ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে (অটো চায়না ২০২৬) চমক দেখালো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সপেং (XPENG)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘ফিজিক্যাল এআই’ (Physical AI) ইকোসিস্টেম প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের শক্তিশালী প্রোডাক্ট লাইনআপের মধ্যে নতুন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি GX, MONA M03, পরবর্তী প্রজন্মের P7 এবং X9 হাইলাইট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট ‘IRON’ এবং উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কার ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’। এক্সপেং-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হে শিয়াওপেং বলেন, “গত ১২ বছরের যাত্রায় আমরা এখন এক নতুন ধাপে পৌঁছেছি। স্মার্ট ইভি থেকে ফ্লাইং কার, এআই চিপ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট—আমরা আমাদের ফিজিক্যাল এআই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল যাতায়াত সহজ করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া।” প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের নতুন ‘VLA 2.0’ ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এই এআই প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম রোবোট্যাক্সি (Robotaxi) প্রোটোটাইপ 'GX' উন্মোচন করেছে, যা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বা L4 অটোনোমাস ড্রাইভিং সক্ষম। এতে রয়েছে শক্তিশালী ‘টুরিং’ এআই চিপ, যা ৩০০০ TOPS কম্পিউটিং পাওয়ার প্রদান করে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে এক্সপেং-এর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ৯৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এআই চালিত স্মার্ট মোবিলিটি বা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে The White House। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় হোয়াইট হাউস জানায়, “আমেরিকা আমেরিকান জনগণের জন্য—আইন পাশ কাটিয়ে প্রবেশ করতে চাওয়া লাখো মানুষের জন্য নয়।” একই পোস্টে দাবি করা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump “যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিবাসন ফাঁক” বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পোস্টে আশ্রয় আবেদন ফরম I-589 Asylum Application এর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় ও বহিষ্কার স্থগিতের আবেদনপত্র হিসেবে পরিচিত। এই বার্তার মাধ্যমে আশ্রয় প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং অবৈধ প্রবেশ রোধে নতুন নীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারীদের আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যদি আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া সীমিত করা হয়, তবে নির্যাতন বা সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ বিপদে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাহী আদেশ ঘোষণা না হলেও, হোয়াইট হাউসের এই বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এবং মদিনার মসজিদে নববীতে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক বহুভাষিক ‘ইন্টারক্টিভ স্মার্ট স্ক্রিন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই স্ক্রিনগুলো হজযাত্রীদের ডিজিটাল গাইড হিসেবে কাজ করবে। সৌদি আরবের ‘প্রেসিডেন্সি অফ রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হাজিদের কথা চিন্তা করে এই স্ক্রিনগুলোতে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় তথ্য, কোরআনের ডিজিটাল সংস্করণ এবং হজের বিভিন্ন নিয়মাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন। স্মার্ট স্ক্রিনের বিশেষত্ব: ১. নির্ভুল নির্দেশনা: হজযাত্রীরা যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে এই স্ক্রিন থেকে সরাসরি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারবেন। ২. সহজ নেভিগেশন: বিশাল এলাকায় হারিয়ে যাওয়া রোধে এবং যাতায়াতের সঠিক পথ খুঁজে পেতে এই ডিজিটাল ম্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ৩. ডিজিটাল লাইব্রেরি: স্ক্রিনগুলোতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে হাজিরা মোবাইলেই ডাউনলোড করতে পারবেন বিভিন্ন দরকারি ইসলামিক বই ও দোয়া। ৪. নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: মক্কার নারী প্রার্থনা এলাকাগুলোতেও আলাদাভাবে এই স্মার্ট স্ক্রিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে যাতে নারী হজযাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তথ্য সেবা পেতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনা হয়েছে। এর ফলে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পাশাপাশি হজযাত্রীরা কোনো সাহায্যকারী ছাড়াই নিজের ভাষায় সবকিছু বুঝে নিতে পারবেন।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং গোপনীয়তার সঙ্গে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশের সময় ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা নিজেই বিষয়টি সামনে আনেন। এর মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটেছে। সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। যদিও তখন বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় তার প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম আকারের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ায় সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে তার শরীরে ক্যানসারের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সব পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রোস্টেটের সমস্যাটি ছিল সামান্য এবং তা পুরোপুরি নিরাময় হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্টটি দুই মাস আগেই প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত করা হয়। এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার অসুস্থতার খবর শত্রু রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে ইরান প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তথ্য প্রকাশে দেরি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পূর্ণ কর্মক্ষম রয়েছেন বলে জানানো হলেও, তার এই গোপনীয়তা রক্ষা করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
পবিত্র হজ ও ওমরাহ পালনকারীদের অভিজ্ঞতা আরও সহজ ও সমৃদ্ধ করতে এক অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সৌদি আরব। মক্কার গ্র্যান্ড মসজিদ (মসজিদুল হারাম) এবং মদিনার মসজিদে নববীতে স্থাপন করা হয়েছে অত্যাধুনিক বহুভাষিক ‘ইন্টারক্টিভ স্মার্ট স্ক্রিন’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এই স্ক্রিনগুলো হজযাত্রীদের ডিজিটাল গাইড হিসেবে কাজ করবে। সৌদি আরবের ‘প্রেসিডেন্সি অফ রিলিজিয়াস অ্যাফেয়ার্স’ জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখো হাজিদের কথা চিন্তা করে এই স্ক্রিনগুলোতে ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ভাষা যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হজযাত্রীরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য ধর্মীয় তথ্য, কোরআনের ডিজিটাল সংস্করণ এবং হজের বিভিন্ন নিয়মাবলী সম্পর্কে জানতে পারবেন। স্মার্ট স্ক্রিনের বিশেষত্ব: ১. নির্ভুল নির্দেশনা: হজযাত্রীরা যেকোনো বিভ্রান্তি এড়াতে এই স্ক্রিন থেকে সরাসরি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া ও ধর্মীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করতে পারবেন। ২. সহজ নেভিগেশন: বিশাল এলাকায় হারিয়ে যাওয়া রোধে এবং যাতায়াতের সঠিক পথ খুঁজে পেতে এই ডিজিটাল ম্যাপ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। ৩. ডিজিটাল লাইব্রেরি: স্ক্রিনগুলোতে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করে হাজিরা মোবাইলেই ডাউনলোড করতে পারবেন বিভিন্ন দরকারি ইসলামিক বই ও দোয়া। ৪. নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা: মক্কার নারী প্রার্থনা এলাকাগুলোতেও আলাদাভাবে এই স্মার্ট স্ক্রিনগুলো স্থাপন করা হয়েছে যাতে নারী হজযাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তথ্য সেবা পেতে পারেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিশন ২০৩০-এর অংশ হিসেবে পুরো হজ ব্যবস্থাপনাকে ডিজিটালাইজড করার লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তিগত বিপ্লব আনা হয়েছে। এর ফলে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর হওয়ার পাশাপাশি হজযাত্রীরা কোনো সাহায্যকারী ছাড়াই নিজের ভাষায় সবকিছু বুঝে নিতে পারবেন।
ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে (অটো চায়না ২০২৬) চমক দেখালো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সপেং (XPENG)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘ফিজিক্যাল এআই’ (Physical AI) ইকোসিস্টেম প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের শক্তিশালী প্রোডাক্ট লাইনআপের মধ্যে নতুন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি GX, MONA M03, পরবর্তী প্রজন্মের P7 এবং X9 হাইলাইট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট ‘IRON’ এবং উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কার ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’। এক্সপেং-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হে শিয়াওপেং বলেন, “গত ১২ বছরের যাত্রায় আমরা এখন এক নতুন ধাপে পৌঁছেছি। স্মার্ট ইভি থেকে ফ্লাইং কার, এআই চিপ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট—আমরা আমাদের ফিজিক্যাল এআই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল যাতায়াত সহজ করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া।” প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের নতুন ‘VLA 2.0’ ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এই এআই প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম রোবোট্যাক্সি (Robotaxi) প্রোটোটাইপ 'GX' উন্মোচন করেছে, যা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বা L4 অটোনোমাস ড্রাইভিং সক্ষম। এতে রয়েছে শক্তিশালী ‘টুরিং’ এআই চিপ, যা ৩০০০ TOPS কম্পিউটিং পাওয়ার প্রদান করে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে এক্সপেং-এর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ৯৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এআই চালিত স্মার্ট মোবিলিটি বা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে আবারও কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছে The White House। সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বার্তায় হোয়াইট হাউস জানায়, “আমেরিকা আমেরিকান জনগণের জন্য—আইন পাশ কাটিয়ে প্রবেশ করতে চাওয়া লাখো মানুষের জন্য নয়।” একই পোস্টে দাবি করা হয়, সাবেক প্রেসিডেন্ট Donald Trump “যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অভিবাসন ফাঁক” বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছেন। পোস্টে আশ্রয় আবেদন ফরম I-589 Asylum Application এর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় ও বহিষ্কার স্থগিতের আবেদনপত্র হিসেবে পরিচিত। এই বার্তার মাধ্যমে আশ্রয় প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা, সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো এবং অবৈধ প্রবেশ রোধে নতুন নীতির ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী, সীমান্ত দিয়ে প্রবেশকারীদের আবেদন প্রক্রিয়া এবং মানবিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যদি আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া সীমিত করা হয়, তবে নির্যাতন বা সহিংসতা থেকে পালিয়ে আসা বহু মানুষ বিপদে পড়তে পারেন। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা এটিকে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক নির্বাহী আদেশ ঘোষণা না হলেও, হোয়াইট হাউসের এই বার্তা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ সংকট ও লোডশেডিং মোকাবিলায় জাতীয় সংসদ ভবন থেকেই বিদ্যুৎ সাশ্রয় শুরু করার প্রস্তাব দিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তিনি এই প্রস্তাব করেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংসদ অধিবেশন বন্ধ না করে সংসদ ভবনের বিভিন্ন অফিসে লোডশেডিং করা যেতে পারে। এর আগে অধিবেশনে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে এবং বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এখন থেকে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহরের মানুষ আরামে থাকবে আর গ্রামের মানুষ কষ্টে থাকবে—এটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরকার এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হচ্ছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার মেগাওয়াট, বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। দৈনিক প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি ঘাটতি থাকায় দেশজুড়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সংকটের বড় কারণ বিগত সরকারের অব্যবস্থাপনা। কাগজে-কলমে উৎপাদন ক্ষমতা বেশি দেখানো হলেও বাস্তবে ব্যাপক গড়মিল রয়েছে। অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বিরোধীদলীয় নেতার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে অধিবেশন সচল রাখার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেন। জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা স্পষ্ট করেন যে, তিনি অধিবেশন চলাকালে নয় বরং সংসদ ভবনের প্রশাসনিক শাখাগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা বলেছেন। এর মাধ্যমে জনগণের কষ্টের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শি জিনপিংয়ের দূরদর্শী সামরিক কৌশলের অধীনে চীন তাদের পারমাণবিক সক্ষমতাকে এক অভাবনীয় উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, যা বর্তমান বিশ্ব নিরাপত্তার সমীকরণকে আমূল বদলে দিচ্ছে। পেন্টাগনের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে চীনের কাছে যেখানে প্রায় ৩০০টি কার্যকর পারমাণবিক ওয়ারহেড ছিল, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সেই সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে অন্তত ৬০০-তে পৌঁছেছে। এই দ্রুতগতির বিস্তার প্রমাণ করে যে, বেইজিং কেবল তার আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করতে চায় না, বরং ২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি নাগাদ যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সমকক্ষ একটি বৈশ্বিক পারমাণবিক পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়। ধারণা করা হচ্ছে, চীনের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের ওয়ারহেড সংখ্যা ১,৫০০-এ পৌঁছাতে পারে, যা বিশ্বজুড়ে এক নতুন এবং বিপজ্জনক অস্ত্র প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। চীনের এই পারমাণবিক আধুনিকীকরণের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো তাদের প্রযুক্তির বহুমুখিতা এবং গোপনীয়তা। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় মরুভূমিগুলোতে শত শত নতুন ইন্টারকন্টিনেন্টাল ব্যালিস্টিক মিসাইল (ICBM) সাইলো বা ভূগর্ভস্থ নিক্ষেপণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, যেখান থেকে অত্যাধুনিক ডিএফ-৪১ (DF-41) ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া সম্ভব। একইসাথে চীন তাদের 'নিউক্লিয়ার ট্রায়াড' বা তিন স্তরীয় পারমাণবিক আক্রমণ ব্যবস্থা (স্থল, আকাশ ও সমুদ্র) সম্পূর্ণ করতে অত্যন্ত সক্রিয়। তারা যেমন সমুদ্রের তলদেশ থেকে পারমাণবিক হামলার জন্য অত্যাধুনিক সাবমেরিন তৈরি করছে, তেমনি আকাশে তাদের দূরপাল্লার বোমারু বিমানের বহরকেও ঢেলে সাজাচ্ছে। যদিও চীন দাবি করে আসছে যে তাদের এই পরমাণু নীতি কেবল "ন্যূনতম প্রতিরোধ"গড়ার জন্য এবং তারা কখনোই প্রথমে পারমাণবিক হামলা করবে না, তবুও তাদের ভাণ্ডারের এই বিশাল আকার ও আধুনিকায়ন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ করে ওয়াশিংটনে চরম অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে চীনের এই পারমাণবিক উত্থান আগামী দিনে ক্ষমতার ভারসাম্যকে সম্পূর্ণ নতুন এক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিবে |
ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম সচল রাখতে রাজধানী ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বৈষম্য কমাতেই মূলত রাজধানীতে প্রাথমিকভাবে এই লোডশেডিং চালু করা হচ্ছে। দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। গতকাল সর্বোচ্চ ১৬ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১৪ হাজার ১২৬ মেগাওয়াট। ফলে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ডিজেল সরবরাহের নির্দেশ দেওয়ায় সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে রাজধানী থেকে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সংকটের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে গ্যাসের দৈনিক চাহিদার বিপরীতে সরবরাহে বড় ঘাটতি রয়ে গেছে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত গ্যাস আমদানি বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে আগামী ১৮০ দিনের মধ্যে এ খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতির আশ্বাস দেন তিনি। বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক সরবরাহ ২ হাজার ৬৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট, যা চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন ঘনফুট কম। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, একটি আমদানিনির্ভর ও একটি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রক্ষণাবেক্ষণের কারণে বন্ধ থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে এই কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে ফিরলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাময়িক এই ভোগান্তির জন্য জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি দ্রুত সহনীয় পর্যায়ে আনার অঙ্গীকার করেন প্রতিমন্ত্রী।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
ভবিষ্যতের যাতায়াত ব্যবস্থাকে আমূল বদলে দিতে বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ১৯তম আন্তর্জাতিক অটোমোবাইল প্রদর্শনীতে (অটো চায়না ২০২৬) চমক দেখালো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এক্সপেং (XPENG)। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের পূর্ণাঙ্গ ‘ফিজিক্যাল এআই’ (Physical AI) ইকোসিস্টেম প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ববাসীকে নতুন এক অভিজ্ঞতার স্বাদ দিয়েছে। এবারের প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের শক্তিশালী প্রোডাক্ট লাইনআপের মধ্যে নতুন মডেলের ইলেকট্রিক গাড়ি GX, MONA M03, পরবর্তী প্রজন্মের P7 এবং X9 হাইলাইট করেছে। তবে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ কেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির অত্যাধুনিক হিউম্যানয়েড রোবট ‘IRON’ এবং উড়ন্ত গাড়ি বা ফ্লাইং কার ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার’। এক্সপেং-এর চেয়ারম্যান ও সিইও হে শিয়াওপেং বলেন, “গত ১২ বছরের যাত্রায় আমরা এখন এক নতুন ধাপে পৌঁছেছি। স্মার্ট ইভি থেকে ফ্লাইং কার, এআই চিপ থেকে হিউম্যানয়েড রোবট—আমরা আমাদের ফিজিক্যাল এআই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য কেবল যাতায়াত সহজ করা নয়, বরং প্রযুক্তিকে মানুষের জীবনের আরও গভীরে পৌঁছে দেওয়া।” প্রদর্শনীতে এক্সপেং তাদের নতুন ‘VLA 2.0’ ইন্টেলিজেন্ট ড্রাইভিং সিস্টেমের রিপোর্ট প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, গ্রাহকদের গাড়ি কেনার সিদ্ধান্তে এই এআই প্রযুক্তি প্রধান ভূমিকা পালন করছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম রোবোট্যাক্সি (Robotaxi) প্রোটোটাইপ 'GX' উন্মোচন করেছে, যা পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বা L4 অটোনোমাস ড্রাইভিং সক্ষম। এতে রয়েছে শক্তিশালী ‘টুরিং’ এআই চিপ, যা ৩০০০ TOPS কম্পিউটিং পাওয়ার প্রদান করে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক বাজারে এক্সপেং-এর সরবরাহ গত বছরের তুলনায় ৯৬% বৃদ্ধি পেয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি এআই চালিত স্মার্ট মোবিলিটি বা যাতায়াত ব্যবস্থায় বিশ্বসেরা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন যে তিনি প্রোস্টেট ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন এবং গোপনীয়তার সঙ্গে তার চিকিৎসা সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট প্রকাশের সময় ৭৬ বছর বয়সী এই নেতা নিজেই বিষয়টি সামনে আনেন। এর মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটেছে। সরকারি সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রোস্টেট গ্রন্থি বড় হয়ে যাওয়ার কারণে তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। যদিও তখন বিষয়টি প্রকাশ করা হলেও ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার তথ্য গোপন রাখা হয়েছিল। সাম্প্রতিক মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের সময় তার প্রোস্টেটে এক সেন্টিমিটারেরও কম আকারের একটি ম্যালিগন্যান্ট টিউমার ধরা পড়ে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হওয়ায় এবং শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়ায় সফলভাবে অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে। ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের বরাতে জানা গেছে, বর্তমানে তার শরীরে ক্যানসারের কোনো অস্তিত্ব নেই এবং সব পরীক্ষার ফল ইতিবাচক এসেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নিজেকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলে দাবি করেছেন। তিনি আরও জানান, প্রোস্টেটের সমস্যাটি ছিল সামান্য এবং তা পুরোপুরি নিরাময় হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য রিপোর্ট প্রকাশে বিলম্ব হওয়া নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী রিপোর্টটি দুই মাস আগেই প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও তা বিলম্বিত করা হয়। এ বিষয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েলের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তার অসুস্থতার খবর শত্রু রাষ্ট্রগুলো বিশেষ করে ইরান প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, এমন আশঙ্কা থেকেই তথ্য প্রকাশে দেরি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি পূর্ণ কর্মক্ষম রয়েছেন বলে জানানো হলেও, তার এই গোপনীয়তা রক্ষা করার সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আফ্রিকার আকাশপথের রাজা হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বিশাল এক মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে ইথিওপিয়া। দেশটির রাজধানী আদ্দিস আবাবার অদূরে বিশোফতুতে ১২.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা) ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে মহাদেশটির বৃহত্তম বিমানবন্দর। সিএনএন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই বিমানবন্দরটি বর্তমানে আফ্রিকার সবচেয়ে ব্যস্ত 'বোলে ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট'-এর ওপর চাপ কমাতে তৈরি করা হচ্ছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকল্পের প্রথম ধাপ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে, যার মাধ্যমে বছরে ৬ কোটি যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন। পুরো প্রকল্প শেষ হলে এর সক্ষমতা দাঁড়াবে বছরে ১১ কোটি যাত্রীতে, যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত বিমানবন্দর আটলান্টার সক্ষমতার কাছাকাছি। ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের সিইও মেসফিন তাসিউ জানিয়েছেন, এই বিমানবন্দরে একই সাথে ২৭০টি বিমান পার্কিংয়ের সুবিধা থাকবে। বিশাল এই প্রকল্পে থাকবে চারটি রানওয়ে এবং অত্যাধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। মূলত ট্রানজিট যাত্রীদের জন্য একটি বিশ্বমানের হাব তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য। উল্লেখ্য যে, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স বর্তমানে আফ্রিকার বৃহত্তম বিমান সংস্থা এবং সম্প্রতি তারা ঢাকা থেকেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছে। এই নতুন বিমানবন্দরটি চালু হলে তা বিশ্ববাণিজ্য ও পর্যটনে আফ্রিকার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
উগান্ডার ঐতিহ্য এবং আধ্যাত্মিকতার প্রতীক ‘কাসুবি সমাধি’ (Kasubi Tombs) দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর তার হারানো গৌরব ফিরে পেয়েছে। ২০১০ সালের এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কঠোর পরিশ্রম এবং আন্তর্জাতিক সহায়তায় এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখন আগের রূপে ফিরেছে। এর ফলে ইউনেস্কো তাদের ‘ঝুঁকিপূর্ণ বিশ্ব ঐতিহ্যের’ তালিকা থেকে এই স্থানটিকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় অবস্থিত এই কাসুবি সমাধি বুগান্ডা রাজ্যের রাজাদের শেষ শয়ানের স্থান। এটি কেবল একটি সমাধিস্থল নয়, বরং বুগান্ডা জনগোষ্ঠীর কাছে এক পবিত্র আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। ১৮৮২ সালে নির্মিত এই স্থাপনাটি মূলত ছিল বুগান্ডা রাজাদের প্রাসাদ, যা ১৮৮৪ সালে রাজকীয় সমাধিসৌধে রূপান্তরিত হয়। ২০১০ সালের সেই রহস্যময় অগ্নিকাণ্ডে সমাধিটির প্রধান কাঠামোর অধিকাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল। ঐতিহ্যবাহী কাঠ, খড় এবং বাঁশ দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনায় পুরো উগান্ডায় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল এবং স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। দীর্ঘ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কারিগরদের পাশাপাশি ইউনেস্কো এবং জাপান সরকারের উল্লেখযোগ্য আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা ছিল। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে প্রাচীন স্থাপত্যশৈলী এবং জৈব উপাদানের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা হয়েছে, যাতে স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব অক্ষুণ্ণ থাকে। সম্প্রতি সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সভায় কাসুবি সমাধিকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সংস্থাটি জানায়, সফল সংস্কার এবং আধুনিক অগ্নি নির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপনের মাধ্যমে সাইটটি এখন সংরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। উগান্ডার পর্যটন ও ঐতিহ্য প্রেমীদের জন্য এটি একটি বড় বিজয়। কাসুবি সমাধি এখন আবার পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত, যা পূর্ব আফ্রিকার সমৃদ্ধ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।