বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি তাঁদের ‘মানবাধিকারের শিকারী’ (Predators) হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শীর্ষ নেতারা আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও বিচার ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, "আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকারের সংজ্ঞাকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছে। ট্রাম্প, পুতিন এবং নেতানিয়াহুর মতো নেতারা আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বকে এক অন্ধকার ও অস্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।" প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কর্মকাণ্ডকে ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার খর্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রভাবশালী দেশগুলোর ‘শিকারী সুলভ’ আচরণের কারণে বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশগুলোও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাহস পাচ্ছে। যদি এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধারা প্রতিহত না করে, তবে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে।
পুলিশ সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আবারও পুলিশের ইউনিফর্ম পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন রঙ নির্ধারণ করে ‘পুলিশ ড্রেস রুলস-২০২৫’ সংশোধনের জন্য ইতোমধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিক বিভাগের ডিআইজি সারোয়ার মুর্শেদ শামীম জানান, ইউনিফর্ম পরিবর্তনে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না। নিয়ম অনুযায়ী পুলিশ সদস্যদের বাৎসরিক প্রাপ্যতার ভিত্তিতে ইউনিফর্ম সরবরাহ করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন জারি হলে পরবর্তী সরবরাহ থেকেই নতুন রঙের পোশাক দেওয়া হবে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন পুলিশের শার্টের রং হবে লাইট অলিভ এবং জেলা ও অন্যান্য ইউনিটের শার্ট হবে ডিপ ব্লু। সব ইউনিটের প্যান্টের রং রাখা হচ্ছে খাকি। তবে এ পরিবর্তনের বাইরে থাকবে এপিবিএন, এসপিবিএন, স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), সিআইডি এবং র্যাব। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান ‘লৌহ’ রঙের শার্ট ও ‘কফি’ রঙের প্যান্ট চালুর পর থেকেই মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের মধ্যে অস্বস্তি ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল ও ব্যঙ্গের শিকার হওয়ায় অনেক সদস্য পেশাগতভাবে হীনম্মন্যতায় ভুগছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধনের অনুরোধ জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি হলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নতুন ইউনিফর্ম চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বর্তমান পোশাকের সঙ্গে অন্যান্য সংস্থার ইউনিফর্মের মিল থাকায় সাধারণ মানুষের কাছে পুলিশকে আলাদা করে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের মতে, ২০০৩-২০০৪ সালে চালু থাকা খাকি ও নীল রঙের ইউনিফর্ম দেশের আবহাওয়া ও জনগণের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ঘাটতি কাটিয়ে ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন প্রকাশিত এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১০ সালের তুলনায় বর্তমানে দেশটিতে বাংলাদেশিদের সংখ্যা ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবৃদ্ধির এই হার দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম দ্রুততম বর্ধনশীল অভিবাসী গোষ্ঠীতে পরিণত করেছে। সম্প্রতি মাইগ্রেশন পলিসি ইনস্টিটিউট (MPI) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে উন্নত জীবনযাপন, শিক্ষা এবং কর্মসংস্থানের খোঁজে রেকর্ড সংখ্যক বাংলাদেশি যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর তুলনায় বাংলাদেশিদের এই প্রবৃদ্ধির হার অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশীয় অভিবাসীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশের পরে তালিকার অন্যান্য দেশের মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলা, আফগানিস্তান এবং নেপাল। বাংলাদেশের এই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি মার্কিনী অর্থনীতি ও সমাজে বাঙালিদের শক্তিশালী অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান শ্রমশক্তির প্রায় ১৮ শতাংশই অভিবাসী। ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ কোটি ২০ লাখেরও বেশি অভিবাসী মার্কিন শ্রমবাজারে সক্রিয় রয়েছেন। মজার বিষয় হলো, অভিবাসী পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় আয় (৮২,৪০০ ডলার) বর্তমানে মার্কিন বংশোদ্ভূত পরিবারগুলোর গড় আয়ের (৮১,৪০০ ডলার) তুলনায় কিছুটা বেশি। ২০২৫ সালে ট্রাম্প প্রশাসন পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর অভিবাসন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে মানবিক কারণে দেওয়া সুরক্ষা (Humanitarian protections) বাতিল এবং অস্থায়ী ভিসা ও গ্রিন কার্ড প্রদানের ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপের সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিবাসন কমে গেলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার স্থবির হয়ে যেতে পারে, যা দেশটির শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি তাঁদের ‘মানবাধিকারের শিকারী’ (Predators) হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শীর্ষ নেতারা আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও বিচার ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, "আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকারের সংজ্ঞাকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছে। ট্রাম্প, পুতিন এবং নেতানিয়াহুর মতো নেতারা আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বকে এক অন্ধকার ও অস্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।" প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কর্মকাণ্ডকে ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার খর্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রভাবশালী দেশগুলোর ‘শিকারী সুলভ’ আচরণের কারণে বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশগুলোও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাহস পাচ্ছে। যদি এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধারা প্রতিহত না করে, তবে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে।
বাংলাদেশের আবাসন শিল্পে এক নতুন ইতিহাস রচিত হলো। রাজধানীর তেজগাঁও শিল্প এলাকায় নির্মিত দেশের প্রথম ৪০ তলা বিশিষ্ট আকাশচুম্বী বাণিজ্যিক ভবন ‘শান্তা পিনাকল’ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে শান্তা হোল্ডিংস। ৫০০ ফুট উচ্চতার এই আইকনিক ভবনটি এখন দেশের সর্বোচ্চ সম্পন্ন হওয়া ইমারত। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভবনের ৪০তম তলায় আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এটি হস্তান্তর করা হয়। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের চেয়ারম্যান খন্দকার মনির উদ্দিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থপতি এহসান খানসহ প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ভূমি মালিক এবং গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন। স্থাপত্যশৈলী ও আধুনিক প্রযুক্তি:‘শান্তা পিনাকল’ শুধুমাত্র উচ্চতার কারণেই অনন্য নয়, বরং এটি আধুনিক নির্মাণশৈলী ও প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয়। এটি বাংলাদেশের প্রথম ভবন যা পরিবেশবান্ধব স্থাপত্যের জন্য আন্তর্জাতিক ‘লিড প্ল্যাটিনাম’ (LEED Platinum) স্বীকৃতি পেয়েছে। সিঙ্গাপুরভিত্তিক বিখ্যাত ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘মেইনহার্ট’ (Meinhardt) এর সহায়তায় ভবনটির স্ট্রাকচারাল ডিজাইন এবং ভূমিকম্প প্রতিরোধক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ বৈশিষ্ট্যসমূহ: উন্নত লিফট ব্যবস্থা: ভবনটিতে রয়েছে ৮টি দ্রুতগামী লিফট, যা প্রতি সেকেন্ডে ৪ মিটার উচ্চতায় উঠতে সক্ষম। এটি দেশের দ্রুততম ভার্টিক্যাল ট্রান্সপোর্ট ব্যবস্থা। পরিবেশ ও সুরক্ষা: ভবনে ব্যবহৃত হয়েছে ৩৬ মিমি পুরুত্বের ডাবল গ্লেজড গ্লাস, যা তাপ ও শব্দ নিরোধক। এছাড়া এটি দেশের প্রথম ‘উইন্ড টানেল টেস্ট’ করা ভবন, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। আইবিএমএস প্রযুক্তি: পুরো ভবনটি একটি ইন্টেলিজেন্ট বিল্ডিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (iBMS) দ্বারা পরিচালিত, যা সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করবে। অগ্নি নিরাপত্তা: আন্তর্জাতিক এনএফপিএ (NFPA) স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করে এখানে অত্যাধুনিক অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শান্তা হোল্ডিংসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘শান্তা পিনাকল’ হস্তান্তর দেশের রিয়েল এস্টেট খাতের সক্ষমতার এক বড় প্রমাণ। এটি শুধুমাত্র তেজগাঁও নয়, বরং পুরো ঢাকার বাণিজ্যিক পরিবেশকে বিশ্বমানের স্তরে নিয়ে যাবে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার অ্যালুমিনিয়াম ফর্মওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে মাত্র সাত দিনে এক একটি তলার ছাদ ঢালাইয়ের রেকর্ড গড়ে এই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঢাকার আকাশসীমায় নতুন এই ল্যান্ডমার্ক দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং আধুনিক নগরায়নের এক শক্তিশালী প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে দুই মাস থাকার পর ‘অমানবিক’ পরিস্থিতির অভিযোগ তুলে স্বেচ্ছায় দেশত্যাগ করেছেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়তু চৌধুরী। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ৩ ডিসেম্বর আইসিই এজেন্টদের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জয়তুকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের একাধিক ডিটেনশন সেন্টারে স্থানান্তর করা হয়। এ সময় বন্দিশিবিরের পরিবেশ তার মানসিক ও আবেগীয় স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। জয়তু বলেন, ওই পরিবেশ তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি হারিয়ে ফেলেন। তার ভাষায়, “ব্যবস্থাটি এমন যে মানুষ ধীরে ধীরে লড়াই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।” জয়তু চৌধুরী ২০২১ সালে এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসায় ইলিনয় ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে পড়াশোনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যান। তবে ২০২৫ সালের আগস্টে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনসংক্রান্ত জটিলতায় তার ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং খুচরা চুরির মতো পূর্ববর্তী কিছু অভিযোগ ছিল, যেগুলোর জন্য তিনি অনুতপ্ত বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিই হেফাজতে থাকার সময় পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও মানবিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের অভিযোগ করেন জয়তু। তবে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে জানায়, তাদের ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে যথাযথ চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। জয়তুর স্ত্রী অ্যাশলে ইয়ামিলত একজন মার্কিন নাগরিক। শুরুতে তিনি স্ত্রীর কাছে ফিরে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিজের জীবন পুনর্গঠনের চেষ্টা করতে চেয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ সময় বন্দিশিবিরে থাকার অভিজ্ঞতা তাকে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য করে। শেষ পর্যন্ত তিনি ‘সেলফ-ডিপোর্টেশন’ বা স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। এ বিষয়ে আইসিইর সঙ্গে তার ফেরার টিকিট নিয়ে মতবিরোধও তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমান প্রশাসন স্বেচ্ছায় দেশত্যাগের প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করছে বলে জানা গেছে।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক সদস্য ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিতে ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ লেবাননের মারোনাইট খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেবেল গ্রামে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের আওতায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে স্থাপিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা। আইডিএফ প্রথমে ছবিটির সত্যতা যাচাই করে এবং নিশ্চিত করেছে যে এটি প্রকৃত ঘটনা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সেনার এই আচরণ আইডিএফের প্রত্যাশিত মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান বলে অভিহিত করেছেন। কিছু প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ওই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পদ ধ্বংস করছে ও লুটপাট করছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের সর্বশেষ উদাহারণ এই ছবি, লিখেছে টাইমস অব ইসরায়েল। জেরুজালেমে খ্রীস্টান নেতাদের সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ছবি সামনে এল।
বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যকার সংঘাত একটি ধ্রুপদী ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের রূপ নিয়েছে। প্রথাগত সামরিক মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার জেট এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নৌঘাঁটির সামনে ইরান আপাতদৃষ্টিতে দুর্বল মনে হলেও, তেহরান এই অসমতা দূর করার জন্য অত্যন্ত চতুর ও কার্যকরী রণকৌশল গ্রহণ করেছে। অনেক সময় তারা সরাসরি সম্মুখ সমরে না গিয়েও তাদের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বা প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করে থাকে। বর্তমানে চলমান যুদ্ধে একদিকে রয়েছে ওয়াশিংটনের হাই-টেক প্রযুক্তির দাপট, আর অন্যদিকে রয়েছে ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন এবং নিখুঁত ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এই সংঘাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অর্থনৈতিক