সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
ছবি: সংগৃহীত
ওসামা বিন লাদেনের ‘লেটার টু আমেরিকা’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পরও আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের ২০০২ সালে লেখা ‘লেটার টু আমেরিকা’ চিঠিটি ওই হামলার পেছনে সংগঠনটির তৎকালীন অবস্থান ও যুক্তি বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নথি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। চিঠিতে বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থন, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ইরাকের ওপর আরোপিত অবরোধসহ বিভিন্ন নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনি, আফগান ও অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বিন লাদেন ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা ও টিকিয়ে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি ছিল, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও এর মূল্য দিতে হবে। একইভাবে আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনে মুসলিমদের ওপর কথিত নিপীড়নের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিতে মার্কিন জনগণের করের অর্থ দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় এমন যুক্তি তুলে বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদেরও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায়ের অংশীদার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এই যুক্তির ভিত্তিতে তিনি মার্কিন বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ন্যায্য প্রমাণের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। সৌদি আরবের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান বিন লাদেন ১৯৮৮ সালে আল-কায়েদা প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে আল-কায়েদা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণঘাতী হামলা ও বোমা হামলা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে হামলাকারীরা নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে হামলা চালায়; আরেকটি বিমান পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে একটি কম্পাউন্ডে মার্কিন নেভি সিলের অভিযানে বিন লাদেন নিহত হন। ২০০২ সালের ‘লেটার টু আমেরিকা’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিন লাদেনের অবস্থান ব্যাখ্যা এবং ৯/১১ হামলাসহ আল-কায়েদার কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন তৈরির উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল। চিঠির বক্তব্যগুলো ছিল তাঁর ও আল-কায়েদার নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান, যা দিয়ে সংগঠনটির সহিংস কর্মকাণ্ডের পক্ষে জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

১ মিনিট Ago
৯/১১-এর ২৫ বছর পরও আমেরিকায় মুসলিমদের ঘিরে সন্দেহ ও ইসলামোফোবিয়ার অস্বস্তিকর ইতিহাস
‘কেউ যেন আমাদের ওপর নজর রাখছে’ - ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়ার অজানা ইতিহাস

ছোটবেলায় রোজিনা আলীর কাছে আমেরিকা ছিল স্বপ্নের মতো এক দেশ। ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট শহরে বেড়ে ওঠা রোজিনা ইতিহাসের বই পড়তেন, ‘বাফি দ্য ভ্যাম্পায়ার স্লেয়ার’-এর ডিভিডি দেখতেন। পাঁচ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা রোজিনা ধীরে ধীরে নিজেকে এই দেশেরই একজন হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, আমেরিকা ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের দেশ। তাই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর বাবা-মা যখন তাকে ও ভাইবোনদের সতর্ক করে বলেছিলেন, এই দেশে এখন মুসলিমদের সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখা হতে পারে, তখন কথাগুলো তার কাছে বিশ্বাসই হয়নি। রোজিনা পরে স্মরণ করে বলেন, তিনি বারবার বাবা-মাকে বলতেন, ‘এটা আমেরিকা। এটা পাকিস্তান নয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছি।’ কিন্তু বাবা-মায়ের আশঙ্কা ছিল অন্যরকম। তাদের মনে হয়েছিল, দেশ যুদ্ধের মধ্যে ঢুকে গেছে এবং হামলাকারীরা মুসলিম হওয়ায় আমেরিকার মুসলিম পরিবারগুলোকেও এখন সন্দেহের মুখে পড়তে হবে। বহু বছর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে রোজিনা বুঝতে পারেন, তার বাবা-মায়ের ভয় অমূলক ছিল না। বরং ৯/১১-এর পর মুসলিমদের জীবনে যে সন্দেহ, ভয় ও নজরদারি নেমে এসেছিল, তার শিকড় আরও অনেক গভীরে। এই দীর্ঘ ইতিহাসই তুলে ধরেছেন রোজিনা আলী তার নতুন বই ‘সিজনস অব ফিউরি’-তে। বইটিতে তিনি ৯/১১-এর আগের কয়েক দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং ধীরে ধীরে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, তা অনুসন্ধান করেছেন। রোজিনা সম্প্রতি গার্ডিয়ানের পডকাস্ট ‘স্টেটসাইড উইথ কাই অ্যান্ড কার্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ৯/১১-এর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল যে অনেকেরই মনে হতো, ‘দেয়ালেরও কান আছে।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, এফবিআই, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, ক্যাফে এমনকি মসজিদেও নজরদারি চালাতেন। কোথাও গোপন তথ্যদাতা ব্যবহার করা হতো, আবার কোথাও মুসলিমদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর জন্য প্ররোচিত করা হতো, যা পরে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। অর্থাৎ কেউ অপরাধী কি না, সেটাই সবসময় মূল বিষয় ছিল না। অনেকের ক্ষেত্রেই আগে থেকেই সন্দেহ তৈরি করা হয়েছিল। তবে রোজিনার অনুসন্ধান বলছে, মুসলিমদের ঘিরে এই সন্দেহের ইতিহাস ৯/১১ দিয়ে শুরু হয়নি। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা অনেক বেড়ে যায়। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়, শরণার্থীদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। আরব-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতাও বাড়তে থাকে। এরপর ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি অলিম্পিক অ্যাথলেটদের জিম্মি করে হত্যা করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরব জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি শুরু করে। প্রথমে নজরদারির লক্ষ্য ছিল আরব অভিবাসী ও ভিসাধারীরা। কিন্তু পরে এর আওতা বাড়তে থাকে এবং আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরাও এর মধ্যে চলে আসেন। তাদেরই একজন ছিলেন আরব-আমেরিকান আইনজীবী আবদিন জাবারা। রোজিনার বইয়ে তার গল্প গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। জাবারাকে শুধু কয়েক মাস নয়, বছরের পর বছর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির নজরদারির আওতায় থাকা প্রথম স্বীকৃত মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচিত হন। রোজিনার মতে, এই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আরব ও পরে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দেখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ধারণা শক্তিশালী হতে থাকে—ফিলিস্তিন, আরব পরিচয় ও মুসলিম পরিচয়কে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে এক করে দেখা। নব্বইয়ের দশকে সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদ ক্রমেই বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে সামনে আসে। ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মুসলিমদের একটি সরল যোগসূত্র তৈরি হতে থাকে। ১৯৯৫ সালের ওকলাহোমা সিটি বোমা হামলা এর একটি বড় উদাহরণ। হামলার পরপরই অনেকের সন্দেহ চলে যায় মুসলিমদের দিকে। এমনকি কিছু সংবাদমাধ্যমও শুরুতে এটিকে আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসীদের কাজ বলে ধারণা করেছিল। কিন্তু হামলাকারী ছিলেন টিমোথি ম্যাকভেই—একজন শ্বেতাঙ্গ সাবেক সেনাসদস্য। রোজিনার মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েই যুক্তরাষ্ট্রে একটি শক্তিশালী ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিল—দেশে সন্ত্রাসী হামলা হলে তার পেছনে মুসলিমদের থাকার সম্ভাবনাই আগে ভাবা হবে। এর পেছনে আরও কিছু পরিবর্তন কাজ করছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন বাড়ছিল, মুসলিমরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় আরও প্রকাশ্যে তুলে ধরছিলেন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও তাদের প্রভাব বাড়ছিল। একই সময়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সক্রিয়তাও অব্যাহত ছিল। রোজিনার মতে, এসব ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। ফিলিস্তিন প্রশ্ন, আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, মুসলিম পরিচয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা—সবকিছু ধীরে ধীরে একটি বড় রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ঢুকে যায়। আজকের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সেই ইতিহাস যেন নতুন করে সামনে এসেছে। রোজিনা বলেন, প্রায় এক দশক আগে যখন তিনি বইটির ভাবনা শুরু করেন, তখন তার ধারণা ছিল এটি হবে অতীতের একটি ইতিহাস। কিন্তু এখন তিনি এমন এক সময়ের মধ্যে বসবাস করছেন, যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ শুধু প্রকাশ্য নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা আরও আক্রমণাত্মক ও সহিংস হয়ে উঠেছে। তার মতে, ইসলামবিদ্বেষ এখন আর শুধু সমাজের প্রান্তিক কিছু মানুষের বক্তব্য নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে। মুসলিম রাজনীতিকদের ঘিরে সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যেও রোজিনা ৯/১১-পরবর্তী সময়ের পুরোনো সন্দেহের প্রতিধ্বনি দেখতে পান। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি কিংবা মিশিগানের রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত বা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশকে তিনি আগের দশকের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেন। রোজিনার ভাষায়, ‘ইসলামবিদ্বেষ আমেরিকান রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।’ তিনি মনে করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার মতে, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সরকারের দৃঢ় সমর্থনের বিপরীতে আমেরিকার সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মতামতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান এবং জনমতের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দূরত্ব। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনীতিকদের সংখ্যাও বাড়ছে। রোজিনার মতে, এই দুই প্রবণতা মিলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে রাজনৈতিক মতের সঙ্গে লড়াই করার বদলে মুসলিম পরিচয়কে আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ইসলামবিদ্বেষ এখন একটি ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠেছে। আর এখানেই রোজিনার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ৯/১১-এর পর মুসলিমদের লক্ষ্য করে যে নিরাপত্তা কাঠামো ও আইনগত ক্ষমতা তৈরি বা বিস্তৃত করা হয়েছিল, সেগুলো এখন অন্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে লাতিনো অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন অভিযান ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন। রোজিনার মতে, ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসবাদ’ কী—তার একটি পরিষ্কার ও সীমিত সংজ্ঞা তৈরি করতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে সরকারের হাতে এমন অনেক ক্ষমতা এসেছে, যা পরে ভিন্নমতাবলম্বী বা সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা সম্ভব। তার আশঙ্কা, যে ব্যবস্থা একসময় মুসলিমদের লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন আরও অনেক মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। রোজিনার কাছে তাই ৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাস নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়, সন্দেহ, নজরদারি, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গত ২৫ বছরের একটি দীর্ঘ গল্প। আর সেই গল্পের শুরু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকালেই নয়—তারও বহু আগে।

২০ মিনিট Ago
অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বা সিইও জন টার্নাস। ছবি: সংগৃহীত
প্রথম প্রেজেন্টেশনেই স্টিভ জবসের কৌশল অনুসরণ করলেন অ্যাপলের নতুন সিইও

অ্যাপলের নতুন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জন টার্নাস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় প্রেজেন্টেশনেই প্রতিষ্ঠানের কিংবদন্তি সাবেক সিইও স্টিভ জবসের উপস্থাপনার বেশ কিছু কৌশল অনুসরণ করেছেন। ৯ সেপ্টেম্বরের পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানে টার্নাস নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোনসহ একাধিক পণ্য উপস্থাপন করেন।   ফোর্বসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, টার্নাসের প্রথম বক্তব্যে জবসের উপস্থাপনার ধরন স্পষ্টভাবে দেখা যায়। বিশেষ করে পণ্য সম্পর্কে সরাসরি তথ্য দেওয়ার পরিবর্তে আগে বিদ্যমান প্রযুক্তির সমস্যাগুলো তুলে ধরে পরে সমাধান হিসেবে নতুন পণ্য উপস্থাপন করেন তিনি। এই কৌশলটি জবস ২০০৭ সালে প্রথম আইফোন উন্মোচনের সময়ও ব্যবহার করেছিলেন।   নতুন ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও উপস্থাপনের সময় টার্নাস বলেন, বর্তমান ভাঁজযোগ্য ফোনগুলো অনেকটা এমন মনে হয় যেন দুটি ফোনকে অস্বস্তিকরভাবে একসঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি আইফোন ডুওর এমন একটি নকশা তুলে ধরেন, যেখানে দুই পর্দার মাঝের ভাঁজ প্রায় অদৃশ্য।   জবসের আরেকটি পরিচিত কৌশলও টার্নাসের উপস্থাপনায় দেখা যায়। জবস প্রায়ই এমন প্রশ্ন করতেন, যার উত্তর দর্শকদের মনে স্বাভাবিকভাবেই আসতে পারে। এরপর সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই দিয়ে পণ্যের সমাধান তুলে ধরতেন। টার্নাসও নতুন আইফোনকে একটি ‘বুদ্ধিমান ব্যক্তিগত কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাখ্যা করতে একই ধরনের প্রশ্নভিত্তিক উপস্থাপনা ব্যবহার করেন।   এ ছাড়া অনুষ্ঠানের শেষদিকে টার্নাস জবসের সবচেয়ে পরিচিত উপস্থাপনা-ধারার একটি বাক্যও ব্যবহার করেন। আইফোন ১৮, এয়ারপডস ও অ্যাপল ওয়াচের নতুন সংস্করণগুলোর পরিচয় দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘কিন্তু আসলে আরও একটি বিষয় আছে।’ জবসের সময়ের বিখ্যাত ‘ওয়ান মোর থিং’ মুহূর্তের সঙ্গে এই উপস্থাপনা কৌশলের সরাসরি মিল রয়েছে।   এই অনুষ্ঠানে টার্নাসের সামনে শুধু নতুন পণ্য উপস্থাপনের দায়িত্বই ছিল না। টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে অ্যাপলের নেতৃত্বে নিজের প্রথম বড় প্রকাশ্য উপস্থিতিও ছিল এটি। টার্নাস ১ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ সেপ্টেম্বরের অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো বড় পণ্য উন্মোচনের নেতৃত্ব দেন।   অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ ছিল অ্যাপলের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন ডুও। ফোনটি খোলা অবস্থায় ৭ দশমিক ৬ ইঞ্চি ভেতরের পর্দা এবং বন্ধ অবস্থায় ৫ দশমিক ৪ ইঞ্চি বাইরের পর্দা নিয়ে এসেছে। এতে নতুন এ২০ প্রো চিপ, উন্নত তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং দুই পর্দায় একসঙ্গে কাজ করার সুবিধা রয়েছে।   আইফোন ডুও ছাড়াও অনুষ্ঠানে আইফোন ১৮ প্রো ও প্রো ম্যাক্স, অ্যাপল ওয়াচ সিরিজ ১২, অ্যাপল ওয়াচ আল্ট্রা ৪ এবং নতুন এয়ারপডসসহ একাধিক পণ্য উন্মোচন করা হয়। অ্যাপল জানিয়েছে, ডুওর প্রি-অর্ডার শুরু হবে ১৬ অক্টোবর এবং বিক্রি শুরু হবে ২৩ অক্টোবর।   ফোর্বসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্টিভ জবস ও টিম কুকের উত্তরাধিকার বহন করে অ্যাপলের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব দেওয়া টার্নাসের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সেই প্রেক্ষাপটে জবসের পরিচিত উপস্থাপনা-কৌশল, বাক্য এবং গল্প বলার ধরন ব্যবহার করে টার্নাস নিজের নেতৃত্বের প্রথম বড় বার্তাটি দিয়েছেন।   সূত্র: ফোর্বস

২৩ মিনিট Ago
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়াল

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। জ্বালানির দাম পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির ডিজেলের গড় দাম ৬ ডলারের ওপরে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং রাশিয়ার পরিশোধনাগারে হামলার কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকুচিত হওয়ায় এই রেকর্ড দাম তৈরি হয়েছে।   ডিজেলের এই মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থায়। ট্রাক, মালবাহী ট্রেন, জাহাজ ও ভারী যন্ত্রপাতিতে ডিজেলের ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। ফলে জ্বালানির দাম বাড়লে পণ্য পরিবহনের খরচও বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ ভোক্তাদের কেনাকাটার ব্যয় বাড়িয়ে দিতে পারে। গ্যাসবাডির বিশ্লেষক প্যাট্রিক ডি হানও সতর্ক করেছেন, রেকর্ড ডিজেলের দাম সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়াতে পারে।   ডিজেলের দাম চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি তেল পরিশোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ডিজেলের বৈশ্বিক সরবরাহেও চাপ তৈরি হয়েছে।   রাশিয়া ডিজেলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকারী হলেও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় দেশটি ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। চীনও নিজস্ব বাজারে ঘাটতি এড়াতে জ্বালানি রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ফলে বিশ্ববাজারে ডিজেলের সরবরাহ আরও সংকুচিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেল মজুতও পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় ১৩ শতাংশ কম রয়েছে বলে দেশটির এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্য জানিয়েছে।   বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও ডিজেলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে স্থির হয়। চলমান সংঘাতের কারণে তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ায় জ্বালানি বাজারে দামের ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত রয়েছে।   ডিজেলের বাড়তি দাম বিশেষ করে পরিবহন ও কৃষি খাতে বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। ট্রাকিং কোম্পানি, কৃষক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানির জন্য বেশি অর্থ ব্যয় করতে বাধ্য হচ্ছে। পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে সেই বাড়তি ব্যয় পণ্য উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন ধাপে যুক্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে খাদ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।   কৃষি খাতেও এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর গোলার্ধে ফসল কাটার মৌসুম শুরু হওয়ায় কৃষি যন্ত্রপাতিতে ডিজেলের চাহিদা বাড়ছে। একই সময়ে শীত মৌসুম সামনে থাকায় ডিজেলের সঙ্গে সম্পর্কিত হিটিং অয়েলের চাহিদাও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সরবরাহ সংকটের মধ্যে জ্বালানির বাজারে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চ ডিজেলের দাম মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে এবং আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত জ্বালানি বাজার অস্থির থাকার আশঙ্কা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পরিশোধনাগারগুলো উচ্চ সক্ষমতায় কাজ করলেও আগামী কয়েক মাসে রক্ষণাবেক্ষণের কারণে ডিজেলের মজুত পুনর্গঠন কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।   এদিকে শুক্রবারও যুক্তরাষ্ট্রের ডিজেলের রেকর্ড দামের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে থাকায় এবং মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়ার সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় ডিজেলের দাম আরও বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। এর ফলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে সাধারণ ভোক্তাদের পণ্য কেনার খরচেও বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে।   সূত্র: রয়টার্স, সিএনএন

৩৭ মিনিট Ago
আমেরিকা
‘কেউ যেন আমাদের ওপর নজর রাখছে’ - ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামোফোবিয়ার অজানা ইতিহাস

ছোটবেলায় রোজিনা আলীর কাছে আমেরিকা ছিল স্বপ্নের মতো এক দেশ। ক্যালিফোর্নিয়ার ছোট শহরে বেড়ে ওঠা রোজিনা ইতিহাসের বই পড়তেন, ‘বাফি দ্য ভ্যাম্পায়ার স্লেয়ার’-এর ডিভিডি দেখতেন। পাঁচ বছর বয়সে পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে আসা রোজিনা ধীরে ধীরে নিজেকে এই দেশেরই একজন হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, আমেরিকা ধর্মীয় স্বাধীনতা, সহনশীলতা ও বহুত্ববাদের দেশ। তাই ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর বাবা-মা যখন তাকে ও ভাইবোনদের সতর্ক করে বলেছিলেন, এই দেশে এখন মুসলিমদের সবাইকে সন্দেহের চোখে দেখা হতে পারে, তখন কথাগুলো তার কাছে বিশ্বাসই হয়নি। রোজিনা পরে স্মরণ করে বলেন, তিনি বারবার বাবা-মাকে বলতেন, ‘এটা আমেরিকা। এটা পাকিস্তান নয়। আমরা যুক্তরাষ্ট্রে বাস করছি।’ কিন্তু বাবা-মায়ের আশঙ্কা ছিল অন্যরকম। তাদের মনে হয়েছিল, দেশ যুদ্ধের মধ্যে ঢুকে গেছে এবং হামলাকারীরা মুসলিম হওয়ায় আমেরিকার মুসলিম পরিবারগুলোকেও এখন সন্দেহের মুখে পড়তে হবে। বহু বছর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর ‘সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের’ প্রভাব নিয়ে সাংবাদিকতা করতে গিয়ে রোজিনা বুঝতে পারেন, তার বাবা-মায়ের ভয় অমূলক ছিল না। বরং ৯/১১-এর পর মুসলিমদের জীবনে যে সন্দেহ, ভয় ও নজরদারি নেমে এসেছিল, তার শিকড় আরও অনেক গভীরে। এই দীর্ঘ ইতিহাসই তুলে ধরেছেন রোজিনা আলী তার নতুন বই ‘সিজনস অব ফিউরি’-তে। বইটিতে তিনি ৯/১১-এর আগের কয়েক দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামবিদ্বেষ কীভাবে তৈরি হয়েছে এবং ধীরে ধীরে রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে, তা অনুসন্ধান করেছেন। রোজিনা সম্প্রতি গার্ডিয়ানের পডকাস্ট ‘স্টেটসাইড উইথ কাই অ্যান্ড কার্টার’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ৯/১১-এর পর মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল যে অনেকেরই মনে হতো, ‘দেয়ালেরও কান আছে।’ তার ভাষ্য অনুযায়ী, এফবিআই, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সদস্যরা মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা, ক্যাফে এমনকি মসজিদেও নজরদারি চালাতেন। কোথাও গোপন তথ্যদাতা ব্যবহার করা হতো, আবার কোথাও মুসলিমদের এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়ানোর জন্য প্ররোচিত করা হতো, যা পরে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব। অর্থাৎ কেউ অপরাধী কি না, সেটাই সবসময় মূল বিষয় ছিল না। অনেকের ক্ষেত্রেই আগে থেকেই সন্দেহ তৈরি করা হয়েছিল। তবে রোজিনার অনুসন্ধান বলছে, মুসলিমদের ঘিরে এই সন্দেহের ইতিহাস ৯/১১ দিয়ে শুরু হয়নি। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা অনেক বেড়ে যায়। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ হয়, শরণার্থীদের সহায়তায় অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়। আরব-আমেরিকানদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতাও বাড়তে থাকে। এরপর ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিক হামলার ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন ব্ল্যাক সেপ্টেম্বর ইসরায়েলি অলিম্পিক অ্যাথলেটদের জিম্মি করে হত্যা করার পর তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা আরব জনগোষ্ঠীর ওপর নজরদারি শুরু করে। প্রথমে নজরদারির লক্ষ্য ছিল আরব অভিবাসী ও ভিসাধারীরা। কিন্তু পরে এর আওতা বাড়তে থাকে এবং আরব বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরাও এর মধ্যে চলে আসেন। তাদেরই একজন ছিলেন আরব-আমেরিকান আইনজীবী আবদিন জাবারা। রোজিনার বইয়ে তার গল্প গুরুত্বপূর্ণ জায়গা পেয়েছে। জাবারাকে শুধু কয়েক মাস নয়, বছরের পর বছর নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছিল। পরে তিনি ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সির নজরদারির আওতায় থাকা প্রথম স্বীকৃত মার্কিন নাগরিক হিসেবে পরিচিত হন। রোজিনার মতে, এই সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে আরব ও পরে মুসলিম জনগোষ্ঠীকে দেখার ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ধারণা শক্তিশালী হতে থাকে—ফিলিস্তিন, আরব পরিচয় ও মুসলিম পরিচয়কে জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নের সঙ্গে এক করে দেখা। নব্বইয়ের দশকে সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইসলামপন্থী সন্ত্রাসবাদ ক্রমেই বড় নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে সামনে আসে। ধীরে ধীরে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে মুসলিমদের একটি সরল যোগসূত্র তৈরি হতে থাকে। ১৯৯৫ সালের ওকলাহোমা সিটি বোমা হামলা এর একটি বড় উদাহরণ। হামলার পরপরই অনেকের সন্দেহ চলে যায় মুসলিমদের দিকে। এমনকি কিছু সংবাদমাধ্যমও শুরুতে এটিকে আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের সন্ত্রাসীদের কাজ বলে ধারণা করেছিল। কিন্তু হামলাকারী ছিলেন টিমোথি ম্যাকভেই—একজন শ্বেতাঙ্গ সাবেক সেনাসদস্য। রোজিনার মতে, এই ঘটনা দেখিয়ে দেয়, ৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়েই যুক্তরাষ্ট্রে একটি শক্তিশালী ধারণা তৈরি হয়ে গিয়েছিল—দেশে সন্ত্রাসী হামলা হলে তার পেছনে মুসলিমদের থাকার সম্ভাবনাই আগে ভাবা হবে। এর পেছনে আরও কিছু পরিবর্তন কাজ করছিল। যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসন বাড়ছিল, মুসলিমরা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয় আরও প্রকাশ্যে তুলে ধরছিলেন এবং রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও তাদের প্রভাব বাড়ছিল। একই সময়ে ফিলিস্তিন ইস্যুতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সক্রিয়তাও অব্যাহত ছিল। রোজিনার মতে, এসব ঘটনাকে আলাদা করে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যায় না। ফিলিস্তিন প্রশ্ন, আরব-আমেরিকানদের রাজনৈতিক সক্রিয়তা, মুসলিম পরিচয় এবং জাতীয় নিরাপত্তার ধারণা—সবকিছু ধীরে ধীরে একটি বড় রাজনৈতিক কাঠামোর মধ্যে ঢুকে যায়। আজকের যুক্তরাষ্ট্রে এসে সেই ইতিহাস যেন নতুন করে সামনে এসেছে। রোজিনা বলেন, প্রায় এক দশক আগে যখন তিনি বইটির ভাবনা শুরু করেন, তখন তার ধারণা ছিল এটি হবে অতীতের একটি ইতিহাস। কিন্তু এখন তিনি এমন এক সময়ের মধ্যে বসবাস করছেন, যখন মুসলিমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ শুধু প্রকাশ্য নয়, অনেক ক্ষেত্রেই তা আরও আক্রমণাত্মক ও সহিংস হয়ে উঠেছে। তার মতে, ইসলামবিদ্বেষ এখন আর শুধু সমাজের প্রান্তিক কিছু মানুষের বক্তব্য নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিরও একটি অংশ হয়ে উঠেছে। মুসলিম রাজনীতিকদের ঘিরে সাম্প্রতিক নানা বক্তব্যেও রোজিনা ৯/১১-পরবর্তী সময়ের পুরোনো সন্দেহের প্রতিধ্বনি দেখতে পান। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি কিংবা মিশিগানের রাজনীতিক আবদুল এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত বা তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশকে তিনি আগের দশকের ইসলামবিদ্বেষী প্রচারণার সঙ্গে তুলনা করেন। রোজিনার ভাষায়, ‘ইসলামবিদ্বেষ আমেরিকান রাজনীতির একটি বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।’ তিনি মনে করেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অবস্থানও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তার মতে, ইসরায়েলের প্রতি মার্কিন সরকারের দৃঢ় সমর্থনের বিপরীতে আমেরিকার সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশের মতামতে পরিবর্তন এসেছে। ফলে নীতিনির্ধারকদের অবস্থান এবং জনমতের মধ্যে তৈরি হয়েছে বড় ধরনের দূরত্ব। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম রাজনীতিকদের সংখ্যাও বাড়ছে। রোজিনার মতে, এই দুই প্রবণতা মিলে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যেখানে রাজনৈতিক মতের সঙ্গে লড়াই করার বদলে মুসলিম পরিচয়কে আক্রমণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তার ভাষায়, ইসলামবিদ্বেষ এখন একটি ‘অস্ত্র’ হয়ে উঠেছে। আর এখানেই রোজিনার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। ৯/১১-এর পর মুসলিমদের লক্ষ্য করে যে নিরাপত্তা কাঠামো ও আইনগত ক্ষমতা তৈরি বা বিস্তৃত করা হয়েছিল, সেগুলো এখন অন্য জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধেও ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশেষ করে লাতিনো অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিবাসন অভিযান ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে তিনি এর প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন। রোজিনার মতে, ৯/১১-এর পর যুক্তরাষ্ট্র ‘সন্ত্রাসবাদ’ কী—তার একটি পরিষ্কার ও সীমিত সংজ্ঞা তৈরি করতে পারেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা আরও বিস্তৃত হয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তার কথা বলে সরকারের হাতে এমন অনেক ক্ষমতা এসেছে, যা পরে ভিন্নমতাবলম্বী বা সরকারের সমালোচকদের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা সম্ভব। তার আশঙ্কা, যে ব্যবস্থা একসময় মুসলিমদের লক্ষ্য করে তৈরি হয়েছিল, সেটি এখন আরও অনেক মানুষের ওপর প্রয়োগ করা হচ্ছে। রোজিনার কাছে তাই ৯/১১ শুধু একটি সন্ত্রাসী হামলার ইতিহাস নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রে ভয়, সন্দেহ, নজরদারি, ধর্মীয় পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার গত ২৫ বছরের একটি দীর্ঘ গল্প। আর সেই গল্পের শুরু ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সকালেই নয়—তারও বহু আগে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬ ৫:১০
চাকরি হারালে ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিলের পথে ট্রাম্প প্রশাসন, ঝুঁকিতে ভারতীয় কর্মীরা

যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর পর নির্দিষ্ট শ্রেণির বিদেশি কর্মীদের যে সর্বোচ্চ ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড দেওয়া হয়, তা বাতিলের প্রস্তাব করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রস্তাবটি কার্যকর হলে এইচ-১বি-সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ওয়ার্ক ভিসার কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন চাকরি বা স্পনসর খোঁজার বর্তমান সুযোগ হারাতে পারেন। এতে ভারতীয় কর্মীদের ওপর প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি পড়তে পারে, কারণ ভারতীয় নাগরিকরা এইচ-১বি কর্মীদের বড় একটি অংশ।   যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ ও ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেসের প্রস্তাবটির নাম দেওয়া হয়েছে “৬০ দিনের বিবেচনামূলক গ্রেস পিরিয়ড বাতিল”। প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো বর্তমান অভিবাসন বিধির সেই অংশটি বাদ দেওয়া, যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট বিদেশি কর্মীরা চাকরি শেষ হওয়ার পর সর্বোচ্চ ৬০ দিন যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পান।   বর্তমান নিয়মে যোগ্য কর্মীর চাকরি নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হয়ে গেলে তিনি সর্বোচ্চ ৬০ দিন অথবা আই-৯৪-এ অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত, যেটি আগে আসে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারেন। এই সময়ে নতুন চাকরি খোঁজা, নতুন নিয়োগকর্তার মাধ্যমে স্পনসরশিপের ব্যবস্থা করা, স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করা কিংবা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়ার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব।   প্রস্তাবটি চূড়ান্ত হলে এই ৬০ দিনের সুরক্ষা আর থাকবে না। চাকরি বা সংশ্লিষ্ট যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মীর বর্তমান নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের ভিত্তি শেষ হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ ভিত্তি না থাকলে তাকে দেশ ছাড়তে হতে পারে। প্রস্তাবটি শুধু এইচ-১বি কর্মীদের জন্য নয়। এইচ-১বি১, এল-১, ও-১, টি-এন, ই-১, ই-২ এবং ই-৩ ভিসার কর্মীরাও এর আওতায় পড়তে পারেন। সংশ্লিষ্ট নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ওপরও পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে।   এইচ-১বি কর্মীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন শিল্পে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এইচ-১বি কর্মীদের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও চীন থেকে আসা কর্মীদের ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হতে পারে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি হলো, কর্মসংস্থানভিত্তিক নন-ইমিগ্র্যান্ট স্ট্যাটাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চাকরি বা যোগ্যতাভিত্তিক কার্যক্রমের সরাসরি সম্পর্ক থাকা উচিত। চাকরি শেষ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় একই স্ট্যাটাস বজায় রাখার সুযোগ বর্তমান ব্যবস্থায় সেই সম্পর্ককে দুর্বল করে বলে মনে করছে বিভাগটি।   প্রস্তাবটি কার্যকর হলে কোনো কর্মীর নতুন নিয়োগকর্তা চাইলে কর্মী যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে যাওয়ার পর নতুন আই-১২৯ আবেদন করতে পারেন। আবেদন অনুমোদন এবং অন্যান্য অভিবাসন শর্ত পূরণ হলে কর্মী নতুন চাকরির জন্য আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পেতে পারেন। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এটি এখনো চূড়ান্ত নিয়ম নয়। প্রস্তাবটি ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশের পর জনগণ, নিয়োগকর্তা, অভিবাসন আইনজীবী ও বিভিন্ন সংগঠনকে মতামত জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। এই মতামত পর্যালোচনার পর হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ প্রস্তাবটি পরিবর্তন, প্রত্যাহার অথবা চূড়ান্ত নিয়ম হিসেবে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।   অর্থাৎ এখনই এইচ-১বি বা অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ভিসার ৬০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড বাতিল হয়নি। বর্তমান নিয়ম এখনো কার্যকর রয়েছে। চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশ ও কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য কর্মীরা বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী গ্রেস পিরিয়ডের সুবিধা পাবেন। প্রস্তাবটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হলে চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রে থেকে নতুন নিয়োগকর্তা খোঁজার সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয়সহ অন্যান্য দেশের দক্ষ কর্মী এবং তাদের পরিবারের জন্য এটি অভিবাসন পরিকল্পনায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।

ওসামা বিন লাদেনের ‘লেটার টু আমেরিকা’

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পরও আল-কায়েদার প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেনের ২০০২ সালে লেখা ‘লেটার টু আমেরিকা’ চিঠিটি ওই হামলার পেছনে সংগঠনটির তৎকালীন অবস্থান ও যুক্তি বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নথি হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। চিঠিতে বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের সমর্থন, আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক অভিযান এবং ইরাকের ওপর আরোপিত অবরোধসহ বিভিন্ন নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি এসব কর্মকাণ্ডের কারণে ফিলিস্তিনি, আফগান ও অন্যান্য মুসলিম জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেন। ফিলিস্তিন প্রসঙ্গে বিন লাদেন ইসরায়েল প্রতিষ্ঠা ও টিকিয়ে রাখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করার চেষ্টা করেন। তাঁর দাবি ছিল, ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন রয়েছে এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও এর মূল্য দিতে হবে। একইভাবে আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনে মুসলিমদের ওপর কথিত নিপীড়নের প্রতিশোধ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি। চিঠিতে মার্কিন জনগণের করের অর্থ দেশটির সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হয় এমন যুক্তি তুলে বিন লাদেন যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদেরও সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায়ের অংশীদার হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এই যুক্তির ভিত্তিতে তিনি মার্কিন বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতাকে ন্যায্য প্রমাণের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থা নিয়েও সমালোচনা করেন এবং ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানান। সৌদি আরবের ধনাঢ্য ব্যবসায়ী পরিবারের সন্তান বিন লাদেন ১৯৮৮ সালে আল-কায়েদা প্রতিষ্ঠা করেন। এর আগে তিনি আফগানিস্তানে সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে আল-কায়েদা পরবর্তী সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাণঘাতী হামলা ও বোমা হামলা চালায়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়। চারটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই করে হামলাকারীরা নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ওয়াশিংটন ডিসির পেন্টাগনে হামলা চালায়; আরেকটি বিমান পেনসিলভানিয়ায় বিধ্বস্ত হয়। হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত হন। ২০১১ সালে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে একটি কম্পাউন্ডে মার্কিন নেভি সিলের অভিযানে বিন লাদেন নিহত হন। ২০০২ সালের ‘লেটার টু আমেরিকা’ মূলত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বিন লাদেনের অবস্থান ব্যাখ্যা এবং ৯/১১ হামলাসহ আল-কায়েদার কর্মকাণ্ডের প্রতি সমর্থন তৈরির উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল। চিঠির বক্তব্যগুলো ছিল তাঁর ও আল-কায়েদার নিজস্ব রাজনৈতিক ও আদর্শিক অবস্থান, যা দিয়ে সংগঠনটির সহিংস কর্মকাণ্ডের পক্ষে জনসমর্থন তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।

নিউইয়র্কের চায়নাটাউনে দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে থাকা পণ্যবাহী ট্রাক। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে গেল পণ্যবাহী ট্রাক, নিহত ৭৭ বছরের বৃদ্ধ, আহত ২

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের চায়নাটাউনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়া একটি পণ্যবাহী ট্রাকের ধাক্কায় ৭৭ বছর বয়সী এক পথচারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৫২ ও ৭১ বছর বয়সী দুই নারী আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ৬৬ বছর বয়সী ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে, তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হয়নি।   বৃহস্পতিবার সকাল প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে ব্যস্ত বোওয়ারি স্ট্রিট ও ক্যানাল স্ট্রিটের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) তথ্য অনুযায়ী, চালক ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নেমে ক্যানাল স্ট্রিট দিয়ে পশ্চিম দিকে যাচ্ছিলেন। পরে বোওয়ারি স্ট্রিটে ডান দিকে মোড় নেওয়ার সময় ট্রাকটি হঠাৎ ফুটপাতে উঠে যায় এবং সেখানে থাকা তিন পথচারীকে ধাক্কা দেয়।   ট্রাকটিতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ছিল। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের ছবিতে পথচারীদের রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। গুরুতর আহত ৭৭ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত দুই নারীকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ।   পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার পরও ট্রাকটি সঙ্গে সঙ্গে থামেনি। পুলিশ জানিয়েছে, চালক বোওয়ারি স্ট্রিট ধরে আরও এগিয়ে হেস্টার স্ট্রিটের কাছে একটি সেডান গাড়িতে ধাক্কা দেওয়ার পর থামেন। ঘটনাটির সময় ট্রাকটির সামনের কাচ ভেঙে যায় এবং চারটি টায়ারই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কাঠের প্যালেট বোঝাই ট্রাকটিকে আশপাশের যানবাহনের তুলনায় দ্রুতগতিতে চলতে দেখা যায়। ভিডিওতে ট্রাকটির অন্য একটি গাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগার দৃশ্যও রয়েছে। তবে পথচারীদের ধাক্কা দেওয়ার সরাসরি মুহূর্ত ভিডিওতে ধরা পড়েনি।   পুলিশ জানিয়েছে, ট্রাকচালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে মাদক বা অ্যালকোহলের প্রভাবের স্পষ্ট কোনো লক্ষণ পাওয়া যায়নি বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানিয়েছে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি এবং চালকের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগও আনা হয়নি।   এনওয়াইপিডির হাইওয়ে ডিস্ট্রিক্টের সংঘর্ষ তদন্তকারী দল ঘটনাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা ট্রাকটি কেন ফুটপাতে উঠে গেল, চালকের আচরণ, গাড়ির অবস্থা এবং দুর্ঘটনার আগে ও পরে কী ঘটেছিল, তা খতিয়ে দেখছেন। দুর্ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত ছিল এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।   ঘটনাস্থলটি ম্যানহাটন ব্রিজের কাছের ব্যস্ত এলাকা। ক্যানাল স্ট্রিট ও বোওয়ারির সংযোগস্থলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী ও যানবাহনের চলাচল থাকে। স্থানীয়দের কাছে এ এলাকা আগে থেকেই দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে এলাকাবাসীর উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছে, ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার সময় কিছু গাড়ি দ্রুতগতিতে চলাচল করে।   স্থানীয় নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ১০১০ উইনসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জুলাইয়েও ম্যানহাটন ব্রিজ থেকে নামার পর একটি চুরি করা গাড়ির ধাক্কায় একজন সাইকেল আরোহী ও একজন পথচারী নিহত হয়েছিলেন। ফলে বৃহস্পতিবারের দুর্ঘটনার পর ওই এলাকার সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।   এদিকে দুর্ঘটনায় নিহত ৭৭ বছর বয়সী ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ পরিবারের সদস্যদের অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার নাম প্রকাশ না করার নীতি অনুসরণ করছে বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   নিউইয়র্কে পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে বড় যানবাহন ফুটপাতে উঠে গেলে পথচারীদের গুরুতর আহত বা নিহত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। বৃহস্পতিবারের ঘটনাটি আবারও ব্যস্ত নগর সড়কে ভারী যানবাহনের চলাচল ও পথচারী নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে।   তবে দুর্ঘটনার জন্য চালকের গতি, গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটি, চালকের শারীরিক অবস্থা বা অন্য কোনো কারণ দায়ী কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো একটি কারণকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে না।   এনওয়াইপিডির সংঘর্ষ তদন্তকারী দল তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে চালকের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনা হবে কি না, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।   সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

দুর্ঘটনার আগে একসঙ্গে তোলা দুই ঘনিষ্ঠ বান্ধবী এলিস সুওমি ও আলেজান্দ্রা পাহারসিংয়ের ছবি। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা চালিয়ে নিজের বান্ধবীকেই হত্যা করলেন তরুণী

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে মদ্যপ অবস্থায় টেসলা গাড়ি চালিয়ে কাঠামোর সঙ্গে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় ২৭ বছর বয়সী এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় তাঁর সঙ্গে থাকা ঘনিষ্ঠ বন্ধু এলিস সুয়োমি নিহত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের ভাষ্য, গাড়ি চালানোর সময় ওই নারীর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল আইনগত সীমার প্রায় তিন গুণ।   অভিযুক্ত আলেহান্দ্রা পাহারসিংহের বিরুদ্ধে যানবাহনজনিত অনিচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড এবং দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল ত্যাগের অভিযোগ আনা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার ভোরে ম্যানহাটনের মিডটাউন এলাকায় ২০২৪ সালের একটি টেসলা চালানোর সময় তিনি নিয়ন্ত্রণ হারান বলে অভিযোগ।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত প্রায় ২টা ৪৫ মিনিটে ম্যাডিসন অ্যাভিনিউ ও পূর্ব ৪২তম স্ট্রিটের কাছে গাড়িটি ফুটপাতে উঠে একটি ডাকবাক্সে আঘাত করে। এরপর সেটি রাস্তার পাশে নির্মাণকাজের জন্য স্থাপন করা কাঠামোতে ধাক্কা দেয়। গাড়িতে যাত্রী হিসেবে ছিলেন ২৭ বছর বয়সী এলিস সুয়োমি।   দুর্ঘটনার পরও পাহারসিংহ গাড়ি চালিয়ে কয়েক ব্লক এগিয়ে যান। পরে পূর্ব ৪২তম স্ট্রিট ও সেকেন্ড অ্যাভিনিউয়ের কাছে গাড়ি থামলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। গুরুতর আহত সুয়োমিকে দ্রুত বেলভিউ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রাত ৩টার কিছু পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পাহারসিংহও দুর্ঘটনায় সামান্য আহত হন এবং চিকিৎসা নেওয়ার পর পুলিশ তাঁকে হেফাজতে নেয়।   ম্যানহাটন প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, পাহারসিংহের রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা ছিল দশমিক ২২৯। নিউইয়র্কে গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে আইনগত সীমা দশমিক শূন্য আট। অর্থাৎ তাঁর রক্তে অ্যালকোহলের মাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় তিন গুণ ছিল।   মামলার নথিতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের কর্মকর্তা থমাস ডিলনের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাহারসিংহ ওই রাতে একাধিকবার মদ্যপানের কথা স্বীকার করেন। একই সঙ্গে তিনি পুলিশকে জানান, ৪২তম স্ট্রিটে গাড়ি চালানোর ঘটনা তাঁর মনে নেই।   পাহারসিংহ কানেকটিকাটের বাসিন্দা। পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটিতে তাঁর আগে কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। বুধবার রাতে ম্যানহাটন ক্রিমিনাল কোর্টে তাঁকে আদালতে হাজির করা হয়।   ম্যানহাটন ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় তাঁকে হেফাজতে রাখার জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার নগদ জামিন অথবা ৭ লাখ ৫০ হাজার ডলারের বন্ড চেয়েছিল। তবে বিচারক জেফরি গেরশুনি জামিনের পরিমাণ ৫০ হাজার ডলার নির্ধারণ করেন। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত পাহারসিংহ রাইকার্স আইল্যান্ডে হেফাজতে ছিলেন। আগামী সোমবার তাঁকে আবার আদালতে হাজির করার কথা রয়েছে।   নিহত এলিস সুয়োমি হারলেমে থাকতেন এবং তাঁর তিন বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। দুর্ঘটনার পর তাঁর বাসার বাইরে স্বজন ও বন্ধুরা স্মরণসভা করেন। সেখানে নীল ও সাদা মোমবাতি, তাঁর ছবি এবং ছোট মেয়ের সঙ্গে তাঁর একটি ছবিও রাখা হয়।   সুয়োমির প্রতিবেশী জর্জ কার্টাগেমা নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেন, তিনি সুয়োমিকে ভালো মানুষ হিসেবে চিনতেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সুয়োমি অন্যদের সাহায্য করতেন এবং কারও খাবার বা পোশাকের প্রয়োজন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করতেন।   পাহারসিংহ ও সুয়োমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন বলে তাঁদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্ট থেকেও ধারণা পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার আগে তাঁদের একসঙ্গে থাকার ছবি ও বন্ধুত্বের নানা স্মৃতিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছিল। তবে দুর্ঘটনার কারণ ও ঘটনাটির পূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে তদন্ত চলছে।   আইনগতভাবে পাহারসিংহের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। তিনি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।   উৎস: নিউইয়র্ক পোস্ট

নির্মাণসামগ্রী হিসেবে পয়ঃবর্জ্য ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার প্রতীকী চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মানুষের মল থেকে তৈরি হচ্ছে কংক্রিট, যা প্রচলিত কংক্রিটের চেয়েও শক্তিশালী

ভারতের একদল গবেষক মানুষের পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি জৈবকয়লা বা বায়োচার ব্যবহার করে এমন কংক্রিট তৈরি করেছেন, যার নির্দিষ্ট মিশ্রণ প্রচলিত কংক্রিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি শক্তিশালী হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত সিমেন্টের ১০ শতাংশের পরিবর্তে পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি বায়োচার ব্যবহার করলে ৯১ দিন পর কংক্রিটের চাপ সহনশীলতা ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।   ভারতের মণিপাল ইউনিভার্সিটি জয়পুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রঘুভেশ তিওয়ারির নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় ব্যবহৃত পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করা হয় ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারাঙ্গালের একটি পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার থেকে। সেখানে সেপটিক ট্যাংক ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োচার তৈরি করা হয়।   বায়োচার হলো কার্বনসমৃদ্ধ এক ধরনের সূক্ষ্ম পদার্থ, যা জৈববস্তু খুব কম অক্সিজেনের পরিবেশে উচ্চ তাপে উত্তপ্ত করে তৈরি করা হয়। গবেষণায় পয়ঃবর্জ্য প্রথমে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কম অক্সিজেনের পরিবেশে উত্তপ্ত করে সেটিকে বায়োচারে রূপান্তর করা হয়। পরে তা গুঁড়া করে ছেঁকে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করা হয়, যাতে কংক্রিটের সঙ্গে মেশানো যায়।   গবেষকেরা প্রচলিত সিমেন্টের বিভিন্ন অংশের পরিবর্তে ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ করে এই বায়োচার ব্যবহার করে আলাদা কংক্রিটের নমুনা তৈরি করেন। এরপর এসব নমুনার চাপ সহনশীলতা, বাঁক সহনশীলতা, পানি শোষণ, ছিদ্রতা এবং শুকানোর সময় সংকোচনের মতো বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়।   পরীক্ষায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায় দীর্ঘ সময় ধরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার পর। ৯১ দিন ধরে পরিচর্যার পর ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত কংক্রিটে প্রচলিত মিশ্রণের তুলনায় চাপ সহনশীলতা ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৪২ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। ৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহার করা মিশ্রণেও শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। গবেষণায় ৫ শতাংশ মিশ্রণে ৯১ দিন পর চাপ সহনশীলতা প্রায় ২০ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৩৬ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়।   গবেষকদের মতে, এই শক্তি বৃদ্ধির পেছনে বায়োচারের বিশেষ গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বায়োচারের ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা কংক্রিট তৈরির সময় পানি ধরে রাখতে পারে। পরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সেই পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে। এতে সিমেন্টের সঙ্গে পানির রাসায়নিক বিক্রিয়া বা জলযোজন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে, যা কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।   তবে বেশি পরিমাণ বায়োচার ব্যবহার করলেই কংক্রিট আরও শক্তিশালী হবে এমন নয়। গবেষণায় ৫ ও ১০ শতাংশের মাত্রায় সবচেয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ১৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের মাত্রার মতো শক্তি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়নি। অর্থাৎ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক অনুপাত নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় কংক্রিটের স্থায়িত্ব নিয়েও কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ১৫ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণে ২৮ দিন পর পানি শোষণ ও ছিদ্রতার মাত্রা প্রচলিত কংক্রিটের নিয়ন্ত্রণ মিশ্রণের কাছাকাছি ছিল। অন্যদিকে ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণের ১২০ দিনের শুকানোর সময়ের সংকোচন সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের মিশ্রণের কাছাকাছি ছিল।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারী ধাতু নিয়ন্ত্রণ। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, কংক্রিটের মিশ্রণে বায়োচারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য থেকে আসা কিছু ভারী ধাতুর ঘনত্ব কমেছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সিমেন্টের ক্ষারীয় পরিবেশে বায়োচার এসব ক্ষতিকর পদার্থকে আটকে রাখতে সহায়তা করতে পারে, ফলে পরিবেশে সেগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।   এই গবেষণার পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে। কংক্রিটের প্রধান উপাদান সিমেন্ট উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয় এবং এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন জড়িত। তাই সিমেন্টের একটি অংশের পরিবর্তে বর্জ্য থেকে তৈরি উপাদান ব্যবহার করা গেলে একদিকে সিমেন্টের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে, অন্যদিকে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি ব্যবহারিক পথ তৈরি হতে পারে। গবেষণাপত্রেও পয়ঃবর্জ্যকে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের জন্য অবশ্য আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। গবেষণাটি মূলত পরীক্ষাগারভিত্তিক কংক্রিটের কর্মক্ষমতা যাচাই করেছে। বাস্তব নির্মাণকাজে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, বিভিন্ন আবহাওয়া ও পরিবেশে কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বর্জ্য থেকে তৈরি উপাদানের নিরাপত্তা আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। গবেষণাটিও বিভিন্ন মাত্রায় বায়োচার ব্যবহার করে কংক্রিটের যান্ত্রিক, স্থায়িত্ব ও ক্ষুদ্র কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।   গবেষণাটি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার লেখকদের মধ্যে রঘুভেশ তিওয়ারি, প্রিয়াংশা মেহরা, শাইক হুসেইন ও সঞ্চিত আনন্দ রয়েছেন।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
নির্মাণসামগ্রী হিসেবে পয়ঃবর্জ্য ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণার প্রতীকী চিত্র। ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মানুষের মল থেকে তৈরি হচ্ছে কংক্রিট, যা প্রচলিত কংক্রিটের চেয়েও শক্তিশালী
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ২৩:৪২

ভারতের একদল গবেষক মানুষের পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি জৈবকয়লা বা বায়োচার ব্যবহার করে এমন কংক্রিট তৈরি করেছেন, যার নির্দিষ্ট মিশ্রণ প্রচলিত কংক্রিটের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি শক্তিশালী হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রচলিত সিমেন্টের ১০ শতাংশের পরিবর্তে পয়ঃবর্জ্য থেকে তৈরি বায়োচার ব্যবহার করলে ৯১ দিন পর কংক্রিটের চাপ সহনশীলতা ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।   ভারতের মণিপাল ইউনিভার্সিটি জয়পুরের সিভিল ইঞ্জিনিয়ার রঘুভেশ তিওয়ারির নেতৃত্বে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। গবেষণায় ব্যবহৃত পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করা হয় ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যের ওয়ারাঙ্গালের একটি পয়ঃবর্জ্য শোধনাগার থেকে। সেখানে সেপটিক ট্যাংক ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সংগ্রহ করা মানববর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে বায়োচার তৈরি করা হয়।   বায়োচার হলো কার্বনসমৃদ্ধ এক ধরনের সূক্ষ্ম পদার্থ, যা জৈববস্তু খুব কম অক্সিজেনের পরিবেশে উচ্চ তাপে উত্তপ্ত করে তৈরি করা হয়। গবেষণায় পয়ঃবর্জ্য প্রথমে শুকিয়ে নেওয়া হয়। এরপর প্রায় ৩৫০ থেকে ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কম অক্সিজেনের পরিবেশে উত্তপ্ত করে সেটিকে বায়োচারে রূপান্তর করা হয়। পরে তা গুঁড়া করে ছেঁকে সূক্ষ্ম কণায় পরিণত করা হয়, যাতে কংক্রিটের সঙ্গে মেশানো যায়।   গবেষকেরা প্রচলিত সিমেন্টের বিভিন্ন অংশের পরিবর্তে ৫, ১০ ও ১৫ শতাংশ করে এই বায়োচার ব্যবহার করে আলাদা কংক্রিটের নমুনা তৈরি করেন। এরপর এসব নমুনার চাপ সহনশীলতা, বাঁক সহনশীলতা, পানি শোষণ, ছিদ্রতা এবং শুকানোর সময় সংকোচনের মতো বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়।   পরীক্ষায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফল পাওয়া যায় দীর্ঘ সময় ধরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার পর। ৯১ দিন ধরে পরিচর্যার পর ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত কংক্রিটে প্রচলিত মিশ্রণের তুলনায় চাপ সহনশীলতা ২১ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৪২ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়। ৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহার করা মিশ্রণেও শক্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল। গবেষণায় ৫ শতাংশ মিশ্রণে ৯১ দিন পর চাপ সহনশীলতা প্রায় ২০ শতাংশ এবং বাঁক সহনশীলতা ৩৬ শতাংশ বেশি পাওয়া যায়।   গবেষকদের মতে, এই শক্তি বৃদ্ধির পেছনে বায়োচারের বিশেষ গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বায়োচারের ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্র থাকে, যা কংক্রিট তৈরির সময় পানি ধরে রাখতে পারে। পরে কংক্রিট শক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় সেই পানি ধীরে ধীরে বের হয়ে আসে। এতে সিমেন্টের সঙ্গে পানির রাসায়নিক বিক্রিয়া বা জলযোজন প্রক্রিয়া দীর্ঘ সময় ধরে চলতে পারে, যা কংক্রিটের শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।   তবে বেশি পরিমাণ বায়োচার ব্যবহার করলেই কংক্রিট আরও শক্তিশালী হবে এমন নয়। গবেষণায় ৫ ও ১০ শতাংশের মাত্রায় সবচেয়ে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ১৫ শতাংশ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে আগের মাত্রার মতো শক্তি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যায়নি। অর্থাৎ বায়োচার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক অনুপাত নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ।   গবেষণায় কংক্রিটের স্থায়িত্ব নিয়েও কিছু ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। ১৫ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণে ২৮ দিন পর পানি শোষণ ও ছিদ্রতার মাত্রা প্রচলিত কংক্রিটের নিয়ন্ত্রণ মিশ্রণের কাছাকাছি ছিল। অন্যদিকে ১০ শতাংশ বায়োচারযুক্ত মিশ্রণের ১২০ দিনের শুকানোর সময়ের সংকোচন সাধারণ পোর্টল্যান্ড সিমেন্টের মিশ্রণের কাছাকাছি ছিল।   গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভারী ধাতু নিয়ন্ত্রণ। গবেষকেরা দেখতে পেয়েছেন, কংক্রিটের মিশ্রণে বায়োচারের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে পয়ঃবর্জ্য থেকে আসা কিছু ভারী ধাতুর ঘনত্ব কমেছে। গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, সিমেন্টের ক্ষারীয় পরিবেশে বায়োচার এসব ক্ষতিকর পদার্থকে আটকে রাখতে সহায়তা করতে পারে, ফলে পরিবেশে সেগুলোর বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমতে পারে।   এই গবেষণার পরিবেশগত গুরুত্বও রয়েছে। কংক্রিটের প্রধান উপাদান সিমেন্ট উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি প্রয়োজন হয় এবং এর সঙ্গে উল্লেখযোগ্য কার্বন ডাই-অক্সাইড নির্গমন জড়িত। তাই সিমেন্টের একটি অংশের পরিবর্তে বর্জ্য থেকে তৈরি উপাদান ব্যবহার করা গেলে একদিকে সিমেন্টের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব হতে পারে, অন্যদিকে পয়ঃবর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নতুন একটি ব্যবহারিক পথ তৈরি হতে পারে। গবেষণাপত্রেও পয়ঃবর্জ্যকে ফেলে দেওয়ার পরিবর্তে নির্মাণসামগ্রীর কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরা হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের জন্য অবশ্য আরও কিছু প্রশ্নের উত্তর খোঁজা প্রয়োজন। গবেষণাটি মূলত পরীক্ষাগারভিত্তিক কংক্রিটের কর্মক্ষমতা যাচাই করেছে। বাস্তব নির্মাণকাজে বড় পরিসরে ব্যবহারের আগে দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব, বিভিন্ন আবহাওয়া ও পরিবেশে কার্যকারিতা, উৎপাদন ব্যয় এবং বর্জ্য থেকে তৈরি উপাদানের নিরাপত্তা আরও বিস্তৃতভাবে পরীক্ষা করতে হবে। গবেষণাটিও বিভিন্ন মাত্রায় বায়োচার ব্যবহার করে কংক্রিটের যান্ত্রিক, স্থায়িত্ব ও ক্ষুদ্র কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য যাচাইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।   গবেষণাটি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সালে ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্টস’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণার লেখকদের মধ্যে রঘুভেশ তিওয়ারি, প্রিয়াংশা মেহরা, শাইক হুসেইন ও সঞ্চিত আনন্দ রয়েছেন।

হৃদরোগের অবনতি হওয়ায় বিচারকের কাছে নিউইয়র্কের একটি বাসায় গৃহবন্দী থাকার আবেদন জানিয়েছেন মাদুরোপত্নী সিলিয়া। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের কারাগারে হৃদরোগে আক্রান্ত মাদুরোর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস, উন্নত চিকিৎসার দাবি
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ২১:৪৬

ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্ত্রী ও দেশটির সাবেক ফার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস যুক্তরাষ্ট্রে কারাবন্দি অবস্থায় তার হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার অবনতি হয়েছে দাবি করে গৃহবন্দিত্বের আবেদন করেছেন। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ কারাগারে নেই দাবি করে নিউইয়র্কের একটি আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।   বুধবার আদালতে দাখিল করা আবেদনে ফ্লোরেসের আইনজীবীরা তাকে নিউইয়র্কের একটি ব্যক্তিগত বাসভবনে স্থানান্তর করে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত সেখানে আটক রাখার অনুমতি চেয়েছেন। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, তাকে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে রাখা হবে, ইলেকট্রনিক নজরদারি করা হবে, তার চলাচল সীমিত থাকবে এবং আদালতের অনুমোদন ছাড়া কেউ তার সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। তার ফোনকলও পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে।   ৬৯ বছর বয়সী ফ্লোরেস বর্তমানে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে আটক আছেন। তার আইনজীবীদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে যাওয়ার আগে তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ ছিলেন এবং হৃদ্‌যন্ত্রের একটি ভালভের সমস্যার নিয়ন্ত্রণে মাসে একবার একটি ওষুধের ইনজেকশন ছাড়া নিয়মিত কোনো ওষুধ গ্রহণ করতেন না।   তবে কারাবন্দির পর তার শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে বলে দাবি করেছে তার প্রতিরক্ষা দল। আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাকে চার ধরনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। বুকে ব্যথা হলে ব্যবহারের জন্য তার কাছে নাইট্রোগ্লিসারিনও রাখা হয়েছে। চিকিৎসকেরা হৃদ্‌যন্ত্রের আরও পরীক্ষা এবং সম্ভাব্য অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দিয়েছেন বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।   ফ্লোরেসের আইনজীবীরা আরও দাবি করেছেন, গত ২৯ জুলাই হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার এমন একটি শারীরিক সমস্যা হয়েছিল, যা হালকা মাত্রার হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা হতে পারে বলে তারা মনে করছেন। তবে এটি চিকিৎসাগতভাবে নিশ্চিত হয়েছে এমন তথ্য নেই। আবেদনে বুকে ব্যথা, হৃদ্‌স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা, শ্বাসকষ্ট এবং আটক হওয়ার পর উল্লেখযোগ্য ওজন কমার কথাও বলা হয়েছে।   তার আইনজীবীরা অবশ্য আদালতের নথিতে স্বীকার করেছেন, কারাগারের চিকিৎসাকর্মীরা তাকে ভালো চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মূল যুক্তি হলো, সম্ভাব্য হৃদ্‌যন্ত্রের চিকিৎসা বা অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হয়ে ওঠার জন্য একটি আটককেন্দ্র উপযুক্ত পরিবেশ দিতে পারবে না। এ কারণে তারা ব্যক্তিগত বাসভবনে রেখে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আবেদন করেছেন।   প্রস্তাবিত গৃহবন্দিত্বে ফ্লোরেস পুরোপুরি স্বাধীন থাকবেন না। আইনজীবীরা নিজেরাই কঠোর নজরদারির শর্ত মেনে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে ২৪ ঘণ্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা, ইলেকট্রনিক অবস্থান শনাক্তকারী যন্ত্র, সীমিত সাক্ষাৎ এবং ফোনকল পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। তার ভ্রমণ নথি আদালতের কাছে জমা রাখার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। ফ্লোরেস ও মাদুরো দুজনকেই ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়। পরে তাদের নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে বিচারাধীন অবস্থায় আছেন। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।   মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্র এবং অন্যান্য গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ফ্লোরেসের বিরুদ্ধেও মাদক পাচারসংক্রান্ত অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ভেনেজুয়েলার ক্ষমতার কাঠামো ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের কর্মকাণ্ডে সহায়তা করেছিলেন। তবে মামলাটি এখনো বিচার শুরুর পর্যায়ে রয়েছে এবং আদালতে অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি।   মাদুরো ও ফ্লোরেসের আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলেরও চেষ্টা করছেন। তাদের অন্যতম যুক্তি হলো মাদুরো রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে কূটনৈতিক বা সার্বভৌম দায়মুক্তির অধিকার ভোগ করেন। ফ্লোরেসের আইনজীবীরাও তার সাবেক ফার্স্ট লেডি হিসেবে সংশ্লিষ্ট দায়মুক্তির প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে তাদের আটক ও দেশ থেকে নিয়ে আসার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে প্রতিরক্ষা দল।   ফ্লোরেস ভেনেজুয়েলার রাজনীতিতে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে তিনি দেশটির ক্ষমতাসীন ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন এবং চার বছরের বেশি সময় জাতীয় পরিষদের নেতৃত্ব দেন। ২০১৩ সালে মাদুরো প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তিনি দেশটির ফার্স্ট লেডি হন।   মাদুরো সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলা সরকারের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনেছিল। একই সময়ে মাদুরো সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। এসব অভিযোগও মাদুরো ও ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে চলমান রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের অংশ।   নিউইয়র্কের ফেডারেল বিচারক আলভিন কে. হেলারস্টেইন এখনো ফ্লোরেসের গৃহবন্দিত্বের আবেদন নিয়ে সিদ্ধান্ত দেননি। মাদুরো ও ফ্লোরেসের মূল বিচার ২০২৭ সালের ১ জুন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আগামী ১৭ নভেম্বর তাদের আইনজীবীদের মামলাটি বাতিলের আবেদনের বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।   ফ্লোরেসের আইনজীবীদের আবেদনের মূল বিষয় এখন তার স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং কারাগারের বাইরে চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া যায় কি না। আদালত তার চিকিৎসা পরিস্থিতি, পালিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এবং প্রস্তাবিত কঠোর নজরদারির শর্ত বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে। সূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েল নির্বাচনে বড় চাপে নেতানিয়াহু, ৭ অক্টোবরের হামলার সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ
ইসরায়েল নির্বাচনে বড় চাপে নেতানিয়াহু, ৭ অক্টোবরের হামলার সতর্কতা উপেক্ষার অভিযোগ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ৩:৫৫

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু আগামী ২৭ অক্টোবরের জাতীয় নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। এর মধ্যে নতুন করে অভিযোগ উঠেছে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামলার প্রায় ১০ দিন আগে হামাসের বড় ধরনের অভিযানের বিষয়ে তাঁকে সতর্ক করেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান। তবে নেতানিয়াহু এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছেন।    ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ-এ প্রকাশিত একটি বইয়ের উদ্ধৃতি থেকে এই দাবি সামনে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাসের তৎকালীন নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ার বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন - এমন তথ্য নিয়ে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট নেতানিয়াহুর সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট কথা বলেন। হামলাটি ব্যাপক প্রাণহানি ঘটাতে পারে এবং পুরো অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।   প্রতিবেদন অনুযায়ী, নেতানিয়াহু সতর্কবার্তায় উদ্বিগ্ন না হয়ে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে সম্ভাব্য হামলা পশ্চিম তীর থেকে আসতে পারে এবং ইসরায়েল যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। তবে এই ফোনালাপ বা সতর্কবার্তার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সিবিএস নিউজও জানিয়েছে, তারা হারেৎজের প্রতিবেদনটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।    নেতানিয়াহুর কার্যালয় অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাঁর দাবি, তিনি আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এমন কোনো সতর্কবার্তা পাননি। নেতানিয়াহু হারেৎজ ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন। আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত বা অস্বীকার না করে বলেছে, তারা গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বা জল্পনা নিয়ে মন্তব্য করে না।   এই বিতর্ক এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে ঘিরে নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৭ অক্টোবরের হামলা ও পরবর্তী আঞ্চলিক সংঘাত নিয়ে জনঅসন্তোষের কারণে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টির সমর্থন চাপে রয়েছে। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকটও শক্ত অবস্থানে উঠে এসেছেন।   সাম্প্রতিক একটি জরিপে আইজেনকটের ইয়াশার পার্টি ২৩টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস পেয়েছে, যেখানে নেতানিয়াহুর লিকুদ পেয়েছে ২০টি। তবে কোনো পক্ষই এককভাবে সরকার গঠনের প্রয়োজনীয় ৬১ আসনে পৌঁছাতে পারছে না। একই জরিপে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আইজেনকটকে ৩৮ শতাংশ এবং নেতানিয়াহুকে ৩৫ শতাংশ মানুষ বেশি উপযুক্ত বলেছেন।    ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের ৩১ আগস্ট থেকে ৩ সেপ্টেম্বরের জরিপেও দেখা গেছে, ৬৮ শতাংশ ইহুদি ইসরায়েলি ভোটারের কাছে ৭ অক্টোবরের ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে দল বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে হামলার আগে কী সতর্কতা ছিল এবং নেতানিয়াহু তা কীভাবে মোকাবিলা করেছিলেন - এই প্রশ্নটি নির্বাচনী প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। 

নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার
নেপালে বন্যার পানিতে হোটেল ভেসে যাওয়ায় নিখোঁজ ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডা. ইশান ও তার পরিবার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬ ১:২৪

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ডাক্তার ও তাদের পরিবারের আরও দুই সদস্য নিখোঁজ হয়েছেন। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যার সময় তারা একটি হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বন্যার পানিতে হোটেলটি ভেসে যাওয়ার পর থেকে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।   নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন ডা. ইশান প্যাটেল ও তার স্ত্রী ডা. আকাঙ্কশা প্যাটেল। সঙ্গে ছিলেন ইশানের মা শিলপা প্যাটেল এবং শ্বশুর উমেশকুমার প্যাটেল। ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটার ডিপার্টমেন্ট অব অর্থোপেডিক সার্জারি জানিয়েছে, ইশান সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডাল্ট রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারি ফেলোশিপ সম্পন্ন করেছেন।   ফেলোশিপ শেষ করার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তীর্থযাত্রায় নেপালে গিয়েছিলেন ইশান। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট ভয়াবহ বন্যা শুরু হলে তারা সম্ভবত যে হোটেলে ছিলেন, সেটি পানির তোড়ে ভেসে যায়। এরপর থেকেই চারজনকে নিখোঁজ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।   ডা. আকাঙ্কশা প্যাটেলও মিনেসোটার সঙ্গে চিকিৎসা পেশার সূত্রে যুক্ত ছিলেন। তিনি আগে ফ্রিডলির মার্সি হাসপাতাল-ইউনিটি ক্যাম্পাসে সাইকিয়াট্রিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন। অলিনা হেলথ জানিয়েছে, তিনি বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী নন।   ইশান ও আকাঙ্কশা দ্বৈত মার্কিন-কানাডীয় নাগরিক। তাদের সঙ্গে থাকা ইশানের মা ও শ্বশুর কানাডার নাগরিক বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। পরিবারের সদস্যরা নিখোঁজদের সন্ধানে সহায়তা করতে নেপালে গেছেন।   নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫ হাজারেরও বেশি মানুষ এখনো নিখোঁজ। দুর্যোগের পর উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   হিমালয় অঞ্চলে ব্যাপক ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার পর নেপালের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলসহ দুর্গম এলাকাগুলোতে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিখোঁজদের সন্ধান ও উদ্ধার অভিযানও কঠিন হয়ে পড়েছে।   ইউনিভার্সিটি অব মিনেসোটা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম চলছে। নিখোঁজ ইশান, তার পরিবারের সদস্য এবং এই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.35K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.11K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.22K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.08K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.03K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়