বিদ্যুৎ বিলের মাত্র ৫ টাকা কম দেওয়া নিয়ে দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আলমগীর হোসেন। ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বড় ভাই খোরশেদ আলম–এর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর–এর উত্তর বদরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আলমগীর ও খোরশেদ একটি মিটারের মাধ্যমে যৌথভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন এবং বিল ভাগাভাগি করে পরিশোধ করতেন। চলতি মাসের বিল পরিশোধের সময় আলমগীর ৫ টাকা কম দেন—এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে আলমগীর চায়ের দোকানে গেলে সেখানে খোরশেদসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হাতাহাতির তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
আইনের বাইরে গিয়ে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাকারিয়া তাহের সুমন। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে সব প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে হবে আইন মেনে এবং সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়–এর অধীন দপ্তরগুলোর প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, “আমাদের সরকারের প্রতিজ্ঞা—আইনের বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করা হবে না। অতীতে যা ঘটেছে, তা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের ব্যত্যয় যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, তার মেয়াদকালে প্রকল্প বাস্তবায়নে আইন অনুসরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অপব্যয় রোধ ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ নজর দেওয়া হবে এবং স্থগিত থাকা প্রকল্পগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সভায় কুমিল্লায় গণপূর্ত বিভাগের অধীনে চলমান ও নতুন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে থানা ভবন নির্মাণ এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার–এর উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। সভায় উপস্থিত ছিলেন মু. রেজা হাসান, শাহ আলম এবং আনিসুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরে মন্ত্রী ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি সভাপতি জাকারিয়া তাহের সুমন স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
মায়ের জানাজায় প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সাভারে এসে উপস্থিত হয়ে ভুলের জন্য সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন সোহেল রানা, যিনি ধসে পড়া রানা প্লাজা ভবন–এর মালিক হিসেবে পরিচিত। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সাভার পৌর এলাকার সাভার পৌর মাদরাসা মসজিদ–এ তার মায়ের জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি। এ সময় সাভার মডেল থানা পুলিশ উপস্থিত ছিল। রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, আমার মায়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং আমার ভুলের জন্য আমাকে মাফ করবেন। রানার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, রানার মা মজিনা বেগম দীর্ঘদিন ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল–এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে রানাকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাভারে আনা হয়। জানাজা শেষে রাত সাড়ে ৭টার দিকে তাকে পুনরায় কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার–এ ফিরিয়ে নেওয়া হয়। সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক মোত্তাছিম বিল্লাহ জানান, পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রানা প্লাজা ভবন ধসে পড়ে। পরে ২৮ এপ্রিল সীমান্ত এলাকা থেকে সোহেল রানাকে আটক করা হয়।
শুধু রমজান মাস এলেই ধর্মীয় অনুশীলন সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর ইবাদতের পরিবেশ ধরে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন আমির হামজা। তিনি বলেন, শুধু রমজান এসেছে বলেই মাথায় টুপি তুলবেন না। এই পরিবেশ যেন বাকি ১১ মাসও বজায় থাকে। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর জেলা শাখার আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির হামজা বলেন, বর্তমানে অনেকের মাথায় টুপি দেখে মনে হয় তারা ইবাদতে নিয়োজিত। তিনি সমাজে ধর্মীয় মূল্যবোধের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় যেকোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং বা পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ন্যায় ও সত্য প্রকাশের আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা এবং তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরার কাজকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতের অংশ হিসেবে বিবেচনা করেন। ইফতার মাহফিলে বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার এ.কে.এম. আলী মুহসিন। অনুষ্ঠানে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সূজা উদ্দিন জোয়ার্দার এবং শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন। ইফতার মাহফিলে গণমাধ্যমকর্মীসহ জেলা জামায়াতের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদ্যুৎ বিলের মাত্র ৫ টাকা কম দেওয়া নিয়ে দুই সহোদর ভাইয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম আলমগীর হোসেন। ঘটনায় নিহতের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বড় ভাই খোরশেদ আলম–এর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে রামগঞ্জ উপজেলার করপাড়া ইউনিয়ন, লক্ষ্মীপুর–এর উত্তর বদরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, আলমগীর ও খোরশেদ একটি মিটারের মাধ্যমে যৌথভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতেন এবং বিল ভাগাভাগি করে পরিশোধ করতেন। চলতি মাসের বিল পরিশোধের সময় আলমগীর ৫ টাকা কম দেন—এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরে আলমগীর চায়ের দোকানে গেলে সেখানে খোরশেদসহ কয়েকজন মিলে তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে যাওয়া হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স–এ নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী, রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, প্রাথমিক তদন্তে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে হাতাহাতির তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার অন্যতম সমন্বয়ক মাহদী হাসানকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে আলোচনার ঝড়। ভারতের রাজধানী দিল্লিতে তার অবস্থান এবং পরবর্তীতে আকস্মিক দেশে ফেরা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা রহস্য। বিশ্বস্ত সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এই ঘটনার একটি স্বচ্ছ চিত্র পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার সকালে দিল্লির কনট প্লেসে একটি বেসরকারি ভিসা সেন্টারে পর্তুগালের ভিসার আবেদন করতে যান মাহদী হাসান। সেখানে তার সাথে এক নারী আত্মীয়ও ছিলেন। লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার সময় কেউ একজন তাকে চিনে ফেলেন এবং তার একটি ভিডিও রেকর্ড করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই বিষয়টি ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে আসে। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলাদেশে শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সামনে দাঁড়িয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে পুড়িয়ে মারার দাম্ভিক স্বীকারোক্তি সংবলিত মাহদী হাসানের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল, যা নিয়ে ভারতেও ব্যাপক সমালোচনা হয়। সূত্র জানায়, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই মাহদী হাসান অজ্ঞাত নম্বর থেকে একের পর এক ফোন পেতে শুরু করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব অনুধাবন করে তিনি তার অবস্থান পরিবর্তন করেন এবং দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার হোটেল ছেড়ে বিমানবন্দরের কাছের একটি হোটেলে আশ্রয় নেন। এদিকে, ভারত-বিরোধী বক্তব্য এবং একজন হিন্দু পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার প্রকাশ্য দাবির প্রেক্ষিতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত তার ভিসা বাতিল করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। একটি সূত্র দাবি করেছে, মাহদী হাসানের কাছে প্রায় ৪০ লক্ষাধিক টাকার সমপরিমাণ ক্রিপ্টো-কারেন্সি ছিল। তবে এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং মাহদী হাসান নিজে একে 'গুজব' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বুধবার সকালে ইন্ডিগোর ফ্লাইটে ঢাকা ফেরার জন্য দিল্লি বিমানবন্দরে পৌঁছান মাহদী। নিরাপত্তা তল্লাশি পার হওয়ার সময় ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তাকে আলাদা করে নিয়ে যান। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা এই জিজ্ঞাসাবাদে তার ভারত-বিদ্বেষী মন্তব্য এবং বাংলাদেশে সহিংসতায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, কোনো শারীরিক নিগ্রহ ছাড়াই তাকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ভারত-বিরোধী মনোভাব পোষণকারী কাউকে সেখানে অবস্থান করতে দেওয়া হবে না। বুধবার বিকেলে ঢাকা ফেরার পর বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মাহদী হাসান। তিনি অভিযোগ করেন, দিল্লিতে তাকে প্রচণ্ড হয়রানির শিকার হতে হয়েছে এবং তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন। তবে বিস্তারিত তথ্য পরে জানাবেন বলে তিনি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করেন। বাংলাদেশে নামার পরও তাকে আইনশৃঙখলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয় বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে মাহদী হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দিল্লিতে