সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে ভারত সরকার। ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটেক) স্কিমের আওতায় আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।   এই বিশেষ কোর্সটি মূলত অর্থনীতি, অর্থসংস্থান, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের কথা বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছে। প্রশিক্ষণে গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক, কৌশলগত যোগাযোগ এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে।   এছাড়া এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা হায়দরাবাদের হাইটেক সিটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। সেখানে তারা স্থানীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারবেন। কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সাংবাদিককে সনদপত্র প্রদান করা হবে।   ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত সাংবাদিকদের যাতায়াতের বিমানভাড়া, প্রশিক্ষণ ফি, আবাসন ও দৈনন্দিন ভাতাসহ যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকার বহন করবে। উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে ৫ থেকে ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আগ্রহী সাংবাদিকরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।   তবে প্রাথমিক মনোনয়নের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

১২ মিনিট Ago
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক ভারতীয় প্রবাসীর ৯ টুকরো  লা শ উদ্ধার
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক ভারতীয় প্রবাসীর ৯ টুকরো লা শ উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অ্যালউইন প্রকাশ কুন্দের নামের এক ভারতীয় প্রবাসীকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ওমানের দিকে যাওয়ার একটি রুটে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর থেকে তার ৯ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করা হয়।   নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতের ভাই সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর উদুপির পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।   নিহতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের জানান, অ্যালউইন গত ১৪ বছর ধরে শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তার স্ত্রী টিনা কুন্দের শারজার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং তাদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।   গত ২০ জুলাই অনিল তার ভাইকে ফোন করে না পেয়ে সন্দেহ করেন, কারণ এর বদলে আসা একটি মেসেজের ধরন অ্যালউইনের স্বাভাবিক কথার মতো ছিল না। এক সপ্তাহ পর আবারও ফোন করে সাড়া না পেয়ে তিনি শারজায় অবস্থানরত ভাইয়ের এক সহপাঠীর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সহপাঠী এবং কোম্পানির তরফ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে অ্যালউইন ভারতে ফিরে গেছেন। কিন্তু পরে পাসপোর্ট রেকর্ড চেক করে দেখা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছিলেন।   নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে একটি গাড়ির ভেতর দুটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় অ্যালউইনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। অনিল জানান, বুকে ছুরিকাঘাত করে দেহ ৯ টুকরো করার মতো কাজ অত্যন্ত পেশাদার অপরাধীদের পক্ষেই সম্ভব।   তিনি আরও দাবি করেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দুই পুরুষ ও এক নারীকে তাদের ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী বা কারা এর সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নিহতের স্ত্রী টিনা ও তার ছেলের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এই ঘটনায় বড় ধরনের রহস্যের জন্ম দিয়েছে। শারজা পুলিশের পাশাপাশি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

৩৩ মিনিট Ago
ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে চান না একাধিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী
ট্রাম্পের কাছে পরাজয়ের পর নির্বাচনী প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে চান না একাধিক ডেমোক্র্যাট প্রার্থী

আসন্ন মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজ দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতর থেকেই প্রকাশ্য দূরত্বের মুখে পড়েছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে বড় পরাজয় এবং জো বাইডেন প্রশাসনের নীতি নিয়ে অসন্তোষের কারণে ঝুঁকির মুখে থাকা একাধিক অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা নির্বাচনী মঞ্চে তাঁকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছেন।   আইওয়া, কানসাস, টেক্সাস ও অ্যারিজোনার মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর শীর্ষ ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁরা প্রচারণায় কমলা হ্যারিসকে পাশে চান না। আইওয়া অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাটিক গভর্নর পদপ্রার্থী রব স্যান্ড স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁর কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন নেই এবং এখন দলটির নতুন নেতৃত্বের দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়।   একইভাবে কানসাসের সিনেট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিল্টনও জানিয়েছেন, সাধারণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে হলে তাদের কমলা হ্যারিসের চেয়ে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই মাঠে নামতে হবে।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলটির কট্টর সমর্থকদের একাংশের কাছে প্রথম নারী ও কৃষ্ণাঙ্গ ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে কমলা হ্যারিসের কিছুটা আবেদন থাকলেও ট্রাম্পের কাছে সাম্প্রতিক পরাজয় তাঁর অবস্থানকে অত্যন্ত দুর্বল করে দিয়েছে।   ইউসি বার্কলে সিট্রিন সেন্টার ও পলিটিকোর সাম্প্রতিক এক যৌথ জরিপে দেখা গেছে, এমনকি তাঁর নিজ রাজ্য ক্যালিফোর্নিয়াতেও ২০২৮ সালে হ্যারিসের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতা নিয়ে ভোটারদের উদ্দীপনা আশঙ্কাজনকভাবে কমে মাত্র ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাটপন্থী ভোটারদের ৫৫ শতাংশই তাঁর পুনরায় নির্বাচনে দাঁড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা দেখছেন না।   ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিওসম এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হ্যারিস প্রার্থী হলে তিনি হয়তো পথ ছেড়ে দেবেন, তবে তিনি মনে করেন না কমলা আবার নির্বাচন করবেন। দলের এমন নানামুখী সমীকরণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাঠে হ্যারিসকে এক জটিল বাস্তবতায় দাঁড় করিয়েছে।   তবে এই বিরোধিতার উল্টো চিত্র দেখা গেছে মিশিগানে। সেখানে কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের আস্থা অর্জন এবং গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিভক্ত হওয়া জোটকে ঐক্যবদ্ধ করতে হ্যারিসকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক ইউএস সিনেট প্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদ।   তিনি মনে করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচনে মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে ক্ষুব্ধ আরব-আমেরিকান ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব ঘোচাতে হ্যারিসের এই সফর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ডেট্রয়েটে কৃষ্ণাঙ্গ মাতৃস্বাস্থ্য এবং নাগরিক অধিকার সংগঠন এনএএসিপির (NAACP) ভোটাধিকার ফোরামে তাঁদের যৌথভাবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।   দলীয় নেতাদের একাংশের এমন অনাগ্রহ বা সরাসরি প্রত্যাখ্যান সত্ত্বেও প্রকাশ্যে বিষয়টিকে স্বাভাবিকভাবেই নিচ্ছেন সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দলীয় প্রার্থীরা নির্বাচনে জিততে যা প্রয়োজন বলে মনে করেন, তাতে তাঁর পূর্ণ সমর্থন রয়েছে।   সব দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাপিয়ে নেভাডা, জর্জিয়া ও ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্যান্য প্রার্থীদের সঙ্গে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ২০২৮ সালের পরিকল্পনা নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো না করে এই মুহূর্তে মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকেই নিজের পূর্ণ মনোযোগ সীমাবদ্ধ রাখছেন বলে জানিয়েছেন কমলা হ্যারিস।

৫৮ মিনিট Ago
নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের টিপস আটকের অভিযোগ, ডোরড্যাশকে ১৩১ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের টিপস আটকের অভিযোগ, ডোরড্যাশকে ১৩১ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ডেলিভারি কর্মীদের বকশিশ (টিপস) আটকে রাখার অভিযোগে জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ডোরড্যাশের সঙ্গে ১৩ কোটি ১০ লাখ (১৩১ মিলিয়ন) ডলারের ঐতিহাসিক আপস-মীমাংসা বা সেটেলমেন্ট করেছে নিউইয়র্ক শহর।   এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার ঘোষণা দিতে গিয়ে ডোরড্যাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টনি শু-এর ‘লোভী অ্যালগরিদম’ ব্যবহারের ব্যবসায়িক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মেয়রের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পৌরসভার ইতিহাসে ফুড ডেলিভারি কর্মীদের অধিকার আদায়ে এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সেটেলমেন্ট।   মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি গত জুলাই মাসে প্রচারিত একটি পডকাস্টে টনি শু-এর দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাত্র দুই মাস আগে টনি শু ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, একজন সিইওকে সব সময় 'লোভী অ্যালগরিদম' গ্রহণ করে দেখতে হবে যেখান থেকে আরও বেশি কিছু বের করা যায় কি না।   এর কড়া সমালোচনা করে মেয়র বলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ‘লোভী অ্যালগরিদম’ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির কথা একেবারেই চিন্তা না করে প্রতি পদক্ষেপে শুধু তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ লাভের পথটি বেছে নেয়।   মুনাফালোভী এই ব্যবসায়িক মডেলের কারণে নিউইয়র্ক শহরের ডেলিভারি কর্মীদের দীর্ঘকাল ধরে চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ ডোরড্যাশে পণ্য ডেলিভারির কাজ করেন এবং তাদের সবাই কোম্পানির এই অমানবিক নীতির প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। শহরের কর্মজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এই ঐতিহাসিক জরিমানা ও সেটেলমেন্ট একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
এনওয়াইপিডি ট্রাফিক কোর্সে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হয়ে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি আল মোর্শেদ

বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা) অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে এনওয়াইপিডি (NYPD) ট্রাফিক এনফোর্সমেন্ট এজেন্ট কোর্স সফলভাবে সম্পন্ন করায় পিটিইএ-টু (PTEAII) মোহাম্মদ আল মোর্শেদকে অভিনন্দন জানিয়েছে।   শুধু কোর্স সম্পন্ন করাই নয়, অসাধারণ মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে তিনি তার ব্যাচের 'ক্লাস ভ্যালেডিক্টোরিয়ান' বা শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।   পুরো ব্যাচের মধ্যে ভ্যালেডিক্টোরিয়ান হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া একটি অত্যন্ত বিরল ও উল্লেখযোগ্য অর্জন। এটি মূলধারার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে তার অসামান্য নিষ্ঠা, কঠোর শৃঙ্খলা, একাডেমিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং পেশার প্রতি অটল প্রতিশ্রুতির এক উজ্জ্বল প্রতিফলন।   বাপার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অসাধারণ সাফল্য প্রমাণ করে যে পুরো প্রশিক্ষণ চলাকালীন আল মোর্শেদ কতটা কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ় সংকল্পের পরিচয় দিয়েছেন। তার এই অনন্য অর্জন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে।

নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৫:৪৪
নিউইয়র্কে ডেলিভারি কর্মীদের টিপস আটকের অভিযোগ, ডোরড্যাশকে ১৩১ মিলিয়ন ডলার জরিমানা

ডেলিভারি কর্মীদের বকশিশ (টিপস) আটকে রাখার অভিযোগে জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ডোরড্যাশের সঙ্গে ১৩ কোটি ১০ লাখ (১৩১ মিলিয়ন) ডলারের ঐতিহাসিক আপস-মীমাংসা বা সেটেলমেন্ট করেছে নিউইয়র্ক শহর।   এই বিশাল অঙ্কের জরিমানার ঘোষণা দিতে গিয়ে ডোরড্যাশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টনি শু-এর ‘লোভী অ্যালগরিদম’ ব্যবহারের ব্যবসায়িক নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। মেয়রের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো পৌরসভার ইতিহাসে ফুড ডেলিভারি কর্মীদের অধিকার আদায়ে এটিই এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় সেটেলমেন্ট।   মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মামদানি গত জুলাই মাসে প্রচারিত একটি পডকাস্টে টনি শু-এর দেওয়া বক্তব্যের সূত্র ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, মাত্র দুই মাস আগে টনি শু ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিতে গিয়ে বলেছিলেন যে, একজন সিইওকে সব সময় 'লোভী অ্যালগরিদম' গ্রহণ করে দেখতে হবে যেখান থেকে আরও বেশি কিছু বের করা যায় কি না।   এর কড়া সমালোচনা করে মেয়র বলেন, কম্পিউটার বিজ্ঞানে ‘লোভী অ্যালগরিদম’ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিণতির কথা একেবারেই চিন্তা না করে প্রতি পদক্ষেপে শুধু তাৎক্ষণিক ও সর্বোচ্চ লাভের পথটি বেছে নেয়।   মুনাফালোভী এই ব্যবসায়িক মডেলের কারণে নিউইয়র্ক শহরের ডেলিভারি কর্মীদের দীর্ঘকাল ধরে চরম মূল্য চোকাতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন মেয়র মামদানি। তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ ডোরড্যাশে পণ্য ডেলিভারির কাজ করেন এবং তাদের সবাই কোম্পানির এই অমানবিক নীতির প্রত্যক্ষ ভুক্তভোগী। শহরের কর্মজীবী মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে এই ঐতিহাসিক জরিমানা ও সেটেলমেন্ট একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় এক ভারতীয় প্রবাসীর ৯ টুকরো লা শ উদ্ধার

সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজায় অ্যালউইন প্রকাশ কুন্দের নামের এক ভারতীয় প্রবাসীকে নির্মমভাবে হত্যার পর লাশ গুম করার চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। সম্প্রতি ওমানের দিকে যাওয়ার একটি রুটে পার্ক করা একটি গাড়ির ভেতর থেকে তার ৯ টুকরো করা লাশ উদ্ধার করা হয়।   নিহত ওই ব্যক্তির বাড়ি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উদুপি জেলার কুন্দাপুরে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকেই তার স্ত্রী ও সন্তান নিখোঁজ রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। নিহতের ভাই সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর উদুপির পুলিশ সুপারের কাছে ন্যায়বিচারের দাবিতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।   নিহতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দের জানান, অ্যালউইন গত ১৪ বছর ধরে শারজা বিমানবন্দরে কর্মরত ছিলেন। গত বছরের ডিসেম্বরে তিনি সর্বশেষ ছুটিতে দেশে এসেছিলেন। তার স্ত্রী টিনা কুন্দের শারজার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন এবং তাদের ছেলে সেখানে দশম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।   গত ২০ জুলাই অনিল তার ভাইকে ফোন করে না পেয়ে সন্দেহ করেন, কারণ এর বদলে আসা একটি মেসেজের ধরন অ্যালউইনের স্বাভাবিক কথার মতো ছিল না। এক সপ্তাহ পর আবারও ফোন করে সাড়া না পেয়ে তিনি শারজায় অবস্থানরত ভাইয়ের এক সহপাঠীর মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। ওই সহপাঠী এবং কোম্পানির তরফ থেকে প্রথমে জানানো হয়েছিল যে অ্যালউইন ভারতে ফিরে গেছেন। কিন্তু পরে পাসপোর্ট রেকর্ড চেক করে দেখা যায়, তিনি শারজাতেই অবস্থান করছিলেন।   নিখোঁজের অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশি তদন্তে একটি গাড়ির ভেতর দুটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় অ্যালউইনের খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। অনিল জানান, বুকে ছুরিকাঘাত করে দেহ ৯ টুকরো করার মতো কাজ অত্যন্ত পেশাদার অপরাধীদের পক্ষেই সম্ভব।   তিনি আরও দাবি করেন, একটি সিসিটিভি ফুটেজে দুই পুরুষ ও এক নারীকে তাদের ভবন থেকে বের হতে দেখা গেছে। তবে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল উদ্দেশ্য কী বা কারা এর সাথে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। নিহতের স্ত্রী টিনা ও তার ছেলের আকস্মিক নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি এই ঘটনায় বড় ধরনের রহস্যের জন্ম দিয়েছে। শারজা পুলিশের পাশাপাশি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এই রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ
বাংলাদেশি সাংবাদিকদের জন্য ভারতে সম্পূর্ণ বিনা খরচে সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ

বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ কোর্সের আয়োজন করেছে ভারত সরকার। ‘ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন’ (আইটেক) স্কিমের আওতায় আগামী ২৫ থেকে ৩১ অক্টোবর ভারতের হায়দরাবাদে অবস্থিত ড. মারি চান্না রেড্ডি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে এই প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।   মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়।   এই বিশেষ কোর্সটি মূলত অর্থনীতি, অর্থসংস্থান, বাণিজ্য ও জ্বালানি খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের কথা বিবেচনায় রেখে সাজানো হয়েছে। প্রশিক্ষণে গণমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্ক, কৌশলগত যোগাযোগ এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হবে।   এছাড়া এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণার্থীরা হায়দরাবাদের হাইটেক সিটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন। সেখানে তারা স্থানীয় স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ভ্রমণ করতে পারবেন। কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্ন করার পর অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সাংবাদিককে সনদপত্র প্রদান করা হবে।   ভারতীয় হাইকমিশনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, এই কর্মসূচিতে নির্বাচিত সাংবাদিকদের যাতায়াতের বিমানভাড়া, প্রশিক্ষণ ফি, আবাসন ও দৈনন্দিন ভাতাসহ যাবতীয় খরচ সম্পূর্ণভাবে ভারত সরকার বহন করবে। উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে ৫ থেকে ১০ বছরের পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আগ্রহী সাংবাদিকরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে গুগল ফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন।   তবে প্রাথমিক মনোনয়নের পর নির্বাচিত প্রার্থীদের নিজ নিজ গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তিপত্র বা এনওসি (NOC) জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

চাকরি প্রার্থীদের ছবি:সংগৃহীত।
উচ্চশিক্ষা নিয়েও মিলছে না চাকরি, দেশের ৩৬ শতাংশ শিক্ষিত তরুণ বেকার: আইএমএফ

বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও চাকরির বাজারে জায়গা করে নিতে পারছেন না বিপুলসংখ্যক তরুণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষা পাওয়া ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী শ্রমশক্তির প্রায় ৩৬ শতাংশ বেকার। অর্থাৎ এই শ্রেণির চাকরিপ্রত্যাশী প্রতি ১০০ তরুণের মধ্যে প্রায় ৩৬ জন কাজ পাচ্ছেন না।    আইএমএফের সেপ্টেম্বর ২০২৬ সংখ্যার Finance & Development সাময়িকীতে প্রকাশিত বিশ্লেষণে এশিয়ার তরুণদের কর্মসংস্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বাংলাদেশের সামগ্রিক তরুণ বেকারত্বের হার প্রায় ১০ শতাংশ হলেও মাধ্যমিক-পরবর্তী শিক্ষাপ্রাপ্ত তরুণদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ৩৬ শতাংশ।    পরিস্থিতির পেছনে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে শিক্ষা ও চাকরির বাজারের চাহিদার অসামঞ্জস্য। আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের অনেকেই তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি খুঁজে পেতে সমস্যায় পড়ছেন।    বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪ সালের শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য উদ্ধৃত করে গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশে বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ২৬ লাখ ২৪ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৯ বছর বয়সী বেকারের সংখ্যা প্রায় ২০ লাখ ৩২ হাজার। বেকারদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চশিক্ষিত।    চাকরির বাজারে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতির সঙ্গে শিক্ষিত তরুণের সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যবধানও সমস্যাটিকে জটিল করছে। বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফাহিম মাশরুরের হিসাবে, বছরে প্রায় ২২ থেকে ২৩ লাখ তরুণ বাংলাদেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন; তাঁদের মধ্যে প্রায় সাড়ে সাত লাখ বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতক। কিন্তু নতুন শিল্প ও উচ্চদক্ষতার চাকরি একই গতিতে তৈরি হচ্ছে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।    আইএমএফের পৃথক বাংলাদেশ প্রতিবেদনে একই ধরনের কাঠামোগত সমস্যার কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, শিক্ষার হার বাড়লেও উচ্চ উৎপাদনশীল খাতে সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান বাড়েনি। ২০২৪ সালের তথ্য ব্যবহার করে ওই প্রতিবেদনে উচ্চশিক্ষিত ১৫–২৯ বছর বয়সীদের বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশ দেখানো হয়েছে—যা ভিন্ন বয়সসীমা ও শিক্ষার সংজ্ঞার কারণে ১৫–২৪ বছর বয়সীদের ৩৬ শতাংশ হিসাবের সঙ্গে সরাসরি তুলনীয় নয়।   কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারও নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে আইএমএফ সতর্ক করেছে। প্রযুক্তি উৎপাদনশীলতা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি করলেও দক্ষতা উন্নয়নের চেয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত এগোলে তরুণ কর্মীদের ওপর চাকরির বাজারে চাপ আরও বাড়তে পারে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় ও কারিগরি শিক্ষাকে নিয়োগদাতাদের প্রয়োজনের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।    আঞ্চলিক তুলনায় পরিস্থিতি শুধু বাংলাদেশের নয়। আইএমএফের হিসাবে একই শ্রেণির শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৪৩ শতাংশ, আর ভারতেও হার ৪০ শতাংশের ওপরে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশের তুলনায় বাংলাদেশের হার বেশি।

এনবিআর ছবি সংগৃহীত।
বিমানের শৌচাগারে গুপ্তধন! চার ঘণ্টা তল্লাশিতে মিলল ১১ কোটি টাকার স্বর্ণ

ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজের শৌচাগার থেকে ৫০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের ওজন প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি এবং আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ কোটি টাকা।    জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুর থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-৫৮৫ ফ্লাইটটি সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকায় অবতরণ করে। গোয়েন্দাদের কাছে আগে থেকেই তথ্য ছিল, উড়োজাহাজটিতে শতাধিক স্বর্ণের বার পাচার করা হতে পারে।    ফ্লাইট অবতরণের পর উড়োজাহাজটিতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করেন কর্মকর্তারা। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তল্লাশির একপর্যায়ে শৌচাগারের ভেতরে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৫০টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। প্রতিটি বারের ওজন ১০ তোলা; সব মিলিয়ে ৫০০ তোলা বা প্রায় ৫ দশমিক ৮৩২ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার হয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, স্বর্ণগুলো কোনো যাত্রীর ব্যাগ বা লাগেজ থেকে উদ্ধার হয়নি। সেগুলো উড়োজাহাজের শৌচাগারের ভেতরে লুকানো ছিল। ফলে কে বা কারা সেখানে স্বর্ণ রেখেছিল এবং বিমানবন্দর থেকে সেগুলো কীভাবে বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল—তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।   জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এখন পর্যন্ত এই ঘটনায় কোনো ব্যক্তিকে পাচারকারী হিসেবে শনাক্ত করেনি। শুল্ক গোয়েন্দারা সংগঠিত কোনো স্বর্ণ চোরাচালান চক্র এর সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখবেন।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ইরানি প্রতিনিধিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধিনিষেধ
দোকানেও যেতে লাগবে অনুমতি, ইরানি প্রতিনিধিদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বিধিনিষেধ
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১১:৪৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে পৌঁছেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদলের চলাচল কঠোরভাবে সীমিত রাখা হয়েছে। মার্কিন প্রশাসনের বিধিনিষেধ অনুযায়ী, তাদের চলাচল মূলত জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নির্ধারিত কূটনৈতিক স্থাপনা, নির্দিষ্ট আবাসন এবং বিমানবন্দরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।   ইরানি প্রেসিডেন্টকে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই চলাচল বিধিনিষেধও রাখা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতিসংঘের আয়োজনে অংশ নিতে বিদেশি নেতাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের কাজের বাইরে তাদের চলাচল সীমিত করার সুযোগও রয়েছে।   এবার ইরানি প্রতিনিধিদল আগের বছরের তুলনায় ছোট রাখা হয়েছে। পেজেশকিয়ান ও তাঁর প্রতিনিধিদের নিউইয়র্কে অবাধে ঘোরাফেরা, বিভিন্ন স্থানে যাওয়া বা ব্যক্তিগতভাবে কেনাকাটার সুযোগ থাকছে না। বিশেষ করে বিলাসী পণ্য কেনার ওপরও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ইরানি কর্মকর্তাদের নিউইয়র্কে চলাচলের ওপর এমন বিধিনিষেধ নতুন নয়। ২০২৪ সালে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছিল, ইরানি প্রতিনিধিদলের চলাচল জাতিসংঘ সদরদপ্তর, নিউইয়র্কে ইরানের মিশন, ইরানি রাষ্ট্রদূতের বাসভবন এবং জন এফ কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মধ্যে সীমিত করা হয়েছিল।   চলতি বছর পরিস্থিতি আরও স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক সংঘাতের কারণে। এর মধ্যেই পেজেশকিয়ানের জাতিসংঘ সফরকে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হিসেবেও দেখা হচ্ছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে এবং জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও মঙ্গলবার জানিয়েছেন, জাতিসংঘের অধিবেশনের সময় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে ওয়াশিংটন উন্মুক্ত রয়েছে। তবে এ মুহূর্তে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। রুবিও বলেছেন, এমন আলোচনা তখনই অর্থবহ হবে যখন তা বাস্তব কোনো ফলাফলের দিকে এগোতে পারে।   পেজেশকিয়ান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইরানের অবস্থান তুলে ধরবেন। ইরানি প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্কে যাওয়ার আগে বলেছেন, আন্তর্জাতিক ফোরামে তাঁর দেশ নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে তুলে ধরবে। একই সময়ে ইরানের প্রতিনিধিদল বিভিন্ন দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগও খুঁজছে।   জাতিসংঘের এবারের অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। ফলে কঠোর চলাচল বিধিনিষেধের মধ্যেও পেজেশকিয়ানের নিউইয়র্ক সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কূটনৈতিক নজর রয়েছে।

কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস
কানাডায় টিউটরের শেষ পাবলিক শো শেষ, ক্যালগেরিতে শেষবার দেখা দেবে স্নোবার্ডস
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৪:৩৮

কানাডায় টিউটর উড়োজাহাজে শেষ পাবলিক এয়ার শো শেষ করেছে রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের স্নোবার্ডস। গ্যাটিনো-অটোয়া এলাকায় আয়োজিত অ্যারো গ্যাটিনো-অটোয়া শো শেষে দলটি তাদের ঘাঁটি মোজ জ-তে ফিরছে। পরিবারের সঙ্গে স্বল্প সময়ের বিশ্রামের পর আবার শেষ প্রদর্শনীর প্রস্তুতি নেবে দলটি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় স্নোবার্ডস জানায়, অ্যারো গ্যাটিনো-অটোয়া ছিল কানাডায় টিউটর উড়োজাহাজে তাদের শেষ পাবলিক শো। আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকদের ধন্যবাদ জানিয়ে দলটি বলেছে, গত ৫৫ বছর ধরে তাদের প্রতিটি প্রদর্শনী সম্ভব হয়েছে স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় আয়োজকদের সহযোগিতায়।   স্নোবার্ডসের পক্ষ থেকে বলা হয়, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে কানাডার বিভিন্ন বিমানঘাঁটি, সমুদ্রসৈকত ও বিভিন্ন এলাকার মানুষের সামনে তারা প্রদর্শনী করেছে। এই দীর্ঘ সময়ে কানাডীয়দের সমর্থন তাদের আরও উঁচুতে উড়তে এবং দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে অনুপ্রাণিত করেছে বলেও বার্তায় উল্লেখ করা হয়।   তবে টিউটর যুগের সমাপ্তি হলেও স্নোবার্ডসের প্রদর্শনী পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। দলটি জানিয়েছে, কানাডীয়দের সঙ্গে তাদের শেষ সাক্ষাৎ হবে ক্যালগেরিতে গ্রে কাপ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে।   স্নোবার্ডস বলেছে, টিউটর উড়োজাহাজের যুগ শেষের দিকে এগোলেও দলের সেই চেতনা অব্যাহত থাকবে। ৫৫ বছরের এই অধ্যায়ের জন্য কানাডার জনগণ, স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তারা ক্যালগেরিতে আবার দেখা করার বার্তা দিয়েছে।   রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্সের স্নোবার্ডস কানাডার অন্যতম পরিচিত সামরিক এয়ার শো দল। দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন জাতীয় অনুষ্ঠান ও এয়ার শোতে দলীয় উড্ডয়ন প্রদর্শনের মাধ্যমে কানাডার প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।   সোর্স: রয়্যাল কানাডিয়ান এয়ার ফোর্স স্নোবার্ডস

ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম
ইরান যুদ্ধ ও কূটনীতির টানাপোড়েনে বিশ্ববাজারে ওঠানামা করছে তেলের দাম
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ৩:৫৭

ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনাকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ওঠানামা দেখা যাচ্ছে। ২১ সেপ্টেম্বর ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৪ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৩৪ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই ৪ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৫ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমে আসে। রয়টার্সের হিসাবে, দুটিই ৯ সেপ্টেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল।   তেলের দাম কমার অন্যতম কারণ হিসেবে বাজারে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনাকে দেখা হচ্ছে। এই সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অগ্রগতির সুযোগ তৈরি হতে পারে—এমন প্রত্যাশায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তেলের সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলে রয়টার্স জানিয়েছে।   এর পাশাপাশি সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে আংশিক পুনরুদ্ধারও বাজারে চাপ কমিয়েছে। ইয়েমেনের হুতিদের হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে বিঘ্ন তৈরি হওয়ার পর সৌদি আরব হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি তেল পাঠাচ্ছে। গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি দিয়ে সৌদি তেল পরিবহন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।   তবে তেলের বাজার এখনো ঝুঁকিমুক্ত নয়। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে এবং ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতির আশা তেলের দামে নিম্নমুখী চাপ তৈরি করলেও সরবরাহে নতুন কোনো বড় বিঘ্ন ঘটলে বাজার আবার দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।   সাম্প্রতিক সময়ে ব্রেন্টের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গিয়েছিল। পরে কূটনৈতিক অগ্রগতির সম্ভাবনা এবং সরবরাহ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির মধ্যে দাম আবার নিচে নামে। তবে জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের কেউ কেউ সতর্ক করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহের চাপ পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে সাময়িক পতনের পরও তেলের দামে আবার ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হতে পারে।   তবে ২২ সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ বাজারচিত্রে আবার কিছুটা পরিবর্তন দেখা গেছে। রয়টার্সের প্রাথমিক বাজার আপডেট অনুযায়ী, মঙ্গলবার ব্রেন্টের নভেম্বর চুক্তি শূন্য দশমিক ২২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৫৭ ডলারে এবং মেয়াদ শেষের পথে থাকা ডব্লিউটিআই অক্টোবর চুক্তি প্রায় ৯৫ দশমিক ৮০ ডলারে উঠেছিল। বেশি সক্রিয় নভেম্বর ডব্লিউটিআই চুক্তিও সামান্য বেড়ে ৯২ দশমিক ৪৯ ডলারে ছিল। অর্থাৎ আগের দিনের বড় পতনের পর বাজারে সাময়িক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত মিলেছে।   বিশ্লেষকদের নজর এখন থাকবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনৈতিক আলোচনা, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সম্ভাব্য বৈঠক, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কোনো হামলা বা সরবরাহ বিঘ্নের দিকে। এসব বিষয়ের যেকোনো একটিতে বড় পরিবর্তন হলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও দ্রুত প্রভাব পড়তে পারে।   সোর্স: বিজনেস ইনসাইডার; রয়টার্স

আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী
আকাশপথে কানাডায় ঢুকেই অ্যাসাইলাম চাইলেন মার্কিন নারী, হাতে ছিল চিরকুট
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১:২৫

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লগামী এয়ার কানাডার একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ২০ সেপ্টেম্বরের AC1730 ফ্লাইটে থাকা এক মার্কিন নারী হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে কেবিন ক্রুদের কাছে কানাডায় আশ্রয় চাওয়ার কথা জানান। ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়েই মন্ট্রিয়লে পৌঁছায় এবং অবতরণের পর ওই যাত্রীকে নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় বলে একাধিক প্রতিবেদনে জানা গেছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফিনিক্স স্কাই হারবার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মন্ট্রিয়ল ট্রুডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে উড্ডয়নের পর ওই নারী কেবিন ক্রুদের নজরে আসেন। তিনি ১৪ নম্বর সারিতে বসেছিলেন। তার আচরণ নিয়ে ক্রুদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তিনি জানান, তিনি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ওষুধ সেবন করছেন। এরপর তিনি ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্টদের হাতে হাতে লেখা কয়েকটি নোট দেন, যেখানে কানাডায় অ্যাসাইলাম চাওয়ার কথা উল্লেখ ছিল।   ঘটনার পর পাইলট ও ফ্লাইট অপারেশনের মধ্যে যোগাযোগ হয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ককপিট থেকে জানানো হয় যে ওই যাত্রী শান্ত ছিলেন এবং বিমানের জন্য কোনো হুমকি তৈরি করছেন না। এ কারণে ফ্লাইটটি অন্য কোনো বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে না নিয়ে নির্ধারিত গন্তব্য মন্ট্রিয়লের দিকেই এগিয়ে যায়।   প্রায় চার ঘণ্টা পর বিমানটি নিরাপদে মন্ট্রিয়লে অবতরণ করে। অবতরণের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ওই যাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং তার অ্যাসাইলাম আবেদনের বিষয়টি প্রক্রিয়াগতভাবে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই নারীর নাম, তার অ্যাসাইলাম চাওয়ার নির্দিষ্ট কারণ বা কানাডার কর্তৃপক্ষ তার দাবির বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা প্রকাশ্যে জানা যায়নি।   কানাডার নিয়ম অনুযায়ী, বিমানবন্দরসহ দেশটির যেকোনো বৈধ প্রবেশপথে পৌঁছানোর পর কেউ অ্যাসাইলাম বা রিফিউজি প্রোটেকশনের দাবি করতে পারেন। তবে আবেদন করলেই তা গ্রহণযোগ্য বা অনুমোদিত হয় না। কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি বা সিবিএসএ প্রথমে আবেদনটি নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে কি না তা যাচাই করে। যোগ্য হলে আবেদনটি ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ড অব কানাডার কাছে পাঠানো হয়, যেখানে আবেদনকারীর রিফিউজি হিসেবে সুরক্ষা পাওয়ার যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়।   কানাডা সরকারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাসাইলাম পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে দেখাতে হয় যে নিজ দেশে ফিরে গেলে নির্দিষ্ট ধরনের নিপীড়ন, নির্যাতন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। শুধু উন্নত জীবন, চাকরি, শিক্ষা বা কানাডায় দীর্ঘদিন থাকার ইচ্ছা অ্যাসাইলামের ভিত্তি নয়। আবেদনকারীর পরিচয়, ভ্রমণের ইতিহাস এবং দাবির পক্ষে থাকা তথ্যও যাচাই করা হয়।   এ ঘটনার ক্ষেত্রে যেহেতু যাত্রী একজন মার্কিন নাগরিক এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরাসরি বিমানে কানাডায় পৌঁছেছেন, তাই কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের স্থলসীমান্তে প্রযোজ্য সেফ থার্ড কান্ট্রি এগ্রিমেন্টের নিয়মটি একইভাবে প্রযোজ্য নয়। কানাডা সরকারের বর্তমান নির্দেশনায়ও বলা হয়েছে, এই চুক্তির নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।   মাঝ আকাশে একজন যাত্রীর হাতে লেখা নোট দিয়ে অ্যাসাইলাম চাওয়ার ঘটনাটি তাই ব্যতিক্রমী হলেও, কানাডায় অ্যাসাইলাম দাবি করার পরবর্তী প্রক্রিয়া নির্ধারিত ইমিগ্রেশন ও রিফিউজি আইনের অধীনেই পরিচালিত হবে। এখন ওই নারীর দাবির বিষয়ে কানাডার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.47K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.23K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.34K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.20K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.15K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়