পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়েও অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন সারজিস আলম। পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তার দাবি, এসব পরিষদে এমনভাবে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার চেয়ে অনেকে জেলা পরিষদের সদস্য হতে আগ্রহী। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হলে ২০ কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ থাকে। জেলা পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবেরও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী থাকলেও কোরামবাজি ও দলীয় প্রভাবের কারণে তাদের অনেকে জেলা পরিষদে স্থান পাননি। পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদগুলোর জন্য প্রতি বছর বড় অঙ্কের সরকারি বরাদ্দ আসে উল্লেখ করে সারজিস আলম প্রশ্ন তোলেন, এত বরাদ্দের পরও কেন সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তিনি দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান। বিএনপির বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সারজিস আলম বলেন, বিএনপি একসময় আওয়ামী লীগের কাছে যে পদ্ধতিতে নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছিল, এখন তারাই একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল, বিএনপির সরকারের ক্ষেত্রে তা ছয় মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক সংগঠনকে নিজ নিজ রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। জনগণই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে তারা কোন দলকে সমর্থন করবে। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, এই জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার অভিযোগ, একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী জামায়াত-এনসিপি জোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। এ সময় আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সারজিস আলম বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে রূপ দিতে সক্ষম বিশেষভাবে পরিবর্তিত ইস্ট বা খামির তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের গবেষকেরা। ‘মাইক্রোবাইটস’ নামে পরিচিত এই খাবারকে থ্রিডি ফুড প্রিন্টারের মাধ্যমে কুকির আকার দেওয়া হচ্ছে। গবেষণাটি ভবিষ্যতে মহাকাশযাত্রা, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ও খাদ্যসংকটে থাকা অঞ্চলে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে খাবার তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির ২০২৬ সালের ফল সম্মেলনে ২৪ আগস্ট গবেষণাটির নতুন ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষক দলটি নাসার ‘ডিপ স্পেস ফুড চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনের জন্য টেকসই খাবার তৈরির এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। গবেষকেরা পিইটি প্লাস্টিক, ফেলে দেওয়া ভুট্টার কাণ্ড ও পাতা এবং অন্যান্য উদ্ভিদবর্জ্য প্রথমে পানি, তাপ, চাপ ও অক্সিজেন ব্যবহার করে ভেঙে ছোট কার্বনসমৃদ্ধ অণুতে পরিণত করেন। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় অক্সিডেটিভ হাইড্রোথার্মাল ডিসলিউশন। এরপর এসব উপাদান বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ইস্টকে খাওয়ানো হয়। ইস্টগুলো ওই কার্বনসমৃদ্ধ উপাদানকে ব্যবহার করে প্রোটিন, চর্বি ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান তৈরি করে। পরে এসব উপাদানের সঙ্গে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টি উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হয় কুকির মিশ্রণ। থ্রিডি ফুড প্রিন্টারের মাধ্যমে মিশ্রণটি স্তর ধরে নির্দিষ্ট আকৃতিতে তৈরি করা হয় ‘মাইক্রোবাইটস’ কুকি। গবেষণাটির নতুন দিক হলো কুকির স্বাদ ও পুষ্টিমান আরও উন্নত করতে ইস্টের মধ্যেই প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির ব্যবস্থা করা। গবেষকেরা এমন ইস্ট তৈরি করেছেন, যা উদ্ভিদবর্জ্য থেকে ভ্যানিলার স্বাদ ও গন্ধের জন্য দায়ী ভ্যানিলিন তৈরি করতে পারে। আরেক ধরনের ইস্ট পিইটি প্লাস্টিক থেকে পাওয়া ইথিলিন গ্লাইকোল ব্যবহার করে বিটা-ক্যারোটিন তৈরি করতে পারে, যা শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে। তবে এই কুকি এখনো সাধারণ বাজারের খাবার নয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় কুকিগুলো খাওয়ার উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে। এ পর্যন্ত করা গন্ধের মূল্যায়নে বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী সীমিত সম্পদের পরিস্থিতিতে এই খাবার খেতে আগ্রহী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। গবেষকদের লক্ষ্য শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমানো নয়, একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তৈরি করা। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশন, সাবমেরিন, দুর্যোগকবলিত এলাকা বা কৃষির সুযোগ সীমিত এমন অঞ্চলে খাদ্য ও পুষ্টির নতুন উৎস হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের আগে নিরাপত্তা, উৎপাদন ব্যয়, পুষ্টিমান এবং ভোক্তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
নেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকও রয়েছেন। নেপালের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও সীমান্ত অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে ভোতে কোশি নদীর আশপাশে হঠাৎ ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। নেপাল পুলিশের হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সময়ে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দেশটিতে ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ার, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের এবং ২৪ জন কানাডার নাগরিক। নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ তিব্বতের পবিত্র কৈলাস-মানসসরোবর এলাকায় তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ১৩৩। এছাড়া স্থানীয় পর্যটক, তীর্থযাত্রী, গাইড ও নিরাপত্তাকর্মীরাও নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে নেপাল ও চীনের নিখোঁজের হিসাবের মধ্যে একই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের পেছনে ভূমিকম্পের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে হিমবাহের বরফ ও পাথরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত থেকেই এই বন্যা তৈরি হয়েছে। উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বন্যার প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকার সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। বহু বাড়িঘর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান আরও এগোলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নদীর তীরবর্তী নেপালের কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনায়া বাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে তিনি দেশটির নারী ক্রিকেটের ‘এলিট’ পর্যায়ে খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এর ফলে নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) খেলার পথও খুলেছে তাঁর সামনে। তবে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তি বা দলে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো পাননি তিনি। ২৫ বছর বয়সী অনায়া আগে মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে ওঠার সময় তিনি সারফরাজ খানসহ ভারতের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন। পরে যুক্তরাজ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে থাইল্যান্ডে লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণমূলক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবেদন করেন তিনি। সংস্থাটির পর্যালোচনার পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নারী কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এলিট পর্যায়ে খেলতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সংস্থাটির নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে এলিট ক্রিকেটে অংশ নিতে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা অন্তত ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর অনায়াকে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনায়া জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে তিনি বলেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। নতুন এই সুযোগ তাঁকে আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ দেখিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার নারী বিগ ব্যাশে খেলা এখনো তাঁর জন্য অনেক দূরের লক্ষ্য। যোগ্যতা অর্জন করলেই কোনো দলে জায়গা নিশ্চিত হবে না। তাঁকে প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্লাবে যোগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে হবে, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিজের পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে হবে। এরপরই কোনো বিগ ব্যাশ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। অনায়া নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কোনো দলের জায়গা দেয়নি, বরং সেই জায়গা অর্জনের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁকে এখন অনুশীলন, প্রতিযোগিতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অনায়ার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পেছনে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত বছর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য কী নিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি। পরে চলতি বছরের জুনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নীতিমালা নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অবশ্য ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ২০২৩ সালে নতুন লিঙ্গ-যোগ্যতা নীতি অনুমোদন করে। ওই নীতিতে বলা হয়, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারী খেলোয়াড়রা অস্ত্রোপচার বা লিঙ্গ পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা নিলেও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ্যতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতির ওপর নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে তাই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নীতিমালার আওতায় অনায়া ঘরোয়া পর্যায়ে ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাঠে ফিরে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পুনর্গঠন করা। অনায়ার লক্ষ্য স্পষ্ট, ২০২৭ সালে নারী বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে পরিচয় বা অতীত নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জায়গা করে নিতে চান তিনি। সূত্র: ডেইলি মেইল
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন জীবন, জীবিকা কিংবা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো অন্তত আটজন বাংলাদেশি গত ১৬ মাসে মর্মান্তিক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন। ফ্লোরিডা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া ও টেনেসির মতো অঙ্গরাজ্যগুলোতে ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় কেউ কর্মস্থলে, কেউ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে, আবার কেউ নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের আগস্ট পর্যন্ত এসব প্রাণহানির ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে। যদিও এসব ঘটনার পেছনে বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে কোনো সংঘবদ্ধ হামলার প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে একের পর এক এমন মৃত্যু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে। এই প্রাণহানির শুরুটা হয়েছিল ফ্লোরিডায়। ২০২৫ সালের মে মাসে মাউন্ট ডোরায় ৪৪ বছর বয়সী মনিকা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে হত্যার অভিযোগে তার ভাশুর শাহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অন্যদিকে, চলতি বছরের এপ্রিলে ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি নিখোঁজ হওয়ার পর তাদের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই জোড়া খুনের অভিযোগে তাদের সাবেক রুমমেটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে, গত এপ্রিলে ফ্লোরিডার ফোর্ট মায়ার্সে একটি গ্যাস স্টেশনে কর্মরত ৫১ বছর বয়সী বাংলাদেশি নারী নিলুফা ইয়াসমিন এক দুর্বৃত্তের হাতুড়ির আঘাতে নির্মমভাবে নিহত হন। নিউইয়র্কেও একাধিক বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ম্যানহাটনের একটি ভবনে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের সময় বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারান নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) সাহসী অফিসার দিদারুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তিনি তার আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে যান। এছাড়া, গত ২৩ আগস্ট ব্রুকলিনের ব্রাউনসভিল এলাকায় একটি রেস্তোরাঁয় কর্মরত অবস্থায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ৪৪ বছর বয়সী ইউসুফ রাজু। একই ঘটনায় রাসেল নামের আরেক বাংলাদেশি পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এর আগে জুলাই মাসে ব্রুকলিনেই ছোটখাটো এক সড়ক দুর্ঘটনার বিরোধ মেটাতে গিয়ে মুখে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন ট্যাক্সিচালক রুহুল আমিন নাসির। পেনসিলভানিয়া ও টেনেসিতেও বাংলাদেশিদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গত ৭ জুলাই ফিলাডেলফিয়ায় 'ডোরড্যাশ' অ্যাপে খাবার ডেলিভারি করতে গিয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের গুলিতে নিহত হন মো. মাহফুজুল হক। ৪৩ বছর বয়সী এই ব্যক্তি বাংলাদেশে পেশায় একজন চিকিৎসক ছিলেন। অন্যদিকে, গত ২৩ আগস্ট টেনেসির বেলস এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ডাকাতি ও হত্যার শিকার হন বাংলাদেশি অভিবাসী শাহেদ রানা মোহসিন। এই আটটি মৃত্যুর পেছনে কোনো অভিন্ন কারণ নেই। পারিবারিক বিরোধ, কর্মস্থলে ডাকাতি বা আকস্মিক বন্দুক হামলার মতো ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে এসব ঘটনা ঘটেছে। তাই একে বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত বা ধারাবাহিক হামলা বলার সুযোগ নেই। তবে রেস্তোরাঁ, গ্যাস স্টেশন, খাবার ডেলিভারি বা ট্যাক্সি চালানোর মতো পেশায় যুক্ত প্রবাসীদের প্রতিনিয়ত অপরিচিত মানুষদের সঙ্গে কাজ করতে হয় বলে তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। এই আটটি মৃত্যু শুধু আটটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গই নয়, বরং স্বপ্নের দেশে নিরাপদ জীবনের প্রত্যাশাকে ঘিরে এক বড় প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সাধারণত ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা গেলেও, শিশুদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্র্যাট গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যটির শিশুদের শিক্ষা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তিনি 'ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডেন স্টার্ট চ্যালেঞ্জ' নামের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো 'ক্যালকিডস' (CalKIDS) প্রোগ্রামের প্রচার ও প্রসারে কাজ করা, যার মাধ্যমে যোগ্য শিশুরা তাদের উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সর্বোচ্চ দেড় হাজার ডলার পর্যন্ত সরকারি আর্থিক সুবিধা পেয়ে থাকে। ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের নিজস্ব অর্থায়নে এই যুগান্তকারী কর্মসূচিটি চালু করা হয়েছিল। সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো, ক্যালিফোর্নিয়ার এই কর্মসূচির পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চালু করা ফেডারেল 'ট্রাম্প অ্যাকাউন্ট' ব্যবহারেরও জোরালো প্রচার চালাচ্ছেন নিউসম। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে ট্রাম্পের এই উদ্যোগের প্রশংসাও করেন তিনি। নিউসম স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই বিষয়গুলো কোনো দলীয় রাজনীতির অংশ নয়। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি বলেন, ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের অর্থ ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কোনো অর্থ নয়, বরং এটি নাগরিকদের সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা। বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়া সরকার ৬০ লাখেরও বেশি ক্যালকিডস অ্যাকাউন্টের জন্য ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থায়ন করেছে, তবে এখন পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ পরিবার এই তহবিলের সুবিধা গ্রহণ করেছে। গভর্নর গ্যাভিন নিউসমের এই উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হলেও কিছু সমালোচনাও রয়েছে। প্যাসিফিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ল্যান্স ইজুমির মতো বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি (K-12) পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের (ESA) ক্ষেত্রে নিউসম কেন বরাবরই বিরোধিতা করেন। ক্যালিফোর্নিয়ার অনেক পাবলিক স্কুল শিশুদের মৌলিক শিক্ষা প্রদানে পিছিয়ে পড়ায় কম বয়সেই এই ধরনের সঞ্চয় অ্যাকাউন্টের সুবিধা দেওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তবে সব বিতর্ক ছাপিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া প্রশাসন এখন সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের নেতাদেরও ক্যালকিডস এবং ফেডারেল অ্যাকাউন্টগুলোতে অনুদান প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারে রূপ দিতে সক্ষম বিশেষভাবে পরিবর্তিত ইস্ট বা খামির তৈরি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটি কার্বনডেলের গবেষকেরা। ‘মাইক্রোবাইটস’ নামে পরিচিত এই খাবারকে থ্রিডি ফুড প্রিন্টারের মাধ্যমে কুকির আকার দেওয়া হচ্ছে। গবেষণাটি ভবিষ্যতে মহাকাশযাত্রা, দুর্যোগপূর্ণ এলাকা ও খাদ্যসংকটে থাকা অঞ্চলে সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে খাবার তৈরির নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির ২০২৬ সালের ফল সম্মেলনে ২৪ আগস্ট গবেষণাটির নতুন ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। গবেষক দলটি নাসার ‘ডিপ স্পেস ফুড চ্যালেঞ্জ’-এর আওতায় দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশনের জন্য টেকসই খাবার তৈরির এই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে। গবেষকেরা পিইটি প্লাস্টিক, ফেলে দেওয়া ভুট্টার কাণ্ড ও পাতা এবং অন্যান্য উদ্ভিদবর্জ্য প্রথমে পানি, তাপ, চাপ ও অক্সিজেন ব্যবহার করে ভেঙে ছোট কার্বনসমৃদ্ধ অণুতে পরিণত করেন। এই প্রক্রিয়াটিকে বলা হয় অক্সিডেটিভ হাইড্রোথার্মাল ডিসলিউশন। এরপর এসব উপাদান বিশেষভাবে তৈরি বিভিন্ন ধরনের ইস্টকে খাওয়ানো হয়। ইস্টগুলো ওই কার্বনসমৃদ্ধ উপাদানকে ব্যবহার করে প্রোটিন, চর্বি ও অন্যান্য খাদ্য উপাদান তৈরি করে। পরে এসব উপাদানের সঙ্গে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টি উপাদান মিশিয়ে তৈরি করা হয় কুকির মিশ্রণ। থ্রিডি ফুড প্রিন্টারের মাধ্যমে মিশ্রণটি স্তর ধরে নির্দিষ্ট আকৃতিতে তৈরি করা হয় ‘মাইক্রোবাইটস’ কুকি। গবেষণাটির নতুন দিক হলো কুকির স্বাদ ও পুষ্টিমান আরও উন্নত করতে ইস্টের মধ্যেই প্রয়োজনীয় উপাদান তৈরির ব্যবস্থা করা। গবেষকেরা এমন ইস্ট তৈরি করেছেন, যা উদ্ভিদবর্জ্য থেকে ভ্যানিলার স্বাদ ও গন্ধের জন্য দায়ী ভ্যানিলিন তৈরি করতে পারে। আরেক ধরনের ইস্ট পিইটি প্লাস্টিক থেকে পাওয়া ইথিলিন গ্লাইকোল ব্যবহার করে বিটা-ক্যারোটিন তৈরি করতে পারে, যা শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে সহায়তা করে। তবে এই কুকি এখনো সাধারণ বাজারের খাবার নয়। গবেষকেরা জানিয়েছেন, পরীক্ষায় কুকিগুলো খাওয়ার উপযোগী হওয়ার সম্ভাবনা দেখা গেলেও আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা রয়েছে। এ পর্যন্ত করা গন্ধের মূল্যায়নে বেশিরভাগ অংশগ্রহণকারী সীমিত সম্পদের পরিস্থিতিতে এই খাবার খেতে আগ্রহী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। গবেষকদের লক্ষ্য শুধু প্লাস্টিক দূষণ কমানো নয়, একই সঙ্গে বর্জ্য থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান তৈরি করা। ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ মিশন, সাবমেরিন, দুর্যোগকবলিত এলাকা বা কৃষির সুযোগ সীমিত এমন অঞ্চলে খাদ্য ও পুষ্টির নতুন উৎস হিসেবে কাজে লাগতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি সাধারণ মানুষের খাবার হিসেবে ব্যবহারের আগে নিরাপত্তা, উৎপাদন ব্যয়, পুষ্টিমান এবং ভোক্তাদের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।
পার্বত্য চট্টগ্রামে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের চেয়েও অনির্বাচিত পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের ক্ষমতা বেশি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। একই সঙ্গে তিনি পার্বত্য জেলা পরিষদগুলোতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় এনসিপি ও দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলেন সারজিস আলম। পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়ে সমালোচনা করে সারজিস আলম বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিএনপির দলীয় জেলা পরিষদ গঠন করা হয়েছে। তার দাবি, এসব পরিষদে এমনভাবে লুটপাটের সুযোগ তৈরি হয়েছে যে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার চেয়ে অনেকে জেলা পরিষদের সদস্য হতে আগ্রহী। তিনি অভিযোগ করেন, পাঁচ কোটি টাকা দিয়ে সদস্য হলে ২০ কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ থাকে। জেলা পরিষদ গঠন প্রক্রিয়ায় দলীয় প্রভাবেরও অভিযোগ করেন এনসিপির এই নেতা। তার ভাষ্য, বিএনপির অনেক ত্যাগী নেতাকর্মী থাকলেও কোরামবাজি ও দলীয় প্রভাবের কারণে তাদের অনেকে জেলা পরিষদে স্থান পাননি। পার্বত্য চট্টগ্রামে জেলা পরিষদগুলোর জন্য প্রতি বছর বড় অঙ্কের সরকারি বরাদ্দ আসে উল্লেখ করে সারজিস আলম প্রশ্ন তোলেন, এত বরাদ্দের পরও কেন সেখানে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। তিনি দ্রুত জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজন করে সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানান। বিএনপির বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সারজিস আলম বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে কুক্ষিগত করে রাখা হয়েছে। পার্বত্য এলাকায় এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও মামলা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সারজিস আলম বলেন, বিএনপি একসময় আওয়ামী লীগের কাছে যে পদ্ধতিতে নিপীড়ন ও জুলুমের শিকার হয়েছিল, এখন তারাই একই ধরনের পদ্ধতি অনুসরণ করছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে যে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছিল, বিএনপির সরকারের ক্ষেত্রে তা ছয় মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, প্রত্যেক সংগঠনকে নিজ নিজ রাজনীতি করার সুযোগ দিতে হবে। জনগণই শেষ পর্যন্ত ঠিক করবে তারা কোন দলকে সমর্থন করবে। সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির ১১ দলীয় নির্বাচনী জোট নিয়েও কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, এই জোট ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। তার অভিযোগ, একটি ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী জামায়াত-এনসিপি জোট নিয়ে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। এ সময় আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে আসার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সারজিস আলম বলেন, ‘ডিসেম্বরে আসা তো দূরের কথা, শেখ হাসিনার কবরও বাংলাদেশের মাটিতে হবে না।’
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বড় সতর্কবার্তা দিয়েছেন মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। তাঁর আশঙ্কা, আগামী এক দশকে এআই দ্রুত বিভিন্ন পেশার কাজ দখল করে নেওয়ায় বিপুলসংখ্যক মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন। একই সঙ্গে এই প্রযুক্তি সাইবার হামলা, প্রতারণা, ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং এমনকি প্রাণঘাতী জীবাণু তৈরির সক্ষমতাও সহজ করে দিতে পারে। ২৬ আগস্ট নিজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রায় ৬ হাজার শব্দের এক দীর্ঘ প্রবন্ধে গেটস এআই যুগের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও তা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে বিস্তারিত লিখেছেন। একই সময়ে ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি এআই নিয়ে তাঁর উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। গেটসের মতে, এআই আগের প্রযুক্তিগত বিপ্লবগুলোর মতো নয়। অতীতে প্রযুক্তি কিছু কাজের ধরন বদলে দিলেও মানুষের চিন্তাশক্তির প্রয়োজন হয় এমন নতুন কাজ তৈরি হয়েছে। কিন্তু এআই সরাসরি মানুষের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতার একটি বড় অংশকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। ফলে চাকরি হারানো মানুষের জন্য নতুন কাজ তৈরির সুযোগ আগের তুলনায় অনেক কম হতে পারে। তিনি লিখেছেন, আইন, গ্রাহকসেবা, চিকিৎসা, সফটওয়্যার ও উৎপাদন খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এআই দ্রুত কাজের অংশ হয়ে উঠবে। এই পরিবর্তন কয়েক প্রজন্ম ধরে নয়, মাত্র এক দশকের মধ্যেই বড় আকারে ঘটতে পারে। নতুন কিছু চাকরি তৈরি হলেও যথাযথ নীতি না থাকলে বর্তমানে যত চাকরি রয়েছে, তার তুলনায় নতুন চাকরির সংখ্যা অনেক কম হতে পারে। বিশেষ করে প্রবেশ পর্যায়ের ও মধ্যম পর্যায়ের চাকরি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন গেটস। তাঁর মতে, তরুণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবেন, কারণ কর্মজীবন শুরু করার সময় তাদের জন্য আগের তুলনায় কম সুযোগ থাকতে পারে। সফটওয়্যার প্রকৌশল, বিক্রয় ও গ্রাহকসেবা, আইনি সহায়তা, ঋণের আবেদন যাচাই, তথ্য বিশ্লেষণ এবং রোগীদের প্রাথমিক পর্যায়ের মূল্যায়নের মতো কাজেও এআই ক্রমেই ভূমিকা নিতে পারে। শুধু দাপ্তরিক কাজ নয়, শারীরিক শ্রমের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসতে পারে বলে মনে করেন গেটস। তাঁর ধারণা, দশকের শেষ নাগাদ উন্নত রোবট নির্মাণ ও আতিথেয়তা খাতের কিছু কাজে মানুষের সঙ্গে প্রতিযোগিতা শুরু করতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠান রোবট ও এআই ব্যবহার করে খরচ কমিয়ে পণ্যের দাম কমালে অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই পথে যেতে বাধ্য হবে। এতে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি আরও বাড়তে পারে। গেটসের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের জায়গা হলো, এআই যখন প্রায় ভুলহীনভাবে কাজ করতে পারবে এবং মানুষের তদারকির প্রয়োজনও কমে যাবে। তখন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে আরও বেশি কাজ যন্ত্রের হাতে তুলে দেওয়ার শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রণোদনা থাকবে। এর ফলে কর্মসংস্থান, আয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রচলিত ধারণাই বদলে যেতে পারে। তিনি ১৯৩০-এর দশকের মহামন্দার কথাও উল্লেখ করেছেন। ১৯৩৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্ব প্রায় ২৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে গেটস বলেন, এআইয়ের কারণে বেকারত্ব সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে এমন পূর্বাভাস তিনি দিচ্ছেন না। তাঁর বক্তব্য হলো, এআইয়ের প্রভাব যদি ব্যাপক হয়, তা শুধু অর্থনৈতিক চক্রের পরিবর্তনের সঙ্গে শেষ হয়ে যাবে না। বরং অর্থনীতির কাঠামোর ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে। এআইয়ের অপব্যবহার নিয়েও সতর্ক করেছেন গেটস। তাঁর মতে, অনলাইনে আগে থেকেই সাইবার হামলা, প্রতারণা, ক্ষতিকর সফটওয়্যার ও জৈব অস্ত্র সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। এআই এসব তথ্য ব্যবহার করা এবং বাস্তবে প্রয়োগ করার সক্ষমতা আরও সহজ করে দিতে পারে। দক্ষতা কম থাকা ব্যক্তিরাও বড় পরিসরে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সরকারি ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর ক্ষমতা পেতে পারেন। হাসপাতাল, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ অবকাঠামো এবং সরকারি সেবার ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা এআই-সহায়িত সাইবার হামলার ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলেও তিনি সতর্ক করেছেন। জীবাণু অস্ত্রের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়েও তাঁর উদ্বেগ রয়েছে। গেটসের মতে, এআই যেমন নতুন ওষুধ ও টিকা তৈরির কাজ দ্রুত করতে পারে, তেমনি ক্ষতিকর উদ্দেশ্যে নতুন প্রাণঘাতী রোগজীবাণু তৈরির কাজও সহজ করে দিতে পারে। এ কারণেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে এমন এআই ব্যবস্থার বাধ্যতামূলক পর্যালোচনার পক্ষে তিনি মত দিয়েছেন। তবে গেটস শুধু এআইয়ের বিপদ তুলে ধরেননি। তাঁর মতে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে এই প্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষা, কৃষি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। বিশেষ করে নতুন ওষুধ ও টিকা আবিষ্কার, স্বাস্থ্যকর্মীদের সহায়তা এবং সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় তথ্য পৌঁছে দিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এআইয়ের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে কয়েকটি পদক্ষেপের প্রস্তাবও দিয়েছেন গেটস। এর মধ্যে অন্যতম হলো কিছু নির্দিষ্ট কাজকে মানুষের জন্য সংরক্ষিত রাখা। তিনি এই ধারণার নাম দিয়েছেন ‘হিউম্যান রিজার্ভড’। বিশেষ করে এমন কাজ, যেখানে মানুষের সহানুভূতি, সম্পর্ক বোঝার ক্ষমতা ও মানবিক উপস্থিতি অপরিহার্য, সেসব ক্ষেত্রে মানুষকে সরিয়ে না দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি। এ ছাড়া এআই ও রোবটের ওপর কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছেন গেটস। তাঁর যুক্তি, বর্তমানে একজন কর্মী নিয়োগ করলে প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্ন ধরনের শ্রম কর দিতে হয়, কিন্তু রোবট কেনার ক্ষেত্রে অনেক সময় কর সুবিধা পাওয়া যায়। ফলে করব্যবস্থা পরোক্ষভাবে মানুষকে বাদ দিয়ে যন্ত্র ব্যবহারে উৎসাহ দিতে পারে। রোবট ও এআই ব্যবহারের ওপর কর আরোপ করলে স্বয়ংক্রিয়করণের গতি কিছুটা কমানোর পাশাপাশি কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে অর্থ জোগানো সম্ভব হতে পারে বলে তাঁর মত। গেটস আরও বলেছেন, এআইয়ের প্রভাব সামলাতে শুধু একটি দেশের নীতি যথেষ্ট নয়। জাতীয় পর্যায়ে নতুন প্রতিষ্ঠান ও নীতিকাঠামো তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সমন্বিত ব্যবস্থা প্রয়োজন। এআই যেহেতু কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন, অর্থনীতি ও অবকাঠামোসহ বহু ক্ষেত্রকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে, তাই এসব বিষয়কে আলাদা আলাদাভাবে দেখলে ঝুঁকি মোকাবিলা কঠিন হবে। এআই উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছেন তিনি। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কিছু মাত্রায় সমন্বয় দরকার বলে মনে করেন গেটস। তাঁর মতে, প্রযুক্তির প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হওয়ার আগে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছু অভিন্ন নীতি ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির কাজ শুরু করা উচিত। এআই নিয়ে নিজের অবস্থানকে গেটস একেবারে নেতিবাচক হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর বক্তব্য, এখনই ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এই প্রযুক্তি মানবজাতির জন্য বড় সুফল বয়ে আনতে পারে। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে চাকরি হারানো, সামাজিক অস্থিরতা এবং জনআস্থার সংকট তৈরি হওয়ার পর পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অনেক কঠিন হবে। তাঁর ভাষায়, এআইয়ের সুবিধা যেন শুধু ধনী ও প্রভাবশালী মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ কারণে সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পক্ষকে এআই নিয়ে আলোচনায় যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। গেটসের এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন এআই প্রযুক্তির সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে এবং কর্মক্ষেত্রে এর ব্যবহারও বিস্তৃত হচ্ছে। তাঁর মতে, এখনই নীতি নির্ধারণ ও প্রস্তুতি শুরু করা গেলে এআইয়ের সম্ভাব্য সুফল সবার মধ্যে ভাগ করে নেওয়া সম্ভব। আর তা না হলে প্রযুক্তির অগ্রগতি অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। সংবাদসূত্র: গেটস নোটস, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, নিউইয়র্ক পোস্ট।
ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় বাঙ্গারের সন্তান অনায়া বাঙ্গারকে অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ঘরোয়া পর্যায়ে খেলার সুযোগ দিয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ২০২৭ সালের মার্চ থেকে তিনি দেশটির নারী ক্রিকেটের ‘এলিট’ পর্যায়ে খেলার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। এর ফলে নারী বিগ ব্যাশ লিগে (ডব্লিউবিবিএল) খেলার পথও খুলেছে তাঁর সামনে। তবে কোনো দলের সঙ্গে চুক্তি বা দলে জায়গা পাওয়ার নিশ্চয়তা এখনো পাননি তিনি। ২৫ বছর বয়সী অনায়া আগে মুম্বাইয়ের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলেছেন। ব্যাটিং অলরাউন্ডার হিসেবে গড়ে ওঠার সময় তিনি সারফরাজ খানসহ ভারতের বয়সভিত্তিক ক্রিকেটের কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ের সঙ্গে খেলেছেন। পরে যুক্তরাজ্যেও ক্রিকেট চালিয়ে যান। চলতি বছরের মার্চে থাইল্যান্ডে লিঙ্গ-নিশ্চিতকরণমূলক অস্ত্রোপচারের পর তাঁর ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এরপর অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার সুযোগের জন্য ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছে আবেদন করেন তিনি। সংস্থাটির পর্যালোচনার পর তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে নারী কমিউনিটি ও প্রিমিয়ার ক্রিকেটে খেলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এলিট পর্যায়ে খেলতে হলে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। সংস্থাটির নীতিমালা অনুযায়ী, নারী বিভাগে এলিট ক্রিকেটে অংশ নিতে একজন খেলোয়াড়ের রক্তে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা টানা অন্তত ১২ মাস প্রতি লিটারে ১০ ন্যানোমোলের নিচে থাকতে হবে। ২০২৭ সালের মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানোর পর অনায়াকে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই শর্ত পূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। অনায়া জানিয়েছেন, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর কাছে অত্যন্ত আবেগের। ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-কে তিনি বলেন, একটা সময় তাঁর মনে হয়েছিল হয়তো আর কখনো ক্রিকেট খেলতে পারবেন না। নতুন এই সুযোগ তাঁকে আবার ক্রিকেটে ফেরার পথ দেখিয়েছে। তবে অস্ট্রেলিয়ার নারী বিগ ব্যাশে খেলা এখনো তাঁর জন্য অনেক দূরের লক্ষ্য। যোগ্যতা অর্জন করলেই কোনো দলে জায়গা নিশ্চিত হবে না। তাঁকে প্রথমে অস্ট্রেলিয়ার কোনো ক্লাবে যোগ দিয়ে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে হবে, শারীরিক সক্ষমতা ও ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পেতে হবে এবং ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিংয়ে নিজের পারফরম্যান্স প্রমাণ করতে হবে। এরপরই কোনো বিগ ব্যাশ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে দলে নেওয়ার কথা বিবেচনা করতে পারে। অনায়া নিজেও বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন। তাঁর ভাষায়, ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাঁকে কোনো দলের জায়গা দেয়নি, বরং সেই জায়গা অর্জনের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে। তাঁকে এখন অনুশীলন, প্রতিযোগিতা ও পারফরম্যান্সের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অনায়ার অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার পেছনে ভারতের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি গত বছর ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, নারী ক্রিকেটে ট্রান্সজেন্ডার খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণের জন্য কী নিয়ম রয়েছে। তাঁর দাবি, সেই চিঠির কোনো উত্তর তিনি পাননি। পরে চলতি বছরের জুনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, দেশটির ঘরোয়া ক্রিকেটে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো নীতিমালা নেই। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অবশ্য ভিন্ন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল ২০২৩ সালে নতুন লিঙ্গ-যোগ্যতা নীতি অনুমোদন করে। ওই নীতিতে বলা হয়, পুরুষ বয়ঃসন্ধির মধ্য দিয়ে যাওয়া নারী খেলোয়াড়রা অস্ত্রোপচার বা লিঙ্গ পরিবর্তনসংক্রান্ত চিকিৎসা নিলেও আন্তর্জাতিক নারী ক্রিকেটে অংশ নিতে পারবেন না। তবে আইসিসি স্পষ্ট করেছে, এই নিয়ম আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য প্রযোজ্য এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে যোগ্যতার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দেশের ক্রিকেট বোর্ডের নীতির ওপর নির্ভর করে। অস্ট্রেলিয়ার ক্ষেত্রে তাই আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মে পার্থক্য রয়েছে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিজস্ব নীতিমালার আওতায় অনায়া ঘরোয়া পর্যায়ে ক্রিকেটে ফেরার সুযোগ পেয়েছেন। এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মাঠে ফিরে নিজের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স পুনর্গঠন করা। অনায়ার লক্ষ্য স্পষ্ট, ২০২৭ সালে নারী বিগ ব্যাশে খেলার সুযোগ তৈরি করা। তবে সেই লক্ষ্য পূরণে পরিচয় বা অতীত নয়, মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই জায়গা করে নিতে চান তিনি। সূত্র: ডেইলি মেইল
