Live update news
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অনুমোদনে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা
ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অনুমোদনে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সনদের আবেদন শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বা ওসিসি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক সনদের আবেদনে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।   ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্টেবলকয়েন নিয়েও কাজ করছে। স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যার মূল্য সাধারণত কোনো প্রচলিত মুদ্রা বা নির্দিষ্ট সম্পদের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়।   তবে এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন, দেশটির প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   তবে ওয়ারেনের বক্তব্যের পাশাপাশি এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো ব্যাংক সনদ অনুমোদন পাওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছামতো অর্থ গ্রহণ বা স্থানান্তর করতে পারবে—এমন নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য থাকে।   সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহ হলে সেটি রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের সংঘাতের নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ ঘুষ গ্রহণ বা অর্থপাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণিত তথ্য বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই।   ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা এর আগেও রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন ব্যাংক সনদের অনুমোদনের ফলে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   এখন নজর থাকবে, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কার্যক্রম শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কীভাবে এর আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তদারকি করে।

২২ মিনিট Ago
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে।   স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে।   হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে।   হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।   স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।   স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক।   হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।

২৬ মিনিট Ago
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির
১০০তম জন্মদিন উদযাপনে নাতির সাথে আকাশ থেকে ঝাঁপ দাদির

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার রোজভিলের বাসিন্দা রুবি ম্যাকনালি তাঁর ১০০তম জন্মদিন উদযাপন করেছেন একেবারেই ব্যতিক্রমীভাবে—আকাশ থেকে ঝাঁপ দিয়ে।   বৃহস্পতিবার ডেভিস শহরের স্কাইড্যান্স স্কাইডাইভিংয়ে পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের সঙ্গে স্কাইডাইভিং করেন শতবর্ষী এই নারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পরিবারের ছয় সদস্য ও বন্ধু।   রুবি ম্যাকনালির স্কাইডাইভিংয়ের শুরু ৮০তম জন্মদিনে। সেবার তাঁর নাতি মজা করে তাকে স্কাইডাইভিং করার চ্যালেঞ্জ দেন। তিনি রাজি হয়ে গেলেও ভাবেননি, নাতি সত্যিই সেই প্রতিশ্রুতি মনে রাখবে।   কিন্তু সেই অভিজ্ঞতার পর আর থামেননি রুবি। ৯০তম জন্মদিনে তিনি আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন এবং তখনই প্রতিশ্রুতি দেন, ১০০ বছর বয়সেও একই কাজ করবেন।   তাঁর মেয়ে শ্যারন ম্যাকনালির ভাষায়, শতবর্ষী রুবিকে কোনো সিদ্ধান্ত থেকে ফেরানো সহজ নয়। এবারও পরিবারের সদস্যদের পক্ষে তাঁকে এই পরিকল্পনা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়নি।   বয়স নিয়ে ভয় বা ঝুঁকি সম্পর্কে রুবির নিজেরও খুব বেশি দুশ্চিন্তা নেই। তাঁর মতে, কোনো কিছু করার আগে অতিরিক্ত চিন্তা করতে থাকলে শেষ পর্যন্ত সেটি করার সাহসই হারিয়ে যেতে পারে।   ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিংয়ের এই অভিজ্ঞতা পরিবারের তরুণ সদস্যদের কাছেও ছিল বিশেষ কিছু। রুবির কয়েকজন নাতি-নাতনিও এবার তাঁর সঙ্গে আকাশ থেকে ঝাঁপ দেন।   নাতনি এপ্রিল বারটক বলেন, ১০০ বছর বয়সী দাদির সঙ্গে স্কাইডাইভিং করার অভিজ্ঞতা পৃথিবীতে খুব বেশি মানুষের নেই। পরিবারের জন্য এটি সত্যিই বিশেষ একটি মুহূর্ত।   রুবি ম্যাকনালি এখন চান, তাঁর পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মও এই ঐতিহ্য ধরে রাখুক। এমনকি পরবর্তী লাফের জন্য আর ১০ বছর অপেক্ষা না করে প্রতি বছরই পরিবারের সবাই মিলে স্কাইডাইভিং করার প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁর নাতনি।   আর ১১০ বছর বয়সে আবারও আকাশ থেকে ঝাঁপ দেবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রুবির উত্তর, তিনি সেই লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন।

৪০ মিনিট Ago
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা
প্রেমের বিচ্ছেদ মেনে নিতে না পেরে প্রেমিকাসহ ৪ জনকে হত্যা, বাড়িতে আগুন ২১ বছরের যুবকের

