সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
নিরাপত্তার জন্য বাড়তি দাম দিতেও প্রস্তুত মার্কিনরা, বাড়ছে গেটেড কমিউনিটির চাহিদা
নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন অনেকের কাছে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বা গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির জন্য বাজারদরের চেয়েও বেশি দাম দিতে রাজি। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িটির জন্য অন্তত ৬ শতাংশ বেশি দাম দিতেও প্রস্তুত। ১ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এ পরিচালিত জরিপটি করেছে গেট ও প্রবেশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাই-স্টেট গেট। ফলে জরিপটির ফলাফলকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানুষের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে তাঁদের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তাঁদের এলাকায় অপরাধের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি। তারপরও ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বাড়িতে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত বোধ করেন না। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের অবস্থানকে বর্ণনা করেছেন - নিরাপদ, তবে সতর্ক থাকতে হয়। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা ভিডিও ডোরবেল রয়েছে। ক্যামেরার মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ দিনে একাধিকবার ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। সতর্কতা বা দৈনিক পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যামেরা ব্যবহারকারী নিয়মিত ফুটেজ পরীক্ষা করেন। তবে শারীরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এখনো কোনো ঘটনার অপেক্ষায় থাকেন। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের বাড়িতে চুরি, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি বা এলাকায় ধারাবাহিক অপরাধের মতো ঘটনা না ঘটলে তাঁরা বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববেন না। অন্যদিকে, বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত দুই বছরে তাদের বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে। তবে ২৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের দরজার সামনে থেকে প্যাকেজ চুরি হয়েছে।  গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির দাম যে ইতোমধ্যে বেশি, তারও ইঙ্গিত রয়েছে আগের গবেষণায়। আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, গেটেড কমিউনিটির বাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে শুধু অপরাধের ভয় নয়, বরং নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাস্তবে অপরাধ না বাড়লেও মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেট, ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।    

২ মিনিট Ago
পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন
আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই এজেন্টদের বৈদ্যুতিক ‘শক গ্লাভস’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে এ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শক গ্লাভস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। শক গ্লাভস এমন এক ধরনের বিশেষ দস্তানা, যা কারও শরীরে সরাসরি স্পর্শ করিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কেনটাকিভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’র তৈরি ‘সিটিজি-৫ জি.এল.ও.ভি.ই.’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় ৬ হাজার শক গ্লাভস কিনতে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, গ্লাভসটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে শান্ত করার একটি প্রযুক্তি। দেখতে সাধারণ দস্তানার মতো হলেও এটি সক্রিয় করার পর বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এতে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। আইসিই এখনো শক গ্লাভস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার, আটককেন্দ্রে অভিযান কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সময় এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনামুক্ত করতে গ্লাভসটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ না মানার কারণে বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিরাপদে গ্রেপ্তার এবং অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে সরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, আইসিই যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেগুলো আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনেই বাছাই করা হয়। কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিস্থিতি শান্ত করার কৌশল এবং বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ডিএইচএস জানিয়েছে, শক গ্লাভসগুলো আইসিইর দুটি প্রধান কার্যক্রম—‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ বা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস’ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রমের কর্মকর্তাদের দেওয়া হতে পারে। শক গ্লাভসের নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট রামিরেজসহ ৫০ জন প্রতিনিধি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে এই যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের চিঠিতে বলা হয়, গ্লাভসটি প্রায় ৩৮০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এমন যন্ত্রের ব্যবহার নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন। সিনেটেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা হয়েছে। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর গত ২৭ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান। তারা গ্লাভসটি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কর্মকর্তাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং এর ব্যবহার কীভাবে নজরদারি করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চুক্তি করার পরিকল্পনা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শক গ্লাভস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কম প্রাণঘাতী প্রযুক্তির সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের সরঞ্জাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হতে পারে। সাবেক মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং আইসিই কর্মকর্তা ক্লেয়ার ট্রিকলার-ম্যাকনাল্টি বলেন, শক গ্লাভস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কৌশলগত সমস্যা রয়েছে। তার মতে, গ্লাভস পরা অবস্থায় একজন কর্মকর্তা সহজে আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনো কম প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে একাধিক হুমকির মুখে ওই কর্মকর্তা নিজেই আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রের মতো জায়গায় সীমিত ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু রাস্তায় গ্রেপ্তার, গাড়ি থামানো বা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের সময় এটি ব্যবহার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্ক শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের শুরুতে নেব্রাস্কার ওমাহা সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই যন্ত্র নিষিদ্ধ করে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ওপর শক গ্লাভস ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ এখন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিলটির তালিকাভুক্ত সমর্থকদের মধ্যে কোনো রিপাবলিকান সদস্য ছিলেন না। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার নীতিকে ঘিরে আইসিই ও ডিএইচএসের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যেই আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে শক গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনা এবং তা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ নতুন করে সেই বিতর্ক আরও জোরালো করেছে।

১২ মিনিট Ago
প্যালেস্টাইনি মুসলিম নাস ও ইহুদি মার্কিন আইজার প্রেমের গল্প
প্যালেস্টাইনি মুসলিম নাস ও ইহুদি মার্কিন আইজার প্রেমের গল্প, সব বাধা পেরিয়ে একসঙ্গে

প্যালেস্টাইনি মুসলিম কনটেন্ট ক্রিয়েটর নুসেইর ইয়াসিন, যিনি ‘নাস ডেইলি’ নামে পরিচিত, এবং ইহুদি মার্কিন লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আইজা মেরক তাদের সম্পর্কের শুরুর গল্প প্রথমবারের মতো একসঙ্গে যুক্তরাজ্যের একটি সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন। ভিন্ন ধর্ম, পরিচয় ও রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে শুরু থেকেই সম্পর্কটি সহজ ছিল না। তবে দুজনের দাবি, এসব পার্থক্যের চেয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়াই তাদের সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়েছে।    দুজনের পরিচয় করিয়ে দেন এক পারস্পরিক বন্ধু। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের প্রোফাইল দেখার পর তারা ডিনারে দেখা করেন। সময়টিও ছিল বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ তাদের প্রথম দেখা হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার মাত্র দুই সপ্তাহ আগে। নুসেইর শুরু থেকেই সম্পর্কটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখলেও আইজার ক্ষেত্রে বিষয়টি সময় নিয়ে গভীর হয়।    নুসেইর জানান, প্রথম দেখার পরই তার মনে হয়েছিল আইজাকে তিনি ভবিষ্যৎ সঙ্গী হিসেবে দেখতে পারেন। অন্যদিকে আইজা বলেন, নির্দিষ্ট কোনো একটি মুহূর্তে তিনি প্রেমে পড়েননি। বরং ২০২৩ সালের যুদ্ধ ও এর পরের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের দীর্ঘ আলোচনাই সম্পর্ককে আরও গভীর করে। কঠিন সময়ের মধ্যে নুসেইরের সঙ্গে কথা বলেই তিনি স্বস্তি পেতেন বলে জানান আইজা।    তাদের সম্পর্ক অবশ্য সবার কাছে সহজভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি। আইজা জানান, এই সম্পর্কের কারণে তাকে একবার একটি শাবাতের খাবারের অনুষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। নুসেইরও পরিবারের এক দূরসম্পর্কের সদস্যের কাছ থেকে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন। তবে দুজনেরই দাবি, এমন প্রতিক্রিয়ার সংখ্যা খুবই কম।   আইজা মেরক ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা বারবারায় বেড়ে উঠেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সেখানে ইহুদি সম্প্রদায়ের সংখ্যা কম থাকায় ছোটবেলায় ইহুদিবিদ্বেষের নানা অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। পরে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটিতে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন প্রযোজনা নিয়ে পড়াশোনা করেন। লেখালেখি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাজের পাশাপাশি তিনি ইহুদি সম্প্রদায় ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কনটেন্ট তৈরি করেন।    অন্যদিকে নুসেইর ইয়াসিন উত্তর ইসরায়েলের আরাবা শহরে বেড়ে ওঠেন। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি পড়ার সময় প্রথমবার একজন ইহুদি বন্ধুত্বের সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন বলে তিনি জানান। ২০১৬ সালে চাকরি ছেড়ে ৬৪টি দেশ ঘুরে এক হাজার দিনের ভ্রমণ শুরু করেন এবং প্রতিদিন এক মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করতে থাকেন। এভাবেই ‘নাস ডেইলি’ নামে তার বিশাল অনলাইন অনুসারী তৈরি হয়। বর্তমানে তার অনুসারীর সংখ্যা প্রায় ৬ কোটি ৮০ লাখ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    দুজনের সম্পর্কের আরেকটি পার্থক্য ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিতে। নুসেইর নিজের সম্পর্ক, জীবন ও অর্থনৈতিক অবস্থাসহ ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ্যে বলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আইজা তুলনামূলকভাবে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশি গোপনীয়তা পছন্দ করেন। নুসেইরের ভাষায়, তাদের সম্পর্কের বড় চ্যালেঞ্জ ধর্ম বা রাজনীতি নয়, বরং একজনের অতিরিক্ত প্রকাশ্য জীবন আর অন্যজনের ব্যক্তিগত থাকতে চাওয়ার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।    তারা এরই মধ্যে একসঙ্গে মিয়ামিতে বসবাস করছেন এবং নিজেদের সম্পর্ক ও দৈনন্দিন জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট প্রকাশ করেছেন। তবে আইজা জানান, ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলা এখনো তার জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর।    নুসেইর ও আইজার সম্পর্ককে ঘিরে মূল আলোচনাটি শুধু ভিন্ন ধর্মের দুই মানুষের প্রেম নয়। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর ইসরায়েলি, ফিলিস্তিনি, ইহুদি ও মুসলিম পরিচয় নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনের মধ্যেও তারা নিজেদের সম্পর্ককে ব্যক্তিগত বোঝাপড়া ও সহাবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। দুজনই বলেছেন, শেষ পর্যন্ত তাদের সম্পর্কের সমস্যাগুলো ধর্ম বা রাজনীতির চেয়ে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের মতোই।

৪৩ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ৪৫ হাজার ডলারের উপহার নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে হার্প এই অর্থকে ছুটির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা চেম্বারলেইন হ্যারিসও পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া ওভাল অফিস পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে ২০ হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ক্রিসমাস উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ বলেও দাবি করেছে প্রশাসন। তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক হোয়াইট হাউস এথিকস আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, সরকারি কর্মীদের বেতন বাইরের কোনো উৎস থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে সম্পূরক করার ওপর ফেডারেল আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ সেই আইনের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সরকারি নৈতিকতা দপ্তরের পরিচালক ডন ফক্স বলেছেন, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এত বড় অঙ্কের উপহার কর্মীদের প্রেসিডেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ বা ঋণী করে তুলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্প সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজরে রয়েছেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে থাকেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে হিউম্যান প্রিন্টার নামেও পরিচিত।

৫৩ মিনিট Ago
আমেরিকা
আমেরিকায় ইহুদি নিরাপত্তায় বছরে ১০১ কোটি ডলার! এক বছরে বেড়েছে কোটি কোটি ডলার

যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় বছরে ১০১ কোটি ৫০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। ইহুদি ফেডারেশনগুলোর নতুন হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সিনাগগ, ইহুদি স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, সামার ক্যাম্প ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তায় এই বিপুল অর্থ খরচ হয়েছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি।   এমন সময় এই ব্যয়ের হিসাব সামনে এসেছে, যখন ১১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে শুরু হচ্ছে ইহুদি ধর্মীয় বর্ষপঞ্জির নতুন বছর রোশ হাশানাহ। একই দিনে ২০০১ সালের ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫ বছর পূর্তিও হবে। ফলে এবারের ধর্মীয় উৎসব ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ইহুদি প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।    ইহুদি ফেডারেশনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইহুদি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে ২০২৫ সালে নিরাপত্তায় গড়ে প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার করে খরচ হয়েছে। ২০২৪ সালে এই ব্যয়ের হিসাব ছিল প্রায় ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় ২৫ কোটি ডলারের বেশি বেড়েছে।    নিরাপত্তা ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, নজরদারি ক্যামেরা, প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ, ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ এবং সাইবার নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খরচ। এই হিসাব মূলত ইহুদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। ব্যক্তিমালিকানাধীন কোশার রেস্টুরেন্ট, বাজার বা অন্যান্য ব্যবসার নিরাপত্তা ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে ইহুদি সম্প্রদায়ের মোট নিরাপত্তা ব্যয় আরও বেশি হতে পারে।    নিরাপত্তা ব্যয় বাড়ার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী হামলা ও হুমকি বৃদ্ধিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০২৫ সালের এফবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘৃণাজনিত অপরাধের ৬০ শতাংশের বেশি ইহুদিদের লক্ষ্য করে হয়েছিল। অথচ যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার ৩ শতাংশেরও কম ইহুদি।    এবারের উচ্চ ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হচ্ছে। নিউইয়র্কে গভর্নর ক্যাথি হোকুল ৭ কোটি ডলারের নিরাপত্তা তহবিল ঘোষণা করেছেন। প্রায় ২৯০টি ঝুঁকিপূর্ণ অলাভজনক প্রতিষ্ঠান এই অর্থ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা পাবে। পাশাপাশি ইহুদি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে স্টেট পুলিশের উপস্থিতিও বাড়ানো হচ্ছে।    পিটসবার্গেও রোশ হাশানাহ সামনে রেখে স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআইয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা জোরদার করেছে ইহুদি ফেডারেশন। প্রায় ৩০টি ইহুদি প্রতিষ্ঠানের আশপাশে অতিরিক্ত টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।    নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি প্রস্তুতি নেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য আর্থিক চাপও বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মতে, ধর্মীয় কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চালাতে এখন অনেক প্রতিষ্ঠানকে আগে থেকেই নিরাপত্তার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করতে হচ্ছে।   ফলে এবারের রোশ হাশানাহ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, যুক্তরাষ্ট্রে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উপাসনাস্থলের নিরাপত্তার প্রশ্নটিকেও নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ১:৪২
আইসিই এজেন্টদের হাতে আসছে ‘শক গ্লাভস’! নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন বিল

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা আইসিই এজেন্টদের বৈদ্যুতিক ‘শক গ্লাভস’ ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে কংগ্রেসে নতুন একটি বিল উত্থাপন করেছেন দুই ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা। তাদের আশঙ্কা, অভিবাসন আইন প্রয়োগের অভিযানে এ ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।   পেনসিলভানিয়ার প্রতিনিধি ম্যাডেলিন ডিন ও ইলিনয়ের প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ গত ৩ সেপ্টেম্বর ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ নামে বিলটি উত্থাপন করেন। এতে অভিবাসন আইন প্রয়োগের সময় কেন্দ্রীয় সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের শক গ্লাভস ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অভিবাসন আইন প্রয়োগ কার্যক্রমে যুক্ত অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ক্ষেত্রেও এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। শক গ্লাভস এমন এক ধরনের বিশেষ দস্তানা, যা কারও শরীরে সরাসরি স্পর্শ করিয়ে বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কেনটাকিভিত্তিক ‘কমপ্লায়েন্ট টেকনোলজিস এলএলসি’র তৈরি ‘সিটিজি-৫ জি.এল.ও.ভি.ই.’। যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ বা ডিএইচএস আইসিই কর্মকর্তাদের জন্য প্রায় ৬ হাজার শক গ্লাভস কিনতে প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের দাবি, গ্লাভসটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কারা কর্মকর্তাদের জন্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে শান্ত করার একটি প্রযুক্তি। দেখতে সাধারণ দস্তানার মতো হলেও এটি সক্রিয় করার পর বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। তবে প্রতিষ্ঠানটি নিজেই সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি ঝুঁকিমুক্ত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে এতে আঘাত এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। আইসিই এখনো শক গ্লাভস কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেনি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রেপ্তার, আটককেন্দ্রে অভিযান কিংবা কোনো ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষের সময় এগুলো ব্যবহার করা হতে পারে। প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান বলছে, প্রতিরোধকারী ব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং পরিস্থিতি উত্তেজনামুক্ত করতে গ্লাভসটি ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে শুধু মৌখিকভাবে নির্দেশ না মানার কারণে বা শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়। ডিএইচএসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তাদের নিরাপদে গ্রেপ্তার এবং অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ থেকে সরিয়ে দিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দেওয়ার বিষয়টি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। সংস্থাটির দাবি, আইসিই যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে, সেগুলো আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা মেনেই বাছাই করা হয়। কর্মকর্তাদের নিয়মিত পরিস্থিতি শান্ত করার কৌশল এবং বলপ্রয়োগের বিষয়ে প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। ডিএইচএস জানিয়েছে, শক গ্লাভসগুলো আইসিইর দুটি প্রধান কার্যক্রম—‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস’ বা স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা তদন্ত বিভাগ এবং ‘এনফোর্সমেন্ট অ্যান্ড রিমুভাল অপারেশনস’ বা অভিবাসন আইন প্রয়োগ ও বহিষ্কার কার্যক্রমের কর্মকর্তাদের দেওয়া হতে পারে। শক গ্লাভসের নিরাপত্তা নিয়ে এরই মধ্যে কংগ্রেসে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত ৩১ আগস্ট রামিরেজসহ ৫০ জন প্রতিনিধি ডিএইচএস সচিব মার্কওয়েন মুলিনকে চিঠি দিয়ে এই যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাদের চিঠিতে বলা হয়, গ্লাভসটি প্রায় ৩৮০ ভোল্টের বৈদ্যুতিক শক দিতে পারে। এমন যন্ত্রের ব্যবহার নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলেও তারা দাবি করেন। সিনেটেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা হয়েছে। নেভাদার সিনেটর ক্যাথরিন কর্টেজ মাস্টোসহ ১৬ জন সিনেটর গত ২৭ আগস্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে শক গ্লাভস কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার আহ্বান জানান। তারা গ্লাভসটি কোথায় ও কীভাবে ব্যবহার করা হবে, কর্মকর্তাদের কী ধরনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এবং এর ব্যবহার কীভাবে নজরদারি করা হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন। কোনো প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই চুক্তি করার পরিকল্পনা নিয়েও তারা প্রশ্ন তুলেছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও শক গ্লাভস নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তবে কম প্রাণঘাতী প্রযুক্তির সমর্থকদের কেউ কেউ মনে করেন, এ ধরনের সরঞ্জাম আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের বিকল্প হতে পারে। সাবেক মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা এবং আইসিই কর্মকর্তা ক্লেয়ার ট্রিকলার-ম্যাকনাল্টি বলেন, শক গ্লাভস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি বড় কৌশলগত সমস্যা রয়েছে। তার মতে, গ্লাভস পরা অবস্থায় একজন কর্মকর্তা সহজে আগ্নেয়াস্ত্র বা অন্য কোনো কম প্রাণঘাতী সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারেন না। ফলে একাধিক হুমকির মুখে ওই কর্মকর্তা নিজেই আরও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। তার মতে, নিয়ন্ত্রিত আটককেন্দ্রের মতো জায়গায় সীমিত ব্যবহারের কিছু যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু রাস্তায় গ্রেপ্তার, গাড়ি থামানো বা কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে গ্রেপ্তারের সময় এটি ব্যবহার নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে। শক গ্লাভস নিয়ে বিতর্ক শুধু অভিবাসন আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। চলতি বছরের শুরুতে নেব্রাস্কার ওমাহা সরকারি বিদ্যালয়গুলো স্কুলের নিরাপত্তাকর্মীদের জন্য এই যন্ত্র নিষিদ্ধ করে। কর্মকর্তারা নিশ্চিত হওয়ার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সেখানে দুই শিক্ষার্থীর ওপর শক গ্লাভস ব্যবহার করা হয়েছিল। ‘নো শক অ্যাক্ট’ বা ‘শক নিষেধ আইন’ এখন প্রতিনিধি পরিষদের বিচারবিষয়ক কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। তবে মঙ্গলবার পর্যন্ত বিলটির তালিকাভুক্ত সমর্থকদের মধ্যে কোনো রিপাবলিকান সদস্য ছিলেন না। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে বিলটি আইনে পরিণত করতে হলে উভয় কক্ষের অনুমোদনের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরও প্রয়োজন হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসী বহিষ্কার নীতিকে ঘিরে আইসিই ও ডিএইচএসের কর্মকাণ্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছেই। এর মধ্যেই আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে শক গ্লাভস দেওয়ার পরিকল্পনা এবং তা বন্ধ করতে ডেমোক্র্যাটদের এই উদ্যোগ নতুন করে সেই বিতর্ক আরও জোরালো করেছে।

নিরাপত্তার জন্য গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির বেশি দাম দিতেও রাজি অর্ধেক আমেরিকানরা

যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কেনার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা এখন অনেকের কাছে বড় বিবেচনার বিষয় হয়ে উঠছে। নতুন এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধেক মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিয়ন্ত্রিত প্রবেশপথ বা গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির জন্য বাজারদরের চেয়েও বেশি দাম দিতে রাজি। তাঁদের মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বাড়িটির জন্য অন্তত ৬ শতাংশ বেশি দাম দিতেও প্রস্তুত। ১ হাজার মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ককে নিয়ে আগস্ট ২০২৬-এ পরিচালিত জরিপটি করেছে গেট ও প্রবেশ-নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ট্রাই-স্টেট গেট। ফলে জরিপটির ফলাফলকে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গবেষণা হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। জরিপে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মানুষের নিরাপত্তাবোধের সঙ্গে তাঁদের এলাকায় অপরাধ পরিস্থিতির সরাসরি মিল পাওয়া যাচ্ছে না। ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেছেন, তাঁদের এলাকায় অপরাধের পরিস্থিতি আগের চেয়ে খারাপ হয়নি। তারপরও ৭২ শতাংশ জানিয়েছেন, নিজেদের বাড়িতে তাঁরা পুরোপুরি নিশ্চিন্ত বোধ করেন না। মাত্র ২৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় খুব নিরাপদ ও সুরক্ষিত মনে করেন। বেশিরভাগ মানুষ নিজেদের অবস্থানকে বর্ণনা করেছেন - নিরাপদ, তবে সতর্ক থাকতে হয়। এই নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রভাব বাড়ি কেনার সিদ্ধান্তেও দেখা যাচ্ছে। জরিপে ৬৯ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নিরাপত্তা ক্যামেরা বা ভিডিও ডোরবেল রয়েছে। ক্যামেরার মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ দিনে একাধিকবার ক্যামেরার ফুটেজ দেখেন। সতর্কতা বা দৈনিক পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে ৮০ শতাংশের বেশি ক্যামেরা ব্যবহারকারী নিয়মিত ফুটেজ পরীক্ষা করেন। তবে শারীরিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষ এখনো কোনো ঘটনার অপেক্ষায় থাকেন। ৫৬ শতাংশ বলেছেন, নিজেদের বাড়িতে চুরি, প্রতিবেশীর বাড়িতে চুরি বা এলাকায় ধারাবাহিক অপরাধের মতো ঘটনা না ঘটলে তাঁরা বড় ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাববেন না। অন্যদিকে, বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টার ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম। জরিপে মাত্র ৮ শতাংশ পরিবার জানিয়েছে, গত দুই বছরে তাদের বাড়িতে চুরি বা চুরির চেষ্টা হয়েছে। তবে ২৩ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তাঁদের দরজার সামনে থেকে প্যাকেজ চুরি হয়েছে।  গেটেড কমিউনিটিতে বাড়ির দাম যে ইতোমধ্যে বেশি, তারও ইঙ্গিত রয়েছে আগের গবেষণায়। আমেরিকান রিয়েল এস্টেট সোসাইটির গবেষণা অনুযায়ী, গেটেড কমিউনিটির বাড়িগুলো তুলনামূলকভাবে গড়ে প্রায় ৩০ হাজার ডলার বেশি দামে বিক্রি হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রবণতার পেছনে শুধু অপরাধের ভয় নয়, বরং নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকার অনুভূতিও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ বাস্তবে অপরাধ না বাড়লেও মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে গেট, ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেশি অর্থ খরচ করতে আগ্রহী হচ্ছেন।    

ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ৪৫ হাজার ডলারের উপহার নিয়ে প্রশ্ন

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকারী ন্যাটালি হার্পকে ৪৫ হাজার ডলার নগদ উপহার দিয়েছেন। বার্ষিক আর্থিক বিবরণীতে হার্প এই অর্থকে ছুটির উপহার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই পরিমাণ অর্থ ট্রাম্পের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা মার্গো মার্টিন ও হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তা চেম্বারলেইন হ্যারিসও পেয়েছেন। তাঁদের প্রত্যেকের সরকারি বার্ষিক বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার ডলার। এছাড়া ওভাল অফিস পরিচালনা বিভাগের পরিচালক ওয়াল্ট নাউটাকে ২০ হাজার ডলার উপহার দিয়েছেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউস বলেছে, ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের অভ্যাস অনুযায়ী তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ক্রিসমাস উপহার দেওয়ার অংশ হিসেবেই এসব অর্থ দেওয়া হয়েছে। উপহারগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের সরকারি দায়িত্বের কোনো সম্পর্ক নেই এবং প্রযোজ্য আইন ও নৈতিকতার মানদণ্ড অনুযায়ী এগুলো সম্পূর্ণ বৈধ বলেও দাবি করেছে প্রশাসন। তবে বিষয়টি নিয়ে নৈতিকতা বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। সাবেক হোয়াইট হাউস এথিকস আইনজীবী রিচার্ড পেইন্টার বলেছেন, সরকারি কর্মীদের বেতন বাইরের কোনো উৎস থেকে বাড়তি অর্থ দিয়ে সম্পূরক করার ওপর ফেডারেল আইনে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁর মতে, এই অর্থ সেই আইনের আওতায় পড়তে পারে। অন্যদিকে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সরকারি নৈতিকতা দপ্তরের পরিচালক ডন ফক্স বলেছেন, পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আইন লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এত বড় অঙ্কের উপহার কর্মীদের প্রেসিডেন্টের প্রতি দায়বদ্ধ বা ঋণী করে তুলতে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে হার্প সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষ নজরে রয়েছেন। তিনি প্রায়ই ট্রাম্পের পাশে থাকেন এবং প্রেসিডেন্টের জন্য সংবাদ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট প্রিন্ট করে দেওয়ার কারণে হোয়াইট হাউসে হিউম্যান প্রিন্টার নামেও পরিচিত।

মৃত্যুর সময় লুসিয়া সিসিচের বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ২২ বছরেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ, না ফেরার দেশে 'মিস অস্ট্রিয়া' লুসিয়া সিসিচ

মাত্র ২২ বছর বয়সেই মারা গেলেন মিস অস্ট্রিয়া ২০২৪ লুসিয়া সিসিচ। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান মিশন অস্ট্রিয়া। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   মিশন অস্ট্রিয়া এক বিবৃতিতে লুসিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাঁর চলে যাওয়ার খবর অত্যন্ত দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পেরেছে তারা। লুসিয়াকে একজন অসাধারণ তরুণী হিসেবে স্মরণ করে তাঁর পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে আয়োজক সংস্থাটি। ২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার মুকুট জিতেছিলেন ভিয়েনার এই তরুণী। একই বছর তিনি মিস ভিয়েনাও নির্বাচিত হন। পরে ভিয়েনা ফ্যাশন উইকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিস অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ক্রিস্টোফার ডেংয়ের সঙ্গে যথাক্রমে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া নির্বাচিত হন।   লুসিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মিস অস্ট্রিয়ার শিরোপা ধরে রেখেছিলেন। কারণ ২০২৪ সালের পর আর জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন অস্ট্রিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৪ সালের বিজয়ী লুসিয়াই ছিলেন সর্বশেষ মিস অস্ট্রিয়া। লুসিয়ার ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য ছোটবেলা থেকেই ছিল নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জে ভরা। জন্মের সময়ই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের একটি ভালভে ত্রুটি ধরা পড়ে। এরপর জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সাতবার হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারটি হয়েছিল ২০২৫ সালের শীতকালে।   তবে নিজের শারীরিক সমস্যাকে কখনোই জীবনের একমাত্র পরিচয় হিসেবে দেখেননি লুসিয়া। ২০২৪ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসার কারণে কঠিন সময়গুলো পেরিয়ে পরিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মিশন অস্ট্রিয়া বা অন্য কোনো সরকারি সূত্র মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি। তাই হৃদ্‌রোগের পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কারণের সম্পর্ক স্থাপন করা এখনই সমীচীন নয়।   লুসিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ২০২৪ সালের মিস্টার অস্ট্রিয়া ক্রিস্টোফার ডেংও। অস্ট্রিয়ার সংবাদমাধ্যম ও২৪-কে তিনি বলেন, লুসিয়ার মৃত্যুর খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একই সময়ে শিরোপা ধরে রাখার কারণে লুসিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে নিজের বোনের মতো মনে হতো বলেও জানান ডেং।   মিশন অস্ট্রিয়া লুসিয়ার মৃত্যুকে শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপাধারীর বিদায় হিসেবে দেখেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি তাঁদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন এবং তাঁর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে সবার মধ্যে বেঁচে থাকবে। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন লুসিয়া। ১২ আগস্ট দেওয়া তাঁর শেষ দিকের একটি পোস্টে সোনালি পোশাকে নিজের ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। তখনও তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই নিজের জীবন উপভোগ করতে দেখা যায়।   মাত্র ২২ বছরের জীবনে লুসিয়া একদিকে অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিলেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু তাই অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের পাশাপাশি তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   সূত্র: মিশন অস্ট্রিয়া, ও২৪, দ্য ডেইলি বিস্ট

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে মার্কিন চালকবিহীন ডুবোযান জব্দের দাবি করেছে ইরান। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক সাবমেরিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের

হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে একটি মার্কিন চালকবিহীন ডুবোজাহাজ জব্দ করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি। মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এ দাবি প্রকাশের পর ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, ওই ডুবোযানটি এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য বা শ্রেণিবদ্ধ সরঞ্জাম ছিল না।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আইআরজিসির নৌবাহিনীর এক বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি আধুনিক চালকবিহীন ডুবোজাহাজ আটক করেছে। ইরানের দাবি, ডুবোযানটিতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।   ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডুবোযানটি ‘ডাইভ-এলডি’ মডেলের একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। এটি ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল তৈরি করেছে। প্রায় ৫ দশমিক ৮ মিটার দীর্ঘ এই যানটি মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই সমুদ্রের নিচে বিভিন্ন ধরনের অভিযান পরিচালনা করতে পারে।   অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, ডাইভ-এলডি সমুদ্রের তলদেশের মানচিত্র তৈরি, সমুদ্রের নিচে মাইন শনাক্ত ও অপসারণে সহায়তা, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং কেবল ও পাইপলাইনের মতো পানির নিচের অবকাঠামো পরিদর্শনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি একবার ঘাঁটি থেকে বের হওয়ার পর সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত কার্যক্রম চালাতে সক্ষম এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় নামার জন্য নকশা করা হয়েছে।   তবে ইরানের ‘জব্দ’ করার দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর বা পেন্টাগনের বক্তব্য ভিন্ন। পেন্টাগনের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে জানিয়েছেন, একটি ডুবো ড্রোন এক দিনেরও বেশি সময় আগে ত্রুটির কারণে অচল হয়ে পড়েছিল। সেটি আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। মার্কিন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ড্রোনটি পুরোনো একটি মডেল ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করা হয়নি। একই সঙ্গে এতে শ্রেণিবদ্ধ সোনার বা রাডার সরঞ্জামও ছিল না বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।   তবে পেন্টাগনের বক্তব্যে ডুবোযানটি কীভাবে ইরানের হাতে পৌঁছেছে বা ইরান সেটি জব্দ করেছে কি না, সে বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করা হয়নি। রয়টার্সও ঘটনাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। অ্যান্ডুরিলের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ এই প্রণালির মধ্য দিয়ে যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ যাতায়াত করত। সাম্প্রতিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে এই পথে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র সাতটি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে, আগের দিন যা ছিল আটটি।   হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব শুধু জ্বালানি পরিবহনের জন্য নয়। পারস্য উপসাগর থেকে এশিয়া ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ এটি। ফলে এই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে জ্বালানি সরবরাহ, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে।   মার্কিন সামরিক বাহিনী সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চালকবিহীন নৌযান ও ডুবোযানের ব্যবহার বাড়ানোর দিকে জোর দিচ্ছে। এর অন্যতম কারণ হলো, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকায় নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ এবং সম্ভাব্য হুমকি শনাক্ত করা। এসব প্রযুক্তি প্রচলিত সামরিক সরঞ্জামের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রে কম খরচে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে পারে।   ডাইভ-এলডি সেই নতুন প্রজন্মের স্বয়ংক্রিয় ডুবোযানগুলোর একটি। অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি দীর্ঘ সময় পানির নিচে অবস্থান করে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। ২০২৪ সালে মার্কিন সামরিকবিষয়ক সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপ জানিয়েছিল, প্রতিটি ডাইভ-এলডির মূল্য প্রায় ২৫ লাখ ডলার।   ইরানের হাতে এমন একটি মার্কিন ডুবোযান চলে যাওয়ার দাবি সত্য হলে ঘটনাটি সামরিক প্রযুক্তির দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। কারণ একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান কী ধরনের সেন্সর, যোগাযোগব্যবস্থা ও নেভিগেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে, তা প্রতিপক্ষের হাতে গেলে সেগুলো বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বর্তমান ঘটনায় ইরান আসলে কী ধরনের ডুবোযান জব্দ করেছে এবং সেটির ভেতরের প্রযুক্তি কতটা অক্ষত রয়েছে, তা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।   এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রভাব হরমুজ প্রণালির বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে। মঙ্গলবার সৌদি আরবের কয়েকটি শহরে ইরান-সমর্থিত হুথিদের হামলায় ৭০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার খবর এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জাহাজ ও তেল পরিবহনকে ঘিরে পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপও হয়েছে। এসব ঘটনায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ছয় সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।   ফলে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন ডুবোযান নিয়ে ইরানের দাবি কেবল একটি সামরিক সরঞ্জাম আটকের ঘটনা নয়, বরং দুই দেশের চলমান সংঘাতে পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে, তারও একটি উদাহরণ। তবে ডুবোযানটির প্রকৃত অবস্থা এবং এটি কীভাবে ইরানের হাতে এসেছে, সে বিষয়ে পেন্টাগন ও ইরানের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। স্বাধীনভাবে যাচাই না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ‘জব্দ’ করার দাবিকে নিশ্চিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।   সূত্র: রয়টার্স

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় যমজ দুই বোনের ওপর নির্যাতন
ইরানে বিক্ষোভের ঘটনায় যমজ দুই বোনের ওপর নির্যাতন, একজনের মৃত্যুদণ্ড
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ৩:১

ইরানে জানুয়ারির সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ২০ বছর বয়সী যমজ দুই বোন তারানেহ রাহিমি ও রোমিনা রাহিমিকে কারাগারে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, চার মাস নিখোঁজ থাকার পর তাদের মায়ের সঙ্গে দেখা হলে মেয়েদের চেহারা এতটাই বদলে গিয়েছিল যে তিনি প্রথমে তাদের চিনতেই পারেননি। পরে তারানেহকে মৃত্যুদণ্ড এবং রোমিনাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।    কেন্দ্রীয় ইরানের ইসফাহানে জানুয়ারির বিক্ষোভকে ঘিরে ১৬ জনের বিরুদ্ধে হওয়া মামলায় দুই বোনকেও আসামি করা হয়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কয়েক সপ্তাহ পর মুখোশধারী নিরাপত্তা সদস্যরা তাদের আলাদা অভিযানে আটক করে নিয়ে যায়। এরপর প্রায় চার মাস তাদের অবস্থান সম্পর্কে পরিবারকে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।    মে মাসে ইসফাহানের দৌলতাবাদ কারাগারে মেয়েদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান তাদের মা মারজিয়েহ নুরমোহাম্মাদি। যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তাদের চাচাতো ভাই মাসুদ নুরমোহাম্মাদির দাবি, তখন দুই বোনের শরীরে মারধরের চিহ্ন ছিল, মুখ ফুলে গিয়েছিল এবং চুলের বড় অংশ ছিঁড়ে ফেলা হয়েছিল। তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাতেরও অভিযোগ করেছেন তিনি।   পরিবারের অভিযোগ, তারানেহকে স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য করতে তার যমজ বোন রোমিনাকে যৌন নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, চাপের মুখে তারানেহ এমন একটি স্বীকারোক্তিতে সই করেন, যা পরে মামলায় ব্যবহার করা হয়। আইনজীবীদের বরাত দিয়ে পরিবার আরও বলেছে, স্বীকারোক্তিগুলো নির্যাতনের মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে।    তারানেহের আগে পায়ে অস্ত্রোপচার হয়েছিল এবং সেখানে ধাতব প্লেট ও স্ক্রু লাগানো ছিল বলে জানিয়েছেন তাদের চাচাতো ভাই। কারাগারে নির্যাতনের পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে বলে পরিবারের দাবি। এমনকি কারাগারের একজন চিকিৎসক তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও কর্তৃপক্ষ চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।    দুই বোনের বিরুদ্ধে ‘মোহরাবেহ’ বা ‘সৃষ্টিকর্তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ’সহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। ইসফাহানের বিক্ষোভের সময় একটি জুতার দোকানের কাছে মলোটভ ককটেল তৈরির অভিযোগও করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভের সময় দুজনের মৃত্যুর জন্যও আসামিদের দায়ী করার অভিযোগ তুলেছে, যদিও তাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়নি।    পরিবার এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, দুই বোনের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হয়নি। তাদের আইনজীবীরা মামলার নথি পর্যালোচনা করে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্যাতন ও যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে করা আইনজীবীদের অভিযোগও এখনো ইসফাহানের আদালতে এগোয়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।    মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই ইরানে বিক্ষোভকারীদের আটক, নির্যাতন এবং মৃত্যুদণ্ডের মতো কঠোর শাস্তি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সতর্ক করেছিল, বিক্ষোভে আটক অনেক মানুষ নির্যাতন, যৌন সহিংসতা এবং অন্যায্য বিচারের ঝুঁকিতে রয়েছেন।    তারানেহ ও রোমিনার পরিবার এখন তাদের সাজা বাতিল ও পুনর্বিচারের দাবি জানাচ্ছে। মামলাটি ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়া, জোর করে স্বীকারোক্তি নেওয়া এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হচ্ছে চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠাকে। ছবি: সংগৃহীত
নেপালে ভয়াবহ বন্যায় মৃত ভেবে শোক পালন শুরু, ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬ ০:২

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৬৪ বছর বয়সী এক নারীকে। চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠা নামের ওই নারীকে মৃত ভেবে তাঁর পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। কিন্তু সবাইকে অবাক করে দিয়ে ধ্বংস হয়ে যাওয়া চারতলা বাড়ির ভেতর থেকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে তাঁকে।   ঘটনাটি ঘটেছে নেপালের নুওয়াকোট জেলার বেত্রাবতীতে। গত ২৬ আগস্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদাধসে এলাকাটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চারতলা বাড়িটি বন্যার স্রোতে ভেসে গিয়ে কাদা ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে পড়ে। সেখানেই একটি ছোট বাতাসের জায়গার মধ্যে কোনোভাবে বেঁচে ছিলেন চন্দিকা।   ৫ সেপ্টেম্বর উদ্ধারকাজ চালানোর সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের কাছে একটি ক্ষীণ কণ্ঠ শুনতে পান। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনালের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁরা শুনতে পান কেউ সাহায্যের জন্য ডাকছেন। এরপর প্রায় ৪৫ মিনিটের অভিযানে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে চন্দিকাকে উদ্ধার করা হয়।   উদ্ধারের পর তাঁকে দ্রুত নেপালি সেনাবাহিনীর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। নেপালের সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী জানিয়েছে, তাঁকে চারতলা একটি ভবনের ওপরের অংশের একটি সংকীর্ণ জায়গা থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার অভিযানে নয় সদস্যের একটি দল অংশ নেয়।   চন্দিকা ২৬ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিলেন। ওই সময় বন্যার স্রোতে ভোতেকোশি নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা তছনছ হয়ে যায়। বহু বাড়িঘর, দোকানপাট ও সড়ক কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের জীবিত থাকার সম্ভাবনা নিয়ে একসময় স্বজনদের মধ্যে আশাও প্রায় শেষ হয়ে আসছিল।   চন্দিকার পরিবারও তাঁকে আর জীবিত নেই বলেই ধরে নিয়েছিল। পুলিশ কর্মকর্তা মহেন্দ্র দারনাল জানিয়েছেন, তিনি পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং পরিবার এরই মধ্যে ১১ দিনের শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিল। এমন পরিস্থিতিতে জীবিত অবস্থায় চন্দিকাকে উদ্ধারের ঘটনা স্বজনদের জন্য অবিশ্বাস্য এক মুহূর্ত হয়ে আসে।   বেত্রাবতী ছিল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি। স্থানীয় বাজারসহ বহু আবাসিক ভবন কয়েক ফুট পুরু কাদা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে। কোনো কোনো ভবন ছিল চারতলা পর্যন্ত উঁচু। উদ্ধারকারীরা এখনো সেখানে কোদাল দিয়ে মাটি ও ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে জীবনের কোনো চিহ্ন খুঁজছেন। ধ্বংসস্তূপের ফাঁকে কেউ আটকে থাকলে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিয়মিত বাঁশি বাজানো হচ্ছে।   চন্দিকাকে উদ্ধারের পাঁচ দিন আগে বেত্রাবতীর বাজার এলাকার একটি ভবন থেকে ২৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকায় মরদেহগুলোর অনেকগুলোই পচে গিয়েছিল। এ অবস্থায় উদ্ধারকাজে জীবিত কাউকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছিল। তবু চন্দিকার উদ্ধার নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। নেপালের বিভিন্ন এলাকায় এখনো ধ্বংসস্তূপ, কাদার স্তর ও বিভিন্ন স্থাপনার ভেতরে আটকে থাকা মানুষকে খুঁজছেন উদ্ধারকারীরা।   ভয়াবহ এই দুর্যোগের ১১ দিন পরও প্রায় ৫ হাজার মানুষ নিখোঁজ ছিলেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নেপালজুড়ে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়ে গেছে। নদীর স্রোতে ভেসে অনেক মরদেহ ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে বহু দূরে গিয়ে পড়েছে। আবার কিছু এলাকায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি এমন মরদেহের গণদাফনও করা হয়েছে।   ত্রিশূলী নদীর আশপাশেও উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে কয়েকটি সুড়ঙ্গের মধ্যে বহু মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সেখান থেকে নেপালি নাগরিকদের পাশাপাশি এক চীনা নাগরিককেও জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, কয়েকটি সুড়ঙ্গে এখনো শত শত মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   চন্দিকার মতো আরও কয়েকজনকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। আট বছর বয়সী এক শিশুকেও উদ্ধার করে তার মায়ের সঙ্গে পুনর্মিলন করানো হয়েছে। এসব ঘটনায় উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবনের কোনো ক্ষীণ চিহ্ন পেলেই অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।   নেপালের সাম্প্রতিক এই দুর্যোগের সূত্রপাত ঘটে হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট ভয়াবহ পানির স্রোত থেকে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় এর প্রভাব পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে নদীর পানি ও কাদার স্রোত বসতি, বাজার এবং অবকাঠামোর ওপর দিয়ে বয়ে যায়।   চন্দিকা কুমারী শ্রেষ্ঠার উদ্ধার সেই বিপর্যয়ের মধ্যেও মানুষের বেঁচে থাকার এক বিরল উদাহরণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁকে হারিয়ে শোক পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচে একটি ছোট বাতাসের জায়গায় টিকে ছিলেন তিনি। দশ দিন পর তাঁর ক্ষীণ কণ্ঠই শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের কাছে পৌঁছে দেয় তাঁর জীবিত থাকার খবর।   সূত্র: রয়টার্স, কাঠমান্ডু পোস্ট

মৃত্যুর সময় লুসিয়া সিসিচের বয়স হয়েছিল মাত্র ২২ বছর। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ২২ বছরেই নিভে গেল জীবনপ্রদীপ, না ফেরার দেশে 'মিস অস্ট্রিয়া' লুসিয়া সিসিচ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২৩:৪১

মাত্র ২২ বছর বয়সেই মারা গেলেন মিস অস্ট্রিয়া ২০২৪ লুসিয়া সিসিচ। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার আয়োজক প্রতিষ্ঠান মিশন অস্ট্রিয়া। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।   মিশন অস্ট্রিয়া এক বিবৃতিতে লুসিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাঁর চলে যাওয়ার খবর অত্যন্ত দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে জানতে পেরেছে তারা। লুসিয়াকে একজন অসাধারণ তরুণী হিসেবে স্মরণ করে তাঁর পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে আয়োজক সংস্থাটি। ২০২৪ সালে মিস অস্ট্রিয়ার মুকুট জিতেছিলেন ভিয়েনার এই তরুণী। একই বছর তিনি মিস ভিয়েনাও নির্বাচিত হন। পরে ভিয়েনা ফ্যাশন উইকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মিস অস্ট্রিয়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে ক্রিস্টোফার ডেংয়ের সঙ্গে যথাক্রমে মিস ও মিস্টার অস্ট্রিয়া নির্বাচিত হন।   লুসিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মিস অস্ট্রিয়ার শিরোপা ধরে রেখেছিলেন। কারণ ২০২৪ সালের পর আর জাতীয় পর্যায়ের এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়নি। বিভিন্ন অস্ট্রিয়ান সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ২০২৫ ও ২০২৬ সালে পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় প্রতিযোগিতা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। ফলে ২০২৪ সালের বিজয়ী লুসিয়াই ছিলেন সর্বশেষ মিস অস্ট্রিয়া। লুসিয়ার ব্যক্তিগত জীবন অবশ্য ছোটবেলা থেকেই ছিল নানা শারীরিক চ্যালেঞ্জে ভরা। জন্মের সময়ই তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের একটি ভালভে ত্রুটি ধরা পড়ে। এরপর জীবনের বিভিন্ন সময়ে তাঁকে সাতবার হৃদ্‌যন্ত্রের অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে। সর্বশেষ অস্ত্রোপচারটি হয়েছিল ২০২৫ সালের শীতকালে।   তবে নিজের শারীরিক সমস্যাকে কখনোই জীবনের একমাত্র পরিচয় হিসেবে দেখেননি লুসিয়া। ২০২৪ সালের আগস্টে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছিলেন। তাঁদের চিকিৎসার কারণে কঠিন সময়গুলো পেরিয়ে পরিপূর্ণ জীবন যাপন করতে পেরেছেন বলেও জানিয়েছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই হৃদ্‌যন্ত্রের সমস্যার সরাসরি কোনো সম্পর্ক ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। মিশন অস্ট্রিয়া বা অন্য কোনো সরকারি সূত্র মৃত্যুর কারণ প্রকাশ করেনি। তাই হৃদ্‌রোগের পুরোনো ইতিহাসের সঙ্গে তাঁর মৃত্যুর সরাসরি কারণের সম্পর্ক স্থাপন করা এখনই সমীচীন নয়।   লুসিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন ২০২৪ সালের মিস্টার অস্ট্রিয়া ক্রিস্টোফার ডেংও। অস্ট্রিয়ার সংবাদমাধ্যম ও২৪-কে তিনি বলেন, লুসিয়ার মৃত্যুর খবর তাঁকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। একই সময়ে শিরোপা ধরে রাখার কারণে লুসিয়ার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল এবং তাঁকে নিজের বোনের মতো মনে হতো বলেও জানান ডেং।   মিশন অস্ট্রিয়া লুসিয়ার মৃত্যুকে শুধু একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপাধারীর বিদায় হিসেবে দেখেনি। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি তাঁদের পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে থাকবেন এবং তাঁর স্মৃতি দীর্ঘদিন ধরে সবার মধ্যে বেঁচে থাকবে। মৃত্যুর কয়েক সপ্তাহ আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন লুসিয়া। ১২ আগস্ট দেওয়া তাঁর শেষ দিকের একটি পোস্টে সোনালি পোশাকে নিজের ছবি শেয়ার করেছিলেন তিনি। তখনও তাঁকে স্বাভাবিকভাবেই নিজের জীবন উপভোগ করতে দেখা যায়।   মাত্র ২২ বছরের জীবনে লুসিয়া একদিকে অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতেছিলেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের শারীরিক সমস্যার মধ্যেও নিজের স্বপ্ন এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যু তাই অস্ট্রিয়ার সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সঙ্গে যুক্ত মানুষজনের পাশাপাশি তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যেও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।   সূত্র: মিশন অস্ট্রিয়া, ও২৪, দ্য ডেইলি বিস্ট

দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমানের সঙ্গে ইমরান খান। ছবি: সংগৃহীত
‘কারাগারেই বাবাকে মেরে ফেলতে চায় তারা’, ইমরান খানের দুই ছেলের গুরুতর অভিযোগ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ৮, ২০২৬ ২৩:২৪

ইমরান খানকে জেলের ভেতরেই মেরে ফেলার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁর দুই ছেলে কাসিম খান ও সুলাইমান খান। তাঁদের দাবি, পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও ক্রিকেট তারকার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং দীর্ঘদিনের বন্দিত্ব নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।   দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনে বসবাসকারী দুই ভাই সাম্প্রতিক একাধিক সাক্ষাৎকারে বাবার কারাবন্দিত্ব, তাঁর স্বাস্থ্য, পাকিস্তান সরকারের ভূমিকা এবং যুক্তরাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে কথা বলেছেন। তাঁদের বক্তব্যের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ ইমরান খানকে ধীরে ধীরে এমন অবস্থায় নিয়ে যেতে পারে, যাতে কারাগারেই তাঁর মৃত্যু ঘটে এবং পরে সেটিকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে দেখানো সম্ভব হয়।   কাসিমের ভাষায়, তাঁদের আশঙ্কা হলো, কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘ভেতরেই মেরে ফেলতে’ চাইতে পারে। তবে এটি তাঁর ব্যক্তিগত আশঙ্কা ও অভিযোগ, যার স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি।   ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে তোশাখানা-২ মামলায় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রী বুশরা বিবিকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ইমরান খান ও তাঁর দল মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এবং অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে জমি-সংক্রান্ত দুর্নীতি মামলাতেও তিনি ১৪ বছরের সাজা পেয়েছেন।   ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ নতুন নয়। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর আইনজীবী ও পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির প্রায় ৮৫ শতাংশ হারিয়েছেন তিনি। পরে এ নিয়ে চিকিৎসা ও চোখের চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।   গত ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা ও পরীক্ষা করানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু পরে তাঁকে সরকারি পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেসে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁর বোন উজমা খান আদালত অবমাননার আবেদন করেন। সেই আবেদনের শুনানি আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর করার কথা রয়েছে।   ইমরানের ছেলেরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী বাবার পর্যাপ্ত চিকিৎসা হচ্ছে কি না, তা নিয়েই তাঁদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ। তাঁদের দাবি, বাবার স্বাস্থ্যের অবনতির খবর ধীরে ধীরে প্রকাশ্যে আসছে এবং এর পেছনে আরও গুরুতর কোনো পরিকল্পনা থাকতে পারে।   তবে পাকিস্তান সরকার সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। দেশটির তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইমরানকে একেবারে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়নি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, তাঁর কারাবাসের পর প্রায় ১৯৮টি সাক্ষাৎ-পর্বে ৯০০টির বেশি দর্শনার্থী প্রবেশ করেছেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন তাঁর বোন, পরিবারের সদস্য, আইনজীবী, চিকিৎসক ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিরা। সরকার আরও বলেছে, ২০২৬ সালের ২১ মার্চ তাঁর এক ছেলের সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছিল।   সরকারের দাবি, ইমরানকে সাত কক্ষের একটি আলাদা প্রাঙ্গণে রাখা হয়েছে, যেখানে ঘুম, স্যানিটেশন ও ব্যায়ামের ব্যবস্থা রয়েছে। তাঁকে বাড়িতে রান্না করা খাবার, টেলিভিশন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে তাঁর স্বাস্থ্য নিয়ে বিদেশি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনকে ‘বিভ্রান্তিকর’ বলেও প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তান সরকার।   এদিকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কমে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গভীর হতাশায় আছেন কাসিম ও সুলাইমান। আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাঁরা জানিয়েছিলেন, মার্চের ঈদের সময় সর্বশেষ বাবার সঙ্গে কথা বলেছিলেন তাঁরা। সেই ফোনালাপও ছিল সীমিত সময়ের। দুই ভাইয়ের দাবি, তাঁরা এখন বাবার দৈনন্দিন অবস্থা সম্পর্কে সরাসরি জানতে পারছেন না।   ইমরান খান ও ব্রিটিশ চলচ্চিত্র প্রযোজক জেমিমা গোল্ডস্মিথের দুই ছেলে কাসিম ও সুলাইমান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। বাবাকে দেখতে পাকিস্তানে যাওয়ার চেষ্টা করলেও ভিসা নিয়ে জটিলতার কথা জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের মা জেমিমাও ব্রিটিশ সরকারের কাছে বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং ইমরানের পরিস্থিতিকে মানবিক সংকট হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।   দুই ভাইয়ের বক্তব্যের পর ইমরান খানের কারাবন্দিত্বের বিষয়টি নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডসে পাকিস্তানের টেস্ট ম্যাচ চলাকালে তাঁদের একটি সাক্ষাৎকার সম্প্রচারকে ঘিরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে স্কাই স্পোর্টসের বিরোধ পরিস্থিতিকে আরও আলোচিত করে তোলে।   আগস্টের ওই টেস্টের প্রথম দিনে স্কাই স্পোর্টসে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক মাইকেল আথারটনের নেওয়া কাসিম ও সুলাইমানের প্রায় ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকার সম্প্রচারের কথা ছিল। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এ নিয়ে আপত্তি জানিয়ে সম্প্রচার ঠেকানোর চেষ্টা করে এবং পাকিস্তান দল মাঠে না ফেরার হুমকি দিয়েছিল বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। শেষ পর্যন্ত সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয় এবং পাকিস্তান দলও মাঠে ফিরে আসে।   পরে কাসিম ও সুলাইমান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁদের বক্তব্য, সাক্ষাৎকারে কোনো রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হয়নি। তাঁরা কেবল তাঁদের বাবার স্বাস্থ্য ও মানবিক অবস্থার কথা বলেছেন।   ইমরান খানের বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গন থেকেও সমর্থনের আওয়াজ এসেছে। অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট অধিনায়ক প্যাট কামিন্স বলেছেন, ইমরানের সঙ্গে এমন আচরণ করা উচিত, যাতে যেকোনো মানুষের প্রাপ্য ন্যূনতম মর্যাদা নিশ্চিত হয়। সাবেক ক্রিকেটারদের একটি দলও তাঁর চিকিৎসা ও মানবিক আচরণের দাবি জানিয়েছে।   ইমরানের রাজনৈতিক জীবন নিয়েও দুই ভাইয়ের উদ্বেগ রয়েছে। ২০১৮ সালে তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হন। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা হয়। ২০২৩ সালের মে মাসে তাঁকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একই বছরের নভেম্বরে রাজনৈতিক সমাবেশের সময় তাঁর ওপর হামলাও হয়, যাতে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।   সুলাইমানের মতে, রাজনীতিতে বাবার সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কের অবনতিই তাঁদের পরিবারের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাঁর ভাষায়, সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পর থেকেই তাঁরা বাবার নিরাপত্তা নিয়ে ভয় পেতে শুরু করেন।   তবে দুই ভাইয়ের লড়াইয়ের পেছনে রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত এক গভীর শূন্যতা। তাঁদের সবচেয়ে বড় চাওয়া, বাবার সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা বলা। নিজেদের জীবন, কাজ, ভবিষ্যৎ কিংবা পড়া বই নিয়ে বাবার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা বলার সেই সুযোগটুকুই তাঁরা ফিরে পেতে চান।   শৈশবের স্মৃতিতে ইমরান খান তাঁদের কাছে শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বা ক্রিকেট কিংবদন্তি নন, তিনি একজন বাবা। পাকিস্তানের পাহাড়ে বাবার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া, টেনিস ও ক্রিকেট খেলা, সন্ধ্যায় একসঙ্গে সিনেমা দেখা কিংবা দাদির বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর স্মৃতি এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান।   কাসিম ও সুলাইমানের আশঙ্কা, দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতার কারণে তাঁরা বাবার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। কাসিমের ভাষায়, বড় হয়ে তাঁরা কেমন মানুষ হয়েছেন, সেটি তাঁদের বাবার জানা খুব প্রয়োজন ছিল।   এই পরিস্থিতিতে বাবাকে দেখতে প্রয়োজনে পাকিস্তানে যাওয়ার কথাও ভাবছেন দুই ভাই। কিন্তু তাঁরা জানেন, সেখানে গেলে তাঁদের নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সুলাইমানের ভয়, তাঁদের কোনো সিদ্ধান্ত যেন কারাগারে থাকা বাবার ওপর আরও মানসিক চাপ তৈরি না করে।   ইমরান খানের পরিবার ও সমর্থকদের অভিযোগের বিপরীতে পাকিস্তান সরকার অবশ্য বলছে, তাঁকে যথাযথ চিকিৎসা ও কারাবিধি অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে তাঁর স্বাস্থ্য, কারাবন্দিত্বের পরিবেশ এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যে এখনো বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।   সবকিছুর পরও কাসিম ও সুলাইমানের সবচেয়ে বড় আকাঙ্ক্ষা রাজনৈতিক নয়। তাঁরা শুধু তাঁদের বাবাকে একবার সামনে থেকে দেখতে চান। তিন বছর ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানের সঙ্গে আবার কবে দেখা হবে, সেটিই এখন তাঁদের কাছে সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা।   সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ, দ্য টাইমস, আল জাজিরা, এবিসি নিউজ, রয়টার্স  

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.33K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.09K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.20K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.07K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.01K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়