যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুকে বাড়ির বাইরে পুকুরের পানিতে একা অবস্থায় পাওয়ার পর তার মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ডেলটোনা শহরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা শিশুটিকে পানি থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অবহেলায় রাখা একটি কুকুর দেখতে পান তাঁরা। এ ঘটনায় শিশুর প্রতি অবহেলা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে ডেলটোনা শহরের একটি রিটেনশন পন্ড বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশনের জন্য তৈরি জলাধারের কাছে অভিভাবক ছাড়া একটি শিশুকে ঘুরতে দেখেন স্থানীয় কেউ। বিষয়টি জরুরি সেবায় জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সেখানে পৌঁছে চার বছর বয়সী শিশুটিকে পানির মধ্যে দেখতে পান তাঁরা। কর্মকর্তারা দ্রুত পানিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানে শিশুটি নিরাপদে পানি থেকে বেরিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধার করার পর তার বাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে সে কতক্ষণ পানিতে ছিল, কীভাবে একা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল কিংবা কেউ তাকে জলাধারের কাছে রেখে গিয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে কর্মকর্তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান বলে জানিয়েছে ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ প্রাণীর মলমূত্র জমে ছিল। পাশাপাশি তেলাপোকার উপদ্রব এবং ছত্রাক বা মোল্ডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের মতে, বাড়িটির পরিবেশ শিশুর নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য উদ্বেগজনক ছিল। তদন্তের সময় বাড়িতে একটি খাঁচাবন্দি কুকুরও দেখতে পান কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, কুকুরটিকে যথাযথ পরিচর্যা ছাড়াই রাখা হয়েছিল। পরে ডেলটোনা অ্যানিমেল কন্ট্রোল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুকুরটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ২৫ বছর বয়সী ফারমিন মেদ্রানো-পেরেজ এবং মা ২৪ বছর বয়সী জেনেইক্সা রদ্রিগেজ-ক্রেসপোকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে শিশুর প্রতি অবহেলা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের একজন দাদা-দাদি বা নানা-নানির হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। সংস্থাটি শিশুটির নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিবেচনা করবে। ফ্লোরিডায় শিশুদের নিরাপত্তা ও পরিচর্যার দায়িত্ব সম্পর্কে আইন রয়েছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুদের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে রাখা, যেখানে গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা শিশু অবহেলার অভিযোগের ভিত্তি হতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনায় অপরাধের দায় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি, প্রমাণ ও আইনি শর্ত বিবেচনা করতে হয়। রিটেনশন পন্ড মূলত বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হয়। ফ্লোরিডার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এ ধরনের জলাধার রয়েছে। এগুলোর পানি কখনো অগভীর হলেও কোথাও গভীর হতে পারে। ফলে ছোট শিশুরা অভিভাবক ছাড়া এসব জলাধারের কাছে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে চার বছরের মতো কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দার সতর্কতা এবং শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সে কীভাবে একা জলাধারে পৌঁছেছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। একই সঙ্গে বাড়িতে পাওয়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও প্রাণীর প্রতি অবহেলার অভিযোগও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হবে। ফ্লোরিডার ডেলটোনা শহরে চার বছরের শিশুকে পানির মধ্যে একা অবস্থায় পাওয়ার ঘটনা শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের অন্য সদস্যের হেফাজতে দিয়েছে এবং তার মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সূত্র: ফক্স৩৫ অরল্যান্ডো ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য;
প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হয়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন নাজমুল ইসলাম বাপ্পি। এরপর ইন্টারনেট, ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিজের বাড়িতেই ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন। গাজীপুরের টঙ্গীতে সেই গোপন কারখানার সন্ধান পেয়ে ৩২ বছর বয়সী বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযানে ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে টঙ্গীর পাগার আলেক টেক এলাকার একটি আবাসিক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার বাপ্পি ওই এলাকার বাসিন্দা তাইজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাপ্পি দাবি করেছেন, কয়েক বছর আগে প্রবাস থেকে দেশে ফেরার পর এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে সেই সম্পর্কে আঘাত পেয়ে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন তিনি। এরপর নিজেই ইয়াবা তৈরির পরিকল্পনা করেন। বাপ্পির ভাষ্য অনুযায়ী, মাদক তৈরির বিষয়ে তাঁর আগে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছিল না। ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তিনি ইয়াবা তৈরির উদ্যোগ নেন। তবে প্রেমের সম্পর্কে ব্যর্থ হওয়ার সঙ্গে তাঁর মাদক তৈরির পরিকল্পনার সম্পর্কটি তাঁর নিজের দাবি। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাকছুদুল আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরে বাপ্পির বাড়ির ওপর নজরদারি করছিল পুলিশ। সেখানে মাদক তৈরির কার্যক্রম চলার তথ্য পাওয়ার পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বাড়িটির ভেতরে একটি গোপন কক্ষ ও পরীক্ষাগারের সন্ধান পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, কক্ষটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে বাইরে থেকে সহজে সেখানে প্রবেশ করা না যায়। সেখানে বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও মাদক তৈরির সরঞ্জাম মজুত ছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাপ্পি দীর্ঘদিন ধরে অনলাইন থেকে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। ইয়াবা তৈরির উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণও সংগ্রহ করেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব রাসায়নিক উপাদান সংগ্রহের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে উদ্ধার করা সরঞ্জাম ব্যবহার করে কত পরিমাণ ইয়াবা তৈরি করা হয়েছিল কিংবা ইতিমধ্যে কোনো মাদক বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বাপ্পি কয়েক বছর আগে বিদেশ থেকে দেশে ফেরেন। এরপর তাঁর জীবনযাপনে পরিবর্তন আসে এবং তিনি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েন বলে স্থানীয়দের দাবি। এদিকে টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. এরশাদুল রহমান শনিবার সকালে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক তৈরির সরঞ্জাম ও রাসায়নিক উপাদান জব্দ করা হয়েছে। পুলিশের এই অভিযানের পর আবাসিক এলাকার একটি বাড়িতে গোপনে মাদক তৈরির উদ্যোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। বিশেষ করে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এমন কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। ঘটনায় বাপ্পির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়নি। গ্রেপ্তারের পর বাপ্পির দেওয়া বক্তব্যে প্রেমে ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে এলেও পুলিশের তদন্তের মূল বিষয় হচ্ছে মাদক তৈরির উদ্দেশ্যে সরঞ্জাম সংগ্রহ, গোপন কারখানা স্থাপন এবং সম্ভাব্য উৎপাদন কার্যক্রম। তদন্তের মাধ্যমে উদ্ধার করা রাসায়নিক উপাদানের প্রকৃতি, মাদক তৈরির কার্যক্রম কত দূর এগিয়েছিল এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেসব বিষয় পরিষ্কার হওয়ার কথা রয়েছে। সূত্র: আর টিভি
ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠনের অচলাবস্থা কাটাতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকবেন নেতানিয়াহু। এরপর বাকি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন আইজেনকোট। তবে এটি এখনো কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা নয়। বরং নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের একটি সম্ভাব্য পরিকল্পনা। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৭ অক্টোবরের পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে না পারায় জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির কয়েকজন নেতা আইজেনকোটকে সরকারে আনার উদ্যোগ নিচ্ছেন। প্রস্তাবের একটি সংস্করণে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু প্রথম দুই বছর ক্ষমতায় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে চান। বিশেষ করে ইরানসংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় নেতৃত্ব দেওয়ার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক সহযোগীরা গুরুত্ব দিচ্ছেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব আইজেনকোটের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিকল্প আরেকটি প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী পদ ভাগাভাগির পরিবর্তে আইজেনকোটকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। নেতানিয়াহু শেষ পর্যন্ত কোন প্রস্তাবে সম্মত হবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এদিকে ইসরায়েলের চ্যানেল ১৪-এর প্রতিবেদনে আরও একটি সম্ভাব্য সমঝোতার কথা উঠে এসেছে। সেখানে দাবি করা হয়, প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ এমন একটি ব্যবস্থা এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যার আওতায় নেতানিয়াহু দুই বছর প্রধানমন্ত্রী থাকার পর রাজনীতি থেকে অবসর নেবেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতির মামলাগুলোতে পূর্ণ ক্ষমা পাবেন। তবে প্রেসিডেন্ট হারজগের কার্যালয় এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। কার্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিবেদনটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী ফলাফল হাতে পাওয়ার পর সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করবেন প্রেসিডেন্ট। নতুন সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা। ইসরায়েলের ১২০ সদস্যের পার্লামেন্ট নেসেটে সরকার গঠনের জন্য অন্তত ৬১টি আসনের সমর্থন প্রয়োজন। কিন্তু নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট কিংবা আইজেনকোটের বিরোধী জোট, কোনো পক্ষই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। নির্বাচনের পর প্রকাশিত ফলাফলে নেতানিয়াহুর জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটও এককভাবে সরকার গঠনের অবস্থানে নেই। আরব দলগুলোর উল্লেখযোগ্য আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের রাজনৈতিক হিসাব আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা সামনে এসেছে। তবে প্রস্তাবিত সরকারে কারা অংশ নেবেন, তা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে। নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ মহলের একটি পরিকল্পনায় আইজেনকোটের পাশাপাশি ইতামার বেন গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচকে সরকারে রাখার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে অতি রক্ষণশীল ইহুদি ধর্মীয় দলগুলোকে প্রাথমিক পর্যায়ে জোটের বাইরে রাখার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে। তবে ক্ষমতা ভাগাভাগির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাধা আইজেনকোটের নিজের অবস্থান। তিনি আগেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কোনো সরকারে যোগ দেবেন না। এমনকি পালাক্রমে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যবস্থাতেও তিনি অংশ নিতে রাজি নন। ২১ অক্টোবর ইসরায়েলি রেডিও ১০৩ এফএমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইজেনকোট বলেন, নেতানিয়াহুর অধীনে ক্ষমতা ভাগাভাগির কোনো ব্যবস্থায় তিনি থাকবেন না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন বলেও জানান তিনি। আইজেনকোটের আপত্তির অন্যতম কারণ ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা ঘিরে নেতানিয়াহুর সরকারের ভূমিকা। ওই হামলার সময়কার নিরাপত্তা ব্যর্থতার রাজনৈতিক দায় নেতানিয়াহুর ওপর বর্তায় বলে মনে করেন তিনি। সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট অবশ্য এর আগে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জরুরি সরকারে অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরুর পর বেনি গ্যান্টজের সঙ্গে তিনি সেই সরকারে যোগ দেন। পরে ২০২৪ সালের জুনে যুদ্ধ পরিচালনা ও যুদ্ধপরবর্তী পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের কারণে তাঁরা সরকার থেকে বেরিয়ে আসেন। নেতানিয়াহুর জন্য নতুন সরকার গঠন করতে না পারার ঝুঁকিও রয়েছে। কোনো পক্ষ সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে ইসরায়েলকে আবার নির্বাচনের দিকে যেতে হতে পারে। অতীতেও দীর্ঘ রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে দেশটিতে অল্প সময়ের ব্যবধানে একাধিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব রাজনৈতিক আলোচনায় থাকলেও দুই নেতার মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তির ঘোষণা আসেনি। আইজেনকোট তাঁর আগের অবস্থান পরিবর্তন করবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত। ফলে প্রথম দুই বছর নেতানিয়াহু এবং পরবর্তী সময়ে আইজেনকোটের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিষয়টি আপাতত একটি রাজনৈতিক প্রস্তাব হিসেবেই রয়েছে। নতুন সরকার গঠনের আলোচনা কোন দিকে এগোয়, তার ওপর নির্ভর করছে ইসরায়েলের পরবর্তী রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিতে নিহত ১৫ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর মাকে জরুরি ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিতে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি শনিবার (৩১ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনে কথা বলার পর এ তথ্য জানিয়েছেন। নিহত শিক্ষার্থী জাভিটস ফ্রিমপংয়ের মা বর্তমানে আফ্রিকার দেশ ঘানায় অবস্থান করছেন। ছেলেকে শেষবারের মতো দেখতে এবং বিদায় জানাতে তাঁকে নিউইয়র্কে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে স্কুলে যাওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হয় জাভিটস ফ্রিমপং। স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টার কিছু আগে এ ঘটনা ঘটে। গুলি তার পেটে লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মেয়র জোহরান মামদানি জানান, তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন। তাঁর অনুরোধের পর ট্রাম্প নিহত শিক্ষার্থীর মাকে দ্রুত ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। মামদানি বলেন, সন্তান হত্যার বেদনা কোনো মা-বাবারই সহ্য করার কথা নয়। বিশেষ করে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থান করে এমন খবর পাওয়া আরও কঠিন। জাভিটসের মায়ের নিজের ছেলেকে শেষবারের মতো বিদায় জানানোর সুযোগ পাওয়া উচিত। মেয়র আরও জানান, এই ঘটনায় পুরো নিউইয়র্ক সিটি শোকাহত। নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তাঁর মাকে যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে ভিসা দেওয়ার সিদ্ধান্তের আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। ফলে ট্রাম্পের সম্মতির বিষয়টি মেয়র মামদানির বক্তব্যের ভিত্তিতেই জানা গেছে। নিহত জাভিটস ফ্রিমপংয়ের পরিবার মূলত ঘানার বাসিন্দা। প্রায় এক বছর আগে বাবার সঙ্গে বসবাস এবং নতুন জীবন শুরু করার উদ্দেশ্যে সে যুক্তরাষ্ট্রে আসে। তার বাবা থমাস ফ্রিমপং নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে থাকেন। অন্যদিকে মা ডরিস আদু গিয়ামফি ঘানাতেই অবস্থান করছেন। ছেলের মৃত্যুর পর তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে আনার জন্য ভিসার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ শুরু হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে ব্রঙ্কসের ক্রোটোনা পার্কের কাছে গুলিবিদ্ধ হয় জাভিটস। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের কর্মকর্তারা। আহত অবস্থায় তাকে সেন্ট বার্নাবাস হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। শনিবার পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তারের খবর পাওয়া যায়নি। জাভিটসের বাবা থমাস ফ্রিমপং সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৃত্যুর কয়েক দিন আগে তাঁর ছেলে স্কুলে অন্য শিক্ষার্থীদের হয়রানির শিকার হচ্ছিল। স্কুলের প্রিন্সিপাল তাঁকে জানিয়েছিলেন, দুই শিক্ষার্থী জাভিটসকে বিরক্ত করায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর ছেলের সঙ্গে কথা বলেছিলেন তিনি। তখন জাভিটস বাবাকে জানিয়েছিল, সে ভালো আছে। তবে স্কুলে হয়রানির অভিযোগের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পুলিশ নিশ্চিত করেনি। তদন্তকারীরা এখনো হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি। ফলে স্কুলে হয়রানির ঘটনাকে হত্যাকাণ্ডের নিশ্চিত কারণ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রঙ্কসের ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান রিচি টরেস। তিনি জানান, জাভিটসের সামনে পুরো জীবন পড়ে ছিল। একটি শিশুর স্কুলে যাওয়ার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ব্রঙ্কসের প্রতিটি শিশুর নিরাপদে স্কুলে যাওয়া এবং বাড়ি ফেরার অধিকার রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। টরেস নিহত শিক্ষার্থীর বাবা থমাস ফ্রিমপংয়ের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে নিউইয়র্কের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ হত্যাকাণ্ডের পর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শুক্রবার ব্রঙ্কসে নিহত শিক্ষার্থীর স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে পরিবারের সদস্য, ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন। সেখানে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। এদিকে ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্যাম ওকুদজেতো আবলাকওয়া জানিয়েছেন, নিউইয়র্কে অবস্থানরত ঘানার কর্মকর্তারা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নিহত শিক্ষার্থীর মায়ের ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়ায়ও সহায়তা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে ঘানা সরকার। ঘানার পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেয়র মামদানি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে নিহত শিক্ষার্থীর মা ঠিক কবে যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছাবেন, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভিসা আবেদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় ভ্রমণব্যবস্থার ওপর তাঁর যাত্রার সময় নির্ভর করবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ও ভিসা নীতিতে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপের মধ্যেই এই মানবিক উদ্যোগের খবর সামনে এসেছে। তবে মেয়র মামদানির ঘোষণা অনুযায়ী, নিহত শিক্ষার্থীর মায়ের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সম্মত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এদিকে জাভিটস ফ্রিমপং হত্যাকাণ্ডের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ এখনো হামলাকারীদের গ্রেপ্তার কিংবা হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করেনি। পরিবারের সদস্যরা একদিকে হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রত্যাশা করছেন, অন্যদিকে ছেলেকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে ঘানা থেকে মায়ের নিউইয়র্কে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেই ক্রেডিট কার্ড পাওয়া সম্ভব নয়, এমন ধারণা নিয়ে অনেক প্রবাসী বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন। অথচ দেশটিতে নতুন ক্রেডিট ব্যবহারকারী, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে এমন ব্যক্তিদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ক্রেডিট কার্ডের সুযোগ। কিছু কার্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর না থাকলেও আবেদন করা যায়। এমনকি অনেক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন করার ব্যবস্থা রেখেছে। তবে আবেদন করলেই কার্ড পাওয়া নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর বয়স, আয়, পরিচয় যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্তের ওপর অনুমোদন নির্ভর করে। সম্প্রতি ভার্জিনিয়া থেকে এক বাংলাদেশি প্রবাসী ক্রেডিট কার্ড নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানান আমেরিকা বাংলায়। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে বসবাস করছেন এবং গ্রিন কার্ডধারী। কিন্তু এখনো কোনো ক্রেডিট কার্ড নিতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় একটি ব্যাংকে গিয়ে ক্রেডিট কার্ডের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁকে ৫০০ ডলার দিতে হবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে ওই অর্থ কার্ডের ফি, নাকি সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের নিরাপত্তা জামানত ছিল, তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফলে বিষয়টি না বুঝতে পেরে তিনি আর আবেদন করেননি। তাঁর এই অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, সঠিক তথ্যের অভাব বা ভুল বোঝাবুঝির কারণে অনেক নতুন প্রবাসী ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার সুযোগ সম্পর্কে জানতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রে নতুনদের জন্য একটি পরিচিত বিকল্প হলো সিকিউরড ক্রেডিট কার্ড। সাধারণ ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্রাহকের ক্রেডিট ইতিহাস ও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করে ঋণসীমা নির্ধারণ করে। কিন্তু সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের ক্ষেত্রে শুরুতে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ নিরাপত্তা জামানত হিসেবে জমা রাখতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই জামানতের পরিমাণ অনুযায়ী কার্ডের ক্রেডিট লিমিট নির্ধারিত হয়। উদাহরণ হিসেবে, কোনো কার্ডের জন্য ২০০ বা ৫০০ ডলার জামানত জমা রাখতে হতে পারে। এই অর্থ সাধারণত ব্যাংকের কাছে নিরাপত্তা হিসেবে থাকে, এটি সরাসরি বার্ষিক ফি নয়। কার্ডের শর্ত অনুযায়ী অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে বকেয়া পরিশোধ করলে অথবা ব্যাংক কার্ডটি সাধারণ ক্রেডিট কার্ডে উন্নীত করলে জামানতের অর্থ ফেরত পাওয়া যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্যও রয়েছে আলাদা সুযোগ। যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। কিছু স্টুডেন্ট কার্ডের ক্ষেত্রে আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ডিসকভারসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য এমন কার্ডের ব্যবস্থা রেখেছে, যেগুলোর মাধ্যমে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার ও সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তোলার পাশাপাশি ক্রেডিট ইতিহাস তৈরি করা সম্ভব। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেই কার্ড অনুমোদন হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আবেদনকারীর আয়, বয়স এবং অন্যান্য যোগ্যতা যাচাই করা হয়। ২১ বছরের কম বয়সী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বিশেষ নিয়ম রয়েছে। সাধারণত তাঁদের নিজস্ব আয় বা আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ দিতে হয়। অন্যথায় ২১ বছর বা তার বেশি বয়সী একজন যোগ্য ব্যক্তিকে কো-সাইনার হিসেবে দায়িত্ব নিতে হতে পারে। অন্যদিকে, ২১ বছর বা তার বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ব্যাংক আবেদনকারীর বর্তমান বা প্রত্যাশিত আয় এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা বিবেচনা করে। তাই শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কার্ডের বয়স ও আয়ের শর্ত জেনে নেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্যও যুক্তরাষ্ট্রে ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার কিছু সুযোগ রয়েছে। তবে তাঁদের ক্ষেত্রে কার্ডের ধরন ও আবেদনপ্রক্রিয়া ভিন্ন হতে পারে। অনেক ব্যাংক সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা এসএসএন চায়। কিছু প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট শর্তে আইটিআইএন বা অন্যান্য পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য গ্রহণ করতে পারে। আবার কিছু বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবেদনপ্রক্রিয়া রাখে। কোন প্রতিষ্ঠান কী ধরনের পরিচয়পত্র গ্রহণ করে, তা আগে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হওয়ার কারণে আবেদন বাতিল হবে, এমন নয়; আবার আবেদন করলেই অনুমোদন পাওয়া যাবে, এমন নিশ্চয়তাও নেই। ক্রেডিট কার্ডের আবেদন করতে সব সময় ব্যাংকের শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করে। সাধারণত আবেদনকারীর নাম, জন্মতারিখ, যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকানা, ফোন নম্বর, আয়ের তথ্য এবং সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে হয়। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্যও চাওয়া হতে পারে। আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান দ্রুত প্রাথমিক সিদ্ধান্ত জানায়। তবে অতিরিক্ত পরিচয় যাচাই বা আর্থিক তথ্য পর্যালোচনার প্রয়োজন হলে অনুমোদন পেতে সময় লাগতে পারে। নতুন গ্রাহকরা ডিসকভার, ক্যাপিটাল ওয়ান এবং ব্যাংক অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ক্রেডিট কার্ডের শর্ত যাচাই করতে পারেন। ডিসকভারের কিছু স্টুডেন্ট ও সিকিউরড কার্ডে আবেদন করার জন্য আগে থেকে ক্রেডিট স্কোর থাকা বাধ্যতামূলক নয়। ক্যাপিটাল ওয়ানের সিকিউরড কার্ড নতুন বা সীমিত ক্রেডিট ইতিহাস রয়েছে এমন গ্রাহকদের জন্য একটি বিকল্প। ব্যাংক অব আমেরিকাসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কার্ডের ক্ষেত্রেও আবেদনকারীর যোগ্যতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন করা যায়। তবে প্রতিটি কার্ডের বার্ষিক ফি, সুদের হার, জামানত এবং আবেদনসংক্রান্ত শর্ত আলাদা। ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখা জরুরি। কার্ডের বার্ষিক ফি আছে কি না, সুদের হার কত, বিল পরিশোধের শেষ তারিখ কখন এবং দেরিতে বিল পরিশোধ করলে কত জরিমানা দিতে হবে, তা জেনে নিতে হবে। সিকিউরড কার্ডের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জামানত কত এবং কোন শর্তে তা ফেরত পাওয়া যাবে, সেটিও পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া উচিত। আবেদন করার সময় ব্যাংক ক্রেডিট রিপোর্ট যাচাই করলে ক্রেডিট স্কোরে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে। তাই একসঙ্গে অনেকগুলো কার্ডের জন্য আবেদন না করে নিজের যোগ্যতা অনুযায়ী উপযুক্ত কার্ড নির্বাচন করাই ভালো। ক্রেডিট কার্ড পাওয়ার পর দায়িত্বশীল ব্যবহার আরও গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি মাসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করতে হবে। সম্ভব হলে পুরো বিল পরিশোধ করা উচিত, যাতে সুদের অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে শুধু ক্রেডিট স্কোর বাড়ানোর চেষ্টা করা ঠিক নয়। নিয়মিত ও সময়মতো বিল পরিশোধ এবং সীমার মধ্যে কার্ড ব্যবহার যুক্তরাষ্ট্রে ভালো ক্রেডিট ইতিহাস গড়ে তুলতে সহায়তা করে। ভবিষ্যতে গাড়ি কেনার ঋণ, মর্টগেজ কিংবা বাড়ি ভাড়ার আবেদনের সময়ও ক্রেডিট ইতিহাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে নতুন এসেছেন বলে ক্রেডিট কার্ডের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করার প্রয়োজন নেই। নিজের বয়স, আয়, পরিচয়পত্র এবং আর্থিক পরিস্থিতি অনুযায়ী স্টুডেন্ট বা সিকিউরড ক্রেডিট কার্ডের মতো বিকল্প খুঁজে দেখা যেতে পারে। সঠিক তথ্য জেনে অনলাইনে আবেদন করলে ঘরে বসেই প্রক্রিয়াটি শুরু করা সম্ভব। তবে কার্ড পাওয়ার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেটি দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা এবং সময়মতো বিল পরিশোধের অভ্যাস গড়ে তোলা।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের যোগাযোগ আরও জোরদার করা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এর সংবাদ সম্মেলন। আগামী ১ নভেম্বর দুপুর ১২টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে (সাবেক ভিআইপি লাউঞ্জ) এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এনআরবি ওয়ার্ল্ডের পক্ষ থেকে পাঠানো ২৬ অক্টোবরের আমন্ত্রণপত্রে জানানো হয়েছে, আগামী ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর ঢাকার শেরাটন হোটেলে দুই দিনব্যাপী এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬ অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা, পেশাজীবী এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেবেন। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই সম্মেলনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়বে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যবসায়িক সম্পর্ক, বিনিয়োগের সুযোগ এবং পারস্পরিক জ্ঞান বিনিময়ের ক্ষেত্র আরও সম্প্রসারিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে এনআরবি ওয়ার্ল্ড সামিট ২০২৬-এর মূল লক্ষ্য, কর্মসূচি এবং গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনের পরিকল্পনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে গণমাধ্যমকে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হবে। সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও সংবাদ পরিবেশনের জন্য বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে আয়োজক সংগঠনটি। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিনিধি ও আলোকচিত্রী অথবা ক্যামেরাপারসন পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। এনআরবি ওয়ার্ল্ডের আঞ্চলিক পরিচালক সুমাইয়া জামানের স্বাক্ষরিত আমন্ত্রণপত্রে সংগঠনটির পক্ষে উপস্থিতি ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। আমন্ত্রণপত্রে এনআরবি ওয়ার্ল্ডের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান তরিক, মহাসচিব মোয়াজ্জেম এইচ. চৌধুরী এবং প্রতিষ্ঠাতা এনামুল হক এনামের নাম উল্লেখ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয়ের (Asylum) আবেদন করেছেন, কিন্তু এখনো গ্রিন কার্ড পাননি। এমন অবস্থায় কি বাড়ি কেনা সম্ভব? এ নিয়ে অনেক বাংলাদেশি অভিবাসীর মধ্যে রয়েছে নানা প্রশ্ন ও সংশয়। তবে অ্যাসাইলাম আবেদন চলমান থাকলেও নির্দিষ্ট যোগ্যতা, বৈধ কাগজপত্র এবং আর্থিক সক্ষমতা থাকলে কিছু অর্থায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে বাড়ি কেনার সুযোগ থাকতে পারে। চাকরিজীবী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ীদের জন্যও রয়েছে আয়ের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন বিকল্প। ইজারা হোম ফাইন্যান্সিংয়ের ঋণ কর্মকর্তা খন্দকার জামিল জানিয়েছেন, অ্যাসাইলাম আবেদনকারী এমন একাধিক গ্রাহকের বাড়ি কেনার অর্থায়ন করেছেন তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর আয়, আর্থিক সক্ষমতা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুরুত্বপূর্ণ। শুধু গ্রিন কার্ড নেই বলেই যে কেউ বাড়ি কেনার অর্থায়নের জন্য অযোগ্য হবেন, বিষয়টি এমন নয়। তবে প্রত্যেক আবেদনকারীর পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করা হয়। খন্দকার জামিল জানান, যাঁরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন, তাঁদের জন্য বেতনের ভিত্তিতে অর্থায়নের সুযোগ থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে পেচেক, পে-স্টাব, ডব্লিউ-২ (W-2) এবং চাকরির অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মাধ্যমে আয় যাচাই করা হয়। নিয়মিত চাকরি ও পর্যাপ্ত আয় থাকলে অন্যান্য শর্ত পূরণ সাপেক্ষে তাঁরা বাড়ি কেনার জন্য আবেদন করতে পারেন। অন্যদিকে, যাঁরা নিজস্ব ব্যবসা পরিচালনা করেন, তাঁদের জন্যও রয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা। অনেক ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রি বা ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের পরিমাণ ভালো হলেও ব্যবসায়িক খরচ বাদ দেওয়ার পর ট্যাক্স রিটার্নে নিট মুনাফা তুলনামূলক কম থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ব্যাংক স্টেটমেন্টভিত্তিক অর্থায়ন কর্মসূচি বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যাংক স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে ব্যবসার লেনদেন, আয়ের ধারাবাহিকতা এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়। তবে ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া মোট অর্থকেই ব্যক্তিগত আয় হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। ব্যবসার প্রকৃতি, পরিচালন ব্যয়, অর্থের উৎস এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য যাচাই করে ঋণদাতা গ্রহণযোগ্য আয় নির্ধারণ করেন। এ কারণে ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ব্যাংক লেনদেনের স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত মর্টগেজ ব্যবস্থাতেও অ-মার্কিন নাগরিকদের জন্য ঋণ পাওয়ার নীতিমালা রয়েছে। ফ্যানি মে (Fannie Mae)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত স্থায়ী ও অস্থায়ী বাসিন্দারা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করলে মর্টগেজের জন্য বিবেচিত হতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর বা আইটিআইএন এবং বৈধ অভিবাসন অবস্থানের প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করা হয়। তবে সব ঋণদাতার নীতিমালা এক নয় এবং আবেদনকারীর অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থার ওপর যোগ্যতা নির্ভর করতে পারে। খন্দকার জামিলের পরামর্শ, যাঁরা অ্যাসাইলাম আবেদন করেছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা নিজেদের আর্থিক ও অভিবাসনসংক্রান্ত পরিস্থিতি নিয়ে অভিজ্ঞ ঋণ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন। এতে চাকরির আয়, ব্যবসার ব্যাংক স্টেটমেন্ট কিংবা অন্যান্য আর্থিক নথির ভিত্তিতে কোন ধরনের অর্থায়ন কর্মসূচির জন্য তাঁরা বিবেচিত হতে পারেন, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার স্বপ্ন অনেক অভিবাসীরই রয়েছে। অ্যাসাইলাম আবেদন চলমান থাকায় সেই স্বপ্ন থেকে আগেভাগে সরে দাঁড়ানোর প্রয়োজন নেই। তবে কোনো অর্থায়নের আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শর্ত, অভিবাসনসংক্রান্ত যোগ্যতা এবং সম্পূর্ণ আর্থিক বিষয়গুলো যাচাই করে নেওয়া জরুরি। যাঁরা অ্যাসাইলাম আবেদনকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার অর্থায়ন সম্পর্কে জানতে আগ্রহী, তাঁরা ইজারা হোম ফাইন্যান্সিংয়ের ঋণ কর্মকর্তা খন্দকার জামিলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ফোন করুন: +1 (678) 524-9841।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে চার বছর বয়সী এক শিশুকে বাড়ির বাইরে পুকুরের পানিতে একা অবস্থায় পাওয়ার পর তার মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে ডেলটোনা শহরে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা শিশুটিকে পানি থেকে নিরাপদে উদ্ধার করেন। পরে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও অবহেলায় রাখা একটি কুকুর দেখতে পান তাঁরা। এ ঘটনায় শিশুর প্রতি অবহেলা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগে মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকালে ডেলটোনা শহরের একটি রিটেনশন পন্ড বা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও নিষ্কাশনের জন্য তৈরি জলাধারের কাছে অভিভাবক ছাড়া একটি শিশুকে ঘুরতে দেখেন স্থানীয় কেউ। বিষয়টি জরুরি সেবায় জানানো হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। সেখানে পৌঁছে চার বছর বয়সী শিশুটিকে পানির মধ্যে দেখতে পান তাঁরা। কর্মকর্তারা দ্রুত পানিতে নেমে শিশুটিকে উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানে শিশুটি নিরাপদে পানি থেকে বেরিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে উদ্ধার করার পর তার বাড়ির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। তবে সে কতক্ষণ পানিতে ছিল, কীভাবে একা বাড়ি থেকে বের হয়েছিল কিংবা কেউ তাকে জলাধারের কাছে রেখে গিয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পরে শিশুটির বাড়িতে গিয়ে কর্মকর্তারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখতে পান বলে জানিয়েছে ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির বিভিন্ন স্থানে বিপুল পরিমাণ প্রাণীর মলমূত্র জমে ছিল। পাশাপাশি তেলাপোকার উপদ্রব এবং ছত্রাক বা মোল্ডের উপস্থিতি পাওয়া যায়। কর্মকর্তাদের মতে, বাড়িটির পরিবেশ শিশুর নিরাপত্তা ও সুস্থতার জন্য উদ্বেগজনক ছিল। তদন্তের সময় বাড়িতে একটি খাঁচাবন্দি কুকুরও দেখতে পান কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, কুকুরটিকে যথাযথ পরিচর্যা ছাড়াই রাখা হয়েছিল। পরে ডেলটোনা অ্যানিমেল কন্ট্রোল বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে কুকুরটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ২৫ বছর বয়সী ফারমিন মেদ্রানো-পেরেজ এবং মা ২৪ বছর বয়সী জেনেইক্সা রদ্রিগেজ-ক্রেসপোকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধে শিশুর প্রতি অবহেলা এবং প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে আদালতে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি। শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে উদ্ধারের পর পরিবারের একজন দাদা-দাদি বা নানা-নানির হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ফ্লোরিডা ডিপার্টমেন্ট অব চিলড্রেন অ্যান্ড ফ্যামিলিজকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে। সংস্থাটি শিশুটির নিরাপত্তা ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা বিবেচনা করবে। ফ্লোরিডায় শিশুদের নিরাপত্তা ও পরিচর্যার দায়িত্ব সম্পর্কে আইন রয়েছে। বিশেষ করে অল্প বয়সী শিশুদের পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন পরিস্থিতিতে রাখা, যেখানে গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা শিশু অবহেলার অভিযোগের ভিত্তি হতে পারে। তবে প্রতিটি ঘটনায় অপরাধের দায় নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পরিস্থিতি, প্রমাণ ও আইনি শর্ত বিবেচনা করতে হয়। রিটেনশন পন্ড মূলত বৃষ্টির পানি ধরে রাখা এবং জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরি করা হয়। ফ্লোরিডার বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এ ধরনের জলাধার রয়েছে। এগুলোর পানি কখনো অগভীর হলেও কোথাও গভীর হতে পারে। ফলে ছোট শিশুরা অভিভাবক ছাড়া এসব জলাধারের কাছে গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। বিশেষ করে চার বছরের মতো কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে নিয়মিত নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দার সতর্কতা এবং শেরিফ কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত পদক্ষেপে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে সে কীভাবে একা জলাধারে পৌঁছেছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। একই সঙ্গে বাড়িতে পাওয়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও প্রাণীর প্রতি অবহেলার অভিযোগও বিচারিক প্রক্রিয়ায় পর্যালোচনা করা হবে। ফ্লোরিডার ডেলটোনা শহরে চার বছরের শিশুকে পানির মধ্যে একা অবস্থায় পাওয়ার ঘটনা শিশু নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবারের অন্য সদস্যের হেফাজতে দিয়েছে এবং তার মা-বাবাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি বিভাগ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে। সূত্র: ফক্স৩৫ অরল্যান্ডো ভলুসিয়া কাউন্টি শেরিফ কার্যালয়ের তথ্য;
যুক্তরাষ্ট্রের এক পরিবারের আড়াই বছরের শিশুর ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহ একসময় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতে খেলনা ডাইনোসর নিয়ে তার উচ্ছ্বাসকে স্বাভাবিক শিশুসুলভ আনন্দ হিসেবেই দেখেছিলেন বাবা-মা। কিন্তু ধীরে ধীরে সেই আগ্রহ তার দৈনন্দিন আচরণে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। ডাইনোসরের মতো গর্জন, পা দিয়ে মেঝেতে আঘাত করা এবং পরিবারের সদস্যদের মারার মতো আচরণ করতে থাকে সে। একপর্যায়ে খেলনা ডাইনোসর ছুড়ে মেরে তার দাদার গাল কেটে দেয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেন শিশুটির বাবা-মা। নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটির নাম সাবার। তার মা এলিজা কারাজাহ জানান, বসন্তকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আনন্দ দিতে বাবা বালপ্রিত ১৫টি ছোট প্লাস্টিকের ডাইনোসর খেলনা কিনে আনেন। এরপর থেকেই ডাইনোসরের প্রতি তার গভীর আগ্রহ তৈরি হয়। খেলনাগুলো সব সময় সঙ্গে রাখত সে। ঘরের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়ার সময়ও ১৫টি ডাইনোসরই সঙ্গে নিয়ে যেত। পরে ডাইনোসরের ছবি আঁকা পোশাক পরা, এ ধরনের সিনেমা দেখা এবং ডাইনোসর নিয়ে তথ্যচিত্র দেখার প্রতিও তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। শিশুটির মা বলেন, প্রথম দিকে বিষয়টি তাদের কাছে বেশ মজার মনে হয়েছিল। ডাইনোসর দেখলেই সাবার আনন্দে মেতে উঠত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার আগ্রহ এতটাই বেড়ে যায় যে টেলিভিশনে অন্য কিছু দেখতেই চাইত না। ডাইনোসরবিষয়ক সিনেমা, তথ্যচিত্র ও ইউটিউব ভিডিওই হয়ে ওঠে তার পছন্দের একমাত্র বিনোদন। ছোট ভাইয়ের জন্মের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে থাকে। মায়ের অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার সময় বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্যরা শিশুটির দেখাশোনা করছিলেন। এ সময় তার ডাইনোসরবিষয়ক ভিডিও দেখার সুযোগও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে সাবার শুধু ডাইনোসরের অভিনয় করেই ক্ষান্ত থাকত না, খেলনাগুলো পরিবারের সদস্যদের আঘাত করার জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে। প্রথমে খেলনাগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি আঘাত করত। পরে সেগুলো ছুড়ে মারতে থাকে এবং পরিবারের সদস্যদের গায়ে আঘাত করত। একবার একটি উড়ন্ত ডাইনোসরের খেলনা ছুড়ে তার দাদার গাল কেটে দেয়। ঘটনাটির পর পরিবারটি সিদ্ধান্ত নেয়, আপাতত ডাইনোসর নিয়ে সব ধরনের ভিডিও ও অনুষ্ঠান বন্ধ রাখা হবে। এরপর ধীরে ধীরে ধারালো খেলনা, বড় খেলনা এবং ছোট খেলনাগুলোও সরিয়ে ফেলা হয়। শিশু বিকাশ বিশেষজ্ঞ কেইটলিন ব্লাইথের মতে, ছোট শিশুদের কোনো নির্দিষ্ট খেলনা বা বিষয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহ তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এ বয়সে শিশুরা চারপাশের জগৎকে বুঝতে ও বিভিন্ন বিষয় শ্রেণিবদ্ধ করতে শেখে। ডাইনোসরের নাম, আকার ও ধরন সম্পর্কে জানার মধ্য দিয়ে তারা কোনো একটি বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের আনন্দ পেতে পারে। ২০০৭ সালে ‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় ১৭৭ জন অভিভাবকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শিশুর কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ের প্রতি অত্যন্ত তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়। তবে এ ধরনের আগ্রহের বিষয়বস্তু ও স্থায়িত্ব শিশুভেদে ভিন্ন হতে পারে। ব্লাইথ বলেন, ডাইনোসর সেজে গর্জন করা বা পা দিয়ে মেঝেতে আঘাত করা স্বাভাবিক কল্পনাপ্রসূত খেলার অংশ হতে পারে। তবে খেলতে গিয়ে অন্যকে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য নয়। তার মতে, শুধু খেলনা সরিয়ে নিলেই সমস্যার সমাধান হয় না। শিশুটি কেন এমন আচরণ করছে, সেটিও বোঝা জরুরি। বড়দের উচিত শিশুর খেলায় অংশ নেওয়া এবং গল্পের মাধ্যমে তাকে অন্যের প্রতি যত্নশীল আচরণ শেখানো। যেমন, খেলায় কোনো ডাইনোসন আহত হলে অন্য ডাইনোসররা তাকে সাহায্য করছে, এমন গল্প তৈরি করা যেতে পারে। বিশেষজ্ঞের ধারণা, ছোট ভাইয়ের জন্মের পর পরিবারের পরিবেশে বড় পরিবর্তন আসায় সাবারের মধ্যে তৈরি হওয়া অনুভূতি প্রকাশের একটি মাধ্যম হয়ে উঠেছিল ডাইনোসরকেন্দ্রিক খেলা। নিজের আবেগ ভাষায় প্রকাশ করতে না পারায় সে হয়তো গর্জন বা আক্রমণাত্মক আচরণের মাধ্যমে তা প্রকাশ করছিল। তবে এটি বিশেষজ্ঞের সম্ভাব্য ব্যাখ্যা, শিশুটির আচরণের নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়। এলিজা জানান, ডাইনোসরবিষয়ক ভিডিও ও খেলনা থেকে দূরে রাখার পর সাবারের আচরণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এখন সে আগের তুলনায় বেশি কথা বলে এবং নিজের মন খারাপ, আনন্দ বা ভয় পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করতে পারে। ছবি আঁকা, নাচা ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলাধুলাও করছে। মাঝেমধ্যে এখনো ডাইনোসরের মতো গর্জন বা পা দিয়ে আঘাত করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে পরিবারটি তাকে কথার মাধ্যমে অনুভূতি প্রকাশে উৎসাহিত করছে। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আবার ডাইনোসরের খেলনা ফিরিয়ে আনার কথা ভাবছেন তারা। এলিজার মতে, ডাইনোসর নয়, বরং অতিরিক্ত পর্দানির্ভরতা এবং বাড়িতে নতুন শিশুর আগমনের পর পারিবারিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ছেলের আচরণে প্রভাব ফেলেছিল। তাই আপাতত ডাইনোসরবিষয়ক খেলনা ও ভিডিও থেকে দূরে রাখার সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছেন তারা। সূত্র: নিউজউইক, ‘ফ্রন্টিয়ার্স ইন হিউম্যান নিউরোসায়েন্স’ সাময়িকী এবং ‘ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলজি’ সাময়িকী।
কিশোর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন ঝৌ ছুনফেই। দিনে মজুরি পেতেন মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই তিনিই এখন চীনের সবচেয়ে ধনী নারী। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝৌর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ৫৬ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা ১১ বছর পর আবারও চীনের শীর্ষ ধনী নারীর অবস্থান ফিরে পেয়েছেন। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ‘রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬’ তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছেন ঝৌ। তালিকা অনুযায়ী, গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান সম্পদের মালিক হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ঝং হুইজুয়ান রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। এর আগে ২০১৫ সালেও চীনের সবচেয়ে ধনী নারী হয়েছিলেন ঝৌ। এবারের তালিকায় তাঁর সম্পদের হিসাব করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৯৭০ সালে চীনের হুনান প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম ঝৌর। কৈশোরেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যান শেনজেনে। সেখানে একটি কারখানায় ঘড়ির কাচ তৈরির কাজ নেন। প্রতিদিনের মজুরি ছিল প্রায় ১ ডলার ২০ সেন্ট। তবে কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ছাপার প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। ২৩ বছর বয়সে ১৯৯৩ সালে নিজের উদ্যোগে একটি ছোট কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লেন্স টেকনোলজি স্মার্টফোনের পর্দার কাচ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের জন্য কাচের আবরণ সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত লেন্স টেকনোলজির মূল ব্যবসার আয়ের প্রায় অর্ধেক এসেছিল অ্যাপলের কাছ থেকে। ২০১৫ সালের মার্চে শেনজেনের শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তি ঝৌর সম্পদ ও ব্যবসায়িক অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। সে বছরই প্রথমবার চীনের শীর্ষ ধনী নারীর খেতাব পান তিনি। তবে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিরোধ এবং অ্যাপলের বিক্রি নিয়ে উদ্বেগের কারণে লেন্স টেকনোলজির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোনের বাইরেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার এবং রোবট তৈরির সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত হয় তারা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হংকংয়ের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। নতুন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য এই উদ্যোগ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ঝৌর ব্যবসায়িক প্রভাবের প্রতিফলন দেখা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ২০২৬ সালের মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আয়োজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেন তিনি। সেখানে তাঁর আসন ছিল অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মাঝখানে। প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলেও ঝৌ এখন পরিচিত নাম। হুরুনের ২০২৬ সালের তালিকায় চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নিজ উদ্যোগে সম্পদ গড়েছেন, আর ৩৫ শতাংশ উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদের মালিক হয়েছেন। তালিকা প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানটির মতে, চীনের উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাত নারীদের বড় উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সূত্র: হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
রাজনীতি
২০২৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়ার ইঙ্গিত দিলেন হলিউড অভিনেতা ম্যাথিউ ম্যাককনাহে
কারাগারে ফিলিস্তিনি নারীদের বল প্রয়োগ করে হিজাব খুলতে বাধ্য করছে ইসরাইলি বাহিনী
রাশিয়ার দিকে ট্রাম্প, চাপে ইউক্রেন! জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূরত্ব বাড়ছে
সরকারি জালিয়াতির তথ্য দিলেই মিলবে ৩০ হাজার ডলার! নতুন উদ্যোগ ট্রাম্পের
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
জুয়েল সাদাত
বিশ্ব
View moreইরানের নারীদের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের একাংশের নীরবতার সমালোচনা করে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত কানাডীয় নারী পারিশাদ কাভিয়ানি। তাঁর অভিযোগ, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার থাকা আন্দোলনের কিছু সমর্থক ইরানি নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে একইভাবে সরব নন। এমনকি কেউ কেউ ইরানের ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থার পক্ষেও অবস্থান নিচ্ছেন। ফক্স নিউজ ডিজিটালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, দুই বছরের বেশি সময় ধরে যে আন্দোলনের সঙ্গে ছিলেন, সেখানে মানবাধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক আদর্শকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁর মনে হয়েছে। ইরানে জন্ম নেওয়া কাভিয়ানি ১৪ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে কানাডায় চলে যান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানে বেড়ে ওঠার অভিজ্ঞতা ফিলিস্তিন-ইসরায়েল ইস্যু এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি সম্পর্কে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে প্রভাব ফেলেছে। তিনি জানান, একসময় ফিলিস্তিনিদের অধিকারের দাবিতে আয়োজিত মিছিল ও কর্মসূচিতে নিয়মিত অংশ নিতেন। কিন্তু গত কয়েক মাসে সাবেক আন্দোলনসঙ্গীদের কাছ থেকে সমকামীবিদ্বেষ, বর্ণবাদ ও নারীবিদ্বেষী আচরণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসব অভিজ্ঞতাও আন্দোলন থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানান কাভিয়ানি। কাভিয়ানির মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার ব্যক্তিদের ইরানি নারীদের পোশাকের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত অধিকার নিয়েও কথা বলা উচিত। তাঁর অভিযোগ, ইরানের নারীরা নিজেদের পছন্দমতো পোশাক পরার স্বাধীনতা চাইলে আন্দোলনের অনেক সমর্থক নীরব থাকেন। কেউ কেউ আবার ইরানের ক্ষমতাসীন কর্তৃপক্ষের প্রতি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো দেশের বা গোষ্ঠীর জন্য আলাদা মানদণ্ড থাকা উচিত নয়। ইরানে শৈশবের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে কাভিয়ানি বলেন, সেখানে রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যম ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা এবং তাদের সহায়তার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি নিয়মিত তুলে ধরা হতো। কিন্তু দেশের ভেতরে দারিদ্র্য, বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার অসুবিধার মতো সমস্যাগুলোও তিনি দেখেছেন। তাঁর প্রশ্ন, দেশের নাগরিকদের মৌলিক চাহিদা পূরণ না করে বিদেশে সহায়তা পাঠানোর বিষয়টিকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে এসব বক্তব্য তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক মূল্যায়ন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলাকে আন্দোলন থেকে সরে আসার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাঁক হিসেবে উল্লেখ করেন কাভিয়ানি। তাঁর বক্তব্য, ওই হামলার পর কিছু আন্দোলনসমর্থকের প্রতিক্রিয়া তাঁকে হতাশ করে। তিনি মনে করেন, কারও জাতীয়তা বা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে হত্যা, নির্যাতন কিংবা জিম্মি করে রাখার বিষয়টি সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা এবং তাদের জিম্মি করার বিরোধিতা করা উচিত, যে পক্ষই তা করুক না কেন। এ অবস্থানের কারণে আন্দোলনের কিছু মানুষের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ তৈরি হয় বলে জানান তিনি। কাভিয়ানি আরও বলেন, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের কিছু সমর্থকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষে যায় এমন প্রচার ও বক্তব্য দেখে তিনি আরও অস্বস্তি বোধ করেন। তাঁর অভিযোগ, মানবাধিকারের কথা বলা ব্যক্তিদের একটি অংশ নির্যাতন ও নিপীড়নের ঘটনায় বেছে বেছে প্রতিক্রিয়া দেখায়। এ কারণে আন্দোলনটির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততা আর ধরে রাখতে চাননি তিনি। ফক্স নিউজের প্রতিবেদনে কাভিয়ানির বক্তব্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই তাঁর আন্দোলন ছাড়ার কারণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন একটি বিস্তৃত ও বৈচিত্র্যময় রাজনৈতিক-সামাজিক পরিসর। কাভিয়ানির অভিযোগ আন্দোলনের সব সমর্থক বা সংগঠনের অবস্থানকে প্রতিনিধিত্ব করে না। ফিলিস্তিনিদের অধিকার, ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ইরানের নারীদের স্বাধীনতার প্রশ্নগুলো পৃথক হলেও মানবাধিকারের বৃহত্তর আলোচনায় এগুলো পরস্পরবিরোধী নয়। সূত্র: ফক্স নিউজ ডিজিটাল
দক্ষিণ ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি একটি এমকিউএম-১৭০ ড্রোন অক্ষত অবস্থায় আটক করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। শুক্রবার বিকেলে উন্নত ইলেকট্রনিক যুদ্ধব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর সেটি ভূপাতিত করা হয় বলে জানিয়েছে বাহিনীটির মহাকাশ বিভাগ। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে এটি দ্বিতীয়বারের মতো এ ধরনের মার্কিন ড্রোন অক্ষত অবস্থায় তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে। আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ড্রোনটি কেশম দ্বীপের আকাশে শনাক্ত করার পর ইলেকট্রনিক যুদ্ধপ্রযুক্তির মাধ্যমে এর নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়। পরে বাহিনীর সদস্যরা সেটি অক্ষত অবস্থায় জব্দ করেন। তবে ড্রোনটি কী ধরনের নজরদারি কার্যক্রম চালাচ্ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বাহিনীটি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম পার্স টুডে এ খবর প্রকাশ করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালির পশ্চিম অংশে একই মডেলের আরেকটি মার্কিন ড্রোন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছিল আইআরজিসির নৌবাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিট ড্রোনটির দিকনির্ণয় ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিকে নিরাপদে অবতরণ করায়। ড্রোনটি পারস্য উপসাগরীয় উপকূল এবং হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা শনাক্ত করার কাজে নিয়োজিত ছিল বলেও দাবি করে বাহিনীটি। আইআরজিসি নৌবাহিনীর দাবি, ড্রোন থেকে উদ্ধার করা তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এটি পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ উপকূলের একটি দেশ থেকে উড্ডয়ন করেছিল। তবে কোন দেশ থেকে এটি উড়েছিল, তা প্রকাশ করা হয়নি। বৃহস্পতিবারের ড্রোন আটকের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী প্রত্যাখ্যান করেছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স ইরানের বক্তব্যকে মিথ্যা বলে উল্লেখ করেন। শুক্রবার কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের নতুন দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এমকিউএম-১৭০ মডেলের ড্রোনটি যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিফন অ্যারোস্পেস নির্মিত ‘আউটল’ সিরিজের একটি চালকবিহীন আকাশযান। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, এটি মূলত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার পরীক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং আকাশপথে সম্ভাব্য হুমকির অনুকরণে ব্যবহারের জন্য তৈরি। তবে প্রয়োজন অনুযায়ী এতে বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ও ক্যামেরা যুক্ত করা যায়। ফলে ড্রোনটির প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে নিশ্চিত হতে এর নির্দিষ্ট সরঞ্জাম ও মিশনসংক্রান্ত তথ্য জানা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের বড় অংশ এ পথ দিয়ে চলাচল করে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার পাশাপাশি এ অঞ্চলে সামরিক তৎপরতা এবং ড্রোনসংক্রান্ত পাল্টাপাল্টি দাবি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তবে কেশম দ্বীপে ড্রোন আটকের সর্বশেষ দাবির সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সূত্র: পার্স টুডে, আনাদোলু এজেন্সি ও যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বক্তব্য।
খ্রিষ্টান পরিবারে জন্ম নেওয়া এক ব্রিটিশ আইনজীবী ইসলাম গ্রহণের পর নিজের শহর লিভারপুলে মসজিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ব্রিটেনে মুসলিম সমাজের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি উইলিয়াম হেনরি কুইলিয়াম, যিনি ইসলাম গ্রহণের পর আবদুল্লাহ কুইলিয়াম নাম ধারণ করেন। উনিশ শতকের শেষভাগে তাঁর উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত লিভারপুলের মসজিদটিকে ব্রিটেনের প্রাচীনতম নথিভুক্ত মসজিদ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে দেশটির ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি শিক্ষা, প্রকাশনা ও সমাজসেবার মাধ্যমে তিনি সে সময়ের ব্রিটিশ সমাজে ইসলামের পরিচিতি তুলে ধরার চেষ্টা করেন। ১৮৫৬ সালের ১০ এপ্রিল ইংল্যান্ডের লিভারপুলে জন্মগ্রহণ করেন কুইলিয়াম। তাঁর পরিবার ছিল ওয়েসলিয়ান মেথডিস্ট খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অনুসারী। পেশায় আইনজীবী কুইলিয়াম ১৮৮৭ সালে মরক্কো সফরের সময় ইসলামের প্রতি আগ্রহী হন। ধর্মটি সম্পর্কে পড়াশোনা ও এর শিক্ষা জানার পর একই বছর ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আবদুল্লাহ নাম ধারণ করেন। পরে লিভারপুলে ফিরে জনসমক্ষে বক্তৃতা, ধর্মীয় আলোচনা ও লেখালেখির মাধ্যমে ইসলাম সম্পর্কে মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরিতে কাজ শুরু করেন। তাঁর উদ্যোগে স্থানীয় কয়েকজন ব্রিটিশ নাগরিকও ইসলাম গ্রহণ করেন। ১৮৮৯ সালে লিভারপুলের ৮ ব্রুম টেরেসে তিনি একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে মাউন্ট ভার্নন স্ট্রিটের একটি ভাড়া করা কক্ষে মুসলিমদের ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হতো। তবে স্থানীয় বিরূপ মনোভাব ও বাড়ির মালিকের আপত্তির কারণে সেখানে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে ব্রুম টেরেসের ভবনটি মুসলিম সম্প্রদায়ের স্থায়ী কেন্দ্র হয়ে ওঠে। ঐতিহাসিক ইংল্যান্ডের তথ্য অনুযায়ী, কুইলিয়ামের নেতৃত্বে ২০ জন ব্রিটিশ ধর্মান্তরিত মুসলিমের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানই ব্রিটেনের প্রাচীনতম নথিভুক্ত মসজিদ। মসজিদটি শুধু নামাজ আদায়ের স্থান ছিল না। এর সঙ্গে গড়ে ওঠে লিভারপুল মুসলিম ইনস্টিটিউট, যেখানে ধর্মীয় কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষা ও সমাজসেবার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ছিল বিদ্যালয়, এতিমখানা, পাঠাগার, বক্তৃতা আয়োজনের হল, ছাপাখানা এবং বিজ্ঞানাগার। মুসলিমদের পাশাপাশি অমুসলিমরাও সেখানে বিভিন্ন শিক্ষা কার্যক্রম ও আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেতেন। ১৮৯৬ সালে অসহায় ও অভিভাবকহীন শিশুদের জন্য ‘মদিনা হোম’ নামে একটি আশ্রয়কেন্দ্রও চালু করা হয়। ইসলাম সম্পর্কে মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছে দিতে কুইলিয়াম প্রকাশনা কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন। তাঁর সম্পাদনায় ‘দ্য ক্রিসেন্ট’ নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশিত হতো। এতে ব্রিটেনের মুসলিম সমাজ, ইসলামি চিন্তাধারা ও বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম জনগোষ্ঠীর খবর তুলে ধরা হতো। তাঁর লেখা ‘দ্য ফেইথ অব ইসলাম’ বইটিও সে সময় পাঠকদের মধ্যে পরিচিতি পায়। ব্রিটিশ লাইব্রেরির সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, তাঁর প্রকাশনা ও লেখালেখি ব্রিটেনের বাইরেও পাঠকের কাছে পৌঁছেছিল। ইসলামের প্রচার ও মুসলিম সমাজের জন্য কাজের স্বীকৃতি হিসেবে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ ১৮৯৪ সালে কুইলিয়ামকে ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের ‘শায়খুল ইসলাম’ উপাধি দেন। তবে ভিক্টোরীয় যুগের ব্রিটিশ সমাজে তাঁর কর্মকাণ্ড সবসময় সমর্থন পায়নি। ঐতিহাসিক ইংল্যান্ডের বিবরণে বলা হয়েছে, স্থানীয় বিরোধিতার মুখে মুসলিম সম্প্রদায়কে বিভিন্ন সময় অপমান ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও কুইলিয়াম ১৯০৮ সাল পর্যন্ত লিভারপুলে তাঁর কার্যক্রম চালিয়ে যান। পরে তিনি ব্রিটেন ত্যাগ করেন এবং জীবনের শেষ দিকে হ্যারুন মুস্তাফা লিওন নামেও পরিচিত ছিলেন। ১৯৩২ সালের ২৩ এপ্রিল লন্ডনে মারা যান আবদুল্লাহ কুইলিয়াম। তাঁর প্রভাব ও প্রচেষ্টায় ব্রিটেনে প্রায় ৬০০ মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ রয়েছে। তবে এই সংখ্যার সুনির্দিষ্ট ঐতিহাসিক প্রমাণ নিয়ে গবেষকদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে। তাই সংখ্যাটিকে নিশ্চিত হিসাবের পরিবর্তে বহুল প্রচলিত একটি অনুমান হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে লিভারপুলের সেই ঐতিহাসিক মসজিদটি সংস্কার করে ‘আবদুল্লাহ কুইলিয়াম মসজিদ ও জাতীয় ঐতিহ্য কেন্দ্র’ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। ব্রিটেনে ইসলামের প্রাথমিক প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশের ইতিহাসে তাঁর ভূমিকা এখনো স্মরণ করা হয়। সূত্র: ব্রিটিশ লাইব্রেরি, হিস্টোরিক ইংল্যান্ড এবং আবদুল্লাহ কুইলিয়াম মসজিদ ও জাতীয় ঐতিহ্য কেন্দ্র।
কিশোর বয়সে পড়াশোনা ছেড়ে কারখানায় কাজ শুরু করেছিলেন ঝৌ ছুনফেই। দিনে মজুরি পেতেন মাত্র ১ ডলার ২০ সেন্ট। সেই তিনিই এখন চীনের সবচেয়ে ধনী নারী। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান লেন্স টেকনোলজির প্রতিষ্ঠাতা ঝৌর বর্তমান সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ১২৭ বিলিয়ন ইউয়ান, যা প্রায় ১৮ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ৫৬ বছর বয়সী এই উদ্যোক্তা ১১ বছর পর আবারও চীনের শীর্ষ ধনী নারীর অবস্থান ফিরে পেয়েছেন। ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ‘রিচেস্ট উইমেন ইন চায়না ২০২৬’ তালিকায় শীর্ষস্থান পেয়েছেন ঝৌ। তালিকা অনুযায়ী, গত এক বছরে তাঁর সম্পদ বেড়েছে ১৫ শতাংশ। প্রায় ১২৪ বিলিয়ন ইউয়ান সম্পদের মালিক হানসোহ ফার্মাসিউটিক্যালের প্রতিষ্ঠাতা ঝং হুইজুয়ান রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। এর আগে ২০১৫ সালেও চীনের সবচেয়ে ধনী নারী হয়েছিলেন ঝৌ। এবারের তালিকায় তাঁর সম্পদের হিসাব করা হয়েছে ২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। ১৯৭০ সালে চীনের হুনান প্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম ঝৌর। কৈশোরেই পড়াশোনা ছেড়ে কাজের সন্ধানে চলে যান শেনজেনে। সেখানে একটি কারখানায় ঘড়ির কাচ তৈরির কাজ নেন। প্রতিদিনের মজুরি ছিল প্রায় ১ ডলার ২০ সেন্ট। তবে কারখানায় কাজ করার পাশাপাশি কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ছাপার প্রযুক্তি সম্পর্কে দক্ষতা অর্জন করেন তিনি। ২৩ বছর বয়সে ১৯৯৩ সালে নিজের উদ্যোগে একটি ছোট কাচ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা প্রতিষ্ঠা করেন। ধীরে ধীরে সেই উদ্যোগই বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে রূপ নেয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর প্রতিষ্ঠিত লেন্স টেকনোলজি স্মার্টফোনের পর্দার কাচ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করে। ২০০৭ সালে অ্যাপলের প্রথম আইফোনের জন্য কাচের আবরণ সরবরাহের সুযোগ পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটির ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়। ২০১১ সাল থেকে ২০১৪ সালের প্রথমার্ধ পর্যন্ত লেন্স টেকনোলজির মূল ব্যবসার আয়ের প্রায় অর্ধেক এসেছিল অ্যাপলের কাছ থেকে। ২০১৫ সালের মার্চে শেনজেনের শেয়ারবাজারে প্রতিষ্ঠানটির তালিকাভুক্তি ঝৌর সম্পদ ও ব্যবসায়িক অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। সে বছরই প্রথমবার চীনের শীর্ষ ধনী নারীর খেতাব পান তিনি। তবে তাঁর ব্যবসায়িক যাত্রা সব সময় মসৃণ ছিল না। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য বিরোধ এবং অ্যাপলের বিক্রি নিয়ে উদ্বেগের কারণে লেন্স টেকনোলজির শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে প্রতিষ্ঠানটি স্মার্টফোনের বাইরেও ব্যবসা সম্প্রসারণ করে। বৈদ্যুতিক গাড়ির যন্ত্রাংশ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার এবং রোবট তৈরির সরঞ্জাম উৎপাদনে যুক্ত হয় তারা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে হংকংয়ের শেয়ারবাজারেও তালিকাভুক্ত হয় প্রতিষ্ঠানটি। নতুন প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের জন্য এই উদ্যোগ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। ঝৌর ব্যবসায়িক প্রভাবের প্রতিফলন দেখা যায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। ২০২৬ সালের মে মাসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আয়োজিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্মানে রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেন তিনি। সেখানে তাঁর আসন ছিল অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক ও টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের মাঝখানে। প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পে তাঁর প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কারণে আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মহলেও ঝৌ এখন পরিচিত নাম। হুরুনের ২০২৬ সালের তালিকায় চীনের শীর্ষ ৫০ ধনী নারীর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে। তাঁদের মধ্যে ৬৫ শতাংশ নিজ উদ্যোগে সম্পদ গড়েছেন, আর ৩৫ শতাংশ উত্তরাধিকারসূত্রে সম্পদের মালিক হয়েছেন। তালিকা প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠানটির মতে, চীনের উৎপাদনশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি খাত নারীদের বড় উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ভূমিকা রাখছে। সূত্র: হুরুন রিসার্চ ইনস্টিটিউট, দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট ও সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা তুললেন বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী
নেইমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজকে দলে নিতে যাচ্ছে মেলবোর্ন রেনেগেডস, বিসিবির ছাড়পত্রের অপেক্ষা
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন
রাবণের দশ মাথায় ড. ইউনূস ও ইলন মাস্কের ছবি, লক্ষ্ণৌতে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
বাস্তবেই আছে ভ্যাম্পায়ার ও ওয়্যারউলফের মতো বিরল রোগ, শরীরে দেখা দেয় অদ্ভুত লক্ষণ
প্রচলিত কেমোথেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকর নতুন ওষুধ, কমেছে স্তন ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
বিশ্বে প্রথমবারের মতো মানুষের শরীরে প্রয়োগ করা হলো এআইয়ের তৈরি ভাইরাস
নার্সদের জন্য ৫০ হাজার ডলারের সহায়তা, তিন বছর কাজের শর্তে মিলবে শিক্ষাঋণ পরিশোধের সুযোগ
ফুসফুসের ক্যানসার ফিরে আসার সংকেত মিলতে পারে স্ক্যানে ধরা পড়ার ১৬ মাস আগেই
ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এয়ার ট্যাক্সি, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে উড়বে টাম্পা পর্যন্ত
টেসলার একটি সাইবারক্যাব থেকে বছরে ৫০ হাজার ডলার মুনাফার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কের বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি
এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের ত্রুটি স্বীকার করল অ্যাপল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নতুন ফোন দেওয়ার ঘোষণা
ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার চালু করছে কেন্ট জেলা
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
ফ্লোরিডায় পুকুরের পানিতে একা চার বছরের শিশু, অবহেলার অভিযোগে মা-বাবা গ্রেপ্তার
নিউইয়র্কে স্কুলে যাওয়ার পথে নিহত ছাত্রের মাকে ভিসা দিতে রাজি ট্রাম্প, জানালেন মামদানি
জর্জিয়ায় ওয়ালমার্টের নতুন ফুলফিলমেন্ট সেন্টারে ১ হাজার চাকরির সুযোগ
খেলনা ডাইনোসরের প্রতি অতিরিক্ত আগ্রহে বদলে গেল শিশুর আচরণ, খেলনা ছুড়ে আহত করল দাদাকে
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এক বছরে ৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী কমেছে
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগে চাকরির সুযোগ , নির্দিষ্ট পদে সাইনিং বোনাস ৩০ হাজার ডলার
পাঁচ বছরে আয় ৮ গুণের বেশি, তবু অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেন নাবিল খান
ইন্টেল থেকে টেসলায়! সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার বাংলাদেশি সারোয়ার মোর্শেদ
সৌদিতে ১৯ হাজার ৬১০টি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আবেদনের নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন, কর্মীদের মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও
দুই হাজার বছর পর রোমান স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হওয়া ব্যক্তির মুখ ফিরল ডিজিটাল প্রযুক্তিতে
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
জ্বালানি চুরি করতে গিয়ে ভুলে বাসের পয়োনিষ্কাশন ট্যাংকের বর্জ্যতে হাত দিয়ে বিপাকে চোর
ক্যাশ অ্যাপের ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, যোগ্য গ্রাহকদের টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদার, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা
রোদে পোড়া ব্রিটিশদের মতো লাল মুখ, ব্রাজিলে বানরের ডাকনাম ‘ইংলিশ মাঙ্কি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট, শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে রুমা
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে মরিয়া আইনি লড়াই, এবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে মাহমুদ খলিল
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
সিজিপিএ কম হলেও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ১৫০ বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ, জেনে নিন আবেদনের আগে জরুরি বিষয়গুলো
জর্জ মেসন বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরির প্রস্তুতিতে ৩৪ বিশেষ কোর্স, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ
কলেজে ভর্তির আবেদনে লাগবে না কোনো ফি, নিউইয়র্কে সুযোগ পাচ্ছেন হাজারো শিক্ষার্থী
যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসায় বড় পরিবর্তন, নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাবেন দুই বছর থাকার সুযোগ
সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কমিউনিটির বড় সহায়তা, ৮ লাখ ডলারের অনুদান
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র
লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!
ক্যানসার আক্রান্ত নারীকে হাসাতে সারা বছর বাড়িতে কঙ্কাল সাজিয়ে রাখলেন প্রতিবেশী
১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিমায় নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের চিকিৎসা খরচ কমাতে যা করবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়াই আটকের পক্ষে আদালতের রায়
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের সর্বনিম্নে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম
মিশিগানসহ ৪৩টি স্টেটস এ বাড়ির ডাউন পেমেন্টে সুদমুক্ত ঋণ দিবে জিলো
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স গড়ে ১৫ হাজার ডলার, অধিকাংশের সঞ্চয় অনেক কম
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস, খাবারের খরচ বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন অর্ধেক মানুষ
১৯৮৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়ের গড় বয়স ছিল ৩৩ বছর, এখন ৫৬! নতুন ক্রেতার রেকর্ড পতন
খাবার পৌঁছে দেওয়া রোবটের সামনে দাঁড়িয়ে বারবার বাধা! ৭৮ বছর বয়সী সাবেক অধ্যাপক গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় রাজনৈতিক সমাবেশে ট্রাম্পকে গুলি করার হুমকি দেয়ায় নারী গ্রেপ্তার
ফ্লোরিডায় মানবপাচারবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ডিজনির ১৩ কর্মী, ডেপুটি, নৌবাহিনীর সদস্যসহ ২৮১
ব্রঙ্কসে ভয়াবহ আগুনে কিশোরের মৃত্যু, জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পরিবারের আরও চারজন
যাত্রীদের সঙ্গে সংঘর্ষ করায় বিতর্ক, নিউ ইয়র্কে পর্যালোচনায় ভাড়া আদায়কারীদের প্রশিক্ষণ
২৩ বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্স, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তিই দিতে চান স্বামী
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা
মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারবেন না, তাই মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা
ককপিটে ঘুমিয়ে পড়ার অভিজ্ঞতা ৭৭ শতাংশ পাইলটের, ক্লান্তি নিয়েও উড়ছেন অনেকে
মাত্র ১৩ হাজার ডলারে ইতালিতে বাড়ি কিনে ১৮ হাজার ডলারে সংস্কার করলেন মার্কিন দম্পতি
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
ইসরায়েলে প্রথম দুই বছর নেতানিয়াহু, পরে ক্ষমতার ভাগ পাবেন আইজেনকোট
ভারতে গরুর মাংস বিক্রি করায় মুসলিম ব্যক্তিকে জোর করে শূকরের মাংস খাওয়ানোর চেষ্টা
কুয়েতে নিরাপত্তাকর্মী হত্যায় বাংলাদেশি অভিযুক্ত, ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করল পুলিশ
ইতালির নেপলস বিমানবন্দর এক মাস বন্ধ, বিকল্প বিমানবন্দরে যাত্রীদের ফ্লাইট
অ্যামাজনের গুদামে ১০ লাখের বেশি রোবট, মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ
প্রেমে ব্যর্থ হয়ে ইউটিউব দেখে ইয়াবা কারখানা, টঙ্গীতে বাপ্পি গ্রেপ্তার
যুক্তরাষ্ট্রে এআই দিয়ে বানানো কার্টুন মিম বিক্রি করে কোটি টাকার ব্যবসা বাংলাদেশের দুই ভাইয়ের
পিলখানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ গ্রেপ্তার
পা দিয়ে লিখে এসএসসির পর এইচএসসিতেও জিপিএ-৫ রাব্বির, স্বপ্ন বিজ্ঞানী হওয়ার