যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে কিশোরী বয়সে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই তথ্য উঠে এসেছে এপস্টিন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নতুন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক অজ্ঞাত নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ১৯৮০–এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে অভিযুক্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ওই নারীকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। নথিতে বলা হয়েছে, তখন ওই নারীর বয়স ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন—এমন অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। বিচার বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, প্রকাশিত নথির কিছু অংশে মিথ্যা বা উসকানিমূলক তথ্য থাকতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ২০১৯ সালে ওই নারীর সাক্ষাৎকার নেয় এবং পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এফবিআই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো মূলত আগে ভুলভাবে প্রতিলিপি হিসেবে চিহ্নিত ১৫টি নথির অংশ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দল অভিযোগ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রেখেছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে সমন পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে ‘গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননায় ভূষিত হতে যাচ্ছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ কর্মসূচির আওতায় তাকে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। শুক্রবার মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বেগম খালেদা জিয়াকে ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়, আপসহীন সংগ্রামের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি হিসেবেই তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে। আগামীকাল রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সম্মাননা প্রদান করা হবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছরের মতো এবারও পাঁচটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে পাঁচজন নারীকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অন্য সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন—অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে অবদান রাখা নুরুন নাহার আক্তার, শিক্ষা ও চাকরিতে সাফল্য অর্জনকারী মোছা. ববিতা খাতুন, সফল জননী নুরবানু কবীর, নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে জীবনসংগ্রামে জয়ী মোছা. শমলা বেগম এবং সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখা মোছা. আফরোজা ইয়াসমিন।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৩তম দফার হামলা শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা শুরু করে। বিপ্লবী গার্ডের সর্বশেষ ঘোষণার আগে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আসার খবরও পাওয়া যায়, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনায় Iran–কে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে Russia—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত United States–এর যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য মস্কো তেহরানে সরবরাহ করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইরানকে সহায়তা করছে রাশিয়া। তবে মস্কো ঠিক কী পরিমাণ তথ্য ইরানকে দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও Israel তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার সক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে। এ বিষয়ে The White House–এর এক মুখপাত্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এবং United Nations–এ রাশিয়ার স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে কিশোরী বয়সে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই তথ্য উঠে এসেছে এপস্টিন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নতুন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক অজ্ঞাত নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ১৯৮০–এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে অভিযুক্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ওই নারীকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। নথিতে বলা হয়েছে, তখন ওই নারীর বয়স ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন—এমন অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। বিচার বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, প্রকাশিত নথির কিছু অংশে মিথ্যা বা উসকানিমূলক তথ্য থাকতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ২০১৯ সালে ওই নারীর সাক্ষাৎকার নেয় এবং পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এফবিআই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো মূলত আগে ভুলভাবে প্রতিলিপি হিসেবে চিহ্নিত ১৫টি নথির অংশ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দল অভিযোগ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রেখেছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে সমন পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৩তম দফার হামলা শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা শুরু করে। বিপ্লবী গার্ডের সর্বশেষ ঘোষণার আগে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আসার খবরও পাওয়া যায়, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে কাঁচের টুকরার আঘাতে ১৬ বছর বয়সী এক পথশিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁও এলাকার একটি স্থানে মাদকসেবন নিয়ে দুই পথশিশুর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন কাঁচের টুকরো দিয়ে অন্য শিশুটির ঘাড়ের বাম পাশে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং তেজগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল উত্তেজনার মধ্যেই শ্রীলঙ্কা উপকূলে তিনটি ইরানি জাহাজ বিপাকে পড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কায় নোঙর করার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছে। শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রীয় বার্তায় বলা হয়েছে, ৯ ও ১৩ মার্চ শ্রীলঙ্কা সফরের অনুমতি চেয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আবেদন করেছে তিনটি ইরানি জাহাজ। এ তথ্য জানিয়েছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট Anura Kumara Dissanayake। তিনি জানান, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সফরের অনুমতি চেয়ে Iran সরকার শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করেছিল। বর্তমানে জাহাজগুলো শ্রীলঙ্কার জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। প্রেসিডেন্ট দিসানায়েকে আরও বলেন, মানবিক বিবেচনায় জাহাজের দুজন কর্মকর্তাকে ইতোমধ্যে দেশে আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, চলমান বা ভবিষ্যতের কোনো আন্তর্জাতিক সংঘাতে শ্রীলঙ্কার ভূখণ্ড, সমুদ্রসীমা কিংবা আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। এদিকে ‘আইআরআইএস বুশেহর’ নামের একটি ইরানি জাহাজ কলম্বো বন্দরের কাছে এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন এলাকায় নোঙর করে আছে বলে জানান তিনি। জাহাজটি শ্রীলঙ্কার জলসীমায় প্রবেশের অনুমতি চেয়েছে। প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি দূতাবাস ও শ্রীলঙ্কা সরকারের আলোচনার পর জাহাজটির ক্রুদের উদ্ধারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর জাহাজগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেছে। সরকারি তথ্যমতে, জাহাজটিতে থাকা মোট ২০৮ জন ক্রুকে তীরে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৩ জন কর্মকর্তা, ৮৪ জন ক্যাডেট, ৪৮ জন সিনিয়র নাবিক এবং ২৩ জন নাবিক রয়েছেন। তাদের প্রথমে কলম্বো বন্দরে আনা হবে এবং পরে ত্রিনকমালি বন্দরের এলাকায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে New Delhi-এর সঙ্গে যৌথ মহড়া শেষে ফেরার পথে ভারত মহাসাগরে একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। ওই হামলায় ৮৭ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হন। জাহাজটিতে প্রায় ১৮০ জন আরোহী ছিলেন; তাদের মধ্যে ৩২ জনকে অক্ষত উদ্ধার করা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাতের জেরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাস। দেশটিতে অবস্থিত ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিগুলোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিনে লিমাসলসহ বিভিন্ন শহরে ‘ব্রিটিশ ঘাঁটি হটাও’ স্লোগানে মুখরিত হয়েছে রাজপথ। ঘটনার সূত্রপাত: চলতি সপ্তাহের শুরুতে সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ বিমান বাহিনীর ঘাঁটি ‘আরএএফ আক্রোতিরি’-তে (RAF Akrotiri) একটি ড্রোন হামলা হয়, যা ইরান-নির্মিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মাত্র দুই দিন আগেই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই সাইপ্রাসের সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন যে, তাদের অজান্তেই দেশটিকে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের রণক্ষেত্রে পরিণত করা হচ্ছে। উপনিবেশবাদের অবশেষ: ১৯৬০ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা পেলেও একটি চুক্তির মাধ্যমে সাইপ্রাসের প্রায় ৩ শতাংশ ভূমি নিজেদের দখলে রাখে যুক্তরাজ্য। আক্রোতিরি এবং ডেকিলিয়া নামের এই দুটি ঘাঁটি মূলত ব্রিটিশ সার্বভৌম এলাকা হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দা ও অধিকারকর্মীরা একে ‘উপনিবেশবাদের অবশেষ’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তাদের মতে, এই ঘাঁটিগুলোর মাধ্যমে সাইপ্রাসকে একটি ‘অডুবন্ত বিমানবাহী রণতরি’ হিসেবে ব্যবহার করছে পশ্চিমা শক্তিগুলো। কেন বাড়ছে ক্ষোভ? ১. নিরাপত্তা ঝুঁকি: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র সাইটে ‘প্রতিরক্ষামূলক হামলার’ জন্য এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। এর ফলে ইরান বা তার সহযোগীদের পাল্টা হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে সাইপ্রাস। ২. গাজা যুদ্ধে সংশ্লিষ্টতা: অভিযোগ রয়েছে, গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ এবং নজরদারি চালাতে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহৃত হয়েছে। ডিclassified UK-র তথ্যমতে, গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রথম দুই বছরে সাইপ্রাস থেকে ৬০০-এর বেশি নজরদারি ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে। ৩. অর্থনৈতিক ও মানসিক চাপ: সাইপ্রাসের মোট জিডিপির ১৪ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। যুদ্ধের উত্তেজনায় অনেক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় পর্যটন শিল্প হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো নিরাপত্তা তথ্য না দিয়ে কেবল নিজেদের সামরিক কর্মকর্তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছে। বর্তমান পরিস্থিতি: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুক্তরাজ্য সরকার সাইপ্রাসে একটি যুদ্ধজাহাজ এবং দুটি ওয়াইল্ডক্যাট হেলিকপ্টার পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। তবে এই পদক্ষেপ স্থানীয়দের আশ্বস্ত করার বদলে উল্টো উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তুলছেন— কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থে সাইপ্রাসের সাধারণ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে? বিশ্লেষকদের মতে, সাইপ্রাসের এই জনরোষ কেবল ক্ষণস্থায়ী কোনো বিক্ষোভ নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সার্বভৌমত্ব এবং পশ্চিমা সামরিক আধিপত্যের বিরুদ্ধে এক পুঞ্জীভূত বহিঃপ্রকাশ।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের প্রকাশিত সময়সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (৬ মার্চ ২০২৬) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সেহরি ও ইফতারের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাজধানী ঢাকায় শুক্রবার সেহরির শেষ সময় ভোর ৫টা এবং ইফতারের সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫ মিনিট। একই সঙ্গে এদিন ফজরের নামাজ শুরু হবে ভোর ৫টা, জোহরের নামাজ ১২টা ১০ মিনিট, আসরের নামাজ ৪টা ২৫ মিনিট, মাগরিবের নামাজ ৬টা ৫ মিনিট এবং এশার নামাজ ৭টা ১৯ মিনিটে। দেশের অন্যান্য জেলায় সময়সূচিতে সামান্য পার্থক্য রয়েছে। কক্সবাজারে সেহরির শেষ সময় ৪টা ৫৩ মিনিট এবং ইফতারের সময় ৫টা ৫৯ মিনিট। চট্টগ্রামে সেহরি শেষ হবে ৪টা ৫৪ মিনিটে এবং ইফতার ৬টা। খুলনায় সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিটে এবং ইফতার ৬টা ৯ মিনিটে। এছাড়া দেশের আরও কয়েকটি জেলার সময়সূচি নিচে দেওয়া হলো— কিশোরগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৭ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট কুড়িগ্রাম: সেহরি শেষ ৫টা ২ মিনিট, ইফতার ৬টা ৭ মিনিট কুমিল্লা: সেহরি শেষ ৪টা ৫৭ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট কুষ্টিয়া: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১০ মিনিট খাগড়াছড়ি: সেহরি শেষ ৪টা ৫৪ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৯ মিনিট গাইবান্ধা: সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিট, ইফতার ৬টা ৮ মিনিট গাজীপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৯ মিনিট, ইফতার ৬টা ৫ মিনিট গোপালগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ২ মিনিট, ইফতার ৬টা ৭ মিনিট চাঁদপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ৪ মিনিট চাঁপাইনবাবগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ১৩ মিনিট চুয়াডাঙ্গা: সেহরি শেষ ৫টা ৬ মিনিট, ইফতার ৬টা ১১ মিনিট জয়পুরহাট: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ৯ মিনিট হবিগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১ মিনিট সুনামগঞ্জ: সেহরি শেষ ৪টা ৫৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১ মিনিট সিলেট: সেহরি শেষ ৪টা ৫২ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৮ মিনিট সিরাজগঞ্জ: সেহরি শেষ ৫টা ৩ মিনিট, ইফতার ৬টা ৮ মিনিট সাতক্ষীরা: সেহরি শেষ ৫টা ৫ মিনিট, ইফতার ৬টা ১০ মিনিট লক্ষ্মীপুর: সেহরি শেষ ৪টা ৫৮ মিনিট, ইফতার ৬টা ৩ মিনিট মৌলভীবাজার: সেহরি শেষ ৪টা ৫৩ মিনিট, ইফতার ৫টা ৫৯ মিনিট মাগুরা: সেহরি শেষ ৫টা ৪ মিনিট, ইফতার ৬টা ৯ মিনিট ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন জেলায় ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেহরি ও ইফতারের সময়ে কয়েক মিনিটের পার্থক্য হতে পারে। তাই স্থানীয় সময়সূচি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে কিশোরী বয়সে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই তথ্য উঠে এসেছে এপস্টিন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নতুন নথিতে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক অজ্ঞাত নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ১৯৮০–এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে অভিযুক্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ওই নারীকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। নথিতে বলা হয়েছে, তখন ওই নারীর বয়স ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন—এমন অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। বিচার বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, প্রকাশিত নথির কিছু অংশে মিথ্যা বা উসকানিমূলক তথ্য থাকতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ২০১৯ সালে ওই নারীর সাক্ষাৎকার নেয় এবং পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এফবিআই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো মূলত আগে ভুলভাবে প্রতিলিপি হিসেবে চিহ্নিত ১৫টি নথির অংশ। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দল অভিযোগ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রেখেছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে সমন পাঠিয়েছে। এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতে নতুন করে হামলার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড। তারা জানিয়েছে, ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্য করে ২৩তম দফার হামলা শুরু করা হয়েছে। শুক্রবার বাংলাদেশ সময় রাত প্রায় পৌনে ১২টার দিকে এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত যুক্তরাষ্ট্রের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে সামরিক হামলা চালানোর পর পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই হামলার জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিক পাল্টা হামলা শুরু করে। বিপ্লবী গার্ডের সর্বশেষ ঘোষণার আগে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র আসার খবরও পাওয়া যায়, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনায় Iran–কে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে Russia—এমন দাবি করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Washington Post। সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট তিনজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত United States–এর যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক বিমানের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য মস্কো তেহরানে সরবরাহ করছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সম্ভাব্য মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে ইরানকে সহায়তা করছে রাশিয়া। তবে মস্কো ঠিক কী পরিমাণ তথ্য ইরানকে দিচ্ছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ওয়াশিংটন পোস্টের তথ্যমতে, গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও Israel তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পর ইরানের সামরিক বাহিনীর মার্কিন লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করার সক্ষমতা কিছুটা কমে গেছে। এ বিষয়ে The White House–এর এক মুখপাত্র রাশিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। এ ছাড়া ওয়াশিংটনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এবং United Nations–এ রাশিয়ার স্থায়ী মিশনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সিএনএন-এর ডানা ব্যাশকে দেওয়া এক বিশেষ ফোন সাক্ষাৎকারে ইরান এবং কিউবার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে তার প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কৌশলগত সাফল্যের ওপর জোর দেন। প্রতিবেদনের মূল বিষয়গুলো নিচে তুলে ধরা হলো: ১. কিউবা শাসনের পতন আসন্ন: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, কিউবার বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র। তিনি বলেন, "খুব শীঘ্রই কিউবার পতন হতে যাচ্ছে। তারা একটি চুক্তির জন্য মরিয়া হয়ে আছে।" তিনি আরও জানান, ইরান পরিস্থিতির সমাধান হওয়ার পর কিউবা নিয়ে কাজ করতে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে বিশেষ দায়িত্ব দেবেন। ট্রাম্পের মতে, দীর্ঘ ৫০ বছর পর কিউবা এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত এবং এটি তার প্রশাসনের একটি বড় সাফল্য হতে যাচ্ছে। ২. ইরানের জন্য শর্তহীন আত্মসমর্পণ: ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, "শর্তহীন আত্মসমর্পণ" (Unconditional Surrender) ছাড়া ইরানের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা চুক্তি হবে না। ট্রাম্পের মতে, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ফলে ইরানের নেতৃত্ব এখন "নিবীর্য" (neutered) হয়ে পড়েছে। ৩. ইরানের নতুন নেতৃত্ব ও ধর্মীয় শাসন: ইরানের ভবিষ্যৎ শাসক কে হবেন—সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মূল শর্ত হলো এমন এক নেতা যিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানের পরবর্তী শাসক যদি কোনো ধর্মীয় নেতাও হন, তাতে তার আপত্তি নেই, যদি সেই নেতা ন্যায়পরায়ণ হন এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করেন। ৪. ভেনেজুয়েলা মডেলের অনুকরণ: ইরানের পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার উদাহরণ টেনেছেন। তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলায় যেভাবে মার্কিন হস্তক্ষেপে পরিবর্তন এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে ডেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্বে কাজ চলছে, ইরানেও অনেকটা সেভাবেই পরিবর্তন আনা হবে। ৫. অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও ভোটার আইডি আইন: সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প কেবল বৈদেশিক নীতি নয়, বরং অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুদ্ধের পর তার প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হবে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' (SAVE America Act) বা কঠোর ভোটার আইডি আইন পাস করা। টেক্সাস সিনেট নির্বাচনে তার সমর্থনের ক্ষেত্রেও এই বিষয়টি নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সাক্ষাৎকারটি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে কিউবা ও ইরান নিয়ে তার আক্রমণাত্মক নীতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে কিউবা মিশনে নিয়োগ দেওয়ার পরিকল্পনা বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের নতুন সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।