Live update news
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও চীনা শিক্ষার্থীদের এফ-১ ভিসা প্রদান ৬০% কমল
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও চীনা শিক্ষার্থীদের এফ-১ ভিসা প্রদান ৬০% কমল

সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ (সিআইএস)-এর একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় ও চীনা নাগরিকদের দেওয়া মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসার সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয়দের মাত্র ২২ হাজার ১৪৯টি এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা দিয়েছে, যা ২০১৭-১৯ এবং ২০২১-২৪ সালের একই সময়ের গড়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। ২০২৪ সালের সাথে তুলনা করলে এই পতনের হার আরও ভয়াবহ; সে বছর একই সময়ে ভারতীয় নাগরিকরা ৫৮ হাজার ৬৯৪টি ভিসা পেয়েছিলেন, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভিসা ইস্যু কমেছে ৬২ শতাংশ। সিআইএস-এর মতে, এই ধারাবাহিক পতন মার্কিন শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি আসেন ভারত ও চীন থেকে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে মোট ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৯ জন ভারতীয় এবং ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯১৯ জন চীনা শিক্ষার্থী ছিলেন, যা মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর ৫৩ শতাংশ। সাধারণত মে থেকে আগস্ট মাসেই শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য ভিসার আবেদন করে থাকেন। কিন্তু ২০২৫ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। এই সময়ে চীনা নাগরিকদের মাত্র ৪০ হাজার ৩৪টি এফ-১ ভিসা দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর গড়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম।   শিক্ষার্থীদের এই পতনের ফলে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রামেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওপিটি-এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। সিআইএস-এর প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৩ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এই প্রোগ্রামের অধীনে কাজ করছিলেন, যার প্রায় ৭০ শতাংশই ছিলেন ভারতীয় ও চীনা নাগরিক।   বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) স্নাতকদের জন্য নির্ধারিত স্টেম-ওপিটি প্রোগ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮ শতাংশই ছিলেন ভারত ও চীনের। এর মধ্যে ভারতীয় প্রায় ৭৯ হাজার ৩৩১ জন এবং চীনা প্রায় ৩৩ হাজার ৮০৭ জন। ভিসা হ্রাসের কারণে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বিদেশি স্নাতকদের প্রবেশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।   ২০০৮ সালে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-১বি (H-1B) ভিসার ৬৫ হাজার বার্ষিক সীমার সীমাবদ্ধতা কাটাতে স্টেম-ওপিটি প্রোগ্রাম চালু করেছিল। তৎকালীন মাইক্রোসফটের এক লবিস্ট দক্ষ কর্মীর অভাব মেটাতে এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমানে ওপিটি প্রোগ্রামে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার সীমাবদ্ধতা নেই এবং এটি এইচ-১বি প্রোগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।   ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৬ জন বিদেশি নাগরিক ওপিটি এবং আরও ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৪ জন স্টেম-ওপিটি-তে অংশগ্রহণ করছিলেন। সিআইএস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তুলনামূলক সস্তা বিদেশি শ্রমের কারণে ওপিটি ব্যবস্থাটি সদ্য স্নাতক হওয়া মার্কিন শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।   অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সিআইএস-এর প্রতিবেদনে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে চীনা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। উন্নত প্রযুক্তির সাথে যুক্ত স্টেম বিষয়গুলোতে অধ্যয়নরত কিছু চীনা শিক্ষার্থী তাদের সরকারের চাপে তথ্য পাচার করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও সবাই গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে যায় না।   ১৯৮৪-৮৫ সালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে চীনাদের হার মাত্র ৩ শতাংশ থাকলেও ২০০৮-০৯ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোতে চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চুরি ও গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

২২ মিনিট Ago
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের লিচফিল্ড পার্কে একটি নিখোঁজ পরিবারের বাড়ির উঠোন থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিখোঁজ দম্পতির ২৭ বছর বয়সী ছেলে ম্যাথিউ ফ্লোরেসকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, মঙ্গলবার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর আগেই ম্যাথিউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।   ফিনিক্স শহরের অদূরে অবস্থিত ওই বাড়িতে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সন্ধানে গত মঙ্গলবার আত্মীয়দের অনুরোধে প্রথমে তল্লাশি চালাতে যায় অ্যাভনডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। সেসময় বাড়িতে কাউকে পাওয়া না গেলেও সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কিছু প্রাথমিক আলামত মেলে, যার ভিত্তিতে নিখোঁজ তদন্ত শুরু করে পুলিশ।   গত বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, ওই বাড়ির পিছনের উঠোনে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টিকে এখন হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিখোঁজ স্বামী ও স্ত্রীর নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।   তবে এই ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজন ম্যাথিউ ফ্লোরেসের অবস্থান সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে অ্যাভনডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৬২৩-৩৩৩-৭০০১ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

৪২ মিনিট Ago
যুক্তরাষ্ট্রে ভাতাসহ ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও
যুক্তরাষ্ট্রে ভাতাসহ ইন্টার্নশিপ, আবেদন করতে পারবেন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরাও

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী তরুণদের জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)। প্রতিষ্ঠানটি ২০২৬ সালের জন্য তাদের মর্যাদাপূর্ণ ইন্টার্নশিপ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।   এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে মেধাবীরা সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে কাজ করার এবং পেশাদার অভিজ্ঞতা অর্জনের এক অনন্য সুযোগ পাবেন। আবেদনের শেষ সময় নির্দিষ্ট না থাকায় পদ পূরণের আগেই আগ্রহীদের দ্রুত আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   এই ইন্টার্নশিপটি শুধুমাত্র একটি সাধারণ কাজের সুযোগ নয়, বরং এটি অংশগ্রহণকারীদের আন্তর্জাতিক জ্ঞান ও শিক্ষার পরিধি বিস্তারের একটি চমৎকার মাধ্যম। নির্বাচিত ইন্টার্নরা নিজেদের দক্ষতা যাচাই ও শাণিত করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একটি শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবেন।   সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, সিএসআইএস তাদের এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট হারে ভাতাও প্রদান করবে, যা যুক্তরাষ্ট্রে একটি স্বস্তিদায়ক কাজের পরিবেশ ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।   আগ্রহী প্রার্থীরা নির্ধারিত লিংকে (https://tinyurl.com/nhw84wm2) প্রবেশ করে সহজেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। এই দারুণ সুযোগের মূল কৃতিত্ব সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের।   শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম অপরচুনিটিজ সার্কেল এই তথ্যটি প্রকাশ করলেও তারা এর মালিকানা দাবি করে না। মূল কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই নিয়মনীতি বা তথ্যে পরিবর্তন আনতে পারে, তাই আগ্রহীদের অফিশিয়াল সোর্স থেকে নিয়মিত আপডেট থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

১ ঘন্টা Ago
মার্কিন ডিস্ট্রিক্ট জজ অমিত মেহতা
ট্রাম্পের গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশ বেআইনি, রায় দিলেন ভারতীয়-বংশোদ্ভূত বিচারক

যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক, ভারতীয়-বংশোদ্ভূত অমিত মেহতা এক ঐতিহাসিক রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের চলমান গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশকে বেআইনি বলে ঘোষণা করেছেন। ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ওপর আরোপিত এই স্থগিতাদেশ 'পাবলিক চার্জ' বা জনকল্যাণ নীতির আওতায় অভিবাসী বাছাই এবং ভিসা প্রদানকে ব্যাপকভাবে বাধাগ্রস্ত করছিল।   গত ৩১ জুলাই 'ডি মৌরা গোমেস বনাম রুবিও' মামলার রায়ে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার বিচারক অমিত মেহতা জানান যে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কর্তৃক জারি করা এই নীতি ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্ট (আইএনএ)-এর অধীনে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনি ক্ষমতার স্পষ্ট লঙ্ঘন। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়া এই নিয়মে বলা হয়েছিল, "উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ" দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের জনকল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করতে ভিসা বাছাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হবে। এই স্থগিতাদেশের তালিকায় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশ থাকলেও ভারতের নাম ছিল না।   এই আইনি লড়াইটি মূলত নিউটন ডি মৌরা গোমেস নামক এক ব্রাজিলীয় নাগরিক শুরু করেছিলেন, যিনি ইবি-৫ (EB-5) কর্মসূচির আওতায় বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থায়ী বসবাসের বা গ্রিন কার্ডের আবেদন করেছিলেন। বিচারক মেহতা তার রায়ে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, মার্কিন ইমিগ্রেশন আইন অনুযায়ী ভিসা আবেদন মূল্যায়নের একক দায়িত্ব কনস্যুলার অফিসারদের; পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনোভাবেই ঢালাওভাবে এই প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না।   তিনি এই নীতিকে বেআইনি আখ্যা দিয়ে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে বাদীর আবেদনটি পুনরায় এককভাবে মূল্যায়ন করার নির্দেশ দিয়েছেন। এই রায়টি আপাতত সরাসরি শুধুমাত্র ওই ব্রাজিলীয় পরিবারের জন্য কার্যকর হলেও, এটি অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারীদের আইনি লড়াইয়ে দারুণভাবে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।   গ্রিন কার্ড স্থগিতাদেশের রায়ের পাশাপাশি এই সপ্তাহে বিচারক অমিত মেহতা আরেকটি কারণে মার্কিন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারি ইউএস ক্যাপিটলে হামলায় অংশ নেওয়া উগ্র ডানপন্থী 'ওথ কিপার্স' দলের প্রতিষ্ঠাতা স্টুয়ার্ট রোডসসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।   ট্রাম্প-পরিচালিত বর্তমান মার্কিন বিচার বিভাগের অনুরোধেই তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই মামলাগুলো খারিজ করতে বাধ্য হন। বিচারক মেহতা এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে তার আদেশে লিখেছেন যে, এই পদক্ষেপটি সেদিনের ভয়াবহতাকে অবমূল্যায়ন করে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিশ্রমকে অপমান করে, যা মার্কিন গণতন্ত্রের শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।   ভারতের গুজরাটের পাটানে জন্মগ্রহণকারী অমিত পি. মেহতা মাত্র এক বছর বয়সে পরিবারের সাথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। বারাক ওবামার শাসনামলে ২০১৪ সালের ২২ ডিসেম্বর তিনি ইউএস ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান। বাল্টিমোরের শহরতলিতে বেড়ে ওঠা মেহতা জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও অর্থনীতিতে স্নাতক শেষে ১৯৯৭ সালে ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জুরিস ডক্টর (জেডি) ডিগ্রি অর্জন করেন।   পেশাগত জীবনে তিনি ওয়াশিংটন ডিসি পাবলিক ডিফেন্ডার সার্ভিসে কাজ করার পাশাপাশি হোয়াইট-কলার অপরাধ এবং জটিল ব্যবসায়িক বিবাদের আইনি লড়াইয়ে একজন সফল আইনজীবী হিসেবে নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলেছিলেন।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় ও চীনা শিক্ষার্থীদের এফ-১ ভিসা প্রদান ৬০% কমল

সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজ (সিআইএস)-এর একটি নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে ভারতীয় ও চীনা নাগরিকদের দেওয়া মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসার সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে থেকে আগস্ট মাসের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয়দের মাত্র ২২ হাজার ১৪৯টি এফ-১ স্টুডেন্ট ভিসা দিয়েছে, যা ২০১৭-১৯ এবং ২০২১-২৪ সালের একই সময়ের গড়ের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম। ২০২৪ সালের সাথে তুলনা করলে এই পতনের হার আরও ভয়াবহ; সে বছর একই সময়ে ভারতীয় নাগরিকরা ৫৮ হাজার ৬৯৪টি ভিসা পেয়েছিলেন, অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ভিসা ইস্যু কমেছে ৬২ শতাংশ। সিআইএস-এর মতে, এই ধারাবাহিক পতন মার্কিন শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।   যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি আসেন ভারত ও চীন থেকে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে দেশটিতে মোট ১১ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬৬ জন বিদেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ১৯ জন ভারতীয় এবং ২ লাখ ৬৫ হাজার ৯১৯ জন চীনা শিক্ষার্থী ছিলেন, যা মোট বিদেশি শিক্ষার্থীর ৫৩ শতাংশ। সাধারণত মে থেকে আগস্ট মাসেই শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাবর্ষের জন্য ভিসার আবেদন করে থাকেন। কিন্তু ২০২৫ সালের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চীনা শিক্ষার্থীদের ভিসার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ধস নেমেছে। এই সময়ে চীনা নাগরিকদের মাত্র ৪০ হাজার ৩৪টি এফ-১ ভিসা দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরগুলোর গড়ের তুলনায় ৪৬ শতাংশ এবং ২০২৪ সালের তুলনায় ৩৪ শতাংশ কম।   শিক্ষার্থীদের এই পতনের ফলে অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং (ওপিটি) প্রোগ্রামেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ওপিটি-এর মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। সিআইএস-এর প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ সালে প্রায় ২ লাখ ৯৪ হাজার ২৫৩ জন বিদেশি শিক্ষার্থী এই প্রোগ্রামের অধীনে কাজ করছিলেন, যার প্রায় ৭০ শতাংশই ছিলেন ভারতীয় ও চীনা নাগরিক।   বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) স্নাতকদের জন্য নির্ধারিত স্টেম-ওপিটি প্রোগ্রামেও একই চিত্র দেখা গেছে। ২০২৪ সালে অনুমোদিত ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৪ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬৮ শতাংশই ছিলেন ভারত ও চীনের। এর মধ্যে ভারতীয় প্রায় ৭৯ হাজার ৩৩১ জন এবং চীনা প্রায় ৩৩ হাজার ৮০৭ জন। ভিসা হ্রাসের কারণে স্বাভাবিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে বিদেশি স্নাতকদের প্রবেশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।   ২০০৮ সালে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) এইচ-১বি (H-1B) ভিসার ৬৫ হাজার বার্ষিক সীমার সীমাবদ্ধতা কাটাতে স্টেম-ওপিটি প্রোগ্রাম চালু করেছিল। তৎকালীন মাইক্রোসফটের এক লবিস্ট দক্ষ কর্মীর অভাব মেটাতে এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। বর্তমানে ওপিটি প্রোগ্রামে কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যার সীমাবদ্ধতা নেই এবং এটি এইচ-১বি প্রোগ্রামের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।   ২০২৪ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬৬ জন বিদেশি নাগরিক ওপিটি এবং আরও ১ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৪ জন স্টেম-ওপিটি-তে অংশগ্রহণ করছিলেন। সিআইএস-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তুলনামূলক সস্তা বিদেশি শ্রমের কারণে ওপিটি ব্যবস্থাটি সদ্য স্নাতক হওয়া মার্কিন শিক্ষার্থীদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।   অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সিআইএস-এর প্রতিবেদনে জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে, বিশেষ করে চীনা শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। উন্নত প্রযুক্তির সাথে যুক্ত স্টেম বিষয়গুলোতে অধ্যয়নরত কিছু চীনা শিক্ষার্থী তাদের সরকারের চাপে তথ্য পাচার করতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে, যদিও সবাই গুপ্তচরবৃত্তির উদ্দেশ্যে যায় না।   ১৯৮৪-৮৫ সালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে চীনাদের হার মাত্র ৩ শতাংশ থাকলেও ২০০৮-০৯ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে উন্নীত হয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, সংবেদনশীল ক্ষেত্রগুলোতে চীনা শিক্ষার্থীদের সংখ্যা হ্রাস পেলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি চুরি ও গুপ্তচরবৃত্তির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ১৫:২১
যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী আবাসনের জন্য ৭৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে জেপিমরগান, কী সুবিধা পাবেন বাড়ির ক্রেতারা?

যুক্তরাষ্ট্রে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন বাড়ানো এবং আরও বেশি মানুষের জন্য বাড়ির মালিক হওয়ার সুযোগ তৈরি করতে আগামী ১০ বছরে ৭৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপিমরগান চেজ (JPMorgan Chase)।   প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের 'আমেরিকান ড্রিম ইনিশিয়েটিভ'-এর আওতায় এই অর্থ বিনিয়োগ করা হবে। পরিকল্পনার লক্ষ্য হলো ১০ লাখ সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট নির্মাণ বা সংরক্ষণ করা এবং অন্তত পাঁচ লাখ মানুষকে বাড়ি কিনতে সহায়তা করা। এর মধ্যে প্রায় দুই লাখ প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে যাওয়া ক্রেতাও থাকবেন।   সোমবার ঘোষিত এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেপিমরগান চেজ ৮৫০ জন নতুন হোম লেন্ডিং অ্যাডভাইজার নিয়োগ দেবে। পাশাপাশি ঋণ গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুত করতে নতুন ডিজিটাল সেবা চালু করা হবে। উচ্চ সুদের হার এবং ধীরগতির আবাসন বাজারকে আবারও সচল করাই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।   প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকো বে এরিয়ায় কয়েকটি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এর মধ্যে ৩৪২টি অ্যাপার্টমেন্টের একটি ভবনের জন্য ২০ কোটি ডলারের অর্থায়ন এবং সান ফ্রান্সিসকোর পত্রেরো হিল এলাকায় সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পে আরও দেড় কোটি ডলার বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য।   জেপিমরগানের ভাষ্য অনুযায়ী, আবাসন খাতের এই উদ্যোগ 'আমেরিকান ড্রিম ইনিশিয়েটিভ'-এর একটি অংশ মাত্র। একই কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ব্যবসা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান, আর্থিক শিক্ষা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের উন্নয়নেও বিনিয়োগ করা হবে। তবে আবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিশাল বিনিয়োগের ইতিবাচক প্রভাব থাকলেও একে এককভাবে আবাসন সংকটের সমাধান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।   রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ক্লেভার রিয়েল এস্টেটের প্রেসিডেন্ট বেন মাইজেস বলেন, ঘোষণার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো 'নির্মাণ বা সংরক্ষণ'। কারণ বিদ্যমান সাশ্রয়ী আবাসন সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটি নতুন বাড়ির সংখ্যা বাড়ায় না। তার মতে, বছরে গড়ে এক লাখ ইউনিটের হারে প্রকল্প এগোলেও বাস্তবে নতুন আবাসনের সংখ্যা এর চেয়েও কম হতে পারে। তিনি আরও বলেন, "জেপিমরগান অর্থায়ন দিতে পারে, কিন্তু ভবন নির্মাণের অনুমোদন দিতে পারে না। প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে কত দ্রুত নতুন আবাসন নির্মাণ সম্ভব হয় এবং তা অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত হয় কি না।"   অ্যারিজোনাভিত্তিক রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান সিকিং এজেন্টসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা জিম গ্রুলারও একই মত প্রকাশ করেছেন। তার ভাষায়, অর্থায়ন আবাসন নির্মাণে সহায়ক হলেও স্থানীয় জোনিং আইন, নির্মাণ অনুমোদনের সময়, দক্ষ শ্রমিকের সংকট, অবকাঠামো এবং নির্মাণ ব্যয় এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সফল হতে হলে ব্যাংক, নির্মাতা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।   রিয়েলটর ডটকমের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ লাখেরও বেশি বাড়ির ঘাটতি রয়েছে। সেই তুলনায় ১০ বছরে ১০ লাখ আবাসন ইউনিট নির্মাণ বা সংরক্ষণের লক্ষ্য সমস্যার একটি অংশের সমাধান করলেও পুরো সংকট দূর করতে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান মোমেন্টাম রিয়েলটির জন ব্রুকস বলেন, এই উদ্যোগের ফলে মর্টগেজ সুদের হার বা ঋণ পাওয়ার শর্তে বড় কোনো পরিবর্তন আসবে না। তবে যদি এর মাধ্যমে সত্যিই মধ্যম আয়ের মানুষের নাগালের মধ্যে আরও বেশি বাড়ি বাজারে আসে, তাহলে ভবিষ্যতে এটি অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও একটি কার্যকর মডেল হয়ে উঠতে পারে।   অন্যদিকে ভিএ লোন নেটওয়ার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা লেভি রজার্সের মতে, ঘোষণাটি বড় হলেও এর বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান আবাসন ঘাটতির তুলনায় পরিকল্পনাটি মোট চাহিদার মাত্র ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পূরণ করতে পারে।   বিশ্লেষকদের মতে, জেপিমরগানের এই উদ্যোগ শুধু সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ নয়, ব্যবসায়িক দিক থেকেও প্রতিষ্ঠানটির জন্য লাভজনক হতে পারে। কারণ বাড়ির মালিক হলে একজন গ্রাহক দীর্ঘমেয়াদে মর্টগেজ, সঞ্চয়, বিনিয়োগ, বীমা ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকেন। ফলে নতুন বাড়ির মালিক তৈরি হলে ব্যাংকের সম্ভাব্য গ্রাহকও বাড়বে।   তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন সংকট শুধু আবাসন খাতের সমস্যা নয়; এটি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত। তাই আবাসনের সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বাড়ি কেনার সুযোগ সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিমানে ঘুমন্ত থাই নারীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ, অভিযুক্ত পাকিস্তানি যাত্রী

