সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
প্রতিকী ছবি এডিট আমেরিকা বাংলা।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের চূড়ান্ত নোটিশ, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বাড়বে কিস্তির চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তনের কারণে লাখো ঋণগ্রহীতার জন্য নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ‘সেভ’ নামে পরিচিত একটি ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাঁরা এখনো বিকল্প পরিকল্পনা বেছে নেননি, তাঁদের অনেকেই ‘চূড়ান্ত নোটিশ’ পাচ্ছেন। এই নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন না করলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তাঁদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনা চালু করতে পারে। এতে আগের তুলনায় মাসিক পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে আদালতের আদেশের পর ‘সেভ’ বা ‘সেভিং অন আ ভ্যালুয়েবল এডুকেশন’ পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিকল্পনায় ঋণগ্রহীতার আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় থাকা প্রায় ৭৫ লাখ ঋণগ্রহীতাকে বিকল্প পরিশোধ পরিকল্পনায় যাওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। https://studentaid.gov/articles/save/   প্রথম পর্যায়ে ঋণ ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের নোটিশ পাঠানো শুরু করে। ওই নোটিশে নতুন পরিশোধ পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। কেউ সেই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে তাঁকে আরও ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হতে পারে। তবে সবার নোটিশ একই দিনে পাঠানো হয়নি। ফলে প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার শেষ সময়সীমাও এক নয়। নিজের ঋণ ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠানের পাঠানো নোটিশ থেকেই সঠিক তারিখ জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তর।   চূড়ান্ত সময়সীমার মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন না করলে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ সাধারণ নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনা অথবা নতুন স্তরভিত্তিক নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনায় স্থানান্তর করা হতে পারে। কোন পরিকল্পনা প্রযোজ্য হবে, তা ঋণ বিতরণের তারিখসহ সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করবে। এসব পরিকল্পনায় মাসিক কিস্তি আয়ভিত্তিক পরিকল্পনার তুলনায় বেশি হতে পারে। যাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি কেটে নেওয়া হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন কিস্তির পরিমাণ অনুযায়ী টাকা কাটার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।   সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তর জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনায় যাওয়ার পর ঋণগ্রহীতাকে প্রথম কিস্তি পরিশোধের নির্ধারিত তারিখের অন্তত ২১ দিন আগে নতুন মাসিক কিস্তির পরিমাণ জানানো হবে। তাই শুধু চূড়ান্ত নোটিশ পাওয়ার পরই নয়, নতুন কিস্তি কত হবে এবং কখন থেকে কার্যকর হবে, সেটিও যাচাই করা জরুরি।   ঋণগ্রহীতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো, নোটিশ উপেক্ষা না করে দ্রুত নিজেদের ঋণের অবস্থা যাচাই করা। সরকারি ওয়েবসাইট StudentAid.gov-এ প্রবেশ করে নিজের ঋণের ধরন, বর্তমান পরিশোধ পরিকল্পনা এবং বিকল্প পরিকল্পনার যোগ্যতা দেখা যায়। সেখানে থাকা ঋণ পরিশোধের হিসাবযন্ত্র ব্যবহার করে সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি ও মোট পরিশোধের পরিমাণ তুলনা করা সম্ভব। এরপর নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই পরিকল্পনা বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিতে হবে।   আয়ের ভিত্তিতে কিস্তি নির্ধারণ করা হয় এমন কিছু পরিকল্পনাও যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য রয়েছে। এর মধ্যে আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, আয় ও ঋণ পরিশোধের সম্পর্কনির্ভর পরিকল্পনা এবং ‘পে অ্যাজ ইউ আর্ন’ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ‘রিপেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্ল্যান’ বা নতুন সহায়তাভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনাও চালু হয়েছে। তবে সব ঋণগ্রহীতা সব পরিকল্পনার জন্য যোগ্য নন। ঋণের ধরন, ঋণ বিতরণের সময় এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে।   যাঁরা সরকারি চাকরি বা নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কারণে ঋণ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার পথে রয়েছেন, তাঁদের জন্য পরিকল্পনা নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সব পরিশোধ পরিকল্পনার কিস্তি ঋণ মওকুফের যোগ্যতার ক্ষেত্রে একইভাবে গণ্য হয় না। বিশেষ করে সরকারি সেবা খাতে কাজের ভিত্তিতে ঋণ মওকুফের আবেদনকারীদের নতুন পরিকল্পনায় যাওয়ার আগে তাঁদের কিস্তি সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত পূরণ করবে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

১২ মিনিট Ago
হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব নবরাত্রি উদ্‌যাপনে গরবা নৃত্যে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র

হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব নবরাত্রি উদ্‌যাপনে গরবা নৃত্যে অংশ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। ভারতীয় বংশোদ্ভূত সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর নাচের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। উৎসবের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি একটি মন্দিরে গিয়ে পুরোহিতের আশীর্বাদ নেওয়ার দৃশ্যও প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে ও মানিকন্ট্রোলের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নবরাত্রি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মামদানিকে ঐতিহ্যবাহী গুজরাটি গরবা নৃত্যে অংশ নিতে দেখা যায়। কালো পোশাকের সঙ্গে গলায় ওড়নার মতো কাপড় পরে তিনি অন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নাচে যোগ দেন। অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।   শুধু নৃত্যে অংশ নেওয়াই নয়, উৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে শুভেচ্ছাবার্তাও দিয়েছেন মামদানি। ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত এক বার্তায় তিনি নবরাত্রির বিভিন্ন আঞ্চলিক রীতি ও ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করেন। দুর্গাপূজা, নবরাত্রি, দশেরা ও দশাইনের মতো উৎসবের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রকাশ পায় বলে তাঁর বার্তায় উঠে আসে।   মামদানি তাঁর বার্তায় বলেন, নবরাত্রি উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ দেবী দুর্গার আরাধনা করেন, গরবা নাচে অংশ নেন, সিঁদুর খেলা পালন করেন এবং বড়দের কাছ থেকে টিকা গ্রহণ করেন। বিভিন্ন পরিবার ও অঞ্চলে উৎসব পালনের রীতিতে পার্থক্য থাকলেও এসব আয়োজন মানুষের জন্য আত্মপর্যালোচনা ও নতুনভাবে এগিয়ে যাওয়ার উপলক্ষ হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি শুভেচ্ছাবার্তায় উল্লেখ করেন।   মামদানির অংশগ্রহণের ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে তাঁর নাচের প্রশংসা করেছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে তাঁর অংশগ্রহণকে ইতিবাচকভাবে দেখেছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিক্রিয়াগুলো সব ব্যবহারকারীর মতামতের প্রতিনিধিত্ব করে—এমন কোনো প্রমাণ নেই।   নবরাত্রি হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব। সাধারণত দেবী দুর্গার আরাধনাকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে এই উৎসব পালিত হয়। ভারতের গুজরাটে গরবা ও ডান্ডিয়া নৃত্য নবরাত্রি উদ্‌যাপনের বিশেষ অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন শহরে বসবাসরত দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের মানুষও প্রতিবছর নাচ, সংগীত, প্রার্থনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবটি উদ্‌যাপন করেন।   নিউইয়র্কে বিভিন্ন ধর্ম, ভাষা ও জাতিগত পরিচয়ের মানুষের বসবাস। শহরটির সাংস্কৃতিক জীবনে দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি রয়েছে। নবরাত্রি ও দুর্গাপূজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে আয়োজিত অনুষ্ঠানগুলো প্রবাসী পরিবারগুলোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগও তৈরি করে।   মামদানি ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি নিউইয়র্ক সিটির ১১২তম মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। মেয়র হওয়ার আগে তিনি নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভার সদস্য ছিলেন। তাঁর সাম্প্রতিক উৎসবে অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা মূলত সাংস্কৃতিক সম্প্রীতি, ধর্মীয় বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে জনপ্রতিনিধিদের যোগাযোগের বিষয়গুলোকে সামনে এনেছে।

২৯ মিনিট Ago
সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদি যুবরাজের কঠিন সময়, ইয়েমেন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে চাপে পড়েছে

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে নতুন করে তীব্র হওয়া সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণেও যুবরাজের প্রধান কৌশলগুলোর ওপর চাপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।    সৌদি যুবরাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৬ সালে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের সঙ্গে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমান চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবকিছু সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে সেগুলো যাচাই করতে পারেনি। এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্বের সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামরিক অভিযান আরও জোরদার করলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে হুথিদের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনা। এ উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি। এর আওতায় পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন, পরিবহন, আবাসন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবকে বৈশ্বিক পর্যটন ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলেছে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব কিছু বড় প্রকল্পের পরিধি ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে। জানুয়ারিতে রিয়াদের নিউ মুরাব্বা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় আকৃতির বিশাল ভবন ‘মুকাব’-এর নির্মাণকাজও স্থগিত রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।   নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে অর্থ বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনা করেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা কিংবা বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশটির বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিশন ২০৩০ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে। পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় এবং সরকার কীভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তার ওপর।   সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উন্নত অস্ত্র, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সামরিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন রিয়াদের অন্যতম প্রধান সহযোগী। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।   দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সৌদি যুবরাজের নির্ভরতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সৌদি আরব আশা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আঞ্চলিক সংকটে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

৫১ মিনিট Ago
লং বিচে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটকের সময় এক মার্কিন নাগরিক আহত
লং বিচে আইসিইর হাতে আটকের সময় মার্কিন নাগরিক আহতের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লং বিচে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে আটকের সময় এক মার্কিন নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয় মেয়র রেক্স রিচার্ডসন ঘটনার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের তদন্ত চলাকালে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছেন।   শনিবার (১৭ অক্টোবর) নর্থ লং বিচে এ ঘটনা ঘটে। আহত ব্যক্তির নাম রিকার্ডো গনজালেস। তিনি শহরটির সাবেক কর্মী। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তিনি বাড়িতে সুস্থ হয়ে উঠছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ১১।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে গনজালেসকে হাতকড়া পরা অবস্থায় রাস্তার পাশে উপুড় করে চেপে রাখতে দেখা যায়। এ সময় তাঁকে সাহায্য চাইতে এবং নিজের হাত ভেঙে যাওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, কর্মকর্তারা তাঁকে টেজার দিয়ে বৈদ্যুতিক শকও দেন। তবে আঘাতের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাগত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।   প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, ঘটনার সময় গনজালেস একটি ই-বাইক চালাচ্ছিলেন। নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজে একটি চিহ্নবিহীন এসইউভিকে একমুখী সড়কে উল্টো দিক দিয়ে চলতে দেখা যায়। তবে ক্যামেরার অবস্থানের কারণে গাড়িটির সঙ্গে ই-বাইকের সংঘর্ষ হয়েছিল কি না, তা ওই ফুটেজ থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।    লং বিচ পুলিশের ভাষ্য, গাড়ি ভাঙচুর এবং একজনের চিকিৎসাসহায়তার প্রয়োজন হওয়ার কথা জানিয়ে আইসিই স্থানীয় জরুরি সেবা চেয়েছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কর্মকর্তারা গনজালেসকে হাতকড়া পরা ও রক্তাক্ত অবস্থায় পান। তাঁকে কাছের একটি ফায়ার স্টেশনে নেওয়ার পর হাতকড়া খুলে দেওয়া হয়। পরে দমকল বিভাগের কর্মীরা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, তারা অভিবাসন অভিযানটিতে অংশ নেয়নি এবং কাউকে গ্রেপ্তারও করেনি।   সোমবার মেয়র রিচার্ডসন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের মহাপরিদর্শকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ পাঠান। কেন গনজালেসকে আটক করা হয়েছিল, তাঁর ক্ষেত্রে বর্ণগত পরিচয়ের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল কি না এবং কেন তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দেওয়া হয়নি, এসব প্রশ্নের জবাব চেয়েছেন তিনি। তদন্তের প্রমাণ সংরক্ষণ এবং প্রতিবেদন প্রকাশেরও দাবি জানিয়েছেন মেয়র। কংগ্রেস সদস্য রবার্ট গার্সিয়াও ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছেন।   অন্যদিকে আইসিই দাবি করেছে, সরকারি গাড়ির আয়না ভাঙার পর ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়। সংস্থাটি ই-বাইকে থাকা কাউকে গাড়ি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের বক্তব্য, কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম বলপ্রয়োগ করেছেন। সরকারি গাড়ির ক্ষতিসাধনের ঘটনায় সম্ভাব্য অভিযোগ আনার বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইসিই। এসব দাবি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা ট্রাম্পের, বরাদ্দ ৮ বিলিয়ন ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকদের বাড়তি ডিজেল খরচের চাপ কমাতে ৮ বিলিয়ন ডলারের বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফসল কাটার মৌসুমে কৃষকদের আর্থিক চাপ সামাল দিতে ‘হারভেস্ট ফুয়েল রিলিফ প্রোগ্রাম’ নামে এ কর্মসূচি চালু করছে দেশটির কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ)। সোমবার রাতে কানসাসে এক নির্বাচনী সমাবেশে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কর্মসূচির আওতায় কৃষকেরা এককালীন অর্থসহায়তা পাবেন। তবে প্রত্যেকে কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করবে নির্ধারিত হিসাবপদ্ধতি ও সংশ্লিষ্ট ফসলের ওপর।   ট্রাম্পের ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষকেরা ডিজেলসহ উৎপাদন উপকরণের বাড়তি ব্যয় নিয়ে উদ্বেগ জানাচ্ছেন। কৃষিকাজে ট্রাক্টর, হারভেস্টার, সেচব্যবস্থা ও অন্যান্য যন্ত্র চালাতে জ্বালানির প্রয়োজন হয়। ফলে ডিজেলের দাম বেড়ে গেলে ফসল উৎপাদন ও সংগ্রহের খরচও বাড়ে। নতুন কর্মসূচির মাধ্যমে ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন মৌসুমে কৃষকদের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। কানসাসের পার্ক সিটিতে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ট্রাম্প বলেন, কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি বিভাগ নতুন এই কর্মসূচি চালু করবে। এ সময় তিনি রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের ভূমিকাও তুলে ধরেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মার্শাল এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করেছেন। মার্শাল একজন চিকিৎসক এবং বর্তমানে কানসাসের সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজ্যটিতে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে তিনি ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটনের মুখোমুখি হচ্ছেন। নির্বাচনী পূর্বাভাসে সম্প্রতি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে এ আসন। সাবাতোর ক্রিস্টাল বল এবং দ্য কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট—দুটি প্রতিষ্ঠানই আসনটিকে এমন অবস্থানে রেখেছে, যেখানে দুই দলের যেকোনো প্রার্থী জয়ী হতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক অবস্থান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়। ঐতিহাসিকভাবে এসব নির্বাচনে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের দল কংগ্রেসে আসন হারানোর প্রবণতা দেখিয়েছে। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা খুব বেশি নয়। ফলে কৃষকদের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোটারগোষ্ঠীর সমর্থন ধরে রাখা দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ট্রাম্পের সামগ্রিক অনুমোদন এবং অর্থনীতি, অভিবাসন ও কর্মসংস্থানের মতো বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর প্রতি জনসমর্থন কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলানো নিয়ে পরিবারগুলোর উদ্বেগও বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের জন্য নতুন আর্থিক সহায়তার ঘোষণা এসেছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের (এএএ) তথ্য অনুযায়ী, ঘোষণার সময় যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত পেট্রলের জাতীয় গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৪.২৯৫৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.৩১৮৭ ডলার। কানসাসে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম ছিল প্রতি গ্যালন ৩.৯৭৮৩ ডলার এবং ডিজেলের দাম ৬.০৭২২ ডলার। বিশেষ করে ডিজেলের উচ্চমূল্য কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, অস্থায়ী বাজারবিঘ্ন এবং উৎপাদন উপকরণের বাড়তি খরচের কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হচ্ছে, তার একটি অংশ পুষিয়ে দিতে ৮ বিলিয়ন ডলার এককালীন অর্থসহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। সহায়তার পরিমাণ নির্ধারণে একটি অভিন্ন হিসাবপদ্ধতি ব্যবহার করা হবে, যাতে যোগ্য কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সহায়তা পান। এই হিসাবের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ফসল উৎপাদন মৌসুমের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ বিবেচনা করা হবে। কৃষি বিভাগের বিশ্ব কৃষিপণ্য সরবরাহ ও চাহিদা-সংক্রান্ত পূর্বাভাস থেকে ফসলের দাম ও ফলনের তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক গবেষণা বিভাগ থেকে উৎপাদন ব্যয়ের হিসাব এবং কৃষি বিভাগের ফার্ম সার্ভিস এজেন্সিতে (এফএসএ) জমা দেওয়া আবাদি জমির তথ্য ব্যবহার করা হবে। কর্মসূচির অর্থ কমোডিটি ক্রেডিট করপোরেশন চার্টার আইনের আওতায় বরাদ্দ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের অধীন ফার্ম সার্ভিস এজেন্সি অর্থ বিতরণের দায়িত্ব পালন করবে। কোন ফসলের জন্য কত হারে অর্থ দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এ কর্মসূচির জন্য ফসলবিমা থাকা বাধ্যতামূলক নয়। তবে ভবিষ্যতে পণ্যের দাম ওঠানামা ও বাজারের ঝুঁকি সামলাতে কৃষকদের নতুন কর আইনে অন্তর্ভুক্ত উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুবিধা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। যেসব কৃষিপণ্য সাধারণত টাইটেল-ওয়ান পণ্যের তালিকায় পড়ে না, সেগুলোর জন্য সহায়তার হিসাবপদ্ধতি পরে ঘোষণা করা হবে। এ ধরনের পণ্যের মধ্যে বিশেষায়িত ফসল উৎপাদনকারীদের পাশাপাশি মৎস্যজীবীরাও রয়েছেন। জ্বালানির বাড়তি খরচের প্রভাব বিবেচনার জন্য তাঁদের তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে HarvestFuel@usda.gov ঠিকানায়। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সহায়তার হার নির্ধারণ করা হতে পারে। আবেদনের সময়সীমা ঘোষণার আগেই কৃষকদের Login.gov-এ অ্যাকাউন্ট খোলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলে আগে থেকে পূরণ করা আবেদনপত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকবে। কৃষিমন্ত্রী ব্রুক এল. রোলিন্স বলেছেন, ফসল কাটার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কৃষকদের আরও লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা দিতে এ কর্মসূচি চালু করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ৮ বিলিয়ন ডলারের এ বিনিয়োগ কৃষকদের আর্থিক অনিশ্চয়তা কমাতে এবং দেশের খাদ্য সরবরাহ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করবে। তবে জ্বালানির দাম নিয়ে কৃষকদের অসন্তোষ নতুন নয়। ন্যাশনাল ব্ল্যাক ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন বয়েড এর আগে বলেছিলেন, ডিজেলের উচ্চমূল্য এবং অন্যান্য আর্থিক চাপের কারণে কৃষকদের পক্ষে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ছে। নির্বাচনের আগে আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার ঘটনাও এবার নতুন নয়। গত মাসে রিপাবলিকানদের মধ্যবর্তী নির্বাচন-সংক্রান্ত সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, তাঁর দল নির্বাচনে জয়ী হলে লাখ লাখ আমেরিকানকে ৫ হাজার ডলারের ডিভিডেন্ড চেক দেওয়া হবে। পাশাপাশি ২ কোটির বেশি প্রবীণ নাগরিককে মেডিকেয়ার পার্ট বি প্রিমিয়াম পরিশোধে সহায়তার জন্য প্রায় ১০০ ডলারের চেক দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছিলেন তিনি। নতুন কৃষি সহায়তা কর্মসূচির মাধ্যমে ডিজেলের বাড়তি খরচের কতটা চাপ কমানো সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে ফসলভিত্তিক অর্থসহায়তার হার এবং কৃষকেরা বাস্তবে কতটা অর্থ পাবেন তার ওপর। আপাতত কৃষকদের সম্ভাব্য ক্ষতির একটি অংশ পুষিয়ে দেওয়াই সরকারের ঘোষিত লক্ষ্য।

প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ৬:৪৩
রাতভর বিক্ষোভ ও লুটপাটে ফ্রান্সের ১৯ শতকের টাউন হলে আ গু ন, গ্রে প্তা র এক ব্যক্তি

ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও লুটপাটের মধ্যে ১৯ শতকে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক টাউন হল পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় ৪০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে গ্রে প্তা র করেছে পুলিশ। দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় শহর লিমোজে শনিবার রাতে ভবনটিতে আ গু ন লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চলমান অস্থিরতার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ফরাসি সরকার।   গ্রে প্তা র ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ফরাসি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি একটি উগ্র বামপন্থী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সম্ভাব্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। লিমোজ শহরের টাউন হলের ঘণ্টার টাওয়ার ও ছাদের কিছু অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য ভিডিওতে দেখা গেছে। ঐতিহাসিক ভবনটির ওপরের অংশ থেকে আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর, লুটপাট ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। দেশটির বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানিন জানিয়েছেন, সপ্তাহান্তের অস্থিরতার সময় আটক ১২৩ জন বিচার শুরুর অপেক্ষায় হেফাজতে রয়েছেন। এ ছাড়া প্রায় ২ হাজার ৫০০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ রয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিস, বোর্দো, লিল, লিয়ঁ, নিস ও মার্সেইয়ের কয়েকটি এলাকায় আংশিক কারফিউ জারি করা হয়েছে। যেসব এলাকায় বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনা বেশি ঘটেছে, সেখানে রাতের পরিস্থিতি শান্ত রাখাই এ পদক্ষেপের উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে রাস্তায় নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ সদস্যের সংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে সরকার। সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে প্রায় ৬০ হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোতে মাঠপর্যায়ে আরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হতে পারে। সাম্প্রতিক অস্থিরতা মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বাড়ানো এবং বিক্ষোভের সময় সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফ্রান্সে চলমান বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল গত মাসে প্যারিসের উত্তরাঞ্চলের শ্রমজীবী মানুষের বসবাসের এলাকাগুলোর কয়েকটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। শিক্ষক সংকট এবং বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। পরে সেই ক্ষোভ বৃহত্তর আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা সামনে আসে। তবে আন্দোলনের সব অংশগ্রহণকারী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত—এমন কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি। বিক্ষোভের প্রাথমিক কারণ ছিল শিক্ষা খাতের সমস্যা ও বিদ্যালয়ের দুরবস্থা। পরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে এবং সরকারবিরোধী প্রতিবাদের সঙ্গে সহিংসতার ঘটনাও যুক্ত হয়। ঐতিহাসিক টাউন হলটিতে আ গু ন লাগার ঘটনাটি চলমান সংকটকে আরও আলোচনায় এনেছে। ভবনটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। গ্রে প্তা র ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনাটির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে। তবে শিক্ষা খাতের সংকট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন কত দ্রুত শান্ত হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে মাংস ও মাছের বিকল্পে থ্রিডি প্রযুক্তির মাংস আনছে স্টেকহোল্ডার ফুডস

যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের খুচরা দোকানে পারফেক্টা ব্র্যান্ডের উদ্ভিজ্জ মাংস ও মাছের বিকল্প পণ্য বাজারজাত করার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্টেকহোল্ডার ফুডস। থ্রিডি ফুড প্রিন্টিং প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানটি গত ৩ সেপ্টেম্বর জানায়, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রের দোকানে তাদের ব্র্যান্ডের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়েছে।   প্রাথমিক পণ্যের তালিকায় রয়েছে উদ্ভিজ্জ উপাদানে তৈরি মার্বেলড স্টেক, ফিলে মিনিয়ন, চিকেন ব্রেস্ট এবং স্যামন ও সাদা মাছের প্যাটি। এগুলো প্রচলিত মাংস ও মাছের স্বাদ, আঁশযুক্ত গঠন এবং খাওয়ার অনুভূতির কাছাকাছি অভিজ্ঞতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে দাবি প্রতিষ্ঠানটির। পণ্য বিতরণে সহযোগিতা করছে কেহি ডিস্ট্রিবিউটরস।  থ্রিডি ফুড প্রিন্টিংয়ে খাওয়ার উপযোগী উপাদান ব্যবহার করে খাবারকে নির্দিষ্ট আকৃতি ও গঠন দেওয়া হয়। দ্য ইনডিপেনডেন্টকে খাদ্যবিজ্ঞানী ব্রায়ান কুয়ক লে জানিয়েছেন, প্রচলিত উৎপাদনপদ্ধতিতে সহজে তৈরি করা যায় না, এমন আকৃতি ও গঠন তৈরির সুযোগই এই প্রযুক্তির অন্যতম আকর্ষণ। তবে উদ্ভিজ্জ মাংসের গঠন ধরে রাখতে বাড়তি উপাদানের প্রয়োজন হতে পারে।  প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিক কাউফম্যান জানিয়েছেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বাজার সম্প্রসারণের পর চাহিদা অনুযায়ী অন্য অঞ্চলেও পণ্য পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে কোন কোন দোকানে পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, বিজ্ঞপ্তিতে তার বিস্তারিত তালিকা দেওয়া হয়নি।  নতুন এসব খাবারের পুষ্টিগুণ নিয়ে অবশ্য সতর্ক অবস্থান জানিয়েছেন পুষ্টিবিদেরা। প্রভিডেন্স সেন্ট জুড মেডিকেল সেন্টারের নিবন্ধিত ডায়েটিশিয়ান মেগান রো দ্য ইনডিপেনডেন্টকে বলেছেন, থ্রিডি প্রিন্ট করা খাবারের স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে গবেষণা এখনো সীমিত। প্রোটিন, চর্বি ও আঁশের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ভিটামিন ও খনিজের উপস্থিতি এবং পুষ্টিমান নিয়ে আরও তথ্য প্রয়োজন।  রোর মতে, খাবার গিলতে সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী গঠন ও আকৃতির খাবার তৈরিতে এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে তাঁদের খাবারে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব হতে পারে। তবে কিছু পণ্যে অতিপ্রক্রিয়াজাত উপাদান ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেছেন, নিয়মিত সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে এসব খাবার সুপারিশ করার মতো পর্যাপ্ত গবেষণা এখনো তাঁর নজরে আসেনি।

প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান
প্রধানমন্ত্রী ফজরের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন: আইনমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফজরের নামাজের পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন মাত্র চার ঘণ্টা ঘুমান। সোমবার ১৯ অক্টোবর দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।   কালবেলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইনমন্ত্রী দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকারের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশ গড়তে সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই সরকার কাজ করছে।      স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, ভালো নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সরকার আশাবাদী। অতীতের নির্বাচনগুলোর তুলনায় ভালো নির্বাচন করতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার বিস্তারিত যথাসময়ে জানা যাবে বলে জানান তিনি।   মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের প্রসঙ্গেও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, কেউ মানুষের প্রত্যাশার পরিপন্থী কাজ করলে প্রধানমন্ত্রী সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সরকারের ঘনিষ্ঠ হলেও কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নন।     বিসিআইসির সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের অনিয়মের কোনো খবর তাঁর জানা নেই। ডিলার নিয়োগ ও সার বরাদ্দে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করছে বলে দাবি করেন তিনি।      একই দিন ঝিনাইদহে প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নতুন ভবন উদ্বোধন করেন আসাদুজ্জামান। এর আগে সকাল সাড়ে ৯টায় ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তিনি। সভায় চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবলসংকট নিরসন ও হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়। 

প্রতিকী ছবি এডিট আমেরিকা বাংলা।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষাঋণের চূড়ান্ত নোটিশ, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে বাড়বে কিস্তির চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি শিক্ষাঋণ পরিশোধের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তনের কারণে লাখো ঋণগ্রহীতার জন্য নতুন করে আর্থিক চাপ তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ‘সেভ’ নামে পরিচিত একটি ঋণ পরিশোধ পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যাঁরা এখনো বিকল্প পরিকল্পনা বেছে নেননি, তাঁদের অনেকেই ‘চূড়ান্ত নোটিশ’ পাচ্ছেন। এই নোটিশ পাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন না করলে ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান তাঁদের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনা চালু করতে পারে। এতে আগের তুলনায় মাসিক পরিশোধের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম নিউজউইক ১৯ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে আদালতের আদেশের পর ‘সেভ’ বা ‘সেভিং অন আ ভ্যালুয়েবল এডুকেশন’ পরিকল্পনা বন্ধ হয়ে যায়। এই পরিকল্পনায় ঋণগ্রহীতার আয় ও পরিবারের সদস্যসংখ্যার ভিত্তিতে মাসিক কিস্তি নির্ধারণ করা হতো। যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, এই পরিকল্পনায় থাকা প্রায় ৭৫ লাখ ঋণগ্রহীতাকে বিকল্প পরিশোধ পরিকল্পনায় যাওয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। https://studentaid.gov/articles/save/   প্রথম পর্যায়ে ঋণ ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট ঋণগ্রহীতাদের নোটিশ পাঠানো শুরু করে। ওই নোটিশে নতুন পরিশোধ পরিকল্পনা বেছে নেওয়ার জন্য ৯০ দিন সময় দেওয়া হয়। কেউ সেই সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে তাঁকে আরও ৩০ দিনের চূড়ান্ত নোটিশ পাঠানো হতে পারে। তবে সবার নোটিশ একই দিনে পাঠানো হয়নি। ফলে প্রত্যেক ঋণগ্রহীতার শেষ সময়সীমাও এক নয়। নিজের ঋণ ব্যবস্থাপনাকারী প্রতিষ্ঠানের পাঠানো নোটিশ থেকেই সঠিক তারিখ জেনে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তর।   চূড়ান্ত সময়সীমার মধ্যে নতুন পরিকল্পনা নির্বাচন না করলে ঋণগ্রহীতাদের ঋণ সাধারণ নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনা অথবা নতুন স্তরভিত্তিক নির্দিষ্ট কিস্তির পরিকল্পনায় স্থানান্তর করা হতে পারে। কোন পরিকল্পনা প্রযোজ্য হবে, তা ঋণ বিতরণের তারিখসহ সংশ্লিষ্ট শর্তের ওপর নির্ভর করবে। এসব পরিকল্পনায় মাসিক কিস্তি আয়ভিত্তিক পরিকল্পনার তুলনায় বেশি হতে পারে। যাঁদের ব্যাংক হিসাব থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিস্তি কেটে নেওয়া হয়, তাঁদের ক্ষেত্রেও নতুন কিস্তির পরিমাণ অনুযায়ী টাকা কাটার পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে।   সরকারি শিক্ষাঋণ সহায়তা দপ্তর জানিয়েছে, নতুন পরিকল্পনায় যাওয়ার পর ঋণগ্রহীতাকে প্রথম কিস্তি পরিশোধের নির্ধারিত তারিখের অন্তত ২১ দিন আগে নতুন মাসিক কিস্তির পরিমাণ জানানো হবে। তাই শুধু চূড়ান্ত নোটিশ পাওয়ার পরই নয়, নতুন কিস্তি কত হবে এবং কখন থেকে কার্যকর হবে, সেটিও যাচাই করা জরুরি।   ঋণগ্রহীতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ করণীয় হলো, নোটিশ উপেক্ষা না করে দ্রুত নিজেদের ঋণের অবস্থা যাচাই করা। সরকারি ওয়েবসাইট StudentAid.gov-এ প্রবেশ করে নিজের ঋণের ধরন, বর্তমান পরিশোধ পরিকল্পনা এবং বিকল্প পরিকল্পনার যোগ্যতা দেখা যায়। সেখানে থাকা ঋণ পরিশোধের হিসাবযন্ত্র ব্যবহার করে সম্ভাব্য মাসিক কিস্তি ও মোট পরিশোধের পরিমাণ তুলনা করা সম্ভব। এরপর নিজের পরিস্থিতির সঙ্গে মানানসই পরিকল্পনা বেছে নিয়ে প্রয়োজনীয় আবেদন জমা দিতে হবে।   আয়ের ভিত্তিতে কিস্তি নির্ধারণ করা হয় এমন কিছু পরিকল্পনাও যোগ্য ঋণগ্রহীতাদের জন্য রয়েছে। এর মধ্যে আয়ভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনা, আয় ও ঋণ পরিশোধের সম্পর্কনির্ভর পরিকল্পনা এবং ‘পে অ্যাজ ইউ আর্ন’ পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ‘রিপেমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্ল্যান’ বা নতুন সহায়তাভিত্তিক পরিশোধ পরিকল্পনাও চালু হয়েছে। তবে সব ঋণগ্রহীতা সব পরিকল্পনার জন্য যোগ্য নন। ঋণের ধরন, ঋণ বিতরণের সময় এবং ব্যক্তিগত আর্থিক পরিস্থিতির ওপর যোগ্যতা নির্ভর করে।   যাঁরা সরকারি চাকরি বা নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করার কারণে ঋণ মওকুফের সুবিধা পাওয়ার পথে রয়েছেন, তাঁদের জন্য পরিকল্পনা নির্বাচন আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, সব পরিশোধ পরিকল্পনার কিস্তি ঋণ মওকুফের যোগ্যতার ক্ষেত্রে একইভাবে গণ্য হয় না। বিশেষ করে সরকারি সেবা খাতে কাজের ভিত্তিতে ঋণ মওকুফের আবেদনকারীদের নতুন পরিকল্পনায় যাওয়ার আগে তাঁদের কিস্তি সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত পূরণ করবে কি না, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান
সৌদি যুবরাজের কঠিন সময়, ইয়েমেন যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক সংকটে চাপে পড়েছে

সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এখন একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে নতুন করে তীব্র হওয়া সংঘাত, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে তাঁর নেতৃত্বাধীন সৌদি আরবের সামনে তৈরি হয়েছে কঠিন পরিস্থিতি। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিশ্লেষণেও যুবরাজের প্রধান কৌশলগুলোর ওপর চাপের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।    সৌদি যুবরাজের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ইয়েমেনের হুথি আন্দোলনকে ঘিরে সংঘাত। ২০১৫ সালে ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে হুথিদের পুরোপুরি পরাজিত করা সম্ভব হয়নি। ২০২২ সালে যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নেওয়া হলেও ২০২৬ সালে আঞ্চলিক সংঘাতের বিস্তারের সঙ্গে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্য ইকোনমিস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথিদের হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।   অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিমান চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়ে যায়। রয়টার্সের ২০ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। তবে এসব দাবির সবকিছু সৌদি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি এবং রয়টার্সও স্বাধীনভাবে সেগুলো যাচাই করতে পারেনি। এদিকে আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে সৌদি আরবের বিমান চলাচল ব্যাহত হয়েছে এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ সম্মেলন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।    এই পরিস্থিতিতে সৌদি নেতৃত্বের সামনে কঠিন সিদ্ধান্তের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সামরিক অভিযান আরও জোরদার করলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করলে হুথিদের সঙ্গে কী ধরনের সমঝোতা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত জটিলতা দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে সমস্যার সমাধান করা কতটা সম্ভব, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।   মোহাম্মদ বিন সালমানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো সৌদি আরবের অর্থনীতিকে তেলের ওপর নির্ভরশীলতা থেকে বের করে আনা। এ উদ্দেশ্যে চালু করা হয়েছে ‘ভিশন ২০৩০’ কর্মসূচি। এর আওতায় পর্যটন, প্রযুক্তি, বিনোদন, পরিবহন, আবাসন ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায় বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সৌদি আরবকে বৈশ্বিক পর্যটন ও ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা সংকটের পাশাপাশি অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলেছে। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সৌদি আরব কিছু বড় প্রকল্পের পরিধি ও সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করছে। জানুয়ারিতে রিয়াদের নিউ মুরাব্বা প্রকল্পের কেন্দ্রীয় আকৃতির বিশাল ভবন ‘মুকাব’-এর নির্মাণকাজও স্থগিত রাখার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।   নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনার ওপর আরও চাপ তৈরি হতে পারে। কারণ বিদেশি বিনিয়োগকারীরা কোনো দেশে অর্থ বিনিয়োগের আগে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা এবং ব্যবসার পরিবেশ বিবেচনা করেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা কিংবা বড় আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ঝুঁকির মুখে পড়লে দেশটির বিনিয়োগ আকর্ষণের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে। তবে এর অর্থ এই নয় যে ভিশন ২০৩০ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে গেছে। পরিস্থিতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে সংঘাত কত দিন স্থায়ী হয় এবং সরকার কীভাবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে, তার ওপর।   সৌদি আরবের নিরাপত্তা কৌশলে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। উন্নত অস্ত্র, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং সামরিক অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন রিয়াদের অন্যতম প্রধান সহযোগী। কিন্তু সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।   দ্য ইকোনমিস্ট-এর বিশ্লেষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর সৌদি যুবরাজের নির্ভরতার বিষয়টিও উঠে এসেছে। সৌদি আরব আশা করেছিল, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আঞ্চলিক সংকটে দেশটির অবস্থানকে শক্তিশালী করবে। কিন্তু নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে সব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব কি না, সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ফ্রান্সের সাম্প্রতিক সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘শিগগিরই প্যারিস মুসলিমদের শহর হবে’, ফ্রান্সের অস্থিরতার জন্য অভিবাসনকে দায়ী করলেন ট্রাম্প
প্রকাশ: অক্টোবর ২০, ২০২৬ ০:২

ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য অভিবাসননীতিকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, দেশটিতে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণেই বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে সীমান্ত বন্ধ করার পরামর্শ দেওয়ার কথা জানিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, ‘প্যারিস শিগগিরই মুসলিমদের শহর হয়ে যাবে।’ সোমবার ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে এনডিটিভি ও বার্তা সংস্থা এএফপি।   ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে, তার পেছনে অভিবাসনই মূল কারণ, স্কুল বা অন্য কোনো বিষয় নয়। তাঁর ভাষ্য, তিনি অনেক আগেই ম্যাক্রোঁকে সতর্ক করেছিলেন যে বিশ্বের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষকে অবাধে ফ্রান্সে প্রবেশ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ভুল। এবারও তিনি ইউরোপের দেশগুলোকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার আহ্বান জানিয়েছেন। ট্রাম্প আরও বলেন, ইউরোপ সীমান্ত বন্ধ না করলে এবং অপরাধীদের বের করে না দিলে মহাদেশটির ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে।   ফ্রান্সে গত সপ্তাহান্তে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শিক্ষা খাতে সংকট এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বিভিন্ন শহরে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় দুই হাজারের বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে এবং বহু নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্যারিসসহ কয়েকটি শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভের পেছনে অভিবাসনই প্রধান কারণ, ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পক্ষে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু বলেছেন, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীরা পরিস্থিতির সুযোগ নিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার বিক্ষোভকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ জানানোর অধিকার এবং সহিংসতায় জড়িতদের কর্মকাণ্ডের মধ্যে পার্থক্য করেছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক অস্থিরতার সঙ্গে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা খাতের সমস্যা এবং সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অসন্তোষের সম্পর্ক রয়েছে।   ট্রাম্পের মন্তব্য ফ্রান্সের অভিবাসননীতি ও ইউরোপের সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ কঠোর করার পক্ষে কথা বলে আসছেন। তবে প্যারিসের ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর মন্তব্যটি রাজনৈতিক বক্তব্য, শহরের জনসংখ্যাগত পরিবর্তন সম্পর্কে কোনো সরকারি পূর্বাভাস নয়। ফ্রান্সের চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশটির সরকার নিরাপত্তা জোরদার ও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি, বার্তা সংস্থা এএফপি।

জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভের পর ফ্রান্সের প্যারিসসহ কয়েকটি শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্রান্সে দাঙ্গা ঠেকাতে কারফিউ জারি, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উত্তাল ইউরোপ
প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ২১:৪৬

জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেওয়ায় ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা ছাড়াও নিস, লিল ও মার্সেইয়ে জনসমাগম ও বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় দোকানপাটে লুটপাট, সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুর এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ফরাসি সরকার। একই সময়ে ইতালিসহ ইউরোপের আরও কয়েকটি দেশে জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু সোমবার জরুরি বৈঠকের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার অঙ্গীকার করেন। তাঁর আহ্বানের পর কয়েকটি শহরে রাতের কারফিউ এবং জনসমাগমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। লিল, দুয়ে, ওয়াতিনিয়ে ও দেনাঁ শহরে স্থানীয় মেয়রদের সম্মতিতে কারফিউ জারি করা হয়েছে বলে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সূত্র জানিয়েছে। নিসে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাতের কারফিউ কার্যকর করা হয়েছে। মার্সেইয়ে বিক্ষোভ ও জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্যারিসের কয়েকটি এলাকায় রাত ৮টা থেকে বিক্ষোভের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং প্লাস দ্য লা রিপুবলিক ও লে আল এলাকায় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। তবে পুরো প্যারিসে একযোগে কারফিউ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   ফ্রান্সের বিচারমন্ত্রী জেরাল্ড দারমানাঁ জানিয়েছেন, সহিংসতা, লুটপাট এবং সরকারি স্থাপনা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করতে মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, অবস্থান নির্ণয়ের তথ্য এবং টেলিফোনে আড়িপাতার মতো তদন্তপদ্ধতি ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেছেন, আপাতত পুরো দেশে জরুরি অবস্থা জারির পরিবর্তে নির্দিষ্ট এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করাই বেশি উপযুক্ত। তাঁর অভিযোগ, উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠীগুলোর কেউ কেউ রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   গত শনিবারের বিক্ষোভে ফ্রান্সজুড়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হন এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হন বলে দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজধানীতে বিক্ষোভ চলাকালে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। মার্সেইয়ের মেয়র বেনোয়া পায়ান পরিস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে বলেন, শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকানের কাচ ভাঙা হয়েছে এবং বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চালানো হয়েছে। প্যারিসের বিলাসবহুল দোকানপাটের এলাকাতেও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ডিওর, রোলেক্স, লুই ভুইতো, রালফ লরেন ও গুচির কয়েকটি দোকানের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।   ফ্রান্সে চলমান আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূলত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকস্বল্পতা, শ্রেণিকক্ষের দুরবস্থা ও শিক্ষা খাতে সংকটের প্রতিবাদ থেকে। পরে জীবনযাত্রার ব্যয়, আয় ও ব্যয়ের অসামঞ্জস্য এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ এতে যুক্ত হয়। আন্দোলনকারীদের আয়োজকেরা আগামী শনিবার নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, গত সপ্তাহান্তে দেশজুড়ে প্রায় আট লাখ মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং তাঁরা প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর পদত্যাগও দাবি করছেন। তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষের হিসাবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার। আন্দোলনের মধ্যে মাখোঁর মধ্যপ্রাচ্য সফর নিয়েও সমালোচনা হয়েছে।   ইতালিতেও বিক্ষোভের পর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মিলানে জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ এবং দোকানপাটে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সরকার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। ইতালির উপপ্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি মিলানে ৫০০ সেনা পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। এ ছাড়া সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের জমায়েত নিষিদ্ধ করা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে প্রতিরোধমূলক আটক বাড়ানো এবং সম্পত্তির ক্ষতিসাধনে জড়িতদের পরে গ্রেপ্তারের মতো ব্যবস্থা বিবেচনা করা হচ্ছে।   ফ্রান্স ও ইতালির বাইরে পর্তুগাল, স্পেন ও আলবেনিয়াতেও বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ চলছে। পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের প্রতিবাদে গত শনিবার কয়েক দশ হাজার মানুষ মিছিল করেন। স্পেনে আবাসন সংকট ও ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে কয়েক সপ্তাহ ধরে আন্দোলন চলছে। আলবেনিয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ, উচ্চ শিক্ষাব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। সার্বিয়াতেও শিক্ষার্থী আন্দোলনকারীদের নেতৃত্বে বড় সমাবেশের প্রস্তুতি চলছে। এসব দেশে আন্দোলনের কারণ ভিন্ন হলেও মূল্যস্ফীতি, আবাসনের ব্যয়, শিক্ষা ও সরকারি সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ একটি সাধারণ বিষয় হয়ে উঠেছে।   এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ফ্রান্সের সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, দেশটিতে একই ধরনের ঘটনা ঘটলে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও সম্পদ রয়েছে। সরকারের বক্তব্য, গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা সহিংসতা বা ভাঙচুরের বৈধতা দেয় না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে নতুন বিক্ষোভের ডাক আসায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর রাখছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, রয়টার্স।

জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার মান নিয়ে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করছেন হাজারো মানুষ। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন ও পর্তুগালে বিক্ষোভ, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে বাড়ছে ক্ষোভ
প্রকাশ: অক্টোবর ১৯, ২০২৬ ২০:৫২

ইউরোপজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, আবাসন সংকট, কম মজুরি ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল ও আলবেনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে রাজপথে নেমেছেন হাজারো মানুষ। কোথাও শিক্ষাব্যবস্থার দুরবস্থা ও শিক্ষকসংকট নিয়ে আন্দোলন শুরু হলেও তা পরে বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসন্তোষে রূপ নিয়েছে। কয়েকটি শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে অংশ নেন পাঁচ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে আয়োজকদের হিসাবে এই সংখ্যা প্রায় আট লাখ। রাজধানী প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় এক লাখ ১০ হাজার মানুষ। অধিকাংশ কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও কিছু এলাকায় বিক্ষোভ সহিংস রূপ নেয়। দোকানপাটে লুটপাট, গাড়িতে আগুন এবং সরকারি স্থাপনা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। ফরাসি সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে দুই হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভ চলাকালে রাজধানীতে হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুও হয়েছে।   ফ্রান্সে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয় মূলত শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, শ্রেণিকক্ষের সংকট এবং শিক্ষকস্বল্পতার প্রতিবাদে গত মাসে শুরু হওয়া কর্মসূচিতে পরে অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষও যুক্ত হন। জীবনযাত্রার ব্যয়, জনসেবার মান এবং সরকারি ব্যয়সংকোচন নিয়েও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বিক্ষোভের মধ্যে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে সরকার সহিংসতার জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের দায়ী করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের বড় অংশের অসন্তোষের পেছনে রয়েছে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের হতাশা।   ইতালির মিলানেও গত রোববার জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। শহরের কেন্দ্রীয় পিয়াচা দেল দুয়োমো এলাকার আশপাশে মুখোশধারী কিছু বিক্ষোভকারী দোকানের জানালা ভাঙচুর করেন এবং ময়লার পাত্রে আগুন দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। আগের দিন মিলান, বোলোনিয়া, ব্রেশিয়া, বার্গামো ও তুরিনসহ কয়েকটি শহরেও একই ধরনের বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি বৈঠকের ঘোষণা দিয়েছেন।   পর্তুগালের রাজধানী লিসবনেও শনিবার আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও কম মজুরির প্রতিবাদে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। দেশটির বৃহত্তম শ্রমিক সংগঠন সিজিটিপির আহ্বানে আয়োজিত কর্মসূচিতে কয়েক দশ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে সংগঠনটি জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আয় বাড়ার তুলনায় বাড়িভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম দ্রুত বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের পক্ষে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৩ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়ায়। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি এ পরিস্থিতিতে ভূমিকা রেখেছে। এর আগে পোর্তো শহরে আবাসনের দাবিতে গড়ে ওঠা তাঁবুশিবির উচ্ছেদ করে পুলিশ।   স্পেনেও কয়েক সপ্তাহ ধরে আবাসন সংকট ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ চলছে। মাদ্রিদে ৮৭ বছর বয়সী মারিয়া দেল কারমেন আবাসকালকে দীর্ঘ ৭০ বছর বসবাসের পর তাঁর বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনা আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ করে। বাড়িটির নতুন মালিকপক্ষ ভাড়া ২৩০ শতাংশ বাড়ানোর চেষ্টা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্ছেদের দুই সপ্তাহ পর অক্টোবরের শুরুতে ওই বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। তাঁর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ ও উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে আন্দোলন জোরালো হয়। এদিকে আবাসন সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তাব সংসদে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আগামী ২৯ নভেম্বর আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন বলে দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে।   আলবেনিয়াতেও টানা ষষ্ঠ দিনের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের দুরবস্থা, উচ্চ শিক্ষাব্যয় ও দুর্নীতির অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার রাজধানী তিরানায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের কয়েক ঘণ্টা ধরে সংঘর্ষ চলে। এতে প্রধানমন্ত্রী এদি রামার সরকারের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। অন্যদিকে সার্বিয়ায় শিক্ষার্থী আন্দোলন দুর্নীতিবিরোধী বৃহত্তর কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে। দেশটিতে ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার পর জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। আসন্ন আগাম সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে শিক্ষার্থী সমর্থিত রাজনৈতিক উদ্যোগ ও ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘিরে উত্তেজনা রয়েছে।   ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিক্ষোভের কারণ এক নয়। কোথাও মূল বিষয় আবাসন ও বাড়িভাড়া, কোথাও শিক্ষাব্যবস্থা, দুর্নীতি কিংবা সরকারি সেবার মান। তবে মূল্যস্ফীতি, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসামঞ্জস্য এবং তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এসব আন্দোলনের মধ্যে একটি সাধারণ যোগসূত্র তৈরি করেছে। কিছু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ থাকলেও সংঘর্ষ ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি জনঅসন্তোষ মোকাবিলাও এখন ইউরোপের বিভিন্ন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।   সূত্র: দ্য ইনডিপেনডেন্ট, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)।

ভারতের বিহারে পেরেকের বিছানায় শুয়ে ধর্মীয় আচার পালন করছে ১৭ বছর বয়সী নিশা কুমারী। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
ভারতে পেরেকের ওপর শুয়েও শরীরে নেই কোনো ক্ষত, দেবী কালীর ভর হয়েছে দাবি পরিবারের
প্রকাশ: অক্টোবর ১৮, ২০২৬ ২৩:৫৭

ভারতের বিহার রাজ্যের বৈশালী জেলায় প্রায় ৩৫ কেজি পেরেক বসানো একটি বিছানায় শুয়ে দিন কাটাচ্ছে ১৭ বছর বয়সী কিশোরী নিশা কুমারী। তাকে দেখতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ ভিড় করছেন। নিশার পরিবারের দাবি, হিন্দুধর্মের পূজিত দেবী মা কালীর সঙ্গে তার আধ্যাত্মিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাদের ভাষ্য, পেরেকের ওপর শুয়ে থাকলেও নিশা ব্যথা অনুভব করে না এবং তার শরীরে কোনো ক্ষতও দেখা যায়নি। তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত কোনো চিকিৎসা প্রতিবেদন বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি বিহারের বৈশালী জেলার সহদেই বুজুর্গ এলাকার বাজিতপুর চকস্তুড়ি গ্রামের। নবরাত্রি উপলক্ষে নিশা এই ধর্মীয় আচার শুরু করে। কাঠের একটি পাটাতনে প্রায় আড়াই ইঞ্চি লম্বা পেরেক বসিয়ে বিছানাটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। পরিবার ও গ্রামবাসীর বর্ণনা অনুযায়ী, পেরেকের বিছানাটি প্রস্তুত করতে কয়েকজনের চার দিন সময় লেগেছিল। নিশাকে দেবী কালীর সাজে ওই বিছানায় শুয়ে থাকতে দেখা যায়। তার এই অবস্থার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে।   নিশার ভাষ্য উদ্ধৃত করে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শ্রাবণ মাসের পর এক রাতে স্বপ্নে দেবী কালীর দর্শন পাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছিল তার। সেই স্বপ্নের পর দেবীর আরাধনায় এই কঠিন আচার পালনের সিদ্ধান্ত নেয় বলে সে জানিয়েছে। তবে দেবীর আবির্ভাব বা অলৌকিক ক্ষমতার বিষয়ে কোনো স্বাধীন প্রমাণ নেই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, নিশা ব্যথা অনুভব করে না এবং পেরেকের কারণে তার শরীরে ক্ষতও হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   নিশার বাবা প্রকাশ মল্লিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রায় দেড় বছর ধরে তাঁর মেয়ের শারীরিক অসুস্থতা চলছে। বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করানোর পরও প্রত্যাশিত উন্নতি হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। ছোটবেলা থেকেই নিশার ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের প্রতি আগ্রহ ছিল বলেও জানিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, নিশার কথা বলার ক্ষমতা হারানোর তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা, কথা বলতে না পারার কারণ কিংবা পেরেকের বিছানায় দীর্ঘ সময় থাকার ফলে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার মতো চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   নিশাকে দেখতে ভিড় বাড়তে থাকায় গ্রামের সরু রাস্তায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের দৃষ্টিতে আলোচনা করছেন, আবার কেউ কিশোরীর স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকের মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। তবে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের উদ্বেগের বিষয়ে কিছু প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। নিশার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে কি না, কিংবা চিকিৎসকেরা তাঁর অবস্থা মূল্যায়ন করেছেন কি না, তা-ও স্পষ্ট নয়।   সূত্র: ইন্ডিয়া মিডিয়া, নিউজ৪নেশন।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়