ও সাইবার যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটিকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, যাকে ইরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। ইরানের কৌশল হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল ক্লান্তিজনক যুদ্ধ (War of Attrition) চালিয়ে যাওয়া, যাতে যুক্তরাষ্ট্র একসময় বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার উপস্থিতি কমিয়ে ফেলে। ফলে এটি কেবল দুটি দেশের সীমানার লড়াই নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক গভীর সংকট। সংঘাতের এই জটিল সমীকরণে পরমাণু কর্মসূচির ইস্যুটি উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দমানোর চেষ্টা করছে, তেহরান তখন তার কৌশলগত ধৈর্য এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহারের মাধ্যমে লড়াইয়ের ময়দানকে ওয়াশিংটন থেকে হাজার মাইল দূরে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই অসম যুদ্ধে বড় কোনো বিজয় যেমন কোনো পক্ষের জন্য সহজ নয়, তেমনি যেকোনো পক্ষ থেকে সামান্য ভুল পদক্ষেপ বা প্ররোচনা পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকুণ্ডে ঠেলে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কেবল অস্ত্রের শক্তিতে নয়, বরং কূটনৈতিক ধূর্ততা এবং দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত বাংলাদেশি, ভারতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটির জন্য আসছে নতুন এক আনন্দের সংবাদ। খুব শিগগিরই যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে আস-সাফা হালাল মার্কেট অ্যান্ড গ্রিল, যেখানে একসাথে থাকছে বিশাল হালাল গ্রোসারি, ২০০০ স্কয়ার ফিটের আধুনিক রেস্টুরেন্ট এবং সুবিশাল ইভেন্ট হল সুবিধা। এই নতুন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠছে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, যেখানে গতকাল ও আজ ভ্রাম্যমাণ বাংলাদেশ কনস্যুলেট সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ গ্র্যান্ড ইভেন্ট হলের পাশেই এই নতুন হালাল গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট চালু করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ এখন এক জায়গাতেই কেনাকাটা, খাবার, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এখানে থাকছে— তাজা দেশি মাছের বিশাল সংগ্রহ, প্রতিদিন কাটা ফ্রেশ জবিহা হালাল গরু, খাসি ও মুরগির মাংস, বাংলাদেশি, ভারতীয় ও এশিয়ান গ্রোসারি পণ্যের সমৃদ্ধ কালেকশন, ২০০০ স্কয়ার ফিটের প্রশস্ত ও আধুনিক রেস্টুরেন্ট, অভিজ্ঞ শেফের হাতে তৈরি দেশি স্বাদের সুস্বাদু খাবার, পার্টি, অনুষ্ঠান ও বিশেষ দিনের জন্য ক্যাটারিং সুবিধা, বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা, মিলাদ ও কমিউনিটি প্রোগ্রামের জন্য ইভেন্ট হল সুবিধা। রেস্টুরেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হলো, নতুন এই রেস্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে বসে আরামদায়ক পরিবেশে খাওয়ার সুযোগ থাকবে। দেশি খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রিয় এশিয়ান আইটেমও পরিবেশন করা হবে বলে জানা গেছে। গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষে থাকছে বিশেষ অফার: প্রথম ১০০ জন কাস্টমারের জন্য ফ্রি গিফট, মাছ ও মাংসে বিশেষ ডিসকাউন্ট, উদ্বোধনী দিনের আকর্ষণীয় অফার, পরিবার নিয়ে আসা অতিথিদের জন্য বিশেষ চমক। গতকাল এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক জনাব হাবিব রহমান দূতাবাস সেবা নিতে আসা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আটলান্টার বাংলাদেশিদের জন্য মানসম্মত, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত সেবা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা যেন দেশের স্বাদ, দেশের পণ্য এবং নিজস্ব পরিবেশের অনুভূতি এক জায়গাতেই পান, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ: ২৭ জুন, ইনশাআল্লাহ ও সমভব্য ঠিকানা: ৫৯৫৩ বিফোর্ড হাইওয়ে, ডোরাভিল, জর্জিয়া ৩০৩৪০ আটলান্টার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে নতুন এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা, যেখানে মিলবে দেশি স্বাদ, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার এবং কমিউনিটি আয়োজনের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা। এখন অনেকেই অপেক্ষায় আছেন কবে আনুষ্ঠানিকভাবে দরজা খুলবে As-Safa Halal Market & Grill।
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি তাঁদের ‘মানবাধিকারের শিকারী’ (Predators) হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শীর্ষ নেতারা আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও বিচার ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, "আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকারের সংজ্ঞাকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছে। ট্রাম্প, পুতিন এবং নেতানিয়াহুর মতো নেতারা আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বকে এক অন্ধকার ও অস্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।" প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কর্মকাণ্ডকে ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার খর্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রভাবশালী দেশগুলোর ‘শিকারী সুলভ’ আচরণের কারণে বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশগুলোও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাহস পাচ্ছে। যদি এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধারা প্রতিহত না করে, তবে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে।
সমুদ্রসীমায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এক অভিনব এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীন। চীনা গবেষকরা সাধারণ ফটোগ্রাফিক পেপার বা ছবির কাগজে তৈরি এক বিশেষ ধরনের ৫জি অ্যান্টেনা তৈরি করেছেন, যা দেশটির যুদ্ধজাহাজগুলোতে বড় আকারের নেটওয়ার্ক আপগ্রেডের পথ প্রশস্ত করছে। দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। লিয়াওনিং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক ইয়াং ওয়েনডংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথাগত অ্যান্টেনার তুলনায় এই কাগজের অ্যান্টেনা তৈরিতে খরচ কমবে প্রায় ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে যুদ্ধজাহাজগুলোতে উচ্চগতির ৫জি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল। কিন্তু এই নতুন 'পেপার অ্যান্টেনা' প্রযুক্তি সেই চিত্র বদলে দিতে পারে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? গবেষকরা ০.৩ মিলিমিটারের চেয়েও পাতলা সাধারণ গ্লসি ফটো পেপারকে সাবস্ট্রেট হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এর ওপর তামার কালির (Copper Ink) প্রলেপ দিয়ে একটি কন্ডাক্টিভ লেয়ার বা পরিবাহী স্তর তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যান্টেনাগুলো অত্যন্ত নমনীয় এবং ওজনে হালকা। এটি ৫জি মিলিমিটার-ওয়েভ কমিউনিকেশনের জন্য উপযুক্ত এবং যুদ্ধজাহাজের মতো জটিল পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী: প্রথাগত মাইক্রোওয়েভ সাবস্ট্রেটগুলো যেমন দামী, তেমনি সেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু কাগজের তৈরি এই অ্যান্টেনাগুলো পচনশীল বা বায়োডিগ্রেডেবল। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় 'লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি' বা প্রান্তিক সংযোগ নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের যুদ্ধজাহাজে আধুনিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করছে। সেখানে চীনের এই 'লো-কস্ট' বা সস্তা মডেলটি বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সমুদ্রের মাঝখানে যুদ্ধজাহাজ থেকে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ, রিয়েল-টাইম ডেটা ট্রান্সমিশন এবং কমান্ড অপারেশন আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দের দাবি করার পরই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়। এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয়, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করছে এবং ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ রুটে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক সদস্য ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিতে ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ লেবাননের মারোনাইট খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেবেল গ্রামে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের আওতায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে স্থাপিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা। আইডিএফ প্রথমে ছবিটির সত্যতা যাচাই করে এবং নিশ্চিত করেছে যে এটি প্রকৃত ঘটনা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সেনার এই আচরণ আইডিএফের প্রত্যাশিত মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান বলে অভিহিত করেছেন। কিছু প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ওই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পদ ধ্বংস করছে ও লুটপাট করছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের সর্বশেষ উদাহারণ এই ছবি, লিখেছে টাইমস অব ইসরায়েল। জেরুজালেমে খ্রীস্টান নেতাদের সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ছবি সামনে এল।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।