শেরপুর সদর হাসপাতালে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবার চরম অভাব রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন। রবিবার সংসদের বৈঠকে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। শেরপুর জেলার এই প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রটির বেহাল দশা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যে হাসপাতালের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে।’ সংসদে সানসিলা জেবরিন জানান, শেরপুর সদরের চরাঞ্চলের অধিকাংশ কাঁচা ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে মুমূর্ষু রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বারা জীবন বাঁচানোর শেষ আশায় এই হাসপাতালে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে বেড না পেয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডোরে দিনের পর দিন কাতরাতে থাকেন, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বর্তমানে এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ রোগীর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অথচ হাসপাতালটির সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের সবক’টিই শূন্য থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতালে ৯ তলা ভবন ও অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও পর্যাপ্ত লিফট এবং চালকের তীব্র সংকট রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, করোনা মহামারির সময়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো এখন অকেজো হয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সুযোগে এগুলো বর্তমানে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে এবং সেখান থেকে মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে যাচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের একটি অংশ বর্তমানে দালাল, চোর ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এবং পাশের ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালটির এই প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের জনবল সংকটকে দায়ী করেন এমপি সানসিলা। তিনি সংসদে জানান, ২০১৮ সালের পর থেকে এই সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন কোনো স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে অন্তত ছয়বার নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রতিবারই পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
দীর্ঘ সাত বছর পর আগামীকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক নেতাদের বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানানোর প্রবণতা ভেঙে শি জিনপিংয়ের এই পিয়ংইয়ং সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেইজিংয়ের গভীর উদ্বেগই এই আকস্মিক সফরের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে উত্তর কোরিয়া তার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশেরই জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সেনা সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে প্রায় ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি ও অর্থ সাহায্য পেয়েছে। সিউলভিত্তিক গবেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ওপর রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা এবং পিয়ংইয়ং যেন মস্কোর দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে না পড়ে তা নিশ্চিত করতেই বেইজিং এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া সামরিকভাবে অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে উঠে কোরীয় উপদ্বীপে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করুক, তা বেইজিং চায় না। চলতি বছরের শুরু থেকে উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যার মধ্যে এআই-চালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং নতুন পারমাণবিক উপাদান তৈরির কারখানাও রয়েছে। চীন মনে করে না যে, সামরিকভাবে অতি শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া সবসময় তাদের পক্ষে থাকবে, তাই পিয়ংইয়ংকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেইজিং নতুন অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার কৌশল নিতে পারে। ২০২৪ সালে কিম জং উন দুই কোরিয়ার দীর্ঘমেয়াদি একত্রীকরণের লক্ষ্য ত্যাগ করার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে তলানিতে ঠেকেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, শি জিনপিংয়ের এই সফর দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘শাংগ্রি-লা সংলাপে’ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সামরিক-লজিস্টিক সহায়তা চুক্তির খবর নিয়েও শি জিনপিং বিশেষ উদ্বিগ্ন।
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া সম্প্রচারস্বত্ব’ কেনার জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৭তম সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট) বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। একই দিনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। সভায় জানানো হয়, ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কিনতে মোট ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) থেকে সরাসরি এই সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হবে। বিশ্বকাপের ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কেনার ফলে বাংলাদেশ টেলিভিশন টেলিভিশন সম্প্রচারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সুযোগ পাবে। আগামী বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসর হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
আগস্ট ২০১৭-মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে আগুন জ্বলছিল। গ্রাম পুড়ছিল, মানুষ পালাচ্ছিল। প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল প্রায় সাড়ে সাত লাখ রোহিঙ্গা। সেই সময় বিশ্ব বিবেক নড়ে উঠেছিল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ক্ষোভ জানিয়েছিল। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরব হয়েছিল। জাতিসংঘের তৎকালীন মানবাধিকার প্রধান ঘটনাটিকে বলেছিলেন, “জাতিগত নিধনের পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণ।” নয় বছর পর পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। কক্সবাজারের পাহাড়ঘেরা শরণার্থী শিবিরগুলোতে এখনও বাস করছে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। তাদের অনেকেই জানেন না কবে ফিরতে পারবেন নিজ দেশে। আদৌ কোনোদিন ফিরতে পারবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত। এরই মধ্যে কমছে খাদ্য সহায়তা, কমছে স্বাস্থ্যসেবা এবং কমছে আন্তর্জাতিক মনোযোগ। একই সঙ্গে বাড়ছে হতাশা। মঙ্গলবার জেনেভায় এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে একের পর এক যুদ্ধ, সংঘাত ও মানবিক সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক সহায়তা তীব্র চাপে রয়েছে। সেই চাপের সরাসরি প্রভাব পড়ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ওপর। চলতি বছরের জন্য বাংলাদেশ সরকার, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদাররা মিলে ৭১ কোটি ডলারের একটি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তবে এই লক্ষ্যমাত্রাই গত বছরের তুলনায় কম নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপরও প্রয়োজনীয় অর্থের বড় একটি অংশ এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। মানবিক সহায়তা কর্মীরা বলছেন, সংকটের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি এখন চলছে। একদিকে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন কমছে, অন্যদিকে মিয়ানমারের পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হচ্ছে না। বরং নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় ২০২৪ সালের শুরু থেকে আরও প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। রাখাইনে সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। ফলে লাখো রোহিঙ্গা এমন এক অবস্থায় বাস করছে, যেখানে অতীত হারিয়ে গেছে, বর্তমান অনিশ্চিত এবং ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কক্সবাজারের শিবিরগুলোতে এরই মধ্যে বেড়ে উঠছে একটি নতুন প্রজন্ম, যাদের জন্মই হয়েছে শরণার্থী হিসেবে। আন্তর্জাতিক রেসকিউ কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী প্রায় পাঁচ লাখ তরুণ-তরুণী কার্যত কর্মহীন অবস্থায় জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের জন্য নেই বৈধ কর্মসংস্থানের সুযোগ কিংবা স্বীকৃত উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা। একটি পুরো প্রজন্ম দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে বেড়ে উঠছে। জীবনযাত্রার অবস্থাও ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। কয়েক বছর আগে খাদ্য সহায়তা কমে এমন পর্যায়ে নেমে এসেছিল যে একজন শরণার্থীর মাসিক খাদ্য বরাদ্দ দাঁড়িয়েছিল মাত্র ৮ ডলার। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে কিছুটা উন্নতি এলেও অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। চলতি বছরের শুরুতে একটি অগ্নিকাণ্ডে শত শত আশ্রয়কেন্দ্র পুড়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষ আবারও গৃহহীন হয়ে পড়ে। আশ্রয়, খাদ্য এবং নিরাপত্তাহীনতার এই পরিস্থিতি থেকে অনেক রোহিঙ্গা বেছে নিচ্ছেন আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ পথ, সমুদ্রযাত্রা। বাংলাদেশের উপকূল থেকে ছোট ছোট নৌকায় করে তারা যাত্রা করেন মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া কিংবা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে। এই যাত্রার অধিকাংশই নিয়ন্ত্রণ করে মানবপাচারকারী চক্র। ভাঙাচোরা নৌকা, অনিশ্চিত গন্তব্য এবং উত্তাল সাগরের মধ্যে শুরু হয় জীবনের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিযাত্রা। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সাল ছিল রোহিঙ্গাদের সামুদ্রিক যাত্রার ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। প্রায় ৬ হাজার ৫০০ মানুষ সমুদ্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনের একজন আর ফিরে আসেননি। মৃত বা নিখোঁজ হয়েছেন প্রায় ৯০০ জন। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবার বালোচ বলেন, “আন্দামান সাগর এবং বঙ্গোপসাগর দুর্ভাগ্যজনকভাবে হাজার হাজার মরিয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য একটি চিহ্নহীন গণকবরে পরিণত হয়েছে।” গত এক দশকে এই সামুদ্রিক পথে প্রাণ হারিয়েছেন পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ। তবুও যাত্রা থামছে না। কারণ শিবিরে থাকা অনেকের কাছেই অনিশ্চিত সমুদ্র স্থবির জীবনের চেয়ে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। চলতি বছরও সেই চিত্র অপরিবর্তিত রয়েছে। এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত আড়াই হাজারের বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রে যাত্রা করেছেন। মার্চের শেষ দিকে টেকনাফ উপকূল থেকে ছেড়ে যাওয়া একটি নৌকা আন্দামান সাগরে ডুবে গেলে প্রায় ২৫০ জন নিখোঁজ হন। জীবিত উদ্ধার করা যায় মাত্র কয়েকজনকে। এই ট্র্যাজেডির সবচেয়ে বড় শিকার নারী ও শিশুরা। অনেকেই পাচারকারীদের নির্যাতনের শিকার হন। অনেকে দিনের পর দিন খাবার ও পানি ছাড়া সাগরে ভাসতে থাকেন। অনেকের যাত্রার শেষ গন্তব্য হয়ে ওঠে অচিহ্নিত সমুদ্রতল। অন্যদিকে মিয়ানমারে ফেরার পথ এখনও কার্যত বন্ধ। রাখাইনে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। নাগরিকত্বের নিশ্চয়তা নেই, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা নেই এবং সম্মানের সঙ্গে ফিরে যাওয়ার পরিবেশও গড়ে ওঠেনি। জাতিসংঘ বলছে, পরিস্থিতির মৌলিক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদ ও স্বেচ্ছামূলক প্রত্যাবাসন সম্ভব নয়। ফলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্বও শেষ হয়ে যায়নি। বাংলাদেশ গত নয় বছর ধরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। সীমিত সম্পদ নিয়ে ১২ লাখ মানুষের দায়িত্ব বহন করা সহজ কাজ নয়। আন্তর্জাতিক সহায়তা কমতে থাকলে সেই দায়ভার বহন করা আরও কঠিন হয়ে উঠবে। নয় বছর আগে যারা আগুন, গুলি এবং মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে সীমান্ত পেরিয়েছিল, তারা এখনও অপেক্ষা করছে। তাদের অনেক সন্তান জন্ম নিয়েছে শিবিরে, বড় হচ্ছে শিবিরে। তারা মিয়ানমারের নাগরিক নয়, বাংলাদেশেরও নয়। তাদের পরিচয় অনিশ্চয়তার মধ্যেই আটকে রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট তাই মানবিক সহায়তার প্রশ্নের পাশাপাশি মানবতারও একটি বড় পরীক্ষা। আর সেই পরীক্ষায় বিশ্ব এখনও একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায়নি, এই মানুষগুলোর ভবিষ্যৎ কোথায়?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডি-ডে’র ৮২তম বার্ষিকীর দিনে নিজের প্রশংসাসূচক একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্মিত মিউজিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করায় নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। সমালোচকদের প্রশ্ন, ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ এই দিনে নিহত সেনাদের স্মরণ না করে কেন তিনি ব্যক্তিগত প্রচারণামূলক কনটেন্ট প্রকাশ করলেন। গত ৬ জুন নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ‘ট্রাম্প’ শিরোনামের একটি এআই মিউজিক ভিডিও পোস্ট করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভিডিওটি তৈরি করেছেন নিউইয়র্কের এক কংগ্রেস প্রার্থী, যাকে সম্প্রতি সমর্থন দিয়েছেন ট্রাম্প। ভিডিওটিতে বিশ্বজুড়ে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ট্রাম্প সিংহের পিঠে চড়ে আছেন, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে খাবার খাচ্ছেন এবং হোয়াইট হাউসে একটি ইউএফসি লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন। পুরো ভিডিওজুড়ে একটি গান বাজতে থাকে, যার কথায় বলা হয়—“আমি যেখানেই যাই, তারা ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ভালোবাসে।” ডি-ডে বার্ষিকীর দিন কয়েক ঘণ্টা ধরে ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এটিই ছিল একমাত্র পোস্ট। পরে তিনি লিংকন মেমোরিয়াল রিফ্লেক্টিং পুলের সংস্কারকাজ নিয়ে একটি পোস্ট দেন। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরিকে ব্যঙ্গ করে একটি এআই-নির্মিত ছবি শেয়ার করেন। ছবিতে লাইব্রেরিটিকে জরাজীর্ণ অবস্থায় দেখানো হয়। ভবনের চারপাশে গৃহহীন মানুষের তাঁবু এবং উপরে আবর্জনার স্তূপও দেখানো হয়। ছবির ক্যাপশনে ট্রাম্প লেখেন, “বারাক হোসেন ওবামা লাইব্রেরি, ১০ বছর পর যখন এটি পুরোপুরি প্রস্তুত হবে!” এরপর তিনি কৌতুক অভিনেত্রী রোজি ও’ডোনেলকে নিয়ে মন্তব্য করেন এবং হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম নির্মাণকাজ স্থগিত করা এক বিচারকের সমালোচনা করেন। ডি-ডে নিয়ে নীরবতা ১৯৪৪ সালের ৬ জুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফ্রান্সের নরম্যান্ডি উপকূলে মিত্রবাহিনীর ঐতিহাসিক অবতরণকে ডি-ডে হিসেবে স্মরণ করা হয়। এটি যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচিত। তবে এ বছর ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডি-ডে’র নিহত সেনাদের স্মরণে কোনো পোস্ট দেননি। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডি-ডে’র বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সদস্য এবং মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলো দিবসটি উপলক্ষে আলাদা আলাদা স্মরণবার্তা প্রকাশ করেছে। ডি-ডে উদযাপন উপলক্ষে ফ্রান্সে অবস্থানকালে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইউরোপের অভিবাসন নীতি নিয়েও মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন উপকূলে অভিবাসীদের আগমন নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোকে এ বিষয়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভিবাসনবিষয়ক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ট্রাম্প ন্যাটো জোটের সদস্য দেশগুলোর প্রতি আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তার অভিযোগ, ইউরোপীয় মিত্ররা নিরাপত্তা ব্যয়ে যথেষ্ট দায়িত্ব নিচ্ছে না এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ইরান-সংক্রান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটেও ট্রাম্প কয়েকটি মিত্র দেশের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘ সাত বছর পর আগামীকাল সোমবার উত্তর কোরিয়া সফরে যাচ্ছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক নেতাদের বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানানোর প্রবণতা ভেঙে শি জিনপিংয়ের এই পিয়ংইয়ং সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। মূলত ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও অর্থনৈতিক ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেইজিংয়ের গভীর উদ্বেগই এই আকস্মিক সফরের মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে উত্তর কোরিয়া তার বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশেরই জন্য চীনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে ২০২২ সালে ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সেনা