Live update news
ছবি: সংগৃহীত
কানাডায় মে মাসে বাড়ি বিক্রি বেড়েছে সাড়ে ৫ শতাংশ, দাম কিছুটা কম

চলতি বছরের মে মাসে কানাডায় বাড়ি বিক্রির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণত বসন্তকালে দেশটির আবাসন খাতে যে চাঙ্গা ভাব দেখা যায়, এবার শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতি থাকলেও মে মাসে তা অনেকটাই পুষিয়ে নিয়েছে। তবে বিক্রি বাড়লেও বাড়ির দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) কানাডিয়ান রিয়েল এস্টেট অ্যাসোসিয়েশনের (সিআরইএ) প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা গেছে।   সিআরইএ-এর উপাত্ত অনুযায়ী, গত মে মাসে বাড়ি বিক্রির হার এপ্রিল মাসের তুলনায় ৫.৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে মৌসুমী সমন্বয় ছাড়া বার্ষিকভিত্তিতে হিসাব করলে দেখা যায়, গত বছরের মে মাসের তুলনায় এবার বাড়ি বিক্রি ৫.১ শতাংশ কম হয়েছে।   এদিকে মূল্যসূচকের দিকে তাকালে দেখা যায়, অ্যাসোসিয়েশনের 'হোম প্রাইস ইনডেক্স' বা বাড়ির মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় মাত্র ০.১ শতাংশ কমেছে। তবে বার্ষিকভিত্তিতে এই দাম কমার হার বেশ দৃশ্যমান, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪.১ শতাংশ কম।   সিআরইএ-এর চেয়ারম্যান গ্যারি ভাওরা এক বিবৃতিতে জানান, "চলতি বছর কানাডার বহু অঞ্চলের আবহাওয়ার মতোই দেশটির আবাসন খাতের বসন্তকালীন বাজারও যেন প্রায় এক মাস পিছিয়ে শুরু হয়েছে। তবে মে মাসের এই ইতিবাচক পরিসংখ্যান পরিষ্কারভাবে জানান দিচ্ছে যে, বাজারে এখন পুরোদমে গতি ফিরছে।"   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মে মাসে বাজারে নতুন তালিকাভুক্ত হওয়া বাড়ির (নিউ লিস্টিং) পরিমাণ এপ্রিলের তুলনায় ১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। নতুন তালিকাভুক্ত বাড়ির বিপরীতে বিক্রির অনুপাত (সেলস-টু-নিউ লিস্টিং রেশিও) এপ্রিলের ৪৬.২ শতাংশ থেকে বেড়ে মে মাসে ৪৯.২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। অবশ্য এই হার দেশটির দীর্ঘমেয়াদী গড় অনুপাত ৫৪.৮ শতাংশের চেয়ে এখনো কিছুটা নিচেই রয়েছে।

২০ সেকেন্ড Ago
ছবিঃ এ এফ পি
লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক প্রাণহানির কড়া সমালোচনা করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই যুদ্ধ 'অতিরিক্ত দীর্ঘ' হয়েছে এবং এর ফলে অসংখ্য বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।   মঙ্গলবার ফ্রান্সে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইসরায়েল অনেক দিন ধরেই হিজবুল্লাহর সাথে লড়ছে এবং এতে বহু মানুষ মারা গেছে।" এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।   ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, "কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই ভবনগুলোতে এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।" তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইসরায়েল যদি বাকি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে তাদের অভিযান পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই লড়াইয়ে তাদের বদলে সিরিয়ার এগিয়ে আসা উচিত।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, লেবাননে হিজবুল্লাহর মোকাবিলা করার জন্য তিনি ইসরায়েলকে সিরিয়ার হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়িয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে দামেস্ক আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।   সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর দেশটির নতুন প্রশাসন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আহমেদ আল-শারা।   সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং আরও কয়েকজনের সহায়তায় সিরিয়ার নেতৃত্ব দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে 'অসাধারণ কাজ' করছে।   সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "তিনি হয়তো নিষ্কলঙ্ক কোনো সাধু ব্যক্তি (স্কাউট বয়) নন, তবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন এবং তিনি খুবই দক্ষ।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য সিরিয়ার নেতৃত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান আস্থারই ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব খর্ব করার ক্ষেত্রে দামেস্ককে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তনেরও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

৫ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
হোয়াইট হাউসে কুস্তি খেলায় ড্রোন ও বন্দুক হামলার বড় ষড়যন্ত্র বানচাল

যুক্তরাষ্ট্রের হোয়াইট হাউসের প্রাঙ্গণে গত উইকেন্ডে অনুষ্ঠিত একটি হাই-প্রোফাইল ইউএফসি (UFC) খাঁচা-কুস্তি (কেজ-ফাইটিং) ম্যাচকে লক্ষ্য করে তৈরি করা এক ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দিয়েছে মার্কিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মঙ্গলবার (১৬ জুন) আদালতের সিলমোহর মুক্ত করা নথিপত্র থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষুব্ধ একদল ষড়যন্ত্রকারী বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন ওড়ানো এবং বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত হয়ে পালিয়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর ছক কষেছিল।   আদালতের নথি অনুযায়ী, এফবিআই এই ষড়যন্ত্রের সাথে জড়িত প্রায় ২০ জন সদস্যের একটি এনক্রিপ্টেড টেক্সট মেসেজ গ্রুপের চ্যাটিং উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। সেখানে তারা হামলার এলাকার বিস্তারিত মানচিত্র শেয়ার করেছিল এবং হামলার পর লুকিয়ে থাকার জন্য একটি 'সেফ হাউস' ও পালানোর পথ নিয়ে আলোচনা করছিল। তবে গত সপ্তাহে সফলভাবে ব্যর্থ করে দেওয়া এই পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নের কতটা কাছাকাছি পৌঁছাতে পেরেছিল তা আদালতের রেকর্ড থেকে এখনো স্পষ্ট জানা যায়নি।   গত ১৪ জুন হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে (দক্ষিণ চত্বর) এই মিক্সড মার্শাল আর্টস বা কুস্তি প্রতিযোগিতার আসর বসার কথা ছিল। এর ঠিক চার দিন আগে, অর্থাৎ ১০ জুন এফবিআই সম্ভাব্য এই হুমকির বিষয়টি প্রথম জানতে পারে। মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল বলেন, "এফবিআই, আমাদের সহযোগী সংস্থা এবং বিচার বিভাগের একটি বহুমাত্রিক যৌথ তৎপরতার কারণে একাধিক সন্দেহভাজনকে ইতিমধ্যে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পরিকল্পিত হামলাটি শুরু হওয়ার আগেই সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে দেওয়া হয়েছে।"   এই ঘটনার তদন্তের সাথে সংশ্লিষ্ট একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানিয়েছেন যে, ওহাইও, মিসৌরি এবং ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে এ পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ওহাইও-এর ১৯ বছর বয়সী তরুণ টাইসেন প্রোপার রয়েছেন। এফবিআই-এর হলফনামা অনুযায়ী, গত সপ্তাহে প্রোপারের মা তার ছেলের বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র কেনাকাটা এবং সন্দেহজনক অনলাইন যোগাযোগ নিয়ে স্থানীয় পুলিশের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।   গ্রেপ্তার হওয়া প্রোপারের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে হত্যার চেষ্টার মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রোপার স্বীকার করেছেন যে, তিনি এই হামলার পরিকল্পনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন। হলফনামা থেকে আরও জানা যায়, এই চক্রের সদস্যরা গত মার্চ মাস থেকে 'ভ্যানগার্ড অব দ্য ওল্ড' নামক একটি টিকটক গ্রুপের মাধ্যমে একে অপরের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছিল। নথিতে বলা হয়েছে, চক্রের সদস্যরা বিশ্বাস করত যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভুল পথে এগোচ্ছে এবং দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার জন্য এটিকে প্রথমে ধ্বংস করা প্রয়োজন। এছাড়া জেফ্রি এপস্টেইনের মতো বিতর্কিত চরিত্রের সাথে জড়িত ব্যক্তিরা যেন দেশ শাসন করতে না পারে, সেটিও ছিল তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

১২ মিনিট Ago
বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ | ছবি: সংগৃহীত
‘নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে যান’, দিলীপ ঘোষের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর পশ্চিমবঙ্গ সফর এবং কলকাতার রেড রোডে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে চরম বিতর্কিত ও উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন রাজ্যটির শীর্ষ বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। রেড রোডে ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি না দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, "নামাজ পড়তে হলে বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানে চলে যান।" তার এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গসহ পুরো ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও নিন্দার ঝড় উঠেছে।   আগামী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গ সফরে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সফরসূচি অনুযায়ী, রবিবার মূল অনুষ্ঠানে তার যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। কলকাতার রেড রোডের এই বিশেষ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব ও সাধারণ মানুষের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। যোগ দিবসের এই বৃহৎ প্রস্তুতি ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার স্বার্থে রেড রোড টানা সাত দিনের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে। গত রবিবার রাত ১০টা থেকে আগামী ২১ জুন (রবিবার) পর্যন্ত এই রাস্তায় সব ধরনের যান চলাচল স্থগিত থাকবে এবং ইতিমধ্যে সেখানে মঞ্চ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে।   সপ্তাহজুড়ে এই ভিভিআইপি কর্মসূচির কারণে সাধারণ মানুষের চরম দুর্ভোগ ও দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকার বিষয়টি নিয়ে দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে জবাব দেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী আসলে সব রাস্তাই বন্ধ থাকে, তিনি যেখানেই যাবেন সেখানেই বন্ধ হবে। যেখানে যান চলাচল তুলনামূলক কম (রেড রোড), সেখানেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। অন্য কোনো রাস্তায় করলে আরও বেশি সমস্যা হতো।   তবে মূল বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন ঈদের নামাজের জন্য রেড রোড ব্যবহার করতে না দেওয়ার প্রসঙ্গটি সামনে আসে। বিষয়টি উঠতেই চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত উগ্র মনোভাব ব্যক্ত করেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, "ওনারা কোন হরি-দাস-পাল যে তাদের জন্য রাস্তা আটকাতে হবে? প্রধানমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাস্তা আটকানো যায়—এটা ঠিকই আছে। প্রধানমন্ত্রী বছরে একবারই আসছেন।"   বিজেপির এই প্রবীণ নেতা আরও যোগ করে বলেন, "১০৭ বছর ধরে তো (নামাজ) চলেছে, এখন একবার বন্ধ করে দেওয়াতে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছে? যান বাংলাদেশ বা পাকিস্তানে চলে যান, সেখানে গিয়ে নামাজ পড়ুন, কেউ কিছু বলবে না। এখানে এসব আর চলবে না। সরকার পাল্টে গেছে। এগুলো বন্ধ করার জন্যই লোকে সরকার পাল্টেছে। আর এগুলো বন্ধ হবেই।" পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক ক্ষমতা বদলের পর এই ধরনের ধর্মীয় আচার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়ে তার দেওয়া এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

