যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটনে ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিন ফিলিস্তিনি কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার দায়ে জেসন ইটন (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জুরি বোর্ড। সোমবার আসামিপক্ষের 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার' দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই অপরাধে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের থ্যাংকসগিভিং ছুটির পর ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট ক্যাম্পাসের কাছে হাঁটাহাঁটি করার সময় ওই তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় হিশাম আওয়ারতানি কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তার দুই বন্ধু তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদুল হামিদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারী জেসন ইটন নিজে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং সিআইএ ও মোসাদের নির্দেশে এমন কাজ করেছেন বলে তার ভ্রম হয়েছিল। তবে সপ্তাহব্যাপী বিচার প্রক্রিয়া শেষে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের ডাকা মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য এবং আহত তিন তরুণের জবানবন্দি গ্রহণের পর জুরি বোর্ড আসামির ওই যুক্তি খারিজ করে দেয়। হামলার শিকার ওই তিন তরুণ শৈশবে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ঘটা এই হামলার ঘটনায় সে সময় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং একে 'হেইট ক্রাইম' হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত বিদ্বেষমূলক অপরাধের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে বিচার শেষে রায় ঘোষণার সময় আসামিকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখা যায়, অন্যদিকে গ্যালারির সামনের সারিতে বসে থাকা আওয়ারতানি ও আলিয়াহমাদ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। ইটনের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ব্রাজিলের ক্লাউদিও ভিয়েরা ডি অলিভেইরা ১৯৭৬ সালে এক বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এই বিরল রোগের কারণে তার জয়েন্ট ও পেশিগুলোর বিকাশ স্বাভাবিকভাবে হয়নি, এমনকি তার মাথাটিও পেছনের দিকে উল্টানো বা বাঁকানো অবস্থায় থাকে। জন্মের পর তার অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন দেখে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে তিনি হয়তো বেশিদিন বাঁচবেন না। তবে চারপাশের সব নেতিবাচক ধারণা ও শঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে ক্লাউদিও আজ জীবনযুদ্ধে এক অনন্য বিজয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন ক্লাউদিওকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করেছে। দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ করার জন্য তিনি নিজের মতো করে অভিনব উপায় বের করে নেন। মুখে কলম আটকে টাইপ করা থেকে শুরু করে নিজে নিজে পড়া, লেখা এমনকি স্বাধীনভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের কৌশলও তিনি আয়ত্ত করেন। পড়াশোনায় অদম্য ক্লাউদিও পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং নিজের একটি সফল পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক গঠন বা প্রতিবন্ধকতা কখনোই কোনো মানুষের মেধা ও সক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের ডকুমেন্টারি এবং পাবলিক ইভেন্টের মাধ্যমে ক্লাউদিও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে নিজের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিশেষত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমাজের সর্বস্তরে তাদের প্রবেশগম্যতা এবং মানসিক দৃঢ়তার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখছেন। ক্লাউদিওর এই অবিশ্বাস্য পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—সঠিক সমর্থন, সুযোগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো মানুষ সমাজের প্রচলিত প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বড় কিছু অর্জন করতে পারে।
কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) মধ্যে প্রস্তাবিত নতুন অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শ্যাম্পেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বদলে যাওয়া বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে একটি কার্যকর অর্থনৈতিক বলয় গড়ে তুলতে অংশীদারত্বের ধরন নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে। যুক্তরাজ্য ও কানাডার মূল্যবোধ এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি এক হওয়ায় এই জোটে তাদের যৌথ অংশগ্রহণ অত্যন্ত সময়োপযোগী হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সম্প্রতি ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন কানাডাকে ইইউ-এর প্রথম ‘সহযোগী সদস্য’ (Associate Member) করার নজিরবিহীন এক প্রস্তাব দেন। এরপরই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ভাষণ দেন। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক এই গভর্নর দীর্ঘদিন ধরে মাঝারি শক্তির গণতান্ত্রিক দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈশ্বিক স্থিতিস্থাপকতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে একটি যৌথ জোট গড়ে তোলার পক্ষে মত দিয়ে আসছেন। শ্যাম্পেন জানান, বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বদলের সাথে সাথে মধ্যম শক্তির দেশগুলোর এমন সম্মিলিত উদ্যোগই হবে মূলত ‘ভবিষ্যতের জোট’। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কানাডার ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য সংঘাতের পটভূমিতে এই উদ্যোগ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। গত মাসে মার্কিন প্রশাসনের সাথে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর উভয় পক্ষই পাল্টা শুল্ক আরোপ শুরু করে। শ্যাম্পেন স্পষ্ট জানান, নিজের দেশের শিল্প ও শ্রমিকদের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থেই অটোয়া শুল্কের জবাবে পাল্টা শুল্ক আরোপ করতে বাধ্য হয়েছে। তবে উত্তেজনার পারদ না বাড়িয়ে উপযুক্ত সময়ে ওয়াশিংটনের সাথে তারা পুনরায় সংলাপে বসতে প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সহযোগী সদস্যপদের পরিকল্পনাকে উপহাস করার পাশাপাশি ইউরোপ ও কানাডার বিরুদ্ধে আরও কঠোর বাণিজ্য পদক্ষেপের হুমকি দিয়ে রেখেছেন। যদিও কানাডার ‘সহযোগী সদস্যপদ’-এর রূপরেখা এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রযুক্তি, শিক্ষা, গবেষণা তহবিল ও প্রতিরক্ষা খাতে সমন্বয়ের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি কানাডার খনিজ সম্পদ ও জ্বালানি ইউরোপের সরবরাহ সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়া ব্রেক্সিট-পরবর্তী বাস্তবতায় ইউরোপ ও আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখা ব্রিটেনের জন্য এই জোট নতুন একটি কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের টারমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বলে দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘নিষেধাজ্ঞা’ বললেও, ভ্যান্সের দাবি—কাউকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, বরং অপপ্রচারে লিপ্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সুবিধা বা প্রবেশাধিকার বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত নেতিবাচক কভারেজের সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, এ ধরনের একপেশে খবর মার্কিন জনগণের প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায় না। তাই চরম বামপন্থী অপপ্রচারে যুক্ত থাকলে হোয়াইট হাউস কেন তাদের বিশেষ সুযোগ দেবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা বা অধিকার হরণ করে না দাবি করে ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন, তারা এখনো প্রশাসন নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারবে এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারবে। তারা কেবল হোয়াইট হাউসে স্থায়ী দপ্তর ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ হারাবে, যতক্ষণ না তারা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মতো আচরণ শুরু করে। এদিকে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের জবাবে সংবাদমাধ্যমের যৌথ প্রতিবাদ ও বয়কট আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভিডিও কভারেজ বর্জনের পর এবার স্থিরচিত্র বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পত্রিকাটি জানায়, নিষিদ্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সমর্থনে আলোকচিত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগ কিংবা জাতিসংঘ অধিবেশনসহ কোনো কর্মসূচির ছবিই তারা প্রকাশ করবে না। সংবাদমাধ্যমের এই জোরালো অবস্থান হোয়াইট হাউসের সাথে গণমাধ্যমের চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
হোয়াইট হাউস থেকে তিনটি গণমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার ঘটনায় সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জেডি ভ্যান্স। নর্থ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার পথে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের টারমাকে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ভ্যান্স এই পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বলে দাবি করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় ট্রাম্প এই সিদ্ধান্তকে সরাসরি ‘নিষেধাজ্ঞা’ বললেও, ভ্যান্সের দাবি—কাউকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে না, বরং অপপ্রচারে লিপ্ত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষ সুবিধা বা প্রবেশাধিকার বাতিল করা হচ্ছে। প্রশাসনের প্রতি সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলোর অতিরিক্ত নেতিবাচক কভারেজের সমালোচনা করে ভ্যান্স বলেন, এ ধরনের একপেশে খবর মার্কিন জনগণের প্রকৃত মনোভাবের প্রতিফলন ঘটায় না। তাই চরম বামপন্থী অপপ্রচারে যুক্ত থাকলে হোয়াইট হাউস কেন তাদের বিশেষ সুযোগ দেবে, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তবে এই সিদ্ধান্ত সংবাদমাধ্যমের বাকস্বাধীনতা বা অধিকার হরণ করে না দাবি করে ভ্যান্স আরও উল্লেখ করেন, তারা এখনো প্রশাসন নিয়ে প্রতিবেদন করতে পারবে এবং কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলতে পারবে। তারা কেবল হোয়াইট হাউসে স্থায়ী দপ্তর ব্যবহারের বিশেষ সুযোগ হারাবে, যতক্ষণ না তারা দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মতো আচরণ শুরু করে। এদিকে হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপের জবাবে সংবাদমাধ্যমের যৌথ প্রতিবাদ ও বয়কট আরও বিস্তৃত হয়েছে। ভিডিও কভারেজ বর্জনের পর এবার স্থিরচিত্র বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে প্রভাবশালী গণমাধ্যম ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে পত্রিকাটি জানায়, নিষিদ্ধ হওয়া সংবাদমাধ্যমগুলোর সমর্থনে আলোকচিত্রীদের সম্মিলিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে মধ্যরাত পর্যন্ত ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস ত্যাগ কিংবা জাতিসংঘ অধিবেশনসহ কোনো কর্মসূচির ছবিই তারা প্রকাশ করবে না। সংবাদমাধ্যমের এই জোরালো অবস্থান হোয়াইট