যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য বা ভেটেরান্সদের জন্য নভেম্বর মাসে প্রদেয় ডিজঅ্যাবিলিটি ভাতার পেমেন্টের তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর এই অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও দিনটি রোববার হওয়ায় ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার অর্থ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যোগ্য ভেটেরান্সরা নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই অক্টোবর মাসের ভাতা পাবেন। তবে এটি অতিরিক্ত কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা নয়। নিয়মিত মাসিক ভাতাই নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগে দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পেমেন্ট নীতির তথ্য অনুযায়ী, ভিএ ডিজঅ্যাবিলিটি কমপেনসেশন সাধারণত সংশ্লিষ্ট মাস শেষ হওয়ার পরের মাসের প্রথম দিনে দেওয়া হয়। প্রথম দিন সাপ্তাহিক ছুটি বা ফেডারেল সরকারি ছুটির মধ্যে পড়লে অর্থ পরিশোধের সময় আগের কর্মদিবসে এগিয়ে আনা হয়। চলতি বছরের ১ নভেম্বর রোববার হওয়ায় অক্টোবর মাসের ভাতার পেমেন্টের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ অক্টোবর। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের ভাতা পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ ছিল ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। ফলে চলতি অক্টোবর মাসেই অনেক ভেটেরান্স দুটি নিয়মিত পেমেন্ট পাওয়ার কথা। প্রথমটি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এবং দ্বিতীয়টি অক্টোবর মাসের জন্য। তবে একই মাসে দুটি অর্থ জমা হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁদের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হচ্ছে। দুটি পেমেন্ট দুটি পৃথক মাসের প্রাপ্য অর্থ। ভিএর পেমেন্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের জন্য প্রাপ্য ডিজঅ্যাবিলিটি ভাতা দেওয়া হবে আগামী ১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার। অর্থাৎ অক্টোবর মাসের শেষ কর্মদিবসে একটি পেমেন্ট হওয়ার পর নভেম্বর মাসজুড়ে নিয়মিত মাসিক ভাতার আর কোনো নির্ধারিত পেমেন্ট নেই। এরপর ডিসেম্বরের শুরুতে পরবর্তী অর্থ জমা হওয়ার কথা। যাঁরা মাসিক ভাতার ওপর নির্ভর করে বাসাভাড়া, মর্টগেজ, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ পরিচালনা করেন, তাঁদের জন্য এই সময়সূচি জানা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বা ভিএ সামরিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা এবং আঘাতের জন্য যোগ্য সাবেক সেনাসদস্যদের ডিজঅ্যাবিলিটি কমপেনসেশন দিয়ে থাকে। এটি সাধারণভাবে করমুক্ত মাসিক আর্থিক সুবিধা। একজন ভেটেরান্স কত অর্থ পাবেন, তা তাঁর অনুমোদিত ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং, নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর মাসিক ভাতার পরিমাণ সমান নয়। ভিএর নিয়ম অনুযায়ী, ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং সাধারণত ১০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। রেটিং যত বেশি, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মাসিক অর্থের পরিমাণও সাধারণত তত বেশি হয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান এবং নির্ভরশীল মা-বাবার জন্যও অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব সুবিধা পেতে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অক্টোবরের পেমেন্টের তারিখ এগিয়ে আসার কারণে কারও ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং বা অনুমোদিত ভাতার পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে না। নিয়মিত ভাতা সাধারণত ডাইরেক্ট ডিপোজিটের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। তবে ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়নের নিজস্ব প্রক্রিয়ার কারণে অর্থ অ্যাকাউন্টে দৃশ্যমান হওয়ার সময় কিছুটা আলাদা হতে পারে। কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত তারিখের আগেও অর্থ গ্রাহকদের ব্যবহারের সুযোগ দেয়। কিন্তু সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব সুবিধা, ভিএর পক্ষ থেকে সবার জন্য নতুন কোনো আগাম পেমেন্ট কর্মসূচি নয়। ভেটেরান্সরা তাঁদের পেমেন্টের ইতিহাস দেখতে ভিএর সরকারি ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারেন। সেখানে ডিজঅ্যাবিলিটি কমপেনসেশন, পেনশনসহ বিভিন্ন সুবিধার অতীত পেমেন্টের তথ্য দেখা যায়। নিয়মিত পেমেন্ট সম্পর্কে মোবাইল ফোনে নোটিফিকেশন পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোনো পেমেন্টের বিষয়ে অসংগতি দেখা দিলে সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নতুনভাবে ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং পাওয়া ব্যক্তিদের প্রথম পেমেন্টের নিয়ম কিছুটা আলাদা। ভিএ জানিয়েছে, অন্তত ১০ শতাংশ ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং অনুমোদনের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম পেমেন্ট পাওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ না পেলে ভেটেরান্সদের ভিএর সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। একইভাবে আগের সময়ের বকেয়া অর্থ বা ব্যাক পে নিয়মিত মাসিক পেমেন্টের তারিখের বাইরে প্রক্রিয়াজাত হতে পারে। চলতি বছরের শেষ দিকেও পেমেন্ট ক্যালেন্ডারে আরেকটি পরিবর্তন রয়েছে। ডিসেম্বর মাসের ভাতা সাধারণত পরবর্তী বছরের ১ জানুয়ারি দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি নববর্ষের সরকারি ছুটি। ফলে ডিসেম্বরের ভাতার নির্ধারিত পেমেন্ট হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। অর্থাৎ অক্টোবরের মতো ডিসেম্বরেও দুটি ভিন্ন মাসের নিয়মিত ভাতা একই ক্যালেন্ডার মাসে পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাবেক সামরিক সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য সরকারি ভাতার সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য। বিশেষ করে যাঁরা নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য পেমেন্টের প্রকৃত তারিখ অনুযায়ী খরচের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তবে ভিএ ডিজঅ্যাবিলিটি কমপেনসেশন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি রিটায়ারমেন্ট বা এসএসআই একই সুবিধা নয়। এগুলোর যোগ্যতা ও পেমেন্টের নিয়মও আলাদা। ফলে ভিএর এই সময়সূচি সব ধরনের সরকারি ভাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সব মিলিয়ে অক্টোবর মাসের ডিজঅ্যাবিলিটি ভাতা ৩০ অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের ভাতা ১ ডিসেম্বর দেওয়ার সময়সূচি রয়েছে। তাই নভেম্বর মাসে নিয়মিত ভিএ ডিজঅ্যাবিলিটি পেমেন্ট জমা না হলেও সেটিকে ভাতা বন্ধ হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি পেমেন্ট ক্যালেন্ডারের নিয়মেই অর্থ পরিশোধের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। সুবিধাভোগীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ভিএর অনলাইন পেমেন্ট হিস্ট্রি থেকে নিজেদের অর্থপ্রদানের তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগেই ভোট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পাম বিচে স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যান তিনি। ভোট দেওয়ার পর ট্রাম্প জানান, তিনি রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন আগে প্রেসিডেন্টের আগাম ভোট দেওয়া দেশটির নির্বাচনি প্রচারণার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে। শনিবার বিকেলে ওয়েস্ট পাম বিচের পাম বিচ কাউন্টি সুপারভাইজার অব ইলেকশনসের ভোটকেন্দ্রে পৌঁছান ট্রাম্প ও মেলানিয়া। এর আগে সকালে কাছাকাছি নিজের গলফ কোর্সে সময় কাটান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভোট দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে আসেন তিনি। এ সময় তাঁর পোশাকে ‘আই ভোটেড’ লেখা একটি স্টিকার দেখা যায়। সাংবাদিকেরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, তিনি দলীয় অবস্থান অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন কি না। জবাবে তিনি জানান, অবশ্যই দিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ফ্লোরিডার নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন তিনি। তবে গোপন ব্যালটে তাঁর দেওয়া প্রতিটি ভোট স্বাধীনভাবে যাচাই করার সুযোগ নেই। সাংবাদিকদের কাছে নিজের ভোটের বিষয়ে দেওয়া বক্তব্যই এ তথ্যের ভিত্তি। এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফ্লোরিডায় গভর্নর, মার্কিন সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদসহ বিভিন্ন পদে ভোট হচ্ছে। গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বায়রন ডোনাল্ডসকে সমর্থন জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডেভিড জলি। অন্যদিকে মার্কিন সিনেটের বিশেষ নির্বাচনে রিপাবলিকান সিনেটর অ্যাশলি মুডির পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন ট্রাম্প। এই নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাঞ্জি নিক্সন। ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শুধু নিজের ভোট দেওয়ার বিষয়েই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক বিতর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর একটি বিতর্কিত নির্বাচনি বিজ্ঞাপনের পক্ষেও অবস্থান নেন তিনি। বিজ্ঞাপনটিতে ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যামি অ্যাকটনের ব্যক্তিগত পারিবারিক সম্পর্কের বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞাপনটির সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাটদের পাশাপাশি কয়েকজন রিপাবলিকান নেতাও। তবে ট্রাম্পের দাবি, রামাস্বামীর বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটরা বিভিন্ন নেতিবাচক বক্তব্য দিলেও তা নিয়ে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। তিনি বিজ্ঞাপনটির সমালোচনার বিরোধিতা করেন এবং রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। অন্যদিকে সমালোচকদের বক্তব্য, নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যক্তিগত পারিবারিক বিষয় ব্যবহার করা নিয়ে নৈতিক প্রশ্ন রয়েছে। এই বিতর্কের মধ্যেই ওহাইওর গভর্নর নির্বাচন ঘিরে প্রচারণা চলছে। এদিকে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের মার্কিন সিনেট নির্বাচন নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। সেখানে রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভানের পাশাপাশি একই নামের আরেক প্রার্থী ব্যালটে থাকায় ভোটারদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, পরিকল্পিতভাবে একই নামের প্রার্থীকে নির্বাচনে রাখা হয়েছে। বিষয়টিকে দুর্নীতি হিসেবে বর্ণনা করে আদালতের মাধ্যমে নির্বাচনি ফলের সার্টিফিকেশন আটকে দেওয়ার উদ্যোগের পক্ষেও যুক্তি দেন তিনি। তবে একই নামের প্রার্থীকে ইচ্ছাকৃতভাবে ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে দাঁড় করানো হয়েছে, এমন অভিযোগ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভোট দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিষয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি সীমিত যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ওলেশকি এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরিতে মেলানিয়া ভূমিকা রেখেছেন। তাঁকে নিজের প্রশাসনের পেশাদার কর্মকর্তাদের চেয়েও দক্ষ বলে প্রশংসা করেন ট্রাম্প। মেলানিয়া ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, সংশ্লিষ্ট যুদ্ধবিরতি মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু এগোবে। তবে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার বিষয়টি এবং তা বাস্তবে কার্যকর হওয়া এক নয়। সংশ্লিষ্ট এলাকায় যুদ্ধবিরতির শর্ত কতটা মানা হবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী পরিস্থিতির ওপর। মেলানিয়ার এই কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে ট্রাম্প ইতিবাচক মন্তব্য করলেও যুদ্ধবিরতির বাস্তব ফলাফল তখনো পুরোপুরি মূল্যায়ন করা সম্ভব হয়নি। এবারের নির্বাচনি প্রচারণায় নিজের ব্যস্ততা নিয়েও কথা বলেন ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প। এক সাংবাদিক তাঁর একের পর এক সমাবেশে অংশ নেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করলে ট্রাম্প জানান, টানা প্রচারণা চালানো শারীরিকভাবে কঠিন। তবে তিনি বলেন, এবার নিজের জন্য নয়, অন্য রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা করছেন। তাঁদের মধ্যে অনেকে ব্যক্তিগতভাবে তাঁর ঘনিষ্ঠ নন, কিন্তু তাঁদের নির্বাচিত করতে কাজ করছেন বলে জানান তিনি। ভোট দেওয়ার পর একই দিন জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন ট্রাম্প। সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনি সমাবেশে অংশ নেন তিনি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচন সামনে রেখে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ধারাবাহিকভাবে সমাবেশ করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। বিশেষ করে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন জোগানো তাঁর প্রচারণার অন্যতম লক্ষ্য। তবে কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সাধারণত প্রেসিডেন্টের চার বছরের মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের নির্দিষ্টসংখ্যক আসনে ভোট হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর ও স্থানীয় প্রশাসনের পদেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রেসিডেন্ট নিজে এ নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও তাঁর প্রশাসনের নীতি, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং দলীয় প্রার্থীদের প্রতি জনসমর্থন নির্বাচনি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। এদিকে আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ভোটের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়েও আলোচনা রয়েছে। অতীতে ডাকযোগে ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে বারবার প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। অথচ আগের বিভিন্ন নির্বাচনে নিজেও ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন। এবার অবশ্য সরাসরি ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে আগাম ভোট দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সরাসরি আগাম ভোট এবং ডাকযোগে ভোট আলাদা পদ্ধতি। ভোটগ্রহণের দিন উপস্থিত না থেকেও আগে নির্ধারিত কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে ফ্লোরিডাসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। একদিকে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় ব্যস্ত, অন্যদিকে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে আগাম ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যেই ফ্লোরিডায় স্ত্রী মেলানিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিলেন ট্রাম্প। ভোটকেন্দ্র থেকেই দলীয় প্রার্থীদের সমর্থন, নির্বাচনি বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যানগুলোতে আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, প্রবেশমূল্য ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন মার্কিন নাগরিক ও দেশটির বাসিন্দারা। সাবেক প্রেসিডেন্ট থিওডোর ‘টেডি’ রুজভেল্টের জন্মদিন উপলক্ষে এ ছাড় দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা। যেসব উদ্যানে সাধারণত প্রবেশমূল্য নেওয়া হয়, সেসব স্থানে নির্ধারিত প্রবেশ ফি মওকুফ থাকবে। তবে ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকদের জন্য এ ছাড় প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া ক্যাম্পিং, আগাম প্রবেশ সংরক্ষণ এবং বিশেষ কার্যক্রমের মতো কিছু সেবার জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টস ডে, মেমোরিয়াল ডে, ফ্ল্যাগ ডে, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময়, জাতীয় উদ্যান পরিষেবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবিধান দিবস, টেডি রুজভেল্টের জন্মদিন এবং ভেটেরান্স ডে। এসব দিনে সাধারণ প্রবেশ ফি মওকুফ হলেও পার্কভেদে আগাম বুকিং, গাড়ি পার্কিং, ক্যাম্পিং কিংবা বিশেষ ভ্রমণ কার্যক্রমের জন্য অর্থ দিতে হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট উদ্যানের ওয়েবসাইটে নিয়ম ও প্রবেশের শর্ত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট ১৯০১ সালে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলির হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯০১ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনামলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা গঠিত হয় এবং ১৫০টি জাতীয় বন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া তিনি পাঁচটি জাতীয় উদ্যান, ১৮টি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, ৫১টি ফেডারেল পাখি সংরক্ষণ এলাকা এবং চারটি জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এ কারণেই তাঁকে ‘সংরক্ষণবাদী প্রেসিডেন্ট’ নামে অভিহিত করা হয়। রুজভেল্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বা সম্প্রসারিত সংরক্ষিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওরেগনের ক্রেটার লেক ন্যাশনাল পার্ক, সাউথ ডাকোটার উইন্ড কেভ ন্যাশনাল পার্ক এবং কলোরাডোর মেসা ভার্দে ন্যাশনাল পার্ক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের সীমানাও সম্প্রসারণ করেন। তাঁর সময়ে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, অ্যারিজোনার পেট্রিফায়েড ফরেস্ট, ক্যালিফোর্নিয়ার মুইর উডস এবং ওয়াইওমিংয়ের ডেভিলস টাওয়ারের মতো এলাকাও সংরক্ষিত স্থানের মর্যাদা পায়। এসব উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন জাতীয় উদ্যান পরিষেবা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার আগেই দেশজুড়ে এমন বহু সংরক্ষিত এলাকা তৈরি হয়েছিল, যেগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরে এই সংস্থার ওপর পড়ে। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, রুজভেল্ট নিজেই পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনায় আসা ২৩টি স্থানের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর জন্মদিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়। চলতি বছরের পরবর্তী এবং শেষ প্রবেশমূল্য মওকুফের দিন ১১ নভেম্বর, ভেটেরান্স ডে। ওই দিনও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক ও বাসিন্দারা প্রবেশমূল্য ছাড়াই ফি-নির্ধারিত জাতীয় উদ্যানগুলোতে যেতে পারবেন। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় সংশ্লিষ্ট উদ্যানের প্রবেশের শর্ত, সম্ভাব্য ভিড় এবং অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা (NPS), যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভস।
মালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যের সেম্পোরনায় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে চীনা এক নারী পর্যটকের কক্ষে ঢুকে তাঁকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১৮ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে। ২৫ বছর বয়সী ওই পর্যটক পালিয়ে কাছের পাহাড়ি এলাকার ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নেন এবং ভোর পর্যন্ত সেখানেই লুকিয়ে থাকেন। পরে অবকাশকেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৭ অক্টোবর তাঁকে অন্যের কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম এইচকে০১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুয়াং পদবির ওই পর্যটক গত ১৯ সেপ্টেম্বর একা ভ্রমণের সময় সেম্পোরনার একটি অবকাশকেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন। ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তি তাঁর হাত ধরে রেখেছেন এবং পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করছেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ব্যক্তিকে গোসল করতে যাওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে পালানোর সুযোগ পান তিনি। তবে কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরও বিপদ কাটেনি। পালানোর সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেন বলে পর্যটকটি জানিয়েছেন। এরপর তিনি কোনোভাবে সরে গিয়ে কাছের পাহাড়ের ঢালে ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তিনি সেখানে লুকিয়ে ছিলেন। এ সময় পিঁপড়া ও মশার কামড়ে তাঁর শরীরে ক্ষত তৈরি হয়। পরে অবকাশকেন্দ্রের এক কর্মী তাঁকে খুঁজে পান। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ওই নারী জানান, পুরো সময়টিতে তিনি ভয়ে ছিলেন এবং বারবার প্রার্থনা করছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রাতেই অবকাশকেন্দ্রের ভেতর থেকে ১৮ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে। সেম্পোরনা জেলা পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট তান হিয়াপ ওয়াহ জানান, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় অন্যের কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ৩৫৪ ধারায় শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। পরে ৭ অক্টোবর সেম্পোরনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযুক্তকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত তখনও শেষ হয়নি। পর্যটকটি আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক এবং তাঁর বৈধ অভিবাসন নথি ছিল না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে তাঁকে অভিবাসন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পর্যটকটির অভিযোগ, অবকাশকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়নি। বিষয়টি তিনি আইনজীবীর কাছে দিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে চীনা দূতাবাসের হস্তক্ষেপের পর সাবাহ পর্যটন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ওই নারীর খোঁজখবর নিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবাহ সরকারও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে পর্যটকটি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দামি অবকাশকেন্দ্রে অবস্থান করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্তের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার ও এইচকে০১।
ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ, মার্কিন সেনাদের হতাহত হওয়া এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ট্রাম্প প্রশাসনকে ‘দায়িত্বশীল নয় এমন মানুষ’ বলে আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, তাদের সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ আমেরিকানদের। শনিবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডে এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন ওবামা। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী অ্যামি অ্যাক্টন ও শেরড ব্রাউনের পক্ষে প্রচার চালাতে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। অ্যাক্টন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে এবং ব্রাউন মার্কিন সিনেটের আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ওবামা বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথ থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধে জড়িয়েছে। অথচ কয়েক মাস আগে যুদ্ধের লক্ষ্য অর্জনের কথা বলা হয়েছিল। এখন সেই সংঘাতের পরিণতি কী হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট। ওবামা বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করাই ছিল যুদ্ধ শুরুর অন্যতম যুক্তি। কিন্তু তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকার সময় ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তির মাধ্যমে কূটনৈতিক পথে এগোনোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই উদ্যোগের মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া ছাড়াই আলোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি। ওবামার ভাষ্য, তিনি কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ট্রাম্প সেই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার পর যুদ্ধ শুরু করেন। যুদ্ধের ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এত মাস পরও এই সংঘাত কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, তা বিবেচনা করা দরকার। যুদ্ধের মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতির কথাও তুলে ধরেন ওবামা। তাঁর দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশ ও সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে, মার্কিন সেনারা নিহত হয়েছেন এবং শত শত সেনা আহত হয়েছেন। পাশাপাশি সামরিক অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও কমে এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। পেন্টাগনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইরানবিরোধী সামরিক অভিযানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ২১ মার্কিন সেনার মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। আহত সেনার সংখ্যা ৮৬৫। এই হিসাবে যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অযুদ্ধকালীন মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। হেগসেথকে নিয়েও কটাক্ষ সমাবেশে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কর্মকাণ্ড নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ওবামা। সেনাদের শারীরিক সক্ষমতা ও পুরুষালি চেহারা নিয়ে হেগসেথের আগ্রহের সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রতিরক্ষামন্ত্রী যেন সেনাদের চোয়ালের গঠন ও টেস্টোস্টেরনের মাত্রার মতো বিষয়েই বেশি মনোযোগী। হেগসেথের সামরিক সদস্যদের টেস্টোস্টেরন পরীক্ষা নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গও তোলেন ওবামা। জুলাইয়ে হেগসেথ ঘোষণা করেছিলেন, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী সক্রিয় সামরিক সদস্যদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে বছরে একবার টেস্টোস্টেরনের ঘাটতি শনাক্ত করার পরীক্ষা করা হবে। ওবামা এ সিদ্ধান্তকে ব্যঙ্গ করে বলেন, হেগসেথের মনোযোগ যেন সেনাদের চুলের ধরন ও বাহ্যিক চেহারা ঠিক রাখার দিকেও বেশি। তাঁর বক্তব্যে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নেতৃত্ব ও অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এরপর ওবামা বলেন, “এরা দায়িত্বশীল মানুষ নন।” তাঁর মতে, নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিরা যখন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন না, তখন তার পরিণতি সাধারণ মানুষকেই ভোগ করতে হয়। তেলের দাম ও শুল্কনীতি নিয়েও সমালোচনা ইরান যুদ্ধের প্রভাব যে শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বাড়াচ্ছে—সমাবেশে সেই বিষয়টি তুলে ধরেন ওবামা। তাঁর বক্তব্য, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব এবং সংঘাতের কারণে তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে ডিজেলের দামসহ বিভিন্ন পণ্যের মূল্যে। ওবামা বলেন, তেলের দাম বাড়ার পেছনে যুদ্ধের ভূমিকা রয়েছে এবং ডিজেলের দাম বৃদ্ধিও সেই পরিস্থিতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে যুদ্ধকে উপেক্ষা করা যায় না। তবে মূল্যবৃদ্ধির জন্য শুধু যুদ্ধকে দায়ী করেননি তিনি। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতিরও সমালোচনা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তাঁর যুক্তি, বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ বা কাঁচামাল আমদানি করা মার্কিন উৎপাদকদের ওপর শুল্কের চাপ পড়লে শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি খরচ ভোক্তাদেরই বহন করতে হয়। কানাডার সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্যিক বিরোধ নিয়েও ব্যঙ্গ করেন ওবামা। তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো ‘শত্রু সাম্রাজ্য’ হিসেবে উপস্থাপনের ধারণা নিয়ে কৌতুক করেন এবং দেশটির পরিচিত পণ্য ম্যাপল সিরাপের কথা উল্লেখ করেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে প্রচার জোরদার নভেম্বরের ৩ তারিখের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্রেটিক প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার জোরদার করতেই ওহাইওতে গিয়েছিলেন ওবামা। ক্লিভল্যান্ডের সমাবেশকে নির্বাচনী প্রচারের শেষ পর্যায়ের সূচনা হিসেবে তুলে ধরা হয়। ওবামা ২০০৮ ও ২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ওহাইওতে জয় পেয়েছিলেন। এবার তিনি শেরড ব্রাউনের সিনেট নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। ব্রাউন রিপাবলিকান প্রার্থী জন হুস্টেডের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অন্যদিকে, অ্যামি অ্যাক্টন গভর্নর পদে লড়ছেন। ব্রাউনের পক্ষে প্রচারে ওবামা বলেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা খুব কাছাকাছি হতে পারে এবং এর ফল সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে ওহাইওর মানুষের স্বার্থে ওয়াশিংটনে কে কাজ করবে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওবামার এই বক্তব্যে যুদ্ধ পরিচালনা, সামরিক প্রস্তুতি, জ্বালানির দাম ও বাণিজ্যনীতি—সবকিছুকেই নির্বাচনী বিতর্কের অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তবে এসব বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য জানতে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল বলে মূল প্রতিবেদনে উল্লেখ থাকলেও তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া সেখানে প্রকাশ করা হয়নি।
আইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দাম বাড়ছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। এক দিনে দাম বাড়ে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। এই তেলের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল। সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই ‘বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পর যেকোনো ধরনের অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে এই উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন কর্মীদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন। একই সময়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো দাহরানে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যানগুলোতে আগামী মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, প্রবেশমূল্য ছাড়াই ঘুরে দেখার সুযোগ পাবেন মার্কিন নাগরিক ও দেশটির বাসিন্দারা। সাবেক প্রেসিডেন্ট থিওডোর ‘টেডি’ রুজভেল্টের জন্মদিন উপলক্ষে এ ছাড় দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা। যেসব উদ্যানে সাধারণত প্রবেশমূল্য নেওয়া হয়, সেসব স্থানে নির্ধারিত প্রবেশ ফি মওকুফ থাকবে। তবে ২০২৬ সালের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি পর্যটকদের জন্য এ ছাড় প্রযোজ্য নয়। এ ছাড়া ক্যাম্পিং, আগাম প্রবেশ সংরক্ষণ এবং বিশেষ কার্যক্রমের মতো কিছু সেবার জন্য আলাদা ফি দিতে হতে পারে। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রেসিডেন্টস ডে, মেমোরিয়াল ডে, ফ্ল্যাগ ডে, স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময়, জাতীয় উদ্যান পরিষেবার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, সংবিধান দিবস, টেডি রুজভেল্টের জন্মদিন এবং ভেটেরান্স ডে। এসব দিনে সাধারণ প্রবেশ ফি মওকুফ হলেও পার্কভেদে আগাম বুকিং, গাড়ি পার্কিং, ক্যাম্পিং কিংবা বিশেষ ভ্রমণ কার্যক্রমের জন্য অর্থ দিতে হতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে সংশ্লিষ্ট উদ্যানের ওয়েবসাইটে নিয়ম ও প্রবেশের শর্ত দেখে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। থিওডোর রুজভেল্ট ১৯০১ সালে প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম ম্যাককিনলির হত্যাকাণ্ডের পর যুক্তরাষ্ট্রের ২৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন। ১৯০১ থেকে ১৯০৯ সাল পর্যন্ত তাঁর শাসনামলে প্রাকৃতিক সম্পদ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, তাঁর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের বন পরিষেবা গঠিত হয় এবং ১৫০টি জাতীয় বন প্রতিষ্ঠা করা হয়। এ ছাড়া তিনি পাঁচটি জাতীয় উদ্যান, ১৮টি জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ, ৫১টি ফেডারেল পাখি সংরক্ষণ এলাকা এবং চারটি জাতীয় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন। এ কারণেই তাঁকে ‘সংরক্ষণবাদী প্রেসিডেন্ট’ নামে অভিহিত করা হয়। রুজভেল্টের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বা সম্প্রসারিত সংরক্ষিত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওরেগনের ক্রেটার লেক ন্যাশনাল পার্ক, সাউথ ডাকোটার উইন্ড কেভ ন্যাশনাল পার্ক এবং কলোরাডোর মেসা ভার্দে ন্যাশনাল পার্ক। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার ইয়োসেমিটি ন্যাশনাল পার্কের সীমানাও সম্প্রসারণ করেন। তাঁর সময়ে গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন, অ্যারিজোনার পেট্রিফায়েড ফরেস্ট, ক্যালিফোর্নিয়ার মুইর উডস এবং ওয়াইওমিংয়ের ডেভিলস টাওয়ারের মতো এলাকাও সংরক্ষিত স্থানের মর্যাদা পায়। এসব উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রে প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের ভিত্তি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ১৯১৬ সালে প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন জাতীয় উদ্যান পরিষেবা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে তার আগেই দেশজুড়ে এমন বহু সংরক্ষিত এলাকা তৈরি হয়েছিল, যেগুলোর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পরে এই সংস্থার ওপর পড়ে। জাতীয় উদ্যান পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, রুজভেল্ট নিজেই পরবর্তী সময়ে সংস্থাটির ব্যবস্থাপনায় আসা ২৩টি স্থানের প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর জন্মদিনে প্রবেশমূল্য মওকুফের উদ্যোগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাঁর অবদান স্মরণ করা হয়। চলতি বছরের পরবর্তী এবং শেষ প্রবেশমূল্য মওকুফের দিন ১১ নভেম্বর, ভেটেরান্স ডে। ওই দিনও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী মার্কিন নাগরিক ও বাসিন্দারা প্রবেশমূল্য ছাড়াই ফি-নির্ধারিত জাতীয় উদ্যানগুলোতে যেতে পারবেন। ভ্রমণের পরিকল্পনা করার সময় সংশ্লিষ্ট উদ্যানের প্রবেশের শর্ত, সম্ভাব্য ভিড় এবং অতিরিক্ত ফি সম্পর্কে আগে থেকে জেনে নেওয়া ভালো। সূত্র: যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় উদ্যান পরিষেবা (NPS), যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আর্কাইভস।
যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর সাবেক সদস্য বা ভেটেরান্সদের জন্য নভেম্বর মাসে প্রদেয় ডিজঅ্যাবিলিটি ভাতার পেমেন্টের তারিখ এগিয়ে আনা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী আগামী ১ নভেম্বর এই অর্থ দেওয়ার কথা থাকলেও দিনটি রোববার হওয়ায় ৩০ অক্টোবর, শুক্রবার অর্থ পরিশোধের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে যোগ্য ভেটেরান্সরা নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই অক্টোবর মাসের ভাতা পাবেন। তবে এটি অতিরিক্ত কোনো সরকারি আর্থিক সহায়তা নয়। নিয়মিত মাসিক ভাতাই নির্ধারিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগে দেওয়া হচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগের পেমেন্ট নীতির তথ্য অনুযায়ী, ভিএ ডিজঅ্যাবিলিটি কমপেনসেশন সাধারণত সংশ্লিষ্ট মাস শেষ হওয়ার পরের মাসের প্রথম দিনে দেওয়া হয়। প্রথম দিন সাপ্তাহিক ছুটি বা ফেডারেল সরকারি ছুটির মধ্যে পড়লে অর্থ পরিশোধের সময় আগের কর্মদিবসে এগিয়ে আনা হয়। চলতি বছরের ১ নভেম্বর রোববার হওয়ায় অক্টোবর মাসের ভাতার পেমেন্টের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ অক্টোবর। এর আগে সেপ্টেম্বর মাসের ভাতা পরিশোধের নির্ধারিত তারিখ ছিল ১ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার। ফলে চলতি অক্টোবর মাসেই অনেক ভেটেরান্স দুটি নিয়মিত পেমেন্ট পাওয়ার কথা। প্রথমটি সেপ্টেম্বর মাসের জন্য এবং দ্বিতীয়টি অক্টোবর মাসের জন্য। তবে একই মাসে দুটি অর্থ জমা হওয়ার অর্থ এই নয় যে তাঁদের অতিরিক্ত ভাতা দেওয়া হচ্ছে। দুটি পেমেন্ট দুটি পৃথক মাসের প্রাপ্য অর্থ। ভিএর পেমেন্ট ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, নভেম্বর মাসের জন্য প্রাপ্য ডিজঅ্যাবিলিটি ভাতা দেওয়া হবে আগামী ১ ডিসেম্বর, মঙ্গলবার। অর্থাৎ অক্টোবর মাসের শেষ কর্মদিবসে একটি পেমেন্ট হওয়ার পর নভেম্বর মাসজুড়ে নিয়মিত মাসিক ভাতার আর কোনো নির্ধারিত পেমেন্ট নেই। এরপর ডিসেম্বরের শুরুতে পরবর্তী অর্থ জমা হওয়ার কথা। যাঁরা মাসিক ভাতার ওপর নির্ভর করে বাসাভাড়া, মর্টগেজ, চিকিৎসা ও অন্যান্য খরচ পরিচালনা করেন, তাঁদের জন্য এই সময়সূচি জানা গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অব ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বা ভিএ সামরিক দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরিক বা মানসিক অসুস্থতা এবং আঘাতের জন্য যোগ্য সাবেক সেনাসদস্যদের ডিজঅ্যাবিলিটি কমপেনসেশন দিয়ে থাকে। এটি সাধারণভাবে করমুক্ত মাসিক আর্থিক সুবিধা। একজন ভেটেরান্স কত অর্থ পাবেন, তা তাঁর অনুমোদিত ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং, নির্ভরশীল পরিবারের সদস্য এবং প্রযোজ্য অন্যান্য শর্তের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রত্যেক সুবিধাভোগীর মাসিক ভাতার পরিমাণ সমান নয়। ভিএর নিয়ম অনুযায়ী, ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং সাধারণত ১০ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। রেটিং যত বেশি, প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী মাসিক অর্থের পরিমাণও সাধারণত তত বেশি হয়। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্ত্রী বা স্বামী, সন্তান এবং নির্ভরশীল মা-বাবার জন্যও অতিরিক্ত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। তবে এসব সুবিধা পেতে নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অক্টোবরের পেমেন্টের তারিখ এগিয়ে আসার কারণে কারও ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং বা অনুমোদিত ভাতার পরিমাণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে না। নিয়মিত ভাতা সাধারণত ডাইরেক্ট ডিপোজিটের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। তবে ব্যাংক বা ক্রেডিট ইউনিয়নের নিজস্ব প্রক্রিয়ার কারণে অর্থ অ্যাকাউন্টে দৃশ্যমান হওয়ার সময় কিছুটা আলাদা হতে পারে। কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত তারিখের আগেও অর্থ গ্রাহকদের ব্যবহারের সুযোগ দেয়। কিন্তু সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিজস্ব সুবিধা, ভিএর পক্ষ থেকে সবার জন্য নতুন কোনো আগাম পেমেন্ট কর্মসূচি নয়। ভেটেরান্সরা তাঁদের পেমেন্টের ইতিহাস দেখতে ভিএর সরকারি ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করতে পারেন। সেখানে ডিজঅ্যাবিলিটি কমপেনসেশন, পেনশনসহ বিভিন্ন সুবিধার অতীত পেমেন্টের তথ্য দেখা যায়। নিয়মিত পেমেন্ট সম্পর্কে মোবাইল ফোনে নোটিফিকেশন পাওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। কোনো পেমেন্টের বিষয়ে অসংগতি দেখা দিলে সরকারি যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিষয়টি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এদিকে নতুনভাবে ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং পাওয়া ব্যক্তিদের প্রথম পেমেন্টের নিয়ম কিছুটা আলাদা। ভিএ জানিয়েছে, অন্তত ১০ শতাংশ ডিজঅ্যাবিলিটি রেটিং অনুমোদনের সিদ্ধান্ত পাওয়ার পর সাধারণত ১৫ দিনের মধ্যে প্রথম পেমেন্ট পাওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অর্থ না পেলে ভেটেরান্সদের ভিএর সহায়তা নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। একইভাবে আগের সময়ের বকেয়া অর্থ বা ব্যাক পে নিয়মিত মাসিক পেমেন্টের তারিখের বাইরে প্রক্রিয়াজাত হতে পারে। চলতি বছরের শেষ দিকেও পেমেন্ট ক্যালেন্ডারে আরেকটি পরিবর্তন রয়েছে। ডিসেম্বর মাসের ভাতা সাধারণত পরবর্তী বছরের ১ জানুয়ারি দেওয়ার কথা থাকলেও ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি নববর্ষের সরকারি ছুটি। ফলে ডিসেম্বরের ভাতার নির্ধারিত পেমেন্ট হবে ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার। অর্থাৎ অক্টোবরের মতো ডিসেম্বরেও দুটি ভিন্ন মাসের নিয়মিত ভাতা একই ক্যালেন্ডার মাসে পাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী সাবেক সামরিক সদস্য ও তাঁদের পরিবারের জন্য সরকারি ভাতার সময়সূচি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক তথ্য। বিশেষ করে যাঁরা নির্দিষ্ট মাসিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল, তাঁদের জন্য পেমেন্টের প্রকৃত তারিখ অনুযায়ী খরচের পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। তবে ভিএ ডিজঅ্যাবিলিটি কমপেনসেশন ও সোশ্যাল সিকিউরিটি রিটায়ারমেন্ট বা এসএসআই একই সুবিধা নয়। এগুলোর যোগ্যতা ও পেমেন্টের নিয়মও আলাদা। ফলে ভিএর এই সময়সূচি সব ধরনের সরকারি ভাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। সব মিলিয়ে অক্টোবর মাসের ডিজঅ্যাবিলিটি ভাতা ৩০ অক্টোবর এবং নভেম্বর মাসের ভাতা ১ ডিসেম্বর দেওয়ার সময়সূচি রয়েছে। তাই নভেম্বর মাসে নিয়মিত ভিএ ডিজঅ্যাবিলিটি পেমেন্ট জমা না হলেও সেটিকে ভাতা বন্ধ হওয়ার ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। সরকারি পেমেন্ট ক্যালেন্ডারের নিয়মেই অর্থ পরিশোধের তারিখ পরিবর্তন হয়েছে। সুবিধাভোগীরা প্রয়োজন অনুযায়ী ভিএর অনলাইন পেমেন্ট হিস্ট্রি থেকে নিজেদের অর্থপ্রদানের তথ্য যাচাই করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো ও ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব নিয়ে ভোট হতে যাচ্ছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন দুই অঙ্গরাজ্যের ভোটাররা। রাজ্য আইনসভায় একই ধরনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর উদ্যোগের সমর্থকেরা সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের চেষ্টা করছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনের বিধিনিষেধ নিয়ে সরাসরি অঙ্গরাজ্যভিত্তিক ভোটের ক্ষেত্রে এটি নজিরবিহীন উদ্যোগ। কলোরাডো ও ওয়াশিংটন, উভয় অঙ্গরাজ্যেই ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে। কিন্তু নারী ক্রীড়ায় ট্রান্সজেন্ডারদের অংশগ্রহণের প্রশ্নে সেখানে মতবিরোধ তীব্র। নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা বলছেন, নারী ক্রীড়াবিদদের ন্যায্য প্রতিযোগিতা, সুযোগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের বিধিনিষেধ প্রয়োজন। অন্যদিকে, বিরোধীদের মতে, এ পদক্ষেপ ট্রান্সজেন্ডার শিশু-কিশোরদের প্রতি বৈষম্য তৈরি করবে এবং খেলাধুলায় তাঁদের অংশগ্রহণ নিরুৎসাহিত করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ২৭টি অঙ্গরাজ্যে ইতিমধ্যে ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের অংশগ্রহণ সীমিত করার আইন রয়েছে। দুই অঙ্গরাজ্যের প্রস্তাবে কিছু পার্থক্য রয়েছে। কলোরাডোর প্রস্তাব অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজের ক্রীড়া দলগুলোতে অংশগ্রহণের যোগ্যতা নির্ধারণে জৈবিক লিঙ্গকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। অন্যদিকে, ওয়াশিংটনের প্রস্তাবে মেয়েদের জন্য নির্ধারিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের জৈবিক লিঙ্গের প্রমাণ দিতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রজনন অঙ্গসংস্থান, জিনগত বৈশিষ্ট্য অথবা শরীরে স্বাভাবিকভাবে উৎপন্ন টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ভিত্তিতে যাচাইয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবের সমর্থকেরা মনে করেন, চিকিৎসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা জটিল কিছু নয়। ওয়াশিংটনের উদ্যোগের মুখপাত্র হ্যালি হার্জবার্গের ভাষ্য, চিকিৎসকের কাছে থাকা রোগীর আগের তথ্য বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নথি ব্যবহার করেই বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। তবে বিরোধীরা আশঙ্কা করছেন, এ ধরনের বিধান কার্যকর করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শারীরিক পরীক্ষা বা ব্যয়বহুল চিকিৎসা পরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসক লিবি লফটের মতে, অল্পসংখ্যক ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ যাচাইয়ের জন্য সব মেয়ের ওপর অতিরিক্ত চিকিৎসা পরীক্ষার চাপ তৈরি করা অযৌক্তিক হতে পারে। বিতর্কের পক্ষে-বিপক্ষে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোও সক্রিয় হয়েছে। এলজিবিটিকিউ অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যালট ইনিশিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ক্রিস মেলোডি ফিল্ডস ফিগুয়েরেডো বলেছেন, ২০২৬ সালের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে এমন নীতির বিস্তার কীভাবে ঘটতে পারে, তার একটি পরীক্ষাক্ষেত্র। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার সমর্থকেরা নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য সমান সুযোগ ও ন্যায্য প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার কথা বলছেন। ওয়াশিংটনের এক স্কুলছাত্রী আনালেই উইলসন দাবি করেছেন, অতীতে দৌড় প্রতিযোগিতায় একজন ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদের কাছে দ্বিতীয় স্থান পাওয়ার অভিজ্ঞতা তাঁর এ বিষয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জুন মাসের এক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নিবন্ধিত ভোটারদের প্রায় ৭০ শতাংশ নারী ও মেয়েদের ক্রীড়া দলে ট্রান্সজেন্ডার নারীদের অংশগ্রহণের বিরোধিতা করেছেন। তবে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। সমর্থকেরা জরিপের ফলকে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে দেখালেও বিরোধীরা বলছেন, নীতির প্রভাব শুধু ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা অন্য মেয়েদেরও খেলাধুলা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। এই ভোটের ফল শুধু দুই অঙ্গরাজ্যের ক্রীড়ানীতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও একই ধরনের উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট এর আগে আইডাহো ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ট্রান্সজেন্ডার মেয়েদের স্কুলের নারী ক্রীড়া দলে অংশগ্রহণ সীমিত করার আইন বহাল রেখেছে। তবে কলোরাডো ও ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে ভোটারদের সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে এসব বিধিনিষেধ কীভাবে কার্যকর হবে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপ।
জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয় ও চকোলেটের চড়া দামের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে হ্যালোইন উপলক্ষে মিষ্টি ও ক্যান্ডি কেনার প্রবণতা কমেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান নিয়েলসেনআইকিউর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শেষ হওয়া এক মাসে দেশটিতে ক্যান্ডি বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়েও বিক্রি কমেছিল ১১ দশমিক ৭ শতাংশ, যা আগের দুই বছরের হ্যালোইন মৌসুমের শুরুর দিকের বিক্রির প্রবৃদ্ধি মুছে দিয়েছে। এতে উৎসবকে ঘিরে মিষ্টি প্রস্তুতকারক ও বিক্রেতাদের প্রত্যাশায় চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি, বাসস্থান, পোশাক ও খাবারের পেছনে বাড়তি অর্থ খরচ করতে হওয়ায় অনেক পরিবার হ্যালোইনের মতো উৎসবের কেনাকাটায় কাটছাঁট করছে। নিয়েলসেনআইকিউর ভাইস প্রেসিডেন্ট ক্রিস কোস্টাগলি বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তাদের হাতে বাড়তি খরচের জন্য অর্থ কম থাকছে। ফলে ক্যান্ডির দাম বেশি মনে হওয়ার পাশাপাশি অন্য খাতে ব্যয় মেটানোর পর অনেক পরিবারের পক্ষে তা কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি গ্যালন সাধারণ পেট্রলের গড় দাম ছিল ৪ দশমিক ২৯ ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ বেশি। যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্ডি ও চুইংগামের দামও সাধারণ খাদ্যপণ্যের তুলনায় দ্রুত বেড়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাঁচ বছরে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে ঘরে খাওয়ার জন্য কেনা সামগ্রিক খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। দাম বৃদ্ধির প্রভাব বোঝাতে একটি উদাহরণ দিয়েছে প্রতিবেদনে। ছাড়মূল্যের দোকান আলডি সম্প্রতি মার্স কোম্পানির ১৩৫টি চকোলেটের একটি প্যাকেট ১৯ দশমিক ৮৭ ডলারে বিক্রি করেছে। প্রায় একই দামে পাঁচ বছর আগে ২৫০টি চকোলেটের প্যাকেট কেনা যেত। চকোলেটের দাম বৃদ্ধির পেছনে কোকোর উচ্চমূল্য বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে বিশ্ববাজারে প্রতি মেট্রিক টন কোকোর দাম রেকর্ড ১০ হাজার ৭১০ ডলারে পৌঁছায়। পশ্চিম আফ্রিকার প্রধান উৎপাদন অঞ্চলগুলোতে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং ভবিষ্যৎ বাজারে দামের ওঠানামা নিয়ে জল্পনা এর পেছনে ভূমিকা রেখেছিল। ওই অঞ্চলে বিশ্বের কোকোর প্রায় ৭০ শতাংশ উৎপাদিত হয়। পরে মার্চে দাম কমে প্রতি টন ৩ হাজার ২৪১ ডলারে নেমে এলেও বসন্তে আবার বাড়তে শুরু করে। আফ্রিকায় সার সরবরাহে বিঘ্ন এবং আবহাওয়াজনিত অনিশ্চয়তা ভবিষ্যৎ উৎপাদন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। শুধু চকোলেট নয়, তুলনামূলক কম দামের অন্যান্য মিষ্টির ক্ষেত্রেও চাহিদা বাড়েনি। নিয়েলসেনআইকিউর তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর শেষ হওয়া নয় সপ্তাহে জেলি ক্যান্ডি ও ললিপপের মতো চকোলেটবিহীন মিষ্টির গড় দাম প্রতি পাউন্ডে ৬ দশমিক ০৮ ডলার ছিল, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম। তারপরও বিক্রি বাড়েনি। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় প্যাকেটের বদলে ক্রেতারা ছোট প্যাকেট কিনছেন এবং উৎসবের কাছাকাছি সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী কেনাকাটা করছেন। অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ছোট প্যাকেটের বিক্রি বাড়লেও বড় ও অতিরিক্ত বড় প্যাকেটের বিক্রি সবচেয়ে বেশি কমেছে। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সারকানার খাদ্যশিল্পবিষয়ক উপদেষ্টা স্যালি লায়ন্স ওয়াটের মতে, উচ্চ বাজারদরের কারণে ক্রেতারা এখন একবারে বেশি পণ্য কেনার বদলে অল্প অল্প করে এবং প্রয়োজনের কাছাকাছি সময়ে কেনাকাটা করছেন। ফলে হ্যালোইনের একেবারে আগের দিনগুলোতে ক্যান্ডির বিক্রি বাড়তে পারে কি না, তা এখনো দেখার বিষয়। তিনি মনে করেন, সামগ্রিকভাবে মিষ্টির বিক্রি কিছুটা দুর্বল থাকতে পারে, তবে হ্যালোইন উৎসবের কেনাকাটা পুরোপুরি থেমে যাবে, এমন ধারণার কারণ নেই। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মিষ্টি প্রস্তুতকারকদের সংগঠন ন্যাশনাল কনফেকশনার্স অ্যাসোসিয়েশন এখনো হ্যালোইনের বিক্রি নিয়ে আশাবাদী। শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, উৎসবের সবচেয়ে ব্যস্ত বিক্রির সময় কেবল শুরু হয়েছে এবং ক্রেতাদের আগ্রহ এখনো প্রবল। তবে জীবনযাত্রার ব্যয় ও পণ্যমূল্যের চাপের মধ্যে এ বছর শেষ পর্যন্ত ক্যান্ডির বিক্রি কতটা ঘুরে দাঁড়াবে, তা নির্ভর করবে উৎসবের শেষ পর্যায়ে ক্রেতাদের কেনাকাটার ওপর। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, নিয়েলসেনআইকিউ ও যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো।
রাজনীতি
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
মতামত
জুয়েল সাদাত
বিশ্ব
View moreমালয়েশিয়ার সাবাহ অঙ্গরাজ্যের সেম্পোরনায় একটি অবকাশযাপন কেন্দ্রে চীনা এক নারী পর্যটকের কক্ষে ঢুকে তাঁকে যৌন নিপীড়নের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ১৮ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীর বিরুদ্ধে। ২৫ বছর বয়সী ওই পর্যটক পালিয়ে কাছের পাহাড়ি এলাকার ঝোপের মধ্যে আশ্রয় নেন এবং ভোর পর্যন্ত সেখানেই লুকিয়ে থাকেন। পরে অবকাশকেন্দ্রের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত নিরাপত্তাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ৭ অক্টোবর তাঁকে অন্যের কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পৃথক তদন্ত চলমান রয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম এইচকে০১-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুয়াং পদবির ওই পর্যটক গত ১৯ সেপ্টেম্বর একা ভ্রমণের সময় সেম্পোরনার একটি অবকাশকেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন। ভোররাত প্রায় ৩টার দিকে তিনি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় এক ব্যক্তি তাঁর কক্ষে ঢুকে পড়েন। ঘুম ভেঙে গেলে তিনি দেখতে পান, ওই ব্যক্তি তাঁর হাত ধরে রেখেছেন এবং পোশাক খুলে ফেলার চেষ্টা করছেন। এ সময় তিনি বাধা দিলে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে কৌশলে ওই ব্যক্তিকে গোসল করতে যাওয়ার কথা বলে কক্ষ থেকে বেরিয়ে পালানোর সুযোগ পান তিনি। তবে কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরও বিপদ কাটেনি। পালানোর সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেন বলে পর্যটকটি জানিয়েছেন। এরপর তিনি কোনোভাবে সরে গিয়ে কাছের পাহাড়ের ঢালে ঝোপঝাড়ের মধ্যে লুকিয়ে পড়েন। তাঁর বর্ণনা অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৩টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত তিনি সেখানে লুকিয়ে ছিলেন। এ সময় পিঁপড়া ও মশার কামড়ে তাঁর শরীরে ক্ষত তৈরি হয়। পরে অবকাশকেন্দ্রের এক কর্মী তাঁকে খুঁজে পান। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে ওই নারী জানান, পুরো সময়টিতে তিনি ভয়ে ছিলেন এবং বারবার প্রার্থনা করছিলেন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং ১৯ সেপ্টেম্বর রাতেই অবকাশকেন্দ্রের ভেতর থেকে ১৮ বছর বয়সী এক নিরাপত্তাকর্মীকে আটক করে। সেম্পোরনা জেলা পুলিশের প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট তান হিয়াপ ওয়াহ জানান, প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার দণ্ডবিধির ৪৪৮ ধারায় অন্যের কক্ষে অবৈধভাবে প্রবেশ এবং ৩৫৪ ধারায় শ্লীলতাহানির উদ্দেশ্যে আক্রমণ বা অপরাধমূলক বলপ্রয়োগের অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। পরে ৭ অক্টোবর সেম্পোরনা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে অভিযুক্তকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেন। তবে যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্ত তখনও শেষ হয়নি। পর্যটকটি আরও জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিক এবং তাঁর বৈধ অভিবাসন নথি ছিল না বলে তাঁকে জানানো হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কারাদণ্ডের মেয়াদ শেষে তাঁকে অভিবাসন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে। বৈধ কাগজপত্র ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পর্যটকটির অভিযোগ, অবকাশকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও ক্ষতিপূরণের বিষয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়নি। বিষয়টি তিনি আইনজীবীর কাছে দিয়েছেন। ঘটনাটি নিয়ে চীনা দূতাবাসের হস্তক্ষেপের পর সাবাহ পর্যটন বোর্ডের প্রতিনিধিরা ওই নারীর খোঁজখবর নিতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবাহ সরকারও বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে বলে পর্যটকটি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দামি অবকাশকেন্দ্রে অবস্থান করলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। অন্যদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্তের প্রয়োজনীয় ধাপগুলো সম্পন্ন করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সূত্র: মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম দ্য স্টার ও এইচকে০১।
