সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত
আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাবেক বিচারকের মামলা

আইসিইর হাতে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন ও ডিউ প্রসেস নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এক ইমিগ্রেশন জজ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টের সাবেক বিচারক ক্লোয়ি ডিলন এ অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন।   ৯ সেপ্টেম্বরের পর দায়ের করা মামলায় ডিলন দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রায় তিন বছর সান ফ্রান্সিসকোতে ইমিগ্রেশন জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়ার আগে তিনি কর্মক্ষেত্রে ভালো মূল্যায়ন পেয়েছিলেন এবং হাজারো ইমিগ্রেশন মামলা পরিচালনা করেছিলেন।   ঘটনার সূত্রপাত হয় তার আদালতে হাজির হওয়া এক ব্যক্তিকে ঘিরে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কোনো অ্যাটর্নি ছাড়াই আদালতে হাজির হয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর তাকে আইসিই আটক করে। বিষয়টি জানার পর ডিলন সংশ্লিষ্ট ফাইল আবার পর্যালোচনা করেন।   ফাইল পর্যালোচনার পর ডিলনের ধারণা হয়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একা ছিলেন। ফলে তিনি সম্ভবত ফেডারেল আইনের আওতায় একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য ছিলেন। ডিলনের অভিযোগ, এমন অবস্থায় তাকে দ্রুত ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া বা expedited removal-এ নেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। তার আগে করা অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিকেশনও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবেচনার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল বলে তিনি মনে করেন।   মামলায় বলা হয়েছে, ওই ঘটনার দিনই ডিলন তার সুপারভাইজারকে ইমেইল করে বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি আইসিইর আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন এবং ডিউ প্রসেসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়। ডিলনের দাবি, তার বরখাস্তের সঙ্গে আগের ওই অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা।   ডিলনের মামলায় হুইসেলব্লোয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট, প্রথম সংশোধনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিভিন্ন সুরক্ষা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন। মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে।   তবে ডিলনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, চলমান মামলা বা কর্মীদের বিষয়ে সাধারণত তারা মন্তব্য করে না। তবে ডিলনের অভিযোগকে তারা সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ও ইমিগ্রেশন কোর্টের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে একাধিক ইমিগ্রেশন জজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদারের ওপর প্রশাসনের গুরুত্ব বেড়েছে।   আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিশেষ কিছু সুরক্ষা রয়েছে। একা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশু বা কিশোরদের জন্য অ্যাসাইলামসহ বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন রিলিফের সুযোগ থাকতে পারে এবং তাদের মামলায় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়। ফলে আইসিই কোনো আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরকে আটক করার পর তাকে কোন প্রক্রিয়ায় ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি করা যাবে, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।   ডিলনের মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। ফলে তিনি যে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন বা আইসিইর আটক বেআইনি ছিল, তা আদালত এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি। তবে অভিযোগটি ইমিগ্রেশন জজদের স্বাধীনতা, ডিউ প্রসেস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

৯ মিনিট Ago
নিথর হয়ে পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু
নিথর হয়ে পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু, পিআইসিইউতে মেলেনি কোনো ডাক্তার! ফেসবুক লাইভে স্বজনের আহাজারি

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজন। রোববার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আসিফ হাসান নামের এক যুবক দাবি করেন, হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি, অথচ শিশুটির চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।    কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে গত ১ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয়। আসিফ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিশুটির রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেছে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয় এবং কয়েক দিন এভাবেই চিকিৎসা চলতে থাকে।    আসিফের দাবি, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। এরপর তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জোর করে ভেতরে গিয়ে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন চিকিৎসককে খুঁজেও পাওয়া যায়নি।    এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাত ১২টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন আসিফ। লাইভে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, শিশুটির চিকিৎসার নামে ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। তবে বিলের বিস্তারিত খাত, শিশুটির চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।    আসিফ আরও অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক লাইভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং তাকে শাসাতে থাকেন। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে বলে জানান তিনি। তবে তার দাবি, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য কালবেলার প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন।    কালবেলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা ডা. আতিকুর রহমানের অধীনে চলছিল বলে আসিফ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। একইভাবে শিশুটির চিকিৎসার নথি, হাসপাতালের বিল এবং মৃত্যুর মেডিকেল কারণ সম্পর্কেও কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আসেনি।    ঘটনাটি সামনে আসার পর মূল প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং হাসপাতালের বিলের সঙ্গে দেওয়া চিকিৎসাসেবার যথাযথ সামঞ্জস্য ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চিকিৎসার নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চিকিৎসায় অবহেলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিষয়টি মূলত স্বজনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে।

৩৩ মিনিট Ago
মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য
“সে উধাও হয়ে আমাদের অসহায় করে গেছে”: মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য

উগান্ডার মবারারার বাসিন্দা জুলিয়েট মবাবাজি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য ট্রাভিস প্রেস্টন তাকে বিয়ে করে দুই সন্তান নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে যোগাযোগ ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছেন। সন্তান দুটির বয়স এখন ৩ ও ৭ বছর। প্রেস্টনের অবস্থান জানতে এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সহায়তার জন্য প্রকাশ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন উগান্ডার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ব্রুনো কে।   মবাবাজির দাবি, মবারারায় প্রেস্টনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যখন তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তাদের বিয়ে হয় এবং প্রায় দুই বছর তারা একসঙ্গে সংসার করেন। এই সময় তাদের দুটি সন্তান জন্ম নেয়।   মবাবাজির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেস্টনের মিশন শেষ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর ধীরে ধীরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং পরিবারের জন্য আর কোনো আর্থিক সহায়তাও পাঠান না। সন্তানদের নিয়ে একাই জীবন চালাতে গিয়ে মবাবাজি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।   বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উগান্ডার সংগীতশিল্পী ব্রুনো কে মবাবাজি ও তার সন্তানদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত উগান্ডানদের, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে প্রেস্টনকে শনাক্ত করতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে থাকা কয়েকজন উগান্ডানও এ বিষয়ে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছেন।   ব্রুনো কে একই সঙ্গে কাম্পালায় অবস্থিত ইউএস অ্যাম্বাসির সহায়তা চেয়েছেন। তার অন্যতম দাবি, মবাবাজির সন্তানরা তাদের কথিত মার্কিন বাবা থেকে কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের অধিকার পেতে পারে কি না, সেটিও যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রেস্টনের অবস্থান, অভিযোগগুলোর সত্যতা বা শিশু দুটির নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো প্রকাশ্য নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া কোনো শিশু নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করলে জন্মের সময়ই মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। মার্কিন নাগরিক বাবা বা মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুর সঙ্গে জৈবিক বা আইনগত সম্পর্ক, বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব এবং সন্তানের জন্মের আগে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক বাবা বা মায়ের শারীরিক উপস্থিতির মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। মার্কিন নাগরিক বাবা সন্তানটির পিতৃত্ব স্বীকার না করলে বা পর্যাপ্ত নথি না থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হতে পারে।    পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্বের দাবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন, মার্কিন নাগরিক বাবা বা মায়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ, বিয়ের নথি এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা শারীরিক উপস্থিতির তথ্যসহ বিভিন্ন নথি প্রয়োজন হতে পারে। পর্যাপ্ত নথি না থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণের সুযোগ রয়েছে।    এদিকে পরিবারটির তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতেও ব্রুনো কে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাবার, শিশুদের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচে সহায়তার জন্য তিনি অনলাইন লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছেন। তবে ৫ মিলিয়ন উগান্ডান শিলিং সংগ্রহের দাবিটি নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি।    মবাবাজির অভিযোগের বিষয়ে ট্রাভিস প্রেস্টনের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো একতরফা দাবি হিসেবেই রয়েছে। বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে প্রেস্টনের অবস্থান শনাক্ত হওয়া, পিতৃত্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর।

৪৩ মিনিট Ago
ফ্লোরিডার লেকল্যান্ডে জলাভূমির মধ্যে দুই শিশুকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি অভিযানে আটক হন আইজ্যাক কিনসে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পুলিশের তাড়া খেয়ে দুই শিশুকে নিয়ে কুমিরভর্তি জলাভূমিতে পালালেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনার পর পুলিশের হাত থেকে পালানোর সময় দুই ছোট শিশুকে নিয়ে ঘন জলাভূমিতে ঢুকে পড়েন ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, আইজ্যাক কিনসে নামের ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরে পুলিশের ড্রোনে তাকে শনাক্ত করা হয়। জলাভূমির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় বারবার পড়ে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুও পানিতে ডুবে যায়।   ঘটনাটি ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর ভোরে লেকল্যান্ড শহরের হাইওয়ে ৩৩ ও নর্থ কম্বি রোডের কাছে। লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি সড়ক বন্ধের চিহ্ন ও বালুর বস্তা অতিক্রম করে নির্মাণাধীন এলাকায় ঢুকে গাছের উন্মুক্ত শিকড়ের কাছে গিয়ে থেমে যায়। দুর্ঘটনাটি ছিল এক গাড়ির উল্টে যাওয়ার ঘটনা বলে পুলিশ জানিয়েছে।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটির চালককে সেখানে পায়নি। গাড়ির ভেতরে দুটি শিশুদের নিরাপত্তা আসন দেখতে পেয়ে কর্মকর্তারা আশপাশে দ্রুত তল্লাশি শুরু করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিশু দুটিও হয়তো গাড়িতে ছিল এবং চালক তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে গেছেন। তল্লাশি শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশের ড্রোনে দুর্ঘটনাস্থলের দক্ষিণ দিকে ঘন গাছপালা ও জলাভূমির মধ্যে কিনসেকে দেখা যায়। পুলিশ বলেছে, তখন তার সঙ্গে ছিল ২ বছর বয়সী একটি শিশু ও ১০ মাস বয়সী একটি শিশু। চারদিকে অন্ধকার থাকায় দুর্গম জলাভূমির মধ্য দিয়ে তাদের নিয়ে এগোতে গিয়ে কিনসে বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন।   পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জলাভূমির পানির মধ্যে চলার সময় কিনসে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। এতে দুই শিশুও কয়েকবার দাঁড়িয়ে থাকা পানিতে ডুবে যায়। একপর্যায়ে তিনি ২ বছর বয়সী শিশুটিকে রেখে ছোট শিশুটিকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের কাছে পৌঁছে দুই শিশুকেই উদ্ধার করেন। ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আলো ফেলে কিনসেকে কাছে আসতে বলতে শোনা যায়। আরেক কর্মকর্তা শিশুটিকে তার কাছ থেকে নেওয়ার সময় চিৎকার করে বলেন, “শিশুটিকে আমাকে দিন, এখনই শিশুটিকে দিন।” পরে পুলিশ সদস্যরা দুই শিশুকেই নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন এবং কিনসেকে আটক করেন।   উদ্ধারের পর দুই শিশুকে লেকল্যান্ড রিজিওনাল হেলথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিনসেকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিনসের মধ্যে মদ্যপ অবস্থার লক্ষণ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজেই মদ্যপ থাকার কথা জানান বলে পুলিশ দাবি করেছে। তার চালকের লাইসেন্সও স্থগিত ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এই ঘটনায় কিনসের বিরুদ্ধে মোট ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর এবং তিনটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে শিশুদের গুরুতর শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলার সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি অভিযোগও রয়েছে। লেকল্যান্ড পুলিশের প্রধান স্যামি টেলর বলেন, ঘটনাটি আরও ভয়াবহ পরিণতি নিতে পারত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলাভূমির পানিতে শিশুরা কয়েকবার ডুবে গিয়েছিল এবং তারা ডুবে মারা যেতে পারত। তিনি বলেন, পুলিশের ড্রোন দ্রুত ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জলাভূমিটি ছিল ঘন ও দুর্গম। ফলে সাধারণভাবে হেঁটে সেখানে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন ছিল। ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করার পর কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। তবে পুলিশ এখনো জানায়নি, কিনসের সঙ্গে থাকা দুই শিশুর সঙ্গে তার ঠিক কী সম্পর্ক এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি কেন সড়ক বন্ধের চিহ্ন অতিক্রম করেছিল। এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।   লেকল্যান্ড পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ঘটনাটি দুই শিশুর জীবনহানির মতো পরিণতিতে গড়াতে পারত। দ্রুত ড্রোন মোতায়েন, কর্মকর্তাদের ধৈর্য এবং সমন্বিত তৎপরতার কারণে শিশু দুটিকে দুর্গম এলাকা থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ একই সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও উল্লেখ করেছে।   সূত্র: লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগ ও ফক্স ১৩ নিউজ।

৪৭ মিনিট Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজ করতে গুনতে হতে পারে ১ লাখ ডলার, ওপিটি ফি বাড়ানোর পথে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা শেষে কাজের সুযোগ পাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (OPT) প্রোগ্রামের ফি এক লাখ ডলারে উন্নীত করার যে প্রস্তাব ট্রাম্প প্রশাসন দিয়েছিল, তা হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনা পর্যায় পার করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে প্রস্তাবটি বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল, যা যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয়সহ বিপুল সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থীর মাঝে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।   ওপিটি হলো এফ-১ (F-1) ভিসাধারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এমন একটি প্রোগ্রাম, যার মাধ্যমে তারা পড়াশোনা শেষ করার পর নিজেদের বিষয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত কোনো ক্ষেত্রে অস্থায়ীভাবে কাজ করার সুযোগ পান। বিদেশি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের চাকরির বাজারে অভিজ্ঞতা অর্জন এবং পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।   প্রস্তাবিত এই ফি কার্যকর হলে ওপিটি প্রোগ্রামের ব্যয় সাধারণের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাবে। বিশেষ করে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই ভারতীয় এবং তারাই গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী এই কর্মসংস্থান সুবিধার অন্যতম প্রধান গ্রহীতা।   তবে হোয়াইট হাউসের পর্যালোচনায় ছাড়পত্র পাওয়ার অর্থ এই নয় যে, এক লাখ ডলার ফি এখনই চূড়ান্ত হয়ে গেছে বা অবিলম্বে এটি প্রদান করতে হবে। নতুন যেকোনো বাধ্যবাধকতা কার্যকর হওয়ার আগে প্রস্তাবটিকে ফেডারেল রুলমেকিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (DHS) এই প্রস্তাবের পর্যালোচনা শেষ হলেও চূড়ান্ত ফি এবং আনুষঙ্গিক নিয়মাবলি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হয়নি।   যদি প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়, তবে সেটি 'ফেডারেল রেজিস্টার'-এ প্রকাশিত হবে। তখন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, শিক্ষার্থী, নিয়োগকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষ প্রস্তাবের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে জনসমক্ষে নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন।   বর্তমান নিয়মে শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনার বিষয়ের ওপর অস্থায়ী কাজের অনুমোদন পান এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের (STEM) মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা অতিরিক্ত ২৪ মাসের ওপিটি সুবিধার জন্য আবেদন করতে পারেন। প্রযুক্তি, ফিন্যান্স এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো পেশাদার খাতে প্রবেশের জন্য ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ক্রমশ মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন।   তাই এক লাখ ডলারের এই বিশাল ফি কার্যকর হলে পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে ইচ্ছুক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য এটি একটি বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়াবে। অভিবাসন নীতি কঠোর করার অংশ হিসেবেই ট্রাম্প প্রশাসন এই প্রস্তাবটি সামনে এনেছে। তবে চূড়ান্ত নিয়ম প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের এখনই এক লাখ ডলার ফি দেওয়ার কথা ভেবে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ১৯:৪০
আইসিইর আটক নিয়ে প্রশ্ন তোলার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সাবেক বিচারকের মামলা

আইসিইর হাতে এক অপ্রাপ্তবয়স্ক অভিবাসীকে আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন ও ডিউ প্রসেস নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর প্রায় ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সাবেক এক ইমিগ্রেশন জজ। ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো ইমিগ্রেশন কোর্টের সাবেক বিচারক ক্লোয়ি ডিলন এ অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা করেছেন।   ৯ সেপ্টেম্বরের পর দায়ের করা মামলায় ডিলন দাবি করেছেন, ২০২৫ সালের আগস্টে তাকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এর আগে তিনি প্রায় তিন বছর সান ফ্রান্সিসকোতে ইমিগ্রেশন জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, বরখাস্ত হওয়ার আগে তিনি কর্মক্ষেত্রে ভালো মূল্যায়ন পেয়েছিলেন এবং হাজারো ইমিগ্রেশন মামলা পরিচালনা করেছিলেন।   ঘটনার সূত্রপাত হয় তার আদালতে হাজির হওয়া এক ব্যক্তিকে ঘিরে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ব্যক্তি কোনো অ্যাটর্নি ছাড়াই আদালতে হাজির হয়েছিলেন। শুনানি শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার পর তাকে আইসিই আটক করে। বিষয়টি জানার পর ডিলন সংশ্লিষ্ট ফাইল আবার পর্যালোচনা করেন।   ফাইল পর্যালোচনার পর ডিলনের ধারণা হয়, ওই ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং একা ছিলেন। ফলে তিনি সম্ভবত ফেডারেল আইনের আওতায় একজন আনঅ্যাকম্পানিড মাইনর হিসেবে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য ছিলেন। ডিলনের অভিযোগ, এমন অবস্থায় তাকে দ্রুত ডিপোর্টেশনের প্রক্রিয়া বা expedited removal-এ নেওয়া আইনগতভাবে সম্ভব নাও হতে পারে। তার আগে করা অ্যাসাইলাম অ্যাপ্লিকেশনও নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় বিবেচনার সুযোগ পাওয়ার কথা ছিল বলে তিনি মনে করেন।   মামলায় বলা হয়েছে, ওই ঘটনার দিনই ডিলন তার সুপারভাইজারকে ইমেইল করে বিষয়টি জানান। সেখানে তিনি আইসিইর আটকের ঘটনায় সম্ভাব্য আইন লঙ্ঘন এবং ডিউ প্রসেসের অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন। কিন্তু এর প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পরই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের চিঠি দেওয়া হয়। ডিলনের দাবি, তার বরখাস্তের সঙ্গে আগের ওই অভিযোগের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং এটি ছিল হুইসেলব্লোয়িংয়ের কারণে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা।   ডিলনের মামলায় হুইসেলব্লোয়ার প্রোটেকশন অ্যাক্ট, প্রথম সংশোধনীসহ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের বিভিন্ন সুরক্ষা লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বরখাস্তের বিরুদ্ধে আইনি প্রতিকার চেয়েছেন। মামলাটি ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল আদালতে দায়ের করা হয়েছে।   তবে ডিলনের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের এক মুখপাত্র বলেছেন, চলমান মামলা বা কর্মীদের বিষয়ে সাধারণত তারা মন্তব্য করে না। তবে ডিলনের অভিযোগকে তারা সরাসরি মিথ্যা বলে দাবি করেছে।   ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট ও ইমিগ্রেশন কোর্টের কার্যক্রম নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। ২০২৫ সালের শুরু থেকে একাধিক ইমিগ্রেশন জজকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সময়ে ইমিগ্রেশন মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি এবং ডিপোর্টেশন কার্যক্রম জোরদারের ওপর প্রশাসনের গুরুত্ব বেড়েছে।   আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরদের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের আইনে বিশেষ কিছু সুরক্ষা রয়েছে। একা যুক্তরাষ্ট্রে আসা শিশু বা কিশোরদের জন্য অ্যাসাইলামসহ বিভিন্ন ধরনের ইমিগ্রেশন রিলিফের সুযোগ থাকতে পারে এবং তাদের মামলায় নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করার প্রয়োজন হয়। ফলে আইসিই কোনো আনঅ্যাকম্পানিড মাইনরকে আটক করার পর তাকে কোন প্রক্রিয়ায় ডিপোর্টেশনের মুখোমুখি করা যাবে, তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।   ডিলনের মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন। ফলে তিনি যে প্রতিশোধমূলকভাবে বরখাস্ত হয়েছেন বা আইসিইর আটক বেআইনি ছিল, তা আদালত এখনো চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করেনি। তবে অভিযোগটি ইমিগ্রেশন জজদের স্বাধীনতা, ডিউ প্রসেস এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ইমিগ্রেশন এনফোর্সমেন্ট নীতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

নিথর হয়ে পড়ে ছিল ৯ মাসের শিশু, পিআইসিইউতে মেলেনি কোনো ডাক্তার! ফেসবুক লাইভে স্বজনের আহাজারি

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নয় মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর চিকিৎসা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন তার স্বজন। রোববার গভীর রাতে ফেসবুক লাইভে এসে আসিফ হাসান নামের এক যুবক দাবি করেন, হাসপাতালের পিআইসিইউতে চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি, অথচ শিশুটির চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়েছে।    কালবেলার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিশুটিকে রাজধানীর বীর উত্তম সি আর দত্ত রোডের পদ্মা জেনারেল হাসপাতালে গত ১ সেপ্টেম্বর ভর্তি করা হয়। আসিফ হাসানের ভাষ্য অনুযায়ী, শুরুতে চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন শিশুটির রক্তে সুগারের মাত্রা কমে গেছে। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কথা জানানো হয় এবং কয়েক দিন এভাবেই চিকিৎসা চলতে থাকে।    আসিফের দাবি, ঘটনার দিন হাসপাতাল থেকে তাদের জানানো হয়, পরদিন শিশুটিকে রিলিজ দেওয়া হতে পারে। কিন্তু পরে বিকেলে পরিবারের সদস্যদের বলা হয়, শিশুটির লাইফ সাপোর্ট প্রয়োজন। এরপর তারা শিশুটিকে দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথমে দেখতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে জোর করে ভেতরে গিয়ে শিশুটিকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান বলে দাবি করেন আসিফ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তখন চিকিৎসককে খুঁজেও পাওয়া যায়নি।    এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাত ১২টার দিকে ফেসবুক লাইভে আসেন আসিফ। লাইভে তিনি হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা এবং বিল নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, শিশুটির চিকিৎসার নামে ২ লাখ টাকার বেশি বিল করা হয়েছে। তবে বিলের বিস্তারিত খাত, শিশুটির চিকিৎসার পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল রেকর্ড এবং মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাগত কারণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি। ফলে এসব বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।    আসিফ আরও অভিযোগ করেন, তার ফেসবুক লাইভের পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আসেন এবং তাকে শাসাতে থাকেন। পরে পুলিশও ঘটনাস্থলে আসে বলে জানান তিনি। তবে তার দাবি, পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট পুলিশের বক্তব্য কালবেলার প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য প্রয়োজন।    কালবেলার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিশুটির চিকিৎসা ডা. আতিকুর রহমানের অধীনে চলছিল বলে আসিফ জানিয়েছেন। তবে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ওই চিকিৎসকের বিস্তারিত পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যমটি। একইভাবে শিশুটির চিকিৎসার নথি, হাসপাতালের বিল এবং মৃত্যুর মেডিকেল কারণ সম্পর্কেও কোনো পূর্ণাঙ্গ নথি প্রকাশ্যে আসেনি।    ঘটনাটি সামনে আসার পর মূল প্রশ্ন উঠেছে, শিশুটির চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না এবং হাসপাতালের বিলের সঙ্গে দেওয়া চিকিৎসাসেবার যথাযথ সামঞ্জস্য ছিল কি না। এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে চিকিৎসার নথি, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চিকিৎসায় অবহেলা হিসেবে চূড়ান্তভাবে দেখার সুযোগ নেই। বর্তমানে বিষয়টি মূলত স্বজনের অভিযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওকে কেন্দ্র করে আলোচনায় এসেছে।

ডিএনএ পরীক্ষায় আপন বোনের পরিচয় পাওয়ার পর মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের পুনর্মিলন। ছবি: সংগৃহীত
৪০ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, এতদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসলে আপন দুই বোন

নেদারল্যান্ডসে বড় হওয়া দুই নারী মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের বন্ধুত্বের শুরু কৈশোরে। প্রায় তিন দশক ধরে তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে চিনেছেন, চেহারা ও স্বভাবের মিল দেখে মজা করে ‘বোন’ও ডাকতেন। কিন্তু তখন কেউ জানতেন না, সেই সম্পর্ক আসলে রক্তের সম্পর্ক।   ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনা ও মিনাল দুজনকেই আশির দশকের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের আলাদা দুটি এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়। পরে তারা নেদারল্যান্ডসের দুই ভিন্ন পরিবারে বড় হন। তাদের দত্তক পরিবারগুলোর বাড়িও ছিল একে অপরের থেকে মাত্র প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।   ১৯৯৬ সালে কিশোরী বয়সে দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও চেহারার মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন। মীনার ভাষায়, মিনালের নাক, হাসি ও নানা অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তার নিজের অদ্ভুত মিল ছিল।   সেই পরিচয় দ্রুত বন্ধুত্বে পরিণত হয়। দুজন পরস্পরের ঠিকানা ও ফোন নম্বর নেন এবং চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। স্কুল, বন্ধু, গান, খেলাধুলা থেকে শুরু করে কৈশোরের নানা বিষয় নিয়ে তাদের কথা হতো। এমনকি নিজেদের মধ্যে মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন।   তবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে মীনা সন্তান ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নিজের জৈবিক পরিবারের সন্ধানে মীনা একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেছিলেন। তবে তখন কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফোনের জায়গা খালি করতে তিনি সেই পরীক্ষার অ্যাপও মুছে ফেলেন।   এপ্রিল মাসে মিনালও একই উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেন। মে মাসের ২০ তারিখে তিনি ফেসবুকে মীনাকে একটি বার্তা পাঠান, ‘আমাকে মনে আছে?’ বার্তার সঙ্গে তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছবি পাঠান। মীনা দ্রুত অ্যাপটি আবার ইনস্টল করেন। এরপর পরীক্ষার ফল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ফলাফলে মিনালকে তার ‘পূর্ণ বোন’ হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ তারা একই জৈবিক মা ও বাবার সন্তান।   রয়টার্সকে মীনা বলেন, ফলাফলটি দেখার পর তার মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এমন একটি ধাঁধার টুকরো যেন হঠাৎ হাতে এসেছে। এতদিন যে অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে পারতেন না, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেটিকেই সত্য প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে মিনাল প্রথমে বুঝতেই পারেননি, ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া ‘মীনা’ সেই কিশোরী বন্ধু, যার সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে তার পরিচয় হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।   আগস্টে নেদারল্যান্ডসের স-হার্টোজেনবস শহরে ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানার পর দুই বোনের প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। কান্না, হাসি ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরকে স্বাগত জানান। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই পুনর্মিলনে উপস্থিত ছিলেন। মীনা বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী এবং তিন সন্তানের মা। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মিনালের বয়স ৪৪ বছর। তিনি ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন।   দুই বোনের মধ্যে যোগাযোগও এখন আবার নিয়মিত হয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিন কথা বলছেন এবং একে অপরের স্বামী বা সঙ্গী, সন্তান, ভাইবোন ও পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও লক্ষ্য করছেন, দুজনের কথা বলার ধরন, হাঁটা ও মাথা নাড়ার ভঙ্গিতেও এখনও অনেক মিল রয়েছে।   মিনাল বলেন, জীবনে তিনি সবসময় ভালোবাসা ও যত্ন পেয়েছেন, কিন্তু কোথাও একটা একাকিত্বের অনুভূতি ছিল। নিজের জৈবিক পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা তার ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় মীনাকে খুঁজে পাওয়ার পর সেই অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে।   প্রায় ৩০ বছর আগে যে দুই কিশোরী বন্ধুত্বের বন্ধনে যুক্ত হয়েছিল, তারা তখন জানত না তাদের সম্পর্ক আরও গভীর। এখন সেই পুরোনো বন্ধুত্বের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন তারা। মিনালের ভাষায়, তারা বোন হওয়ার আগে বন্ধু ছিল, অথচ এতদিন তারা বোনই ছিল, শুধু সেটা জানত না।   সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।

ফ্লোরিডার লেকল্যান্ডে জলাভূমির মধ্যে দুই শিশুকে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশি অভিযানে আটক হন আইজ্যাক কিনসে। ছবি: সংগৃহীত
ফ্লোরিডায় পুলিশের তাড়া খেয়ে দুই শিশুকে নিয়ে কুমিরভর্তি জলাভূমিতে পালালেন বাবা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় গাড়ি দুর্ঘটনার পর পুলিশের হাত থেকে পালানোর সময় দুই ছোট শিশুকে নিয়ে ঘন জলাভূমিতে ঢুকে পড়েন ২৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, আইজ্যাক কিনসে নামের ওই ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। পরে পুলিশের ড্রোনে তাকে শনাক্ত করা হয়। জলাভূমির ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় বারবার পড়ে গিয়ে তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুও পানিতে ডুবে যায়।   ঘটনাটি ঘটে ৯ সেপ্টেম্বর ভোরে লেকল্যান্ড শহরের হাইওয়ে ৩৩ ও নর্থ কম্বি রোডের কাছে। লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি গাড়ি সড়ক বন্ধের চিহ্ন ও বালুর বস্তা অতিক্রম করে নির্মাণাধীন এলাকায় ঢুকে গাছের উন্মুক্ত শিকড়ের কাছে গিয়ে থেমে যায়। দুর্ঘটনাটি ছিল এক গাড়ির উল্টে যাওয়ার ঘটনা বলে পুলিশ জানিয়েছে।   পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত গাড়িটির চালককে সেখানে পায়নি। গাড়ির ভেতরে দুটি শিশুদের নিরাপত্তা আসন দেখতে পেয়ে কর্মকর্তারা আশপাশে দ্রুত তল্লাশি শুরু করেন। তাদের আশঙ্কা ছিল, শিশু দুটিও হয়তো গাড়িতে ছিল এবং চালক তাদের নিয়ে ঘটনাস্থল ছেড়ে গেছেন। তল্লাশি শুরুর প্রায় ৩০ মিনিট পর পুলিশের ড্রোনে দুর্ঘটনাস্থলের দক্ষিণ দিকে ঘন গাছপালা ও জলাভূমির মধ্যে কিনসেকে দেখা যায়। পুলিশ বলেছে, তখন তার সঙ্গে ছিল ২ বছর বয়সী একটি শিশু ও ১০ মাস বয়সী একটি শিশু। চারদিকে অন্ধকার থাকায় দুর্গম জলাভূমির মধ্য দিয়ে তাদের নিয়ে এগোতে গিয়ে কিনসে বারবার পড়ে যাচ্ছিলেন।   পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, জলাভূমির পানির মধ্যে চলার সময় কিনসে হোঁচট খেয়ে পড়ে যান। এতে দুই শিশুও কয়েকবার দাঁড়িয়ে থাকা পানিতে ডুবে যায়। একপর্যায়ে তিনি ২ বছর বয়সী শিশুটিকে রেখে ছোট শিশুটিকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ সদস্যরা তাদের কাছে পৌঁছে দুই শিশুকেই উদ্ধার করেন। ভিডিওতে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে আলো ফেলে কিনসেকে কাছে আসতে বলতে শোনা যায়। আরেক কর্মকর্তা শিশুটিকে তার কাছ থেকে নেওয়ার সময় চিৎকার করে বলেন, “শিশুটিকে আমাকে দিন, এখনই শিশুটিকে দিন।” পরে পুলিশ সদস্যরা দুই শিশুকেই নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন এবং কিনসেকে আটক করেন।   উদ্ধারের পর দুই শিশুকে লেকল্যান্ড রিজিওনাল হেলথ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পুলিশ জানিয়েছে, সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয় এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিনসেকেও চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কিনসের মধ্যে মদ্যপ অবস্থার লক্ষণ ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি নিজেই মদ্যপ থাকার কথা জানান বলে পুলিশ দাবি করেছে। তার চালকের লাইসেন্সও স্থগিত ছিল বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।   এই ঘটনায় কিনসের বিরুদ্ধে মোট ১১টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে আটটি অপেক্ষাকৃত কম গুরুতর এবং তিনটি গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে শিশুদের গুরুতর শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকিতে ফেলার সঙ্গে সম্পর্কিত দুটি অভিযোগও রয়েছে। লেকল্যান্ড পুলিশের প্রধান স্যামি টেলর বলেন, ঘটনাটি আরও ভয়াবহ পরিণতি নিতে পারত। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জলাভূমির পানিতে শিশুরা কয়েকবার ডুবে গিয়েছিল এবং তারা ডুবে মারা যেতে পারত। তিনি বলেন, পুলিশের ড্রোন দ্রুত ওই ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।   পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জলাভূমিটি ছিল ঘন ও দুর্গম। ফলে সাধারণভাবে হেঁটে সেখানে দ্রুত পৌঁছানো কঠিন ছিল। ড্রোনের মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করার পর কর্মকর্তারা ওই এলাকায় গিয়ে দুই শিশুকে উদ্ধার করেন। তবে পুলিশ এখনো জানায়নি, কিনসের সঙ্গে থাকা দুই শিশুর সঙ্গে তার ঠিক কী সম্পর্ক এবং দুর্ঘটনার আগে গাড়িটি কেন সড়ক বন্ধের চিহ্ন অতিক্রম করেছিল। এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।   লেকল্যান্ড পুলিশ এক বিবৃতিতে বলেছে, ঘটনাটি দুই শিশুর জীবনহানির মতো পরিণতিতে গড়াতে পারত। দ্রুত ড্রোন মোতায়েন, কর্মকর্তাদের ধৈর্য এবং সমন্বিত তৎপরতার কারণে শিশু দুটিকে দুর্গম এলাকা থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ একই সঙ্গে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই বলেও উল্লেখ করেছে।   সূত্র: লেকল্যান্ড পুলিশ বিভাগ ও ফক্স ১৩ নিউজ।

সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছে ভিজন পার্টি। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান সুইডেনের ভিজন পার্টির

সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দল ভিজন পার্টি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটি বলেছে, মুসলিমদের শুধু অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁরা সুইডিশ সমাজের নাগরিক, পেশাজীবী, অভিভাবক ও ভোটার এবং তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের অধিকারও অন্য নাগরিকদের মতোই সুরক্ষিত হওয়া উচিত।   ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিজন পার্টি সংখ্যালঘু অধিকার, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পরিবারনীতি এবং সমতার বিষয়গুলোকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করেছে। নির্বাচনের আগে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, এবারের নির্বাচন সুইডেনের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।   দলটির অভিযোগ, সুইডেনের রাজনৈতিক আলোচনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলাম, মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং উগ্রবাদকে অনেক সময় একই আলোচনার মধ্যে আনা হচ্ছে। ভিজন পার্টির মতে, সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলা করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালনকারী মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করা দুটি আলাদা বিষয়। তাদের আশঙ্কা, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আড়ালে সাধারণ মুসলিম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।   এদিকে সুইডেনের রাজনীতিতে অভিবাসন ও ইসলাম নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনের আগে আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির ডানপন্থি সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের শীর্ষ নেতা রিচার্ড জোমশফ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আগস্টে সুইডিশ সংবাদমাধ্যম এসভিটি জানিয়েছিল, জোমশফ এক সাক্ষাৎকারে সুইডিশ মুসলিমদের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনও সমালোচনা করেন এবং বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক মূল্যবোধ।   জোমশফ অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। এসভিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইসলামকে সুইডেনের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন এবং নির্বাচনের আগে ইসলাম নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যৎ সরকারে এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসলাম ও তথাকথিত ‘ইসলামায়ন’ বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে।   এই রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেই ভিজন পার্টি জানিয়েছে, তারা সুইডেনে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি তুলেছে। দলটির দাবি, তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার অধীন তিনজন বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে ২১ পৃষ্ঠার একটি নথি জমা দিয়েছে। সেখানে সুইডেনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে ৮৮টি তথ্যসূত্র ও নথিভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।   ভিজন পার্টির ভাষ্য, তারা সুইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম নিষিদ্ধ করার অভিযোগ করছে না। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য ও সংখ্যালঘু অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। দলটির দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকেরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুইডিশ সরকারের কাছে উদ্বেগ জানাতে পারেন।   তবে সুইডেনে ইসলাম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যে শুধু ভিজন পার্টির অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। রিচার্ড জোমশফের বক্তব্য নিয়ে দেশটির অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও সমালোচনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন বলেছেন, রাজনৈতিক ইসলাম ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক অধিকার।   জোমশফের বক্তব্যের পক্ষে তাঁর দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের নেতা জিমি অকেরসনও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী বিতর্কে জোমশফের বক্তব্য রাখার অধিকার রয়েছে। তবে বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।   এর আগে ইসলাম নিয়ে জোমশফের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সুইডেনে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ইসলামকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল। ২০২৪ সালেও ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়।   ভিজন পার্টি বলেছে, মুসলিমদের জন্য তারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছে না। তাদের দাবি মূলত সংবিধান ও আইনে স্বীকৃত সমঅধিকার বাস্তবায়ন। দলটির মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্যের শিকার না হন এবং মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।   দলটি ধর্মীয় বৈষম্য ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার এবং ধর্মীয় পোশাক, উপাসনা কিংবা মুসলিমদের পরিচালিত সংগঠনের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   ভিজন পার্টির তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় সংসদে আসন পাওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছে দলটি। তাদের বক্তব্য, মুসলিমদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা সুইডেনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে।   সুইডেনের ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, নাগরিকত্ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে ভিজন পার্টির অবস্থান এবং জোমশফের ইসলামবিষয়ক বক্তব্য দেশটির নির্বাচনী বিতর্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এসভিটি নিউজ

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য
“সে উধাও হয়ে আমাদের অসহায় করে গেছে”: মিশন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে সম্পর্ক ছিন্ন করল সেনাসদস্য
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬ ০:১০

উগান্ডার মবারারার বাসিন্দা জুলিয়েট মবাবাজি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য ট্রাভিস প্রেস্টন তাকে বিয়ে করে দুই সন্তান নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গিয়ে যোগাযোগ ও আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দিয়েছেন। সন্তান দুটির বয়স এখন ৩ ও ৭ বছর। প্রেস্টনের অবস্থান জানতে এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সহায়তার জন্য প্রকাশ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন উগান্ডার জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ব্রুনো কে।   মবাবাজির দাবি, মবারারায় প্রেস্টনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়, যখন তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাসদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। পরে তাদের বিয়ে হয় এবং প্রায় দুই বছর তারা একসঙ্গে সংসার করেন। এই সময় তাদের দুটি সন্তান জন্ম নেয়।   মবাবাজির ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেস্টনের মিশন শেষ হওয়ার পর তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। এরপর ধীরে ধীরে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং পরিবারের জন্য আর কোনো আর্থিক সহায়তাও পাঠান না। সন্তানদের নিয়ে একাই জীবন চালাতে গিয়ে মবাবাজি তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।   বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উগান্ডার সংগীতশিল্পী ব্রুনো কে মবাবাজি ও তার সন্তানদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত উগান্ডানদের, বিশেষ করে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে প্রেস্টনকে শনাক্ত করতে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে থাকা কয়েকজন উগান্ডানও এ বিষয়ে সহায়তার আগ্রহ দেখিয়েছেন।   ব্রুনো কে একই সঙ্গে কাম্পালায় অবস্থিত ইউএস অ্যাম্বাসির সহায়তা চেয়েছেন। তার অন্যতম দাবি, মবাবাজির সন্তানরা তাদের কথিত মার্কিন বাবা থেকে কোনোভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের অধিকার পেতে পারে কি না, সেটিও যেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যাচাই করে। তবে এখন পর্যন্ত মার্কিন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রেস্টনের অবস্থান, অভিযোগগুলোর সত্যতা বা শিশু দুটির নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো প্রকাশ্য নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।    যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া কোনো শিশু নির্দিষ্ট আইনি শর্ত পূরণ করলে জন্মের সময়ই মার্কিন নাগরিকত্ব পেতে পারে। মার্কিন নাগরিক বাবা বা মায়ের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে শিশুর সঙ্গে জৈবিক বা আইনগত সম্পর্ক, বাবা বা মায়ের নাগরিকত্ব এবং সন্তানের জন্মের আগে যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিক বাবা বা মায়ের শারীরিক উপস্থিতির মতো বিষয় বিবেচনা করা হয়। মার্কিন নাগরিক বাবা সন্তানটির পিতৃত্ব স্বীকার না করলে বা পর্যাপ্ত নথি না থাকলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত প্রমাণের প্রয়োজন হতে পারে।    পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী, বিদেশে জন্ম নেওয়া সন্তানের মার্কিন নাগরিকত্বের দাবি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন, মার্কিন নাগরিক বাবা বা মায়ের নাগরিকত্বের প্রমাণ, বিয়ের নথি এবং যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা শারীরিক উপস্থিতির তথ্যসহ বিভিন্ন নথি প্রয়োজন হতে পারে। পর্যাপ্ত নথি না থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও জৈবিক সম্পর্ক প্রমাণের সুযোগ রয়েছে।    এদিকে পরিবারটির তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতেও ব্রুনো কে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খাবার, শিশুদের পড়াশোনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচে সহায়তার জন্য তিনি অনলাইন লাইভস্ট্রিমের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করছেন। তবে ৫ মিলিয়ন উগান্ডান শিলিং সংগ্রহের দাবিটি নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত করা যায়নি।    মবাবাজির অভিযোগের বিষয়ে ট্রাভিস প্রেস্টনের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো এখনো একতরফা দাবি হিসেবেই রয়েছে। বিষয়টির পরবর্তী অগ্রগতি নির্ভর করছে প্রেস্টনের অবস্থান শনাক্ত হওয়া, পিতৃত্ব ও পারিবারিক সম্পর্কের নথি যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর।

ডিএনএ পরীক্ষায় আপন বোনের পরিচয় পাওয়ার পর মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের পুনর্মিলন। ছবি: সংগৃহীত
৪০ বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় জানা গেল, এতদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আসলে আপন দুই বোন
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ২৩:২৬

নেদারল্যান্ডসে বড় হওয়া দুই নারী মীনা গেলটিঙ্ক ও মিনাল তিজেনের বন্ধুত্বের শুরু কৈশোরে। প্রায় তিন দশক ধরে তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে চিনেছেন, চেহারা ও স্বভাবের মিল দেখে মজা করে ‘বোন’ও ডাকতেন। কিন্তু তখন কেউ জানতেন না, সেই সম্পর্ক আসলে রক্তের সম্পর্ক।   ভারতীয় বংশোদ্ভূত মীনা ও মিনাল দুজনকেই আশির দশকের শুরুর দিকে মুম্বাইয়ের আলাদা দুটি এতিমখানা থেকে দত্তক নেওয়া হয়। পরে তারা নেদারল্যান্ডসের দুই ভিন্ন পরিবারে বড় হন। তাদের দত্তক পরিবারগুলোর বাড়িও ছিল একে অপরের থেকে মাত্র প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে।   ১৯৯৬ সালে কিশোরী বয়সে দত্তক নেওয়া শিশুদের জন্য আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রথম দেখা হয় মীনা ও মিনালের। প্রথম দেখাতেই দুজনের মধ্যে অদ্ভুত এক পরিচিতির অনুভূতি তৈরি হয়। তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধুরাও চেহারার মিল দেখে অবাক হয়েছিলেন। মীনার ভাষায়, মিনালের নাক, হাসি ও নানা অঙ্গভঙ্গির সঙ্গে তার নিজের অদ্ভুত মিল ছিল।   সেই পরিচয় দ্রুত বন্ধুত্বে পরিণত হয়। দুজন পরস্পরের ঠিকানা ও ফোন নম্বর নেন এবং চিঠির মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন। স্কুল, বন্ধু, গান, খেলাধুলা থেকে শুরু করে কৈশোরের নানা বিষয় নিয়ে তাদের কথা হতো। এমনকি নিজেদের মধ্যে মজা করে একে অপরকে ‘বোন’ বলেও সম্বোধন করতেন।   তবে প্রায় ১৫ বছর আগে তাদের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মিনাল পরে ফ্রান্সে চলে যান। অন্যদিকে মীনা সন্তান ও পরিবার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে ২০১৭ সালে নিজের জৈবিক পরিবারের সন্ধানে মীনা একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেছিলেন। তবে তখন কোনো মিল পাওয়া যায়নি। চলতি বছরের শুরুর দিকে ফোনের জায়গা খালি করতে তিনি সেই পরীক্ষার অ্যাপও মুছে ফেলেন।   এপ্রিল মাসে মিনালও একই উদ্দেশ্যে একটি ডিএনএ পরীক্ষা করেন। মে মাসের ২০ তারিখে তিনি ফেসবুকে মীনাকে একটি বার্তা পাঠান, ‘আমাকে মনে আছে?’ বার্তার সঙ্গে তিনি নিজের ডিএনএ পরীক্ষার ফলাফলের একটি ছবি পাঠান। মীনা দ্রুত অ্যাপটি আবার ইনস্টল করেন। এরপর পরীক্ষার ফল দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান। ফলাফলে মিনালকে তার ‘পূর্ণ বোন’ হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ তারা একই জৈবিক মা ও বাবার সন্তান।   রয়টার্সকে মীনা বলেন, ফলাফলটি দেখার পর তার মনে হয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এমন একটি ধাঁধার টুকরো যেন হঠাৎ হাতে এসেছে। এতদিন যে অনুভূতি ব্যাখ্যা করতে পারতেন না, ডিএনএ পরীক্ষার ফল সেটিকেই সত্য প্রমাণ করেছে। অন্যদিকে মিনাল প্রথমে বুঝতেই পারেননি, ডিএনএ পরীক্ষায় পাওয়া ‘মীনা’ সেই কিশোরী বন্ধু, যার সঙ্গে প্রায় ৩০ বছর আগে তার পরিচয় হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মীনার ছবি দেখে বিষয়টি পরিষ্কার হয়।   আগস্টে নেদারল্যান্ডসের স-হার্টোজেনবস শহরে ডিএনএ পরীক্ষার ফল জানার পর দুই বোনের প্রথম দেখা হয়। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ার মুহূর্তটি ছিল আবেগঘন। কান্না, হাসি ও আলিঙ্গনের মধ্য দিয়ে তারা একে অপরকে স্বাগত জানান। তাদের পরিবারের সদস্যরাও সেই পুনর্মিলনে উপস্থিত ছিলেন। মীনা বর্তমানে ৪৩ বছর বয়সী এবং তিন সন্তানের মা। তিনি নেদারল্যান্ডসে থাকেন। মিনালের বয়স ৪৪ বছর। তিনি ফ্রান্সে সঙ্গী ও দুই ছেলেকে নিয়ে বসবাস করেন।   দুই বোনের মধ্যে যোগাযোগও এখন আবার নিয়মিত হয়েছে। তারা প্রায় প্রতিদিন কথা বলছেন এবং একে অপরের স্বামী বা সঙ্গী, সন্তান, ভাইবোন ও পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হয়েছেন। তাদের পরিবারের সদস্যরাও লক্ষ্য করছেন, দুজনের কথা বলার ধরন, হাঁটা ও মাথা নাড়ার ভঙ্গিতেও এখনও অনেক মিল রয়েছে।   মিনাল বলেন, জীবনে তিনি সবসময় ভালোবাসা ও যত্ন পেয়েছেন, কিন্তু কোথাও একটা একাকিত্বের অনুভূতি ছিল। নিজের জৈবিক পরিবারের কাউকে খুঁজে পাওয়ার আশা তার ছিল। ডিএনএ পরীক্ষায় মীনাকে খুঁজে পাওয়ার পর সেই অনুভূতিতে পরিবর্তন এসেছে।   প্রায় ৩০ বছর আগে যে দুই কিশোরী বন্ধুত্বের বন্ধনে যুক্ত হয়েছিল, তারা তখন জানত না তাদের সম্পর্ক আরও গভীর। এখন সেই পুরোনো বন্ধুত্বের নতুন অর্থ খুঁজে পেয়েছেন তারা। মিনালের ভাষায়, তারা বোন হওয়ার আগে বন্ধু ছিল, অথচ এতদিন তারা বোনই ছিল, শুধু সেটা জানত না।   সূত্র: বিবিসি ও রয়টার্স।

সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার দাবি জানিয়েছে ভিজন পার্টি। ছবি: সংগৃহীত
মুসলিমদের সমান অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিতের আহ্বান সুইডেনের ভিজন পার্টির
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ২৩:১১

সুইডেনে মুসলিমদের সমঅধিকার, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বৈষম্য থেকে সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে দেশটির রাজনৈতিক দল ভিজন পার্টি। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দলটি বলেছে, মুসলিমদের শুধু অভিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তাঁরা সুইডিশ সমাজের নাগরিক, পেশাজীবী, অভিভাবক ও ভোটার এবং তাঁদের ধর্মীয় পরিচয়ের অধিকারও অন্য নাগরিকদের মতোই সুরক্ষিত হওয়া উচিত।   ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ভিজন পার্টি সংখ্যালঘু অধিকার, বৈষম্যবিরোধী নীতি, মুসলিমদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব, পরিবারনীতি এবং সমতার বিষয়গুলোকে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির অংশ করেছে। নির্বাচনের আগে আনাদোলু এজেন্সিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, এবারের নির্বাচন সুইডেনের গণতন্ত্র, সংখ্যালঘুদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।   দলটির অভিযোগ, সুইডেনের রাজনৈতিক আলোচনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসলাম, মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং উগ্রবাদকে অনেক সময় একই আলোচনার মধ্যে আনা হচ্ছে। ভিজন পার্টির মতে, সহিংস উগ্রবাদ মোকাবিলা করা এবং শান্তিপূর্ণভাবে ধর্ম পালনকারী মুসলিমদের অধিকার রক্ষা করা দুটি আলাদা বিষয়। তাদের আশঙ্কা, উগ্রবাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আড়ালে সাধারণ মুসলিম ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপরও অতিরিক্ত বিধিনিষেধ আরোপের প্রবণতা তৈরি হচ্ছে।   এদিকে সুইডেনের রাজনীতিতে অভিবাসন ও ইসলাম নিয়ে বিতর্ক নির্বাচনের আগে আরও জোরালো হয়েছে। দেশটির ডানপন্থি সুইডেন ডেমোক্র্যাটস দলের শীর্ষ নেতা রিচার্ড জোমশফ সাম্প্রতিক সময়ে ইসলাম নিয়ে তাঁর কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। আগস্টে সুইডিশ সংবাদমাধ্যম এসভিটি জানিয়েছিল, জোমশফ এক সাক্ষাৎকারে সুইডিশ মুসলিমদের ইসলাম ধর্ম ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর এই বক্তব্যের পর প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসনও সমালোচনা করেন এবং বলেন, ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক মূল্যবোধ।   জোমশফ অবশ্য নিজের অবস্থান থেকে সরে আসেননি। এসভিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ইসলামকে সুইডেনের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখেন এবং নির্বাচনের আগে ইসলাম নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি ভবিষ্যৎ সরকারে এমন একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন, যেখানে ইসলাম ও তথাকথিত ‘ইসলামায়ন’ বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে।   এই রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যেই ভিজন পার্টি জানিয়েছে, তারা সুইডেনে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও বিষয়টি তুলেছে। দলটির দাবি, তারা জাতিসংঘের মানবাধিকার ব্যবস্থার অধীন তিনজন বিশেষ প্রতিবেদকের কাছে ২১ পৃষ্ঠার একটি নথি জমা দিয়েছে। সেখানে সুইডেনে মুসলিমদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে ৮৮টি তথ্যসূত্র ও নথিভিত্তিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।   ভিজন পার্টির ভাষ্য, তারা সুইডেনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম নিষিদ্ধ করার অভিযোগ করছে না। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, বৈষম্য ও সংখ্যালঘু অধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদকদের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। দলটির দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদকেরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে সুইডিশ সরকারের কাছে উদ্বেগ জানাতে পারেন।   তবে সুইডেনে ইসলাম নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক যে শুধু ভিজন পার্টির অভিযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ, তা নয়। রিচার্ড জোমশফের বক্তব্য নিয়ে দেশটির অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকেও সমালোচনা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টেরসন বলেছেন, রাজনৈতিক ইসলাম ও উগ্রবাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ধর্মীয় স্বাধীনতা সুইডেনের মৌলিক অধিকার।   জোমশফের বক্তব্যের পক্ষে তাঁর দল সুইডেন ডেমোক্র্যাটসের নেতা জিমি অকেরসনও অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, নির্বাচনী বিতর্কে জোমশফের বক্তব্য রাখার অধিকার রয়েছে। তবে বক্তব্যটি কোন প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।   এর আগে ইসলাম নিয়ে জোমশফের বিভিন্ন মন্তব্য নিয়ে সুইডেনে বিতর্ক হয়েছে। ২০২৩ সালে ইসলামকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করে তাঁর একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের পর সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছিল। ২০২৪ সালেও ইসলামবিরোধী ব্যঙ্গচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়।   ভিজন পার্টি বলেছে, মুসলিমদের জন্য তারা কোনো বিশেষ সুবিধা দাবি করছে না। তাদের দাবি মূলত সংবিধান ও আইনে স্বীকৃত সমঅধিকার বাস্তবায়ন। দলটির মতে, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো নাগরিক যেন বৈষম্যের শিকার না হন এবং মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন নিরাপদ পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।   দলটি ধর্মীয় বৈষম্য ও ঘৃণাভিত্তিক অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর আইন প্রয়োগ, মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা জোরদার এবং ধর্মীয় পোশাক, উপাসনা কিংবা মুসলিমদের পরিচালিত সংগঠনের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক বিধিনিষেধ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।   ভিজন পার্টির তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক লক্ষ্য স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচিত প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো। দীর্ঘমেয়াদে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় সংসদে আসন পাওয়ার লক্ষ্যও জানিয়েছে দলটি। তাদের বক্তব্য, মুসলিমদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তাকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করা সুইডেনের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করবে।   সুইডেনের ২০২৬ সালের নির্বাচন সামনে রেখে অভিবাসন, নাগরিকত্ব, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও জাতীয় পরিচয় ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে মুসলিমদের অধিকার নিয়ে ভিজন পার্টির অবস্থান এবং জোমশফের ইসলামবিষয়ক বক্তব্য দেশটির নির্বাচনী বিতর্কে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু অধিকারের প্রশ্নকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।   সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এসভিটি নিউজ

‘দ্য শাইনিং সোলো’ রিয়েলিটি শোতে ইউ সান। ছবি: সংগৃহীত
সিলিকন পুতুলের মতো চেহারা, কোরীয় রিয়েলিটি শো তারকার ত্বক নিয়ে নেটিজেনদের আলোচনা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: সেপ্টেম্বর ১৩, ২০২৬ ২২:৩৮

দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় ডেটিং রিয়েলিটি শো ‘দ্য শাইনিং সোলো’-এর চতুর্থ পর্বে ২৭ বছর বয়সী এক প্রতিযোগীর ত্বক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনুষ্ঠানটিতে ইউ সান নামে পরিচিত ওই তরুণীর মুখের ত্বক এতটাই মসৃণ ও সমান দেখায় যে, দর্শকদের একাংশ সেটিকে নিখুঁত সৌন্দর্যের উদাহরণ হিসেবে দেখেছেন। অন্যদিকে কেউ কেউ এটিকে অতিরিক্ত প্রসাধনী ও সৌন্দর্যচর্চার সম্ভাব্য প্রভাব হিসেবে দেখেছেন।   উচ্চমানের ক্যামেরায় ধারণ করা অনুষ্ঠানের দৃশ্যে ইউ সানের মুখে দৃশ্যমান কোনো লোমকূপ বা বলিরেখা প্রায় চোখে পড়েনি। আলো তাঁর মুখে পড়লে ত্বকটি অনেকটা চীনামাটির মতো মসৃণ ও উজ্জ্বল দেখাচ্ছিল। সেই দৃশ্য প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় নানা ধরনের মন্তব্য।   একটি ভাইরাল পোস্টে দাবি করা হয়, এই ধরনের ত্বকের চেহারার পেছনে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, রেজুরান ও জুভেলুকের মতো সৌন্দর্যচিকিৎসার ভূমিকা থাকতে পারে। তবে ইউ সান নিজে এসব চিকিৎসা নিয়েছেন কি না, কতবার নিয়েছেন বা তাঁর ত্বকের বর্তমান চেহারার প্রকৃত কারণ কী, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো নিশ্চিত তথ্য দেওয়া হয়নি।   হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে প্রসাধনী ও নান্দনিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত একটি উপাদান। রেজুরান ও জুভেলুকও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ত্বকের সৌন্দর্য ও গঠন উন্নত করার জন্য ব্যবহৃত নান্দনিক চিকিৎসার সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে এসব চিকিৎসার ফল ব্যক্তি ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারের সঙ্গে ইউ সানের চেহারার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এমন কোনো চিকিৎসাগত প্রমাণও প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়াও ছিল বিভক্ত। চীনা ও দক্ষিণ কোরিয়ার কিছু ব্যবহারকারী তাঁর মুখের চেহারাকে কৃত্রিম পুতুল বা সিলিকনের তৈরি মূর্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। আবার অনেকে এমন ত্বককে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিখুঁত বলে প্রশংসা করেছেন।   তবে এই আলোচনা শুধু একজন টেলিভিশন ব্যক্তিত্বের চেহারা নিয়ে মন্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সৌন্দর্যচর্চা এবং তরুণদের ওপর নিখুঁত চেহারা ধরে রাখার সামাজিক চাপ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।   দক্ষিণ কোরিয়ায় ত্বকের যত্ন ও নান্দনিক চিকিৎসার জনপ্রিয়তা বহুদিনের। দেশটির সৌন্দর্যশিল্পে ত্বকের গঠন, উজ্জ্বলতা ও বয়সের ছাপ কমিয়ে দেখানোর জন্য বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা ও প্রসাধনী ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং উচ্চমানের ক্যামেরার যুগে মানুষের চেহারা আরও কাছ থেকে ও বিস্তারিতভাবে দেখা যায়। ফলে সামান্য ত্বকের দাগ, লোমকূপ বা বলিরেখাও দর্শকের চোখে পড়তে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য পুরোপুরি অদৃশ্য করে দেওয়াকে সৌন্দর্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখলে মানুষের মধ্যে অবাস্তব প্রত্যাশা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা সম্পাদিত ছবি, ফিল্টার এবং অতিরিক্ত মসৃণ ত্বকের সঙ্গে নিজের চেহারার তুলনা করার প্রবণতা আত্মবিশ্বাসে প্রভাব ফেলতে পারে।   ‘দ্য শাইনিং সোলো’-তে ইউ সানের উপস্থিতি তাই সৌন্দর্যের সংজ্ঞা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ক্যামেরায় নিখুঁত দেখানো ত্বককে কেউ সৌন্দর্যের চূড়ান্ত প্রকাশ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন, মানুষের স্বাভাবিক ত্বকের বৈশিষ্ট্যগুলোও সৌন্দর্যের অংশ।   তবে ইউ সানের ব্যক্তিগত সৌন্দর্যচর্চা বা কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মন্তব্যকে তাঁর চিকিৎসার প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের আলো, মেকআপ, ক্যামেরার প্রযুক্তি এবং ছবি প্রক্রিয়াকরণের কারণেও ত্বকের চেহারা বাস্তবের তুলনায় আলাদা দেখা যেতে পারে।   শেষ পর্যন্ত এই ঘটনা সৌন্দর্যের প্রতি মানুষের প্রত্যাশা কতটা বদলে যাচ্ছে, সেই পুরোনো প্রশ্নটিকেই সামনে এনেছে। প্রযুক্তি যখন মানুষের চেহারার প্রতিটি সূক্ষ্ম বিষয়কে দৃশ্যমান করে তুলছে, তখন স্বাভাবিক ত্বককে গ্রহণ করা এবং সৌন্দর্যের জন্য কতটা পরিবর্তন প্রয়োজন, তা নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে।   সূত্র: ইউপিএসওসিএল, দ্য শাইনিং সোলো

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.38K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
1.13K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.24K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
1.11K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.06K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়