সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ দফা আহ্বান, জলবায়ু অর্থায়নে জোর

বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ০.৫ শতাংশেরও কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।   বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি এরই মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান হয়েছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।   জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেও বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ঘোষিত বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য তাপমাত্রা কমানো। তিনি অন্তত এক ডিগ্রি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই ডিগ্রি লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।   বন্যা ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়াতে পদ্মা ও তিস্তা নদীকে ঘিরে ব্যারাজ বা জল নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান।   পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয় কার্বন মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।   তবে এসব উদ্যোগ একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ‘কমন বাট ডিফারেনশিয়েটেড রেসপনসিবিলিটিজ’ এবং নিজ নিজ সক্ষমতার ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনে সব দেশের দায় ও সক্ষমতা এক নয়—এই নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।   বক্তব্যে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমা ধরে রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন।   তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে বেশি সুযোগ দিয়ে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু রূপান্তর নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেন। পঞ্চমত, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং নিয়মিতভাবে তাতে অর্থ পুনর্ভরণের আহ্বান জানান।   তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমন অংশীদারত্ব প্রয়োজন, যা দেশকে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

২২ মিনিট Ago
নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন  নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত
নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত

বুধবার নিউইয়র্কের একটি আদালত হলিউডের সাবেক প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০০৬ সালে এক সাবেক প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্টকে যৌন নিপীড়ন করার দায়ে গত বছর পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই রায় ঘোষণা করা হলো।   ৭৪ বছর বয়সী ওয়াইনস্টিন ২০০৬ সালে ম্যানহাটনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে মিরিয়ম হেইলিকে নিপীড়নের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুনে ফার্স্ট-ডিগ্রি ক্রিমিনাল সেক্সুয়াল অ্যাক্টের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ায় এর আগে ২০২০ সালে তাকে দেওয়া ২৩ বছরের কারাদণ্ডটি ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দিয়েছিল।   ওয়াইনস্টিন অবশ্য সবসময়ই কারও সাথে জোরপূর্বক বা অসম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এই বিচারের সময় সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্য দেওয়ায় হেইলির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, ওয়াইনস্টিনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওয়াইনস্টিন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করছেন এবং বিচারক কার্টিস ফারবারের দেওয়া এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করছেন।   এর আগে ২০২০ সালে নিউইয়র্কে হেইলিকে নিপীড়ন এবং উঠতি অভিনেত্রী জেসিকা মানকে ধর্ষণের দায়ে ওয়াইনস্টিনকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ন্যায্য বিচার পাননি—এমন যুক্তিতে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে ওই রায় বাতিল করে।   পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে জুরি বোর্ড তাকে হেইলির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে, তবে সাবেক মডেল কাজা সোকোলাকে নিপীড়নের অভিযোগ থেকে খালাস দেয় এবং জেসিকা মানের ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। গত মে মাসে মানের অভিযোগের ওপর তৃতীয় বিচারটিও কোনো রায় ছাড়াই শেষ হয়। এরপর মান আর চতুর্থবার সাক্ষ্য দিতে না চাওয়ায় পরের মাসে প্রসিকিউটররা অভিযোগটি তুলে নেন।   মিরাম্যাক্স স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের আরেকটি আলাদা মামলায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখলেও তাকে নতুন করে সাজা ঘোষণার নির্দেশ দেয়, কারণ বিচারক তার বাতিল হয়ে যাওয়া নিউইয়র্কের রায়টিকে একটি প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।   ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে প্রথম রায়টি ছিল '#মিটু' (MeToo) আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক, যা ক্ষমতাধর পুরুষদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের মুখ খুলতে উৎসাহিত করেছিল। এখন পর্যন্ত বিখ্যাত অনেক অভিনেত্রীসহ ১০০ জনেরও বেশি নারী ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন, যদিও তিনি এসব অভিযোগ ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছেন।

৩৭ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম কমাল অ্যালডি, ক্রেতাদের ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম কমাল অ্যালডি, ক্রেতাদের ৮ কোটি ৬০ লাখ ডলার সাশ্রয়ের সুযোগ

নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ চিন্তিত, ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এক বিশাল ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় গ্রোসারি চেইন অ্যালডি। এই শরতে নিজেদের স্টোরগুলোতে থাকা মৌসুমী পণ্য ও নিত্যব্যবহার্য জিনিসপত্রের দাম আরও কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।   তাদের এই নতুন মূল্যছাড়ের ফলে মার্কিন ক্রেতারা প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ (৮৬ মিলিয়ন) ডলার সাশ্রয় করতে পারবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অ্যালডি জানিয়েছে, বর্তমানে তাদের শেলফে থাকা দৈনন্দিন পণ্যগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশের দাম গত বছরের তুলনায় বেশ কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।   মূল্যছাড়ের তালিকায় থাকা উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্যকর ও তাজা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে অটামক্রিস্প আঙুর, বার্টলেট নাশপাতি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, বাটারনাট ও স্প্যাগেটি স্কোয়াশ, তাজা ভেষজ এবং রসুনসহ বিভিন্ন ধরনের আপেল ও আলু। এর মধ্যে হানিক্রিস্প আপেলের দাম গত বছরের তুলনায় ৩৫ শতাংশ কমিয়ে প্রতি পাউন্ড ১ দশমিক ৯৯ ডলারে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।   এছাড়া কার্কউড চিকেন ব্রেস্টের ফ্যামিলি প্যাকের দামও প্রতি পাউন্ড ১ দশমিক ৯৯ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ২০২২ সালের পর সবচেয়ে কম দাম। এর বাইরেও বিভিন্ন ধরনের কফি বিন, মিক্সড নাট, ড্রাই ফ্রুটস, পেপার টাওয়েল এবং প্রোটিন শেক ও চকলেটের মতো ক্রেতাদের পছন্দের শত শত পণ্যের দাম ২০২৫ সালের তুলনায় কমানো হয়েছে।   অ্যালডির চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্কট প্যাটন এই উদ্যোগ প্রসঙ্গে বলেন, তাদের কাছে পণ্যের সাশ্রয়ী মূল্য শুধু কোনো সাময়িক প্রমোশনাল অফার নয়, বরং এটি সারা বছরের একটি প্রতিশ্রুতি। ক্রেতারা যেন তাদের বাজেটের মধ্যে সর্বোচ্চ কেনাকাটা করতে পারেন, সেজন্য তারা ব্যবসার পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে সেই সাশ্রয়টুকু ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দিতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অ্যালডির ২ হাজার ৬০০টিরও বেশি স্টোর রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, দেশের অন্য যেকোনো জাতীয় গ্রোসারি স্টোরের তুলনায় তারাই সবচেয়ে কম দামে পণ্য সরবরাহ করে, যার মাধ্যমে মার্কিন ক্রেতাদের আনুমানিক ১ হাজার ২০ কোটি (১০.২ বিলিয়ন) ডলার সাশ্রয় হয়।

