কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই হামলা "জবাবহীন থাকবে না" এবং ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। ইরানের দাবি, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এ ঘটনাকে "শত্রুতাপূর্ণ ও আগ্রাসী হামলা" হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর ওপর দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিফোন আলাপে ল্যাভরভ নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি জাহাজের ক্রুদের সহায়তায় এগিয়ে আসায় রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। আরাগচিও ওই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কেও ল্যাভরভকে অবহিত করেন আরাগচি। তিনি আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এর জবাবে ইউক্রেন ইরান-সম্পৃক্ত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের বিভিন্ন রুটকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ঘটনার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। এ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও নেদারল্যান্ডসের ফরচুনা সিতার্দের মধ্যকার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ও সংঘাত সামাল দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় তীব্র আঘাত পান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, আঘাতের মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা বা 'কনকাশনে' আক্রান্ত হয়েছেন। গত শনিবার (২৫ জুলাই) ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় ফরবাখ শহরের শ্লসবের্গ স্টেডিয়ামে নতুন প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও ডাচ ক্লাব ফরচুনা সিতার্দ। খেলার মাঠে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছিলেন ২৬ বছর বয়সী সহকারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে এক অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। জার্সি টানাটানিকে কেন্দ্র করে উভয় দলের দুজন খেলোয়াড় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নিমেষের মধ্যেই সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলের আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন। মাঠে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে যান মাথিলদে দেমোঁসে। তবে খেলোয়াড়দের প্রবল ঠেলাঠেলির মাঝে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি শক্ত মাটিতে সজোরে আছড়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, মাঠের যে স্থানটিতে খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি ও রেফারির পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, ঠিক তার পাশেই বড় অক্ষরে লেখা ছিল "রেফারিকে সম্মান করুন"। ঘটনার পর কয়েক মিনিট দেমোঁসে মাঠেই নিথর হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের হাত চেপে ধরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে মূল রেফারি, অন্য সহকারী রেফারি, ক্লাবের চিকিৎসাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। সামান্য সুস্থ বোধ করলে খেলা পুনরায় শুরু হয় এবং ২৬ বছর বয়সী এই রেফারি সাময়িকভাবে লাইনে ফিরে নিজের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। তবে প্রথমার্ধের বিরতির সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিনি মাঠ ছেড়ে যান। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্য একজন কর্মকর্তা সহকারী রেফারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার 'কনকাশন' ধরা পড়ে। ম্যাচটিতে ৩-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ডাচ ক্লাব ফরচুনা সিতার্দ তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ম্যাচ প্রতিবেদনে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাটিকে 'ব্যতিক্রমী এক মুহূর্ত' হিসেবে উল্লেখ করলেও কোনো বাড়তি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। অন্যদিকে ফরাসি ক্লাব মেৎজ তাদের প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টিই এড়িয়ে গেছে। মাঠে খেলোয়াড়দের এমন অপেশাদার আচরণ ও ম্যাচ অফিশিয়ালের আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) নামের বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ায় চলতি বছরের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে এই সংক্রমণে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী ও সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১১টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। গত বছর ফ্লোরিডায় এই ব্যাকটেরিয়ায় ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিব্রিও ভালনিফিকাস উষ্ণ লবণাক্ত ও অল্প লবণাক্ত (ব্র্যাকিশ) পানিতে স্বাভাবিকভাবেই বাস করে। সাধারণত কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুক, বিশেষ করে অয়েস্টার খাওয়ার মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া শরীরে কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ অনেক সময় তুলনামূলক হালকা হতে পারে। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ রয়েছে বা অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, রক্তদূষণ (সেপসিস) এবং ত্বকে ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, এই সংক্রমণে আক্রান্ত প্রায় পাঁচজনের একজনের মৃত্যু হতে পারে, অনেক সময় অসুস্থ হওয়ার এক বা দুই দিনের মধ্যেই। গুরুতর রোগীদের অনেকের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হয়, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অঙ্গ কেটে ফেলতেও হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, হারিকেন, বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের পর উপকূলীয় এলাকায় জমে থাকা পানি ও বন্যার পানি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অতীতেও বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের পর রাজ্যের কয়েকটি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাঁচা ঝিনুক বা অন্যান্য শেলফিশ না খাওয়া, সামুদ্রিক খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া এবং শরীরে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা অল্প লবণাক্ত পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত। সমুদ্রের পানি বা কাঁচা শেলফিশের সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, তীব্র ব্যথা, ক্ষত ফুলে যাওয়া বা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব ঘিরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার একদিন পর শহরের স্পানডাউ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থায় ওই সন্দেহভাজনকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সন্দেহভাজনের নাম আবদুল বাল্লুত। ২১ বছর বয়সী এই জার্মান নাগরিকের লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিবার রয়েছে। হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক তল্লাশির পর রোববার সন্ধ্যায় বার্লিনের একটি বাগান-এলাকায় তাকে খুঁজে পায় পুলিশ। বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং ২০২৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেওয়ার চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে, ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) বা প্রাইড আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানের নিকটে হামলাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাদা মিনিভ্যান পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। ঘটনার পরপরই প্রাইড উৎসবের বাকি কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং বার্লিনজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হামলার আগে থেকেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। হামলার পর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু প্রাইড অংশগ্রহণকারীদের ওপর নয়, বরং স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও উন্মুক্ত সমাজের মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। বার্লিনজুড়ে নিহতের স্মরণে শোকসভা ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল ও বার্লিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভুয়া ভাড়াটিয়ার তালিকা, জাল লিজ চুক্তি ও মিথ্যা আর্থিক তথ্য দেখিয়ে বাণিজ্যিক ঋণদাতাদের ১৮ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতি করার ঘটনায় ম্যাসাচুসেটসের এক ব্যবসায়ীকে চার বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১৮ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ম্যাসাচুসেটস ডিস্ট্রিক্টের অ্যাটর্নি অফিস জানিয়েছে, লংমিডোর ৫৯ বছর বয়সী লুইস আর. মাসাসচিকে গত ২২ জুলাই স্প্রিংফিল্ডের ফেডারেল আদালতে সাজা দেন ইউএস ডিস্ট্রিক্ট জজ মার্ক জি. মাস্ট্রোইয়ানি। চার বছরের কারাদণ্ডের পর তাকে আরও তিন বছর তত্ত্বাবধানে থাকতে হবে। আদালতের নথি অনুযায়ী, মাসাসচি ও তার স্ত্রী জিনেট নরম্যান কয়েক ডজন লিমিটেড লায়াবিলিটি কোম্পানির অংশীদার ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারা মূলত পশ্চিম ম্যাসাচুসেটস, কানেকটিকাট এবং আরও কয়েকটি এলাকায় বাণিজ্যিক ও কিছু আবাসিক সম্পত্তির মালিক ছিলেন। ফেডারেল প্রসিকিউটররা জানান, বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ঋণদাতার কাছ থেকে কোম্পানিগুলোর নামে ঋণ পেতে তারা মিথ্যা ও জাল আর্থিক তথ্য ব্যবহার করেন। এর মধ্যে ছিল ভুয়া ভাড়াটিয়ার তালিকা এবং জাল লিজ চুক্তি। ম্যাসাচুসেটসের স্প্রিংফিল্ড ও ইস্ট লংমিডো এবং কানেকটিকাটের এনফিল্ডের বিভিন্ন সম্পত্তি এসব নথিতে দেখানো হয়েছিল। বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মে থেকে ২০১৮ সালের নভেম্বর পর্যন্ত মাসাসচি ও নরম্যান প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৬০ দশমিক ১ মিলিয়ন ডলারের ঋণ নিয়েছিলেন অথবা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে এসব ঋণ খেলাপি হলে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক ঋণদাতা মোট ১৮ লাখ নয়, ১৮ মিলিয়নেরও বেশি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ে। আদালত নির্ধারিত ক্ষতির পরিমাণ ১৮,২০৩,০৩০ ডলার। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দুটি কমিউনিটি ক্রেডিট ইউনিয়নও ছিল। ঋণ খেলাপির পর সংশ্লিষ্ট কিছু ভবন খালি পড়ে যায় বলেও জানিয়েছে বিচার বিভাগ। মাসাসচি ২০২৫ সালের এপ্রিলে ওয়্যার ফ্রডের ষড়যন্ত্র, দুটি ওয়্যার ফ্রড এবং গুরুতর পরিচয় চুরির অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাসাসচি ও তার স্ত্রী নরম্যানকে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি অভিযুক্ত করেছিল। নরম্যানও মামলায় দোষ স্বীকার করেছেন। বিচার বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার পরবর্তী আদালত হাজিরা আগামী ১১ আগস্ট নির্ধারিত রয়েছে। মামলাটি তদন্ত করেছে এফবিআইয়ের বোস্টন ডিভিশন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি লিয়া বি. ফোলি এবং এফবিআই বোস্টন ডিভিশনের স্পেশাল এজেন্ট ইন চার্জ টেড ই. ডকস সাজা ঘোষণার তথ্য জানিয়েছেন। মামলাটি পরিচালনা করছেন স্প্রিংফিল্ড অফিসের সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি স্টিভেন এইচ. ব্রেসলো ও ক্যারোলিন মার্ক।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভিব্রিও ভালনিফিকাস (Vibrio vulnificus) নামের বিরল কিন্তু প্রাণঘাতী ব্যাকটেরিয়ায় চলতি বছরের প্রথম মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ। রাজ্যের পাম বিচ কাউন্টির একজন বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে এই সংক্রমণে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী ও সমুদ্রসৈকতে যাতায়াতকারীদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে ১১টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরের প্রথম প্রাণহানির ঘটনা। গত বছর ফ্লোরিডায় এই ব্যাকটেরিয়ায় ৩৩ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিব্রিও ভালনিফিকাস উষ্ণ লবণাক্ত ও অল্প লবণাক্ত (ব্র্যাকিশ) পানিতে স্বাভাবিকভাবেই বাস করে। সাধারণত কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা ঝিনুক, বিশেষ করে অয়েস্টার খাওয়ার মাধ্যমে মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারেন। এছাড়া শরীরে কাটা বা খোলা ক্ষত থাকলে সেই ক্ষত সমুদ্রের পানির সংস্পর্শে এলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে সংক্রমণ অনেক সময় তুলনামূলক হালকা হতে পারে। তবে যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, দীর্ঘদিনের লিভারের রোগ রয়েছে বা অন্যান্য জটিল স্বাস্থ্য সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই সংক্রমণ দ্রুত রক্তে ছড়িয়ে জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। গুরুতর অবস্থায় জ্বর, কাঁপুনি, রক্তদূষণ (সেপসিস) এবং ত্বকে ফোসকার মতো ক্ষত দেখা দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, এই সংক্রমণে আক্রান্ত প্রায় পাঁচজনের একজনের মৃত্যু হতে পারে, অনেক সময় অসুস্থ হওয়ার এক বা দুই দিনের মধ্যেই। গুরুতর রোগীদের অনেকের নিবিড় পরিচর্যা প্রয়োজন হয়, আবার কারও কারও ক্ষেত্রে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে অঙ্গ কেটে ফেলতেও হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে পরীক্ষার ফলাফলের জন্য অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি। ফ্লোরিডা স্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানিয়েছে, হারিকেন, বন্যা বা জলোচ্ছ্বাসের পর উপকূলীয় এলাকায় জমে থাকা পানি ও বন্যার পানি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অতীতেও বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়ের পর রাজ্যের কয়েকটি কাউন্টিতে আক্রান্তের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল। তাই দুর্যোগ-পরবর্তী সময়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কাঁচা ঝিনুক বা অন্যান্য শেলফিশ না খাওয়া, সামুদ্রিক খাবার ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া এবং শরীরে কোনো কাটা বা ক্ষত থাকলে সমুদ্র বা অল্প লবণাক্ত পানিতে নামা থেকে বিরত থাকা উচিত। সমুদ্রের পানি বা কাঁচা শেলফিশের সংস্পর্শে আসার পর জ্বর, তীব্র ব্যথা, ক্ষত ফুলে যাওয়া বা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
যুক্তরাষ্ট্রে কোথায় বসবাস করলে জীবনযাত্রার মান সবচেয়ে ভালো হবে, এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে নতুন এক শহরকে এগিয়ে রেখেছে ভ্রমণ ও জীবনযাপন বিষয়ক ম্যাগাজিন ট্রাভেল অ্যান্ড লেইজার। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবেশ এবং সামগ্রিক জীবনমান বিবেচনায় শহরটি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের অন্যতম সেরা স্থান হিসেবে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বসবাসের উপযোগিতা নির্ধারণে শুধু চাকরি বা আয় নয়, বরং মানুষের দৈনন্দিন জীবন কতটা আরামদায়ক, পরিবেশ কেমন, স্বাস্থ্যসেবা কতটা সহজলভ্য এবং পরিবার নিয়ে বসবাসের সুযোগ কেমন এসব বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রে অনেক মানুষ বড় শহরের ব্যস্ততা, অতিরিক্ত খরচ ও চাপ থেকে দূরে গিয়ে তুলনামূলক শান্ত, নিরাপদ এবং উন্নত জীবনমানের জায়গা খুঁজছেন। এ কারণে ছোট ও মাঝারি আকারের শহরগুলোর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ট্রাভেল অ্যান্ড লেইজারের তালিকায় থাকা শহরটি তার সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, স্থানীয় সুযোগ-সুবিধা এবং বাসিন্দাদের জন্য উন্নত জীবনধারার কারণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বড় শহরে যেমন নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস বা সান ফ্রান্সিসকোতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি হলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ও অনেক বেশি। অন্যদিকে, তুলনামূলক ছোট শহরগুলোতে কম চাপের জীবন, বেশি খোলা জায়গা এবং পরিবারবান্ধব পরিবেশ অনেক মানুষের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। জীবনযাত্রার মান নিয়ে তৈরি হওয়া এসব তালিকা সাধারণত আবাসন খরচ, অপরাধের হার, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষার সুযোগ, পরিবেশ, বিনোদন এবং স্থানীয় সুযোগ-সুবিধার মতো বিষয় বিশ্লেষণ করে তৈরি করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক সময়ে মানুষ শুধু ভালো চাকরি নয়, বরং ভারসাম্যপূর্ণ জীবন, মানসিক শান্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তাকেও গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের জন্য সেরা জায়গার তালিকায় নতুন নতুন শহর আলোচনায় আসছে।
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই হামলা "জবাবহীন থাকবে না" এবং ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। ইরানের দাবি, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এ ঘটনাকে "শত্রুতাপূর্ণ ও আগ্রাসী হামলা" হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর ওপর দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিফোন আলাপে ল্যাভরভ নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি জাহাজের ক্রুদের সহায়তায় এগিয়ে আসায় রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। আরাগচিও ওই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কেও ল্যাভরভকে অবহিত করেন আরাগচি। তিনি আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এর জবাবে ইউক্রেন ইরান-সম্পৃক্ত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের বিভিন্ন রুটকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ঘটনার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। এ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও নেদারল্যান্ডসের ফরচুনা সিতার্দের মধ্যকার একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের হাতাহাতি ও সংঘাত সামাল দিতে গিয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন নারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কিতে মাটিতে পড়ে গিয়ে তিনি মাথায় তীব্র আঘাত পান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, আঘাতের মাত্রা এতটাই গুরুতর ছিল যে তিনি মস্তিষ্কে আঘাতজনিত সমস্যা বা 'কনকাশনে' আক্রান্ত হয়েছেন। গত শনিবার (২৫ জুলাই) ফ্রান্সের পূর্বাঞ্চলীয় ফরবাখ শহরের শ্লসবের্গ স্টেডিয়ামে নতুন প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মুখোমুখি হয়েছিল ফরাসি ক্লাব মেৎজ ও ডাচ ক্লাব ফরচুনা সিতার্দ। খেলার মাঠে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে দায়িত্ব পালন করছিলেন ২৬ বছর বয়সী সহকারী রেফারি মাথিলদে দেমোঁসে। ম্যাচের ৪০তম মিনিটে এক অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। জার্সি টানাটানিকে কেন্দ্র করে উভয় দলের দুজন খেলোয়াড় বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। নিমেষের মধ্যেই সেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই দলের আরও বেশ কয়েকজন ফুটবলার একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হন। মাঠে হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দিতে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এগিয়ে যান মাথিলদে দেমোঁসে। তবে খেলোয়াড়দের প্রবল ঠেলাঠেলির মাঝে পড়ে ভারসাম্য হারিয়ে তিনি শক্ত মাটিতে সজোরে আছড়ে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে দেখা যায়, মাঠের যে স্থানটিতে খেলোয়াড়দের ধাক্কাধাক্কি ও রেফারির পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে, ঠিক তার পাশেই বড় অক্ষরে লেখা ছিল "রেফারিকে সম্মান করুন"। ঘটনার পর কয়েক মিনিট দেমোঁসে মাঠেই নিথর হয়ে পড়েছিলেন এবং নিজের হাত চেপে ধরে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন। তাৎক্ষণিকভাবে মূল রেফারি, অন্য সহকারী রেফারি, ক্লাবের চিকিৎসাকর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীরা দৌড়ে মাঠে প্রবেশ করেন এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। সামান্য সুস্থ বোধ করলে খেলা পুনরায় শুরু হয় এবং ২৬ বছর বয়সী এই রেফারি সাময়িকভাবে লাইনে ফিরে নিজের দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন। তবে প্রথমার্ধের বিরতির সময় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তিনি মাঠ ছেড়ে যান। পরে তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে অন্য একজন কর্মকর্তা সহকারী রেফারির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার 'কনকাশন' ধরা পড়ে। ম্যাচটিতে ৩-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া ডাচ ক্লাব ফরচুনা সিতার্দ তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ম্যাচ প্রতিবেদনে অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনাটিকে 'ব্যতিক্রমী এক মুহূর্ত' হিসেবে উল্লেখ করলেও কোনো বাড়তি মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। অন্যদিকে ফরাসি ক্লাব মেৎজ তাদের প্রতিবেদনে পুরো বিষয়টিই এড়িয়ে গেছে। মাঠে খেলোয়াড়দের এমন অপেশাদার আচরণ ও ম্যাচ অফিশিয়ালের আহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে সমালোচনা চলছে।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব ঘিরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার একদিন পর শহরের স্পানডাউ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থায় ওই সন্দেহভাজনকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সন্দেহভাজনের নাম আবদুল বাল্লুত। ২১ বছর বয়সী এই জার্মান নাগরিকের লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিবার রয়েছে। হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক তল্লাশির পর রোববার সন্ধ্যায় বার্লিনের একটি বাগান-এলাকায় তাকে খুঁজে পায় পুলিশ। বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং ২০২৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেওয়ার চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে, ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) বা প্রাইড আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানের নিকটে হামলাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাদা মিনিভ্যান পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। ঘটনার পরপরই প্রাইড উৎসবের বাকি কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং বার্লিনজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হামলার আগে থেকেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। হামলার পর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু প্রাইড অংশগ্রহণকারীদের ওপর নয়, বরং স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও উন্মুক্ত সমাজের মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। বার্লিনজুড়ে নিহতের স্মরণে শোকসভা ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল ও বার্লিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নাইমুল রাজ্জাক
