যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে এনবিএ ফাইনালসের চতুর্থ ম্যাচে সান আন্তোনিও স্পার্সের বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক নিক্সের ঐতিহাসিক জয়ের পর শহরজুড়ে ভয়াবহ সহিংসতা ও তাণ্ডব সৃষ্টি হয়েছে। খেলা শেষে হাজার হাজার নিক্স ভক্ত রাস্তায় নেমে এসে ব্যাপক ভাঙচুর, বিশৃঙ্খলা এবং পুলিশের ওপর হামলা চালায়। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ (এনওয়াইপিডি) জানিয়েছে, এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৬ জনকে আটক করেছে, যাদের মধ্যে ১৫ জনের বিরুদ্ধে সরাসরি পুলিশের ওপর হামলাসহ একাধিক গুরুতর অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, নিক্সের এই অবিস্মরণীয় জয়ের পর প্রায় ১০ হাজারেরও বেশি উত্তেজিত সমর্থক ম্যানহাটনের রাস্তায় নেমে আসে এবং ম্যাচ যত গড়াতে থাকে ভিড় তত বেশি ধ্বংসাত্মক হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, উত্তেজিত জনতা চলন্ত ট্রাক, ট্যাক্সি এবং ভেতরে মানুষ থাকা বিভিন্ন যানবাহনের ওপর চড়ে বসে যাতায়াতে মারাত্মক অচলাবস্থা তৈরি করে। একপর্যায়ে একদল উন্মত্ত সমর্থক একটি ঐতিহ্যবাহী হলুদ ট্যাক্সি ভাঙচুর করে এবং গাড়িটির ওপরে ফিলিস্তিনের পতাকা ওড়াতে ওড়াতে নাচানাচি করতে থাকে। কিছু যুবককে সরাসরি ক্যামেরার সামনে শহর জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দিতেও দেখা যায়। এই চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দাঙ্গা পুলিশের বিশাল দল রাস্তায় নামলে সমর্থকদের সাথে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ ঘটে। উন্মত্ত জনতা পুলিশকে লক্ষ্য করে কাঁচের বোতল, পাথর এবং বিভিন্ন ভারী বস্তু ছুড়ে মারে, যার ফলে এনওয়াইপিডির অন্তত ১০ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন অফিসারের মাথায় কাঁচের বোতলের আঘাত লেগেছে। সহিংসতা চলাকালীন বেশ কয়েকটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সাদা ধোঁয়ায় চারপাশ ছেয়ে গেলে ভিড় ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়, যা প্রাথমিকভাবে পুলিশের টিয়ার গ্যাস বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি পুলিশের চারটি গাড়িও এই হামলা থেকে রক্ষা পায়নি; উপদ্রবকারীরা সেগুলোর উইন্ডশিল্ড ভেঙে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এনওয়াইপিডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নিউইয়র্ক সিটির বাস্কেটবল ভক্তদের জন্য এটি একটি অত্যন্ত আনন্দের সময় হলেও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব। ম্যাচ চলাকালীন এবং ম্যাচ শেষে একদল লোক অত্যন্ত বেপরোয়া এবং বিপজ্জনক আচরণে লিপ্ত হয়েছিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা প্রমাণ করে যে কেন ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনের চারপাশে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে বাকি অপরাধীদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রধান কার্যালয় ‘পেন্টাগন’ ভবনের ভেতরে আকস্মিকভাবে বায়ুর গুণগত মান পরিবর্তন বা বাতাস দূষিত হওয়ার আশঙ্কায় আংশিক লকডাউন জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ভবনের নির্দিষ্ট কিছু অংশে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ (শেল্টার-ইন-প্লেস) দেওয়া হয়। একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সূত্র এই পুরো ঘটনাটিকে একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক রাসায়নিক বা ক্ষতিকর উপাদানের (হ্যাজার্ডাস মেটেরিয়ালস) জরুরি পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ঘটনার পরপরই পুরো ভবনজুড়ে চরম আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। পেন্টাগনের দায়িত্বরত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, ভবনের ভেতরে বাতাসের মান মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ার পর পেন্টাগনের একাধিক তলা এবং করিডোর পুরোপুরি অবরুদ্ধ বা লকডাউন করে দেওয়া হয়। একই সময়ে অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো থেকে সাধারণ কর্মী ও কর্মকর্তাদের দ্রুত এবং নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া বা স্থানান্তরের কাজ শুরু করা হয়। কী ধরনের উপাদান থেকে এই বিষাক্ত বা ক্ষতিকর গ্যাসের উৎপত্তি হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে পেন্টাগনের বিশেষ তদন্তকারী দল এবং পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী ও সূত্রের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, উদ্ভূত সংকটজনক পরিস্থিতির কারণে পেন্টাগন ভবনের ভেতরে বিশেষ পুলিশ বাহিনীকে গ্যাস মাস্ক এবং সম্পূর্ণ রাসায়নিক প্রতিরক্ষামূলক পোশাক (কেমিক্যাল প্রটেক্টিভ গিয়ার) পরা অবস্থায় দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে। যেকোনো ধরনের বড় রাসায়নিক আক্রমণ বা দুর্ঘটনা মোকাবিলায় তারা পেন্টাগনের প্রতিটি স্পর্শকাতর পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন উৎসের মাধ্যমে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে পেন্টাগনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট বা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হঠাৎ করে বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত এই সামরিক সদর দপ্তরে এমন আংশিক লকডাউন এবং বিষাক্ত গ্যাসের আতঙ্ক তৈরি হওয়ার পর ওয়াশিংটনসহ পুরো দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। পুরো পরিস্থিতি এখন কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং বাতাস পরীক্ষার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আসার পরই মূল ঘটনা জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত বিশাল ‘বিজয় তোরণ’ (ট্রিয়াম্ফাল আর্চ) নির্মাণের জন্য একটি অত্যন্ত আগ্রাসী ও দ্রুতগতির কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে যাচ্ছেন দেশটির কেন্দ্রীয় কর্মকর্তারা। এই তোরণটি আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির কাছে নির্মাণ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত সরকারি নথির বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করতে টানা দুই থেকে তিন বছর ধরে প্রতিদিন গড়ে ২০ ঘণ্টা করে নির্মাণকাজ চালানো হতে পারে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের পক্ষ থেকে ফেডারেল রেজিস্টারে জমা দেওয়া নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, মূল নির্মাণকাজের একটি বড় ধাপ সর্বোচ্চ ১১ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। সরকারি নথিতে আরও বলা হয়েছে যে, এই বৃহৎ অবকাঠামোটি গড়ে তোলার জন্য বেশ কয়েকটি বড় টাওয়ার ক্রেন, ফোরক্লিফট, স্কিড স্টিয়ার, ড্রিল রিগ এবং কংক্রিট পাম্পিং সিস্টেমের মতো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহারের প্রয়োজন হবে। বছরজুড়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে এই নির্মাণকাজ সচল রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন ১০ ঘণ্টা করে মোট দুটি শিফটে (অর্থাৎ দিনে মোট ২০ ঘণ্টা) শ্রমিক ও প্রকৌশলীরা কাজ করবেন। উল্লেখ্য, লিনকন মেমোরিয়াল এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির মধ্যবর্তী একটি ট্রাফিক সার্কেলে এই ২৫০ ফুট উঁচু বিজয় তোরণ নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক মাস ধরেই জোর প্রচার ও আলোচনা চালিয়ে আসছিলেন। প্রস্তাবিত এই স্থানটি মূলত পোটোম্যাক নদীর ভার্জিনিয়া অংশে অবস্থিত হলেও এটি টেকনিক্যালি ডিস্ট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার সীমানার মধ্যে পড়েছে। এই বিশাল তোরণটি নির্মাণের কারণে ওয়াশিংটন ডিসি এবং ভার্জিনিয়ার মধ্যে সংযোগ রক্ষাকারী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্লিংটন মেমোরিয়াল ব্রিজ এবং আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারি সংলগ্ন আর্লিংটন বুলেভার্ডে যানবাহন, বাইসাইকেল ও পথচারী চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। নির্মাণকাজ চলাকালীন এই ব্রিজের পশ্চিমমুখী যান চলাচলের পথটি তিন লেন থেকে কমিয়ে দুই লেনে নামিয়ে আনা হবে। সরকারি কর্মকর্তারা তোরণটি মেমোরিয়াল সার্কেলের ঠিক মাঝখানে তথা ব্রিজের প্রবেশমুখে স্থাপন করার প্রস্তাব দিয়েছেন। নতুন এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য মেমোরিয়াল সার্কেলের ভেতরে এবং এর চারপাশে একগুচ্ছ কাঠামোগত পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে, যা সরাসরি আর্লিংটন ন্যাশনাল সেমেটারির প্রবেশদ্বারের সাথে সংযুক্ত। যদি প্রস্তাব অনুযায়ী এই তোরণটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়, তবে এটি নদীর ওপারে অবস্থিত ৯৯ ফুট উঁচু ঐতিহাসিক লিনকন মেমোরিয়ালকে উচ্চতার দিক থেকে অনায়াসেই ছাড়িয়ে যাবে। এমনকি এটি বর্তমানে মেক্সিকো সিটিতে অবস্থিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় তোরণ ‘প্লাজা দে লা রিপাবলিকা’র চেয়েও প্রায় ৩০ ফুট বেশি উঁচু হবে। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের নথিতে বলা হয়েছে যে, মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই তোরণটির উচ্চতা ২৫০ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বেশিরভাগ স্মৃতিস্তম্ভ মার্বেল বা চুনাপাথরের মতো প্রাকৃতিক পাথর দিয়ে তৈরি হলেও এই তোরণটি মূলত কংক্রিট দিয়ে নির্মাণ করা হবে এবং এর বাইরের অংশে গ্রানাইটের আস্তরণ দিয়ে চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। এদিকে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) গত সপ্তাহে জানিয়েছে যে, তারা এই প্রকল্পের মূল পৃষ্ঠপোষক ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের সাথে সমন্বয় করে একটি পূর্ণাঙ্গ বৈমানিক সমীক্ষা চালাচ্ছে। এফএএ এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, তাদের পেশাদার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা কাছাকাছি অবস্থিত রোনাল্ড রেগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের বিমান পরিচালনায় এই তোরণের কারণে কোনো ক্ষতিকর বা প্রতিকূল প্রভাব খুঁজে পাননি। তবে এফএএ-এর সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, তোরণের শীর্ষে লাল রঙের নিরাপত্তা সতর্কীকরণ আলো যোগ করতে হবে, যা যেন বিমানবন্দরের রেডিও বা নেভিগেশনাল কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটায়। এই প্রস্তাবিত বিজয় তোরণের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত দেওয়ার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে, যা আগামী ১৫ জুন ২০২৬ তারিখে বন্ধ হয়ে যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে মৌমাছি এবং সামগ্রিক কৃষি খাতের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এশীয় ইয়েলো-লেগেড হর্নেট বা হলুদ পায়ের এক বিশেষ জাতের ভীমরুলের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের জরুরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। জর্জিয়ার সরকারি কৃষি বিভাগ রাজ্যের বেশ কয়েকটি উপকূলীয় কাউন্টির বাসিন্দাদের অত্যন্ত সজাগ থাকার এবং এই ক্ষতিকর ভীমরুলের প্রাথমিক পর্যায়ের বাসাগুলো খুঁজে বের করে তা প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। রাজ্যের কৃষি কমিশনার টাইলার জে হার্পার ব্রায়ান, বুলোচ, চ্যাথাম, এফিংহাম এবং লিবার্টি কাউন্টির সর্বস্তরের জনগণকে তাদের আশেপাশের এলাকায় এসব ভীমরুলের প্রাথমিক বা ভ্রূণ পর্যায়ের বাসা এবং তাদের যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রমের ওপর কড়া নজর রাখার অনুরোধ করেছেন। কৃষি কমিশনার টাইলার জে হার্পার এক সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, জর্জিয়ায় এই ক্ষতিকারক হলুদ পায়ের ভীমরুল পুরোপুরি নির্মূল করার প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে এই নির্মূল অভিযানকে সফল করতে সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা এখনও অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আজ যদি নাগরিকেরা প্রাথমিক পর্যায়ের একটি বাসাও শনাক্ত করে তা অপসারণ করতে সাহায্য করেন, তবে তা আগামীকাল বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব বা সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। জর্জিয়ার এক নম্বর প্রধান শিল্প তথা কৃষি খাত এবং পরিবেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরাগায়নকারী মৌমাছিদের সুরক্ষায় রাজ্যের নাগরিকদের সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জর্জিয়া সরকারের কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য ও সতর্কতা অনুযায়ী, মৌসুমের শেষ দিকে এই ভীমরুলের বড় ও শক্তিশালী দ্বিতীয় পর্যায়ের বাসা তৈরি হওয়া বন্ধ করতে হলে একদম প্রাথমিক অবস্থায় এদের বাসাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা এবং তা ধ্বংস করাই প্রধান উপায়। কৃষি কর্মকর্তারা এই বিষয়ে কড়াভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, একটিমাত্র অলক্ষিত বা অবহেলিত প্রাথমিক বাসা পরবর্তীতে কয়েক হাজার ক্ষতিকর ভীমরুল এবং একাধিক প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন রানি ভীমরুলসহ একটি বিশাল কলোনি বা উপনিবেশ তৈরি করতে সক্ষম। এই হর্নেট বা ভীমরুলগুলো স্থানীয় মধু উৎপাদনকারী মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগায়নকারী কীটন ও পতঙ্গদের ধ্বংস করে ফেলে, যা জর্জিয়ার সামগ্রিক কৃষি শিল্পের ওপর সরাসরি মারাত্মক নেতিবাচক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সবজি ও ফসলের জন্য ক্ষতিকর এই পোকার আক্রমণ রোধে জর্জিয়ার কৃষি বিভাগ আরও জানায় যে, এই ভীমরুলের প্রাথমিক বাসাগুলো সাধারণত বিভিন্ন গাছের ডালপালা, ঝোপঝাড়, বাড়িঘরের কার্নিশ এবং আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বনাঞ্চলের আশেপাশের যেকোনো উঁচু স্থানে দেখতে পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি মৌমাছির চাক বা বাক্সের চারপাশে এই ভীমরুলগুলোর শিকারি আচরণের ওপর বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুরের আগের সময়টায় এবং বিকেল ৫টার পর এদের আনাগোনা বেশি লক্ষ্য করা যায়। কোনো বাসিন্দা যদি এই হলুদ পায়ের ভীমরুল বা এর বাসার সন্ধান পান, তবে তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ অপসারণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য জর্জিয়া কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগের নির্দিষ্ট ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে প্রতি ১০০ টাকা ব্যয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ঋণের সুদ পরিশোধ খাতে। এর পরেই রয়েছে শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাত। বাজেটে সরকারের ব্যয় পরিকল্পনার খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রতি ১০০ টাকার মধ্যে ১৫ টাকা ৫০ পয়সা ব্যয় হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের সুদ পরিশোধে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ টাকা। তৃতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে ভর্তুকি ও প্রণোদনা খাত। কৃষি, রপ্তানি এবং অন্যান্য প্রণোদনামূলক কর্মসূচির জন্য প্রতি ১০০ টাকায় ১১ টাকা ৩০ পয়সা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি কার্যক্রম পরিচালনা ও প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য জনপ্রশাসন খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৯ টাকা ১০ পয়সা। এছাড়া পরিবহন ও যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ৮ টাকা ৮০ পয়সা। বিভিন্ন ছোট-বড় খাতের সমন্বয়ে গঠিত অন্যান্য খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৫ টাকা ৭০ পয়সা। স্বাস্থ্যসেবা ও জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে ব্যয়ের জন্য রাখা হয়েছে ৫ টাকা ৩০ পয়সা। সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ খাতে প্রতি ১০০ টাকায় ৪ টাকা ৭০ পয়সা এবং সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেনশন সুবিধার জন্য ৪ টাকা ৫০ পয়সা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় হবে ৪ টাকা ৩০ পয়সা এবং জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪ টাকা ১০ পয়সা। কৃষি খাতে বরাদ্দ রয়েছে ৩ টাকা ৭০ পয়সা। অন্যদিকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়ন ও পরিচালনায় ব্যয় হবে ২ টাকা ৯০ পয়সা। প্রতি ১০০ টাকায় খাতভিত্তিক ব্যয় খাত বরাদ্দ ঋণের সুদ পরিশোধ ১৫.৫০ টাকা শিক্ষা ও প্রযুক্তি ১৪.০০ টাকা ভর্তুকি ও প্রণোদনা ১১.৩০ টাকা জনপ্রশাসন ৯.১০ টাকা পরিবহন ও যোগাযোগ ৮.৮০ টাকা অন্যান্য খাত ৬.১০ টাকা স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ৫.৭০ টাকা স্বাস্থ্য ৫.৩০ টাকা সামাজিক নিরাপত্তা ও কল্যাণ ৪.৭০ টাকা পেনশন ৪.৫০ টাকা প্রতিরক্ষা ৪.৩০ টাকা জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা ৪.১০ টাকা কৃষি ৩.৭০ টাকা জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ২.৯০ টাকা প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, সরকারের ব্যয়ের বড় অংশ ঋণের সুদ, শিক্ষা, ভর্তুকি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যয় হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি খাতেও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে মৌমাছি এবং সামগ্রিক কৃষি খাতের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ এশীয় ইয়েলো-লেগেড হর্নেট বা হলুদ পায়ের এক বিশেষ জাতের ভীমরুলের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের জরুরি সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। জর্জিয়ার সরকারি কৃষি বিভাগ রাজ্যের বেশ কয়েকটি উপকূলীয় কাউন্টির বাসিন্দাদের অত্যন্ত সজাগ থাকার এবং এই ক্ষতিকর ভীমরুলের প্রাথমিক পর্যায়ের বাসাগুলো খুঁজে বের করে তা প্রশাসনকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে। রাজ্যের কৃষি কমিশনার টাইলার জে হার্পার ব্রায়ান, বুলোচ, চ্যাথাম, এফিংহাম এবং লিবার্টি কাউন্টির সর্বস্তরের জনগণকে তাদের আশেপাশের এলাকায় এসব ভীমরুলের প্রাথমিক বা ভ্রূণ পর্যায়ের বাসা এবং তাদের যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রমের ওপর কড়া নজর রাখার অনুরোধ করেছেন। কৃষি কমিশনার টাইলার জে হার্পার এক সরকারি বিবৃতিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, জর্জিয়ায় এই ক্ষতিকারক হলুদ পায়ের ভীমরুল পুরোপুরি নির্মূল করার প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। তবে এই নির্মূল অভিযানকে সফল করতে সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা এখনও অত্যন্ত জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, আজ যদি নাগরিকেরা প্রাথমিক পর্যায়ের একটি বাসাও শনাক্ত করে তা অপসারণ করতে সাহায্য করেন, তবে তা আগামীকাল বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব বা সংক্রমণ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। জর্জিয়ার এক নম্বর প্রধান শিল্প তথা কৃষি খাত এবং পরিবেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরাগায়নকারী মৌমাছিদের সুরক্ষায় রাজ্যের নাগরিকদের সবসময় সতর্ক থাকা প্রয়োজন। জর্জিয়া সরকারের কৃষি বিভাগের দেওয়া তথ্য ও সতর্কতা অনুযায়ী, মৌসুমের শেষ দিকে এই ভীমরুলের বড় ও শক্তিশালী দ্বিতীয় পর্যায়ের বাসা তৈরি হওয়া বন্ধ করতে হলে একদম প্রাথমিক অবস্থায় এদের বাসাগুলো দ্রুত শনাক্ত করা এবং তা ধ্বংস করাই প্রধান উপায়। কৃষি কর্মকর্তারা এই বিষয়ে কড়াভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, একটিমাত্র অলক্ষিত বা অবহেলিত প্রাথমিক বাসা পরবর্তীতে কয়েক হাজার ক্ষতিকর ভীমরুল এবং একাধিক প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন রানি ভীমরুলসহ একটি বিশাল কলোনি বা উপনিবেশ তৈরি করতে সক্ষম। এই হর্নেট বা ভীমরুলগুলো স্থানীয় মধু উৎপাদনকারী মৌমাছি এবং অন্যান্য পরাগায়নকারী কীটন ও পতঙ্গদের ধ্বংস করে ফেলে, যা জর্জিয়ার সামগ্রিক কৃষি শিল্পের ওপর সরাসরি মারাত্মক নেতিবাচক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। সবজি ও ফসলের জন্য ক্ষতিকর এই পোকার আক্রমণ রোধে জর্জিয়ার কৃষি বিভাগ আরও জানায় যে, এই ভীমরুলের প্রাথমিক বাসাগুলো সাধারণত বিভিন্ন গাছের ডালপালা, ঝোপঝাড়, বাড়িঘরের কার্নিশ এবং আবাসিক এলাকা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বনাঞ্চলের আশেপাশের যেকোনো উঁচু স্থানে দেখতে পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি মৌমাছির চাক বা বাক্সের চারপাশে এই ভীমরুলগুলোর শিকারি আচরণের ওপর বিশেষ নজর রাখতে বলা হয়েছে, বিশেষ করে সকাল থেকে দুপুরের আগের সময়টায় এবং বিকেল ৫টার পর এদের আনাগোনা বেশি লক্ষ্য করা যায়। কোনো বাসিন্দা যদি এই হলুদ পায়ের ভীমরুল বা এর বাসার সন্ধান পান, তবে তা নিশ্চিতকরণ এবং নিরাপদ অপসারণের প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য জর্জিয়া কৃষি বিভাগের উদ্ভিদ সংরক্ষণ বিভাগের নির্দিষ্ট ইমেইল ঠিকানায় যোগাযোগ করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে, যেখানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। এক মাস আগেও, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি।” তার এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্যকে অনেকেই অসংবেদনশীল বলে মনে করেন। তবে পরবর্তীতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বাড়েনি। তার ভাষায়, “আমি এই সংখ্যাগুলো পছন্দ করি কারণ এতে আমার পূর্বাভাসই প্রতিফলিত হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে।” অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরান-সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানির দাম আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন নিয়মিত পেট্রোলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৫ ডলার, যা গত ফেব্রুয়ারির শেষে ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার। শুধু জ্বালানিই নয়, বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন এবং যোগাযোগ খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিএলএস। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও চাপের মুখে পড়ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর আমলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমান হার সেই তুলনায় কম হলেও, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ তাৎক্ষণিকভাবে কমার সম্ভাবনা সীমিত। বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসা এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে সরাসরি অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে এবং তার প্রতিফলন সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ছে।
বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য দায়ী প্রাকৃতিক আবহাওয়া চক্র ‘এল নিনো’ প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (নোয়া) ঘোষণা করেছে যে, গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে এল নিনোর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা তীব্রভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কম্পিউটার মডেলগুলোর পূর্বাভাস অনুযায়ী, এবারের এল নিনো একটি ‘সুপার এল নিনো’ বা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী রূপ নিতে পারে। মানুষের তৈরি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সাথে এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ যুক্ত হয়ে আগামী ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং খাদ্য সরবরাহ ও অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। চলতি বছরের শুরুতে শীতল আবহাওয়া চক্র ‘লা নিনা’ শেষ হওয়ার পর থেকেই আবহাওয়াবিদেরা এই উষ্ণায়ন পর্বের আশঙ্কা করছিলেন। বর্তমানে মধ্য ও গ্রীষ্মমন্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড় তাপমাত্রা থেকে শূন্য দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মার্কিন বিজ্ঞানীদের মতে এল নিনো শুরুর প্রধান লক্ষণ। বিজ্ঞানীরা আরও লক্ষ্য করেছেন যে, সমুদ্রের ওপরের বায়ুপ্রবাহের গতিপথও বদলাতে শুরু করেছে। এর অর্থ হলো, কেবল সমুদ্রের পানিই গরম হচ্ছে না, বরং বায়ুমণ্ডলও এখন সমুদ্রের এই বাড়তি উষ্ণতার প্রতি সাড়া দিতে শুরু করেছে। কম্পিউটার মডেলগুলোর শক্তিশালী পূর্বাভাস বিজ্ঞানীদের সবচেয়ে বেশি বিস্মিত করেছে। নোয়া-র জুন মাসের আউটলুক বা পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী নভেম্বর থেকে জানুয়ারির মধ্যে এই এল নিনো অত্যন্ত শক্তিশালী রূপ নেওয়ার আশঙ্কা প্রায় ৬৩ শতাংশ। যদি এমনটা ঘটে, তবে ১৯৫০ সালের পর থেকে রেকর্ড করা ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো হবে এটি। মার্কিন ও ইউরোপীয় কিছু আবহাওয়া মডেল আরও স্পষ্ট করে দেখিয়েছে যে, বছরের শেষ নাগাদ প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের দশকীয় পূর্বাভাস প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ এই পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, চলমান এল নিনো মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আগে থেকে উত্তপ্ত থাকা পৃথিবীর ওপর আঘাত হানছে। এর ফলে উপদ্রুত অঞ্চলগুলোতে প্রকৃত তাপমাত্রা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। ২০২৪ সালটি ইতিমধ্যেই ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হিসেবে রেকর্ড গড়েছে এবং ২০২৫ সালেও লা নিনার শীতল প্রভাব থাকা সত্ত্বেও তা শীর্ষ উষ্ণ বছরগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল। ফলে ২০২৭ সালে বৈশ্বিক তাপমাত্রা প্রাক-শিল্পায়নের যুগের চেয়ে সহজে ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি বেড়ে যেতে পারে। সাধারণত এল নিনোর প্রভাবে পেরুর উত্তরাঞ্চল, ইকুয়েডরের দক্ষিণাঞ্চল, পূর্ব আফ্রিকা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়। এর বিপরীতে অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তরাঞ্চলে তীব্র খরা ও দাবদাহের সৃষ্টি হয়, যা বৈশ্বিক কৃষি ও খাদ্য মজুতকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে দেয়। আফ্রিকার জলবায়ু বিষয়ক ক্যাম্পেইন গ্রুপ ‘পাওয়ার শিফট আফ্রিকা’-র পরিচালক মোহাম্মদ আদো বলেন, “এল নিনোর এই ঘোষণা লাখ লাখ মানুষের কাছে একটি ভয়াবহ সংকেত। এর অর্থ হলো অনাবৃষ্টি, ফসলের মৃত্যু, খাদ্যপণ্যের চড়া দাম এবং অসংখ্য পরিবারকে চরম সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া।”
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর সদস্যদের গুপ্তহত্যা করতে রাশিয়া অভিনব ও ভয়ংকর এক 'হানিপট' বা প্রলোভনের ফাঁদ তৈরি করেছে। ইউক্রেনের জাতীয় পুলিশ প্রধান ইভান ভিহিভস্কি চাঞ্চল্যকর এক অভিযোগে জানিয়েছেন, রাশিয়ান গোয়েন্দারা এই জঘন্য কাজে ইউক্রেনের তরুণী এবং উঠতি বয়সি কিশোরীদের নিয়োগ করছে। মূলত টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থের লোভ দেখিয়ে এসব নারীদের ফাঁদে ফেলা হচ্ছে এবং দূর থেকে পুরো হত্যা মিশনটি সুকৌশলে পরিচালনা করা হচ্ছে। ইউক্রেন পুলিশের তথ্যমতে, এ পর্যন্ত টেলিগ্রামের মাধ্যমে কমপক্ষে ছয়টি চুক্তিবদ্ধ হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে, যার মধ্যে মাত্র একটি প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। পুলিশ প্রধান ভিহিভস্কি জানান, রাশিয়ান এজেন্টরা এই নারীদের প্রাপ্তবয়স্কদের ডেটিং সাইটগুলোতে গিয়ে ইউক্রেনীয় সামরিক সদস্যদের খুঁজে বের করার নির্দেশ দেয়। এরপর সেনাদের সাথে একান্তে দেখা করার জন্য বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার টাকাও সরাসরি সরবরাহ করে তারা। সাক্ষাতের আগে মেয়েদের কাছে পার্সেলের মাধ্যমে মেথাডোন নামের উচ্চমাত্রার সিন্থেটিক ওপিওড বা ব্যথানাশক ওষুধ পাঠানো হয়, যা অতিরিক্ত মাত্রায় প্রয়োগ করলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে। পরবর্তীতে সুযোগ বুঝে ডেটিংয়ে আসা ওই সেনাদের পানীয়ের সাথে সেই বিষাক্ত ওষুধ মিশিয়ে দেওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয় তাদের। সম্প্রতি ইউক্রেনের জাইতোমির অঞ্চলে এমনই এক মর্মান্তিক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত সপ্তাহে সেখানকার একটি বাড়ি থেকে ২৭ বছর বয়সী এক ইউক্রেনীয় সেনার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, যার ব্যবহৃত পাত্রে পাউডার জাতীয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গত ৪ জুন বারদিচিভ শহরের ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই কিশোরী পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে যে, সে টেলিগ্রামে এক সন্দেহভাজন রাশিয়ান এজেন্টের নির্দেশে ওই সেনার অ্যালকোহলের সাথে মেথাডোন মিশিয়েছিল। সেনা সদস্যটি অচেতন হয়ে পড়ার পরপরই সে ওই অ্যাপার্টমেন্ট থেকে পালিয়ে যায়। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত এক হাজার একশরও বেশি ইউক্রেনীয় নাগরিকের বিরুদ্ধে নিজ দেশের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং রাশিয়ার হয়ে অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসবাদ বা নাশকতামূলক কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
নিউইয়র্কভিত্তিক বাংলাদেশি-আমেরিকান রিয়েল এস্টেট পেশাজীবীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশি আমেরিকান রিয়েলটরস অব নিউইয়র্ক (আবার্নি)-এর ২০২৭-২০২৮ মেয়াদের নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা করা হয়েছে। সংগঠনের বোর্ড অব ডিরেক্টরসের ভোটে নতুন কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সাব্বির আহমেদ। সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাদির খান, সম্পাদক ইমরান ভূঁইয়া এবং কোষাধ্যক্ষ পদে নির্বাচিত হয়েছেন নাজনীন মির্জা। নবনির্বাচিত বোর্ড অব ডিরেক্টরস হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন কাজী হোসেন, কবির মুন্সী, হাসান ইমাম এবং তৌহিদুল ইসলাম। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি বছরের শেষ দিকে আবার্নির বার্ষিক ইনস্টলেশন ও অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির আনুষ্ঠানিক অভিষেক অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে সদস্যদের আবেদন ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৌহিদুল ইসলামকে পরিচালক হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। পরিচালক পদে আগ্রহ প্রকাশকারী সব সদস্যকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে সংগঠনটি। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ কবির, সাকিল আহমেদ এবং বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ রহমান নতুন নেতৃত্বকে দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে নির্বাহী কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন। এক বিবৃতিতে বর্তমান সভাপতি মোহাম্মদ রহমান নবনির্বাচিত নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সংগঠন আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। সদস্যদের পেশাগত উন্নয়ন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং কমিউনিটি সেবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি সংগঠনের সদস্য, শুভানুধ্যায়ী এবং কমিউনিটির সবাইকে নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানাতে এবং তাদের সফলতার জন্য সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। মোহাম্মদ রহমান বলেন, সবাই মিলে পেশাকে আরও শক্তিশালী করা, সদস্যদের উন্নয়নে কাজ করা এবং কমিউনিটির সেবা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যেই সংগঠন এগিয়ে যাবে।
শাহারিয়া নয়ন
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
মৃদুল রহমান
ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাব বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে, যেখানে মূল্যস্ফীতি বেড়ে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এ পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর একটি মন্তব্য নতুন করে আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (বিএলএস) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসে দেশটির মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ২ শতাংশে। এক মাস আগেও, অর্থাৎ এপ্রিল মাসে এই হার ছিল ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। এই তথ্য প্রকাশের পর হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমি এটা ভালোবাসি। সংখ্যাগুলো দুর্দান্ত।” আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “আমি মূল্যস্ফীতি ভালোবাসি।” তার এমন মন্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে নানা প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়, বিশেষ করে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এ বক্তব্যকে অনেকেই অসংবেদনশীল বলে মনে করেন। তবে পরবর্তীতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, তার মন্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তিনি আসলে বোঝাতে চেয়েছিলেন যে, যুদ্ধ পরিস্থিতি সত্ত্বেও মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি বাড়েনি। তার ভাষায়, “আমি এই সংখ্যাগুলো পছন্দ করি কারণ এতে আমার পূর্বাভাসই প্রতিফলিত হয়েছে। যুদ্ধ শেষ হলে মূল্যস্ফীতি আরও কমে আসবে।” অর্থনীতিবিদদের মতে, ইরান-সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বাড়ছে, যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে পড়ছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন বিঘ্নিত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খলে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাস ও বিদ্যুৎসহ সামগ্রিক জ্বালানির দাম আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন নিয়মিত পেট্রোলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৫ ডলার, যা গত ফেব্রুয়ারির শেষে ছিল ২ দশমিক ৯৮ ডলার। শুধু জ্বালানিই নয়, বিমান ভাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যক্তিগত সেবা, বিনোদন এবং যোগাযোগ খরচও বেড়েছে বলে জানিয়েছে বিএলএস। এতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও চাপের মুখে পড়ছে। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন-এর আমলে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি সর্বোচ্চ ৯ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমান হার সেই তুলনায় কম হলেও, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পথে হাঁটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে ঋণ গ্রহণ ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, যুদ্ধ দ্রুত শেষ হলেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সময় লাগতে পারে ২০২৭ সাল পর্যন্ত। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ তাৎক্ষণিকভাবে কমার সম্ভাবনা সীমিত। বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসা এই তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট, বৈশ্বিক রাজনৈতিক অস্থিরতা কীভাবে সরাসরি অর্থনীতির ওপর প্রভাব ফেলছে এবং তার প্রতিফলন সাধারণ মানুষের জীবনেও পড়ছে।
ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনার জন্ম দিলেও শেষ পর্যন্ত তা স্পষ্টভাবে নাকচ করে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও অভিনেতা-রাজনীতিবিদ শত্রুঘ্ন সিনহা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-কে প্রকাশ্যে শুভেচ্ছা জানানোর পর তার দলবদল বা ‘বিদ্রোহী’ শিবিরে যোগ দেওয়ার গুঞ্জন উঠলেও, বৃহস্পতিবার (১১ জুন) তিনি নিজেই সব জল্পনা উড়িয়ে দেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়, তৃণমূলের একটি ‘বিক্ষুব্ধ’ গোষ্ঠী লোকসভার স্পিকারের কাছে যে চিঠি জমা দিয়েছে, সেখানে নাকি শত্রুঘ্ন সিনহারও স্বাক্ষর রয়েছে। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে তার অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। এর মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তার দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনকাল পূর্ণ করার জন্য অভিনন্দন জানান আসানসোলের এই সংসদ সদস্য। ওই পোস্টে তিনি মোদিকে “সমাজ ও জাতির পথপ্রদর্শক” হিসেবে উল্লেখ করেন এবং তার সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনের কামনা করেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, এই পোস্টে তিনি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়-কেও ট্যাগ করেছিলেন। এতে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়—তাহলে কি শত্রুঘ্ন সিনহা নতুন কোনো রাজনৈতিক পথে হাঁটতে যাচ্ছেন? তবে এসব জল্পনার জবাব দিতে দেরি করেননি তিনি। স্পষ্ট ভাষায় জানান, বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়ার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। “আমাকে নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তার কোনোটিই সত্য নয়,” বলেন তিনি। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক আনুগত্যের কথাও জোর দিয়ে তুলে ধরেন সিনহা। তার ভাষায়, “আমার কঠিন সময়ে দিদি আমার পাশে ছিলেন। তার কঠিন সময়ে আমিও তার পাশে থাকব।” তিনি আরও জানান, তৃণমূল নেত্রীর অনুরোধেই তিনি আসানসোল থেকে লোকসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলেন। সেই কারণেই দলের প্রতি তার দায়বদ্ধতা আরও গভীর। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও কৌশলগত বার্তা অনেক সময়ই এমন বিভ্রান্তির জন্ম দেয়। তবে শত্রুঘ্ন সিনহার সাম্প্রতিক বক্তব্যে আপাতত পরিষ্কার, তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ছেন না এবং মমতা বন্দোপাধ্যায়ের নেতৃত্বেই আস্থা রাখছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
মার্কিন ধনকুবের ও মাইক্রোসফটের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস বলেছেন, যৌন অপরাধে দণ্ডিত জেফরি এপস্টিন তাঁর কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানতেন না। তিনি দাবি করেন, এপস্টিন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের সংবেদনশীল তথ্য, বিশেষ করে তাঁর বৈবাহিক সম্পর্কে বিশ্বস্ত না থাকার বিষয়টি ব্যবহার করে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিলেন। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির রুদ্ধদ্বার শুনানিতে সদস্যদের সামনে সাক্ষ্য দেন বিল গেটস। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, তিনি কখনো এপস্টিনকে কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকতে দেখেননি এবং এমন কোনো ইঙ্গিতও পাননি। গেটস জানান, তিনি কখনো এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপ, খামারবাড়ি বা ফ্লোরিডার বাসভবনে যাননি এবং কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো কর্মকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন না। তিনি আরও বলেন, এপস্টিন তাঁর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন, তবে তিনি তাতে আগ্রহ দেখাননি এবং সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। গেটসের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে তাঁর সঙ্গে এপস্টিনের পরিচয় হয়। এপস্টিন তাঁকে জানিয়েছিলেন, তিনি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগ্রহে সহায়তা করতে পারবেন। গেটস জানান, তিনি জানতেন এপস্টিন আগে আইনি জটিলতায় জড়িয়েছিলেন, তবে তাঁর অপরাধের পূর্ণ মাত্রা তখন তাঁর জানা ছিল না। যথাযথ যাচাই না করেই তিনি সেই পরিচয় গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল সীমিত এবং ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের পর তাঁদের মধ্যে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি মেলানি স্ট্যানসবেরি পরে জানান, গেটস স্বীকার করেছেন যে তিনি জানতেন এপস্টিন যৌন অপরাধে দণ্ডিত হয়েছিলেন, তবে তিনি তখনো তাঁকে দাতাদের সঙ্গে সংযোগ তৈরির একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেছিলেন। গেটস আরও অভিযোগ করেন, যোগাযোগ বন্ধ হওয়ার পর এপস্টিন তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য এবং অতিরিক্ত মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে পুনরায় যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, এপস্টিনের সঙ্গে দেখা করাটা তাঁর পক্ষ থেকে একটি বড় ভুল ছিল।চলতি বছর এপস্টিন সংক্রান্ত ফাইল প্রকাশের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। এরপর রুদ্ধদ্বার এই সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। এটি ছিল হাউস ওভারসাইট কমিটির একাধিক সাক্ষাৎকারের অংশ। শুনানির পর গেটস সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি। তবে পরে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, কমিটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ পেয়ে তিনি সন্তুষ্ট এবং তিনি সব ফাইল প্রকাশের উদ্যোগকে সমর্থন করেন। তাঁর মতে, এটি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমার বলেন, সাক্ষাৎকারে প্রশ্নের পরিধি নিয়ে কোনো সীমাবদ্ধতা ছিল না এবং যেকোনো বিষয়েই প্রশ্ন করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, গেটস সাক্ষ্য দিতে পুরোপুরি আগ্রহী ছিলেন না, তবে তিনি সহযোগিতা করেছেন। গেটসের আইনজীবী শুনানিতে জানান, তাঁর মক্কেল এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় এমন ব্যক্তিগত বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি। কমিটির ডেমোক্রেট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া গেটসকে কিছু ক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব দেখালেও সহযোগিতাপূর্ণ বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, গেটস প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন, যদিও কিছু বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। প্রকাশিত নথিপত্রে এপস্টিনের ই-মেইল অ্যাকাউন্টে থাকা কিছু খসড়া বার্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই বার্তাগুলোতে দাবি করা হয়েছিল, গেটসের জন্য ব্যক্তিগত সম্পর্কের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং কিছু চিকিৎসা সংক্রান্ত সহায়তার কথাও উল্লেখ ছিল। তবে এসব ই-মেইল আদৌ পাঠানো হয়েছিল কি না, বা গেটসের কাছে পৌঁছেছিল কি না, তা নিশ্চিত নয়। গেটস পক্ষ এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে। তাঁর প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, এসব দাবি ভিত্তিহীন এবং এপস্টিন ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে এসব তথ্য তৈরি করে থাকতে পারেন। ডেমোক্রেট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, শুনানিতে গেটস দাবি করেছেন এপস্টিন নিজেই নিজের কাছে ই-মেইল লিখে বিভ্রান্তিকর তথ্য তৈরি করতেন। তিনি আরও জানান, গেটস স্পষ্ট করেছেন যে এপস্টিন কখনো তাঁকে কোনো নারী, কিশোরী বা অপ্রাপ্তবয়স্ক কারও সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত বিপুল নথিতে গেটসের নাম বহুবার এসেছে। সেখানে বৈঠকের সময়সূচি, খাবারের আয়োজন, ফোন কলের পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সাক্ষাতের বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এসব যোগাযোগ মূলত ২০০৮ সালে এপস্টিন দণ্ডিত হওয়ার পরবর্তী সময়ের। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের এক বার্তায় গেটস লিখেছিলেন, তিনি প্রাতরাশ উপভোগ করেছেন। জবাবে এপস্টিন তাঁকে প্রশংসা করে ব্যক্তিগত দ্বীপে আসার আমন্ত্রণ জানান, তবে গেটস সেখানে যাননি বলে তাঁর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। শুনানির আগে প্রতিনিধি রবার্ট গার্সিয়া বলেন, দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা উদ্বেগজনক।
তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরবরাহকৃত উচ্চগতির মোবাইল রকেট সিস্টেম এইমার্স ব্যবহার করে সামরিক মহড়ায় চীনের দিকে অভিমুখে রকেট নিক্ষেপ করেছে। বুধবার তাইচুং এলাকায় অনুষ্ঠিত এই লাইভ-ফায়ার অনুশীলনকে সম্ভাব্য চীনা হামলার বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মহড়ায় ব্যবহৃত এইমার্স (উচ্চগতির মোবাইল আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) মূলত স্বল্প পাল্লার রকেট নিক্ষেপে সক্ষম, যা নিক্ষেপের পর উপকূলের কাছাকাছি সমুদ্র এলাকায় গিয়ে পড়ে। তাইওয়ানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এবারই প্রথমবারের মতো তাইওয়ান প্রণালীর দিকে রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে, যা চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে অত্যন্ত সংবেদনশীল সামুদ্রিক অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। সেনা কর্মকর্তা সার্জেন্ট ওয়াং মিং-হুই বলেন, “বর্তমান শত্রু হুমকির কারণে আমরা এইমার্স প্রশিক্ষণ অব্যাহত রাখব। দেশ রক্ষায় আমাদের সংকল্প অটল।” সামরিক সূত্র অনুযায়ী, মহড়ায় দ্রুত মোতায়েন ও লক্ষ্যভেদ সক্ষমতা যাচাইয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। “শুট অ্যান্ড স্কুট” কৌশলের মাধ্যমে লঞ্চারগুলো দ্রুত অবস্থান পরিবর্তন করে আঘাত হেনে তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপদ স্থানে সরে যায়, যা আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। তাইওয়ানের পশ্চিম উপকূলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দিনের এই মহড়ায় ১৫৫ মিলিমিটার হাউইটজারসহ অন্যান্য অস্ত্র ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সম্ভাব্য চীনা আক্রমণের সময় দ্রুত প্রতিক্রিয়া এবং নির্ভুল আঘাত নিশ্চিত করাই এই অনুশীলনের মূল লক্ষ্য। এই বিষয়ে তাইওয়ানের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত প্রতিনিধি আলেকজান্ডার ইউই বলেন, “আমরা একটি দ্বীপ দেশ, তাই পূর্ব বা পশ্চিম দিকে গুলি চালানো সম্ভব। তাই তারা পশ্চিম দিক বেছে নিয়েছে।” চীন দীর্ঘদিন ধরে তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং প্রয়োজনে বল প্রয়োগের মাধ্যমে একীভূত করার অবস্থান জানিয়ে আসছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলেও তাইওয়ানকে অস্ত্র সরবরাহসহ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, এইমার্স ব্যবহারের মাধ্যমে তাইওয়ান তার “অসম যুদ্ধ কৌশল” আরও শক্তিশালী করছে, যার লক্ষ্য বড় সামরিক শক্তির বিপরীতে দ্রুত, মোবাইল এবং নির্ভুল আঘাতের সক্ষমতা তৈরি করা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের জন্য আরও ৮২টি এইমার্স সিস্টেম বিক্রির পরিকল্পনা করেছিল। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর শীর্ষ বৈঠকের পর সেই প্রক্রিয়া আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।