সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা
ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কাউন্সিল। বুধবার সর্বসম্মত ভোটে কাউন্সিল ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ এগিয়ে নেয়। সম্ভাব্য নতুন নামের তালিকায় রয়েছে ‘ওবামা অ্যাভিনিউ’, ‘কানাডা অ্যাভিনিউ’, ‘অন্টারিও অ্যাভিনিউ’ এবং ব্যতিক্রমীভাবে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’।   অটোয়ার সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় থাকা আবাসিক সড়কটির নাম প্রায় ২৫ বছর ধরে ট্রাম্প অ্যাভিনিউ। এলাকাটির অন্যান্য সড়কের নামও নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থান বা পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত, যেমন স্ট্যাটেন ওয়ে, ম্যাডিসন পার্ক ও গথাম প্রাইভেট।   কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়তে থাকা এবং কানাডাকে নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যের পর স্থানীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সড়কটির নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, অটোয়ার কোনো সড়ক ট্রাম্পের নামে থাকা এখন বিব্রতকর।   অটোয়া সিটি কাউন্সিলর টিম টিয়ার্নির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন নাম হিসেবে আরও যেসব প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে রয়েছে বিউভার অ্যাভিনিউ, কানাডা গুজ অ্যাভিনিউ, পেলোসি অ্যাভিনিউ, গালফ অব মেক্সিকো অ্যাভিনিউ এবং রোজি ও’ডনেল অ্যাভিনিউ। ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ নামটি মূলত ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক শব্দবন্ধ ‘Trump Always Chickens Out’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ TACO থেকে এসেছে।   নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অবশ্য এখনই চূড়ান্ত হচ্ছে না। সড়কটির অর্ধেকের বেশি বাসিন্দাকে নাম পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হবে। এরপর নতুন নাম নিয়ে আলাদা করে জনসম্পৃক্ততা ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া হবে। অটোয়ার পৌর নির্বাচন অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়, এর আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।   ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালে সড়কটির ৬২টি পরিবারের মধ্যে নাম পরিবর্তন নিয়ে ভোট হয়েছিল। তখন ২১টি পরিবার পরিবর্তনের পক্ষে এবং ২১টি বিপক্ষে ভোট দেয়। আরও ২০টি পরিবার ভোট দেয়নি। কাউন্সিলর টিয়ার্নির মতে, যারা নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের সবাই ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন এমন নয়। ঠিকানা, নথিপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তনের ঝামেলার কারণেও কেউ কেউ বিরোধিতা করেছিলেন।   এবার লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। ২৭ আগস্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে উল্লেখ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি গালফ অব মেক্সিকোর নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।   কাউন্সিলর টিয়ার্নি অবশ্য বলেছেন, নাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের চেয়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক বিরোধই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নাম পরিবর্তনের বিতর্ক যেন দুই দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা থেকে মনোযোগ সরিয়ে না দেয়।

১৩ মিনিট Ago
মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে মেটার কর্মীদের বড় একটি অংশের কাজ করিয়ে নেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিছু দলের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ছোট, দক্ষ দল দিয়ে এআই-নির্ভর কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ, এআইয়ের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার কারণে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাতিল করা হয়েছে।   রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেটা পরে রয়টার্সকে Project OT নামে ওই উদ্যোগের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। Project OT নামটি Organization Transformation বা সাংগঠনিক রূপান্তর থেকে নেওয়া। চলতি বছরের শুরুতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি এআইনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরিকল্পনার মূল ধারণা ছিল, বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী যে দৈনন্দিন কাজ করেন, তার বড় একটি অংশ ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।   এই ব্যবস্থায় বড় দলের পরিবর্তে ছোট ও অত্যন্ত দক্ষ মানবকর্মীদের দল এআই ব্যবস্থাগুলো তদারক করবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন একটি কাঠামোর কথা বলা হয়, যেখানে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দলকে কমিয়ে তিন থেকে পাঁচজনের দলে পরিণত করা হতে পারে। বাকি কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়বে এআইয়ের ওপর। তবে এটি মেটার পুরো কর্মীসংখ্যা ৬০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনার অংশ হিসেবে কিছু দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেটাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠন, কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে করা পরিকল্পনা। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠনটি দুই ধাপে করার কথা ছিল। প্রথম ধাপের ছাঁটাই মে মাসে এবং দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি বড় পরিবর্তন নভেম্বর মাসে করার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং যেসব কর্মীকে কম দক্ষ বলে মনে করা হতো, তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল। মে মাসে অবশ্য মেটা কর্মী কমানোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রথম দফার ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নভেম্বরের পরবর্তী দফার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।   পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর মেটার কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মী মনে করতে শুরু করেন, এআইকে কাজে যুক্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া। অভ্যন্তরীণ এক জরিপে কর্মীদের মনোভাবের সূচক ৭৪ শতাংশ ইতিবাচক থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে নজরদারি বা কাজের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গও করেন।   এদিকে মেটার এআই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কোম্পানির পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা এআই এজেন্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেনি বলে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে। কর্মীরা এআই ব্যবহার করে বেশি কোড তৈরি করতে পারলেও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা একই অনুপাতে বাড়েনি বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য ও আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এজেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। সেবায় বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে এআইকে দ্রুত কর্মীদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনার বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে মেটার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে।   এই পরিস্থিতিতে জাকারবার্গও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। জুলাইয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এগোয়নি। এরপর মেটা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার বদলে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে শুরু করে। জাকারবার্গ এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, মেটা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির শক্তি কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ওপর নয়।   তবে এআই নিয়ে মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতে থেমে যায়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সমস্যা হয়েছে মূলত এআইকে ব্যবহার করে দ্রুত কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে। মেটা রয়টার্সকে জানিয়েছে, Project OT ছিল খরচ কমানো, দলের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে স্থানান্তরের একটি উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীকে নতুন গঠিত বিভিন্ন দলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং পুরো কর্মীবাহিনীর ৬০ শতাংশ ছাঁটাই করার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয়নি।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দ্রুত এআইনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন মেটার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই বড় পরিসরে মানুষের কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। কর্মীদের আস্থা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   মেটার Project OT শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এ ঘটনা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে, সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই পরীক্ষার ফল এখন শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে।   সূত্র: রয়টার্স

৩৩ মিনিট Ago
ইরান যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের ছয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের তেল মজুত ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর ছয় মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে। ২১ আগস্ট শেষ হওয়া সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের জরুরি তেল মজুতে এখন রয়েছে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল।   মার্কিন জ্বালানি তথ্য প্রশাসনের (ইআইএ) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই পরিমাণ ২০২৩ সালে রেকর্ড হওয়া ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ব্যারেলের আগের ৪০ বছরের সর্বনিম্ন অবস্থাকেও ছাড়িয়ে গেছে। অর্থাৎ এবার দেশটির কৌশলগত তেল মজুত আরও নিচে নেমেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুতে ছিল ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল। যুদ্ধ শুরুর পর ছয় মাসে সেখান থেকে ১২ কোটি ৫৭ লাখ ব্যারেল তেল ব্যবহার করা হয়েছে।   যুদ্ধের শুরুতেই তেলের সরবরাহ নিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্বের তেল ও তরল জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সরবরাহ ব্যাহত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জ্বালানি সরবরাহ উভয়ের ওপরই চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র তার কৌশলগত মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়।   গত ১১ মার্চ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জ্বালানি বিভাগকে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত থেকে ১৭ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল ছাড়ার অনুমতি দেন। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট জানান, প্রায় ১২০ দিনের মধ্যে এই তেল সরবরাহ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগ ছিল আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার ৩২ সদস্য দেশের সমন্বিত পদক্ষেপের অংশ। ওই সময় সংস্থাটির সদস্য দেশগুলো সম্মিলিতভাবে তাদের জরুরি মজুত থেকে মোট ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয়। লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের কারণে তৈরি হওয়া সরবরাহ সংকট সামাল দেওয়া এবং জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা করা।   যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত মূলত বড় ধরনের জ্বালানি সংকট, সরবরাহ ব্যাহত হওয়া কিংবা জাতীয় নিরাপত্তাজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য রাখা হয়। সাবেক প্রেসিডেন্ট জেরাল্ড ফোর্ডের সময়ে এই মজুত ব্যবস্থা তৈরি করা হয়। টেক্সাস ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় এলাকায় ভূগর্ভস্থ লবণের গুহায় এসব অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণ করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বড় আকারে এই মজুত ব্যবহার করেছিল ২০২২ সালে। রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়ে গেলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রায় ১৮ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ছাড়ার অনুমোদন দেন। ওই সময় মজুত নেমে ৩৪ কোটি ৬৮ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছিল, যা সে সময় প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল।   এবার সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ৪১ কোটি ৫৪ লাখ ব্যারেল থেকে মজুত কমে ২৮ কোটি ৯৭ লাখ ব্যারেলে নেমে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকা জরুরি তেলের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, মজুত পুনরায় পূরণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। মার্চে জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছিলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রায় ২০ কোটি ব্যারেল তেল যোগ করে মজুত পুনর্গঠন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁর দাবি ছিল, যে পরিমাণ তেল বের করা হবে, তার চেয়েও বেশি তেল পরবর্তীতে মজুতে ফিরিয়ে আনা হবে।   তবে কৌশলগত মজুত থেকে দ্রুত তেল বের করা গেলেও তা একই গতিতে আবার পূরণ করা সহজ নয়। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে একদিকে যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ সংকট সামাল দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের জরুরি পরিস্থিতির জন্য পর্যাপ্ত তেল মজুত রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা এখনো বিশ্ব জ্বালানি বাজারের অন্যতম বড় উদ্বেগ। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত মজুত চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যাওয়ায় দেশটির জ্বালানি নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ মজুত পুনর্গঠন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   সূত্র: কেসিআরএ

৫৩ মিনিট Ago
নেপালে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন ১০৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর ১০৫ বছরের বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার

নেপালে এক অবিশ্বাস্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ১০৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই ঘটনাকে এক সত্যিকারের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন সবাই।   গত ২৮ আগস্ট আলেকজান্ডার লোপেজের করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চোখের পলকেই ওই বৃদ্ধার বাড়িটি ধসে পড়েছিল। চারপাশের সব কিছু মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট্ট ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শ্বাস নেওয়াও তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   এই অবস্থায় টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি সেখানে একেবারে নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন। বাইরে তখন উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের এক একটি স্তর সাবধানে সরিয়ে তাকে খুঁজছিল। তারা জানতেন না যে নিচে কোনো জীবিত মানুষ আছেন নাকি কেবল একটি মৃতদেহ পাওয়া যাবে। বুকের ওপর ধসে পড়া বাড়ির বিশাল ওজন নিয়ে বৃদ্ধা কেবল অপেক্ষাই করছিলেন। তার চিৎকার করার কোনো শক্তি ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বেঁচে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছিল।   উদ্ধারকর্মীরা সেন্সরের মাধ্যমে ক্ষীণ প্রাণের স্পন্দন শনাক্ত করে তাদের কাজ চালিয়ে যান। বৃদ্ধার যেন কোনো আঘাত না লাগে, সে জন্য শেষ কয়েক মিটার তারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে খালি হাতেই মাটি ও ইটপাথর সরানোর কাজ করেন।   অবশেষে যখন ধ্বংসস্তূপের শেষ ব্লকটি সরানো হয়, তখন উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করা ওই বৃদ্ধা তখনও বেঁচে আছেন এবং তার জ্ঞান রয়েছে। জীবনের ১০৫টি বছর পার করে এসে তিনি গত ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর যতটা কাছাকাছি ছিলেন, এর আগে হয়তো কখনোই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি তিনি। নেপালের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এমন সফল উদ্ধার অভিযান মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।   সূত্র: আলেকজান্ডার লোপেজের প্রতিবেদন

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
মার্কিন অভিবাসী ভিসার অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত, কখন কাটবে অচলাবস্থা? জানুন ৩টি দৃশ্যপট

ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে অভিবাসী ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিত করেছে, যা তাদের অভিবাসন নীতির ওপর চলমান কড়াকড়িরই একটি অংশ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার এই পদক্ষেপের কথা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাসে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এই প্রশিক্ষণের সুবিধার্থে সাক্ষাৎকারের পর্যায়ে পৌঁছানো ভিসা আবেদনগুলোর কার্যক্রম সাময়িকভাবে সমন্বয় করা হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, কর্মকর্তাদের দিয়ে আবেদনকারীদের সার্বিক ও ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন নিশ্চিত করতেই এই প্রশিক্ষণ।   বিশেষ করে অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে কি না, সেটি যাচাইয়ের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার কথা বলে প্রবেশাধিকার সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন, যার ফলে অবৈধ অভিবাসী বিতাড়ন, ভিসা বাতিল এবং আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।   ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও বড় ধরনের পরিবর্তনের পথে হাঁটছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, যারা যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, এমন প্রায় ২ লাখ মানুষের ভিসা বাতিল করার পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। এটি বাস্তবায়িত হলে তা হবে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণ-ভিসা বাতিলের ঘটনা।   তবে প্রশাসনের এসব কঠোর নীতি ও অভিবাসন বিরোধী পদক্ষেপ ক্রমাগত আইনি বাধার মুখে পড়ছে। সম্প্রতি মার্কিন জেলা জজ জ্যানেট ভারগাস রাশিয়া ও আফগানিস্তানসহ ৭৫টি দেশের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার একটি সরকারি নীতি বাতিল করেছেন।   পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেওয়া ওই সিদ্ধান্তকে তিনি 'আইন পরিপন্থী এবং বিধিবদ্ধ ক্ষমতার অপব্যবহার' বলে আখ্যায়িত করেন। ফলে মার্কিন ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতের বর্তমান সিদ্ধান্তটিও ভবিষ্যতে আইনি বাধার সম্মুখীন হতে পারে।   চলমান এই ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্থগিতাদেশ কবে নাগাদ শেষ হতে পারে, সে সম্পর্কে তিনটি সম্ভাব্য দৃশ্যপট সামনে এসেছে। প্রথমত, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর নিজেই এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে পারে। এটি সবচেয়ে সহজ সমাধান, অর্থাৎ প্রশিক্ষণ শেষ হলেই ভিসা কার্যক্রম স্বাভাবিক হতে পারে। পররাষ্ট্র দপ্তর এই অবস্থাকে সাময়িক এবং বিশ্বব্যাপী চলমান প্রশাসনিক প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।   প্রশিক্ষণ কতদিন চলবে তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে এটি নিছকই একটি সাময়িক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হলে, নীতিগত বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই দ্রুতই সমস্যার সমাধান হতে পারে। দ্বিতীয় দৃশ্যপটটি হলো আদালতের হস্তক্ষেপ।   এই স্থগিতাদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হতে পারে এবং বিচারক পররাষ্ট্র দপ্তরকে ফের ভিসা সাক্ষাৎকার শুরুর নির্দেশ দিতে পারেন। কারণ, প্রশাসন এটিকে সাময়িক বললেও দীর্ঘমেয়াদী ব্যাঘাত আইনগতভাবে প্রতিষ্ঠিত অভিবাসন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার সমতুল্য হতে পারে।   এর আগে ৭৫টি দেশের ভিসা বাতিলের বিষয়ে বিচারক ভারগাস এবং বিচারক অমিত মেহতার রায় প্রমাণ করে যে, দীর্ঘমেয়াদী স্থগিতাদেশ যোগ্য আবেদনকারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করলে আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।   তৃতীয় সম্ভাব্য দৃশ্যপট হিসেবে কংগ্রেসের হস্তক্ষেপের কথা বলা হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন ব্যবস্থা মূলত কংগ্রেসের তৈরি। ভিসা প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিলম্ব দেখা দিলে কংগ্রেস নতুন আইন পাস করে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিতে পারে। তবে কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে নতুন কোনো আইন পাসের সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ।   অন্যদিকে, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে অভিবাসন এবং ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাহী বিভাগকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দিয়ে এসেছে। যেমন ১৯৭২ সালের 'ক্লাইনডিনস্ট বনাম ম্যান্ডেল', ২০১৫ সালের 'কেরি বনাম ডিন' এবং ২০১৮ সালের 'ট্রাম্প বনাম হাওয়াই' মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈদেশিক নীতির স্বার্থে প্রেসিডেন্টের বিদেশিদের প্রবেশাধিকার সীমিত করার ক্ষমতাকে সমর্থন করেছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দ্বন্দ্বে শেষ পর্যন্ত কী সমাধান আসে, তা নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১৬:৩১
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর ১০৫ বছরের বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার

নেপালে এক অবিশ্বাস্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ১০৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই ঘটনাকে এক সত্যিকারের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন সবাই।   গত ২৮ আগস্ট আলেকজান্ডার লোপেজের করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চোখের পলকেই ওই বৃদ্ধার বাড়িটি ধসে পড়েছিল। চারপাশের সব কিছু মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট্ট ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শ্বাস নেওয়াও তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   এই অবস্থায় টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি সেখানে একেবারে নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন। বাইরে তখন উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের এক একটি স্তর সাবধানে সরিয়ে তাকে খুঁজছিল। তারা জানতেন না যে নিচে কোনো জীবিত মানুষ আছেন নাকি কেবল একটি মৃতদেহ পাওয়া যাবে। বুকের ওপর ধসে পড়া বাড়ির বিশাল ওজন নিয়ে বৃদ্ধা কেবল অপেক্ষাই করছিলেন। তার চিৎকার করার কোনো শক্তি ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বেঁচে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছিল।   উদ্ধারকর্মীরা সেন্সরের মাধ্যমে ক্ষীণ প্রাণের স্পন্দন শনাক্ত করে তাদের কাজ চালিয়ে যান। বৃদ্ধার যেন কোনো আঘাত না লাগে, সে জন্য শেষ কয়েক মিটার তারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে খালি হাতেই মাটি ও ইটপাথর সরানোর কাজ করেন।   অবশেষে যখন ধ্বংসস্তূপের শেষ ব্লকটি সরানো হয়, তখন উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করা ওই বৃদ্ধা তখনও বেঁচে আছেন এবং তার জ্ঞান রয়েছে। জীবনের ১০৫টি বছর পার করে এসে তিনি গত ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর যতটা কাছাকাছি ছিলেন, এর আগে হয়তো কখনোই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি তিনি। নেপালের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এমন সফল উদ্ধার অভিযান মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।   সূত্র: আলেকজান্ডার লোপেজের প্রতিবেদন

ট্রাম্পের নামে থাকা সড়কের নাম বদলাতে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ চায় কানাডা

কানাডার রাজধানী অটোয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে থাকা একটি সড়কের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সিটি কাউন্সিল। বুধবার সর্বসম্মত ভোটে কাউন্সিল ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ এগিয়ে নেয়। সম্ভাব্য নতুন নামের তালিকায় রয়েছে ‘ওবামা অ্যাভিনিউ’, ‘কানাডা অ্যাভিনিউ’, ‘অন্টারিও অ্যাভিনিউ’ এবং ব্যতিক্রমীভাবে ‘টাকো অ্যাভিনিউ’।   অটোয়ার সেন্ট্রাল পার্ক এলাকায় থাকা আবাসিক সড়কটির নাম প্রায় ২৫ বছর ধরে ট্রাম্প অ্যাভিনিউ। এলাকাটির অন্যান্য সড়কের নামও নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থান বা পরিচিতির সঙ্গে যুক্ত, যেমন স্ট্যাটেন ওয়ে, ম্যাডিসন পার্ক ও গথাম প্রাইভেট।   কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্যিক উত্তেজনা বাড়তে থাকা এবং কানাডাকে নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন মন্তব্যের পর স্থানীয় কয়েকজন কাউন্সিলর সড়কটির নাম নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, অটোয়ার কোনো সড়ক ট্রাম্পের নামে থাকা এখন বিব্রতকর।   অটোয়া সিটি কাউন্সিলর টিম টিয়ার্নির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নতুন নাম হিসেবে আরও যেসব প্রস্তাব এসেছে তার মধ্যে রয়েছে বিউভার অ্যাভিনিউ, কানাডা গুজ অ্যাভিনিউ, পেলোসি অ্যাভিনিউ, গালফ অব মেক্সিকো অ্যাভিনিউ এবং রোজি ও’ডনেল অ্যাভিনিউ। ‘টাকো অ্যাভিনিউ’ নামটি মূলত ট্রাম্পকে নিয়ে ব্যবহৃত একটি রাজনৈতিক শব্দবন্ধ ‘Trump Always Chickens Out’-এর সংক্ষিপ্ত রূপ TACO থেকে এসেছে।   নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অবশ্য এখনই চূড়ান্ত হচ্ছে না। সড়কটির অর্ধেকের বেশি বাসিন্দাকে নাম পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিতে হবে। এরপর নতুন নাম নিয়ে আলাদা করে জনসম্পৃক্ততা ও পর্যালোচনার প্রক্রিয়া হবে। অটোয়ার পৌর নির্বাচন অক্টোবরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়, এর আগে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।   ট্রাম্প অ্যাভিনিউয়ের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০২১ সালে সড়কটির ৬২টি পরিবারের মধ্যে নাম পরিবর্তন নিয়ে ভোট হয়েছিল। তখন ২১টি পরিবার পরিবর্তনের পক্ষে এবং ২১টি বিপক্ষে ভোট দেয়। আরও ২০টি পরিবার ভোট দেয়নি। কাউন্সিলর টিয়ার্নির মতে, যারা নাম পরিবর্তনের বিরোধিতা করেছিলেন, তাদের সবাই ট্রাম্পের সমর্থক ছিলেন এমন নয়। ঠিকানা, নথিপত্রসহ বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তনের ঝামেলার কারণেও কেউ কেউ বিরোধিতা করেছিলেন।   এবার লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের পর বিষয়টি আবার সামনে এসেছে। ২৭ আগস্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে লেক অন্টারিওকে ‘লেক আমেরিকা’ নামে উল্লেখ করার নির্দেশ দেন। এর আগে তিনি গালফ অব মেক্সিকোর নাম যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ব্যবহারে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।   কাউন্সিলর টিয়ার্নি অবশ্য বলেছেন, নাম নিয়ে পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের চেয়ে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান বাণিজ্য ও শুল্ক বিরোধই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, নাম পরিবর্তনের বিতর্ক যেন দুই দেশের বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উত্তেজনা থেকে মনোযোগ সরিয়ে না দেয়।

বন্দে মাতরম কর্মসূচিতে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ দখলের হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর
বন্দে মাতরম কর্মসূচিতে ‘পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর’ দখলের হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের যাদবপুরে আয়োজিত 'বন্দে মাতরম' কর্মসূচি থেকে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর (পিওকে) পুনর্দখলের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাঁর উপস্থিতিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষের কণ্ঠে গীত হয় ‘বন্দে মাতরম’ গান।   এই বিশাল জনসভা থেকেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি, তথাকথিত ‘আজাদি’ স্লোগান এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’ ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন তিনি।   মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, যাদবপুর ক্যাম্পাসে বর্তমানে ‘হুমকি সংস্কৃতি’ বা থ্রেট কালচার চলছে এবং রাষ্ট্রবাদী পরিবারের ছাত্রছাত্রীদের জোর করে আবাসিক ভবন থেকে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ‘আজাদি’ বা স্বাধীনতার স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, তারা আসলে কীসের স্বাধীনতা চায়, মাদক গ্রহণের স্বাধীনতা কি না।   এ প্রসঙ্গে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বাংলার মাটিতে ক্ষুদিরাম বসু হাতে গীতা নিয়ে এবং মাতঙ্গিনী হাজরা এক হাতে তেরঙ্গা ও অন্য হাতে শাঁখ নিয়ে ব্রিটিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছেন। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঋষি অরবিন্দ, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিনয়-বাদল-দীনেশ এবং মাস্টারদা সূর্যসেনের মতো অগণিত বিপ্লবীর রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়েই এই দেশ প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করেছে।   যাদবপুরের একাংশের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী নীতির অভিযোগ তুলে তথাকথিত ‘টুকরে টুকরে গ্যাং’-এর বিরুদ্ধেও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। পহেলগাঁও হামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ধর্ম ও পোশাক দেখে বাঁশদ্রোণীর বিটন অধিকারী এবং বেহালার সমীর গুহকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল, কিন্তু যাদবপুরে তার প্রতিবাদে কোনো মিছিল হয়নি।   একইভাবে অবন্তীপুরায় জঙ্গি হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শাহাদাতের পরও সেখানে কোনো শোকপ্রকাশ করা হয়নি। উল্টো পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতীয় বিমানবাহিনীর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রতিবাদে যাদবপুরে যুদ্ধবিরোধী মিছিল হয়েছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   আন্দোলনকারীদের প্রতি আক্রমণাত্মক ভাষায় তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘হয় এরা থাকবে, নয় আমরা থাকব। মাঝে আর কিছু হবে না।’ জনসভা থেকে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রশংসা করার পাশাপাশি পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর নিয়েও কঠোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘আমরা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরও দখল করব।’   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যাদবপুরের এই সভায় জাতীয়তাবাদ ও স্বাধীনতা সংগ্রামীদের আত্মত্যাগের প্রসঙ্গের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির যোগসূত্র ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া এই কড়া বক্তব্যের জেরে সেখানকার রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়তে পারে।

প্রসূতি মায়েদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতায় কাজ করেন ডুলা বা প্রসূতি সহায়করা। ছবি: সংগৃহীত
মাতৃমৃত্যু কমাতে নিউইয়র্কের নতুন উদ্যোগ, ২০২৭ থেকে সিটি কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমায় যুক্ত হচ্ছে প্রসূতি সহায়তা

নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন নতুন বাবা ও মা হতে যাওয়া নাগরিকদের জন্য প্রসূতি সহায়তা বা ডুলা সেবার পরিধি বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রথম ধাপে খোদ নগর প্রশাসনের কর্মীদের জন্যই এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পিক্স১১ এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। ডুলা মূলত এমন এক ধরনের পেশাদার সেবা, যেখানে গর্ভাবস্থায়, প্রসবের সময় এবং প্রসবের পর একজন প্রসূতি মাকে শারীরিক ও মানসিক সমর্থন দেওয়া হয়।   নিউইয়র্ক সিটির কর্মীদের স্বাস্থ্যবিমা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মেট্রোপ্লাসহেলথ জানিয়েছে, ২০২৭ সাল থেকে তাদের বিমা পরিকল্পনায় ডুলা বা প্রসূতি সহায়কদের সেবা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিমা কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই সুবিধার আওতায় সন্তান জন্মদানের আগে বা পরে মোট আটবার স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সন্তান প্রসবের সময় সরাসরি একজন প্রসূতি সহায়কের উপস্থিতি নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপটি মাতৃস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।   সম্প্রতি নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, শহরের পরিচালিত ছয়টি হাসপাতাল সন্তান প্রসবের সময় ডুলা সেবা দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করেছে। গত কয়েক বছরে নিউইয়র্ক সিটির হাসপাতালগুলোতে এই সেবার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত ছয় বছরে হাসপাতালগুলো থেকে ডুলা বা প্রসূতি সহায়কের কাছে রেফার করার হার আগের তুলনায় ছয় গুণ বেড়েছে।   স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক ডেপুটি মেয়র ডা. হেলেন আর্তেয়াগা এই উদ্যোগের সামাজিক গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, সামাজিকভাবে পরিচালিত ডুলা বা প্রসূতি সহায়তা কর্মসূচিগুলো সন্তান প্রত্যাশী পরিবারগুলোর মানসিক, আবেগিক এবং শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও লাতিনো সম্প্রদায়, যারা দীর্ঘদিন ধরে গভীর বৈষম্য এবং উদ্বেগজনক হারে মাতৃমৃত্যুর শিকার, তাদের জন্য এই সেবাটি অত্যন্ত জরুরি।   ন্যাশনাল হেলথ ল প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, অন্যান্য উচ্চ আয়ের দেশগুলোর তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে মাতৃমৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা মনে করেন, ডুলা বা প্রসূতি সহায়কদের যুক্ত করার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হয় এবং মাতৃমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হয়।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দুটি অঙ্গরাজ্যে বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোর জন্য ডুলা সেবা অন্তর্ভুক্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা ছিল। তবে বর্তমানে অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলোও একই ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ। ছবি: সংগৃহীত
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের মাধ্যমে মেটার কর্মীদের বড় একটি অংশের কাজ করিয়ে নেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বড় ধাক্কায় পড়েছে। ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা কিছু দলের কর্মীসংখ্যা সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে ছোট, দক্ষ দল দিয়ে এআই-নির্ভর কাজ পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। তবে কর্মীদের তীব্র অসন্তোষ, এআইয়ের প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা না পাওয়া এবং প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা সমস্যার কারণে পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাতিল করা হয়েছে।   রয়টার্সের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথোপকথনের ভিত্তিতে এই তথ্য উঠে এসেছে। মেটা পরে রয়টার্সকে Project OT নামে ওই উদ্যোগের অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছে। Project OT নামটি Organization Transformation বা সাংগঠনিক রূপান্তর থেকে নেওয়া। চলতি বছরের শুরুতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও তাঁর শীর্ষ কর্মকর্তারা প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বেশি এআইনির্ভর করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেন। পরিকল্পনার মূল ধারণা ছিল, বর্তমানে হাজার হাজার কর্মী যে দৈনন্দিন কাজ করেন, তার বড় একটি অংশ ভবিষ্যতে এআই এজেন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে।   এই ব্যবস্থায় বড় দলের পরিবর্তে ছোট ও অত্যন্ত দক্ষ মানবকর্মীদের দল এআই ব্যবস্থাগুলো তদারক করবে। অভ্যন্তরীণ নথিতে এমন একটি কাঠামোর কথা বলা হয়, যেখানে ১০ থেকে ২০ জনের একটি দলকে কমিয়ে তিন থেকে পাঁচজনের দলে পরিণত করা হতে পারে। বাকি কাজ সামলানোর দায়িত্ব পড়বে এআইয়ের ওপর। তবে এটি মেটার পুরো কর্মীসংখ্যা ৬০ শতাংশ কমানোর পরিকল্পনা ছিল না। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি বিবেচনার অংশ হিসেবে কিছু দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেটাও বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এটি ছিল সম্ভাব্য পুনর্গঠন, কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ এবং ছাঁটাইয়ের বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে করা পরিকল্পনা। সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।   পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনর্গঠনটি দুই ধাপে করার কথা ছিল। প্রথম ধাপের ছাঁটাই মে মাসে এবং দ্বিতীয় ধাপের আরেকটি বড় পরিবর্তন নভেম্বর মাসে করার পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদগুলো বন্ধ করে দেওয়া এবং যেসব কর্মীকে কম দক্ষ বলে মনে করা হতো, তাদের বাদ দেওয়ার বিষয়ও বিবেচনায় ছিল। মে মাসে অবশ্য মেটা কর্মী কমানোর প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন করে। প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কিন্তু দ্বিতীয় ধাপটি শেষ পর্যন্ত আর এগোয়নি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে প্রথম দফার ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগেই জাকারবার্গ ও শীর্ষ কর্মকর্তারা নভেম্বরের পরবর্তী দফার পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেন।   পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসার পর মেটার কর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়। অনেক কর্মী মনে করতে শুরু করেন, এআইকে কাজে যুক্ত করার প্রকৃত উদ্দেশ্য তাদের কাজের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে দেওয়া। অভ্যন্তরীণ এক জরিপে কর্মীদের মনোভাবের সূচক ৭৪ শতাংশ ইতিবাচক থেকে ৫৫ শতাংশে নেমে যায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে। এআই প্রশিক্ষণের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিভাইসে নজরদারি বা কাজের তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থাও অসন্তোষ বাড়িয়ে দেয়। কর্মীদের মধ্যে কেউ কেউ অভ্যন্তরীণ যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যঙ্গও করেন।   এদিকে মেটার এআই ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। কোম্পানির পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা এআই এজেন্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারেনি বলে অভ্যন্তরীণ আলোচনায় উঠে আসে। কর্মীরা এআই ব্যবহার করে বেশি কোড তৈরি করতে পারলেও সামগ্রিক উৎপাদনশীলতা একই অনুপাতে বাড়েনি বলে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ তথ্য ও আলোচনায় ইঙ্গিত পাওয়া যায়। প্রযুক্তিগত সমস্যাও পরিকল্পনাটিকে চাপে ফেলে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই এজেন্টের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সঙ্গে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা বেড়ে যায়। সেবায় বিঘ্ন এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো ঘটনাও নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। ফলে এআইকে দ্রুত কর্মীদের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনার বাস্তব সক্ষমতা নিয়ে মেটার ভেতরেই প্রশ্ন ওঠে।   এই পরিস্থিতিতে জাকারবার্গও তাঁর অবস্থানে পরিবর্তন আনেন। জুলাইয়ে এক অভ্যন্তরীণ সভায় তিনি বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তাঁর প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত এগোয়নি। এরপর মেটা এআইকে মানুষের বিকল্প হিসেবে তুলে ধরার বদলে মানুষের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিতে শুরু করে। জাকারবার্গ এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলেন, মেটা মানুষের ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রযুক্তির শক্তি কোটি কোটি মানুষের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, শুধু কাজ স্বয়ংক্রিয় করার ওপর নয়।   তবে এআই নিয়ে মেটার উচ্চাকাঙ্ক্ষা এতে থেমে যায়নি। বরং প্রতিষ্ঠানটি এআই অবকাঠামো ও প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। সমস্যা হয়েছে মূলত এআইকে ব্যবহার করে দ্রুত কর্মীদের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়নে। মেটা রয়টার্সকে জানিয়েছে, Project OT ছিল খরচ কমানো, দলের কাঠামো পুনর্বিন্যাস এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে স্থানান্তরের একটি উদ্যোগ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এর মাধ্যমে হাজার হাজার কর্মীকে নতুন গঠিত বিভিন্ন দলে গুরুত্বপূর্ণ কাজে স্থানান্তর করা হয়েছে। তবে সম্ভাব্য সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়নি এবং পুরো কর্মীবাহিনীর ৬০ শতাংশ ছাঁটাই করার কোনো সিদ্ধান্ত কখনো নেওয়া হয়নি।   বিশেষজ্ঞদের কাছে ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে অন্য একটি কারণে। প্রযুক্তি খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো যখন দ্রুত এআইনির্ভর কর্মপরিবেশ তৈরির দিকে এগোচ্ছে, তখন মেটার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে দিচ্ছে যে শুধু প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই বড় পরিসরে মানুষের কাজ এআই দিয়ে প্রতিস্থাপন করা সহজ নয়। কর্মীদের আস্থা, প্রযুক্তির নির্ভরযোগ্যতা, নিরাপত্তা এবং বাস্তবে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ।   মেটার Project OT শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হলেও এ ঘটনা ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিয়ে বড় একটি প্রশ্ন সামনে এনেছে। এআই কি মানুষের কাজ কেড়ে নেবে, নাকি মানুষকে আরও দক্ষ করে তুলবে, সেই বিতর্কের মাঝেই বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এই পরীক্ষার ফল এখন শিল্পখাতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠেছে।   সূত্র: রয়টার্স

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
নেপালে ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছিলেন ১০৫ বছর বয়সী ওই বৃদ্ধা। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২৪ ঘণ্টা পর ১০৫ বছরের বৃদ্ধা জীবিত উদ্ধার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২৩:২৩

নেপালে এক অবিশ্বাস্য উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। নিজের ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে টানা ২৪ ঘণ্টা আটকে থাকার পর ১০৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসার এই ঘটনাকে এক সত্যিকারের অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন সবাই।   গত ২৮ আগস্ট আলেকজান্ডার লোপেজের করা এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চোখের পলকেই ওই বৃদ্ধার বাড়িটি ধসে পড়েছিল। চারপাশের সব কিছু মাটির সঙ্গে মিশে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট্ট ফাঁকা জায়গায় আটকে ছিলেন তিনি। জায়গাটি এতটাই ছোট ছিল যে সেখানে শ্বাস নেওয়াও তার জন্য কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিল।   এই অবস্থায় টানা ২৪ ঘণ্টা তিনি সেখানে একেবারে নিথর হয়ে পড়ে ছিলেন। বাইরে তখন উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপের এক একটি স্তর সাবধানে সরিয়ে তাকে খুঁজছিল। তারা জানতেন না যে নিচে কোনো জীবিত মানুষ আছেন নাকি কেবল একটি মৃতদেহ পাওয়া যাবে। বুকের ওপর ধসে পড়া বাড়ির বিশাল ওজন নিয়ে বৃদ্ধা কেবল অপেক্ষাই করছিলেন। তার চিৎকার করার কোনো শক্তি ছিল না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তার বেঁচে থাকার আশাও ক্ষীণ হয়ে আসছিল।   উদ্ধারকর্মীরা সেন্সরের মাধ্যমে ক্ষীণ প্রাণের স্পন্দন শনাক্ত করে তাদের কাজ চালিয়ে যান। বৃদ্ধার যেন কোনো আঘাত না লাগে, সে জন্য শেষ কয়েক মিটার তারা কোনো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে খালি হাতেই মাটি ও ইটপাথর সরানোর কাজ করেন।   অবশেষে যখন ধ্বংসস্তূপের শেষ ব্লকটি সরানো হয়, তখন উদ্ধারকর্মীরা দেখতে পান যে এক শতাব্দীরও বেশি সময় পার করা ওই বৃদ্ধা তখনও বেঁচে আছেন এবং তার জ্ঞান রয়েছে। জীবনের ১০৫টি বছর পার করে এসে তিনি গত ২৪ ঘণ্টা মৃত্যুর যতটা কাছাকাছি ছিলেন, এর আগে হয়তো কখনোই এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হননি তিনি। নেপালের মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় এমন সফল উদ্ধার অভিযান মানুষের মনে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।   সূত্র: আলেকজান্ডার লোপেজের প্রতিবেদন

বাবার এমন অভিনব কৌশলের পরও ছেলের গেম খেলার সময় খুব একটা কমেনি। ছবি: সংগৃহীত
চাকরি ছেড়ে সারাদিন গেম খেলায় মগ্ন ছেলে, গেমে তাকে হারাতে পেশাদার গেমার ভাড়া করলেন বাবা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ২১:৪০

সন্তানের ভিডিও গেমের আসক্তি নিয়ে বর্তমান বিশ্বের প্রায় সব অভিভাবকই কমবেশি চিন্তিত থাকেন। সন্তানকে গেম থেকে দূরে রাখতে বাবা মায়েরা বকাঝকা থেকে শুরু করে ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার মতো অনেক কিছুই করে থাকেন। তবে চীনের এক বাবা তার বেকার ছেলেকে গেমের নেশা থেকে বের করে কাজে ফেরাতে এমন এক অভিনব কৌশল বেছে নিয়েছেন, যা শুনে যে কেউ অবাক হবেন। ছেলেকে গেমের ভার্চুয়াল জগতে প্রতিনিয়ত হত্যা করার জন্য রীতিমতো পেশাদার গেমার বা খেলোয়াড় ভাড়া করেছিলেন তিনি।   চীনের বাসিন্দা ২৩ বছর বয়সী তরুণ জিয়াও ফেং। কিছুদিন আগে তিনি তার চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর থেকে সারাদিন ভিডিও গেম খেলাতেই মগ্ন থাকতেন তিনি। তার বাবার অভিযোগ ছিল, ছেলে সারাদিন অনলাইনে গেম খেলে সময় নষ্ট করছে এবং নতুন কোনো চাকরি খোঁজার ব্যাপারে তার কোনো তাগিদই নেই। ছেলেকে স্বাভাবিকভাবে বুঝিয়ে কোনো লাভ না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তি এক ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা করেন।   তিনি ভেবেছিলেন, ছেলেকে যখন গেম থেকে বের করে আনা যাচ্ছে না, তখন তাকেই ওই গেমের ভেতরে প্রবেশ করতে হবে। তবে নিজে গেম খেলা শুরু করার বদলে তিনি অন্য পথ ধরেন। তিনি ছেলের চেয়েও অনেক বেশি দক্ষ ও উচ্চ পর্যায়ের বেশ কয়েকজন পেশাদার গেমারকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেন। তাদের কাজ ছিল একটাই, জিয়াও ফেং যখনই গেমে লগ ইন করবেন, তখনই তাকে খুঁজে বের করে গেমের ভেতরেই হত্যা করা।   ওই বাবার মূল পরিকল্পনা ছিল, বারবার গেমে হেরে গিয়ে বা খুন হয়ে ছেলে হতাশ হয়ে পড়বে। এক পর্যায়ে গেমের প্রতি তার আগ্রহ নষ্ট হয়ে যাবে এবং সে বাধ্য হয়ে আবারও কাজের প্রতি মনোযোগী হবে।   তবে বাবার এই গোপন পরিকল্পনা খুব বেশিদিন চাপা থাকেনি। জিয়াও ফেং বুঝতে পারেন যে গেমের ভেতরে অদ্ভুত কিছু একটা ঘটছে। তিনি লক্ষ্য করেন, তিনি যখনই গেম খেলতে ঢুকছেন, তখনই নির্দিষ্ট কিছু উচ্চ পর্যায়ের খেলোয়াড় তাকে টার্গেট করে আক্রমণ করছে। এক পর্যায়ে তিনি আবিষ্কার করেন যে এই ডিজিটাল গুপ্তঘাতকদের পেছনে আসলে তার নিজের বাবাই রয়েছেন।   বাবার এই কাণ্ড জানার পর জিয়াও ফেং তাকে নিজের চাকরি ছাড়ার পেছনের আসল কারণটি বুঝিয়ে বলেন। তিনি বাবাকে জানান, সারাজীবন গেম খেলার জন্য তিনি চাকরি ছাড়েননি। মূলত নিজের মনের মতো কোনো কাজ না পাওয়ার কারণেই তিনি আপাতত বেকার বসে আছেন এবং সময় কাটাচ্ছেন।   তবে বাবার এই সুপরিকল্পিত এবং ব্যয়বহুল কৌশল শেষ পর্যন্ত খুব একটা কাজে আসেনি। পেশাদার গেমার লেলিয়ে দেওয়ার পরও জিয়াও ফেং স্ক্রিনের সামনে কাটানো সময় খুব একটা কমিয়েছেন বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবুও ওই বাবা অন্তত এটুকু ভেবে সান্ত্বনা পেতে পারেন যে ছেলের নেশা ছাড়ানোর জন্য তিনি সম্ভাব্য সব চেষ্টাই করেছেন। ডিভাইস কেড়ে নেওয়ার সুযোগ না থাকায় গেমের ভেতরেই ছেলের জীবন অতিষ্ঠ করে তোলার এই ঘটনাটি এখন নেট দুনিয়ায় বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সংবাদসূত্র: দ্য এপক টাইমস, কেএসএল, দ্য গার্ডিয়ান ও অন্যান্য সমসাময়িক প্রতিবেদন।

