Live update news
ফ্লোরিডায় দীর্ঘ নয় মাস অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার পর মুক্তি পেয়ে পরিবারে ফিরেছেন কিউবান নাগরিক জোস অ্যালেন্দে | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ ৯ মাস পর ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন কিউবান বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘ নয় মাস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) বা অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন জোস অ্যালেন্দে নামের এক কিউবান নাগরিক। গত সপ্তাহান্তে তিনি ফ্লোরিডায় নিজ পরিবারের সাথে পুনরায় মিলিত হন। দীর্ঘদিন পর বাবাকে ফিরে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তাঁর মেয়ে শীনা অ্যালেন্দে-স্মিথ।   বিগত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ব্রেভার্ড কাউন্টিতে আইসিই-এর আকস্মিক অভিযানের সময় জোস অ্যালেন্দেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাঁর মেয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়েশ ২ (WESH 2) কে জানিয়েছেন, তাঁর বাবা ঐতিহাসিক ‘ফ্রিডম ফ্লাইটস’-এর মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়া মেনেই কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাঁর একটি সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর এবং বৈধ মার্কিন ড্রাইভিং লাইসেন্সও রয়েছে।   আইনিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা সত্ত্বেও কয়েক দশক আগের একটি অপরাধের রেকর্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্ব না থাকার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে একটি পুরোনো ডিপোর্টেশন বা দেশছাড়া করার আদেশ কার্যকর করা হয়েছিল। এর ভিত্তিতেই গত বছর অভিবাসন বিভাগের একটি দল তাঁকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে চলা আইনি লড়াই শেষে সম্প্রতি তিনি মুক্তি পান।   বাবার বাড়ি ফেরার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে মেয়ে শীনা অ্যালেন্দে-স্মিথ আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “মনে হচ্ছে যেন আমার বুক থেকে একটি বিশাল পাথর নেমে গেল। গত নয়টা মাস আমি ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি, খেতেও পারিনি। প্রতিদিন তাঁকে হারানোর শোকে ভুগতাম। এখন অন্তত সেই কষ্টটা আর পেতে হবে না। তিনি সুস্থ নেই, তবে বাড়ি ফিরে খুব খুশি।”   পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, জোস অ্যালেন্দে ইতিমধ্যে গ্রিন কার্ডের জন্য নতুন করে আবেদন করেছেন। একই সাথে ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের আইনি জটিলতায় আর পড়তে না হয়, সেজন্য একজন অভিজ্ঞ আইনজীবীর সহায়তায় মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য কাজ শুরু করেছেন তিনি।

২৩ মিনিট Ago
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মুসলিম আইনজীবী হ্যারিস এম সৈয়দ | ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকায় সুদবিহীন সরকারি তহবিলের জন্য মামলা করা মুসলিম আইনজীবীকে বিচারক বানালেন গভর্নর

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক হিসেবে হ্যারিস এম সৈয়দ নামের এক মুসলিম আইনজীবীকে নিয়োগ দিয়েছেন গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। এই নিয়োগের পর দেশটির বিচারব্যবস্থায় শরিয়াহ আইনের প্রভাব এবং একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর এবং মুসলিম আমেরিকান অধিকার সংগঠন ‘কেয়ার’ (CAIR) এই নিয়োগকে স্বাগত জানালেও কট্টরপন্থীদের পক্ষ থেকে তীব্র সমালোচনা করা হচ্ছে।   বিচারক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে হ্যারিস এম সৈয়দ লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে আলোচনায় এসেছিলেন। কাউন্টির অবসরকালীন বা রিটায়ারমেন্ট তহবিলগুলোর বিনিয়োগ সুদ-ভিত্তিক হওয়ার কারণে তিনি এই আইনি পদক্ষেপ নেন, যা ইসলামিক শরিয়াহ অর্থায়নের নিয়মের (সুদ বা রিবা নিষিদ্ধকরণ) পরিপন্থী। তিনি সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তাঁর ধর্মীয় বিশ্বাসের সুরক্ষায় শরিয়াহ-সম্মত বিনিয়োগের বিকল্প সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলেন এবং এটিকে তাঁর বিশ্বাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন।   এই নিয়োগের পর কলোরাডোভিত্তিক ডানপন্থী ও রক্ষণশীল বিভিন্ন ফোরাম এবং সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্টরা দাবি করছেন, এটি মার্কিন আদালত ব্যবস্থার ওপর একটি সুপরিকল্পিত প্রভাব বিস্তারের অংশ। তারা ২০২৪ সালে ‘কেয়ার’-এর নির্বাহী পরিচালক নিহাদ আওয়াদ-এর দেওয়া একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে এই আশঙ্কা প্রকাশ করছেন। সে সময় আওয়াদ মুসলিম শিক্ষার্থীদের আইন, সাংবাদিকতা, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে স্কলারশিপ দিয়ে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে হাজার হাজার আইনজীবী ও নীতিনির্ধারক তৈরির একটি কৌশলগত পরিকল্পনার কথা বলেছিলেন।   সমালোচকদের দাবি, এই ধরনের নিয়োগের মাধ্যমে আমেরিকার বিচারব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। উগ্রপন্থী ও বর্ণবাদবিরোধী গবেষক দল ‘রেয়ার ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান অ্যামি মেক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, যিনি সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে শরিয়াহ আর্থিক নিয়মের সাথে মেলাতে মামলা লড়েছেন, তিনি এখন আমেরিকার অন্যতম বড় আদালত ব্যবস্থার বিচারকের আসনে বসেছেন। টেক্সাস ও ফ্লোরিডার মতো রাজ্যের গভর্নরদের দ্বারা সমালোচিত সংগঠন ‘কেয়ার’ এই নিয়োগকে স্বাগত জানানোয় তারা একে বিচারব্যবস্থায় অনুপ্রবেশ হিসেবে দেখছেন।   তবে এই সমস্ত সমালোচনার বিপরীতে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এবং নাগরিক অধিকার কর্মীরা এই নিয়োগকে মেধা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। ‘কেয়ার-এলএ’ হ্যারিস সৈয়দকে একজন অত্যন্ত সৎ ও দক্ষ ‘আমেরিকান মুসলিম আইনজীবী’ হিসেবে প্রশংসা করেছে। মার্কিন নীতিনির্ধারকদের একাংশের মতে, বিচার বিভাগে বৈচিত্র্য আনা এবং সব ধর্মের নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করাই এই নিয়োগের মূল লক্ষ্য, যা মার্কিন সংবিধানের ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকারকে আরও সমুন্নত করবে।

৩০ মিনিট Ago
স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা দায়িত্বে থাকা এনওয়াইপিডি সদস্যরা | ছবি: সংগৃহীত
ছুটির ভাতা বিলম্বে ক্ষুব্ধ নিউইয়র্কের পুলিশ সদস্যরা, মেয়র মামদানির প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস (৪ জুলাই) উপলক্ষে টানা ১২ ঘণ্টার শিফটে দায়িত্ব পালন করলেও নির্ধারিত সময়ে ছুটির ভাতা না পাওয়ায় নিউইয়র্ক সিটি পুলিশের (এনওয়াইপিডি) সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। পুলিশ ইউনিয়ন এ বিলম্বের জন্য মেয়র জোহরান মামদানির প্রশাসনকে দায়ী করেছে। যদিও এনওয়াইপিডি বলছে, এটি একটি ‘অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগত ত্রুটি’ এবং দ্রুত তা সংশোধনের চেষ্টা চলছে।   পুলিশ বেনেভোলেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (পিবিএ) সভাপতি প্যাট্রিক হেনড্রি বুধবার সদস্যদের পাঠানো এক ই-মেইলে জানান, অতীতের মতো জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে নয়, এবার ছুটির ভাতার চেক তৃতীয় সপ্তাহে দেওয়ার কথা জানিয়েছে সিটি কর্তৃপক্ষ।   হেনড্রি বলেন, “এটি শুধু আমাদের চুক্তিভিত্তিক অধিকার লঙ্ঘনই নয়, তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় কাজ করা পুলিশ সদস্যদের প্রতি অপমানও।” তিনি আরও জানান, বিলম্বের প্রতিবাদে পিবিএ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (গ্রিভ্যান্স) দায়ের করেছে এবং প্রয়োজনে বিষয়টি সালিশি পর্যায়েও নেওয়া হবে। তবে এনওয়াইপিডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগত ভুল ছিল এবং তা দ্রুত সমাধানের জন্য কাজ চলছে।   বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা বিশ্বাস করি, সমস্যাটি ঠিক করে চলতি মাসের দ্বিতীয় বেতনের সঙ্গে সবাইকে তাদের ছুটির ভাতা দিতে পারব। এই শহরের জন্য পুলিশ সদস্যদের চেয়ে বেশি কেউ কাজ করেন না। তাই তাদের সময়মতো পারিশ্রমিক পাওয়াই প্রাপ্য।” সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, একজন প্রাথমিক পর্যায়ের পুলিশ সদস্যের ছুটির ভাতার পরিমাণ প্রায় ২ হাজার ৮০০ ডলার।   পুলিশ ইউনিয়নের দাবি, চলতি বছরের জানুয়ারিতেও একই ধরনের বিলম্ব হয়েছিল। তখন সিটি প্রশাসন নতুন কর-সংক্রান্ত নিয়মের কারণে বেতন ব্যবস্থায় পরিবর্তনের অজুহাত দিয়েছিল। তবে এবার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।   এদিকে স্বাধীনতা দিবসের ব্যস্ততা সামাল দিতে নিউইয়র্কজুড়ে হাজারো পুলিশ সদস্যকে ১২ ঘণ্টার শিফটে মোতায়েন করা হয়েছে। মেয়র জোহরান মামদানি ও এনওয়াইপিডি কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, শহরের বিভিন্ন বড় আয়োজনকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৪ জুলাই উপলক্ষে নৌবাহিনীর কুচকাওয়াজ, ‘প্যারেড অব সেইলস’, ম্যাসির ঐতিহ্যবাহী আতশবাজির প্রদর্শনী এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে বিপুল জনসমাগমের প্রত্যাশা করছে কর্তৃপক্ষ।

৪৪ মিনিট Ago
মেকানিকভিলের নিজ বাড়িতে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মহত্যাকারী দাদি অ্যামি জে. স্টেডম্যান | ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ, দাদিকে পরিবারের দুই লাইনের শোকবার্তা

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে নিজের মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর আত্মহত্যার সন্দেহভাজন এক দাদিকে তার পরিবার মাত্র দুই লাইনের একটি শোকবার্তায় স্মরণ করেছে। বহুল আলোচিত এই ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।   স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ৬৪ বছর বয়সী অ্যামি জে. স্টেডম্যান, তার ৪৪ বছর বয়সী মেয়ে সারা মায়ার্স এবং চার নাতি-নাতনি, ১৩ বছর বয়সী হারপার হারমন, ১১ বছর বয়সী হাডসন হারমন এবং ১০ বছর বয়সী যমজ গ্যাভিন ও গ্রেসলিন হারমনকে নিউইয়র্কের মেকানিকভিলে স্টেডম্যানের বাড়ি থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ মরদেহগুলো উদ্ধার করে।   আলবেনিভিত্তিক একটি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত স্টেডম্যানের শোকবার্তায় লেখা হয়েছে, “অ্যামি জে. স্টেডম্যান, ৬৪, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ তারিখে মারা গেছেন। পরিবারের অনুরোধে ব্যক্তিগতভাবে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।” সেখানে তার কোনো ছবিও প্রকাশ করা হয়নি।   মেকানিকভিল পুলিশ প্রধান বিল র‍্যাবিট জানান, স্টেডম্যানের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিঠিতে জোরালোভাবে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তিনি মেয়ে ও চার নাতি-নাতনিকে বিষপ্রয়োগে হত্যার পর নিজেও আত্মহত্যা করেছেন।   পুলিশের ভাষ্য, ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধরনের প্রেসক্রিপশন ও ওভার-দ্য-কাউন্টার ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, এসব ওষুধ ইচ্ছাকৃত বিষপ্রয়োগের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তবে টক্সিকোলজি পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা হচ্ছে না।   তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, নিহত শিশুদের একজনের শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।   প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের বাবার সাম্প্রতিক হেফাজতের অধিকার পাওয়াকে কেন্দ্র করে ক্ষোভ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।   নিহত শিশুদের বাবা ব্র্যাডি হারমন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে সন্তানদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই করছিলেন এবং গ্রীষ্মের ছুটিতে তাদের উটাহে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে জুন মাসে শেষবার কথা বলার সময় সাবেক স্ত্রী সারা মায়ার্স তাকে জানিয়েছিলেন, শিশুরা অসুস্থ। হারমন বলেন, “ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েছে। সন্তানদের কাছে পৌঁছাতে আমাকে সাড়ে ছয় বছর লড়াই করতে হয়েছে।”   তিনি আরও বলেন, “এখন আমার একমাত্র চাওয়া, আমার সন্তানদের বাড়িতে ফিরিয়ে আনা এবং যারা তাদের সঙ্গে এমন নৃশংসতা করেছে, তাদের থেকে দূরে রাখা।”   পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। টক্সিকোলজি পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হবে।

১ ঘন্টা Ago
চার্লি কার্ক।  ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা
চার্লি কার্ককে নিয়ে বিতর্কিত পোস্টের জেরে চাকরি হারিয়েছিলেন অধ্যাপক, এবার মামলা নিষ্পত্তিতে পাচ্ছেন ১৯ লাখ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক সহকারী অধ্যাপকের সঙ্গে ১৯ লাখ মার্কিন ডলারে সমঝোতায় পৌঁছেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রক্ষণশীল রাজনৈতিক কর্মী চার্লি কার্ককে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর তাকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। পরে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ফক্স নিউজ ও নক্স নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয় সিস্টেমের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সাবেক অধ্যাপক তামার শিরিনিয়ানের সঙ্গে ১৯ লাখ ডলারের সমঝোতা অনুমোদন করেছে।   ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে। সে সময় টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লি কার্ক উটাহ ভ্যালি বিশ্ববিদ্যালয়ে তার "আমেরিকান কামব্যাক ট্যুর" চলাকালে বন্দুকধারীর হামলায় নিহত হন। এই ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিরিনিয়ান লিখেছিলেন, "তাকে ছাড়া পৃথিবী আরও ভালো থাকবে।" একই পোস্টে তিনি কার্ককে "জঘন্য সাইকোপ্যাথ" বলে উল্লেখ করেন এবং তার পরিবারের সম্পর্কেও আপত্তিকর মন্তব্য করেন।   পোস্টটি প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। পরে শিরিনিয়ান দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, তার মন্তব্য ছিল সংবেদনশীলতাবর্জিত এবং এটি তার স্বাভাবিক ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন নয়। বিতর্কের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রথমে তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। পরে ২০২৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।   বরখাস্তের চিঠিতে টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ডন্ডে প্লাওম্যান লিখেছিলেন, শিরিনিয়ানের বক্তব্য একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে উদ্‌যাপন করেছে এবং নিহত ব্যক্তির স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের শোককে অবজ্ঞা করেছে। চাকরি হারানোর পর শিরিনিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তার অভিযোগ ছিল, বিশ্ববিদ্যালয় তার সাংবিধানিক মতপ্রকাশের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।   সমঝোতার অংশ হিসেবে তিনি ১৯ লাখ মার্কিন ডলার পাবেন। তবে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুনর্বহাল করা হবে না।   শিরিনিয়ানের আইনজীবী রব বিগেলো এক বিবৃতিতে বলেন, উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় তার মক্কেল সন্তুষ্ট। তার ভাষায়, আদালতের লড়াই সব সময়ই কঠিন। তবে এই সমঝোতা মামলার গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং একই সঙ্গে উভয় পক্ষকে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে।   অন্যদিকে টেনেসি বিশ্ববিদ্যালয় সিস্টেমের এক মুখপাত্র ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, বোর্ড সভায় প্রকাশ্যে যা বলা হয়েছে, তার বাইরে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো মন্তব্য নেই।   এদিকে চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডের মামলাও এখনো বিচারাধীন। ওই মামলার অভিযুক্ত টাইলার রবিনসনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৮:৩৬
ইউনিফর্ম পরেই গ্রেপ্তার বিমান বাহিনীর মেজর। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে অপসারণের দাবিতে কংগ্রেস ভবনের সিঁড়িতে বিক্ষোভ, গ্রেপ্তার মার্কিন বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিশংসনের মাধ্যমে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের সিঁড়িতে বিক্ষোভ করার সময় মার্কিন বিমান বাহিনীর এক কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।   নিউজউইক-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার মার্কিন বিমান বাহিনীর মেজর জেসন ওয়াটসন ইউনিফর্ম পরেই ক্যাপিটল ভবনের সামনে একটি প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন। তাতে লেখা ছিল, "Impeach, Convict, Remove" অর্থাৎ "অভিশংসন করুন, দোষী সাব্যস্ত করুন, পদ থেকে অপসারণ করুন।" প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াটসন বক্তব্যে বলেন, "প্রেসিডেন্ট ও ভাইস প্রেসিডেন্টকে অভিশংসন, দোষী সাব্যস্ত এবং পদ থেকে অপসারণ করতে হবে।"   ঘটনার শুরুতে তার সঙ্গে টেক্সাসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি এলাকা ছেড়ে যাওয়ার পর পুলিশ ওয়াটসনকে জানায়, কংগ্রেসের কোনো সদস্য সঙ্গে না থাকলে ক্যাপিটল ভবনের ওই স্থানে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়া যাবে না। নির্দেশ অমান্য করে তিনি ভবনের সিঁড়িতে উঠে অবস্থান নিলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওয়াটসন সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে প্ল্যাকার্ডটি মাটিতে রেখে নিজের দুই হাত পেছনে নেন। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় উপস্থিত লোকজন করতালি দিয়ে সমর্থন জানান এবং স্লোগান দিতে থাকেন।   পরে এক ভিডিওবার্তায় কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং একজন মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাকে প্রেসিডেন্টের অভিশংসনের দাবিতে অবস্থান নিতে দেখেছেন। তার ভাষায়, অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে এমন সাহসের প্রয়োজন। বিক্ষোভের আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রিমুভাল কোয়ালিশন-এর প্রতিষ্ঠাতা জেসিকা ডেনসন। সংগঠনটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের সদস্যদের ক্ষমতা থেকে অপসারণের পক্ষে প্রচারণা চালায়।   সংবাদ সম্মেলনে ডেনসন বলেন, মেজর জেসন ওয়াটসন বর্তমানে পোল্যান্ডে লজিস্টিকস রেডিনেস অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও ছুটিতে রয়েছেন। তিনি প্রায় ১৭ বছর ধরে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ন্যাটোর সঙ্গে কাজ করেছেন। ডেনসনের দাবি, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওয়াটসন নিজেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই কর্মসূচির আয়োজন করতে অনুরোধ করেছিলেন।   বক্তব্যে ওয়াটসন বলেন, তিনি ডেমোক্র্যাট নন এবং আল গ্রিনের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কেও খুব বেশি জানেন না। তবে তার মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপনে কংগ্রেস সদস্যদের মধ্যে আল গ্রিনই সবচেয়ে বেশি সাহসিকতা দেখিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আল গ্রিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন এবং দায়িত্বে বহাল থাকলে তিনি সহিংসতা উসকে দেওয়া, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল করা এবং রাষ্ট্রের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরি করবেন। তবে প্রতিনিধি পরিষদে ভোটাভুটিতে সেই প্রস্তাব ২৩৭ ভোটে বাতিল হয়। পক্ষে ভোট পড়ে ১৪০টি।   এদিকে ফ্রি স্পিচ ফর পিপল-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জন বোনিফাজ এক বিবৃতিতে ওয়াটসনের প্রশংসা করে বলেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ঝুঁকি নিয়েও তিনি নিজের অবস্থান প্রকাশ করেছেন, যা অনেকের নীরবতার বিপরীত একটি উদাহরণ। অন্যদিকে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউজউইক।   ওয়াটসনের আইনি লড়াইয়ের জন্য ইতোমধ্যে একটি অনলাইন তহবিল গঠন করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দেশপ্রেমিক এই সামরিক কর্মকর্তার আইনগত ব্যয় বহনের উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত ওই তহবিলে ২৪ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি অনুদান জমা পড়েছে।

ফ্লোরিডায় অজগর ধরার প্রতিযোগিতা।  ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় অজগর ধরার প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ২৫ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পরিবেশের জন্য বড় হুমকিতে পরিণত হওয়া বার্মিজ অজগর নিয়ন্ত্রণে আবারও বিশেষ অভিযান শুরু করছে কর্তৃপক্ষ। এ উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে ২০২৬ ফ্লোরিডা পাইথন চ্যালেঞ্জ, যেখানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য মোট ২৫ হাজার ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে বেশি অজগর ধরতে পারা ব্যক্তি পাবেন ১০ হাজার ডলারের সর্বোচ্চ পুরস্কার।   ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন (এফডব্লিউসি) জানিয়েছে, আগামী ১০ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত টানা ১০ দিন চলবে এই অভিযান। এতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিকারিদের পাশাপাশি নির্ধারিত নিয়ম মেনে সাধারণ অংশগ্রহণকারীরাও অংশ নিতে পারবেন। মূল লক্ষ্য হলো ফ্লোরিডার বিখ্যাত এভারগ্লেডস জলাভূমিতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বার্মিজ অজগরের সংখ্যা কমানো এবং স্থানীয় বন্যপ্রাণীকে রক্ষা করা।   বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই অজগর প্রজাতি মূলত বিদেশি পোষা প্রাণীর ব্যবসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। পরবর্তী সময়ে কিছু অজগর পালিয়ে যায় বা প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই তারা এভারগ্লেডসের প্রাকৃতিক পরিবেশে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে এই আগ্রাসী প্রজাতির কারণে খরগোশ, র্যাকুন, শিয়াল, বিভিন্ন পাখি এবং অন্যান্য দেশীয় প্রাণীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি পূর্ণবয়স্ক বার্মিজ অজগরের দৈর্ঘ্য ১৭ ফুটেরও বেশি হতে পারে। একটি স্ত্রী অজগর একবারে প্রায় ১০০টি পর্যন্ত ডিম পাড়তে সক্ষম, যা তাদের দ্রুত বংশবিস্তারে সহায়তা করে এবং পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে।   গত বছরের পাইথন চ্যালেঞ্জে অংশ নিয়ে টেইলর স্ট্যানবেরি একাই ৬০টি অজগর ধরেছিলেন। সেটি ছিল প্রতিযোগিতায় ধরা মোট অজগরের ২০ শতাংশেরও বেশি। তার এই সাফল্য অভিযানের অন্যতম উল্লেখযোগ্য অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।   প্রতিযোগিতার বাইরে সারা বছরই বার্মিজ অজগর অপসারণে কাজ করছে বিভিন্ন গবেষণা ও সংরক্ষণ সংস্থা। সম্প্রতি কনজারভেন্সি অব সাউথওয়েস্ট ফ্লোরিডা জানিয়েছে, তাদের গবেষকরা ১৭৭টি অজগর ধরেছেন, যেগুলোর সম্মিলিত ওজন ছিল প্রায় ৮ হাজার ৮০ পাউন্ড। একই সময়ে তারা প্রায় ৪ হাজার ১০০টি অনিষিক্ত ডিমও অপসারণ করেন, যা ফুটলে আরও হাজারো অজগর প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়তে পারত।   পরিবেশবিদদের মতে, বার্মিজ অজগরের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে শুধু সরকারি উদ্যোগই নয়, গবেষণা, নিয়মিত নজরদারি এবং জনসচেতনতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রতিবছরের এই প্রতিযোগিতাকে তারা শুধু পুরস্কারভিত্তিক কর্মসূচি নয়, বরং ফ্লোরিডার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাকুওয়েদার এবং ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এ ধরনের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে এভারগ্লেডসের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে আগ্রাসী এই প্রজাতির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালে কান্ট্রি সংগীত তারকা ক্লিন্ট ব্ল্যাক, অসুস্থতায় বাতিল নির্ধারিত কনসার্ট

যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় কান্ট্রি সংগীতশিল্পী ক্লিন্ট ব্ল্যাক আকস্মিক শারীরিক অসুস্থতার কারণে তাঁর নির্ধারিত কনসার্ট বাতিল করেছেন। শিল্পীর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, গলায় গুরুতর টনসিল সংক্রমণ ধরা পড়ার পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং দ্রুত শিরায় অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা শুরু করা হয়েছে।   আগামী ৩ জুলাই মিসিসিপির পার্ল রিভার রিসোর্ট ক্যাসিনোতে তাঁর পরিবেশনার কথা ছিল। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শে অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, যেসব দর্শক আগেই টিকিট কিনেছেন, তাঁদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।   শিল্পীর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে এবং চিকিৎসকেরা পূর্ণ সুস্থতার ব্যাপারে আশাবাদী। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।   বর্তমানে ক্লিন্ট ব্ল্যাক তাঁর সংগীত সফরের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে কনসার্ট করছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুস্থ হলে আগামী ৯ জুলাই নেভাডা অঙ্গরাজ্যে তাঁর পরবর্তী পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   কনসার্ট বাতিলের খবর প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করে শুভকামনা জানিয়েছেন। ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষও ভক্তদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে।

ফ্লোরিডায় দম্পতি গ্রেপ্তার। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় লাইসেন্সহীন সেবাকেন্দ্রে বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীদের নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার দম্পতি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ওসিওলা কাউন্টিতে লাইসেন্স ছাড়া একাধিক সহায়ক আবাসিক সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করে বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ বাসিন্দাদের ওপর নির্যাতন, অবহেলা এবং আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক দম্পতি আপাতত কারাগারেই থাকছেন। আইনজীবী নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতার কারণে তাদের জামিন শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ফক্স ৩৫ অরল্যান্ডো জানিয়েছে, অভিযুক্ত মেরি ক্যারিংটন ও রোনাল্ড প্যাক চেরিশ হোম কেয়ার নামে সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক লাইসেন্সহীন সেবাকেন্দ্র পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের দাবি, এসব কেন্দ্রে থাকা অসহায় বাসিন্দারা দীর্ঘদিন অবহেলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।   তদন্তে পাওয়া নথি অনুযায়ী, ওসিওলা কাউন্টির বিভিন্ন চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে কয়েক বছরে শত শতবার জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনেক রোগী তেলাপোকায় ভরা কক্ষে বসবাস করতেন, দরজা-জানালায় তালা লাগিয়ে তাদের আটকে রাখা হতো এবং পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হতো না। এছাড়া বাসিন্দাদের খাদ্য সহায়তার জন্য বরাদ্দ ইবিটি কার্ড আত্মসাৎ এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তিদের দিয়ে ওষুধ বিতরণের অভিযোগও রয়েছে।   ৯১১ কলে আত্মহত্যার চেষ্টা, মারধর, সহিংসতা এবং অচেতন বা মৃত্যুর ঘটনায় বারবার জরুরি সহায়তা চাওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ওসিওলা কাউন্টি শেরিফের দপ্তরের নথিতে দেখা যায়, লুভর কোর্ট এলাকার একটি চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে দেড় বছরেরও কম সময়ে চারবার এমন রোগীর বিষয়ে ৯১১-এ ফোন করা হয়, যাদের শরীরে তখন আর কোনো প্রাণের লক্ষণ ছিল না।   ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট নাতাশিয়া লুবার্টের বাবার মৃত্যুর ঘটনায়ও ওই কেন্দ্র থেকে জরুরি সেবা চাওয়া হয়। শেরিফের দপ্তর ও মেডিকেল পরীক্ষকের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান। তদন্তে অতিরিক্ত ওষুধ প্রয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, যে ব্যক্তি তাকে ওষুধ দিচ্ছিলেন, তার এ কাজের কোনো বৈধ লাইসেন্স ছিল না।   এ ছাড়া ২০২৫ সালের ২৯ নভেম্বর কিসিমির সোয়ান ওয়ে এলাকার আরেকটি কেন্দ্র থেকেও এক বাসিন্দাকে মৃত অবস্থায় পাওয়ার খবর দিয়ে ৯১১-এ ফোন করা হয়। আরেকটি ঘটনায়, ২০২৫ সালের ১৯ মে গ্রেট হারবার ড্রাইভের একটি চেরিশ হোম কেয়ার কেন্দ্র থেকে স্বাস্থ্যগত অবনতির কারণে এক ব্যক্তিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে একই বছরের ৪ জুলাই তার মৃত্যু হয়।   নাতাশিয়া লুবার্ট জানান, গৃহহীন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকায় তার বাবাকে দ্রুত একটি সেবাকেন্দ্রে স্থানান্তর করতে হয়েছিল। একটি কমিউনিটি সংস্থার মাধ্যমে চেরিশ হোম কেয়ারের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়। তার ভাষায়, কেন্দ্রের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে তার বাবাকে নিয়মিত খাবার দেওয়া হবে, গোসল করানো হবে এবং সঠিকভাবে ওষুধ দেওয়া হবে। কিন্তু বাস্তবে তারা সেই প্রতিশ্রুতির কিছুই রক্ষা করেনি।   অন্যদিকে জেমস অটিঞ্জার নামে এক ব্যক্তি জানান, তিনি পার্ক প্লেস বিহেভিয়ারাল হেলথ থেকে চেরিশ হোম কেয়ারের বিভিন্ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিলেন এবং প্রায় পাঁচ বছর সেখানে ছিলেন। ১৮ বছর বয়সে সেখানে যাওয়ার পর তিনি একাধিকবার নির্যাতনের অভিযোগে শেরিফের দপ্তরে ফোন করেছিলেন। তিনি বলেন, যাদের ওপর নিজের যত্নের দায়িত্ব দেওয়া হয়, তারাই যদি নির্যাতন করে, তাহলে সেটি কল্পনারও বাইরে।   তদন্তে আরও উঠে এসেছে, সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত কিছু কর্মসূচি এবং স্থানীয় কয়েকটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রোগীদের এসব লাইসেন্সহীন কেন্দ্রে পাঠিয়ে তাদের দেখভালের জন্য অর্থ প্রদান করেছিল। ফ্লোরিডার শিশু ও পরিবারবিষয়ক বিভাগ (ডিসিএফ) জানিয়েছে, বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছে। তবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।   পার্ক প্লেস বিহেভিয়ারাল হেলথ, ইউনিভার্সিটি বিহেভিয়ারাল সেন্টার এবং এইচসিএ ফ্লোরিডার পক্ষ থেকেও রোগীদের কীভাবে লাইসেন্সহীন প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে এইচসিএ ফ্লোরিডা জানিয়েছে, তারা তদন্তে সহযোগিতা করছে। এদিকে ২৯ জুন নির্ধারিত জামিন শুনানিতে অভিযুক্তদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়। পাবলিক ডিফেন্ডার এবং কনফ্লিক্ট রেজল্যুশন অফিস উভয়ই তাদের প্রতিনিধিত্ব করতে না পারায় আদালত নতুন আইনজীবী নিয়োগের উদ্যোগ নেয়।   আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রোনাল্ড প্যাকের নতুন জামিন শুনানি ২ জুলাই এবং মেরি ক্যারিংটনের শুনানি ৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ততদিন তারা কারাগারেই থাকবেন।   ওসিওলা কাউন্টি শেরিফের দপ্তর জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর তদন্ত এখনো চলমান এবং এই ঘটনায় আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
দোহা বৈঠকে ইতিবাচক অগ্রগতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চালু হচ্ছে সরাসরি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় নতুন অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলেছে। দুই সপ্তাহ আগে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়ন নিয়ে বুধবার কাতারের রাজধানী দোহায় পরোক্ষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের পর সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত অভিযোগ ও বিভিন্ন বিষয় দ্রুত আদান-প্রদানের জন্য তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি সরাসরি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ চালুর ঘোষণা দিয়েছে ইরান।   আলোচনা শেষে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয় দ্রুত জানাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হবে। সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলার পর উত্তেজনা কমানো এবং আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।   দোহার বৈঠকে মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের পর বিভিন্ন লঙ্ঘনের মধ্যেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া ওই সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা, যুদ্ধ স্থায়ীভাবে শেষ করার উদ্যোগ এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   তবে সমঝোতা স্মারকের ব্যাখ্যা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেওয়ায় গত এক সপ্তাহে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনাও ঘটেছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে আংশিকভাবে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।   বুধবার কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। পরে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, সমঝোতা স্মারক-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হয়েছে।   তিনি বলেন, দুই পক্ষ আলোচনা অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে এবং ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষে যত দ্রুত সম্ভব পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হবে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।   একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের অ্যাডাম ক্যানক্রিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দোহার আলোচনা ভালোভাবে এগোচ্ছে এবং শিগগিরই পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হবে।   ভ্যান্স বলেন, প্রযুক্তিগত পর্যায়ের আলোচকেরা ইরানি ও কাতারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করছেন এবং বর্তমানে আলোচনার প্রধান বিষয় পারমাণবিক ইস্যু। তবে পরে ভার্জিনিয়ার ভার্জিনিয়া বিচ সফরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী মাসে সমঝোতা স্মারকের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্র আর সামরিক পদক্ষেপ নেবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়।   তিনি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারি না। কারণ শেষ পর্যন্ত ইরান কী করবে, তার ওপর বিষয়টি নির্ভর করছে। তবে প্রেসিডেন্ট প্রয়োজন ছাড়া আবার সেনাবাহিনী পাঠাবেন না। স্পষ্ট উদ্দেশ্য থাকলেই তা করা হবে।’ এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসরায়েলের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, ইসরায়েল নতুন হামলা চালালে ইরান ‘তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব’ দেবে। একই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের মিত্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান।   অর্থনৈতিক বিষয়েও আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কাজেম গারিবাবাদি জানান, জব্দ অবস্থায় থাকা ইরানের ৬০০ কোটি ডলার সম্পদের একটি অংশ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য ব্যবহারের বিষয়টি কাতারের কর্মকর্তাদের, বিশেষ করে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে পর্যালোচনা করা হয়েছে।   তিনি বলেন, ইরানের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পণ্য কেনা হবে এবং সেগুলো দেশটিতে সরবরাহ করা হবে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এই অর্থ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য কেনার ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা যাবে। কূটনৈতিক আলোচনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে। মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং সেখানে জাহাজ চলাচল মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সামরিক কমান্ডার বুধবার আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। সেখানে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতিও গুরুত্ব পেয়েছে। একই দিনে আরব সাগরে একটি এমএইচ-৬০ এস সি হক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার পর নিখোঁজ এক বিমানকর্মীকে উদ্ধারে অভিযান শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনী। দুর্ঘটনার কারণ এখনো জানা যায়নি।   অন্যদিকে বুধবার ভোরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, তেহরানের অনুমোদিত রুট ব্যবহার না করায় একটি বিদেশি কনটেইনারবাহী জাহাজ আটকে গেছে। ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিংয়ের (আইআরআইবি) প্রতিবেদনে বলা হয়, কম গভীরতার জলপথ ব্যবহার করায় জাহাজটি আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বার্তার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের অবস্থান তুলে ধরতে চাইছে তেহরান।   দিনের শেষ ভাগে দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হাম্মাদ আল সানি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। পরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও আলোচনার অগ্রগতিকে ইতিবাচক বলে উল্লেখ করেন। কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে প্রথম সফরের প্রস্তুতিকালে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘খুব ভালো বৈঠক হয়েছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগোচ্ছে। আমরা তাদের খুব কঠোরভাবে আঘাত করেছি, কিন্তু এখন আমরা ভালোভাবে এগোচ্ছি।’ আলোচনায় ইতিবাচক অগ্রগতির প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার আশাবাদ তৈরি হওয়া এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমে যাওয়ায় বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমে ফেব্রুয়ারির পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন সমঝোতার পথে উপসাগরীয় দেশগুলো! বদলে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতি
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৬:১৮

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছে। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চয়তার ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কমিয়ে ইরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ার পথ খুঁজছে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। যুদ্ধ-পরবর্তী আঞ্চলিক নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং ইরানের সঙ্গে সহাবস্থানের নতুন কাঠামো নিয়ে ইতোমধ্যেই একাধিক গোপন ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   দ্য টেলিগ্রাফ-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও তার সমান্তরালে সম্পূর্ণ আলাদা একটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এতে ওমান, কাতার, সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইরানের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছে। সূত্রগুলোর দাবি, প্রথমে ইরান ও ওমান, এরপর ওমান ও কাতার, পরে ইরান ও সৌদি আরব এবং সর্বশেষ কাতার ও সৌদি আরবের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এসব আলোচনার মূল বিষয় ছিল, সাম্প্রতিক সংঘাতের পর মধ্যপ্রাচ্যে কী ধরনের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা যেতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, এটি কেবল কয়েকটি বিচ্ছিন্ন বৈঠক নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠনের একটি বড় প্রক্রিয়ার সূচনা হতে পারে।   হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন সমঝোতার আলোচনা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, উপসাগরীয় দেশগুলো এমন একটি কাঠামো নিয়ে আলোচনা করছে, যেখানে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিনিময়ে ইরানকে আর্থিক সুবিধা দেওয়া হতে পারে। এ অর্থকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাইন অপসারণ, পরিবেশ সংরক্ষণ, বন্দর ব্যবস্থাপনা কিংবা বিমাসংক্রান্ত সেবার খরচ হিসেবে উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে এই অর্থ কীভাবে সংগ্রহ করা হবে, কোন প্রতিষ্ঠান তা পরিচালনা করবে এবং শেষ পর্যন্ত অর্থ কোথায় যাবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।   ইরানের নতুন পদক্ষেপ ইরান ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। দেশটির নবগঠিত গালফ স্ট্রেইট অথরিটি ঘোষণা দিয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর হরমুজ অতিক্রমকারী সব জাহাজের জন্য ইরানি বিমা বাধ্যতামূলক করা হবে। মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক গোনুল তোলের ভাষায়, ইরান এখন উপলব্ধি করেছে যে, তাদের সবচেয়ে কার্যকর কৌশলগত সম্পদ শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নয়, বরং হরমুজ প্রণালির ওপর তাদের ভৌগোলিক নিয়ন্ত্রণ। তাই ভবিষ্যতেও এই প্রভাব বজায় রাখতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।   যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক আঞ্চলিক বৈঠকের যৌথ ঘোষণায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও মুক্ত নৌ-চলাচলের ওপর জোর দেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রণালিতে কোনো ধরনের টোল, ফি বা নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিরোধিতা করা হয়। চ্যাটাম হাউসের গবেষক আনিসেহ বাসিরি তাবরিজির মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সীমারেখা। যদিও বাস্তব পরিস্থিতিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার প্রয়োজনীয়তাও তারা অস্বীকার করছে না।   উত্তেজনা আরও বেড়েছে গত সপ্তাহে জাতিসংঘ, ইরান ও ওমান আটকে পড়া জাহাজ সরিয়ে নেওয়ার জন্য দুটি নির্দিষ্ট নৌপথে সম্মত হওয়ার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ওই রুটের বাইরে চলাচলকে ঝুঁকিপূর্ণ বলে সতর্ক করে। এর পরদিন একটি তাইওয়ানভিত্তিক শিপিং কোম্পানি অভিযোগ করে, তাদের একটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, হামলাটি ইরানের ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল। এই ঘটনার পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার ঘটনা ঘটে। যদিও পরবর্তীতে উভয় পক্ষই নতুন করে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সুফান সেন্টার বলছে, আন্তর্জাতিক নৌপথে সাম্প্রতিক হুমকি ও হামলার মাধ্যমে ইরান মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোকে, বিশেষ করে ওমানকে, একটি রাজনৈতিক বার্তা দিতে চেয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা কমছে বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর এই কূটনৈতিক সক্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা কমে যাওয়া। গোনুল তোল বলেন, ওয়াশিংটনের বিশ্বাসযোগ্যতা কয়েক বছর ধরেই কমছে। ফলে অনেক উপসাগরীয় রাষ্ট্র মনে করছে, নিজেদের নিরাপত্তার জন্য শেষ পর্যন্ত তাদেরই ইরানের সঙ্গে সরাসরি বোঝাপড়ায় পৌঁছাতে হবে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গবেষক ইয়াসমিন ফারুকও একই ধরনের মত দিয়েছেন। তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো এখন এমন এক বাস্তবতার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে অতীতের নিরাপত্তা কাঠামো আর আগের মতো থাকবে না। তাই তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতেই গড়ে নিতে চাইছে। অর্থনীতি হতে পারে সবচেয়ে বড় হাতিয়ার নিষেধাজ্ঞা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর বিনিয়োগ সক্ষমতা তাদের সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক শক্তি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিনিময়ে তারা ইরানের কাছ থেকে কিছু নিরাপত্তা নিশ্চয়তা আদায় করতে চাইবে। এর মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা কিংবা আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সামরিক সহায়তা কমানোর মতো বিষয়ও আলোচনায় আসতে পারে।   বিকল্প নিরাপত্তা জোটের দিকেও নজর একই সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষা খাতেও বহুমুখী নীতি গ্রহণ করছে। মে মাসে কুয়েত ড্রোন ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার জন্য তুরস্কের সঙ্গে চুক্তি করেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে ড্রোন রপ্তানির জন্য ইউক্রেনও নতুন চুক্তি করেছে। এ ছাড়া সৌদি আরব মিশর, পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে গড়ে ওঠা একটি নতুন আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোটের বৈঠকেও অংশ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উপসাগরীয় দেশগুলো স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, ভবিষ্যতে তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায় না। বরং একাধিক অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে বিকল্প নিরাপত্তা কাঠামো তৈরি করতে আগ্রহী।   তবে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এর অর্থ এই নয় যে উপসাগরীয় দেশগুলো এখনই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রত্যাহার চায়। বরং তারা এমন একটি কৌশল তৈরি করছে, যাতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটনের অবস্থান পরিবর্তিত হলেও নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।

বারবার একই রোগ ধরা পড়লেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় ধরা পড়ে বিরল ক্যানসার। ছবি: সংগৃহীত
মূত্রনালির সংক্রমণ ভেবে সাত মাস চিকিৎসা, পরে ধরা পড়ে বিরল হাড়ের ক্যানসার, ১৭ বছরেই মৃত্যু ব্রিটিশ কিশোরীর
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৬:৪

যুক্তরাজ্যের উইল্টশায়ারের সুইন্ডনের বাসিন্দা ক্লোয়ে ভেন্টনের বয়স তখন মাত্র ১৫ বছর। মাঝরাতে তীব্র যন্ত্রণায় চিৎকার করে ঘুম ভেঙে যেত তার। অতিরিক্ত ঘাম, বারবার প্রস্রাবের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান কোমরের ব্যথায় স্বাভাবিক জীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকেরা দীর্ঘ সাত মাস ধরে তার সমস্যাকে কেবল মূত্রনালির সংক্রমণ (ইউটিআই) বলে ধরে নিয়ে অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ দিয়েই চিকিৎসা চালিয়ে যান।   যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য ইউএস সান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরে বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ক্লোয়ের মেরুদণ্ডে একটি টিউমার ধরা পড়ে। এরপর জানা যায়, তিনি বিরল ও আক্রমণাত্মক হাড়ের ক্যানসার ইউইং সারকোমায় আক্রান্ত। দীর্ঘ চিকিৎসার পরও শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়বার ক্যানসার ধরা পড়ে এবং ২০২০ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। ক্লোয়ের মা জোয়ান ভেন্টন বলেন, শুরু থেকেই তিনি বুঝতে পারছিলেন, মেয়ের সমস্যাটি সাধারণ ইউটিআই নয়। কারণ অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার পরও তার অবস্থার কোনো উন্নতি হচ্ছিল না। বরং কোমরের ব্যথা ধীরে ধীরে নিতম্ব পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। শরীরের নিচের অংশে অবশভাব দেখা দেয় এবং একপর্যায়ে তিনি মূত্রথলির নিয়ন্ত্রণও হারাতে শুরু করেন।   জোয়ানের ভাষায়, এত অল্প বয়সে এমন উপসর্গ মোটেও স্বাভাবিক ছিল না। কিন্তু চিকিৎসকেরা বারবার একই রোগ নির্ণয় করছিলেন। শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসকের চেম্বার ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান এবং আরও পরীক্ষা করার দাবি করেন। এরপরই তাকে সুইন্ডনের গ্রেট ওয়েস্টার্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে স্ক্যানে মেরুদণ্ডে টিউমার ধরা পড়ে। পরে তাকে জন র‍্যাডক্লিফ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।   সেখানে এমআরআই, সিটি স্ক্যান, রক্ত পরীক্ষা এবং বিভিন্ন বিশেষজ্ঞের পরামর্শের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, ক্লোয়ে ইউইং সারকোমায় আক্রান্ত। এটি মূলত শিশু, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। রোগ ধরা পড়ার পর ক্লোয়ের কেমোথেরাপি শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি মোট ১৫ দফা কেমোথেরাপি এবং প্রোটন থেরাপি গ্রহণ করেন। চিকিৎসার কঠিন সময়েও তিনি অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয় দেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখা ক্লোয়ে এর আগে একটি হাসপাতালে কাজ শেখার সুযোগ পেয়েছিলেন এবং ক্যানসার রোগীদের চিকিৎসা প্রক্রিয়া কাছ থেকে দেখেছিলেন। ফলে নিজের চিকিৎসা নিয়েও তিনি চিকিৎসকদের নানা প্রশ্ন করতেন।   তবে চিকিৎসার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠলেও আবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। শরীরে অস্বাভাবিক র‍্যাশ দেখা দেয়। পরিবারের দাবি, তখনও চিকিৎসকেরা এটিকে কেমোথেরাপির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলেন। জোয়ান বলেন, দ্বিতীয়বারও তাকে চিকিৎসকদের বোঝাতে লড়াই করতে হয়েছে যে, বিষয়টি শুধু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নয়। পরে পরীক্ষা করে জানা যায়, ওই র‍্যাশ আসলে লিউকেমিয়া কিউটিস, অর্থাৎ ত্বকে লিউকেমিয়ার প্রকাশ। একই সঙ্গে ক্লোয়ের অ্যাকিউট মাইলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) ধরা পড়ে, যা অস্থিমজ্জা থেকে শুরু হওয়া এক ধরনের রক্তের ক্যানসার।   সব ধরনের চিকিৎসা সত্ত্বেও ২০২০ সালের জুলাই মাসে মাত্র ১৭ বছর বয়সে ক্লোয়ের মৃত্যু হয়। করোনা মহামারির বিধিনিষেধের কারণে পরিবারের শেষ বিদায়ও ছিল অত্যন্ত কষ্টের। জোয়ান জানান, সামাজিক দূরত্বের নিয়মের কারণে পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে শেষ সময় কাটাতে পারেননি। এমনকি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় প্রচলিত ব্যবস্থাও ছিল না। নিজের মেয়ের কফিনের পেছনে নিজেকেই গাড়ি চালিয়ে যেতে হয়েছিল, যা তিনি জীবনের সবচেয়ে কঠিন অভিজ্ঞতা বলে উল্লেখ করেন।   মেয়ের মৃত্যুর পর অন্য পরিবারগুলোকে সচেতন করতেই নিজের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করছেন জোয়ান। তার ভাষায়, সন্তানের শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখলে অভিভাবকদের চিকিৎসকদের কাছে বারবার প্রশ্ন করতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানাতে হবে। কারণ দ্রুত রোগ শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রেই চিকিৎসার সুযোগ বাড়ে।   ক্লোয়ের শেষ দিকের একটি কথাও আজও ভুলতে পারেন না তার মা। তিনি বলেন, মৃত্যুর আগে ক্লোয়ে তাকে বলেছিল, "আমি কখনও আমার ভাইদের বড় হতে, বিয়ে করতে দেখতে পারব না। আমি যে খালা হতে চেয়েছিলাম, সেটাও আর হতে পারব না।" সেই কথাগুলো আজও তাকে ভেঙে দেয়। এদিকে ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল (বিএমজে)-এ ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়, প্রাথমিক ও দ্বিতীয় স্তরের স্বাস্থ্যসেবায় প্রায় প্রতি ১৮ জন রোগীর মধ্যে একজন কোনো না কোনোভাবে ভুল রোগ নির্ণয়ের শিকার হন। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ক্যানসার, স্ট্রোক ও হৃদরোগের মতো গুরুতর অসুস্থতার ক্ষেত্রে ভুল রোগ নির্ণয় অনেক সময় স্থায়ী ক্ষতি বা মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউইং সারকোমা সাধারণত কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। দীর্ঘদিনের হাড়ের ব্যথা, বিশেষ করে রাতে ব্যথা বেড়ে যাওয়া, ফোলা, স্পর্শে ব্যথা কিংবা সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তবে এসব উপসর্গের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ক্যানসার নয়, অন্য সাধারণ কারণও থাকতে পারে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক রোগ নির্ণয় নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।

বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক
বেঙ্গালুরুর পাথরখাদানে শিলাধস, নিহত ৭ শ্রমিক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৪:১

ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের রাজধানী বেঙ্গালুরুর উপকণ্ঠে একটি পাথরখাদানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত সাত শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বিহার রাজ্যের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়েছেন, যাদের স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোরে বেঙ্গালুরু দক্ষিণ তালুকের মাদাপাটনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ভোরে শ্রমিকরা পাথর উত্তোলনের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করেই প্রায় ৪০ ফুট ওপর থেকে একটি বিশাল শিলাখণ্ড ভেঙে নিচে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে সেখানে কাজ করা কয়েকজন শ্রমিক পাথরের নিচে চাপা পড়েন। ঘটনাস্থলেই সাতজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস এবং উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে অন্য কেউ আটকা পড়ে আছেন কিনা তা খতিয়ে দেখা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলা হয়।   ঘটনাস্থলে উপস্থিত এক শ্রমিক জানান, দুর্ঘটনার সময় সেখানে প্রায় ১৮ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আচমকা ওপর থেকে বড় পাথর ভেঙে পড়ায় কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই কয়েকজন চাপা পড়ে যান। অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যান।   প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত শ্রমিকরা সবাই বিহারের বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিকার সন্ধানে কর্ণাটকে এসেছিলেন এবং ওই পাথরখাদানে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে কাজ করতেন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। চিকিৎসকেরা তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। আহতের সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করতে কাজ করছে প্রশাসন।   দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাথরখাদানে নিরাপত্তাবিধি যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কিনা, অথবা কোনো ধরনের অবহেলা ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।   ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে নির্মাণকাজ, খনি ও পাথরখাদানে বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক কাজ করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও এ ধরনের দুর্ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটছে। বেঙ্গালুরুর এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত শ্রমিকদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা
অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভে উত্তপ্ত দক্ষিণ আফ্রিকা, ৯০০-এর বেশি আটক
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুলাই ২, ২০২৬ ৩:৩৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ৯০০-এর বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশজুড়ে সংঘটিত বিভিন্ন কর্মসূচি থেকে তাদের আটক করা হয় বলে বুধবার (১ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে দেশটির পুলিশ প্রশাসন।   পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সারা দেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২০টি প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও অন্তত ১২টি স্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এসব জায়গায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর এবং দোকানপাটে হামলার ঘটনা ঘটে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে ওইসব এলাকায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করে পুলিশ। সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই বিপুল সংখ্যক আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় কয়েকজন নথিপত্রহীন অভিবাসীকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   গত কয়েক মাস ধরে দেশটিতে অভিবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়ছিল। কঠোর আইন প্রয়োগ ও ক্রমবর্ধমান সামাজিক চাপের মুখে ইতোমধ্যেই হাজার হাজার বিদেশি নাগরিক দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসীদের লক্ষ্য করে চলমান সহিংসতায় এ পর্যন্ত অন্তত চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ, বেকারত্ব ও সামাজিক বৈষম্যের মতো দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলোই এই অসন্তোষকে উসকে দিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চললেও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেশটির সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।   এই প্রতিবেদনটি আল জাজিরার তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
651 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
541 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
646 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
491 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়