রাজনীতি
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreনেপাল ও তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ১৬০ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন শত শত মানুষ, যাদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকও রয়েছেন। নেপালের দুর্গম পার্বত্য এলাকায় বন্যার পানির সঙ্গে কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও সীমান্ত অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বুধবার স্থানীয় সময় সকালে ভোতে কোশি নদীর আশপাশে হঠাৎ ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। নেপাল পুলিশের হিসাবে এখন পর্যন্ত ১৫৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ৪০ জনের বেশি আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। একই সময়ে চীনের তিব্বত অঞ্চলের গিরং কাউন্টিতে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, দেশটিতে ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজ বিদেশিদের মধ্যে ৪৭ জন যুক্তরাষ্ট্রের, ৩৪ জন অস্ট্রেলিয়ার, ৩৩ জন যুক্তরাজ্যের এবং ২৪ জন কানাডার নাগরিক। নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিকদের মধ্যে ১৩ বছর বয়সী একটি মেয়েও রয়েছে। নিখোঁজদের বড় একটি অংশ তিব্বতের পবিত্র কৈলাস-মানসসরোবর এলাকায় তীর্থযাত্রায় যাচ্ছিলেন। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ১৩৩। এছাড়া স্থানীয় পর্যটক, তীর্থযাত্রী, গাইড ও নিরাপত্তাকর্মীরাও নিখোঁজ রয়েছেন। চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে ৫৫০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। তবে নেপাল ও চীনের নিখোঁজের হিসাবের মধ্যে একই ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। প্রাথমিকভাবে এই দুর্যোগের পেছনে ভূমিকম্পের ভূমিকা রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে হিমবাহের বরফ ও পাথরের একটি বড় অংশ ধসে পড়ার পর সৃষ্ট ধ্বংসাবশেষের প্রবল স্রোত থেকেই এই বন্যা তৈরি হয়েছে। উষ্ণ হয়ে ওঠা হিমালয় অঞ্চলে এ ধরনের হিমবাহ ধসের ঝুঁকি বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। বন্যার প্রবল স্রোতে নেপাল ও তিব্বতের সীমান্ত এলাকার সড়ক ও সেতু ভেসে গেছে। বহু বাড়িঘর কাদা ও ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টার ব্যবহার করে দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। আটকে পড়া মানুষদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় খাবার, তাঁবু ও জরুরি সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তবে আবহাওয়া ও যোগাযোগব্যবস্থার কারণে অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকারী দল পৌঁছাতে পারেনি। কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, দুর্গম এলাকাগুলোতে উদ্ধার অভিযান আরও এগোলে মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। নদীর তীরবর্তী নেপালের কয়েকটি জেলার বাসিন্দাদের ভোতে কোশি, ত্রিশূলী ও নারায়ণী নদী থেকে দূরে নিরাপদ স্থানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৪ অস্ট্রেলীয় নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ১১ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশুও রয়েছে। বুধবারের এই দুর্যোগে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক শ মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানিয়েছেন, নিখোঁজ অস্ট্রেলীয়দের মধ্যে ১৫ জন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ভ্রমণ প্রতিষ্ঠান হিমালয়ান গ্লেসিয়ার অ্যাডভেঞ্চার্সের একটি দলে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী সাগর পান্ডে জানিয়েছেন, দলটির সঙ্গে বুধবার সকালে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই ১৫ জনের মধ্যে ৯ জন পুরুষ ও ৬ জন নারী। সবচেয়ে কম বয়সী দুইজনের বয়স ১১ ও ১৪ বছর এবং সবচেয়ে বেশি বয়সী নিখোঁজ নারীটির বয়স ৬৪ বছর। তারা কাঠমান্ডু থেকে কৈলাস পর্বত পর্যন্ত ১৪ দিনের একটি তীর্থভ্রমণে গিয়েছিলেন। ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাদের কার্যালয়ের সঙ্গে সফরের দলনেতাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর আর দলটির কোনো সদস্য বা অতিথির সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি দেখতে এবং সহায়তা দিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী একটি ছোট দল নিয়ে ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হলেও পরিস্থিতির কারণে তাদের সেখানে অবতরণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। নেপালের পর্যটন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে আকস্মিক বন্যার পর ৪০৩ জন পর্যটকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। তাদের মধ্যে ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে ভারতীয় তীর্থযাত্রীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, কানাডা, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকও রয়েছেন। বুধবার সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের কাছে ভোতে কোশি নদীর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ পানির প্রবল স্রোত নেমে আসে। এর সঙ্গে কাদা, পাথর ও বরফ মিশে ভয়াবহ স্রোত তৈরি হয়। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই বাড়িঘর, সড়ক ও সেতু ভেসে যেতে শুরু করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, মানুষ প্রাণ বাঁচাতে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে দৌড়ে পালাচ্ছেন এবং বিশাল জল ও কাদার স্রোত বসতিতে ঢুকে পড়ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, একটি ভূমিকম্পের কারণে তুষারধস বা বরফধস সৃষ্টি হয়ে এই বন্যা হয়েছে। পরে ভূকম্পনসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানান, বড় ধরনের ভূমিধস বা বরফ ও পাথরের ধসই এই বিপর্যয়ের সম্ভাব্য প্রধান কারণ। কাঠমান্ডুভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেন ডেভেলপমেন্টের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমবাহের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ার পর নদীতে বিপুল পরিমাণ বরফ, পাথর ও পানি নেমে এসে এই আকস্মিক বন্যা তৈরি হয়ে থাকতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বন্যার সময় নদীর পানির উচ্চতা মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯ মিটার পর্যন্ত বেড়ে যায়। এত দ্রুত পানির উচ্চতা বাড়ায় নদীর কাছাকাছি বসবাসকারী মানুষ এবং পর্যটকদের সতর্ক হয়ে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার সুযোগও খুব কম ছিল। দুর্যোগের ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে নেপালের রাসুয়া জেলায়। জেলার স্যাপ্রুবেশি ও তিমুরে এলাকায় প্রবল স্রোতে বহু বাড়িঘর ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশপাশের নুয়াকোট ও ধাদিং এলাকাতেও বন্যার পানি ও কাদার স্রোত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে। আন্তর্জাতিক রেডক্রসের নেপাল প্রতিনিধি ডেভিড ফিশার জানিয়েছেন, পুরো গ্রাম ও বাজার এলাকা বন্যায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। উদ্ধার তৎপরতা শুরু হলেও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হয়ে উঠেছে। নেপাল সেনাবাহিনী ১৪টি হেলিকপ্টার ও দুর্যোগ মোকাবিলা দল মোতায়েন করেছে। তবে রাসুয়া জেলার কয়েকটি এলাকায় পানির উচ্চতা বেশি থাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। পানি কমে গেলে উদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করা সম্ভব হবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। চীনের তিব্বত অংশেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে গিরং এলাকায় অন্তত তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং শত শত মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। সীমান্তবর্তী এলাকায় সড়ক ও যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকাজও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিভাগ নিখোঁজ নাগরিকদের অবস্থান নিশ্চিত করতে নেপালের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও ভ্রমণ প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করছে। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ দুর্যোগে নিহত ও নিখোঁজদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় থাকা অস্ট্রেলীয়দের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। এই দুর্যোগের সঙ্গে হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গবেষকেরা বলছেন, হিন্দুকুশ হিমালয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমবাহ দ্রুত গলছে এবং বরফ ও হিমবাহের স্থিতিশীলতা কমছে। ফলে ভবিষ্যতে আকস্মিক বন্যা, হিমবাহধস ও বরফ-পাথরের ধসের মতো দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে। উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। নিখোঁজ পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্ধানে স্থল ও আকাশপথে তৎপরতা চালানো হচ্ছে। তবে দুর্গম ভূখণ্ড, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও সেতু এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিপর্যয়ের কারণে উদ্ধারকাজে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। ফলে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এবং হতাহতের চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও সময় লাগতে পারে। সূত্র: এবিসি নিউজ অস্ট্রেলিয়া, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, আল জাজিরা ও নেপাল পর্যটন কর্তৃপক্ষ।
দক্ষিণ কোরিয়ায় উড়োজাহাজের ভেতরে উচ্চস্বরে ধর্মপ্রচার এবং যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে দুই ধর্মযাজককে জরিমানা করেছেন আদালত। দুজনকেই ১০ লাখ কোরিয়ান ওন করে জরিমানা করা হয়েছে। ১৮ আগস্ট দেওয়া রায়ে সিউল সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক সিও জি-ওন ৬৪ ও ৬৮ বছর বয়সী দুই ধর্মযাজককে বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। দক্ষিণ কোরিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ জেজু থেকে গিমপোগামী একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে এ ঘটনা ঘটে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বিমানটি জেজু বিমানবন্দর থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে গিমপোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার পর ৬৪ বছর বয়সী এক ধর্মযাজক আসন ছেড়ে বিমানের মাঝের পথ বা আইলে দাঁড়িয়ে যাত্রীদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে ধর্মীয় বক্তব্য দিতে শুরু করেন। কেবিনকর্মীরা তাকে বারবার আসনে ফিরে যেতে এবং বক্তব্য বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু তিনি তাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, যিশুকে বিশ্বাস না করলে তারা নরকে যাবেন। এরপর তার সঙ্গে থাকা ৬৮ বছর বয়সী আরেক ধর্মযাজকও একইভাবে বিমানের আইল ধরে হাঁটতে হাঁটতে উচ্চস্বরে ধর্মীয় কথা বলতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ‘হ্যালেলুজাহ’ বলে যাত্রীদের উদ্দেশে বলেন, তারাও নরকে যাবেন। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন যাত্রী আপত্তি জানান। কেবিনকর্মীরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। কিন্তু দুই ধর্মযাজক তাদের কথায় কর্ণপাত করেননি। একজন কেবিনকর্মী সতর্ক করতে এগিয়ে গেলে তিনি পাল্টা তাকে উপদেশ না দিতে বলেন। আদালতের বিবরণ অনুযায়ী, যাত্রী ও কেবিনকর্মীদের আপত্তি ও বারবার সতর্কতার পরও প্রায় ১৩ মিনিট ধরে তাদের এই আচরণ চলতে থাকে। পরে আদালতে দুই ধর্মযাজক অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি ছিল, বিমানে তাদের আচরণ আইন অনুযায়ী ‘বিশৃঙ্খল আচরণ’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার মতো ছিল না। একই সঙ্গে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাননি বলেও দাবি করেন। তবে আদালত তাদের সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। রায়ে বলা হয়, আইনসম্মতভাবে সংগ্রহ ও যাচাই করা প্রমাণের ভিত্তিতে দুই আসামির বিশৃঙ্খল আচরণ এবং তা করার অভিপ্রায় দুটিই প্রমাণিত হয়েছে। ফলে তাদের বিমান নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের জন্য দোষী সাব্যস্ত করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান নিরাপত্তা আইনে উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করতে পারে এমন আচরণ নিষিদ্ধ। এর মধ্যে কেবিনে উচ্চস্বরে চিৎকার, নির্দেশ অমান্য করা, অন্য যাত্রীদের বিরক্ত বা বিপদে ফেলা এবং অন্যান্য বিশৃঙ্খল আচরণ অন্তর্ভুক্ত। আইন অনুযায়ী, কোনো যাত্রী বিমানের ভেতরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেলে পাইলট ও কেবিনকর্মীরা তাকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ব্যবস্থা করতে পারেন। প্রয়োজন হলে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার যন্ত্র বা বাঁধার সরঞ্জাম ব্যবহার করে তাকে নিয়ন্ত্রণ ও আলাদা করা যায়। বিমান অবতরণের পর সংশ্লিষ্ট যাত্রীকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে তদন্তও করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিকভাবেও বিমানে যাত্রীদের এমন আচরণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা, আইসিএওর সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো যাত্রী বিমানবন্দর বা উড়োজাহাজে নির্ধারিত আচরণবিধি মেনে না চললে কিংবা বিমানবন্দরকর্মী বা কেবিনকর্মীদের নির্দেশ উপেক্ষা করে সুশৃঙ্খল পরিবেশ ব্যাহত করলে তাকে বিশৃঙ্খল যাত্রী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিমানে যাত্রীদের এমন আচরণ যে এখনো বৈশ্বিকভাবে বড় সমস্যা, তারও ইঙ্গিত মিলেছে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা, আইএটিএর পরিসংখ্যানে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ১৪০টির বেশি বিমান পরিচালনাকারী সংস্থার কাছ থেকে ৯৩ হাজার ১০৭টি বিশৃঙ্খল যাত্রী আচরণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছিল। ওই হিসাবে প্রতি ৩৫৫টি ফ্লাইটে প্রায় একটি এমন ঘটনা ঘটেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিমানের কেবিনে যাত্রীদের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে কেবিনকর্মীদের নির্দেশ মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় বিশ্বাস বা ব্যক্তিগত মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও চলন্ত বিমানে অন্য যাত্রীদের অসুবিধায় ফেলে বা কেবিনের শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন আচরণ আইনগত পরিণতি ডেকে আনতে পারে। দক্ষিণ কোরিয়ার এই ঘটনায় আদালতের জরিমানা তাই শুধু দুই ধর্মযাজকের আচরণের বিচার নয়, উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আচরণ ও কেবিনকর্মীদের নির্দেশ মানার বিষয়টিকেও আবার সামনে এনেছে।