২৯ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
২ বছরে ৬৩ হাজার শিক্ষার্থীকে ভুল রেজাল্ট দেওয়ায় IELTS কর্তৃপক্ষকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা

যুক্তরাজ্যের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থা 'অফকোয়াল' (Ofqual) আইইএলটিএস পরীক্ষার ফলাফলে ব্যাপক ত্রুটির কারণে কেমব্রিজ ইংলিশকে ৮ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, কম্পিউটার-নিয়ন্ত্রিত স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়ন ব্যবস্থায় ত্রুটি থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী অন্তত ৬২ হাজার ৭৯৪ জন পরীক্ষার্থী ভুল ফলাফল পেয়েছিলেন। এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কেমব্রিজ ইংলিশ কর্তৃপক্ষ।   প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট ২০২৩ থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত হওয়া পরীক্ষাগুলোতে এই বিপর্যয় ঘটে। উল্লিখিত সময়ের মধ্যে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৭৭ লাখ আইইএলটিএস পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত কর্তৃপক্ষের নজরে এই ত্রুটি ধরা পড়েনি।   ভুল চিহ্নিত হওয়ার পরপরই আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ (যার যৌথ মালিকানায় রয়েছে ব্রিটিশ কাউন্সিল, আইডিপি আইইএলটিএস এবং কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট) দ্রুত অফকোয়ালকে বিষয়টি অবহিত করে। এই ভুল ফলাফলের শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী।   কেমব্রিজ ইংলিশ এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের দায়ভার গ্রহণ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফলাফল সংশোধন, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন প্রযুক্তিগত সুরক্ষায় তারা ইতোমধ্যে ৬০ লাখ পাউন্ডেরও বেশি ব্যয় করেছে। ত্রুটি সংশোধনের পর দেখা যায়, প্রায় ২০ হাজার ৬০০ জনেরও বেশি পরীক্ষার্থীর সংশোধিত স্কোর আগের চেয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে।   এই ত্রুটির শিকার হওয়া পরীক্ষাগুলোর মধ্যে ১ হাজার ১০৮টি ছিল যুক্তরাজ্যের ভিসা সংক্রান্ত পরীক্ষা। আইইএলটিএস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, এর মধ্যে মাত্র ৪টি ক্ষেত্রে ভুল ফলাফলের কারণে পরীক্ষার্থীদের ভিসার যোগ্যতা প্রভাবিত হয়েছিল; তবে পরবর্তীতে ওই পরীক্ষার্থীরা পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে তাদের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।   অফকোয়ালের নির্বাহী পরিচালক (ডেলিভারি) অ্যামান্ডা সোয়ান এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, "যারা এই পরীক্ষা দিয়েছেন এবং যারা এই ফলাফলগুলো মূল্যায়ন কাজে ব্যবহার করেছেন, তারা দীর্ঘ মেয়াদে এই পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কারণে চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমাদের এই বড় অঙ্কের জরিমানা মূলত সেই ব্যর্থতারই কঠোর প্রতিফলন।"   এদিকে, আইইএলটিএস-এর একজন মুখপাত্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত ত্রুটির জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি জানান, সমস্যাটি চিহ্নিত হওয়ার পরপরই তারা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ফলাফল সংশোধন ও পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত সকল পরীক্ষার্থীকে অর্থ ফেরত (রিফান্ড) অথবা পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের কোনো প্রযুক্তিগত ও পরিচালনাগত ত্রুটি না ঘটে, সেজন্য প্রতিষ্ঠানটি তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে বলে আশ্বস্ত করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ১১:২৭
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে মুসলিম নারীদের টার্গেট করে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অশ্লীল কনটেন্ট

ভারতে মুসলিম নারীদের অনলাইনে হেনস্তা ও মানহানি করার জন্য জেনারেটিভ আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)-কে নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি বিকৃত করে অশ্লীল ও আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বসবাসরত কাশ্মীরি মডেল সামরিন আইয়ুবের সাথে ঘটা একটি ঘটনা এর অন্যতম বড় প্রমাণ। গত বছর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ছবিগুলো এআই দিয়ে জুড়ে দিয়ে একটি ভুয়া ভিডিও ছড়ানো হয়, যেখানে মিথ্যা দাবি করা হয় যে তিনি দেহব্যবসায় জড়িত। ভিডিওটি এতটাই নিখুঁত ছিল যে স্বয়ং সামরিনও স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন।   ওয়াশিংটন ভিত্তিক 'সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব অর্গানাইজড হেট' (সিএসওএইচ)-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ২০২৩ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত এক্স (টুইটার), ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ২৯৭টি পাবলিক অ্যাকাউন্ট থেকে সংগ্রহ করা ১,৩২৬টি এআই-জেনারেটেড ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মুসলিম নারীদের লক্ষ্য করে তৈরি করা এসব আপত্তিকর কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে, যার ইন্টারঅ্যাকশন বা ভিউ প্রায় ৬৭ লাখ ছাড়িয়েছে। গবেষকদের মতে, বর্তমানে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোনো কারিগরি দক্ষতা ছাড়াই যে কেউ বিনামূল্যে এবং খুব দ্রুত যেকোনো মানুষের ছবিকে বিকৃত করে বাস্তবসম্মত আপত্তিকর ছবি বা ডিপফেক তৈরি করতে পারছে।   মুম্বাই ভিত্তিক রাতি (RATI) ফাউন্ডেশন দ্বারা পরিচালিত অনলাইন হেল্পলাইন 'মেরি ট্রাস্টলাইন'-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনেও এই উদ্বেগের সত্যতা মিলেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এআই অপব্যবহারের শিকার হিসেবে গণমাধ্যমে সাধারণত তারকা বা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম বেশি আসলেও, বাস্তব ক্ষেত্রে সাধারণ নারীরাও এর বড় শিকার হচ্ছেন। ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই হেল্পলাইনটি ৪৮২টিরও বেশি মামলা পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ মামলাই ছিল ডিজিটালি বিকৃত বা এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট সংক্রান্ত। লোকলজ্জা, ভয় এবং ট্রমার কারণে ভুক্তভোগী নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এই নির্যাতনের কথা নিজের পরিবারকেও জানাতে পারেন না।   মিউনিখের লুডউইগ ম্যাক্সিমিলিয়ান ইউনিভার্সিটির মিডিয়া অ্যানথ্রোপলজিস্ট সাহানা উদুপা এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে 'রাজনীতির পর্নোলাইজেশন' বা নোংরা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। উগ্রপন্থী কিছু ডিজিটাল গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতুক, মিম এবং আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে এই ধরনের হয়রানিকে স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত করছে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, এটি কেবল নারীবিদ্বেষ নয়, বরং এর পেছনে গভীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে। দক্ষিণ এশীয় সংস্কৃতিতে নারীদের পরিবারের সম্মান হিসেবে দেখা হয়, তাই মুসলিম নারীদের এভাবে টার্গেট করার মাধ্যমে পুরো সম্প্রদায়কে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।   এর আগে ২০২১ ও ২০২২ সালে ভারতে 'সুল্লি ডিলস' এবং 'বুল্লি বাই' নামক অ্যাপের মাধ্যমে মুসলিম নারীদের ছবি আপলোড করে ভুয়া 'অনলাইন নিলাম'-এর আয়োজন করা হয়েছিল, যা বিশ্বজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। ভারতের বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিজেপির রাজনৈতিক নেতা আতিফ রশিদ অবশ্য এই ঘটনাগুলোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এআই প্রযুক্তি ভালো ও মন্দ উভয় কাজেই ব্যবহার হতে পারে এবং এর অপব্যবহার রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। তবে পূর্বের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে প্রশাসন আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বিজেপি সব ধর্মের নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলে তিনি দাবি করেন।   এদিকে ভারতের বর্তমান আইনি কাঠামো এআই-প্রযুক্তির এই দ্রুত বিকাশের সাথে তাল মেলাতে পারছে না বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। ইন্টারনেট ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং আইনজীবী অপর গুপ্তা জানান, ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬ই ধারা অনুযায়ী সম্মতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ধারণ ও প্রকাশ করা অপরাধ। কিন্তু ছবি বা শরীর যদি সম্পূর্ণ এআই বা কৃত্রিমভাবে তৈরি হয়, তবে এই ধারাটি প্রয়োগ করা জটিল হয়ে পড়ে। এছাড়া মেটা বা গুগলের মতো ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জটিল রিপোর্টিং সিস্টেমের কারণে সাধারণ নারীরা সহজে এসব ডিপফেক বা আপত্তিকর কনটেন্ট ইন্টারনেট থেকে মুছে ফেলতে ব্যর্থ হচ্ছেন, যা তাদের জীবন ও ক্যারিয়ারকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
একই দিনে বিধ্বস্ত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার দুই কৌশলগত বোমারু বিমান, বিশ্বজুড়ে চাঞ্চল্য

বিশ্বের দুই শীর্ষ সামরিক পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার জন্য সোমবার (১৫ জুন) ছিল এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার দিন। এদিন সম্পূর্ণ পৃথক দুটি ঘটনায় দেশ দুটি তাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও শক্তিশালী কৌশলগত বোমারু বিমান হারিয়েছে।   যদিও দেশ দুটির এই দুর্ঘটনার মধ্যে কোনো পারস্পরিক যোগসূত্র নেই, তবে একই দিনে পরাশক্তিদ্বয়ের এমন অপ্রত্যাশিত বিপর্যয় আন্তর্জাতিক সামরিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।   মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রকাশ করা তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে একটি বি-৫২ স্ট্র্যাটোফোর্ট্রেস বোমারু বিমান ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে একটি নিয়মিত পরীক্ষামূলক মিশনে উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরেই বিমানটি ভূপাতিত হয়।   আছড়ে পড়ার পরপরই বিমানটিতে আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে বিমানে থাকা আটজন আরোহীর কেউই প্রাণে বাঁচতে পারেননি।   অন্যদিকে, ঠিক একই দিনে রাশিয়ার সাইবেরিয়া অঞ্চলে অবস্থিত ইরকুতস্ক এলাকায় রুশ বাহিনীর একটি টু-২২এম৩ কৌশলগত বোমারু বিমান আকাশ থেকে বিধ্বস্ত হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এটি একটি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ফ্লাইট ছিল।   তবে মার্কিন দুর্ঘটনার মতো এখানে কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। বিমানটিতে থাকা চার সদস্যের ক্রু দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে নিরাপদে ইজেক্ট করতে বা প্যারাসুটের মাধ্যমে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।   রুশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে ইঞ্জিন বিকল হয়ে যাওয়াকেই এই দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে। মস্কো আরও নিশ্চিত করেছে যে, উড্ডয়নরত অবস্থায় বিধ্বস্ত হওয়া ওই বিমানটিতে কোনো ধরনের যুদ্ধাস্ত্র ছিল না।   সামরিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টিকোণ থেকে, একই দিনে বিশ্বের প্রধান দুই সামরিক শক্তির এমন কৌশলগত বোমারু বিমান হারানো অত্যন্ত বিরল একটি ঘটনা। আধুনিক সামরিক প্রযুক্তিতে এমন ঘটনা সম্পূর্ণ কাকতালীয় হলেও, এটি বিশ্বজুড়ে সামরিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ ফ্লাইটে মোবাইল ফোনে আগুন, নিরাপদে অবতরণ

লন্ডন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি যাত্রীবাহী ফ্লাইটে উড্ডয়নরত অবস্থায় একটি মুঠোফোনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সোমবার এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ঘটনার পর ফ্লাইটটি যুক্তরাষ্ট্রের হ্যারি রিড আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।   যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানায়, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ফ্লাইট ২৭১-এর ক্রু সদস্যরা কেবিনে একটি সেলফোনে আগুন লাগার বিষয়টি শনাক্ত করেন। এরপর পাইলট জরুরি সতর্কতা জারি করে বিমানটি লাস ভেগাসে অবতরণ করান।   এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের অডিও রেকর্ডে পাইলটকে জানাতে শোনা যায় যে মোবাইল ফোনে আগুন লাগার ঘটনায় কেবিনের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় বলে জানানো হয়।   লাস ভেগাস বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, পাইলট সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন, তবে কোনো আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়নি। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের এক মুখপাত্র জানান, ফ্লাইটটি নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ীই অবতরণ করে এবং বড় ধরনের কোনো বিঘ্ন ঘটেনি।   ঘটনাটিতে কোন ব্র্যান্ড বা মডেলের মোবাইল ফোন জড়িত ছিল তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফএএ জানিয়েছে, তারা এ বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করবে।   বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম ব্যাটারিচালিত ডিভাইস যেমন মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও পাওয়ার ব্যাংক থেকে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শর্ট সার্কিট বা তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব ডিভাইস হঠাৎ আগুন ধরে যেতে পারে।   এফএএ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের নিয়ম অনুযায়ী, যাত্রীরা কেবিনে সীমিত সংখ্যক লিথিয়াম ব্যাটারি বহন করতে পারেন, তবে কার্গো হোল্ডে এগুলো রাখা নিষিদ্ধ।   সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কিছু এয়ারলাইন্স পাওয়ার ব্যাংক ও পোর্টেবল চার্জার বহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরও কঠোর করেছে। এফএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিমানের ভেতরে প্রায় ১০০টি ব্যাটারিজনিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার বেশিরভাগই ই-সিগারেট, ব্যাটারি প্যাক ও পাওয়ার ডিভাইসের সঙ্গে সম্পর্কিত।

ছবি: সংগৃহীত
ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের দ্রুত ফাঁদ বন্ধের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা

মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ কীভাবে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তার পাতার ফাঁদ বন্ধ করে শিকার ধরে, দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল ছিল। এবার ফরাসি জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের পদার্থবিদ জংউন রিউ-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় উদ্ভিদটির কোষ প্রাচীরের দ্রুত পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   গবেষকদের মতে, ফাঁদ সক্রিয় হওয়ার সময় ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ পাতার বাইরের স্তরের কোষ প্রাচীরকে অত্যন্ত দ্রুত নরম করে ফেলে। এই পরিবর্তনের ফলে পাতার বাইরের অংশ ভেতরের তুলনায় বেশি প্রসারিত হয়। এর ফলেই পাতাটি ভেতরের দিকে বেঁকে গিয়ে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করার পর হঠাৎ স্প্রিংয়ের মতো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।   বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের ঘটনা আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। গবেষণায় দেখা যায়, স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর ফাঁদটি মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।   আগের ধারণা অনুযায়ী, পাতার এক পাশ থেকে অন্য পাশে পানি স্থানান্তরের মাধ্যমে এই ফাঁদ বন্ধ হয় বলে মনে করা হতো। তবে নতুন গবেষণায় এই ধারণার দুটি বড় অসংগতি পাওয়া গেছে।   প্রথমত, উদ্ভিদের টিস্যুর মাধ্যমে পানি চলাচল অত্যন্ত ধীর গতির প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে ৩০ থেকে ১৫০ সেকেন্ড সময় লাগে। অথচ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের ফাঁদ এক সেকেন্ডের মধ্যেই সক্রিয় হতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, পানি প্রবাহের মাধ্যমে পাতা বন্ধ হলে টিস্যুর ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারের তরঙ্গ দেখা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এমন কোনো তরঙ্গের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই কারণে হাইড্রোলিক তত্ত্বটি বাতিল করেন গবেষকরা।   এরপর গবেষকরা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে দুটি পৃথক ধাপে ভাগ করেন। প্রথম ধাপ হলো পাতার ভেতরের দিকে ধীরে বাঁকানো প্রক্রিয়া এবং দ্বিতীয় ধাপ হলো মাত্র ০.২ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যাওয়া চূড়ান্ত দ্রুত বন্ধ হওয়া।   এই প্রক্রিয়া বোঝার জন্য গবেষকরা একটি ছোট প্রোব ব্যবহার করে পাতার ভেতরের ও বাইরের কোষ প্রাচীরের দৃঢ়তা পরিমাপ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফাঁদ বন্ধ হওয়ার সময় পাতার ভেতরের অংশের কোষ প্রাচীর প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে বাইরের পৃষ্ঠের কোষ প্রাচীর প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নরম হয়ে যায়।   স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর কোষের ভেতরের তরল চাপ, যাকে টারগর প্রেশার বলা হয়, এই নরম কোষ প্রাচীরের ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাইরের অংশ দ্রুত প্রসারিত হয় এবং পাতার দুই পাশের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, যা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফাঁদের ভেতরের সংবেদনশীল লোমে কোনো কীটপতঙ্গ পরপর দুইবার স্পর্শ করলেই এই প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে পাতার দুই পাশের দ্রুত বিস্তারের পার্থক্য তৈরি হয় এবং কীটপতঙ্গ আটকে যায়।   গবেষকরা মনে করছেন, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ মূলত উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত কোষ প্রাচীর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বিবর্তনের মাধ্যমে শিকার ধরার কাজে অভিযোজিত করেছে। এই অভিযোজনই উদ্ভিদটিকে প্রাণিজগতের মতো দ্রুত শিকার ধরার সক্ষমতা দিয়েছে।

ছবিঃ এ এফ পি
লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক প্রাণহানির কড়া সমালোচনা করলেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবাননে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি মনে করেন, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের এই যুদ্ধ 'অতিরিক্ত দীর্ঘ' হয়েছে এবং এর ফলে অসংখ্য বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটছে।   মঙ্গলবার ফ্রান্সে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইসরায়েল অনেক দিন ধরেই হিজবুল্লাহর সাথে লড়ছে এবং এতে বহু মানুষ মারা গেছে।" এত ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের আর কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।   ইসরায়েলি সামরিক কৌশলের সমালোচনা করে ট্রাম্প আরও বলেন, "কাউকে খোঁজার জন্য প্রতিবার পুরো একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই ভবনগুলোতে এমন অনেক মানুষ থাকেন, যাদের সবাই হিজবুল্লাহর সদস্য নন।" তিনি সাফ জানিয়ে দেন, ইসরায়েল যদি বাকি সাধারণ মানুষকে হত্যা না করে তাদের অভিযান পরিচালনা করতে ব্যর্থ হয়, তবে এই লড়াইয়ে তাদের বদলে সিরিয়ার এগিয়ে আসা উচিত।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, লেবাননে হিজবুল্লাহর মোকাবিলা করার জন্য তিনি ইসরায়েলকে সিরিয়ার হাতে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এড়িয়ে এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিয়ন্ত্রণে দামেস্ক আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে।   সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, দীর্ঘদিনের সংঘাতের পর দেশটির নতুন প্রশাসন স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আহমেদ আল-শারা।   সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলার সময় ট্রাম্প তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের ভূমিকারও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট এরদোগান এবং আরও কয়েকজনের সহায়তায় সিরিয়ার নেতৃত্ব দেশটিকে ঐক্যবদ্ধ করতে 'অসাধারণ কাজ' করছে।   সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, "তিনি হয়তো নিষ্কলঙ্ক কোনো সাধু ব্যক্তি (স্কাউট বয়) নন, তবে তিনি পরিস্থিতি সামাল দিয়ে অসাধারণ কাজ করেছেন এবং তিনি খুবই দক্ষ।" ট্রাম্পের এই মন্তব্য সিরিয়ার নেতৃত্বের প্রতি ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান আস্থারই ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি, প্রতিবেশী লেবাননে হিজবুল্লাহর প্রভাব খর্ব করার ক্ষেত্রে দামেস্ককে সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণে পরিবর্তনেরও স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
পোল্যান্ডে গুলিতে নিহত রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের সন্দেহ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:৩৮

পোল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া রুশ ভিন্নমতাবলম্বী শিল্পী ও কার্টুনিস্ট সেমিওন স্ক্রেপেটস্কি গুলিতে নিহত হয়েছেন। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ক্রেমলিনপন্থী নেতৃত্বের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত এই শিল্পীর মৃত্যু ঘিরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।   পোলিশ গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৪৪ বছর বয়সী স্ক্রেপেটস্কি সোমবার সকালে পূর্ব পোল্যান্ডের বিয়ালা পোডলাস্কা শহরে হামলার শিকার হন। বেলারুশ সীমান্তের কাছাকাছি ওই শহরের একটি সড়কে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।   ঘটনার পর হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয় পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চালানো হামলা হিসেবে বিবেচনা করছে। পুলিশের মুখপাত্র আন্দ্রে ফিজোলেক জানিয়েছেন, হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, তবে ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি পূর্বপরিকল্পনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।   এদিকে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ঘটনার পর একজন বেলারুশ নাগরিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পোলিশ কর্তৃপক্ষ।   স্ক্রেপেটস্কি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ব্যঙ্গচিত্রের মাধ্যমে পুতিন, চেচেন নেতা রমজান কাদিরভসহ রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সমালোচনা করে আসছিলেন। রাজনৈতিক চাপ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ২০২১ সালে তিনি রাশিয়া ছেড়ে পোল্যান্ডে আশ্রয় নেন।   জানা গেছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি জার্মানির বার্লিনে রুশ দূতাবাসের সামনে অনুষ্ঠিত একটি সরকারবিরোধী সমাবেশে অংশ নেন। সেখানে তার একটি বিতর্কিত রাজনৈতিক চিত্রকর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়।   ঘটনার পর পোল্যান্ডের রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর ও পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো রাষ্ট্রীয় সংস্থার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ইউরোপে অবস্থানরত রুশ ভিন্নমতাবলম্বীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান, ইরান পুনর্গঠনে ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল দাবি ঘিরে বিভ্রান্তি
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:২২

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান পুনর্গঠনের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের তহবিল গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত খবরকে ‘ভুয়া’ বলে দাবি করেছেন। মঙ্গলবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে কোনো অর্থ দেবে না এবং এ ধরনের খবর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হতে পারে।   ট্রাম্প লিখেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের কোনো আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে না। তার ভাষায়, “আর যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে ৩০০ বিলিয়ন ডলার দিচ্ছে, এমন খবর ভুয়া। এটি ডেমোক্র্যাটরা ছড়িয়ে থাকতে পারে।”   তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, ইরানের জন্য জব্দকৃত সম্পদ ছাড়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল এবং সম্ভাব্য পুনর্গঠন সহায়তা নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা চলছে। ওই কর্মকর্তার মতে, প্রস্তাবিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন নির্ভর করবে ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কতটা পূরণ করছে তার ওপর।   এ বিষয়ে সোমবার সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স সম্ভাব্য তহবিল প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরান প্রতিশ্রুতি রক্ষা করলে উপসাগরীয় দেশগুলোর অর্থায়নে সহায়তার সুযোগ তৈরি হতে পারে।   তিনি গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের সদস্য দেশগুলোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে বাহরাইন, কুয়েত, ওমান, কাতার, সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।   এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে ইরানের কয়েকজন কর্মকর্তা ও এক কূটনীতিকের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, আলোচিত সমঝোতা কাঠামোর খসড়ায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন বিনিয়োগ তহবিলের একটি সম্ভাব্য ধারা রয়েছে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের সমঝোতা স্মারক, চূড়ান্ত চুক্তি নয়। তাদের মতে, প্রকৃত কারিগরি আলোচনা শুরু হবে চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে এবং সেখানে নেতৃত্ব দেবেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স।   সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আগে ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, ইরান কোনো নগদ অর্থ পাচ্ছে না এবং চুক্তি স্বাক্ষরের বিনিময়ে কোনো সরাসরি তহবিল ছাড় দেওয়া হয়নি।   তিনি আরও বলেন, চুক্তির কাঠামো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের নিরাপত্তা উদ্বেগ অগ্রাধিকার পায় এবং শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভবিষ্যতে সীমিত অর্থনৈতিক সুবিধার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

ছবি: সংগৃহীত
ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের দ্রুত ফাঁদ বন্ধের রহস্য উন্মোচন করলেন বিজ্ঞানীরা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:১৪

মাংসাশী উদ্ভিদ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ কীভাবে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে তার পাতার ফাঁদ বন্ধ করে শিকার ধরে, দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কৌতূহল ছিল। এবার ফরাসি জাতীয় বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্রের পদার্থবিদ জংউন রিউ-এর নেতৃত্বে একদল গবেষক সেই রহস্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাদের গবেষণায় উদ্ভিদটির কোষ প্রাচীরের দ্রুত পরিবর্তন প্রক্রিয়াকে প্রধান নিয়ামক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।   গবেষকদের মতে, ফাঁদ সক্রিয় হওয়ার সময় ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ পাতার বাইরের স্তরের কোষ প্রাচীরকে অত্যন্ত দ্রুত নরম করে ফেলে। এই পরিবর্তনের ফলে পাতার বাইরের অংশ ভেতরের তুলনায় বেশি প্রসারিত হয়। এর ফলেই পাতাটি ভেতরের দিকে বেঁকে গিয়ে নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করার পর হঠাৎ স্প্রিংয়ের মতো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়।   বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, উদ্ভিদের কোষ প্রাচীরের যান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যে এত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের ঘটনা আগে কখনো পর্যবেক্ষণ করা যায়নি। গবেষণায় দেখা যায়, স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর ফাঁদটি মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করে।   আগের ধারণা অনুযায়ী, পাতার এক পাশ থেকে অন্য পাশে পানি স্থানান্তরের মাধ্যমে এই ফাঁদ বন্ধ হয় বলে মনে করা হতো। তবে নতুন গবেষণায় এই ধারণার দুটি বড় অসংগতি পাওয়া গেছে।   প্রথমত, উদ্ভিদের টিস্যুর মাধ্যমে পানি চলাচল অত্যন্ত ধীর গতির প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন হতে ৩০ থেকে ১৫০ সেকেন্ড সময় লাগে। অথচ ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের ফাঁদ এক সেকেন্ডের মধ্যেই সক্রিয় হতে শুরু করে। দ্বিতীয়ত, পানি প্রবাহের মাধ্যমে পাতা বন্ধ হলে টিস্যুর ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে বিস্তারের তরঙ্গ দেখা যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষায় এমন কোনো তরঙ্গের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এই কারণে হাইড্রোলিক তত্ত্বটি বাতিল করেন গবেষকরা।   এরপর গবেষকরা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে দুটি পৃথক ধাপে ভাগ করেন। প্রথম ধাপ হলো পাতার ভেতরের দিকে ধীরে বাঁকানো প্রক্রিয়া এবং দ্বিতীয় ধাপ হলো মাত্র ০.২ সেকেন্ডের মধ্যে ঘটে যাওয়া চূড়ান্ত দ্রুত বন্ধ হওয়া।   এই প্রক্রিয়া বোঝার জন্য গবেষকরা একটি ছোট প্রোব ব্যবহার করে পাতার ভেতরের ও বাইরের কোষ প্রাচীরের দৃঢ়তা পরিমাপ করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, ফাঁদ বন্ধ হওয়ার সময় পাতার ভেতরের অংশের কোষ প্রাচীর প্রায় অপরিবর্তিত থাকে। তবে বাইরের পৃষ্ঠের কোষ প্রাচীর প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত নরম হয়ে যায়।   স্পর্শের সংকেত পাওয়ার পর কোষের ভেতরের তরল চাপ, যাকে টারগর প্রেশার বলা হয়, এই নরম কোষ প্রাচীরের ওপর প্রভাব ফেলে। এর ফলে বাইরের অংশ দ্রুত প্রসারিত হয় এবং পাতার দুই পাশের ভারসাম্যে পরিবর্তন আসে, যা ফাঁদ বন্ধ হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে।   গবেষণায় আরও দেখা গেছে, ফাঁদের ভেতরের সংবেদনশীল লোমে কোনো কীটপতঙ্গ পরপর দুইবার স্পর্শ করলেই এই প্রক্রিয়া সক্রিয় হয়। এতে পাতার দুই পাশের দ্রুত বিস্তারের পার্থক্য তৈরি হয় এবং কীটপতঙ্গ আটকে যায়।   গবেষকরা মনে করছেন, ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপ মূলত উদ্ভিদের স্বাভাবিক বৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত কোষ প্রাচীর পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে বিবর্তনের মাধ্যমে শিকার ধরার কাজে অভিযোজিত করেছে। এই অভিযোজনই উদ্ভিদটিকে প্রাণিজগতের মতো দ্রুত শিকার ধরার সক্ষমতা দিয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত
মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার ১ শতাংশে তুলল জাপান, ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পদক্ষেপ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ১৬, ২০২৬ ৯:১০

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয় মুদ্রা ইয়েনের ধারাবাহিক পতন ঠেকাতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদের হার বাড়িয়ে ১ শতাংশে উন্নীত করেছে। মঙ্গলবার ব্যাংক অব জাপান এই সিদ্ধান্ত নেয়, যা ১৯৯৫ সালের পর দেশটির সবচেয়ে উচ্চ সুদের হার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ফলে ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া আর্থিক নীতি স্বাভাবিকীকরণের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হলো।   এর আগে গত ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়িয়ে ০.৭৫ শতাংশ করা হয়েছিল। সর্বশেষ সিদ্ধান্তে হার ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানো হয়, যা পরিচালনা পর্ষদের ৭–১ ভোটে অনুমোদিত হয়। একমাত্র ভিন্নমত দেন বোর্ড সদস্য তোইচিরো আসাদা, যিনি বর্তমান হার অপরিবর্তিত রাখার পক্ষে মত দেন।   সুদের হার বৃদ্ধির পেছনে মূল কারণ হিসেবে মুদ্রাস্ফীতির চাপ এবং ইয়েনের দুর্বলতা উল্লেখ করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় জাপানের বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ বেড়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে দুর্বল ইয়েন আমদানিকৃত পণ্যের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।   সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক প্রায় ০.৪৬ শতাংশ বেড়ে যায়। পাশাপাশি মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইয়েন সামান্য শক্তিশালী হয়ে ১৬০.২২ পর্যায়ে পৌঁছায়। দেশটির ১০ বছরের সরকারি বন্ডের ইল্ডও ৩ বেসিস পয়েন্ট বেড়ে ২.৬১৫ শতাংশে দাঁড়ায়।   ব্যাংক অব জাপান জানিয়েছে, তারা প্রতি প্রান্তিকে ২০০ বিলিয়ন ইয়েন করে সরকারি বন্ড কেনা কমাবে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে প্রতি মাসে ২ ট্রিলিয়ন ইয়েনের বন্ড কেনা বজায় রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে সরকার ভোক্তাদের ওপর চাপ কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ফলে ভোক্তা মুদ্রাস্ফীতি এখনো ২ শতাংশের নিচে রয়েছে। তবে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দ্রুতই উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় ছড়িয়ে পড়ছে, যা ভবিষ্যতে পণ্য ও সেবার দামে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে।   মে মাসে জাপানের উৎপাদক মূল্য সূচক ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে। জেপি মরগান অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রধান বাজার কৌশলবিদ তাই হুই বলেন, সুদের হার বৃদ্ধি বাজারের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলেও নীতি প্রণয়নে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর মতে, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।   অন্যদিকে ইয়েনের ধারাবাহিক দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণে বারবার বাজারে হস্তক্ষেপ করেও স্থায়ী সমাধান পাওয়া যায়নি বলে মনে করছেন টোকিওভিত্তিক বিশ্লেষকরা। মনেক্স গ্রুপের বিশেষজ্ঞ জেসপার কোল বলেন, নীতিগত পরিবর্তন ছাড়া কেবল বাজারে হস্তক্ষেপ কার্যকর নয়।   মুদ্রাস্ফীতির চাপ সামাল দিতে জাপান সরকার ইতোমধ্যে ৩ ট্রিলিয়ন ইয়েনের সম্পূরক বাজেট অনুমোদন করেছে। যদিও কর সংস্কার ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমে ১.৪ শতাংশে নেমেছে, তা মূলত সাময়িক প্রভাব বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।   বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বৃদ্ধি জাপানের অর্থনীতিতে মূল্য স্থিতিশীলতার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও ইয়েনের দুর্বলতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অনিশ্চয়তা সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
506 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
441 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
531 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
382 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়