২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাঙ্কাস্টারে একটি বাড়িতে চারজনকে হত্যার পর আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ২১ বছর বয়সী মিগুয়েল দিয়েগো স্যান্ডোভাল চারটি প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি প্রেমের সম্পর্কের বিচ্ছেদকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে ছিলেন ২১ বছর বয়সী জানভি মাকুইনদাং, ২৫ বছর বয়সী ক্রিস্টিন আকা-আক, ২৪ বছর বয়সী এডউইন গার্সিয়া এবং ২১ বছর বয়সী ম্যাথিউ মন্টেবেলো।   ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, স্যান্ডোভাল নর্থ ট্যাবলার অ্যাভিনিউয়ের ওই বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। ভেতরের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে পড়ার পর তিনি বাড়িতে প্রবেশ করেন এবং চারজনকে গুলি করে হত্যা করেন।   এরপর বাড়িটিতে আগুন ধরিয়ে দেন স্যান্ডোভাল। আগুনে পরিবারের তিনটি কুকুরও মারা যায়। একই সময়ে বাড়ির ভেতরে থাকা দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক আটকা পড়ে। তাদের একজন ১৬ বছর বয়সী কিশোর তালাবদ্ধ একটি কক্ষ থেকে জরুরি নম্বরে ফোন করলে পরে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির শেরিফের ডেপুটিরা তাকে উদ্ধার করেন।   চারটি হত্যার পাশাপাশি স্যান্ডোভাল একটি হত্যাচেষ্টা, বসতবাড়িতে প্রথম-ডিগ্রির চুরি, বসবাসরত স্থাপনায় অগ্নিসংযোগ, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতার তিনটি অভিযোগ এবং শিশু নির্যাতনের দুটি অভিযোগেও দোষ স্বীকার করেছেন।   হত্যার অভিযোগগুলোর সঙ্গে একাধিক ব্যক্তিকে হত্যার বিশেষ পরিস্থিতি এবং ওত পেতে থেকে হত্যার অভিযোগও যুক্ত রয়েছে। এসব অভিযোগের কারণে মামলাটি আরও গুরুতর মাত্রা পেয়েছে।   লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি নাথান জে. হকম্যান বলেন, সম্পর্কের বিচ্ছেদের পর প্রতিশোধ নিতে স্যান্ডোভাল এই ‘পরিকল্পিত সহিংসতা’ চালিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এই হত্যাকাণ্ড নিহতদের পরিবারগুলোর জন্য এমন এক শূন্যতা তৈরি করেছে, যা কখনো পূরণ হওয়ার নয়।   দোষ স্বীকারের ফলে স্যান্ডোভালের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পথে রয়েছে। আদালতের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৭ নভেম্বর তাঁর আনুষ্ঠানিক সাজা ঘোষণা হওয়ার কথা।   মামলার নথি ও তদন্তসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার আগে স্যান্ডোভালের গতিবিধি এবং তদন্তকারীরা কীভাবে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করেছিলেন, তার সব বিস্তারিত এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।   ২০২৪ সালের ওই হত্যাকাণ্ডের পর তদন্তে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি শেরিফের হোমিসাইড ব্যুরো, জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করে। দোষ স্বীকারের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া এখন সাজা ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছেছে।

৫১ মিনিট Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসায় নতুন নিয়ম: ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে বাতিল হচ্ছে ‘আনলিমিটেড স্টে’ সুবিধা

আগামী মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। এর প্রেক্ষিতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা নবায়ন ও কাজের অনুমতির জন্য প্রয়োজনীয় দুটি গুরুত্বপূর্ণ ফরমের নতুন নির্দেশনা প্রকাশ করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর (২০২৬) থেকে এফ (F), জে (J) এবং আই (I) ক্যাটাগরির ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ আর অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকছে না, বরং তা একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ করা হবে।   মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) নতুন নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, তারা ফরম আই-৫৩৯ (অ্যপ্লিকেশন টু এক্সটেন্ড/চেঞ্জ নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাস) এবং ফরম আই-৭৬৫ (অ্যাপ্লিকেশন ফর এমপ্লয়মেন্ট অথরাইজেশন)-এর সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করতে যাচ্ছে। নীতিমালায় পরিবর্তন কার্যকর হওয়ার দিন, অর্থাৎ ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ফরম দুটির পুরনো সংস্করণ আর গ্রহণ করা হবে না।   নতুন ফরমগুলোর একটি প্রিভিউ শেয়ার করে ইউএসসিআইএস নিশ্চিত করেছে যে, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে পোস্টমার্ক করা বা অনলাইনে জমা দেওয়া হলে ফরম আই-৫৩৯-এর পুরনো সংস্করণ (০৮/২৮/২৪) গ্রহণ করা হবে। তবে ১৫ সেপ্টেম্বর বা তার পরে জমা দিলে অবশ্যই নতুন সংস্করণ (০৯/১৫/২৬) ব্যবহার করতে হবে, অন্যথায় আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে। একইভাবে, কাজের অনুমতির জন্য ব্যবহৃত ফরম আই-৭৬৫-এর ক্ষেত্রেও পুরনো সংস্করণ (০৮/২১/২৫) ১৫ সেপ্টেম্বরের আগে জমা দিলে গ্রহণযোগ্য হবে। আর ১৫ সেপ্টেম্বর বা এরপর জমা দিলে নতুন সংস্করণটি (০৯/১৫/২৬) ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক।   আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এক্সটেনশন অব স্টে (ইওএস) বা অবস্থানের মেয়াদ বাড়ানোর এই নতুন নিয়মে আসলে কী থাকছে? আগে এফ (F) ভিসায় আসা শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ ভিজিটর প্রোগ্রাম (এসইভিপি) অনুমোদিত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা এবং পড়া শেষে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের (প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং) জন্য অনির্দিষ্টকালের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সুযোগ পেতেন। এই ব্যবস্থাকে ‘ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস’ (ডি/এস) বলা হতো। কিন্তু নতুন চূড়ান্ত নিয়মে এই 'ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস' বাতিল করে একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।   এখন থেকে ফরম আই-২০ (সার্টিফিকেট অব এলিজিবিলিটি ফর নন-ইমিগ্র্যান্ট স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস)-এ উল্লেখিত প্রোগ্রামের মেয়াদের ওপর ভিত্তি করে ভিসার মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে। তবে এই মেয়াদ কোনোভাবেই চার বছরের বেশি হবে না। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ৩০ দিন এবং পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত ৩০ দিন সময় পাওয়া যাবে। এর বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে চাইলে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই ইউএসসিআইএস-এর কাছে মেয়াদ বাড়ানোর (ইওএস) আবেদন করতে হবে। পড়াশোনা শেষ করা, নতুন কোনো কোর্সে ভর্তি হওয়া, অথবা অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) বা স্টেম (STEM) ওপিটি-তে অংশ নেওয়ার জন্য এই মেয়াদ বাড়ানো অপরিহার্য।   গত বছর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর থেকে অভিবাসন নীতিতে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, এফ ভিসাধারী শিক্ষার্থীদের অবস্থানের নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ তারই একটি অংশ। গত বছরের (২০২৫) জুনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ভিসা আবেদনকারীদের, বিশেষ করে এফ, এম এবং জে নন-ইমিগ্র্যান্ট ক্যাটাগরিতে বাছাই ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া কঠোর করার মাধ্যমে এই কড়াকড়ি শুরু করে। পরবর্তীতে 'স্পেশালিটি অকুপেশন' হিসেবে পরিচিত এইচ-১বি (H-1B) ওয়ার্ক ভিসার ক্ষেত্রেও গত বছর থেকে নতুন নিয়ম যুক্ত করা হয়।   ট্রাম্প প্রশাসন মূলত 'জাতীয় নিরাপত্তা'র উদ্বেগ থেকেই এই পরিবর্তনগুলো আনছে বলে বারবার উল্লেখ করেছে। এ বিষয়ে বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, "যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা একটি বিশেষ সুবিধা (প্রিভিলেজ), এটি কোনো অধিকার নয়।" ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে প্রকাশিত এই তথ্যগুলো মূলত মার্কিন অভিবাসন বিভাগের সার্বজনীন নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। নিয়ম এবং সময়সীমা যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে শিক্ষার্থীদের সরাসরি ইউএসসিআইএস-এর ওয়েবসাইট যাচাই করা বা একজন দক্ষ ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৫, ২০২৬ ২১:৫২
টেক্সাস গভর্নরের হস্তক্ষেপের পর ডালাস বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের ওজুর স্থান নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস ফোর্ট ওয়ার্থ (ডিএফডব্লিউ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মুসলিম যাত্রীদের জন্য ওজুর স্থান (ওজুখানা) নির্মাণের একটি পরিকল্পনা তীব্র বিতর্কের মুখে বাতিল করা হয়েছে। টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করে এটিকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দেওয়ার পরই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। একই সঙ্গে রাজ্যের দুটি বড় বিমানবন্দরে ধর্মীয় সুবিধার নামে কোনো বৈষম্য হচ্ছে কি না, তা পর্যালোচনার জন্য সরকারি অনুদান খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন গভর্নর।   গত শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর অ্যাবট বলেন, "সরকারি মালিকানাধীন বিমানবন্দরগুলো কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মকে অন্য সব ধর্মের ওপর বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না। ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দরে ইসলামিক ওজুর জায়গা নির্মাণের পরিকল্পনাটি সম্পূর্ণ বেআইনি। আমি সম্ভাব্য অনুদান বাতিলের জন্য রাজ্যের দুটি বিমানবন্দরের সব সরকারি অনুদান পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি তদন্তের জন্য বিষয়টি মার্কিন পরিবহন বিভাগের (ইউএসডিওটি) কাছে পাঠিয়েছি।"   তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, করদাতাদের অর্থে পরিচালিত কোনো স্থাপনায় এ ধরনের বেআইনি ধর্মীয় বৈষম্য বরদাশত করবে না টেক্সাস। গভর্নরের এই কড়া বার্তার পরই ডালাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ফক্স নিউজ ডিজিটালকে জানায়, তারা তাদের আন্তর্জাতিক টার্মিনাল (টার্মিনাল ডি)-এর নিরাপত্তা তল্লাশির আগের অংশে যাত্রীদের জন্য একটি ওজুখানা স্থাপনের প্রস্তাব পর্যালোচনা করছিল। কিন্তু জনসমক্ষে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হওয়ায় তারা দ্রুত এই পর্যালোচনা শেষ করেছে এবং প্রকল্পটি নিয়ে আর না এগোনোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রকল্পটি থেকে প্রাথমিকভাবে যে ধরনের পরিচালনগত সুবিধার আশা করা হয়েছিল, সেটি পূরণ হবে না বলেই এই সিদ্ধান্ত।   এর আগে গত ৩১ জুলাই টেক্সাস ডিপার্টমেন্ট অব লাইসেন্সিং অ্যান্ড রেগুলেশনের কাছে প্রকল্পটির নিবন্ধন করা হয়। সেখানে প্রাথমিকভাবে এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩ লাখ ডলার এবং অর্থায়নের উৎসের জায়গায় ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ উল্লেখ করা হয়েছিল। কথা ছিল, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর নির্মাণকাজ শেষ হবে।   তবে ডিএফডব্লিউ বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ পরে জানায়, নথিপত্রে উল্লেখ করা এসব তথ্য আসলে তাদের বহিরাগত নকশা প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ‘করণিক ভুল’ ছিল। বিমানবন্দরটির একজন মুখপাত্র ফক্স নিউজকে বলেন, ৩ লাখ ডলারের হিসাবটি ছিল একটি প্রাথমিক উচ্চ ধারণা। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে এর প্রকৃত ব্যয় হতো প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ডলার। এছাড়া ‘ব্যক্তিগত অর্থায়ন’ কথাটিও ভুলবশত লেখা হয়েছিল। অন্যান্য প্রকল্পের মতো এই প্রকল্পেও বিমানবন্দরের নিজস্ব তহবিল ব্যবহার করার কথা ছিল। বিমানবন্দরটি তাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে করদাতাদের অর্থ ব্যবহার করে না, বরং পার্কিং ও বিভিন্ন দোকানপাট থেকে আয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, টেক্সাসের হিউস্টনে অবস্থিত জর্জ বুশ ইন্টারকন্টিনেন্টাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে একটি ওজুখানা এবং এর সংলগ্ন একটি প্রার্থনাকক্ষ রয়েছে।   মার্কিন পরিবহনমন্ত্রী শন ডাফিকে দেওয়া এক চিঠিতে গভর্নর অ্যাবট মার্কিন পরিবহন বিভাগ এবং ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনকে উভয় বিমানবন্দরের ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো পর্যালোচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, "এই ওজুখানাগুলো দৃশ্যত নির্দিষ্ট একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই নকশা করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। সংবিধানে এ ধরনের বৈষম্যকে প্রশ্রয় দেওয়া নিষেধ। সরকার যেমন পবিত্রতার চেয়ে ধর্মনিরপেক্ষতাকে অগ্রাধিকার দিতে পারে না, তেমনি অন্য সব মতাদর্শের ওপর কোনো একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় মতবাদকেও বিশেষ সুবিধা দিতে পারে না।"   উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় বিমানবন্দরগুলোতেও, যেমন, শিকাগো ও'হেয়ার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, যাত্রীদের সুবিধার্থে এ ধরনের নিচু বেসিন বা ওজুখানা এবং সর্বজনীন প্রার্থনার স্থান রয়েছে।

ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক অনুমোদনে রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক সনদের আবেদন শর্তসাপেক্ষে অনুমোদন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   সিএনবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন মুদ্রা নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় বা ওসিসি প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক সনদের আবেদনে প্রাথমিক অনুমোদন দিয়েছে। এর ফলে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং কার্যক্রমের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে।   ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি ক্রিপ্টো প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি স্টেবলকয়েন নিয়েও কাজ করছে। স্টেবলকয়েন হলো এমন এক ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সি, যার মূল্য সাধারণত কোনো প্রচলিত মুদ্রা বা নির্দিষ্ট সম্পদের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়।   তবে এই সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন, দেশটির প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।   ডেমোক্র্যাট সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন সিদ্ধান্তটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকিং কার্যক্রমে যাওয়ার সুযোগ প্রেসিডেন্টের ব্যবসায়িক স্বার্থ ও সরকারি দায়িত্বের মধ্যে স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।   তবে ওয়ারেনের বক্তব্যের পাশাপাশি এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো ব্যাংক সনদ অনুমোদন পাওয়ার অর্থ প্রতিষ্ঠানটি ইচ্ছামতো অর্থ গ্রহণ বা স্থানান্তর করতে পারবে—এমন নয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর অর্থপাচার প্রতিরোধ, গ্রাহক যাচাই এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ও নিয়ন্ত্রণ প্রযোজ্য থাকে।   সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, প্রেসিডেন্টের পরিবারের সঙ্গে যুক্ত কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ প্রবাহ হলে সেটি রাজনৈতিক প্রভাব ও স্বার্থের সংঘাতের নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি অবৈধ ঘুষ গ্রহণ বা অর্থপাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে—এমন কোনো প্রমাণিত তথ্য বর্তমানে প্রকাশ্যে নেই।   ট্রাম্প পরিবারের ক্রিপ্টো ব্যবসা এর আগেও রাজনৈতিক ও নৈতিক বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন ব্যাংক সনদের অনুমোদনের ফলে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   এখন নজর থাকবে, শর্তসাপেক্ষ অনুমোদনের পর প্রতিষ্ঠানটি কী ধরনের কার্যক্রম শুরু করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো কীভাবে এর আর্থিক লেনদেন ও সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত তদারকি করে।

স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে।   স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে।   হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে।   হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।   স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।   স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক।   হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।

ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়া। ৭ জুন ইউরোপে যাওয়ার পর দুই মাসেও দেশে ফেরেননি তিনি। ছবি: সংগৃহীত
‘সংক্ষিপ্ত সফরে’ ইউরোপ গিয়ে ২ মাস ধরে ‘নিখোঁজ’ বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট

ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্ট পল বিয়ার ইউরোপ সফর যেন শেষই হচ্ছে না। গত ৭ জুন ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ ইউরোপের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন ৯৩ বছর বয়সী এই নেতা। কিন্তু দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তিনি দেশে ফেরেননি। বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধানের দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে এরই মধ্যে দেশটিতে উদ্বেগ ও নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। তবে সরকার বলছে, পল বিয়া সুস্থ আছেন এবং বিদেশে থেকেও রাষ্ট্র পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।   ক্যামেরুনের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ৭ জুন জানিয়েছিল, পল বিয়া তার স্ত্রী শঁতাল বিয়াকে সঙ্গে নিয়ে ইউরোপে একটি ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফরে’ যাচ্ছেন। পরে সরকার নিশ্চিত করে, তিনি সুইজারল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তবে দেশে ফেরার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ জানানো হয়নি। আগস্টের শুরুতে তার বিদেশে অবস্থানের সময় প্রায় দুই মাসে পৌঁছে যায়, যা তার দীর্ঘদিনের বিদেশ সফরগুলোর মধ্যেও অন্যতম দীর্ঘ।   পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবার বিশেষভাবে নজর কেড়েছে তার বয়স এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে। ৯৩ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক বর্তমান রাষ্ট্রপ্রধান। ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসার পর চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ক্যামেরুন শাসন করছেন তিনি। ২০২৫ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন পল বিয়া।   তার স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপে তার নিয়মিত দীর্ঘ অবস্থান এসব জল্পনাকে আরও উসকে দেয়। তবে ক্যামেরুন সরকার বারবার এসব প্রশ্ন খারিজ করেছে। চলতি বছরের জুনে দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী রেনে ইমানুয়েল সাদি পল বিয়া জেনেভার কোনো হাসপাতালে ভর্তি আছেন, এমন খবর অস্বীকার করেন। পরে প্রেসিডেন্টের সিভিল ক্যাবিনেটের পরিচালক স্যামুয়েল মভোন্দো আয়োলোও বলেন, তিনি হাসপাতালে ভর্তি নন এবং জেনেভায় হোটেল থেকেই নিয়মিত কাজ করছেন।   তবে সরকারের বক্তব্যের পরও উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। কারণ দীর্ঘ সময় ধরে পল বিয়াকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না। তার অনুপস্থিতি নিয়ে বিরোধী দলগুলো প্রশ্ন তুলেছে, প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনা কীভাবে চলছে তা নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিরোধী রাজনীতিকদের কেউ কেউ পরিস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনায় এক ধরনের ‘স্বয়ংক্রিয়’ ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করেছেন।   এদিকে পল বিয়ার অনুপস্থিতির মধ্যেই ক্ষমতাসীন ক্যামেরুন পিপলস ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (সিপিডিএম) শীর্ষ নেতারা জুলাইয়ে একটি বিরল বৈঠকে বসেন। দলটির মহাসচিব জ্যঁ নকুতে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ কর্মসভা হিসেবে উল্লেখ করলেও বৈঠকটি প্রেসিডেন্টের অনুপস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত কি না, তা স্পষ্ট করেননি।   পল বিয়ার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের আরেকটি কারণ হলো দেশটিতে ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়টি। এ বছরের এপ্রিলে আইনপ্রণেতারা ভাইস প্রেসিডেন্টের পদ পুনর্বহালের ব্যবস্থা অনুমোদন করলেও এখনো সেই পদে কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে প্রেসিডেন্ট দীর্ঘ সময় অনুপস্থিত থাকলে ক্ষমতার ধারাবাহিকতা কীভাবে নিশ্চিত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।   এরই মধ্যে পল বিয়ার অনুপস্থিতির ৫৮তম দিনে ক্যামেরুনের সামরিক নেতৃত্বে বড় পরিবর্তন আনা হয়। ৪ আগস্ট জারি করা তিনটি প্রেসিডেন্টের ডিক্রিতে প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধানকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি দেশের পাঁচটি যৌথ সামরিক অঞ্চলের মধ্যে চারটির কমান্ডার পরিবর্তন করা হয়। এসব পরিবর্তনের কোনো সরকারি কারণ জানানো হয়নি।   এই সামরিক রদবদলও পল বিয়ার অনুপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক আলোচনা আরও বাড়িয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এ পরিবর্তনকে তার অনুপস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকার বরাবরই বলে আসছে, বিদেশে থাকলেও রাষ্ট্র পরিচালনার সক্ষমতা পল বিয়ার রয়েছে।   ক্যামেরুনে প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা নতুন নয়। ২০২৪ সালেও পল বিয়া প্রায় ৪২ দিন জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তখনও তার স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যাপক জল্পনা ছড়িয়েছিল। পরে তিনি সুইজারল্যান্ড থেকে দেশে ফেরেন। ওই ঘটনার পর ক্যামেরুন সরকার প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্য নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা নিষিদ্ধ করেছিল এবং বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করা হয়েছিল।   পল বিয়ার রাজনৈতিক জীবনও দীর্ঘ সময়ের ক্ষমতার প্রতীক। ক্যামেরুনের প্রথম প্রেসিডেন্ট আহমাদু আহিদজোর পদত্যাগের পর ১৯৮২ সালে ক্ষমতায় আসেন তিনি। ২০০৮ সালে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের মেয়াদের সীমা তুলে দেওয়া হয়। ফলে ২০২৫ সালের নির্বাচনে অষ্টমবারের মতো জয়ী হয়ে আবারও ক্ষমতায় থাকার সুযোগ পান পল বিয়া।   তার দীর্ঘ শাসনামলে দেশটি নানা সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। উত্তরাঞ্চলে বোকো হারামের হামলা এবং পশ্চিমাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংঘাতের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থবিরতাও তরুণদের মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। প্রায় ৩ কোটি জনসংখ্যার দেশ ক্যামেরুনে ৭০ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। অথচ তাদের জীবনের বড় অংশজুড়েই রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তারা দেখে আসছেন একই ব্যক্তিকে।   ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনও বিতর্কমুক্ত ছিল না। পল বিয়া নির্বাচনে জয়ী হয়ে অষ্টম মেয়াদ নিশ্চিত করলেও বিরোধীরা ফলাফল নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে। নির্বাচনের পর দেশটির বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও হয়। ফলে দীর্ঘদিনের এই শাসকের বিদেশে অবস্থান এখন শুধু তার স্বাস্থ্য নয়, ক্যামেরুনের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ক্ষমতার ধারাবাহিকতা নিয়েও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।   তবে এখন পর্যন্ত পল বিয়ার মৃত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য খবর বা তার গুরুতর অসুস্থতার বিষয়ে সরকারি নিশ্চিত তথ্য নেই। সরকার বলছে, তিনি সুস্থ আছেন এবং দায়িত্ব পালন করছেন। অন্যদিকে বিরোধীরা তার দীর্ঘ অনুপস্থিতিকে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছে। ফলে ‘সংক্ষিপ্ত ব্যক্তিগত সফর’ হিসেবে শুরু হওয়া এই ইউরোপ যাত্রা কবে শেষ হবে, সেটিই এখন ক্যামেরুনের রাজনীতিতে অন্যতম আলোচিত প্রশ্ন।

একটি অনুষ্ঠানে হেঁটে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ধারণ করা ট্রাম্পের ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি, ফের ছড়াল ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পোশাকের একটি ছবি ও ভিডিও ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও শুরু হয়েছে ‘ডায়াপার’ পরার গুঞ্জন। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের পেছন দিকের পোশাকে অস্বাভাবিক আকৃতি দেখা যাচ্ছে দাবি করে অনেকে নানা মন্তব্য করেন। তবে ট্রাম্প প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহার করেন, এমন কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ বা সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় আসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে। ভিডিওতে একটি অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্পকে হেঁটে চলে যেতে দেখা যায়। এ সময় তার স্যুটের নিচের অংশের আকৃতি নিয়ে কয়েকজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী প্রশ্ন তোলেন। কারও কারও দাবি, পোশাকের নিচে একটি চৌকো ধরনের ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে।   এক্সে ব্রায়ান ক্রাসেনস্টেইন নামের এক ব্যবহারকারী ট্রাম্পের পেছনের দিকের পোশাকের আকৃতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার পোস্টের পরপরই মন্তব্যের ঝড় ওঠে। ট্রাম্পের সমর্থকদের অনেকে এমন মন্তব্যের সমালোচনা করেন এবং প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত শারীরিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করাকে অশোভন বলে মন্তব্য করেন।   অন্যদিকে, কিছু ব্যবহারকারী ছবিতে দেখা আকৃতিকে ‘অস্বাভাবিক’ বলে দাবি করেন। কেউ কেউ সরাসরি ‘ডায়াপার’ ব্যবহারের প্রসঙ্গ তোলেন। তবে এসব মন্তব্য মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনুমান ও ব্যঙ্গের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কোনো চিকিৎসা নথি, সরকারি বিবৃতি বা নির্ভরযোগ্য সূত্র এসব দাবিকে সমর্থন করেনি।   ট্রাম্পকে ঘিরে এমন গুঞ্জন অবশ্য নতুন নয়। চলতি বছরের এপ্রিলেও তাঁর ‘৬০ মিনিটস’ সাক্ষাৎকারের পর একই ধরনের আলোচনা শুরু হয়েছিল। সিবিএসের অনুষ্ঠানে সাংবাদিক নোরাহ ও’ডনেলের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় ট্রাম্পের স্যুটের পেছনের দিকে একটি ফোলা অংশ দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করেন কিছু দর্শক। পরে সেই দৃশ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে সেটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার বলে অনুমান করেন।   তবে ওই সময়ও দাবিটির পক্ষে কোনো যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ পোশাকের ভাঁজ, স্যুটের কাটিং, শরীরের ভঙ্গি কিংবা নিরাপত্তা সরঞ্জামের মতো বিভিন্ন সম্ভাব্য কারণের কথা বলেন। অর্থাৎ একটি ছবিতে দেখা আকৃতি থেকেই ট্রাম্পের স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত ব্যবহারের বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।   মে মাসে আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারিতে মেমোরিয়াল ডে উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পের অংশগ্রহণের ছবিকে ঘিরেও একই ধরনের আলোচনা হয়েছিল। তাঁর যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনুষ্ঠানের ছবি প্রকাশ করার পর কিছু ব্যবহারকারী ট্রাম্পের স্যুটের আকৃতি নিয়ে মন্তব্য করেন এবং আবারও ডায়াপার ব্যবহারের দাবি তোলেন। কিন্তু সেই দাবিরও কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।   জুলাই মাসেও একই ধরনের গুঞ্জন ছড়ায়। ট্রাম্পের সহযোগী নাটালি হার্পকে একটি বড় কালো ব্যাগ হাতে তাঁর পেছনে দেখা যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু ব্যবহারকারী সেটিকে কথিত ‘ডায়াপার ব্যাগ’ বলে দাবি করেন। পরে এসব পোস্ট নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এমনকি হার্প যে কোনো ধরনের চিকিৎসা বা পরিচর্যার দায়িত্বে রয়েছেন, এমন তথ্যও পাওয়া যায়নি।   ট্রাম্পকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এসব গুঞ্জনের পেছনে মূলত ছবি ও ভিডিওর নির্দিষ্ট কিছু অংশকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহারকারীদের অনুমান কাজ করছে। বিশেষ করে স্যুট পরা অবস্থায় তাঁর বসা বা হাঁটার সময় পোশাকের আকৃতি নিয়ে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো ছবির দৃশ্যমান আকৃতি থেকে চিকিৎসাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি নয়।   এ ধরনের গুঞ্জন নিয়ে ট্রাম্পের স্বাস্থ্য সম্পর্কেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়েছে। তবে চলতি বছরের এপ্রিল ও জুলাইয়ের বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াপার ব্যবহারের অভিযোগের পক্ষে কোনো সরকারি বা যাচাই করা চিকিৎসা প্রমাণ নেই।   সম্প্রতি জীবনীকার মাইকেল উলফও ট্রাম্পের ডায়াপার ব্যবহারের দীর্ঘদিনের গুঞ্জন নিয়ে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাকে প্রায়ই প্রশ্ন করা হয়, কিন্তু তিনি এমন দাবির কোনো ভিত্তি দেখেননি। একই সঙ্গে ট্রাম্পের যোগাযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে উলফের বক্তব্য ও তার বিশ্বাসযোগ্যতার সমালোচনা করা হয়েছে।   ফলে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ছবিকে ঘিরে আলোচনা থাকলেও ট্রাম্প সত্যিই ডায়াপার ব্যবহার করছেন কি না, তা নিশ্চিত করার মতো কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্য ও অনুমানকে তাই প্রমাণিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
স্পেসএক্সে হার্ভার্ডের ২.২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার, বড় লাভের পথে বিশ্ববিদ্যালয়
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:৫২

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি স্পেসএক্সে প্রায় ২ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। শুক্রবার জমা দেওয়া নিয়ন্ত্রক নথিতে এই তথ্য উঠে এসেছে।   প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হার্ভার্ডের নথিতে দেখানো ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন শেয়ার পোর্টফোলিওর মধ্যে স্পেসএক্সই সবচেয়ে বড় একক শেয়ারধারণ। তবে এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি মালিকানাধীন শেয়ারের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ তহবিলের মাধ্যমে পাওয়া শেয়ারও থাকতে পারে।   স্পেসএক্সের জুনে হওয়া রেকর্ড আইপিওর পর বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের বিনিয়োগের মূল্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছে। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই এক দশকেরও বেশি আগে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্পেসএক্সে বিনিয়োগের সুযোগ পেয়েছিল। কোম্পানিটির শেয়ারবাজারে প্রবেশের পর সেই পুরোনো বিনিয়োগগুলোর মূল্য দ্রুত বেড়েছে।   হার্ভার্ড একা নয়। ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার বিনিয়োগ সংস্থাও প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের স্পেসএক্স শেয়ারধারণ প্রকাশ করেছে। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলাইনা এবং ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি ইন সেন্ট লুইসেরও স্পেসএক্সে বিনিয়োগ রয়েছে বলে বিভিন্ন নথিতে উঠে এসেছে।   হার্ভার্ড ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে হার্ভার্ডের মোট এনডাওমেন্টের মূল্য ছিল প্রায় ৫৬ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার। এই তহবিলের বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রমে অর্থায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।   স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে প্রবেশও ছিল নজিরবিহীন। জুনের আইপিওতে কোম্পানিটি প্রতি শেয়ারের প্রাথমিক মূল্য ১৩৫ ডলার নির্ধারণ করে। এর পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য ১ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি পর্যায়ে পৌঁছেছে।   স্পেসএক্সে বড় বিনিয়োগ করে লাভবান হয়েছে আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানও। এর মধ্যে রয়েছে অ্যালফাবেট। ২০১৫ সালে অ্যালফাবেটের ৯০০ মিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এক দশক পর প্রায় ৯৪ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারে পরিণত হয়েছে বলে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়।   স্পেসএক্সের বর্তমান বাজারমূল্য নিয়ে অবশ্য বিনিয়োগ বিশ্লেষকদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কোম্পানিটির মহাকাশযান উৎক্ষেপণ ব্যবসা, স্টারলিংক এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে বড় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আবার এত উচ্চ মূল্যায়নের কারণে ঝুঁকির কথাও বলছেন কিছু বিশ্লেষক।   হার্ভার্ডের স্পেসএক্স বিনিয়োগের তথ্য প্রকাশের মধ্য দিয়ে প্রযুক্তি ও মহাকাশ খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সম্ভাব্য সুফলও সামনে এসেছে। স্পেসএক্সের মূল্যায়ন দ্রুত বাড়ার ফলে শুধু ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী নয়, বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর এনডাওমেন্টও বড় অঙ্কের সম্পদের মালিক হয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৫১, সরিয়ে নেওয়া হয়েছে ৫ হাজার মানুষ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ২:১

