পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বিশ্বের মুসলিম সমাজে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই বছর রোজা শুরু হতে পারে আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হবে। রমজান মাসে মুসলিমরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, ধূমপান এবং শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি অর্জন। সাধারণত রোজার সময়কাল ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। হিজরি ক্যালেন্ডার বা চন্দ্র বর্ষের ওপর ভিত্তি করে রমজান নির্ধারণ করা হয়। প্রতি বছর রমজান সৌর বছরের তুলনায় ১০–১২ দিন আগে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী ২০৩০ সালে বিশ্বে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে—প্রথমটি ৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয়টি ২৬ ডিসেম্বর। উত্তর গোলার্ধ (ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া): ১২–১৩ ঘণ্টা, শীতকাল হওয়ায় এবার কিছুটা কম। দক্ষিণ গোলার্ধ (চিলি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা): ১৪–১৫ ঘণ্টা, মাসের শেষের দিকে কিছুটা কমে আসবে। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা প্রথম ও শেষ দিনের সাহরি ও ইফতারের সময় অনুযায়ী রোজা পালন করবেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সোমবার সকালে শাবান মাসের চাঁদের ছবি ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার জন্য দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে ফতোয়া কাউন্সিল। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টও একই আহ্বান জানিয়েছে। চাঁদ দেখা গেলে রোজা শুরু হবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), নাহলে বৃহস্পতিবার থেকে। বাংলাদেশে সাধারণত একদিন পর রোজা শুরু হয়, তাই প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর রোজার সময় ও পরিবেশ পরিবর্তিত হয়। উত্তর গোলার্ধের মুসলিমদের জন্য এবারের রমজান কিছুটা আরামদায়ক হলেও, দক্ষিণ গোলার্ধের মুসলিমদের দীর্ঘ সময় ধৈর্য ও সংযম দেখাতে হবে।
লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরামর্শক হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের নতুন সূচক প্রকাশ করেছে। আগের তুলনায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট দুই ধাপ এগিয়ে ৯৩তম স্থানে অবস্থান করছে। এর আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৫তম। সর্বশেষ সূচকে সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, আর তৃতীয় স্থানে সুইডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সূচকটি নির্ধারণ করা হয় একটি দেশের নাগরিকরা কতগুলো দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাতায়াত করতে পারেন তার ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ৩৭টি দেশে এ সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের পাসপোর্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ। পঞ্চম স্থানে যৌথভাবে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল। ষষ্ঠ স্থানে আছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া, আর সপ্তম স্থানে অস্ট্রেলিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও যুক্তরাজ্য। এই সূচক বিশ্ব নাগরিকত্বের শক্তি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগের প্রতিফলন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দিনের তৃতীয় ম্যাচে শ্রীলঙ্কা পাথুম নিশাঙ্কার সেঞ্চুরি ও ব্যাটারদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে সুপার এইট নিশ্চিত করেছে। এই জয়ের ফলে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কা গ্রুপ টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। অস্ট্রেলিয়া ১৮২ রানে ইনিংস শেষ করে। ব্যাটিংয়ে নেমে ট্রাভিস হেড ৫৬ রানে ও মিচেল মার্শ ৫৪ রানে দলের জন্য দৃঢ় প্রতিরক্ষা গড়ে তোলেন। তবে মিডল অর্ডার ভেঙে গেলে অস্ট্রেলিয়া চাপের মধ্যে পড়ে। শ্রীলঙ্কার বোলার দুশান হেমন্ত সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় ওভারের পর কুশল পেরেরার উইকেট হারালেও ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল মেন্ডিস চাপে ফেলেননি। তারা ৯৭ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগোতে সাহায্য করেন। মেন্ডিস ৫১ রানে আউট হন। এরপর নিশাঙ্কার সঙ্গে পাভান রত্নায়েক ৭৯ রানের অপরাজিত জুটি গড়ে শ্রীলঙ্কাকে জয় এনে দেন। পাথুম নিশাঙ্কা ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন, ইনিংসটি মাত্র ৫২ বলে ১০টি চার ও ৫টি ছয়ে সাজানো। অপরাজিত রত্নায়েক ১৫ বলে ২৮ রান যোগ করেন। এই জয়ের মাধ্যমে শ্রীলঙ্কা গ্রুপে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে, জিম্বাবুয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে, অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ড দুই পয়েন্ট নিয়ে তিন ও চতুর্থ স্থানে অবস্থান করছে। ওমান এখনও কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ করতে পারেনি।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত সকল প্রার্থীই অভিনন্দনের যোগ্য। তার মতে, হার-জিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন, আর যারা জয়ী হননি তারাও মোট ভোটের অর্ধেক ভোটারের আস্থা পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে, যা দিয়ে তার ১৮ মাসের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে। এই ১৮ মাসে দেশের সচলতা ফিরিয়ে আনা, সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন নিশ্চিত করা তার প্রধান লক্ষ্য ছিল। প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের ইতিহাসে একটি উৎসবমুখর, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি বলেন, এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য বাংলাদেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ার উৎকৃষ্ট উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি ৫ আগস্টের মুক্তির দিন এবং দেশকে সচল করার জন্য ১৮ মাস ধরে যে কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করেছেন, তার কথাও স্মরণ করেন। মুহাম্মদ ইউনূস জানান, তার ও সহকর্মীদের প্রচেষ্টা ছিল রাষ্ট্রযন্ত্রকে পুনরায় সক্রিয় ও জনগণের আস্থার প্রতিফলন ঘটানো, দুর্নীতি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা। তিনি বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা—নতুন বাংলাদেশের জন্ম।
পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বিশ্বের মুসলিম সমাজে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে এই বছর রোজা শুরু হতে পারে আগামী ১৮ বা ১৯ ফেব্রুয়ারি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলিতে রোজার সময়ের দৈর্ঘ্য ভিন্ন হবে। রমজান মাসে মুসলিমরা সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার, ধূমপান এবং শারীরিক সম্পর্ক থেকে বিরত থাকেন, যার মূল উদ্দেশ্য হলো ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি অর্জন। সাধারণত রোজার সময়কাল ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত হয়। হিজরি ক্যালেন্ডার বা চন্দ্র বর্ষের ওপর ভিত্তি করে রমজান নির্ধারণ করা হয়। প্রতি বছর রমজান সৌর বছরের তুলনায় ১০–১২ দিন আগে আসে। এই হিসাব অনুযায়ী ২০৩০ সালে বিশ্বে দুইবার রমজান মাস পালিত হবে—প্রথমটি ৫ জানুয়ারি এবং দ্বিতীয়টি ২৬ ডিসেম্বর। উত্তর গোলার্ধ (ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, এশিয়া): ১২–১৩ ঘণ্টা, শীতকাল হওয়ায় এবার কিছুটা কম। দক্ষিণ গোলার্ধ (চিলি, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা): ১৪–১৫ ঘণ্টা, মাসের শেষের দিকে কিছুটা কমে আসবে। ২০২৬ সালের সম্ভাব্য সময়সূচি অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশের মুসলিমরা প্রথম ও শেষ দিনের সাহরি ও ইফতারের সময় অনুযায়ী রোজা পালন করবেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে সোমবার সকালে শাবান মাসের চাঁদের ছবি ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার জন্য দেশের নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে ফতোয়া কাউন্সিল। সৌদি আরবের সুপ্রিম কোর্টও একই আহ্বান জানিয়েছে। চাঁদ দেখা গেলে রোজা শুরু হবে বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি), নাহলে বৃহস্পতিবার থেকে। বাংলাদেশে সাধারণত একদিন পর রোজা শুরু হয়, তাই প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজা শুরু হতে পারে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করবে। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের কারণে প্রতি বছর রোজার সময় ও পরিবেশ পরিবর্তিত হয়। উত্তর গোলার্ধের মুসলিমদের জন্য এবারের রমজান কিছুটা আরামদায়ক হলেও, দক্ষিণ গোলার্ধের মুসলিমদের দীর্ঘ সময় ধৈর্য ও সংযম দেখাতে হবে।
আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ পরবর্তী নতুন সরকারের ঐতিহাসিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। এই মহা-আয়োজনকে সামনে রেখে দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ-এর আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে ফোন করেন তারেক রহমান। টেলিফোনে আলাপকালে তিনি আমিরে হেফাজতকে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার জন্য সাদর আমন্ত্রণ জানান। আল্লামা বাবুনগরীর ঘনিষ্ঠ সূত্র এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নতুন বাংলাদেশের পথচলায় ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জাতীয় সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরতেই তারেক রহমানের এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখানেই শেষ নয়, আজ সোমবার সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম-এর বাসভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে যাওয়ার কথা রয়েছে বিএনপি চেয়ারম্যানের। সেখানে দুই নেতার মধ্যে সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামীর রাষ্ট্র পরিচালনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিআইসি)। এরপর বিকেলে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্র ও ধর্মের সেতুবন্ধন রচনার এই ইঙ্গিতপূর্ণ পদক্ষেপগুলো শপথের আগেই দেশজুড়ে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সুদীর্ঘ সম্পর্ক কেবল একটি নির্দিষ্ট ইস্যু বা ব্যক্তির কারণে ‘জিম্মি’ হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আগামীকাল মঙ্গলবার বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মাহেন্দ্রক্ষণে আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’-কে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। মির্জা ফখরুল স্পষ্ট করে জানান, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও সেটি দুই দেশের মধ্যে বিস্তৃত বাণিজ্য, অর্থনীতি ও উন্নয়ন অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কোনো বড় ‘বাধা’ হবে না। তিনি বলেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছেন এবং দেশের জনগণের মধ্যে তাকে বিচারের মুখোমুখি করার জোরালো দাবি রয়েছে। আমরা মনে করি ভারতের উচিত তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা। তবে ভারত যদি তাকে ফেরত না-ও দেয়, তবুও আমরা বৃহত্তর স্বার্থে দিল্লির সাথে আরও উন্নত ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।” সম্পর্কের জটিলতাগুলো ছাপিয়ে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলোকে প্রাধান্য দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে ফখরুল বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে হাজারো মতপার্থক্য থাকলেও তারা অর্থনৈতিক প্রয়োজনে একে অপরের সাথে কাজ করছে। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আমাদের একটি মাত্র ইস্যুতে আটকে থাকা চলবে না।” তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদাহরণ টেনে বলেন, ৭৫-পরবর্তী সময়ে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থানকালেও জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রনায়কোচিত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দিল্লি সফর করেছিলেন এবং ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন। বিএনপি সেই একই প্রজ্ঞাবান ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতিতে বিশ্বাসী। পররাষ্ট্রনীতির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে মির্জা ফখরুল জানান, আগামী বছর গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তির নবায়ন এবং ফারাক্কার পানির বিষয়টি তাদের অন্যতম অগ্রাধিকার হবে। একই সাথে সীমান্ত হত্যা বন্ধের বিষয়ে ভারতের সঙ্গে জোরালো আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। যারা অহেতুক যুদ্ধের উস্কানি দেয়, তাদের কড়া সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ভারতের সাথে আমরা যুদ্ধ করতে পারি না। আমাদের আলোচনার টেবিলে কথা বলতে হবে।” বেকারত্ব দূরীকরণ এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে ভারতের কারিগরি সম্পদের সহায়তা চান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, “আমাদের বিপুল সংখ্যক তরুণকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ভারতের সহযোগিতা দরকার, যাতে তারা বিশ্ববাজারে কর্মসংস্থান পেতে পারে।” এছাড়া বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের বোঝা সামলাতে বিভিন্ন মেগা প্রকল্প পুনর্বিবেচনা করা হবে এবং কেবল দেশের স্বার্থ রক্ষা করে এমন প্রকল্পগুলোই চালু রাখা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকারে মির্জা ফখরুল আরও উল্লেখ করেন যে, তিনি ইতিমধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং বিএনপির ‘৩১ দফা’ কর্মসূচির ভিত্তিতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তাঁরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির এক জীবন্ত কিংবদন্তি এবং বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় তাঁর ৬০ বছরের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথমবারের মতো সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ) আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন তিনি। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এই জয় কেবল একটি আসনের বিজয় নয়, বরং এটি দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও ত্যাগের এক অনন্য উদাহরণ। এর আগে ২০০৮ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি একই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও আওয়ামী লীগ সরকারের ভোট জালিয়াতি ও প্রতিকূল পরিবেশের কারণে জয়ের স্বাদ পাননি। তবে এবার জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত রায়ে তিনি সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল স্রোতে নাম লেখালেন। ১৯৫১ সালে কেরানীগঞ্জের মির্জাপুর রায় পরিবারে জন্ম নেওয়া এই নেতার রাজনীতি শুরু হয়েছিল ১৯৬৬ সালে, যখন তিনি ছিলেন স্কুলের ছাত্র। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করা এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ১৯৭৮ সালে জাতীয়তাবাদী যুবদলে যোগদানের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। দীর্ঘ ১৫ বছর (১৯৮৭-২০০২) তিনি যুবদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি টেকনোক্র্যাট কোটায় পরিবেশ ও বন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে আদর্শবাদী এই নেতা এক আলাপচারিতায় জানিয়েছেন, রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি কখনোই পদের পেছনে ছোটেননি কিংবা দলের কাছে কখনো নমিনেশন চাননি। দল যখনই তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছে, তিনি তা সাহসিকতার সাথে পালন করেছেন। এবার তাঁর জয়ের পাশাপাশি এক অনন্য পারিবারিক ইতিহাসও রচিত হয়েছে। একদিকে তিনি নিজে বিজয়ী হয়েছেন, অন্যদিকে তাঁর বেয়াই ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী মাগুরা-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের মতে, তাঁর মূল লক্ষ্য কখনোই ক্ষমতা ছিল না, বরং একজন ‘ভালো রাজনীতিবিদ’ হওয়া। দীর্ঘ ছয় দশকের লড়াই শেষে তাঁর এই বিজয় নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর অবশেষে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ছাড়পত্র প্রদান করে। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত এবং তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন চিকিৎসকরা। রিজভীর ব্যক্তিগত সহকারী আরিফুর রহমান তুষার জানান, প্রচণ্ড জ্বর, ঠাণ্ডা ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে গত সপ্তাহে তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড তাঁর চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন। মেডিকেল বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর রিজভীর শরীরে এখন আর কোনো জ্বর নেই এবং তাঁর শ্বাসকষ্টের সমস্যাও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট সন্তোষজনক হওয়ায় তাঁকে সোমবার দুপুরে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তবে পুরোপুরি সুস্থ হতে তাঁকে আরও কিছুদিন বিশ্রামে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁর অসুস্থতার সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই দলের সর্বস্তরের নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। প্রিয় নেতার সুস্থ হয়ে বাসায় ফেরার সংবাদে নেতা-কর্মীদের মাঝে এখন স্বস্তি ও আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর শুল্কনীতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। বিশ্লেষক ও বিরোধীদের একটি বড় অংশ এই চুক্তিকে ওয়াশিংটনের কাছে দিল্লির ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ হিসেবে অভিহিত করছেন। চলতি মাসে ঘোষিত এই চুক্তির ফলে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজার বিশেষ করে কৃষি খাতে বড় ধরণের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মুম্বাই থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলো এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, চুক্তির আওতায় সস্তা মার্কিন পণ্য অবাধে আমদানির সুযোগ পেলে ভারতের ৭০ কোটিরও বেশি মানুষের জীবন-জীবিকার প্রধান উৎস কৃষি খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। যদিও নয়াদিল্লি জানিয়েছে আগামী মার্চের শেষ নাগাদ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে, তবে চুক্তির বিস্তারিত এখনো জনসমক্ষে আনা হয়নি। বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাসের মতে, "ট্রাম্পের যুগে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়।" চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও সেটি কতদিন টিকবে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত ও বিতর্কিত বিষয়টি হলো— ভারত আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার ‘ইচ্ছা’ প্রকাশ করেছে। অথচ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের বার্ষিক আমদানি মাত্র ৪৫ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ’-এর অজয় শ্রীবাস্তব মনে করেন, বছরে ১০০ বিলিয়ন ডলারের আমদানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা প্রায় ‘অবাস্তব’। এমনকি বিপুল পরিমাণ বোয়িং বিমান কিনলেও এই বিশাল লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে না। আরেকটি বড় রহস্য তৈরি হয়েছে রাশিয়ার তেল আমদানিনি নিয়ে। ওয়াশিংটনের দাবি, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করতে রাজি হয়েছে এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। তবে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট হ্যাঁ বা না সূচক বক্তব্য আসেনি। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত রিফাইনারিগুলো ইতোমধ্যে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কেনার তোড়জোড় শুরু করলেও রুশ তেল আমদানি পুরোপুরি বন্ধ হবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমানে অত্যন্ত ‘ভঙ্গুর ও রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত’ অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের অনমনীয় মনোভাব এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ চাপের কারণে এই চুক্তি শেষ পর্যন্ত দুই দেশের অর্থনীতিতে কতটা স্থিতিশীলতা আনবে, তা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন চিহ্ন রয়ে গেছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
লন্ডনভিত্তিক বৈশ্বিক নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরামর্শক হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্টের নতুন সূচক প্রকাশ করেছে। আগের তুলনায় বাংলাদেশের পাসপোর্ট দুই ধাপ এগিয়ে ৯৩তম স্থানে অবস্থান করছে। এর আগে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৯৫তম। সর্বশেষ সূচকে সিঙ্গাপুরের পাসপোর্ট বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া, আর তৃতীয় স্থানে সুইডেন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সূচকটি নির্ধারণ করা হয় একটি দেশের নাগরিকরা কতগুলো দেশে ভিসা ছাড়া বা অন-অ্যারাইভাল ভিসায় যাতায়াত করতে পারেন তার ওপর ভিত্তি করে। বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীরা বর্তমানে ৩৭টি দেশে এ সুবিধা উপভোগ করতে পারেন। ইউরোপের বেশিরভাগ দেশের পাসপোর্ট শক্তিশালী অবস্থানে আছে। চতুর্থ স্থানে রয়েছে বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, আয়ারল্যান্ড, ইতালি, লুক্সেমবার্গ। পঞ্চম স্থানে যৌথভাবে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, স্পেন, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রিয়া, গ্রিস, মাল্টা ও পর্তুগাল। ষষ্ঠ স্থানে আছে হাঙ্গেরি, মালয়েশিয়া, নিউজিল্যান্ড, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও স্লোভেনিয়া, আর সপ্তম স্থানে অস্ট্রেলিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক রিপাবলিক, এস্তোনিয়া, লাটভিয়া ও যুক্তরাজ্য। এই সূচক বিশ্ব নাগরিকত্বের শক্তি ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের সুযোগের প্রতিফলন হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করে।
ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে এক ইসরায়েলি নারী পর্যটকসহ দুই নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ এবং এক পুরুষ পর্যটককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন স্থানীয় আদালত। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) কোপ্পাল জেলার গঙ্গাবতী জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। ২০২৫ সালের মার্চে সংঘটিত এই নৃশংস ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত তিনজন হলেন—মল্লেশ ওরফে হান্দিমাল্লা, সাই ও শরণাপ্পা। আদালত ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৬ মার্চ রাতে হাম্পির অদূরে সানাপুরা এলাকায় তুঙ্গভদ্রা খালের পাশে এই ঘটনা ঘটে। অভিযুক্তরা এক ইসরায়েলি নারী পর্যটক, একজন নারী হোটেল পরিচালক এবং তাদের সঙ্গে থাকা তিন পুরুষ পর্যটকের কাছে টাকা দাবি করে। অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিন পুরুষকে খালে ফেলে দেওয়া হয় এবং দুই নারীকে যৌন নির্যাতন করা হয়। খালে পড়ে যাওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন সাঁতরে প্রাণে বাঁচলেও উড়িষ্যার এক পর্যটক পানিতে ডুবে মারা যান। মামলার শুনানিতে আদালত এই অপরাধকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ হিসেবে উল্লেখ করেন। রায়ে বিচারক বলেন, পর্যটকদের ওপর এমন জঘন্য হামলা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে এবং এটি সর্বোচ্চ শাস্তির যোগ্য অপরাধ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের মার্চে এই ঘটনার পর ভারত জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। পরে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তদন্ত শেষে আদালত তাঁদের দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
ওমরাহ হজ পালন শেষে সৌদি আরবে বাসায় ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতরা হলেন: সৌদি প্রবাসী মিজানুর রহমান মিজান (৪০), তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার সুমি (৩০), তাদের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মেহের আফরোজ (১২), দেড় বছরের কন্যা সুবহা আক্তার এবং একই গাড়ির চালক মো. জিলানী বাবর (৩০)। নিহত মিজানের বড় ভাই বাহারুল আলম সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ ঘটনায় মিজানের মেঝো মেয়ে ফাইজা আক্তার (১১) গুরুতর আহত হয়ে জেদ্দা শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহত মিজান লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের নলচরা গ্রামের ওশিম উদ্দিন বেপারী বাড়ির শহীদ উল্যাহর ছেলে। নিহত মেহের আফরোজ স্থানীয় টিউরি উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন। নিহত গাড়িচালক জিলানী বাবর একই ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের পাটওয়ারী বাড়ির আবুল হোসেন পাটওয়ারী খোকার ছেলে। বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩টার দিকে জেদ্দা থেকে বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত মিজান দীর্ঘদিন ধরে সৌদি প্রবাসী ছিলেন এবং স্ত্রী ও দুই মেয়ে নিয়ে ওমরাহ হজ পালন করছিলেন। রামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারাশিদ বিন এনাম জানিয়েছেন, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। প্রতিবেদকঃ শ্যামল সান্যাল
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন ভূমি নিবন্ধন আইন অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। আইনটি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করবে বলে জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষ এই পদক্ষেপকে পশ্চিম তীরের “কার্যত দখল” বা ডি-ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। নতুন আইনে কী থাকছে সরকারি সূত্র জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরর ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে নতুন করে ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। পরিকল্পনাটি সমর্থন করেছেন ইসরায়েলের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী। ইসরায়েলি সরকারের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন জমিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার একটি আইনি কৌশল হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “এটি একটি বিপজ্জনক উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।” ফিলিস্তিনি নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করবে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এ পদক্ষেপ দুই-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথকে আরও সংকুচিত করবে এবং অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম তীরে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক দখল ঘোষণা না দিলেও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ইসরায়েল ধাপে ধাপে সেই দিকেই এগোচ্ছে। এদিকে জর্ডানসহ কয়েকটি আরব দেশ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews