সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ আবারও চরমে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে বোমা হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটি সরাসরি নাকচ করেননি।   গত বুধবার ইসরায়েলের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তার পেছনে ইরানের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রতিশোধ নেবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইরান যদি এর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তাদের ওপর অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানা হবে, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।"   এদিকে, ইরানকে যেকোনো মূল্যে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, ইরান যদি এই চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে দেশটির "আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।" এর মাত্র কয়েকদিন আগেই অবশ্য ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-কে (IRNA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়াটি উপস্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২১ মিনিট Ago
ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?
ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ঘটেছে এক রোমহর্ষক ঘটনা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (FZ1073) যখন ৩০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়ছিল, তখন ককপিটের ভেতরেই পাইলটদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সহকারী পাইলটের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হলে বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচে নামতে শুরু করে।   একপর্যায়ে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের জরুরি সংকেত পাঠানো হলে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এটি কোনো সাধারণ ছিনতাই ছিল না, বরং ককপিটের ভেতরেই ঘটেছিল এই ভয়াবহ তাণ্ডব।   বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই বিমানটির গতিপথে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যমতে, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়, যার মধ্যে ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে এটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এমন ভয়াবহ পতনে যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ এবং পরে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়। এতে প্রাথমিকভাবে বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করা হলেও ভেতরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।   প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, বিমানের ওমানি সহকারী পাইলট হঠাৎ করেই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন সাহসিকতার সঙ্গে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন সাহসী যাত্রী ও ক্রু সদস্য দ্রুত ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন।   সৌভাগ্যবশত, ওই ফ্লাইটে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও কয়েকজন পাইলট যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান। পরে আহত দুই পাইলটকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে তেল আবিবে পৌঁছে দেওয়া হয়।   ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে একে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি বা সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করলেও ফ্লাইদুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ইতোমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।   সহকারী পাইলটের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, ককপিটে ধারালো অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাল এবং এর পেছনে বৃহত্তর কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের রক্ষা পাওয়ার বিষয়টিই সবার সামনে স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

৪৬ মিনিট Ago
অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা
অভিনয়ের বাইরে নতুন পরিচয়, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষক হিসেবে যোগ দিলেন মিথিলা

জনপ্রিয় অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা তাঁর কর্মজীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। দীর্ঘ দুই দশক ব্র্যাকে কাজ করার পর প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে তিনি এবার যুক্তরাষ্ট্রের স্বনামধন্য কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে ‘অ্যাসোসিয়েট রিসার্চ সায়েন্টিস্ট’ হিসেবে যোগ দিয়েছেন। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মিথিলা নিজেই এই আনন্দের খবরটি সবার সঙ্গে শেয়ার করেছেন।   ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনালের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন খাতে ১৫ বছরসহ মোট ২০ বছর তিনি ব্র্যাকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।   কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আর্ভিং ইনস্টিটিউট ফর ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড ট্রান্সলেশনাল রিসার্চে মিথিলা 'আর্লি চাইল্ডহুড অ্যান্ড ফ্যামিলি হাব'-এর নকশা প্রণয়ন ও মূল্যায়নে নেতৃত্ব দেবেন। নিউইয়র্কভিত্তিক এই উদ্যোগটি মূলত প্রারম্ভিক শৈশব বিকাশ, পারিবারিক সম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যের ওপর কাজ করে।   এটি জন্ম থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশু এবং তাদের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির মতো বৈশ্বিক পরিসরে নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত বলে জানিয়েছেন।   গবেষণার পাশাপাশি মিথিলা দ্য সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কে (কুনি) 'অ্যাডজাংকট অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর' হিসেবে শিক্ষকতাও শুরু করেছেন। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নন-প্রফিট ম্যানেজমেন্ট বা অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পড়াবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে বাস্তবধর্মী ধারণা লাভ করতে পারে। দীর্ঘদিনের কর্মস্থল ব্র্যাক ছাড়ার বিষয়ে আবেগাপ্লুত মিথিলা জানান, তার পেশাগত জীবনকে আজকের এই অবস্থানে নিয়ে আসার পেছনে ব্র্যাকের অবদান অনস্বীকার্য।   কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষণাধর্মী পরিবেশে কাজ করার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন জানিয়ে নতুন এই পথচলায় সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন তিনি।

১ ঘন্টা Ago
মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতা নিয়ে বিস্মিত ট্রাম্প, বললেন ‘কাজটা তো খুবই সহজ হওয়ার কথা ছিল’
মৃ ত্যুদণ্ড কার্যকরে ব্যর্থতা নিয়ে বিস্মিত ট্রাম্প, বললেন ‘কাজটা তো খুবই সহজ হওয়ার কথা ছিল’

যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্রিস্টা পাইকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রক্রিয়া ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় চরম বিস্ময় প্রকাশ করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই প্রক্রিয়াটিকে ‘খুবই সহজ কাজ’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এমন ঘটনা কীভাবে ঘটতে পারে?   এই পরিস্থিতিকে একটি ‘আকর্ষণীয় ঘটনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও পরবর্তী পদক্ষেপ কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তিনি। টেক্সাস সফরের সময় সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান, এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার সম্পূর্ণভাবে টেনেসি কর্তৃপক্ষের।   ৫০ বছর বয়সী ক্রিস্টা পাইক ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি, যিনি পরপর দুইবার প্রাণঘাতী ইনজেকশন প্রয়োগের পরও প্রাণে বেঁচে গেছেন। ১৯৯৫ সালে কিশোরী বয়সে এক সহপাঠীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে এবং ধারালো অস্ত্র (বক্স কাটার) দিয়ে কুপিয়ে হত্যার দায়ে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ ২০০ বছরের ইতিহাসে টেনেসিতে তিনিই প্রথম নারী, যার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই ব্যর্থ চেষ্টার পর তিনি বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।   পাইকের আইনজীবী র্যান্ডি স্পাইভি জানিয়েছেন, এই ব্যর্থ প্রক্রিয়ার সময় তার মক্কেলের শরীরে অন্তত সাতবার সুচ ফোটানো হয়েছে। পুরো ঘটনাটিকে 'নিষ্ঠুর ও যন্ত্রণাদায়ক' বলে উল্লেখ করে তিনি অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর বিল লির কাছে পাইকের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।   এর আগে পাইক নিজেই তার হাতের নষ্ট শিরার কারণে ইনজেকশন প্রয়োগ কঠিন হতে পারে ভেবে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন করেছিলেন। এদিকে, এই মর্মান্তিক ঘটনার পর গভর্নর বিল লি এটিকে একটি ‘ট্র্যাজেডি’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অঙ্গরাজ্যের সব মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছেন।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিখোঁজের চার দিন পর মিলল বাংলাদেশি উবার চালক আলী আহমদের ম রদেহ

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে নিখোঁজের চার দিন পর আলী আহমদ নামে এক বাংলাদেশি উবার চালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার তার ব্যবহৃত গাড়ির ভেতর থেকেই মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। আকস্মিক ও রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে শোক ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।   পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজ ও দুপুরের খাবার শেষে উবার চালানোর উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন আলী আহমদ। প্রতিদিনের মতো রাতে কাজ শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শনিবার সকাল পর্যন্ত তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে একপর্যায়ে স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে তার পরিবার।   অভিযোগ পাওয়ার পর নিখোঁজের ২৪ ঘণ্টা পার হলে টেক্সাস পুলিশ ঘটনাটিকে ‘হাই অ্যালার্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে বিশেষ অনুসন্ধান শুরু করে। টানা চার দিন খোঁজাখুঁজির পর মঙ্গলবার পুলিশ তার নিজস্ব গাড়িটি থেকেই মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত আলী আহমদ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের ঘুঙ্গাদিয়া ত্রিমুখী এলাকার মরহুম আছার উদ্দিনের কনিষ্ঠ পুত্র। তবে তাদের আদি নিবাস বিয়ানীবাজার পৌরসভার শ্রীধরা গ্রামে।   আলী আহমদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি নিছক দুর্ঘটনা, তা ময়নাতদন্ত ও পুলিশের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই জানা যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও চার সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার এমন অকাল মৃত্যুতে টেক্সাসসহ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিয়ানীবাজারবাসী ও প্রবাসীদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ১৪:৩৬
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীনকার্ড পেতে ভুয়া ডাকাতির নাটক, ভারতীয় কর্মী ফেরত, জেলে যাওয়ার অপেক্ষায় দোকানমালিক

সাউথ ক্যারোলাইনায় দোকানকর্মীকে ইউ ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য ভুয়া ডাকাতির ঘটনা সাজানোর অভিযোগে দোকানমালিক বীরেনকুমার রমেশভাই প্যাটেল দোষ স্বীকার করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৪৭ বছর বয়সী প্যাটেল ও তার দোকানের ভারতীয় কর্মী ২০২৫ সালের ৯ মার্চ ফেয়ারফিল্ড কাউন্টির একটি কনভেনিয়েন্স স্টোরে ডাকাতির নাটক সাজান। পরে তদন্তে ঘটনাটি ভুয়া প্রমাণিত হলে ওই কর্মীকে ভারতে ডিপোর্ট করা হয়। প্যাটেল এখন ফেডারেল সাজা ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।   ইউ ভিসা নির্দিষ্ট অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি অস্থায়ী ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস। যোগ্যতা পূরণ করে ইউ ভিসা পাওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্তে অন্তত তিন বছর যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে একজন আবেদনকারী গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। বিচার বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, এই সম্ভাব্য ইমিগ্রেশন সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করতেই দোকানকর্মীকে অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।   ২০২৫ সালের ৯ মার্চ দোকানে ডাকাতির খবর জানিয়ে ৯১১ নম্বরে কল করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে কর্মী ঘটনাটি ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন এবং পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। প্যাটেলও ঘটনাস্থলে এসে ডাকাতির বিষয়ে ব্যাখ্যা দেন। কিন্তু নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ আরও বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করার পর তদন্তকারীরা দেখতে পান, ঘটনাটি আসলে সাজানো ছিল।   তদন্তে জানা যায়, প্যাটেল নিজেই ডাকাতের ভূমিকায় ছিলেন। পরিচয় গোপন করতে তিনি মুখ ঢেকেছিলেন এবং লম্বা হাতার জ্যাকেট পরেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করা, যাতে দোকানকর্মীকে সত্যিকারের অপরাধের শিকার হিসেবে দেখানো যায় এবং তার ইউ ভিসার আবেদনকে সমর্থন করার মতো নথি তৈরি করা সম্ভব হয়।   ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর, ২৫ মার্চ ২০২৫, প্যাটেল ও কর্মী ওই ডাকাতির ঘটনার পুলিশ রিপোর্টের কপি চান। এরপর ৩ এপ্রিল এমন একটি ফেডারেল সার্টিফিকেশন ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তরে পাঠানো হয়, যাতে দোকানকর্মীকে ‘ফেলোনিয়াস অ্যাসল্ট’-এর শিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর চাওয়া হয়। তদন্তকারীরা পরে নিশ্চিত হন, কর্মী ভারতের নাগরিক এবং ইউ ভিসা পেলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে থাকার সুযোগ পেতে পারতেন।   ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্যাটেল ইউ ভিসা অবৈধভাবে পাওয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে ফেডারেল আদালতে দোষ স্বীকার করেন। আদালত এখনো তার চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, তার সর্বোচ্চ ১০ বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড হতে পারে। এর পাশাপাশি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার জরিমানা, ক্ষতিপূরণ এবং কারাদণ্ড শেষে সর্বোচ্চ তিন বছর তত্ত্বাবধানে থাকার শাস্তিও হতে পারে।   মামলাটি তদন্ত করেছে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনস ও ফেয়ারফিল্ড কাউন্টি শেরিফের দপ্তর। প্যাটেলের দোষ স্বীকারের পর এখন আদালতের সাজা ঘোষণার প্রক্রিয়াই পরবর্তী ধাপ। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ইউএস প্রোবেশন অফিসের প্রস্তুত করা সাজা সংক্রান্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার পর বিচারক তার চূড়ান্ত সাজা নির্ধারণ করবেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ৯ হাজার মার্কিন সেনা পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইরানকে কঠিন জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনার পারদ আবারও চরমে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ৯ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, খুব শিগগিরই ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে বোমা হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে যে গুঞ্জন উঠেছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সেটি সরাসরি নাকচ করেননি।   গত বুধবার ইসরায়েলের একটি যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাইয়ের যে চেষ্টা চালানো হয়েছিল, তার পেছনে ইরানের ইন্ধন রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি প্রতিশোধ নেবে বলে সতর্ক করেছেন ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, "ইরান যদি এর সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তাদের ওপর অত্যন্ত কঠিন আঘাত হানা হবে, এ নিয়ে চিন্তার কিছু নেই।"   এদিকে, ইরানকে যেকোনো মূল্যে একটি শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার তিনি স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেন, ইরান যদি এই চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে দেশটির "আর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।" এর মাত্র কয়েকদিন আগেই অবশ্য ইরানের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব প্রকাশ্যে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে বুধবার ইরানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চুক্তিটি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়েই মূলত দুই পক্ষের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা-কে (IRNA) দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেশটির সরকারি মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানিয়েছেন, যুদ্ধ অবসানে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবের একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইতোমধ্যে মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রতিক্রিয়াটি উপস্থাপন করেছেন। সব মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?
ছিনতাইয়ের সংকেত, ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারানো, ককপিটে ছু রিকাঘাত, ফ্লাইদুবাইয়ে আসলে কী ঘটেছিল?

দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি ফ্লাইটে মাঝ আকাশে ঘটেছে এক রোমহর্ষক ঘটনা। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ (FZ1073) যখন ৩০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় উড়ছিল, তখন ককপিটের ভেতরেই পাইলটদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতের সৃষ্টি হয়। সহকারী পাইলটের আকস্মিক ছুরিকাঘাতে ক্যাপ্টেন গুরুতর আহত হলে বিমানটি দ্রুতগতিতে নিচে নামতে শুরু করে।   একপর্যায়ে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের জরুরি সংকেত পাঠানো হলে চরম নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করা হয়। তবে এটি কোনো সাধারণ ছিনতাই ছিল না, বরং ককপিটের ভেতরেই ঘটেছিল এই ভয়াবহ তাণ্ডব।   বিমানটিতে মোট ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন। উড্ডয়নের প্রায় আড়াই ঘণ্টা পর হঠাৎ করেই বিমানটির গতিপথে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের তথ্যমতে, মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে বিমানটি প্রায় ১৮ হাজার ফুট উচ্চতা হারায়, যার মধ্যে ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ে এটি ১৪ হাজার ফুটের বেশি নিচে নেমে যায়। এমন ভয়াবহ পতনে যাত্রীদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।   পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে বিমান থেকে প্রথমে সাধারণ জরুরি সংকেত ‘৭৭০০’ এবং পরে ছিনতাই বা বেআইনি হস্তক্ষেপের সংকেত ‘৭৫০০’ পাঠানো হয়। এতে প্রাথমিকভাবে বিমান ছিনতাইয়ের আশঙ্কা করা হলেও ভেতরের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।   প্রাথমিক তদন্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, বিমানের ওমানি সহকারী পাইলট হঠাৎ করেই ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায়ও ক্যাপ্টেন সাহসিকতার সঙ্গে ককপিটের দরজা খুলে দিতে সক্ষম হন। এরপর কয়েকজন সাহসী যাত্রী ও ক্রু সদস্য দ্রুত ককপিটে ঢুকে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটকে কাবু করেন।   সৌভাগ্যবশত, ওই ফ্লাইটে ফ্লাইদুবাইয়ের আরও কয়েকজন পাইলট যাত্রী হিসেবে ছিলেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং বিমানটিকে ঘুরিয়ে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করান। পরে আহত দুই পাইলটকে হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং যাত্রীদের বিকল্প ফ্লাইটে তেল আবিবে পৌঁছে দেওয়া হয়।   ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে একে সম্ভাব্য নিরাপত্তা হুমকি বা সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে বিবেচনা করলেও ফ্লাইদুবাই বা সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ এখনই চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে নারাজ। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল ইতোমধ্যে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।   সহকারী পাইলটের হামলার প্রকৃত উদ্দেশ্য কী ছিল, ককপিটে ধারালো অস্ত্র কীভাবে পৌঁছাল এবং এর পেছনে বৃহত্তর কোনো সন্ত্রাসী পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। আপাতত দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের বিমান দুর্ঘটনা থেকে যাত্রীদের রক্ষা পাওয়ার বিষয়টিই সবার সামনে স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যাত্রী এবং এআই ক্যামেরা
গিটারকে যাত্রী ভেবে হেলমেটের মামলা, এআই ক্যামেরার কাণ্ডে হাসির রোল