প্রাচীন চীনে নারীর সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার একটি বিশেষ মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হতো ছোট পা। এই ধারণা থেকেই কয়েক শতাব্দী ধরে প্রচলিত ছিল ‘ফুট বাইন্ডিং’ বা পা বেঁধে রাখার প্রথা। এতে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের পায়ের আঙুলগুলো, বুড়ো আঙুল ছাড়া, পায়ের তলার দিকে ভাঁজ করে কাপড়ের ফিতা দিয়ে শক্ত করে বেঁধে রাখা হতো। সময়ের সঙ্গে বাঁধন আরও শক্ত করা হতো, যাতে পায়ের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয় এবং আকৃতি ছোট থাকে। কখনো পায়ের দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে ৭ সেন্টিমিটার বা তিন ইঞ্চিতে নামিয়ে আনার চেষ্টা করা হতো। এমন পাকে বলা হতো ‘গোল্ডেন লোটাস’ বা ‘সোনালি পদ্মপা’। ইতিহাসবিদদের মতে, এই প্রথার প্রচলন শুরু হয় প্রায় এক হাজার বছর আগে। এর শুরুর সময় নিয়ে গবেষকদের মধ্যে কিছু মতভেদ থাকলেও, চীনের সং রাজবংশের আমলে, বিশেষ করে দশম থেকে ত্রয়োদশ শতকের মধ্যে, এর বিস্তার ঘটে। প্রথম দিকে রাজদরবারের নৃত্যশিল্পী ও অভিজাত পরিবারের নারীদের মধ্যে ছোট পায়ের প্রবণতা দেখা যায়। পরে তা ধীরে ধীরে সমাজের অন্যান্য শ্রেণিতেও ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ছোট পা শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক ছিল না, বরং পরিবারের সামাজিক অবস্থান এবং মেয়ের বিয়ের সম্ভাবনার সঙ্গেও যুক্ত হয়ে যায়। অনেক পরিবার মনে করত, ছোট পা মেয়েকে বিয়ের ক্ষেত্রে ভালো সুযোগ এনে দিতে পারে। এই প্রথা অনুসরণ করা মেয়েদের জন্য প্রক্রিয়াটি ছিল দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক। সাধারণত শৈশবেই পা বাঁধা শুরু হতো। পায়ের ছোট আঙুলগুলো ভেতরের দিকে ভাঁজ করে কাপড় দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে রাখা হতো, ফলে পায়ের হাড় ও স্বাভাবিক গঠনে পরিবর্তন আসত। পায়ের মাঝের অংশে অস্বাভাবিক বাঁক তৈরি হতো এবং আঙুলগুলো স্থায়ীভাবে ভাঁজ হয়ে থাকতে পারত। এতে হাঁটাচলায় অসুবিধা, চলাফেরার সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি তৈরি হতো। ছোট আকারের পা ঢেকে রাখতে নারীদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি জুতা ব্যবহার করা হতো, যেগুলো অনেক সময় সূক্ষ্ম নকশা ও সূচিকর্মে সাজানো থাকত। ছোট পাকে ঘিরে সৌন্দর্যের ধারণার পেছনে সামাজিক প্রত্যাশা ও নারীর অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বাঁধা পা অনেক ক্ষেত্রে এমন একটি সামাজিক পরিচয়ের প্রতীক হয়ে উঠেছিল, যা বোঝাত ওই নারীকে কঠোর শারীরিক শ্রম করতে হয় না। কিছু পরিবারের কাছে এটি মেয়ের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়ানোর উপায় হিসেবেও বিবেচিত হতো। তবে এর ফলে নারীদের চলাফেরা সীমিত হয়ে পড়ত এবং শরীরের স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হতো। মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব জাদুঘর এবং যুক্তরাষ্ট্রের চীনা জাদুঘরের ঐতিহাসিক বিবরণে বলা হয়েছে, এই প্রথা একসময় বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং নারীদের জীবনযাপনে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলে। উনিশ শতকের শেষ ভাগ থেকে চীনে পা বাঁধার প্রথার বিরুদ্ধে সংস্কার আন্দোলন জোরালো হতে থাকে। বিশ শতকের শুরুতে সামাজিক পরিবর্তন এবং নারীদের জীবনযাত্রা নিয়ে নতুন চিন্তাভাবনার কারণে প্রথাটি ক্রমে কমতে শুরু করে। ১৯১২ সালে চীনের জাতীয়তাবাদী সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে পা বাঁধা নিষিদ্ধ করে। তবে নিষেধাজ্ঞার পরও কিছু গ্রামীণ এলাকায় বহু বছর ধরে এ রীতি চালু ছিল। ১৯৪৯ সালের পর এটি প্রায় সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়। অর্থাৎ আইন করে নিষিদ্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই প্রথাটি শেষ হয়ে যায়নি; সামাজিক অভ্যাস বদলাতে আরও সময় লেগেছিল। পা বাঁধার ইতিহাসের শেষ অধ্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ১৯৯৯ সালে। চীনের হারবিন শহরের ঝিচিয়াং জুতা কারখানা সে বছর পা বাঁধা নারীদের জন্য বিশেষ জুতা তৈরির নিয়মিত উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। কারখানাটি আগে হাতে তৈরি ছোট জুতা উৎপাদন করত, যা ব্যবহার করতেন শৈশব থেকে পা বাঁধা থাকা বয়স্ক নারীরা। কারখানাটি বন্ধ হওয়ার ঘটনাকে দীর্ঘদিনের এই প্রথার সামাজিক অবসানের একটি প্রতীকী দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানে জাদুঘরে সংরক্ষিত ছোট জুতা ও ঐতিহাসিক ছবি সেই সময়ের নারীদের জীবন, সৌন্দর্যবোধ এবং সামাজিক প্রত্যাশার ইতিহাস তুলে ধরে। সূত্র: মিউজিয়াম অব চাইনিজ ইন আমেরিকা, মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃতত্ত্ব জাদুঘর এবং স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন।
আইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছয় মাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়লে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে—এমন আশঙ্কায় দাম বাড়ছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৬ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়ায়। এক দিনে দাম বাড়ে ৩ দশমিক ৫৫ ডলার। গত ২৯ এপ্রিলের পর এটিই ব্রেন্টের সর্বোচ্চ সমাপনী দর। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের মানদণ্ড ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও বেড়েছে। এই তেলের দাম ৩ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছায়। এ নিয়ে টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ল। সপ্তাহের হিসাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ২ শতাংশ। ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাম্প্রতিক বক্তব্য বাজারের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। গত ২১ অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আলোচনা চলছে না। একই সঙ্গে তিনি শিগগিরই ‘বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে’ বলে মন্তব্য করেন। এদিকে মার্কিন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় যৌথ হামলার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন ও তেল আবিব। তবে এই পরিকল্পনা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। অন্যদিকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রধান দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আধুনিকায়নের পর যেকোনো ধরনের অসম যুদ্ধ মোকাবিলায় ইরানের সেনাবাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। ইরানকে ঘিরে এই উত্তেজনার পাশাপাশি সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবরও তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব হামলার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে সৌদি আরবে জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত নন, এমন মার্কিন কর্মীদের দেশটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর দেশটির পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত শায়বাহ তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলায় দুজন নিহত এবং দুজন আহত হন। একই সময়ে দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৃথক হামলায় আরও দুজন নিহত হন। ওই ঘটনায় আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে। এসব ঘটনার পর সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকো দাহরানে অবস্থিত তাদের সদর দপ্তরের কর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। একই সঙ্গে কর্মীদের বাসা থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এবং সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই বিশ্ববাজারে দাম বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াত যৌন অপরাধী ও অর্থদাতা জেফরি এপস্টিনের কাছে পবিত্র কাবার গিলাফের অংশ পাঠানোর তথ্যকে কেন্দ্র করে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে প্রচার জোরদার করেছে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টিন-সংক্রান্ত নথিতে কাবার গিলাফের সঙ্গে সম্পর্কিত কাপড় তাঁর কাছে পৌঁছানোর তথ্য উঠে এসেছে। এ ঘটনাকে সৌদি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনমত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে হুতিরা। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনের বরাতে এনডিটিভি এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যোগাযোগের মাধ্যমে কাবার গিলাফের অংশ এপস্টিনের কাছে পৌঁছেছিল। এসব কাপড়ে পবিত্র কোরআনের আয়াতের নকশা ছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে নথিতে কাপড় পাঠানোর তথ্য পাওয়া গেলেও এর সঙ্গে সৌদি সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা আলাদাভাবে নিশ্চিত করা জরুরি। এপস্টিনের সঙ্গে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর যোগাযোগ নিয়ে প্রকাশিত নথিগুলো এর আগে থেকেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের আলোচনায় রয়েছে। সৌদি আরব ও হুতিদের দীর্ঘদিনের বিরোধের মধ্যে নতুন করে বিষয়টি সামনে এসেছে। গত মাসে পবিত্র মক্কা নগরীকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ তুলেছিল সৌদি আরব। হুতিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। এরপর হুতি গোষ্ঠীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব এপস্টিনের কাছে কাবার গিলাফের অংশ পাঠানোর খবর তুলে ধরে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে বক্তব্য দিতে শুরু করে। হুতি গোষ্ঠীর প্রেসিডেন্ট মাহদি আল-মাশাত তাদের সংবাদমাধ্যমে বলেন, যারা এপস্টিনকে কাবার গিলাফ দিয়েছে, তারাই মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করছে। এটি হুতি নেতৃত্বের বক্তব্য, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্ত নয়। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিরা শুধু রাজনৈতিক বিবৃতি নয়, ভিডিও, গান, বক্তৃতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ব্যক্তিদেরও এই প্রচারে যুক্ত করছে। এক্সে বিপুলসংখ্যক অনুসারী থাকা ইয়েমেনি কৌতুকাভিনেতা মুস্তফা আল-মোমারি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচনা করে ভিডিও প্রকাশ করেছেন। ইয়েমেনের স্থানীয় শিল্পীরাও এ বিষয় নিয়ে গান তৈরি করেছেন। হুতি নেতা আব্দুল মালেক আল-হুতিও বিভিন্ন বক্তব্যে এপস্টিনের নথি উল্লেখ করে পশ্চিমা প্রভাবশালী মহলের সমালোচনা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু সৌদি আরবের সামরিক অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা নয়, বরং ইসলামি পবিত্র স্থানগুলোর রক্ষক হিসেবে দেশটির ভাবমূর্তিকেও চ্যালেঞ্জ করা। সৌদি আরব ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সমর্থক, অন্যদিকে হুতিরা দেশটির বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে এবং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত। এই বিরোধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও প্রচারমাধ্যমও জনমত প্রভাবিত করার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এপস্টিনের নথি নিয়ে হুতিদের বক্তব্যের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। তবে নথিতে কোনো ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ বা কোনো বস্তু পাঠানোর তথ্য থাকা মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে হুতিদের রাজনৈতিক অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। তাই এপস্টিনের কাছে গিলাফের অংশ পৌঁছানোর ঘটনা এবং মক্কাকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগকে পৃথক বিষয় হিসেবে দেখা জরুরি। সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস ও এনডিটিভি।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন
পেন্টাগন থেকে শুরু হচ্ছে ১০ মাইলের দৌড়, যান চলাচলে যেসব বিধিনিষেধ থাকছে
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কাভান সুলিভানের ইতিহাস, ১৭ বছরেই যুক্তরাষ্ট্রের সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা
ফুটবল মাঠের বাইরে নতুন সম্মান, মেসিকে ডক্টরেট দিচ্ছে বুয়েনস এইরেস বিশ্ববিদ্যালয়
রাবণের দশ মাথায় ড. ইউনূস ও ইলন মাস্কের ছবি, লক্ষ্ণৌতে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
বার্ধক্যের গতি কমাতে পারে ভিটামিন ডি, হার্ভার্ডের গবেষণায় উঠে এল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
বয়স্কদের মধ্যে কোলন ক্যানসার কমলেও তরুণদের আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রে, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা
ক্যানসারের নতুন এমআরএনএ টিকায় আশার আলো, রোগ ফেরার ঝুঁকি কমেছে ৪২ শতাংশ
বাংলাদেশে হামের ভয়াবহ থাবা, ঝুঁকিতে শিশুরা! মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ২১৪ জন
ত্বকের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে নতুন টিকার সাফল্য, রোগ ফিরে আসার আশঙ্কা কমেছে ৪২ শতাংশ
ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার চালু করছে কেন্ট জেলা
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্রে নভেম্বরের ভেটেরান্স ভাতা মিলবে অক্টোবরেই, নতুন পেমেন্টের তারিখ ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আগাম ভোট দিলেন ট্রাম্প ও মেলানিয়া
সাবেক রাষ্ট্রপতির জন্মদিনে বিশেষ উপহার, যুক্তরাষ্ট্রের সব ন্যাশনাল পার্কে বিনা মূল্যে প্রবেশের সুযোগ
২৫ বছর পর খুলল নিউ ইয়র্কের প্রবীণ সেবাকেন্দ্র, উদ্বোধন করলেন মেয়র মামদানি
যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার পর প্রতিনিয়ত বাড়ছে রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বার্ষিক খরচ ছাড়াল ১৬ হাজার ডলার
সৌদিতে ১৯ হাজার ৬১০টি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আবেদনের নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন, কর্মীদের মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও
মায়ের বিক্রি করা ছাগলের টাকায় কিনেন ফোন, নাসিম এখন মাইক্রোসফটে
লিংকডইন ব্যবহার করে যেভাবে খুঁজবেন মাস্টার্স ও পিএইচডির সুপারভাইজার
ডিগ্রি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বড় আয়ের সুযোগ, দক্ষ কারিগর খুঁজতে হিমশিম খাচ্ছে নিয়োগদাতারা
দুই হাজার বছর পর রোমান স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হওয়া ব্যক্তির মুখ ফিরল ডিজিটাল প্রযুক্তিতে
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে মরিয়া আইনি লড়াই, এবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে মাহমুদ খলিল
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
এইচএসসিতে জিপিএ ২.৯৩ পেয়েও ৭ বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির অফার পেলেন রায়হান
হকিংয়ের পাওয়া পুরস্কার এবার বাঙালির! পদার্থবিদ্যার অস্কার ক্লেন মেডেল অশোক সেনের
বিনা টিউশন ফিতে সুইডেনে মাস্টার্স, সঙ্গে মাসে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা ভাতা!
বিদেশে উচ্চশিক্ষা: অধ্যাপককে ইমেইল পাঠানোর আগে জানতে ও যাচাই করতে হবে ১০ বিষয়
প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অক্সফোর্ডে পাবলিক পলিসি পড়ছেন ইস্ট ওয়েস্টের ইসরাত জাহান
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র
লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!
দুর্গাপূজার আনন্দে মাতোয়ারা বাংলাদেশ, মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্তদের ঢল, উৎসবের রঙে রঙিন দেশ
৬ বছর আগে মহামারির সময়ে একাই কাবা তাওয়াফ করেছিলেন এক পরম সৌভাগ্যবান নারী
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান ঘিরে বিক্ষোভ, পাঁচ বছরের শিশুর সামনে গুলির ঘটনায় ক্ষোভ
যুক্তরাষ্ট্রে জনপ্রিয় পাউরুটি ফেরত নেওয়া হচ্ছে, দুধের উপাদান নিয়ে সতর্কতা
২৩৫ ইউনিট বিদ্যুতে ৫০৬ কোটি টাকার বিল, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রীর
জাপানের ধনী পরিবারে ‘ঘরজামাই’ দত্তক, উত্তরাধিকারী হওয়ার সুযোগ বাংলাদেশিদেরও
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
আম্বানির শেয়ার কিনতে বিশ্বের বিনিয়োগকারীদের ঢল, প্রথম ঘণ্টাতেই রেকর্ড
ফ্রান্সে দাঙ্গা, জ্বালানির ঊর্ধ্বমূল্য ও বৈশ্বিক উদ্বেগে ইউরোর দর কমল, শক্তিশালী ডলার
আমেরিকায় কোন পেশায় আয় বেশি? জেনে নিন, ঘণ্টাপ্রতি বেতনসহ ১০টি কাজের তালিকা
ক্যালিফোর্নিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এয়ারটেবলের কর্মীদের ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা, বে এরিয়ায় চাকরি গেছে ১৪ হাজারের বেশি
ইরান যুদ্ধে মার্কিন পরিবারপ্রতি প্রায় ২ হাজার ডলারের বোঝা, বাড়ছে জ্বালানি ও সুদের বাড়তি চাপ
বয়স্কভাতার কথা বলে টিপসই, বৃদ্ধের ১৪ শতক জমি তিন ভাইয়ের নামে লিখে নেওয়ার অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে স্কুলের প্রিন্সিপাল গ্রেপ্তার
লং বিচে আইসিইর হাতে আটকের সময় মার্কিন নাগরিক আহতের ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের দাবি
নিউইয়র্কের একাধিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এফবিআইয়ের তল্লাশি, তদন্তের কেন্দ্রে মেডিকেইড জালিয়াতি
যুক্তরাষ্ট্রে কিশোরকে গুলি করে হত্যা, দুই শহরে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার ৩
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
গুতেরেসের সঙ্গে তারেকের বৈঠক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী
ঋণ নয়, অনুদান চায় বন্যাবিধ্বস্ত নেপাল; জাতিসংঘের তহবিলে ২ কোটি ডলারের আবেদন
শীত আসার আগেই গ্যাসের মজুত নিয়ে উদ্বেগে ইউরোপ, যুদ্ধের প্রভাবে বাড়তে পারে জ্বালানির দাম
যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যেই বড় বার্তা ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনার আহ্বান
আমাজনে ৪০ দিন তিন ভাইবোনকে আগলে রেখেছিল ১৩ বছরের লেসলি, বেঁচে ছিলেন প্রত্যেকেই
জন্মের পরই নবজাতকের মুখে ঘন কালো গোঁফ, ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তোলপাড়
২৫০ শতাংশ শুল্কের হুমকিতে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থামিয়েছিলাম, দাবি ট্রাম্পের
সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃ ত্যুদ ণ্ড কার্যকর, ছয় প্রশ্নের জবাব চেয়ে চিঠি ঢাকার
ফেসবুক পোস্টের বিরোধে প্রাণ গেল বৃদ্ধের! কমলনগরে যুবকের ঘুষিতে মৃ ত্যুর অভিযোগ
মহাসড়কে বাস-ট্রাকের ভ য়াবহ সংঘর্ষ, মুহূর্তেই নিভে গেল দুটি প্রাণ, পরিবারে কান্নার রোল
মাদ্রাসা শিক্ষককে চড় মারার ঘটনায় রুমির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান