বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী ব্রেইন ক্যানসার গ্লিওব্লাস্টোমার বিস্তার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন তথ্য আবিষ্কার করেছেন আন্তর্জাতিক গবেষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে এই ক্যানসারের কোষগুলো অনিয়ন্ত্রিত ও বিশৃঙ্খলভাবে বৃদ্ধি পায় বলে ধারণা করা হলেও নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, কোষগুলো একটি নির্দিষ্ট ধারাবাহিক নিয়ম অনুসরণ করে পরিবর্তিত ও বিস্তৃত হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করা এই ধরন ভবিষ্যতে ক্যানসারটির আরও কার্যকর চিকিৎসা উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গত ৪ নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী নেচারে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ এবং ক্যানসার রিসার্চ ইউকের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক গবেষকদল গ্লিওব্লাস্টোমায় আক্রান্ত ১২ জন রোগীর টিউমার থেকে সংগ্রহ করা ১০ লাখের বেশি কোষ বিশ্লেষণ করেছে। রোগীরা যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি হসপিটালস এনএইচএস ফাউন্ডেশন ট্রাস্টে চিকিৎসাধীন ছিলেন। গবেষকেরা অত্যাধুনিক সেল ট্র্যাকিং প্রযুক্তি এবং এআই ব্যবহার করে ক্যানসার কোষের জিনগত বৈশিষ্ট্য, অবস্থান, পরিবর্তনের প্রবণতা এবং আশপাশের কোষের সঙ্গে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। এতে দেখা যায়, ভিন্ন ভিন্ন রোগীর টিউমারের মধ্যেও কোষগুলোর পরিবর্তনের একটি অভিন্ন ধরন রয়েছে। গবেষণায় ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউট, ইউরোপিয়ান মলিকিউলার বায়োলজি ল্যাবরেটরি, জার্মান ক্যানসার রিসার্চ সেন্টার এবং ক্যানসার রিসার্চ ইউকের গবেষকেরা অংশ নেন। গবেষণায় ক্যানসার কোষের পরিবর্তনের তিনটি প্রধান ধাপ শনাক্ত করা হয়েছে। প্রথম ধাপে কিছু কোষ মস্তিষ্কের স্টেম সেলের মতো আচরণ করে এবং টিউমারের বাইরের প্রান্তে অবস্থান নেয়। এসব কোষ থেকে নতুন ধরনের ক্যানসার কোষ তৈরি হতে পারে। দ্বিতীয় ধাপে টিউমার বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কোষগুলো মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতের কাজে ব্যবহৃত কোষের বৈশিষ্ট্য অনুকরণ করতে শুরু করে। এতে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি দ্রুত হয় এবং টিউমারের ভেতরে নতুন স্তর তৈরি হয়। তৃতীয় ধাপে টিউমারের কেন্দ্রীয় অংশে অক্সিজেনের সরবরাহ কমে যায়। তখন সেখানকার কোষগুলো নিজেদের টিকিয়ে রাখার বিশেষ অবস্থায় চলে যায়, যা চিকিৎসার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে। গ্লিওব্লাস্টোমা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ধরনের ব্রেইন ক্যানসার। এটি মস্তিষ্কের স্বাভাবিক টিস্যুর মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পুরোপুরি অপসারণ করা কঠিন। অস্ত্রোপচার, রেডিয়েশন ও কেমোথেরাপির পরও অনেক রোগীর ক্ষেত্রে টিউমার আবার ফিরে আসে। গবেষকেরা বলছেন, টিউমারের বাইরের প্রান্তে থাকা প্রাথমিক ক্যানসার কোষগুলো অস্ত্রোপচারের পর থেকে গেলে নতুন করে ক্যানসার বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে শুধু টিউমারের দৃশ্যমান অংশ নয়, বাইরের প্রান্তের কোষগুলোকেও লক্ষ্য করে চিকিৎসা তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। গবেষণায় আরও কিছু জিনগত সংকেত শনাক্ত করা হয়েছে, যেগুলো ক্যানসার কোষকে এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তিত হতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ভবিষ্যতে এমন ওষুধ তৈরি করা যেতে পারে, যা এসব সংকেত বন্ধ করে কোষের পরিবর্তন সীমিত করবে। পাশাপাশি শরীরের নিজস্ব ইমিউন সেলের সঙ্গে টিউমারের সম্পর্ক নিয়েও নতুন তথ্য পাওয়া গেছে। গবেষণায় ব্যবহৃত পরীক্ষাগারে তৈরি ক্ষুদ্র মস্তিষ্কের মডেল বা ব্রেইন অর্গানয়েডেও কোষের পরিবর্তনের একই ধরনের প্রবণতা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ক্যানসার রিসার্চ ইউকের কেমব্রিজ ইনস্টিটিউটের ব্রেইন সার্জন ও গবেষক ডা. রিচার্ড মেয়ার জানিয়েছেন, এতদিন গ্লিওব্লাস্টোমার বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার কোষকে একসঙ্গে কীভাবে লক্ষ্য করা যায়, তা পরিষ্কার ছিল না। নতুন গবেষণা ভবিষ্যতে টিউমার কোন অবস্থায় যেতে পারে, সে অনুযায়ী চিকিৎসা পরিকল্পনার সুযোগ তৈরি করেছে। ওয়েলকাম স্যাঙ্গার ইনস্টিটিউটের গবেষক ডা. ওমের বায়রাকতারও মনে করেন, এই আবিষ্কার ক্যানসারটির জটিল আচরণ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে গবেষণাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। নতুন কোনো চিকিৎসা মানুষের শরীরে কার্যকর বা নিরাপদ প্রমাণিত হয়নি। আরও গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের পরই এই আবিষ্কারের বাস্তব চিকিৎসাগত সুফল নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। সংবাদসূত্র: ক্যানসার রিসার্চ ইউকে, FOX 13 Tampa Bay ।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের পর নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন না দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত আট বছরে এই ইনজেকশন না পাওয়া শিশুর হার দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এতে শিশুদের মারাত্মক রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামায় প্রকাশিত গবেষণায় এসব তথ্য জানানো হয়। ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ৫২ লাখের বেশি নবজাতকের চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে জন্মের পর ৩ দশমিক ১ শতাংশ শিশু ভিটামিন কে ইনজেকশন পায়নি। ২০২৫ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে। শুধু ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যেই এই হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, অনেক অভিভাবকের ইনজেকশন নিয়ে উদ্বেগ ও ভুল ধারণা এই প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের প্রথম ছয় মাসে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ইনজেকশন পাওয়া শিশুদের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে তাদের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া গেছে। জন্মের পর হাসপাতালে অবস্থানকালে রক্তক্ষরণের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে গবেষণাটি চিকিৎসার তথ্যভিত্তিক হওয়ায় প্রতিটি রক্তক্ষরণ বা মৃত্যুর পেছনে ভিটামিন কে না পাওয়াই সরাসরি দায়ী ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হয়নি। চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিটামিন কে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। কিন্তু নবজাতকদের শরীরে জন্মের সময় এই ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম থাকে। মায়ের শরীর থেকে গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত ভিটামিন কে শিশুর শরীরে পৌঁছায় না। এমনকি মায়ের বুকের দুধেও এর পরিমাণ সীমিত। ফলে জন্মের পর ভিটামিন কে না পেলে শিশু ভিটামিন কে ডেফিসিয়েন্সি ব্লিডিং নামের জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারে। এতে শরীরের ভেতরে, বিশেষ করে মস্তিষ্ক বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের ভিটামিন কে ঘাটতিজনিত দেরিতে শুরু হওয়া রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ইনজেকশন পাওয়া শিশুদের তুলনায় প্রায় ৮১ গুণ বেশি। এই জটিলতা জন্মের পর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন কে ঘাটতিজনিত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইডাহোর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. থমাস প্যাটারসন জানান, দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনের বেশির ভাগ সময় নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন দিতে অভিভাবকদের অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা খুব কম দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলেছে। একদিন তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা ১০ নবজাতকের মধ্যে পাঁচজনই ভিটামিন কে ইনজেকশন ছাড়াই হাসপাতাল ছেড়েছে বলে তিনি জানান। চিকিৎসকদের মতে, ইনজেকশন নিয়ে নিরাপত্তার উদ্বেগ, ভুল তথ্য এবং এটিকে ভ্যাকসিন মনে করার কারণে কিছু অভিভাবক সন্তানকে এটি দিতে চান না। তবে ভিটামিন কে ইনজেকশন কোনো ভ্যাকসিন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬১ সাল থেকে নবজাতকদের জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়ার সুপারিশ করে আসছে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস। সাধারণত জন্মের পর শিশুর উরুর পেশিতে একবার এই ইনজেকশন দেওয়া হয়। সিডিসির মতে, এটি নবজাতকদের মারাত্মক রক্তক্ষরণ প্রতিরোধের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবস্থা। গবেষকেরা বলছেন, অভিভাবকদের মধ্যে সঠিক চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা সন্তান জন্মের আগে ভিটামিন কে ইনজেকশন নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে পেডিয়াট্রিশিয়ান বা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
পৃথিবীর সুরক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ওজোন স্তরের গর্ত চলতি বছর অস্বাভাবিকভাবে বড় আকার ধারণ করেছে। অ্যান্টার্কটিকার ওপর তৈরি হওয়া এই গর্ত গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ওজোন গর্ত গত ৪৮ বছরের পর্যবেক্ষণে গড় আয়তনের হিসাবে সপ্তম বৃহত্তম। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাময়িক এই বৃদ্ধির পরও ওজোন স্তরের দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নাসা ও এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ওজোন স্তরের গর্তের গড় আয়তন ছিল প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বর্গকিলোমিটার। যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট আয়তনের দ্বিগুণেরও বেশি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর গর্তটি সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭১ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়। এটি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ওজোন গর্তের প্রায় ৯০ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গর্তের আয়তন বড় হলেও ওজোনের ঘনত্ব হ্রাসের মাত্রা অতীতের সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর তুলনায় কম ছিল। গবেষকদের মতে, চলতি বছর ওজোন স্তরের গর্ত অস্বাভাবিকভাবে বড় হওয়ার প্রধান কারণ অ্যান্টার্কটিকার ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী পোলার ভর্টেক্স বা মেরু অঞ্চলের ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহ। সাধারণত শীতকালে দক্ষিণ মেরুর চারপাশে এই বায়ুপ্রবাহ অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস আটকে রাখে। এর ফলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে বিশেষ ধরনের মেঘ তৈরি হয়, যা ওজোন ধ্বংসকারী রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর থেকে উঠে আসা আবহাওয়াজনিত তরঙ্গ তুলনামূলক দুর্বল থাকায় পোলার ভর্টেক্স আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হয়েছে। এতে ওজোন ক্ষয়ের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। এনওএএর কেমিক্যাল সায়েন্সেস ল্যাবরেটরির গবেষক অ্যামি বাটলার জানিয়েছেন, সাধারণত বায়ুমণ্ডলের বড় আকারের তরঙ্গ পোলার ভর্টেক্সকে দুর্বল করতে সাহায্য করে। কিন্তু এ বছর সেই প্রক্রিয়া দুর্বল থাকায় অ্যান্টার্কটিকার চারপাশে অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। অন্যদিকে নাসার ওজোন গবেষক পল নিউম্যান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওজোন গর্ত মৌসুমের তুলনামূলক পরবর্তী সময়ে তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে, যা ওজোন স্তরের সুস্থ হয়ে ওঠার ইতিবাচক লক্ষণ। তবে এবারের অস্বাভাবিক শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ গর্তটির বিস্তার বাড়িয়েছে। ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার অংশে অবস্থিত। এটি সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ শোষণ করে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদকে সুরক্ষা দেয়। ওজোন স্তর অতিরিক্ত পাতলা হলে অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি এবং পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যে অতীতে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বনসহ কিছু রাসায়নিক পদার্থ ওজোন স্তর ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। তবে এবারের বড় গর্তের মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছেন গবেষকেরা। ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের মাধ্যমে ওজোন ধ্বংসকারী রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করায় বায়ুমণ্ডলে এসব উপাদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, আগের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের ঘনত্ব থাকলে চলতি বছরের গর্তটি আরও প্রায় ২৬ লাখ থেকে ৫২ লাখ বর্গকিলোমিটার বড় হতে পারত। বর্তমান অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ২০৭০-এর দশকের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকার ওজোন স্তর আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। সংবাদসূত্র: নাসা, ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)।
কেনিয়ায় ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে অনুসারীদের অনাহারে রেখে ১৯০ শিশুসহ ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতা পল ম্যাকেঞ্জিকে ২০০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দেশটির উপকূলীয় শহর মোম্বাসার হাইকোর্ট এই রায় ঘোষণা করেন। নিজেকে ধর্মীয় নেতা দাবি করা ম্যাকেঞ্জি অনুসারীদের বিশ্বাস করিয়েছিলেন, পৃথিবীর শেষ সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং অনাহারে মারা গেলে তাঁরা যিশুর সঙ্গে স্বর্গে যেতে পারবেন। তাঁর নির্দেশে শিশুদের খাবার বন্ধ করে দেওয়ার পাশাপাশি অনুসারীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল বলে আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মোম্বাসা হাইকোর্টের বিচারপতি ডায়ানা কাভেদজা ম্যাকেঞ্জিকে অনাহারে হত্যার জন্য ১০০ বছর এবং সরাসরি হত্যাকাণ্ডে ভূমিকার জন্য আরও ১০০ বছরের কারাদণ্ড দেন। এর আগে গত ১৯ অক্টোবর ম্যাকেঞ্জি ও তাঁর ২৮ সহযোগীকে ১৯১টি হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। বিচারক জানান, ম্যাকেঞ্জি তাঁর অনুসারীদের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে গিয়ে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অনাহারে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সংঘবদ্ধ কর্মকাণ্ডের মূল দায় তাঁর ওপর বর্তায়। তদন্তে উঠে এসেছে, ম্যাকেঞ্জি ‘গুড নিউজ ইন্টারন্যাশনাল চার্চ’ নামে একটি ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃত্ব দিতেন। তিনি অনুসারীদের বোঝাতেন, পৃথিবীর শেষ সময় আসন্ন এবং মৃত্যুর মাধ্যমে তাঁরা যিশুর সঙ্গে মিলিত হতে পারবেন। এই বিশ্বাস ছড়িয়ে কেনিয়ার উপকূলীয় কিলিফি কাউন্টির শাকাহোলা বনাঞ্চলে অনুসারীদের বসবাসের ব্যবস্থা করেন। সেখানে শিশুদের প্রথমে অনাহারে রাখা হতো। এরপর পর্যায়ক্রমে কিশোর-কিশোরী, নারী ও পুরুষদের একই প্রক্রিয়ায় মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হতো। তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, কেউ খাবার খেতে চাইলে কিংবা পালানোর চেষ্টা করলে ম্যাকেঞ্জির সহযোগীরা তাঁদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখাতেন। বেশ কয়েকজনকে শ্বাসরোধ ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার প্রমাণও পাওয়া গেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে কেনিয়ার পুলিশ শাকাহোলা বনাঞ্চলে গণকবরের সন্ধান পাওয়ার পর ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। তদন্তকারীরা বনের বিভিন্ন স্থানে অগভীর কবর থেকে একের পর এক মরদেহ উদ্ধার করতে থাকেন। কেনিয়ার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হিসাবে, ওই বনাঞ্চল থেকে শেষ পর্যন্ত ৪৪৮টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক শিশু ছিল। তবে শুক্রবারের রায়টি ১৯০ শিশু ও একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিকে হত্যার মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। অন্য মৃত্যুর ঘটনাগুলো নিয়ে পৃথক তদন্ত ও আইনি কার্যক্রম রয়েছে। মামলার অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা হলো ছয় সন্তান হারানো বাবা স্টিফেন মুইতির অভিজ্ঞতা। তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে ম্যাকেঞ্জির ধর্মীয় গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে ছয় সন্তানই সেখানে মারা যায়। রয়টার্সকে মুইতি জানান, সন্তানদের হারানোর শোক কোনো দিন কাটবে না। ম্যাকেঞ্জির কঠোর শাস্তি হলেও তাঁর সন্তানদের আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়। অন্যদিকে ম্যাকেঞ্জির এক ছেলেও জানিয়েছেন, তাঁর বাবার ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে নিজেদের পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি নিজে ওই বিশ্বাস থেকে সরে আসায় বেঁচে গেছেন। ম্যাকেঞ্জি অবশ্য আদালতে দাবি করেছিলেন, তিনি কাউকে জোর করে অনাহারে থাকতে বাধ্য করেননি। কিন্তু সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত তাঁর সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করেন। একই ঘটনায় তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধেও হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের আরেকটি এলাকায় ৫২ জনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ম্যাকেঞ্জির বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রয়েছে। সেই অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কেনিয়া সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আগেই সতর্কতামূলক তথ্য পাওয়া সত্ত্বেও যথাসময়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। শুক্রবারের রায়ের পর তারা অপরাধীদের পাশাপাশি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে। সংবাদসূত্র: রয়টার্স , অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস , কেনিয়ার ডিরেক্টরেট অব ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশনস।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদ। দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার ঘটনায় তিনি আলোচনায় এসেছেন। নতুন দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁর বেতন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়েও আগ্রহ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, একজন সাধারণ মার্কিন সিনেটরের বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার ডলার। সেই হিসাবে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এল-সায়েদও একই বেতন কাঠামোর আওতায় পড়বেন। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, প্রতি ডলার প্রায় ১২৪ টাকা ৫০ পয়সা ধরলে তাঁর বার্ষিক বেতন বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৬৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ বছরে প্রায় ২ কোটি ১৭ লাখ টাকা। মাসিক হিসাবে বেতন দাঁড়ায় ১৪ হাজার ৫০০ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে টাকার অঙ্ক কমবেশি হতে পারে। এই হিসাব কর ও অন্যান্য প্রযোজ্য কর্তনের আগের বেতনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আবদুল এল-সায়েদ ২০২৬ সালের ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে পরাজিত করেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মিশিগানের সিনেট আসনে জয়ী হয়েছেন। তবে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর বেতন কার্যকর হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নতুন মেয়াদ শুরু হবে ২০২৭ সালের ৩ জানুয়ারি। ওই দিন থেকে দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি সিনেটরের বেতন পাবেন। বেতনের বাইরে সিনেটরদের জন্য রয়েছে স্বাস্থ্যবিমা ও অবসরকালীন সুবিধা। তবে এসব সুবিধা মানেই বিনা খরচে সব চিকিৎসা বা অবসরের পর আজীবন নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ পাওয়া নয়। কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, সিনেটররা ডিসি হেলথ লিংকের মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিমা নিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী ফেডারেল সরকার বিমার প্রিমিয়ামের একটি অংশ বহন করে। কোন স্বাস্থ্য পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে এবং তার প্রিমিয়াম কত, তার ওপর ব্যক্তির নিজের পরিশোধযোগ্য অংশ নির্ভর করে। সিনেটররা ফেডারেল কর্মীদের জন্য নির্ধারিত জীবনবিমা কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি সোশ্যাল সিকিউরিটি ব্যবস্থায় তাঁদের অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক। অবসরকালীন সুবিধার ক্ষেত্রে ফেডারেল কর্মীদের অবসর পরিকল্পনার আওতায় বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। তবে কত টাকা পেনশন বা অবসর সুবিধা পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা, বয়স, চাকরির মেয়াদ এবং অন্যান্য শর্তের ওপর। সাধারণভাবে অবসর সুবিধা পাওয়ার জন্য কমপক্ষে পাঁচ বছর চাকরির শর্ত রয়েছে। সিনেটরদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনার জন্য রয়েছে আলাদা সরকারি বরাদ্দ। এই অর্থ ব্যক্তিগত বেতন বা অতিরিক্ত আয় নয়। সিনেটরদের অফিস পরিচালনা, কর্মী নিয়োগ, স্টাফদের বেতন, দাপ্তরিক সরঞ্জাম, চিঠিপত্র এবং নিজ অঙ্গরাজ্য ও ওয়াশিংটন ডিসির মধ্যে সরকারি কাজে যাতায়াতের মতো খাতে এ অর্থ ব্যয় করা হয়। ২০২৬ অর্থবছরে একজন সিনেটরের জন্য এই দাপ্তরিক বরাদ্দের পরিমাণ অঙ্গরাজ্যভেদে প্রায় ৪২ লাখ ৯৬ হাজার ডলার থেকে ৬৬ লাখ ২১ হাজার ডলারের মধ্যে। গড় বরাদ্দ প্রায় ৪৬ লাখ ৬৪ হাজার ডলার। এই দাপ্তরিক বরাদ্দ দিয়ে সিনেটর নিজের ব্যক্তিগত খরচ, রাজনৈতিক প্রচার বা নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ব্যয় মেটাতে পারেন না। অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সিনেটের নির্ধারিত নিয়ম ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। একইভাবে সিনেটের বিভিন্ন কমিটিতে কাজ করার জন্য সাধারণ সিনেটররা মূল বেতনের বাইরে অতিরিক্ত বেতন পান না। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটরদের বেতন ২০০৯ সাল থেকে অপরিবর্তিত রয়েছে। অর্থাৎ দীর্ঘ সময় ধরে বেতন কাঠামো একই থাকলেও তাঁদের দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা, স্বাস্থ্যবিমা এবং অবসরকালীন সুবিধার জন্য আলাদা নিয়ম ও বরাদ্দ রয়েছে। ফলে একজন সিনেটরের বার্ষিক বেতন এবং তাঁর অফিস পরিচালনার জন্য সরকারের দেওয়া অর্থকে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
স্পেনের ছিটমহল সিউটা (Ceuta) থেকে সাব-সাহারান আফ্রিকা ও এশিয়ার এক ডজনেরও বেশি অভিবাসীকে মরক্কোয় ফেরত পাঠিয়েছে স্পেন সরকার। স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই অভিবাসীদের আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যান করার পর মরক্কো তাদের গ্রহণে সম্মতি জানালে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর দেওয়া তথ্যমতে, ফেরত পাঠানো ওই ১৬ জন ব্যক্তির মধ্যে সেনেগাল, নাইজেরিয়া, ইয়েমেন, ক্যামেরুন এবং বাংলাদেশের নাগরিকরা রয়েছেন। গত জুলাই মাসে সিউটায় নজিরবিহীন গণ-অনুপ্রবেশের পর এ ধরনের বিতাড়ন বা ফেরত পাঠানোর ঘটনা এটাই প্রথম। স্পেনের এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। অ্যামনেস্টির গবেষক ভার্জিনিয়া আলভারেজ স্পেনের বামপন্থী সরকারের এই আচরণকে 'ভণ্ডামি' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের দাবি, অভিবাসীদের প্রতি মরক্কোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অতীত ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও স্পেন তাদের সেখানে ফেরত পাঠিয়ে চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। তবে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) চোখে মরক্কো একটি 'নিরাপদ দেশ' এবং সমস্ত সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা মেনেই এই বিতাড়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় ৮০ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে স্পেনের সিউটা সীমান্তে প্রবেশ করেছিল। ইউরোপের সঙ্গে আফ্রিকার একমাত্র স্থল সীমান্ত হলো এই সিউটা ও মেলিলা। অনুপ্রবেশকারীদের বেশিরভাগই কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে গেলেও এখনও স্পেনের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রায় ৮ হাজার অভিবাসী অবস্থান করছেন, যাদের আশ্রয়ের আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আগামী ২৯ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এই সিউটা সংকট সমাধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং দেশের সাধারণ জনগণের প্রবল চাপের মুখে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের পরবর্তী স্পিকার পদে হাকিম জেফ্রিসকে সমর্থন না করার আহ্বান জানিয়ে করা একটি অনলাইন পিটিশনে পাঁচ লাখের বেশি স্বাক্ষর পড়েছে বলে দাবি করেছেন এর উদ্যোক্তা। ডেমোক্র্যাটদের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয় এবং কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর দলটির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জেফ্রিসকে স্পিকার হিসেবে দেখতে না চাওয়া এই উদ্যোগে মূলত ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রগতিশীল অংশের অসন্তোষ উঠে এসেছে। পিটিশনটির উদ্যোক্তা নিকোল হুইটেড। তিনি লেখক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নির্মাতা। তাঁর তৈরি পিটিশনের শিরোনাম ‘হাউস ডেমোক্র্যাটস: চুজ আ নিউ স্পিকার’। এতে বলা হয়েছে, স্পিকার হিসেবে এমন কাউকে বেছে নেওয়া উচিত, যিনি শুধু দলের নেতৃত্বের নয়, বরং ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মতামতেরও প্রতিনিধিত্ব করবেন। পিটিশনে জেফ্রিসকে পরবর্তী স্পিকার হিসেবে সমর্থন না করে বিকল্প প্রার্থী বেছে নিতে প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। হুইটেডের দাবি, বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে তিনি পিটিশনে প্রায় ২০ হাজার স্বাক্ষরের কথা জানিয়েছিলেন। এরপর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বাক্ষরের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে পাঁচ লাখ ছাড়িয়ে যায়। তবে এই সংখ্যা পিটিশনের উদ্যোক্তার দেওয়া হিসাব। চেঞ্জ ডট অর্গের পৃষ্ঠায় যাচাইকৃত স্বাক্ষরের সংখ্যা আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। ফলে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সংখ্যার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জেফ্রিসের বিরোধিতার পেছনে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরেছেন হুইটেড। এর মধ্যে রয়েছে গত আগস্টে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে জেফ্রিসের ব্যক্তিগত বৈঠক। এ ছাড়া মিশিগানের ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সায়েদের বিপক্ষে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেওয়া প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সের জেফ্রিসকে পরবর্তী স্পিকার হিসেবে উল্লেখ করার বিষয়টিও পিটিশনের সমর্থনে তুলে ধরা হয়েছে। হুইটেডের মতে, এসব ঘটনা দলীয় নেতৃত্বের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। পিটিশনে সমর্থন জানিয়েছেন হলিউড অভিনেতা মার্ক রাফালোও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্লুস্কাইয়ে পিটিশনটি শেয়ার করে তিনি নতুন স্পিকার নির্বাচনের পক্ষে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানান। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের প্রগতিশীল অংশের কয়েকজন নবনির্বাচিত প্রতিনিধি আগেই জেফ্রিসের নেতৃত্ব নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। মিশিগান থেকে নির্বাচিত উইলিয়াম লরেন্স বলেছেন, স্পিকার নির্বাচনে জেফ্রিসের বিকল্প প্রার্থী দেখতে চান তিনি। পেনসিলভানিয়ার নবনির্বাচিত প্রতিনিধি ক্রিস র্যাবও জেফ্রিসের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে জেফ্রিসের প্রতি সমর্থনও রয়েছে দলের ভেতরে। নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এর আগে তাঁর স্পিকার হওয়ার প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন। এদিকে, জেফ্রিস নিজেও স্পিকার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণা দিয়েছেন। ৪ নভেম্বর সহকর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি নিজের প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন চান। চিঠিতে তিনি বলেন, সংখ্যালঘু অবস্থানে থেকেও ডেমোক্র্যাটরা ধারাবাহিকভাবে সফল হয়েছে এবং এখন সংখ্যাগরিষ্ঠ হিসেবে জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করতে হবে। গত ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট, উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেয়েছে। ফলে আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরুর পর দুই কক্ষেই নেতৃত্বে পরিবর্তন আসবে। প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা প্রথমে নিজেদের দলের পছন্দের স্পিকার প্রার্থী নির্বাচন করবেন। এরপর পুরো প্রতিনিধি পরিষদে ভোট হবে। স্পিকার নির্বাচিত হতে একজন প্রার্থীকে অন্তত ২১৮ জন সদস্যের সমর্থন পেতে হবে। জেফ্রিস নির্বাচিত হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার। এদিকে, সিনেটে ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্ব নিয়েও দলের প্রগতিশীল অংশের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। নিউ ইয়র্কের সিনেটর চাক শুমারকে দলীয় নেতা হিসেবে বহাল রাখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন কয়েকজন নেতা। মিনেসোটার নবনির্বাচিত সিনেটর পেগি ফ্লানাগান ৪ নভেম্বর বলেছেন, দলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের সময় এসেছে। তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের অক্টোবরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, দলীয় সহকর্মীদের সমর্থন পেয়ে শুমার সহজেই নেতৃত্ব ধরে রাখতে পারেন বলে অনেক সিনেটর মনে করছেন। সংবাদ সূত্র: নিউজউইক, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্মের পর নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন না দেওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত আট বছরে এই ইনজেকশন না পাওয়া শিশুর হার দ্বিগুণের বেশি হয়েছে। এতে শিশুদের মারাত্মক রক্তক্ষরণ, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ এবং প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী জামায় প্রকাশিত গবেষণায় এসব তথ্য জানানো হয়। ফিলাডেলফিয়ার চিলড্রেনস হসপিটালের গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ৫২ লাখের বেশি নবজাতকের চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ২০১৭ সালে জন্মের পর ৩ দশমিক ১ শতাংশ শিশু ভিটামিন কে ইনজেকশন পায়নি। ২০২৫ সালে সেই হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে। শুধু ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যেই এই হার ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছেছে। গবেষকদের মতে, অনেক অভিভাবকের ইনজেকশন নিয়ে উদ্বেগ ও ভুল ধারণা এই প্রবণতার পেছনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের প্রথম ছয় মাসে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ইনজেকশন পাওয়া শিশুদের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। একই সময়ে তাদের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া গেছে। জন্মের পর হাসপাতালে অবস্থানকালে রক্তক্ষরণের পাশাপাশি মৃত্যুর ঘটনাও ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের মধ্যে তুলনামূলক বেশি ছিল। তবে গবেষণাটি চিকিৎসার তথ্যভিত্তিক হওয়ায় প্রতিটি রক্তক্ষরণ বা মৃত্যুর পেছনে ভিটামিন কে না পাওয়াই সরাসরি দায়ী ছিল কি না, তা নির্ধারণ করা হয়নি। চিকিৎসকদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ভিটামিন কে শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে সহায়তা করে। কিন্তু নবজাতকদের শরীরে জন্মের সময় এই ভিটামিনের পরিমাণ খুব কম থাকে। মায়ের শরীর থেকে গর্ভাবস্থায় পর্যাপ্ত ভিটামিন কে শিশুর শরীরে পৌঁছায় না। এমনকি মায়ের বুকের দুধেও এর পরিমাণ সীমিত। ফলে জন্মের পর ভিটামিন কে না পেলে শিশু ভিটামিন কে ডেফিসিয়েন্সি ব্লিডিং নামের জটিলতায় আক্রান্ত হতে পারে। এতে শরীরের ভেতরে, বিশেষ করে মস্তিষ্ক বা অন্ত্রে রক্তক্ষরণ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আগে থেকে কোনো লক্ষণও দেখা যায় না। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন না পাওয়া শিশুদের ভিটামিন কে ঘাটতিজনিত দেরিতে শুরু হওয়া রক্তক্ষরণের ঝুঁকি ইনজেকশন পাওয়া শিশুদের তুলনায় প্রায় ৮১ গুণ বেশি। এই জটিলতা জন্মের পর ছয় মাস বয়স পর্যন্ত দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। সিডিসির তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন কে ঘাটতিজনিত রক্তক্ষরণে আক্রান্ত প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়। এবিসি নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইডাহোর শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. থমাস প্যাটারসন জানান, দীর্ঘ চিকিৎসক জীবনের বেশির ভাগ সময় নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন দিতে অভিভাবকদের অস্বীকৃতি জানানোর ঘটনা খুব কম দেখেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পরিস্থিতি বদলেছে। একদিন তাঁর তত্ত্বাবধানে থাকা ১০ নবজাতকের মধ্যে পাঁচজনই ভিটামিন কে ইনজেকশন ছাড়াই হাসপাতাল ছেড়েছে বলে তিনি জানান। চিকিৎসকদের মতে, ইনজেকশন নিয়ে নিরাপত্তার উদ্বেগ, ভুল তথ্য এবং এটিকে ভ্যাকসিন মনে করার কারণে কিছু অভিভাবক সন্তানকে এটি দিতে চান না। তবে ভিটামিন কে ইনজেকশন কোনো ভ্যাকসিন নয়। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৬১ সাল থেকে নবজাতকদের জন্মের পর ভিটামিন কে ইনজেকশন দেওয়ার সুপারিশ করে আসছে আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস। সাধারণত জন্মের পর শিশুর উরুর পেশিতে একবার এই ইনজেকশন দেওয়া হয়। সিডিসির মতে, এটি নবজাতকদের মারাত্মক রক্তক্ষরণ প্রতিরোধের নিরাপদ ও কার্যকর ব্যবস্থা। গবেষকেরা বলছেন, অভিভাবকদের মধ্যে সঠিক চিকিৎসাবিষয়ক তথ্য পৌঁছে দেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা সন্তান জন্মের আগে ভিটামিন কে ইনজেকশন নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকলে পেডিয়াট্রিশিয়ান বা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক প্রায় চার বিলিয়ন ডলারের সামরিক সহায়তা বন্ধের যে পরিকল্পনা করেছেন, তার প্রশংসা করেছেন মিশিগান থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সিনেটর আবদুল এল-সায়েদ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুজনের মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা হলেও এই নির্দিষ্ট ইস্যুতে তারা একমত হয়েছেন। সদ্য নির্বাচিত এই ডেমোক্র্যাট নেতা জানিয়েছেন, তিনি এই বিষয়ে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মধ্যে এমন ঐকমত্য যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে একটি বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান সহায়তা চুক্তি বহাল থাকার কথা থাকলেও কীভাবে প্রশাসন ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এটি বন্ধ করবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার মর্নিং জো অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ ট্রাম্পের এই প্রস্তাবের বিষয়ে তার অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, এই নির্দিষ্ট নীতিতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত এবং তাদের একসঙ্গে কাজ করতে তার কোনো আপত্তি নেই। এল-সায়েদের মতে, মার্কিন করদাতাদের অর্থে বিদেশি কোনো সামরিক বাহিনীকে এমন কোনো কাজের জন্য সহায়তা করা উচিত নয় যা ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। এমনকি ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করার পক্ষেও মত দেন তিনি। এর আগে এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, ট্রাম্প এই নীতিতে সঠিক অবস্থানে রয়েছেন। এল-সায়েদ ইসরায়েলের কার্যক্রমকে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে অস্ত্র বিক্রি বন্ধের জোর দাবি জানান, যদিও ইসরায়েল বরাবরই তাদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। নির্বাচনের দিন ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন যে যুক্তরাষ্ট্র ২০২৬ সালের শেষের দিক থেকে ইসরায়েলকে দেওয়া বার্ষিক চার বিলিয়ন ডলারের সহায়তা বন্ধ করে দেবে। প্রেসিডেন্ট জানান, কয়েক মাস আগেই ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার এই বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছে। ট্রাম্পের মতে, ইসরায়েল এখন যথেষ্ট সমৃদ্ধশালী একটি দেশ এবং সরাসরি মার্কিন সহায়তা ছাড়াই তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম। তবে ট্রাম্প জানিয়েছেন, সহায়তা বন্ধ হলেও ইসরায়েল চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র কিনতে পারবে এবং প্রয়োজনে অন্যান্য সহায়তা নিতে পারবে। তবে এই সহায়তা বন্ধের প্রক্রিয়া কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল বার্ষিক ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়ে থাকে, যা ট্রাম্প প্রায় চার বিলিয়ন বলে উল্লেখ করেছেন। ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত দশ বছর মেয়াদি একটি সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ২০১৯ থেকে ২০২৮ অর্থবছর পর্যন্ত ইসরায়েলকে মোট ৩৮ বিলিয়ন ডলার নিরাপত্তা সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এর মধ্যে ৩৩ বিলিয়ন ডলার বিদেশি সামরিক অর্থায়ন এবং ৫ বিলিয়ন ডলার যৌথ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ। তবে এই সমঝোতা স্মারকটি আইনত বাধ্যতামূলক কোনো চুক্তি নয় এবং এর জন্য সিনেটের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়নি। তা সত্ত্বেও এই সহায়তার অর্থ ছাড়ের বিষয়টি কংগ্রেসের অনুমোদনের ওপর নির্ভরশীল। তাই ট্রাম্প কংগ্রেসকে এই তহবিল আটকে দেওয়ার অনুরোধ করবেন নাকি নতুন কোনো চুক্তি করবেন, তা এখনও পরিষ্কার নয়। ট্রাম্প এবং এল-সায়েদের এই ঐকমত্য রাজনৈতিকভাবে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ মিশিগান সিনেট প্রচারণায় ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দিয়েছিলেন এবং এল-সায়েদের ধর্মীয় পরিচয় ও ইসরায়েল নীতির কড়া সমালোচনা করেছিলেন। মাইক রজার্সকে হারিয়ে এল-সায়েদ যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। বৃহস্পতিবারের সাক্ষাৎকারে এল-সায়েদ মিশিগানের ইহুদি বাসিন্দাদের নিরাপত্তা এবং তাদের প্রতি তার শ্রদ্ধার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইহুদি সহপাঠীদের সঙ্গে তিনি বেড়ে উঠেছেন এবং তাদের ধর্মীয় ও সামাজিক অবদানের প্রতি তার গভীর সম্মান রয়েছে। সার্বিক এই খবরটি মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইক তাদের এক প্রতিবেদনে বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেছে। খবরের উৎস: নিউজউইক
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে মেয়েদের স্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সীমিত করার উদ্যোগ ‘ইনিশিয়েটিভ ৬৩৮’ ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। একই সঙ্গে মেয়েদের স্কুল ক্রীড়া দলে অংশ নিতে ইচ্ছুক সব শিক্ষার্থীর জৈবিক লিঙ্গ যাচাইয়ের জন্য চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হচ্ছে। ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটাররা প্রস্তাবটির পক্ষে রায় দেন। বুধবার রাতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ফলাফল ঘোষণা করে। ওয়াশিংটনের নির্বাচনী ফলাফলের প্রাথমিক হিসাবে প্রস্তাবটির পক্ষে ৫৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট পড়েছে, বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। অঙ্গরাজ্যের নির্বাচনী কর্তৃপক্ষের হিসাবে, পক্ষে ভোটের সংখ্যা ১১ লাখ ১৯ হাজারের বেশি। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে মেয়েদের জন্য নির্ধারিত একক ও দলীয় প্রতিযোগিতায় জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে না। পাশাপাশি মেয়েদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আগ্রহী প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ক্রীড়া-স্বাস্থ্য পরীক্ষার অংশ হিসেবে চিকিৎসকের স্বাক্ষর করা প্রত্যয়নপত্র দিতে হবে। শিক্ষার্থীর প্রজনন অঙ্গসংস্থান, জিনগত বৈশিষ্ট্য অথবা শরীরে স্বাভাবিকভাবে উৎপাদিত টেস্টোস্টেরনের মাত্রার ভিত্তিতে জৈবিক লিঙ্গ যাচাই করা যাবে বলে উদ্যোগটির সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এত দিন ওয়াশিংটনে শিক্ষার্থীরা নিজেদের লিঙ্গপরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্কুল ক্রীড়া দলে অংশ নিতে পারত। নতুন উদ্যোগটি সেই নীতিতে পরিবর্তন আনবে। তবে চিকিৎসকের প্রত্যয়নপত্রের জন্য ঠিক কী ধরনের পরীক্ষা করা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। উদ্যোগটির সমর্থকেরা বলছেন, আলাদা কোনো পরীক্ষা প্রয়োজন হবে না, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার মাধ্যমেই বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের স্কুল ক্রীড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, তাদের বর্তমান নিয়মে মেয়েদের যৌনাঙ্গ সরাসরি পরীক্ষা, ডিএনএ পরীক্ষা কিংবা হরমোন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। উদ্যোগটির সমর্থকেরা বলছেন, মেয়েদের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ন্যায্যতা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতেই এই ব্যবস্থা প্রয়োজন। ‘লেটস গো ওয়াশিংটন’ নামের উদ্যোগটির পক্ষে প্রচার চালানো রাজনৈতিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান হেউড ভোটের ফল প্রকাশের পর বলেন, নারী ক্রীড়াবিদদের দাবির প্রতি ভোটাররা সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, জন্মের সময় পুরুষ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষার্থীরা মেয়েদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে, আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়নসহ উদ্যোগটির বিরোধীরা বলছেন, এটি ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য তৈরি করবে। তাঁদের আশঙ্কা, মেয়েদের খেলায় অংশ নিতে সব শিক্ষার্থীর জন্য চিকিৎসকের মাধ্যমে লিঙ্গ যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও শারীরিক স্বাচ্ছন্দ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। ‘নো হেট ইন ওয়াশিংটন স্টেট’ নামের বিরোধী সংগঠনও বলেছে, এ উদ্যোগ মেয়েদের জন্য অনাকাঙ্ক্ষিত ও অস্বস্তিকর শারীরিক পরীক্ষার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনের পাশাপাশি কলোরাডোতেও ট্রান্সজেন্ডার শিক্ষার্থীদের স্কুল ক্রীড়ায় অংশগ্রহণ সীমিত করার প্রস্তাব ভোটে অনুমোদন পেয়েছে। এদিকে ওয়াশিংটনে ইনিশিয়েটিভ ৬৩৮ আগামী ৩ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে বিরোধীরা এটি বাস্তবায়ন ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। সংবাদ সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, অ্যাক্সিওস।
রাজনীতি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ স্পিকার হওয়ার পথে হাকিম জেফরিস
মিশিগানের হ্যামট্রাম্যাকে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে শপথ নিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আবু মূসা
যুক্তরাষ্ট্রের সাত গুরুত্বপূর্ণ স্টেইটে এগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগেই ১৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা পাচ্ছেন কৃষকরা, প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের
আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দিলে আপনারা ‘পাগল’, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদিদের সতর্ক বললেন ট্রাম্প
আবদুল এল-সায়েদকে ভোট দিলে আপনারা ‘পাগল’, কৃষ্ণাঙ্গ ও ইহুদিদের সতর্ক বললেন ট্রাম্প
‘আমি তোমার যত্ন নেব’ বলে ধর্ষণের অভিযোগ ট্রাম্পের বিরুদ্ধে
‘নিকি মিনাজকে এত সুন্দর আগে লাগেনি’ বললেন ট্রাম্প, রিপাবলিকানদের প্রচারে র্যাপার
ওবায়দুল কাদেরের কক্সবাজার সফরের নেপথ্যে ছিল ‘বস্তা ভরা ইয়াবা’!
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
জুয়েল সাদাত
বিশ্ব
View moreপৃথিবীর সুরক্ষাকবচ হিসেবে পরিচিত ওজোন স্তরের গর্ত চলতি বছর অস্বাভাবিকভাবে বড় আকার ধারণ করেছে। অ্যান্টার্কটিকার ওপর তৈরি হওয়া এই গর্ত গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বিস্তৃত পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা এবং ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ) জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ওজোন গর্ত গত ৪৮ বছরের পর্যবেক্ষণে গড় আয়তনের হিসাবে সপ্তম বৃহত্তম। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাময়িক এই বৃদ্ধির পরও ওজোন স্তরের দীর্ঘমেয়াদি পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রকাশিত যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। নাসা ও এনওএএর তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত ওজোন স্তরের গর্তের গড় আয়তন ছিল প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ বর্গকিলোমিটার। যা যুক্তরাষ্ট্রের মোট আয়তনের দ্বিগুণেরও বেশি। গত ১৮ সেপ্টেম্বর গর্তটি সর্বোচ্চ ২ কোটি ৭১ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত হয়। এটি ২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে রেকর্ড করা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ওজোন গর্তের প্রায় ৯০ শতাংশ। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গর্তের আয়তন বড় হলেও ওজোনের ঘনত্ব হ্রাসের মাত্রা অতীতের সবচেয়ে ভয়াবহ বছরগুলোর তুলনায় কম ছিল। গবেষকদের মতে, চলতি বছর ওজোন স্তরের গর্ত অস্বাভাবিকভাবে বড় হওয়ার প্রধান কারণ অ্যান্টার্কটিকার ওপর তৈরি হওয়া শক্তিশালী পোলার ভর্টেক্স বা মেরু অঞ্চলের ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহ। সাধারণত শীতকালে দক্ষিণ মেরুর চারপাশে এই বায়ুপ্রবাহ অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস আটকে রাখে। এর ফলে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে বিশেষ ধরনের মেঘ তৈরি হয়, যা ওজোন ধ্বংসকারী রাসায়নিক বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে। চলতি বছরের আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে বায়ুমণ্ডলের নিচের স্তর থেকে উঠে আসা আবহাওয়াজনিত তরঙ্গ তুলনামূলক দুর্বল থাকায় পোলার ভর্টেক্স আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হয়েছে। এতে ওজোন ক্ষয়ের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। এনওএএর কেমিক্যাল সায়েন্সেস ল্যাবরেটরির গবেষক অ্যামি বাটলার জানিয়েছেন, সাধারণত বায়ুমণ্ডলের বড় আকারের তরঙ্গ পোলার ভর্টেক্সকে দুর্বল করতে সাহায্য করে। কিন্তু এ বছর সেই প্রক্রিয়া দুর্বল থাকায় অ্যান্টার্কটিকার চারপাশে অত্যন্ত ঠান্ডা বাতাস দীর্ঘ সময় আটকে ছিল। অন্যদিকে নাসার ওজোন গবেষক পল নিউম্যান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ওজোন গর্ত মৌসুমের তুলনামূলক পরবর্তী সময়ে তৈরি হতে দেখা যাচ্ছে, যা ওজোন স্তরের সুস্থ হয়ে ওঠার ইতিবাচক লক্ষণ। তবে এবারের অস্বাভাবিক শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ গর্তটির বিস্তার বাড়িয়েছে। ওজোন স্তর পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার অংশে অবস্থিত। এটি সূর্য থেকে আসা ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মির বড় অংশ শোষণ করে মানুষ, প্রাণী ও উদ্ভিদকে সুরক্ষা দেয়। ওজোন স্তর অতিরিক্ত পাতলা হলে অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এর ফলে ত্বকের ক্যানসার, চোখের ছানি এবং পরিবেশগত ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার ও বিভিন্ন শিল্পপণ্যে অতীতে ব্যবহৃত ক্লোরোফ্লুরোকার্বনসহ কিছু রাসায়নিক পদার্থ ওজোন স্তর ক্ষয়ের অন্যতম কারণ। তবে এবারের বড় গর্তের মধ্যেও আশার কথা শুনিয়েছেন গবেষকেরা। ১৯৮৭ সালে স্বাক্ষরিত মন্ট্রিয়ল প্রটোকলের মাধ্যমে ওজোন ধ্বংসকারী রাসায়নিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করায় বায়ুমণ্ডলে এসব উপাদানের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, আগের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের ঘনত্ব থাকলে চলতি বছরের গর্তটি আরও প্রায় ২৬ লাখ থেকে ৫২ লাখ বর্গকিলোমিটার বড় হতে পারত। বর্তমান অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ২০৭০-এর দশকের মধ্যে অ্যান্টার্কটিকার ওজোন স্তর আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। সংবাদসূত্র: নাসা, ন্যাশনাল ওশানিক অ্যান্ড অ্যাটমোসফেরিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনওএএ)।
লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান নাইকির লোগোযুক্ত পোশাক কেনা, বিক্রি ও পরা থেকে মুসলমানদের বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে ফতোয়া জারি করেছে দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ দারুল ইফতা। প্রতিষ্ঠানটির নাম ও পরিচিত ‘সুইশ’ লোগোকে গ্রিক পুরাণের দেবী নাইকির সঙ্গে সম্পর্কিত উল্লেখ করে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, এসব প্রতীক বহন করা পোশাক ব্যবহার করলে বহুঈশ্বরবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতীকের প্রচার হয়। গত ১ নভেম্বর জারি করা ৬৬৯৭ নম্বর ফতোয়াটি অনুমোদন করেছেন লিবিয়ার গ্র্যান্ড মুফতি সাদিক আল-ঘারিয়ানি। দারুল ইফতার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ‘নাইকি’ নামটি গ্রিক পুরাণের বিজয়ের দেবী নাইকির নাম থেকে এসেছে। আর প্রতিষ্ঠানটির বিখ্যাত বাঁকানো লোগোটি ওই দেবীর ডানার আদলে তৈরি। এ কারণে লোগোযুক্ত পোশাক ব্যবহারকে ইসলামী বিশ্বাসের পরিপন্থী বলে মনে করছে সংস্থাটি। ফতোয়ায় আরও বলা হয়েছে, নাইকি ইসরায়েলকে সমর্থন করে। এ অভিযোগের ভিত্তিতে ইসরায়েলকে সমর্থনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য বর্জনেরও আহ্বান জানিয়েছে দারুল ইফতা। সংস্থাটি ২০২৩ সালের ৫ নভেম্বর প্রকাশিত নিজস্ব একটি বিবৃতির কথা উল্লেখ করেছে, যেখানে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল-সমর্থক বলে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য বর্জনের আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে নাইকির বিরুদ্ধে এই অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এই ফতোয়াকে লিবিয়া সরকারের জারি করা কোনো আইনগত নিষেধাজ্ঞা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দারুল ইফতা দেশটির প্রভাবশালী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হলেও তাদের ফতোয়া সরাসরি রাষ্ট্রীয় আইনে পরিণত হয় না। নাইকির পণ্য ব্যবহার, কেনাবেচা অব্যাহত রাখলে কী ধরনের আইনি শাস্তি হতে পারে, সে বিষয়েও ফতোয়ায় কিছু বলা হয়নি। ফলে এটি মূলত ধর্মীয় নির্দেশনা, সরকারি নিষেধাজ্ঞা নয়। লিবিয়ায় নাইকির কোনো নিজস্ব বিক্রয়কেন্দ্র নেই। তবে দেশটির বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানে ব্র্যান্ডটির পণ্য পাওয়া যায়। স্থানীয় বাজারে নকল নাইকি পণ্যও বিক্রি হয়। ফলে ফতোয়ার প্রভাব দেশটির সাধারণ ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের ওপর কতটা পড়বে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এর আগে গত বছর ফরাসি বিলাসবহুল অলংকার ও ঘড়ি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ভ্যান ক্লিফ অ্যান্ড আরপেলসের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ফতোয়া দিয়েছিল দারুল ইফতা। প্রতিষ্ঠানটির অলংকারে ব্যবহৃত চার পাতার ক্লোভার নকশাকে খ্রিষ্টধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে উল্লেখ করে ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, নকশাটি ইসলামী শিক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। নাইকির বিরুদ্ধে নতুন ফতোয়াটি লিবিয়ায় ধর্মীয় রক্ষণশীলতার প্রভাব নিয়ে চলমান আলোচনাকে আবারও সামনে এনেছে। সংবাদ সূত্র: দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট, লিবিয়া অবজারভার।
বেতন বাড়ানো, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবিতে ফ্রান্সজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ ও ধর্মঘট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির দুই শতাধিক স্থানে রাস্তায় নামেন শিক্ষার্থী, শ্রমিক ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, বিক্ষোভে অংশ নেন ৬ লাখের বেশি মানুষ। তবে দেশটির অন্যতম বড় শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, সারা দেশে বিক্ষোভ ও সমাবেশে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ লাখ। প্যারিসের বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশার কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা একসঙ্গে অংশ নেন। তাঁদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে বৈষম্য, ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তা এবং জীবনধারণের ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ পায়। একটি প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘বৈষম্য আমাদের ভবিষ্যৎকে গুরুতরভাবে হুমকির মুখে ফেলছে।’ আরেকটিতে বলা হয়, ‘সারাজীবন শুধু জীবিকা নির্বাহের জন্য লড়াই করে কাটাতে পারি না।’ সিজিটির হিসাবে, শুধু প্যারিসেই বিক্ষোভে অংশ নেন প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ। বিক্ষোভের কারণে দেশটির শিক্ষা ও পরিবহন খাতেও ব্যাপক প্রভাব পড়ে। ফ্রান্সের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উচ্চবিদ্যালয় বন্ধ ছিল অথবা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারেনি। কোথাও শিক্ষার্থীদের অবরোধ, আবার কোথাও শিক্ষকদের ধর্মঘটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হয়। কয়েকটি এলাকায় গণপরিবহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটে। পরিস্থিতির কারণে প্যারিসের আইফেল টাওয়ারও বন্ধ রাখা হয়। বিক্ষোভের আগে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়। তাঁদের সঙ্গে ছিল সাঁজোয়া যান, ড্রোন ও হেলিকপ্টার। প্যারিসের কর্মসূচি বেশির ভাগ সময় শান্তিপূর্ণ থাকলেও রেন, লিওঁ, নঁত, পাউ, অর্লেয়াঁ ও তুলুজসহ কয়েকটি শহরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। কিছু এলাকায় মুখোশধারী ব্যক্তিরা সড়ক অবরোধের চেষ্টা করেন এবং পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভের ঘটনায় অন্তত ৪৪৮ জনকে আটক করা হয়েছে। ফ্রান্সের প্রধান শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে, দেশটি অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা বাড়ছে। তাদের অভিযোগ, জ্বালানি, খাদ্যপণ্য, বাড়িভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়লেও সেই তুলনায় বেতন ও পেনশন বাড়ছে না। এ পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। বেতন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান রক্ষা এবং সরকারি সেবার মান উন্নত করার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনগুলো। শিক্ষার্থীদের দাবিও এবারের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছে। প্যারিসের ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী গারাঁস ব্লেজ বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য ভালো ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি তাঁদের অভিভাবকেরাও কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে উদ্বিগ্ন। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালের কর্মী কোরিন কুচিনি কর্মীসংকট ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবের কথা তুলে ধরে বেতন এবং কর্মপরিবেশ উন্নত করার দাবি জানান। আন্দোলনের সূত্রপাত গত সেপ্টেম্বরে প্যারিসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে কর্মীসংকটের প্রতিবাদ থেকে। পরে শিক্ষার্থীরা শিক্ষায় বরাদ্দ বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে যোগ দেন। ধীরে ধীরে বেতন, পেনশন, জ্বালানির দাম এবং জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তুষ্ট শ্রমিকেরাও এতে যুক্ত হন। ফলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ক্রমে দেশজুড়ে বৃহত্তর শ্রমিক ও নাগরিক বিক্ষোভে রূপ নেয়। ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছিল। এবারের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সেই সময়ের তুলনায় আরও বেশি বলে জানিয়েছে শ্রমিক সংগঠনগুলো। বিক্ষোভের মধ্যে দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আগামী বছর মে মাসে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা আন্দোলনের প্রতি নিজেদের অবস্থান তুলে ধরছেন। বৃহস্পতিবার প্যারিসের বিক্ষোভে অংশ নেন বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ, গ্রিন পার্টির নেতা মারিন তন্দেলিয়ে এবং মধ্যপন্থী বাম রাজনীতিক রাফায়েল গ্লুকসম্যান। বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ সংবিধান অনুযায়ী টানা তৃতীয় মেয়াদে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এদিকে আন্দোলনের চাপ সামাল দিতে সরকার শ্রমিক সংগঠন ও নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নুর দপ্তর জানিয়েছে, আগামী সোমবার শ্রমিক সংগঠন ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সামাজিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বেতন ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলোর দাবি, শুধু আলোচনা নয়, বেতন বৃদ্ধি, সরকারি সেবায় অর্থায়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। সংবাদ সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, সিজিটি শ্রমিক সংগঠন
মোবাইল ফোনে খামার তৈরি, গরু-ছাগল ও মুরগি পালন করে আয় করার সুযোগ। এমন আকর্ষণীয় প্রস্তাব দিয়ে তুরস্কের হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৩ কোটি ডলার সংগ্রহ করেছিলেন মেহমেত আইদিন নামের এক যুবক। ‘চিফতলিক ব্যাংক’ নামের একটি অনলাইন গেমকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিনিয়োগ প্রকল্প শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রতারণায় পরিণত হয়। বিপুল অর্থ নিয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর কয়েক বছর আত্মগোপনে ছিলেন আইদিন। তবে শেষ পর্যন্ত নিজেই কর্তৃপক্ষের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। আলোচিত এই মামলায় ২০২৫ সালে তাঁকে ৪৫ হাজার ৩৭৬ বছর ৬ মাসের কারাদণ্ড দেন তুরস্কের একটি আদালত। তুরস্কে ২০১৬ সালে ‘চিফতলিক ব্যাংক’ বা ‘ফার্ম ব্যাংক’ নামের অনলাইন প্ল্যাটফর্মটি চালু করেন মেহমেত আইদিন। জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক গেম ফার্মভিলের আদলে তৈরি এই ব্যবস্থায় ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল জমি, গরু, ছাগল ও মুরগি কিনতে পারতেন। তবে সাধারণ গেমের সঙ্গে এর বড় পার্থক্য ছিল বাস্তব অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ। ব্যবহারকারীদের জানানো হয়েছিল, গেমে বিনিয়োগ করা অর্থ দিয়ে তুরস্কের বিভিন্ন এলাকায় বাস্তব খামার পরিচালনা করা হবে এবং সেখান থেকে পাওয়া মুনাফার একটি অংশ বিনিয়োগকারীদের দেওয়া হবে। শুরুর দিকে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত অর্থ ফেরত পাওয়ায় প্ল্যাটফর্মটির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়তে থাকে। নতুন বিনিয়োগকারীরাও লাভের আশায় এতে অর্থ জমা দিতে শুরু করেন। তুরস্কের বিভিন্ন অঞ্চলে খামার, মাংস, দুধ, মধু ও ডিম উৎপাদনসংক্রান্ত ব্যবসার কথা প্রচার করা হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের দিকে অনেক গ্রাহক নিজেদের জমা দেওয়া অর্থ তুলতে সমস্যায় পড়েন। একপর্যায়ে নতুন সদস্য নেওয়া এবং বিনিয়োগকারীদের মুনাফা দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এতে প্রকল্পটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ২০১৮ সালের মার্চে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির বিরুদ্ধে প্রতারণার তদন্ত শুরু করে। তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রকল্পটিতে বিপুলসংখ্যক মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৮ মাসে আনুমানিক ১ লাখ ৩২ হাজার মানুষের কাছ থেকে ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ নেওয়া হয়। তবে সব বিনিয়োগকারী আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করেননি। তদন্তের সময় আইদিন দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। তাঁর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়। দেশ ছাড়ার পর আইদিন উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করেন বলে তদন্তে উঠে আসে। তাঁর অবস্থান শনাক্ত করতে তুরস্কের কর্তৃপক্ষ একাধিক দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। আত্মগোপনে থাকার সময় বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহারের খবরও সামনে আসে। তবে কয়েক বছর পর ঘটনাটি অপ্রত্যাশিত মোড় নেয়। ২০২১ সালের জুলাইয়ে ব্রাজিলের সাও পাওলোতে তুরস্কের কনস্যুলেটে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেন আইদিন। এরপর তাঁকে তুরস্কে ফিরিয়ে আনা হয় এবং ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়। আত্মসমর্পণের আগে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে আইদিন দাবি করেছিলেন, কাউকে প্রতারণা করার উদ্দেশ্যে তিনি প্রকল্পটি চালু করেননি। তাঁর বক্তব্য ছিল, ব্যবহারকারীরা যেন গেম খেলার পাশাপাশি বাড়তি আয় করতে পারেন, সেটিই ছিল তাঁর লক্ষ্য। ব্যবসার পরিধি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় কিছু অসাধু ব্যক্তি সুযোগ নিয়েছেন এবং তিনিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন। পরে তদন্তকারীদের কাছে তিনি জানান, জব্দ করা সম্পদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের পাওনা পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেছিলেন। তবে আদালতে এসব বক্তব্য তাঁকে দায়মুক্তি দেয়নি। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি ইস্তাম্বুলের আনাদোলু ষষ্ঠ গুরুতর অপরাধ আদালত মামলার রায় ঘোষণা করেন। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা, অপরাধলব্ধ অর্থ পাচার এবং অপরাধী সংগঠন পরিচালনাসহ বিভিন্ন অপরাধে মেহমেত আইদিন ও তাঁর ভাই ফাতিহ আইদিনকে পৃথকভাবে ৪৫ হাজার ৩৭৬ বছর ৬ মাস করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই মামলায় আরও কয়েকজনকে সাজা দেওয়া হয়। আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় মোট ২০ জন আসামির নাম ছিল এবং হাজার হাজার মানুষের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি উঠে আসে। অনলাইন গেমের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার নামে পরিচালিত এই প্রতারণা তুরস্কের অন্যতম আলোচিত আর্থিক কেলেঙ্কারিতে পরিণত হয়। ঘটনাটি দেখিয়েছে, বাস্তব ব্যবসায় বিনিয়োগ ও অস্বাভাবিক মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কীভাবে একটি সাধারণ গেমকেও অর্থ সংগ্রহের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর আইদিনের স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী সময়ে আদালতের নজিরবিহীন দীর্ঘমেয়াদি সাজা দেশটির গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। সংবাদ সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, দ্য ন্যাশনাল।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
গাজার শিশুদের চিকিৎসায় প্রায় পৌনে দুই কোটি টাকা তুললেন বাংলাদেশের ফুটবলার হামজা চৌধুরী
নেইমারের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ, ছয় ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার আশঙ্কা
বিগ ব্যাশে মোস্তাফিজকে দলে নিতে যাচ্ছে মেলবোর্ন রেনেগেডস, বিসিবির ছাড়পত্রের অপেক্ষা
বেসবল থেকে রাগবি, এক জায়গায় ৪০টিরও বেশি মাঠ নিয়ে যাত্রা শুরু অন্টারিও স্পোর্টস এম্পায়ারের
স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের দ্বিতীয় দলকে ২৭-০ গোলে হারাল বেনিন
রাবণের দশ মাথায় ড. ইউনূস ও ইলন মাস্কের ছবি, লক্ষ্ণৌতে পোস্টার ঘিরে বিতর্ক
বিতর্কিত জলসীমায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, চীনের কড়া প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র-পাকিস্তান যুদ্ধ হলে ইসলামাবাদের পাশে থাকবে ভারত, মন্তব্যে বিতর্কে বিজেপি নেতা
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম এমন মিসাইল মিউজিয়ামে প্রদর্শন করলেন কিম জং উন
রাশিয়ার সঙ্গে ডিজেল চুক্তি নিয়ে বিরোধের জেরে জেলেনস্কিকে সরিয়ে নতুন নেতা চাইলেন ট্রাম্প
প্রাণঘাতী ব্রেইন ক্যানসার গ্লিওব্লাস্টোমার নতুন রহস্য উদঘাটন, চিকিৎসায় আশার আলো
যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের ভিটামিন কে ইনজেকশন না দেওয়ার হার দ্বিগুণ, বাড়ছে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি
ঘুম থেকে উঠে মুখের এক পাশ অবশ, কয়েক দিনেই হাঁটার ক্ষমতা হারালেন ২২ বছরের তরুণী
বাস্তবেই আছে ভ্যাম্পায়ার ও ওয়্যারউলফের মতো বিরল রোগ, শরীরে দেখা দেয় অদ্ভুত লক্ষণ
প্রচলিত কেমোথেরাপির চেয়ে বেশি কার্যকর নতুন ওষুধ, কমেছে স্তন ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি
ফ্লোরিডায় পরীক্ষামূলকভাবে চালু হচ্ছে এয়ার ট্যাক্সি, সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে উড়বে টাম্পা পর্যন্ত
টেসলার একটি সাইবারক্যাব থেকে বছরে ৫০ হাজার ডলার মুনাফার সম্ভাবনা
নিউ ইয়র্কের বাসে বদলে যাচ্ছে নিরাপত্তা, চালু হচ্ছে সংঘর্ষ প্রতিরোধ প্রযুক্তি
এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের চাপ, ৬০ হাজার কর্মীকে স্বেচ্ছায় চাকরি ছাড়ার প্রস্তাব মাইক্রোসফটের
আইফোন ডুওর ডিসপ্লের ত্রুটি স্বীকার করল অ্যাপল, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের নতুন ফোন দেওয়ার ঘোষণা
ওয়াশিংটনে প্রথমবারের মতো স্কুলে মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য হালাল খাবার চালু করছে কেন্ট জেলা
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা
ভাইকে হারিয়ে স্কুলে ফিরতেই ১২ ‘বড় ভাইয়ের’ ভালোবাসায় কাঁদল ৯ বছরের নোরা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
১০ ডলারের অপমান, ৭ লাখ ৮৪ হাজার ডলারের ভালোবাসা পেলেন চার সন্তানের বাবা
বাংলাদেশি একই পরিবারের দুই সদস্য নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে, স্বজনদের আনন্দ বার্তা
ছুটির মৌসুমে ফ্লাইট বিলম্বের তালিকায় দ্বিতীয় নিউইয়র্কের লাগার্ডিয়া বিমানবন্দর
ভবিষ্যত পরিবর্তন ঠেকাতে, হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসকে জাতীয় স্মৃতিস্তম্ভ ঘোষণা ট্রাম্পের
ওয়াশিংটনে ন্যাশনাল গার্ডের টহল বাড়ানোর অনুমোদন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিভাগে চাকরির সুযোগ , নির্দিষ্ট পদে সাইনিং বোনাস ৩০ হাজার ডলার
পাঁচ বছরে আয় ৮ গুণের বেশি, তবু অ্যামাজনের চাকরি ছেড়ে নিজের ব্যবসা শুরু করলেন নাবিল খান
ইন্টেল থেকে টেসলায়! সিনিয়র টেকনিক্যাল প্রোগ্রাম ম্যানেজার বাংলাদেশি সারোয়ার মোর্শেদ
সৌদিতে ১৯ হাজার ৬১০টি চাকরি ও প্রশিক্ষণের সুযোগ, আবেদনের নিয়ম জানুন
যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে অ্যামাজন, কর্মীদের মিলবে স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাও
দুই হাজার বছর পর রোমান স্কটল্যান্ডে মৃ ত্যু হওয়া ব্যক্তির মুখ ফিরল ডিজিটাল প্রযুক্তিতে
ঘুমের ঘোরে কারা বেশি অশা লীন কথা বলেন, গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থায় ত্রুটি, আ গু ন লাগার ঝুঁকিতে যুক্তরাষ্ট্রে হুন্দাই ও জেনেসিসের ৯৪ হাজারের বেশি গাড়ি
সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ করে নারীদের জন্য বিজ্ঞান প্রতিযোগিতা চালু বুরকিনা ফাসোতে
ডাউন সিনড্রোমের জন্য দায়ী অতিরিক্ত ক্রোমোজোম মানবকোষ থেকে সরালেন বিজ্ঞানীরা
জ্বালানি চুরি করতে গিয়ে ভুলে বাসের পয়োনিষ্কাশন ট্যাংকের বর্জ্যতে হাত দিয়ে বিপাকে চোর
ক্যাশ অ্যাপের ১৫ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ, যোগ্য গ্রাহকদের টাকা পাঠানো শুরু হচ্ছে
নিউইয়র্কে অভিবাসন অভিযান জোরদার, তৃতীয় দেশে পাঠানোর আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন অভিবাসীরা
রোদে পোড়া ব্রিটিশদের মতো লাল মুখ, ব্রাজিলে বানরের ডাকনাম ‘ইংলিশ মাঙ্কি’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্সে ফার্স্টক্লাস ফার্স্ট, শেষ বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে রুমা
বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঠেকাতে মরিয়া আইনি লড়াই, এবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে মাহমুদ খলিল
জলবায়ু ক্ষতিপূরণ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বড় লড়াই, একদিকে তেল কোম্পানি অন্যদিকে বোল্ডার
হার্ভার্ডের ২২০ কোটি ডলারের গবেষণা অনুদান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আদালতে লড়াই
নিউইয়র্কে এআই নিয়ে ঐতিহাসিক শুনানি, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি কাউন্সিল
জাল সনদে সুপ্রিম কোর্টে ১৯ বছর চাকরি, এবার ৪২ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ
বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৮ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষক বুলিংয়ের শিকার, নম্বর বাড়াতেও চাপে শিক্ষকরা
ইরাসমাস মুন্ডুসে ২০২৭ সালের স্কলারশিপ আবেদন শুরু, মাসে প্রায় ১ লাখ ৯৬ হাজার টাকা ভাতা
রিসার্চ অভিজ্ঞতা ছাড়াই বিদেশে মাস্টার্সের সুযোগ, জেনে নিন পাঁচটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপের বিস্তারিত
গাজা থেকে লন্ডনের ইম্পেরিয়াল কলেজে ফিলিস্তিনি তরুণী হায়ার স্বপ্নযাত্রা
বিদেশে মাস্টার্সে ভর্তির আগে বিশ্ববিদ্যালয় বাছাইয়ে ১৫ বিষয় জানা জরুরি, জানুন বিস্তারিত
সূরা ফাতিহার সাত আয়াত যেভাবে বদলে দিল ড. ফেরদৌস সালেহীনের জীবনদৃষ্টি
জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারের কমিউনিটির বড় সহায়তা, ৮ লাখ ডলারের অনুদান
খ্রিস্টধর্ম প্রচারে সৌদি আরবে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ, সিস্টার ডেইজির জীবনে কী ঘটেছিল
নবরাত্রিতে গরবা নাচে মামদানি, মন্দিরে পুরোহিতের আশীর্বাদ নিয়ে আলোচনায় নিউইয়র্কের মেয়র
লাইভে প্রার্থনা করছিলেন পুরোহিত, মুহূর্তেই মাথায় ভেঙে পড়ল বিশাল ক্রুশ!
চারজনের পরিবার চালাতে বছরে ৩ লাখ ২৯ হাজার ডলার প্রয়োজন, সবচেয়ে ব্যয়বহুল ম্যাসাচুসেটস
এক রাতের আগুনে শেষ পুরো পরিবার, ব্রঙ্কসে প্রাণ গেল ১১ বছরের শিশুসহ চারজনের
ক্যানসার আক্রান্ত নারীকে হাসাতে সারা বছর বাড়িতে কঙ্কাল সাজিয়ে রাখলেন প্রতিবেশী
১ নভেম্বর থেকে স্বাস্থ্যবিমায় নতুন সুযোগ, ২০২৭ সালের চিকিৎসা খরচ কমাতে যা করবেন
যুক্তরাষ্ট্রের ৩ অঙ্গরাজ্যে আটক অভিবাসীদের বন্ড শুনানি ছাড়াই আটকের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রে ৬ মাসের বেশি বেকার এমন মানুষের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, নির্বাচনের আগে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রে সঞ্চয়ের হার চার বছরের সর্বনিম্নে, নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হিমশিম
মিশিগানসহ ৪৩টি স্টেটস এ বাড়ির ডাউন পেমেন্টে সুদমুক্ত ঋণ দিবে জিলো
যুক্তরাষ্ট্রে চেকিং অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স গড়ে ১৫ হাজার ডলার, অধিকাংশের সঞ্চয় অনেক কম
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দামে নাভিশ্বাস, খাবারের খরচ বাঁচাতে খাবার বাদ দিচ্ছেন অর্ধেক মানুষ
১৯০ শিশুসহ ১৯১ জনকে হত্যার দায়ে ধর্মীয় নেতার ২০০ বছরের কারাদণ্ড
মেক্সিকোয় মাদক কারবারিকে ছাড়তে ২০ লাখ ডলার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, বিচারক আটক
গালি দেয়ায় ৭ বছরের শিশুর মুখে সাবান ঢোকানোর চেষ্টায় ৩৪ বছর বয়সী ব্যক্তি গ্রেপ্তার
কিশোরীকে যৌন নিপীড়নের দায় স্বীকার করেও কারাদন্ড থেকে রেহাই পেলেন টিভি অনুষ্ঠানের শিক্ষক
উচ্চ শব্দে গান বাজানো নিয়ে বিরোধ, ১০ বছরের ছেলের গুলিতে প্রাণ গেল কিশোরীর
যারা ভারতে আর্থিক সংকটে ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় তাদের বাড়ি-গাড়ি! প্রবাসজীবন নিয়ে বিতর্ক
ইলন মাস্কের অভিনব অ্যাপের ধারণা, বিলিয়নিয়াররা মিটিয়ে দেবেন সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল ও বাড়িভাড়া
২৩ বছর আলাদা থাকার পর ডিভোর্স, স্ত্রীকে পুরো সম্পত্তিই দিতে চান স্বামী
প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ধীরে ধীরে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চাইছে, আগে থেকেই যেসব লক্ষণ চিনবেন অভিভাবকেরা
মেয়ের বিয়ে দেখে যেতে পারবেন না, তাই মৃত্যুর আগে ১১ বছরের মেয়েকে কনে সাজালেন ক্যান্সার আক্রান্ত বাবা
ফ্লোরিডায় প্লেন দুর্ঘটনায় নিহত ২০ বছরের সহ-পাইলট নাথালিয়া, ১৭ বছরেই পেয়েছিলেন পাইলট লাইসেন্স
নিউইয়র্কে সন্ধ্যার পর বাড়ছে দুর্ঘ টনার ঝুঁকি, চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানে পুলিশ
ফ্লোরিডায় ১৪ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধের পক্ষে আদালতের রায়
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আগ্রহী ইরান তবে চাপের মধ্যে নয়: পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘে বাংলাদেশের ‘পিঙ্ক বাস’ নারীর নিরাপদ যাতায়াতের উদ্যোগ তুলে ধরলেন শামা ওবায়েদ
কানাডায় দুই লাখ অভিবাসীর পিআরের সুযোগ, বাংলাদেশিরাও পেতে পারেন সুবিধা
জীবনে শান্তি খুঁজতে ৪৩ বছরে ৫৩ বিয়ে, এখন এক স্ত্রী নিয়েই থাকতে চান সৌদি নাগরিক
ভিপি নির্বাচিত হয়ে ১০৫ বছরের ইতিহাস বদলে দিলেন ভারতের মুসলিম তরুণী
গর্ভবতী হওয়ার অভিনয়, জেন্ডার রিভিল পার্টির পর পুতুলকে নবজাতক সাজালেন তরুণী!
মরিশাসে কর্মক্ষেত্রে কাচভর্তি ভারী কন্টেইনারের নিচে চাপা পড়ে তৎক্ষনাৎ ৩ বাংলাদেশির মৃত্যু
সিলেটে নিজ বাসার বাথরুমে আমেরিকা প্রবাসী মো. নুরুল ইসলামের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার
জাতীয় চার নেতার নাম বাদ দিয়ে কোস্ট গার্ডের পাঁচ জাহাজের নতুন নাম
বাংলাদেশের রেলপথে ভারতীয় বেসরকারি ট্রেন চালানোর প্রস্তাব, তিন রুটে ২৪ ঘণ্টা মালবাহী চলাচল চায় দিল্লি
প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’, বিমানবন্দর থেকে ব্যাংকিংয়ে মিলতে পারে ১০ ধরনের সুবিধা