সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
আইসিইর হাতে আটক
আইসিইর হাতে ভুলভাবে আটক হলে ৫ লাখ ডলার, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে বিনা পরোয়ানায় বা যথেষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইনড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ। এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন নিউ জার্সির প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান।    বিলটির মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা বা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিনা পরোয়ানায় এবং যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা আটক করলে, সেই নাগরিক যেন আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ পান। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তাই এটিকে ইতোমধ্যে কার্যকর আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অঙ্ক। প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালতে কোনো নাগরিকের দাবি প্রমাণিত হলে তাঁকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আটকের প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তিসংগত আইনজীবীর ফি ও আদালতের খরচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনামূলক বা ঘোষণামূলক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।   উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি প্রথম দিনের পর আরও পাঁচ দিন আটক থাকেন, তাহলে প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অঙ্ক হবে ১০ লাখ ডলার—আইনটি কার্যকর হওয়া এবং আদালতে দাবি প্রমাণিত হওয়ার শর্তে।    প্রস্তাবিত আইনটি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ বা তার পরের সময়ের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আইনটি পাস হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নাগরিকেরা অতীতের কিছু আটক-ঘটনার জন্যও মামলা করার সুযোগ পেতে পারেন। মামলা দায়েরের জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা রাখা হয়েছে। বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ধরনের মামলায় ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’ বা ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’কে দায় এড়ানোর প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে এসব মামলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তার সার্বভৌম দায়মুক্তির সুরক্ষা ত্যাগ করবে।    বিলটির পটভূমিতে রয়েছে অভিবাসন অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদের ভুলভাবে আটক করার অভিযোগ। প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রোপাবলিকার একটি অনুসন্ধানে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর পর থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিক আটক হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।   ওই তালিকায় শিশু এবং অভিবাসন অভিযান ভিডিও করার সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া; এটি কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অবৈধ আটক প্রমাণিত ব্যক্তির সংখ্যা নয়।    বিলটি শুধু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে একটি নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত তহবিলের যেসব অর্থ এখনো বরাদ্দ বা ব্যয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি, সেগুলো স্থায়ীভাবে বাতিল করার বিধানও রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি একদিকে নাগরিকদের আইনি প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে অভিবাসন প্রয়োগে ব্যবহৃত অর্থের বিষয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে।

৭ মিনিট Ago
সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক।
টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ভরসায় ঘুম, পুলিশের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘুম ভাঙল চালকের!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক। শেষ পর্যন্ত তাঁর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। গত ১৩ অক্টোবর রাতে ফেয়ারফিল্ড এলাকার কাছে ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর চালকের অসতর্কতা এবং গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তখন মহাসড়কে এর আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তদন্ত করছিলেন। এ কারণে সড়কের কয়েকটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ির জরুরি বাতি জ্বলছিল এবং যানবাহনকে সতর্ক করতে ট্রাফিক কোন বসানো ছিল। এমন পরিস্থিতিতে টেসলাটি বন্ধ লেনের দিকে এগিয়ে এসে পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দেয়।   সিবিএস স্যাক্রামেন্টো ও এবিসি৭ সান ফ্রান্সিসকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলার চালক ২২ বছর বয়সী স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর তিনি পুলিশকে জানান, গাড়ি চালানোর সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার ঠিক মুহূর্তে গাড়িটির সেল্ফ-ড্রাইভিং ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পুরোপুরি একরকম তথ্য পাওয়া যায়নি।   সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে থাকা দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল চালকদের সতর্ক করেছে। তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তিকেই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ বলা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও চালকের ভূমিকা বিবেচনা করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।   টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামের প্রযুক্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নামের মধ্যে ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ থাকলেও এটি চালকবিহীন গাড়ি চালানোর নিশ্চয়তা দেয় না। চালককে রাস্তার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হয় এবং যেকোনো সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। অর্থাৎ, চালনা-সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও চালকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।   মহাসড়কে আগের দুর্ঘটনার পর পুলিশ যখন তদন্ত ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, তখন একই স্থানে আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।    বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তাও এখানে প্রাসঙ্গিক: গাড়িতে উন্নত প্রযুক্তি থাকলেও চালকের মনোযোগের বিকল্প নেই। সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়া যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই দুর্ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।

২৫ মিনিট Ago
নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে আবাসিক কলেজ
মাদক দেওয়ার পর ধর্ষণের অভিযোগ, নিউইয়র্কে কলেজছাত্রীর মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে একটি কলেজের আবাসিক হলে মাদক দেওয়ার পর এক ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় দুই তরুণের বিরুদ্ধে ফেডারেল অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কৌঁসুলিদের অভিযোগ, কোকেন বলে ফেন্টানিল নামের অত্যন্ত শক্তিশালী মাদক দেওয়ায় দুই তরুণী অচেতন হয়ে পড়েন। তাঁদের একজন পরে মারা যান, অন্যজন প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি ঘটে ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ; নতুন অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয় ১৫ অক্টোবর।    সরকারি অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রঙ্কস এলাকার ১৯ বছর বয়সী মোইসেস ফ্রেইরে এবং কুইন্স এলাকার ১৮ বছর বয়সী ব্রায়ান পেরাল্টা কাব্রেরার বিরুদ্ধে মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। ফ্রেইরের বিরুদ্ধে অচেতন ছাত্রীকে ধর্ষণ এবং ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মাদক সরবরাহের অতিরিক্ত অভিযোগও রয়েছে। দুজনের বিরুদ্ধেই অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।    কৌঁসুলিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফ্রেইরে ওই দুই ছাত্রীর আবাসিক কক্ষে মাদক নিয়ে যান এবং সেটিকে কোকেন বলে পরিচয় করিয়ে দেন। তাঁদের অভিযোগ, বাস্তবে সেটি ছিল ফেন্টানিল। পদার্থটি গ্রহণ করার পর দুই তরুণী দ্রুত অচেতন হয়ে পড়েন। পরে পরীক্ষায় তাঁদের শরীরে ফেন্টানিল পাওয়া যায়; কোকেন পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।    অভিযোগে বলা হয়েছে, দুই তরুণী অচেতন হয়ে পড়ার পর ফ্রেইরে তাঁদের একজনের ওপর যৌন নির্যাতন চালান। ওই তরুণী আর জ্ঞান ফিরে পাননি এবং ২১ মার্চ তীব্র ফেন্টানিল বিষক্রিয়াজনিত জটিলতায় মারা যান। অন্য তরুণীকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়ার পর বাঁচানো সম্ভব হয়।    আরও গুরুতর অভিযোগ হলো, কৌঁসুলিদের দাবি অনুযায়ী, ফ্রেইরে জরুরি সহায়তা চাইতে প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেন। এই সময় তিনি অচেতন দুই তরুণীর ছবি অন্যদের কাছে পাঠান বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে গিয়ে প্রথমে জানান, তরুণীরা অতিরিক্ত মদ্যপান করেছিলেন। নিরাপত্তাকর্মীরা তাঁদের জরুরি চিকিৎসা দেন এবং হাসপাতালে পাঠান।    এই ঘটনায় তৃতীয় ব্যক্তি হ্যারি রোসালেস পিনোর নামও মামলায় এসেছে। মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে তিনি সেপ্টেম্বরে দোষ স্বীকার করেছেন বলে মার্কিন বিচার বিভাগের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। তাঁর সাজা নির্ধারণের প্রক্রিয়া আলাদা।    মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মাদক বিতরণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ফ্রেইরে ও কাব্রেরার ন্যূনতম ২০ বছরের কারাদণ্ড থেকে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ফ্রেইরের বিরুদ্ধে আনা ধর্ষণের উদ্দেশ্যে মাদক বিতরণের অভিযোগে সর্বোচ্চ আরও ২০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁদের আদালতে জবাব দেওয়ার প্রক্রিয়া তখনো সম্পন্ন হয়নি।    ঘটনাটি কলেজের আবাসিক হলে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অজানা উৎসের মাদক গ্রহণের ভয়াবহ ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফেন্টানিল অত্যন্ত শক্তিশালী ওপিওয়েড; অল্প পরিমাণেও প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে। এই মামলায় কর্তৃপক্ষের মূল অভিযোগ, মাদকটিকে অন্য পদার্থ বলে উপস্থাপন করা হয়েছিল, যার পরিণতিতে একজন তরুণীর মৃত্যু হয় এবং আরেকজন গুরুতর বিপদে পড়েন।

৩৫ মিনিট Ago
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইয়েমেন
যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে ইয়েমেন, এক হামলাতেই প্রাণ গেল ৫ শিশুসহ ৯ জনের

ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলের সা'দা প্রদেশে ভয়াবহ বিমান হামলায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচ শিশু ও দুই নারী রয়েছেন। এ ঘটনায় আরও ১৯ জন আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে ১১ শিশু রয়েছে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   রোববার, ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সা'দা প্রদেশের সাহার জেলার একটি বাড়িতে হামলাটি চালানো হয়। হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া ব্যক্তিদের খোঁজে তল্লাশি চালান।   হুথি পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ হামলার জন্য সৌদি আরবকে দায়ী করেছে। তবে সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে হামলার দায় ও পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা জরুরি।   ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরে চলা সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বিভিন্ন এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সৌদি সমর্থিত বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বাড়ছে। এতে সাধারণ মানুষের জীবন, ঘরবাড়ি ও নিরাপত্তা ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে।   যুদ্ধের সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে শিশু, নারী এবং বেসামরিক মানুষকে। বাড়িঘরে হামলা হলে পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির পাশাপাশি অনেকে আহত হন, বাস্তুচ্যুত হন এবং চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েন। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে খাদ্য, পানি ও জরুরি চিকিৎসার সংকটও আরও গভীর হতে পারে।   বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি। সংঘাতের সব পক্ষেরই বেসামরিক জনগণ ও তাঁদের বসতবাড়ি রক্ষার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। হামলার পরিস্থিতি ও দায় নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   ইয়েমেনের সাম্প্রতিক এই প্রাণহানি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, চলমান সংঘাতে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। সংঘাত বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি।

৫৩ মিনিট Ago
আমেরিকা
ফ্লোরিডার টাম্পায় প্রথমবার বাড়ি কিনতে ১ লাখ ডলার পর্যন্ত সহায়তা, কারা পাবেন এই সুবিধা?

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের টাম্পায় প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য রয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার সুযোগ। নগর কর্তৃপক্ষের দুটি পৃথক কর্মসূচির আওতায় যোগ্য ক্রেতারা এই সহায়তা পেতে পারেন। কর্মসূচি দুটি হলো ‘ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম’ এবং ‘কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এরিয়া’ বা সিআরএ ডাউন পেমেন্ট সহায়তা কর্মসূচি। তবে এই অর্থ সবার জন্য নিশ্চিত নয়; আবেদনকারীর পারিবারিক আয়, বাড়ির অবস্থান এবং কর্মসূচির নির্ধারিত শর্ত পূরণের ওপর সহায়তার পরিমাণ নির্ভর করে।    টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচিতে যোগ্য প্রথমবারের বাড়ি ক্রেতারা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তা পেতে পারেন। অন্যদিকে, সিআরএ কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত পুনর্গঠন এলাকার মধ্যে বাড়ি কিনলে আরও সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত সহায়তার সুযোগ রয়েছে। দুই কর্মসূচির আওতায় যোগ্যতা অর্জন করলে মোট সহায়তার পরিমাণ ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। ২০২৬ সালের জুনে নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন একজন ক্রেতার অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়, যিনি দুটি কর্মসূচির অর্থ মিলিয়ে মোট ১ লাখ ডলার সহায়তা পেয়েছেন।    তবে দুটি কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ সহায়তা পেতে হলে আবেদনকারীকে উভয় কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে হবে। ডেয়ার টু ওন দ্য ড্রিম কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি অবশ্যই টাম্পা নগরসীমার মধ্যে হতে হবে। পরিবারের আয় নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে এবং বাড়ির ক্রয়মূল্য ৪ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বেশি হতে পারবে না। এ ছাড়া আবেদনকারীকে অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়। চুক্তিবদ্ধ হওয়ার আগেই কর্মসূচির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।    সিআরএ কর্মসূচির ক্ষেত্রে বাড়িটি টাম্পার নির্ধারিত কমিউনিটি রিডেভেলপমেন্ট এলাকার ভেতরে অবস্থিত হতে হবে। শুধু নির্দিষ্ট কোনো ডাক-সংকেত বা জিপ কোডের মধ্যে বাড়ি হলেই সহায়তা পাওয়া যাবে, এমন নয়। বাড়িটির প্রকৃত অবস্থান সংশ্লিষ্ট সিআরএ এলাকার সীমানার মধ্যে পড়ছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। এ কর্মসূচিতেও পরিবারের আয়, ক্রেতার যোগ্যতা, নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগ এবং অনুমোদিত ঋণের ধরনসহ বিভিন্ন শর্ত প্রযোজ্য।    পরিবারের আয়ের ভিত্তিতে সহায়তার পরিমাণও পরিবর্তিত হয়। নগর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত নির্দেশিকা অনুযায়ী, নির্ধারিত এলাকার মধ্যম পারিবারিক আয়ের ৫০ দশমিক ০১ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে আয় হলে যোগ্য ক্রেতা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার ডলার পেতে পারেন। আয় ৮০ দশমিক ০১ থেকে ১২০ শতাংশের মধ্যে হলে সহায়তার পরিমাণ সর্বোচ্চ ৪০ হাজার ডলার এবং ১২০ দশমিক ০১ থেকে ১৪০ শতাংশের মধ্যে হলে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ডলার হতে পারে। তবে আয়সীমার পাশাপাশি অন্যান্য যোগ্যতার শর্তও পূরণ করতে হবে।    এই সহায়তাকে সরাসরি নগদ অনুদান হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। কর্মসূচিগুলোর আওতায় সাধারণত শূন্য সুদের বিলম্বিত পরিশোধযোগ্য ঋণের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হয়। নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে বাড়িটি নিজের প্রধান বাসস্থান হিসেবে রেখে বসবাস করলে ২০ বছর পর ঋণ মওকুফের সুযোগ রয়েছে। তবে বাড়ি বিক্রি, মালিকানা পরিবর্তন বা বসবাসসংক্রান্ত শর্ত ভঙ্গ করলে ভিন্ন নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে ঋণের চুক্তি ও মওকুফের শর্ত ভালোভাবে বুঝে নেওয়া জরুরি।    প্রথমবার বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য এই কর্মসূচি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্টের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা বাড়ি কেনার সামর্থ্য রাখলেও শুরুতে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করতে সমস্যায় পড়েন, তাঁদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে সহায়তার অর্থ ও কর্মসূচির তহবিলের প্রাপ্যতা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদন করার আগে টাম্পা নগর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট বিভাগ অথবা অনুমোদিত আবাসন পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বর্তমান যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং তহবিলের অবস্থা নিশ্চিত করা উচিত।

প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২২:৩৩
দুর্গন্ধযুক্ত বায়ূত্যাগের কারণে চাকরি হারানো বাসচালকের মামলা খারিজ করল ব্রিটিশ আদালত

যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টলে কর্মক্ষেত্রে দুর্গন্ধ নিয়ে সহকর্মীর অভিযোগের পর চাকরি হারানো বাসচালক স্টেফানি ব্রায়ানের করা বৈষম্য ও হয়রানির মামলা খারিজ করেছেন কর্মসংস্থান ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শারীরিক অক্ষমতার কারণে নয়, গাড়ি চালানোর মান সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেফানি বৈদ্যুতিক বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান দ্য বিগ লেমনে কাজ করতেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে যোগ দেওয়ার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তাঁর চাকরি শেষ হয়। পরীক্ষামূলক চাকরির মেয়াদ সফলভাবে শেষ করতে না পারার পর তিনি শারীরিক অক্ষমতাজনিত বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ আনেন।    শুনানিতে জানানো হয়, স্টেফানির পালা শেষে দায়িত্ব নিতে এসে বাসের চালকের আসনের এলাকায় তীব্র দুর্গন্ধ পান সহকর্মী সামান্থা বিংহাম। তাঁর ধারণা হয়েছিল, স্টেফানির পোশাক নোংরা হয়ে থাকতে পারে। সামান্থা জানান, বাড়ি ফেরার পরও দুর্গন্ধ থাকায় তাঁকে ইউনিফর্ম ধুতে এবং গোসল করতে হয়।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্টেফানি বলেন, সবারই বায়ুত্যাগের প্রয়োজন হয়। পরে সামান্থা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানান।    টিভিথ্রি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্টেফানি দাবি করেছিলেন, মূত্রথলির সমস্যার কারণে তাঁর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনাল সামান্থার অভিযোগকে কর্মক্ষেত্রের একটি প্রকৃত উদ্বেগ হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁর পদক্ষেপের সঙ্গে স্টেফানির শারীরিক অক্ষমতাকে কেন্দ্র করে বৈষম্যের সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।   বরখাস্তের বৈঠকে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আলোচনা হলেও ট্রাইব্যুনাল সিদ্ধান্তে জানান, স্টেফানির গাড়ি চালানোর মান নিয়ে উদ্বেগই চাকরি হারানোর মূল কারণ ছিল।

রাশিয়ায় স্মরণকালের অন্যতম বড় ড্রোন হা মলা ইউক্রেনের, আগুন সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালে

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বারণ সত্ত্বেও রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে স্মরণকালের অন্যতম বৃহৎ ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রোববার (১৮ অক্টোবর) ইউক্রেনীয় বাহিনীর পরিচালিত এই বিশাল হামলায় রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সেন্ট পিটার্সবার্গ তেল টার্মিনালে আগুন ধরে যায়।   রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, দেশের ১৫টি ভিন্ন অঞ্চল, অধিকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণ সাগর এলাকা থেকে তারা মোট ১,০১৫টি ইউক্রেনীয় ড্রোন সফলভাবে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। এত বিপুল সংখ্যক ড্রোন ধ্বংসের দাবি করা হলেও, এই হামলায় সেন্ট পিটার্সবার্গের ওই মূল তেল টার্মিনালের পাশাপাশি রাশিয়ার সর্ববৃহৎ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিকে-এর (VK) একটি ডেটা সেন্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।   যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তিকে পাশ কাটিয়ে চালানো এই হামলার ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যকার সম্পর্ক নতুন করে আরও তিক্ততার মুখে পড়েছে। ট্রাম্প সম্প্রতি রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলাকে অনুচিত বলে মন্তব্য করে দাবি করেছিলেন যে, দুই দেশ জ্বালানি খাতে হামলা না চালানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। তবে কিয়েভ কিংবা মস্কো—কোনো পক্ষই এখন পর্যন্ত এমন কোনো চুক্তির কথা স্বীকার করেনি।   উল্টো জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ওই তথাকথিত আলোচনার ঘোষণার পরও রাশিয়া গত এক সপ্তাহে ইউক্রেনের জ্বালানি, তেল ও গ্যাস খাতে অন্তত ৭৬ বার হামলা চালিয়েছে।   নিজের দেশের অস্তিত্ব রক্ষায় পাল্টা জবাব দেওয়ার কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। মার্কিন সমর্থন ও গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে নানা বাধা সত্ত্বেও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছে কিয়েভ। সম্প্রতি ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর থেকে কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় এর কড়া সমালোচনা করেছেন জেলেনস্কি। তিনি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়াকে ছাড় দেওয়ার এই সিদ্ধান্ত একটি 'ঐতিহাসিক ভুল', যা মস্কোর যুদ্ধ ও আগ্রাসনকে কেবল আরও উৎসাহিতই করবে।

ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে
একটি গুলির ঘটনা, চারটি প্রাণহানি, আহত শিশুর পাশে হাজারো মানুষের ভালোবাসা

যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বেন্ড শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনায় তিন শিশু ও এক শিক্ষিকার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়। গত ১৫ অক্টোবর সিলভার রেল এলিমেন্টারি স্কুলে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। আহত হয়েছে আরও এক শিশু এবং এক শিক্ষিকা। ঘটনার পর স্বজনদের কান্না, সহপাঠীদের আতঙ্ক এবং নিহতদের স্মরণে মানুষের জমায়েত পুরো সম্প্রদায়কে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।    নিহতদের মধ্যে পাঁচ, আট ও এগারো বছর বয়সী তিন শিশু রয়েছে। নিহত শিক্ষিকা মেগান ল্যামবার্টের বয়স ছিল ২৫ বছর। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে কাজ করা ছিল তাঁর স্বপ্নের পেশা। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নশীল ছিলেন এবং যেসব শিশু বাড়তি সহায়তা চাইত, তাদের পাশে দাঁড়াতেন। তাঁর মৃত্যুতে সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও পরিচিতজনেরা শোক প্রকাশ করেছেন।    সাত বছর বয়সী সেলর গ্রাহাম এই ঘটনায় আহত হয়েছে। শিশুটি আগে থেকেই বিরল জিনগত সমস্যার কারণে শারীরিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। সে সাধারণত হুইলচেয়ার ব্যবহার করে এবং কথা বলার পরিবর্তে চোখ ও যোগাযোগের বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে নিজের ভাব প্রকাশ করতে পারে। চিকিৎসার জন্য তাকে পোর্টল্যান্ডে নেওয়া হয়েছে বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে।   সেলর শিশুদের সহায়তায় কাজ করা স্প্যারো ক্লাবসের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক ম্যাট স্যাম্পসন শিশুটির প্রাণবন্ত স্বভাব ও অন্যদের অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতার কথা তুলে ধরেছেন। এই কঠিন সময়ে তার পরিবারের পাশে দাঁড়াতে অনুদান সংগ্রহ করা হয়েছে। ১৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে অনুদানের পরিমাণ প্রায় চার লাখ ডলারে পৌঁছানোর কথা জানানো হয়।   পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ বছর বয়সী এক সাবেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শ্রেণিকক্ষে গুলি চালায়। এক শিক্ষক তাকে থামানোর চেষ্টা করেন। পরে বিদ্যালয়ে পড়ুয়া দুই শিশুর বাবা কাইলুব জিয়ামাঙ্কো হস্তক্ষেপ করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর পদক্ষেপ হামলা থামাতে এবং আরও প্রাণহানি ঠেকাতে সহায়তা করে।   তবে এই সাহসী পদক্ষেপের মধ্যেও চারটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। নিহতদের স্মরণে বিদ্যালয়ের বাইরে ফুল, বেলুন ও অন্যান্য স্মারক রেখে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে একে অপরকে সান্ত্বনা দিয়েছেন।   এই ঘটনার পর আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সামনে এসেছে। তদন্তকারীরা হামলার উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখছেন। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্বজন হারানোর শূন্যতা পূরণ করা সম্ভব নয়। বেন্ড শহরের মানুষের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ—এই শোক কাটিয়ে ওঠা এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।

আইসিইর হাতে আটক
আইসিইর হাতে ভুলভাবে আটক হলে ৫ লাখ ডলার, প্রতিদিন অতিরিক্ত ১ লাখ ক্ষতিপূরণের প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে বিনা পরোয়ানায় বা যথেষ্ট আইনি ভিত্তি ছাড়া আটক হওয়া মার্কিন নাগরিকদের জন্য ক্ষতিপূরণ চাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। ‘জাস্টিস ফর সিটিজেনস রংফুলি ডিটেইনড বাই আইসিই অ্যাক্ট’ নামের বিলটি ১৫ অক্টোবর ২০২৬ প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপন করেন নিউ মেক্সিকোর ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজ। এতে সহ-উদ্যোক্তা হিসেবে রয়েছেন নিউ জার্সির প্রতিনিধি বনি ওয়াটসন কোলম্যান।    বিলটির মূল লক্ষ্য হলো—যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নাগরিককে অভিবাসন কর্মকর্তা বা অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী অন্য কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য বিনা পরোয়ানায় এবং যথাযথ আইনি ভিত্তি ছাড়া গ্রেপ্তার বা আটক করলে, সেই নাগরিক যেন আদালতে ক্ষতিপূরণ দাবি করার জন্য নির্দিষ্ট আইনি পথ পান। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত আইন; বিলটি উত্থাপিত হওয়ার পর প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তাই এটিকে ইতোমধ্যে কার্যকর আইন হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।    বিলের সবচেয়ে আলোচিত দিক হলো ক্ষতিপূরণের নির্দিষ্ট অঙ্ক। প্রস্তাব অনুযায়ী, আদালতে কোনো নাগরিকের দাবি প্রমাণিত হলে তাঁকে ৫ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আটকের প্রথম দিনের পর প্রতিটি অতিরিক্ত দিনের জন্য আরও ১ লাখ ডলার দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তিসংগত আইনজীবীর ফি ও আদালতের খরচ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আদালতের নির্দেশনামূলক বা ঘোষণামূলক প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকবে।   উদাহরণ হিসেবে, কেউ যদি প্রথম দিনের পর আরও পাঁচ দিন আটক থাকেন, তাহলে প্রস্তাবিত হিসাব অনুযায়ী ক্ষতিপূরণের অঙ্ক হবে ১০ লাখ ডলার—আইনটি কার্যকর হওয়া এবং আদালতে দাবি প্রমাণিত হওয়ার শর্তে।    প্রস্তাবিত আইনটি ২০ জানুয়ারি ২০২৫ বা তার পরের সময়ের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, আইনটি পাস হলে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী নাগরিকেরা অতীতের কিছু আটক-ঘটনার জন্যও মামলা করার সুযোগ পেতে পারেন। মামলা দায়েরের জন্য পাঁচ বছরের সময়সীমা রাখা হয়েছে। বিলটিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ ধরনের মামলায় ‘কোয়ালিফায়েড ইমিউনিটি’ বা ‘অ্যাবসলিউট ইমিউনিটি’কে দায় এড়ানোর প্রতিরক্ষা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না। একই সঙ্গে এসব মামলার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকার তার সার্বভৌম দায়মুক্তির সুরক্ষা ত্যাগ করবে।    বিলটির পটভূমিতে রয়েছে অভিবাসন অভিযানের সময় মার্কিন নাগরিকদের ভুলভাবে আটক করার অভিযোগ। প্রতিনিধি তেরেসা লেগার ফার্নান্দেজের কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রোপাবলিকার একটি অনুসন্ধানে দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের শুরুর পর থেকে অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে ৫০৬ জন মার্কিন নাগরিক আটক হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে।   ওই তালিকায় শিশু এবং অভিবাসন অভিযান ভিডিও করার সময় আটক হওয়া ব্যক্তিদের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই সংখ্যাটি সংশ্লিষ্ট অনুসন্ধানের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া; এটি কোনো আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অবৈধ আটক প্রমাণিত ব্যক্তির সংখ্যা নয়।    বিলটি শুধু ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা তৈরির প্রস্তাবেই সীমাবদ্ধ নয়। এতে একটি নির্দিষ্ট অভিবাসন-সংক্রান্ত তহবিলের যেসব অর্থ এখনো বরাদ্দ বা ব্যয়ের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়নি, সেগুলো স্থায়ীভাবে বাতিল করার বিধানও রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি একদিকে নাগরিকদের আইনি প্রতিকার দেওয়ার বিষয়টি সামনে আনছে, অন্যদিকে অভিবাসন প্রয়োগে ব্যবহৃত অর্থের বিষয়েও পরিবর্তনের প্রস্তাব করছে।

সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক।
টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ভরসায় ঘুম, পুলিশের গাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে ঘুম ভাঙল চালকের!

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় টেসলার সেল্ফ-ড্রাইভিং প্রযুক্তির ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন এক চালক। শেষ পর্যন্ত তাঁর গাড়ির সঙ্গে পুলিশের গাড়ির সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পুলিশ কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। গত ১৩ অক্টোবর রাতে ফেয়ারফিল্ড এলাকার কাছে ইন্টারস্টেট ৮০ মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর চালকের অসতর্কতা এবং গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোলের কর্মকর্তারা তখন মহাসড়কে এর আগে ঘটে যাওয়া আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তদন্ত করছিলেন। এ কারণে সড়কের কয়েকটি লেন বন্ধ রাখা হয়েছিল। ঘটনাস্থলে পুলিশের গাড়ির জরুরি বাতি জ্বলছিল এবং যানবাহনকে সতর্ক করতে ট্রাফিক কোন বসানো ছিল। এমন পরিস্থিতিতে টেসলাটি বন্ধ লেনের দিকে এগিয়ে এসে পুলিশের গাড়িতে ধাক্কা দেয়।   সিবিএস স্যাক্রামেন্টো ও এবিসি৭ সান ফ্রান্সিসকোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেসলার চালক ২২ বছর বয়সী স্যাক্রামেন্টোর বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর তিনি পুলিশকে জানান, গাড়ি চালানোর সময় তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গাড়ির চালনা-সহায়ক প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করার বিষয়টিও তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে উঠে এসেছে। তবে দুর্ঘটনার ঠিক মুহূর্তে গাড়িটির সেল্ফ-ড্রাইভিং ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না, সে বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পুরোপুরি একরকম তথ্য পাওয়া যায়নি।   সংঘর্ষে পুলিশের গাড়িতে থাকা দুই কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার ভিডিও প্রকাশ করে ক্যালিফোর্নিয়া হাইওয়ে প্যাট্রোল চালকদের সতর্ক করেছে। তবে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রযুক্তিকেই দুর্ঘটনার একমাত্র কারণ বলা যাচ্ছে না। দুর্ঘটনার পরিস্থিতি ও চালকের ভূমিকা বিবেচনা করেই বিষয়টি মূল্যায়ন করা জরুরি।   টেসলার ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ নামের প্রযুক্তি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নামের মধ্যে ‘ফুল সেল্ফ-ড্রাইভিং’ থাকলেও এটি চালকবিহীন গাড়ি চালানোর নিশ্চয়তা দেয় না। চালককে রাস্তার পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে হয় এবং যেকোনো সময় গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। অর্থাৎ, চালনা-সহায়ক প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও চালকের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না।   মহাসড়কে আগের দুর্ঘটনার পর পুলিশ যখন তদন্ত ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যস্ত, তখন একই স্থানে আরেকটি সংঘর্ষের ঘটনা নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।    বিশেষজ্ঞদের দীর্ঘদিনের সতর্কবার্তাও এখানে প্রাসঙ্গিক: গাড়িতে উন্নত প্রযুক্তি থাকলেও চালকের মনোযোগের বিকল্প নেই। সেল্ফ-ড্রাইভিংয়ের ওপর ভরসা করে ঘুমিয়ে পড়া যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, ক্যালিফোর্নিয়ার এই দুর্ঘটনা তারই একটি উদাহরণ।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
শরীরের নানা পরিবর্তনের জন্য পরিচিত ব্রাজিলের মিশেল প্রাদ্দো এবার নখরের মতো হাতের রূপ নিয়ে আলোচনায়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
‘মানব শয়তান’ নামে পরিচিত ব্রাজিলীয় ব্যক্তির নতুন রূপ, নখরের মতো হাত গড়তে বাদ দিলেন আরও আঙুল
প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২৩:৫৩

শরীরের চেহারা আমূল বদলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া ব্রাজিলের মিশেল প্রাদ্দো এবার হাতকে নখরের মতো রূপ দিতে আরও আঙুল অপসারণের কথা জানিয়েছেন। ‘দিয়াবাও’ নামে পরিচিত ৫০ বছর বয়সী এই ব্যক্তি সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন, যেখানে তাঁর দুই হাতের আঙুলে ব্যান্ডেজ দেখা যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই হাতের কনিষ্ঠ ও অনামিকা আঙুল আর নেই। ফলে প্রতিটি হাতে এখন শুধু বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমা রয়েছে। শরীরের এই পরিবর্তনকে তিনি ‘দ্য ক্লজ’ বা ‘নখর’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে দেখছেন।       প্রাদ্দোর শরীর পরিবর্তনের এই যাত্রা নতুন নয়। ২০২৩ সালে তিনি প্রথমবার আঙুলের অংশ অপসারণ করে হাতের আকৃতি বদলানোর উদ্যোগ নেন। সেই প্রকল্পের নাম দেন ‘লাস গারাস’, যার অর্থ নখর। সাম্প্রতিক ভিডিওতে তিনি জানান, নিজের কাঙ্ক্ষিত রূপে পৌঁছানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ জন্য নিজের অনুপ্রেরণা ও শরীর পরিবর্তনের শিল্পীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন তিনি। তবে সর্বশেষ অস্ত্রোপচারের বিস্তারিত সময় ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।   সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের উপকূলীয় শহর প্রাইয়া গ্রান্দের বাসিন্দা প্রাদ্দো দীর্ঘদিন ধরেই শরীরের নানা ধরনের পরিবর্তনের জন্য পরিচিত। তাঁর নিজের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত তিনি ৬০টির বেশি অস্ত্রোপচার ও অন্যান্য শারীরিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছেন। শরীরের প্রায় ৮৫ শতাংশজুড়ে রয়েছে উল্কি। দাঁতের আকৃতি পরিবর্তন এবং কানের অংশ অপসারণসহ আরও নানা পরিবর্তন করেছেন তিনি। মাথায় শিংয়ের মতো ত্বকের নিচে স্থাপন করা বিশেষ ইমপ্ল্যান্টের সংখ্যার জন্য তাঁর নাম গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসেও রয়েছে। ২০২৩ সালে তাঁর মাথায় এ ধরনের ৩৩টি ইমপ্ল্যান্ট থাকার রেকর্ড যাচাই করা হয়।       সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাদ্দোর অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি। তাঁর সাম্প্রতিক শারীরিক পরিবর্তন নিয়ে অনুসারীদের প্রতিক্রিয়া অবশ্য একরকম নয়। কেউ তাঁর নতুন রূপের প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ আঙুল ছাড়া দৈনন্দিন জীবনযাপনের অসুবিধা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কারও মতে, নিজের শরীর নিয়ে ব্যক্তিগত পছন্দের স্বাধীনতা রয়েছে; অন্যরা এত বড় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগেও তাঁর শরীর পরিবর্তনের বিভিন্ন উদ্যোগ অনলাইনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছিল।   প্রাদ্দোর এই ঘটনা শরীর পরিবর্তনের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা এবং এমন প্রক্রিয়ার সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনাকে সামনে এনেছে। হাতের আঙুল দৈনন্দিন কাজ, সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও বিভিন্ন জিনিস ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এ ধরনের স্থায়ী পরিবর্তনের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্ষমতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং চিকিৎসাজনিত ঝুঁকি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রাদ্দোর সাম্প্রতিক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর দৈনন্দিন কাজে কী ধরনের পরিবর্তন এসেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   সূত্র: ইউপিএসওসিএল, নিড টু নো, গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

রাশিয়ার ক্রেমলিনে বহু সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি হিসেবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
১২ সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি, রাশিয়ার মুসলিম নারীকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিলেন পুতিন
প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২৩:৩৭

রাশিয়ায় বড় পরিবার গড়ে তোলা ও সন্তান লালন-পালনের স্বীকৃতি হিসেবে একাধিক মাকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মুসলিম-অধ্যুষিত দাগেস্তান অঞ্চলের ১২ সন্তানের জননী বুরলিয়াত মেজিদোভা। ২০২৬ সালের ১ জুন আন্তর্জাতিক শিশু দিবস উপলক্ষে মস্কোর ক্রেমলিনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁকে ‘মাদার হিরোইন’ বা ‘বীরমাতা’ পদক দেওয়া হয়। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি দপ্তর ও সংবাদমাধ্যম ভেদোমস্তির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বড় পরিবারগুলোর সন্তান লালন-পালন এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতি দিতেই এই সম্মাননা দেওয়া হয়েছে।       দাগেস্তানের দেরবেন্ট শহরের বাসিন্দা বুরলিয়াত মেজিদোভা তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাত ছেলে ও পাঁচ মেয়েকে বড় করছেন। তাঁর সন্তানদের মধ্যে বড়টির বয়স ১৭ বছর, আর ছোটটির জন্ম ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে পাওয়া ‘বীরমাতা’ সম্মাননা দেশটিতে বহু সন্তান লালন-পালনকারী মায়েদের জন্য অন্যতম উচ্চ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। রাশিয়ায় ১০ বা তার বেশি সন্তান জন্ম দিয়ে লালন-পালন করা নারীরা এই পদকের জন্য বিবেচিত হন।       অনুষ্ঠানে শুধু দাগেস্তানের এই পরিবারই নয়, রাশিয়ার আরও কয়েকটি অঞ্চলের বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবারকে সম্মানিত করা হয়। ‘বীরমাতা’ পদকের পাশাপাশি সাত বা তার বেশি সন্তান লালন-পালনকারী পরিবারগুলোকে ‘প্যারেন্টাল গ্লোরি’ বা ‘পিতামাতার গৌরব’ পদক দেওয়া হয়। ক্রেমলিনের অনুষ্ঠানে মস্কো, পস্কভ, রোস্তভ, তিউমেন, নোভোসিবিরস্কসহ বিভিন্ন অঞ্চল এবং দাগেস্তান ও উত্তর ওসেটিয়ার পরিবারগুলো অংশ নেয়।       রাশিয়ায় ‘বীরমাতা’ উপাধি ২০২২ সালে পুনরায় চালু করা হয়। এর আওতায় ১০ বা তার বেশি সন্তান লালন-পালনকারী মায়েদের বিশেষ পদক দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ‘পিতামাতার গৌরব’ পদক চালু হয়েছিল ২০০৮ সালে। এ সম্মাননা পেতে হলে বাবা-মা বা দত্তক অভিভাবকদের অন্তত সাত সন্তানকে লালন-পালন করতে হয় এবং তাঁদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামগ্রিক বিকাশের জন্য যথাযথ যত্ন নিশ্চিত করতে হয়।       দাগেস্তানের আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অঞ্চলটিতে প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবার রয়েছে। স্থানীয় নেতৃত্ব বড় পরিবার ও সন্তান লালন-পালনে মায়েদের অবদানকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে। রুশ সরকারও জন্মহার বাড়ানো এবং পরিবারকেন্দ্রিক নীতি এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে বহু সন্তানবিশিষ্ট পরিবারকে উৎসাহিত করে আসছে। তবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা পাওয়ার পাশাপাশি এসব পরিবারের জন্য সামাজিক ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকেরা।   সূত্র: দাগেস্তান প্রজাতন্ত্রের রুশ প্রেসিডেন্টের কাছে স্থায়ী প্রতিনিধি দপ্তর, ভেদোমস্তি।

অনলাইনে পরিচিত নারীর সঙ্গে দেখা করতে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেন ব্রাজিলের এডিমার মার্টিন্স। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
সব সম্পদ বিক্রি করে স্বপ্নের নারীর খোঁজে ছুটে গিয়েছিলেন, দেখা করতে গিয়ে জানলেন প্রেমিকা আসলে এআই
প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২৩:২১

বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত এক নারীর সঙ্গে দেখা করতে নিজের সব সম্পদ বিক্রি করে দুই হাজার কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছিলেন ব্রাজিলের ৪৯ বছর বয়সী নির্মাণশ্রমিক এডিমার রোশা মার্টিন্স। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছে জানতে পারেন, যে নারীকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাওয়ার আশা করেছিলেন, বাস্তবে তাঁর কোনো অস্তিত্বই নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের ওই নারী আসলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি একটি কাল্পনিক চরিত্র। ঘটনাটি ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।       ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় মারানিয়াও অঙ্গরাজ্যের ইম্পেরাত্রিজ শহরে থাকতেন মার্টিন্স। ২০২০ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জেসিকা অলিভেইরা’ নামের একটি অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ওই চরিত্রটি ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ নামেও পরিচিত ছিল। অনলাইনে প্রকাশিত ভিডিওগুলোতে তাকে খামারের মালিক হিসেবে তুলে ধরা হতো। সেখানে সে একজন জীবনসঙ্গী খুঁজছে বলে জানাত এবং নিজের খামারে নিয়ে গিয়ে সঙ্গীকে আর্থিকভাবে সহায়তা করার প্রতিশ্রুতিও দিত। এসব দেখে মার্টিন্স বিশ্বাস করেছিলেন, তিনি বাস্তব একজন নারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলছেন।   গত ৯ অক্টোবর মার্টিন্স সিদ্ধান্ত নেন, এবার সরাসরি দেখা করবেন ওই নারীর সঙ্গে। বাসভাড়ার অর্থ জোগাড় করতে নিজের জিনিসপত্র বিক্রি করে দেন তিনি। এরপর মারানিয়াও থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় মিনাস জেরাইস অঙ্গরাজ্যের রাজধানী বেলো হরিজন্তের উদ্দেশে যাত্রা করেন। দুই শহরের দূরত্ব দুই হাজার কিলোমিটারেরও বেশি। ১১ অক্টোবর সেখানে পৌঁছে কথিত প্রেমিকার খোঁজ শুরু করেন তিনি। কিন্তু কোথাও তাঁকে না পেয়ে স্থানীয় একটি বেতারকেন্দ্রে যান। সেখানেই তাঁকে জানানো হয়, ওই নারী বাস্তবে নেই এবং তাঁর পরিচয়টি ভুয়া।       যাত্রার জন্য সব সম্পদ বিক্রি করে দেওয়ায় বেলো হরিজন্তে পৌঁছানোর পর মার্টিন্স আর্থিক সংকটে পড়েন। দেশে ফেরার মতো অর্থও তাঁর হাতে ছিল না। পরে তিনি শহর কর্তৃপক্ষের অভিবাসী সহায়তা কেন্দ্রে যান এবং সমাজকর্মীদের কাছে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান। কর্তৃপক্ষ তাঁকে খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি ফেরার টিকিটের ব্যবস্থাও করে। টিভি মিরান্তেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্টিন্স বলেন, তিনি একাকিত্ব থেকে বেরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার আশায় এই যাত্রা করেছিলেন। কিন্তু প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন।       মার্টিন্সের যাত্রার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ‘জেসিকা ফাজেন্দেইরা’ অ্যাকাউন্টের পেছনে থাকা ব্যক্তি একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে চরিত্রটি তৈরি করা হয়েছে বলে স্বীকার করা হয়। একই সঙ্গে মার্টিন্সের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কখনো কথা বলা বা তাঁকে বেলো হরিজন্তে আসার আমন্ত্রণ জানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, অ্যাকাউন্টটি মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আগ্রহ তৈরি এবং বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল। ওই অ্যাকাউন্টের অনুসারীর সংখ্যা তিন লাখের বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।       এত কিছুর পরও নতুন করে জীবনসঙ্গী খোঁজার আশা ছাড়েননি মার্টিন্স। তিনি জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে আবার বেলো হরিজন্তে যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে, তবে এবার বাস্তব কোনো মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার আশায়। তাঁর এই অভিজ্ঞতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বাস্তবসম্মত ছবি, ভিডিও ও অনলাইন পরিচয়ের বিষয়ে নতুন করে সতর্কতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। অনলাইনে কারও সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে উঠলে তাঁর পরিচয় যাচাই করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরাসরি যোগাযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা যে জরুরি, ঘটনাটি তারই একটি উদাহরণ।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের দাবি করা নতুন জ্যাম-২.০ টর্পেডোর পরীক্ষা চালানোর কথা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
এআই চালিত সুপার স্পিড টর্পেডোর সফল পরীক্ষার দাবি উত্তর কোরিয়ার
প্রকাশ: অক্টোবর ১৭, ২০২৬ ২৩:৮

উচ্চগতির ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর নতুন একটি টর্পেডোর পানির নিচে পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘জ্যাম-২.০’ নামের এই অস্ত্র শত্রুর লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করতে এবং সেদিকে নির্ভুলভাবে এগিয়ে যেতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে। গত বৃহস্পতিবার পরীক্ষাটি চালানো হয় বলে জানানো হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এই পরীক্ষা দেশটির নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে অস্ত্রটির প্রকৃত গতি, পাল্লা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) শনিবার পরীক্ষার খবর প্রকাশ করে। তাদের ভাষ্য, টর্পেডোটির চালনা ব্যবস্থা ও রকেটচালিত প্রপালশন প্রযুক্তির কার্যকারিতা যাচাই করা হয়েছে। গত পাঁচ বছরে এ-সংক্রান্ত প্রযুক্তির ওপর ১৮০টিরও বেশি পরীক্ষা চালানোর পর সাম্প্রতিক পরীক্ষাটি নেওয়া হয়। দেশটির প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা একে নৌবাহিনীর উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে পরীক্ষার স্থান, অস্ত্রটির কার্যকর পাল্লা কিংবা বাস্তব পরিস্থিতিতে এর সক্ষমতা সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়, এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।   বিশেষজ্ঞদের ধারণা, জ্যাম-২.০ এমন এক ধরনের টর্পেডো হতে পারে, যা পানির নিচে চলার সময় নিজের সামনের অংশে বায়ুর বুদ্‌বুদ তৈরি করে পানির বাধা কমায়। এ প্রযুক্তিকে ‘সুপারক্যাভিটেশন’ বলা হয়। এর ফলে প্রচলিত টর্পেডোর তুলনায় অনেক বেশি গতিতে চলা সম্ভব হতে পারে। তবে উত্তর কোরিয়ার নতুন অস্ত্রটিতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও গতিপথ নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগানো হয়েছে, সে বিষয়েও পিয়ংইয়ং কোনো প্রযুক্তিগত ব্যাখ্যা দেয়নি।   দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী উত্তর কোরিয়ার এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে পিয়ংইয়ংয়ের সামরিক প্রযুক্তি নিয়ে অতিরঞ্জিত দাবি করার ইতিহাস রয়েছে বলে মনে করেন কিছু পর্যবেক্ষক। বিশেষজ্ঞদের মতে, অস্ত্রের দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণে সফটওয়্যারের উন্নতি সম্ভব হলেও পানির নিচে অত্যন্ত উচ্চগতিতে চলার সময় লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত করা ও নির্ভুলভাবে গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা প্রযুক্তিগতভাবে কঠিন। তাই উত্তর কোরিয়ার ঘোষণাকে দেশটির দাবির ভিত্তিতেই বিবেচনা করা হচ্ছে, স্বাধীনভাবে প্রমাণিত সক্ষমতা হিসেবে নয়।   সাম্প্রতিক সময়ে নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রদর্শনে সক্রিয় হয়েছে উত্তর কোরিয়া। গত বুধবার দেশটি সাবমেরিন থেকে দুই ধরনের কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালায়। প্রায় তিন বছর পর পানির নিচ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষায় ফেরার এই ঘটনাকে দেশটির নৌবাহিনী শক্তিশালী করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষাও চালিয়েছে পিয়ংইয়ং। এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা কৌশলে নৌবাহিনীর ভূমিকাকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কিম জং উনের সম্ভাব্য বৈঠক নিয়েও আলোচনা চলছে। আগামী মাসে চীনে এশিয়া-প্যাসিফিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা (এপেক) সম্মেলনের সময় দুই নেতার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ২০১৯ সালে কূটনৈতিক আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের কথিত বৈরী নীতি প্রত্যাহার এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে না রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। নতুন টর্পেডো পরীক্ষার দাবি এমন এক সময় সামনে এল, যখন কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।   সূত্র: দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়