Live update news
ট্রাম্পের এইচ-১বি কড়াকড়ি ও ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের ছাঁটাইয়ের চাপে টেক্সাসের আবাসন বাজারে ধসের আভাস

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের উত্তরের শহরতলীগুলো কয়েক বছর ধরেই দেশটির সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল আবাসন বাজারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রযুক্তিকর্মীদের বড় একটি অংশ সেখানে বসতি গড়ায় নতুন বাড়ির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে কঠোর অবস্থান এবং প্রযুক্তিখাতে বড় পরিসরের চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রভাব এখন সেই বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডালাসের উত্তরের কলিন কাউন্টি ও আশপাশের এলাকায় বাড়ির দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে বাড়ির দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছিল, এখন সেখানে ক্রেতা সংকট এবং মূল্য সংশোধনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।   এইচ-১বি ভিসা মূলত বিদেশি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়, যাদের বড় অংশ প্রযুক্তিখাতে কাজ করেন। গত কয়েক বছরে টেক্সাসের করপোরেট করিডোরে অসংখ্য প্রযুক্তি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর স্থানান্তর হওয়ায় ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের ঢল নামে ডালাসের উত্তরাঞ্চলে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান সিবিআরই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি করপোরেট সদর দপ্তর স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে এই অঞ্চলে।   এর ফলে প্রসপার, ফ্রিসকো ও সেলিনা শহরে নতুন আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠে দ্রুতগতিতে। অনেক এলাকায় মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে জনসংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে যায়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকে।   তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক চাকরি ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি এইচ-১বি কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের কারণে নতুন বিদেশি কর্মী আগমন কমে গেছে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রযুক্তিখাতে ৫২ হাজারের বেশি চাকরি হারিয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের শুরু নাগাদ সেই সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসারকে এসব চাকরি কমানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।   রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রেডফিনের তথ্য বলছে, ডালাস-ফোর্ট ওর্থ মহানগর এলাকায় বাড়ির দাম যেখানে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে, সেখানে কলিন কাউন্টিতে দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যারা নতুন বাড়ি কেনার বাজারে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিলেন, সেই ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের একটি অংশ এখন চাকরি অনিশ্চয়তা, ভিসা জটিলতা কিংবা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের কারণে বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন।   ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাইডেন প্রশাসনের সময় ডালাস অঞ্চলে প্রায় ৩২ হাজার নতুন এইচ-১বি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা সিলিকন ভ্যালি, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং ওয়াশিংটন ডিসিকেও ছাড়িয়ে যায়। শুধু নিউইয়র্ক মহানগর অঞ্চল এ ক্ষেত্রে ডালাসের চেয়ে এগিয়ে ছিল।   অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা আবাসন বাজারে এই মূল্য সংশোধন হয়তো দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে স্থানীয় নির্মাণশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রযুক্তিখাতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়লে এর প্রভাব টেক্সাসের অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে যে শহরতলীগুলোকে “নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্র” হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেখানে এখন নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে—যেখানে অভিবাসন নীতি, প্রযুক্তিখাতের পুনর্গঠন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব একসঙ্গে আবাসন বাজারের চিত্র বদলে দিচ্ছে।

৩ ঘন্টা Ago
লস এঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ উপলক্ষে হোস্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

লস এঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া: উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ফোবানার (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গতকাল লস এঞ্জেলসে হোস্ট কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী পরিষদের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   লস এঞ্জেলসের জনপ্রিয় কলাপাতা রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করেন হোস্ট কমিটির কনভেনার জয়নাল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি মাহমুদ ইকবাল। সভায় কনভেনশনের সার্বিক পরিকল্পনা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উপকমিটির দায়িত্ব ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।   সভায় স্কলারশিপ কার্যক্রম, নারী ক্ষমতায়ন (উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন শিল্পীর শিডিউলিং, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং হোটেল অ্যাকোমোডেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কনভেনশনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।   সভায় আরও জানানো হয়, আগামী ১৩ তারিখ একটি টাউন হল কমিউনিটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে কনভেনশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে।   সভায় প্রায় ৩০ জন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন হোস্ট কমিটির কনভেনার জয়নাল আবেদীন, আয়োজক কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম চৌধুরী, মেম্বার সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইকবাল, চিফ অ্যাডভাইজর মাসুদ রব চৌধুরী, কো কনভেনর হাবিব টিয়া এবং চিফ কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ এস হক ও লস্কর আল মামুন, চেয়ারম‍্যান, মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন   এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিপার চৌধুরী, তুহিন খান, রফিকুল ইসলাম, নজরুল আলম, শহীদ আহমদ মিঠু (কালচারাল সেক্রেটারি), যুব ফোরামের চেয়ারম্যান ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মোহাম্মদ লিংকন ও মোহাম্মদ আলী, মোকলেস ভুইয়া, শিমুল কান্তি বড়ুয়া, মেহেদী হাসান, শফিক রহমান, ডাঃ মুশফিকুর হক, সাজিয়া হক সহ কমিউনিটির আরও অনেকে।   বক্তারা বলেন, ফোবানা শুধু একটি কনভেনশন নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের বন্ধনের এক মহামিলন। দীর্ঘ চার দশকের ঐতিহ্য বহনকারী এ আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।   তারা আরও বলেন, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিক সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।   সভা শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। একই সঙ্গে একটি সফল, বর্ণাঢ্য ও ইতিহাসগড়া ফোবানা আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

১২ ঘন্টা Ago
ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি অবৈধ ঘোষণা, ৩৯ দেশের আবেদনকারীদের পক্ষে রায় মার্কিন আদালতের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ৩৯টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন আবেদনের নিষ্পত্তি স্থগিত করে যে নীতি গ্রহণ করেছিল, তা অবৈধ বলে রায় দিয়েছেন এক মার্কিন ফেডারেল বিচারক।   বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার রোড আইল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের প্রভিডেন্সে অবস্থিত ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারক জন ম্যাককনেল এই রায় দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (ইউএসসিআইএস) ৩৯টি আফ্রিকান, এশীয়, লাতিন আমেরিকান এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশের নাগরিকদের লক্ষ্য করে একাধিক বেআইনি নীতি প্রয়োগ করেছিল।   মামলাটি দায়ের করে অভিবাসী সেবাদানকারী বিভিন্ন সংগঠন ও শ্রমিক ইউনিয়নের একটি জোট। গত মার্চ মাসে তারা আদালতের দ্বারস্থ হয়ে অভিযোগ করে যে, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ইউএসসিআইএস এমন কিছু নীতি কার্যকর করেছে, যার ফলে নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন-সুবিধা সংক্রান্ত আবেদনগুলো কার্যত স্থগিত হয়ে যায়।   বিতর্কিত এসব ব্যবস্থার আওতায় আশ্রয় আবেদন, কাজের অনুমতিপত্র, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদনগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হচ্ছিল না। সংশ্লিষ্ট দেশগুলো ট্রাম্পের ঘোষিত পূর্ণ বা আংশিক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিল। ট্রাম্প প্রশাসন এসব নিষেধাজ্ঞাকে জাতীয় নিরাপত্তা ও আবেদনকারীদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছিল।   রায়ে বিচারক ম্যাককনেল বলেন, এসব নীতি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অসংখ্য অভিবাসীর জীবনকে দীর্ঘ সময়ের জন্য অনিশ্চিত আইনি অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছিল। তাদের অনেকেই জানতেন না, তাদের আবেদন আদৌ নিষ্পত্তি হবে কি না কিংবা তাদের ভবিষ্যৎ অবস্থান কী হবে।   জন ম্যাককনেল সাবেক ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট Barack Obama-এর মনোনীত বিচারক। তিনি তার পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেন, প্রশাসনিক সংস্থাগুলো আইনের সীমার বাইরে গিয়ে কোনো গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে এমন নীতি গ্রহণ করতে পারে না।   রায়ের পর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (ডিএইচএস) তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে অভিবাসন অধিকারকর্মীরা এই সিদ্ধান্তকে হাজারো আবেদনকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিজয় হিসেবে দেখছেন।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ থেকেই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক বিতর্ক রয়েছে। সমর্থকদের মতে, এসব পদক্ষেপ নিরাপত্তা জোরদার করতে সহায়ক, অন্যদিকে সমালোচকদের দাবি, নির্দিষ্ট দেশ ও জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে নেওয়া এসব ব্যবস্থা বৈষম্যমূলক এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিবাসন ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   সাম্প্রতিক এই রায় সেই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করল এবং ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বৈধতা নিয়ে চলমান আইনি লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১৬ ঘন্টা Ago
বাংলাদেশের কাছে ২-১ গোলে হারের পর ফেসবুকে পোস্টে ‘চোর’ বলল সান মারিনো

ইউরোপের মাটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সান মারিনো ফুটবলের একটি ফেসবুক পোস্ট। ওই পোস্টে বাংলাদেশকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।   ম্যাচ শেষে একটি ছবি পোস্ট করে সান মারিনো ফুটবল লিখেছে, “বাংলাদেশ আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামে একটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল থেকে বঞ্চিত করেছে। চোর, অন্যান্য সব এশিয়ান দলের মতোই।”   অন্য একটি পোস্টে তারা আরও অভিযোগ করে বলে, “তারা কেবল একটি মাত্র ক্যামেরা বসিয়েছিল এবং সবচেয়ে বড় কথা, তারা ভিএআর (VAR)-এ গিয়ে সেটি দেখারও প্রয়োজন মনে করেনি। আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামেই আমাদের সঙ্গে ডাকাতি করা হলো। তারা একেকজন চোর।”   অন্যদিকে মাঠের খেলায় স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাংকিংয়ের তলানিতে থাকা সান মারিনো ইউরোপের দল হওয়ায় জার্মানি, স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পায়। সেই হিসেবে ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।   এটি ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। এর আগে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে খেললেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ২০০১ সালে ভারতে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।   ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। দুটি গোলই আসে তার হেড থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়া মাঠ ছাড়ার পর অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও তার হাতেই ছিল। প্রথমার্ধে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে মাঠে নামান। সামিত ও জায়ান নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি বাড়ে। একপর্যায়ে বাংলাদেশও একটি গোল থেকে বঞ্চিত হয়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।   ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটের দিকে বিশ্বনাথ ঘোষকে মাঠে নামান ডুলি। সাধারণত ফুলব্যাক হিসেবে খেললেও এদিন তাকে রাইট উইংয়ে খেলানো হয়। জয়সূচক গোলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ৮৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক পেয়ে বিশ্বনাথ ভলি করেন। সে সময় তপু বর্মণ মাটিতে পড়ে ছিলেন। উঠে দাঁড়ানোর সময় তার মাথায় বল লেগে জালে জড়িয়ে যায় এবং বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।   নির্ধারিত সময়ের পর চতুর্থ রেফারি চার মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন। শেষ মুহূর্তে সান মারিনো গোলের চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। একবার বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফসকে বল গোললাইনের কাছে চলে গেলেও তা পুরোপুরি লাইন অতিক্রম করেনি। ফলে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। শেষ দুই মিনিট নিরাপদে পার করে ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।   সান মারিনো ইতালির ভেতরে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। ইতালিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রোম, ভেনিসসহ বিভিন্ন শহর থেকে ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। গ্যালারির বড় অংশজুড়েই ছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের উপস্থিতি। ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও মাঠজুড়ে ছিল অনেকটা হোম ম্যাচের আবহ। তবে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। প্রথম দিকে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সান মারিনো। প্রায় ১০ মিনিট পর বাংলাদেশ ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে নেয়।   ১৯ মিনিটে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বলে হেড করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। গ্যালারিতে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম।   তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৩৩তম মিনিটে তপু বর্মণের ভুলে সুযোগ পায় সান মারিনো। বেরাদি ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে কাটব্যাক করলে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় থাকা নিকোলাস শট নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা বল স্পর্শ করলেও তা জালে জড়িয়ে যায়।   প্রথমার্ধেই আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বল পেয়ে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও শট পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন।   শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে তপু বর্মণের দ্বিতীয় গোলেই ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

২০ ঘন্টা Ago
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা
ট্রাম্পের এইচ-১বি কড়াকড়ি ও ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের ছাঁটাইয়ের চাপে টেক্সাসের আবাসন বাজারে ধসের আভাস

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসের উত্তরের শহরতলীগুলো কয়েক বছর ধরেই দেশটির সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল আবাসন বাজারগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত ছিল। বিশেষ করে ভারতীয় বংশোদ্ভূত উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন প্রযুক্তিকর্মীদের বড় একটি অংশ সেখানে বসতি গড়ায় নতুন বাড়ির চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এইচ-১বি ভিসা কর্মসূচিতে কঠোর অবস্থান এবং প্রযুক্তিখাতে বড় পরিসরের চাকরি ছাঁটাইয়ের প্রভাব এখন সেই বাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ব্লুমবার্গের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডালাসের উত্তরের কলিন কাউন্টি ও আশপাশের এলাকায় বাড়ির দাম ইতোমধ্যে কমতে শুরু করেছে। কয়েক বছর আগেও যেখানে বাড়ির দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছিল, এখন সেখানে ক্রেতা সংকট এবং মূল্য সংশোধনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে।   এইচ-১বি ভিসা মূলত বিদেশি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীদের জন্য দেওয়া হয়, যাদের বড় অংশ প্রযুক্তিখাতে কাজ করেন। গত কয়েক বছরে টেক্সাসের করপোরেট করিডোরে অসংখ্য প্রযুক্তি ও বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তর স্থানান্তর হওয়ায় ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের ঢল নামে ডালাসের উত্তরাঞ্চলে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান সিবিআরই গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি করপোরেট সদর দপ্তর স্থানান্তরের ঘটনা ঘটেছে এই অঞ্চলে।   এর ফলে প্রসপার, ফ্রিসকো ও সেলিনা শহরে নতুন আবাসিক প্রকল্প গড়ে ওঠে দ্রুতগতিতে। অনেক এলাকায় মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে জনসংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে যায়। নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা সামাল দিতে হিমশিম খেতে থাকে।   তবে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করেছে। প্রযুক্তিখাতে ব্যাপক চাকরি ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি এইচ-১বি কর্মসূচিতে কড়াকড়ি আরোপের কারণে নতুন বিদেশি কর্মী আগমন কমে গেছে। বিভিন্ন শিল্প বিশ্লেষকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই প্রযুক্তিখাতে ৫২ হাজারের বেশি চাকরি হারিয়েছে। ২০২৬ সালের গ্রীষ্মের শুরু নাগাদ সেই সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রসারকে এসব চাকরি কমানোর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।   রিয়েল এস্টেট প্ল্যাটফর্ম রেডফিনের তথ্য বলছে, ডালাস-ফোর্ট ওর্থ মহানগর এলাকায় বাড়ির দাম যেখানে গড়ে প্রায় ৪ শতাংশ কমেছে, সেখানে কলিন কাউন্টিতে দাম কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। বিশ্লেষকদের মতে, একসময় যারা নতুন বাড়ি কেনার বাজারে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি ছিলেন, সেই ভারতীয় প্রযুক্তিকর্মীদের একটি অংশ এখন চাকরি অনিশ্চয়তা, ভিসা জটিলতা কিংবা অন্য অঙ্গরাজ্যে স্থানান্তরের কারণে বাজার থেকে সরে যাচ্ছেন।   ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাইডেন প্রশাসনের সময় ডালাস অঞ্চলে প্রায় ৩২ হাজার নতুন এইচ-১বি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, যা সিলিকন ভ্যালি, সিয়াটল, সান ফ্রান্সিসকো এবং ওয়াশিংটন ডিসিকেও ছাড়িয়ে যায়। শুধু নিউইয়র্ক মহানগর অঞ্চল এ ক্ষেত্রে ডালাসের চেয়ে এগিয়ে ছিল।   অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছেন, অতিরিক্ত দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা আবাসন বাজারে এই মূল্য সংশোধন হয়তো দীর্ঘমেয়াদে কিছুটা ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারে। তবে স্থানীয় নির্মাণশিল্প, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আবাসন খাতের সঙ্গে জড়িত অনেকেই আশঙ্কা করছেন, প্রযুক্তিখাতে অনিশ্চয়তা আরও বাড়লে এর প্রভাব টেক্সাসের অর্থনীতির ওপরও পড়তে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক বছরে যে শহরতলীগুলোকে “নতুন প্রযুক্তি কেন্দ্র” হিসেবে দেখা হচ্ছিল, সেখানে এখন নতুন বাস্তবতা তৈরি হচ্ছে—যেখানে অভিবাসন নীতি, প্রযুক্তিখাতের পুনর্গঠন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব একসঙ্গে আবাসন বাজারের চিত্র বদলে দিচ্ছে।

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: জুন ৫, ২০২৬ ২১:৩৭
পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে
খামার থেকে হার্ভার্ডে: পারিবারিক সংকট পেরিয়ে পূর্ণ বৃত্তি পেলেন টেনেসির কৃষক পরিবারের মেয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের এক কৃষক পরিবারের মেয়ে ক্যাথলিন সেলফের জীবনের গল্প এখন অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছে।   পরিবারের খামারে কাজ করা, বাবার ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই এবং পড়াশোনার চাপ সব বাধা পেরিয়ে তিনি এবার পূর্ণ বৃত্তি নিয়ে সুযোগ পেয়েছেন বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম WBIR-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৮ বছর বয়সী ক্যাথলিন সেলফ সম্প্রতি টেনেসির হকিন্স কাউন্টির একটি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের খামারে কাজ ছিল তার দৈনন্দিন জীবনের অংশ। ভুট্টা চাষ, খড় বহন এবং গবাদিপশুর দেখাশোনার মতো কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই তার বেড়ে ওঠা।   তবে গত বছর তাদের পরিবারের ওপর নেমে আসে কঠিন সময়। ২০২৫ সালের শুরুতে ক্যাথলিনের বাবার শরীরে তৃতীয় ধাপের ক্যানসার শনাক্ত হয়। চিকিৎসা চলাকালে পরিবারের খামারের দায়িত্ব অনেকটাই এসে পড়ে ক্যাথলিনের কাঁধে। একই সময়ে তাকে সামলাতে হয়েছে স্কুলের শেষ বর্ষের পড়াশোনা, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রম।   WBIR কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাথলিন বলেন, “বাবার ক্যানসারের খবর আমাদের পুরো পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা ছিল।”   তাদের পরিবারের ভুট্টা চাষের কাজ সাধারণত শীতের শেষ দিক থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত চলে। বাবার চিকিৎসার কারণে শ্রমিক সমন্বয়, ফসল সংগ্রহ এবং বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তখন ক্যাথলিনকে সামলাতে হয়।   তিনি বলেন, “একদিকে পরিবারের পাশে দাঁড়াতে হচ্ছিল, অন্যদিকে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে হচ্ছিল। পুরো বিষয়টি সত্যিই ভীতিকর ছিল।”   ক্যাথলিনের ভাষায়, জীবনে সফল হতে হলে আগে পরিবারের দায়িত্ব পালন করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। “আমি যদি ভবিষ্যতে পড়াশোনা ও পেশাগত জীবনে সফল হতে চাই, তাহলে আগে আমাকে নিজের পরিবারকে দেখাশোনা করতে হবে,” বলেন তিনি।   পড়াশোনার পাশাপাশি সংগীতচর্চাতেও সক্রিয় ছিলেন ক্যাথলিন। স্কুলের মার্চিং ব্যান্ড, কনসার্ট ব্যান্ড ও কয়ার দলে অংশ নিতেন তিনি। শুরুতে বাড়ির কাছাকাছি কোনো কলেজে ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে ‘SARRS Vanderbilt’ নামের একটি বিশেষ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর তিনি হার্ভার্ডে আবেদন করার অনুপ্রেরণা পান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে টেনেসির গ্রামীণ এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে উৎসাহ দেওয়া হয়।   হার্ভার্ডে ভর্তির ফল প্রকাশের দিন ক্যাথলিন পূর্ব টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটিতে সংগীতের অডিশনে গিয়েছিলেন। সেদিনই প্রথমে তিনি বার্কলি কলেজ অব মিউজিকে ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবর জানতে পারেন। পরে মায়ের সঙ্গে বাড়ি ফেরার পথে মোবাইলে হার্ভার্ডের ফল দেখে তিনি বিস্মিত হয়ে যান।   তিনি বলেন, “আমি বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না। সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়-স্বজনদের ফোন করে খবরটি জানানো হয়।”   পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগঘন। ক্যাথলিন জানান, সবাই তাকে বলেছিলেন তারা আগেই বিশ্বাস করতেন তিনি সফল হবেন।   দীর্ঘ কঠিন সময়ের পর বর্তমানে তার বাবা ক্যানসারমুক্ত এবং সুস্থ আছেন বলে পরিবার জানিয়েছে। আর এ সুখবর যেন পুরো পরিবারের জন্য নতুন আশার আলো হয়ে এসেছে।   আগামী শরতে হার্ভার্ডে পড়াশোনা শুরু করবেন ক্যাথলিন। তিনি হার্ভার্ড ও বার্কলি কলেজ অব মিউজিকের যৌথ শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সংগীত নিয়ে পড়ার আগ্রহ থাকলেও আইন ও শিক্ষা বিষয়েও পড়াশোনার ইচ্ছা রয়েছে তার।   গ্রামীণ টেনেসি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একটিতে যাওয়ার বিষয়টি যে বড় পরিবর্তন, সেটিও স্বীকার করেন ক্যাথলিন। তবে সম্প্রতি হার্ভার্ড ক্যাম্পাস ঘুরে এসে তার অনেক উদ্বেগ কেটে গেছে।   তিনি বলেন, “ওখানে সবাই ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে এসেছে। সবারই কিছু না কিছু মানিয়ে নেওয়ার বিষয় থাকে। তাই আমি যতটা আলাদা ভাবছিলাম, বাস্তবে ততটা নয়।”   নিজের অভিজ্ঞতা অন্য শিক্ষার্থীদেরও স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা করছেন ক্যাথলিন। বিশেষ করে ছোট শহর বা গ্রামীণ এলাকার শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “পূর্ব টেনেসি সাধারণত আইভি লিগ শিক্ষার্থীদের জন্য পরিচিত নয়। কিন্তু আমি সবাইকে বলতে চাই চেষ্টা করলে যে কারও পক্ষেই সম্ভব। যদি সত্যিই মন থেকে কিছু চাওয়া যায়, তাহলে সেটি অর্জন করা সম্ভব।”   ক্যাথলিন সেলফের এই গল্প এখন শুধু একজন শিক্ষার্থীর সাফল্যের কাহিনি নয়; বরং কঠিন বাস্তবতার মধ্যেও স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

লস এঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬
লস এঞ্জেলসে ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ উপলক্ষে হোস্ট কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত

লস এঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া: উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের অন্যতম বৃহত্তম ও ঐতিহ্যবাহী সংগঠন ফোবানার (ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা) ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬ সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে গতকাল লস এঞ্জেলসে হোস্ট কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ কার্যকরী পরিষদের পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।   লস এঞ্জেলসের জনপ্রিয় কলাপাতা রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করেন হোস্ট কমিটির কনভেনার জয়নাল আবেদীন এবং মেম্বার সেক্রেটারি মাহমুদ ইকবাল। সভায় কনভেনশনের সার্বিক পরিকল্পনা, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং বিভিন্ন উপকমিটির দায়িত্ব ও প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।   সভায় স্কলারশিপ কার্যক্রম, নারী ক্ষমতায়ন (উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট), সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন শিল্পীর শিডিউলিং, রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া এবং হোটেল অ্যাকোমোডেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ কনভেনশনকে আরও সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলকভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে মতামত ও পরামর্শ প্রদান করেন।   সভায় আরও জানানো হয়, আগামী ১৩ তারিখ একটি টাউন হল কমিউনিটি মিটিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বৃহত্তর কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে কনভেনশনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নিয়ে আরও আলোচনা করা হবে।   সভায় প্রায় ৩০ জন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ ও সংগঠক উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন হোস্ট কমিটির কনভেনার জয়নাল আবেদীন, আয়োজক কমিটির প্রেসিডেন্ট মোয়াজ্জেম চৌধুরী, মেম্বার সেক্রেটারি মোহাম্মদ ইকবাল, চিফ অ্যাডভাইজর মাসুদ রব চৌধুরী, কো কনভেনর হাবিব টিয়া এবং চিফ কোঅর্ডিনেটর মোহাম্মদ এস হক ও লস্কর আল মামুন, চেয়ারম‍্যান, মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন   এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন শিপার চৌধুরী, তুহিন খান, রফিকুল ইসলাম, নজরুল আলম, শহীদ আহমদ মিঠু (কালচারাল সেক্রেটারি), যুব ফোরামের চেয়ারম্যান ড. রাসেল মাহমুদ জুয়েল, মোহাম্মদ লিংকন ও মোহাম্মদ আলী, মোকলেস ভুইয়া, শিমুল কান্তি বড়ুয়া, মেহেদী হাসান, শফিক রহমান, ডাঃ মুশফিকুর হক, সাজিয়া হক সহ কমিউনিটির আরও অনেকে।   বক্তারা বলেন, ফোবানা শুধু একটি কনভেনশন নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ঐক্য, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও প্রজন্মের বন্ধনের এক মহামিলন। দীর্ঘ চার দশকের ঐতিহ্য বহনকারী এ আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।   তারা আরও বলেন, ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে ইতিহাসের অন্যতম সফল ও স্মরণীয় আয়োজনে পরিণত করতে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিক সহযোগিতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।   সভা শেষে উপস্থিত সকলের মধ্যে ৪০তম ফোবানা কনভেনশনকে ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। একই সঙ্গে একটি সফল, বর্ণাঢ্য ও ইতিহাসগড়া ফোবানা আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজক ও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জাকির চৌধুরীর কমিউনিটি সভা
নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি প্রার্থী জাকির চৌধুরীর কমিউনিটি সভা, তুলে ধরলেন নির্বাচনী পরিকল্পনা

নিউইয়র্ক: নিউইয়র্ক স্টেটের আসন্ন ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনকে সামনে রেখে ব্রঙ্কসের ডিস্ট্রিক্ট ৮৭ থেকে এসেম্বলিম্যান পদপ্রার্থী জাকির চৌধুরী, সিপিএ’র উদ্যোগে এক কমিউনিটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় স্থানীয় বাসিন্দা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, তরুণ প্রজন্ম এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।   বুধবার (৪ জুন) ব্রঙ্কসের গোল্ডেন প্যালেসে অনুষ্ঠিত এ সভার আয়োজন করে ‘জাকির ফর দ্য ব্রঙ্কস’ নির্বাচন পরিচালনা কমিটি। নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আয়োজিত এ সভায় ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর বিভিন্ন সমস্যা, কমিউনিটির চাহিদা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।   সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে জাকির চৌধুরী বলেন, ব্রঙ্কসের বহুজাতিক ও বহুসাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করাই তার মূল লক্ষ্য। তিনি শিক্ষা, জননিরাপত্তা, সাশ্রয়ী আবাসন, ক্ষুদ্র ব্যবসার উন্নয়ন এবং অভিবাসী কমিউনিটির অধিকার নিয়ে তার অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।   তিনি বলেন, “ডিস্ট্রিক্ট ৮৭-এর মানুষ এমন একজন প্রতিনিধিত্ব চান, যিনি কমিউনিটির বাস্তব সমস্যা বোঝেন এবং সেগুলো সমাধানে কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবেন। আমি সেই লক্ষ্য নিয়েই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি।”   অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা জাকির চৌধুরীর দীর্ঘদিনের কমিউনিটি সম্পৃক্ততা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত হলে তিনি ব্রঙ্কসের বাসিন্দাদের স্বার্থ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।   সভায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, তরুণ ভোটারদের সম্পৃক্ত করা এবং নির্বাচনী প্রচারণা আরও জোরদার করার বিষয়েও আলোচনা হয়। আয়োজকরা জানান, প্রাইমারী নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে কমিউনিটি সভা, গণসংযোগ এবং প্রচার কার্যক্রম চালানো হবে।   উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেটের ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারী নির্বাচনের আগাম ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৩ থেকে ২১ জুন পর্যন্ত। আর মূল প্রাইমারী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ২৩ জুন ২০২৬।

ছবিঃ সান মারিনো বনাম বাংলাদেশ
তপুর জোড়া গোলে সান মারিনোকে হারালো বাংলাদেশ

ইউরোপের মাটিতে কোনো ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। শুক্রবার স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে এক অবিস্মরণীয় ইতিহাস গড়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এই রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে দলের জয়ের মূল নায়ক ছিলেন নির্ভরযোগ্য ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। তার পা থেকে আসা দুর্দান্ত দুটি গোলেই নতুন জার্মান কোচ থমাস ডুলির অভিষেক রাঙিয়েছে বাংলাদেশ।   ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ দল। ১৭ মিনিটেই অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার একটি জোরালো শট প্রতিপক্ষ রক্ষণভাগ ব্লক করে দিলেও, কাঙ্ক্ষিত গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১৯তম মিনিটে ডানপ্রান্ত থেকে শেখ মোরছালিনের মাপা ক্রসে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ।   পিছিয়ে পড়ার পর স্বাগতিকরা আক্রমণের ধার বাড়ালে ৩১ মিনিটে বেরার্দির কাটব্যাক থেকে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গোল শোধ করেন নিকোলাস জাকোপেত্তি। প্রথমার্ধের ৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বারের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে লিড নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হারায় বাংলাদেশ। ফলে ১-১ সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।   বাংলাদেশ দলের ডাগআউটে নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই দারুণ ফুটবল মস্তিষ্কের পরিচয় দিয়েছেন কোচ থমাস ডুলি। শুরুতে বেঞ্চে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে একাদশে ব্যাপক রদবদল আনেন তিনি। জামাল ভূঁইয়া ও মোরছালিনকে উঠিয়ে তরুণ স্কোয়াডকে মাঠে নামানো হয়। দ্বিতীয়ার্ধে চমৎকার পাসিং ফুটবলের পসরা সাজায় ডুলির শিষ্যরা। ৪৮ মিনিটে হামজার দুর্দান্ত থ্রু পাস থেকে সোহেল রানা এবং ৫৩ মিনিটে সাদের ক্রসে ফাহিম গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন।   অন্যদিকে, ৬১ মিনিটে সান মারিনোর কাপিচ্ছিয়োনির একটি ভয়ংকর ফ্রি-কিক অসাধারণ দক্ষতায় কর্নারের বিনিময়ে রক্ষা করেন গোলরক্ষক মিতুল মারমা।   ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই ফের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন সেই তপু বর্মণ। ৮৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে হামজার নেওয়া একটি ফ্রি-কিক থেকে সৃষ্ট জটলায় বিশ্বনাথ ঘোষের সাইড ভলিতে মাথা ছুঁইয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন এই সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার। শেষ মুহূর্তে এমন রোমাঞ্চকর গোলের পর বিজয়ের আনন্দে জার্সি খুলে বুনো উদযাপনে মেতে ওঠেন তপু।   গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের বাঁধভাঙা উল্লাসের মধ্য দিয়ে শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লিড ধরে রেখে ইউরোপের মাটিতে এক স্মরণীয় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।

ছবিঃ কোলাজ আমেরিকা বাংলা
বাংলাদেশের কাছে ২-১ গোলে হারের পর ফেসবুকে পোস্টে ‘চোর’ বলল সান মারিনো

ইউরোপের মাটিতে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে সান মারিনো ফুটবলের একটি ফেসবুক পোস্ট। ওই পোস্টে বাংলাদেশকে ‘চোর’ আখ্যা দিয়ে ম্যাচ পরিচালনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে।   ম্যাচ শেষে একটি ছবি পোস্ট করে সান মারিনো ফুটবল লিখেছে, “বাংলাদেশ আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামে একটি সম্পূর্ণ বৈধ গোল থেকে বঞ্চিত করেছে। চোর, অন্যান্য সব এশিয়ান দলের মতোই।”   অন্য একটি পোস্টে তারা আরও অভিযোগ করে বলে, “তারা কেবল একটি মাত্র ক্যামেরা বসিয়েছিল এবং সবচেয়ে বড় কথা, তারা ভিএআর (VAR)-এ গিয়ে সেটি দেখারও প্রয়োজন মনে করেনি। আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামেই আমাদের সঙ্গে ডাকাতি করা হলো। তারা একেকজন চোর।”   অন্যদিকে মাঠের খেলায় স্বাগতিক সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। ফিফা র‍্যাংকিংয়ের তলানিতে থাকা সান মারিনো ইউরোপের দল হওয়ায় জার্মানি, স্পেনের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে নিয়মিত খেলার সুযোগ পায়। সেই হিসেবে ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের এই জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।   এটি ইউরোপের মাটিতে ইউরোপীয় কোনো দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়। এর আগে ২০০০ সালে ইংল্যান্ডে ভারতের বিপক্ষে খেললেও জয় পায়নি বাংলাদেশ। ২০০১ সালে ভারতে বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে হেরেছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।   ম্যাচে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। দুই অর্ধে একটি করে গোল করে দলকে জয় এনে দেন তিনি। দুটি গোলই আসে তার হেড থেকে। দ্বিতীয়ার্ধে জামাল ভূঁইয়া মাঠ ছাড়ার পর অধিনায়কের আর্মব্যান্ডও তার হাতেই ছিল। প্রথমার্ধে ১-১ সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দুই দল। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে বাংলাদেশের কোচ থমাস ডুলি সামিত সোম, জায়ান আহমেদ ও সোহেল রানা জুনিয়রকে মাঠে নামান। সামিত ও জায়ান নামার পর বাংলাদেশের আক্রমণের গতি বাড়ে। একপর্যায়ে বাংলাদেশও একটি গোল থেকে বঞ্চিত হয়। ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের শট সাইড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।   ম্যাচের শেষ ১৫ মিনিটের দিকে বিশ্বনাথ ঘোষকে মাঠে নামান ডুলি। সাধারণত ফুলব্যাক হিসেবে খেললেও এদিন তাকে রাইট উইংয়ে খেলানো হয়। জয়সূচক গোলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। ৮৬ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক পেয়ে বিশ্বনাথ ভলি করেন। সে সময় তপু বর্মণ মাটিতে পড়ে ছিলেন। উঠে দাঁড়ানোর সময় তার মাথায় বল লেগে জালে জড়িয়ে যায় এবং বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।   নির্ধারিত সময়ের পর চতুর্থ রেফারি চার মিনিট অতিরিক্ত সময় যোগ করেন। শেষ মুহূর্তে সান মারিনো গোলের চেষ্টা চালালেও সফল হতে পারেনি। একবার বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমার হাত ফসকে বল গোললাইনের কাছে চলে গেলেও তা পুরোপুরি লাইন অতিক্রম করেনি। ফলে গোল হজমের হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। শেষ দুই মিনিট নিরাপদে পার করে ঐতিহাসিক জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।   সান মারিনো ইতালির ভেতরে অবস্থিত একটি ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। ইতালিতে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি প্রবাসী রোম, ভেনিসসহ বিভিন্ন শহর থেকে ম্যাচটি দেখতে স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন। গ্যালারির বড় অংশজুড়েই ছিল বাংলাদেশি সমর্থকদের উপস্থিতি। ফলে অ্যাওয়ে ম্যাচ হলেও মাঠজুড়ে ছিল অনেকটা হোম ম্যাচের আবহ। তবে ম্যাচের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। প্রথম দিকে বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল সান মারিনো। প্রায় ১০ মিনিট পর বাংলাদেশ ম্যাচে নিজেদের গুছিয়ে নেয়।   ১৯ মিনিটে হামজা চৌধুরীর ফ্রি-কিক থেকে শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বলে হেড করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন তপু বর্মণ। গ্যালারিতে উপস্থিত বাংলাদেশি সমর্থকদের উল্লাসে মুখর হয়ে ওঠে স্টেডিয়াম।   তবে সেই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৩৩তম মিনিটে তপু বর্মণের ভুলে সুযোগ পায় সান মারিনো। বেরাদি ডান দিক দিয়ে এগিয়ে গিয়ে কাটব্যাক করলে বক্সের মধ্যে ফাঁকা জায়গায় থাকা নিকোলাস শট নেন। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিতুল মারমা বল স্পর্শ করলেও তা জালে জড়িয়ে যায়।   প্রথমার্ধেই আবারও এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। শেখ মোরসালিনের বাড়ানো বল পেয়ে সাদ উদ্দিন গোলরক্ষকের মুখোমুখি হয়েও শট পোস্টের ওপর দিয়ে মারেন।   শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয়ার্ধে তপু বর্মণের দ্বিতীয় গোলেই ইউরোপের মাটিতে প্রথম জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের নিউয়ার্ক লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট। ছবি: রয়টার্স
রেকর্ডসংখ্যক আমেরিকান দেশ ছাড়ার পথে, বিদেশে স্থায়ী হওয়ার উপায় জানতে খরচ করছেন শত শত ডলার
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ৩০, ২০২৬ ১৭:২

যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ডসংখ্যক নাগরিক দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। একই সঙ্গে বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় জানতে অনেকে শত শত ডলার ব্যয় করে বিশেষ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় অংশ নিচ্ছেন। সাম্প্রতিক একাধিক গবেষণা ও জরিপে উঠে এসেছে, রাজনৈতিক কারণ, জীবনযাত্রার মান এবং অর্থনৈতিক বিবেচনা এই প্রবণতার প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করছে।   গত সপ্তাহে অ্যারিজোনার ফিনিক্স থেকে জেসি ডের (৪১) এবং তার স্ত্রী জেস ইয়েস্টাডট (৪৫) গাড়িতে পাঁচ ঘণ্টা যাত্রা করে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগোর হার্ড রক হোটেলে পৌঁছান। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মেক্সিকোতে স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা। এই দম্পতির মতো আরও শত শত আমেরিকান একই সময়ে সেখানে জড়ো হন বিদেশে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা নিয়ে।   যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘এক্সপ্যাটসি’ ২০২২ সালে যাত্রা শুরু করার পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ্রহী নাগরিকদের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে। চলতি বছরের ৯ ও ১০ মে সান ডিয়েগোতে আয়োজিত দ্বিতীয় বার্ষিক ‘মুভ অ্যাব্রোড কন’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬০০ জন অংশ নেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা জেন বার্নেট জানান, এটি আগের আয়োজনের তুলনায় দ্বিগুণ অংশগ্রহণ।   বার্নেটের তথ্য অনুযায়ী, ২১৮ জন অংশগ্রহণকারীর ওপর করা জরিপে দেখা গেছে, ৮৯ শতাংশ রাজনৈতিক কারণে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে চান। ৭৩ শতাংশ মানুষ অ্যাডভেঞ্চার ও উন্নত জীবনের সন্ধানে বিদেশে যেতে চান। ৫৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী ব্যয় কমানোর উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়তে আগ্রহী। অংশগ্রহণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছেন।   জরিপে আরও দেখা যায়, অংশগ্রহণকারীদের গড় মাসিক বাজেট ৩ হাজার ৮৫৬ ডলার। তাদের মধ্যে ৪৪ শতাংশ একা, ৩৯ শতাংশ দম্পতি এবং ১৭ শতাংশ সন্তানসহ পরিবার হিসেবে বিদেশে যেতে চান।   অন্যদিকে ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে নিট নেতিবাচক অভিবাসন দেখা গেছে, যেখানে দেশ ছাড়ার মানুষের সংখ্যা আগমনের তুলনায় বেশি। এই সংখ্যা আনুমানিক ১০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজারের মধ্যে। গবেষণায় বলা হয়েছে, গত অন্তত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে আগমনের চেয়ে দেশ ছাড়ার হার বেশি হয়েছে। কঠোর অভিবাসন নীতি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রমকে এই প্রবণতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।   অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জেসি ডের জানান, তার পরিবার রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। তিনি গর্ভপাত সংক্রান্ত নীতি পরিবর্তন এবং ভোটিং রাইটস অ্যাক্ট দুর্বল করার বিষয়কে উদ্বেগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মেক্সিকোর সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তন এবং দেশটির প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবাউমের নেতৃত্ব তাদের মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে।   ডের আরও জানান, তাদের দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে। তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টি যদি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পায় এবং বর্তমান প্রশাসনের নীতিগুলো পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়, তাহলে তা তাদের পরিকল্পনায় প্রভাব ফেলতে পারে।   এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রতিজনকে ৫০০ থেকে ১ হাজার ডলার পর্যন্ত টিকিট ফি দিতে হয়েছে। দুই দিনের এই আয়োজনে ৫০ জনের বেশি বিশেষজ্ঞ বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। অংশগ্রহণকারীরা ভিসা প্রক্রিয়া, বিদেশে কর ব্যবস্থা, স্বাস্থ্যবিমা এবং পর্তুগাল, মেক্সিকো, কানাডা ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশে বসবাসের নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পান।   ৪৫ বছর বয়সী সরকারি কর্মী ভন ব্র্যাডলি গত এক বছর ধরে বিদেশে কাজ ও বসবাসের পরিকল্পনা করছেন। তার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া শহর। তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কম এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে এই অঞ্চল তার কাছে বেশি আকর্ষণীয়।   ব্র্যাডলি বলেন, বিদেশে যাওয়ার প্রাথমিক খরচে ভিসা ও কাগজপত্রের জন্য কয়েকশ ডলার লাগে। পাশাপাশি স্থানান্তর ও মালপত্র পরিবহনের জন্য কয়েক হাজার ডলার প্রয়োজন হতে পারে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, শিকাগোর এক দম্পতি স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় স্থানান্তরের জন্য ১০ মাসে ২০ হাজার ডলারেরও বেশি সঞ্চয় করেছেন।   তিনি আরও জানান, তার প্রথম পরিকল্পনা হলো কর্মস্থলের মাধ্যমে বিদেশে স্থানান্তর। তা সম্ভব না হলে তিনি এক্সপ্যাটসি নেটওয়ার্কের তথ্য ব্যবহার করবেন।

আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে জমজমাট নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলা, ষষ্ঠ দিনে সাহিত্য ও সম্মানের উৎসবে মুখর প্রাঙ্গণ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:৩৬

বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে।   সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন।   মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন।   দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন।   শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী।   “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে।   বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়।   বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন।   দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন।   পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়।   মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়।   আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।

ড. তাহমিদ আহমেদ
এশিয়ার সেরা বিজ্ঞানীদের তালিকায় কলেরা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ২০:১৫

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন।   ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে।   এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে।   আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইতালির রোমে উন্মোচিত ফেরারির প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার “লুসে”। ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করল ফেরারি, দাম প্রায় ৬.৪ লাখ ডলার
শাহারিয়া নয়ন প্রকাশ: মে ২৫, ২০২৬ ১৯:৪৩

বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম।   ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।   প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে।   নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে।   চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে।   ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে।   তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।  

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
440 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
383 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
468 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
324 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়