
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে প্যানেল ঘোষণা করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। আজ সোমবার দুপুরে ছাত্রশিবির ঘোষিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলে সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়েছেন সর্ব মিত্র চাকমা।
পরে এ বিষয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দিয়ে অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২২-২৩ সেশনের এ শিক্ষার্থী।
সর্ব মিত্র চাকমা তার পোস্টে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদ (ডাকসু)-২৫ নির্বাচনে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ হতে কেন্দ্রীয় সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য পদে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আমার চোখে একটি রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র, যেখানে অর্ধলক্ষের অধিক শিক্ষার্থী স্রেফ কোনো একভাবে দিনযাপন করে। না আছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, পুরো ক্যাম্পাস হন্যে হয়ে খুঁজেও একবেলা মানসম্মত-স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাওয়া দুষ্কর, রয়েছে আবাসন সংকট, নেই গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত উপকরণাদি, চলছে স্বাস্থ্য বীমার নামে প্রহসন, অতঃপর চিকিৎসার অভাবে শিক্ষার্থীর মৃত্যু ইত্যাদি। পদে পদে অবহেলা-বঞ্চনা আর একরাশ হতাশা।”
তিনি বলেন, ‘এত শত অবহেলায় টিকে থাকা এই মানুষগুলোর মধ্যে আছে এক বিশেষ লুকায়িত শক্তি, যা রাষ্ট্রযন্ত্রকে সদা উদ্বিগ্ন রাখে।
এই মানুষগুলো যেকোনো সময় রাষ্ট্রের ভিত নাড়িয়ে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। তার বড় এবং ঘনিষ্ঠ উদাহরণ হলো জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। সেই শঙ্কা থেকে এই মানুষগুলোকে দমিয়ে রাখার যত আয়োজন, তা রাষ্ট্রযন্ত্র করে। ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ৫৪ বছরে ডাকসু অনুষ্ঠিত হয়েছে মাত্র ৮ বার, যেখানে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল প্রতিবছর।’
তিনি আরো বলেন, “আমি সর্ব মিত্র সমাজে প্রচলিত তথাকথিত ‘নেতা’ হয়ে সুপেরিয়রিটি চর্চার প্রয়াস বা বাসনা আমার নেই। এখানে যারা আসেন, সকলে নিঃসন্দেহে দেশসেরা মেধাবী, লাখ লাখ প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই শেষে বিজয় ছিনিয়ে এ জায়গায় আসেন তারা, তাদের ওপর কর্তৃত্ব দেখানোর দুঃসাহস আমি ঘুণাক্ষরেও করি না। আপনাদের ভালোবাসা এবং সমর্থন পেলে আমি বড়োজোর আপনাদের প্রতিনিধি হয়ে হাজার কণ্ঠের এক কণ্ঠ হয়ে উঠতে চাই।’
সর্ব মিত্র বলেন, ‘জ্ঞান হওয়ার পর থেকে একজন শিক্ষার্থীর মৌলিক অধিকার, নারীর অধিকার, আদিবাসী-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার নিয়ে আমার কণ্ঠ সর্বদা সোচ্চার ছিল এবং আমৃত্যু সব অন্যায়-অবিচার-অনিয়ম-দুঃশাসনের বিরুদ্ধে আমার অবস্থান অবিচল থাকবে। আমার বিশ্বাস, আমার স্বাতন্ত্র্য, সৎসাহসের সাথে আপনাদের ভালোবাসা আমাকে উজ্জীবিত রাখবে।আমাদের সংগ্রাম জারি থাকবে!’