দুবাই থেকে ব্যাংককগামী ফ্লাইটে চার বছর বয়সী কন্যা সন্তানকে নিয়ে ভ্রমণকালে এক থাই নারী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিউট পিম্পাপর্ন (৩৩) নামের ওই নারী ইতালির মিলান থেকে দুবাই হয়ে থাইল্যান্ডে ফিরছিলেন। মাঝ আকাশে মা ও মেয়ে যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, ঠিক তখনই ফ্লাইদুবাই (flydubai) এয়ারলাইন্সের ওই ফ্লাইটে এক পাকিস্তানি সহযাত্রী তাঁকে আপত্তিকরভাবে স্পর্শ করে।   ভুক্তভোগী নারী জানান, অভিযুক্ত পাকিস্তানি ব্যক্তি তাঁকে শ্লীলতাহানির পর দ্রুত হাত সরিয়ে নিয়ে জ্যাকেট দিয়ে ঢেকে ফেলে। এরপর সামনের এন্টারটেইনমেন্ট স্ক্রিন ঠিক করার ভান করতে থাকে এবং বারবার তাঁর দিকে তাকাচ্ছিল। ফ্লাইটের ভেতর আতঙ্ক বা বিশৃঙ্খলা না ছড়ানোর উদ্দেশ্যে পিম্পাপর্ন বিমানটি ব্যাংককে অবতরণ করা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। ফ্লাইটটি অবতরণের পরপরই তিনি কেবিন ক্রুদের বিষয়টি জানান এবং পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন।   পিম্পাপর্ন জানান, বিমানবালা যখন আরবি ভাষায় ওই ব্যক্তির কাছে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চান, তখন প্রথমে সে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। কিন্তু একপর্যায়ে জেরার মুখে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে নেয়। অপরাধ স্বীকার করার পর ওই ব্যক্তি ভুক্তভোগীর কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসে কান্নাকাটি করতে থাকে এবং বারবার ক্ষমা চায়। তবে ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট তার এই আচরণ গ্রহণ করেননি এবং ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর আখ্যা দিয়ে পুলিশ ডাকতে বাধ্য হন।   জানা গেছে, অভিযুক্ত পাকিস্তানি ব্যক্তি কোনো পরিবারের সাথে নয়, বরং একটি ট্যুর গ্রুপের সাথে ভ্রমণ করছিল। ওই দলের চার-পাঁচজন সদস্য এসে ভুক্তভোগীর কাছে তাকে ক্ষমা করে দেওয়ার অনুরোধ করে। তবে বিমানবালা ঘটনার সাথে জড়িত নয় এমন সবাইকে সেখান থেকে সরিয়ে দেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্যাপ্টেনের সহায়তায় পিম্পাপর্নের শিশুটিকে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, যাতে সে এই অপ্রীতিকর দৃশ্য না দেখে। পরবর্তীতে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা অভিযুক্ত যাত্রীকে বিমান থেকে নামিয়ে থানায় নিয়ে যায়।   ডন মুয়াং থানার পুলিশ লেফটেন্যান্ট কর্নেল চামনানিউত কনকং জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থাইল্যান্ডে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পুলিশ আপাতত দুপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা বৈঠকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে, যা তাদের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা দায়ের হয়নি।   এদিকে, একা ভ্রমণকারী নারীদের ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতেই পিম্পাপর্ন এই ঘটনা জনসমক্ষে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "দীর্ঘ ফ্লাইটে যাত্রীরা প্রায়ই ঘুমিয়ে থাকেন এবং একা ভ্রমণকারী নারীরা এমন পরিস্থিতিতে অরক্ষিত হয়ে পড়েন।   নারীদের লজ্জিত না হয়ে এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে প্রতিবাদ করা উচিত এবং সাহায্য চাওয়া উচিত।" অন্যদিকে, ফ্লাইদুবাইয়ের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, যাত্রীদের নিরাপত্তাই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তারা যাত্রীদের ব্যক্তিগত তথ্য বা ঘটনার বিস্তারিত প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, হাসপাতালে হাইকমিশনার ও স্ত্রী
বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, হাসপাতালে হাইকমিশনার ও তার স্ত্রী

রাজধানীর বারিধারার কূটনৈতিক এলাকায় পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ভোরে আগুন লাগার পর ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন হাইকমিশনার ও তার স্ত্রী নাঈমা হায়দার। পরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে দুজনের অবস্থাই স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পাকিস্তান হাইকমিশন।    ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভোর ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের খবর পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন বড় আকার ধারণ না করলেও ভবনের ভেতরে প্রচুর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিশেষ যন্ত্র ব্যবহার করে ধোঁয়া অপসারণ করা হয়।    ঢাকা মহানগর পুলিশের কূটনৈতিক নিরাপত্তা বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ মোহাম্মদ ফারহাদ জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি একটি কূটনৈতিক স্থাপনা হওয়ায় আনুষ্ঠানিক তদন্তের পরই চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করা যাবে।    ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, একটি টেলিভিশন সেট পুড়ে গেছে। কর্মকর্তাদের ধারণা, টেলিভিশন বা অন্য কোনো বৈদ্যুতিক যন্ত্রে ত্রুটির কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত কিছু বলা হচ্ছে না।    পাকিস্তান হাইকমিশনের এক মুখপাত্র জানান, আগুনের ঘটনায় হাইকমিশনার ও তার স্ত্রী ধোঁয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এটি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ছিল এবং বর্তমানে তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।    আগুনে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।

অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে
অ্যারিজোনায় নিখোঁজ দম্পতির বাড়ির উঠোনে মিলল অজ্ঞাত দেহাবশেষ, দেশ ছেড়েছে সন্দেহভাজন ছেলে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের লিচফিল্ড পার্কে একটি নিখোঁজ পরিবারের বাড়ির উঠোন থেকে মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিখোঁজ দম্পতির ২৭ বছর বয়সী ছেলে ম্যাথিউ ফ্লোরেসকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। পুলিশের ধারণা, মঙ্গলবার বাড়িতে তল্লাশি চালানোর আগেই ম্যাথিউ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।   ফিনিক্স শহরের অদূরে অবস্থিত ওই বাড়িতে স্বামী, স্ত্রী ও তাদের প্রাপ্তবয়স্ক ছেলের সন্ধানে গত মঙ্গলবার আত্মীয়দের অনুরোধে প্রথমে তল্লাশি চালাতে যায় অ্যাভনডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। সেসময় বাড়িতে কাউকে পাওয়া না গেলেও সেখানে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কিছু প্রাথমিক আলামত মেলে, যার ভিত্তিতে নিখোঁজ তদন্ত শুরু করে পুলিশ।   গত বৃহস্পতিবার কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায় যে, ওই বাড়ির পিছনের উঠোনে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত মানুষের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টিকে এখন হত্যাকাণ্ড হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের অনুরোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে নিখোঁজ স্বামী ও স্ত্রীর নাম প্রকাশ করেনি পুলিশ।   তবে এই ঘটনার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত হওয়ার বা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পলাতক সন্দেহভাজন ম্যাথিউ ফ্লোরেসের অবস্থান সম্পর্কে কারো কাছে কোনো তথ্য থাকলে অ্যাভনডেল পুলিশ ডিপার্টমেন্টের ৬২৩-৩৩৩-৭০০১ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য জনসাধারণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে স্পেসএক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটের ওপরের অংশ। ছবি: এআই
চাঁদের বুকে আছড়ে পড়ল ইলন মাস্কের ফ্যালকন ৯ রকেট

এক বছরেরও বেশি সময় মহাকাশে ভেসে থাকার পর অবশেষে চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়েছে মার্কিন মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটের একটি ওপরের ধাপ (আপার স্টেজ)। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই সংঘর্ষের ফলে চাঁদের পৃষ্ঠে একটি নতুন গর্ত বা ক্রেটার তৈরি হয়েছে এবং বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে।   ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় ৪ হাজার কেজি ওজনের রকেটের অংশটি ঘণ্টায় প্রায় ৫ হাজার ৪০০ মাইল বেগে চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত হানে। এই গতি শব্দের গতির প্রায় সাত গুণ। বিজ্ঞানীদের হিসাবে, সংঘর্ষের শক্তি ছিল প্রায় তিন টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য।   রকেটটির উৎক্ষেপণ হয় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে। এর মাধ্যমে দুটি চন্দ্রযান (লুনার ল্যান্ডার) নির্ধারিত কক্ষপথে পাঠানো হয়। মিশন সফলভাবে শেষ হওয়ার পর রকেটের নিচের অংশ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে এসে ধ্বংস হলেও ওপরের অংশটি মহাকাশেই থেকে যায়।   স্পেসএক্সের কর্মকর্তা জুলিয়ানা শেইম্যান জানান, সৌর সক্রিয়তা এবং চাঁদ ও পৃথিবীর মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে রকেটটির গতিপথ ধীরে ধীরে পরিবর্তিত হয়। শেষ পর্যন্ত সেটি চাঁদের দিকে ধাবিত হয়ে উচ্চগতিতে আঘাত হানে।   প্রাথমিক বিশ্লেষণে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এই সংঘর্ষে চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ লাখ কেজি ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড ছিটকে বের হয়েছে। এসব ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় ১১৪ মাইল এলাকা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে।   মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, এই ঘটনায় পৃথিবীর জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি বা ক্ষতির আশঙ্কা নেই। তবে সংঘর্ষের প্রকৃত প্রভাব মূল্যায়নে নাসার ‘লুনার রিকনেসান্স অরবিটার’ (Lunar Reconnaissance Orbiter) আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ঘটনাস্থলের উচ্চ রেজল্যুশনের ছবি সংগ্রহ করবে। এসব ছবি বিশ্লেষণ করে নতুন সৃষ্ট ক্রেটারের আকার, গভীরতা এবং ছড়িয়ে পড়া ধূলিকণার পরিমাণ সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য জানা যাবে।   বিজ্ঞানীদের মতে, ঘটনাটি যদিও পরিকল্পিত ছিল না, তবুও এটি চাঁদের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। কোনো ভারী বস্তু চাঁদের পৃষ্ঠে আঘাত করলে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়, কীভাবে ধূলিকণা ও শিলাখণ্ড ছড়িয়ে পড়ে এবং চাঁদের মাটির গঠন কীভাবে পরিবর্তিত হয় এসব বিষয়ে মূল্যবান তথ্য পাওয়া যেতে পারে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভবিষ্যতে চাঁদে মানব মিশন, স্থায়ী ঘাঁটি নির্মাণ এবং নতুন মহাকাশযানের নিরাপদ অবতরণের পরিকল্পনায় এ ধরনের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষও ভবিষ্যতের মহাকাশ গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।   সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
ভারতের আসামে বন্যায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে । ছবি: সংগৃহীত
ভারতের আসামে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫, ২৫ জেলায় ১১ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভোগে
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৭:৩০

