২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি জেনারেল কাসেম সোলেইমানির ভাগ্নিকে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। আজ মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, কাসেম সোলেইমানির ভাগ্নি আফশার এবং তার কন্যাকে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) হেফাজতে নিয়েছে। বর্তমানে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেসে বসবাসরত আফশার দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে বসে ইরান সরকারের প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। তার বিরুদ্ধে মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার প্রশংসা করা, নতুন ইরানি সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন এবং যুক্তরাষ্ট্রকে ‘বড় শয়তান’ হিসেবে আখ্যায়িত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, তিনি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত ‘ইরানি রেভল্যুশনারি গার্ড কোর’ (আইআরজিসি)-এর প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন ব্যক্ত করে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আফশার এবং তার মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিল করা হয়েছে। রুবিও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "ট্রাম্প প্রশাসন এমন কোনো বিদেশি নাগরিককে এই দেশে আশ্রয় দেবে না, যারা আমেরিকা-বিরোধী সন্ত্রাসী শাসনব্যবস্থাকে সমর্থন করে।"
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী চারদিন বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বিশেষ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট এই বৈরী আবহাওয়া পরিস্থিতি সপ্তাহজুড়ে অব্যাহত থাকতে পারে, যা চলমান তাপপ্রবাহের মধ্যে জনজীবনে কিছুটা স্বস্তি আনতে পারে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশের কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টির তীব্রতা বাড়তে পারে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, এই সময়ের মধ্যে ঝড়বৃষ্টির প্রবণতা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সর্বোচ্চ ৮৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে। এ ছাড়া মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল, ফেনী এবং কুড়িগ্রামের রাজারহাটেও বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই ঝড়বৃষ্টির পর পরবর্তী পাঁচ দিনে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে এবং দেশের তাপমাত্রা আবারও ক্রমান্বয়ে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে, যার প্রভাবে এই মৌসুমি বৃষ্টির সৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়াবিদগণ নাগরিকদের বজ্রপাত ও শিলাবৃষ্টির সময় নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে কৃষি খাতের ওপর শিলাবৃষ্টির প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে কৃষকদের আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে।
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা করে তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ পুরোপুরি শেষ হলে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কারখানাটির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনবহুল এলাকায় এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কলকারখানা না থাকে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৭টি ইউনিট। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। জনবহুল স্থানে এমন কারখানার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি সব অফিসের কর্মঘণ্টা কমিয়ে নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার বৈঠকে গৃহীত এই সিদ্ধান্ত আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সারা দেশে কার্যকর হচ্ছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অফিসের সময় ১ ঘণ্টা কমিয়ে প্রতিদিন ৭ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে এখন থেকে সব অফিস সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিকেল ৪টায় শেষ হবে। জ্বালানি সাশ্রয়ের এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শুধু অফিস নয়, অন্যান্য বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, রোববার থেকে সন্ধ্যা ৬টার পর দেশের সব শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া বিদ্যুৎ অপচয় রোধে বিয়েবাড়ি বা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিত তদারকি করা হবে। ব্যাংকিং খাতের জন্যও পৃথক সময়সূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, রোববার থেকে ব্যাংকের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। তবে সাধারণ গ্রাহকদের জন্য লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত। ব্যাংকের সাপ্তাহিক ছুটি আগের মতোই শুক্রবার ও শনিবার বহাল থাকবে। তবে জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করতে সমুদ্র, স্থল ও বিমানবন্দর এলাকায় (পোর্ট ও কাস্টমস এলাকা) অবস্থিত ব্যাংকের শাখা ও উপশাখাগুলোর ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। এসব এলাকার ব্যাংকগুলো আগের মতোই সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে। মূলত বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতির অস্থিতিশীলতার কারণে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও জোগানের সমন্বয় করতেই সরকার এই বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ও আহতদের পরিবারের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ সহায়তা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যাদের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, নিহতদের প্রত্যেক পরিবারকে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ২ লাখ টাকা করে তাৎক্ষণিক ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এছাড়া ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ পুরোপুরি শেষ হলে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির সঠিক চিত্র জানা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। কারখানাটির মালিক ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর আইনের আওতায় আনা হবে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জনবহুল এলাকায় এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কলকারখানা না থাকে, সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বর্তমানে আহতদের চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট সব জায়গায় বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দুপুর ১টা ১৩ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৭টি ইউনিট। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন ফায়ার ফাইটাররা। বর্তমানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। জনবহুল স্থানে এমন কারখানার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছেন, দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা কোচিং সেন্টারগুলোকে আইনের আওতায় আনা হবে এবং পর্যায়ক্রমে এগুলো শতভাগ বন্ধ করা হবে। শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে কুমিল্লা অঞ্চলের পরীক্ষা কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন। মন্ত্রী বলেন, বেআইনিভাবে কোনো কোচিং সেন্টার চলবে না এবং শিক্ষকদের দায়িত্ব নিতে হবে যাতে শিক্ষার্থীরা কোনো বিষয়ে দুর্বল না থাকে। সভায় শিক্ষামন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেই দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নকলমুক্ত হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তাকে সেই বিশেষ দায়িত্বই দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আগামীতে দেশের সব পরীক্ষা সম্পূর্ণ নকলমুক্ত হবেই। এ লক্ষ্যে সকল শিক্ষককে এখনই প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া ও দুর্বল শিক্ষার্থীদের প্রতি আলাদা নজর দিতে হবে যাতে তারা মেধার ভিত্তিতে সাফল্য পায়। এহসানুল হক মিলন অতীতের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি নকলের বিরুদ্ধে সফল সংগ্রাম করেছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে সেই ধারা ব্যাহত হয়েছে। তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, "আপনারা সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করেন; এবার আমরা এসেছি, আর কোনো নকল বরদাস্ত করা হবে না।" নকলের বিষয়ে সরকার এখন থেকে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করবে বলেও তিনি সতর্ক করে দেন। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামসুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় শিক্ষামন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, তার মূল স্বপ্ন তারেক রহমানের আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়া। এ সময় কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী এবং কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিনসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী শিক্ষকদের মনে করিয়ে দেন যে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কাজ করা একটি মহৎ কাজ এবং এটি ‘সদকায়ে জারিয়া’র সমতুল্য।
অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘ভণ্ডামি’র দায়ে অভিযুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে কালাসের অবস্থানের প্রেক্ষিতে তেহরান এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে আলাপকালে কালাস হরমুজ প্রণালিতে ‘শুল্কমুক্ত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনাকে জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য ইরানের পদক্ষেপকে দায়ী করেন। কালাসের এই বক্তব্যের জবাবে ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, ইইউ প্রধান ইরানের ‘খাঁটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের’ নিন্দা জানালেও ইরানকে লক্ষ্য করে ‘আমেরিকান-ইসরাইলি অশুভ জোটের আগ্রাসী হামলা’ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। এছাড়া আইনি প্রেক্ষাপটে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দূতাবাস উল্লেখ করেছে যে, কালাস ইরানকে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, অথচ ইরান এই চুক্তির পক্ষভুক্ত কোনো রাষ্ট্র নয়। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করছে তেহরান। দূতাবাস আরও কঠোর ভাষায় কালাসের উপদেষ্টাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অভিযোগ করেছে যে তারা তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসার চুক্তি (NPT) সম্মান করে চললেও তাদের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই ধরনের আচরণকে দ্বিমুখী এবং বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান দূতাবাস। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কেবল একপক্ষকে দায়ী না করে সামগ্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এই বাদানুবাদের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপ ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
পারস্য উপসাগরের তপ্ত ভূ-রাজনীতিতে নতুন করে আগুনের হলকা। ইরানি আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-১৫-এর নিইরানের খোঁজ ক্রু সদস্যকে খুঁজে বের করতে এবার সরাসরি ইরানের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের এলিট স্পেশাল ফোর্সেস। শুক্রবার দিবাগত রাতে এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মাধ্যমে বিমানে থাকা দুই ক্রুর মধ্যে একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দ্বিতীয়জনের সন্ধানে এখনো ইরানি ভূখণ্ডে তল্লাশি চালাচ্ছে মার্কিন বাহিনী। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ও বিবিসি-র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন সামরিক পরিভাষায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘কমব্যাট সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ’ অভিযানে নেমেছে পেন্টাগন। এই অভিযানে দুটি হেলিকপ্টার ও একটি রিফুয়েলিং বিমান অংশ নেয়। উদ্ধারকাজ চলাকালীন স্থানীয় ইরানি মিলিশিয়াদের হালকা অস্ত্রের গুলিতে মার্কিন হেলিকপ্টারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একটি হেলিকপ্টার থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো ইরাকের ঘাঁটিতে নিরাপদে ফিরতে সক্ষম হয়েছে। সাবেক প্যারারেস্কিউ কমান্ডারদের মতে, এই অভিযান কতটা ভয়াবহ হতে পারে তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। নিখোঁজ পাইলটকে খুঁজে পেতে ইরানের গহীন এলাকায় এখন চলছে মার্কিন কমান্ডো আর ইরানি বাহিনীর লুকোচুরি। এদিকে, নিখোঁজ ওই মার্কিন ক্রুকে খুঁজে বের করতে বা ধরিয়ে দিতে ৬০ হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরান। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে একটি এ-১০ ওয়ার্টহগ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও সেটির পাইলটকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমান উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ঘটনা শান্তি আলোচনায় কোনো প্রভাব ফেলবে না। তার ভাষ্যমতে, "এটি যুদ্ধ, আর আমরা এখন যুদ্ধের মাঝেই আছি।"
প্রকাশ্য দিবালোকে জনাকীর্ণ এলাকায় মোটরসাইকেলের ট্যাংকির লক ভেঙে পেট্রল চুরির এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় দুর্বৃত্তদের এই দুঃসাহসিক চুরির শিকার হয়েছেন স্থানীয় যুবদল নেতা বিল্লাল হোসেন। শনিবার দুপুরে উপজেলার সোনাপুর চৌরাস্তা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। জানা গেছে, উপজেলা যুবদলের সদস্য বিল্লাল হোসেন তার মোটরসাইকেলটি সোনাপুর চৌরাস্তা-চিতোষী সড়কের পাশে ডাক্তার কামালের চেম্বার ও আনিসের দোকানের সামনে পার্ক করে রেখেছিলেন। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে ফিরে এসে তিনি দেখেন, তার প্রিয় যানের জ্বালানি ট্যাংকির তালাটি ভাঙা। ভেতরে থাকা প্রায় ১৩ লিটার পেট্রল সম্পূর্ণ উধাও। ব্যস্ততম এই মোড়ে দিনের আলোতে এমন চুরির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ও বিস্ময় ছড়িয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেন জানান, প্রয়োজনীয় কাজে তিনি গাড়িটি সেখানে রেখেছিলেন, কিন্তু ফিরে এসে দেখেন চোরচক্র সব তেল বের করে নিয়ে গেছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারত-এর কনডম বাজারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, কাঁচামালের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে কনডম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্টের ঘাটতির সরাসরি ফল। বিশেষ করে সিলিকন তেল, যা কনডম উৎপাদনে অপরিহার্য, বর্তমানে সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ভারতে প্রতিবছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এই খাতে HLL Lifecare Limited, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু HLL Lifecare-ই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে। উৎপাদকদের মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ প্যাকেজিং উপকরণের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে ভারতের কনডম বাজার মূলত উচ্চ উৎপাদন ও কম মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি সাশ্রয়ী রাখা যায়। তবে চলমান সংকটে এই মডেলটি বড় চাপে পড়েছে। গত মার্চে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে, যা কাঁচামালের সংকট আরও বাড়াবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের গুরুতর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বড় শহরগুলোতে এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই ও দিল্লি-এর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কনডম সরবরাহে অনিয়মিততা লক্ষ্য করা গেছে।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে ভারতের তেল আমদানির প্রক্রিয়া শুরু হলেও শেষ মুহূর্তে নাটকীয় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। ভারতীয় উপকূলের খুব কাছাকাছি পৌঁছেও প্রায় ছয় লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ‘পিং শুন’ হঠাৎ গতিপথ বদলে চীনের দিকে রওয়ানা দিয়েছে। শিপ ট্র্যাকিং ডেটা এবং বাজার বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত ট্যাংকারটির গন্তব্য গুজরাটের ভাদিনার বন্দর থাকলেও বর্তমানে এটি চীনের শানডং প্রদেশের ডংইং বন্দরের দিকে যাচ্ছে। ২০১৯ সাল থেকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারত ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রাখলেও, ২১ মার্চ বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে এই নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে। এই সুযোগেই দীর্ঘ বিরতির পর প্রথম ইরানি তেলের চালান ভারতে পৌঁছানোর কথা ছিল। গুজরাটের এত কাছে এসে ট্যাংকারটির ফিরে যাওয়া আন্তর্জাতিক মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি শুরু থেকেই এটি চীনের জন্য নির্ধারিত থাকত, তবে এর রুট সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। বাণিজ্যিক সূত্র এবং বিশেষজ্ঞরা এই আকস্মিক দিক পরিবর্তনের পেছনে মূলত ‘পেমেন্ট’ বা অর্থপ্রদান সংক্রান্ত জটিলতাকে দায়ী করছেন। কেপলারের রিফাইনিং ম্যানেজার সুমিত রিতোলিয়া জানান, ইরান বর্তমানে ৩০-৬০ দিনের ক্রেডিট সুবিধার পরিবর্তে অগ্রিম বা দ্রুত অর্থ পরিশোধের শর্ত দিচ্ছে। এছাড়া ইরান আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ‘সুইফট’ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং দীর্ঘমেয়াদী মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকির কথা ভেবে ভারতীয় ব্যাংকগুলো এই লেনদেনে জড়াতে এখনো দ্বিধাবোধ করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু বর্তমানে মার্কিন প্রশাসন ইরানি তেলের ওপর ছাড় দিয়েছে, তাই এই গতিপথ পরিবর্তন কোনো লুকোচুরি নয় বরং বাণিজ্যিক সমঝোতা না হওয়ারই ইঙ্গিত। তবে পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হলে কার্গোটি আবারও ভারতের দিকে ফিরে আসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই ঘটনাটি স্পষ্ট করে দিল যে, লজিস্টিক সুবিধার চেয়েও বর্তমানে বাণিজ্যিক শর্ত ও জটিল পেমেন্ট ব্যবস্থা ইরানি তেল বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
অস্ট্রিয়ায় নিযুক্ত ইরান দূতাবাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কালাসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তাকে ‘ভণ্ডামি’র দায়ে অভিযুক্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি সংকট নিয়ে কালাসের অবস্থানের প্রেক্ষিতে তেহরান এই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সম্প্রতি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে আলাপকালে কালাস হরমুজ প্রণালিতে ‘শুল্কমুক্ত নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ ফিরিয়ে আনাকে জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই পথে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর জন্য ইরানের পদক্ষেপকে দায়ী করেন। কালাসের এই বক্তব্যের জবাবে ইরান দূতাবাস জানিয়েছে, ইইউ প্রধান ইরানের ‘খাঁটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপের’ নিন্দা জানালেও ইরানকে লক্ষ্য করে ‘আমেরিকান-ইসরাইলি অশুভ জোটের আগ্রাসী হামলা’ সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন। এছাড়া আইনি প্রেক্ষাপটে তাকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে দূতাবাস উল্লেখ করেছে যে, কালাস ইরানকে জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন, অথচ ইরান এই চুক্তির পক্ষভুক্ত কোনো রাষ্ট্র নয়। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই দৃষ্টিভঙ্গিকে একপাক্ষিক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে দাবি করছে তেহরান। দূতাবাস আরও কঠোর ভাষায় কালাসের উপদেষ্টাদের পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং অভিযোগ করেছে যে তারা তাকে সঠিক পরামর্শ দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। ইরানের দাবি অনুযায়ী, দেশটি পারমাণবিক অস্ত্র অ-প্রসার চুক্তি (NPT) সম্মান করে চললেও তাদের শান্তিপূর্ণ ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলো বারবার হামলার শিকার হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই ধরনের আচরণকে দ্বিমুখী এবং বৈষম্যমূলক হিসেবে অভিহিত করেছে ইরান দূতাবাস। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অবস্থানকে ইরান সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান মনে করে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত কেবল একপক্ষকে দায়ী না করে সামগ্রিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কথা বলা। এই বাদানুবাদের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইউরোপ ও ইরানের মধ্যকার কূটনৈতিক দূরত্ব আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: আলজাজিরা