হাউসের সাথে গণমাধ্যমের চলমান বিরোধকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট অঙ্গরাজ্যের বার্লিংটনে ২০২৩ সালের নভেম্বরে তিন ফিলিস্তিনি কলেজ শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার দায়ে জেসন ইটন (৫১) নামের এক ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করেছে জুরি বোর্ড। সোমবার আসামিপক্ষের 'মানসিক ভারসাম্যহীনতার' দাবি প্রত্যাখ্যান করে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এই অপরাধে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২৩ সালের থ্যাংকসগিভিং ছুটির পর ইউনিভার্সিটি অব ভারমন্ট ক্যাম্পাসের কাছে হাঁটাহাঁটি করার সময় ওই তিন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় হিশাম আওয়ারতানি কোমরের নিচ থেকে পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন এবং তার দুই বন্ধু তাহসিন আলিয়াহমাদ ও কিনান আবদুল হামিদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারী জেসন ইটন নিজে গুলি চালানোর কথা স্বীকার করলেও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে তার আইনজীবীরা যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন এবং সিআইএ ও মোসাদের নির্দেশে এমন কাজ করেছেন বলে তার ভ্রম হয়েছিল। তবে সপ্তাহব্যাপী বিচার প্রক্রিয়া শেষে আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের ডাকা মনস্তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের সাক্ষ্য এবং আহত তিন তরুণের জবানবন্দি গ্রহণের পর জুরি বোর্ড আসামির ওই যুক্তি খারিজ করে দেয়। হামলার শিকার ওই তিন তরুণ শৈশবে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় একসঙ্গে পড়াশোনা করেছেন এবং পরবর্তীতে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরু হওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর ঘটা এই হামলার ঘটনায় সে সময় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয় এবং একে 'হেইট ক্রাইম' হিসেবে তদন্তের দাবি ওঠে। যদিও শেষ পর্যন্ত বিদ্বেষমূলক অপরাধের কোনো অভিযোগ আনা হয়নি। তবে বিচার শেষে রায় ঘোষণার সময় আসামিকে নির্বিকার বসে থাকতে দেখা যায়, অন্যদিকে গ্যালারির সামনের সারিতে বসে থাকা আওয়ারতানি ও আলিয়াহমাদ সন্তুষ্টি প্রকাশ করে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। ইটনের চূড়ান্ত সাজা ঘোষণার তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
ব্রাজিলের ক্লাউদিও ভিয়েরা ডি অলিভেইরা ১৯৭৬ সালে এক বিরল শারীরিক অবস্থা নিয়ে জন্মগ্রহণ করেন। এই বিরল রোগের কারণে তার জয়েন্ট ও পেশিগুলোর বিকাশ স্বাভাবিকভাবে হয়নি, এমনকি তার মাথাটিও পেছনের দিকে উল্টানো বা বাঁকানো অবস্থায় থাকে। জন্মের পর তার অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন দেখে চিকিৎসকরা আশঙ্কা করেছিলেন যে তিনি হয়তো বেশিদিন বাঁচবেন না। তবে চারপাশের সব নেতিবাচক ধারণা ও শঙ্কাকে ভুল প্রমাণ করে ক্লাউদিও আজ জীবনযুদ্ধে এক অনন্য বিজয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। শারীরিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা ও সমর্থন ক্লাউদিওকে আত্মনির্ভরশীল হতে সাহায্য করেছে। দৈনন্দিন জীবনের সব কাজ করার জন্য তিনি নিজের মতো করে অভিনব উপায় বের করে নেন। মুখে কলম আটকে টাইপ করা থেকে শুরু করে নিজে নিজে পড়া, লেখা এমনকি স্বাধীনভাবে কম্পিউটার ব্যবহারের কৌশলও তিনি আয়ত্ত করেন। পড়াশোনায় অদম্য ক্লাউদিও পরবর্তীতে অ্যাকাউন্টিং বা হিসাববিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং নিজের একটি সফল পেশাদার ক্যারিয়ার গড়ে তোলেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্ববাসীর কাছে প্রমাণ করেছেন যে, শারীরিক গঠন বা প্রতিবন্ধকতা কখনোই কোনো মানুষের মেধা ও সক্ষমতাকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। সময়ের পরিক্রমায় বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের ডকুমেন্টারি এবং পাবলিক ইভেন্টের মাধ্যমে ক্লাউদিও বিশ্বজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করে নিজের জীবনসংগ্রামের অভিজ্ঞতা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। বিশেষত প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, সমাজের সর্বস্তরে তাদের প্রবেশগম্যতা এবং মানসিক দৃঢ়তার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে তিনি জোরালো ভূমিকা রাখছেন। ক্লাউদিওর এই অবিশ্বাস্য পথচলা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে—সঠিক সমর্থন, সুযোগ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যেকোনো মানুষ সমাজের প্রচলিত প্রত্যাশার চেয়েও অনেক বড় কিছু অর্জন করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় সন্দেহভাজন এক চীনা গুপ্তচরের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা একটি পরিবার মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ মার্কিন ডলার রাজনৈতিক অনুদান দিয়েছে। এই বিপুল অর্থ গ্রহণ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিওসম, ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসসহ শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সম্প্রতি অবমুক্ত হওয়া এফবিআইয়ের গোপন নথি এবং রাজ্য ও ফেডারেল নির্বাচনী প্রচারণার আর্থিক হিসাব থেকে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। এর ফলে মার্কিন রাজনীতিতে বিদেশি রাষ্ট্রের পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের চলমান বিতর্কটি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ায় ম্যাকডোনাল্ডসের ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবসা থেকে কোটি কোটি ডলার আয় করেছে ইন (Yin) পরিবার। এই পরিবারের প্রধান চে চিয়েন ইন (সি.সি. ইন) এবং তার ভাই হেনরি ইন ‘এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ (APAPA) নামের একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, সি.সি. ইন একসময় সন্দেহভাজন চীনা গুপ্তচর ক্রিস্টিন ফাংয়ের (যিনি ফাং ফাং নামেও পরিচিত) সঙ্গে পেশাগতভাবে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া, হেনরি ইন গত এক দশকে চীনের ‘ইউনাইটেড ফ্রন্ট’-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন বলে জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা প্রমাণ পেয়েছেন। এটি মূলত চীনা সরকারের বিদেশি প্রভাব বিস্তারের কাজে নিয়োজিত একটি বিশেষ শাখা। রেকর্ড অনুযায়ী, ইন পরিবার ক্যালিফোর্নিয়ার রাজ্য পর্যায়ের রাজনীতিতে প্রায় ৩০ লাখ এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের প্রচারণায় আরও সাড়ে ১৪ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে, যার সুবিধাভোগীদের মধ্যে নিওসম, কমলা হ্যারিস ও কংগ্রেস সদস্য রো খান্নার মতো হেভিওয়েট নেতারা রয়েছেন। এমনকি ২০২৩ সালে চীনে গ্যাভিন নিওসমের সফরের পেছনেও এই পরিবারের ভূমিকা ছিল। তবে এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সি.সি. ইন জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে ভালোবাসেন এবং যেকোনো বিদেশি সরকারের হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানান। তার দাবি, শুধু এশীয় বংশোদ্ভূতদের নেতৃত্ব বিকাশে সাহায্য করতে এবং গণতন্ত্র চর্চার সুযোগ বাড়াতেই তিনি ওই সংগঠনটি গড়ে তুলেছিলেন। এখন পর্যন্ত হেনরি ইন বা তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনের ইউনাইটেড ফ্রন্ট এভাবেই সাধারণত সফল ও প্রভাবশালী মার্কিন নাগরিকদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক স্থাপন করে। অনুদান ও উপহারের মাধ্যমে সখ্যতা গড়ে তুলে পরবর্তীতে তারা মার্কিন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা চালিয়ে থাকে।
পটুয়াখালীর বাউফলে মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের গোয়ালিয়া বাঘা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রাথমিক প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। প্রথম দিকের প্রতিবেদনে চারজন গুরুতর আহত হওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী প্রতিবেদনে একই পরিবারের মোট ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য এসেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন জহিরুল ইসলাম, খাইরুল ইসলাম, রেজাউল করিম ও তাঁদের মা মনোয়ারা বেগম। পরবর্তী প্রতিবেদনে হোসনেয়ারা বেগম ও পূর্ণি বেগম নামে আরও দুই পরিবারের সদস্য আহত হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছে। গুরুতর আহতদের বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত ৬০০ টাকা মজুরি নিয়ে। আহত জহিরুলের অভিযোগ, প্রতিবেশী রাসেল মৃধার জমিতে কাজ করার পর তাঁর ৬০০ টাকা মজুরি পাওনা ছিল। সেই টাকা চাইতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববারও পাওনা টাকা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ ও মারামারির ঘটনা ঘটে এবং রাসেলও আহত হন। পরদিন সোমবার সকালে বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে জহিরুল বৈঠক ছেড়ে নিজের বাড়ির দিকে চলে যান। এরপর রাসেল ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জহিরুলের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালান বলে জহিরুলের পরিবারের অভিযোগ। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলায় প্রথমে জহিরুলকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করা হয়। তাঁকে রক্ষা করতে মা মনোয়ারা বেগম এবং দুই ভাই রেজাউল ও খাইরুল এগিয়ে এলে তাঁরাও হামলার শিকার হন। পরবর্তী প্রতিবেদনে পরিবারের আরও দুই নারী সদস্য আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মামুনুর রশিদ জানিয়েছেন, চিকিৎসার জন্য আনা আহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক হোসেনও পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ ও পরবর্তী হামলার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে অভিযুক্ত রাসেল মৃধা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে হামলার অভিযোগ সম্পর্কে তাঁদের বক্তব্য এখনও জানা যায়নি। বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে পুলিশি তদন্ত ও লিখিত অভিযোগের পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
অস্ট্রেলিয়ার ব্লু মাউন্টেনস এলাকায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনায় নিজের পাঁচ বছর বয়সী সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেছেন এক নারী। এ ঘটনায় তার আরও দুই শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। ৪৫ বছর বয়সী ওই মাকে এই ঘটনার মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। তার শরীরেও ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, যা তিনি নিজেই করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সকালে ভ্যালি হাইটস শহরের একটি ফাঁকা জায়গায় পার্ক করা গাড়ির কাছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখতে পান পথচারী সাইক্লিস্টরা। তারা দ্রুত জরুরি সেবায় খবর দেন এবং আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্যারামেডিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পাঁচ বছর বয়সী ওই শিশুর মৃত্যু হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জুলি সুক্কার সংবাদমাধ্যমকে জানান, তিনি ঝোপের মধ্যে এক নারীকে পড়ে থাকতে দেখেন এবং গাড়ির সিটে একটি ছোট শিশু ছিল। সেখানে আরেক নারীকে শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে দেখেন তিনি। পরে