লুৎফর খোন্দকার
কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কড়া বার্তা দিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই হামলা "জবাবহীন থাকবে না" এবং ইরান আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিজের জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না। ইরানের দাবি, শনিবার কাস্পিয়ান সাগরে দেশটির একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ফলে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। তেহরান এ ঘটনাকে "শত্রুতাপূর্ণ ও আগ্রাসী হামলা" হিসেবে বর্ণনা করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় বাহিনী কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত জাহাজগুলোর ওপর দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। রোববার ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কাজা কাল্লাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপে আব্বাস আরাগচি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, একটি বেসামরিক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এর যথাযথ জবাব দেওয়া হবে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, টেলিফোন আলাপে ল্যাভরভ নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি জাহাজের ক্রুদের সহায়তায় এগিয়ে আসায় রাশিয়ার আস্ত্রাখান অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন। আরাগচিও ওই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এমন হামলা বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে ইরানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কেও ল্যাভরভকে অবহিত করেন আরাগচি। তিনি আঞ্চলিক সংকট নিরসনে সংলাপ ও কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথাও জানান। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া ইরানি নকশার ড্রোন ব্যবহার করে আসছে। এর জবাবে ইউক্রেন ইরান-সম্পৃক্ত সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনের বিভিন্ন রুটকে লক্ষ্যবস্তু করার কৌশল গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক এই হামলা সেই সংঘাতকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। ঘটনার পর তেহরানে নিযুক্ত ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ইরান। এ হামলার পর দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
জার্মানির রাজধানী বার্লিনে প্রাইড উৎসব ঘিরে প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন ব্যক্তি পুলিশের অভিযানে নিহত হয়েছেন। হামলায় একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার একদিন পর শহরের স্পানডাউ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি অবস্থায় ওই সন্দেহভাজনকে গুলি করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জার্মান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, নিহত সন্দেহভাজনের নাম আবদুল বাল্লুত। ২১ বছর বয়সী এই জার্মান নাগরিকের লেবানিজ বংশোদ্ভূত পরিবার রয়েছে। হামলার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ব্যাপক তল্লাশির পর রোববার সন্ধ্যায় বার্লিনের একটি বাগান-এলাকায় তাকে খুঁজে পায় পুলিশ। বার্লিন পুলিশের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তি ধারালো অস্ত্র হাতে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এরপর পুলিশ গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তাকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তিনি মারা যান। জার্মান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডব্রিন্ট জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে ইসলামপন্থি সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আগে থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে ছিলেন এবং ২০২৫ সালে ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এ যোগ দেওয়ার চেষ্টা ও রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছিলেন। শনিবার রাত স্থানীয় সময় প্রায় ১০টার দিকে বার্লিনের টিয়ারগার্টেন পার্কের কাছে, ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ ক্রিস্টোফার স্ট্রিট ডে (সিএসডি) বা প্রাইড আয়োজনের সমাপনী অনুষ্ঠানের নিকটে হামলাটি ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, একটি সাদা মিনিভ্যান পথচারীদের ভিড়ের মধ্যে ঢুকে পড়ে। পরে হামলাকারী গাড়ি থেকে নেমে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কয়েকজনের ওপর হামলা চালান। এতে একজন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন, যাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর ছিল। ঘটনার পরপরই প্রাইড উৎসবের বাকি কর্মসূচি বাতিল করা হয় এবং বার্লিনজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। হামলার আগে থেকেই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রায় ২ হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল। হামলার পর রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত তল্লাশি চালানো হয়। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, এটি শুধু প্রাইড অংশগ্রহণকারীদের ওপর নয়, বরং স্বাধীনতা, বৈচিত্র্য ও উন্মুক্ত সমাজের মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। বার্লিনজুড়ে নিহতের স্মরণে শোকসভা ও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে। হামলার উদ্দেশ্য, প্রস্তুতি এবং অন্য কেউ এতে জড়িত ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল ও বার্লিনের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেমের মসজিদ আল-আকসা সংলগ্ন নিজের এক কক্ষের ছোট্ট বাড়ি বিক্রির জন্য দেওয়া ১০ লাখ মার্কিন ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ফিলিস্তিনি নারী আয়েশা মসলুহি। তিনি বলেছেন, নিজের জন্মভূমি ও বাড়িঘর অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তুরস্কভিত্তিক রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আয়েশা মসলুহি জানান, মসজিদ আল-আকসা ও বোরাক স্কয়ারের কাছাকাছি অবস্থিত তার ছোট্ট বাড়িটি কেনার জন্য কয়েক দফায় বড় অঙ্কের অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সব প্রস্তাবই প্রত্যাখ্যান করেছেন। আয়েশা বলেন, এক পর্যায়ে তিনি প্রস্তাবদাতাকে প্রশ্ন করেছিলেন, "মাত্র এক কক্ষের একটি ছোট বাড়ির জন্য কেন এত বড় অঙ্কের অর্থ দিতে চান?" জবাবে ওই ব্যক্তি নাকি বলেন, তারা একটি বাড়ি দিয়ে শুরু করতে চান। একবার একটি বাড়ি কিনতে পারলে ধীরে ধীরে আশপাশের আরও বাড়ি অধিগ্রহণ করা সহজ হবে। এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে আয়েশা বলেন, "ইনশাআল্লাহ, তারা সেই শুরু করার সুযোগ পাবে না।" তিনি আরও বলেন, "যে নিজের মাতৃভূমি বিক্রি করে, সে নিজের সম্মান, মূল্যবোধ এবং বিশ্বাসও বিক্রি করে দেয়। আমি আশা করি, কেউই নিজের ভূমি শুধু অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেবে না।" আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আয়েশার বাড়িটি পূর্ব জেরুজালেমের এমন একটি এলাকায় অবস্থিত, যা ধর্মীয় ও কৌশলগত—উভয় দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই সম্পত্তিটি নিয়ে আগ্রহ দেখানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠন ও অর্থায়নের মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেমে সম্পত্তি কেনার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পক্ষের কোনো বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। আয়েশা মসলুহি বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের প্রতি আল-আকসা মসজিদের প্রতি আগ্রহ ও উপস্থিতি বজায় রাখার আহ্বানও জানান। তার ভাষায়, শুধু নামাজের সময় নয়, সব সময়ই আল-আকসা প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত থাকা প্রয়োজন। তিনি তুরস্কের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, আল-আকসা ও জেরুজালেমের প্রতি ভালোবাসা থেকে তারা নানাভাবে সমর্থন দিয়ে আসছেন। উল্লেখ্য, পূর্ব জেরুজালেমের মর্যাদা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত একটি বিষয়। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশ দেশ পূর্ব জেরুজালেমকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, ইসরাইল পুরো জেরুজালেমকে তার রাজধানী বলে দাবি করে। এই অবস্থাকে কেন্দ্র করে শহরটিতে ভূমি, আবাসন ও বসতি সম্প্রসারণের বিষয়গুলো প্রায়ই আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসে।
চীনের অধিকাংশ শিক্ষার্থী যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার পর ভ্রমণ কিংবা অবকাশযাপনে সময় কাটান, সেখানে এক কিশোরী সম্পূর্ণ ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাড় করতে সে যোগ দিয়েছে নির্মাণকাজে শ্রমিক হিসেবে কর্মরত মায়ের সঙ্গে। পিঠে ইট বহন করে উপার্জনের সেই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকের প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট এবং শিয়াওশিয়াং মর্নিং হেরাল্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, 'ইউয়ানইউয়ান' নামে পরিচিত ওই কিশোরী সম্প্রতি চীনের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা গাওকাও সম্পন্ন করেছে। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর গত জুনের শেষ দিক থেকে দক্ষিণ চীনের গুয়াংডং প্রদেশে মায়ের কর্মস্থল নির্মাণ সাইটে কাজ শুরু করে সে। ইউয়ানইউয়ানের মা ওয়েই ইউনগুই গত ১৬ বছর ধরে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন। ৪০ বছর বয়সী ওয়েই একজন একক মা। হুনান প্রদেশের কিদং কাউন্টিতে থাকা ছেলে ও মেয়ের ভরণপোষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব তার কাঁধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, মা ও মেয়ে পিঠে করে একের পর এক ইট বহন করে ভবনের ওপরের তলায় নিয়ে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরিয়ে দুজনের নিরলস পরিশ্রম অনেকের দৃষ্টি কেড়েছে। ভিডিওতে ওয়েই মেয়েকে বলেন, "তুমি একবারে ১০টি ইট বহন করে ৪ ইউয়ান আয় করেছ। আমি চার গুণ বেশি ইট বহন করে ১৬ ইউয়ান পেয়েছি। সব মিলিয়ে আজ ২০ ইউয়ান আয় হলো। এভাবেই ধীরে ধীরে তোমার বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি জোগাড় হবে।" ইউয়ানইউয়ান পরে স্বীকার করে, এই কাজ অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তার ভাষায়, "আমি যতটা পারি, ততটাই করছি। আমি চাই মায়ের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে।" মা ওয়েই জানান, শুরুতে মেয়েকে এত কঠিন শারীরিক শ্রমের কাজে আনতে তিনি রাজি ছিলেন না। কিন্তু মেয়ের অনুরোধ ও দৃঢ় ইচ্ছার কাছে শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন। তিনি বলেন, "আগে আমার মেয়ে শুধু আমাকে সারাদিন পরিশ্রম করতে দেখত, কিন্তু সেই কষ্টটা অনুভব করতে পারত না। এখন নিজে কাজ করার পর সে আমার জীবনের সংগ্রাম আরও ভালোভাবে বুঝতে শিখেছে এবং আমার প্রতি তার সহমর্মিতা বেড়েছে।" প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউয়ানইউয়ান গাওকাও পরীক্ষায় ঠিক কত নম্বর পেয়েছে বা কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তা প্রকাশ করতে চাননি তার মা। তবে তিনি জানিয়েছেন, মেয়ের ফলাফলে তিনি সন্তুষ্ট এবং সে একটি মাঝারি মানের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছে। ইউয়ানইউয়ান ভবিষ্যতে মনোবিজ্ঞানে পড়াশোনা করতে আগ্রহী। তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের জন্য ঠিক কত অর্থ প্রয়োজন, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। তবে চীনে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বছরে গড়ে প্রায় ৫ হাজার ইউয়ান টিউশন ফি দিতে হয়। চীনে গাওকাও পরীক্ষা অত্যন্ত প্রতিযোগিতাপূর্ণ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কঠোর পরীক্ষার পর অনেক শিক্ষার্থী পরিবার নিয়ে ভ্রমণে যান অথবা নিজেদের জন্য দামি প্রযুক্তিপণ্য কেনেন। বিশেষ করে আইফোন, আইপ্যাড ও ম্যাকবুক কেনার প্রবণতা অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে দেখা যায়। সে তুলনায় ইউয়ানইউয়ানের সিদ্ধান্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মা-মেয়ের সংগ্রাম ও পারস্পরিক দায়িত্ববোধের প্রশংসা করেছেন। একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী লিখেছেন, "মা ও মেয়ের এই গল্প সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। তাদের জন্য শুভকামনা।" আরেকজন মন্তব্য করেন, "এত অল্প বয়সে কঠোর পরিশ্রম করতে রাজি হওয়া আজকের দিনে বিরল। এমন মানসিকতা ভবিষ্যতে তাকে আরও শক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবে।" তবে সবাই একই মত পোষণ করেননি। কেউ কেউ বলেছেন, নির্মাণশ্রমের মতো কঠিন কাজের পরিবর্তে তিনি চাইলে রেস্তোরাঁ বা অন্য কোনো খণ্ডকালীন চাকরি করেও বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচের জন্য অর্থ উপার্জন করতে পারতেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।