নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার কর্মসূচি ‘২-কে’-র আবেদন প্রক্রিয়া মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানির সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন চাইল্ড কেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের সব শ্রেণির পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে, যা শহরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে। শহর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে কেন্দ্রভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার সেবার জন্য পরিবারগুলোকে গড়ে বছরে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। কার্যক্রম অনুযায়ী, আগ্রহী পরিবারগুলো শিক্ষা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ‘মাইস্কুলস’-এ আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ৪ আগস্টের মধ্যে নির্বাচিত শিশুদের আসন বরাদ্দের তথ্য জানানো হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি বরো থেকে বাছাই করা উচ্চ-চাহিদাসম্পন্ন পাঁচটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে মোট ২ হাজার আসন নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। নির্বাচিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন হাইটস ও ইনউড, ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল ও ক্যানার্সি, ব্রঙ্কসের ফোর্ডহ্যাম ও বেলমন্ট এবং কুইন্সের ওজোন পার্ক ও রকঅ্যাওয়েজ অঞ্চল। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ হাজারে উন্নীত করা হবে। মেয়র মামদানি তার প্রথম মেয়াদের শেষ নাগাদ এই সুবিধা পুরো শহরে সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সময়সূচি কাঠামো। প্রচলিত ৩-কে ও প্রি-কে প্রোগ্রামে যেখানে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এবং সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সেবা দেওয়া হয়, সেখানে ২-কে কর্মসূচিতে ডিফল্ট সময় হবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং এটি সারা বছর ১২ মাস চালু থাকবে। এর ফলে স্কুল-পরবর্তী ও গ্রীষ্মকালীন চাইল্ড কেয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার চলতি বছরে ৭৩ মিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা ‘প্রবাসী বর্ষবরণ ও ঈদ মেলা’। গত শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাটগার্স ইউনিভার্সিটির লিভিংস্টন স্টুডেন্ট সেন্টারে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ জার্সির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাঙালিরা একসঙ্গে উদযাপন করেন বাংলা নববর্ষ ও ঈদুল আজহার আনন্দ। আয়োজকরা জানান, পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল আজহার আনন্দকে একসূত্রে গেঁথে প্রবাসী প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা ও সংযোগ বজায় রাখাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী এই উৎসবে ছিল শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, দেশি খাবারের স্টল, ফ্যাশন শো এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল স্থানীয় শিশু-কিশোর ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পর্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে নির্মিত বিশেষ শিশু গীতিনাট্য ‘জুতা আবিষ্কার’ দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। ফারহানা আক্তার তুলির পরিচালনায় মঞ্চস্থ এই পর্বে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশুরা অভিনয় ও সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেয়। এতে অভিনয় করে ফারশীদ, জাহি, তাহান, তিহান, সাখাওয়াত, মালিহা, তাসবীর, ফাহিম, রামিন ও ওয়াফিক। সংগীত পরিবেশন করেন প্রিয়তা, জোয়া, নোভা, সারা, ইশহান ও রায়ান। এরপর মঞ্চে পরিবেশিত হয় বিশেষ পর্ব ‘মহা জাদু জানে’। উর্মিন রহমান ও ফাহমিনা জব্বার উর্মির পরিচালনায় এতে অংশ নেন ঊর্মি, উর্মিন, সারিনা, আনুশে, নাশিতা, নাফিসা, ফাইজা ও ফারীন। ফারহানা আক্তার তুলির পরিচালনায় কিশোর সংগীত ‘অচেনা বৈশাখ’ পরিবেশনায় বৈশাখী আবহ ফুটিয়ে তোলে প্রিয়তা, প্রিয়ম, শায়রা ও ফারশীদ। ফাহমিনা জব্বারের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশনা ‘নৃত্যের তালে তালে’ পুরো প্রেক্ষাগৃহে উৎসবের আবহ তৈরি করে। মেয়েদের দলে অংশ নেয় আইজা, আয়েশা, জিবা, অনিমা, সুমেহরা, আসনা ও ফাইজা এবং ছেলেদের দলে অংশ নেয় রামিন, আযান, জুহায়ের ও তাজবীর। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল তারকা শিল্পী বিন্দুকণার মঞ্চে আগমনের আগে পরিবেশিত ‘ছায়াছন্দ: নায়িকা সংবাদ’ পর্ব। ফারহানা আক্তার তুলি ও ফাহমিনা জব্বারের যৌথ পরিচালনায় এই পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসের ১৪ জন নারী শিল্পী, যাদের মধ্যে ছিলেন হিমিকা, ঊর্মি, মানিজা, সাইকা, সোমা, রূপা, রুচি, রাখী, তুলি, সাজিয়া, নীরা, এনা, শাম্মী ও ফারাহ। অনুষ্ঠানের শেষাংশে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোক ও আধুনিক সংগীতশিল্পী বিন্দুকণা। তার পরিবেশনায় দর্শকরা দীর্ঘসময় ধরে উৎসবের আমেজ উপভোগ করেন। পরে উইনিং ব্যান্ডের চন্দন ও তার দল জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকরা এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সামিয়া চৌধুরী (তিথি) ও জাভেদ মাহমুদ (শিপলু)। আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ জার্সির সভাপতি সৈয়দ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আশফাক জামান ও কালচারাল সেক্রেটারি আফরোজা শিরিন জানান, প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতেই প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
জর্জিয়ার আটলান্টায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বড় পরিসরের এক আয়োজনকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ জুন আল নূর ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “ফিস্ট অব ঈদ আল-আযহা” নামের বিশেষ ঈদ ফুড ফেস্টিভাল, যা আয়োজন করছে আটলান্টাভিত্তিক সংগঠন এটিএল ফেস্ট অ্যান্ড কোং। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠান নয়; বরং বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত পারিবারিক উৎসব হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের আয়োজনে ৬০টিরও বেশি খাবার ও শপিং স্টল থাকছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় খাবারের স্বাদ উপভোগের সুযোগও থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য। অনুষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা ও আয়োজক আব্দুল্লাহ পিয়াল বলেন, গত মার্চে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত “এটিএল সেহরি নাইট” প্রত্যাশার চেয়েও বড় সাড়া পেয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে চার হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে আয়োজকদের দাবি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত অন্যতম বৃহৎ সেহরি আয়োজন হিসেবে সেটি স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনায় আসে। তিনি বলেন, “ঈদকে ঘিরে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন। শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ যেন একসঙ্গে মিলিত হতে পারেন—সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন।” আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ও পার্কিং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য থাকবে নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ। আয়োজকরা আশা করছেন, ঈদের এই আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজন বড় পরিসরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ঈদ, বৈশাখ ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, “ফিস্ট অব ঈদ আল-আযহা” সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি বড় উদ্যোগ। অনুষ্ঠানটি ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণা চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনও এতে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক সিটির তীব্র আবাসন সংকট এবং লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্রঙ্কসের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের চেনা শহর থেকে ছিটকে পড়ছে, সেই বাস্তবতা সরাসরি শুনেছেন সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের হোসটোস কমিউনিটি কলেজের রেপার্টরি থিয়েটারে আয়োজিত এক বিশেষ গণশুনানিতে কয়েক শ শিক্ষার্থী, ভাড়াটে, অ্যাক্টিভিস্ট এবং স্থানীয় বাসিন্দা মেয়রের মুখোমুখি হন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘মোর পারফেক্ট ইউনিয়ন’-এর উচ্চশিক্ষা শাখা ‘মোর পারফেক্ট ইউনিভার্সিটি’ এবং মেয়রের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে। আয়োজিত এই “স্টুডেন্টস রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিং”-এ অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি আবাসন সংকট, উচ্ছেদ, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই মিলনায়তন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থীর মাথায় ছিল মেয়রের সিগনেচার রঙ হলুদ ও লালে লেখা স্লোগান “দি রেন্ট ইজ টু ড্যাম হাই”। শুনানিতে একের পর এক শিক্ষার্থী ও তরুণ ভাড়াটে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সাউথ ব্রঙ্কসে জন্ম নেওয়া এক কলেজ সিনিয়ার ও ভাড়াটে সংগঠক জানান, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তার পরিবার