যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি প্রবাহে দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে আমদানির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০১ শতাংশে। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে ৩৫ হাজার ৪৬২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এনবিআরের তথ্য বলছে, মোট আমদানির বড় অংশ এসেছে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মিলিয়ে মোট আমদানির প্রায় ৩৮ শতাংশ সম্পন্ন করেছে। চুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয় ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০ পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার এবং আরও ২ হাজার ২১০ পণ্যের শুল্ক ধাপে ধাপে কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮ পণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে। তবে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মোস্ট ফেভারড নেশন শুল্ক বহাল রয়েছে। ইউএসটিআর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনে। আমদানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এলএনজি, এলপিজি, গম, তুলা, লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপ, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন কাঁচামাল। মোট আমদানির ৮৩ শতাংশই এসেছে ১০টি প্রধান পণ্য থেকে। পেট্রোবাংলা একাই এলএনজি আমদানি করেছে ৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার। খাদ্য অধিদপ্তর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার গম আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা গেছে। এ ছাড়া তুলা আমদানি ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তির কারণে জ্বালানি, খাদ্যশস্য ও শিল্প কাঁচামালের আমদানি কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আনার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, চুক্তির কাঠামো আমদানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাণিজ্য শর্ত এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে, বিশেষ করে জ্বালানি ও কাঁচামাল খাতে।
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজার্সি–এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে। শনিবার, ৯ মে নিউজার্সির কল্টস নেক শহরে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে রঙিন পোশাক, বাংলা গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারসহ অংশ নিয়ে বৈশাখী আনন্দ ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ফায়জুর রহমান সাবু। তিনি বলেন, প্রবাসে ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং কমিউনিটির ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। প্রবাসে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রীনা আমানুল্লাহ, ডা. ফারুক আজম, শামীমা হোসেন লিপি, মেহের নিগার, শামীম, নাজনীন হোসেইন, মারুফ আলম, ডা. বিল্লা এবং ডা. মনোয়ার হোসেন। আয়োজনে একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান। দীর্ঘদিন কমিউনিটি নেতৃত্বে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে ডা. লুসি হোসেনকেও তাঁর অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়। আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসী শিল্পীরা। বাংলা গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তিতে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। শিশুদের পরিবেশনা বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এই ধরনের আয়োজন কেবল উৎসব নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
দেশের জনগণের শান্তি–নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও সক্ষমতা নিয়ে দায়িত্ব পালনের জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান দায়িত্ব এবং এ দায়িত্ব পালনে পেশাদারি ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। রোববার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের ভূমিকার ওপরই সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল। আপনারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাধ্য ও সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করবেন। এটাই আপনাদের কাছে সরকারের প্রত্যাশা।” পুলিশ সদস্যদের নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “শুধু স্মরণের মধ্য দিয়েই আপনাদের-আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য যেসব শহীদ পুলিশ ভাইয়েরা আত্মত্যাগ করেছিলেন, যেকোনো মূল্যে সেই স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।” তিনি আরও বলেন, “এই বাংলাদেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদ-স্বৈরাচার যেন পুলিশ সদস্যদের দেশ ও জনগণের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে না পারে। স্বাধীনতার প্রথম প্রহরেই পুলিশের রক্তে রঞ্জিত এই মাটিতে দাঁড়িয়ে আসুন, আজ আমরা আবারও নতুন শপথে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে বর্তমান সরকারের মাধ্যমে। তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে নির্যাতন, নিপীড়ন ও অধিকারহীনতার শিকার মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “এই সেই ঐতিহাসিক রাজারবাগ পুলিশ লাইনস, যেখানে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইটের নামে বর্বর হামলা চালিয়ে শত শত ঘুমন্ত পুলিশ সদস্যকে হত্যা করেছিল। আমি আজকের অনুষ্ঠানে প্রথমেই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব পুলিশ সদস্যকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।” ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম।” জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশের পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা ও মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “উত্তাল মার্চে যখন স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে একসঙ্গে জড়ো করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী কৌশল বা যুক্তি ছিল, তা এখনো গবেষণার বিষয় হতে পারে।” বক্তব্যের শেষে প্যারেডে অংশ নেওয়া পুলিশ ও র্যাব সদস্যদের অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’-এর সার্বিক সাফল্য কামনা করেন তিনি। এর আগে সকালে ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের সবচেয়ে বড় সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও কমিউনিটি সম্মেলন ফেডারেশন অব বাংলাদেশি অ্যাসোসিয়েশনস ইন নর্থ আমেরিকা (FOBANA)-এর ৪০তম কনভেনশন এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই বৃহৎ মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু করেছে আয়োজকরা। আগামী ৪, ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর লেবার ডে ছুটির সপ্তাহে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে বিখ্যাত Hilton Los Angeles / Universal City হোটেলে। কনভেনশনের হোস্ট সংগঠন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্যালিফোর্নিয়া (BAC)। আয়োজকরা বলছেন, ফোবানার ৪০তম আয়োজনকে স্মরণীয় ও ব্যতিক্রমধর্মী করতে নেওয়া হয়েছে নানা পরিকল্পনা। “উত্তরণের পথে আগামীর প্রত্যয়ে প্রবাস বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের ফোবানা আয়োজন করা হচ্ছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও ইতিহাসকে তুলে ধরা, উত্তর আমেরিকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলাদেশিদের মধ্যে ঐক্য ও সম্প্রীতি আরও শক্তিশালী করা এবং মূলধারার আমেরিকান সমাজে বাংলাদেশি কমিউনিটির অবস্থান আরও সুদৃঢ় করাই এবারের কনভেনশনের মূল লক্ষ্য। আয়োজকদের প্রকাশিত বিভিন্ন কমিটি ও প্রস্তুতি কার্যক্রম থেকে জানা গেছে, এবারের কনভেনশনে থাকছে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, বাংলাদেশ ও প্রবাসের জনপ্রিয় শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে গালা নাইট, ব্যবসা ও বিনিয়োগ বিষয়ক সেমিনার, যুব নেতৃত্ব ও নারী নেতৃত্ব বিষয়ক আলোচনা, স্বাস্থ্য ও ওয়েলনেস সেশন, স্কলারশিপ ও শিক্ষা কার্যক্রম, সাহিত্য জলসা, মিডিয়া ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক সেশন, কমিউনিটি অ্যাওয়ার্ড ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির ভবিষ্যৎ নিয়ে মতবিনিময় সভা, শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, ফ্যাশন শো ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক প্রদর্শনী, বাংলাদেশি খাবারের ফুড ফেস্টিভ্যাল, বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক্সপো বুথ, মিডিয়া ও কমিউনিটি নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম, আইনি ও কমিউনিটি সহায়তা বিষয়ক আলোচনা এবং ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম। এছাড়াও ফোবানা কনভেনশন উপলক্ষে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে প্রচারণা, প্রস্তুতি সভা এবং কমিটি গঠনের কাজও চলছে। আয়োজকরা আশা করছেন, এবারের কনভেনশনে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং বাংলাদেশ থেকে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি, বিশিষ্ট অতিথি, ব্যবসায়ী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ ও কমিউনিটি নেতারা অংশ নেবেন। ফোবানার চেয়ারম্যান রবিউল করিম বেলাল, এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারি খালেদ রউফ, ৪০তম ফোবানা কনভেনশনের কনভেনর ড. জয়নুল আবেদীন, মেম্বার সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মো. ইকবাল এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি মোয়াজ্জেম চৌধুরীসহ নেতারা জানিয়েছেন, এবারের আয়োজনকে আরও বৃহৎ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক করতে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হলিউড, ইউনিভার্সাল স্টুডিও এবং ইউনিভার্সাল সিটির কাছাকাছি ভেন্যু হওয়ায় এবারের কনভেনশন নিয়ে প্রবাসীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, বিশ্বের বিনোদন রাজধানী হিসেবে পরিচিত লস অ্যাঞ্জেলেসে আয়োজিত এবারের ফোবানা সম্মেলন প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতায় পরিণত হবে। উল্লেখ্য, গত বছর ফোবানা কনভেনশন জর্জিয়ার আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং সেটি ব্যাপক সফলতা পায়। দেশ-বিদেশের শিল্পী, কমিউনিটি নেতা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রবাসীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি ছিল প্রাণবন্ত ও দর্শকপূর্ণ। সেই সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় এবার লস অ্যাঞ্জেলেস কনভেনশনকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই মনে করছেন, ফোবানা শুধু একটি সাংস্কৃতিক আয়োজন নয়; বরং এটি উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি পরিচয়, ঐক্য, সংস্কৃতি ও কমিউনিটির শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির প্রভাব বাংলাদেশের আমদানি প্রবাহে দ্রুত দৃশ্যমান হচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোট ১৯ হাজার ১০৪ কোটি টাকার পণ্য আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরে আমদানির প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০১ শতাংশে। অন্যদিকে একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানি বেড়ে ৩৫ হাজার ৪৬২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৩২ শতাংশ। এনবিআরের তথ্য বলছে, মোট আমদানির বড় অংশ এসেছে তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। পেট্রোবাংলা, খাদ্য অধিদপ্তর এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মিলিয়ে মোট আমদানির প্রায় ৩৮ শতাংশ সম্পন্ন করেছে। চুক্তি সংশ্লিষ্ট সূত্র অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয়ের সঙ্গে পারস্পরিক বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয় ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এতে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০ পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার এবং আরও ২ হাজার ২১০ পণ্যের শুল্ক ধাপে ধাপে কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১ হাজার ৬৩৮ পণ্যের ওপর আরোপিত প্রতিশোধমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে। তবে গড়ে ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ মোস্ট ফেভারড নেশন শুল্ক বহাল রয়েছে। ইউএসটিআর বাংলাদেশি পণ্যের ওপর পারস্পরিক শুল্ক ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনে। আমদানির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে এলএনজি, এলপিজি, গম, তুলা, লোহা ও ইস্পাত স্ক্র্যাপ, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন কাঁচামাল। মোট আমদানির ৮৩ শতাংশই এসেছে ১০টি প্রধান পণ্য থেকে। পেট্রোবাংলা একাই এলএনজি আমদানি করেছে ৪ হাজার ৯১৩ কোটি টাকার। খাদ্য অধিদপ্তর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১ হাজার ৬৭০ কোটি টাকার গম আমদানি করেছে, যা গত বছরের তুলনায় নতুন সংযোজন হিসেবে দেখা গেছে। এ ছাড়া তুলা আমদানি ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। উড়োজাহাজের ইঞ্জিন আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তির কারণে জ্বালানি, খাদ্যশস্য ও শিল্প কাঁচামালের আমদানি কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। এতে সরকারি ও বেসরকারি খাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আনার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, চুক্তির কাঠামো আমদানি নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য প্রবাহ দ্রুত বেড়েছে এবং ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও দৃশ্যমান হতে পারে। পলিসি এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, বাণিজ্য শর্ত এবং শুল্ক কাঠামোর পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ছে, বিশেষ করে জ্বালানি ও কাঁচামাল খাতে।
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি কমিউনিটির বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতেও বাড়ছে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ। নিউইয়র্ক, মেরিল্যান্ড, ভার্জিনিয়া, মিশিগান, টেক্সাস ও ক্যালিফোর্নিয়াসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বর্তমানে বহু বাংলাদেশি-আমেরিকান পুলিশ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। ভালো বেতন, চাকরির নিরাপত্তা, সম্মানজনক পেশা এবং কমিউনিটির সেবার সুযোগ থাকায় অনেকের এ পেশার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ অফিসার হতে হলে কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। অধিকাংশ পুলিশ বিভাগে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অথবা কিছু ক্ষেত্রে বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা (গ্রিন কার্ডধারী) হওয়ার শর্ত থাকে। আবেদনকারীর হাই স্কুল ডিপ্লোমা বা GED থাকতে হয় এবং অনেক বিভাগ কলেজ শিক্ষাকে অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে বিবেচনা করে। পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে হলে প্রথমে লিখিত পরীক্ষা, শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা, মেডিকেল পরীক্ষা এবং বিস্তারিত ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। এছাড়া মানসিক স্বাস্থ্য মূল্যায়ন ও সাক্ষাৎকারও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক বিভাগে পলিগ্রাফ বা লাই ডিটেক্টর পরীক্ষাও নেওয়া হয়ে থাকে। নির্বাচিত প্রার্থীদের পরে পাঠানো হয় পুলিশ একাডেমিতে। সেখানে কয়েক মাসব্যাপী প্রশিক্ষণে আইন, অস্ত্র পরিচালনা, জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা, আত্মরক্ষামূলক কৌশল এবং কমিউনিটি পুলিশিং সম্পর্কে হাতে-কলমে শিক্ষা দেওয়া হয়। একাডেমি শেষে নতুন কর্মকর্তাদের মাঠ পর্যায়ে অভিজ্ঞ অফিসারের সঙ্গে কাজ করে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করতে হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলা ভাষা জানা এবং বাংলাদেশি কমিউনিটির সংস্কৃতি সম্পর্কে ধারণা থাকায় কমিউনিটির সঙ্গে যোগাযোগে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতা, সামাজিক বিরোধ বা কমিউনিটি সচেতনতা কার্যক্রমে বাংলাদেশি অফিসারদের উপস্থিতি ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বেতন ও সুযোগ-সুবিধার দিক থেকেও পেশাটি আকর্ষণীয়। অঙ্গরাজ্য ও বিভাগের ভিত্তিতে একজন পুলিশ অফিসারের বার্ষিক আয় সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের বেশি হতে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্যবীমা, পেনশন, ওভারটাইম এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধাও পাওয়া যায়। তবে পুলিশ বিভাগে যোগ দিতে আগ্রহীদের জন্য পরিষ্কার ব্যক্তিগত রেকর্ড, শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপন এবং শারীরিক সক্ষমতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যবহৃত H-1B ভিসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে প্রযুক্তিখাতের বিদেশি কর্মীদের জন্য ন্যূনতম বেতনের সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সিলিকন ভ্যালিতে H-1B ভিসায় নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের ন্যূনতম বেতন হতে পারে প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার ডলার। একই ধরনের চাকরির ক্ষেত্রে নিউইয়র্কে প্রায় ১ লাখ ৩২ হাজার ডলার এবং টেক্সাসের ডালাসে প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ডলার বেতন নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন H-1B কর্মীদের বেতনের ন্যূনতম সীমা প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর চিন্তা করছে। এর সঙ্গে আগে থেকেই থাকা প্রায় ১ লাখ ডলারের ফি ও অন্যান্য খরচ যোগ হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর জন্য আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন আমাজন, মাইক্রোসফট, গুগল, মেটা এবং অ্যাপল প্রতি বছর হাজার হাজার বিদেশি কর্মীকে H-1B ভিসার মাধ্যমে নিয়োগ দেয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোম্পানিগুলো বাড়তি খরচ বহন করতে পারলেও ছোট ও মাঝারি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। এতে স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর জন্য দক্ষ আন্তর্জাতিক কর্মী নিয়োগ আরও কঠিন হয়ে যেতে পারে। প্রযুক্তি খাতের অনেকে আশঙ্কা করছেন, নতুন নিয়ম কার্যকর হলে বিদেশি মেধাবীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির সুযোগ সীমিত হতে পারে এবং মার্কিন প্রযুক্তি শিল্পে কর্মী সংকটও তৈরি হতে পারে।
প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শেকড়কে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রত্যয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য বৈশাখী মেলা ও বাংলা নববর্ষ উদযাপন। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজার্সি–এর উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা রূপ নেয় এক টুকরো বাংলাদেশে। শনিবার, ৯ মে নিউজার্সির কল্টস নেক শহরে দিনব্যাপী এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। উৎসবে রঙিন পোশাক, বাংলা গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও লোকজ সংস্কৃতির নানা উপস্থাপনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল। প্রবাসী বাংলাদেশিরা পরিবারসহ অংশ নিয়ে বৈশাখী আনন্দ ভাগ করে নেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সভাপতি ফায়জুর রহমান সাবু। তিনি বলেন, প্রবাসে ঐক্যই সবচেয়ে বড় শক্তি। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি পৌঁছে দিতে সম্মিলিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। তিনি সংগঠনের কার্যক্রমে যুক্ত সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং কমিউনিটির ঐক্য আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। বক্তারা বলেন, বৈশাখ শুধু উৎসব নয়, এটি বাঙালির আত্মপরিচয় ও সাংস্কৃতিক আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। প্রবাসে এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মকে শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে এবং সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যক্তিত্ব বক্তব্য রাখেন এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রীনা আমানুল্লাহ, ডা. ফারুক আজম, শামীমা হোসেন লিপি, মেহের নিগার, শামীম, নাজনীন হোসেইন, মারুফ আলম, ডা. বিল্লা এবং ডা. মনোয়ার হোসেন। আয়োজনে একটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ডা. মনোয়ার