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ইরান সরকার তাদের বন্দরগুলোতে খাদ্য ও ওষুধের মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির বরাত দিয়ে রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ইরান কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি বন্ধ করে দিয়েছিল। একটি চিঠির উদ্ধৃতি দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, যেসব জাহাজ বর্তমানে ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে এবং ইরানের বন্দরের অভিমুখে আসছে, তারা নির্দিষ্ট নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে এই প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে। তবে এই অনুমতির অর্থ এই নয় যে প্রণালিটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। জাহাজগুলোকে অবশ্যই ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে এবং নির্ধারিত কঠোর নিয়মাবলী অনুসরণ করে চলাচল করতে হবে। বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়েই সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই অচলাবস্থার পর অত্যাবশ্যকীয় পণ্যবাহী জাহাজের জন্য পথ খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মূলত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে খাদ্য, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী আমদানির ধারা সচল রাখতেই তেহরান এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য সরবরাহ নিয়ে সৃষ্ট উদ্বেগের মাঝেই ইরানের পক্ষ থেকে এই নতুন নির্দেশনা এলো। যদিও সাধারণ বাণিজ্যিক বা জ্বালানি তেলের জাহাজের জন্য এখনো পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারিতেই এই সীমিত জাহাজ চলাচল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
তাইওয়ান প্রণালীর কৌশলগত জলসীমায় নিজেদের সামরিক আধিপত্যের জানান দিতে নতুন শক্তিতে হাজির হয়েছে চীনা নৌবাহিনী। পিপলস লিবারেশন আর্মি নেভি (পিএলএএন) তাদের অন্যতম শক্তিশালী এবং অত্যাধুনিক ‘টাইপ ০৫৫’ গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ‘আনকিং’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো বাস্তবমুখী বা ‘কমব্যাট-স্টাইল’ লাইভ-ফায়ার মহড়া সম্পন্ন করেছে। গত ১ এপ্রিল চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে এই রণতরীটির বিধ্বংসী সক্ষমতা এবং নিখুঁত লক্ষ্যভেদের দৃশ্য উঠে আসে। চীনের ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডের অধীনে পরিচালিত এই মহড়ায় মূলত আধুনিক ইলেকট্রনিক যুদ্ধের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। প্রতিকূল তড়িৎ-চৌম্বকীয় পরিবেশে রাডার ও সেন্সর ব্যবহার করে শত্রুর অবস্থান শনাক্ত করা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রেখে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার ওপর এই মহড়ায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শুরুতে লক্ষ্যভেদে সামান্য বিচ্যুতি ঘটলেও আনকিং-এর ক্রু সদস্যরা অবিশ্বাস্য দ্রুততায় তা সংশোধন করে নেন এবং লক্ষ্যবস্তুকে সফলভাবে গুঁড়িয়ে দেন। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ মহড়া নয়, বরং যুদ্ধের ময়দানে ক্রু সদস্যদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও উন্নত হার্ডওয়্যারের সমন্বয় যাচাইয়ের একটি কঠিন পরীক্ষা ছিল। টাইপ ০৫৫’ আনকিং: কেন একে সমুদ্রের দানব বলা হয়? আকার ও ক্ষমতা: ১৮০ মিটার দীর্ঘ এবং ২০ মিটার প্রস্থের এই যুদ্ধজাহাজটি পূর্ণ লোড অবস্থায় ১২,০০০ থেকে ১৩,০০০ টন ওজনের পানি স্থানচ্যুত করতে পারে। এর বিশালাকার ও অত্যাধুনিক কমান্ড ক্ষমতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একে সাধারণ ডেস্ট্রয়ার না বলে 'ক্রুজার' হিসেবে গণ্য করে। অস্ত্রভাণ্ডার: জাহাজটিতে ১১২টি ইউনিভার্সাল ভার্টিক্যাল লঞ্চ সেল (ভিএলএস) রয়েছে। এর মাধ্যমে বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, জাহাজ বিধ্বংসী ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায়। গুঞ্জন রয়েছে, এটি হাইপারসনিক মিসাইল বহনেও সক্ষম। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা: এতে রয়েছে ১৩০ মিমি মেইন গান, ৩০ মিমি ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম এবং উন্নত ‘টাইপ ৩৪৬বি’ এইএসএ (AESA) রাডার। এটি আকাশ, জল এবং সাবমেরিনের উপস্থিতি শনাক্ত করে নিখুঁত আক্রমণ চালাতে পারে। বর্তমানে চীনের হাতে থাকা মোট ১০টি ‘টাইপ ০৫৫’ ডেস্ট্রয়ারের মধ্যে নবতম সংযোজন ‘আনকিং (১১০)’ এবং ‘ডংগুয়ান (১০৯)’-কে সরাসরি ইস্টার্ন থিয়েটার কমান্ডে মোতায়েন করা হয়েছে। তাইওয়ান প্রণালীর যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে এই কমান্ডটিই চীনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। নৌ-বহরের রক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত এই আনকিং যুদ্ধজাহাজগুলো বিমানবাহী রণতরী বা ল্যান্ডিং গ্রুপকে দূরপাল্লার সুরক্ষা প্রদান করে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সত্তরের দশকে দেখা চীনের শক্তিশালী নৌ-বাহিনীর স্বপ্ন আজ ‘আনকিং’-এর মাধ্যমে বাস্তবে রূপ নিল। এই মহড়ার মাধ্যমে বেইজিং বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিল যে, তারা কেবল সংখ্যায় নয়, প্রযুক্তিতেও এখন অনন্য উচ্চতায়।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।