পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজির উপস্থিতিতে হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদে নববির ইমাম শেখ আলী আল-হুদাইফি। মঙ্গলবার মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া এই খুতবায় তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান। মরুর তীব্র গরমের মধ্যেই এদিন আরাফাতের ময়দানে হাজিরা একত্রিত হন। প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় ও ইবাদতে অংশ নেন। খুতবা শেষে শেখ আল-হুদাইফি আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি হাজিদের হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও শান্তি এবং হাজিদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্যও প্রার্থনা জানান। মোনাজাতে তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি মুসলিমদের অবস্থার উন্নতি করুন। তাঁদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে দিন এবং তাঁদের সত্যের পথে পরিচালিত করুন।” সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, খুতবায় শেখ আল-হুদাইফি হজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, হজ ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। এর ভিত্তি হলো আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। তিনি বলেন, হজ বিশ্বের বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মুসলিমদের মধ্যে পরিচিতি, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ মিলনমঞ্চ। খুতবায় তিনি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, তাকওয়ার গুরুত্ব এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্যের বিষয়েও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে উত্তম আচরণ ও সত্য কথা বলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ আল-হুদাইফি হাজিদের গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ এবং রাজনৈতিক বা দলীয় স্লোগান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ভোর থেকেই হাজিরা মক্কার নিকটবর্তী ৭০ মিটার উঁচু জাবালে রহমতে সমবেত হন। সাদা ইহরাম পরিহিত অবস্থায় তারা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় অংশ নেন। প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই পাহাড়েই বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। এসপিএ জানায়, খুতবা শেষে হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর করে আদায় করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মসজিদে নামিরা ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি। কারণ, এই স্থানেই মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেছিলেন। নামিরা পাহাড়ের নামানুসারে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। আরাফাতের ময়দানের উত্তরে অবস্থিত এই মসজিদ মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। মিন, আরাফাত ও মুজদালিফার মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা মক্কা জেনারেল ট্রান্সপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটের মধ্যেই হাজিদের আরাফাতে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শেষ হয়। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। হাজিদের যাতায়াতে শাটল বাস, সাধারণ যানবাহন এবং আল মাশায়ের আল মুকাদ্দাসাহ মেট্রোরেল ব্যবহার করা হয়।
পবিত্র ঈদুল আজহা মানেই কোরবানির মাংস ঘিরে ব্যস্ততা। নিজের পরিবারের পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও এ সময় প্রচুর মাংস পাওয়া যায়। ফলে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ মাংস সংরক্ষণ করতে গিয়ে অনেকেই বিপাকে পড়েন। বিশেষ করে ফ্রিজে অতিরিক্ত চাপ পড়লে মাংস ঠিকভাবে হিমায়িত হয় না, যার প্রভাব পড়ে স্বাদ ও গুণগত মানে। খাদ্য সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললে দীর্ঘদিন মাংস ভালো রাখা সম্ভব। সঠিক পদ্ধতি না জানার কারণে অনেক সময় অযত্নেই নষ্ট হয়ে যায় মূল্যবান এই খাবার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, কোরবানির পরপরই গরম অবস্থায় মাংস ফ্রিজে না রাখাই ভালো। মাংস প্রথমে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠান্ডা হতে দিতে হবে। এরপর ফ্রিজারে রাখলে তা ভালোভাবে জমাট বাঁধে এবং দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়। অনেকেই মাংস ধুয়ে সংরক্ষণ করেন, যা আসলে সঠিক পদ্ধতি নয়। এতে মাংসের স্বাদ ও গুণাগুণ নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। বরং পরিষ্কার কাপড় বা টিস্যু দিয়ে মাংসের রক্ত মুছে নিয়ে সংরক্ষণ করাই উত্তম। একসঙ্গে বড় প্যাকেটে মাংস না রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী ছোট ছোট ভাগে সংরক্ষণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে প্রয়োজনের সময় সহজে বের করা যায় এবং বারবার গলানো-জমানোর কারণে স্বাদের পরিবর্তনও কম হয়। সংরক্ষণের তারিখ লিখে রাখা আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাধারণভাবে গরু বা খাসির মাংস ফ্রিজারে চার থেকে ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। তাই প্রতিটি প্যাকেটের গায়ে তারিখ লিখে রাখলে কোনটি আগে ব্যবহার করতে হবে তা বোঝা সহজ হয়। ফ্রিজারের তাপমাত্রাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাপমাত্রা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে না থাকলে মাংস দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই ফ্রিজারের তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি ফারেনহাইটের কাছাকাছি আছে কি না, তা নিশ্চিত করা জরুরি। সংরক্ষণের সময় বায়ুরোধী প্যাকেট ব্যবহার করা উচিত। ফ্রিজার-সেফ ব্যাগ বা পাত্রে মাংস রেখে ভেতরের বাতাস যতটা সম্ভব বের করে সিল করে দিলে ‘ফ্রিজার বার্ন’ হওয়ার ঝুঁকি কমে। প্রয়োজনে প্লাস্টিক মোড়ক বা ফয়েল ব্যবহার করে দ্বিস্তর সুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া মাংসের প্যাকেটগুলো খাড়া করে না রেখে সমানভাবে শুইয়ে রাখলে ফ্রিজের জায়গা সাশ্রয় হয় এবং বেশি মাংস রাখা যায়। প্যাকেটের মাঝে কাগজ ব্যবহার করলে আলাদা করা সহজ হয়। সবশেষে, ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ভেতরের তাপমাত্রা ওঠানামা করে, যা মাংস সংরক্ষণের জন্য ক্ষতিকর। দরজা ঠিকভাবে বন্ধ হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত খেয়াল রাখা প্রয়োজন। সঠিক নিয়ম মেনে সংরক্ষণ করলে ঈদের আনন্দের সঙ্গে কোরবানির মাংসের স্বাদও দীর্ঘদিন উপভোগ করা সম্ভব—এমনটাই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলা সাহিত্য উৎসব কেবল লেখক-পাঠকের মিলনমেলা নয়; এটি চিন্তা, সৃজনশীলতা ও মানবিক বোধের এক প্রাণবন্ত উৎসব, যেখানে শব্দের মধ্য দিয়ে মানুষ নিজের সময় ও সমাজকে নতুনভাবে আবিষ্কার করে। সাহিত্য উৎসব হলো ভাষার প্রতি ভালোবাসার এক উজ্জ্বল প্রকাশ। এখানে কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ ও ভাবনারা একত্রে গড়ে তোলে সংস্কৃতির এক বহুমাত্রিক ভুবন। বাংলা সাহিত্য উৎসব আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—ভাষা শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্বপ্ন ও আত্মপরিচয়ের ধারক। যেখানে বইয়ের সঙ্গে মানুষের, ভাবনার সঙ্গে ভাবনার এবং প্রজন্মের সঙ্গে প্রজন্মের সংলাপ ঘটে, সেখানেই সাহিত্য উৎসব হয়ে ওঠে সংস্কৃতির এক মহৎ উদ্যাপন। বৃহত্তর ওয়াশিংটনের বাংলা সাহিত্য উৎসব যেন শব্দের আলোকযাত্রা; যেখানে সৃষ্টিশীলতা, মনন ও সৌন্দর্যবোধ মিলিত হয়ে নির্মাণ করে এক অনন্য সাংস্কৃতিক পরিসর। প্রবাসে বইমেলা কেবল বই কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি ভাষা, সংস্কৃতি ও শিকড়ের সঙ্গে পুনর্মিলনের এক অনন্য উৎসব। দূরদেশের ব্যস্ত জীবনে বইমেলা হয়ে ওঠে মাতৃভাষার সুবাসমাখা এক টুকরো স্বদেশ, যেখানে বইয়ের পাতায় পাতায় জেগে ওঠে স্মৃতি, ইতিহাস, স্বপ্ন ও আত্মপরিচয়ের আলো I প্রবাসের মাটিতে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ‘কবিতার সাথে’ আয়োজন করছে বাংলা সাহিত্য উৎসব ২০২৬। আগামী ২৯ মে, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য থাকবে পরিচয় ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং সান্ধ্যভোজ। আর ৩০ মে, শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বাংলা সাহিত্য উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন। ভার্জিনিয়ার আলেকজান্দ্রিয়ার Washington University of Science and Technology Auditorium-এ একত্র হবেন দেশ-বিদেশের লেখক, কবি, শিল্পী, প্রকাশক, গবেষক ও সংস্কৃতিকর্মীরা—বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। এই উৎসবে অংশ নিচ্ছেন জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন, কবি তারফিয়া ফয়জুল্লাহ, একুশে পদকপ্রাপ্ত শিল্পী রোকেয়া সুলতানা, লেখক ও গবেষক ড. আবদুন নূর, আহমদ মাজহার, আশরাফ কায়সার সহ আরও অনেক গুণী লেখক, কবি ও সংস্কৃতিজন। সেই সঙ্গে থাকছেন নন্দিত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী অদিতি মহসিন মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা । থাকছে সাহিত্য আলোচনা, নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন ও বই নিয়ে আলোচনা, প্রকাশকদের সাথে মুক্ত আলোচনা, লেখক-পাঠক-প্রকাশকদের আড্ডা, কবিতা, আবৃত্তি, নাটক, সংগীত, শিল্প প্রদর্শনী, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও সেমিনার। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সাদাত হোসাইন এর সাথে পাঠকের সরাসরি প্রশ্নউত্তর পর্ব। আর বইপ্রেমীদের জন্য থাকছে বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রকাশনা সংস্থা অন্যপ্রকাশ, বিদ্যাপ্রকাশ, বাতিঘর, ইউপিএল প্রথম আলো ইউএস এ র দল এবং নিউইয়র্ক থেকে আগত মুক্তধারা-র বিপুল সংগ্রহ নিয়ে বইমেলা। বৃহত্তর ওয়াশিংটন এলাকায় বসবাসরত বাংলাভাষাভাষী লেখকদের অনেকেই সানন্দে উপস্থিত ও অংশগ্রহণ করছেন । আলোচনা-সমালোচনা থাকবেই তারপরও প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি তাদের শেকড় অন্বেষী ভাবনায় আগ্রহ তৈরি হোক বাংলা সাহিত্য উৎসবের তাৎপর্যগত মাহাত্ন ।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দেশীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো তৃতীয় 'বাংলাদেশ ডে প্যারেড'। স্থানীয় সময় গত রবিবার (১৭ মে) দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান প্রবাসী কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে এই বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করা হয়। আমেরিকার বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের অর্ধ ডজনাধিক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিসহ হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ফলে পুরো জ্যাকসন হাইটস এলাকা কিছু সময়ের জন্য রূপ নিয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে। উৎসবের এই দিনে প্রবাসী বাঙালিদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা, মুখে মুখে ছিল চিরচেনা দেশাত্মবোধক গান, আর চারপাশ মুখরিত ছিল ঐতিহ্যবাহী ঢাক—ঢোলের বাজনায়। বাঙালি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা প্রতিকৃতি ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে নিজ দেশের গৌরবকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এবারের প্যারেডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা একঝাঁক জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি। রূপালী পর্দার চিত্রনায়িকা মৌসুমী, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শুভ্রদেব, বিশিষ্ট অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সজল, জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নওরিনসহ দেশ ও প্রবাসের সাংস্কৃতিক জগতের একাধিক পরিচিত মুখ এই আয়োজনে শামিল হন। তারকাদের একনজর দেখতে এবং তাদের সাথে প্যারেডে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক দেশী—বিদেশী জনতা রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভিনদেশী আমেরিকানদেরও এই প্যারেডকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশেষ করে স্প্যানিশ কমিউনিটির শিল্পীদের চমৎকার লোকনৃত্য পরিবেশনা প্যারেডে ভিন্ন এক বৈচিত্র্যময় মাত্রা যোগ করে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্যারেডের মূল কর্মসূচী নির্ধারিত থাকলেও, ঘড়ির কাঁটা ৯টা ছোঁয়ার আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা নির্ধারিত স্থানে এসে সমবেত হতে থাকেন। গ্রীষ্মকালের গরম হাওয়া উপেক্ষা করেই সর্বস্তরের প্রবাসীরা রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে প্যারেড শুরুর মূল স্পটটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ঠিক এই সময়েই নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে সমবেত হন এবং একটি সুসজ্জিত ট্রাকের ওপর তৈরি চলমান মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এবারের প্যারেডে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসউয়োম্যান গ্রেস মেং ও কংগ্রেসওম্যান টম সোয়াজি, স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টেভেন রাগা, অ্যাসেম্বলিউয়োম্যান জেসিকা গঞ্জালেস রোহাস এবং নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন জনপ্রতিনিধি। প্যারেডের চীফ গ্র্যান্ড মার্শাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম আজিজ এবং ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। মার্কিন মূলধারার রাজনীতিকদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রভাব ও গুরুত্ব দিন দিন কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিবেশনের মধ্যদিয়ে প্যারেডের আনুষ্ঠানিক কর্মকান্ড শুরু হয়। প্যারেড শুরুর প্রাক্কালে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্যারেড কমিটির কনভেনর গিয়াস আহমেদ, চেয়ারম্যান এটনীর্ মঈন চৌধুরী এবং গ্র্যান্ড মার্শাল লায়ন শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য মার্শালরা। এছাড়াও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াদুদ ভুঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম প্যারেড আয়োজন কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ফখরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, প্রবীণ প্রবাসী ব্যক্তিত্ব নাসির খান পল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াসী চৌধুরী প্রমুখ। সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সরকার, বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক ডা. বর্ণালী হাসান, সারাহ কেয়ার ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও ডা. শাহজাদী পারভীন সারাহ, অল কাউন্টি হেলথ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিফা ভুঁইয়া, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিএ)—এর সাবেক সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও জাকারিয়া মাসুদ জিকো, ঢাকা জিলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদো ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আযম, মূলধারার রাজনীতিক ড. دীলিপ নাথ এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশী আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব ডিষ্ট্রিক্ট ২০—আর টু এর সভাপতি জেএফএম রাসেলসহ আরও অনেকে তাদের বক্তব্যে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দেন। এই পুরো পর্বটি পরিচালনা করেন প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান। তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন প্যারেড কমিটির চীফ ইভেন্ট কো—অর্ডিনেটর এফইএমডি এবং সুপরিচিত উপস্থাপিকা সোনিয়া সিরাজ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে একটি বিশালাকার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সামনে নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) চৌকষ বাদ্যযন্ত্রী দলের চমৎকার সুরের মধ্য দিয়ে মূল প্যারেড বা শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর সিটির বিভিন্ন সরকারি বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশী—আমেরিকানদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলেন। প্যারেডটি জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউ ও ৬৯ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্কিং লট থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৩৭ এভিনিউ ধরে অত্যন্ত চমৎকারভাবে এগিয়ে ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের মনমুগ্ধকর সঙ্গীত আর লোকনৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে। এবারের প্যারেডে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগের ব্যান্ড দলের সাথে এনওয়াইপিডি, নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) এবং ইউএস আর্মি অংশ নিয়ে প্যারেডের মর্যাদা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশী—আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা), আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশন—২০২৬-এর আয়োজক কমিটি, সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফার্মিংস আর্টস (বিপা), বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস (বাফা), প্রবাসী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন কমিটি, প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ, গোল্ড—স্যান্ডস গ্রুপ, বাংলাদেশী—আমেরিকান বোলডেস্ট এসোসিয়েশন (বিএবিএ), গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর এশোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ, মনি হোম কেয়ার, দ্যা ভয়েস অব ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট, হেলথ ফার্স্ট, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, ফার্স্ট এইড হোমকেয়ার, নবাবগঞ্জ উপজেলা এসোসিয়েশন অব ইউএসএ, বরিশাল সিটি ও সদর সোসাইটি ইউএসএ, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ, বাংলাদেশী—আমেরিকান পোস্টাল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন ইউএসএ, পাবনা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ। অপরদিকে সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান হাইরাম মানসেরাত এবং নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট—৩০ এর আগামী প্রাইমারী নির্বাচনে প্রার্থী বাংলাদেশী—আমেরিকান শামসুল হকের সমর্থকরাও বিশাল বহর নিয়ে প্যারেডে যোগ দেন। এছাড়া মেলায় হেলথ ফার্স্ট ও অল কাউন্টি হেলথ কেয়ারসহ কয়েকটি ব্যবসায়িক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্টল বসিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও নানা উপহার সামগ্রী বিতরণ করে। বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সারোয়ার খান বাবু দর্শকদের মাঝে আঙুর বিতরণ করেন। তবে এত বড় ও উৎসবমুখর আয়োজন সত্ত্বেও পুরো প্যারেড অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে বলে সাধারণ প্রবাসী ও পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন। সময় ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে শোভাযাত্রার রুট নিয়ন্ত্রণে এক ধরণের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট ছিল। এছাড়া প্যারেড কমিটি আগে থেকে অনেক বড় বড় তারকার উপস্থিতির কথা ঘোষণা করলেও, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত প্যারেডে অনুপস্থিত ছিলেন, যা সাধারণ দর্শকদের কিছুটা ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। তবে সব ছাড়িয়ে কমিউনিটিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রবাসীদের অভিভাবক সংগঠন হিসেবে পরিচিত 'বাংলাদেশ সোসাইটি'র আনুষ্ঠানিক অনুপস্থিতি। সোসাইটির কোনো কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে প্যারেডে অংশ নিলেও সংগঠনটির কোনো ব্যানার বা আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ছিল না। প্রবাসীদের এত বড় একটি জাতীয় উৎসবে কেন প্রধানতম আঞ্চলিক ছাতা-সংগঠনটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অংশ নিল না, তা নিয়ে কমিউনিটির ভেতরে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আয়োজকদের সাথে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বা সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এমনটি ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে দূর করা জরুরি। তা সত্ত্বেও, লাল-সবুজের এই মহোৎসব নিউইয়র্কের বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
পবিত্র হজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা আরাফাতের ময়দানে লাখো হাজির উপস্থিতিতে হজের খুতবা দিয়েছেন মসজিদে নববির ইমাম শেখ আলী আল-হুদাইফি। মঙ্গলবার মসজিদে নামিরা থেকে দেওয়া এই খুতবায় তিনি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য, সম্প্রীতি ও সমৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানান। মরুর তীব্র গরমের মধ্যেই এদিন আরাফাতের ময়দানে হাজিরা একত্রিত হন। প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও লাখো মুসল্লি নামাজ আদায় ও ইবাদতে অংশ নেন। খুতবা শেষে শেখ আল-হুদাইফি আবেগঘন মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি হাজিদের হজ কবুল হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের ঐক্য ও শান্তি এবং হাজিদের নিরাপদে নিজ নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার জন্যও প্রার্থনা জানান। মোনাজাতে তিনি বলেন, “হে আল্লাহ, আপনি মুসলিমদের অবস্থার উন্নতি করুন। তাঁদের মধ্যে ঐক্য তৈরি করে দিন এবং তাঁদের সত্যের পথে পরিচালিত করুন।” সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) জানায়, খুতবায় শেখ আল-হুদাইফি হজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, হজ ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। এর ভিত্তি হলো আল্লাহর একত্ববাদ এবং তাঁর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য। তিনি বলেন, হজ বিশ্বের বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মুসলিমদের মধ্যে পরিচিতি, সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও ঐক্যের গুরুত্বপূর্ণ মিলনমঞ্চ। খুতবায় তিনি ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, তাকওয়ার গুরুত্ব এবং মুমিনদের জন্য আল্লাহর সাহায্যের বিষয়েও আলোচনা করেন। একই সঙ্গে উত্তম আচরণ ও সত্য কথা বলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। শেখ আল-হুদাইফি হাজিদের গুনাহ, ঝগড়া-বিবাদ এবং রাজনৈতিক বা দলীয় স্লোগান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ভোর থেকেই হাজিরা মক্কার নিকটবর্তী ৭০ মিটার উঁচু জাবালে রহমতে সমবেত হন। সাদা ইহরাম পরিহিত অবস্থায় তারা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় অংশ নেন। প্রায় ১৪০০ বছর আগে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই পাহাড়েই বিদায় হজের ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। এসপিএ জানায়, খুতবা শেষে হাজিরা সুন্নাহ অনুযায়ী জোহর ও আসরের নামাজ একসঙ্গে কসর করে আদায় করেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, মসজিদে নামিরা ইসলাম ধর্মের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শনগুলোর একটি। কারণ, এই স্থানেই মহানবী (সা.) বিদায় হজের ভাষণ প্রদান করেছিলেন। নামিরা পাহাড়ের নামানুসারে মসজিদের নামকরণ করা হয়েছে। আরাফাতের ময়দানের উত্তরে অবস্থিত এই মসজিদ মসজিদুল হারাম থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরে। মিন, আরাফাত ও মুজদালিফার মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। সৌদি আরবের পরিবহন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থা মক্কা জেনারেল ট্রান্সপোর্ট সেন্টার জানিয়েছে, সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটের মধ্যেই হাজিদের আরাফাতে পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শেষ হয়। গত বছরের তুলনায় এবার প্রায় দুই ঘণ্টা আগেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। হাজিদের যাতায়াতে শাটল বাস, সাধারণ যানবাহন এবং আল মাশায়ের আল মুকাদ্দাসাহ মেট্রোরেল ব্যবহার করা হয়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে বসবাসরত প্রবাসী বাঙালিদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও দেশীয় আবেগের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হলো তৃতীয় 'বাংলাদেশ ডে প্যারেড'। স্থানীয় সময় গত রবিবার (১৭ মে) দুপুরে নিউইয়র্ক সিটির অন্যতম প্রধান প্রবাসী কেন্দ্রস্থল জ্যাকসন হাইটসে এই বর্ণাঢ্য প্যারেডের আয়োজন করা হয়। আমেরিকার বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে তুলে ধরার এই আয়োজনে নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের অর্ধ ডজনাধিক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধিসহ হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। ফলে পুরো জ্যাকসন হাইটস এলাকা কিছু সময়ের জন্য রূপ নিয়েছিল এক খণ্ড বাংলাদেশে। উৎসবের এই দিনে প্রবাসী বাঙালিদের হাতে হাতে শোভা পাচ্ছিল বাংলাদেশের লাল-সবুজ জাতীয় পতাকা, মুখে মুখে ছিল চিরচেনা দেশাত্মবোধক গান, আর চারপাশ মুখরিত ছিল ঐতিহ্যবাহী ঢাক—ঢোলের বাজনায়। বাঙালি শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির নানা প্রতিকৃতি ধারণ করে বিশ্বমঞ্চে নিজ দেশের গৌরবকে এক অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এবারের প্যারেডের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা একঝাঁক জনপ্রিয় তারকার উপস্থিতি। রূপালী পর্দার চিত্রনায়িকা মৌসুমী, জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী শুভ্রদেব, বিশিষ্ট অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী, সজল, জনপ্রিয় অভিনেত্রী রিচি সোলায়মান ও নওরিনসহ দেশ ও প্রবাসের সাংস্কৃতিক জগতের একাধিক পরিচিত মুখ এই আয়োজনে শামিল হন। তারকাদের একনজর দেখতে এবং তাদের সাথে প্যারেডে অংশ নিতে বিপুলসংখ্যক দেশী—বিদেশী জনতা রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পুরো আয়োজন উপভোগ করেন। প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাশাপাশি ভিনদেশী আমেরিকানদেরও এই প্যারেডকে ঘিরে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। বিশেষ করে স্প্যানিশ কমিউনিটির শিল্পীদের চমৎকার লোকনৃত্য পরিবেশনা প্যারেডে ভিন্ন এক বৈচিত্র্যময় মাত্রা যোগ করে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, সকাল ৯টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত প্যারেডের মূল কর্মসূচী নির্ধারিত থাকলেও, ঘড়ির কাঁটা ৯টা ছোঁয়ার আগে থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশীরা নির্ধারিত স্থানে এসে সমবেত হতে থাকেন। গ্রীষ্মকালের গরম হাওয়া উপেক্ষা করেই সর্বস্তরের প্রবাসীরা রঙিন ও ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে অনুষ্ঠানস্থলে হাজির হন। প্রত্যেকেই নিজ নিজ সংগঠনের ব্যানার এবং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে অত্যন্ত উদ্দীপনার সাথে যোগ দেন। বেলা ১১টার দিকে প্যারেড শুরুর মূল স্পটটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। ঠিক এই সময়েই নিউইয়র্ক সিটি ও স্টেট প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানস্থলে এসে সমবেত হন এবং একটি সুসজ্জিত ট্রাকের ওপর তৈরি চলমান মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এবারের প্যারেডে আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় ছিলেন মার্কিন কংগ্রেসউয়োম্যান গ্রেস মেং ও কংগ্রেসওম্যান টম সোয়াজি, স্টেট সিনেটর জেসিকা রামোস, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান স্টেভেন রাগা, অ্যাসেম্বলিউয়োম্যান জেসিকা গঞ্জালেস রোহাস এবং নিউইয়র্ক সিটির কাউন্সিলম্যান শেকার কৃষ্ণানসহ আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী মার্কিন জনপ্রতিনিধি। প্যারেডের চীফ গ্র্যান্ড মার্শাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি এম আজিজ এবং ঠিকানা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য এম এম শাহীন। মার্কিন মূলধারার রাজনীতিকদের এই বিপুল উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, আমেরিকার রাজনীতিতে বাংলাদেশী কমিউনিটির প্রভাব ও গুরুত্ব দিন দিন কতটা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের জাতীয় সঙ্গীত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পরিবেশনের মধ্যদিয়ে প্যারেডের আনুষ্ঠানিক কর্মকান্ড শুরু হয়। প্যারেড শুরুর প্রাক্কালে আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ ছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন প্যারেড কমিটির কনভেনর গিয়াস আহমেদ, চেয়ারম্যান এটনীর্ মঈন চৌধুরী এবং গ্র্যান্ড মার্শাল লায়ন শাহ নেওয়াজসহ অন্যান্য মার্শালরা। এছাড়াও কমিউনিটি নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ডা. ওয়াদুদ ভুঁইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রথম প্যারেড আয়োজন কমিটির অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ফখরুল আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মুকিত চৌধুরী, প্রবীণ প্রবাসী ব্যক্তিত্ব নাসির খান পল, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ওয়াসী