ফ্লোরিডায় এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে পুলিশ গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশের বডি-ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ না করায় যে প্রশ্ন উঠেছিল, তা আরও জোরালো হয়েছে প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরায় ধারণ করা একটি ভিডিও প্রকাশের পর। ভিডিওটি পুলিশের ঘটনার বর্ণনার সঙ্গে মিলছে কি না, তা নিয়ে এখন চলছে তীব্র আলোচনা। গত বছরের ৩ আগস্ট ব্রাওয়ার্ড কাউন্টির মিরামার এলাকায় নজরদারি অভিযানের সময় হলিউড পুলিশ ৩২ বছর বয়সী ডোনাল্ড টেইলরকে গুলি করে। পুলিশ জানায়, টেইলর একাধিক সশস্ত্র ডাকাতির মামলার সন্দেহভাজন ছিলেন এবং অভিযানের সময় তিনি অস্ত্রধারী অবস্থায় কর্মকর্তাদের জন্য হুমকি তৈরি করেছিলেন। এ কারণেই গুলি চালানো হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেশীর নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিওতে ঘটনার ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। ভিডিওতে টেইলরকে একটি আবাসিক সড়কে হাঁটতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ তাকে থামতে এবং মাটিতে শুয়ে পড়ার নির্দেশ দেয়। একপর্যায়ে গুলির শব্দ শোনা যায় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ভিডিওতে গুলি চালানোর মুহূর্তে তার হাতে কোনো অস্ত্র স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। টেইলরের পরিবারের আইনজীবীরা দাবি করেছেন, প্রতিবেশীর ভিডিওটি পুলিশের প্রাথমিক বর্ণনার সঙ্গে অসঙ্গতি তুলে ধরেছে। তাদের অভিযোগ, ঘটনার পর পুলিশের বডি-ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশের দাবি জানানো হলেও তা প্রকাশ করা হয়নি। তারা স্বাধীন তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে হলিউড পুলিশ তাদের আগের অবস্থানেই রয়েছে। বিভাগের দাবি, কর্মকর্তারা আত্মরক্ষার প্রয়োজনে গুলি চালিয়েছিলেন এবং ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের তথ্য তাদের বক্তব্যকে সমর্থন করে। তবে বডি-ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ না হওয়ায় ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও কমিউনিটির সদস্যরা পুলিশের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। প্রতিবেশীর ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিওটি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যদিও গুলি চালানোর বৈধতা বা পুলিশের পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না—সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো কাউন্টির 'রোজমন্ট' এলাকায় মারাত্মক রোগবাহী মশার বংশবৃদ্ধি ঠেকাতে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই এলাকার ক্ষতিকর মশা দমনে প্রশাসন নিজেই ল্যাবরেটরিতে তৈরি করা ২০ লাখেরও বেশি মশা আকাশে উড়িয়ে দেবে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে আগামী ১৬ সপ্তাহে পর্যায়ক্রমে এই বিশাল সংখ্যার মশাগুলোকে লোকালয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। স্যাক্রামেন্টো ইয়োলো মস্কিটো অ্যান্ড ভেক্টর কন্ট্রোল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তা লুজ মারিয়া রোবলস জানান, রোজমন্ট এলাকায় বর্তমানে এমন এক প্রজাতির মশার উপদ্রব বেড়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। এই মশাগুলো জিকা, ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক ও নিষ্ক্রিয়কারী রোগ ছড়াতে সক্ষম। তবে এই অভিযানে যেসব মশা বাতাসে ছাড়া হচ্ছে, সেগুলো নিয়ে সাধারণ মানুষের ভয়ের কিছু নেই। কারণ এগুলো সবই ল্যাবরেটরিতে বিশেষভাবে তৈরি করা বন্ধ্যা পুরুষ মশা। পুরুষ মশা মানুষকে কামড়ায় না বা রক্ত চোষে না। এই বন্ধ্যা পুরুষ মশাগুলো যখন প্রকৃতির সাধারণ স্ত্রী মশার সাথে মিলিত হবে, তখন তাদের ডিম থেকে কোনো নতুন মশার জন্ম হবে না। ফলে প্রাকৃতিকভাবেই মশার বংশবৃদ্ধি থমকে যাবে। প্রকৃতিতে থাকা ১টি সাধারণ পুরুষ মশার বিপরীতে অন্তত ১০টি বন্ধ্যা পুরুষ মশা ছাড়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে তারা বংশবৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় জিতে যায়। গত বছর স্যাক্রামেন্টোর সাউথ ন্যাটোমাস এলাকায় প্রথমবারের মতো এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছিল এবং সেখানে মশার সংখ্যা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। কেনটাকির একটি ল্যাব থেকে এই ২০ লাখ মশা কিনতে প্রশাসনের খরচ হয়েছে ১ লাখ৩৬ হাজার ডলার। তবে খরচ কমাতে স্যাক্রামেন্টোতেই নিজস্ব একটি ল্যাব তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যেখানে প্রতি সপ্তাহে ১০ লাখ বন্ধ্যা মশা উৎপাদন করা সম্ভব হবে। এদিকে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলও মশা নিধনের এই লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ বন্ধ্যা পুরুষ মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়ে মার্কিন ফেডারেল নিয়ন্ত্রকদের কাছে ইতিমধ্যেই একটি আবেদন জমা দিয়েছে গুগল।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘টয়োটা’ তাদের জনপ্রিয় ‘টাকোমা’ পিকআপ ট্রাকের সিংহভাগ উৎপাদন মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণা দিয়েছে। এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে জাপানি এই অটোমোবাইল জায়ান্ট আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের স্যান অ্যান্টোনিও কারখানায় ৩.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৬০ কোটি ডলার) বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। মেক্সিকোর টিজুয়ানা কারখানা থেকে এই উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করতে প্রায় ৪ বছর সময় লাগবে বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি। আমেরিকা, মেক্সিকো এবং কানাডার মধ্যকার উত্তর আমেরিকান বাণিজ্য চুক্তি নবায়ন করতে ওয়াশিংটন অস্বীকৃতি জানানোর মাত্র কয়েক দিনের মাথায় টয়োটার পক্ষ থেকে এই বড় ঘোষণা এল। এর আগে গত নভেম্বর মাসেই টয়োটা জানিয়েছিল যে, আগামী ৫ বছরে তারা যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে। টয়োটার দেওয়া আনুষ্ঠানিক বিবৃতি অনুযায়ী, নতুন এই বিনিয়োগের ফলে স্যান অ্যান্টোনিওর কারখানায় দ্বিতীয় একটি অ্যাসেম্বলি বা গাড়ি সংযোজন লাইন তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে সেখানে ২ হাজারেরও বেশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা আরও ১ লাখ ৫০ হাজার ইউনিট বৃদ্ধি পাবে। অবশ্য মেক্সিকোর গুয়ানাহুয়াতো কারখানায় অল্প কিছু টাকোমা ট্রাকের উৎপাদন আগের মতোই চালু থাকবে। বর্তমানে স্যান অ্যান্টোনিও কারখানায় ‘টুন্ড্রা’ পিকআপ এবং ‘সেকোয়া’ এসইউভি তৈরি করা হয়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন কর্তৃক আমদানি করা গাড়ি, স্টিল এবং অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক বা ট্যারিফ বৃদ্ধি করার কারণে টয়োটার মতো বড় বড় বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতারা এখন তাদের উৎপাদন ব্যবস্থা মেক্সিকো থেকে সরিয়ে সরাসরি আমেরিকার মাটিতে নিয়ে আসছে। এতদিন পর্যন্ত মার্কিন ও বৈশ্বিক কোম্পানিগুলো সস্তা শ্রম এবং বাণিজ্য সুবিধার কারণে মেক্সিকোতে প্রচুর গাড়ি তৈরি করত। যদিও বর্তমান বাণিজ্য চুক্তিটি আরও ১০ বছর কার্যকর থাকার কথা, তবুও ওয়াশিংটন গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে এই চুক্তিটি এখন থেকে প্রতি বছর পুনর্বিবেচনা বা রিভিউ করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলেই মূলত বড় বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। তবে উত্তর আমেরিকার বাজারে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে বাণিজ্য জটিলতার দ্রুত সমাধান আশা করছে টয়োটা কর্তৃপক্ষ।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর প্রচারণার অংশ হিসেবে ফিলাডেলফিয়ায় ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’-এর প্রথম গ্যাস স্টেশন চালু হয়েছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী স্টেশনগুলোতে প্রতি গ্যালন নিয়মিত গ্যাসোলিনের দাম ৩ দশমিক ৪৭ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে। হোয়াইট হাউস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক পোস্টে জানায়, গ্রীষ্ম মৌসুমে ভোক্তাদের জ্বালানি ব্যয় কমাতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগের অংশ হিসেবেই ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ চালু করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, কম দামে জ্বালানি বিক্রির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ কমাতে সহায়তা করবে এই কর্মসূচি। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়া অঞ্চলের একাধিক গ্যাস স্টেশন এ কর্মসূচিতে যুক্ত হয়েছে। নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে বাজারদরের তুলনায় কম দামে জ্বালানি বিক্রির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যদিও এই মূল্যছাড় সব গ্যাস স্টেশনের জন্য প্রযোজ্য নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানির মূল্য কমানোকে অন্যতম অর্থনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এর আগে খুচরা জ্বালানি বিক্রেতাদের আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমার সুবিধা দ্রুত ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, ‘ফ্রিডম ফুয়েল নেটওয়ার্ক’ মূলত অংশীদার খুচরা বিক্রেতাদের একটি উদ্যোগ, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় সীমিত পরিসরে মূল্যছাড় দেওয়া হচ্ছে। ফলে দেশের সব অঞ্চলে একই দামে জ্বালানি পাওয়া যাবে—এমনটি নয়। স্থান, করের হার, পরিবহন ব্যয় ও স্থানীয় বাজার পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গ্যাসোলিনের দাম ভিন্ন হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, ভবিষ্যতে আরও বেশি খুচরা বিক্রেতাকে এই নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে কম দামে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা যায়।
