ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে ডিএমপি আদাবর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসুকে আজ আদাবর এলাকা থেকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বর্তমানে থানায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলার পাশাপাশি একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্রে জানা যায়, হাসুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন তিনি। ২০০২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় অর্ধশতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট দখল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগও আদালতে বিবেচনাধীন রয়েছে।
ঢাকার সাভারে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেন একটি কুরিয়ার সার্ভিসের শ্রমিকরা। পরে পুলিশের আশ্বাসে তারা সড়ক ছেড়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের রাজফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই অবরোধ কর্মসূচি শুরু হয়। এতে মহাসড়কে যান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় এবং সৃষ্টি হয় যানজট। শ্রমিকদের অভিযোগ, তারা দীর্ঘদিন ধরে বেতন ও বোনাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। নির্ধারিত সময় পার হলেও প্রতিষ্ঠানটি তাদের পাওনা পরিশোধ করেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েক শতাধিক শ্রমিক সড়কে নেমে অবরোধ করেন এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের দাবি জানান। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশের আশ্বাসের পর রাত প্রায় ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে দাঁড়ান। বিষয়টি নিশ্চিত করে সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরমান আলী জানান, শ্রমিকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ৪ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। সৌদি আরবগামী একটি ফ্লাইটে ওঠার আগে প্রি-বোর্ডিং নিরাপত্তা তল্লাশির সময় এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। সোমবার (৯ মার্চ) ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ঢাকা থেকে সৌদি আরবগামী ফ্লাইট বিএস–৩৮১–এর এক যাত্রীর লাগেজ স্ক্যান করার সময় এ ঘটনা ধরা পড়ে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বোর্ডিং ব্রিজ সি–২–এ দায়িত্বে থাকা এভিয়েশন সিকিউরিটির এক স্ক্রিনার লাগেজ স্ক্যানিংয়ের সময় সন্দেহজনক বস্তু শনাক্ত করেন। পরে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যাগটি তল্লাশি করেন। তল্লাশির সময় ওই লাগেজ থেকে মোট ৪ হাজার ৩৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে যাত্রীকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে আটক করা হয়েছে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দায়িত্বে থাকা স্ক্রিনার ও এভিয়েশন সিকিউরিটি সদস্যদের সতর্কতা ও পেশাদারিত্বের কারণে মাদক পাচারের এই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা এটিকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় মাদকসেবনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের জেরে কাঁচের টুকরার আঘাতে ১৬ বছর বয়সী এক পথশিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তেজগাঁও এলাকার একটি স্থানে মাদকসেবন নিয়ে দুই পথশিশুর মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে একজন কাঁচের টুকরো দিয়ে অন্য শিশুটির ঘাড়ের বাম পাশে আঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে স্থানীয় লোকজন আহত শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের কর্মকর্তারা জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং তেজগাঁও থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-এ ছাত্রদল ও শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাত একটার দিকে ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ক্যাম্পাসে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পরপরই ক্যাম্পাসজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তন এবং অনিয়ন্ত্রিত দূষণের কবলে পড়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে বিশ্বের মেগাসিটিগুলো, যার মধ্যে ভয়াবহ সংকটে রয়েছে ঢাকা। শুক্রবার সকালে রাজধানীর বায়ুমান ‘বিপর্যয়কর’ পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগজনক। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার (IQAir) ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর রেকর্ড করেছে ৩২২। এই মানদণ্ড অনুযায়ী ঢাকার বাতাস বর্তমানে স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং জরুরি সতর্কতার দাবি রাখে। বৈশ্বিক বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকা এখন শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। শুক্রবারের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার ওপরে ছিল কেবল পাকিস্তানের লাহোর, যার স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ৪০৪। তালিকার তৃতীয় ও চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে কলকাতা (২১২) ও দিল্লি (২০৮)। আইকিউএয়ার-এর মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর ৩০০ পার হলেই তা ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকার স্কোর ৩২২ হওয়ায় সাধারণ মানুষের ফুসফুসে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র দূষিত কণা প্রবেশের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য রোগের কারণ হতে পারে। পরিবেশবিদদের মতে, শুষ্ক মৌসুমে অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া এবং শহরের চারপাশের ইটভাটাগুলো বায়ুদূষণকে এই চরম অবস্থায় নিয়ে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষ করে ভোরবেলা প্রাতঃভ্রমণে বের হওয়া মানুষ এবং কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কার্যকর ও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ঢাকার এই বায়ুমান পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম মনজুরুল করিম রনির নির্বাচনি প্রচারণায় গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১৯ জন দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আজ সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে টঙ্গি বাজারের মেইন রোডে এই ঘটনাটি ঘটে। দগ্ধদের প্রথমে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়। দগ্ধরা হলেন- রমজান (১৮), রাফি (১২), বিজয় (১৬), তাসিন (১৮), সিয়াম (১৬), মিনহাজ (১৭), অনিক (২৪), হাসু (৩৮), হাসনাত (১৮), হাসনাত (২২), রুবেল (৩৪), আলামিন (২১), রাব্বি (১২), রুবেল (৩৪), হৃদয় (১৮), শাওন (২০), ইমাম (১৪), নির্জন (২২) ও মারুফ (২২)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর-২ আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির নির্বাচনি মিছিলকে কেন্দ্র করে বাটাগেট এলাকার বিএনপি অফিসের একটি রুমে গ্যাস বেলুনগুলো আগে থেকেই রাখা ছিল। মিছিল শুরুর আগে সেগুলো বের করার সময় হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে মিছিলে অংশ নেওয়া নেতা-কর্মীদের হাত-মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ দগ্ধ হয়। ঘটনার পর আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাফিয়া শারমিন জানান, আহতদের দগ্ধ মাত্রা ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত। তাদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। এদিকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আমাদের জরুরি বিভাগে দগ্ধদের রাখা হয়েছে। যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়েছে ৮টি গ্রামের মানুষ। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এই সংঘর্ষে অন্তত ৩১ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় বিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়লে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের ব্রাহ্মণকান্দা আব্দুল শরীফ একাডেমিতে শনিবার সকালে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল আবু জাহের। বিকেলের দিকে প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী তামিমকে (১৫) অন্য একটি ইউনিয়নের কয়েকজন কিশোর মারধর করে। তামিম মানিকদহ ইউনিয়নের বাসিন্দা হলেও অভিযুক্তরা পার্শ্ববর্তী হামিরদী ইউনিয়নের মহেশ্বরদী এলাকার বাসিন্দা। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই ইউনিয়নের ৮টি গ্রামের মানুষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে অবস্থান নেয় এবং সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল কবির প্রাণভয়ে গেট বন্ধ করে দেন। এতে প্রায় দুই ঘণ্টা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা স্কুলের ভেতরে আটকা থাকেন। সংঘর্ষের সুযোগে পুখুরিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় দুই ঘণ্টা যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকে। এতে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তিতে পড়েন। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলীম জানিয়েছেন: অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক আছে। সংঘর্ষে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপিতে নজিরবিহীন গণপদত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ‘একতরফা সিদ্ধান্ত’ ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়নের অভিযোগ তুলে গত দুই দিনে প্রায় ১৫০ জন নেতা-কর্মী দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর পুরাতন ফেরিঘাট এলাকায় দলীয় কার্যালয়ে এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এই গণপদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়। পদত্যাগকারীদের পক্ষে লিখিত বিবৃতি পাঠ করেন জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আতোয়ার হোসেন বাবুল। পদত্যাগকারীদের মধ্যে জেলার বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা রয়েছেন: সদর উপজেলা: সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম শেখ ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিজয় হাসান। মিরকাদিম পৌরসভা: সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর রহমান বকুল ও মহিলা দলের সদস্য সচিব জিয়াসমিন আক্তার ময়না। জেলা ও অঙ্গ-সংগঠন: জেলা মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আলমগীর সামি, শহর ছাত্রদলের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক আশ্রাফুজ্জামান অভি এবং আধারা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু বকর মাদবরসহ আরও অনেকে। সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগকারী নেতারা দলের বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে তিনটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেন: ১. একতরফা সিদ্ধান্ত: তৃণমূলের কোনো মতামত না নিয়ে নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত। ২. বহিষ্কারের রাজনীতি: সম্প্রতি ছোটখাটো কারণে দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীদের অব্যাহতভাবে বহিষ্কার করা। ৩. অবমূল্যায়ন: রাজপথের পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড বা সুবিধাবাদীদের পদ-পদবি দেওয়া। আতোয়ার হোসেন বাবুল সংবাদ সম্মেলনে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “পদত্যাগের এই ঢেউ এখানেই থামবে না। সামনে আরও বড় গ্রুপ দল ছাড়তে পারে।”
ফেসবুকে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ভোজেশ্বর বাজারের পাইলট মোড় এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় এক নারী ইউপি সদস্য ও বিএনপির নেত্রী ‘না’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন এমন অভিযোগ তুলে জামায়াতের এক সমর্থক ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির নেতাকর্মীরা পাইলট মোড় এলাকায় ভোটের প্রচারণায় গেলে বিষয়টি নিয়ে জামায়াত নেতাদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ভোজেশ্বর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির কাহেদ নজরুল ইসলামের সঙ্গে যুবদল নেতা সবুজ মাদবরের বাকবিতণ্ডা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকরা সেখানে জড়ো হয় এবং পরিস্থিতি দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়। লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মধ্যে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর জেলা সদরসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। আহত ভোজেশ্বর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মিজান শিকদার অভিযোগ করে বলেন, স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে জামায়াতের ঝামেলার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। প্রশাসনের উপস্থিতিতেই কথা বলার সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে করে জামায়াত ও শিবিরের কর্মীরা এসে তাদের ওপর হামলা চালায়। তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। আহত জপসা ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সবুজ মাদবর বলেন, তারা লিফলেট বিতরণ করে পাইলট মোড়ে অবস্থান করছিলেন। এ সময় জামায়াতের লোকজন এসে তাদের সঙ্গে ঝামেলা শুরু করে এবং একপর্যায়ে হামলা চালায়। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে আহত জামায়াত কর্মী মিজানুর রহমান বলেন, প্রচারণা শেষে তারা জামায়াত নেতা কাহেদ নজরুল ইসলামের দোকানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএনপির লোকজন এসে হুমকি দেয়। তিনি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় তিনি দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বাহার মিয়া বলেন, ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়। বিএনপির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এখন মামলা প্রক্রিয়াধীন আছে।
ফরিদপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক সেলিম রেজার বিরুদ্ধে আইনজীবী ও মক্কেলদের সঙ্গে অপেশাদার ও অশোভন আচরণের অভিযোগে আদালত বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন আইনজীবীরা। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু। এতে সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দীন মৃধাসহ কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিম রেজা এজলাসে নিয়মিতভাবে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের সঙ্গে রুঢ় ও অবমাননাকর আচরণ করেন, যা বিচারিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী। এ সময় অ্যাডভোকেট খোন্দকার লুৎফর রহমান পিলু বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলার প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে, তবে বিচারপ্রক্রিয়ায় পারস্পরিক সম্মান ও মার্জিত আচরণ বজায় রাখা অপরিহার্য। আইনজীবীদের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয় এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ আদালত বর্জনের ঘোষণার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়ে। অনেক মামলার শুনানি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণ আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, আদালতের সুষ্ঠু কর্মপরিবেশ ও বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতি জনমানুষের আস্থা বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন। স্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচারব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা রক্ষায় দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করা প্রয়োজন।
টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ওয়াশ রুমে গোপন ক্যামেরা বসানোর অভিযোগে রায়হান কবির ইমন নামে এক ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযুক্ত ইমনকে শনাক্ত করেন হাসপাতালের শিক্ষার্থীরা। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হাসপাতালের পরিচালকসহ ইমনকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের আন্দোলনের মুখে এক পর্যায়ে সন্ধ্যায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে পুলিশ তাদের হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি জানাজানি হলে হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘শুক্রবার রাতে এক নারী চিকিৎসক ওয়াশ রুমে কলমসদৃশ ক্যামেরা দেখতে পান। এ সময় অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক ওই কলম ছিনিয়ে নিতে চাইলে দুজনের মধ্যে তর্ক হয়। পরে বিষয়টি আমাদের কাছে অভিযোগ করলে রোববার ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। সোমবার অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক আসলে হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকরা তাকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পরে পুলিশ এসে তাকে তাদের হেফাজতে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি। তবে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এ ব্যাপারে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আদিবুল ইসলাম বলেন, মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানানোর পর অভিযুক্তকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গাজীপুরে গুলি ও ককটেল ফাটিয়ে ডাচ বাংলা এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ২৪ লাখ টাকা লুট করেছে দুর্বৃত্তরা। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে এ পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি। রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মহানগরের বাসন থানা এলাকার আউটপাড়া এলাকা থেকে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের ব্যবসা পরিচালনাকারী সাইফুল ইসলাম ব্যাংকের টাকা জমা দেয়ার জন্য চান্দনা চৌরাস্তার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। স্থানীয় কাজিমউদ্দিন স্কুলের সামনে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেল যোগে ৬ জন দুর্বৃত্ত সাইফুলের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে ও কয়েকটি ককটেল ফাটিয়ে ২৪ লাখ টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে জিএমপির বাসন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুন অর রশিদ জানান, এজেন্ট পয়েন্টের ২৪ লাখ টাকা ব্যাংকে জমা দেয়ার উদ্দেশ্যে বের হলে পথিমধ্যে দুষ্কৃতিকারীরা ককটেল ফাটিয়ে টাকা লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
ঢাকা কলেজে স্নাতক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। সাত কলেজ নিয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির ‘স্কুলিং মডেল’-এর বিরোধিতা করে বের হওয়া একটি মিছিলকে কেন্দ্র করে এ উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে কলেজের হল পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সোয়া ১১টার দিকে স্কুলিং মডেলের বিরোধিতা করে ঢাকা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা একটি মিছিল বের করেন। মিছিলে ‘স্কুলিংয়ের ঠিকানা, ঢাকা কলেজে হবে না’ এবং ‘তুমি কে আমি কে—ডিসিয়ান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। মিছিলটি হল পাড়া ঘুরে দক্ষিণ হলের সামনে পৌঁছালে সেখানে স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে কিছু সময়ের মধ্যেই তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হন। ঘটনার বিষয়ে ঢাকা কলেজের স্নাতক শিক্ষার্থী রাহুল আমিন বলেন, “হঠাৎ করে মধ্যরাতে ইন্টারমিডিয়েটের শিক্ষার্থীরা অনার্স শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে উসকানিমূলক স্লোগান দিতে শুরু করে। তখন আমাদের পরীক্ষা চলছিল। পড়াশোনার মধ্যে এমন মিছিল বের করায় আমরা প্রতিবাদ জানাই।” অন্যদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থী বলেন, “ঢাকা কলেজের অস্তিত্ব রক্ষা পাওয়ায় আমরা আনন্দ মিছিল বের করেছিলাম। কিন্তু অনার্সের ভাইয়েরা আমাদের মিছিলে বাধা দেন। কেন বাধা দেওয়া হয়েছে, তা আমরা বুঝতে পারিনি।” পরে হল প্রভোস্টদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। কলেজ প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে ক্যাম্পাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
দেশে প্রথমবারের মতো দাঁত ও মুখগহ্বরের চিকিৎসায় ২৪ ঘণ্টার জরুরি বিভাগসহ পূর্ণাঙ্গ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল যাত্রা শুরু করেছে। ‘এডভান্সড ডেন্টাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল (এডিএম) হাসপাতাল’ নামের এ প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান রাজধানীর ধানমন্ডি ২ নম্বর রোডের ৩৯ নম্বর বাড়িতে। এই হাসপাতালে দুর্ঘটনা, হঠাৎ জটিলতা কিংবা জীবন ঝুঁকিপূর্ণ ‘ডেন্টাল’ ও ‘ম্যাক্সিলোফেসিয়াল’ সমস্যায় রোগীরা তাৎক্ষণিক ও মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন। ডেন্টিস্ট্রির সব বিভাগের আধুনিক চিকিৎসা সুবিধার পাশাপাশি নির্ভুল রোগ নির্ণয়, জটিল অস্ত্রোপচার ও নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকছে। হাসপাতালটিতে আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির মাধ্যমে মুখের ক্যান্সার, মুখমণ্ডলের ট্রমা, জন্মগত ত্রুটি এবং জটিল ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি করা হবে। জরুরি বিভাগের পাশাপাশি হাসপাতালটিতে আন্তঃ ও বহির্বিভাগ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শয্যাসহ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) সুবিধাও রাখা হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হাসপাতালটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহীনুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক কবি আব্দুল হাই শিকদার এবং বিএমইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ডা. শাহীনুল আলম বলেন, দাঁত ও মুখগহ্বরের চিকিৎসায় এ ধরনের হাই-টেক ডেন্টাল হাসপাতাল দেশের রোগীদের জন্য বড় আশীর্বাদ। তিনি ইনফেকশন (সংক্রমণ) নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক মানের স্বীকৃতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। কবি আব্দুল হাই শিকদার বলেন, দাঁত মানুষের সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এক ছাদের নিচে দাঁতের সম্পূর্ণ চিকিৎসা সেবা নিয়ে আসায় তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। অধ্যাপক ডা. মুজিবুর রহমান হাওলাদার বলেন, এই হাসপাতালের মাধ্যমে বাংলাদেশের ডেন্টিস্ট্রি আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন পরিচিতি পাবে। ঢাকায় রাশিয়ান দূতাবাসের পরিচালক খোবনয় আলেক্সজান্দ্রা আলেক্সান্দ্রাভোনা বলেন, এডিএম হাসপাতালের উন্নয়নে রাশিয়া ও বাংলাদেশ একসঙ্গে কাজ করবে। উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি হস্তান্তর, প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশি চিকিৎসকদের জন্য রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলারশিপের সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। অনুষ্ঠানের আরও বক্তব্য দেন এডিএম হাসপাতালের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দীন চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান ও সাপ্পোরো ডেন্টালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে দলীয় কার্যালয়ের সামনে হাসান মোল্লা (৪২) নামের এক বিএনপি নেতাকে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসান মোল্লা হযরতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে হাসান মোল্লা দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ কয়েকজন দুর্বৃত্ত এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। ঢাকা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমানের একান্ত সচিব মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় প্রথমে হাসান মোল্লাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews