যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ মানুষের জন্য পানি সরবরাহ আরও নির্ভরযোগ্য করতে ২০ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল টানেল প্রকল্প এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ‘ডেল্টা কনভেয়েন্স প্রকল্প’ নামে পরিচিত এ উদ্যোগের আওতায় স্যাক্রামেন্টো-সান জোয়াকিন ডেল্টার নিচ দিয়ে প্রায় ৪৫ মাইল দীর্ঘ টানেল নির্মাণ করা হবে, যা শেষ হতে এক দশকেরও বেশি সময় লাগতে পারে। এই টানেলের মাধ্যমে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার স্যাক্রামেন্টো নদীর পানি বিদ্যমান স্টেট ওয়াটার প্রজেক্টে পৌঁছে দেওয়া হবে। ক্যালিফোর্নিয়া সরকার বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, ভূমিকম্পের ঝুঁকি এবং ডেল্টা অঞ্চলের পুরোনো অবকাঠামোর কারণে ভবিষ্যতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নতুন টানেল সেই ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করবে। তবে প্রকল্পটি নিয়ে বিতর্কও কম নয়। পরিবেশবাদী সংগঠন, ডেল্টা অঞ্চলের বাসিন্দা এবং কৃষি খাতের প্রতিনিধিরা আশঙ্কা করছেন, এই টানেল নির্মিত হলে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র, মৎস্যসম্পদ এবং কৃষি কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ ছাড়া ব্যয় এবং অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। সম্প্রতি প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের একটি ধাপ অতিক্রম করেছে, যা নির্মাণকাজ শুরুর পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং চলমান আইনি চ্যালেঞ্জ এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। ডেল্টা কনভেয়েন্স প্রকল্প ক্যালিফোর্নিয়ার কয়েক দশকের পুরোনো পানি সরবরাহ আধুনিকায়ন পরিকল্পনার অংশ। এর আগে একই ধরনের একাধিক প্রকল্প রাজনৈতিক বিরোধ ও পরিবেশগত আপত্তির কারণে বাস্তবায়ন করা যায়নি। বর্তমান প্রকল্পটিকে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ক্যালিফোর্নিয়ার ভবিষ্যৎ পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরছে অঙ্গরাজ্য সরকার।
ভারতের বৃহত্তম তথ্যপ্রযুক্তি সেবা প্রতিষ্ঠান টাটা কনসালটেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে কার্যক্রম জোরদার করতে সর্বোচ্চ ৮,৯০০ জন বিশেষজ্ঞের একটি দল গঠনের পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে এআই, ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অধিগ্রহণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখছে কোম্পানিটি। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিসিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কে. কৃতিভাসন বলেন, ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানের মোট কর্মীর ১ থেকে ১.৫ শতাংশকে ‘ফরওয়ার্ড-ডিপ্লয়েড ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। জুন মাসের শেষে প্রতিষ্ঠানের কর্মীসংখ্যার ভিত্তিতে এ সংখ্যা প্রায় ৫,৯০০ থেকে ৮,৯০০ জন হতে পারে। এই প্রকৌশলীরা সরাসরি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করে তাদের ব্যবসায়িক চাহিদা অনুযায়ী এআই প্রযুক্তি বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান ব্যবস্থার সঙ্গে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয় করবেন। টিসিএসের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সমীর সেকসারিয়া জানান, দীর্ঘদিন নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করলেও এখন কোম্পানিটি কৌশলগতভাবে এআই, ডেটা সুরক্ষা এবং সাইবার নিরাপত্তা খাতে অধিগ্রহণের বিষয়টিও বিবেচনা করছে। কৃতিভাসনের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আইটি আউটসোর্সিং শিল্পের জন্য হুমকি নয়; বরং এটি নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করবে। তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এআই প্রযুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য অভিজ্ঞ প্রযুক্তি অংশীদারের প্রয়োজন হবে, আর সেখানেই টিসিএস নিজেদের শক্ত অবস্থানে দেখতে চায়। জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে ভারতের প্রায় ৩১৫ বিলিয়ন ডলারের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেক বিনিয়োগকারীর আশঙ্কা, এআইয়ের কারণে প্রকৌশলীর চাহিদা কমে যেতে পারে। তবে টিসিএসসহ ভারতের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো মনে করছে, এআই বরং নতুন ধরনের দক্ষ জনবল ও প্রযুক্তি সেবার চাহিদা সৃষ্টি করবে।
যুক্তরাষ্ট্রে পারিবারিক বসতবাড়ি কেনায় বড় করপোরেট বিনিয়োগকারীদের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হয়েছে। নতুন আইনে নির্দিষ্ট সীমার বেশি পারিবারিক বসতবাড়ির মালিক বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা আর অতিরিক্ত বাড়ি কিনতে পারবেন না। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এতে আবাসনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে—এমন সম্ভাবনা খুবই কম। নতুন বিধানটি ২১ শতক রোড টু হাউজিং অ্যাক্ট-এর অংশ হিসেবে কার্যকর হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর আগে এক নির্বাহী আদেশে ওয়াল স্ট্রিটভিত্তিক বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে আবাসন বাজারে প্রতিযোগিতা সীমিত করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। নতুন আইন অনুযায়ী, যেসব প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর মালিকানায় ৩৫০ বা তার বেশি পারিবারিক বসতবাড়ি রয়েছে, তারা নতুন করে আর বাড়ি কিনতে পারবেন না। তবে ইতিমধ্যে তাদের মালিকানায় থাকা বাড়ি বিক্রি করার বাধ্যবাধকতা নেই। সম্পত্তি বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোটালিটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের মোট পারিবারিক বসতবাড়ির মাত্র ০.৬৬ শতাংশ বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মালিকানায় রয়েছে। ফলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা, নতুন আইনের প্রভাব সীমিতই থাকবে। উইলিয়াম অ্যান্ড মেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়েল এস্টেট ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মাইকেল সাইলার বলেন, এই আইন কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় সাধারণ ক্রেতাদের জন্য সুযোগ বাড়াতে পারে, তবে উচ্চ সুদের হার, আবাসনের ঘাটতি, নির্মাণ ব্যয় এবং জোনিং-সংক্রান্ত জটিলতার মতো বড় সমস্যাগুলোর সমাধান এটি করতে পারবে না। মার্কিন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অধিকাংশ ভাড়াবাড়ির মালিকই ছোট আকারের ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী। নতুন আইন তাদের ওপর প্রযোজ্য নয়। বিশেষ করে আটলান্টাসহ সান বেল্ট অঞ্চলের কয়েকটি শহরে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি। এসব এলাকায় তারা অতীতে নগদ অর্থে বাড়ি কিনে সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক বড় প্রতিষ্ঠান নতুন বাড়ি কেনার বদলে বিদ্যমান সম্পত্তি বিক্রির দিকে ঝুঁকেছে। রিয়েল এস্টেট গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিয়েলটর ডটকম-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় বড় বিনিয়োগকারীদের বাড়ি কেনার হার ইতিমধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ কমেছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রে বিপুলসংখ্যক বাজেয়াপ্ত বাড়ি কম দামে কিনে ভাড়ার ব্যবসা শুরু করে বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। কোভিড-১৯ মহামারির সময় কম সুদের সুযোগে তারা আবারও ব্যাপক হারে বাড়ি কিনতে শুরু করে। সমালোচকদের দাবি, এতে সাধারণ পরিবারের জন্য বাড়ি কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়ে এবং অনেক এলাকায় আবাসনের দাম ও ভাড়া বেড়ে যায়। তবে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, তারা ভাড়াটেদের জন্য বিকল্প আবাসনের সুযোগ তৈরি করেছে।
মিয়ানমারের কারাবন্দি সাবেক নেত্রী অং সান সু চি সুস্থ আছেন এবং তাঁর যথাযথ দেখভাল করা হচ্ছে বলে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের জানিয়েছেন মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী টিন মাউং সোয়ে। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মিয়ানমারে আসিয়ানের বিশেষ দূত ও ফিলিপাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মারিয়া তেরেসা লাজারো। লাজারো বলেন, মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সু চিকে ‘একজন আত্মীয়’ ও ‘বোন’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, তাঁর সরকার তাঁর যত্ন নেবে। তবে আসিয়ান সু চির সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সুযোগ চেয়েছে, যাতে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত হন নোবেলজয়ী অং সান সু চি। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাভোগ করছেন। তাঁর সমর্থকদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে নিষ্ক্রিয় রাখতেই এসব মামলা করা হয়েছে। যদিও মিয়ানমারের সামরিক প্রশাসন এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। অভ্যুত্থানের পর এই প্রথমবারের মতো আসিয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা মিয়ানমারের প্রতিনিধির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে বসেন। বৈঠকে আসিয়ানের পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন, মানবিক সহায়তা এবং চলমান সংঘাত নিরসয়ের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। তবে সম্প্রতি মিয়ানমারের সামরিকপন্থী পার্লামেন্ট আসিয়ানের শান্তি উদ্যোগকে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যানের আহ্বান জানায়। এরপরও লাজারো বলেন, পাঁচ দফা শান্তি পরিকল্পনাই সংলাপ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার একমাত্র কার্যকর কাঠামো এবং আসিয়ান এ অবস্থানেই অনড় থাকবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত চলছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে।
ফিলাডেলফিয়া, ১১ জুলাই—শনিবার বিকেলে আকস্মিক তীব্র বজ্রঝড় ও দমকা হাওয়ায় ফিলাডেলফিয়া ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাত্র কয়েক মিনিটের এই ঝড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে, সড়ক অবরুদ্ধ হয়, একাধিক ব্যক্তিগত গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। বিকেল প্রায় ৩টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েস্ট ফিলাডেলফিয়া, ইউনিভার্সিটি সিটি, সেন্টার সিটি, নর্থইস্ট ফিলাডেলফিয়া, মাউন্ট এয়ারি, চেস্টনাট হিল, জার্মানটাউন এবং সাউথ ফিলাডেলফিয়ার বিভিন্ন অংশ। প্রবল বাতাসে বহু পুরোনো গাছ ভেঙে সড়ক ও পার্কিং এলাকায় পড়ে, ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয় এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চেস্টনাট স্ট্রিট এলাকার একটি স্থানে বিশাল একটি গাছ সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে পার্ক করে রাখা কয়েকটি গাড়িকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তবে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। ঝড়ের প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুৎ বিতরণকারী প্রতিষ্ঠান পিকোর আউটেজ ট্র্যাকার অনুযায়ী, ঝড়ের পর হাজারো গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ পুনরুদ্ধারে কয়েক ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এদিকে ফিলাডেলফিয়ার বিভিন্ন সড়কে ভেঙে পড়া গাছ ও ডালপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে ফায়ার বিভাগ, জরুরি সেবাকর্মী, সিটি কর্তৃপক্ষ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা একযোগে কাজ শুরু করেছেন। বাসিন্দাদের ভেঙে পড়া গাছ, ছিঁড়ে যাওয়া বিদ্যুৎ লাইন এবং ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামোর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের সময় প্রবল বাতাস, বজ্রপাত এবং অল্প সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতে অনেক বাসিন্দা নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওয়েস্ট ফিলাডেলফিয়াসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে উপড়ে পড়া গাছ, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক বাসিন্দা ঝড়টির তীব্রতাকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম শক্তিশালী বজ্রঝড় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, গ্রীষ্মকালে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে এ ধরনের শক্তিশালী বজ্রঝড়ের প্রবণতা বেড়ে যায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে ঝড়ের সতর্কতা জারি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে অবস্থান করা, অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা এবং ভেঙে পড়া বিদ্যুৎ লাইনের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জো বাইডেন প্রশাসনের মেয়াদে রেকর্ড সংখ্যক অবৈধ অভিবাসীর প্রবেশ দেশের আবাসন খাতের মূল্য বৃদ্ধি, ভাড়া বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব ডালাসের একটি সাম্প্রতিক কার্যপত্রে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। "ইউএস লেবার অ্যান্ড হাউজিং মার্কেটস"-এর ওপর অননুমোদিত অভিবাসনের প্রভাব শীর্ষক এই গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মার্চ মাসে প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের শুরু থেকে ২০২৪ সালের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে অননুমোদিত অভিবাসন ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশটির মোট জনসংখ্যায় প্রায় ৭০ লাখ মানুষ যুক্ত হয়েছে, যা আইনি অভিবাসনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের আগমন মার্কিন অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে বলে গবেষকেরা নথিপত্রে উল্লেখ করেছেন। এই অবৈধ অভিবাসন ২০২১ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির প্রায় ৩০ শতাংশের জন্য দায়ী। একই সময়ে আবাসন খাতে বাড়িঘরের দাম বাড়ার পেছনেও ৩০ শতাংশ ভূমিকা রেখেছে এই অননুমোদিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি। এছাড়া সাধারণ মানুষের ফ্ল্যাট বা বাড়ি ভাড়ার খরচ বৃদ্ধির পেছনেও ২০ শতাংশ প্রভাব ফেলেছে এই একই সমস্যা। আরভিং এলাকার রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য বেথ ভ্যান ডুইন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য লড়ছিলেন, তখন তিনি স্পষ্ট বলেছিলেন যে আমাদের বহিষ্কারের ওপর জোর দিতে হবে। ভ্যান ডুইন বলেন, বর্তমান প্রশাসনের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৩৫ লাখেরও বেশি মানুষকে বহিষ্কার করা হয়েছে বা তারা নিজেরাই দেশ ছেড়েছে, যার সরাসরি প্রভাবে আবাসন বাজারে দাম এখন কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপাশি ভ্যান ডুইন টেক্সাসে উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এইচ-ওয়ানবি ভিসার জালিয়াতি তদন্তের জন্য প্রশাসন, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও স্টেট সেক্রেটারির প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিঠি লিখেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ভুয়া ভিসা ধারীদের জন্য কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ায় মার্কিন নাগরিকেরা চাকরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং কম বেতনের বিদেশী কর্মীদের কারণে মজুরির হার কমে যাচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি আগামী ৬ই আগস্ট আর্লিংটনের গ্লোব লাইফ ফিল্ডে দেশের বৃহত্তম চাকরি মেলার আয়োজন করতে যাচ্ছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একদিকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এআই ব্যবহারে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে লাখো কর্মী আশঙ্কা করছেন—তাদের বর্তমান চাকরি ভবিষ্যতে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হতে পারে। তবে এআই ঠিক কত মানুষের চাকরিতে প্রভাব ফেলবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঐকমত্য নেই। এমন প্রেক্ষাপটে দ্য আটলান্টিক-এ প্রকাশিত “America Isn’t Ready for What AI Will Do to Jobs” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার এআই-নির্ভর পরিবর্তনের জন্য পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নয়। প্রতিবেদনের লেখক জশ টাইরাঙ্গিয়েল পরে পিবিএস নিউজআওয়ার-এর এক সাক্ষাৎকারে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এআইয়ের প্রভাব শুধু কারখানা বা প্রযুক্তি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। অফিস প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, হিসাবরক্ষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, আইনি সহায়তা, বিপণন, অনুবাদ, সংবাদ সম্পাদনা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক পেশাতেও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ফলে একই কাজ সম্পন্ন করতে ভবিষ্যতে অনেক প্রতিষ্ঠানের কম কর্মীর প্রয়োজন হতে পারে। বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে এআইকে দৈনন্দিন কাজের অংশ করে তুলছে। বিভিন্ন কোম্পানি অভ্যন্তরীণ নথি প্রস্তুত, তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রাহকের প্রশ্নের উত্তর, কোড লেখা এবং প্রশাসনিক কাজের জন্য এআইভিত্তিক ব্যবস্থা ব্যবহার শুরু করেছে। এর ফলে কর্মীদের কাজের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই মানেই সব চাকরি হারিয়ে যাবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সময় এখনো আসেনি। অতীতের শিল্পবিপ্লব, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেটের মতো প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও বহু পুরোনো পেশা বিলুপ্ত করলেও নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছিল। এবারও একই ধরনের পরিবর্তন ঘটতে পারে, যদিও পরিবর্তনের গতি আগের তুলনায় অনেক দ্রুত হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বর্তমান চ্যালেঞ্জের বড় অংশ প্রযুক্তিগত নয়, বরং নীতিগত। যুক্তরাষ্ট্রে কর্মীদের পুনঃপ্রশিক্ষণ, নতুন দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং শ্রমবাজারের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য এখনো পর্যাপ্ত প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে না। ফলে এআই-নির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের সময় অনেক কর্মী অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO), বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) এবং বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, এআই কিছু বিদ্যমান কাজের চাহিদা কমিয়ে দিতে পারে, তবে একই সঙ্গে নতুন দক্ষতাভিত্তিক পেশারও সৃষ্টি করবে। তাই ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান অনেকাংশে নির্ভর করবে কর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং সরকার ও বেসরকারি খাতের প্রস্তুতির ওপর। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকলেও এআইয়ের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। অর্থনীতিবিদ ও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক বছরেই বোঝা যাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত কর্মসংস্থানের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, নাকি নতুন অর্থনৈতিক সুযোগের পথ খুলে দেয়।
মুখে ছোট একটি ফুসকুড়ি দেখে প্রথমে তেমন গুরুত্ব দেননি যুক্তরাজ্যের কেন্টের গ্রেভসেন্ড এলাকার বাসিন্দা জ্যাকি ব্লোর। ছয় বছর ধরে সেটিকে সাধারণ একটি ত্বকের সমস্যা ভেবেই এড়িয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু পরে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায়, সেটি আসলে ত্বকের ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ ধরন ‘বেসাল সেল কার্সিনোমা (বিসিসি)’। নিউজউইককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জ্যাকি জানান, দ্বিতীয় সন্তান গর্ভে থাকা অবস্থায় প্রথম মুখে ছোট সাদা দানার মতো একটি দাগ দেখতে পান। তিনি ধারণা করেছিলেন এটি ‘মিলিয়া’—কেরাটিন জমে ত্বকের নিচে তৈরি হওয়া ক্ষতিকর নয় এমন ছোট সিস্ট। তবে সময়ের সঙ্গে দাগটি না সেরে বরং মাঝেমধ্যে রক্তপাত শুরু করে এবং উপরে খোসা পড়তে থাকে। কখনোই পুরোপুরি ভালো না হওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। প্রাথমিক পরীক্ষায় চিকিৎসক জানান, এটি বেসাল সেল কার্সিনোমা হতে পারে। পরে দাগটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করে বায়োপসি করা হলে সেই আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়। জ্যাকি বলেন, স্থানীয় অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে খুব অল্প সময়েই অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। তার মুখে চারটি সেলাই লেগেছিল এবং এখন ক্ষতটি ভালোভাবে সেরে গেছে। কেবল ছোট একটি দাগ রয়ে গেছে। নিজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সতর্ক করতে প্রকাশ করেছেন বলে জানান তিনি। তার ভাষায়, নতুন কোনো দাগ বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে, বিশেষ করে সেটি যদি রক্তপাত করে বা দীর্ঘদিনেও না সারে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ চিকিৎসা না করালে ক্যানসারটি ত্বকের গভীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং তখন আরও জটিল অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের তথ্য অনুযায়ী, বেসাল সেল কার্সিনোমা হলো ত্বকের সবচেয়ে সাধারণ ক্যানসার। সূর্যের অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মি বা ট্যানিং বেডের কারণে ত্বকের বেসাল কোষের ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই ক্যানসার তৈরি হতে পারে। বিশ্বজুড়ে নন-মেলানোমা ত্বকের ক্যানসারের প্রায় ৮০ শতাংশই এই ধরনের। বেসাল সেল কার্সিনোমার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মুক্তোর মতো চকচকে ছোট দানা, এমন ক্ষত যা দীর্ঘদিনেও সারে না, লালচে খসখসে দাগ অথবা মোমের মতো শক্ত দাগ। এগুলো সাধারণত শরীরের সেই অংশে দেখা যায়, যেখানে দীর্ঘ সময় সূর্যের আলো পড়ে। সাধারণভাবে এই ক্যানসার ধীরে ধীরে বাড়ে। তবে চিকিৎসা না করালে এটি আশপাশের টিস্যুতে ছড়িয়ে স্থানীয়ভাবে বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। কিছু বিরল ধরনের বেসাল সেল কার্সিনোমা তুলনামূলক দ্রুতও ছড়াতে পারে। দ্রুত আকার বৃদ্ধি, অস্পষ্ট সীমানা, দীর্ঘদিন রক্তপাত বা ঘা না শুকানো এবং ক্ষতস্থান দাগের মতো শক্ত হয়ে যাওয়া—এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে মার্কিন নার্স ম্যাকেনজি (কেনজি) মিখালস্কিকে হত্যার ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত আইরিশ নাগরিক লরকান ট্যাডগ মারফিকে ঘিরে নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। আদালতে উপস্থাপিত তদন্ত নথিতে বলা হয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দেশে নারীদের অনুসরণ করতেন, গোপনে তাদের ভিডিও ধারণ করতেন এবং ব্যক্তিগত ডায়েরিতে নারীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার পরিকল্পনা ও অভিজ্ঞতা লিপিবদ্ধ করে রাখতেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, তদন্তকারীরা মারফির কম্পিউটার ও ডিজিটাল ডিভাইস থেকে অন্তত ১৬ জন নারীর গোপনে ধারণ করা ভিডিও, ব্যক্তিগত নোট এবং ডায়েরি উদ্ধার করেছেন। এসব নথিতে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন শহরে নারীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার কৌশল, কোথায় বেশি সফল হয়েছেন এবং জীবনে এক হাজার নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ব্যক্তিগত লক্ষ্য সম্পর্কে লিখে রেখেছিলেন। তদন্তে আরও জানা যায়, মারফি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপ ব্যবহার করে নারীদের সঙ্গে পরিচিত হতেন। এরপর সুযোগ পেলে তাদের অনুসরণ করতেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই তাদের অজান্তে ভিডিও ধারণ করতেন। প্রসিকিউশন আদালতে দাবি করে, এসব তথ্য তার পরিকল্পিত ও শিকারি মানসিকতার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। ঘটনাটি ঘটে ২০২৪ সালের নভেম্বরে। যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা এবং ৩১ বছর বয়সী নার্স ম্যাকেনজি মিখালস্কি ইউরোপ সফরে বুদাপেস্টে গিয়েছিলেন। একটি নাইটক্লাবে মারফির সঙ্গে পরিচয়ের পর তারা তার ভাড়া করা অ্যাপার্টমেন্টে যান। সেখানেই মিখালস্কিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মারফি ঘটনাটি দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেছিলেন, সম্মতিসূচক যৌন কর্মকাণ্ডের সময় অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে মিখালস্কির মৃত্যু হয়েছে। তবে তদন্তকারীরা সেই দাবি গ্রহণ করেননি। আদালতও রায়ে উল্লেখ করেন, হত্যার পর তার কর্মকাণ্ডই প্রমাণ করে যে তিনি অপরাধ গোপন করার চেষ্টা করেছিলেন। তদন্তে জানা যায়, হত্যার পর মারফি অ্যাপার্টমেন্ট পরিষ্কার করেন, একটি বড় স্যুটকেস কিনে মরদেহ তাতে ভরে গাড়িতে করে বুদাপেস্ট থেকে দূরের একটি বনাঞ্চলে নিয়ে ফেলে দেন। পুলিশ পরে সেখান থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। এছাড়া তার ইন্টারনেট অনুসন্ধানের ইতিহাসে মরদেহ লুকানো, দেহাবশেষ দ্রুত নষ্ট হওয়া এবং পুলিশি তদন্ত এড়ানোর উপায় সম্পর্কিত বিভিন্ন অনুসন্ধানের তথ্যও পাওয়া যায়। বুদাপেস্ট মেট্রোপলিটন আদালত মারফিকে হত্যার দায়ে ১৪ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে। সাজা ভোগ শেষে তাকে আয়ারল্যান্ডে ফেরত পাঠানো হবে এবং দীর্ঘ সময়ের জন্য হাঙ্গেরিতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকবে। তবে তার আইনজীবী ইতোমধ্যে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছেন। এই মামলার রায় ও তদন্তে প্রকাশিত তথ্য ইউরোপজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিদেশ ভ্রমণকারী এক মার্কিন নাগরিকের হত্যাকাণ্ড এবং অভিযুক্তের ব্যক্তিগত ডায়েরি ও ডিজিটাল নথি থেকে উঠে আসা তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোর জন্যও নতুন উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির মধ্যেও ড্রোন উৎপাদন সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি করেছে বলে দাবি করেছে ইরান। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেছেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি, বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ-এর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। মাজিদ ইবন আল-রেজা বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধ ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা এবং প্রযুক্তিগত অগ্রগতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে। তার ভাষায়, “সাম্প্রতিক যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে ইরানের মেধাবী জনশক্তি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগই দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।” তিনি আরও বলেন, “যুদ্ধের সবচেয়ে কঠিন সময়েও প্রতিরক্ষা উৎপাদন বন্ধ হয়নি। বরং ওই সময়েই ড্রোন উৎপাদনের সক্ষমতা তিন গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।” ইরানের দাবি, যুদ্ধকালীন সময়ে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন, গবেষণা ও উন্নয়ন (আরঅ্যান্ডডি) খাতে বিনিয়োগ এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধির কারণে এই উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। দেশটি বলছে, দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে, তারই ফল এখন দৃশ্যমান হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের ড্রোন প্রযুক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন ধরনের নজরদারি ও হামলায় সক্ষম ড্রোন তৈরির দাবি করে আসছে তেহরান। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এবং তাদের মিত্ররা ইরানের ড্রোন কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে এবং এ নিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছে। অন্যদিকে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক এবং দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এসব সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সাম্প্রতিক সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরানের এ ধরনের দাবি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করতে পারে। তবে ইরানের দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র (বালেন) শাহ ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ নিয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জেরে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন। দেশটির বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল তাঁর কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া এবং পদত্যাগের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছে। বিতর্কের সূত্রপাত হয় সংসদে দেওয়া এক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। সেখানে বালেন শাহ বলেন, শুধু ভারত নয়, নেপালও সীমান্তের কিছু এলাকায় ভারতীয় ভূখণ্ডে অনুপ্রবেশ করেছে। তাঁর এই মন্তব্যের পর কালাপানি, লিপুলেখ ও লিম্পিয়াধুরা অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিনের ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ নতুন করে আলোচনায় আসে। বক্তব্য প্রকাশের পর কাঠমান্ডুসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থী ও বিরোধী দলের কর্মীরা বিক্ষোভ করেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য নেপালের জাতীয় অবস্থানকে দুর্বল করেছে। সংসদেও এ নিয়ে উত্তপ্ত বিতর্ক হয় এবং বিরোধীরা তাঁর পদত্যাগের দাবি তোলে। এদিকে নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক ব্যাখ্যায় জানায়, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের দাবি, তিনি সীমান্তবর্তী এলাকায় উভয় দেশের বাস্তব পরিস্থিতি ও ভূমি ব্যবহার নিয়ে কথা বলেছেন, নেপালের সার্বভৌম অবস্থান থেকে সরে আসেননি। ভারতও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। নয়াদিল্লি পুনর্ব্যক্ত করেছে, ভারত–নেপাল সীমান্ত বিরোধ দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান হওয়া উচিত এবং তৃতীয় পক্ষের কোনো ভূমিকার প্রয়োজন নেই। ২০২৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ব্যাপক সমর্থনে ক্ষমতায় আসেন বালেন্দ্র (বালেন) শাহ। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও রাজনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতির কারণে তিনি নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সীমান্ত ইস্যুতে তাঁর মন্তব্য সেই সমর্থকদের একাংশের মধ্যেই অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলে সব পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সময়ে ওমানের মুসান্দাম অঞ্চলে ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং কাতারে ইরানি হামলার ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়েছিল, নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়া কারও স্বার্থে নয়। ইসলামাবাদ কূটনৈতিক সংলাপ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছে। ওমানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় মুসান্দাম গভর্নরেটের কয়েকটি স্থানে ড্রোন আঘাত হেনেছে। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে। অন্যদিকে কাতারের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলার সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার পর পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষে এক শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই সাম্প্রতিক সংঘাতের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে। একই সঙ্গে ওমান, কাতার ও পাকিস্তানসহ একাধিক মধ্যস্থতাকারী দেশ আবারও আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখনও অস্থির এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। হরমুজ প্রণালি ও পারস্য উপসাগরকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, পাল্টাপাল্টি বিমান হামলা এবং উপসাগরীয় বিভিন্ন দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক সমাধানের ওপর জোর দিয়ে আসছে।
ওমান উপকূলের কাছে হামলার শিকার সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ জিএফএস গ্যালাক্সি থেকে ১১ জন ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও একজন ভারতীয় নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জানায়, মাস্কাটে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস ওমানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিখোঁজ ব্যক্তিকে উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে ভারত সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। এই ঘটনাকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বক্তব্যে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হামলা চালায়। এর জবাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে নতুন দফা হামলা চালানো হয়। মার্কিন বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজটিতে আগুন লাগে, ইঞ্জিন কক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একজন ক্রু সদস্য নিখোঁজ হন। অন্যদিকে ইরানের দাবি, জাহাজটি অনুমোদনহীন নৌপথে চলাচল করছিল। তাই সেটির উদ্দেশে কেবল সতর্কতামূলক গুলি ছোড়া হয়েছিল, যা জাহাজে আঘাত হানে। বেইজিং বা অন্য কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সংস্থা এখন পর্যন্ত এই দুই পক্ষের দাবির কোনোটিই স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং পাল্টাপাল্টি বিমান হামলার কারণে এ অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠেছে। ভারতসহ একাধিক দেশ তাদের নাগরিক ও বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমান ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও শক্তিশালী টাইফুনের আঘাতে বিপর্যস্ত চীন। ‘বাভি’ নামের ঘূর্ণিঝড়টি দেশটির পূর্ব উপকূলে আছড়ে পড়ার পর অন্তত ১৭ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে ফিলিপাইনে ঝড়টির প্রভাবে সৃষ্ট ভূমিধসে ১৭ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। চীনের আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় উপকূলীয় শহর তাইঝোতে প্রথম আঘাত হানে বাভি। প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত এই ঝড়টি মধ্যরাতে ওয়েনঝো শহরে দ্বিতীয়বার আঘাত করে। বর্তমানে এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। রোববার সকালে ঝড়টি ঝেজিয়াং প্রদেশের রাজধানী হাংঝুতে পৌঁছায় এবং উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সোমবার এটি আনহুই প্রদেশ অতিক্রম করে মঙ্গলবারের মধ্যে শানডং উপদ্বীপ হয়ে উত্তর পীত সাগরে প্রবেশ করতে পারে। টাইফুনের প্রভাবে ঝেজিয়াং প্রদেশে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে স্কুল, অফিস এবং সব ধরনের বহিরাঙ্গন কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমান ও রেল যোগাযোগেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে; ইতোমধ্যে প্রায় ৪০০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন চলাচল স্থগিত রয়েছে। ওয়েনঝো শহরে ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়া এবং গাছপালা উপড়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রায় এক কোটি মানুষের এই শহরে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে রাজধানী বেইজিংয়েও আরও এক লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। চীনের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানার আগে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ব্যাপক শক্তি নিয়ে এগোয় বাভি। গত সোমবার গুয়াম ও উত্তর মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে ঘণ্টায় প্রায় ২৯০ কিলোমিটার বেগে আঘাত হানার সময় এটিকে ‘সুপার টাইফুন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরবর্তীতে জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে এর প্রভাবে অন্তত পাঁচজন আহত হন এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। তাইওয়ানে সরাসরি আঘাত না হানলেও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় বহু মানুষকে ঘর ছাড়তে হয়েছে। উল্লেখ্য, দক্ষিণ চীন এখনো গত সপ্তাহের টাইফুন ‘মেসাক’-এর ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ওই ঝড়ে অন্তত ৩৯ জন প্রাণ হারান এবং কৃষি ও পশুপালন খাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই বাভির নতুন আঘাত দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় অনেক এলাকায় সুপারমার্কেটগুলোতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুত করতে মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টানা ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে, তাই সতর্কতা অব্যাহত রাখা জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।