রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, খামেনি তার প্রাসাদের কমপাউন্ডে প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইরানি উদ্ধারকারীরা মরদেহ উদ্ধার করেছেন। শনিবার সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে বড় হামলা চালানো হয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে। নিউইয়র্ক টাইমস পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে, যা থেকে দেখা যায় প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে ইরান এই খবর অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনি দুজনই সুস্থ আছেন এবং সরকারও স্বাভাবিকভাবে চলছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাদের কাছে আসা তথ্য ইঙ্গিত করছে খামেনি নিহত হয়েছেন। যদিও ইরানি পক্ষ এ খবর অস্বীকার করেছে এবং এটিকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সূত্র: রয়টার্স
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গোষ্ঠীটি আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একযোগে হুঁশিয়ারি দিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ইরানের ওপর হামলা রুখতে উদ্যোগী হয়। হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অঞ্চলের দেশ ও জনগণকে এই হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার’ প্রয়োজন রয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, হামলা নিয়ন্ত্রণ না করা হলে তার ভয়াবহ প্রভাব সবার ওপর পড়বে। হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেমের শনিবার একটি টেলিভিশন ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে BBC Bangla জানিয়েছে, এই হামলায় ইরান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। ইসরাইলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের সময় তিনটি আলাদা স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ধ্বংস করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে। আইডিএফ (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তারা একই ধরনের অভিযান চালাতে প্রস্তুত। হামলার ফলে ইরানের কতজন কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন এবং সম্পূর্ণ ধ্বংসের পরিমাণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে অঞ্চলটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা ও সহায়তার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব। তেহরানে অবস্থানরত বাংলাদেশ মিশনের প্রধানের সঙ্গেও টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আকাশপথ ও আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশি নাগরিকদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে পরিস্থিতির উন্নতি হলে গমনেচ্ছু ও বর্তমানে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। কিছু দেশ ইতিবাচক প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকে পড়া কর্মীদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের স্থাপনা, কূটনীতিক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ইরানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও শুরু করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাত কখনও স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না। তাই সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সব পক্ষকে সংযম, উত্তেজনা পরিহার এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, খামেনি তার প্রাসাদের কমপাউন্ডে প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইরানি উদ্ধারকারীরা মরদেহ উদ্ধার করেছেন। শনিবার সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে বড় হামলা চালানো হয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে। নিউইয়র্ক টাইমস পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে, যা থেকে দেখা যায় প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে ইরান এই খবর অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনি দুজনই সুস্থ আছেন এবং সরকারও স্বাভাবিকভাবে চলছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাদের কাছে আসা তথ্য ইঙ্গিত করছে খামেনি নিহত হয়েছেন। যদিও ইরানি পক্ষ এ খবর অস্বীকার করেছে এবং এটিকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সূত্র: রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। শনিবার সংস্থাটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেন, এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি প্রদেশ হামলার শিকার হয়েছে। এদিকে Abbas Araghchi বলেছেন, ইরানে চালানো ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনা এখন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, যেসব স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে—সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫১ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। মিনাব কাউন্টির গভর্নরের বরাতে জানানো হয়, সকালে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে আরও অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সাম্প্রতিক হামলার পর সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তেহরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে তারা কঠোর জবাব দেবে এবং হামলায় সহায়তাকারী ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গোষ্ঠীটি আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একযোগে হুঁশিয়ারি দিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ইরানের ওপর হামলা রুখতে উদ্যোগী হয়। হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অঞ্চলের দেশ ও জনগণকে এই হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার’ প্রয়োজন রয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, হামলা নিয়ন্ত্রণ না করা হলে তার ভয়াবহ প্রভাব সবার ওপর পড়বে। হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেমের শনিবার একটি টেলিভিশন ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরুর প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে সব মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত এসব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এতে প্রবাসী শ্রমিক, ওমরাহযাত্রী ও ব্যবসায়িক ভ্রমণকারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যগামী সব ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বিস্তারিত জানানো হবে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় আপডেটের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তেহরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কয়েক দফা আলোচনার পর শনিবার সকালে ইরানে যৌথ হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ পাঁচটি শহর লক্ষ্য করে এ হামলা হয়। একই সঙ্গে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যমগুলোতে সাইবার হামলার ঘটনাও ঘটে। এর জবাবে ইসরায়েলসহ আশপাশের দেশে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি কতদূর গড়াবে, কবে স্বাভাবিক হবে আকাশপথ—এ প্রশ্ন এখন সবার। সর্বশেষ আপডেট পেতে আমাদের সঙ্গেই থাকুন।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে BBC Bangla জানিয়েছে, এই হামলায় ইরান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। ইসরাইলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের সময় তিনটি আলাদা স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ধ্বংস করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে। আইডিএফ (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তারা একই ধরনের অভিযান চালাতে প্রস্তুত। হামলার ফলে ইরানের কতজন কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন এবং সম্পূর্ণ ধ্বংসের পরিমাণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে রমজানের দ্বিতীয় শুক্রবারে বিশাল সংখ্যক মুসল্লি জুমার নামাজ আদায় করেছেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক লাখ মুসল্লি সকাল থেকেই প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। দখলদার ইসরায়েল বাহিনী শহরের বিভিন্ন প্রবেশপথে তল্লাশি চালিয়ে চলাচলে সীমাবদ্ধতা আরোপ করলেও মুসল্লিরা প্রবেশ করতে সক্ষম হন। বিশেষ করে পশ্চিম তীর থেকে আসা ফিলিস্তিনিদের কিছু অংশ প্রবেশে বাধার মুখে পড়ে। রমজানের এই সময় আল-আকসায় নামাজ আদায়ের গুরুত্ব মুসলিম বিশ্বের কাছে বিশেষ। চলমান উত্তেজনার মধ্যে মুসল্লিদের উপস্থিতিকে ধর্মীয় অনুরাগ ও প্রতীকী গুরুত্বের চিহ্ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। নামাজ শেষে মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন, যদিও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক রয়ে গেছে।
মো: আবদুর রহমান মিঞা
ড. মাহরুফ চৌধুরী
রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন এবং তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ জানিয়েছে, খামেনি তার প্রাসাদের কমপাউন্ডে প্রাণ হারিয়েছেন এবং ইরানি উদ্ধারকারীরা মরদেহ উদ্ধার করেছেন। শনিবার সকালের দিকে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে বড় হামলা চালানো হয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে। নিউইয়র্ক টাইমস পরবর্তীতে স্যাটেলাইট চিত্র প্রকাশ করে, যা থেকে দেখা যায় প্রাসাদ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। তবে ইরান এই খবর অস্বীকার করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই বলেছেন, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং খামেনি দুজনই সুস্থ আছেন এবং সরকারও স্বাভাবিকভাবে চলছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তাদের কাছে আসা তথ্য ইঙ্গিত করছে খামেনি নিহত হয়েছেন। যদিও ইরানি পক্ষ এ খবর অস্বীকার করেছে এবং এটিকে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। সূত্র: রয়টার্স
ইরানে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে লেবাননের হিজবুল্লাহ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) গোষ্ঠীটি আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে একযোগে হুঁশিয়ারি দিয়ে আহ্বান জানিয়েছে, যেন তারা ইরানের ওপর হামলা রুখতে উদ্যোগী হয়। হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘অঞ্চলের দেশ ও জনগণকে এই হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার’ প্রয়োজন রয়েছে। তারা সতর্ক করেছে, হামলা নিয়ন্ত্রণ না করা হলে তার ভয়াবহ প্রভাব সবার ওপর পড়বে। হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেমের শনিবার একটি টেলিভিশন ভাষণ দেওয়ার কথা থাকলেও পরে তা স্থগিত করা হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযানে একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে BBC Bangla জানিয়েছে, এই হামলায় ইরান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়েছিল। ইসরাইলি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের সময় তিনটি আলাদা স্থানে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট ও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য ধ্বংস করা, যা যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় সম্পন্ন হয়েছে। আইডিএফ (ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) সতর্কবার্তা দিয়েছে যে, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও তারা একই ধরনের অভিযান চালাতে প্রস্তুত। হামলার ফলে ইরানের কতজন কর্মকর্তা প্রাণ হারিয়েছেন এবং সম্পূর্ণ ধ্বংসের পরিমাণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২০টি প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। শনিবার সংস্থাটির মুখপাত্র মোজতবা খালেদি বলেন, এখন পর্যন্ত ২০টির বেশি প্রদেশ হামলার শিকার হয়েছে। এদিকে Abbas Araghchi বলেছেন, ইরানে চালানো ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব স্থাপনা এখন দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, যেসব স্থান থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে এবং ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়েছে—সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হবে। দক্ষিণাঞ্চলে একটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫১ শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার খবরও প্রকাশ করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। মিনাব কাউন্টির গভর্নরের বরাতে জানানো হয়, সকালে একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আঘাত হানে ক্ষেপণাস্ত্র। এতে আরও অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনা সাম্প্রতিক হামলার পর সরাসরি সংঘাতে রূপ নিয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। তেহরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করে তারা কঠোর জবাব দেবে এবং হামলায় সহায়তাকারী ঘাঁটিগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews