কানাডায় বাংলাদেশি নাগরিকদের রিফিউজি বা রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে কানাডার রিফিউজি ক্লেইমের অন্যতম বড় উৎস দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৮ হাজারের বেশি রিফিউজি ক্লেইম কানাডার রিফিউজি প্রোটেকশন ডিভিশনে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের ঘরে। ফলে দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে আসা রিফিউজি ক্লেইমের সংখ্যা কানাডার শরণার্থী নির্ধারণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে। কানাডার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দেশে প্রবেশের পর নিজেকে নির্যাতন, নিপীড়ন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকার দাবি করলে তার আবেদন নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। আবেদনকারী সত্যিই রিফিউজি সুরক্ষার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত রিফিউজি প্রোটেকশন ডিভিশন আলাদাভাবে যাচাই করে নেয়। বাংলাদেশ-সম্পর্কিত এসব আবেদনের একটি অংশ গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাহার বা পরিত্যক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদনের সংখ্যা যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি এসব মামলা নিষ্পত্তিতে কানাডার রিফিউজি ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কানাডায় বিশ্বকাপের খেলা দেখতে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি নাগরিক রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের নির্দিষ্ট ঘটনার সংখ্যা বা পরিমাণ সরকারি সূত্রে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে সামগ্রিক প্রবণতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। কানাডায় ভিজিটর, স্টুডেন্ট বা অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় যাওয়ার পর কেউ রিফিউজি ক্লেইম করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। আবেদনকারীকে তার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ দিতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার দাবি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। একইভাবে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসা আবেদনের সময় আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নিজ দেশের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং নির্ধারিত সময় শেষে কানাডা ছাড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে। তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং যে উদ্দেশ্যে ভিসা নেওয়া হচ্ছে, সেটি সম্পর্কে সত্যনিষ্ঠ থাকা। ভুয়া তথ্য, জাল কাগজপত্র বা ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অপব্যবহার ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের আবেদন এবং ভবিষ্যৎ ইমিগ্রেশন সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে কানাডায় রিফিউজি ক্লেইমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে, এটি সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। তবে এই প্রবণতার কারণে পুরো বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা বা বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই কানাডার ইমিগ্রেশন অফিসার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন, এমন কোনো সরকারি নীতির প্রমাণ নেই। মূল বিষয় হলো, কানাডার ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আবেদনকারীর জাতীয়তার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, নথিপত্র, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আইনি যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়। তাই কানাডায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের খেলা দেখার উদ্দেশ্যে যাওয়া পঁয়তাল্লিশ জন বাংলাদেশির মধ্যে দশ জনই হঠাৎ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে বসেছেন । অর্থাৎ খেলার আনন্দ উদযাপনের নামে ভিসা নিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার এই হিড়াহার প্রায় বাইশ শতাংশ । বিদেশে যাওয়ার যে কোনো বৈধ সুযোগকে স্থায়ী হওয়ার চাবি হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় । কাজের ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা কিংবা ভিজিটার ভিসা, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন এয়ারপোর্টে নেমেই ভিত্তিহীন দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া এখন এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ইস্ট উইন্ডসরে একটি স্ট্রবেরি খামারে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে। পিকআপ ট্রাকের ভেতর এক বছর বয়সী সন্তানকে ফেলে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা কেভিন পেলের বিরুদ্ধে নাবালকের জীবনের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, কেভিন তার ছেলেকে ট্রাকের ভেতর রেখে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন শিশুটির শরীর নীল হয়ে গেছে এবং সে নিশ্বাস নিচ্ছে না। জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানোর আগে তিনি নিজেই সন্তানকে সিপিআর দিচ্ছিলেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত বাবার আইনজীবী জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। তারা এই কঠিন সময়ে সবার কাছে গোপনীয়তা ও সহানুভূতি কামনা করেছেন। এছাড়া, আদালত কেভিনকে তার বাড়িতে থাকা অপর সন্তানের ক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষা দপ্তরের নিরাপত্তা শর্তগুলো মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। আপাতত কেভিনের বিরুদ্ধে নাবালকের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরির একটিমাত্র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে, পুলিশি তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত এই বাবার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা ছাড়িয়েছে। মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে ঋণের এই নতুন মাইলফলক দেশটির দীর্ঘদিনের বাজেট ঘাটতি ও সরকারি ব্যয়ের চাপ নিয়ে আবারও বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জাতীয় ঋণ ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। চলতি বছরের মার্চেই ঋণ ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। অর্থাৎ প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যেই আরও ১ ট্রিলিয়ন ডলার যোগ হয়েছে। দেশটির মোট জনসংখ্যা দিয়ে এই ঋণের অঙ্ক ভাগ করলে মাথাপিছু বোঝা দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার। আর একটি পরিবারের হিসাবে তা প্রায় ২ লাখ ৯৭ হাজার ডলার। গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। করোনা মহামারির সময় ট্রাম্প ও বাইডেন দুই প্রশাসনের ব্যাপক সরকারি ব্যয় এই ঋণ বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। পরে অবকাঠামো বিনিয়োগ, জ্বালানি ও শিল্পখাতে ভর্তুকি, সামাজিক কর্মসূচি এবং ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও সরকারি অর্থের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। তবে ঋণ বৃদ্ধির দায় শুধু একটি প্রশাসনের ওপর দেওয়া যায় না। ২০১৭ সালে ট্রাম্প প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরও জাতীয় ঋণ বেড়েছিল। তাঁর ২০১৭ সালের কর কমানোর নীতিও দীর্ঘমেয়াদে ফেডারেল ঘাটতি বাড়ানোর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প বলেছিলেন, তখনকার প্রায় ১৯ ট্রিলিয়ন ডলারের জাতীয় ঋণ তিনি আট বছরের মধ্যে পুরোপুরি পরিশোধ করতে পারবেন। পরে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি। বরং ২০২০ সালে তাঁর প্রথম মেয়াদের শেষদিকে তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন, প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর জাতীয় ঋণ আরও বেড়েছে। এরপর বাইডেন প্রশাসনের সময়ও জাতীয় ঋণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অবকাঠামো বিনিয়োগ, কোভিড-পরবর্তী সরকারি ব্যয় এবং বিভিন্ন শিল্প ও জ্বালানি খাতে ভর্তুকির পাশাপাশি আগের ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয়ও ঋণ বৃদ্ধির ধারাকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। বর্তমানে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ শুধু ঋণের মোট পরিমাণ নয়, এর সুদ পরিশোধের খরচ। ঋণের পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল অর্থ শুধু সুদ পরিশোধে ব্যয় করতে হচ্ছে। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে ঋণের সুদ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যয়ের চেয়েও বেশি হয়ে উঠেছে বলে অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ঋণ যদি অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির চেয়ে দ্রুত বাড়তে থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়বে। এর প্রভাব পড়তে পারে সরকারি ব্যয়, বন্ডের সুদের হার এবং সাধারণ মানুষের মর্টগেজ ও অন্যান্য ঋণের খরচেও। ৪০ ট্রিলিয়ন ডলারের এই মাইলফলক তাই শুধু একটি বিশাল সংখ্যা নয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের দীর্ঘদিনের ব্যয়, করনীতি ও বাজেট ঘাটতির রাজনীতির সামনে নতুন করে বড় একটি আর্থিক চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেছে।
উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমানোর স্বপ্ন দেখেন বহু ভারতীয় তরুণ। তবে সম্প্রতি এক ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে সুহাস ও প্রিয়াঙ্কা নামের এক প্রবাসী দম্পতি তরুণদের আমেরিকায় না আসার পরামর্শ দিয়েছেন। কনটেন্ট ক্রিয়েটর দর্শনার ওই ভিডিওতে সুহাস তরুণদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বলেন, "এখানে আসবেন না।" সুহাস জানান, তারা যখন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন তখন ভারতের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিল এবং সেখানে ভালো চাকরি পাওয়া অনেক কঠিন ছিল। কিন্তু বর্তমানে ভারতেও যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ ক্যারিয়ার গড়ার দারুণ সব সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রিয়াঙ্কাও জানান, এখন অনেক বিনিয়োগকারীও ভারতের বাজারে ব্যবসার জন্য ঝুঁকছেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে সুহাস জানান, পরিবার ও বন্ধুদের ছেড়ে ভিনদেশে নতুন করে সবকিছু শুরু করার মানসিক মূল্য অনেক চড়া। দীর্ঘ সময় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার পরও তারা সেখানে আপন হওয়ার অনুভূতি পান না। সুযোগ থাকলে তিনি এখনই নিজ দেশ ভারতে ফিরে যেতেন বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন। প্রবাসী ভারতীয়দের সঙ্গে চীনা শিক্ষার্থীদের একটি তুলনামূলক চিত্রও তুলে ধরেন এই দম্পতি। তারা জানান, চীনারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে জ্ঞান অর্জন শেষে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখেন। ভারতীয় তরুণদের মধ্যেও এই ফিরে যাওয়ার মানসিকতা গড়ে ওঠা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
টেক্সাসের একটি স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালিয়ে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে আটজনকে এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট করা হয়েছিল। ১৪ আগস্ট এল পাসো এলাকায় এই অভিযান চালানো হয় বলে আইসিই জানিয়েছে। আইসিই এল পাসোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বর্ডার এনফোর্সমেন্ট সিকিউরিটি টাস্ক ফোর্স এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় ওই স্ট্যাশ হাউসে অভিযান চালানো হয়। গ্রেপ্তার ১৭ জনের মধ্যে ১৩ জন মেক্সিকোর, দুজন ব্রাজিলের, একজন গুয়াতেমালার এবং একজন হন্ডুরাসের নাগরিক। আইসিই জানিয়েছে, আটজন আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিপোর্ট হওয়ার পর আবারও দেশে প্রবেশ করেছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি অনুযায়ী অবৈধভাবে পুনঃপ্রবেশের ফেডারেল অভিযোগ এবং পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে আরও দুজনের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন জজের দেওয়া চূড়ান্ত অপসারণের আদেশ বা ফাইনাল অর্ডার অব রিমুভাল রয়েছে। অন্যদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া একজন মেক্সিকান নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে বলে আইসিই জানিয়েছে। ডিপোর্টের পর আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের বিষয়টি ফেডারেল আইনে গুরুতর হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আগেও ডিপোর্ট হওয়া কোনো ব্যক্তি অনুমতি ছাড়া আবার যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার পাশাপাশি ফেডারেল ক্রিমিনাল মামলাও হতে পারে। মামলার পরিস্থিতি ও ব্যক্তির আগের রেকর্ডের ওপর সম্ভাব্য শাস্তি নির্ভর করে। একই সময়ে টেক্সাসের ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টে ইমিগ্রেশন আইন প্রয়োগে বড় ধরনের ফেডারেল কার্যক্রমের তথ্যও প্রকাশ করেছে ইউএস অ্যাটর্নির অফিস। ৭ থেকে ১৩ আগস্টের মধ্যে সেখানে ইমিগ্রেশন ও ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত অপরাধে ২৯২টি নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ১৪ আগস্টের সরকারি প্রতিবেদনে জানানো হয়। এসব মামলার মধ্যে আগে ডিপোর্ট হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগও রয়েছে। ওই সরকারি প্রতিবেদনে ব্রাজিলের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে, যাকে এর আগে তিনবার ডিপোর্ট করা হয়েছিল। মেক্সিকোর আরেক ব্যক্তির বিরুদ্ধেও তিনবার পূর্ববর্তী ডিপোর্টেশনের পর পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অভিযোগ রয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তথ্য অনুযায়ী, ওয়েস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব টেক্সাসের আওতায় ৬৮টি কাউন্টি রয়েছে। প্রায় ৯৩ হাজার বর্গমাইলের এই অঞ্চলে এল পাসো, সান অ্যান্টোনিও ও অস্টিনের মতো বড় শহর রয়েছে এবং মেক্সিকোর সঙ্গে প্রায় ৬৬০ মাইল সীমান্ত রয়েছে। আইসিইর এই অভিযান এমন এক সময়ে হয়েছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসন অবৈধ ইমিগ্রেশন নিয়ন্ত্রণ এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনগতভাবে নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাটের ইস্ট উইন্ডসরে একটি স্ট্রবেরি খামারে মর্মান্তিক এক ঘটনা ঘটেছে। পিকআপ ট্রাকের ভেতর এক বছর বয়সী সন্তানকে ফেলে যাওয়ায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা কেভিন পেলের বিরুদ্ধে নাবালকের জীবনের ঝুঁকি তৈরির অভিযোগে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, কেভিন তার ছেলেকে ট্রাকের ভেতর রেখে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি দেখেন শিশুটির শরীর নীল হয়ে গেছে এবং সে নিশ্বাস নিচ্ছে না। জরুরি সেবাকর্মীরা পৌঁছানোর আগে তিনি নিজেই সন্তানকে সিপিআর দিচ্ছিলেন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত বাবার আইনজীবী জানিয়েছেন, মর্মান্তিক এই মৃত্যুতে পুরো পরিবারটি মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত। তারা এই কঠিন সময়ে সবার কাছে গোপনীয়তা ও সহানুভূতি কামনা করেছেন। এছাড়া, আদালত কেভিনকে তার বাড়িতে থাকা অপর সন্তানের ক্ষেত্রে শিশু সুরক্ষা দপ্তরের নিরাপত্তা শর্তগুলো মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছেন। আপাতত কেভিনের বিরুদ্ধে নাবালকের ক্ষতি করার ঝুঁকি তৈরির একটিমাত্র অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন যে, পুলিশি তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে অভিযুক্ত এই বাবার বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ গঠন করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কানাডায় বাংলাদেশি নাগরিকদের রিফিউজি বা রাজনৈতিক আশ্রয় আবেদনের সংখ্যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে। কানাডার ইমিগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজি বোর্ডের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ বর্তমানে কানাডার রিফিউজি ক্লেইমের অন্যতম বড় উৎস দেশগুলোর একটি। ২০২৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ১৮ হাজারের বেশি রিফিউজি ক্লেইম কানাডার রিফিউজি প্রোটেকশন ডিভিশনে পাঠানো হয়। ২০২৫ সালেও বাংলাদেশি আবেদনকারীদের সংখ্যা ছিল ২০ হাজারের ঘরে। ফলে দুই বছরে বাংলাদেশ থেকে আসা রিফিউজি ক্লেইমের সংখ্যা কানাডার শরণার্থী নির্ধারণ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য চাপ তৈরি করেছে। কানাডার আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি দেশে প্রবেশের পর নিজেকে নির্যাতন, নিপীড়ন বা গুরুতর ক্ষতির ঝুঁকিতে থাকার দাবি করলে তার আবেদন নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যাচাই করা হয়। আবেদনকারী সত্যিই রিফিউজি সুরক্ষার যোগ্য কি না, সেই সিদ্ধান্ত রিফিউজি প্রোটেকশন ডিভিশন আলাদাভাবে যাচাই করে নেয়। বাংলাদেশ-সম্পর্কিত এসব আবেদনের একটি অংশ গ্রহণ করা হয়েছে, আবার কিছু আবেদন প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাহার বা পরিত্যক্ত হয়েছে। একই সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মামলা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে আসা আবেদনের সংখ্যা যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি এসব মামলা নিষ্পত্তিতে কানাডার রিফিউজি ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে কানাডায় বিশ্বকাপের খেলা দেখতে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি নাগরিক রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে এ ধরনের নির্দিষ্ট ঘটনার সংখ্যা বা পরিমাণ সরকারি সূত্রে নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেটিকে সামগ্রিক প্রবণতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না। কানাডায় ভিজিটর, স্টুডেন্ট বা অন্য কোনো অস্থায়ী ভিসায় যাওয়ার পর কেউ রিফিউজি ক্লেইম করলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণযোগ্য হয়ে যায় না। আবেদনকারীকে তার দাবির পক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ দিতে হয়। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার দাবি যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়। একইভাবে কানাডার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ ভিসা আবেদনের সময় আবেদনকারীর ভ্রমণের উদ্দেশ্য, আর্থিক সক্ষমতা, নিজ দেশের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক এবং নির্ধারিত সময় শেষে কানাডা ছাড়ার সম্ভাবনাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করে। তাই বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আবেদনে সঠিক তথ্য দেওয়া এবং যে উদ্দেশ্যে ভিসা নেওয়া হচ্ছে, সেটি সম্পর্কে সত্যনিষ্ঠ থাকা। ভুয়া তথ্য, জাল কাগজপত্র বা ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার অপব্যবহার ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের আবেদন এবং ভবিষ্যৎ ইমিগ্রেশন সুযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বাংলাদেশ থেকে কানাডায় রিফিউজি ক্লেইমের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে রয়েছে, এটি সরকারি পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট। তবে এই প্রবণতার কারণে পুরো বাংলাদেশি জনগোষ্ঠীকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা বা বাংলাদেশি পাসপোর্ট দেখলেই কানাডার ইমিগ্রেশন অফিসার স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন, এমন কোনো সরকারি নীতির প্রমাণ নেই। মূল বিষয় হলো, কানাডার ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় আবেদনকারীর জাতীয়তার পাশাপাশি তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতি, নথিপত্র, ভ্রমণের উদ্দেশ্য এবং আইনি যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়। তাই কানাডায় যেতে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা এবং ইমিগ্রেশন আইনের শর্ত মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় ২০২৬ ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপের খেলা দেখার উদ্দেশ্যে যাওয়া পঁয়তাল্লিশ জন বাংলাদেশির মধ্যে দশ জনই হঠাৎ রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করে বসেছেন । অর্থাৎ খেলার আনন্দ উদযাপনের নামে ভিসা নিয়ে গিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়ার এই হিড়াহার প্রায় বাইশ শতাংশ । বিদেশে যাওয়ার যে কোনো বৈধ সুযোগকে স্থায়ী হওয়ার চাবি হিসেবে ব্যবহার করার এই প্রবণতা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় । কাজের ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা কিংবা ভিজিটার ভিসা, উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন এয়ারপোর্টে নেমেই ভিত্তিহীন দোহাই দিয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় নেওয়া এখন এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আট বছর বয়সী মেয়েকে একা ট্যাক্সিতে পাঠিয়েছিলেন মা। কিন্তু দুর্গম এলাকায় যাওয়ার পর নেটওয়ার্ক না থাকায় হঠাৎ মেয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই মুহূর্তের চরম আতঙ্ক ও অসহায়ত্ব গভীরভাবে দাগ কাটে মা অ্যামবেরিন নেওয়াজের মনে। আর সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতাই তাকে নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা জোগায়। নারী, শিশু ও অরক্ষিত যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তিনি চালু করেন সম্পূর্ণ নারীদের পরিচালিত বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’। এই সার্ভিসের ট্যাক্সিগুলো উজ্জ্বল গোলাপি রঙের হওয়ায় রাস্তায় খুব সহজেই সবার নজর কাড়ে। শুধু নারী ও শিশু যাত্রীদের জন্যই এই সার্ভিসটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। ‘পিংক লেডিস’-এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, এর চালকরা সবাই নারী এবং তাদের নির্ধারিত লক্ষ্যভুক্ত যাত্রীর বাইরে অন্য কেউ রাইড শেয়ার করতে চাইলে চালকের তা প্রত্যাখ্যান করার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। মূলত নারীদের জন্য নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াত নিশ্চিত করতেই এই কঠোর নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে যাত্রীদের মধ্যে নিরাপদ যাতায়াতের এই সার্ভিসের চাহিদা ক্রমশ বাড়ছে এবং এর কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হচ্ছে। উদ্যোক্তা অ্যামবেরিন নেওয়াজ আশা করেন, তার এই উদ্যোগ শুধু যাত্রীদের নিরাপত্তাই নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজের অন্য নারীদেরও পেশা হিসেবে ড্রাইভিংকে বেছে নিতে উৎসাহিত করবে। নারীদের স্বাধীনভাবে ও নিরাপদে চলাচলের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘ ৯ মাসের সামরিক অভিযান শেষে অবশেষে দেশের পথে রওনা হয়েছে মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও ক্রু নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রণতরিটি যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগোর উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। এই দীর্ঘ সময়ে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এটি। বর্তমানে আব্রাহাম লিংকনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে অপর মার্কিন রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার রণতরিটির বিদায়বেলায় এক বার্তায় নাবিকদের শুভযাত্রা কামনা করে শিগগিরই তাদের প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। গত বছরের ২১ নভেম্বর সান দিয়েগো থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল আব্রাহাম লিংকন। দীর্ঘ ২৭২ দিনের এই মিশনে রণতরিটি মাত্র দুবার সমুদ্রে বিরতি নেয়। এর মধ্যে ডিসেম্বরে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল গুয়ামে স্বল্প সময়ের জন্য এবং পরবর্তীতে রসদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ওমানে নোঙর করেছিল এটি। টানা সমুদ্রযাত্রায় থাকা নাবিকদের জন্য বিশ্রামের কোনো নির্ধারিত ছুটির দিন ছিল না। এখন প্রায় ১৩ হাজার মাইল দীর্ঘ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে দেশে ফিরতে তাদের আরও চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক তৎপরতার অংশ হিসেবে আব্রাহাম লিংকনকে এই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে মিশন চলাকালে রণতরিতে নাবিকদের জীবনযাত্রার মান এবং আনুষঙ্গিক নানা সংকট নিয়ে সম্প্রতি বেশ কিছু প্রতিবেদন সামনে আসে। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ইরানের হামলায় বাহরাইনের মানামায় অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ঘাঁটি ধ্বংস হওয়ার পর এই সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত হওয়ায় চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে মিশন চালিয়ে নিতে হয়েছে রণতরিটির হাজারো ক্রুকে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রায় ১,১০০ সোমালি নাগরিকের অস্থায়ী সুরক্ষিত অবস্থান বা টিপিএস বাতিলের পথে আর আদালতের বাধা নেই। ম্যাসাচুসেটসের ফেডারেল বিচারক অ্যালিসন বারোজ আগের স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন সোমালিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে পারছে। ইউএসসিআইএসের তথ্য অনুযায়ী, সোমালিয়ার টিপিএস ১৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হয়েছে। টিপিএস হলো যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী অভিবাসন সুরক্ষা, যার আওতায় যুদ্ধ, সশস্ত্র সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য গুরুতর পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বসবাস ও কাজের অনুমতি পান। সোমালিয়া ১৯৯১ সাল থেকে এই কর্মসূচির আওতায় ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন চলতি বছরের জানুয়ারিতে সোমালিয়ার টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়। তৎকালীন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েমের যুক্তি ছিল, সোমালিয়ার পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং দেশটি আর টিপিএসের আইনি শর্ত পূরণ করে না। তবে সোমালিয়ায় এখনো নিরাপত্তা সংকট ও আল-শাবাবের সঙ্গে সংঘাত রয়েছে। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, টিপিএস ১৭ মার্চ থেকে বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মার্চে বিচারক বারোজ সাময়িকভাবে সিদ্ধান্তটি আটকে দেন। চারজন সোমালি টিপিএসধারী এবং দুটি অভিবাসী অধিকার সংগঠন সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল। তাদের অভিযোগ ছিল, সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় ও জাতিগত পক্ষপাতের প্রভাব রয়েছে এবং প্রশাসন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি। আগস্টে বিচারক আগের স্থগিতাদেশ তুলে নেন। এর পেছনে জুনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ও ভূমিকা রাখে। ওই রায়ে টিপিএস বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নিম্ন আদালতের হস্তক্ষেপের সুযোগ সীমিত করা হয়। এরপর হাইতি, সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান ও মিয়ানমারের নাগরিকদের টিপিএস বাতিলের ক্ষেত্রেও প্রশাসন আইনি অগ্রগতি পায়। টিপিএস বাতিল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সোমালি নাগরিকদের জন্য বড় পরিবর্তন এসেছে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, সোমালিয়ার টিপিএস ১৪ আগস্ট থেকেই বাতিল এবং এই কর্মসূচির আওতায় থাকা ব্যক্তিদের টিপিএস-ভিত্তিক বৈধতা আর কার্যকর নেই। টিপিএসের ভিত্তিতে দেওয়া কর্মসংস্থানের অনুমতিও পুনরায় যাচাইয়ের প্রয়োজন হতে পারে। তবে টিপিএস বাতিল হয়েছে মানেই ১,১০০ জনকে সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হবে, এমন নয়। যাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ভিত্তি নেই, তারা ভবিষ্যতে নির্বাসন প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে পারেন। অন্য কোনো বৈধ স্ট্যাটাস, আবেদন বা আইনি সুরক্ষা থাকলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো অবশ্য এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছে। তাদের বক্তব্য, সোমালিয়ায় নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি এখনো এমন নয় যে সেখানে থাকা সোমালি নাগরিকদের নিরাপদে ফেরত পাঠানো যায়। মামলার আইনি লড়াইও পুরোপুরি শেষ হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য সোমালিয়ার টিপিএস বাতিল বৃহত্তর অভিবাসন নীতি পরিবর্তনের অংশ। প্রশাসন যুক্তি দিচ্ছে, টিপিএস অস্থায়ী সুরক্ষা হিসেবে তৈরি হলেও অনেক দেশের নাগরিক বছরের পর বছর এই ব্যবস্থার আওতায় থেকে যাচ্ছেন। তাই নিজ দেশে পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুরক্ষা প্রত্যাহার করে অভিবাসন আইন কার্যকর করা উচিত। অন্যদিকে সমালোচকদের প্রশ্ন, কোনো দেশের পরিস্থিতি বাস্তবে কতটা নিরাপদ হয়েছে এবং সেখানে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের জন্য কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হবে, সেই মূল্যায়ন যথেষ্টভাবে করা হচ্ছে কি না। সোমালি টিপিএসধারীদের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ অভিবাসন ভিত্তি আছে কি না। টিপিএস বাতিলের পর বৈধ স্ট্যাটাস ও কাজের অনুমতির বিষয়টি নিয়ে যাদের অনিশ্চয়তা রয়েছে, তাদের নিজেদের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিবাসন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনীতি
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
এক ইঞ্চি নয়, এক বালুকণার ওপরও কাউকে পা রাখতে দেব না’ নেত্রকোনায় ডা. শফিকুর রহমান
খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরানের পথে জামায়াতসহ ১১-দলীয় জোটের প্রতিনিধি দল
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreযুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অ্যামাজনের ডেলিভারি ড্রোন এক গ্রাহকের প্যাকেজ বাড়ির সুইমিং পুলে ফেলে দিয়েছে। ঘটনাটি ভিডিওতে ধারণ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রিচমন্ডের বাসিন্দা লিন্ডসে অস্টেন জানান, ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ আসার নোটিফিকেশন পাওয়ার পর তিনি বাইরে গিয়ে পুরো ঘটনাটি নিজের চোখে দেখেন। অস্টেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির পেছনে ড্রোনের শব্দ শুনে তিনি বাইরে আসেন। এরপর ড্রোনটি সুইমিং পুলের ওপর অবস্থান নিয়ে নিচের দিকে প্যাকেজটি ছেড়ে দেয়। প্যাকেজটি সরাসরি পানিতে পড়ে যাওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান। ঘটনার ভিডিওতেও দেখা যায়, ড্রোনটি প্যাকেজ নিয়ে বাড়ির পেছনের এলাকায় আসে। এরপর সুইমিং পুলের ওপর থেকে প্যাকেজটি ছেড়ে দিলে সেটি সোজা পানিতে গিয়ে পড়ে। অস্টেন বলেন, প্যাকেজটি পানিতে পড়ে যাওয়ার মুহূর্তে তিনি একেবারেই হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এমন অভিজ্ঞতার পর ভবিষ্যতে আবার ড্রোনের মাধ্যমে প্যাকেজ নিতে তিনি আগ্রহী নন বলেও জানান। ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার সেবা আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে। কোম্পানিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় ৫০০টি মার্কিন শহরে এই সেবা চালুর লক্ষ্য রয়েছে। অ্যামাজনের এই ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হলো ছোট আকারের পণ্য দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ড্রোনগুলো সর্বোচ্চ প্রায় ৫ পাউন্ড বা ২ দশমিক ৩ কেজি ওজনের প্যাকেজ বহন করতে পারে। নির্দিষ্ট এলাকায় অর্ডার দেওয়ার পর প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এই সেবা পরিচালনা করা হয়। অ্যামাজনের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে বিরল একটি ত্রুটি হিসেবে দেখা হয়েছে। কোম্পানির মুখপাত্র অ্যালি পেইন জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা থেকে পাওয়া তথ্য কাজে লাগিয়ে ড্রোন ডেলিভারি ব্যবস্থা আরও উন্নত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। ড্রোন ডেলিভারি মূলত এমন শহরতলি ও আবাসিক এলাকায় পরিচালনার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ঘনবসতি, উঁচু ভবন কিংবা বড় বিমানবন্দরের মতো জটিলতা তুলনামূলক কম। তবে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয় আইন, নিরাপত্তা বিধি এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক শর্তও মানতে হয়। ড্রোনের মাধ্যমে পণ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রযুক্তি দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও সঠিক জায়গায় প্যাকেজ নামানো এবং পণ্য অক্ষত রাখার বিষয়টি এখনো গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। টেক্সাসের এই ঘটনাটি সেই প্রযুক্তির বাস্তব ব্যবহারে নির্ভুলতার গুরুত্ব নতুন করে সামনে এনেছে। অ্যামাজনের ড্রোন ডেলিভারি সেবা যত বিস্তৃত হচ্ছে, ততই গ্রাহকের বাড়িতে নিরাপদ ও নির্ভুলভাবে প্যাকেজ পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা নিয়ে নজর বাড়ছে। সুইমিং পুলে প্যাকেজ পড়ে যাওয়ার এই ঘটনাও সেই চ্যালেঞ্জেরই একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
২০০৩ সালের ৭ এপ্রিল ইরাকের বাগদাদের আকাশে স্থলবাহিনীকে আকাশপথে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন মার্কিন বিমানবাহিনীর পাইলট ক্যাপ্টেন কিম ক্যাম্পবেল। হঠাৎ তাঁর এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ যুদ্ধবিমানের পেছনের অংশে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত লাগে। এতে বিমানের সব হাইড্রলিক লাইন ছিন্ন হয়ে যায়। বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মাটির দিকে কাত হয়ে পড়লেও ক্যাম্পবেল বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেননি। বরং বিকল্প যান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটি নিরাপদে কুয়েতে ফিরিয়ে আনেন তিনি। সেদিন ক্যাম্পবেল ৭৫তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের হয়ে বাগদাদের ওপর স্থলবাহিনীকে সহায়তা দেওয়ার মিশনে ছিলেন। মিশন শেষ করে তিনি ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরেক পাইলট এলাকা ছাড়ার সময় হঠাৎ বিমানের পেছনের অংশে তীব্র আঘাত অনুভব করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ককপিটে একের পর এক সতর্কসংকেত জ্বলে ওঠে এবং বিমানের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অচল হয়ে যায়। আঘাতের পর এ-১০ বিমানটি বাম দিকে তীব্রভাবে কাত হয়ে মাটির দিকে নেমে যেতে শুরু করে। ক্যাম্পবেল নিয়ন্ত্রণব্যবহার করে বিমানটিকে সামলানোর চেষ্টা করলেও সেটি কোনো সাড়া দিচ্ছিল না। শত্রু নিয়ন্ত্রিত এলাকার ওপর এমন অবস্থায় বিমান থেকে বেরিয়ে আসা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। তখন ক্যাম্পবেল বিমানের জরুরি বিকল্প ব্যবস্থা চালু করেন, যাকে বলা হয় ম্যানুয়াল রিভারশন। স্বাভাবিক হাইড্রলিক ব্যবস্থা কাজ না করলে এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যান্ত্রিক কেবল ও সংযোগের সাহায্যে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায়। ব্যবস্থা চালু করার পর বিমানটি ধীরে ধীরে তাঁর নিয়ন্ত্রণে ফিরে আসে এবং মাটির দিকে নেমে যাওয়ার পরিবর্তে আবার ওপরে উঠতে শুরু করে। তবে বিপদ তখনও কাটেনি। বিমানের পেছনের অংশ, লেজ এবং অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। ককপিট থেকে ক্যাম্পবেলের পক্ষে বিমানের পেছনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা সম্ভব ছিল না। তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট পাশ থেকে বিমানটির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তাঁকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানাচ্ছিলেন। পরে বিমানের ছবি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর কাঠামোর বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ছিদ্র তৈরি হয়েছিল। এমনকি ডান পাশের অনুভূমিক ভারসাম্য রক্ষাকারী অংশেও বড় একটি গর্ত হয়েছিল। এত ব্যাপক ক্ষতি সত্ত্বেও বিমানটি আকাশে টিকে ছিল এবং ক্যাম্পবেল সেটিকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন। বাগদাদ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও বিমানটি শত্রুপক্ষের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঝুঁকির মধ্যে ছিল। ক্যাম্পবেল ও তাঁর সঙ্গে থাকা পাইলট শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত বিমানটিকে কুয়েতের দিকে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। পুরো পথেই তাঁকে স্বাভাবিক হাইড্রলিক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে বিকল্প যান্ত্রিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়। ঘাঁটির কাছে পৌঁছানোর পর শুরু হয় আরও কঠিন পরীক্ষা। হাইড্রলিক ব্যবস্থা নষ্ট থাকায় বিমানের গতি কমানোর বিশেষ ব্যবস্থা, স্বাভাবিক ব্রেক এবং দিকনির্দেশনা নিয়ন্ত্রণও কাজ করছিল না। জরুরি পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্যাম্পবেল অবতরণের জন্য চাকার ব্যবস্থা নামান। তিনটি চাকাই ঠিকভাবে স্থির হয়েছে নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি রানওয়ের দিকে এগিয়ে যান। অবতরণের শেষ মুহূর্তেও বিমানটি একদিকে কাত হয়ে যায়। কিন্তু ক্যাম্পবেল দ্রুত নিয়ন্ত্রণ ফিরে পান এবং ক্ষতিগ্রস্ত এ-১০-কে নিরাপদে রানওয়েতে নামাতে সক্ষম হন। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই মিশনে অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার জন্য ক্যাম্পবেল ডিস্টিংগুইশড ফ্লাইং ক্রস পদকে ভূষিত হন। যুদ্ধক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত একটি যুদ্ধবিমানকে নিয়ন্ত্রণে রেখে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ঘটনা তাঁর সামরিক জীবনের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পবেল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। ২০০৪ সালে ওয়াশিংটনের স্মিথসোনিয়ানের ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়ামেও তিনি ওই মিশনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি কীভাবে জরুরি পরিস্থিতিতে বিমানের বিকল্প নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ব্যবহার করে সেটিকে আকাশে ধরে রেখেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানান। ক্যাম্পবেলের ব্যবহৃত এ-১০ যুদ্ধবিমানটি পরবর্তী সময়ে সংরক্ষণ করা হয়। ক্ষতবিক্ষত অবস্থায়ও বিমানটির নিরাপদে ফিরে আসার ঘটনা এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২-এর শক্তিশালী কাঠামো ও যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যাপক ক্ষতি সহ্য করার সক্ষমতার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে স্মরণ করা হয়।
উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক জয়ের পর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করায় বিতর্কে জড়িয়েছেন ১৭ বছর বয়সী ইসরায়েলি শিক্ষার্থী ইয়োতাম বুদনিক। পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় আয়োজকেরা তার সনদ বাতিল করেছেন এবং প্রতিযোগিতার সরকারি ফলাফলের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দিয়েছেন। তবে স্বর্ণপদক ফেরত দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ইসরায়েলের রেহোভট শহরের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী বুদনিক ৯ থেকে ১৬ আগস্ট উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডে অংশ নেন। বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই কম্পিউটারভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ ফল করে তিনি স্বর্ণপদক অর্জন করেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মঞ্চে ওঠার পর বুদনিক নিজের সঙ্গে থাকা একটি ইসরায়েলি পতাকা বের করে কাঁধে জড়িয়ে নেন। পরে এই পতাকা প্রদর্শনকে কেন্দ্র করেই তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের সাধারণ পরিষদ ২০২৪ সালে ইসরায়েলের অংশগ্রহণের বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৫ সাল থেকে ইসরায়েলকে আর আলাদা জাতীয় দল হিসেবে প্রতিযোগিতায় স্বীকৃতি দেওয়া হবে না। তবে দেশটির সর্বোচ্চ চারজন শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন এবং তাদের অংশগ্রহণ হবে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পতাকার অধীনে। এই সিদ্ধান্তের ফলে বুদনিকসহ ইসরায়েলি শিক্ষার্থীরা জাতীয় দলের পরিচয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাননি। এরপর স্বর্ণপদক পাওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শন করেন। ঘটনার পর আয়োজকেরা তার কাছে স্বর্ণপদক ফেরত দেওয়ার দাবি জানান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বুদনিক পদক ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর পর তার সনদ প্রত্যাহার করা হয় এবং সরকারি ফলাফলের তালিকা থেকে তার নাম সরিয়ে দেওয়া হয়। বুদনিক তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের পতাকা প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বিবেচনার ফল। তার মতে, বিজ্ঞানভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় রাজনৈতিক বিষয়কে প্রভাব বিস্তার করতে দেওয়া উচিত নয়। আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াড বিশ্বের প্রধান আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতাগুলোর একটি। এতে বিভিন্ন দেশের স্কুলশিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বিজ্ঞান ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা যাচাইয়ের জন্য অংশ নেন। প্রতিযোগিতাটির অন্যতম উদ্দেশ্য হলো তরুণদের মধ্যে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং বিভিন্ন দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ নিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ইসরায়েলি শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও তারা জাতীয় দলের পরিচয়ে অংশ নিতে পারবেন না। তাদের আন্তর্জাতিক কম্পিউটার অলিম্পিয়াডের পতাকার অধীনে অংশ নেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়। বুদনিকের ঘটনায় আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় জাতীয় পরিচয়, পতাকা প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে আয়োজকেরা প্রতিযোগিতার নির্ধারিত নিয়ম ও সিদ্ধান্ত কার্যকর করার অবস্থানে রয়েছে, অন্যদিকে বুদনিকের পদক্ষেপ বিজ্ঞান প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ও জাতীয় পরিচয় প্রকাশের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান মুক্তি পেলে দেশটির সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংঘাতে যাবেন না বলে দাবি করেছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। বুখারির এই বক্তব্যকে ইমরান খানের দল ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের দীর্ঘদিনের তীব্র বিরোধের প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ইমরান নিজে এমন কোনো অবস্থান নিয়েছেন কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ তিনি দীর্ঘদিন ধরে কারাগারে থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে তার সরাসরি রাজনৈতিক বক্তব্যও খুব সীমিত। বুখারি বলেন, ইমরান খান মুক্তি পেলে এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন না, যা দেশের ক্ষতি করতে পারে। তার ভাষায়, সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতে না গিয়ে নিজের কষ্ট নিয়ন্ত্রণ করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। তিনি সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পাকিস্তানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মুনির চাইলে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারেন। এমনকি তিনি আশা প্রকাশ করেন, সেনাপ্রধান উদ্যোগ নিলে রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির পথও তৈরি হতে পারে। তবে বুখারি স্পষ্ট করেছেন, পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের সঙ্গে সামরিক বাহিনীর কোনো আলোচনা চলছে না। তিনি নিজেও বর্তমানে দুবাইয়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে রয়েছেন। ইমরান খান ও পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বের সম্পর্ক ২০২২ সালে তার সরকারের পতনের পর থেকেই তীব্র বিরোধে রূপ নেয়। ২০২৩ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় উপহার, দুর্নীতি, সামরিক ও সরকারি স্থাপনায় সহিংস হামলায় উসকানি এবং বেআইনি বিয়েসহ একাধিক মামলা হয়। ইমরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন এবং তার দল মামলাগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরানের বেশির ভাগ মামলায় দেওয়া সাজা স্থগিত বা বাতিল হয়েছে, যদিও একটি মামলার সাজা বহাল রয়েছে এবং বিভিন্ন বিষয়ে আপিল চলছে। এর মধ্যেই ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট তাকে রাওয়ালপিন্ডির কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। আদালত তার চিকিৎসার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন এবং তার ব্যক্তিগত চিকিৎসককে চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত করার নির্দেশও দেয়। তবে পরে সরকার ওই আদেশের পুনর্বিবেচনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে। সরকারের যুক্তি ছিল, কারাগারের বাইরে চিকিৎসার প্রয়োজন হলে সরকারি হাসপাতালেই চিকিৎসার ব্যবস্থা করা উচিত এবং বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক প্রশ্ন রয়েছে। শেষ পর্যন্ত ২০ আগস্ট ইমরানকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। রয়টার্স জানিয়েছে, এ ঘটনায় ইমরানের দল আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে নতুন আইনি পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। সরকার অবশ্য বলছে, চিকিৎসা পরীক্ষায় তাৎক্ষণিক গুরুতর শারীরিক সমস্যার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইমরানের দল সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে আপাতত কোনো আলোচনায় না গেলেও সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বুখারির ভাষ্য অনুযায়ী, ইমরানের চিকিৎসা, পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ, মামলাগুলোর দ্রুত শুনানি এবং শেষ পর্যন্ত তার মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি হবে। বুখারির সাম্প্রতিক বক্তব্য পাকিস্তানের রাজনীতিতে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত দিলেও এটিকে এখনই সামরিক বাহিনী ও ইমরান খানের দলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না। কারণ ইমরান নিজে এমন কোনো সমঝোতার বার্তা দেননি এবং তার দলের পক্ষ থেকেও সেপ্টেম্বরের আন্দোলনের ঘোষণা বহাল রয়েছে।
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে হাম রোগের সংক্রমণ বাড়ছে, চলতি বছর আক্রান্ত ২ হাজার ৫৬৬
তীব্র চুল পড়ার সমস্যায় নতুন আশার আলো, পরিচিত একটি ওষুধেই মিলছে চুল ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা
তুরস্কে ‘ডিসকাউন্টে’ বাট লিফট সার্জারি, অপারেশনের পরই ব্রিটিশ মায়ের মৃত্যু
বছরে মাত্র ৪ বার মাসিক! নারীর প্রজননক্ষমতা বাড়ানো নিয়ে নতুন গবেষণা
দীর্ঘ আয়ু ও সুস্থ জীবন পেতে খাদ্যাভ্যাসে একটি পরিবর্তনই যথেষ্ট হতে পারে, বলছে গবেষণা
ক্যামেরা ছাড়াই ঘরের ভেতর নজরদারি, এআইয়ের চোখ হয়ে উঠছে ওয়াই-ফাই রাউটার
শিশুদের সামাজিকমাধ্যমে আসক্ত করার অভিযোগে আদালতে মেটা
সম্পূর্ণ রিসার্চ নিজে লিখেও, নিখুঁত হওয়ায় এআই ব্যবহারের অভিযোগ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে
খাইবারের ধ্বংসাবশেষে চীনা প্রযুক্তির ইঙ্গিত, নতুন চ্যালেঞ্জে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা
বাস্তবের ‘জুরাসিক পার্ক’ গড়তে চান ইলন মাস্ক, ফিরিয়ে আনতে চান ডাইনোসর!
যুক্তরাষ্ট্রে পিকআপ ট্রাকে এক বছরের সন্তানকে রেখে যান বাবা, কিছুক্ষণ পরই মৃ ত্যু; অভিযুক্ত বাবা
ঋণের ভারে নুয়ে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র, মাথাপিছু বোঝা ১ লাখ ১৭ হাজার ডলার
‘আমেরিকায় আসবেন না’, ভারতীয় তরুণদের নিজ দেশেই ক্যারিয়ার গড়ার পরামর্শ প্রবাসী দম্পতির
সেনাসদস্যের স্ত্রী হিসেবে পরিচয় নিবন্ধন করতে গিয়ে সেনাঘাঁটিতেই আইসিইর হাতে আটক নববধূ
যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় সামরিক মিশনে যাওয়ার পথে বিমান বিধ্বস্ত, প্রাণ গেল ৮ জনের
এইচএসসির পর আইইএলটিএস-টোফেল ছাড়াই তো রাষ্ট্রের যে ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন
সৌদি পাঠ্যবই থেকে বাদ ‘মুসলিমরা কখনো জেরুজালেম ছাড়বে না’ বাক্যটি
ইউনিভার্সিটি অব ওকলাহোমায় পিএইচডিতে ফুল ফান্ডিং, পরিবার নিয়েও যাওয়ার বড় সুযোগ
বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার নিয়মে বড় পরিবর্তন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলা
তিন দিনের ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে, সাড়ে তিন বছরেও স্কুলে ফেরেননি প্রধান শিক্ষক
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বেড়েছে ১৫ শতাংশ
অ্যাপার্টমেন্ট নাকি হাউস রেন্ট? ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে কোনটি বেশি লাভজনক
ট্রাম্পের অবৈধ শুল্কের ৬০ কোটি ডলার ফেরত পেল অ্যামাজন, গ্রাহকদেরও ফেরত দেবে অর্থ
কসকোতে কেনাকাটা করেছেন? ১৪ মিলিয়ন ডলারের নিষ্পত্তি থেকে টাকা পেতে পারেন
ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক-গাড়িসহ ৫ খাতে দাম বাড়তে পারে রকেটের মতো
যৌন অসদাচরণের অভিযোগে সাবেক কংগ্রেসম্যানের বাড়িতে এফবিআইয়ের অভিযান
অভিবাসী গ্রেপ্তারে স্থানীয় পুলিশকে ৫ লাখ ডলারের বীমা দিতে চায় আইস
কেন্টাকির পার্কে গুলিতে কিশোর নিহত, আহত ৪; গ্রেপ্তার ১৮ বছরের তরুণ
গার্লফ্রেন্ডের ৩ বছরের কন্যাশিশুকে নির্যাতন হত্যার দায়ে যাবজ্জীবন, সাজা শুরুর এক মাসেই কারাগারে মৃত্যু
ক্যান্সারের অভিযোগে ৫৫০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণে রাজি জনসন অ্যান্ড জনসন
কানাডায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে বাংলাদেশ শীর্ষ দেশগুলোর একটি, দুই বছরে প্রায় ৪০ হাজার আবেদন
মধ্যপ্রাচ্যে ২৭২ দিনের দীর্ঘ মিশন শেষে দেশে ফিরছে মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন
৮ বছরের মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কের পর মায়ের উদ্যোগে চালু হলো বিশেষ ট্যাক্সি সার্ভিস ‘পিংক লেডিস’
৫২ বছরেই অবসরের পরিকল্পনা! মাসে ৩ হাজার পাউন্ড আয়ের স্বপ্ন কতটা বাস্তব?
হাঙ্গেরিতে মুসলমানদের ইতিহাস: রাজকীয় বাহিনী থেকে আধুনিক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়
বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় নতুন ছয় মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া ইসরাত এখন যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক
বিশ্বের ১৩৩ দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে কুরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নুরুউদ্দীন জাকারিয়ার বিশ্বজয়
বিকেলে নববধূকে নিয়ে বাড়ি আসেন, রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে বরের মৃত্যু