চৌধুরী প্রমুখ। সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের পক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সরকার, বিশিষ্ট পৃষ্ঠপোষক ডা. বর্ণালী হাসান, সারাহ কেয়ার ইউএসএ’র প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড সিইও ডা. শাহজাদী পারভীন সারাহ, অল কাউন্টি হেলথ কেয়ার গ্রুপের চেয়ারম্যান শিফা ভুঁইয়া, জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশী বিজনেস এসোসিয়েশন (জেবিএ)—এর সাবেক সভাপতি আবুল ফজল দিদারুল ইসলাম ও জাকারিয়া মাসুদ জিকো, ঢাকা জিলা এসোসিয়েশনের সভাপতি দুলাল বেহেদো ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট কাজী আযম, মূলধারার রাজনীতিক ড. دীলিপ নাথ এবং নিউইয়র্ক বাংলাদেশী আমেরিকান লায়ন্স ক্লাব ডিষ্ট্রিক্ট ২০—আর টু এর সভাপতি জেএফএম রাসেলসহ আরও অনেকে তাদের বক্তব্যে প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর জোর দেন। এই পুরো পর্বটি পরিচালনা করেন প্যারেড কমিটির সদস্য সচিব ফাহাদ সোলায়মান। তাকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন প্যারেড কমিটির চীফ ইভেন্ট কো—অর্ডিনেটর এফইএমডি এবং সুপরিচিত উপস্থাপিকা সোনিয়া সিরাজ। উদ্বোধনী পর্ব শেষে একটি বিশালাকার বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা সামনে নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) চৌকষ বাদ্যযন্ত্রী দলের চমৎকার সুরের মধ্য দিয়ে মূল প্যারেড বা শোভাযাত্রাটি শুরু হয়। এরপর সিটির বিভিন্ন সরকারি বিভাগে কর্মরত বাংলাদেশী—আমেরিকানদের বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এবং অসংখ্য সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে হাজার হাজার মানুষ সারিবদ্ধভাবে এগিয়ে চলেন। প্যারেডটি জ্যাকসন হাইটসের ৩৭ এভিনিউ ও ৬৯ স্ট্রিট সংলগ্ন পার্কিং লট থেকে যাত্রা শুরু করে এবং ৩৭ এভিনিউ ধরে অত্যন্ত চমৎকারভাবে এগিয়ে ৮৭ স্ট্রিটে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সেখানে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের মনমুগ্ধকর সঙ্গীত আর লোকনৃত্য পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির সফল সমাপ্তি ঘটে। এবারের প্যারেডে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য সংগঠনগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ বিভাগের ব্যান্ড দলের সাথে এনওয়াইপিডি, নিউইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্ট (এফডিএনওয়াই) এবং ইউএস আর্মি অংশ নিয়ে প্যারেডের মর্যাদা বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অন্যান্য সংগঠনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল বাংলাদেশী—আমেরিকান পুলিশ এসোসিয়েশন (বাপা), আগামীতে অনুষ্ঠিতব্য ৪০তম ফোবানা কনভেনশন—২০২৬-এর আয়োজক কমিটি, সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফার্মিংস আর্টস (বিপা), বাংলাদেশ একাডেমী অব ফাইন আর্টস (বাফা), প্রবাসী সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন কমিটি, প্রবাসী মতলব সমিতি ইনক, ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইউএসএ, গোল্ড—স্যান্ডস গ্রুপ, বাংলাদেশী—আমেরিকান বোলডেস্ট এসোসিয়েশন (বিএবিএ), গ্রেটার খুলনা সোসাইটি অব ইউএসএ, মুন্সীগঞ্জ বিক্রমপুর এশোসিয়েশন, জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী, কুষ্টিয়া জেলা সমিতি ইউএসএ, মনি হোম কেয়ার, দ্যা ভয়েস অব ওম্যান এমপাওয়ারমেন্ট, হেলথ ফার্স্ট, আমেরিকান এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, ফার্স্ট এইড হোমকেয়ার, নবাবগঞ্জ উপজেলা এসোসিয়েশন অব ইউএসএ, বরিশাল সিটি ও সদর সোসাইটি ইউএসএ, বরিশাল বিভাগীয় সমিতি ইউএসএ, বাংলাদেশী—আমেরিকান পোস্টাল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশন ইউএসএ, পাবনা ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশন এবং দোহার উপজেলা সমিতি ইউএসএ। অপরদিকে সাবেক সিটি কাউন্সিলম্যান হাইরাম মানসেরাত এবং নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলি ডিস্ট্রিক্ট—৩০ এর আগামী প্রাইমারী নির্বাচনে প্রার্থী বাংলাদেশী—আমেরিকান শামসুল হকের সমর্থকরাও বিশাল বহর নিয়ে প্যারেডে যোগ দেন। এছাড়া মেলায় হেলথ ফার্স্ট ও অল কাউন্টি হেলথ কেয়ারসহ কয়েকটি ব্যবসায়িক ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান স্টল বসিয়ে দর্শনার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিশুদ্ধ পানি ও নানা উপহার সামগ্রী বিতরণ করে। বিশিষ্ট রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী সারোয়ার খান বাবু দর্শকদের মাঝে আঙুর বিতরণ করেন। তবে এত বড় ও উৎসবমুখর আয়োজন সত্ত্বেও পুরো প্যারেড অনুষ্ঠানজুড়ে শৃঙ্খলার চরম অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে বলে সাধারণ প্রবাসী ও পর্যবেক্ষকরা জানিয়েছেন। সময় ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে শোভাযাত্রার রুট নিয়ন্ত্রণে এক ধরণের সমন্বয়হীনতা স্পষ্ট ছিল। এছাড়া প্যারেড কমিটি আগে থেকে অনেক বড় বড় তারকার উপস্থিতির কথা ঘোষণা করলেও, তাদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত প্যারেডে অনুপস্থিত ছিলেন, যা সাধারণ দর্শকদের কিছুটা ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। তবে সব ছাড়িয়ে কমিউনিটিতে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে প্রবাসীদের অভিভাবক সংগঠন হিসেবে পরিচিত 'বাংলাদেশ সোসাইটি'র আনুষ্ঠানিক অনুপস্থিতি। সোসাইটির কোনো কোনো কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে প্যারেডে অংশ নিলেও সংগঠনটির কোনো ব্যানার বা আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ ছিল না। প্রবাসীদের এত বড় একটি জাতীয় উৎসবে কেন প্রধানতম আঞ্চলিক ছাতা-সংগঠনটি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অংশ নিল না, তা নিয়ে কমিউনিটির ভেতরে নানা প্রশ্ন ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আয়োজকদের সাথে অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য বা সমন্বয়ের অভাবের কারণেই এমনটি ঘটেছে, যা ভবিষ্যতে দূর করা জরুরি। তা সত্ত্বেও, লাল-সবুজের এই মহোৎসব নিউইয়র্কের বুকে বাংলাদেশের গৌরবময় সংস্কৃতিকে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
সৌদি আরবের স্থানীয় সময় ৮ জিলহজ থেকে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। হজ আদায়ের জন্য চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৫ লাখের বেশি মুসলিম মক্কায় সমবেত হয়েছেন। জীবনে সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের জন্য অন্তত একবার হজ আদায় ফরজ, যা অধিকাংশ মুসলিমের জীবনের অন্যতম বড় আকাঙ্ক্ষা। হজের আনুষ্ঠানিকতা সাধারণত পাঁচ দিনে সম্পন্ন হয়। এ সময় হাজিরা পবিত্র কাবা শরিফ জিয়ারত করেন এবং ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে সাতবার প্রদক্ষিণ করেন, যা তওয়াফ নামে পরিচিত। কাবা কী কাবা আরবি শব্দ, যার অর্থ ঘনক বা চতুষ্কোণ ঘর। এটি ইসলামের পবিত্রতম স্থান এবং মক্কার মসজিদুল হারামের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। বিশ্বের সব মুসলিম নামাজের সময় কাবার দিকে মুখ করে দাঁড়ান, যাকে কিবলা বলা হয়। ফলে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থেকেও মুসলিমরা একই কেন্দ্রের দিকে মুখ করে ইবাদত করেন। কাবা শরিফের উচ্চতা ১৩ দশমিক ১ মিটার, দৈর্ঘ্য ১২ দশমিক ৮ মিটার এবং প্রস্থ ১১ দশমিক ৩ মিটার। কাবার ইতিহাস মুসলিমদের বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহর নির্দেশে হজরত ইব্রাহিম (আ.) ও তাঁর পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কাবা নির্মাণ করেন। পবিত্র কোরআনে এই নির্মাণের উল্লেখ রয়েছে। ইসলামের আগমনের আগে কাবা ছিল বিভিন্ন গোত্রের উপাসনালয়। ৬৩০ খ্রিষ্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা বিজয়ের পর কাবার ভেতরের মূর্তিগুলো অপসারণ করেন এবং একে এক আল্লাহর ইবাদতের স্থানে পরিণত করেন। প্রতিবছর হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মুসলিম এখানে সমবেত হন। কাবার ভেতরে কী আছে কাবা শরিফের উত্তর-পূর্ব দিকে একটি সোনার দরজা রয়েছে, যা মাটি থেকে দুই মিটারেরও বেশি উঁচুতে স্থাপন করা। প্রায় ২৮০ কেজি খাঁটি সোনা দিয়ে তৈরি এই দরজার উচ্চতা ৩ দশমিক ১ মিটার এবং প্রস্থ ১ দশমিক ৯ মিটার। বছরে সাধারণত দুইবার কাবার ভেতর পরিষ্কারের জন্য দরজা খোলা হয়। ভেতরের অংশ অত্যন্ত সরল। ছাদ ধরে রাখতে তিনটি কাঠের স্তম্ভ রয়েছে এবং ছাদে ওঠার জন্য একটি সিঁড়ি আছে। মেঝে ও দেয়াল মার্বেল পাথরে আবৃত এবং ছাদ থেকে লণ্ঠন ঝোলানো থাকে। ভেতরের দেয়ালের কিছু অংশ কাপড়ে ঢাকা, যা ঐতিহাসিকভাবে লাল, সবুজ ও গাঢ় নীল রঙের হয়ে থাকে। কিসওয়া কী কিসওয়া হলো কালো রেশমি কাপড়, যা কাবা শরিফকে আবৃত করে রাখে। এর ওপর সোনার সুতা দিয়ে পবিত্র কোরআনের আয়াত খচিত থাকে। আরবি শব্দ ‘কিসওয়া’ অর্থ আবরণ বা ঢেকে রাখা। বর্তমানে একটি কিসওয়া তৈরিতে প্রায় ৬৭০ কেজি রেশম ব্যবহার করা হয়। এর সঙ্গে ২৪ ক্যারেট সোনার সুতা এবং রুপার সুতা দিয়ে কারুকাজ করা হয়। পুরো কাপড়টি ৪৭টি অংশে তৈরি এবং এর উচ্চতা প্রায় ১৪ মিটার। কাবার দেয়ালের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চতায় যে অলংকৃত বেল্ট থাকে, সেটি হিজাম নামে পরিচিত। দরজার ওপর ঝোলানো সুসজ্জিত পর্দাকে বলা হয় সিতারা। কেন কাবা ঢেকে রাখা হয় কাবা শরিফকে সুরক্ষা, সম্মান এবং সৌন্দর্য বজায় রাখার জন্য কিসওয়া দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। ঐতিহাসিকভাবে এটি ভক্তি ও শ্রদ্ধার একটি প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত। ধারণা করা হয়, ইসলাম-পূর্ব যুগ থেকেই কাবা ঢাকার প্রচলন শুরু হয়। কেউ কেউ মনে করেন, ইয়েমেনের রাজা তুব্বা আস’আদ কামিল প্রথম কাবা ঢেকেছিলেন। অন্য মত অনুযায়ী, হজরত ইসমাইল (আ.) এ কাজ শুরু করেন, যদিও এ বিষয়ে নিশ্চিত প্রমাণ নেই। বর্তমানে কিসওয়া প্রাকৃতিক রেশম দিয়ে তৈরি করা হয়। রেশম প্রথমে বিশেষভাবে পরিষ্কার করে ধোয়া হয়, এরপর গরম পানিতে ধুয়ে প্রাকৃতিক রং ফিরিয়ে আনা হয় এবং শেষে কালো রঙে রঞ্জিত করা হয়। মক্কার বিশেষ কারখানায় ২৪০ জনের বেশি দক্ষ কর্মী আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সমন্বয়ে এটি তৈরি করেন। একটি কিসওয়া তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় আড়াই কোটি সৌদি রিয়াল। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কিসওয়ার রঙ পরিবর্তিত হয়েছে। সাদা, সবুজ, হলুদসহ নানা রঙ ব্যবহার করা হলেও আব্বাসীয় আমলে কালো রঙকে স্থায়ী পরিচয় হিসেবে গ্রহণ করা হয়। কিসওয়া বছরে একবার পরিবর্তন করা হয়। পুরোনো কিসওয়া সরিয়ে নতুনটি পরানো হয়। পুরোনো কিসওয়ার মূল্যবান অংশ সংরক্ষণ করা হয় এবং কিছু অংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিকে দেওয়া হয়। হজের সময় কিসওয়ার নিচের অংশ ওপরে তুলে রাখা হয়, যাতে বিপুলসংখ্যক হাজির স্পর্শ থেকে কাপড়টি সুরক্ষিত থাকে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া পেশা হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে চক্ষু চিকিৎসা। দেশটির শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞের গড় বার্ষিক আয় প্রায় ৩ লাখ ৪৭ হাজার ৬৯০ ডলার। যেখানে এই অঙ্গরাজ্যে সব পেশার সাধারণ চাকরিজীবীদের গড় বার্ষিক আয় মাত্র ৮০,৬৯০ ডলার। যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সর্বোচ্চ আয়ের তালিকায় চিকিৎসা খাতের আধিপত্যের একটি স্পষ্ট প্রতিফলন এই চিত্র। শুধু ক্যালিফোর্নিয়াতেই নয়, দেশের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যেও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, সার্জন এবং রেডিওলজিস্টদের মতো চিকিৎসকেরা সর্বোচ্চ বেতন পান, যা কিছু ক্ষেত্রে বছরে ৬ লাখ ডলারও ছাড়িয়ে যায়। দীর্ঘ বছরের পড়াশোনা এবং কঠোর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের কারণেই চিকিৎসকদের আয় অন্য সবার চেয়ে অনেক বেশি হয়ে থাকে। স্বাস্থ্য খাতের বাইরে সর্বোচ্চ আয়ের শীর্ষ পাঁচটি পেশার মধ্যে রয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিমান চালক এবং খেলোয়াড়। তথ্য অনুযায়ী, বিমান চালকদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ৮৮ হাজার ৬৫৯ ডলার এবং প্রধান নির্বাহীরা পান ২ লাখ ৬৯ হাজার ৬৩০ ডলার। এছাড়া আইনজীবীরা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮৫০ ডলার গড় আয় নিয়ে তালিকায় ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন। তবে এই হিসাবের মধ্যে ওভারটাইম বা বোনাস অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অন্যদিকে, ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি খাতের কিছু উচ্চপদেও বিপুল বেতনের তথ্য মিলেছে। যেমন, দেশের বৃহত্তম সরকারি পেনশন তহবিলের উপ-প্রধান বিনিয়োগ কর্মকর্তার মূল বেতন মাসে প্রায় ৪৭,২০৮ ডলার, যা বিভিন্ন পারফরম্যান্স বোনাস মিলিয়ে বছরে কয়েক মিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়ার কারাগার ব্যবস্থার প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং প্রধান মনোরোগ বিশেষজ্ঞদেরও প্রতি মাসে ৩৪ থেকে ৪২ হাজার ডলার পর্যন্ত উচ্চ বেতন দেওয়া হচ্ছে।
ইসলামে মক্কা ও মদিনা কেবল ঐতিহাসিক গুরুত্বের স্থান নয়, বরং ইবাদত ও দোয়া কবুলের বিশেষ বরকতময় নগরী হিসেবে পরিচিত। কোরআন ও হাদিসে এই দুই পবিত্র নগরীর নির্দিষ্ট কিছু স্থান ও সময়ের উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অত্যধিক বলে বর্ণিত হয়েছে। নিম্নে কোরআন ও সহিহ হাদিসের আলোকে উল্লেখিত ১০টি বিশেষ স্থান তুলে ধরা হলো- ১. মসজিদুল হারাম মক্কার কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত মসজিদুল হারামে এক রাকাত নামাজ অন্য মসজিদে এক লাখ রাকাতের সমান বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। ইবাদতের এই মহা মর্যাদাপূর্ণ স্থানে দোয়ার গুরুত্বও অত্যধিক। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৪০৬) ২. তাওয়াফের সময় কাবা শরিফকে ঘিরে তাওয়াফের সময় দোয়া কবুলের বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে রুকনে ইয়ামানি ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানে নবীজি (সা.) দোয়া করতেন। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৮৯২) ৩. মুলতাজাম কাবা শরিফের দরজা ও হাজরে আসওয়াদের মধ্যবর্তী স্থানকে মুলতাজাম বলা হয়। এখানে নবীজি (সা.) বুক লাগিয়ে দোয়া করেছেন বলে বর্ণিত হয়েছে। সাহাবিরাও এই স্থানে দোয়া করতেন। (বাইহাকি, শুয়াবুল ইমান, হাদিস: ৩৭৬৭) ৪. সাফা ও মারওয়া হজ ও ওমরাহর গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাফা-মারওয়া সাঈ। নবীজি (সা.) সাফা পাহাড়ে উঠে কাবার দিকে মুখ করে দীর্ঘ দোয়া করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) ৫. আরাফার দিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান হজের অন্যতম প্রধান রুকন। হাদিসে এসেছে, আরাফার দিনের দোয়া সবচেয়ে উত্তম দোয়া। (সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৩৫৮৫) ৬. মুজদালিফা আরাফাত থেকে ফেরার পর হাজিরা মুজদালিফায় রাত যাপন করেন, যা ‘মাশআরুল হারাম’ নামে পরিচিত। এখানে ফজরের পর দীর্ঘ সময় দোয়া করার বর্ণনা রয়েছে। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১২১৮) ৭. মিনা প্রান্তর মিনায় জামারাতে শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের পর দোয়া করা সুন্নত। নবীজি (সা.) প্রথম ও মধ্যম জামারাতে পাথর নিক্ষেপের পর দীর্ঘক্ষণ দোয়া করতেন। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৭৫২) ৮. জমজমের পানি জমজম কূপের পানি ইসলামে বরকতময় নেয়ামত হিসেবে বিবেচিত। হাদিসে বলা হয়েছে, জমজম যে উদ্দেশ্যে পান করা হয়, আল্লাহ তা পূরণ করেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৩০৬২) ৯. মাকামে ইবরাহিম কাবা নির্মাণের সময় হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর দাঁড়ানোর পাথরকে মাকামে ইবরাহিম বলা হয়। এখানে নামাজ আদায় ও দোয়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে। (সুরা আল-বাকারা, আয়াত: ১২৫) ১০. রিয়াজুল জান্নাহ ও মসজিদে নববি মদিনায় নবীজি (সা.)-এর রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে রিয়াজুল জান্নাহ বলা হয়, যা বিশেষ ফজিলতের স্থান হিসেবে পরিচিত। পুরো মসজিদে নববিতেই ইবাদত ও দোয়ার বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৭৩৩৫)
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী। “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে। বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়। বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন। দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন। পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়। মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
লেখকঃ ফয়সাল চৌধুরী
মৃদুল রহমান
বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে বুধবার (২৬ মে) নিউইয়র্ক আন্তর্জাতিক বাংলা বইমেলার ষষ্ঠ দিন পরিণত হয় প্রাণের মিলনমেলা ও সাহিত্য উৎসবে। প্রথম দুই দিনের টানা বৃষ্টির পর দিনভর রোদেলা আবহে বইপ্রেমী, লেখক, প্রকাশক ও দর্শনার্থীদের উপস্থিতিতে মেলার প্রাঙ্গণ আবারও মুখর হয়ে ওঠে। সকাল থেকেই স্টলগুলোতে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়। বই কেনাবেচার পাশাপাশি লেখকদের সঙ্গে পাঠকদের সরাসরি আলোচনা, বই নিয়ে মতবিনিময় এবং অটোগ্রাফ নেওয়ার ব্যস্ততা দেখা যায়। দেশ থেকে আগত প্রকাশকরা বিক্রির পাশাপাশি পাঠকদের আগ্রহে সন্তোষ প্রকাশ করেন। মেলায় সারাদিন বিভিন্ন স্টলে উপস্থিত ছিলেন কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, সাদাত হোসাইন, কবি সুবোধ সরকার, ফারুক মঈনউদ্দীনসহ অনেকে। এছাড়া মেলার আহ্বায়ক ড. নজরুল ইসলাম, মুক্তধারা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ এবং মুক্তধারার কর্ণধার বিশ্বজিৎ সাহা বিভিন্ন আয়োজনে অংশ নেন। দিনজুড়ে মূলমঞ্চ ও তার বাইরে ছিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আড্ডার আবহ। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আসা দর্শনার্থীরা বই কেনার পাশাপাশি প্রিয় লেখকদের সঙ্গে ছবি তোলেন এবং সাহিত্য আড্ডায় অংশ নেন। শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা মেলার অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠে। ছোটদের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন রঙিন পরিবেশ সৃষ্টি করে। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভূঁইয়া এবং প্রথম আলো উত্তর আমেরিকার সম্পাদক ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন। আয়োজন পরিচালনায় ছিলেন শাহানা বেগম, সুপ্রিয়া দে চৌধুরী, পূজিতা দাশ, ফারজানা রাকিবা, জাকির হোসেন, রাশিদা আক্তার ও সুমাইয়া চৌধুরী। “নতুন বই নিয়ে লেখকদের কথা” শীর্ষক পর্বে লেখকরা তাঁদের নতুন প্রকাশনা নিয়ে আলোচনা করেন। সোহানা নাজনীন উপস্থাপিত এই পর্বে অংশ নেন ইব্রাহীম চৌধুরী খোকন, কাওসার পারভীন চৌধুরী, লায়লা ফারজানা, এইচ বি রিতা, মাহমুদ রেজা চৌধুরী, বিমল সরকার, রেজিয়া নাজমী ও সাইদ তারেকসহ অনেকে। বন্যা মির্জার সঞ্চালনায় “বাংলা সাহিত্যে সমকালীনতা” শীর্ষক আলোচনা পর্বে অংশ নেন ইমদাদুল হক মিলন, ফারুক মঈনউদ্দীন ও মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ। আলোচনায় সমকালীন বাংলা সাহিত্যের ধারা ও পরিবর্তন নিয়ে মতবিনিময় হয়। বইমেলার ৩৫ বছরের ইতিহাস ও অর্জন নিয়ে বিশেষ আলোচনায় অংশ নেন ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, ড. নজরুল ইসলাম ও বিশ্বজিৎ সাহা। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ড. ওবায়দুল্লাহ মামুন। দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ‘মুক্তধারা-জিএফবি সাহিত্য পুরস্কার’ প্রদান অনুষ্ঠান। বাংলা সাহিত্য ও গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এ বছরের পুরস্কার পান কথাসাহিত্যিক ও গবেষক ড. আব্দুন নূর। পুরস্কার হিসেবে তিনি নগদ ৩ হাজার মার্কিন ডলার, সম্মাননা ক্রেস্ট ও স্মারক গ্রহণ করেন। পুরস্কার ঘোষণা করেন গোলাম ফারুক ভূঁইয়া। তিনি জানান, ২০১৭ সাল থেকে এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে, যেখানে পূর্বে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, দিলারা হাশেম, সেলিনা হোসেন, সমরেশ মজুমদার, গোলাম মুরশিদ, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়সহ বহু গুণীজন সম্মানিত হয়েছেন। পুরস্কার গ্রহণ করে ড. আব্দুন নূর বলেন, নিজের ভাষা ও মানুষের কাছ থেকে এমন স্বীকৃতি পাওয়া গভীর আনন্দের বিষয়। মেলার বাইরের অংশেও ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ‘পিজা অ্যান্ড পোয়েট্রি’ নামে আয়োজিত একটি স্টলে গান, কবিতা ও আড্ডায় অংশ নেন দর্শনার্থীরা। জনপ্রিয় লেখক সাদাত হোসাইনকে দিনভর পাঠকদের জন্য বইয়ে অটোগ্রাফ দিতে দেখা যায়। আয়োজকরা জানান, বৃষ্টির বাধা সত্ত্বেও দর্শনার্থীদের অংশগ্রহণে এবারের বইমেলা সফলভাবে এগিয়ে চলছে।
বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশু পুষ্টি গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে আইসিডিডিআর,বি’র নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। লাইফ সায়েন্সেস বিভাগে তাঁকে এই সম্মাননা দিয়েছে এশিয়াভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন। ২০১৬ সাল থেকে প্রতিবছর প্রকাশিত ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় এশিয়ার শীর্ষ গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁদের কাজ বিজ্ঞান, স্বাস্থ্যসেবা ও সমাজ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। চলতি বছরের তালিকায় ড. তাহমিদ আহমেদের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণার জন্যও একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি, অপুষ্টিজনিত সমস্যা, সংক্রামক রোগ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করে আসছেন ড. তাহমিদ। বিশেষ করে বাংলাদেশসহ নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে শিশু মৃত্যুহার কমানো, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং তথ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য নীতি প্রণয়নে তাঁর গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে স্বীকৃতি রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যখাতে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশিত ‘টাইম ১০০ হেলথ’ তালিকায়ও স্থান পান তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালে মাতৃ ও শিশু পুষ্টি উন্নয়নে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য গেটস ফাউন্ডেশন তাঁকে ‘গোলকিপারস চ্যাম্পিয়ন’ হিসেবে মনোনীত করে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে ড. তাহমিদ আহমেদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের অপুষ্টি, ডায়রিয়া, সংক্রামক রোগ ও জরুরি পুষ্টি সহায়তা নিয়ে তাঁর গবেষণা উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণে কার্যকর তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছে। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির এই অর্জনকে দেশের স্বাস্থ্য ও গবেষণা খাতের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিলাসবহুল স্পোর্টস কার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ফেরারি তাদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচন করেছে। “লুসে” নামের এই মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার, যা ব্রিটিশ মুদ্রায় প্রায় ৪ লাখ ৭৪ হাজার পাউন্ড। নতুন এই গাড়িটি ইতালির রোমে উন্মোচন করা হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ডিজাইন থেকে অনেকটাই ভিন্ন এই মডেলটি কোম্পানির প্রথম পাঁচ আসনের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক গাড়ি। এর নকশায় সহযোগিতা করেছে সাবেক অ্যাপল প্রধান ডিজাইনার স্যার জনি আইভের প্রতিষ্ঠিত ডিজাইন প্রতিষ্ঠান লাভফ্রম। ফেরারির প্রধান নির্বাহী বেনেদেত্তো ভিগনা জানান, “লুসে” তৈরি করতে প্রায় পাঁচ বছর সময় লেগেছে। তিনি একে কোম্পানির প্রযুক্তিগত অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, গাড়িটির প্রতিটি চাকার জন্য আলাদা বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করা হয়েছে। এতে গাড়িটি মাত্র প্রায় ২ দশমিক ৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ৯৬ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছাতে সক্ষম। কোম্পানি আরও জানিয়েছে, গাড়ির সব যন্ত্রাংশ নিজস্বভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে দীর্ঘমেয়াদে রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং গাড়ির বাজারমূল্য স্থিতিশীল থাকে। নতুন এই বৈদ্যুতিক সুপারকার উন্মোচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ একে আধুনিক ডিজাইনের নতুন যুগের সূচনা হিসেবে প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ ফেরারির ঐতিহ্যবাহী ব্র্যান্ড পরিচয় থেকে সরে যাওয়ার সমালোচনা করেছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজারে বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর অবস্থান এখনো চ্যালেঞ্জের মুখে। চাহিদা কমে যাওয়ার কারণে ল্যাম্বরগিনি তাদের সম্পূর্ণ বৈদ্যুতিক পরিকল্পনা থেকে সরে এসে হাইব্রিড প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকেছে। একইভাবে পোর্শেও বৈদ্যুতিক গাড়ির পরিকল্পনা পুনর্বিবেচনা করছে। চীনা নির্মাতাদের দ্রুত উৎপাদন ক্ষমতা এবং তুলনামূলক কম দামের কারণে পশ্চিমা অটোমোবাইল ব্র্যান্ডগুলো প্রতিযোগিতামূলক চাপের মুখে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের মত। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিলাসবহুল গাড়ির বাজারেও ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। ফেরারি জানিয়েছে, তারা ভবিষ্যতে পেট্রোল, হাইব্রিড এবং বৈদ্যুতিক তিন ধরনের প্রযুক্তির গাড়িই বাজারে রাখবে। দীর্ঘদিন ধরে সীমিত পরিমাণে উচ্চমূল্যের গাড়ি উৎপাদনের কৌশল অনুসরণ করায় কোম্পানিটি এখনো তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও বিলাসবহুল পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় ফেরারির শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। গত এক বছরে কোম্পানির শেয়ার প্রায় ২৫ শতাংশের বেশি কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের তরুণ গবেষক মারজানা আক্তার এশিয়ার প্রভাবশালী বিজ্ঞানীদের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। গবেষণা ও বৈজ্ঞানিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রকাশিত এই আন্তর্জাতিক তালিকায় তাঁর অন্তর্ভুক্তি দেশের বিজ্ঞান অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ম্যাগাজিন প্রতিবছর এশিয়ার বিভিন্ন দেশের গবেষক, উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানীদের কাজ মূল্যায়ন করে এই তালিকা প্রকাশ করে। ২০১৬ সাল থেকে চালু হওয়া এই স্বীকৃতিতে সাধারণত তাঁদেরই অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যাঁরা নিজ নিজ গবেষণাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন অথবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি অর্জন করেন। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি অ্যান্ড হাইজিন বিভাগের গবেষক মারজানা আক্তার প্রাণিসম্পদ ও পোল্ট্রি স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় কাজ করছেন। বিশেষ করে পোল্ট্রির ভাইরাসজনিত সংক্রমণ নিয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আগ্রহ তৈরি করেছে। গবেষণা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, তিনি বাংলাদেশের পোল্ট্রি খাতে ‘চিকেন ইনফেকশাস অ্যানিমিয়া ভাইরাস’ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। তবে ভাইরাসটির নির্দিষ্ট একটি স্ট্রেইন দেশে প্রথম শনাক্তের দাবি নিয়ে এখনো বিস্তারিত বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা বা স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত তথ্য সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশিত হয়নি। এর আগে ২০২৫ সালে জাতিসংঘ-সমর্থিত ‘ইয়াং উইমেন ফর বায়োসিকিউরিটি ফেলোশিপ’-এ নির্বাচিত হন মারজানা আক্তার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে নির্বাচিত অল্প কয়েকজন তরুণ নারী গবেষকের মধ্যে তিনি ছিলেন একজন। ওই ফেলোশিপ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক গবেষক ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। বাংলাদেশ থেকে এর আগেও কয়েকজন খ্যাতিমান নারী বিজ্ঞানী ‘এশিয়ান সায়েন্টিস্ট ১০০’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) বিশিষ্ট বিজ্ঞানী অধ্যাপক ফিরদৌসী কাদরী এবং শিশুস্বাস্থ্য গবেষক সেঁজুতি সাহা তাঁদের গবেষণা অবদানের জন্য এই স্বীকৃতি অর্জন করেছিলেন। বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণায় বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রে মারজানা আক্তারের এই অর্জন ইতিবাচক বার্তা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে নারী গবেষকদের জন্য এটি নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন অনেকেই। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে তাঁর এই সাফল্য নিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।