যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন ড্রিলের সময় শিক্ষার্থীদের পিঠে দাঁড়িয়ে অভিনব ও নিষ্ঠুর শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় ৩৫০ পাউন্ড ওজনের বিজ্ঞান শিক্ষক জেসন রজার্সকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা হিসেবে ৪৯ বছর বয়সি এই শিক্ষককে নিজের টিচিং লাইসেন্স সমর্পণ করতে হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে জরিমানা প্রদান, সমাজসেবামূলক কাজ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর (২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, লকডাউন ড্রিলটিকে শিক্ষার্থীরা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছিল না—এমন অভিযোগ তুলে ওই শিক্ষক মেঝেতে উপুড় হয়ে থাকা এক ছাত্রের পিঠে প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং তাকে কার্যত 'পা-দানি' বা স্টেপিং স্টুল হিসেবে ব্যবহার করেন। এই ঘটনার পর যন্ত্রণায় ওই শিক্ষার্থী '৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধের মতো' খুঁড়িয়ে হাঁটছিল এবং কাঁদছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রজার্স পুলিশকে জানান, ছেলেটি কাঁদতে শুরু করলে তিনি পা সরিয়ে নেন। পরে তিনি আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠে দাঁড়ানোর কথা স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, রজার্স ওই স্কুলে কুস্তি ও ফুটবলের কোচ হিসেবেও কাজ করতেন। বিতর্কিত এই ঘটনার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ইচ্ছাকৃত শাস্তির তিনটি অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। এসব অভিযোগে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা তিন হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আদালত তাকে প্রোবেশনে বা নজরদারিতে রেখেছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ না করলে তার অপরাধের রেকর্ড মুছে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও তাকে ২ হাজার ২৫০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে এবং একটি রাগ নিয়ন্ত্রণ (অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট) কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবামূলক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রজার্সের আইনজীবী ড্যানিয়েল রেপকা বিষয়টিকে একটি 'দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত' হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই ঘটনার কারণে তার মক্কেলের ক্যারিয়ারের অবসান ঘটলেও তিনি মূলত একজন ভালো মানুষ এবং অতীত ভুলে তিনি এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান।
রাশিয়ায় তৈরি ত্বক ক্যানসারের টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’ (Neoncovac) মানবদেহে প্রয়োগের পর অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে। গ্যামালেয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক পরিচালক আলেকজান্ডার গিনজবার্গের দেওয়া তথ্যমতে, এই ভ্যাকসিন গ্রহণকারী প্রথম রোগী বর্তমানে সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন এবং তার শরীরে টিউমার ও মেটাস্টেসিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সফলভাবে তৈরি হয়েছে। ক্যানসার নিরাময়ের ক্ষেত্রে এই ঘটনাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অনন্য অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত বছর রাশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দেশটিতে উদ্ভাবিত দুটি ‘ব্যক্তিকেন্দ্রিক’ বা পার্সোনালাইজড ক্যানসার চিকিৎসাপদ্ধতির অনুমোদন দেয়। এর মধ্যে অ্যাডভান্সড মেলানোমা বা ত্বকের ক্যানসারের জন্য তৈরি এমআরএনএ-ভিত্তিক (mRNA) ভ্যাকসিন ‘নিওনকোভ্যাক’ এবং কোলরেক্টাল ক্যানসারকে লক্ষ্য করে তৈরি পেপটাইড ওষুধ ‘অনকোপেপ্টি’ অন্যতম। সেই অনুমোদনের ধারাবাহিকতায় গত এপ্রিলে হারজেন মস্কো অনকোলজি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে তৃতীয় পর্যায়ের মেলানোমা ও মেটাস্টেসিসে আক্রান্ত ৬০ বছর বয়সি এক ব্যক্তির দেহে প্রথমবারের মতো নিওনকোভ্যাক প্রয়োগ করা হয়েছিল। সম্প্রতি সংবাদ সংস্থা রিয়া নভোস্তিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গিনজবার্গ জানান, ওই রোগীর ইমিউন রেসপন্স অত্যন্ত ইতিবাচক এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বোধ করছেন। তাকে আরও দুটি ডোজ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে। এছাড়া আগামী দেড় থেকে তিন মাসের মধ্যে আরও দশজন রোগীর জন্য কাস্টমাইজড মেলানোমা ভ্যাকসিন প্রস্তুত করা হচ্ছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। ন্যাশনাল মেডিকেল রিসার্চ সেন্টার অব রেডিওলজির প্রধান আন্ড্রে কাপরিন এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। প্রথাগতভাবে শুধু রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে এই পদ্ধতিটি রোগীর নিজস্ব ইমিউন সিস্টেমকে ক্ষতিকর ক্যানসার কোষ শনাক্ত ও ধ্বংস করতে প্রশিক্ষণ দেয়। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর টিউমার এবং সুস্থ টিস্যুর নমুনা সংগ্রহ করে তাদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা হয় এবং তার ওপর ভিত্তি করেই নির্দিষ্ট রোগীর জন্য কাস্টমাইজড ভ্যাকসিন তৈরি করা হয়। রুশ স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কোলরেক্টাল ক্যানসারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ‘অনকোপেপ্টি’ গ্রহণকারী রোগীদের শরীরও প্রয়োজনীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের পথ ধরে বর্তমানে গ্যামালেয়া ইনস্টিটিউট অগ্ন্যাশয়, কিডনি এবং নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়েও নিবিড় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ার বিখ্যাত ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’ দীর্ঘ ৮৯ বছর পর চিরতরে বন্ধ হয়ে গেছে। ১৯৩৭ সাল থেকে চালু থাকা এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয়দের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির তৃতীয় প্রজন্মের মালিক ও প্রধান বেকার মারিয়া নোতারো ফেসবুকে একটি পোস্টে জানিয়েছিলেন, ‘পারিবারিক কারণে’ দোকানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এই সিদ্ধান্তটি স্থায়ী রূপ নিয়েছে। ইতিমধ্যেই ২৯-১৫ ডিটমারস বুলেভার্ডে অবস্থিত দোকানটির সেই পুরোনো আমলের কাঠ, টেরাজো মেঝে এবং কাঁচের কাউন্টারগুলো সরিয়ে ফেলা হয়েছে, যেখানে একসময় সিসিলিয়ান ক্যানোলি, তেরঙা কুকিজ এবং ইতালীয় আইস বরফ সাজানো থাকত। সেই সাথে হারিয়ে গেল ছুটির মরসুমের জন্য সম্পূর্ণ নিজস্ব উপাদানে তৈরি তাদের সেই বিখ্যাত জিঞ্জারব্রেড হাউস। আকস্মিক এই বন্ধের প্রকৃত কারণ এখনো অজানা, আর এ বিষয়ে মারিয়া নোতারোর সাথেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে নগরীর অর্থ বিভাগের রেকর্ডে দেখা যায়, গত জুনে মারিয়ার বাবা রোজারিও নোতারো এবং তার স্ত্রী কনচেত্তার মালিকানাধীন ভবনটির মালিকানা মারিয়ার নিয়ন্ত্রিত একটি ট্রাস্টের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল, যা এই বন্ধের ঘটনাকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। এখানকার নিয়মিত এক ক্রেতা জানান, লা গুলির মাখন ও চিনির সুবাসে বিখ্যাত ইতালীয় মার্কেটপ্লেস ‘ইটালি’ (Eataly)-এর চেয়েও বেশি ইতালির আসল অনুভূতি পাওয়া যেত। অ্যাস্টোরিয়ার সাবেক বাসিন্দা জো ক্যারেলা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ২০১৫ সালে ৯২ বছর বয়সে মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত তার বাবা প্রতি রোববার এখান থেকে ক্যানোলি ও মিলেফোলিয়ে (millefoglie) কিনে বাড়ি ফিরতেন। ২০১৫ সালে পোপ ফ্রান্সিসের নিউইয়র্ক শহর সফর উপলক্ষে ‘পোপ ফ্রান্সিস কুকি’ তৈরি করে দারুণ খ্যাতি অর্জন করেছিল লা গুলি। নয় বছর পর, আমেরিকান বংশোদ্ভূত পোপ লিও চতুর্দশের দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষেও তারা রোমের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা থেকে হাত নাড়ার ছবিযুক্ত বিশেষ শর্টব্রেড কুকি তৈরি করেছিল। এছাড়া ২০২৪ সালে ইতালির একটি কুখ্যাত কারাগারে তৎকালীন পোপের সফরের পর রাইকার্স আইল্যান্ডের বন্দীদের মাঝেও পোপ ফ্রান্সিসের অবয়বযুক্ত কুকি বিতরণ করেছিল তারা। লা গুলির এই বিদায় ডিটমারস বুলেভার্ড সংলগ্ন অ্যাস্টোরিয়া শপিং এলাকার সাম্প্রতিক পরিবর্তনেরই একটি অংশ, যেখানে কিছুদিন আগে ‘ল’ইনকন্ট্রো’ নামের আরেকটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁও বন্ধ হয়ে গেছে।
জনপ্রিয় ওয়্যারহাউস জায়ান্ট কস্ককোর ফুড কোর্টে যুক্ত হয়েছে নতুন চমক—মাত্র ২.৯৯ ডলারের 'ভ্যানিলা কুকি ক্রাঞ্চ সানডে'। মুখরোচক এই ডেজার্টটিতে কস্ককোর সিগনেচার ভ্যানিলা সফট সার্ভ আইসক্রিমের ওপর চকলেট সিরাপ এবং ওরিও-স্টাইলের কুকির টুকরো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বাজারে আসার পর থেকেই ক্রেতা এবং ফুড ব্লগারদের মধ্যে এই নতুন মিষ্টি খাবারটি নিয়ে তুমুল উন্মাদনা সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে কেনাকাটা শেষের 'উপযুক্ত সমাপ্তি' হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। মাত্র দুই সপ্তাহ আগেই কস্ককো নতুন চিকেন ফিঙ্গারস বাজারে এনেছিল, আর এবার এই ডেজার্টটি ক্রেতাদের যেন বারবার স্টোরে ফিরে যেতে বাধ্য করছে। সীমিত সময়ের জন্য আনা ফুড কোর্টের এই নতুন সংযোজনটি মূলত কস্ককোর বাজেট-বান্ধব মেন্যুরই একটি অংশ। সম্প্রতি তারা তাদের কার্কল্যান্ড সিগনেচার ব্র্যান্ডের বেশ কিছু জনপ্রিয় পণ্যের দামও কমিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কস্ককোর এই পদক্ষেপ তাদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্যামস ক্লাবের লিমিটেড-এডিশন ডেজার্টের বাজার ধরার একটি কৌশল। স্যামস ক্লাব দীর্ঘদিন ধরেই তাদের ক্যারামেল পালমিয়ার এবং পিচেস অ্যান্ড ক্রিম সানডের মাধ্যমে এই বাজারে আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল, আর এবার কস্ককো সেই বাজারেই শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে চাইছে। নতুন এই সানডে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কস্ককো ভক্তরা একে 'সেরা সানডে' হিসেবে উল্লেখ করলেও, স্যামস ক্লাবের অনুগত ক্রেতারা এর স্বাস্থ্যগত দিক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই একে অতিরিক্ত ক্যালরিযুক্ত বলে কটাক্ষ করে পুরনো ফ্যাট-ফ্রি ইয়োগার্ট বা স্বাস্থ্যকর মেন্যু ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। আবার কস্ককোর অনেক নিয়মিত ক্রেতা রীতিমতো আশঙ্কা করছেন যে, এই নতুন ডেজার্টের কারণে হয়তো তাদের প্রিয় 'স্ট্রবেরি শর্টকেক সানডে' মেন্যু থেকে বাদ পড়তে পারে। তবে সমালোচনা বা বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে কস্ককোর এই নতুন ডেজার্টটি যে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন ড্রিলের সময় শিক্ষার্থীদের পিঠে দাঁড়িয়ে অভিনব ও নিষ্ঠুর শাস্তি দেওয়ার ঘটনায় ৩৫০ পাউন্ড ওজনের বিজ্ঞান শিক্ষক জেসন রজার্সকে কারাদণ্ড থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। তবে সাজা হিসেবে ৪৯ বছর বয়সি এই শিক্ষককে নিজের টিচিং লাইসেন্স সমর্পণ করতে হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে জরিমানা প্রদান, সমাজসেবামূলক কাজ এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গত বছর (২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি) পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ওপর এই অমানবিক ঘটনা ঘটেছিল। আদালতের নথি অনুযায়ী, লকডাউন ড্রিলটিকে শিক্ষার্থীরা গুরুত্ব সহকারে নিচ্ছিল না—এমন অভিযোগ তুলে ওই শিক্ষক মেঝেতে উপুড় হয়ে থাকা এক ছাত্রের পিঠে প্রায় ১০ সেকেন্ড ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং তাকে কার্যত 'পা-দানি' বা স্টেপিং স্টুল হিসেবে ব্যবহার করেন। এই ঘটনার পর যন্ত্রণায় ওই শিক্ষার্থী '৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধের মতো' খুঁড়িয়ে হাঁটছিল এবং কাঁদছিল বলে নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। রজার্স পুলিশকে জানান, ছেলেটি কাঁদতে শুরু করলে তিনি পা সরিয়ে নেন। পরে তিনি আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠে দাঁড়ানোর কথা স্বীকার করেন। উল্লেখ্য, রজার্স ওই স্কুলে কুস্তি ও ফুটবলের কোচ হিসেবেও কাজ করতেন। বিতর্কিত এই ঘটনার পর ২০২৫ সালের এপ্রিলে তিনি শিক্ষকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন এবং ইচ্ছাকৃত শাস্তির তিনটি অভিযোগে নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। এসব অভিযোগে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড বা তিন হাজার ডলার জরিমানার বিধান রয়েছে। তবে আদালত তাকে প্রোবেশনে বা নজরদারিতে রেখেছেন এবং ভবিষ্যতে কোনো অপরাধ না করলে তার অপরাধের রেকর্ড মুছে ফেলা হবে বলে জানিয়েছেন। এছাড়াও তাকে ২ হাজার ২৫০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে এবং একটি রাগ নিয়ন্ত্রণ (অ্যাঙ্গার ম্যানেজমেন্ট) কোর্স সম্পন্ন করার পাশাপাশি ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবামূলক কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রজার্সের আইনজীবী ড্যানিয়েল রেপকা বিষয়টিকে একটি 'দুর্ভাগ্যজনক সিদ্ধান্ত' হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, এই ঘটনার কারণে তার মক্কেলের ক্যারিয়ারের অবসান ঘটলেও তিনি মূলত একজন ভালো মানুষ এবং অতীত ভুলে তিনি এখন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে বিদ্যালয়ের লকডাউন মহড়ার সময় শিক্ষার্থীদের শাস্তি দিতে তাদের পিঠের ওপর পা রাখার ঘটনায় অভিযুক্ত এক শিক্ষককে দুই বছরের প্রবেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো অঙ্গরাজ্যে থাকা শিক্ষকতার লাইসেন্স স্বেচ্ছায় জমা দিতে হবে। এছাড়া রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়নে অংশ নেওয়া, ৯০ ঘণ্টা সমাজসেবা করা, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার চিঠি লেখা এবং জরিমানা ও আদালতের বিভিন্ন ফি হিসেবে ২ হাজার ২৫০ ডলার পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মিনেসোটার অটার টেইল কাউন্টির আন্ডারউড এলাকার ৪৯ বছর বয়সী শিক্ষক জেসন লাওয়েল রজার্সের বিরুদ্ধে শিশুদের প্রতি বিদ্বেষমূলক শাস্তি দেওয়ার তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। স্থানীয় আদালত মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে তার বিরুদ্ধে 'স্টে অব অ্যাডজুডিকেশন' মঞ্জুর করেন। অর্থাৎ তিনি দোষ স্বীকার করলেও আপাতত আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে। প্রবেশন চলাকালে আদালতের সব শর্ত মেনে চললে অভিযোগগুলো খারিজ হয়ে যাবে। তবে শর্ত ভঙ্গ করলে আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে দোষী সাব্যস্ত করতে পারবেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্ডারউড স্কুলে লকডাউন মহড়ার সময় ঘটনাটি ঘটে। এক ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী তদন্তকারীদের জানান, মহড়ার সময় তিনি উপুড় হয়ে মেঝেতে শুয়ে ছিলেন। তখন শিক্ষক জেসন রজার্স তার পিঠের ওপর দুই পা দিয়ে দাঁড়ান। আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়, রজার্সের ওজন ৩৫০ পাউন্ডেরও বেশি, যা প্রায় ১৫৯ কিলোগ্রামের সমান। ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থী তীব্র পিঠের ব্যথায় ভুগতে থাকে এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তদন্ত চলাকালে রজার্স স্বীকার করেন, তিনি শুধু ওই একজন নন, আরও দুই শিক্ষার্থীর পিঠেও পা রেখেছিলেন। তার দাবি ছিল, কয়েকজন শিক্ষার্থী লকডাউন মহড়াকে গুরুত্ব দিচ্ছিল না। তাদের সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই তিনি এমনটি করেছিলেন। তবে তদন্তকারী সংস্থার মতে, এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং তা শিশুদের প্রতি শারীরিক শাস্তির শামিল। ঘটনার পর ২০২৫ সালের মার্চে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর আন্ডারউড স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠায়। এরপর থেকে মামলাটি আদালতে বিচারাধীন ছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, প্রবেশন চলাকালে রজার্সকে শিক্ষকতার লাইসেন্স ত্যাগ করতে হবে। পাশাপাশি তাকে রাগ নিয়ন্ত্রণবিষয়ক মূল্যায়ন সম্পন্ন করতে হবে, সমাজসেবামূলক কাজে অংশ নিতে হবে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে লিখিতভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্থগিত থাকা অভিযোগে আনুষ্ঠানিক দণ্ডাদেশ কার্যকর হতে পারে। মার্কিন শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যালয়ে জরুরি পরিস্থিতির মহড়া শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য পরিচালিত হলেও তা পরিচালনার সময় শারীরিক বা মানসিকভাবে ক্ষতিকর কোনো পদ্ধতি ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, শিক্ষকদের আচরণবিধি এবং বিদ্যালয়ের জবাবদিহিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে
যুক্তরাষ্ট্র চীনের আরও ৪৩টি কোম্পানির পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করেছে। দেশটির অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চীনের জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর মুসলিমসহ সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের সম্পর্ক রয়েছে। মার্কিন সরকারের উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত করা হয়েছে। নতুন তালিকা যুক্ত হওয়ার পর নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১৪৪ থেকে বেড়ে ১৮৭ হয়েছে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো ওষুধ, ধাতু, তুলা ও ইলেকট্রনিকসহ বিভিন্ন খাতে কাজ করে। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জিনজিয়াং অঞ্চলে উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ওপর জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব পণ্য যাতে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে লক্ষ্যেই আমদানি নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হচ্ছে। ২০২১ সালে কার্যকর হওয়া উইঘুর ফোর্সড লেবার প্রিভেনশন অ্যাক্ট অনুযায়ী, জিনজিয়াং অঞ্চলে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে তৈরি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছে বলে সন্দেহ হলে তা আটকে দেওয়ার ক্ষমতা পায় মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র একাধিক দফায় চীনা কোম্পানিকে এই তালিকায় যুক্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা জিনজিয়াং থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে অথবা সেখানকার শ্রম ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তবে চীন বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বেইজিংয়ের দাবি, জিনজিয়াং নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের অংশ। মানবাধিকার ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনার মধ্যেই নতুন এই নিষেধাজ্ঞা এলো।
মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মরক্কো থেকে স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউটায় প্রায় ৬০ হাজার অভিবাসী প্রবেশ করেছে। স্পেনের শীর্ষ আদালতের সাম্প্রতিক একটি রায়ের পর এই নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ওই রায়ে বলা হয়েছিল, সেউটা বা মেলিলায় পৌঁছানোর চেষ্টা করার সময় সাগরে আটক অভিবাসীদের তাৎক্ষণিকভাবে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না। এই আইনি সুযোগকে কাজে লাগিয়েই বিপুল সংখ্যক মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেছে। অপ্রত্যাশিত এই অভিবাসী স্রোতের পরিপ্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ গোটা ঘটনাটিকে দেশের ওপর একটি ‘আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বেআইনিভাবে প্রবেশ করা সকল অভিবাসীকে যত দ্রুত সম্ভব মরক্কোয় ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় ঘোষণা দিয়েছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সীমান্তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্পেন সরকার তাৎক্ষণিকভাবে সেউটা ও মেলিলা অঞ্চলে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করেছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, অনুপ্রবেশকারী এই অভিবাসীদের সংখ্যা সেউটার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭০ শতাংশের সমান, যা ছোট এই শহরটির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলার জন্ম দিয়েছে। তবে সরকারের কঠোর পদক্ষেপের পর এরই মধ্যে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ স্বেচ্ছায় বা কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় মরক্কোয় ফিরে গেছেন। বর্তমানে প্রতি মিনিটে প্রায় ১৫০ জন হারে মানুষ সেউটা ছেড়ে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এদিকে এই গণ-অভিবাসন সংকট পুরো ইউরোপজুড়েই তীব্র উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মাদ্রিদের অভিযোগ, মানবপাচারকারী অপরাধ চক্রগুলো আদালতের রায়কে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপব্যবহার করে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন দেশের নেতারা এই ঘটনাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘নিরাপত্তা হুমকি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইতালির পক্ষ থেকে স্পেনের সঙ্গে শেনজেন চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও মাদ্রিদ তার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বর্তমানে মরক্কো কর্তৃপক্ষের নিবিড় সহযোগিতায় অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর কাজ পুরোদমে চালিয়ে যাচ্ছে স্পেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ উপকূলে রোহিঙ্গাদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে গেছে। এ ঘটনায় অন্তত ১৮ জন রোহিঙ্গাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে, তবে মাঝিসহ আরও ১৩ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানিয়েছে, শুক্রবার সকালে পশ্চিমপাড়া ঘাটসংলগ্ন সাগরে নৌকাটি ডুবে যায়। স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তীরে নিয়ে আসেন। পরে তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং সেখান থেকে টেকনাফ মডেল থানায় নেওয়া হয়। নিখোঁজদের উদ্ধারে স্থানীয় জেলে, কোস্ট গার্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। নৌকাটিতে মোট ৩১ জন আরোহী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এই দুর্ঘটনা আবারও রোহিঙ্গাদের ঝুঁকিপূর্ণ নৌপথে যাত্রার ভয়াবহ বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বহুদিন ধরেই সতর্ক করে আসছে যে আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরের এই রুট বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী শরণার্থী নৌপথে পরিণত হয়েছে।
হংকংয়ে অনুষ্ঠিত সিনিয়র বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে ইসরায়েলকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে মিশর। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ৩৯-৩৮ পয়েন্টের রুদ্ধশ্বাস জয়ে বিশ্ব ফেন্সিংয়ের দলগত ইভেন্টে ৭৫ বছর পর পদকের দেখা পেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি। বুধবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়। একপর্যায়ে স্কোর ৩৮-৩৮ সমতায় পৌঁছে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ‘গোল্ডেন টাচ’-এ নির্ণায়ক পয়েন্ট এনে মিশরকে ৩৯-৩৮ ব্যবধানে জয় উপহার দেন দেশটির তারকা ফেন্সার মোহাম্মদ এল-সায়েদ। এই জয়ের মাধ্যমে ১৯৫১ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপের দলগত ইভেন্টে পদক জিতল মিশর। দীর্ঘ সাত দশকেরও বেশি সময় পর এমন সাফল্য দেশটির ফেন্সিং ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ম্যাচ শেষে মোহাম্মদ এল-সায়েদ ও তার সতীর্থদের উচ্ছ্বসিত উদযাপনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মিশরীয় খেলোয়াড়রা আবেগঘন উদযাপনে মেতে ওঠেন। এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন দাবিও ছড়িয়ে পড়ে যে ম্যাচ শেষে এল-সায়েদ ইসরায়েলের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে করমর্দান করতে অস্বীকৃতি জানান। তবে আন্তর্জাতিক ফেন্সিং ফেডারেশন (এফআইই) বা আয়োজকদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য বা নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। হংকংয়ে ২২ থেকে ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্ব ফেন্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে বিশ্বের শীর্ষ ফেন্সাররা অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করে হংকং, যেখানে ব্যক্তিগত ও দলগত—উভয় বিভাগেই পদকের জন্য লড়েছেন বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়রা। বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্রোঞ্জ পদক শুধু একটি ক্রীড়া সাফল্য নয়; বরং আন্তর্জাতিক ফেন্সিংয়ে মিশরের ধারাবাহিক উন্নতিরও প্রতিফলন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির ফেন্সাররা ব্যক্তিগত পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছেন, আর এবার দলগত ইভেন্টেও ইতিহাস গড়ল মিশর।
