
মুম্বাই থেকে সুইজারল্যান্ডগামী এয়ারবাস এ৩৩০ ফ্লাইটে ঘুমন্ত অবস্থায় এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক ভারতীয় ব্যবসায়ীকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তবে তিনি কোনও কারাভোগ ছাড়াই মুক্তি পেয়েছেন এবং তাকে ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।
৪৪ বছর বয়সী ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই ব্যবসায়ী আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ১৫ বছর বয়সী একটি মেয়েকে ঘুমন্ত অবস্থায় ধর্ষণের কথা আদালকে স্বীকার করেছেন। মুম্বাই থেকে জুরিখের ৯ ঘন্টার ফ্লাইটে শিশুটি তার পাশে ঘুমাচ্ছিল বলে তিনি ‘নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি’ বলে আদালতে স্বীকার করেন। কিন্তু দেড় বছরের সাজা দেওয়ার পর তা স্থগিত করলে ওই ব্যক্তি মুক্তি পেয়ে ভারতে চলে গেছেন।
এবছরের ১৭ মার্চ ওই ব্যক্তি এই জঘন্য কাজটি করেন। আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘুমিয়ে পড়ার আগে কিশোরীটি লোকটির সাথে কিছুক্ষণ কথা বলেছিল। গুরুতর সহিংস অপরাধের জন্য জুরিখের পাবলিক প্রসিকিউটরের অফিসের দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি তার হাত মেয়েটির চারপাশে রেখে বারবার তাকে স্পর্শ করেছিলেন। এতে শিশুটি ‘মর্মাহত’ হয়ে পড়ে। ফলে সে কথা বলতে বা প্রতিরোধ করতে পারেনি।
এরপর লোকটি তার ঘৃণ্য কার্যকলাপ চালিয়ে যায়, তাকে ধর্ষণ করে এবং তার পোশাকের ভেতরে হাত ঢুকিয়ে দেয়। মেয়েটি সাহসের সাথে একজন বিমান পরিচারিকাকে ঘটনাটি জানায়, যিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে জানান। মেয়েটিকে অন্য আসনে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং লোকটিকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। বিমানটি জুরিখে অবতরণের সাথে সাথে ওই ভারতীয় ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ভারতীয় স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, ‘‘আমি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি’’। আদালত তাকে ধর্ষণ এবং একটি শিশুর সাথে যৌন কার্যকলাপের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করেন। কিন্তু তাকে স্থগিত সাজা দেওয়ায় সে মুক্তি পায়।
মার্চ মাস থেকে ধর্ষক ভারতীয়কে হেফাজতে রাখা হয়েছিল বলে জানা গেছে। সুইজারল্যান্ডে তাকে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নাবালিকাদের সাথে জড়িত যেকোনো কার্যকলাপে অংশ নিতে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাকে ৮,২৫০ পাউন্ড আইনি খরচও দিতে বলা হয়েছে। পরে তাকে ভারতে নির্বাসনের জন্য সুইস মাইগ্রেশন অফিসে হস্তান্তর করা হয়।