
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এ ব্যাপারে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
শুক্রবার (২২ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া এভিনিউতে ‘৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম দিবস’ উপলক্ষে দেশে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।মানববন্ধন ও প্রদশর্নীর আয়োজন করে মানবাধিকার সংগঠন ‘মায়ের ডাক’।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘তরুণরা, যুবকরা, শিশুরা দেখবে, তাদের পিতা, ভাইয়ের সাথে অন্যায় করা হয়েছে, সেটার বিচার তারা দেখে যেতে পারবে। সবশেষে আবারো এই কথা বলতে চাই, আমার দলের পক্ষ থেকে আমরা এই আন্দোলনের সাথে ছিলাম, আমরা এই আন্দোলনের সাথে আছি এবং এই আন্দোলনের শেষ পর্যন্ত, যতদিন পর্যন্ত না আমরা শাস্তি দিতে পারব, ততদিন পর্যন্ত আমরা তাদের সাথে আছি।’
তিনি বলেন, ‘এখন আমার এই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে, যখন আমাদের ছেলেরা আন্দোলন করতে গিয়ে রাতের অন্ধকারে গুম হয়ে গেল। সুমনের বাসায় গিয়েছিলাম সুমনের মায়ের আহাজারি একই পরিবারের সাতজন নাই হয়ে গেল। এরকম একের পর এক ছাত্রদলের অসংখ্য ছেলে গুম হতে থাকে।’
গুম হওয়াদের মেয়েগুলো অনেক বড় হয়েছে, ছেলেগুলো বড় হয়েছে, আমরা এখনো তাদের ভাই, তাদের বাবাকে ফিরিয়ে দিতে পারে নাই। এটা জাতি হিসেবে অত্যন্ত লজ্জার কথা। তাদের সম্পর্কে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য দেয়া সম্ভব হয়নি।’
বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা ছিল ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরে যে পরিবর্তন এসছে, এই পরিবর্তনে অন্তত গুম হওয়া লোকগুলোর খোঁজ পাবো। কিন্তু দেখেছি, কিন্তু পাইনি। কোথাও থেকে কোনো একটা ভালো সুরাহা খুঁজে পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘পদে পদে এখনো ব্যথা দিচ্ছে, কষ্ট দিচ্ছে। আমরা এখনো সমাধান করতে পারিনি। জানি না গুম হওয়া মানুষগুলোকে কোনোদিন ফিরে পাবো কি-না। জানি না এই শিশুদের পিতাকে আবার ফিরিয়ে দিতে পারবো কি-না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, “দানবেরা গুম করে নিয়ে গিয়ে তাদেরকে হত্যা করেছে অথবা তাদেরকে লুকিয়ে ফেলেছে, শেষ করে ফেলেছে। স্বজনরা বলে, ‘আমরা সেই আয়নাঘরের দেয়ালে তাদের আঁচড় দেখতে চাই, চিহ্নটা দেখতে চাই।’ অনেক পিতা তার সন্তানকে খুঁজতে খুঁজতে অসুস্থ হয়ে মারা গেছেন। ভয়াবহ এই নিষ্ঠুরতায় মানবিক অধিকারগুলোকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হয়েছে। হাসিনা সরকার রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে এগুলো করেছে।”
তিনি বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচন অবশ্যই চায়। নির্বাচন চায় ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচারকে নিশ্চিত করার জন্য। বিচারগুলোকে ত্বরান্বিত করার জন্য। বলতে চাই, আমাদের অন্তর্বর্তী সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে, এই গুম হওয়া মানুষদের ফিরিয়ে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়েছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গুম হওয়া পরিবার, আত্মীয়দের, মায়েদের, ভাইদের কান্না বন্ধ করার এটার জন্য তাদেরকে অবশ্যই জবাবদিহি করতেই হবে। আমাদের একটা দাবি ছিল— বিচার করতে হবে। আমরা এটুকু নিশ্চয়তা দিতে পারি, আমরা এই বাচ্চাগুলোর সাথে সারাক্ষণ আছি, মায়ের সাথে সারাক্ষণ আছি। এবং আমরা শেষ পর্যন্ত থাকব, যতক্ষণ পর্যন্ত না এদের বিচার চূড়ান্ত হবে। আমরা তাদের সাথেই থাকবো ইনশাআল্লাহ।’