তার এই সফর এবং পরবর্তী নাটকীয়তা ছাত্র আন্দোলনের অভ্যন্তরে ও জনমনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মহান ভাষা দিবসে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের প্রটোকল নিয়ে দিনাজপুরে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসক (ডিসি) কর্তৃক প্রটোকল লঙ্ঘন করে সংসদ সদস্যের আগে শ্রদ্ধা নিবেদনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন দিনাজপুর-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। বিষয়টিকে 'গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থার প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন' হিসেবে আখ্যায়িত করে এর কড়া জবাব নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। শনিবার দুপুরে দিনাজপুর জেলা বিএনপি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের ক্ষোভ উগরে দেন এই জনপ্রতিনিধি। জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, প্রটোকল অনুযায়ী সংসদ সদস্যের পর জেলা প্রশাসকের শ্রদ্ধা জানানোর নিয়ম থাকলেও, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে তার তোয়াক্কা করা হয়নি। এমনকি মাইকিং করার সময়ও সংসদ সদস্যের নামের আগে জেলা প্রশাসকের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যা শিষ্টাচার বহির্ভূত। সংসদ সদস্য আরও বলেন, "একজন পার্লামেন্ট মেম্বার নিশ্চয়ই ডিসির নিচে নন। তারা দাবি করছেন এই নিয়ম নাকি তাদের জানাই নেই। প্রশাসনের এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। আগামীকাল আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আমি এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট জবাব চাইব।" প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, ২১ ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে দিনাজপুর গোড়-এ শহিদ ময়দানের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে যান সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসক। সেখানে ডিসি রফিকুল ইসলাম আগে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে মাইকে ঘোষণাকারী জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করলেও তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। সরকারি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার ফোন এবং ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। একটি স্পর্শকাতর রাষ্ট্রীয় দিবসে প্রশাসনের এমন 'প্রটোকল বিভ্রাট' নিয়ে এখন জেলাজুড়ে বইছে আলোচনার ঝড়।
মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিতে হয়। সেই একই প্রেরণা থেকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছে। এখন সময় এসেছে সব ভেদাভেদ ভুলে ৫২ ও জুলাইয়ের রক্তস্নাত চেতনায় একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৫২ সালের সেই বীর সন্তানদের আত্মত্যাগ আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তাঁদের সেই ত্যাগের পথ ধরেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমাদের সন্তানদের দেখা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এখন এক টেবিলে আসতে হবে। আমরা এমন এক রাষ্ট্র চাই যেখানে রাজনৈতিক নিপীড়ন থাকবে না, থাকবে কেবল ন্যায়বিচার ও সুশাসন।” সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “জনগণ আমাদের ওপর যে পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। একটি গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমরা সংসদে ও রাজপথে সবসময় জনগণের অধিকারের কথা বলব। সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কাজকে আমরা স্বাগত জানাব, তবে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলব।” মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তিনি বলেন, “বাংলা ভাষাকে কেবল ফেব্রুয়ারির আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে জীবনের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষাকে ধারণ করেই বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।” এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা ভাষা শহীদ ও জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ঘোষণা করেছেন, তাঁর সরকারের মূলমন্ত্র হবে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতিতে ফিরে যাবে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কোনো আপস করবে না। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মার সঙ্গে এক ফলপ্রসূ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় স্বার্থই আমাদের ‘রেডলাইন’ খলিলুর রহমান বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বারবার একটি কথা বলেছেন—সবার আগে বাংলাদেশ। আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে দেশের সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং কারো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা। তবে মনে রাখবেন, জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থ আমাদের জন্য ‘রেডলাইন’। আমরা আমাদের প্রতিটি পাওনা পই পই করে বুঝে নেব।” জিয়াউর রহমানের নীতিতে প্রত্যাবর্তন শহীদ রাষ্ট্রপতির আমলের কূটনৈতিক সাফল্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে সদস্যপদ পাওয়ার মাত্র চার বছরের মাথায় আমরা জাপানের মতো শক্তিশালী দেশকে পরাজিত করে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য হয়েছিলাম। এছাড়া সার্ক গঠন এবং আল-কুদস কমিটিতে জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। বাংলাদেশ তাঁর সামর্থ্য অনুযায়ী বিশ্বমঞ্চে ভূমিকা রাখতে পারেনি এতদিন, আমরা সেই গৌরবময় অবস্থানেই দেশকে ফিরিয়ে নিতে চাই।” রোহিঙ্গা ও আঞ্চলিক রাজনীতি রোহিঙ্গা ইস্যু প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মিয়ানমারের পরিস্থিতির ওপর তাঁর যে বিশেষ নজর ছিল, তা এখন আরও বাড়বে। তিনি বলেন, “আমরা মিয়ানমার সরকার এবং আরাকান আর্মির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। এই সমস্যার একটি টেকসই ও দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আমি অত্যন্ত আশাবাদী।” ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং ও সমালোচনার জবাব নির্বাচন পরবর্তী বিভিন্ন সমালোচনা এবং তাঁর নিয়োগ নিয়ে ওঠা প্রশ্নের সরাসরি জবাব দিয়েছেন খলিলুর রহমান। নির্বাচনে ‘রেফারি’র ভূমিকা পালন করে এখন সরকারের অংশ হওয়া নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি রসিকতা করে বলেন, “অনেকে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কথা বলছেন। তার মানে তো গণনা নিয়ে প্রশ্ন! আমার উত্তর খুব সহজ—সন্দেহ থাকলে গুনে নিন আরেকবার। গুনতে তো কোনো বাধা নেই।” নির্বাচনে তাঁর মন্ত্রিত্ব পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধারণা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয় এবং তিনি যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই দায়িত্ব পেয়েছেন। গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান পররাষ্ট্রনীতি একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয় উল্লেখ করে তিনি গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আপনাদের একটি ভুল তথ্য আমাদের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নষ্ট করে দিতে পারে। আপনারা গুজবের কারখানা না হয়ে সত্যের বাহক হোন। আমাদের জবাবদিহিতা জনগণের কাছে, আর সেই বার্তার যোগসূত্র হলেন আপনারা।”
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তিনি শহীদদের প্রতি এই পরম শ্রদ্ধা জানান। তবে এবারের আয়োজনে দেশবাসী এক ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী হয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেখানে কেবলামুখি হয়ে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারপ্রধান জাতীয় শহীদ মিনারে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সরাসরি মহান আল্লাহর কাছে শহীদদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করলেন। শহীদ মিনারের পাদদেশে প্রধানমন্ত্রীর এই বিনম্র প্রার্থনা এবং ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ অবস্থান উপস্থিত সবার মাঝে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। শ্রদ্ধা নিবেদন ও মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে ভাষা শহীদদের ত্যাগ ও বীরত্বগাথা স্মরণ করেন। নতুন বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে ভাষা শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন এবং দেশীয় সংস্কৃতির সাথে ধর্মীয় মূল্যবোধের এক চমৎকার সমন্বয় হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
সোশ্যাল মিডিয়ায় সম্প্রতি একটি ভিডিও দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দাবি করা হচ্ছে—ভারত থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর। লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের এই দৃশ্য দেখে অনেকেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন। কিন্তু এই দাবির সত্যতা কতটুকু? আমাদের অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে এক ভিন্ন চিত্র। পুরানো ভিডিওতে নতুন বিভ্রান্তি অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সাম্প্রতিক কোনো ঘটনার নয়। এটি মূলত ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর লন্ডনে আয়োজিত একটি সংবাদ সম্মেলনের দৃশ্য। সেই সময়ে দুই ব্যক্তি নিজেদের ‘মণিপুর রাজ্য পরিষদ’-এর প্রতিনিধি দাবি করে একটি ‘প্রবাসী সরকার’ গঠনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ভিডিওর পেছনের ব্যানারেও সেই তারিখটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির অভাব সে সময় ওই দুই ব্যক্তি দাবি করেছিলেন যে তারা মণিপুরের মহারাজার পক্ষে কথা বলছেন। তবে তাদের এই ঘোষণার কোনো আইনি ভিত্তি বা আন্তর্জাতিক মহলে কোনো গ্রহণযোগ্যতা ছিল না। কোনো রাষ্ট্র বা জাতিসংঘ এই দাবিকে স্বীকৃতি দেয়নি। বর্তমানেও মণিপুর ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গরাজ্য হিসেবেই রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও সতর্কতা মণিপুরে বর্তমানে জাতিগত উত্তেজনা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতা থাকলেও, নতুন করে স্বাধীনতা ঘোষণার কোনো নির্ভরযোগ্য খবর স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে পাওয়া যায়নি। মূলত ৫ বছর আগের একটি বিচ্ছিন্ন রাজনৈতিক ঘটনার ভিডিওকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ‘মণিপুরের স্বাধীনতা’র খবরটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বিভ্রান্তিকর। যেকোনো চাঞ্চল্যকর তথ্যে বিশ্বাস করার আগে তার উৎস ও সত্যতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করতে একটি নতুন ও আক্রমণাত্মক সামরিক রণকৌশল গ্রহণের পথে এগোচ্ছেন। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেট নিউজ-এর এক বিশেষ বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে, ওয়াশিংটন এখন আর সীমিত বা স্বল্পমেয়াদী হামলার পরিকল্পনায় আটকে নেই; বরং কয়েক সপ্তাহব্যাপী একটি দীর্ঘমেয়াদী ‘ক্ষয়িষ্ণু যুদ্ধ’ বা ‘অ্যাট্রিশন ক্যাম্পেইন’-এর প্রস্তুতি চলছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পেন্টাগনের আগের পরিকল্পনায় ছিল ইরানের নির্দিষ্ট কিছু সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনায় এক বা দুই দিনের ঝটিকা হামলা চালানো। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক পরিকল্পনাকারীরা মনে করছেন, স্বল্পমেয়াদী অভিযানে ইরানের মূল শক্তি কাঠামো ভাঙা সম্ভব নয়। সে কারণে এখন ধারাবাহিক ও দীর্ঘস্থায়ী সামরিক অভিযানের ছক আঁকা হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য হবে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে কৌশলগতভাবে দুর্বল করা এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা। এই কঠোর অবস্থানের অন্যতম বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে ভূ-মধ্যসাগরে বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’-এর মোতায়েন। এই রণতরী থেকে দৈনিক ১৫০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানো সম্ভব। পাশাপাশি রয়েছে স্টিলথ ফাইটার এফ-৩৫ এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল সজ্জিত একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই বিশাল সামরিক সমাবেশ কেবল সতর্কবার্তা নয়, বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের পূর্ণ প্রস্তুতির অংশ। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য অভিযানের চারটি প্রধান লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর ও বাসিজ মিলিশিয়াদের সক্ষমতা কমিয়ে শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা, ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে হামলার মাধ্যমে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম কয়েক বছর পিছিয়ে দেওয়া, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানা ও মজুদ ধ্বংস করা এবং সামরিক চাপের মাধ্যমে কঠোর আন্তর্জাতিক পরিদর্শন মেনে নিতে ইরানকে বাধ্য করা। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযানটি কয়েক ধাপে পরিচালিত হতে পারে। শুরুতে টমাহক মিসাইল দিয়ে ইরানের রাডার ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অকার্যকর করা হবে, এরপর চলবে ধারাবাহিক বিমান হামলা। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালাতে পারে, যার জন্য অঞ্চলজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। এদিকে কাতার, তুরস্ক ও মিশরের মতো দেশগুলো সম্ভাব্য এই সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় তারা যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। তবে প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন এবার আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ থাকতে রাজি নয়; বরং সামরিক শক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ বদলে দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
আফগানিস্তানে সঙ্গীতচর্চার ওপর চূড়ান্ত নিষেধাজ্ঞা জারি করে কয়েক শত বাদ্যযন্ত্র পুড়িয়ে দিয়েছে তালিবান প্রশাসন। সম্প্রতি পারওয়ান প্রদেশে বন্দুকধারী তালিবান সদস্যদের উপস্থিতিতে এক বিশাল ‘বহ্ন্যূৎসব’ পালন করা হয়। সেখানে তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, ড্রাম এবং আফগানিস্তানের জাতীয় ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘রুবাব’-সহ প্রায় ৫০০টি বাদ্যযন্ত্র আগুনে ভস্মীভূত করা হয়েছে। নীতি পুলিশ ও ধর্মীয় অনুশাসন তালিবান সরকারের ‘চারিত্রিক গুণের প্রসার ও দোষ প্রতিরোধ’ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয় এই ধ্বংসযজ্ঞের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কট্টর ধর্মীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী গান-বাজনাকে ‘নৈতিক অবক্ষয়ের কারণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে তারা। শুধু পারওয়ান নয়, লাঘমান প্রদেশেও একইভাবে কয়েকশ বাদ্যযন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দাবি, সঙ্গীত মানুষের নৈতিকতা নষ্ট করে, তাই একে ‘হারাম’ ঘোষণা করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক বিপর্যয়ের পরিসংখ্যান ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকেই আফগানিস্তানে বিনোদনের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই দেশজুড়ে ২১ হাজারেরও বেশি বাদ্যযন্ত্র নষ্ট করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো পারিবারিক অনুষ্ঠান, বিয়ে কিংবা জনসমাবেশে গান বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি স্কুলগুলোতেও সঙ্গীত শিক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কণ্ঠরোধ ও দেশত্যাগ নারীদের জন্য জনসমক্ষে গান গাওয়া এখন দণ্ডনীয় অপরাধ। রেডিও ও টেলিভিশনে কেবল ধর্মীয় স্তোত্র ছাড়া অন্য সব ধরনের সুর নিষিদ্ধ। ‘আফগানিস্তান ইন্টারন্যাশনাল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত চার বছরে গান তৈরি বা শোনার অপরাধে বহু মানুষকে গ্রেপ্তার ও নির্যাতন করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে প্রাণের ভয়ে দেশ ছেড়েছেন শত শত সঙ্গীতশিল্পী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে আফগানিস্তানের শতবর্ষী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চিরতরে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে।
নিউ ইয়র্ক সিটির কর্মজীবী মানুষের অধিকার রক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) থেকে নগরীতে সম্প্রসারিত ‘প্রটেক্টেড টাইম অফ’ (Protected Time Off) বা সংরক্ষিত ছুটি আইন কার্যকর শুরু হয়েছে। এই নতুন আইনের আওতায় কর্মীরা ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে বাড়তি ছুটির সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের প্রাপ্য ছুটি দিতে অবহেলা করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মেয়র। নতুন আইনে যা থাকছে: লোকাল ল-১৪৫ (Local Law 145) এর অধীনে এখন থেকে নিউ ইয়র্কের নিয়োগকর্তাদের তাদের কর্মীদের জন্য অতিরিক্ত ৩২ ঘণ্টার অবৈতনিক সংরক্ষিত ছুটি বরাদ্দ রাখতে হবে। এই সুবিধাটি নিয়োগের সাথে সাথেই কার্যকর হবে এবং প্রতি ক্যালেন্ডার বছরের শুরুতে নবায়ন করা হবে। ছুটি ব্যবহারের সুযোগও আগের চেয়ে অনেক বিস্তৃত করা হয়েছে। এখন থেকে অসুস্থতা ছাড়াও সন্তান দেখাশোনা (Childcare), প্রতিবন্ধী পরিবারের সদস্যদের সেবা, আবাসন বা সরকারি সুবিধার জন্য নির্ধারিত অ্যাপয়েন্টমেন্টে হাজিরা দেওয়া এবং কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হলে বা জরুরি দুর্যোগের সময় কর্মীরা এই ছুটি ভোগ করতে পারবেন। নিয়োগকর্তাদের প্রতি কড়া বার্তা: মেয়র মামদানি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিয়ম অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। শুক্রবারই শহরের ৫৬ হাজার প্রতিষ্ঠানে এই নতুন আইন মেনে চলার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। মেয়র বলেন, "নিউ ইয়র্কবাসীকে কাজ এবং পরিবারের মধ্যে কোনো একটিকে বেছে নিতে বাধ্য করা যাবে না। আপনার জীবনের সংকটে আপনার চাকরি যেন বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, আমরা সেটিই নিশ্চিত করছি।" তিনি আরও জানান, কনজিউমার অ্যান্ড ওয়ার্কার প্রোটেকশন বিভাগ (DCWP) একটি বিশেষ অভিযান (Enforcement Blitz) শুরু করবে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের ছুটির হার অস্বাভাবিকভাবে কম, সেগুলোকে ডেটা-চালিত প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে তদন্ত করা হবে। জরিমানা ও দণ্ড: আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিটি কর্মীর জন্য ২৫০ থেকে ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে। এছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান পর্যাপ্ত ছুটি দিতে ব্যর্থ হবে, তাদের প্রতি বছর ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীকে অন্তত ৫০০ ডলার ক্ষতিপূরণ এবং সমপরিমাণ অর্থ সিটির সিভিল পেনাল্টি হিসেবে দিতে হবে। প্রেক্ষাপট: উল্লেখ্য, এই আইনটি এর আগে সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামস ভেটো দিয়ে আটকে দিয়েছিলেন। তবে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সিটি কাউন্সিল সেই ভেটো বাতিল করে আইনটি পাসের পথ প্রশস্ত করে। মেয়র মামদানি তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম ১০০ দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপকে অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছেন। শুক্রবার কুইন্সে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র যখন এই ঘোষণা দেন, তখন তার সাথে আমাজন (Amazon) কর্মীদের একটি প্রতিনিধি দলও উপস্থিত ছিল, যারা দীর্ঘদিন ধরে কর্মক্ষেত্রে ছুটির অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করে আসছেন।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews