ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না তার দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার নিজেদের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালির প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। মেলোনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের শুরু থেকেই ইতালি এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ অবস্থান বজায় রেখেছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকেই আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেব না।" উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও মধ্যপ্রাচ্যগামী মার্কিন সামরিক বিমানকে সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দেয়নি ইতালি। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে নিজেদের দূরে রাখার বার্তা আগেই স্পষ্ট করেছিল রোম। এদিকে, আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন মেলোনি। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে যে রাজনৈতিক বিনিয়োগ তিনি করেছিলেন, তা নিয়ে কোনো অনুশোচনা বা দ্বিতীয় চিন্তা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মেলোনি সাফ জানান, তিনি যা করেছেন তা নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রথমবার প্রকাশ্যে মেলোনির সমালোচনা করেছিলেন। এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিও চতুর্দশের অবস্থান ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ইতালির এই প্রধানমন্ত্রী।
অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন থেকে ইতালিতে স্বপ্নের ছুটি কাটাতে গিয়ে ভয়াবহ এক দুঃস্বপ্নের মুখোমুখি হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সি স্টেফানি নামের এক নারী। গত অক্টোবরে বন্ধুদের সঙ্গে ইউরোপ ভ্রমণে যান পেশায় করপোরেট এক্সিকিউটিভ এই পর্যটক। বন্ধুরা দেশে ফিরে গেলেও ইতালির 'এক ইউরোতে বাড়ি' বিক্রির প্রকল্প এবং সিসিলির মার্সালার কাছে লো স্তাগনোন শহরে কাইটবোর্ডিংয়ের আকর্ষণে সেখানে থেকে যান তিনি। কিন্তু এই সিদ্ধান্তই তাকে চরম বিপদের মুখে ঠেলে দেয়, যখন মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ভিন্ন দুই ব্যক্তির হাতে দুবার অপহরণের শিকার হন তিনি। স্থানীয় একদল কাইটবোর্ডারদের সঙ্গে একটি আড্ডায় যোগ দিয়েছিলেন স্টেফানি, যা প্রাথমিকভাবে বেশ স্বাভাবিক মনে হয়েছিল। আড্ডা শেষে অন্য একটি বারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এক বিদেশি প্রবাসীর গাড়িতে ওঠেন তিনি। কিন্তু গাড়িতে ওঠার পরপরই চালক তীব্র গতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করেন। স্টেফানি জানান, চালক সরু সিসিলিয়ান রাস্তায় ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করছিলেন। তিনি ভয় পেয়ে চালককে থামাতে অনুনয়-বিনয় ও চিৎকার করলেও চালক গাড়ির গতি আরও বাড়িয়ে দেন। এমনকি গাড়ির সামনের সিটে বসা ওই চালকের বন্ধুও পরিস্থিতি বুঝতে না পেরে হতবাক হয়ে যান। উপায় না দেখে স্টেফানি চুপচাপ নিজের কাইটবোর্ড প্রশিক্ষককে নিজের লোকেশন পাঠিয়ে দেন। প্রায় ১২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পর গাড়িটি একটি দেয়ালঘেরা কম্পাউন্ডে প্রবেশ করে। চালকের অসৎ উদ্দেশ্য বুঝতে পেরে এবং সামনের সিটে বসা বন্ধুটির কোনো প্রতিবাদ না দেখে স্টেফানি নিজেই বাঁচার পথ খুঁজতে থাকেন। গাড়ির দরজা আনলক করা আছে বুঝতে পেরেই তিনি গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে দৌড়াতে শুরু করেন। কেউ তাকে অনুসরণ করছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত একটি নিরাপদ জায়গায় লুকিয়ে থাকেন তিনি। কয়েক কিলোমিটার হাঁটার পর একটি শান্ত শহরে পৌঁছান স্টেফানি। সেখানে সতর্কবাতি জ্বালানো একটি গাড়িতে এক নিরাপত্তাকর্মীকে দেখতে পেয়ে ফোনের ট্রান্সলেশন অ্যাপ ব্যবহার করে তাকে সব ঘটনা খুলে বলেন। ওই নিরাপত্তাকর্মী তাকে হোটেলে পৌঁছে দিতে রাজি হন এবং নিজের বসকেও বিষয়টি ফোনে জানান। স্টেফানি ভেবেছিলেন তিনি এবার নিরাপদ। কিন্তু মাঝপথে ওই রক্ষী একটি গলিতে গাড়ি থামিয়ে ট্রান্সলেশন অ্যাপে লিখে স্টেফানিকে জিজ্ঞাসা করেন, 'তোমাকে যে বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছি, এর বিনিময়ে তুমি আমাকে কী দেবে?' বিপদের আভাস পেয়ে আবারও গাড়ির দরজা খুলে সোজা একটি আঙুরবাগানে দৌড়ে পালিয়ে যান স্টেফানি। এরপর আর কোনো পথচারীর ওপর ভরসা না করে তিনি নিজেই হোটেলের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। পথে দূর থেকে কোনো গাড়ির হেডলাইট দেখলেই তিনি লুকিয়ে পড়তেন। এমনকি নিজের গতিপথের প্রমাণ রাখতে রাস্তার ধারের ভেন্ডিং মেশিন থেকে পানীয়ও কেনেন তিনি। অবশেষে নিরাপদে হোটেলে ফিরে পরদিন সারা দিন কেঁদে কাটান তিনি। এই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অন্যান্য পর্যটকদের সতর্ক করলেও স্টেফানি স্পষ্ট করে বলেছেন, প্রথম অপহরণকারী ইতালীয় ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একজন ইউরোপীয় প্রবাসী।
চলতি গ্রীষ্মের শুরু থেকে গত জুন মাসের শেষ পর্যন্ত জার্মানিতে তীব্র দাবদাহ বা হিট ওয়েভে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৫ হাজার ১২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বার্লিনভিত্তিক দেশটির শীর্ষ জনস্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান রবার্ট কখ ইনস্টিটিউট (আরকেআই) বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের জুনের এই মৃত্যুর সংখ্যা বিগত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত জার্মানিতে প্রতি বছর গরমে গড়ে ২ হাজার ৯০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। কিন্তু এবার মাত্র এক মাসের ব্যবধানেই সেই গড় সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির ফেডারেল স্ট্যাটিস্টিক্যাল অফিস এবং জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের (ডিডব্লিউডি) মৃত্যু ও আবহাওয়ার নথিপত্র বিশ্লেষণ করে এই পরিসংখ্যান তৈরি করেছে আরকেআই। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যবর্তী সপ্তাহে জার্মানির ওপর দিয়ে সবচেয়ে তীব্র দাবদাহ বয়ে যায় এবং ঠিক এই এক সপ্তাহেই রেকর্ড ৪ হাজার ৩১০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। ওই সময়ে দেশের কিছু কিছু অঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। এর আগে এপ্রিল থেকে ২১ জুন পর্যন্ত ৮১০ জনের মৃত্যুর হিসাব পাওয়া গিয়েছিল, যার প্রায় সবই জুনের ১৫ থেকে ২১ তারিখের মধ্যে ঘটে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, এই তীব্র গরমে বয়স্ক মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হয়েছেন। গত ২৮ জুন পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার ৯৫০ জনের বয়স ছিল ৮৫ বছর বা তার বেশি। এছাড়া ৭৫ থেকে ৮৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ১ হাজার ৩২০ জন, ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৫৫০ জন এবং ৬৫ বছরের কম বয়সী প্রায় ৩০০ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। জার্মান আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আবহাওয়া রেকর্ড বা ইতিহাস পর্যালোচনায় ২০২৬ সালের জুন মাসটি ছিল দেশটির ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উষ্ণ জুন মাস। এর আগে কেবল ২০১৯ সালে এর চেয়ে বেশি গরম পড়েছিল। জুনের শেষের দিকে এই তাপদাহের কারণে তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠেছিল এবং গত ২৭ জুন দেশের ৪৬টি আবহাওয়া স্টেশনে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি রেকর্ড করা হয়েছিল।
বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিয়া আমেরিকা তাদের জনপ্রিয় 'টেলুরাইড' মডেলের প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার মিডসাইজ ক্রসওভার এসইউভি গাড়ি বাজার থেকে ফিরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গাড়িগুলো চলন্ত অবস্থায় কিংবা পার্কিংয়ে থাকা অবস্থায় হুট করেই আগুন ধরে যাওয়ার তীব্র ঝুঁকি থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ মডেল বর্ষের টেলুরাইড এসইউভি গাড়িগুলোর সামনের পাওয়ার সিটের মোটরে অতিরিক্ত তাপ সৃষ্টি বা ওভারহিট হওয়ার সমস্যা দেখা দিয়েছে। পাওয়ার সিটের স্লাইড নবটি কোনো কারণে আটকে গেলে কিংবা আগের কোনো মেরামতের সময় সঠিকভাবে কাজ না করার ফলে এই ত্রুটি দেখা দিতে পারে। আর এই অতিরিক্ত তাপ থেকেই মূলত চলন্ত বা পার্কিংয়ে থাকা গাড়িতে যেকোনো সময় অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হতে পারে। এই ভয়াবহ ঝুঁকির কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন সড়ক নিরাপত্তা সংস্থা সাময়িকভাবে গাড়িগুলোর মালিকদের বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ এই টেলুরাইড গাড়িগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত নতুন করে মেরামত করা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেগুলোকে কোনো গ্যারেজ বা ভবনের ভেতরে পার্ক না করে বাইরে খোলা জায়গায় এবং যেকোনো ধরনের স্থাপনা থেকে নিরাপদ দূরত্বে পার্ক করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সমস্যা সমাধানে কিয়া আমেরিকার অনুমোদিত ডিলাররা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আক্রান্ত গাড়িগুলোতে একটি নতুন ইলেকট্রনিক ফিউজ অ্যাসেম্বলি বা যন্ত্রাংশ স্থাপন করে দেবে বলে জানানো হয়েছে। এই ত্রুটি এবং গাড়ি মেরামতের বিষয়ে আগামী ১৩ আগস্ট থেকে গাড়ির মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো শুরু হবে বলে কিয়া কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। সাধারণত যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ি নির্মাতারা এভাবে ত্রুটিপূর্ণ মডেল বাজার থেকে সাময়িকভাবে ফিরিয়ে নিয়ে ফ্রিতে ঠিক করে দেয়। কিয়া আমেরিকা জানিয়েছে, তারা এই ত্রুটিটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব গাড়ির ফিউজ অ্যাসেম্বলি পরিবর্তনের কাজ শেষ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
নিহত মাহফুজুল হকের নামাজে জানাজা আগামীকাল দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে ফিলাডেলফিয়ার টাইসন মসজিদে (১৪২১ Tyson Avenue, Philadelphia, PA 19111) অনুষ্ঠিত হবে। জীবিকার তাগিদে ডোরড্যাশে কাজ শুরুর আগে তিনি উইলো গ্রোভ এলাকার আল-শাম রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন। অকালে প্রাণ হারানো এই প্রবাসী মৃত্যুকালে স্ত্রী ও ১৪ বছর বয়সী এক সন্তান রেখে গেছেন। স্থানীয় পত্রিকা ফিলাডেলফিয়া পেপারের সম্পাদক মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম (আরিফ) জানান, এই আকস্মিক ও মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতের পরিবারসহ পুরো কমিউনিটি গভীরভাবে শোকাহত। শোকস্তব্ধ প্রবাসীরা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় গত মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ৯টার দিকে এক মর্মান্তিক হামলায় প্রাণ হারান ৪৩ বছর বয়সী এই বাংলাদেশি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রমতে, শহরের কিংসেসিং এলাকার সাউথ ইথান স্ট্রিটের ১০০০ ব্লকে ডোরড্যাশের মাধ্যমে খাবার পৌঁছে দেওয়ার সময় দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে মাহফুজুল হকের ব্যবহৃত গাড়িটি ইঞ্জিন চালু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। এছাড়া সেখান থেকে ডোরড্যাশের ডেলিভারি ব্যাগ এবং বেশ কয়েকটি গুলির ব্যবহৃত খোসাও আলামত হিসেবে সংগ্রহ করেছিলেন তদন্তকারীরা। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই সন্দেহ করছেন যে, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করা হয়নি। বাংলাদেশের রাজশাহীর সন্তান মাহফুজুল হক সপরিবারে ফিলাডেলফিয়ার নর্থইস্ট এলাকায় বসবাস করতেন। তাঁর এই অকাল প্রয়াণে গোটা প্রবাসী কমিউনিটিতে শোকের পাশাপাশি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
নিউইয়র্কে বসবাসরত অনেক বাংলাদেশি পরিবার প্রতি মাসে বাড়িভাড়া পরিশোধ করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক চাপে পড়েন। অথচ অনেকেই জানেন না, নিউইয়র্ক সিটি ও নিউইয়র্ক স্টেটের বিভিন্ন সরকারি আবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো কম ভাড়ায় অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার পাশাপাশি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে তুলনামূলক কম দামে অ্যাপার্টমেন্ট বা কো-অপ (Co-op) কেনার সুযোগও পেতে পারেন। নিউ ইয়র্ক কমিউনিটি নেতাদের মতে, তথ্যের অভাব এবং আবেদন পদ্ধতি সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেক যোগ্য পরিবার এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। অথচ পুরো আবেদন প্রক্রিয়াটি অনলাইনে করা যায় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আবেদন করতে কোনো ফি লাগে না। নিউইয়র্ক সিটির হাউজিং প্রিজারভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (HPD) এবং হাউজিং ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (HDC) যৌথভাবে পরিচালিত ‘NYC Housing Connect’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়মিত নতুন ভাড়া ও হোমওনারশিপ লটারির আবেদন গ্রহণ করা হয়। যারা প্রথমবার আবেদন করতে চান, তাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—‘NYC Housing Connect’ নামে সরকারি পোর্টালে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করা। সেখানে ইমেইল, ফোন নম্বর, বর্তমান ঠিকানা এবং পরিবারের সদস্যদের তথ্য দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হয়। এরপর পরিবারের মোট সদস্যসংখ্যা, বার্ষিক আয়, চাকরির তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করতে হবে। পরবর্তীতে আবেদন যাচাইয়ের সময় এই তথ্যের সঙ্গে সরকারি নথি মিলিয়ে দেখা হয়। তাই ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে ‘Open Lotteries’ বা চলমান আবাসন লটারির তালিকা থেকে পছন্দের প্রকল্প খুঁজে নেওয়া যায়। সেখানে প্রতিটি প্রকল্পের অবস্থান, মাসিক ভাড়া, বেডরুমের সংখ্যা, পরিবারের কতজন সদস্য আবেদন করতে পারবেন, আয়ের যোগ্যতা এবং আবেদনের শেষ তারিখ উল্লেখ থাকে। আবেদন করার আগে নিজের পরিবারের তথ্যের সঙ্গে এসব শর্ত মিলিয়ে নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক আবেদনকারী ‘AMI’ বা ‘Area Median Income’ শব্দটি দেখে বিভ্রান্ত হন। মূলত প্রতিটি প্রকল্প নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য নির্ধারিত থাকে। কোথাও ৫০ শতাংশ AMI, কোথাও ৬০, ৮০ বা ১২০ শতাংশ AMI উল্লেখ থাকে। অর্থাৎ, আপনার পরিবারের বার্ষিক আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকলেই কেবল সেই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে। পরিবারের সদস্যসংখ্যা বাড়লে বা কমলে আয়ের সীমাও পরিবর্তিত হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পরই যে বাসা পাওয়া যাবে, বিষয়টি এমন নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে কম্পিউটারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়। এরপর নির্বাচিত আবেদনকারীদের আয়, পরিচয় এবং অন্যান্য নথি যাচাই করা হয়। সব তথ্য সঠিক প্রমাণিত হলে তবেই চূড়ান্তভাবে অ্যাপার্টমেন্ট বরাদ্দ দেওয়া হয়। অনেকের ধারণা, এই কর্মসূচি শুধু কম ভাড়ার অ্যাপার্টমেন্টের জন্য। বাস্তবে সময়ে সময়ে একই প্ল্যাটফর্মে কম দামে অ্যাপার্টমেন্ট বা কো-অপ কেনার সুযোগও প্রকাশ করা হয়। এসব প্রকল্পে যোগ্য আবেদনকারীরা বাজারদরের তুলনায় অনেক কম মূল্যে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ পান। এছাড়া নিউইয়র্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি আবাসন কর্মসূচি হলো ‘Mitchell-Lama Program’। এই কর্মসূচির আওতায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য ভাড়া এবং কো-অপ—উভয় ধরনের আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। তবে এই কর্মসূচিতে কোনো একক আবেদনপত্র নেই। প্রতিটি আবাসন প্রকল্পের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে হয় এবং প্রতিটি ভবনের নিজস্ব অপেক্ষমাণ তালিকা বা ‘ওয়েটিং লিস্ট’ থাকে। কোনো প্রকল্পের অপেক্ষমাণ তালিকা খোলা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন জমা দিতে হয়। একই ব্যক্তি চাইলে একাধিক প্রকল্পেও আবেদন করতে পারেন। আবেদনকারীদের সাধারণত পরিচয়পত্র, ট্যাক্স রিটার্ন, W-2 বা 1099, সাম্প্রতিক বেতন স্লিপ, চাকরির প্রমাণপত্র, ব্যাংক স্টেটমেন্ট এবং বর্তমান বাসার তথ্য প্রস্তুত রাখতে হয়। প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর এসব নথি যাচাই করা হয়। আবাসন বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ভুয়া ওয়েবসাইট বা দালালচক্র আবেদন করে দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করে। সরকারি হাউজিং লটারির আবেদন সাধারণত বিনামূল্যে করা যায়। তাই কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন ফি দেওয়ার আগে অবশ্যই বিষয়টি যাচাই করা উচিত। শুধুমাত্র সরকারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করাই নিরাপদ। প্রতিবছর নিউইয়র্কে হাজার হাজার পরিবার এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন বাসা পান। তাই যারা এখনো আবেদন করেননি, তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে—সরকারি হাউজিং পোর্টালে অ্যাকাউন্ট খুলে নিয়মিত নতুন লটারি ও হোমওনারশিপ প্রকল্পের বিজ্ঞপ্তি পর্যবেক্ষণ করুন। সময়মতো সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলে কম ভাড়ায় বাসা কিংবা তুলনামূলক কম দামে বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ পাওয়া অসম্ভব নয়।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না তার দেশ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার নিজেদের এই অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি। আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইতালির প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। মেলোনি জোর দিয়ে বলেন, সংঘাতের শুরু থেকেই ইতালি এ বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ অবস্থান বজায় রেখেছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকেই আমাদের অবস্থান খুবই পরিষ্কার। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় অংশ নেব না।" উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসেও মধ্যপ্রাচ্যগামী মার্কিন সামরিক বিমানকে সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে অবতরণের অনুমতি দেয়নি ইতালি। এর মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা থেকে নিজেদের দূরে রাখার বার্তা আগেই স্পষ্ট করেছিল রোম। এদিকে, আঙ্কারায় ন্যাটো সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়েন মেলোনি। ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে যে রাজনৈতিক বিনিয়োগ তিনি করেছিলেন, তা নিয়ে কোনো অনুশোচনা বা দ্বিতীয় চিন্তা আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মেলোনি সাফ জানান, তিনি যা করেছেন তা নিয়ে তার কোনো অনুশোচনা নেই। প্রসঙ্গত, গত এপ্রিল মাসে ট্রাম্প প্রথমবার প্রকাশ্যে মেলোনির সমালোচনা করেছিলেন। এর আগে ইরান যুদ্ধ নিয়ে পোপ লিও চতুর্দশের অবস্থান ঘিরে ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছিলেন ইতালির এই প্রধানমন্ত্রী।
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা অঙ্গরাজ্যে স্টপ সাইন অমান্য করে সংঘটিত এক সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় তিনবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত (ডিপোর্টেড) এক অভিবাসীর বিরুদ্ধে মৃত্যুর কারণ হওয়া সড়ক অপরাধসহ একাধিক ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি স্টপ সাইনে না থেমে একটি গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটান। এতে ৬ বছর বয়সী শিশুটি গুরুতর আহত হয় এবং পরে হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, অভিযুক্তকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি এর আগে তিনবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট হয়েছিলেন। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পাশাপাশি অভিবাসন-সংক্রান্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ডিপোর্ট হওয়া ব্যক্তিদের পুনরায় দেশে প্রবেশ নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন করে সামনে এনেছে। তবে মামলাটি এখনো বিচারাধীন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের হর্ন আইল্যান্ডে ১৮ বছর বয়সী কলেজ ফুটবল খেলোয়াড় নোলান জেভিয়ার ওয়েলসের রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর নোলানের এক বন্ধুর মা এবং জ্যাকসন কাউন্টির বিচারক অ্যাশলি কোল জানান, নৌকার বিলজ পাম্পে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় তাদের দল দ্রুত দ্বীপ ছাড়তে বাধ্য হয়। তার দাবি, নোলান নিজ ইচ্ছায় হর্ন আইল্যান্ডে থেকে যান এবং পরে অন্য একটি নৌকায় ফিরে আসবেন বলে জানিয়েছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে দ্বীপে ফেলে আসা হয়নি। অন্যদিকে, নোলানের পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। এ জন্য তারা খ্যাতনামা নাগরিক অধিকারবিষয়ক আইনজীবী বেন ক্রাম্পকে নিয়োগ দিয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কিছু বিষয় এখনো অস্পষ্ট রয়েছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত ও বিষতত্ত্ব পরীক্ষার প্রতিবেদন অপেক্ষমাণ রয়েছে। এছাড়া ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য আলামতও যাচাই করা হচ্ছে। বিচারক অ্যাশলি কোল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। বর্তমানে ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আয়রন লাং (Iron Lung) যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল সর্বশেষ পোলিও জীবিত মার্থা অ্যান লিলার্ড মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর। জীবনের ৭৩ বছরেরও বেশি সময় তিনি এই বিশেষ শ্বাস-প্রশ্বাস সহায়ক যন্ত্রের ওপর নির্ভর করে বেঁচে ছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম কেএফওআর (KFOR) জানিয়েছে, ওকলাহোমা অঙ্গরাজ্যের শনি শহরের নিজ বাড়িতে গত জুন মাসের শেষ শুক্রবার তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর মাত্র আট দিন আগে তিনি কেএফওআরকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সে সময় বাড়ির মেরামতের জন্য সাহায্যের আবেদন জানাতে তিনি সাংবাদিকদের নিজের বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। পাঁচ বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত মার্থা লিলার্ড ১৯৫৩ সালে, নিজের পঞ্চম জন্মদিনে পোলিওতে আক্রান্ত হন। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে মাথা তুলতেই তীব্র ব্যথা অনুভব করেন এবং ধীরে ধীরে শরীরের নড়াচড়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। তিনি বলেন, “আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না। হাত-পা নাড়াতে পারছিলাম না। পুরো শরীর অবশ হয়ে গিয়েছিল।” সেটি ছিল এমন এক সময়, যখন যুক্তরাষ্ট্রে এখনো ব্যাপকভাবে পোলিও টিকা চালু হয়নি। ওই বছর দেশটিতে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষ পোলিওতে আক্রান্ত হয়েছিলেন, যাদের প্রায় অর্ধেকই পক্ষাঘাতে আক্রান্ত হন। জীবন বাঁচিয়েছিল ‘আয়রন লাং’ অচেতন হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে আয়রন লাং যন্ত্রে রাখেন। এই যন্ত্র শরীরের বাইরে থেকে বায়ুচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে রোগীকে শ্বাস নিতে সহায়তা করে। মার্থা বলেছিলেন, “অনেক শিশু এই যন্ত্রে থাকতে চাইত না। কিন্তু আমার ভালো লাগত, কারণ এতে আমি শ্বাস নিতে পারতাম।” প্রায় ছয় মাস হাসপাতালে থাকার পর তিনি ধীরে ধীরে নিজে শ্বাস নেওয়ার অনুশীলন করেন। প্রথমদিকে দিনে ২৩ ঘণ্টাই তাকে আয়রন লাংয়ের ভেতরে থাকতে হতো। বাকি এক ঘণ্টা তিনি পুনর্বাসন চিকিৎসার জন্য বাইরে থাকতেন। পরে তিনি নিজ প্রচেষ্টায় আবার হাঁটা শিখেছিলেন। যদিও তার ডান হাত স্থায়ীভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছিল, বাম হাত আংশিক ব্যবহার করতে পারতেন। আধুনিক যন্ত্রেও মানিয়ে নিতে পারেননি সময়ের সঙ্গে অনেক পোলিও রোগী আধুনিক ভেন্টিলেটর ব্যবহার শুরু করলেও মার্থার ক্ষেত্রে কোনো যন্ত্রই আয়রন লাংয়ের বিকল্প হতে পারেনি। তার ভাষায়, “আমি সব ধরনের যন্ত্র ব্যবহার করে দেখেছি। কিন্তু কোনোটিই আমার প্রয়োজনীয় মাত্রায় শ্বাস-প্রশ্বাসের সহায়তা দিতে পারেনি।” সুস্থ সময়গুলোতে তিনি দিনে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতেন এবং সাধারণত শুধু রাতে প্রায় নয় ঘণ্টা আয়রন লাং ব্যবহার করতেন। তবে কোভিড-১৯ মহামারির পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কোভিড-১৯ ও পোস্ট-পোলিও সিনড্রোম মার্থা দুইবার কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হন। পরে পোস্ট-পোলিও সিনড্রোম, দীর্ঘমেয়াদি কোভিডের জটিলতা এবং শিংলস রোগে ভোগেন। শেষ আট মাস তিনি প্রায় সারাক্ষণই আয়রন লাংয়ের ভেতরে ছিলেন। এরই মধ্যে পুরোনো যন্ত্রটিও নষ্ট হতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা জানান, যন্ত্রটির অনেক যন্ত্রাংশ ১৯৪০-এর দশকের, যা এখন আর সহজে পাওয়া যায় না। গত বছর একটি টর্নেডোতে তার বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে জেনারেটরও বিকল হয়ে যায়। সে সময় তার স্বামী বাহা সেলেহ জরুরি সহায়তা পৌঁছানো পর্যন্ত মুখে-মুখে শ্বাস দিয়ে তাকে বাঁচিয়ে রাখেন। শিল্প, কবিতা ও প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মার্থা ছিলেন একজন শিল্পপ্রেমী। তিনি শত শত চিত্রকর্ম আঁকেন, কবিতা লেখেন এবং পরিত্যক্ত কুকুর ও টিকটিকি উদ্ধার করে লালন-পালন করতেন। তিনি দুইবার বিয়ে করেন। ২০০৫ সালে ইয়াহু চ্যাটরুমে মিসরের নাগরিক বাহা সেলেহর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে গত বছর সেলেহ ওকলাহোমায় চলে আসেন এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। মার্থার মৃত্যুতে পোলিও-পূর্ব যুগের চিকিৎসা ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। একই সঙ্গে তার জীবন আবারও স্মরণ করিয়ে দিল, টিকাদান কর্মসূচি কীভাবে বিশ্বজুড়ে পোলিও নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকে বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। মোদির সফর উপলক্ষে মেলবোর্নে প্রবাসী ভারতীয়দের একটি বড় অংশ তাঁকে স্বাগত জানায়। বিমানবন্দর ও সফরস্থল এলাকায় তাঁর সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা যায়। তবে একই সময়ে মানবাধিকারকর্মী ও প্রবাসী ভারতীয়দের আরেকটি অংশ বিক্ষোভ করে। তাদের দাবি, অস্ট্রেলিয়ার সরকার যেন মোদির সঙ্গে বৈঠকে ভারতে মানবাধিকার পরিস্থিতি, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা করে এবং এসব বিষয়ে ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। নরেন্দ্র মোদির এই সফরে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ইউরেনিয়াম রপ্তানি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদারের আলোচনা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় দুই দেশ তাদের কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও কর্মীরা মোদির বিদেশ সফরগুলোর সময় প্রায়ই মানবাধিকার ইস্যু সামনে এনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
ভেনেজেলার লা গুয়াইরা শহরে গত ২৪ জুন পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর অসাধারণ সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন তুরস্কের নাগরিক ইব্রাহিম এসের। নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পর তিনি ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নেমে পড়েন এবং খালি হাতে অন্তত ৩৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেন। ২২ বছর ধরে ভেনেজেলায় বসবাসকারী ইব্রাহিম জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি অফিসে কাজ করছিলেন। মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী কম্পনে তাঁর অফিসের আসবাবপত্র ভেঙে পড়তে শুরু করে। তখনই তাঁর প্রথম চিন্তা ছিল স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে, কারণ তাঁদের বাসার পাশের একটি ভবন ধসে পড়েছিল। বাড়িতে পৌঁছে তিনি দেখেন চারদিকে আতঙ্ক। ভবন থেকে আসবাবপত্র পড়ছে, মানুষ আহত হয়ে রাস্তায় ছুটছে। পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আছেন নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি আবার ঘটনাস্থলে ফিরে যান এবং ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অংশ নেন। ইব্রাহিম জানান, পরদিন সকাল পর্যন্ত তিনি টানা কয়েক ঘণ্টা উদ্ধারকাজ চালিয়ে ৩৮ জনকে জীবিত বের করে আনতে সক্ষম হন। তবে সবাইকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া সান্তিয়াগো নামের এক ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য তিনি এক ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা করেন। কিন্তু ভারী কংক্রিট ভাঙার মতো যন্ত্রপাতি না থাকায় তাঁকে আর উদ্ধার করা যায়নি। পরে তিনি কাছাকাছি একটি হোটেলে আটকে পড়া টার্কিশ এয়ারলাইন্সের ক্রু সদস্যদের উদ্ধারেও সহায়তা করেন। পুরো পরিস্থিতিকে তিনি “ভূমিকম্পের চেয়ে যুদ্ধক্ষেত্রের মতো” বলে বর্ণনা করেন। ২৪ জুন ভেনেজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং উদ্ধার অভিযান শুরু করে জরুরি সেবা সংস্থাগুলো। আন্তর্জাতিক সহায়তার পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও উদ্ধারকাজে অংশ নেন। ইব্রাহিম এসেরের সাহসিকতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কুয়েত ও বাহরাইনসহ আরব দেশগুলোর ওপর ইরানের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মিসর। কায়রো এই হামলাকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ‘চরম লঙ্ঘন’ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য উসকানি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, বুধবার (৮ জুলাই) মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়, আরব ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে— এমন যেকোনো পদক্ষেপকে মিসর দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। একই সঙ্গে অঞ্চলে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে দেশটি। বিবৃতিতে কুয়েত ও বাহরাইনের প্রতি পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করে মিসর জানায়, তাদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যেকোনো হুমকির মোকাবিলায় পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে। মিসরের দৃষ্টিতে উপসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতা কেবল ওই দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং বৃহত্তর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং মিসরের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। ইরানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, এ ধরনের পুনরাবৃত্ত হামলার পক্ষে কোনো যৌক্তিক কারণ বা গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা থাকতে পারে না। এসব কর্মকাণ্ড পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসছে বিভিন্ন মহল থেকে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অস্ট্রেলিয়া সফরে দুই দেশ শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচির জন্য অস্ট্রেলিয়া থেকে ভারতে ইউরেনিয়াম রপ্তানির প্রশাসনিক চুক্তি সই করেছে। দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে এই চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বেসামরিক পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচিতে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম সরবরাহের পথ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত হলো। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী Anthony Albanese ও মোদির বৈঠকে ইউরেনিয়ামের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গ্রিন হাইড্রোজেন এবং সরবরাহ ব্যবস্থা (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করার বিষয়েও একাধিক সমঝোতা হয়েছে। মোদি বলেন, ভারত ২০৪৭ সালের মধ্যে ১০০ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এই লক্ষ্য অর্জনে অস্ট্রেলিয়ার ইউরেনিয়াম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি ভারতীয় অবকাঠামো খাতে আরও বেশি অস্ট্রেলীয় বিনিয়োগের আহ্বান জানান। এদিকে অস্ট্রেলিয়া জানিয়েছে, চুক্তিটি শুধু জ্বালানি সহযোগিতা নয়, বরং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার অংশ। বৈঠকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও গুরুত্ব পেয়েছে। ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ২০১৪ সালে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি হলেও, ভারত পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (NPT) সদস্য না হওয়ায় ইউরেনিয়াম রপ্তানি কার্যকর হতে দীর্ঘদিন বিলম্ব হয়। সর্বশেষ প্রশাসনিক চুক্তির মাধ্যমে সেই বাধা দূর হলো। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়াম মজুদের দেশ অস্ট্রেলিয়া, আর ভারত দ্রুত পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এই চুক্তিকে দুই দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্বের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।