সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুবিধা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে অযৌক্তিক কড়াকড়ি আরোপ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো।   গত ৫ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর জারিকৃত দুটি বিতর্কিত নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি করা হয়। বাদীদের দাবি, মে ও আগস্ট মাসে ঘোষিত এই নীতিগুলোর কারণে বহু যোগ্য অভিবাসী দেশ না ছেড়ে বৈধ উপায়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস-এর নতুন নিয়মে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা দেশে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। মে মাসের নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী নিজ দেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে না গিয়ে কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন করেছেন, সেটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে।   অন্যদিকে, আগস্ট মাসের নীতিমালায় কর্মকর্তাদের এমন এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোনো অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই সরাসরি আবেদন খারিজ করে দিতে পারেন। এমনকি অতীতে যারা আবেদন জমা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই কঠোর শর্তগুলো ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।   মামলা দায়েরকারী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি), হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ)-এর মতো সংগঠনগুলো আদালতকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের ফলে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, কর্মসংস্থানে বাধা এবং আন্তর্জাতিক মেধার অপচয়ের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মোট ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশই এই অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিমান জানান, আইনসম্মতভাবে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করা মানুষদের জন্য এটি চরম অবিচার।   অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র জ্যাক কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং দেশের অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাদীরা আদালতকে এই নতুন বিধিনিষেধগুলো অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত অবশ্য এখনো এই মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রুল জারি করেনি।

১৯ মিনিট Ago
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল সম্পত্তির বর্তমান দাম বা অবস্থান দেখলেই চলে না, বরং বাজার পরিস্থিতি থেকে শুরু করে নানা দিক সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়। ফ্লোরিডার রিয়েলটর ও রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা মঞ্জুর আহমেদের মতে, এই খাতে নিশ্চিত লাভের কোনো সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই।   বিনিয়োগকারীকে নিজের গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবসম্মত হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে মার্কেট রিসার্চ বা বাজার গবেষণার ওপর। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সম্পত্তির বর্তমান চাহিদা, বিগত বছরগুলোর দামের ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।   একইসঙ্গে লোকেশন বা অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক, কারণ যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর নৈকট্য সম্পত্তির ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া সম্পত্তির বর্তমান বাজারদর যাচাই করে ভবিষ্যতে এর দাম বাড়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে অগ্রসর হওয়া জরুরি।   সম্পত্তির দাম বাড়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয়ের বিষয়টিও পরিষ্কারভাবে হিসাব করতে হবে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেনা সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে কত আয় হতে পারে এবং সেই আয় দিয়ে প্রপার্টি ট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও মর্টগেজ পেমেন্টের মতো নিয়মিত ও লুকায়িত খরচগুলো সামলানো যাবে কি না, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   অন্যদিকে, যেকোনো বিনিয়োগের সঙ্গেই ঝুঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনৈতিক মন্দা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভাড়ার চাহিদা কমে যাওয়া বা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো যেকোনো সময় বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেবল সম্ভাব্য লাভের আশায় অন্ধ না হয়ে, সম্ভাব্য ক্ষতির দিকটিও আগে থেকে বিবেচনায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।   বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলোও সমানভাবে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের ভূমি ব্যবহার নীতি, জোনিং, ট্যাক্স আইন বা অন্য কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পত্তির মূল্য ও আয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি মর্টগেজ নিয়ে সম্পত্তি কিনলে সুদের হারের ওঠানামা মাসিক পেমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি মোট খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।   মঞ্জুর আহমেদের মতে, বাজার, অর্থনীতি বা সরকারি নীতির মতো বিষয়গুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও একজন সচেতন বিনিয়োগকারী তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন। তাই রিয়েল এস্টেটে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে তথ্য, বাস্তবসম্মত হিসাব এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়াই বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

৫৫ মিনিট Ago
দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?
দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে গত ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম নারী হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল ক্রিস্টা পাইকের। কিন্তু দু'বার প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে যান এই নারী। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে ফেরা প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে মনে করা হচ্ছে তাকে।   বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০ বছর বয়সী এই নারী সজাগ রয়েছেন এবং কথাও বলতে পারছেন। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বুধবার ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সেরি কোর্টে এক জরুরি শুনানিতে এই ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সংক্রান্ত সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   শুনানিতে টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডব্লিউ. আয়ার্স জানান, বর্তমানে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো আদেশ নেই এবং নতুন করে আদেশ আসারও কোনো সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। বিচারক আই’আশিয়া মাইলস জানতে চান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই স্থগিতাদেশ কি স্থায়ী হবে, নাকি রাষ্ট্রপক্ষ এমন অবস্থান নেবে যে পাইকের মৃত্যুদণ্ড আর কখনোই কার্যকর করা হবে না? এর জবাবে আয়ার্স জানান, এ বিষয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে তিনি নেই এবং এই সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি টেনেসি সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত।   উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে এই চরম ব্যর্থতার পরপরই টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।   এদিকে, ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবী লুক ইহনেন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি যে ভবিষ্যতে তার মক্কেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি লড়াইয়ের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   আইনজীবীরা পাইকের শাস্তি মওকুফ করার জন্য গভর্নর লির কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে তিনি ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি শাস্তি ভোগ করেছেন। এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারক মাইলস প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। তাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কক্ষে থাকা সব কিছু, নজরদারি ফুটেজ, ভিডিও, হাতে লেখা নোট, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং এনক্রিপ্ট করা বার্তাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

১ ঘন্টা Ago
যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেরদের সম্পদে ৫% কর বসিয়ে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার আদায়ের পরিকল্পনা
যুক্তরাষ্ট্রে ধনকুবেরদের সম্পদে ৫% কর বসিয়ে ৪.৪ ট্রিলিয়ন ডলার আদায়ের পরিকল্পনা

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ধনকুবেরদের বিপুল সম্পদের ওপর প্রতি বছর ৫ শতাংশ হারে সম্পদ কর (Wealth Tax) আরোপের এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব তুলে ধরেছেন দেশটির প্রভাবশালী সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য রো খান্নাকে সঙ্গে নিয়ে আনা এই নতুন প্রস্তাবে বলা হয়েছে, অন্তত ১০০ কোটি (১ বিলিয়ন) ডলার বা তার বেশি নিট সম্পদের অধিকারী ব্যক্তিদের ওপর এই কর কার্যকর হবে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯৩৮ জন এমন ধনকুবের রয়েছেন, যাদের সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ আনুমানিক ৮ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদদের হিসাব অনুযায়ী, এই কর বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী এক দশকে প্রায় ৪ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের বিপুল রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।   এই বিশাল রাজস্ব কীভাবে পুনর্বণ্টন ও জনকল্যাণে ব্যয় করা হবে, তার একটি বিস্তারিত রূপরেখাও প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে কর আদায়ের প্রথম বছরেই বার্ষিক দেড় লাখ ডলার বা তার কম আয় করা পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে ৩ হাজার ডলার করে সরাসরি নগদ অর্থ পাঠানো হবে।   অর্থাৎ, চার সদস্যের একটি যোগ্য পরিবার এককালীন ১২ হাজার ডলার সহায়তা পাবে। কেবল নগদ অর্থ প্রদানই নয়, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের বার্ষিক ন্যূনতম বেতন ৬০ হাজার ডলারে উন্নীত করা, মেডিকেয়ার সেবায় দাঁত, চোখ ও কানের চিকিৎসার অন্তর্ভুক্তি, সাশ্রয়ী আবাসনের পরিধি বাড়ানো, চাইল্ডকেয়ারের ব্যয় হ্রাস এবং মেডিকেইডের মাধ্যমে হোম কেয়ার সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   প্রস্তাবিত এই কর ব্যবস্থাটি অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট; এটি কেবল শতকোটিপতিদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। উদাহরণস্বরূপ, কারও মোট সম্পদ ৯৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার হলেও তাকে কোনো কর দিতে হবে না, কিন্তু কারও সম্পদ ১০ বিলিয়ন ডলার হলে তাকে বছরে প্রায় ৫০ কোটি ডলার কর দিতে হবে।   তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবটি পাস হওয়া বেশ চ্যালেঞ্জিং হলেও বিশ্লেষকদের মতে, ধনকুবেরদের সরাসরি করের আওতায় এনে রাষ্ট্রীয় বৈষম্য কমানো এবং জনকল্যাণমূলক খাতে অর্থায়নের ক্ষেত্রে এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর সবচেয়ে বড় ও আলোচিত প্রচেষ্টা।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি কর্মীদের কত বেতন দিতে হবে, সামনে এলো গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম

যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের নির্দিষ্ট মজুরি কাঠামো অনুসরণ করতে হয়। মার্কিন শ্রম দপ্তরের (ডিপার্টমেন্ট অব লেবার) নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি বা কর্মপরিবেশ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের এলাকার প্রচলিত মজুরির হার বিবেচনায় নেওয়া হয়।   এই নিয়মকে বলা হয় ‘প্রিভেইলিং ওয়েজ’ বা প্রচলিত মজুরি। কোনো নির্দিষ্ট পেশায় নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকায় একই ধরনের কাজে নিয়োজিত কর্মীরা সাধারণত যে গড় মজুরি পান, সেটিই ওই কাজের প্রচলিত মজুরি হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিদেশি কর্মী নিয়োগের সময় শুধু ভিসার যোগ্যতা পূরণ করলেই হবে না, নিয়োগদাতাকে সংশ্লিষ্ট কাজের জন্য প্রযোজ্য মজুরি নিয়মও মানতে হবে।   এই নিয়ম শুধু এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মসংস্থানভিত্তিক বেশ কয়েকটি বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচিতে প্রচলিত মজুরি সংক্রান্ত শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পিইআরএম, এইচ-২বি, এইচ-১বি, এইচ-১বি১, ই-৩ এবং সিডব্লিউ-১ কর্মসূচি।   তবে এইচ-১বি, এইচ-১বি১ ও ই-৩ কর্মসূচির ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা রয়েছে। এসব ভিসায় কর্মী নিয়োগ করলে নিয়োগদাতাকে দুটি মজুরি হারের মধ্যে যেটি বেশি, সেটি দিতে হবে। একটি হলো সংশ্লিষ্ট পেশা ও এলাকার প্রচলিত মজুরি। অন্যটি হলো একই প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের দক্ষতা ও যোগ্যতার কর্মীদের দেওয়া প্রকৃত মজুরি। অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠানে একই ধরনের যোগ্যতার কর্মীরা প্রচলিত মজুরির চেয়ে বেশি বেতন পেলে এইচ-১বি কর্মীকেও সেই উচ্চতর হার দিতে হতে পারে।   প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের জন্য নিয়োগদাতারা যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম দপ্তরের ন্যাশনাল প্রিভেইলিং ওয়েজ সেন্টারে (এনপিডব্লিউসি) মজুরি নির্ধারণের আবেদন করতে পারেন। এ ছাড়া শ্রম দপ্তরের অনলাইন মজুরি অনুসন্ধান ব্যবস্থায় থাকা তথ্য এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্যান্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়।   এইচ-১বি কর্মীদের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিতে পারেন। নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদিত স্বাধীন জরিপ বা অন্য বৈধ মজুরি-তথ্যের উৎসও ব্যবহার করা যায়। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এনপিডব্লিউসি থেকে মজুরি নির্ধারণ নিলে নির্দিষ্ট নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করার ক্ষেত্রে নিয়োগদাতারা ‘সেইফ হারবার’ সুবিধা পান।   বর্তমান মজুরি তথ্যও নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। শ্রম দপ্তরের বিদেশি শ্রম সনদবিষয়ক দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নতুন মজুরি বছরের জন্য ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকসের পেশাভিত্তিক মজুরি তথ্য কার্যকর হয়েছে। এসব তথ্য বিদেশি শ্রমিকের মজুরি নির্ধারণের কাজে ব্যবহার করা হয়।   এই নিয়মের পেছনে মূল উদ্দেশ্য হলো বিদেশি কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় কর্মীদের মজুরি কমিয়ে দেওয়ার সুযোগ ঠেকানো। মার্কিন শ্রম দপ্তর বলছে, অভিবাসন ও জাতীয়তা আইনের অধীনে বিদেশি কর্মী নিয়োগের কারণে একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মজুরি ও কর্মপরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব পড়া উচিত নয়।   এইচ-১বি কর্মীদের জন্য শুধু নির্ধারিত মজুরি দেওয়াই নয়, কর্মপরিবেশের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট সুরক্ষা রয়েছে। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, একই ধরনের কাজে নিয়োজিত মার্কিন কর্মীদের মতো এইচ-১বি কর্মীদেরও কর্মঘণ্টা, শিফট, ছুটি ও নির্দিষ্ট সুবিধার ক্ষেত্রে সমান ভিত্তিতে সুযোগ দিতে হবে। নিয়োগদাতাকে শ্রম শর্তসংক্রান্ত আবেদন বা এলসিএর একটি কপিও সংশ্লিষ্ট এইচ-১বি কর্মীকে দিতে হয়।   এ ছাড়া নিয়োগদাতা এইচ-১বি কর্মীর কাছ থেকে নির্দিষ্ট নিয়োগসংক্রান্ত খরচ বা আবেদন ফি বহনের দাবি করতে পারেন না। শ্রম দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, কর্মীর অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ বা তদন্তে সহযোগিতা করার কারণে তাকে ভয় দেখানো, চাকরি থেকে সরানো বা বৈষম্যের শিকার করাও নিষিদ্ধ।   কোনো এইচ-১বি কর্মীকে প্রয়োজনীয় মজুরির চেয়ে কম দেওয়া হলে বিষয়টি নিয়ে শ্রম দপ্তরের ওয়েজ অ্যান্ড আওয়ার ডিভিশন ব্যবস্থা নিতে পারে। বিভাগটি তদন্তের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নিয়োগদাতাকে কর্মীর প্রাপ্য মজুরি পরিশোধের নির্দেশ দিতে পারে।   এদিকে ২০২৬ সালের মার্চে শ্রম দপ্তর এইচ-১বি ও পিইআরএম কর্মসূচির প্রচলিত মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি পরিবর্তনের একটি প্রস্তাবও প্রকাশ করেছিল। প্রস্তাবিত নিয়মে মজুরি নির্ধারণের পদ্ধতি আধুনিকায়ন করে মার্কিন কর্মীদের প্রকৃত বাজারদরের সঙ্গে বিদেশি কর্মীদের মজুরি আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এটি বর্তমান প্রচলিত মজুরি নিয়মের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়; এটি ছিল একটি প্রস্তাবিত পরিবর্তন।   যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসায় কাজ করতে আগ্রহী বিদেশি পেশাজীবীদের জন্য তাই চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে শুধু বেতনের অঙ্ক নয়, সংশ্লিষ্ট পেশা ও কর্মস্থলের প্রচলিত মজুরি, একই প্রতিষ্ঠানে তুলনীয় কর্মীদের বেতন এবং নিয়োগদাতার শ্রমসংক্রান্ত দায়বদ্ধতাও জানা গুরুত্বপূর্ণ।

প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৬:৫৭
গ্রিন কার্ড পাওয়া কঠিন করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে একজোট বিশ্ববিদ্যালয় ও শ্রমিক সংগঠন

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের সুবিধা বা গ্রিন কার্ড পাওয়ার নিয়মে অযৌক্তিক কড়াকড়ি আরোপ করায় ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি ও অভিবাসী অধিকার বিষয়ক সংগঠনগুলো।   গত ৫ অক্টোবর ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট আদালতে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস)-এর জারিকৃত দুটি বিতর্কিত নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে এই মামলাটি করা হয়। বাদীদের দাবি, মে ও আগস্ট মাসে ঘোষিত এই নীতিগুলোর কারণে বহু যোগ্য অভিবাসী দেশ না ছেড়ে বৈধ উপায়ে স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ইউএসসিআইএস-এর নতুন নিয়মে ‘অ্যাডজাস্টমেন্ট অব স্ট্যাটাস’ বা দেশে অবস্থান করে গ্রিন কার্ড পাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে সীমিত করা হয়েছে। মে মাসের নির্দেশনায় অভিবাসন কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে, কোনো আবেদনকারী নিজ দেশে অবস্থিত মার্কিন কনস্যুলেটে না গিয়ে কেন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আবেদন করেছেন, সেটিকে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে।   অন্যদিকে, আগস্ট মাসের নীতিমালায় কর্মকর্তাদের এমন এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোনো অতিরিক্ত তথ্য-প্রমাণ চাওয়ার সুযোগ না দিয়েই সরাসরি আবেদন খারিজ করে দিতে পারেন। এমনকি অতীতে যারা আবেদন জমা দিয়ে ফলাফলের অপেক্ষায় আছেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই কঠোর শর্তগুলো ভূতাপেক্ষভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।   মামলা দায়েরকারী আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটি প্রফেসরস (এএইউপি), হার্ভার্ড ও বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন শাখা এবং সার্ভিস এমপ্লয়িজ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন (এসইআইইউ)-এর মতো সংগঠনগুলো আদালতকে জানিয়েছে, নতুন এই নিয়মের ফলে পরিবার বিচ্ছিন্নতা, কর্মসংস্থানে বাধা এবং আন্তর্জাতিক মেধার অপচয়ের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।   ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে গ্রিন কার্ড পাওয়া মোট ১৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষের মধ্যে প্রায় ৫৭ শতাংশই এই অ্যাডজাস্টমেন্ট প্রক্রিয়ায় আবেদন করেছিলেন। ডেমোক্রেসি ফরোয়ার্ডের প্রধান নির্বাহী স্কাই পেরিমান জানান, আইনসম্মতভাবে বছরের পর বছর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজ করা মানুষদের জন্য এটি চরম অবিচার।   অন্যদিকে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে ভিত্তিহীন হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। ইউএসসিআইএস-এর মুখপাত্র জ্যাক কেলার এক বিবৃতিতে বলেন, কংগ্রেসের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে এবং দেশের অভিবাসন আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। বাদীরা আদালতকে এই নতুন বিধিনিষেধগুলো অবিলম্বে সাময়িকভাবে স্থগিত এবং পরবর্তীতে স্থায়ীভাবে বাতিল করার আবেদন জানিয়েছেন। আদালত অবশ্য এখনো এই মামলার বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো রুল জারি করেনি।

দু’বার প্রাণঘা তী ইনজেকশনেও বেঁচে যাওয়া ক্রিস্টা পাইককে কি আবার মৃ ত্যুদণ্ড দেওয়া হবে?

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে গত ২০০ বছরের মধ্যে প্রথম নারী হিসেবে গত ৩০ সেপ্টেম্বর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কথা ছিল ক্রিস্টা পাইকের। কিন্তু দু'বার প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও আশ্চর্যজনকভাবে প্রাণে বেঁচে যান এই নারী। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রাণঘাতী ইনজেকশন থেকে বেঁচে ফেরা প্রথম মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে মনে করা হচ্ছে তাকে।   বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫০ বছর বয়সী এই নারী সজাগ রয়েছেন এবং কথাও বলতে পারছেন। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৮ বছর বয়সে নিজের ১৯ বছর বয়সী সহপাঠী কলিন স্লেমারকে ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে নির্মমভাবে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। গত বুধবার ডেভিডসন কাউন্টি চ্যান্সেরি কোর্টে এক জরুরি শুনানিতে এই ব্যর্থ মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সংক্রান্ত সব প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।   শুনানিতে টেনেসির সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন ডব্লিউ. আয়ার্স জানান, বর্তমানে ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের কোনো আদেশ নেই এবং নতুন করে আদেশ আসারও কোনো সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই। বিচারক আই’আশিয়া মাইলস জানতে চান, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই স্থগিতাদেশ কি স্থায়ী হবে, নাকি রাষ্ট্রপক্ষ এমন অবস্থান নেবে যে পাইকের মৃত্যুদণ্ড আর কখনোই কার্যকর করা হবে না? এর জবাবে আয়ার্স জানান, এ বিষয়ে মন্তব্য করার মতো অবস্থানে তিনি নেই এবং এই সিদ্ধান্তটি পুরোপুরি টেনেসি সুপ্রিম কোর্টের এখতিয়ারভুক্ত।   উল্লেখ্য, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে এই চরম ব্যর্থতার পরপরই টেনেসির গভর্নর বিল লি চলতি বছরের বাকি সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত ঘোষণা করে একটি স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।   এদিকে, ক্রিস্টা পাইকের আইনজীবী লুক ইহনেন জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপক্ষ এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি যে ভবিষ্যতে তার মক্কেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে না। ভবিষ্যতে যেকোনো আইনি লড়াইয়ের জন্য মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময়কার প্রমাণাদি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।   আইনজীবীরা পাইকের শাস্তি মওকুফ করার জন্য গভর্নর লির কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মৃত্যুদণ্ডের ইতিহাসে অন্য যেকোনো ব্যক্তির চেয়ে তিনি ইতিমধ্যে সবচেয়ে বেশি শাস্তি ভোগ করেছেন। এই যুক্তির প্রেক্ষিতে বিচারক মাইলস প্রমাণ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়ে বলেন, এই ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী। তাই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার কক্ষে থাকা সব কিছু, নজরদারি ফুটেজ, ভিডিও, হাতে লেখা নোট, সাক্ষীদের বক্তব্য এবং এনক্রিপ্ট করা বার্তাগুলো যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ
রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের আগে যে ৮ বিষয় অবশ্যই বিবেচনায় রাখবেন - মঞ্জুর আহমেদ

রিয়েল এস্টেটে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কেবল সম্পত্তির বর্তমান দাম বা অবস্থান দেখলেই চলে না, বরং বাজার পরিস্থিতি থেকে শুরু করে নানা দিক সতর্কতার সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হয়। ফ্লোরিডার রিয়েলটর ও রিয়েল এস্টেট উদ্যোক্তা মঞ্জুর আহমেদের মতে, এই খাতে নিশ্চিত লাভের কোনো সুনির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই।   বিনিয়োগকারীকে নিজের গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও বাস্তবসম্মত হিসাব-নিকাশের ওপর ভিত্তি করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক্ষেত্রে প্রথমেই গুরুত্ব দিতে হবে মার্কেট রিসার্চ বা বাজার গবেষণার ওপর। একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সম্পত্তির বর্তমান চাহিদা, বিগত বছরগুলোর দামের ওঠানামা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নতুন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা উচিত।   একইসঙ্গে লোকেশন বা অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নিয়ামক, কারণ যাতায়াত ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোর নৈকট্য সম্পত্তির ভবিষ্যৎ মূল্যবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। এছাড়া সম্পত্তির বর্তমান বাজারদর যাচাই করে ভবিষ্যতে এর দাম বাড়ার বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা আছে কি না, সে বিষয়েও পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে অগ্রসর হওয়া জরুরি।   সম্পত্তির দাম বাড়ার প্রত্যাশার পাশাপাশি বিনিয়োগ থেকে সম্ভাব্য আয়ের বিষয়টিও পরিষ্কারভাবে হিসাব করতে হবে। বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে কেনা সম্পত্তি ভাড়া দিয়ে কত আয় হতে পারে এবং সেই আয় দিয়ে প্রপার্টি ট্যাক্স, ইনস্যুরেন্স, মেরামত, রক্ষণাবেক্ষণ ও মর্টগেজ পেমেন্টের মতো নিয়মিত ও লুকায়িত খরচগুলো সামলানো যাবে কি না, তা আগে থেকেই নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   অন্যদিকে, যেকোনো বিনিয়োগের সঙ্গেই ঝুঁকি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। অর্থনৈতিক মন্দা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, ভাড়ার চাহিদা কমে যাওয়া বা এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনায় হঠাৎ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো যেকোনো সময় বিনিয়োগের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কেবল সম্ভাব্য লাভের আশায় অন্ধ না হয়ে, সম্ভাব্য ক্ষতির দিকটিও আগে থেকে বিবেচনায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।   বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীর নিয়ন্ত্রণের বাইরের বিষয়গুলোও সমানভাবে প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকারের ভূমি ব্যবহার নীতি, জোনিং, ট্যাক্স আইন বা অন্য কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত সম্পত্তির মূল্য ও আয়ে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে পারে। পাশাপাশি মর্টগেজ নিয়ে সম্পত্তি কিনলে সুদের হারের ওঠানামা মাসিক পেমেন্ট এবং দীর্ঘমেয়াদি মোট খরচে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।   মঞ্জুর আহমেদের মতে, বাজার, অর্থনীতি বা সরকারি নীতির মতো বিষয়গুলো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হলেও একজন সচেতন বিনিয়োগকারী তথ্য ও গবেষণার মাধ্যমে ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনতে পারেন। তাই রিয়েল এস্টেটে দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গড়ার ক্ষেত্রে আবেগের বশবর্তী না হয়ে তথ্য, বাস্তবসম্মত হিসাব এবং নিজের আর্থিক সক্ষমতার কথা বিবেচনা করে সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত নেওয়াই বিনিয়োগের সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর
টাকোমায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতি, চাকরি কাটার পাশাপাশি কর বাড়ানোর পরিকল্পনা

ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের টাকোমা শহর প্রায় ৪ কোটি ডলারের বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে। ঘাটতি সামাল দিতে শহর কর্তৃপক্ষ চাকরি কমানো, বিভিন্ন সরকারি সেবা পুনর্বিন্যাস এবং নতুন রাজস্বের পথ খুঁজছে। বিষয়টি স্থানীয় কর্মী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।   শহরের আর্থিক চাপের অন্যতম কারণ হিসেবে বাড়তে থাকা সরকারি ব্যয় এবং প্রত্যাশার তুলনায় কম রাজস্বকে সামনে আনা হয়েছে। বাজেট ঘাটতি কমাতে কর্মকর্তাদের কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   সম্ভাব্য চাকরি কাটার বিষয়টি সরকারি কর্মীদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ। শহরের বিভিন্ন বিভাগে কর্মী সংখ্যা কমানো হলে নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য স্থানীয় পরিষেবায় তার প্রভাব পড়তে পারে।   টাকোমার কর্মকর্তারা একই সঙ্গে কর ও অন্যান্য রাজস্ব বাড়ানোর বিষয়ও বিবেচনা করছেন। এর অর্থ ভবিষ্যতে স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে।   বর্তমান পরিস্থিতি শুধু সরকারি কর্মীদের জন্য নয়, সাধারণ পরিবারগুলোর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। চাকরি কমলে স্থানীয় অর্থনীতিতে মানুষের ব্যয় কমতে পারে। অন্যদিকে কর বাড়লে বাড়ির মালিক, ব্যবসা ও ভাড়াটিয়াদের ওপর জীবনযাত্রার খরচ আরও বাড়তে পারে।   টাকোমা সিয়াটল মহানগর এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। তাই শহরের বাজেট সংকটের প্রভাব আশপাশের ব্যবসা ও শ্রমবাজারেও পড়তে পারে। বিশেষ করে ছোট ব্যবসা, স্থানীয় পরিষেবা এবং সরকারি চুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি চাকরি, স্থানীয় ব্যবসা বা শহরের বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোকে সম্ভাব্য পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকতে হতে পারে।   শহর কর্তৃপক্ষের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো কীভাবে ৪ কোটি ডলারের ঘাটতি কমিয়ে নাগরিক সেবা যতটা সম্ভব স্বাভাবিক রাখা যায়। চাকরি কমানো এবং কর বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কোন খাতে ব্যয় কমানো হবে, কোন সেবা অগ্রাধিকার পাবে এবং বাসিন্দাদের ওপর কতটা আর্থিক চাপ পড়বে—এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা চলবে।

