Live update news
ছবি: আউটফ্রন্ট মিডিয়া
নিউইয়র্কের বাসে ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ বিজ্ঞাপন ঘিরে বিতর্ক, অপসারণের দাবি ধর্মীয় নেতাদের

নিউইয়র্কের রাস্তায় চলাচলকারী হাজারো বাসের সামনের অংশে এখন বড় অক্ষরে লেখা একটি নাম— ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’। ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স ও ব্রঙ্কসজুড়ে তিন হাজারেরও বেশি বাসে প্রদর্শিত এই বিজ্ঞাপনকে ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতারা বিজ্ঞাপনটি অপসারণের দাবি জানালেও নিউইয়র্কের গণপরিবহন কর্তৃপক্ষ (এমটিএ) বলছে, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর কারণে তাদের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ সীমিত। বুধবার (২৫ জুন) অনুষ্ঠিত এমটিএর মাসিক বোর্ড সভায় অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মীয় নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের দাবি জানান। তাদের অভিযোগ, এই ধরনের বিজ্ঞাপন শিশু-কিশোরদের সামনে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে এবং তা তাদের ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।   ২০০২ সালে উদ্যোক্তা ড্যানিয়েল গ্লাক ম্যানহাটনের ফ্ল্যাটআয়রন এলাকায় ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ প্রতিষ্ঠা করেন। তার লক্ষ্য ছিল মানব যৌনতার ইতিহাস, বিবর্তন ও সাংস্কৃতিক তাৎপর্যকে জাদুঘরের কাঠামোর মধ্যে উপস্থাপন করা। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম যৌনতাবিষয়ক জাদুঘর হিসেবে পরিচিত।   প্রতিষ্ঠার সময় নিউইয়র্ক স্টেট বোর্ড অব রিজেন্টস জাদুঘরটির অলাভজনক মর্যাদার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল। তাদের মতে, এমন ধারণা প্রচলিত জাদুঘর ব্যবস্থার ধারণাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটি নিউইয়র্কের অন্যতম আলোচিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।   ম্যানহাটনের ফিফথ অ্যাভিনিউ ও ২৭তম স্ট্রিটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থিত জাদুঘরটিতে শিল্প, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির আলোকে যৌনতা বিষয়ক বিভিন্ন প্রদর্শনী রয়েছে। পাশাপাশি ‘সুপার ফানল্যান্ড: জার্নি ইনটু দ্য ইরোটিক কার্নিভাল’ নামে একটি স্থায়ী ইন্টারঅ্যাক্টিভ প্রদর্শনীও দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত।   জাদুঘরটির সংগ্রহে রয়েছে ২০ হাজারেরও বেশি নিদর্শন, যার মধ্যে শিল্পকর্ম, আলোকচিত্র, পোশাক, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক সামগ্রী রয়েছে। এখানে প্রবেশের জন্য দর্শনার্থীদের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর হতে হয়।   বর্তমান বিজ্ঞাপন প্রচারণায় বাসের সামনে শুধু ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ নাম এবং প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে। কোনো ছবি বা অতিরিক্ত বার্তা এতে নেই। জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল গ্লাকের লক্ষ্য ছিল প্রতিষ্ঠানটির নামকে নিউইয়র্কের পরিচিত নগর প্রতীকের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।   তবে বিজ্ঞাপন প্রচারণা শুরু হওয়ার ছয় মাস পর বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এর আগেও ২০১৮ সালে একই ধরনের বিজ্ঞাপন বাসের সামনে প্রদর্শনের পর নারী বাসচালকেরা যাত্রীদের কাছ থেকে হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছিলেন। পরে ট্রান্সপোর্ট ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের দাবির মুখে বিজ্ঞাপনগুলো বাসের পেছনে সরিয়ে নেওয়া হয়।   সেন্ট্রাল র‍্যাবিনিক্যাল কংগ্রেসের রাব্বি আব্রাহাম জিমারম্যান এমটিএ বোর্ড সভায় বলেন, “অর্থোডক্স ইহুদি ধর্মে যৌনতার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি করে এমন ছবি বা বিজ্ঞাপন স্বেচ্ছায় দেখা নিষিদ্ধ। আমরা আমাদের সন্তানদের এসব বিষয় থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করি, কিন্তু প্রতিদিন তারা এসবের মুখোমুখি হচ্ছে।”   হলোকাস্ট থেকে বেঁচে যাওয়া এক পরিবারের সদস্য রিটা ফ্রিডম্যানও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম তাদের নৈতিক মূল্যবোধ কোথা থেকে শিখবে, সেটি নিয়ে আমি চিন্তিত।”   এদিকে এমটিএ চেয়ারম্যান জ্যানো লিবার স্বীকার করেছেন, কিছু যাত্রী বাসে উঠে চালক ও অন্য যাত্রীদের উদ্দেশে অশালীন মন্তব্য করছেন। তবে তিনি বলেন, মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী এমটিএ বিজ্ঞাপনের বিষয়বস্তু সেন্সর করার ক্ষমতা রাখে না। তার ভাষায়, “আমি তাদের উদ্বেগ বুঝতে পারছি। কিন্তু আমরা প্রথম সংশোধনীর অধীনে পরিচালিত একটি সংস্থা।”   লিবার আরও জানান, আইনগতভাবে ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’ একটি স্বীকৃত শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। ফলে এর বিজ্ঞাপন সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের প্রচার হিসেবে বিবেচিত হয়, যা গণপরিবহনে প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষা পায়।   এমটিএ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি আগে জাদুঘর কর্তৃপক্ষকে বিজ্ঞাপনে ঠিকানা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার পরামর্শ দিয়েছিল, যাতে যাত্রীরা বুঝতে পারেন এটি একটি নির্দিষ্ট স্থান ও প্রতিষ্ঠান, কোনো চলমান কার্যক্রমের বিজ্ঞাপন নয়।   এমটিএ প্রতিবছর বিজ্ঞাপন থেকে প্রায় ১৭৫ মিলিয়ন ডলার আয় করে, যা তাদের প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলারের বার্ষিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য। তবুও বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা সংস্থাটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের এক সামাজিক ও সাংবিধানিক প্রশ্নকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে বাকস্বাধীনতার অধিকারের ভারসাম্য কীভাবে রক্ষা করা হবে।   তবে সাধারণ নিউইয়র্কবাসীদের একটি অংশ বিষয়টিকে বড় কোনো ইস্যু হিসেবে দেখছেন না। এক যাত্রী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সত্যি বলতে, আমি এটা নিয়ে খুব একটা ভাবি না।” এদিকে বিতর্ক চললেও ‘মিউজিয়াম অব সেক্স’-এর বিজ্ঞাপন এখনো নিউইয়র্কের বাসগুলোর সামনের অংশে প্রদর্শিত হচ্ছে।

৫১ সেকেন্ড Ago
ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিএসএ প্রি-চেক সাইনবোর্ড | ছবি: গেটি ইমেজেস
যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণে বড় পরিবর্তন, বিমানবন্দরে অনেক যাত্রীর আর দেখাতে হবে না পরিচয়পত্র

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণ আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, গুগল ওয়ালেটের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে যোগ্য যাত্রীরা এখন সরাসরি অ্যাপ থেকেই টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। এর ফলে নির্ধারিত নিরাপত্তা তল্লাশি পয়েন্টে অনেক যাত্রীকে আর আলাদাভাবে পরিচয়পত্র বা বোর্ডিং পাস দেখাতে হবে না।   টিএসএ জানিয়েছে, গুগল ওয়ালেটই প্রথম ডিজিটাল ওয়ালেট, যেখানে সরাসরি টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে যাত্রীর পরিচয় মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা হবে, যা নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কমিয়ে আনবে এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করবে।   নতুন সুবিধা ব্যবহার করতে হলে অংশগ্রহণকারী কোনো বিমান সংস্থায় চেক-ইন করার পর বোর্ডিং পাস গুগল ওয়ালেটে সংরক্ষণ করতে হবে। যাদের কাছে উপযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র রয়েছে, তারা অ্যাপে “Get Started” অপশনের মাধ্যমে টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের সময় টিএসএর সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও বোর্ডিং পাসের তথ্য ভাগাভাগির সম্মতি দিতে হবে। এরপর গুগল ওয়ালেটে নিবন্ধন নিশ্চিত হওয়ার বার্তা এবং বোর্ডিং পাসে টাচলেস আইডি চিহ্ন যুক্ত হবে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫টি বিমানবন্দরে এই সেবা চালু রয়েছে। টিএসএ জানিয়েছে, টিএসএ প্রিচেকে অংশগ্রহণকারী ১০০টিরও বেশি বিমান সংস্থার যোগ্য যাত্রীরা এসব বিমানবন্দরে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।   টিএসএর আধুনিকায়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান উদ্ভাবন কর্মকর্তা শেলু প্যাটেল বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে টিএসএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুগলের সঙ্গে এই সহযোগিতা বিশ্বস্ত টিএসএ প্রিচেক সদস্যদের জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করবে।   অন্যদিকে, গুগলের কনজিউমার পেমেন্টস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পি. জে. লিনারডুচি বলেন, গুগল ওয়ালেটের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের আগে এই সেবা চালু হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   টিএসএ আরও জানিয়েছে, যাত্রীরা চাইলে আগের মতোই আলাস্কা, আমেরিকান, ডেল্টা, হাওয়াইয়ান, সাউথওয়েস্ট ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রোফাইলে বৈধ পাসপোর্ট সংরক্ষণ করে পৃথকভাবে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার পাশাপাশি যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে টিএসএ স্পষ্ট করেছে, টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করলেও যাত্রীদের ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত, কারণ প্রয়োজনে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তা দেখতে চাইতে পারেন।

১৪ মিনিট Ago
বৈশাখী উৎসবের পর আগামীকাল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সাধারণ সভা
বৈশাখী উৎসবের সফল আয়োজনের পর আগামীকাল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সাধারণ সভা

আটলান্টা, জর্জিয়া: সম্প্রতি বর্ণাঢ্য আয়োজনে বৈশাখী উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন করার পর এবার সাধারণ সভার আয়োজন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের অন্যতম প্রবাসী সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীকাল শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ৮টায় এই সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।   সভার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে লাকি শোলস পার্ক কমিউনিটি সেন্টার, ৪৬৫১ ব্রিট রোড, নরক্রস, জর্জিয়া ৩০০৯৩।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার সভাপতি আরেফিন বাবুল এবং সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আহসান (শান্ত) স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের লাইফ মেম্বার ও সাধারণ সদস্যদের যথাসময়ে উপস্থিত থেকে সভায় অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নির্ধারণ এবং কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময়ের লক্ষ্যে এই সাধারণ সভার আয়োজন করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, এ মাসের ১৪ই জুন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়ার উদ্যোগে জর্জিয়ায় বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজনে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী বাংলা খাবারের আয়োজন, শিশু-কিশোরদের পরিবেশনা এবং পারিবারিক মিলনমেলার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল র‍্যাফেল ড্র, যেখানে বিজয়ীদের মধ্যে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অংশগ্রহণকারী ও আয়োজকদের মতে, এবারের বৈশাখী উৎসবটি ছিল সংগঠনের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম সফল ও প্রাণবন্ত আয়োজন।   সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, বৈশাখী উৎসবের সেই ইতিবাচক সাড়া ও সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ধারাবাহিকতায় এবারের সাধারণ সভাও ফলপ্রসূ হবে। সভায় সংগঠনের চলমান কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, কমিউনিটির কল্যাণে নতুন উদ্যোগ এবং সদস্যদের বিভিন্ন মতামত নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জর্জিয়া দীর্ঘদিন ধরে জর্জিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জাতীয় দিবস উদযাপন, বাংলা নববর্ষ, পারিবারিক মিলনমেলা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কমিউনিটি উদ্যোগের মাধ্যমে সংগঠনটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে।   সংগঠনের পক্ষ থেকে সাধারণ সভায় সকল সদস্যকে সময়মতো উপস্থিত থেকে গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

৩০ মিনিট Ago
ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস
ট্রিলিয়ন ডলারের এআই বাণিজ্যে বড় ধস, চরম গ্রাহক সংকটে টেক জায়ান্টরা

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা টেক জায়ান্টগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও এখন তারা চরম গ্রাহক সংকটে ভুগছে। চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পুঁজিবাজার নাসডাক কম্পোজিট ইনডেক্স চলতি সপ্তাহে প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এআই প্রযুক্তির পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বা মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না।   গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর হিসাব অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিচালনার জন্য হাজার হাজার নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। টেক জায়ান্টগুলো বিপুল ঋণ নিয়ে এই বিশাল অবকাঠামো তৈরি করলেও, সাধারণ গ্রাহক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই এআই সেবার জন্য বাড়তি টাকা দিতে আদৌ রাজি কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।   স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এআই নাও’-এর সহযোগী পরিচালক কেট ব্রেনান সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের মতো বড় কোম্পানিগুলো অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যেভাবে ঋণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন বা মুনাফা এখনও আসছে না এবং এর মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যে বড় বড় দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।   পিউ রিসার্চ-এর এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এআই ব্যবহার করলেও এর জন্য টাকা খরচ করতে পুরোপুরি নারাজ। জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মনে করেন এই প্রযুক্তি আগামী দুই দশকে সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যেখানে মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার-এর মে মাসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বদলে এআই এজেন্ট নিয়োগ করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের সঠিক রিটার্ন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।   বর্তমানে অ্যালফাবেট এবং চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে মার্কিন শেয়ার বাজার নতুন রেকর্ড গড়লেও, ওয়াল স্ট্রিট এখন বড় ধরনের ‘এআই বুদবুদ’ বা বাবল নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের ‘ডটকম বাবলের’ সাথে তুলনা করছেন। ভ্যানগার্ড-এর গ্লোবাল হেড অব ক্যাপিটাল মার্কেট রিসার্চ কিয়ান ওয়াং এবং সিনিয়র গ্লোবাল ইকোনমিস্ট কেভিন খাং এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এই এআই অর্থনীতিতে কিছু কোম্পানি হয়তো লাভবান হবে, কিন্তু অনেক কোম্পানির মূল ব্যবসাই অচল হয়ে পড়তে পারে। তাই আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ওঠানামার মুখোমুখি হতে হবে।   বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ এড ইয়ার্ডেনি এক নোটে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পণ্যের প্রকৃত গ্রাহক চাহিদা তৈরি না হয়, তবে এই পুরো এআই ইকোসিস্টেম বা বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো বড় এআই ডেভেলপারদের বার্ষিক রাজস্ব পর্যালোচনা করে তাঁর দল একটি ‘ক্যাপেক্স পেব্যাক টেস্ট’ বা মূলধনী ব্যয় পরিশোধের পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, এআই খাতটি এখনও পুরোপুরি গ্রাহক রাজস্বের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, তবে এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভরও নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রাজস্ব পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে, তবে তার জন্য এআই কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা ও ব্যবহার বহুগুণ বাড়াতে হবে।

৪৫ মিনিট Ago
ওয়াশিংটনে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট | ছবি: এপি
আমেরিকা
আমেরিকায় লাখ লাখ অভিবাসীর থাকার বিশেষ সুবিধা বাতিলের অনুমতি দিলেন সুপ্রিম কোর্ট

আমেরিকায় বসবাসরত হাইতি এবং সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসীর জন্য বরাদ্দ থাকা বিশেষ আইনি সুবিধা ‘টেম্পোরারি প্রটেক্টেড স্ট্যাটাস’ বা টিপিএস (TPS) পুরোপুরি বাতিল করার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসনকে সবুজ সংকেত দিয়েছেন মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এক ঐতিহাসিক ৬-৩ ব্যবধানের রায়ে সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মার্কিন ফেডারেল আইন অনুযায়ী টিপিএস সুবিধা দেওয়া বা তা বাতিলের মতো সিদ্ধান্তের ওপর বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কোনো সুযোগ নেই। একই সাথে বর্ণ বৈষম্যের কারণে হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিল করা হয়েছিল বলে চ্যালেঞ্জকারীদের করা দাবিটি আদালতে টেকেনি।   সুপ্রিম কোর্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতিদের পক্ষে লেখা রায়ে বিচারপতি স্যামুয়েল আলিতো উল্লেখ করেন, সিরিয়া ও হাইতির নাগরিকদের জন্য সাময়িক সুরক্ষিত মর্যাদা বা টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আইনি প্রক্রিয়া চলাকালীন এই আদেশ স্থগিত রাখার কোনো আইনি অধিকার চ্যালেঞ্জকারীদের নেই। প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস, বিচারপতি ক্ল্যারেন্স থমাস এবং বিচারপতি ব্রেট কাভানো এই রায়ের পক্ষে একমত পোষণ করেন। এর আগে নিম্ন আদালত এই টিপিএস সুবিধা বাতিলের ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করার পর সুপ্রিম কোর্ট মামলাটি পর্যালোচনার জন্য গ্রহণ করেছিলেন।   প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা যুদ্ধবিগ্রহের কারণে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি যদি নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের উপযোগী না থাকে, তবে তাদের সুরক্ষায় মার্কিন কংগ্রেস ১৯৯০ সালে এই টিপিএস প্রথা চালু করে। এর মাধ্যমে অন্য দেশের নাগরিকরা বৈধভাবে আমেরিকায় বসবাসের সুযোগ পান এবং তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো বন্ধ থাকে। ২০১০ সালে হাইতিতে হওয়া এক ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর দেশটির নাগরিকদের এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, যার ফলে অসংখ্য হাইতিয়ান নাগরিক দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করার সুযোগ পেয়ে আসছিলেন।   তবে ট্রাম্প প্রশাসন হাইতির টিপিএস সুবিধা বাতিলের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জানিয়েছে যে, হাইতিয়ান গ্যাং বা অপরাধী দলগুলো, যাদের মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইতিমধ্যে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ সুবিধাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগও আদালতে যুক্তি দেখিয়েছে যে, তারা সমস্ত সংবিধবদ্ধ বাধ্যবাধকতা মেনেই জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই টিপিএস সুবিধা বাতিলে পদক্ষেপ নিয়েছে।   অন‍্যদিকে, হাইতি এবং সিরিয়ার নাগরিকদের পক্ষে লড়াই করা মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবীরা দাবি করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই টিপিএস বাতিলের সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ খামখেয়ালি এবং এটি নির্দিষ্ট কোনো আইনি নিয়ম অনুসরণ করে করা হয়নি। তাঁদের অভিযোগ, সরকার সম্পূর্ণ বৈষম্যমূলক আচরণ করে হাইতি ও সিরিয়ার অভিবাসীদের এই আইনি সুবিধা থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। তবে সুপ্রিম কোর্টের এই চূড়ান্ত রায়ের ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এই দুই দেশের নাগরিকদের টিপিএস সুবিধা বাতিল করার পথ এখন পুরোপুরি উন্মুক্ত হয়ে গেল।   মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের ফলে হাইতি ও সিরিয়ার লাখ লাখ অভিবাসী এখন চরম বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়লেন। দীর্ঘ সময় ধরে আইনি লড়াই চলার পর দেশের সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির এক বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই রায়ের পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অভিবাসী কমিউনিটির মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন সূত্রে জানা গেছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ১১:২৫
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: টাইম
আমেরিকা ফিরে এসেছে, কিছুদিন আগেও আমরা মৃত দেশ ছিলাম: ট্রাম্প

যুদ্ধবিমানের গর্জন, সামরিক ব্যান্ডের সুর আর হাজারো সমর্থকের উচ্ছ্বাসে বুধবার রাতে ওয়াশিংটনের ন্যাশনাল মল পরিণত হয় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’-এর উদ্বোধন করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অনুষ্ঠানে দেওয়া প্রায় ৩০ মিনিটের ভাষণে তিনি রাজনৈতিক সাফল্য, দেশপ্রেম এবং প্রশাসনের বিভিন্ন নীতিকে তুলে ধরেন।   ওয়াশিংটন মনুমেন্টের সামনে বুলেটপ্রুফ কাচের আড়াল থেকে ট্রাম্প বলেন, “আজ রাতে স্বাধীনতার ২৫০তম বছরের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি— আমেরিকা ফিরে এসেছে। কিছুদিন আগেও আমরা একটি মৃত দেশ ছিলাম। এখন আমরা বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত দেশ। আমাদের নিয়ে আর কেউ হাসে না।”   পূর্বসূরি প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও তাঁর প্রশাসনের প্রতি ইঙ্গিত করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা এখন এক স্বর্ণযুগে প্রবেশ করেছি। এর আগে এমন সময় কখনও আসেনি।”   ভাষণে ইরান প্রসঙ্গও উঠে আসে। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি “ঐতিহাসিক চুক্তি” হয়েছে, যার ফলে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি উন্মুক্ত থাকবে এবং ইরান কখনও পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। তবে চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   দেশীয় সামাজিক নীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তাঁর প্রশাসন শিশুদের জন্য ট্রান্সজেন্ডার-সম্পর্কিত চিকিৎসা কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে এবং সরকারি নীতিতে পুরুষ ও নারী—এই দুই লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিয়েছে।   ১৬ দিনব্যাপী ‘গ্রেট আমেরিকান স্টেট ফেয়ার’-এ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্য ও ছয়টি অঞ্চলের প্রতিনিধিত্ব করার কথা রয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত অন্তত আটটি অঙ্গরাজ্য এতে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।   অনুষ্ঠানটি শুরু থেকেই বিতর্কের মুখে পড়ে। আয়োজকদের তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন শিল্পী শেষ মুহূর্তে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেন। তাঁদের কেউ কেউ অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠানটিকে অরাজনৈতিক হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তবে তা রাজনৈতিক রূপ পেয়েছে।   অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে পরিবহনমন্ত্রী সিন শাফি ট্রাম্পের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি ট্রাম্পকে জর্জ ওয়াশিংটনের পর মার্কিন ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট বলে উল্লেখ করেন। এদিকে নতুন এক জাতীয় জনমত জরিপে ট্রাম্পের অনুমোদন হার ৩০ শতাংশে নেমে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। জরিপে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে অর্থনীতি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগও উঠে এসেছে।   জাতীয় উৎসবকে রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীরা সমালোচনা করলেও ট্রাম্প সমর্থকদের কাছে অনুষ্ঠানটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পুনর্জাগরণ উদযাপনের একটি প্রতীকী মুহূর্ত।   রাতের আকাশে স্টেলথ বোমারু বিমানের উড়ান এবং দেশাত্মবোধক সংগীতের আবহে ভাষণের শেষদিকে ট্রাম্প বলেন, “সেরাটা এখনো আসেনি।”

ছবি: গেটি ইমেজেস
মেডিকেইড জালিয়াতিতে ৪৩ লাখ ডলার হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মার্কিন ডাক্তার গ্রেফতার

আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেইড’ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জালিয়াতি ও আত্মসাতের অভিযোগে একজন নামকরা চিকিৎসককে অভিযুক্ত করেছে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ। সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ-এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৫২ বছর বয়সী ওই চিকিৎসকের নাম মুরেল কার্নেল রুটলেজ জুনিয়র, যিনি ইস্ট পয়েন্টের ‘রুটলেজ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েটস’-এর স্বত্বাধিকারী। তাঁর বিরুদ্ধে রোগীদের কোনো চিকিৎসা সেবা না দিয়েই ভুয়া বিল জমা দিয়ে জর্জিয়া মেডিকেইড থেকে প্রায় ৪৩ লাখ মার্কিন ডলার আত্মসাতের চেষ্টা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।   আদালতে উপস্থাপিত নথিপত্র এবং প্রমাণাদি থেকে জানা গেছে, ডাক্তার রুটলেজ ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের মার্চ মাসের মধ্যে ১১ হাজার ৩০০টিরও বেশি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক বিল জমা দিয়েছিলেন। এসব দাবিকৃত বিলের সিংহভাগই ছিল রোগীদের মুখোমুখি বসে দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক থেরাপি বা সাইকোথেরাপি দেওয়ার ভুয়া বিবরণী। এ ছাড়া সিস্ট অপসারণ, বিশেষ অ্যালার্জি পরীক্ষা এবং ক্ষতস্থানের চিকিৎসার মতো জটিল কিছু জরুরি স্বাস্থ্যসেবা তিনি রোগীদের কখনোই দেননি, অথচ সরকারি তহবিল থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে নিয়মিত ভুয়া বিল পেশ করেছিলেন।   প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ডাক্তার রুটলেজ জর্জিয়া মেডিকেইডের কাছে মোট ৪৩ লাখ ডলারের ভুয়া দাবি সাবমিট করে ইতিমধ্যেই ২৬ লাখ ডলার সরকারি তহবিল থেকে অবৈধভাবে তুলে নিয়েছেন। এই বিশাল অর্থনৈতিক জালিয়াতির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রতারণার মোট ৪০টি পৃথক ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার এই বিষয়ে স্পষ্ট করে বলেন, যারা সরকারি মেডিকেইড কর্মসূচি থেকে অর্থ চুরি করবে, তাদের প্রত্যেককে আইনের মুখোমুখি হতে হবে এবং চুরির সমস্ত টাকা ফেরত দিতে বাধ্য করা হবে।   মার্কিন আইন কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনা বড় ধরনের অভিযোগটি মূলত মার্কিন বিচার বিভাগের ২০২৬ সালের ‘ন্যাশনাল হেলথ কেয়ার ফ্রড টেকডাউন’ বা জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতি বিরোধী অভিযানের একটি অংশ। দেশজুড়ে চালানো এই বিশাল ক্র্যাকডাউন বা চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ৪৫৫ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মার্কিন বিচার বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই দেশব্যাপী অভিযানে অভিযুক্ত আসামিদের মধ্যে ৯০ জনই হলেন লাইসেন্সধারী ডাক্তার এবং উচ্চ পদমর্যাদার অন্যান্য চিকিৎসা পেশাজীবী।   এই একই তদন্তের অংশ হিসেবে লোনি রেলেফোর্ড নামের ৫৭ বছর বয়সী আরেক ব্যক্তিকে আটক করেছে জর্জিয়ার প্রসিকিউটররা। তাঁর বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা এবং জালিয়াতির একটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্তে দেখা গেছে, ওই ব্যক্তি কোনো ধরনের নার্সিং ডিগ্রি বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা ছাড়াই নিজের অপরাধের সমস্ত ইতিহাস সম্পূর্ণ গোপন করে জর্জিয়ায় নার্স হিসেবে কাজ করার চেষ্টা করছিলেন। অবৈধভাবে কাজ করার লক্ষ্যে তিনি ভুয়া নথিপত্র জমা দিয়ে এবং একজন আসল রেজিস্টার্ড নার্সের পরিচয় বা আইডি চুরি করে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন। এর আগেও তাঁর বিরুদ্ধে বড় ধরনের জালিয়াতি এবং পরিচয় চুরির পুরোনো অপরাধের রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।   সরকারি অর্থ ও ট্যাক্সদাতাদের ডলার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও ফেডারেল অংশীদাররা একযোগে কাজ করছে। জর্জিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল ক্রিস কার আরও জানান, এই দেশব্যাপী জালিয়াতি বিরোধী প্রচেষ্টা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। তাঁরা প্রতিটি সরকারি স্বাস্থ্য কর্মসূচির শতভাগ সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। চিকিৎসা খাতের এই বিপুল অর্থ আত্মসাতের ঘটনার পর জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।   সূত্র: সিবিএস নিউজ

ওপেনএআই-এর সিইও স্যাম অল্টম্যান | ছবি: গেটি ইমেজেস
ট্রিলিয়ন ডলারের এআই বাণিজ্যে বড় ধস, চরম গ্রাহক সংকটে টেক জায়ান্টরা

বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা টেক জায়ান্টগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির পেছনে ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করলেও এখন তারা চরম গ্রাহক সংকটে ভুগছে। চলতি সপ্তাহে প্রযুক্তি খাতের শেয়ার বাজারে বড় ধরনের পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মার্কিন পুঁজিবাজার নাসডাক কম্পোজিট ইনডেক্স চলতি সপ্তাহে প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। এর মূল কারণ ওয়াল স্ট্রিটের বিনিয়োগকারীদের মনে এখন বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে যে, এআই প্রযুক্তির পেছনে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করা হচ্ছে, তা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব বা মুনাফা এনে দিতে পারবে কি না।   গোল্ডম্যান স্যাক্স-এর হিসাব অনুযায়ী, এআই প্রযুক্তির বিকাশ ও পরিচালনার জন্য হাজার হাজার নতুন ডেটা সেন্টার তৈরি করতে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো ২০৩১ সালের মধ্যে প্রায় ৭.৬ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করবে। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ভিন্ন কথা বলছে। টেক জায়ান্টগুলো বিপুল ঋণ নিয়ে এই বিশাল অবকাঠামো তৈরি করলেও, সাধারণ গ্রাহক বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এই এআই সেবার জন্য বাড়তি টাকা দিতে আদৌ রাজি কি না, তা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।   স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘এআই নাও’-এর সহযোগী পরিচালক কেট ব্রেনান সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন, অ্যালফাবেট, অ্যামাজন, মেটা, মাইক্রোসফট এবং ওরাকলের মতো বড় কোম্পানিগুলো অবকাঠামো নির্মাণের জন্য যেভাবে ঋণ বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এআই থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন বা মুনাফা এখনও আসছে না এবং এর মাধ্যমে কর্মদক্ষতা বা উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির যে বড় বড় দাবি করা হচ্ছে, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।   পিউ রিসার্চ-এর এক সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, আমেরিকার সাধারণ মানুষ এআই ব্যবহার করলেও এর জন্য টাকা খরচ করতে পুরোপুরি নারাজ। জরিপে দেখা গেছে, ৪০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ মনে করেন এই প্রযুক্তি আগামী দুই দশকে সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে, যেখানে মাত্র ১৬ শতাংশ মানুষ একে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। এর পাশাপাশি অনেক কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করে এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করছে। তবে প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গার্টনার-এর মে মাসের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের বদলে এআই এজেন্ট নিয়োগ করেছে, তারা শেষ পর্যন্ত বিনিয়োগের সঠিক রিটার্ন পেতে ব্যর্থ হয়েছে।   বর্তমানে অ্যালফাবেট এবং চিপ প্রস্তুতকারক কোম্পানি এনভিডিয়ার মতো প্রতিষ্ঠানের ওপর ভর করে মার্কিন শেয়ার বাজার নতুন রেকর্ড গড়লেও, ওয়াল স্ট্রিট এখন বড় ধরনের ‘এআই বুদবুদ’ বা বাবল নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকের ‘ডটকম বাবলের’ সাথে তুলনা করছেন। ভ্যানগার্ড-এর গ্লোবাল হেড অব ক্যাপিটাল মার্কেট রিসার্চ কিয়ান ওয়াং এবং সিনিয়র গ্লোবাল ইকোনমিস্ট কেভিন খাং এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন, এই এআই অর্থনীতিতে কিছু কোম্পানি হয়তো লাভবান হবে, কিন্তু অনেক কোম্পানির মূল ব্যবসাই অচল হয়ে পড়তে পারে। তাই আগামী দিনে বিনিয়োগকারীদের বড় ধরনের ওঠানামার মুখোমুখি হতে হবে।   বিখ্যাত অর্থনীতিবিদ এড ইয়ার্ডেনি এক নোটে বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছেন, যদি শেষ পর্যন্ত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল পণ্যের প্রকৃত গ্রাহক চাহিদা তৈরি না হয়, তবে এই পুরো এআই ইকোসিস্টেম বা বাণিজ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ওপেনএআই এবং অ্যানথ্রোপিকের মতো বড় এআই ডেভেলপারদের বার্ষিক রাজস্ব পর্যালোচনা করে তাঁর দল একটি ‘ক্যাপেক্স পেব্যাক টেস্ট’ বা মূলধনী ব্যয় পরিশোধের পরীক্ষা চালিয়েছে। তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো, এআই খাতটি এখনও পুরোপুরি গ্রাহক রাজস্বের ওপর দাঁড়িয়ে নেই, তবে এটি সম্পূর্ণ অনুমাননির্ভরও নয়। ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাতের রাজস্ব পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে, তবে তার জন্য এআই কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা ও ব্যবহার বহুগুণ বাড়াতে হবে।

ডুলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে টিএসএ প্রি-চেক সাইনবোর্ড | ছবি: গেটি ইমেজেস
যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণে বড় পরিবর্তন, বিমানবন্দরে অনেক যাত্রীর আর দেখাতে হবে না পরিচয়পত্র

ওয়াশিংটন: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান ভ্রমণ আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসন (টিএসএ)। সংস্থাটি ঘোষণা করেছে, গুগল ওয়ালেটের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্বের মাধ্যমে যোগ্য যাত্রীরা এখন সরাসরি অ্যাপ থেকেই টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। এর ফলে নির্ধারিত নিরাপত্তা তল্লাশি পয়েন্টে অনেক যাত্রীকে আর আলাদাভাবে পরিচয়পত্র বা বোর্ডিং পাস দেখাতে হবে না।   টিএসএ জানিয়েছে, গুগল ওয়ালেটই প্রথম ডিজিটাল ওয়ালেট, যেখানে সরাসরি টিএসএ প্রিচেক টাচলেস আইডি সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রযুক্তিতে যাত্রীর পরিচয় মুখাবয়ব শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে যাচাই করা হবে, যা নিরাপত্তা তল্লাশির সময় কমিয়ে আনবে এবং যাত্রীদের অভিজ্ঞতাকে আরও সহজ করবে।   নতুন সুবিধা ব্যবহার করতে হলে অংশগ্রহণকারী কোনো বিমান সংস্থায় চেক-ইন করার পর বোর্ডিং পাস গুগল ওয়ালেটে সংরক্ষণ করতে হবে। যাদের কাছে উপযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র রয়েছে, তারা অ্যাপে “Get Started” অপশনের মাধ্যমে টাচলেস আইডি সেবায় নিবন্ধন করতে পারবেন। নিবন্ধনের সময় টিএসএর সঙ্গে ডিজিটাল পরিচয়পত্র ও বোর্ডিং পাসের তথ্য ভাগাভাগির সম্মতি দিতে হবে। এরপর গুগল ওয়ালেটে নিবন্ধন নিশ্চিত হওয়ার বার্তা এবং বোর্ডিং পাসে টাচলেস আইডি চিহ্ন যুক্ত হবে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫টি বিমানবন্দরে এই সেবা চালু রয়েছে। টিএসএ জানিয়েছে, টিএসএ প্রিচেকে অংশগ্রহণকারী ১০০টিরও বেশি বিমান সংস্থার যোগ্য যাত্রীরা এসব বিমানবন্দরে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।   টিএসএর আধুনিকায়ন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত প্রধান উদ্ভাবন কর্মকর্তা শেলু প্যাটেল বলেন, উন্নত প্রযুক্তি ও কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে টিএসএ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গুগলের সঙ্গে এই সহযোগিতা বিশ্বস্ত টিএসএ প্রিচেক সদস্যদের জন্য বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত ও নির্বিঘ্ন করবে।   অন্যদিকে, গুগলের কনজিউমার পেমেন্টস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পি. জে. লিনারডুচি বলেন, গুগল ওয়ালেটের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও নিরাপদ করতে পেরে তারা আনন্দিত। ব্যস্ত গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ মৌসুমের আগে এই সেবা চালু হওয়ায় বিপুলসংখ্যক যাত্রী উপকৃত হবেন বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।   টিএসএ আরও জানিয়েছে, যাত্রীরা চাইলে আগের মতোই আলাস্কা, আমেরিকান, ডেল্টা, হাওয়াইয়ান, সাউথওয়েস্ট ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের প্রোফাইলে বৈধ পাসপোর্ট সংরক্ষণ করে পৃথকভাবে টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল পরিচয় যাচাই প্রযুক্তির সম্প্রসারণ যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার পাশাপাশি যাত্রীদের অপেক্ষার সময় কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তবে টিএসএ স্পষ্ট করেছে, টাচলেস আইডি সুবিধা ব্যবহার করলেও যাত্রীদের ভ্রমণের সময় বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত, কারণ প্রয়োজনে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তা দেখতে চাইতে পারেন।

ঢাকায় আইভ্যাকের অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী । ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশিদের জন্য আবার চালু হচ্ছে ভারতের ট্যুরিস্ট ভিসা

প্রায় দুই বছর পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য আবারও ট্যুরিস্ট ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছে ভারত। আগামী ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য এই ভিসা সুবিধা পুনরায় চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী।   বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ঢাকায় ইন্ডিয়ান ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টার (আইভ্যাক)-এর এক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষণা দেন।   ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা কার্যক্রম স্থগিত করে ভারত। এরপর থেকে সীমিত পরিসরে চিকিৎসা ও বাণিজ্যিক ভিসা চালু থাকলেও পর্যটন ভিসা দেওয়া বন্ধ ছিল।   সম্প্রতি দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয় নয়াদিল্লি। নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য তিনি গত ১২ জুন ঢাকায় পৌঁছান।   বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয়পত্র পেশ করেন তিনি। পরে আইভ্যাকের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য ট্যুরিস্ট ভিসা পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন।   ভারতের এই সিদ্ধান্তের ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা ও পারিবারিক প্রয়োজনে যাতায়াতের পাশাপাশি বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্য দেশটিতে ভ্রমণের সুযোগ আবারও উন্মুক্ত হচ্ছে।

News stories

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা হামাসের
ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইরানের ভূমিকার প্রশংসা হামাসের, আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৯:২

ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে ইরানের দীর্ঘদিনের অবস্থান ও সমর্থনের প্রশংসা করেছে ফিলিস্তিনের ইসলামি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। সংগঠনটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ইরানের কূটনৈতিক যোগাযোগের সাম্প্রতিক ধারাবাহিকতায় এই অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে।   বুধবার হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বাসেম নাইম হামাস নেতৃত্বের পক্ষ থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতি শুভেচ্ছা বার্তা পৌঁছে দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।   আলোচনায় বাসেম নাইম যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক সমঝোতায় পৌঁছানোর জন্য তেহরানকে অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের দৃঢ় অবস্থান এবং প্রতিরোধমূলক ভূমিকাকেও তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।   ফিলিস্তিন প্রশ্নে ইরানের ধারাবাহিক নীতিগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে বাসেম নাইম বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকারের পক্ষে ইরানের যে অবস্থান, তা এই অঞ্চলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। তার মতে, এই সমর্থন ফিলিস্তিনিদের সংগ্রামে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করছে।   অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের বৈধ জাতীয় অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান তাদের ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান অব্যাহত রাখবে।   আরাঘচি আরও জানান, গাজা উপত্যকায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক অভিযান, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং ক্রমাবনতিশীল মানবিক পরিস্থিতির বিষয়টি ইরান নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরাম, মধ্যস্থতাকারী দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় তুলে ধরছে।   তিনি ফিলিস্তিনিদের পক্ষে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার মধ্যে ইরান ও হামাসের এই ধরনের কূটনৈতিক যোগাযোগ আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করছে। একই সঙ্গে গাজা পরিস্থিতি এবং ফিলিস্তিন প্রশ্নে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টাও এতে আরও জোরালো হতে পারে।

৩৯ সেকেন্ডে জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা
৩৯ সেকেন্ডে জোড়া ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলা, প্রাণহানি বেড়ে ১৬৪
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৮:৪৫

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা ভয়াবহ এক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এবং ভবন ধসে পড়ে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬৪ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার মানুষ। আশঙ্কা করা হচ্ছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।   দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানান, অনেক দুর্গম এলাকায় এখনও উদ্ধার কার্যক্রম পুরোপুরি পৌঁছাতে পারেনি। ফলে ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষ আটকে থাকার শঙ্কা রয়েছে। ভূমিকম্পের পরপরই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে এবং সেনাবাহিনী, দমকল বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবীরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন।   মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ২। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ইয়ারাকুয়ি অঙ্গরাজ্যের সান ফেলিপে এলাকা। প্রথম কম্পনের মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পর আরও শক্তিশালী দ্বিতীয় ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার মাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৫। এত অল্প ব্যবধানে দুটি শক্তিশালী কম্পন আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বেড়ে যায়।   রাজধানী কারাকাসেও এই ভূমিকম্পের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে জরুরি সেবা কার্যক্রম পরিচালনায়ও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।   ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষের আর্তনাদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাগরিকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভবন দ্রুত ত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।   প্রধান ভূমিকম্পের পর থেকে দেশজুড়ে ২০টিরও বেশি আফটারশক অনুভূত হয়েছে। এতে নতুন করে ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য হাজারো মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা মাঠ, সড়ক ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেনেজুয়েলা ক্যারিবীয় ও দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় অঞ্চলটি ভূমিকম্পপ্রবণ। ইউএসজিএসের প্রাথমিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি অগভীর ‘স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্টিং’-এর কারণে সংঘটিত হয়েছে, যেখানে ভূত্বকের দুটি অংশ অনুভূমিকভাবে দ্রুত সরে গিয়ে তীব্র কম্পন সৃষ্টি করে।   ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলীয় অঞ্চলগুলো। লা গুয়াইরা, আরাগুয়া, কারাবোবো ও ফ্যালকন এলাকায় বহু বাড়িঘর, সড়ক এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক স্থানে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধারকাজ পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।   স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, প্রথম কম্পনের পরই অনেকে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। কিন্তু দ্বিতীয় ও আরও শক্তিশালী ভূমিকম্প পরিস্থিতিকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যায়। আতঙ্কে অনেকে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নেন।   বিশ্লেষকরা বলছেন, এই দুর্যোগ শুধু একটি প্রাকৃতিক বিপর্যয় নয়, বরং ভেনেজুয়েলার জন্য বড় ধরনের মানবিক সংকটে রূপ নিয়েছে। ব্যাপক প্রাণহানি, অবকাঠামোগত ক্ষতি এবং চলমান আফটারশকের ঝুঁকি দেশটির পুনর্বাসন প্রক্রিয়াকে দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।   এদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে। উদ্ধার ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এখন ভেনেজুয়েলার জন্য সবচেয়ে জরুরি হয়ে উঠেছে।  

আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভ দমনে খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ, সংকটে সাধারণ মানুষ
আজাদ কাশ্মিরে বিক্ষোভ দমনে খাদ্য-জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ, সংকটে সাধারণ মানুষ
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৮:২৪

পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মিরে চলমান বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। বিক্ষোভের তীব্রতা কমাতে অঞ্চলটিতে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রবেশ কার্যত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপি। বিবিসি উর্দু ও পাকিস্তানের প্রভাবশালী দৈনিক ডনের প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।   স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজার, মুদি দোকান, ফার্মেসি ও পেট্রোল পাম্পগুলোতে প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রাজধানী মুজাফফরাবাদের বাসিন্দারা খাদ্য ও জ্বালানির জন্য পার্শ্ববর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। একইভাবে পুঞ্চ, রাওয়ালাকোট, বাঘ ও নীলম উপত্যকার মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করছেন রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদ থেকে।   পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাংবাদিকদের প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অধিকাংশ এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ বা অত্যন্ত ধীরগতির হয়ে পড়েছে, যার ফলে তথ্যপ্রবাহেও সৃষ্টি হয়েছে বাধা।   ঐতিহাসিকভাবে সংবেদনশীল এই অঞ্চলটি ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে আজাদ কাশ্মির ও গিলগিট-বাল্টিস্তান পাকিস্তানের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে পরিচালিত হয়, যেখানে পৃথক আইনসভা রয়েছে। আজাদ কাশ্মিরের আইনসভায় মোট ৪৫টি আসন থাকলেও এর একটি অংশ উদ্বাস্তুদের জন্য সংরক্ষিত।   সম্প্রতি সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা বাতিল এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির দাবিতে ৫ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করে স্থানীয় রাজনৈতিক জোট জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি (জেএএকে)। ৯ জুন ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে আন্দোলন সহিংস রূপ নেয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।   এএফপির আগের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল, গত দুই সপ্তাহে সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ৫১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সংবাদমাধ্যম ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণের কারণে এরপরের পরিস্থিতি সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।   বাসিন্দাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে চরম দুর্ভোগের চিত্র। নীলম জেলার আলিফ দীন বিবিসি উর্দুকে বলেন, রেশন দোকানে টাকা জমা থাকলেও গত ১৫ দিন ধরে তিনি আটা পাচ্ছেন না। খোলা বাজারে পাওয়া গেলেও দাম এত বেশি যে তা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। অন্যদিকে পুঞ্চ জেলার এক বাসিন্দা নাভিদ জানান, রাওয়ালপিন্ডি থেকে খাদ্যসামগ্রী কিনে ফেরার পথে নিরাপত্তা বাহিনী তার পণ্য জব্দ করে নেয়। পরিবারের প্রয়োজনের কথা জানিয়ে অনুরোধ করলেও তা ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আজাদ কাশ্মিরের প্রবেশপথে খাদ্য ও নিত্যপণ্যবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি দাঁড়িয়ে থাকলেও সেগুলো ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।   এ বিষয়ে ডনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, রক্তপাত ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার এ কৌশল নিয়েছে। তার দাবি, জরুরি পণ্যের সরবরাহ ব্যাহত হলে বিক্ষোভের তীব্রতা স্বাভাবিকভাবেই কমে আসবে।   তবে আন্দোলনকারীরা পিছু হটার কোনো ইঙ্গিত দিচ্ছেন না। জেএএকের নেতারা জানিয়েছেন, তারা দাবি আদায়ে আরও জোরালো কর্মসূচি নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে প্রায় এক লাখ মানুষ নিয়ে রাওয়ালাকোট থেকে রাজধানী মুজাফফরাবাদ পর্যন্ত লংমার্চ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।   সামগ্রিক পরিস্থিতিতে আজাদ কাশ্মিরে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে। বিক্ষোভ সাময়িকভাবে স্তিমিত হলেও কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা এখন চরম চাপে রয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত
মুর্শিদাবাদ সীমান্তে বিএসএফ সদস্য নিহত, একই দিনে নদীতে নৌকায় আঘাতে আরও ৪ জনের মৃত্যু
কলকাতা প্রতিনিধি প্রকাশ: জুন ২৫, ২০২৬ ৭:২৫

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দায়িত্ব পালনকালে বজ্রপাতে এক সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   নিহত সদস্যের নাম বিনীত কুমার দুবে (৪৬)। তিনি বিএসএফের ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের হেড কনস্টেবল ছিলেন। তার বাড়ি উত্তর প্রদেশের কান্নৌজ জেলায়।   বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর মহকুমার বাবুরা ঘাট সীমান্ত চৌকিতে দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ওই সময় এলাকায় প্রবল বজ্রঝড়, ভারী বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইছিল। মিঠিপুর এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন জিরো লাইনের কাছে খোলা আকাশের নিচে টহল দেওয়ার সময় হঠাৎ বজ্রপাত তার ওপর আঘাত হানে।   ঘটনার পরপরই সহকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মিঠিপুর ক্যাম্পে নিয়ে যান। সেখান থেকে তাকে জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   এদিকে একই দিনে মুর্শিদাবাদের ধুলিয়ান এলাকায় বজ্রপাতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, গঙ্গা নদী পারাপারের সময় নৌকায় থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে তারা প্রাণ হারান। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।   সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বর্ষা মৌসুমে বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টির প্রবণতা বেড়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ও নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা ঝড়-বৃষ্টির সময় খোলা স্থানে অবস্থান না করা, গাছের নিচে আশ্রয় না নেওয়া এবং জলাশয় বা নদীতে অবস্থান থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকা ও নদীপথে চলাচলকারী মানুষদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।   ঘটনাগুলোতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Follow us

Trending

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

এপ্রিল ২, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
587 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
496 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
592 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
445 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়