রাজনীতি
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
বিশ্ব
View moreভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সে দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে কেন্দ্রীয় সরকার এ অবস্থান স্পষ্ট করেছে। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, কংগ্রেস নেতা শশী থারুরের নেতৃত্বাধীন পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবিক বিবেচনা ও দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে বিপদাপন্ন ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়া হলেও ভারতের নীতি হলো, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেওয়া হবে না। এই অবস্থান এমন সময়ে জানানো হলো, যখন সম্প্রতি শেখ হাসিনা চলতি বছরের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ফিরে আদালতে আত্মসমর্পণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাফ জানিয়েছেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হতে পারে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ঢাকার আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি বর্তমানে ভারতের অভ্যন্তরীণ আইন এবং নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করছে। তবে এ বিষয়ে কোনো সময়সীমা বা সম্ভাব্য সিদ্ধান্তের তারিখ জানানো হয়নি। এদিকে একই বৈঠকে পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভারতীয় ভিসা প্রক্রিয়া দ্রুত স্বাভাবিক করার সুপারিশ করেছে। কমিটির সদস্যদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে ভিসা সেবা সীমিত থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি হয়েছে, যা দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে। উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর বন্ধ থাকার পর গত ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য পর্যটন ভিসা পুনরায় চালু করে ভারত। এরপর ধীরে ধীরে অন্যান্য ভিসা সেবাও স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনার অবস্থান, প্রত্যর্পণ অনুরোধ এবং ভিসা কার্যক্রম এই তিনটি বিষয়ই বর্তমানে দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি কয়লাখনিতে ভয়াবহ মিথেন গ্যাসের বিস্ফোরণে অন্তত ৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলা উদ্ধার অভিযানে একে একে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। খনির ভেতরে আরও কয়েকজন আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকাজ এখনো অব্যাহত রয়েছে। দুর্ঘটনাটি বৃহস্পতিবার কোয়েটার অদূরে সোরাঞ্জ এলাকার একটি কয়লাখনি কমপ্লেক্সে ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, খনির ভেতরে অতিরিক্ত মিথেন গ্যাস জমে শক্তিশালী বিস্ফোরণের সৃষ্টি হয়। বিস্ফোরণের পর খনির একটি অংশ ধসে পড়ে, ফলে ভেতরে কর্মরত শ্রমিকরা আটকা পড়েন। বেলুচিস্তানের খনি বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিস্ফোরণের সময় খনির ওই অংশে ৩৬ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। আরও কয়েকজন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। খনির গভীরে অক্সিজেনের ঘাটতি এবং ধসে পড়া অংশের কারণে জীবিত কাউকে উদ্ধারের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, বিস্ফোরণের তীব্রতায় পাশের আরও দুটি খনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনার পরপরই উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং খনি বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। তবে খনির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস এবং ধসে পড়া কাঠামোর কারণে অভিযান চালাতে উদ্ধারকর্মীদের চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে হচ্ছে। বেলুচিস্তানের খনিজ ও খনি বিষয়ক মন্ত্রী শোয়েব নওশেরওয়ানি নিহতদের পরিবারের জন্য জনপ্রতি পাঁচ লাখ পাকিস্তানি রুপি ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান সেন্ট্রাল মাইনস লেবার ফেডারেশন এই দুর্ঘটনার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতি ও অবহেলাকে দায়ী করেছে। শ্রমিক সংগঠনটির অভিযোগ, অধিকাংশ খনিতেই পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা, মিথেন গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র এবং প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জামের অভাব রয়েছে। তারা নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। পাকিস্তানে, বিশেষ করে বেলুচিস্তানে কয়লাখনিতে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা নতুন নয়। নিরাপত্তার দুর্বল মান, পর্যাপ্ত তদারকির অভাব এবং ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের কারণে প্রায়ই এমন দুর্ঘটনা ঘটে। দারিদ্র্য ও বিকল্প কর্মসংস্থানের সংকটের কারণে হাজারো শ্রমিক জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এসব খনিতে কাজ করতে বাধ্য হন।
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে নতুন একটি শান্তি উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির দাবি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ‘বোর্ড অব পিস’-এর মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত একটি ধাপভিত্তিক রোডম্যাপে শর্তসাপেক্ষে নিরস্ত্রীকরণে সম্মতি দিয়েছে হামাস। তবে সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করলেই কেবল তারা নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের আলোচক দলের সদস্য গাজি হামাদ জানিয়েছেন, নিরস্ত্রীকরণ কোনো একতরফা পদক্ষেপ হবে না। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে ইসরায়েল চুক্তির অধীনে নিজেদের দায়িত্ব পালন করছে কি না তার ওপর। তার ভাষায়, গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরুর নিশ্চয়তা মিললেই ধাপে ধাপে অস্ত্র হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার দাবি করেন, ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতায় পৌঁছেছে। তার দাবি, এই পরিকল্পনার আওতায় ধাপে ধাপে হামাসের অস্ত্র অপসারণ করা হবে এবং একই সঙ্গে ইসরায়েলও পর্যায়ক্রমে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় থাকা পরিকল্পনায় হামাসের অস্ত্র একটি ফিলিস্তিনি জাতীয় কারিগরি কমিটির তত্ত্বাবধানে সংরক্ষণের কথা রয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং প্রতিটি ধাপ আন্তর্জাতিকভাবে যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে গাজায় নতুন একটি বেসামরিক প্রশাসন গঠনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতা কার্যকর হয়নি। হামাস বলছে, ইসরায়েল যদি সেনা প্রত্যাহার, মানবিক সহায়তা প্রবেশ এবং পুনর্গঠনের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে, তাহলে নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া শুরু হবে না। অন্যদিকে ইসরায়েল সরকারও এখন পর্যন্ত পরিকল্পনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দেয়নি এবং এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে আপত্তি রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই পরিকল্পনা মূলত চলতি বছরের শুরুতে প্রকাশিত একটি ১৫ দফা রোডম্যাপের ধারাবাহিকতা। সেখানে যুদ্ধবিরতি, মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি, গাজার প্রশাসন একটি নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি জাতীয় কমিটির হাতে হস্তান্তর, ধাপে ধাপে নিরস্ত্রীকরণ এবং পরে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে গাজার দীর্ঘ সংঘাত নিরসনের পথে বড় অগ্রগতি হতে পারে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস, নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং চুক্তির প্রতিটি ধাপ বাস্তবায়নের জটিলতা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে আলোচনায় অগ্রগতি হলেও বাস্তবায়নের পথ সহজ হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নামে একটি কথিত পদত্যাগপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই নথিতে দাবি করা হয়, ‘ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার’ কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে ভারত সরকার এটিকে সম্পূর্ণ ভুয়া ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং জনগণকে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে। ভারতের সরকারি তথ্যসংস্থা প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক ইউনিট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত পদত্যাগপত্রটি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জারি করা হয়নি। এতে ব্যবহৃত স্বাক্ষরও নরেন্দ্র মোদির প্রকৃত স্বাক্ষর নয়। পিআইবি তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলেছে, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বাক্ষর করা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো চিঠি জারি করেননি এবং এতে তার কোনো স্বাক্ষরও নেই।” ভাইরাল নথিতে ভারতের জাতীয় প্রতীক অশোক চক্র এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বাক্ষরের মতো একটি চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছিল। এতে এমনভাবে ভাষা ব্যবহার করা হয়, যাতে এটি সরকারি নথি বলে মনে হতে পারে। তবে সরকারি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি একটি জাল নথি এবং এর সঙ্গে সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। পিআইবি জনগণকে পরামর্শ দিয়েছে, এ ধরনের কোনো নথি বা দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার আগে অবশ্যই সরকারি উৎস থেকে তথ্য যাচাই করতে হবে। সংস্থাটি বলেছে, ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তাই যাচাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রচার না করাই দায়িত্বশীল আচরণ। এটি প্রথমবার নয়। এর আগেও নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একাধিক ভুয়া ভিডিও ও ভুয়া নথি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি প্রশ্নপত্র ফাঁস–সংক্রান্ত বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে তার নামে একটি এআই-নির্মিত ভিডিওও ভাইরাল হয়েছিল। ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়, প্রধানমন্ত্রী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন। পরে পিআইবি জানায়, ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। ভুয়া তথ্য ও এআই-নির্মিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের বিস্তার নিয়ে বিশ্বজুড়েই উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সিদ্ধান্ত, নির্বাচন বা গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে এ ধরনের ভুয়া নথি ও ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই তথ্য যাচাইয়ের জন্য সরকারি ওয়েবসাইট, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাইকৃত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং বিশ্বস্ত সংবাদমাধ্যমের ওপর নির্ভর করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
আফ্রিকার ৬ দেশের অবস্থান ভুল দেখাল যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিব্রত পররাষ্ট্র দপ্তর
গাজায় অস্ত্র ছাড়বে হামাস? ‘ঐতিহাসিক’ সমঝোতার ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প
লোহিত সাগরে হুথিদের নতুন হুমকি, চাপে পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী
ফিলিস্তিনি হামাসের নতুন প্রধান খলিল আল-হাইয়া, হামাস অস্ত্র ছাড়তে রাজি নয় ইঙ্গিতে কঠোর অবস্থান
বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরেই ইরানকে কড়া বার্তা ট্রাম্পের, দুই দিনে তিন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত
নৌভ্রমণে ক্যাটি পেরির বুকে সানস্ক্রিন মেখে দিলেন জাস্টিন ট্রুডো, ফ্রান্সে ধরা পড়ল প্রেমের অন্য রূপ
কেন বাবার পদবি বাদ দিলেন টম ক্রুজের মেয়ে? বাবা-মেয়ের দূরত্ব নিয়ে যা জানা গেছে
বাবার সাথে সম্পর্ক ছেদ করলেন টম ক্রুজের মেয়ে, নথিতে এখন নতুন পরিচয়
সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্রিস্টোফার নোলানের ‘দ্য ওডিসি’ ফাঁস, তিন ঘণ্টার কম সময়েই লাখ লাখ ভিউ
'আমার সঙ্গী ভারতীয়' ছেলের নাম শেখর, রেসিজম ও মুসলিমবিদ্বেষীর অভিযোগে জবাব দিলেন ইলন মাস্ক
অন্যায় করলেই শিক্ষার্থীদের পিঠে উঠে দাঁড়িয়ে শাস্তি দিতেন ৩৫০ পাউন্ড ওজনের শিক্ষক
নিউইয়র্কের অ্যাস্টোরিয়ায় চিরতরে বন্ধ ৮৯ বছরের পুরোনো ইতালীয় পেস্ট্রি শপ ‘লা গুলি’
কস্ককোর ৩ ডলারের ‘ভ্যানিলা কুকি ক্রাঞ্চ সানডে’ এখন ক্রেতাদের নতুন পছন্দ
দীর্ঘ অপেক্ষার পর আয়কর নথি প্রকাশ করলেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসাম
উইঘুরদের জোরপূর্বক শ্রমের অভিযোগ, চীনের আরও ৪৩ কোম্পানির পণ্য নিষিদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি কেন জনপ্রিয়? সম্ভাবনা ও বাস্তবতা
যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতক শেষে কাজ করতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য লাগবে ১ লাখ ডলারের ফি
শিক্ষার্থীদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় বড় সুযোগ, বছরে ৪৫ লাখ টাকার বৃত্তি
যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করতে চান? ১৮১ বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন ফি ও ভর্তি সম্ভাবনার তথ্য এক তালিকায়
ভাউচারে হিউস্টনের এসব বেসরকারি স্কুলে পড়া হতে পারে সম্পূর্ণ বিনা টিউশনে
নিউইয়র্কে দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশিদের সংখ্যা, এক দশকে বেড়েছে ৪৫ শতাংশ
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদন ফি বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলারের প্রস্তাব
এক প্রিন্সিপালের জীবনের পরাজয়: সম্মান থেকে সংগ্রাম, শেষে রেললাইনে নিথর দেহ
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় বংশোদ্ভূত সাবেক গুগল নির্বাহীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার
ডালাসে ইনডোর ওয়াটার পার্কে ঈদুল আজহা উদযাপন, মুসলিম পরিবারগুলোর ব্যতিক্রমী আয়োজন আলোচনায়
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
৬০ দেশের পণ্যে নতুন শুল্ক আরোপ করছে ট্রাম্প প্রশাসন, আজ থেকেই কার্যকর
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম বাড়ি কিনতে চাইছেন? নতুন হিসাব দেখে চোখ কপালে উঠবে
অর্থকষ্টে সবচেয়ে বেশি জর্জরিত যুক্তরাষ্ট্রের কোন অঙ্গরাজ্য? জানাল নতুন গবেষণা
মানবদেহে প্রথম পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য পেল রাশিয়ার ক্যানসার টিকা ‘নিওনকোভ্যাক’
স্পেনে একদিনে ৬০ হাজার অভিবাসীর অনুপ্রবেশ, সীমান্তে জরুরি সেনা মোতায়েন
টেকনাফে রোহিঙ্গাবাহী নৌকা ডুবি: ১৮ জন উদ্ধার, এখনো নিখোঁজ ১৩
সিডনির ‘কোডিং ফেস্ট ২০২৬’-এ সেরা এআই প্রজেক্টের পুরস্কার জিতল বাংলাদেশি গবেষক দল