স্প্যারোজ পয়েন্ট, মেরিল্যান্ড।
মেরিল্যান্ডে ৩৭০ কোটি ডলারের কারখানা, ৩১০০ নতুন চাকরির ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোর এলাকায় ৩৭০ কোটি ডলারের একটি বড় শিল্প প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামরিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল স্প্যারোজ পয়েন্টে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনের বিভিন্ন উপাদান তৈরির জন্য নতুন উৎপাদন সুবিধা গড়ে তুলবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সরাসরি প্রায় ৩১০০টি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে।   ৬ অক্টোবর স্প্যারোজ পয়েন্টে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প এই বিনিয়োগের কথা তুলে ধরেন। এলাকাটি আগে বেথলেহেম স্টিলের বিশাল ইস্পাত কারখানার জন্য পরিচিত ছিল। সেই ইস্পাত কারখানা ২০১২ সালে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে এলাকাটির শিল্পভিত্তিক কর্মসংস্থান কমে যায়।   নতুন প্রকল্পকে ওই অঞ্চলের শিল্প পুনরুজ্জীবনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অ্যান্ডুরিলের পরিকল্পনা অনুযায়ী, সাবমেরিন নির্মাণে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ও প্রযুক্তি উৎপাদনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।   প্রকল্পটির মোট বিনিয়োগ প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার। এর মধ্যে ফেডারেল সরকার প্রায় ২৯০ কোটি ডলারের পণ্য কেনার মাধ্যমে প্রকল্পটিকে সহায়তা করবে। নতুন স্থাপনাটি শুধু সরাসরি কর্মসংস্থানই তৈরি করবে না, এর সঙ্গে যুক্ত সরবরাহকারী, পরিবহন, নির্মাণ ও অন্যান্য ব্যবসায়ও অতিরিক্ত কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   অর্থনৈতিক দিক থেকে বাল্টিমোর অঞ্চলের জন্য এই বিনিয়োগ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে শিল্পকারখানা বন্ধ হওয়া এবং কর্মসংস্থানের পরিবর্তনের কারণে স্প্যারোজ পয়েন্ট এলাকায় অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের প্রয়োজন ছিল। নতুন প্রতিরক্ষা উৎপাদন কেন্দ্র সেই পুরোনো শিল্প এলাকাকে আবার বড় উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।   ট্রাম্প অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ নির্মাণ শিল্পকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। বিশেষ করে চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব জাহাজ নির্মাণ সক্ষমতা বাড়ানোকে তাঁর প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে।   প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের শ্রমবাজারের জন্যও বড় খবর। ৩১০০ সরাসরি চাকরি তৈরি হলে উৎপাদন, প্রকৌশল, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং ব্যবস্থাপনা খাতে নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নির্মাণপর্বে অস্থায়ীভাবে আরও অনেক কর্মী কাজের সুযোগ পেতে পারেন।   বাংলাদেশি ও অন্যান্য অভিবাসী পরিবারের জন্যও এ ধরনের শিল্প বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বড় উৎপাদন প্রকল্পের প্রভাব শুধু কারখানার কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। স্থানীয় পরিবহন, রেস্টুরেন্ট, দোকান, আবাসন, নির্মাণ এবং বিভিন্ন সেবা খাতেও ব্যবসা বাড়তে পারে।   প্রকল্পটি মেরিল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী উদ্যোগগুলোর একটি হতে পারে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়েছে। তবে প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হতে সময় লাগবে এবং ঘোষিত বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।   এই বিনিয়োগ এমন সময়ে আসছে যখন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন খাত পুনরুজ্জীবিত করা, সরবরাহ ব্যবস্থা দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। স্প্যারোজ পয়েন্টের প্রকল্পটি সেই বৃহত্তর শিল্পনীতি ও কর্মসংস্থান পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল
ফিজিক্সে নোবেলজয়ীর ২৩০ পৃষ্ঠার সিভি! গবেষণাজীবনের বিস্ময়কর দলিল
প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৩:১৮

সাধারণ চাকরির আবেদনে এক বা দুই পৃষ্ঠার সিভিই যথেষ্ট। দীর্ঘ কর্মজীবন থাকলে সেটি কয়েক পৃষ্ঠা হতে পারে। কিন্তু ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেনের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলাম ভিটা বা সিভি এতটাই দীর্ঘ যে সেটি দুই শতাধিক পৃষ্ঠায় বিস্তৃত। এর বড় অংশজুড়ে রয়েছে কয়েক দশকের বৈজ্ঞানিক গবেষণা, প্রকাশনা, কনফারেন্স পেপার, পুরস্কার ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার তালিকা।   বেলজিয়ামে জন্ম নেওয়া মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন ২০২৬ সালের পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন অ্যান্টার্কটিকায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি গড়ে তোলা এবং মহাজাগতিক উৎস থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্তকরণে তার গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য।   তিনি বর্তমানে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসনের ভিলাস রিসার্চ প্রফেসর এবং গ্রেগরি ব্রেইট প্রফেসর। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০০১ সাল থেকে তিনি আইসকিউব প্রকল্পের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর এবং কো স্পোকসপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আইসকিউবের সঙ্গে তার গবেষণার সম্পর্ক আরও পুরোনো। ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকেই দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে নিউট্রিনো শনাক্ত করার ধারণা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি।   হ্যালজেনের দীর্ঘ সিভির বড় অংশ গড়ে উঠেছে তার অসংখ্য বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা দিয়ে। পার্টিকেল ফিজিক্স, অ্যাস্ট্রোফিজিক্স, কসমোলজি এবং নিউট্রিনো গবেষণায় কয়েক দশক ধরে তিনি কাজ করেছেন। বিশেষ করে আইসকিউবের মতো বড় আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতায় প্রকাশিত বহু গবেষণাপত্রে তার নাম রয়েছে।   আধুনিক বিজ্ঞান গবেষণায় বড় কোলাবোরেশনের প্রকাশনা তালিকা সাধারণ গবেষকের তুলনায় অনেক দীর্ঘ হতে পারে। আইসকিউব কোলাবোরেশনে বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত বিজ্ঞানী যুক্ত। ফলে প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকাশিত গবেষণাপত্র, কনফারেন্স প্রসিডিংস এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক কাজের দীর্ঘ তালিকা হ্যালজেনের পূর্ণাঙ্গ সিভিকেও অস্বাভাবিকভাবে বড় করেছে।   তার সিভিতে শুধু গবেষণাপত্র নয়, শিক্ষাজীবন, বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন পদ, গবেষণা নেতৃত্ব, আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক কমিটিতে দায়িত্ব এবং কয়েক দশকে পাওয়া পুরস্কারের তথ্যও রয়েছে।   হ্যালজেন ১৯৬৯ সালে বেলজিয়ামের কে ইউ লুভেন থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৭১ সালে ইউনিভার্সিটি অব উইসকনসিন ম্যাডিসনে রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হিসেবে যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং প্রফেসর হন। কয়েক দশক ধরে একই বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও শিক্ষকতায় যুক্ত রয়েছেন তিনি।   তার কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় অধ্যায় আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরি। দক্ষিণ মেরুর প্রায় এক ঘনকিলোমিটার স্বচ্ছ বরফকে বিশাল কণা ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে এই অবজারভেটরি। বরফের গভীরে হাজার হাজার আলোকসংবেদনশীল ডিটেক্টর বসানো হয়েছে। কোনো উচ্চশক্তির নিউট্রিনো বিরলভাবে পদার্থের সঙ্গে প্রতিক্রিয়া করলে যে ক্ষীণ আলোর সংকেত তৈরি হয়, তা শনাক্ত করে বিজ্ঞানীরা কণাটির উৎস সম্পর্কে ধারণা পান।   নিউট্রিনো পদার্থের সঙ্গে খুব কম প্রতিক্রিয়া করে বলে এগুলো শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন। এ কারণেই অনেক সময় এগুলোকে “ঘোস্ট পার্টিকল” বা ভুতুড়ে কণা বলা হয়। আইসকিউবের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে আসা উচ্চশক্তির নিউট্রিনো শনাক্ত হওয়ায় মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণের নতুন একটি পথ তৈরি হয়েছে।   হ্যালজেন প্রথম ১৯৮৮ সালের দিকে দক্ষিণ মেরুর বরফ ব্যবহার করে এই ধরনের বিশাল নিউট্রিনো ডিটেক্টরের ধারণা সামনে আনেন। দীর্ঘ গবেষণা, প্রযুক্তিগত পরীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পর ২০১১ সালে আইসকিউবের নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ২০১৩ সালে অবজারভেটরিটি উচ্চশক্তির মহাজাগতিক নিউট্রিনোর গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ প্রকাশ করে, যা আধুনিক অ্যাস্ট্রোপার্টিকেল ফিজিক্সে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হয়।   এই দীর্ঘ গবেষণাজীবনে হ্যালজেন বহু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে স্মিথসোনিয়ান আমেরিকান ইনজেনুইটি অ্যাওয়ার্ড, বালজান প্রাইজ, ইউরোপিয়ান ফিজিক্যাল সোসাইটির পুরস্কার, পন্টেকোরভো প্রাইজ এবং ব্রুনো রসি প্রাইজ।   ২০২৬ সালের নোবেল পুরস্কার সেই দীর্ঘ তালিকায় সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হিসেবে যুক্ত হয়েছে। রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস তার আইসকিউব গবেষণা এবং মহাজাগতিক নিউট্রিনো শনাক্তকরণে নেতৃত্বকে পদার্থবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত “২৩০ পৃষ্ঠার সিভি” দাবিটিকে কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। হ্যালজেনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সত্যিই একটি অত্যন্ত দীর্ঘ পূর্ণাঙ্গ সিভি রয়েছে, পাশাপাশি একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণও রাখা হয়েছে। পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ নিয়মিত আপডেট হওয়ায় সংস্করণভেদে এর পৃষ্ঠাসংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্টভাবে ২৩০ পৃষ্ঠা স্থায়ী সংখ্যা নয়।   তারপরও হ্যালজেনের সিভির অস্বাভাবিক দৈর্ঘ্য একটি বিষয় স্পষ্ট করে। এটি চাকরির জন্য তৈরি সাধারণ সিভি নয়, বরং অর্ধশতাব্দীর বেশি সময়ের গবেষণা, প্রকাশনা এবং বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড। কয়েক পৃষ্ঠার কর্মজীবনের পরিচয়ের বদলে এটি যেন একজন বিজ্ঞানীর দীর্ঘ গবেষণাজীবনেরই লিখিত ইতিহাস।

কিম জং উনের বাবার মৃত্যুতে ১১ দিনের শোক, চোখের পানি পড়ছে কিনা দেখতে নিষিদ্ধ ছিল টুপি-গ্লাভস-স্কার্ফ
কিম জং উনের বাবার মৃত্যুতে ১১ দিনের শোক, চোখের পানি পড়ছে কিনা দেখতে নিষিদ্ধ ছিল টুপি-গ্লাভস-স্কার্ফ
প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২:৩৪

২০১১ সালের ডিসেম্বরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে কঠোর রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল। রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমে দেখা যায়, পিয়ংইয়ংয়ের সড়ক ও বিভিন্ন স্মৃতিস্তম্ভের সামনে হাজার হাজার মানুষ কাঁদছেন, চিৎকার করছেন এবং বুক চাপড়াচ্ছেন। তবে পরে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে আসে, এই শোক শুধু আবেগের প্রকাশ ছিল না, বরং তা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত ও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল।   কিম জং ইল ২০১১ সালের ১৭ ডিসেম্বর মারা যান। তার মৃত্যুর খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয় ১৯ ডিসেম্বর। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কমিটি ১৭ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক শোকপর্ব ঘোষণা করে। ২৮ ডিসেম্বর পিয়ংইয়ংয়ে তার শেষকৃত্য এবং পরদিন কেন্দ্রীয় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারে কিম জং ইলের শেষযাত্রার সময় তুষারে ঢাকা সড়কের দুই পাশে বিপুলসংখ্যক মানুষকে কাঁদতে দেখা যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোও সে সময় পিয়ংইয়ংয়ের শোকানুষ্ঠানের দৃশ্য প্রচার করে। তবে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেইলি এনকে পরে জানায়, এসব অনুষ্ঠানে মানুষের উপস্থিতি এবং আচরণ অনেক ক্ষেত্রেই সংগঠিত ও বাধ্যতামূলক ছিল।   ডেইলি এনকের ২০১১ সালের ডিসেম্বরের একটি প্রতিবেদনে উত্তর কোরিয়ার অভ্যন্তরীণ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, কারখানা, কর্মস্থল ও স্থানীয় প্রশাসনিক ইউনিট থেকে নির্দিষ্ট সময় ধরে মানুষকে শোকানুষ্ঠানে অংশ নিতে পাঠানো হচ্ছিল। অনেকের জন্য স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে শ্রদ্ধা জানানো কার্যত বাধ্যতামূলক ছিল।   সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগ আসে শোকপর্ব শেষ হওয়ার পর। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ডেইলি এনকে উত্তর হামগিয়ং প্রদেশের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, যারা আয়োজিত শোকসভায় অংশ নেননি অথবা উপস্থিত হয়েও যথেষ্ট দুঃখ প্রকাশ করেননি, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছিল।   প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, কারও শোক যথেষ্ট আন্তরিক মনে না হলে তাকে অন্তত ছয় মাসের জন্য শ্রম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হতে পারে। একই সঙ্গে বিভিন্ন কর্মস্থল ও স্থানীয় ইউনিটে আত্মসমালোচনামূলক সভার আয়োজন করা হয়েছিল। যারা শোকানুষ্ঠানে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের দেশদ্রোহী এবং যাদের আচরণ যথেষ্ট শোকাহত মনে হয়নি, তাদের প্রতিক্রিয়াশীল হিসেবে চিহ্নিত করার অভিযোগও উঠে আসে।   তবে উত্তর কোরিয়া অত্যন্ত বন্ধ ও তথ্যনিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র হওয়ায় এসব শাস্তির পূর্ণাঙ্গ সরকারি নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা কঠিন। ফলে ডেইলি এনকের এসব তথ্যকে অভ্যন্তরীণ সূত্রনির্ভর প্রতিবেদন হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।   শেষকৃত্যের দিন পোশাক নিয়েও কঠোর নির্দেশনার অভিযোগ ছিল। ডেইলি এনকের একটি প্রতিবেদনে পিয়ংইয়ংয়ের এক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়, ২৮ ডিসেম্বরের শোকযাত্রায় অংশগ্রহণকারীদের টুপি, গ্লাভস ও স্কার্ফ না পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তখন পিয়ংইয়ংয়ের তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ছিল।   প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, শোকযাত্রার সারির পেছনে পর্যবেক্ষক রাখা হয়েছিল। তবে এই দাবির সব অংশ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। একই সময়ের কিছু ছবি ও আন্তর্জাতিক সংবাদ প্রতিবেদনে কিছু অংশগ্রহণকারীকে শীতের পোশাক পরতেও দেখা যায়। ফলে পোশাকসংক্রান্ত নির্দেশনার প্রয়োগ কতটা সর্বজনীন ছিল, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   উত্তর কোরিয়ায় শোকপর্বে বিনোদন, মদ্যপান এবং উচ্চস্বরে উৎসবধর্মী কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ ছিল বলেও সে সময় একাধিক সংবাদমাধ্যম জানায়। বাজার কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ রাখার কথাও ডেইলি এনকের অভ্যন্তরীণ সূত্রভিত্তিক প্রতিবেদনে উঠে আসে।   আরও কঠোর কিছু দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সেগুলোর সবগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণিত নয়। বিশেষ করে নিজের পরিবারের কেউ মারা গেলে প্রকাশ্যে কাঁদা নিষিদ্ধ ছিল কিংবা শোকের নিয়ম ভাঙলেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতো, এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন প্রমাণ সীমিত। তাই এসব বিষয়কে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না।   তবে তুলনামূলকভাবে শক্তভাবে নথিবদ্ধ যে বিষয়টি হলো, কিম জং ইলের মৃত্যুর পর উত্তর কোরিয়ায় শোক ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে সংগঠিত, পর্যবেক্ষিত এবং রাজনৈতিক আনুগত্যের সঙ্গে যুক্ত। ডেইলি এনকের পরবর্তী প্রতিবেদনগুলোতে অভিযোগ করা হয়, শোকপর্বে অনুপস্থিতি, মদ্যপান, সরকারের সমালোচনা বা শোকের আবহ ভঙ্গ করার অভিযোগে কাউকে শ্রমশিবিরে পাঠানো, দলীয় পদ হারানো কিংবা দূরবর্তী এলাকায় নির্বাসনের মতো শাস্তিও দেওয়া হয়েছে।   কিম জং ইলের শেষকৃত্য শুধু একজন নেতার মৃত্যুর আনুষ্ঠানিকতা ছিল না। এটি একই সঙ্গে ক্ষমতা তার ছেলে কিম জং উনের হাতে হস্তান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে ওঠে। শেষযাত্রায় কিম জং উনকে বাবার কফিনবাহী গাড়ির পাশে হাঁটতে দেখা যায়। এরপর দ্রুতই তিনি উত্তর কোরিয়ার নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন।

যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কলেজে সারোয়ার দম্পতির ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাৎ, পরিচালকের স্বীকারোক্তি
প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ২:৮

যুক্তরাজ্যের ওয়েলসে অবস্থিত কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের তহবিল থেকে অন্তত ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক দম্পতি নাদিম সারোয়ার ও ইয়াসমিন সারোয়ার। নাদিম সারোয়ার ইতোমধ্যে কলেজের অর্থ আত্মসাতের দায় স্বীকার করেছেন। অন্যদিকে তার সাবেক স্ত্রী ইয়াসমিন সারোয়ার নিজের বিরুদ্ধে আনা নয়টি চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করে মারথার টিডফিল ক্রাউন কোর্টে বিচার মোকাবিলা করছেন।    মঙ্গলবার আদালতে প্রসিকিউশন পক্ষ অভিযোগ করে, একসময় যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় এ লেভেল কলেজ হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির অর্থকে ব্যক্তিগত সম্পদের মতো ব্যবহার করেছিলেন সারোয়ার দম্পতি। প্রসিকিউটর মার্ক কটার কেসি জুরিদের বলেন, তারা কলেজের তহবিলকে নিজেদের ‘ব্যক্তিগত পিগি ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করে সম্পত্তি কেনা, বিদেশে অর্থ পাঠানো এবং বিলাসবহুল জীবনযাপনে ব্যয় করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।    নাদিম সারোয়ার গত ২৯ সেপ্টেম্বর আদালতে ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৬ সালের ৩১ অক্টোবরের মধ্যে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজ থেকে কমপক্ষে ৫০ লাখ পাউন্ড চুরির দায় স্বীকার করেন। একই মামলায় কলেজের সাবেক হিসাবরক্ষক রাগু শিবাপালান অডিট রিপোর্টে বিভ্রান্তিকর বা মিথ্যা তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার অপরাধও স্বীকার করেছেন। তাদের সাজা পরে ঘোষণা করা হবে।    তবে ইয়াসমিন সারোয়ার তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, তিনি কলেজের পরিচালক ও ট্রাস্টি হিসেবে দায়িত্বে থাকার সময় অর্থ সরিয়ে নেওয়া এবং পরে সেই লেনদেনের তথ্য গোপন করার প্রক্রিয়ায় জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে প্রতারণা, কর্মচারী হিসেবে চুরি এবং অপরাধলব্ধ অর্থ গোপন বা স্থানান্তরসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া প্রায় ১০ সপ্তাহ চলতে পারে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।    এই মামলার সূত্রপাত অবশ্য সাম্প্রতিক নয়। সাউথ ওয়েলস পুলিশ ২০২৫ সালের মার্চে জানায়, কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে ২০১২ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত সন্দেহভাজন বহু মিলিয়ন পাউন্ডের প্রতারণা ও চুরির ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে চ্যারিটি কমিশন ফর ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ সরবরাহ করেছিল। তখন নাদিম ও ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে প্রায় ৫০ লাখ পাউন্ডের চুরি ও প্রতারণার অভিযোগ এবং রাগু শিবাপালানের বিরুদ্ধে মিথ্যা হিসাব তৈরির অভিযোগ আনা হয়।    কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজের যাত্রা শুরু হয়েছিল ছোট পরিসরে। ইয়াসমিন সারোয়ার প্রথমে নিজের বাড়িতে এ লেভেল শিক্ষার্থীদের পড়াতেন। পরে সেই কার্যক্রমই বড় হয়ে কার্ডিফ সিক্সথ ফর্ম কলেজে রূপ নেয়। প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এবং ফলাফলের কারণে যুক্তরাজ্যের অন্যতম সফল স্বাধীন সিক্সথ ফর্ম কলেজ হিসেবে পরিচিতি পায়। ২০১৬ সালে বিবিসির ‘ব্রিটেনস ব্রেইনিয়েস্ট স্কুল’ তথ্যচিত্রেও কলেজটি স্থান পায়।    প্রসিকিউশনের দাবি, প্রতিষ্ঠানটি দাতব্য সংস্থা হিসেবে পরিচালিত হলেও ট্রাস্টি ও পরিচালনা কাঠামোর দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে বিপুল অর্থ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের নামে থাকা মূল অ্যাকাউন্টের বাইরে অন্য অ্যাকাউন্টেও শিক্ষার্থীদের ফি জমা নেওয়া হতো এবং সেই অর্থের একটি অংশ পরে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হয়।   আদালতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, কলেজের অর্থ ব্যবহার করে কার্ডিফে উচ্চমূল্যের সম্পত্তি কেনা এবং মালয়েশিয়ায় অর্থ পাঠানো হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বড় অংশ এখনো ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে চলমান বিচারাধীন মামলার অংশ এবং আদালত এখনো সেগুলোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মামলার গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, নাদিম সারোয়ারের দায় স্বীকারের ফলে ৫০ লাখ পাউন্ড আত্মসাতের অন্তত একটি অংশ এখন আর শুধু অভিযোগের পর্যায়ে নেই। তবে ইয়াসমিন সারোয়ারের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারাধীন। তার দোষ বা নির্দোষ হওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতই দেবে।   এদিকে কলেজটির বর্তমান পরিচালনা ও মালিকানা আগের সময়ের তুলনায় পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে অভিযোগ ওঠা আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে বর্তমান ব্যবস্থাপনার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়নি। বর্তমান বিচার মূলত প্রতিষ্ঠানের সাবেক পরিচালনা পর্বের অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়েই চলছে।

সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে
সৌদিতে নির্যাতনের অভিযোগে গোপনে ভিডিও করা রেহেনা এখন দূতাবাসের হেফাজতে
প্রকাশ: অক্টোবর ৭, ২০২৬ ১:৪০

সৌদি আরবে গৃহকর্মীর ভিসায় গিয়ে নির্যাতন, বেতন না পাওয়া এবং অতিরিক্ত কাজের চাপের অভিযোগ করা হবিগঞ্জের মাধবপুরের রেহেনা খাতুনকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং দেশে ফেরানোর প্রস্তুতিও চলছে।    রেহেনা খাতুন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের কমলপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারের আর্থিক সংকট কাটানোর আশায় তিনি গৃহকর্মীর ভিসায় সৌদি আরব যান। সেখানে যাওয়ার পর কাজের পরিবেশ নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলে পরিবারের কাছে গোপনে ভিডিও বার্তা পাঠান তিনি।   ওই ভিডিও বার্তায় রেহেনা অভিযোগ করেন, তাকে অতিরিক্ত কাজ করানো হচ্ছে, পর্যাপ্ত খাবার দেওয়া হচ্ছে না এবং তার বেতনও পরিশোধ করা হয়নি। দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানালেও তাকে সহজে ফিরতে দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।   বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর সরকারি পর্যায়ে উদ্যোগ শুরু হয়। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ শাখার উপপরিচালক আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, গত ৫ অক্টোবর রেহেনাকে বাংলাদেশ দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।   এর আগে ৪ অক্টোবর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কল্যাণ শাখার পরিচালক লোকমান হোসেন সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসকে চিঠি দেন। ওই চিঠিতে রেহেনাকে দ্রুত দেশে ফেরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।   রেহেনাকে সৌদি আরবে পাঠানোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রিক্রুটিং এজেন্সি জেনিয়া ওভারসিসের কর্মকর্তা হাসান মিয়া জানিয়েছেন, তাকে দেশে ফেরানোর জন্য বিমানের টিকিট কেনা হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী হলে বৃহস্পতিবারের মধ্যেই তাকে বাংলাদেশে ফেরানো হতে পারে।   তবে দেশে ফেরার প্রস্তুতি এগোলেও রেহেনার বকেয়া বেতন-ভাতা এখনো পরিশোধ হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বামী আলী আহমদ। তিনি বলেন, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ায় পরিবার স্বস্তি পেয়েছে। একই সঙ্গে তার স্ত্রীর পাওনা অর্থ আদায়ের জন্যও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।   রেহেনার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। সর্বশেষ একটি ভিডিও বার্তায় তিনি দাবি করেন, তার কাছ থেকে জোর করে একটি জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে উদ্ধারে সরকারের উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতাও জানান তিনি।   রেহেনার ঘটনা প্রথম আলোচনায় আসে যখন সৌদি আরব থেকে তার পাঠানো ভিডিও পরিবারের হাতে পৌঁছায়। পরিবারের দাবি, সৌদিতে যাওয়ার পর তাকে পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। একপর্যায়ে সুযোগ পেয়ে তিনি নিজের পরিস্থিতির কথা জানিয়ে দেশে ফেরার আকুতি জানান।   গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে পরিবারের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়, তাকে দেশে ফিরতে হলে কয়েক লাখ টাকা দিতে হবে বলে চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তবে এসব অভিযোগের সবগুলো বিষয়ে সৌদি নিয়োগকর্তা বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বাধীন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   রেহেনাকে দূতাবাসের হেফাজতে নেওয়ার পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে নিরাপদে দেশে ফেরানো এবং তার বেতন-ভাতাসহ আর্থিক পাওনার বিষয়টি নিষ্পত্তি করা। দেশে ফেরার পর তার কাছ থেকে ঘটনার পূর্ণ বিবরণ পাওয়া গেলে সৌদিতে তিনি ঠিক কী ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   সূত্র: আরটিভি

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়