বিশ্ব রাজনীতি

ছবি - সংগৃহিত
পশ্চিমবঙ্গে ভোটাধিকার হারা লাখো মুসলিম

গত ৫০ বছর ধরে ভারতের জাতীয়, রাজ্য এবং স্থানীয় প্রতিটি নির্বাচনে ভোট দিয়ে আসছেন ৭৩ বছর বয়সী নবীজান মণ্ডল। কিন্তু হঠাৎ করেই তিনি দেখলেন, ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) প্রকাশিত ভোটার তালিকায় তার নাম নেই।    আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফল প্রকাশের তোড়জোড় যখন তুঙ্গে, তখন এই খবর তাকে দিশেহারা করে দিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ইসিআই ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (এসআইআর) বা বিশেষ নিবিড় সংশোধনীর মাধ্যমে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করেছে।    নবীজান একা নন; পশ্চিমবঙ্গে চলমান এসআইআর প্রক্রিয়ার শেষে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। রাজ্যের ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে এটি প্রায় ১২ শতাংশ। এই ৯০ লাখের মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারকে ‘অনুপস্থিত’ বা ‘মৃত’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।    বাকি ৩০ লাখ ভোটার বিশেষ ট্রাইব্যুনালে শুনানি না হওয়া পর্যন্ত ভোট দিতে পারবেন না। বৃহস্পতিবার আলজাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী-টার্গেট করেই মুসলিমদের এই ভোটাধিকার হরন করা হচ্ছে।    নবীজানের স্বামী, তিন ছেলে, এক মেয়ে এবং তাদের জীবনসঙ্গীদের নাম তালিকায় থাকলেও বাদ পড়েছেন শুধু তিনি। কারণটি হলো : দীর্ঘ বছর ধরে নবীজান ও তার পরিবার খেয়ালই করেনি যে, তার ভোটার কার্ডে ডাকনাম ‘নবীজান’ থাকলেও আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের মতো অন্যান্য সরকারি নথিতে নাম রয়েছে ‘নবীরুল’। এছাড়াও  নির্বাচনের আগে এত বিশাল সংখ্যক মামলার শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।    এছাড়া ট্রাইব্যুনালের দ্বারস্থ হওয়া সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত জটিল, কারণ তাদের ভোটাধিকার প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র জোগাড়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টও জানিয়েছে, যাদের মামলা ট্রাইব্যুনালে ঝুলে আছে, তাদের এপ্রিলের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অনুমতি দেওয়া সম্ভব নয়।    তবে আদালত ইসিআই-কে নির্বাচনের আগে সম্পূরক ভোটার তালিকা প্রকাশের অনুমতি দিতে পারে।    উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা নবীজান আল জাজিরাকে বলেন, ‘এবার আমার পরিবারের সবাই ভোট দেবে, শুধু আমি পারব না। আমি অত কিছু বুঝি না; নাম আলাদা হওয়ার কারণে যে আমার ভোট দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে, সেটা জানতাম না।’   পরিকল্পিত পদক্ষেপ: ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় আড়াই কোটি মুসলিম বাস করেন, যা রাজ্যের মোট ১০ কোটি ৬০ লাখ জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। উত্তরপ্রদেশের পর ভারতেই এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যা অধ্যুষিত রাজ্য। পশ্চিমবঙ্গ এমন এক রাজ্য যেখানে বিজেপি কখনো ক্ষমতায় আসতে পারেনি।    ২০১১ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) এই রাজ্য শাসন করছে, যারা টানা ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল। ৭১ বছর বয়সী মমতা মোদির অন্যতম প্রধান সমালোচক হিসাবে পরিচিত।    রাজ্যজুড়ে ভোটার বাতিলের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মুসলিমরাই এই এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে যেসব জেলায় মুসলিম জনসংখ্যা বেশি এবং যারা নির্বাচনের ফলে প্রভাব ফেলতে পারে, সেখানে গণহারে নাম কাটা গেছে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগনায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদায় ২ লাখ ৪০ হাজার নাম বাতিল হয়েছে।    উত্তর ২৪ পরগনার গোবিন্দপুর, গোবরা ও বালকি গ্রামে এ ধরনের ডজনখানেক মুসলিম পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে আল জাজিরা। তারা জানান, সব নথিপত্র ঠিক থাকার পরেও অনেকের নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ কেউ বসবাসের প্রমাণ, বিয়ের পর পদবি পরিবর্তন, নামের বানানে ভুল বা অভিবাসনের প্রমাণ নিয়ে জটিলতায় পড়েছেন।    ইসিআই-এর দাবি, ভুয়া বা মৃত ভোটার বাদ দিতে এবং বাদ পড়া প্রকৃত ভোটারদের যুক্ত করতেই এই এসআইআর প্রক্রিয়া। তবে এই প্রক্রিয়াটি ব্যাপক বিতর্ক ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।    তবে বিরোধী দল ও মুসলিম সংগঠনগুলোর অভিযোগ, মোদির ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) যারা ভোট দেবে না-বিশেষ করে মুসলিমদের তাদের পরিকল্পিতভাবে তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে ইসিআই।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
যে স্থানে হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী শান্তি আলোচনা

য়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনা কোথায় অনুষ্ঠিত হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে। পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে ইরানি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো নিশ্চয়তা না পাওয়া গেলেও, কূটনৈতিক সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার ক্ষেত্র প্রস্তুত রয়েছে। বর্তমানে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দুটি শহরকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। খবর আল জাজিরার।   আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হলো ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র চায় ইরান পরবর্তী ২০ বছর সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখুক। অন্যদিকে, তেহরান পাঁচ বছরের একটি প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আলোচনার মাধ্যমে এই সময়ের ব্যবধান কমিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব।   অবরোধের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা স্পষ্ট সংকেত দিয়েছেন, এই কৌশলগত জলপথের ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা আগের চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।   পারমাণবিক স্থাপনা নিয়ে সৃষ্ট একটি জটিলতা নিরসনেও ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আমেরিকানদের দাবি অনুযায়ী, ইরানের একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত পারমাণবিক স্থাপনায় ৪৫০ কেজির বেশি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পুঁতে রাখা হয়েছে।   ইরানিদের মতে, এই ইউরেনিয়াম অপসারণ করে সেটিকে তিন শতাংশেরও কম পরিমাণে লঘু করা সম্ভব, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার উদ্বেগকে অনেকাংশে কমিয়ে দিতে পারে।   এ সব বিষয়ে বর্তমানে আলোচনার জন্য দুটি সম্ভাব্য স্থান—ইসলামাবাদ ও ইস্তাম্বুলকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।   যদিও ইরানি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট স্থানের নাম নিশ্চিত করা হয়নি, তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে- বেশ কয়েকটি অমীমাংসিত বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছানোর একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
মার্কিন অবরোধের ফলে চীনে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করবে রাশিয়া

ইরানি বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান নৌ-অবরোধের কারণে চীনে যে জ্বালানি ও সম্পদের ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণে মস্কো প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বেইজিংয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ল্যাভরভ এই আশ্বাস দেন।    তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়া নিঃসন্দেহে চীনের সম্পদের এই ঘাটতি পূরণ করতে সক্ষম এবং যারা রাশিয়ার সঙ্গে ন্যায্য ও পারস্পরিক লাভজনক উপায়ে কাজ করতে আগ্রহী, তাদের সবার জন্যই মস্কোর সহযোগিতার দ্বার উন্মুক্ত রয়েছে। মূলত ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হিসেবে চীন বর্তমানে মার্কিন অবরোধের কারণে ব্যাপক সংকটে পড়েছে, আর এই সুযোগেই রাশিয়া তাদের জ্বালানি অংশীদারিত্ব আরও দৃঢ় করার প্রস্তাব দিল।     সের্গেই ল্যাভরভ তার বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতার কথা উল্লেখ করে বলেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে সব ধরনের প্রতিকূলতার মুখেও এই দুই দেশের সম্পর্ক অটল রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং শি জিনপিংয়ের মধ্যকার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা বিশ্বজুড়ে চলমান নানা অস্থিরতা মোকাবিলায় দুই দেশকে উচ্চমাত্রার সহনশীলতা ও শক্তি জোগাচ্ছে।  ল্যাভরভের মতে, পশ্চিমের চাপ বা কোনো প্রকার আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধকতা বেইজিং ও মস্কোর মধ্যকার কৌশলগত মৈত্রী ভাঙতে পারবে না, বরং এই ধরনের সংকটময় পরিস্থিতি দেশ দুটিকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসছে।   উল্লেখ্য যে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌবাহিনী কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ইরানের তেল সরবরাহ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। ওয়াশিংটন ইতিমধ্যে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, এই অবরোধ চলাকালীন বেইজিং কোনোভাবেই ইরান থেকে তেল কিনতে পারবে না।   চীন তাদের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি চাহিদার একটি বড় অংশের জন্য তেহরানের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এই নিষেধাজ্ঞা দেশটির শিল্প ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। এই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার বিকল্প জ্বালানি সরবরাহের প্রস্তাবটি চীনের জন্য একটি বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে এবং এটি বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করছে।   বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় উত্তেজনার ফলে বিশ্ব অর্থনীতি যে ধরনের ধাক্কা খাচ্ছে, তা মোকাবিলায় রাশিয়া ও চীন একে অপরের প্রধান সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ল্যাভরভের বেইজিং সফর এবং পুতিন-শি জিনপিংয়ের মধ্যকার সমন্বিত অবস্থান মূলত পশ্চিমা শক্তিগুলোকে এক ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছে।    বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া যদি সফলভাবে চীনের জ্বালানি ঘাটতি মেটাতে পারে, তবে বিশ্ববাজারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা যেমন হ্রাস পাবে, তেমনি এশিয়ায় রাশিয়ার প্রভাব আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এখন দেখার বিষয়, ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং রাশিয়ার এই নতুন সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চীন কতটা নির্ভর করে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ট্রাম্পকে মোকাবিলায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির ঐতিহাসিক জয় ও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন

ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী বাণিজ্য ও রাজনৈতিক চাপের মুখে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এক ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতায় নিজের অবস্থান আরও সুসংহত করেছেন।   উপ-নির্বাচনে বড় জয় এবং বিরোধী দলের বেশ কয়েকজন নেতার কার্নির লিবারেল পার্টিতে যোগদানের ফলে তারা পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেছে।   এই জয়ের ফলে লিবারেল পার্টি এখন ১৭৩টি আসন নিয়ে হাউস অফ কমন্সে একক আধিপত্য বিস্তার করল যা কার্নিকে তার স্বাধীন নীতি বাস্তবায়নে এখন বাড়তি সাহস যোগাবে।   সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর পদত্যাগের পর ক্ষমতায় আসা সাবেক এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকার বর্তমানে ট্রাম্পের আমেরিকা ফার্স্ট নীতির বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।   কার্নি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে তিনি আমেরিকার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সম্মান বজায় রাখবেন তবে কোনোভাবেই নতি স্বীকার বা দাসত্ব মেনে নেবেন না যা সাধারণ কানাডীয়দের দারুণভাবে মুগ্ধ করেছে।   ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কানাডাকে আমেরিকার ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর হুমকি ও শুল্ক আরোপের প্রেক্ষাপটে কানাডার জনগণের মধ্যে এখন এক প্রবল দেশপ্রেম ও অভূতপূর্ব ঐক্যের জোয়ার বইছে।   এই ঐক্যের ফলে অনেক কানাডীয় এখন আমেরিকায় ভ্রমণ বর্জন করছেন এবং মার্কিন পণ্য কেনা থেকে বিরত থেকে নিজেদের স্বনির্ভরতা প্রমাণের চেষ্টা করছেন যা রাজনৈতিকভাবে কার্নিকে সহায়তা করছে।   যদিও ভিন্ন মতাদর্শের নেতাদের দলে টানায় কার্নি নিজ দলের ভেতর কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছেন তবুও ট্রাম্পের হুমকি মোকাবিলায় তাকেই এখন কানাডার সেরা রক্ষাকর্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   বিশ্বের অন্যান্য শক্তিগুলোর সাথে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রেখে কার্নি এখন কানাডার অর্থনীতিকে আমেরিকার ওপর থেকে নির্ভরশীলতা কমিয়ে একটি শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার পথে এগিয়ে যাচ্ছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ইউরোপে ট্রাম্প ও পুতিনের ‘পোস্টার বয়’ অরবানের বিদায়: হাঙ্গেরির নতুন পথ

ইউরোপীয় রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুতিনের অন্যতম প্রধান মিত্র ভিক্টর অরবানের শোচনীয় পরাজয় হাঙ্গেরির দীর্ঘ ১৬ বছরের একচেটিয়া শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।   বিপুল সংখ্যক ভোটারের উপস্থিতিতে বিরোধী তিশা পার্টির নেতা পিটার মাগিয়ারের এই ঐতিহাসিক জয় কেবল হাঙ্গেরি নয়, বরং পুরো ইউরোপের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিয়েছে।   অরবানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি এবং রাশিয়ার প্রতি অতিনির্ভরতার অভিযোগকে পুঁজি করেই মাগিয়ার এই বিশাল জনসমর্থন আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন।   ট্রাম্পের জাতীয়তাবাদী এবং পুতিনের ইউক্রেন বিরোধী প্রচারণার প্রধান মুখ হিসেবে পরিচিত অরবানের পতনকে অনেকেই জনতুষ্টিবাদী বা পপুলিস্ট রাজনীতির সমাপ্তি হিসেবে দেখছেন।   নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী মাগিয়ার ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছেন যে, তার সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখবে এবং রাশিয়ার ওপর থেকে জ্বালানি নির্ভরতা কমিয়ে আনবে।   অরবান সরকারের আমলে রাষ্ট্রীয় অর্থে পরিচালিত বিভিন্ন রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠান ও প্রচারণা সংস্থাগুলোর তহবিল বন্ধ করার ঘোষণাও দিয়েছেন নতুন এই রাষ্ট্রপ্রধান।   ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক এই পরিবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে হাঙ্গেরির সাথে নতুন করে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।   ট্রাম্পের বিশেষ রাজনৈতিক আন্দোলনের বৈশ্বিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত বুদাপেস্ট এখন নতুন এক গণতান্ত্রিক যাত্রার পথে, যা ওয়াশিংটন ও মস্কোর জন্য এক বিশাল কূটনৈতিক ধাক্কা।   মাগিয়ার স্পষ্ট করেছেন যে, হাঙ্গেরির করদাতাদের অর্থ আর কোনো রাজনৈতিক আদর্শ প্রচারের কাজে ব্যবহার করা হবে না বরং তা দেশের জনকল্যাণেই ব্যয় করা হবে।   সামনের দিনগুলোতে হাঙ্গেরির ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনাই হবে মাগিয়ার সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন চ্যালেঞ্জ।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
জেফরি এপস্টাইন বিতর্ক নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের আকস্মিক সাফাই: হোয়াইট হাউসে নতুন তোলপাড়

মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প গত বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ক্রস হল থেকে জেফরি এপস্টাইন বিতর্ক নিয়ে এক অভাবনীয় ও সরাসরি বিবৃতি দিয়েছেন।   টেলিভিশন ক্যামেরার সামনে দেওয়া এই ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে দাবি করেন যে, তিনি এপস্টাইনের কোনো শিকার নন এবং এই কলঙ্কিত ধনকুবেরের মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার পরিচয় হয়নি।   মেলানিয়া ট্রাম্প তার বক্তব্যে আরও বলেন যে, এপস্টাইনের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত বন্ধুত্ব ছিল না এবং তাকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া সব মিথ্যা তথ্য এখনই বন্ধ হওয়া উচিত।   ইরান যুদ্ধ নিয়ে যখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দেশজুড়ে প্রবল সমালোচনার মুখে রয়েছেন, ঠিক সেই মুহূর্তে ফার্স্ট লেডির এমন বক্তব্য হোয়াইট হাউসকে নতুন এক রাজনৈতিক সংকটে ফেলেছে।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে, মেলানিয়া সম্ভবত এই বিতর্ক ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু তার এই আকস্মিক পদক্ষেপে বিষয়টি হিতে বিপরীত হয়ে আবারও নতুন করে আলোচনায় চলে এসেছে।   ভাষণে তিনি ২০০২ সালে এপস্টাইনের সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তার ইমেল বিনিময়ের বিষয়টিও তুচ্ছ ও নিছক একটি সাধারণ সৌজন্য বার্তা বলে বর্ণনা করেছেন।   তিনি জোর দিয়ে বলেন যে প্রতিটি নারীর প্রকাশ্যে নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে এবং তাদের সাক্ষ্য স্থায়ীভাবে কংগ্রেসের নথিতে সংরক্ষণ করা উচিত যা এক বিশেষ বার্তা বহন করে।   তবে এপস্টাইন কাণ্ডে বেঁচে ফেরা নারীদের একটি পক্ষ মেলানিয়ার এই বক্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে একে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দায় এড়ানোর কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তারা অভিযোগ করেন যে ট্রাম্প প্রশাসন এখনও এপস্টাইন ফাইল স্বচ্ছতা আইন পুরোপুরি পালন করছে না এবং বিচার বিভাগ থেকে প্রয়োজনীয় নথি প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।   এদিকে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা মেলানিয়াকে কংগ্রেসের সামনে সশরীরে হাজির হয়ে শপথের মাধ্যমে সাক্ষ্য দেওয়ার দাবি তুলেছেন যা ভবিষ্যতে হোয়াইট হাউসের সাথে বড় লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রথমে এই বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করলেও পরবর্তীতে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে যে তিনি মেলানিয়ার এই পরিকল্পনার কথা আগে থেকেই অবগত ছিলেন।   ইরান যুদ্ধের অস্থিরতা এবং এপস্টাইন কাণ্ডের এই নতুন মোড় ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের ভাবমূর্তিকে এক কঠিন ও অত্যন্ত জটিল চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।   সব মিলিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্পের এই ছয় মিনিটের ভাষণ মার্কিন রাজনীতিতে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যার রেশ আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
সোমালিয়ায় গভীর কূপ খননে তুরস্কের ইতিহাস

  তুরস্কের জ্বালানি ইতিহাসে এক নতুন ও গৌরবময় অধ্যায় রচনার লক্ষ্যে সোমালিয়ার উপকূলে দেশটির প্রথম আন্তর্জাতিক গভীর সমুদ্র খনন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।   তুরস্কের অত্যাধুনিক ড্রিলিং জাহাজ ‘চাগরি বে’ গত বৃহস্পতিবার সোমালিয়ায় পৌঁছেছে যা দুই দেশের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।   তুর্কি জ্বালানি ও প্রাকৃতিক সম্পদ মন্ত্রী আলপারসলান বায়রাক্টার এই ঐতিহাসিক অভিযানের খবর নিশ্চিত করে জানান যে এটি তুরস্কের সীমানার বাইরে দেশটির প্রথম গভীর সমুদ্র খনন অভিযান।   সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশু থেকে প্রায় ৩৭২ কিলোমিটার দূরে সাগরের নীল জলরাশির তলদেশে ‘কুরাদ-১’ নামক একটি বিশেষ কূপ খনন করার লক্ষ্য নিয়ে জাহাজটি কাজ শুরু করেছে।   সোমালি ভাষায় কুরাদ শব্দের অর্থ হলো পরিবারের প্রথম সন্তান আর এই গভীর আবেগময় নামের মাধ্যমেই সোমালিয়ার এই প্রথম সমুদ্রপৃষ্ঠের তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কূপের নামকরণ করা হয়েছে।   এই প্রকল্পের আওতায় সাগরের তলদেশে প্রায় সাত হাজার ৫০০ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হবে যা সফল হলে এটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় গভীরতম সমুদ্রপৃষ্ঠের খনিজ কূপ।   তুরস্কের বিশেষ গবেষণা জাহাজ ওরুচ রেইস গত ২৩৪ দিন ধরে প্রায় ৪ হাজার ৪৬৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সিসমিক জরিপ চালিয়ে এই খনন এলাকাটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করেছে।   সপ্তম প্রজন্মের এই আল্ট্রা ডিপ-সি ড্রিলিং জাহাজটির সাথে তিনটি সহায়ক জাহাজ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তুরস্কের শক্তিশালী নৌ-ইউনিট বর্তমানে গভীর সমুদ্রে নিরলস কাজ করছে।   প্রায় ২৮৮ দিন ব্যাপী এই দীর্ঘ খনন অভিযানে প্রায় ৫০০ জন দক্ষ কারিগরি বিশেষজ্ঞ ও নৌবাহিনীর বিশেষ কর্মী নিয়োজিত থাকবেন বলে তুর্কি জ্বালানি মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।   এই খনন কার্যক্রমের ফলে সোমালিয়া ও তুরস্কের দীর্ঘদিনের কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বেশি মজবুত হবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।      

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
জাইনবাদের পতন ও নৈতিক বিপর্যয়: গাজা যুদ্ধের পর এক নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার উদয়

  গাজায় চলমান নির্মম সংঘাত ও মানবিক বিপর্যয় ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের সাজানো নৈতিক ভাবমূর্তিকে বিশ্বমঞ্চে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এবং জাইনবাদের পতনের ঘণ্টাধ্বনি বাজিয়ে দিয়েছে।   দশকজুড়ে ইসরায়েল নিজেকে নির্যাতিতদের আশ্রয়স্থল এবং মরুদ্যানে গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে প্রচার করে আসলেও গাজার ধ্বংসস্তূপ সেই মিথকে আজ আক্ষরিক অর্থেই পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।   প্রভাবশালী সাংবাদিক ক্রিস হেজেস বহু আগেই সতর্ক করেছিলেন যে পশ্চিমারা ইসরায়েলকে জাতিগত নিধন ও দখলের অবাধ লাইসেন্স দিয়েছে, যা আজ এক চরম ও অপূরণীয় নৈতিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে।   ইসরায়েলি সাংবাদিক গিডিয়ন লেভিও তার লেখনীতে স্বীকার করেছেন যে তাদের দেশ আজ পথ হারিয়েছে এবং এই দখলদারিত্ব কেবল একটি রাজনৈতিক ইস্যু নয় বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী মানবিক ট্র্যাজেডি।   গাজার প্রতিটি শিশুর প্রাণহানি এবং প্রতিটি ধ্বংসপ্রাপ্ত হাসপাতাল ইসরায়েলি প্রচারযন্ত্রের সাজানো গল্পগুলোকে মিথ্যা প্রমাণ করে দিয়েছে যা কোনো তুখোড় কূটনীতিক আর কোনোভাবেই সংস্কার করতে পারবে না।   আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত বা আইসিসি ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে যা বৈশ্বিক রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মোড়।   জাতিসংঘের ‘লিস্ট অব শেম’ বা কলঙ্কিত তালিকায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়া প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো এখন আর তাদের অপরাধকে বিন্দুমাত্র আড়াল করছে না।   ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার তরুণ প্রজন্ম এখন তাদের স্মার্টফোনে সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখছে এবং তারা পূর্ববর্তী প্রজন্মের মতো কোনো প্রকার বংশগত অপরাধবোধ বা নৈতিক চাপ অনুভব করছে না।   লন্ডন থেকে নিউ ইয়র্ক এবং প্যারিস থেকে জাকার্তা—বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তে আজ ফিলিস্তিনের পক্ষে যে জনজোয়ার তৈরি হয়েছে তা মূলত একটি শোষক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণআদালতের এক অমোঘ রায়।   জাইনবাদ এতদিন পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর যে প্রভাব বিস্তার করে রেখেছিল তা এখন শেষলগ্নে এসে পৌঁছেছে এবং ইহুদিবিদ্বেষের তকমা দিয়ে সত্যকে আড়াল করার পুরোনো দিনগুলো চিরতরে ফুরিয়ে গেছে।   মার্কিন কংগ্রেসের মতো শক্তিশালী দুর্গগুলোতেও এখন ফিলিস্তিনের পক্ষে কণ্ঠস্বর শোনা যাচ্ছে যা কয়েক বছর আগে কল্পনা করাও অসম্ভব ছিল এবং এটি জাইনবাদের চরম পরাজয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।   আন্তর্জাতিক বিচার আদালত যখন আনুষ্ঠানিকভাবে একে একটি সম্ভাব্য গণহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে তখন ইসরায়েলের যেকোনো ধরনের নৈতিক শ্রেষ্ঠত্বের দাবি এখন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।     একটি রাষ্ট্র যখন তার নিজের হাতে গড়া মিথকে নিজেই ধ্বংস করে দেয় তখন ইতিহাসের পাতায় তার বিচার হয় অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে এবং ইসরায়েল এখন সেই চরম মুহূর্তেরই মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। জাইনবাদ আজ এমন এক অবস্থানে পৌঁছেছে যেখানে সে নিজের হাতেই নিজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে এবং বিশ্ব সম্প্রদায় আজ সেই ধ্বংসযজ্ঞের জীবন্ত ও এক নির্বাক সাক্ষী হয়ে আছে।   ইতিহাসের এক ধৈর্যশীল হিসাবরক্ষক আজ তার খাতা খুলে বসেছে এবং সেখানে ইসরায়েলের প্রতিটি পদক্ষেপের চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে যা আগামী দিনে বিশ্ব রাজনীতির এক নতুন সমীকরণ নির্ধারণ করবে।   জাইনবাদের পতন, গাজা যুদ্ধ ২০২৬, নেতানিয়াহু অপরাধ, ফিলিস্তিন সংহতি, আন্তর্জাতিক আদালত, বিশ্ব রাজনীতি, ইসরায়েল সংকট, জাইনবাদ বিতর্ক, গাজা গণহত্যা, মানবিক বিপর্যয়   এই আর্টিকেলের বিশ্লেষণ অনুযায়ী জাইনবাদের নৈতিক পতনের যে দাবি করা হয়েছে, সেটি বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ইসরায়েলি সুপ্রিম কোর্টে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের আবেদন: নজিরবিহীন আইনি লড়াই

ইসরায়েলি পার্লামেন্টে পাস হওয়া ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন বাতিলের দাবিতে দেশটির সুপ্রিম কোর্টে একটি উচ্চপর্যায়ের রিট পিটিশন দাখিল করেছেন দেশটির একজন প্রভাবশালী সংসদ সদস্য।   ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা গিলাদ কারিভ সোমবার এই আবেদনটি জমা দেন যেখানে তিনি আইনটিকে বর্ণবাদী এবং চরমপন্থী বলে অভিহিত করেছেন যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইসরায়েলের ভাবমূর্তিকে চরম সংকটে ফেলেছে।   জিলাত ইনস্টিটিউট এবং রাব্বিস ফর হিউম্যান রাইটস নামক মানবাধিকার সংগঠনের সহযোগিতায় এই পিটিশনটি দাখিল করা হয়েছে যা বর্তমানে দেশটির বিচার বিভাগে এক বিশাল আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।   গিলাদ কারিভ জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের কট্টর ডানপন্থী ওতজমা ইহুদিত পার্টিকে এই জনতোষণমূলক ও জাতীয়তাবাদী প্রচারণার জন্য কঠোরভাবে সমালোচনা করেছেন এবং একে সরকারের ব্যর্থতা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি আরও উগ্র ডানপন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ছে এবং আরিয়ে দেরির ধর্মীয় শাশ পার্টি অর্থের বিনিময়ে সব মূল্যবোধ বিক্রি করছে বলে তিনি কড়া মন্তব্য করেছেন।   আবেদনকারী দাবি করেছেন যে এই আইনটি কার্যকর হলে তা কেবল আন্তর্জাতিক আইনেই নয় বরং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বা আইডিএফ এবং কারা কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের জীবনকেও চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।   ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক কর্তৃপক্ষ এবং তারা যেকোনো আইন যদি দেশের মৌলিক আইনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তবে তা সরাসরি বাতিল করার অসীম ক্ষমতা রাখে যা এখন সময়ের দাবি।   আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই মৃত্যুদণ্ড আইনটি আপাতত কার্যকর করা সম্ভব হবে না যা ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য এক সাময়িক স্বস্তি।   এর আগে গত ৩১ মার্চ মানবাধিকার সংগঠন আদলাহ এবং আরব সংসদ সদস্যরাও এই আইনের বিরুদ্ধে পৃথক রিট দাখিল করেছিলেন যা নিয়ে আদালত সরকারকে তাদের আনুষ্ঠানিক জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।   এই আইনটি মূলত সেইসব ফিলিস্তিনি বন্দিদের লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে যাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলিদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে এবং এতে অন্তত ১১৭ জন যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বন্দি সরাসরি প্রভাবিত হতে পারেন।   বর্তমানে ইসরায়েলের বিভিন্ন কারাগারে ৯ হাজার ৫০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছেন যাদের মধ্যে ৩৫০ জন শিশু এবং ৭৩ জন নারী চরম মানবেতর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে।   কারাগারে বন্দিদের ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন, অনাহার এবং চিকিৎসার অবহেলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে যা নিয়ে জাতিসংঘ এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে।   গিলাদ কারিভ আশা প্রকাশ করেছেন যে সরকারের আইনি উপদেষ্টারাও আদালতের কাছে এই আইনের বিপক্ষে তাদের অবস্থান তুলে ধরবেন যাতে মানবতার স্বার্থে এই কালাকানুনটি চিরতরে বাতিল করা সম্ভব হয়।   মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে ইসরায়েলের ভেতরে এই আইনি লড়াই বেইজিং ও মস্কোর মতো পরাশক্তিদের নজর কেড়েছে যারা শুরু থেকেই এই আইনের তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।   সব মিলিয়ে ইসরায়েলের এই নতুন আইন কেবল ফিলিস্তিনিদের নয় বরং দেশটির নিজস্ব বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকেও এক বিশাল অগ্নিপরীক্ষার মুখে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
আলোচনার টেবিলে ইরানই আপাতত এগিয়ে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা । ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধ নয়, শান্তির পথ: যেভাবে যুদ্ধের সমাপ্তি টানা যেতে পারে- ইরানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর রূপরেখা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত বন্ধে একটি কূটনৈতিক সমাধানের রূপরেখা তুলে ধরেছেন জাভেদ জারিফ। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।   জারিফের মতে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত কেবল প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বাড়াবে, কিন্তু কোনো পক্ষের জন্য টেকসই সমাধান আনবে না। বরং বর্তমান পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে একটি স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব।   তার প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ বাণিজ্য চলাচল পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিতে হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।   দ্বিতীয় ধাপে একটি বিস্তৃত চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং নিরাপত্তা ইস্যুগুলো সমাধানের প্রস্তাব দেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ইরান পারমাণবিক কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপ করতে পারে এবং আন্তর্জাতিক তদারকি মেনে নিতে পারে। বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।   এ ছাড়া দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক অনাগ্রাসন চুক্তি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ করেছেন জারিফ। তার মতে, এতে কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কই উন্নত হবে না, বরং পুরো অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে।   বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অংশগ্রহণে একটি যৌথ নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা যেতে পারে। এতে বড় শক্তিগুলোর পাশাপাশি আঞ্চলিক দেশগুলোর সমন্বিত ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।   তবে জারিফ স্বীকার করেন, দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এই প্রক্রিয়ার বড় বাধা। তাই চীন ও রাশিয়া-এর মতো দেশগুলো গ্যারান্টর হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। তার মতে, বর্তমান সংঘাত যতই তীব্র হোক একটি স্থায়ী শান্তিচুক্তির সুযোগ তৈরি করেছে। এখন তা বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
'ইরানের শক্তি শেষ' - ট্রাম্পের মন্তব্যের কয়েক মিনিট পরেই ইসরায়েলে বড় হামলা

  ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি শেষ হয়ে গেছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাম্ভিক ঘোষণার মাত্র কয়েক মিনিটের মাথায় ইসরায়েলে শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বৃষ্টির মতো ক্ষেপণাস্ত্র হামলা।   ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল টুয়েলভ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে অন্তত তিনটি বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। পুরো অঞ্চলে এখন যুদ্ধের সাইরেন বাজছে।   ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের দাবি অনুযায়ী, ট্রাম্প যখন হোয়াইট হাউসে বসে ইরানের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন, ঠিক তখনই তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো হাইফা বন্দরে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।   এর আগে টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরানের অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার ধ্বংস করা হয়েছে। তাদের ড্রোন ছোঁড়ার ক্ষমতাও মারাত্মকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আমেরিকানদের আশ্বস্ত করেন।   ট্রাম্প আরও বলেছিলেন যে এই যুদ্ধ আর মাত্র দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে। তার মতে, ইরানের সামরিক শক্তি এখন ধ্বংসের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছে এবং সংঘাত চূড়ান্ত পরিণতির দিকে যাচ্ছে।   তবে যুদ্ধের ময়দানের বাস্তব চিত্র ট্রাম্পের বক্তব্যের ঠিক উল্টো। হাইফা ও উত্তর ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র রোখার আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ আকাশ অভিযানে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। যার মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।   ইরান এর প্রতিশোধ নিতে কেবল ইসরায়েল নয়, বরং জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে। এই পাল্টাপাল্টি হামলায় বিশ্বজুড়ে বিমান চলাচল ও জ্বালানি বাজার বিপর্যস্ত।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ট্রাম্পের অনুমান ভুল প্রমাণিত করে ইরান তাদের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন এক শক্তি প্রদর্শন শুরু করেছে আজ।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এবার ইরানে স্প্লিন্টার ছাড়া গ্রেনেড ব্যাবহার করবে যুক্তরাষ্ট্র

ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এই প্রথম সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির এক বিধ্বংসী হ্যান্ড গ্রেনেড নিজেদের অস্ত্রাগারে যুক্ত করল মার্কিন সেনাবাহিনী। প্লাস্টিক বডির এই এম-১১১ গ্রেনেডটি মূলত প্রচণ্ড বায়ুচাপ বা শক ওয়েভের মাধ্যমে শত্রুকে মুহূর্তেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম।   প্রথাগত গ্রেনেডগুলোর মতো এটি লোহার টুকরো বা স্প্লিন্টার ছড়িয়ে শত্রু মারে না। এর পরিবর্তে এটি প্রচণ্ড বিস্ফোরণের মাধ্যমে এমন এক বায়বীয় তরঙ্গ তৈরি করে, যা মানুষের ফুসফুস ও কানের পর্দা মুহূর্তেই ছিন্নভিন্ন করে দেয়।   দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রাণঘাতী অস্ত্রটি সরাসরি যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। এর আগে ১৯৬৮ সালে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সর্বশেষ নতুন প্রযুক্তির গ্রেনেড ব্যবহার করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।   বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর বা ঘরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা শত্রুদের দমনে এই গ্রেনেডটি হবে মার্কিন সৈন্যদের প্রধান অস্ত্র। এর প্লাস্টিক বডি বিস্ফোরণের সময় বাষ্পীভূত হয়ে যায়, ফলে আশেপাশের দেয়াল বা সাধারণ মানুষের ক্ষতির ঝুঁকি কমে।   আগের এম-৬৭ গ্রেনেডগুলো বিস্ফোরণের পর চারদিকে লোহার টুকরো ছড়িয়ে দিত, যা অনেক সময় দেয়াল ভেদ করে নিজেদের সৈন্য বা সাধারণ মানুষের প্রাণহানির কারণ হতো। নতুন এই গ্রেনেড সেই ঝুঁকি দূর করে কেবল নির্দিষ্ট কক্ষের শত্রুদের ধ্বংস করবে।   মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই গ্রেনেডের শক ওয়েভ দেয়াল বা আসবাবপত্রের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শত্রুকেও রেহাই দেবে না। প্রচণ্ড চাপের এই ঢেউ মানবদেহের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোকে সংকুচিত ও প্রসারিত করে তাৎক্ষণিক মৃত্যু নিশ্চিত করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রচণ্ড বায়ুচাপ মানুষের কানের পর্দা, ফুসফুস, চোখ এবং পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম। এমনকি বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঢেউ মানুষের মস্তিস্কে আঘাত করে অঙ্গহানি পর্যন্ত ঘটাতে পারে বলে জানানো হয়েছে।   নিউ জার্সির পিকাতিনি আর্সেনালে তৈরি এই অত্যাধুনিক মারণাস্ত্রটি মূলত ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে তৈরি করা হয়েছে। শহর অঞ্চলে ঘরবাড়ি দখলের লড়াইয়ে এটি সৈন্যদের জন্য এক নতুন গেম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।   পুরনো এম-৩এ২ গ্রেনেডটি সত্তরের দশকে বাতিল করা হয়েছিল কারণ সেটিতে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই শূন্যতা পূরণে দীর্ঘ সময় পর এই নিরাপদ কিন্তু শক্তিশালী প্লাস্টিক গ্রেনেডটি অন্তর্ভুক্ত করা হলো।   তবে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, পুরনো এম-৬৭ ফ্র্যাগমেন্টেশন গ্রেনেডগুলো এখনই পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। খোলা ময়দানে শত্রুর ওপর মারণাঘাত হানতে সেগুলো আগের মতোই ব্যবহার করা হবে, আর ঘর পরিষ্কারের অভিযানে ব্যবহৃত হবে নতুন এম-১১১।   নতুন এই গ্রেনেডে অত্যন্ত শক্তিশালী আরডিএক্স বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, যা ছোট আকৃতির হলেও বিশাল ধ্বংসক্ষমতা সম্পন্ন। হাতের তালুর সমান এই সিলিন্ডার আকৃতির অস্ত্রটি সহজেই বহনযোগ্য এবং ব্যবহার করাও অনেক বেশি নিরাপদ ও নির্ভুল।   মার্কিন মেরিন কোরও একই ধরনের প্রযুক্তি সম্পন্ন এম-২১ গ্রেনেড সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যা নরওয়ের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করছে। আধুনিক যুদ্ধের কৌশল বদলে যাওয়ার সাথে সাথে অস্ত্রের ধরণও যে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে, এটি তারই একটি প্রমাণ।   পেন্টাগন মনে করছে, এই প্রযুক্তি একদিকে যেমন যুদ্ধের ময়দানে লক্ষ্যভেদ নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ও ঘরের ভেতরে যুদ্ধের সময় নিজেদের সৈন্যদের জীবন বাঁচাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।   ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার বিখ্যাত ‘পাইনঅ্যাপল’ গ্রেনেড থেকে শুরু করে আজকের এই প্লাস্টিক গ্রেনেড পর্যন্ত দীর্ঘ বিবর্তন ঘটেছে। প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা মার্কিন সামরিক শক্তিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।   ভবিষ্যতে এই গ্রেনেডটি কেবল মার্কিনিদের নয়, বরং নেটো জোটভুক্ত মিত্র দেশগুলোর অস্ত্রাগারেও জায়গা করে নিতে পারে। একুশ শতকের আধুনিক যুদ্ধে এ ধরনের স্মার্ট মারণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তা এখন সবচাইতে বেশি বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক সামরিক মহল।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
চুক্তিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি : চীনের গোপন পরমাণু প্রকল্পের রোমহর্ষক তথ্য ফাঁস

বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির তোয়াক্কা না করেই চীন তাদের পরমাণু অস্ত্রাগার অস্বাভাবিক হারে বাড়ানোর গোপন মিশন শুরু করেছে। স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া নতুন ছবিতে সিচুয়ান প্রদেশে বেইজিংয়ের বিশাল এক গোপন পারমাণবিক প্রকল্পের সন্ধান পাওয়া গেছে।   অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েক বছরে সিচুয়ানের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে সাধারণ মানুষের জমি কেড়ে নিয়ে সেখানে বিশাল সব পারমাণবিক স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ভিটেমাটি হারানোর কারণ জানতে চাইলে সরকারের পক্ষ থেকে একে ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।   সিচুয়ান প্রদেশের একটি বিশেষ স্থাপনায় তেরোটি টেনিস কোর্টের সমান বড় একটি বিশাল গম্বুজ তৈরি করা হয়েছে যা মূলত তেজস্ক্রিয় পদার্থ মজুত রাখার জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই পুরো এলাকার মানচিত্র বদলে দিয়ে সেখানে গড়ে তোলা হয়েছে এক সুরক্ষিত দুর্গ।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করেছে যে, বেইজিং গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচাইতে বড় পারমাণবিক আধুনিকীকরণ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। সম্প্রতি রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি বাতিল হওয়ার পর চীনের এই গোপন তৎপরতা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।   পারমাণবিক এই গোপন ঘাঁটির চারপাশ তিন স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা রয়েছে এবং এর ভেতরে যাওয়ার জন্য পাহাড়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ টানেল তৈরি করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ইউরেনিয়াম ও প্লুটোনিয়ামের মতো বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করার জন্যই এই বিশালাকার গম্বুজ এবং বিশেষ ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।   চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণের ফলে সিচুয়ানের বাইতু ও দাশান নামের দুটি গ্রাম মানচিত্র থেকে পুরোপুরি মুছে গেছে। নতুন তৈরি হওয়া রাস্তাগুলো এই গোপন ঘাঁটিটিকে দেশের অন্যান্য পারমাণবিক অস্ত্রাগারের সাথে সরাসরি সংযুক্ত করেছে যা যুদ্ধের সময় দ্রুত অস্ত্র সরবরাহে সাহায্য করবে।   প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী মাসে বেইজিং সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে যেখানে তিনি শি জিনপিংয়ের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে পারেন। ট্রাম্প প্রশাসন বেইজিংকে একটি নতুন ও কঠোর অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাইলেও চীনের এই গোপন পরিকাঠামো বিস্তার আলোচনার পথকে আরও কঠিন করে তুলছে।   নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, সিচুয়ানের এই গোপন স্থাপনাটি চীনের পারমাণবিক সক্ষমতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে যা দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে। এই গোপন দুর্গটি এখন আন্তর্জাতিক মহলে এক বড় দুঃস্বপ্নের মতো দেখা দিচ্ছে যা ভবিষ্যতে এক ভয়াবহ সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।   চীনের এই পারমাণবিক বিস্তারের ফলে বিশ্বজুড়ে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যা শীতল যুদ্ধের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে। বেইজিংয়ের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রমাণ করে যে তারা কোনো আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে নিজেদের সামরিক শক্তিকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর।   বর্তমানে বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাতের মাঝে চীনের এই গোপন পরমাণু তৎপরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে। সিচুয়ানের এই পাহাড়ঘেরা গোপন দুর্গ থেকে শেষ পর্যন্ত কী বেরিয়ে আসে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
যুদ্ধ চলবে - এমন ঘোষণায় তেলের দাম বাড়লো আরো ১০ শতাংশ

  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক ভাষণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং তেলের দাম মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় সাত শতাংশ বেড়ে গেছে।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ বন্ধের কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০৮ ডলারে পৌঁছেছে।   একইভাবে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট তেলের দামও পাল্লা দিয়ে বেড়ে ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, তেলের বাজারে গত কয়েক বছরের মধ্যে এটিই ছিল সবচাইতে বড় একদিনের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।   জাতি উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প বলেন যে আমেরিকা খুব দ্রুত এই কাজ শেষ করতে যাচ্ছে এবং তারা লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি রয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি নিয়ে কোনো পরিষ্কার ঘোষণা না আসায় বাজার নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।   ট্রাম্প দাবি করেছেন যে আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে এই যুদ্ধের ইতি ঘটবে। কিন্তু তিনি কীভাবে এই লক্ষ্য অর্জন করবেন তার কোনো স্পষ্ট রূপরেখা না দেওয়ায় বিনিয়োগকারীরা চরম আশাহত হয়েছেন।   বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে ভাষণে কূটনৈতিক আলোচনার কোনো উল্লেখ না থাকায় তেলের দাম যেকোনো সময় নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। নৌপথে ঝুঁকি বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে এর প্রভাব হবে ভয়াবহ ও সুদূরপ্রসারী।   বর্তমানে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা আগের চেয়ে অনেক বেশি প্রবল হয়ে উঠেছে। যদি উত্তেজনা আরও বাড়ে তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বারবার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।   এদিকে বুধবার কাতারের জলসীমায় একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। কাতারের জ্বালানি সংস্থা লিজ নেওয়া ওই জাহাজে হামলার পর পারস্য উপসাগরে চরম যুদ্ধ উত্তেজনা বিরাজ করছে।   কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই হামলার সত্যতা নিশ্চিত করেছে যা বিশ্ববাজারে তেলের আগুনের উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এমন সরাসরি আঘাত আগে কখনও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলেনি।   আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ সতর্ক করেছে যে এপ্রিল মাস থেকে ইউরোপের অর্থনীতিতে এই সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করবে। মহাদেশটি এখন বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   এর আগে যুদ্ধের শুরুর দিকে পুরনো চুক্তির কারণে ইউরোপ কিছুটা সুরক্ষিত থাকলেও এখন সেই মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। এর ফলে শিল্প উৎপাদন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।   আমেরিকার অভ্যন্তরেও তেলের দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে যা ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন এবং সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ট্রাম্পকে চরম রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে।   অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন যে কোনো শক্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি ছাড়া তেলের দাম কমার সম্ভাবনা বর্তমানে খুবই কম। সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার ভয়ে বড় বিনিয়োগকারীরা এখন বাজার থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।   দিনশেষে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত কেবল যুদ্ধের ময়দানে সীমাবদ্ধ নেই বরং তা প্রতিটি সাধারণ মানুষের পকেটে টান দিচ্ছে। ট্রাম্পের অনড় অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিকে এক অন্ধকার গহ্বরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   বৈশ্বিক এই সংকট নিরসনে এখন কেবল ট্রাম্পের পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে আছে পুরো পৃথিবী। যদি দ্রুত কোনো কার্যকর শান্তি চুক্তি না হয় তবে বিশ্ববাজারে তেলের দামে আরও বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।   এই অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে উন্নয়নশীল দেশগুলো দেউলিয়া হওয়ার পথে ধাবিত হতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করাই এখন প্রতিটি দেশের সরকারের জন্য সবচাইতে বড় এবং কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে জমে থাকা যুদ্ধের মেঘ কেবল সামরিক শক্তিতে নয় বরং অর্থনৈতিক ধস নামাতেও সক্ষম। আগামী কয়েক দিনের রাজনৈতিক গতিবিধিই নির্ধারণ করবে বিশ্বের পরবর্তী অর্থনৈতিক গন্তব্য ও স্থিতিশীলতা।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ইরান যুদ্ধ থামাতে সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের ফোনালাপ: আসছে বড় ঘোষণা

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সংঘাতের অবসান এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির রূপরেখা নিয়ে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।   আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এক্সিওস এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বুধবার এই দুই শীর্ষ নেতা বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তেহরানের সঙ্গে চলমান গোপন আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করেছেন।   হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফোনালাপের বিষয়ে এখনও কোনো মন্তব্য না করলেও বিভিন্ন কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে যে, ট্রাম্প সৌদি যুবরাজকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো সম্পর্কে বিশদভাবে অবহিত করেছেন।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন ইতোমধ্যেই পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে একটি বিশেষ শান্তি প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যেখানে তেহরানের বিতর্কিত পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে বেশ কিছু কঠোর শর্ত দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও এই নতুন মার্কিন শান্তি প্রস্তাবের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে রাখা হয়েছে।   ইরান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো ধরনের বৈঠকের খবর পুরোপুরি অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, তারা কেবল মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই বার্তা আদান-প্রদান করছে এবং ওয়াশিংটনের প্রস্তাবগুলো অত্যন্ত অবাস্তব ও একপাক্ষিক।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩৪০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এক চরম অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।   মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৩ জন আমেরিকান সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন, যা হোয়াইট হাউসের ওপর অভ্যন্তরীণভাবে প্রবল রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ বাড়াচ্ছে।   যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিটি দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা বর্তমানে চরম ঝুঁকির মুখে রয়েছে।   ইরানও এই আগ্রাসনের জবাবে চুপ করে বসে নেই, তারা ইসরায়েলসহ জর্ডান ও ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ধারাবাহিকভাবে পাল্টাপাল্টি ড্রোন ও বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।   সৌদি যুবরাজের সঙ্গে ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত আলোচনাকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরানোর একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা, যা সামনের দিনগুলোতে যুদ্ধের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিতে পারে।   রিয়াদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন ছাড়া এই অঞ্চলে যেকোনো স্থায়ী সমাধান প্রায় অসম্ভব হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে সংঘাত কমানোর কৌশলগত চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।   যদিও তেহরান এখনও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে, তবে পাকিস্তানের মধ্যস্থতা এবং আরব দেশগুলোর সম্মিলিত চাপ ইরানকে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক মহলে ধারণা করা হচ্ছে।   বিশ্ববাসী এখন অধীর আগ্রহে ওয়াশিংটন ও রিয়াদের এই যৌথ প্রচেষ্টার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যাতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে এবং সাধারণ মানুষের যাপিত জীবনে আবার স্বস্তি ফিরে আসে।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যে যুদ্ধের ঘন কালো মেঘ জমেছে, তা সরাতে এখন সর্বোচ্চ স্তরে কূটনৈতিক লড়াই চলছে যা শেষ পর্যন্ত এই অঞ্চলের আগামীর ভাগ্য ও স্থিতিশীল শান্তি নির্ধারণ করবে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
মার্কিন দূতাবাসে হামলার তথ্য দিলেই ৩০ লাখ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা ওয়াশিংটনের

ইরাকে মার্কিন কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক হামলার পরিকল্পনাকারীদের ধরিয়ে দিতে ৩০ লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   ওয়াশিংটনের 'রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস' বা ন্যায়বিচারের জন্য পুরস্কার কর্মসূচির আওতায় বুধবার এই বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। মূলত বাগদাদে মার্কিন দূতাবাস এবং এরবিল কনস্যুলেটে বারবার হামলার প্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যারা এই সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে সঠিক তথ্য দেবেন, তাদের কেবল অর্থই দেওয়া হবে না, বরং প্রয়োজনে অন্য দেশে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে।   সাম্প্রতিক সময়ে ইরাকে অবস্থিত আমেরিকান কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্য করে ইরানপন্থী বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী দফায় দফায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে বাগদাদের কূটনৈতিক সহায়তা কেন্দ্রসহ বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, বাগদাদের গ্রিন জোনে অবস্থিত দূতাবাসে হামলা বন্ধে বিশ্বস্ত তথ্য প্রদানকারীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং পরিচয় গোপন রাখা হবে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতের জেরেই ইরাকে এই হামলাগুলো তীব্রতর হয়েছে। পাল্টাপাল্টি এই যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।   ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই তারা ইরাক ও জর্ডানে অবস্থিত আমেরিকান সামরিক ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।   মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অন্তত ২৩টি সফল সামরিক অভিযান পরিচালনার দাবি করেছে। এসব অভিযানে আমেরিকান ঘাঁটিগুলোকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।   মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে, স্থানীয় তথ্যদাতাদের সহায়তা ছাড়া এই গোপন হামলাকারীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব। তাই সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করতেই এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।   ওয়াশিংটন মনে করে, কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তাই হামলাকারীদের বিচারে সোপর্দ করতে তারা সব ধরনের কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা শক্তি ব্যবহার করতে বদ্ধপরিকর বলে সংবাদে প্রকাশ পেয়েছে।   যুদ্ধের এই ডামাডোলে ইরাকের সাধারণ নাগরিকরাও চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। পুরস্কারের এই ঘোষণা হামলাকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করবে এবং গোপন তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছে পেন্টাগন।   সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এখন এক উত্তপ্ত সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যেখানে পুরস্কারের ঘোষণা এবং সামরিক শক্তি প্রয়োগ—উভয় পথেই নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় মরিয়া হয়ে উঠেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন।   বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই পুরস্কারের ঘোষণাটি ইরাকে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি কৌশলগত অংশ। এতে করে সাধারণ মানুষ ও গোয়েন্দাদের মধ্যে সমন্বয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।   ইরাকের মাটিতে মার্কিন বিরোধী মনোভাব বাড়লেও ওয়াশিংটন তাদের কূটনৈতিক উপস্থিতি বজায় রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এই অর্থ পুরস্কারের ঘোষণাটি তারই একটি অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা দেখছেন।   আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তর আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে ভবিষ্যতে যেকোনো বড় ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আগেই নস্যাৎ করে দেওয়া সম্ভব হবে এবং দূতাবাসের কর্মীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ইসরায়েলি আকাশ প্রতিরক্ষা চূর্ণ করে তেল আবিবে ইরানের নজিরবিহীন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের ইতিহাসে এবার ইসরায়েলে সবচাইতে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।   বুধবার চালানো এই হামলায় কেঁপে উঠেছে তেল আবিবসহ ইসরায়েলের বিস্তীর্ণ অঞ্চল।   আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ইয়েদিওথ আহরোনথ জানিয়েছে, ইসরায়েলের কেন্দ্রস্থলে প্রায় ১০টি শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।   হামলার সময় সাইরেনের শব্দে আতঙ্কিত হয়ে কয়েক লাখ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যায়।   উদ্ধারকারী দলগুলো জানিয়েছে, বেশ কিছু এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়েছে এবং ভয়াবহ বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।   একটি ক্ষেপণাস্ত্র ক্লাস্টার ওয়ারহেড বহন করছিল যা জনবহুল এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।   তেল আবিব ছাড়াও শেফেলা এবং জেরুজালেম এলাকায় সতর্ক সংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। তবে এখন পর্যন্ত এই হামলায় কোনো নিহতের খবর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানে ভয়াবহ পাল্টা হামলা শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে।   তেহরানের কয়েক ডজন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু হয়েছে।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়েছে যা এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। উভয় দেশের পাল্টাপাল্টি হামলায় এ পর্যন্ত এক হাজার তিনশ জনের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।   এই যুদ্ধে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।   এর পর থেকেই ইরান প্রতিবেশী দেশগুলোতেও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার চেষ্টা করছে।   মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম এবং বিমান চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছে। জর্ডান ও ইরাকেও হামলার খবর পাওয়া গেছে যা বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এই পাল্টাপাল্টি হামলা একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে।   বড় শক্তিগুলোর সরাসরি অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে প্রতিদিন আরও জটিল ও ভয়াবহ করে তুলছে।   বিশ্ববাসী এখন চরম উৎকণ্ঠার সাথে লক্ষ্য করছে যে এই সংঘাতের শেষ কোথায়।   আপাতত কোনো পক্ষই নমনীয় হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না যা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।  

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ইসরায়েলি আইনের তীব্র নিন্দা জানাল পোল্যান্ড

ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ইসরায়েলের প্রণীত বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইনের কঠোর সমালোচনা ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পোল্যান্ড সরকার। বুধবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দেশটি এই উদ্বেগের কথা জানায়   পোলিশ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়েছেন যে, তারা যেকোনো পরিস্থিতিতেই মৃত্যুদণ্ডের ঘোর বিরোধী এবং এটি আইনের শাসনের পরিপন্থী। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার জন্যও তারা ইসরায়েলকে অনুরোধ করেছেন।   বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো জাতিসত্তার বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলকভাবে এই ধরনের কঠোর দণ্ড প্রয়োগ করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। পোল্যান্ড মনে করে, এটি ন্যায়বিচারের মৌলিক নীতির সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক ও অমানবিক।   নিজেদের ঐতিহাসিক সংবেদনশীলতার কথা উল্লেখ করে পোল্যান্ড ইসরায়েলকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি মনে করে, আধুনিক সভ্য সমাজে এই দণ্ডের কোনো স্থান থাকতে পারে না।   উল্লেখ্য যে, গত সোমবার রাতে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে এই বিতর্কিত আইনটি ৬২-৪৮ ভোটে পাস হয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিজেও এই অমানবিক আইনের পক্ষে তার সমর্থন ব্যক্ত করে ভোট দিয়েছেন।   নতুন এই আইন অনুযায়ী, ইসরায়েলি কারা কর্তৃপক্ষের নিয়োগকৃত রক্ষীদের মাধ্যমে ফাঁসির মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। যারা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত থাকবেন, তারা আইনি দায়মুক্তি এবং পরিচয় গোপন রাখার বিশেষ সুবিধা পাবেন।   এই আইনের প্রতিবাদে রামাল্লাসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন, এটি তাদের রাজনৈতিক বন্দিদের দমানোর এবং আন্দোলন নস্যাৎ করার একটি নতুন হাতিয়ার মাত্র।   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত অমানবিক ও পশ্চাদপদ বলে অভিহিত করেছে। তারা মনে করছে, এর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।   ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোও পোল্যান্ডের এই অবস্থানের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেলজিয়াম ও আয়ারল্যান্ড ইতোমধ্যে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে ইসরায়েলকে সতর্ক বার্তা পাঠিয়েছে।   বিশ্লেষকরা বলছেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত ইসরায়েলের এমন সিদ্ধান্ত তাদের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে চরম সংকটের মুখে ফেলবে। বিশেষ করে পশ্চিমা মিত্রদের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে।   ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধির এই আশঙ্কা এখন বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। অনেক দেশই মনে করছে, প্রতিশোধমূলক এই আইন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পথে একটি বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।   ইসরায়েল সরকার দাবি করেছে যে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং চরমপন্থা রুখতে এই কঠোর আইনের কোনো বিকল্প নেই। তবে এই যুক্তি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে না।   পোল্যান্ডের এই সরাসরি কূটনৈতিক হস্তক্ষেপকে অনেক বিশেষজ্ঞ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তারা আশা করছেন, এর ফলে ইউরোপের অন্যান্য প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোও সম্মিলিতভাবে সোচ্চার হতে উৎসাহিত হবে।   গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান চরম অস্থিরতার মধ্যে এমন একটি স্পর্শকাতর আইন পাস করার সময় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। এটি সংঘাতের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালার মতো কাজ করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন।   পরিশেষে, পোল্যান্ডের এই কঠোর বার্তাটি ইসরায়েলের জন্য একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা যে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করলে তারা মিত্রদের সমর্থন হারাবে। এখন দেখার বিষয়, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে নেসেট তাদের বিতর্কিত সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কি না।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
গাজায় ত্রাণকর্মী নিহত: ইসরায়েলের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি চাইল ব্রিটেন

গাজায় ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের সাত ত্রাণকর্মী নিহতের দুই বছর পূর্ণ হওয়ার প্রাক্কালে ইসরায়েলের কাছে পূর্ণাঙ্গ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দাবি করেছে ব্রিটেন।   ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই হামলায় প্রাণ হারানো তিন ব্রিটিশ নাগরিকের পরিবার দীর্ঘ দুই বছর ধরে ন্যায়বিচারের আশায় প্রহর গুনছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ব্রিটিশ মন্ত্রী হামিশ ফ্যালকনার বুধবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলকে এই ঘটনার দ্রুত তদন্ত শেষ করে তা জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানান।   ফ্যালকনার এই হামলাকে ভয়াবহ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন যে, জীবন রক্ষাকারী সেবা দেওয়ার সময় কোনো ত্রাণকর্মীকে হত্যার শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নৈতিক ও আইনি দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।   ২০২৪ সালের ১ এপ্রিল গাজায় খাবার বিতরণের সময় একটি কনভয়ে হামলা চালিয়ে সাতজন ত্রাণকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে ব্রিটিশ ছাড়াও অস্ট্রেলিয়া, পোল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার দ্বৈত নাগরিক এবং একজন ফিলিস্তিনি নাগরিক ছিলেন।   এই মর্মান্তিক ঘটনার পর বিশ্বজুড়ে তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছিল এবং ওয়ার্ল্ড সেন্ট্রাল কিচেনের প্রতিষ্ঠাতা জোসে আন্দ্রেস ইসরায়েলের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ইসরায়েল সে সময় এটিকে একটি ভুল হিসেবে বর্ণনা করলেও ত্রাণ সংস্থাটি একে সুপরিকল্পিত হামলা হিসেবে অভিহিত করে।   ব্রিটিশ মন্ত্রী নিহত সাবেক সেনা জন চ্যাপম্যান, জেমস হেন্ডারসন এবং জেমস কিরবির সাহসিকতার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। তিনি বলেন যে, এই পরিবারগুলোর জানার অধিকার রয়েছে কেন তাদের প্রিয়জনদের এমন নৃশংস পরিণতির শিকার হতে হয়েছে।   ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় পাঁচ শতাধিক ত্রাণকর্মী নিহত হওয়ার তথ্য তুলে ধরে ফ্যালকনার উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, যুদ্ধবিরতির আগে গাজা ছিল বিশ্বের সবচাইতে বিপজ্জনক স্থানগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে মানবিক সহায়তা দেওয়া ছিল প্রায় অসম্ভব।   ব্রিটেন সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে এই বিষয়টি নিয়ে ইসরায়েলের ওপর অনবরত চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। তারা মনে করে যে, এই ধরনের ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও ব্রিটেনের এই দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে। তারা মনে করে যে, কেবল মৌখিক দুঃখ প্রকাশ নয় বরং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মাধ্যমেই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব।   সবশেষে ব্রিটিশ মন্ত্রী পুনরায় স্মরণ করিয়ে দেন যে, গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ। শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলো যেন সত্য জানতে পারে, সেজন্য ইসরায়েলকে তাদের তদন্ত রিপোর্ট দ্রুত প্রকাশ করতে হবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
গাজায় শান্তি ফেরাতে তুরস্কে হামাস ও তুর্কি গোয়েন্দা প্রধানের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক!

  গাজায় চলমান যুদ্ধ ও মানবিক সংকট নিরসনে তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় তুর্কি গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন ও হামাসের শীর্ষ আলোচক খলিল আল-হাইয়ার মধ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।   বৈঠকে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা এবং অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে সৃষ্ট চরম মানবিক বিপর্যয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও আল-আকসা মসজিদে বিধি-নিষেধের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।   উভয় পক্ষই গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ইসরায়েলকে তার প্রতিশ্রুতি পূরণ করার ওপর বিশেষ জোর দেন। শান্তি প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ফলপ্রসূ আলাপ হয়েছে বলে জানা গেছে।   আঙ্কারার নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, তুরস্ক শুরু থেকেই গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। হামাস প্রতিনিধি দলও এই শান্তি প্রচেষ্টায় তুরস্কের ভূমিকার জন্য প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।   বর্তমানে গাজায় যুদ্ধবিরতি কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকায় এবং সাধারণ মানুষের দুর্দশা না কাটায় বৈঠকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তুরস্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে মিলে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর পথ সুগম করতে কাজ করবে।   বৈঠকে জেরুজালেমের ধর্মীয় পবিত্রতা রক্ষা এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিশ্চিতে মুসলিম বিশ্বের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। শান্তি আলোচনার এই নতুন মোড় মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   এদিকে তুরস্কের এই মধ্যস্থতা ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ্বের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, আঙ্কারা এই সংকটের স্থায়ী সমাধান চায়। ফিলিস্তিন ইস্যুতে তুরস্কের এমন সক্রিয় অবস্থান বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে তাদের প্রভাব আরও বাড়িয়ে তুলেছে।   হামাস প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, তারা শান্তি পরিকল্পনার শর্তগুলো মেনে চলতে প্রস্তুত, তবে এর জন্য ইসরায়েলকেও সমানভাবে আন্তরিক হতে হবে। অন্যথায় কেবল আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতির কোনো মৌলিক পরিবর্তন আসবে না বলে তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।   সবশেষে ইব্রাহিম কালিন ও খলিল আল-হাইয়া একমত হয়েছেন যে, গাজায় মানবিক বিপর্যয় রোধ করাই এই মুহূর্তের প্রধান অগ্রাধিকার। যুদ্ধের দামামা থামিয়ে ফিলিস্তিনিদের বাসযোগ্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে তুরস্ক তার কূটনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাবে।   বিশ্ববাসী এখন তাকিয়ে আছে এই শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপের দিকে, যা এই অঞ্চলের ভাগ্যের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আঙ্কারার এই বৈঠকটি গাজায় স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফেরানোর পথে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
ভয়াবহ সৈন্য সংকটে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী: জরুরি জনবল নিয়োগের আহ্বান

  ভয়াবহ সৈন্য সংকটের কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বর্তমানে এক চরম অস্তিত্ব সংকটের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি অসহনীয় হয়ে উঠেছে। এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে নতুন আইন প্রণয়ন করে আরও বেশি জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছে সামরিক কর্তৃপক্ষ।   সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইফতি দেফরিন এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, বর্তমানে তাদের প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার সৈন্যের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে কট্টরপন্থী ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন।   গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর অনবরত বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এর পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে তাদের চারটি শক্তিশালী সামরিক ডিভিশন মোতায়েন করা হয়েছে যা বাহিনীর ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।   কেবল ইরান বা লেবানন নয়, অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং গাজা উপত্যকায়ও ইসরায়েলের বিশাল একটি বাহিনী সার্বক্ষণিক মোতায়েন রয়েছে। এতগুলো ফ্রন্টে একসাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সেনাবাহিনীর জন্য এখন অসম্ভব হয়ে পড়ছে।   ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর চিফ অফ স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটের এক গোপন বৈঠকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনবল সংকটের এই সমস্যার দ্রুত সমাধান না হলে পুরো সামরিক কাঠামো যে কোনো সময় ভেঙে পড়তে পারে।   সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে কট্টরপন্থী হারেদি ইহুদিদের অনীহা এবং আইনি জটিলতা এই সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই বিরোধ এখন জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধের ময়দানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, একসাথে একাধিক রণাঙ্গনে লড়াই করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছে ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স। অতিরিক্ত ডিউটি এবং দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের ফলে সাধারণ সৈন্যদের মধ্যে ক্লান্তি ও মানসিক অবসাদ চরম আকার ধারণ করেছে।   ইসরায়েলি চ্যানেল টুয়েলভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় জনবল ছাড়া গাজা ও লেবাননের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা কঠিন হবে। যুদ্ধের এই পর্যায়ে নতুন করে সৈন্য সংস্থাপন করা না গেলে রণকৌশলে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হতে পারে।   এদিকে বিরোধী দলগুলো সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলছে যে, সঠিক পরিকল্পনার অভাবে আজ সেনাবাহিনীকে এই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই মুহূর্তেই সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাটি ইসরায়েলের সামরিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, অতিমাত্রায় প্রযুক্তিনির্ভরতা সত্ত্বেও যুদ্ধের ময়দানে পর্যাপ্ত জনবলের অভাব কোনোভাবেই পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।   সামগ্রিকভাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এখন তাদের ইতিহাসের অন্যতম কঠিন সময় পার করছে। এই সংকট উত্তরণে সরকারের নতুন আইন তৈরির পদক্ষেপ যুদ্ধের মোড় কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0