কোনো ধরনের নিরাপত্তা সরঞ্জাম বা রশি ছাড়া বিপজ্জনকভাবে পাহাড়ে চড়ার জন্য ‘ইয়েমেনের স্পাইডার-ম্যান’ নামে পরিচিত ৩০ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্স ক্লাইম্বার আল-কাকা ইবনে আনতার এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। গত শুক্রবার দক্ষিণ ইয়েমেনের দামত শহরের কাছে হারদাহ বাঁধ সংলগ্ন প্রায় ৪০০ ফুট গভীর একটি নিষ্ক্রিয় আগ্নেয়গিরির খাদে নিজের ক্লাইম্বিং কৌশল প্রদর্শনের সময় নিচে পড়ে গিয়ে তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, আনতার কোনো রকম সেফটি গিয়ার ছাড়াই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে আগ্নেয়গিরির খাদের খাড়া পাথুরে দেওয়ালে ঝুলে ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এর আগেও তিনি এই একই স্থানে বহুবার এমন দুঃসাহসিক কসরত দেখিয়েছেন। তবে গত শুক্রবারের প্রদর্শনী চলাকালে দুর্ভাগ্যবশত হঠাৎ করেই দেওয়াল থেকে তাঁর হাতের গ্রিপ বা মুঠো ফসকে যায় এবং তিনি সরাসরি ৪০০ ফুট গভীর খাদের তলদেশে আছড়ে পড়েন। শনিবার ইয়েমেনের সিভিল ডিফেন্স অথরিটি এক বিবৃতিতে জানায়, খাদের তলদেশে থাকা একটি গভীর হ্রদ থেকে দীর্ঘ চার ঘণ্টার এক অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আনতারের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। উদ্ধারকারী দল জানায়, হ্রদের পানির প্রায় ৬৫ ফুট গভীর থেকে তাঁর লাশটি ওপরে তোলা হয়। সালফার সমৃদ্ধ ওই হ্রদের পানির তাপমাত্রা ছিল প্রায় ৩৮ থেকে ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আরও জানান, খাদের তলদেশ থেকে অনবরত তীব্র ও বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে পুরো এলাকাটি উদ্ধারকারী দলের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্মীরা আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে লাশটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর ইয়েমেনের সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ দেশের সাধারণ নাগরিক ও পর্যটকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে। পেশাদার এই ক্লাইম্বারের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাজার হাজার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তবে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য তাঁর এমন অতিরিক্ত ও অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি নেওয়ার তীব্র সমালোচনাও করেছেন। এর জবাবে আনতারের অনুসারী ও সমর্থকেরা জানান, চরম অর্থনৈতিক দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে এবং সোশ্যাল মিডিয়া থেকে আয়ের আশায় নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি নিয়মিত এমন রোমাঞ্চকর ভিডিও তৈরি করতেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইয়েমেনের প্রশাসন দেশের সমস্ত দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণের সময় পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে আগ্নেয়গিরির খাদের কিনারা, খাড়া পাহাড়ের ঢাল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপত্যকা থেকে সবাইকে দূরে থাকার এবং সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ফ্রি ক্লাইম্বিং স্পোর্টসটি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও যথাযথ সুরক্ষা ছাড়া এমন প্রচেষ্টা জীবনের জন্য মারাত্মক হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
বিশ্বখ্যাত বিনোদন ও গণমাধ্যম জায়ান্ট ‘ফক্স’ জনপ্রিয় স্ট্রিমিং টিভি প্ল্যাটফর্ম ‘রোকু’ (Roku) কিনে নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। সোমবার দুই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রেকর্ড ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (প্রায় ২ লাখ ৫৮ হাজার কোটি টাকা) একটি বিশাল চুক্তির মাধ্যমে এই মালিকানা হস্তান্তর সম্পন্ন হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক চুক্তির ফলে বৈশ্বিক স্ট্রিমিং বাজারে ফক্স এখন অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ অবস্থানে চলে আসবে। এই চুক্তির মাধ্যমে ফক্সের নিজস্ব স্পোর্টস, নিউজ, বিভিন্ন বিনোদনমূলক শো এবং তাদের সম্পূর্ণ ফ্রি স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম ‘টুবি’ (Tubi) সরাসরি যুক্ত হবে রোকু-র ডিভাইস ও জনপ্রিয় সার্ভিসগুলোর সাথে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ কোটি (১০০ মিলিয়ন) মানুষ রোকু ব্যবহার করছেন। ফলে এই একীভূতকরণের মাধ্যমে ফক্সের কনটেন্টগুলো এক লাফে বিশাল এক দর্শকগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে যাবে। বিগত কয়েক বছর ধরেই ফক্স স্ট্রিমিং বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের আগস্টে তারা ‘ফক্স ওয়ান’ নামের একটি প্রতিদ্বন্দ্বী প্ল্যাটফর্ম চালু করে। তবে ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন, ডিজনি প্লাস, এইচবিও ম্যাক্স, প্যারামাউন্ট প্লাস এবং পিককের মতো বড় বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে টেক্কা দেওয়ার মতো শক্তিশালী কোনো অবস্থান ফক্সের ছিল না। সম্প্রতি সিএনএনের parent কোম্পানি ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির সাথে প্যারামাউন্টের একীভূত হওয়ার প্রাথমিক অনুমোদন মেলায় ফক্সের জন্য রোকু কেনার এই বিষয়টি আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছিল। নিলসনের রেটিং তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউটিউব বিশ্বের এক নম্বর এবং নেটফ্লিক্স দ্বিতীয় শীর্ষ বিনোদন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বাজার ধরে রেখেছে। তবে ফক্স এবং রোকু একসঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে দর্শক চাহিদার দিক থেকে এটি আমেরিকার টেলিভিশন ইতিহাসের ‘তৃতীয় বৃহত্তম’ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে যাচ্ছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। একীভূত হওয়ার পর আমেরিকার মোট স্ট্রিমিং বাজারের ৫ শতাংশেরও বেশি শেয়ার এখন এই যৌথ জোটের নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ফক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ল্যাচলান মারডক এই চুক্তিকে কোম্পানির জন্য একটি ঐতিহাসিক এবং যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বিশ্লেষকদের আশ্বস্ত করে জানান, রোকু একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম এবং এটি অন্যান্য সব প্রতিযোগী অ্যাপের জন্য আগের মতোই অংশীদার-বান্ধব হিসেবে কাজ করে যাবে, সেখানে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না। ফক্স মূলত রোকুর প্রতি শেয়ার ১৬০ ডলার মূল্যে কেনার প্রস্তাব দিয়েছে, যা গত বৃহস্পতিবারের বাজার মূল্যের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি। চুক্তি অনুযায়ী, রোকু-র প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও অ্যান্থনি উড নতুন কাঠামোতেও কোম্পানিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চলমান দায়িত্বে থাকবেন এবং একই সাথে তিনি ফক্সের পরিচালনা পর্ষদে (বোর্ড অব ডিরেক্টরস) যোগ দেবেন। অ্যান্থনি উড জানান, এই চুক্তি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য চমৎকার একটি ফলাফল বয়ে আনার পাশাপাশি ফক্সের মতো শক্তিশালী অংশীদারের সম্পদ ব্যবহার করে রোকু-কে আরও দ্রুত ও বুদ্ধিমত্তার সাথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আগামী ২০২৭ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে এই চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে চূড়ান্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করার পর দীর্ঘদিন স্থায়ী চাকরি খুঁজেও সফল না হওয়া এবং ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন ২৫ বছর বয়সী এক তরুণ। তার মৃত্যুর ঘটনায় অনুষ্ঠিত ইনকোয়েস্টে উঠে এসেছে, কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা এবং ব্যক্তিগত চাপ তার জীবনের শেষ সময়গুলোকে কঠিন করে তুলেছিল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জেমস কিপিং নামের ওই তরুণ ২০২৪ সালে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি একটি স্থায়ী চাকরি পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আবেদন করছিলেন। চাকরির সুযোগ খুঁজতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সহায়তা চেয়েছিলেন তিনি। তার বাবা-পরিবারও তাকে কর্মসংস্থানের সুযোগ খুঁজে পেতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করছিলেন। ইনকোয়েস্টে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেমস দীর্ঘদিন ধরে মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সমস্যার সঙ্গে লড়াই করছিলেন। এর আগে তিনি চিকিৎসা সহায়তাও নিয়েছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, তার মধ্যে মনোযোগ ঘাটতি ও অতিসক্রিয়তা-সংক্রান্ত সমস্যা (এডিএইচডি), অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, উদ্বেগ এবং বিষণ্নতার মতো জটিলতা ছিল। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে কয়েকদিন তার মানসিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল এবং ব্যক্তিগত জীবনেও চাপ বাড়ছিল। পরিবারের সদস্যরা জানান, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কর্মজীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টায় তিনি হতাশা অনুভব করছিলেন। তবে তদন্ত শেষে করোনার বা তদন্তকারী বিচারক সরাসরি আত্মহত্যার রায় দেননি। তিনি একটি বর্ণনামূলক রায় (ন্যারেটিভ ভারডিক্ট) প্রদান করেন এবং উল্লেখ করেন, ঘটনাটিকে কেবল একটি কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়। বরং এটি ছিল একাধিক মানসিক ও ব্যক্তিগত পরিস্থিতির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি জটিল ঘটনা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তরুণদের মধ্যে চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি, ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত হয়ে উঠছে। অনেক ক্ষেত্রেই কর্মসংস্থান নিয়ে দীর্ঘ অনিশ্চয়তা মানসিক চাপ বাড়িয়ে দেয়, যা যথাসময়ে সহায়তা না পেলে গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের মতে, এ ঘটনা তরুণদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিয়োগদাতা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সমন্বিত ভূমিকার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এবং সহজলভ্য সহায়তা ব্যবস্থার গুরুত্বও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
ফুটবল জানেন? তাহলে প্রমাণ করুন। উত্তর দিন, ম্যাচ প্রেডিকশন করুন, আর জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার! ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা, প্রিয় দলের জয়-পরাজয়ের গল্প আর বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো বাংলাদেশি দর্শকরাও এখন মেতে উঠেছেন বিশ্বকাপের রঙে। সেই বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে আমেরিকা বাংলা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমেরিকা বাংলা আয়োজন করছে "World Cup Quiz Game & Match Prediction"। এই আয়োজনে প্রতিদিন ফুটবলভিত্তিক কুইজ প্রশ্নের উত্তর এবং ম্যাচ প্রেডিকশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জিতে নিতে পারবেন নগদ অর্থ ও মোবাইল রিচার্জ। বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতিদিন আমেরিকা বাংলার ফেসবুক পেজে ১ থেকে ৫টি প্রশ্ন প্রকাশ করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা পোস্টের কমেন্টে উত্তর জমা দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময় শেষে সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি কুইজ ও প্রেডিকশন পর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। একজন বিজয়ী সর্বোচ্চ ২০০ টাকা মোবাইল রিচার্জ অথবা ৫০০ টাকা নগদ অর্থ জয়ের সুযোগ পাবেন। বিজয়ীদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরস্কার পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশ্বকাপজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং পাঠকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আমেরিকা বাংলা। অংশগ্রহণের নিয়মাবলি এই পোস্টে লাইক দিতে হবে পোস্টটি শেয়ার করতে হবে কমেন্টে সঠিক উত্তর বা প্রেডিকশন লিখতে হবে অবশ্যই America Bangla ফেসবুক পেজ ফলো করা থাকতে হবে একজন অংশগ্রহণকারী একটি প্রশ্ন বা প্রেডিকশনের জন্য একবারই উত্তর দিতে পারবেন সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে বিজয়ীদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে পুরস্কার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রদান করা হবে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ভুল বা একাধিক উত্তর প্রদান করলে অংশগ্রহণ বাতিল হতে পারে। ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য হবে না। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে আয়োজকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে আয়োজক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মাবলিতে পরিবর্তন আনার অধিকার সংরক্ষণ করে। বিশ্বকাপের প্রতিটি দিনকে আরও রোমাঞ্চকর করতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে থাকুন। প্রশ্নের উত্তর দিন, ম্যাচ প্রেডিকশন করুন এবং জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার!
যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের কঠোর আদেশের মুখে ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, রাজনৈতিক আশ্রয় এবং কাজের অনুমতিপত্র (ওয়ার্ক পারমিট) দেওয়ার আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখার নীতি থেকে শেষ পর্যন্ত পিছু হটেছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা বিভাগ (ইউএসসিআইএস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আদালতের আদেশের সাথে তারা "তীব্র দ্বিমত" পোষণ করলেও মার্কিন জেলা আদালতের বিচারক জন ম্যাককনেলের রায় মেনে নেবে। গত সপ্তাহে বিচারক ম্যাককনেলের দেওয়া ওই আদেশের পর ট্রাম্প প্রশাসন গত মঙ্গলবার আদালতে যুক্তি দিয়েছিল যে, আদালতের নির্দেশটি কেবল প্রাথমিক ছিল এবং এটি এখনও "কার্যকর" হয়নি। তবে গত বৃহস্পতিবার বিচারক ম্যাককনেল এই টালবাহানার তীব্র সমালোচনা করে একটি আনুষ্ঠানিক রায় জারি করেন এবং সরকারকে অবিলম্বে এই নীতি বন্ধ করার নির্দেশ দেন। তিনি রায়ে স্পষ্টভাবে লেখেন, "এবার আর কোনো অজুহাত চলবে না। সরকারের দায়িত্ব এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা।" বিচারকের এই কড়া আলটিমেটামের পর ইউএসসিআইএস-এর উপ-পরিচালক অ্যাঞ্জেলিকা আলফোনসো-রয়্যালস শুক্রবার আদালতে একটি ফাইলিংয়ের মাধ্যমে জানান, সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই নিষেধাজ্ঞাগুলো "আর কার্যকর নেই" বলে বিবেচনা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার ভুক্তভোগী অভিবাসীর আবেদন পুনরায় চালু হওয়ার পথ সুগম হলো। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুন মাসে ক্ষমতায় ফেরার পর ট্রাম্প প্রশাসন জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে ১২টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে এবং আরও ৭টি দেশের ওপর আংশিক নিষেধাজ্ঞা জারি করে। পরবর্তীতে ইউএসসিআইএস এই নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়িয়ে আফ্রিকা, এশিয়া, ল্যাটিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যসহ মোট ৩৯টি দেশের নাগরিকদের গ্রিন কার্ড, ওয়ার্ক পারমিট এবং মার্কিন নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়াকরণ অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। এর ফলে ইতিমধ্যে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত হাজার হাজার অভিবাসী চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। ট্রাম্প প্রশাসনের এই বৈষম্যমূলক অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিবাসী অধিকার রক্ষা সংগঠন আদালতে মামলা দায়ের করে। গত ৫ জুন দেওয়া রায়ে ওবামা আমলে নিযুক্ত বিচারক জন ম্যাককনেল ট্রাম্পের এই নীতি বাতিল করে বলেন, কেবল জাতীয়তার ওপর ভিত্তি করে অভিবাসন আবেদন অনির্দিষ্টকালের জন্য ফ্রিজ বা আটকে রাখার কোনো আইনি কর্তৃত্ব ইউএসসিআইএস-এর নেই। তিনি এই নীতিকে অভিবাসনবিরোধী মানসিকতা বলে অভিহিত করে বলেন, কেবল জন্মসূত্রের কারণে এই মানুষদের সাথে এমন আচরণ করা অবৈধ।
যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যবাহী স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাইয়ের বক্তব্য চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীদের তীব্র বিক্ষোভ ও অনুষ্ঠান বর্জনের (ওয়াকআউট) ঘটনা ঘটেছে। রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩৫তম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সুন্দর পিচাই প্রধান বক্তা হিসেবে মঞ্চে ওঠার পরপরই এই ঘটনা ঘটে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, সুন্দর পিচাই বক্তব্য শুরু করার মুহূর্তেই সমাবর্তনস্থলে উপস্থিত ১০০ জনেরও বেশি গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী তাদের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়ান। এ সময় তারা "ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন" (ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই) বলে উচ্চকণ্ঠে স্লোগান দিতে দিতে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন। কট্টর বামপন্থী ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন' এবং 'নো টেক ফর অ্যাপার্থাইড'-এর যৌথ আহ্বানে এই প্রতিবাদের আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভের মূল কারণ হিসেবে ইসরায়েল সরকারের সাথে গুগলের ১.২ বিলিয়ন ডলারের ক্লাউড কম্পিউটিং চুক্তি 'প্রজেক্ট নিম্বাস'-কে দায়ী করা হচ্ছে। আমাজনের সাথে যৌথভাবে পরিচালিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে গুগল ইসরায়েল সরকারকে ক্লাউড ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি সরবরাহ করে আসছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও মানবাধিকার কর্মীদের অভিযোগ, গুগলের এই প্রযুক্তি ফিলিস্তিনিদের ওপর নজরদারি এবং ইসরায়েলের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপে ব্যবহৃত হতে পারে। যদিও গুগল বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটি কেবল সরকারি বেসামরিক কাজের জন্য একটি ক্লাউড সেবা। উল্লেখ্য, সুন্দর পিচাই নিজে ১৯৯৫ সালে এই স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই মেটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছিলেন। নিজের সাবেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে এসে তাকে এমন নজিরবিহীন প্রতিবাদের মুখে পড়তে হলো। এর আগে ২০২৪ সালেও এই প্রজেক্ট নিম্বাসের বিরুদ্ধে গুগলের ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্ক অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান ধর্মঘট করলে গুগল কয়েক ডজন কর্মীকে চাকরিচ্যুত করেছিল। চলতি বছর আমেরিকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের লক্ষ্য করে শিক্ষার্থীদের এমন ক্ষোভ প্রকাশের ঘটনা নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই অ্যারিজোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে গুগলের সাবেক সিইও এরিক শ্মিড বক্তব্য দিতে গেলে এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে শিক্ষার্থীরা তাকে ধুয়ে দেয়। তবে স্ট্যানফোর্ডের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের এই তুমুল হট্টগোল ও কক্ষ ত্যাগের মাঝেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য চালিয়ে যান, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভূ-রাজনীতির চেয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শিক্ষার্থীদের আশাবাদী থাকার পরামর্শই বেশি প্রাধান্য পায়।
যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য ওরেগনের একটি হাসপাতাল ও এক হৃদরোগ সার্জনের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার (প্রায় ২০৭ কোটি টাকা) ক্ষতিপূরণের মামলা করেছেন এক কিশোরীর বাবা-মা। তাদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের সময় চিকিৎসকের ভুলে ১৩ বছর বয়সী মেয়ের হৃদযন্ত্রের নতুন ভালভ উল্টোভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। পরে অন্য একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা সেই ভুল শনাক্ত করে নতুন করে অস্ত্রোপচার করেন এবং মেয়েটির জীবন রক্ষা পায়। মামলাটি করেছেন কিশোরীর বাবা-মা স্টিভেন স্টোকস ও লরি স্টোকস। তারা ওরেগন হেলথ অ্যান্ড সায়েন্স ইউনিভার্সিটি (ওএইচএসইউ) এবং হৃদরোগ সার্জন ডা. আশোক মুরালিধারনের বিরুদ্ধে চিকিৎসাগত অবহেলার অভিযোগ এনেছেন। মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ আগস্ট ওএইচএসইউ হাসপাতালে কিশোরীর উন্মুক্ত হৃদযন্ত্রের অস্ত্রোপচার করা হয়। জন্মগত ত্রুটিযুক্ত হৃদযন্ত্রের ভালভ প্রতিস্থাপনের জন্য এই অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। অপারেশনের সময় চিকিৎসকদের হৃদযন্ত্র সাময়িকভাবে বন্ধ করে হার্ট-লাং বাইপাস মেশিনের সহায়তা নিতে হয়। তবে অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা কিশোরীর হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে চালু করতে পারেননি। তাকে তাৎক্ষণিকভাবে এক্সট্রাকরপোরিয়াল মেমব্রেন অক্সিজেনেশন (ইসিএমও) সহায়তায় রাখা হয়, যা কৃত্রিমভাবে রক্ত সঞ্চালন ও অক্সিজেন সরবরাহের কাজ করে। অভিযোগে বলা হয়েছে, অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানিয়েছিলেন অপারেশন “খুব ভালোভাবে” সম্পন্ন হয়েছে এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যাটি অস্ত্রোপচারজনিত ধাক্কার কারণে হয়েছে। কিন্তু দিন পেরিয়ে গেলেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। পরবর্তী কয়েক দিনে একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অনুসন্ধানমূলক অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকেরা সমস্যার কারণ খুঁজে পাননি। কিশোরীকে তিন দিন ধরে বুকের অস্ত্রোপচারের স্থান খোলা রেখেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয় এবং ইসিএমওর মাধ্যমে জীবিত রাখা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, পরে চিকিৎসকেরা পরিবারকে জানান, মেয়েটির বেঁচে থাকার জন্য স্থায়ী কৃত্রিম হৃদযন্ত্র বা হৃদযন্ত্র প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সে ধরনের চিকিৎসা তাদের হাসপাতালে সম্ভব নয়। এমনকি পরিবারকে বলা হয়, মেয়েটি অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে এবং অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হতে পারে। তবুও বাবা-মা হাল ছাড়েননি। তারা কিশোরীকে ওয়াশিংটনের সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা নতুন করে পরীক্ষা করে দেখতে পান, ওএইচএসইউতে প্রতিস্থাপন করা কৃত্রিম হৃদযন্ত্রের ভালভটি উল্টোভাবে বসানো হয়েছে। ফলে ভালভটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারছিল না এবং হৃদযন্ত্র স্বাভাবিক রক্তপ্রবাহ বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছিল। পরবর্তীতে চিকিৎসকেরা ভুলভাবে বসানো ভালভটি অপসারণ করে সঠিকভাবে নতুন ভালভ প্রতিস্থাপন করেন। মামলার নথি অনুযায়ী, নতুন ভালভ বসানোর পরপরই কিশোরীর হৃদযন্ত্র স্বাভাবিকভাবে কাজ শুরু করে। তাকে হার্ট-লাং বাইপাস মেশিন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং আর ইসিএমও সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। কয়েক দিনের মধ্যে তার অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়। প্রায় এক মাস পর তাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি পাঠানো হয়। মামলায় বলা হয়েছে, ওএইচএসইউতে ছয় দিনের চিকিৎসার বিল ছিল ১০ লাখ ডলারেরও বেশি। অন্যদিকে সিয়াটল চিলড্রেনস হাসপাতালে সংশোধনমূলক অস্ত্রোপচার ও ৩৫ দিনের চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ২৩ লাখ ৫০ হাজার ডলার। পরবর্তী চিকিৎসা ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত নয়। পরিবারটি মোট ১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ লাখ ডলার চিকিৎসাগত অবহেলার ক্ষতিপূরণ এবং ৩০ লাখ ডলার আর্থিক ক্ষতির জন্য দাবি করা হয়েছে।
বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ সম্প্রতি ১.২ ট্রিলিয়ন বা ১ লাখ ২০ হাজার কোটি ডলারে পৌঁছেছে। একজন সাধারণ মার্কিন নাগরিকের পক্ষে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া প্রায় অসম্ভব এক বিষয়। বর্তমান পরিসংখ্যান অনুযায়ী, একজন সাধারণ আমেরিকান নাগরিকের পক্ষে ইলন মাস্কের এই বিশাল সম্পদের সমান স্তরে পৌঁছাতে বিপুল সময় লেগে যাবে। বর্তমানে একটি সাধারণ মার্কিন পরিবারের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৮০ হাজার ডলার। এই আয়ের সবটুকু অর্থ যদি কোনো পরিবার সম্পূর্ণভাবে সঞ্চয় করতে পারে, তবুও তারা এই অর্থের সমান করতে পারবে না। কোনো প্রকার খরচ এবং কর পরিশোধ না করে আয়ের প্রতিটি ডলার জমা করলেও মাস্কের বর্তমান সম্পদের সমান হতে একটি সাধারণ পরিবারের প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর সময় লেগে যাবে। এই দীর্ঘ সময়ের বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার জন্য মানব ইতিহাসের একটি বড় প্রেক্ষাপট বিবেচনা করা যেতে পারে। আজ থেকে প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে আধুনিক মানুষের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। মানবজাতির প্রাচীনতম পূর্বপুরুষেরা কেবল সেই আদিম সময়ে পৃথিবীতে প্রথম আবির্ভূত হতে শুরু করেছিল। একজন একক ব্যক্তির একটি সাধারণ জীবনকালের মধ্যে অর্জিত এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পৃথিবীর সার্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার এক বিশাল ব্যবধানকে ফুটিয়ে তোলে। পুরো মানব প্রজাতি একটি নির্দিষ্ট প্রজাতি হিসেবে পৃথিবীতে আবির্ভূত হওয়ার আগে থেকে আজ পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে কাজ করলেও এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করতে পারত না। একজন সাধারণ মানুষের জীবনকালের আয়ের সাথে এই সম্পদের কোনো তুলনা হয় না। আধুনিক বিশ্বে সম্পদের এই বিশাল পাহাড় মূলত প্রথাগত কাজের সময় বা সাধারণ মানুষের আজীবন শ্রমের হিসাব থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি বিষয়। বড় বড় বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোগত একচেটিয়া ব্যবসার মালিকানার মাধ্যমেই মূলত এই ধরনের অভাবনীয় পুঁজি বা সম্পদ তৈরি হওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই সাধারণ গাণিতিক হিসাবটি বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং সম্পদ অর্জনের এক অবিশ্বাস্য চিত্রকে স্পষ্ট করে তোলে।
দীর্ঘদিনের সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনার অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি প্রাথমিক দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে পৌঁছানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের উপস্থিতিতে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে। চুক্তি সইয়ের পর ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি আনুষ্ঠানিকভাবে এর বিস্তারিত প্রকাশ করবেন। দুই দেশের এই সমঝোতা স্মারকে মূলত সামরিক অভিযান বন্ধ, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্তকরণ, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রথমত, সামরিক অভিযানের সমাপ্তি ও লেবানন পরিস্থিতির বিষয়ে উভয় পক্ষই তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ীভাবে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকেই লেবাননসহ অন্যান্য অঞ্চলে তাদের সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তির পর লেবাননে ইসরায়েলের আর কোনো হামলা হবে না এবং ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও ইসরায়েলে পাল্টা কোনো হামলা চালাবে না। তবে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ স্পষ্ট করেছেন যে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবানন, সিরিয়া ও গাজার দখলকৃত নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে আপাতত অবস্থান করবে। দ্বিতীয়ত, হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী শুক্রবার থেকে হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হবে এবং ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার মতে, স্মারক সই হওয়ার পর সব বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই আন্তর্জাতিক জলপথ খুলে দেওয়া হবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তাসংস্থা ফারস জানিয়েছে, চুক্তির অধীনে ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করবে ইরান। তৃতীয়ত, পরমাণু কর্মসূচিতে লাগাম টানতে ইরান পুনরায় প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন করবে না। চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরান তাদের সব ধরনের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখবে এবং নতুন করে কোনো ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করবে না। এর বিনিময়ে ইরানে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পরিদর্শন ব্যবস্থা চালু করা হবে। তবে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম জানিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি অবশ্যই মার্কিন কংগ্রেসের মাধ্যমে পর্যালোচনা ও অনুমোদিত হতে হবে। চতুর্থত, নিষেধাজ্ঞা শিথিল ও অর্থ ছাড়ের বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের ওপর নতুন করে কোনো নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের আটকে থাকা ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ছাড় করা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে স্পষ্ট দ্বিমত ও ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি কর্মকর্তার দাবি, এই নগদ অর্থ আঞ্চলিক দেশগুলোর সহযোগিতা ও ফাইন্যান্সিয়াল ক্রেডিট লাইনের মাধ্যমে ছাড় করা হবে। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানকে এখনই কোনো নগদ অর্থ দেওয়া হবে না, তবে তাদের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা সম্ভাব্যভাবে প্রত্যাহার করা হতে পারে। সর্বশেষ চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্রদের সঙ্গে নিয়ে ইরানের জন্য একটি বিশেষ পুনর্গঠন ও উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করবে। আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করে এই পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করা হবে। এই প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর, আগামী ৬০ দিন ধরে পরমাণু ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞার মতো অপেক্ষাকৃত জটিল ও সংবেদনশীল বিষয়গুলো নিয়ে একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে নিবিড় আলোচনা চলবে।
ফুটবল জানেন? তাহলে প্রমাণ করুন। উত্তর দিন, ম্যাচ প্রেডিকশন করুন, আর জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার! ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা, প্রিয় দলের জয়-পরাজয়ের গল্প আর বন্ধু-পরিবারের সঙ্গে জমজমাট আড্ডা। বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর মতো বাংলাদেশি দর্শকরাও এখন মেতে উঠেছেন বিশ্বকাপের রঙে। সেই বিশ্বকাপ উন্মাদনাকে আরও আনন্দময় ও অংশগ্রহণমূলক করে তুলতে বিশেষ আয়োজন নিয়ে এসেছে আমেরিকা বাংলা। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে আমেরিকা বাংলা আয়োজন করছে "World Cup Quiz Game & Match Prediction"। এই আয়োজনে প্রতিদিন ফুটবলভিত্তিক কুইজ প্রশ্নের উত্তর এবং ম্যাচ প্রেডিকশনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা জিতে নিতে পারবেন নগদ অর্থ ও মোবাইল রিচার্জ। বিশ্বকাপ চলাকালে প্রতিদিন আমেরিকা বাংলার ফেসবুক পেজে ১ থেকে ৫টি প্রশ্ন প্রকাশ করা হবে। অংশগ্রহণকারীরা পোস্টের কমেন্টে উত্তর জমা দিতে পারবেন। নির্ধারিত সময় শেষে সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে। প্রতিটি কুইজ ও প্রেডিকশন পর্বে অংশগ্রহণকারীদের জন্য থাকছে আকর্ষণীয় পুরস্কার। একজন বিজয়ী সর্বোচ্চ ২০০ টাকা মোবাইল রিচার্জ অথবা ৫০০ টাকা নগদ অর্থ জয়ের সুযোগ পাবেন। বিজয়ীদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরস্কার পৌঁছে দেওয়া হবে। বিশ্বকাপজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং পাঠকদের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতেই এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আমেরিকা বাংলা। অংশগ্রহণের নিয়মাবলি এই পোস্টে লাইক দিতে হবে পোস্টটি শেয়ার করতে হবে কমেন্টে সঠিক উত্তর বা প্রেডিকশন লিখতে হবে অবশ্যই America Bangla ফেসবুক পেজ ফলো করা থাকতে হবে একজন অংশগ্রহণকারী একটি প্রশ্ন বা প্রেডিকশনের জন্য একবারই উত্তর দিতে পারবেন সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্বাচন করা হবে বিজয়ীদের সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে যোগাযোগ করা হবে পুরস্কার ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে প্রদান করা হবে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা ভুল বা একাধিক উত্তর প্রদান করলে অংশগ্রহণ বাতিল হতে পারে। ভুয়া ফেসবুক আইডি থেকে অংশগ্রহণ গ্রহণযোগ্য হবে না। পুরস্কার প্রদানের ক্ষেত্রে আয়োজকদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে। বিশেষ পরিস্থিতিতে আয়োজক কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মাবলিতে পরিবর্তন আনার অধিকার সংরক্ষণ করে। বিশ্বকাপের প্রতিটি দিনকে আরও রোমাঞ্চকর করতে আমেরিকা বাংলার সঙ্গে থাকুন। প্রশ্নের উত্তর দিন, ম্যাচ প্রেডিকশন করুন এবং জিতে নিন আকর্ষণীয় পুরস্কার!
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
তিন মাস ধরে চলা উত্তেজনাপূর্ণ সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে, আর পুরো আয়োজনের দায়িত্ব নিচ্ছে পাকিস্তান। সোমবার (১৫ জুন) পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ আলোচনার পর তিন পক্ষের সমঝোতায় এই চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরের পথে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটি একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হতে যাচ্ছে। আল্লাহর রহমতে জেনেভায় অনুষ্ঠিতব্য এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠান পাকিস্তান আয়োজন করবে।” তাঁর এই বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর আগে একই দিন ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার কিছুক্ষণ আগেই মধ্যস্থতাকারী হিসেবে শেহবাজ শরিফও উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা জানান। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি কার্যকর হলে বহুদিনের টানাপোড়েনপূর্ণ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তন ঘটতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এমন একটি সমঝোতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতেও ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তির বিষয়বস্তু এবং শর্তাবলি সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘ এক দশকের রাজনৈতিক আলোচনা, বিতর্ক ও সমঝোতার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নতুন অভিবাসন ও আশ্রয় নীতি “মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট” কার্যকর হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) থেকে ইউরোপজুড়ে এই নীতির বাস্তবায়ন শুরু হয়, যার মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দায়িত্ব ভাগাভাগির নতুন কাঠামো চালু করা হয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকে আরও সমন্বিত, কার্যকর ও নিয়ন্ত্রিত করাই এই নতুন চুক্তির মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে ২০১৫ সালের শরণার্থী সংকটের পর ইউরোপজুড়ে যে রাজনৈতিক চাপ ও মতবিরোধ তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষাপটেই এই সংস্কার আনা হয়েছে। নতুন নীতির আওতায় ইইউর বাহ্যিক সীমান্ত দিয়ে অনিয়মিতভাবে প্রবেশকারী ব্যক্তিদের জন্য বাধ্যতামূলক স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এতে অভিবাসীদের পরিচয়, জাতীয়তা, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাই করা হবে। প্রাথমিক যাচাই সাধারণত সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব আশ্রয়প্রার্থীর আবেদন গ্রহণের সম্ভাবনা কম বলে বিবেচিত হবে, তাদের আবেদন সীমান্ত পর্যায়েই দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে। এতে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান আশ্রয় প্রক্রিয়া কমবে বলে আশা করছে ইউরোপীয় কর্তৃপক্ষ। ইতালি, গ্রিস, স্পেন ও মাল্টার মতো সীমান্তবর্তী দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অভিবাসন চাপের মুখে ছিল। নতুন চুক্তির অধীনে অন্যান্য সদস্য দেশকে আশ্রয়প্রার্থী গ্রহণ, আর্থিক সহায়তা অথবা প্রশাসনিক সহযোগিতার মাধ্যমে দায়িত্ব ভাগাভাগি করতে হবে। এই ব্যবস্থাকে “সংহতি প্রক্রিয়া” বলা হচ্ছে। চুক্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ইউরোড্যাক ডাটাবেজ আরও উন্নত করা হয়েছে। এতে আঙুলের ছাপ, মুখাবয়বের ছবি এবং অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হবে, যাতে একজন ব্যক্তি একাধিক দেশে একাধিকবার আশ্রয় আবেদন করতে না পারেন এবং প্রক্রিয়া আরও কার্যকরভাবে পরিচালিত হয়। তবে নতুন ব্যবস্থার প্রথম দিনেই ইউরোড্যাক সিস্টেমে কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয়, যা কয়েকটি সদস্য দেশের কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব ফেলে। ইউরোপীয় কমিশন একে প্রাথমিক প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন নীতির কিছু দিক নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, সীমান্ত পর্যায়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণে অনেক আশ্রয়প্রার্থী যথাযথ আইনি সহায়তা ও ন্যায্য শুনানির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই সংস্কার ইউরোপের অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর দিকে নিয়ে যাবে। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন নীতিতে এটি অন্যতম বড় সংস্কার হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা আগামী দিনে ইউরোপের সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অভিবাসন নীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।
নরওয়ের রাজকন্যা মেতে-মারিতের ছেলে মারিয়াস বোরগ হোইবিকে ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ওসলো আদালত। একই সঙ্গে একজন ভুক্তভোগী নারীকে সুরক্ষার জন্য তার চলাচলের ওপর দুই বছরের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সোমবার (তারিখ উল্লেখ নেই) সকালে ওসলো আদালত দীর্ঘ বিচার কার্যক্রম শেষে এই রায় ঘোষণা করে। প্রায় তিন মাস আগে শুরু হওয়া এবং ছয় সপ্তাহব্যাপী আলোচিত এই মামলার রায়কে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে আগেই ব্যাপক ভিড় দেখা যায়। রায়ে বিচারক ইয়ন স্ভেরদ্রুপ এফিয়েস্তাদ তার সাবেক প্রেমিকা নোরা হাউকল্যান্ডকে নির্যাতনের অভিযোগে হোইবিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলার ভুক্তভোগীদের মধ্যে কেবল নোরা হাউকল্যান্ডের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। আদালত হোইবিকে হাউকল্যান্ডসহ আরও তিনজন নারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন। তবে একই মামলায় আনা ধর্ষণের আরও দুটি অভিযোগ থেকে তিনি খালাস পান। মামলায় মোট ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল হোইবির বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ছিল চারটি ধর্ষণের অভিযোগ, হামলা, আদালতের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একাধিক অভিযোগ, মাদক-সংক্রান্ত অপরাধ এবং যানবাহন সংক্রান্ত অপরাধ। পরবর্তীতে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের একটি অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। ২৯ বছর বয়সি হোইবি আদালতে তার বিরুদ্ধে আনা সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, বিশেষ করে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কিছু কম গুরুতর অপরাধের দায় তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন। স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তার আইনজীবীরা তাকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আদালতে অংশগ্রহণের অনুমতি দেন। সেই অনুযায়ী তিনি ইলা কারাগার থেকে অনলাইনে শুনানিতে যুক্ত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরুদ্ধে সাত বছর সাত মাসের কারাদণ্ডের আবেদন করেছিল। অন্যদিকে প্রতিরক্ষা পক্ষ সর্বোচ্চ ১৮ মাসের সাজা দাবি করে, ধর্ষণের অভিযোগ থেকে খালাস চেয়েছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে চারজন নারীকে কেন্দ্র করে ধর্ষণের ঘটনাগুলো সংঘটিত হয়। প্রতিটি ঘটনায় বলা হয়, ভুক্তভোগীরা ঘুমন্ত অবস্থায় বা অসহায় পরিস্থিতিতে ছিলেন। এই রায় নরওয়ের রাজপরিবারের জন্যও কঠিন সময়ের মধ্যে এলো। কারণ হোইবির মা রাজকন্যা মেতে-মারিত দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছেন। পাশাপাশি পরিবারের বিরুদ্ধে অতীতে বিতর্কিত সম্পর্ক নিয়ে জনসমালোচনাও রয়েছে। গত সপ্তাহে আদালত তাকে সাময়িক মুক্তির আবেদন মঞ্জুর করলেও পরে আপিল আদালত সেই সিদ্ধান্ত বাতিল করে। তিনি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শুরু থেকে আটক ছিলেন। এই মামলা নরওয়ে ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করতে সহায়তার জন্য ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক মিশন প্রস্তুত রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার ঘোষণা আসার পর সোমবার তিনি এ কথা জানান। ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স–যুক্তরাজ্যের এই যৌথ মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দ্রুত মোতায়েন করা সম্ভব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, কোনো ধরনের বাধা বা টোল ছাড়াই সমুদ্রপথে নৌ চলাচল পুনরায় শুরু করা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ। হরমুজ প্রণালীকে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলে নৌচলাচল বিঘ্নিত হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ এই উদ্যোগকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।