যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি লড়াই। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি এই আদেশ কার্যকর হয়, তবে নবজাতকদের নাগরিকত্ব প্রমাণ এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা বা ‘চাওস’ সৃষ্টি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই স্বাক্ষরিত এই বিতর্কিত আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না—বিশেষ করে যাদের বাবা-মায়ের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৮৯৮ সালের ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক’ মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান আইনি ব্যাখ্যাটি ভুল এবং এটি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। গত বছরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানা এই আদেশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি জন্ম সনদ (Birth Certificate) নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে আর কাজ না করে, তবে হাসপাতালগুলো নবজাতকদের কীভাবে নথিভুক্ত করবে? ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে নিশ্চিত করবেন কে নাগরিক আর কে নয়? বর্তমানে এই আইনি লড়াই ‘বারবারা বনাম ট্রাম্প’ (Barbara v. Trump) মামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার মৌখিক যুক্তি উপস্থাপন (Oral Argument) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাট শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলো এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে কয়েক হাজার শিশু আইনি জটিলতায় পড়বে, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। ‘পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট’-এর প্রধান জিল হ্যাবিগ বলেন, “এটি মার্কিন নাগরিকত্বের মৌলিক ধারণাকেই বদলে দেবে এবং একটি বিশাল আইনি বিভ্রান্তি তৈরি করবে।” উল্লেখ্য যে, এর আগে বিভিন্ন নিম্ন আদালত ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালের জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে আসতে পারে। আদালতের এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং শত বছরের পুরনো নাগরিকত্ব আইনের ভাগ্য।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলোর কিছু সংস্করণ আগের তুলনায় আরও আধুনিক এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তিসম্পন্ন। খবরে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরান থেকে পাওয়া ‘শাহেদ’ ড্রোনের প্রযুক্তি উন্নত করেছে রাশিয়া। এখন সেই আপগ্রেড করা সংস্করণই ফের ইরানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কতসংখ্যক ড্রোন পাঠানো হয়েছে বা এটি নিয়মিত সরবরাহের অংশ কিনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউরোপীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন হস্তান্তর নিয়ে বেশ সক্রিয় আলোচনা হয়েছে। তবে কিছু কর্মকর্তার মতে, স্বল্পসংখ্যক ড্রোন এই অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া থেকে ইরানে পাঠানো তথাকথিত মানবিক সহায়তার চালানেও ড্রোন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আজারবাইজানের মাধ্যমে ট্রাক ও রেলপথে খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর আড়ালে এই সরঞ্জাম পরিবহন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান গত এক মাস ধরে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশ এবং মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দিন দিন জোরদার হচ্ছে। উভয় দেশই ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জেটচালিত ড্রোন প্রযুক্তি ইরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে। তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র এ ধরনের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে রাশিয়া। পরবর্তীতে নিজেদের কারখানায় এই ড্রোন উৎপাদন ও উন্নয়নও শুরু করে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ড্রোন সরবরাহ যদি নিশ্চিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কনস্যুলার সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য যেকোনো হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জরুরি কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ স্থানে গিয়ে 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা' বা 'ডাক অ্যান্ড কাভার' পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
জাতীয় সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকা নিয়ে বিরোধীদলীয় প্রস্তাব ঘিরে তুমুল বিতর্ক, হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পিকার আগামী মঙ্গলবার এ বিষয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনার সময় নির্ধারণ করেন। রোববার সংসদের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের দাবিতে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, গণভোটে জনগণের সমর্থন পাওয়ার পরও এই পরিষদ গঠন না হওয়া জাতির প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, সংসদের নির্ধারিত কার্যপ্রণালি অনুসরণ করেই এ ধরনের প্রস্তাব আলোচনায় আনা উচিত। প্রশ্নোত্তর ও বিধি-৭১–এর আলোচনার পরেই এ বিষয়ে কথা বলা যেতে পারে। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ প্রস্তাবটির প্রক্রিয়াগত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান, যা দ্রুত হট্টগোলে রূপ নেয়। সংসদকক্ষে উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফা উত্তেজনা দেখা যায়। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান প্রস্তাবটিকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার দাবি রাখে। তবে তিনি বলেন, এ ধরনের আলোচনার আগে প্রয়োজনীয় নথি ও প্রস্তুতি থাকা জরুরি। বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, সংসদের কার্যক্রমে গণভোটের বিষয়টি উপেক্ষা করা হচ্ছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ঘোষণা দেন, আগামী ৩১ মার্চ মঙ্গলবার দিনের শেষ কার্যসূচি হিসেবে এই মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে দুই ঘণ্টা আলোচনা হবে। এর পরও কিছু সময় হট্টগোল চলতে থাকে। পরে স্পিকার রুলিং দিয়ে পরবর্তী কার্যসূচিতে যাওয়ার নির্দেশ দেন এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর আলোচনা শুরু হয়।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে যখন অস্থিরতার কালো মেঘ, ঠিক তখনই বাংলাদেশের জন্য এলো স্বস্তির খবর। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত রয়েছে স্থিতিশীল। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, গত ৩ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত মাত্র ২৫ দিনেই দেশে পৌঁছেছে ৩০টি জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ। এরই মধ্যে ২৭টি জাহাজ থেকে তেল খালাস সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে দুটি জাহাজে খালাস প্রক্রিয়া চলছে। স্বস্তির খবর এখানেই শেষ নয়; আগামী ৪ এপ্রিলের মধ্যে আরও ৬টি জ্বালানি জাহাজ বন্দরে ভিড়তে যাচ্ছে। যার মধ্যে থাকবে এলএনজি, গ্যাস অয়েল এবং এলপিজি। সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান বাংলাদেশকে ‘বন্ধুরাষ্ট্র’ হিসেবে বিশেষ অভয় দিয়েছে। তালিকায় বাংলাদেশের সাথে আরও রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, ইরাক ও পাকিস্তান। মূলত কাতার, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও ওমান থেকে নিয়মিত আসছে এলএনজি ও জ্বালানি তেল। তবে পরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েল নিয়ে। গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর নতুন কোনো ক্রুড অয়েলের চালান বন্দরে পৌঁছায়নি। তবে আশার কথা হলো, দেশের মোট চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ ক্রুড অয়েল আর বাকি ৮০ শতাংশই পরিশোধিত তেল, যা বর্তমানে নিরবচ্ছিন্নভাবে দেশে আসছে। ফলে বড় কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই বললেই চলে।
যুক্তরাষ্ট্রে কয়েক দশক ধরে চলে আসা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার বিধান বাতিলের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র আইনি লড়াই। বিষয়টি বর্তমানে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের বিবেচনাধীন রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, যদি এই আদেশ কার্যকর হয়, তবে নবজাতকদের নাগরিকত্ব প্রমাণ এবং নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে চরম বিশৃঙ্খলা বা ‘চাওস’ সৃষ্টি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতেই স্বাক্ষরিত এই বিতর্কিত আদেশে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সকল শিশু স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না—বিশেষ করে যাদের বাবা-মায়ের বৈধ অভিবাসন মর্যাদা নেই। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ১৮৯৮ সালের ‘ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক’ মামলার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত বর্তমান আইনি ব্যাখ্যাটি ভুল এবং এটি অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করছে। গত বছরের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানা এই আদেশের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, যদি জন্ম সনদ (Birth Certificate) নাগরিকত্বের অকাট্য প্রমাণ হিসেবে আর কাজ না করে, তবে হাসপাতালগুলো নবজাতকদের কীভাবে নথিভুক্ত করবে? ফেডারেল কর্মকর্তারা কীভাবে নিশ্চিত করবেন কে নাগরিক আর কে নয়? বর্তমানে এই আইনি লড়াই ‘বারবারা বনাম ট্রাম্প’ (Barbara v. Trump) মামলার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আগামী ১ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার মৌখিক যুক্তি উপস্থাপন (Oral Argument) শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এবং ডেমোক্র্যাট শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলো এই আদেশের তীব্র বিরোধিতা করছে। তাদের মতে, এটি মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর সরাসরি লঙ্ঘন। নাগরিক অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলোর দাবি, এই নিয়ম কার্যকর হলে কয়েক হাজার শিশু আইনি জটিলতায় পড়বে, যা তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তার অধিকারকে বাধাগ্রস্ত করবে। ‘পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট’-এর প্রধান জিল হ্যাবিগ বলেন, “এটি মার্কিন নাগরিকত্বের মৌলিক ধারণাকেই বদলে দেবে এবং একটি বিশাল আইনি বিভ্রান্তি তৈরি করবে।” উল্লেখ্য যে, এর আগে বিভিন্ন নিম্ন আদালত ট্রাম্পের এই আদেশকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে স্থগিতাদেশ দিয়েছিলেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখন এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে, যা ২০২৬ সালের জুন বা জুলাই মাসের মধ্যে আসতে পারে। আদালতের এই রায়ের ওপরই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং শত বছরের পুরনো নাগরিকত্ব আইনের ভাগ্য।
লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলোর কিছু সংস্করণ আগের তুলনায় আরও আধুনিক এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তিসম্পন্ন। খবরে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরান থেকে পাওয়া ‘শাহেদ’ ড্রোনের প্রযুক্তি উন্নত করেছে রাশিয়া। এখন সেই আপগ্রেড করা সংস্করণই ফের ইরানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কতসংখ্যক ড্রোন পাঠানো হয়েছে বা এটি নিয়মিত সরবরাহের অংশ কিনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউরোপীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন হস্তান্তর নিয়ে বেশ সক্রিয় আলোচনা হয়েছে। তবে কিছু কর্মকর্তার মতে, স্বল্পসংখ্যক ড্রোন এই অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া থেকে ইরানে পাঠানো তথাকথিত মানবিক সহায়তার চালানেও ড্রোন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আজারবাইজানের মাধ্যমে ট্রাক ও রেলপথে খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর আড়ালে এই সরঞ্জাম পরিবহন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান গত এক মাস ধরে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশ এবং মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দিন দিন জোরদার হচ্ছে। উভয় দেশই ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জেটচালিত ড্রোন প্রযুক্তি ইরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে। তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র এ ধরনের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে রাশিয়া। পরবর্তীতে নিজেদের কারখানায় এই ড্রোন উৎপাদন ও উন্নয়নও শুরু করে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ড্রোন সরবরাহ যদি নিশ্চিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদুল ইসলাম খানকে আদালতে তোলা হয়। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, টহলরত পুলিশ সদস্যরা জিহাদুল ইসলাম খানকে একটি মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের মালিককে ডাকা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার বদরপুর এলাকায় একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা ছিল। গভীর রাতে সেটি নিয়ে পালানোর সময় পুলিশের সন্দেহ হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রোববার সকালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের মালিক তানভির ইসলাম বলেন, ধারদেনা করে কেনা মোটরসাইকেলটি দিয়ে তার সংসার চলে। এটি হারিয়ে গেলে তিনি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তেন। দ্রুত উদ্ধারের জন্য তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন। এদিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মুক্তা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রদলের পদে থাকলেও তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কনস্যুলার সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য যেকোনো হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জরুরি কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ স্থানে গিয়ে 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা' বা 'ডাক অ্যান্ড কাভার' পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
এবারের ঈদযাত্রা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হয়েছে বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার ঘটনায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। রোববার (২৯ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেড় কোটি মানুষ তিন দিনের মধ্যে ঢাকা ছাড়লেও বড় ধরনের যানজট বা দুর্ভোগ হয়নি। অতীতের তুলনায় এবারের যাত্রা অনেক বেশি স্বস্তিদায়ক ছিল।” মন্ত্রী আরও বলেন, “দুই-তিনটি বড় দুর্ঘটনা আমাদের ব্যথিত করেছে। একটি প্রাণহানিও আমরা চাই না। তবুও সামগ্রিকভাবে মানুষ নিরাপদে ও স্বস্তিতে বাড়ি ফিরতে পেরেছে বলে আমরা মনে করি।” দুর্ঘটনার দায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাউকে সরাসরি দায়ী না করলেও তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রেল দুর্ঘটনার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট গার্ডদের বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে একজন কর্মকর্তাকেও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবহন কোম্পানির কাছ থেকে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব না পেলে ওই কোম্পানির সব বাসের রুট পারমিট বাতিলের হুঁশিয়ারি দেন তিনি। নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে মন্ত্রী বলেন, সরকারি হিসেবে সড়ক, নৌ ও রেলপথ মিলিয়ে ১৭০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মহাসড়কে ৪৭ জন, নৌপথে ২৮ জন এবং রেলপথে ১৭ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, “কোনো মৃত্যুই কাম্য নয়। তবে আগের বছরের তুলনায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা আরও কমাতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন ইরানে পাঠাচ্ছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ড্রোনগুলোর কিছু সংস্করণ আগের তুলনায় আরও আধুনিক এবং উন্নত নেভিগেশন প্রযুক্তিসম্পন্ন। খবরে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধের সময় ইরান থেকে পাওয়া ‘শাহেদ’ ড্রোনের প্রযুক্তি উন্নত করেছে রাশিয়া। এখন সেই আপগ্রেড করা সংস্করণই ফের ইরানের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। যদিও ঠিক কতসংখ্যক ড্রোন পাঠানো হয়েছে বা এটি নিয়মিত সরবরাহের অংশ কিনা—সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ইউরোপীয় এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, চলতি মাসে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে ড্রোন হস্তান্তর নিয়ে বেশ সক্রিয় আলোচনা হয়েছে। তবে কিছু কর্মকর্তার মতে, স্বল্পসংখ্যক ড্রোন এই অঞ্চলের সামরিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, রাশিয়া থেকে ইরানে পাঠানো তথাকথিত মানবিক সহায়তার চালানেও ড্রোন থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। আজারবাইজানের মাধ্যমে ট্রাক ও রেলপথে খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর আড়ালে এই সরঞ্জাম পরিবহন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর ইরান গত এক মাস ধরে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশ এবং মার্কিন ঘাঁটিতে ধারাবাহিক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তাদের সামরিক অভিযানে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা দিন দিন জোরদার হচ্ছে। উভয় দেশই ড্রোন প্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ে সক্রিয় রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত অ্যান্টি-জ্যামিং প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জেটচালিত ড্রোন প্রযুক্তি ইরানের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে পারে। তবে মস্কো এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র এ ধরনের খবরকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছেন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরানের সঙ্গে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির মাধ্যমে ‘শাহেদ’ ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করে রাশিয়া। পরবর্তীতে নিজেদের কারখানায় এই ড্রোন উৎপাদন ও উন্নয়নও শুরু করে তারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ড্রোন সরবরাহ যদি নিশ্চিত হয়, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কনস্যুলার সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য যেকোনো হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাসের এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জরুরি কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ স্থানে গিয়ে 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা' বা 'ডাক অ্যান্ড কাভার' পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
দশম শ্রেণির গণিত পরীক্ষায় পেয়েছিলেন ১০০-তে মাত্র ২৮। কিন্তু সেই সাধারণ মানের ছাত্রটিই পরবর্তী জীবনে হয়ে ওঠেন ভারতের মহারাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী ‘জ্যোতিষী ও ধর্মগুরু’। বড় বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় রাজনীতিবিদরা পর্যন্ত তার কাছে আসতেন পরামর্শের জন্য। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ধর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং প্রতারণার ভয়াবহ সব অভিযোগে বর্তমানে শ্রীঘরের অন্ধকারে দিন কাটছে অশোক খরাত নামের এই স্বঘোষিত ধর্মগুরুর। সম্প্রতি ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ৬৭ বছর বয়সী এই ভণ্ড বাবার উত্থান ও পতনের চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। যেভাবে শুরু এই ভণ্ডামির সাম্রাজ্য মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার কাহান্দেলওয়াড়ি গ্রামে লক্ষণ খরাত নামে জন্ম নেওয়া এই ব্যক্তি তরুণ বয়সেই নিজ গ্রামে এক আত্মীয়কে যৌন হেনস্তার অভিযোগে সমাজচ্যুত হন। এরপর কিছুদিন পশ্চিমবঙ্গ এবং থাইল্যান্ডে কাটিয়ে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে নাসিকে ফিরে আসেন তিনি। এবার তার নাম বদলে হয় ‘অশোক কুমার’। নিজেকে একজন সংখ্যাতাত্ত্বিক (Numerologist) এবং জ্যোতিষী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন তিনি। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খরাত অত্যন্ত ধূর্ততার সাথে মানুষের মনস্তত্ত্ব নিয়ে খেলতেন। নিজের মন্দিরে অলৌকিক পরিবেশ তৈরি করতে তিনি সাপের হিসহিস শব্দ রেকর্ড করে বাজাতেন এবং লাইট বন্ধ করে ভক্তদের ভয় দেখাতেন, যেন তারা বিশ্বাস করে মহাদেব স্বয়ং সেখানে উপস্থিত। প্রভাবশালী ভক্ত ও বিপুল অর্থকড়ি ধীরে ধীরে তার ভক্ত তালিকায় যুক্ত হতে থাকেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী ও দাপুটে রাজনীতিবিদরা। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার পরামর্শের ফি বা ‘দক্ষিণা’ ৫০ লাখ রুপি পর্যন্ত ছাড়িয়ে যেত। রাজেন্দ্র আসুদ নামে এক রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী অভিযোগ করেছেন, গত কয়েক বছরে খরাত তার কাছ থেকে প্রায় ৫ কোটি রুপি এবং একটি দামী মার্সিডিজ গাড়ি হাতিয়ে নিয়েছেন। প্রতিবাদ করলেই খরাত তাকে ‘আধ্যাত্মিক ক্ষমতা’ দিয়ে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। নাসিক পুলিশের ধারণা, এই ভণ্ড বাবার সাম্রাজ্যের মূল্যমান প্রায় ১০০০ কোটি রুপি। ধর্ষণের ভয়ংকর অভিযোগ খরাতের বিরুদ্ধে বর্তমানে অন্তত আটটি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ছয়টিই ধর্ষণের। সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি করেছেন তার নিজের অফিসের এক কর্মী। তিনি জানান, ২০২৪ সালের মার্চ মাসে তার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে আশীবাদ দেওয়ার নাম করে ধর্ষণ করেন খরাত। পরবর্তীতে ওই কর্মী স্টিং অপারেশনের মাধ্যমে খরাতের কুকর্মের ভিডিও ধারণ করেন, যা বর্তমানে পুলিশের কাছে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে রয়েছে। আরেক নারী অভিযোগ করেছেন, বাড়ি তৈরির পরামর্শ নিতে গেলে তাকে চারবার ধর্ষণ করা হয় এবং পরিবারের ক্ষতির ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করা হয়। রাজনীতির সাথে সংযোগ ও তদন্ত খরাতের সাথে মহারাষ্ট্রের বর্তমান উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং বিজেপি নেতা চন্দ্রকান্ত পাতিলের মতো রাঘববোয়ালদের সখ্যতার ছবিও সামনে এসেছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য নারী অধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারপারসন রুপালি চাকানকারকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। বর্তমানে একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেছেন, "কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।" Faith (বিশ্বাস) আর Fear (ভয়)—এই দুই অস্ত্র ব্যবহার করে যে সাম্রাজ্য অশোক খরাত গড়ে তুলেছিলেন, তা এখন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। গণিতে ফেল করা সেই ছাত্রের জীবনের হিসেব মেলাতে এখন ব্যস্ত খোদ প্রশাসন।
ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ফের বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। রোববার ভোরে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকায় দুটি পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো এই বিমান হামলায় এক শিশু ও তিনজন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এই হামলাকে গত পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধবিরতির চরম লঙ্ঘন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো খান ইউনিসের দুটি পুলিশ তল্লাশি চৌকিতে অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তিন পুলিশ কর্মকর্তা এবং এক শিশুসহ তিন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারান। হামলায় আরও অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তুর্কি সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি (এএ) জানায়, প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আল-মাওয়াসি অঞ্চলের 'বীর ১৯' এলাকায় একদল বেসামরিক নাগরিককে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েল। পরবর্তীতে খান ইউনিসের বানি সুহেইলা চত্বরের কাছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিতে আরও এক ফিলিস্তিনি নিহত হন। সব মিলিয়ে রোববারের এই সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলি বাহিনী প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করে আসছে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধবিরতি চলাকালীনও ইসরায়েলি হামলায় ৬৯১ জন নিহত এবং ১৮৭৬ জন আহত হয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় শুরু হওয়া ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৭২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ লাখ ৭২ হাজারেরও বেশি মানুষ। ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো। বর্তমানে লেবাননে স্থল অভিযান এবং ইরানের সঙ্গে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই গাজায় এই নৃশংসতা অব্যাহত রেখেছে ইসরায়েল।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।