বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও প্রখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট তাঁর দাতব্য অনুদানের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। এর ফলে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তাঁর ফাউন্ডেশনের জন্য প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল হারাতে বসেছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানো ৯৫ বছর বয়সি বাফেট দীর্ঘদিন ধরে গেটস ফাউন্ডেশনে অনুদান দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে তিনি তাঁর সম্পদের বাকি অংশ নিজ পরিবারের সদস্যদের পরিচালিত চারটি ফাউন্ডেশনে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে ১৩৮.৮ বিলিয়ন ডলারের মালিক বাফেট বিশ্বের দশম শীর্ষ ধনী। ২০০৬ সালে বাফেট আজীবন তাঁর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার প্রতি বছর ‘গেটস ফাউন্ডেশন’-এ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি ২০১০ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের সঙ্গে মিলে ‘দ্য গিভিং প্লেজ’ নামে একটি দাতব্য উদ্যোগও শুরু করেছিলেন তিনি, যার উদ্দেশ্য ছিল বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের অর্ধেকের বেশি দান করতে উৎসাহিত করা। তবে জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে বিল গেটসের নাম জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। গেটস যদিও কোনো ধরনের অপরাধের কথা অস্বীকার করে ওই বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারীর সঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য ‘অনুশোচনা’ প্রকাশ করেছেন, তবে এর জের ধরেই বাফেট গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে থেকে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের শেয়ার পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা থেকে এখন গেটস ফাউন্ডেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাফেটের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁর অবশিষ্ট শেয়ার আগামী আট বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাফেট পরিবারের সদস্যদের যুক্ত থাকা চারটি ফাউন্ডেশনে দান করা হবে। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বাফেট গেটসের দাতব্য সংস্থায় প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। অনুদান বন্ধের বিষয়ে গেটস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা বাফেটের অতীতের অভাবনীয় অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ এবং বিল গেটসের নিজস্ব ২০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম আর্থিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানেই থাকবে। গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও বিল গেটসের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ করে দেননি বাফেট। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের বন্ধু নির্বাচনে বা মানুষ চিনতে ভুল হতেই পারে এবং গেটসের জায়গায় থাকলে হয়তো তারও এমন ভুল হতে পারত। সম্প্রতি ওমাহাতে গেটসের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা সময়ও কাটিয়েছেন তিনি। তবে দাতব্য অনুদানের মতো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গেটসের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই বাফেট শেষ পর্যন্ত এই কঠোর আর্থিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে করা এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সম্প্রচারিত জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ অংশ নিয়ে ভ্যান্স বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মীদের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, তার মতে বাইডেনকে এমনভাবে আইসক্রিম খেতে দেখানো হতো, যা ছিল “সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ” উপস্থাপনা। তিনি বলেন, “আমি যেটা বুঝতে পারিনি, সেটা হলো খারাপ স্টাফ ওয়ার্ক। তারা তাকে এমনভাবে আইসক্রিম খাওয়াত, যা ছিল কল্পনা করা যায় এমন সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ।” ভ্যান্সের এ মন্তব্যের পর পডকাস্টের সঞ্চালক জো রগান বলেন, তিনি আগে বিষয়টি সেভাবে খেয়ালই করেননি এবং এটিকে “খারাপ অপটিকস” বা জনসমক্ষে উপস্থাপনার দুর্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্তব্যটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী ভ্যান্সকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন যে, একটি সাধারণ আইসক্রিম খাওয়ার দৃশ্যকে তিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে “ইঙ্গিতপূর্ণ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এ নিয়ে অসংখ্য মিম ও সমালোচনামূলক পোস্টও প্রকাশিত হয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ভ্যান্স নাকি বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়াকে “যৌনতার সঙ্গে” যুক্ত করেছেন। কিন্তু পডকাস্টের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি “suggestive” বা “ইঙ্গিতপূর্ণ” শব্দটি ব্যবহার করলেও সরাসরি যৌনতা বা “sex” শব্দের উল্লেখ করেননি। ফলে এ ধরনের দাবিকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে নয়। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়েও কথা বলেন। তবে নীতিগত আলোচনার চেয়ে বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে তার মন্তব্যই সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের অধীনে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় মাত্র একদিনেই রেকর্ড ২৩৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্যমতে, রিও গ্র্যান্ড ভ্যালি অঞ্চলে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি একদিনে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের নতুন রেকর্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৮ জুনের এই বড় পরিসরের অভিযানে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন এবং মাদক রাখার মতো গুরুতর অপরাধের সাজা খাটার পূর্ব-রেকর্ড রয়েছে। আইসিই-এর হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের পরিচালক হুয়ান আগুডেলো এক বিবৃতিতে বলেন, "জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সততা ফিরিয়ে আনাই আইসিই-এর চলমান লক্ষ্য। সমাজ থেকে একজন একজন করে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করে আমেরিকান সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করব।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই রেকর্ড গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ম্যানুয়েল মোরালেস-জেরোনিমো নামে এক মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যাকে 'পায়সাস' গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আইসিই জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মারধর করে জখম করা, মাদক ও গাঁজা রাখা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং তিনবার অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া এই অভিযানে জোসে আলফ্রেডো কাস্তিলো-মেন্ডোজা নামের আরও এক মেক্সিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও আগে থেকে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন ও অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের রেকর্ড রয়েছে। এদিকে, আইসিই-এর 'ট্রাফিক স্টপ' বা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। তল্লাশিকালে সাম্প্রতিক কিছু প্রাণঘাতী ঘটনার জেরে ওঠা সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার এই ঘোষণার দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিএইচএস-এর ওই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আইসিই-এর ট্রাফিক স্টপকে 'অপরাধ দমনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর হাতিয়ার' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই তল্লাশি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রচলিত ভিসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের এফ ভিসা আগের মতো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য কার্যকর থাকবে না; বরং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সীমাবদ্ধ করা হবে। প্রস্তাবিত নিয়ম অনুযায়ী, বেশিরভাগ শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ চার বছর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পেতে পারেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে এফ-১ ভিসায় থাকা শিক্ষার্থীরা সাধারণত “ডিউরেশন অব স্ট্যাটাস” নীতির আওতায় থাকেন। অর্থাৎ, তারা নির্ধারিত শিক্ষা কার্যক্রমে নিয়ম মেনে যুক্ত থাকলে পড়াশোনা শেষ হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান। নতুন নীতিতে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন এনে নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের আওতায় যারা চার বছরের মধ্যে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন না, তাদের অতিরিক্ত সময়ের জন্য আলাদাভাবে অনুমতি বা ভিসা সম্প্রসারণের আবেদন করতে হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা, ডক্টরাল প্রোগ্রাম বা জটিল একাডেমিক কার্যক্রমে থাকা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নতুন নীতিতে শুধু শিক্ষার্থী ভিসা নয়, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচির জে ভিসা এবং বিদেশি সাংবাদিকদের আই ভিসার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনা রয়েছে। জে ভিসাধারীদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ চার বছরের সীমা এবং সাংবাদিকদের ভিসার ক্ষেত্রে আরও কম সময়ের সীমা নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানিয়েছে, ভিসা ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের তথ্য ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভাগের মতে, বর্তমান ব্যবস্থায় কিছু ক্ষেত্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ঐচ্ছিক কর্মসংস্থানের সুযোগ, বিশেষ করে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি বা ওপিটি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হতে পারে। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা শেষে নির্দিষ্ট শর্তে যুক্তরাষ্ট্রে কাজের সুযোগ পান। এছাড়া প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার জন্য দেওয়া সময়সীমা কমানোর বিষয়টিও রয়েছে। বর্তমান ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড কমিয়ে ৩০ দিন করার পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য আসেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রস্তাবিত নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগে সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী সিদ্ধান্তের পরই নতুন নিয়মের চূড়ান্ত রূপ পরিষ্কার হবে।
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও প্রখ্যাত বিনিয়োগকারী ওয়ারেন বাফেট তাঁর দাতব্য অনুদানের সিদ্ধান্তে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছেন। এর ফলে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস তাঁর ফাউন্ডেশনের জন্য প্রায় ১৪০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল হারাতে বসেছেন। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়ানো ৯৫ বছর বয়সি বাফেট দীর্ঘদিন ধরে গেটস ফাউন্ডেশনে অনুদান দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি সেই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসে তিনি তাঁর সম্পদের বাকি অংশ নিজ পরিবারের সদস্যদের পরিচালিত চারটি ফাউন্ডেশনে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে ১৩৮.৮ বিলিয়ন ডলারের মালিক বাফেট বিশ্বের দশম শীর্ষ ধনী। ২০০৬ সালে বাফেট আজীবন তাঁর বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের শেয়ার প্রতি বছর ‘গেটস ফাউন্ডেশন’-এ দান করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এমনকি ২০১০ সালে বিল গেটস ও মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের সঙ্গে মিলে ‘দ্য গিভিং প্লেজ’ নামে একটি দাতব্য উদ্যোগও শুরু করেছিলেন তিনি, যার উদ্দেশ্য ছিল বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের অর্ধেকের বেশি দান করতে উৎসাহিত করা। তবে জেফরি এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে বিল গেটসের নাম জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি বদলে যায়। গেটস যদিও কোনো ধরনের অপরাধের কথা অস্বীকার করে ওই বিতর্কিত অর্থলগ্নিকারীর সঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য ‘অনুশোচনা’ প্রকাশ করেছেন, তবে এর জের ধরেই বাফেট গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। বিবিসি নিশ্চিত করেছে যে, বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে থেকে প্রতি বছর বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের শেয়ার পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর তালিকা থেকে এখন গেটস ফাউন্ডেশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। বাফেটের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, তাঁর অবশিষ্ট শেয়ার আগামী আট বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০৩৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে বাফেট পরিবারের সদস্যদের যুক্ত থাকা চারটি ফাউন্ডেশনে দান করা হবে। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বাফেট গেটসের দাতব্য সংস্থায় প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। অনুদান বন্ধের বিষয়ে গেটস ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা বাফেটের অতীতের অভাবনীয় অবদানের জন্য কৃতজ্ঞ এবং বিল গেটসের নিজস্ব ২০০ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির ওপর ভর করে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম আর্থিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানেই থাকবে। গেটস ফাউন্ডেশনের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করলেও বিল গেটসের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক পুরোপুরি শেষ করে দেননি বাফেট। সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এপস্টেইন কেলেঙ্কারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের বন্ধু নির্বাচনে বা মানুষ চিনতে ভুল হতেই পারে এবং গেটসের জায়গায় থাকলে হয়তো তারও এমন ভুল হতে পারত। সম্প্রতি ওমাহাতে গেটসের সঙ্গে কয়েক ঘণ্টা সময়ও কাটিয়েছেন তিনি। তবে দাতব্য অনুদানের মতো বড় সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে গেটসের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পৃক্ততার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করেই বাফেট শেষ পর্যন্ত এই কঠোর আর্থিক সিদ্ধান্তটি নিয়েছেন।
ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) শতাধিক ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। শেষ পর্যন্ত প্রস্তাবটি পাস না হলেও, এই ভোটাভুটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অভ্যন্তরে ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্রমবর্ধমান নীতিগত বিভাজনকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচক হিসেবে পরিচিত রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি একটি সংশোধনী প্রস্তাব উত্থাপন করেন। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়। ভোটাভুটিতে সংশোধনীটি ৩১৪ ভোটে নাকচ হয়। এর বিপক্ষে ভোট পড়ে ৩১৪টি এবং পক্ষে পড়ে ১০৪টি ভোট। তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পক্ষে দেওয়া ১০৪ ভোটের মধ্যে ১০৩ জনই ছিলেন ডেমোক্র্যাট এবং একজন ছিলেন রিপাবলিকান সদস্য। অন্যদিকে ৯৮ জন ডেমোক্র্যাট প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন এবং ১০ জন ভোটদানে বিরত থাকেন। এই ফলাফল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েল নীতি নিয়ে মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট করেছে। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যেও ভিন্ন অবস্থান দেখা গেছে। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যালঘু নেতা হাকিম জেফরিস এবং পিট অ্যাগুইলার সংশোধনীর বিপক্ষে ভোট দেন। তবে দলের হুইপ ক্যাথরিন ক্লার্ক প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়ে আলোচনার জন্ম দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত। মাত্র দুই বছর আগে একই ধরনের একটি প্রস্তাবে ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা বন্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন মাত্র ৩৭ জন ডেমোক্র্যাট। এবার সেই সংখ্যা বেড়ে ১০৩-এ পৌঁছেছে। ভোটের পর কংগ্রেসনাল প্রোগ্রেসিভ ককাসের চেয়ারম্যান গ্রেগ ক্যাসার বলেন, প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্র্যাট সদস্য ইসরায়েলের কাছে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা পাঠানোর পক্ষে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তার দাবি, এই ভোট ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের প্রতি একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। তার ভাষায়, যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষেত্রে নিঃশর্ত সমর্থনের সময় শেষ হয়ে আসছে এবং এই ভোট ভবিষ্যতের মার্কিন নীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ক্যাথরিন ক্লার্ক বলেছেন, রিপাবলিকানদের আনা সংশোধনীটি তার দৃষ্টিতে ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কারণ এতে গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য মানবিক সহায়তাও বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কর্মকাণ্ডের ক্ষেত্রে সামরিক সহায়তা পুনর্বিবেচনার বার্তা দিতেই প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে ভোটদানে বিরত থাকা ডেমোক্র্যাট সদস্য জ্যারেড হাফম্যান বলেন, ডেমোক্র্যাটদের একটি বড় অংশের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। দলের অভ্যন্তরে বিভাজন আরও গভীর না করতে ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ভোট নির্দেশনা বা 'হুইপ' জারি করেনি। ফলে সদস্যরা নিজ নিজ বিবেচনা অনুযায়ী ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। বিশ্লেষকদের মতে, সংশোধনীটি পাস না হলেও এই ভোটাভুটি মার্কিন রাজনীতিতে ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা এবং গাজা যুদ্ধ নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অবস্থানের পরিবর্তনশীল চিত্রকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে। আগামী দিনে এ ইস্যুতে কংগ্রেসে আরও বিতর্ক এবং নীতিগত পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। সূত্র: সিএনএন ও আল-জাজিরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলার (ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটন) মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে ফেডারেল বিচারকদের সর্বসম্মত ভোটে নিয়োগ পাওয়ার এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে অভিজ্ঞ প্রসিকিউটর রজার রোগফকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থা ও নির্বাহী বিভাগের মধ্যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বুধবার সকালে সিয়াটলের ফেডারেল বিচারকরা রজার রোগফকে অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি হিসেবে নিয়োগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে পদটি শূন্য থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রচলিত আইনি বিধান অনুযায়ী বিচারকরা এই নিয়োগ দেন। শপথ গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগফ হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে একটি ই-মেইল পান, যেখানে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। রোগফ দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ফেডারেল প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক ছিলেন এবং পরে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্বাধীন তদন্ত সংস্থার পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন। আইন প্রয়োগ ও বিচারিক অভিজ্ঞতার কারণে তিনি সিয়াটলের আইন অঙ্গনে সুপরিচিত একটি নাম। বরখাস্তের পর রোগফ বলেন, ফেডারেল বিচারকদের আস্থা অর্জন করা তার জন্য বড় সম্মানের বিষয়। একই সঙ্গে তিনি জানান, প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে রোগফকে অপসারণ করেছেন। প্রশাসনের দাবি, বিচারকদের এই নিয়োগ নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় ছাড়াই করা হয়েছে এবং প্রেসিডেন্টের মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করা হয়েছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইনে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দীর্ঘ সময় কোনো পদ শূন্য থাকলে সংশ্লিষ্ট জেলার ফেডারেল বিচারকদের অন্তর্বর্তীকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব ওয়াশিংটনে দীর্ঘদিন স্থায়ীভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো মার্কিন অ্যাটর্নি না থাকায় বিচারকরা সেই বিধান অনুসরণ করে রোগফকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ঘটনার পর ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্যাটি মারে প্রশাসনের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রজার রোগফ একজন অভিজ্ঞ ও সম্মানিত আইনজীবী এবং বিচারকদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তকে অল্প সময়ের মধ্যে বাতিল করা উদ্বেগজনক। রোগফ ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি বরখাস্তের বৈধতা নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। ফলে বিষয়টি এখন আদালতে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই মামলার মাধ্যমে ফেডারেল বিচারকদের নিয়োগক্ষমতা এবং প্রেসিডেন্টের অপসারণ-ক্ষমতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন আইনি বিতর্কের সূচনা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের অধীনে এক সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)। মঙ্গলবার সংস্থাটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় মাত্র একদিনেই রেকর্ড ২৩৮ জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্যমতে, রিও গ্র্যান্ড ভ্যালি অঞ্চলে পরিচালিত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি একদিনে সর্বোচ্চ গ্রেপ্তারের নতুন রেকর্ড। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ১৮ জুনের এই বড় পরিসরের অভিযানে যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন এবং মাদক রাখার মতো গুরুতর অপরাধের সাজা খাটার পূর্ব-রেকর্ড রয়েছে। আইসিই-এর হার্লিনজেন ফিল্ড অফিসের পরিচালক হুয়ান আগুডেলো এক বিবৃতিতে বলেন, "জননিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং আমাদের দেশের অভিবাসন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও সততা ফিরিয়ে আনাই আইসিই-এর চলমান লক্ষ্য। সমাজ থেকে একজন একজন করে অপরাধী অবৈধ অভিবাসীদের বিতাড়িত করে আমেরিকান সম্প্রদায়কে নিরাপদ রাখতে আমরা সম্ভাব্য সবকিছুই করব।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং চিহ্নিত অপরাধীদের সমাজ থেকে বিতাড়িত করার নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই এই রেকর্ড গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ম্যানুয়েল মোরালেস-জেরোনিমো নামে এক মেক্সিকান নাগরিক রয়েছেন, যাকে 'পায়সাস' গ্যাংয়ের সদস্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আইসিই জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই মারধর করে জখম করা, মাদক ও গাঁজা রাখা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং তিনবার অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া এই অভিযানে জোসে আলফ্রেডো কাস্তিলো-মেন্ডোজা নামের আরও এক মেক্সিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইসিই-এর তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধেও আগে থেকে অপহরণের চেষ্টা, যৌন নিপীড়ন ও অবৈধভাবে পুনরায় প্রবেশের রেকর্ড রয়েছে। এদিকে, আইসিই-এর 'ট্রাফিক স্টপ' বা রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করার প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করার একটি উদ্যোগ নিয়েছিল ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস)। তল্লাশিকালে সাম্প্রতিক কিছু প্রাণঘাতী ঘটনার জেরে ওঠা সমালোচনার মুখে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মঙ্গলবার এই ঘোষণার দিনেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ডিএইচএস-এর ওই উদ্যোগের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি আইসিই-এর ট্রাফিক স্টপকে 'অপরাধ দমনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকর হাতিয়ার' হিসেবে আখ্যা দিয়ে এই তল্লাশি প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে নিয়ে করা এক মন্তব্যের জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি সম্প্রচারিত জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘দ্য জো রগান এক্সপেরিয়েন্স’-এ অংশ নিয়ে ভ্যান্স বাইডেন প্রশাসনের সাবেক কর্মীদের সমালোচনা করতে গিয়ে বলেন, তার মতে বাইডেনকে এমনভাবে আইসক্রিম খেতে দেখানো হতো, যা ছিল “সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ” উপস্থাপনা। তিনি বলেন, “আমি যেটা বুঝতে পারিনি, সেটা হলো খারাপ স্টাফ ওয়ার্ক। তারা তাকে এমনভাবে আইসক্রিম খাওয়াত, যা ছিল কল্পনা করা যায় এমন সবচেয়ে অদ্ভুত ও ইঙ্গিতপূর্ণ।” ভ্যান্সের এ মন্তব্যের পর পডকাস্টের সঞ্চালক জো রগান বলেন, তিনি আগে বিষয়টি সেভাবে খেয়ালই করেননি এবং এটিকে “খারাপ অপটিকস” বা জনসমক্ষে উপস্থাপনার দুর্বল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। মন্তব্যটির ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। অনেক ব্যবহারকারী ভ্যান্সকে ব্যঙ্গ করে মন্তব্য করেন যে, একটি সাধারণ আইসক্রিম খাওয়ার দৃশ্যকে তিনি অপ্রয়োজনীয়ভাবে “ইঙ্গিতপূর্ণ” হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। এ নিয়ে অসংখ্য মিম ও সমালোচনামূলক পোস্টও প্রকাশিত হয়। তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, ভ্যান্স নাকি বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়াকে “যৌনতার সঙ্গে” যুক্ত করেছেন। কিন্তু পডকাস্টের সম্পূর্ণ সাক্ষাৎকারে তিনি এমন কোনো বক্তব্য দেননি। তিনি “suggestive” বা “ইঙ্গিতপূর্ণ” শব্দটি ব্যবহার করলেও সরাসরি যৌনতা বা “sex” শব্দের উল্লেখ করেননি। ফলে এ ধরনের দাবিকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা বা রাজনৈতিক সমালোচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে, সরাসরি উদ্ধৃতি হিসেবে নয়। প্রায় তিন ঘণ্টার ওই সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি, জেফ্রি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নথি প্রকাশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ কৌশল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বিষয়েও কথা বলেন। তবে নীতিগত আলোচনার চেয়ে বাইডেনের আইসক্রিম খাওয়া নিয়ে তার মন্তব্যই সামাজিক মাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ব্রেইনার্ডে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার ঘটনাকে ঘিরে শোক, ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিহত কিশোরী অ্যালেক্সিসের পরিবার দাবি করেছে, স্কুলে দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠীদের বুলিংয়ের শিকার হওয়ার পরই সে এই চরম সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং অভিযোগ জমা পড়েনি। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পর্যালোচনা এবং শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। অ্যালেক্সিসের বাবা-মা শ্যান্টেল স্মিথ ও ব্রেন্ট উইলিসের অভিযোগ, তাদের মেয়ে ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে পড়ার সময় একদল সহপাঠী তার গায়ের রং, নাকের আকৃতি ও চেহারা নিয়ে নিয়মিত অপমান করত। তাদের দাবি, অ্যালেক্সিস বিষয়টি বন্ধু, পরিবারের সদস্য এমনকি স্কুলের কিছু কর্মীকেও জানিয়েছিল। কিন্তু এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কখনো পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মন্তব্যের মধ্যে বর্ণবিদ্বেষমূলক আচরণও ছিল। তারা মনে করেন, স্কুল কর্তৃপক্ষ সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা নিলে হয়তো এই মর্মান্তিক ঘটনা এড়ানো যেত। ঘটনার পর দায়িত্ব নেওয়া ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসের সুপারিনটেনডেন্ট চিপ র্যাঙ্কিন বলেন, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে গভীর শোক নেমে এসেছে। তিনি জানান, স্কুল প্রশাসনের নথিতে অ্যালেক্সিসকে ঘিরে কোনো আনুষ্ঠানিক বুলিং রিপোর্ট নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকলেই যে বুলিং হয়নি, এমনটি বলা যায় না। র্যাঙ্কিন বলেন, বর্তমানে অনেক বুলিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ঘটে, যা স্কুল সময়ের বাইরে হওয়ায় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জড়াতে না চাওয়ায় ঘটনাগুলোও আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় না। তিনি জানান, অ্যালেক্সিসের মৃত্যুর পরপরই জেলার সংকট মোকাবিলা দল সক্রিয় করা হয়েছে। ফরেস্টভিউ মিডল স্কুলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও পরিবারের সদস্যদের সহায়তায় ৩০টিরও বেশি মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের নীতিমালা অনুযায়ী যেকোনো বুলিং অভিযোগ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত করা হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরিস্থিতি অনুযায়ী ইন-স্কুল বা আউট-অব-স্কুল সাসপেনশন, বহিষ্কার, এমনকি প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে। র্যাঙ্কিন বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষের আগে বুলিং শনাক্তকরণ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং অভিযোগ গ্রহণ ও যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বুলিং প্রতিরোধ কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং স্কুলে অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এদিকে মিনেসোটা ডিপার্টমেন্ট অব এডুকেশনের শৃঙ্খলাবিষয়ক তথ্য অনুযায়ী, ব্রেইনার্ড পাবলিক স্কুলসে বুলিং ও হয়রানির ঘটনা গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে যেখানে এমন ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র তিনটি, সেখানে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১০-এ। ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে এ সংখ্যা আরও বেড়ে ২৫-এ পৌঁছায়। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বুলিংয়ের ঘটনায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও কঠোর হয়েছে। ইন-স্কুল সাসপেনশনের পাশাপাশি আউট-অব-স্কুল সাসপেনশনও আগের তুলনায় বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। অ্যালেক্সিসের মৃত্যু আরও বেশি আলোচনায় এসেছে, কারণ এর মাত্র তিন সপ্তাহ আগে একই স্কুলের আরেক শিক্ষার্থীও আত্মহত্যা করেছিল। দুই ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো সম্পর্কের প্রমাণ পাওয়া না গেলেও পরপর দুটি মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, বুলিং প্রতিরোধ এবং স্কুল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পুরো ঘটনা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষাপরিবেশ নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর গাজার তুফাহ এলাকায় একটি বিমান হামলায় দুজন নিহত হন। পূর্ব গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় ট্যাংকের গোলায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। এছাড়া পশ্চিম গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি তাঁবুতে বিমান হামলায় একজন এবং দক্ষিণের খান ইউনিসে একটি গাড়িতে হামলায় আরও একজন নিহত হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় একটি আবাসিক ভবনেও বিমান হামলার খবর দিয়েছেন। এ ঘটনাগুলোর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। তবে ইসরায়েল বরাবরের মতোই বলছে, গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলা ঠেকাতেই তারা লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান পরিচালনা করছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দাবি, গত অক্টোবরে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ১০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই বেসামরিক। হামাস তাদের নিজস্ব যোদ্ধাদের হতাহতের সংখ্যা নিয়মিত প্রকাশ করে না। রয়টার্স স্বাধীনভাবে এ তথ্য যাচাই করতে পারেনি। অন্যদিকে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা এসিএলইডি জানিয়েছে, জুন মাসে গাজায় হামাস ও অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান ও ড্রোন হামলার সংখ্যা ৪০টির বেশি ছিল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটিই এক মাসে সর্বোচ্চ হামলার সংখ্যা। সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সহকারী গবেষণা ব্যবস্থাপক নাসের খদুর বলেছেন, আগামী অক্টোবরে ইসরায়েলের আইনসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের মুখে হামাসের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিরাপত্তা অবস্থান নিতে পারেন। ইসরায়েলের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের সীমান্তপারের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন। এর জবাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। উভয় পক্ষের এই হতাহতের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে কানাডার বৃহত্তম শহর টরন্টো। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা আইকিউএয়ার–এর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিশ্বের বড় শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ বায়ুমানের তালিকায় শীর্ষে উঠে আসে টরন্টো। এ সময় শহরটি ভারতের নয়াদিল্লি ও কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসাকেও ছাড়িয়ে যায়। কানাডার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ কানাডা টরন্টো ও দক্ষিণ অন্টারিওর বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বায়ুমান সতর্কতা জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনীয় বাইরে না যাওয়া, ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলা এবং শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ঘরের ভেতরে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। দাবানলের ধোঁয়ায় টরন্টোর আকাশ হলুদ-ধূসর রঙ ধারণ করেছে এবং অনেক এলাকায় দৃশ্যমানতা কমে গেছে। শহরের বায়ুমান স্বাস্থ্য সূচক (AQHI) কিছু সময়ের জন্য ১০+, অর্থাৎ ‘অত্যন্ত উচ্চ স্বাস্থ্যঝুঁকি’ পর্যায়ে পৌঁছে যায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিস্থিতির মূল কারণ উত্তর-পশ্চিম অন্টারিওতে চলমান শতাধিক বড় দাবানল। কানাডাজুড়ে বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে শতাধিক এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে। চলতি মৌসুমে ইতোমধ্যে প্রায় ১৯ লাখ হেক্টর বনভূমি পুড়ে গেছে। দাবানলের ধোঁয়া শুধু কানাডায় সীমাবদ্ধ নেই। শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহের কারণে এটি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্কসহ একাধিক অঙ্গরাজ্যে বায়ুমান সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, দাবানলের ধোঁয়ায় থাকা পিএম ২.৫ নামে অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, হৃদ্রোগের ঝুঁকি এবং চোখ ও গলায় জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের পাশাপাশি সুস্থ মানুষকেও সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক আবহাওয়া দাবানলের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ধোঁয়াজনিত বায়ুদূষণের ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা যেতে পারে।
জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ইওয়াতে অঞ্চলে এশীয় কালো ভালুকের ধারাবাহিক অনুপ্রবেশে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক বাড়ি, খামার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একই ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। খাদ্যের সন্ধানে ভালুকগুলো বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে ভেতরে ঢুকছে, হিমঘর খুলে খাবার খেয়ে ফেলছে এবং দোকান থেকে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ফাঁদ বসানো, বিদ্যুৎচালিত বেড়া স্থাপন এবং অতিরিক্ত নজরদারি শুরু করেছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ইওয়াতে অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ১৪টি অনুপ্রবেশের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অধিকাংশ ঘটনাই একই এশীয় কালো ভালুকের কাজ। প্রাণীটি মানুষের উপস্থিতি উপেক্ষা করে বারবার বসতবাড়িতে প্রবেশ করছে, যা স্বাভাবিক আচরণের তুলনায় অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটেছে শিজুকুইশি এলাকায়। ৮৭ বছর বয়সী এক বাসিন্দা রান্নাঘর থেকে শব্দ শুনে সেখানে গিয়ে দেখেন, একটি বড় আকারের কালো ভালুক হিমঘরের দরজা খুলে ভেতরের খাবার খাচ্ছে। ঘটনাটি দেখে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পরে ভালুকটি সেখান থেকে পালিয়ে যায়। তদন্তে জানা গেছে, একই ভালুক একটি খামারে কয়েকবার ঢুকে পশুখাদ্য খেয়েছে। এছাড়া একাধিক বাড়ি থেকে চিনি, বিস্কুট, শুকনো খাবার এবং ঐতিহ্যবাহী জাপানি মিষ্টি খাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। একটি মিষ্টির দোকানে ঢুকে প্রস্তুত খাবার নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাপানে মানুষ ও ভালুকের সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বনাঞ্চলে প্রাকৃতিক খাদ্যের সংকট, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, মানুষের বসতি বনাঞ্চলের আরও কাছে বিস্তৃত হওয়া এবং গ্রামীণ এলাকায় জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় ভালুক মানুষের বসতিতে প্রবেশে আরও সাহসী হয়ে উঠছে। ইওয়াতে প্রশাসন জানিয়েছে, ভালুকটিকে জীবিত অবস্থায় আটক করার চেষ্টা চলছে। এজন্য বসতিপূর্ণ এলাকায় বিশেষ ফাঁদ বসানো হয়েছে এবং ভালুকের চলাচলের সম্ভাব্য পথগুলোতে বিদ্যুৎচালিত বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বন বিভাগ, পুলিশ এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে টহল জোরদার করেছে। কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের রাতে দরজা-জানালা শক্তভাবে বন্ধ রাখা, বাড়ির বাইরে কোনো ধরনের খাদ্য বা আবর্জনা না রাখা এবং ভালুক দেখা গেলে নিজেরা কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করেছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের একা বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে যদি বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণীর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করা না যায় এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করা হয়। তাদের মতে, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর সুমিতে রাশিয়ার হামলার ভয়াবহ মুহূর্ত ধরা পড়েছে একটি সিসিটিভি ক্যামেরায়। ভিডিওতে দেখা যায়, বিস্ফোরণের ঠিক আগে একটি বেসামরিক এলাকায় মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করছিলেন। মুহূর্তের মধ্যে শক্তিশালী বিস্ফোরণে চারদিকে ধোঁয়া, ধ্বংসাবশেষ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার সময় এক নারী একটি শিশুকে রক্ষা করতে নিজের শরীর দিয়ে তাকে আড়াল করার চেষ্টা করেন। শনিবারের ওই হামলায় ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার আক্রমণে সুমি শহরে ছয়জন নিহত এবং অন্তত ২৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। হামলায় শহরের বেসামরিক স্থাপনা ও আশপাশের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হামলার আগে একটি দোকান বা ক্যাফের আশপাশে মানুষ স্বাভাবিকভাবে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। ধোঁয়া ও ধুলায় পুরো এলাকা ঢেকে যায়। আতঙ্কিত মানুষ জীবন বাঁচাতে দৌড়াতে শুরু করেন। ভিডিওর সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দৃশ্যগুলোর একটি হলো, এক নারী বিস্ফোরণের সময় একটি শিশুকে নিজের শরীর দিয়ে ঢেকে নিরাপদ রাখার চেষ্টা করছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুমি শহরে আকাশপথে হামলা চালানো হয়। একই সময়ে ইউক্রেনের আরও কয়েকটি শহরেও রুশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। কিয়েভ, ওডেসা ও অন্যান্য অঞ্চলেও হামলায় হতাহত ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়ার হামলার বড় অংশ এখন বেসামরিক এলাকায় আঘাত করছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কিয়েভ জানিয়েছে, দ্রুতগতির ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা ঠেকাতে তাদের আরও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন। অন্যদিকে রাশিয়া বরাবরের মতো দাবি করে আসছে যে তারা সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাচ্ছে। তবে বেসামরিক এলাকায় হতাহতের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। সুমি শহরটি রাশিয়ার সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় যুদ্ধের শুরু থেকেই নিয়মিত হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র ব্যবহারের মাত্রা বেড়েছে বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে প্রকাশিত এই ধরনের ভিডিও আবারও দেখিয়ে দিচ্ছে—আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। একটি মুহূর্তের বিস্ফোরণ বদলে দিচ্ছে অসংখ্য পরিবারের জীবন, যেখানে শিশু ও বেসামরিক মানুষ সবচেয়ে অসহায় অবস্থানে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।