Live update news
ক্যারোলিন পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া ডিয়াজকে প্রধান অভিযুক্ত করেছে পুলিশ | ছবি: নিউইয়র্ক পোস্ট
টেক্সাসে পাঁচ সন্তানের মাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা, মূল হামলাকারী ছিলেন ১৯ বছরের তরুণী: পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের সীমান্তবর্তী শহর ডেল রিওতে পাঁচ সন্তানের জননী ক্যারোলিন "ক্যারো" পেনা হত্যাকাণ্ডে ১৯ বছর বয়সী আমায়া "কুকি" ডিয়াজই ছুরিকাঘাত করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে জমা দেওয়া নথির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে নিউইয়র্ক পোস্ট। পুলিশের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে ৩২ বছর বয়সী পেনার সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে কুকি ডিয়াজ তাকে একাধিকবার ছুরিকাঘাত করেন। এ ঘটনায় কুকির পাশাপাশি তার ২১ বছর বয়সী বোন কিটি মিয়া ডিয়াজ এবং তাদের বন্ধু ২১ বছর বয়সী কিয়ান্দ্রা রেনি ফাজের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।   শুক্রবার টেক্সাসের একটি আদালত তিন আসামির প্রত্যেকের জামিন পাঁচ মিলিয়ন ডলার নির্ধারণ করেন। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিয়ান্দ্রা ফাজ পুলিশকে জানান, পেনা তার বাড়িতে গিয়ে ঝগড়া বাধানোর চেষ্টা করেছিলেন।   তদন্তকারীরা পরে ঘটনাস্থলের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিও সংগ্রহ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, পেনার কালো রঙের ডজ পিকআপ ট্রাকটি ফাজের বাড়ির সামনে এসে থামে। কিছুক্ষণ পর একটি কালো ক্রাইসলার ৩০০ গাড়িতে করে কুকি ও কিটি সেখানে পৌঁছান। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গাড়ি থেকে নেমেই কুকি ডিয়াজ পেনার দিকে এগিয়ে যান। তার ডান হাতে ছুরির মতো একটি ধারালো বস্তু ছিল বলে তদন্তকারীদের ধারণা।   ভিডিওতে দেখা যায়, কুকি পেনার পিঠে আঘাত করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে তার জামা রক্তে ভিজে যায়। এরপর কিটি ডিয়াজ ও কিয়ান্দ্রা ফাজও হামলায় অংশ নেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তারা পেনাকে মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।   আহত পেনাকে তার ভাতিজা স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য সান আন্তোনিওর একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে হামলার প্রায় সাত ঘণ্টা পর, রাত ৯টার দিকে তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার আদালতে হাজির করা হলে তিন অভিযুক্তই নিজেদের পক্ষে আদালত-নিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগের আবেদন করেন।

৯ মিনিট Ago
কানেকটিকাটে এটিএম বুথে ‘জ্যাকপটিং’ জালিয়াতি; এফবিআইয়ের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪ | ছবি: গেটি ইমেজেস
কার্ড ছাড়াই বুথ থেকে অর্ধমিলিয়ন ডলার চুরি, যুক্তরাষ্ট্রে ৪ ভেনিজুয়েলান গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এটিএম বুথে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে লাখ লাখ ডলার চুরির অভিযোগে চার ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। 'জ্যাকপটিং' নামের একটি বিশেষ হ্যাকিং পদ্ধতির মাধ্যমে ওই ব্যক্তিরা বুথ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অপরাধ চক্রটি কানেকটিকাটের বিভিন্ন এলাকা থেকে মোট ৫ লাখ ২৯ হাজার ২২০ মার্কিন ডলার চুরি করেছে বলে আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।   কানেকটিকাটের ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি অফিস এবং নিউ হ্যাভেনের এফবিআই জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন ইউক্লিডেস মোরেনো ইতানের, উইলিয়ান রিকার্ডো ফ্লোরেস, আলবার্তো জোসে ফ্রেইটস আরভিলা এবং লুইস জোসে ফ্রেইটস আরভিলা। তারা প্রত্যেকেই ভেনিজুয়েলার নাগরিক এবং বর্তমানে নিউ ইয়র্ক, নর্থ ক্যারোলাইনা ও ম্যাসাচুসেটসের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করছিলেন। চোরাই সম্পত্তি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে পরিবহন এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হয়েছে।   তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, 'জ্যাকপটিং' হলো এমন এক ধরনের অত্যাধুনিক চুরি যেখানে বিশেষ কোনো হার্ডওয়্যার বা ম্যালওয়্যার সফটওয়্যার ব্যবহার করে এটিএম বুথের ভেতরের কম্পিউটার সিস্টেম নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এর ফলে ব্যাংকের কোনো কার্ড ছাড়াই বুথের ভেতরে থাকা সব টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাইরে চলে আসে। গত বছরের আগস্ট মাসে এই চক্রটি কানেকটিকাটের মোট ৯টি এটিএম বুথ টার্গেট করেছিল, যার মধ্যে আটটি বুথ থেকে তারা সফলভাবে টাকা তুলতে সক্ষম হয়। তবে একটি বুথে উন্নত নিরাপত্তা সফটওয়্যার থাকায় তাদের চুরির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল।   বুথগুলোর ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে এই চুরির অভিনব কৌশল দেখতে পেয়েছেন গোয়েন্দারা। ফুটেজে দেখা যায়, আলবার্তো নামের একজন প্রথমে এটিএম বুথ খুলে এর ভেতরের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রবেশ করেন এবং কাজ শেষ করে এলাকা ছেড়ে চলে যান। এরপর অন্য তিনজন পালাক্রমে বুথের সামনে এসে পাহারায় থাকেন এবং টাকাগুলো বস্তাবন্দী করেন। ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা কয়েক ঘণ্টা পর পর নিজেদের পোশাক পরিবর্তন করে একই বুথে বারবার আসছিলেন।   আমেরিকার বিচার বিভাগ ও এফবিআই জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে এই 'জ্যাকপটিং' চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত এক সরকারি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ হাজার ৯০০টি এই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র গত এক বছরেই ৭০০টিরও বেশি ঘটনায় প্রায় ২০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ এটিএম বুথ থেকে হ্যাক করে চুরি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত এই চার ব্যক্তির দোষ প্রমাণিত হলে তাদের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

