স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বিদেশ সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেলেও কোন দেশে গেছেন এবং সফরের উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মন্ত্রী হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বিদেশ সফর করলেও এবার তার সফর নিয়ে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়নি। মন্ত্রীর দপ্তর ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও দেখা গেছে ভিন্নতা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, কেউ বলছেন চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে গেছেন। আবার কেউ দাবি করছেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং ১৮ মে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের জন্য সরকারি আদেশ বা জিও প্রয়োজন হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-৬) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের জন্য জিও জারি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিওতে পারিবারিক সফরে যুক্তরাজ্য ভ্রমণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) এটিএম শাহীন আহমেদ জানান, ১৩ মে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ ত্যাগ করেন। তবে তিনি কোন দেশে গেছেন বা সফরের কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা দাবি করেন, সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথমে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। পরে সেখান থেকে তিনি লন্ডনে যান, যেখানে তার কন্যা বসবাস করেন। এদিকে একই সময়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা দেখা গেলেও লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কূটনীতিক এমন দাবি নাকচ করেছেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির সম্মানে একটি নৈশভোজ আয়োজন করা হয়েছিল, তবে সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লন্ডনে অবস্থান করছেন কি না, সে সম্পর্কেও হাইকমিশনের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লন্ডনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সোমবার (১৮ মে) দেশে ফিরবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একই ফ্লাইটে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তথ্য সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্কে নিজের একটি বাড়ি কেনা এখন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্ট্রিটইজির ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক শহরের গড় আয়ের একজন বাসিন্দার একটি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্ট জমাতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ২০ বছরের সঞ্চয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম আয়ের একজন ব্যক্তি যদি প্রতি বছর তার আয়ের ১০ শতাংশ নিয়মিতভাবে সঞ্চয় করেন, তাহলেও একটি সাধারণ বাড়ির ২০ শতাংশ প্রাথমিক অর্থ জোগাড় করতে তার প্রায় দুই দশক সময় লাগতে পারে। স্ট্রিটইজির তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে নিউইয়র্ক শহরে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে একটি বাড়ি কিনতে প্রাথমিক অর্থ হিসেবে প্রয়োজন পড়ছে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম পারিবারিক আয় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ডলার। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ও শিক্ষাঋণের খরচ বহন করার পর এত বড় অঙ্কের অর্থ সঞ্চয় করা অধিকাংশ পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসনের মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং ভাড়াবাড়ির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ভাড়ার বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে বাড়ি কেনা কঠিন হলেও ভাড়ার বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। বিভিন্ন আবাসন বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিউইয়র্কে ভাড়াবাড়ির খরচও এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ফলে যারা বাড়ি কিনতে পারছেন না, তাদের অনেকেই উচ্চ ভাড়ার চাপ সামলে সঞ্চয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিউইয়র্কে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
আটলান্টা: যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের জন্য নিরাপত্তা খাতে কাজের সুযোগ নিয়ে এসেছে জর্জিয়াভিত্তিক বাংলাদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান “আরসিয়াস সিকিউরিটি সার্ভিসেস”। প্রতিষ্ঠানটি সশস্ত্র (আর্মড) ও নিরস্ত্র (আনআর্মড) সিকিউরিটি অফিসার পদে জনবল নিয়োগ দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিকিউরিটি পেশায় কাজ করতে আগ্রহী যেকোনো পূর্ণবয়স্ক বাংলাদেশি এই চাকরির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফুল-টাইম ও পার্ট-টাইম—উভয় ধরনের কাজের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কর্মীদের জন্য ফ্লেক্সিবল কর্মঘণ্টার সুবিধাও রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম মূলত বৃহৎ আটলান্টা এলাকাকে কেন্দ্র করে পরিচালিত হচ্ছে। আটলান্টা শহর ও এর আশপাশের প্রায় ১০০ মাইল এলাকার মধ্যে বিভিন্ন স্থানে সিকিউরিটি অফিসারদের কাজের সুযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মালিক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত হওয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের আবেদন করার জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এছাড়া, পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও আগ্রহীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সিকিউরিটি অফিসারের লাইসেন্স অর্জনে সহায়তা প্রদান করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সিকিউরিটি খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। শিক্ষার্থী, নতুন অভিবাসী কিংবা অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ খুঁজছেন—এমন অনেকের জন্য এই চাকরি একটি ভালো সুযোগ হতে পারে। বিশেষ করে সিকিউরিটি খাতে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জন্য আর্মড ও আনআর্মড—দুই ধরনের কাজের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ থাকছে। আগ্রহী প্রার্থীদের সিভি পাঠাতে বলা হয়েছে নিচের ইমেইলে: info@arseasguards.com এছাড়া সরাসরি যোগাযোগ করা যাবে নিচের নম্বরে: (৩৫২) ৮০৪-১০০২ (৪০৪) ৯৯৬-৪৩৪৬
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়াশোনা এখন অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক চাকরির সুযোগের কারণে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদেশমুখী হচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জটিল ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে অনেকের পক্ষে সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও বিশ্বের কিছু দেশে তুলনামূলক কম খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। জার্মানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি। দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক স্টেম প্রোগ্রামে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সহজে ভিসা পেয়ে থাকেন। পড়াশোনা শেষে দেশটি ১৮ মাসের পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা দেয়, যা শিক্ষার্থীদের চাকরি খুঁজতে সহায়তা করে। তুরস্কও কম খরচে মানসম্মত শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা অঞ্চলের অংশ হওয়ায় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বীকৃত। সেখানে বছরে ১০০ থেকে চার হাজার ইউরোর মধ্যে পড়াশোনা করা সম্ভব। পাশাপাশি মাসিক ৪০০ থেকে ৬৫০ ইউরোর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো যায়। ফ্রান্সে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত এবং ডকুমেন্টেশনও সহজ। ব্যবসা, আতিথেয়তা ও ফ্যাশন শিক্ষার জন্য দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। একইভাবে অস্ট্রিয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম টিউশন ফি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ভিয়েনা, গ্রাজ ও ইনসব্রুকের মতো শহরগুলোতে শিক্ষার্থীরা মাসে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ইউরোর মধ্যে থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ পরিচালনা করতে পারেন। পোল্যান্ড সাশ্রয়ী শিক্ষা ব্যয়, নিরাপদ পরিবেশ এবং সহজ ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে নরওয়ে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পরিচিত। দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়াশোনা করতে পারেন। তবে বড় শহরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মাসিক খরচ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশটি সাধারণত ৩০ দিনের কম সময়ের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধাও দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক অবকাঠামোর কারণে দেশটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। ফিলিপাইন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত শিক্ষা প্রোগ্রামের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দেশটির ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ এবং টিউশন ফি পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ফলে কম খরচে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে ফিলিপাইন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক বিদেশ সফর ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। গত ১৩ মে তিনি দেশ ছেড়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেলেও কোন দেশে গেছেন এবং সফরের উদ্দেশ্য কী, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। মন্ত্রী হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বিদেশ সফর করলেও এবার তার সফর নিয়ে কোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রেস রিলিজ দেওয়া হয়নি। মন্ত্রীর দপ্তর ও ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের বক্তব্যেও দেখা গেছে ভিন্নতা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, কেউ বলছেন চিকিৎসার জন্য তিনি সিঙ্গাপুরে গেছেন। আবার কেউ দাবি করছেন, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন এবং ১৮ মে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের জন্য সরকারি আদেশ বা জিও প্রয়োজন হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (প্রশাসন-৬) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরের জন্য জিও জারি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জিওতে পারিবারিক সফরে যুক্তরাজ্য ভ্রমণের বিষয় উল্লেখ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন তিনি। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন) এটিএম শাহীন আহমেদ জানান, ১৩ মে সকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশ ত্যাগ করেন। তবে তিনি কোন দেশে গেছেন বা সফরের কারণ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলে জানান। মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তা দাবি করেন, সালাহউদ্দিন আহমদ প্রথমে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান। পরে সেখান থেকে তিনি লন্ডনে যান, যেখানে তার কন্যা বসবাস করেন। এদিকে একই সময়ে রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে অবস্থান করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা দেখা গেলেও লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক কূটনীতিক এমন দাবি নাকচ করেছেন। তিনি জানান, রাষ্ট্রপতির সম্মানে একটি নৈশভোজ আয়োজন করা হয়েছিল, তবে সেখানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লন্ডনে অবস্থান করছেন কি না, সে সম্পর্কেও হাইকমিশনের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, লন্ডনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার সাক্ষাৎ হয়নি। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন সোমবার (১৮ মে) দেশে ফিরবেন। তবে রাষ্ট্রপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একই ফ্লাইটে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তথ্য সূত্র: টাইমস অব বাংলাদেশ
বিশ্বের অন্যতম ব্যয়বহুল নগরী নিউইয়র্কে নিজের একটি বাড়ি কেনা এখন মধ্যবিত্ত ও সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে। আবাসনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান স্ট্রিটইজির ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিউইয়র্ক শহরের গড় আয়ের একজন বাসিন্দার একটি বাড়ির প্রাথমিক অর্থ বা ডাউন পেমেন্ট জমাতে প্রয়োজন হতে পারে প্রায় ২০ বছরের সঞ্চয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম আয়ের একজন ব্যক্তি যদি প্রতি বছর তার আয়ের ১০ শতাংশ নিয়মিতভাবে সঞ্চয় করেন, তাহলেও একটি সাধারণ বাড়ির ২০ শতাংশ প্রাথমিক অর্থ জোগাড় করতে তার প্রায় দুই দশক সময় লাগতে পারে। স্ট্রিটইজির তথ্য অনুযায়ী, গত এপ্রিল মাসে নিউইয়র্ক শহরে একটি বাড়ির মধ্যম মূল্য ছিল প্রায় ১০ লাখ ৪০ হাজার ডলার। সেই হিসাবে একটি বাড়ি কিনতে প্রাথমিক অর্থ হিসেবে প্রয়োজন পড়ছে প্রায় ২ লাখ ৯ হাজার ডলার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জনশুমারি ব্যুরোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিউইয়র্ক শহরের মধ্যম পারিবারিক আয় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ডলার। ফলে জীবনযাত্রার ব্যয়, কর, স্বাস্থ্যসেবা, যাতায়াত ও শিক্ষাঋণের খরচ বহন করার পর এত বড় অঙ্কের অর্থ সঞ্চয় করা অধিকাংশ পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসনের মূল্য বৃদ্ধি, উচ্চ সুদের হার এবং ভাড়াবাড়ির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন প্রজন্মের অনেকেই বাড়ি কেনার পরিকল্পনা পিছিয়ে দিচ্ছেন। অনেক পরিবার দীর্ঘ সময় ভাড়ার বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছে। এদিকে বাড়ি কেনা কঠিন হলেও ভাড়ার বাজারেও তেমন স্বস্তি নেই। বিভিন্ন আবাসন বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিউইয়র্কে ভাড়াবাড়ির খরচও এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়েছে। ফলে যারা বাড়ি কিনতে পারছেন না, তাদের অনেকেই উচ্চ ভাড়ার চাপ সামলে সঞ্চয় করতে হিমশিম খাচ্ছেন। আবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে নিউইয়র্কে নিজস্ব বাড়ির মালিক হওয়া সাধারণ আয়ের মানুষের জন্য আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান 'এয়ারবাস' বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য তাদের বহরের একটি সংশোধিত নতুন প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িংয়ের সাথে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির সাম্প্রতিক মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের চুক্তির পরই এয়ারবাস তাদের আগের প্রস্তাব কমিয়ে ১০টি উড়োজাহাজে নামিয়ে এনেছে। এয়ারবাস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির কাছে এই নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে, যেখানে ৪টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং ৬টি এ৩২১ নিও ন্যারো-বডি জেটের অফার দেওয়া হয়েছে। গত ৩০ এপ্রিল মার্কিন বোয়িংয়ের সাথে বিমানের ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক দিন পরই এয়ারবাসের এই সংশোধিত প্রস্তাবটি সামনে এল। বোয়িংয়ের সাথে হওয়া ওই চুক্তির আওতায় বিমান বোয়িং থেকে ৮টি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সসহ মোট ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবেই এয়ারবাস তাদের আগের প্রস্তাবটি কাটছাঁট করেছে। এর আগে এয়ারবাস ১০টি এ৩৫০ ওয়াইড-বডি জেট এবং ৪টি এ৩২০ নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বিমানের প্রস্তাব দিয়েছিল। গত ৫ মে এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে বিমানের জন্য একটি মিশ্র বহর কাঠামো তৈরিতে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করে এয়ারবাস এবং সরকারি পক্ষও ভবিষ্যতে বহর উন্নয়নে একসাথে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করে। এয়ারবাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর তারা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করেছেন। তবে বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম এ প্রসঙ্গে জানান, প্রস্তাব পাওয়ার মানেই এই নয় যে বিমান অবশ্যই উড়োজাহাজ কিনবে। সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থ বছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ পর্যালোচনা করছে। এয়ারবাস জানিয়েছে, বিমান মিশ্র বহর চালুর সিদ্ধান্ত নিলে তারা ২০৩৩ সালের মধ্যে উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে পারবে, অন্যদিকে বোয়িং তাদের ১৪টি উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করবে। বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৯টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১৪টিই বোয়িংয়ের তৈরি। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির কূটনীতিকরা বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাংলাদেশকে উৎসাহিত করে আসছেন। তবে বোয়িং নীতিনির্ধারকদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী যোগাযোগ এবং বিস্তৃত পরিসরের অফার দিয়ে বিমানের বহরে তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইন্দোনেশিয়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের তারিখ ঘোষণা করেছে। রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যার দিকে দেশটির ধর্ম মন্ত্রণালয় জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তারিখ ঘোষণা করে। মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হিজরি ১৪৪৭ সনের পবিত্র জিলহজ মাস আগামী ১৮ মে (সোমবার) থেকে শুরু হবে এবং সেই হিসাব অনুযায়ী আগামী ২৭ মে (বুধবার) দেশটিতে পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ উদযাপিত হবে। ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনতারার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার রাজধানী জাকার্তায় আয়োজিত চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে দেশটির ধর্মমন্ত্রী নাসারুদ্দিন উমর এই ঘোষণা দেন। তিনি জানান, দেশের ৮৮টি ভিন্ন ভিন্ন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চালানো চাঁদ দেখার ফলাফল এবং জ্যোতির্বিজ্ঞান সংক্রান্ত গণনার ওপর ভিত্তি করে সর্বসম্মতিক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন চাঁদের অবস্থান ব্রুনাই, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং সিঙ্গাপুরের (MABIMS) যৌথ ধর্মীয় মানদণ্ড (চাঁদের উচ্চতা কমপক্ষে ৩ ডিগ্রি এবং কৌণিক দূরত্ব ৬.৪ ডিগ্রি) অতিক্রম করায় ১৮ মে-কে ১ জিলহজ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি দেশটির অন্যতম বৃহৎ ও প্রভাবশালী ধর্মীয় সংগঠন ‘মুহাম্মাদিয়াহ’ও একই তারিখে ঈদ উদযাপনের কথা জানিয়েছে। সংগঠনটি ‘সিঙ্গেল গ্লোবাল হিজরি ক্যালেন্ডার’ (KHGT) এবং গ্লোবাল ক্যালেন্ডার প্যারামিটার (PKG) ব্যবহার করে অনেক আগেই জানিয়েছিল যে, ২৬ মে (মঙ্গলবার) পবিত্র আরাফাত দিবস এবং ২৭ মে পবিত্র ঈদুল আজহা অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বজুড়ে মুসলিমদের হিজরি মাসের হিসাব একীভূত করার লক্ষ্যে এই বৈশ্বিক চাঁদ দৃশ্যমানতার নীতি ব্যবহার করা হয়েছে, যা কোনো নির্দিষ্ট দেশের ভৌগোলিক সীমানার ওপর নির্ভর করে না। জাকার্তায় অনুষ্ঠিত ধর্ম মন্ত্রণালয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দেশটির শীর্ষস্থানীয় আলেম-ওলামা, বিভিন্ন ইসলামিক সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে দেশজুড়ে পাওয়া চাক্ষুষ চাঁদ দেখার রিপোর্টের সঙ্গে বৈজ্ঞানিক গাণিতিক হিসাব মিলিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার এই আগাম ঘোষণার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোতেও ঈদের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পরও শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে নিউজিল্যান্ড। রোববার (১৭ মে) সচিবালয়ে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য বৈঠকে নিউজিল্যান্ডের অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইন এই আশ্বাসের কথা জানান। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি দ্বিপাক্ষিক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণকে সফল করতে দ্রুত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি অত্যন্ত অপরিহার্য। বাংলাদেশের মোট রপ্তানির বড় অংশ তৈরি পোশাক খাতনির্ভর হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে এর অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ বর্তমানে ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণের নানা উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের এদেশের সম্ভাবনাময় খাতসমূহে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বৈঠকে জানান, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যকরণ উভয় দেশের জন্যই সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের পর বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধায় যাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে নিউজিল্যান্ড বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। নিউজিল্যান্ডের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে বিশ্বস্ত ও উচ্চমানসম্পন্ন হিসেবে সুপরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল এবং দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্য কাঠামো প্রতিষ্ঠায় নিউজিল্যান্ড গভীরভাবে আগ্রহী। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষই বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদারে বিদ্যমান আঞ্চলিক কাঠামোর কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে পড়াশোনা এখন অনেক শিক্ষার্থীর স্বপ্ন। উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা এবং বৈশ্বিক চাকরির সুযোগের কারণে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী বিদেশমুখী হচ্ছেন। তবে অতিরিক্ত টিউশন ফি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জটিল ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে অনেকের পক্ষে সেই স্বপ্ন পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তবুও বিশ্বের কিছু দেশে তুলনামূলক কম খরচে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে, যেখানে স্টুডেন্ট ভিসা পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। জার্মানি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় গন্তব্যগুলোর একটি। দেশটির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অধিকাংশ ক্ষেত্রে টিউশন ফি ছাড়াই পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক স্টেম প্রোগ্রামে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা সহজে ভিসা পেয়ে থাকেন। পড়াশোনা শেষে দেশটি ১৮ মাসের পোস্ট-স্টাডি ওয়ার্ক ভিসা দেয়, যা শিক্ষার্থীদের চাকরি খুঁজতে সহায়তা করে। তুরস্কও কম খরচে মানসম্মত শিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ইউরোপীয় উচ্চশিক্ষা অঞ্চলের অংশ হওয়ায় দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ডিগ্রি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বীকৃত। সেখানে বছরে ১০০ থেকে চার হাজার ইউরোর মধ্যে পড়াশোনা করা সম্ভব। পাশাপাশি মাসিক ৪০০ থেকে ৬৫০ ইউরোর মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো যায়। ফ্রান্সে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক দ্রুত এবং ডকুমেন্টেশনও সহজ। ব্যবসা, আতিথেয়তা ও ফ্যাশন শিক্ষার জন্য দেশটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। একইভাবে অস্ট্রিয়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কম টিউশন ফি এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা রয়েছে। ভিয়েনা, গ্রাজ ও ইনসব্রুকের মতো শহরগুলোতে শিক্ষার্থীরা মাসে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ ইউরোর মধ্যে থাকা-খাওয়াসহ অন্যান্য খরচ পরিচালনা করতে পারেন। পোল্যান্ড সাশ্রয়ী শিক্ষা ব্যয়, নিরাপদ পরিবেশ এবং সহজ ভিসা প্রক্রিয়ার কারণে ধীরে ধীরে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। অন্যদিকে নরওয়ে মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থার জন্য পরিচিত। দেশটির অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা কম খরচে পড়াশোনা করতে পারেন। তবে বড় শহরগুলোতে জীবনযাত্রার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় মাসিক খরচ ৮০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ ইউরো পর্যন্ত হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা শিক্ষার জন্য জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশটি সাধারণত ৩০ দিনের কম সময়ের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা সুবিধাও দেয়। এছাড়া আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় ও আধুনিক অবকাঠামোর কারণে দেশটির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে। ফিলিপাইন চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত শিক্ষা প্রোগ্রামের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। দেশটির ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজ এবং টিউশন ফি পশ্চিমা দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম। ফলে কম খরচে মেডিকেল ও স্বাস্থ্যশিক্ষা নিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের কাছে ফিলিপাইন ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
মুহাম্মদ ইরফান সাদিক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলটির বিধায়কদলের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী-কেই মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি হতে যাচ্ছেন রাজ্যের প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী। শুক্রবার (৮ মে) কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি দলীয় বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা শেষে শুভেন্দুকে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে ঘোষণা করেন। অমিত শাহ জানান, দলনেতা নির্বাচনের জন্য একাধিক প্রস্তাব উঠলেও প্রতিটি প্রস্তাবেই একমাত্র নাম ছিল শুভেন্দু অধিকারীর। দ্বিতীয় কোনো নাম না আসায় সর্বসম্মতিক্রমেই তাকে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে শুভেন্দুর নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল। দলের ভেতরে তাকে শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। রাজ্যের রাজনীতিতে তার উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে একাধিক নির্বাচনী লড়াই। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয় পান। এরপর সাম্প্রতিক নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্রেই লড়াই করে তিনি আবারও মমতাকে পরাজিত করেন, এবং আগের তুলনায় ব্যবধানও বাড়ান। সব মিলিয়ে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক চলাচল স্বাভাবিক করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা খুঁজছেন বলে মন্তব্য করেছেন এক বিশ্লেষক। তার মতে, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ জনমতের সামনে প্রেসিডেন্টের অবস্থান রক্ষা করা। তেহরানভিত্তিক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের বিশ্লেষক আলি আকবর দারেইনি আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো দ্রুত চুক্তির ইঙ্গিত তিনি দেখছেন না। তার মতে, পরিস্থিতি এখনো অচলাবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাম্প চীনে সফরের আগে কিছু অর্জন দেখাতে চেয়েছিলেন, তবে তিনি হরমুজ প্রণালী খুলতে সামরিক বা কূটনৈতিক কোনো প্রচেষ্টাতেই সফল হননি। এই বিশ্লেষকের দাবি, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু প্রভাবশালী মহলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে এমন ধারণা দেওয়া হয়েছিল যে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করলে তেহরান নতি স্বীকার করবে। তবে বাস্তবে তা ঘটেনি। আলি আকবর দারেইনি আরও বলেন, “ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। এমনকি ভবিষ্যতেও তা সম্ভব নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের জ্বালানি সরবরাহ চলাচল করে, ফলে বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে টানা তিন কার্যদিবস ধরে বাড়ছে সোনার দাম। বৃহস্পতিবার লেনদেনের শুরুতেই মূল্যবান এই ধাতুর দাম শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত ডলারের বিনিময় মূল্য হ্রাস পাওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খবরে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বর্তমানে প্রতি আউন্স স্পট গোল্ডের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭০১ ডলারে। এর আগে গত বুধবার একদিনেই সোনার দাম প্রায় তিন শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল যা গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ। বাজার বিশ্লেষকদের মতে মার্কিন ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা এবং ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা নিরসনের আভাস পাওয়ায় বিশ্ববাজারে ডলার কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ইরান জানিয়েছে তারা বর্তমানে ওয়াশিংটনের দেওয়া একটি শান্তি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। সূত্রগুলো বলছে এই চুক্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধের অবসান হতে পারে। তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থগিত এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরার আশায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও চলতি সপ্তাহে প্রায় ছয় শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বিনিয়োগকারীরা এখন দুই দেশের কূটনৈতিক আলোচনার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। চুক্তিটি সফল হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরার পাশাপাশি বিনিয়োগের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
ঘানার একটি গ্রামের দরিদ্র যুবক আল-হাসান আবদুল্লাহকে ঘিরে একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ঘটনাটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ভাইরাল হওয়া বিবরণ অনুযায়ী, তুরস্কের একটি চলচ্চিত্র দলের ড্রোন একদিন তার গ্রামের কাছে পড়ে যায়। সেটি খুঁজতে গিয়ে দলটি আল-হাসানকে ড্রোনটি হাতে দেখতে পায়। সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো বিবরণে বলা হয়, ওই সময় তিনি মজার ছলে প্রশ্ন করেন, “এর চেয়ে বড় কোনো ড্রোন আছে কি, যা আমাকে মক্কায় নিয়ে যেতে পারে?” এরপর তার এই মন্তব্য এবং মুহূর্তটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে দাবি করা হয়, ঘটনাটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আল-হাসানকে হজ পালনের জন্য স্পনসর করা হয় এবং তিনি হজে যাওয়ার সুযোগ পান। তবে এসব তথ্যের কোনো আনুষ্ঠানিক সূত্র বা স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি মূলত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি গল্প হিসেবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। গল্পটির শেষ অংশে বলা হয়, মানুষের জীবন কখনও কখনও অপ্রত্যাশিত ঘটনাকে ঘিরে পরিবর্তিত হতে পারে এবং সুযোগ আসে এমন জায়গা থেকে, যা আগে কল্পনাও করা যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।