মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান জানিয়েছে, কোনো ধরনের ‘আইনবহির্ভূত সামরিক আগ্রাসনের’ কাছে তেহরান নতিস্বীকার করবে না। জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে এ অবস্থান তুলে ধরে দেশটি। সোমবার জেনেভায় পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেইনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার কারণে ইরানের কোটি কোটি মানুষ গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাহরেইনি বলেন, ইরানকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যু হলো প্রায় ৯ কোটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা, যারা চলমান সামরিক আগ্রাসনের ছায়ায় বসবাস করছে। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিছু ‘আইনবহির্ভূত ও নীতিহীন শক্তি’ এই আগ্রাসনের পেছনে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ যদি আন্তর্জাতিকভাবে উপেক্ষিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। মানবাধিকার পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাহরেইনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিরীহ শিক্ষার্থীরা নিহত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইরানি রাষ্ট্রদূতের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে এক হাজার ৩০০–এর বেশি মানুষ নিহত এবং সাত হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। বাহরেইনি বলেন, ইরান এমন একটি জাতি নয়, যারা ভয়ভীতি বা জোরজবরদস্তির কাছে আত্মসমর্পণ করবে।
রান শিগগিরই বিজয় উদযাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান তার ভূখণ্ডে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায়। তবে যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে শত্রুরা আর কখনো এ ধরনের হামলার সাহস না পায়। আরাগচি জানান, ইরান প্রতিপক্ষের কাছে কোনো বার্তা পাঠায়নি এবং যুদ্ধবিরতির জন্যও অনুরোধ করেনি। তাঁর ভাষ্য,“আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে এই যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের আগ্রাসনের চিন্তাও শত্রুদের মাথায় না আসে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি না চাওয়ার অর্থ এই নয় যে ইরান যুদ্ধ চায়। বরং ইরানের লক্ষ্য এমন একটি পরিণতি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান দ্রুতই মার্কিন ও ইসরায়েলি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক পাল্টা হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, আগের দফার আগ্রাসনের সময় শত্রুরা ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিল, কিন্তু পরে তারাই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়। আরাগচি জানান, সংঘাতের শুরুতে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি শহীদ হয়েছেন, যা তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য ‘সম্মানের পদক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সংঘাতে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিকও নিহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর সময়টা কঠিন ছিল। তবে দেশের প্রতিরোধ, আত্মরক্ষা এবং পাল্টা আক্রমণ ইরানি জাতির জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। আরাগচি আরও বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো খোলা রয়েছে। তবে ইরানের শত্রু এবং যারা দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িত, তাদের জন্য এই পথ বন্ধ থাকবে। সূত্র: প্রেস টিভি।
ইরান হামলা বন্ধ না করলে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, হামলা চলতে থাকলে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তারা যদি হামলা বন্ধ করে, তাহলে আমরা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পেতে পারি। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের দেশগুলো হামলার শিকার হচ্ছে, ততক্ষণ কমিটি গঠনের সময় নয়। আল-আনসারি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি যে কমিটির কথা উল্লেখ করেন, সেটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রস্তাব করেছিলেন। প্রস্তাবিত ওই কমিটির উদ্দেশ্য ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করা। যদিও ইরান এসব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে কাতার সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আল-আনসারি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুমকি ও হামলা বন্ধ হয়নি। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দোহার একটি আবাসিক এলাকার দিকে ছোড়া হয়েছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে। ওই সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে কিছু এলাকায় মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাতারের কর্মকর্তারা জানান, সরিয়ে নেওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও ছিল। এর মধ্যে রয়েছে Google, American Express এবং Microsoft। আল-আনসারি বলেন, কাতার পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা চলছে বলে তিনি জানেন না।
সরকারি দল ভুল পথে হাঁটলে তাদের সঠিক পথ দেখাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এনসিপি মহানগর উত্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি গণভোটের পক্ষে কথা বললেও প্রধান সংস্কারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং নিজেদের মতো করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপিকে ক্রমেই আরও শক্তভাবে বিরোধিতার অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান জানিয়েছে, কোনো ধরনের ‘আইনবহির্ভূত সামরিক আগ্রাসনের’ কাছে তেহরান নতিস্বীকার করবে না। জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে এ অবস্থান তুলে ধরে দেশটি। সোমবার জেনেভায় পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেইনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার কারণে ইরানের কোটি কোটি মানুষ গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাহরেইনি বলেন, ইরানকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যু হলো প্রায় ৯ কোটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা, যারা চলমান সামরিক আগ্রাসনের ছায়ায় বসবাস করছে। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিছু ‘আইনবহির্ভূত ও নীতিহীন শক্তি’ এই আগ্রাসনের পেছনে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ যদি আন্তর্জাতিকভাবে উপেক্ষিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। মানবাধিকার পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাহরেইনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিরীহ শিক্ষার্থীরা নিহত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইরানি রাষ্ট্রদূতের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে এক হাজার ৩০০–এর বেশি মানুষ নিহত এবং সাত হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। বাহরেইনি বলেন, ইরান এমন একটি জাতি নয়, যারা ভয়ভীতি বা জোরজবরদস্তির কাছে আত্মসমর্পণ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তাহীনতা ও অস্থিতিশীলতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে দায়ী করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। একই সঙ্গে তিনি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং দেশের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরানের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রোববার রাতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে পেজেশকিয়ান এসব কথা বলেন। ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে। আলাপের সময় পেজেশকিয়ান ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ‘অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের’ তীব্র নিন্দা জানান। তিনি বলেন, ইরানের বেসামরিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ইরানের প্রেসিডেন্ট জানান, দেশটির আবু মুসা ও খার্গ দ্বীপ বর্তমানে তীব্র হামলার মুখে রয়েছে। তাঁর অভিযোগ, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সতর্ক করে তিনি বলেন, অন্য একটি দেশের বিরুদ্ধে হামলার জন্য নিজেদের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান কখনোই সংঘাত বা উত্তেজনা চায় না। তবে দেশের জনগণের সমর্থন ও জাতীয় শক্তির ভিত্তিতে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় ইরান কোনো দ্বিধা করবে না। তিনি আরও দাবি করেন, গাজা ও লেবাননে সহিংসতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাই মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি উত্তেজনা প্রশমন এবং যুদ্ধ বন্ধের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। আলোচনায় দুই দেশের নাগরিকদের কনসুলার বিষয়, বিশেষ করে ইরান ও ফ্রান্সে আটক নাগরিকদের বিষয়েও কথা বলেন দুই নেতা। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
সম্ভাব্য বেইজিং সফরের আগে হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে চীনের প্রতি শর্ত জুড়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, বেইজিং যদি প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে সহায়তা না করে, তবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করা হতে পারে। সোমবার (১৬ মার্চ) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ট্রাম্পের সম্ভাব্য চীন সফর এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক নিয়ে বেইজিং ও ওয়াশিংটনের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ চলছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান বলেন, চীন–মার্কিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধান পর্যায়ের কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নির্দেশকের ভূমিকা পালন করে। তবে ন্যাটো বা চীনের ওপর ট্রাম্পের চাপ প্রসঙ্গে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গে লিন জিয়ান বলেন, বর্তমান উত্তেজনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ ও জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, বেইজিং যদি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার বিষয়ে সহযোগিতা না করে, তাহলে তাঁর সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক স্থগিত হতে পারে। এমনকি এ অনুরোধ উপেক্ষা করা হলে তা চীনের মিত্র এবং ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর ভবিষ্যতের জন্যও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প ৩১ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চীন সফর করতে পারেন। তবে বেইজিং এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সফরের তারিখ নিশ্চিত করেনি। এদিকে সম্ভাব্য এই সফরের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে প্যারিসে দুই দেশের শীর্ষ অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সম্ভাব্য ট্রাম্প–শি বৈঠকে বাণিজ্য ইস্যুই প্রধান আলোচ্য বিষয় হবে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা তৃতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করেছে, আর এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন সিনেটর ক্রিস মারফি সতর্ক করে বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ধারাবাহিক পোস্টে জানিয়েছেন, চলমান যুদ্ধ পুরো অঞ্চলকে সহিংসতার এক ভয়ঙ্কর চক্রে ঠেলে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, এটি এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, ট্রাম্প যুদ্ধের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন। ইরানের পাল্টা আঘাত হানার সক্ষমতা সম্পর্কে তিনি মারাত্মক ভুল ধারণা পোষণ করেছিলেন। পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখন জ্বলছে। সিনেটর মারফি হরমুজ প্রণালির সংকটকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই সরু নৌপথের মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাসের ২০ শতাংশের বেশি পরিবাহিত হয়। তিনি বলেন, ট্রাম্প বিশ্বাস করেছিলেন ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করবে না। তিনি ভুল ছিলেন। এখন তেলের দাম আকাশচুম্বী। মারফি আরও সতর্ক করেছেন যে ইরানের ড্রোন, স্পিডবোট ও সামুদ্রিক মাইনগুলোর বিস্তৃতি এই জলপথকে নিরাপদ রাখা কঠিন করে তুলেছে। তিনি বলেছেন, এই অস্ত্রগুলো নির্মূল করা সম্ভব নয়, এগুলো সংখ্যায় অনেক এবং লুকানো অবস্থায় রয়েছে। তিনি ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরান এই অঞ্চলের তেলক্ষেত্রে অনির্দিষ্টকাল ধরে হামলা চালাতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ ইতিমধ্যে দেখিয়েছে কীভাবে ড্রোন আধুনিক যুদ্ধবিগ্রহের ধরন বদলে দিয়েছে। মারফি সতর্ক করেছেন যে, পুরো অঞ্চলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মধ্যে আছে এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত ভৌগোলিকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, লেবাননে ইরানের মিত্ররা ইসরায়েল ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে, যা বড় ধরনের স্থল অভিযান এবং নতুন সংকটের কারণ হতে পারে। সিনেটর বলেন, “ট্রাম্পের কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নেই। ইরান এবং তার সমর্থিত গোষ্ঠী অনির্দিষ্টকাল বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। মিথ্যা বিজয় ঘোষণা করলে, নতুন কট্টরপন্থীরা সবকিছু পুনর্গঠন করবে।” মারফি পরিশেষে প্রশাসনকে আহ্বান জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধ করতে এখনই বুদ্ধিমানের মতো পদক্ষেপ নিতে হবে, নাহলে আরও বড় বিপর্যয় দেখা দেবে।
সরকারি দল ভুল পথে হাঁটলে তাদের সঠিক পথ দেখাবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—এমন মন্তব্য করেছেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (১৫ মার্চ) রাজধানীতে এনসিপি মহানগর উত্তরের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে এনসিপির লড়াই অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। ইফতার মাহফিল শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঐকমত্য কমিশনের প্রক্রিয়া থেকেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সংস্কারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তার দাবি, বিএনপি গণভোটের পক্ষে কথা বললেও প্রধান সংস্কারগুলোর বিষয়ে স্পষ্ট সমর্থন দিচ্ছে না এবং নিজেদের মতো করে সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায়। নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, সরকারের কিছু সিদ্ধান্ত এনসিপিকে ক্রমেই আরও শক্তভাবে বিরোধিতার অবস্থানে ঠেলে দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে, যা সময়ের প্রবাহে একেবারে ভিন্ন রূপ ধারণ করে। তেমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল ১৮১৪ সালে, যখন যুদ্ধের ময়দানে মুখোমুখি ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য। সেই সংঘর্ষে ব্রিটিশ বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন দখল করে এবং হোয়াইট হাউজসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে ইতিহাসের চমকপ্রদ বাস্তবতা হলো যে দেশ একসময় যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে হামলা চালিয়েছিল, আজ সেই দেশই বিশ্ব রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র। এই ঘটনার পটভূমি ছিল ১৮১২ সালের যুদ্ধ। সমুদ্র বাণিজ্য, নৌ-আধিপত্য এবং উত্তর আমেরিকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে উত্তেজনা থেকেই সেই সংঘাত শুরু হয়। ১৮১৪ সালের ২৪ আগস্ট ব্রিটিশ বাহিনী ওয়াশিংটনে প্রবেশ করে এবং একাধিক সরকারি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলোর মধ্যে ছিল প্রেসিডেন্টের বাসভবন হোয়াইট হাউজ, আইনসভা ভবন ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাপিটলসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। ইতিহাসবিদদের মতে, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা যেখানে একটি বিদেশি বাহিনী রাজধানী শহরে প্রবেশ করে সরকারি স্থাপনায় আগুন দেয়। সেই সময়ের মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসন ও তার প্রশাসনের সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে রাজধানী ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। ব্রিটিশ সেনারা প্রেসিডেন্টের বাসভবনে ঢুকে আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং পরে পুরো ভবনে আগুন লাগিয়ে দেয়। ইতিহাসবিদ নিয়ল ফারগুসন বলেন, “১৮১৪ সালে ওয়াশিংটনে ব্রিটিশ হামলা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক মুহূর্ত ছিল। তবে সেই সংঘাতই পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সম্পর্ক নতুনভাবে গড়ে ওঠার পথ তৈরি করে।” অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জোসেফ নায় মনে করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে অনেক সময় ‘বিশেষ সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। অথচ দুই শতক আগে এই দুই দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছিল এবং ব্রিটিশ বাহিনী মার্কিন রাজধানী পুড়িয়ে দিয়েছিল। যুদ্ধের পর ওয়াশিংটন শহর পুনর্গঠন করা হয় এবং হোয়াইট হাউজ পুনরায় নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্কও বদলে যায়। বিশেষ করে বিংশ শতাব্দীতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক অংশীদারে পরিণত হয় এবং বর্তমানে তারা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবে পরিচিত। ইতিহাস তাই মনে করিয়ে দেয় যে দেশ একসময় প্রতিপক্ষ ছিল, সময়ের প্রবাহে সেই দেশই কখনও কখনও সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হতে পারে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান জানিয়েছে, কোনো ধরনের ‘আইনবহির্ভূত সামরিক আগ্রাসনের’ কাছে তেহরান নতিস্বীকার করবে না। জেনেভায় অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে এ অবস্থান তুলে ধরে দেশটি। সোমবার জেনেভায় পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দেন জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলী বাহরেইনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলার কারণে ইরানের কোটি কোটি মানুষ গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বাহরেইনি বলেন, ইরানকে ঘিরে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার ইস্যু হলো প্রায় ৯ কোটি মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা, যারা চলমান সামরিক আগ্রাসনের ছায়ায় বসবাস করছে। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনের কিছু ‘আইনবহির্ভূত ও নীতিহীন শক্তি’ এই আগ্রাসনের পেছনে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমন বেপরোয়া সামরিক পদক্ষেপ যদি আন্তর্জাতিকভাবে উপেক্ষিত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারে। মানবাধিকার পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বাহরেইনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং বেসামরিক স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের অভিযোগ, দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর মিনাবের একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিরীহ শিক্ষার্থীরা নিহত হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ইরানি রাষ্ট্রদূতের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে এক হাজার ৩০০–এর বেশি মানুষ নিহত এবং সাত হাজারের বেশি আহত হয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে—সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। বাহরেইনি বলেন, ইরান এমন একটি জাতি নয়, যারা ভয়ভীতি বা জোরজবরদস্তির কাছে আত্মসমর্পণ করবে।
রান শিগগিরই বিজয় উদযাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান তার ভূখণ্ডে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের স্থায়ী অবসান চায়। তবে যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হওয়া উচিত, যাতে ভবিষ্যতে শত্রুরা আর কখনো এ ধরনের হামলার সাহস না পায়। আরাগচি জানান, ইরান প্রতিপক্ষের কাছে কোনো বার্তা পাঠায়নি এবং যুদ্ধবিরতির জন্যও অনুরোধ করেনি। তাঁর ভাষ্য,“আমরা যুদ্ধ চাই না, তবে এই যুদ্ধ এমনভাবে শেষ হতে হবে যাতে ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের আগ্রাসনের চিন্তাও শত্রুদের মাথায় না আসে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি না চাওয়ার অর্থ এই নয় যে ইরান যুদ্ধ চায়। বরং ইরানের লক্ষ্য এমন একটি পরিণতি নিশ্চিত করা, যাতে ভবিষ্যতে দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি না ঘটে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, গত মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান দ্রুতই মার্কিন ও ইসরায়েলি গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক পাল্টা হামলা চালায়। তিনি আরও বলেন, আগের দফার আগ্রাসনের সময় শত্রুরা ইরানের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিল, কিন্তু পরে তারাই যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাতে বাধ্য হয়। আরাগচি জানান, সংঘাতের শুরুতে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনি শহীদ হয়েছেন, যা তাঁর দীর্ঘ সংগ্রামের জন্য ‘সম্মানের পদক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই সংঘাতে অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং সাধারণ নাগরিকও নিহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর সময়টা কঠিন ছিল। তবে দেশের প্রতিরোধ, আত্মরক্ষা এবং পাল্টা আক্রমণ ইরানি জাতির জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে। আরাগচি আরও বলেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি এখনো খোলা রয়েছে। তবে ইরানের শত্রু এবং যারা দেশটির বিরুদ্ধে আগ্রাসনে জড়িত, তাদের জন্য এই পথ বন্ধ থাকবে। সূত্র: প্রেস টিভি।
ইরান হামলা বন্ধ না করলে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই অবস্থান তুলে ধরা হয়। ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, হামলা চলতে থাকলে কূটনৈতিক সমাধান খোঁজা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, তারা যদি হামলা বন্ধ করে, তাহলে আমরা কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে পেতে পারি। কিন্তু যতক্ষণ আমাদের দেশগুলো হামলার শিকার হচ্ছে, ততক্ষণ কমিটি গঠনের সময় নয়। আল-আনসারি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশগুলোর নিরাপত্তা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়াই সবচেয়ে জরুরি এবং অবিলম্বে হামলা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি যে কমিটির কথা উল্লেখ করেন, সেটি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি প্রস্তাব করেছিলেন। প্রস্তাবিত ওই কমিটির উদ্দেশ্য ছিল উপসাগরীয় দেশগুলোতে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করা। যদিও ইরান এসব হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে কাতার সেই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আল-আনসারি বলেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হুমকি ও হামলা বন্ধ হয়নি। তিনি জানান, সম্প্রতি একটি ক্ষেপণাস্ত্র দোহার একটি আবাসিক এলাকার দিকে ছোড়া হয়েছিল, যা প্রতিহত করা হয়েছে। ওই সময় সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণে কিছু এলাকায় মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাতারের কর্মকর্তারা জানান, সরিয়ে নেওয়া এলাকাগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ও ছিল। এর মধ্যে রয়েছে Google, American Express এবং Microsoft। আল-আনসারি বলেন, কাতার পরিস্থিতি শান্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে। তবে এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক মধ্যস্থতা চলছে বলে তিনি জানেন না।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ‘সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক’ স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। দেশটির দাবি, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করতেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। সোমবার (১৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েলি সেনারা দক্ষিণ লেবাননের কৌশলগত কয়েকটি এলাকায় প্রবেশ করে হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালাচ্ছে। ইসরায়েলের দাবি, সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতিগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্থল অভিযানের পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে বিমান হামলাও চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন প্যারামেডিক রয়েছেন। অন্যদিকে, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হিজবুল্লাহর রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কারণে সতর্ক সংকেত বাজানো হলেও সেখানে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলি বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৯১তম ডিভিশনের সেনারা লেবাননের অভ্যন্তরে অভিযান চালাচ্ছে। আইডিএফের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শশানি দাবি করেন, হিজবুল্লাহর রাদওয়ান বাহিনীর শতাধিক যোদ্ধা সীমান্তে মোতায়েন ছিল এবং তারা ইসরায়েলে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছিল। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কয়েক হাজার সৈন্য নিয়ে তিনটি ইসরায়েলি ডিভিশন দক্ষিণ লেবাননে অবস্থান করছে। প্রয়োজনে আরও দুটি ডিভিশন সেখানে পাঠানো হতে পারে। লেবানন কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে অন্তত ৮৫০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ১০৭ জন শিশু রয়েছে। সংঘাতের কারণে প্রায় ৮ লাখ ৩০ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এই সীমান্ত সংঘাত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।