Live update news
যুক্তরাষ্ট্রে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া নেওয়ার আগে বাড়িওয়ালার সঙ্গে কথাবার্তায় সতর্ক থাকা জরুরি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা

গত এক দশকে অনেকের জন্যই নিজের বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়াবাড়িতে জীবনযাপন করাটা বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বিষয়ক ওয়েবসাইট 'রিয়েল্টর ডটকম'-এর (Realtor.com) অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ ৫০টি মেট্রোপলিটন শহরে এখনও বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই বেশি সাশ্রয়ী। তবে, পকেটে টাকা থাকলেই যে আপনি আপনার স্বপ্নের মতো একটি বাসা সহজেই ভাড়া পেয়ে যাবেন, বিষয়টি এতটাও সহজ নয়।   বাড়িওয়ালার মন জয় করা এবং নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও ঝামেলামুক্ত ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রমাণ করার প্রক্রিয়ায় আপনি এমন কিছু কথা মুখ ফসকে বলে ফেলতে পারেন, যার কারণে ভালো একটি বাসা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। একটি দারুণ বাসা পাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাসা পরিদর্শনের সময় কিছু কথা একেবারেই বলা উচিত নয়। চলুন জেনে নিই এমন ৫টি বিষয় সম্পর্কে:   ১. 'আমি আমার বর্তমান বাড়িওয়ালাকে একদম পছন্দ করি না' নতুন বাসা দেখতে গেলে বাড়িওয়ালা স্বভাবতই জানতে চাইবেন কেন আপনি আগের বাসা ছাড়ছেন। এক্ষেত্রে খুব সাবধানে উত্তর দিন। ভুলেও বর্তমান বা সাবেক বাড়িওয়ালা, ম্যানেজমেন্ট বা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের নামে বদনাম করবেন না। হয়তো আপনার আগের বাসা ছাড়ার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে, কিন্তু নতুন বাড়িওয়ালার সেটি যাচাই করার কোনো উপায় নেই। রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার 'রেনটেক ডাইরেক্ট'-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর কেসি ওয়েগনার জানান, "কোনো আবেদনকারী যদি তার বর্তমান বাসা নিয়ে খুব বেশি নেতিবাচক কথা বলেন, তবে নতুন বাড়িওয়ালা তাকে 'ঝামেলাপূর্ণ' বলে ধরে নিতে পারেন। একজন অভিযোগকারী ভাড়াটিয়াকে সামলাতে বাড়িওয়ালাকে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়।" এর বদলে আপনি বলতে পারেন, 'আমার আরও বড় জায়গা দরকার' বা 'আমি আমার অফিসের কাছাকাছি থাকতে চাই'।   ২. 'আপনাকে আরও একটি প্রশ্ন করতে চাই' আপনি যে বাসায় অন্তত এক বছর বা তার বেশি থাকবেন, সেই বাসা এবং আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা যাবে না। নিউইয়র্কভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান 'ট্রিপলমিন্ট'-এর এজেন্ট ক্রিসৌলা পাপাউটসাকিসের মতে, আপনি যদি সবকিছু নিয়েই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করেন, তবে বাড়িওয়ালা আপনাকে 'খুঁতখুঁতে স্বভাবের' বা 'অভিযোগকারী' মনে করতে পারেন। তাই কেবল প্রাসঙ্গিক ও জরুরি প্রশ্নগুলোই করুন। যেমন, রান্নাঘরের কাউন্টারটপ তাপ-সহনশীল কি না, তা জানতে চাওয়া যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু ফ্লোরের কাঠ অরিজিনাল নাকি লেমিনেট করা এমন সূক্ষ্ম প্রশ্ন করাটা একটু বাড়াবাড়ি। বাসা পরিদর্শনের সময় অযথাই এক ঘণ্টা ধরে প্রশ্ন করতে থাকলে আপনি বাড়িওয়ালার পছন্দের তালিকা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন।   ৩. 'আমি একটি কুকুরছানা আনার জন্য আর তর সইতে পারছি না' আপনি হয়তো পোষা প্রাণী পছন্দ করেন এবং এমন বাসাই খুঁজছেন যেখানে এগুলো রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু তাই বলে এখনই কুকুরছানা (পাপি) বা নতুন কোনো প্রাণী আনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবেন না। ওয়েগনার সতর্ক করে বলেন, "পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি থাকলেও কোনো বাড়িওয়ালাই কুকুরছানার কথা শুনে খুব একটা খুশি হবেন না। বয়স্ক প্রাণীর চেয়ে ছানারা বাসার অনেক বেশি ক্ষতি করে।" শুরুতে শুধু পোষা প্রাণী রাখার নিয়মকানুন জেনে নেওয়াটাই যথেষ্ট। কিছুদিন সেই বাসায় থাকার পর নিজেকে দায়িত্বশীল প্রমাণ করে, তারপর নতুন পোষা প্রাণী আনার কথা জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ।   ৪. 'আমার সঙ্গী বা পার্টনার এই বাসার কাছেই কাজ করে' আপনি যদি একাই চুক্তিনামায় (লিজ) স্বাক্ষর করেন, তবে অযথা আপনার প্রেমিক, প্রেমিকা বা সঙ্গীর কথা উল্লেখ করতে যাবেন না। ওয়েগনারের মতে, চুক্তিতে নাম নেই এমন কোনো সঙ্গীর কথা বারবার উল্লেখ করলে বাড়িওয়ালার মনে সন্দেহ জাগতে পারে যে, ওই ব্যক্তিও হয়তো এই বাসাতেই বেশি সময় কাটাবেন। বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয় ও রেড ফ্ল্যাগ। কারণ, চুক্তিতে নাম না থাকা ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড বা অপরাধের রেকর্ড চেক করা সম্ভব হয় না। আপনার অতিথি যদি বাসার কোনো ক্ষতি করে বা গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজায়, তবে বাড়িওয়ালার পক্ষে তাকে বের করে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা আইনিভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।   ৫. 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই' ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো স্বাধীনতা। চুক্তি শেষ হলেই আপনি চাইলে বাসা বদলাতে পারেন। কিন্তু বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি মোটেও স্বস্তির খবর নয়। প্রতিবার নতুন ভাড়াটিয়া খোঁজা তাদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তারা এমন ভাড়াটিয়া খোঁজেন যারা অন্তত কয়েক বছর থিতু হবেন। পাপাউটসাকিস পরামর্শ দেন, "প্রথম দেখাতেই এমন ধারণা দেওয়া উচিত যে আপনি দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকতে চান এবং বাসাটিকে নিজের বাড়ির মতোই যত্ন করবেন।" পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আপনি পরে সিদ্ধান্ত বদলাতেই পারেন, কিন্তু শুরুতেই 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই'—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

