Live update news
ড্রাইভিং লাইসেন্স। ছবি:সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে থাকেন, ড্রাইভার লাইসেন্স আছে? রিনিউয়ের আগে যা জানা জরুরি

নিউ ইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করতে যাচ্ছেন? শুধু পুরোনো লাইসেন্স হাতে নিয়ে ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি, আপনি শুধু লাইসেন্স রিনিউ করবেন, নাকি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করবেন। কারণ তিনটির নিয়ম এক নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকলে ডিএমভিতে গিয়েও কাজ শেষ না করে ফিরে আসতে হতে পারে।   নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালসের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে থেকেই রিনিউ করা যায়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দুই বছরের মধ্যে রিনিউ করার সুযোগ থাকে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো বৈধ নয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফেডারেল রিয়েল আইডি ব্যবস্থায়। ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পরিচয়পত্র হিসেবে সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্স আর গ্রহণ করছে না ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ফলে নিউ ইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো গেলেও সেটি একা দেখিয়ে এয়ারপোর্টের টিএসএ সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট পার হওয়ার ওপর নির্ভর করা যাবে না।   তবে এর অর্থ এই নয় যে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সধারীরা প্লেনে ভ্রমণই করতে পারবেন না। তাদের রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির পরিবর্তে বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, পাসপোর্ট কার্ড, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড বা টিএসএ অনুমোদিত অন্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।   আপনার নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সে যদি রিয়েল আইডির তারকা বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার চিহ্ন না থাকে এবং সেটি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স হয়, তাহলে ফেডারেল পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় এমন কাজে সেটি ব্যবহার করা যাবে না।   যারা শুধু বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স একই ধরনের লাইসেন্স হিসেবে রিনিউ করতে চান, তারা যোগ্য হলে অনলাইনে রিনিউ করতে পারেন। আগে থেকেই রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে রিনিউ করা যায় এবং ডকুমেন্টের ধরন একই থাকে।   কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে প্রথমবার রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে হলে ডিএমভি অফিসে সরাসরি যেতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ জমা দিতে হবে এবং নতুন ছবি তোলা হবে।   রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডিএমভি আবেদনকারীর পূর্ণ বৈধ নামের প্রমাণ চায়। কোনো ডকুমেন্টে ডাকনাম, সংক্ষিপ্ত নাম বা অন্য নাম থাকলে অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বিয়ে, ডিভোর্স বা আদালতের আদেশের কারণে নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আগের ও বর্তমান নামের সংযোগ প্রমাণের কাগজও সঙ্গে রাখতে হতে পারে।   একই সঙ্গে নিউইয়র্কে বসবাসের দুটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে হয়। বর্তমান নিউইয়র্ক ঠিকানাসহ ড্রাইভার লাইসেন্স বা নন ড্রাইভার আইডি, সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্টাব, ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য হতে পারে। অধিকাংশ রেসিডেন্সি ডকুমেন্ট ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ইস্যু করা হতে হয় এবং পোস্ট অফিস বক্সকে আবাসিক ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।   সোশ্যাল সিকিউরিটি সম্পর্কিত প্রমাণসহ ঠিক কোন ডকুমেন্ট আপনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে, তা আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড বা ডব্লিউ-টু সঙ্গে নিলেই সবার ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ডিএমভির ডকুমেন্ট গাইড ব্যবহার করে নিজের জন্য নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করাই নিরাপদ।   ডিএমভি এখন অনলাইন প্রি-স্ক্রিনিং সুবিধাও দিচ্ছে। রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির জন্য অফিসে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কী কী লাগবে তা যাচাই করা যায় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাগজপত্র আগেই রিভিউয়ের জন্য জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এতে ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট নিয়ে অফিসে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।   রিয়েল আইডির জন্য সাধারণ ট্রানজ্যাকশন ফি ছাড়া আলাদা ৩০ ডলারের কোনো চার্জ নেই। তবে এনহ্যান্সড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য নিয়মিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৩০ ডলার দিতে হয়।   এনহ্যান্সড লাইসেন্সের একটি বাড়তি সুবিধা রয়েছে। যোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কানাডা, মেক্সিকো এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ থেকে স্থল বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এসব দেশ থেকে আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের জন্য এনহ্যান্সড লাইসেন্স পাসপোর্টের বিকল্প নয়।   নিউইয়র্কের সবচেয়ে প্রচলিত ক্লাস ডি ড্রাইভার লাইসেন্সের সাধারণ আট বছরের রিনিউ ফি ৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। নিউইয়র্ক সিটি এবং মেট্রোপলিটন কমিউটার ট্রান্সপোর্টেশন ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত কাউন্টিগুলোতে আট বছরের লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত ১৬ ডলার এমসিটিডি ফি প্রযোজ্য হওয়ায় মোট ফি ৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিলে এর সঙ্গে আরও ৩০ ডলার যোগ হবে।   কমার্শিয়াল ক্লাস এ, বি বা সি লাইসেন্সের সাধারণ রিনিউ ফি ১৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। এমসিটিডি এলাকায় তা ১৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। লাইসেন্সের শ্রেণি ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে ফি ভিন্ন হতে পারে।   আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে রিনিউ আটকে যেতে পারে। নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য ভিশন টেস্ট পাস করা বাধ্যতামূলক। ডিএমভি অফিসে পরীক্ষা দেওয়া যায়, আবার অনুমোদিত ভিশন প্রোভাইডারের মাধ্যমেও পরীক্ষা করানো যায়। অনলাইনে রিনিউ করলে অনুমোদিত ভিশন টেস্টের তথ্য ডিএমভিতে থাকতে হবে। ভিশন টেস্টের ফল সাধারণত ১২ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে।   যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হতে এখনো ১২ মাসের বেশি বাকি, তারাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আগাম রিনিউ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে পারেন। তবে আগাম রিনিউয়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের নতুন মেয়াদ ও মোট ফি স্বাভাবিক রিনিউয়ের তুলনায় আলাদা এবং কখনো বেশি হতে পারে।   সব মিলিয়ে ডিএমভিতে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের বর্তমান লাইসেন্সের ধরন এবং কী ধরনের লাইসেন্স নিতে চান তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে চাইলে পূর্ণ বৈধ নাম, পরিচয়, বৈধ স্ট্যাটাস ও নিউইয়র্কের ঠিকানার প্রয়োজনীয় প্রমাণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। কয়েক মিনিটের প্রস্তুতি ডিএমভি অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে আসার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।

২৭ মিনিট Ago
মসজিদ অবস্থানর অবস্থায় নারীর। ছবি:সংগৃহীত
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি মসজিদে শিক্ষা সফর ঘিরে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত ওই সফরে শিক্ষার্থীদের ইসলামি পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়, বাড়িতে নেওয়ার জন্য কোরআন দেওয়া হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। অভিভাবকদের দাবি, সরকারি স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সীমা অতিক্রম করে এটি ধর্মীয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছিল।   গত ৭ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করা হয়। এতে পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং পালো অল্টো হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রেন্ট ক্লাইনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের শরৎকালে সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে শিক্ষার্থীদের একটি সফর। এটি পালো অল্টো হাই স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ ছিল।   স্কুলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে তিন বছরের একটি শিক্ষা কর্মসূচি। এতে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, কমিউনিটির সঙ্গে কাজ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে মসজিদ সফরের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষামূলক সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।   সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদীরা ‘কমিউনিটি মেম্বারস ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ইহুদি, হিন্দু ও জরথুস্ত্রী পরিবারের অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সফরের সময় শিক্ষার্থীদের কোরআনের কপি দেওয়া হয়েছিল এবং মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা মসজিদে দুপুরের নামাজও প্রত্যক্ষ করে। এসব কর্মকাণ্ডকে বাদীপক্ষ সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে।   তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মসজিদ সফরের সঙ্গে যুক্ত নাগরিক অধিকারকর্মী জাহরা বিলু অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দেওয়া। ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না এবং সফরটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।   এই পার্থক্যটিই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলে ধর্ম সম্পর্কে ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে পড়ানো নিষিদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করতে পারে। তবে সরকারি স্কুল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে সমর্থন, প্রচার বা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের অভিযোগ, মসজিদ সফরের কিছু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণমূলক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে সফরের আয়োজকদের অবস্থান হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও চর্চা তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণ ছিল স্বেচ্ছামূলক।   মামলায় শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কিছু শিক্ষার্থীর ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছ থেকে দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি চাইছেন।   পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার কাগজপত্র হাতে পায়নি। তবে তিনি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ডিস্ট্রিক্টের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   এখন ফেডারেল কোর্টে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, মসজিদ সফরটি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে ছিল, নাকি সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

৪৭ মিনিট Ago
সাত বছর বকশিশ না দিয়ে  বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার
সাত বছর বকশিশ না দিয়ে বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার, মৃত্যুর পর ওয়েট্রেসকে দিয়ে গেলেন ৫০ হাজার ডলার ও গাড়ি

রেস্টুরেন্টে এলেই অভিযোগ, খাবার হতে হবে প্রচণ্ড গরম, কথায় কথায় রাগ আর কখনো কর্মীদের উদ্দেশে কটু কথা। এমন একজন ক্রেতাকে দেখলে অন্য কর্মীরা যখন এড়িয়ে চলতেন, তখনও হাসিমুখে তার টেবিলে খাবার পৌঁছে দিতেন মেলিনা সালাজার। টানা প্রায় সাত বছর একইভাবে সেবা দেওয়ার পর সেই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর মেলিনার জন্য অপেক্ষা করছিল অবিশ্বাস্য এক চমক। উইলে তাকে ৫০ হাজার ডলার এবং নিজের ২০০০ মডেলের একটি বিউইক গাড়ি দিয়ে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলের লুবিস ক্যাফেটেরিয়ার। ২০০৭ সালে ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে। সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   মেলিনার সেই নিয়মিত ক্রেতার নাম ছিল ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস। ৮৯ বছর বয়সী সোর্ডস ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন প্রবীণ সেনাসদস্য। রেস্টুরেন্টে নিয়মিত আসতেন তিনি। তবে কর্মীদের কাছে সহজ মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল না।   মেলিনা সে সময় জানিয়েছিলেন, সোর্ডস চাইতেন তার খাবার অত্যন্ত গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হোক। খাবার এতটাই গরম হতে হতো যে তাতে তার মুখ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি পরোয়া করতেন না। নিজের পছন্দমতো কিছু না হলে রেগে যেতেন, অভিযোগ করতেন এবং কখনো কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করতেন।   এসব কারণে অন্য অনেক কর্মী তার টেবিলের দায়িত্ব নিতে চাইতেন না। কিন্তু মেলিনা তাকে এড়িয়ে যাননি। প্রায় সাত বছর ধরে সোর্ডস যখনই আসতেন, তিনি ধৈর্য ধরে তার পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করতেন। বৃদ্ধের রাগ বা অভিযোগের জবাবেও নিজের আচরণ বদলাননি।   এরপর ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই রেস্টুরেন্টে আসা বন্ধ করে দেন সোর্ডস। পরে স্থানীয় পত্রিকার মৃত্যুসংবাদ থেকে মেলিনা জানতে পারেন, জুলাই মাসে মারা গেছেন তার দীর্ঘদিনের সেই নিয়মিত ক্রেতা।   সেখানেই গল্পটি শেষ হতে পারত। কিন্তু বড় চমকটি আসে কয়েক মাস পর, বড়দিনের ঠিক আগে।   মেলিনা জানতে পারেন, মৃত্যুর আগে তৈরি করা উইলে সোর্ডস তার জন্য ৫০ হাজার ডলার রেখে গেছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, নিজের ২০০০ মডেলের বিউইক গাড়িটিও মেলিনাকে দিয়ে যান তিনি।   খবরটি পাওয়ার পর মেলিনা এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সে সময় টেক্সাসের কেজিবিটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘটনাটি এখনও তার বিশ্বাস হচ্ছে না। সোর্ডসের স্বভাব নিয়েও রাখঢাক করেননি তিনি। তাকে কিছুটা রূঢ় প্রকৃতির মানুষ হিসেবেই বর্ণনা করেছিলেন।   তবে সোর্ডস জীবিত অবস্থায় মেলিনাকে কখনো এত বড় পুরস্কার দেবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে সেই সময়ের নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি মেলিনার জন্য একটি বিশেষ ধন্যবাদপত্র রেখে গিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত মূলধারার প্রতিবেদনগুলোতে এমন কোনো চিঠির তথ্য পাওয়া যায় না।   নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রায় সাত বছর ধরে মেলিনার ধৈর্য ও সেবা পাওয়া এই নিয়মিত ক্রেতা মৃত্যুর পর তার উইলে ৫০ হাজার ডলার এবং একটি গাড়ি মেলিনার নামে রেখে যান।   ঘটনার পর অন্য রেস্টুরেন্ট কর্মীদের জন্য মেলিনার পরামর্শও ছিল খুব সাধারণ। মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে এবং ভালোভাবে আচরণ করতে বলেছিলেন তিনি।   প্রায় দুই দশক আগের ঘটনাটি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলার বা গাড়ির চেয়েও গল্পটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে আছে সেই সাত বছরের আচরণ। মেলিনা জানতেন না তার ধৈর্যের কোনো পুরস্কার আসবে। অন্যরা যে মানুষটিকে এড়িয়ে চলতেন, তাকেই তিনি প্রতিদিন অন্য ক্রেতাদের মতো সেবা দিয়ে গেছেন। আর জীবদ্দশায় মুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলেও মৃত্যুর পর নিজের উইলের মাধ্যমে সেই সেবার মূল্য দিয়ে গেছেন ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস।

১ ঘন্টা Ago
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।   এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।   ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।   তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।   ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।   এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।   ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের আবেদন ফি বাড়ানোর প্রস্তাব, দিতে হতে পারে ১,৩৩০ ডলার

