ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইউএসসিআইএস- এর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম লুকমান ওলাবি গানিউ। তবে তার আইনজীবী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, গানিউ ইউএসসিআইএস-এ তার পদের অপব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস (গ্রিন কার্ড) ও নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করতেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রয়োজনীয় সরকারি যাচাই-বাছাই এড়িয়ে বিভিন্ন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এসবের মধ্যে গ্রিন কার্ডের জন্য ব্যবহৃত ‘আই-৪৮৫’ ফর্ম ছাড়াও পারিবারিক স্পনসরশিপ ও নাগরিকত্বের আবেদন অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, এই দুর্নীতি চক্রে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামে আরেকজন সহযোগী যুক্ত ছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর গানিয়ু ও সোমোয়ে উভয়কেই গ্রেফতার করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে তারা আবেদনকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তদন্তকারীরা জানান। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গানিয়ুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩০ ডলারের অজ্ঞাত নগদ জমা এবং জেলি ও ক্যাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৮ ডলার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। অথচ ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে তার বৈধ বেতন ছিল প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৮৩৮ ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে একটি গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। উল্লেখ্য, গানিউ ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইউএসসিআইএস-এ যোগ দেন এবং ক্যানসাস, টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি ডালাসে জ্যেষ্ঠ অভিবাসন সেবা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। অন্যদিকে, গানিয়ুর আইনজীবী আলফনসো কাবানাস নিউজউইককে জানান, তার মক্কেল কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং সরকারের আনা অর্থনৈতিক লেনদেনের বিবরণীকে তারা চ্যালেঞ্জ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আবেদনের অনুমোদন ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইউএসসিআইএসের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার একটি দুর্নীতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের সাবেক সিনিয়র ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস অফিসার। তাঁর সঙ্গে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল আদালতে ৩১ আগস্ট দাখিল করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ তাঁর সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। এর মধ্যে ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন, গ্রিন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন এবং নাগরিকত্বের আবেদন। এসব আবেদনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা ফেডারেল আইনের অধীনে যোগ্য ছিলেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গানিউ স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ পাশ কাটিয়ে আবেদন অনুমোদন করতেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, নির্ধারিত এখতিয়ার, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং ইউএসসিআইএসের নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, গানিউ ও সোমোয়ে মিলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার অর্থ নিয়েছেন। তদন্তে তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার বার্তা এবং শত শত ফোনকলের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিছু অর্থপ্রদানের সঙ্গে নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদনের সরাসরি যোগসূত্রও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গানিউয়ের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো সরকারি কর্মকর্তাকে অবৈধ অর্থ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি আসামির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস। ফেডারেল প্রসিকিউটর রায়ান রেবোল্ড বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তার হাতে বৈধ ইমিগ্রেশন সুবিধার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া জনগণের আস্থার গুরুতর অপব্যবহার। এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো এখনো অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। ফেডারেল বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ফৌজদারি অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বাসা থেকে কাজ করছিলেন ২৩ বছর বয়সী টিয়াহনা। কয়েক দিন ধরে ঘরের ছাদ থেকে একটানা অদ্ভুত শব্দ শুনছিলেন তিনি। তবে সেই শব্দ যে এত বড় কাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তা কল্পনাও করেননি। ঘটনার দিন কাজের ফাঁকে দুপুরের বিরতিতে ছিলেন টিয়াহনা। হঠাৎ আবার ছাদের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। কী হচ্ছে, তা দেখতে তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায় দুটি পসাম। টিয়াহনা জানান, শব্দ শুনে তিনি ধারণা করেছিলেন ছাদের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণীর কারণে এমনটা হতে পারে। তাই ভিডিও শুরু করেছিলেন - যদি পরে কাউকে বলতে হয়, তাহলে যেন প্রমাণ দেখাতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভিডিওতেই ধরা পড়ে ছাদ ভেঙে পসাম দুটি ঘরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। টিয়াহনা ও তাঁর রুমমেটরা প্রায় দুই বছর ধরে বাসার ছাদে পসামের উপস্থিতি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। রাতের বিভিন্ন সময় ছাদ থেকে শব্দ শোনা যেত। একটি পসাম সরানোর জন্য বাড়ির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লোকও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। টিয়াহনার ধারণা, ছাদের ভেতরে থাকা দুই পসামের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে ছাদের দুর্বল অংশ ভেঙে তারা রান্নাঘরের ভেতর পড়ে যায়। ওই অংশটি আগে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পরে ছাদের ভাঙা অংশটি একটি বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ব্রিসবেনে মানুষের বাসাবাড়ির ছাদ বা সিলিংয়ের ভেতর পসাম আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরাঞ্চলে এসব প্রাণীর প্রাকৃতিক আশ্রয় কমে যাওয়ায় তারা অনেক সময় মানুষের বাড়ির ছাদ, গ্যারেজ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেয়। পসাম অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী।
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরি থেকে নির্গত ছাইয়ের কারণে দু'দিন বন্ধ থাকার পর দেশটির প্রধান প্রধান বিমানবন্দরগুলো আবার চালু হয়েছে। তবে মঙ্গলবার নতুন করে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হওয়ায় পুনরায় ফ্লাইট চলাচলে ফের বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। রোববার থেকে শুরু হওয়া বিমানবন্দর বন্ধের ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল বা বিঘ্নিত হয়, যার মধ্যে ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। এতে ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী দুর্ভোগে পড়েন। যোগাযোগমন্ত্রী দুদি পুরওয়াগান্ধি জানান, ‘রাজধানী জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা ও হালিম পারদানা কুসুমা বিমানবন্দর, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের হুসেইন সাস্ত্রানেগারা বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের দুটি ছোট বিমানবন্দর মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে সুমাত্রার ল্যাম্পুংয়ের রাদিন ইন্তেন ২-সহ তিনটি বিমানবন্দর মঙ্গলবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বন্ধ ছিল। এর আগে গত রবিবার থেকে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় ৬২২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটসহ মোট ২,৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল হয় এবং প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়েন।‘ তিনি আরও বলেন,’বাতাসের দিক পরিবর্তনশীল হওয়ায় কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও বিমানে ছাই জমা হয়েছে কি না তা পরীক্ষা এবং রানওয়ে পরিষ্কার করার জন্য বাড়তি সময় নেওয়া হয়। এছাড়া সুকর্ণ-হাত্তা বিমানবন্দরে আটকে থাকা ১৭৮টি বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।‘ সান্দা প্রণালীতে অবস্থিত আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরিটি গত রবিবার থেকে একটানা অগ্ন্যুৎপাত ঘটানোর পর মঙ্গলবার সকালেও সক্রিয় ছিল। সকাল ৫টা ০৮ মিনিট ও ৫টা ৩৪ মিনিটে দুটি ছোট অগ্ন্যুৎপাত রেকর্ড করা হয়। ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া জানান, পরিস্থিতি আগের মতো ভয়াবহ না হলেও সতর্ক নজরদারি চালানো হচ্ছে। আগ্নেয়গিরিটিকে সতর্কতার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্তরে রাখা হয়েছে এবং ৩ কিলোমিটারের মধ্যে পর্যটক, স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলেদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থার প্রধান লানা সারিয়া বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এসব অগ্ন্যুৎপাতের প্রভাব আগের তুলনায় কম। তবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।‘ বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় যাত্রীদেরও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। জাভার মালাং থেকে রোববার সকাল থেকে জাকারিয়া ফেরার চেষ্টা করা ৪৬ বছর বয়সী ফিন্না জানান, ‘বারবার ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন হওয়ায় বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তিনি দুটি আন্তঃনগর ট্রেনে রাতভর যাত্রা করে সোমবার ভোর ৩টায় জাকারিয়ায় পৌঁছান।