৫৭ মিনিট Ago
কারাগারে তিলে তিলে মারা হচ্ছে ইমরান খানকে, দাবি ছেলের
কারাগারে তিলে তিলে মারা হচ্ছে ইমরান খানকে, দাবি ছেলের

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের জীবন চরম হুমকির মুখে বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন তার ছোট ছেলে কাসিম খান। তার দাবি, ইমরান খানকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে এবং মানসিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যেই স্কাই নিউজকে দেওয়া এক আবেগঘন সাক্ষাৎকারে কাসিম পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের বিরুদ্ধে তার বাবার ওপর 'ব্যক্তিগত আক্রোশ' মেটানোর অভিযোগ তুলেছেন। একইসঙ্গে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের রাতের আঁধারে তুলে নেওয়ার লোমহর্ষক বর্ণনাও দিয়েছেন তিনি।   কাসিম জানান, তার তিন ফুফু—আলিমা খান, উজমা খান এবং নরিন নিয়াজিকে ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভের পরিকল্পনার অভিযোগে সম্প্রতি গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আইনজীবীর মতে, জনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর অভিযোগে এক পরোয়ানাবলে তাদের ৩০ দিনের জন্য আটকে রাখা হয়েছে।   তবে কাসিমের অভিযোগ, সশস্ত্র ও মুখোশধারী ব্যক্তিরা মধ্যরাতে তাদের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে স্বজনদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গেছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগও আনা হয়নি এবং অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ায় বর্তমানে পুরো পরিবারের সাথে তাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।   স্বজনদের ওপর এমন আচরণের বিষয়ে কাসিম গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, পরিস্থিতি রীতিমতো ভয়ংকর। কর্তৃপক্ষের জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের দাবির জবাবে তিনি বলেন, তারা মূলত তার বাবার আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে ভয় পাচ্ছে। যেকোনো ধরনের প্রতিবাদ বা বিক্ষোভকেই তারা ক্ষমতা হারানোর জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে।   কাসিম আরও অভিযোগ করেন যে, তার ফুফু আলিমা খান প্রথম থেকেই সরব ছিলেন বলেই তাকে সবার আগে বন্দি করা হয়। এরপর বেছে বেছে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও তুলে নেওয়া হচ্ছে, যাদের মধ্যে শিশুরাও বাদ পড়েনি। তাদের মধ্যে কোনো মানবিকতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   বাবার কারাবাস ও শারীরিক অবস্থা প্রসঙ্গে কাসিম অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেন, "তারা তাকে হত্যা করতে চায়, বিষয়টা খুবই স্পষ্ট। তারা এর আগে তাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টাও করেছে। আর এখন একটি অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রেখে ধীরে ধীরে শ্বাসরোধ করে এবং মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাকে মেরে ফেলার চেষ্টা চলছে।" বাবার চারপাশের সবাইকে চুপ করিয়ে দিতেই ইমরান খানের স্ত্রীকে আগেই জেলে ঢোকানো হয়েছে এবং এখন তার একটি প্রতিহিংসামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে পরিবারের অন্য সদস্যদেরও লক্ষ্যবস্তু বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ৩ ভিসায় বাধ্যতামূলক সোশ্যাল মিডিয়া যাচাই

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা যাচাই প্রক্রিয়ায় আরও তিনটি ভিসা শ্রেণি যুক্ত হচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে আই, টিএন ও টিডি ভিসার আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসা যাচাই আরও বিস্তৃত করার অংশ হিসেবে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।   নতুন নিয়মের আওতায় আই ভিসা হলো বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য, আর টিএন ভিসা যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতায় নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য। টিডি ভিসা মূলত টিএন ভিসাধারীদের স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানদের মতো নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের জন্য ব্যবহৃত হয়।   পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আই, টিএন ও টিডি ভিসার সব আবেদনকারীকে নিজেদের সব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করতে হবে। এর মাধ্যমে ভিসা কর্মকর্তারা আবেদনকারীর অনলাইন উপস্থিতি পর্যালোচনা করতে পারবেন।   এর আগে থেকেই বেশ কয়েকটি ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের জন্য অনলাইন উপস্থিতি যাচাই চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কূটনৈতিক ও সরকারি ভিসার কিছু শ্রেণি, এফ ও এম শিক্ষার্থী ভিসা, এইচ-১বি ও সংশ্লিষ্ট কিছু ভিসা, জে-১ ও জে-২ এক্সচেঞ্জ ভিজিটর ভিসা, কে-১, কে-২ ও কে-৩ ভিসা, কিউ, আর-১ ও আর-২ এবং এস, টি ও ইউ শ্রেণির ভিসা।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, ভিসা যাচাইয়ের সময় আবেদনকারীর বিষয়ে যত ধরনের তথ্য পাওয়া যায়, তা বিবেচনায় নেওয়া হয়। এর লক্ষ্য হলো যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অযোগ্য হতে পারেন বা জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন—এমন আবেদনকারীদের শনাক্ত করা।   দপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রতিটি ভিসা আবেদন যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আবেদনকারী যে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন, তার শর্ত মেনে চলার প্রকৃত ইচ্ছা রয়েছে কি না এবং তিনি ওই ভিসার যোগ্যতা যথাযথভাবে প্রমাণ করতে পারছেন কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।   ২০২৬ সালের মার্চেও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বেশ কয়েকটি নতুন ভিসা শ্রেণিতে অনলাইন উপস্থিতি যাচাই সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছিল। তখন সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গোপনীয়তা সেটিংস ‘পাবলিক’ বা ‘ওপেন’ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৮:৩৭
নিউইয়র্কের পাবলিক স্কুলে ডিপ্লোমা ছাড়াই চাকরির সুযোগ, চলছে নিয়োগ

নিউইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে স্কুল এইড পদে নতুন নিয়োগ চলছে, আর কিছু পদের জন্য হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি বাধ্যতামূলক নয়। ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে ব্রঙ্কস, ব্রুকলিন, কুইন্স ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডসহ বিভিন্ন এলাকার স্কুলে একাধিক পদে আবেদন নেওয়া হচ্ছে। নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল চাকরির তালিকায় ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নতুন স্কুল এইড নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়েছে।   সিএসবি নিউজের প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হলেও, নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি যাচাই করে দেখা গেছে, অন্তত কয়েকটি স্কুল এইড পদের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা জিইডি প্রয়োজন নেই। উদাহরণ হিসেবে ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমি ফর দ্য ফিউচারের ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে এই যোগ্যতার কথা উল্লেখ রয়েছে।   স্কুল এইডদের কাজ মূলত শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন স্কুল কার্যক্রমে সহায়তা করা। এর মধ্যে হলওয়ে, স্টাডি হল, লাঞ্চরুম ও স্কুলের বিভিন্ন জায়গায় শিক্ষার্থীদের তদারকি, স্কুলে আসা ও ছুটির সময় সহায়তা, স্কুলবাসে আসা শিক্ষার্থীদের দেখভাল এবং লাঞ্চ পরিবেশনে সহযোগিতা রয়েছে। পাশাপাশি পাঠ্যবই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, ইনভেন্টরি সংরক্ষণ এবং কিছু সাধারণ দাপ্তরিক কাজও করতে হতে পারে।   অফিসিয়াল বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রার্থীর নিয়মিত উপস্থিতি ও সময়ানুবর্তিতার ভালো রেকর্ড থাকতে হবে। দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দাঁড়িয়ে কাজ করার সক্ষমতা এবং সর্বোচ্চ ১০ পাউন্ড ওজনের জিনিস তোলার সামর্থ্যও প্রয়োজন হতে পারে। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে তা বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। শিক্ষার্থীদের ভাষাগত প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু স্কুলে দ্বিভাষিক প্রার্থীদেরও বিবেচনা করা হতে পারে।   কাজের সময় স্কুলভেদে ভিন্ন হতে পারে। ইস্ট ব্রঙ্কস একাডেমির বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার থেকে শুক্রবার কাজের কথা বলা হয়েছে এবং প্রতিদিন ন্যূনতম চার ঘণ্টা কাজের সম্ভাবনা রয়েছে। বেতন নির্ধারিত হবে সংশ্লিষ্ট কালেকটিভ বার্গেনিং এগ্রিমেন্ট অনুযায়ী। তবে পদগুলো চূড়ান্ত বাজেট অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল।   নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ফিঙ্গারপ্রিন্টিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড চেক রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পদ পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শেষ তারিখ না থাকলেও পদ পূরণ হয়ে গেলে আবেদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের অফিসিয়াল নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি সক্রিয় আছে কি না যাচাই করা জরুরি।   নিউইয়র্ক সিটি পাবলিক স্কুলসের বর্তমান চাকরির তালিকাতেও ২০২৬ থেকে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের একাধিক স্কুল এইড পদ দেখা যাচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত তালিকায় ব্রঙ্কস ও কুইন্সের বিভিন্ন স্কুলসহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি রয়েছে। একই তালিকায় স্কুল এইডকে আলাদা চাকরির ক্যাটাগরি হিসেবে দেখানো হয়েছে।   প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এ ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো যোগ্যতা ও আবেদন পদ্ধতি স্কুলভেদে যাচাই করা। ডিপ্লোমা বা জিইডি না থাকলেও কোনো কোনো স্কুল এইড পদে আবেদন করা সম্ভব হলেও, প্রতিটি বিজ্ঞপ্তির শর্ত একই নয়। তাই জীবনবৃত্তান্ত পাঠানোর আগে সংশ্লিষ্ট স্কুলের সর্বশেষ অফিসিয়াল পোস্টিং দেখে যোগ্যতা, কর্মঘণ্টা, আবেদন পদ্ধতি এবং পদটি এখনও খালি আছে কি না নিশ্চিত করা প্রয়োজন।  

নিউইয়র্কে হার্ভে ওয়াইনস্টিনের ১৫ বছরের কারাদণ্ড, যৌ ন নি পীড়নে দোষী সাব্যস্ত

বুধবার নিউইয়র্কের একটি আদালত হলিউডের সাবেক প্রভাবশালী প্রযোজক হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। ২০০৬ সালে এক সাবেক প্রোডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্টকে যৌন নিপীড়ন করার দায়ে গত বছর পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই রায় ঘোষণা করা হলো।   ৭৪ বছর বয়সী ওয়াইনস্টিন ২০০৬ সালে ম্যানহাটনে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে মিরিয়ম হেইলিকে নিপীড়নের অভিযোগে ২০২৫ সালের জুনে ফার্স্ট-ডিগ্রি ক্রিমিনাল সেক্সুয়াল অ্যাক্টের জন্য দোষী সাব্যস্ত হন। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে চলা এই আইনি প্রক্রিয়ায় এর আগে ২০২০ সালে তাকে দেওয়া ২৩ বছরের কারাদণ্ডটি ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত বাতিল করে দিয়েছিল।   ওয়াইনস্টিন অবশ্য সবসময়ই কারও সাথে জোরপূর্বক বা অসম্মতিতে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ম্যানহাটনের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অ্যালভিন ব্র্যাগ এই বিচারের সময় সাহসিকতার সাথে সাক্ষ্য দেওয়ায় হেইলির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, ওয়াইনস্টিনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওয়াইনস্টিন নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করছেন এবং বিচারক কার্টিস ফারবারের দেওয়া এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করছেন।   এর আগে ২০২০ সালে নিউইয়র্কে হেইলিকে নিপীড়ন এবং উঠতি অভিনেত্রী জেসিকা মানকে ধর্ষণের দায়ে ওয়াইনস্টিনকে ২৩ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি ন্যায্য বিচার পাননি—এমন যুক্তিতে নিউইয়র্কের সর্বোচ্চ আদালত ২০২৪ সালে ওই রায় বাতিল করে।   পরবর্তীতে ২০২৫ সালে পুনরায় অনুষ্ঠিত বিচারে জুরি বোর্ড তাকে হেইলির মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে, তবে সাবেক মডেল কাজা সোকোলাকে নিপীড়নের অভিযোগ থেকে খালাস দেয় এবং জেসিকা মানের ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়। গত মে মাসে মানের অভিযোগের ওপর তৃতীয় বিচারটিও কোনো রায় ছাড়াই শেষ হয়। এরপর মান আর চতুর্থবার সাক্ষ্য দিতে না চাওয়ায় পরের মাসে প্রসিকিউটররা অভিযোগটি তুলে নেন।   মিরাম্যাক্স স্টুডিওর সহ-প্রতিষ্ঠাতা হার্ভে ওয়াইনস্টিনকে ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের আরেকটি আলাদা মামলায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত জুনে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আপিল আদালত সেই রায় বহাল রাখলেও তাকে নতুন করে সাজা ঘোষণার নির্দেশ দেয়, কারণ বিচারক তার বাতিল হয়ে যাওয়া নিউইয়র্কের রায়টিকে একটি প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন।   ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে প্রথম রায়টি ছিল '#মিটু' (MeToo) আন্দোলনের একটি বড় মাইলফলক, যা ক্ষমতাধর পুরুষদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার নারীদের মুখ খুলতে উৎসাহিত করেছিল। এখন পর্যন্ত বিখ্যাত অনেক অভিনেত্রীসহ ১০০ জনেরও বেশি নারী ওয়াইনস্টিনের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরণের অভিযোগ এনেছেন, যদিও তিনি এসব অভিযোগ ক্রমাগত অস্বীকার করে আসছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাতিসংঘে তারেক রহমানের পাঁচ দফা আহ্বান, জলবায়ু অর্থায়নে জোর

বাংলাদেশ বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে ০.৫ শতাংশেরও কম অবদান রাখলেও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন।   বুধবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ১২ থেকে ১৮ শতাংশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। এতে কোটি কোটি মানুষের জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ক্ষয়ক্ষতি এরই মধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ শতাংশের সমান হয়েছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তাও গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।   জলবায়ু অভিযোজনের জন্য বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নেও বড় ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রায় দুই মাস আগে ঘোষিত বাজেটে জলবায়ু অভিযোজনের জন্য প্রায় ৩ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশের মতো জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশের জন্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   বাংলাদেশের নিজস্ব পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের লক্ষ্য তাপমাত্রা কমানো। তিনি অন্তত এক ডিগ্রি তাপমাত্রা কমানোর লক্ষ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই ডিগ্রি লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি দেশের নদী ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার নদী ও খাল খননের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।   বন্যা ঝুঁকি কমানো, জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করা এবং ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণ বাড়াতে পদ্মা ও তিস্তা নদীকে ঘিরে ব্যারাজ বা জল নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণের কথা জানান।   পাটজাত পরিবেশবান্ধব পণ্য, বৈদ্যুতিক যানবাহন, বর্জ্য থেকে জ্বালানি এবং সার্কুলার ইকোনমির মতো উদ্যোগের পাশাপাশি জাতীয় কার্বন মার্কেট গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও বলেন তিনি।   তবে এসব উদ্যোগ একা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় ‘কমন বাট ডিফারেনশিয়েটেড রেসপনসিবিলিটিজ’ এবং নিজ নিজ সক্ষমতার ভিত্তিতে সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। অর্থাৎ জলবায়ু পরিবর্তনে সব দেশের দায় ও সক্ষমতা এক নয়—এই নীতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।   বক্তব্যে পাঁচটি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রথমত, প্যারিস চুক্তিতে নির্ধারিত ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৈশ্বিক উষ্ণায়ন সীমা ধরে রাখতে বিশ্বব্যাপী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর আহ্বান জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য অভিযোজন খাতে পূর্বানুমেয় ও সহজলভ্য অর্থায়ন নিশ্চিত করার কথা বলেন।   তৃতীয়ত, জলবায়ু-স্মার্ট প্রযুক্তিতে বেশি সুযোগ দিয়ে ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক জলবায়ু রূপান্তর নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। চতুর্থত, সহজলভ্য অর্থায়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর কথা বলেন। পঞ্চমত, লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড পুরোপুরি বাস্তবায়ন এবং নিয়মিতভাবে তাতে অর্থ পুনর্ভরণের আহ্বান জানান।   তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এমন অংশীদারত্ব প্রয়োজন, যা দেশকে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে সহায়তা করবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বক্তব্য শেষ করেন।

জাতিসংঘে এরদোয়ানের বক্তব্যের সময় স্মার্টফোনে মনোযোগী সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে রিলস স্ক্রল করতে দেখা গেল সিরিয়ার প্রেসিডেন্টকে

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্ক চলাকালে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা’কে স্মার্টফোনে ইনস্টাগ্রাম রিলস স্ক্রল করতে দেখা গেছে। মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান যখন বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন ধারণ করা একটি ভিডিওতে আল-শারা’কে ফোনের স্ক্রিনে মনোযোগ দিতে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।   ভিডিওতে আল-শারা’কে মাথা নিচু করে ফোন ব্যবহার করতে দেখা যায়। স্ক্রিনে ইনস্টাগ্রামের স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও বা রিলসের মতো কনটেন্ট স্ক্রল করার দৃশ্যও দেখা গেছে। তবে ভিডিও দেখে তিনি ঠিক কী দেখছিলেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ করছিলেন বা সত্যিই রিলস শেয়ার করছিলেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। বিভিন্ন প্রতিবেদনে রিলস শেয়ারের কথা বলা হলেও, ভিডিওটি নিজে থেকে সেই তথ্য নিশ্চিত করে না।   ঘটনাটি ঘটে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের বিতর্কের প্রথম দিকের অধিবেশনে। নিউইয়র্কে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন। এরদোয়ানের বক্তব্যে গাজা, ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের মতো বিষয় উঠে আসে। সেই সময় আল-শারা’র ফোন ব্যবহারের দৃশ্য ক্যামেরায় ধরা পড়ে।   আল-শারা’র জন্য এবারের জাতিসংঘ সফরও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে তিনি প্রথমবার সাধারণ পরিষদে বক্তব্য দেন। এর আগে প্রায় ছয় দশক পর কোনো সিরীয় নেতা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের সামনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এবার তার অংশগ্রহণ সিরিয়ার নতুন নেতৃত্বের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আহমেদ আল-শারা ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। তার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী বাহিনীর অভিযানে দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর সিরিয়ায় রাজনৈতিক পরিবর্তনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়। দেশটির নতুন নেতৃত্ব এরপর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   এবারের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন আরও একটি কারণে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের খলিলুর রহমান। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। অধিবেশনের মূল প্রতিপাদ্য হলো আস্থা পুনর্গঠন এবং পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এমন একটি জাতিসংঘ গড়ে তোলা, যা সবার জন্য কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে।   আল-শারা’র ফোন ব্যবহারের কয়েক সেকেন্ডের দৃশ্য এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। কেউ ঘটনাটিকে সাধারণ ফোন ব্যবহারের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বিশ্বনেতাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য চলাকালে তার এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে ভিডিওতে দেখা দৃশ্যের বাইরে তার উদ্দেশ্য বা মনোযোগের কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।  

মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিউইয়র্কে বিশ্বখ্যাত মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে এক টেবিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আন্তর্জাতিক দাতব্য, জনহিতকর ও মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রাতরাশ বৈঠক করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।    বৈঠকে গেটস ফাউন্ডেশন, ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি (আইআরসি) ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সফরের আগের প্রকাশিত কর্মসূচিতে বিস্ট ফিলানথ্রোপি, ইউপিএস ফাউন্ডেশন, আইকেইএ ফাউন্ডেশন, ইনফোসিস ফাউন্ডেশন, বায়ের ফাউন্ডেশন ও নর্থওয়েল হেলথসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।   প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকটি এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো যখন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মানবিক সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও এসব বিষয়ে অবস্থান তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।   প্রধানমন্ত্রীর ২৩ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিতে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উচ্চপর্যায়ের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান এবং ‘জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়সঙ্গত রূপান্তর’ বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে অংশগ্রহণও রয়েছে। 

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ফ্রান্সের সহায়তা না নিয়ে ৩০ ঘণ্টা সাগরে কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাল ৫১ অভিবাসী
ফ্রান্সের সহায়তা না নিয়ে ৩০ ঘণ্টা সাগরে কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছাল ৫১ অভিবাসী
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:৫১

ফ্রান্সের উপকূলরক্ষীদের সহায়তা না নিয়ে ইংলিশ চ্যানেলে ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় কাটানোর পর ৫১ অভিবাসী যুক্তরাজ্যের ডোভারে পৌঁছেছেন। ছোট নৌকাটিতে প্রায় ৬০ জন থাকার কথা জানানো হলেও শেষ পর্যন্ত ৫১ জনকে ডোভারে নেওয়া হয়। ব্রিটিশ উদ্ধারকারী নৌযান তাদের সমুদ্র থেকে নিয়ে আসে এবং পরে সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    নৌকাটি সোমবার সকালে নরম্যান্ডি উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করে। ফরাসি উপকূলরক্ষী নৌকাটিকে অনুসরণ করছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, যাত্রীরা ৩৩ ঘণ্টার বেশি সময় ‘ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়’ সমুদ্রে ছিলেন এবং ফ্রান্সের সহায়তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে নৌকাটি ইংলিশ চ্যানেল ধরে পূর্ব দিকে এগিয়ে ডোভারের দিকে যায়।    প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, অভিবাসীদের হ্যাম্পশায়ারের গোসপোর্টে নামানো হবে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সেখানে শত শত অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভকারী জড়ো হন। স্থানীয় পুলিশকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করতে হয়। পরে নৌকাটি গোসপোর্টের পরিবর্তে ডোভারে নেওয়া হয়।    গোসপোর্টে বিক্ষোভের একপর্যায়ে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে জরুরি কর্মীর ওপর হামলা, অসতর্কভাবে গাড়ি চালানো এবং অনুমতি ছাড়া এলাকায় প্রবেশের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে। তারা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন এবং তদন্ত চলছে।    অভিবাসীদের ডোভারে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের সীমান্ত নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ছোট নৌকায় আসা প্রত্যেককে আটক, পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নেওয়া হবে। এদিকে গোসপোর্টে যে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও পরিবহন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল, অভিবাসীদের সেখানে না নেওয়ায় সেগুলো আর ব্যবহার করতে হয়নি।    ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে ছোট নৌকায় অভিবাসী আসা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক চলছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৪৮০ জন ছোট নৌকায় চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন বলে দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট জানিয়েছে। একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা গত বছরের চেয়ে ৪৬ শতাংশ কম।    এ ঘটনার আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নৌকাটির দীর্ঘ পথযাত্রা। নরম্যান্ডি থেকে যাত্রা শুরু করে এটি চ্যানেলের পূর্বদিকে এগিয়ে ডোভারে পৌঁছায়। এর আগে চলতি মাসেও আরও পশ্চিম দিক থেকে একটি ছোট নৌকা যাত্রা করে আইল অব ওয়াইটের কাছে পৌঁছেছিল। কর্মকর্তারা তখন সেটিকে ব্যতিক্রমী ঘটনা হিসেবে দেখেছিলেন।    Source: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট, হ্যাম্পশায়ার অ্যান্ড আইল অব ওয়াইট পুলিশ  

'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’
'ভারতের ট্যাক্স আমেরিকার মতো, সুবিধা বাংলাদেশের মতো’ :আশনীার গ্রোভারের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ৩:০

ভারতের করব্যবস্থা এবং নাগরিকদের পাওয়া সরকারি সুবিধার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন উদ্যোক্তা ও ভারতীয় ব্যবসায়ী আশনীার গ্রোভার। সম্প্রতি তাঁর একটি মন্তব্য নতুন করে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় এসেছে। গ্রোভারের বক্তব্য, ভারতে মানুষের ওপর করের বোঝা অনেকটা যুক্তরাষ্ট্রের মতো হলেও সরকারি সেবা ও নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে চিত্র বাংলাদেশের মতো।   গ্রোভারের এই মন্তব্য মূলত ভারতের করদাতাদের বিনিময়ে পাওয়া সরকারি সেবা নিয়ে তাঁর দীর্ঘদিনের সমালোচনারই অংশ। সাম্প্রতিক আলোচনায় তাঁর বক্তব্যকে উদ্ধৃত করে বিভিন্ন মাধ্যমে বলা হচ্ছে, “ভারতে আমেরিকার মতো ট্যাক্স নেওয়া হয়, কিন্তু বাংলাদেশের মতো সুবিধা দেওয়া হয়।” তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, কোনো সরকারি পরিসংখ্যান বা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত তুলনামূলক সূচক নয়।   ভারতের করব্যবস্থা নিয়ে গ্রোভার এর আগেও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছেন। ২০২৩ সালে ইটিসিআইওর একটি অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের করব্যবস্থাকে কঠোর ও শাস্তিমূলক বলে মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি বলেন, উচ্চ আয়ের মানুষদের একটি বড় অংশ তাদের আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ কর হিসেবে দেয়, কিন্তু এর বিপরীতে তারা পর্যাপ্ত সরকারি সুবিধা পাচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা, অবকাঠামো, টোল এবং অন্যান্য নাগরিক সেবার বিষয়ও উঠে আসে।   গ্রোভার আরও দাবি করেছিলেন, বেতনভোগী মানুষদের ক্ষেত্রে কর কেটে নেওয়ার বিষয়টি তুলনামূলকভাবে সরাসরি হওয়ায় তাদের ওপর চাপ বেশি পড়ে। বিশেষ করে টিডিএস বা Tax Deducted at Source ব্যবস্থার কারণে অনেক কর্মীর বেতন থেকেই উৎসে কর কেটে নেওয়া হয়। তাঁর যুক্তি ছিল, একজন কর্মজীবীকে বছরের কয়েক মাসের আয়ের সমপরিমাণ অর্থ কার্যত সরকারের জন্য দিতে হচ্ছে।   তবে ভারতের করব্যবস্থাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি তুলনা করার ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। দুই দেশের কর কাঠামো, আয়কর ব্যবস্থা, জিএসটি বা ভোগকর, রাজ্যভিত্তিক কর, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সরকারি সেবার ধরন এক নয়। যুক্তরাষ্ট্রেও ফেডারেল ও স্টেট পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের কর রয়েছে, আবার নাগরিকদের সরকারি সুবিধাও বিভিন্ন কর্মসূচি ও যোগ্যতার ভিত্তিতে দেওয়া হয়। ফলে শুধু সর্বোচ্চ আয়কর হার বা কোনো একটি করের হার দিয়ে দুই দেশের সামগ্রিক করের বোঝা তুলনা করা যায় না।   ভারতের ক্ষেত্রেও একই বিষয় প্রযোজ্য। আয়কর ছাড়াও জিএসটি, জ্বালানি কর, টোলসহ বিভিন্ন ধরনের অর্থ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকার শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, ভর্তুকি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিতে অর্থ ব্যয় করে। কোন নাগরিক কতটা সুবিধা পান, তা আয়, রাজ্য, পেশা এবং সরকারি কর্মসূচির যোগ্যতার ওপরও নির্ভর করে।   গ্রোভারের বক্তব্যের মূল বিষয় তাই শুধু করের হার নয়, বরং করদাতারা সরকারের কাছ থেকে কী ধরনের সেবা ও সুযোগ পাচ্ছেন, সেই প্রশ্ন। তাঁর সমালোচনায় কর প্রদানের সঙ্গে নাগরিক সুবিধার সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। এ ধরনের প্রশ্ন ভারতের করনীতি নিয়ে দীর্ঘদিনের বৃহত্তর আলোচনার সঙ্গেও যুক্ত।   এর আগে ২০২৩ সালের ইটিসিআইও কনক্লেভে গ্রোভার করব্যবস্থা সহজ করার পক্ষেও মত দেন। তাঁর বক্তব্যে তুলনামূলকভাবে সরল কর কাঠামো এবং কম জটিলতার প্রয়োজনীয়তার কথা উঠে আসে। তিনি মনে করেন, করের হার বেশি রাখলেই সরকারের রাজস্ব বাড়বে এমন নয়; সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে করদাতাদের জন্য ব্যবসা ও আয় পরিচালনা সহজ হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে গ্রোভারের বক্তব্য আবার আলোচনায় আসার পর ভারতের করব্যবস্থা, সরকারি সেবার মান এবং করদাতাদের প্রত্যাশা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে তাঁর “আমেরিকার মতো কর, বাংলাদেশের মতো সুবিধা” মন্তব্যকে ব্যক্তিগত মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র বা বাংলাদেশের কর ও সরকারি সেবা ব্যবস্থার বাস্তব তুলনা করতে হলে মাথাপিছু আয়, মোট কর আদায়, করদাতার সংখ্যা, সরকারি ব্যয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় এবং সামাজিক নিরাপত্তাসহ একাধিক সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। ছবি: সংগৃহীত
ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-কানাডা, ৭১ মিলিয়ন ডলার সহায়তার ঘোষণা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২৩, ২০২৬ ০:৮

জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে জোরালো সমর্থন ব্যক্ত করেছে ফ্রান্স, কানাডা এবং যুক্তরাজ্য। পাশাপাশি গাজায় ত্রাণ প্রবেশে ইসরায়েলের বাধা দেওয়ার বিষয়টিকে বিশ্বের জন্য লজ্জাজনক বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।   মঙ্গলবার সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া এক আবেগঘন ভাষণে ম্যাক্রোঁ এই মন্তব্য করেন। তিনি এমন সময় এই ভাষণ দিলেন যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজা সিটিতে অন্তত তিন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েলের আগ্রাসনে গাজায় এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৯০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর প্রাণ হারিয়েছেন ১ হাজার ৩৯৯ জন।   ভাষণে ফরাসি প্রেসিডেন্ট স্মরণ করিয়ে দেন যে এক বছর আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্সও ছিল। গাজার পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে বলেন, গাজার ভয়াবহ অবস্থার সামনে আমরা যদি নিষ্ক্রিয় থাকি তবে আমাদের আর কী গ্রহণযোগ্যতা থাকে। তথাকথিত শান্তির কথা অনেকেই বলেন, কিন্তু এই শান্তি এক সেকেন্ডের জন্যও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দিতে পারেনি। তিনি আরও বলেন, এই লজ্জাজনক দৃশ্য কি আমাদের শুধু চেয়ে চেয়ে দেখতে হবে, কখনোই নয়।   দখলকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের প্রাত্যহিক নিয়ম লঙ্ঘনেরও কঠোর সমালোচনা করেন ম্যাক্রোঁ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা মনে করেন প্রতিবেশীদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করলেই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, তারা মারাত্মক ভুল করছেন। এর ফলে ইসরায়েল বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য আরও বেশি হুমকিতে পড়বে।   জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ম্যাক্রোঁ। তার সঙ্গে ছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান।   বৈঠকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম উপস্থিত কয়েক ডজন দেশের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা রাজনীতিবিদদের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ধ্বংস করবে। তিনি জানান, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে যুক্তরাজ্য। ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি সম্প্রসারণ প্রকল্পকে দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান আটকে দেওয়ার একটি পরিকল্পিত চেষ্টা বলে আখ্যা দেন তিনি। এই প্রকল্পের ফলে দখলকৃত পশ্চিম তীর পূর্ব জেরুজালেম থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে যা ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডকে খণ্ডিত করবে।   বার্নহ্যাম বলেন, আমরা এমন এক যুগে বাস করছি যেখানে রাজনীতির ওপর মানুষের আস্থা অনেক কম। দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধান নিয়ে দশকের পর দশক কথা হলেও তা বাস্তবায়নে ব্যর্থতা শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আস্থাই কমাবে।   অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মাইক কার্নি ফিলিস্তিনিদের জন্য দ্বিরাষ্ট্রীয় সমাধানের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখতে ১০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৭১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, এই তহবিলের ৮০ শতাংশ সরাসরি মানবিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। বাকি ২০ শতাংশ শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্যয় করা হবে যার মধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি পুলিশকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কানাডার দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   গাজায় ফিলিস্তিনিদের অবর্ণনীয় মানবিক দুর্দশা এবং ইসরায়েলের ওপর হামাস ও ইরানের হুমকির কথাও উল্লেখ করেন কার্নি। যুক্তরাজ্যের মতো তিনিও ইসরায়েলের ইওয়ান বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করেন এবং অবৈধ বসতি থেকে উৎপাদিত পণ্যের ওপর বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপের কানাডার পরিকল্পনার কথা জানান।   অবৈধ বসতির পণ্যের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ১২টি দেশের মধ্যে কানাডা অন্যতম। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের জন্য অটোয়া এখন পর্যন্ত ৬০০ মিলিয়ন কানাডীয় ডলার বা ৪২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ছেলের এমন অদ্ভুত দাবির বিষয়ে ইতিবাচক ও হাস্যরসাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন পেশায় আইনজীবী মা-বাবা। ছবি: সংগৃহীত
সম্মতি ছাড়া জন্ম দেওয়ায় নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা ছেলের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ২৩:৩০

জন্মের আগে তার সম্মতি নেওয়া হয়নি, এই যুক্তিতে নিজের মা-বাবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ভারতের মুম্বাইয়ের এক তরুণ। ২০১৯ সালে ২৭ বছর বয়সী রাফায়েল স্যামুয়েল এ পরিকল্পনার কথা প্রকাশ্যে জানান। তার দাবি ছিল, পৃথিবীতে জন্ম নেওয়ার সিদ্ধান্ত তার নিজের ছিল না। তাই সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্তের দায়ও মা-বাবার।   রাফায়েল নিজেকে অ্যান্টিন্যাটালিজম বা জন্মবিরোধী দর্শনের অনুসারী হিসেবে পরিচয় দেন। এই দর্শনের অনুসারীরা মনে করেন, মানুষকে পৃথিবীতে না আনাই নৈতিকভাবে বেশি যুক্তিসংগত, কারণ জীবনের সঙ্গে দুঃখ, কষ্ট ও নানা ধরনের ভোগান্তি জড়িয়ে আছে। রাফায়েলের বক্তব্যও মূলত এই দর্শনের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠেছিল।   মুম্বাইয়ের এই ব্যবসায়ী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও বার্তার মাধ্যমে তার মতাদর্শ প্রচার করতেন। তিনি যুক্তি দেন, কোনো মানুষই জন্মের আগে পৃথিবীতে আসার বিষয়ে সম্মতি দিতে পারে না। অথচ জন্মের পর তাকে পড়াশোনা, চাকরি, পেশা ও জীবনের নানা দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তার প্রশ্ন ছিল, যে জীবনের জন্য কেউ আগে থেকে সম্মতি দেয়নি, সেই জীবনের নানা বাধ্যবাধকতার দায় কেন তার ওপর থাকবে।   রাফায়েল আরও বলেছিলেন, মানুষ যদি নিজের ইচ্ছায় জন্ম নিতে না পারে, তাহলে তাদের জীবনযাপনের খরচ বহনের দায়িত্ব মা-বাবার হওয়া উচিত। তার মতে, সন্তান জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত মা-বাবার, সন্তানের নয়। তাই সন্তানকে সারাজীবন সেই সিদ্ধান্তের ফল ভোগ করতে বাধ্য করা নিয়ে প্রশ্ন তোলা দরকার।   বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে যখন রাফায়েল জানান, তার মা-বাবা দুজনই আইনজীবী। তারপরও তিনি তাদের আদালতে নেওয়ার কথা ভাবছেন। তবে তিনি স্বীকার করেছিলেন, কোনো বিচারক তার মামলা গ্রহণ করবেন কি না, তা নিয়ে তিনি নিজেও সন্দিহান। সে সময় পর্যন্ত তার মামলা নেওয়ার জন্য কোনো আইনজীবীও পাওয়া যায়নি।   তবে মা-বাবার সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্ক খারাপ ছিল না। রাফায়েল নিজেই বলেছিলেন, তিনি তাদের ভালোবাসেন এবং পরিবারের সম্পর্কও ভালো। তার বক্তব্য ছিল, বিষয়টি ব্যক্তিগত বিরোধ নয়, বরং সন্তান জন্ম দেওয়া এবং মানুষের অস্তিত্ব নিয়ে একটি দার্শনিক প্রশ্ন সামনে আনার চেষ্টা।   তার মা কবিতা কার্নাড স্যামুয়েলও ছেলের পরিকল্পনাকে পুরোপুরি বিরোধিতা করেননি। বরং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি ছেলের সাহসের প্রশংসা করেন। তার বক্তব্য ছিল, রাফায়েল যদি যুক্তিসংগতভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেন যে জন্মের আগে কীভাবে তার কাছ থেকে সম্মতি নেওয়া সম্ভব ছিল, তাহলে তিনি নিজের ভুল স্বীকার করবেন।   রাফায়েল তার মতাদর্শ প্রচারের জন্য ‘নিহিলানন্দ’ নামে একটি ফেসবুক পেজও চালু করেছিলেন। সেখানে তিনি সন্তান জন্ম দেওয়া, মানুষের অস্তিত্ব এবং জীবনের বিভিন্ন দায়িত্ব নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতেন। একটি পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একটি শিশুকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার পর তাকে ক্যারিয়ার গড়ার মতো নানা সামাজিক প্রত্যাশার মধ্যে ঠেলে দেওয়া কতটা ন্যায্য।   তার বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেউ তার যুক্তিকে অদ্ভুত বলে সমালোচনা করেন, আবার কেউ জন্ম, সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত এবং ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে তার উত্থাপিত প্রশ্নকে দার্শনিক আলোচনার বিষয় হিসেবে দেখেন। বিষয়টি ভারতের বাইরে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়।   অ্যান্টিন্যাটালিজম নতুন কোনো ধারণা নয়। বিভিন্ন সময়ে দর্শন ও ধর্মীয় চিন্তাধারার কিছু ধারায় মানুষের জন্ম এবং জীবনের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখা গেছে। আধুনিক অ্যান্টিন্যাটালিজমে মানুষের সন্তান জন্মদানের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তবে এটি একটি দার্শনিক অবস্থান, সর্বজনস্বীকৃত বৈজ্ঞানিক বা আইনি নীতি নয়।   রাফায়েলের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল, তিনি নিজের জীবনকে পুরোপুরি দুর্বিষহ বলে দাবি করেননি। বরং তিনি জানিয়েছিলেন, তার জীবন ভালোই চলছে। তার আপত্তি ছিল মানুষের অস্তিত্বের মৌলিক প্রশ্ন নিয়ে। অর্থাৎ তার পরিকল্পিত আইনি পদক্ষেপকে তিনি ব্যক্তিগত ক্ষোভের চেয়ে একটি বৃহত্তর দার্শনিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে দেখেছিলেন।   শেষ পর্যন্ত রাফায়েল সত্যিই তার মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে কোনো আদালতের রেকর্ড পাওয়া যায় না। ২০১৯ সালের সমসাময়িক প্রতিবেদনে বরং বলা হয়েছিল, তিনি মামলা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন এবং তখনও কোনো আইনজীবী তার পক্ষে মামলা নিতে রাজি হননি। তাই ঘটনাটিকে ‘মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা’ নয়, বরং ‘মা-বাবার বিরুদ্ধে মামলা করার পরিকল্পনা’ হিসেবে উল্লেখ করাই সঠিক।   সূত্র: বিবিসি, দ্য গার্ডিয়ান

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.48K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.24K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.35K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.21K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.16K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়