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে আগের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ গুনতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন প্রস্তাবে নাগরিকত্বের আবেদনপত্র Form N-400-এর কাগজে জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার করার কথা বলা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করলে বর্তমান ৭১০ ডলারের পরিবর্তে দিতে হবে ১ হাজার ২৮০ ডলার।   তবে এটি এখনো কার্যকর হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) ২৩ জুন প্রস্তাবটি প্রকাশ করেছে। আগামী ২৪ আগস্ট পর্যন্ত এ বিষয়ে জনসাধারণের মতামত নেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   প্রস্তাব অনুযায়ী, কাগজে Form N-400 জমা দেওয়ার ফি ৭৬০ থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩০ ডলার হলে আবেদনকারীর খরচ বাড়বে ৫৭০ ডলার বা প্রায় ৭৫ শতাংশ। অনলাইনে আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে ৭১০ থেকে ১ হাজার ২৮০ ডলারে বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।   এখানে বিষয়টি পাসপোর্টের আবেদন ফি নিয়ে নয়। Form N-400 হলো যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য আবেদনপত্র। নাগরিকত্বের আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর একজন ব্যক্তি মার্কিন পাসপোর্টের জন্য আলাদাভাবে আবেদন করতে পারেন। ফলে নতুন প্রস্তাবটি সরাসরি পাসপোর্টের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নয়।   শুধু মূল নাগরিকত্বের আবেদন নয়, আবেদন প্রত্যাখ্যানের পর শুনানির অনুরোধ করার Form N-336-এর ফিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। কাগজে এই ফি ৮৩০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৭৫ ডলার এবং অনলাইনে ৭৮০ ডলার থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪২৫ ডলার হতে পারে।   সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়তে পারে কম আয়ের আবেদনকারীদের ওপর। বর্তমানে নির্দিষ্ট আয়সীমার মধ্যে থাকা যোগ্য আবেদনকারীরা ৩৮০ ডলারের কম ফিতে Form N-400 জমা দিতে পারেন। নতুন প্রস্তাবে এই কম ফি ব্যবস্থাটি বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে N-400 ও N-336-এর জন্য বর্তমানে থাকা ফি মওকুফের ব্যবস্থাও তুলে দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে।   তবে সামরিক বাহিনীর নির্দিষ্ট বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব আবেদনের ফি থেকে অব্যাহতি বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের যুক্তি, নাগরিকত্বের আবেদন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয় মেটানোর জন্য আবেদনকারীদের কাছ থেকেই পুরো খরচ নেওয়া হলে ইউএসসিআইএসের আর্থিক কাঠামো আরও টেকসই হবে। সংস্থাটি ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থের ওপর নির্ভর করেই মূলত তার কার্যক্রম পরিচালনা করে। প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের কাছ থেকে প্রক্রিয়াকরণের প্রকৃত ব্যয়ের কাছাকাছি অর্থ নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।   সরকারের নথিতে আরও বলা হয়েছে, কম ফি ও ফি মওকুফের আবেদন আলাদাভাবে যাচাই করতে ইউএসসিআইএসের অতিরিক্ত প্রশাসনিক সময় ও সম্পদ ব্যয় হয়। এসব ব্যবস্থা বাদ দিলে আবেদন গ্রহণ ও প্রক্রিয়াকরণ সহজ হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ।   অন্যদিকে, অভিবাসন অধিকারকর্মী ও নাগরিকত্ব নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো প্রস্তাবটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, কয়েকশ ডলার অতিরিক্ত খরচ এবং কম আয়ের মানুষের জন্য ছাড়ের সুযোগ কমে গেলে অনেক যোগ্য গ্রিন কার্ডধারীর জন্য নাগরিকত্বের আবেদন করা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।   ভার্জিনিয়ায় নাগরিকত্বের আবেদন প্রস্তুতিতে সহায়তা করা রেবেকা থমাস স্থানীয় এনবিসি অ্যাফিলিয়েট WVIR-কে বলেন, তার শিক্ষার্থীদের অনেকের পক্ষেই প্রস্তাবিত বাড়তি ফি বহন করা সম্ভব নাও হতে পারে।   বর্তমানে Form N-400-এর সাধারণ ফি কাগজে ৭৬০ ডলার এবং অনলাইনে ৭১০ ডলার। কম আয়ের যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ৩৮০ ডলারের বিকল্প এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ফি মওকুফের ব্যবস্থাও রয়েছে।   নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে নাগরিকত্বের আবেদন করতে যাওয়া অনেক অভিবাসীর জন্য আর্থিক চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসের পর নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য আবেদন করার সময় ও সম্ভাব্য খরচ নিয়ে নতুন করে পরিকল্পনা করতে হতে পারে।   তবে এখনই বাড়তি টাকা দেওয়ার নিয়ম চালু হচ্ছে না। প্রস্তাবটি বর্তমানে জনমত পর্যায়ে রয়েছে এবং ২৪ আগস্টের পর সরকার প্রাপ্ত মতামত পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ০:২৫
‘অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়’: র‌্যান্ডি ফাইন

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের দেশটিতে থাকার সুযোগ দেওয়া উচিত নয় বলে আবারও মন্তব্য করেছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র‌্যান্ডি ফাইন।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি কঠোর অভিবাসন প্রয়োগের পক্ষে নিজের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তার বক্তব্য, যারা অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছেন, তাদের দেশটিতে থাকার অনুমতি দেওয়া উচিত নয়।   অভিবাসন বিষয়ে ফাইনের অবস্থান দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর। তার সরকারি কংগ্রেসনাল ওয়েবসাইটে সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, ব্যাপক বহিষ্কার এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের জন্য সরকারি সুবিধা বন্ধের পক্ষে তার অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। (Randy Fine)   চলতি বছরের এপ্রিলেও ফাইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সামর্থ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে আলোচনার সময় সব অবৈধ অভিবাসীকে বহিষ্কারের পক্ষে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, এতে আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও গাড়ির বীমাসহ বিভিন্ন খাতে খরচ কমতে পারে। (Fox News)   তবে এসব দাবির সবগুলো অর্থনীতিবিদদের মধ্যে সর্বসম্মত নয়। চলতি মাসে ফ্লোরিডার অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে কথা বলার সময় ফাইন অবৈধ অভিবাসনকে ব্যয়বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেও, অন্যান্য বিশ্লেষণে আবাসনের ঘাটতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি, বীমা ব্যয়, মজুরি ও সুদের হারকেও ফ্লোরিডার ব্যয়সংকটের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। (WKMG)   ফাইনের অবস্থান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, সীমান্ত প্রাচীর নির্মাণ এবং ব্যাপক বহিষ্কারের পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছেন। (Randy Fine)   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসননীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ, অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বহিষ্কার এবং তাদের জন্য সরকারি সুবিধার প্রশ্ন। র‌্যান্ডি ফাইনের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্কে তার কঠোর অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে।

সাত বছর বকশিশ না দিয়ে বৃদ্ধের দুর্ব্যবহার, মৃত্যুর পর ওয়েট্রেসকে দিয়ে গেলেন ৫০ হাজার ডলার ও গাড়ি