তিনি বুঝতে পারেন যে সেখানে মোট তিনটি শিশু ছিল এবং উপস্থিত সবাই তাদের সাহায্য করার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। অপর এক প্রত্যক্ষদর্শী পুরো দৃশ্যটিকে অত্যন্ত ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহত শিশুদের বাবাকে খবর দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন এবং খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মা ও তার বেঁচে থাকা দুই শিশুকে ওয়েস্টমিড হাসপাতাল এবং চিলড্রেনস হসপিটাল অ্যাট ওয়েস্টমিডে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ডেপুটি কমিশনার পিটার ম্যাককেনা জানিয়েছেন, সন্দেহভাজন ওই নারী সুস্থ হয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হবে। গাড়ি থামিয়ে ওই নির্জন স্থানে কেন এই নৃশংস ঘটনা ঘটানো হলো, তার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো তদন্তকারীদের জানা নেই। তিনি আরও জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায় ওই এলাকায় এটিসহ মোট চারটি পৃথক পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যা তার পুলিশি ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা। এর মধ্যে ওয়াগাতে এক যুবক তার প্রেমিকাকে, বন্ডাই বিচে এক নাতি তার দাদিকে এবং মোল রিভারে এক ছেলে তার মাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করেছে। অভিযুক্তদের কারো বিরুদ্ধেই আগে থেকে পারিবারিক সহিংসতার কোনো পূর্ব-রেকর্ড ছিল না। ভয়াবহ এই সপ্তাহান্তের পর অস্ট্রেলিয়ায় পারিবারিক সহিংসতা রোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ ও পর্যাপ্ত তহবিল বরাদ্দের দাবি তুলেছেন সচেতন নাগরিক ও অধিকারকর্মীরা।
রাজনীতি
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreজাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে যাওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। তবে তার সফরসঙ্গী হিসেবে নিযুক্ত গণমাধ্যম ও যোগাযোগ দলকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে জাতিসংঘের ৮১তম বার্ষিক অধিবেশনে যোগ দিতে একটি বিশেষ যোগাযোগ ও সংবাদকর্মী দলের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্কিন কর্তৃপক্ষ তাদের ভিসা আবেদন সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর পেজেশকিয়ানের এটিই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর। আগামী বুধবার জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে তার ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে। ভিসা প্রত্যাখ্যানের এই ঘটনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের একটি নজিরবিহীন ও বৈরী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে ইরনা। আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজও একই ধরনের সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক হাবিবুল্লাহ আব্বাসির বরাতে তারা জানায়, প্রেসিডেন্টের গণমাধ্যম দলকে ভিসা না দেওয়া হলেও নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকগুলোর খবর জনসাধারণের কাছে ঠিকই পৌঁছে দেওয়া হবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত শুরুর পর মাসুদ পেজেশকিয়ানই প্রথম কোনো উচ্চপদস্থ ইরানি কর্মকর্তা, যিনি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। তবে ভিসা দিলেও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবার ইরানি প্রতিনিধিদলের ওপর বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। এমনকি নিউইয়র্কে অবস্থানকালে তারা কোনো বিলাসবহুল পণ্য বা নির্দিষ্ট কিছু সামগ্রী কিনতে পারবেন না বলেও শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। জাতিসংঘের সদর দপ্তর নিউইয়র্কে অবস্থিত হওয়ায় চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী সদস্য দেশগুলোর কূটনীতিক ও প্রতিনিধিদলকে ভিসা দিতে যুক্তরাষ্ট্র একপ্রকার বাধ্য। তবে জাতীয় নিরাপত্তা বা বৈদেশিক নীতির কারণ দেখিয়ে বিভিন্ন সময় মার্কিন প্রশাসন বেশ কিছু দেশের প্রতিনিধি ও তাদের সফরসঙ্গীদের ভিসা দেওয়া থেকে বিরত থেকেছে। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা এই বৈরিতার কারণে প্রায়ই ইরানি কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে জটিলতা সৃষ্টি করে ওয়াশিংটন। এর আগেও বিভিন্ন সময় জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগ দিতে যাওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের সদস্যদের ভিসা প্রদানে বিলম্ব বা সরাসরি অস্বীকৃতির ঘটনা ঘটেছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুই দেশের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনারই একটি নতুন রূপ এই ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঘটনা। মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বর্তমানে পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে ইরানের সম্পর্ক বেশ শীতল। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী সাংবাদিকদের ভিসা না দেওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজক দেশের ভূমিকা এবং ভিসা নীতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ভিসা প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। সাধারণত ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের গোপনীয়তার কথা বলে মার্কিন প্রশাসন এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকে। সূত্র: ইরনা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
ইতালির বোলোনিয়ায় পাকিস্তানি ইমাম জুলফিকার খানকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে বিবেচনা করে দেশ থেকে ডিপোর্টের নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। ৫৪ বছর বয়সী খান ১৯৯৫ সাল থেকে ইতালিতে বসবাস করছিলেন। ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি তার বিরুদ্ধে ডিপোর্টের নির্দেশ জারি করেন। তবে বিষয়টি পুরোপুরি বিচারবহির্ভূত ছিল না। ইতালির আইনে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা জনশৃঙ্খলার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিদেশি নাগরিককে প্রশাসনিকভাবে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন। পরদিন বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালত সেই ডিপোর্টের নির্দেশ অনুমোদনও করে। ইতালির অভিবাসন আইনের ১৩ নম্বর ধারার প্রথম অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, জনশৃঙ্খলা বা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো বিদেশি নাগরিককে ডিপোর্টের নির্দেশ দিতে পারেন, এমনকি তিনি ইতালিতে বৈধভাবে বসবাস করলেও। এই ধারাটিই খানের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ সাধারণ কোনো ফৌজদারি মামলায় আদালতের রায় হওয়ার পর তাকে ডিপোর্ট করা হয়নি। বরং সরকারের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ডিপোর্টের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়, যার বৈধতা ও প্রক্রিয়াগত দিক পরে আদালতে যাচাই হয়। সরকারের ডিপোর্টের নির্দেশে খানের বক্তব্য, ধর্মীয় বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের শরৎ থেকে তার মধ্যে উগ্রপন্থী অবস্থানের প্রকাশ বাড়তে দেখা যায়। কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে পশ্চিমবিরোধী, ইহুদিবিদ্বেষী, সমকামিতাবিরোধী এবং নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের অভিযোগ তোলে। এছাড়া কিছু বক্তব্যে হামাসের প্রতি সমর্থন, জিহাদের একটি উগ্র ব্যাখ্যা এবং সংঘাতে নিহত যোদ্ধাদের শহীদ হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগও নথিতে উল্লেখ করা হয়। এসব অভিযোগ অবশ্য খানের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি দণ্ডের সমান নয়। ইতালীয় কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করে, খানের সঙ্গে এমন কিছু ব্যক্তির যোগাযোগ ছিল, যাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতি উগ্র ইসলামপন্থী পরিবেশের সঙ্গে যুক্ত বলে বিবেচনা করেছিল। বোলোনিয়ার একটি মসজিদে তার ধর্মীয় বক্তব্য এবং ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে ২০২৪ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওও তদন্তের আওতায় আসে। ইতালির সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উসকানির অভিযোগে আলাদা তদন্তও চলছিল। তবে খানের আইনজীবী ফ্রান্সেস্কো মুরু সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য ছিল, খানকে তার মতামতের জন্য শাস্তি দেওয়া হচ্ছে এবং এই পদক্ষেপকে তিনি পুলিশি রাষ্ট্রের দিকে ফিরে যাওয়ার সঙ্গে তুলনা করেন। প্রতিরক্ষা পক্ষ ডিপোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ঘোষণা দেয় এবং জানায়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মূল কারণগুলো নিয়ে তারা আঞ্চলিক প্রশাসনিক আদালত বা টার লাৎসিওতে আপিল করবে। ৯ অক্টোবর ২০২৪ বোলোনিয়ার দেওয়ানি আদালতের অভিবাসন বিষয়ক শাখা ডিপোর্টের নির্দেশটি অনুমোদন করে। আদালতের ওই পর্যায়ের পর্যালোচনার পর খানকে পাকিস্তানে পাঠানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়। তার আইনজীবী তখন টার লাৎসিওতে আপিল করার কথা জানান। ফলে ‘বিচার ছাড়াই ডিপোর্ট’ কথাটি সরলীকৃতভাবে বলা হলেও, বাস্তবে প্রক্রিয়াটিতে প্রশাসনিক ডিপোর্টের নির্দেশের পর বিচারিক অনুমোদন এবং পরবর্তী প্রশাসনিক আদালতে আপিলের সুযোগ ছিল। খানের ঘটনাটি ইতালিতে জাতীয় নিরাপত্তা, অভিবাসন আইন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সীমা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করে। একদিকে সরকার বলেছে, কোনো বিদেশি নাগরিকের বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আইনি ক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। অন্যদিকে তার আইনজীবী ও সমর্থকেরা প্রশ্ন তুলেছেন, অপরাধে দণ্ডিত না হয়েও বক্তব্য ও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় অবস্থানের ভিত্তিতে একজন দীর্ঘদিনের বাসিন্দাকে ডিপোর্ট করা কতটা যুক্তিসংগত। এই দুই অবস্থানের মধ্যেই মামলাটি ইতালিতে নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশের অধিকারের ভারসাম্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিতর্কের উদাহরণ হয়ে ওঠে।
পড়তে বা লিখতে জানেন না। ছোটবেলা থেকে রেডিওতে কোরআন তিলাওয়াত শুনেই পবিত্র কোরআনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সেই শোনা থেকেই শুরু হয়েছিল মুখস্থ করার চেষ্টা। সংসার, সন্তান ও জীবনের নানা দায়িত্বের কারণে বারবার থেমেছে সেই পথ। কিন্তু ইচ্ছা থেকে সরে যাননি মিশরের সানা আবদেল সাত্তার জেইদান। দীর্ঘ প্রায় এক দশকের অধ্যবসায়ের পর ৭০ বছর বয়সে তিনি পুরো কোরআন মুখস্থ করেন এবং এক বৈঠকে প্রায় সাত ঘণ্টায় সম্পূর্ণ কোরআন মুখস্থ থেকে শুনিয়ে দেন। মিশরের মনুফিয়া প্রদেশের বাসিন্দা সানার কোরআন হিফজের যাত্রা শুরু হয় জীবনের অনেক পরে। নিজের প্রথম সন্তান দুই বছর বয়সে পৌঁছানোর পর তিনি বাড়িতে বসেই কোরআন মুখস্থ করা শুরু করেন। প্রতিদিন সংসারের কাজের পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় কোরআনের জন্য রাখতেন তিনি। তবে শুরু থেকেই তাঁর এই যাত্রা সহজ ছিল না। তিন সন্তানের দেখাশোনা ও সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিয়মিত মুখস্থ করা এবং তা ধরে রাখা ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। স্বামীও তাঁর এই যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিলেন। প্রতিদিন ফজরের নামাজের পর তিনি স্ত্রীর মুখস্থ করা অংশ শুনতেন এবং পুনরাবৃত্তিতে সহায়তা করতেন। সানার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ বছর ধরে এভাবে ধীরে ধীরে কোরআন মুখস্থ করেন তিনি। মুখস্থ সম্পন্ন করার পরও থেমে থাকেননি। বরং তাজবিদ বা শুদ্ধভাবে কোরআন তিলাওয়াতের নিয়ম শেখার জন্য বাড়ির কাছের একটি মসজিদে নিয়মিত যেতে শুরু করেন। সংসারের কাজ শেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি সেখানে তাজবিদের পাঠ নিতেন। কোরআন হিফজ সম্পন্ন করার পর তাঁর সামনে আসে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে মুখস্থ করা পুরো কোরআন একসঙ্গে শুনিয়ে দেওয়ার আয়োজন করা হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা ধরে তিনি একটানা মুখস্থ থেকে কোরআন তিলাওয়াত করেন। মিশরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এটিকে তাঁর দীর্ঘ হিফজযাত্রার একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সানার কাছে কোরআন হিফজ শুধু একটি ব্যক্তিগত অর্জন নয়। তিনি জানিয়েছেন, আল্লাহর কিতাব থেকে উপকৃত হওয়া এবং এর মাধ্যমে ধর্মীয় জীবনে এগিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর মূল উদ্দেশ্য। দীর্ঘ এই যাত্রা তাঁকে ধৈর্য ও নিয়মিত চর্চার গুরুত্বও শিখিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। সানার গল্পের আরেকটি দিক হলো বয়স। তিনি যখন কোরআন হিফজের কাজ শুরু করেন, তখন তিনি তরুণী নন, ছিলেন সংসারী একজন মা। প্রায় এক দশক ধরে দায়িত্বের পাশাপাশি মুখস্থ ও পুনরাবৃত্তির কাজ চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি পুরো কোরআন হিফজ করেন। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে কোরআনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থেমে যায়নি। বরং মুখস্থ করা অংশ নিয়মিত পুনরাবৃত্তির মাধ্যমে ধরে রাখাকে তিনি প্রতিদিনের জীবনের অংশ করে নিয়েছেন। তাঁর এই দীর্ঘ অধ্যবসায়ের গল্প মিশরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমেও গুরুত্ব পেয়েছে। সানার কোরআন হিফজের এই ঘটনা নতুন করে দেখিয়েছে, জীবনের ব্যস্ততা বা বয়সের কারণে কোনো লক্ষ্য শুরু করার সময় সবসময় শেষ হয়ে যায় না। নিয়মিত অনুশীলন, ধৈর্য এবং দীর্ঘমেয়াদি অধ্যবসায়ের মাধ্যমে জীবনের পরবর্তী পর্যায়েও নতুন কিছু অর্জন সম্ভব। সূত্র: মিশরীয় সংবাদমাধ্যম আল-মাসরি আল-ইয়াওম, টেলিগ্রাফ মিসর
ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আইন করে সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি শিক্ষার্থীদের স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যা থাকলে তাদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোও বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন তিনি। রোববার রোমে নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির যুব শাখার এক অনুষ্ঠানে মেলোনি এসব পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব শিগগিরই মন্ত্রিসভায় তোলা হবে। তবে এগুলো এখনো কার্যকর আইন নয়। সরকারের অনুমোদনের পর প্রস্তাবগুলোকে আইনে পরিণত করতে সংসদের অনুমোদন প্রয়োজন হবে। মেলোনির ঘোষণায় বোরকা ও নিকাবের পাশাপাশি বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে আলাদা বিধানের কথা বলা হয়েছে। তবে প্রতি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ সংখ্যা কত হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি। ইতালির শিক্ষা ব্যবস্থায় বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা ইতোমধ্যে সীমিত রাখার একটি নীতি রয়েছে। ২০১০ সালের একটি নির্দেশনায় সাধারণভাবে কোনো স্কুল বা শ্রেণিতে বিদেশি শিক্ষার্থীর অনুপাত ৩০ শতাংশের মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবে স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী এ নিয়মে ব্যতিক্রমের সুযোগ রয়েছে এবং বাস্তবে সব জায়গায় এটি একইভাবে কার্যকর হয়নি। ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশটির স্কুলগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১১ দশমিক ৬ শতাংশ শিক্ষার্থীর ইতালীয় নাগরিকত্ব নেই। ফলে মেলোনির নতুন প্রস্তাবের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ৩০ শতাংশ সীমার কী পরিবর্তন আনা হবে, সেটিই এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেলোনি বলেন, ইতালিতে যারা ভবিষ্যৎ গড়তে চান, তাদের ইতালীয় ভাষা শেখা, দেশটির সংস্কৃতি বোঝা এবং আইন মেনে চলা প্রয়োজন। স্কুলে একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর সমস্যায় থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখানোর বাধ্যবাধকতার প্রস্তাবও এই পরিকল্পনার অংশ। বোরকা ও নিকাবের বিষয়ে ইতালিতে বর্তমানে সরাসরি দেশব্যাপী নিষেধাজ্ঞা নেই। ১৯৭৫ সালের একটি আইনে এমন পোশাক বা হেলমেট ব্যবহারে বিধিনিষেধ রয়েছে, যার কারণে যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া একজন ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত স্পষ্ট করেছিল, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাক পরা যেতে পারে। পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে অবশ্য মুখ দেখাতে হবে। মেলোনির নতুন পরিকল্পনার আগে দেশটির ক্ষমতাসীন জোটের শরিক লিগ পার্টিও মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর আরও কঠোর বিধিনিষেধের জন্য একটি বিল এনেছে। চলতি বছরের মার্চে সিনেটে জমা দেওয়া ওই প্রস্তাবে খেলাধুলা বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট পরিস্থিতি ছাড়া মুখ ঢেকে রাখা পোশাক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। এদিকে মেলোনির ঘোষণার সঙ্গে ইতালির রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও যোগ রয়েছে। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা। অভিবাসন ও অভিবাসীদের একীভূতকরণ ইতালির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। মেলোনির দল ব্রাদার্স অব ইতালির ডানদিকে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া নতুন রাজনৈতিক শক্তি ‘ফুতুরো নাজিওনালে’ও সাম্প্রতিক সময়ে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে। মেলোনির প্রস্তাব নিয়ে ইতালিতে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর পাশাপাশি কিছু সাংবিধানিক আইন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংখ্যা সীমিত করার বিধান বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে শিক্ষা ও সমান অধিকারের প্রশ্ন উঠতে পারে। ইতালির সংবিধানের ৩৪ নম্বর অনুচ্ছেদে স্কুল সবার জন্য উন্মুক্ত থাকার কথা বলা হয়েছে। ইউরোপের কয়েকটি দেশে ইতোমধ্যে জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখা পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। ফ্রান্স, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশে বিভিন্ন ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। তবে দেশভেদে এসব আইনের আওতা ও প্রয়োগের নিয়ম ভিন্ন। মেলোনির ঘোষিত পরিকল্পনার পর এখন মূল প্রশ্ন হলো, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা ও বিদেশি শিক্ষার্থী সীমিত করার নিয়ম ঠিক কীভাবে আইনে রূপ পাবে। বিশেষ করে বর্তমান ৩০ শতাংশ সীমার পরিবর্তে নতুন কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভা ও পরে সংসদে গেলে এর বিস্তারিত বিধান প্রকাশ পাওয়ার কথা। সূত্র: রয়টার্স, আনসা, আল জাজিরা
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীকে গু লি, দুই বছর পর আদালতে দোষী সাব্যস্ত হা মলাকারী
হোয়াইট হাউসে সংবাদমাধ্যম নিষিদ্ধের পদক্ষেপকে ‘সম্পূর্ণ যুক্তিযুক্ত’ বললেন জেডি ভ্যান্স
ক্যালিফোর্নিয়ার রাজনীতিতে চীনের প্রভাব? মার্কিন রাজনীতিকদের ৪৪ লাখ ডলার অনুদান
নিউ মেক্সিকোতে জন্মদিনের কেনাকাটা শেষে আর ফেরা হলো না, বন্যায় দাদি-নাতনিসহ নি হত ৩
হোয়াইট হাউসে ৬০ লাখ ডলারের নতুন হ্যালিপ্যাড উদ্বোধন ট্রাম্পের, কিন্তু সম্প্রচারে নেই কোনো টিভি নেটওয়ার্ক
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
টাকাই সবকিছু নয়, অসহায় মানুষের মামলা বিনা পারিশ্রমিকে লড়ুন: আইনমন্ত্রী
কোরআনের আলোকে সংবিধান তৈরি করা সম্ভব, তবে কোরআন নিজেই সংবিধান নয়: আইনমন্ত্রী
পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় দম্পতির মৃত্যুদণ্ড, রায়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ
সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও আলাদা সচিবালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশ বাতিল
আইইএলটিএসে ৯ এ ৯ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাইসা শাম্মা, জেনে নিন তার পরামর্শ
ছয় হাজার টাকা থেকে শুরু, সোহাগের উদ্ভাস এখন প্রকৌশল ভর্তি প্রস্তুতির বড় নাম
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফবিআইয়ের ক্যারিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা
কুতুবদিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন ফারিহা ঐশী
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়
বাংলাদেশে নিজেকে নিরাপদ মনে করি না’, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানালেন তানজিন তিশা
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
মাত্র ৬০০ টাকা পাওনা চাওয়ায় ক্ষোভ, একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম
প্রতিবন্ধী শিশুকে বাগানে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, ৭০ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার
ইউপি চেয়ারম্যান হত্যা: ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৪ জনের যাবজ্জীবন
নেশার টাকার জন্য ১১ মাসের মেয়েকে ৪০ হাজারে বিক্রি, দুই মাস পর উদ্ধার করল পুলিশ
কমলাপুর রেলস্টেশনে জোড়া ককটেল বিস্ফোরণ, সিসিটিভি দেখে জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ
জন্মের পর বলা হয়েছিল বেশিদিন বাঁচবেন না, সেই ক্লাউদিওই আজ বিশ্বজুড়ে অনুপ্রেরণা
কানাডা–ইউরোপ অর্থনৈতিক জোটে যুক্তরাজ্যকে যুক্ত হওয়ার আহ্বান কানাডার
অস্ট্রেলিয়ায় নিষ্ঠুর মায়ের ছুরিকাঘাতে নিহত পাঁচ বছরের শিশু, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে আরও দুই সন্তান
এবার মার্কিন হামলা হলে নতুন অস্ত্রের শক্তি দেখাবে ইরান, চমকে যেতে পারে বিশ্ব
পিজা ডেলিভারি থেকে ৩ রেস্টুরেন্টের মালিক! ভারতীয় যুবকের ১১ বছরের যাত্রা
সন্তান জন্মের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদ, যমজ নবজাতককে হাসপাতালে রেখে বাবার আত্মহত্যা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের বিদায়ী রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ, সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতারণা কেন্দ্রে বাংলাদেশিরা: জাতিসংঘ
‘কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারানো সম্মানের, ভালোবাসা ভাগ করার বিষয় নয়’: চিঠিতে মরিয়ম
হাটহাজারীতে সাত পা নিয়ে বাছুরের জন্ম, দেখতে কৌতূহলী মানুষের ঢ্ল
জ্বালানির দাম বাড়তেই বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণে বৈঠক, ২০ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব মালিকদের
বেকারত্বের লাগাম টানতে কারিগরি ও প্রযুক্তি শিক্ষায় বড় পরিবর্তনের তাগিদ রাষ্ট্রপতির
বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে শহিদ মুগ্ধর পরিবার, তুলে ধরলেন জুলাই শহিদ-আহতদের প্রত্যাশা
দক্ষ জনশক্তি গড়তে এনএসডিএ গভর্নিং বোর্ডের সভায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান