বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা–কড়াপুর ইউনিয়নের বৌসেরহাট বাজারে এক বিএনপিকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী। ঘটনা ঘটে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা দেলোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও তার ছোট ভাই কবির চৌধুরীর বিরোধ ছিল। তারা দাবি করেন, এ বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেও ফিলিস্তিনের মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে বাসিন্দারা এখনও যুদ্ধ ও গণহত্যার ছায়া থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। শরণার্থী মাইসুন আল-বারবারাউই তার ৯ বছরের ছেলে হাসানের জন্য তাঁবু সাজিয়ে রেখেছেন, রঙিন আলপনা ও রমজানের লণ্ঠনের মাধ্যমে শিশুর জন্য কিছু খুশি মুহূর্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন। মাইসুন বলেন, “আমি চাইছিলাম, এই সাজসজ্জা গত দুই বছরের যুদ্ধ ও দুঃখের পরিবেশ থেকে মুক্তির এক ছোট উপায় হোক। প্রতিদিনও যাতে ওরা নিরাপদ থাকে।” গত দুই বছরের সংঘাতের সময় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধবিরতি কিছুটা শান্তি এনেছে, তবে এখনও গোলাবর্ষণ ও নিরাপত্তার শঙ্কা রয়ে গেছে। খাদ্য সংকটও চলমান; অনেক ফিলিস্তিনি মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রমজানের প্রথম দিনে হানান আল-আত্তার একটি ত্রাণ সংস্থা থেকে খাবারের পার্সেল পেয়েছেন। আল আকসা মসজিদে উত্তেজনা প্রতিবারের মতো এবছরও রয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার ফলে হামাস প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদে নিষিদ্ধ করার আদেশ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে। প্রতি রমজানেই মসজিদে বলপ্রয়োগের ঝুঁকি থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিছু দেশ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে, তবে ইরান, লেবানন, সিরিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ওমান, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সুদান এখনও অংশ নিচ্ছে না। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বুধবার দক্ষিণ গাজায় তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে, যদিও নিজেদের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত আড়াই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন, যার অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার কারণে। ফিলিস্তিনিরা এই রমজানে শান্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছেন। মাইসুন বলেন, “যুদ্ধ থামেনি, ভয় ও শঙ্কা রয়ে গেছে। তবুও আমরা আশা করি, এই রমজান কিছু শান্তি নিয়ে আসবে।”
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি বুধবার দুপুরে ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত সমন্বয় সভায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শান্তিপূর্ণ শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করতে ডিএমপি এই নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সভা আয়োজন করে। সভায় ডিএমপি কমিশনার বলেন, “শহীদ দিবসে কেউ যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।” সভায় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার গোয়েন্দা বিভাগকে আগাম তথ্য সরবরাহ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অপরদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, প্রতিটি সংস্থা নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করলে দিবসটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। সমন্বয় সভায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ওয়াসা ও ফায়ার সার্ভিসসহ সরকারের বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শহীদ মিনার ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা ও মতামত উপস্থাপন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি’র কাছে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফের অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা। ইইউ-এর বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আমাদের অবিচল অংশীদার, বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং ২০২৫ সালে এফডিআইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারণের অপেক্ষায় রয়েছি।
বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা–কড়াপুর ইউনিয়নের বৌসেরহাট বাজারে এক বিএনপিকর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের নাম দেলোয়ার হোসেন চৌধুরী। ঘটনা ঘটে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্বৃত্তরা দেলোয়ারকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের বিমানবন্দর থানা রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, দেলোয়ার হোসেনের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাকির চৌধুরী ও তার ছোট ভাই কবির চৌধুরীর বিরোধ ছিল। তারা দাবি করেন, এ বিরোধের জেরেই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হতে পারে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
বাংলাদেশে রমজান মাসের চাঁদ দেখা গেছে বলে জানিয়েছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। বুধবার সন্ধ্যার পরে এই ঘোষণা প্রকাশ করা হয়। এর ফলে বুধবার রাত থেকেই তারাবির নামাজ শুরু হচ্ছে। মুসলমানরা বুধবার দিবাগত ভোরে সেহরি খাওয়ার মাধ্যমে রোজা পালন শুরু করবেন। মঙ্গলবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে চাঁদ দেখা যাওয়ায় সেগুলোতে রমজান মাস শুরু হয়েছে এবং রোজা পালন করা হয়েছে।
পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতেই উৎসবমুখর পরিবেশে সারা দেশে তারাবি নামাজ শুরু হয়েছে। বুধবার রাতে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঢল নামে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির। আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় শিশু থেকে বৃদ্ধ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে মসজিদের প্রতিটি কাতার। রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, এশার নামাজের অনেক আগে থেকেই মুসল্লিদের ভিড় শুরু হয়। মূল চত্বর ছাড়িয়ে নামাজের কাতার বিস্তৃত হয় মসজিদের আশপাশের সড়ক পর্যন্ত। দীর্ঘ এক বছর পর রমজানের আমেজ ফিরে আসায় একে অপরের সঙ্গে কুশল বিনিময় এবং আতর বিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়। মসজিদের প্রবেশপথগুলোতে টুপি, তসবিহ ও আতরের অস্থায়ী দোকানগুলোতেও ছিল উপচে পড়া ভিড়। এদিকে বায়তুল মোকাররম ছাড়াও রাজধানীর পাড়া-মহল্লার প্রতিটি মসজিদে ছিল একই চিত্র। মসজিদের ভেতর তিল ধারণের জায়গা না থাকায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লিকে বাইরে চট বা জায়নামাজ বিছিয়ে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। এর আগে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ আনুষ্ঠানিকভাবে রমজান শুরুর ঘোষণা দেন। দেশের সকল প্রান্ত থেকে চাঁদ দেখার তথ্য যাচাই-বাছাই করে জানানো হয় যে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে রোজা। সেই হিসেবে আগামী ২৬ রমজান অর্থাৎ ১৬ মার্চ দিবাগত রাতে পবিত্র লাইলাতুল কদর পালিত হবে। ধর্মমন্ত্রী রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন এবং দেশবাসীর নেক আমল কবুলের জন্য প্রার্থনা করেন।
পবিত্র রমজান মাস শুরুর আগেই অস্থির হয়ে উঠেছে রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজার। বিশেষ করে রোজায় চাহিদা বেশি থাকে এমন পণ্যগুলোর দাম গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত কয়েকদিন নির্বাচনি ডামাডোলের কারণে সারাদেশে পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং প্রশাসনের যথাযথ তদারকির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)। বাজারের বর্তমান চিত্র: গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর নয়াবাজার, কারওয়ান বাজার ও হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের প্রধান অনুষঙ্গ খেজুরের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। গত বছর যে জাহিদি খেজুর ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা এখন ২৮০ টাকা। সপ্তাহখানেক আগেও এটি ২৫০ টাকার আশেপাশে ছিল। এছাড়া অন্যান্য উন্নত মানের খেজুর যেমন— মরিয়ম ও মাবরুমের দাম কেজিপ্রতি ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে। সবজি ও ফলের বাজারেও বইছে আগুনের আঁচ। ২০ টাকা হালির কলা এখন বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। গত সপ্তাহে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচ এখন ১৬০ টাকা। শসা ও লেবুর দামও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে; এক হালি লেবুর দাম মানভেদে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে। আপেল, কমলা ও আঙুরের মতো আমদানিকৃত ফলের দাম কেজিতে ২০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সিন্ডিকেটের কারসাজি ও প্রশাসনিক ঘাটতি: ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “নির্বাচনের কারণে সরকারি নজরদারি কম থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগটি নিচ্ছে। রমজান মাস সংযমের হলেও আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের কাছে এটি যেন অতি মুনাফার মাস। সিন্ডিকেট ও মজুতদারি রোধ করা নতুন সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” তবে ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং চট্টগ্রাম বন্দরে সাম্প্রতিক অস্থিরতাকে এই দাম বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে দাবি করছেন। যদিও পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবছরের তুলনায় এবার প্রায় ১৬ হাজার টন বেশি খেজুর আমদানি হয়েছে, তবুও বাজারে এর ইতিবাচক কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। স্বস্তির খবরও আছে: কিছুটা স্বস্তির বিষয় হলো— গত বছরের তুলনায় চিনি, ছোলা ও লুজ সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা নিম্নমুখী। এফবিসিসিআই-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশে নিত্যপণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারলে দাম কমানো সম্ভব। অযৌক্তিকভাবে বাড়তি পণ্য কিনে বাজারে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি না করতে ভোক্তাদের প্রতিও অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের পর সাধারণ মানুষের এখন একটাই প্রত্যাশা— দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সাধারণ মানুষের রোজা পালনকে সহজ করা হবে।
দীর্ঘ সময়ের আক্ষেপ আর বঞ্চনার ইতি টেনে অবশেষে মন্ত্রিসভায় কাঙ্ক্ষিত প্রতিনিধিত্ব পেল বগুড়াবাসী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গত মঙ্গলবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। তাঁর এই প্রাপ্তিতে পুরো জেলাজুড়ে বইছে খুশির জোয়ার। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, বগুড়া-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মীর শাহে আলম ১ লাখ ৪৫ হাজার ভোট পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় নিশ্চিত করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী পান ৯৩ হাজার ভোট। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই জননেতা বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০০৯ সালে তিনি বিপুল ভোটে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। বগুড়ার রাজনৈতিক ইতিহাসে এই মন্ত্রিত্ব প্রাপ্তি এক ঐতিহাসিক ঘটনা। সর্বশেষ ১৯৯১ সালে বগুড়া সদর আসন থেকে নির্বাচিত অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান অর্থ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকে আর কেউ এই সুযোগ পাননি। ফলে মীর শাহে আলমের মাধ্যমে বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হলো। উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে বগুড়ার সাতটি আসনের সবকটিতেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন। মীর শাহে আলমের পাশাপাশি জয়ী হওয়া আবদুল মহিত তালুকদার ও মোরশেদ মিল্টনও এক সময় সফল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে কাজ করেছেন। এই অভিজ্ঞ নেতৃত্ব এখন জাতীয় পর্যায়ে বগুড়ার ভাগ্য বদলে বড় ভূমিকা রাখবে বলে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় মীর শাহে আলম বলেন, “জনগণ যে বিশ্বাস নিয়ে আমাকে ভোট দিয়েছেন, আমি তার মর্যাদা রক্ষা করব। শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত এই বগুড়াকে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন উন্নয়নের মডেলে রূপান্তর করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। দল ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়নে আমি নিরলসভাবে কাজ করে যাব।”
বাংলাদেশের আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত ও দেশবরেণ্য বেশ কয়েকজন আইনজীবী নবগঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা করে নিয়েছেন। গত মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাঁরা শপথ গ্রহণ করেন। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নতুন সরকারে আইন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করে সুশাসন ও ইনসাফ কায়েমের শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মন্ত্রিসভায় যারা ঠাঁই পেলেন: নতুন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামালকে দেওয়া হয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও মাগুরা-২ আসন থেকে নির্বাচিত নিতাই রায় চৌধুরী। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন রাঙামাটি থেকে বিজয়ী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। একই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন চট্টগ্রাম-৫ আসনের তরুণ ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে নাটোর-১ আসনের ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুলকে মহিলা, শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। এছাড়া আইনজীবী শেখ ফরিদুল ইসলাম পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি আইন মন্ত্রণালয়েও প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিজ্ঞ আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনকে জাতীয় সংসদের পরবর্তী স্পিকার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আইনজীবীদের প্রতিনিধিত্ব ও গুরুত্ব: সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবীরা মনে করছেন, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল কাজ হলো জনবান্ধব আইন প্রণয়ন করা। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সংসদে সচরাচর ৭০ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধি আইন পেশার সাথে যুক্ত থাকেন। বাংলাদেশে গত কয়েক দশকে সংসদ সদস্যদের মধ্যে ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বাড়লেও, তারেক রহমানের এই নতুন মন্ত্রিসভা পুনরায় পেশাদার আইনজীবীদের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যবসায়ীরা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হলেও আইন প্রণয়ন ও সাংবিধানিক সূক্ষ্মতা অনুধাবনে আইনজীবীদের কোনো বিকল্প নেই। নতুন এই বিশেষজ্ঞ নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের বিচার বিভাগ ও শাসন ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
পবিত্র রমজান মাস শুরু হলেও ফিলিস্তিনের মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থী শিবিরে বাসিন্দারা এখনও যুদ্ধ ও গণহত্যার ছায়া থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না। শরণার্থী মাইসুন আল-বারবারাউই তার ৯ বছরের ছেলে হাসানের জন্য তাঁবু সাজিয়ে রেখেছেন, রঙিন আলপনা ও রমজানের লণ্ঠনের মাধ্যমে শিশুর জন্য কিছু খুশি মুহূর্ত তৈরি করার চেষ্টা করছেন। মাইসুন বলেন, “আমি চাইছিলাম, এই সাজসজ্জা গত দুই বছরের যুদ্ধ ও দুঃখের পরিবেশ থেকে মুক্তির এক ছোট উপায় হোক। প্রতিদিনও যাতে ওরা নিরাপদ থাকে।” গত দুই বছরের সংঘাতের সময় ৭০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বর্তমান যুদ্ধবিরতি কিছুটা শান্তি এনেছে, তবে এখনও গোলাবর্ষণ ও নিরাপত্তার শঙ্কা রয়ে গেছে। খাদ্য সংকটও চলমান; অনেক ফিলিস্তিনি মৌলিক চাহিদা মেটাতে মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। রমজানের প্রথম দিনে হানান আল-আত্তার একটি ত্রাণ সংস্থা থেকে খাবারের পার্সেল পেয়েছেন। আল আকসা মসজিদে উত্তেজনা প্রতিবারের মতো এবছরও রয়েছে। ইসরায়েলি পুলিশ মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে গ্রেপ্তার করেছে, যার ফলে হামাস প্রতিবাদ জানিয়ে মসজিদে নিষিদ্ধ করার আদেশ অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে। প্রতি রমজানেই মসজিদে বলপ্রয়োগের ঝুঁকি থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি উদ্যোগের অংশ হিসেবে কিছু দেশ ট্রাম্পের শান্তি পর্ষদে যোগ দিয়েছে, তবে ইরান, লেবানন, সিরিয়া, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, ওমান, ইরাক, লিবিয়া, ইয়েমেন ও সুদান এখনও অংশ নিচ্ছে না। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বুধবার দক্ষিণ গাজায় তাদের একজন সৈন্য নিহত হয়েছে, যদিও নিজেদের গুলিতেই তার মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গত আড়াই বছরে ইসরায়েলি কারাগারে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি বন্দি মারা গেছেন, যার অধিকাংশ মৃত্যু হয়েছে নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলার কারণে। ফিলিস্তিনিরা এই রমজানে শান্তি, খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছেন। মাইসুন বলেন, “যুদ্ধ থামেনি, ভয় ও শঙ্কা রয়ে গেছে। তবুও আমরা আশা করি, এই রমজান কিছু শান্তি নিয়ে আসবে।”
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, Donald Trump প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য বৃহৎ সামরিক সংঘাতের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আলোচনায় অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলে কয়েক সপ্তাহব্যাপী পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে বলা হয়, সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযানটি কেবল সীমিত হামলা হবে না; বরং এটি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বড় আকারের অভিযান হতে পারে। এর পরিধি গত বছরের স্বল্পমেয়াদি সংঘাতের তুলনায় অনেক বড় হবে এবং ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার জন্য এটি অস্তিত্বের লড়াই হয়ে উঠতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে এবং ট্রাম্পের বর্তমান মেয়াদের বাকি সময়জুড়েও এর প্রতিক্রিয়া থাকবে। যদিও যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে সম্ভাব্য এই সামরিক পরিস্থিতি নিয়ে তেমন জনআলোচনা দেখা যাচ্ছে না। কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত গত কয়েক মাস ধরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা চললেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি জেনেভায় ট্রাম্পের উপদেষ্টা Jared Kushner ও Steve Witkoff ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। উভয় পক্ষ আলোচনায় কিছু অগ্রগতির কথা বললেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। এদিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত শর্ত এখনো মেনে নেয়নি ইরান। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের পথ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। সামরিক প্রস্তুতি জোরদার বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সেখানে দুটি বিমানবাহী রণতরী, একাধিক যুদ্ধজাহাজ, শত শত যুদ্ধবিমান এবং উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও যুদ্ধবিমান ওই অঞ্চলের দিকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী বিশ্লেষকদের মতে, এত বড় সামরিক প্রস্তুতি কেবল কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল নয়; বরং প্রয়োজন হলে সরাসরি হামলার ইঙ্গিতও হতে পারে। যুদ্ধের সম্ভাবনা কতটা ইসরায়েলি সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দ্রুত সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি চলছে। তবে কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, চূড়ান্ত হামলার আগে আরও কিছু সময় লাগতে পারে। মার্কিন সিনেটর Lindsey Graham বলেছেন, সম্ভাব্য হামলা শুরু হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। অন্যদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা দাবি করেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যদি কূটনৈতিক সমঝোতা না হয়, তবে সংঘাত প্রায় অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে। পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং আলোচনা ব্যর্থ হলে এর পরিণতি হতে পারে অত্যন্ত ভয়াবহ।
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির প্রতি জনসমর্থন ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় পদত্যাগ করেছেন মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের মুখপাত্র ও জনসংযোগ বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন। ইপসোস গ্রুপ এবং রয়টার্সের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, ১,১১৭ জন নাগরিকের মধ্যে মাত্র ৩৮ শতাংশ এই নীতিকে সমর্থন জানিয়েছেন, যা গত বছরের ৪৭ শতাংশ থেকে উল্লেখযোগ্য হারে কম। জানা গেছে, গত বছর শপথগ্রহণের পর ট্রাম্পের জনসমর্থন ছিল ৪৭ শতাংশ। তবে, গত কয়েক সপ্তাহে তাঁর সমর্থনের হার কমে ৩৮ শতাংশে নেমে এসেছে। ট্রাম্পের জনসমর্থন কমার সঙ্গে সঙ্গেই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ট্রিসিয়া ম্যাকলাফলিন। আরও জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকেই পদত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন ম্যাকলাফলিন। তাকে ট্রাম্প সরকারের কঠোর অভিবাসন নীতির মুখপাত্র হিসেবে বিবেচনা করা হতো। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে ৩,০০০-এর বেশি মার্কিন ফেডারেল আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের অনুমোদনে মিনেসোটায় ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসে এমন এক অভিযানে দুই মার্কিন নাগরিক নিহত হন। উল্লেখ্য, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের বাজেট বা তহবিল শেষ হয়ে যাওয়ায় সেখানে অচলাবস্থা বা ‘শাটডাউন’ শুরু হয়েছে। ফলে বিভাগের ৯০ শতাংশ কর্মী এখন বিনা বেতনে কাজ করছেন।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে আমেরিকা ও বিশ্বজুড়ে অবস্থানরত মুসলিম সম্প্রদায়কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ১৭ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি এই শুভেচ্ছাবার্তা প্রদান করেন। শুভেচ্ছাবার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রমজানকে আধ্যাত্মিক নবায়ন, গভীর আত্মমনন এবং সৃষ্টিকর্তার অগণিত নিয়ামতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের এক পবিত্র সময় হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, লাখ লাখ মার্কিন মুসলিম নিষ্ঠার সঙ্গে নামাজ ও রোজার মাধ্যমে এই মাসটি পালন করেন, যা পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করার পাশাপাশি সহমর্মিতা, দানশীলতা এবং বিনয়ের মতো মানবিক মূল্যবোধগুলোকে জাগ্রত করে। ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে ট্রাম্প উল্লেখ করেন যে, নিজ নিজ ধর্ম স্বাধীনভাবে পালন করার অধিকার আমেরিকার সমৃদ্ধি ও শক্তির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। তিনি অঙ্গীকার করেন, সব আমেরিকান যেন কোনো ধরনের ভয় বা নিপীড়ন ছাড়াই তাদের ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, তার প্রশাসন সেটি নিশ্চিত করবে। বিবৃতির শেষে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিশ্বজুড়ে শান্তি ও ঐক্যের জন্য প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, "এই সদিচ্ছার মৌসুমে আমি সবার ঘরে সুখ ও পরিতৃপ্তি এবং আগামী বছরের জন্য আশীর্বাদ কামনা করছি।"
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews