সাপ্তাহিক আমেরিকা বাংলা ই-পেপার
Live update news
নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন
নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন

নিউইয়র্কে অন্য এক চালকের কাছে টিএলসি-সংশ্লিষ্ট গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক মালিক। ওই চালক নিয়মিত টোল পরিশোধ না করায় গাড়িটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-জেডপাস টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া জমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। পরে গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান বলে মালিকের অভিযোগ। এরপর থেকে ওই চালকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মালিকের ভাষ্য, গাড়ি নেওয়ার সময় চালক তাকে বলেছিলেন, ই-জেডপাসের সঙ্গে তার একটি পেমেন্ট প্ল্যান রয়েছে এবং টোলের বকেয়া তিনি ধীরে ধীরে পরিশোধ করছেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই মালিক গাড়িটি তার কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, শুধু ই-জেডপাস নয়, এমটিএ এবং পোর্ট অথরিটির কাছেও টোল ও ভায়োলেশন বাবদ বকেয়া জমেছে।   বকেয়ার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। মালিকের দাবি, গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার প্রায় এক মাস পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান। এরপর চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   মালিকের কাছে টোল, ভায়োলেশন এবং সাসপেনশন সংক্রান্ত ইমেইল নোটিশ রয়েছে বলে তিনি জানান। এসব নোটিশের মাধ্যমে বকেয়ার পরিমাণ এবং গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। তবে এই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট চালকের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না এবং চালকের বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনাটি নিউইয়র্কের টিএলসি গাড়ির মালিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা সামনে এনেছে। অন্য চালকের কাছে গাড়ি বা টিএলসি-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার পর টোল ও ভায়োলেশন নিয়মিত পরিশোধ হচ্ছে কি না, তা নজরদারির বাইরে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হতে পারে। চালক গাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্টের প্রশাসনিক জটিলতা থেকে যেতে পারে মালিকের ওপর।   মালিকের দাবি অনুযায়ী, এখন তাকে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারের টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া নিয়ে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সাসপেন্ড হওয়া গাড়িটি কীভাবে আবার বৈধভাবে রাস্তায় নামানো যাবে, সেটিও হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। ফলে টিএলসি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে চালকের সঙ্গে স্পষ্ট চুক্তি, টোল পেমেন্টের নিয়মিত হিসাব এবং ভায়োলেশন পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।

৯ মিনিট Ago
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালেরও পেছনে বাংলাদেশ, শীর্ষে বন্ধু দেশ ভারত
প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালেরও পেছনে বাংলাদেশ, শীর্ষে বন্ধু দেশ ভারত

প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বৈশ্বিক দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে ফের একটি হতাশাজনক চিত্র সামনে এসেছে। বিশ্ব মেধাস্বত্ব সংস্থা বা উইপো (WIPO)-এর প্রকাশিত ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স’-এ দক্ষিণ এশিয়ার একাধিক দেশের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ।   বিশ্বের ১৩৯টি অর্থনীতির উদ্ভাবনী সক্ষমতা, গবেষণা, প্রযুক্তি, মানবসম্পদ, অবকাঠামো ও ব্যবসায়িক পরিবেশসহ নানা সূচক বিশ্লেষণ করে তৈরি করা এই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৫তম, যা প্রতিবেশী দেশ নেপালেরও নিচে।   এই সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নিরঙ্কুশভাবে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ভারত, বৈশ্বিক তালিকায় যাদের অবস্থান ৩৮তম। ভারতের পর এই অঞ্চলে ক্রমান্বয়ে এগিয়ে রয়েছে ভুটান (৭৪তম), শ্রীলঙ্কা (৯৪তম), পাকিস্তান (৯৫তম) এবং নেপাল (১০৪তম)। পরিসংখ্যানটি স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে, গবেষণা ও উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎপাদনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে বাংলাদেশের সামনে এখনও বিশাল চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।   তবে সার্বিক চিত্রে পিছিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু সম্ভাবনার জায়গাও রয়েছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, কৃষি প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশীয় উদ্ভাবন ও নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে। দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিস্তার ভবিষ্যতে উদ্ভাবনী সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুযোগ তৈরি করছে।   বিশ্বজুড়ে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নতুন প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিযোগিতা চলছে, তখন উদ্ভাবনের এই দৌড়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোকে টপকে যেতে বাংলাদেশকে আরও সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

১৮ মিনিট Ago
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ
সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করে বাড়ি ও সোনা, বাজেয়াপ্ত হচ্ছে সাবেক সিআইএ কর্মকর্তার ১৯ কোটি ডলারের সম্পদ

যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর (CIA) সাবেক কর্মকর্তা ডেভিড রাশ সরকারি তহবিল তছরুপের কথা স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে ওয়্যার ফ্রড বা তারবার্তায় জালিয়াতির একটি অভিযোগে তিনি দোষ স্বীকার করেন। ভুয়া গোপন প্রজেক্টের নামে সরকারের প্রায় ২০ কোটি ডলার হাতিয়ে নিয়ে ফ্লোরিডায় বিলাসবহুল বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ সোনার বার কিনেছিলেন তিনি।   আদালতের কাছে দোষ স্বীকারের চুক্তি অনুযায়ী, রাশ এখন অন্তত ১৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার সমমূল্যের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ২৯৮টি সোনার বার, ফ্লোরিডায় ৪টি বিলাসবহুল বাড়ি, দুটি বিএমডব্লিউ গাড়ি এবং ৩৫টি দামি ঘড়ি। এই অপরাধের জন্য তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।   আদালতের নথি থেকে জানা যায়, রাশ একটি ভুয়া 'ক্লাসিফায়েড প্রোগ্রাম' বা গোপন প্রকল্পের গল্প সাজিয়েছিলেন। এরপর একটি ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে সরকারি তহবিলের ১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার সরিয়ে নেন এবং তা দিয়ে ফ্লোরিডার পাম বিচ ও হোব সাউন্ড এলাকায় চারটি বাড়ি কেনেন, যা তিনি পরবর্তীতে বেশি দামে বিক্রি করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।   অন্যদিকে, সোনার বারগুলো কেনার জন্য তিনি ঠিকাদারদের কাছে সম্পূর্ণ আলাদা একটি ভুয়া 'সংবেদনশীল সরকারি কার্যক্রম'-এর কথা বলেছিলেন।   গত মে মাসে ডেভিড রাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে এফবিআই (FBI) এজেন্টরা ৪০ মিলিয়ন বা চার কোটি ডলারের সোনার বার, ২০ লাখ ডলার নগদ অর্থ এবং বিলাসবহুল ঘড়িগুলো উদ্ধার করে। মূলত সিআইএ-এর অভ্যন্তরীণ তদন্তে সম্ভাব্য অপরাধের বিষয়টি ধরা পড়ার পর তারা বিষয়টি এফবিআইকে জানায়।   শুনানিকালে সরকারি আইনজীবীরা রাশকে একজন 'চরম প্রতারক' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। কারণ, তিনি নিজের প্রতিবেশী ও সহকর্মীদের কাছে পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে মিথ্যাচার করেছিলেন এবং নিজের অভিজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এই বিশাল জালিয়াতির ছক কষেছিলেন।

৩৮ মিনিট Ago
অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি না দেওয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীর মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল
অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি না দেওয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীর মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ‘এফ-১’ (F-1) ভিসার আবেদনকারী এক ভারতীয় শিক্ষার্থী দালাল বা এজেন্টের চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি রেডিট (Reddit) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন যে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য তার এজেন্ট অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি (প্রায় ২৩০ ডলার) দাবি করে। কিন্তু এই অন্যায্য অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই এজেন্ট তার ইন্টারভিউয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দেয়।   রেডিটের ওই পোস্ট অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর ‘আই-২০’ (I-20) ফর্মে ক্লাস শুরুর তারিখ ছিল ৩১ আগস্ট, ২০২৬। তবে এর আগে ইন্টারভিউয়ের কোনো স্লট না পাওয়ায় এজেন্ট তাকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি সেশনে ভর্তির পরামর্শ দেয়। পরে হঠাৎ করেই ওই এজেন্ট জানায় যে, ১৯ অক্টোবরের জন্য একটি ইন্টারভিউ স্লট পাওয়া গেছে, তবে এর জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি দিতে হবে।   এটি সরকারি কোনো ফি কি না, তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এজেন্ট সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দেয় এবং শিক্ষার্থী এর কনফার্মেশনও পান। বর্তমানে মার্কিন ভিসা পোর্টালে তার আবেদনটি ‘ওপেন’ দেখালেও মুম্বাইয়ের জন্য কোনো স্লট খালি নেই।   মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, এফ, এম এবং জে ভিসার জন্য সরকারি আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের ‘সেভিস’ (SEVIS) ফি দিতে হলেও ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি’ নামে ২৩০ ডলারের কোনো সরকারি চার্জ নেই। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) আবেদনকারীদের সতর্ক করে আসছে।   সংস্থাটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ভিসা বা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বিশেষ যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত প্রতারক চক্র।   ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী এখন নিজে থেকেই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, নাকি নতুন আই-২০ ফর্মের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করবেন—তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

১ ঘন্টা Ago
আমেরিকা
যুক্তরাষ্ট্রে আপনার নামে টাকা পড়ে আছে অথচ জানেন না, খুঁজে দেখবেন যেভাবে

যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস বা কাজের সময় কোনো পুরোনো ব্যাংক হিসাব, বকেয়া বেতন, বীমার অর্থ কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সম্পদ রেখে এসেছেন কি না, তা হয়তো আপনার জানা নেই। এমনকি বহু বছর আগে ঠিকানা বদলানোর কারণে কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হলেও সেই অর্থ আপনার নামে থেকে যেতে পারে। দেশটির অদাবিকৃত সম্পদ কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় প্রতি সাতজনের একজনের নামে কোনো না কোনো অদাবিকৃত সম্পদ থাকতে পারে।   অদাবিকৃত সম্পদ বলতে এমন টাকা বা সম্পদকে বোঝায়, যার মালিকের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কোনো প্রতিষ্ঠান বা আর্থিক সংস্থার যোগাযোগ থাকে না। নির্দিষ্ট সময় ধরে মালিকের পক্ষ থেকে কোনো কার্যক্রম না থাকলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই অর্থ সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে প্রকৃত মালিক চাইলে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় তা ফেরত নেওয়ার সুযোগ পান।   এই সম্পদের ধরনও অনেক রকম হতে পারে। কারও পুরোনো চাকরির বেতন হয়তো নগদায়ন করা হয়নি। কারও ভুলে যাওয়া ব্যাংক হিসাব থাকতে পারে। আবার কোনো ব্যক্তির নামে থাকতে পারে শেয়ার, বিদ্যুৎ বা অন্যান্য সেবার জন্য জমা রাখা অর্থ, কর ফেরতের টাকা কিংবা বীমা পলিসি থেকে পাওনা অর্থ।   শুধু নগদ অর্থ নয়, নিরাপদ আমানত বাক্সে থাকা কিছু সম্পদও অদাবিকৃত সম্পদের আওতায় পড়তে পারে। ফলে নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না খুঁজতে গেলে শুধু ব্যাংক হিসাবের কথা মাথায় রাখলেই হবে না।   যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিবছর অদাবিকৃত সম্পদের বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রকৃত মালিকদের কাছে ফেরত দেওয়া হয়। দেশটির অদাবিকৃত সম্পদ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ অর্থবছরে বিভিন্ন রাজ্য ৪৪৯ কোটি ডলারের বেশি অদাবিকৃত সম্পদ মালিকদের ফেরত দিয়েছে। একই সময়ে আরও বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ অদাবিকৃত অবস্থায় রয়ে গেছে।   তবে কারও নামে অদাবিকৃত অর্থ থাকলেই সেখানে বড় অঙ্কের টাকা থাকবে—এমন নয়। কারও ক্ষেত্রে পরিমাণ খুব কম হতে পারে, আবার কারও নামে একাধিক সম্পদও থাকতে পারে। মূল বিষয় হলো, অনেক মানুষ জানেনই না যে তাদের নামে কোনো অর্থ বা সম্পদ আটকে আছে।   বিশেষ করে যারা জীবনের বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক রাজ্যে বসবাস করেছেন, কাজ করেছেন বা ব্যবসা করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে একাধিক জায়গায় খোঁজ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ একজন ব্যক্তির নামে এক রাজ্যে থাকা সম্পদ অন্য রাজ্যের রেকর্ডে থাকতে পারে। তাই বর্তমানে যেখানে থাকছেন শুধু সেই রাজ্যে নয়, আগে যেসব রাজ্যে বসবাস বা কাজ করেছেন, সেসব জায়গাতেও খোঁজ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।   অদাবিকৃত অর্থ খোঁজার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সরকারি ব্যবস্থা ব্যবহার করা। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অধিকাংশ অদাবিকৃত অর্থ রাজ্য সরকারগুলোর কাছে থাকে। প্রতিটি রাজ্যের নিজস্ব অদাবিকৃত সম্পদ কর্মসূচি রয়েছে। সেখানে নিজের নাম ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে খোঁজ করা যায়।   এই অনুসন্ধানের জন্য সাধারণত কোনো অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকারি ব্যবস্থার মাধ্যমে নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না বিনা খরচে যাচাই করা যায়। কারও নামে সম্পদ পাওয়া গেলে সেটি দাবি করার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্যের নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করতে হয়।   তবে সব ধরনের পাওনা অর্থ একই জায়গায় পাওয়া যাবে না। পুরোনো বেতন, পেনশন, কর ফেরত, ব্যাংক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরের অর্থ, সঞ্চয়পত্র কিংবা বিনিয়োগের অর্থের জন্য আলাদা সরকারি ব্যবস্থায় খোঁজ নিতে হতে পারে। অর্থাৎ আপনার নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না যাচাই করার সময় সম্পদের ধরন অনুযায়ী সঠিক সরকারি দপ্তর বা ব্যবস্থাটি ব্যবহার করা জরুরি।   যারা যুক্তরাষ্ট্রে আগে বসবাস করেছেন কিন্তু পরে অন্য রাজ্যে বা অন্য দেশে চলে গেছেন, তাদের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঠিকানা পরিবর্তনের পর পুরোনো কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারে, তাহলে নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই সম্পদ অদাবিকৃত হিসেবে রাজ্য সরকারের কাছে চলে যেতে পারে।   এ ক্ষেত্রে পুরোনো ঠিকানা, আগের কর্মস্থল, ব্যাংক হিসাব এবং বসবাসের ইতিহাস মনে করে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলোর সরকারি অদাবিকৃত সম্পদের তালিকায় নিজের নাম খুঁজে দেখা যেতে পারে। পরিবারের কোনো সদস্যের নামে এমন সম্পদ থাকার সম্ভাবনাও থাকলে তারাও একইভাবে যাচাই করতে পারেন।   তবে অনলাইনে অদাবিকৃত অর্থ খোঁজার সময় সতর্ক থাকাও জরুরি। সরকারি ওয়েবসাইটের পরিবর্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি আগে টাকা চায় কিংবা ব্যক্তিগত তথ্য দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে, তাহলে যাচাই ছাড়া সেখানে তথ্য দেওয়া উচিত নয়। অদাবিকৃত সম্পদ খোঁজার সরকারি ব্যবস্থা বিনা খরচে ব্যবহার করা যায়।   সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস, চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের জন্য নিজের নামে অদাবিকৃত সম্পদ আছে কি না একবার যাচাই করে দেখা অযৌক্তিক নয়। পুরোনো ব্যাংক হিসাব, বকেয়া বেতন, বীমার অর্থ বা অন্য কোনো আর্থিক সম্পদ ভুলে যাওয়া বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে রাজ্যের কাছে পড়ে থাকতে পারে। আপনার নামে এমন কোনো অর্থ আছে কি না, তা সরকারি ব্যবস্থায় বিনা খরচে খুঁজে দেখা সম্ভব।

প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৭:৩২
ফ্লোরিডায় একই দোকান থেকে ১৮ বার চুরি, শেষবার গিয়ে ধরা পড়লেন নারী

ফ্লোরিডার নেপলসে টার্গেট স্টোরের সেলফ-চেকআউট ব্যবহার করে বারবার চুরির দায়ে নিজ কর্মস্থল থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী কিম্বার্লি ম্যাকডোনেল। টার্গেটে ১৮ বার কেনাকাটা করতে গিয়ে তিনি ১৫১টি পণ্যের বিল পরিশোধ করেননি, যার মোট মূল্য প্রায় ৩ হাজার ৪৭২ ডলার। সম্প্রতি 'পুলিশ এনকাউন্টারস টিভি' নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে তার গ্রেপ্তারের বডি-ক্যামেরা ভিডিও প্রকাশ হওয়ার পর সেটি অনলাইনে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং আলোচনার জন্ম দিয়েছে।   পুলিশ জানিয়েছে, ম্যাকডোনেল আড়াই ডলারের কোমল পানীয় থেকে শুরু করে প্রায় আটশ ডলারের ম্যাট্রেস পর্যন্ত চুরি করেছেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি সেলফ-চেকআউটে কিছু পণ্যের বারকোড স্ক্যান না করেই ইচ্ছা করে সেগুলো নিয়ে তার এসইউভিতে করে চলে যেতেন। এমনকি কোনো কোনো দিন চুরির সময় তার সাথে একটি শিশুও উপস্থিত ছিল।   টানা দুই মাস ধরে চলা এই ঘটনাগুলোর ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে থার্ড-ডিগ্রি গ্র্যান্ড থেফটের অভিযোগ আনা হয়। ফ্লোরিডার আইন অনুযায়ী, সাড়ে সাতশ থেকে পাঁচ হাজার ডলার পর্যন্ত মূল্যের পণ্য চুরির অপরাধ এই শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত।   তবে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে পুলিশ কর্মকর্তাদের আচরণ নিয়ে। ম্যাকডোনেলকে তার কর্মস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ অত্যন্ত নমনীয় আচরণ করে। সহকর্মীদের সামনে যাতে তাকে লজ্জিত হতে না হয়, সেজন্য পুলিশ তাকে আড়ালে ডেকে নেয়। শুধু তাই নয়, তাকে অসুস্থ সন্তান ও স্বামীর সাথে ফোনে কথা বলার এবং পরিস্থিতি সামলে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।   এমনকি হাতকড়া পরানোর ক্ষেত্রেও তার সুবিধা বিবেচনা করে পুলিশ। তার শান্ত ও সহযোগিতাপূর্ণ আচরণের বিপরীতে পুলিশের এমন নমনীয়তা দেখে নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্য করছেন। অনেকেই পুলিশের এই ‘ভিআইপি’ সেবার সমালোচনা করে একে লিমুজিন রাইডের সাথে তুলনা করেছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টিকে কেবলই পুলিশের পেশাদারিত্ব হিসেবে দেখছেন।

নিউইয়র্কে চালক গাড়ি ফেলে উধাও, মালিকের ঘাড়ে ৪৫ হাজার ডলারের টোল-ভায়োলেশন

নিউইয়র্কে অন্য এক চালকের কাছে টিএলসি-সংশ্লিষ্ট গাড়ি ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক মালিক। ওই চালক নিয়মিত টোল পরিশোধ না করায় গাড়িটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ই-জেডপাস টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া জমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৫ হাজার ডলার। পরে গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান বলে মালিকের অভিযোগ। এরপর থেকে ওই চালকের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।   নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মালিকের ভাষ্য, গাড়ি নেওয়ার সময় চালক তাকে বলেছিলেন, ই-জেডপাসের সঙ্গে তার একটি পেমেন্ট প্ল্যান রয়েছে এবং টোলের বকেয়া তিনি ধীরে ধীরে পরিশোধ করছেন। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতেই মালিক গাড়িটি তার কাছে ভাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, শুধু ই-জেডপাস নয়, এমটিএ এবং পোর্ট অথরিটির কাছেও টোল ও ভায়োলেশন বাবদ বকেয়া জমেছে।   বকেয়ার পরিমাণ বাড়তে বাড়তে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারে পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। মালিকের দাবি, গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার প্রায় এক মাস পর চালক সেটি রাস্তায় ফেলে চলে যান। এরপর চালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।   মালিকের কাছে টোল, ভায়োলেশন এবং সাসপেনশন সংক্রান্ত ইমেইল নোটিশ রয়েছে বলে তিনি জানান। এসব নোটিশের মাধ্যমে বকেয়ার পরিমাণ এবং গাড়ি সাসপেন্ড হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। তবে এই প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট চালকের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না এবং চালকের বক্তব্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।   ঘটনাটি নিউইয়র্কের টিএলসি গাড়ির মালিকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা সামনে এনেছে। অন্য চালকের কাছে গাড়ি বা টিএলসি-সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার পর টোল ও ভায়োলেশন নিয়মিত পরিশোধ হচ্ছে কি না, তা নজরদারির বাইরে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই বড় অঙ্কের বকেয়া তৈরি হতে পারে। চালক গাড়ি ছেড়ে চলে গেলেও সংশ্লিষ্ট গাড়ি ও অ্যাকাউন্টের প্রশাসনিক জটিলতা থেকে যেতে পারে মালিকের ওপর।   মালিকের দাবি অনুযায়ী, এখন তাকে প্রায় ৪৫ হাজার ডলারের টোল ও ভায়োলেশনের বকেয়া নিয়ে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সাসপেন্ড হওয়া গাড়িটি কীভাবে আবার বৈধভাবে রাস্তায় নামানো যাবে, সেটিও হয়ে উঠেছে বড় প্রশ্ন। ফলে টিএলসি গাড়ি ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে চালকের সঙ্গে স্পষ্ট চুক্তি, টোল পেমেন্টের নিয়মিত হিসাব এবং ভায়োলেশন পর্যবেক্ষণের গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে।

অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি না দেওয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীর মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল
অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি না দেওয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীর মার্কিন ভিসা ইন্টারভিউ বাতিল

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনার উদ্দেশ্যে ‘এফ-১’ (F-1) ভিসার আবেদনকারী এক ভারতীয় শিক্ষার্থী দালাল বা এজেন্টের চরম প্রতারণার শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি রেডিট (Reddit) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ওই শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন যে, ভিসা ইন্টারভিউয়ের জন্য তার এজেন্ট অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি (প্রায় ২৩০ ডলার) দাবি করে। কিন্তু এই অন্যায্য অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই এজেন্ট তার ইন্টারভিউয়ের অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দেয়।   রেডিটের ওই পোস্ট অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর ‘আই-২০’ (I-20) ফর্মে ক্লাস শুরুর তারিখ ছিল ৩১ আগস্ট, ২০২৬। তবে এর আগে ইন্টারভিউয়ের কোনো স্লট না পাওয়ায় এজেন্ট তাকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি সেশনে ভর্তির পরামর্শ দেয়। পরে হঠাৎ করেই ওই এজেন্ট জানায় যে, ১৯ অক্টোবরের জন্য একটি ইন্টারভিউ স্লট পাওয়া গেছে, তবে এর জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার রুপি দিতে হবে।   এটি সরকারি কোনো ফি কি না, তা নিয়ে সন্দিহান হয়ে শিক্ষার্থী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে এজেন্ট সরাসরি অ্যাপয়েন্টমেন্টটি বাতিল করে দেয় এবং শিক্ষার্থী এর কনফার্মেশনও পান। বর্তমানে মার্কিন ভিসা পোর্টালে তার আবেদনটি ‘ওপেন’ দেখালেও মুম্বাইয়ের জন্য কোনো স্লট খালি নেই।   মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের তথ্যমতে, এফ, এম এবং জে ভিসার জন্য সরকারি আবেদন ফি ১৮৫ ডলার। এর বাইরে শিক্ষার্থীদের ‘সেভিস’ (SEVIS) ফি দিতে হলেও ‘অ্যাপয়েন্টমেন্ট ফি’ নামে ২৩০ ডলারের কোনো সরকারি চার্জ নেই। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা (USCIS) আবেদনকারীদের সতর্ক করে আসছে।   সংস্থাটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত ভিসা বা সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে বিশেষ যোগাযোগের প্রতিশ্রুতি দেওয়া ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত প্রতারক চক্র।   ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী এখন নিজে থেকেই ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন, নাকি নতুন আই-২০ ফর্মের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যোগাযোগ করবেন—তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

এআই অনুসন্ধান ঘিরে বেঙ্গালুরুর চাঞ্চল্যকর হ ত্যা কাণ্ড
লিভ-ইন পার্টনারের বাবা-মা ও বোনকে হ ত্যা, এআইকে প্রশ্ন করেই ফাঁসলেন হ ত্যা কারী

ভারতের বেঙ্গালুরুতে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হ ত্যা র ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশ বলছে, প্রধান অভিযুক্ত ২৫ বছর বয়সী প্রযুক্তিকর্মী জে কেনেথ হ ত্যা কাণ্ডের আগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মানুষকে আ ক্র ম ণ ও অক্ষম করার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন। তার ল্যাপটপের অনুসন্ধান ইতিহাস পরীক্ষা করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে বলে মামলার চার্জশিটে উল্লেখ করেছে পুলিশ।   ঘটনাটি ঘটে গত ২২ জুন বেঙ্গালুরুর কে আর পুরম এলাকার সিগেহাল্লির সাই গ্রিন অ্যাপার্টমেন্টে। নি হ তরা হলেন কেনেথের লিভ ইন পার্টনার শ্বেতা সোমাসুন্দরের বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং ছোট বোন সুপ্রিয়া। তিনজনই ধারালো অ স্ত্রের আঘাতে নি হ ত হন। মামলায় কেনেথ ও শ্বেতা দুজনকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে।   ঘটনার প্রায় তিন মাস পর বেঙ্গালুরু পুলিশ আদালতে ২ হাজার ৮৫ পৃষ্ঠার চার্জশিট জমা দেয়। সেই চার্জশিটের তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কেনেথের ল্যাপটপে বেশ কিছু উদ্বেগজনক অনুসন্ধানের তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।   পুলিশের দাবি, কেনেথ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কাছে রান্নাঘরের ছুরি ব্যবহার করে কাউকে প্রা ণ ঘা তীভাবে আ ক্র ম ণ করা, ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়া দিয়ে কাউকে সাময়িকভাবে দৃষ্টিহীন করা, একাধিক ব্যক্তিকে অক্ষম করা এবং হা ম লার পরিস্থিতিতে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন। তিনি ইতিহাসে ব্যবহৃত প্রা ণ ঘা তী অ স্ত্র সম্পর্কেও জানতে চেয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।   তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এসব প্রশ্নের উত্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কী জানিয়েছিল, সেটি এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। ফরেনসিক পরীক্ষার সময় কেনেথের ল্যাপটপে থাকা গুগলের অনুসন্ধানসংক্রান্ত তথ্য থেকে প্রশ্নগুলোর সন্ধান পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা তাই এখন পর্যন্ত মূলত তার করা অনুসন্ধানগুলোকে ডিজিটাল প্রমাণের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছেন।   এর আগে জুলাই মাসে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে পুলিশ সূত্রের বরাতে বলা হয়েছিল, কেনেথ কয়েক মাস ধরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে হ ত্যা কাণ্ড এবং পরে প্রমাণ গোপন করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানতে চেয়েছিলেন। কীভাবে র ক্তের দাগ পরিষ্কার করা যায়, ম র দে হ সরানো বা গোপন করা যায় এবং পরিকল্পিত ক্লাউড কিচেনের জন্য তৈরি একটি চুল্লি অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব কি না, এমন বিষয়ও তার অনুসন্ধানে ছিল বলে তখন দাবি করেছিলেন তদন্তকারীরা।   মামলার সাম্প্রতিক চার্জশিটে আর্থিক বিরোধকেও সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শ্বেতা এক বছরের মধ্যে কেনেথের জন্য মোট প্রায় ৫২ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। এর মধ্যে ব্যবসার জন্য ৩০ লাখ রুপির ঋণ, দুটি ব্যাংক থেকে ব্যক্তিগত ঋণ এবং বন্ধু, আত্মীয় ও পরিচিতদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ ছিল।   ঋণের কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় একটি ব্যাংকের নোটিশ শ্বেতার বাবা-মায়ের বাড়িতে পৌঁছায়। এর পরই তার পরিবার বড় অঙ্কের ঋণের বিষয়টি জানতে পারে। চার্জশিট অনুযায়ী, এ নিয়ে শ্বেতার বাবা-মা ও কেনেথের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। সোমাসুন্দর কেনেথের কাছে অর্থের ব্যবহার এবং ঋণের বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন বলেও তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।   পুলিশের অভিযোগ, ২২ জুন রাতে সেই বিরোধের পর শ্বেতার বাবা সোমাসুন্দর, মা মুথুলক্ষ্মী এবং বোন সুপ্রিয়ার ওপর হা ম লা চালান কেনেথ। গুরুতর আ হ ত অবস্থায় সোমাসুন্দর অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বেরিয়ে সিঁড়ি পর্যন্ত যেতে সক্ষম হন। সেখানে তিনি নিরাপত্তাকর্মী ও অন্যদের কাছে ভেতরে তার স্ত্রী ও মেয়ের ওপর হা ম লার কথা জানান বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে তার মৃ ত্যু হয়। মুথুলক্ষ্মী ও সুপ্রিয়াকেও একাধিক ধারালো অ স্ত্রের আঘাতসহ পাওয়া যায় এবং তারা মা রা যান।   আদালতে রেকর্ড করা শ্বেতার বক্তব্যও চার্জশিটে রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি কেনেথের বিরুদ্ধে তার বাবা-মা ও বোনকে আ ক্র ম ণের অভিযোগ করেছেন বলে ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে মামলার বিচার এখনো শেষ হয়নি। ফলে অভিযোগগুলো আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কেনেথ ও শ্বেতাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।   তদন্তে ঘটনাস্থল থেকে ভিনেগার ও মরিচের গুঁড়ার মিশ্রণ থাকা একটি বোতলও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। হোয়াইটফিল্ড বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ সাইদুলু আদাভাত জানিয়েছেন, বোতলটি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। ল্যাপটপে পাওয়া অনুসন্ধানের সঙ্গে ঘটনাস্থলের এই আলামতের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার ফল ও আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় স্পষ্ট হবে।   ঘটনার দুই দিন পর ২৪ জুন পুদুচেরি থেকে শ্বেতাকে গ্রে প্তা র করে পুলিশ। এর দুই দিনের মধ্যে কেনেথকেও গ্রে প্তা র করা হয়। পরে তদন্তে ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন, সাক্ষ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া আলামত সংগ্রহ করা হয়।   এই মামলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলেও তদন্তকারীরা এখনো বলেননি যে কোনো এআই ব্যবস্থা হ ত্যা কাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছিল বা অ প রা ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিল। পুলিশের কাছে এখন পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযুক্ত ব্যক্তি অ প রা ধের আগে কী ধরনের তথ্য খুঁজেছিলেন এবং সেই অনুসন্ধানগুলো পরিকল্পিত হ ত্যা র অভিযোগের সঙ্গে কতটা সম্পর্কিত।   বেঙ্গালুরু পুলিশের জমা দেওয়া চার্জশিটের ভিত্তিতে এখন আদালতেই নির্ধারিত হবে ডিজিটাল অনুসন্ধান, আর্থিক বিরোধ, ফরেনসিক আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণ মিলিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়।

মিশিগানে আবদুল এল-সায়েদের প্রচারে বারাক ওবামা
মিশিগানের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট লড়াইয়ে আবদুল এল-সাইদের পাশে ডেট্রয়েটে প্রচারে নামছেন ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদের পক্ষে প্রচারে নামছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে একটি নির্বাচনী সমাবেশে এল-সাইদের সঙ্গে অংশ নেবেন তিনি। মিশিগানের ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে ওবামার সরাসরি অংশগ্রহণকে দলটির প্রার্থীদের প্রতি বড় ধরনের সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে।   মিশিগান ডেমোক্র্যাটিক পার্টি জানিয়েছে, ২৪ অক্টোবরের ওই সমাবেশে ওবামার সঙ্গে থাকবেন অঙ্গরাজ্যের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন এবং অন্যান্য ডেমোক্র্যাট নেতা। অনুষ্ঠানটি মিশিগানে আগাম সশরীরে ভোট দেওয়ার শুরুর দিনেই হওয়ার কথা রয়েছে।   এল-সায়েদ নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওবামার অংশগ্রহণের বিষয়টি ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ২৪ অক্টোবর শনিবার ডেট্রয়েটে প্রচারে তার সঙ্গে থাকবেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান ও সময় পরে জানানো হবে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।   মিশিগানের এই সিনেট আসনটি বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দখলে থাকলেও এটি উন্মুক্ত আসন। অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার জন্য লড়ছেন এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্স। নভেম্বরের নির্বাচনে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।   এল-সায়েদ আগস্টে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে মডারেট প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে খুব অল্প ব্যবধানে হারিয়ে দলটির প্রার্থী হন। প্রাইমারি শেষ হওয়ার পর থেকে তিনি দলের বিভিন্ন অংশের সমর্থন একত্র করার চেষ্টা করছেন। এর আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসও ডেট্রয়েটে এল-সায়েদের সঙ্গে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন।   ওবামার অংশগ্রহণ এমন এক সময়ে আসছে, যখন মিশিগানের সিনেট লড়াই বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েকটি জরিপে এল-সায়েদ ও রজার্সের মধ্যে ব্যবধান খুব কম দেখা গেছে। ফক্স নিউজের ২৪ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে এল-সায়েদ ৫০ শতাংশ এবং রজার্স ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। জরিপটিতে ১ হাজার ২৮ জন সম্ভাব্য ভোটার অংশ নেন এবং সম্ভাব্য ভোটারদের ক্ষেত্রে নমুনা ত্রুটির সীমা ছিল ৩ শতাংশ।   মারিস্ট ইউনিভার্সিটির আরেক জরিপে এল-সায়েদ ৫১ শতাংশ এবং রজার্স ৪৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এই জরিপ ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর ১ হাজার ২৩৫ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। আবার ট্রাফালগার গ্রুপের ২৮ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের জরিপে এল-সায়েদ ৪৭ শতাংশ এবং রজার্স ৪৫ শতাংশ সমর্থন পান।   তবে জরিপের ফলাফলকে নির্বাচনের ফল হিসেবে দেখা যায় না। বিভিন্ন জরিপে নমুনা, ভোটার বাছাই এবং পদ্ধতিগত পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য শুধু নির্বাচনের আগে ভোটারদের অবস্থানের একটি চিত্র তুলে ধরে।   এল-সায়েদের প্রচারে অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক সুযোগ এমন মানুষের দিকে বেশি যাচ্ছে, যারা ইতোমধ্যে আর্থিকভাবে সফল। তার বক্তব্যে সাধারণ মানুষের জন্য আরও সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।   অন্যদিকে রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স এল-সায়েদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং তার সঙ্গে বামঘেঁষা অনলাইন ব্যক্তিত্ব হাসান পাইকার সম্পর্ককে প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। এল-সায়েদ পাইকারকে তার বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং তার বিশাল অনুসারী গোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর আগ্রহের কথাও বলেছেন। রজার্সের প্রচারে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে।   এল-সায়েদ প্রাইমারিতে জয় পাওয়ার পর দলের মধ্যপন্থী ভোটারদের কাছে পৌঁছানোরও চেষ্টা করছেন। তার প্রচারে দলের জাতীয় পর্যায়ের পরিচিত নেতাদের অংশগ্রহণ সেই প্রচেষ্টার একটি অংশ। ওবামার পাশাপাশি কমালা হ্যারিসের আগের প্রচারও এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।   ওবামার জন্যও মিশিগান অপরিচিত রাজনৈতিক মঞ্চ নয়। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় তিনি ডেট্রয়েটে প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন। এবার ২৪ অক্টোবরের সমাবেশটি মিশিগানে আগাম সশরীরে ভোট শুরুর সঙ্গে মিলছে। ফলে ডেমোক্র্যাটরা এই সমাবেশের মাধ্যমে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করবে।   এদিকে মিশিগানে গভর্নর নির্বাচনও একই সময়ে অনুষ্ঠিত হবে। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জোসেলিন বেনসন রিপাবলিকান প্রার্থী জন জেমসের মুখোমুখি হচ্ছেন। ২৪ অক্টোবরের সমাবেশে বেনসনের উপস্থিতি থাকায় ওবামার সফর শুধু সিনেট নয়, অঙ্গরাজ্যের অন্যান্য ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের প্রচারেও ভূমিকা রাখবে।   নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ওবামা আরও বেশি নির্বাচনী প্রচারে যুক্ত হচ্ছেন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, তিনি ডেমোক্র্যাট সিনেট ও গভর্নর প্রার্থীদের জন্য বেশ কয়েকটি বিজ্ঞাপন রেকর্ড করেছেন এবং সামনে আরও প্রচার কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজনীতি

  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

মতামত

বিশ্ব

View more
প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণ এখনো অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও চড়েননি বিমানে
প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ১০:০

আধুনিক বিশ্বে বিমান ভ্রমণকে অনেকের কাছে স্বাভাবিক যাতায়াতের মাধ্যম মনে হলেও বৈশ্বিক চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সাম্প্রতিক গবেষণা অনুযায়ী, বিশ্বের ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও বিমানে চড়েননি। অর্থাৎ প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার ফ্লাইট চলাচল করলেও বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এখনো পৃথিবীর তুলনামূলক ছোট একটি জনগোষ্ঠীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ।   ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট জনসংখ্যার এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষ জীবনে অন্তত একবার বিমানে ভ্রমণ করেছেন। সেই হিসাবে পৃথিবীর ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের এখনো বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নেই। অর্থনৈতিক সামর্থ্য, ভৌগোলিক অবস্থান এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিমান পরিবহনের সুযোগের পার্থক্য এই বৈষম্যের সঙ্গে যুক্ত।   বিমান চলাচল নিয়ে এর আগের একটি বহুল উদ্ধৃত গবেষণাতেও বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণে বড় ধরনের বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছিল। ২০২০ সালে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ২০১৮ সালের বৈশ্বিক বিমান ভ্রমণের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা হিসাব করেছিলেন, সে বছর বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন।   আন্তর্জাতিক বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংখ্যাটি ছিল আরও কম। গবেষণাটির হিসাবে, ২০১৮ সালে বিশ্বের জনসংখ্যার মাত্র প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পর্যটন এবং নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণকে যতটা সাধারণ ঘটনা বলে মনে হতে পারে, বৈশ্বিক জনসংখ্যার হিসাবে সেই অভিজ্ঞতা আসলে খুব অল্প মানুষের মধ্যে কেন্দ্রীভূত।   তবে একটি নির্দিষ্ট বছরে কত শতাংশ মানুষ বিমানে ভ্রমণ করেছেন এবং জীবনে কখনো বিমানে চড়েছেন কি না, এই দুটি হিসাব এক নয়। ২০১৮ সালে প্রায় ১১ শতাংশ মানুষের বিমান ভ্রমণের তথ্যের অর্থ এই নয় যে বাকি ৮৯ শতাংশ মানুষ জীবনে কখনো বিমানে ওঠেননি। জীবদ্দশায় বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার হিসাব আলাদা।   বিমান চলাচলের আরেকটি বড় বৈষম্য দেখা যায় ঘনঘন ভ্রমণকারীদের ক্ষেত্রে। আগের গবেষণায় হিসাব করা হয়েছিল, বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষ যাত্রীবাহী বিমান চলাচল থেকে তৈরি কার্বন নিঃসরণের ৫০ শতাংশের বেশি অংশের জন্য দায়ী।   অর্থাৎ বিশ্বের বিপুলসংখ্যক মানুষ জীবনে কখনো বিমানে না চড়লেও ছোট একটি জনগোষ্ঠী বছরে একাধিকবার কিংবা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করছে। ফলে বিমান খাতের পরিবেশগত প্রভাবও বিশ্বের মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ হয়ে নেই।   বিশেষ করে উচ্চ আয়ের দেশগুলোর মানুষের মধ্যে বিমান ভ্রমণের হার তুলনামূলক বেশি। ব্যবসা, পর্যটন, পারিবারিক ভ্রমণ এবং আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের কারণে এসব দেশের একটি অংশের মানুষের কাছে বছরে একাধিকবার বিমানে ওঠা স্বাভাবিক ঘটনা।   অন্যদিকে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বিভিন্ন দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জন্য বিমানের টিকিট এখনো বড় ব্যয়। শুধু টিকিটের মূল্য নয়, বিমানবন্দরে পৌঁছানোর খরচ, আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে ভিসা ও অন্যান্য ব্যয় এবং অনেক অঞ্চলে পর্যাপ্ত বিমান যোগাযোগ না থাকাও বিমান ভ্রমণের সুযোগকে সীমিত করতে পারে।   এ কারণেই বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক বিমানযাত্রা হলেও সেই সংখ্যা দেখে কতজন আলাদা মানুষ বিমানে চড়ছেন, তা বোঝা যায় না। একজন নিয়মিত যাত্রী বছরে বহুবার বিমান ভ্রমণ করতে পারেন এবং প্রতিটি যাত্রাই মোট যাত্রী চলাচলের হিসাবে আলাদাভাবে যুক্ত হয়।   উদাহরণ হিসেবে একজন ব্যবসায়ী বা নিয়মিত পর্যটক বছরে ১০ বার বিমানে ভ্রমণ করলে মোট যাত্রার হিসাবে ১০টি ভ্রমণ যোগ হবে। অন্যদিকে পৃথিবীর অন্য প্রান্তে থাকা একজন মানুষ হয়তো পুরো জীবনেই একবারও বিমানে ওঠার সুযোগ পাননি। ফলে মোট ফ্লাইট বা মোট যাত্রীযাত্রার সংখ্যা দিয়ে বিমান ভ্রমণ কত মানুষের নাগালে পৌঁছেছে, তার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যায় না।   গবেষণায় বিমান ভ্রমণের সঙ্গে আয় ও সম্পদের সম্পর্কও সামনে এসেছে। উচ্চ আয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত বিমান ভ্রমণের প্রবণতা বেশি হওয়ায় বিমান চলাচল থেকে তৈরি পরিবেশগত প্রভাবও তুলনামূলকভাবে সেই জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি কেন্দ্রীভূত।   বিশ্বের শীর্ষ ঘনঘন বিমানযাত্রীদের ছোট একটি অংশের ভ্রমণের কারণেই যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের মোট কার্বন নিঃসরণের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের মাত্র ১ শতাংশ মানুষের সঙ্গে বিমান খাতের অর্ধেকের বেশি কার্বন নিঃসরণের সম্পর্ক থাকার হিসাব এই বৈষম্যের মাত্রা তুলে ধরে।   তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত “বিশ্বের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ কখনো বিমানে চড়েননি” দাবিটিকে আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থার বর্তমান সরাসরি হিসাব হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। সাম্প্রতিক গবেষণায় বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশেরও কম মানুষের জীবনে বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা থাকার কথা বলা হয়েছে, যা ৮০ শতাংশের বেশি মানুষের কখনো বিমানে না চড়ার হিসাবকে সমর্থন করে।   এ তথ্য এমন এক বৈশ্বিক বাস্তবতা সামনে আনে, যেখানে বিমান প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক আকাশপথ ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হলেও এর ব্যবহার এখনো মানুষের মধ্যে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। বিশ্বের একটি অংশের কাছে বিমান ভ্রমণ দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক ঘটনা হলেও অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি এখনো অনভিজ্ঞ একটি বিষয়।   একই সঙ্গে বিমান চলাচলের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে আলোচনাতেও এই বৈষম্য গুরুত্বপূর্ণ। যারা কখনো বিমানে ওঠেননি, তাঁরাও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারেন। অথচ যাত্রীবাহী বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণের বড় অংশ তৈরি হচ্ছে তুলনামূলকভাবে ছোট একটি নিয়মিত যাত্রীগোষ্ঠীর ভ্রমণ থেকে।   সব মিলিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের আকাশে হাজার হাজার বিমান চললেও বিমান ভ্রমণ এখনো সর্বজনীন অভিজ্ঞতা হয়ে ওঠেনি। গবেষণার হিসাবে, পৃথিবীর ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ জীবনে একবারও বিমানে চড়েননি। অন্যদিকে যারা নিয়মিত বিমান ভ্রমণ করেন, তাঁদের মধ্যেও খুব ছোট একটি অংশ বিমান চলাচলের কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী।

মেঝেতে শুয়েই ওয়াইটের চুল কাটছেন নাপিত ফ্রাঞ্জ
অটিজমে আক্রান্ত শিশুর চুল কাটতে মেঝেতে শুয়ে পড়েন নাপিত, ছবি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে
প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৫:৩

ছয় বছর বয়সী ওয়াইটের জন্য চুল কাটানো বরাবরই বেশ কঠিন একটি অভিজ্ঞতা। নাপিতের দোকানের শব্দ, শরীরে অন্য কারও স্পর্শ এবং দীর্ঘ সময় এক জায়গায় স্থির হয়ে বসে থাকা—এই বিষয়গুলো তার জন্য অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। অটিজমে আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি অনেক সময় আরও বেশি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও চুল কাটার সময় স্বাভাবিকভাবে চেয়ারে বসে থাকা সহজ নয়।   কানাডার কুইবেকে নাপিত ফ্রান্সিস ‘ফ্রাঞ্জ’ জ্যাকবের কাছে গত দুই বছর ধরে ওয়াইটের চুল কাটাচ্ছেন তার মা ফভি লাফ্রেনিয়ের। এই সময়ের মধ্যে ফ্রাঞ্জ বুঝে গেছেন, ওয়াইটকে অন্য শিশুদের মতো চেয়ারে বসিয়ে রেখে চুল কাটা সম্ভব নয়। তাই শিশুটিকে নিজের মতো করে স্বস্তিতে থাকার সুযোগ দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে চুল কাটার কাজটি করা যায়, সেই পথই বেছে নিয়েছেন তিনি। চুল কাটার সময় ওয়াইট অনেক সময় নাপিতের চেয়ারে বসে থাকতে পারে না। সে বারবার উঠে দোকানের ভেতর হাঁটাহাঁটি করে। কখনো কোথাও দাঁড়িয়ে থাকে, আবার কখনো মেঝেতে শুয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে তাকে জোর করে চেয়ারে বসিয়ে রাখার চেষ্টা করেননি ফ্রাঞ্জ। বরং ওয়াইট যেখানে যায়, সেখানেই তাকে অনুসরণ করে চুল কাটার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এই কাজটি সহজ করার জন্য ফ্রাঞ্জ কর্ডলেস ক্লিপার কিনেছেন। ফলে বৈদ্যুতিক তার বা নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকার প্রয়োজন হয় না। ওয়াইট দোকানের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে গেলেও ফ্রাঞ্জ তার সঙ্গে সঙ্গে যেতে পারেন। কখনো ওয়াইট মেঝেতে শুয়ে পড়লে ফ্রাঞ্জও মেঝেতে বসে বা শুয়ে চুল কাটার কাজ চালিয়ে যান। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুটিকে অস্বস্তিতে না ফেলে প্রয়োজনীয় কাজটি শেষ করা। সম্প্রতি ওয়াইটের চুল কাটার সময় ফ্রাঞ্জের মেঝেতে শুয়ে কাজ করার একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ছবিতে দেখা যায়, প্রচলিত নিয়মে চেয়ারে বসিয়ে চুল কাটার পরিবর্তে নাপিত শিশুটির অবস্থানের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে কাজ করছেন। ছবিটি মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে যে বিষয়টি অনেকের কাছে ব্যতিক্রমী মনে হয়েছে, ফ্রাঞ্জের কাছে সেটি তার কাজেরই একটি স্বাভাবিক অংশ। তিনি নিয়মিত অটিজমে আক্রান্ত শিশু এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটেন। তাই এসব শিশুর আচরণ, অস্বস্তি এবং প্রয়োজনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের চুল কাটার ক্ষেত্রে সময়ও তুলনামূলকভাবে বেশি লাগে। ফ্রাঞ্জের ক্ষেত্রে কোনো কোনো চুল কাটার জন্য ৯০ মিনিট পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কারণ সেখানে শুধু দ্রুত চুল কেটে দেওয়া নয়, শিশুটির স্বস্তি নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ওয়াইটের ক্ষেত্রেও ফ্রাঞ্জ ধৈর্য ধরে কাজ করেন। শিশু হাঁটতে চাইলে তাকে হাঁটার সুযোগ দেন। কোথাও থেমে গেলে পরিস্থিতি অনুযায়ী অপেক্ষা করেন। মেঝেতে শুয়ে পড়লে প্রয়োজনে সেখানেই চুল কাটেন। অর্থাৎ শিশুটিকে নিজের কাজের নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বদলে তিনি নিজের কাজের পদ্ধতিটিই শিশুটির প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নিয়েছেন। ফ্রাঞ্জের এই আচরণ শুধু ওয়াইটের পরিবারের জন্যই স্বস্তির কারণ হয়নি, বরং অন্য অনেক পরিবারের কাছেও তাকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। তার মানবিক ও ধৈর্যশীল আচরণের কথা ছড়িয়ে পড়ায় দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ তার কাছে শিশুদের চুল কাটাতে আসেন। কেউ কেউ তার কাছে পৌঁছাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পথও পাড়ি দেন। একটি শিশুর আচরণকে বিরক্তিকর বা সমস্যাজনক হিসেবে না দেখে তার প্রয়োজন বুঝে কাজ করার এই পদ্ধতিই ফ্রাঞ্জকে আলাদা করে তুলেছে। চুল কাটার মতো সাধারণ একটি কাজও অটিজমে আক্রান্ত কোনো শিশুর জন্য কতটা কঠিন হতে পারে, ওয়াইটের ঘটনাটি সেটিই সামনে এনেছে। ওয়াইটের চুল কাটার সেই ভাইরাল ছবিটি তাই শুধু একজন নাপিতের ভিন্নভাবে কাজ করার দৃশ্য নয়। এটি একজন শিশুর প্রয়োজনের প্রতি ধৈর্য, সহমর্মিতা ও সম্মান দেখানোর একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ফ্রাঞ্জের জন্য বিষয়টি হয়তো তার প্রতিদিনের কাজেরই অংশ, কিন্তু তার এই ছোট্ট উদ্যোগই অনেক মানুষের কাছে বড় মানবিকতার বার্তা হয়ে পৌঁছেছে।

গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে
গাজায় ইসরায়েলিদের চালানো নির্যাতন ও বেসামরিক প্রাণহানি নিয়ে তথ্যচিত্র 'নাজা' যুক্তরাষ্ট্রের সিনেমা হলে
প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৪:৩৪

গাজায় ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হচ্ছে। ইসরায়েলি পরিচালক ইউভাল আব্রাহাম ও র‍্যাচেল সোরের ছবিটিতে কয়েকজন সেনা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তার বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁদের দাবি, হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের সময় সম্ভাব্য বেসামরিক প্রাণহানির হিসাব করা হতো। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী তথ্যচিত্রটির মূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে।    গত ৩০ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের আইএফসি সেন্টারে ছবিটির প্রদর্শন শুরু হয়। আগামী ৯ অক্টোবর থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগোসহ যুক্তরাষ্ট্রের আরও কয়েকটি শহরে এটি মুক্তি পাওয়ার কথা। এর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে ‘নাজা’ বিশেষ জুরি পুরস্কার পায়।    তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকার দেওয়া ব্যক্তিদের মুখ ও কণ্ঠ গোপন রাখা হয়েছে। তাঁরা গাজায় নজরদারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং হামলার লক্ষ্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কথা বলেছেন। নির্মাতাদের বক্তব্য, পরিচয় প্রকাশ পেলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশঙ্কা ছিল। সাক্ষাৎকারদাতাদের দাবিগুলো চলচ্চিত্র নির্মাণের সময় যাচাই করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। তবে ছবিতে তুলে ধরা প্রতিটি ঘটনার বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।    ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভাষ্য, তাদের নির্দেশনায় যোদ্ধা ও বেসামরিক মানুষের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে করা হয় এবং বেসামরিক ক্ষতি কমানোর চেষ্টা থাকে। বাহিনীটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের কথা স্বীকার করলেও বলেছে, হামলার লক্ষ্য গোয়েন্দা কর্মকর্তারা নির্বাচন করেন এবং হামলার সিদ্ধান্ত নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কমান্ডাররা।    ছবিটি ঘিরে ইসরায়েলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এর সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে নিউইয়র্কে ছবিটির প্রদর্শনীর বাইরেও বিক্ষোভ হয়েছে। নির্মাতা আব্রাহাম বলেছেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলা অন্যায় ছিল; একই সঙ্গে সেই হামলা গাজায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানিকে ন্যায্যতা দেয় না।    ‘নাজা’ যুক্তরাষ্ট্রে মুক্তি পাওয়ায় গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। তবে তথ্যচিত্রে সাক্ষাৎকারদাতাদের অভিযোগ, নির্মাতাদের বক্তব্য এবং ইসরায়েলি বাহিনীর জবাব আলাদা করে বিবেচনা করা জরুরি।    সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ান।

ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু
ফ্রান্স থেকে অবৈধ পথে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টায় নৌকায় দুইজনের মৃত্যু, দগ্ধ দুই নারী
প্রকাশ: অক্টোবর ৬, ২০২৬ ৪:১৩

ফ্রান্সের উত্তরাঞ্চলীয় বের্ক উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে যুক্তরাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় একটি নৌকায় দুই পুরুষের মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ হয়েছেন আরও দুইজন। রোববার ৪ অক্টোবর রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে ঘটনাটি ঘটে। ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের হিসাবে নৌকাটিতে প্রায় ৯০ জন ছিলেন।   উদ্ধারকারীরা দুই পুরুষকে হৃদ্‌যন্ত্র ও শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ অবস্থায় পান। পরে তাঁদের মৃত ঘোষণা করা হয়। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এএফপিকে জানিয়েছে, একজনের বয়স ত্রিশের কোঠায়, অন্যজনের চল্লিশের কোঠায়। তাঁদের জাতীয়তা তখনো জানা যায়নি।   বুলোন-সুর-মেরের প্রসিকিউটর সেসিল গ্রেসিয়ে এএফপিকে বলেন, তাঁরা একজন নারী ও প্রায় ১০ বছর বয়সী এক মেয়ে। শিশুটিকে লিলের বিশেষায়িত বার্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।    ফরাসি সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকায় থাকা পেট্রলের দীর্ঘ সংস্পর্শে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, নৌকার ভেতরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও দুই পুরুষের মৃত্যুর সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি নির্ধারণে তদন্ত চলছে। আহতদের বিষয়ে প্রাথমিক ও পরবর্তী বিবরণে পার্থক্য থাকায় তদন্তের ফলের আগে ঘটনার সব দিক নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।    প্রসিকিউটরের তথ্য অনুযায়ী, হতাহতদের উদ্ধার করার পরও নৌকাটি যাত্রা চালিয়ে যায়। পরে ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দিলে বাকি যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক যে প্রতিবেদনে নৌকার ইঞ্জিনে আগুন লাগার কথা বলা হয়েছিল, সেটি ফরাসি কর্তৃপক্ষের পরবর্তী বিবরণে নিশ্চিত করা হয়নি।    এর আগের দিন, রোববার, আরেকটি নৌকার প্রায় ১৪৯ জন যাত্রীকে ইংল্যান্ডের গসপোর্টে তীরে আনা হয়। সেটি বের্কের প্রাণহানির ঘটনা থেকে আলাদা। গসপোর্টে তাঁদের পৌঁছানো ঘিরে বিক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলার ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।    সূত্র: ফরাসি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে এএফপি ও রয়টার্স; গসপোর্টের ঘটনায় হ্যাম্পশায়ার পুলিশ।

Follow us

Trending

বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু
বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনার পর তরুণীর মৃত্যু, এক বছরের সাজায় ক্যালিফোর্নিয়ার আইন পরিবর্তনের দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন।   মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়।   তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।”   ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে।   প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন।   ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন।   প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল।   মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি।   রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।

জুন ২৬, ২০২৬ ১৪:০
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
ক্যারিয়ার
বিজ্ঞান
অন্যান্য
সাপ্তাহিক পত্রিকা
সাহিত্য
আইন-আদালত
শিক্ষা
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশ
জাতীয়