Live update news
লংআইল্যান্ডে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বনভোজন

নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে ‘বনছায়ায় একদিন’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়েছে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা। রোববার (২৪ মে) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য, তাদের পরিবার-পরিজন এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পার্ক প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টির কারণে বনভোজন আয়োজন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে গণমাধ্যমকর্মীরা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে এই আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।   বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। বক্তব্যে তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের বনভোজনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসী সমাজে সব বাংলাদেশির ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।” তিনি সমাজ ও প্রবাসীদের কল্যাণে সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা সোসাইটির সভাপতি ও সমাজকর্মী দুলাল বেহেদু বলেন, “এই প্রবাসী সমাজই আমাদের কাছে বাংলাদেশ। প্রবাসে আমরা একে অপরের নিকটজন। যেকোনো বিপদে আমরা যেন একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে পারি, এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।” অনুষ্ঠানে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন ‘জন্মভূমি’ পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার।   আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত ওসমান রচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি দর্পণ কবীর ও মোহাম্মদ সাঈদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার এবং বনভোজন উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক।   সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি শওকত ওসমান রচি বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রদর্শনের জন্য সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল নানা আয়োজন। স্পটেই গরম গরম লুচি ভাজা, চা ও বিকেলে পেঁয়াজু পরিবেশনের পাশাপাশি মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশন করা হয় কাচ্চি বিরিয়ানি।   খাবারের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। র‍্যাফেল ড্র-তে প্রথম পুরস্কার হিসেবে সোনার চেইন জেতেন রোকেয়া দীপা, দ্বিতীয় পুরস্কার ল্যাপটপ পান মিসেস পাহলভী এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে অ্যাপেল ওয়াচ জেতেন মিসেস মঞ্জুরুল ইসলাম।   এ ছাড়া নারীদের লুডু খেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে কানের দুল জেতেন হাসিনা আক্তার। সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আফজাল হোসেন ও শেখ নীলিমা শশী। তাঁদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।  

৭ ঘন্টা Ago
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, দলে জায়গা হয়নি দুই আলোচিত তারকার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার মাঠে নামার অপেক্ষায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রত্যাশামতোই দলকে নেতৃত্ব দেবেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের চেনা মুখগুলোর পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে জায়গা দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল গঠন করেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট।   কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে পরম আরাধ্য সোনালি ট্রফি এনে দিয়েছিলেন মেসি। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সেটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালেও তিনি থাকছেন দলের মূল কাণ্ডারি হয়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলার সুবাদে উত্তর আমেরিকার পরিবেশ মেসির জন্য বেশ পরিচিত। নিজের চেনা আঙিনায় শিরোপা ধরে রাখার এই লড়াইয়ে মেসি কতটা জ্বলে ওঠেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তার কাঁধে ভর করেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত। মেসির পাশে দিবু মার্টিনেজ, রদ্রিগো দে পল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজরা মিলে আর্জেন্টিনাকে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের দল ঘোষণার পর কিছু চমক বা হতাশা থাকেই। স্কালোনির এই ২৬ জনের স্কোয়াডও তার ব্যতিক্রম নয়। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বেশ কয়েকজন চেনা মুখের বাদ পড়াটা ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা অবাক করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে থাকলেও অভিজ্ঞদের ভিড়ে আক্রমণভাগে নিজের জায়গা পাকা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি সম্ভবত মার্কোস আকুনিয়ার বাদ পড়া। কাতার ২০২২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং লেফট-ব্যাক পজিশনে দারুণ খেলা এই ডিফেন্ডারকে এবার স্কোয়াডে রাখেননি স্কালোনি। মূলত তরুণদের সুযোগ করে দিতে এবং দলের কৌশলে পরিবর্তন আনতেই আকুনিয়াকে বাদ দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কোচকে। স্কালোনির এই স্কোয়াডে কাতার বিশ্বকাপের মূল কাঠামোটি সযত্নে ধরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গোলবার সামলানোর গুরুদায়িত্ব থাকছে যথারীতি এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্টিনেজের বিশ্বস্ত হাতে। অ্যাস্টন ভিলার এই তারকা গোলরক্ষক যে বড় মঞ্চের খেলোয়াড়, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। রক্ষণভাগে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দিকে নিয়ে গড়া হয়েছে দুর্ভেদ্য দেয়াল।   অন্যদিকে, স্কালোনির দর্শনের একটি বড় দিক হলো মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। মাঝমাঠে দলকে গতিশীল রাখার দায়িত্ব থাকবে রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাঁধে। এনজো ও ম্যাক অ্যালিস্টার এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতিশীল নন, বরং তারা নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছেন। এই প্লেমেকারদের সাথে রিয়াল বেটিসের জিওভানি লো সেলসো এবং বায়ার লেভারকুজেনের এক্সেকিয়েল পালাসিওসের উপস্থিতি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী করেছে।   আক্রমণভাগে মেসির সাথে জুটি বাঁধবেন লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। এই পরীক্ষিত ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে এবং নিকো পাজের মতো তরুণ রক্ত দলে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে এক নতুন রূপ দিয়েছেন। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ—সবকিছুই তিনি জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার চাপ যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, তা তিনি ভালো করেই জানেন। ফুটবলের ইতিহাসে কেবল ইতালি ও ব্রাজিল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে। সেই বিরল রেকর্ডের ভাগিদার হতে হলে স্কালোনিকে তার ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস আবারও দেখাতে হবে। স্কালোনি বরাবরই দলগত ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এই ২৬ জনকে বাছাই করার ক্ষেত্রেও তিনি খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস এবং দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।   ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে দীর্ঘস্থায়ী ফিটনেস ও ট্যাকটিক্যাল বৈচিত্র্যের কোনো বিকল্প নেই। স্কালোনির বাছাই করা এই স্কোয়াড সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে কতটা প্রস্তুত, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। তবে কাগজ-কলমে আর্জেন্টিনা যে এবারের আসরের অন্যতম সেরা দল, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।   একনজরে আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড: গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা) হেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই) হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)   ডিফেন্ডার: লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্সেই) নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ) গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট) লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার) নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা) ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্সেই) নাহুয়েল মলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)   মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স) রদ্রিগো দে পল (ইন্টার মায়ামি) ভ্যালেন্তিন বার্কো (রেসিং স্ট্রাসবুর্গ) জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস) এক্সেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন) অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল) এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি)   ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি) হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো গনজালেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো পাজ (কোমো) হুয়ান ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস) লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান)

১১ ঘন্টা Ago
‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট’ চালুতে প্রস্তুতি, নবজাতকদের নামে জমা হবে ১ হাজার ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে তুলতে নতুন একটি কর্মসূচি চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটির ট্রেজারি বিভাগ। “ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট” নামে পরিচিত এই পরিকল্পনার আওতায় যোগ্য শিশুদের নামে সরকারিভাবে এক হাজার ডলার জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   মার্কিন গণমাধ্যম রয়টার্সসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো শিশুদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের একটি ভিত্তি তৈরি করা। সরকারের পক্ষ থেকে জমা দেওয়া অর্থ সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে পরিবারকে দেওয়া হবে না। বরং শিশুর নামে খোলা বিশেষ বিনিয়োগ হিসাবে এটি সংরক্ষণ করা হবে।   সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন শিশুদের এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ওই অর্থ বিনিয়োগের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা, ব্যবসা শুরু বা নির্ধারিত অন্যান্য কাজে তা ব্যবহার করার সুযোগ থাকবে।   তবে এই সুবিধা পেতে অভিভাবকদের কিছু আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। শিশুর বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর থাকতে হবে এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে নিবন্ধন করতে হবে। ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হিসাব সক্রিয় করার ব্যবস্থাও রাখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।   সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক পোস্টে দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সব শিশুকেই সরাসরি এক হাজার ডলার করে দেওয়া হচ্ছে। তবে তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, এটি সরাসরি নগদ অর্থ প্রদান নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগভিত্তিক একটি সঞ্চয় কর্মসূচি।   অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর শিশুদের আর্থিক নিরাপত্তা তৈরিতেও এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।   মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে এবং ধাপে ধাপে নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে।

১৯ ঘন্টা Ago
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এতদিন বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলে পরিচালিত হলেও এবার নতুন রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট। তিনি নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে নতুন এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।   কেন পেইড সেবা চালু করছে মেটা মেটার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   এই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তুলতে মেটা নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।   কত খরচ হবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা প্রায় ৩৬৮ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একই মূল্য কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি মেটা।   কী সুবিধা মিলবে ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারকারীরা উন্নত অ্যানালিটিকস সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে স্টোরি কতবার দেখা হয়েছে, কারা দেখেছে এবং পোস্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি পোস্টের পৌঁছ বাড়ানো এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজেশনের অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে।   অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ব্যক্তিগতকরণ বা পার্সোনালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, বিশেষ থিমসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।   আসছে ‘মেটা ওয়ান’ নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেটার বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামে একটি একক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সংস্করণ চালু করেছিল মেটা। তবে সেই সংস্করণে মূলত বিজ্ঞাপন অপসারণ ছাড়া ফ্রি সংস্করণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না।

১ দিন Ago
ছবি: আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব
আমেরিকা
লংআইল্যান্ডে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বনভোজন

নিউইয়র্কের লংআইল্যান্ডের হ্যাকশেয়ার স্টেট পার্কে ‘বনছায়ায় একদিন’ শিরোনামে অনুষ্ঠিত হয়েছে আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা। রোববার (২৪ মে) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ক্লাবের সদস্য, তাদের পরিবার-পরিজন এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পার্ক প্রাঙ্গণ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টির কারণে বনভোজন আয়োজন নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে গণমাধ্যমকর্মীরা দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পরে এই আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায় পরিণত হয়।   বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি আতাউর রহমান সেলিম। বক্তব্যে তিনি বলেন, “নিউইয়র্ক প্রবাসীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এ ধরনের বনভোজনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসী সমাজে সব বাংলাদেশির ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরি।” তিনি সমাজ ও প্রবাসীদের কল্যাণে সাংবাদিকদের ইতিবাচক ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।   বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা সোসাইটির সভাপতি ও সমাজকর্মী দুলাল বেহেদু বলেন, “এই প্রবাসী সমাজই আমাদের কাছে বাংলাদেশ। প্রবাসে আমরা একে অপরের নিকটজন। যেকোনো বিপদে আমরা যেন একে অন্যের পাশে দাঁড়াতে পারি, এটাই হোক আমাদের অঙ্গীকার।” অনুষ্ঠানে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বক্তব্য দেন ‘জন্মভূমি’ পত্রিকার সম্পাদক রতন তালুকদার।   আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি শওকত ওসমান রচির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ক্লাবের সাবেক সভাপতি দর্পণ কবীর ও মোহাম্মদ সাঈদ। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে পরিচালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান মজুমদার এবং বনভোজন উপ-কমিটির আহ্বায়ক আবু বকর সিদ্দিক।   সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি শওকত ওসমান রচি বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ক্লাবের প্রতি ভালোবাসা ও সমর্থন প্রদর্শনের জন্য সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দিনব্যাপী আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ছিল নানা আয়োজন। স্পটেই গরম গরম লুচি ভাজা, চা ও বিকেলে পেঁয়াজু পরিবেশনের পাশাপাশি মধ্যাহ্নভোজে পরিবেশন করা হয় কাচ্চি বিরিয়ানি।   খাবারের পাশাপাশি ছিল বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, আকর্ষণীয় র‍্যাফেল ড্র এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। র‍্যাফেল ড্র-তে প্রথম পুরস্কার হিসেবে সোনার চেইন জেতেন রোকেয়া দীপা, দ্বিতীয় পুরস্কার ল্যাপটপ পান মিসেস পাহলভী এবং তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে অ্যাপেল ওয়াচ জেতেন মিসেস মঞ্জুরুল ইসলাম।   এ ছাড়া নারীদের লুডু খেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে কানের দুল জেতেন হাসিনা আক্তার। সাংস্কৃতিক পর্বে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী আফজাল হোসেন ও শেখ নীলিমা শশী। তাঁদের পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।  

শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৮, ২০২৬ ১৫:৩২
ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ইনস্টাগ্রাম লোগোর সামনে ছোট ছোট খেলনা মূর্তি দেখা যাচ্ছে । ছবি: রয়টার্স
ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের পেইড সংস্করণ আনছে মেটা, মাসিক খরচ কত?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের জন্য নতুন পেইড সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর ঘোষণা দিয়েছে মেটা। এতদিন বিজ্ঞাপননির্ভর ব্যবসায়িক মডেলে পরিচালিত হলেও এবার নতুন রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যে ‘ফেসবুক প্লাস’, ‘ইনস্টাগ্রাম প্লাস’ ও ‘হোয়াটসঅ্যাপ প্লাস’ নামের সেবা চালু করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।   বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেন মেটার হেড অব প্রোডাক্ট নাওমি গ্লেইট। তিনি নিজের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বার্তায় জানান, বিশ্বব্যাপী ধাপে ধাপে নতুন এই সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক সেবা চালু করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, কনটেন্ট নির্মাতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবার জন্য আলাদা সংস্করণ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।   কেন পেইড সেবা চালু করছে মেটা মেটার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরে এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।   এই বিপুল বিনিয়োগ নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় বিকল্প আয়ের উৎস গড়ে তুলতে মেটা নতুন সাবস্ক্রিপশন সেবা চালুর পথে হাঁটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘোষণার পর পুঁজিবাজারে মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।   কত খরচ হবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারের জন্য প্রতি মাসে ৩ ডলার ৯৯ সেন্ট ফি দিতে হবে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৯১ টাকা। অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসের মাসিক সাবস্ক্রিপশন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ ডলার ৯৯ সেন্ট, যা প্রায় ৩৬৮ টাকার সমান। তবে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একই মূল্য কার্যকর হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য দেয়নি মেটা।   কী সুবিধা মিলবে ফেসবুক প্লাস ও ইনস্টাগ্রাম প্লাস ব্যবহারকারীরা উন্নত অ্যানালিটিকস সুবিধা পাবেন। এর মাধ্যমে স্টোরি কতবার দেখা হয়েছে, কারা দেখেছে এবং পোস্টের পারফরম্যান্স সম্পর্কিত আরও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে। পাশাপাশি পোস্টের পৌঁছ বাড়ানো এবং প্রোফাইল কাস্টোমাইজেশনের অতিরিক্ত সুবিধাও থাকবে।   অন্যদিকে হোয়াটসঅ্যাপ প্লাসে ব্যক্তিগতকরণ বা পার্সোনালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এই সেবার আওতায় প্রিমিয়াম স্টিকার, কাস্টম রিংটোন, বিশেষ থিমসহ বিভিন্ন অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যাবে।   আসছে ‘মেটা ওয়ান’ নাওমি গ্লেইট জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে মেটার বিভিন্ন সেবাকে ‘মেটা ওয়ান’ নামে একটি একক সাবস্ক্রিপশন প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।   উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সুরক্ষা আইন মেনে ইউরোপে বিজ্ঞাপনমুক্ত ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একটি পেইড সংস্করণ চালু করেছিল মেটা। তবে সেই সংস্করণে মূলত বিজ্ঞাপন অপসারণ ছাড়া ফ্রি সংস্করণের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কোনো পার্থক্য ছিল না।

ছবিঃ সংগৃহীত
মেসির নেতৃত্বে আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ দল ঘোষণা, দলে জায়গা হয়নি দুই আলোচিত তারকার

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ কড়া নাড়ছে দুয়ারে। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে এবার মাঠে নামার অপেক্ষায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য এই বৈশ্বিক আসরের জন্য ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন আলবিসেলেস্তেদের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। প্রত্যাশামতোই দলকে নেতৃত্ব দেবেন ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসি। কাতার বিশ্বকাপের চেনা মুখগুলোর পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ প্রতিভাকে জায়গা দিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী দল গঠন করেছে আর্জেন্টিনা টিম ম্যানেজমেন্ট।   কাতার বিশ্বকাপে ৩৬ বছরের আক্ষেপ ঘুচিয়ে আর্জেন্টিনাকে পরম আরাধ্য সোনালি ট্রফি এনে দিয়েছিলেন মেসি। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো সেটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। কিন্তু সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ সালেও তিনি থাকছেন দলের মূল কাণ্ডারি হয়ে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে খেলার সুবাদে উত্তর আমেরিকার পরিবেশ মেসির জন্য বেশ পরিচিত। নিজের চেনা আঙিনায় শিরোপা ধরে রাখার এই লড়াইয়ে মেসি কতটা জ্বলে ওঠেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তার কাঁধে ভর করেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছে কোটি কোটি আর্জেন্টাইন ভক্ত। মেসির পাশে দিবু মার্টিনেজ, রদ্রিগো দে পল, ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজরা মিলে আর্জেন্টিনাকে এবারের আসরের অন্যতম ফেভারিট হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবেন বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের দল ঘোষণার পর কিছু চমক বা হতাশা থাকেই। স্কালোনির এই ২৬ জনের স্কোয়াডও তার ব্যতিক্রম নয়। চূড়ান্ত তালিকা থেকে বেশ কয়েকজন চেনা মুখের বাদ পড়াটা ফুটবলপ্রেমীদের কিছুটা অবাক করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত নাম ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো। সাম্প্রতিক সময়ে দারুণ ফর্মে থাকলেও অভিজ্ঞদের ভিড়ে আক্রমণভাগে নিজের জায়গা পাকা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এই প্রতিভাবান ফুটবলার। তবে সবচেয়ে বড় চমকটি সম্ভবত মার্কোস আকুনিয়ার বাদ পড়া। কাতার ২০২২-এর বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য এবং লেফট-ব্যাক পজিশনে দারুণ খেলা এই ডিফেন্ডারকে এবার স্কোয়াডে রাখেননি স্কালোনি। মূলত তরুণদের সুযোগ করে দিতে এবং দলের কৌশলে পরিবর্তন আনতেই আকুনিয়াকে বাদ দেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে কোচকে। স্কালোনির এই স্কোয়াডে কাতার বিশ্বকাপের মূল কাঠামোটি সযত্নে ধরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে গোলবার সামলানোর গুরুদায়িত্ব থাকছে যথারীতি এমিলিয়ানো 'দিবু' মার্টিনেজের বিশ্বস্ত হাতে। অ্যাস্টন ভিলার এই তারকা গোলরক্ষক যে বড় মঞ্চের খেলোয়াড়, তা তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন। রক্ষণভাগে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও অভিজ্ঞ নিকোলাস ওতামেন্দিকে নিয়ে গড়া হয়েছে দুর্ভেদ্য দেয়াল।   অন্যদিকে, স্কালোনির দর্শনের একটি বড় দিক হলো মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ। মাঝমাঠে দলকে গতিশীল রাখার দায়িত্ব থাকবে রদ্রিগো দে পল, এনজো ফার্নান্দেজ এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের কাঁধে। এনজো ও ম্যাক অ্যালিস্টার এখন আর কেবল প্রতিশ্রুতিশীল নন, বরং তারা নিজেদের বিশ্বমঞ্চে প্রমাণ করেছেন। এই প্লেমেকারদের সাথে রিয়াল বেটিসের জিওভানি লো সেলসো এবং বায়ার লেভারকুজেনের এক্সেকিয়েল পালাসিওসের উপস্থিতি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডকে আরও শক্তিশালী করেছে।   আক্রমণভাগে মেসির সাথে জুটি বাঁধবেন লাউতারো মার্টিনেজ ও হুলিয়ান আলভারেজ। এই পরীক্ষিত ফরোয়ার্ডদের পাশাপাশি থিয়াগো আলমাদা, জুলিয়ানো সিমিওনে এবং নিকো পাজের মতো তরুণ রক্ত দলে নতুন মাত্রা যোগ করবে। ২০১৮ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে লিওনেল স্কালোনি আর্জেন্টিনাকে এক নতুন রূপ দিয়েছেন। কোপা আমেরিকা, ফিনালিসিমা এবং বিশ্বকাপ—সবকিছুই তিনি জিতেছেন। তবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার চাপ যে সম্পূর্ণ ভিন্ন, তা তিনি ভালো করেই জানেন। ফুটবলের ইতিহাসে কেবল ইতালি ও ব্রাজিল টানা দুবার বিশ্বকাপ জিততে পেরেছে। সেই বিরল রেকর্ডের ভাগিদার হতে হলে স্কালোনিকে তার ট্যাকটিক্যাল মাস্টারক্লাস আবারও দেখাতে হবে। স্কালোনি বরাবরই দলগত ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে থাকেন। এই ২৬ জনকে বাছাই করার ক্ষেত্রেও তিনি খেলোয়াড়দের বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস এবং দলের সাথে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন।   ৪৮ দলের এই মেগা টুর্নামেন্টে টিকে থাকতে হলে দীর্ঘস্থায়ী ফিটনেস ও ট্যাকটিক্যাল বৈচিত্র্যের কোনো বিকল্প নেই। স্কালোনির বাছাই করা এই স্কোয়াড সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে কতটা প্রস্তুত, তার উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে। তবে কাগজ-কলমে আর্জেন্টিনা যে এবারের আসরের অন্যতম সেরা দল, তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।   একনজরে আর্জেন্টিনার ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড: গোলরক্ষক: এমিলিয়ানো মার্টিনেজ (অ্যাস্টন ভিলা) হেরোনিমো রুলি (অলিম্পিক মার্সেই) হুয়ান মুসো (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)   ডিফেন্ডার: লিওনার্দো বালের্দি (অলিম্পিক মার্সেই) নিকোলাস তালিয়াফিকো (অলিম্পিক লিওঁ) গনজালো মন্তিয়েল (রিভার প্লেট) লিসান্দ্রো মার্টিনেজ (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড) ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো (টটেনহ্যাম হটস্পার) নিকোলাস ওতামেন্দি (বেনফিকা) ফাকুন্দো মেদিনা (অলিম্পিক মার্সেই) নাহুয়েল মলিনা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ)   মিডফিল্ডার: লেয়ান্দ্রো পারেদেস (বোকা জুনিয়র্স) রদ্রিগো দে পল (ইন্টার মায়ামি) ভ্যালেন্তিন বার্কো (রেসিং স্ট্রাসবুর্গ) জিওভানি লো সেলসো (রিয়াল বেটিস) এক্সেকিয়েল পালাসিওস (বায়ার লেভারকুজেন) অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার (লিভারপুল) এনজো ফার্নান্দেজ (চেলসি)   ফরোয়ার্ড: লিওনেল মেসি (ইন্টার মায়ামি) হুলিয়ান আলভারেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো গনজালেজ (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) থিয়াগো আলমাদা (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) জুলিয়ানো সিমিওনে (অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ) নিকো পাজ (কোমো) হুয়ান ম্যানুয়েল লোপেজ (পালমেইরাস) লাউতারো মার্টিনেজ (ইন্টার মিলান)

রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাতে অংশ নেন হাজারো মুসল্লি । ছবি: বাসস
জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

রাজধানীর হাইকোর্ট-সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) সকাল সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।   ঈদের প্রধান জামাতে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মুসল্লিরা অংশ নেন।   প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের পর খুতবা অনুষ্ঠিত হয়। পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।   ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানকে ঈদের জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় পরিবেশে নামাজ আদায়ের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত ও সেবামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।   ঈদের প্রধান জামাতে নারীদের জন্য পৃথক প্রবেশপথ, ওজুর ব্যবস্থা এবং সংরক্ষিত নামাজের স্থান রাখা হয়। পাশাপাশি অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের (ভিআইপি) জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা ছিল।   মুসল্লিদের সুবিধার্থে জাতীয় ঈদগাহে পর্যাপ্ত ওজুখানা, মেডিকেল টিম এবং প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাড়ে তিন হাজার নারীসহ প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।   ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্বের আবহে জাতীয় ঈদগাহে পবিত্র ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সম্পন্ন হয়।

আরাফার ময়দানে মোনাজাতের দৃশ্য
মক্কা ও মদিনার যে ১০ স্থানে দোয়া কবুল হয়

ইসলামে মক্কা ও মদিনা কেবল ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্থান নয়, বরং ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিশেষ বরকতময় নগরী হিসেবে পরিচিত। কোরআন ও হাদিসে এই দুই পবিত্র নগরীর নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অত্যধিক বলে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে উল্লেখিত ১০টি বিশেষ স্থান তুলে ধরা হলো-   ১. মসজিদুল হারাম মক্কার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ অন্য মসজিদে এক লাখ রাকাতের সমান বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইবাদতের এই মহা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দোয়ার গুরুত্বও অত্যধিক। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬)   ২. তাওয়াফের সময় কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফের সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নবীজি (সা.) দোয়া করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২)   ৩. মুলতাজাম কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানকে মুলতাজাম বলা হয়। এখানে নবীজি (সা.) বুক লাগিয়ে দোয়া করেছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবিরাও এই স্থানে দোয়া করতেন। (বাইহাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৩৭৬৭)   ৪. সাফা ও মারওয়া হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাফা-মারওয়া সাঈ। নবীজি (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দীর্ঘ দোয়া করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)   ৫. আরাফার দিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান রুকন। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিনের দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫)   ৬. মুজদালিফা আরাফাত থেকে ফেরার পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত যাপন করেন, যা ‘মাশআরুল হারাম’ নামে পরিচিত। এখানে ফজরের পর দীর্ঘ সময় দোয়া করার বর্ণনা রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮)   ৭. মিনা প্রান্তর মিনায় জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর দোয়া করা সুন্নত। নবীজি (সা.) প্রথম ও মধ্যম জামারাতে পাথর নিক্ষেপের পর দীর্ঘক্ষণ দোয়া করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৫২)   ৮. জমজমের পানি জমজম কূপের পানি ইসলামে বরকতময় নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বলা হয়েছে, জমজম যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, আল্লাহ তা পূরণ করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২)   ৯. মাকামে ইবরাহিম কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর পাথরকে মাকামে ইবরাহিম বলা হয়। এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২৫)   ১০. রিয়াজুল জান্নাহ ও মসজিদে নববি মদিনায় নবীজি (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে রিয়াজুল জান্নাহ বলা হয়, যা বিশেষ ফজিলতের স্থান হিসেবে পরিচিত। পুরো মসজিদে নববিতেই ইবাদত ও দোয়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৩৫)

আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

মতামত

বিশ্ব

View more
আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:৩৬

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

ড. তাহমিদ আহমেদ
এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় কলেরা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:১৫

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন।   ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে।   আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করল ফেরারি, দাম প্রায় ৬.৪ লাখ ডলার
শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম।   ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে।   নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।   চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।   ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি গবেষক মারজানা আক্তার
এশিয়ার সেরা ১০০ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশি গবেষক মারজানা আক্তার
বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২৩:৪৮

বাংলাদেশের তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার এশিয়ার প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রকাশিত এই আন্তর্জাতিক তালিকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি দেশের বিজ্ঞান অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন প্রতিবছর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গবেষক, উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীদের কাজ মূল্যায়ন করে এই তালিকা প্রকাশ করে। ২০১৬ সাল থেকে চালু হওয়া এই স্বীকৃতিতে সাধারণত তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁরা নিজ নিজ গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অথবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেন।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের গবেষক মারজানা আক্তার প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় কাজ করছেন। বিশেষ করে পোল্ট্রির ভাইরাসজনিত সংক্রমণ নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আগ্রহ তৈরি করেছে।   গবেষণা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিনি বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতে ‘চিকেন ইনফেকশাস অ্যানিমিয়া ভাইরাস’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে ভাইরাসটির নির্দিষ্ট একটি স্ট্রেইন দেশে প্রথম শনাক্তের দাবি নিয়ে এখনো বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়নি।   এর আগে ২০২৫ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ’-এ নির্বাচিত হন মারজানা আক্তার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত অল্প কয়েকজন তরুণ নারী গবেষকের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। ওই ফেলোশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি।   বাংলাদেশ থেকে এর আগেও কয়েকজন খ্যাতিমান নারী বিজ্ঞানী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফিরদৌসী কাদরী এবং শিশুস্বাস্থ্য গবেষক সেঁজুতি সাহা তাঁদের গবেষণা অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন।   বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে মারজানা আক্তারের এই অর্জন ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নারী গবেষকদের জন্য এটি নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অনেকেই।   গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে তাঁর এই সাফল্য নিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
391 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
349 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
434 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
287 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
Advertisement
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়