Live update news
ইরানি হামলায় কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ, সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ

ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী দেশ কাতার তাদের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   গত সোমবার কাতারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে একটি আঘাত হানে মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে এবং অন্যটি কাতার এনার্জির রাস লাফফানে। উল্লেখ্য, রাস লাফফান বিশ্বের বৃহত্তম তরল গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র, যেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এলএনজি রপ্তানি করা হয়। হামলায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার এনার্জি সাময়িকভাবে উৎপাদন স্থগিত রেখেছে।   এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায়। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে বর্তমানে প্রায় ৭০০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্যাসবাহী জাহাজ। ইতিমধ্যে এই পথে গ্যাস সরবরাহ ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।   বাংলাদেশ ও বিশ্ববাজারে প্রভাব বিশ্বের মোট গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। আকস্মিক উৎপাদন বন্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতার থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।   জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন বলেন, কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধ হওয়া বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তবে পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এলএনজি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পর কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ।

১৭ সেকেন্ড Ago
ইরানে হামলায় নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারে স্পেনের ‘না’, ফিরে যাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে নিজেদের কোনো বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। মাদ্রিদের এই অনড় অবস্থানের পর সোমবার স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি সামরিক ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর মানচিত্রে দেখা গেছে, স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ করা এসব বিমানের মধ্যে বেশিরভাগই ‘বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’, যা আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকে। এর মধ্যে অন্তত সাতটি বিমান জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।   স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে হামলার জন্য স্পেন তাদের কোনো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের সনদের বাইরে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী কোনো কাজে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই।” যদিও এসব ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালিত হয়, তবে এর সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ স্পেনের হাতে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।   স্পেনের সম্প্রচারমাধ্যম ‘টেলেসিনকো’কে আলবারেস আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মাদ্রিদ। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাজ্যও তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গত রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার’ যুক্তি দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন।  

৭ মিনিট Ago
তিন দশক পর পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে ফ্রান্স

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের (ওয়ারহেড) সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম দেশটি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্ত নিল।   স্থানীয় সময় সোমবার ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ল’ইল লং সামরিক ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা দেন মাখোঁ। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি ফ্রান্সের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   প্রেসিডেন্ট মাখোঁ জানান, বর্তমানে ফ্রান্সের ভাণ্ডারে ৩০০টিরও কম পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে ঠিক কতটি বোমা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দেননি।   পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্সের সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।   মাখোঁ আরও ঘোষণা করেন, এখন থেকে মিত্রদেশগুলো চাইলে সাময়িকভাবে ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান নিজেদের ভূখণ্ডে মোতায়েন করার অনুমতি পাবে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ‘অতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প’ নিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।  

১৬ মিনিট Ago
আমরা কঠিন সময় পার করছি: মির্জা ফখরুল

বিশ্ব রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা ও নৈতিকতার সংকট চলছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান সময়টি অত্যন্ত কঠিন। তিনি বলেন, একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ এবং রাষ্ট্রপ্রধানদের হত্যার মতো ঘটনাগুলো বিশ্বকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।   আজ সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএসটি) মিলনায়তনে অধ্যাপক শাহিদা রফিকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন।   ইরানে সাম্প্রতিক হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বিনা কারণে একটি দেশের সার্বভৌমত্বে আঘাত হানা, একটি রাষ্ট্রের প্রধান বা মতাদর্শিক নেতাকে হত্যা করা এবং প্রেসিডেন্টকে বন্দি করার মতো ঘটনাগুলো প্রমাণ করে বিশ্ব আজ কতটা নৈতিকতাহীন হয়ে পড়েছে। আমরা যারা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবিকতায় বিশ্বাসী, তারা এখন চরম কষ্টে আছি।   দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গত ১৭-১৮ বছরে দেশে ফ্যাসিবাদী শক্তি সমস্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। তিনি অভিযোগ করেন, সুশাসন ও আইনের শাসনকে নির্বাসনে পাঠিয়ে মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে।   মৃত অধ্যাপক শাহিদা রফিকের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ধ্বংস হয়ে যাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় টেনে তোলা এবং রাষ্ট্রকে সত্যিকারের জনকল্যাণমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক হিসেবে গড়ে তোলাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। শাহিদা রফিকের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তার প্রতি প্রকৃত সম্মান প্রদর্শন করা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।  

৩০ মিনিট Ago
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক
ইরানে হামলায় নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারে স্পেনের ‘না’, ফিরে যাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে নিজেদের কোনো বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। মাদ্রিদের এই অনড় অবস্থানের পর সোমবার স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি সামরিক ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর মানচিত্রে দেখা গেছে, স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ করা এসব বিমানের মধ্যে বেশিরভাগই ‘বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’, যা আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকে। এর মধ্যে অন্তত সাতটি বিমান জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।   স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে হামলার জন্য স্পেন তাদের কোনো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের সনদের বাইরে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী কোনো কাজে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই।” যদিও এসব ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালিত হয়, তবে এর সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ স্পেনের হাতে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।   স্পেনের সম্প্রচারমাধ্যম ‘টেলেসিনকো’কে আলবারেস আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মাদ্রিদ। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাজ্যও তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গত রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার’ যুক্তি দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন।  

শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩, ২০২৬ 0
এমানুয়েল মাখোঁ । ছবি: রয়টার্স
তিন দশক পর পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে ফ্রান্স

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের (ওয়ারহেড) সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম দেশটি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্ত নিল।   স্থানীয় সময় সোমবার ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ল’ইল লং সামরিক ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা দেন মাখোঁ। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি ফ্রান্সের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   প্রেসিডেন্ট মাখোঁ জানান, বর্তমানে ফ্রান্সের ভাণ্ডারে ৩০০টিরও কম পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে ঠিক কতটি বোমা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দেননি।   পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্সের সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।   মাখোঁ আরও ঘোষণা করেন, এখন থেকে মিত্রদেশগুলো চাইলে সাময়িকভাবে ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান নিজেদের ভূখণ্ডে মোতায়েন করার অনুমতি পাবে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ‘অতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প’ নিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।  

ছবি: সংগৃহীত
ইরানি হামলায় কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ, সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ

ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী দেশ কাতার তাদের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   গত সোমবার কাতারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে একটি আঘাত হানে মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে এবং অন্যটি কাতার এনার্জির রাস লাফফানে। উল্লেখ্য, রাস লাফফান বিশ্বের বৃহত্তম তরল গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র, যেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এলএনজি রপ্তানি করা হয়। হামলায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার এনার্জি সাময়িকভাবে উৎপাদন স্থগিত রেখেছে।   এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায়। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে বর্তমানে প্রায় ৭০০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্যাসবাহী জাহাজ। ইতিমধ্যে এই পথে গ্যাস সরবরাহ ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।   বাংলাদেশ ও বিশ্ববাজারে প্রভাব বিশ্বের মোট গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। আকস্মিক উৎপাদন বন্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতার থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।   জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন বলেন, কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধ হওয়া বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তবে পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এলএনজি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পর কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ।

ছবি: সংগৃহীত
আবুধাবির জ্বালানি টার্মিনালে ড্রোন হামলা, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে

সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর রাজধানী আবুধাবি-তে একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   আবুধাবির মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুসাফ্ফা জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনাল–এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। এ ঘটনায় টার্মিনালে আগুন ধরে গেলেও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।   কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা–এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।

জাহের আলভী। ছবি: সংগৃহীত
ইকরার আত্মহত্যা: ভিডিওতে ‘মব’ আতঙ্কের দাবি আলভীর

স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার মৃত্যুর পর দাফনে না আসায় সমালোচনার মুখে পড়া ছোট পর্দার অভিনয়শিল্পী জাহের আলভী ২৮ মিনিটের এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। সোমবার রাত আটটার পর ফেসবুকে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে দেশে না ফেরা, স্ত্রীর শেষযাত্রায় অনুপস্থিত থাকা এবং বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ—এসব বিষয়ে কথা বলেন তিনি।   ভিডিওর শুরুতে আলভী বলেন, ঘটনার একপাক্ষিক বিবরণ দেখে তাঁকে বিচার করা হচ্ছে। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় সবকিছু গুছিয়ে বলা তাঁর পক্ষে কঠিন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। দাফনে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে আলভীর দাবি, দেশে ফিরলে ‘মব’ বা গণআক্রমণের শিকার হওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাঁর ভাষ্য, নেপাল থেকে ঢাকায় ফেরার টিকিট কেটে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করলেও নিরাপত্তাঝুঁকির তথ্য পেয়ে ফিরে যান। ফোনে হুমকি পাওয়ার কথাও জানান তিনি।   আলভী বলেন, আইনগতভাবে জবাব দিতে তিনি প্রস্তুত ছিলেন; কিন্তু যদি সহিংসতার শিকার হন, তাহলে তাঁর সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। তিনি আরও দাবি করেন, ইকরার পরিবার তাঁকে শেষবার স্ত্রীর মুখ দেখতে দেয়নি।   ভিডিওতে তাঁদের ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথাও তুলে ধরেন আলভী। তাঁর বক্তব্য, সম্পর্কের টানাপোড়েন আগে থেকেই ছিল এবং স্ত্রী তালাক চাইতেন। তবে সন্তানের কথা ভেবে তিনি বিচ্ছেদ চাননি। সহশিল্পী ইফফাত আরা তিথির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ প্রসঙ্গে আলভী বলেন, বাইরের মানুষের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কাছে ‘প্রমাণ’ রয়েছে বলে দাবি করেন, যদিও বিস্তারিত পরে জানাবেন বলে জানান।   গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মিরপুর DOHS–এর একটি বাসায় ইকরা আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। ঘটনার সময় আলভী নেপালে শুটিংয়ে ছিলেন।   ইকরার মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, দাম্পত্য কলহ ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় ইকরার বাবা কবির হায়াত খান পল্লবী থানায় আলভী ও তাঁর মা নাসরিন সুলতানা শিউলির বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মামলায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা, অবহেলা ও নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে।   রোববার ময়মনসিংহের ভালুকায় ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়। সেখানে আলভীর অনুপস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবারের ভিডিও বার্তায় সেই সমালোচনার জবাব দেন তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
যুক্তরাষ্ট্রের নাম না নিয়ে ইরানে হামলার নিন্দা জামায়াত আমিরের

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।   বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।”   তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।”   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।”   তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।”   বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।

Advertisement
News stories

রাজনীতি

  • ছাত্র রাজনীতি
  • এনসিপি
  • জামায়াত
  • অন্যান্য দল
  • আওয়ামী লীগ
  • বিএনপি

Recommended news

Advertisement

Opinion

আন্তর্জাতিক

View more
ছবি: সংগৃহীত
ইরানি হামলায় কাতারের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ, সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩, ২০২৬ 0

ইরানের ড্রোন হামলার পর বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী দেশ কাতার তাদের গ্যাস উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি অস্থিরতার পাশাপাশি বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   গত সোমবার কাতারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে একটি আঘাত হানে মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানির ট্যাংকে এবং অন্যটি কাতার এনার্জির রাস লাফফানে। উল্লেখ্য, রাস লাফফান বিশ্বের বৃহত্তম তরল গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র, যেখান থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এলএনজি রপ্তানি করা হয়। হামলায় কোনো হতাহতের খবর না পাওয়া গেলেও নিরাপত্তার স্বার্থে কাতার এনার্জি সাময়িকভাবে উৎপাদন স্থগিত রেখেছে।   এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে ইরান কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়ায়। বিশ্ববাজারের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালীর দুই প্রান্তে বর্তমানে প্রায় ৭০০টি জাহাজ আটকা পড়ে আছে, যার মধ্যে অন্তত ১৫০টি গ্যাসবাহী জাহাজ। ইতিমধ্যে এই পথে গ্যাস সরবরাহ ৮৬ শতাংশ কমে গেছে।   বাংলাদেশ ও বিশ্ববাজারে প্রভাব বিশ্বের মোট গ্যাস রপ্তানির ২০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। আকস্মিক উৎপাদন বন্ধ ও সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম বাড়তে শুরু করেছে। সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, কাতার থেকে নিয়মিত এলএনজি আমদানিকারক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তান সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়বে।   জ্বালানি বিশেষজ্ঞ মাকসিম সোনিন বলেন, কাতার এনার্জির উৎপাদন বন্ধ হওয়া বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করবে। তবে পরিস্থিতি যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মূল অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে এলএনজি বাজারে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার পর কাতার বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম গ্যাস রপ্তানিকারক দেশ।

ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলায় নিজেদের ঘাঁটি ব্যবহারে স্পেনের ‘না’, ফিরে যাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩, ২০২৬ 0

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে নিজেদের কোনো বিমানঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্পেন। মাদ্রিদের এই অনড় অবস্থানের পর সোমবার স্পেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় দুটি সামরিক ঘাঁটি থেকে অন্তত ১৫টি মার্কিন যুদ্ধবিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।   ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘ফ্লাইটরাডার ২৪’-এর মানচিত্রে দেখা গেছে, স্পেনের রোটা ও মোরন সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ করা এসব বিমানের মধ্যে বেশিরভাগই ‘বোয়িং কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাঙ্কার’, যা আকাশে জ্বালানি সরবরাহের কাজে নিয়োজিত থাকে। এর মধ্যে অন্তত সাতটি বিমান জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করেছে।   স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানে হামলার জন্য স্পেন তাদের কোনো ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। তিনি বলেন, “জাতিসংঘের সনদের বাইরে বা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক চুক্তির পরিপন্থী কোনো কাজে এই ঘাঁটিগুলো ব্যবহারের সুযোগ নেই।” যদিও এসব ঘাঁটি যৌথভাবে পরিচালিত হয়, তবে এর সার্বভৌমত্ব সম্পূর্ণ স্পেনের হাতে বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন।   স্পেনের সম্প্রচারমাধ্যম ‘টেলেসিনকো’কে আলবারেস আরও জানান, মধ্যপ্রাচ্যে এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে মাদ্রিদ। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের এই কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   উল্লেখ্য, সংঘাতের শুরুতে যুক্তরাজ্যও তাদের ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে গত রোববার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষার’ যুক্তি দেখিয়ে সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি প্রদান করেন।  

এমানুয়েল মাখোঁ । ছবি: রয়টার্স
তিন দশক পর পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত বাড়াচ্ছে ফ্রান্স
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩, ২০২৬ 0

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে নিজেদের পারমাণবিক অস্ত্রের (ওয়ারহেড) সংখ্যা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। ১৯৯২ সালের পর এই প্রথম দেশটি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির এমন সিদ্ধান্ত নিল।   স্থানীয় সময় সোমবার ফ্রান্সের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ল’ইল লং সামরিক ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা দেন মাখোঁ। উল্লেখ্য, এই ঘাঁটিটি ফ্রান্সের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী সাবমেরিনগুলোর প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।   প্রেসিডেন্ট মাখোঁ জানান, বর্তমানে ফ্রান্সের ভাণ্ডারে ৩০০টিরও কম পারমাণবিক বোমা রয়েছে। বৈশ্বিক পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণে ঠিক কতটি বোমা বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য তিনি দেননি।   পারমাণবিক শক্তি বাড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান বিশ্বের ক্রমবর্ধমান হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের নিরাপত্তায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নিশ্চয়তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্সের সক্ষমতা আরও জোরদার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।   মাখোঁ আরও ঘোষণা করেন, এখন থেকে মিত্রদেশগুলো চাইলে সাময়িকভাবে ফ্রান্সের পারমাণবিক অস্ত্রবাহী যুদ্ধবিমান নিজেদের ভূখণ্ডে মোতায়েন করার অনুমতি পাবে। এছাড়া ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে ‘অতি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প’ নিয়ে কাজ করবে বলেও জানান তিনি।  

ছবি: সংগৃহীত
আবুধাবির জ্বালানি টার্মিনালে ড্রোন হামলা, দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে
শাহারিয়া নয়ন মার্চ ৩, ২০২৬ 0

সংযুক্ত আরব আমিরাত–এর রাজধানী আবুধাবি-তে একটি জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনালে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর সেখানে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হলেও দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   আবুধাবির মিডিয়া অফিস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মুসাফ্ফা জ্বালানি ট্যাংক টার্মিনাল–এ একটি ড্রোন আঘাত হানে। এ ঘটনায় টার্মিনালে আগুন ধরে গেলেও জরুরি উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।   কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং টার্মিনালের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও কোনো প্রভাব পড়েনি। স্থানীয় প্রশাসন জানায়, অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা–এর প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার ঝুঁকি বাড়ছে।

Follow us

Trending

ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্চ ১, ২০২৬
আসিফ নজরুল Play Video
152 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
আমির খসরু Play Video
167 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
মসজিদুল হারামে খুতবা, তেলাওয়াত ও আজানের রোবট! Play Video
110 View আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬
Advertisement
খেলাধুলা
বিশ্ব রাজনীতি
স্বাস্থ্য
বিনোদন

তথ্যপ্রযুক্তি
ক্যাম্পাস
আমেরিকা
শিক্ষা
Advertisement
ধর্ম
বিশেষ প্রতিবেদন
মতামত
অর্থনীতি
অপরাধ
লাইফস্টাইল
জাতিসংঘ
মিডিয়া
বাংলাদেশ
জাতীয়