Live update news
টেক্সাসে স্যালুটেটোরিয়ান বাংলাদেশি আফরিন, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অস্টিনে যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক অর্জন এনে দিয়েছেন আফরিন মাহমুদ অনুশকা। চলতি বছরের গ্র্যাজুয়েটিং ব্যাচে “স্যালুটেটোরিয়ান” বা শ্রেণির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তার এই সাফল্যে পরিবার, বন্ধু ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।   টেক্সাসের হাটো মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে আফরিন বিশেষ সম্মানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে মঞ্চে বক্তব্য দেন। কয়েক হাজার দর্শকের সামনে তার স্যালুটেটোরিয়ান বক্তৃতা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।   আফরিন মাহমুদ তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বাবা ডা. আরিফ মাহমুদ বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। মা শেহেরিন জামানও সন্তানদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠরা জানান।   পরিবারটির শিক্ষাগত সাফল্যের ধারাবাহিকতাও নজর কেড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির। আফরিনের বড় বোন জারিন মাহমুদ ও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে কলেজ জীবন সম্পন্ন করেছেন। তিনিও ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া পরিবারের ছোট ভাইও বর্তমানে পড়াশোনায় মনোযোগী।   পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই আফরিন ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী, পরিশ্রমী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং বিনয়ী মনোভাব তাকে এই অর্জনের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। তারা বলেন, “একসময় যে মেয়ে হাত ধরে হাঁটত, আজ সে নিজ যোগ্যতায় সবার সামনে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়েছে।”   শুধু পড়াশোনায় নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন আফরিন। তিনি এইচওএসএ (HOSA), লিও ক্লাবসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কমিউনিটি সেবায় শত শত ঘণ্টা কাজ করেছেন। স্থানীয় বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগেও তার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।   ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আফরিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনে বায়োকেমিস্ট্রি ও প্রি-মেড নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশা, তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও মানবসেবার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।   প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই আফরিনের এই অর্জনকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনায় ভাসাচ্ছেন শুভানুধ্যায়ীরা।

২ ঘন্টা Ago
নেইমারকে ঘিরে দুশ্চিন্তা কাটল, বিশ্বকাপের আগে চোট গুরুতর নয়

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা কিছুটা কেটে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার চোট গুরুতর নয় এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে জানা গেছে।   বিশ্বকাপের দলে নেইমারের নাম ঘোষণার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই চোটের খবর সামনে আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে মাংসপেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।   দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক চোটে ভোগার কারণে নেইমারকে নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয় সমর্থকদের মধ্যে। অতীতেও বড় ধরনের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ফলে বিশ্বকাপে তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।   এমন পরিস্থিতিতে টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিল জানায়, বর্তমান চোট গুরুতর নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারকে প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।   দলীয় মেডিকেল স্টাফও তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদী। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে চোটের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বকাপের আগে সান্তোসের হয়ে আর কোনো ম্যাচে না খেলার বিষয়েও ভাবছেন নেইমার বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

২ ঘন্টা Ago
নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৫০ ডলারে বিশ্বকাপ টিকিট, যেভাবে আবেদন করবেন

নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য স্বল্পমূল্যে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ ম্যাচ দেখার সুযোগ নিয়ে বিশেষ টিকিট লটারি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিটি প্রশাসন। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত আবেদনকারীরা মাত্র ৫০ ডলারে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচের টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানান, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মোট এক হাজার সাশ্রয়ী টিকিট সংরক্ষণ করা হয়েছে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে! সাতটি ম্যাচের জন্য এসব টিকিট বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং দুটি নকআউট পর্বের খেলা।   প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ ডলার। তবে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ রাখা হয়নি। এছাড়া নির্বাচিত দর্শকদের জন্য মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাতায়াতের বিনামূল্যে বাস সুবিধাও রাখা হয়েছে।   সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লটারির আবেদন শুরু হবে আগামী ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করতে হবে অনলাইনের মাধ্যমে। তবে আবেদন গ্রহণের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।   এই কর্মসূচিতে কেবল নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হবে। প্রতিদিন একজন ব্যক্তি একবার করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। একাধিক আবেদন করলে তা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।   লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের কাছে ইমেইল বা ফোনে যোগাযোগ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন বিজয়ীরা।   মেয়র মামদানি বলেন, বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত ফুটবলপ্রেমীদের কথা বিবেচনায় এনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির সময় আমরা দেখছি টিকিটের দাম কয়েকশ থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অথচ অসংখ্য মানুষ জীবনে একবার হলেও বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে চান।”   সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কিছু ম্যাচের সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ২২০ থেকে ৪১৫ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনরায় বিক্রির বাজারে এসব টিকিটের দাম আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ঘোষণার অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় টিম ওয়ে এবং ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি হোস্ট কমিটির প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ল্যাসরিও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বহুজাতিক সম্প্রদায়ের ফুটবল উন্মাদনা এবং বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তে থাকা আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

৩ ঘন্টা Ago
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিকের শহরের তালিকায় আবারও আটলান্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ যানজটপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায় আবারও উঠে এসেছে জর্জিয়ার মেট্রো আটলান্টার নাম। ভোক্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্সের নতুন এক সমীক্ষায় দেশটির সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিক পরিস্থিতির মহানগর এলাকার মধ্যে আটলান্টার অবস্থান হয়েছে অষ্টম।   তবে শহরটির বাসিন্দাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবরও রয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় যেখানে আটলান্টার অবস্থান ছিল পঞ্চম, এবার তা কিছুটা উন্নতি করে অষ্টম স্থানে নেমে এসেছে। যদিও যানজটের ভোগান্তি এখনো শহরটির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে।   কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকলে গাড়ির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে দ্রুত যন্ত্রাংশ ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত যানজট সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অপর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ যাতায়াতের সংস্কৃতি—এসব কারণে আটলান্টাসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে ট্রাফিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।   তালিকায় সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিকের শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে লস এঞ্জেলস। এরপর রয়েছে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক সিটি, সান ফ্রান্সিসকো, হিউস্টন, সিয়াটল এবং মিয়ামি। আটলান্টার পর তালিকায় রয়েছে সান জোসে ও রিভারসাইড।   অন্যদিকে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ট্রাফিক পরিস্থিতির শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রচেস্টের, নিউইয়র্ক। এছাড়া সেন্ট লুইস, ওকলাহোমা সিটি, গ্র্যান্ড রেপিডস ও সল্ট লেক সিটির মতো শহরগুলো তুলনামূলকভাবে কম যানজটপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে যানজট সমস্যা কমানো কঠিন হয়ে পড়বে। আটলান্টার ক্ষেত্রেও একই চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

৩ ঘন্টা Ago
ছবি: সংগৃহীত
আমেরিকা
মেমোরিয়াল ডে-র ছুটি: আটলান্টা বিমানবন্দরে রেকর্ড ৩০ লাখ যাত্রীর ভিড়ের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণের অনানুষ্ঠানিক সূচনা ধরা হয় 'মেমোরিয়াল ডে' উইকেন্ডকে (ছুটির দীর্ঘ সপ্তাহান্ত)। এই ছুটির দিনগুলোতে আমেরিকার ডাউনটাউন আটলান্টার 'হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন আটলান্টা ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট' দিয়ে প্রায় ২৭ থেকে ৩০ লাখ যাত্রী যাতায়াত করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সম্ভাব্য বিলম্ব এবং দীর্ঘ লাইন এড়াতে অনেক যাত্রীই নির্ধারিত সময়ের বেশ কয়েক ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে এসে উপস্থিত হচ্ছেন।   বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেমোরিয়াল ডে-র এই ছুটির মরসুমে প্রায় ২৭ লাখ যাত্রী হার্টসফিল্ড-জ্যাকসন বিমানবন্দর ব্যবহার করবেন, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় ১ লাখ বেশি। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের অন্তত দুই ঘণ্টা আগে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে শুক্রবার সকাল এবং দুপুরের শুরুর দিকে বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি ভিড় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এদিকে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে বিমান ভাড়া এবং সামগ্রিক ভ্রমণ খরচের ওপর। ফলে অনেক পর্যটক তাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা বা কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছেন। লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে আসা যাত্রী কোর্টল্যান্ড ডিকসন বলেন, "জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে সবকিছুর খরচ আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে, যা আমাদের কিছুটা নিরুৎসাহিত করছে।"   বিমানবন্দর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সপ্তাহান্তের মধ্যে শুক্রবারই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে ব্যস্ততম দিন। শুধুমাত্র এই একদিনেই প্রায় ৪ লাখ যাত্রী বিমানবন্দরটি দিয়ে যাতায়াত করবেন বলে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে।  

তাবাস্সুম মোহাম্মদ প্রকাশ: মে ২২, ২০২৬ ২:৩৭
আটলান্টা শহরের দৃশ্য | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিকের শহরের তালিকায় আবারও আটলান্টা

যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে খারাপ যানজটপূর্ণ শহরগুলোর তালিকায় আবারও উঠে এসেছে জর্জিয়ার মেট্রো আটলান্টার নাম। ভোক্তা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্সের নতুন এক সমীক্ষায় দেশটির সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিক পরিস্থিতির মহানগর এলাকার মধ্যে আটলান্টার অবস্থান হয়েছে অষ্টম।   তবে শহরটির বাসিন্দাদের জন্য সামান্য স্বস্তির খবরও রয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকায় যেখানে আটলান্টার অবস্থান ছিল পঞ্চম, এবার তা কিছুটা উন্নতি করে অষ্টম স্থানে নেমে এসেছে। যদিও যানজটের ভোগান্তি এখনো শহরটির অন্যতম বড় সমস্যা হিসেবেই রয়ে গেছে।   কনজ্যুমার অ্যাফেয়ার্স তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকলে গাড়ির ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, ফলে দ্রুত যন্ত্রাংশ ক্ষয় হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত যানজট সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে গবেষণায়।   প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মঘণ্টায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, অপর্যাপ্ত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং দীর্ঘ যাতায়াতের সংস্কৃতি—এসব কারণে আটলান্টাসহ বেশ কয়েকটি বড় শহরে ট্রাফিক পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।   তালিকায় সবচেয়ে খারাপ ট্রাফিকের শহর হিসেবে শীর্ষে রয়েছে লস এঞ্জেলস। এরপর রয়েছে ওয়াশিংটন, নিউ ইয়র্ক সিটি, সান ফ্রান্সিসকো, হিউস্টন, সিয়াটল এবং মিয়ামি। আটলান্টার পর তালিকায় রয়েছে সান জোসে ও রিভারসাইড।   অন্যদিকে সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক ট্রাফিক পরিস্থিতির শহরের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে রচেস্টের, নিউইয়র্ক। এছাড়া সেন্ট লুইস, ওকলাহোমা সিটি, গ্র্যান্ড রেপিডস ও সল্ট লেক সিটির মতো শহরগুলো তুলনামূলকভাবে কম যানজটপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় শহরগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং কার্যকর গণপরিবহন ব্যবস্থা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদে যানজট সমস্যা কমানো কঠিন হয়ে পড়বে। আটলান্টার ক্ষেত্রেও একই চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কবাসীর জন্য ৫০ ডলারে বিশ্বকাপ টিকিট, যেভাবে আবেদন করবেন

নিউ ইয়র্ক সিটির বাসিন্দাদের জন্য স্বল্পমূল্যে ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ ম্যাচ দেখার সুযোগ নিয়ে বিশেষ টিকিট লটারি কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিটি প্রশাসন। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে নির্বাচিত আবেদনকারীরা মাত্র ৫০ ডলারে বিশ্বকাপের কিছু ম্যাচের টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন।   নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি জানান, সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের জন্য মোট এক হাজার সাশ্রয়ী টিকিট সংরক্ষণ করা হয়েছে। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে! সাতটি ম্যাচের জন্য এসব টিকিট বরাদ্দ থাকবে, যার মধ্যে রয়েছে পাঁচটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং দুটি নকআউট পর্বের খেলা।   প্রতিটি টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ ডলার। তবে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচ রাখা হয়নি। এছাড়া নির্বাচিত দর্শকদের জন্য মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যাতায়াতের বিনামূল্যে বাস সুবিধাও রাখা হয়েছে।   সিটি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, লটারির আবেদন শুরু হবে আগামী ২৫ মে সকাল ১০টা থেকে। আবেদন করতে হবে অনলাইনের মাধ্যমে। তবে আবেদন গ্রহণের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের ঠিকানা পরে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।   এই কর্মসূচিতে কেবল নিউইয়র্ক সিটির বাসিন্দারাই আবেদন করতে পারবেন। আবেদনকারীদের পরিচয় ও ঠিকানা যাচাই করা হবে। প্রতিদিন একজন ব্যক্তি একবার করে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। একাধিক আবেদন করলে তা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।   লটারির মাধ্যমে নির্বাচিতদের কাছে ইমেইল বা ফোনে যোগাযোগ করা হবে। এরপর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকিট কেনার সুযোগ পাবেন বিজয়ীরা।   মেয়র মামদানি বলেন, বিশ্বকাপের টিকিটের মূল্য সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। তাই কর্মজীবী ও মধ্যবিত্ত ফুটবলপ্রেমীদের কথা বিবেচনায় এনে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির সময় আমরা দেখছি টিকিটের দাম কয়েকশ থেকে হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। অথচ অসংখ্য মানুষ জীবনে একবার হলেও বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে চান।”   সাম্প্রতিক বিভিন্ন মূল্যতালিকা অনুযায়ী, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত কিছু ম্যাচের সাধারণ ক্যাটাগরির টিকিটের দাম ২২০ থেকে ৪১৫ ডলার পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। পুনরায় বিক্রির বাজারে এসব টিকিটের দাম আরও বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ঘোষণার অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র পুরুষ জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড় টিম ওয়ে এবং ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ ২০২৬ নিউ ইয়র্ক নিউ জার্সি হোস্ট কমিটির প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স ল্যাসরিও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্কের বহুজাতিক সম্প্রদায়ের ফুটবল উন্মাদনা এবং বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তে থাকা আগ্রহের বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।

চোট কাটিয়ে দ্রুত মাঠে ফেরার প্রস্তুতিতে নেইমার | ছবি: সংগৃহীত
নেইমারকে ঘিরে দুশ্চিন্তা কাটল, বিশ্বকাপের আগে চোট গুরুতর নয়

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ব্রাজিলের তারকা ফুটবলার নেইমারকে ঘিরে তৈরি হওয়া শঙ্কা কিছুটা কেটে গেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তার চোট গুরুতর নয় এবং বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে জানা গেছে।   বিশ্বকাপের দলে নেইমারের নাম ঘোষণার পর ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছিল। তবে এর কিছুদিনের মধ্যেই চোটের খবর সামনে আসায় উদ্বেগ দেখা দেয়। সান্তোসের হয়ে খেলতে গিয়ে মাংসপেশিতে অস্বস্তি অনুভব করেন তিনি। পরে ক্লাব কর্তৃপক্ষ চোটের বিষয়টি নিশ্চিত করে এবং বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানায়।   দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক চোটে ভোগার কারণে নেইমারকে নিয়ে নতুন করে দুশ্চিন্তা তৈরি হয় সমর্থকদের মধ্যে। অতীতেও বড় ধরনের চোটের কারণে দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছে তাকে। ফলে বিশ্বকাপে তার ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।   এমন পরিস্থিতিতে টিএনটি স্পোর্টস ব্রাজিল জানায়, বর্তমান চোট গুরুতর নয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেইমারকে প্রায় ৫ থেকে ১০ দিন মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে। তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই তার সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।   দলীয় মেডিকেল স্টাফও তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া নিয়ে আশাবাদী। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে বিশ্রামে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে চোটের ঝুঁকি এড়াতে বিশ্বকাপের আগে সান্তোসের হয়ে আর কোনো ম্যাচে না খেলার বিষয়েও ভাবছেন নেইমার বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সম্মান গ্রহণের মুহূর্তে আফরিন মাহমুদ । ছবি: সংগৃহীত
টেক্সাসে স্যালুটেটোরিয়ান বাংলাদেশি আফরিন, চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় অস্টিনে যাত্রা

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য গর্বের এক অর্জন এনে দিয়েছেন আফরিন মাহমুদ অনুশকা। চলতি বছরের গ্র্যাজুয়েটিং ব্যাচে “স্যালুটেটোরিয়ান” বা শ্রেণির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করেছেন তিনি। তার এই সাফল্যে পরিবার, বন্ধু ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।   টেক্সাসের হাটো মেমোরিয়াল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে আফরিন বিশেষ সম্মানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের একজন হিসেবে মঞ্চে বক্তব্য দেন। কয়েক হাজার দর্শকের সামনে তার স্যালুটেটোরিয়ান বক্তৃতা ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ।   আফরিন মাহমুদ তিন ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বাবা ডা. আরিফ মাহমুদ বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে মরগান স্টেট ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনা করছেন। মা শেহেরিন জামানও সন্তানদের শিক্ষা ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে পরিবারের ঘনিষ্ঠরা জানান।   পরিবারটির শিক্ষাগত সাফল্যের ধারাবাহিকতাও নজর কেড়েছে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির। আফরিনের বড় বোন জারিন মাহমুদ ও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলি থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে কলেজ জীবন সম্পন্ন করেছেন। তিনিও ভবিষ্যতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে পড়াশোনা করে চিকিৎসা পেশায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এছাড়া পরিবারের ছোট ভাইও বর্তমানে পড়াশোনায় মনোযোগী।   পরিবারের সদস্যরা জানান, ছোটবেলা থেকেই আফরিন ছিলেন অত্যন্ত মনোযোগী, পরিশ্রমী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ। দীর্ঘদিনের অধ্যবসায়, আত্মবিশ্বাস এবং বিনয়ী মনোভাব তাকে এই অর্জনের পর্যায়ে পৌঁছে দিয়েছে। তারা বলেন, “একসময় যে মেয়ে হাত ধরে হাঁটত, আজ সে নিজ যোগ্যতায় সবার সামনে সম্মানের সঙ্গে দাঁড়িয়েছে।”   শুধু পড়াশোনায় নয়, সামাজিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন আফরিন। তিনি এইচওএসএ (HOSA), লিও ক্লাবসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে কমিউনিটি সেবায় শত শত ঘণ্টা কাজ করেছেন। স্থানীয় বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগেও তার অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।   ভবিষ্যতে চিকিৎসক হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আফরিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস অ্যাট অস্টিনে বায়োকেমিস্ট্রি ও প্রি-মেড নিয়ে পড়াশোনা শুরু করতে যাচ্ছেন। পরিবার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের আশা, তিনি ভবিষ্যতে চিকিৎসা ও মানবসেবার মাধ্যমে সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবেন।   প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির অনেকেই আফরিনের এই অর্জনকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাকে অভিনন্দন ও শুভকামনায় ভাসাচ্ছেন শুভানুধ্যায়ীরা।

ছবি: সংগৃহীত
ইতিহাস গড়লেন জাকিয়া, প্রথম আফগান নারী হিসেবে এভারেস্ট জয়

বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট জয় করে এক অনন্য ইতিহাস গড়েছেন জাকিয়া আহমাদ, যিনি পরিচিত মহলে 'রিভার' নামেও সমাদৃত। প্রথম আফগান নারী হিসেবে তিনি এই অসামান্য কৃতিত্ব অর্জন করলেন। গত বৃহস্পতিবার সকালে নেপালের খুম্বু অঞ্চলের থেম গ্রামের দুই নেপালি গাইড দাওয়া তেনজিং শেরপা এবং ফুরবা গ্যালজেন শেরপাকে সাথে নিয়ে ৮,৮৪৮ মিটার উঁচু এই পর্বতচূড়ায় সফলভাবে আরোহণ করেন তিনি। পাকিস্তানের সরকারি পর্বতারোহণ সংস্থা 'আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান' বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।   পেশায় মানবাধিকার কর্মী ও বর্তমান জীবনে একজন শরণার্থী জাকিয়ার পথচলা মোটেই সহজ ছিল না। আফগানিস্তানে তালেবানদের ক্ষমতা পুনর্দখলের পর প্রাণ বাঁচাতে তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন এবং পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ীভাবে আশ্রয় গ্রহণ করেন। তার এই সফল এভারেস্ট আরোহণ আফগানিস্তানের জন্য এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত বিভিন্ন দেশের নারী পর্বতারোহীদের জন্য একটি বিশাল মাইলফলক। জাকিয়ার এই অর্জনকে বিশ্বজুড়ে নারী, শরণার্থী এবং বাস্তুচ্যুত সম্প্রদায়ের মানুষের অদম্য সাহসিকতা, স্থিতিস্থাপকতা এবং ঘুরে দাঁড়ানোর এক উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন তার সমর্থকেরা।   চরম উচ্চতা এবং পদে পদে মৃত্যুঝুঁকি ও বিপজ্জনক পরিবেশ থাকা সত্ত্বেও হিমালয় পর্বতমালার নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত মাউন্ট এভারেস্ট প্রতি বছর সারা বিশ্বের পর্বতারোহীদের আকর্ষণ করে। এদিকে, জাকিয়া আহমাদের পাশাপাশি বৃহস্পতিবার একই দিনে এভারেস্ট জয় করেছেন পাকিস্তানি পর্বতারোহী সালমান আতিকও। আলপাইন ক্লাব অব পাকিস্তান জানিয়েছে, বিশ্বের অষ্টম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট মানাসলু জয়ের ঠিক এক বছর পূর্তিতে তিনি এই নতুন সাফল্য পেলেন। ক্লাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট করার হায়দরি সালমানের এই অদম্য সংকল্প ও সাহসিকতাকে পাকিস্তানের তরুণ অভিযাত্রীদের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা বলে উল্লেখ করেছেন।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

বিশ্ব

View more
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডে ভিসামুক্ত অবস্থানের মেয়াদ কমছে ৯০ দেশের জন্য
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: মে ২০, ২০২৬ ২:০

থাইল্যান্ড সরকার যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ ৯০টির বেশি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসামুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল অবস্থানের সময়সীমা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৩০ দিনের বেশি দেশটিতে থাকতে হলে পর্যটকদের ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে।   সরকারি সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, আগে কোভিড পরবর্তী অর্থনীতি চাঙা করতে ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ৯৩টি দেশের পর্যটকদের ৬০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই থাকার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। তবে সম্প্রতি মন্ত্রিসভা সেই সুবিধা বাতিলের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।   নতুন নীতিমালায় বিদেশি পর্যটকদের অবস্থানের সময়সীমা দেশভিত্তিকভাবে নির্ধারণ করা হবে, যা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নির্ভর করবে। নিরাপত্তা জোরদার এবং ভিসা ব্যবস্থায় জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই এই পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সাম্প্রতিক সময়ে দেশটিতে মাদক ও মানবপাচারের মতো অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের জড়িত থাকার অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব ঘটনার প্রেক্ষাপটে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল বলেন, অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার ভারসাম্য রক্ষার জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই নীতিতে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন হয়েছে।   ৬০ দিনের ভিসামুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত দেশগুলোর তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, ইতালি ও স্পেন ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব দেশের নাগরিকদেরও ৩০ দিনের বেশি অবস্থানের জন্য ভিসা নিতে হবে, যদিও কিছু ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে।   সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে নতুন নিয়ম কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একই দেশের নাগরিকদের জন্য একাধিক ভিসা সুবিধা থাকায় অনেক সময় বিভ্রান্তি তৈরি হতো। নতুন নীতির মাধ্যমে সেই জটিলতা কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।   পর্যটননির্ভর অর্থনীতির জন্য পরিচিত থাইল্যান্ডে ২০১৯ সালে প্রায় ৪ কোটি পর্যটক ভ্রমণ করেছিলেন। মহামারির ধাক্কা কাটিয়ে পর্যটন খাত পুনরুদ্ধারের পথে থাকলেও সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগ নীতিগত এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

ছবি: সংগৃহীত
চীনে ১০ পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি, অর্থনৈতিক চাপ ও আবাসন সংকটে বদলাচ্ছে স্বপ্ন
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ১৮, ২০২৬ ২২:০

চীনে দীর্ঘ তিন দশক ধরে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া ছিল মধ্যবিত্ত জীবনের অন্যতম বড় লক্ষ্য। সরকারি নীতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং পারিবারিক মূল্যবোধ মিলিয়ে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী আবাসন সংস্কৃতি। তবে ধীরগতির অর্থনীতি ও দীর্ঘস্থায়ী আবাসন সংকট সেই স্বপ্নকে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলছে।   চীনের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশটিতে নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ নেমে এসেছে ২০১৪ সালের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। ২০২১ সালে যেখানে নতুন বাড়ি বিক্রির মূল্য ছিল ১৬ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান, সেখানে গত বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ইউয়ানে।   ম্যাককোয়ারি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের অর্থনীতিবিদেরা চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে জানান, নতুন বাড়ি বিক্রির পরিমাণ গত বছর ৮ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে এবং এই নিম্নমুখী প্রবণতা দ্রুত থামার কোনো ইঙ্গিত নেই।   বেইজিংয়ের ৩৬ বছর বয়সী গ্রাফিক ডিজাইনার কাই ইয়োচেংও আপাতত বাড়ি কেনার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। তিনি বলেন, ভাড়া বাসায় থাকলে অনেক সময় অস্থায়ী জীবনের অনুভূতি তৈরি হয় এবং নিজের ইচ্ছামতো ঘর সাজানোর স্বাধীনতা থাকে না। তারপরও বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ভাড়াতেই থাকতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন।   তার ভাষায়, “হিসাব করলে ভাড়া থাকাই বেশি যৌক্তিক মনে হয়। তবে মনের ভেতরে নিজের একটি বাড়ির ইচ্ছা এখনো আছে।”   চীনে বাড়ির মালিক হওয়া কেবল সম্পত্তির মালিকানা নয়, এটি পারিবারিক দায়িত্ব ও সামাজিক অবস্থানের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। হংকং বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক এরিক ফং বলেন, কনফুসীয় পারিবারিক মূল্যবোধ চীনা সমাজে গভীরভাবে প্রভাব ফেলেছে এবং পরিবারকে কেন্দ্র করেই জীবনের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   ১৯৮০-এর দশকে অর্থনৈতিক উদারীকরণের পর চীনের কমিউনিস্ট সরকার ধীরে ধীরে কর্মস্থলনির্ভর আবাসন ব্যবস্থা কমিয়ে ব্যক্তিগত মালিকানাকে উৎসাহিত করতে শুরু করে। ১৯৯০-এর দশকে ভর্তুকিনির্ভর নীতির মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত হয়।   ইউনিভার্সিটি অ্যাট অ্যালবানির অধ্যাপক হুয়াং ইউচিন বলেন, অনেক মানুষ খুব কম দামে হঠাৎ করেই বাড়ির মালিক হয়ে যান। এতে বিপুলসংখ্যক ভাড়াটিয়া একসময় বাড়ির মালিক শ্রেণিতে পরিণত হন।   চীনা সমাজে সঞ্চয়ের প্রবণতাও এই প্রবণতাকে আরও শক্তিশালী করে। দ্রুত বাড়তে থাকা সম্পত্তির দাম আবাসন খাতকে জনপ্রিয় বিনিয়োগে পরিণত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক গ্রামীণ অভিবাসী শহরে বাড়ি কিনে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চেয়েছেন। আবার সন্তানদের বিয়ের সম্ভাবনা বাড়াতেও বাবা-মায়েরা অ্যাপার্টমেন্ট কিনে দিয়েছেন।   বিভিন্ন জরিপ ও গবেষণা অনুযায়ী, বর্তমানে চীনের প্রতি ১০টি পরিবারের ৯টিরই নিজস্ব বাড়ি রয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ আবাসন মালিকানার হার।   অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ির মালিকানার হার প্রায় ৬৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষার ঋণ ও বাড়ির বাড়তি মূল্য অনেক তরুণকে দীর্ঘ সময় ভাড়ায় থাকতে বাধ্য করছে।   তবে চীনের আবাসন খাতের দ্রুত উত্থানের সঙ্গে তৈরি হয়েছে বড় ঝুঁকিও। প্রবৃদ্ধির সময় অনেক নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিপুল ঋণ নেয়। অতিরিক্ত নির্মাণের কারণে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় ফাঁকা আবাসিক অঞ্চল ও অবিক্রীত প্রকল্প।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ২০২০ সালে চীনের কেন্দ্রীয় সরকার কঠোর পদক্ষেপ নেয়। আবাসন খাত, যা একসময় দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রায় ৩০ শতাংশ জুড়ে ছিল, তা নিয়ন্ত্রণে নীতিগত পরিবর্তন আনা হয়।   এই পদক্ষেপে ঝুঁকিপূর্ণ নির্মাণ কমলেও সম্পত্তির দাম দ্রুত পড়ে যায়। অনেক ক্রেতা অসম্পূর্ণ বা বিলম্বিত ফ্ল্যাটের মুখোমুখি হন। ঋণসংকটে পড়ে বড় বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানও ধসে পড়ে।   চীনের অন্যতম বৃহৎ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এভারগ্রান্ডকে ২০২৪ সালে হংকংয়ের একটি আদালত বিলুপ্তির নির্দেশ দেয়। কান্ট্রি গার্ডেন ও ভ্যাংকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানও আর্থিক চাপে পড়ে।   এই পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দুর্বল অভ্যন্তরীণ ভোগব্যয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যসংঘাতের আশঙ্কা। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা এখন আরও সতর্ক।   কাই ইয়োচেং বলেন, তিনি ভবিষ্যতে বাড়ি কিনতে চান, তবে আগামী কয়েক বছরে সেই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না।   পাঁচ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন খাত এখনো সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। মার্চ মাসেও দেশজুড়ে নতুন বাড়ির দাম কমেছে, যদিও কয়েকটি বড় শহরে সামান্য উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান কুশম্যান অ্যান্ড ওয়েকফিল্ডের কর্মকর্তা ঝ্যাং শিয়াওদুয়ান বলেন, সরকারের ইতিবাচক বার্তা থাকলেও বাস্তবে ক্রয়ক্ষমতার বড় ধরনের পুনরুদ্ধার দেখা যাচ্ছে না।   গত বছর চীন ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত অর্জন করলেও সাধারণ মানুষের আয় ও ক্রয়ক্ষমতায় সেই প্রবৃদ্ধির প্রভাব স্পষ্ট হয়নি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   কুনমিং শহরের ৩০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী ম্যান্ডি ফেং বলেন, বাড়ির দাম কমলেও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি করছে।   তার ভাষায়, “মানুষ বাড়ি কিনতে চায় না, এমন নয়। কিন্তু আয় অনিশ্চিত এবং উপার্জন কম থাকলে কেউ ঋণ নিতে সাহস পায় না।”   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে আবাসন নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাচ্ছে। বেইজিংয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ঝো ঝ্যাং বলেন, তিনি সম্ভবত নিজের সন্তানদের জন্য বাড়ি কিনবেন না, যদিও নিজের ফ্ল্যাট কিনতে বাবা-মায়ের সহায়তা পেয়েছিলেন।   তার মতে, চীনের আবাসন বাজার ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশের মতো হয়ে উঠছে, যেখানে ভবিষ্যতে ভাড়া বাসায় থাকার প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী
পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ৭, ২০২৬ ২১:২৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান।  এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।

হরমুজ প্রণালী নিয়ে অচলাবস্থা, ট্রাম্প ‘মুখ রক্ষার’ চেষ্টায় সমঝোতা খুঁজছেন
হরমুজ প্রণালী নিয়ে অচলাবস্থা, ট্রাম্প ‘মুখ রক্ষার’ চেষ্টায় সমঝোতা খুঁজছেন
নীলুফা নিশাত প্রকাশ: মে ৬, ২০২৬ ১৯:৫৮

হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক।   তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা।   তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে।   তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি।   এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি।   আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়।   হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
346 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
321 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
405 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
256 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
Advertisement
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়