সরবরাহের বিনিময়ে পিয়ংইয়ং মস্কোর কাছ থেকে প্রায় ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার সমমূল্যের সংবেদনশীল সামরিক প্রযুক্তি ও অর্থ সাহায্য পেয়েছে। সিউলভিত্তিক গবেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়ার ওপর রাশিয়ার এই ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ন্ত্রণ করা এবং পিয়ংইয়ং যেন মস্কোর দিকে অতিরিক্ত ঝুঁকে না পড়ে তা নিশ্চিত করতেই বেইজিং এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। রাশিয়ার সহায়তায় উত্তর কোরিয়া সামরিকভাবে অতিরিক্ত শক্তিশালী হয়ে উঠে কোরীয় উপদ্বীপে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট করুক, তা বেইজিং চায় না। চলতি বছরের শুরু থেকে উত্তর কোরিয়া ইতিমধ্যে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যার মধ্যে এআই-চালিত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং নতুন পারমাণবিক উপাদান তৈরির কারখানাও রয়েছে। চীন মনে করে না যে, সামরিকভাবে অতি শক্তিশালী উত্তর কোরিয়া সবসময় তাদের পক্ষে থাকবে, তাই পিয়ংইয়ংকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেইজিং নতুন অর্থনৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার কৌশল নিতে পারে। ২০২৪ সালে কিম জং উন দুই কোরিয়ার দীর্ঘমেয়াদি একত্রীকরণের লক্ষ্য ত্যাগ করার পর থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে তলানিতে ঠেকেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, শি জিনপিংয়ের এই সফর দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনা প্রশমনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে। এছাড়া, সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ‘শাংগ্রি-লা সংলাপে’ দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সামরিক-লজিস্টিক সহায়তা চুক্তির খবর নিয়েও শি জিনপিং বিশেষ উদ্বিগ্ন।
ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া সম্প্রচারস্বত্ব’ কেনার জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকারের অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি এবং সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। রোববার (৭ জুন) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৭তম সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উত্থাপিত প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে ফিফা থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডাইরেক্ট প্রোকিউরমেন্ট) বিশ্বকাপের সম্প্রচারস্বত্ব কেনার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। একই দিনে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ২৫তম সভায় এ-সংক্রান্ত ক্রয় প্রস্তাবও অনুমোদন পায়। সভায় জানানো হয়, ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬-এর ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কিনতে মোট ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৭০ লাখ ৫৭ হাজার ৬৯২ টাকা। প্রস্তাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন (ফিফা) থেকে সরাসরি এই সম্প্রচারস্বত্ব কেনা হবে। বিশ্বকাপের ‘অল মিডিয়া রাইটস’ কেনার ফলে বাংলাদেশ টেলিভিশন টেলিভিশন সম্প্রচারসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে টুর্নামেন্টের ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান সম্প্রচারের সুযোগ পাবে। আগামী বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। ৪৮টি দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই আসর হবে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসর। টুর্নামেন্টে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
শেরপুর সদর হাসপাতালে যথাযথ স্বাস্থ্যসেবার চরম অভাব রয়েছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ তুলেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানসিলা জেবরিন। রবিবার সংসদের বৈঠকে ৭১ বিধিতে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি। শেরপুর জেলার এই প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রটির বেহাল দশা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘যে হাসপাতালের মানুষকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা, সেই হাসপাতাল আজ নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে।’ সংসদে সানসিলা জেবরিন জানান, শেরপুর সদরের চরাঞ্চলের অধিকাংশ কাঁচা ও দুর্গম পথ পাড়ি দিয়ে মুমূর্ষু রোগী কিংবা অন্তঃসত্ত্বারা জীবন বাঁচানোর শেষ আশায় এই হাসপাতালে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে বেড না পেয়ে রোগীরা হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা কিংবা করিডোরে দিনের পর দিন কাতরাতে থাকেন, যা অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। বর্তমানে এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ রোগীর চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। অথচ হাসপাতালটির সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের সবক’টিই শূন্য থাকায় চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া হাসপাতালে ৯ তলা ভবন ও অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও পর্যাপ্ত লিফট এবং চালকের তীব্র সংকট রয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, করোনা মহামারির সময়ে শেরপুর সদর হাসপাতালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে আইসিইউ ও সিসিইউ ইউনিট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটগুলো এখন অকেজো হয়ে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার সুযোগে এগুলো বর্তমানে মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে এবং সেখান থেকে মূল্যবান চিকিৎসা যন্ত্রপাতিও চুরি হয়ে যাচ্ছে। এমনকি হাসপাতালের একটি অংশ বর্তমানে দালাল, চোর ও ছিনতাইকারীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে এবং পাশের ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়ছে। হাসপাতালটির এই প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সংকটের পেছনে দীর্ঘদিনের জনবল সংকটকে দায়ী করেন এমপি সানসিলা। তিনি সংসদে জানান, ২০১৮ সালের পর থেকে এই সদর হাসপাতালে স্বাস্থ্য বিভাগের নতুন কোনো স্টাফ নিয়োগ দেওয়া হয়নি। গত আট বছরে অন্তত ছয়বার নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করা হলেও কোনো এক অদৃশ্য শক্তির ইশারায় প্রতিবারই পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা আজ পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।