১৮ মিনিট Ago
হ্যাম্পটনের মেডো লেনে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে জুলিয়া কোচের। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে সন্তানদের জন্য একটি বড় পারিবারিক আবাসন গড়ে তুলছেন। এ উদ্দেশ্যে সাউদাম্পটনের অভিজাত মেডো লেনে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে নতুন একটি জমি কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি আগে কেনা বাড়িগুলোতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজও চলছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স।   জুলিয়া কোচ প্রয়াত শিল্পপতি ডেভিড কোচের স্ত্রী। ২০১৯ সালের আগস্টে ৭৯ বছর বয়সে ডেভিড কোচ মারা যাওয়ার পর তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে জুলিয়া কোচ পরিবারের বিপুল সম্পদের অন্যতম উত্তরাধিকারী হন। ফোর্বসের হিসাবে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জুলিয়া কোচ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১.২ বিলিয়ন ডলার।   হ্যাম্পটনের মেডো লেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাউদাম্পটনের সমুদ্রতীরবর্তী এই সড়কটি বিপুল সম্পদের মালিকদের আবাসস্থল হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বিলিয়নিয়ার লেন’ নামেও পরিচিত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় এক ডজন সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।   জুলিয়া কোচের এই এলাকায় আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনা ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারের জমিটি তার বিদ্যমান সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে সন্তানদের জন্য একটি পারিবারিক কম্পাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে পেজ সিক্স জানিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মেডো লেনে একটি বড় বাড়ি কিনেছিলেন জুলিয়া কোচ। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ২২ হাজার বর্গফুটের এই টিউডর-ধাঁচের বাড়িতে ১৫টি শয়নকক্ষ রয়েছে। সম্পত্তিটির সঙ্গে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতও রয়েছে।   বাড়িটি কেনার সময় সেটি বেশ কিছুটা জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন বাড়িটিকে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পেজ সিক্স জানিয়েছে, এই সংস্কারে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। মেডো লেনে জুলিয়া কোচের আরেকটি বাড়িও রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। এই সড়কে আরও বেশ কয়েকজন ধনী ও পরিচিত ব্যক্তির সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নতুন জমি কেনার মাধ্যমে ওই এলাকায় কোচ পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়ল।   বিলাসবহুল সম্পত্তি সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলিয়া কোচের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে তার ৪০ মিলিয়ন ডলারের টাউনহাউস সংস্কারের কাজে খ্যাতিমান নকশাবিদ পিটার মারিনোকে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। পাম বিচের একটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজের জন্য ২০০৮ সালে তিনি ব্যালিঞ্জার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন।   ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত বেশ গোপনীয় জুলিয়া কোচ। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে খুব বেশি দেখা যায় না। পেজ সিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাকে হ্যাম্পটনে ওয়াশিংটন পোস্টের উত্তরাধিকারী ল্যালি ওয়েমাউথের চতুর্থ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। পরদিন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের একটি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৯ সালে স্বামী ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি।   ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর জুলিয়া কোচ ও তাদের তিন সন্তান কোচ পরিবারের ব্যবসায় বড় অংশীদারিত্বের মালিক হন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তারা কোচ ইনকরপোরেটেডের ৪২ শতাংশ অংশীদারিত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। কোচ পরিবারের এই ব্যবসায়িক সম্পদই জুলিয়া কোচের বিপুল সম্পদের মূল উৎস।   হ্যাম্পটনে সাম্প্রতিক এই বিনিয়োগ তাই শুধু একটি নতুন জমি কেনার ঘটনা নয়। একাধিক বাড়ি ও জমি একত্র করে সন্তানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক আবাসন গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পেজ সিক্স। একই সঙ্গে পুরোনো সম্পত্তিতে বড় অঙ্কের সংস্কারকাজ চালিয়ে সেগুলোকে আরও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।

৩৬ মিনিট Ago
ডাকযোগে ভোট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প

ডাকযোগে ভোট বা মেইল-ইন ব্যালট ব্যবস্থাকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে বারবার সমালোচনা করলেও নিজেই আবার সেই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ডাকযোগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, পাম বিচ কাউন্টির ভোটিং রেকর্ড অনুযায়ী, ট্রাম্প গত জুলাইয়ের শেষের দিকে একটি মেইল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ১৩ আগস্ট তিনি সেটি পূরণ করে জমা দেন। এ নিয়ে চলতি বছর নিজের বর্তমান ঠিকানা ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ডাকযোগে ভোট দিলেন ট্রাম্প।   এর আগে গত মার্চ মাসে ফ্লোরিডার একটি বিশেষ নির্বাচনেও ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন, যদিও সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে এই পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করছিলেন। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানিয়েছিল, যখন সশরীরে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল, তখন ট্রাম্প পাম বিচেই অবস্থান করছিলেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য তখন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হওয়া সমালোচনাকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।   ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন তরুণ ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'ভোটারস অব টুমরো'-এর নির্বাহী পরিচালক সান্তিয়াগো মেয়ার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এটি সত্যিই একটি হাস্যকর ব্যাপার। ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভাবেন আমরা সবাই বোকা। প্রেসিডেন্ট দিনের পর দিন ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, আবার নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দেন। তিনি যদি ডাকযোগে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে এত স্বাচ্ছন্দ্যে মিথ্যা বলতে পারেন, তবে ভেবে দেখুন তিনি আমাদের কাছে আরও কত বিষয় নিয়ে মিথ্যা বলছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি একজন চরম ভণ্ড এবং গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এখন সময় এসেছে এমন একটি কংগ্রেস নির্বাচন করার, যারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।”   এ বিষয়ে নিউজউইকের পক্ষ থেকে সোমবার ইমেইলের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। গত জুলাই মাসেও ট্রাম্প ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থাকে "পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি এই ব্যবস্থার ব্যবহার সীমিত করার পক্ষে মত দিয়ে বলেছিলেন, এটি কেবল অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা, সামরিক দায়িত্ব পালন বা ভ্রমণের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত।   তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাননি তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা। ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক কোটি ডাকযোগে পড়া ভোটের মধ্যে বড়জোর চারটিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল।   এদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের প্রামাণ্য দলিল বাধ্যতামূলক করতে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের জন্য কংগ্রেসের ওপর চাপ প্রয়োগের নানা কৌশল অবলম্বন করছেন ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলের সঙ্গে এই ভোটিং বিলটি জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের মাধ্যমে বিলটিকে সর্বোচ্চ আইনি অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।   ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, এই প্রস্তাবটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে। তবে বিরোধীদের মতে, এটি যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোট দেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে। আর অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার যে সমস্যার কথা বলে এই বিল পাসের চেষ্টা করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো বড় ভিত্তি নেই।   সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' নিয়ে এক পোস্টে ট্রাম্প ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি লেখেন, “চলতি মাসের শুরুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন বৈধ ছবিযুক্ত আইডি ছাড়া আপনারা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন করেন? ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার অংশ নিয়েছিলেন! সেখানে ১ শতাংশেরও কম মানুষ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন এবং প্রতিটি ভোটারের কাছে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছিল। আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করতে হবে!”

১ ঘন্টা Ago
মেক্সিকোর নাগরিক মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দণ্ডিত মেক্সিকোর এক নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ (আইসিই)। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।,   আলবেমার্ল কাউন্টি সার্কিট কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে ভাসকেজ রেইনা ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানের প্রতি অভিভাবকের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথিতে ঘটনাটি ২০১৮ সালে ঘটেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে পাঁচ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ওই সাজার পাঁচ বছর স্থগিত করা হয়। ভার্জিনিয়ার সরকারি যৌন অপরাধী নিবন্ধনেও তার ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মার্চেই ভাসকেজ রেইনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও অপহরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের নথিতে যে অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন, সেটিই তার দণ্ডের ভিত্তি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোমবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ডিএইচএস জানায়, আইসিই ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে। সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রসঙ্গে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জানায়, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আশ্রয়ের সুযোগ নেই। ভাসকেজ রেইনার বিরুদ্ধে তার কিশোরী মেয়েকে যৌনভাবে হয়রানি এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগও ছিল বলে দ্য ডেইলি প্রগ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে মেয়েটি পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় ভয়ের মধ্যে ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ভাসকেজ রেইনাকে বহিষ্কারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভার্জিনিয়ায় অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সঙ্গে জড়িত অপরাধের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগ নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গারও অভিবাসন প্রয়োগের বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার পূর্বসূরি রিপাবলিকান গভর্নর গ্লেন ইয়াংকিনের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন, যেখানে রাজ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে স্প্যানবার্গার রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে আইসিইর সঙ্গে ২৮৭(জি) চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমের জন্য রাজ্যের সম্পত্তি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেন।   তবে ভাসকেজ রেইনার মামলাটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ ও তার পরবর্তী অভিবাসন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ঘটনার ভিত্তিতে ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সামগ্রিকভাবে একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভাসকেজ রেইনার বহিষ্কারের বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটাল ভার্জিনিয়ার গভর্নরের কার্যালয়, আলবেমার্ল কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এবং কাউন্টির কমনওয়েলথ অ্যাটর্নির কার্যালয়ের মন্তব্য চেয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ডিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভাসকেজ রেইনার ক্ষেত্রে আদালতে দোষ স্বীকার ও সাজা ঘোষণার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

১ ঘন্টা Ago
লাইফস্টাইল
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা

গত এক দশকে অনেকের জন্যই নিজের বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়াবাড়িতে জীবনযাপন করাটা বেশি সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের রিয়েল এস্টেট বিষয়ক ওয়েবসাইট 'রিয়েল্টর ডটকম'-এর (Realtor.com) অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষ ৫০টি মেট্রোপলিটন শহরে এখনও বাড়ি কেনার চেয়ে ভাড়া থাকাই বেশি সাশ্রয়ী। তবে, পকেটে টাকা থাকলেই যে আপনি আপনার স্বপ্নের মতো একটি বাসা সহজেই ভাড়া পেয়ে যাবেন, বিষয়টি এতটাও সহজ নয়।   বাড়িওয়ালার মন জয় করা এবং নিজেকে একজন দায়িত্বশীল ও ঝামেলামুক্ত ভাড়াটিয়া হিসেবে প্রমাণ করার প্রক্রিয়ায় আপনি এমন কিছু কথা মুখ ফসকে বলে ফেলতে পারেন, যার কারণে ভালো একটি বাসা হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে। একটি দারুণ বাসা পাওয়ার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে বাসা পরিদর্শনের সময় কিছু কথা একেবারেই বলা উচিত নয়। চলুন জেনে নিই এমন ৫টি বিষয় সম্পর্কে:   ১. 'আমি আমার বর্তমান বাড়িওয়ালাকে একদম পছন্দ করি না' নতুন বাসা দেখতে গেলে বাড়িওয়ালা স্বভাবতই জানতে চাইবেন কেন আপনি আগের বাসা ছাড়ছেন। এক্ষেত্রে খুব সাবধানে উত্তর দিন। ভুলেও বর্তমান বা সাবেক বাড়িওয়ালা, ম্যানেজমেন্ট বা রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীদের নামে বদনাম করবেন না। হয়তো আপনার আগের বাসা ছাড়ার পেছনে যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে, কিন্তু নতুন বাড়িওয়ালার সেটি যাচাই করার কোনো উপায় নেই। রিয়েল এস্টেট ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার 'রেনটেক ডাইরেক্ট'-এর মার্কেটিং ডিরেক্টর কেসি ওয়েগনার জানান, "কোনো আবেদনকারী যদি তার বর্তমান বাসা নিয়ে খুব বেশি নেতিবাচক কথা বলেন, তবে নতুন বাড়িওয়ালা তাকে 'ঝামেলাপূর্ণ' বলে ধরে নিতে পারেন। একজন অভিযোগকারী ভাড়াটিয়াকে সামলাতে বাড়িওয়ালাকে অনেক ঝক্কি পোহাতে হয়।" এর বদলে আপনি বলতে পারেন, 'আমার আরও বড় জায়গা দরকার' বা 'আমি আমার অফিসের কাছাকাছি থাকতে চাই'।   ২. 'আপনাকে আরও একটি প্রশ্ন করতে চাই' আপনি যে বাসায় অন্তত এক বছর বা তার বেশি থাকবেন, সেই বাসা এবং আশেপাশের পরিবেশ নিয়ে আপনার মনে প্রশ্ন থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু তাই বলে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করা যাবে না। নিউইয়র্কভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান 'ট্রিপলমিন্ট'-এর এজেন্ট ক্রিসৌলা পাপাউটসাকিসের মতে, আপনি যদি সবকিছু নিয়েই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রশ্ন করেন, তবে বাড়িওয়ালা আপনাকে 'খুঁতখুঁতে স্বভাবের' বা 'অভিযোগকারী' মনে করতে পারেন। তাই কেবল প্রাসঙ্গিক ও জরুরি প্রশ্নগুলোই করুন। যেমন, রান্নাঘরের কাউন্টারটপ তাপ-সহনশীল কি না, তা জানতে চাওয়া যুক্তিসঙ্গত। কিন্তু ফ্লোরের কাঠ অরিজিনাল নাকি লেমিনেট করা এমন সূক্ষ্ম প্রশ্ন করাটা একটু বাড়াবাড়ি। বাসা পরিদর্শনের সময় অযথাই এক ঘণ্টা ধরে প্রশ্ন করতে থাকলে আপনি বাড়িওয়ালার পছন্দের তালিকা থেকে ছিটকে পড়তে পারেন।   ৩. 'আমি একটি কুকুরছানা আনার জন্য আর তর সইতে পারছি না' আপনি হয়তো পোষা প্রাণী পছন্দ করেন এবং এমন বাসাই খুঁজছেন যেখানে এগুলো রাখার অনুমতি আছে। কিন্তু তাই বলে এখনই কুকুরছানা (পাপি) বা নতুন কোনো প্রাণী আনার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করবেন না। ওয়েগনার সতর্ক করে বলেন, "পোষা প্রাণী রাখার অনুমতি থাকলেও কোনো বাড়িওয়ালাই কুকুরছানার কথা শুনে খুব একটা খুশি হবেন না। বয়স্ক প্রাণীর চেয়ে ছানারা বাসার অনেক বেশি ক্ষতি করে।" শুরুতে শুধু পোষা প্রাণী রাখার নিয়মকানুন জেনে নেওয়াটাই যথেষ্ট। কিছুদিন সেই বাসায় থাকার পর নিজেকে দায়িত্বশীল প্রমাণ করে, তারপর নতুন পোষা প্রাণী আনার কথা জানানোই বুদ্ধিমানের কাজ।   ৪. 'আমার সঙ্গী বা পার্টনার এই বাসার কাছেই কাজ করে' আপনি যদি একাই চুক্তিনামায় (লিজ) স্বাক্ষর করেন, তবে অযথা আপনার প্রেমিক, প্রেমিকা বা সঙ্গীর কথা উল্লেখ করতে যাবেন না। ওয়েগনারের মতে, চুক্তিতে নাম নেই এমন কোনো সঙ্গীর কথা বারবার উল্লেখ করলে বাড়িওয়ালার মনে সন্দেহ জাগতে পারে যে, ওই ব্যক্তিও হয়তো এই বাসাতেই বেশি সময় কাটাবেন। বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি একটি বড় চিন্তার বিষয় ও রেড ফ্ল্যাগ। কারণ, চুক্তিতে নাম না থাকা ব্যক্তির ব্যাকগ্রাউন্ড বা অপরাধের রেকর্ড চেক করা সম্ভব হয় না। আপনার অতিথি যদি বাসার কোনো ক্ষতি করে বা গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গান বাজায়, তবে বাড়িওয়ালার পক্ষে তাকে বের করে দেওয়া বা ক্ষতিপূরণ আদায় করা আইনিভাবে কঠিন হয়ে পড়ে।   ৫. 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই' ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার অন্যতম বড় সুবিধা হলো স্বাধীনতা। চুক্তি শেষ হলেই আপনি চাইলে বাসা বদলাতে পারেন। কিন্তু বাড়িওয়ালাদের জন্য এটি মোটেও স্বস্তির খবর নয়। প্রতিবার নতুন ভাড়াটিয়া খোঁজা তাদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। তারা এমন ভাড়াটিয়া খোঁজেন যারা অন্তত কয়েক বছর থিতু হবেন। পাপাউটসাকিস পরামর্শ দেন, "প্রথম দেখাতেই এমন ধারণা দেওয়া উচিত যে আপনি দীর্ঘস্থায়ীভাবে থাকতে চান এবং বাসাটিকে নিজের বাড়ির মতোই যত্ন করবেন।" পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে আপনি পরে সিদ্ধান্ত বদলাতেই পারেন, কিন্তু শুরুতেই 'আমি ঘন ঘন বাসা বদলাই'—এমন কথা বলা থেকে বিরত থাকুন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২২:৩৭
যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন সাবেক সেনাদের জন্য ২৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা, বিনা মূল্যে পাবেন খাবার, ফোন ও যাতায়াত সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে গৃহহীন অবস্থায় থাকা সাবেক সেনাদের জন্য নতুন একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করছে দেশটির ভেটেরান্স অ্যাফেয়ার্স বিভাগ (ভিএ)। এ কর্মসূচির আওতায় খাবার, পোশাক, প্রয়োজনীয় সামগ্রী, স্মার্টফোন, অস্থায়ী আবাসন এবং যাতায়াতসহ বিভিন্ন মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার বরাদ্দ করা হয়েছে।   ভিএ জানিয়েছে, এই অর্থের মধ্যে ১ কোটি ১০ লাখ ডলার বিভিন্ন পণ্য ও সেবা দেওয়ার জন্য এবং বাকি ১ কোটি ৮০ লাখ ডলার যাতায়াত সহায়তার জন্য রাখা হয়েছে। গৃহহীন সাবেক সেনাদের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের আবাসন সহায়তা কর্মসূচি ‘হাড-ভ্যাশ’-এ অংশ নেওয়া যোগ্য সাবেক সেনারাও এই সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।   ভিএর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ আগামী অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মাধ্যমে পণ্য ও সেবা দেওয়া শুরু হতে পারে। অন্যদিকে যাতায়াত সেবার জন্য চুক্তি সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর এসব পরিবহন সুবিধা চালু হবে।   ভিএর সচিব ডগ কলিন্স বলেছেন, গৃহহীন সাবেক সেনাদের রাস্তায় থাকা থেকে বিরত রাখতে বিভাগটি বিভিন্ন উদ্যোগে অগ্রগতি করছে এবং নতুন কর্মসূচিটি সেই প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।   নতুন কর্মসূচির আওতায় যোগ্য সাবেক সেনারা খাবার, পোশাক, কম্বল, পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীসহ নিরাপত্তা ও দৈনন্দিন জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিস পেতে পারেন। যারা রাস্তায় বা ঘরের বাইরে রাত কাটান, তাদের জন্য তাঁবু ও স্লিপিং ব্যাগের মতো সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   আবাসনের ক্ষেত্রেও রয়েছে সহায়তার সুযোগ। যোগ্য ব্যক্তিদের ভাড়া ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। এমনকি আগের কয়েক মাসের বকেয়া ভাড়া বা বিলও নির্দিষ্ট শর্তে পরিশোধ করা হতে পারে, যদি এর মাধ্যমে ওই সাবেক সেনা আবাসন পেতে পারেন বা বর্তমান আবাসন ধরে রাখতে পারেন।   এ ছাড়া নিরাপত্তা জামানত, ইউটিলিটি সংযোগের জামানত, বাসা বদলের খরচ এবং স্বল্পমেয়াদি জিনিসপত্র রাখার খরচও এই সহায়তার আওতায় আসতে পারে। সাধারণভাবে ভাড়া ও ইউটিলিটি সহায়তা দুই বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ মাস পর্যন্ত দেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন বলে ভিএর চিকিৎসকরা মনে করলে ব্যতিক্রমের সুযোগ রাখা হয়েছে।   অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থাও করা হবে। প্রয়োজন হলে হোটেল বা মোটেলে স্বল্পমেয়াদি থাকার খরচ কর্মসূচির অর্থ থেকে বহন করা যেতে পারে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আসবাব, বিছানাপত্র, রান্নার সরঞ্জাম, ছোট গৃহস্থালি যন্ত্রপাতি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীও দেওয়া হতে পারে।   যোগাযোগের সুবিধা নিশ্চিত করতেও সহায়তা দেওয়া হবে। ভিএর চিকিৎসকরা প্রয়োজন মনে করলে সাবেক সেনাদের স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, একবার ব্যবহারযোগ্য ফোন এবং ফোনের সংযোগের খরচ দেওয়া হতে পারে। এর উদ্দেশ্য হলো তারা যেন চিকিৎসক, সরকারি সেবা প্রদানকারী, সম্ভাব্য বাড়ির মালিক কিংবা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেন।   যাতায়াতের ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তৃত সুবিধা। সরকারি পরিবহনের ভাউচার বা যাতায়াত সেবার মাধ্যমে চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া, বাসা খোঁজা, চাকরি খোঁজা, আদালত বা আইনি কাজে যাওয়া, জরুরি আবাসনের ব্যবস্থা করা এবং খাবার ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহের মতো কাজে সহায়তা দেওয়া হতে পারে।   তবে এই অর্থ সরাসরি নগদ হিসেবে সাবেক সেনাদের হাতে দেওয়া হবে না। ভিএর চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় পণ্য কিনবে অথবা সংশ্লিষ্ট সেবার মূল্য সরাসরি পরিশোধ করবে। প্রধানত সমাজকর্মীসহ ভিএর সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকর্মীরা প্রত্যেক ব্যক্তির পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে কোন ধরনের সহায়তা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করবেন।   কর্মসূচির আওতায় আসার জন্য একজন সাবেক সেনাকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত গৃহহীনতার সংজ্ঞার আওতায় পড়তে হবে। এর মধ্যে স্থায়ী ও পর্যাপ্ত রাত কাটানোর জায়গা না থাকা, আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা কিংবা ঘুমানোর জন্য নির্ধারিত নয় এমন জায়গায় বসবাসের মতো পরিস্থিতি রয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে যারা শিগগিরই বাসস্থান হারাতে পারেন এবং বিকল্প থাকার জায়গা নেই, তারাও এই সংজ্ঞার আওতায় পড়তে পারেন। পারিবারিক সহিংসতা বা অনুরূপ হুমকির কারণে অনিরাপদ আবাসনে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিধান রয়েছে।   এ ছাড়া হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সাবেক সেনারাও নতুন সহায়তা পেতে পারেন। এই কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন ও নগর উন্নয়ন বিভাগ (হাড) ভাড়ার ভাউচার দেয় এবং ভিএ আবাসন ধরে রাখা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য কেস ম্যানেজমেন্ট সেবা দেয়। স্থানীয় আবাসন কর্তৃপক্ষ ভাড়ার সহায়তা পরিচালনা করে এবং ভিএর কর্মীরা সাবেক সেনাদের বাসা খুঁজে পাওয়া ও তা ধরে রাখতে সহায়তা করেন।   গৃহহীন সাবেক সেনাদের পরিস্থিতিতে গত দেড় দশকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ভিএর ২০২৫ সালের ‘পয়েন্ট-ইন-টাইম’ হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে এক রাতে যুক্তরাষ্ট্রে ৩২ হাজার ৪৯৫ জন সাবেক সেনা গৃহহীন অবস্থায় ছিলেন। ২০০৯ সালে এই হিসাব শুরু হওয়ার পর এটি সর্বনিম্ন সংখ্যা। ২০১০ সালের তুলনায় সংখ্যাটি ৫৬ দশমিক ১ শতাংশ কমেছে।   ২০২৫ অর্থবছরে ভিএ ৫১ হাজার ৯৩৬ জন গৃহহীন সাবেক সেনাকে স্থায়ী আবাসনে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে, যা সাত বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ভিএর তথ্য অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে স্থায়ী আবাসন পাওয়া এসব ব্যক্তির ৯৬ দশমিক ২ শতাংশ অর্থবছর শেষ হওয়ার সময়ও আবাসনে ছিলেন।   তবে গৃহহীনতা কমলেও আবাসন ও জনবল সংকট এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৬ সালের মার্চে প্রকাশিত সরকারি হিসাব নিরীক্ষা সংস্থার (জিএও) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছরের মধ্যে হাড-ভ্যাশ কর্মসূচিতে কেস ম্যানেজারের ১৪ থেকে ১৮ শতাংশ পদ খালি ছিল। ২০২৪ অর্থবছরে ১২৯টি ভিএ চিকিৎসাকেন্দ্রের মধ্যে ৩৩টিতে কেস ম্যানেজারের অন্তত ২০ শতাংশ পদ শূন্য ছিল।   জিএও আরও জানিয়েছে, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে হাড-ভ্যাশে পাঠানোর জন্য বিবেচিত ১ লাখ ৭৪ হাজার ৪৫টি ক্ষেত্রে সাবেক সেনাদের শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচিতে পাঠানো হয়নি। এর মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ২৯৬টি ক্ষেত্রে কেন পাঠানো হয়নি, সে বিষয়ে কোনো কারণ নথিভুক্ত করা হয়নি। সংস্থাটি বলেছে, এ ধরনের তথ্যের ঘাটতির কারণে কোথায় অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন এবং কতজন সাবেক সেনা সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।   অর্থাৎ নতুন ২ কোটি ৯০ লাখ ডলারের কর্মসূচিটি গৃহহীন সাবেক সেনাদের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি তাদের চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত রাখার একটি অতিরিক্ত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে। তবে এর বাস্তব প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো এবং প্রয়োজনীয় জনবল ও আবাসনের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর।

ডাকযোগে ভোটকে ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ বললেও ফ্লোরিডায় নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দিলেন ট্রাম্প

ডাকযোগে ভোট বা মেইল-ইন ব্যালট ব্যবস্থাকে ‘পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত’ বলে বারবার সমালোচনা করলেও নিজেই আবার সেই পদ্ধতিতে ভোট দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফ্লোরিডায় রিপাবলিকান পার্টির প্রাইমারি নির্বাচনে তিনি ডাকযোগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো জানিয়েছে, পাম বিচ কাউন্টির ভোটিং রেকর্ড অনুযায়ী, ট্রাম্প গত জুলাইয়ের শেষের দিকে একটি মেইল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিলেন। এরপর মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত প্রাইমারি নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে, গত ১৩ আগস্ট তিনি সেটি পূরণ করে জমা দেন। এ নিয়ে চলতি বছর নিজের বর্তমান ঠিকানা ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে দ্বিতীয়বারের মতো ডাকযোগে ভোট দিলেন ট্রাম্প।   এর আগে গত মার্চ মাসে ফ্লোরিডার একটি বিশেষ নির্বাচনেও ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট দিয়েছিলেন, যদিও সেই সময় তিনি প্রকাশ্যে এই পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করছিলেন। সে সময় ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হওয়ার কারণেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) সে সময় জানিয়েছিল, যখন সশরীরে আগাম ভোট দেওয়ার সুযোগ ছিল, তখন ট্রাম্প পাম বিচেই অবস্থান করছিলেন। হোয়াইট হাউস অবশ্য তখন ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হওয়া সমালোচনাকে 'ভিত্তিহীন' বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।   ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন তরুণ ভোটারদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন 'ভোটারস অব টুমরো'-এর নির্বাহী পরিচালক সান্তিয়াগো মেয়ার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইককে ইমেইলে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “এটি সত্যিই একটি হাস্যকর ব্যাপার। ডোনাল্ড ট্রাম্প হয়তো ভাবেন আমরা সবাই বোকা। প্রেসিডেন্ট দিনের পর দিন ডাকযোগে ভোট দেওয়ার বিরুদ্ধে বিষোদগার করেন, আবার নিজেই সেই পদ্ধতিতে ভোট দেন। তিনি যদি ডাকযোগে ভোটের স্বচ্ছতা নিয়ে এত স্বাচ্ছন্দ্যে মিথ্যা বলতে পারেন, তবে ভেবে দেখুন তিনি আমাদের কাছে আরও কত বিষয় নিয়ে মিথ্যা বলছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে তিনি একজন চরম ভণ্ড এবং গণতন্ত্রের জন্য একটি বড় হুমকি। এখন সময় এসেছে এমন একটি কংগ্রেস নির্বাচন করার, যারা এই দুর্নীতিগ্রস্ত প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনবে।”   এ বিষয়ে নিউজউইকের পক্ষ থেকে সোমবার ইমেইলের মাধ্যমে হোয়াইট হাউসের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি। গত জুলাই মাসেও ট্রাম্প ডাকযোগে ব্যালট ব্যবস্থাকে "পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত" বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তিনি এই ব্যবস্থার ব্যবহার সীমিত করার পক্ষে মত দিয়ে বলেছিলেন, এটি কেবল অসুস্থতা, শারীরিক অক্ষমতা, সামরিক দায়িত্ব পালন বা ভ্রমণের মতো বিশেষ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা উচিত।   তবে ট্রাম্পের এই দাবির সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল পাননি তথ্য যাচাইকারী বিশেষজ্ঞরা। ডাকযোগে ভোটে ব্যাপক জালিয়াতির কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ২০২৫ সালের ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি এক কোটি ডাকযোগে পড়া ভোটের মধ্যে বড়জোর চারটিতে জালিয়াতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট ডাকযোগে দেওয়া হয়েছিল।   এদিকে, কেন্দ্রীয় নির্বাচনে ভোটার নিবন্ধনের জন্য মার্কিন নাগরিকত্বের প্রামাণ্য দলিল বাধ্যতামূলক করতে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' পাসের জন্য কংগ্রেসের ওপর চাপ প্রয়োগের নানা কৌশল অবলম্বন করছেন ট্রাম্প। এর অংশ হিসেবে তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বিলের সঙ্গে এই ভোটিং বিলটি জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্টের মাধ্যমে বিলটিকে সর্বোচ্চ আইনি অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরে আইনপ্রণেতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন।   ট্রাম্পের সমর্থকদের দাবি, এই প্রস্তাবটি নির্বাচনী স্বচ্ছতা আরও বৃদ্ধি করবে। তবে বিরোধীদের মতে, এটি যোগ্য নাগরিকদের জন্য ভোট দেওয়াকে আরও কঠিন করে তুলবে। আর অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার যে সমস্যার কথা বলে এই বিল পাসের চেষ্টা করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো বড় ভিত্তি নেই।   সোমবার ট্রুথ সোশ্যালে 'সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট' নিয়ে এক পোস্টে ট্রাম্প ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থার উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি লেখেন, “চলতি মাসের শুরুতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার আমাদের প্রশাসনকে জিজ্ঞেস করেছিলেন বৈধ ছবিযুক্ত আইডি ছাড়া আপনারা কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন করেন? ভারতের সর্বশেষ নির্বাচনে ৬৪ কোটি ৬০ লাখ ভোটার অংশ নিয়েছিলেন! সেখানে ১ শতাংশেরও কম মানুষ ডাকযোগে ভোট দিয়েছেন এবং প্রতিটি ভোটারের কাছে বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র ছিল। আমাদের এখনই সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট পাস করতে হবে!”

হ্যাম্পটনের মেডো লেনে একাধিক সম্পত্তি রয়েছে জুলিয়া কোচের। ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে জমি কিনে সন্তানদের জন্য বাড়ি বানাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ

যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী নারী জুলিয়া কোচ নিউইয়র্কের হ্যাম্পটনে সন্তানদের জন্য একটি বড় পারিবারিক আবাসন গড়ে তুলছেন। এ উদ্দেশ্যে সাউদাম্পটনের অভিজাত মেডো লেনে ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারে নতুন একটি জমি কিনেছেন তিনি। পাশাপাশি আগে কেনা বাড়িগুলোতে কয়েক মিলিয়ন ডলারের সংস্কারকাজও চলছে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পেজ সিক্স।   জুলিয়া কোচ প্রয়াত শিল্পপতি ডেভিড কোচের স্ত্রী। ২০১৯ সালের আগস্টে ৭৯ বছর বয়সে ডেভিড কোচ মারা যাওয়ার পর তাদের তিন সন্তানকে নিয়ে জুলিয়া কোচ পরিবারের বিপুল সম্পদের অন্যতম উত্তরাধিকারী হন। ফোর্বসের হিসাবে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত জুলিয়া কোচ ও তার পরিবারের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৮১.২ বিলিয়ন ডলার।   হ্যাম্পটনের মেডো লেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম অভিজাত আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত। সাউদাম্পটনের সমুদ্রতীরবর্তী এই সড়কটি বিপুল সম্পদের মালিকদের আবাসস্থল হওয়ায় অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বিলিয়নিয়ার লেন’ নামেও পরিচিত। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের হিসাবে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত এই সড়কে প্রায় এক ডজন সম্পত্তি হাতবদল হয়েছে, যার সম্মিলিত মূল্য ২২০ মিলিয়ন ডলারের বেশি।   জুলিয়া কোচের এই এলাকায় আগে থেকেই একাধিক সম্পত্তি রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কেনা ৩৩.৫ মিলিয়ন ডলারের জমিটি তার বিদ্যমান সম্পত্তিগুলোর সঙ্গে যুক্ত করে সন্তানদের জন্য একটি পারিবারিক কম্পাউন্ড তৈরির পরিকল্পনার অংশ বলে পেজ সিক্স জানিয়েছে। এর আগে ২০২২ সালে মেডো লেনে একটি বড় বাড়ি কিনেছিলেন জুলিয়া কোচ। বাড়িটির তালিকাভুক্ত মূল্য ছিল ৭৫ মিলিয়ন ডলার। প্রায় ২২ হাজার বর্গফুটের এই টিউডর-ধাঁচের বাড়িতে ১৫টি শয়নকক্ষ রয়েছে। সম্পত্তিটির সঙ্গে প্রায় ৫০০ ফুট দীর্ঘ সমুদ্রসৈকতও রয়েছে।   বাড়িটি কেনার সময় সেটি বেশ কিছুটা জরাজীর্ণ অবস্থায় ছিল বলে সে সময়ের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। এখন বাড়িটিকে আরও আধুনিক করে তোলার জন্য বড় ধরনের সংস্কারকাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে পেজ সিক্স জানিয়েছে, এই সংস্কারে কয়েক মিলিয়ন ডলার ব্যয় হতে পারে। মেডো লেনে জুলিয়া কোচের আরেকটি বাড়িও রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১৮ মিলিয়ন ডলার। এই সড়কে আরও বেশ কয়েকজন ধনী ও পরিচিত ব্যক্তির সম্পত্তি রয়েছে। ফলে নতুন জমি কেনার মাধ্যমে ওই এলাকায় কোচ পরিবারের সম্পত্তির পরিমাণ আরও বাড়ল।   বিলাসবহুল সম্পত্তি সংস্কারের ক্ষেত্রে জুলিয়া কোচের আগ্রহ নতুন নয়। এর আগে নিউইয়র্কের আপার ইস্ট সাইডে তার ৪০ মিলিয়ন ডলারের টাউনহাউস সংস্কারের কাজে খ্যাতিমান নকশাবিদ পিটার মারিনোকে নিয়োগ করেছিলেন তিনি। পাম বিচের একটি ঐতিহাসিক সম্পত্তি সংরক্ষণ ও সংস্কারের কাজের জন্য ২০০৮ সালে তিনি ব্যালিঞ্জার অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছিলেন।   ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সাধারণত বেশ গোপনীয় জুলিয়া কোচ। সামাজিক অনুষ্ঠানেও তাকে খুব বেশি দেখা যায় না। পেজ সিক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে তাকে হ্যাম্পটনে ওয়াশিংটন পোস্টের উত্তরাধিকারী ল্যালি ওয়েমাউথের চতুর্থ জুলাইয়ের অনুষ্ঠানে দেখা যায়। পরদিন নিউ ইংল্যান্ড প্যাট্রিয়টসের মালিক রবার্ট ক্রাফটের একটি অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। তার আগে ২০১৯ সালে স্বামী ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর দীর্ঘ সময় তাকে জনসমক্ষে খুব একটা দেখা যায়নি।   ডেভিড কোচের মৃত্যুর পর জুলিয়া কোচ ও তাদের তিন সন্তান কোচ পরিবারের ব্যবসায় বড় অংশীদারিত্বের মালিক হন। ফোর্বসের তথ্য অনুযায়ী, তারা কোচ ইনকরপোরেটেডের ৪২ শতাংশ অংশীদারিত্ব উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। কোচ পরিবারের এই ব্যবসায়িক সম্পদই জুলিয়া কোচের বিপুল সম্পদের মূল উৎস।   হ্যাম্পটনে সাম্প্রতিক এই বিনিয়োগ তাই শুধু একটি নতুন জমি কেনার ঘটনা নয়। একাধিক বাড়ি ও জমি একত্র করে সন্তানদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পারিবারিক আবাসন গড়ে তোলাই এর লক্ষ্য বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে পেজ সিক্স। একই সঙ্গে পুরোনো সম্পত্তিতে বড় অঙ্কের সংস্কারকাজ চালিয়ে সেগুলোকে আরও আধুনিক করে তোলা হচ্ছে।

মেক্সিকোর নাগরিক মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে আইসিই। ছবি: সংগৃহীত
নিজের মেয়েকে যৌন নির্যাতনের দায়ে মেক্সিকান নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে নিজের কিশোরী মেয়েকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দণ্ডিত মেক্সিকোর এক নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ কর্তৃপক্ষ (আইসিই)। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, মার্সেলো ভাসকেজ রেইনাকে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।,   আলবেমার্ল কাউন্টি সার্কিট কোর্টের নথি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চে ভাসকেজ রেইনা ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী সন্তানের প্রতি অভিভাবকের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত একটি অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। আদালতের নথিতে ঘটনাটি ২০১৮ সালে ঘটেছিল বলে উল্লেখ রয়েছে। পরে তাকে পাঁচ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে ওই সাজার পাঁচ বছর স্থগিত করা হয়। ভার্জিনিয়ার সরকারি যৌন অপরাধী নিবন্ধনেও তার ১৮ মার্চ ২০২৬ তারিখে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার তথ্য রয়েছে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি ৭-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর মার্চেই ভাসকেজ রেইনাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের চেষ্টা ও অপহরণের অভিযোগও আনা হয়েছিল। তবে আদালতের নথিতে যে অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেছেন, সেটিই তার দণ্ডের ভিত্তি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   সোমবার এক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ডিএইচএস জানায়, আইসিই ভাসকেজ রেইনাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করেছে। সংস্থাটি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রসঙ্গে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে জানায়, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আশ্রয়ের সুযোগ নেই। ভাসকেজ রেইনার বিরুদ্ধে তার কিশোরী মেয়েকে যৌনভাবে হয়রানি এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগও ছিল বলে দ্য ডেইলি প্রগ্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ঘটনার কারণে মেয়েটি পরবর্তী হামলার আশঙ্কায় ভয়ের মধ্যে ছিল বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ভাসকেজ রেইনাকে বহিষ্কারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ভার্জিনিয়ায় অভিবাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। বিশেষ করে অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সঙ্গে জড়িত অপরাধের কয়েকটি আলোচিত ঘটনা সামনে আসার পর রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন প্রয়োগ নীতি নিয়ে বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে।   ভার্জিনিয়ার গভর্নর অ্যাবিগেইল স্প্যানবার্গারও অভিবাসন প্রয়োগের বিষয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি তার পূর্বসূরি রিপাবলিকান গভর্নর গ্লেন ইয়াংকিনের একটি নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন, যেখানে রাজ্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কেন্দ্রীয় অভিবাসন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে স্প্যানবার্গার রাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা সংস্থাগুলোকে আইসিইর সঙ্গে ২৮৭(জি) চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেন এবং ফেডারেল অভিবাসন কার্যক্রমের জন্য রাজ্যের সম্পত্তি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেন।   তবে ভাসকেজ রেইনার মামলাটি একটি নির্দিষ্ট অপরাধ ও তার পরবর্তী অভিবাসন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ঘটনার ভিত্তিতে ভার্জিনিয়ায় বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের সামগ্রিকভাবে একই ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। ভাসকেজ রেইনার বহিষ্কারের বিষয়ে ফক্স নিউজ ডিজিটাল ভার্জিনিয়ার গভর্নরের কার্যালয়, আলবেমার্ল কাউন্টি পুলিশ বিভাগ এবং কাউন্টির কমনওয়েলথ অ্যাটর্নির কার্যালয়ের মন্তব্য চেয়েছিল। প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের পক্ষ থেকে কোনো বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   মার্কিন কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অভিবাসন প্রয়োগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ ধরনের অপরাধে দণ্ডিত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার, আটক ও বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ভাসকেজ রেইনার ক্ষেত্রে আদালতে দোষ স্বীকার ও সাজা ঘোষণার পর তাকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

কাজের অনুমতির দাবিতে ক্যালগেরিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের তিন সপ্তাহের প্রতিবাদ কর্মসূচি। ছবি:সংগৃহীত
কাজের অনুমতি দাবিতে ক্যালগেরিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, ১২ জনকে নিয়ে নতুন অভিবাসন শঙ্কা

কানাডার আলবার্টা প্রদেশের ক্যালগেরিতে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি প্রত্যাখ্যানের প্রতিবাদে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শেষ হয়েছে নতুন উদ্বেগের মধ্য দিয়ে। ১৪ আগস্ট আন্দোলনস্থলে কানাডার সীমান্ত সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে অংশগ্রহণকারীদের অভিবাসন অবস্থা যাচাই করেন। প্রথমে চারজনের তথ্য পরীক্ষা করার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২০ জন শিক্ষার্থীর তথ্য যাচাই করা হয়।   তাদের মধ্যে ১২ জনকে কানাডায় থাকার ক্ষেত্রে ‘সম্ভাব্য অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের বেশির ভাগই ভারতের পাঞ্জাবের বাসিন্দা, পাশাপাশি হরিয়ানা থেকেও কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কানাডায় পড়াশোনার জন্য তারা পারিবারিক সঞ্চয়, ঋণ এমনকি জমি বা সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি পাওয়ার প্রত্যাশায় তারা সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু পড়াশোনা শেষ করার পর তাদের কাজের অনুমতির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে তারা সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি জানান।   ক্যালগেরির আন্দোলনের সঙ্গে আলবার্টার সরকারি পোর্টেজ কলেজের মাধ্যমে পরিচালিত কিছু শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীরা যুক্ত ছিলেন। এসব শিক্ষাক্রম বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্বের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা যখন এসব শিক্ষাক্রমে ভর্তি হয়েছিলেন, তখন পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতি পাওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। পরে একই ধরনের শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের কারও আবেদন অনুমোদিত এবং কারও আবেদন প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় বিভ্রান্তি আরও বেড়ে যায়।   বিরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে কানাডার পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির যোগ্যতা নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যা। চলতি বছরের জুনে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানায়, নির্দিষ্ট অ-সনদভিত্তিক শিক্ষাক্রম সাধারণভাবে পড়াশোনা শেষে কাজের অনুমতির জন্য যোগ্য নয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি নতুন নিয়ম নয়; বরং আগে থেকে থাকা যোগ্যতার শর্তকে আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, তারা ভর্তি হওয়ার সময় এই ব্যাখ্যা পরিষ্কারভাবে জানতে পারেননি।   এই বিষয়টি নিয়ে কয়েকশ শিক্ষার্থী আলবার্টার বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ করেছেন। ক্যালগেরির আন্দোলনকারীরা জোর দিয়ে বলেছেন, তাদের দাবি স্থায়ীভাবে কানাডায় বসবাসের সুযোগ নয়; তারা পড়াশোনা শেষে কাজ করার অনুমতি পাওয়ার সুযোগ চান। আন্দোলনের কয়েকজন শিক্ষার্থী এরই মধ্যে আদালতের মাধ্যমে সরকারি সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করার উদ্যোগও নিয়েছেন।   ১৪ আগস্ট আন্দোলনের শেষ দিনে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সীমান্ত সেবা সংস্থার কর্মকর্তারা আন্দোলনস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের অভিবাসন নথি পরীক্ষা করেন। প্রথমে চারজনকে যাচাই করার জন্য কর্মকর্তাদের ডাকা হলেও পরে আরও শিক্ষার্থীর তথ্য পরীক্ষা করা হয়। মোট ২০ জনের তথ্য যাচাইয়ের পর ১২ জনকে সম্ভাব্যভাবে অভিবাসন আইনের আওতায় অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। তাদের পরবর্তী সাক্ষাৎকারের জন্য সীমান্ত সেবা সংস্থার কার্যালয়ে যেতে বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে।   তবে ১২ জনকে ‘সম্ভাব্য অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করার অর্থ এই নয় যে তাদের ইতোমধ্যে কানাডা থেকে বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। তাদের অভিবাসন অবস্থা, অনুমতির মেয়াদ এবং কানাডায় থাকার বৈধতা নিয়ে আরও যাচাই-বাছাই হতে পারে। সীমান্ত সেবা সংস্থা সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের পরিচয় বা তাদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেনি।   এদিকে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তারা নিয়ম মেনেই পড়াশোনা করতে কানাডায় এসেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়ার সময় কাজের অনুমতির সুযোগ সম্পর্কে যে তথ্য পেয়েছিলেন, তার ভিত্তিতেই বড় অঙ্কের অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এখন আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়ায় অনেকেই ঋণ, পরিবারের আর্থিক চাপ এবং কানাডায় থাকার অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।   অন্যদিকে কানাডার অভিবাসন কর্তৃপক্ষের অবস্থান হলো, পড়াশোনা শেষ করার পর কাজের অনুমতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়া যায় না। আবেদনকারীদের নির্ধারিত শিক্ষাক্রম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে হয়। ফলে একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করলেও প্রত্যেক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে যোগ্যতা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হতে পারে।   প্রায় তিন সপ্তাহের আন্দোলন শেষ হলেও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। বরং আন্দোলনের শেষ মুহূর্তে সীমান্ত কর্মকর্তাদের তৎপরতা এবং ১২ শিক্ষার্থীর অভিবাসন অবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কানাডায় পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ প্রত্যাশী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এই ঘটনা শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়ার আগে কাজের অনুমতির যোগ্যতা সম্পর্কে সরকারি তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্বও সামনে এনেছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
১৬ আগস্ট ২০২৬ সেউতার এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে আশ্রয়ের দাবিতে অভিবাসীদের বিক্ষোভের ছবি; সংগৃহীত
স্পেনের সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসীর বিক্ষোভ, মানবিক সংকট আরও গভীর
বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২০:১

স্পেনের উত্তর আফ্রিকান ভূখণ্ড সেউতায় আশ্রয়ের দাবিতে শত শত অভিবাসী বিক্ষোভ করেছেন। রোববার, ১৬ আগস্ট, এল ত্রাম্পোলিন সৈকতে জড়ো হয়ে তারা স্পেনের কর্তৃপক্ষের কাছে আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণ এবং মরক্কোয় ফেরত না পাঠানোর দাবি জানান।   বিক্ষোভকারীদের হাতে স্পেনের পতাকা ও বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ছিল। সেখানে তারা ‘আমরা মরক্কোয় ফিরতে চাই না’ এবং ‘আমরাও মানুষ’—এ ধরনের স্লোগান দেন। অনেক অভিবাসী সৈকত ও শহরের আশপাশে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।   সেউতায় সাম্প্রতিক বড় ধরনের সীমান্ত অতিক্রমের পরও প্রায় ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার অভিবাসী রয়ে গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে প্রায় ৭২ হাজার মানুষ মরক্কো থেকে সেউতায় প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন। তাদের অধিকাংশ পরবর্তী সময়ে মরক্কোয় ফিরে যান।   সেউতায় অবস্থানরত অনেক অভিবাসী বর্তমানে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন। কেউ সৈকতে তাঁবু বা ত্রিপল টাঙিয়ে থাকছেন, আবার কেউ শহরের বাইরে অবস্থান করছেন। খাবার, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   মরক্কোর তেতোয়ান থেকে আসা এক অভিবাসী বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানান, তারা সমুদ্রের পাশে ঠান্ডা ও দুর্গন্ধের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন এবং অনেক কষ্টে দিন পার করছেন।   স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মারলাস্কা জানিয়েছেন, অনিয়মিতভাবে প্রবেশ করা অভিবাসীদের সাধারণভাবে সেউতায় থাকার বা মূল ভূখণ্ড স্পেনে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে।   পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পেন সরকার সেউতায় অতিরিক্ত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এসব স্থানে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে সাময়িকভাবে রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। স্পেনের সেনাবাহিনীও প্রায় ১ হাজার ৫০ জন আশ্রয়প্রার্থীর জন্য অস্থায়ী শিবির স্থাপনের কাজ শুরু করেছে।   এরই মধ্যে ১৭ আগস্ট থেকে শতাধিক অভিবাসী আশ্রয়ের দাবিতে অনশন শুরু করেছেন। তাদের দাবি, স্পেনে আশ্রয়ের আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে এবং তাদের জোর করে মরক্কোয় ফেরত পাঠানো যাবে না।   অন্যদিকে, নতুন করে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা ঠেকাতে মরক্কো ও স্পেন উভয় দেশই নিরাপত্তা জোরদার করেছে। সাম্প্রতিক এক অভিযানে মরক্কোর নিরাপত্তা বাহিনী প্রায় ৩০০ অভিবাসীকে আটক করেছে।   সেউতার বর্তমান পরিস্থিতি এখন স্পেনের জন্য বড় মানবিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। একদিকে আশ্রয়প্রার্থীদের নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার নিশ্চিত করার দাবি, অন্যদিকে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ও অভিবাসননীতি—দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে স্পেন সরকারকে।

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেসে ভূমিকম্পের পর উদ্ধারকাজ, ধ্বংসস্তূপ ও ক্ষতিগ্রস্ত ছবি:সংগৃহীত
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত ৬৮, ধ্বংসস্তূপে চলছে উদ্ধার অভিযান
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২০:১৯

ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস দ্বীপে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ৬৮ জন নিহত এবং ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ১৫ আগস্টের এই ভূমিকম্পের পর একের পর এক পরাঘাত অব্যাহত থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে।   ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এন্দে শহরের উত্তর-পশ্চিমে সমুদ্রের কাছে। ভূমিকম্পটি ছিল অগভীর, প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে হওয়ায় এর ধ্বংসাত্মক প্রভাব বেশি হয়েছে।   ভূমিকম্পের পর ভূমিধসের কারণে বিভিন্ন সড়ক বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েকটি দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান করছেন। অনেক মানুষ বাড়িঘর ছেড়ে অস্থায়ী তাঁবু ও আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।   প্রায় ১ হাজার ৬০০টি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ। এতে আতঙ্কিত বাসিন্দাদের অনেকে ঘরে ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।   ভূমিকম্পে ৪ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং প্রায় ১৯ হাজার মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়ে চলে গেছেন। দুর্গম এলাকায় খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছানোও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   প্রাথমিকভাবে সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। তবে কিছু এলাকায় ছোট আকারের সমুদ্রঢেউ দেখা যায়। ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এ অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।   উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। কর্তৃপক্ষ দুর্গম এলাকায় বিমান ও অন্যান্য মাধ্যমে জরুরি সহায়তা পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ ছবি:সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি দুই ডলারের বেশি বেড়েছে।
বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ১৯:৩৫

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত এবং গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়েছে।   সোমবার, ১৭ আগস্ট, ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ৮৭ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই তেলের দাম ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৮৪ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছায়।হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কমে যাওয়াই তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। ১৬ আগস্ট রোববার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের খবর পাওয়া যায়নি; এর আগের দিন মাত্র পাঁচটি জাহাজ পার হয়েছিল। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এটি বড় ধরনের পতন।   হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই নৌপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।   তেলের দাম বৃদ্ধির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থাও বড় ভূমিকা রাখছে। ১৭ আগস্ট নির্ধারিত অন্তর্বর্তী সমঝোতার সময়সীমা শেষ হলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তির বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। ইরান হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর হুমকি দিয়েছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আরও বাধাগ্রস্ত হলে তেলের দাম আবারও দ্রুত বাড়তে পারে। একই সঙ্গে উচ্চ জ্বালানি ব্যয়ের প্রভাব পরিবহন, উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যের দামেও পড়তে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব ইতোমধ্যে স্পষ্ট হচ্ছে। আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে দেশটির গ্যাসোলিনের জাতীয় গড় দাম প্রতি গ্যালনে প্রায় ৪ দশমিক ০৬ ডলারে পৌঁছেছে, যা আগস্ট মাসের জন্য রেকর্ড উচ্চ পর্যায়।   বিশ্ববাজার এখন মূলত হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র–ইরান কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি আসে কি না—সেদিকে নজর রাখছে। পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হলে তেলের বাজারে নতুন করে বড় অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৪:২৯

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।   এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।   ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।   তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।   ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।   এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।   ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.12K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
907 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.02K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
873 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়