৩৫ মিনিট Ago
ফ্লোরিডায় সরকারি সাইনবোর্ড চুরি করে অনলাইনে বিক্রির দায়ে এক ব্যক্তি অভিযুক্ত | ছবি: এক্স
সরকারি সাইনবোর্ড চুরি করে ফেসবুকে বিক্রি, ফ্লোরিডার যুবকের ১০ বছরের জেল

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারি পার্ক থেকে ঐতিহ্যবাহী 'স্মোকি বেয়ার' সাইনবোর্ড চুরি করে অনলাইনে বিক্রির চেষ্টার অভিযোগে এক যুবকের বিরুদ্ধে ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি কর্তৃক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ফ্লোরিডার নর্দান ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জন হেকিন সোমবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সরকারি সম্পত্তি চুরির এই গুরুতর অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে ওই যুবককে সর্বোচ্চ ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড ভোগ করতে হতে পারে।   অভিযুক্ত যুবকের নাম হান্টার ড্রেক লাভেট এবং তার বয়স ৩০ বছর। তিনি ফ্লোরিডার পেস এলাকার বাসিন্দা বলে আদালতের নথিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই থেকে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।   মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এই ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৫ সালের জুলাই মাসে। তখন পেনসাকোলা, পানামা সিটি এবং অরল্যান্ডোর বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পার্ক ও বনভূমি থেকে বন্যপ্রাণী সচেতনতামূলক বিখ্যাত ভাল্লুকের ছবি সংবলিত সরকারি সাইনবোর্ড চুরির অভিযোগে লাভেটকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফেডারেল তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, লাভেট এই চুরির পর প্রতিটি সাইনবোর্ড ফেসবুক মার্কেটপ্লেসে ১ হাজার ৯০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি করার চেষ্টা করছিলেন।   লাভেটের এই অদ্ভুত চুরির কাণ্ড ও গ্রেপ্তারের পর সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। ফ্লোরিডার কৃষি কমিশনার উইল্টন সিম্পসন তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে এই সফল অভিযানের কথা তুলে ধরেন। তিনি রসাত্মকভাবে লিখেছিলেন যে, নির্বোধ অপরাধীরা যখন ভাল্লুকের সীমানায় গিয়ে ঝামেলা পাকায়, তখন ঠিক এমনটাই ঘটে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ সার্ভিস এবং ইউএস ফরেস্ট সার্ভিস যৌথভাবে এই চুরির ঘটনার মূল তদন্ত পরিচালনা করে। এই তদন্ত কাজে ফ্লোরিডার কৃষি ও ভোক্তা সেবা বিভাগ, কৃষি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ফ্লোরিডা ফরেস্ট সার্ভিস এবং আলাবামার ইউফলা পুলিশ বিভাগ সরাসরি সহায়তা প্রদান করে। মূলত রাজ্যজুড়ে ঘুরে ঘুরে বনের সম্পদ চুরি এবং তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিক্রির অপরাধের শিকড় উপড়ে ফেলতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

৪৮ মিনিট Ago
গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ বিল কমাতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখার পরামর্শ ‘জর্জিয়া পাওয়ার’-এর | ছবি: সিবিএস নিউজ
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বিদ্যুৎ বিল কমাতে হিমশিম খাচ্ছেন জর্জিয়ার বাড়িওয়ালারা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উপায় খুঁজছেন স্থানীয় বাড়িওয়ালারা। বিশেষ করে নতুন ও প্রথমবার যারা বাড়ি কিনেছেন, তীব্র গরমের এই মরসুমে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান খরচের লাগাম টানা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ক্যারিমাহ কলিন্স নামের এক নতুন বাড়িওয়ালা জানান, খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সহায়তায় বিশেষভাবে সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি একটি টাউনহোম বেছে নিয়েছেন। ভালো ইনসুলেশন বা তাপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকায় এই ধরণের বাড়িগুলো বেশ সাশ্রয়ী হয়। তবে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে বাড়ির দোতলার অংশটি তুলনামূলক বেশি গরম হয়ে যায়। তাই ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি কীভাবে সূর্যের তাপ আটকে খরচ কমানো যায়, সেই কৌশলগুলোই এখন রপ্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।   গ্রাহকদের সচেতন করতে 'জর্জিয়া পাওয়ার' নামের একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ম্যাথিউ কেন্ট জানান, গ্রীষ্মের বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশই খরচ হয় এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহারের কারণে। তাই ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার সময় থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা খরচ কমানোর সবচেয়ে বড় উপায়। তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি বাড়ালেই বিদ্যুৎ বিলের ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া রাতে বড় বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো, জানালা ও দরজার ফাঁকফোকর বন্ধ করা এবং দিনের বেলা জানালার পর্দা টেনে রাখার মতো পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   অন্যদিকে, 'ইন্টিগ্রিটি এয়ার অ্যান্ড হোম ইন্সপেকশন'-এর মালিক মেলভিন রবিনসন জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি, যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং ট্যারিফ বা শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এসি বা হিটিং সার্ভিসের খরচ ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ছোট ছোট সার্ভিসিং কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে বড় বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হচ্ছে, যার ফলে সেবা মূল্য দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ছে। তীব্র গরমে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, অন্যদিকে এসি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্তের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

১ ঘন্টা Ago
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের সামনে বিক্ষোভ; অভিবাসী সন্তানদের জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি লড়াই জোরদার | ছবি: রয়টার্স
আমেরিকা
জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলের ট্রাম্পের নির্দেশ খারিজ করে দিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট

অভিবাসন নীতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধাক্কা খেলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বা 'বার্থরাইট সিটিজেনশিপ' সীমিত করার লক্ষ্যে জারি করা ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করে দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সর্বোচ্চ আদালতের ৬-৩ বিচারকের সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে ট্রাম্পের এই বিতর্কিত পদক্ষেপটি খারিজ হয়ে যায়।   চলতি বছরে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় বড় কোনো নীতিগত পরাজয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ট্রাম্পের বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটিও বাতিল করেছিলেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবারের এই রায়ের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আদালত নিম্ন আদালতের সেই আদেশটিই বহাল রাখলেন, যা ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়েছিল। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই যদি মার্কিন নাগরিক বা গ্রিনকার্ডধারী না হন, তবে সেই শিশুর জন্মসূত্রে পাওয়া নাগরিকত্ব মার্কিন সংস্থাগুলো স্বীকৃতি দেবে না।   ট্রাম্পের এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলাকারীরা দাবি করেন, এই নির্দেশ মার্কিন সংবিধানের চতুর্দশ সংশোধনীর পরিপন্থী। আমেরিকার গৃহযুদ্ধের পর প্রণীত এই সংশোধনী অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া এবং দেশটির এক্তিয়ারভুক্ত সকল ব্যক্তিই জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী। সমালোচকরা শুরু থেকেই রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের এই অভিবাসন নীতিকে বর্ণ ও ধর্মভিত্তিক বৈষম্যমূলক বলে অভিহিত করে আসছিলেন।   আদালতের রক্ষণশীল প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস ১৮৯৮ সালের 'ইউনাইটেড স্টেটস বনাম ওং কিম আরক' ঐতিহাসিক মামলার নজির টেনে এই রায় দেন। ওই রায়ে স্পষ্ট বলা হয়েছিল, বিদেশী নাগরিকদের সন্তান হলেও মার্কিন মাটিতে জন্ম নিলে সে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে। প্রধান বিচারপতি তার রায়ে উল্লেখ করেন, গত ১২৮ বছর ধরে এই নিয়মটিই চলে আসছে এবং সংবিধানে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার মতো কোনো প্রমাণ বা উদ্দেশ্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।   আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উদযাপনের ঠিক আগে সুপ্রিম কোর্টের এই ঐতিহাসিক রায়টি এলো। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ট্রাম্পের এই বিতর্কিত নির্দেশটি কার্যকর হলে প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া প্রায় আড়াই লাখ শিশুর আইনি অবস্থান হুমকির মুখে পড়ত। নিউ হ্যাম্পশায়ারে কয়েকজন ভুক্তভোগী বাবা-মা ও সন্তানের যৌথ মামলার প্রেক্ষিতেই সর্বোচ্চ আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।   সূত্র: রয়টার্স

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ১২:৩০
ছবি: সংগৃহীত
পেট্রোলের দাম কমাতে মার্কিন বিক্রেতাদের ট্রাম্পের আল্টিমেটাম, না মানলে ‘বড় সমস্যার’ হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবিলম্বে জ্বালানির দাম কমানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, নির্দেশ না মানলে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতাদের জন্য ‘বড় ধরনের সমস্যা’ অপেক্ষা করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার মুখে থাকা ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, পেট্রোলের খুচরা বিক্রেতাদের অবশ্যই অবিলম্বে তেলের দাম কমাতে হবে। তিনি দাবি করেন, অতিরিক্ত মুনাফার জন্য অন্যায্যভাবে দাম বাড়ানো সম্পূর্ণ বেআইনি। ট্রাম্প বলেন, “খুচরা বিক্রেতারা যদি এটি না করে, তাহলে তাদের সামনে বড় ধরনের সমস্যা অপেক্ষা করছে।   প্রতি গ্যালন প্রায় আড়াই ডলারের পর্যায়ে দাম নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করুন।” তিনি আরও লেখেন, “খুচরা বিক্রেতাদের উচিত এই বক্তব্যের প্রতি দ্রুত সাড়া দেওয়া এবং তারা যা সঠিক বলে জানে, সেটিই করা। আমাদের মহান মার্কিন জনগণের জন্য দাম কমিয়ে দেওয়া।” ট্রাম্প বিশেষভাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে লক্ষ্য করে অঙ্গরাজ্যটির পেট্রোলের ওপর আরোপিত কর কমানোর আহ্বান জানান।   তিনি বলেন, “খুব শিগগিরই করের পরিমাণ পণ্যের দামের চেয়েও বেশি হয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্র এটি মেনে নেবে না, ক্যালিফোর্নিয়ার জনগণও মেনে নেবে না। তারা এই অযৌক্তিক কর এবং নিজেদের সরকারের কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।”   ডেমোক্র্যাট নেতা এবং ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে তার অন্যতম কড়া সমালোচক। বিশেষ করে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর ট্রাম্পের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন তিনি।   অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়া নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার আরও জোরদার করছে এবং আগামী ২০ বছরের মধ্যে কার্বন-নিরপেক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের পর পেট্রোলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছে।   এর অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে বড় ধরনের তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনার পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ক্যালিফোর্নিয়ার একটি তেল পাইপলাইন পুনরায় চালু করতে জরুরি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে প্রশাসন। এর আগে গত সপ্তাহেও ট্রাম্প বড় তেল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান।   গত ২৪ জুন ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, “বড় তেল কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে যে হারে কম দামে তেল কিনছে, সেই অনুপাতে তারা পাম্পে পেট্রোলের দাম কমাচ্ছে না।”   তিনি আরও বলেন, “তেলের দাম পাথরের মতো দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। অন্য কথায়, গ্রাহকদের কাছ থেকে অন্যায্যভাবে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। আমি বিচার বিভাগকে অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দিয়েছি।”   ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত এবং এর প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সমালোচনার মুখে রয়েছে। একই সঙ্গে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে থাকায় জ্বালানির মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষ হওয়ার পর জ্বালানির দাম “পাথরের মতো দ্রুত” কমে যাবে। তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত নন। তাদের মতে, সংঘাতের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং জ্বালানির দামে তার প্রতিফলনও দেখা যেতে পারে।

ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ
ফোন নম্বর ছাড়াই চলবে হোয়াটসঅ্যাপ, আসছে ইউজারনেমভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা

হোয়াটসঅ্যাপের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত 'ইউজারনেম' ফিচার অবশেষে অফিশিয়ালি ঘোষণা করা হয়েছে। এখন থেকে কাউকে মেসেজ পাঠাতে আর ব্যক্তিগত ফোন নম্বর শেয়ার করার প্রয়োজন হবে না, কেবল একটি নির্দিষ্ট ইউজারনেম থাকলেই চলবে।   তবে এই ঘোষণার পরপরই প্রযুক্তি বিশ্বে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রাম তাদের অফিশিয়াল এক্স হ্যান্ডেল থেকে হোয়াটসঅ্যাপকে কটাক্ষ করে মনে করিয়ে দিয়েছে যে, এই একই ফিচার টেলিগ্রামে ২০১৪ সাল থেকেই বিদ্যমান। অর্থাৎ, হোয়াটসঅ্যাপ যা ২০২৬ সালে নিয়ে এলো, টেলিগ্রাম তা এক যুগ আগেই ব্যবহারকারীদের দিয়ে আসছে।   ২০০৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপের যাত্রা শুরুর পর থেকে ফোন নম্বরই ছিল ব্যবহারকারীদের একমাত্র পরিচয়। কিন্তু এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল প্রাইভেসির অভাব। কাউকে মেসেজ করতে হলে নিজের ব্যক্তিগত নম্বর শেয়ার করা বাধ্যতামূলক থাকায় স্প্যাম মেসেজ এবং হয়রানির চরম ঝুঁকি থেকে যেত। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সমস্যাটি আরও গভীর, যেখানে অনেক নারীই নম্বর শেয়ার করে অপরিচিতদের কাছ থেকে মেসেজ আসার ভয়ে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না।   ইউজারনেম ফিচারটি এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি যুগান্তকারী সমাধান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। টেলিগ্রাম বা সিগন্যালের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য এই পরিবর্তন তুলনামূলক সহজ হলেও, হোয়াটসঅ্যাপের জন্য এটি ছিল এক বিশাল প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। কারণ, তাদের সম্পূর্ণ আর্কিটেকচার এবং এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন ফোন নম্বরকে কেন্দ্র করে তৈরি। প্রায় ৩০০ কোটি ব্যবহারকারীর এই বিশাল সিস্টেমের পুরনো ইনফ্রাস্ট্রাকচার নতুন করে সাজাতেই মূলত এত বছর সময় লেগেছে মেটার মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটির।   নতুন এই আপডেটের ফলে ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে নিজেদের পছন্দমতো একটি ইউজারনেম বেছে নিতে পারবেন, যেখানে ইংরেজি ছোট হাতের অক্ষর, সংখ্যা, পিরিয়ড বা আন্ডারস্কোর ব্যবহার করা যাবে। এর পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তার জন্য 'ইউজারনেম কি' (Username Key) নামক একটি চার ডিজিটের ঐচ্ছিক কোড যুক্ত করা হয়েছে। এই ফিচারটি চালু থাকলে, শুধুমাত্র ইউজারনেম জানলেই কেউ সরাসরি মেসেজ করতে পারবে না; তাকে চার ডিজিটের ঐচ্ছিক কোডটিও জানতে হবে। অন্যথায় প্রেরকের মেসেজটি সরাসরি ইনবক্সে না এসে 'রিকোয়েস্ট' ফোল্ডারে জমা হবে। প্রাইভেসির দিক থেকে এটি একটি বড় অগ্রগতি, কারণ নতুন কোনো ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি কেবল ইউজারনেমটিই দেখতে পাবেন। তবে ব্যবহারকারীর পুরোনো কন্টাক্ট লিস্টে থাকা ব্যক্তিরা আগের মতোই ফোন নম্বর দেখতে পারবেন।   হোয়াটসঅ্যাপের এই গ্লোবাল রোলআউটটি একযোগে সব জায়গায় না এসে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে। আগামী ৭ জুলাই থেকে আলজেরিয়া, আজারবাইজান, ঘানা, লিবিয়া এবং নেপালে এই ফিচারের সূচনা হতে যাচ্ছে। এরপর ২০ জুলাই আরও কিছু দেশে এবং চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বাকি সব দেশে এটি পুরোপুরি ব্যবহারযোগ্য হবে বলে জানা গেছে।   এই নতুন সংযোজন কেবল সাধারণ ব্যবহারকারীদের নয়, বরং হোয়াটসঅ্যাপ বিজনেসকেও আমূল বদলে দেবে। এখন থেকে কাস্টমারদের নম্বর সংগ্রহ করার বদলে ইউজারনেম ব্যবহার করেই ব্যবসায়িক যোগাযোগ অনেক সহজ ও সাবলীল হবে। ফোন নম্বরই পরিচয়ের একমাত্র মাধ্যম—এই সেকেলে ধারণাকে ভেঙে দিয়ে দীর্ঘ ১৩ বছরের অপেক্ষার পর অবশেষে ৩০০ কোটি মানুষের প্রাইভেসির সংজ্ঞাকেই নতুন করে লিখতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

মহাকাশে হামলা সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে ইসরায়েল
মহাকাশে হামলা সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে ইসরায়েল, জানালেন কাটজ

মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনায় রেখে নতুন ধরনের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে কাজ করছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে হামলা চালাতে সক্ষম এমন লেজার প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে তাদের সরকার।   সোমবার সামরিক প্রতিবেদকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে কাটজ বলেন, এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, এখনো পর্যন্ত কোনো দেশেরই মহাকাশ থেকে সরাসরি হামলা চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা নেই, তবে এই ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ইসরায়েল।   তিনি আরও বলেন, এই সক্ষমতা অর্জন করা গেলে তা শুধু প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেই নয়, বরং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত হানা ও সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুবিধা দেবে।   এর আগে গত বৃহস্পতিবারও কাটজ একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তিনি স্পষ্ট করে মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে ইসরায়েল স্থলভিত্তিক ‘আয়রন বিম’ নামে একটি লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা স্বল্প দূরত্বের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান থেকে লেজার নিক্ষেপের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কাটজের বক্তব্যে পরোক্ষভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ইসরায়েল ইরানের মহাকাশ-সম্পর্কিত কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যেগুলো স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়।   তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার দৌড়ে ইসরায়েল একা নয়। রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই নিজেদের স্যাটেলাইট ধ্বংস করে পরীক্ষামূলক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ফলে মহাকাশকে কেন্দ্র করে নতুন এক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট অচল করা বা ধ্বংস করার পাশাপাশি মহাকাশে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ এখন স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ, সংকেত জ্যামিং বা কক্ষপথ পরিবর্তনের মতো বিকল্প কৌশল নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা মহাকাশভিত্তিক সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য টেকসই করতে আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য জরুরি: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে দুই দেশের আমদানি-রপ্তানিতে ভারসাম্য আনা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, মুক্ত, ন্যায্য ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক বাণিজ্যই যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান বাণিজ্যনীতির মূল ভিত্তি।   সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচারিত এক টক শোতে অংশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, নতুন উড়োজাহাজ ক্রয়, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি খাত, স্বাস্থ্যসেবা এবং ভিসানীতি নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেন তিনি।   রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রপ্তানি করলেও, সে তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলকভাবে কম পণ্য আমদানি করে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে দেশ যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করবে, তার যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানিও বাড়ানো প্রয়োজন।   তিনি বলেন, বিশ্বের সব দেশ যদি কেবল যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য বিক্রি করে কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র থেকে কিছু না কেনে, তাহলে সেই বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে কোনো পক্ষের জন্যই টেকসই হবে না।   ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন জানান, এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি একটি পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। তার মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ আকর্ষণীয় শুল্ক সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে এর শর্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের কাস্টমস ব্যবস্থা, শ্রম খাত এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন ঘটবে। এসব সংস্কার বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।   রাষ্ট্রদূত বলেন, বাণিজ্য ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নতমানের গম ও কৃষিপণ্য আমদানি করছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন গমে অপচয়ের হার প্রায় ২ শতাংশ, যেখানে অন্যান্য দেশ থেকে আমদানি করা গমের ক্ষেত্রে প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত নষ্ট হতো।   তিনি আরও জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বহর সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।   বাংলাদেশের জ্বালানি খাত নিয়েও মন্তব্য করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ খাতে ১৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে আগ্রহী। তবে তাদের জন্য সরকারের দেওয়া শর্তগুলো বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক হওয়া প্রয়োজন।   ভিসানীতির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ব্যবস্থায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। অনেক আবেদনকারী ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবস্থান করেন অথবা ভুল তথ্য দিয়ে ভিসা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। জাল কাগজপত্র ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে মার্কিন দূতাবাস বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।   প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনা অনুযায়ী বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। বাংলাদেশ যাতে বিশ্বের উন্নতমানের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে।   স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার বিষয়েও তিনি আলোকপাত করেন। তিনি জানান, যক্ষ্মা ও হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে খুব শিগগিরই পাঁচ বছরের একটি নতুন স্বাস্থ্য সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটসহ বিভিন্ন শহরে বছরজুড়ে নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের উদ্যোগে ২৫০টি রিকশা যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার লাল, সাদা ও নীল রঙে সাজানো হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ইতিহাস তুলে ধরতে ‘ফাউন্ডার্স মিউজিয়াম’ নামে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হবে।   আলোচনার শেষদিকে বর্তমানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের দল নকআউট পর্বে ওঠায় বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মার্কিন দলকে সমর্থন করার আহ্বান জানান তিনি।

গ্রীষ্মে বিদ্যুৎ বিল কমাতে ঘর থেকে বের হওয়ার সময় থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখার পরামর্শ ‘জর্জিয়া পাওয়ার’-এর | ছবি: সিবিএস নিউজ
গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে বিদ্যুৎ বিল কমাতে হিমশিম খাচ্ছেন জর্জিয়ার বাড়িওয়ালারা

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে গ্রীষ্মের তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎ বিল ও জ্বালানি খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে নানা উপায় খুঁজছেন স্থানীয় বাড়িওয়ালারা। বিশেষ করে নতুন ও প্রথমবার যারা বাড়ি কিনেছেন, তীব্র গরমের এই মরসুমে ঘরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি ক্রমবর্ধমান খরচের লাগাম টানা তাদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   ক্যারিমাহ কলিন্স নামের এক নতুন বাড়িওয়ালা জানান, খরচ বাঁচানোর জন্য তিনি রিয়েল এস্টেট এজেন্টের সহায়তায় বিশেষভাবে সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি একটি টাউনহোম বেছে নিয়েছেন। ভালো ইনসুলেশন বা তাপনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকায় এই ধরণের বাড়িগুলো বেশ সাশ্রয়ী হয়। তবে গ্রীষ্মের মাসগুলোতে বাড়ির দোতলার অংশটি তুলনামূলক বেশি গরম হয়ে যায়। তাই ঘর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি কীভাবে সূর্যের তাপ আটকে খরচ কমানো যায়, সেই কৌশলগুলোই এখন রপ্ত করার চেষ্টা করছেন তিনি।   গ্রাহকদের সচেতন করতে 'জর্জিয়া পাওয়ার' নামের একটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বিনামূল্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র ম্যাথিউ কেন্ট জানান, গ্রীষ্মের বিদ্যুৎ বিলের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশই খরচ হয় এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ব্যবহারের কারণে। তাই ঘর থেকে বাইরে যাওয়ার সময় থার্মোস্ট্যাটের তাপমাত্রা বাড়িয়ে রাখা খরচ কমানোর সবচেয়ে বড় উপায়। তাপমাত্রা মাত্র ১ ডিগ্রি বাড়ালেই বিদ্যুৎ বিলের ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব। এছাড়া রাতে বড় বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি চালানো, জানালা ও দরজার ফাঁকফোকর বন্ধ করা এবং দিনের বেলা জানালার পর্দা টেনে রাখার মতো পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   অন্যদিকে, 'ইন্টিগ্রিটি এয়ার অ্যান্ড হোম ইন্সপেকশন'-এর মালিক মেলভিন রবিনসন জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুদ্রাস্ফীতি, যন্ত্রাংশের ঘাটতি এবং ট্যারিফ বা শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এসি বা হিটিং সার্ভিসের খরচ ২০১৯ সালের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়ে গেছে। একই সঙ্গে ছোট ছোট সার্ভিসিং কোম্পানিগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাজারে বড় বড় কোম্পানিগুলোর একচেটিয়া আধিপত্য তৈরি হচ্ছে, যার ফলে সেবা মূল্য দ্বিগুণ বা তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ছে। তীব্র গরমে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল বাড়ছে, অন্যদিকে এসি রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মধ্যবিত্তের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হচ্ছে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
মহাকাশে হামলা সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে ইসরায়েল
মহাকাশে হামলা সক্ষমতা অর্জনে কাজ করছে ইসরায়েল, জানালেন কাটজ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৮:৫২

মহাকাশকে ভবিষ্যৎ যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনায় রেখে নতুন ধরনের সামরিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে কাজ করছে ইসরায়েল। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, মহাকাশ থেকে হামলা চালাতে সক্ষম এমন লেজার প্রযুক্তি উন্নয়নের পরিকল্পনা নিয়েছে তাদের সরকার।   সোমবার সামরিক প্রতিবেদকদের সঙ্গে এক ব্রিফিংয়ে কাটজ বলেন, এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের সেরা মেধাবীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। তার ভাষায়, এখনো পর্যন্ত কোনো দেশেরই মহাকাশ থেকে সরাসরি হামলা চালানোর পূর্ণ সক্ষমতা নেই, তবে এই ক্ষেত্রে বিশ্বে শীর্ষস্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে ইসরায়েল।   তিনি আরও বলেন, এই সক্ষমতা অর্জন করা গেলে তা শুধু প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেই নয়, বরং শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে আঘাত হানা ও সামরিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সুবিধা দেবে।   এর আগে গত বৃহস্পতিবারও কাটজ একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে প্রথমবারের মতো তিনি স্পষ্ট করে মহাকাশভিত্তিক লেজার প্রযুক্তির কথা উল্লেখ করেন। ইতোমধ্যে ইসরায়েল স্থলভিত্তিক ‘আয়রন বিম’ নামে একটি লেজার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেছে, যা স্বল্প দূরত্বের হুমকি মোকাবিলায় ব্যবহারের জন্য পরিকল্পিত। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান থেকে লেজার নিক্ষেপের প্রযুক্তি নিয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, কাটজের বক্তব্যে পরোক্ষভাবে ইরানকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইঙ্গিত করা হয়েছে। চলতি বছরে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার সময় ইসরায়েল ইরানের মহাকাশ-সম্পর্কিত কয়েকটি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল, যেগুলো স্যাটেলাইট প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত বলে দাবি করা হয়।   তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতার দৌড়ে ইসরায়েল একা নয়। রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যেই নিজেদের স্যাটেলাইট ধ্বংস করে পরীক্ষামূলক সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে। ফলে মহাকাশকে কেন্দ্র করে নতুন এক প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, লেজার প্রযুক্তি ব্যবহার করে শত্রুপক্ষের স্যাটেলাইট অচল করা বা ধ্বংস করার পাশাপাশি মহাকাশে তৈরি হওয়া বিপজ্জনক ধ্বংসাবশেষ নিয়ন্ত্রণের সম্ভাবনাও রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ এখন স্যাটেলাইটে হস্তক্ষেপ, সংকেত জ্যামিং বা কক্ষপথ পরিবর্তনের মতো বিকল্প কৌশল নিয়েও গবেষণা চালাচ্ছে।   এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের নতুন পরিকল্পনা মহাকাশভিত্তিক সামরিক প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সীমান্ত এলাকায় চীনা উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ
সীমান্ত এলাকায় চীনা উপস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ, প্রশাসনের নজরদারির আহ্বান
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৮:২৯

ভারতের অরুণাচল প্রদেশের আন্তর্জাতিক সীমান্তঘেঁষা আপার সুবানসিরি জেলায় চীনা সেনাবাহিনীর অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে স্থানীয় নহ্ উপজাতি সম্প্রদায়। তাদের দাবি, গত কয়েক বছরে সীমান্তবর্তী এলাকায় ধীরে ধীরে নিজেদের উপস্থিতি বাড়িয়ে ঐতিহ্যগত চারণভূমি, শিকার এলাকা ও কৃষিজমির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সম্প্রতি আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনারের কাছে জমা দেওয়া এক স্মারকলিপিতে নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি কেরু চাদের এ অভিযোগ তুলে ধরেন।   স্মারকলিপিতে তিনি উল্লেখ করেন, কয়েক বছর আগেও যেসব এলাকায় স্থানীয়রা অবাধে যাতায়াত করতেন, বনজ সম্পদ সংগ্রহ করতেন এবং গবাদিপশু চরাতেন, সেসব অঞ্চল এখন তাদের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তার ভাষায়, “আমরা ধীরে ধীরে আমাদের পূর্বপুরুষদের ভূমি হারাচ্ছি।”   সংগঠনটির দাবি, তাকসিং রাজস্ব সার্কেলের আওতায় অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চীনা বাহিনী কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। সীমান্ত বরাবর পরিকল্পিতভাবে তাদের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।   নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির তথ্যমতে, ২০২০ সাল পর্যন্ত যেসব এলাকা স্থানীয়দের ঐতিহ্যগত ব্যবহারে ছিল, সেগুলোর বড় অংশ এখন পিএলএর নিয়ন্ত্রণে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তাকসিং সীমান্ত এলাকায় চীনের তৎপরতা ধীরে ধীরে বাড়ছে বলেও তারা দাবি করেছে।   অনুপ্রবেশের অভিযোগ ওঠা প্রধান এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আসাফিলা অঞ্চলের ওইং, চুজারতার পানিয়ার, মারনাফের মারপান, পোত্রাং লেক এবং তিনদিংতাং। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব এলাকা শুধু অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং কিছু স্থান তাদের কাছে পবিত্র হিসেবেও বিবেচিত।   স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়েছে, সীমান্তের ভেতরে প্রবেশ করে চীনা বাহিনী সড়ক নির্মাণ ও স্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের মতো কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।   তবে ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি আস্থা রেখেই স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির সভাপতি বলেন, সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত রক্ষায় দায়িত্ব পালন করছে, কিন্তু সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে চীনের তৎপরতার গতি ও ধরন নিয়ে নতুন করে চিন্তার সৃষ্টি হয়েছে।   বিষয়টিকে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পৃক্ত একটি সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে দেখছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও। নাচো আসনের বিধায়ক নাকাপ নালো বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে দ্রুত সরকারি তদন্ত প্রয়োজন।   তবে এ বিষয়ে আপার সুবানসিরির ডেপুটি কমিশনার গাম্বো তাসো বা অরুণাচল প্রদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই ভারত-চীন উত্তেজনা বিদ্যমান। সাম্প্রতিক এই অভিযোগ সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কেন্দ্রীয় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

সরকারি পরিসংখ্যানে ইসলাম গ্রহণের হার ঊর্ধ্বমুখী
কেরালায় ধর্মান্তরের প্রবণতা: সরকারি পরিসংখ্যানে ইসলাম গ্রহণের হার ঊর্ধ্বমুখী
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৭:৪৭

ভারতের কেরালা রাজ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধর্মান্তরের প্রবণতায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে সরকারি পরিসংখ্যান। রাজ্য সরকারের গেজেটভুক্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইসলাম ধর্ম গ্রহণের হার ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে, যা একই সময়ে ইসলাম ত্যাগকারীদের তুলনায় অনেক বেশি।   কেরালা সরকারের প্রকাশিত গেজেট তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে রাজ্যে ইসলাম ত্যাগ করেছিলেন ৪০ জন। বিপরীতে ওই বছর ১৪৪ জন নতুন করে ইসলাম গ্রহণ করেন। অর্থাৎ, গ্রহণকারীর সংখ্যা ত্যাগকারীদের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন গুণ বেশি ছিল। এদের একটি বড় অংশই হিন্দু সম্প্রদায় থেকে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণও উল্লেখযোগ্য।   চার বছরের ব্যবধানে এই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, ওই বছর ইসলাম ত্যাগ করেছেন মোট ৫৭ জন। এর মধ্যে ৩৬ জন হিন্দু ধর্মে এবং ২১ জন খ্রিষ্টধর্মে যোগ দেন। অন্যদিকে একই সময়ে ৩৪৩ জন ইসলাম গ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ২৭৬ জন হিন্দু এবং ৬৭ জন খ্রিষ্টান সম্প্রদায় থেকে এসেছেন। সে হিসেবে ইসলাম গ্রহণের হার ত্যাগের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি।   ধর্মান্তরের এই চিত্র শুধু ইসলাম ধর্মের ক্ষেত্রেই নয়, হিন্দু ধর্মের ক্ষেত্রেও একটি ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে। ২০২০ সালে অন্য ধর্ম থেকে ২৪১ জন হিন্দু ধর্মে ফিরে এলেও, সরকারি তথ্য বলছে তাদের বেশিরভাগই দলিত খ্রিষ্টান পটভূমির মানুষ। সংরক্ষণ সুবিধা পুনরুদ্ধারের মতো সামাজিক ও প্রশাসনিক কারণে তারা পুনরায় হিন্দু ধর্মে ফিরে আসেন বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   অন্যদিকে ২০২৪ সালের তথ্য আরও তাৎপর্যপূর্ণ। ওই বছর অন্য ধর্ম থেকে ৩৬৫ জন হিন্দু ধর্মে এলেও, একই সময়ে ৫১০ জন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করেছেন। এদের মধ্যে ২৭৬ জন ইসলাম এবং ২৩৪ জন খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করেছেন। ফলে নিট হিসাবে হিন্দু ধর্ম ত্যাগকারীর সংখ্যাই বেশি।   বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২০ সালে যেখানে ১১১ জন হিন্দু ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন, সেখানে ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৬-এ। বিপরীতে ইসলাম থেকে হিন্দু ধর্মে যাওয়ার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, কেরালার মতো শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সচেতন রাজ্যে ধর্মান্তরের এই প্রবণতা ব্যক্তিগত বিশ্বাস, সামাজিক অবস্থান এবং কিছু ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক বাস্তবতার সমন্বয়ে তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সংস্কৃতি, আন্তঃসম্প্রদায় সম্পর্ক এবং আইনগত কাঠামোও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে।   তবে এই পরিসংখ্যানের ব্যাখ্যা নিয়ে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, ধর্মান্তরের পেছনে ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও আস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, আবার অন্যরা সামাজিক ও কাঠামোগত কারণকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছেন।   সার্বিকভাবে সরকারি গেজেটের তথ্য বলছে, কেরালায় ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে একটি ধীর কিন্তু স্পষ্ট পরিবর্তন ঘটছে, যা ভবিষ্যতে রাজ্যের সামাজিক ও জনমিতিক কাঠামোয় প্রভাব ফেলতে পারে।   সূত্র: নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, নিউজলন্ড্রি

কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহ বিস্তার
কঙ্গোতে ইবোলার ভয়াবহ বিস্তার, আক্রান্ত ১,৩০৭, মৃত্যু ৩৭৭
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ৩০, ২০২৬ ৭:৩৮

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রে (ডিআর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ নতুন করে উদ্বেগজনক মাত্রা নিয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০৭ জনের শরীরে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ৩৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   সোমবার রাতে প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে কঙ্গোর স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইতুরি, উত্তর কিভু ও দক্ষিণ কিভু—এই তিনটি প্রদেশে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তবে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ চতুর্থ একটি প্রদেশ ওত-উয়েলেতেও ইবোলার উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে।   কঙ্গোর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বায়োমেডিকেল রিসার্চের (আইএনআরবি) একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ইতুরির রাজধানী বুনিয়া থেকে এক সংক্রমিত ব্যক্তি ওত-উয়েলে ভ্রমণ করার পর সেখানে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ওই ব্যক্তির মৃত্যুর খবরও নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ওত-উয়েলে প্রদেশটির সঙ্গে দক্ষিণ সুদান ও মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রের সীমান্ত রয়েছে, ফলে সীমান্তজুড়ে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।   আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সংক্রমণের উৎস শনাক্ত এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, সংঘাত-প্রবণ ও দুর্গম অঞ্চলে কাজ করতে গিয়ে স্বাস্থ্যকর্মীরা নানা বাধার মুখে পড়ছেন।   বিশেষ করে ইতুরি প্রদেশে পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এটি ডিআর কঙ্গোর ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবপ্রবণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে চলতি বছরের মে মাস থেকে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করে। এই অঞ্চলে প্রায় দেড় কোটি মানুষের বসবাস, ফলে ভাইরাসের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সময়ই সংক্রমণ বেশি ছড়াচ্ছে। আক্রান্ত ব্যক্তির মরদেহ স্পর্শ করার প্রচলিত সামাজিক রীতির কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিরাপদে দাফনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে স্থানীয় জনগণের অনীহার মুখে পড়ছেন সাহায্যকর্মীরা। কঙ্গোর অনেক এলাকায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া কয়েক দিন ধরে চলে এবং এ সময় মৃতদেহের সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শে আসা একটি সাধারণ ঘটনা।   ইতুরি প্রদেশের রুয়ামপারার একটি চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক ক্যাথরিন ওয়ামবুয়া-সোই জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা পর্যাপ্ত সুরক্ষাসামগ্রী, ওষুধ ও পরীক্ষার কিটের অভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, বেশ কয়েকবার চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হয়েছে। গত মাসে বিক্ষুব্ধ জনতা একটি কেন্দ্রে আগুন ধরিয়ে দেয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।   তার ভাষায়, “এখনও অনেক মানুষ সাহায্যকর্মীদের বিশ্বাস করেন না। অথচ সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তাদের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”   পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে রাজধানী কিনশাসাসহ চারটি প্রদেশে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এই পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে ইবোলার এই প্রাদুর্ভাব আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে নজরদারি জোরদার করারও আহ্বান জানানো হয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা, এএফপি

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
635 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
528 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
631 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
476 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়