পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যোগ দিয়েছে। এতে মোট ২২টি দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। খবরটি জানিয়েছে ইউরঅ্যাক্টিভ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। প্রথমে বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান যৌথ বিবৃতি দেয়, যেখানে ইরানের হরমুজ প্রণালি ‘কার্যত বন্ধ’ করে দেওয়ার নিন্দা করা হয়। পরবর্তীতে কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এ বিবৃতিতে সমর্থন জানায়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে, ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে। তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগে অংশ নেবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সেনা পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়ে ‘ভীরুতা’ প্রদর্শন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোকেই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে-যুক্তরাষ্ট্র নয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিনে পৃথক দুই দফা সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ভলাকুট ইউনিয়ন এবং সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তিকে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে একই কৌশলে আরেকজনকে ডেকে এনে নির্যাতন করলে স্বজনরা উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। অপরদিকে, ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সকালেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের নামাজের পর দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি যুদ্ধবিমান বিমানবিধ্বংসী হামলার মুখোমুখি হলেও এটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করে নিরাপদে অভিযান শেষ করেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। এটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তৃতীয়বারের মতো। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের আকাশে ২০০টির বেশি আকাশযান ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি চলমান সংঘাতের তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশ-এ সংবেদনশীল স্থাপনার খবর ও ছবি বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রদেশটির পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের বরাত অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য ও চিত্র অবৈধভাবে বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, এই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি যে, এই ঘটনায় কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না।
লেবানন থেকে ছোড়া রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ জানায়, সীমান্তবর্তী শহর মেতুলা লক্ষ্য করে প্রায় ১০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়। এর মধ্যে কয়েকটি রকেট আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হলেও বাকিগুলো খোলা জায়গায় পড়ে। হামলার সময় উত্তরাঞ্চলের গ্যালিলি এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়েদিয়ত আহরোনোত জানিয়েছে, রকেটের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে মেতুলার একটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া জরুরি সেবা সংস্থা মাগেন ডেভিড অ্যাডম নিশ্চিত করেছে, সাফেদ শহরের আরেকটি ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যোগ দিয়েছে। এতে মোট ২২টি দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। খবরটি জানিয়েছে ইউরঅ্যাক্টিভ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। প্রথমে বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান যৌথ বিবৃতি দেয়, যেখানে ইরানের হরমুজ প্রণালি ‘কার্যত বন্ধ’ করে দেওয়ার নিন্দা করা হয়। পরবর্তীতে কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এ বিবৃতিতে সমর্থন জানায়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে, ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে। তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগে অংশ নেবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সেনা পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়ে ‘ভীরুতা’ প্রদর্শন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোকেই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে-যুক্তরাষ্ট্র নয়।
ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশ-এ সংবেদনশীল স্থাপনার খবর ও ছবি বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রদেশটির পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের বরাত অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য ও চিত্র অবৈধভাবে বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, এই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি যে, এই ঘটনায় কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় ঈদের দিনে পৃথক দুই দফা সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ভলাকুট ইউনিয়ন এবং সন্ধ্যায় বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এসব ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, বুড়িশ্বর ইউনিয়নের শ্রীঘর গ্রামে পূর্বশত্রুতার জেরে সংঘর্ষের সূত্রপাত। অভিযোগ রয়েছে, এক ব্যক্তিকে দাওয়াতের কথা বলে ডেকে নিয়ে চোর সন্দেহে বেঁধে মারধর করা হয়। পরে একই কৌশলে আরেকজনকে ডেকে এনে নির্যাতন করলে স্বজনরা উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হন। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। অপরদিকে, ভলাকুট ইউনিয়নের বালিখোলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সকালেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের নামাজের পর দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুফায়ার সামরিক ঘাঁটি-তে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাইরেন বাজিয়ে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার ওপর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রভাব নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্বের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র সাউথ পার্স-এ হামলার পর সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইরানি গ্যাস সরবরাহ আবার ইরাকে চালু হয়েছে। ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে স্কাই নিউজ জানিয়েছে, হামলার কারণে গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলে। হামলাটি ইসরায়েল চালিয়েছে বলে ইরানি পক্ষ দাবি করেছে। এই ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন জ্বালানি স্থাপনায় পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে। ইরানের সামরিক বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের জ্বালানি স্থাপনাগুলো যদি পুনরায় লক্ষ্যবস্তু হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জ্বালানি অবকাঠামো “সম্পূর্ণ ধ্বংস” করার ক্ষমতা তাদের রয়েছে। ইরাকের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শনিবার থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ঘনমিটার হারে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়েছে। এতে ধীরে ধীরে ইরাকের বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে গঠিত জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন যোগ দিয়েছে। এতে মোট ২২টি দেশ এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে। খবরটি জানিয়েছে ইউরঅ্যাক্টিভ। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের প্রায় এক-চতুর্থাংশ তেল এবং সমুদ্রপথে পরিবাহিত গ্যাসের এক-পঞ্চমাংশ এই সংকীর্ণ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। তিন সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান প্রণালিটি কার্যত বন্ধ করে দিলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়। প্রথমে বৃহস্পতিবার ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান যৌথ বিবৃতি দেয়, যেখানে ইরানের হরমুজ প্রণালি ‘কার্যত বন্ধ’ করে দেওয়ার নিন্দা করা হয়। পরবর্তীতে কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়া, নিউজিল্যান্ড, ডেনমার্ক, লাটভিয়া, স্লোভেনিয়া, এস্তোনিয়া, নরওয়ে, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, চেক প্রজাতন্ত্র, রোমানিয়া, লিথুয়ানিয়া ও অস্ট্রেলিয়া এ বিবৃতিতে সমর্থন জানায়। যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উপসাগরে নিরস্ত্র বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। দেশগুলো মনে করিয়ে দিয়েছে, ইরানের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি এবং এর প্রভাব বিশ্বজুড়ে পড়বে। তারা নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে যথাযথ উদ্যোগে অংশ নেবে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। সব পক্ষকে আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলার আহ্বানও জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করে বলেন, তারা সেনা পাঠাতে অনাগ্রহ দেখিয়ে ‘ভীরুতা’ প্রদর্শন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের লক্ষ্য অর্জনের খুব কাছাকাছি এবং সামরিক অভিযান ধীরে ধীরে গুটিয়ে নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী অন্যান্য দেশগুলোকেই এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে-যুক্তরাষ্ট্র নয়।
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের আকাশসীমায় একটি ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানে আঘাত হানা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই তথ্য প্রকাশ করেছে। ইসরায়েল এই দাবিটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানের আকাশসীমায় একটি যুদ্ধবিমান বিমানবিধ্বংসী হামলার মুখোমুখি হলেও এটি সফলভাবে হুমকি শনাক্ত করে নিরাপদে অভিযান শেষ করেছে এবং কোনো ক্ষতি হয়নি। এটি ঘটেছে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকে তৃতীয়বারের মতো। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তারা ইরানের আকাশে ২০০টির বেশি আকাশযান ধ্বংস করেছে। এর মধ্যে ড্রোন, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, জ্বালানি বহনকারী উড়োজাহাজ এবং যুদ্ধবিমান অন্তর্ভুক্ত। বিশ্লেষকরা বলছেন, উভয় পক্ষের পরস্পরবিরোধী দাবি চলমান সংঘাতের তথ্যযুদ্ধকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশ-এ সংবেদনশীল স্থাপনার খবর ও ছবি বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রদেশটির পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের বরাত অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য ও চিত্র অবৈধভাবে বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, এই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি যে, এই ঘটনায় কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না।
বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন জুফায়ার সামরিক ঘাঁটি-তে একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বীপরাষ্ট্রটির বিভিন্ন স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা টেলিগ্রামের মাধ্যমে নাগরিকদের নিকটস্থ নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি সাইরেন বাজিয়ে সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। চলমান আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তার ওপর উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। বাহরাইনের কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে, তবে বিস্ফোরণের কারণ ও প্রভাব নিয়ে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।