নিউইয়র্কের কুইন্সের ওজোন পার্কে বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন রেস্টুরেন্ট ‘বৈঠকখানা’-তে ভোরে বোমাসদৃশ একটি জ্বলন্ত ডিভাইস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। রেস্টুরেন্টের কর্মীদের তাৎক্ষণিক তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসায় সম্ভাব্য বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড বা বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রেস্টুরেন্টের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বৃষ্টি চলাকালে রেইনকোট ও মুখোশ পরা এক ব্যক্তি রেস্টুরেন্টের প্রধান দরজা খুলে জ্বলন্ত একটি ডিভাইস ভেতরে ছুড়ে মেরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। রেস্টুরেন্টের কর্মীরা আগুন দেখতে পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন। তাদের দ্রুত পদক্ষেপে ডিভাইসটি থেকে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ (এনওয়াইপিডি) ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিটসহ বিশেষায়িত একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে ডিভাইসটি উদ্ধার করে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে ‘বোমাসদৃশ ডিভাইস’ হিসেবে বিবেচনা করছে। তবে এটি কার্যকর বিস্ফোরক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে সিসিটিভি ফুটেজ, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা আলামত এবং আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও বিশ্লেষণ করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকা বাংলাদেশিদের মালিকানাধীন এই রেস্টুরেন্টে ঘটনাকালে কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার উদ্দেশ্য বা এর পেছনে কারা জড়িত ছিল, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হচ্ছে না। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী বা এ ঘটনার বিষয়ে তথ্য জানা ব্যক্তিদের সহযোগিতা কামনা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যে আগুনে পুড়তে থাকা নিজের বাড়িতে ১০ বছর বয়সী সন্তানকে খুঁজতে আবারও ভেতরে প্রবেশ করে প্রাণ হারিয়েছেন এক বাবা। পরে জানা যায়, শিশুটি নিরাপদেই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছিল। এদিকে তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, স্বাধীনতা দিবস উদ্যাপনের সময় ব্যবহৃত আতশবাজির অবশিষ্টাংশ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের অফিস অব দ্য স্টেট ফায়ার মার্শাল জানিয়েছে, রোববার রাতে ওয়াশিংটন ডিসি থেকে প্রায় ৬০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত হলিউড শহরের একটি দ্বিতল বাড়িতে আগুন লাগে। মুহূর্তেই আগুন পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। জরুরি ফোন পেয়ে একাধিক অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বাড়ির ভেতরে একটি শিশু আটকা পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছিল। ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানায়, আগুন লাগার পর শিশুটির বাবা তাকে খুঁজে বের করার জন্য আবারও বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দমকলকর্মীরা বাড়ির দ্বিতীয় তলা থেকে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেন। পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, ১০ বছর বয়সী শিশুটি আগেই নিরাপদে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসেছিল এবং সে শারীরিকভাবে অক্ষত রয়েছে। তদন্তকারীরা নিহত ব্যক্তিকে বাড়ির মালিক এবং শিশুটির বাবা হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তবে পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করবে মেরিল্যান্ড অফিস অব দ্য চিফ মেডিকেল এক্সামিনার। আগুন লাগার কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে স্টেট ফায়ার মার্শালের কার্যালয় জানিয়েছে, ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া স্পার্কলার আতশবাজি থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় পরিবারটি বাড়ির বাইরে মাটিতে ব্যবহারযোগ্য স্পার্কলার আতশবাজি ব্যবহার করেছিল। পরে সেগুলো বাড়ির পেছনের ঢাকা বারান্দায় রাখা একটি ময়লার পাত্রে ফেলে দেওয়া হয়। তদন্তকারীদের ধারণা, ফেলে দেওয়ার পরও আতশবাজিগুলোতে পর্যাপ্ত তাপ থেকে যেতে পারে। সেই তাপ ময়লার পাত্রে থাকা দাহ্য বস্তুতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং সেখান থেকেই আগুন দ্রুত পুরো বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর ফায়ার কর্মকর্তারা সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বলেছেন, ব্যবহারের পর নিভে গেছে মনে হলেও আতশবাজি দীর্ঘ সময় তাপ ধরে রাখতে পারে। তাই ব্যবহৃত আতশবাজি বা স্পার্কলার ফেলে দেওয়ার আগে ভালোভাবে পানিতে ভিজিয়ে নিতে হবে। এরপর সেগুলো বাইরে আগুন-প্রতিরোধী পাত্রে কিছু সময় ঠান্ডা করে তারপর ফেলে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। ভারপ্রাপ্ত স্টেট ফায়ার মার্শাল জেসন মাউব্রে এক বিবৃতিতে বলেন, "এই পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তদন্ত চললেও সবাইকে মনে রাখতে হবে, আতশবাজির প্রদর্শনী শেষ হলেও এর ঝুঁকি শেষ হয় না। ব্যবহারের পর সঠিকভাবে আতশবাজি নিষ্পত্তি করলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।"
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠা সেন্সরি খেলনা NeeDoh (নিডো) নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শিশুদের চাপমুক্ত রাখা, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার জন্য ব্যবহৃত নরম জেলভর্তি এই খেলনাটি ভুলভাবে ব্যবহার করার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনার খবর সামনে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, খেলনাটি মাইক্রোওয়েভে গরম করা, অতিরিক্ত তাপের সংস্পর্শে রাখা কিংবা জমিয়ে আবার গরম করার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের ফলে এটি ফেটে গিয়ে শিশুদের শরীরে গুরুতর দগ্ধের সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, খেলনার ভেতরে থাকা জেলজাতীয় পদার্থ অতিরিক্ত তাপে দ্রুত প্রসারিত হয়ে ভেতরে উচ্চচাপ সৃষ্টি করে। একসময় খেলনার আবরণ ছিঁড়ে গেলে অত্যন্ত গরম ও আঠালো পদার্থ বাইরে বেরিয়ে আসে এবং সরাসরি ত্বকে লেগে যায়। এই পদার্থ সহজে ত্বক থেকে আলাদা না হওয়ায় পোড়ার ক্ষত আরও গভীর হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বা তৃতীয় মাত্রার দগ্ধের সৃষ্টি হয়। চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক শিশু মুখ, হাত, বুক এবং চোখে গুরুতর আঘাত নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। কয়েকটি ঘটনায় শিশুদের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসা দিতে হয়েছে এবং ক্ষত সারাতে স্কিন গ্রাফটের মতো জটিল অস্ত্রোপচারেরও প্রয়োজন হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ত্বক তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় গরম জেল তাদের শরীরে দ্রুত গভীর ক্ষত তৈরি করতে পারে। হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, বেশির ভাগ দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর ভিডিও। এসব ভিডিওতে খেলনাটি আরও নরম করার উদ্দেশ্যে মাইক্রোওয়েভে গরম করার পরামর্শ দেওয়া হয়। অনেক শিশু কৌতূহলবশত সেই পদ্ধতি অনুসরণ করতে গিয়ে গুরুতর দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে শিশুরা সরাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও না দেখলেও বন্ধু বা পরিচিতদের কাছ থেকে একই ধারণা পেয়ে এমন কাজ করেছে। শুধু মাইক্রোওয়েভ নয়, অতিরিক্ত গরম পরিবেশেও এই খেলনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি ঘটনায় গরম গাড়ির ভেতরে দীর্ঘ সময় পড়ে থাকার পর খেলনাটি বিস্ফোরিত হয়ে এক কিশোরী দগ্ধ হয়। চিকিৎসকেরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে বন্ধ গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় এ ধরনের খেলনার ভেতরের পদার্থ অস্বাভাবিকভাবে উত্তপ্ত হতে পারে। খেলনাটির নির্মাতা প্রতিষ্ঠান আগেই ব্যবহারকারীদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে। তাদের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, খেলনাটি কখনোই মাইক্রোওয়েভে গরম করা, আগুন বা অতিরিক্ত তাপের কাছে রাখা কিংবা ফ্রিজে জমিয়ে পরে গরম করা উচিত নয়। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এসব ব্যবহার পদ্ধতি সম্পূর্ণভাবে নির্দেশনার বাইরে এবং এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খেলনার অপব্যবহার দেখানো ভিডিও অপসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এদিকে ভোক্তা অধিকারবিষয়ক সংগঠন Consumer Reports যুক্তরাষ্ট্রের Consumer Product Safety Commission (CPSC)-এর কাছে এ ধরনের সেন্সরি খেলনার নিরাপত্তা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, বিভিন্ন অভিযোগে খেলনার ভেতরের জেল বেরিয়ে এসে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা উঠে এসেছে। তারা শুধু একটি মডেল নয়, একই ধরনের অন্যান্য জেলভর্তি সেন্সরি খেলনার নিরাপত্তাও পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সঠিক প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পোড়া স্থানে সঙ্গে সঙ্গে অন্তত ২০ মিনিট ঠান্ডা প্রবাহমান পানি দিতে হবে। বরফ, টুথপেস্ট, মাখন বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতাল বা বার্ন ইউনিটে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে, বিশেষ করে মুখ, চোখ বা শরীরের বড় অংশ দগ্ধ হলে। অভিভাবকদের প্রতিও সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের মতে, শিশুদের হাতে খেলনা তুলে দেওয়ার আগে ব্যবহারের নিয়ম বুঝিয়ে দেওয়া জরুরি। অনলাইনে দেখা কোনো ভিডিও বা তথাকথিত ‘চ্যালেঞ্জ’ অনুসরণ করতে শিশুদের নিরুৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি খেলনাগুলো গরম গাড়ির ভেতর, রোদে বা তাপ উৎপন্নকারী যন্ত্রের কাছাকাছি না রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। শিশুদের বিনোদন ও মানসিক স্বস্তির জন্য তৈরি একটি জনপ্রিয় খেলনা ভুল ব্যবহারের কারণে যখন গুরুতর দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে, তখন চিকিৎসকেরা বলছেন—সচেতনতা ও নির্মাতার নির্দেশনা মেনে চলাই এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অভিভাবকদের সামান্য সতর্কতা একটি শিশুকে আজীবনের শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মেইন অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যবসায়ী ধাভাল কালিদাস প্যাটেলকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (ICE) আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে অভিবাসন আইন প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। বহু বছর আগে জারি হওয়া একটি বহিষ্কার (Removal) আদেশ কার্যকর করার অংশ হিসেবে তাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে পরিবারের দাবি, তাকে অন্যায়ভাবে আটক করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। আদালতের নথি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ জুন মেইনের ফ্রেন্ডশিপ শহরে অবস্থিত ওয়ালেস মার্কেটে কর্মরত অবস্থায় ICE কর্মকর্তারা ধাভাল কালিদাস প্যাটেলকে আটক করেন। পরে তাকে ম্যাসাচুসেটসের প্লাইমাউথ কাউন্টি কারেকশনাল ফ্যাসিলিটিতে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন। প্যাটেলের পরিবার তার আটকের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ফেডারেল আদালতে হেবিয়াস করপাস আবেদন দায়ের করেছে। তাদের পক্ষে আইনজীবী অড্রে রিচার্ডসন আদালতে বলেন, তার মক্কেলকে বেআইনিভাবে আটক করা হয়েছে। আবেদনে অভিযোগ করা হয়, আটক করার সময় কর্মকর্তারা নিজেদের পরিচয় স্পষ্টভাবে দেননি এবং তাকে কোথায় নেওয়া হচ্ছে সে সম্পর্কেও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এমনকি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগও তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে। আইনজীবী আরও জানান, ধাভাল প্যাটেল একজন ছোট ব্যবসায়ী, যিনি মেইনের স্থানীয় একটি কনভিনিয়েন্স স্টোরের সহ-মালিক। তিনি তার স্ত্রী ও যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানকে নিয়ে সেখানে বসবাস করেন এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। পরিবারের পক্ষ থেকে আদালতের কাছে তার মুক্তি এবং বহিষ্কার কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ICE এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ধাভাল প্যাটেল ২০১০ সালের ১ নভেম্বর বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন এবং সীমান্ত টহল বাহিনীর হাতে আটক হন। পরে ২০১১ সালের মার্চ মাসে তাকে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেওয়া হলেও নির্ধারিত ইমিগ্রেশন আদালতের শুনানিতে তিনি উপস্থিত হননি। এর ফলে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার অনুপস্থিতিতে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করেন। সংস্থাটির দাবি, বর্তমানে নতুন কোনো অপরাধমূলক অভিযোগে নয়, বরং সেই বহিষ্কার আদেশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই তাকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মামলাটি আদালতে ওঠার পর ফেডারেল বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি জরুরি ভিত্তিতে একটি অন্তর্বর্তী আদেশ দেন। ওই আদেশে বলা হয়, মামলার শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধাভাল প্যাটেলকে ম্যাসাচুসেটসের বাইরে অন্য কোনো আটক কেন্দ্রে স্থানান্তর করা যাবে না। পরে মামলাটি অন্য একজন বিচারকের কাছে স্থানান্তরিত হলেও ওই নির্দেশ বহাল রাখা হয়েছে এবং সরকারের কাছে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করার ক্ষেত্রে আদালতের তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আদালত এখন নির্ধারণ করবেন, প্যাটেলের আটকের প্রক্রিয়া আইনসম্মত ছিল কি না এবং তার সাংবিধানিক অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়েছে কি না। ঘটনাটি এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন আইন প্রয়োগে ICE-এর তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বহু বছর আগে জারি হওয়া বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করতে সংস্থাটি সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান জোরদার করেছে। এ কারণে অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগও বেড়েছে। এদিকে, ধাভাল প্যাটেলের পরিবার জানিয়েছে, তারা আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং আদালতের মাধ্যমে তার মুক্তি নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে, ICE বলছে, আদালতের নির্দেশনা মেনে তারা মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। এখন এই মামলার ভবিষ্যৎ পুরোপুরি ফেডারেল আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে ধাভাল কালিদাস প্যাটেলের বহিষ্কার আদেশ কার্যকর হবে, নাকি তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থেকে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।
শ্রীলঙ্কার নেগোম্বো কারাগারে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই মাদকচক্রের বন্দিদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে সাতজন কারারক্ষীও রয়েছেন। এ ঘটনায় শতাধিক বন্দি ও কারারক্ষী আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী কারাগার দাঙ্গা হিসেবে ঘটনাটিকে উল্লেখ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুলিশ জানায়, রোববার (৬ জুলাই) রাত থেকে নেগোম্বো কারাগারের ভেতরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়ে দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। গুলিবর্ষণ, ধারালো অস্ত্রের হামলা এবং ব্যাপক মারামারিতে বহু বন্দি ও কারারক্ষী গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত নেগোম্বো হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেগোম্বো হাসপাতালের পরিচালক পুষ্পা গামলাথ জানিয়েছেন, হাসপাতালে ২৩ জনের মরদেহ আনা হয়। এছাড়া শতাধিক আহতের চিকিৎসা চলছে। গুরুতর আহত ১৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী কলম্বোর জাতীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে অনেকেই গুলিবিদ্ধ এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হয়েছেন। পরে বিচারমন্ত্রী হারশানা নানায়াক্কারা জানান, আরও তিনজনের মৃত্যু হওয়ায় মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। তিনি এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, কারাগারের ভেতরে প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোকে আলাদা রাখার ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, “নিহতরা বন্দি না অপরাধচক্রের সদস্য—এ মুহূর্তে সেটি বড় বিষয় নয়; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের প্রাণহানি, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে কারাগারের নারী ওয়ার্ডে উত্তেজনা দেখা দেয়। কয়েকজন নারী বন্দি ছাদে উঠে প্রতিবাদ জানান এবং মুক্তির দাবি করেন। এ সময় ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ে কয়েকজন নারী বন্দি আহত হন। ঘটনার পর সরকার অবসরপ্রাপ্ত সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। কারা বিভাগের মুখপাত্র চামিন্দা গাজানায়াকে জানান, এ ঘটনায় কোনো বিদেশি বন্দি হতাহত হননি। তিনি বলেন, মাদক পাচারের অভিযোগে আটক এক ব্রিটিশ নাগরিক ওই কারাগারে থাকলেও তিনি নিরাপদ আছেন। সোমবার কারাগারের বাইরে উদ্বিগ্ন স্বজনদের ভিড় দেখা যায়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে শ্রীলঙ্কা বিমানবাহিনী ড্রোন ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। স্থানীয় বাসিন্দারা রাতভর গোলাগুলির শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। এছাড়া সংঘর্ষের সময় কিছু বন্দি কারারক্ষীদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়েছিল বলেও প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণে গিয়ে সাতজন কারারক্ষী প্রাণ হারান। সোমবার সকালে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলোতে বর্তমানে ৪১ হাজার ২৫০ জন বন্দি রয়েছে, যা ধারণক্ষমতার প্রায় চারগুণ। অতিরিক্ত ভিড়, সীমিত অবকাঠামো এবং দীর্ঘদিনের চাপ কারাগার ব্যবস্থাপনাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা গেছে, এই ঘটনা দেশটির কারা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং বন্দি নিয়ন্ত্রণে চ্যালেঞ্জকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৮ জন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণ দুটি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অবস্থান করা হোটেলের কাছাকাছি এলাকায় ঘটেছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যও রয়েছেন। বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে জরুরি উদ্ধারকারী দল, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। বিস্ফোরণস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে সিরিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিকভাবে বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য জানানো হয়নি। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ নিরাপদ রয়েছেন এবং তাঁর কোনো ক্ষতি হয়নি বলে ফরাসি কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন। বিস্ফোরণের পরও তাঁর নির্ধারিত সরকারি কর্মসূচিতে তাৎক্ষণিক কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। এ ঘটনার দায় এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন স্বীকার করেনি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দামেস্কে উচ্চপর্যায়ের বিদেশি সফরের সময় এ ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ঘটনার বিস্তারিত জানতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
ভেনেজুয়েলায় পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি উদ্ধার তৎপরতা। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জীবিত কাউকে উদ্ধারের আশা প্রায় নিভে এসেছে। সর্বশেষ সোমবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৩৫ জনে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে প্রতিদিন। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) আশঙ্কা করছে, ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা বিবেচনায় মৃতের চূড়ান্ত সংখ্যা ১০ হাজার থেকে ১ লাখ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। উদ্ধারকর্মীরা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের গভীরে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা এখন অত্যন্ত ক্ষীণ। ফলে বর্তমানে উদ্ধার অভিযানের মূল লক্ষ্য হয়ে উঠেছে মরদেহ শনাক্ত ও উদ্ধার। ভূমিকম্পের পরদিন মঙ্গলবার দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ সাত দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকাজে বিলম্ব ও সমন্বয় ঘাটতির অভিযোগ তুলেছেন বিদেশে বসবাসরত ভেনেজুয়েলার নাগরিকেরা। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে তাঁরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহায়তার আবেদন জানাচ্ছেন এবং সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি করছেন। স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত দুই চাচাতো ভাইবোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের দাদা-দাদির সন্ধানে সহায়তা চেয়েছেন। ভেনেজুয়েলার কারাবায়েদা শহরের একটি সাততলা ভবনে বসবাস করতেন পেদ্রো ভেলোজ মেদিনা ও আলেহান্দ্রিনা রামিরেজ দে ভেলোজ। ভূমিকম্পে ভবনটি ধসে পড়ার পর থেকে তাঁদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। স্পেনে থাকা ভ্যালেরিয়া ভেলোজ জানান, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকর্মীরা তাঁদের বলেছেন, ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে থাকা সম্ভাব্য জীবিত বা মৃতদের খুঁজে পেতে হলে অন্তত ১০টি বড় কংক্রিটের স্ল্যাব সরাতে হবে। এ জন্য ভারী যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ক্রেনের প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের অরল্যান্ডো থেকে এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেদ্রো ভেলোজ বলেন, “ভবনটি যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তাতে ক্রেন ছাড়া ধ্বংসস্তূপ সরানো প্রায় অসম্ভব।” উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে গত রোববার নতুন একটি সামরিক ইউনিট গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজ। এই ইউনিট দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম তদারকি করবে। এরই মধ্যে সরকারি হিসাবে জানা গেছে, ভূমিকম্পে ৮৫০টির বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধসে পড়েছে। তবে নাসার স্যাটেলাইট বিশ্লেষণ বলছে, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও অনেক বেশি—প্রায় ৫৯ হাজার স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এতে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। ভেনেজুয়েলা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক সংকটে ভুগছে। দুর্বল জনসেবা ব্যবস্থা, খাদ্যসংকট এবং দারিদ্র্যের কারণে আগে থেকেই প্রায় ৮০ লাখ মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন ছিল। এই ভূমিকম্প সেই সংকটকে আরও তীব্র করে তুলেছে। তবে ধ্বংসস্তূপের মাঝেও পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে লা গুয়াইরার একটি সরকারি আবাসিক কমপ্লেক্স পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু করেছে সরকার। ওই কমপ্লেক্সের বাসিন্দা এস্টার বিরিয়ের বার্তা সংস্থা এপিকে জানান, তিন মাসের মধ্যে পুনর্নির্মাণ শেষ করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “কাজ শেষ হলে আমাদের অ্যাপার্টমেন্টগুলো ফিরিয়ে দেওয়া হবে—এই প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আমরা আশাবাদী।” উদ্ধারকাজের ধীরগতি, বিপুল প্রাণহানি এবং অবকাঠামোগত ধ্বংস—সব মিলিয়ে ভেনেজুয়েলার জন্য এটি সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক সংকটগুলোর একটি হয়ে উঠেছে। এখন নজর কেবল নিখোঁজদের খোঁজ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের দিকে।
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একটি দূরবর্তী পুলিশ চৌকিতে সশস্ত্র হামলায় অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। সোমবার (৬ জুলাই) গভীর রাতে জিয়ারত জেলার একটি দুর্গম এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক পুলিশ। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একদল উগ্রপন্থী বন্দুকধারী অতর্কিতে চৌকিটিতে হামলা চালায়। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের তীব্র বন্দুকযুদ্ধ হয়, যাতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন পুলিশ সদস্য নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। হামলার শুরুতে হামলাকারীরা চৌকি থেকে আটজন পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তবে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে নিরাপত্তা বাহিনী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অপহৃতদের উদ্ধারের পরপরই পুরো এলাকায় যৌথভাবে তল্লাশি ও সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। এই অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা গুলিতে অন্তত ১৫ জন হামলাকারী নিহত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। শাহিদ রিন্দ আরও বলেন, বেলুচিস্তানে উগ্রপন্থী তৎপরতা দমনে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান অব্যাহত থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এ ধরনের হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত এই হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেনি। তবে প্রশাসনের সন্দেহ, দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় নিষিদ্ধ সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) এই হামলার পেছনে থাকতে পারে। উল্লেখ্য, এর আগেও বেলুচিস্তানে নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে উপকূলীয় শহর জিওয়ানির একটি নিরাপত্তা চৌকিতে আত্মঘাতী বোমা হামলার দায় স্বীকার করেছিল বিএলএ। যদিও সে দাবি সরকারিভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। এপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্পদসমৃদ্ধ হলেও দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী তৎপরতা ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের কারণে বেলুচিস্তান প্রদেশটি অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে রয়েছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে টানা মৌসুমি বৃষ্টির মধ্যে একটি পুরোনো ভবন ধসে পাঁচ শিশুসহ অন্তত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও কয়েকজন আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন। রোববার (তারিখ) নগরীর মানখুর্দ এলাকায় একটি বস্তিতে দুই থেকে তিনটি বহুতল ভবন হঠাৎ ধসে পড়ে। ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার অভিযান শুরু করে দমকল ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মীরা। নগর কর্তৃপক্ষের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এ দুর্ঘটনায় পাঁচ শিশু ও এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন। স্থানীয় আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরে মুম্বাইয়ে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এর মধ্যে রোববার একদিনেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়, কোথাও কোথাও তা ১৬১ মিলিমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। অতিবৃষ্টির কারণে শহরের বহু এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে এবং স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় কর্তৃপক্ষ নগরীর সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কাজও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ের একটি অংশে ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ফলে দুই শহরের মধ্যে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার প্রভাব পড়েছে বিমান ও রেল যোগাযোগেও। মুম্বাই থেকে ছেড়ে যাওয়া ও সেখানে আগত কয়েকটি ফ্লাইটের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পাশাপাশি মুম্বাই-পুনে রুটে কয়েকটি দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরোনো ও জরাজীর্ণ ভবনগুলো ভারি বৃষ্টির সময় বড় ধরনের ঝুঁকিতে থাকে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মুম্বাইয়ে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঝুঁকি পুরোপুরি কমানো সম্ভব হচ্ছে না। বর্তমানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে এবং আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা।
চলতি যুদ্ধের শুরুর দিকেই নিহত হয়েছেন—এমন গুঞ্জনকে মিথ্যা প্রমাণ করে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হঠাৎই উপস্থিত হয়েছেন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। তেহরানের রাজপথে লাখো শোকার্ত মানুষের ভিড়ে তাকে সশরীরে দেখা যাওয়ার পর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ঘটনাটি। সোমবার (৬ জুলাই) প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আহমাদিনেজাদকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত বলে প্রচার করেছিল দেশটির কয়েকটি রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম। ওই সময় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের একটি বড় অংশ নিহত হন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। একই দিনে আহমাদিনেজাদের বাসভবনের কাছেও একটি রকেট আঘাত হানায় তার মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ কয়েক মাস তিনি সম্পূর্ণ জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। তার পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি, এমনকি সরকারি পর্যায় থেকেও তার জীবিত বা মৃত থাকার বিষয়ে স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। ফলে বিষয়টি যুদ্ধের শুরুর সময়ের অন্যতম রহস্য হিসেবেই রয়ে যায়। অবশেষে গত সোমবার তেহরানে খামেনির কফিনযাত্রার মিছিলে সাধারণ মানুষের ভিড়ে প্রথমবারের মতো দেখা যায় আহমাদিনেজাদকে। সাদামাটা জ্যাকেট পরা এবং থুতনিতে মাস্ক নামানো অবস্থায় তাকে শোকমিছিলে অংশ নিতে দেখা যায়। এদিকে, খামেনির শেষকৃত্যের এই রাষ্ট্রীয় আয়োজনে ইরানের অপর দুই জীবিত সাবেক প্রেসিডেন্ট—মোহাম্মদ খাতামি ও হাসান রুহানির অনুপস্থিতি নিয়েও আলোচনা চলছে। সমালোচকদের দাবি, তাদের এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বিশাল এই শোকসমাবেশে ইরানের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকেও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অংশ নিতে দেখা যায়। প্রবল ভিড়ের কারণে তিনি মোটরসাইকেলের পেছনে চড়ে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধকালীন বিভ্রান্তিকর তথ্যপ্রবাহ এবং তথ্যের ঘাটতির কারণে ইরানে নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। আহমাদিনেজাদের হঠাৎ উপস্থিতি সেই গুঞ্জনের একটি বড় অংশের অবসান ঘটালেও, যুদ্ধের শুরুর সময়কার তথ্য অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।