ডিএমপি সদর দপ্তর: সাধারণ মানুষের বিচারিক ভোগান্তি কমাতে এবং আইনি সেবা আরও গতিশীল করতে দেশের প্রতিটি থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। সোমবার সকালে ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জমি দখল, মারামারি এবং মাদকের মতো মামলাগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে, যা বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি দেবে। আইজিপি তাঁর বক্তব্যে একটি জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানায় রূপান্তর করা হবে, যেখানে নাগরিকরা কোনো হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারবেন। পুলিশের ‘রিঅ্যাকশন টাইম’ বা সাড়া দেওয়ার সময় কমিয়ে আনার পাশাপাশি পুলিশি সেবাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরতে পারে। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং গণধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সিআইডি-কে আরও আধুনিকায়ন করে তদন্তের গুণগত মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ প্রধান। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মো. আলী হোসেন ফকির। মহাসড়কে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও র্যাব সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেজন্য মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে পুলিশ। ঈদ মৌসুমে উগ্র মৌলবাদের উত্থান ঠেকাতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি একটি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জনগণের সুচিন্তিত মতামত ও সহযোগিতাও কামনা করেন নবনিযুক্ত আইজিপি।
২৫ মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতায় শহীদদের স্মরণে এবার দেশজুড়ে পালিত হবে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’। আগামী ২৫ মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা (কেপিআই) ছাড়া সারা দেশ অন্ধকারে ডুবিয়ে এই শোক পালন করা হবে। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শোকের আবহাওয়া বজায় রাখতে ২৫ মার্চ রাতে সারা দেশের কোথাও কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না। এমনকি বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসেও কোনো আলোকসজ্জা না করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে কার্যকর করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণের আয়োজন করা হবে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের কাছে ২৫ মার্চের বর্বর ইতিহাসের সত্য তুলে ধরা হবে। এছাড়া এদিন দুপুর ১২টা থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণহত্যার ওপর নির্মিত দুর্লভ আলোকচিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে, যা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায় সম্পর্কে সজাগ করবে। শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় এদিন জোহরের নামাজের পর সারা দেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচিটি সফল করতে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জাতীয় ইতিহাসের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দিবসকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে সভায় আশ্বস্ত করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হলেন তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি। সোমবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজনানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনিই হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনি পরিবারের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় বাবা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। উল্লেখ্য, ওই হামলায় মোজতবা তাঁর মা, স্ত্রী ও এক বোনকেও হারিয়েছেন; কেবল বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। মোজতবা খামেনি ইরানের শাসনব্যবস্থার এক রহস্যময় অথচ অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা বেড়ে উঠেছেন ইসলামি বিপ্লবের উত্তাল সময়ে। তেহরানের এলিট আলাভি হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি দীর্ঘ সময় তেহরান ও কুমে ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। যদিও ধর্মীয় পদমর্যাদায় তিনি এখনো ‘আয়াতুল্লাহ’ নন, তবুও গত কয়েক দশক ধরে সুপ্রিম লিডারের দপ্তরের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ‘গেটকিপার’ বা আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা প্রায়ই তাঁর এই ভূমিকাকে প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির পুত্র আহমদ খোমেনির ক্ষমতার সাথে তুলনা করে থাকেন। মোজতবার ক্ষমতার অন্যতম প্রধান উৎস হলো ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাথে তাঁর গভীর সখ্যতা। ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মোজতবা দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। যদিও তিনি কখনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা সরাসরি জনসম্মুখে আসেননি, তবুও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দাবি করেছিল যে, আলী খামেনি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা মোজতবার হাতে ন্যস্ত করেছিলেন। তবে মোজতবা খামেনির এই উত্তরণ ইরানের সংবিধানে থাকা কিছু প্রথাগত নিয়মের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতাকে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম হতে হয়, যেখানে মোজতবা একজন মধ্যম সারির আলেম। তদুপরি, রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থায় বাবার পর ছেলের ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতি এবং ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত মোজতবার হাতেই ন্যস্ত হলো ইরানের ভাগ্য। এখন দেখার বিষয়, এই কঠিন সময়ে নতুন প্রজন্মের এই নেতা কীভাবে ইরানকে পরিচালনা করেন।
টানা ছয়বার বাড়ার পর এবার দুইবার কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) প্রতি ভরিতে ৩,২৬৬ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা কার্যকর হয়েছে সোমবার (৯ মার্চ) থেকে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়াবে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৭ টাকা। বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ডের দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ কিনতে খরচ পড়বে ২ লাখ ৬৪ হাজার ৯৪৮ টাকা, যা আগের দিন ২ লাখ ৬৮ হাজার ২১৪ টাকা ছিল। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫২ হাজার ৮৭৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ৭৭৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে স্বর্ণের দাম ছয়বার বেড়েছিল এবং এরপর দুইবার কমেছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৩৮ বার সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৪ বার বৃদ্ধি এবং ১৪ বার দাম কমানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হলেন তার দ্বিতীয় পুত্র মোজতবা খামেনি। সোমবার ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলি লারিজনানি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে, ৫৬ বছর বয়সি মোজতবা খামেনিই হতে যাচ্ছেন দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনি পরিবারের বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় বাবা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। উল্লেখ্য, ওই হামলায় মোজতবা তাঁর মা, স্ত্রী ও এক বোনকেও হারিয়েছেন; কেবল বাড়িতে উপস্থিত না থাকায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। মোজতবা খামেনি ইরানের শাসনব্যবস্থার এক রহস্যময় অথচ অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। ১৯৬৯ সালে মাশহাদে জন্ম নেওয়া মোজতবা বেড়ে উঠেছেন ইসলামি বিপ্লবের উত্তাল সময়ে। তেহরানের এলিট আলাভি হাই স্কুল থেকে পড়াশোনা শেষ করে তিনি দীর্ঘ সময় তেহরান ও কুমে ধর্মীয় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। যদিও ধর্মীয় পদমর্যাদায় তিনি এখনো ‘আয়াতুল্লাহ’ নন, তবুও গত কয়েক দশক ধরে সুপ্রিম লিডারের দপ্তরের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ‘গেটকিপার’ বা আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকরা প্রায়ই তাঁর এই ভূমিকাকে প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির পুত্র আহমদ খোমেনির ক্ষমতার সাথে তুলনা করে থাকেন। মোজতবার ক্ষমতার অন্যতম প্রধান উৎস হলো ইরানের শক্তিশালী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর সাথে তাঁর গভীর সখ্যতা। ইরান-ইরাক যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণকারী মোজতবা দীর্ঘ সময় ধরে দেশটির গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কাঠামোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে স্থায়ী সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। যদিও তিনি কখনো নির্বাচনে অংশ নেননি বা সরাসরি জনসম্মুখে আসেননি, তবুও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দাবি করেছিল যে, আলী খামেনি তাঁর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা মোজতবার হাতে ন্যস্ত করেছিলেন। তবে মোজতবা খামেনির এই উত্তরণ ইরানের সংবিধানে থাকা কিছু প্রথাগত নিয়মের জন্য একটি বড় পরীক্ষা। দেশটির সংবিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতাকে উচ্চপদস্থ ধর্মীয় আলেম হতে হয়, যেখানে মোজতবা একজন মধ্যম সারির আলেম। তদুপরি, রাজতন্ত্র উৎখাত করে প্রতিষ্ঠিত একটি ব্যবস্থায় বাবার পর ছেলের ক্ষমতা গ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিতর্ক ছিল। তবে বর্তমান যুদ্ধকালীন জরুরি পরিস্থিতি এবং ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর কৌশলগত সিদ্ধান্তের ফলে শেষ পর্যন্ত মোজতবার হাতেই ন্যস্ত হলো ইরানের ভাগ্য। এখন দেখার বিষয়, এই কঠিন সময়ে নতুন প্রজন্মের এই নেতা কীভাবে ইরানকে পরিচালনা করেন।
২৫ মার্চের ভয়াল কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বরতায় শহীদদের স্মরণে এবার দেশজুড়ে পালিত হবে এক মিনিটের প্রতীকী ‘ব্ল্যাকআউট’। আগামী ২৫ মার্চ রাত ১০টা থেকে ১০টা ১ মিনিট পর্যন্ত জরুরি স্থাপনা (কেপিআই) ছাড়া সারা দেশ অন্ধকারে ডুবিয়ে এই শোক পালন করা হবে। রোববার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস এবং ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা ও ভাবগাম্ভীর্য রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কঠোর পদক্ষেপ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শোকের আবহাওয়া বজায় রাখতে ২৫ মার্চ রাতে সারা দেশের কোথাও কোনো ধরনের আলোকসজ্জা করা যাবে না। এমনকি বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং কৃচ্ছ্রসাধনের অংশ হিসেবে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসেও কোনো আলোকসজ্জা না করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, যা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বিতভাবে কার্যকর করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ আলোচনা সভা ও স্মৃতিচারণের আয়োজন করা হবে। স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উপস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের কাছে ২৫ মার্চের বর্বর ইতিহাসের সত্য তুলে ধরা হবে। এছাড়া এদিন দুপুর ১২টা থেকে দেশের সব সিটি করপোরেশন এলাকায় গণহত্যার ওপর নির্মিত দুর্লভ আলোকচিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হবে, যা সাধারণ মানুষকে ইতিহাসের সেই কালো অধ্যায় সম্পর্কে সজাগ করবে। শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় এদিন জোহরের নামাজের পর সারা দেশের মসজিদে বিশেষ মোনাজাত এবং মন্দির, গির্জাসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে। প্রতীকী ব্ল্যাকআউট কর্মসূচিটি সফল করতে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসন ইতোমধ্যে কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। জাতীয় ইতিহাসের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দিবসকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে সভায় আশ্বস্ত করা হয়েছে।
ডিএমপি সদর দপ্তর: সাধারণ মানুষের বিচারিক ভোগান্তি কমাতে এবং আইনি সেবা আরও গতিশীল করতে দেশের প্রতিটি থানায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ পুলিশ। সোমবার সকালে ডিএমপির সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এই যুগান্তকারী উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, এই ব্যবস্থা কার্যকর হলে জমি দখল, মারামারি এবং মাদকের মতো মামলাগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে, যা বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘসূত্রতা থেকে মুক্তি দেবে। আইজিপি তাঁর বক্তব্যে একটি জনবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশ বাহিনী গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ঘোষণা দেন যে, প্রতিটি জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানায় রূপান্তর করা হবে, যেখানে নাগরিকরা কোনো হয়রানি ছাড়াই নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারবেন। পুলিশের ‘রিঅ্যাকশন টাইম’ বা সাড়া দেওয়ার সময় কমিয়ে আনার পাশাপাশি পুলিশি সেবাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি, যাতে সাধারণ মানুষ হাসিমুখে থানা থেকে ফিরতে পারে। অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে আইজিপি বলেন, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যেকোনো অপরাধীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা এবং গণধর্ষণের মতো ঘৃণ্য অপরাধের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। সিআইডি-কে আরও আধুনিকায়ন করে তদন্তের গুণগত মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন পুলিশ প্রধান। আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর নিয়ে পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন মো. আলী হোসেন ফকির। মহাসড়কে ডাকাতি ও চাঁদাবাজি রোধে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশ ও র্যাব সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। এছাড়া পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা নিয়ে যাতে কোনো অসন্তোষ তৈরি না হয়, সেজন্য মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় শুরু করেছে পুলিশ। ঈদ মৌসুমে উগ্র মৌলবাদের উত্থান ঠেকাতে কঠোর নজরদারির পাশাপাশি একটি দক্ষ ও জবাবদিহিমূলক পুলিশি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে জনগণের সুচিন্তিত মতামত ও সহযোগিতাও কামনা করেন নবনিযুক্ত আইজিপি।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেসকিয়ান এর সঙ্গে ফোনালাপ করে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ম্যাক্রোঁ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, তিনি ইরানকে অবিলম্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি শেষ করে সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর কোনো পশ্চিমা নেতার সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম সরাসরি আলোচনা বলে জানা গেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তিনি ফরাসি নাগরিক সেসিল কোহলার ও জ্যাক প্যারিসের বিষয়েও কথা বলেছেন, যারা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিন বছরের বেশি সময় ইরানে আটক থাকার পর গত নভেম্বরে মুক্তি পান এবং তেহরানে ফরাসি দূতাবাসে স্থানান্তর করা হয়। ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কাতার ও কুয়েতের আমির, মিসর ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে বলে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলমান সংকটের সমাধান কূটনৈতিক পথেই খুঁজতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান মাইক মুলেন বলেছেন, ইরানে শাসন পরিবর্তন ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র সফল হবে কিনা তা নিয়ে তার গুরুতর সন্দেহ রয়েছে। তিনি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতা দেখায় যে বাইরে থেকে হস্তক্ষেপ করে কোনো দেশের সরকার পরিবর্তন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরাক ও আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তার ভাষায়, ইরাক ও আফগানিস্তানে আমরা নেতা নির্বাচন করেছি, কিন্তু ফল ভালো হয়নি। তাই ইরানে শাসন পরিবর্তন করা খুবই কঠিন কাজ হবে। মুলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এবং জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পালন করেছেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ চালাচ্ছিল। এদিকে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানে শাসন পরিবর্তনের সম্ভাবনার কথা বলেছেন এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন। মুলেন বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হলেও শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু মানেই পুরো শাসনব্যবস্থার পতন নয়। তার মতে, ইরান সরকার টিকে থাকার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতেও প্রস্তুত থাকবে। তিনি আরও সতর্ক করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তা অপ্রত্যাশিতভাবে পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
উত্তপ্ত নিউ ইয়র্ক। মেয়র জোহরান মামদানির সরকারি বাসভবন ‘গ্রেসি ম্যানশন’ লক্ষ্য করে ‘বোমা’ সদৃশ বস্তু ছোড়ার অভিযোগ উঠল এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের বিরুদ্ধে। কট্টর দক্ষিণপন্থী গোষ্ঠীর মুসলিম-বিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে শনিবার রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় সংশ্লিষ্ট এলাকা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শনিবার কট্টর দক্ষিণপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার জ্যাক ল্যাংয়ের নেতৃত্বে একদল বিক্ষোভকারী মামদানির বাসভবনের সামনে জড়ো হন। তাঁদের দাবি ছিল, নিউ ইয়র্কের প্রকাশ্য স্থানে নামাজ পড়া নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রায় ২০ জনের এই দলটি যখন উসকানিমূলক স্লোগান দিচ্ছিল, তখনই পালটা বিক্ষোভ শুরু করে অন্য একটি পক্ষ। দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই এক হুডি পরা যুবক মেয়র মামদানির বাড়ি লক্ষ্য করে টেপ দিয়ে মোড়ানো একটি সন্দেহভাজন বস্তু ছুড়ে মারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বস্তুটি থেকে ধোঁয়া বেরোচ্ছিল। পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে ওই বস্তুর ভেতর থেকে পেরেক ও নাটবল্টুর মতো বিপজ্জনক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আমির বালাত নামে এক যুবকসহ মোট ছয়জনকে হেফাজতে নিয়েছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
সৌদি আরবের অন্যতম বড় তেলক্ষেত্র শায়েবাহ অয়েলফিল্ড লক্ষ্য করে আবারও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। সোমবার ভোরে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী চারটি বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ছুড়েছে এই তেলক্ষেত্রের দিকে। খবর জানিয়েছে আল জাজিরা। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, তেলক্ষেত্রে আঘাত হবার আগে তাদের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম ড্রোনগুলো ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, কোনো ক্ষতি হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান ৯ দিনের মধ্যে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র আরব দেশগুলোর মার্কিন সেনাঘাঁটি, স্থাপনা ও তেলক্ষেত্রগুলোতে। এই সময়ে শায়েবাহ তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে তিনবার হামলার পর গত রোববার সৌদি আরব ইরানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশের তেল অবকাঠামোতে হামলা চালানো অব্যাহত রাখলে ইরানের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে। তবে এই সতর্কবার্তার পরও চতুর্থবারের মতো শায়েবাহ তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়েছে ইরান।
উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন দেশটির নারীদের ‘শারীরিকভাবে দুর্বল’ হলেও ‘দৃঢ়চেতা’ বলে প্রশংসা করেছেন। তিনি নারীদের ‘বিপ্লবের মজবুত স্তম্ভ’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন। সোমবার (৯ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে পিয়ংইয়ংয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভাষণ দেন কিম জং উন। সেখানে তিনি উত্তর কোরিয়ার নারীদের কঠোর পরিশ্রম ও ভূমিকার প্রশংসা করেন। সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ’র ইংরেজি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম বলেন, “আমাদের সমসাময়িক নারীরা বিপ্লবের মজবুত স্তম্ভ হয়ে উঠেছেন।” তিনি আরও বলেন, “শারীরিকভাবে দুর্বল হলেও তারা নিঃসন্দেহে দৃঢ়চেতা। তাদের সাদামাটা মুখে সাহসের ছাপ স্পষ্ট এবং মুখের বলিরেখায় ফুটে ওঠে অক্লান্ত পরিশ্রমের গল্প।” সপ্তাহের শেষ দিনের ওই অনুষ্ঠানে কিম জং উনের স্ত্রী রি সল জু এবং কন্যা জু এ উপস্থিত ছিলেন। কেসিএনএ প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, জু এ তার বাবার পাশে বসে তার হাত ধরে আছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই জু এ-কে উত্তর কোরিয়ার সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষ কর্মকর্তারা এবং বিদেশি কূটনীতিকরাও অংশ নেন। কিমের বক্তব্যের পর সেখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কেসিএনএ জানায়, উপস্থিত দর্শকরা করতালির মাধ্যমে কিম জং উনের বক্তব্যকে স্বাগত জানান। উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরে কিম পরিবার উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছে এবং দেশটিতে এই পরিবারের নেতৃত্বকে কেন্দ্র করে একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক বলয় গড়ে উঠেছে।
নিউইয়র্ক সিটিতে মেয়র জোহরান মামদানির বাড়ির বাইরে বিক্ষোভ চলাকালীন পুলিশ একটি বোমাসদৃশ ডিভাইস নিক্ষেপের অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার পেনসিলভানিয়ার দুই ব্যক্তি, এমির বালাত এবং ইব্রাহিম কায়ুমি, সন্দেহজনক একটি ডিভাইস পুলিশের দিকে ছুড়েছিলেন। প্রথমে এই ডিভাইসগুলোকে ধোঁয়াশা সৃষ্টিকারী বোমা মনে করা হয়, তবে পরে পরীক্ষায় এগুলো সম্ভাব্য বিস্ফোরক ডিভাইস হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মেয়রের বাড়ি, গার্সি ম্যাসনের সামনের রাস্তার অংশে। ঐদিন ডানপন্থি কর্মী জ্যাক লাং মুসলিমবিরোধী বিক্ষোভ পরিচালনা করছিলেন। তার প্রতিবাদে বড়সংখ্যক লোক পাল্টা বিক্ষোভে অংশ নেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, উত্তেজনার সময় একজন পাল্টা বিক্ষোভকারী একটি আগুন লাগানো ডিভাইস পুলিশের দিকে নিক্ষেপ করেন। ডিভাইসটি আকাশে উড়ার সময় আগুন ও ধোঁয়া ছড়ায়, তবে পরে এটি একটি ব্যারিকেডে আঘাত করে নিভে যায়। নিউইয়র্ক পুলিশ কমিশনার জ্যাসিকা টিচস জানিয়েছেন, প্রাথমিক পরীক্ষায় ডিভাইসটি একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) হতে পারে, যা গুরুতর ক্ষতি ঘটাতে পারত। আরও তদন্তের জন্য এগুলো এফবিআই-এর কাছে পাঠানো হয়েছে। মেয়র মামদানি এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বলেছেন যে, নিউইয়র্কে ঘৃণা এবং সহিংসতার কোনো স্থান নেই।
কাতারের অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা রক্ষা করতে একটি বিশেষ অভিযানে ৩১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে। মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃতরা বিভ্রান্তিকর তথ্য ধারণ ও ছড়ানোর অভিযোগে আটক হয়েছেন। কাতার সরকারের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং আইনত দণ্ডনীয়। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, আটককৃতরা বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তবে তাদের পরিচয় এবং তারা ঠিক কী ধরনের তথ্য ছড়িয়েছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। কাতারের আইন অনুযায়ী, ডিজিটাল মাধ্যমে অপ্রমাণিত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং আরও তদন্ত চলমান রয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।