মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-এর শ্রমবাজারে। এক বছরের স্থবিরতার পর বাজারে যে সামান্য স্থিতিশীলতার আশা দেখা যাচ্ছিল, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইরান ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে ধীরগতি আসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে কর্মী ছাঁটাই শুরু করতে পারে। বর্তমানে শ্রমবাজারে একটি ‘অপেক্ষমাণ’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিয়োগ কম হলেও বড় আকারে ছাঁটাইও দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের প্রথমার্ধে চাকরি বৃদ্ধির হার সীমিত থাকবে এবং বেকারত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মন্দার ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও মূল্যস্ফীতি হ্রাস, সুদের হার কমানো এবং নতুন করনীতির কারণে চলতি বছরে শ্রমবাজারে উন্নতির আশা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ‘স্থিতিশীল হলেও স্থবির’ অবস্থায় রয়েছে।
ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ইসমাইল বাগাই জানান, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT)-তে সই করে ইরান বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছে, তা নিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এই আন্তর্জাতিক চুক্তির লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহার ও গবেষণার অধিকার দেওয়া হয়। বাগাই বলেন, ইরান এখনো চুক্তিটির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। তবে চুক্তির আওতায় তাদের প্রাপ্য অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ দাবির বিরোধিতা করে আসছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুলে আসছে। উল্লেখ্য, গত বছর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর বোর্ড অব গভর্নরস এক প্রস্তাবে ইরানকে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এর প্রেক্ষাপটেই চুক্তির কার্যকারিতা ও সুফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। সূত্র: বিবিসি
মিয়ানমারের সামরিক জান্তা প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং এবার আনুষ্ঠানিকভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) পার্লামেন্ট অধিবেশনের শুরুতেই তাঁর নাম প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রধান বিরোধী দলগুলোকে বাইরে রেখে আয়োজিত এক বিতর্কিত নির্বাচনের পর এই পদক্ষেপ দেশটিতে সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, পার্লামেন্টে মিন অং হ্লাইংয়ের সঙ্গে আরও দুজন প্রার্থী মনোনয়ন পেলেও তারা মূলত অনুগত এবং তাঁদের জেতার কোনো সম্ভাবনা নেই। নতুন পার্লামেন্টের প্রায় ৯০ শতাংশ সদস্যই সেনাবাহিনীর সক্রিয় কর্মকর্তা বা জান্তা সমর্থিত দলের প্রতিনিধি, যার ফলে হ্লাইংয়ের বিজয় এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। প্রেসিডেন্ট হওয়ার পথে বাধা ও কৌশল দীর্ঘদিন ধরে মিন অং হ্লাইংয়ের স্বপ্ন ছিল দেশটির প্রেসিডেন্ট হওয়া। ২০২০ সালের নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত দল শোচনীয়ভাবে পরাজিত হওয়ার পর তিনি ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন। তবে এখন প্রেসিডেন্ট হতে গেলে তাঁকে কিছু আইনি ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে: সেনাবাহিনী ত্যাগ: সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট হতে হলে তাঁকে সামরিক পোশাক ও পদ ছাড়তে হবে। এতে সেনাবাহিনীর ভেতরে তাঁর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উত্তরসূরি নির্বাচন: নিজের ক্ষমতা অটুট রাখতে তিনি অত্যন্ত বিশ্বস্ত জেনারেল ইয়ে উইন ও’কে সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। পরামর্শদাতা পরিষদ: পদত্যাগ করলেও যাতে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে তাঁর প্রভাব থাকে, সেজন্য তিনি নিজেই একটি নতুন শক্তিশালী পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করেছেন, যার প্রধান থাকবেন তিনি নিজেই। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও অভ্যন্তরীণ সংকট সামরিক সরকার এই নির্বাচনকে ‘শান্তির পথ’ হিসেবে দাবি করলেও জাতিসংঘ এবং পশ্চিমা দেশগুলো একে একটি বড় ধরনের ‘প্রহসন’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারে চলমান গৃহযুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং দেশের একটি বড় অংশ এখনো সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ভিনদেশে আগ্রাসন চালানোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে বেশি মনোযোগী হওয়া। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলঘেঁষা নীতির কারণে খোদ আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যেই চরম অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনই প্রমাণ করে যে মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ তাদের দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের উচিত ট্রাম্পকে এই সত্য জানানো যে, সাধারণ আমেরিকানরা নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি আর মেনে নিতে পারছে না। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম অবিশ্বাসের কারণে ইরান এখনো আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়নি। সূত্র: তাসনিম নিউজ
ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ইসমাইল বাগাই জানান, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT)-তে সই করে ইরান বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছে, তা নিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এই আন্তর্জাতিক চুক্তির লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহার ও গবেষণার অধিকার দেওয়া হয়। বাগাই বলেন, ইরান এখনো চুক্তিটির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। তবে চুক্তির আওতায় তাদের প্রাপ্য অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ দাবির বিরোধিতা করে আসছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুলে আসছে। উল্লেখ্য, গত বছর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর বোর্ড অব গভর্নরস এক প্রস্তাবে ইরানকে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এর প্রেক্ষাপটেই চুক্তির কার্যকারিতা ও সুফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। সূত্র: বিবিসি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র-এর শ্রমবাজারে। এক বছরের স্থবিরতার পর বাজারে যে সামান্য স্থিতিশীলতার আশা দেখা যাচ্ছিল, নতুন করে শুরু হওয়া সংঘাত তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ইরান ও ইসরায়েল-সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি-তে সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে, যা জ্বালানি ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা জোরদার করেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, তেলের দাম দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করতে পারে। এতে ব্যবসা ও বিনিয়োগে ধীরগতি আসার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে কর্মী ছাঁটাই শুরু করতে পারে। বর্তমানে শ্রমবাজারে একটি ‘অপেক্ষমাণ’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিয়োগ কম হলেও বড় আকারে ছাঁটাইও দেখা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনিশ্চয়তার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান নতুন নিয়োগ পরিকল্পনা স্থগিত রাখছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বছরের প্রথমার্ধে চাকরি বৃদ্ধির হার সীমিত থাকবে এবং বেকারত্ব ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মন্দার ঝুঁকিও প্রায় ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি সৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজার, যা সাম্প্রতিক সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। যদিও মূল্যস্ফীতি হ্রাস, সুদের হার কমানো এবং নতুন করনীতির কারণে চলতি বছরে শ্রমবাজারে উন্নতির আশা তৈরি হয়েছিল। তবে নতুন সংঘাত সেই সম্ভাবনাকে দুর্বল করে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার ‘স্থিতিশীল হলেও স্থবির’ অবস্থায় রয়েছে।
ইরানে সামরিক আগ্রাসন চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কার্যত একাকী হয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার মিত্র রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা চেয়েও এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাননি তিনি। এমনকি সামরিক জোট ন্যাটোও এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে কোনো ব্রিটিশ সেনা মোতায়েন করা হবে না। আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এই সংঘাত থেকে যুক্তরাজ্যকে দূরে রাখার ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়াতে যাচ্ছি না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ব্রিটিশ সরকার কেবল তার নাগরিক, জাতীয় স্বার্থ এবং আঞ্চলিক মিত্রদের রক্ষায় ‘প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ’ গ্রহণ করছে। ব্রিটেন হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার প্রচেষ্টায় সমর্থন দিলেও কোনোভাবেই সরাসরি যুদ্ধে ‘টেনে হিঁচড়ে’ জড়াতে চায় না। তবে সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত কিছু সুবিধা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য। হরমুজ প্রণালির হুমকির সঙ্গে জড়িত ইরানি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে তারা। এছাড়া ইরান থেকে আসা সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করতে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। মিত্রহীন ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ বড় কোনো অভিযানে সাধারণত পশ্চিমা দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থন প্রয়োজন হয়। সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তাদের নৌবাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরির মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) ইরানি গণমাধ্যমে প্রকাশিত আইআরজিসির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বিমান হামলায় তিনি নিহত হন। আলিরেজা তাংসিরি আইআরজিসির একজন অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তা ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইরানের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা ও কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিলেন। তার মৃত্যু চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তাংসিরির বিরুদ্ধে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে দুই দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তিনি আইআরজিসি নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির তদারকি করতেন এবং সশস্ত্র ড্রোন উৎপাদন সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন। তাংসিরির নেতৃত্বে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করে। বিশ্বের জ্বালানি তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্লেষকদের মতে, তার মৃত্যু পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নৌ তৎপরতায় সাময়িক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে আইআরজিসি জানিয়েছে, এই ক্ষতি সত্ত্বেও তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং তাংসিরির দেখানো পথেই তারা এগিয়ে যাবে। এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলেছে। ইরান ইতোমধ্যে এই হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কেবল স্থল ও আকাশপথেই সীমাবদ্ধ নেই, সমুদ্রপথেও এর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে আইআরজিসির নতুন নেতৃত্ব কীভাবে দায়িত্ব নেবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় শহর হাইফা-র ‘বাজান’ তেল শোধনাগারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার পরপরই জ্বালানি শোধনাগারটিতে আগুন ধরে যায়। এতে স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে গত ১৯ মার্চও একই স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল বলে জানা গেছে। সে সময় ইরান দাবি করে, তাদের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত এবং Al Jazeera কর্তৃক যাচাইকৃত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন কালো ধোঁয়া আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, গত কয়েক মাস ধরে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। তবে সর্বশেষ এই হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরান থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করতে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের পরিকল্পনা বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প এই পরিকল্পনার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করছেন। নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন বাহিনীকে কয়েক দিন বা তারও বেশি সময় ইরানের ভেতরে অবস্থান করতে হতে পারে। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরান যাতে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে White House ও Pentagon-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে BBC। অন্যদিকে, The New York Times জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন সেনাদের ইসফাহান পারমাণবিক স্থাপনায় থাকা উচ্চ-সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দের অভিযানে ব্যবহার করা হতে পারে। পাশাপাশি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপ দখল বা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে একই সংবাদমাধ্যম জানায়, ইসফাহানের একটি পাহাড়ের নিচে গভীরে সংরক্ষিত পারমাণবিক সরঞ্জাম ধ্বংস বা জব্দ করার বিষয়টিও ট্রাম্প গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করছেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, এ ধরনের সামরিক অভিযান অত্যন্ত জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং এর ফলে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এদিকে, Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন। বিশেষ করে দেশটির প্রধান জ্বালানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখলের বিষয়টি তিনি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই। সোমবার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।ইসমাইল বাগাই জানান, পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি বা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (NPT)-তে সই করে ইরান বাস্তবে কতটা সুবিধা পাচ্ছে, তা নিয়ে দেশটির পার্লামেন্ট ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৯৭০ সালে কার্যকর হওয়া এই আন্তর্জাতিক চুক্তির লক্ষ্য হলো বিশ্বব্যাপী পরমাণু অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা। একই সঙ্গে সদস্য দেশগুলোকে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহার ও গবেষণার অধিকার দেওয়া হয়। বাগাই বলেন, ইরান এখনো চুক্তিটির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। তবে চুক্তির আওতায় তাদের প্রাপ্য অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত হচ্ছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। তবে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে এ দাবির বিরোধিতা করে আসছে এবং ইরানের বিরুদ্ধে গোপনে পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ তুলে আসছে। উল্লেখ্য, গত বছর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর বোর্ড অব গভর্নরস এক প্রস্তাবে ইরানকে চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে। এর প্রেক্ষাপটেই চুক্তির কার্যকারিতা ও সুফল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। সূত্র: বিবিসি
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ওয়াশিংটনকে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছেন, ভিনদেশে আগ্রাসন চালানোর চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দমনে বেশি মনোযোগী হওয়া। রোববার (২৯ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসরায়েলঘেঁষা নীতির কারণে খোদ আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যেই চরম অসন্তোষ ও বিক্ষোভ দানা বাঁধছে। পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে আলোচিত ‘নো কিংস’ (No Kings) বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর মতে, এই আন্দোলনই প্রমাণ করে যে মার্কিন জনগণের একটি বড় অংশ তাদের দেশের নীতিনির্ধারণে বিদেশি প্রভাব নিয়ে বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ। তিনি আরও যোগ করেন, মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞদের উচিত ট্রাম্পকে এই সত্য জানানো যে, সাধারণ আমেরিকানরা নিজেদের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে ইসরায়েলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি আর মেনে নিতে পারছে না। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ভূখণ্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার মৃত্যুর পর ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত থামাতে মিশর, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো দেশগুলো মধ্যস্থতার চেষ্টা করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চরম অবিশ্বাসের কারণে ইরান এখনো আলোচনার টেবিলে বসতে রাজি হয়নি। সূত্র: তাসনিম নিউজ
প্যারিসের ঐতিহাসিক গ্রাঁ পালে সোমবার (৩০ মার্চ) বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘চেঞ্জ নাউ ২০২৬’। বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশের উদ্ভাবক, নীতি-নির্ধারক এবং তরুণ নেতাদের উপস্থিতিতে এই মেগা ইভেন্টের পর্দা উন্মোচিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বাস্তব সমাধান খুঁজে বের করাই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য। এবারের সম্মেলনে ১০০০টিরও বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শিত হচ্ছে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রফেসর ড. যোহান রকস্ট্রোম, ক্রিস্টিয়ানা ফিগারেস এবং লুইসা নিউবাউয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা টেকসই অর্থনীতি ও জলবায়ু নীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, তিন দিনে প্রায় চার লাখেরও বেশি অংশগ্রহণকারী এই সম্মেলনে সমবেত হবেন। ৩০ মার্চ থেকে ১ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই আয়োজনের প্রথম দুই দিন পেশাদার প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত থাকলেও শেষ দিন অর্থাৎ ১ এপ্রিল দুপুর ১টা থেকে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। গ্রাঁ পালের ভেতরের চিত্তাকর্ষক আলোকসজ্জা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রদর্শনীটিকে এক অনন্য রূপ দিয়েছে। আয়োজকদের মতে, ‘চেঞ্জ নাউ’ কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি একটি আন্তর্জাতিক আন্দোলন যা একটি ন্যায্য ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ সংঘর্ষে একজন মার্কিন-জন্ম ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। রোববার ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিহত সেনার নাম সার্জেন্ট মোশে ইৎজহাক হাকোহেন কাটজ (২২)। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের নিউ হেভেনে জন্মগ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ইসরায়েলে গিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ইসরায়েল ডিফেন্স ফোর্সে যোগ দেন। আইডিএফ জানায়, দক্ষিণ লেবাননে দায়িত্ব পালনকালে চলমান সামরিক অভিযানের সময় তিনি নিহত হন। সংঘর্ষের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো না হলেও সীমান্ত এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা বেড়েছে বলে জানিয়েছে সামরিক সূত্র। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আরও জানায়, তার সাহসিকতা ও দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ মৃত্যুর পর তাকে কর্পোরাল থেকে সার্জেন্ট পদে উন্নীত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর মাঝে প্রায়ই সংঘর্ষ ঘটে থাকে, যা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তুলেছে। এই ঘটনার পর ইসরায়েলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সামরিক বাহিনী নিহত সেনার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।