মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে দীর্ঘ ৪৭ দিন আটকে থাকার পর অবশেষে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে জাহাজটি হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। এর পেছনে আরও ৮ থেকে ১০টি জাহাজ একই পথে চলাচল করছে। বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক জানান, রাত তিনটার দিকে জাহাজটি পুরো প্রণালি অতিক্রম করার কথা রয়েছে। এর আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করলেও ইরান সরকারের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি আরব আমিরাতের মিনাসাকার বন্দরের বহির্নোঙরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, হরমুজ অতিক্রমের পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজিরাহ বন্দরে তেল সংগ্রহ (ব্যাংকারিং) করা হবে। এরপর জাহাজটির গন্তব্য নির্ধারিত রয়েছে আফ্রিকার মোজাম্বিক অথবা দক্ষিণ আফ্রিকা। জাহাজটিতে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও জ্বালানি সাশ্রয়ে রেশনিং করে তা দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং দেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত ওয়ার অ্যালাউন্স। উল্লেখ্য, গত ২ ফেব্রুয়ারি ভারত থেকে পণ্য নিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে পণ্য নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছায়। পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা ও ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট সংঘাতের কারণে জাহাজটির যাত্রা বাধাগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ফেরত আনা হলেও অবশেষে যুদ্ধবিরতির সুযোগে আবারও গন্তব্যের পথে যাত্রা শুরু করেছে ‘বাংলার জয়যাত্রা’।
আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেট প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলার লক্ষ্য নিয়ে এবারের বাজেটে গত অর্থবছরের তুলনায় ১ লাখ ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই প্রাক্কলিত বাজেট উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি মাথায় রেখেই মোট দেশজ উৎপাদনের আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকা। এই বিশাল বাজেটের ঘাটতি পূরণে ব্যাংক ও বৈদেশিক উৎস থেকে ২ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বাজেটে ১১টি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা অন্যতম। দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং দেশীয় ও প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণে বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে এক ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য এই বাজেটে প্রতিফলিত হয়েছে। সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘কৃষক কার্ড’-এর মতো কর্মসূচিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দ ৫০ শতাংশ বাড়িয়ে ৩ লাখ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইসাথে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়া হচ্ছে। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বাজেটে নীতিগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আইএমএফ-এর শর্ত থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি, সার ও বিদ্যুৎ খাতে বড় অংকের ভর্তুকি বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্যমাত্রা পূরণ এবং উন্নয়ন প্রকল্পের সঠিক বাস্তবায়নই এখন এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যমান সারচার্জ প্রথা তুলে দিয়ে নতুন ‘সম্পদ কর’ চালুর পরিকল্পনা করছে সরকার। রাজধানীর গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও বারিধারার মতো অভিজাত এলাকার উচ্চসম্পদশালী ব্যক্তিদের করের আওতায় আনতেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ইতোমধ্যে সম্পদ কর আইন ও বিধিমালার খসড়া প্রস্তুত করেছে, যা সরকারের উচ্চপর্যায়ের সবুজ সংকেত পেলে বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিদ্যমান পদ্ধতিতে ৪ কোটি টাকার বেশি সম্পদ থাকলে প্রদেয় করের ওপর ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত সারচার্জ দিতে হয়। তবে নতুন নিয়মে দলিল মূল্যের পরিবর্তে জমির বর্তমান বাজারমূল্য বা মৌজামূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারিত হবে। প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, ৪ কোটি থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদের ওপর ০.৫০ শতাংশ এবং ৫০ কোটি টাকার বেশি সম্পদের ওপর সর্বোচ্চ ২ শতাংশ হারে সম্পদ কর দিতে হবে। তবে এই সম্পদ কর কোনোভাবেই একজন করদাতার বার্ষিক প্রদেয় আয়করের চেয়ে বেশি হবে না। এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, দলিল মূল্যের পরিবর্তে মৌজামূল্যে সম্পদ মূল্যায়ন করা হলে করের আওতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান পদ্ধতিতে ৯০-এর দশকে কেনা দামী জমির মালিকরা অনেক ক্ষেত্রে সারচার্জের বাইরে থাকছেন, যা নতুন পদ্ধতিতে আর সম্ভব হবে না। কর্মকর্তাদের ধারণা, যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এই খাত থেকে বছরে ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে। বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশে জিডিপির প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ পর্যন্ত সম্পদ কর হিসেবে আদায় করা হয়। বাংলাদেশেও কর ব্যবস্থায় ন্যায্যতা বাড়াতে এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য কমাতে এই প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে এনবিআর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্পদের মূল্যায়ন পদ্ধতি যেন সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে; অন্যথায় সম্পদ গোপনের প্রবণতা বাড়তে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক বাজারের প্রভাবে দেশের বাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা নির্ধারণ করেছে। আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সারাদেশে এই নতুন দামেই স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে। গত বুধবার (১৫ এপ্রিল) বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, চলতি ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত রেকর্ড ৫৫ বার দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। বাজুসের নির্ধারিত নতুন দামগুলো হলো: ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা। ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮২০ টাকা। ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ৪ হাজার ৭০৩ টাকা। সনাতন পদ্ধতি: প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৭৩৭ টাকা। এর আগে গত ৯ এপ্রিল স্বর্ণের দাম কিছুটা কমানো হলেও সপ্তাহ পার হতেই তা আবার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছাল। আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিতিশীলতা ও ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে দেশের বাজারে স্বর্ণের দামের এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বেশ কিছু চমক রাখতে চায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার। মূলত দুর্নীতি কমিয়ে অর্থনীতিতে আস্থা ফেরানো মূল লক্ষ্য আসছে বাজেটে। কর আদায়ে আসবে একাধিক নতুন কৌশল। সব নাগরিককে আনা হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের আওতায়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি হওয়ার চেষ্টা চলছে জোরেশোরে। চলতি বছরের গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন বাজেট প্রণয়নে তিন মাস সময় পেয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার। এর আগে থেকেই অর্থনীতিতে বিশাল সব সংকট। লক্ষ্যের ধারে কাছেও নেই রাজস্ব আদায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি ব্যয় আর বিদ্যুতে ভর্তুকি নিয়ে বড় মাথাব্যথা। এমনকি কমছে না নিত্যপণ্যের দাম। এ অবস্থায় নতুন বাজেট আকারে ছোট হবে, নানা মহলে এমন আলোচনা ছিল, কিন্তু হচ্ছে তার উল্টো। আগের চেয়ে ১৪ শতাংশ বাড়িয়ে সংসদে ৯ লাখ কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে পারে নতুন সরকার। যার সাড়ে ৬ লাখ কোটি আদায় করতে হবে রাজস্ব বিভাগকে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, মূল্যস্ফীতি ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। অর্থের সংকট থাকলেও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা। বাজেটের ৬৭ ভাগ ব্যয় হতে পারে পরিচালন খাতে। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা বলেন, প্রথম কাজ হচ্ছে অর্থনীতির চাকা সচল রাখা। একইসঙ্গে যাতে দারিদ্র্য না বাড়ে সেজন্য সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা করা। তারপর অর্থনীতির গতি বৃদ্ধি করা। আমরা অতীতে বিএনপি সরকারের সময় দেখেছি, ২ শতাংশীয় পয়েন্ট আকারে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। যেটা অন্য সরকারের সময় হয়নি। সেজন্যই আমরা বলছি, ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি সম্ভব। নতুন রাজস্ব লক্ষ্যে প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তে। সেই ধারাবাহিকতায় শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে কর অব্যাহতি আর প্রণোদনা। সারচার্জের বদলে আরোপ হতে পারে সম্পদ কর। আয়কর রিটার্ন যাচাই হবে বাড়ির মালিকদের। ভ্যাটের আওতায় আসবে এসএমই খাত। অনেক লেনদেনে বাধ্যতামূলক হবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের ব্যবহার। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ ও ‘ওয়ান ডিজিটাল আউটলেট’ চালুর দিকে এগোচ্ছি আমরা। এ লক্ষ্যেই নেওয়া হচ্ছে নানা পরিকল্পনা। প্রথম ধাপে দেশের প্রতিটি মানুষের ব্যাংক হিসাব নিশ্চিত করা হবে। এরপর সবাই কিউআর কোডের মাধ্যমে লেনদেন করবে। এতে কর ফাঁকি, কর পরিহার বা জালিয়াতির সুযোগ অনেকটাই কমে যাবে। নতুন বাজেটে গুরুত্ব পাবে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি। ইশতেহারে আর্থিক-সামাজিক চুক্তির কথা বলেছিল বিএনপি, তারমানে জনগণ কর দেবে আর সরকার দেবে সেবা। সেই লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড কিংবা হেলথ কার্ড নিয়ে তোড়জোড় বেশি। এসব বাস্তবায়নে দরকার বাড়তি প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা। তাহলে কীভাবে সামলাবে সরকার? সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, সরকার যেভাবে ঋণ করার উদ্যোগ নিচ্ছে, তাতে করে বেসরকারি খাতের জন্য ব্যাংক ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত ঋণ থাকার সুযোগ কম। এবং সেখানে একটা ক্রাউডিং আউট ইফেক্ট হবে—ইতোমধ্যে সেটার একটা চাপ রয়েছে। সেই জায়গায় করে বিদেশ থেকে বাড়তি ফান্ড ফ্লো যদি এই ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বা পুঁজিবাজারকেন্দ্রিক ব্যবস্থায় যুক্ত না করা যায়, তাহলে নতুন করে বিনিয়োগ বৃদ্ধি বা কর্মসংস্থান—সেই জায়গাটিও কিন্তু কষ্ট হবে। জাতীয় সংসদে নতুন বাজেট ঘোষণা হতে পারে আগামী ১১ জুন। অর্থনীতির এত সংকটের মাঝে বাজেট দিয়ে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকানোর সুযোগ নতুন সরকারের সামনে। রাজনৈতিক দল হিসেবে নানা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চাপ নিঃসন্দেহে থাকবে সরকারের, সেজন্য সবার আগে বাজেটের অগ্রাধিকার ঠিক করতে হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে সচল রয়েছে দেশের অর্থনীতির চাকা। প্রবাসীদের লেনদেনের সুবিধার্থে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক নির্ধারিত মুদ্রার সর্বশেষ বিনিময় হার প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, আজ দেশের মুদ্রা বাজারে মার্কিন ডলারের কেনা ও বেচা—উভয় ক্ষেত্রেই দাম ধরা হয়েছে ১২২.৭০ টাকা। অন্যদিকে, ইউরোপীয় একক মুদ্রা ইউরো কেনার ক্ষেত্রে দাম ১৪৪.৭৬ টাকা এবং বিক্রির ক্ষেত্রে ১৪৪.৭৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার ও চাহিদা অনুযায়ী এই বিনিময় হার যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। আজকের মুদ্রার বিনিময় হার (বাংলাদেশ ব্যাংক অনুসারে): মুদ্রার নাম ক্রয় (টাকা) বিক্রয় (টাকা) মার্কিন ডলার ১২২.৭০ ১২২.৭০ পাউন্ড (GBP) ১৬৬.৩৫ ১৬৬.৪৪ ইউরো (EUR) ১৪৪.৭৬ ১৪৪.৭৯ সৌদি রিয়াল ৩২.৭৯ ৩২.৭৯ ইন্ডিয়ান রুপি ১.৩১ ১.৩১ কানাডিয়ান ডলার ৮৯.২৮ ৮৯.৩০ সিঙ্গাপুর ডলার ৯৬.৫৩ ৯৬.৫৬ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ৮৭.৯৫ ৮৮.০০ জাপানি ইয়েন ০.৭৭০ ০.৭৬৭
প্রবাসী আয়ের ধারাবাহিক শক্তিশালী প্রবাহে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম–৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০,৩৬৬ দশমিক ২৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই অর্জনের মাধ্যমে ৩০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রমের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হলো। একই সময়ে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৫,০৩৮ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, বৈদেশিক মুদ্রার এই উন্নতির নেপথ্যে রয়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা। চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম ১৫ দিনেই ১,৭৮৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৭,৯৯৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ২০ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কেনা অব্যাহত রেখেছে। ১৬ এপ্রিল চারটি ব্যাংক থেকে ১২২ দশমিক ৭৫ টাকা দরে ৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্রয় করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে চলতি অর্থবছরে এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ পৌঁছেছে ৫,৬১৩ দশমিক ৫০ মিলিয়ন ডলারে। কর্মকর্তারা জানান, অতিরিক্ত তারল্য শোষণ এবং বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, প্রবাসী আয়ের এই বৃদ্ধি বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এবং হুন্ডি নির্ভরতা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আমদানি ব্যয় ও বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের মতো চ্যালেঞ্জগুলো এখনও বিদ্যমান। তাই দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য রফতানি আয় বৃদ্ধি ও কাঠামোগত সংস্কারের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত অগ্রগতি হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। সংস্থাটি বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে দক্ষিণ এশিয়াসহ এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানব উন্নয়ন বড় ধাক্কার মুখে পড়বে। বুধবার প্রকাশিত ‘মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা: এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মানব উন্নয়নের প্রভাব’ শীর্ষক এক প্রাথমিক মূল্যায়ন প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়। প্রতিবেদনে ৩৬টি দেশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া এবং রেমিট্যান্স প্রবাহে সম্ভাব্য ধাক্কা—এই তিনটি প্রধান কারণে ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউএনডিপি জানায়, বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে নতুন করে বিপুল সংখ্যক মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। সংস্থাটি এটিকে শুধু অর্থনৈতিক সংকট নয়, বরং গত কয়েক দশকের মানব উন্নয়নের অগ্রগতি ধরে রাখার একটি বড় পরীক্ষার মুহূর্ত হিসেবে দেখছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে রেমিট্যান্স খাতে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ৪৬ থেকে ৫০ শতাংশ আসে মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে। এই অঞ্চলে কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা সরাসরি রেমিট্যান্স কমিয়ে দিতে পারে, যা প্রভাব ফেলবে লাখো অভিবাসী পরিবারের জীবিকায় এবং খাদ্য নিরাপত্তায়। এ ছাড়া আকাশসীমায় উত্তেজনার কারণে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশের রপ্তানি খাতেও চাপ তৈরি হচ্ছে। দেশের কার্গো পণ্যের বড় একটি অংশ সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের হাব হয়ে বিভিন্ন দেশে পৌঁছে—এই প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নতুন শ্রমবাজারে অভিবাসন কমে যেতে পারে এবং বর্তমানে কর্মরত শ্রমিকদের চাকরি হারানোর আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে সংকট দীর্ঘ হলে তা বাংলাদেশের সামগ্রিক মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় কিছু নীতিগত পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করেছে ইউএনডিপি। জ্বালানি সাশ্রয়ে স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং কর্মঘণ্টা কমানোর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত নীতি গ্রহণ না করলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও দারিদ্র্য হ্রাসে অর্জিত সাফল্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (আইএমএফ) সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সুখবরের পাশাপাশি দুঃসংবাদের পূর্বাভাসও দিয়েছে। তারা বলছে, সুসংবাদের মধ্যে চলতি অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) হিসাবে সরকারের রাজস্ব আয় সামান্য বাড়বে। তবে দুঃসংবাদের মধ্যে রয়েছে-একই হিসাবে সামগ্রিকভাবে সরকারের ঘাটতি বেড়ে যাবে। পাশাপাশি একদিকে সরকারের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনই বৈদেশিক ঋণের প্রবাহ কমবে। মানুষের স্বার্থে সরকারি খাতের ব্যয় বাড়লেও অনেক দেশের তুলনায় এ বৃদ্ধির হার বেশ কম। সোমবার রাতে প্রকাশিত আইএমএফ-এর এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে সরকারের আর্থিক অবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৯-৩০ অর্থবছরের বিভিন্ন খাত নিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছে। বাংলাদেশ প্রসঙ্গে প্রতিবেদনে বলা হয়, সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে সরকারের ব্যয় গত অর্থবছরে বেশ কমে গিয়েছিল। তবে চলতি অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বাড়বে। ব্যয় বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সরকারের আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ অবস্থায় বিভিন্ন খাতে সরকার আন্তর্জাতিক দামের সঙ্গে সমন্বয় না করলে ভর্তুকি বাড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির হিসাবে সরকারের সামগ্রিক ভারসাম্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। গত অর্থবছরে তা বেড়ে ৩ দশমিক ৮ শতাংশ হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এ ঘাটতি আরও কিছুটা বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং আগামী অর্থবছরে তা আরও বেড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ হতে পারে। পরে ২০২৭ থেকে ২০৩০-এ দুই অর্থবছরে আরও বেড়ে ৫ শতাংশ হতে পারে। গত অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আয় কমে জিডিপির হিসাবে ৭ দশমিক ৭ শতাংশে নেমেছিল। চলতি অর্থবছরে তা সামান্য বেড়ে জিডিপির হিসাবে ৮ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। আগামী অর্থবছরে সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশ উন্নীত হতে পারে। এর পরের কয়েক বছরে এটি বেড়ে সাড়ে ৯ শতাংশে যেতে পারে। আইএমএফ-এর অপর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতা নেওয়ায় রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসবে। দেশে বিনিয়োগের পরিবেশও উন্নত হবে। এর প্রভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়বে। ফলে সরকারের রাজস্ব আয়েও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া বিগত সরকার রাজস্ব খাতে যে সংস্কার কর্মসূচি শুরু করেছিল, তা বর্তমান সরকার অব্যাহত রাখলে রাজস্ব আয়ে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। প্রতিবেদনে বলা হয়, গত অর্থবছরের সরকারি ব্যয় কমে গিয়ে ১১ দশমিক ৪ শতাংশে নেমেছিল। চলতি অর্থবছরে তা বেড়ে ১২ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে। আগামী অর্থবছরে বেড়ে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। তবে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়াতে পারছে না। যে কারণে এ দুটি খাতে সার্বিক সেবার মান উন্নত হচ্ছে না। সূত্র জানায়, রাজস্ব আয় কমায় সরকার নির্ভর করছে বৈদেশিক ঋণের ওপর। এর মধ্যে বৈদেশিক খাতে ভারসাম্য রক্ষায় সরকারকে বৈদেশিক ঋণও নিতে হচ্ছে। এই ঋণের বড় অংশই যাচ্ছে আগের সরকারের নেওয়া ঋণ পরিশোধে। ফলে সরকার ঋণ নিয়েও উন্নয়ন খাতে বেশি অর্থ ব্যয় করতে পারছে না।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এই সংঘাতের জেরে চলতি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফ-এর সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.১ শতাংশ। যা গত জানুয়ারি মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে ০.২ শতাংশ কম। আইএমএফ এই পূর্বাভাস দিয়েছে যুদ্ধ ‘স্বল্পকাল’ স্থায়ী হবে—এমন ধারণা থেকে। তবে সংস্থাটি দুটি নেতিবাচক পরিস্থিতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং এর ফলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম গত জানুয়ারির তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, তবে প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসতে পারে মাত্র ২ শতাংশে। আইএমএফ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিঞ্চাস রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ হঠাৎ করেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এমন এক ‘জ্বালানি সংকট’ তৈরি করতে পারে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে মাত্র চারবার ২ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যে পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক মন্দা হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বিশ্ব আবারও সেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্সের গুরুত্ব নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স প্রবাহে সুবাতাস বইছে। গেল মাসে (মার্চ) দেশের ইতিহাসে রেমিট্যান্স প্রবাহ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। সেই ধারা চলতি মাসেও (এপ্রিল) ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। এপ্রিলের প্রথম ১১ দিনে দেশে প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স এসেছে ১২১ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪ হাজার ৮৫৯ কোটি ৬০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে)।এর মধ্যে গত তিন দিনে (বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার) রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৯৬৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা। রোববার (১২ এপ্রিল) বিকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, গত বছরের এপ্রিল মাসের প্রথম ১১ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০২ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় চলতি মাসের প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ দশমিক ৪০ শতাংশ। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে দুই হাজার ৭৪২ কোটি ৭০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময় পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ২৮১ কোটি ৪০ লাখ ডলার। সেই তুলনায় গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ। বাংলাদেশের অর্থনীতি সচল রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন প্রবাসীরা।তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করে শক্তিশালী ভিত গড়ে দেশের অর্থনীতি। রীতিমতো ঝলক দেখাচ্ছে প্রবাসী আয়। রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করেছেন ব্যাংকসংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন কৌশলগত নীতিমালা ও কঠোর তদারকির ফলে প্রাতিষ্ঠানিক চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে বৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় দেশে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাজারে ছেঁড়া-ফাটা ও ময়লাযুক্ত নোটের আধিক্য দূর করতে এবং লেনদেন স্বাভাবিক রাখতে দেশের সকল তফসিলি ব্যাংককে কড়া নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ১২ এপ্রিল ২০২৬ (রোববার) জারি করা এক পরিপত্রে জানানো হয়েছে, জনসাধারণের কাছ থেকে এই ধরণের নোট গ্রহণ এবং তার বিপরীতে বিনিময় মূল্য প্রদানে কোনো ব্যাংক অনীহা প্রকাশ করলে সংশ্লিষ্ট শাখার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘পরিচ্ছন্ন নোট নীতিমালা’ (Clean Note Policy) বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫, ১০, ২০ এবং ৫০ টাকার মতো ছোট মূল্যমানের নোটগুলো বিশেষ কাউন্টারের মাধ্যমে গ্রহণ করে গ্রাহককে ফ্রেশ বা পুনঃপ্রচলনযোগ্য নোট প্রদান করতে বলা হয়েছে। পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ইতিপূর্বে এ বিষয়ে নির্দেশনা থাকলেও বাজারে এখনো ত্রুটিপূর্ণ নোটের আধিক্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারার ক্ষমতাবলে জারিকৃত এই নির্দেশনা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্টের পরিচালক কে এম ইব্রাহিম। জনসাধারণের ভোগান্তি কমাতে এবং স্বচ্ছ লেনদেন নিশ্চিত করতে এই বিষয়টি ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে গণ্য করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষিত হলেও বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের দাম যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হওয়ার আগে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে পণ্যবাহী জাহাজের নিয়মিত ও স্থিতিশীল চলাচল নিশ্চিত হওয়া জরুরি। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়া ও ইউরোপে রপ্তানি হওয়া বিশ্ব তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধের প্রতিক্রিয়ায় ইরান এই পথটি বন্ধ করে দেয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। তুফটস ইউনিভার্সিটির মেরিটাইম স্টাডিজের অধ্যাপক রকফোর্ড উইটজ আল জাজিরাকে জানান, স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এই প্রণালি দিয়ে ১২০ থেকে ১৪০টি জাহাজ চলাচল করলেও বুধবার (৮ এপ্রিল) মাত্র পাঁচটি এবং বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সাতটি জাহাজ পার হয়েছে। এই বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে এখনো অনেক দেরি। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোয় আক্রমণ এবং বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। উইচিটা স্টেট ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক ব্যবসার অধ্যাপক উষা হ্যালি জানান, ইরাকের মতো দেশগুলো স্টোরেজ সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছিল, যা পুনরায় চালু করতে কয়েক সপ্তাহ বা মাস সময় লেগে যাবে। বিশেষ করে এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) সরবরাহ স্বাভাবিক হতে অন্তত তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে, যদি নতুন করে কোনো অস্থিরতা তৈরি না হয়। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সতর্ক করেছেন, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ৩.৩ শতাংশ থেকে আরও নিচে নেমে যেতে পারে। সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির সিনিয়র ফেলো র্যাচেল জিয়েম্বা মনে করেন, যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে এবং এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে রূপ নেবে কি না, তার ওপরই নির্ভর করছে জ্বালানি সরবরাহের ভবিষ্যৎ। আপাতত মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ ঝুঁকির কারণে তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব সময়ের চেয়ে বেশি থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশের বন্দরে রাশিয়ার জাহাজ প্রবেশে বাধা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে রাশিয়া। চলতি মাসের শুরুর দিকে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা বেশ কিছু রাশিয়ান জাহাজকে নিজেদের আঞ্চলিক জলসীমায় প্রবেশে বাধা দেয় বাংলাদেশ। এরপরই রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, তারা মস্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে বলেছে, বাংলাদেশের এই পদক্ষেপটি 'ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এবং এটি বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতার সম্ভাবনাকে বিরূপভাবে প্রভাবিত করতে পারে।" এদিকে, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের কাজ করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটম। ২০২৪ সালে চালু হওয়ার কথা এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের। এই প্ল্যান্টের সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য নিষেধাজ্ঞার বাইরের জাহাজ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মস্কোকে বলেছে ঢাকা।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্ক সময় অনুযায়ী এই দরপতন ঘটে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৯ ডলারে নেমে এসেছে। একইভাবে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও প্রায় ১৫ শতাংশ কমে ৯২ দশমিক ৩৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই দরপতনের সঙ্গে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা জড়িত। বিশ্বে প্রতিদিন সরবরাহ হওয়া মোট তেল ও গ্যাসের বড় একটি অংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরপরই বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তেলের দাম কমার পাশাপাশি বন্ডের মূল্য বেড়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে—এমন প্রত্যাশাই বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগমুহূর্তে এই ঘোষণা আসায় বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এর আগে ইরানের তেলক্ষেত্রে হামলা এবং পাল্টা হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির কারণে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান দরপতন সত্ত্বেও তেলের দাম এখনো ফেব্রুয়ারির শেষ দিকের তুলনায় বেশি অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জলপথ মাসব্যাপী বন্ধ থাকায় এমন সতর্কতা জারি করা হয়েছে যে, পৃথিবী হয়ত ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকটের চেয়েও ভয়াবহ সমস্যার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। নৌপরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং মায়ের্সকের সাবেক পরিচালক লার্স জেনসেন বিবিসি-কে বলেছেন, ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাব ১৯৭০-এর দশকে দেখা অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলার চেয়ে ‘যথেষ্ট বেশি’ হতে পারে তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএর পরিচালক ফাতিহ বিরোলের এ মাসের শুরুর দিকের এক সতর্কবার্তারই প্রতিফলন। বিরোল বলেছিলেন, বিশ্ব বর্তমানে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকির’ সম্মুখীন। তিনি বলেন, ‘এটি ১৯৭০-এর দশকের তেলের দামের উর্ধগতির ধাক্কার চেয়েও অনেক বড়। এমনকি ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের পর আমরা যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামের ধাক্কা অনুভব করেছি, এটি তার চেয়েও বড়।’ তবে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়া বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন ঘটালেও, অনেক বিশ্লেষক মনে করেন আজকের বিশ্ব আগের চেয়ে অনেক বেশি সহনশীল। ১৯৭০ এর দশকের তেল সংকটে কী হয়েছিল? জ্বালানি খাতের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিস্টল এনার্জির প্রধান নির্বাহী এবং অর্থনীতিবিদ ড. ক্যারল নাখলে বলেন, ১৯৭০-এর দশকের তেল সংকট আজকের পরিস্থিতি থেকে ‘মৌলিকভাবে ভিন্ন’ ছিল। ‘কারণ, সে সময়কার প্রথম তেলের কারণে সৃষ্ট অচলাবস্থা ছিল একটি সুপরিকল্পিত নীতিগত সিদ্ধান্তের ফল।’ ১৯৭৩ সালের অক্টোবরে, ইয়োম কিপুর যুদ্ধ, যেটি ১৯৭৩ সালের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ নামেও পরিচিত, সে সময় ইসরায়েলকে সমর্থন করার কারণে আরব তেল উৎপাদকেরা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন একদল দেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সেসময় ওই নীতির পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে তেল উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছিল। নাখলে বলেন, ‘এর ফলে মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে তেলের দাম প্রায় চার গুণ বেড়ে গিয়েছিল।’ এর ফলে প্রধান তেল ব্যবহারকারী দেশগুলোতে জ্বালানি রেশনিং শুরু হয়। আর তার ফলে একটি ‘বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক সংকট’ তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী, বলছেন নাখলে। কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের গবেষক ড. টিয়ার্নান হেনি বলেন, তেলের চড়া দাম সব ক্ষেত্রেই মুদ্রাস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছিল। ‘এ অর্থ হলো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের খরচ কমিয়ে দেয় এবং বেকারত্ব চরমভাবে বৃদ্ধি পায়।’ তিনি বলেন, ‘এর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল অর্থনীতিতে, যা অনেক দেশের সামাজিক কাঠামোকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল। ব্যাপক ধর্মঘট, বিক্ষাভে এবং দেশে দেশে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছিল, অনেক পরিবারই তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছিল।’ যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্য উভয় দেশেই ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মন্দা চলেছিল। ওই সংকট ১৯৭৪ সালে টেড হিথের কনজারভেটিভ পার্টি নেতৃাত্বাধীর সরকারের পতনের পেছনেও ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান তেল সংকটে ঠিক কী হচ্ছে? এক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে তেহরানের অবরাধে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে তেল, গ্যাস এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পণ্যের চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, কারণ এই দেশগুলো বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ রপ্তানি করে থাকে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপসাগরীয় তেলের প্রবাহ পুনরায় সচল করতে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানানো এবং ইরান যদিএ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের অনুমতি না দেয়, তবে দেশটির ওপর আরও কঠোর হামলার হুমকি দেওয়া। তবে, বর্তমানে ভেসপুচি মেরিটাইম নামক পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক জেনসেন বিবিসির ‘টুডে’ প্রোগ্রামকে বলেছেন যে, এক মাস আগে উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে আসা তেলের বড় একটি অংশ এখনও বিশ্বের বিভিন্ন শোধনাগারে পৌঁছাচ্ছে, কিন্তু এ প্রবাহ শীঘ্রই বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘আমরা তেলের যে ঘাটতি দেখছি তা কেবল আরও ঘনীভূত হবে, এমনকি যদি অলৌকিকভাবে আগামীকাল হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হয় তবুও একই অবস্থা থাকবে।’ ‘আমরা জ্বালানি খরচের বিশাল চাপের মুখে পড়ব, যা কেবল এ সংকট চলাকালীন নয়, বরং এটি শেষ হওয়ার পরও ছয় থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হবে।’ বর্তমান সংকট কি ১৯৭০ এর দশকের তেল সংকটের চেয়ে ভয়াবহ হতে পারে? আরব এনার্জি ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নাখলে বলেন, ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় বর্তমান তেলের বাজার অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়, আর সেই সাথে তেলের সামগ্রিক ব্যবহারের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তার বিশ্বাস, বর্তমান দাম চড়া হলেও আজকের সংকট ততটা তীব্র নয়। তিনি বলেন, ‘যদিও আমরা তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখছি, এটি সাম্প্রতিক ইতিহাসে সম্ভবত অন্যতম বৃহত্তম। তবুও, বাজার ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় অনেক বেশি স্থিতিশীল। বরং এটি এখন আরও বহুমুখী, তেলের ওপর কম নির্ভরশীল এবং আপদকালীন ব্যবস্থা ও বাফার স্টকের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও সুসজ্জিত। ’
ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তায় সরকার কৃষিঋণ মওকুফ এবং স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা অব্যাহত রাখার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আজ (৬ এপ্রিল) সংসদে বগুড়া-৪ আসনের সরকারদলীয় সংসদ সদস্য মো. মোশাররফ হোসেনের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, কৃষকদের সুদমুক্ত ঋণ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। তবে সুদসহ সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাজেটে ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৬৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে; যার ফলে সারা দেশের প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ জন কৃষক উপকৃত হবেন। অর্থমন্ত্রী কৃষকদের সহায়তায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের বার্ষিক কৃষি ও পল্লী ঋণ নীতি ও কর্মসূচির আওতায় সহজ শর্তে ও তুলনামূলক কম সুদে কৃষি ও পল্লী ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ৩৯ হাজার কোটি টাকা কৃষি ও পল্লী ঋণ বিতরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, গম ও ভুট্টা উৎপাদন বাড়াতে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংক ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু করেছে। এই স্কিমটি ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং এর আওতায় কৃষকরা ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছেন।এছাড়া ডাল, তেলবীজ, ভুট্টা ও মসলা জাতীয় আমদানি বিকল্প ফসল উৎপাদনে উৎসাহ দিতে ৪ শতাংশ হারে স্বল্পসুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলোকে সুদ ভর্তুকি প্রদান করছে। অর্থমন্ত্রী বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের কৃষি উৎপাদন শক্তিশালী করা এবং কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নির্বাচনের পরেও দেশের বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি আশানুরূপ বাড়েনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.০৩ শতাংশ হয়েছে, যা জানুয়ারির সঙ্গে সমান। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে দীর্ঘ সময় নতুন বিনিয়োগ হয়নি। এছাড়া সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক উত্তেজনা—বিশেষত ইরান-ইসরায়েল সংঘর্ষ—ও বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবাহে প্রভাব ফেলেছে। ফেব্রুয়ারিতে বেসরকারি খাতে বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৮৫ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, এক বছর আগে যা ছিল ১৭ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা। এর অর্থ, এক বছরে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬.০৩ শতাংশ হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) লক্ষ্য ছিল ৮.৫ শতাংশ। নতুন গভর্নর মোস্তাকুর রহমান জানিয়েছেন, ঋণ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে উচ্চ সুদহার কমানো হবে এবং বন্ধ শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করা হবে। তিনি আশা করছেন, এই পদক্ষেপে বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফিরবে। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, উচ্চ সুদহার বিনিয়োগে বড় বাধা হলেও এটি একমাত্র সমস্যা নয়। গ্যাস, বিদ্যুৎ, বন্দরসহ অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধান না হলে বিনিয়োগকারীরা এগোতে পারছেন না। অন্যদিকে, সরকারের অতিরিক্ত ঋণ গ্রহণও বেসরকারি ঋণের প্রবাহ কমানোর একটি বড় কারণ। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত সরকারের ব্যাংক ঋণ হয়েছে ৯৮ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৫%। ব্যাংকগুলো বর্তমানে খেলাপি ঋণ, তারল্য সংকট এবং উচ্চ সুদহারের কারণে নতুন ঋণ অনুমোদনে সতর্ক। বাণিজ্যিক ঋণের সুদ প্রায় ১৫ শতাংশে পৌঁছায়, যা বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের নতুন ঋণ নেওয়া থেকে বিরত রাখছে। ফলস্বরূপ, শিল্প খাতে মন্থরতা, বিনিয়োগ হ্রাস, উৎপাদন কমে যাওয়া এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ধীরগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঋণ প্রবৃদ্ধি দ্রুত না বাড়লে বেসরকারি খাত ও শিল্প উৎপাদন দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ন্যাশনাল ব্যাংক পিএলসি-এর পরিচালনা পর্ষদে নতুন করে যোগ দিয়েছেন তাবিথ আউয়াল ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তা নাজনীন আহমেদ। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতাবলে ৩১ মার্চ তাদের দুজনকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। রবিবার (৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৫৪১তম পরিচালনা পর্ষদ সভায় নতুন পরিচালকরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেলিতা মেহজাবিন, ভাইস চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বতন্ত্র পরিচালক মুখলেসুর রহমান, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান মো. আব্দুস সাত্তার সরকার, স্বতন্ত্র পরিচালক মো. জুলকার নায়েন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষক মুনীর আহমেদ চৌধুরী। তাবিথ আউয়াল ব্যাংকিং, বীমা, রিয়েল এস্টেট, জ্বালানি, কৃষি, টেক্সটাইল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সুপরিচিত উদ্যোক্তা। তিনি বর্তমানে মাল্টিমোড গ্রুপের ডেপুটি চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০০১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত তিনি ন্যাশনাল ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক ছিলেন। এছাড়া তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি। যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমসে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন তাবিথ আউয়াল। নাজনীন আহমেদ ডাই অ্যাফিন লিমিটেড ও অফিসিনা বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্যাংকে পরিচালক হিসেবে যোগ দিয়েছেন। এর আগে চব্বিশের আন্দোলনের পর ন্যাশনাল ব্যাংকে ফিরে এসেছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও উদ্যোক্তা পরিচালক আব্দুল আউয়াল মিন্টু। তিনি ২০২৪ সালের আগস্টে ব্যাংকের চেয়ারম্যান হন। এরপর ২ মার্চ অধ্যাপক মেলিতা মেহজাবিন ন্যাশনাল ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে এই অর্জনের মধ্যেও রপ্তানিতে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে দেশটি মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এই সময়ে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৫০ কোটি ডলার, ফলে এবার রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। চীনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় ধরনের পতন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। ফলে তাদের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলার রপ্তানি করে চতুর্থ এবং ভারত ৭২ কোটি ডলার রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য বেড়েছে, তবে ভারতের রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবেই বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির অবস্থানে এই পরিবর্তন এসেছে। চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে অনেক ক্রেতা বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকেছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রবণতা পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এদিকে পাল্টা শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার ফলে শুল্কহার কিছুটা কমানো হলেও নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
২০২৪ সালে দেশের ব্যাংকিং খাত এক চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর খাতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরজুড়ে ১৭টি ব্যাংক কোনো নিট মুনাফা অর্জন করতে পারেনি। মুনাফা কমে যাওয়ার ফলে ব্যাংকগুলোর সিএসআর ব্যয় আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৭০ কোটি ৯১ লাখ টাকা বা ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এটি গত এক দশকের মধ্যে সিএসআর খাতে সর্বনিম্ন ব্যয়ের রেকর্ড। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে দেশের ৬১টি বাণিজ্যিক ব্যাংক সিএসআর খাতে মাত্র ৩৪৫ কোটি ৫ লাখ টাকা ব্যয় করেছে। ২০২২ সালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১,১২৯ কোটি টাকা, যা দুই বছরের ব্যবধানে ৫১৩ কোটি টাকা বা ৪৫ শতাংশের বেশি কমেছে। খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাজনৈতিক অস্থিরতা, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং ব্যাংক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম ও লুটপাটের তথ্য প্রকাশ পাওয়ায় প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে চলে এসেছে। বিশেষ করে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি এবং শরিয়াহভিত্তিক কয়েকটি ব্যাংকের ঋণ অনিয়ম এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। ব্যাংকারদের মতে, সিএসআর ব্যয় কমার পেছনে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনও একটি বড় কারণ। আগে রাজনৈতিক চাপে বিভিন্ন অনুদান বা অনুষ্ঠানে ব্যাংকগুলোকে বড় অংকের অর্থ ব্যয় করতে হতো, যা এখন অনেকটাই কমে গেছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ খাতে ব্যয়ের চেষ্টা করলেও বাস্তবে ‘অন্যান্য’ খাতেই সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৩৬ শতাংশ ব্যয় করা হয়েছে। বিপরীতে পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, বেসিক ব্যাংকসহ মোট ১১টি ব্যাংক আলোচিত সময়ে সিএসআর খাতে কোনো অর্থই ব্যয় করেনি। অন্যদিকে, লোকসানে থাকা ১৭টি ব্যাংকের মধ্যে এবি ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক এবং সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকসহ ছয়টি ব্যাংক মুনাফা না করেও সিএসআর খাতে অর্থ প্রদান করেছে। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, সিএসআর খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews