নিউইয়র্কে নতুন ১৭টি পাবলিক টয়লেট চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন মেয়র জোহরান মামদানি। ৪ মিলিয়ন ডলারের এক বছর মেয়াদি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের আওতায় পাঁচটি বরোতে এসব টয়লেট স্থাপন করা হচ্ছে। তবে এসব টয়লেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ নিয়ম—ভেতরে ঢোকার পর সর্বোচ্চ ১০ মিনিট সময় পাওয়া যাবে। সময় শেষ হলে সতর্কবার্তার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। নতুন টয়লেটগুলো বিনামূল্যে ব্যবহার করা যাবে এবং প্রতিবন্ধীবান্ধব হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এগুলোতে থাকবে চলমান পানির ব্যবস্থা, ফ্লাশ টয়লেট, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তনের সুবিধা। প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এসব টয়লেট খোলা থাকবে। ব্যবহারকারীরা মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে, কিউআর কোড স্ক্যান করে, থ্রোন বাথরুম নেটওয়ার্ক অ্যাপের মাধ্যমে অথবা স্থানীয় কমিউনিটি অংশীদারদের দেওয়া ট্যাপ কার্ড ব্যবহার করে টয়লেটে প্রবেশ করতে পারবেন। অ্যাপের মাধ্যমে কাছাকাছি টয়লেটের অবস্থান, সেটি খালি আছে কি না এবং পরিচ্ছন্নতার তাৎক্ষণিক তথ্যও দেখা যাবে। টয়লেটগুলোর সবচেয়ে আলোচিত বৈশিষ্ট্য হলো ১০ মিনিটের সময়সীমা। ব্যবহারকারীরা পাঁচ মিনিট ও আট মিনিটে সময় শেষ হওয়ার বিষয়ে সতর্কবার্তা পাবেন। ১০ মিনিট পূর্ণ হলে টয়লেটের আলো জ্বলবে এবং অডিও বার্তার মাধ্যমে দরজা খোলার বিষয়ে জানানো হবে। এরপর প্রায় ৩০ সেকেন্ডের সতর্কতার পর দরজা স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। সতর্কবার্তাগুলো ইংরেজি ও স্প্যানিশ—দুই ভাষায় দেওয়া হবে। টয়লেট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান থ্রোন ল্যাবস জানিয়েছে, এই সময়সীমা নির্ধারণের আগে বিভিন্ন এলাকায় ব্যবহারকারীরা সাধারণত কতক্ষণ টয়লেটে থাকেন, তা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, তাদের নেটওয়ার্কে অধিকাংশ ব্যবহারকারী সাড়ে তিন মিনিটের মধ্যেই টয়লেট থেকে বেরিয়ে যান। প্রায় ৮১ শতাংশ ব্যবহারকারী পাঁচ মিনিটের মধ্যে ব্যবহার শেষ করেন। লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি কেন্দ্রে ৯৫ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারী ১০ মিনিটের মধ্যেই বেরিয়ে যান। মামদানি প্রশাসনের এই প্রকল্পের আওতায় টয়লেটগুলো ম্যানহাটন, ব্রুকলিন, কুইন্স, ব্রঙ্কস ও স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে স্থাপন করা হচ্ছে। নির্ধারিত স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে ম্যানহাটনের কুপার স্কয়ার ও ম্যালকম এক্স প্লাজা, ব্রুকলিনের কলম্বাস পার্ক ও মিলস্টোন পার্ক, কুইন্সের অ্যাস্টোরিয়া বুলেভার্ড ও নর্দার্ন বুলেভার্ডের বিভিন্ন এলাকা এবং ব্রঙ্কসের ইয়াঙ্কি স্টেডিয়াম এলাকা। স্ট্যাটেন আইল্যান্ডে নর্থ শোর এসপ্লানেডেও একটি ইউনিট স্থাপন করা হবে। প্রচলিত স্থায়ী পাবলিক টয়লেটের তুলনায় এসব ইউনিট দ্রুত স্থাপন করা যায়। কারণ এগুলোকে সরাসরি পানি, পয়োনিষ্কাশন বা বিদ্যুৎ অবকাঠামোর সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রয়োজন নেই। ফলে প্রয়োজন অনুযায়ী ইউনিটগুলো অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়া বা সরিয়ে ফেলা সম্ভব। থ্রোন ল্যাবসই প্রতিটি ইউনিটের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে। নিউইয়র্কে পাবলিক টয়লেটের স্বল্পতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। মেয়রের কার্যালয় জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেটের অভাব রয়েছে। নতুন ১৭টি ইউনিটকে সেই ঘাটতি মোকাবিলায় একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পাইলট প্রকল্প এক বছর চলবে এবং এর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে শহরের পাবলিক টয়লেট নেটওয়ার্ক আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ১০ মিনিটের নিয়মের উদ্দেশ্য হিসেবে দীর্ঘ সময় টয়লেট দখল করে রাখা বা সেখানে অপ্রয়োজনে অবস্থান ঠেকানোর বিষয়টি উল্লেখ করেছে থ্রোন ল্যাবস। আর মামদানি প্রশাসনের লক্ষ্য হলো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে নিউইয়র্কবাসীর জন্য বিনামূল্যে, পরিচ্ছন্ন ও সহজে ব্যবহারযোগ্য পাবলিক টয়লেটের সুযোগ বাড়ানো। সূত্র: ফক্স নিউজ
যুক্তরাষ্ট্রের কানসাসে রিচার্ড অ্যান্থনি জোন্স এমন এক অপরাধের দায়ে প্রায় ১৭ বছর কারাগারে কাটিয়েছেন, যা তিনি করেননি। শুধু চেহারার মিল এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভুল শনাক্তকরণের কারণে ১৯৯৯ সালের একটি ডাকাতির মামলায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করে ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তার মতো দেখতে আরেক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার পর মামলার মোড় ঘুরে যায় এবং ২০১৭ সালে জোন্সের সাজা বাতিল হয়। পরে কানসাস রাজ্য তাকে ১১ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতিপূরণ দেয়। ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৯ সালে কানসাসের রোয়েল্যান্ড পার্কের একটি ওয়ালমার্টের পার্কিং এলাকায়। এক নারীকে লক্ষ্য করে এক ব্যক্তি তার ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। নারীটি বাধা দিলে হামলাকারী ব্যাগ নিতে না পারলেও তার মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় পড়ে গিয়ে ওই নারী হাঁটুতে আঘাতও পান। পরে মামলাটি গুরুতর ডাকাতির মামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। মামলার তদন্তে প্রত্যক্ষদর্শীরা হামলাকারীকে হালকা গায়ের রঙের কৃষ্ণাঙ্গ বা হিস্পানিক পুরুষ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তারা জানিয়েছিলেন, তার নাম সম্ভবত রিক এবং চুল লম্বা করে পেছনে বাঁধা ছিল। পরে একটি গাড়ির নম্বর প্লেটের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা এমন একজন চালকের কাছে পৌঁছান, যিনি হামলাকারীকে ‘রিক’ নামে চিনতেন। পুলিশি ছবির মধ্য থেকে তিনি রিচার্ড জোন্সকে শনাক্ত করেন। ডাকাতির শিকার নারীও পরে জোন্সকে শনাক্ত করেন। কিন্তু জোন্সের পক্ষে শক্ত একটি আলিবাই ছিল। ঘটনার সময় তিনি কানসাস সিটিতে তার বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছিলেন বলে একাধিক ব্যক্তি সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। মামলায় তার বিরুদ্ধে কোনো ডিএনএ প্রমাণ বা ফিঙ্গারপ্রিন্টও ছিল না। তবু প্রত্যক্ষদর্শীদের শনাক্তকরণের ভিত্তিতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং ১৯ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। কারাগারে থাকার সময় অন্য বন্দিরা জোন্সকে বলতে থাকেন, তার সঙ্গে রিকি আমোস নামে আরেক বন্দির চেহারার অস্বাভাবিক মিল রয়েছে। শুরুতে বিষয়টি গুরুত্ব না দিলেও পরে জোন্স এই তথ্যকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণের সম্ভাব্য সুযোগ হিসেবে দেখেন। তিনি ইনোসেন্স প্রজেক্টের সহায়তা নেন। আইনজীবী ও গবেষকেরা রিকি লি আমোসকে খুঁজে বের করেন। আমোসের চেহারা জোন্সের সঙ্গে এতটাই মিল ছিল যে তাদের পাশাপাশি ছবি দেখে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ে। এরপর মামলার প্রত্যক্ষদর্শীদের দুই ব্যক্তির ছবি পাশাপাশি দেখানো হয়। তখন তারা আর নিশ্চিতভাবে বলতে পারেননি যে জোন্সই সেই ডাকাত ছিলেন। এমনকি ডাকাতির শিকার নারীসহ কয়েকজন সাক্ষীও দুই ব্যক্তিকে আলাদা করে শনাক্ত করতে পারেননি। তদন্তে আরও জানা যায়, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত গাড়িটি যে ঠিকানায় গিয়েছিল, সেই ঠিকানার সঙ্গে আমোসেরও যোগসূত্র ছিল। ২০১৭ সালের জুনে আদালত জোন্সের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে এবং তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগও পরে বাতিল করা হয়। মিডওয়েস্ট ইনোসেন্স প্রজেক্টের তথ্য অনুযায়ী, জোন্স ২০১৭ সালের ৮ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দোষ প্রমাণিত হন। এরপর কানসাসে ভুলভাবে দোষী সাব্যস্ত ও কারাগারে থাকা ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নতুন আইনের আওতায় জোন্স ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কানসাস রাজ্য তার সঙ্গে ১১ লাখ ৩ হাজার ৯৪৫ ডলারের বেশি অর্থের সমঝোতা করে। তাকে নির্দোষিতার সনদ দেওয়া হয় এবং তার গ্রেপ্তার ও দণ্ডের রেকর্ড মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কাউন্সেলিং এবং স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার সুযোগও দেওয়া হয়। জোন্সের ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের বিচারব্যবস্থায় প্রত্যক্ষদর্শীর ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকিও সামনে আনে। তার পুরো মামলাটি মূলত প্রত্যক্ষদর্শীদের শনাক্তকরণের ওপর নির্ভর করেছিল, অথচ পরে একই রকম দেখতে আরেক ব্যক্তির সন্ধান পাওয়ার পর সেই শনাক্তকরণ নিয়েই গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত নিজের চেহারার সঙ্গে অন্য একজনের অস্বাভাবিক মিলের কারণেই যে ভুলের শিকার হয়েছিলেন, প্রায় ১৭ বছর কারাগারে কাটানোর পর আদালতের সিদ্ধান্তে তার সেই সাজা বাতিল হয়।
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মহাসড়কে উবার থেকে নামিয়ে দেওয়ার পর গাড়ির ধাক্কায় ২৩ বছর বয়সী এক তরুণী নিহত হওয়ার ঘটনায় তার বাবা-মাকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিনের সালিশি শুনানি শেষে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক রিচার্ড এ. স্টোন উবার ও চালক ভু ট্রানকে ওই ঘটনায় যৌথভাবে দায়ী করেন। নিহত এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কারের বাবা ক্যারল নরম্যান্ডিন ও মা কেন পার্কারকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ১২ আগস্ট। এমিলি তার বন্ধু লুনা মুরের সঙ্গে রাতে বাইরে যাওয়ার পর উবারে করে বাড়ি ফিরছিলেন। যাত্রাপথে মুর অসুস্থ হয়ে পড়লে চালক ভু ট্রান অরেঞ্জ কাউন্টির স্টেট রুট ৭৩-এর একটি ‘গোর পয়েন্টে’ গাড়ি থামান। এটি মহাসড়কের মূল সড়ক ও অফ-র্যাম্পের মাঝের ত্রিভুজাকৃতির একটি অংশ। সালিশি রায়ে বিচারক স্টোন ওই জায়গাটিকে ‘অনিরাপদ ও অবৈধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ট্রান চাইলে কাছের ম্যাকআর্থার বুলেভার্ডের প্রস্থানপথ ব্যবহার করে নিরাপদ স্থানে গাড়ি থামাতে পারতেন। রায়ে আরও বলা হয়, ট্রান জানতেন দুই যাত্রীই মদ্যপ ছিলেন। গাড়ি পরিষ্কারের খরচ নিয়ে মুরের সঙ্গে তার বিরোধের পর তিনি তাদের ওই স্থানে নামিয়ে দেন। এরপর এমিলি মহাসড়কের মূল সড়কে চলে যান এবং একটি গাড়ির ধাক্কায় নিহত হন। সালিশি রায়ে বলা হয়েছে, জিপিএস তথ্য অনুযায়ী ট্রান সেখান থেকে চলে যাওয়ার সময় এমিলির মরদেহের কাছ দিয়ে যান। এরপর পরবর্তী প্রস্থানপথ দিয়ে মহাসড়ক থেকে বের হয়ে তিনি উবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং গাড়ি পরিষ্কারের খরচ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। বিচারক স্টোন ট্রানের সাক্ষ্য নিয়েও কঠোর মন্তব্য করেন। সালিশি রায়ে তার বক্তব্যকে প্রায় সম্পূর্ণ অবিশ্বাস্য হিসেবে বর্ণনা করা হয়। বিচারকের মতে, ট্রান যাত্রীদের নিরাপত্তার চেয়ে নিজের নতুন গাড়ি নিয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ছিলেন। একই সঙ্গে তার কাছে দুই নারীকে নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ ছিল বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়। এমিলির পরিবারের আইনজীবীদের পক্ষ থেকে সালিশি শুনানিতে ট্রানের আগের আচরণ নিয়েও তথ্য উপস্থাপন করা হয়। তাদের দাবি, ট্রানের গাড়ি চালানো নিয়ে উবারের কাছে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। একজন যাত্রী তার সঙ্গে হওয়া যাত্রাকে নিজের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে অনিরাপদ যাত্রা হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। আরেকজন অভিযোগ করেছিলেন, ট্রান গাড়ি চালাতে পারেন না। এমিলির বাবা কেন পার্কার অভিযোগগুলোর মধ্যে একমুখী সড়কে উল্টো পথে গাড়ি চালানো, অনিয়মিতভাবে গাড়ি চালানো এবং পথচারীদের প্রায় ধাক্কা দেওয়ার মতো আচরণের কথা উল্লেখ করেন। তবে উবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ট্রান এখন আর তাদের প্ল্যাটফর্মে চালক হিসেবে কাজ করেন না। পাঁচ দিনের সালিশি প্রক্রিয়া শেষে এমিলির বাবা ও মাকে ২০ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই ঘটনায় তার বন্ধু লুনা মুরকে ৩ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। সালিশি রায়ে উবারকে চালক ট্রানের অবহেলার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করা হয়। উবারের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হয়েছিল, প্রতিষ্ঠানটি মূলত যাত্রী ও চালকদের সংযোগকারী একটি প্রযুক্তি কোম্পানি। তবে বিচারক সেই যুক্তি গ্রহণ করেননি। তার সিদ্ধান্তে বলা হয়, উবার অ্যাপের মাধ্যমে পরিবহনসেবা দেয়, ভাড়া নির্ধারণ করে এবং যাত্রীদের যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দিক নিয়ন্ত্রণ করে। ক্যালিফোর্নিয়ার ‘প্রপোজিশন ২২’ নিয়েও উবারের যুক্তি ছিল। ২০২০ সালে অনুমোদিত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে অ্যাপভিত্তিক চালকদের কর্মচারীর পরিবর্তে স্বাধীন ঠিকাদার হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে সালিশি বিচারক মনে করেন, এই বিধান ট্রানের আচরণের জন্য উবারকে দায়মুক্তি দেয় না। উবার এক বিবৃতিতে এমিলির পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, কোনো পরিবারেরই সন্তান হারানোর কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। তবে উবার একই সঙ্গে জানিয়েছে, সালিশি প্রক্রিয়াকে সম্মান করলেও প্রতিষ্ঠানটিকে ওই ঘটনার জন্য আইনগতভাবে দায়ী করার সিদ্ধান্তকে তারা ভুল মনে করে। উবার আরও জানিয়েছে, গত কয়েক বছরে যাত্রী নিরাপত্তা বাড়াতে বিভিন্ন প্রযুক্তি, নীতিমালা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে এমিলির বাবা-মা মেয়ের মৃত্যুর পর তার স্মরণে ‘এমিলি নরম্যান্ডিন-পার্কার ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাইডশেয়ারিং সেবায় যাত্রীদের নিরাপত্তা জোরদার এবং করপোরেট জবাবদিহি নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই ফাউন্ডেশনটি গঠন করা হয়েছে। সালিশি মামলায় পাওয়া অর্থের একটি অংশ এই উদ্যোগে ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। এমিলি ২০২২ সালে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছিলেন। মেয়েকে স্মরণ করে তার মা জানিয়েছেন, এমিলির হাসি ছিল সংক্রামক। পরিবার জানিয়েছে, তিনি ছিলেন হাসিখুশি এবং গান গাইতে ভালোবাসতেন। সূত্র: গুড মর্নিং আমেরিকা
ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের একটি প্রকাশ না করা গবেষণামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেল নিজের কাজের সারসংক্ষেপে এমন নির্দেশনা যুক্ত করেছিল, যাতে পরবর্তী সময়ে কাজ করার সময় স্বাভাবিক সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার কথা বলা হয়েছিল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপ্রত্যাশিত আচরণ নিয়ে প্রকাশ করা নতুন নিরাপত্তা প্রতিবেদনে এমন ছয়টি ঘটনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ওপেনএআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি একটি গবেষণামূলক মডেলের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সময় শনাক্ত হয়। মডেলটি পরবর্তী পর্যায়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তৈরি করা সারসংক্ষেপে নিজের মূল কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন অতিরিক্ত নির্দেশনা ঢুকিয়ে দেয়। এসব নির্দেশনার কিছু অংশে নির্ধারিত সীমাবদ্ধতা উপেক্ষা করার কথাও ছিল। ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ধরনের ২৭টি সারসংক্ষেপ শনাক্ত করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি কোনো প্রকাশ্য চ্যাটজিপিটি সংস্করণে সাধারণ ব্যবহারকারীদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, এটি তাদের একটি প্রকাশ না করা গবেষণামূলক মডেলের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নের সময় পর্যবেক্ষণ করা হয়। ওপেনএআই আরও সতর্ক করেছে, প্রকাশ করা ঘটনাগুলো পৃথক উদাহরণ। এসব উদাহরণের ভিত্তিতে তাদের মডেলগুলোতে এমন আচরণ কত ঘন ঘন ঘটে, তা নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। প্রতিবেদনে আরও একটি ঘটনায় দেখা যায়, জিপিটি ৫.৬ সল প্রশিক্ষণের সময় কিছু মডেল নিজেদের সারসংক্ষেপে ভুল বা মানুষের নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত আচরণ ব্যবহারকারীর কাছ থেকে গোপন রাখার নির্দেশ যুক্ত করেছিল। কিছু ক্ষেত্রে মডেলকে অনুপস্থিত ঐতিহাসিক তথ্য তৈরি করে তা প্রকাশ না করার এবং বিভিন্ন তথ্যসূত্রের সংস্করণের মধ্যে থাকা অমিল গোপন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। আরেক ঘটনায় ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কাউন্টির আয়ের পরিসংখ্যান খোঁজার সময় একটি মডেল অনুমতি ছাড়া একটি উন্মুক্ত এপিআই চাবি ব্যবহার করে। কাঙ্ক্ষিত তথ্য সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার পর মডেলটি তথ্য তৈরি করে সেটিকে সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্র থেকে পাওয়া তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করে। ঘটনাটি এআইয়ের তথ্য যাচাই ও নির্ভরযোগ্যতার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি করেছে। ওপেনএআইয়ের প্রতিবেদনে এআই এজেন্টের আচরণ নিয়েও কয়েকটি ঘটনা তুলে ধরা হয়েছে। একটি ঘটনায় একটি এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই একটি ফাইল ইন্টারনেটে আপলোড করে, যাতে পরে সেটিকে ব্রাউজারের তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অন্য একটি ঘটনায় প্রশিক্ষণ কাজে যুক্ত একাধিক মডেল একটি অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার ভান্ডার ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে বার্তা আদানপ্রদান করে। আরেক ঘটনায় সহযোগী এআই এজেন্টগুলো নিজেদের মধ্যে ফাইল আদানপ্রদানের জন্য একটি উন্মুক্ত ফাইল সংরক্ষণ ওয়েবসাইট ব্যবহার করে। এসব আচরণ মডেলকে দেওয়া নির্ধারিত কাজের বাইরে গিয়ে নিজস্ব উপায়ে লক্ষ্য পূরণের চেষ্টা করতে পারে কিনা, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি ওপেনএআই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লক্ষ্যচ্যুত আচরণ শনাক্ত, তদন্ত ও প্রকাশের জন্য নতুন একটি কাঠামো চালু করেছে। প্রতিষ্ঠানটির সংজ্ঞা অনুযায়ী, লক্ষ্যচ্যুত আচরণ বলতে এমন পরিস্থিতিকে বোঝানো হচ্ছে, যেখানে কোনো এআই ব্যবস্থা মানুষের দেওয়া নির্দেশনা বা নির্ধারিত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এমন কোনো লক্ষ্য অনুসরণ করে। নতুন কাঠামোর আওতায় ভবিষ্যতে এআই মডেলের প্রশিক্ষণ, মূল্যায়ন, নিরাপত্তা পরীক্ষা এবং বাস্তব ব্যবহারের বিভিন্ন পর্যায়ে শনাক্ত হওয়া নির্দিষ্ট ধরনের অপ্রত্যাশিত আচরণ প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো এ ধরনের ঘটনা শনাক্ত হওয়ার পর সেগুলো কীভাবে তদন্ত করা হয় এবং কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, সে বিষয়ে আরও স্বচ্ছতা তৈরি করা। ওপেনএআই জানিয়েছে, এটি তাদের এ ধরনের ঘটনার প্রথম দফার প্রকাশনা এবং পূর্ণাঙ্গ তালিকা নয়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, সময়ের সঙ্গে এই কাঠামো আরও উন্নত করা হবে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের অপ্রত্যাশিত ও লক্ষ্যচ্যুত আচরণ সম্পর্কে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যাপক অভিবাসন ধরপাকড় ও বহিষ্কার কার্যক্রমের প্রভাব শুধু অনিবন্ধিত অভিবাসীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং মার্কিন নাগরিকদের চাকরিতেও পড়তে পারে বলে দাবি করেছে নতুন এক প্রতিবেদনে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU) ও এএফএল-সিআইওর যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি হারানোর ঝুঁকি রয়েছে, যার প্রায় অর্ধেক বর্তমানে মার্কিন নাগরিকদের দখলে। ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ‘সিটিজেনশিপ অ্যান্ড দ্য অ্যাফোর্ডেবিলিটি এজেন্ডা’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সংগঠন দুটি দাবি করেছে, ব্যাপক ডিপোর্টেশন শ্রমবাজারে কর্মী সংকট তৈরি করছে এবং নির্মাণ, হসপিটালিটি ও কেয়ারগিভিংয়ের মতো অভিবাসী কর্মী নির্ভর খাতে ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত করছে। তাদের মতে, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত পণ্য ও সেবার দাম এবং কর্মসংস্থানের ওপরও পড়তে পারে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে আলোচিত হিসাবটি এসেছে ইকোনমিক পলিসি ইনস্টিটিউটের একটি প্রক্ষেপণ থেকে। এতে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের ডিপোর্টেশন কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে প্রায় ৬০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হতে পারে। এর প্রায় অর্ধেক চাকরি বর্তমানে মার্কিন নাগরিকরা করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রক্ষেপণ, ইতোমধ্যে হারিয়ে যাওয়া চাকরির পরিসংখ্যান নয়। ACLU ও এএফএল-সিআইও আরও দাবি করেছে, অভিবাসন ধরপাকড়ের কারণে অনেক এলাকায় মানুষ কর্মস্থলে যাওয়া, কেনাকাটা ও রেস্টুরেন্টে যাওয়ার মতো স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড থেকেও দূরে থাকছেন। তাদের প্রতিবেদনে একটি হিসাব তুলে ধরে বলা হয়েছে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বছরে প্রায় ৮ দশমিক ১ বিলিয়ন কম ভিজিট এবং ৩ থেকে ১৪ বিলিয়ন ডলারের কম ব্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। মিনেসোটায় ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে ব্যবসাগুলোর সাপ্তাহিক ১০ থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত ক্ষতির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির আরেকটি দাবি হলো, অভিবাসন এনফোর্সমেন্টের ফলে শ্রমবাজারে অনিশ্চয়তা বাড়লে কিছু নিয়োগকর্তার জন্য কর্মীদের কম মজুরি দেওয়া বা শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সংগঠন দুটি বলছে, এর প্রভাব শুধু অভিবাসীদের ওপর সীমাবদ্ধ থাকে না এবং অভিবাসী ও মার্কিন নাগরিক উভয় ধরনের কর্মী থাকা একই শিল্পে মজুরি ও কর্মপরিবেশের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। তবে এসব দাবির সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসন একমত নয়। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র লরেন বিস নিউজউইককে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে অনিবন্ধিত অভিবাসন বৃদ্ধিই মার্কিন নাগরিকদের ওপর দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক চাপ, মূল্যস্ফীতি এবং মজুরির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে প্রশাসনের অবস্থান। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিবাসন আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরির সুযোগ বাড়ানোই তাদের লক্ষ্য। অভিবাসন নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ সালের মে মাসে ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একটি গবেষণায় বলা হয়েছিল, বেশি ICE গ্রেপ্তার হওয়া এলাকাগুলোতে অনিবন্ধিত কর্মীদের কর্মসংস্থান ৪ থেকে ৫ শতাংশ কমেছিল। একই গবেষণায় দেখা যায়, উচ্চমাধ্যমিক বা তার নিচের শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কিন নাগরিক পুরুষদের কর্মসংস্থানও কমেছে। ওই গবেষণায় আরও দেখা যায়, অনিবন্ধিত পুরুষ কর্মীদের প্রতি ছয়জন চাকরি হারানোর বিপরীতে প্রায় একজন মার্কিন নাগরিক কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। গবেষকরা বিশেষ করে কৃষি, নির্মাণ ও উৎপাদন খাতে এর প্রভাব দেখতে পেয়েছেন। গবেষণাটি ২০২৫ সালে ICE গ্রেপ্তার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল এমন এলাকাগুলোর মাসভিত্তিক কর্মসংস্থান তথ্য বিশ্লেষণ করে তুলনা করেছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন ও অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের সমর্থকদের যুক্তি হলো, অনিবন্ধিত কর্মীদের শ্রমবাজার থেকে সরিয়ে দিলে মার্কিন নাগরিকদের জন্য চাকরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে নতুন ACLU ও এএফএল-সিআইও প্রতিবেদন এবং প্রশাসনের অবস্থানের মধ্যে মূল বিরোধটি হলো, অভিবাসন ধরপাকড় শেষ পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের জন্য চাকরি ও মজুরি বাড়াবে, নাকি শ্রমবাজার ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সংকুচিত করে উল্টো প্রভাব ফেলবে। নতুন প্রতিবেদনটি এমন সময়ে প্রকাশিত হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয়, চাকরি ও মজুরি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনও সামনে রয়েছে। তবে প্রতিবেদনটির ৬০ লাখ চাকরি হারানোর হিসাব একটি প্রক্ষেপণ এবং এর সঙ্গে অভিবাসন নীতির পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যান্য পরিবর্তনশীল কারণও জড়িত থাকতে পারে। তাই এটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যৎ ফলাফল হিসেবে নয়, বরং একটি নীতি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাবের হিসাব হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় অঙ্গরাজ্যে মরণাপন্ন রোগীদের চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনের মাধ্যমে জীবনাবসানের ওষুধ নেওয়ার সুযোগ এখন আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে। নতুন আইন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা প্রাপ্তবয়স্ক রোগীরা চিকিৎসকের কাছে এমন ওষুধের জন্য আবেদন করতে পারবেন, যা তাঁরা নিজেরাই গ্রহণ করবেন। ‘অপশনস ফর টার্মিনালি ইল পেশেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই আইনটি ‘ডেব’স ল’ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর গভর্নর জেবি প্রিটজকার এতে স্বাক্ষর করেন এবং ২০২৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর আইনটি কার্যকর হয়। ইলিনয় এখন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩তম অঙ্গরাজ্য, যেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসানের এই পদ্ধতি আইনি অনুমোদন পেয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসিতেও একই ধরনের আইন রয়েছে। আইনটির নাম ‘ডেব’স ল’ রাখা হয়েছে ডেব রবার্টসনের নামে। ইলিনয়ের লম্বার্ড এলাকার সাবেক সমাজকর্মী রবার্টসন দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর ক্যানসারে ভুগছেন এবং মরণাপন্ন রোগীদের নিজের জীবনের শেষ পর্যায়ে চিকিৎসা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারের পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন। তাঁর অভিজ্ঞতা ও প্রচারণা আইনটি পাসের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আইন অনুযায়ী, আবেদনকারীকে ইলিনয়ের প্রাপ্তবয়স্ক বাসিন্দা হতে হবে এবং এমন একটি মরণাপন্ন রোগে আক্রান্ত হতে হবে, যাতে চিকিৎসকদের হিসাবে তাঁর বেঁচে থাকার সম্ভাব্য সময় ছয় মাসের কম। একই সঙ্গে রোগীকে নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো মানসিক সক্ষমতা থাকতে হবে। রোগীর চিকিৎসক এবং একজন পরামর্শক চিকিৎসককে রোগীর রোগ, সম্ভাব্য আয়ু এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা যাচাই করতে হবে। প্রক্রিয়াটি শুরু করতে রোগীকে নিজের চিকিৎসকের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে। এর পাশাপাশি অন্তত পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুটি মৌখিক অনুরোধ করতে হবে। দ্বিতীয় চিকিৎসকের অনুমোদনও প্রয়োজন। কোনো রোগীর পাঁচ দিনের মধ্যে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকলে চিকিৎসক নির্ধারিত অপেক্ষার সময় কমিয়ে দিতে পারেন। এই প্রক্রিয়ায় রোগীর হয়ে পরিবারের সদস্য, অভিভাবক বা অন্য কোনো প্রতিনিধি আবেদন করতে পারবেন না। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, অনুরোধটি অবশ্যই রোগীকে নিজেকেই করতে হবে। আগাম স্বাস্থ্য নির্দেশনা বা স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধির মাধ্যমেও এই আবেদন করা যাবে না। চিকিৎসকের দায়িত্বও আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। রোগীকে সম্ভাব্য ঝুঁকি, ওষুধ গ্রহণের সম্ভাব্য ফলাফল এবং চাইলে আবেদন প্রত্যাহারের সুযোগ সম্পর্কে জানাতে হবে। পাশাপাশি রোগীকে জানাতে হবে যে প্রেসক্রিপশন পাওয়ার পরও ওষুধটি গ্রহণ করা বাধ্যতামূলক নয়। চিকিৎসক রোগীর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ করলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের মূল্যায়নের প্রয়োজন হতে পারে। আইন অনুযায়ী, চিকিৎসকরা এই কার্যক্রমে অংশ নিতে বাধ্য নন। কোনো চিকিৎসক রোগীর অনুরোধে প্রেসক্রিপশন দিতে না চাইলে তাঁকে অন্য এমন চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে সহায়তা করতে হবে, যিনি এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। অংশ নেওয়া বা না নেওয়ার কারণে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি দায়ও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে আইন কার্যকর হওয়ার পর রোগীদের জন্য চিকিৎসক ও ওষুধের ব্যবস্থা খুঁজে পাওয়া একটি বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইলিনয়ে এই সেবা দেওয়া চিকিৎসক বা বিশেষায়িত ফার্মেসির কোনো সরকারি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নেই। রাজ্যের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের আইন সম্পর্কে তথ্য দিয়েছে এবং এ বিষয়ে একটি অনলাইন আলোচনা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থের বিষয়টিও রোগীদের জন্য বাধা হতে পারে। আইনে স্বাস্থ্যবিমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই ওষুধের খরচ বহন করা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এই ধরনের ওষুধের জন্য রোগীকে কয়েকশ থেকে প্রায় এক হাজার ডলার পর্যন্ত নিজ খরচ করতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভাষাগত প্রতিবন্ধকতাও কিছু রোগীর জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে। নিজের ভাষায় চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ বা প্রয়োজনীয় দোভাষীর সুবিধা না থাকলে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা কঠিন হতে পারে বলে চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। আইনটি নিয়ে বিরোধিতাও রয়েছে। ধর্মীয় সংগঠন এবং প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের কয়েকটি পক্ষ আদালতে মামলা করেছে। তাদের একটি অংশের দাবি, আইনটি অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এবং বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষা নেই। শিকাগোর ক্যাথলিক আর্চবিশপ কার্ডিনাল ব্লেইজ কাপিচও আইনটির বিরুদ্ধে করা একটি ফেডারেল মামলায় যুক্ত হয়েছেন। মামলাকারীদের দাবি, আইনটি ধর্মীয় স্বাধীনতার ওপর প্রভাব ফেলছে এবং ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে না চাওয়া প্রতিষ্ঠান ও চিকিৎসকদের ওপর আইনি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে আইনটি বর্তমানে কার্যকর রয়েছে। এ ছাড়া মুসলিম চিকিৎসকদের একটি দলও পৃথক মামলায় দাবি করেছে, আইনটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মীদের করা আরেক মামলায় আইনটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবন্ধী অধিকার আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কি না, সেই প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইলিনয়ের এই আইন যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসকের সহায়তায় জীবনাবসান নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে। ১৯৯৭ সালে ওরেগনে প্রথম এ ধরনের আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে। কমপ্যাশন অ্যান্ড চয়েসেস নামের একটি জাতীয় সংগঠনের হিসাবে, গত প্রায় তিন দশকে যেখানে এই ব্যবস্থা বৈধ, সেখানে ২০ হাজারের বেশি মানুষ এ ধরনের ওষুধের প্রেসক্রিপশন পেয়েছেন এবং অন্তত ১২ হাজার মানুষ তা গ্রহণ করেছেন। ইলিনয়ের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন আইনের আওতায় চিকিৎসকদের নির্দিষ্ট তথ্য রোগীর মৃত্যুর পর ৬০ দিনের মধ্যে জমা দিতে হবে। এসব তথ্য গোপনীয় হিসেবে বিবেচিত হবে। আদালতে চলমান মামলাগুলোর কারণে ভবিষ্যতে আইনের প্রয়োগে পরিবর্তন আসবে কি না, সেটি এখনো অনিশ্চিত। তবে সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মাঝামাঝি সময়ে আইনটি কার্যকর রয়েছে এবং নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করা ইলিনয়ের বাসিন্দারা এর আওতায় আবেদন করতে পারছেন। সূত্র: শিকাগো সান-টাইমস ও ইলিনয় ডিপার্টমেন্ট অব পাবলিক হেলথ।
যুক্তরাষ্ট্রে পরিবারের সদস্যদের গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক স্পনসরদের ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোর যাচাইয়ের সুযোগ পেয়েছে দেশটির নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সেবা সংস্থা ইউএসসিআইএস। ৩১ আগস্ট ২০২৬ থেকে নতুন সংস্করণের Form I-864, Affidavit of Support কার্যকর করার মাধ্যমে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন Form I-864-এর সংস্করণ তারিখ ২৪ আগস্ট ২০২৬। এতে ‘Privacy Release’ নামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ফর্মে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর ইউএসসিআইএস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে এক বা একাধিক ক্রেডিট রিপোর্টিং সংস্থার কাছ থেকে তাঁর ভোক্তা-ঋণসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুমতি দিচ্ছেন। এর মধ্যে ক্রেডিট রিপোর্ট ও ক্রেডিট স্কোরও থাকতে পারে। ইউএসসিআইএস জানিয়েছে, এই তথ্য Form I-864-এর আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। Form I-864 হলো গ্রিন কার্ডের জন্য আর্থিক সহায়তার অঙ্গীকারপত্র। পরিবারভিত্তিক অভিবাসনসহ নির্দিষ্ট কিছু অভিবাসন প্রক্রিয়ায় স্পনসরকে এই ফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করতে হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে আসা ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার মতো সক্ষমতা তাঁর রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই অঙ্গীকার আইনগতভাবে কার্যকর এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে স্পনসরের আর্থিক দায়ও তৈরি করতে পারে। নতুন নিয়মে ক্রেডিট ইতিহাস যাচাইয়ের সুযোগ যুক্ত হলেও ইউএসসিআইএস কোনো নির্দিষ্ট ন্যূনতম ক্রেডিট স্কোর নির্ধারণ করেনি। অর্থাৎ একজন স্পনসরের ক্রেডিট স্কোর নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার নিচে থাকলেই তাঁর আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে, এমন কোনো প্রকাশিত নিয়ম নেই। একইভাবে শুধু কম ক্রেডিট স্কোর, ঋণ, ক্রেডিট ইতিহাসে নেতিবাচক তথ্য বা অতীতের দেউলিয়াত্বের ভিত্তিতে স্পনসরশিপ বাতিলের স্বয়ংক্রিয় বিধানও প্রকাশ করা হয়নি। স্পনসরদের আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণে মূল বিষয়গুলোও বহাল রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পরিবারের সদস্যসংখ্যা, আয়, সম্পদ এবং করসংক্রান্ত তথ্য। সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, স্পনসরের আয় সংশ্লিষ্ট পরিবারের আকারের জন্য নির্ধারিত ফেডারেল দারিদ্র্যসীমার অন্তত ১২৫ শতাংশ হতে হয়। তবে নির্দিষ্ট শর্তে সক্রিয় সামরিক বাহিনীর সদস্যরা স্বামী, স্ত্রী বা সন্তানের জন্য স্পনসর করলে ১০০ শতাংশ দারিদ্র্যসীমার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বর্তমান নির্দেশনাতেও স্পনসরদের আয় ও করসংক্রান্ত নথি জমা দেওয়ার বিষয়টি বহাল রয়েছে। সাধারণত সাম্প্রতিক কর বছরের আইআরএস ট্যাক্স ট্রান্সক্রিপ্ট, প্রয়োজন অনুযায়ী আয় প্রমাণের কাগজপত্র এবং সম্পদ ব্যবহার করলে তার প্রমাণ জমা দিতে হয়। আয় নির্ধারিত সীমার নিচে হলে অতিরিক্ত আর্থিক প্রমাণ বা যৌথ স্পনসরের প্রয়োজন হতে পারে। নতুন নিয়মে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ক্রেডিট বা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘ফ্রিজ’। কোনো স্পনসরের ক্রেডিট রিপোর্টে এমন ফ্রিজ চালু থাকলে ইউএসসিআইএস প্রয়োজনীয় তথ্য দেখতে না পারায় আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ে বিলম্ব হতে পারে। তবে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই প্রত্যেক স্পনসরকে বাধ্যতামূলকভাবে ক্রেডিট ফ্রিজ তুলে ফেলতে হবে, এমন নির্দেশনা নেই। ইউএসসিআইএস তথ্য চাইলে দ্রুত সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নতুন ফর্মের ক্ষেত্রে সংস্করণ-তারিখ নিয়েও স্পনসরদের সতর্ক থাকতে বলা হচ্ছে। ইউএসসিআইএস ৩১ আগস্ট ২০২৬ নতুন 08/24/26 সংস্করণ প্রকাশ করেছে। তবে সংস্থার প্রকাশিত নির্দেশনা অনুযায়ী, পুরোনো 10/17/24 সংস্করণের জন্য ৩০ দিনের গ্রেস পিরিয়ড রয়েছে। ফলে ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পুরোনো সংস্করণ গ্রহণ করা হবে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে 08/24/26 সংস্করণই ব্যবহার করতে হবে। বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দাদের অনেকে পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রে Form I-864-এর মাধ্যমে আর্থিক স্পনসর হয়ে থাকেন। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের বর্তমান নির্দেশনাতেও পরিবারভিত্তিক অভিবাসী ভিসা আবেদনে প্রতিটি আর্থিক স্পনসরের Form I-864 এবং সংশ্লিষ্ট আর্থিক নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাই নতুন আবেদন প্রস্তুত করার সময় ফর্মের নিচে থাকা সংস্করণ-তারিখ, আয়সংক্রান্ত তথ্য, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, সাম্প্রতিক কর নথি এবং প্রয়োজনীয় সম্পদের প্রমাণ ভালোভাবে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে ১ অক্টোবরের পর পুরোনো সংস্করণের ফর্ম ব্যবহার করলে আবেদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা বা স্পনসরের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলে আবেদন জমা দেওয়ার আগে লাইসেন্সধারী ইমিগ্রেশন আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে। কারণ নতুন ফর্মে ক্রেডিট তথ্য যাচাইয়ের অনুমতি যুক্ত হলেও ক্রেডিট স্কোর কীভাবে প্রতিটি মামলার মূল্যায়নে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে ইউএসসিআইএস এখনো কোনো নির্দিষ্ট স্কোর-ভিত্তিক মানদণ্ড প্রকাশ করেনি। সূত্র: ইউএসসিআইএস ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে প্রশিক্ষণ চলাকালে একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির ব্লেয়ার টাউনশিপের গ্রামীণ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে পাইলট নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনাটি ঘটে কাউন্টি রোড ৬৩৩ ও ব্লেয়ার টাউনহল রোডের কাছাকাছি এলাকায়। বিমানটি ছিল টেক্সাস এয়ার ন্যাশনাল গার্ডের ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের। ইউনিটটি টেক্সাসের সান আন্তোনিও-ল্যাকল্যান্ড ঘাঁটি থেকে মিশিগানে প্রশিক্ষণের জন্য অবস্থান করছিল। বিধ্বস্ত হওয়ার আগে বিমানটির সঙ্গে থাকা আরেকটি এফ-১৬-এর পাইলট বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের সঙ্গে জরুরি যোগাযোগ করেন। লাইভএটিসি-তে প্রকাশিত রেডিও যোগাযোগের রেকর্ডিং অনুযায়ী, ‘বাক ১১’ কলসাইনের ওই পাইলট জানান, তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য পাইলটের বিমান সম্ভবত একটি পাখির আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর তিনি জরুরি সহায়তার জন্য সতর্ক করতে বলেন এবং জানান, তাঁর সহযাত্রী পাইলটকে বিমান থেকে বের হয়ে আসতে হতে পারে। রেডিও যোগাযোগে ওই পাইলটকে বলতে শোনা যায়, তাঁর উইংম্যানকে বিমান থেকে বের হতে হবে এবং ঘটনাটি যে এলাকায় ঘটতে যাচ্ছে, তিনি তখন সেই এলাকার ওপর দিয়ে উড়ছিলেন। নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে কাছাকাছি বিমানবন্দরে যাওয়ার পথ দেখানোর চেষ্টা করা হলেও পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে পড়ে। তবে পাখির আঘাতই দুর্ঘটনার কারণ ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত করেনি মার্কিন সামরিক কর্তৃপক্ষ। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের মুখপাত্র সার্জেন্ট ডেরেক গুতিয়েরেজ জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং তিনি সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়ে কোনো তথ্য পাননি। ফলে রেডিও যোগাযোগে উঠে আসা তথ্যকে আপাতত সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, নিশ্চিত কারণ হিসেবে নয়। দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টি জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রথমে নির্দিষ্ট এলাকায় ঘরে অবস্থানের নির্দেশ দেয়। পরে দুর্ঘটনাস্থলের এক মাইলের মধ্যে থাকা বাসিন্দাদের এলাকা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কাউন্টি রোড ৬৩৩-এর একটি অংশে যান চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের এই সতর্কতার পেছনে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও ছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, এফ-১৬ বিমানে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় হাইড্রাজিন নামে বিষাক্ত রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়। এ কারণে দুর্ঘটনাস্থলের কাছাকাছি বাসিন্দাদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুর্ঘটনার সময় বিকট শব্দ ও ধোঁয়া দেখতে পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে আগুন ও ধোঁয়ার বড় কুণ্ডলী দেখা যায়। ধ্বংসাবশেষের আশপাশে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন তাঁরা। ব্লেয়ার টাউনশিপের সুপারভাইজার নিকোল ব্লনশাইন জানিয়েছেন, মাটিতে থাকা কারও আহত হওয়ার খবর তিনি পাননি এবং কোনো বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন না। অন্যদিকে, বিধ্বস্ত বিমানের পাইলটকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গ্র্যান্ড ট্রাভার্স কাউন্টির শেরিফ মাইকেল ডি. শিয়া জানিয়েছেন, হাসপাতালে পাইলট সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন। এফ-১৬টি মিশিগানের আলপেনা কমব্যাট রেডিনেস ট্রেনিং সেন্টারে চলমান প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল। টেক্সাস থেকে আসা ১৪৯তম ফাইটার উইংয়ের একাধিক এফ-১৬ এই প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছিল। বিমানটি দুর্ঘটনার সময় নিয়মিত প্রশিক্ষণ মিশনে ছিল বলে সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। দুর্ঘটনার পর এফ-১৬ ইউনিটের নির্ধারিত অন্যান্য কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে একটি উচ্চবিদ্যালয়ের ফুটবল ম্যাচের আগে আকাশে উড্ডয়ন প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল এই ইউনিটের যুদ্ধবিমানগুলোর। দুর্ঘটনার পর সেই কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ নেবে। এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন মার্কিন বিমানবাহিনীর বহুল ব্যবহৃত যুদ্ধবিমানগুলোর একটি। ১৯৭৯ সাল থেকে এ ধরনের বিমান পরিচালিত হয়ে আসছে। মার্কিন বিমানবাহিনীর নিরাপত্তা তথ্য অনুযায়ী, ২০০০ সালের পর থেকে এফ-১৬ নিয়ে অন্তত ১৪টি ‘ক্লাস এ’ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় সাধারণত বিমান ধ্বংস হওয়া, প্রাণহানি বা ২০ লাখ ডলারের বেশি ক্ষতির মতো গুরুতর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত থাকে। মিশিগানের সর্বশেষ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য পাখির আঘাতের বিষয়টি রেডিও যোগাযোগে উঠে এলেও তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটিকে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি), সিবিএস ডেট্রয়েট ও ১৪৯তম ফাইটার উইং।
যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় প্রথমবারের মতো বছরে ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫ সালে দেশটির উপাসনালয়, স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার, গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ও অন্যান্য ইহুদি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তার পেছনে আনুমানিক ১ দশমিক ০১৫ বিলিয়ন ডলার বা ১০১ কোটি ৫০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে। ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার নতুন বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে একই ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় ছিল প্রায় ৭৬৫ মিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ। নতুন হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০০টির বেশি ইহুদি সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যয় বিবেচনা করা হয়েছে। গড়ে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের পেছনে নিরাপত্তায় প্রায় ২ লাখ ২৫ হাজার ডলার খরচ হয়েছে। এই অর্থের বড় অংশ ব্যয় হয়েছে নিরাপত্তাকর্মী ও নিরাপত্তা পরিচালনায়। পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তা জোরদার, নজরদারি ব্যবস্থা, ক্যামেরা, প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য প্রযুক্তি স্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ যাচ্ছে। ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার হিসাবে নিরাপত্তা প্রযুক্তি ও ভবনের নিরাপত্তা জোরদারে প্রায় ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। তবে এই হিসাবের মধ্যে ব্যক্তিমালিকানাধীন ইহুদি ব্যবসা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যেমন ইহুদি মালিকানাধীন খাবারের দোকান, বাজার, ধর্মীয় সামগ্রী বিক্রির প্রতিষ্ঠান ও বইয়ের দোকানগুলোর নিরাপত্তা ব্যয় এতে ধরা হয়নি। ফলে ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তায় মোট ব্যয় এর চেয়েও বেশি হতে পারে। নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা নিয়ে উদ্বেগেরও সম্পর্ক রয়েছে। ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকা বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হুমকি ও সহিংসতার আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিরাপত্তায় বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী এরিক ফিঙ্গারহাট বলেছেন, নিরাপত্তায় ব্যয় করা প্রতিটি ডলার ইহুদি শিক্ষা, প্রবীণদের সহায়তা ও অন্যান্য সামাজিক কার্যক্রমে ব্যয় করার সুযোগ কমিয়ে দেয়। এফবিআইয়ের ২০২৫ সালের বিদ্বেষমূলক অপরাধের তথ্যেও ইহুদিদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি উঠে এসেছে। ওই বছর ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে সংঘটিত বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৬৪ শতাংশ ইহুদিদের লক্ষ্য করে হয়েছিল। দেশটির জনসংখ্যায় ইহুদিদের অংশ প্রায় ২ শতাংশ হলেও ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক বিদ্বেষমূলক অপরাধে তারা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্যবস্তু হওয়া গোষ্ঠী ছিল। এই পরিস্থিতিতে ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলো বিশেষ করে বড় ধর্মীয় উৎসবের সময় নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া ইহুদি ধর্মীয় বর্ষের গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোতে সিনাগগ ও অন্যান্য উপাসনালয়ে মানুষের উপস্থিতি বাড়ে। ফলে এসব সময়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। নিউইয়র্কেও ইহুদিবিদ্বেষী অপরাধ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের সর্বশেষ প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে শহরে নিশ্চিত হওয়া ইহুদিবিদ্বেষী বিদ্বেষমূলক অপরাধের সংখ্যা ছিল ২২৯টি, যা আগের বছরের একই সময়ের ২১২টির তুলনায় ৮ শতাংশ বেশি। এসব অপরাধ শহরের মোট নিশ্চিত হওয়া বিদ্বেষমূলক অপরাধের ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশ। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও চলতি বছর ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে ৭০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছেন। রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এ অর্থ ২৯০টি অলাভজনক প্রতিষ্ঠানকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারে দেওয়া হচ্ছে। এর আওতায় ভবনের নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা এবং কর্মী ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর উদ্যোগ রয়েছে। নিরাপত্তা ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি শুধু ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধর্মীয় ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রেও একটি বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। তবে ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকার বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ইহুদি প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, তা এখন তাদের সাম্প্রদায়িক কার্যক্রমের একটি বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূত্র: ইহুদি ফেডারেশনস অব নর্থ আমেরিকা, ওয়াশিংটন পোস্ট ও নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ।
সৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে। এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে। হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়। ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না। এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে। এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।
রাজনীতি
১১ দলের নেতারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বিবেচনা করে আমাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী করেছেন: কর্নেল অলি
মির্জা ফখরুলই হচ্ছেন বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার
তারেক রহমান–মোদি একসঙ্গে বসলে বাংলাদেশ-ভারতের অনেক সমস্যার সমাধান হবে: দীনেশ ত্রিবেদী
হাসিনাকে সেদিন ভারতে পৌঁছে দেন যারা, প্রকাশ্যে এলো নতুন তথ্য
ইসরায়েলকে রক্ষায় যথেষ্ট নৌবাহিনী নেই, পেন্টাগনকে মার্কিন জেনারেলের সতর্কবার্তা
ভারত সব রাজনৈতিক দলকে পকেটে পুরলেও জামায়াতকে পারেনি: ডা. শফিকুর রহমান
সিনেটে ফাউসিকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক: রিপাবলিকানদের প্রশ্নবাণ, অধিকাংশ প্রশ্নেই ‘ফিফথ অ্যামেন্ডমেন্ট’ ব্যবহার
ছাত্রশিবির ছাড়ার একদিন পরই জামায়াতে যোগ দিলেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম
ইডেন কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রিভার জামিন মঞ্জুর
‘না ফেরার দেশে চলে গেলেন শামীম ওসমান’, যা জানাল ফ্যাক্টচেকার
Recommended news
মতামত
নাইমুল রাজ্জাক
বিশ্ব
View moreসৌদি আরবের কাছে ৪৮টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান বিক্রির সম্ভাব্য চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। ১৭ সেপ্টেম্বর অনুমোদিত প্রস্তাবটির আনুমানিক মূল্য ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পরই এর পরবর্তী ধাপ এগোবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা নিরাপত্তা সহযোগিতা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় এই অনুমোদনের মাধ্যমে সৌদি আরবকে এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসকে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য চুক্তিতে ৪৮টি এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমানের পাশাপাশি ৪৯টি প্র্যাট অ্যান্ড হুইটনি এফ১৩৫ ইঞ্জিন, যোগাযোগ ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ সহায়তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রিটি মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করবে। ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং মার্কিন ও মিত্র বাহিনীর সঙ্গে দেশটির সামরিক সমন্বয় জোরদারের বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পেয়েছে। এফ-৩৫ বিক্রির ঘোষণা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াই আবারও তীব্র হয়েছে। ১৬ সেপ্টেম্বর হুথিরা দাবি করে, তারা ইয়েমেনের মারিব গভর্নরেটে একটি সৌদি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তাদের দাবি, স্থানীয়ভাবে তৈরি ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে বিমানটি নামানো হয়েছে। তবে সৌদি সরকার এ দাবি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বিভিন্ন সামরিক বিশ্লেষণেও ঘটনাটিকে এখনো যাচাইসাপেক্ষ বলা হয়েছে। হুথিদের এই দাবির মধ্যেই সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলমান সংঘাতে সৌদি আরবের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ তৈরি হয়েছে এবং দেশটি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, পাকিস্তান ও মিসরসহ কয়েকটি দেশের কাছ থেকে সামরিক সহায়তার চেষ্টা করছে। একই সময়ে হুথিদের হামলায় সৌদি ভূখণ্ডে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। তবে নতুন এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান দ্রুত সৌদি আরবের বর্তমান সংঘাতে ব্যবহৃত হবে, এমন কোনো তথ্য নেই। চুক্তি কংগ্রেসে অনুমোদিত হলেও বিমান সরবরাহ শুরু হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে এফ-৩৫ বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে চীনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে অত্যাধুনিক মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি বেইজিংয়ের হাতে পৌঁছানোর ঝুঁকি থাকতে পারে। হাউস ইন্টেলিজেন্স কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্য রাজা কৃষ্ণমূর্তি এ কারণেই প্রস্তাবিত বিক্রির বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন সামরিক প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ চীনের নাগালের মধ্যে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করা উচিত নয়। ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও এই চুক্তিকে ঘিরে আলোচনা রয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলই একমাত্র দেশ, যারা এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পরিচালনা করছে। সৌদি আরবকে একই যুদ্ধবিমান দেওয়ার সম্ভাবনা দেশটির দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের নীতির সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, প্রস্তাবিত বিক্রির ফলে অঞ্চলটির সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন হবে না। এফ-৩৫ নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। রিয়াদ দীর্ঘদিন ধরে এই যুদ্ধবিমান কেনার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। সম্ভাব্য চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে সৌদি আরব হবে প্রথম আরব দেশ, যারা এফ-৩৫ পরিচালনা করবে। এরই মধ্যে সৌদি আরব আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতার ক্ষেত্রেও নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করে। চুক্তিতে বলা হয়েছে, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে। তুরস্ক ও পাকিস্তান অবশ্য জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং এর লক্ষ্য যৌথ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদার করা। এফ-৩৫ কর্মসূচি নিয়ে এর আগে তুরস্কের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও বড় পরিবর্তন হয়েছিল। রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর ২০১৯ সালে তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেয় ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা ছিল, রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এফ-৩৫ প্রযুক্তির সমন্বয় হলে সংবেদনশীল সামরিক তথ্যের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। সৌদি আরবের কাছে এফ-৩৫ বিক্রির ক্ষেত্রে এখন মূল বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের পর্যালোচনা। কংগ্রেসে প্রস্তাবটি কীভাবে এগোয়, তার ওপরই নির্ভর করবে ২৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের এই সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে কি না। সূত্র: রয়টার্স, আল জাজিরা ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য।
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন ও আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেটের নিয়মিত পরিচর্যা করা হচ্ছে। কার্পেট পরিষ্কার, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করার জন্য সার্বক্ষণিক একটি বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। সৌদি প্রেস এজেন্সির (এসপিএ) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মসজিদে নববী, এর ছাদ ও প্রাঙ্গণে ২৫ হাজারের বেশি কার্পেট ব্যবহৃত হয়। এসব কার্পেটের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে নিয়মিত ঝাড়ু দেওয়া, ধোয়া, জীবাণুমুক্ত করা এবং সুগন্ধি ছড়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে। কার্পেটগুলোর পরিচর্যার কাজ নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনার অধীনে পরিচালিত হয়। প্রতিটি কার্পেটে থাকা বৈদ্যুতিন চিপের মাধ্যমে সেটির অবস্থান, কখন পরিষ্কার করা হয়েছে, কখন ধোয়া হয়েছে এবং কখন এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরানো হয়েছে, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি শনাক্তকরণ বা আরএফআইডি প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত এই ব্যবস্থার মাধ্যমে কার্পেটের ব্যবহার ও পরিচর্যার ইতিহাসও জানা সম্ভব। মসজিদে নববীর কার্পেটগুলো বিশেষভাবে তৈরি। সৌদি প্রেস এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, এগুলো ঘন বুননের, পুরু ও টেকসই এবং বিপুলসংখ্যক মুসল্লির নিয়মিত ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। ঘন ঘন ধোয়া হলেও কার্পেটের রং ও গুণমান যাতে বজায় থাকে, সেদিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। কার্পেট পরিষ্কারের পাশাপাশি মসজিদের অন্যান্য অংশেও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও জীবাণুমুক্তকরণের কাজ চলে। ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে এসপিএ জানিয়েছিল, মসজিদে নববী ও এর আশপাশের এলাকায় প্রতিদিন ৮১ হাজার লিটারের বেশি পরিবেশবান্ধব পরিষ্কার ও জীবাণুনাশক উপকরণ ব্যবহার করা হতো। মসজিদের ভেতর ও বাইরের বিভিন্ন নামাজের স্থানও এই ব্যবস্থার আওতায় রয়েছে। এর আগে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিচর্যা নিয়ে প্রকাশিত আরেক সরকারি তথ্যে বলা হয়েছিল, দিনে তিনবার কার্পেট ঝাড়ু দেওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত জীবাণুমুক্ত ও সুগন্ধিযুক্ত করা হয়। ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন প্রায় ১৫০টি কার্পেট ধোয়ার ব্যবস্থাও ছিল। এ ছাড়া ২০২৩ সালের এক পরিসংখ্যানে মসজিদে নববীর কার্পেট পরিষ্কারে ৩০০টি ঝাড়ু দেওয়ার যন্ত্র এবং ৯২টি মেঝে ধোয়ার যন্ত্র ব্যবহারের কথা জানানো হয়েছিল। একই সময়ে পরিবেশবান্ধব জীবাণুনাশক ও সুগন্ধি ব্যবহার করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। মসজিদে নববীতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও দর্শনার্থীর সমাগম হওয়ায় পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে নামাজের স্থানগুলোর কার্পেট নিয়মিত পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত রাখার মাধ্যমে মুসল্লিদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সৌদি কর্তৃপক্ষের এই ব্যবস্থার লক্ষ্য শুধু কার্পেট পরিষ্কার রাখা নয়, বরং মসজিদে নববীতে ইবাদত করতে আসা মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখা। সূত্র: সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ)।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহর আল কাসিমিয়া এলাকায় নিজ বাসায় হঠাৎ পড়ে গিয়ে ৩২ বছর বয়সী ভারতীয় দন্ত চিকিৎসক ডা. আফিনা রাহিমের মৃত্যু হয়েছে। তিনি দুই ছোট সন্তানের মা ছিলেন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার সকালে আফিনা বাসার রান্নাঘরে হঠাৎ পড়ে যান। তিনি কেরালার মালাপ্পুরম জেলার বাসিন্দা ছিলেন এবং স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে শারজাহতে বসবাস করতেন। আফিনা দন্ত চিকিৎসা পেশায় প্রশিক্ষিত হলেও দুই ছোট সন্তানের দেখাশোনার জন্য কিছুদিন ধরে পেশাগত বিরতিতে ছিলেন। তার স্বামী ইয়াসার টি. একজন শিক্ষক এবং ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আফিনার ভাশুরের স্ত্রী রামশিনা তখন একই বাসায় ছিলেন। সকালে নিজের সন্তানকে স্কুলে পাঠানোর পর তিনি আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। পরে আফিনার ছোট সন্তানের কান্নার শব্দ শুনে ঘুম থেকে উঠে তিনি রান্নাঘরে আফিনাকে পড়ে থাকতে দেখেন। রামশিনা সঙ্গে সঙ্গে আফিনাকে সিপিআর দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অ্যাম্বুলেন্সে খবর দেন। পরে তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে বাঁচাতে পারেননি। আফিনার পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি আগে সুস্থ ছিলেন এবং তার কোনো পরিচিত অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্য সমস্যা ছিল না। তবে হঠাৎ মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে আরও তথ্যের অপেক্ষায় রয়েছেন। খালিজ টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আফিনার পরিবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তার মরদেহ ভারতে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার শেষকৃত্য কেরালার মালাপ্পুরমে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। কেরালার সংবাদমাধ্যম Onmanorama জানিয়েছে, আফিনা মালাপ্পুরমের ওয়ান্ডুর এলাকার পুক্কুলামের বাসিন্দা ছিলেন। তার ভাইও দুই বছর আগে ভারতের তামিলনাড়ুর কোয়েম্বাটোরে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। আফিনার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার দুই শিশু সন্তানের বয়স প্রায় সাড়ে তিন বছর ও দেড় বছর বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে ফেব্রুয়ারিতে চালানো সামরিক হামলার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের দায় থাকার ‘যৌক্তিক ভিত্তি’ পেয়েছে জাতিসংঘের স্বাধীন তথ্যানুসন্ধান মিশন। মিশনের নতুন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি এবং বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই প্রতিবেদনে গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে ইরানে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। জাতিসংঘের মিশন বলেছে, বিক্ষোভ দমনের সময় ইরানি কর্তৃপক্ষের কর্মকাণ্ড ব্যাপক ও পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক জনগণের ওপর পরিচালিত হয়েছে এবং এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় কঠোর বিধিনিষেধের মতো ঘটনা রয়েছে। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তুত করা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন সামরিক তৎপরতা এবং একই সঙ্গে ইরানের অভ্যন্তরে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে তেহরানের ভূমিকা পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার কথা বলা হয়েছে। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, সেখানে হামলার জন্য মার্কিন বাহিনী দায়ী ছিল বলে বিশ্বাস করার মতো যথেষ্ট ভিত্তি তারা পেয়েছেন। ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে প্রায় ১২০ জন ছিল স্কুলশিক্ষার্থী। জাতিসংঘের মিশনের মতে, বিদ্যালয়টি স্পষ্টভাবে একটি বেসামরিক স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব ছিল। তদন্তকারীরা এমন কোনো প্রমাণ পাননি যে হামলার সময় ভবনটি সামরিক কাজে ব্যবহৃত হচ্ছিল। তবে বিদ্যালয়টি ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের একটি নৌঘাঁটির কাছাকাছি অবস্থিত ছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বাহিনী ওই এলাকায় একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কমান্ডারের উপস্থিতি সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর নির্ভর করেছিল। কিন্তু হামলার আগে সেই তথ্য যথাযথভাবে হালনাগাদ বা যাচাই করা হয়নি। জাতিসংঘের তদন্তকারীরা মনে করেন, লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিদ্যালয়টি সামরিক স্থাপনা কি না তা নিশ্চিত না করে হামলা চালানো এবং বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত লাগার উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও অভিযান পরিচালনা করা সাধারণ অবহেলার চেয়ে গুরুতর বিষয়। জাতিসংঘের মিশনের মতে, এর ফলে বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার পাশাপাশি বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে এবং হামলাটি নির্বিচার আক্রমণের বৈশিষ্ট্য বহন করে। আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের আওতায় এমন হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। মিনাবের ওই হামলার দায় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এখনো চূড়ান্ত নয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, মেয়েদের স্কুলটি ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্য করে কেউ হামলা চালায়নি। অন্যদিকে রয়টার্স এর আগে জানিয়েছিল, মার্কিন সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ প্রাথমিক তদন্তে মিনাবের হামলায় মার্কিন বাহিনীর জড়িত থাকার সম্ভাবনা উঠে এসেছিল। পেন্টাগন পরে তদন্তের পরিধি বাড়ালেও এর পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশ করেনি। মিনাবের হামলার পাশাপাশি লামের্দ শহরের একটি ক্রীড়া কেন্দ্রে হামলাও তদন্ত করেছে জাতিসংঘের মিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই হামলায় আশপাশের আবাসিক ভবন ও একটি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২২ জন বেসামরিক মানুষ নিহত বা আহত হন। তদন্তকারীরা এই হামলাকেও নির্বিচার হামলা হিসেবে উল্লেখ করে যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। তবে লামের্দের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ভিন্ন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড মার্চে জানিয়েছিল, সংশ্লিষ্ট দিনে মার্কিন বাহিনী লামের্দ শহরে কোনো হামলা চালায়নি। জাতিসংঘের নতুন প্রতিবেদনের পরও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এসব অভিযোগের বিষয়ে নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য প্রকাশিত হয়নি। জাতিসংঘের প্রতিবেদনে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। মিশনের তদন্ত অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পর ইরানি কর্তৃপক্ষ বেসামরিক জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত দমন-পীড়ন চালায়। এর মধ্যে বেআইনি হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, নির্বিচারে আটক, গুম এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধের তথ্য পাওয়া গেছে। মিশন এসব কর্মকাণ্ডকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়তে পারে বলে জানিয়েছে। বিক্ষোভ দমনে নিহত মানুষের প্রকৃত সংখ্যা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ইরানি সরকারের সরকারি হিসাবে ৩ হাজার ৩৮ জন নিহত এবং ২৫ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা বলেছেন, তারা এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেননি এবং প্রকৃত নিহত ও আহতের সংখ্যা সরকারি হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে বলে মনে করেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিক্ষোভের সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার ইরানি কর্তৃপক্ষের দমননীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছিল। মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই সময়ের দমন-পীড়নকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটির সবচেয়ে বড় দমন অভিযানের অন্যতম হিসেবে বর্ণনা করেছে। তবে তেহরান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে এবং বিক্ষোভের জন্য বিদেশি শক্তি ও নির্বাসিত সরকারবিরোধীদের দায়ী করে আসছে। জাতিসংঘের এই প্রতিবেদন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান যুদ্ধের সময় বেসামরিক স্থাপনায় হামলা এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে সামরিক অভিযান পরিচালনার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবেদনে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়ন পর্যালোচনা করায় সংঘাতের দুই দিকের বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি ও মানবাধিকার পরিস্থিতিও সামনে এসেছে। সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস
Follow us
Trending
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।
ইরানের খার্গ দ্বীপ ধ্বংসের দাবিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের এআই-নির্মিত ভিডিও পোস্ট
‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’ বাদ দিয়ে কাশ্মীর দখলে স্লোগান দেওয়া উচিত: শুভেন্দু
গাজায় হামাসবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীকে শেল্টার দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী
ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখলে চীন-ভারতসহ দেশগুলোকে নিষেধাজ্ঞার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের
হামাসের নিরস্ত্রীকরণ বাস্তবায়নের আহ্বানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত সৌদি-ফ্রান্সের
২০-এর কোঠায় কিডনি বিকল, টেক্সাসে চিকিৎসকদের নজরে রহস্যজনক রোগ
সাধারণ পেট ফাঁপা ভেবে এড়িয়ে গিয়েছিলেন, সিটি স্ক্যানে ধরা পড়ল স্টেজ ৪ ক্যানসার
ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি আমেরিকানদের ক্ষেত্রে ভিন্ন হতে পারে! গবেষণায় নতুন তথ্য
নখের ক্ষুদ্র সংক্রমণ দেখে নবজাতকের মস্তিষ্কে ক্যানসার শনাক্ত, বাঁচাতে তিনবার অস্ত্রোপচার
মানুষের শরীরে রেকর্ড ২৭১ দিন কাজ করল শূকরের কিডনি, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নতুন ইতিহাস
মাতৃত্ব বাধা নয়, শক্তি: পরীক্ষার পুরো সময় ছাত্রীর সন্তান কোলে নিয়ে পরীক্ষা নিলেন শিক্ষক
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুগলের নতুন অফার, মিলবে ৪০০ জিবি স্টোরেজ ও এআই সুবিধা
চীনে পড়াশোনার অভিজ্ঞতা: নিরাপদ পরিবেশ, আধুনিক প্রযুক্তি ও শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের অনন্য সমন্বয়
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মর্যাদাপূর্ণ ফেলোশিপ পেলেন ঢাবি ছাত্র সীমান্ত
র্যাগিংয়ের ভিডিও ধারণ করায় প্রক্টরের সামনেই সাংবাদিক ও রাকসু নেতাদের মারধরের অভিযোগ
নিউইয়র্কে মামদানির ৪ মিলিয়ন ডলারের টয়লেট, ১০ মিনিট পরই খুলবে দরজা
অপরাধীর সঙ্গে চেহারা, নাম হুবহু মেলায় ১৭ বছর জেল! বেরিয়ে এলো সত্য
মহাসড়কে যাত্রী নামিয়ে দেওয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু, উবারকে ৪০ মিলিয়ন ডলার জরিমানা
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ায় আবার স্যাট ফেরানোর বিতর্ক, শিক্ষার্থীদের ‘বেসিক গণিত’ নিয়ে প্রশ্ন
ইন-এন-আউটে স্টোর ম্যানেজারদের গড় বার্ষিক আয় ২ লাখ ডলারের বেশি! রয়েছে সুবিধাও
সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফবিআইয়ের ক্যারিয়ার ও কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা
কুতুবদিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ফুল ফান্ডেড পিএইচডির সুযোগ পেলেন ফারিহা ঐশী
অস্ট্রেলিয়ার স্টুডেন্ট ভিসায় ৫ দেশের নাগরিকদের ইংরেজি পরীক্ষায় ছাড়
যুক্তরাষ্ট্রে মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ফুলফান্ডেড স্কলারশিপ, আবেদন শুরু
তিন তরুণীর জেদে বুয়েটের দরজা খুলেছিল নারীদের জন্য, যাঁদের হাত ধরে প্রকৌশলে নারীর যাত্রা
“আপনার ভিসা অনুমোদন হয়েছে” - ইংরেজি না জানা বাংলাদেশি শিশুর নিউইয়র্কে জীবন বদলের গল্প
বর্জ্য পুনর্ব্যবহার ও পরিবেশবান্ধব অর্থনীতিতে বাংলাদেশ–নেদারল্যান্ডসের নতুন সহযোগিতার অঙ্গীকার
ফ্লোরিডার প্রাইমারি নির্বাচন ঘিরে গভর্নর ও সিনেট মনোনয়নে তীব্র লড়াই
যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কর্মীদের জন্য ভিসাভিত্তিক নিয়ম ঘোষণা
প্রথম রাতে সংঘবদ্ধ লুটের ঘটনায় পুলিশ ছবি প্রকাশ করতেই দ্বিতীয় রাতেও সংঘবদ্ধ লুটপাট
ছুটিতে বাবা-মায়ের সঙ্গে ভারতে গিয়ে বিরল মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত, দুবাইয়ের ৭ বছরের আমেয়ার মৃত্যু
গ্রিনল্যান্ড-অ্যান্টার্কটিকায় ৪৭ বছরে গলেছে ১২.৫ ট্রিলিয়ন টন বরফ, বাড়ছে সমুদ্রের পানি
শেষ মুহূর্তে দিল্লির বৈঠক বাতিল করল আওয়ামী লীগ, হাসিনার ফেরার আলোচনা ঘিরে জল্পনা
বাংলাদেশি সন্দেহে ৩ মাস আটক, বৈধ নথি নিয়ে জামিন পেলেন ৬৬ বছরের ভারতীয়