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে শক্তিশালী ৭ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ভূমিকম্পের পর শত শত আফটারশক, ভূমিধস ও সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় প্রায় ৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।    শনিবার স্থানীয় সময় ভোরে পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশের ফ্লোরেস দ্বীপের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ইন্দোনেশিয়ার ভূকম্পন ও আবহাওয়া সংস্থা বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল নাজেওকেও এলাকার কাছে সমুদ্রের নিচে। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ১৫ কিলোমিটার।    ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪১টি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। এসব কম্পনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে নতুন করে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এবং অনেক মানুষ বাড়িতে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।   সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে সিক্কা, নাজেওকেও, মাঙ্গারাই ও পূর্ব মাঙ্গারাই। সিক্কা অঞ্চলে ৩ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্র, ক্রীড়া কমপ্লেক্স ও অস্থায়ী তাঁবুতে অবস্থান করছেন।    ভূমিকম্পে ১ হাজার ৩০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, উপাসনালয় ও সরকারি স্থাপনাতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।    ভূমিকম্পের পর সম্ভাব্য সুনামির আশঙ্কায় ইন্দোনেশিয়ার কয়েকটি এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। পরে পর্যবেক্ষণে বড় ধরনের সুনামির ঝুঁকি না থাকায় সেই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রের ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছিল।    উদ্ধারকাজেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমিধস। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মাটি ও পাথরে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুর্গম এলাকায় পৌঁছাতে উদ্ধারকারী দলকে বেগ পেতে হচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থার ক্ষতি এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটও পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে।   ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে হাজার হাজার সামরিক ও পুলিশ সদস্যকে যুক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ধ্বংসাবশেষ সরানো, আটকে পড়াদের উদ্ধারের পাশাপাশি জরুরি চিকিৎসা ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।   বিএমকেজি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত বা ফাটল ধরা ভবনে প্রবেশ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আফটারশক অব্যাহত থাকায় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।   প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। এর আগেও দেশটিতে বড় ধরনের ভূমিকম্প ও সুনামিতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২০২২ সালের পশ্চিম জাভার ভূমিকম্পে তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছিল।   বর্তমান ভূমিকম্পকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্পগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ এখনো চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের
চেনির তত্ত্বাবধানে ইউএফও থেকে উদ্ধার ‘এলিয়েন’ আটকের দাবি গ্রুশের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১:৫৪

সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির তত্ত্বাবধানে বিধ্বস্ত ইউএফও থেকে উদ্ধার করা জীবন্ত ‘এলিয়েন’ আটকে রাখার একটি ঘটনা পরিচালিত হয়েছিল—এমন দাবি করেছেন ইউএফও-বিষয়ক হুইসেলব্লোয়ার ডেভিড গ্রুশ।   বৃহস্পতিবার ‘দ্য ড. ফিল পডকাস্টে’ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক মার্কিন বিমানবাহিনীর গোয়েন্দা কর্মকর্তা গ্রুশ দাবি করেন, তিনি এমন কয়েকজন ব্যক্তিকে চেনেন, যারা কথিত এলিয়েনদের আটকে রাখার ঘটনায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।   গ্রুশ বলেন, তিনি সাবেক এক মন্ত্রিসভা সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন, যিনি একজন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্টের হয়ে এই বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কাজ করতেন। ওই ভাইস প্রেসিডেন্টের পরিচয় বোঝাতে তিনি ‘ডার্থ ভেডার’ নামটি ব্যবহার করেন। ডিক চেনি জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তাঁর সমালোচকেরা প্রায়ই এই নামে অভিহিত করতেন।   গ্রুশের দাবি, কথিত এলিয়েন ও মানুষের মধ্যে একধরনের চেতনা-নির্ভর যোগাযোগ হয়েছিল। প্রচলিত ভাষায় যাকে টেলিপ্যাথি বলা হয়, সেই ধরনের যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে কীভাবে এই যোগাযোগ সম্ভব হয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি নিজেও নিশ্চিত নন বলে জানান।   এর আগে ২০২৩ সালে মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে গ্রুশ দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউএফও থেকে উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষ রয়েছে এবং এগুলো নিয়ে গোপন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।   নতুন সাক্ষাৎকারে গ্রুশ আরও দাবি করেন, মার্কিন সরকারের কাছে ২৫ থেকে ১০০টি পর্যন্ত ইউএফও থাকতে পারে। এসব ইউএফও থেকে ‘পাইলট’ উদ্ধারের বিষয়েও তিনি বক্তব্য দেন।   তবে জীবন্ত এলিয়েন উদ্ধার, তাদের আটকে রাখা কিংবা মানুষের সঙ্গে কথিত টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে গ্রুশের বক্তব্যকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে নয়, তাঁর করা দাবি হিসেবেই দেখা হচ্ছে।   ডিক চেনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে মারা যান।   গ্রুশের নতুন বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের কথিত গোপন ইউএফও কর্মসূচি নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। তবে এসব দাবির সত্যতা নির্ধারণে আরও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ও সরকারি নথি প্রকাশের বিষয়টিই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি
তাইওয়ান ইস্যুতে উত্তেজনা, চীনা পর্যটক কমলেও জাপানের পর্যটন খাত হারায়নি গতি
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৬, ২০২৬ ১:৩০

