জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধ ও নজরদারি উপেক্ষা করে এক লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রমজানের শেষদিকের এক বিশেষ আবহে এই বিশাল জনসমাগম ঘটে। ফিলিস্তিনি সংবাদ মাধ্যম ও ওয়াকফ কাউন্সিলের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভোর থেকেই জেরুজালেম এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আল-আকসা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। তবে ওল্ড সিটি এলাকায় ইসরায়েলি পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে অনেককেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশি ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নামে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। নামাজ শেষে উপস্থিত হাজার হাজার মুসল্লি ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং আল-আকসার পবিত্রতা রক্ষার পক্ষে স্লোগান দেন। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবারের জুমার নামাজকে ফিলিস্তিনিদের ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই রমজান মাস এবং জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে আল-আকসা প্রাঙ্গণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে বাধা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় আবেগ ও জাতীয় অধিকার রক্ষায় ফিলিস্তিনিরা আপসহীন। এদিকে, জুমার নামাজ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আল-আকসার প্রবেশপথগুলোতে এখনো মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নিজের অবস্থান বদলে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন—প্রণালিতে কোনো ধরনের ফি আদায় হলে তা সহ্য করা হবে না। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে ফি আদায় করে, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এর আগে বুধবার তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের একটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে পরদিনই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের এক কর্মকর্তার মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে এক ডলার সমমূল্যের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রস্তাব সামনে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করে জানায়, এ ধরনের টোল আরোপ করা হলে প্রতিটি চালানে অতিরিক্ত বিপুল ব্যয় যুক্ত হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই চাপ পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল আরোপের নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতেও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় পক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের টোল আরোপের সুযোগ নেই। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালিকে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা। পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রাম্পের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান হরমুজ ইস্যুতে মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তাকেই সামনে এনে দিয়েছে। আর এই অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, শিপিং খাত ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মানুষের চন্দ্রাভিযানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার পথে নাসা। ১০ দিনের সফল মিশন শেষে আজ শুক্রবার পৃথিবীর বুকে ফিরে আসছেন 'আর্তেমিস-২' (Artemis II) মিশনের চার মহাকাশচারী। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ (Splashdown) করবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন তাদের 'ইন্টিগ্রিটি' নামক ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ২৫,০০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবেন। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ঘর্ষণের ফলে ক্যাপসুলটির বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অবতরণের ঠিক আগে প্রায় ছয় মিনিটের একটি 'রেডিও ব্ল্যাকআউট' বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সময় পার করতে হবে তাদের। এরপর বিশালকার প্যারাশুটের মাধ্যমে গতি কমিয়ে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে আছড়ে পড়বে ক্যাপসুলটি। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল আর্তেমিস-২। এই মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদের অন্ধকার দিক (Far side) প্রদক্ষিণ করেছেন এবং মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছেছিলেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই মিশনটি বেশ কিছু কারণে ঐতিহাসিক। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের গৌরব অর্জন করেছেন। আর্তেমিস-২ মূলত নাসার একটি পরীক্ষামূলক মিশন। এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই চলতি দশকের শেষের দিকে আর্তেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে চাঁদকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ 'ইউএসএস জন পি. মার্থা' ইতিমধ্যে সমুদ্রের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করছে ওরিয়ন ক্যাপসুল ও মহাকাশচারীদের উদ্ধার করার জন্য। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই চার বীরের নিরাপদে ঘরে ফেরার।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটাররা এখন দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিউক্যাসলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। মূল কারণ শুধু গাজা নয়সাধারণভাবে মনে করা হয়, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণেই মুসলিমরা অসন্তুষ্ট। তবে অভিভাবক পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে আরও গভীর কিছু কারণ রয়েছে। নিউক্যাসলের ভোটাররা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে লেবার পার্টি এই অঞ্চল শাসন করলেও স্থানীয় সেবার মান কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এছাড়া ডানপন্থীদের উত্থানের মোকাবিলায় লেবার নেতৃত্বের 'উদাসীন' ভূমিকায় অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটার হতাশ। বাংলাদেশিদের মনে ক্ষোভপ্রতিবেদনে হালিমা বেগম নামে একজন ভোটারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে লেবার পার্টি করতেন। তিনি জানান, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশিদের "ফেরত পাঠানোর" ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। হালিমা বলেন, "আমি নিজেকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ এবং মুসলিম—সব পরিচয়েই গর্বিত মনে করি। কিন্তু লেবার পার্টির নেতার ওই মন্তব্য আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।" কেন গ্রিন পার্টি? মুসলিম ভোটারদের গ্রিন পার্টির প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির স্পষ্ট অবস্থান। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে গ্রিন পার্টির কড়া অবস্থান ভোটারদের আশ্বস্ত করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় থাকা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বংশোদ্ভূত মানুষরা গ্রিন পার্টির পরিবেশবাদী নীতির সাথে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন। লেবার পার্টির জন্য অশনি সংকেতএই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিউক্যাসলেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহাম, লেস্টার এবং পূর্ব লন্ডনের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও লেবার পার্টির ভোট ব্যাংক হুমকির মুখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এখন তাদের নিজের আসন নিয়ে শঙ্কিত।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনই বলে দেবে, এই পরিবর্তন কি কেবল প্রতিবাদী ভোট নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির এক স্থায়ী মেরুকরণ।
জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধ ও নজরদারি উপেক্ষা করে এক লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রমজানের শেষদিকের এক বিশেষ আবহে এই বিশাল জনসমাগম ঘটে। ফিলিস্তিনি সংবাদ মাধ্যম ও ওয়াকফ কাউন্সিলের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভোর থেকেই জেরুজালেম এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আল-আকসা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। তবে ওল্ড সিটি এলাকায় ইসরায়েলি পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে অনেককেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশি ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নামে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। নামাজ শেষে উপস্থিত হাজার হাজার মুসল্লি ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং আল-আকসার পবিত্রতা রক্ষার পক্ষে স্লোগান দেন। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবারের জুমার নামাজকে ফিলিস্তিনিদের ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই রমজান মাস এবং জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে আল-আকসা প্রাঙ্গণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে বাধা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় আবেগ ও জাতীয় অধিকার রক্ষায় ফিলিস্তিনিরা আপসহীন। এদিকে, জুমার নামাজ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আল-আকসার প্রবেশপথগুলোতে এখনো মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ও পরবর্তী যুদ্ধবিরতি নিয়ে খোদ ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে চরম বিভক্তি। বেশিরভাগ ইসরায়েলিই মনে করেন না যে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল জয়লাভ করেছে। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩, চ্যানেল ১২ এবং কান ১১-এর পৃথক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধে ইসরায়েলের বিজয় হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেখানে এই যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রচার হিসেবে ব্যবহার করছেন, সেখানে দেশের সাধারণ মানুষের এই অনাস্থা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর টোল আরোপের সম্ভাবনা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে নিজের অবস্থান বদলে তিনি ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেছেন—প্রণালিতে কোনো ধরনের ফি আদায় হলে তা সহ্য করা হবে না। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ থেকে ফি আদায় করে, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। এর আগে বুধবার তিনি ভিন্ন সুরে কথা বলেছিলেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে যৌথভাবে টোল আদায়ের একটি উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তবে পরদিনই সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ বিপরীত বক্তব্য দেন তিনি। ঘটনার সূত্রপাত ইরানের তেল ও গ্যাস খাতের এক কর্মকর্তার মন্তব্যকে ঘিরে। তিনি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানান, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর কাছ থেকে প্রতি ব্যারেল তেলের বিপরীতে এক ডলার সমমূল্যের অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রস্তাব সামনে আসার পরপরই আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। তারা মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে যোগাযোগ করে জানায়, এ ধরনের টোল আরোপ করা হলে প্রতিটি চালানে অতিরিক্ত বিপুল ব্যয় যুক্ত হবে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপরই চাপ পড়বে। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি শুধু অর্থনৈতিক নয়, বরং আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গেও সংশ্লিষ্ট। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে টোল আরোপের নজির তৈরি হলে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিতেও একই ধরনের দাবি উঠতে পারে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে আন্তর্জাতিক মহলও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় পক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক আইনে সমুদ্রপথে অবাধ চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, যেখানে কোনো ধরনের টোল আরোপের সুযোগ নেই। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, বর্তমানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো হরমুজ প্রণালিকে কোনো ধরনের সীমাবদ্ধতা ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে চালু রাখা। পর্যবেক্ষকদের মতে, কয়েক দিনের ব্যবধানে ট্রাম্পের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান হরমুজ ইস্যুতে মার্কিন নীতির অনিশ্চয়তাকেই সামনে এনে দিয়েছে। আর এই অনিশ্চয়তা বিশ্ব জ্বালানি বাজার, শিপিং খাত ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটাররা এখন দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিউক্যাসলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। মূল কারণ শুধু গাজা নয়সাধারণভাবে মনে করা হয়, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণেই মুসলিমরা অসন্তুষ্ট। তবে অভিভাবক পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে আরও গভীর কিছু কারণ রয়েছে। নিউক্যাসলের ভোটাররা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে লেবার পার্টি এই অঞ্চল শাসন করলেও স্থানীয় সেবার মান কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এছাড়া ডানপন্থীদের উত্থানের মোকাবিলায় লেবার নেতৃত্বের 'উদাসীন' ভূমিকায় অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটার হতাশ। বাংলাদেশিদের মনে ক্ষোভপ্রতিবেদনে হালিমা বেগম নামে একজন ভোটারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে লেবার পার্টি করতেন। তিনি জানান, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশিদের "ফেরত পাঠানোর" ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। হালিমা বলেন, "আমি নিজেকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ এবং মুসলিম—সব পরিচয়েই গর্বিত মনে করি। কিন্তু লেবার পার্টির নেতার ওই মন্তব্য আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।" কেন গ্রিন পার্টি? মুসলিম ভোটারদের গ্রিন পার্টির প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির স্পষ্ট অবস্থান। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে গ্রিন পার্টির কড়া অবস্থান ভোটারদের আশ্বস্ত করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় থাকা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বংশোদ্ভূত মানুষরা গ্রিন পার্টির পরিবেশবাদী নীতির সাথে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন। লেবার পার্টির জন্য অশনি সংকেতএই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিউক্যাসলেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহাম, লেস্টার এবং পূর্ব লন্ডনের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও লেবার পার্টির ভোট ব্যাংক হুমকির মুখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এখন তাদের নিজের আসন নিয়ে শঙ্কিত।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনই বলে দেবে, এই পরিবর্তন কি কেবল প্রতিবাদী ভোট নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির এক স্থায়ী মেরুকরণ।
দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৭ দিনের (১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৭ দিনে দেশে মোট ২ হাজার ৪০৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৯১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৬০৯ জন। হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ক্রস হল থেকে জেফরি এপস্টাইন বিতর্ক নিয়ে এক অভাবনীয় ও সরাসরি বিবৃতি দিয়েছেন। টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দেওয়া এই ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, তিনি এপস্টাইনের কোনো শিকার নন এবং এই কলঙ্কিত ধনকুবেরের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়নি। মেলানিয়া ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও বলেন যে, এপস্টাইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল না এবং তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সব মিথ্যা তথ্য এখনই বন্ধ হওয়া উচিত। ইরান যুদ্ধ নিয়ে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে রয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ফার্স্ট লেডির এমন বক্তব্য হোয়াইট হাউসকে নতুন এক রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, মেলানিয়া সম্ভবত এই বিতর্ক ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয়ে আবারও নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে। ভাষণে তিনি ২০০২ সালে এপস্টাইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার ইমেল বিনিময়ের বিষয়টিও তুচ্ছ ও নিছক একটি সাধারণ সৌজন্য বার্তা বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রতিটি নারীর প্রকাশ্যে নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তাদের সাক্ষ্য স্থায়ীভাবে কংগ্রেসের নথিতে সংরক্ষণ করা উচিত যা এক বিশেষ বার্তা বহন করে। তবে এপস্টাইন কাণ্ডে বেঁচে ফেরা নারীদের একটি পক্ষ মেলানিয়ার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে একে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা অভিযোগ করেন যে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও এপস্টাইন ফাইল স্বচ্ছতা আইন পুরোপুরি পালন করছে না এবং বিচার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা মেলানিয়াকে কংগ্রেসের সামনে সশরীরে হাজির হয়ে শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি তুলেছেন যা ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসের সাথে বড় লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে তিনি মেলানিয়ার এই পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই অবগত ছিলেন। ইরান যুদ্ধের অস্থিরতা এবং এপস্টাইন কাণ্ডের এই নতুন মোড় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ভাবমূর্তিকে এক কঠিন ও অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের এই ছয় মিনিটের ভাষণ মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যার রেশ আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
মো: আবদুর রহমান মিঞা
জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদে ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর বিধিনিষেধ ও নজরদারি উপেক্ষা করে এক লাখেরও বেশি ফিলিস্তিনি মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন। আজ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রমজানের শেষদিকের এক বিশেষ আবহে এই বিশাল জনসমাগম ঘটে। ফিলিস্তিনি সংবাদ মাধ্যম ও ওয়াকফ কাউন্সিলের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ভোর থেকেই জেরুজালেম এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার মানুষ আল-আকসা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। তবে ওল্ড সিটি এলাকায় ইসরায়েলি পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতির কারণে অনেককেই বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে। বিশেষ করে চেকপোস্টগুলোতে তল্লাশি ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের নামে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। নামাজ শেষে উপস্থিত হাজার হাজার মুসল্লি ফিলিস্তিনের মুক্তি এবং আল-আকসার পবিত্রতা রক্ষার পক্ষে স্লোগান দেন। সাম্প্রতিক সময়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এবারের জুমার নামাজকে ফিলিস্তিনিদের ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, প্রতি বছরই রমজান মাস এবং জুমার নামাজকে কেন্দ্র করে আল-আকসা প্রাঙ্গণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। তবে বাধা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, ধর্মীয় আবেগ ও জাতীয় অধিকার রক্ষায় ফিলিস্তিনিরা আপসহীন। এদিকে, জুমার নামাজ শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলেও এলাকাটিতে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আল-আকসার প্রবেশপথগুলোতে এখনো মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী।
দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী পর মানুষের চন্দ্রাভিযানের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার পথে নাসা। ১০ দিনের সফল মিশন শেষে আজ শুক্রবার পৃথিবীর বুকে ফিরে আসছেন 'আর্তেমিস-২' (Artemis II) মিশনের চার মহাকাশচারী। সবকিছু ঠিক থাকলে ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে তাদের বহনকারী ওরিয়ন ক্যাপসুলটি অবতরণ (Splashdown) করবে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, মহাকাশচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন তাদের 'ইন্টিগ্রিটি' নামক ওরিয়ন ক্যাপসুলে চড়ে ঘণ্টায় প্রায় ২৫,০০০ মাইল বেগে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবেন। বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের সময় ঘর্ষণের ফলে ক্যাপসুলটির বাইরের