Live update news
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ: অভ্যুত্থান থেকে নির্বাচনের পথে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যখন অর্থনৈতিকভাবে হতাশা-গ্রস্ত তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গণবিক্ষোভের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ক্ষমতা পতিত হয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই সংকুচিত হওয়া রাজনৈতিক পরিসর এবং ভয়ভীতিনির্ভর শাসনের অবসান ঘটে। এই মুহূর্তটি শুধু বাংলাদেশের সীমার মধ্যে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গণতন্ত্রের প্রতি নতুন আশা জাগায়।   তবে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের উচ্চ আশা এখন ফিকে হয়ে এসেছে। অভ্যুত্থানের পর সহিংসতা, ধর্মঘট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা নতুন নেতৃত্বের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।   নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চারপাশে। একসময় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর সম্ভব হতো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে। তবে ২০১১ সালে এই ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর থেকে নির্বাচনে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দমন বেড়েছে।   নির্বাচনে এবার একটি নতুন প্রজন্মের ভোটার অংশগ্রহণ করছে। মোট ভোটারের প্রায় ৪৩% বয়স ১৮–৩৭ বছরের মধ্যে। জরিপে দেখা গেছে, তারা পুরনো দলীয় দ্বন্দ্বের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা, চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরপেক্ষ শাসন নিয়ে বেশি আগ্রহী।   ইসলামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীও নতুন রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের মধ্যপন্থী নীতি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে ভোটারের সমর্থন বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে চরমপন্থী গোষ্ঠী নারীদের পর্দার বিধান কঠোর করা, ধর্ম অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ড আরোপ এবং ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে।   বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক সমালোচনার কারণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও নির্বাচন ও সরকারি সংস্থার স্বতন্ত্রতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক মার্কিন গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করছে।   সাম্প্রতিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন এবং গণভোটের মাধ্যমে এটি কার্যকর হচ্ছে না। গণভোটে একটি নতুন জাতীয় সংবিধান প্রস্তাবিত হয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করবে।   তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন। বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলোর বিরোধিতা, আইন ও সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সহযোগিতা না থাকায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এখনই ঝুঁকিপূর্ণ। অভ্যুত্থানের পর অর্থনীতি দুর্বল এবং বৈশ্বিক পরিবেশ চ্যালেঞ্জপূর্ণ।   বাংলাদেশের অভ্যুত্থান আন্তর্জাতিকভাবে দেখিয়েছে যে স্বৈরশাসককে উৎখাত করা সম্ভব, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হলে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করা চ্যালেঞ্জিং এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজ।   নিউইয়র্ক টাইমস

১ মিনিট Ago
জাতীয় নির্বাচনের নিরাপত্তা নিয়ে আইজিপি বাহারুল আলমের সঙ্গে কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের সঙ্গে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে।   মঙ্গলবার রাজধানীর পুলিশ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সাক্ষাৎটি নেতৃত্ব দেন কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের প্রধান এইচ ই নানা আকুফো-আডো। বৈঠকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ইস্যুসহ বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।   পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নির্বাচনের সময় কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নে আইজিপি বাহারুল আলম সার্বিক প্রস্তুতির তথ্য প্রদান করেন। তিনি ঝুঁকিভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা, সাইবার মনিটরিং এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সংক্রান্ত পদক্ষেপের বিস্তারিত তুলে ধরেন।   আইজিপি নিশ্চিত করেন যে, বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।   প্রতিনিধিদল জানিয়েছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারা ২৫ জন পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেবেন এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

২৬ মিনিট Ago
জামায়াতের হুঁশিয়ারি: নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা বরদাশত করবে না যুবসমাজ

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে যদি ভোটের মাঠ বিপন্ন হয়, তবে তা তরুণরা বরদাশত করবে না। মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর মগবাজারে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দেশের শতকরা ৪০ ভাগ ভোটার জীবনে একবারও ভোট দিতে পারেননি। তাই এবারের নির্বাচনে তাদের তৎপরতা এবং সজাগ দায়িত্ব নিশ্চিত করবে ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ।   শফিকুর রহমান জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, যারা বিভ্রান্তি ও ভীতি সৃষ্টি করতে চাইবে, তাদের মোকাবিলা জনগণের সচেতনতা ও প্রতিরোধেই সম্ভব। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনতার বিজয় হবে শেষ পর্যন্ত ইনশা আল্লাহ।   ব্রিফিংয়ে জামায়াতের পাশাপাশি জাতীয় নাগরিক পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিসহ ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

৪৫ মিনিট Ago
রোজা ও গ্রীষ্মে লোডশেডিং সীমিত রাখতে প্রস্তুতি আগের মতোই: বিদ্যুৎ উপদেষ্টা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, আসন্ন পবিত্র রমজান ও গ্রীষ্মে লোডশেডিং সীমিত রাখতে গত বছরের মতোই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনেকে বলছেন আগামী রোজায় ব্যাপক লোডশেডিং হবে, কিন্তু গত বছরের গ্রীষ্মে এমন হয়নি।   মঙ্গলবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দায়িত্বপালনের সময়ে তিন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ তুলে ধরেন। ফাওজুল কবির খান বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে জ্বালানি খাত অনেক ভালো অবস্থায় আছে। সরকার দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেছে এবং স্বল্প মেয়াদে বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও নতুন সরকার প্রস্তুত ব্যবস্থাগুলো গ্রহণ করতে পারবে।   উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে মূল্যায়নের সময় পটভূমি বিবেচনায় নিতে হবে। তিনি বলেন, আমাদের ১৭০টি আন্দোলন মোকাবিলা করতে হয়েছে। গৃহযুদ্ধ এড়ানো, অর্থনীতি রক্ষা করা এবং ভালো নির্বাচনের লক্ষ্য ঠিক রেখে কাজ করা হয়েছে। জ্বালানি খাতের সংকট নিয়ে ফাওজুল কবির জানান, মূল সমস্যা হলো জ্বালানির অভাব। স্থলভাগে নতুন করে ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস যুক্ত করা হলেও উৎপাদন কমে গেছে ২০ কোটি ঘনফুটের বেশি। সমুদ্রে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তির (পিএসসি) খসড়া তৈরি করা হয়েছে।   তিনি আরও জানান, একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল বসানোর পরিকল্পনা চূড়ান্ত অবস্থায় রয়েছে। আগের তুলনায় কম খরচে এটি বসানো সম্ভব এবং নতুন সরকার সিদ্ধান্ত নিলে দেড় বছরের মধ্যে চালু করা যাবে। বিদ্যুতের দাম নিয়ে ফাওজুল কবির বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দাম একবারও বৃদ্ধি করা হয়নি, বরং খরচ কমানোর দিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার ছিল বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতিমুক্তিকরণ। কালা–কানুন হিসেবে পরিচিত বিশেষ বিধান আইন বাতিল করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশনার (বিইআরসি)-এর হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   সংবাদ সম্মেলনের আগে জ্বালানি খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এফইআরবি প্রকাশিত ‘এনার্জি ফর চেঞ্জ’ সাময়িকীর মোড়ক উন্মোচন করেন উপদেষ্টা।

৫৮ মিনিট Ago
ওডস টু আ বাংলাদেশ রিবর্ন সম্পাদনা তানজির রহমান অনিম নিউ বাংলাদেশ ফোরাম
রাজনীতি
বাংলাদেশে গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ: অভ্যুত্থান থেকে নির্বাচনের পথে চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়, যখন অর্থনৈতিকভাবে হতাশা-গ্রস্ত তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে গণবিক্ষোভের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ক্ষমতা পতিত হয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে ক্রমেই সংকুচিত হওয়া রাজনৈতিক পরিসর এবং ভয়ভীতিনির্ভর শাসনের অবসান ঘটে। এই মুহূর্তটি শুধু বাংলাদেশের সীমার মধ্যে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গণতন্ত্রের প্রতি নতুন আশা জাগায়।   তবে গণতন্ত্র পুনর্গঠনের উচ্চ আশা এখন ফিকে হয়ে এসেছে। অভ্যুত্থানের পর সহিংসতা, ধর্মঘট, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা নতুন নেতৃত্বের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে।   নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ এবং খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপির তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার চারপাশে। একসময় ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর সম্ভব হতো নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মাধ্যমে। তবে ২০১১ সালে এই ব্যবস্থা বাতিল হওয়ার পর থেকে নির্বাচনে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দমন বেড়েছে।   নির্বাচনে এবার একটি নতুন প্রজন্মের ভোটার অংশগ্রহণ করছে। মোট ভোটারের প্রায় ৪৩% বয়স ১৮–৩৭ বছরের মধ্যে। জরিপে দেখা গেছে, তারা পুরনো দলীয় দ্বন্দ্বের চেয়ে আইনশৃঙ্খলা, চাকরি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরপেক্ষ শাসন নিয়ে বেশি আগ্রহী।   ইসলামপন্থী রাজনৈতিক গোষ্ঠীও নতুন রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী তাদের মধ্যপন্থী নীতি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলার মাধ্যমে ভোটারের সমর্থন বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে চরমপন্থী গোষ্ঠী নারীদের পর্দার বিধান কঠোর করা, ধর্ম অবমাননার জন্য মৃত্যুদণ্ড আরোপ এবং ইসলামি খেলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে।   বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্কেও চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে টানাপোড়েন এবং হিন্দু সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আন্তর্জাতিক সমালোচনার কারণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রেও নির্বাচন ও সরকারি সংস্থার স্বতন্ত্রতা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক মার্কিন গণতন্ত্রকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করছে।   সাম্প্রতিকভাবে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে ভবিষ্যতের নির্বাচনের জন্য আগের তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল হবে বলে জানানো হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন এবং গণভোটের মাধ্যমে এটি কার্যকর হচ্ছে না। গণভোটে একটি নতুন জাতীয় সংবিধান প্রস্তাবিত হয়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নির্বাহী ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা নিশ্চিত করবে।   তবে এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন কঠিন। বিএনপি ও অন্যান্য দলগুলোর বিরোধিতা, আইন ও সাংবিধানিক সংশোধনের প্রয়োজন এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সহযোগিতা না থাকায় বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এখনই ঝুঁকিপূর্ণ। অভ্যুত্থানের পর অর্থনীতি দুর্বল এবং বৈশ্বিক পরিবেশ চ্যালেঞ্জপূর্ণ।   বাংলাদেশের অভ্যুত্থান আন্তর্জাতিকভাবে দেখিয়েছে যে স্বৈরশাসককে উৎখাত করা সম্ভব, কিন্তু রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হলে গণতন্ত্র পুনর্গঠন করা চ্যালেঞ্জিং এবং দীর্ঘমেয়াদি কাজ।   নিউইয়র্ক টাইমস

শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ (ফাইল ছবি)
উপদেষ্টাদের সম্পদের হিসাব নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং তাদের স্বামী বা স্ত্রীদের সম্পদের বিবরনী প্রকাশ করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গত এক বছরে বেশিরভাগ উপদেষ্টার সম্পদ বাড়লেও, কারো কারো ক্ষেত্রে চিত্রটি ভিন্ন। প্রধান উপদেষ্টা থেকে শুরু করে ছাত্র প্রতিনিধি—কার ব্যাংক ব্যালেন্সে কত টাকা যোগ হলো? চলুন দেখে নেওয়া যাক হিসাবের ব্যবচ্ছেদ:   বিবরণী অনুযায়ী বেশিরভাগ উপদেষ্টা এবং তাদের স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণই বেড়েছে।  অর্থবছর অনুযায়ী ৩০শে জুন ২০২৪ থেকে ৩০শে জুন ২০২৫ এই সময়ের সম্পদের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী প্রায় আট মাসের হিসেব এখানে দেওয়া হয়নি। সম্পদের বিবরণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট আর্থিক সম্পদ বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি। এছাড়া উপদেষ্টা আদিলুর রহমান এবং বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কমলেও বেশ বেড়েছে তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদও। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদী আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারের কারণে প্রধান উপদেষ্টার মোট সম্পদ বেড়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের নন ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে কোটি টাকার কাছাকাছি।   এছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। মোট হিসেবে সব থেকে বেশি অর্থ-সম্পদের মালিক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার পরেই রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। রহমান এবং স্ত্রীর সম্পদের হিসাব একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবরণ অনুযায়ী তাদের বেশিরভাগ সম্পদই দেশের বাইরে।   শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেওয়া সদস্যদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আলমের সম্পদের হিসাব এই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থেকে উপদেষ্টা হওয়া নাহিদ ইসলামের তথ্য, দায়িত্ব থেকে সরে দাড়ানোর সময় তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন। মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা মোট ২৭ জন এবং তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের হিসেব উল্লেখ করা হয়েছে।   সম্পদের বিবরণ অনুযায়ী, উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কিছু কমলেও দেড় কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার। তার কোটি টাকার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ও দেখানো হয়েছে। তিশার মোট সম্পদ এক কোটি ৪০ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা থেকে দুই কোটি ৯৯ লক্ষ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকা হয়েছে। মোট সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের। যা ৯৮ লক্ষ ২২ হাজার সাত টাকা থেকে বেড়ে দুই কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা হয়েছে।   অর্থাৎ দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে মি. রহমানের। তার স্ত্রীর সম্পদও ৬৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বেড়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের। চার কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা থেকে তার মোট সম্পদ হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। তার স্ত্রী সম্পদও বেড়েছে ২৫ লক্ষ টাকার কিছু বেশি।   অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় লাখ টাকার কাছাকাছি বাড়লেও তার স্ত্রী মিজ পারভীন আহমেদ এর মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এই এক বছরে তার ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক দায়ও বেড়েছে।   কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের। ব্যাংক আমানত থেকে পাওয়া মুনাফা, ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থেকে আয়- এসব কারণে তার সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এর এই এক বছরে প্রায় বারো লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। আর তার স্ত্রী শীলা আহমেদ এর বেড়েছে ৪৩ লক্ষ টাকার সম্পদ। প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের। তবে তার স্ত্রীর সম্পদ কমেছে। আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মোট সম্পদের পরিমাণ ষোল লক্ষ টাকার মতো বাড়লেও তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে দুই লক্ষ টাকার কিছু বেশি।   শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এর ৫৫ লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। আর তার স্ত্রীর প্রায় বেড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সম্পদ। উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকার মতো বেড়েছে। তার স্ত্রীর বেড়েছে ১০ লক্ষ টাকার কিছু বেশি।   এই সময়ে উপদেষ্টাদের মধ্যে সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। কোটি টাকার বেশি সম্পদ কমেছে তার। আর্থিক বিবরণের শুরুতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা হলেও সবশেষ হিসেবে এক কোটি ১২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।   উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এর সম্পদ এক কোটি ৭৬ লক্ষ থেকে দুই কোটি দুই লক্ষ হয়েছে। তার স্ত্রীরও তিন লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ বাড়লেও কমেছে তার স্ত্রীর। মি. হোসেনের ২৬ লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে।   একইভাবে নিজের সম্পদ কিছু বাড়লেও কমেছে উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এর স্বামীর মোট সম্পদ। বিবরণ অনুযায়ী, দেড় কোটি টাকার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় রয়েছে তার স্বামীর। সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং তার স্বামীর। মিজ আখতারের মোট সম্পদ ৮১ লক্ষ থেকে এক কোটি দুই লক্ষ হয়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।   উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এর মোট সম্পদ প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা বাড়লেও তার স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরির মোট সম্পদ কোটি টাকা বেড়েছে। যদিও তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় কোটি টাকা দেখানো হয়েছে।   মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা থেকে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা হয়েছে উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের। তার স্ত্রী সম্পদও কিছু বেড়েছে। উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং তার স্ত্রী উভয়ের মোট সম্পদ কমেছে।   টাকার হিসেবে উপদেষ্টাদের মধ্যে সবথেকে ধনী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার মোট সম্পদ ৯১ কোটি ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা থেকে ৯১ কোটি ৬৫ লক্ষ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়েছে। প্রায় তিন লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রীরও।   প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী, দূত এবং উপদেষ্টাদের অনেকের আর্থিক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ এবং তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।   প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের হিসেব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। এক্ষেত্রে অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২০২৫ সালের নভেম্বরে উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগদান করেছেন। এতে করে এই বিবরণীর মধ্যে তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।   আর প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অবৈতনিক হওয়ায় তিনি সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা নেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমানের সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। যদিও তার মোট সম্পদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে।   বিবরণ অনুযায়ী মি. রহমান এবং তার স্ত্রীর দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ২২ লক্ষ টাকা। আর ৪৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৫০ মার্কিন ডলারের মোট সম্পদ রয়েঝে দেশের বাইরে। এছাড়া ১২ লক্ষ মার্কিন ডলারের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   শিক্ষার্থী উপদেষ্টাদের বিষয়ে যা জানা গেল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকেও যুক্ত করা হয়েছিল।   উপদেষ্টাদের সম্পদের যে বিবরণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে সেখানে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ছাত্র উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণও দেওয়া হয়েছে।   সম্পদের বিবরণ অনুয়ায়ী, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে তার ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন না থাকায় আগে তার সম্পদের পরিমাণ কত ছিল সে বিয়ষে উল্লেখ করা হয়নি।   আরেক শিক্ষার্থী উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। বিবরণী অনুযায়ী চার লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে এক বছরে তার সম্পদ হয়েছে ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা।   উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সম্পদের হিসেব এই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার পর গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছিলেন তিনি।   ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, "উপদেষ্টা পদে যোগদানের আগে আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। ২১শে অগাস্ট উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্মানী গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারিভাবে সোনালী ব্যাংকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলি।"   ওই অ্যাকাউন্টে ২১শে অগাস্ট ২০২৪ থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত হিসাবে দশ লক্ষ ছয় হাজার ৮৮৬ টাকা জমা হয়েছে এবং নয় লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার ১৮০ টাকা উত্তোলিত হয়েছে বলে জানান তিনি। সোনালী ব্যাংকের এই অ্যাকাউন্ট ছাড়া তার অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট নেই বলেও ওই সময় জানিয়েছিলেন নাহিদ।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
এককভাবে সরকার গঠনে আত্মবিশ্বাসী তারেক রহমান

দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফিরে ডয়চে ভেলেকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি, নির্বাচন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।   নির্বাচন ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে তারেক রহমান: আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি জানান, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য তারা প্রস্তুত। তবে দীর্ঘ প্রবাস জীবন থেকে ফেরার মাত্র ৫ দিনের মাথায় মাতৃহারা হওয়া এবং একই সাথে নির্বাচনের ডামাডোল সামলানোই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ।   একক সরকার ও জোট রাজনীতি: জামায়াত বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে ‘ঐক্যের সরকার’ গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, "আমরা আত্মবিশ্বাসী যে জনগণের রায় নিয়ে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠন করবে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থার জন্য শক্তিশালী বিরোধী দল থাকা জরুরি, আর তাই সবাই সরকারে যোগ দিলে দেশ সঠিকভাবে চলবে না।"   পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় স্বার্থ: ভারত ও চীনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, সম্পর্ক হবে জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হয় না—এমন কোনো চুক্তি বা সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমঝোতা করবে না বিএনপি। ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এর এই যুগে পারস্পরিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও উন্নয়ন বজায় রেখেই এগিয়ে যেতে চান তারা।   নারী ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষা: নারীদের জন্য তারেক রহমানের পরিকল্পনা বেশ সুদূরপ্রসারী। কেবল কিছু নমিনেশন দিয়ে নয়, বরং শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতার মাধ্যমে নারীদের মূলধারায় আনতে চান তিনি। প্রান্তিক নারীদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং নারী শিক্ষার সুযোগ উচ্চতর পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে নারীদের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য বড় শহরগুলোতে ‘নারী পরিচালিত ও শুধুমাত্র নারীদের জন্য ইলেকট্রিক বাস’ চালুর ঘোষণা দেন তিনি।   বিচার ও দুর্নীতি দমন: বিগত বছরগুলোতে গুম-খুনের শিকার পরিবারগুলোর জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানান তারেক রহমান। একই সাথে দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক কারণে হওয়া ‘ব্যাংক ডিফল্ট’ বা ঋণখেলাপির মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে প্রতিহিংসার শিকার হয়ে অনেক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার বিচার হওয়া প্রয়োজন।

মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা
বিশ্বের নজর এড়িয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালাচ্ছে জান্তা

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের ক্রমবর্ধমান বিমান হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, অথচ বিশ্ব সম্প্রদায় এই ভয়াবহতার দিকে নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে বিমান শক্তির ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য এবং সাগাইং অঞ্চলে এই হামলার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওই নেতা জানান, জান্তা বাহিনী এখন শুধু সম্মুখ যুদ্ধে লড়ছে না, বরং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে স্কুল, হাসপাতাল এবং ধর্মীয় উপাসনালয় লক্ষ্য করে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করছে।   তিনি বলেন, "বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যতটা সোচ্চার, মিয়ানমারের ক্ষেত্রে তারা ততটাই উদাসীন। আমাদের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃত্যুভয়ে দিন কাটাচ্ছে, কিন্তু এই রক্তপাত বন্ধে কার্যকর কোনো বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেই।"   জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, জান্তা বাহিনী কিছু ক্ষেত্রে উন্নত ড্রোন এবং বিদেশি জ্বালানি ব্যবহার করে এই হামলাগুলো পরিচালনা করছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থল যুদ্ধে বিদ্রোহীদের কাছে একের পর এক ঘাঁটি হারানোর পর জান্তা সরকার এখন আকাশপথকে তাদের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিমান হামলা চালিয়ে তারা বিদ্রোহীদের রসদ ধ্বংস করার পাশাপাশি বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করে দিচ্ছে, যাতে তারা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সমর্থন করতে না পারে।   মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, যদি এখনই আন্তর্জাতিক মহল থেকে মিয়ানমারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং বিমান জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি না করা হয়, তবে এই মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। সূত্র: রয়টার্স।

জেফরি এপস্টাইন
এপস্টাইনের নথি থেকে মুছে ফেলা হয়েছে ছয় সম্ভাব্য সন্দেহভাজনের তথ্য

মার্কিন বিচার বিভাগের অসম্পাদিত নথিতে জেফরি এপস্টাইন মামলার এমন কিছু তথ্য বেরিয়ে এসেছে, যা রীতিমতো তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। রিপাবলিকান থমাস ম্যাসি এবং ডেমোক্র্যাট রো খন্না জানিয়েছেন, নথিতে এমন কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম রয়েছে যারা সরাসরি অপরাধের সাথে জড়িত থাকতে পারেন। তবে রহস্যজনকভাবে বিচার বিভাগ সেই নামগুলো কালো কালি দিয়ে ঢেকে (Redacted) রেখেছে।   উভয় আইনপ্রণেতাই জানিয়েছেন, নথিতে থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে একজন অত্যন্ত ‘পরিচিত নেতা’ এবং অন্যজন জনসমক্ষে বেশ ‘সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব’। তাঁরা এই গোপন নথিগুলো জনসম্মুখে প্রকাশ করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। তবে ‘বক্তৃতা ও বিতর্ক ধারা’র আইনি জটিলতা এবং ফৌজদারি দায়বদ্ধতার ঝুঁকি তাঁদের কিছুটা সতর্ক করে রেখেছে।   এর আগে হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির ডেমোক্র্যাট জেমি রাসকিন এবং অন্যান্য আইনপ্রণেতারা অভিযোগ করেছিলেন যে, বিচার বিভাগ উদ্দেশ্যমূলকভাবে এপস্টাইন মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করছে। এই নতুন তথ্য সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করে তুলল। সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—সেই ‘পরিচিত নেতা’ আসলে কে?

নির্বাচন কমিশন (ইসি)
জেনে নিন কোন ৫টি যান বন্ধ থাকছে

নির্বাচন মানেই বাড়তি সতর্কতা। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে ৫ ধরনের যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকেই কার্যকর হচ্ছে এই নিয়ম। আপনি কি কাল ঘর থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা করছেন? তবে জেনে নিন কোন গাড়িগুলো রাস্তায় নামানো যাবে না এবং কোনগুলো চলবে স্বাভাবিকভাবে।   জরুরি এই তথ্যগুলো দেখে নিন একনজরে:   বন্ধ থাকবে যে ৫ যান: বুধবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার মধ্যরাত পর্যন্ত ট্যাক্সিক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।   মোটরসাইকেল নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা: মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে শুক্রবার মধ্যরাত পর্যন্ত টানা ৩ দিন মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ। তবে ইসির স্টিকারযুক্ত বাইক এই নিয়মের বাইরে থাকবে।   নিজস্ব গাড়ি ও মেট্রোরেল: ব্যক্তিগত গাড়ি (কার) নিয়ে ভোটাররা কেন্দ্রে যেতে পারবেন। এছাড়া মেট্রোরেল চলবে একদম স্বাভাবিক শিডিউলে।   জরুরি সেবা ও বিমান যাত্রী: অ্যাম্বুলেন্স, ওষুধ, সংবাদপত্র এবং জরুরি সেবার গাড়ি চলাচলে কোনো বাধা নেই। এছাড়া বিদেশের যাত্রী বা তাদের আত্মীয়রা টিকিট দেখিয়ে যাতায়াত করতে পারবেন।   দূরপাল্লার পরিবহন: দূরপাল্লার বাস এবং স্থানীয় গণপরিবহন চলাচলের ক্ষেত্রে ইসি এখন পর্যন্ত কোনো নিষেধাজ্ঞা দেয়নি।   শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এই নিয়মগুলো মেনে চলুন। তথ্যটি অন্যদের জানাতে পোস্টটি শেয়ার করে রাখুন।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনীর জন্য ইন্দোনেশিয়া প্রস্তুত করছে ৮ হাজার সেনা
শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0

ফিলিস্তিনের গাজার জন্য প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী ২০ হাজার সেনা নিয়ে গঠিত হতে পারে, যার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া একাই ৮ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্টোর মুখপাত্র প্রাসেত্যো হাদি মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। খবর আল জাজিরার।   গত বছর ইন্দোনেশিয়া গাজার শান্তিরক্ষা বাহিনীর জন্য ২০ হাজার সেনা প্রস্তুত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে দেশটি জানিয়েছে, বাহিনীর ম্যান্ডেট বিস্তারিত জানার পরই চূড়ান্তভাবে সেনা মোতায়েন করা হবে। হাদি জানান, আমরা শুধু প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে কোনো চুক্তি হলে আমরা শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠাতে পারি।   এর আগে জাকার্তায় প্রেসিডেন্ট প্রাবোওর সঙ্গে নিরাপত্তা বৈঠক করেন দেশটির সেনাপ্রধান মারুলি সিমানজুনতাক। বৈঠকের পর তিনি জানিয়েছেন, একটি ব্রিগেড সম্ভাব্যভাবে ৫,০০০ থেকে ৮,০০০ সেনাকে ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।   জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গত নভেম্বর প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতির পর গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে অক্টোবরে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতি এখনও নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং চলমান সহিংসতায় মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।   চলতি মাসের শেষ দিকে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোওকে ওই বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

ভারতের হিন্দু পুনরুত্থানবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত। ছবি: সংগৃহীত
আরএসএস প্রধানের আহ্বান: বাংলাদেশের সোয়া এক কোটি হিন্দু একত্রিত হোন
শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0

ভারতের হিন্দু পুনরুত্থানবাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত বাংলাদেশের হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য লড়াই চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, ভারতের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের হিন্দুরাও তাদের পাশে দাঁড়াবে।   মুম্বাইয়ে আরএসএসের শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে সাক্ষাৎকারে ভাগবত বলেন, বাংলাদেশে এখনো সোয়া এক কোটি হিন্দু রয়েছেন। তারা যদি একজোট হন, নিজেদের অবস্থার উন্নতি এবং নিরাপত্তা রক্ষায় রাজনৈতিক পরিসর ব্যবহার করতে পারবেন। দেশে তারা পালানোর সিদ্ধান্ত নেনি, বরং লড়াই করবে।   তিনি আরও বলেন, হিন্দুদের মধ্যে ঐক্য এবং শক্তি গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা যায়। এই প্রসঙ্গে তিনি সিভিল ডিফেন্স প্রশিক্ষণ ও সম্প্রদায়ের স্ব-সচেতনতার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন।   ভাগবত বলেন, সংঘের কর্মীরা সন্দেহজনক অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত করে প্রশাসনকে তথ্য প্রদান করছে। এছাড়া ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। তিনি জানান, সামাজিক ও জনসংখ্যাগত ভারসাম্য রক্ষায় ধর্মান্তর, অনুপ্রবেশ ও কম জন্মহারকে তিনটি মূল কারণ হিসেবে দেখছেন।   তবে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র দু’দিন আগে এই বক্তব্যকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও গত ডিসেম্বরে জানিয়েছে, সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর বাংলাদেশে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ভারতের বিভিন্ন শহরে আরএসএস, বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের মতো সংগঠনগুলো প্রতিবাদ জানায়।   বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারতের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে এবং সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।   এই আহ্বান এবং মন্তব্যগুলোকে বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থার আলোকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

ছবি: সংগৃহীত
গাজায় থার্মোবারিক হামলায় ‘নিখোঁজ’ হাজারো ফিলিস্তিনি, দেহ মিলছে না
শাহারিয়া নয়ন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0