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চলমান ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে পৌঁছেছে। রাজ্যের ২৫টি জেলায় এখনো ১১ লাখের বেশি মানুষ বন্যার প্রভাবে দুর্ভোগে রয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।   ভারী মৌসুমি বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পানিতে ব্রহ্মপুত্রসহ রাজ্যের একাধিক নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে হাজার হাজার গ্রাম প্লাবিত হয়েছে, ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ, ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি।    আসাম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটির (এএসডিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য শতাধিক ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে হাজারো মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।    উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে রাজ্য প্রশাসনের পাশাপাশি জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। দুর্গম এলাকায় নৌকায় করে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ওষুধ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।    বন্যার প্রভাব পড়েছে ইউনেস্কো স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানেও। প্রতিবছরের মতো এবারও উদ্যানের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ায় বন্যপ্রাণী নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে জাতীয় সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণসহ বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।    আসামে প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্র ও এর উপনদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বড় ধরনের বন্যা দেখা দেয়। তবে চলতি বছরের বন্যাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় দুর্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন কর্মকর্তারা। আবহাওয়া বিভাগ আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Iran, Oman deal ছবি: কোলাজ আমেরিকা বাংলা
হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলছে না, নতুন নৌচলাচল ব্যবস্থায় সমঝোতার পথে ইরান-ওমান
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৭:১৬

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালি নিয়ে নতুন ব্যবস্থাপনায় সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছেছে ইরান ও ওমান। তবে এটি প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার চুক্তি নয় বলে স্পষ্ট করেছে ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা আইআরএনএ এবং দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা।   আইআরএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আলোচনায় এমন একটি নতুন কাঠামো নিয়ে কাজ হচ্ছে, যার আওতায় বাণিজ্যিক জাহাজগুলো ইরানের জলসীমা দিয়ে প্রবেশ করবে এবং ওমানের জলসীমা দিয়ে বের হবে। তেহরানের দাবি, এটি গত ৬০ বছরের প্রচলিত নৌচলাচল ব্যবস্থার পরিবর্তে নতুন নিরাপত্তা কাঠামো প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ।   তবে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনের প্রথম সচিব বেহনাম সাঈদি স্পষ্ট করে বলেছেন, চলমান আলোচনা হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া নিয়ে নয়; বরং জাহাজ চলাচলের রুট ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা নিয়ে।   তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি বন্ধ না করা, ইরানি বন্দর অবরোধ প্রত্যাহার না করা, অঞ্চল থেকে সেনা না সরানো এবং যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রশ্নই আসে না।   সাঈদির ভাষায়, “হরমুজ প্রণালি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের একটি কৌশলগত সম্পদ এবং প্রতিরোধের কার্যকর হাতিয়ার। বর্তমান আলোচনা যেন প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আলোচনা হিসেবে কেউ ভুলভাবে না বোঝে।”   তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে এই পথ ব্যবহার করতে হলে জাহাজগুলোকে ইরানের অনুমতি নিতে হবে, সামরিক জাহাজ চলাচলের সুযোগ থাকবে না এবং নির্ধারিত বিধি মেনে সার্ভিস ফি পরিশোধ করতে হবে। ওমান ইরানের শর্ত মেনে নিলে চুক্তি হতে পারে বলেও জানান তিনি।   অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে “উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি” হয়েছে এবং খুব শিগগিরই এ বিষয়ে একটি ঘোষণা আসতে পারে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে ট্রাম্পের এই মন্তব্যের সঙ্গে সরাসরি মিল রেখে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।   বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এ জলপথের নিরাপত্তা ও চলাচল ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের পর এ প্রণালিকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।   এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে—এমন সাম্প্রতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনও নাকচ করে দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে যে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, তা সঠিক নয়।

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও জেডি ভ্যান্স
ইসরায়েল নিয়ে সমালোচনার ব্যাখ্যা চাইতে ভ্যান্সের সঙ্গে বৈঠকে নেতানিয়াহু
বায়জিদ হাসান প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৬:৪৮

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সাম্প্রতিক ইসরায়েল-বিষয়ক সমালোচনা নিয়ে ওয়াশিংটনে একান্ত বৈঠকে আলোচনা করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় মঙ্গলবার ব্লেয়ার হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিষয়টি সরাসরি উত্থাপন করেন তিনি বলে জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।   অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, বৈঠকে ভ্যান্সের সাম্প্রতিক প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা এটিকে “স্পষ্ট ও খোলামেলা” আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা সরাসরি হলেও সেটি কোনোভাবেই সংঘাতপূর্ণ ছিল না।   এক মার্কিন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানান, বৈঠকে দুই নেতা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অভিন্ন স্বার্থ ও লক্ষ্য অর্জনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে একমত হন। তার ভাষায়, বৈঠকটি ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ ও ফলপ্রসূ।   মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে তুলনামূলক সংযত অবস্থানের অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে সম্প্রতি আলোচনায় আসেন জেডি ভ্যান্স। জুন মাসে তিনি ইরানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা কিছু ইসরায়েলি কর্মকর্তার সমালোচনা করে বলেন, তিনি ইসরায়েল সরকারের সদস্য হলে দেশটির “একমাত্র শক্তিশালী মিত্র” যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এমন অবস্থান নিতেন না।   চলতি মাসের শুরুতে জনপ্রিয় পডকাস্ট দ্য জো রোগান এক্সপেরিয়েন্স-এ ভ্যান্স আরও বলেন, ইসরায়েলের কিছু নেতা যুক্তরাষ্ট্রকে কূটনৈতিক পথ থেকে সরে এসে তেহরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে উৎসাহিত করেছিলেন।   এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দাবি করা হয়, চলতি বছরের শুরুতে ইরানকে ঘিরে টেলিফোনে নেতানিয়াহু ও ভ্যান্সের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনা হয়েছিল। সে সময় ভ্যান্স নাকি ইসরায়েলের সেই মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন, যেখানে বলা হয়েছিল ইরান দ্রুত নতি স্বীকার করবে।   তবে মতপার্থক্য থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সম্পর্ককে শক্তিশালী বলেই উল্লেখ করে আসছেন ভ্যান্স। গত মাসে সিবিএস নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “নেতানিয়াহু অবশ্যই কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন, কিন্তু তিনি এখনো একজন ভালো অংশীদার। আমরা একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব। তবে যেখানে দুই দেশের স্বার্থ ভিন্ন হবে, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেবে।”   হোয়াইট হাউস ও ইসরায়েল সরকার এখন পর্যন্ত মঙ্গলবারের ওই বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।

লেবাননে বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল দুই ইসরায়েলি সেনা, নতুন চাপে তেল আবিব
লেবাননে বিস্ফোরণে প্রাণ হারাল দুই ইসরায়েলি সেনা, নতুন চাপে তেল আবিব
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক প্রকাশ: আগস্ট ৬, ২০২৬ ৪:৫২

দক্ষিণ লেবাননে একটি ভবনে তল্লাশি চালানোর সময় বিস্ফোরণে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। জুনে কার্যকর হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির পর লেবাননে এটিই প্রথম ইসরায়েলি সেনা নিহতের ঘটনা। এর জেরে ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে বিমান হামলা চালালে অন্তত একজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে লেবাননের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জুন এলাকায় সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি শনাক্ত করতে একটি ভবনে তল্লাশি চালানোর সময় বিস্ফোরণটি ঘটে। নিহতদের পরিচয় প্রকাশ করা হলেও বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।   ঘটনার পর শুরুতে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তবে পরে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সরাসরি কোনো পক্ষকে দায়ী করা থেকে বিরত থাকেন। হিজবুল্লাহও এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বিবৃতি দেয়নি।   বিস্ফোরণের পর ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় হামলা চালায়। হামলার আগে আল-মানসুরি গ্রামের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সতর্কতা দেওয়া হয়। এক মাসের বেশি সময় পর লেবাননে এমন প্রকাশ্য সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিল ইসরায়েল।   লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তিবনিন এলাকায় ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। আরও কয়েকটি এলাকায় গোলাবর্ষণ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে। তবে হতাহতদের পরিচয় এবং তারা বেসামরিক নাগরিক কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   নতুন করে সহিংসতা এমন সময়ে শুরু হলো, যখন ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিরা রোমে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন এবং দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে আলোচনা করছিলেন। বিস্ফোরণ ও পাল্টা হামলার পর আলোচনা নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হলেও পরে আবার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।   যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় জুনে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী, ইসরায়েলের ধাপে ধাপে দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়া এবং ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ লেবাননের সেনাবাহিনীর হাতে দেওয়ার কথা। একই সঙ্গে হিজবুল্লাহর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়েও আলোচনা চলছে। তবে সমঝোতা বাস্তবায়নের সময়সীমা ও পদ্ধতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।   লেবাননের ভেতরে অনেকেই এই চুক্তিকে ইসরায়েলের প্রতি অতিরিক্ত ছাড় হিসেবে দেখছেন। হিজবুল্লাহও সমঝোতার বিরোধিতা করেছে এবং আলোচনার অংশ ছিল না। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হিজবুল্লাহর সম্ভাব্য হুমকি পুরোপুরি দূর না হওয়া পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননে তাদের নিরাপত্তা অভিযান চলবে।   চলতি বছরের মার্চে হিজবুল্লাহর রকেট হামলার পর ইসরায়েল লেবাননে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এরপর সংঘাতে লেবাননে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ইসরায়েলেরও বহু সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।   বুধবারের ঘটনা যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। কূটনৈতিক মহল আশঙ্কা করছে, বিস্ফোরণের জন্য দায়ী পক্ষ নিশ্চিত হওয়ার আগেই পাল্টাপাল্টি হামলা বাড়তে থাকলে সীমান্তে আবারও বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
আসিফ নজরুল Play Video
992 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
আমির খসরু Play Video
802 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
Play Video
920 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
767 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৮, ২০২৬ ১৩:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়