রেস্টুরেন্টে এলেই অভিযোগ, খাবার হতে হবে প্রচণ্ড গরম, কথায় কথায় রাগ আর কখনো কর্মীদের উদ্দেশে কটু কথা। এমন একজন ক্রেতাকে দেখলে অন্য কর্মীরা যখন এড়িয়ে চলতেন, তখনও হাসিমুখে তার টেবিলে খাবার পৌঁছে দিতেন মেলিনা সালাজার। টানা প্রায় সাত বছর একইভাবে সেবা দেওয়ার পর সেই বৃদ্ধের মৃত্যুর পর মেলিনার জন্য অপেক্ষা করছিল অবিশ্বাস্য এক চমক। উইলে তাকে ৫০ হাজার ডলার এবং নিজের ২০০০ মডেলের একটি বিউইক গাড়ি দিয়ে গিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধ।   ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ব্রাউনসভিলের লুবিস ক্যাফেটেরিয়ার। ২০০৭ সালে ঘটনাটি প্রথম আলোচনায় আসে। সে সময় অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।   মেলিনার সেই নিয়মিত ক্রেতার নাম ছিল ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস। ৮৯ বছর বয়সী সোর্ডস ছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের একজন প্রবীণ সেনাসদস্য। রেস্টুরেন্টে নিয়মিত আসতেন তিনি। তবে কর্মীদের কাছে সহজ মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল না।   মেলিনা সে সময় জানিয়েছিলেন, সোর্ডস চাইতেন তার খাবার অত্যন্ত গরম অবস্থায় পরিবেশন করা হোক। খাবার এতটাই গরম হতে হতো যে তাতে তার মুখ পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তিনি পরোয়া করতেন না। নিজের পছন্দমতো কিছু না হলে রেগে যেতেন, অভিযোগ করতেন এবং কখনো কর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করতেন।   এসব কারণে অন্য অনেক কর্মী তার টেবিলের দায়িত্ব নিতে চাইতেন না। কিন্তু মেলিনা তাকে এড়িয়ে যাননি। প্রায় সাত বছর ধরে সোর্ডস যখনই আসতেন, তিনি ধৈর্য ধরে তার পছন্দ অনুযায়ী খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করতেন। বৃদ্ধের রাগ বা অভিযোগের জবাবেও নিজের আচরণ বদলাননি।   এরপর ২০০৭ সালের গ্রীষ্মে হঠাৎ করেই রেস্টুরেন্টে আসা বন্ধ করে দেন সোর্ডস। পরে স্থানীয় পত্রিকার মৃত্যুসংবাদ থেকে মেলিনা জানতে পারেন, জুলাই মাসে মারা গেছেন তার দীর্ঘদিনের সেই নিয়মিত ক্রেতা।   সেখানেই গল্পটি শেষ হতে পারত। কিন্তু বড় চমকটি আসে কয়েক মাস পর, বড়দিনের ঠিক আগে।   মেলিনা জানতে পারেন, মৃত্যুর আগে তৈরি করা উইলে সোর্ডস তার জন্য ৫০ হাজার ডলার রেখে গেছেন। শুধু নগদ অর্থ নয়, নিজের ২০০০ মডেলের বিউইক গাড়িটিও মেলিনাকে দিয়ে যান তিনি।   খবরটি পাওয়ার পর মেলিনা এতটাই বিস্মিত হয়েছিলেন যে প্রথমে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। সে সময় টেক্সাসের কেজিবিটি টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ঘটনাটি এখনও তার বিশ্বাস হচ্ছে না। সোর্ডসের স্বভাব নিয়েও রাখঢাক করেননি তিনি। তাকে কিছুটা রূঢ় প্রকৃতির মানুষ হিসেবেই বর্ণনা করেছিলেন।   তবে সোর্ডস জীবিত অবস্থায় মেলিনাকে কখনো এত বড় পুরস্কার দেবেন, এমন কোনো ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে সেই সময়ের নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। একইভাবে সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, তিনি মেলিনার জন্য একটি বিশেষ ধন্যবাদপত্র রেখে গিয়েছিলেন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত মূলধারার প্রতিবেদনগুলোতে এমন কোনো চিঠির তথ্য পাওয়া যায় না।   নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, প্রায় সাত বছর ধরে মেলিনার ধৈর্য ও সেবা পাওয়া এই নিয়মিত ক্রেতা মৃত্যুর পর তার উইলে ৫০ হাজার ডলার এবং একটি গাড়ি মেলিনার নামে রেখে যান।   ঘটনার পর অন্য রেস্টুরেন্ট কর্মীদের জন্য মেলিনার পরামর্শও ছিল খুব সাধারণ। মানুষের সঙ্গে হাসিমুখে এবং ভালোভাবে আচরণ করতে বলেছিলেন তিনি।   প্রায় দুই দশক আগের ঘটনাটি এখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ শেষ পর্যন্ত ৫০ হাজার ডলার বা গাড়ির চেয়েও গল্পটির সবচেয়ে আলোচিত অংশ হয়ে আছে সেই সাত বছরের আচরণ। মেলিনা জানতেন না তার ধৈর্যের কোনো পুরস্কার আসবে। অন্যরা যে মানুষটিকে এড়িয়ে চলতেন, তাকেই তিনি প্রতিদিন অন্য ক্রেতাদের মতো সেবা দিয়ে গেছেন। আর জীবদ্দশায় মুখে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ না করলেও মৃত্যুর পর নিজের উইলের মাধ্যমে সেই সেবার মূল্য দিয়ে গেছেন ওয়াল্টার ‘বাক’ সোর্ডস।

মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।   এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।   ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।   তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।   ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।   এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।   ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

মসজিদ অবস্থানর অবস্থায় নারীর। ছবি:সংগৃহীত
মসজিদ সফরে মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহ, শিক্ষার্থীদের কোরআন দেওয়ার অভিযোগে স্কুলের বিরুদ্ধে মামলা

ক্যালিফোর্নিয়ার পালো অল্টো হাই স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটি মসজিদে শিক্ষা সফর ঘিরে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন একদল অভিভাবক। তাদের অভিযোগ, স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অধীনে আয়োজিত ওই সফরে শিক্ষার্থীদের ইসলামি পোশাক পরতে উৎসাহিত করা হয়, বাড়িতে নেওয়ার জন্য কোরআন দেওয়া হয় এবং তারা মুসলিমদের নামাজ পর্যবেক্ষণ করে। অভিভাবকদের দাবি, সরকারি স্কুলের শিক্ষামূলক কার্যক্রমের সীমা অতিক্রম করে এটি ধর্মীয় কার্যক্রমে পরিণত হয়েছিল।   গত ৭ আগস্ট ক্যালিফোর্নিয়ার নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টের ফেডারেল কোর্টে মামলাটি করা হয়। এতে পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্ট এবং পালো অল্টো হাই স্কুলের প্রিন্সিপাল ব্রেন্ট ক্লাইনসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।   মামলার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের শরৎকালে সান্তা ক্লারার মুসলিম কমিউনিটি অ্যাসোসিয়েশনের মসজিদে শিক্ষার্থীদের একটি সফর। এটি পালো অল্টো হাই স্কুলের ‘সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে’ কর্মসূচির অংশ ছিল।   স্কুলটির নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সোশ্যাল জাস্টিস পাথওয়ে তিন বছরের একটি শিক্ষা কর্মসূচি। এতে প্রজেক্টভিত্তিক শিক্ষা, কমিউনিটির সঙ্গে কাজ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ দেওয়া হয়। শ্রেণিকক্ষের বাইরেও শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমে শেখানো এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।   তবে মসজিদ সফরের ক্ষেত্রে সেই শিক্ষামূলক সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।   সান ফ্রান্সিসকো ক্রনিকলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামলার বাদীরা ‘কমিউনিটি মেম্বারস ফর রিলিজিয়াস নিউট্রালিটি ইন পাবলিক স্কুলস’ নামের একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। তাদের মধ্যে ইহুদি, হিন্দু ও জরথুস্ত্রী পরিবারের অভিভাবক এবং সাবেক শিক্ষার্থী রয়েছেন।   মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, সফরের সময় শিক্ষার্থীদের কোরআনের কপি দেওয়া হয়েছিল এবং মেয়েদের হিজাব পরতে উৎসাহিত করা হয়েছিল। শিক্ষার্থীরা মসজিদে দুপুরের নামাজও প্রত্যক্ষ করে। এসব কর্মকাণ্ডকে বাদীপক্ষ সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে দাবি করছে।   তবে অভিযোগগুলো এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। স্কুল ডিস্ট্রিক্ট বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালত এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি।   মসজিদ সফরের সঙ্গে যুক্ত নাগরিক অধিকারকর্মী জাহরা বিলু অভিযোগের বিরোধিতা করেছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সফরের উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায় সম্পর্কে সরাসরি জানার সুযোগ দেওয়া। ধর্মীয় কার্যক্রমে অংশ নেওয়া বাধ্যতামূলক ছিল না এবং সফরটি শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যেই আয়োজন করা হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন।   এই পার্থক্যটিই মামলার গুরুত্বপূর্ণ আইনি প্রশ্ন হয়ে উঠতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের পাবলিক স্কুলে ধর্ম সম্পর্কে ইতিহাস, সংস্কৃতি বা সামাজিক প্রেক্ষাপটে পড়ানো নিষিদ্ধ নয়। শিক্ষার্থীরা শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও পরিদর্শন করতে পারে। তবে সরকারি স্কুল কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে সমর্থন, প্রচার বা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অনুশীলনে অংশ নিতে বাধ্য করতে পারে না।   অভিভাবকদের অভিযোগ, মসজিদ সফরের কিছু কার্যক্রম পর্যবেক্ষণমূলক শিক্ষার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অন্যদিকে সফরের আয়োজকদের অবস্থান হচ্ছে, শিক্ষার্থীদের সামনে একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও চর্চা তুলে ধরাই ছিল উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণ ছিল স্বেচ্ছামূলক।   মামলায় শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ, যথাযথ অনুমতি ছাড়াই কিছু শিক্ষার্থীর ছবি অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিল। তারা ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কাছ থেকে দায়িত্বে অবহেলা এবং শিক্ষার্থীদের গোপনীয়তা ও যথাযথ প্রক্রিয়ার অধিকার লঙ্ঘনের স্বীকৃতি চাইছেন।   পালো অল্টো ইউনিফায়েড স্কুল ডিস্ট্রিক্টের সুপারিনটেনডেন্ট জেসন গ্লাস সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ডিস্ট্রিক্ট আনুষ্ঠানিকভাবে মামলার কাগজপত্র হাতে পায়নি। তবে তিনি সরকারি শিক্ষাব্যবস্থায় ধর্মীয় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ডিস্ট্রিক্টের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   এখন ফেডারেল কোর্টে মামলার পরবর্তী প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে, মসজিদ সফরটি সাংবিধানিকভাবে গ্রহণযোগ্য শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মধ্যে ছিল, নাকি সরকারি স্কুলের ধর্মীয় নিরপেক্ষতার সীমা লঙ্ঘন করেছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স। ছবি:সংগৃহীত
নিউ ইয়র্কে থাকেন, ড্রাইভার লাইসেন্স আছে? রিনিউয়ের আগে যা জানা জরুরি

নিউ ইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করতে যাচ্ছেন? শুধু পুরোনো লাইসেন্স হাতে নিয়ে ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগে জেনে নেওয়া জরুরি, আপনি শুধু লাইসেন্স রিনিউ করবেন, নাকি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করবেন। কারণ তিনটির নিয়ম এক নয়। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিক না থাকলে ডিএমভিতে গিয়েও কাজ শেষ না করে ফিরে আসতে হতে পারে।   নিউ ইয়র্ক স্টেট ডিপার্টমেন্ট অব মোটর ভেহিক্যালসের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণ ড্রাইভার লাইসেন্স মেয়াদ শেষ হওয়ার এক বছর আগে থেকেই রিনিউ করা যায়। এমনকি মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দুই বছরের মধ্যে রিনিউ করার সুযোগ থাকে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়া লাইসেন্স নিয়ে গাড়ি চালানো বৈধ নয়।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে ফেডারেল রিয়েল আইডি ব্যবস্থায়। ২০২৫ সালের ৭ মে থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে পরিচয়পত্র হিসেবে সাধারণ স্ট্যান্ডার্ড ড্রাইভার লাইসেন্স আর গ্রহণ করছে না ট্রান্সপোর্টেশন সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। ফলে নিউ ইয়র্কের স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স দিয়ে গাড়ি চালানো গেলেও সেটি একা দেখিয়ে এয়ারপোর্টের টিএসএ সিকিউরিটি চেকপয়েন্ট পার হওয়ার ওপর নির্ভর করা যাবে না।   তবে এর অর্থ এই নয় যে স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্সধারীরা প্লেনে ভ্রমণই করতে পারবেন না। তাদের রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির পরিবর্তে বৈধ যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট, পাসপোর্ট কার্ড, পার্মানেন্ট রেসিডেন্ট কার্ড বা টিএসএ অনুমোদিত অন্য পরিচয়পত্র ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে।   আপনার নিউ ইয়র্ক ড্রাইভার লাইসেন্সে যদি রিয়েল আইডির তারকা বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার চিহ্ন না থাকে এবং সেটি স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স হয়, তাহলে ফেডারেল পরিচয়পত্রের প্রয়োজন হয় এমন কাজে সেটি ব্যবহার করা যাবে না।   যারা শুধু বর্তমান স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স একই ধরনের লাইসেন্স হিসেবে রিনিউ করতে চান, তারা যোগ্য হলে অনলাইনে রিনিউ করতে পারেন। আগে থেকেই রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে রিনিউ করা যায় এবং ডকুমেন্টের ধরন একই থাকে।   কিন্তু স্ট্যান্ডার্ড লাইসেন্স থেকে প্রথমবার রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে হলে ডিএমভি অফিসে সরাসরি যেতে হবে। প্রয়োজনীয় পরিচয় ও বসবাসের প্রমাণ জমা দিতে হবে এবং নতুন ছবি তোলা হবে।   রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে ডিএমভি আবেদনকারীর পূর্ণ বৈধ নামের প্রমাণ চায়। কোনো ডকুমেন্টে ডাকনাম, সংক্ষিপ্ত নাম বা অন্য নাম থাকলে অতিরিক্ত কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে। বিয়ে, ডিভোর্স বা আদালতের আদেশের কারণে নাম পরিবর্তন হয়ে থাকলে আগের ও বর্তমান নামের সংযোগ প্রমাণের কাগজও সঙ্গে রাখতে হতে পারে।   একই সঙ্গে নিউইয়র্কে বসবাসের দুটি গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে হয়। বর্তমান নিউইয়র্ক ঠিকানাসহ ড্রাইভার লাইসেন্স বা নন ড্রাইভার আইডি, সাম্প্রতিক ব্যাংক স্টেটমেন্ট, পে স্টাব, ইউটিলিটি বিলসহ বিভিন্ন ডকুমেন্ট গ্রহণযোগ্য হতে পারে। অধিকাংশ রেসিডেন্সি ডকুমেন্ট ডিএমভি অফিসে যাওয়ার আগের ৩৬৫ দিনের মধ্যে ইস্যু করা হতে হয় এবং পোস্ট অফিস বক্সকে আবাসিক ঠিকানা হিসেবে গ্রহণ করা হয় না।   সোশ্যাল সিকিউরিটি সম্পর্কিত প্রমাণসহ ঠিক কোন ডকুমেন্ট আপনার ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য হবে, তা আবেদনকারীর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই শুধু সোশ্যাল সিকিউরিটি কার্ড বা ডব্লিউ-টু সঙ্গে নিলেই সবার ডকুমেন্টের প্রয়োজনীয়তা পূরণ হবে, এমন ধরে নেওয়া ঠিক নয়। ডিএমভির ডকুমেন্ট গাইড ব্যবহার করে নিজের জন্য নির্দিষ্ট তালিকা তৈরি করাই নিরাপদ।   ডিএমভি এখন অনলাইন প্রি-স্ক্রিনিং সুবিধাও দিচ্ছে। রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড আইডির জন্য অফিসে যাওয়ার আগে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট কী কী লাগবে তা যাচাই করা যায় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাগজপত্র আগেই রিভিউয়ের জন্য জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। এতে ভুল বা অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট নিয়ে অফিসে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।   রিয়েল আইডির জন্য সাধারণ ট্রানজ্যাকশন ফি ছাড়া আলাদা ৩০ ডলারের কোনো চার্জ নেই। তবে এনহ্যান্সড ড্রাইভার লাইসেন্সের জন্য নিয়মিত ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৩০ ডলার দিতে হয়।   এনহ্যান্সড লাইসেন্সের একটি বাড়তি সুবিধা রয়েছে। যোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা কানাডা, মেক্সিকো এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের নির্দিষ্ট দেশ থেকে স্থল বা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় এটি ব্যবহার করতে পারেন। তবে এসব দেশ থেকে আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের জন্য এনহ্যান্সড লাইসেন্স পাসপোর্টের বিকল্প নয়।   নিউইয়র্কের সবচেয়ে প্রচলিত ক্লাস ডি ড্রাইভার লাইসেন্সের সাধারণ আট বছরের রিনিউ ফি ৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। নিউইয়র্ক সিটি এবং মেট্রোপলিটন কমিউটার ট্রান্সপোর্টেশন ডিস্ট্রিক্টের অন্তর্ভুক্ত কাউন্টিগুলোতে আট বছরের লাইসেন্সের জন্য অতিরিক্ত ১৬ ডলার এমসিটিডি ফি প্রযোজ্য হওয়ায় মোট ফি ৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিলে এর সঙ্গে আরও ৩০ ডলার যোগ হবে।   কমার্শিয়াল ক্লাস এ, বি বা সি লাইসেন্সের সাধারণ রিনিউ ফি ১৬৪ দশমিক ৫০ ডলার। এমসিটিডি এলাকায় তা ১৮০ দশমিক ৫০ ডলার হতে পারে। লাইসেন্সের শ্রেণি ও অন্যান্য পরিস্থিতির কারণে ফি ভিন্ন হতে পারে।   আরেকটি বিষয় ভুলে গেলে রিনিউ আটকে যেতে পারে। নিউইয়র্কে ড্রাইভার লাইসেন্স রিনিউ করার জন্য ভিশন টেস্ট পাস করা বাধ্যতামূলক। ডিএমভি অফিসে পরীক্ষা দেওয়া যায়, আবার অনুমোদিত ভিশন প্রোভাইডারের মাধ্যমেও পরীক্ষা করানো যায়। অনলাইনে রিনিউ করলে অনুমোদিত ভিশন টেস্টের তথ্য ডিএমভিতে থাকতে হবে। ভিশন টেস্টের ফল সাধারণত ১২ মাস পর্যন্ত কার্যকর থাকে।   যাদের লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হতে এখনো ১২ মাসের বেশি বাকি, তারাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে আগাম রিনিউ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্সে পরিবর্তন করতে পারেন। তবে আগাম রিনিউয়ের ক্ষেত্রে লাইসেন্সের নতুন মেয়াদ ও মোট ফি স্বাভাবিক রিনিউয়ের তুলনায় আলাদা এবং কখনো বেশি হতে পারে।   সব মিলিয়ে ডিএমভিতে যাওয়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের বর্তমান লাইসেন্সের ধরন এবং কী ধরনের লাইসেন্স নিতে চান তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে রিয়েল আইডি বা এনহ্যান্সড লাইসেন্স নিতে চাইলে পূর্ণ বৈধ নাম, পরিচয়, বৈধ স্ট্যাটাস ও নিউইয়র্কের ঠিকানার প্রয়োজনীয় প্রমাণ আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা জরুরি। কয়েক মিনিটের প্রস্তুতি ডিএমভি অফিসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর খালি হাতে ফিরে আসার ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
মাদক পরীক্ষায় একের পর এক ধরা পড়ছেন ভারতীয় পাইলট
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৪:২৯

ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইট মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যাওয়ার ঘটনার পর সংস্থাটির পাইলটদের নিয়ে শুরু হওয়া মাদক পরীক্ষায় আরও দুই পাইলটের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ এসেছে। চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।   ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই দুই পাইলটের নমুনা এখন নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ‘নন-নেগেটিভ’ ফল পাওয়ার অর্থ চূড়ান্তভাবে মাদক গ্রহণ প্রমাণিত হওয়া নয়। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষার ফল পাওয়ার পরই তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এয়ার ইন্ডিয়া সম্প্রতি নিজেদের পাইলটদের জন্য এককালীন বাধ্যতামূলক মাদক পরীক্ষা শুরু করেছে। এয়ার ইন্ডিয়া ও এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের প্রায় পাঁচ হাজার পাইলটকে এই পরীক্ষার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন কর্মসূচির অধীনে ইতোমধ্যে তিন শতাধিক পাইলটের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।   এই ব্যাপক পরীক্ষার সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত ৪ আগস্ট ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইট এআই২৩৭৯-এর গুরুতর ঘটনা। এয়ারবাস এ৩২০নিও উড়োজাহাজটি মাঝ আকাশে হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ২৪ জন আহত হন। পরে উড়োজাহাজটি নিরাপদে দিল্লিতে অবতরণ করে।   ঘটনার পর ফ্লাইটটির পাইলটদের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ফ্লাইটের ক্যাপ্টেনের প্রাথমিক পরীক্ষায় সন্দেহজনক ফল আসার পর নমুনা নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে বলে একাধিক ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে।   তবে কোনো ব্যক্তির শরীরে গাঁজার উপাদান শনাক্ত হওয়া এবং ফ্লাইট পরিচালনার সময় তিনি মাদকের প্রভাবে ছিলেন, এই দুটি বিষয় এক নয়। তদন্তকারীরা এখন মাদক পরীক্ষার ফলের পাশাপাশি পাইলটদের আচরণ, ফ্লাইট ডেটা, উড়োজাহাজের কারিগরি অবস্থা এবং ঘটনার সময় ককপিটে কী ঘটেছিল, সেসব বিষয়ও খতিয়ে দেখছেন।   ঘটনাটিতে কারিগরি ত্রুটির গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও সামনে এসেছে। এয়ারবাসের প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উড়োজাহাজটির তিনটি স্বতন্ত্র হাইড্রোলিক ব্যবস্থাতেই সাময়িকভাবে চাপ কমে যায়। এর ফলে প্রায় চার সেকেন্ডের জন্য এলিভেটর ও আইলারনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট কন্ট্রোল স্বাভাবিকভাবে সাড়া দেয়নি। হাইড্রোলিক চাপ ফিরে আসার পর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা আবার কার্যকর হয়। এই তথ্যের কারণে ঘটনাটিকে শুধু পাইলটের মাদক পরীক্ষার ফলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা হচ্ছে না। উড়োজাহাজের হাইড্রোলিক ব্যবস্থা কেন একই সময়ে সমস্যায় পড়েছিল, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।   ভারতের এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো ঘটনাটিকে ‘গুরুতর ঘটনা’ হিসেবে তদন্ত করছে। এয়ারবাস এবং ফ্রান্সের বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত সংস্থার বিশেষজ্ঞরাও কারিগরি তদন্তে সহায়তা করছেন।   এয়ার ইন্ডিয়া জানিয়েছে, পাইলটদের মাদক পরীক্ষা নির্ধারিত নিরাপত্তা প্রক্রিয়া ও বেসামরিক বিমান চলাচলের বিধি অনুসরণ করে করা হচ্ছে। নতুন পরীক্ষায় যাদের প্রাথমিক ফল ‘নন-নেগেটিভ’ আসছে, নিশ্চিতকরণ পরীক্ষার ফল না পাওয়া পর্যন্ত তাদের ফ্লাইট ডিউটি থেকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে।   ফুকেট-দিল্লি ফ্লাইটের ঘটনার পর এখন তদন্তের দুটি দিক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। একদিকে পাইলটের নিশ্চিত মাদক পরীক্ষার ফল ও ক্রুদের ফিটনেস, অন্যদিকে একই সময়ে উড়োজাহাজের তিনটি হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় দেখা দেওয়া বিরল কারিগরি ত্রুটি। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই ৩০০ ফুট আকস্মিক পতনের পেছনে ঠিক কোন কোন কারণ ভূমিকা রেখেছিল, সে বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।

৬১ বছর বয়সে নিজের গর্ভে নাতিকে ধারণ করলেন মা
মেয়ের মা হওয়ার স্বপ্ন পূরণে, ৬১ বছর বয়সে নিজের গর্ভে নাতিকে ধারণ করলেন মা
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ৩:১১

সন্তানের জন্য বছরের পর বছর চেষ্টা, একের পর এক ব্যর্থ গর্ভধারণ এবং আইভিএফের পর মৃত যমজ সন্তান প্রসবের বেদনা। সবকিছুর পর যখন সারা কনেল ও তার স্বামী বিল কনেলের বাবা-মা হওয়ার স্বপ্ন প্রায় নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছিল, তখন এগিয়ে আসেন সারার মা ক্রিস্টিন কেসি। ৬১ বছর বয়সে নিজের মেয়ের সন্তানের সারোগেট হয়ে গর্ভে ধারণ করেন নাতিকে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোয় জন্ম দেন সুস্থ শিশু ফিনিয়ান লি কনেলকে।   ঘটনাটি সে সময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। এবিসি নিউজসহ একাধিক মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্রিস্টিন তখন তিন প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের মা এবং প্রায় ১০ বছর আগেই তার মেনোপজ হয়ে গিয়েছিল। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে স্বাভাবিকভাবে গর্ভধারণের প্রশ্ন ছিল না। কিন্তু আধুনিক প্রজনন চিকিৎসার সহায়তায় শেষ পর্যন্ত মেয়ের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার সুযোগ পান তিনি।   সারা ও বিল দীর্ঘদিন ধরে সন্তান নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ফার্টিলিটি চিকিৎসা ও একাধিক গর্ভধারণের পরও তাদের সন্তান বেঁচে থাকেনি। একপর্যায়ে আইভিএফের মাধ্যমে যমজ সন্তান গর্ভে এলেও তারা মৃত অবস্থায় জন্ম নেয়। ধারাবাহিক এই অভিজ্ঞতার পর দম্পতির বাবা-মা হওয়ার আশা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছিল।   এই অবস্থায় মেয়ের জন্য সারোগেট হওয়ার প্রস্তাব দেন ক্রিস্টিন। তবে শুধু ইচ্ছা থাকলেই এত বেশি বয়সে গর্ভধারণ সম্ভব ছিল না। চিকিৎসকেরা প্রথমে তার স্বাস্থ্যের বিস্তারিত পরীক্ষা করেন। বয়সের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকিও বিবেচনায় নেওয়া হয়। প্রয়োজনীয় মেডিকেল মূল্যায়নের পর তাকে গর্ভধারণের উপযোগী করতে হরমোন চিকিৎসা দেওয়া হয়।   এই প্রক্রিয়ায় ক্রিস্টিন শিশুটির জৈবিক মা ছিলেন না। সারা কনেলের ডিম্বাণু এবং তার স্বামী বিল কনেলের শুক্রাণু ব্যবহার করে আইভিএফের মাধ্যমে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। সেই ভ্রূণ ক্রিস্টিনের জরায়ুতে স্থাপন করা হয়। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় সফলভাবে গর্ভধারণ করেন তিনি।   প্রায় ৩৯ সপ্তাহ নাতিকে গর্ভে বহন করেন ক্রিস্টিন। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন মেমোরিয়াল হাসপাতালের প্রেন্টিস উইমেন্স হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে জন্ম নেয় ফিনিয়ান লি কনেল। জন্মের সময় শিশুটির ওজন ছিল প্রায় সাত পাউন্ড।   চিকিৎসকেরা সে সময় জানিয়েছিলেন, অস্ত্রোপচারটি জটিলতা ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছিল। তবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ক্রিস্টিনের কিডনি-সংক্রান্ত সাময়িক একটি জটিলতা দেখা দেয়, যা দ্রুত চিকিৎসায় নিয়ন্ত্রণে আসে।   ক্রিস্টিনের জন্য এটি ছিল প্রায় তিন দশক পর আবার সন্তান প্রসবের অভিজ্ঞতা। তবে এবার যে শিশুটিকে তিনি গর্ভে বহন করেছিলেন, সেই শিশুই ছিল তার নিজের প্রথম নাতি।   ঘটনার পর ক্রিস্টিন জানিয়েছিলেন, নিজের তিন মেয়েকে জন্ম দেওয়ার দিনগুলো তার জীবনের সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্তগুলোর মধ্যে ছিল। সেই মাতৃত্বের আনন্দ মেয়েকেও পাওয়ার সুযোগ করে দিতে চেয়েছিলেন তিনি।   পরবর্তীতে সারা কনেল তাদের এই দীর্ঘ ও ব্যতিক্রমী যাত্রার অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বইও লেখেন। সেখানে সন্তান হারানোর কষ্ট থেকে শুরু করে নিজের মায়ের সারোগেট হওয়ার সিদ্ধান্ত এবং শেষ পর্যন্ত ফিনিয়ানের জন্ম পর্যন্ত পুরো অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন তিনি।   ফিনিয়ানের জন্মের গল্পের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিকটি ছিল পারিবারিক সম্পর্কের এই সমীকরণ। জৈবিকভাবে সারা ও বিল তার বাবা-মা। কিন্তু যে নারী তাকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করে পৃথিবীতে এনেছিলেন, তিনি একই সঙ্গে তার নানি ক্রিস্টিন কেসি।   ৬১ বছর বয়সে নেওয়া ক্রিস্টিনের সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত এমন একটি পরিবারের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছিল, যেখানে একজন মা নিজের মেয়েকে মাতৃত্বের সুযোগ করে দিতে নিজেই হয়ে উঠেছিলেন তার সন্তানের সারোগেট।

একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে
একটি ফোনকলের পরই ডিপোর্টেশন ফ্লাইট থেকে ফিরিয়ে আনা হলো মার্কিন সেনার স্ত্রীকে
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২:৪৪

এক মাসের বেশি সময় আইসিই হেফাজতে থাকার পর ব্রাজিলে ডিপোর্টেশনের জন্য বিমানে তোলা হয়েছিল মার্কিন সেনার স্ত্রী মাইসা লোপেস এলিয়াসারকে। কিন্তু মাঝআকাশে একটি রহস্যময় ফোনকলের পর বদলে যায় পরিস্থিতি। আইসিই কর্মকর্তারা তাকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি ব্রাজিলে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। মাইসা যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। পরে তাকে লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে এনে ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজত থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।   অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩২ বছর বয়সী মাইসা ব্রাজিলের নাগরিক। তিনি মার্কিন সেনাবাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যালেক্সিস জারামিলোর স্ত্রী। ২০১৯ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন মাইসা এবং পরে নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন।   হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল একজন ইমিগ্রেশন বিচারক তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ডিপোর্টেশন আদেশ দেন। এরপর ৮ জুলাই একটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্টে গেলে তাকে আটক করা হয়। এক মাসের বেশি সময় তিনি ফেডারেল ইমিগ্রেশন হেফাজতে ছিলেন।   গত বুধবার তাকে অন্য আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে একটি ডিপোর্টেশন ফ্লাইটে ব্রাজিলের উদ্দেশে পাঠানো হয়। কিন্তু বিমান চলার সময়ই আইসিই কর্মকর্তাদের কাছে তাকে নিয়ে একটি ফোন আসে।   মাইসার ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর একজন আইসিই কর্মকর্তা তার কাছে এসে জানতে চান, তিনি ব্রাজিলের উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যেতে চান নাকি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসতে চান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।   বিমানটি ব্রাজিলে পৌঁছানোর পর অন্য আটক ব্যক্তিদের নামিয়ে দেওয়া হলেও মাইসাকে বিমানে রাখা হয়। পরে একই বিমানে তাকে আবার লুইজিয়ানায় ফিরিয়ে আনা হয়।   কে সেই ফোন করেছিলেন কিংবা কেন শেষ মুহূর্তে তার ডিপোর্টেশন থামানো হলো, তা এখনো পরিষ্কার নয়।   তার স্বামী অ্যালেক্সিস জারামিলো বলেন, কে ফোন করেছিলেন তারা জানেন না। তবে কেউ একজন ফোন করার পরই তার স্ত্রীকে ফেরত আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।   মাইসা জানিয়েছেন, বিমানে থাকা আইসিই কর্মকর্তারা তাকে বলেছিলেন, তিনি এখন ‘বিখ্যাত’, কারণ তার ঘটনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।   অ্যালেক্সিস জারামিলো একজন মার্কিন নাগরিক এবং এক দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন সেনাবাহিনীতে কর্মরত। তিনি বর্তমানে লুইজিয়ানার ফোর্ট পোলকে সেনাদের প্রশিক্ষণের দায়িত্বে রয়েছেন। স্ত্রী আটক হওয়ার পর মাইসার পাঁচ বছর বয়সী ছেলের দেখাশোনা করতে তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে ছুটি নিতে হয়েছিল।   মাইসার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাষ্ট্রে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের অভিবাসী স্ত্রী, স্বামী ও পরিবারের সদস্যদের আটক এবং ডিপোর্টেশন নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এর আগে জানিয়েছিল, ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পরিবারের জন্য আগের কিছু সুরক্ষা প্রত্যাহার করার পর মার্কিন সেনাদের কয়েক ডজন স্বামী, স্ত্রী কিংবা বাবা-মা আইসিই হেফাজতের মুখোমুখি হয়েছেন।   এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর কংগ্রেসের একদল ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা সামরিক সদস্য ও তাদের পরিবারের ডিপোর্টেশন নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।   অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর এবং সাবেক নৌবাহিনী কর্মকর্তা মার্ক কেলিও মাইসার ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করেন। তার মুখপাত্র জানিয়েছেন, কেলি মাইসাকে আটক রাখা আইসিই ফিল্ড অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।   কেলি সামরিক পরিবারের সদস্যদের আটক করার নীতির সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থার বাস্তব সমাধান প্রয়োজন এবং সেনা পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করা সেই সমস্যার সমাধান নয়।   মাইসার পরিবারকে সহায়তা করেছে ‘রিপ্যাট্রিয়েট আওয়ার প্যাট্রিয়টস’ নামে একটি অলাভজনক সংগঠন। সংগঠনটির প্রধান ডানিটজা জেমস বলেছেন, রাজনৈতিক বিভাজনের বাইরে গিয়ে সামরিক পরিবারকে সহায়তা করলে কী সম্ভব, এই পরিবারের পুনর্মিলন তারই উদাহরণ।   মাইসা ও অ্যালেক্সিস ২০২৪ সালে বিয়ে করেন। এখন মাইসা তার ইমিগ্রেশন মামলা পুনরায় খোলার চেষ্টা করছেন এবং গ্রিন কার্ডের আবেদন এগিয়ে নিতে চান।   তার আরেকটি ইমিগ্রেশন অ্যাপয়েন্টমেন্ট ১৭ আগস্ট নির্ধারিত রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের জানানো হয়েছে মামলাটি নিয়ে আর সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও আবার আটক হওয়ার আশঙ্কায় তারা উদ্বিগ্ন।   এক মাসের বেশি সময় আটক থাকার অভিজ্ঞতা নিয়েও কথা বলেছেন মাইসা। তিনি জানিয়েছেন, এখনো ঠিকমতো ঘুমাতে পারছেন না এবং আবার ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হতে পারে, এমন ভয় কাজ করছে তার মধ্যে।   মাইসার ডিপোর্টেশন শেষ মুহূর্তে থামানোর সুনির্দিষ্ট কারণ নিয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি। ফলে ব্রাজিলগামী বিমানের মাঝআকাশে আসা সেই ফোনকলটি কে করেছিলেন এবং কী কারণে সিদ্ধান্ত বদলে গেল, সেটিই এখন ঘটনাটির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে রয়েছে।

ইতালির জাদুঘর থেকে চুরি গেল রেনেসাঁ যুগের ৪টি অমূল্য চিত্রকর্ম
ইতালির জাদুঘর থেকে চুরি গেল রেনেসাঁ যুগের ৪টি অমূল্য চিত্রকর্ম
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ১৭, ২০২৬ ২:৩৭

ইতালির সিসিলি দ্বীপের মেসিনা শহরের একটি জাদুঘর থেকে রেনেসাঁ যুগের খ্যাতিমান শিল্পী আন্তোনেলো দা মেসিনার চারটি অত্যন্ত মূল্যবান চিত্রকর্ম চুরি হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত প্রায় ১০টার দিকে মেসিনার আঞ্চলিক জাদুঘরে এ ঘটনা ঘটে। চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৪৭৩ সালের বিখ্যাত ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর তিনটি প্যানেল এবং দুই পাশে আঁকা একটি ছোট প্যানেল।   ইতালির সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী আলেসান্দ্রো গিউলি ঘটনাটিকে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য গুরুতর ক্ষতি হিসেবে দেখছেন। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। চোরেরা কীভাবে জাদুঘরের নিরাপত্তাব্যবস্থা পেরিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকর্ম নিয়ে পালাতে সক্ষম হলো, সেটিও তদন্তের অন্যতম বিষয়।   আন্তোনেলো দা মেসিনা পঞ্চদশ শতকের ইতালীয় রেনেসাঁর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী। তার টিকে থাকা চিত্রকর্মের সংখ্যা খুবই সীমিত। এ কারণে তার প্রতিটি শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক ও আর্থিক মূল্য অত্যন্ত বেশি।   জাদুঘর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চোরেরা প্রথমে ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’-এর টিকে থাকা পাঁচটি প্যানেলই সরিয়ে নিয়েছিল। তবে পালানোর সময় দুটি প্যানেল ফেলে যায়। ফলে শেষ পর্যন্ত ওই শিল্পকর্মের তিনটি প্যানেল নিয়ে যেতে সক্ষম হয় তারা।   এর পাশাপাশি চুরি হয়েছে ছোট একটি দুই-পিঠে আঁকা কাঠের প্যানেল। এর এক পাশে শিশু যিশুকে কোলে নিয়ে ভার্জিন মেরি ও একজন ফ্রান্সিসকান সন্ন্যাসীর চিত্র এবং অন্য পাশে ‘ক্রাইস্ট ইন পিয়েতা’ আঁকা রয়েছে। প্যানেলটি একটি সুরক্ষিত প্রদর্শনী বাক্সে রাখা ছিল।   জাদুঘরের পরিচালক মারিসা মারকুরিও জানিয়েছেন, স্থানীয় সময় শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে চুরির ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় জাদুঘরে নিরাপত্তাকর্মী এবং সচল অ্যালার্ম ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও চোরেরা কীভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা এড়িয়ে ভেতরে ঢুকল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।   চুরি যাওয়া শিল্পকর্মগুলোর মূল্য নিয়েও বিভিন্ন হিসাব সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের হিসাবে চারটি শিল্পকর্মের সম্মিলিত মূল্য প্রায় ৭ থেকে ৮ কোটি ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। তবে এসব শিল্পকর্মের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে শুধু বাজারমূল্য দিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।   ‘সান গ্রেগোরিও পলিপটিক’ আন্তোনেলো দা মেসিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি। ১৪৭৩ সালে তৈরি এই শিল্পকর্মটি মেসিনার একটি মঠের জন্য নির্মিত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ১৯০৮ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ওই মঠ ধ্বংস হলেও শিল্পকর্মটি রক্ষা পায়। শত শত বছর ধরে এটি মেসিনাতেই সংরক্ষিত ছিল।   চুরির পেছনে কোনো সংগঠিত চক্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে। শিল্পকর্মগুলো বিশ্বজুড়ে এত পরিচিত যে বৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে সেগুলো বিক্রি করা অত্যন্ত কঠিন। ফলে নির্দিষ্ট কোনো সংগ্রাহকের ফরমায়েশে চুরি হয়েছে কি না, এমন সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে আন্তোনেলো দা মেসিনার আরেকটি বিরল চিত্রকর্ম ‘এক্সে হোমো’ প্রায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ডলারে কিনেছিল ইতালি সরকার। শিল্পীর কাজের প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে ব্যাপক আগ্রহ তৈরির মধ্যেই তার জন্মশহরের জাদুঘর থেকে এই চারটি শিল্পকর্ম চুরি হলো।   মেসিনার মেয়র ফেদেরিকো বাসিলে এ ঘটনাকে শহরের জন্য গভীর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চুরির পর তদন্তের স্বার্থে জাদুঘর বন্ধ রাখা হয়। এখন ইতালির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে অমূল্য শিল্পকর্মগুলো দ্রুত উদ্ধার এবং চুরির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
1.11K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
896 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
1.01K View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
867 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়