সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তায় দমকল বিভাগের উদ্যোগ, শেখানো হচ্ছে আগুন থেকে বাঁচার উপায়
নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তায় দমকল বিভাগের উদ্যোগ, শেখানো হচ্ছে আগুন থেকে বাঁচার উপায়

শিশুদের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে নিরাপদে বেরিয়ে আসার কৌশল শেখাতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নিউইয়র্কের দমকল বিভাগ। 'জাতীয় অগ্নিনিরাপত্তা সপ্তাহ' উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আগুন প্রতিরোধের মতো গুরুতর বিষয়গুলোকে শিশুদের কাছে অত্যন্ত সহজ ও আনন্দদায়কভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   সাধারণত শিশুদের জন্য অগ্নিনিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলো বোঝা ও মনে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শেখার পুরো প্রক্রিয়াটিকে তাদের উপযোগী করে বিনোদনমূলক উপায়ে সাজিয়েছে দমকল বিভাগ।   এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো। হঠাৎ আগুন লাগলে কীভাবে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে, সে বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই একটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দমকল বিভাগের মতে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদকালীন সময়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এমন পূর্বপ্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।   জাতীয় অগ্নিনিরাপত্তা সপ্তাহের এই আয়োজনে শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিও আগুন থেকে সুরক্ষার জরুরি নিয়মগুলো নিয়মিত অনুশীলনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দমকল বিভাগ মনে করিয়ে দিয়েছে, জীবন রক্ষাকারী এসব কৌশল শেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়।   এছাড়া শিশুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম শেখানোর বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেন যেকোনো বিপদের সময় শিশুরাও নিজেদের জীবন রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে পারে।

৪৬ মিনিট Ago
ক্যাশ অ্যাপের তথ্য ফাঁসের মামলায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন গ্রাহকরা, সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার
ক্যাশ অ্যাপের তথ্য ফাঁসের মামলায় ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন গ্রাহকরা, সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার

নিরাপত্তা ত্রুটি ও তথ্য ফাঁসের অভিযোগ সংক্রান্ত মামলায় নিষ্পত্তির অংশ হিসেবে যোগ্য গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণের অর্থ দেওয়া শুরু করেছে জনপ্রিয় মোবাইল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ক্যাশ অ্যাপ এবং এর মূল প্রতিষ্ঠান ব্লক ইনকর্পোরেটেড (ব্লক আইএনসি)। ১ কোটি ৫০ লাখ (১৫ মিলিয়ন) ডলারের এই তহবিল থেকে পূর্বে আবেদন মঞ্জুর হওয়া গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত পরিশোধ করা হচ্ছে।   ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতি, অননুমোদিত লেনদেন এবং সময় নষ্ট হওয়ার ক্ষতিপূরণ হিসেবে সর্বোচ্চ ৭৫ ডলার পর্যন্ত এই তহবিলের আওতায় বিতরণ করা হচ্ছে। তবে নতুন করে এই ক্ষতিপূরণের জন্য আর কোনো আবেদন করার সুযোগ নেই, কারণ দাবির সময়সীমা আগেই শেষ হয়ে গেছে।   মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৩ আগস্ট থেকে ২০২৪ সালের ২০ আগস্টের মধ্যে প্ল্যাটফর্মটিতে নিরাপত্তা গাফিলতির অভিযোগ ওঠে। এতে দাবি করা হয়, প্রতিষ্ঠানটির একজন সাবেক কর্মী ও অননুমোদিত ব্যক্তি রিসাইকেল করা ফোন নম্বর ব্যবহার করে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছিলেন এবং ‘ক্যাশ অ্যাপ ইনভেস্টিং’-এর গ্রাহকদের ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়েছিল।   পাশাপাশি পেমেন্ট সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কার্যকর সাড়া না দেওয়া এবং গ্রাহকসেবা পেতে চরম ভোগান্তির অভিযোগও মামলায় আনা হয়। যদিও প্রতিষ্ঠানটি কোনো ধরনের অন্যায় বা ত্রুটির কথা সরাসরি স্বীকার করেনি, তবে তারা তথ্যের নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আইনি নিষ্পত্তিতে সম্মত হয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ২০২৫ সালের মার্চে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত এই নিষ্পত্তির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়।   মোট জমা পড়া প্রায় ৬ লাখ ৬৭ হাজার আবেদনের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪০ হাজার ৩৮০টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে যার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬ লাখ ডলার এবং গড়ে প্রতি গ্রাহক পাচ্ছেন প্রায় ১৩৯ ডলার করে। অনুমোদিত ব্যক্তিরা চেক, প্রিপেইড কার্ড, ভেনমো বা জেল-এর মাধ্যমে এই অর্থ গ্রহণ করছেন।   উল্লেখ্য, এর আগে প্রতারণা থেকে গ্রাহকদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কনজিউমার ফাইন্যান্সিয়াল প্রোটেকশন ব্যুরোর (সিএফপিবি) ১৭ কোটি ৫০ লাখ ডলারের একটি আদেশের আওতায় জুনেও গ্রাহকদের ক্ষতিপূরণ পাঠানো হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, নতুন করে ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোনো ফি দাবি করা বা দেরিতে আবেদনের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে তা নিশ্চিতভাবেই প্রতারণা বা স্ক্যাম।

১ ঘন্টা Ago
উজবেকিস্তানে ডাম্বেল আকৃতির পানির বোতল, পানি শেষ হলেও কাজে লাগবে জিমে
উজবেকিস্তানে ডাম্বেল আকৃতির পানির বোতল, পানি শেষ হলেও কাজে লাগবে জিমে

সাধারণ পানির বোতলের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে উজবেকিস্তানের পানীয় জলের ব্র্যান্ড ‘এস্টেট ওয়াটার’। তারা বাজারে নিয়ে এসেছে এমন একটি অভিনব পানির বোতল, যা দেখতে অবিকল জিমে ব্যবহৃত ডাম্বেলের মতো।   ৫ লিটার ধারণক্ষমতার এই বিশেষ বোতলটির মাঝখানের অংশটিকে এমন সুনিপুণ ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে এটি খুব সহজেই মুঠোর ভেতর শক্তভাবে ধরে তোলা যায়। দৈনন্দিন জীবনের সাদামাটা একটি পণ্যকে কীভাবে আরও বেশি জনবান্ধব ও বহুমুখী করা যায়, এই বোতলটি তারই একটি নিখুঁত উদাহরণ।   বোতলটি যখন পুরোপুরি পানিতে ভর্তি থাকে, তখন এর ওজন দাঁড়ায় ঠিক ৫ কেজি। ফলে এটি কেবল তেষ্টাই মেটায় না, বরং পানি পান করার পাশাপাশি বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে হাত ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করার জন্য এক চমৎকার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ফিটনেস সচেতন মানুষরা যাতে যেকোনো জায়গায় খুব সহজেই এটিকে নিজেদের প্রতিদিনের শরীরচর্চার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, সেই ভাবনা থেকেই এই অভিনব নকশাটি তৈরি করা হয়েছে।   সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো বোতলটির পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যবহারযোগ্যতা। ভেতরের পানি শেষ হয়ে গেলে সাধারণ প্লাস্টিকের বোতলের মতো এটি ফেলে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বোতলটিকে পুনরায় পানি, বালি বা অন্য কোনো ভারী উপাদান দিয়ে ভর্তি করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যায়ামের ডাম্বেল হিসেবে অনায়াসেই ব্যবহার করা যায়।   এর ফলে একদিকে যেমন ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ কমছে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতাও বাড়ছে। দৈনন্দিন পণ্যের নকশায় এমন উদ্ভাবনী চিন্তার প্রয়োগ বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

১ ঘন্টা Ago
৯৭ লাখ পাউন্ডের লটারি জিতে কোটিপতি, সব হারিয়ে ফের ময়লা সংগ্রহের কাজে মাইকেল
৯৭ লাখ পাউন্ডের লটারি জিতে কোটিপতি, সব হারিয়ে ফের ময়লা সংগ্রহের কাজে মাইকেল

২০০২ সালে ব্রিটেনের ১৯ বছর বয়সী এক তরুণের জীবনে ঘটেছিল অবিশ্বাস্য এক ঘটনা। পার্ট-টাইম পরিচ্ছন্নতাকর্মী বা ময়লা সংগ্রাহক হিসেবে কাজ করা মাইকেল ক্যারল সে বছর ন্যাশনাল লটারিতে জিতেছিলেন ৯৭ লাখ ৩৬ হাজার ১৩১ পাউন্ড, যা এক রাতেই তার ভাগ্য বদলে দেয়।   দরিদ্র জীবন থেকে হঠাৎ এত বিপুল অর্থের মালিক হয়ে তিনি শুরু করেন লাগামহীন বিলাসী জীবন। তবে সম্পদের সঠিক ব্যবহার না করায় এই অর্থই শেষ পর্যন্ত তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।   হঠাৎ পাওয়া অর্থের গরমে মাইকেল বিলাসবহুল বাড়ি, দামি গাড়ি, পার্টি ও মাদকের পেছনে দুহাতে টাকা উড়াতে থাকেন। নিজের পাশাপাশি পরিবার ও বন্ধুদের পেছনেও অকাতরে অর্থ ব্যয় করেন তিনি।   তার এই লাগামহীন খরচ ও বেপরোয়া জীবনযাপন ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোরও নজর কেড়েছিল। শুকনা পাতার মতো টাকা উড়িয়ে একসময় তিনি নিজেকে দেউলিয়া হওয়ার দিকে ঠেলে দেন।   টাকার এই পাহাড় টিকতে খুব বেশি সময় লাগেনি। মাত্র আট বছরের মাথায়, ২০১০ সাল নাগাদ মাইকেল তার সমস্ত অর্থ হারিয়ে পুরোপুরি অর্থকষ্টে পড়ে যান। অবস্থা এতটাই করুণ হয় যে, বাধ্য হয়ে জীবন বাঁচাতে তাকে আবারও নিজের পুরোনো ময়লা সংগ্রহের চাকরিতে ফেরার জন্য আবেদন করতে হয়।   মাইকেল ক্যারলের এই পরিণতি যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—হঠাৎ পাওয়া সম্পদ মানুষকে সাময়িকভাবে ধনী করলেও, সেই সম্পদ ধরে রাখতে বিচক্ষণতা ও সঠিক পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই।

১ ঘন্টা Ago
শিক্ষা
বর্তমানে যেসব ফুল ফ্রি স্কলারশিপে আবেদন চলছে, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশাল সুযোগ

বিদেশে ব্যাচেলর, মাস্টার্স ও পিএইচডি করতে আগ্রহী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ শিক্ষাবর্ষকে সামনে রেখে বিভিন্ন দেশের ২৭টি স্কলারশিপ ও উচ্চশিক্ষায় অর্থায়নের সুযোগের একটি তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, সুইজারল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, চীন ও কাতারসহ বিভিন্ন দেশের এসব কর্মসূচিতে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, যাতায়াত কিংবা গবেষণার খরচে সহায়তা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে সব স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয়। কিছু কর্মসূচিতে শুধু টিউশন ফি কিংবা আংশিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।   প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, অক্টোবর মাসেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্কলারশিপের আবেদন শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপের যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আবেদনকারীদের জন্য ১৪ অক্টোবর এবং কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপের জন্য ২০ অক্টোবর গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। ফ্রান্সের এমিল বুতমি স্কলারশিপের মাস্টার্স পর্যায়ে প্রথম আবেদন পর্বের শেষ সময় ১৮ অক্টোবর। তবে আবেদনকারীর নাগরিকত্ব, বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্স অনুযায়ী সময়সীমায় পার্থক্য রয়েছে।   যুক্তরাজ্যের গেটস কেমব্রিজ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা বৃত্তি। এই কর্মসূচির আওতায় কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্য মাস্টার্স ও পিএইচডি শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনযাপনের খরচ এবং নির্দিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য আবেদনের শেষ সময় ১৪ অক্টোবর ২০২৬। অন্য দেশের আবেদনকারীদের জন্য কোর্সভেদে ৮ ডিসেম্বর ২০২৬ অথবা ৬ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত সময় রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ১৪ অক্টোবরের ডেডলাইন সাধারণভাবে প্রযোজ্য নয়।   যুক্তরাজ্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ কমনওয়েলথ মাস্টার্স স্কলারশিপ। এই কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশসহ যোগ্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশের শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স করার সুযোগ পান। স্কলারশিপে টিউশন ফি, বিমানভাড়া ও জীবনযাপনের নির্ধারিত ভাতাসহ বিভিন্ন ব্যয় বহন করা হয়। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কমনওয়েলথ স্কলারশিপ কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী ২০ অক্টোবর ব্রিটিশ সময় বিকেল ৪টায় আবেদন শেষ হবে। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনও এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।   ফ্রান্সের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিল বুতমি স্কলারশিপেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপ মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরের দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য। মাস্টার্স পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা দুই বছরের প্রতিটি বছরে ১৮ হাজার ৫০০ ইউরো পর্যন্ত টিউশন ফি ছাড় পান। প্রথম আবেদন পর্বের ডেডলাইন ১৮ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় পর্বের ডেডলাইন ২৯ নভেম্বর। ব্যাচেলর পর্যায়ের আন্তর্জাতিক আবেদনকারীদের জন্যও আলাদা সুযোগ রয়েছে। তবে এটি মাস্টার্স শিক্ষার্থীদের সব জীবনযাত্রার খরচ বহন করে না।   দক্ষিণ কোরিয়ার গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ বা জিকেএস ২০২৭ কর্মসূচিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের এই স্কলারশিপে বিভিন্ন পর্যায়ে টিউশন ফি, ভাষাশিক্ষা ও জীবনযাপনের সহায়তার সুযোগ থাকে। প্রকাশিত তালিকায় আন্ডারগ্র্যাজুয়েট পর্যায়ের এম্বাসি ট্র্যাকের ডেডলাইন ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে, যা ইতোমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তবে ইউনিভার্সিটি ট্র্যাকের আবেদন বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পৃথক সময়ে পরিচালিত হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাচেলর করতে আগ্রহীদের জন্য ইউনিভার্সিটি অব মায়ামির স্ট্যাম্পস স্কলারশিপ একটি উল্লেখযোগ্য সুযোগ। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। এই স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন, আবাসন এবং অন্যান্য নির্ধারিত শিক্ষাব্যয়ের জন্য সহায়তা পেতে পারেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন ও স্কলারশিপ বিবেচনার শর্ত একসঙ্গে পূরণ করতে হয়।   একই সময়ে রাশিয়ার ওপেন ডোরস স্কলারশিপ কর্মসূচিতেও আবেদন করার সুযোগের কথা রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় ১ নভেম্বর ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত বিষয়ে মাস্টার্স, পিএইচডি এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। তবে সব শিক্ষার্থী একই ধরনের আর্থিক সুবিধা পান না। বিশেষ করে সম্পূর্ণ জীবনযাত্রার খরচ বহন করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির শর্ত দেখে নিশ্চিত হতে হবে।   এশিয়ায় উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচির আওতায় জাপানের এশিয়া প্যাসিফিক ইউনিভার্সিটি এবং ইউনিভার্সিটি অব টোকিওসহ অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি, জীবনযাপনের ভাতা এবং অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পেতে পারেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভাগের আবেদনের সময়সীমা এবং কাজের অভিজ্ঞতার শর্ত আলাদা হতে পারে।   চীনের ইয়েনচিং একাডেমি স্কলারশিপেও মাস্টার্স পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন এই কর্মসূচিতে চীনবিষয়ক আন্তবিষয়ক গবেষণা ও পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হয়। প্রকাশিত তালিকায় ৩০ নভেম্বর ২০২৬ আবেদন শেষ হওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সময় অস্ট্রিয়ার হেলমুট ভাইথ স্টাইপেন্ডের ডেডলাইনও দেওয়া হয়েছে। অস্ট্রিয়ার এই কর্মসূচি কম্পিউটার সায়েন্সে মাস্টার্স করতে আগ্রহী যোগ্য নারী শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।   ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যৌথভাবে মাস্টার্স করার জন্য ইরাসমাস মুন্ডাস কর্মসূচিতে একাধিক স্কলারশিপ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় এমএপিপি, আইএলএসপিএসডি, এমইএসপিওএম ও গ্লোকাল কর্মসূচির নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এসব প্রোগ্রামে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে বিভিন্ন ডেডলাইন দেওয়া হয়েছে। তবে ইরাসমাস মুন্ডাসের সব প্রোগ্রামের আবেদন একসঙ্গে শুরু বা শেষ হয় না। প্রতিটি কোর্সের নিজস্ব আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা এবং ফান্ডিংয়ের শর্ত রয়েছে।   সুইজারল্যান্ডের ইপিএফএল মাস্টার্স এক্সিলেন্স ফেলোশিপের জন্য ১৫ ডিসেম্বর একটি গুরুত্বপূর্ণ ডেডলাইন। প্রতিষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি সেমিস্টারে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঁ সহায়তা পান। সর্বোচ্চ চার সেমিস্টার পর্যন্ত এই অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে। তবে ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজেদের টিউশন ফি ও আবাসনসহ অন্যান্য ব্যয়ের দায়িত্বও বিবেচনায় রাখতে হয়। ফলে এটিকে সব খরচ বহনকারী স্কলারশিপ হিসেবে উল্লেখ করা যথাযথ নয়।   নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখট বিশ্ববিদ্যালয়ের এনএল হাই পটেনশিয়াল স্কলারশিপেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের আবেদন ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে শুরু হয়েছে এবং স্কলারশিপের চূড়ান্ত ডেডলাইন ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭। তবে স্কলারশিপের জন্য বিবেচিত হতে অনেক মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন ১০ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হয়। এই স্কলারশিপ মূলত নির্দিষ্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামের জন্য, সব ব্যাচেলর কোর্সের জন্য নয়।   অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের লাইডেন ইউনিভার্সিটি এক্সিলেন্স স্কলারশিপে মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বাবদ নির্ধারিত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই স্কলারশিপ সম্পূর্ণ ফান্ডেড নয় এবং শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। আবেদনকারীদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও বেশি। তাই শুধু স্কলারশিপের নাম দেখে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।   জার্মানির ডাড ইপিওএস স্কলারশিপ উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা করতে আগ্রহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই কর্মসূচিতে ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ, অর্থনীতি, ইঞ্জিনিয়ারিং, পরিবেশ, জনস্বাস্থ্য এবং নগর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে মাস্টার্স ও নির্দিষ্ট স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক কর্মঅভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সব কোর্সের ডেডলাইন এক নয়। ডাডের ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সভেদে আলাদা আবেদন সময়সূচি দেওয়া হয়েছে।   সৌদি আরবের কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কাউস্টেও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি মূলত স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষণাকেন্দ্রিক প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া যোগ্য শিক্ষার্থীরা টিউশন সহায়তা, আবাসন এবং গবেষণাসংশ্লিষ্ট ফান্ডিংয়ের সুযোগ পান। তবে আবেদনকারীকে আগে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তির শর্ত ও নির্ধারিত ইনটেক সম্পর্কে জানতে হবে।   কাতারের দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ এবং হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটিতেও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও ফান্ডিংয়ের সুযোগ রয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় যথাক্রমে ১৫ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ ডেডলাইন উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের ভর্তি ও ফান্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত পৃথক হতে পারে।   থাইল্যান্ডের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতেও মাস্টার্স ও পিএইচডি পর্যায়ে স্কলারশিপ রয়েছে। তবে এআইটির সাধারণ স্কলারশিপে সম্পূর্ণ অথবা আংশিক টিউশন ফি ছাড় দেওয়া হতে পারে। জীবনযাপনের খরচ এবং অন্যান্য ফি অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীকে বহন করতে হয়। ফলে সব এআইটি স্কলারশিপকে সম্পূর্ণ ফান্ডেড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।   প্রকাশিত ২৭টি সুযোগের তালিকায় আরও রয়েছে সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়া ও অস্ট্রেলিয়াসংশ্লিষ্ট জেমস স্কলারশিপ, যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব হাওয়াইয়ের এডিবি স্কলারশিপ, সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপ এবং ফ্রান্সের এমওপিজিএ ফেলোশিপ। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে কিছু গবেষণা ফেলোশিপ, কিছু টিউশন সহায়তা এবং কিছু সম্পূর্ণ স্কলারশিপ। সেন্ট্রাল ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটির প্রধান ক্যাম্পাস বর্তমানে অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত, হাঙ্গেরিতে নয়। পাশাপাশি সুইস গভর্নমেন্ট এক্সিলেন্স স্কলারশিপের সব বিভাগ সাধারণ মাস্টার্স ডিগ্রির শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত নয়।   বিদেশে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের পাশাপাশি ভর্তির যোগ্যতা যাচাই করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক প্রতিষ্ঠানে ভালো সিজিপিএ, ইংরেজি ভাষার দক্ষতা, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, রেকমেন্ডেশন লেটার এবং প্রাসঙ্গিক গবেষণা বা কাজের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে পিএইচডি ও গবেষণাভিত্তিক প্রোগ্রামে আবেদনকারীর গবেষণার আগ্রহ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার সুযোগের মধ্যে মিল থাকা গুরুত্বপূর্ণ।   তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে, স্কলারশিপের আবেদন চালু থাকা এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তির আবেদন চালু থাকা সব সময় একই বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আবেদন করতে হয়। কিছু স্কলারশিপে আলাদা আবেদন প্রয়োজন, আবার কিছু প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন থেকেই ফান্ডিংয়ের জন্য বিবেচনা করা হয়।   ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা করা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য তাই অক্টোবর থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করা জরুরি। বিশেষ করে যেসব স্কলারশিপের আবেদন অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে শেষ হবে, সেগুলোর ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা না করে যোগ্যতা ও ডেডলাইন নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রতিটি স্কলারশিপে টিউশন ফি, থাকা-খাওয়া, বিমানভাড়া এবং অন্যান্য খরচের কতটুকু বহন করা হবে, তা আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। এতে আবেদনকারীরা নিজেদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও আর্থিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ নির্বাচন করতে পারবেন।

প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১১:৪৯
উজবেকিস্তানে ডাম্বেল আকৃতির পানির বোতল, পানি শেষ হলেও কাজে লাগবে জিমে

সাধারণ পানির বোতলের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়ে নেটদুনিয়ায় রীতিমতো ঝড় তুলেছে উজবেকিস্তানের পানীয় জলের ব্র্যান্ড ‘এস্টেট ওয়াটার’। তারা বাজারে নিয়ে এসেছে এমন একটি অভিনব পানির বোতল, যা দেখতে অবিকল জিমে ব্যবহৃত ডাম্বেলের মতো।   ৫ লিটার ধারণক্ষমতার এই বিশেষ বোতলটির মাঝখানের অংশটিকে এমন সুনিপুণ ও বিজ্ঞানসম্মতভাবে নকশা করা হয়েছে, যাতে এটি খুব সহজেই মুঠোর ভেতর শক্তভাবে ধরে তোলা যায়। দৈনন্দিন জীবনের সাদামাটা একটি পণ্যকে কীভাবে আরও বেশি জনবান্ধব ও বহুমুখী করা যায়, এই বোতলটি তারই একটি নিখুঁত উদাহরণ।   বোতলটি যখন পুরোপুরি পানিতে ভর্তি থাকে, তখন এর ওজন দাঁড়ায় ঠিক ৫ কেজি। ফলে এটি কেবল তেষ্টাই মেটায় না, বরং পানি পান করার পাশাপাশি বাড়িতে বা কর্মক্ষেত্রে হাত ও কাঁধের হালকা ব্যায়াম করার জন্য এক চমৎকার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে। ফিটনেস সচেতন মানুষরা যাতে যেকোনো জায়গায় খুব সহজেই এটিকে নিজেদের প্রতিদিনের শরীরচর্চার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন, সেই ভাবনা থেকেই এই অভিনব নকশাটি তৈরি করা হয়েছে।   সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হলো বোতলটির পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ব্যবহারযোগ্যতা। ভেতরের পানি শেষ হয়ে গেলে সাধারণ প্লাস্টিকের বোতলের মতো এটি ফেলে দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বোতলটিকে পুনরায় পানি, বালি বা অন্য কোনো ভারী উপাদান দিয়ে ভর্তি করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যায়ামের ডাম্বেল হিসেবে অনায়াসেই ব্যবহার করা যায়।   এর ফলে একদিকে যেমন ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ কমছে এবং পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতাও বাড়ছে। দৈনন্দিন পণ্যের নকশায় এমন উদ্ভাবনী চিন্তার প্রয়োগ বিশ্বজুড়ে ভোক্তাদের কাছে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

নিউইয়র্কে শিশুদের নিরাপত্তায় দমকল বিভাগের উদ্যোগ, শেখানো হচ্ছে আগুন থেকে বাঁচার উপায়

শিশুদের মধ্যে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং জরুরি মুহূর্তে নিরাপদে বেরিয়ে আসার কৌশল শেখাতে এক বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নিউইয়র্কের দমকল বিভাগ। 'জাতীয় অগ্নিনিরাপত্তা সপ্তাহ' উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে আগুন প্রতিরোধের মতো গুরুতর বিষয়গুলোকে শিশুদের কাছে অত্যন্ত সহজ ও আনন্দদায়কভাবে তুলে ধরার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।   সাধারণত শিশুদের জন্য অগ্নিনিরাপত্তার মতো জটিল বিষয়গুলো বোঝা ও মনে রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তাই শেখার পুরো প্রক্রিয়াটিকে তাদের উপযোগী করে বিনোদনমূলক উপায়ে সাজিয়েছে দমকল বিভাগ।   এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো শিশুদের অগ্নিনিরাপত্তা সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়গুলো হাতে-কলমে শেখানো। হঠাৎ আগুন লাগলে কীভাবে ঘাবড়ে না গিয়ে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হবে, সে বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই একটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দমকল বিভাগের মতে, যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপদকালীন সময়ে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এমন পূর্বপ্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই।   জাতীয় অগ্নিনিরাপত্তা সপ্তাহের এই আয়োজনে শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতিও আগুন থেকে সুরক্ষার জরুরি নিয়মগুলো নিয়মিত অনুশীলনের আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। দমকল বিভাগ মনে করিয়ে দিয়েছে, জীবন রক্ষাকারী এসব কৌশল শেখার জন্য বয়স কোনো বাধা নয়।   এছাড়া শিশুদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও অগ্নিনিরাপত্তার নিয়ম শেখানোর বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, যেন যেকোনো বিপদের সময় শিশুরাও নিজেদের জীবন রক্ষায় প্রস্তুত থাকতে পারে।

নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা
নিউইয়র্কে ৫ বছরের শিশুর সামনে বাবাকে গুলি, আইসের অভিযান বন্ধে ট্রাম্পকে মামদানীর কড়া বার্তা

নিউইয়র্ক শহরে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এক এজেন্টের গুলিতে এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে শহরে সংস্থাটির সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানী। বৃহস্পতিবার মার্বেল হিল আবাসিক এলাকায় এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মেয়র বলেন, আইস এজেন্টরা সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক ছড়াবে, আর তিনি চুপ করে থাকবেন—এমনটা কখনোই হতে দেওয়া হবে না।   নিউইয়র্ক পুলিশের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার দিকে একটি নির্দিষ্ট অভিযান পরিচালনার সময় আইস এজেন্টরা ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করে। এ সময় বেলগালের গাড়িতে তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলেও ছিল।   পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ জানান, একজন সাদা পোশাকের আইস এজেন্ট অস্ত্র হাতে চালকের জানালার কাছে এগিয়ে যান। গাড়িটি সামনের দিকে এগোতে চাইলে এজেন্ট অন্তত সাত রাউন্ড গুলি চালান, যা বেলগালের ঘাড়ে আঘাত করে। আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং শিশুটি বর্তমানে পরিবারের হেফাজতে নিরাপদে রয়েছে।   ঘটনার পর মেয়র মামদানী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) মন্ত্রী মার্কওয়েইন মুলিনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বললেও ভুক্তভোগীর মুক্তির বিষয়ে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেননি। অন্যদিকে, ডিএইচএস-এর পক্ষ থেকে নিউইয়র্কের ‘স্যাংচুয়ারি’ বা আশ্রয়দানকারী নীতির তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এসব নীতির কারণে কেন্দ্রীয় এজেন্টদের সঙ্গে অসহযোগিতা করা হচ্ছে। মন্ত্রী মুলিন উল্টো মেয়রের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতা উসকে দেওয়ার’ অভিযোগ তুলেছেন।   ডিএইচএস জানায়, ভুক্তভোগী বেলগাল একজন অপরাধী ও অবৈধ অভিবাসী, যার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও অস্ত্র রাখাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে এবং গত বছর একজন সীমান্তরক্ষী কর্মকর্তার ওপর হামলায় জড়িত গ্যাংয়ের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা রয়েছে।   নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল থেকে শুরু করে সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারসহ ডেমোক্র্যাট নেতারা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। গাড়িতে একজন শিশু থাকা অবস্থায় কীভাবে এতগুলো গুলি ছোড়া হলো, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মেয়র মামদানী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।   নিউইয়র্ক টাইমস ও এবিসি নিউজের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অভিবাসন এজেন্টদের সঙ্গে জড়িত এমন সহিংস ঘটনায় ২০ জনের বেশি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা ট্রাম্প প্রশাসনের দেশব্যাপী কঠোর অভিবাসন নীতির প্রয়োগ এবং এর ফলে সৃষ্ট মানবিক সংকটকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থীদের কাজের সুযোগে নতুন বাধা, ৯ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি শিক্ষার্থী ও দক্ষ কর্মীদের জন্য অভিবাসনসংক্রান্ত নিয়ম কঠোর করার নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।এর অংশ হিসেবে নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বিনিময়ভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণা ভিসার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে।   পাশাপাশি পড়াশোনা শেষে শিক্ষার্থীদের কাজ করার সুযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি কর্মসূচিতেও বড় অঙ্কের ফি আরোপের প্রস্তাব এসেছে। এসব পদক্ষেপে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে যাওয়ার পরিকল্পনা করা বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে পারে।    ৮ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ঘোষণা দেন, হার্ভার্ড, ইয়েল ও স্ট্যানফোর্ডসহ নয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে তদন্ত চালানো হবে। প্রশাসনের অভিযোগ, কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ব্যবহৃত জে-১ ভিসা কর্মসূচি যথাযথভাবে ব্যবহার করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।   এই ভিসা সাধারণত শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মতো নির্দিষ্ট কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ব্যবহৃত হয়। তদন্তের আওতায় থাকা নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়, পিটসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস শাখা, ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, অ্যারিজোনা স্টেট বিশ্ববিদ্যালয় এবং ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি।   প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে ইতিমধ্যে তদন্তসংক্রান্ত নথি তলবের চিঠি পাঠানো হয়েছে। স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভিস শাখা তদন্তে সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছে। অন্য কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ও নথি পর্যালোচনা বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলেছে।    এই তদন্তের পাশাপাশি ৭ অক্টোবর বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে কাজ করার সুযোগ নিয়েও নতুন প্রস্তাব সামনে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছামূলক ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বা ওপিটিতে অংশ নেওয়া প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার ডলার ফি দিতে হবে, এমন প্রস্তাব করেছে প্রশাসন।   ওপিটি কর্মসূচির মাধ্যমে যোগ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে নিজেদের পড়াশোনার বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত কাজে সাময়িকভাবে যুক্ত হতে পারেন। তবে এটি এখনো প্রস্তাবিত নিয়ম; কার্যকর হয়ে গেছে এমন সিদ্ধান্ত হিসেবে একে দেখা ঠিক হবে না।    বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার পর অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নিজেদের বিষয়ে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে ওপিটি কর্মসূচির ওপর নির্ভর করেন।   প্রস্তাবিত ফি বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কীভাবে এর ব্যয় বহন করবে, শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগে কী প্রভাব পড়বে এবং নিয়মটি কবে কার্যকর হতে পারে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠবে। তবে এখনই সব বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর কাজের অনুমতি বন্ধ হচ্ছে বা তাঁদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, এমন কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি
নিউইয়র্কে ফেডারেল অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে আহত ব্যক্তি, গাড়িতে ছিল পাঁচ বছরের শিশু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নগরীর মার্বেল হিল এলাকায় ৮ অক্টোবর অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) কর্মকর্তাদের গুলিতে ২৮ বছর বয়সী অস্কার বেলগাল আহত হন। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাঁর ঘাড়ে গুলি লাগে। গাড়িতে তখন তাঁর পাঁচ বছর বয়সী শিশুও ছিল।    কর্মকর্তারা তাঁকে গ্রেপ্তার করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিউইয়র্ক পুলিশের কমিশনার জেসিকা টিশের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ পোশাক ও নির্মাণকর্মীদের মতো পোশাক পরা কর্মকর্তারা তাঁর গাড়ির কাছে গেলে তিনি গাড়ি সামনে এগিয়ে নেন। এরপর কর্মকর্তারা সাতটি গুলি ছোড়েন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   আইসিইর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দাবি করেছেন, গাড়িটি কর্মকর্তাদের দিকে এগিয়ে আসায় তাঁরা নিজেদের ও আশপাশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য গুলি চালান। বেলগালের ঘাড়ে আঘাতকে প্রাথমিকভাবে উপরিভাগের ক্ষত বলে জানানো হয়েছে। তবে গুলির ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নিউইয়র্কের স্থানীয় নেতারা। তাঁরা ঘটনার দৃশ্যধারণকারী ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ এবং এলাকায় আইসিইর অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।    ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আইন প্রয়োগ, ফেডারেল কর্মকর্তাদের ক্ষমতা এবং অভিবাসীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। তবে গুলি চালানোর পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই তদন্তের পূর্ণ তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটির সব দিক নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।   নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে বসবাসকারী অভিবাসী পরিবারগুলোর জন্য ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কোনো পরিস্থিতি তৈরি হলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, নির্দেশনা বোঝার চেষ্টা করা এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত না করা জরুরি।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
থাইল্যান্ডের রানি অনন্য ইতিহাস, একাই আকাশে ওড়ালেন সুপারসনিক যুদ্ধবিমান
থাইল্যান্ডের রানি অনন্য ইতিহাস, একাই আকাশে ওড়ালেন সুপারসনিক যুদ্ধবিমান
প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ১০:১৭

বিশ্বের রাজপরিবারের ইতিহাসে নতুন নজির গড়েছেন থাইল্যান্ডের রানি সুথিদা। প্রথম ক্ষমতাসীন রানি হিসেবে একাই সুপারসনিক যুদ্ধবিমান চালানোর কৃতিত্ব অর্জন করেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সুরাত থানি প্রদেশের একটি সামরিক বিমানঘাঁটি থেকে সুইডেনের তৈরি জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন যুদ্ধবিমান নিয়ে আকাশে ওড়েন ৪৮ বছর বয়সী এই রানি। প্রায় ৪১ মিনিটের সফল উড্ডয়ন শেষে নিরাপদে অবতরণ করেন তিনি। পুরো সময় মাটিতে থেকে রানির উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করেন তাঁর স্বামী থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন।   থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদ ও দেশটির বিমানবাহিনীর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, রানি সুথিদা সুরাত থানি প্রদেশের ফুন ফিন জেলার উইং ৭ বিমানঘাঁটিতে এই বিশেষ প্রশিক্ষণ উড্ডয়ন সম্পন্ন করেন। এটি ছিল এক আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে তাঁর প্রথম একক ফ্লাইট। এ অর্জনের মাধ্যমে তিনি থাইল্যান্ডের প্রথম নারী গ্রিপেন পাইলট হিসেবেও স্বীকৃতি পেয়েছেন।   থাইল্যান্ডের সংবাদমাধ্যম দ্য নেশন ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৬ মিনিটে রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন বিমানঘাঁটিতে পৌঁছান। সেখানে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল সেকসান কান্থাসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তারা। এরপর রাজা ও রানি ফ্লাইট পরিকল্পনা এবং নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।   উড্ডয়নের আগে রানি সুথিদা নিজেই যুদ্ধবিমানটির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। এরপর নির্ধারিত রানওয়ে ২২ দিয়ে বিমানটি উড্ডয়ন করেন। প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা অনুযায়ী আকাশে নির্ধারিত কার্যক্রম শেষ করে তিনি নিরাপদে বিমানঘাঁটিতে ফিরে আসেন। বিমানবাহিনীর কর্মকর্তারা পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন।   সফলভাবে উড্ডয়ন শেষ করার পর রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন রানিকে ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি তাঁর পোশাকে পরিয়ে দেন সম্মানসূচক গ্রিপেন অর্ডার গোল্ডেন প্যাচ। গ্রিপেন যুদ্ধবিমান চালানোর স্বীকৃতি হিসেবে এই বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়। থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের প্রকাশিত ছবিতে রানিকে যুদ্ধবিমান থেকে নেমে রাজার কাছ থেকে অভিনন্দন গ্রহণ করতে দেখা যায়।   তবে এই অর্জনের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের বিমান চালনার অভিজ্ঞতা এবং বিশেষ সামরিক প্রশিক্ষণ। রানি সুথিদা ২০১০ সালের ১৩ মে প্রথম বিমান চালনার প্রশিক্ষণ শুরু করেন। ওই দিন ব্যাংককের উইং ৬ বিমানঘাঁটিতে সেসনা টি ৪১ডি বিমান চালান তিনি। এরপর বিভিন্ন ধরনের সামরিক ও বেসামরিক বিমান চালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।   থাইল্যান্ডের রাজপ্রাসাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের উড়োজাহাজে রানির মোট ফ্লাইট অভিজ্ঞতা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৮৮ ঘণ্টা ৪৮ মিনিটে। ছোট প্রশিক্ষণ বিমান থেকে শুরু করে বোয়িং ৭৩৭ সিরিজের যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ চালানোর যোগ্যতাও রয়েছে তাঁর। রাজকীয় সফরে তিনি একাধিকবার রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে কো-পাইলট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।   গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে একক উড্ডয়নের আগে তাঁকে বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হয়। চলতি বছরের জুন ও জুলাই মাসে যুদ্ধবিমানের প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্য, নিরাপত্তা পদ্ধতি এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ ৪৫টি বিষয়ে তাত্ত্বিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর সিমুলেটরে ২০টি প্রশিক্ষণ ফ্লাইট পরিচালনা করেন।   পরবর্তী ধাপে দুই আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯ডি গ্রিপেন যুদ্ধবিমানে প্রশিক্ষকের সঙ্গে প্রায় ১০ ঘণ্টা উড্ডয়নের অভিজ্ঞতা অর্জন করেন রানি সুথিদা। এই পর্যায়ে যুদ্ধবিমানের নিয়ন্ত্রণ, উড্ডয়ন, অবতরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে দক্ষতা মূল্যায়ন করা হয়। সব প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর তাঁকে এক আসনবিশিষ্ট জেএএস ৩৯সি গ্রিপেন চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়।   সুইডেনের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান সাবের তৈরি গ্রিপেন একটি আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড়তে পারে এবং আকাশ প্রতিরক্ষা, আকাশ থেকে ভূমিতে হামলা ও নজরদারিসহ বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়। তুলনামূলক ছোট রানওয়ে থেকে পরিচালনার সক্ষমতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির কারণে বিমানটি বিভিন্ন দেশের বিমানবাহিনীতে ব্যবহৃত হচ্ছে।   থাইল্যান্ডের রয়্যাল এয়ারফোর্সও দীর্ঘদিন ধরে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। দেশটির বিমানবাহিনীর উইং ৭ ঘাঁটি এসব যুদ্ধবিমান পরিচালনা ও প্রশিক্ষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০২৬ সালে থাইল্যান্ডে গ্রিপেন যুদ্ধবিমান ব্যবহারের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনও করা হয়েছে।   রানি সুথিদার বিমান চালনার অভিজ্ঞতা অবশ্য রাজপরিবারে যোগ দেওয়ার আগেই শুরু হয়েছিল। তিনি একসময় থাই এয়ারওয়েজে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং রাজকীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত দায়িত্বেও যুক্ত হন। ২০১৯ সালে রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সঙ্গে বিয়ের পর তিনি থাইল্যান্ডের রানি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।   রাজা মহা ভাজিরালংকর্ন নিজেও একজন অভিজ্ঞ পাইলট। বিমান চালনার প্রতি আগ্রহের কারণে রাজা ও রানিকে বিভিন্ন সময়ে একসঙ্গে রাজকীয় উড়োজাহাজ পরিচালনা করতে দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভুটানের পারো বিমানবন্দরে রাজকীয় বিমান অবতরণের সময়ও তাঁরা একসঙ্গে ককপিটে দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।   থাইল্যান্ডের রানি সুথিদার এই উড্ডয়নকে রাজপরিবারের পাশাপাশি দেশটির সামরিক বিমান চলাচলের ইতিহাসেও উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে একজন ক্ষমতাসীন রানি হিসেবে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে এক আসনবিশিষ্ট সুপারসনিক যুদ্ধবিমান একাই পরিচালনার ঘটনা বিরল।   দীর্ঘ ১৬ বছরের বিমান চালনার অভিজ্ঞতার সঙ্গে এবার যুক্ত হলো যুদ্ধবিমান পরিচালনার নতুন যোগ্যতা। প্রশিক্ষণের প্রতিটি ধাপ পেরিয়ে জেএএস ৩৯সি গ্রিপেনের ককপিটে একাই বসে আকাশে উড্ডয়ন এবং নিরাপদে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে থাইল্যান্ডের প্রথম নারী গ্রিপেন পাইলট হিসেবে ইতিহাসে জায়গা করে নিয়েছেন রানি সুথিদা।

শান্তিতে নোবেলজয়ী নাভি পিলাই
শান্তিতে নোবেল পেলেন ইসরায়েলকে গণ হ ত্যায় দোষী সাব্যস্ত করা বিচারক
প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৮:৯

২০২৬ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার মানবাধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক বিচারক নাভি পিলাই। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার রক্ষা এবং যু দ্ধাপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছে।   ৮৫ বছর বয়সী নাভি পিলাই জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ইসরায়েলের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনামূলক অবস্থানের কারণে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছেন তিনি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ওয়াটনে ফ্রিডনেস বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অসাধারণ সাহসিকতা এবং সততার পরিচয় দিয়েছেন নাভি পিলাই। বিশেষ করে যু দ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণ হ ত্যার বিচার নিশ্চিত করতে তাঁর ভূমিকা আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করেছে।   নোবেল কমিটির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যু দ্ধ ও সংঘাত বাড়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আদালত এবং বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সহিং সতা ছাড়াই বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিলাইয়ের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।   সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ইসরায়েলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেছিলেন পিলাই। বিশেষ করে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর অবস্থান ইসরায়েল এবং দেশটির সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছিল।   ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের শতাধিক সদস্য পিলাইয়ের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তাঁর নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যক্রমে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তোলা হয়। তবে এসব অভিযোগের মধ্যেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সুরক্ষার পক্ষে নিজের অবস্থান বজায় রাখেন তিনি।   পরবর্তী সময়ে ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও ইসরায়েলসংক্রান্ত জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের নেতৃত্ব দেন পিলাই। তাঁর নেতৃত্বাধীন কমিশন ২০২৫ সালে গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডকে গণ হ ত্যা হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তবে ইসরায়েল ওই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। কমিশনের এই অনুসন্ধান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করে।   দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত একটি পরিবারে জন্ম নেওয়া নাভি পিলাইয়ের পেশাগত জীবন শুরু হয় বর্ণবৈষম্যের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সময় তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বর্ণবৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশ নেন।   ১৯৬৭ সালে ডারবানে নিজের আইন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন পিলাই। পরে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন এবং ১৯৮৮ সালে ডক্টর অব জুরিডিক্যাল সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান।   এরপর রুয়ান্ডার গণ হ ত্যার বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারক ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সেখানে যৌন সহিং সতা ও ধ র্ষ ণকে গণ হ ত্যা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিচারের আওতায় আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন পিলাই।   মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণ হ ত্যার অভিযোগে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান মামলায়ও তিনি অ্যাডহক বিচারক হিসেবে যুক্ত রয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ধারাবাহিক ভূমিকার বিষয়টি এবারের নোবেল পুরস্কারের সিদ্ধান্তে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিশ্চিত করা ছাড়া দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। যু দ্ধাপরাধের জন্য দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা এবং নি র্যা তনের শিকার মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই একটি শান্তিপূর্ণ বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।   আগামী ১০ ডিসেম্বর নরওয়ের অসলোতে আনুষ্ঠানিকভাবে নাভি পিলাইয়ের হাতে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় তাঁর কয়েক দশকের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে এবারের পুরস্কারকে দেখছে নোবেল কমিটি।

নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই
আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন নাভি পিল্লাই
প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ৫:৩৭