তাপমাত্রা প্রায় ৫,০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২,৭৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। অবতরণের ঠিক আগে প্রায় ছয় মিনিটের একটি 'রেডিও ব্ল্যাকআউট' বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সময় পার করতে হবে তাদের। এরপর বিশালকার প্যারাশুটের মাধ্যমে গতি কমিয়ে সান ডিয়েগো উপকূলের কাছে সমুদ্রে আছড়ে পড়বে ক্যাপসুলটি। গত ১ এপ্রিল ফ্লোরিডার কেপ ক্যানাভেরাল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল আর্তেমিস-২। এই মিশনে মহাকাশচারীরা চাঁদের অন্ধকার দিক (Far side) প্রদক্ষিণ করেছেন এবং মানুষ হিসেবে পৃথিবী থেকে সবচেয়ে দূরবর্তী স্থানে যাওয়ার নতুন রেকর্ড গড়েছেন। তারা পৃথিবী থেকে প্রায় ২,৫২,৭৫৬ মাইল দূরে পৌঁছেছিলেন, যা ১৯৭০ সালের অ্যাপোলো-১৩ মিশনের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই মিশনটি বেশ কিছু কারণে ঐতিহাসিক। ভিক্টর গ্লোভার প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি, ক্রিস্টিনা কচ প্রথম নারী এবং জেরেমি হ্যানসেন প্রথম অ-মার্কিন নাগরিক হিসেবে চাঁদের কক্ষপথে ভ্রমণের গৌরব অর্জন করেছেন। আর্তেমিস-২ মূলত নাসার একটি পরীক্ষামূলক মিশন। এর সাফল্যের ওপর ভিত্তি করেই চলতি দশকের শেষের দিকে আর্তেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে পুনরায় মানুষ নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে নাসার। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হিসেবে চাঁদকে একটি ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে মানব অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সংস্থাটি। মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ 'ইউএসএস জন পি. মার্থা' ইতিমধ্যে সমুদ্রের নির্ধারিত স্থানে অবস্থান করছে ওরিয়ন ক্যাপসুল ও মহাকাশচারীদের উদ্ধার করার জন্য। সারা বিশ্বের বিজ্ঞানপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই চার বীরের নিরাপদে ঘরে ফেরার।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটাররা এখন দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিউক্যাসলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। মূল কারণ শুধু গাজা নয়সাধারণভাবে মনে করা হয়, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণেই মুসলিমরা অসন্তুষ্ট। তবে অভিভাবক পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে আরও গভীর কিছু কারণ রয়েছে। নিউক্যাসলের ভোটাররা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে লেবার পার্টি এই অঞ্চল শাসন করলেও স্থানীয় সেবার মান কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এছাড়া ডানপন্থীদের উত্থানের মোকাবিলায় লেবার নেতৃত্বের 'উদাসীন' ভূমিকায় অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটার হতাশ। বাংলাদেশিদের মনে ক্ষোভপ্রতিবেদনে হালিমা বেগম নামে একজন ভোটারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে লেবার পার্টি করতেন। তিনি জানান, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশিদের "ফেরত পাঠানোর" ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। হালিমা বলেন, "আমি নিজেকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ এবং মুসলিম—সব পরিচয়েই গর্বিত মনে করি। কিন্তু লেবার পার্টির নেতার ওই মন্তব্য আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।" কেন গ্রিন পার্টি? মুসলিম ভোটারদের গ্রিন পার্টির প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির স্পষ্ট অবস্থান। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে গ্রিন পার্টির কড়া অবস্থান ভোটারদের আশ্বস্ত করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় থাকা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বংশোদ্ভূত মানুষরা গ্রিন পার্টির পরিবেশবাদী নীতির সাথে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন। লেবার পার্টির জন্য অশনি সংকেতএই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিউক্যাসলেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহাম, লেস্টার এবং পূর্ব লন্ডনের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও লেবার পার্টির ভোট ব্যাংক হুমকির মুখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এখন তাদের নিজের আসন নিয়ে শঙ্কিত।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনই বলে দেবে, এই পরিবর্তন কি কেবল প্রতিবাদী ভোট নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির এক স্থায়ী মেরুকরণ।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ও পরবর্তী যুদ্ধবিরতি নিয়ে খোদ ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে চরম বিভক্তি। বেশিরভাগ ইসরায়েলিই মনে করেন না যে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল জয়লাভ করেছে। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩, চ্যানেল ১২ এবং কান ১১-এর পৃথক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধে ইসরায়েলের বিজয় হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেখানে এই যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রচার হিসেবে ব্যবহার করছেন, সেখানে দেশের সাধারণ মানুষের এই অনাস্থা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।