বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) ভোরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। আজ ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বলে মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় নিশ্চিত করা হয়েছে। রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে তাঁর শরীরে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয় এবং দ্রুত শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। বিসিএস ১৩তম ব্যাচের এই মেধাবী কর্মকর্তা ১৯৯৪ সালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে তিনি কাস্টমস, ভ্যাট ও এনবিআরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাণিজ্য সচিবের দায়িত্ব নেওয়ার আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। গেল বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি সরকার তাঁকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয়। পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় জন্ম নেওয়া মাহবুবুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করেছিলেন। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে প্রশাসনের সহকর্মী ও বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে আসছেন, কিংবা যারা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্য থেকে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন, তাদের অনেকের কাছেই জর্জিয়া দিনে দিনে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। একসময় যেখানে বাংলাদেশিদের প্রধান পছন্দ ছিল নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান বা টেক্সাস, সেখানে বর্তমানে তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, অনুকূল আবহাওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটির কারণে জর্জিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে। কমিউনিটি সূত্রে ধারণা করা হয়, বর্তমানে জর্জিয়া রাজ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের বড় অংশই মেট্রো আটলান্টা এলাকায় বাস করেন। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন, বাড়ি কিনছেন, ব্যবসা শুরু করছেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্থায়ী হচ্ছেন। জর্জিয়ার বড় শহর ও রাজধানী আটলান্টা এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ট্রাকিং, পরিবহন, কর্পোরেট চাকরি, ছোট ব্যবসা এবং সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশিদের অনেকেই এই রাজ্যে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি Hartsfield-Jackson Atlanta International Airport এখানেই অবস্থিত, ফলে দেশ-বিদেশে যাতায়াতও সহজ। বিশেষ করে ডোরাভিল, চাম্বলি, লরেন্সভিল, লিলবার্ন, টাকার, নরক্রস এবং গুয়িনেট কাউন্টি -এর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিদের বসতি দ্রুত বেড়েছে। এসব এলাকায় এখন বাংলাদেশি পরিবার, ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তুলনামূলক কম ভাড়া, ভালো স্কুল, নিরাপদ পরিবেশ এবং বড় বাসার সুযোগ থাকায় পরিবারগুলো এসব এলাকাকে পছন্দ করছেন। জর্জিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য এখন অসংখ্য গ্রোসারি স্টোর, হালাল মার্কেট, পোশাকের দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সেবামূলক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। চাল, ডাল, ইলিশ, রুই, দেশি সবজি, মসলা, মিষ্টি—সবকিছু সহজেই পাওয়া যায়। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রবাস জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিরিয়ানি, কাচ্চি, নেহারি, ভর্তা, ফুচকা, চা-নাশতা থেকে শুরু করে নানা দেশি খাবার এখন সহজেই মিলছে। সপ্তাহান্তে অনেক পরিবার এসব রেস্টুরেন্টে একত্রিত হন, যা কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করছে। কোন কোন রেস্টুরেন্ট আবার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ জর্জিয়া। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ পুনর্মিলনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক পিকনিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। নতুন যারা জর্জিয়ায় আসেন, তাদের জন্যও এই সংগঠন পরিচিতি ও কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মুসলিম পরিবারগুলোর জন্যও জর্জিয়া এখন দিনে দিনে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। রাজ্যজুড়ে বহু মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, পূর্ণকালীন ইসলামিক স্কুল, উইকেন্ড স্কুল এবং কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যা পরিবারগুলোকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী পরিবেশ দিচ্ছে। বিশেষ করে আটলান্টার আশেপাশে শতাধিকের কাছাকাছি মসজিদ, মুসল্লা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে বলে বিভিন্ন কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়। নিয়মিত জুমা নামাজ, রমজানে তারাবিহ, বড় পরিসরে ইফতার, ঈদ জামাত, শিশু-কিশোরদের ইসলামিক ক্লাস, হিফজ প্রোগ্রাম এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি মুসলিম শিশুদের জন্য একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ইসলামিক স্কুলও পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যারা ধর্মীয় পরিবেশ, সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষা এবং মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে থেকে পরিবার গড়তে চান, তাদের কাছে জর্জিয়া এখন একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এগিয়ে। রাজ্যটিতে রয়েছে বিশ্বখ্যাত Georgia Institute of Technology, Emory University, Georgia State University, University of Georgia সহ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে। জর্জিয়ার আবহাওয়াও অনেকের কাছে আরামদায়ক। শীত তুলনামূলক সহনীয়, বরফ কম পড়ে, আবার দীর্ঘ গরম মৌসুম থাকায় দক্ষিণ এশীয়দের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় জীবনযাত্রার খরচও অনেক কম। পর্যটনের দিক থেকেও জর্জিয়া সমৃদ্ধ। Georgia Aquarium, Stone Mountain Park, Savannah এবং Blue Ridge Mountains সহ অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। অনেকেই বলেন, আটলান্টা হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নিউইয়র্ক। কারণ নিউইয়র্ক যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা, বৈচিত্র্য ও সুযোগের কেন্দ্র, তেমনি আটলান্টা দক্ষিণাঞ্চলে সেই একই ভূমিকা পালন করছে। এখানে নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আফ্রিকান, আরব, হিস্পানিকসহ বহু কমিউনিটির উপস্থিতি শহরটিকে বহুজাতিক ও প্রাণবন্ত করেছে। তবে নিউইয়র্কের তুলনায় আটলান্টার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ। বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনা, পার্কিং, দৈনন্দিন খরচ এবং পরিবার নিয়ে থাকার পরিবেশ অনেক বেশি সুবিধাজনক। তাই যারা বড় শহরের সুযোগ-সুবিধা চান কিন্তু নিউইয়র্কের অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে চান, তাদের কাছে আটলান্টা এখন অন্যতম সেরা বিকল্প। কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। কারণ এখানে সুযোগ আছে, কমিউনিটি আছে, শিক্ষা আছে, ধর্মীয় পরিবেশ আছে এবং পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তব সম্ভাবনাও রয়েছে। অনেকের ভাষায়, জর্জিয়া এখন শুধু একটি স্টেট নয়—এটি বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদলাল্লাহ বলেন, ইসরায়েল যদি সব ধরনের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রশ্নই ওঠে না। তার ভাষায়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হতে পারে এমন একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৈরুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হিজবুল্লাহকে অবহিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘স্বস্তির খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক। উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, ইউরোপ লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে যাবে। একই সঙ্গে দেশটির জনগণের পাশে থাকতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ অব্যাহত রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রে নতুনভাবে জীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যারা বাংলাদেশ থেকে আসছেন, কিংবা যারা অন্য কোনো অঙ্গরাজ্য থেকে স্থানান্তরের কথা ভাবছেন, তাদের অনেকের কাছেই জর্জিয়া দিনে দিনে একটি জনপ্রিয় গন্তব্য হয়ে উঠছে। একসময় যেখানে বাংলাদেশিদের প্রধান পছন্দ ছিল নিউইয়র্ক, নিউ জার্সি, ক্যালিফোর্নিয়া, মিশিগান বা টেক্সাস, সেখানে বর্তমানে তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার ব্যয়, অনুকূল আবহাওয়া, কর্মসংস্থানের সুযোগ, উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শক্তিশালী বাংলাদেশি কমিউনিটির কারণে জর্জিয়া জনপ্রিয় হচ্ছে। কমিউনিটি সূত্রে ধারণা করা হয়, বর্তমানে জর্জিয়া রাজ্যে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের বড় অংশই মেট্রো আটলান্টা এলাকায় বাস করেন। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার এখানে স্থানান্তরিত হচ্ছেন, বাড়ি কিনছেন, ব্যবসা শুরু করছেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়তে স্থায়ী হচ্ছেন। জর্জিয়ার বড় শহর ও রাজধানী আটলান্টা এখন দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র। প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, ট্রাকিং, পরিবহন, কর্পোরেট চাকরি, ছোট ব্যবসা এবং সার্ভিস সেক্টরে কাজের সুযোগ থাকায় বাংলাদেশিদের অনেকেই এই রাজ্যে নতুন সম্ভাবনা দেখছেন। বিশ্বের ব্যস্ততম বিমানবন্দরগুলোর একটি Hartsfield-Jackson Atlanta International Airport এখানেই অবস্থিত, ফলে দেশ-বিদেশে যাতায়াতও সহজ। বিশেষ করে ডোরাভিল, চাম্বলি, লরেন্সভিল, লিলবার্ন, টাকার, নরক্রস এবং গুয়িনেট কাউন্টি -এর বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিদের বসতি দ্রুত বেড়েছে। এসব এলাকায় এখন বাংলাদেশি পরিবার, ছাত্রছাত্রী ও ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। তুলনামূলক কম ভাড়া, ভালো স্কুল, নিরাপদ পরিবেশ এবং বড় বাসার সুযোগ থাকায় পরিবারগুলো এসব এলাকাকে পছন্দ করছেন। জর্জিয়ায় বাংলাদেশিদের জন্য এখন অসংখ্য গ্রোসারি স্টোর, হালাল মার্কেট, পোশাকের দোকান, ট্রাভেল এজেন্সি এবং সেবামূলক ব্যবসা গড়ে উঠেছে। চাল, ডাল, ইলিশ, রুই, দেশি সবজি, মসলা, মিষ্টি—সবকিছু সহজেই পাওয়া যায়। ফলে নতুন অভিবাসীদের জন্য প্রবাস জীবন অনেক সহজ হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টের সংখ্যাও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিরিয়ানি, কাচ্চি, নেহারি, ভর্তা, ফুচকা, চা-নাশতা থেকে শুরু করে নানা দেশি খাবার এখন সহজেই মিলছে। সপ্তাহান্তে অনেক পরিবার এসব রেস্টুরেন্টে একত্রিত হন, যা কমিউনিটির বন্ধন আরও দৃঢ় করছে। কোন কোন রেস্টুরেন্ট আবার ২৪ ঘণ্টাই খোলা থাকে। জর্জিয়ার বাংলাদেশি কমিউনিটির অন্যতম বড় সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ জর্জিয়া। সংগঠনটি নিয়মিতভাবে পহেলা বৈশাখ, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ঈদ পুনর্মিলনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, পারিবারিক পিকনিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। নতুন যারা জর্জিয়ায় আসেন, তাদের জন্যও এই সংগঠন পরিচিতি ও কমিউনিটিতে যুক্ত হওয়ার বড় মাধ্যম হিসেবে কাজ করে। মুসলিম পরিবারগুলোর জন্যও জর্জিয়া এখন দিনে দিনে আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে। রাজ্যজুড়ে বহু মসজিদ, ইসলামিক সেন্টার, পূর্ণকালীন ইসলামিক স্কুল, উইকেন্ড স্কুল এবং কোরআন শিক্ষা কেন্দ্র গড়ে উঠেছে, যা পরিবারগুলোকে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে একটি শক্তিশালী পরিবেশ দিচ্ছে। বিশেষ করে আটলান্টার আশেপাশে শতাধিকের কাছাকাছি মসজিদ, মুসল্লা ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি রয়েছে বলে বিভিন্ন কমিউনিটি সূত্রে জানা যায়। নিয়মিত জুমা নামাজ, রমজানে তারাবিহ, বড় পরিসরে ইফতার, ঈদ জামাত, শিশু-কিশোরদের ইসলামিক ক্লাস, হিফজ প্রোগ্রাম এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়। পাশাপাশি মুসলিম শিশুদের জন্য একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে ইসলামিক শিক্ষার সমন্বয়ে বেশ কয়েকটি ইসলামিক স্কুলও পরিচালিত হচ্ছে। ফলে যারা ধর্মীয় পরিবেশ, সন্তানদের ইসলামিক শিক্ষা এবং মুসলিম কমিউনিটির সঙ্গে থেকে পরিবার গড়তে চান, তাদের কাছে জর্জিয়া এখন একটি আদর্শ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শিক্ষার ক্ষেত্রেও জর্জিয়া এগিয়ে। রাজ্যটিতে রয়েছে বিশ্বখ্যাত Georgia Institute of Technology, Emory University, Georgia State University, University of Georgia সহ বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য হয়ে উঠছে। জর্জিয়ার আবহাওয়াও অনেকের কাছে আরামদায়ক। শীত তুলনামূলক সহনীয়, বরফ কম পড়ে, আবার দীর্ঘ গরম মৌসুম থাকায় দক্ষিণ এশীয়দের জন্য মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। একই সঙ্গে নিউইয়র্ক বা ক্যালিফোর্নিয়ার তুলনায় জীবনযাত্রার খরচও অনেক কম। পর্যটনের দিক থেকেও জর্জিয়া সমৃদ্ধ। Georgia Aquarium, Stone Mountain Park, Savannah এবং Blue Ridge Mountains সহ অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে। অনেকেই বলেন, আটলান্টা হচ্ছে দক্ষিণাঞ্চলের নিউইয়র্ক। কারণ নিউইয়র্ক যেমন উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ব্যবসা, বৈচিত্র্য ও সুযোগের কেন্দ্র, তেমনি আটলান্টা দক্ষিণাঞ্চলে সেই একই ভূমিকা পালন করছে। এখানে নানা জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির মানুষের বসবাস রয়েছে। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি, আফ্রিকান, আরব, হিস্পানিকসহ বহু কমিউনিটির উপস্থিতি শহরটিকে বহুজাতিক ও প্রাণবন্ত করেছে। তবে নিউইয়র্কের তুলনায় আটলান্টার বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক কম জীবনযাত্রার খরচ। বাড়িভাড়া, বাড়ি কেনা, পার্কিং, দৈনন্দিন খরচ এবং পরিবার নিয়ে থাকার পরিবেশ অনেক বেশি সুবিধাজনক। তাই যারা বড় শহরের সুযোগ-সুবিধা চান কিন্তু নিউইয়র্কের অতিরিক্ত ব্যয় এড়াতে চান, তাদের কাছে আটলান্টা এখন অন্যতম সেরা বিকল্প। কমিউনিটি নেতারা মনে করছেন, আগামী কয়েক বছরে জর্জিয়া যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের অন্যতম বড় কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করবে। কারণ এখানে সুযোগ আছে, কমিউনিটি আছে, শিক্ষা আছে, ধর্মীয় পরিবেশ আছে এবং পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের বাস্তব সম্ভাবনাও রয়েছে। অনেকের ভাষায়, জর্জিয়া এখন শুধু একটি স্টেট নয়—এটি বাংলাদেশিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদলাল্লাহ বলেন, ইসরায়েল যদি সব ধরনের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রশ্নই ওঠে না। তার ভাষায়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হতে পারে এমন একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৈরুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হিজবুল্লাহকে অবহিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘স্বস্তির খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক। উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, ইউরোপ লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে যাবে। একই সঙ্গে দেশটির জনগণের পাশে থাকতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ অব্যাহত রাখা জরুরি।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: অভিবাসন নথিতে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং আগের বহিষ্কারাদেশ গোপন করার অভিযোগে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গুরদেভ সিং সোহাল নামের ওই ব্যক্তি ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তবে তদন্তে উঠে আসে, এর আগে ১৯৯৪ সালে অন্য পরিচয়ে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও দেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বহিষ্কারের নির্দেশ মানার পরিবর্তে তিনি নতুন একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। পরে অন্য নাম, জন্মতারিখ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তথ্য ব্যবহার করে অভিবাসন সুবিধা নেন এবং শেষ পর্যন্ত নাগরিকত্ব পান। তদন্তে আরও জানা যায়, নাগরিকত্ব আবেদনসহ বিভিন্ন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় তিনি আগের পরিচয় ও বহিষ্কারের ইতিহাস গোপন করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ সুমাত বলেন, নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আদালত রায়ে বলেন, পরিচয় গোপন ও জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সৎ নৈতিক চরিত্র প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তার মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে। সূত্র: ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস
জর্জিয়ার আটলান্টায় পৃথক সহিংস হামলার ঘটনায় ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (DHS)-এর এক কর্মীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের একজন লোরেন বুলিস , যিনি ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি -এর অফিস অফ ইন্সপেক্টর জেনারেল -এ কর্মরত ছিলেন। তিনি সকালে কুকুর নিয়ে হাঁটতে বের হলে হামলার শিকার হন। আরেক নারী পৃথক স্থানে নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত এক পুরুষকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। গ্রেপ্তার হওয়া সন্দেহভাজনের নাম ওলাওলুকিতান এডন আবেল। তদন্তকারীরা জানান, হামলাগুলো এলোমেলোভাবে সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে, তবে ঘটনার পেছনের প্রকৃত উদ্দেশ্য এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার পর ফেডারেল ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে তদন্ত শুরু করেছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং আশপাশের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে হামলার কারণ ও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় যুক্ত হতে যাচ্ছে। আগামী ১৯ জুলাই ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক/নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপ ফাইনালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হবে ‘হাফ-টাইম শো’। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত ‘সিমেফর ওয়ার্ল্ড ইকোনমি সামিটে’ এই চাঞ্চল্যকর ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় ‘সুপার বোল’-এর আদলে এই সংগীত আয়োজনকে কিউরেট করছেন ব্রিটিশ পপ ব্যান্ড কোল্ডপ্লে এবং তাদের ফ্রন্টম্যান ক্রিস মার্টিন। ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, এটি হবে পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম বড় একটি শো। কারা পারফর্ম করবেন তা এখনই প্রকাশ না করলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন যে, একাধিক বিশ্বখ্যাত শিল্পী এই মঞ্চ মাতাবেন। ফুটবলে ১৫ মিনিটের বিরতিতে এ ধরনের বড় সংগীত আয়োজন বিরল এবং অতীতে জার্মানির মতো দেশে এমন উদ্যোগ দর্শকদের অসন্তোষের মুখে পড়েছিল। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ যেহেতু যুক্তরাষ্ট্র, তাই এখানকার ক্রীড়া সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই শো-টি দর্শকদের দারুণ বিনোদন দেবে বলে আত্মবিশ্বাসী ফিফা প্রধান। ফুটবল ও সংগীতের এই মিলনমেলা ফাইনালের উত্তেজনাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা পুরোপুরি বন্ধ না হলে কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা হাসান ফাদলাল্লাহ এই অবস্থান তুলে ধরেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদলাল্লাহ বলেন, ইসরায়েল যদি সব ধরনের শত্রুতামূলক কার্যক্রম বন্ধ না করে, তাহলে যুদ্ধবিরতি মেনে চলার প্রশ্নই ওঠে না। তার ভাষায়, বাস্তব পরিস্থিতির ওপরই সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নির্ভর করছে। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত থেকে কার্যকর হতে পারে এমন একটি স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে বৈরুতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত হিজবুল্লাহকে অবহিত করেছেন। এতে বোঝা যায়, প্রস্তাবিত এই যুদ্ধবিরতি ঘিরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা চলছিল। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, দুই দেশই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তিনি আরও জানান, গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটন ডিসিতে প্রথমবারের মতো লেবানন ও ইসরায়েলের প্রতিনিধিরা সরাসরি বৈঠকে বসেন, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও উপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান রেজিন কেইনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান ট্রাম্প। তবে হিজবুল্লাহর কঠোর অবস্থান যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঘোষিত ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে একে ‘স্বস্তির খবর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি উল্লেখ করেন, চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য উদ্বেগজনক। উরসুলা ভন ডার লেন বলেন, ইউরোপ লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে যাবে। একই সঙ্গে দেশটির জনগণের পাশে থাকতে মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে কার্যকর সংলাপ অব্যাহত রাখা জরুরি।
রাশিয়ার ক্রাসনোদার অঞ্চলে ড্রোন হামলায় দুই শিশু নিহত হওয়ার ঘটনার জেরে ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি স্থাপনায় ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। বৃহস্পতিবার দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ইউক্রেনের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং মাঝারি ও দীর্ঘপাল্লার ড্রোন উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনীকে সহায়তা দেওয়া জ্বালানি অবকাঠামোতেও আঘাত হানা হয়েছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, রাশিয়ার ভূখণ্ডে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ইউক্রেনের ‘সন্ত্রাসী হামলার’ জবাব হিসেবেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এতে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র থেকে নিক্ষেপযোগ্য দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল অস্ত্র ও আক্রমণাত্মক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলার সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে এবং নির্ধারিত সব লক্ষ্যবস্তুতে সফলভাবে আঘাত হানা হয়েছে। এর আগে ইউক্রেনের একটি ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কৃষ্ণসাগর উপকূলীয় বন্দরনগরী তুয়াপসে ৫ ও ১৪ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয় বলে জানিয়েছে মস্কো। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা দুই দেশের চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং বেসামরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাঈ এ হুমকি দেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশের ভূমিকা’ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাজ নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে সক্ষম। রেজাঈ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সাহস পায় না। তার ভাষায়, ইরান তাদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি ছাড়বে না এবং আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করবে তেহরানই। এদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরান ‘হাজার হাজার জিম্মি’ ধরে বিপুল অর্থ আদায় করতে পারবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও আগের দফার দীর্ঘ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউস চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।