বানারীপাড়া উপজেলায় চাঁদা না দেয়ায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে দল। রোববার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, নীতি-আদর্শ এবং সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার পটভূমিতে জানা গেছে, সম্প্রতি বানারীপাড়া বাইশারী বাজারে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষি-এর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার রাতে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায় ওই দুই নেতা। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা পদে ডা. শফিকুর রহমানকে মনোনীত করার প্রক্রিয়া এগোচ্ছে। দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ডা. শফিকুর রহমান সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। অপরদিকে বিরোধীদলীয় উপনেতা (ডেপুটি লিডার) পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হতে পারেন নাহিদ ইসলাম। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে জামায়াত ও ১১ দলের জোটের সঙ্গে বৈঠকের পর। সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনায় আছেন: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহজাহান চৌধুরী ও সাতক্ষীরার গাজী নজরুল ইসলামকে সম্মানজনক কোনো পদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধীদল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকারও মনোনীত হবেন। চিফ হুইপ ও হুইপ পদে আলোচনা চলাকালীন আলোচনায় আছেন দলের সাবেক আমির মওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এবং মীর কাসেম আলির ছেলে ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাসেম আরমান। সূত্র বলছে, ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের সম্ভাবনা বেশি। সূত্র মতে, ১১ দলের শরিকদের মধ্যে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ হুইপ পদে মনোনীত হতে পারেন। জামায়াত নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাসুম জানিয়েছেন, সংসদের এসব পদ নিয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ১১ দলীয় জোট টিকিয়ে রাখার স্বার্থে শরিকদের জন্যও ছাড় দিতে হতে পারে।
অভয়নগরের ধোপাদী গ্রামে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান হওয়ায় অন্তর বিশ্বাস (৩০) নামে এক যুবক নিজ গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। শনিবার রাত প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার নতুনবাজার হাড়িভাঙা এলাকায় হাবিবুর রহমানের বাড়ির সামনে এই ঘটনা ঘটে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় অন্তরকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্তর বিশ্বাস কুষ্টিয়া সদর উপজেলার যুগিয়া গ্রামের সাগর বিশ্বাসের ছেলে। পেশায় তিনি ট্রাকের হেলপার। প্রায় দুই মাস ধরে তিনি অভয়নগর উপজেলার আমডাঙ্গা গ্রামে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। স্থানীয় ট্রাকচালক সোহাগ হোসেন বলেন, সম্প্রতি ধোপাদী গ্রামের হাড়িভাঙা এলাকার এক মেয়ের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। শনিবার রাতে বিয়ের প্রস্তাব দিলে মেয়েটির পরিবার তা প্রত্যাখ্যান করে। প্রেমিকা না পেয়ে তিনি নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মরিয়ম মুনমুন জানান, মধ্যরাতে অগ্নিদগ্ধ এক যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। আগুনে তার শরীরের প্রায় ৬০ শতাংশ পুড়ে গেছে। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মাঠে গড়াবে ওয়ানডে ফরম্যাটের বিজয় সিরিজ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল)। এই আসরের জন্য রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) চার দলের অধিনায়ক এবং স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। চারটি জোনের অধিনায়করা হলেন: সাউথ জোন: মেহেদী হাসান মিরাজ, নর্থ জোন: নাজমুল হোসেন শান্ত, ইস্ট জোন: ইয়াসির আলী চৌধুরী, সেন্ট্রাল জোন: মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। চার জোনের স্কোয়াডের বিস্তারিত: ইস্ট জোন: পারভেজ হোসেন ইমন, জাকির হাসান, অমিত হাসান, মমিনুল হক, ইয়াসির আলী রাবিব, শামীম হোসেন পাটোয়ারি, শাহাদাত হোসেন দিপু, আসাদুল্লাহ হিল গালিব, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তানজিম হাসান সাকিব, খালেদ আহমেদ, নাসুম আহমেদ, নাঈম হাসান, নাইম হাসান সাকিব। নর্থ জোন: তানজিদ হাসান তামিম, হাবিবুর রহমান সোহান, লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহীদ হৃদয়, আকবর আলী, সাব্বির রহমান, শেখ মেহেদী, এসএম মেহেরব হোসেন অহিন, তাইজুল ইসলাম, নাহিদ রানা, রিশাদ হোসেন, শরিফুল ইসলাম, মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ, আব্দুল গাফফার সাকলাইন। সাউথ জোন: সৌম্য সরকার, এনামুল হক বিজয়, জাওয়াদ আবরার, আজিজুল হাকিম তামিম, মোহাম্মদ মিঠুন, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নুরুল হোসান হোসান, সামিউন বশির রাতুল, তানভির ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, রবিউল হক, রেজাউর রহমান রাজা, রুয়েল মিয়া, স্বাধীন ইসলাম। সেন্ট্রাল জোন: সাইফ হাসান, নাইম শেখ, জিসান আলম, আরিফুল ইসলাম, মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, ইরফান শুক্কুর, মাহফিজুল ইসলাম রবিন, রাকিবুল হাসান, রিজয়ান হোসেন, আবু হায়দার রনি, ইবাদত হোসেন, রিপন মণ্ডল, মারুফ মৃধা, ও ওয়াসি সিদ্দিকী। বিসিএলের এই আসরে জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটারদের পাশাপাশি নতুন প্রতিভারাও মাঠে নামবেন। স্কোয়াড ঘোষণা হওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক লিগের উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
বানারীপাড়া উপজেলায় চাঁদা না দেয়ায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে দল। রোববার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, নীতি-আদর্শ এবং সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। ঘটনার পটভূমিতে জানা গেছে, সম্প্রতি বানারীপাড়া বাইশারী বাজারে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষি-এর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার রাতে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায় ওই দুই নেতা। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।
ইরানের বর্তমান ইসলামি সরকারের পতন এবং পরিবর্তনের দাবিতে গত শনিবার বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। নির্বাসিত সাবেক শাহজাদা রেজা পাহলভির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোতে রাজপথে নেমে আসেন লাখো মানুষ। ‘গ্লোবাল ডে অফ অ্যাকশন’ বা বৈশ্বিক প্রতিবাদ দিবসের এই কর্মসূচিতে মিউনিখ, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং টরন্টোতে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জার্মানির মিউনিখ, যেখানে আনুমানিক ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশে ভাষণ দেন রেজা পাহলভি। অন্যদিকে, কানাডার টরন্টোতে রেকর্ড সংখ্যক ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়াও তেল আবিব, লিসবন, সিডনি এবং লন্ডনের মতো শহরগুলোতেও সরকারবিরোধী ছোট-বড় অসংখ্য বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিউনিখে দেওয়া ভাষণে রেজা পাহলভি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিবাজ, দমনমূলক এবং শিশুহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দেশের অভ্যন্তরে আন্দোলনরত নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন: "দেশের ভেতরে সাহসী ও সংগ্রামী স্বদেশীদের প্রতি আমার প্রথম বার্তা হলো আপনারা একা নন। আজ এই লড়াইয়ে পুরো বিশ্ব আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি মুক্ত ইরানে তারা বিশ্বকে প্রমাণ করে দেবেন তারা কত বড় এবং মহান জাতি। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তার কন্যা নুর পাহলভি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুনিদের সাথে যেন কোনো পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যাওয়া না হয়। ইরান প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়া হবে "সবচেয়ে ভালো ঘটনা"। রেজা পাহলভি সম্পর্কে তিনি বলেন, পাহলভিকে বেশ অমায়িক মনে হলেও ইরানের অভ্যন্তরে তার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থন কতটুকু, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ইরানের অভ্যন্তরে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে।
ভোট কারচুপি আর অনিয়মের অভিযোগে উত্তাল ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকা! মির্জা আব্বাসের জয় নিয়ে এবার নির্বাচন কমিশনে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ভোটের ফলাফল কি তবে বদলে যাচ্ছে? রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিন বরাবর পাটওয়ারীর লেখা আবেদনটি তার পক্ষে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা কাজী ফখরুল ইসলাম। আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ১১ দফায় ১২টি কেন্দ্রের অনিয়মের তথ্য তুলে ধরেন। আবেদনে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ঢাকা-৮ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, তার নেতাকর্মী, এজেন্ট ও পরিবারের সদস্য কর্তৃক ভোট রিগিং, প্রভাব বিস্তার, ফলাফল আটকে রাখা, বাতিল করা ভোট গণনাভুক্ত করাসহ নানা অনিয়মের আশ্রয় নেয়। একপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা নির্বাচনি অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। ভোট কারচুপি ও অনিয়মের মাধ্যমে আমাকে চূড়ান্ত বিজয়ী ঘোষণা না করে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন তারা। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আমি এই দরখাস্তের মাধ্যমে কারচুপি ও অনিয়মের বিষয় নির্বাচন কমিশনের নজরে আনছি এবং আইন ও বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এই আসনে ভোট পুনর্গণনার পর চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা এবং এর আগ পর্যন্ত শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন বিরত রাখার আবেদন জানাচ্ছি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই ঢাকা-১১ আসনের ফলাফল ও ভোটগ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে কারচুপি, ভয়ভীতি এবং ফলাফল পরিবর্তনের যে সংস্কৃতি দেখা গেছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি নির্বাচনের দিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন। নাহিদ ইসলাম তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, বাড্ডা আদর্শনগর বিদ্যা নিকেতন কেন্দ্রে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বরকতের অবৈধ প্রবেশ এবং অবস্থান নির্বাচনের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ভোটের দিন বিভিন্ন গণমাধ্যমের লাইভ প্রতিবেদনে স্পষ্ট দেখা গেছে, অন্য দলের পোলিং এজেন্টদের নির্ধারিত আসনে বসে কিছু ব্যক্তি সরাসরি বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন এবং নাম উচ্চারণ করছিলেন। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়ে নাহিদ বলেন, “প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী আমি উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফলের কাগজে সেই ব্যবধান রহস্যজনকভাবে এবং হঠাৎ করেই কমিয়ে ফেলা হয়েছে। ভোর পাঁচটা পর্যন্ত ভোটকেন্দ্রে ফলাফল পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে বলে জোরালো অভিযোগ রয়েছে।” তিনি আরও জানান, বিএনপি প্রার্থীর ক্যাডার বাহিনী বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটার ও এজেন্টদের মধ্যে ভীতি সঞ্চারের চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার সময় যে উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলা তৈরি করা হয়েছিল, তা ছিল সুপরিকল্পিত। নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, এ ধরণের চাক্ষুষ অনিয়ম ও কারচুপি করে তাঁকে দমানো যাবে না। জনগণের পবিত্র রায়কে যারা প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত জনগণই তাদের উপযুক্ত জবাব দেবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে তরুণ এই নেতার এমন কঠোর অবস্থান বর্তমানে রাজধানীর রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারির ঐতিহাসিক নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর এখন রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নিতে যাচ্ছে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। এই মন্ত্রিসভার আকার, গঠন এবং সম্ভাব্য সদস্যদের নিয়ে দেশজুড়ে এখন টানটান উত্তেজনা ও কৌতূহল বিরাজ করছে। ছোট হচ্ছে মন্ত্রিসভার আকার: বিএনপির নীতি-নির্ধারণী সূত্র থেকে জানা গেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিশাল মন্ত্রিসভার বিপরীতে তারেক রহমান একটি ‘সংক্ষিপ্ত ও কর্মক্ষম’ সরকার গঠনের পরিকল্পনা করছেন। বর্তমানের ৪৩টি মন্ত্রণালয় কমিয়ে ৩০-এর নিচে নামিয়ে আনা হতে পারে। মূলত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এক্ষেত্রে একই ধরণের কাজ করা মন্ত্রণালয়গুলোকে একীভূত করা হতে পারে; যেমন— সড়ক পরিবহন ও রেলপথকে একই ছাতার নিচে আনার চিন্তা চলছে। প্রবীণ ও নবীনের মেলবন্ধন: নতুন এই মন্ত্রিসভা গঠিত হতে যাচ্ছে অভিজ্ঞ রাজনীতিক এবং মেধাবী তরুণদের সমন্বয়ে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়গুলোর দায়িত্ব পেতে পারেন দলের প্রবীণ ও বিশ্বস্ত নেতারা। এই তালিকায় রয়েছেন— মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সালাহউদ্দিন আহমদ, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, মির্জা আব্বাস, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টু। অন্যদিকে, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী হিসেবে একঝাঁক তরুণ নেতাকে দেখা যেতে পারে। আলোচনায় আছেন— শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং ইশরাক হোসেন। এছাড়া নারী নেতৃত্বে শামা ওবায়েদ এবং সেলিমা রহমানের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। মিত্রদের মূল্যায়ন: বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনের সুযোগ পেলেও রাজপথের লড়াইয়ে পাশে থাকা মিত্রদের মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হওয়া ববি হাজ্জাজ ও শাহদাত হোসেন সেলিম যেমন দৌড়ে আছেন, তেমনি নিজেদের প্রতীকে জয়ী হওয়া আন্দালিভ রহমান পার্থ (বিজেপি), জোনায়েদ সাকি (গণসংহতি আন্দোলন) এবং নুরুল হক নুর (গণ অধিকার পরিষদ) নতুন সরকারে ডাক পেতে পারেন। শপথের মাহেন্দ্রক্ষণ ও বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ: আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন সিইসি। এরপর বিকেলেই অনুষ্ঠিত হবে কাঙ্ক্ষিত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানকে আন্তর্জাতিক রূপ দিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে। তারেক রহমানের এই ‘টিম বাংলাদেশ’ ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। আগামী মঙ্গলবার বিকেলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে কারা হচ্ছেন নতুন বাংলাদেশের নীতি-নির্ধারক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিতর্কিত অধ্যাপক এবং আওয়ামী লীগপন্থি নীল দলের নেতা আ ক ম জামাল উদ্দীন ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চরম জনরোষের শিকার হয়েছেন। আজ রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ৪-৫ জনের একটি ছোট দল নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে গেলে সেখানে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উত্তেজিত জনতা তাঁদের ওপর হামলা চালায় এবং হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অধ্যাপক জামাল উদ্দীন ও তাঁর সঙ্গীদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমণ্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে না। উল্লেখ্য, অধ্যাপক জামাল উদ্দীন জুলাই আন্দোলনের সময় থেকেই নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও মন্তব্যের জন্য পরিচিত। কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীদের ‘রাজাকারের বাচ্চা’ বলে গালি দেওয়া এবং তাঁদের ওপর ‘ব্রাশফায়ার’ করার উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এমনকি ২০২৪ সালের ১২ জুলাই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা কোটাবিরোধীদের ‘আনফ্রেন্ড’ করার ঘোষণা দিয়ে ব্যাপক সমালোচিত হয়েছিলেন। এর আগেও গত ১১ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের তীব্র ধাওয়ার মুখে পড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরণের একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় প্রত্যাখ্যান করে যে ১০০০ জন আওয়ামীপন্থি শিক্ষক বিবৃতি দিয়েছিলেন, সেখানেও তাঁর নাম থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। আজকের এই ঘটনাকে সেই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করতে নতুন ভূমি নিবন্ধন আইন অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলি মন্ত্রিসভা। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী সরকার এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নেয়। আইনটি ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য জমি কেনা ও নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ করবে বলে জানানো হয়েছে। ফিলিস্তিনি পক্ষ এই পদক্ষেপকে পশ্চিম তীরের “কার্যত দখল” বা ডি-ফ্যাক্টো অ্যানেক্সেশন হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ)। নতুন আইনে কী থাকছে সরকারি সূত্র জানায়, অধিকৃত পশ্চিম তীরর ‘এরিয়া সি’ অঞ্চলে নতুন করে ভূমি নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর এই প্রথম এমন উদ্যোগ নেওয়া হলো। পরিকল্পনাটি সমর্থন করেছেন ইসরায়েলের কয়েকজন শীর্ষ মন্ত্রী। ইসরায়েলি সরকারের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভূমির মালিকানা সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হবে এবং অবকাঠামো উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এটি ফিলিস্তিনি মালিকানাধীন জমিকে ইসরায়েলি রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠার একটি আইনি কৌশল হতে পারে। ফিলিস্তিনিদের প্রতিক্রিয়া ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “এটি একটি বিপজ্জনক উস্কানি এবং আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।” ফিলিস্তিনি নেতাদের মতে, এই পদক্ষেপ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনাকে দুর্বল করবে। আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, এ পদক্ষেপ দুই-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথকে আরও সংকুচিত করবে এবং অঞ্চলটির স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করতে পারে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই পশ্চিম তীরে এই প্রশাসনিক পরিবর্তন আনা হয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে পরিবর্তন এবং মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, আনুষ্ঠানিক দখল ঘোষণা না দিলেও আইনি কাঠামোর মাধ্যমে ইসরায়েল ধাপে ধাপে সেই দিকেই এগোচ্ছে। এদিকে জর্ডানসহ কয়েকটি আরব দেশ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।
ইরানের বর্তমান ইসলামি সরকারের পতন এবং পরিবর্তনের দাবিতে গত শনিবার বিশ্বজুড়ে নজিরবিহীন বিক্ষোভ পালিত হয়েছে। নির্বাসিত সাবেক শাহজাদা রেজা পাহলভির আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্বের প্রধান শহরগুলোতে রাজপথে নেমে আসেন লাখো মানুষ। ‘গ্লোবাল ডে অফ অ্যাকশন’ বা বৈশ্বিক প্রতিবাদ দিবসের এই কর্মসূচিতে মিউনিখ, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং টরন্টোতে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়। বিক্ষোভের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল জার্মানির মিউনিখ, যেখানে আনুমানিক ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের সমাবেশে ভাষণ দেন রেজা পাহলভি। অন্যদিকে, কানাডার টরন্টোতে রেকর্ড সংখ্যক ৩ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন। লস অ্যাঞ্জেলেস ছাড়াও তেল আবিব, লিসবন, সিডনি এবং লন্ডনের মতো শহরগুলোতেও সরকারবিরোধী ছোট-বড় অসংখ্য বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিউনিখে দেওয়া ভাষণে রেজা পাহলভি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে ‘দুর্নীতিবাজ, দমনমূলক এবং শিশুহত্যাকারী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। দেশের অভ্যন্তরে আন্দোলনরত নাগরিকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন: "দেশের ভেতরে সাহসী ও সংগ্রামী স্বদেশীদের প্রতি আমার প্রথম বার্তা হলো আপনারা একা নন। আজ এই লড়াইয়ে পুরো বিশ্ব আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, একটি মুক্ত ইরানে তারা বিশ্বকে প্রমাণ করে দেবেন তারা কত বড় এবং মহান জাতি। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তার কন্যা নুর পাহলভি। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খুনিদের সাথে যেন কোনো পরমাণু আলোচনা চালিয়ে যাওয়া না হয়। ইরান প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, ইরানে সরকার পরিবর্তন হওয়া হবে "সবচেয়ে ভালো ঘটনা"। রেজা পাহলভি সম্পর্কে তিনি বলেন, পাহলভিকে বেশ অমায়িক মনে হলেও ইরানের অভ্যন্তরে তার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনসমর্থন কতটুকু, তা নিয়ে কিছুটা সংশয় প্রকাশ করেন তিনি। ইরানের অভ্যন্তরে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ বর্তমানে ১০০টিরও বেশি শহরে ছড়িয়ে পড়েছে। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রূপ নিয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সম্পর্কের বরফ গলাতে এক নাটকীয় সিদ্ধান্ত নিল চীন। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে কানাডা এবং ব্রিটেনের সাধারণ নাগরিকরা কোনো ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করতে পারবেন। এর ফলে ব্যবসায়িক কাজ, ভ্রমণ কিংবা স্বজনদের সাথে দেখা করতে এখন আর দীর্ঘ ভিসা প্রক্রিয়ার ঝামেলা পোহাতে হবে না। ৩০ দিনের বিশেষ সুবিধা: ব্রিটিশ ও কানাডিয়ান নাগরিকরা সর্বোচ্চ ৩০ দিন পর্যন্ত দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। কার্যকারিতা: এই বিশেষ সুযোগটি আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। কূটনৈতিক চাল: 'ফাইভ আইজ' (Five Eyes) জোটের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কেবল যুক্তরাষ্ট্রই এখন চীনের এই সুবিধার বাইরে রইল। অর্থনৈতিক লক্ষ্য: করোনা-পরবর্তী পর্যটন খাত চাঙ্গা করা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ক উন্নত করাই বেইজিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে চীন একদিকে যেমন নিজেদের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চায়, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকে বাদ রেখে অন্য পশ্চিমা শক্তিগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর কৌশলগত বার্তাও দিচ্ছে। বিশ্ব রাজনীতিতে বেইজিংয়ের এই ‘ভিসা কূটনীতি’ কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
যুক্তরাজ্য ও কানাডার নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালুর ঘোষণা দিয়েছে চীন। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে দেশ দুটির সাধারণ পাসপোর্টধারীরা ভিসা ছাড়াই সর্বোচ্চ ৩০ দিন চীনে অবস্থান করতে পারবেন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, ব্যবসা, পর্যটন, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, সৌজন্য বিনিময় কর্মসূচি কিংবা ট্রানজিটের উদ্দেশ্যে এই ভিসামুক্ত সুবিধা প্রযোজ্য হবে। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই নীতি চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। বেইজিংয়ে সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও কানাডার নেতাদের সঙ্গে চীনা কর্মকর্তাদের বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসে। এর আগে, গত ১৬ জানুয়ারি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বেইজিংয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকের পর চীনা কর্মকর্তারা কানাডীয় নাগরিকদের জন্য ৩০ দিনের ভিসামুক্ত প্রবেশের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনার কথা জানান। পরদিন, ১৭ জানুয়ারি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বিষয়টি তখনও আলোচনাধীন ছিল। বিশ্লেষকদের মতে, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের নাগরিকদের জন্য এক মাসের ভিসামুক্ত প্রবেশ সুবিধা চালুর এই সিদ্ধান্ত গত কয়েক বছর ধরে চলা দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন কমিয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews