পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা পালনে সৌদি আরবে পৌঁছাতে শুরু করেছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) মদিনার প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এ বছরের হজের প্রথম কাফেলা। এর মধ্য দিয়ে শুরু হলো ২০২৬ সালের পবিত্র হজ মৌসুমের আনুষ্ঠানিক পথচলা। মদিনা বিমানবন্দরে প্রথম দফায় আগত হজযাত্রীদের ফুল ও খেজুর দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা। বিমানবন্দর সূত্র জানায়, প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষে হজযাত্রীদের মদিনার মসজিদে নববীতে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে তারা নামাজ ও ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে কয়েক দিন অবস্থানের পর হজের মূল কার্যাদি পালনের জন্য মক্কার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হজযাত্রীদের নিয়ে আরও অসংখ্য ফ্লাইট মদিনা ও জেদ্দা বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। আল্লাহর মেহমানদের জন্য পরিবহন, আবাসন এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে আলাদা সহায়তা দল। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে প্রতি বছর জিলহজ মাসের ৮ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা পালিত হয়। ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এ বছর মে মাসের শেষ সপ্তাহে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা লাখ লাখ মুসলিমের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয় নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান যুদ্ধের প্রভাব ইউরোপের দেশগুলোতে পড়তে শুরু করেছে, যার ফলে যুক্তরাজ্যে বড় ধরনের খাদ্য ও শিল্প সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কার্বন ডাই-অক্সাইডের সম্ভাব্য ঘাটতির কারণে মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ থেকে শুরু করে পানীয় শিল্প এবং চিকিৎসা সেবা পর্যন্ত স্থবির হয়ে পড়তে পারে। দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আসন্ন গ্রীষ্মজুড়ে দেশটিতে খাদ্য সরবরাহে চরম চাপ সৃষ্টি হতে পারে। ব্রিটিশ সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা ‘এক্সারসাইজ টার্নস্টোন’ নামক একটি মহড়ার মাধ্যমে যুদ্ধের প্রভাবে উদ্ভূত সম্ভাব্য পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছেন। ফাঁস হওয়া গোপন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে কার্বন ডাই-অক্সাইড সরবরাহ বর্তমানের মাত্র ১৮ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মুরগি ও শূকর জবাই প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হবে। এছাড়া রক্ত, অঙ্গ এবং ভ্যাকসিন সংরক্ষণে ব্যবহৃত ড্রাই আইস সংকটে প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবে জি৭ দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ। রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের হিসাব মতে, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে চলতি বছর প্রতিটি পরিবারকে অতিরিক্ত প্রায় ৪৮০ পাউন্ড খরচ করতে হতে পারে। কার্বন ডাই-অক্সাইড উৎপাদন বাড়াতে প্রয়োজনে জরুরি আইন জারি করে অন্যান্য শিল্পকারখানা বন্ধ রাখার বিষয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা বিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার নিজে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ফাঁস হওয়া তথ্যে এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি নিয়ে আগাম পরিকল্পনা করে এগোচ্ছে। বর্তমানে বড় ধরনের খাদ্যসংকটের আশঙ্কা না থাকলেও সুপারমার্কেটে পণ্যের বৈচিত্র্য কমে যেতে পারে এবং পরিস্থিতি পরিবর্তন হলে জনগণকে সরাসরি অবহিত করা হবে।
গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখার লক্ষ্যে মিশরের রাজধানী কায়রোতে প্রথমবারের মতো সরাসরি গোপন আলোচনায় বসেছে যুক্তরাষ্ট্র ও হামাস। মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই পদক্ষেপে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা আরিয়ে লাইটস্টোন এবং হামাসের পক্ষে রয়েছেন প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া। সিএনএনের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। বৈঠকে মূলত গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ বাস্তবায়ন, ইসরায়েলি হামলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং অবরুদ্ধ অঞ্চলে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। হামাস প্রতিনিধি স্পষ্ট করেছেন যে, বর্তমান শর্তগুলো পূরণ না হলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপে যাওয়া সম্ভব নয়। এছাড়া গাজা থেকে অবরোধ পুরোপুরি শিথিল করার দাবিও জানিয়েছে সংগঠনটি। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই আলোচনায় হামাসের নিরস্ত্রীকরণের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেছে। তবে হামাস এই প্রস্তাবকে ‘অসম ভারসাম্যপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা গাজায় পূর্ণাঙ্গ শান্তি ও মানবিক বিপর্যয় রোধে স্থায়ী যুদ্ধবিরতিকেই মূল শর্ত হিসেবে গণ্য করছে। উল্লেখ্য, গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও গাজায় সংঘাত ও ইসরায়েলি হামলা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, যুদ্ধবিরতি চলাকালেও বহু ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে কায়রোর এই সরাসরি আলোচনা গাজার ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থা এবং নিরাপত্তা কাঠামো নিয়ে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা দূর করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনের উপকণ্ঠে অবস্থিত শীর্ষস্থানীয় ইহুদি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘ইম্যানুয়েল কলেজ’ চলতি বছরের শেষে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মূলত তীব্র আর্থিক সংকট এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৯৯০ সালে ব্রিটিশ কমনওয়েলথের সাবেক প্রধান রাব্বি লর্ড ইম্যানুয়েল জ্যাকোবোভিটস এই ঐতিহ্যবাহী স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্কুলটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ড্যানিয়েল লেভি এই ঘোষণা দিয়ে বিষয়টিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। বর্তমানে ১০ থেকে ১৮ বছর বয়সি প্রায় ৩৬০ জন শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছে। গত বছরই আর্থিক চাপের মুখে স্কুলটির প্রাথমিক শাখা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। অথচ ২০২৫ সালে দ্য সানডে টাইমস প্যারেন্ট পাওয়ার গাইডে এটি যুক্তরাজ্যের সেরা পারফর্মিং ইহুদি স্কুল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, বেসরকারি স্কুলের ওপর ভ্যাট আরোপ, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স অবদান বেড়ে যাওয়ায় স্কুল পরিচালনার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে। সব মিলিয়ে প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটির ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি আর্থিক ক্ষতি হচ্ছিল। যুক্তরাজ্যের আইনপ্রণেতা অলিভার ডাউডেন এই পরিস্থিতিকে ‘বেসরকারি স্কুলে ভ্যাট আরোপের কুফল’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমানে অনেক অভিভাবক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বদলে বিনামূল্যে সরকারি ইহুদি স্কুলগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। স্থানীয় ইহুদি সম্প্রদায় এই সিদ্ধান্তে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানিয়েছে, এটি কেবল একটি স্কুল বন্ধ হওয়া নয়, বরং একটি দীর্ঘদিনের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবসান।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এনে সিরিয়া থেকে নিজেদের সর্বশেষ সেনাসদস্যদের প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হাসাকাহ অঞ্চলের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘কাসরাক’ সামরিক ঘাঁটি থেকে মার্কিন বাহিনী সরে যাওয়ার মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ এক দশকের সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল। ২০১৫ সাল থেকে ইসলামিক স্টেট (আইএস) বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে মার্কিন সেনারা সিরিয়ায় অবস্থান করছিল। সিরীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন সেনারা ঘাঁটিটি ত্যাগ করার পরপরই সিরিয়ার সেনাবাহিনীর ৬০তম ডিভিশন সেখানে প্রবেশ করে নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে। ইরান-সমর্থিত মিলিশিয়াদের সম্ভাব্য হামলা এড়াতে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মার্কিন সেনা ও সরঞ্জামগুলো জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ঘাঁটিটি সিরীয় সরকারি বাহিনী ও সিরীয় ডেমোক্রেটিক ফোর্সেসের (এসডিএফ) অধীনে রয়েছে। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে একে এসডিএফ-কে জাতীয় কাঠামোর সাথে একীভূত করার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে। মূলত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে বাশার আল-আসাদকে পরাজিত করে ক্ষমতায় বসা আহমেদ আল-শারা সরকারের সাথে এসডিএফ-এর চুক্তির ফলেই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া সহজ হয়েছে। নতুন এই সরকারকে ওয়াশিংটন শুরু থেকেই সমর্থন দিয়ে আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, তুরস্কের সাথে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই সেনা প্রত্যাহার বড় ভূমিকা রাখবে। ইরানের সাথে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননে ইসরায়েলের সাথে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণার মধ্যেই মার্কিন সেনারা সিরিয়া ত্যাগ করল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘যুদ্ধ বন্ধের’ নীতির অংশ হিসেবে এর আগে আল-তানফ এবং আল-শাদাদি ঘাঁটি থেকেও সেনা সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে সিরিয়া রাষ্ট্র নিজেই তার ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদ দমনের পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে বলে দামেস্ক সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানে একটি পাথর খনি ধসের দীর্ঘ ১৭ দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে এক ব্যক্তিকে অলৌকিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম আবদুল ওয়াহাব বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির উদ্ধারকারী সংস্থা ‘রেসকিউ ১১২২’। জিও নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৩১ মার্চ খাইবার পাখতুনখোয়ার মারদান জেলার রুস্তম তেহসিলের নাঙ্গাবাদ এলাকায় এই ভয়াবহ খনি ধসের ঘটনা ঘটে। এতে কর্মরত শ্রমিকরা মাটির নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই আটজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। ১৭ দিন ধরে চলা টানা উদ্ধার অভিযান শেষে আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) আবদুল ওয়াহাবকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকর্মীরা। রেসকিউ ১১২২-এর কর্মকর্তা সৈয়দ আব্বাস এক ভিডিও বার্তায় জানান, আবদুল ওয়াহাব মোহমান্দ জেলার বাসিন্দা। নিখোঁজ এই শ্রমিকের সন্ধানে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছিল। তাকে উদ্ধারের পরপরই দ্রুত জরুরি চিকিৎসা প্রদান করা হয়। বর্তমানে তিনি মারদান মেডিকেল কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উল্লেখ্য, খাইবার পাখতুনখোয়ার পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে ভঙ্গুর ভূপ্রকৃতির কারণে ভূমিধস ও খনি ধস একটি নিয়মিত ঝুঁকি। বিশেষ করে আপার দির, সোয়াত ও কোহিস্তানের মতো এলাকায় খনি শ্রমিকরা সবসময়ই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেন। ১৭ দিন পর আবদুল ওয়াহাবের ফিরে আসা যেন এক অবিশ্বাস্য অলৌকিক ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের হরিপুর জেলায় এক ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণে একই পরিবারের আটজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হরিপুরের হাট্টার ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত পাঁচজন। সামা টিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হরিপুরে সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইনস লিমিটেড (এসএনজিপিএল) পরিচালিত একটি পাইপলাইনের লিকেজ থেকে এই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হয়। বিস্ফোরণের পরপরই আগুন দ্রুত পার্শ্ববর্তী একটি বস্তি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এতে বেশ কিছু ঘরবাড়ি মুহূর্তেই ভস্মীভূত হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা বাসিন্দারা আটকা পড়েন। জেলা ডেপুটি কমিশনার ওয়াসিম আহমেদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিহতদের মধ্যে তিন শিশু, দুই কিশোরী, দুই বৃদ্ধা নারী এবং একজন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই একই পরিবারের সদস্য। উদ্ধারকর্মীরা হতাহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। দগ্ধ পাঁচজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। পাইপলাইন লিকেজের সঠিক কারণ খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ মন্তব্য করেছেন যে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য ইসরায়েল নয়, বরং ইরানই ‘প্রধান শত্রু’। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) দুবাই প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেন। গারগাশ বলেন, আরব বিশ্বের অনেক দেশ ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে প্রধান শত্রু মনে করলেও, হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হওয়া উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর দৃষ্টিভঙ্গি এখন বদলে গেছে। ড. গারগাশ উল্লেখ করেন, জিসিসি (GCC) ভুক্ত দেশগুলোর ওপর ইরানের ধারাবাহিক আগ্রাসনের কারণে তেহরানের প্রতি তাদের কোনো আস্থা নেই। বিশেষ করে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন সক্ষমতা নিয়ে আমিরাতের গভীর ও যৌক্তিক উদ্বেগ রয়েছে। তার মতে, ইরান যদি যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করে, তবে আমিরাতেরও অধিকার রয়েছে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়ার গ্যারান্টি এবং ক্ষতিপূরণ চাওয়ার। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার স্বার্থেই আমিরাত এখন ইরানকে তাদের প্রধান হুমকি হিসেবে গণ্য করছে বলে তিনি জানান। গালফ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমিরাতের এই অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান মেরুকরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।
প্রায় আট সপ্তাহের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, আগামী ১৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের আলোচক দল পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রথম দফার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দেন। সেখানে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বে নিজেকে জয়ী দাবি করেছিলেন, তবুও রণাঙ্গনের চেয়ে কূটনীতিকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে সব পক্ষ। তবে ইসরায়েলের অতীত ইতিহাস এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে। এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনালাপে বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। সৌদি আরব এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসানে এই সংলাপ-প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ববাসী এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই আলোচনা সফল হলে কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। সংঘাতের পুনরায় বিস্তৃতি রোধে ইসরায়েলের সদিচ্ছাই এখন বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ঐতিহাসিক চুক্তির ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ প্রায় সব শর্তে রাজি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। ট্রাম্প জানান, আগে যেসব বিষয়ে ইরান অনড় অবস্থানে ছিল, এখন তারা সেসব দাবি মানতে রাজি হয়েছে। যদি এই চুক্তি চূড়ান্ত হয় এবং তা পাকিস্তানের ইসলামাবাদে স্বাক্ষরিত হয়, তবে তিনি পাকিস্তান সফরে যেতে পারেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন। উল্লেখ্য, এই সপ্তাহান্তেই দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরবর্তী বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হবে। তবে নতুন চুক্তি সই হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় এই মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, যদি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি না হয়, তবে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় যুদ্ধ শুরু হবে। প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ বাহিনীর অবরোধ অত্যন্ত কার্যকরভাবে বজায় রয়েছে। মূলত আন্তর্জাতিক চাপ ও অবরোধের কারণেই ইরান আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নৌ অবরোধ ভেঙে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত চারটি কনটেইনারবাহী জাহাজ সফলভাবে হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা এবং মেরিন ট্রাফিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিত করেছে। সোমবার থেকে অবরোধ কার্যকর হওয়ার পর এই প্রথম কোনো জাহাজ মার্কিন বাধা এড়িয়ে পার হতে সক্ষম হলো। বিবিসি জানায়, অবরোধ অতিক্রম করা জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি ইরানের পতাকাবাহী এবং একটি কোমোরোসে নিবন্ধিত। জাহাজগুলোর অবস্থান নিম্নরূপ: আজারগুন: এটি ইরানের শহীদ রাজাই বন্দর থেকে ভারতের কাণ্ডলা বন্দরের দিকে যাচ্ছে। আশকান ৩: চাবাহার বন্দর থেকে রওনা হয়ে বর্তমানে পাকিস্তানের করাচি বন্দরে অবস্থান করছে। শাবদিস: চাবাহার থেকে চীনের ঝুহাই শহরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে বর্তমানে ভারতের কেরালার কাছে অবস্থান করছে। টাভা ৪: ইমাম খোমেনি বন্দর থেকে মুম্বাইয়ের জওহরলাল নেহরু বন্দরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জাহাজগুলো সফলভাবে অবরোধ পার হওয়ায় ওয়াশিংটনের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছিলেন, তারা মাত্র ১০ শতাংশ শক্তি ব্যবহার করেই পুরো প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছেন, কিন্তু এই ট্র্যাকিং ডেটা সেই দাবিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিষয়টি নিয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তারা কেবল জানিয়েছে, জেনারেল ড্যান কেইনের আগের বক্তব্যই বহাল রয়েছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাহাজগুলোর এই সফল পারাপার ইরানের মনোবল বাড়াবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অবরোধের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম জানিয়েছেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যেকোনো আলোচনা কেবল ইসলামাবাদেই অনুষ্ঠিত হবে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) ইসলামাবাদের পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য জানান। রাষ্ট্রদূত স্পষ্ট করেন যে, পাকিস্তানের প্রতি ইরানের পূর্ণ আস্থা থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর তাদের কোনো বিশ্বাস নেই—আর এই অবস্থান ইতোমধ্যেই ইসলামাবাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও ফিল্ড মার্শালের মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগকে প্রশংসনীয় উল্লেখ করে মোগাদ্দাম বলেন, ইরান অঞ্চলে কোনো আধিপত্য বিস্তার করতে চায় না, বরং নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই তেহরানের প্রধান লক্ষ্য। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ এখন পর্যন্ত কেউ দেখাতে পারেনি। রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে জানান, ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও জায়নিস্ট শক্তির ধারাবাহিক চাপের মুখে রয়েছে। বহিরাগত সন্ত্রাসবাদের কারণে ইরানে এ পর্যন্ত ১৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ের ব্যক্তিত্বরাও রয়েছেন। ব্যাপক মানবিক ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা এবং মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত প্রশমনের আশায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) এক প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশেরও বেশি কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮.০৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ৯৪ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। গত মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে তেলের দাম রেকর্ড ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে সম্প্রতি সংঘাত থামার ইঙ্গিত মেলায় তেলের বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে এবং চলতি পুরো সপ্তাহজুড়েই দাম ৯০ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। এদিকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, এই সপ্তাহান্তে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে পারে। মূলত এই ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার আভাসই আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
অ্যামাজন প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের সাবেক স্ত্রী ও বিশিষ্ট দাতা ম্যাকেঞ্জি স্কট বয়স্ক ও ঘরবন্দি মানুষের সহায়তায় নিয়োজিত সংস্থা ‘মিলস অন হুইলস আমেরিকা’-কে ৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছেন। সম্পূর্ণ শর্তহীনভাবে দেওয়া এই বিপুল অর্থ সংস্থাটির দেশব্যাপী নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করবে, যা প্রবীণদের খাদ্য সরবরাহ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ প্রবীণ নাগরিক খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ৫৬ শতাংশ প্রবীণ চরম একাকীত্ব অনুভব করছেন। ম্যাকেঞ্জি স্কটের এই অনুদান এমন এক সময়ে এলো যখন প্রবীণদের একাকীত্বকে একটি ‘জাতীয় মহামারি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। ৫৬ বছর বয়সি এই দানবীর জনহিতকর কাজের তহবিল সংগ্রহের জন্য সম্প্রতি অ্যামাজনে তার শেয়ারের পরিমাণ ৪২ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছেন। ম্যাকেঞ্জি স্কট তার প্ল্যাটফর্ম ‘ইয়েল্ড গিভিং’-এর মাধ্যমে ২০২০ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ২৬ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। কেবল ২০২৫ সালেই তিনি তার মোট সম্পদের প্রায় ৪৬ শতাংশ বা ৭.২ বিলিয়ন ডলার দান করেন। তার দানের তালিকায় কৃষ্ণাঙ্গ অধ্যুষিত কলেজ, আবাসন সমস্যা সমাধানকারী সংস্থা এবং পরিবেশ রক্ষা প্রকল্পের মতো অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় খাত রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ম্যাকেঞ্জি স্কটের এই দানশীলতা বিশ্বজুড়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ফোর্বসের তথ্যমতে, জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী লরেন সানচেজ তাদের সারাজীবনে প্রায় ৪.৭ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন। সেই তুলনায় ম্যাকেঞ্জি স্কট গত কয়েক বছরেই তাকে বহুগুণে ছাড়িয়ে গেছেন। সূত্র: এনডিটিভি
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যেই চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীন সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বেইজিংয়ে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বুধবার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরের তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। পুতিনের এই সফরে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘চীন-রাশিয়া মৈত্রী চুক্তি’ পুনরায় নবায়ন করা হবে। এটি দুই পরাশক্তির মধ্যকার সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। লাভরভ জানিয়েছেন যে, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে ইতিমধ্যে তাদের চূড়ান্ত এজেন্ডা তৈরি করছেন। হরমজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চীনে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে রাশিয়া এখন বিশেষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বড় ধরণের পরিকল্পনা করছে। লাভরভ বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকের পর জানিয়েছেন যে, মস্কো এখন চীনের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ও কৌশলগত শরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অত্যন্ত আগ্রহী। গত বছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পুতিনের এই আসন্ন সফর সেই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই মাইলফলককে সামনে রেখে দুই দেশই পশ্চিমা বিশ্বের চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো সংকল্প ব্যক্ত করেছে। মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্ভাব্য সম্মেলনটি বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরণের মেরুকরণ ঘটাবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রতিটি স্তরে।
ইরানি বন্দরে আমেরিকার কঠোর নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লোহিত সাগরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রুদ্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার জানিয়েছে, আমেরিকা যদি তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। জেনারেল আলী আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন আগ্রাসন চলতে থাকলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো দেশের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেওয়া হবে না। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ঘোষণা করেছিল যে, তারা ইরানের সব বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং সব দেশের জাহাজের ওপর সমভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন। সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই মার্কিন সীমানা পার হতে পারেনি এবং ছয়টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। গদর উপসাগর থেকে রাস আল হাদ্দ পর্যন্ত বিশাল এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। ফলে ওমান সাগর থেকে আরব সাগরে জাহাজ চলাচলের প্রধান রুটটি এখন কার্যত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নৌ-ট্রাফিক ডাটা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমজ প্রণালী দিয়ে অন্তত ১৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। যার মধ্যে গ্যালাক্সি গ্যাস, অল নাজির এবং গ্রিসের বেশ কিছু তেল ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ও তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক জাহাজ সংঘাত এড়াতে মাঝপথ থেকে ফিরে যাচ্ছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের বকেয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য চরম অর্থ সংকটে থাকা পাকিস্তানকে তিনশ কোটি ডলারের বিশেষ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে সৌদি আরব। পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত এই বিশাল পরিমাণ অর্থ আগামী সপ্তাহের মধ্যেই ইসলামাবাদকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সাথে আলোচনা করতে আমেরিকায় অবস্থানরত অর্থমন্ত্রী সৌদি সমকক্ষের সাথে এক বিস্তারিত বৈঠকের পর এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেছেন প্রতিটি স্তরে। পাকিস্তানের জন্য এই সহায়তা এখন অত্যন্ত জরুরি কারণ চলতি মাসের শেষেই দেশটিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রায় সাড়ে তিনশ কোটি ডলারের সমপরিমাণ বকেয়া ঋণ দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। আবুধাবির পক্ষ থেকে ঋণের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য জরুরি অনুরোধ আসার পর পাকিস্তান তাদের বৈদেশিক মুদ্রার মজুত নিয়ে বড় ধরণের সংকটে পড়েছিল যা নিরসনে এখন রিয়াদ সরাসরি এগিয়ে এল। গত সপ্তাহেও বিভিন্ন সূত্রে খবর এসেছিল যে সৌদি আরব ও কাতার যৌথভাবে পাকিস্তানকে মোট পাঁচশ কোটি ডলার দেবে যাতে দেশটির ভঙ্গুর রিজার্ভ আগামী জুন মাস পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ এবং বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের আমদানি ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে যা দেশটির অর্থনীতিকে এক ধরণের দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে প্রতিনিয়ত। বর্তমানে পাকিস্তানের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুত প্রায় একুশ বিলিয়ন ডলারের বেশি হলেও এর বড় একটি অংশই বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর হাতে রয়েছে যা সরকারি ব্যয় মেটাতে সবসময় পর্যাপ্ত নয়। গত সপ্তাহেই পাকিস্তান ১৪০ কোটি ডলারের আন্তর্জাতিক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেছে যার ফলে নতুন তহবিল সংগ্রহ করা দেশটির জন্য এখন টিকে থাকার এক বিশাল বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরবের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক মিত্রতার বড় প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে যা দক্ষিণ এশিয়ার এই পারমাণবিক শক্তিধর দেশটিকে বড় ধরণের কোনো অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রক্ষা করবে। সরকার এখন অন্যান্য আন্তর্জাতিক শরিকদের সাথেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে যাতে ভবিষ্যতের কঠিন দিনগুলোতে রিজার্ভের ওপর বাড়তি কোনো চাপ তৈরি না হয় এবং অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকে প্রতিটি পর্যায়ে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিরসনে এবং দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার পথ সুগম করতে উচ্চপর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) আল-জাজিরা ও ডন নিউজ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মূলত ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকার অংশ হিসেবেই এই ঝটিকা সফর। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছেন। নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কিছু ঘটতে যাচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির অসাধারণ কাজ করছেন এবং পাকিস্তানই এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়ার যোগ্য।” এমনকি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ‘প্রায় শেষের পথে’। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি জানিয়েছিলেন, গত রবিবারের বৈঠকটি অমীমাংসিত থাকলেও পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বাঘায়ি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের ‘অনস্বীকার্য অধিকার’। তবে তিনি একটি সমঝোতার সুযোগ রেখে জানান যে, সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও ধরণ নিয়ে তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার কঠোর হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবরোধের মাধ্যমে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হলে সেটি চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই আবদুল্লাহির এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিল। ইরানের এই হুমকি এমন সময়ে এলো যখন দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংলাপের প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ‘কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও নতুন বৈঠকের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রবিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকটি ফলপ্রসূ না হলেও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে। বাঘায়ি বলেন, “ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরানের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং পরবর্তী বার্তাগুলোতেও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আজই পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করতে পারে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের আশঙ্কার জবাবে মুখপাত্র আবারও দাবি করেন, তাদের এই প্রকল্প সম্পূর্ণ ‘শান্তিপূর্ণ’। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইরান নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত থেকে যায়।
স্পেনে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অনিবন্ধিত অভিবাসীকে বৈধ করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ নিয়মিতকরণ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) স্পেনের মন্ত্রিপরিষদ এ সংক্রান্ত একটি রাজকীয় ডিক্রি অনুমোদন দিয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের ফলে দেশটিতে অবস্থানরত প্রায় ১৫ হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী বৈধ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাসুদুর রহমান আজ বুধবার দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে অনিবন্ধিত প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা দূর হবে। তিনি আবেদনকারীদের সঠিক নথিপত্র, বিশেষ করে বাংলাদেশ থেকে পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন। দূতাবাস থেকে সব ধরণের প্রশাসনিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। আল জাজিরার তথ্যমতে, ১৬ এপ্রিল থেকে অনলাইনে এবং ২০ এপ্রিল থেকে সশরীরে এই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে আবেদনকারীদের অবশ্যই ১ জানুয়ারি ২০২৬-এর আগে স্পেনে পৌঁছাতে হবে এবং অন্তত ৫ মাস দেশটিতে বসবাসের প্রমাণ থাকতে হবে। সফল আবেদনকারীরা এক বছরের জন্য রেসিডেন্সি ও কাজের অনুমতি পাবেন। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এই উদ্যোগকে স্পেনের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির জন্য একটি ‘প্রয়োজনীয়’ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews