ছাত্র রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত
মসজিদে ঢুকে নামাজরত ছাত্রশিবির নেতাকে পিটিয়ে জখম

পবিত্র রমজান মাসে ইবাদতের স্থান মসজিদের ভেতরে ঢুকে এক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় সন্দ্বীপে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের জমির মাঝির মসজিদে তারাবির নামাজ চলাকালীন এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত জিহাদ (২০) বাউরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি বলে জানা গেছে।   প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জিহাদ যখন মসজিদে তারাবির নামাজে মগ্ন ছিলেন, ঠিক তখন জাসিব, নিরব ও নাঈমসহ একদল সশস্ত্র যুবক মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ইবাদতরত অবস্থায় জিহাদকে সবার সামনে থেকে জোরপূর্বক টেনে-হিঁচড়ে মসজিদের আঙিনায় বের করে আনে। সেখানে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক স্লোগান দিয়ে লাঠি ও বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত ও জখম করা হয়। উপস্থিত সাধারণ মুসল্লিরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলেও হামলাকারীদের হাতে অস্ত্র থাকায় তারা পিছু হটতে বাধ্য হন।   আহত জিহাদের সহকর্মীদের অভিযোগ, সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করা এবং দীর্ঘদিনের দলীয় আদর্শগত বিরোধের জেরে এই হামলাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে চালানো হয়েছে। হামলার পর জিহাদকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক।   পবিত্র মাসে এবং মসজিদের ভেতরে এমন পৈশাচিক হামলায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সচেতন মহল এই ঘটনার দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।   এই বিষয়ে সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূর সংবাদমাধ্যমকে জানান, “ঘটনাটি শোনার পরপরই পুলিশ তৎপর হয়েছে। আমরা পুরো পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছি। ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ামাত্রই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন, পবিত্রতার অবমাননা ও রক্তপাতের ঘটনায় কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ছাত্রদল সভাপতি-সম্পাদকের

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র চেয়ারম্যান এবং জাতীয়তাবাদী ছাত্রসমাজের প্রাণপ্রিয় সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। গত সোমবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে এই কুশল বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।   জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির ছাত্রদল পরিবারের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের হাতে ফুলের তোড়া তুলে দেন। এ সময় তাঁরা প্রিয় নেতার সাথে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ গতিপথ নিয়ে আলোচনা করেন।   শুভেচ্ছা বিনিময়কালে ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ বলেন, “দেশের গণতন্ত্র পুনর্গঠন এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের সুদৃঢ় ভিত্তি প্রতিষ্ঠায় তারেক রহমানের আপসহীন নেতৃত্ব আমাদের জন্য ধ্রুবতারার মতো। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে তাঁর দিকনির্দেশনা এই জাতিকে নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”   নেতৃবৃন্দ আরও জানান, শহীদ জিয়ার আদর্শিক উত্তরসূরি হিসেবে তারেক রহমানের প্রতিটি আহ্বান বাস্তবায়নে ছাত্রদল রাজপথে সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করবে। সাক্ষাৎ শেষে তাঁরা মহান আল্লাহর দরবারে তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং সফল রাষ্ট্রনায়কত্ব কামনায় বিশেষ দোয়া করেন।   নির্বাচন পরবর্তী এই সৌজন্য সাক্ষাৎ তৃণমূল পর্যায়ের ছাত্রনেতা ও কর্মীদের মাঝে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমানের এই শক্তিশালী নেতৃত্ব আগামী দিনে দেশের শিক্ষাঙ্গন ও জাতীয় রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছাত্রদল সভাপতি
জামায়াত-শিবির নিয়ে এবার বিস্ফোরক পোস্ট ছাত্রদল সভাপতির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘গোপন’ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি দলটির রাজনৈতিক কৌশলকে ‘ইহুদি স্টাইল’ এবং ‘মোনাফেকি’ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া হুশিয়ারি দেন।   রাকিবুল ইসলাম রাকিব তাঁর পোস্টে স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশে আর কোনো গুপ্ত বা গোপন রাজনীতি চলতে দেওয়া হবে না। জামায়াতে ইসলামী এবং ছাত্রশিবিরের প্রতিটি ইউনিটের কমিটি জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। আমরা যাচাই করে দেখতে চাই—নিজেদের ‘ভিন্ন গ্রহের ফেরেশতা’ দাবি করা এই সংগঠনের লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মীর ব্যক্তিগত বা সামাজিক কোনো সমস্যা আছে কি না।”   ছাত্রদল সভাপতি অভিযোগ করেন যে, বিএনপির কোনো নেতাকর্মী বা সমর্থক ব্যক্তিগত সমস্যায় পড়লে ছাত্রশিবির সুপরিকল্পিতভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মব’ তৈরি করে এবং শীর্ষ নেতাদের নামে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেয়। তাঁর দাবি, শিবির সরাসরি সামনে না এসে তাদের ‘বি-টিম’ ও ‘সি-টিম’ ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিএনপিকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করে।   রাকিব আরও লেখেন, “বিএনপির নেতাকর্মীদের সব দায়ভার দলকে নিতে হলেও, জামায়াত-শিবির তাদের কর্মীদের পরিচয় যুগের পর যুগ গোপন রাখে। এর ফলে তাদের কর্মীরা ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিভিন্ন অপরাধে জড়ালেও দল হিসেবে তাদের কোনো দায় নিতে হয় না। এই ধরনের ইহুদি স্টাইলের ও প্রতারণামূলক রাজনীতির কারণেই দেশের আলেম সমাজ তাদের ‘মুনাফেক’ বলে আখ্যায়িত করে।”   দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই ‘গুপ্ত’ রাজনীতির অবসান ঘটানোর শপথ নিয়ে রাকিব বলেন, লক্ষ লক্ষ কর্মীকে আড়ালে রেখে বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করার এই অপকৌশল আর সহ্য করা হবে না। অচিরেই এই বিষয়ের একটি চূড়ান্ত রাজনৈতিক সুরাহা করা হবে বলেও তিনি তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন। ছাত্রদল সভাপতির এই পোস্টটি ইতোমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
জামায়াত সেক্রেটারির বক্তব্য দিয়ে ঢাবি ছাত্রদল নেতার ছড়ানো ফটোকার্ডটি ভুয়া

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে একটি বানোয়াট বক্তব্য সম্বলিত ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের স্যার এ এফ রহমান হলের আহ্বায়ক ফেরদৌস সিদ্দিক সায়মন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলে এই ফটোকার্ডটি শেয়ার করার পর জনমনে ব্যাপক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।   ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডটিতে দাবি করা হয়েছিল যে, এটি গত ২ ফেব্রুয়ারি দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম ‘কালের কণ্ঠ’-এর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কালের কণ্ঠের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা ওয়েবসাইটে এ ধরনের কোনো ফটোকার্ড বা সংবাদ প্রকাশিত হয়নি। মূলত একটি কুচক্রী মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে পত্রিকাটির লোগো ব্যবহার করে এই জাল কার্ডটি তৈরি করেছে।   অনুসন্ধানে এই জালিয়াতির বেশ কিছু অসংগতি ধরা পড়েছে: প্রথমত, কার্ডটির ফন্ট স্টাইল, সাইজ এবং ডিজাইনের সাথে কালের কণ্ঠের আসল ফটোকার্ডের কোনো মিল নেই। দ্বিতীয়ত, কার্ডে ব্যবহৃত ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের নয়। এটি মূলত ২০২৫ সালের ২৮ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামীর একটি সমাবেশের পুরনো ছবি, যা এডিট করে নতুন করে প্রচার করা হয়েছে। সবশেষে, মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামে যে বক্তব্যটি সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তার কোনো অস্তিত্ব দেশের মূলধারার গণমাধ্যমগুলোতে পাওয়া যায়নি।   রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়ির এই সময়ে ডিজিটাল মাধ্যমে এ ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়ানোকে ‘সাইবার অপরাধ’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করে নেবেন। ছাত্রদল নেতার শেয়ার করা এই ফটোকার্ডটি একটি সুপরিকল্পিত অপপ্রচারের অংশ ছাড়া আর কিছুই নয়।   সতর্কতা: যেকোনো সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করতে মূল ধারার গণমাধ্যমের ভেরিফায়েড পেজ বা ওয়েবসাইট যাচাই করুন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
ছাত্রশিবির
ইনকিলাব মঞ্চের উপর হামলা ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ: ছাত্রশিবির

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল সংলগ্ন এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসঙ্গে অবিলম্বে এই দমন-পীড়ন বন্ধ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা না হলে ছাত্র-জনতা পুনরায় রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।   শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই হামলার কঠোর প্রতিবাদ জানান। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই ভূমিকাকে পুরোনো ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেন।   শিবির নেতৃবৃন্দ বলেন, “ছাত্র-জনতা যে ফ্যাসিবাদকে রক্ত দিয়ে বিদায় করেছে, পুলিশ আজ পুনরায় রাজপথে রক্ত ঝরিয়ে প্রমাণ করেছে যে তারা এখনো সেই প্রেতাত্মাদের সেবাদাস হিসেবেই রয়ে গেছে। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ন্যায়বিচারের দাবিতে পরিচালিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ার গ্যাস ছোড়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”   বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, “শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার ৫৬ দিন পার হলেও মামলার কোনো যৌক্তিক অগ্রগতি নেই। পাঁচবার শুনানি পেছানো হয়েছে, যা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতা ও রহস্যজনক আচরণকে স্পষ্ট করে। এই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে যদি বিচারপ্রার্থী পরিবারগুলোকে রাজপথে মার খেতে হয়, তবে সরকারের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংগত।”   উল্লেখ্য, জাতিসংঘের অধীনে হাদি হত্যার তদন্তের দাবিতে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জ ও হামলায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, ডাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রনেতা গুরুতর আহত হয়েছেন। ছাত্রশিবির এই হামলায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ওসমান হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছে। তারা আরও প্রশ্ন তোলেন যে, এই বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করার পেছনে কোনো দেশি-বিদেশি আধিপত্যবাদী চক্রের ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখা জরুরি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0