যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কাছে ফেন্টানাইল মিশ্রিত নকল ও বিপজ্জনক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ভারতের একটি অনলাইন ফার্মেসির সঙ্গে যুক্ত ১৩ জন ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে নকল প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বা ওষুধ সরবরাহ করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই ১৩ জন ব্যক্তি কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স এবং এর মালিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তারা ভারত থেকে তাদের এই অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিলেন। এই চক্রটি অনুমোদনহীন অনলাইন ফার্মেসির আড়ালে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের কাছে নকল ওষুধ বিক্রি করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ওষুধের মধ্যে অতি বিপজ্জনক রাসায়নিক ‘ফেন্টানাইল’ মিশ্রিত ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম হুমকি। এই অবৈধ মাদক পাচার ও বিক্রি থেকেই এই চক্রটির আয়ের সিংহভাগ আসত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেন্টানাইলকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ (Weapon of Mass Destruction) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা এই অপরাধের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ মাদক সিন্ডিকেটগুলো নির্মূল করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যারা আমেরিকান নাগরিকদের বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা এই অশুভ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে, তাদের কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সীমান্ত পারের অপরাধ দমনে উভয় দেশের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এলো, যা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
কল্পবিজ্ঞানের মুভিগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় ল্যাবরেটরির কাঁচের জারে রাখা আছে মানুষের জীবন্ত মস্তিষ্ক, আর তার সঙ্গে সহস্র তার জুড়ে দিয়ে চালানো হচ্ছে শক্তিশালী কোনো সুপারকম্পিউটার। এতদিন এসব দৃশ্যকে নিছক পরিচালকের বুনো কল্পনা ভেবে যারা উড়িয়ে দিতেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক চমকপ্রদ বাস্তবতা। প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য এই সন্ধিক্ষণে বিশাল সব ডেটা সেন্টারে সারি সারি সিলিকন চিপের জায়গা দখল করতে যাচ্ছে জীবন্ত কোষ তথা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন। আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এই প্রথম সিলিকন চিপ নয়, বরং সম্পূর্ণ জৈবিক উপাদানের সমন্বয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম জীবন্ত ডেটা সেন্টার। বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জয়জয়কারের ফলে ডেটা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা এখন আকাশচুম্বী। তবে এই কেন্দ্রগুলোর প্রাণভোমরা আধুনিক সিলিকন চিপের আকাশচুম্বী দাম এবং এগুলো চালাতে প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ এখন বিশ্বজুড়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল বিদ্যুৎ খরচ ও চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞানীরা এক জাদুকরী ও টেকসই সমাধানের সন্ধান পেয়েছেন, যা হলো জৈবিক কম্পিউটার। সিলিকন চিপের বদলে মস্তিষ্কের নিউরন ব্যবহার করার ফলে বিদ্যুৎ খরচ যেমন অবিশ্বাস্যভাবে হ্রাস পাবে, তেমনি কম্পিউটিং সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি ‘কোর্টিক্যাল ল্যাবস’। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন দিয়ে তৈরি দুটি জৈবিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে গোটা প্রযুক্তি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কোর্টিক্যাল ল্যাবস এর আগেও তাদের ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি নিউরনের সাহায্যে ক্লাসিক ভিডিও গেম ‘পং’ খেলিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে তারা বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, তাদের ফ্ল্যাগশিপ জৈবিক কম্পিউটার ‘সিএল১’ মাত্র এক সপ্তাহের অনুশীলনে বর্তমান বিশ্বের অত্যন্ত জটিল ও জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ডুম’ (Doom) দারুণভাবে আয়ত্ত করে ফেলেছে। জীবন্ত কোষের এই ডেটা সেন্টার প্রযুক্তির বিবর্তনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি কেবল একটি সাশ্রয়ী সমাধানই নয়, বরং তথ্যের প্রক্রিয়াকরণে মানুষের জৈবিক কাঠামোর অবিশ্বাস্য ক্ষমতার সফল প্রয়োগ। সিলিকন যুগের পর এবার মানুষের নিউরনের এই অভাবনীয় যাত্রা কম্পিউটিং জগতের ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আধুনিক জীবনের প্রতিটি মোড়ে এখন শৈশবের এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরের ড্রয়িংরুম—সবখানেই শিশুদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিন। চোখের পলক না ফেলে দীর্ঘক্ষণ শর্ট ভিডিও কিংবা রিল স্ক্রল করে যাওয়া এখনকার শিশুদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ব্যস্ত অভিভাবকরা শিশুকে শান্ত রাখতে কিংবা নিজের কাজে মনোযোগ দিতে অবলীলায় তাদের হাতে এই প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি নিরীহ মনে হলেও, এর আড়ালে শিশুদের মানসিক ও ভাষাগত বিকাশে কতটা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার একদল গবেষক তাদের এক গবেষণায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব এবং বয়ঃসন্ধির শুরুতে যারা নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের শব্দভান্ডার এবং পড়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ছোট ভিডিও বা ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় শিশুরা নতুন নতুন শব্দ শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে তারা সাধারণ শব্দ চিনতে এবং সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের ডিজিটাল আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে কঠোর আইনি তৎপরতা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের আরও অনেক দেশ এখন শিশুদের সুরক্ষায় একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। ঠিক এমন এক সময়ে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার এই গবেষণাটি জনসমক্ষে এলো, যা শিশুদের হাতে প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে অভিভাবকদের সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA) -এর ৪০তম কনভেনশন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের স্বাগতিক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)। সম্প্রতি আয়োজকরা ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট কমিটি ও বিভিন্ন সাব-কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তালিকায় কনভেনরের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. জয়নুল আবেদীন এবং কো-কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হাবিব আহমেদ টিয়া। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল। আয়োজক কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী প্রেসিডেন্ট, মাসুদ রব চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টা, মোহাম্মদ এস হক প্রধান সমন্বয়ক এবং ড. মুশফিকুল হক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কনভেনশন সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিদ আহমেদ মিঠু, স্কলারশিপ কমিটির দায়িত্বে আছেন ড. ইউনুস রাহী, ইয়ুথ ফোরাম কমিটির চেয়ারম্যান রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান লাসকার আল মামুন, রেজিস্ট্রেশন কমিটির দায়িত্বে শফিক রহমান, গেস্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যালেন এলিয়াস খান, গেস্ট অ্যাকমোডেশন কমিটির দায়িত্বে মেহেদী হাসান এবং স্টল ও বুথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মো শওকত আনজিম। ফোবানা আয়োজকরা জানান, এবারের ফোবানা কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, ফুড ফেস্টিভ্যাল এবং বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ। আয়োজকরা আরও জানান, উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এবারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের ফোবানা কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবারের আয়োজনে অংশ নেবেন। আয়োজকদের বলেন, ফোবানা এখন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, সংস্কৃতি, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির অন্যতম প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত বছর জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানা কনভেনশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
আধুনিক জীবনের প্রতিটি মোড়ে এখন শৈশবের এক ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরের ড্রয়িংরুম—সবখানেই শিশুদের মনোযোগ কেড়ে নিয়েছে স্মার্টফোনের উজ্জ্বল স্ক্রিন। চোখের পলক না ফেলে দীর্ঘক্ষণ শর্ট ভিডিও কিংবা রিল স্ক্রল করে যাওয়া এখনকার শিশুদের প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ব্যস্ত অভিভাবকরা শিশুকে শান্ত রাখতে কিংবা নিজের কাজে মনোযোগ দিতে অবলীলায় তাদের হাতে এই প্রযুক্তি তুলে দিচ্ছেন। তবে আপাতদৃষ্টিতে এটি নিরীহ মনে হলেও, এর আড়ালে শিশুদের মানসিক ও ভাষাগত বিকাশে কতটা গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার একদল গবেষক তাদের এক গবেষণায় অত্যন্ত উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশ করেছেন। গবেষণায় দেখা গেছে, শৈশব এবং বয়ঃসন্ধির শুরুতে যারা নিয়মিত ও দীর্ঘ সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, তাদের শব্দভান্ডার এবং পড়ার ক্ষমতা মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার ছোট ভিডিও বা ভিজ্যুয়াল কন্টেন্টে অভ্যস্ত হয়ে পড়ায় শিশুরা নতুন নতুন শব্দ শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এর ফলে তারা সাধারণ শব্দ চিনতে এবং সঠিকভাবে উচ্চারণ করতে গিয়ে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের শিক্ষার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের ডিজিটাল আসক্তির হাত থেকে রক্ষা করতে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে কঠোর আইনি তৎপরতা। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার মতো যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশ্বের আরও অনেক দেশ এখন শিশুদের সুরক্ষায় একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা গুরুত্বের সাথে ভাবছে। ঠিক এমন এক সময়ে ইউনিভার্সিটি অব জর্জিয়ার এই গবেষণাটি জনসমক্ষে এলো, যা শিশুদের হাতে প্রযুক্তির লাগাম টেনে ধরার প্রয়োজনীয়তাকে আরও জোরালো করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কেবল আইন নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে অভিভাবকদের সচেতনতাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA) -এর ৪০তম কনভেনশন এ বছর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে। এবারের স্বাগতিক সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)। সম্প্রতি আয়োজকরা ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের হোস্ট কমিটি ও বিভিন্ন সাব-কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তালিকায় কনভেনরের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. জয়নুল আবেদীন এবং কো-কনভেনর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন হাবিব আহমেদ টিয়া। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ ইকবাল। আয়োজক কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন মোয়াজ্জেম এইচ চৌধুরী প্রেসিডেন্ট, মাসুদ রব চৌধুরী প্রধান উপদেষ্টা, মোহাম্মদ এস হক প্রধান সমন্বয়ক এবং ড. মুশফিকুল হক কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কনভেনশন সফলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে একাধিক সাব-কমিটি গঠন করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহিদ আহমেদ মিঠু, স্কলারশিপ কমিটির দায়িত্বে আছেন ড. ইউনুস রাহী, ইয়ুথ ফোরাম কমিটির চেয়ারম্যান রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন কমিটির চেয়ারম্যান লাসকার আল মামুন, রেজিস্ট্রেশন কমিটির দায়িত্বে শফিক রহমান, গেস্ট রিলেশনস কমিটির চেয়ারম্যান অ্যালেন এলিয়াস খান, গেস্ট অ্যাকমোডেশন কমিটির দায়িত্বে মেহেদী হাসান এবং স্টল ও বুথ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে মো শওকত আনজিম। ফোবানা আয়োজকরা জানান, এবারের ফোবানা কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা, ফ্যাশন শো, ফুড ফেস্টিভ্যাল এবং বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ। আয়োজকরা আরও জানান, উত্তর আমেরিকায় বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরাই এবারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বৃহত্তর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে হলিউড ও ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের ফোবানা কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ অনেক বেড়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, কমিউনিটি নেতা, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবারের আয়োজনে অংশ নেবেন। আয়োজকদের বলেন, ফোবানা এখন শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, সংস্কৃতি, ঐক্য ও কমিউনিটির শক্তির অন্যতম প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গত বছর জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ফোবানা কনভেনশন ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেসে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
কল্পবিজ্ঞানের মুভিগুলোতে প্রায়ই দেখা যায় ল্যাবরেটরির কাঁচের জারে রাখা আছে মানুষের জীবন্ত মস্তিষ্ক, আর তার সঙ্গে সহস্র তার জুড়ে দিয়ে চালানো হচ্ছে শক্তিশালী কোনো সুপারকম্পিউটার। এতদিন এসব দৃশ্যকে নিছক পরিচালকের বুনো কল্পনা ভেবে যারা উড়িয়ে দিতেন, তাদের জন্য অপেক্ষা করছে এক চমকপ্রদ বাস্তবতা। প্রযুক্তির অবিশ্বাস্য এই সন্ধিক্ষণে বিশাল সব ডেটা সেন্টারে সারি সারি সিলিকন চিপের জায়গা দখল করতে যাচ্ছে জীবন্ত কোষ তথা মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন। আধুনিক প্রযুক্তির ইতিহাসে এই প্রথম সিলিকন চিপ নয়, বরং সম্পূর্ণ জৈবিক উপাদানের সমন্বয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রথম জীবন্ত ডেটা সেন্টার। বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জয়জয়কারের ফলে ডেটা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা এখন আকাশচুম্বী। তবে এই কেন্দ্রগুলোর প্রাণভোমরা আধুনিক সিলিকন চিপের আকাশচুম্বী দাম এবং এগুলো চালাতে প্রয়োজনীয় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ এখন বিশ্বজুড়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিশাল বিদ্যুৎ খরচ ও চিপের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিজ্ঞানীরা এক জাদুকরী ও টেকসই সমাধানের সন্ধান পেয়েছেন, যা হলো জৈবিক কম্পিউটার। সিলিকন চিপের বদলে মস্তিষ্কের নিউরন ব্যবহার করার ফলে বিদ্যুৎ খরচ যেমন অবিশ্বাস্যভাবে হ্রাস পাবে, তেমনি কম্পিউটিং সক্ষমতার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। এই বৈপ্লবিক পরিবর্তনের নেতৃত্বে রয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক স্টার্টআপ কোম্পানি ‘কোর্টিক্যাল ল্যাবস’। প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি মানুষের মস্তিষ্কের নিউরন দিয়ে তৈরি দুটি জৈবিক ডেটা সেন্টার নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে গোটা প্রযুক্তি বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কোর্টিক্যাল ল্যাবস এর আগেও তাদের ল্যাবরেটরিতে কৃত্রিমভাবে তৈরি নিউরনের সাহায্যে ক্লাসিক ভিডিও গেম ‘পং’ খেলিয়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিল। এমনকি চলতি বছরের মার্চ মাসের শুরুতে তারা বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, তাদের ফ্ল্যাগশিপ জৈবিক কম্পিউটার ‘সিএল১’ মাত্র এক সপ্তাহের অনুশীলনে বর্তমান বিশ্বের অত্যন্ত জটিল ও জনপ্রিয় ভিডিও গেম ‘ডুম’ (Doom) দারুণভাবে আয়ত্ত করে ফেলেছে। জীবন্ত কোষের এই ডেটা সেন্টার প্রযুক্তির বিবর্তনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এটি কেবল একটি সাশ্রয়ী সমাধানই নয়, বরং তথ্যের প্রক্রিয়াকরণে মানুষের জৈবিক কাঠামোর অবিশ্বাস্য ক্ষমতার সফল প্রয়োগ। সিলিকন যুগের পর এবার মানুষের নিউরনের এই অভাবনীয় যাত্রা কম্পিউটিং জগতের ইতিহাসকে চিরতরে বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের কাছে ফেন্টানাইল মিশ্রিত নকল ও বিপজ্জনক ওষুধ বিক্রির অভিযোগে ভারতের একটি অনলাইন ফার্মেসির সঙ্গে যুক্ত ১৩ জন ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে ২০২৬) মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই কঠোর পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ‘কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে নকল প্রেসক্রিপশন ড্রাগ বা ওষুধ সরবরাহ করে আসছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই ১৩ জন ব্যক্তি কেএস ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডার্স এবং এর মালিকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। তারা ভারত থেকে তাদের এই অবৈধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে আসছিলেন। এই চক্রটি অনুমোদনহীন অনলাইন ফার্মেসির আড়ালে হাজার হাজার মার্কিন নাগরিকের কাছে নকল ওষুধ বিক্রি করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব ওষুধের মধ্যে অতি বিপজ্জনক রাসায়নিক ‘ফেন্টানাইল’ মিশ্রিত ছিল, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম হুমকি। এই অবৈধ মাদক পাচার ও বিক্রি থেকেই এই চক্রটির আয়ের সিংহভাগ আসত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। উল্লেখ্য, বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেন্টানাইলকে ‘গণবিধ্বংসী অস্ত্র’ (Weapon of Mass Destruction) হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যা এই অপরাধের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে। মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপ মূলত অবৈধ মাদক সিন্ডিকেটগুলো নির্মূল করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের দীর্ঘস্থায়ী ও যৌথ অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। ওয়াশিংটন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যারা আমেরিকান নাগরিকদের বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা এই অশুভ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছে, তাদের কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সীমান্ত পারের অপরাধ দমনে উভয় দেশের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি আবারও সামনে এলো, যা দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে আরও জোরালো করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন মার্কেটপ্লেস ইবে (eBay) কে অধিগ্রহণের জন্য দেওয়া প্রায় ৫৫.৫ বিলিয়ন ডলারের (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭ হাজার কোটি টাকা) প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে প্রতিষ্ঠানটি। প্রস্তাবটি দিয়েছিল ভিডিও গেম বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান গেমস্টপ (GameStop) যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে “মিম স্টক” হিসেবে ব্যাপক আলোচনায় আসে। ইবে (eBay) এর পরিচালনা পর্ষদ জানিয়েছে, গেমস্টপ (GameStop) এর প্রস্তাব “অযাচিত” এবং “বিশ্বাসযোগ্য বা আকর্ষণীয় নয়”। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, eBay বর্তমানে একটি শক্তিশালী ও লাভজনক ব্যবসা পরিচালনা করছে এবং তাদের নিজস্ব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সফলভাবেই এগোচ্ছে। eBay বোর্ডের পক্ষ থেকে গেমস্টপ (GameStop) এর সিইও রায়ান কোহেনকে পাঠানো এক চিঠিতে বলা হয়, এই অধিগ্রহণ বাস্তবায়ন হলে নতুন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও নেতৃত্ব কাঠামো নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে গেমস্টপ (GameStop) এর পরিচালনা পর্ষদের অভিজ্ঞতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে eBay। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, শুরু থেকেই এই প্রস্তাব বাস্তবসম্মত ছিল না। কারণ গেমস্টপ (GameStop) এর বাজারমূল্য eBay-এর তুলনায় অনেক কম। এছাড়া এত বড় চুক্তির অর্থায়ন কীভাবে হবে, সেটিও পরিষ্কার ছিল না। যদিও গেমস্টপ (GameStop) দাবি করেছিল, তারা টিডি সিকিউরিটিজের কাছ থেকে প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার ঋণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এত বড় ঋণের চাপ ভবিষ্যতে eBay-এর ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারত। বর্তমানে Amazon, Etsy এবং Temu-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মধ্যেও eBay নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে গেমস্টপ (GameStop) এর সিইও রায়ান কোহেন এখনই পিছু হটার ইঙ্গিত দেননি। তিনি জানিয়েছেন, বোর্ড প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও তিনি সরাসরি ইবে (eBay) এর শেয়ারহোল্ডারদের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে ইবে (eBay) এর নিট মুনাফা বেড়ে ৪১৮.৪ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। ফলে বিশ্লেষকদের ধারণা, শক্তিশালী আর্থিক অবস্থানের কারণেই প্রতিষ্ঠানটি অধিগ্রহণ প্রস্তাব সহজেই ফিরিয়ে দিতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের বাঙালি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছেন অনন্যা চন্দ জেসি। ডেট্রয়েটের ক্যাস টেক হাইস্কুলের এই শিক্ষার্থী প্রায় ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১৭ কোটি টাকার শিক্ষা বৃত্তি অর্জন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বখ্যাত হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অনন্যা মিশিগানপ্রবাসী বিশ্বেশ্বর চন্দ ও শেলী শীল দম্পতির দ্বিতীয় কন্যা। তার এই সাফল্যের খবরে স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটিতে আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনন্যা জানান, তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘প্রি-মেড’ বিষয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে এই অর্জন তাকে নতুন আত্মবিশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অনন্যা বলেন, পড়াশোনা শেষ করে তিনি মেট্রো ডেট্রয়েট অঞ্চলের মানুষের সেবায় কাজ করতে চান। শিক্ষাজীবনে অনন্যা একাডেমিক কৃতিত্বের পাশাপাশি নেতৃত্বমূলক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি ‘ন্যাশনাল অনার সোসাইটি’র সভাপতি এবং ‘অ্যাকাডেমিক গেমস’-এর সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি মিশিগান মেডিসিনের অ্যাডোলেসেন্ট হেলথ ইনিশিয়েটিভের রিচ বোর্ড এবং ‘ওমেন অব বাংলাটাউন ইউথ অ্যাডভাইজরি কাউন্সিল’-এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মেধার স্বীকৃতি হিসেবে অনন্যা ‘পালাজো স্ট্রজি’ পুরস্কারও অর্জন করেছেন। এই পুরস্কারের আওতায় ইতালিতে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। তবে সব সুযোগের মধ্যে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়কেই নিজের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। নিজের এই সাফল্যের পেছনে বাবা-মা ও মেন্টরদের অবদানের কথা উল্লেখ করে অনন্যা বলেন, তাদের সমর্থন ও অনুপ্রেরণাই তাকে এগিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। কনিষ্ঠ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অনন্যার বার্তা, “কখনো নিজের সম্ভাবনাকে সীমাবদ্ধ করে রাখবে না। মনে রাখবে, সাময়িক ব্যর্থতাও ভবিষ্যতের বড় সাফল্যের ভিত্তি হতে পারে।”
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘানার একটি গ্রামের দরিদ্র যুবক আল-হাসান আবদুল্লাহকে ঘিরে একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভাইরাল হওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তুরস্কের একটি চলচ্চিত্র দলের ড্রোন একদিন তার গ্রামের কাছে পড়ে যায়। সেটি খুঁজতে গিয়ে দলটি আল-হাসানকে ড্রোনটি হাতে দেখতে পায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিবরণে বলা হয়, ওই সময় তিনি মজার ছলে প্রশ্ন করেন, “এর চেয়ে বড় কোনো ড্রোন আছে কি, যা আমাকে মক্কায় নিয়ে যেতে পারে?” এরপর তার এই মন্তব্য এবং মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দাবি করা হয়, ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আল-হাসানকে হজ পালনের জন্য স্পনসর করা হয় এবং তিনি হজে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মূলত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গল্প হিসেবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। গল্পটির শেষ অংশে বলা হয়, মানুষের জীবন কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে ঘিরে পরিবর্তিত হতে পারে এবং সুযোগ আসে এমন জায়গা থেকে, যা আগে কল্পনাও করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।