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিশিষ্ট বিচারক ও জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর নরওয়ের নোবেল কমিটি বিজয়ী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করে। এ ঘোষণার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশা আবারও পূরণ হলো না।   নোবেল কমিটি জানিয়েছে, বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্য অধিকারকর্মীদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে সমসাময়িক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিচারিক কার্যক্রমে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন—পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা রয়েছে।   পুরস্কার ঘোষণার ব্যাখ্যায় কমিটি বলেছে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক আইনের ব্যবস্থা প্রচণ্ড চাপের মুখে রয়েছে এবং এর প্রতিষ্ঠানগুলোও আক্রমণের শিকার হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আইন ও ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই পিল্লাইকে বেছে নেওয়া হয়েছে।   কমিটির বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামোর পরিবর্তে ক্ষমতার রাজনীতিকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। শক্তি যখন ন্যায়ের ওপর প্রাধান্য বিস্তার করে, তখন স্থিতিশীলতা, পারস্পরিক আস্থা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আইনের শাসন শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সংঘাতের অহিংস সমাধানের ভিত্তি বলেও উল্লেখ করেছে কমিটি।   দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে পিল্লাইয়ের কর্মজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি আন্তর্জাতিক বিচারাঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কর্মজীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে মানবাধিকার সুরক্ষা, আন্তর্জাতিক অপরাধের বিচার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।   নোবেল কমিটির মতে, পিল্লাইয়ের দীর্ঘ কর্মজীবনে একটি বিষয় বারবার ফিরে এসেছে—অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এবং আইনের মাধ্যমে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি এই পুরস্কারের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে আইন ও মানবাধিকার রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও শক্তিশালী করার বার্তা দিতে চায় কমিটি।   নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ইয়র্গেন ভাটনে ফ্রিডনেস বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও এর প্রতিষ্ঠানগুলো আরও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গঠনের ভিত্তি। এই পুরস্কারের মাধ্যমে পিল্লাই এবং তাঁর মতো আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।   ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার প্রচেষ্টা ঘিরে আলোচনা   ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার আগে ট্রাম্পের পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনায় ছিল। তিনি বিভিন্ন সময়ে নিজের কূটনৈতিক ভূমিকা ও সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টাকে পুরস্কারের যোগ্য বলে তুলে ধরেছেন। নোবেল কমিটির ওপরও তাঁকে পুরস্কার দেওয়ার জন্য উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের পরিবর্তে পিল্লাইকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যেই পাকিস্তান আবারও ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার কথা জানায়। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় ট্রাম্পের ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে।   শরিফের বক্তব্য অনুযায়ী, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ট্রাম্পের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপ দুই দেশকে সংঘাতের কিনারা থেকে ফিরিয়ে আনতে এবং যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল। তাঁর দাবি, সেই যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর রয়েছে। তবে এটি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য; নোবেল কমিটির পুরস্কার ঘোষণার কারণ হিসেবে এই দাবিকে উল্লেখ করা হয়নি।   এর আগে ২০২৫ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন ভেনেজুয়েলার গণতন্ত্রকর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। দেশটিতে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পক্ষে কাজ করার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে পুরস্কার দেওয়া হয়েছিল। পরে তিনি প্রতীকীভাবে নিজের পুরস্কার ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পরিবর্তন করা যায় না।   আন্তর্জাতিক অস্থিরতার মধ্যে ন্যায়বিচারের বার্তা   এবারের পুরস্কার এমন এক সময়ে দেওয়া হলো, যখন বিভিন্ন অঞ্চলে সংঘাত, যুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগের সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে সংঘাত এবং ইউরোপে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা চলছে।   এদিকে সুদানে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ার পর স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী ও কমিউনিটিভিত্তিক সহায়তা নেটওয়ার্কগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এসব উদ্যোগও এবারের পুরস্কারের সম্ভাব্য দাবিদারদের আলোচনায় ছিল।   নোবেল শান্তি পুরস্কার চলতি সপ্তাহে ঘোষিত পঞ্চম পুরস্কার। এর আগে সাহিত্য, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। পিল্লাইয়ের এই স্বীকৃতি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

সমাজের সব প্রতিকূলতা জয় করে মুই থমাস আজ একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক ও রাগবি রেফারি। গ্রাফিক্স: আমেরিকা বাংলা
জন্মের দিনই ফেলে যায় পরিবার, দত্তক নেওয়া বাবা-মায়ের ভালোবাসায় সেই মুই আজ সফল রাগবি রেফারি
প্রকাশ: অক্টোবর ৯, ২০২৬ ০:১৪

হংকংয়ে ১৯৯২ সালে এক বিরল জেনেটিক রোগ নিয়ে জন্ম নেন মুই থমাস। জন্মের পরপরই তার নিজের বাবা ও মা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান। চিকিৎসকরাও তখন আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। তারা ধারণা করেছিলেন যে এই শিশু হয়তো শৈশব পার হতে পারবে না। কিন্তু ভাগ্যের লিখন ছিল অন্যরকম। অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং এক দম্পতির নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় সেই মুই আজ ৩৩ বছর বয়সে এসে একজন সফল ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং রাগবি রেফারি হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন।   মুই থমাস জন্মগতভাবে হারলেকুইন ইচথিওসিস নামের এক অত্যন্ত বিরল জিনগত রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এই রোগের কারণে রোগীর পুরো শরীর পুরু ও শক্ত চামড়ার আবরণে ঢাকা থাকে যা ফেটে গিয়ে মারাত্মক ক্ষতের সৃষ্টি করে। এর ফলে রোগীর শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে এবং শরীরে সহজেই বড় ধরনের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। নব্বইয়ের দশকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই রোগটিকে প্রায় শতভাগ প্রাণঘাতী হিসেবেই বিবেচনা করা হতো। চিকিৎসকদের ধারণা ছিল এই রোগে আক্রান্ত প্রায় কেউই প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে না।   তবে শিশুটির জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন তার বয়স আঠারো মাস। ফস্টার কেয়ার প্রোগ্রামের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করতে আসা রগ এবং টিনা থমাস নামের এক দম্পতির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই সময় এই দম্পতির দত্তক নেওয়ার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না বরং তারা অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী হওয়ার কথা ভাবছিলেন। কিন্তু টিনা যখনই হাসপাতালে মুইকে দেখতে যেতেন তখন শিশুটির সঙ্গে তার এক অদ্ভুত মায়াবী সম্পর্ক তৈরি হয়। টিনা যখন হাসপাতাল থেকে চলে আসতে চাইতেন তখন মুই তার জন্য অঝোরে কাঁদতেন।   শিশুটির এই কান্না টিনাকে মানসিকভাবে প্রবল নাড়া দেয়। এরপর দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় আইনি ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষে তারা মুইকে নিজেদের কাছে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকরা তাদের বারবার সতর্ক করেছিলেন যে শিশুটি যেকোনো সময় মারা যেতে পারে। কিন্তু রগ ও টিনা তাদের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। হাসপাতালে মুইয়ের প্রতিটি চিকিৎসাকালীন সময়ে টিনা রাতের পর রাত তার বিছানার পাশে মেঝেতে ঘুমিয়েছেন। তাদের এই অকৃত্রিম ভালোবাসাই মুইকে নতুন এক জীবন উপহার দেয়।   দীর্ঘ লড়াই শেষে ৩৩ বছর বয়সী মুই থমাস আজ সমাজের সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছেন। তিনি বর্তমানে একজন ইয়োগা প্রশিক্ষক এবং বিশ্বের প্রথম রাগবি রেফারি যিনি এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়েও মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। বয়ঃসন্ধিকালে শারীরিক গঠনের কারণে তাকে অনেক মানসিক নির্যাতন বা বুলিংয়ের শিকার হতে হয়েছিল। তবে সেই কষ্টকেই তিনি নিজের শক্তি বানিয়ে দ্য গার্ল বিহাইন্ড দ্য ফেস নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। এর মাধ্যমে তিনি সমাজের সব ধরনের কুসংস্কার ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরির কাজ করে যাচ্ছেন।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়