বিতর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার অ্যান্ড্রু টেট ও ট্রিস্টান টেটের আইনজীবীরা স্বীকার করেছেন, অনলাইনে তাদের বিপুল সম্পদের যে প্রদর্শন দেখা যেত, তার বড় অংশই ছিল সাজানো। যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ ঠেকানোর আইনি লড়াইয়ের মধ্যে আদালতে দেওয়া নথিতে এ তথ্য উঠে এসেছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেট ভাইদের আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখানো বিলাসবহুল গাড়িগুলোর কয়েকটি তারা ভাড়া নিয়েছিলেন। এমনকি প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের একটি সুপারইয়টও তাদের মালিকানাধীন ছিল না। সেটি সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারের বিনিময়ে তারা অর্থ পেয়েছিলেন। আইনজীবীদের এই বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল টেট ভাইদের জামিনে মুক্তি দিলে তারা পালিয়ে যেতে পারেন, এমন দাবির বিরোধিতা করা। প্রসিকিউশন তাদের বিপুল সম্পদ ও একাধিক পাসপোর্টকে সম্ভাব্য ফ্লাইট রিস্কের প্রমাণ হিসেবে দেখিয়েছে। ২৮ পৃষ্ঠার এক আইনি আবেদনে টেট ভাইদের আইনজীবীরা দাবি করেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোকে বাস্তব সম্পদের সরাসরি প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পোস্টে ব্যঙ্গ, অতিরঞ্জন ও প্রচারণার উপাদান ছিল এবং বেশি ভিউ ও লাইক পাওয়ার মাধ্যমে আয় বাড়ানোই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। আইনজীবীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিডিওতে দেখা একটি অ্যাস্টন মার্টিনের মূল্য প্রায় ২১ লাখ ডলার এবং দুটি বুগাটির সম্মিলিত মূল্য প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ ডলার হলেও গাড়িগুলো টেট ভাইদের নিজস্ব ছিল না। এগুলো ভিডিও তৈরির জন্য ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। একইভাবে, প্রায় ৫ কোটি ডলার মূল্যের যে সুপারইয়ট তাদের বিলাসী জীবনযাপনের অংশ হিসেবে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখানো হয়েছিল, আদালতের নথি অনুযায়ী সেটিও তাদের মালিকানাধীন নয়। টেট ভাইয়েরা সেটি প্রচারের জন্য অর্থ পেয়েছিলেন। আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, অ্যান্ড্রু টেটের একাধিক পাসপোর্ট থাকার বিষয়ে আগের কিছু বক্তব্যও গুরুত্ব দিয়ে দেখার প্রয়োজন নেই। প্রসিকিউশন তার এমন বক্তব্যকে সম্ভাব্য পালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করলেও আইনজীবীরা সেটিকে রসিকতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অ্যান্ড্রু টেট বর্তমানে যুক্তরাজ্যে ধর্ষণ, মানবপাচার ও অন্যান্য গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি ও চরম পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত আরও ১৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ভাই ট্রিস্টান টেটের বিরুদ্ধেও ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন ও মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে। দুই ভাই দীর্ঘদিন রোমানিয়ায় বসবাস করেছেন। সেখানে তাদের বিরুদ্ধে মানবপাচার, ধর্ষণ, সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও অর্থপাচারসহ আলাদা তদন্ত চলছে। গত ১৮ জুলাই মিয়ামিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল হেফাজতে রয়েছেন এবং যুক্তরাজ্যে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আদালতে সম্পদের প্রদর্শন নিয়ে আইনজীবীদের এই স্বীকারোক্তি তাদের জামিন ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত মামলায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
সৌদি-পাকিস্তান-তুরস্কের মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে বাংলাদেশে
হামাস রাজি, নেতানিয়াহু নারাজ - গাজা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েলে ট্রাম্পের জামাতা
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তান প্রতিরক্ষা চুক্তি ধর্মীয় জোট তৈরির উদ্যোগ নয়: রিয়াদ
হলিউডে সাফল্যের আগে অর্থকষ্ট, মস্তিষ্কে টিউমার, মার্ক রাফালোর কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন স্ত্রী
জ্যাকির বাবা ছিলেন স্পাই, মা জড়িত ছিলেন আফিম পাচারে, তাদের প্রেম হয়েছিল অ্যারেস্ট হওয়ার পর
পুরো ফিল্ম ক্যারিয়ারের এক বছরের চেয়েও ইউটিউব থেকে বেশি আয় ফারাহ খানের
সুপারম্যান চাচা বলায় শাস্তি, সত্যি প্রমাণ করতে পরদিন স্কুলে হাজির হেনরি ক্যাভিল!
অ্যাঞ্জেলিনা জোলি ও ব্র্যাড পিটের মেয়ে ভিভিয়েনর বাবার পদবি বাদ দিতে আইনি পদক্ষেপ
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা
১ বিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশনে ফ্যাসেট, বিশ্ব ইউনিকর্নের কাতারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা
গরুর দুধের চেয়ে ৪ গুণ পুষ্টিকর তেলাপোকার দুধ, হতে পারে ভবিষ্যতের সুপারফুড
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
বর্জ্য প্লাস্টিক ও উদ্ভিদবর্জ্য থেকে তৈরি হচ্ছে ভ্যানিলা স্বাদের প্রোটিন বিস্কিট
মানুষকে ধনী হওয়ার পরামর্শ দেওয়া ‘রিচ ড্যাড, পুওর ড্যাড’ বইয়ের লেখক নিজেই ১২০ কোটি ডলার ঋণে
কাজ ও ভালো বেতনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সেরা ২৫ শহরের তালিকা প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রে গরুর মাংসের দাম কমাতে ট্রাম্পের বড় উদ্যোগ, ৩ লাখ টন আমদানির অনুমোদন
ফ্লোরিডা নয়, কম কর আর সমুদ্রসৈকতের টানে ডেলাওয়্যারে ছুটছেন অবসরপ্রাপ্ত আমেরিকানরা
অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
সন্তানদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে, সাবেক স্বামীর হাতে পাঁচ দিন শেকলবন্দি তরুণী নার্স
যৌন অসদাচরণের অভিযোগে সাবেক কংগ্রেসম্যানের বাড়িতে এফবিআইয়ের অভিযান
অভিবাসী গ্রেপ্তারে স্থানীয় পুলিশকে ৫ লাখ ডলারের বীমা দিতে চায় আইস
কেন্টাকির পার্কে গুলিতে কিশোর নিহত, আহত ৪; গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ
গার্লফ্রেন্ডের ৩ বছরের কন্যাশিশুকে নির্যাতন হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন, সাজা শুরুর এক মাসেই কারাগারে মৃত্যু
দীর্ঘ ২৭ বছর পর বিচারের মুখোমুখি ৯/১১ হা মলার মাস্টারমাইন্ড খালিদ শেখ মোহাম্মদ
নাসা, ফেডারেল রিজার্ভ ও সিনেটে চীনা হ্যাকারদের হা মলা, পাল্টা ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের
পাকিস্তানে হাসপাতালের এসির কম্প্রেসার বি স্ফোরণ, আগুনে পুড়ে ১৪ নবজাতকের মৃ ত্যু
ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কমছে কানাডীয় পর্যটক, ক্ষতির মুখে ১৫ অঙ্গরাজ্য