সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টোতে অবৈধ অভিবাসীর হাতে নির্মম হত্যার শিকার হয়েছেন শলিনী ঠাকুর। ছবি: সংগৃহীত
অবৈধ অভিবাসীর হাতে নারীর মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার এক নারীকে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুরকে গত ৮ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর একটি শপিং সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকা ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিত পরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের সময় নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   মামলাটিতে শালিনীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোহিতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ, হয়রানি, তাঁর গাড়িতে হস্তক্ষেপ এবং হুমকির অভিযোগ করেছিলেন শালিনী। মে মাসে তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশও নিয়েছিলেন। জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি আবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর হাও অ্যাভিনিউ ও নর্থরপ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি শপিং সেন্টারে গুলির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, শালিনী কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর রোহিত তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত তাঁকে অনুসরণ করে গুলি করেন। পরে রোহিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পুলিশ দ্রুত তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং হাইওয়ে ৫০ এলাকায় তাঁর গাড়ি থামায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের পর তিনি নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি করোনার অফিস বৃহস্পতিবার নিহত নারীর পরিচয় শালিনী ঠাকুর হিসেবে নিশ্চিত করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শালিনী ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।   এদিকে শুক্রবার মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, রোহিত ভারতের নাগরিক এবং ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সীমান্তে তাঁকে আটক করেছিল মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন।   এই তথ্য প্রকাশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার তথাকথিত ‘অভয়ারণ্য আইন’ বা স্যাংচুয়ারি নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন, রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত থাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে।   তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব আইন স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত বা অপরাধের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা থেকে বিরত রাখে না। ২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া সিনেট বিল ৫৪, যা ‘ক্যালিফোর্নিয়া ভ্যালুজ অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, মূলত রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। আইনটিতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব বিধান স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে বিরত রাখে না। তবে অভিবাসন আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা সীমিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগও রয়েছে।   ফেডারেল কর্মকর্তাদের সমালোচনার একটি বড় অংশ স্থানীয় কারাগার থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তিকে হস্তান্তর এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নিয়মকে ঘিরে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুধু ফেডারেল অভিবাসন অনুরোধের ভিত্তিতে কাউকে অতিরিক্ত সময় আটক রাখা বা হস্তান্তর করা সীমিত। তবে বৈধ বিচারিক পরোয়ানা বা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত থাকলে ভিন্ন ব্যবস্থা হতে পারে।   ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় ‘অপারেশন গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৭৬৯টি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ৩৬২ জনকে স্থানীয় কারাগার থেকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪৭ জনের বিরুদ্ধে অপসারণের পর অবৈধভাবে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা অন্য কোনো ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।   তবে এই কর্মসূচি বর্তমানে মূলত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সাতটি কাউন্টিতে কার্যকর। ফলে স্যাক্রামেন্টোসহ উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে এর সরাসরি প্রভাব নেই। এই সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শালিনী ঠাকুরের ঘটনাটি স্যাক্রামেন্টো কাউন্টিতে ঘটেছে।   শালিনী হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এখনো এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাংচুয়ারি আইন সরাসরি তাঁর হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়েছে। বরং নিশ্চিতভাবে যা জানা যাচ্ছে তা হলো, তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়েছিলেন এবং জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগও জানিয়েছিলেন। পরে সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে তিনি গুলিতে নিহত হন।   ঘটনাটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে সামনে এনেছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও বেশি সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, স্থানীয় পুলিশকে মূলত স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব।   শালিনী ঠাকুর হত্যার তদন্ত এবং তাঁর আগে করা অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: কেসিএএআর

২০ মিনিট Ago
অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। এর ডিসপ্লে সরবরাহ করবে স্যামসাং ডিসপ্লে। ছবি: সংগৃহীত
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের জন্য স্যামসাংকে প্রতি ইউনিটে ২৫০ ডলার দেবে অ্যাপল

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘আইফোন ডুও’র ডিসপ্লে সরবরাহে স্যামসাংয়ের সঙ্গে তিন বছরের বিশেষ চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তির আওতায় প্রতিটি ডিসপ্লে প্যানেলের জন্য অ্যাপলকে প্রায় ২৫০ ডলার দিতে হতে পারে। ফলে ফোনটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপাদানগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে।   প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকরিউমার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্যামসাং ডিসপ্লে আইফোন ডুও এবং ভবিষ্যতের কয়েকটি ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ করবে। চীনা প্রযুক্তি তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল বা স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি প্যানেলের ২৫০ ডলারের দাম নিশ্চিত করেনি।   অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুও উন্মোচন করে। এটি কোম্পানির প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন। খোলা অবস্থায় ফোনটিতে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকে, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের ডিসপ্লের আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, খোলা অবস্থায় এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন।   আইফোন ডুওর ভাঁজযোগ্য পর্দায় স্যামসাংয়ের নতুন এম১৬ ওএলইডি উপাদান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ম্যাকরিউমার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে আগের প্রজন্মের ওএলইডি পর্দার তুলনায় উজ্জ্বলতা, রঙের মান, স্থায়িত্ব এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতায় উন্নতি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।   আইফোন ডুওর অভ্যন্তরীণ পর্দার কাঠামোও বেশ জটিল। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লেটিতে মোট ১০টি অতি পাতলা স্তর রয়েছে। পর্দার বাইরের অংশে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচারযুক্ত আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলো প্রতিফলন কমানোর পাশাপাশি ভাঁজের দাগ বা রেখা কম দৃশ্যমান করতে সহায়তা করে।   ডিসপ্লের স্তরগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ফোন ভাঁজ ও খোলার সময় সেগুলো পরস্পরের ওপর সামান্য সরে যেতে পারে। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভাঁজের জায়গায় চাপ কম পড়ে এবং পর্দার স্থায়িত্ব বাড়ে।   আইফোন ডুওর দুই ডিসপ্লেতেই প্রোমোশন প্রযুক্তি, অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতার সুবিধা রয়েছে। খোলা অবস্থায় বড় পর্দাটি একসঙ্গে একাধিক কাজ, ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।   স্যামসাংয়ের সঙ্গে অ্যাপলের ডিসপ্লে সরবরাহ চুক্তির বিষয়টি অবশ্য পুরোপুরি নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেই ম্যাকরিউমার্স জানিয়েছিল, ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য আগামী তিন বছর স্যামসাং থেকেই ওএলইডি প্যানেল নেওয়ার বিষয়ে অ্যাপলের চুক্তি হয়েছে। সে সময়ও স্যামসাংকে একমাত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   প্রতি প্যানেলের সম্ভাব্য ২৫০ ডলারের খরচ আইফোন ডুওর উচ্চ মূল্যের একটি কারণও ব্যাখ্যা করতে পারে। ফোনটির প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। এটি অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোনগুলোর একটি এবং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে কোম্পানিটির প্রথম বড় প্রবেশ।   অ্যাপলের এই পদক্ষেপ স্যামসাংয়ের জন্যও কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে স্যামসাং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে অ্যাপলের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে অ্যাপলের নতুন ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে স্যামসাং ডিসপ্লে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের বাজারে প্রবেশের পর স্যামসাং নিজেদের ভাঁজযোগ্য ফোনের অবস্থান আরও জোরালো করতে প্রচারণা বাড়িয়েছে।   তবে ২৫০ ডলার মূল্যের তথ্যটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ম্যাকরিউমার্সও জানিয়েছে, এই তথ্য চীনা তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের কাছ থেকে এসেছে। তাই চূড়ান্ত সরবরাহমূল্য চুক্তির প্রকৃত শর্তের সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে।   আইফোন ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। অ্যাপলের এই নতুন ফোন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল

৪২ মিনিট Ago
নতুন নিয়মে কাজ শেষে বিদেশি শ্রমিকদের আর রাশিয়ায় থাকার সুযোগ থাকবে না, তাদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ছবি: সংগৃহীত
কাজে এসে কাজ শেষেই ফিরতে হবে দেশে, রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আসছে নতুন নিয়ম

শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়ে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাশিয়ায় আনা হবে এবং কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।.   রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো রুশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর বিশেষায়িত একটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শ্রমিক খুঁজে দেবে। কর্মীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।   কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মীকে আবার রাশিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।   কিকোত এই ব্যবস্থাকে ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পনাটি আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো রুশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি।   রাশিয়ায় বর্তমানে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বেকারত্বের হার মে মাসে ঐতিহাসিকভাবে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়াকে ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।   এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন জুনে জানিয়েছিলেন, ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিকভাবে যোগ দিয়েছেন।   একই সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণও বেসামরিক খাত থেকে কর্মী টেনে নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। রাশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৬৩ লাখ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর জায়গা পূরণ করতে হবে।   এই পরিস্থিতিতে বিদেশি শ্রমিক আনা রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। তবে অভিবাসন নীতিতে মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর।   পুতিনের একটি ডিক্রিতে রাশিয়ার জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অভিবাসন নিয়ে ২২টি পৃথক আইন পাস করা হয়েছে।   কিকোত পুতিনকে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।   নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী নিতে চায়, অন্যদিকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনে উৎসাহিত করতে চায় না। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যবস্থার কিছু মিল রয়েছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট খাতের জন্য এইচ-২ ভিসায় বিদেশি অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মার্কিন সরকার অতিরিক্ত ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসার অনুমতি দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর জন্য তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসায় থাকা কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পেতেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের এই সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির ভিত্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে এইচ-২ ভিসার কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুরক্ষা বহাল রাখার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর একটি আইন পুতিন জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ায় থাকা নির্ভরশীল প্রতিটি সন্তানের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মাসিক করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম চালুর পর কর্মহীন অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে।   তবে নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ধরন আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কর্মীদের নিজস্বভাবে চাকরি খোঁজা বা এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও রাশিয়া একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কমিয়ে রাখতে চাইছে। প্রস্তাবিত ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল সেই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: নিউজউইক

৫৭ মিনিট Ago
নরওয়ের প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ড ও তাঁর বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড। ছবি: সংগৃহীত
নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের দুই দিন পর মারা গেলেন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড

নরওয়ের রাজপরিবারে নেমে এসেছে আরও এক দফা শোক। দেশটির প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ডের বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে নরওয়ের রাজপ্রাসাদ।   রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মাত্র দুই দিন পর রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু হলো। গত বুধবার অসলোতে অনুষ্ঠিত ভাইয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়াই ছিল তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি।   রাজপরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ জীবনে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড উষ্ণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজা হাকন অষ্টম তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাজপরিবারের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করেছেন।   রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের ভাই রাজা হ্যারাল্ড গত ২৮ আগস্ট ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। তিন দশকেরও বেশি সময় নরওয়ের সিংহাসনে থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। ৯ সেপ্টেম্বর অসলোতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাজপরিবার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।   ভাইয়ের শেষকৃত্যে অ্যাস্ট্রিডকে রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। এরপর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তাঁর নিজের মৃত্যুর খবর আসে। রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড নরওয়ের রাজপরিবারে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে তিনি রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজপ্রাসাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এসব দায়িত্ব পালন করেন তিনি।   রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়ের সিংহাসনে বসেছেন তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম। হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজপরিবারে একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু রাজপরিবারে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে।   রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যে অসলো শহরের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁর কফিন রাজপ্রাসাদ থেকে অসলো ক্যাথেড্রালে নেওয়ার সময় হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁকে আকর্শুস দুর্গের রাজকীয় সমাধিতে সমাহিত করা হয়।   রয়টার্স জানিয়েছে, রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: রয়টার্স

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারালেই ছাড়তে হবে দেশ, এইচ-১বি ভিসাধারীদের ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কর্মরত অভিবাসীদের জন্য বড় ধরনের দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। সম্প্রতি ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) একটি নতুন প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে, যেখানে চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খোঁজার জন্য দেওয়া ৬০ দিনের ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অতিরিক্ত সময়সীমা বাতিলের কথা বলা হয়েছে।   এই নিয়ম চূড়ান্ত হলে চাকরি হারানোর পর এইচ-১বি ভিসাধারীদের তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে হবে। বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এই প্রস্তাবনাটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে কর্মরত বিদেশি কর্মীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা।   ২০১৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ডের কারণে চাকরিচ্যুত বিদেশি কর্মীরা নতুন স্পন্সর বা নিয়োগদাতা খোঁজার সুযোগ পেতেন। দেশ ছাড়ার আগে বাড়ি বিক্রি বা সন্তানদের স্কুল থেকে ছাড়পত্র নেওয়ার মতো জরুরি কাজগুলো গুছিয়ে নেওয়ার জন্যও এই সময়টুকু তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।   নতুন প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এই নিয়ম বাতিল হলে শূন্য হওয়া পদগুলোতে মার্কিন নাগরিকরাই কাজ করার সুযোগ পাবেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প প্রশাসন বৈধ অভিবাসন সীমিত করতে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, যার মধ্যে দক্ষ কর্মীদের ভিসা ফি বৃদ্ধি ও বিশ্বব্যাপী মার্কিন মিশনগুলোতে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট সাময়িক স্থগিত করা অন্যতম।   তবে এই কড়াকড়ি কেবল এইচ-১বি ভিসাধারীদের জন্যই নয়; এর প্রভাব পড়বে অন্যান্য সাময়িক ওয়ার্ক ভিসার ওপরও। আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ী, নির্বাহী, বিজ্ঞানী, ক্রীড়াবিদ ও শিল্পীদের জন্য নির্ধারিত ই-১, ই-২, এল-১, ও-১ এবং টিএন ভিসাধারীরাও এই নতুন প্রস্তাবনার আওতাভুক্ত হবেন।   এছাড়া সিঙ্গাপুর ও চিলির দক্ষ কর্মী এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষ কর্মীদের ভিসার ক্ষেত্রেও একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। আপাতত দুই মাসের জন্য প্রস্তাবনাটি জনমত যাচাইয়ের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যার পরেই এটি চূড়ান্ত করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১৯:৫১
কাজে এসে কাজ শেষেই ফিরতে হবে দেশে, রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আসছে নতুন নিয়ম

শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়ে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাশিয়ায় আনা হবে এবং কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।.   রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো রুশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর বিশেষায়িত একটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শ্রমিক খুঁজে দেবে। কর্মীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।   কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মীকে আবার রাশিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।   কিকোত এই ব্যবস্থাকে ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পনাটি আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো রুশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি।   রাশিয়ায় বর্তমানে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বেকারত্বের হার মে মাসে ঐতিহাসিকভাবে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়াকে ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।   এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন জুনে জানিয়েছিলেন, ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিকভাবে যোগ দিয়েছেন।   একই সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণও বেসামরিক খাত থেকে কর্মী টেনে নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। রাশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৬৩ লাখ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর জায়গা পূরণ করতে হবে।   এই পরিস্থিতিতে বিদেশি শ্রমিক আনা রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। তবে অভিবাসন নীতিতে মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর।   পুতিনের একটি ডিক্রিতে রাশিয়ার জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অভিবাসন নিয়ে ২২টি পৃথক আইন পাস করা হয়েছে।   কিকোত পুতিনকে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।   নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী নিতে চায়, অন্যদিকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনে উৎসাহিত করতে চায় না। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যবস্থার কিছু মিল রয়েছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট খাতের জন্য এইচ-২ ভিসায় বিদেশি অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মার্কিন সরকার অতিরিক্ত ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসার অনুমতি দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর জন্য তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসায় থাকা কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পেতেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের এই সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির ভিত্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে এইচ-২ ভিসার কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুরক্ষা বহাল রাখার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর একটি আইন পুতিন জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ায় থাকা নির্ভরশীল প্রতিটি সন্তানের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মাসিক করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম চালুর পর কর্মহীন অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে।   তবে নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ধরন আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কর্মীদের নিজস্বভাবে চাকরি খোঁজা বা এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও রাশিয়া একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কমিয়ে রাখতে চাইছে। প্রস্তাবিত ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল সেই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: নিউজউইক

অবৈধ অভিবাসীর হাতে নারীর মৃত্যু, প্রশ্নের মুখে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে হয়রানির শিকার এক নারীকে হত্যার ঘটনায় রাজ্যটির অভিবাসন নীতি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ৩৮ বছর বয়সী শালিনী ঠাকুরকে গত ৮ সেপ্টেম্বর স্যাক্রামেন্টোর একটি শপিং সেন্টারের বাইরে গুলি করে হত্যা করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ থাকা ২২ বছর বয়সী রোহিত রোহিত পরে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের সময় নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   মামলাটিতে শালিনীর পরিবারের পক্ষ থেকে আগে থেকেই প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, রোহিতের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ, হয়রানি, তাঁর গাড়িতে হস্তক্ষেপ এবং হুমকির অভিযোগ করেছিলেন শালিনী। মে মাসে তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আদেশও নিয়েছিলেন। জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি আবার পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর হাও অ্যাভিনিউ ও নর্থরপ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি শপিং সেন্টারে গুলির ঘটনা ঘটে। তদন্তকারীদের ভাষ্য, শালিনী কর্মস্থলে পৌঁছানোর পর রোহিত তাঁর কাছে এগিয়ে যান। তিনি পালানোর চেষ্টা করলে রোহিত তাঁকে অনুসরণ করে গুলি করেন। পরে রোহিত গাড়ি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান। পুলিশ দ্রুত তাঁর অবস্থান শনাক্ত করে এবং হাইওয়ে ৫০ এলাকায় তাঁর গাড়ি থামায়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থানের পর তিনি নিজের গুলিতে মারা যান বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   স্যাক্রামেন্টো কাউন্টি করোনার অফিস বৃহস্পতিবার নিহত নারীর পরিচয় শালিনী ঠাকুর হিসেবে নিশ্চিত করে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে তাঁর পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, শালিনী ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান এবং তাঁর মা দীর্ঘদিন ধরে মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন।   এদিকে শুক্রবার মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ জানায়, রোহিত ভারতের নাগরিক এবং ২০২৩ সালে অ্যারিজোনা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। সীমান্তে তাঁকে আটক করেছিল মার্কিন সীমান্তরক্ষী বাহিনী। তবে পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন।   এই তথ্য প্রকাশের পর ক্যালিফোর্নিয়ার তথাকথিত ‘অভয়ারণ্য আইন’ বা স্যাংচুয়ারি নীতিকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা যুক্তি দিচ্ছেন, রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা সীমিত থাকায় অভিবাসন আইন প্রয়োগ কঠিন হয়ে পড়ে।   তবে ক্যালিফোর্নিয়ার আইন সম্পর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব আইন স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত বা অপরাধের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা থেকে বিরত রাখে না। ২০১৭ সালে কার্যকর হওয়া সিনেট বিল ৫৪, যা ‘ক্যালিফোর্নিয়া ভ্যালুজ অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত, মূলত রাজ্য ও স্থানীয় সম্পদ ব্যবহার করে ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগে সহায়তার ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। আইনটিতে নির্দিষ্ট কিছু ব্যতিক্রমও রয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব বিধান স্থানীয় পুলিশকে অপরাধ তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তার থেকে বিরত রাখে না। তবে অভিবাসন আইন প্রয়োগের উদ্দেশ্যে কোনো ব্যক্তিকে তদন্ত, আটক বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে স্থানীয় সংস্থাগুলোর ভূমিকা সীমিত করা হয়েছে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের সুযোগও রয়েছে।   ফেডারেল কর্মকর্তাদের সমালোচনার একটি বড় অংশ স্থানীয় কারাগার থেকে অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যক্তিকে হস্তান্তর এবং অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার নিয়মকে ঘিরে। ক্যালিফোর্নিয়ার আইন অনুযায়ী, সাধারণভাবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুধু ফেডারেল অভিবাসন অনুরোধের ভিত্তিতে কাউকে অতিরিক্ত সময় আটক রাখা বা হস্তান্তর করা সীমিত। তবে বৈধ বিচারিক পরোয়ানা বা আইনে নির্ধারিত অন্যান্য শর্ত থাকলে ভিন্ন ব্যবস্থা হতে পারে।   ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে এই সীমাবদ্ধতা মোকাবিলায় ‘অপারেশন গার্ডিয়ান অ্যাঞ্জেল’ নামে একটি কর্মসূচি চালু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্ট অব ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে শুরু হওয়া এই কর্মসূচিতে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত ৭৬৯টি ফেডারেল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং ৩৬২ জনকে স্থানীয় কারাগার থেকে ফেডারেল হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৪৭ জনের বিরুদ্ধে অপসারণের পর অবৈধভাবে আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা বা অন্য কোনো ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে।   তবে এই কর্মসূচি বর্তমানে মূলত দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার সাতটি কাউন্টিতে কার্যকর। ফলে স্যাক্রামেন্টোসহ উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার ক্ষেত্রে এর সরাসরি প্রভাব নেই। এই সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শালিনী ঠাকুরের ঘটনাটি স্যাক্রামেন্টো কাউন্টিতে ঘটেছে।   শালিনী হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্রে এখনো এমন কোনো স্বাধীন প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাংচুয়ারি আইন সরাসরি তাঁর হত্যাকাণ্ডের কারণ হয়েছে। বরং নিশ্চিতভাবে যা জানা যাচ্ছে তা হলো, তিনি রোহিতের বিরুদ্ধে আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ নিয়েছিলেন এবং জুলাইয়ে সেই আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগও জানিয়েছিলেন। পরে সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে তিনি গুলিতে নিহত হন।   ঘটনাটি একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে পুরোনো বিতর্ককে সামনে এনেছে। ফেডারেল কর্মকর্তারা স্থানীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে আরও বেশি সহযোগিতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অন্যদিকে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, স্থানীয় পুলিশকে মূলত স্থানীয় অপরাধ মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়া উচিত এবং ফেডারেল অভিবাসন আইন প্রয়োগ ফেডারেল সরকারের দায়িত্ব।   শালিনী ঠাকুর হত্যার তদন্ত এবং তাঁর আগে করা অভিযোগগুলো নিয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের পর্যালোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসন নীতির কার্যকারিতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কও আরও জোরালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   সূত্র: কেসিএএআর

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। এর ডিসপ্লে সরবরাহ করবে স্যামসাং ডিসপ্লে। ছবি: সংগৃহীত
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের জন্য স্যামসাংকে প্রতি ইউনিটে ২৫০ ডলার দেবে অ্যাপল

অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ‘আইফোন ডুও’র ডিসপ্লে সরবরাহে স্যামসাংয়ের সঙ্গে তিন বছরের বিশেষ চুক্তি হয়েছে বলে জানা গেছে। চুক্তির আওতায় প্রতিটি ডিসপ্লে প্যানেলের জন্য অ্যাপলকে প্রায় ২৫০ ডলার দিতে হতে পারে। ফলে ফোনটির সবচেয়ে ব্যয়বহুল উপাদানগুলোর একটি হতে যাচ্ছে এই ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লে।   প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট ম্যাকরিউমার্স শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, স্যামসাং ডিসপ্লে আইফোন ডুও এবং ভবিষ্যতের কয়েকটি ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য ডিসপ্লে প্যানেল সরবরাহ করবে। চীনা প্রযুক্তি তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের বরাত দিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। তবে অ্যাপল বা স্যামসাং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতি প্যানেলের ২৫০ ডলারের দাম নিশ্চিত করেনি।   অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর আইফোন ডুও উন্মোচন করে। এটি কোম্পানির প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন। খোলা অবস্থায় ফোনটিতে ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চির অভ্যন্তরীণ ডিসপ্লে থাকে, আর ভাঁজ করা অবস্থায় বাইরের ডিসপ্লের আকার ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি। অ্যাপলের দাবি, খোলা অবস্থায় এটি এখন পর্যন্ত সবচেয়ে পাতলা আইফোন।   আইফোন ডুওর ভাঁজযোগ্য পর্দায় স্যামসাংয়ের নতুন এম১৬ ওএলইডি উপাদান প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে বলে ম্যাকরিউমার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে আগের প্রজন্মের ওএলইডি পর্দার তুলনায় উজ্জ্বলতা, রঙের মান, স্থায়িত্ব এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতায় উন্নতি হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।   আইফোন ডুওর অভ্যন্তরীণ পর্দার কাঠামোও বেশ জটিল। অ্যাপলের তথ্য অনুযায়ী, ভাঁজযোগ্য ডিসপ্লেটিতে মোট ১০টি অতি পাতলা স্তর রয়েছে। পর্দার বাইরের অংশে বিশেষ ন্যানো-টেক্সচারযুক্ত আবরণ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলো প্রতিফলন কমানোর পাশাপাশি ভাঁজের দাগ বা রেখা কম দৃশ্যমান করতে সহায়তা করে।   ডিসপ্লের স্তরগুলোকে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে ফোন ভাঁজ ও খোলার সময় সেগুলো পরস্পরের ওপর সামান্য সরে যেতে পারে। অ্যাপলের ভাষ্য অনুযায়ী, এতে ভাঁজের জায়গায় চাপ কম পড়ে এবং পর্দার স্থায়িত্ব বাড়ে।   আইফোন ডুওর দুই ডিসপ্লেতেই প্রোমোশন প্রযুক্তি, অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে এবং সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিট পর্যন্ত উজ্জ্বলতার সুবিধা রয়েছে। খোলা অবস্থায় বড় পর্দাটি একসঙ্গে একাধিক কাজ, ভিডিও দেখা, গেম খেলা ও অন্যান্য কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।   স্যামসাংয়ের সঙ্গে অ্যাপলের ডিসপ্লে সরবরাহ চুক্তির বিষয়টি অবশ্য পুরোপুরি নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেই ম্যাকরিউমার্স জানিয়েছিল, ভাঁজযোগ্য আইফোনের জন্য আগামী তিন বছর স্যামসাং থেকেই ওএলইডি প্যানেল নেওয়ার বিষয়ে অ্যাপলের চুক্তি হয়েছে। সে সময়ও স্যামসাংকে একমাত্র সরবরাহকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।   প্রতি প্যানেলের সম্ভাব্য ২৫০ ডলারের খরচ আইফোন ডুওর উচ্চ মূল্যের একটি কারণও ব্যাখ্যা করতে পারে। ফোনটির প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। এটি অ্যাপলের সবচেয়ে দামি আইফোনগুলোর একটি এবং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে কোম্পানিটির প্রথম বড় প্রবেশ।   অ্যাপলের এই পদক্ষেপ স্যামসাংয়ের জন্যও কিছুটা ভিন্ন পরিস্থিতি তৈরি করেছে। একদিকে স্যামসাং ভাঁজযোগ্য ফোনের বাজারে অ্যাপলের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বী, অন্যদিকে অ্যাপলের নতুন ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ সরবরাহ করছে স্যামসাং ডিসপ্লে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অ্যাপলের বাজারে প্রবেশের পর স্যামসাং নিজেদের ভাঁজযোগ্য ফোনের অবস্থান আরও জোরালো করতে প্রচারণা বাড়িয়েছে।   তবে ২৫০ ডলার মূল্যের তথ্যটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। ম্যাকরিউমার্সও জানিয়েছে, এই তথ্য চীনা তথ্যদাতা ইনস্ট্যান্ট ডিজিটালের কাছ থেকে এসেছে। তাই চূড়ান্ত সরবরাহমূল্য চুক্তির প্রকৃত শর্তের সঙ্গে ভিন্ন হতে পারে।   আইফোন ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বাজারে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ২৩ অক্টোবর। অ্যাপলের এই নতুন ফোন ভাঁজযোগ্য স্মার্টফোনের বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   সূত্র: ম্যাকরিউমার্স, অ্যাপল

দুর্ঘটনার পর হাসপাতালে বিয়ে করেন কাপ্রি ডিরামাস ও তায়াসিয়া থমাস। ছবি: সংগৃহীত
বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত বর, হাসপাতালেই বিয়ে সারলেন নবদম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বিয়ের অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বর কাপ্রি ডিরামাস। এরপর পরিকল্পনা অনুযায়ী বিয়ের আয়োজন আর করা সম্ভব না হলেও শেষ পর্যন্ত হাসপাতালেই বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছেন তিনি ও তাঁর বাগদত্তা তায়াসিয়া থমাস।   গত সপ্তাহের শেষ দিকে ফ্লোরিডার অল্টামন্টে স্প্রিংস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের পোশাকে প্রস্তুত হয়ে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন তায়াসিয়া। ঠিক সেই সময় খবর আসে, বিয়ের পথে গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন কাপ্রি।   হারমিটস ট্রেইল ও স্টেট রোড ৪৩৬ এলাকার কাছে গাড়ি চালানোর সময় কাপ্রির গাড়ির সঙ্গে একটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।   দুর্ঘটনার পর তায়াসিয়া বিয়ের পোশাক পরেই গাড়িতে করে অ্যাম্বুলেন্সের পিছু নিয়ে হাসপাতালে যান। সেখানে পৌঁছে তিনি কাপ্রিকে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়ার দৃশ্য দেখেন।   সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে তায়াসিয়া বলেন, তাঁকে ওই অবস্থায় দেখে বিষয়টি খুবই ভীতিকর ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক ছিল। গাড়িতে বসে তাঁর সবচেয়ে বড় ভয় ছিল, তিনি যেন কাপ্রিকে হারিয়ে না ফেলেন।   অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর কাপ্রি কিছু সময় অচেতন ও বিভ্রান্ত অবস্থায় ছিলেন। জ্ঞান ফেরার পরও তাঁর কাছে বিয়েটি সম্পন্ন করার ইচ্ছাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। হাসপাতালেই বিয়ে করার বিষয়ে দুজন সম্মত হন।   পরে হাসপাতালেই তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। নির্ধারিত বিয়ের মঞ্চের পরিবর্তে হাসপাতালের পরিবেশেই জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেন তাঁরা।   তায়াসিয়া বলেন, সেই সময় কাপ্রির পাশে থাকতে পারাটাই তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিয়ের ওই মুহূর্তে কিছুক্ষণের জন্য তাঁদের চারপাশের সব উদ্বেগ ও অস্থিরতা যেন থেমে গিয়েছিল।   দুর্ঘটনায় কাপ্রির দুই হাত, পাঁজর ও চোয়ালে গুরুতর আঘাত লাগে। এসব আঘাতের চিকিৎসায় তাঁকে তিনটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। শারীরিকভাবে কঠিন সময়ের মধ্যেও কাপ্রি বিয়ের আংটিটিকে তাঁদের সম্পর্কের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। তাঁর ভাষায়, ছয় বছর ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে তিনি এখন সারাজীবনের বন্ধনে নিয়ে যেতে চান।   দুর্ঘটনার কারণে তাঁদের বিয়ের পরিকল্পনা বদলে গেলেও দুজনের সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসেনি। নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে বিয়ে না হলেও হাসপাতালেই তাঁরা একে অপরের সঙ্গে জীবনের নতুন যাত্রা শুরু করেন।   এদিকে দুর্ঘটনার ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি দম্পতি। তাঁদের আইনজীবীরা দুর্ঘটনার চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   সূত্র: ডব্লিউইএসএইচ, সিএনএন নিউজসোর্স

নির্মাণসামগ্রী হিসেবে পয়ঃবর্জ্য ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার প্রতীকী চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মানুষের মল থেকে তৈরি হচ্ছে কংক্রিট, যা প্রচলিত কংক্রিটের চেয়েও শক্তিশালী

ভারতের একদল গবেষক মানুষের পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি জৈবকয়লা বা বায়োচার ব্যবহার করে এমন কংক্রিট তৈরি করেছেন, যার নির্দিষ্ট মিশ্রণ প্রচলিত কংক্রিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি শক্তিশালী হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত সিমেন্টের ১০ শতাংশের পরিবর্তে পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি বায়োচার ব্যবহার করলে ৯১ দিন পর কংক্রিটের চাপ সহনশীলতা ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।   ভারতের মণিপাল ইউনিভার্সিটি জয়পুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রঘুভেশ তিওয়ারির নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় ব্যবহৃত পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করা হয় ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারাঙ্গালের একটি পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার থেকে। সেখানে সেপটিক ট্যাংক ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োচার তৈরি করা হয়।   বায়োচার হলো কার্বনসমৃদ্ধ এক ধরনের সূক্ষ্ম পদার্থ, যা জৈববস্তু খুব কম অক্সিজেনের পরিবেশে উচ্চ তাপে উত্তপ্ত করে তৈরি করা হয়। গবেষণায় পয়ঃবর্জ্য প্রথমে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কম অক্সিজেনের পরিবেশে উত্তপ্ত করে সেটিকে বায়োচারে রূপান্তর করা হয়। পরে তা গুঁড়া করে ছেঁকে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করা হয়, যাতে কংক্রিটের সঙ্গে মেশানো যায়।   গবেষকেরা প্রচলিত সিমেন্টের বিভিন্ন অংশের পরিবর্তে ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ করে এই বায়োচার ব্যবহার করে আলাদা কংক্রিটের নমুনা তৈরি করেন। এরপর এসব নমুনার চাপ সহনশীলতা, বাঁক সহনশীলতা, পানি শোষণ, ছিদ্রতা এবং শুকানোর সময় সংকোচনের মতো বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়।   পরীক্ষায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায় দীর্ঘ সময় ধরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার পর। ৯১ দিন ধরে পরিচর্যার পর ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত কংক্রিটে প্রচলিত মিশ্রণের তুলনায় চাপ সহনশীলতা ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৪২ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। ৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহার করা মিশ্রণেও শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। গবেষণায় ৫ শতাংশ মিশ্রণে ৯১ দিন পর চাপ সহনশীলতা প্রায় ২০ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৩৬ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়।   গবেষকদের মতে, এই শক্তি বৃদ্ধির পেছনে বায়োচারের বিশেষ গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বায়োচারের ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা কংক্রিট তৈরির সময় পানি ধরে রাখতে পারে। পরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সেই পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে। এতে সিমেন্টের সঙ্গে পানির রাসায়নিক বিক্রিয়া বা জলযোজন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে, যা কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।   তবে বেশি পরিমাণ বায়োচার ব্যবহার করলেই কংক্রিট আরও শক্তিশালী হবে এমন নয়। গবেষণায় ৫ ও ১০ শতাংশের মাত্রায় সবচেয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ১৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের মাত্রার মতো শক্তি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়নি। অর্থাৎ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক অনুপাত নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় কংক্রিটের স্থায়িত্ব নিয়েও কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ১৫ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণে ২৮ দিন পর পানি শোষণ ও ছিদ্রতার মাত্রা প্রচলিত কংক্রিটের নিয়ন্ত্রণ মিশ্রণের কাছাকাছি ছিল। অন্যদিকে ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণের ১২০ দিনের শুকানোর সময়ের সংকোচন সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের মিশ্রণের কাছাকাছি ছিল।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারী ধাতু নিয়ন্ত্রণ। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, কংক্রিটের মিশ্রণে বায়োচারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য থেকে আসা কিছু ভারী ধাতুর ঘনত্ব কমেছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সিমেন্টের ক্ষারীয় পরিবেশে বায়োচার এসব ক্ষতিকর পদার্থকে আটকে রাখতে সহায়তা করতে পারে, ফলে পরিবেশে সেগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।   এই গবেষণার পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে। কংক্রিটের প্রধান উপাদান সিমেন্ট উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয় এবং এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন জড়িত। তাই সিমেন্টের একটি অংশের পরিবর্তে বর্জ্য থেকে তৈরি উপাদান ব্যবহার করা গেলে একদিকে সিমেন্টের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে, অন্যদিকে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি ব্যবহারিক পথ তৈরি হতে পারে। গবেষণাপত্রেও পয়ঃবর্জ্যকে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের জন্য অবশ্য আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। গবেষণাটি মূলত পরীক্ষাগারভিত্তিক কংক্রিটের কর্মক্ষমতা যাচাই করেছে। বাস্তব নির্মাণকাজে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, বিভিন্ন আবহাওয়া ও পরিবেশে কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বর্জ্য থেকে তৈরি উপাদানের নিরাপত্তা আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। গবেষণাটিও বিভিন্ন মাত্রায় বায়োচার ব্যবহার করে কংক্রিটের যান্ত্রিক, স্থায়িত্ব ও ক্ষুদ্র কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।   গবেষণাটি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার লেখকদের মধ্যে রঘুভেশ তিওয়ারি, প্রিয়াংশা মেহরা, শাইক হুসেইন ও সঞ্চিত আনন্দ রয়েছেন।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
নতুন নিয়মে কাজ শেষে বিদেশি শ্রমিকদের আর রাশিয়ায় থাকার সুযোগ থাকবে না, তাদের সরাসরি নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে। ছবি: সংগৃহীত
কাজে এসে কাজ শেষেই ফিরতে হবে দেশে, রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য আসছে নতুন নিয়ম
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২২:৭

শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের নিয়ে নতুন একটি ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করেছে রাশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কাজের জন্য রাশিয়ায় আনা হবে এবং কাজের চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তাঁদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।.   রাশিয়ার প্রথম উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও অভিবাসনবিষয়ক বিভাগের প্রধান আন্দ্রেই কিকোত বৃহস্পতিবার ক্রেমলিনে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে এ পরিকল্পনা তুলে ধরেন। পুতিন প্রস্তাবিত ব্যবস্থাটিকে ‘সভ্য পদ্ধতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বলে নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় কোনো রুশ প্রতিষ্ঠান বিদেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হলে রাষ্ট্রীয় অভিবাসন পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এরপর বিশেষায়িত একটি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় শ্রমিক খুঁজে দেবে। কর্মীর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁকে রাশিয়ায় নিয়ে আসা হবে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হবে।   কর্মীদের জন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করবে নিয়োগকর্তা। কর্মস্থলে যাতায়াতের ব্যবস্থাও থাকবে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে কর্মীকে আবার রাশিয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।   কিকোত এই ব্যবস্থাকে ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পরিকল্পনাটি আগামী বছর থেকে ধাপে ধাপে চালু করার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবটি এখনো রুশ পার্লামেন্টে অনুমোদিত হয়নি।   রাশিয়ায় বর্তমানে শ্রমিকের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। দেশটির বেকারত্বের হার মে মাসে ঐতিহাসিকভাবে কমে ২ দশমিক ১ শতাংশে নেমেছিল। বর্তমানে তা প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। অর্থনৈতিক উন্নয়নমন্ত্রী মাকসিম রেশেতনিকভ চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়াকে ‘শ্রমিক ঘাটতির অর্থনীতি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।   এই সংকটের পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বিপুলসংখ্যক রুশ নাগরিক সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন জুনে জানিয়েছিলেন, ৭ লাখের বেশি রুশ সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন রয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান দিমিত্রি মেদভেদেভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে প্রায় ২ লাখ মানুষ সামরিক বাহিনীতে চুক্তিভিত্তিকভাবে যোগ দিয়েছেন।   একই সময়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্প্রসারণও বেসামরিক খাত থেকে কর্মী টেনে নিচ্ছে। ফলে বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় কর্মী পাওয়া কঠিন হয়ে উঠেছে।   এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন। রাশিয়ার কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ দ্রুত কমে যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী জনগোষ্ঠীর সংখ্যা চলতি দশকের শেষ নাগাদ প্রায় ৬৩ লাখ কমে যেতে পারে বলে পূর্বাভাস রয়েছে। রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী তাতিয়ানা গোলিকোভা জানিয়েছেন, ২০৩২ সালের মধ্যে অবসর নেওয়া প্রায় ১ কোটি ১৫ লাখ কর্মীর জায়গা পূরণ করতে হবে।   এই পরিস্থিতিতে বিদেশি শ্রমিক আনা রাশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সমাধান হতে পারে। তবে অভিবাসন নীতিতে মস্কোর সাম্প্রতিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে কঠোর।   পুতিনের একটি ডিক্রিতে রাশিয়ার জনসংখ্যা ও শ্রমবাজার বৃদ্ধির প্রধান উৎস হিসেবে দেশের নিজস্ব জনসংখ্যার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট জানিয়েছে, ২০২৪ সাল থেকে অভিবাসন নিয়ে ২২টি পৃথক আইন পাস করা হয়েছে।   কিকোত পুতিনকে জানিয়েছেন, গত ১৮ মাসে প্রায় ১ লাখ বিদেশিকে রাশিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে প্রায় ৭৫ হাজারকে জোরপূর্বক ফেরত পাঠানো হয়েছে।   নতুন প্রস্তাবের মাধ্যমে রাশিয়া একদিকে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মী নিতে চায়, অন্যদিকে তাঁদের দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসনে উৎসাহিত করতে চায় না। ফলে বিদেশি শ্রমিকদের নির্দিষ্ট চাকরি ও চুক্তির সঙ্গে যুক্ত রেখে কাজ শেষ হওয়ার পর দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও এ ব্যবস্থার কিছু মিল রয়েছে। দেশটিতে নির্দিষ্ট খাতের জন্য এইচ-২ ভিসায় বিদেশি অস্থায়ী কর্মীরা কাজ করতে পারেন। ২০২৬ অর্থবছরের জন্য মার্কিন সরকার অতিরিক্ত ৬৪ হাজার ৭১৬টি এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসার অনুমতি দিয়েছে। এর কারণ হিসেবে কর্মী সংকটের কথা জানিয়েছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।   তবে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মসংস্থান হারানো বা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি কর্মীর জন্য তুলনামূলক বেশি সুযোগ রয়েছে। বাইডেন প্রশাসনের সময় চালু হওয়া নিয়ম অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ভিসায় থাকা কর্মীরা চাকরি হারানোর পর সাধারণত ৬০ দিন পর্যন্ত নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ পেতেন।   তবে যুক্তরাষ্ট্রেও সম্প্রতি এ বিষয়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে। ১১ সেপ্টেম্বর মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বিভিন্ন ভিসা শ্রেণির কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের এই সময়সীমা বাতিলের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের চাকরির ভিত্তি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হতে পারে। তবে এইচ-২ ভিসার কর্মীদের জন্য ৬০ দিনের সুরক্ষা বহাল রাখার কথা প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।   রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের জন্য ইতিমধ্যে আরও কিছু কঠোর নিয়ম চালু হয়েছে। ২০২৭ সাল থেকে অভিবাসী শ্রমিকদের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর একটি আইন পুতিন জুলাইয়ে স্বাক্ষর করেছেন। রাশিয়ায় থাকা নির্ভরশীল প্রতিটি সন্তানের জন্য সংশ্লিষ্ট শ্রমিকের মাসিক করের পরিমাণ আরও ৫০ শতাংশ বাড়ানোর বিধান রাখা হয়েছে।   এ ছাড়া অভিবাসী শ্রমিকদের সন্তানদের রুশ স্কুলে ভর্তি হওয়ার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে কঠোর নিয়ম চালু করা হয়েছে। রুশ সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এসব নিয়ম চালুর পর কর্মহীন অভিবাসীদের সংখ্যা কমেছে।   তবে নতুন প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে রাশিয়ায় বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের ধরন আরও নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। কর্মীদের নিজস্বভাবে চাকরি খোঁজা বা এক নিয়োগকর্তা থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও রাশিয়া একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি অভিবাসন কমিয়ে রাখতে চাইছে। প্রস্তাবিত ‘বাড়ি, কাজ, বাড়ি’ মডেল সেই দুই নীতির মধ্যে সমন্বয় করার একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   সূত্র: নিউজউইক

নরওয়ের প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ড ও তাঁর বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড। ছবি: সংগৃহীত
নরওয়ের রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের দুই দিন পর মারা গেলেন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ২১:৪৪

নরওয়ের রাজপরিবারে নেমে এসেছে আরও এক দফা শোক। দেশটির প্রয়াত রাজা হ্যারাল্ডের বড় বোন রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর খবর জানিয়েছে নরওয়ের রাজপ্রাসাদ।   রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মাত্র দুই দিন পর রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু হলো। গত বুধবার অসলোতে অনুষ্ঠিত ভাইয়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়াই ছিল তাঁর শেষ প্রকাশ্য উপস্থিতি।   রাজপরিবারের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ জীবনে রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড উষ্ণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজা হাকন অষ্টম তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাজপরিবারের জন্য তাঁর দীর্ঘদিনের দায়িত্ব পালনের কথা স্মরণ করেছেন।   রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের ভাই রাজা হ্যারাল্ড গত ২৮ আগস্ট ৮৯ বছর বয়সে মারা যান। তিন দশকেরও বেশি সময় নরওয়ের সিংহাসনে থাকার পর তাঁর মৃত্যু হয়। ৯ সেপ্টেম্বর অসলোতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে নরওয়ের রাজপরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের রাজপরিবার ও রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।   ভাইয়ের শেষকৃত্যে অ্যাস্ট্রিডকে রাজপরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে দেখা যায়। এরপর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে তাঁর নিজের মৃত্যুর খবর আসে। রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিড নরওয়ের রাজপরিবারে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ও আনুষ্ঠানিক আয়োজনে তিনি রাজপরিবারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। রাজপ্রাসাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতার সঙ্গে এসব দায়িত্ব পালন করেন তিনি।   রাজা হ্যারাল্ডের মৃত্যুর পর নরওয়ের সিংহাসনে বসেছেন তাঁর ছেলে হাকন অষ্টম। হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যের মধ্য দিয়ে দেশটির রাজপরিবারে একটি দীর্ঘ অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটে। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যু রাজপরিবারে নতুন করে শোকের আবহ তৈরি করেছে।   রাজা হ্যারাল্ডের শেষকৃত্যে অসলো শহরের রাস্তায় বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। তাঁর কফিন রাজপ্রাসাদ থেকে অসলো ক্যাথেড্রালে নেওয়ার সময় হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানান। পরে তাঁকে আকর্শুস দুর্গের রাজকীয় সমাধিতে সমাহিত করা হয়।   রয়টার্স জানিয়েছে, রাজকুমারী অ্যাস্ট্রিডের মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি। সূত্র: রয়টার্স

মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা
মালদ্বীপে বাংলাদেশি বাবুলকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ ঘোষণা, তথ্য পেতে সহায়তা চায় কর্তৃপক্ষ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১১:১

মালদ্বীপে ২৫ বছর বয়সী বাংলাদেশি নাগরিক মো. বাবুল মিয়াকে ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে দেশটির ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তার অবস্থান সম্পর্কে তথ্য পেতে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।   ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাবুল মিয়ার নাম, বয়স ও নাগরিকত্বের তথ্য প্রকাশ করে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশন। বিজ্ঞপ্তিতে তাকে ২৫ বছর বয়সী পুরুষ বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাবুল মিয়ার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনকে জানাতে হবে। তবে বিজ্ঞপ্তিতে তাকে কেন ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো কারণ উল্লেখ করা হয়নি।   তথ্য দিতে মালদ্বীপ ইমিগ্রেশনের নির্ধারিত যোগাযোগ নম্বর ও ইমেইলে যোগাযোগের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিটির রেফারেন্স নম্বর IF-RM/2026/04।   তবে বাবুল মিয়ার বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ বা মামলার তথ্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার সুযোগ নেই; কর্তৃপক্ষের ব্যবহৃত ‘ইমিগ্রেশন ফিউজিটিভ’ শব্দটি শুধুমাত্র তাদের বিজ্ঞপ্তির ভাষা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় গিয়ে ২৬ বছর বয়সী যুবকের শরীরে মিলল জরায়ু, আতঙ্কে যুবক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ১০:৪৯

ভারতের দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের আরজি হাসপাতালে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা নিতে গিয়ে ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের শরীরের ভেতরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো গঠন পাওয়া গেছে। পরীক্ষায় তার দুটো অণ্ডকোষও স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে জটিল এই শারীরিক অবস্থাকে Persistent Müllerian Duct Syndrome বা PMDS হিসেবে শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা।    চিকিৎসকদের কাছে ওই যুবক প্রাথমিক বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে যান। পরীক্ষায় তার বীর্যে কোনো শুক্রাণু পাওয়া যায়নি, যাকে অ্যাজুস্পার্মিয়া বলা হয়। একই সঙ্গে দেখা যায়, তার দুটো অণ্ডকোষই শরীরের ভেতরে রয়ে গেছে এবং অণ্ডথলিতে নামেনি। এসব অস্বাভাবিকতার কারণ জানতে আরও পরীক্ষা করা হয়।    এমআরআই পরীক্ষায় পেলভিসের ভেতরে জরায়ুর মতো একটি গঠন এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো নালির অস্তিত্ব পাওয়া যায়। জেনেটিক পরীক্ষায় তার ক্রোমোজোম প্যাটার্ন ৪৬,XY বলে নিশ্চিত হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে চিকিৎসকেরা PMDS শনাক্ত করেন।    PMDS একটি অত্যন্ত বিরল জন্মগত শারীরিক অবস্থা। এতে সাধারণত ৪৬,XY ক্রোমোজোম ও পুরুষ শারীরিক বৈশিষ্ট্য থাকা ব্যক্তির শরীরে ভ্রূণ অবস্থায় তৈরি হওয়া মুলেরিয়ান ডাক্ট পুরোপুরি বিলীন হয় না। ফলে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো অভ্যন্তরীণ গঠন থেকে যেতে পারে। এ অবস্থার সঙ্গে অণ্ডকোষ না নামা এবং বন্ধ্যাত্বের সম্পর্কও রয়েছে।    চিকিৎসাবিষয়ক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে এ রোগের কয়েকশরও কম ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। সাধারণত শৈশবেই অণ্ডকোষ না নামা বা অন্য সমস্যার চিকিৎসার সময় এটি ধরা পড়ে। তবে কখনো কখনো বন্ধ্যাত্বের পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও রোগটি শনাক্ত হয়।    আরজি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুবকের দুটো অণ্ডকোষই দীর্ঘদিন ধরে শরীরের ভেতরে থাকায় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মুলেরিয়ান গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দুটো অণ্ডকোষ অপসারণ করা হয়। পরে টিস্যু পরীক্ষায় বাম অণ্ডকোষে Germ Cell Neoplasia In Situ বা GCNIS নামের ক্যানসারের পূর্ববর্তী পরিবর্তন পাওয়া যায়।    চিকিৎসকেরা জানান, দীর্ঘদিন অণ্ডকোষ শরীরের ভেতরে থাকা অবস্থায় ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। এ কারণেই বন্ধ্যাত্বের পাশাপাশি অণ্ডকোষের অস্বাভাবিক অবস্থানও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.36K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.11K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.23K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.09K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.04K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়