
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগন ইউক্রেনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালাতে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। এই সিদ্ধান্ত আসে এমন সময়ে যখন ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডে হামলার অনুমতির জন্য মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে বারবার যোগাযোগ করেছে।
পেন্টাগনের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, গত তিন-চার মাসে ইউক্রেনীয় বাহিনী বেশ কয়েকবার এটিএসিএমএস দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালানোর অনুমতি চেয়েছে। তবে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং সামরিক কমান্ড কোনো বারই অনুমতি দেয়নি। এর মূল কারণ দুই: এক, যুদ্ধের মাত্রা হ্রাস করা এবং দুই, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানকে অগ্রাধিকার দেওয়া।
গত বছর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়েছিল। তবে ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই মার্কিন সামরিক কমান্ডের অনুমতি নিতে হতো। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ইউক্রেন এই অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে শুধুমাত্র নিজেদের ভূখণ্ডে সীমাবদ্ধ থেকে।
ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও যুদ্ধের অবসানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যদি ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা শুরু করে, তাহলে শান্তি প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়া ট্রাম্প রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাধানকে আন্তর্জাতিক অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
এছাড়া, শান্তি সংলাপের অংশ হিসেবে ইউক্রেন ও রাশিয়ার সরকারি প্রতিনিধিরা তুরস্কের ইস্তাম্বুলে বৈঠক করেছেন। গত ১৫ আগস্ট আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক এবং ১৮ আগস্ট হোয়াইট হাউসে জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প আশাবাদী হয়েছেন যে শিগগিরই যুদ্ধের অবসান সম্ভব।