈধভাবে সীমান্ত পার করানোর পর অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রের আরও ভেতরে নিয়ে যেতে মালবাহী ট্রেন ব্যবহার করত। বিচার বিভাগের দাবি, চক্রটি অন্তত ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৬ সালের ১২ মে পর্যন্ত সক্রিয় ছিল। অভিযুক্ত ১১ জন হলেন ডেল রিওর কারিনা গার্সিয়া, এডসন আলেহান্দ্রো পেরেজ ও মায়রা আলেহান্দ্রা হুয়ের্তা, মেক্সিকোর সেফেরিনো হুয়ের্তা-কাসিয়াস, মারিয়া নর্মা নেরি দে মোরান, দামিয়ান হুয়ের্তা আনালুকাস ও রোসারিও ক্রিস্টাল লোপেজ-সালদানা, হন্ডুরাসের জোনাস উলোয়া-আগুইলেরা ও ফ্র্যাঙ্কলিন উইলিয়ামস আয়ালা আগুইলেরা, টেক্সাসের ঈগল পাসের এরিক হার্নান্দেজ এবং গুয়াতেমালার পাসকুয়াল রাইমুন্ডো লোয়ারকা। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে ৩৭ বছর বয়সী কারিনা গার্সিয়া একজন ইউএস সিটিজেন। তিনি এবং মেক্সিকান নাগরিক সেফেরিনো হুয়ের্তা-কাসিয়াস এখনও পলাতক। অন্যদিকে মায়রা আলেহান্দ্রা হুয়ের্তাকে ১২ মে ডেল রিও থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তিনি ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। গত সপ্তাহে মধ্য ও দক্ষিণ টেক্সাসে কয়েক দিনব্যাপী অভিযানে আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, মানবপাচার চক্রটি অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার বিনিময়ে জনপ্রতি দেড় হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত নিত। অভিবাসী কিংবা তাদের পরিবার ও বন্ধুরা হন্ডুরাস, মেক্সিকো, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা পাচারকারীদের এই অর্থ দিতেন। যে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ১১ জনের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি ঘটে গত মে মাসে। ফেডারেল অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, এপ্রিলের শেষ দিকে অন্তত সাতজন অভিবাসীকে মেক্সিকোর আকুনিয়া থেকে টেক্সাসের ডেল রিও এলাকায় আনার ব্যবস্থা করে চক্রটি। ৯ মে তাদের সীমান্ত পার করিয়ে ডেল রিওতে ইউনিয়ন প্যাসিফিকের রেললাইনের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেদিন দুপুরে একটি ইউনিয়ন প্যাসিফিক ট্রেন সেখানে থেমে থাকার সময় পাচারকারীরা লাল রঙের বোল্ট কাটার দিয়ে একটি কনটেইনারের দরজার তালা কেটে সাতজনকে ভেতরে ঢুকিয়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। কনটেইনারটিতে কোনো ভেন্টিলেশন বা কুলিং ব্যবস্থা ছিল না। বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়ায় ভেতর থেকেও দরজা খোলার সুযোগ ছিল না। তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন বাইরের তাপমাত্রা ছিল ৮৮ থেকে ৯২ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে। কনটেইনারে থাকা সাতজনের একজনের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। ট্রেনটি পরে ডেল রিও থেকে সান আন্তোনিওর দিকে যাত্রা করে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সান আন্তোনিও পৌঁছানোর পর পাচারকারীরা কনটেইনারের দরজা খুলে ভেতরের অভিবাসীদের সংকটাপন্ন অবস্থায় দেখতে পায়। এরপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। একজনের মরদেহ রেললাইনের পাশে ফেলে রাখা হয় এবং বাকিদের কনটেইনারের ভেতরেই রেখে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরদিন ১০ মে ট্রেনটি লারেডোর দিকে যাওয়ার পর ইউনিয়ন প্যাসিফিক রেলইয়ার্ডের এক কর্মী কনটেইনার থেকে একটি পা বেরিয়ে থাকতে দেখেন। পরে ভেতরে ছয়জনের মরদেহ পাওয়া যায়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরে সান আন্তোনিওতে রেললাইনের পাশে সপ্তম ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত সাতজনের মধ্যে চারজন মেক্সিকোর এবং তিনজন হন্ডুরাসের নাগরিক ছিলেন। তাদের মধ্যে ১৪ বছরের শিশুটিও ছিল। তদন্তকারীরা আরও জানতে পেরেছেন, কনটেইনারে আটকা পড়া অন্তত একজন মৃত্যুর আগে তার এক স্বজনকে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্যের আকুতি জানিয়েছিলেন। ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরির অভিযোগপত্রে ১১ জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে মৃত্যুর কারণ হওয়া অবৈধ অভিবাসী পরিবহনের ষড়যন্ত্র এবং সেই পরিবহনে সহায়তার একটি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। সাজা নির্ধারণ করবেন ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক। ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ এবং টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জাস্টিন আর. সিমন্স শুক্রবার মামলার নতুন অভিযোগের তথ্য ঘোষণা করেন। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্সের অধীনে একাধিক ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থা মামলাটির তদন্তে যুক্ত রয়েছে। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, অভিযোগপত্রে থাকা বিষয়গুলো এখনো কেবল অভিযোগ। আদালতে সন্দেহাতীতভাবে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তিকে নির্দোষ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
ভয়াবহ দাবানলের কারণে স্পেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। রাজধানী মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল এবং আভিলা প্রদেশে একাধিক স্থানে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাজারো মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়া এবং প্রবল বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় জাতীয় বেসামরিক সুরক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে উদ্ধার অভিযান, অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মাদ্রিদের পশ্চিমাঞ্চল, ভিলা দেল প্রাদো, সান মার্তিন দে ভালদেইগ্লেসিয়াস, পেলায়োস দে লা প্রেসা এবং আলদেয়া দেল ফ্রেসনোসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে শত শত অগ্নিনির্বাপণ কর্মী, সামরিক জরুরি বাহিনী, পানিবাহী উড়োজাহাজ ও উড়ন্তযান মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরে স্পেনে ইতোমধ্যে এক লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে গেছে এবং দাবানলে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং শুষ্ক বনাঞ্চল দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানলের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। এদিকে প্রতিবেশী ফ্রান্সেও ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানেও বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং অতিরিক্ত অগ্নিনির্বাপণ সহায়তা চাওয়া হয়েছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে দাবানল পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের বিশেষ ক্ষমায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে মুক্তি পাওয়া এক ব্যক্তি আবারও মাদক পাচার এবং অবৈধ অর্থ লেনদেনের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত হয়েছেন। ৫৫ বছর বয়সী ল্যাকেন্টো ব্রায়ান স্মিথ নামের ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে অর্থ পাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে এই যাত্রায় তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। সম্প্রতি মিশিগানের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে তাকে গ্রেপ্তারের পর মামলার নথি উন্মুক্ত করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচার এবং অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায়ে জুরি বোর্ড স্মিথকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি, হোয়াইট হাউস ছাড়ার ঠিক কয়েকদিন আগে জো বাইডেন তার সাজা মওকুফ করেন। এরপর একই বছরের জুলাই মাসে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ৮ বছরের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির (সুপারভাইজড রিলিজ) অধীনে টেক্সাসের হিউস্টনে বসবাস শুরু করেন তিনি। প্রোবেশন অফিসের অনুমতি নিয়েই তিনি সেখানে স্থানান্তরিত হয়েছিলেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে মুক্তির পর নতুন জীবনের সুযোগ পেয়েও তিনি পুরনো পথে হাঁটা শুরু করেন। আইআরএস (IRS) ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনের স্পেশাল এজেন্ট জোসেফ ম্যাকের দায়ের করা ৩৩ পৃষ্ঠার অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউএস ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ডিইএ) এক ছদ্মবেশী এজেন্টের ফাঁদে পা দেন স্মিথ। ওই আন্ডারকভার এজেন্ট নিজেকে অর্থ পাচারকারী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। স্মিথ তাকে জানান, তিনি টেক্সাসে থাকলেও তার মূল ব্যবসা মিশিগানে চলছে। এরপর মিশিগানের মাস্কেগনে থাকা তার এক সহযোগীর মাধ্যমে একটি ওয়ালমার্ট স্টোরের পার্কিং লটে ছদ্মবেশী আরেক নারী এজেন্টের কাছে ৮০ হাজার ডলারের অবৈধ অর্থ হস্তান্তর করেন স্মিথ। পরবর্তীতে এই অর্থ মেক্সিকোর ব্যাংকে পাচার করা হয়। এমনকি স্মিথ ওই এজেন্টের কাছে গর্ব করে বলেছিলেন, গত ২০ বছর আগে তিনি যখন রাস্তায় ছিলেন তখন বেশ বড় মাপের ব্যবসায়ী ছিলেন এবং কারাগারে বসেও সপ্তাহে ২০ কিলোগ্রাম কোকেন পাচার নিয়ন্ত্রণ করতেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ড চালানোর মধ্যেই গত ১৬ জুলাই স্মিথ আদালতে তার শর্তসাপেক্ষ মুক্তির মেয়াদ কমানোর আবেদন করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, তিনি একটি ট্রাকিং কোম্পানি খুলেছেন এবং সমাজের একজন ইতিবাচক ও উৎপাদনশীল সদস্য হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেছেন। রাষ্ট্রপতির ক্ষমাকে দ্বিতীয় সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছিলেন, তিনি আইন মেনে সৎ জীবনযাপন করছেন এবং এই সুযোগকে হেলায় হারাতে চান না। যদিও তার এই আবেদনের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি আদালত, তবে তার আগেই মাদক ও অর্থ পাচারের নতুন অভিযোগে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়লেন।
এপ্রিলের গুলি হামলার আতঙ্ক কাটিয়ে আবারও বসছে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ, নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঘিরে অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বার্তা দিতেই এই আয়োজন। কয়েক মাস আগের গুলি হামলার আতঙ্ক এখনও পুরোপুরি কাটেনি। তবুও ভয়কে পেছনে ফেলে আবারও আয়োজন করা হচ্ছে হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের বার্ষিক নৈশভোজ। এবারের অনুষ্ঠানে থাকছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আর এতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিতব্য একই অনুষ্ঠানে এক সশস্ত্র ব্যক্তি নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে ঢোকার চেষ্টা করলে গুলির ঘটনা ঘটে। এতে একজন সিক্রেট সার্ভিস সদস্য আহত হন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে অনুষ্ঠানটি মাঝপথেই স্থগিত করা হয়। ঘটনার কয়েক মাস পর পুনরায় আয়োজন করা হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। এবার অতিথি সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রবেশের আগে কঠোর পরিচয় যাচাই, বিশেষ নিরাপত্তা তল্লাশি এবং সিক্রেট সার্ভিসের অতিরিক্ত নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। হোয়াইট হাউস সংবাদদাতাদের সংগঠন জানিয়েছে, এই নৈশভোজ শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক। হামলার ভয় দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমকে দমিয়ে রাখা যাবে না এবারের আয়োজন সেই বার্তাই দেবে। অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। তিনি বক্তব্যও দিতে পারেন বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এদিকে, অনুষ্ঠানে এপ্রিলের হামলায় আহত সিক্রেট সার্ভিস সদস্য এবং নিরাপত্তা কাজে সাহসিকতা দেখানো কর্মকর্তাদের বিশেষভাবে সম্মান জানানো হবে।
বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনার মাঝেই স্পেনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভয়াবহ হারে ইসলামফোবিয়া ও বর্ণবাদী আক্রোশ ছড়িয়ে পড়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থা ওবেরাক্স (OBERAXE) প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, জুন মাসজুড়ে অনলাইনে শনাক্ত হওয়া ৪০ হাজারের বেশি বিদ্বেষমূলক বার্তার একটি বড় অংশই খেলাধুলা এবং বিশেষ করে মুসলিম ফুটবলারদের লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের প্রধান শিকার হয়েছেন স্পেন জাতীয় দলের তরুণ উদীয়মান তারকা ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল। স্পেনের জাতীয় অভিবাসন সচিবালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠান 'স্প্যানিশ অবজারভেটরি অন রেসিজম অ্যান্ড জেনোফোবিয়া' (OBERAXE) তাদের সাম্প্রতিক সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং রিপোর্টে এই চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে ডিজিটাল মাধ্যমে সংগৃহীত মোট বিদ্বেষপূর্ণ ও উগ্র বার্তার প্রায় ১৬ শতাংশই সরাসরি ক্রীড়াঙ্গনকে কেন্দ্র করে ছড়ানো হয়েছে। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ক্রীড়া ক্ষেত্রটিকে স্পেনে সামাজিক বিভেদ ও উগ্রতা ছড়ানোর অন্যতম হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। রিপোর্টে বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে স্প্যানিশ নাগরিক এবং পিতৃসূত্রে মরক্কো ও মাতৃসূত্রে বিষুবীয় গিনির বংশোদ্ভূত তারকা লামিনে ইয়ামালের ওপর নেমে আসা অপপ্রচারের কথা। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম গোল উদযাপনের সময় ইয়ামালের ইসলামী রীতি অনুযায়ী সেজদা দেওয়া থেকেই উগ্র গোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভের সূচনা হয়। মাঠে নিজের ধর্মীয় বিশ্বাসের এই স্বাভাবিক প্রকাশের পরপরই তাঁর নাগরিকত্ব, জাতীয় পরিচয় এবং স্প্যানিশ জাতীয় দলকে প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চরম আক্রমণাত্মক মন্তব্য ছড়াতে থাকে। সরকারি পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইয়ামালকে উদ্দেশ্য করে "ঘৃণ্য আরব", "স্পেনে আরবদের স্থান নেই", "সে স্প্যানিশ হওয়ার যোগ্য নয়" এবং "আমাদের সাংস্কৃতিক শিকড়কে অপমান করা হয়েছে"—এমন নানা উগ্র বর্ণবাদী ও ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ছড়ানো হয়েছে। বিষয়টি বিশ্লেষণ করে ওবেরাক্স তাদের প্রতিবেদনে এক কঠোর ও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ প্রদান করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ফুটবল মাঠের এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্রীড়াঙ্গন এখন আর কেবল কোনো নির্দিষ্ট খেলোয়াড়কে ব্যক্তিগত আক্রমণের জায়গা নয়, বরং এর মাধ্যমে খেলোয়াড়দের সঙ্গে সম্পর্কিত গোটা ধর্মীয় ও জাতিগত সম্প্রদায়কে নিগ্রহ করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পশ্চিমাপন্থী ডানপন্থী মতাদর্শ ও মুসলিমবিদ্বেষ নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় তা এখন অ্যাথলেটদের ধর্মীয় স্বাধীনতায় আঘাত হানছে। স্পেনের হয়ে অসাধারণ ফুটবল খেলার পরও একজন উদীয়মান মুসলিম তরুণ অ্যাথলেটের প্রতি এই ধরনের আচরণ বৈশ্বিক ক্রীড়াঙ্গনে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার প্রশ্নটিকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি কাভার করতে গিয়ে পেলেটের আঘাতে আহত এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, ঘটনার পরও তাঁর শরীরের ভেতরে ৩০টি পেলেট রয়ে গেছে। দীর্ঘদিনের শারীরিক যন্ত্রণা, চিকিৎসা ব্যয় এবং পেশাগত ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সাংবাদিক বিক্ষোভস্থলে দায়িত্ব পালন করার সময় আহত হন। চিকিৎসকেরা তাঁর শরীর থেকে সব পেলেট অপসারণ করতে পারেননি। বর্তমানে শরীরে রয়ে যাওয়া পেলেটের কারণে তিনি নিয়মিত ব্যথা অনুভব করছেন এবং ভবিষ্যতে আরও অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। সাংবাদিকটি বলেন, “আমার শরীরের ভেতরে এখনও ৩০টি পেলেট রয়েছে। প্রতিদিন ব্যথা নিয়ে বাঁচতে হচ্ছে। আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করছিলাম।” তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি তাঁর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করাও তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই তিনি যথাযথ ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় তিনি আহত হন। তবে দিল্লি পুলিশ পেলেট গান ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, তারা ভিড় নিয়ন্ত্রণে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করেছে। এদিকে সাংবাদিকের অভিযোগের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকারকর্মী এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশ দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
মাত্র ৭ হাজার টাকা দিয়ে যাত্রা শুরু। একসময় ২২ বছর বয়সে ক্যানসারের সঙ্গে জীবন-মৃত্যুর লড়াই। সেই প্রতিকূলতাকে জয় করেই আজ ৫৩৭ কোটি ৬০ লাখ টাকার ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা কনিকা টেকরিওয়াল। ‘জেটসেটগো’ (JetSetGo)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে তিনি এখন ভারতের বেসরকারি বিমান পরিবহন খাতের অন্যতম পরিচিত মুখ। ২০২১ সালে ভারতের সবচেয়ে ধনী স্বনির্ভর নারীদের তালিকায় স্থান পাওয়া কনিকাকে সম্প্রতি দেখা গেছে জনপ্রিয় ব্যবসাভিত্তিক রিয়েলিটি শো ‘শার্ক ট্যাংক ইন্ডিয়া’র পঞ্চম মৌসুমে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৭ সালে তিনি মর্যাদাপূর্ণ ‘ফোর্বস ৩০ আন্ডার ৩০’ তালিকাতেও জায়গা করে নেন। মাড়োয়ারি পরিবারে জন্ম নেওয়া কনিকার শৈশব কেটেছে মধ্যপ্রদেশের ভোপালে। পরিবারের ইচ্ছা ছিল, উচ্চশিক্ষা শেষে তিনি একটি সচ্ছল পরিবারে বিয়ে করবেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ব্যবসার প্রতি আগ্রহী কনিকা ভিন্ন স্বপ্ন দেখতেন। স্নাতক পড়তে ইংল্যান্ডের কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটিতে যাওয়ার পর নিজের ব্যবসা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ঠিক সেই সময়ই তার জীবনে নেমে আসে সবচেয়ে বড় ধাক্কা। মাত্র ২২ বছর বয়সে তার শরীরে ধরা পড়ে স্টেজ-২ হজকিনস লিম্ফোমা। কনিকার ভাষ্য অনুযায়ী, একাধিক চিকিৎসক তাকে খুব অল্প সময় বেঁচে থাকার আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। তবে তিনি হাল ছাড়েননি। পরে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়ে ক্যানসারকে পরাজিত করেন। এক সাক্ষাৎকারে কনিকা বলেন, ক্যানসার থেকে সুস্থ হওয়ার পর তিনি উপলব্ধি করেন, জীবন খুবই ছোট। তাই অন্যের প্রত্যাশা নয়, নিজের স্বপ্নকেই অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। সেই সিদ্ধান্তই তাকে নিয়ে যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পথে—বেসরকারি জেট পরিষেবা খাতে। ২০১৪ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘জেটসেটগো’। কনিকার দাবি, প্রতিষ্ঠানটি শুরু করতে তিনি নিজের পকেট থেকে মাত্র ৭ হাজার টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। বর্তমানে কোম্পানিটি ভারতের অন্যতম বৃহৎ প্রাইভেট জেট ও হেলিকপ্টার বহর পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করেছেন শিল্পপতি পুনিত ডালমিয়া এবং সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার যুবরাজ সিংয়ের মতো ব্যক্তিরাও। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরু, নিউইয়র্ক ও দুবাইসহ একাধিক শহরে রয়েছে কোম্পানির কার্যক্রম। তবে এই সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। পুরুষ-প্রধান এভিয়েশন শিল্পে কাজ করতে গিয়ে তাকে নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কনিকার ভাষায়, অনেকেই তাকে ব্যবসার বদলে ‘কাপকেক বানানোর’ পরামর্শ দিয়েছিলেন। আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকলে তাকে অহংকারী বলা হতো, যেখানে একই আচরণের জন্য পুরুষ উদ্যোক্তাদের ‘উদ্যমী’ হিসেবে দেখা হতো। সব বাধা অতিক্রম করেই আজ তিনি ভারতের অন্যতম সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে কনিকা টেকরিওয়াল হায়দরাবাদের ব্যবসায়ী এবং অরবিন্দ ফার্মার নন-এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর পি. শরৎ চন্দ্র রেড্ডির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ। ২০২৬ সালের মে মাসে তাদের পরিবারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। কনিকার জীবনের গল্প আজ শুধু একজন সফল উদ্যোক্তার নয়; বরং এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে অদম্য লড়াই, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম।
ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকার একদিকে কঠোর আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, অন্যদিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকরি ও ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে বিদ্যমান আইনে আরও কঠোর শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন সংশোধনী অনুযায়ী প্রশ্নপত্র ফাঁস, সংঘবদ্ধ পরীক্ষা জালিয়াতি এবং পরীক্ষা ব্যবস্থাকে প্রভাবিত করার মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ কোটি রুপি পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ আদালতের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। সরকার শিগগিরই সংশোধনী বিলটি সংসদে উপস্থাপন করতে পারে। এদিকে নিট প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রধান দাবিগুলোর একটি হলো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ। তবে রয়টার্স ও এনডিটিভির প্রতিবেদনে সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, সরকার এ দাবিতে সাড়া দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করছে না। কেন্দ্রের অবস্থান হলো, কেবল একজন মন্ত্রীকে সরিয়ে দিলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না; বরং পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কার আনাই সরকারের অগ্রাধিকার। সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের কয়েক দফা আলোচনা হলেও শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের প্রশ্নে কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে দিল্লিসহ বিভিন্ন শহরে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। আন্দোলনকারীরা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের প্রতি ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়ে আসছেন। লাদাখভিত্তিক সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর চলমান অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। তবে তাঁর অনশন প্রত্যাহারের সঙ্গে নিট আন্দোলনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে দুটি বিষয়কে একসূত্রে দেখানোর বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন পর্যবেক্ষকরা। গত কয়েক বছরে ভারতের বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের একাধিক অভিযোগ ওঠায় দেশটির পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (প্রিভেনশন অব আনফেয়ার মিনস) আইন’ প্রণয়ন করা হয়। এবার সেই আইন আরও কঠোর করার উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। কঠোর আইন অপরাধ দমনে সহায়ক হলেও প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, সংরক্ষণ, পরিবহন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে শুধু শাস্তি দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অপরাধ পুরোপুরি রোধ করা কঠিন হবে। রয়টার্স, দ্য ইকোনমিক টাইমস ও এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকার আইনগত সংস্কারের মাধ্যমে পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতি জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার কথা বললেও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না দেখা পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
ইটালির উত্তরাঞ্চলের শহর বোলোনিয়ায় পুলিশি হেফাজতে মরক্কোতে জন্ম নেওয়া ৪২ বছর বয়সী অভিবাসী আবদেররাহিম ফাকিরের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন পুলিশ সদস্য ফাকিরকে মাটিতে উপুড় করে চেপে ধরে রেখেছেন। এ সময় তিনি বারবার “আমি শ্বাস নিতে পারছি না” বলে চিৎকার করছিলেন। কিছুক্ষণ পর তাকে নিস্তেজ হয়ে যেতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ফাকিরের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা দায়ীদের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামেন। বিক্ষোভ একপর্যায়ে সহিংস রূপ নিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে ইতালীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। ঘটনার পর স্থানীয় প্রসিকিউটর কার্যালয় আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের দেহে ধারণ করা ক্যামেরার ভিডিও জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। তদন্তে পুলিশ সদস্যদের বলপ্রয়োগ আইনসঙ্গত ছিল কি না এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হবে। ইটালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ঘটনাটির পূর্ণাঙ্গ, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিক্ষোভের সময় সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দোষী সাব্যস্ত না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। অন্যদিকে মরক্কোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফাকিরের মৃত্যুর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্য দিকে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা, মানবাধিকারকর্মী এবং অভিবাসী অধিকারবিষয়ক সংগঠনগুলো বলছে, এই ঘটনা ইটালিতে পুলিশি বলপ্রয়োগ, জবাবদিহি এবং অভিবাসীদের প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আচরণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। অনেক পর্যবেক্ষক ঘটনাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর ঘটনার মিল খুঁজে দেখলেও তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ফলে আবদেররাহিম ফাকিরের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে ইতালীয় কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।