বিমানবন্দর, শপিং মল, হোটেল লবি কিংবা কফি শপে থাকা বিনামূল্যের চার্জিং স্টেশন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় ধরনের সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। সংস্থাটি জানিয়েছে, হ্যাকাররা এসব পাবলিক ইউএসবি চার্জিং পোর্ট ব্যবহার করে স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিভাইসে ক্ষতিকর সফটওয়্যার প্রবেশ করাতে সক্ষম হচ্ছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত ‘জুস জ্যাকিং’ কৌশলের পাশাপাশি বর্তমানে আরও উন্নত ‘চয়েস জ্যাকিং’ পদ্ধতিও ব্যবহার করা হচ্ছে। এই কৌশলে ডিভাইসে সাধারণত যে ‘এই ডিভাইসকে বিশ্বাস করবেন কি না’ ধরনের অনুমতির বার্তা দেখা যায়, সেটি আড়াল করা হয়। ফলে ব্যবহারকারী বুঝতে না পেরে ডিভাইসের তথ্যের ওপর হ্যাকারদের প্রবেশাধিকার দিয়ে ফেলতে পারেন। এফবিআইয়ের ডেনভার শাখা সম্প্রতি জনগণকে সতর্ক করে বলেছে, ভ্রমণের সময় পাবলিক ইউএসবি চার্জিং পোর্ট ব্যবহার না করে নিজস্ব চার্জার ও কেবল সঙ্গে রাখা উচিত। প্রয়োজনে সরাসরি বৈদ্যুতিক সকেট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্টের প্রধান নিরাপত্তা প্রকৌশলী মুহাম্মদ ইয়াহিয়া প্যাটেল বলেন, পাবলিক চার্জিং স্টেশনগুলোতে কারসাজির চিহ্ন নিয়মিত পরীক্ষা করা হয় না। অপরাধীরা এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ব্যবহারকারীদের ডিভাইসকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, ‘জুস জ্যাকিং’-এর মাধ্যমে চার্জিং স্টেশনে আগে থেকেই ম্যালওয়্যার সংযুক্ত করে রাখা হয়। কোনো ব্যবহারকারী সেখানে ফোন বা অন্য ডিভাইস সংযুক্ত করলে সেই ম্যালওয়্যার ডিভাইসে প্রবেশ করে। এরপর ব্যাংকিং তথ্য, পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত নথি এবং অন্যান্য সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়। আরেকটি কৌশল ‘ভিডিও জ্যাকিং’-এ চার্জিং স্টেশনের ভেতরে লুকানো যন্ত্রের মাধ্যমে ফোন বা ট্যাবলেটের পর্দার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে পাসওয়ার্ড টাইপ করা, ই-মেইল লেখা কিংবা আর্থিক লেনদেনের মতো তথ্যও রেকর্ড করা যেতে পারে। বিষয়টির ঝুঁকি তুলে ধরতে সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ব্রায়ান সিলি একটি পরীক্ষামূলক প্রদর্শনী পরিচালনা করেন। তিনি একটি পাবলিক চার্জিং স্টেশনে স্পাইওয়্যার সংযুক্ত করে দেখান, কীভাবে একটি ডিভাইস সংযুক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা সম্ভব। প্রদর্শনীতে দেখা যায়, একটি ট্যাবলেট চার্জিং স্টেশনে সংযুক্ত হওয়ার পর ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ই-মেইল, অনলাইন কেনাকাটার তথ্য, ব্যাংকিং তথ্য, ফোন নম্বর, বার্তা আদান-প্রদান এবং কল ইতিহাস পর্যন্ত হ্যাকারের নাগালে চলে যেতে পারে। এমনকি দূর থেকে ডিভাইসের ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ করে ছবি তোলার সুযোগও তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউএসবি কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবেও কাজ করে। এ কারণেই পাবলিক ইউএসবি পোর্ট তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অন্যদিকে সাধারণ বৈদ্যুতিক সকেট কেবল বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, ফলে সেখানে একই ধরনের হামলার আশঙ্কা অনেক কম। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষজ্ঞরা পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি ‘চার্জিং-অনলি’ কেবল বা ‘ডাটা ব্লকার’ অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করলে চার্জ নেওয়া সম্ভব হলেও তথ্য আদান-প্রদান বন্ধ থাকে। এ ছাড়া ডিভাইস চার্জে থাকা অবস্থায় স্ক্রিন লক রাখা, অচেনা চার্জিং পোর্ট ব্যবহার না করা এবং প্রয়োজন ছাড়া পাবলিক চার্জিং স্টেশনে ডিভাইস সংযুক্ত না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনের বিপুল পরিমাণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্মার্টফোনে সংরক্ষিত থাকায় এ ধরনের হামলার ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ও অফিসের কাজ একই ডিভাইসে পরিচালিত হলে তথ্য ফাঁসের সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ আরও বড় হতে পারে।
ব্রাজিল জাতীয় দলে দীর্ঘ আড়াই বছর পর ফিরেছেন নেইমার জুনিয়র। নানা চোট-আঘাত ও অনিশ্চয়তার সময় পার করে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের জন্য সেলেসাওদের স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন দেশটির সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফরোয়ার্ড। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আসন্ন বিশ্বকাপই হতে পারে তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ বড় টুর্নামেন্ট। কোচ কার্লো আনচেলত্তি ব্রাজিল দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেইমারকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন ৩৪ বছর বয়সী এই তারকা। ফিফার অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে নেইমারের আগের তিনটি বিশ্বকাপের স্মরণীয় মুহূর্তের ছবি প্রকাশ করা হলে সেই পোস্টের মন্তব্যে তিনি লেখেন, “The Last Dance”। তার এই মন্তব্যকে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সমর্থক ও ফুটবল বিশ্লেষকেরা। ২০১৪ সালে নিজ দেশে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ব্রাজিলের হয়ে খেলেন নেইমার। সেই আসরে সেমিফাইনালে উঠেছিল সেলেসাওরা। এরপর ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপেও অংশ নেন তিনি। তবে দুটি আসরেই কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। ২০০২ সালের পর আর বিশ্বকাপ জিততে পারেনি ব্রাজিল। ফলে ২৪ বছরের শিরোপা খরা কাটিয়ে দলকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে চান নেইমার। বর্তমানে তিনি গ্রেড-২ কাফ ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এই চোটের কারণে পানামার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে খেলতে পারেননি। সেই ম্যাচে ব্রাজিল ৬-২ গোলের বড় জয় পেয়েছিল। মিশরের বিপক্ষেও মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। চোটের কারণে বিশ্বকাপের আগে পুরোপুরি ফিট হয়ে ওঠা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি আশাবাদী। আনচেলত্তি জানিয়েছেন, কোচিং স্টাফের প্রত্যাশা বিশ্বকাপের শুরু থেকেই নেইমারকে শতভাগ ফিট অবস্থায় পাওয়া যাবে। মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিলের উদ্বোধনী ম্যাচ কিংবা পরবর্তী ম্যাচে তিনি মাঠে ফিরতে পারেন বলেও আশা করা হচ্ছে। ব্রাজিল কোচ আরও বলেন, বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত বর্তমান স্কোয়াডে তিনি কোনো পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন না। যাদের দলে রাখা হয়েছে, তারাই পুরো টুর্নামেন্টে দলের অংশ থাকবেন। বিশ্বকাপের মঞ্চে এ পর্যন্ত ব্রাজিলের হয়ে ১৩ ম্যাচ খেলেছেন নেইমার। এসব ম্যাচে তিনি ৮ গোল করেছেন এবং ৩টি অ্যাসিস্ট করেছেন। বিশ্বকাপে তার সর্বশেষ গোলটি আসে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে। অতিরিক্ত সময়ে করা সেই গোল ব্রাজিলকে এগিয়ে দিলেও শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ সমতায় শেষ হয়। পরে টাইব্রেকারে রদ্রিগো ও মার্কিনিওস পেনাল্টি মিস করলে বিদায় নিতে হয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের বিরুদ্ধে শুরু করা যুদ্ধের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে ৭ জুন (রোববার)। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে এই সংঘাতের প্রতি জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার রিপাবলিকান পার্টি রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুদ্ধকে অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক দেশের স্বার্থবিরোধী ও অপ্রয়োজনীয় হিসেবে বিবেচনা করছেন। ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের শান্তি ও উন্নয়ন বিষয়ক অধ্যাপক শিবলি তেলহামির বরাতে জানা যায়, খুব কম মার্কিন নাগরিকই মনে করেন ইরানের সঙ্গে এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করছে। তার মতে, জনমতের এই অবস্থান রাজনৈতিকভাবে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। ইউনিভার্সিটি অব ম্যারিল্যান্ডের সাম্প্রতিক ‘ক্রিটিক্যাল ইস্যুজ পোল’ অনুযায়ী, মাত্র ১৬ শতাংশ ভোটার মনে করেন যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জয়ী হচ্ছে বা জয়ী হওয়ার পথে রয়েছে। জরিপে আরও দেখা যায়, ৩৩ শতাংশ ভোটার যুদ্ধকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য নেতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে মাত্র ১২ শতাংশ উত্তরদাতা যুদ্ধের প্রভাবকে ইতিবাচকের চেয়ে বেশি ইতিবাচক বলে মনে করেন। অধ্যাপক শিবলি তেলহামি বলেন, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যেও যুদ্ধের প্রভাব নিয়ে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা শুরু করে। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন, পাশাপাশি বহু বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তেলের দাম বৃদ্ধি পায়। ৬ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও পারস্য উপসাগরে সীমিত সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে অবরোধ বজায় রেখেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহে বাধা ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতেও প্রভাব পড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে, যা সাধারণ নাগরিকদের জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলছে। ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের জরিপ অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ উত্তরদাতা ট্রাম্পের যুদ্ধ পরিচালনার বিরোধিতা করেছেন। মাত্র ২৪ শতাংশ মনে করেন, এই সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক চাপ এবং জ্বালানি সংকট আসন্ন নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা প্রতিরোধই এই সংঘাতের মূল লক্ষ্য। তিনি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপকে সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করেন না বলেও মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, তিনি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিষয়কে অগ্রাধিকার দেন এবং নির্বাচনী প্রভাব তার নীতিতে পরিবর্তন আনবে না। অধ্যাপক শিবলি তেলহামির মতে, প্রশাসনের এই অবস্থান আলোচনায় কৌশলগত ভূমিকা রাখলেও জনমতের চাপকে উপেক্ষা করা কঠিন হয়ে উঠছে। জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক বিভাজন স্পষ্ট হচ্ছে। অর্থনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বর্তমান অবস্থায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
চীনে ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন স্কয়ার আন্দোলন ও পরবর্তী দমন অভিযানের স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রয়েছে। পাঠ্যপুস্তক, সংবাদমাধ্যম এবং ইন্টারনেটের নানা স্তরে এই অধ্যায়ের উল্লেখ কার্যত নিষিদ্ধ। তবে প্রযুক্তিনির্ভর সেন্সরশিপের যুগেও ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আগ্রহ দেখাতে শুরু করেছে দেশটির তরুণ প্রজন্ম। বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাসকে আড়াল করার দীর্ঘ প্রচেষ্টা উল্টো অনেক তরুণের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া অঙ্গন কিংবা বিনোদন জগতের নানা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা এমন প্রশ্ন করতে শুরু করেছে, যা শেষ পর্যন্ত তাদের তিয়ানআনমেনের ইতিহাসের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। তিয়ানআনমেন আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ১৯৮৯ সালের এপ্রিল মাসে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সাবেক নেতা হু ইয়াওবাংয়ের মৃত্যুর পর বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ারে জড়ো হতে শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। উদারপন্থী হিসেবে পরিচিত এই নেতার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে তারা দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিও তুলতে শুরু করেন। ক্রমেই আন্দোলনটি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর গণআন্দোলনের রূপ নেয়। এতে যোগ দেন শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মে মাসে শিক্ষার্থীদের অনশন কর্মসূচি আন্দোলনকে আরও তীব্র করে তোলে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে। চীনা সরকার প্রথমদিকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেও পরে আন্দোলনকে রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করে। ২০ মে সামরিক আইন জারি করা হয়। এরপর ৩ জুন রাত থেকে ৪ জুন ভোর পর্যন্ত বেইজিংয়ের তিয়ানআনমেন স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় সামরিক অভিযান চালানো হয়। ট্যাংক ও সশস্ত্র সেনাবাহিনী ব্যবহার করে আন্দোলন দমন করা হয়। নিহতের প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে এখনো মতভেদ রয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের হিসাবে কয়েকশ থেকে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হয়। তবে চীনা সরকার এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য কখনো প্রকাশ করেনি। তিয়ানআনমেনের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত প্রতীক হয়ে আছেন ‘ট্যাংকম্যান’ নামে পরিচিত এক অজ্ঞাত ব্যক্তি। ১৯৮৯ সালের ৫ জুন ট্যাংকের বহরের সামনে একা দাঁড়িয়ে পড়া সেই ব্যক্তির ছবি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতীকে পরিণত হয়। তাঁর পরিচয় বা পরবর্তী ভাগ্য সম্পর্কে আজও নিশ্চিত তথ্য জানা যায়নি। গত কয়েক বছরে চীনে এই ঘটনার স্মৃতি মুছে দেওয়ার প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা, স্বয়ংক্রিয় কনটেন্ট ফিল্টারিং এবং কঠোর অনলাইন সেন্সরশিপের মাধ্যমে তিয়ানআনমেন-সংক্রান্ত শব্দ, ছবি কিংবা ইঙ্গিত দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। তবে চলতি বছর নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের ফিগার স্কেটার Alysa Liu-কে ঘিরে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাঁর সাফল্যের পর চীনের সামাজিক মাধ্যমে তাঁর বাবা আর্থার লিউ সম্পর্কে আলোচনা শুরু হয়। আর্থার লিউ ১৯৮৯ সালের তিয়ানআনমেন আন্দোলনের একজন অংশগ্রহণকারী ছিলেন এবং পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে অনেক তরুণ জানতে চান, কেন তিনি এত আলোচিত ব্যক্তি। সেই অনুসন্ধানই অনেককে তিয়ানআনমেন আন্দোলনের ইতিহাসের দিকে নিয়ে যায়। চীনের জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম রেডনোটে এ বিষয়ে করা কিছু পোস্ট অল্প সময়ের মধ্যেই মুছে ফেলা হয়। কিন্তু ততক্ষণে অনেক ব্যবহারকারী বিকল্প উৎস থেকে তথ্য খুঁজতে শুরু করেন। কেউ কেউ বিদেশি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন। এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। ২০২২ সালে জনপ্রিয় লাইভস্ট্রিমার Li Jiaqi-এর এক অনুষ্ঠানে ট্যাংকের আকৃতির একটি আইসক্রিম কেক প্রদর্শনের পর অনুষ্ঠানটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে গিয়ে বহু তরুণ প্রথমবারের মতো তিয়ানআনমেনের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারেন। চীনের শিক্ষা ব্যবস্থাতেও এ বিষয়ে আলোচনা অত্যন্ত সীমিত। সরকারি পাঠ্যবইয়ে ঘটনাটির উল্লেখ প্রায় অনুপস্থিত। কোথাও কোথাও এটিকে শুধু ‘রাজনৈতিক অস্থিরতা’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করতে বাধ্য হন। একসময় হংকং ছিল তিয়ানআনমেন স্মরণ অনুষ্ঠানের প্রধান কেন্দ্র। প্রতি বছর হাজারো মানুষ মোমবাতি প্রজ্বালন করে নিহতদের স্মরণ করতেন। তবে ২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর সেই আয়োজনও বন্ধ হয়ে যায়। স্মরণসভা, জাদুঘর এবং প্রকাশ্য আলোচনা কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ঘটনার স্মৃতি সম্পূর্ণ মুছে ফেলা সহজ নয়। বিশেষ করে ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রবাহের নানা পথ রয়েছে। ফলে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ যতই কঠোর হোক, নতুন প্রজন্মের একাংশ ইতিহাসের অজানা অধ্যায়গুলো সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তাদের অনেকেই হয়তো প্রকাশ্যে মতামত দিচ্ছেন না। তবে সামাজিক মাধ্যম, ব্যক্তিগত আলোচনাচক্র কিংবা বিকল্প তথ্যসূত্রের মাধ্যমে তারা ১৯৮৯ সালের সেই ঘটনার উত্তর খুঁজছেন। ফলে তিয়ানআনমেন আজ শুধু একটি ঐতিহাসিক ঘটনা নয়, বরং স্মৃতি ও বিস্মৃতির লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবেও নতুন প্রজন্মের কাছে ফিরে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ব্যাক অব দ্য ইয়ার্ডস এলাকায় একদল মানুষের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় দুইজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতের পরপরই ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পরপরই আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলেও দুজনকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফক্স ৩২ শিকাগো এবং শিকাগো পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত প্রায় ১২টা ২৬ মিনিটে দক্ষিণ উড স্ট্রিটের ৫১০০ ব্লকে কয়েকজন মানুষ বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুইজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেখানে এসে হঠাৎ জনসমাগম লক্ষ্য করে একাধিক গুলি ছোড়ে। হামলার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুলিশ জানায়, গুলিবিদ্ধ সাতজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে একজনের মাথা, বুক ও পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তিনি মারা যান। অপর এক ব্যক্তি পেটে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। আহতদের মধ্যে ২৩ বছর বয়সী এক নারী মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া ৫৪ বছর বয়সী এক ব্যক্তি পায়ে, ৩০ বছর বয়সী এক নারী উরু ও হাতে, ৩২ বছর বয়সী এক ব্যক্তি শরীরের মধ্যাংশে এবং ২১ বছর বয়সী এক তরুণ পিঠে আঘাত পেয়েছেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, কয়েকজনের অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। নিহতদের একজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে তার পরিবার ও সহকর্মীরা। তিনি আইজ্যাক "ওয়েভি" ব্র্যাডলি নামে পরিচিত একজন অভিজ্ঞ শেফ। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি শিকাগোর বিভিন্ন রেস্তোরাঁ, করপোরেট অনুষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত আয়োজনের খাবার ব্যবস্থাপনায় কাজ করেছেন। পরিবার ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের তথ্য অনুযায়ী, ব্র্যাডলি শহরের একাধিক পরিচিত রেস্তোরাঁর মেনু তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বৃহৎ অনুষ্ঠান ও করপোরেট ক্যাটারিং সেবাতেও দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার মৃত্যুতে সহকর্মী, বন্ধু ও স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ব্র্যাডলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে তাকে উদার, সহানুভূতিশীল এবং সবার প্রিয় মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তারা বলেছে, শিকাগো একজন প্রতিভাবান ও নিবেদিতপ্রাণ পেশাজীবীকে হারিয়েছে। তবে দ্বিতীয় নিহত ব্যক্তির পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি। হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কেও এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য জানাতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তারও করা হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আশপাশের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছেন এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন। হামলার পেছনের কারণ ও জড়িতদের পরিচয় শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে কুক কাউন্টি ক্রাইম স্টপার্স হামলার সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক পল রাদারফোর্ড এক বিবৃতিতে বলেন, এ ধরনের ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয় এবং এর প্রভাব বহু পরিবার ও প্রতিবেশী এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায়। তিনি প্রত্যক্ষদর্শী ও তথ্য জানা ব্যক্তিদের সামনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সামান্য একটি তথ্যও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শিকাগো পুলিশ বিভাগের এরিয়া ওয়ান গোয়েন্দা ইউনিট ঘটনাটির তদন্ত করছে। হামলার কারণ এবং জড়িতদের শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করার মধ্যে ২ হাজার ৮৬০ জন ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাই করতে বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়েছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এসব ব্যক্তি বাংলাদেশি নাগরিক হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল গত শুক্রবার নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশকে ২ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির জাতীয়তা যাচাইয়ের জন্য তথ্য পাঠানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি জানান, বাংলাদেশসহ যেকোনো দেশের নাগরিক যদি ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করা হয় এবং জাতীয়তা নিশ্চিত হওয়ার পর ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়। রণধীর জয়সওয়াল আরও বলেন, এই ধরনের একাধিক অনুরোধ এখনো বাংলাদেশের কাছে ঝুলে রয়েছে। সেগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি হলে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আরও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ভারতে সম্প্রতি অবৈধভাবে অবস্থানকারী অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্য সরকার এই কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৪০০ নথিবিহীন বাংলাদেশিকে আটক করার তথ্যও পাওয়া গেছে। এদিকে রাজ্যের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই প্রক্রিয়ার কারণে অভিবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক পর্যায়ে ‘শনাক্ত, বাতিল ও বহিষ্কার’ নীতির কথাও উঠে এসেছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্র ও রাজ্য পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।