হোসেনকে সংবর্ধনা প্রদান। দীর্ঘদিন কমিউনিটি নেতৃত্বে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে ডা. লুসি হোসেনকেও তাঁর অবদানের জন্য সম্মান জানানো হয়। আলোচনা পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন প্রবাসী শিল্পীরা। বাংলা গান, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তিতে মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা। শিশুদের পরিবেশনা বিশেষভাবে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, এই ধরনের আয়োজন কেবল উৎসব নয়, বরং বাংলা সংস্কৃতি ও পরিচয় ধরে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন জামায়াত জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুম। বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কার্যালয়ে তার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়ার সঞ্চালনায় শপথ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। শপথবাক্য পাঠ করান জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪৮ এর তৃতীয় তফসিল এবং জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি ৫ অনুযায়ী তাকে শপথ পাঠ করানো হয়। শপথ গ্রহণ শেষে নুসরাত তাবাসসুম নিয়ম অনুযায়ী সংসদ সচিবের কার্যালয়ে শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করেন। অনুষ্ঠানে ডেপুটি স্পিকার, বিরোধী দলের প্রধান হুইপ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় ছিল ২১ এপ্রিল বিকেল ৪টা পর্যন্ত। তবে নির্ধারিত সময়ের ১৯ মিনিট পর মনোনয়নপত্র জমা দেন নুসরাত তাবাসসুম। বিলম্বের কারণে নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে উচ্চ আদালত নির্বাচন কমিশনকে তার মনোনয়নপত্র গ্রহণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর নির্বাচন কমিশন তার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে বৈধ ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে কর্মরত এক অভিবাসী চিকিৎসক গ্রিন কার্ড নবায়ন জটিলতায় অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। তিনি বর্তমানে প্রায় এক হাজার রোগীকে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। লিবিয়া থেকে আসা চিকিৎসক ডা. ফয়সাল আলঘৌলা একজন ফুসফুস ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ। তিনি ইন্ডিয়ানা, ইলিনয় ও কেনটাকির গ্রামীণ এলাকার রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। স্থানীয়ভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট থাকায় তার সেবার ওপর অনেক রোগী নির্ভরশীল। খবরে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সময় চালু হওয়া একটি নীতির কারণে তার গ্রিন কার্ড নবায়নের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। আবেদন বাতিল হলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই তার বর্তমান ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসক ও অভিবাসন আইনজীবীরা বলছেন, এ ধরনের জটিলতায় বিদেশি চিকিৎসকদের যুক্তরাষ্ট্রে কাজ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় বিদেশি চিকিৎসকদের ওপর স্বাস্থ্যসেবা অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকার চিকিৎসকদের জন্য একটি বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা চালু করেছে। নতুন এই নীতির আওতায় যেসব চিকিৎসকের গ্রিন কার্ড বা ভিসা আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, তারা কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সুবিধা পেতে পারেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে ডা. ফয়সাল আলঘৌলার মতো অনেক বিদেশি চিকিৎসক যুক্তরাষ্ট্রে থেকে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। বিদেশি চিকিৎসকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় রোগীদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘানার একটি গ্রামের দরিদ্র যুবক আল-হাসান আবদুল্লাহকে ঘিরে একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভাইরাল হওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তুরস্কের একটি চলচ্চিত্র দলের ড্রোন একদিন তার গ্রামের কাছে পড়ে যায়। সেটি খুঁজতে গিয়ে দলটি আল-হাসানকে ড্রোনটি হাতে দেখতে পায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিবরণে বলা হয়, ওই সময় তিনি মজার ছলে প্রশ্ন করেন, “এর চেয়ে বড় কোনো ড্রোন আছে কি, যা আমাকে মক্কায় নিয়ে যেতে পারে?” এরপর তার এই মন্তব্য এবং মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দাবি করা হয়, ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আল-হাসানকে হজ পালনের জন্য স্পনসর করা হয় এবং তিনি হজে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মূলত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গল্প হিসেবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। গল্পটির শেষ অংশে বলা হয়, মানুষের জীবন কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে ঘিরে পরিবর্তিত হতে পারে এবং সুযোগ আসে এমন জায়গা থেকে, যা আগে কল্পনাও করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।