যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) প্রধানসহ আরও দুই কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা। তবে কী কারণে ডিআইএর প্রধানকে চাকরি থেকে সরানো হচ্ছে, তার কোনো ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
ডিইইএর প্রধানের নাম লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেফরি ক্রুস। তিনি ২০২৪ সালের শুরু থেকে গোয়েন্দা সংস্থাটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি ডিআইএর এক প্রাথমিক পর্যালোচনায় বলা হয়, গত জুনে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেহরানের পরমাণু প্রকল্পগুলো মাত্র কয়েক মাসের জন্য পিছিয়ে গেছে। এরপরই জেফরি ক্রুসকে চাকরিচ্যুত করার খবর সামনে এল।
ডিআইএর পর্যালোচনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে খবর প্রকাশ করেছিল। ওই পর্যালোচনা ছিল পরমাণু স্থাপনায় হামলা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বয়ানের বিপরীত। ট্রাম্প বলেছিলেন, মার্কিন হামলায় পরমাণু স্থাপনাগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। ফলে পর্যালোচনাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রশাসনের জন্য ক্ষোভের কারণ হয়েছিল।
ডিআইএর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে জেফরি ক্রুস যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের সামরিকবিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন। সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ডিআইএর চাকরি হারানো অন্য দুজন কর্মকর্তা হলেন নেভি রিজার্ভের প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল ন্যানসি লাকোর ও নেভি স্পেশাল ওয়ারফেয়ার কমান্ডের প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মিল্টন স্যান্ডস।
গত জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তাতে অপসারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন দেশটির জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল চার্লস সিকিউ ব্রাউন। গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের দাবি, নিজের পছন্দ অনুযায়ী সামরিক বাহিনীতে শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নিয়োগ দিচ্ছেন রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এর বাইরে নিয়োগের পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই। তবে ডেমোক্র্যাট রাজনীতিকদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহ্যগতভাবে নিরপেক্ষ সামরিক বাহিনী রাজনীতিকরণের শিকার হচ্ছে।