যুক্তরাজ্যে ৬০ টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাসিন্দারা
যুক্তরাজ্যে ৬০ টি বাড়ি ভাঙার সিদ্ধান্ত! কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বাসিন্দারা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১০:৩৪

স্কটল্যান্ডের ক্ল্যাকম্যানানশায়ারের কয়লা খনি অধ্যুষিত কোয়ালসনটন এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধস ও মাটির নিচের নড়াচড়ার কারণে ৯৭টি বাড়ি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার পর এবার ৬০টি বাড়ি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তে এই ভূমির অস্থিতিশীলতার সঙ্গে পুরোনো কয়লা খনির কার্যক্রমের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।   মে মাসে নিরাপত্তার কারণে এসব বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় আট সপ্তাহ ধরে মাইনিং রেমেডিয়েশন অথরিটি (MRA) মাটি ও স্থাপনার অবস্থা পরীক্ষা করে। সংস্থাটির সর্বশেষ মূল্যায়নে দেখা গেছে, বেনবাক ভিউ ও ডানমস ভিউ এলাকার বাড়িগুলো এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে সেগুলো মেরামত করে নিরাপদ অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর এসব বাড়ি অধিগ্রহণ করে ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   বৃহস্পতিবার স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হলে অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, বছরের পর বছর পরিশ্রম করে তৈরি করা বাড়ি হারানোর বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টের।   ৬৭ বছর বয়সী সাইমন উডওয়ার্ড জানিয়েছেন, তিনি ১৭ বছর ধরে ওই এলাকায় বসবাস করছেন এবং অবসর জীবনের জন্য বাড়িটিকে নিজের মতো করে সাজিয়েছিলেন। তার মতে, বাড়ি হারানোর ক্ষতি শুধু আর্থিকভাবে পূরণ করা সম্ভব নয়।   তবে সব বাড়ির পরিস্থিতি এক নয়। তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাংগোর এলাকায় মাটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর বাড়িগুলো মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে। নেকটান ড্রাইভের কাছেও আরও স্থিতিশীলকরণ কাজ এবং দ্য গ্লেনে সড়ক মেরামতের পরিকল্পনা করা হয়েছে।   মাইনিং রেমেডিয়েশন অথরিটির প্রধান অপারেশনস কর্মকর্তা কার্ল ব্যান্টন জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ও ঝুঁকি নির্ধারণে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিং মূল্যায়ন, ভূগর্ভস্থ পরীক্ষা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জরিপ চালানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার ভিত্তিতেই কোন বাড়ি ভাঙতে হবে এবং কোন এলাকায় মেরামত সম্ভব, তা নির্ধারণ করা হয়েছে।   ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, কোয়ালসনটনের এই ঘটনায় জরুরি সাড়া ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের ব্যয় বহন করা হবে। এর আগে স্কটিশ সরকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের সহায়তায় ক্ল্যাকম্যানানশায়ার কাউন্সিলকে ১০ লাখ পাউন্ড অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।   কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা অব্যাহত থাকবে। ভূমি স্থিতিশীল হওয়ার পরও এলাকাটি নিরাপদ কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি
ইসরায়েলি কারাগার থেকে দুই বছর পর মুক্তি, চেহারায় যেন ২০ বছরের ছাপ ফিলিস্তিনি সাংবাদিকের
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ২৮, ২০২৬ ১০:২৫

প্রায় দুই বছর ইসরায়েলি কারাগারে আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েছেন ফিলিস্তিনি ফটোসাংবাদিক রামেজ আওয়াদ। মুক্তির পর পশ্চিম তীরের জিফনা গ্রামে ফিরলে দীর্ঘদিন পর মায়ের সঙ্গে তার আবেগঘন পুনর্মিলনের দৃশ্য ছড়িয়ে পড়ে। রোয়া নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।    ৩১ বছর বয়সী আওয়াদকে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট জিফনায় তার পারিবারিক বাড়ি থেকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে বলে জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। তার পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেনারা বাড়িতে ঢুকে তার পরিচয়পত্র পরীক্ষা করার পর তাকে নিয়ে যায়। সে সময় পরিবারকে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ বা কোথায় তাকে নেওয়া হচ্ছে, তা জানানো হয়নি।    আওয়াদের আটকের ঘটনাই তার জীবনে প্রথম ইসরায়েলি বাহিনীর হয়রানি নয়। ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর পশ্চিম তীরের জিফনায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের খবর সংগ্রহ করার সময় তার উরুতে গুলি লাগে বলে সিপিজে ও ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    আটকের পর তাকে ওফের কারাগারে রাখা হয়েছিল। পরে তার বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ আনা হয় এবং ২০২৫ সালের নভেম্বরে একটি আদালত তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয় বলে সিপিজের তথ্য থেকে জানা যায়।    ফলে আওয়াদের ঘটনাটি শুধু একজন সাংবাদিকের মুক্তির খবর নয়, পশ্চিম তীরে সাংবাদিকদের কাজ করতে গিয়ে আটক ও হামলার ঝুঁকিরও একটি উদাহরণ। সাংবাদিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের আটক, গুলিবিদ্ধ ও অন্যান্য হয়রানির ঘটনাও নথিভুক্ত করেছে।    দুই বছর পর বাড়িতে ফিরে মায়ের সঙ্গে আওয়াদের সেই পুনর্মিলনের দৃশ্য তাই তার দীর্ঘ বন্দিজীবনের পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার প্রতীকী মুহূর্ত হয়ে উঠেছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.22K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
995 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.11K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
966 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়