জাপানের প্রাণবন্ত প্রাণকেন্দ্র টোকিওর পথঘাট, ঐতিহাসিক মন্দির থেকে শুরু করে ফুকুওকার লালচে দার্জিলিং-এর মতো সুপ্রসিদ্ধ দাজাইফু টেনমাঙ্গু মন্দির—সব জায়গায় এই গ্রীষ্মে পর্যটকদের পদচারণা যেমন আগের মতোই চোখে পড়ার মতো, তেমনি বদলে গেছে তাদের জাতিগত পরিচয়।   চীন-জাপান সম্পর্কের সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের জের ধরে চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীনা পর্যটকের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৬.৪ শতাংশ। কিন্তু সেই শূন্যস্থান কি পূরণ হচ্ছে? জাপানের পর্যটন কর্তৃপক্ষের হিসাব বলছে, হ্যাঁ—যদিও পথটা সহজ ছিল না।   গত বছর সংসদে তাইওয়ান ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী সানে তাইচির বিতর্কিত মন্তব্যের পর থেকেই চীনা পর্যটকদের আগমন থমকে যায়। পিকিং-এর তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং নিজেদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করার পরামর্শ বাস্তবে দারুণ প্রভাব ফেলেছে। কিন্তু জাপানের পর্যটন খাত যেন হার মানেনি। বরং, দুর্বল ইয়েনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং ইউরোপ-আমেরিকা থেকে আসা পর্যটকেরা চীনের ঘাটতি অনেকটাই পুষিয়ে দিয়েছেন। জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত মোট বিদেশি পর্যটক এসেছেন প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ ৮ হাজার, যা গত বছরের রেকর্ড-সংলগ্ন সময়ের তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ কম।   আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো, পর্যটকের সংখ্যা কমলেও তাদের খরচের পরিমাণ বেড়েছে। আবাসন ও কেনাকাটায় মোট খরচ হয়েছে ৪.৮৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন (প্রায় ৩০.৪ বিলিয়ন ডলার), যা প্রথমার্ধের হিসেবে নতুন রেকর্ড। অর্থাৎ, কম পর্যটক এসেছেন, কিন্তু তাঁদের প্রত্যেকের গড় খরচ বেড়েছে—এ যেন খাদ্যতালিকায় কম কিন্তু মানসম্পন্ন আহারের দর্শন।   রিক্কিও বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন নীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক রিও নিশিকাওয়া মনে করছেন, এটি 'পর্যটকের বৈচিত্র্যায়ন'-এর স্পষ্ট প্রমাণ। তাঁর কথায়, "আমরা এখন সেই পর্যায়ে পৌঁছেছি, যেখানে চীন ছাড়াই পর্যটন তার গতি ধরে রাখতে পারছে।" এমনকি মধ্য প্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে ইউরোপীয় পর্যটকদের কাছ থেকে কিছু বাতিল আসলেও তা সামগ্রিক সংখ্যার তুলনায় নগণ্য।   ফুকুওকার দাজাইফু মন্দিরের পুরোহিত কেইয়া ইয়ামাগুচি জানালেন, এখানে আসা বিদেশি পর্যটকের প্রায় ৯০ শতাংশই দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান থেকে। "আমরা কোনো পরিবর্তন অনুভব করছি না," তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাস।   তবে এই উজ্জ্বল চিত্রের উল্টোপিঠে আছে জাপানি নিজেদের বিদেশ ভ্রমণের চিত্র। মহামারীর আগে ২০১৯ সালে যেখানে বছরে ২ কোটি জাপানি বিদেশ গিয়েছিলেন, সেখানে ২০২৫ সালে তা নেমে এসেছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ৩০ হাজারে। চলতি বছর প্রথমার্ধে মাত্র ৬৯ লাখ ৪০ হাজার জাপানি বিদেশ সফর করেছেন। মূল কারণ—মূল্যস্ফীতি, দুর্বল ইয়েন ও জ্বালানি খরচ বৃদ্ধি। ভ্রমণ সংস্থা জেটিবি-র সমীক্ষা বলছে, এই গ্রীষ্মের ছুটিতে জাপানি পর্যটক বিদেশগামীর সংখ্যা ৮.৮ শতাংশ কমতে পারে—যা ছয় বছরের মধ্যে প্রথমবার।   জাপান সরকার অবশ্য পাসপোর্ট ফি কমানোর মাধ্যমে বিদেশ ভ্রমণে উৎসাহ দিতে চাইছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞ নিশিকাওয়া সতর্ক করে বলেছেন, দেশীয় পর্যটকদের কমে যাওয়া আঞ্চলিক বিমানবন্দরগুলোর জন্য হতে পারে মারাত্মক হুমকি। তাঁর মতে, স্থানীয় প্রশাসনগুলোকেই এখন নিজেদের মানুষের ভ্রমণ আগ্রহ বাড়ানোর কৌশল তৈরি করতে হবে।   সব মিলিয়ে, জাপানের পর্যটন শিল্প এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। চীন-নির্ভরতার পুরোনো দিন শেষ, নতুন বাজার ও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। গ্রীষ্মের এই রোদে দাঁড়িয়ে টোকিওর কোনো ক্যাফেতে যদি বসেন, দেখবেন ইংরেজি, কোরিয়ান, থাই, ফরাসি আর স্প্যানিশ ভাষার মিশ্রণ—যেন এক বিশ্বমেলার আয়োজন। আর এই বৈচিত্র্যই এখন জাপানের পর্যটনের নতুন প্রাণশক্তি।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.10K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
887 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.01K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
859 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়