চেনা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ‘সিইউএনডব্লিউ কেয়ার্স’-এর লিড অ্যাডভোকেট ব্রিটানি লাঞ্জানো জানান, ব্রঙ্কসে একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ২৫০০ ডলারে পৌঁছানোর পর চার বছর আগে তিনি কুইন্সে চলে যান, যেখানে ভাড়া প্রায় এক হাজার ডলার কম ছিল। ন্যাশনাল ক্লিন ওয়াটার কালেক্টিভ ইয়ুথ কাউন্সিলের এক শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন, সিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভাড়া পরিশোধের পরও কেন নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। গণশুনানির দুই দিন আগে মেয়র মামদানির প্রশাসন সিটির নতুন আবাসন এজেন্ডা “ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা” ঘোষণা করে। শুনানিতে তিনি পরিকল্পনার মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২২ বিলিয়ন ডলারের পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে ২ লাখ সাশ্রয়ী ও স্থায়ী রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড আবাসন নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ আবাসন সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভাড়াটেদের অধিকার শক্তিশালী করতে ‘টেন্যান্ট ইউনিয়ন’ কাঠামো জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কোনো ভবনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাড়াটে সংগঠিত হলে সিটি এজেন্সিগুলো পুরো ভবনে সমন্বিত পরিদর্শন ও ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান মেয়র। অসৎ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে “ফিক্স দ্য সিটি” নামে নতুন কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৬৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তিনি বলেন, শহরের প্রশাসন এখন ভাড়াটেদের বৃহৎ অংশকে অবহেলার চোখে দেখবে না এবং আবাসন সংকট সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। আবাসনের গুণগত মান নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, সংকট শুধু উচ্চ ভাড়ার নয়, বরং জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ বাসস্থানেরও। এ সমস্যা সমাধানে পরিদর্শন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়ম ভঙ্গকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গুরুতর অনিয়মকারী মালিকদের সম্পত্তি প্রয়োজনে অলাভজনক সংস্থা বা ভাড়াটেদের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। হোসটোস কমিউনিটি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে ব্রঙ্কসের সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আগামী ৮ জুন সেখানে নিউইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের বার্ষিক ব্রঙ্কস পাবলিক হিয়ারিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভাড়ার হার ও আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ মতামত দিতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ এবং তা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করেছে। ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’-এর অধীনে এই সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মঙ্গলবার (২ জুন) এক বিবৃতিতে জানায় ইউএসটিআর। ফলে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইউএসটিআর-এর তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে দেশগুলোর ব্যর্থতার কারণে মার্কিন বাজারে সস্তা পণ্য প্রবেশ করছে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদকদের জন্য অসদুপায় ও অসম প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে এবং বৈধভাবে ব্যবসা করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মুনাফা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেশগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রথম ভাগে রয়েছে এমন দেশ, যারা আংশিক নিয়ম কার্যকর করেছে বা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে জোরপূর্বক শ্রমের পণ্য আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই তালিকায় কানাডা, মেক্সিকো, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), ইকুয়েডর, ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তান রয়েছে। দ্বিতীয় ভাগে রয়েছে এমন দেশ, যারা সম্পূর্ণভাবে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও এই গ্রুপে যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়াসহ ৫৪টি দেশ রয়েছে। ইউএসটিআর একটি ‘টেক্সটাইল মেকানিজম’-এর প্রস্তাব করেছে, যার আওতায় নির্দিষ্ট কিছু দেশ থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল পণ্য হ্রাসকৃত শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের জন্য এই উদ্যোগ কোনো স্বস্তি আনতে পারে কি না, তা পরবর্তী শুনানির পর স্পষ্ট হবে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি অ্যাম্বাসেডর জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, প্রধান ব্যবসায়িক অংশীদাররা জোরপূর্বক শ্রম দিয়ে তৈরি পণ্যের আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে মার্কিন শ্রমিকরা বৈশ্বিক বাজারে অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, এই বৈষম্য আর সহ্য করা হবে না। প্রস্তাবিত শুল্ক এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি বর্তমানে অংশীজনদের মতামত ও শুনানির পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ২২ জুন গণশুনানিতে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন এবং বক্তব্যের সারসংক্ষেপ জমা দেওয়ার শেষ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর ৬ জুলাই প্রস্তাবিত শুল্ক নিয়ে লিখিত মতামত বা আপত্তি জমা দেওয়ার শেষ সময়। ৭ জুলাই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের একক বৃহত্তম বাজার। প্রস্তাব কার্যকর হলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হওয়া সব পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক যুক্ত হতে পারে। এতে মার্কিন বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার ও ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো, যেমন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ, শুনানিতে অংশ নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার এবং তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ ছাড় আদায়ের সুযোগ পাবে।
নিউইয়র্ক সিটির তীব্র আবাসন সংকট এবং লাগামহীন ভাড়া বৃদ্ধির কারণে ব্রঙ্কসের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেদের চেনা শহর থেকে ছিটকে পড়ছে, সেই বাস্তবতা সরাসরি শুনেছেন সিটির নতুন মেয়র জোহরান মামদানি। গত বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সন্ধ্যায় ব্রঙ্কসের হোসটোস কমিউনিটি কলেজের রেপার্টরি থিয়েটারে আয়োজিত এক বিশেষ গণশুনানিতে কয়েক শ শিক্ষার্থী, ভাড়াটে, অ্যাক্টিভিস্ট এবং স্থানীয় বাসিন্দা মেয়রের মুখোমুখি হন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘মোর পারফেক্ট ইউনিয়ন’-এর উচ্চশিক্ষা শাখা ‘মোর পারফেক্ট ইউনিভার্সিটি’ এবং মেয়রের কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে। আয়োজিত এই “স্টুডেন্টস রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিং”-এ অংশগ্রহণকারীরা সরাসরি আবাসন সংকট, উচ্ছেদ, নিরাপত্তাহীনতা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানের শুরু থেকেই মিলনায়তন ছিল কানায় কানায় পূর্ণ। উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থীর মাথায় ছিল মেয়রের সিগনেচার রঙ হলুদ ও লালে লেখা স্লোগান “দি রেন্ট ইজ টু ড্যাম হাই”। শুনানিতে একের পর এক শিক্ষার্থী ও তরুণ ভাড়াটে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। সাউথ ব্রঙ্কসে জন্ম নেওয়া এক কলেজ সিনিয়ার ও ভাড়াটে সংগঠক জানান, ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তার পরিবার চেনা এলাকা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ‘সিইউএনডব্লিউ কেয়ার্স’-এর লিড অ্যাডভোকেট ব্রিটানি লাঞ্জানো জানান, ব্রঙ্কসে একটি অ্যাপার্টমেন্টের ভাড়া ২৫০০ ডলারে পৌঁছানোর পর চার বছর আগে তিনি কুইন্সে চলে যান, যেখানে ভাড়া প্রায় এক হাজার ডলার কম ছিল। ন্যাশনাল ক্লিন ওয়াটার কালেক্টিভ ইয়ুথ কাউন্সিলের এক শিক্ষক প্রশ্ন তোলেন, সিটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ ভাড়া পরিশোধের পরও কেন নিরাপদ পানির মতো মৌলিক সেবা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। গণশুনানির দুই দিন আগে মেয়র মামদানির প্রশাসন সিটির নতুন আবাসন এজেন্ডা “ব্লক বাই ব্লক: দ্য হাউজিং প্ল্যান ফর আ নিউ এরা” ঘোষণা করে। শুনানিতে তিনি পরিকল্পনার মূল দিকগুলো তুলে ধরেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ৫ বছরে ২২ বিলিয়ন ডলারের পুঁজি বিনিয়োগের মাধ্যমে ২ লাখ সাশ্রয়ী ও স্থায়ী রেন্ট-স্ট্যাবিলাইজড আবাসন নির্মাণ এবং আরও ২ লাখ আবাসন সংরক্ষণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভাড়াটেদের অধিকার শক্তিশালী করতে ‘টেন্যান্ট ইউনিয়ন’ কাঠামো জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। কোনো ভবনের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভাড়াটে সংগঠিত হলে সিটি এজেন্সিগুলো পুরো ভবনে সমন্বিত পরিদর্শন ও ব্যবস্থা নিতে পারবে বলে জানান মেয়র। অসৎ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে “ফিক্স দ্য সিটি” নামে নতুন কর্মসূচি চালুর কথাও উল্লেখ করা হয়। এর মাধ্যমে ইতিমধ্যে ৬৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলে জানানো হয়। তিনি বলেন, শহরের প্রশাসন এখন ভাড়াটেদের বৃহৎ অংশকে অবহেলার চোখে দেখবে না এবং আবাসন সংকট সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা হবে। আবাসনের গুণগত মান নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। তার মতে, সংকট শুধু উচ্চ ভাড়ার নয়, বরং জরাজীর্ণ ও অনিরাপদ বাসস্থানেরও। এ সমস্যা সমাধানে পরিদর্শন ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং নিয়ম ভঙ্গকারী বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, গুরুতর অনিয়মকারী মালিকদের সম্পত্তি প্রয়োজনে অলাভজনক সংস্থা বা ভাড়াটেদের নিয়ন্ত্রণে হস্তান্তরের আইনি প্রক্রিয়া সহজ করা হবে। হোসটোস কমিউনিটি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে ব্রঙ্কসের সামাজিক ও নাগরিক আন্দোলনের একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। আগামী ৮ জুন সেখানে নিউইয়র্ক সিটি রেন্ট গাইডলাইনস বোর্ডের বার্ষিক ব্রঙ্কস পাবলিক হিয়ারিং অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ভাড়ার হার ও আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষ মতামত দিতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চালু থাকা খাদ্য সহায়তা কর্মসূচিতে নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ফেডারেল সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ ঘণ্টা কাজ করতে হবে। অন্যথায় তারা খাদ্য সহায়তার সুবিধা হারাতে পারেন। নতুন এই নিয়ম ইতোমধ্যে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কসহ বড় শহরগুলোতে অনেক মানুষ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু নিউইয়র্ক শহরেই প্রায় ৪০ হাজার মানুষ খাদ্য সহায়তা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। বাজারের উচ্চ মূল্য, বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে লাখো মানুষ এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তবে নতুন নিয়মে বলা হয়েছে, নির্ভরশীল সন্তান ছাড়া কর্মক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়মিত চাকরি, প্রশিক্ষণ অথবা অনুমোদিত স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মানুষকে কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। তবে সামাজিক সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা না করেই কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। তাদের মতে, যারা অনিয়মিত কাজ করেন বা স্থায়ী চাকরি খুঁজে পাচ্ছেন না, তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি নতুন নীতির সমালোচনা করে বলেন, “মানুষকে কাজের সুযোগ না দিয়ে খাদ্য সহায়তায় কড়াকড়ি বাড়ালে ক্ষুধা ও দুর্ভোগই বাড়বে।” তিনি আরও বলেন, অনেক মানুষ আগে থেকেই কাজ করছেন, কিন্তু বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয় এত বেশি যে শুধুমাত্র উপার্জনের ওপর নির্ভর করে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য সহায়তা পাওয়া অধিকাংশ মানুষ কোনো না কোনোভাবে আয়মূলক কাজে যুক্ত কিন্তু খণ্ডকালীন চাকরি, কম মজুরি এবং উচ্চ ব্যয়ের কারণে তারা এখনো সরকারি সহায়তার প্রয়োজন অনুভব করেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হওয়ার পর অনেক মানুষ তাদের যোগ্যতা প্রমাণে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক সেবা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি সংগঠন এখন মানুষকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে। ফোন কল, সচেতনতামূলক প্রচার এবং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে মানুষকে নতুন নিয়ম সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তাতে খাদ্য সহায়তা কমে গেলে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর সংকট আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার, গৃহহীন ব্যক্তি এবং অস্থায়ী কর্মসংস্থানের ওপর নির্ভরশীল মানুষেরা সবচেয়ে বেশি চাপে পড়বেন। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। কেউ কেউ মনে করছেন কর্মক্ষম মানুষকে কাজের আওতায় আনার উদ্যোগ ইতিবাচক হতে পারে। আবার অনেকে বলছেন, পর্যাপ্ত চাকরির সুযোগ ও ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত না করে এমন কঠোর নিয়ম সাধারণ মানুষের জন্য নতুন সংকট তৈরি করবে।
নিউইয়র্ক সিটিতে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে চাইল্ড কেয়ার কর্মসূচি ‘২-কে’-র আবেদন প্রক্রিয়া মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানির সাশ্রয়ী ও সর্বজনীন চাইল্ড কেয়ার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির মাধ্যমে শহরের সব শ্রেণির পরিবারের শিশুদের বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হবে, যা শহরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে। শহর প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে নিউইয়র্কে কেন্দ্রভিত্তিক চাইল্ড কেয়ার সেবার জন্য পরিবারগুলোকে গড়ে বছরে ২৩ হাজার ডলারেরও বেশি ব্যয় করতে হয়েছে। কার্যক্রম অনুযায়ী, আগ্রহী পরিবারগুলো শিক্ষা বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ‘মাইস্কুলস’-এ আগামী ২৬ জুন পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন। ৪ আগস্টের মধ্যে নির্বাচিত শিশুদের আসন বরাদ্দের তথ্য জানানো হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে পাঁচটি বরো থেকে বাছাই করা উচ্চ-চাহিদাসম্পন্ন পাঁচটি স্কুল ডিস্ট্রিক্টে মোট ২ হাজার আসন নিয়ে এই কার্যক্রম শুরু হবে। নির্বাচিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের ওয়াশিংটন হাইটস ও ইনউড, ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল ও ক্যানার্সি, ব্রঙ্কসের ফোর্ডহ্যাম ও বেলমন্ট এবং কুইন্সের ওজোন পার্ক ও রকঅ্যাওয়েজ অঞ্চল। পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী বছরে আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১২ হাজারে উন্নীত করা হবে। মেয়র মামদানি তার প্রথম মেয়াদের শেষ নাগাদ এই সুবিধা পুরো শহরে সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এর সময়সূচি কাঠামো। প্রচলিত ৩-কে ও প্রি-কে প্রোগ্রামে যেখানে সাধারণত সকাল ৮টা থেকে বিকেল ২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত এবং সেপ্টেম্বর থেকে জুন পর্যন্ত সেবা দেওয়া হয়, সেখানে ২-কে কর্মসূচিতে ডিফল্ট সময় হবে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা এবং এটি সারা বছর ১২ মাস চালু থাকবে। এর ফলে স্কুল-পরবর্তী ও গ্রীষ্মকালীন চাইল্ড কেয়ার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্য সরকার চলতি বছরে ৭৩ মিলিয়ন ডলার এবং আগামী বছরের জন্য ৪২৫ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রবাসী বাঙালিদের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা ‘প্রবাসী বর্ষবরণ ও ঈদ মেলা’। গত শনিবার (৩০ মে) বিকেলে রাটগার্স ইউনিভার্সিটির লিভিংস্টন স্টুডেন্ট সেন্টারে বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ জার্সির উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাঙালিরা একসঙ্গে উদযাপন করেন বাংলা নববর্ষ ও ঈদুল আজহার আনন্দ। আয়োজকরা জানান, পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল আজহার আনন্দকে একসূত্রে গেঁথে প্রবাসী প্রজন্মের মধ্যে দেশীয় সংস্কৃতির চর্চা ও সংযোগ বজায় রাখাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। দিনব্যাপী এই উৎসবে ছিল শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, দেশি খাবারের স্টল, ফ্যাশন শো এবং বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল স্থানীয় শিশু-কিশোর ও প্রবাসীদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক পর্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা অবলম্বনে নির্মিত বিশেষ শিশু গীতিনাট্য ‘জুতা আবিষ্কার’ দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। ফারহানা আক্তার তুলির পরিচালনায় মঞ্চস্থ এই পর্বে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের শিশুরা অভিনয় ও সংগীত পরিবেশনায় অংশ নেয়। এতে অভিনয় করে ফারশীদ, জাহি, তাহান, তিহান, সাখাওয়াত, মালিহা, তাসবীর, ফাহিম, রামিন ও ওয়াফিক। সংগীত পরিবেশন করেন প্রিয়তা, জোয়া, নোভা, সারা, ইশহান ও রায়ান। এরপর মঞ্চে পরিবেশিত হয় বিশেষ পর্ব ‘মহা জাদু জানে’। উর্মিন রহমান ও ফাহমিনা জব্বার উর্মির পরিচালনায় এতে অংশ নেন ঊর্মি, উর্মিন, সারিনা, আনুশে, নাশিতা, নাফিসা, ফাইজা ও ফারীন। ফারহানা আক্তার তুলির পরিচালনায় কিশোর সংগীত ‘অচেনা বৈশাখ’ পরিবেশনায় বৈশাখী আবহ ফুটিয়ে তোলে প্রিয়তা, প্রিয়ম, শায়রা ও ফারশীদ। ফাহমিনা জব্বারের পরিচালনায় নৃত্য পরিবেশনা ‘নৃত্যের তালে তালে’ পুরো প্রেক্ষাগৃহে উৎসবের আবহ তৈরি করে। মেয়েদের দলে অংশ নেয় আইজা, আয়েশা, জিবা, অনিমা, সুমেহরা, আসনা ও ফাইজা এবং ছেলেদের দলে অংশ নেয় রামিন, আযান, জুহায়ের ও তাজবীর। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল তারকা শিল্পী বিন্দুকণার মঞ্চে আগমনের আগে পরিবেশিত ‘ছায়াছন্দ: নায়িকা সংবাদ’ পর্ব। ফারহানা আক্তার তুলি ও ফাহমিনা জব্বারের যৌথ পরিচালনায় এই পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসের ১৪ জন নারী শিল্পী, যাদের মধ্যে ছিলেন হিমিকা, ঊর্মি, মানিজা, সাইকা, সোমা, রূপা, রুচি, রাখী, তুলি, সাজিয়া, নীরা, এনা, শাম্মী ও ফারাহ। অনুষ্ঠানের শেষাংশে মঞ্চে আসেন বাংলাদেশের জনপ্রিয় লোক ও আধুনিক সংগীতশিল্পী বিন্দুকণা। তার পরিবেশনায় দর্শকরা দীর্ঘসময় ধরে উৎসবের আমেজ উপভোগ করেন। পরে উইনিং ব্যান্ডের চন্দন ও তার দল জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে পুরো পরিবেশকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। গভীর রাত পর্যন্ত দর্শকরা এই সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশ নেন। পুরো অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন সামিয়া চৌধুরী (তিথি) ও জাভেদ মাহমুদ (শিপলু)। আয়োজক সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি অব নিউ জার্সির সভাপতি সৈয়দ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আশফাক জামান ও কালচারাল সেক্রেটারি আফরোজা শিরিন জানান, প্রবাস জীবনের ব্যস্ততার মধ্যে নতুন প্রজন্মকে বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যুক্ত রাখতেই প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয়। ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
জর্জিয়ার আটলান্টায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে বড় পরিসরের এক আয়োজনকে ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ জুন আল নূর ব্যাংকুয়েট হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে “ফিস্ট অব ঈদ আল-আযহা” নামের বিশেষ ঈদ ফুড ফেস্টিভাল, যা আয়োজন করছে আটলান্টাভিত্তিক সংগঠন এটিএল ফেস্ট অ্যান্ড কোং। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি শুধু বাংলাদেশি কমিউনিটির অনুষ্ঠান নয়; বরং বিভিন্ন দেশ ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণে একটি উন্মুক্ত পারিবারিক উৎসব হিসেবে আয়োজন করা হচ্ছে। এবারের আয়োজনে ৬০টিরও বেশি খাবার ও শপিং স্টল থাকছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের জনপ্রিয় খাবারের স্বাদ উপভোগের সুযোগও থাকবে দর্শনার্থীদের জন্য। অনুষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা ও আয়োজক আব্দুল্লাহ পিয়াল বলেন, গত মার্চে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত “এটিএল সেহরি নাইট” প্রত্যাশার চেয়েও বড় সাড়া পেয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে চার হাজারের বেশি মানুষের উপস্থিতি ছিল বলে আয়োজকদের দাবি। প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে আয়োজিত অন্যতম বৃহৎ সেহরি আয়োজন হিসেবে সেটি স্থানীয় কমিউনিটিতে ব্যাপক আলোচনায় আসে। তিনি বলেন, “ঈদকে ঘিরে আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চাই, যেখানে পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই আনন্দ ভাগাভাগি করতে পারবেন। শুধু বাংলাদেশিরাই নয়, বিভিন্ন কমিউনিটির মানুষ যেন একসঙ্গে মিলিত হতে পারেন—সেই ভাবনা থেকেই এই আয়োজন।” আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের জন্য প্রবেশ ও পার্কিং সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রাখা হয়েছে। শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য থাকবে নিরাপদ ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ। আয়োজকরা আশা করছেন, ঈদের এই আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী করবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক আয়োজন বড় পরিসরে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিশেষ করে নিউইয়র্ক, জর্জিয়া, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ঈদ, বৈশাখ ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলোতে প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা যায়। আয়োজকদের মতে, “ফিস্ট অব ঈদ আল-আযহা” সেই ধারাবাহিকতারই আরেকটি বড় উদ্যোগ। অনুষ্ঠানটি ঘিরে ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক প্রচারণা চলছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠনও এতে সহযোগিতা করছে বলে জানা গেছে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে। গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ। বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন। জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান। অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান। ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়। ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন। তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী। “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে। বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়। বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন। দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন। পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়। মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম। ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে। নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।