গাজায় চলমান সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় বহু ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার পাশাপাশি হাজারো মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া যাচ্ছে না। আল জাজিরা আরবির এক অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ২ হাজার ৮৪২ জনকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে।   ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট গাজার আল-তাবিন স্কুলে ইসরায়েলি হামলার পর ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছেলে খুঁজতে গিয়ে ইয়াসমিন মাহানি সাদ মাহানির কোনো খোঁজ পাননি। হাসপাতাল ও মর্গে দিনের পর দিন অনুসন্ধান করেও তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি।   গাজার সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল জানিয়েছেন, প্রতিটি হামলার পর ‘বিয়োজন পদ্ধতি’ অনুসরণ করা হয়। কোনো বাড়িতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা পরিবারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। নির্ধারিত সংখ্যার তুলনায় মরদেহ কম পাওয়া গেলে এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও কিছু না মিললে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়।   তদন্তে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ থার্মাল ও থার্মোবারিক অস্ত্র ব্যবহারের কারণে মানুষের দেহ মুহূর্তে ভস্মে পরিণত হচ্ছে। রুশ সামরিক বিশ্লেষক ভাসিলি ফাতিগারভ জানিয়েছেন, থার্মোবারিক বোমায় অ্যালুমিনিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও টাইটানিয়ামের ধাতব গুঁড়া ব্যবহৃত হয়, যা বিস্ফোরণে ২,৫০০–৩,০০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা তৈরি করে। এতে দেহের তরল অংশ দ্রুত বাষ্পে পরিণত হয়ে যায়।   গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মুনির আল-বুরশ বলেন, মানবদেহের বড় অংশই পানি, তাই চরম তাপ ও চাপের কারণে দেহের টিস্যু মুহূর্তেই বাষ্পীভূত হয়ে যায়। অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কিছু বিশেষ বোমার ব্যবহারের কথাও উঠে এসেছে, যেগুলো ভবনের কাঠামো অক্ষত রেখে ভেতরের মানুষ পুরোপুরি ধ্বংস করে।   আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহারের দায় শুধু হামলাকারী ইসরায়েলের নয়, অস্ত্র সরবরাহকারী দেশগুলোরও। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক ও সামরিক লক্ষ্যবস্তু আলাদা করতে অক্ষম অস্ত্র ব্যবহার যুদ্ধাপরাধের অন্তর্ভুক্ত।   যুদ্ধাহতদের স্বজনদের কাছে এসব আইনি ব্যাখ্যার তেমন গুরুত্ব নেই। বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে চার সন্তান হারানো রফিক বদরান জানিয়েছেন, তাঁর সন্তানদের দেহের সামান্য অংশ ছাড়া কিছুই উদ্ধার করা যায়নি। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “ওরা কোথায় চলে গেল?”   এই অনুসন্ধান বিশ্বের কাছে গাজার হামলার প্রকৃত মানবিক বিপর্যয়ের ছবি তুলে ধরছে, যেখানে বেসামরিক মানুষদের জীবন ও মর্যাদা ধ্বংসের শিকার হচ্ছে।

মিয়ানমারের শীর্ষস্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা
বিশ্বের নজর এড়িয়ে ভয়াবহ বিমান হামলা চালাচ্ছে জান্তা
ইশতিয়াক মাহমুদ ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0

মিয়ানমারে জান্তা সরকারের ক্রমবর্ধমান বিমান হামলায় শত শত বেসামরিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, অথচ বিশ্ব সম্প্রদায় এই ভয়াবহতার দিকে নজর দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির একটি শীর্ষস্থানীয় সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা। রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বর্তমানে তাদের নিয়ন্ত্রণ হারানো এলাকাগুলো পুনরুদ্ধারে মরিয়া হয়ে বিমান শক্তির ওপর নির্ভর করছে। বিশেষ করে রাখাইন রাজ্য এবং সাগাইং অঞ্চলে এই হামলার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। সশস্ত্র গোষ্ঠীর ওই নেতা জানান, জান্তা বাহিনী এখন শুধু সম্মুখ যুদ্ধে লড়ছে না, বরং সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করতে স্কুল, হাসপাতাল এবং ধর্মীয় উপাসনালয় লক্ষ্য করে নির্বিচারে বোমা বর্ষণ করছে।   তিনি বলেন, "বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যতটা সোচ্চার, মিয়ানমারের ক্ষেত্রে তারা ততটাই উদাসীন। আমাদের সাধারণ মানুষ প্রতিদিন আকাশের দিকে তাকিয়ে মৃত্যুভয়ে দিন কাটাচ্ছে, কিন্তু এই রক্তপাত বন্ধে কার্যকর কোনো বৈশ্বিক পদক্ষেপ নেই।"   জাতিসংঘের তথ্যানুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিমান হামলায় নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যেই অন্তত ১৭০ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, জান্তা বাহিনী কিছু ক্ষেত্রে উন্নত ড্রোন এবং বিদেশি জ্বালানি ব্যবহার করে এই হামলাগুলো পরিচালনা করছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থল যুদ্ধে বিদ্রোহীদের কাছে একের পর এক ঘাঁটি হারানোর পর জান্তা সরকার এখন আকাশপথকে তাদের প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে। বিমান হামলা চালিয়ে তারা বিদ্রোহীদের রসদ ধ্বংস করার পাশাপাশি বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে বাস্তুচ্যুত করে দিচ্ছে, যাতে তারা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সমর্থন করতে না পারে।   মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, যদি এখনই আন্তর্জাতিক মহল থেকে মিয়ানমারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং বিমান জ্বালানি সরবরাহে বাধা সৃষ্টি না করা হয়, তবে এই মানবিক বিপর্যয় আরও ভয়াবহ রূপ নেবে। সূত্র: রয়টার্স।

Follow us

Trending

ফটো: সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন
“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

ফেব্রুয়ারি ৮, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
80 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
86 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
64 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ধর্ম
Advertisement
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
সারাদেশ
জাতীয়