আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে এক নতুন নাম—জোহরান মামদানি। উগান্ডা থেকে অভিবাসী হয়ে আসা এই তরুণ রাজনীতিকের উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে নিউ ইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটি, বিশেষ করে অভিবাসী নারীরা যাদের সবাই স্নেহভরে ডাকে “বাংলাদেশি আন্টি” নামে।
প্রচারণার সময় মামদানি খোলাখুলিভাবে স্বীকার করেছেন:
“এ বিজয় সেই বাংলাদেশি আন্টিদের, যারা ঘরে ঘরে দরজায় কড়া নেড়েছেন, পা ব্যথা হওয়া পর্যন্ত হেঁটেছেন, আর হাত ফেটে যাওয়া পর্যন্ত ভোটের কথা বোঝিয়েছেন।”
কুইন্স, জ্যাকসন হাইটস, ব্রঙ্কস—যে এলাকাগুলোতে বাংলাদেশি অভিবাসীরা বেশি বাস করেন, সেসব জায়গায় দেখা গেছে নারীদের অসাধারণ সক্রিয়তা। তারা শুধু ভোট চাইতে যাননি, অনেক সময় বাংলাতেই বোঝিয়েছেন জটিল র্যাঙ্কড-চয়েস ভোটিং পদ্ধতি। এই সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ঘনিষ্ঠতাই মামদানিকে দিয়েছে জনগণের আস্থা।
প্রচারণার অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সাংস্কৃতিক সংযোগও জোরদার করেন। বাংলায় র্যাপ গান, ভোটের প্রক্রিয়া বোঝাতে মিষ্টির উদাহরণ, আর স্থানীয় অনুষ্ঠানে সরাসরি অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে মামদানি হয়ে ওঠেন মানুষের ‘নিজেদের লোক’।
এর পাশাপাশি, তিনি নিউ ইয়র্ক সিটির একমাত্র বাংলাদেশি কাউন্সিল মেম্বার শাহানা হানিফের সঙ্গে যৌথভাবে বাংলায় প্রচারণার ভিডিও প্রকাশ করেন। তার সঙ্গে কাজ করেছে DRUM-এর মতো সংগঠন, যারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশিয়ান অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে লড়ছে।
বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটাররা বিশ্বাস করেন, মামদানি শুধু একজন রাজনীতিক নন, বরং একজন আসল প্রতিনিধি, যিনি তাদের ভাড়া, কর্মসংস্থান, ন্যায্য মজুরি, গণপরিবহন এবং বৈষম্যমূলক আচরণের মতো বাস্তব সমস্যাগুলো নিয়ে কথা বলেন।