যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার সিলাকগায়া শহরের একটি সাধারণ দুপুর। ঘরের সোফায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন অ্যান হজেস। হঠাৎ ছাদ ভেদ করে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল মহাকাশ থেকে আসা একটি পাথর। সেটি প্রথমে একটি রেডিওতে আঘাত করে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি আঘাত হানে হজেসের শরীরে। ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৪ সালের ৩০ নভেম্বর। মহাকাশ থেকে আসা সেই পাথরটি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ পাউন্ড বা ৩ দশমিক ৮৫ কেজি ওজনের একটি উল্কাপিণ্ড। আঘাতে হজেসের শরীরে বড় ধরনের কালশিটে পড়ে গেলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি পরবর্তীতে ইতিহাসে মানুষের শরীরে সরাসরি উল্কাপিণ্ড আঘাতের প্রথম সুস্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ ঘটনা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে প্রথমে স্থানীয়দের অনেকে বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। বিকট শব্দে ঘর কেঁপে ওঠার পর কেউ কেউ বিমান দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণের কথা ভেবেছিলেন। পরে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তুটি পৃথিবীর কোনো সাধারণ পাথর নয়, এটি একটি উল্কাপিণ্ড। তখন ৩১ বা ৩৪ বছর বয়সী হজেস নিজের ঘরের সোফায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। উল্কাপিণ্ডটি ছাদ ভেদ করে ঘরে ঢুকে একটি বড় রেডিওতে আঘাত করার পর তার নিতম্ব ও উরুর অংশে লাগে। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, আঘাতে তার শরীরে বড় আকারের কালশিটে তৈরি হয়েছিল। তবে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর অবশ্য শারীরিক আঘাতের চেয়ে অন্য এক ধরনের ঝামেলাই হজেসের জীবনে বেশি প্রভাব ফেলেছিল। রাতারাতি তিনি সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসেন। সাংবাদিক ও দর্শনার্থীরা তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে তার ছবি প্রকাশিত হয়। এমনকি তাকে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আই হ্যাভ গট আ সিক্রেট’-এও অংশ নিতে হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন পছন্দ করা হজেস এই অতিরিক্ত পরিচিতি মোটেও উপভোগ করেননি। এরপর শুরু হয় উল্কাপিণ্ডটির মালিকানা নিয়ে আইনি বিরোধ। হজেসরা যে বাড়িতে থাকতেন, সেটির মালিক ছিলেন বার্ডি গাই। বাড়ির ছাদ ভেদ করে উল্কাপিণ্ডটি ভেতরে পড়ায় বাড়ির মালিক সেটির মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আইনি টানাপোড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত ৫০০ ডলারের বিনিময়ে মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয় এবং উল্কাপিণ্ডটি হজেসদের কাছেই থাকে। উল্কাপিণ্ডটি বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করা হলেও তা সহজ হয়নি। একপর্যায়ে হজেস পরিবার সেটিকে দরজার ঠেকনা হিসেবেও ব্যবহার করেছিল। পরে ১৯৫৬ সালে অ্যান হজেস সেটি আলাবামা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে দান করে দেন। বর্তমানে উল্কাপিণ্ডটি সেখানেই সংরক্ষিত রয়েছে। এই ঘটনার সময় একই উল্কাবৃষ্টির আরেকটি অংশও কাছাকাছি এলাকায় পড়েছিল। কৃষক জুলিয়াস কে. ম্যাককিনি পরদিন একটি আলাদা খণ্ড খুঁজে পান। পরে সেটি স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সংগ্রহে যায়। ওই অংশটি বিক্রি করে ম্যাককিনি একটি ছোট খামার ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনার মতো অর্থ পেয়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। উল্কাপিণ্ডের পৃথিবীতে পতন অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তবে একটি উল্কাপিণ্ড সরাসরি কোনো মানুষের শরীরে আঘাত করা অত্যন্ত বিরল। ১৯৫৪ সালের সিলাকগায়া ঘটনার কারণেই অ্যান হজেসের নাম এই বিরল ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সূত্র তাকে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে আহত হওয়া প্রথম নথিবদ্ধ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে। অ্যান হজেসের ঘটনাটি আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে কারণ উল্কাপিণ্ডটি পৃথিবীর বাইরে কোটি কোটি বছর ধরে থাকা এক মহাজাগতিক বস্তুর অংশ ছিল। গবেষণায় এটিকে ‘সিলাকগায়া’ উল্কাপিণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি এক ধরনের সাধারণ কনড্রাইট উল্কাপিণ্ড। মূল উল্কাপিণ্ডের একটি অংশই হজেসের বাড়ির ছাদ ভেদ করে তার শরীরে আঘাত করেছিল। পরবর্তী জীবনেও ওই ঘটনার প্রভাব থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি হজেস। অতিরিক্ত প্রচার, আইনি বিরোধ এবং ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তার ব্যক্তিগত জীবনে চাপ তৈরি করেছিল। ১৯৬৪ সালে তার স্বামী হিউলেট হজেসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। ১৯৭২ সালে মারা যান অ্যান হজেস। আজও তার গল্প বিজ্ঞান ও মহাকাশের ইতিহাসে অন্যতম অদ্ভুত ঘটনা হিসেবে আলোচিত। যে নারী সেদিন দুপুরে ঘরে একটু বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন, একটি মহাজাগতিক পাথর ছাদ ভেদ করে তার ঘরে ঢুকে তাকে এমন এক ইতিহাসের অংশ করে দেয়, যার নজির আজও অত্যন্ত বিরল। সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন, এনসাইক্লোপিডিয়া অব আলাবামা, মেটিওরিটিক্যাল সোসাইটি।
ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর নতুন কারাগারের ছবি প্রকাশের পর তার হাতঘড়ি নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। ক্ষমতায় থাকার সময় যেখানে তাকে কয়েক হাজার থেকে কয়েক দশ হাজার ডলারের দামি সুইস ঘড়ি পরতে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের কারাগারে প্রকাশিত নতুন ছবিতে তার হাতে দেখা গেছে প্রায় ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি। ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে তোলা বলে প্রকাশিত ছবিতে মাদুরোকে ধূসর পোশাকে হাসিমুখে এবং দুই হাতে ‘ভি’ চিহ্ন দেখাতে দেখা যায়। তার বাঁ হাতে থাকা ঘড়িটি ক্যাসিও জি-শক বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন কারা কর্তৃপক্ষের নথি অনুযায়ী, কারাগারের ক্যান্টিনে এই ধরনের একটি ক্যাসিও ঘড়ির দাম ৪০ দশমিক ৩০ ডলার। তবে প্রকাশিত ছবির ঘড়িটি ঠিক কোন মডেলের, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘড়িটির দাম নিয়ে আলোচনা তৈরি হওয়ার মূল কারণ মাদুরোর আগের জীবনযাপন। ক্ষমতায় থাকাকালে তাকে একাধিক দামি ঘড়ি পরতে দেখা গেছে। ঘড়ি বিশ্লেষণকারী ওয়েবসাইট ওয়াচেস অব এসপিওনাজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মাদুরোর হাতে একটি হুবলো ক্লাসিক ফিউশন ক্রুজ-দিয়েজ প্লাটিনাম ট্যুরবিলন দেখা যায়। একই ধরনের ঘড়ির বাজারমূল্য প্রায় ৮৫ হাজার ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ সালে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেও মাদুরোকে প্রায় ৪০ হাজার ডলার মূল্যের হুবলো বিগ ব্যাং কিং পাওয়ার মারাদোনা ঘড়ি পরতে দেখা যায়। ঘড়িটি আর্জেন্টিনার প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো মারাদোনা তাকে উপহার দিয়েছিলেন বলে ওয়াচেস অব এসপিওনাজ জানিয়েছে। তবে মাদুরোর ঘড়ির তালিকায় শুধু বিলাসী ব্র্যান্ডই ছিল না। বিভিন্ন সময়ে তাকে অপেক্ষাকৃত কম দামের সিটিজেনসহ অন্য ঘড়িও পরতে দেখা গেছে। ফলে নতুন ছবিতে ক্যাসিও ঘড়ি দেখা যাওয়াকে তার কারাগারের বর্তমান জীবনযাপনের সঙ্গে আগের বিলাসী জীবনযাপনের একটি দৃশ্যমান পার্থক্য হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। মাদুরোর কারাগারে যাওয়ার পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক বিরোধের নাটকীয় পরিণতি। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে একটি রাতের অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে। পরে নিউইয়র্কে তাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারসহ একাধিক গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়। দুজনই অভিযোগ অস্বীকার করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন। মার্কিন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ১৯৯৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মাদুরো ও তার সহযোগীরা ক্ষমতার অবস্থান ব্যবহার করে মাদক চোরাচালানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মামলায় মাদুরোর বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাসবাদে ষড়যন্ত্র এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রসহ চারটি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড হতে পারে। মাদুরো ও ফ্লোরেস বর্তমানে ব্রুকলিনের কারাগারে আটক রয়েছেন। জুলাইয়ে ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতের বিচারক অ্যালভিন হেলারস্টেইন তাদের মামলার বিচার শুরুর তারিখ ২০২৭ সালের ১ জুন নির্ধারণ করেন। মাদুরোর আইনজীবীরা মামলাটি বাতিলের জন্য বিভিন্ন আইনি যুক্তি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কারাগারে যাওয়ার পর মাদুরো নিজেকে আর্থিকভাবে অসচ্ছল দাবি করে তার আইনি ব্যয়ের দায়িত্ব ভেনেজুয়েলা সরকারের নেওয়া উচিত বলেও বক্তব্য দিয়েছেন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর আগে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করার কথা জানানো হয়েছিল। এসব সম্পদের মধ্যে বাড়ি, গাড়ি, বিমান ও গয়না রয়েছে বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি। মাদুরোর দীর্ঘ শাসনামলে তার সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার অভিযোগ ছিল। সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছেন, দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান ও অর্থনীতি সংকটে থাকলেও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর একটি অংশ বিলাসী জীবনযাপন করত। নতুন কারাগারের ছবিতে ৪০ ডলারের ঘড়ি সেই বৈপরীত্যকে আবারও আলোচনায় এনেছে। তবে নতুন ছবির ঘড়িটি মাদুরোর নিজের ব্যক্তিগত সম্পত্তি কি না, কিংবা তিনি এটি কীভাবে পেয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ছবিটি মূলত তার বর্তমান বন্দিজীবনের একটি দৃশ্য তুলে ধরছে, যা ক্ষমতায় থাকার সময়কার জীবনযাপনের সঙ্গে বেশ আলাদা। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর একটি মসজিদে হামলার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার ও হামলাকারীদের উগ্রবাদী লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নর্থ ক্যারোলিনার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে দুই বন্দুকধারীর সঙ্গে ওই কিশোরীর যোগাযোগ ছিল এবং হামলার ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল। ফোরসাইথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জিম ও'নিল সোমবার উইনস্টন-সালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, কিশোরীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ এবং একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অনুমোদন করে। আদালতের নথিতে তার নাম সারাহ লিন্ডসে সান্তিয়াগো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার আগে সান্তিয়াগো হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করার, সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার এবং হামলাকারীদের লেখা একটি নথি প্রকাশ করার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পরে এসব কাজ করেন। এমনকি হামলাকারীদের একজনের ব্যবহারের জন্য শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী প্রতীকযুক্ত একটি প্যাচ কিনে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি ও'নিল বলেন, ওই কিশোরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হামলার সঙ্গে তার ভূমিকা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নর্থ ক্যারোলিনার আইনে হত্যায় সহায়তা ও প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য মূল অপরাধীর মতোই শাস্তির বিধান রয়েছে। ফলে সরাসরি গুলি না চালালেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১৮ মে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে। পুলিশ ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাজকেজ সেখানে হামলা চালায়। হামলায় মসজিদটির নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহসহ তিনজন নিহত হন। পরে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী একটি গাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের বাবা এবং মসজিদটির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি দুই বন্দুকধারীকে মসজিদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মসজিদে তখন প্রায় ১৪০ শিশু ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রতিরোধের কারণে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। হামলায় নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন মানসুর কাজিহা ও নাদির আওয়াদ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হামলাকারীদের মসজিদ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তারা হামলাকারীদের হাতে নিহত হন। তদন্তকারীরা বলছেন, হামলাকারীদের রেখে যাওয়া লেখায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেছে। সেখানে উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শের বিভিন্ন উৎসের উল্লেখও ছিল। তদন্তকারীদের মতে, অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা উগ্রবাদী বক্তব্য ও সহিংসতার প্রচারণা দুই হামলাকারীর চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলেছিল। মামলাটিতে অনলাইনে সহিংসতার প্রচার এবং হামলাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, সান্তিয়াগো শুধু হামলার ভিডিও ধারণ করেননি, বরং সেটি ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের লেখা প্রকাশেও ভূমিকা রেখেছেন। এদিকে, সান্তিয়াগোর আইনজীবী তার নির্দোষিতার দাবি করেছেন। মামলাটি এখন আদালতের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা হামলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। সান দিয়েগোর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে উগ্রবাদী মতাদর্শের বিস্তার এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার ও পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে ডিজিটাল যোগাযোগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স
নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নির্ধারিত নিয়ম না মেনে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝামেলায় পড়েছেন এক বাংলাদেশি ইয়েলো ক্যাবচালক। সংশ্লিষ্ট চালকের দাবি, কুইন্সের হলিস এলাকায় একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ম্যাট্রেসটি রেখে আসার পর তাকে মোট ৮ হাজার ডলারের জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কুইন্সের ২০২ স্ট্রিট ও ৯৯ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ঘটে। বাসার পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নিজের ইয়েলো ক্যাবে করে রাতে ওই এলাকায় নিয়ে যান ওই চালক। পরে রাস্তার পাশে দেয়ালের কাছে ম্যাট্রেসটি রেখে তিনি সেখান থেকে চলে যান। চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের সময় হওয়ায় বিষয়টি কারও নজরে পড়বে না বলে তিনি মনে করেছিলেন। কিন্তু ওই এলাকায় থাকা নজরদারি ক্যামেরায় ম্যাট্রেস ফেলে যাওয়ার ঘটনাটি ধরা পড়ে বলে তাকে জানানো হয়েছে। পরে ব্যবহৃত ইয়েলো ক্যাবটি শনাক্ত করে ক্যাবের মেডেলিয়ন সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকের পরিচয় বের করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন। এরপর তার নামে ৪ হাজার ডলার এবং ক্যাবের নামে আরও ৪ হাজার ডলার জরিমানা বা সামনস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। শুধু জরিমানাই নয়, চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাড়িটি ফেরত দেওয়া হবে না বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছেন। জরিমানার পরিমাণ কমানো বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য কোনো সমাধান করা যায় কি না, সে বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্ক সিটিতে যেকোনো ধরনের বর্জ্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে ফেলা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিংয়ের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে এগুলো সরাসরি রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত ট্র্যাশ সংগ্রহের নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিং স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে পুরোপুরি ঢেকে ভালোভাবে সিল করে নির্ধারিত সংগ্রহের দিনে বাইরে রাখতে হয়। অন্যদিকে, কোনো পাবলিক স্পেস, রাস্তার পাশে, ব্রিজের নিচে বা অন্য কোনো অননুমোদিত স্থানে বর্জ্য ফেলে চলে যাওয়া অবৈধ ডাম্পিং হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গাড়ি ব্যবহার করে এ ধরনের বর্জ্য ফেলার ঘটনা আরও গুরুতর আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ঘটনা নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বাসা পরিবর্তন, নতুন আসবাব কেনা কিংবা পুরোনো জিনিসপত্র ফেলার সময় অনেকেই সিটির নির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নাও থাকতে পারেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের ঝামেলা এড়াতে রাস্তার পাশে বা নির্জন কোনো স্থানে ম্যাট্রেস, সোফা কিংবা বড় আকারের বর্জ্য ফেলে আসা বড় ধরনের জরিমানা ও আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে নিজের গাড়ি, ট্যাক্সি বা ইয়েলো ক্যাব ব্যবহার করে বর্জ্য অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে ফেলে আসার আগে সিটির নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। ছোট একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কয়েক হাজার ডলারের জরিমানা, গাড়ি টো করা এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন গাড়ির মালিক বা চালক।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ৩৫ বছর বন্ধ থাকার পর নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের চরিত্র ও অন্যান্য তথ্য যাচাইয়ে আবারও প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করার নিয়ম চালু করেছে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস বা ইউএসসিআইএস। সম্প্রতি সংস্থাটির প্রকাশিত এক নীতিমালায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। ১৯৯১ সালের পর থেকে এই পদ্ধতিটি পুরোপুরি স্থগিত ছিল। সেই সময় ইউএসসিআইএস, যা আগে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাচারালাইজেশন সার্ভিস নামে পরিচিত ছিল, সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে আবেদনকারীর নৈতিক চরিত্র যাচাইয়ের জন্য মূলত এফবিআই এর অপরাধমূলক ইতিহাস এবং অন্যান্য সংস্থার রেকর্ডের ওপরই নির্ভর করা হবে। তবে দীর্ঘ সময় পর সেই অবস্থান থেকে সরে এসে আবারও পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরল সংস্থাটি। গত ২৫ আগস্ট থেকে এই নতুন নীতি কার্যকর করা হয়েছে। এরপর ২৯ আগস্ট সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইউএসসিআইএস জানায়, প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে আবেদনকারীর বসবাস, উত্তম নৈতিক চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা ও মঙ্গলের প্রতি তার মনোভাব গভীরভাবে যাচাই করা হবে। সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়া একটি বিরল সুযোগ, যা কেবল তাদেরই পাওয়া উচিত যারা জাতির জন্য ইতিবাচক অবদান রাখবেন। এই তদন্ত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর পরিচিত ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেবেন। এর মধ্যে থাকতে পারেন প্রতিবেশী, বাড়ির মালিক, চাকরিদাতা, সহকর্মী এবং আশপাশের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। মূলত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকে যেসব তথ্য সাধারণত উঠে আসে না, সেসব বিষয়ে ধারণা পেতেই এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তবে সব আবেদনকারীর জন্য এই তদন্ত বাধ্যতামূলক নয়। কেউ চাইলে এই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। এ জন্য আবেদনকারীকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছ থেকে প্রশংসাপত্র বা চরিত্র সনদ জমা দিতে হবে, যেখানে তার যোগ্যতা, চরিত্র, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সংবিধানের নীতিগুলোর প্রতি তার শ্রদ্ধার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। এই ধরনের চিঠিপত্র জমা দিলে ইউএসসিআইএস চাইলে প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদের বিষয়টি মওকুফ করতে পারে, যদিও তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিত নয়। এই নীতির পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ইউএসসিআইএস পরিচালক জোসেফ বি এডলো। ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখা, আমেরিকান মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির সঙ্গে যথাযথভাবে মিশে যাওয়া নিশ্চিত করা এবং নাগরিকত্বের মর্যাদা ও বিশেষ সুবিধা সুরক্ষার জন্য প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা অত্যন্ত জরুরি। শুধু প্রতিবেশীদের জিজ্ঞাসাবাদই নয়, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রত্যাশীদের জন্য আরও কিছু নিয়মে পরিবর্তন এনেছে ইউএসসিআইএস। গত ২০২৫ সালের অক্টোবরে নাগরিকত্বের জন্য নির্ধারিত সিভিকস বা পৌরনীতি পরীক্ষাকে আরও দীর্ঘ ও কঠিন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১০০টি প্রশ্নের একটি ব্যাংক থেকে প্রশ্ন করা হতো, তা বাড়িয়ে ১২৮টি করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তারা এখন ১০টির বদলে সর্বোচ্চ ২০টি প্রশ্ন করতে পারবেন। পরীক্ষায় পাসের জন্য আগে ৬টি সঠিক উত্তরের প্রয়োজন হলেও এখন তা বাড়িয়ে ১২টি করা হয়েছে। তবে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি এবং যারা ২০ বছরের বেশি সময় ধরে গ্রিন কার্ডধারী, তাদের জন্য এই নিয়মে শিথিলতা রয়েছে। তবে পাসের জন্য সব আবেদনকারীকেই আগের মতো কমপক্ষে ৬০ শতাংশ প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে হবে। সংবাদসূত্র: ইউএসসিআইএস পলিসি অ্যালার্ট
নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নির্ধারিত নিয়ম না মেনে ফেলে যাওয়ার অভিযোগে বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক ঝামেলায় পড়েছেন এক বাংলাদেশি ইয়েলো ক্যাবচালক। সংশ্লিষ্ট চালকের দাবি, কুইন্সের হলিস এলাকায় একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ম্যাট্রেসটি রেখে আসার পর তাকে মোট ৮ হাজার ডলারের জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি কুইন্সের ২০২ স্ট্রিট ও ৯৯ অ্যাভিনিউ এলাকার একটি রেলওয়ে ওভারপাসের নিচে ঘটে। বাসার পুরোনো একটি ম্যাট্রেস নিজের ইয়েলো ক্যাবে করে রাতে ওই এলাকায় নিয়ে যান ওই চালক। পরে রাস্তার পাশে দেয়ালের কাছে ম্যাট্রেসটি রেখে তিনি সেখান থেকে চলে যান। চালকের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতের সময় হওয়ায় বিষয়টি কারও নজরে পড়বে না বলে তিনি মনে করেছিলেন। কিন্তু ওই এলাকায় থাকা নজরদারি ক্যামেরায় ম্যাট্রেস ফেলে যাওয়ার ঘটনাটি ধরা পড়ে বলে তাকে জানানো হয়েছে। পরে ব্যবহৃত ইয়েলো ক্যাবটি শনাক্ত করে ক্যাবের মেডেলিয়ন সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে চালক ও গাড়ির মালিকের পরিচয় বের করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন। এরপর তার নামে ৪ হাজার ডলার এবং ক্যাবের নামে আরও ৪ হাজার ডলার জরিমানা বা সামনস দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। শুধু জরিমানাই নয়, চালকের বক্তব্য অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ তার ইয়েলো ক্যাবটি বাসা থেকে টো করে নিয়ে যায়। বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত গাড়িটি ফেরত দেওয়া হবে না বলেও তাকে জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে তিনি একজন আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করছেন। জরিমানার পরিমাণ কমানো বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অন্য কোনো সমাধান করা যায় কি না, সে বিষয়েও কাজ চলছে বলে জানা গেছে। নিউইয়র্ক সিটিতে যেকোনো ধরনের বর্জ্য নির্ধারিত নিয়ম মেনে ফেলা বাধ্যতামূলক। বিশেষ করে ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিংয়ের ক্ষেত্রে আলাদা নিয়ম রয়েছে। সাধারণভাবে এগুলো সরাসরি রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার পরিবর্তে নির্ধারিত ট্র্যাশ সংগ্রহের নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। ম্যাট্রেস ও বক্স স্প্রিং স্বচ্ছ প্লাস্টিক ব্যাগে পুরোপুরি ঢেকে ভালোভাবে সিল করে নির্ধারিত সংগ্রহের দিনে বাইরে রাখতে হয়। অন্যদিকে, কোনো পাবলিক স্পেস, রাস্তার পাশে, ব্রিজের নিচে বা অন্য কোনো অননুমোদিত স্থানে বর্জ্য ফেলে চলে যাওয়া অবৈধ ডাম্পিং হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গাড়ি ব্যবহার করে এ ধরনের বর্জ্য ফেলার ঘটনা আরও গুরুতর আইনি ও আর্থিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই ঘটনা নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। বাসা পরিবর্তন, নতুন আসবাব কেনা কিংবা পুরোনো জিনিসপত্র ফেলার সময় অনেকেই সিটির নির্দিষ্ট নিয়ম সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত নাও থাকতে পারেন। কিন্তু কয়েক মিনিটের ঝামেলা এড়াতে রাস্তার পাশে বা নির্জন কোনো স্থানে ম্যাট্রেস, সোফা কিংবা বড় আকারের বর্জ্য ফেলে আসা বড় ধরনের জরিমানা ও আইনি জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে নিজের গাড়ি, ট্যাক্সি বা ইয়েলো ক্যাব ব্যবহার করে বর্জ্য অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে ফেলে আসার আগে সিটির নিয়ম জেনে নেওয়া জরুরি। ছোট একটি ভুল সিদ্ধান্তের কারণে কয়েক হাজার ডলারের জরিমানা, গাড়ি টো করা এবং দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন গাড়ির মালিক বা চালক।
নিউইয়র্কের কুইন্স থেকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ১৬ বছর বয়সী কিশোর নাকিবুল ইসলাম নিখোঁজ হয়েছে। তাকে খুঁজে পেতে ৩১ আগস্ট নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ মিসিং চাইল্ড অ্যালার্ট জারি করেছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কিশোরটির কিছু মেডিকেল কন্ডিশন রয়েছে এবং সে তাৎক্ষণিক বিপদের মধ্যে থাকতে পারে। নিউইয়র্ক সিটির অফিসিয়াল অ্যালার্ট অনুযায়ী, নাকিবুলকে সর্বশেষ ৩০ আগস্ট ভোর ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে কুইন্সের ১৬৯তম স্ট্রিটে হেঁটে যেতে দেখা যায়। নিখোঁজ হওয়ার সময় তার পরনে ছিল স্কাই-ব্লু রঙের শার্টের ওপর কালো হুডযুক্ত সোয়েটশার্ট ও কালো স্যান্ডেল। তার সঙ্গে একটি কালো ব্যাকপ্যাক ছিল। নাকিবুলের জন্ম ২০১০ সালের ৭ এপ্রিল। তার উচ্চতা ৬ ফুট এবং ওজন প্রায় ১২০ পাউন্ড। তার চুল কালো এবং চোখ বাদামি। নিউইয়র্ক সিটির অ্যালার্টে তাকে ১৬ বছর বয়সী এশিয়ান কিশোর হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, নাকিবুল বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাকিবুলের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে এনওয়াইপিডির ১০৩ প্রিসিঙ্কটে ৮০০-৫৭৭-৮৪১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে ৯১১ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির মিসিং চাইল্ড অ্যালার্টে বলা হয়েছে, নাকিবুলের একটি ছবি জনসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হয়েছে। কিশোরটির সন্ধানে কুইন্সের বাসিন্দাসহ সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার এবং কোনো তথ্য পেলে দ্রুত পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিভিন্ন অপরাধে দণ্ডিত সাতজন অভিবাসীকে এক সপ্তাহের মধ্যে দেশ থেকে বহিষ্কার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বহিষ্কৃতদের মধ্যে বেলিজ, নিকারাগুয়া, মেক্সিকো ও কোস্টারিকার নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, মাদক পাচার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে যৌন অপরাধসহ বিভিন্ন মামলায় দণ্ডের তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। আইসিইর তালিকায় থাকা বেলিজের নাগরিক রাইন উশার ডাকাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র রাখার মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। নিকারাগুয়ার গনজালো আন্তোনিও গুজমান-গুজমান একটি জাহাজে কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন। মেক্সিকোর নাগরিক হুয়ান উরকিসা আরমান্ডো শিশুর প্রতি অশালীন আচরণ এবং অ্যাগ্রাভেটেড সেক্সুয়াল ব্যাটারির মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। কোস্টারিকার ওয়াইলেন বারান্তেস-হিমেনেজ একটি জাহাজে এক হাজার কেজি বা তার বেশি মারিজুয়ানা বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন। এ ছাড়া মেক্সিকোর নাগরিক তেরেসেও দে হেসুস মারকাদো-ফ্লোরেস ৫০ গ্রাম বা তার বেশি মেথঅ্যামফেটামিন বিতরণের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। হুয়ান পাবলো সেররাতা আগ্নেয়াস্ত্র রাখার পাশাপাশি পাঁচ কেজির বেশি কোকেন বিতরণের উদ্দেশ্যে রাখার ষড়যন্ত্রের মামলায় দণ্ডিত হন। তালিকার সপ্তম ব্যক্তি এদিলবার্তো গোমেজ ভিয়ালভা অপ্রাপ্তবয়স্কের সঙ্গে যৌন প্রকৃতির অশালীন কর্মকাণ্ডের মামলায় দণ্ডিত ছিলেন। আইসিই জানিয়েছে, এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডের পর তাঁদের ইমিগ্রেশন আইনের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আইসিই সাম্প্রতিক সময়ে অপরাধে দণ্ডিত এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকার আইনগত অনুমতি নেই এমন অনাগরিকদের শনাক্ত, আটক ও বহিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে প্রতিটি ব্যক্তির বহিষ্কারের আইনি প্রক্রিয়া ও মামলার পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসে ঘরে থেকেই অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চান এমন বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য Amazon হতে পারে একটি সম্ভাব্য ব্যবসার প্ল্যাটফর্ম। তবে শুরুতেই মনে রাখতে হবে, এটি দ্রুত অর্থ উপার্জনের সহজ কোনো পথ নয়। পণ্য নির্বাচন থেকে শুরু করে বাজার যাচাই, পণ্য সংগ্রহ, বিক্রয়, পণ্য পাঠানো এবং হিসাব পরিচালনা, প্রতিটি ধাপেই পরিকল্পনা প্রয়োজন। প্রথম ধাপ হলো কী ধরনের পণ্য বিক্রি করবেন তা ঠিক করা। বাজারে কোন পণ্যের চাহিদা আছে, কতজন বিক্রেতা একই পণ্য বিক্রি করছেন, পণ্যের বিক্রয়মূল্য কত এবং সব খরচ বাদ দেওয়ার পর সম্ভাব্য লাভ কত হতে পারে, এসব আগে যাচাই করতে হবে। শুধু অন্য কেউ ভালো বিক্রি করছে দেখে একই পণ্য কিনে ব্যবসা শুরু করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এরপর আসে পণ্য সংগ্রহের বিষয়টি। স্থানীয় পাইকার, প্রস্তুতকারক, পরিবেশক অথবা বিদেশি সরবরাহকারীর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করা যায়। সরবরাহকারী বাছাইয়ের সময় পণ্যের মান, মূল্য, সরবরাহের সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং পরিবহন খরচ যাচাই করা জরুরি। কিছু পণ্য অ্যামাজনে বিক্রির আগে নির্দিষ্ট অনুমোদন বা অতিরিক্ত শর্তের আওতায় থাকতে পারে। পণ্য সংগ্রহের পর অ্যামাজনে বিক্রেতা হিসেবে নিবন্ধন করে পণ্যের তালিকা তৈরি করতে হয়। এতে পণ্যের ছবি, বিবরণ, মূল্য এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যুক্ত করা হয়। এরপর উদ্যোক্তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তিনি নিজে ক্রেতার কাছে পণ্য পাঠাবেন, নাকি অ্যামাজনের গুদাম ও পণ্য পাঠানোর সেবা ব্যবহার করবেন। অ্যামাজনের পণ্য পূরণ সেবা ব্যবহার করলে আগে থেকেই পণ্য অ্যামাজনের গুদামে পাঠিয়ে রাখা যায়। ক্রেতার অর্ডার আসার পর প্যাকেট তৈরি, পণ্য পাঠানো এবং অনেক ক্ষেত্রে ফেরত পণ্যের ব্যবস্থাপনাও অ্যামাজন পরিচালনা করে। এতে উদ্যোক্তার দৈনন্দিন কাজ কিছুটা কমে, তবে এর জন্য বিভিন্ন ধরনের ফি দিতে হয়। অন্যদিকে নিজে পণ্য পাঠানোর পদ্ধতিতে বাড়িতে পণ্য রেখে অর্ডার পাওয়ার পর প্যাকেট তৈরি করে ক্রেতার কাছে পাঠানো যায়। ব্যবসা শুরুর আগে সব খরচের হিসাব করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পণ্য কেনার মূল্য, পরিবহন, গুদামজাতকরণ, অ্যামাজনের ফি, প্যাকেজিং, বিজ্ঞাপন এবং ফেরত পণ্যের সম্ভাব্য খরচ বাদ দিয়ে প্রকৃত লাভ কত থাকবে, তা হিসাব করতে হবে। লাভের হিসাব পরিষ্কার না করে বড় অঙ্কের পণ্য কেনা নতুন উদ্যোক্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। অ্যামাজন নতুন বিক্রেতাদের জন্য বিনামূল্যের প্রশিক্ষণও দিয়ে থাকে। সেখানে পণ্য তালিকাভুক্ত করা, মূল্য নির্ধারণ, পণ্য পাঠানো, বিজ্ঞাপন, মজুত ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় শেখানো হয়। ফলে শুরু করার আগে এসব বিষয় সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে নেওয়া যেতে পারে। সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ছোট পরিসরে শুরু করা। প্রথমেই বড় অঙ্কের টাকা বিনিয়োগ না করে একটি বা কয়েকটি পণ্য নিয়ে বাজার পরীক্ষা করা, বিক্রির তথ্য বিশ্লেষণ করা এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ব্যবসা বড় করা তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। ঘরে বসে অ্যামাজনে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব হলেও সফলতার জন্য প্রয়োজন সঠিক পণ্য নির্বাচন, নির্ভুল হিসাব, নিয়ম মেনে চলা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর একটি মসজিদে হামলার ঘটনা সরাসরি সম্প্রচার ও হামলাকারীদের উগ্রবাদী লেখা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে নর্থ ক্যারোলিনার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার মামলা করা হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, হামলার আগে দুই বন্দুকধারীর সঙ্গে ওই কিশোরীর যোগাযোগ ছিল এবং হামলার ভিডিও ধারণ ও তা ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই সমঝোতা হয়েছিল। ফোরসাইথ কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নি জিম ও'নিল সোমবার উইনস্টন-সালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান। আদালতের নথি অনুযায়ী, কিশোরীকে গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে তিনটি হত্যার অভিযোগ এবং একটি ষড়যন্ত্রের অভিযোগ অনুমোদন করে। আদালতের নথিতে তার নাম সারাহ লিন্ডসে সান্তিয়াগো হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার আগে সান্তিয়াগো হামলাটি সরাসরি সম্প্রচার করার, সেই ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার এবং হামলাকারীদের লেখা একটি নথি প্রকাশ করার দায়িত্ব নিতে সম্মত হয়েছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তিনি পরে এসব কাজ করেন। এমনকি হামলাকারীদের একজনের ব্যবহারের জন্য শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী প্রতীকযুক্ত একটি প্যাচ কিনে পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে। জেলা অ্যাটর্নি ও'নিল বলেন, ওই কিশোরী ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও হামলার সঙ্গে তার ভূমিকা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নর্থ ক্যারোলিনার আইনে হত্যায় সহায়তা ও প্ররোচনার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তির জন্য মূল অপরাধীর মতোই শাস্তির বিধান রয়েছে। ফলে সরাসরি গুলি না চালালেও অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে গুরুতর শাস্তির ঝুঁকি রয়েছে। ঘটনাটি ঘটে চলতি বছরের ১৮ মে সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে। পুলিশ ও তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাজকেজ সেখানে হামলা চালায়। হামলায় মসজিদটির নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহসহ তিনজন নিহত হন। পরে দুই সন্দেহভাজন হামলাকারী একটি গাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহত আমিন আবদুল্লাহ ছিলেন আট সন্তানের বাবা এবং মসজিদটির নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় তিনি দুই বন্দুকধারীকে মসজিদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন এবং শিশুদের নিরাপদ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। মসজিদে তখন প্রায় ১৪০ শিশু ছিল। পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রতিরোধের কারণে আরও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছিল। হামলায় নিহত অপর দুই ব্যক্তি হলেন মানসুর কাজিহা ও নাদির আওয়াদ। পুলিশ জানিয়েছে, তারা হামলাকারীদের মসজিদ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। একপর্যায়ে তারা হামলাকারীদের হাতে নিহত হন। তদন্তকারীরা বলছেন, হামলাকারীদের রেখে যাওয়া লেখায় বিভিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য পাওয়া গেছে। সেখানে উগ্র ডানপন্থি মতাদর্শের বিভিন্ন উৎসের উল্লেখও ছিল। তদন্তকারীদের মতে, অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা উগ্রবাদী বক্তব্য ও সহিংসতার প্রচারণা দুই হামলাকারীর চিন্তাধারায় প্রভাব ফেলেছিল। মামলাটিতে অনলাইনে সহিংসতার প্রচার এবং হামলাকারীদের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। তদন্তকারীদের দাবি, সান্তিয়াগো শুধু হামলার ভিডিও ধারণ করেননি, বরং সেটি ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি হামলাকারীদের লেখা প্রকাশেও ভূমিকা রেখেছেন। এদিকে, সান্তিয়াগোর আইনজীবী তার নির্দোষিতার দাবি করেছেন। মামলাটি এখন আদালতের পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার দিকে এগোচ্ছে। একই সঙ্গে তদন্তকারীরা হামলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত আরও ব্যক্তিদের ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছেন। সান দিয়েগোর এই হামলা যুক্তরাষ্ট্রে অনলাইনে উগ্রবাদী মতাদর্শের বিস্তার এবং সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রচার নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার ও পরে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে ডিজিটাল যোগাযোগের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), রয়টার্স
রাজনীতি
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের আলাবামার সিলাকগায়া শহরের একটি সাধারণ দুপুর। ঘরের সোফায় শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন অ্যান হজেস। হঠাৎ ছাদ ভেদ করে ঘরের ভেতর ঢুকে পড়ল মহাকাশ থেকে আসা একটি পাথর। সেটি প্রথমে একটি রেডিওতে আঘাত করে দিক পরিবর্তন করে সরাসরি আঘাত হানে হজেসের শরীরে। ঘটনাটি ঘটে ১৯৫৪ সালের ৩০ নভেম্বর। মহাকাশ থেকে আসা সেই পাথরটি ছিল প্রায় ৮ দশমিক ৫ পাউন্ড বা ৩ দশমিক ৮৫ কেজি ওজনের একটি উল্কাপিণ্ড। আঘাতে হজেসের শরীরে বড় ধরনের কালশিটে পড়ে গেলেও তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনাটি পরবর্তীতে ইতিহাসে মানুষের শরীরে সরাসরি উল্কাপিণ্ড আঘাতের প্রথম সুস্পষ্টভাবে নথিবদ্ধ ঘটনা হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে। ঘটনাটি এতটাই অস্বাভাবিক ছিল যে প্রথমে স্থানীয়দের অনেকে বুঝতেই পারেননি কী ঘটেছে। বিকট শব্দে ঘর কেঁপে ওঠার পর কেউ কেউ বিমান দুর্ঘটনা বা বিস্ফোরণের কথা ভেবেছিলেন। পরে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়, বস্তুটি পৃথিবীর কোনো সাধারণ পাথর নয়, এটি একটি উল্কাপিণ্ড। তখন ৩১ বা ৩৪ বছর বয়সী হজেস নিজের ঘরের সোফায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। উল্কাপিণ্ডটি ছাদ ভেদ করে ঘরে ঢুকে একটি বড় রেডিওতে আঘাত করার পর তার নিতম্ব ও উরুর অংশে লাগে। ঐতিহাসিক নথি অনুযায়ী, আঘাতে তার শরীরে বড় আকারের কালশিটে তৈরি হয়েছিল। তবে স্থায়ী শারীরিক ক্ষতি হয়নি। ঘটনার পর অবশ্য শারীরিক আঘাতের চেয়ে অন্য এক ধরনের ঝামেলাই হজেসের জীবনে বেশি প্রভাব ফেলেছিল। রাতারাতি তিনি সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে আসেন। সাংবাদিক ও দর্শনার্থীরা তার বাড়িতে ভিড় করতে থাকেন। বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাময়িকীতে তার ছবি প্রকাশিত হয়। এমনকি তাকে টেলিভিশনের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘আই হ্যাভ গট আ সিক্রেট’-এও অংশ নিতে হয়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবন পছন্দ করা হজেস এই অতিরিক্ত পরিচিতি মোটেও উপভোগ করেননি। এরপর শুরু হয় উল্কাপিণ্ডটির মালিকানা নিয়ে আইনি বিরোধ। হজেসরা যে বাড়িতে থাকতেন, সেটির মালিক ছিলেন বার্ডি গাই। বাড়ির ছাদ ভেদ করে উল্কাপিণ্ডটি ভেতরে পড়ায় বাড়ির মালিক সেটির মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে আইনি টানাপোড়েন চলে। শেষ পর্যন্ত ৫০০ ডলারের বিনিময়ে মালিকানা নিয়ে বিরোধের নিষ্পত্তি হয় এবং উল্কাপিণ্ডটি হজেসদের কাছেই থাকে। উল্কাপিণ্ডটি বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করা হলেও তা সহজ হয়নি। একপর্যায়ে হজেস পরিবার সেটিকে দরজার ঠেকনা হিসেবেও ব্যবহার করেছিল। পরে ১৯৫৬ সালে অ্যান হজেস সেটি আলাবামা মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রিতে দান করে দেন। বর্তমানে উল্কাপিণ্ডটি সেখানেই সংরক্ষিত রয়েছে। এই ঘটনার সময় একই উল্কাবৃষ্টির আরেকটি অংশও কাছাকাছি এলাকায় পড়েছিল। কৃষক জুলিয়াস কে. ম্যাককিনি পরদিন একটি আলাদা খণ্ড খুঁজে পান। পরে সেটি স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সংগ্রহে যায়। ওই অংশটি বিক্রি করে ম্যাককিনি একটি ছোট খামার ও ব্যবহৃত গাড়ি কেনার মতো অর্থ পেয়েছিলেন বলে ঐতিহাসিক নথিতে উল্লেখ রয়েছে। উল্কাপিণ্ডের পৃথিবীতে পতন অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়। তবে একটি উল্কাপিণ্ড সরাসরি কোনো মানুষের শরীরে আঘাত করা অত্যন্ত বিরল। ১৯৫৪ সালের সিলাকগায়া ঘটনার কারণেই অ্যান হজেসের নাম এই বিরল ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন সূত্র তাকে উল্কাপিণ্ডের আঘাতে আহত হওয়া প্রথম নথিবদ্ধ মানুষ হিসেবে উল্লেখ করে। অ্যান হজেসের ঘটনাটি আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে কারণ উল্কাপিণ্ডটি পৃথিবীর বাইরে কোটি কোটি বছর ধরে থাকা এক মহাজাগতিক বস্তুর অংশ ছিল। গবেষণায় এটিকে ‘সিলাকগায়া’ উল্কাপিণ্ড হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে এবং এটি এক ধরনের সাধারণ কনড্রাইট উল্কাপিণ্ড। মূল উল্কাপিণ্ডের একটি অংশই হজেসের বাড়ির ছাদ ভেদ করে তার শরীরে আঘাত করেছিল। পরবর্তী জীবনেও ওই ঘটনার প্রভাব থেকে পুরোপুরি বের হতে পারেননি হজেস। অতিরিক্ত প্রচার, আইনি বিরোধ এবং ঘটনাটিকে ঘিরে তৈরি হওয়া অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তার ব্যক্তিগত জীবনে চাপ তৈরি করেছিল। ১৯৬৪ সালে তার স্বামী হিউলেট হজেসের সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। ১৯৭২ সালে মারা যান অ্যান হজেস। আজও তার গল্প বিজ্ঞান ও মহাকাশের ইতিহাসে অন্যতম অদ্ভুত ঘটনা হিসেবে আলোচিত। যে নারী সেদিন দুপুরে ঘরে একটু বিশ্রাম নিতে চেয়েছিলেন, একটি মহাজাগতিক পাথর ছাদ ভেদ করে তার ঘরে ঢুকে তাকে এমন এক ইতিহাসের অংশ করে দেয়, যার নজির আজও অত্যন্ত বিরল। সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন, এনসাইক্লোপিডিয়া অব আলাবামা, মেটিওরিটিক্যাল সোসাইটি।
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাড়িতে ঢুকে গুলি করে ২৩ বছর বয়সী এক তরুণকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিহত তরুণ মার্কো তাপিয়া একজন মেডিকেল শিক্ষার্থী ও স্থানীয় চার্চের যুবনেতা ছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। তবে তিনি ভুল পরিচয়ের কারণে হামলার শিকার হয়েছিলেন কি না, সেটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ। মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ভোর ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে সিডনির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্লেন অ্যালপাইনের মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের একটি বাড়িতে তিনজন মুখোশধারী ব্যক্তি ঢুকে পড়ে। বাড়িটিতে তখন মার্কো, তার মা-বাবা ও বোন ছিলেন। হামলাকারীরা গুলি চালিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, খবর পেয়ে জরুরি পরিষেবার সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ এক তরুণকে দেখতে পান। তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পুলিশ প্রথম দিকে তার পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি এবং জানিয়েছিল, নিহতের বয়স ২০-এর কোঠায়। পরে সংবাদমাধ্যমগুলো তার পরিচয় মার্কো তাপিয়া হিসেবে প্রকাশ করে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কো তখন নিজের ঘরে বিছানায় ছিলেন। হামলাকারীরা তাকে গুলি করে ঘাড় ও হাতে আঘাত করে। ঘটনাটি এমন একটি বাড়িতে ঘটেছে, যেখানে পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। মার্কোর পরিবার সম্পর্কে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তিনি কোনো অপরাধী চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। পুলিশের কাছে তার পরিচিতি ছিল একটি ছোটখাটো ট্রাফিক অপরাধের কারণে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অপরাধের রেকর্ড থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। শিক্ষাজীবনেও মার্কোর সামনে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তিনি ২০২৪ সালে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আরেকটি স্নাতক কোর্স শুরু করেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিকেন্দ্রিক অস্ত্রোপচার প্রযুক্তি নিয়ে একটি ইন্টার্নশিপেও যুক্ত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও যুক্ত ছিলেন মার্কো। প্রকৌশল বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। স্থানীয় হিলসং চার্চেও যুবনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। হিলসং চার্চের সঙ্গে যুক্ত থাকার পাশাপাশি তার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দলও সম্প্রতি একটি পুরস্কার পেয়েছিল। গুরুতর পেশির ক্ষতির চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য একটি বিশেষ কাঠামো তৈরির প্রকল্পে কাজ করেছিলেন মার্কো ও তার দল। প্রায় এক মাস আগে ওই প্রকল্পের সাফল্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর মার্কোকে ভুল ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে হত্যার শিকার করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার কিছুক্ষণ পর সিডনির ‘কোকোনাট কার্টেল’ নামে পরিচিত একটি অপরাধী চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে পরিচিত একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে এমন একটি বার্তা প্রকাশ করা হয়, যাতে ভুল ব্যক্তি ও ভুল বাড়িতে হামলার ইঙ্গিত ছিল। তবে ওই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, পুলিশ এখনো নিশ্চিত করেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট গ্রেচিন অ্যাটকিনস জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে সব সম্ভাবনাই বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশ এখনো ঘটনাটিকে একটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা হিসেবে দেখছে। সিডনিতে কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাতকে ঘিরে একাধিক গুলির ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ‘কোকোনাট কার্টেল’ এবং আলামেডিন অপরাধী নেটওয়ার্কের মধ্যে সংঘাতের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার এবিসি জানিয়েছে, দুই পক্ষের সংঘাতের সঙ্গে সম্পর্কিত একাধিক গুলির ঘটনা ও সহিংসতার তদন্ত করছে পুলিশ। মার্কোর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই সংঘাতের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, সেটিও তদন্তের অংশ। পুলিশ অবশ্য এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠীকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেনি এবং কাউকে গ্রেপ্তারের কথাও জানায়নি। ঘটনার পর মাউন্ট সুগারলোফ ড্রাইভের ওই বাড়িটিকে অপরাধস্থল হিসেবে ঘিরে রাখা হয়। স্টেট ক্রাইম কমান্ডের হত্যাকাণ্ড তদন্তকারী দল স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে মিলে আলামত সংগ্রহ করছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলছে। ঘটনার সময় ওই এলাকায় থাকা কোনো ব্যক্তি সন্দেহজনক গাড়ি, মানুষ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড দেখে থাকলে পুলিশকে তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ জানিয়েছে, তথ্য থাকলে ক্রাইম স্টপার্সে ১৮০০ ৩৩৩ ০০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। দেওয়া তথ্য গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেশীদের কাছে ঘটনাটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ গ্লেন অ্যালপাইনের ওই আবাসিক এলাকা সাধারণত শান্ত বলেই পরিচিত। ডেইলি মেইলের সঙ্গে কথা বলা এক প্রতিবেশী জানান, কাছাকাছি বাড়িতে গুলির ঘটনা ঘটলেও তারা কোনো শব্দ শুনতে পাননি এবং পরে খবর দেখে ঘটনাটি নিজেদের রাস্তায় ঘটেছে বলে জানতে পারেন। একই সময়ে সিডনির পশ্চিমাঞ্চলে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সংঘাত ঘিরে পুলিশের নজরদারি বাড়ছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক গুলির ঘটনা এবং লক্ষ্যভিত্তিক হামলার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে মার্কো তাপিয়ার হত্যাকাণ্ডে তার নিজের কোনো অপরাধী সংশ্লিষ্টতা ছিল, এমন কোনো তথ্য এখন পর্যন্ত প্রকাশ্যে আসেনি। নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্ত এখনো একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে। নিহত তরুণের পরিচয়, হামলার উদ্দেশ্য এবং হামলাকারীদের পরিচয় ও অবস্থান নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হয়েছে। সূত্র: নিউ সাউথ ওয়েলস পুলিশ, অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশন (এবিসি), ডেইলি মেইল
ইসরায়েল ও গ্রিসের মধ্যে ৩ বিলিয়ন ইউরোর বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হয়েছে। চুক্তির আওতায় গ্রিসের জন্য একটি বহুস্তরীয় সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করবে ইসরায়েল। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ নামের এই প্রকল্পে রাফায়েলের ডেভিডস স্লিং ও স্পাইডার এবং ইসরায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের বারাক এমএক্সসহ কয়েকটি আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তেল আবিবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক আমির বারাম এবং গ্রিসের পক্ষ থেকে ইওনিস বুরাস চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। ইসরায়েলি মন্ত্রণালয়ের দাবি, এটি ইসরায়েল-গ্রিসের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রফতানি চুক্তি। একই সঙ্গে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা রফতানির ক্ষেত্রেও এটি অন্যতম বৃহৎ চুক্তি। চুক্তির আওতায় এমন একটি সমন্বিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে, যা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনসহ বিভিন্ন আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম হবে। ইসরায়েল জানিয়েছে, প্রকল্পটিতে দেশটির বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি রাফায়েলের ড্রোন ডোম ব্যবস্থা সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত ২ কোটি ৬০ লাখ ইউরোর একটি চুক্তিও হয়েছে। চুক্তির অংশ হিসেবে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং গ্রিসের স্থানীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, পূর্ব ভূমধ্যসাগরের দুই গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারের মধ্যে এটি প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি বড় অগ্রগতি। সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
ইসরায়েলের তেল আবিবে অভিবাসী পরিবারের সন্তানদের একটি স্কুলে ভর্তি করানো নিয়ে স্থানীয় অভিভাবকদের সঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরোধ তৈরি হয়েছে। দক্ষিণ তেল আবিবের রোনিত এলকাবেতজ স্কুলের অভিভাবক কমিটি জানিয়েছে, ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের অভিযোগের সমাধান না হলে তারা ক্লাস বর্জন করবেন। আগামী মঙ্গলবার থেকে এই কর্মসূচি শুরু করার কথা রয়েছে। অভিভাবকদের অভিযোগ, স্কুলটি মূলত আশপাশের এলাকার শিশুদের জন্য নির্ধারিত হলেও বাইরে থেকে আসা অভিবাসী পরিবারের কিছু সন্তানকে সেখানে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের দাবি, স্থানীয় শিশুদের ক্ষেত্রে যে ভর্তি নীতি ও শর্ত প্রযোজ্য হয়েছে, অভিবাসী পরিবারের শিশুদের ক্ষেত্রে তা একইভাবে প্রয়োগ করা হয়নি। এ নিয়ে স্কুলের ভর্তি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। তবে তেল আবিব সিটি কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের অভিযোগের সঙ্গে একমত নয়। শহর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, স্কুলটিতে ভর্তি হওয়া অভিবাসী পরিবারের শিশুর সংখ্যা মোট শিক্ষার্থীর ১০ শতাংশেরও কম। তাদের দাবি, এসব শিক্ষার্থী বিশেষায়িত আর্টস প্রোগ্রামে ভর্তি হয়নি এবং ভর্তি পরীক্ষার নিয়ম পাশ কাটিয়ে তাদের জায়গা দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগও সঠিক নয়। বিতর্কের পেছনে রয়েছে দক্ষিণ তেল আবিবের স্কুলগুলোতে বিদেশি নাগরিক ও অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন। চলতি আগস্টে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট দক্ষিণ তেল আবিবের দুটি স্কুলে বিদেশি শিশুদের অতিরিক্ত ঘনত্বকে জাতিগত বিচ্ছিন্নতার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে রায় দেয়। আদালত শিশুদের বিভিন্ন স্কুলে আরও সমন্বিতভাবে শিক্ষার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশও দেয়। এর আগে দক্ষিণ তেল আবিবের কয়েকটি স্কুলে আশ্রয়প্রার্থী ও অন্যান্য বিদেশি পরিবারের শিশুদের আলাদা হয়ে পড়া নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সম্প্রতি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কিছু অভিবাসী শিশুকে ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের থেকে আলাদা স্কুলে পাঠানোর অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব ঘটনা নিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় সমতা ও বৈষম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তেল আবিবের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় স্কুলে শিক্ষার্থী বণ্টনের ক্ষেত্রে বসবাসের এলাকার দূরত্বসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা হয়। শহর কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অতিরিক্ত আবেদন হলে জায়গার প্রাপ্যতা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করে শিক্ষার্থী বণ্টন করা হয়। রোনিত এলকাবেতজ স্কুলকে ঘিরে বর্তমান বিরোধ তাই শুধু কয়েকজন শিক্ষার্থীর ভর্তি নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্থানীয় শিশুদের জন্য স্কুলে জায়গা, অভিবাসী পরিবারের শিশুদের শিক্ষার অধিকার, ভর্তি নীতির স্বচ্ছতা এবং ইসরায়েলি শিক্ষা ব্যবস্থায় অভিবাসী শিশুদের একীভূত করার বৃহত্তর প্রশ্ন। অভিভাবকদের ক্লাস বর্জনের ঘোষণার পর এখন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও সিটি প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতির সমাধান করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
বাবাকে হারানোর পর জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি, শেষ হলো নীল-সাদা জার্সির পথচলা
ফিফা কর্মকর্তাদের ঘুষ দেওয়ার কথা স্বীকার করলেন দুই আর্জেন্টাইন
ট্রান্সজেন্ডার অনায়া ভারতে সুযোগ না পেলেও অস্ট্রেলিয়ায় নারী ক্রিকেটে খেলার অনুমতি পেলেন
উসাইন বোল্টকে হারাল চীনের রোবট 'লাইটনিং', ১০০ মিটার দৌড়াল মাত্র ৯.৩২ সেকেন্ডে
শুধু সন্তানরাই ছিলেন অতিথি, একান্ত সাদামাটা আয়োজনে বিয়ে সারলেন রোনালদো-জর্জিনা
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
আলসারের কারণ প্রমাণে নিজেই ব্যাকটেরিয়া পান করেছিলেন চিকিৎসক, পরবর্তীতে জিতলেন নোবেল পুরস্কার
হেয়ার ক্লিপেই লুকিয়ে বড় বিপদ! দুর্ঘটনায় খুলিতে ঢুকে যেতে পারে ক্লিপের দাঁত, চিকিৎসকদের সতর্কতা
চুম্বনে এইচআইভি ছড়ায় না, প্রমাণ করতে সংবাদমাধ্যমের সামনে আক্রান্ত নারীকে চুমু দেন চিকিৎসক
সবুজ আলোতে মাইগ্রেনের ব্যথা কমার আশা, নতুন গবেষণায় মিলছে সম্ভাবনার ইঙ্গিত
কোলনোস্কপির সময় ভুল করে ফোন অন, সেই রেকর্ডেই জিতলেন ৫ লাখ ডলার
সাপের কামড়ে বিষ ছড়িয়ে যাওয়ার ভয়ে কেটে ফেললেন আঙুল! পরে জানলেন শাপটি বিষধর ছিল না
ব্রিটিশ গায়ক হ্যারি ট্যাপের ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা, বললেন ‘আলহামদুলিল্লাহ’
ডাক্তার বলেছিল,এই ওজন খুব শীঘ্রই কবরে নিয়ে যাবে! ৪১ বছর বয়সে মিস ইউএসএ মঞ্চে অ্যাম্বার উহলার,
হলিউডে সাফল্যের আগে অর্থকষ্ট, মস্তিষ্কে টিউমার, মার্ক রাফালোর কঠিন সময়ে পাশে ছিলেন স্ত্রী
জ্যাকির বাবা ছিলেন স্পাই, মা জড়িত ছিলেন আফিম পাচারে, তাদের প্রেম হয়েছিল অ্যারেস্ট হওয়ার পর
৬০% কর্মী ছাঁটাই করে এআই বসানোর পরিকল্পনা জাকারবার্গের, কর্মীদের ক্ষোভে শেষ পর্যন্ত পিছু হটলেন
দুই দশক পরও অনলাইনে মিলছে একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় নোকিয়া ১১০০
চীনে এআই সঙ্গী নিয়ে কড়াকড়ি, তরুণদের বিয়ে-পরিবার থেকে দূরে যাওয়ার শঙ্কা বাড়ছে
চীনের নতুন ‘ফ্লাইং উইং’ বিমান, বি-২ বোমারু বিমানের চেয়ে ১.৬ গুণ বড় ডানায় ৮০০ যাত্রী বহনের পরিকল্পনা
১ বিলিয়ন ডলারের ভ্যালুয়েশনে ফ্যাসেট, বিশ্ব ইউনিকর্নের কাতারে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
৪০ হাজার ডলারের বিলাসবহুল ঘড়ির বদলে কারাগারে মাদুরোর হাতে এখন ৪০ ডলারের ক্যাসিও ঘড়ি
যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে মসজিদে হামলার লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার কিশোরীর বিরুদ্ধে ৩ হত্যা মামলা
পুরোনো ম্যাট্রেস নিয়ম না মেনে ফেলে দেওয়ায় ৮ হাজার ডলার জরিমানার মুখে প্রবাসী বাংলাদেশি
যুক্তরাষ্ট্রে ঘরে বসে অ্যামাজন ব্যবসা, নতুন উদ্যোক্তাদের শুরু করার আগে যা জানা জরুরি
টাইমস স্কয়ারে ছুরিকাঘাতে নারী নিহত, পুলিশের গুলিতে হামলাকারীও নিহত
অটিজম নিয়েও ছয় বছর বয়সে অক্সফোর্ডের বিশেষায়িত কর্মসূচিতে জোশুয়া, স্বপ্ন নিউরোসার্জন হওয়ার
১৮০ টাকা চা-বাগানের শ্রমিক পরিবারের সন্তান শান্তার হার্ভার্ড যাত্রা
পড়াশোনায় অনিয়ম করলে বাতিল হতে পারে মার্কিন শিক্ষার্থী ভিসা, সতর্ক করল ঢাকা ইউএস এম্বাসি
বিদেশে পড়াশোনার খরচে সহায়তা করতে পারে খণ্ডকালীন চাকরি, দেশভেদে বদলে যায় নিয়ম ও আয়
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
যুক্তরাষ্ট্রে অনেক বাংলাদেশির বাসায় ডিশওয়াশার আছে, তবু ব্যবহার করেন না; অজান্তেই নষ্ট করছেন সময়, পানি ও শ্রম
চুলে ক্লিপ পরে গাড়িতে যাতায়াত, দুর্ঘটনার সময় এটি মাথার খুলি পর্যন্ত ঢুকে যেতে পারে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বাসা ভাড়া নিচ্ছেন? যে ৫ টি ভুলে হাতছাড়া হতে পারে পছন্দের বাসা
সস্তা নাশতা খেয়ে ২৪ বছরেই সঞ্চয় ৯৭ হাজার ডলার! ৪০-এ অবসর যা পারছেন তাই করছেন