‘ উল্লেখ্য, ১৮৮৩ সালে বিখ্যাত ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সমুদ্র থেকে উঠে আসে এই 'আনাক ক্রাকাতাউ' (ক্রাকাতাউয়ের সন্তান)। এর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই আগ্নেয়গিরির একাংশ ধসে পড়ে সৃষ্ট সুনামিতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। প্রশান্ত মহাসাগরীয় 'রিং অব ফায়ার' এলাকায় অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ায় ১২০টিরও বেশি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তা ও ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে কাজ করা ব্যক্তিদের সরকারি চাকরিতে নিয়োগের পথ বন্ধ করতে একটি বিল পাস করেছে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভা। এখন বিলটি গভর্নর গ্যাভিন নিউজমের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ‘গেট দ্য ফেডস আউট অ্যাক্ট’ বা ‘জিটিএফও অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত বিলটির লক্ষ্য হলো যারা ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন, তাদের ক্যালিফোর্নিয়ার বিভিন্ন সরকারি সংস্থায় চাকরির ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করা। এর আওতায় রাজ্য, কাউন্টি, শহর, স্কুল ডিস্ট্রিক্টসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান পড়বে। বিলটি অ্যাসেম্বলিতে মে মাসে ৫৩-২১ ভোটে পাস হয়। আগস্টের শেষ দিকে সিনেটও বিলটি অনুমোদন করে এবং সিনেটের সংশোধনীতে অ্যাসেম্বলির সম্মতি পাওয়ার পর এটি গভর্নরের কাছে পাঠানো হয়। বিলটির মূল উদ্যোক্তাদের একজন ডেমোক্র্যাট অ্যাসেম্বলিম্যান মার্ক গনজালেজ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্টে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে একই ধরনের দায়িত্বশীলতা ও মূল্যবোধের মানদণ্ড থাকা প্রয়োজন। তবে বিলটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা এর সমালোচনা করে বলেছেন, ফেডারেল ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করাকে কেন্দ্র করে কাউকে ভবিষ্যতে সরকারি চাকরি থেকে বাদ দেওয়া আইনগত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। বিলটিতে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ার কোনো পুলিশ সংস্থায় যোগ দিয়ে রাজ্যের মৌলিক পুলিশ প্রশিক্ষণ নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে প্রার্থীর যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। গভর্নর নিউজম এখন বিলটিতে স্বাক্ষর করবেন নাকি ভেটো দেবেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। আইনসভা থেকে পাস হওয়া বিলগুলোতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তাঁর ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে ক্যালিফোর্নিয়াই হবে সাবেক ফেডারেল ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট কর্মকর্তাদের অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা প্রথম অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি।
যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আবেদনের অনুমোদন ও দ্রুত প্রক্রিয়াকরণের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ইউএসসিআইএসের সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি পদ ব্যবহার করে ইমিগ্রেশন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার একটি দুর্নীতি চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা লুকমান ওওলাবি গানিউ, ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের সাবেক সিনিয়র ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস অফিসার। তাঁর সঙ্গে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামের আরেক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুজনকেই ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল আদালতে ৩১ আগস্ট দাখিল করা ফৌজদারি অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত গানিউ তাঁর সরকারি পদ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদন ও দ্রুত নিষ্পত্তি করতেন বলে তদন্তকারীদের অভিযোগ। এর মধ্যে ছিল পরিবারের সদস্যদের জন্য ইমিগ্রেশন আবেদন, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের আবেদন, গ্রিন কার্ডের শর্ত তুলে নেওয়ার আবেদন এবং নাগরিকত্বের আবেদন। এসব আবেদনের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে আবেদনকারীরা ফেডারেল আইনের অধীনে যোগ্য ছিলেন না বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, গানিউ স্বাভাবিক ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার একাধিক ধাপ পাশ কাটিয়ে আবেদন অনুমোদন করতেন। এর মধ্যে প্রয়োজনীয় সাক্ষাৎকার, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পর্যালোচনা, নির্ধারিত এখতিয়ার, ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং ইউএসসিআইএসের নিয়মিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের দাবি, গানিউ ও সোমোয়ে মিলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে কয়েক লাখ ডলার অর্থ নিয়েছেন। তদন্তে তাদের মধ্যে হোয়াটসঅ্যাপে হাজার হাজার বার্তা এবং শত শত ফোনকলের তথ্যও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিছু অর্থপ্রদানের সঙ্গে নির্দিষ্ট ইমিগ্রেশন আবেদন অনুমোদনের সরাসরি যোগসূত্রও তদন্তকারীরা পেয়েছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। গানিউয়ের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো সরকারি কর্মকর্তাকে অবৈধ অর্থ দেওয়ার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকা। অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রতিটি আসামির সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত ফেডারেল কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা হতে পারে। মামলাটি তদন্ত করেছে ইউএসসিআইএসের তদন্ত বিভাগ, ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির ইন্সপেক্টর জেনারেলের কার্যালয় এবং এফবিআইয়ের ডালাস ফিল্ড অফিস। ফেডারেল প্রসিকিউটর রায়ান রেবোল্ড বলেছেন, সরকারি কর্মকর্তার হাতে বৈধ ইমিগ্রেশন সুবিধার বিনিময়ে অর্থ নেওয়া জনগণের আস্থার গুরুতর অপব্যবহার। এ ধরনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো এখনো অভিযোগ, আদালতে প্রমাণিত অপরাধ নয়। ফেডারেল বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, ফৌজদারি অভিযোগপত্রে থাকা তথ্যগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে এবং আদালতে দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আসামিরা নির্দোষ বলে বিবেচিত হবেন।
অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বাসা থেকে কাজ করছিলেন ২৩ বছর বয়সী টিয়াহনা। কয়েক দিন ধরে ঘরের ছাদ থেকে একটানা অদ্ভুত শব্দ শুনছিলেন তিনি। তবে সেই শব্দ যে এত বড় কাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তা কল্পনাও করেননি। ঘটনার দিন কাজের ফাঁকে দুপুরের বিরতিতে ছিলেন টিয়াহনা। হঠাৎ আবার ছাদের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। কী হচ্ছে, তা দেখতে তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায় দুটি পসাম। টিয়াহনা জানান, শব্দ শুনে তিনি ধারণা করেছিলেন ছাদের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণীর কারণে এমনটা হতে পারে। তাই ভিডিও শুরু করেছিলেন - যদি পরে কাউকে বলতে হয়, তাহলে যেন প্রমাণ দেখাতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভিডিওতেই ধরা পড়ে ছাদ ভেঙে পসাম দুটি ঘরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। টিয়াহনা ও তাঁর রুমমেটরা প্রায় দুই বছর ধরে বাসার ছাদে পসামের উপস্থিতি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। রাতের বিভিন্ন সময় ছাদ থেকে শব্দ শোনা যেত। একটি পসাম সরানোর জন্য বাড়ির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লোকও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। টিয়াহনার ধারণা, ছাদের ভেতরে থাকা দুই পসামের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে ছাদের দুর্বল অংশ ভেঙে তারা রান্নাঘরের ভেতর পড়ে যায়। ওই অংশটি আগে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পরে ছাদের ভাঙা অংশটি একটি বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ব্রিসবেনে মানুষের বাসাবাড়ির ছাদ বা সিলিংয়ের ভেতর পসাম আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরাঞ্চলে এসব প্রাণীর প্রাকৃতিক আশ্রয় কমে যাওয়ায় তারা অনেক সময় মানুষের বাড়ির ছাদ, গ্যারেজ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেয়। পসাম অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী।
ঘুষের বিনিময়ে গ্রিন কার্ডসহ বিভিন্ন অভিবাসন সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইউএসসিআইএস- এর সাবেক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার নাম লুকমান ওলাবি গানিউ। তবে তার আইনজীবী এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন। প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, গানিউ ইউএসসিআইএস-এ তার পদের অপব্যবহার করে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে স্থায়ীভাবে বসবাস (গ্রিন কার্ড) ও নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদন করতেন। ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি প্রয়োজনীয় সরকারি যাচাই-বাছাই এড়িয়ে বিভিন্ন আবেদন দ্রুত অনুমোদন করেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে। এসবের মধ্যে গ্রিন কার্ডের জন্য ব্যবহৃত ‘আই-৪৮৫’ ফর্ম ছাড়াও পারিবারিক স্পনসরশিপ ও নাগরিকত্বের আবেদন অন্তর্ভুক্ত ছিল। আদালতের নথি থেকে জানা যায়, এই দুর্নীতি চক্রে আদেনিই আকিম সোমোয়ে নামে আরেকজন সহযোগী যুক্ত ছিলেন। গত ২ সেপ্টেম্বর গানিয়ু ও সোমোয়ে উভয়কেই গ্রেফতার করা হয়। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে তারা আবেদনকারীদের কাছ থেকে লাখ লাখ ডলার হাতিয়ে নিয়েছেন বলে তদন্তকারীরা জানান। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, গানিয়ুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৩০ ডলারের অজ্ঞাত নগদ জমা এবং জেলি ও ক্যাশ অ্যাপের মাধ্যমে প্রায় ৬ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৮ ডলার লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে। অথচ ২০২০ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে তার বৈধ বেতন ছিল প্রায় ৪ লাখ ৭ হাজার ৮৩৮ ডলার। ২০২৫ সালের মে মাসে একটি গোপন অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়। উল্লেখ্য, গানিউ ২০১৮ সালের নভেম্বরে ইউএসসিআইএস-এ যোগ দেন এবং ক্যানসাস, টেক্সাস ও নর্থ ক্যারোলাইনায় দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২৪ সালের এপ্রিলে তিনি ডালাসে জ্যেষ্ঠ অভিবাসন সেবা কর্মকর্তা হিসেবে পদোন্নতি পান। অন্যদিকে, গানিয়ুর আইনজীবী আলফনসো কাবানাস নিউজউইককে জানান, তার মক্কেল কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না এবং সরকারের আনা অর্থনৈতিক লেনদেনের বিবরণীকে তারা চ্যালেঞ্জ করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো ইরানে তৈরি নতুন একটি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার দাবি করেছে তেহরান। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ী বলেছেন, প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে মার্কিন একটি যুদ্ধজাহাজের ওপর ওই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয় এবং এর পর জাহাজটি সরে যায়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়নি। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজায়ী বলেন, প্রথমবারের মতো একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিরুদ্ধে ইরানের তৈরি জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ক্ষেপণাস্ত্রটি মার্কিন বাহিনীর জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করেছিল এবং জাহাজটি এলাকা ছেড়ে চলে যায়। তিনি অবশ্য কোন জাহাজকে লক্ষ্য করা হয়েছিল বা ঠিক কোথায় এই পরীক্ষা চালানো হয়েছে, তা জানাননি। ইরানের এই দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে মার্কিন বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী এর আগে দুটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই দুটি যুদ্ধজাহাজ হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি। সেন্টকম আরও জানিয়েছে, ইরানের হামলার পর তারা তিনটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ অচল করে দিয়েছে। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাব হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ফলে রেজায়ীর নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দাবি এমন এক সময়ে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। রেজায়ী একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইরান শিগগিরই প্রণালির বাইরে একটি নতুন ‘নিষিদ্ধ বা সীমিত’ নৌ চলাচল অঞ্চল ঘোষণা করবে। ওই এলাকায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ করা জাহাজকে ইরানের নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। এতে বিমা পাওয়া ও পরবর্তী সময়ে সমুদ্রপথে চলাচলের ক্ষেত্রেও জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস পরিবহনে এই জলপথ ব্যবহৃত হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও সমুদ্রবাণিজ্যেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এর মধ্যেই ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার পরিচালনা পর্ষদে এমন একটি খসড়া প্রস্তাব তুলেছে, যাতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানোর পথ তৈরি হতে পারে। প্রস্তাবটির মূল লক্ষ্য ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আরও তথ্য দিতে এবং আইএইএ পরিদর্শকদের পূর্ণাঙ্গভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে চাপ দেওয়া। আইএইএর মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরান এখনো সংস্থাটিকে তার পারমাণবিক কর্মসূচি ও পারমাণবিক উপাদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রবেশাধিকার দিচ্ছে না। তাঁর মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর পূর্ণ নজরদারি পুনরায় চালু করা জরুরি। তবে তেহরান এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় দেশটির পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সেখানে আইএইএর পরিদর্শন চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো রাজনৈতিক চাপ তৈরির জন্য আইএইএর পারমাণবিক ইস্যুকে ব্যবহার করছে। বাঘাই আরও সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে নতুন কোনো প্রস্তাব পাস হলে তেহরান প্রয়োজনীয় পালটা পদক্ষেপ নেবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর তৈরি পরিস্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে পরিদর্শন পুনরায় চালুর দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল, ইরানের তেল রপ্তানি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দুই দেশের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও জাহাজকেন্দ্রিক পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে ইরানের দাবি অনুযায়ী নতুন জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রটি কোনো মার্কিন যুদ্ধজাহাজে আঘাত করেছে কি না, কিংবা কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের এই নির্দিষ্ট দাবি স্বীকার করেনি। ফলে ঘটনাটি আপাতত ইরানের পক্ষ থেকে করা একটি সামরিক দাবি হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে ২৫ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, নারীর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে একটি পলিথিনের ব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখা হয়েছিল। তাঁর আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। নিহতের নাম রিয়া তালুকদার গোস্বামী। তিনি গুয়াহাটির হাটিগাঁও এলাকার একটি ফ্ল্যাটে স্বামী রামানুজন গোস্বামীর সঙ্গে থাকতেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাঁদের বিয়ে হয়েছিল প্রায় ছয় মাস আগে। রোববার প্রতিবেশীরা ওই ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। এর আগে প্রায় দুই দিন ধরে তাঁরা দম্পতিকে দেখতে পাচ্ছিলেন না এবং দুজনের মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফ্ল্যাটের দরজা খুলে ভেতরে তল্লাশি চালায়। তল্লাশির সময় পুলিশ রিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহটি আংশিক পচন ধরেছিল এবং মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল। পরে ফ্ল্যাটের ফ্রিজে একটি পলিথিনের ব্যাগের মধ্যে তাঁর মাথা পাওয়া যায়। তাঁর আঙুলও কেটে ফেলা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মরদেহ উদ্ধারের প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আগে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে থাকতে পারে। তবে ঘটনাটির সুনির্দিষ্ট সময় এবং কী পরিস্থিতিতে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর রিয়ার স্বামী রামানুজন গোস্বামীকে পাওয়া যাচ্ছিল না। প্রতিবেশীরা তাকে শেষবার শুক্রবার দেখেছিলেন বলে জানিয়েছিলেন। পরে রোববার রাতেই তিনি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনারেটের পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার অনুরাগ শর্মা সংবাদ সংস্থা এএনআইকে জানান, রামানুজন এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত এবং আত্মসমর্পণের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ তাঁর বক্তব্যও যাচাই করছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে, যা হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। নিহতের মরদেহ ও বিচ্ছিন্ন মাথা ময়নাতদন্তের জন্য গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, তা এখনো পুলিশ প্রকাশ করেনি। এ ছাড়া ঘটনায় অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত, ময়নাতদন্তের ফল এবং অভিযুক্ত স্বামীর বক্তব্য মিলিয়ে ঘটনার পুরো ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা করছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়া ও রামানুজনের মধ্যে আগে উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এই তথ্য এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার উদ্দেশ্য বা ঘটনার সম্পূর্ণ কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত ও অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষার ফলও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সূত্র: এনডিটিভি
রাজনীতি
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreঅস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে বাসা থেকে কাজ করছিলেন ২৩ বছর বয়সী টিয়াহনা। কয়েক দিন ধরে ঘরের ছাদ থেকে একটানা অদ্ভুত শব্দ শুনছিলেন তিনি। তবে সেই শব্দ যে এত বড় কাণ্ডের ইঙ্গিত দিচ্ছিল, তা কল্পনাও করেননি। ঘটনার দিন কাজের ফাঁকে দুপুরের বিরতিতে ছিলেন টিয়াহনা। হঠাৎ আবার ছাদের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। কী হচ্ছে, তা দেখতে তিনি মোবাইল ফোন বের করে ভিডিও করা শুরু করেন। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ছাদের একটি অংশ ভেঙে নিচে পড়ে যায় দুটি পসাম। টিয়াহনা জানান, শব্দ শুনে তিনি ধারণা করেছিলেন ছাদের ভেতরে থাকা কোনো প্রাণীর কারণে এমনটা হতে পারে। তাই ভিডিও শুরু করেছিলেন - যদি পরে কাউকে বলতে হয়, তাহলে যেন প্রমাণ দেখাতে পারেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই ভিডিওতেই ধরা পড়ে ছাদ ভেঙে পসাম দুটি ঘরে পড়ে যাওয়ার ঘটনা। টিয়াহনা ও তাঁর রুমমেটরা প্রায় দুই বছর ধরে বাসার ছাদে পসামের উপস্থিতি নিয়ে সমস্যায় ছিলেন। রাতের বিভিন্ন সময় ছাদ থেকে শব্দ শোনা যেত। একটি পসাম সরানোর জন্য বাড়ির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে লোকও পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। টিয়াহনার ধারণা, ছাদের ভেতরে থাকা দুই পসামের মধ্যে মারামারির একপর্যায়ে ছাদের দুর্বল অংশ ভেঙে তারা রান্নাঘরের ভেতর পড়ে যায়। ওই অংশটি আগে একটি ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলেও জানান তিনি। পরে ছাদের ভাঙা অংশটি একটি বোর্ড দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। ব্রিসবেনে মানুষের বাসাবাড়ির ছাদ বা সিলিংয়ের ভেতর পসাম আশ্রয় নেওয়ার ঘটনা অস্বাভাবিক নয়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরাঞ্চলে এসব প্রাণীর প্রাকৃতিক আশ্রয় কমে যাওয়ায় তারা অনেক সময় মানুষের বাড়ির ছাদ, গ্যারেজ বা দেয়ালের ফাঁকা জায়গায় আশ্রয় নেয়। পসাম অস্ট্রেলিয়ার স্থানীয় ও আইনগতভাবে সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী।
মধ্যপ্রাচ্যে একসঙ্গে বাড়ছে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ। সৌদি আরবে হুথিদের হামলায় ৭৩ জন আহত হয়েছেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানে বাড়ানো হয়েছে বেশি পেট্রোল ব্যবহারকারীদের জ্বালানির দাম। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালির বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে এবং ইসরায়েলের নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট। ইয়েমেনের হুথিদের হামলায় সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৭৩ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকির দাবি, হামলায় নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছেন। আবহা, খামিস মুশাইত, জিজান ও নাজরান শহরের বেসামরিক ও অর্থনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার পর সৌদির কিছু জ্বালানি স্থাপনার কার্যক্রমও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে। সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হুথিদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তবে হামলার ধরন ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবিগুলোই এখন পর্যন্ত প্রধান তথ্যসূত্র। ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প তেল পরিবহন ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে তেল রপ্তানি ও বাণিজ্যের জন্য বিকল্প পাইপলাইন, বন্দর ও পরিবহনপথ জোরদার করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পাইপলাইন তৈরি করলেও হরমুজ প্রণালির পুরো বিকল্প তৈরি করা সহজ নয়। কারণ বিপুল পরিমাণ তেল ও জ্বালানি পরিবহনের সক্ষমতা এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথের গুরুত্ব অনেক বেশি। সাম্প্রতিক হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কেপলার তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ দিনে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০টি পণ্যবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যা মে মাসের পর সর্বনিম্ন। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বেশি পেট্রোল ব্যবহারকারীদের জন্য জ্বালানির দাম দ্বিগুণ করেছে ইরান। নতুন নিয়মে মাসে ১১০ লিটারের বেশি পেট্রল ব্যবহার করলে প্রতি লিটারে ১ লাখ রিয়াল দিতে হবে। আগের দাম ছিল ৫০ হাজার রিয়াল। ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধান জানিয়েছেন, নতুন দাম প্রায় ১৫ শতাংশ গ্রাহকের ওপর প্রভাব ফেলবে। আগস্টে দেশটিতে দৈনিক পেট্রোল ব্যবহার রেকর্ড ১৪ কোটি ৫০ লাখ লিটারে পৌঁছেছিল, যেখানে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ১২ কোটি ২০ লাখ লিটার। ঘাটতি মেটাতে অতিরিক্ত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। ইরানে বর্তমানে মূল্যস্ফীতিও প্রায় ৬৭ শতাংশে রয়েছে। ফলে নতুন করে পেট্রোলের দাম বাড়ায় খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির বাসিন্দারা। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে তিন দিনের ইসরায়েলি হামলায় ২৭ জন নিহত এবং ৬৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু ও চিকিৎসাকর্মীও রয়েছেন। কাফর রুম্মানে একটি আবাসিক ভবনে ইসরায়েলি হামলায় ১২ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু ও চার নারী ছিলেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য জানিয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলছে, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পরিপ্রেক্ষিতে এসব অভিযান চালানো হয়েছে। তাদের দাবি, হিজবুল্লাহর বিস্ফোরকবোঝাই একটি ড্রোন হামলার পর ইসরায়েল পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক টিকে থাকাকে দেশের নিরাপত্তার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোট। সোমবার রোশ হাইনের এক সমাবেশে আইজেনকোট বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার পর প্রায় তিন বছর ধরে নেতানিয়াহু জবাবদিহি এড়িয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেন। আইজেনকোটের নতুন দল ইয়াশার সাম্প্রতিক জনমত জরিপে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। ইসরায়েলি সম্প্রচারমাধ্যম কান-এর জরিপে দলটি ১২০ আসনের পার্লামেন্টে ২৩টি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পেতে পারে ২০টি। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের কাছাকাছি নেই। সৌদি আরবে হুথি হামলা, লেবাননে ইসরায়েলি অভিযান এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির পাশাপাশি বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও চাপ বাড়ছে। একই সময়ে ইরানের অভ্যন্তরে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি দেশটির অর্থনৈতিক সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।
ইন্দোনেশিয়ার আনাক ক্রাকাতাউ আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ও ছাইয়ের কারণে দুই দিন বন্ধ থাকার পর জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরসহ পাঁচটি বিমানবন্দর আবার চালু হয়েছে। তবে আগ্নেয়গিরিটি এখনো সক্রিয় থাকায় নতুন করে ফ্লাইটে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী দুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, সুকর্ণো-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মঙ্গলবার আবার বিমান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। জাকার্তার আরেকটি বিমানবন্দর হালিম পেরদানাকুসুমা, পশ্চিম জাভার বান্দুংয়ের বিমানবন্দর এবং বানতেন প্রদেশের আরও দুটি বিমানবন্দরও পুনরায় চালু হয়েছে। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের কারণে রোববার থেকে বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছিল। এ ঘটনায় ২ হাজার ৯৬১টি ফ্লাইট বাতিল, বিলম্বিত বা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩ লাখ ৪১ হাজারের বেশি যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এর মধ্যে ৬২২টি ছিল আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। জাকার্তার প্রধান বিমানবন্দরে বন্ধ থাকার সময় ১৭৮টি বিমান মাটিতে আটকে ছিল। বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার আগে এসব বিমানের উড্ডয়নযোগ্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে। রানওয়ে, ট্যাক্সিওয়ে ও অন্যান্য স্থাপনাও পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে বিপদ পুরোপুরি কাটেনি। আনাক ক্রাকাতাউ থেকে মঙ্গলবার ভোরেও নতুন কয়েকটি ছোট অগ্ন্যুৎপাতের খবর পাওয়া গেছে। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, ছাইয়ের উচ্চতা ও বাতাসের গতিপথের ওপর নির্ভর করে এসব অগ্ন্যুৎপাত আবারও বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলতে পারে। আনাক ক্রাকাতাউ জাভা ও সুমাত্রা দ্বীপের মাঝামাঝি সুন্দা প্রণালিতে অবস্থিত। আগ্নেয়গিরিটি জুলাই থেকেই ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা স্তরে রয়েছে। কর্তৃপক্ষ স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও জেলেদের সক্রিয় জ্বালামুখ থেকে অন্তত ৩ কিলোমিটার দূরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। আনাক ক্রাকাতাউ মূল ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির ধ্বংসাবশেষের ওপর গড়ে ওঠা নতুন আগ্নেয় দ্বীপ। ১৮৮৩ সালের ভয়াবহ ক্রাকাতোয়া অগ্ন্যুৎপাতে প্রায় ৩৬ হাজার মানুষ নিহত হয়। পরে ২০১৮ সালে আনাক ক্রাকাতাউয়ের একটি অংশ ধসে পড়ে সুনামি সৃষ্টি হলে ৪৩০ জনের বেশি মানুষ মারা যান। এবারের অগ্ন্যুৎপাতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি এবং কোনো গণউচ্ছেদের নির্দেশও দেওয়া হয়নি। তবে ছাই ছড়িয়ে পড়ায় কিছু এলাকায় স্কুল কার্যক্রম অনলাইনে নেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক জিওন গিয়ং-চিওল, যিনি গুরুতর অটিজমে আক্রান্ত ছেলের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়াই করে ‘পিটার প্যান বাবা’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন, মারা গেছেন। শনিবার ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে ৬৪ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ২৭ বছর ধরে তিনি একাই তার ছেলের দেখাশোনা করছিলেন। ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ছিল, তিনি মারা গেলে কে তার সন্তানের দায়িত্ব নেবে এবং কোথায় সে নিরাপদে থাকতে পারবে। গত বছর চূড়ান্ত পর্যায়ের লিভার ক্যানসার ধরা পড়ার পরও নিজের চিকিৎসার চেয়ে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়েই বেশি ব্যস্ত ছিলেন জিওন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আবাসিক প্রতিষ্ঠান ও কল্যাণকেন্দ্র খুঁজতে থাকেন, যেখানে তার অনুপস্থিতিতেও ছেলে নিরাপদে থাকতে পারবে। একপর্যায়ে তিনি প্রায় এক হাজার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেও ছেলের জন্য জায়গা খুঁজে পাননি। পরে নিজের গল্প প্রকাশ্যে তুলে ধরলে বিষয়টি ব্যাপক মানুষের নজরে আসে। টেলিভিশন অনুষ্ঠানেও তার সংগ্রামের কথা উঠে আসে। দেশজুড়ে সহায়তা ও সমর্থন পাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত তার ছেলের জন্য একটি নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হয়। নিজের এই দীর্ঘ সংগ্রাম নিয়ে তিনি একটি বইও লেখেন। গুরুতর প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বেঁচে থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য আরও ভালো আবাসন ও যত্নের ব্যবস্থা প্রয়োজন, এই বার্তাও তিনি তুলে ধরেছিলেন। মৃত্যুর আগে ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে তার উদ্বেগই তাকে মানুষের কাছে আলাদা করে পরিচিত করে তোলে। তার গল্প দক্ষিণ কোরিয়ায় গুরুতর প্রতিবন্ধী সন্তানদের দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও পরিবারের ওপর থাকা চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। জিওনের ইচ্ছা অনুযায়ী তার মৃত্যুর পর আলাদা কোনো শোকসভা বা মরদেহ দর্শনের আয়োজন রাখা হয়নি।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার
মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
হাঁটবে কিনা ছিল অনিশ্চিত, বিরল রোগের সঙ্গে লড়াই করে পায়ে দাঁড়াল শিশু
গোপন অঙ্গ বড় করার ইনজেকশনে মৃত্যু, বিলাসী ইনফ্লুয়েন্সারের করুণ পরিণতি
১ লাখ ৭১ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ, অটিজম নিয়ে নারীদের ক্ষেত্রে মিলল চমকে দেওয়া তথ্য
এআই মানবতার অস্তিত্বের জন্য হুমকি হতে পারে, সতর্ক করলেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান
আপনি যখন সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তখন কোটি টাকা কামাচ্ছে এআই ইনফ্লুয়েন্সাররা
অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল আইফোনের দাম ছাড়াতে পারে ২ হাজার ডলার!
মায়ের প্রভিডেন্ট ফান্ড তুলতে ঘুষ, ১৭ বছরের শাহেদ বানালেন ‘ঘুষ.সাইট’
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
গ্রিন কার্ড বিক্রির অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
১০ লাখ ডলার ঘুষ নিয়ে গ্রিন কার্ড দেওয়ার অভিযোগে সাবেক ইউএসসিআইএস কর্মকর্তা গ্রেপ্তার
লিস্টেরিয়ার শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ৮ অঙ্গরাজ্যে শুকরের মাংস প্রত্যাহার
ক্যালিফোর্নিয়ায় সাবেক আইসিই কর্মকর্তাদের সরকারি চাকরিতে নিষেধাজ্ঞার পথে নতুন বিল
ক্যালিফোর্নিয়ায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ব্রেন ডেড, লাইফ সাপোর্ট বন্ধ ২২ বছরের অন্তঃসত্ত্বা মায়ের
৬ কোটি ৬০ লাখ বছর পর জানা গেল, কীভাবে মারা গিয়েছিল বিশ্বের সবচেয়ে ভারী মাংসাশী ডাইনোসর
একই ধরনের অটিজম বৈশিষ্ট্যের মানুষদের মধ্যেই বন্ধুত্ব-সম্পর্কের টান বেশি
ডোনার ছাড়াই বাঁচার নতুন আশা, ফ্রান্সের তৈরি কৃত্রিম হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনে নতুন সম্ভাবনা
ট্রাম্পের আমেরিকা যখন চীনের রোবট নিয়ে হাসছে, তখন রোবট প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে শি জিনপিংয়ের চীন
'সবচেয়ে বিপজ্জনক প্রযুক্তি' এআই, কেড়ে নিবে কোটি মানুষের চাকরি, ঘটতে পারে জৈবসন্ত্রাস: বিল গেটস
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা
চার ছেলেই বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার, প্রশংসায় ভাসছেন এক রত্নগর্ভা মা
অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
সিজারিয়ান প্রসবের সাত স্তর, মিস ওয়ার্ল্ডের গাউনে ফুটে উঠল মায়েদের জীবনের গল্প
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা