Live update news
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৫ সহায়তাকর্মী

দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে স্পষ্ট মানবিক সহায়তার চিহ্নযুক্ত একটি ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলায় পাঁচজন সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ জন ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ এই হামলার পর দেশটিতে মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।   স্টিফেন ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তিনি জানান, হামলার শিকার বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত ছিল।   তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   হামলার শিকার বহরের পরিচালনাকারী জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ) জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম থেকে পাজুত এলাকায় ফিরছিলেন। পথে বহরটির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা। এদিকে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনের (ইউএনএমআইএসএস) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দেশটিতে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ সংখ্যা ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দক্ষিণ সুদান ধারাবাহিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

৮ মিনিট Ago
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে বেইজিংয়ে বৈঠকে মিলিত হলেন ভ্লাদিমির পুতিন ও শি জিনপিং | ছবি: ম্যাক্সিম শেমেটভ/রয়টার্স
শীর্ষ পর্যায়ে অনুমোদন নিয়ে চীনে রাশিয়ার গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ, রয়টার্সের চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেই চীনের মাটিতে রুশ বাহিনীকে অত্যন্ত গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি চুক্তিকে রাশিয়ার শীর্ষ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। গত বছর অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশেষ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে রাশিয়া ও চীনের অন্তত চারজন জেনারেল সরাসরি যুক্ত ছিলেন। ইউরোপীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও রয়টার্সের হাতে আসা কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল সামরিক নথির বরাতে ১ জুলাই এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে।     রয়টার্সের দেখা রাশিয়ার একটি অত্যন্ত গোপনীয় নথিতে সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের আগস্টে তৎকালীন রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ একটি বিশেষ ডিক্রি বা আদেশ জারি করেছিলেন। সেই আদেশ অনুযায়ী, রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় প্রশিক্ষণে অংশ নিতে চীনে পাড়ি জমায়। বেইজিং এই প্রশিক্ষণের বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করলেও এটি ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।   নথি অনুযায়ী, বেইজিংয়ের একটি সামরিক ঘাঁটিতে গত নভেম্বরে তিন সপ্তাহব্যাপী একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশিক্ষণ কোর্স অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে রুশ সেনাদের মূলত তেজস্ক্রিয়তা, জৈবিক ও রাসায়নিক (রেডিওলজিক্যাল, বায়োলজিক্যাল অ্যান্ড কেমিক্যাল) যুদ্ধবিদ্যা এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। রয়টার্সের হাতে আসা কিছু ছবিতে দেখা গেছে, একজন চীনা প্রশিক্ষক রুশ সেনাদের সামনে একটি ডামি পারমাণবিক চুল্লি নিয়ে লেকচার দিচ্ছেন এবং রাসায়নিক রেকি করার কৌশল শেখাচ্ছেন।     গত মাসে প্রকাশিত অপর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনে জানানো হয়, এই প্রক্রিয়ায় চীনের নানজিং ও বেংবু শহরের বিভিন্ন ঘাঁটিতে রাশিয়ার প্রায় ২০০ সামরিক কর্মীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিয়েছেন। এই পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের তদারকিতে রাশিয়ার স্থলবাহিনীর ডেপুটি কমান্ডার-ইন-চিফ কর্নেল জেনারেল রুস্তম মুরাদভ এবং চীনের মেজর জেনারেল লি জিনসুনসহ উচ্চপদস্থ জেনারেলরা সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তবে রুশ পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা কমিটির প্রধান আন্দ্রেই কার্তাপোলভ এই প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।   এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাস গত ১৫ জুন নিশ্চিত করেছেন যে ব্রাসেলস তাদের নিজস্ব চ্যানেলের মাধ্যমে এই গোপন প্রশিক্ষণের সত্যতা পেয়েছে। বর্তমানে এর আন্তর্জাতিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হচ্ছে। বেইজিং নিজেকে ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ এবং শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে দাবি করলেও, ইউরোপীয় শক্তিগুলো এখন চীনকে রাশিয়ার যুদ্ধের অন্যতম বড় সহায়তাকারী হিসেবে দেখছে। ফলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির এই দেশের বিরুদ্ধে ইইউ নতুন কোনো অর্থনৈতিক বা কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না, তা নিয়ে পর্দার আড়ালে আলোচনা চলছে।   সূত্র: রয়টার্স

১৫ মিনিট Ago
ফ্লোরিডার ২৮টি সরকারি কলেজে অনথিভুক্ত শিক্ষার্থীদের ভর্তি বন্ধে নতুন নিয়ম অনুমোদন | ছবি: অরল্যান্ডো বিজনেস জার্নাল
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় অবৈধ অভিবাসীদের কলেজে ভর্তি ও জিইডি প্রোগ্রাম নিষিদ্ধ

আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের সরকারি কলেজ এবং প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষামূলক ‘জিইডি’ (GED) প্রস্তুতিমূলক প্রোগ্রামে অবৈধ অভিবাসীদের ভর্তির সুযোগ বন্ধ করে নতুন নিয়ম অনুমোদন করেছে রাজ্য শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার এক কনফারেন্স কলের মাধ্যমে এই বিতর্কিত নিয়মটি পাস করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩৫ নিউজ এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফ্লোরিডার ২৮টি সরকারি কলেজের ট্রাস্টি বোর্ডকে এখন থেকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে যে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা মার্কিন নাগরিক কিংবা আইনগতভাবে দেশটিতে অবস্থান করছেন। এর পাশাপাশি সরকারি হাইস্কুল ও স্টেট কলেজগুলোতে পরিচালিত প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং জিইডি কোর্সেও অনথিভুক্ত বা অবৈধ অভিবাসী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   রাজ্য শিক্ষা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন স্থানীয় বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা ও অভিবাসী অধিকারকর্মী। তাদের দাবি, ফ্লোরিডার আইনসভা বা লেজিসলেচার চলতি বছর যে বিধিনিষেধগুলো পাস করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল, শিক্ষা বোর্ড এখন সেই নিয়মগুলোই জোরপূর্বক চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। গভর্নর রন ডেসান্টিসের নিযুক্ত করা বোর্ড সদস্য ড্যানিয়েল ফোগানহোলি একমাত্র ব্যক্তি হিসেবে এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেন।   ফ্লোরিডার কলেজ বিভাগের চ্যান্সেলর ক্যাথি হেবদা অবশ্য বোর্ড সদস্যদের জানিয়েছেন, ফ্লোরিডার বিদ্যমান আইনের সাথে কলেজ ভর্তি প্রক্রিয়ার সামঞ্জস্য বজায় রাখতেই এই নিয়মগুলো আপডেট করা হয়েছে। তবে চলতি বছরের আইনসভা অধিবেশনে এই ধরনের বিল ব্যর্থ হওয়ার পরেও কেন নতুন করে এই প্রশাসনিক নিয়ম চালুর প্রয়োজন হলো, সে বিষয়ে তিনি কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি।   অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে অরল্যান্ডোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যানা এসকামানি বলেন, কোনো শিশুর নিজের কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও কেবল ইমিগ্রেশন নথির অজুহাতে তার উচ্চশিক্ষার পথ বন্ধ করে দেওয়াটা সম্পূর্ণ অ-আমেরিকান এবং সংবিধান পরিপন্থী। এমনকি আইনসভার দ্বিপাক্ষিক যৌথ প্রশাসনিক পদ্ধতি কমিটিও এই নতুন নিয়মের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলে শিক্ষা বিভাগকে চিঠি পাঠিয়েছে।   সূত্র: ফক্স ৩৫ ওর্ল্যান্ডো

৩০ মিনিট Ago
টেক্সাসে ওষুধের দোকানের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়া ৭৯ বছরের বৃদ্ধকে মারধর ও ছিনতাই | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে এটিএম থেকে টাকা তুলে বের হতেই বৃদ্ধকে ছিনতাই, সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হিউস্টন এলাকার একটি ওষুধের দোকানের বাইরে এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলে বের হওয়ার পরপরই ৭৯ বছর বয়সী এক বৃদ্ধকে মারধর ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। টেক্সাসের পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ এই চঞ্চল্যকর ঘটনার তদন্ত করছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে প্রধান সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করতে জনসাধারণের সহযোগিতা চেয়েছে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   পুলিশের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৯ জুন পিয়ারল্যান্ডের একটি ওয়ালগ্রিনস ফার্মেসির বাইরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই প্রবীণ নাগরিক বুথ থেকে নগদ অর্থ তোলার পরপরই ওত পেতে থাকা এক ছিনতাইকারী আকস্মিকভাবে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারী বৃদ্ধকে শারীরিক নথিপত্রসহ আঘাত করে তাঁর মানিব্যাগ এবং সদ্য তোলা সব নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চম্পট দেয়।   পিয়ারল্যান্ড পুলিশ বিভাগ ইতিমধ্যে এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে হিউস্টনের বাসিন্দা দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে। তদন্তকারীদের দাবি, গ্রেফতারকৃত ওই দুজন এই অপরাধের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিল। তাদের একজন পুরো সময় চারপাশের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছিল বা লুকআউট হিসেবে কাজ করছিল এবং অন্যজন গাড়ি নিয়ে ছিনতাইকারীকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করেছিল।   লুকআউট এবং গাড়িচালককে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হলেও মূল হামলাকারী এখনো পলাতক রয়েছে। পুলিশ জানায়, যে ব্যক্তি সরাসরি বৃদ্ধের ওপর চড়াও হয়েছিল এবং টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিল, তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে গোয়েন্দারা। সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়া তার ছবি প্রকাশ করে পুলিশ আশা করছে, কোনো না কোনো নাগরিক তাকে চিনে ফেলবে এবং তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।   তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রবীণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। পলাতক আসামিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে পিয়ারল্যান্ড পুলিশ।

৪২ মিনিট Ago
ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
আমেরিকা
নিউইয়র্কে ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড বাজেট অনুমোদন, তবুও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অর্থনীতিবিদরা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র জোহরান মামদানির প্রায় ১২৬ বিলিয়ন ডলারের রেকর্ড-ভাঙ্গা উদ্বোধনী বাজেট পাস হতে যাচ্ছে। শহরটির পূর্ববর্তী আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়রের নিজেরই দেওয়া ভয়াবহ সতর্কবার্তা সত্ত্বেও, গত বছরের তুলনায় এবারের বাজেটে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার। বুধবারের নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে সিটি কাউন্সিলে এই বাজেট প্রস্তাবটি ভোটের জন্য ওঠে। তবে শেষ মুহূর্তের নানা চেষ্টা সত্ত্বেও এই ব্যয়ের চুক্তিটি বামপন্থি ও মধ্যপন্থি—উভয় পক্ষের রাজনীতিকদেরই হতাশ করেছে।   গত বছরের প্রায় ১১৬ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এবারের বাজেট প্রায় ৮.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১২৫.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যেখানে দৃশ্যত বড় ধরনের কোনো ব্যয় সংকোচনের উদ্যোগ নেই। ডেমোক্র্যাটিক সোশ্যালিস্ট এই মেয়র বাজেটকে ভারসাম্যপূর্ণ বলে দাবি করলেও, সিটি কম্পট্রোলার মার্ক লেভিন জানিয়েছেন, মূলত ৬.১ বিলিয়ন ডলারের এককালীন কৌশল এবং স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয় ব্যবহার করেই সাময়িকভাবে এই ভারসাম্য আনা হয়েছে। লেভিনের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে শহরটি আপাতত একটি কঠিন বছর পার করতে পারলেও ভবিষ্যতের কাঠামোগত চ্যালেঞ্জগুলোর কোনো সমাধান এতে নেই। সিটি কম্পট্রোলার অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আগামী বাজেটে শহরটিকে প্রায় ৮.৮ বিলিয়ন ডলারের বিশাল ঘাটতির মুখে পড়তে হবে।   ২০২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত এই বাজেটে বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) জন্য ৬.৬ বিলিয়ন, শিক্ষা বিভাগে ৩৮ বিলিয়ন, গৃহহীন সেবা বিভাগে ৪.২ বিলিয়ন এবং স্বাস্থ্য ও মানসিক পরিচ্ছন্নতা বিভাগে ২.৬ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে সাধারণ রিজার্ভ ফান্ডে ৩৫০ মিলিয়ন ডলার রাখা হয়েছে। সিটিজেনস বাজেট কমিশনের সভাপতি অ্যান্ড্রু রেইনের মতে, এই পরিকল্পনা শহরের বিশাল কাঠামোগত বাজেট সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে। এর পাশাপাশি হাউজিং ভাউচার প্রোগ্রাম সম্প্রসারণ এবং এনওয়াইপিডিতে ৫৮০ জন নতুন পুলিশ সদস্য নিয়োগের বিষয়ে মেয়রের আগের অবস্থান থেকে সরে আসার কারণে প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থিদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।   গত জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই মেয়র মামদানি শহরের আর্থিক সংকটের জন্য তার পূর্বসূরি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসকে দায়ী করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ১২ বিলিয়ন ডলার ঘাটতির কথা বললেও পরে তা ৫.৪ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনেন। এই ঘাটতি পূরণে ধনীদের ওপর কর আরোপ বা সম্পত্তি কর প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। নতুন কর আরোপে খুব একটা সফল না হলেও বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর আরোপের মাধ্যমে বছরে ৩৪০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসার পথ তৈরি হয়েছে। এছাড়া গভর্নর ক্যাথি হোকুলের কাছ থেকে ৪ বিলিয়ন ডলারের বেলআউট পেতে সফল হয়েছেন মামদানি, যা বড় ধরনের ব্যয়কে আপাতত বিলম্বিত করেছে। তবে এসব দৃশ্যমান সাফল্যও তার প্রগতিশীল মিত্রদের পুরোপুরি সন্তুষ্ট করতে পারেনি।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১৯:৩৪
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে পিএইচডি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা, অভিযুক্ত নিজ বোনের স্বামী; যাকে বলেছিলেন ‘পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ মানুষ’

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পিএইচডি অধ্যয়নরত এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে। মর্মান্তিক এ ঘটনার পর সামনে এসেছে নিহত ভিক্টোরিয়া ক্যাসলের একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্ট, যেখানে বোনের বিয়ের দিন তিনি অভিযুক্ত জোসেফ হর্নারকে "পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ মানুষ" বলে উল্লেখ করেছিলেন।   ভিক্টোরিয়ার সেই ফেসবুক পোস্টে লেখা ছিল, "আমার বোন, আমার সবচেয়ে কাছের মানুষ, আমার বিশৃঙ্খলার সঙ্গী, আজ পৃথিবীর অন্যতম অসাধারণ একজন মানুষকে বিয়ে করল। আমি তোমাদের দুজনকে চিরকাল ভালোবাসব।" কিন্তু সেই পোস্টের প্রায় তিন বছর পর ২৭ বছর বয়সী জোসেফ হর্নারের বিরুদ্ধে ভিক্টোরিয়াকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ এনেছে পুলিশ।   নাসাউ কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, গত ২৯ জুন নিউইয়র্কের নর্থ মাসাপেকুয়ায় একই বহুতল ভবনের পৃথক ইউনিটে বসবাস করতেন তারা। ভবনের ওপরের তলায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন হর্নার এবং নিচতলায় থাকতেন ভিক্টোরিয়া। ঘটনার সময় হর্নারের স্ত্রী একটি ব্যাচেলোরেট অনুষ্ঠানে অংশ নিতে বাড়ির বাইরে ছিলেন।   প্রসিকিউটরদের দাবি, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ভিক্টোরিয়ার প্রতি অস্বাভাবিকভাবে আসক্ত ছিলেন হর্নার। ঘটনার দিন তিনি একটি পিয়ানো সরাতে সাহায্যের কথা বলে ভিক্টোরিয়াকে নিজের কাছে ডেকে নেন। পরে পেছন থেকে তার ওপর হামলা চালিয়ে গলায় চাপ দিয়ে অচেতন করে ফেলেন। এরপর তার পোশাক খুলে ধর্ষণ এবং শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   ভিক্টোরিয়া ক্যাসল নিউইয়র্কের স্টোনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি শিক্ষার্থী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের পর হর্নার নিজেই জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানো পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন। পরে তদন্তকারীদের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলেও প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত চলছে।

স্পাইডারম্যানের জগতে মেসি, নতুন সিনেমার প্রচারণায় চমক
স্পাইডারম্যানের জগতে মেসি, নতুন সিনেমার প্রচারণায় চমক

বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি এবার হাজির হয়েছেন মার্ভেল দুনিয়ার জনপ্রিয় সুপারহিরো Spider-Man–এর সঙ্গে একই ফ্রেমে। সনি পিকচার্স এন্টারটেইনমেন্ট প্রকাশিত একটি সংক্ষিপ্ত প্রচারণামূলক ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   প্রায় ৪০ সেকেন্ডের এই ভিডিওতে দেখা যায়, পিটার পার্কার একটি কফিশপে বসে নিজের ব্যক্তিগত জটিলতা নিয়ে ফোনে কথা বলছেন। ঠিক সেই সময় একটি বিশেষ ট্র্যাকার হাতে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন মেসি। মনে হয় যেন স্পাইডারম্যানকে খুঁজতেই তাঁর এই আগমন। কিছুক্ষণ পরই পিটার পার্কার স্পাইডারম্যানের পোশাকে ফিরে আসেন। ভিডিওর শেষ দৃশ্যে নিউইয়র্কের আকাশে স্পাইডারম্যানের জালে ভর করে দুলতে দেখা যায় মেসিকে—যা ভক্তদের জন্য বড় চমক হয়ে এসেছে।   হলিউডভিত্তিক কয়েকটি গণমাধ্যমের দাবি, এই ভিডিওতে অল্প সময়ের উপস্থিতির জন্য মেসি প্রায় ১৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক পেয়েছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮৫ কোটি টাকার সমান। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি সনি পিকচার্স বা মেসির পক্ষ।   আগামী ৩০ জুলাই মুক্তি পেতে যাচ্ছে মার্ভেলের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে। ধারণা করা হচ্ছে, এই ভিডিওটি মূলত সেই সিনেমার প্রচারণার অংশ হিসেবেই তৈরি করা হয়েছে।   ভিডিওতে মেসির হাতে দেখা যাওয়া ‘স্পাইডি ট্র্যাকার’ নিয়েও ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। কমিকসপ্রেমীদের কাছে এটি পরিচিত একটি ডিভাইস। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত The Amazing Spider-Man–এ পিটার পার্কার নিজেই এই ট্র্যাকার তৈরি করেছিলেন, যা প্রথম ব্যবহার করা হয় ভিলেন ডক্টর অক্টোপাসকে শনাক্ত করতে।   এদিকে ট্র্যাকারের স্ক্রিনে দেখা একাধিক লাল বিন্দু ঘিরে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। অনেকের ধারণা, এটি মার্ভেলের মাল্টিভার্স ধারণার ইঙ্গিত হতে পারে এবং নতুন সিনেমায় একাধিক স্পাইডারম্যানের উপস্থিতি দেখা যেতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।   জানা গেছে, নতুন সিনেমার গল্প শুরু হবে Spider-Man: No Way Home–এর পরবর্তী ঘটনা থেকে, যেখানে পৃথিবীর সবাই ভুলে যায় যে পিটার পার্কারই স্পাইডারম্যান। নতুন এই অধ্যায়ে এক রহস্যময় হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তার পাশে থাকতে পারে The Punisher ও Hulk।   সব মিলিয়ে, ফুটবল ও সুপারহিরো—দুই জগতের এই অপ্রত্যাশিত মেলবন্ধন ভক্তদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি করেছে। সিনেমা মুক্তির আগে এমন প্রচারণা যে দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেবে, তা বলাই যায়।

সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবার স্থূলতা কমানোর ওষুধের খরচ বহন করবে মেডিকেয়ার

যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন কার্যকর হয়েছে। আজ বুধবার (১ জুলাই) থেকে প্রথমবারের মতো দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যবিমা কর্মসূচি মেডিকেয়ার নির্দিষ্ট যোগ্য ব্যক্তিদের জন্য স্থূলতা কমানোর ওষুধের খরচ বহন শুরু করেছে। এর ফলে অনেক প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী নাগরিক ওজন কমানোর আধুনিক ওষুধ ব্যবহারের সুযোগ পাবেন, যা আগে সাধারণভাবে এই উদ্দেশ্যে কভারেজের আওতায় ছিল না। নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সুবিধাভোগীরা মাসিক নির্ধারিত সহ-অর্থপ্রদানের মাধ্যমে স্থূলতা চিকিৎসায় ব্যবহৃত নির্দিষ্ট ওষুধ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দাবির বিপরীতে, যে কেউ বা সব মেডিকেয়ার গ্রাহক এই সুবিধা পাবেন—এটি সঠিক নয়। এই সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হবে। যোগ্যতা নির্ধারণে আবেদনকারীর মেডিকেয়ারের ওষুধ কভারেজ থাকতে হবে এবং শরীরের ভরসূচক (বিএমআই) নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পূর্বানুমোদনও প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, এটি সবার জন্য উন্মুক্ত নয়; কেবল নির্ধারিত শর্ত পূরণকারীরাই এই সুবিধা পাবেন। স্বাস্থ্যনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সিদ্ধান্ত স্থূলতাকে একটি দীর্ঘমেয়াদি ও গুরুতর স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে আরও গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করে। তাদের ভাষ্য, আধুনিক ওষুধের সহজলভ্যতা অনেক মানুষের ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সরকার জানিয়েছে, এটি একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচি। এর ফলাফল, ব্যয় এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে কর্মসূচিটি স্থায়ী করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ফ্লোরিডায় একসঙ্গে কার্যকর ১৩২ নতুন আইন, বদলে যাচ্ছে ট্রাফিক, শিক্ষা, ব্যবসা ও ভোক্তা সুরক্ষার নিয়ম

ফ্লোরিডায় ১ জুলাই থেকে একসঙ্গে ১৩২টি নতুন আইন কার্যকর হয়েছে। গভর্নর Ron DeSantis স্বাক্ষরিত এসব আইনের মাধ্যমে ট্রাফিক, শিক্ষা, ভোক্তা অধিকার, ব্যবসা, জননিরাপত্তা এবং সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। চলতি বছরে গভর্নর ২০০টিরও বেশি বিলে স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ আজ থেকে কার্যকর হয়েছে।   নতুন আইনের মধ্যে অন্যতম হলো বারবার গুরুতর ট্রাফিক আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালানোর অপরাধও এখন নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ‘অভ্যাসগত ট্রাফিক অপরাধী’ হিসেবে গণনার আওতায় আসবে। এ ধরনের চালকদের বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে আরও কঠোর ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   ভোক্তা সুরক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, রেস্তোরাঁগুলোকে সার্ভিস চার্জ, ডেলিভারি ফি, স্বয়ংক্রিয় গ্র্যাচুইটি বা অন্যান্য অতিরিক্ত ফি আগে থেকেই স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। মেনু, বিল এবং রসিদে এসব চার্জ আলাদা করে উল্লেখ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে, যাতে গ্রাহকরা লুকানো ফি সম্পর্কে বিভ্রান্ত না হন।   এছাড়া শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, সরকারি অবকাঠামো, জননিরাপত্তা, প্রাণী কল্যাণ এবং স্থানীয় প্রশাসন সম্পর্কিত একাধিক নতুন আইনও কার্যকর হয়েছে। কিছু সড়ক ও স্থাপনার নাম পরিবর্তন, তথ্যকেন্দ্র (ডেটা সেন্টার) পরিচালনা সংক্রান্ত বিধান এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সংস্কারও এই আইনের অন্তর্ভুক্ত।   ফ্লোরিডা প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব আইনের লক্ষ্য হলো জননিরাপত্তা জোরদার করা, ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং রাজ্যের বিভিন্ন খাতে প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর করা। তবে নতুন কয়েকটি আইন নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক ও জনপরিসরে বিতর্কও শুরু হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে থাকা অ-নিবন্ধিত বিদেশিদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নিবন্ধন নীতি জারি | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি নাগরিকদের নতুন নিয়ম, ৩০ দিনের বেশি থাকলে নিবন্ধন বাধ্যতামূলক

আমেরিকায় অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর নজরদারি জোরদার করতে একটি নতুন নিয়মের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) গত ২৯ জুন এই সংক্রান্ত একটি চূড়ান্ত নীতিমালা প্রকাশ করে, যা ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে নির্দিষ্ট সময়ের বেশি অবস্থানকারী অ-নিবন্ধিত বিদেশি নাগরিকদের অবশ্যই আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে নিবন্ধন করতে হবে।   নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, যেসব বিদেশি নাগরিকের বয়স ১৪ বছর বা তার বেশি এবং যারা মার্কিন ভিসার আবেদনের সময় আঙুলের ছাপ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট দেননি, তারা যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিন বা তার বেশি সময় অবস্থান করলে তাদের অবশ্যই নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। এই প্রক্রিয়াটিকে সহজ ও সুশৃঙ্খল করতে 'ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস' (ইউএসসিআইএস) একটি অনলাইন ব্যবস্থা এবং ‘জি-৩২৫আর’ নামের একটি বিশেষ ফর্ম চালু করেছে।   নিবন্ধন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের নিবন্ধনের দায়িত্ব তাদের বাবা-মা বা আইনি অভিভাবককে পালন করতে হবে। কোনো শিশু আগে থেকে নিবন্ধিত থাকলেও তার বয়স ১৪ বছর পূর্ণ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাকে পুনরায় নতুন করে নিবন্ধন ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিতে হবে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি একটি নিবন্ধনপত্র বা সার্টিফিকেট প্রদান করবে। ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী বিদেশি নাগরিকদের জন্য এই প্রমাণপত্রটি সব সময় নিজেদের কাছে রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট করেছে যে এই নিয়মটি কেবলই একটি আইনি বাধ্যবাধকতা। এই নিবন্ধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোনো বিদেশি নাগরিক কোনো ধরনের অভিবাসন মর্যাদা বা ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস পাবেন না। একই সাথে এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো কাজের অনুমতি বা ওয়ার্ক পারমিট হিসেবেও গণ্য হবে না। বিদেশি নাগরিকরা প্রতিবার যতদিনের জন্যই আমেরিকায় প্রবেশ করুন না কেন, তাদের অবস্থান ৩০ দিন বা তার বেশি হলেই প্রতিবার এই নিয়ম অনুসরণ করতে হবে।   কোনো বিদেশি নাগরিক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এই নিয়ম অমান্য করেন বা নিবন্ধন করতে অস্বীকৃতি জানান, তবে সেটি গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। নিয়ম লঙ্ঘনকারীদের জন্য সিভিল ও ক্রিমিনাল শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। আইনি বাধ্যবাধকতা অমান্য করলে সর্বোচ্চ ৫,০০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা, ৬ মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার নিয়ম চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিদেশি নাগরিকদের সুবিধার্থে একটি অনলাইন 'এআরআর ডিটারমিনেশন টুল' চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে যে কেউ যাচাই করতে পারবেন তার জন্য এই নিবন্ধন বাধ্যতামূলক কি না।   সূত্র: ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ সুদানে ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলা, নিহত ৫ সহায়তাকর্মী
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ১২:১৪

দক্ষিণ সুদানের জংলেই অঙ্গরাজ্যে স্পষ্ট মানবিক সহায়তার চিহ্নযুক্ত একটি ত্রাণবাহী বহরে সশস্ত্র হামলায় পাঁচজন সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।   জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে ২৯ জন ত্রাণকর্মী ও ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। সর্বশেষ এই হামলার পর দেশটিতে মানবিক সহায়তাকর্মীদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।   স্টিফেন ডুজারিক বলেন, জাতিসংঘের আবাসিক ও মানবিক সমন্বয়কারী রামানাথন বালাকৃষ্ণনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে তারা এই হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তিনি জানান, হামলার শিকার বহরটি স্পষ্টভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত ছিল।   তিনি আরও বলেন, মানবিক সহায়তাকর্মীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।   হামলার শিকার বহরের পরিচালনাকারী জন দাউ ফাউন্ডেশন (জেডিএফ) জানিয়েছে, তাদের কর্মীরা বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) সহায়তায় আয়োজিত একটি প্রশিক্ষণ শেষে পায়ুয়েল পায়াম থেকে পাজুত এলাকায় ফিরছিলেন। পথে বহরটির ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বেদনাদায়ক ঘটনা। এদিকে দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনের (ইউএনএমআইএসএস) প্রকাশিত নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে দেশটিতে সহিংসতায় ৭৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এ সংখ্যা ৮৯ শতাংশ বেশি। একই সময়ে সংঘাত-সম্পর্কিত যৌন সহিংসতার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।   ২০১১ সালে স্বাধীনতার পর থেকেই দক্ষিণ সুদান ধারাবাহিক সংঘাত, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার মধ্যে রয়েছে। এর ফলে দেশটিতে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকট সৃষ্টি হয়েছে।

বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের
বেলুচিস্তান সীমান্তে ৪ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি পাকিস্তানের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৮:৩৬

আফগানিস্তান সীমান্ত ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। আফগান ভূখণ্ড থেকে পাঠানো চারটি ড্রোন বেলুচিস্তান সীমান্ত এলাকায় ভূপাতিত করার দাবি করেছে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা Inter-Services Public Relations (আইএসপিআর) এ ঘটনাকে পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে ‘ব্যর্থ উসকানি’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইএসপিআর জানায়, আফগান তালেবান নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে চারটি সাধারণ ড্রোন পাকিস্তানের আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তাদের অভিযোগ, আফগানিস্তানের ভেতরে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহায়তায় এসব ড্রোন পাঠানো হয়েছিল।   বিবৃতিতে বলা হয়, পাকিস্তানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্রুত ড্রোনগুলো শনাক্ত করে এবং উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা বাহিনী সেগুলো ধ্বংস করে। এতে সম্ভাব্য হামলার চেষ্টা নস্যাৎ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।   এ ঘটনায় আফগান তালেবান সরকারের কড়া সমালোচনা করেছে ইসলামাবাদ। আইএসপিআর বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা নিজেদের জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান আফগান কর্তৃপক্ষকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সহায়তা বন্ধ করা এবং এমন ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি মেনে চলারও কথা বলা হয়েছে।   পাকিস্তান সেনাবাহিনী সতর্ক করে দিয়ে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো উসকানির জবাব ‘অপারেশন গাজাব লিল হক’-এর আওতায় দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হবে। জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যেকোনো হুমকি প্রতিহত করতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।   এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে Russia। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে সংযম প্রদর্শন এবং দ্বিপাক্ষিক বিরোধ কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।   রাশিয়ার পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক পাকিস্তানি বিমান হামলাকে ‘দুঃখজনক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হয়েছেন। যদিও পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ও আফগান তালেবান—উভয় পক্ষই নিহতের সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে।   মস্কো বলছে, ইসলামাবাদ ও কাবুলের উচিত সশস্ত্র সংঘাত থেকে সরে এসে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক এসব ঘটনা দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। সংবাদমাধ্যম সামা টিভি অনলাইনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রেমের টানে ধর্ম ও নাম বদল, তিন বছর পর আগের পরিচয়ে ফিরলেন যুবক
প্রেমের টানে ধর্ম ও নাম বদল, তিন বছর পর আগের পরিচয়ে ফিরলেন যুবক
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৭:৪১

প্রেমিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানে ধর্ম পরিবর্তন করেছিলেন এক যুবক। এমনকি বদলে ফেলেছিলেন নিজের নাম ও জীবনযাপনও। তবে কয়েক বছর পর সেই সম্পর্ক ভেঙে গেলে আবার আগের ধর্মে ফিরে এসে প্রেমিকা ও তার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তিনি। ঘটনাটি ভারতের Uttar Pradesh রাজ্যের শামলি জেলায়।   পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আয়ুষ মালিক নামে ওই যুবক প্রায় তিন বছর আগে হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। এ ঘটনায় দেশটির ধর্মান্তর বিরোধী আইনে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার প্রেমিকা চাঁদনি কুরেশি এবং তার বাবাকে।   তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ২০১৮ সালে পায়ে আঘাত পেয়ে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে গেলে চাঁদনি কুরেশি নামে এক ফিজিওথেরাপিস্টের সঙ্গে পরিচয় হয় আয়ুষের। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে এবং একসময় প্রেমের সম্পর্কে জড়ান তারা।   পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, চাঁদনির পরিবারের পক্ষ থেকে আয়ুষের ওপর ধর্ম পরিবর্তনের জন্য চাপ দেওয়া হয়। প্রেমের সম্পর্ক ধরে রাখতে এক পর্যায়ে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণে সম্মত হন। তবে এই সিদ্ধান্তে তার পরিবার সমর্থন দেয়নি বলে জানা গেছে।   ২০২৩ সালে চাঁদনির পরিবারের সঙ্গে দিল্লিতে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ধর্মান্তরিত হন আয়ুষ। তখন তার নাম পরিবর্তন করে ‘মহম্মদ আলি’ রাখা হয়। নতুন পরিচয়ে তিনি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে জীবনযাপন শুরু করেন—দাড়ি রাখা, পোশাকে পরিবর্তন এবং নিয়মিত নামাজ আদায় ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ।   তবে প্রায় তিন বছর পর সম্প্রতি তিনি আবার হিন্দু ধর্মে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন। আয়ুষের দাবি, পরিবারের কষ্ট ও মানসিক চাপ দেখে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন। পরে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আগের ধর্মে ফিরে যান তিনি।   আয়ুষের বাবা দেবরাজ মালিক অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে ধর্মান্তরিত করে পরিবারের বিপুল সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ চাঁদনি কুরেশি ও তার বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে।   উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। ধর্মান্তর সংক্রান্ত আইনের আওতায় অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং আইনি কাঠামোর জটিলতার কারণে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই বিতর্কের জন্ম দেয়।

জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জলাশয়ে নেমে ৩০ জনের মৃত্যু
জার্মানিতে তীব্র তাপপ্রবাহে জলাশয়ে নেমে ৩০ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও কয়েকজন
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ১, ২০২৬ ৭:২৯

জার্মানিতে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে নদী, হ্রদ ও বিভিন্ন জলাশয়ে সাঁতার বা গোসল করতে গিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ, পাশাপাশি কয়েকজন কিশোরও রয়েছে। প্রচণ্ড গরম থেকে স্বস্তি পেতে পানিতে নামার সময় এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   জার্মানির লাইফ সেভিং অ্যাসোসিয়েশন DLRG (ডিএলআরজি) জানিয়েছে, গত শুক্রবার থেকে রোববার—মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে—সাঁতার কাটতে গিয়ে অন্তত ২৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবারও পৃথক সাতটি প্রাণঘাতী ঘটনার খবর পাওয়া যায়।   তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ার আগেই সংস্থাটি জনগণকে সতর্ক করে বলেছিল, অতিরিক্ত গরমের সময় নদী বা হ্রদে সাঁতার কাটাকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। তবুও সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে অনেকেই ঝুঁকি নিচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছে তারা।   রোববার নিডারজ্যাক্সেন রাজ্যের পাইনে শহরের আইক্সার হ্রদ থেকে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই দিনে নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়া রাজ্যের এখৎস হ্রদ থেকে উদ্ধার করা হয় ১৪ বছর বয়সী আরেক কিশোরের লাশ, যিনি শুক্রবার নৌকা থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন।   ডিএলআরজি জানিয়েছে, তাদের পরিসংখ্যানে শুধুমাত্র যাদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেছে, তাদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখনও কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে এলবে নদীতে এক সাঁতারু, স্যাক্সনির পোহল জলাধারে এক ব্যক্তি এবং বাডেন-ভুর্টেমবার্গের একটি খনির হ্রদে ২৮ বছর বয়সী এক যুবকের খোঁজ চলছে।   পুলিশের তথ্যমতে, ওই যুবক রোববার কয়েকবার পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার পর হঠাৎ তলিয়ে যান। তার এক বন্ধু তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরাও তাকে খুঁজে পাননি। দুর্ঘটনাস্থলের পানির গভীরতা ছিল প্রায় ৩০ থেকে ৪০ মিটার।   এছাড়া নর্থ রাইন-ওয়েস্টফালিয়ার নেফেল হ্রদে ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি, কোলনের ফ্যুলিঙ্গার হ্রদে ২১ বছর বয়সী এক সাঁতারু, ভেসেল জেলায় ডুবে যাওয়া একটি রাবার বোটের আরোহী এবং বাল্টিক সাগরের শারবয়ৎস উপকূলে এক দূরপাল্লার সাঁতারুও নিখোঁজ রয়েছেন।   ডিএলআরজির সভাপতি উটে ফগ্ট বলেন, “আমরা বারবার দেখছি, বিশেষ করে পুরুষেরা নিজেদের সক্ষমতাকে অতিমূল্যায়ন করেন এবং এমন ঝুঁকি নেন, যা সহজেই এড়ানো সম্ভব।”   এদিকে জার্মানির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিনের তীব্র তাপপ্রবাহের পর আপাতত তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে ১০ থেকে ১২ জুলাইয়ের মধ্যে আবারও তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহের প্রভাবও ক্রমেই বাড়ছে। স্পেনের বার্সেলোনা শহরে ৫০০টির বেশি স্থানে ‘জলবায়ু-সুরক্ষা কেন্দ্র’ চালু করা হয়েছে, যেখানে মানুষ গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি পেতে পারে। অন্যদিকে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিস ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিকদের জন্য বিশেষ টেলিফোন নজরদারি ব্যবস্থা চালু করেছে এবং তাপপ্রবাহের সময় মদ বিক্রিতে কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে।   বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা World Health Organization (ডব্লিউএইচও)-এর ইউরোপীয় আঞ্চলিক পরিচালক হান্স ক্লুগে সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ভবিষ্যতের একটি ইঙ্গিত মাত্র। তার ভাষায়, “তাপপ্রবাহ এখন আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি বারবার ফিরে আসা একটি সংকটে পরিণত হয়েছে।”   ডব্লিউএইচওর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক তাপপ্রবাহে ইউরোপজুড়ে মাত্র কয়েক সপ্তাহেই এক হাজার ৩০০ জনের বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত সপ্তাহেই দেশটিতে প্রায় এক হাজার অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বড় অংশই ৬৫ বছরের বেশি বয়সী।   বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপপ্রবাহের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব বাড়ছে। অথচ এখনো অনেক দেশ এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিতে পারেনি। আগাম সতর্কবার্তা, শীতল আশ্রয়কেন্দ্র এবং ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে বহু প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
641 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
535 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
639 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
483 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়