Live update news
বিশ্বকাপে ফাউলের অভিনয় কিংবা জার্সি খুললে দেখতে হবে হলুদ কার্ড

ফুটবল বিশ্বকাপে মাঠের শৃঙ্খলার পাশাপাশি স্পনসরদের স্বার্থ রক্ষার্থে ফিফা, আইএফএবি এবং বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) একগুচ্ছ কঠোর নিয়মকানুন নির্ধারণ করেছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন বোর্ডের (আইএফএবি) নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাচ চলাকালীন ফাউলের শিকার না হয়েও ফাউলের ভান করা কিংবা পেনাল্টি পাওয়ার আশায় বক্সে ‘ডাইভ’ দিলে রেফারি খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাবেন। এছাড়া গোল করার পর আনন্দে গায়ের জার্সি খুললে, অতিরিক্ত সময় নষ্ট করলে বা গ্যালারির দর্শকদের উসকানি দিলেও এই শাস্তি পেতে হবে।   রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আক্রমণাত্মক আচরণ করা, ভয় দেখানো বা গালিগালাজ করলে হলুদ বা সরাসরি লাল কার্ড দেওয়া হবে। টুর্নামেন্টের আলাদা দুটি ম্যাচে দুটি হলুদ কার্ড পেলে পরবর্তী ম্যাচে ওই খেলোয়াড় নিষিদ্ধ থাকবেন এবং লাল কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে গড়িমসি করলে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ আরও বাড়তে পারে। মাঠে নামার আগে আংটি, গলার চেইন, ঘড়ি বা ব্রেসলেটের মতো গয়না পরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হলেও অনুমতিক্রমে ফেস মাস্ক বা বিশেষ সুরক্ষামূলক গার্ড ব্যবহার করা যাবে। অন্যদিকে ভেতরের গেঞ্জি বা মূল জার্সিতে কোনো রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত স্লোগান প্রদর্শন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।   মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও ডোপ টেস্টের ওপর কঠোর নজরদারি রাখবে ওয়াডা ও ফিফা। বিশ্বকাপ চলাকালীন যেকোনো ম্যাচ শেষে, অনুশীলন সেশনে বা টিম হোটেলেও প্রতিনিধিরা আচমকা ডোপ টেস্টের জন্য খেলোয়াড়দের ডাকতে পারেন; এই টেস্টে অস্বীকৃতি জানালে বা নমুনায় কারচুপির চেষ্টা করলে ক্যারিয়ারে বড় নিষেধাজ্ঞা নেমে আসতে পারে। এছাড়া খেলোয়াড়দের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আপত্তিকর, বর্ণবাদী বা রাজনৈতিক উসকানিমূলক পোস্ট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।   ফিফার অফিশিয়াল মিডিয়া সেশন বা সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়া সব খেলোয়াড়ের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অনুমতি ছাড়া এটি এড়ালে সংশ্লিষ্ট দেশের ফুটবল ফেডারেশনকে বড় অঙ্কের জরিমানা গুনতে হবে। একই সঙ্গে অফিশিয়াল অনুষ্ঠানে অননুমোদিত স্পনসর বা প্রতিদ্বন্দ্বী ব্র্যান্ডের প্রচার চালানোও কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এমনকি ক্যাম্প বা হোটেল ছাড়তে হলে কোচিং স্টাফদের আগাম অনুমতি নিতে হবে এবং যাতায়াতের জন্য শুধু ফিফার নির্ধারিত অফিশিয়াল যানবাহনই ব্যবহার করতে হবে।

৩ মিনিট Ago
১৭ জনের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের পদক্ষেপ নিল বিচার বিভাগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জালিয়াতি, মাদক ব্যবসা এবং যৌন অপরাধের মতো গুরুতর অপরাধে অভিযুক্ত ১৭ জন স্বাভাবিক উপায়ে নাগরিকত্ব পাওয়া (ন্যাচারালাইজড) ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সোমবার দেশটির বিচার বিভাগ এই ১৭ জনের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন জমা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।   মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে, অপরাধের ইতিহাস গোপন করে বা কোনো ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে আমেরিকার নাগরিকত্ব পেয়ে থাকেন, তবে ফেডারেল আদালতের আদেশের মাধ্যমে তার নাগরিকত্ব বাতিল করার বিধান রয়েছে। যারা নাগরিকত্ব পাওয়ার এই পুরো প্রক্রিয়াটির অপব্যবহার করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন এই জিরো-টলারেন্স বা শূন্য-সহনশীলতা নীতি কার্যকর করছে।   অপরাধের তথ্য গোপন করে যারা অবৈধভাবে নাগরিকত্ব অর্জন করেছেন, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে এবং দেশ থেকে বহিষ্কার করতে প্রশাসন সব ধরনের আইনি পথ ব্যবহার করছে। জালিয়াতি ও অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।   তবে বিচার বিভাগের এই ব্যাপক নাগরিকত্ব বাতিল অভিযান নিয়ে দেশটির অভিবাসন আইনজীবী এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, আগে অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত এই আইনি প্রক্রিয়াটি এখন নিয়মিত ব্যবহার করায় সাধারণ অভিবাসীদের মনে এক ধরনের ভীতি সৃষ্টি হতে পারে।

১১ মিনিট Ago
ভারী বৃষ্টি দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় শুরু হলো বহুল কাঙ্ক্ষিত বর্ষাকাল

এশিয়ার বিভিন্ন অংশে আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা মৌসুম শুরু হয়েছে, যা এই অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়। মূলত এশিয়ার স্থলভাগ ও ভারত মহাসাগরের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে প্রতি বছর এই দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর সৃষ্টি হয়। বসন্তকালে সাগরের তুলনায় স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হওয়ায় একটি বায়ুচাপের সৃষ্টি হয়, যা জলীয় বাষ্পপূর্ণ সামুদ্রিক বাতাসকে ভেতরের দিকে টেনে আনে। এই আর্দ্র বাতাস ওপরে উঠে ঘনীভূত হয়ে মেঘে পরিণত হয় এবং তীব্র বৃষ্টিপাত ঘটায়।   গত ৪ জুন ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের রাজ্য কেরালায় আনুষ্ঠানিকভাবে বর্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মাত্র তিন দিন পিছিয়ে শুরু হওয়া এই মৌসুমি বায়ুপ্রবাহ ইতিমধ্যেই কর্নাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। কেরালার উপকূলীয় স্টেশনগুলোতে ৪ থেকে ৭ জুনের মধ্যে মাত্র ৭২ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে এই অঞ্চলে আরও ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বন্যা ও ভূমিধসের রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।   ভারতে ধান ও তুলার মতো বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল ফসলের চাষাবাদের জন্য এই বর্ষার আগমনী বার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকরা এই সময়ের ওপর ভিত্তি করেই যত দ্রুত সম্ভব বীজ বপন শুরু করেন, যাতে দীর্ঘ খরা পরিস্থিতির ঝুঁকি এড়ানো যায়। অন্যদিকে, ভারতের আরও পূর্বে থাইল্যান্ডে গত ১৫ মে থেকেই এবারের বর্ষা মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইতিমধ্যে ১ হাজার মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আন্দামান সাগরে ২ থেকে ৩ মিটার উঁচু ঢেউয়ের আশঙ্কায় ছোট নৌকাগুলোকে উপকূলে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   শুরুর দিকে বৃষ্টির এই তীব্রতা থাকলেও আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সামগ্রিকভাবে এই মৌসুমি প্রভাবে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কিছুটা কম হতে পারে। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রাক্কলন অনুযায়ী, এল নিনো পরিস্থিতি তৈরি ও শক্তিশালী হওয়ার কারণে জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট বৃষ্টিপাতের পরিমাণ দীর্ঘমেয়াদি গড়ের প্রায় ৯০ শতাংশ হতে পারে। শরৎকালে স্থলভাগ ঠান্ডা হয়ে এলে এই বায়ুপ্রবাহ ক্রমান্বয়ে দুর্বল হয়ে পড়ে।

২৮ মিনিট Ago
জেনেভায় প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর কাছে ফ্রান্স বিএনপির স্মারকলিপি

বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর জেনেভা সফর উপলক্ষে তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ফ্রান্স বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা, দাবি ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে মন্ত্রীর কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়।   শনিবার (৬ জুন) সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে (আইএলও) অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী জেনেভায় পৌঁছালে ফ্রান্স বিএনপির নেতারা তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।   পরে স্থানীয় একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রতিনিধিদলটি প্রবাসীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১৮ দফা দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি মন্ত্রীর কাছে তুলে দেয়। দাবিগুলোর মধ্যে ঢাকা-প্যারিস সরাসরি বিমান চলাচল চালুর বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।   স্মারকলিপি গ্রহণ করে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, প্রবাসীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট দাবিগুলো মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা করে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।   সৌজন্য সাক্ষাৎ ও স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স বিএনপির সাবেক সহসভাপতি মাহবুবুল আলম রাঙ্গা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুর রহমান, বিএনপি নেতা মো. লুৎফর রহমান চৌধুরী, রফিকুল ইসলাম রাসেল ও আবদুল হাকিম।   এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্স যুবদলের সহসভাপতি আবু বকর, ফ্রান্স স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব এম আলী চৌধুরী, প্যারিস মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক জুয়েল আহমেদ, আল-আমিন, কামরুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

৩৭ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
২০৫০ সালের মধ্যে পরিবেশদূষণ শূন্যে নামানো অসম্ভব, জানাল বিমান সংস্থাগুলো

বিশ্বের বিমান চলাচল খাতকে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণমুক্ত বা পরিবেশদূষণ শূন্যে করার যে বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা আর অর্জন করা সম্ভব নয় বলে স্বীকার করেছেন এই খাতের শীর্ষ নেতারা। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার মহাপরিচালক উইলি ওয়ালশ জানিয়েছেন, এই লক্ষ্য অর্জনের আশা দ্রুতই ম্লান হয়ে যাচ্ছে এবং এখন একটি নতুন ও বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন।   ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত বিমান পরিবহন সংস্থার বার্ষিক সম্মেলনে উইলি ওয়ালশ এই ব্যর্থতার জন্য জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন দেশের সরকার এবং বিমান প্রস্তুতকারকদের দায়ী করেন। তিনি বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ কমাতে মূলত পরিবেশবান্ধব বিমান জ্বালানির ওপর নির্ভর করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে বিশ্বব্যাপী যে পরিমাণ পরিবেশবান্ধব জ্বালানি উৎপাদিত হচ্ছে, তা এয়ারলাইনসগুলোর প্রয়োজনের এক শতাংশেরও কম।   উইলি ওয়ালশ সতর্ক করে বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানিতে পাঁচ শতাংশ পরিবেশবান্ধব উপাদান ব্যবহারের যে লক্ষ্যমাত্রা সরকারগুলো নির্ধারণ করেছিল, তা পূরণের কোনো বাস্তব পথ এই মুহূর্তে নেই। বিমান সংস্থাগুলো একা এই বিশাল লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, নতুন ও আধুনিক বিমান সরবরাহে বিলম্ব এবং বিশ্বজুড়ে বিমান ট্রাফিক ব্যবস্থার সংস্কার না হওয়ায় কার্বন নিঃসরণ কমানো যাচ্ছে না।   এদিকে এই খাতের টেকসই বিষয়ক সহ-সভাপতি ও প্রধান অর্থনীতিবিদ মারি ওয়েন্স থომসেন ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের আইনি বাধ্যবাধকতার সমালোচনা করেছেন। তিনি এই লক্ষ্যমাত্রাকে 'বাস্তবতা বিবর্জিত' বলে আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, পর্যাপ্ত উৎপাদন নিশ্চিত না করে এমন নিয়ম চাপিয়ে দিলে বিমানের টিকিটের দাম ও জ্বালানির খরচ আরও আকাশচুম্বী হবে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২১:৩৮
ছবি: সংগৃহীত
সম্পর্ক আরও বাড়াতে উত্তর কোরিয়া গেলেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করতে দুই দিনের এক রাষ্ট্রীয় সফরে পিয়ংইয়ং পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গত প্রায় সাত বছরের মধ্যে উত্তর কোরিয়ায় এটিই তাঁর প্রথম সফর। সম্প্রতি রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা বৃদ্ধির কারণে বেইজিংয়ের সাথে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্কে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, তা ঘোচাতেই শি জিনপিংয়ের এই সফর বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   পিয়ংইয়ংয়ের সুনান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিউয়ানকে লাল গালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। পরে পিয়ংইয়ংয়ের কেন্দ্রস্থলে কিম ইল-সুং স্কয়ারে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন ও তাঁর স্ত্রী রি সোল-জু। এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের পাশাপাশি ২১ বার তোপধ্বনি দিয়ে চীনা প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানানো হয়।   কুুমসুসান রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় দুই নেতার মধ্যে বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে শি জিনপিং এক বিবৃতিতে জানান, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি যেমনই হোক না কেন, উত্তর কোরিয়ার প্রতি চীনের সমর্থন সবসময় বজায় থাকবে। একই সাথে তিনি দুই দেশের সীমান্ত বন্দরগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে খুলে দেওয়া এবং বিমান ও আন্তর্জাতিক ট্রেন যোগাযোগ পুনরায় চালু করে বাণিজ্য ও পর্যটন বাড়ানোর ওপর জোর দেন।   সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়াকে সেনা ও অস্ত্র দিয়ে সহায়তা করা এবং মস্কোর সাথে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করার মাধ্যমে পুতিনের বেশ কাছাকাছি চলে গেছে উত্তর কোরিয়া। বেইজিং মনে করে, রাশিয়ার সাথে উত্তর কোরিয়ার এই মাত্রাতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা এ অঞ্চলে চীনের নিজস্ব প্রভাবকে কিছুটা ম্লান করতে পারে। তাই ঐতিহাসিক সম্পর্কের দোহাই দিয়ে উত্তর কোরিয়াকে নিজেদের বলয়ে ধরে রাখাই এখন শি জিনপিংয়ের মূল লক্ষ্য।

ছবি: সংগৃহীত
রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়ে ইউরোপের দিকে ঝুঁকছে আর্মেনিয়া

আর্মেনিয়ার সংসদীয় নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন ইউরোপপন্থী দল। এর মাধ্যমে ঐতিহ্যগত মিত্র রাশিয়ার বলয় থেকে বের হয়ে ইউরোপের দিকে দেশটির চূড়ান্তভাবে ঝুঁকে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলো। বুথফেরত ও চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের 'সিভিল কন্ট্রাক্ট' পার্টি অল্প ব্যবধানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, রুশ-আর্মেনীয় বিলিয়নেয়ার সামভেল কারাপেতিয়ানের নেতৃত্বাধীন 'স্ট্রং আর্মেনিয়া' জোট ২৫ শতাংশ আসন পেয়েছে।   এই বিজয়ের ফলে প্রধানমন্ত্রী পাশিনিয়ান এখন আরও শক্তিশালী অবস্থানে থেকে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবেন। এর মধ্যে রয়েছে আজারবাইজানের সাথে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং তুরস্কের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা। ২০১৮ সালের 'ভেলভেট রেভল্যুশন'-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সাবেক সাংবাদিক পাশিনিয়ান দাবি করেন, প্রতিবেশীদের সাথে শত্রুতার অবসান ঘটলে আর্মেনিয়ার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে এবং রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমবে।   পাশিনিয়ানের এই জয়কে ব্রাসেলস স্বাগত জানালেও মস্কো বেশ অসন্তোষের সাথে দেখছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেইন এই বিজয়কে অভিনন্দন জানিয়ে একে 'গণতান্ত্রিক আর্মেনিয়ার' প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাশিনিয়ানকে সমর্থন জানিয়ে তাঁকে একজন 'মহান বন্ধু ও নেতা' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তবে ২০২৩ সালে আজারবাইজানের কাছে নাগর্নো-কারাবাখ হারানোর পর এটিই ছিল দেশটিতে প্রথম জাতীয় নির্বাচন, যা নিয়ে বিরোধী দলগুলো পাশিনিয়ানকে তুলোধুনো করার চেষ্টা করেছিল।   এই নির্বাচনের আগে থেকেই রাশিয়ার সাথে আর্মেনিয়ার সম্পর্কের ব্যাপক টানাপোড়েন তৈরি হয়। নাগর্নো-কারাবাখ সংকটে রুশ শান্তিরক্ষীরা এগিয়ে না আসায় আর্মেনিয়ার জনগণ রাশিয়ার প্রতি ক্ষুব্ধ হয়। এর জবাবে পাশিনিয়ান রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সিএসটিও থেকে আর্মেনিয়ার সদস্যপদ স্থগিত করেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও সতর্ক করেছিলেন যে আর্মেনিয়া ইউক্রেনের পথেই হাঁটছে। নির্বাচনের আগে রাশিয়া আর্মেনিয়ার ওপর বেশ কিছু বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছিল।   তবে নির্বাচনে কারচুপির চেষ্টা ও বিরোধী দলীয় নেতাদের গ্রেপ্তারের অভিযোগ এনে পাশিনিয়ানের বিরুদ্ধে কিছুটা স্বৈরাচারী আচরণেরও সমালোচনা রয়েছে। যদিও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশটির সাধারণ ভোটাররা রাশিয়ারপন্থী দলগুলোর চেয়ে পাশিনিয়ানকেই কম ক্ষতিকর বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন রাশিয়ার অর্থনৈতিক চাপ সামলাতে ইতিমধ্যে আর্মেনিয়াকে ৫০ মিলিয়ন ইউরোর একটি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীবিরোধী তুমুল ক্ষোভ, আতঙ্কে দিন কাটছে প্রবাসীদের

দক্ষিণ আফ্রিকায় অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়ার আলটিমেটাম এবং একের পর এক আন্দোলনের জেরে তীব্র আতঙ্ক ও বর্ণবাদী সহিংসতার শিকার হচ্ছেন সেখানে বসবাসরত বিদেশি নাগরিকরা। 'মার্চ অ্যান্ড মার্চ' নামের একটি স্থানীয় আন্দোলনকারী সংগঠন অবৈধ অভিবাসীদের আগামী ৩০ জুনের মধ্যে দেশ ছাড়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই আন্দোলনের জেরে সৃষ্ট সহিংসতায় ইতিমধ্যে মে মাসের শেষের দিকে অন্তত ৫ জন মোজাম্বিকান নাগরিক নিহত হয়েছেন।   সহিংসতার মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন শহর থেকে মলাউই ও মোজাম্বিকের অসংখ্য নাগরিক সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন এবং অনেকে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানাচ্ছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় ঘানা সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ ফ্লাইটে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে। বছরের পর বছর ধরে বৈধভাবে বসবাস করা অভিবাসীরাও বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের চরম অনিরাপদ মনে করছেন, কারণ বৈধ কাগজপত্রও এই সহিংসতা থেকে রক্ষা করতে পারছে না।   দক্ষিণ আফ্রিকায় দীর্ঘদিন ধরেই খনিসহ বিভিন্ন খাতে প্রতিবেশী দেশের অভিবাসী শ্রমিকরা কাজ করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বেকারত্বের হার ৪৩.১ শতাংশে পৌঁছানো এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে স্থানীয়রা এখন সব সমস্যার জন্য বিদেশি অভিবাসীদের দায়ী করছেন। বর্তমানে দেশটির প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার মধ্যে মাত্র ৩.৯ শতাংশ বা ২৪ লাখ মানুষ বিদেশি নাগরিক হলেও, স্থানীয় আন্দোলনকারীরা দাবি করছেন এই সংখ্যা ১৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন।   চলতি বছর হতে যাওয়া স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বেশ কিছু ছোট রাজনৈতিক দল অভিবাসীবিরোধী এই সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা এক টেলিভিশন ভাষণে বিষয়টিকে স্পর্শকাতর উল্লেখ করে বলেন, অবৈধ অভিবাসন নিয়ে নাগরিকদের উদ্বেগ যৌক্তিক এবং সরকার সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর হচ্ছে। তবে কোনো গোষ্ঠী যেন এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে দেশে আইনহীনতা ও সহিংসতা ছড়াতে না পারে, সে বিষয়ে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
সাংবাদিকের প্রশ্নের মুখে রেগে ইন্টারভিউ ছেড়ে চলে গেলেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন কারচুপির ভুয়া দাবি এবং ক্যাপিটল হিল দাঙ্গাকারীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের মুখে ক্ষুব্ধ হয়ে এনবিসি নিউজের 'মিট দ্য প্রেস' অনুষ্ঠানের একটি সাক্ষাৎকার মাঝপথে বর্জন করেছেন। গত শুক্রবার উইসকনসিনে ধারণ করা এই সাক্ষাৎকারটি গত রবিবার সম্প্রচারিত হয়। অনুষ্ঠানটির উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাথে তীব্র বাদানুবাদের একপর্যায়ে ট্রাম্প আকস্মিকভাবে সেখান থেকে চলে যান।   সাক্ষাৎকার চলাকালীন ট্রাম্প ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর নির্বাচন নিয়েও ভোট জালিয়াতির ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলেন। উপস্থাপিকা ওয়েলকার ক্যালিফোর্নিয়ার সাধারণ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিয়ম ব্যাখ্যা করে ট্রাম্পের দাবির সপক্ষে প্রমাণ চাইলে ট্রাম্প ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং প্রবীণ এই নারী সাংবাদিককে 'দুর্নীতিবাজ' বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প বলেন, "তারা দুর্নীতিবাজ, ঠিক যেমন আপনি এবং আপনার সংবাদমাধ্যম দুর্নীতিবাজ।"   উপস্থাপিকা নিজেকে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করলে ট্রাম্প আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, "আপনি হয় দুর্নীতিবাজ, না হয় বোকা।" একপর্যায়ে তিনি 'আমি অনেক সহ্য করেছি' বলে নিজের গায়ের মাইক্রোফোন খুলে ফেলেন এবং সাক্ষাৎকার সমাপ্ত ঘোষণা করে চলে যান। অথচ এই সাক্ষাৎকারের জন্য সাংবাদিক ওয়েলকারকে বিশেষ সফরে উইসকনসিনে যেতে হয়েছিল।   এর আগে সাক্ষাৎকারের শুরুর দিকে ট্রাম্প ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ক্যাপিটল হিল দাঙ্গায় পুলিশ-কে আক্রমণের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন যে, দাঙ্গাকারীদের মূলত এফবিআই এজেন্টরাই ক্যাপিটল ভবনে ডেকে নিয়েছিল। তারা দীর্ঘ মেয়াদে জেলে যাওয়ার ভয়েই আদালতে নিজেদের অপরাধ স্বীকার করেছে।

ছবি: সংগৃহীত
শহরে নজিরবিহীন ভাল্লুক আতঙ্ক, জাপানে প্রায় ১০০ স্কুল বন্ধ ঘোষণা

জাপানের একটি জনবহুল শহরে প্রথমবারের মতো বন্য ভাল্লুকের দেখা মেলায় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই এলাকার সব প্রাথমিক ও মাধ্যমিক মিলিয়ে মোট ৯৪টি স্কুল বন্ধ ঘোষণা করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। রাজধানী টোকিও থেকে মাত্র ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত প্রায় ৫ লাখ বাসিন্দার শহর উৎসুনোমিয়াতে এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটেছে। গত শনিবার শহরের একটি পার্কের কাছে প্রথম মাঝারি আকারের একটি এশিয়ান কালো ভাল্লুক দেখা যায়।   পরদিন রবিবার ভোরে শহরের কেন্দ্রস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরায় দুই যুবকের সামনে দিয়ে ভাল্লুকটিকে দৌড়ে যেতে দেখা যায়। এরপর সোমবার ভোরেও শহরটির একটি শিল্প এলাকায় ভাল্লুকটির উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখার এবং ভাল্লুক দেখলে কোনোভাবেই কাছে না গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। শহরজুড়ে মাইকিং করার পাশাপাশি পুলিশ ও স্থানীয় শিকারি দল ভাল্লুকটি খুঁজে বের করতে তল্লাশি শুরু করেছে।   জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে লোকালয়ে বন্য ভাল্লুকের আগমন এবং মানুষের ওপর হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। চলতি বছর দেশটিতে রেকর্ড ৫০ হাজার ভাল্লুক দেখার ঘটনা রিপোর্ট করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে। তবে রাজধানীর এত কাছাকাছি এলাকায় সাধারণত এদের দেখা যায় না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও বনাঞ্চলে ভাল্লুকের প্রধান খাবার ওক ফলের সংকট দেখা দেওয়ায় তারা খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসছে।   তাছাড়া জাপানের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে তরুণ জনসংখ্যা কমে যাওয়ায় লোকালয়গুলো এখন অনেক বেশি নিঝুম থাকে, যা বন্য প্রাণীদের শহরে ঢোকার ক্ষেত্রে আরও সাহস জোগাচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকারগুলো এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সিসিটিভি ক্যামেরা ব্যবহার করে ভাল্লুকের গতিবিধি ট্র্যাক করার চেষ্টা করছে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গে ‘অবৈধ অভিবাসী’ ফেরত পাঠানোর দাবি, প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ২০:২০

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলাগুলো থেকে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ জন কথিত অবৈধ অভিবাসীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রোববার (৭ জুন) এক অনুষ্ঠানে তিনি এ তথ্য জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমানে আরও ৮৩৬ জন প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় রয়েছেন।   তবে কখন, কোন সীমান্ত দিয়ে এবং কীভাবে এই ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানো হয়েছে—সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি। এমনকি তাদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কেও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।   বিজেপির একটি বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো এবং ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা তার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তিনি জানান, সীমান্তের ৫৫৬ কিলোমিটার এলাকায় এখনো বেড়া নির্মাণ বাকি রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার জমি ইতোমধ্যে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেনস নেক’ করিডরকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।   তিনি আরও বলেন, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-এর আওতায় না পড়া ব্যক্তিদের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরাসরি বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল কংগ্রেস সরকার এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি, ফলে বহু অবৈধ অভিবাসী দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছেন।   এদিকে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সোমবার রাতে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ১০ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে জানা গেছে। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানের কারণে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নেয়।   স্থানীয় সূত্র জানায়, বিজিবির সঙ্গে যোগাযোগের পর ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়া হয়। এ সময় সীমান্ত এলাকার ফ্লাডলাইট কিছুক্ষণের জন্য বন্ধ রাখা হয়েছিল বলেও অভিযোগ উঠেছে।   সীমান্তে এমন ঘটনাগুলো নতুন নয়। অতীতেও ‘পুশইন’ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নানা সময়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে উভয় দেশের মধ্যে সমন্বয় ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা জরুরি।   সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

ছবিঃ সুপ্রিম কোর্ট, ভারত
বিয়ের আগে সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে চরিত্রের দোষ হিসেবে দেখা যাবে না: ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৯:৪৪

বিয়ের আগে দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত মানুষের সম্মতিপূর্ণ শারীরিক সম্পর্ককে কোনো ব্যক্তির চরিত্রগত ত্রুটি বা নৈতিক অযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাবে না বলে গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে আদালত মন্তব্য করেছে, সব সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে নয়। তাই কোনো সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি বলেই কাউকে প্রতারক বা সরকারি চাকরির জন্য অনুপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   তেলেঙ্গানার এক পুলিশ কনস্টেবল প্রার্থীর নিয়োগ বাতিলের ঘটনায় করা মামলার রায়ে এ মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মনমোহন ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন স্টাইপেন্ডিয়ারি ক্যাডেট ট্রেইনি পুলিশ কনস্টেবল পদে নির্বাচিত এক প্রার্থী। নিয়োগের প্রাথমিক ধাপ পেরোলেও তার বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের হওয়া একটি মামলার কারণে তেলেঙ্গানা স্টেট লেভেল পুলিশ রিক্রুটমেন্ট বোর্ড তার নিয়োগ বাতিল করে।   কী ছিল মামলার পটভূমি? আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালে ওই প্রার্থীর বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি এক নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন। পরে ২০১৫ সালে লোক আদালতের মাধ্যমে উভয় পক্ষের সমঝোতায় মামলাটির নিষ্পত্তি হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, পুলিশে চাকরির আবেদন করার সময় প্রার্থী নিজেই ওই মামলার তথ্য নিয়োগ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন। তবুও নিয়োগ বোর্ড তার নৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুলে চাকরির সুযোগ বাতিল করে।   পরে বিষয়টি আদালতে গেলে প্রথমে তেলেঙ্গানা হাইকোর্টের একক বেঞ্চ নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার নির্দেশ দেয়। কিন্তু পুনর্বিবেচনার পরও বোর্ড একই সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। এরপর আবারও আদালতের নির্দেশে তাকে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলা হলেও হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আদেশ বাতিল করে। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টে গড়ায়।   ‘সব সম্পর্ক বিয়েতে পৌঁছায় না’ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট ভাষায় বলেছে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত মানুষের মধ্যে সম্মতির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা সম্পর্ককে চরিত্রহীনতা বা নৈতিক দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না।   আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করে, আইন কোথাও এমন নিষেধাজ্ঞা দেয়নি যে দুই প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত ব্যক্তি নিজেদের ইচ্ছায় সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন না।   বেঞ্চ আরও বলে, “সব সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে হয় না। তাই কোনো সম্পর্ক বিয়েতে রূপ নেয়নি বলেই ধরে নেওয়া যাবে না যে একজন অন্যজনকে প্রতারণা করেছেন।”   আদালতের মতে, একটি সম্পর্কের শেষ পরিণতি বিয়ে না হওয়া মানেই প্রতারণা হয়েছে, এমন ধারণা বাস্তবতা ও আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।   সমঝোতা মানেই দোষ স্বীকার নয় রায়ে আরও বলা হয়, বিয়ের প্রতিশ্রুতি সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের হওয়া কোনো মামলা যদি সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়, তাহলে সেটিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির দোষ স্বীকার হিসেবে গণ্য করা যাবে না।   সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে, কোনো ফৌজদারি মামলা সমঝোতার মাধ্যমে শেষ হয়েছে বলেই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ প্রার্থীর বিরুদ্ধে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করতে পারে না।   তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করেছে, যদি প্রমাণ পাওয়া যায় যে অভিযোগকারীকে জোরপূর্বক বা চাপের মুখে সমঝোতায় বাধ্য করা হয়েছে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।   বদলে যাওয়া সামাজিক বাস্তবতার উল্লেখ রায়ে বর্তমান সমাজে সম্পর্কের পরিবর্তিত বাস্তবতার কথাও তুলে ধরেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছে, বিয়ের আগে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সম্পর্ক এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যায় এবং দীর্ঘদিনের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বৈধ সম্মতির ধারণা গুরুত্বপূর্ণ।   মামলার নথি পর্যালোচনা করে আদালত দেখতে পায়, অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত ছিলেন প্রতিবেশী এবং তারা দীর্ঘ সময় ধরে একে অপরকে চিনতেন। সমঝোতার ক্ষেত্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা জবরদস্তির কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।   ‘প্রতারণা হয়েছে কি না, তা অভিযোগকারীই বলতে পারেন’ সুপ্রিম কোর্ট আরও মন্তব্য করেছে, এই ধরনের মামলায় প্রতারণার প্রশ্নটি অত্যন্ত ব্যক্তিনির্ভর।   রায়ে বলা হয়, অভিযোগকারী নিজেকে প্রতারিত মনে করেছেন কি না, তা মূলত তিনিই বলতে পারেন। অন্য কেউ তার হয়ে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না।   আদালত উল্লেখ করে, যেহেতু অভিযোগকারী পরবর্তীতে মামলাটি এগিয়ে নিতে চাননি এবং স্বেচ্ছায় সমঝোতায় অংশ নিয়েছিলেন, তাই ওই প্রার্থীর চরিত্র নিয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো যথেষ্ট ভিত্তি নিয়োগ বোর্ডের কাছে ছিল না।   আইনি ও সামাজিক গুরুত্ব আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় শুধু একটি নিয়োগসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্মতি এবং সম্পর্কের বিষয়ে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও সম্মতির প্রশ্নে ভারতের বিভিন্ন আদালত যে অবস্থান নিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। একই সঙ্গে এটি সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ‘নৈতিক চরিত্র’ মূল্যায়নের সীমা ও মানদণ্ড নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে।   রায়ের মাধ্যমে আদালত স্পষ্ট করেছে যে ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি সম্পর্কের পরিণতি বিয়ে হতে হবে, এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে শুধুমাত্র একটি সম্পর্ক বিয়েতে গড়ায়নি বলেই কাউকে সামাজিক বা পেশাগতভাবে অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়।

ছবি: সংগৃহীত
ইসরাইলের বিরুদ্ধে 'অপারেশন নাসর' শুরু করল ইরান
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৯:২৩

ইসরাইলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ‘অপারেশন নাসর’ নামে নতুন একটি সামরিক অভিযান শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। সংস্থাটির দাবি, অভিযানের অংশ হিসেবে ইসরাইলের নেভাতিম ও তেল নফ বিমানঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।   সোমবার (৮ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহেরের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। পরে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তরও এক বিবৃতিতে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে।   আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বা অ্যারোস্পেস বাহিনীর ইউনিটগুলো ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থিত নেভাতিম বিমানঘাঁটি এবং মধ্যাঞ্চলের তেল নফ বিমানঘাঁটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এই দুই ঘাঁটিকে ইসরাইলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে ‘ইয়া হায়দার কারার’ সাংকেতিক নামে এই অভিযান শুরু করা হয়। আইআরজিসির দাবি, সাম্প্রতিক সংঘাতে নিহতদের স্মরণ এবং ইরানের বিভিন্ন রাডার ও প্রতিরক্ষা স্থাপনায় ইসরাইলি হামলার জবাব হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানের লক্ষ্য ছিল নির্দিষ্ট সামরিক স্থাপনা। তবে হামলার ফলে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ইসরাইলের পক্ষ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।   আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে তাদের বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রেখেছে এবং যেকোনো ধরনের হামলার জবাব দিতে সক্ষম।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান ও ইসরাইলের মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে সরাসরি ও পরোক্ষ হামলার অভিযোগ করে আসছে। এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের নিরাপত্তার ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোকে কেন্দ্র করে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পক্ষ সংঘাত কমিয়ে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে সর্বশেষ এই অভিযানের ঘোষণার পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছেন পর্যবেক্ষকরা।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। ছবি: সংগৃহীত
সাত বছর পর উত্তর কোরিয়ায় শি জিনপিং, কিম জং উনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আজ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৭, ২০২৬ ১৮:৩৪

দীর্ঘ সাত বছর পর বিরল রাষ্ট্রীয় সফরে উত্তর কোরিয়ায় পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সোমবার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে তাকে জাঁকজমকপূর্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক জোরদারের বিষয় নয়, বরং উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় চীনের কৌশলগত অবস্থান পুনর্নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিয়ুয়ানকে পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাগত জানান উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন ও তার স্ত্রী রি সল জু।   সফরের শুরুতেই ২১ বার তোপধ্বনি, সামরিক ব্যান্ডের পরিবেশনায় দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত এবং আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় অভ্যর্থনার আয়োজন করা হয়। পরে রাজধানীর প্রধান চত্বরে হাজারো মানুষ, শিশু-কিশোর ও সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা চীন ও উত্তর কোরিয়ার পতাকা, ফুল এবং বেলুন হাতে শি জিনপিংকে স্বাগত জানান। পিয়ংইয়ংয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভবনেও দুই দেশের জাতীয় পতাকা টানানো হয়।   দুই দিনের এই সফরে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে শি জিনপিংয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই নেতা সর্বশেষ গত বছর বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের ৮০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে সাক্ষাৎ করেছিলেন।   সফরের আগে উত্তর কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক নিবন্ধে শি জিনপিং বলেন, বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক এখন "নতুন ঐতিহাসিক সূচনাবিন্দুতে" দাঁড়িয়ে আছে এবং সামনে নতুন উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বজায় রাখা, সুসংহত করা এবং আরও বিকশিত করা চীনা কমিউনিস্ট পার্টির দীর্ঘদিনের অবিচল নীতি।   দীর্ঘদিন ধরে চীনকে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মিত্র হিসেবে দেখা হয়ে আসছে। বিভিন্ন গবেষণা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগই চীনের সঙ্গে সম্পন্ন হয়। ফলে দেশটির অর্থনীতিতে বেইজিংয়ের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই সম্পর্কের গতিপথে কিছু পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেখা গেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হতে থাকে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর কোরিয়া রাশিয়াকে সামরিক সরঞ্জাম, গোলাবারুদ এবং জনবল সরবরাহের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়েছে।   এই পরিস্থিতিতে চীন চাইছে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিজেদের প্রভাব ও কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বেইজিং উদ্বিগ্ন যে পিয়ংইয়ং যেন অতিরিক্তভাবে মস্কোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়ে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান কৌশলগত প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের নেতৃত্বের অবস্থানও তুলে ধরতে চায় চীন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সফরে উত্তর কোরিয়ার জন্য অর্থনৈতিক সহায়তা প্যাকেজ, চাল ও সার সরবরাহ, চীনা পর্যটকদের উত্তর কোরিয়া ভ্রমণ পুনরায় চালু করা এবং যৌথ অর্থনৈতিক প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এসব উদ্যোগ উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতিকে কিছুটা সহায়তা করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে এই সফরকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, কোরীয় উপদ্বীপ, তাইওয়ান প্রণালি, দক্ষিণ চীন সাগর এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক শক্তিগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।   সব মিলিয়ে, সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের এই রাষ্ট্রীয় সফর শুধু দুই দেশের ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বের প্রতীক নয়; বরং উত্তর-পূর্ব এশিয়ার ভবিষ্যৎ কৌশলগত ভারসাম্য এবং চীন-রাশিয়া-উত্তর কোরিয়া সম্পর্কের নতুন গতিপ্রকৃতি বোঝার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
452 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
396 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
481 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
338 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়