যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচার চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশাল ফেডারেল অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। "অপারেশন ব্রোকেন ব্লেড" নামের এই সাঁড়াশি অভিযানটি মূলত লস অ্যাঞ্জেলেসের কুখ্যাত ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকাকে কেন্দ্র করে চালানো হয়। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবপাচার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন শোষণের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মোটেল এবং একাধিক বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরের কাছে অবস্থিত 'স্টেডিয়াম ইন অ্যান্ড স্পাস' নামক ওই মোটেলে তল্লাশি চালিয়ে এর ৪৫ বছর বয়সী অন-সাইট ম্যানেজার মুকেশকুমার রামভাই আহিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, তিনি সরাসরি মানবপাচারে জড়িত না থাকলেও যৌনপাচারের অবৈধ আয় থেকে লাভবান হওয়া এবং হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে সেই অর্থ আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই স্থানীয় কুখ্যাত 'হুভার গ্যাং'-এর সদস্য কিংবা সহযোগী। দীর্ঘ সময় ধরে ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকায় যৌনপাচার ও পতিতাবৃত্তির পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল এই চক্রটির হাতে। বুধবার প্রকাশিত ফেডারেল অভিযোগপত্রে অন্তত ৫১ জন ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জোরপূর্বক ও প্রতারণার মাধ্যমে যৌনপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তদন্তে উঠে এসেছে এই চক্রের নির্মমতার চিত্র। তারা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আর্থিক ও মানসিকভাবে দুর্বল কিশোরী এবং তরুণীদের টার্গেট করত। বিশেষ করে ফস্টার কেয়ারের মেয়েদের বা বাড়ি থেকে পালানো শিশুদের বিলাসবহুল জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হতো। পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং অক্সিকোডন ও অ্যামফেটামিনের মতো ভয়ংকর মাদকে আসক্ত করে তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দালাল ভুক্তভোগীদের শরীরে জোরপূর্বক দাগ বা ব্র্যান্ডিং করে দিত। এমনকি এক ভুক্তভোগীকে জোর করে গর্ভপাত করানোর পর একই রাতে পুনরায় যৌনকাজে বাধ্য করার মতো শিউরে ওঠা তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানিয়েছে, গত বছর ওই এলাকা থেকে ৫৪ জন এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৭০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। মানবপাচার ও এ ধরনের নিষ্ঠুর যৌন শোষণ পুরোপুরি নির্মূল করতে ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে গাজার এক বাসিন্দাকে বিয়ে করেছেন বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক সরকারি স্কুলশিক্ষিকাকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক বিয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ৫১ বছর বয়সী লরা পিনহো ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সরকারি স্কুলের নৃত্যশিক্ষক এবং যুদ্ধবিরোধী সংগঠন ‘কোডপিংক’-এর (CODEPINK) একজন কর্মী। গত ১৬ জুন ‘চ্যালেঞ্জিং জায়নিজম ইন আওয়ার স্কুলস’ শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনায় তিনি বলেন, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তার যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা তিনি বৈষম্য কমাতে ব্যবহার করতে চান। আলোচনায় তিনি জানান, সেই ভাবনা থেকেই তিনি গাজার এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, অভিবাসন আইনের অপব্যবহার করে কেউ যদি বিয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের বিবাহ নিবন্ধন নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল লরা পিনহো গাজার বাসিন্দা সালেম এস. ই. আবু আমরাকে বিয়ে করেন। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভার্চুয়াল বা অনলাইন পদ্ধতিতে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের প্রায় এক মাস আগে পিনহো তার ভবিষ্যৎ স্বামীর জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আবু আমরা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পাঁচ সদস্যের পরিবারের দেখভাল করেন এবং প্রতিদিন নিরাপদ পানি ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবে সমালোচনার মুখে লরা পিনহো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কেবল মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বিয়ে করেননি। তিনি বলেন, আবু আমরাকে ভালোবেসেই তিনি বিয়ে করেছেন এবং আলোচনায় দেওয়া তার বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র গ্রিন কার্ড বা অন্য কোনো অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া বা প্রতারণামূলক বিয়ে করা একটি ফেডারেল অপরাধ। এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আবেদন বাতিলসহ অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এখন পর্যন্ত লরা পিনহোর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের চরম বিপর্যয়ের পর দলে আছড়ে পড়েছে ভাঙনের প্রবল সুনামি। দলের অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা দল গঠন করেছেন এবং লোকসভা সাংসদদের একটি বড় অংশ তৃতীয় ব্লক তৈরি করে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’-এর দাবি তুলেছেন। এমন নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের অনমনীয় মনোভাব বজায় রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিরোধীদের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে থামাতে হলে বিরোধীদের তাঁকে হত্যা করতে হবে। তৃণমূলের দলীয় প্রতীক তাঁর এবং তাঁর অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে বলে জোর দাবি করে মমতা দলত্যাগীদের 'বিশ্বাসঘাতক' আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না এবং এটি পেতে হলে বিদ্রোহীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। শনিবার তৃণমূল শিবিরে আরও একটি বড় ধাক্কা লাগে, যখন দলের রাজ্য সভাপতি ও মমতার অন্যতম শীর্ষ অনুগত নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। গত শুক্রবার তৃণমূলের মূল কার্যালয় দখল করে নেওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরেই পরবর্তীতে চন্দ্রিমাকে দেখা যায়। চন্দ্রিমার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা জানান, ছেলে আগেই তৃণমূল বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ায় চন্দ্রিমা তাঁকে বাস্তব পরিস্থিতি এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তবে বিদ্রোহীদের তরফ থেকে আসা কোনো উপদেষ্টা পদের প্রস্তাব তিনি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কখনোই তাদের সাথে হাত মেলাবেন না। দলের কার্যালয় দখলের এবং তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে মমতা মনে করিয়ে দেন, ওই অফিসটি ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের লিজ নেওয়া রয়েছে। কোনো ব্যক্তি দল ছাড়লেই দলের প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না। এটি দলের সম্পত্তি এবং ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর এই অধিকার কেউ জোর করে দখল করতে পারে না। ২০১১ সালে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দলত্যাগীদের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, মূলত বিজেপির চাপের মুখেই বিদ্রোহীরা দল ছেড়েছেন, কিন্তু তিনি বা তাঁর দল কখনোই এমন চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। তৃণমূলের আদর্শ সম্পূর্ণ বিজেপি-বিরোধী—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি নিজেই যাঁদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তাঁরা কীভাবে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন! তিনি আরও বলেন, এখন যারা বিজেপির সাথে আছেন, তৃণমূলের বিজেপি-বিরোধী আদর্শের কারণে তাদের সাথে এভাবে চলতে পারে না। দলের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিদায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য স্তরে দলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এখন থেকে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে অবস্থিত কার্যালয়টিই তৃণমূলের মূল কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই মমতার নেতৃত্ব এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলে এই ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যেই ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক এবং ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ মমতার নেতৃত্বাধীন দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দলত্যাগ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মমতার প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকলেও দলে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার অভাবেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে নিজেদের জ্বালানি, খনিজ, অবকাঠামো, সামুদ্রিক, টেলিযোগাযোগ এবং কৃষি খাতে বিশাল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ইস্তাম্বুল সফরে গিয়ে শনিবার তিনি এই আহ্বান জানান। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে চ্যালিক হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান আহমেদ চ্যালিক, আলবায়রাক গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আলবায়রাক এবং ইউনিয়ন অব চেম্বার্স অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব তুর্কিয়ের (টিওবিবি) প্রেসিডেন্ট রিফাত হিসারসিক্লিওগ্লু উপস্থিত ছিলেন। চ্যালিক হোল্ডিংয়ের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি পাকিস্তানের জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বেসরকারীকরণ খাতের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আলবায়রাক গ্রুপকে পাকিস্তানের সামুদ্রিক অবকাঠামো, বন্দরের আধুনিকায়ন এবং লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে শাহবাজ শরিফ তুর্কসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলি তাহা কোচের সঙ্গেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আঞ্চলিক ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী করা, নিরাপদ আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর একীকরণে একটি ‘পাকিস্তান-তুরস্ক ডিজিটাল করিডোর’ প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি তুর্কসেলকে পাকিস্তানে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরিতে অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। জবাবে তুর্কসেলের সিইও পাকিস্তানের ডিজিটাল রূপান্তরের এজেন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উদীয়মান এই প্রযুক্তি খাতে একযোগে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সরকারি সফরে শাহবাজ শরিফ একটি বিজনেস কনফারেন্সেও ভাষণ দেবেন, যেখানে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি এবং আইটি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনাগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিদ্যমান। মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘আর-৪’ কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্কেরও সক্রিয় সদস্য এই দুই মিত্র দেশ। বর্তমানে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। যার অংশ হিসেবে পাকিস্তান তুরস্কের কাছ থেকে চারটি আধুনিক করভেট যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করছে, যার দুটি তুর্কি সহায়তায় করাচি শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিসহ এভিওনিক্স ও নজরদারি ব্যবস্থার যৌথ উন্নয়নেও দেশ দুটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের অংশ হিসেবে গাজার এক বাসিন্দাকে বিয়ে করেছেন বলে প্রকাশ্যে মন্তব্য করার পর যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার এক সরকারি স্কুলশিক্ষিকাকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এ ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতারণামূলক বিয়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা ৫১ বছর বয়সী লরা পিনহো ক্যালিফোর্নিয়ার একটি সরকারি স্কুলের নৃত্যশিক্ষক এবং যুদ্ধবিরোধী সংগঠন ‘কোডপিংক’-এর (CODEPINK) একজন কর্মী। গত ১৬ জুন ‘চ্যালেঞ্জিং জায়নিজম ইন আওয়ার স্কুলস’ শীর্ষক একটি অনলাইন আলোচনায় তিনি বলেন, একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে তার যে সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা তিনি বৈষম্য কমাতে ব্যবহার করতে চান। আলোচনায় তিনি জানান, সেই ভাবনা থেকেই তিনি গাজার এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছেন। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট প্রতিবেদন প্রকাশ করলে যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন সংস্থা (ইউএসসিআইএস)-এর মুখপাত্র জ্যাক কাহলার বলেন, অভিবাসন আইনের অপব্যবহার করে কেউ যদি বিয়ের মাধ্যমে অবৈধভাবে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রতিটি বিষয় তদন্ত করে প্রমাণের ভিত্তিতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যের বিবাহ নিবন্ধন নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ এপ্রিল লরা পিনহো গাজার বাসিন্দা সালেম এস. ই. আবু আমরাকে বিয়ে করেন। ইউটাহ অঙ্গরাজ্যে নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ভার্চুয়াল বা অনলাইন পদ্ধতিতে বিয়ে নিবন্ধনের সুযোগ রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিয়ের প্রায় এক মাস আগে পিনহো তার ভবিষ্যৎ স্বামীর জন্য একটি অনলাইন তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু করেছিলেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আবু আমরা যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় পাঁচ সদস্যের পরিবারের দেখভাল করেন এবং প্রতিদিন নিরাপদ পানি ও খাদ্য সংগ্রহের জন্য কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। তবে সমালোচনার মুখে লরা পিনহো অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, কেবল মার্কিন নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি বিয়ে করেননি। তিনি বলেন, আবু আমরাকে ভালোবেসেই তিনি বিয়ে করেছেন এবং আলোচনায় দেওয়া তার বক্তব্য সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপটে উপস্থাপিত হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, শুধুমাত্র গ্রিন কার্ড বা অন্য কোনো অভিবাসন সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ভুয়া বা প্রতারণামূলক বিয়ে করা একটি ফেডারেল অপরাধ। এমন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অভিবাসন আবেদন বাতিলসহ অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। এখন পর্যন্ত লরা পিনহোর বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বা তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরকারি সংস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় বিদেশি বিনিয়োগ টানতে ব্যাপক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে নিজেদের জ্বালানি, খনিজ, অবকাঠামো, সামুদ্রিক, টেলিযোগাযোগ এবং কৃষি খাতে বিশাল বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের আমন্ত্রণে ইস্তাম্বুল সফরে গিয়ে শনিবার তিনি এই আহ্বান জানান। এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তুরস্কের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে চ্যালিক হোল্ডিংয়ের চেয়ারম্যান আহমেদ চ্যালিক, আলবায়রাক গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আলবায়রাক এবং ইউনিয়ন অব চেম্বার্স অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব তুর্কিয়ের (টিওবিবি) প্রেসিডেন্ট রিফাত হিসারসিক্লিওগ্লু উপস্থিত ছিলেন। চ্যালিক হোল্ডিংয়ের সঙ্গে আলোচনাকালে তিনি পাকিস্তানের জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি এবং বেসরকারীকরণ খাতের বিশাল সম্ভাবনা তুলে ধরেন। অন্যদিকে, আলবায়রাক গ্রুপকে পাকিস্তানের সামুদ্রিক অবকাঠামো, বন্দরের আধুনিকায়ন এবং লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ সম্প্রসারণের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছেন পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী। ডিজিটাল ও প্রযুক্তি খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে শাহবাজ শরিফ তুর্কসেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলি তাহা কোচের সঙ্গেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈঠক করেছেন। সেখানে তিনি আঞ্চলিক ডিজিটাল সংযোগ শক্তিশালী করা, নিরাপদ আন্তঃসীমান্ত ডেটা প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল অবকাঠামোর একীকরণে একটি ‘পাকিস্তান-তুরস্ক ডিজিটাল করিডোর’ প্রতিষ্ঠার সরকারি পরিকল্পনার কথা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। পাশাপাশি তিনি তুর্কসেলকে পাকিস্তানে ফাইভ-জি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম তৈরিতে অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রস্তাব দেন। জবাবে তুর্কসেলের সিইও পাকিস্তানের ডিজিটাল রূপান্তরের এজেন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উদীয়মান এই প্রযুক্তি খাতে একযোগে কাজ করার গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন। এই সরকারি সফরে শাহবাজ শরিফ একটি বিজনেস কনফারেন্সেও ভাষণ দেবেন, যেখানে বিশ্বমঞ্চে পাকিস্তানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, জ্বালানি এবং আইটি খাতের বিনিয়োগ সম্ভাবনাগুলো জোরালোভাবে উপস্থাপন করা হবে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বিদ্যমান। মিশর, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘আর-৪’ কূটনৈতিক ফ্রেমওয়ার্কেরও সক্রিয় সদস্য এই দুই মিত্র দেশ। বর্তমানে গভীর সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানসহ জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। যার অংশ হিসেবে পাকিস্তান তুরস্কের কাছ থেকে চারটি আধুনিক করভেট যুদ্ধজাহাজ সংগ্রহ করছে, যার দুটি তুর্কি সহায়তায় করাচি শিপইয়ার্ডে তৈরি হচ্ছে। এছাড়া আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিসহ এভিওনিক্স ও নজরদারি ব্যবস্থার যৌথ উন্নয়নেও দেশ দুটি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় যৌনপাচার চক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত এক বিশাল ফেডারেল অভিযানে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। "অপারেশন ব্রোকেন ব্লেড" নামের এই সাঁড়াশি অভিযানটি মূলত লস অ্যাঞ্জেলেসের কুখ্যাত ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকাকে কেন্দ্র করে চালানো হয়। ফেডারেল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মানবপাচার ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের ওপর যৌন শোষণের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মোটেল এবং একাধিক বাড়িতে এই অভিযান পরিচালিত হয়। দক্ষিণ লস অ্যাঞ্জেলেসের ফিগুয়েরোয়া করিডরের কাছে অবস্থিত 'স্টেডিয়াম ইন অ্যান্ড স্পাস' নামক ওই মোটেলে তল্লাশি চালিয়ে এর ৪৫ বছর বয়সী অন-সাইট ম্যানেজার মুকেশকুমার রামভাই আহিরকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, তিনি সরাসরি মানবপাচারে জড়িত না থাকলেও যৌনপাচারের অবৈধ আয় থেকে লাভবান হওয়া এবং হিসাব জালিয়াতির মাধ্যমে সেই অর্থ আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আর্থিক অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের অধিকাংশই স্থানীয় কুখ্যাত 'হুভার গ্যাং'-এর সদস্য কিংবা সহযোগী। দীর্ঘ সময় ধরে ফিগুয়েরোয়া করিডর এলাকায় যৌনপাচার ও পতিতাবৃত্তির পুরো নিয়ন্ত্রণ ছিল এই চক্রটির হাতে। বুধবার প্রকাশিত ফেডারেল অভিযোগপত্রে অন্তত ৫১ জন ভুক্তভোগীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অপ্রাপ্তবয়স্কদের জোরপূর্বক ও প্রতারণার মাধ্যমে যৌনপাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মাদক পাচার এবং অর্থপাচারের মতো গুরুতর সব অভিযোগ আনা হয়েছে। ফেডারেল প্রসিকিউটরদের তদন্তে উঠে এসেছে এই চক্রের নির্মমতার চিত্র। তারা মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে আর্থিক ও মানসিকভাবে দুর্বল কিশোরী এবং তরুণীদের টার্গেট করত। বিশেষ করে ফস্টার কেয়ারের মেয়েদের বা বাড়ি থেকে পালানো শিশুদের বিলাসবহুল জীবনের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে ফাঁদে ফেলা হতো। পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন, নির্মম শারীরিক নির্যাতন এবং অক্সিকোডন ও অ্যামফেটামিনের মতো ভয়ংকর মাদকে আসক্ত করে তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। অভিযোগ রয়েছে, কিছু দালাল ভুক্তভোগীদের শরীরে জোরপূর্বক দাগ বা ব্র্যান্ডিং করে দিত। এমনকি এক ভুক্তভোগীকে জোর করে গর্ভপাত করানোর পর একই রাতে পুনরায় যৌনকাজে বাধ্য করার মতো শিউরে ওঠা তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। লস অ্যাঞ্জেলেস পুলিশ বিভাগ (এলএপিডি) জানিয়েছে, গত বছর ওই এলাকা থেকে ৫৪ জন এবং চলতি বছর এখন পর্যন্ত ৭০ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে উদ্ধার করা হয়েছে। মানবপাচার ও এ ধরনের নিষ্ঠুর যৌন শোষণ পুরোপুরি নির্মূল করতে ভবিষ্যতেও এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে মার্কিন আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের চরম বিপর্যয়ের পর দলে আছড়ে পড়েছে ভাঙনের প্রবল সুনামি। দলের অধিকাংশ বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আলাদা দল গঠন করেছেন এবং লোকসভা সাংসদদের একটি বড় অংশ তৃতীয় ব্লক তৈরি করে ‘আসল তৃণমূল কংগ্রেস’-এর দাবি তুলেছেন। এমন নজিরবিহীন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক সংকটের মুখে দাঁড়িয়েও নিজের অনমনীয় মনোভাব বজায় রেখেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিরোধীদের দিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁকে থামাতে হলে বিরোধীদের তাঁকে হত্যা করতে হবে। তৃণমূলের দলীয় প্রতীক তাঁর এবং তাঁর অনুগত শিবিরের কাছেই থাকবে বলে জোর দাবি করে মমতা দলত্যাগীদের 'বিশ্বাসঘাতক' আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, দলের প্রতীক কোথাও যাচ্ছে না এবং এটি পেতে হলে বিদ্রোহীদের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে। শনিবার তৃণমূল শিবিরে আরও একটি বড় ধাক্কা লাগে, যখন দলের রাজ্য সভাপতি ও মমতার অন্যতম শীর্ষ অনুগত নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য পদত্যাগ করেন। গত শুক্রবার তৃণমূলের মূল কার্যালয় দখল করে নেওয়া ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী শিবিরেই পরবর্তীতে চন্দ্রিমাকে দেখা যায়। চন্দ্রিমার পদত্যাগ প্রসঙ্গে মমতা জানান, ছেলে আগেই তৃণমূল বিরোধী শিবিরে যোগ দেওয়ায় চন্দ্রিমা তাঁকে বাস্তব পরিস্থিতি এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা আগেই জানিয়েছিলেন। তবে বিদ্রোহীদের তরফ থেকে আসা কোনো উপদেষ্টা পদের প্রস্তাব তিনি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি কখনোই তাদের সাথে হাত মেলাবেন না। দলের কার্যালয় দখলের এবং তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে মমতা মনে করিয়ে দেন, ওই অফিসটি ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তাঁদের লিজ নেওয়া রয়েছে। কোনো ব্যক্তি দল ছাড়লেই দলের প্রতিষ্ঠানটি বিলুপ্ত হয়ে যায় না। এটি দলের সম্পত্তি এবং ‘মা, মাটি, মানুষ’-এর এই অধিকার কেউ জোর করে দখল করতে পারে না। ২০১১ সালে দীর্ঘ বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন দলত্যাগীদের আদর্শগত অবস্থান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, মূলত বিজেপির চাপের মুখেই বিদ্রোহীরা দল ছেড়েছেন, কিন্তু তিনি বা তাঁর দল কখনোই এমন চাপের কাছে মাথা নত করবেন না। তৃণমূলের আদর্শ সম্পূর্ণ বিজেপি-বিরোধী—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তিনি নিজেই যাঁদের মনোনয়নপত্রে স্বাক্ষর করেছিলেন, মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে তাঁরা কীভাবে এমন বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারেন! তিনি আরও বলেন, এখন যারা বিজেপির সাথে আছেন, তৃণমূলের বিজেপি-বিরোধী আদর্শের কারণে তাদের সাথে এভাবে চলতে পারে না। দলের এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের বিদায়ের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, তিনি নিজেই এখন জাতীয় ও রাজ্য স্তরে দলের সম্পূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। এখন থেকে তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে অবস্থিত কার্যালয়টিই তৃণমূলের মূল কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হবে। উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর থেকেই মমতার নেতৃত্ব এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দলে এই ভাঙন শুরু হয়। ইতোমধ্যেই ৬০ জনেরও বেশি বিধায়ক এবং ২০ জনেরও বেশি লোকসভা সাংসদ মমতার নেতৃত্বাধীন দল থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। দলত্যাগ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, মমতার প্রতি তাঁর সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা থাকলেও দলে পারস্পরিক বিশ্বাস ও আস্থার অভাবেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডিয়ারবর্ন শহরের ফেয়ারলেন টাউন সেন্টার শপিং মলে সংঘটিত গোলাগুলির ঘটনায় দুইজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) দুপুরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় পুরো শপিং মলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ক্রেতারা প্রাণ বাঁচাতে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। ডিয়ারবর্ন পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি কোনো এলোমেলো হামলা ছিল না। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একে অপরের পরিচিত দুই তরুণ দলের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে উভয় পক্ষের কয়েকজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করলে পরিস্থিতি গোলাগুলিতে রূপ নেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন এবং আরেকজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান। আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গোলাগুলির পরপরই শপিং মলটি খালি করে দেওয়া হয় এবং পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। আতঙ্কে পালিয়ে যাওয়ার সময় একজন পথচারী একটি গাড়ির ধাক্কায় আহত হন। তবে এই ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হননি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো কাউকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তদন্তে সহায়তা করছে মিশিগান স্টেট পুলিশ। কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, বর্তমানে সাধারণ মানুষের জন্য অতিরিক্ত কোনো হুমকি নেই। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত শপিং মলটি বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে।
পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের অংশ হিসেবে শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে অবহিত করা হয়েছে। তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার এই দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ বা স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। যুদ্ধক্ষেত্রের পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একটি যৌথ বাহিনীর কমান্ড পোস্ট পরিদর্শন করে শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেন। সেখানে তিনি কোস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন। পুতিন বলেন, ইউক্রেন সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার তেল স্থাপনা ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ড্রোন হামলা বাড়িয়েছে। এর জবাবে সীমান্তবর্তী এলাকায় রাশিয়ার নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকা দোনবাস অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পূর্ব ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায়ও শহরটির কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। এর আগে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী শহরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করলেও এবার পুরো শহর দখলের দাবি করেছে। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। ছবিগুলো কোস্তিয়ানতিনিভকা থেকে ধারণ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। সেখানে বিধ্বস্ত ভবনের পাশে রুশ সেনাদের জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে এসব ছবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কোস্তিয়ানতিনিভকার পর প্রায় ৭০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত লিমান শহরের দিকেও তারা অগ্রসর হচ্ছে। তাদের দাবি, পরবর্তী সামরিক অভিযানের জন্য শহরটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও কৌশলগত কেন্দ্র। একই সফরে পুতিন আরও দাবি করেন, লুহানস্ক পিপলস রিপাবলিকের পুরো ভূখণ্ড এখন রুশ-সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এসেছে। যৌথ বাহিনীর একটি অস্থায়ী কমান্ড পোস্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনী জেনারেল স্টাফের পরিকল্পনা অনুযায়ী তাদের দায়িত্ব পালন করছে এবং লুহানস্ক অঞ্চলের "সম্পূর্ণ মুক্তি" সম্পন্ন হয়েছে। রাশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি নিকিফোরভ পুতিনকে জানান, ইউক্রেনের ড্রোন হামলা পুরোপুরি প্রতিহত করা এখনো সম্ভব হয়নি। এসব হামলায় রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কিছু এলাকায় জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। এর জবাবে পুতিন বলেন, "শত্রুপক্ষ আমাদের বেসামরিক স্থাপনায় যত বেশি হামলার চেষ্টা করবে, প্রতিবেশী ভূখণ্ডে আমাদের নিরাপত্তা বলয়ও তত বড় করতে হবে।" নিকিফোরভ আরও জানান, খারকিভ ও সুমি সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে রুশ বাহিনী উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। অন্যদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং দেশটির সামরিক কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, চলতি বছরের শুরু থেকে পূর্বাঞ্চলে রাশিয়ার অগ্রগতি আগের তুলনায় ধীর হয়ে গেছে। তাদের ভাষ্য, ইউক্রেনীয় বাহিনী কয়েকটি এলাকায় পাল্টা অভিযান চালিয়ে কিছু অবস্থান পুনরুদ্ধারও করেছে। পুতিন অবশ্য ইউক্রেনের এসব দাবিকে "তথ্যযুদ্ধের অংশ" বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। যুদ্ধের পাশাপাশি কূটনৈতিক উদ্যোগও এখন কার্যত স্থবির। গত মাসে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি সরাসরি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়ে পুতিনের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি পাঠালেও ক্রেমলিন সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। এদিকে ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টাও আপাতত স্থগিত রয়েছে। তবে মস্কো ও কিয়েভ উভয় পক্ষই জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধিদের সম্ভাব্য সফরের মাধ্যমে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার আশা এখনও রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স
লুৎফর খোন্দকার
প্রফেসর ড. আসিফ মিজান
শাহারিয়া নয়ন
সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রবেশ ও বসবাসের প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, দ্রুত এবং সুশৃঙ্খল করতে ২০২৬ সালে ভিসা নীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অন-অ্যারাইভাল ভিসা, পর্যটন ভিসা, আবাসন সুবিধা থেকে শুরু করে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা—সব ক্ষেত্রেই নতুন এই নিয়মগুলো কার্যকর করা হয়েছে। ফলে প্রবাসী, পর্যটক ও বিনিয়োগকারীদের জন্য বিষয়গুলো জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্ট সিকিউরিটি (আইসিপি) এবং দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত অন্তত ছয়টি বড় পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে খালিজ টাইমস। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে অন-অ্যারাইভাল ভিসা ব্যবস্থায়। ১৪ দিন ও ৬০ দিনের এন্ট্রি ভিসার সুযোগ এখন আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। আগে নির্দিষ্ট শর্তে এই সুবিধা প্রধানত ভারতীয় নাগরিকদের জন্য সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নিয়মে ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, কেনিয়া এবং দক্ষিণ আফ্রিকার নাগরিকদেরও এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া আবেদনকারীদের বসবাসের দেশের তালিকাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি এখন সিঙ্গাপুর, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও কানাডার বাসিন্দারাও এ সুবিধা পাবেন। পর্যটকদের জন্যও প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হয়েছে। দুবাই ভ্রমণ করতে ইচ্ছুকরা অনুমোদিত পর্যটন সংস্থার মাধ্যমে আবেদন করলে এখন মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই একবার প্রবেশের অনুমতিসহ পর্যটন ভিসা পেয়ে যাচ্ছেন। এই ভিসার মেয়াদ ৩০ থেকে ৬০ দিন পর্যন্ত হতে পারে। আবাসন খাতে বিনিয়োগকারীদের জন্যও নিয়মে এসেছে বড় পরিবর্তন। দুবাই কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির সঙ্গে যুক্ত দুই বছরের রেসিডেন্সি পারমিটের শর্ত শিথিল করেছে। একক মালিকানার ক্ষেত্রে আগে নির্ধারিত ন্যূনতম ৭ লাখ ৫০ হাজার দিরহাম মূল্যের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। তবে আবেদনকারীকে সম্পত্তির একক মালিক হতে হবে। অন্যদিকে যৌথ মালিকানার ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশীদারের শেয়ারের মূল্য কমপক্ষে ৪ লাখ দিরহাম হতে হবে। এদিকে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত অবস্থানের (ওভারস্টে) জরিমানার ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড়ও শেষ হতে যাচ্ছে। আঞ্চলিক আকাশসীমা বন্ধ ও ফ্লাইট জটিলতার কারণে যাদের এই সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, তাদের জন্য আইসিপি ৩০ দিনের বিশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করেছে। আগামী ৯ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের ভিসা নবায়ন বা বৈধ করতে হবে, নতুবা দেশ ত্যাগ করতে হবে। স্বাস্থ্যখাতেও নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দুবাইয়ে চিকিৎসা নিতে আসা বিদেশি রোগীদের জন্য চালু করা হচ্ছে ‘স্মার্ট মেডিকেল ভিসা’। জেনারেল ডিরেক্টরেট অব আইডেন্টিটি অ্যান্ড ফরেনার্স অ্যাফেয়ার্স এবং দুবাই হেলথ অথরিটির যৌথ উদ্যোগে এই ব্যবস্থায় রোগীদের ভিসা প্রক্রিয়া, চিকিৎসা এবং পরবর্তী সেবাকে একক ও সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এতে চিকিৎসা পর্যটন আরও সহজ ও কার্যকর হবে বলে মনে করা হচ্ছে। সর্বশেষ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ইবোলা ভাইরাসের ঝুঁকি বিবেচনায় কয়েকটি দেশের নাগরিকদের জন্য নতুন ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ক্রাইসিস অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এবং আইসিপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উগান্ডা এবং দক্ষিণ সুদানের নাগরিকদের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে আরও বাড়ানো হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে যেমন বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটনকে উৎসাহিত করা হচ্ছে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনাকেও আরও কার্যকর করার চেষ্টা করছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ ঘানায় চলতি সপ্তাহে আঘাত হানা প্রলয়ঙ্করী বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ঘানার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা (ন্যাডমো) জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া মৃতদের মধ্যে রাজধানী আক্রাতেই প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১২ জন। সংস্থাটির পরিদর্শন বিভাগের পরিচালক রিচার্ড অ্যামো ইয়ার্টে বলেন, নিখোঁজদের তালিকা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযানে নতুন করে মরদেহ পাওয়া গেলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থানীয় টেলিভিশন টিভি৩-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, জরুরি উদ্ধারকারী দল এখনো নিখোঁজদের খোঁজে তৎপর রয়েছে। পাশাপাশি বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। ন্যাডমোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় দেশের সাতটি অঞ্চল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মোট ৮৯ হাজার ৭৩৬ জন মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গ্রেটার আক্রা অঞ্চল, যেখানে ৫৪ হাজার ৭১২ জন মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। এর পরেই রয়েছে সেন্ট্রাল অঞ্চল, যেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ২১ হাজার ৮৮২ জন। এ ছাড়া ভোল্টা, ওয়েস্টার্ন, আশান্তি, ওয়েস্টার্ন নর্থ এবং ইস্টার্ন অঞ্চলেও হাজারো মানুষ বন্যার কবলে পড়েছেন। তবে ইস্টার্ন অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা তুলনামূলকভাবে কম বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। অতিবৃষ্টির ফলে সৃষ্ট এই বন্যায় ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যৌথভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কাজ করছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জরুরি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ এই দেশে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বন্যার ঝুঁকি থাকে। তবে এবারের বন্যার ব্যাপ্তি ও ক্ষয়ক্ষতি তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের দাবি করেছে রুশ সেনাবাহিনী। শুক্রবার (৩ জুলাই) দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি সামরিক কমান্ড পোস্ট পরিদর্শনের সময় পুতিন সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে যুদ্ধ পরিস্থিতির সর্বশেষ তথ্য নেন। সেখানে কস্তিয়ানতিনিভকা দখলকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই দোনেৎস্ক অঞ্চলে তাদের অগ্রযাত্রার অংশ হিসেবে শহরটি দখলের চেষ্টা চলছিল। অবশেষে সেটি তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানানো হয়। তবে রাশিয়ার এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি ইউক্রেন। যুদ্ধক্ষেত্রের তথ্য যাচাই করা কঠিন হওয়ায় উভয় পক্ষের দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানান, দক্ষিণাঞ্চলীয় রুশ বাহিনী পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল ‘মুক্ত’ করার লক্ষ্যে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্লোভিয়ানস্ক–ক্রামাতোরস্ক–কস্তিয়ানতিনিভকা প্রতিরক্ষা বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র এখন রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে। এর আগেও রাশিয়া জানিয়েছিল, শহরটির বিভিন্ন অংশ তাদের দখলে রয়েছে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় কস্তিয়ানতিনিভকা একটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্গনগরী হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, যা পূর্বাঞ্চলের প্রতিরক্ষা লাইনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এদিকে, পুতিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলা—বিশেষ করে রাশিয়ার তেলশিল্পকে লক্ষ্য করে হামলা—বাড়তে থাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। তিনি কস্তিয়ানতিনিভকাকে ডনবাস অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র হিসেবেও উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই ডনবাস অঞ্চল পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াকে মস্কো অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। কস্তিয়ানতিনিভকার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ তাই যুদ্ধের সামগ্রিক কৌশলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে হাতিয়ার বানিয়ে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র থাইল্যান্ডের বিমানসংস্থাগুলোর পাইলট, কেবিন ক্রু ও অন্যান্য বিমানকর্মীদের টার্গেট করছে। আকর্ষণীয় পারিশ্রমিক, বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ কিংবা সহজ আয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের একটি অংশকে মাদক বহনে জড়িয়ে ফেলার চেষ্টা চলছে। সাম্প্রতিক তদন্তে উঠে এসেছে, পাচারকারী চক্রগুলো প্রথমে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে ধাপে ধাপে বিশ্বাস অর্জন করে বিদেশে ছোট প্যাকেট বা লাগেজ বহনের প্রস্তাব দেয়। অনেক ক্ষেত্রেই এসব প্যাকেটে যে অবৈধ মাদক রয়েছে, তা শুরুতে বহনকারীদের জানানো হয় না। থাই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিদেশি বিমানবন্দরে একাধিক থাই বিমানকর্মী মাদক বহনের অভিযোগে আটক হয়েছেন। এসব ঘটনার পর তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ার যোগসূত্র সামনে আসে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বিমানকর্মীরা নিয়মিত আন্তর্জাতিক রুটে যাতায়াত করেন এবং বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দরে সহজে প্রবেশাধিকার থাকায় অপরাধচক্র তাদের ব্যবহার করতে আগ্রহী। তবে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ড, চাকরি হারানো এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মতো কঠিন পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে থাই কর্তৃপক্ষ বিমানকর্মীদের জন্য সতর্কতা জোরদার করেছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে আসা সন্দেহজনক চাকরির প্রস্তাব বা লাগেজ বহনের অনুরোধ সম্পর্কে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় নিজের জৈবিক বাবার সঙ্গে যৌন সম্পর্কের ঘটনায় দোষ স্বীকার করা এক ব্যক্তিকে মাত্র এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আদালতের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী তরুণীর মা ক্যালিফোর্নিয়ার যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন আরও কঠোর করার দাবি জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ক্যালিফোর্নিয়া পোস্ট-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল বলেন, তার মেয়ে মাকাইলা রেনে সেটলসের নামে নতুন আইন প্রণয়ন করা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের মামলায় আরও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা যায়। তিনি বলেন, “এটি কোনোভাবেই ন্যায়বিচার নয়। আমি আইন পরিবর্তনের জন্য লড়াই করব, যাতে আর কোনো পরিবারকে আমাদের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে না হয়।” ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সী মাকাইলা রেনে সেটলস ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার মুরপার্কে তার জৈবিক বাবা স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজের কাছে থাকতে যান। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি কলেজে ভর্তি হয়ে নতুন জীবন শুরু করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই ঘটনাটি ঘটে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে মদ্যপানের পর শাভেজ বাড়িতে ফেরার পথে আরও মদ কেনেন। পরে বাড়িতে তিনি তার মেয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। ঘটনার পর মাকাইলাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং তদন্ত শুরু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষায় অভিযুক্তের ডিএনএর উপস্থিতিও নিশ্চিত হয়। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস পর মাকাইলা আত্মহত্যা করেন। ৪১ বছর বয়সী স্টিফেন ভিনসেন্ট শাভেজ ২০২৬ সালের মে মাসে ‘ফেলনি ইনসেস্ট’ এবং অপ্রাপ্তবয়স্ককে মদ সরবরাহের অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। তিনি আদালতে আরও স্বীকার করেন যে, একজন বাবা হিসেবে বিশ্বাসের অবস্থানের অপব্যবহার করেছেন এবং ভুক্তভোগী বিশেষভাবে অসহায় অবস্থায় ছিলেন। প্রসিকিউটররা তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ তিন বছরের অঙ্গরাজ্য কারাদণ্ড চাইলেও আদালত তাকে এক বছরের ভেনচুরা কাউন্টি জেল, তিন বছরের ফেলনি প্রবেশন এবং ২০ বছর যৌন অপরাধী হিসেবে নিবন্ধিত থাকার নির্দেশ দেন। রায়ের পর ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, তারা মনে করে মামলার তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অঙ্গরাজ্যের কারাগারে আরও দীর্ঘ সাজাই উপযুক্ত ছিল। মামলায় ধর্ষণের অভিযোগ না আনার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এ বিষয়ে ভেনচুরা কাউন্টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নির কার্যালয় জানায়, একাধিক জ্যেষ্ঠ প্রসিকিউটর ও বাইরের আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে ফরেনসিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য এবং অন্যান্য তথ্য পর্যালোচনা করা হয়। সেই পর্যালোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, বিদ্যমান আইন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের ভিত্তিতে ‘ইনসেস্ট’-এর অভিযোগই আনা সম্ভব ছিল; ধর্ষণের অভিযোগ আইনি মানদণ্ড পূরণ করেনি। রায়ের পর ক্যারোলিনা স্যান্ডোভাল ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম এবং অঙ্গরাজ্যের আইনপ্রণেতাদের প্রতি যৌন অপরাধ-সংক্রান্ত আইন সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, বর্তমান আইনে এ ধরনের গুরুতর অপরাধের জন্য যে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে, তা ভুক্তভোগীদের জন্য যথাযথ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না।