ভারতের বেঙ্গালুরুতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরার ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে তৈরি হয়েছে বেশ আলোচিত এক ঘটনা। এবার কোনো মানুষ নয়, মোটরসাইকেলে বহন করা গিটারকেই হেলমেটবিহীন যাত্রী ভেবে ট্রাফিক মামলা করেছে ক্যামেরা।   ঘটনাটি ঘটে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬। বেঙ্গালুরুর হেব্বাল এলাকার বাসিন্দা সৌভিক দত্ত তাঁর স্ত্রীর বৈদ্যুতিক স্কুটার নিয়ে টিন ফ্যাক্টরির দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল এবং তিনি একাই স্কুটার চালাচ্ছিলেন। তবে পিঠে বাঁধা ছিল একটি গিটার।   পরে স্কুটারের নিবন্ধিত মালিক তাঁর স্ত্রী একটি ৫০০ রুপির ট্রাফিক চালান পান। অভিযোগ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, স্কুটারে থাকা পিলিয়ন যাত্রী হেলমেট পরেননি। কিন্তু চালানের সঙ্গে থাকা ছবিতে দেখা যায়, স্কুটারে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তি ছিলেন না। পিঠে বাঁধা গিটারকেই ক্যামেরা সম্ভবত দ্বিতীয় আরোহী হিসেবে শনাক্ত করেছিল।   সৌভিক দত্ত বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশ করেন। তিনি বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশকে ট্যাগ করে চালানটি বাতিল করার অনুরোধ জানান। তাঁর পোস্টে চালানের নোটিশ নম্বর 86202541 উল্লেখ ছিল।   বিষয়টি নজরে আসার পর বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশ তাঁকে ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের জন্য নির্দিষ্ট ই-মেইলে যোগাযোগ করতে বলে। পরবর্তী এক আপডেটে দত্ত জানান, চালানটি বাতিল করা হয়েছে।   বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের Intelligent Traffic Enforcement Management System (ITEMS)-এ স্বয়ংক্রিয় নম্বরপ্লেট শনাক্তকরণ এবং ট্রাফিক-ভায়োলেশন ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ব্যবস্থাটিতে ২৫০টি ANPR ক্যামেরা এবং ৮০টি ভায়োলেশন-এভিডেন্স ক্যামেরা রয়েছে, যা শহরের ৫০টি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জংশনে স্থাপন করা হয়েছে।    এই প্রযুক্তি হেলমেট না পরা, অতিরিক্ত আরোহী, লাল বাতি অমান্য, স্টপলাইন অতিক্রম, অতিরিক্ত গতি, গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহারসহ বিভিন্ন ধরনের ট্রাফিক লঙ্ঘন শনাক্ত করতে ব্যবহৃত হয়।   তবে গিটারকে যাত্রী হিসেবে শনাক্ত করার ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম সব পরিস্থিতি শতভাগ নির্ভুলভাবে বুঝতে পারে না। একটি প্রতিবেদনে বেঙ্গালুরু ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এ ধরনের ভুল শনাক্তকরণ মাঝে মাঝে হতে পারে এবং অভিযোগ করা হলে তা যাচাই করে সংশোধনের ব্যবস্থা রয়েছে।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। তবে একই সঙ্গে এআইনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থায় মানবিক যাচাই ও ভুল শনাক্তকরণ সংশোধনের ব্যবস্থা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ঘরে বসেই রেমিট্যান্স, ট্যাপট্যাপ ও রিয়ায় দ্রুত টাকা পাঠানোর সুবিধা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ঘরে বসেই রেমিট্যান্স, ট্যাপট্যাপ ও রিয়ায় দ্রুত টাকা পাঠানোর সুবিধা

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য দেশে টাকা পাঠানোর পদ্ধতি এখন আগের তুলনায় অনেক সহজ হয়েছে। আগে অনেকেই গাড়ি বা ট্যাক্সি নিয়ে মানি ট্রান্সফার দোকান কিংবা এজেন্টের কাছে গিয়ে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ন বা অন্যান্য সেবার মাধ্যমে টাকা পাঠাতেন। এখন ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও রিয়া মানি ট্রান্সফারের মতো মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট খুলে বাংলাদেশে রেমিট্যান্স পাঠানো যায়। ট্যাপট্যাপের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে বেশিরভাগ ট্রান্সফার কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছাতে পারে।   ট্যাপট্যাপ সেন্ডে বাংলাদেশে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ, নগদ, রকেট এবং বিভিন্ন অংশীদার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ক্যাশ পিকআপের সুবিধা রয়েছে। বিশেষ করে বিকাশসহ মোবাইল ওয়ালেটে পাঠানো অর্থ সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছানোর কথা প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিকাশ ও নগদে পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে ৯৯ সেন্ট এবং ব্যাংক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৪৯ ডলার ফি প্রযোজ্য হতে পারে। লেনদেন নিশ্চিত করার আগে অ্যাপেই ফি ও বিনিময় হার দেখানো হয়।   রিয়া মানি ট্রান্সফারও যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ঘরে বসে টাকা পাঠানোর একটি জনপ্রিয় বিকল্প। রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে নতুন ব্যবহারকারীদের জন্য বর্তমানে প্রথম ৫০ ডলার বা তার বেশি লেনদেনে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট বা ছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই সুবিধা পেতে প্রথম ট্রান্সফারের আগে রেফারেল বা প্রমো কোড ব্যবহার করতে হয়।   আমেরিকা বাংলার প্রচারমূলক রেফারেল কোড ব্যবহার করেও এই সুবিধা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ট্যাপট্যাপ সেন্ডে আমাদের প্রমো কোড NURULLAH1 ব্যবহার করে নতুন ব্যবহারকারীরা প্রযোজ্য প্রচারণার শর্ত পূরণ করলে প্রথম ট্রান্সফারে ৫ ডলার বোনাস পাওয়ার সুযোগ পাবেন। রিয়ার ক্ষেত্রে আমাদের প্রমো কোড RT8H-DXJY নতুন রিয়া ব্যবহারকারী প্রথম আন্তর্জাতিক ট্রান্সফারের আগে এই কোড ব্যবহার করলে ৫০ ডলার বা তার বেশি যোগ্য লেনদেনে ১০ ডলার পর্যন্ত ক্রেডিট পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী কোডটি প্রথম ট্রান্সফার সম্পন্ন করার আগেই দিতে হবে।   ট্যাপট্যাপ বা রিয়ার মাধ্যমে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু ট্রান্সফার ফি নয়, একই সময়ে প্রাপক শেষ পর্যন্ত কত টাকা পাচ্ছেন সেটিও দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিনিময় হার ও ফি পরিবর্তিত হতে পারে। বাংলাদেশে বৈধ চ্যানেলে পাঠানো যোগ্য রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে বর্তমানে ২ দশমিক ৫ শতাংশ সরকারি নগদ প্রণোদনা রয়েছে। ট্যাপট্যাপের তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংক ট্রান্সফার ও বিকাশের মতো মোবাইল ট্রান্সফারেও এই প্রণোদনা প্রযোজ্য হতে পারে।   ফলে যারা এখনো শুধু মানি ট্রান্সফার দোকানে গিয়ে টাকা পাঠান, তাদের জন্য মোবাইল অ্যাপভিত্তিক সেবা একটি সময়সাশ্রয়ী বিকল্প হতে পারে। ঘরে বসেই অ্যাকাউন্ট তৈরি, পরিচয় যাচাই এবং অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়। তবে টাকা পাঠানোর আগে প্রাপকের নাম ও তথ্য, বিনিময় হার, ফি এবং অ্যাপে দেখানো চূড়ান্ত প্রাপ্য অর্থ ভালোভাবে যাচাই করা উচিত। একই সঙ্গে অ্যাপ অবশ্যই অফিসিয়াল অ্যাপ স্টোর বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত মাধ্যম থেকে ডাউনলোড করা এবং পাসওয়ার্ড ও যাচাইকরণ কোড কারও সঙ্গে শেয়ার না করা জরুরি।   ডিসক্লেইমার: এই প্রতিবেদনে ট্যাপট্যাপ সেন্ড ও রিয়া মানি ট্রান্সফারের প্রচারমূলক কোড দেওয়া হয়েছে এবং এসব কোড বা সংশ্লিষ্ট লিংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে আমেরিকা বাংলা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে রেফারেল বা প্রচারমূলক সুবিধা পেতে পারে। আর্থিক লেনদেনের আগে পাঠককে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ফি, বিনিময় হার, বোনাসের শর্ত, যোগ্যতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজ দায়িত্বে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আমেরিকা বাংলা কোনো নির্দিষ্ট সেবাকে সব সময়ের জন্য সর্বোচ্চ রেট, সবচেয়ে সস্তা বা সবার জন্য উপযুক্ত বলে নিশ্চয়তা দিচ্ছে না।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড
পানির নিচে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন চালিয়ে চীনের গিনেস বিশ্বরেকর্ড
প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৫৪

পানির নিচে একসঙ্গে ১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান বা ড্রোন পরিচালনা করে নতুন গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান পানির নিচে নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করে এই অভূতপূর্ব মাইলফলক স্পর্শ করেছে। গত ২৯ আগস্ট গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এই রোমাঞ্চকর প্রদর্শনীটি অনুষ্ঠিত হয়, যা পরবর্তীতে ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ ক্যাটাগরিতে বিশ্বরেকর্ডের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।   নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি এবং শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এই যুগান্তকারী রেকর্ডটি গড়েছে। পরীক্ষামূলক এই প্রদর্শনীতে TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর ড্রোনগুলো ৫০০ মিটারেরও বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়। পানিতে নামানোর পর পরই যানগুলোর নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির সাহায্যে প্রতিটি ড্রোন নিজস্ব অবস্থান ও চারপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্দিষ্ট বিন্যাস বজায় রাখে। এমনকি কোনো ড্রোন সাময়িকভাবে পথচ্যুত হলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশোধন করে পুনরায় নির্ধারিত পথে ফিরে আসার দারুণ সক্ষমতা প্রদর্শন করে।   পানির নিচে একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগত দিক থেকে অত্যন্ত কঠিন একটি কাজ। কারণ সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা বা স্যাটেলাইট নেভিগেশন কার্যকর হয় না। পানির উচ্চ চাপ, কম দৃশ্যমানতা এবং সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এই দীর্ঘ সময় যানগুলো পরিচালনা করাকে আন্ডারওয়াটার স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির এক বিশাল অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। রেকর্ড গড়া এই জলযানগুলোর প্রতিটির ওজন মাত্র ৫ দশমিক ১৪ কেজি, যা একজন মানুষ সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। এগুলো সর্বোচ্চ ৩০ কিলোমিটার পরিসরে একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করতে সক্ষম।   নেভিগেশনের জন্য এসব যানে অত্যাধুনিক ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা স্রোতের ধাক্কায় পথচ্যুত হলেও পরিস্থিতি বুঝে অবস্থান সংশোধন করতে পারে। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্র অত্যন্ত বিস্তৃত ও সম্ভাবনাময়। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ থেকে শুরু করে পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজে আগামীতে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযানের ব্যাপক ব্যবহার দেখা যেতে পারে।

রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ
রক্তাক্ত শরীরে বিমান নামিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন পাইলট স্মিথ
প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৮:৩৯

মাঝ আকাশে সহকারী পাইলটের অতর্কিত হামলায় গুরুতর আহত এবং রক্তাক্ত। কিন্তু এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও নিজের অসীম সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তার জোরে ১৭৪ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করলেন ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিথ মছা। দুবাই থেকে ইসরায়েলগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানে ঘটা এই রোমহর্ষক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে বন্দিত হচ্ছেন এই সাহসী পাইলট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি থেকে শুরু করে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু—সবাই তাঁকে ‘বাস্তবের নায়ক’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।   গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ১৭৪ জন যাত্রী নিয়ে ইসরায়েলের তেল আবিবের উদ্দেশে রওনা দেয় ফ্লাইদুবাইয়ের ওই যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি। বিমানটি ওমানের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ করেই ককপিটের ভেতর ক্যাপ্টেন স্মিথের ওপর ছুরি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন তাঁরই এক সহকারী পাইলট। ধারণা করা হচ্ছে, মাঝ আকাশে যাত্রীবোঝাই বিমানটিকে বিধ্বস্ত করার ভয়ংকর উদ্দেশ্য নিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু ছুরিকাঘাতে মারাত্মকভাবে জখম হওয়ার পরও দমে যাননি স্মিথ। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর দেওয়া তথ্যমতে, স্মিথ রক্তাক্ত অবস্থাতেই হামলাকারীর সঙ্গে লড়াই করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে দেন। এতে কেবিন ক্রু ও যাত্রীরা মিলে ওই হামলাকারীকে কাবু করতে সক্ষম হন।   হামলাকারীকে প্রতিহত করার পর চরম সংকটাপন্ন অবস্থাতেই বিমানের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখেন ক্যাপ্টেন স্মিথ। তিনি দ্রুত বিমানের গতিপথ সৌদি আরবের দিকে ঘুরিয়ে দেন এবং তাবুক শহরের বিমানবন্দরে উড়োজাহাজটির সফল জরুরি অবতরণ করান। তাঁর এই তাৎক্ষণিক ও সাহসী সিদ্ধান্তে মাঝ আকাশে একটি নিশ্চিত বড় বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পান ফ্লাইটের সব যাত্রী ও ক্রু। পরবর্তীতে ফ্লাইদুবাইয়ের ওই বিমানের যাত্রীদের সৌদি আরব থেকে নিরাপদে ইসরায়েলে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।   পেশাগত জীবনে বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর ক্ষেত্রে ১৩ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ক্যাপ্টেন স্মিথ ২০২২ সালে ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে সবসময়ই ‘নিরাপত্তার প্রতি গভীর মনোযোগ’ দেওয়ার কথা নিজের পেশাগত বিবরণীতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি, যা তিনি বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের তাবুক শহরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রিয়াদে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা এখন স্থিতিশীল এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।   এদিকে, মুম্বাইয়ের ঘাটকোপার ইস্ট এলাকায় বসবাসরত স্মিথের পরিবারও এই দুঃসংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার ভোরেই সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। নিজের জীবনের তোয়াক্কা না করে শত শত মানুষের প্রাণ বাঁচানো এই পাইলটের বীরত্ব এখন গোটা বিশ্বের কাছে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।  

স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
স্বামীর সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ায় ভাড়ায় লোক পাঠিয়ে তরুণীকে গণধর্ষণ করালেন স্ত্রী
প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৭:৫৪

ভারতের কেরালার ত্রিশূরে একটি লজ থেকে তরুণীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর সঙ্গে থাকা পুরুষ বন্ধুকেও মারধর করা হয়। এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই ব্যক্তির স্ত্রী হামলাকারীদের ভাড়া করেছিলেন বলে তদন্তে অভিযোগ উঠে এসেছে।    গত সেপ্টেম্বরে ওই তরুণী তাঁর বিবাহিত পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে ত্রিশূরের একটি লজে ওঠেন। লজটি কেরালা রাজ্য পরিবহন সংস্থার বাসস্ট্যান্ডের কাছে অবস্থিত।   এনডিটিভি জানিয়েছে, পাঁচজনের একটি দল পুলিশ পরিচয় দিয়ে তাঁদের কক্ষে ঢোকে। এরপর দুজনকে বেঁধে গাড়িতে করে তামিলনাড়ুর দিকে নিয়ে যায়। পথে পুরুষ সঙ্গীকে মারধর করা হয়। তাঁর হাত-পায়ে হাড় ভাঙার আঘাত লাগে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।    অভিযোগ অনুযায়ী, তিরুপুরের একটি হাসপাতালের বাইরে ওই ব্যক্তিকে ফেলে রেখে হামলাকারীদের দুজন তরুণীকে অন্য গাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়।   তরুণীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তামিলনাড়ু পুলিশ মামলা করে। পরে তদন্তের দায়িত্ব ত্রিশূর সিটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।    তদন্তকারীদের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুরুষ সঙ্গীর স্ত্রী তাঁর স্বামীর ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে হামলাকারীদের কাছে তথ্য পাঠিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলার পরিকল্পনায় তাঁর ভূমিকা নিয়েও তদন্ত চলছে।

আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত
আফগানিস্তানে পাকিস্তানের জঙ্গি সন্দেহে বিমান হামলায় ২২ নিহত, বেসামরিক প্রাণহানিরও অভিযোগ
প্রকাশ: অক্টোবর ১, ২০২৬ ৬:৬

আফগানিস্তানের দুটি প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর হতাহতের সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য দিয়েছে দুই দেশ। ইসলামাবাদের দাবি, হামলায় ২২ জন জঙ্গি নিহত হয়েছেন। আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বলছে, হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন বেসামরিক মানুষ নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হয়েছেন। কোনো পক্ষের হতাহতের হিসাব স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।    বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগানিস্তানের দুটি স্থানে জঙ্গিদের আস্তানা লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ জন নিহত হওয়ার তথ্যটি প্রাথমিক হিসাব। আস্তানাগুলোতে রাখা অস্ত্র ও গোলাবারুদও ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেছে মন্ত্রণালয়। অস্ত্র জব্দের তথ্য তারা দেয়নি।    অন্যদিকে তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে তিনটি বাড়ি হামলার শিকার হয়েছে। নিহত ব্যক্তিরা নারী ও শিশু বলে তাঁর দাবি। তিনি পাকিস্তানের এই হামলাকে আগ্রাসন হিসেবে নিন্দা জানিয়েছেন। পাকিস্তান বলছে, তারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করেনি।    দুই পক্ষের দেওয়া সংখ্যাকে এক করে মোট নিহতের হিসাব করা যাচ্ছে না। পাকিস্তান যে ২২ জনকে জঙ্গি বলছে এবং আফগানিস্তান যে নয়জনকে বেসামরিক মানুষ বলছে, তাঁদের পরিচয় বা এই দুটি হিসাবের মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিশ্চিত হয়নি।    হামলাটি এমন সময় হলো, যখন সীমান্তে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা নিয়ে দুই দেশের বিরোধ আবার বেড়েছে। পাকিস্তানের অভিযোগ, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে জঙ্গিরা পাকিস্তানে হামলা চালায়। তালেবান সরকার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। বার্তা সংস্থা এপির তথ্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের আফগানিস্তান মিশন চলতি বছর সীমান্তবর্তী সহিংসতায় দেশটিতে ১ হাজার ১০০-এর বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহত হওয়ার ঘটনা নথিবদ্ধ করেছে। এটি বৃহস্পতিবারের হামলার হতাহতের হিসাব নয়। 

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়