বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যকার সংঘাত একটি ধ্রুপদী ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের রূপ নিয়েছে। প্রথাগত সামরিক মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার জেট এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নৌঘাঁটির সামনে ইরান আপাতদৃষ্টিতে দুর্বল মনে হলেও, তেহরান এই অসমতা দূর করার জন্য অত্যন্ত চতুর ও কার্যকরী রণকৌশল গ্রহণ করেছে। অনেক সময় তারা সরাসরি সম্মুখ সমরে না গিয়েও তাদের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বা প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করে থাকে। বর্তমানে চলমান যুদ্ধে একদিকে রয়েছে ওয়াশিংটনের হাই-টেক প্রযুক্তির দাপট, আর অন্যদিকে রয়েছে ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন এবং নিখুঁত ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এই সংঘাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অর্থনৈতিক ও সাইবার যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটিকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, যাকে ইরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। ইরানের কৌশল হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল ক্লান্তিজনক যুদ্ধ (War of Attrition) চালিয়ে যাওয়া, যাতে যুক্তরাষ্ট্র একসময় বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার উপস্থিতি কমিয়ে ফেলে। ফলে এটি কেবল দুটি দেশের সীমানার লড়াই নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক গভীর সংকট। সংঘাতের এই জটিল সমীকরণে পরমাণু কর্মসূচির ইস্যুটি উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দমানোর চেষ্টা করছে, তেহরান তখন তার কৌশলগত ধৈর্য এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহারের মাধ্যমে লড়াইয়ের ময়দানকে ওয়াশিংটন থেকে হাজার মাইল দূরে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই অসম যুদ্ধে বড় কোনো বিজয় যেমন কোনো পক্ষের জন্য সহজ নয়, তেমনি যেকোনো পক্ষ থেকে সামান্য ভুল পদক্ষেপ বা প্ররোচনা পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকুণ্ডে ঠেলে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কেবল অস্ত্রের শক্তিতে নয়, বরং কূটনৈতিক ধূর্ততা এবং দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
রেশন দুর্নীতি এবং বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে গম পাচার মামলায় বড় ধরনের আইনি জটিলতায় পড়েছেন টলিউড অভিনেত্রী ও বসিরহাটের সাবেক সংসদ সদস্য নুসরত জাহান। এই দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়ায় নুসরতকে আগামীকাল সিজিও কমপ্লেক্সে হাজির হওয়ার জন্য তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তবে সূত্র মারফত জানা গেছে, অভিনেত্রী কলকাতায় ইডির দপ্তরে না গিয়ে দিল্লির সদর দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, যখন বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি গম পাচারের অভিযোগ ওঠে, সেই সময় নুসরত জাহান বসিরহাটের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগ উঠেছে, এই পাচারচক্রের আর্থিক লেনদেনের সাথে অভিনেত্রীর কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। রেশন দুর্নীতির একটি বিশেষ সূত্র ধরেই তাঁর নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। ব্যক্তিগত জীবনে স্বামী যশ দাশগুপ্তর সঙ্গে সময় কাটানো এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও এই স্পর্শকাতর মামলা নিয়ে নুসরত এখনও প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি। এর আগেও বাণিজ্যিক লেনদেন সংক্রান্ত বিষয়ে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিলেন তিনি। বর্তমানে বিনোদন জগত থেকে কিছুটা দূরত্ব বজায় রাখলেও এই নতুন আইনি পদক্ষেপের ফলে আবারও নেটিজেনদের চর্চার কেন্দ্রে চলে এসেছেন এই তারকা-রাজনীতিবিদ।
সংরক্ষিত নারী আসনে জামালপুর জেলা থেকে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেত্রী এবং সাবেক সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মণি। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নারী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী। নিলোফার চৌধুরী মণি বর্তমানে বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী তরুণ প্রজন্ম দলের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এর আগে তিনি নবম জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তাঁর এই মনোনয়নের খবরে জামালপুর জেলা বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। জেলা বিএনপির সহসভাপতি শামিম আহমেদ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিলোফার চৌধুরী মণির মতো একজন অভিজ্ঞ ও শিক্ষিত নেত্রীকে মনোনয়ন দেওয়া একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। উল্লেখ্য, নিলোফার চৌধুরী মণি রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি একজন প্রথিতযশা টকশো ব্যক্তিত্ব। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ও এলএলবি করার পর ২০১১ সালে নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বনগ্রাম বেনিয়াজী দাখিল মাদ্রাসায় প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ নিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) মাদ্রাসায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী লিখন, নাঈম, সিয়াম, সানজিদা জানায়, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র পেতে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এর আগে নির্বাচনী পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে প্রতি বিষয়ে ৩০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। এদিকে ফয়জাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম নবী নামে কয়েকজন অভিভাবক জানান, এর আগে দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৯৫০ টাকা হলেও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এখন যদি আবার ফরম ফিলাপের জন্য নেয়, তাহলে আগে নির্ধারিত ফির বাইরে এত টাকা কেন নেয়া হলো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আফতাব উদ্দিন বলেন, ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র ফি পরে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে অনুযায়ী নির্ধারিত ফি নিয়েই ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ বিভাগের জন্য ৪০০ এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৪৫০ টাকা কেন্দ্র ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পরিস্কার করে কিছু বলেননি তিনি। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বলেন, ফরম ফিলাপের সময় কেন্দ্র ফি সহ টাকা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বোর্ডের অংশ বোর্ডে জমা দিয়ে বাকি টাকা প্রতিষ্ঠান তহবিলে রাখা হয় এবং পরে কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, যদি রশিদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা ফেরত দিতে হবে এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
পাবনা প্রতিনিধি: পাবনার চাটমোহর উপজেলার পার্শ্বডাঙ্গা ইউনিয়নের বনগ্রাম বেনিয়াজী দাখিল মাদ্রাসায় প্রবেশপত্র দেওয়ার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। মাদ্রাসাটিতে বর্তমানে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। এ নিয়ে শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) মাদ্রাসায় গিয়ে এ চিত্র দেখা যায়। এ সময় ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী লিখন, নাঈম, সিয়াম, সানজিদা জানায়, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রবেশপত্র পেতে তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে ৪৫০ টাকা করে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া এর আগে নির্বাচনী পরীক্ষায় কোনো বিষয়ে অকৃতকার্য হলে প্রতি বিষয়ে ৩০০ টাকা করে জরিমানা আদায় করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। এদিকে ফয়জাল হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম, গোলাম নবী নামে কয়েকজন অভিভাবক জানান, এর আগে দাখিল পরীক্ষার ফরম ফিলাপের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৯৫০ টাকা হলেও ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এখন যদি আবার ফরম ফিলাপের জন্য নেয়, তাহলে আগে নির্ধারিত ফির বাইরে এত টাকা কেন নেয়া হলো। বিষয়টি খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযোগের বিষয়ে মাদ্রাসার সুপার আফতাব উদ্দিন বলেন, ফরম ফিলাপের সময় শিক্ষার্থীরা কেন্দ্র ফি পরে দেওয়ার কথা জানিয়েছিল। সে অনুযায়ী নির্ধারিত ফি নিয়েই ফরম ফিলাপ সম্পন্ন করা হয়েছে। মাদ্রাসা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ বিভাগের জন্য ৪০০ এবং বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ৪৫০ টাকা কেন্দ্র ফি নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। তবে বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে পরিস্কার করে কিছু বলেননি তিনি। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। চাটমোহর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বলেন, ফরম ফিলাপের সময় কেন্দ্র ফি সহ টাকা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। বোর্ডের অংশ বোর্ডে জমা দিয়ে বাকি টাকা প্রতিষ্ঠান তহবিলে রাখা হয় এবং পরে কেন্দ্রে জমা দেওয়া হয়। তবে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, যদি রশিদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে তা ফেরত দিতে হবে এবং এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এ ঘটনা দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দের দাবি করার পরই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়। এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয়, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করছে এবং ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ রুটে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ইংল্যান্ডের ফুটবলে আবারও বর্ণবাদের অভিযোগ উঠেছে। গ্যালারি থেকে বর্ণবাদী মন্তব্যের শিকার হয়েছেন লেস্টার সিটির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফুটবলার হামজা চৌধুরী। তবে এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় উল্টো তাঁকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছে। শনিবার ইংলিশ চ্যাম্পিয়নশিপে পোর্টসমাউথের বিপক্ষে ম্যাচে লেস্টার সিটির হয়ে শুরুর একাদশে খেলেন ২৮ বছর বয়সী এই মধ্যমাঠের খেলোয়াড়। দীর্ঘদিনের চোট কাটিয়ে তিনি এদিন দলে ফিরেছিলেন। ম্যাচের ৭১ মিনিটে তাঁকে তুলে নেওয়া হয় এবং তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় জর্ডান জেমসকে। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে হামজার উদ্দেশে বর্ণবাদী গালাগাল দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হামজা দর্শকদের সঙ্গে বাক্যবিনিময়ে জড়ান। পরে তিনি রেফারির কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে গেলে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাঁকেই হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফুটবলে বর্ণবাদবিরোধী অবস্থান নিয়ে বারবার কথা বলা হলেও, মাঠে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক সদস্য ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিতে ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ লেবাননের মারোনাইট খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেবেল গ্রামে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের আওতায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে স্থাপিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা। আইডিএফ প্রথমে ছবিটির সত্যতা যাচাই করে এবং নিশ্চিত করেছে যে এটি প্রকৃত ঘটনা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সেনার এই আচরণ আইডিএফের প্রত্যাশিত মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান বলে অভিহিত করেছেন। কিছু প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ওই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পদ ধ্বংস করছে ও লুটপাট করছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের সর্বশেষ উদাহারণ এই ছবি, লিখেছে টাইমস অব ইসরায়েল। জেরুজালেমে খ্রীস্টান নেতাদের সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ছবি সামনে এল।
বর্তমান বিশ্বরাজনীতিতে আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যকার সংঘাত একটি ধ্রুপদী ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের রূপ নিয়েছে। প্রথাগত সামরিক মানদণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল প্রতিরক্ষা বাজেট, অত্যাধুনিক স্টেলথ ফাইটার জেট এবং বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত নৌঘাঁটির সামনে ইরান আপাতদৃষ্টিতে দুর্বল মনে হলেও, তেহরান এই অসমতা দূর করার জন্য অত্যন্ত চতুর ও কার্যকরী রণকৌশল গ্রহণ করেছে। অনেক সময় তারা সরাসরি সম্মুখ সমরে না গিয়েও তাদের ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ বা প্রক্সি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্বার্থের ওপর নিরন্তর চাপ সৃষ্টি করে থাকে। বর্তমানে চলমান যুদ্ধে একদিকে রয়েছে ওয়াশিংটনের হাই-টেক প্রযুক্তির দাপট, আর অন্যদিকে রয়েছে ইরানের স্বল্পমূল্যের ড্রোন এবং নিখুঁত ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। এই সংঘাতের একটি বড় অংশ জুড়ে রয়েছে অর্থনৈতিক ও সাইবার যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘকাল ধরে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে দেশটিকে বিশ্ব অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করছে, যাকে ইরান ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদ’ হিসেবে অভিহিত করে। এর পাল্টা জবাব হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালীর মতো কৌশলগত জলপথের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করে, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী। ইরানের কৌশল হলো একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়বহুল ক্লান্তিজনক যুদ্ধ (War of Attrition) চালিয়ে যাওয়া, যাতে যুক্তরাষ্ট্র একসময় বাধ্য হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার উপস্থিতি কমিয়ে ফেলে। ফলে এটি কেবল দুটি দেশের সীমানার লড়াই নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য এক গভীর সংকট। সংঘাতের এই জটিল সমীকরণে পরমাণু কর্মসূচির ইস্যুটি উত্তেজনার পারদকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ওয়াশিংটন যখন কূটনৈতিক ও সামরিক চাপের মাধ্যমে তেহরানকে দমানোর চেষ্টা করছে, তেহরান তখন তার কৌশলগত ধৈর্য এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ব্যবহারের মাধ্যমে লড়াইয়ের ময়দানকে ওয়াশিংটন থেকে হাজার মাইল দূরে সরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন প্রান্তরে ছড়িয়ে দিয়েছে। এই অসম যুদ্ধে বড় কোনো বিজয় যেমন কোনো পক্ষের জন্য সহজ নয়, তেমনি যেকোনো পক্ষ থেকে সামান্য ভুল পদক্ষেপ বা প্ররোচনা পুরো অঞ্চলকে এক অনিয়ন্ত্রিত অগ্নিকুণ্ডে ঠেলে দিতে পারে। শেষ পর্যন্ত এই লড়াই কেবল অস্ত্রের শক্তিতে নয়, বরং কূটনৈতিক ধূর্ততা এবং দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে।
জর্জিয়ার আটলান্টায় বসবাসরত বাংলাদেশি, ভারতীয় ও দক্ষিণ এশিয়ান কমিউনিটির জন্য আসছে নতুন এক আনন্দের সংবাদ। খুব শিগগিরই যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে আস-সাফা হালাল মার্কেট অ্যান্ড গ্রিল, যেখানে একসাথে থাকছে বিশাল হালাল গ্রোসারি, ২০০০ স্কয়ার ফিটের আধুনিক রেস্টুরেন্ট এবং সুবিশাল ইভেন্ট হল সুবিধা। এই নতুন প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠছে এমন এক গুরুত্বপূর্ণ স্থানে, যেখানে গতকাল ও আজ ভ্রাম্যমাণ বাংলাদেশ কনস্যুলেট সেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অর্থাৎ গ্র্যান্ড ইভেন্ট হলের পাশেই এই নতুন হালাল গ্রোসারি ও রেস্টুরেন্ট চালু করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশি কমিউনিটির মানুষ এখন এক জায়গাতেই কেনাকাটা, খাবার, সামাজিক অনুষ্ঠান এবং বিভিন্ন পারিবারিক আয়োজনের সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এখানে থাকছে— তাজা দেশি মাছের বিশাল সংগ্রহ, প্রতিদিন কাটা ফ্রেশ জবিহা হালাল গরু, খাসি ও মুরগির মাংস, বাংলাদেশি, ভারতীয় ও এশিয়ান গ্রোসারি পণ্যের সমৃদ্ধ কালেকশন, ২০০০ স্কয়ার ফিটের প্রশস্ত ও আধুনিক রেস্টুরেন্ট, অভিজ্ঞ শেফের হাতে তৈরি দেশি স্বাদের সুস্বাদু খাবার, পার্টি, অনুষ্ঠান ও বিশেষ দিনের জন্য ক্যাটারিং সুবিধা, বিয়ে, জন্মদিন, আকিকা, মিলাদ ও কমিউনিটি প্রোগ্রামের জন্য ইভেন্ট হল সুবিধা। রেস্টুরেন্টের বিশেষ আকর্ষণ হলো, নতুন এই রেস্টুরেন্টে পরিবার নিয়ে বসে আরামদায়ক পরিবেশে খাওয়ার সুযোগ থাকবে। দেশি খাবারের পাশাপাশি বিভিন্ন জনপ্রিয় এশিয়ান আইটেমও পরিবেশন করা হবে বলে জানা গেছে। গ্র্যান্ড ওপেনিং উপলক্ষে থাকছে বিশেষ অফার: প্রথম ১০০ জন কাস্টমারের জন্য ফ্রি গিফট, মাছ ও মাংসে বিশেষ ডিসকাউন্ট, উদ্বোধনী দিনের আকর্ষণীয় অফার, পরিবার নিয়ে আসা অতিথিদের জন্য বিশেষ চমক। গতকাল এই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক জনাব হাবিব রহমান দূতাবাস সেবা নিতে আসা বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, আটলান্টার বাংলাদেশিদের জন্য মানসম্মত, পরিচ্ছন্ন ও বিশ্বস্ত সেবা নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা যেন দেশের স্বাদ, দেশের পণ্য এবং নিজস্ব পরিবেশের অনুভূতি এক জায়গাতেই পান, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য উদ্বোধনের তারিখ: ২৭ জুন, ইনশাআল্লাহ ও সমভব্য ঠিকানা: ৫৯৫৩ বিফোর্ড হাইওয়ে, ডোরাভিল, জর্জিয়া ৩০৩৪০ আটলান্টার প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে নতুন এক নির্ভরযোগ্য ঠিকানা, যেখানে মিলবে দেশি স্বাদ, নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজার এবং কমিউনিটি আয়োজনের পূর্ণাঙ্গ সুবিধা। এখন অনেকেই অপেক্ষায় আছেন কবে আনুষ্ঠানিকভাবে দরজা খুলবে As-Safa Halal Market & Grill।
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
প্রকৌশলী লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান।
ড. মাহরুফ চৌধুরী
হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দের দাবি করার পরই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়। এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয়, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করছে এবং ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়। বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ রুটে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক সদস্য ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিতে ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছেন। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ লেবাননের মারোনাইট খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেবেল গ্রামে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের আওতায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে স্থাপিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা। আইডিএফ প্রথমে ছবিটির সত্যতা যাচাই করে এবং নিশ্চিত করেছে যে এটি প্রকৃত ঘটনা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সেনার এই আচরণ আইডিএফের প্রত্যাশিত মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। ঘটনাটি অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান বলে অভিহিত করেছেন। কিছু প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ওই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পদ ধ্বংস করছে ও লুটপাট করছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের সর্বশেষ উদাহারণ এই ছবি, লিখেছে টাইমস অব ইসরায়েল। জেরুজালেমে খ্রীস্টান নেতাদের সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ছবি সামনে এল।
বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীনের বিজ্ঞানীরা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং সক্ষমতাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সমুদ্রের বিশাল রণতরী বা ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ নয়, বরং এবার তারা তৈরি করেছে ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা স্থলচর যুদ্ধজাহাজ। এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এই যানটি উড়ন্ত ড্রোনকে কোনো তার ছাড়াই মাঝ-আকাশে চার্জ করতে সক্ষম! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে মাটিতে থাকা যান থেকে আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনে বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। ফলে ড্রোনগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য আর নিচে নামতে হবে না। তারা দীর্ঘ সময় বা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল ধরে আকাশে উড়তে পারবে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? সাধারণত ড্রোনগুলোর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেমে স্থলভাগের বিশেষ ট্রাক বা বাহন থেকে উচ্চশক্তির মাইক্রোওয়েভ রশ্মি ড্রোনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ড্রোনে থাকা বিশেষ রিসিভার সেই রশ্মিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ড্রোনের স্থায়িত্বই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদী হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ড্রোনের পাল্লা সীমিত থাকলেও, এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোনগুলো শত শত মাইল দূরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। চীনের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ বা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল এই এক উদ্ভাবনের ফলে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রযুক্তির দৌড়ে এবার রক্ত-মাংসের মানুষকে পেছনে ফেলে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র। চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক হাফ-ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়েছে একটি ‘হিউম্যানয়েড’ বা মানবসদৃশ রোবট। মানুষের গড়া বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুততম সময়ে ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এই চীনা উদ্ভাবন। রোববার বেইজিং ইকোনমিক-টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এরিয়াতে (বেইজিং ই-টাউন) আয়োজিত এই বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতায় চিনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অনার’ (Honor)-এর তৈরি একটি রোবট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২১ কিলোমিটার বা ১৩ মাইলের এই পথ পাড়ি দিতে রোবটটি সময় নিয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড। বর্তমানে হাফ-ম্যারাথনে মানুষের দ্রুততম সময়ের বিশ্বরেকর্ডটি উগান্ডার অ্যাথলেট জ্যাকব কিপ্লিমোর দখলে। ২০২১ সালে লিসবনে তিনি ৫৭ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। বেইজিংয়ের এই রোবটটি কিপ্লিমোর চেয়েও প্রায় ৭ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করে প্রযুক্তির অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজকরা জানান, অংশ নেওয়া রোবটগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে (Autonomously) পথ খুঁজে দৌড়েছে, বাকিগুলো রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তবে বিজয়ী রোবটটি নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করেই এই সাফল্য পেয়েছে। অবশ্য পুরো প্রতিযোগিতাটি নিখুঁত ছিল না। দৌড় শুরুর লাইনেই একটি রোবট আছড়ে পড়ে এবং অন্য একটি রোবট বেরিয়ারে ধাক্কা খায়। তা সত্ত্বেও গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। উপস্থিত দর্শক সান ঝিগ্যাং বলেন, "গত বছরের তুলনায় এবার রোবটদের বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। রোবট মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এটা আগে কখনো কল্পনাও করিনি।" উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬-২০৩০ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বেইজিং। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অমডিয়া’র মতে, বর্তমানে চীনের এজিবট (AGIBOT) ও ইউনিট্রির (Unitree) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে হাজার হাজার হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করছে, যা এই খাতে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।