Live update news
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ও অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধ করা যাবে।   সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্মে কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভর্তি প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধার চাহিদা বাড়ছিল।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষা ব্যয় বহনকারী ব্যক্তি বা অভিভাবকের নামে এসব আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করা যাবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শিক্ষা-সংক্রান্ত এসব কার্ড লেনদেনকে বিদ্যমান ভ্রমণ কোটার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করবে।   তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে কার্ডের মাধ্যমে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়ই পরিশোধ করা হচ্ছে।   এ ছাড়া প্রতিটি লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত ‘পারপাস কোড’ ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন করতে হবে।   নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে টিউশন ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

১ ঘন্টা Ago
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ খুলে দিতে তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত সামনে আনায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর মতো শর্তও সামনে এসেছে।    ইরানের অবস্থান হলো, শুধু ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বৃহত্তর মার্কিন-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবেই জলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ফলে এর কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল, গ্যাস ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক করা ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো তিনি ইরানের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, অতীতে ইরানের কর্মকাণ্ডে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   ফলে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ চাইছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন বলছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বদলে ইরানেরই দায় স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।   এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের দাবির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এই অর্থের কাঠামো ও কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জলপথটি পুনরায় চালু করার শর্ত এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের অন্তত এক পক্ষকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হতে পারে।   এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এখন শুধু সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   একদিকে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্তে অনড়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের এসব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো—তিনটি বিষয়ই এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের একাধিক শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।  

২ ঘন্টা Ago
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প

গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও “খুব ভালো” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন গাজা যুদ্ধ বন্ধে তার প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিকল্পনা মেনে নেবে না।    ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবটি গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে একটি নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি নিয়ে হামাস ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে।    এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রকাশ্য মতবিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প নিজে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সম্পর্ককে “খুব ভালো” বলে বর্ণনা করেছেন।    এর আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তবে গাজায় যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, ইসরায়েলি সেনা কখন ও কোথা থেকে সরে যাবে এবং হামাসের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।   বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের আগে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সম্মতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে আপাতত এই মতপার্থক্যকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় সংকট হিসেবে দেখানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলেই বার্তা দিয়েছেন।   ফলে এখন মূল প্রশ্ন, গাজা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই মতপার্থক্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলবে। নেতানিয়াহু হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, আর ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   অর্থাৎ, সম্পর্ক ভালো থাকার দাবি করলেও গাজা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানের পার্থক্য এখন আর গোপন নেই। আগামী দিনগুলোতে এই মতপার্থক্য দুই নেতার সম্পর্ক এবং গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সমাধানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজরে।

২ ঘন্টা Ago
গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা
গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার ফাওজি মানসুরি গাড়িতে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।   সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লিবিয়ার বেঙ্গাজি শহরের হাওয়ারি এলাকায় নিজ বাড়ির বাইরে তার গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হলে তিনি নিহত হন। বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা।   নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মানসুরি নিহত হন। তবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।   বিস্ফোরণে কী ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়েও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।   এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলার উদ্দেশ্যও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।   লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে এলএনএ খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী সামরিক কাঠামো হিসেবে সক্রিয়। বেঙ্গাজি এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি।   সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা পূর্ব লিবিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

২ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি বিদেশির ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র, আরও কঠোর হচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি

অপরাধ, জালিয়াতি, যৌন নির্যাতন, যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান এবং অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের মতো অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সোমবার (১০ আগস্ট) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) এ তথ্য জানিয়েছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে, এমন বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত, তদন্ত এবং তাদের ভিসা বাতিলের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।   বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার, জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার আহ্বান জানানো কিংবা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার মতো ঘটনায় ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের হাতে থাকা সব ধরনের আইনি উপায় ব্যবহার করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।   স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, বাতিল হওয়া অধিকাংশ ভিসাধারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন অপরাধসংক্রান্ত ঘটনার মাধ্যমে যুক্ত হন। এসব অপরাধের মধ্যে হামলা, মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং মাদক-সম্পর্কিত অপরাধ সবচেয়ে বেশি ছিল।   এ ছাড়া জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ, যৌন নিপীড়ন, শিশু নির্যাতন, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এবং অবৈধ ‘বার্থ ট্যুরিজম’ বা সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগেও অনেকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে।   উদাহরণ হিসেবে স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, শিক্ষকতা করতে যুক্তরাষ্ট্রে এসে এক শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক বিদেশি নাগরিকের ভিসা বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে কোটি কোটি ডলার প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য জাল করার অভিযোগে অভিযুক্ত একজনের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।   এ ছাড়া গত বছর রক্ষণশীল ভাষ্যকার চার্লি কার্ক হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্যে উদযাপন করেছিলেন এমন কয়েকজন বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে বলে জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্ট। অপ্রাপ্তবয়স্ক একজনকে মানবপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত আরেক বিদেশি নাগরিকের ভিসাও বাতিল করা হয়েছে।   সরকার আরও জানায়, সন্তানকে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম দিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত তথাকথিত ‘বার্থ ট্যুরিজম’ চক্রের সঙ্গে জড়িত ১০০ জনেরও বেশি ব্যক্তির ভিসাও বাতিল করা হয়েছে। জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের এই নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে ট্রাম্প প্রশাসন বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত নিয়ে গেছে।   ভিসা বাতিলের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতিতেও একাধিক পরিবর্তন এনেছে। গত মাসের শেষ দিকে স্টেট ডিপার্টমেন্ট একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিকে স্থায়ী করে, যার আওতায় মূলত আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিকসহ ৫০টি দেশের আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু ধরনের মার্কিন ভিসার জন্য জামানত জমা দিতে হবে। সরকারি নোটিশ অনুযায়ী, এই জামানতের পরিমাণ সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত হতে পারে।   ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত নোটিশে বলা হয়, গত এক দশকের বেশি সময়ের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক লাখ অ-অভিবাসী দর্শনার্থী তাদের ভিসার শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেননি।   এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি আরেকটি নিয়ম চূড়ান্ত করেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা ফেডারেল সরকারের বিশেষ অনুমোদন ছাড়া চার বছরের বেশি সময় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না।   এ বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সচিব মার্কওয়েন মুলিন বলেন, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এখন দেশের ভেতরে থাকা বিদেশি নাগরিকদের আরও কার্যকরভাবে যাচাই, তদারকি এবং পর্যবেক্ষণ করতে পারবে।   একই ঘোষণায় হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ জানায়, গণমাধ্যম ভিসাধারী বিদেশি সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সর্বোচ্চ মেয়াদ ২৪০ দিনে নামিয়ে আনা হয়েছে। আর চীনা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে একবারে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের জন্য অবস্থানের অনুমতি দেওয়া হবে।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এসব পদক্ষেপ জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার এবং অভিবাসন ব্যবস্থার অপব্যবহার রোধে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর আগে এমন নীতির সমালোচনা করে বলেছে, কঠোর বিধিনিষেধ বৈধ আবেদনকারী ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১০, ২০২৬ ২১:৬
নিউইয়র্কের যে শহরে মাত্র ৮৭ হাজার ডলারে মিলছে বাড়ি, তবু কেন মানুষ ছেড়ে যাচ্ছে শহরটি?

নিউইয়র্কের আপস্টেটের শহর ইউটিকায় যেন চলছে নতুন বাসিন্দা খোঁজার এক মরিয়া চেষ্টা। নিউইয়র্ক সিটির আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের বিপরীতে এই শহরটি নীরবে রাজ্যের অন্যতম সাশ্রয়ী আবাসন বাজারে পরিণত হয়েছে। একাধিক মার্কেট ট্র্যাকারের তথ্য অনুযায়ী, এলাকাভেদে এখানকার একেকটি বাড়ির গড় মূল্য মাত্র ৮৭ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৭ হাজার ডলারের মধ্যে। মাসিক ভাড়াও শুরু হয় মাত্র ৯০০ ডলার থেকে। সামগ্রিকভাবে নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে ইউটিকার জীবনযাত্রার ব্যয় প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ শতাংশ কম।   নিউইয়র্ক সিটির লাগামহীন ব্যয়ের কারণে যারা শহর ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন, তাদের কাছে এই পরিসংখ্যানকে স্বপ্নের মতো মনে হতে পারে। নিউইয়র্ক সিটি থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এই শহরে জীবনযাত্রার খরচ এত কম হওয়া সত্ত্বেও একটি বড় প্রশ্ন থেকেই যায়—কেন এই শহরের জনসংখ্যা ক্রমশ কমছে?   জিলো (Zillow)-এর তথ্যমতে, গত এক বছরে ইউটিকার বাড়ির দাম প্রায় ৯ শতাংশ বাড়লেও এখানকার একটি বাড়ির গড় দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪১২ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় পর্যায়ে একটি বাড়ির গড় মূল্য যেখানে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ডলার, সেখানে ইউটিকার এই দামকে নিতান্তই নগণ্য বলা চলে।   শহরের আবাসন বাজারের এই সস্তা দরের বেশ কিছু বাস্তব উদাহরণ রয়েছে। স্প্রিং স্ট্রিট ওয়েস্টে অবস্থিত পাঁচ বেডরুম ও এক বাথরুমের একটি সিঙ্গেল-ফ্যামিলি বাড়ির তালিকাভুক্ত মূল্য মাত্র ৮৯ হাজার ৯০০ ডলার। এছাড়া তিন বেডরুমের একটি বাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯৯ হাজার ৯০০ ডলারে। শহরের একটু দামি এলাকার কথা বিবেচনা করলেও, মোহক স্ট্রিটে ২ হাজার ৫৩২ স্কয়ার ফুটের পাঁচ বেডরুম ও আড়াই বাথরুমের একটি বাড়ির দাম হাঁকা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ ডলার।   কিন্তু মুদ্রার উল্টোপিঠের চিত্রটা বেশ হতাশাজনক। এত সস্তায় আবাসন সুবিধা পাওয়ার পরও মানুষ ইউটিকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন। বর্তমানে শহরটির জনসংখ্যা বছরে প্রায় ০.৭৪ শতাংশ হারে কমছে। ২০২০ সালের আদমশুমারির পর থেকে শহরটির জনসংখ্যা ৪ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। নিউইয়র্ক সিটির বাইরের আপস্টেট মিউনিসিপ্যালিটিগুলোর মধ্যে ইউটিকা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ স্থানান্তর হয়েছে, যার সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহক ভ্যালির এক প্রবীণ রিয়েল এস্টেট এজেন্ট এই পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "এটি হয়তো আপনার কেনা সবচেয়ে সস্তা বাড়ি হবে, কিন্তু আপনার সন্তানদের এখানে থাকার জন্য রাজি করানোটা হবে সবচেয়ে কঠিন কাজ।" সাউদার্ন টিয়ার বা ক্যাপিটাল রিজিয়নের সাথে ইউটিকার তুলনা করে সম্ভাব্য ক্রেতাদের কাছে তিনি পরিস্থিতিটি এভাবেই তুলে ধরেন। তার মতে, "এখানে বাড়ির দাম কোনো সমস্যা নয়। দাম ছাড়া বাকি সবকিছুই আসলে সমস্যা।"   শহরবাসীর এই প্রস্থানের শেকড় লুকিয়ে আছে কয়েক দশক আগের ইতিহাসে। ‘রাস্ট বেল্ট’ এলাকার অন্যান্য শহরের মতো ইউটিকাকেও শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার চরম খেসারত দিতে হচ্ছে। জেনারেল ইলেকট্রিক (GE) এবং লকহিড মার্টিনের মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কারখানা বন্ধ করে শহরতলিতে চলে যাওয়ার ফলে ইউটিকা তার মূল অর্থনৈতিক শক্তি হারিয়ে ফেলে। বিপুল সংখ্যক চাকরি হারানোর কারণে শহরের কর রাজস্ব কমে যায় এবং অনেক বাসিন্দা চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন।   ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইউটিকার মানুষের ব্যক্তিগত আয়ের মধ্যমা (মিডিয়ান ইনকাম) ছিল মাত্র ৩০, ৭৮৫ ডলার, যেখানে একটি পরিবারের আয়ের মধ্যমা প্রায় ৫২,০০০ ডলার; যা নিউইয়র্ক রাজ্যের গড়ের চেয়ে অনেক নিচে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগের (Department of Labor) তথ্যানুযায়ী, এই শহরের বেকারত্বের হার ৪.৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এখানকার দারিদ্র্যের হার ২৭ শতাংশেরও বেশি, যা জাতীয় গড়ের প্রায় দ্বিগুণ।   অর্থনৈতিক এই দৈন্যদশার কারণেই মূলত সস্তায় বাড়ি পাওয়ার পরও মানুষ শহর ছাড়ছেন। সম্প্রতি নিজের বাড়ি বিক্রির জন্য তালিকাভুক্ত করেছেন এমন এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "ব্রুকলিনে একটি বাড়ি কিনতে শুধু ডাউনপেমেন্ট হিসেবে যে টাকা দিতে হয়, সেই টাকায় আপনি এখানে আস্ত একটি বাড়ি পেয়ে যাবেন। কিন্তু ভাড়ায় খাটানোর জন্য বাড়ি কেনা যায়, এখানে নিজেরা থাকার কোনো কারণ কাউকে বোঝানোই এখানকার সবচেয়ে বড় সমস্যা।"

যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ খুলে দিতে তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত সামনে আনায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর মতো শর্তও সামনে এসেছে।    ইরানের অবস্থান হলো, শুধু ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বৃহত্তর মার্কিন-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবেই জলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ফলে এর কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল, গ্যাস ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক করা ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো তিনি ইরানের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, অতীতে ইরানের কর্মকাণ্ডে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   ফলে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ চাইছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন বলছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বদলে ইরানেরই দায় স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।   এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের দাবির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এই অর্থের কাঠামো ও কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জলপথটি পুনরায় চালু করার শর্ত এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের অন্তত এক পক্ষকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হতে পারে।   এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এখন শুধু সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   একদিকে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্তে অনড়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের এসব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো—তিনটি বিষয়ই এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের একাধিক শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।  

বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক
বিদেশে পড়াশোনার খরচ আন্তর্জাতিক কার্ডে পরিশোধের সুযোগ দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বিদেশে পড়াশোনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক লেনদেন আরও সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে এডি ব্যাংকের মাধ্যমে ইস্যু করা আন্তর্জাতিক ডেবিট, ক্রেডিট ও প্রিপেইড কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ও অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয় পরিশোধ করা যাবে।   সোমবার (১০ আগস্ট) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্মে কার্ডের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে অনেক বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ভর্তি প্ল্যাটফর্ম আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করায় শিক্ষার্থীদের এমন সুবিধার চাহিদা বাড়ছিল।   প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর নিজের নামে অথবা তার শিক্ষা ব্যয় বহনকারী ব্যক্তি বা অভিভাবকের নামে এসব আন্তর্জাতিক কার্ড ইস্যু করা যাবে। কার্ড ব্যবহার করে বিদেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের টিউশন ফি ছাড়াও অনুমোদিত অন্যান্য শিক্ষা-সংক্রান্ত খরচ পরিশোধ করা যাবে।   বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, শিক্ষা-সংক্রান্ত এসব কার্ড লেনদেনকে বিদ্যমান ভ্রমণ কোটার বাইরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে। ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য অনুমোদিত শিক্ষা ব্যয় পরিশোধের ক্ষেত্রে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত সুবিধা তৈরি করবে।   তবে এই সুবিধা ব্যবহারের ক্ষেত্রে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনসংক্রান্ত প্রচলিত আইন, নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা অনুসরণ করতে হবে। এডি ব্যাংকগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে যে কার্ডের মাধ্যমে শুধু অনুমোদিত শিক্ষা-সংক্রান্ত ব্যয়ই পরিশোধ করা হচ্ছে।   এ ছাড়া প্রতিটি লেনদেনের যথাযথ রেকর্ড সংরক্ষণ এবং নির্ধারিত ‘পারপাস কোড’ ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে লেনদেনের তথ্য প্রতিবেদন করতে হবে।   নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে পড়াশোনার জন্য বাংলাদেশ থেকে টিউশন ফি পাঠানোর প্রক্রিয়া কিছুটা সহজ ও দ্রুত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় বা আন্তর্জাতিক ভর্তি প্ল্যাটফর্ম সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্ডের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণ করে, সেসব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা আগের তুলনায় সহজে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন।

৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় মাদক সেবনের অভিযোগে অভিযুক্ত উইসকনসিনের তরুণী মা। ছবি: সংগৃহীত
মাদক সেবনের পর নবজাতককে বুকের দুধ, ৩ সপ্তাহের শিশুর মৃত্যু; যুক্তরাষ্ট্রে মায়ের বিরুদ্ধে মামলা

বুকের দুধ খাওয়ানোর কয়েকদিন আগে মেথামফেটামিন (মেথ) সেবনের কথা স্বীকার করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যের এক তরুণী মা। পরে মাত্র তিন সপ্তাহ বয়সী তার শিশুপুত্রের মৃত্যু হয়। ময়নাতদন্তে শিশুটির মৃত্যুর কারণ হিসেবে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মা ও তার সঙ্গীর বিরুদ্ধে গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ আনা হয়েছে।   মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে এবং পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জেসি লি কিটেলসন (২৩) গত ১৪ মার্চ উইসকনসিনের ট্রিমবেল এলাকার নিজ বাড়িতে জরুরি সেবার জন্য ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা দেখতে পান, তিন সপ্তাহ বয়সী শিশুটির নাড়ির স্পন্দন নেই, সে শ্বাস নিচ্ছে না এবং তার শরীর নীলচে হয়ে গেছে।   জরুরি চিকিৎসাকর্মীরা ঘটনাস্থলেই শিশুটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, শিশুটির মৃত্যু হয়েছে মেথামফেটামিনজনিত বিষক্রিয়ায়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে কিটেলসন পুলিশকে জানান, তিনি গর্ভাবস্থার বিভিন্ন সময়ে মেথ সেবন করেছিলেন। এছাড়া সন্তানের মৃত্যুর তিন দিন আগেও তিনি এই মাদক গ্রহণ করেন।   আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কিটেলসন তার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতেন। তিনি দাবি করেন, মাদক সেবনের পর কয়েকদিন দুধ বের করে ফেলে দিয়েছিলেন (পাম্প অ্যান্ড ডাম্প), এরপর আবার শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানো শুরু করেন। তদন্তকারীরা আরও জানান, কিটেলসন গুগলে খোঁজ করেছিলেন, মেথামফেটামিন কতদিন পর্যন্ত বুকের দুধে থাকতে পারে। তবে পুলিশকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, তার সন্তান কীভাবে মাদকের সংস্পর্শে এসেছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি।   এদিকে, কিটেলসনের সঙ্গী টেইলর জে ওলসন (২৬) পুলিশকে জানান, তিনিই দুজনের জন্য মেথামফেটামিন সংগ্রহ করেছিলেন। পিয়ার্স কাউন্টি কর্তৃপক্ষ কিটেলসন ও ওলসনের বিরুদ্ধে প্রথম-ডিগ্রির বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড এবং শিশুর প্রতি দীর্ঘমেয়াদি অবহেলার অভিযোগ এনেছে। এসব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ৬০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথিতে তাদের কোনো আইনজীবীর তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। আগামী ২ সেপ্টেম্বর পিয়ার্স কাউন্টি আদালতে এ মামলার পরবর্তী শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আইওয়ায় ভুল বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বার্তার কারণে উদ্ধার হন তিন ঘণ্টার বেশি কাদায় আটকে থাকা এক নারী। ছবি: সংগৃহীত
নির্জন এলাকায় ৩ ঘণ্টা কাদায় পড়েছিলেন বৃদ্ধা, অলৌকিকভাবে বাঁচাল একটি 'ভুল বার্তা'

যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যে এক অভাবনীয় ঘটনা ঘটেছে, যেখানে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের একটি 'ভুল বার্তা' ৭৬ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার জীবন বাঁচিয়েছে। ভাঙা পা নিয়ে বাড়ির সামনের রাস্তায় তিন ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে কাদায় আটকে ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ওই ভুল বার্তার সূত্র ধরেই সেখানে পৌঁছান বিদ্যুৎকর্মীরা এবং তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করেন।   আইওয়ার বুন কাউন্টির একটি নির্জন গ্রামীণ এলাকায় বসবাস করেন পেনি লামার। গত ১০ জুন রাতে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি হয়। পরদিন সকালে তিনি তার পোষা কুকুরগুলোকে বাইরে বের করতে এবং ঝড়ে বাড়ির কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা দেখতে বাইরে যান। ডায়াবেটিসের রোগী পেনি বাইরে যাওয়ার ঠিক আগেই ইনসুলিন নিয়েছিলেন।   স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিসিআই এবং সিএনএন নিউজসোর্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পেনি লামার বলেন, বাড়ির সামনের রাস্তায় বা ড্রাইভওয়েতে বিশাল এক কাদার স্তূপ ছিল। সেখানে পা পিছলে তিনি মারাত্মকভাবে পড়ে যান। পতন এতটাই আকস্মিক ছিল যে, তার পা শরীরের নিচে বেঁকে যায় এবং তিনি আর উঠতে পারেননি।   পেনি লামারের স্বামী সে সময় কানাডায় ভ্রমণ করছিলেন। আর যেহেতু তারা একটি প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকায় থাকেন, তাই আশেপাশে এমন কোনো প্রতিবেশীও ছিলেন না, যিনি তাকে দেখতে পাবেন বা তার আর্তনাদ শুনতে পাবেন। উঠে দাঁড়াতে বা একটু নড়াচড়াও করতে পারছিলেন না তিনি। এভাবেই কাদায় শুয়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় পার হয়ে যায়। পেনি বলেন, "সত্যি বলতে কী, আমি তখন ভাবছিলাম যে এভাবেই এখানে পড়ে থেকে আমাকে মরতে হবে।"   কিন্তু ঠিক তখনই ঘটে এক অলৌকিক ঘটনা। মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভের একটি ট্রাক অপ্রত্যাশিতভাবে তার বাড়ির ড্রাইভওয়েতে এসে থামে। মূলত, কোম্পানির সিস্টেম থেকে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ম বা সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল যে, ওই বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কর্মীরা সেখানে গিয়েছিলেন।   তবে সেখানে পৌঁছে তারা দেখেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। বরং ড্রাইভওয়েতে মুমূর্ষু অবস্থায় পড়ে আছেন ওই বৃদ্ধা। পেনি লামারের উরুর হাড় (ফিমার) মারাত্মকভাবে ভেঙে গিয়েছিল। ইনসুলিন নেওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকায় তার রক্তে শর্করার মাত্রাও বিপজ্জনকভাবে কমে গিয়েছিল। এছাড়া অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের কারণে তিনি মারাত্মক রক্তশূন্যতায় (অ্যানিমিয়া) ভুগছিলেন। বিদ্যুৎকর্মীরা তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি সেবা নম্বর ৯১১-এ কল করেন এবং উদ্ধারকারী দল না আসা পর্যন্ত তার পাশেই অবস্থান করেন।   বর্তমানে পেনি লামার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার ক্ষতিগ্রস্ত পায়ে স্ক্রু ও রড বসিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। জীবন বাঁচানোর জন্য তিনি ওই বিদ্যুৎকর্মীদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।   নিজের বেঁচে যাওয়াকে এক অলৌকিক ঘটনা আখ্যা দিয়ে পেনি বলেন, "আমি মন থেকে বিশ্বাস করি যে সৃষ্টিকর্তা রহস্যময় উপায়ে কাজ করেন। এটি ছিল তার তেমনই এক রহস্যময় উপায় তিনিই মূলত বিদ্যুৎকর্মীদের কাছে ওই ভুল বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন।"   এদিকে, মিডল্যান্ড পাওয়ার কো-অপারেটিভ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যে কর্মীরা ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করেছেন, তাদের এই মহান কাজের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মাননা জানানো হবে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র
যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত ইরানের, হরমুজ প্রণালি নিয়ে মহাবিপদে যুক্তরাষ্ট্র
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৪:০

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের অবসান ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করা নিয়ে নতুন করে জটিলতা তৈরি হয়েছে। হরমুজ খুলে দিতে তেহরান যুদ্ধের ক্ষতিপূরণসহ একাধিক শর্ত সামনে আনায় সমঝোতার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।   সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা গেছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। এর পাশাপাশি মার্কিন সামরিক হুমকি ও হামলা বন্ধ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানোর মতো শর্তও সামনে এসেছে।    ইরানের অবস্থান হলো, শুধু ওমানের সঙ্গে কোনো সমঝোতা হলেই হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে না। বৃহত্তর মার্কিন-ইরান সমঝোতার অংশ হিসেবেই জলপথটি পুনরায় চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে তেহরান।   বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি। ফলে এর কার্যক্রম দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে তেল, গ্যাস ও আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। এ কারণে জলপথটি দ্রুত স্বাভাবিক করা ওয়াশিংটনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   তবে ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবিকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। উল্টো তিনি ইরানের কাছ থেকেই ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। ট্রাম্পের ভাষ্য, অতীতে ইরানের কর্মকাণ্ডে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য তেহরানকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।   ফলে দুই পক্ষের দাবির মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ইরান যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অর্থ চাইছে, আর ট্রাম্প প্রশাসন বলছে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বদলে ইরানেরই দায় স্বীকার করে অর্থ পরিশোধ করা উচিত।   এদিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণের দাবির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে এই অর্থের কাঠামো ও কীভাবে তা পরিশোধ করা হবে, সে বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।   এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হরমুজ প্রণালি নিয়ে সমঝোতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু জলপথটি পুনরায় চালু করার শর্ত এবং যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে দুই পক্ষের অবস্থান এখনও অনেক দূরে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও জানিয়েছে, সম্ভাব্য সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের অন্তত এক পক্ষকে বড় ধরনের ছাড় দিতে হতে পারে।   এ অবস্থায় হরমুজ প্রণালি এখন শুধু সামরিক সংঘাতের কেন্দ্র নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান কূটনীতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।   একদিকে তেহরান ক্ষতিপূরণ ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ একাধিক শর্তে অনড়। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ইরানের এসব দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়। ফলে যুদ্ধ বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানো—তিনটি বিষয়ই এখন পরস্পরের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে।   সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে ইরানের একাধিক শর্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা অবস্থান দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার পথকে আরও কঠিন করে তুলেছে।  

গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো
গাজা পরিকল্পনা নিয়ে মতবিরোধের মধ্যেও নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্পর্ক ‘খুব ভালো’: ট্রাম্প
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৩:৪৩

গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনও “খুব ভালো” বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   সোমবার ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন গাজা যুদ্ধ বন্ধে তার প্রশাসনের নেওয়া উদ্যোগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে প্রকাশ্য মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। নেতানিয়াহু সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত ১৫ দফা গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছেন।    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত গাজায় বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ইসরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিকল্পনা মেনে নেবে না।    ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবটি গাজায় যুদ্ধ বন্ধ, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং ধাপে ধাপে একটি নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির লক্ষ্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পরিকল্পনাটি নিয়ে হামাস ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার পরও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আপত্তি এসেছে।    এই পরিস্থিতিকে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কের ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম প্রকাশ্য মতবিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ট্রাম্প নিজে দুই নেতার সম্পর্কের অবনতি হয়েছে এমন ধারণা প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং সম্পর্ককে “খুব ভালো” বলে বর্ণনা করেছেন।    এর আগে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু গাজা যুদ্ধসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ইস্যুতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন। তবে গাজায় যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, ইসরায়েলি সেনা কখন ও কোথা থেকে সরে যাবে এবং হামাসের ভবিষ্যৎ কী হবে, এসব প্রশ্নে দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে।   বিশেষ করে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের আগে হামাসের সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণকে শর্ত হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধবিরতি ও রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইসরায়েলের সম্মতি এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।    তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে আপাতত এই মতপার্থক্যকে দুই দেশের সম্পর্কের বড় সংকট হিসেবে দেখানোর কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক ভালো রয়েছে বলেই বার্তা দিয়েছেন।   ফলে এখন মূল প্রশ্ন, গাজা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের এই মতপার্থক্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিকল্পনার বাস্তবায়নে কতটা প্রভাব ফেলবে। নেতানিয়াহু হামাসের নিরস্ত্রীকরণকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, আর ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধ বন্ধের জন্য একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক কাঠামো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে।   অর্থাৎ, সম্পর্ক ভালো থাকার দাবি করলেও গাজা নিয়ে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর অবস্থানের পার্থক্য এখন আর গোপন নেই। আগামী দিনগুলোতে এই মতপার্থক্য দুই নেতার সম্পর্ক এবং গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ সমাধানে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটিই এখন নজরে।

গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা
গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস রেখে লিবিয়ার সামরিক গোয়েন্দা প্রধানকে হত্যা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ৩:৩৯

লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় বাহিনী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার ফাওজি মানসুরি গাড়িতে বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন।   সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লিবিয়ার বেঙ্গাজি শহরের হাওয়ারি এলাকায় নিজ বাড়ির বাইরে তার গাড়িতে বিস্ফোরক ডিভাইস বিস্ফোরিত হলে তিনি নিহত হন। বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন দুই নিরাপত্তা কর্মকর্তা।   নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মানসুরি নিহত হন। তবে হামলার পেছনে কারা রয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।   বিস্ফোরণে কী ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছিল, সে বিষয়েও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বিস্তারিত কোনো তথ্য দেননি।   এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। হামলার উদ্দেশ্যও তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট হয়নি।   লিবিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজনের মধ্যে রয়েছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলে এলএনএ খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন শক্তিশালী সামরিক কাঠামো হিসেবে সক্রিয়। বেঙ্গাজি এই বাহিনীর অন্যতম প্রধান ঘাঁটি।   সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে এই হামলা পূর্ব লিবিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। তবে হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানতে তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা করতে হবে।

উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট
আবারো চীনের ব্যর্থতা! উৎক্ষেপণের ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই বিস্ফোরণ চীনের স্যাটেলাইটবাহী রকেট
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১১, ২০২৬ ১:১৯

চীনের মহাকাশ কর্মসূচিতে বড় ধাক্কা এসেছে। সোমবার ১০ আগস্ট হাইনান প্রদেশের ওয়েনচাং মহাকাশ উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণের পর লং মার্চ ৭এ রকেটটি মাত্র ৮৫ সেকেন্ডের মধ্যেই আকাশে ভেঙে পড়ে। রকেটটিতে থাকা চায়নাস্যাট ৪বি যোগাযোগ উপগ্রহটিও কক্ষপথে পৌঁছাতে পারেনি।    চীনের স্থানীয় সময় রাত ৮টা ২ মিনিটে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। শুরুতে স্বাভাবিকভাবে উড্ডয়ন করলেও কিছুক্ষণ পর রকেটটির উড্ডয়নে অস্বাভাবিকতা দেখা দেয়। এরপর সেটি ভেঙে পড়ে এবং মিশনটি ব্যর্থ ঘোষণা করা হয়। চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটির কারণ খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।    লং মার্চ ৭এ চীনের মাঝারি ক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ রকেট। উচ্চ কক্ষপথে উপগ্রহ পাঠানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এবারের মিশনের লক্ষ্য ছিল চায়নাস্যাট ৪বি যোগাযোগ উপগ্রহকে কক্ষপথে স্থাপন করা। উপগ্রহটি যোগাযোগ সেবা দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    এই ব্যর্থতা লং মার্চ ৭এ রকেটের জন্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০২০ সালে প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণে ব্যর্থ হওয়ার পর রকেটটি পরবর্তী সময়ে একাধিক সফল মিশন সম্পন্ন করেছে। ২০২৬ সালের এই ঘটনার আগে এর উৎক্ষেপণ কার্যক্রমে দীর্ঘ সময় কোনো ব্যর্থতা দেখা যায়নি।    বিশেষজ্ঞদের মতে, মিশন ব্যর্থতার সঠিক কারণ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। তবে রকেটটির কোনো গুরুত্বপূর্ণ যান্ত্রিক বা ইঞ্জিনসংক্রান্ত সমস্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে একই প্রযুক্তি ব্যবহার করা অন্য রকেট উৎক্ষেপণ নিয়েও অতিরিক্ত পর্যালোচনা হতে পারে।    চীনের জন্য ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন দেশটি মহাকাশে নিজেদের সক্ষমতা দ্রুত বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ওয়েনচাং উৎক্ষেপণ কেন্দ্র থেকে নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ধরনের রকেট ও উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হচ্ছে। ফলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রকেটের ব্যর্থতা পরবর্তী কয়েকটি মিশনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা যাচাইয়ে প্রভাব ফেলতে পারে।   তবে এই ঘটনার কারণে চীনের পুরো মহাকাশ কর্মসূচি থেমে যাবে এমন কোনো তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। চীনা কর্তৃপক্ষের তদন্তের ফল এবং লং মার্চ ৭এ রকেটের পরবর্তী উৎক্ষেপণ নিয়ে সিদ্ধান্তই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.04K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
845 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
965 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
820 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়