স্বাস্থ্য

ছবি: ফাইল ফটো
অতিরিক্ত চিনি কি সন্তানের মস্তিষ্কের ক্ষতি করছে? জেনে নিন সুরক্ষার উপায়

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনির উপস্থিতি শিশুদের কেবল দাঁতের ক্ষতিই করে না, বরং এটি তাদের মস্তিষ্কের বিকাশ, শেখার ক্ষমতা এবং আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন পুষ্টি গবেষণা সংস্থার মতে, শিশুদের সুষম খাদ্যাভ্যাস নিশ্চিত করতে চিনি গ্রহণ সীমিত রাখা জরুরি। গবেষণায় দেখা গেছে, চিনির আধিক্য শিশুর মনোযোগ ও মানসিক স্থিতিশীলতায় ব্যাঘাত ঘটায়।   চিনির প্রভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত ওঠানামা করে, যা শিশুকে অস্থির ও খিটখিটে করে তোলে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণে শরীরে প্রদাহ বৃদ্ধি পায়, যা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়া ছোটবেলার এই মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাস বড় হয়েও থেকে যায়, যা ভবিষ্যতে বিভিন্ন দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।   বিশেষজ্ঞরা প্রক্রিয়াজাত চিনি যেমন ক্যান্ডি, প্যাকেটজাত জুস বা সিরিয়াল কমিয়ে প্রাকৃতিক বিকল্প হিসেবে ফলমূল বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ফলে থাকা ফাইবার চিনির ক্ষতিকর প্রভাব কমিয়ে পুষ্টি নিশ্চিত করে। এছাড়া খাবারের তালিকায় কার্বোহাইড্রেটের পাশাপাশি প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট (যেমন বাদাম) রাখলে রক্তে গ্লুকোজের ভারসাম্য বজায় থাকে।   সন্তানের মেধা ও আচরণের ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পর্যাপ্ত পানি পান নিশ্চিত করা এবং নির্দিষ্ট সময়ে সুষম খাবার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট এই দৈনন্দিন পরিবর্তনগুলোই শিশুর মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৯ শিশুর মৃত্যু: বাড়ছে উদ্বেগ

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১ জন শিশুর মৃত্যু নিশ্চিতভাবে হামের কারণে হয়েছে বলে জানিয়েছে, আর বাকি ৮ জন মারা গেছে হামের উপসর্গ নিয়ে। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। গত ১৩ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে আজ ১৪ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। এক নজরে গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি: মোট মৃত্যু: ৯ জন (হাম নিশ্চিত: ১ জন, উপসর্গসহ: ৮ জন)। নতুন ভর্তি রোগী: ১১০৫ জন (সারাদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে)। হাম শনাক্ত: ১৭৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ৩১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।   হাসপাতালগুলোতে হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে আসা শিশুর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। চিকিৎসকরা শিশুদের নিয়মিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শরীরে জ্বর বা র‍্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কন্ডোমের দিন শেষ! পুরুষদের ‘গর্ভনিরোধক’ তৈরি করলেন বিজ্ঞানীরা

এতদিন জন্মনিয়ন্ত্রণের সিংহভাগ দায়ভার কেবল নারীদের ওপরেই বর্তাতো। তবে আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে সেই ধারায় আসতে চলেছে আমূল পরিবর্তন। সম্প্রতি কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী পুরুষদের জন্য বিশেষ ধরনের জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে এক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই পদ্ধতিতে শুক্রাণুর মূল স্টেম সেলগুলোকে কোনো প্রকার ক্ষতি না করেই সাময়িকভাবে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।  গবেষণার প্রধান অধ্যাপক পলা কোহেনের মতে, এটি একটি অত্যন্ত নিরাপদ পদ্ধতি যেখানে কোনো হরমোনাল জটিলতা নেই। এই প্রক্রিয়ায় অণ্ডকোষে প্রয়োগ করা ইনজেকশন বা পিল শুক্রাণুর গতিপথকে সাময়িকভাবে স্থবির করে দেয়, যা গর্ভধারণ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক দিক হলো, এই পদ্ধতিটি স্থায়ী নয়। কোনো পুরুষ যদি পুনরায় সন্তান নিতে চান, তবে এই চিকিৎসা বন্ধ করার কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাভাবিক প্রজনন ক্ষমতা ফিরে আসবে এবং সন্তানের স্বাস্থ্যের ওপরও এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। সফলভাবে মানুষের ওপর প্রয়োগ করা গেলে এটি পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হামের প্রকোপে কাঁপছে দেশ: ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ শিশুর মৃত্যু

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০টি শিশু।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে নতুন করে সন্দেহভাজন হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২৬৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে আরও ১৫০ জনের শরীরে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ১০ শিশুর মধ্যে ৪ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিলেন এবং বাকি ৬ জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।  গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত এই সংক্রমণের ভয়াবহতা বিচার করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ হাজার ৬৫৩ জনে এবং নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ জন। হাসপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত এক মাসে ১০ হাজার ২২৫ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ৭ হাজার ৬৫৬ জন। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ২৮ জন শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।  স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন এবং শিশুদের দ্রুত টিকাদানের পরামর্শ দিচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
বুকের ব্যথাটা গ্যাসের নাকি হার্টের, কীভাবে বুঝবেন?

বুকে ব্যথা হলেই তা হৃদরোগ নয়; এটি গ্যাস্ট্রিক (অ্যাসিড রিফ্লাক্স), ফুসফুসের সমস্যা, পেশিতে টান, পিত্তথলির রোগ কিংবা মানসিক চাপের কারণে হতে পারে। হৃদরোগের ব্যথায় বুকের মাঝে চাপ ধরে, যা ঘাড় বা হাতে ছড়ায়। তবে তীব্র বুকে ব্যথা, ঘাম ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে ইসিজি ও ট্রপোনিন আই পরীক্ষা করা উচিত।   অনেক সময় সাধারণ কিছু শারীরিক সমস্যার কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, হার্টের সমস্যা ছাড়াও ফুসফুস, পাকস্থলী— এমনকি মানসিক চাপের কারণেও বুকে ব্যথা হতে পারে। বুকে ব্যথা হলে হার্টের রোগের কথাই মাথায় আসে। চিনচিনে ব্যথা হোক কিংবা বুকে চাপ অনুভব করা— সবার জন্য সেই হৃদ্যন্ত্রকেই দায়ী করা হয়। অথচ খলনায়ক হতে পারে ফুসফুস কিংবা পাকস্থলী।   বুকে চিনচিনে ব্যথা হচ্ছে সব সময়ে? না কি মাঝেমধ্যে চাপ চাপ ব্যথার অনুভূতি হচ্ছে? মনে হচ্ছে, কেউ যেন কয়েক মণ ভারি পাথর বসিয়ে দিয়েছে। বুকে ব্যথা হলেই হৃদরোগ বলে ভেবে নেন অনেকেই। আতঙ্কিতও হন। কিন্তু বুকে ব্যথার কারণ অনেক হতে পারে। হার্টের অসুখের প্রধান উপসর্গই হলো বুকে ব্যথা, যার সঙ্গে বদহজম বা গ্যাসের ব্যথার মিল আছে। আবার ফুসফুসের রোগ হলেও তার পূর্বলক্ষণে বুকে ব্যথা হতে পারে।    বুকে ব্যথার ধরন ‘অ্যাসিড রিফ্লাক্স’ হয় অনেকের। তখন মনে হয় গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে রয়েছে। খাদ্যনালি দিয়ে অ্যাসিড উঠে আসতে থাকে গলার কাছে। প্রচণ্ড জ্বালা হয়। সেই সঙ্গে বুকে-পিঠে ব্যথা করতে থাকে। যদি বুকে ব্যথার পাশাপাশি গলার কাছে কিছু দলা পাকিয়ে আছে মনে হয়, তা হলে বুঝতে হবে তা অম্বলের জন্য হচ্ছে। আর আছে বুকের মাঝখানে কিংবা নিচের দিকে জ্বালাপোড়া অনুভব হওয়া। শোয়ার সময় বা খাওয়ার পর এ ব্যথা বাড়তে পারে। ভারি খাবার খেয়ে শোবার পরেই চোঁয়া ঢেকুর উঠতে শুরু করে। এমন ব্যথার কারণ হতে পারে ‘জিইআরডি’। অর্থাৎ ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’। আর শ্বাস টানার সময়ে কিংবা কাশতে গিয়ে যদি বুকের একপাশে তীব্র যন্ত্রণা বা চিনচিনে ব্যথার মতো অনুভূতি হয়, তাহলে সেটি ফুসফুসের সমস্যার কারণে হতে পারে।   বুকে সারাক্ষণই যদি ব্যথা হতে থাকে, সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে বুঝতে হবে নিউমোনিয়া বাসা বাঁধছে। পানি জমছে ফুসফুসে। আর ফুসফুসে রক্ত জমাট বাঁধলেও তীব্র ব্যথা হতে পারে। এ ব্যথাকে হার্ট অ্যাটাকের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন অনেকেই। কিন্তু এটি হয় পালমোনারি এমবলিজম বা ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার কারণে। অনেক সময়ে যক্ষ্মা বা ফুসফুসে ক্যানসার বাসা বাঁধলেও বুকে ব্যথার অনুভূতি হয়। তবে সে ক্ষেত্রে কফের সঙ্গে রক্ত উঠে আসতে পারে।   হৃদরোগের ব্যথার লক্ষণ হৃদরোগের কারণে ব্যথা হলে তার উপসর্গ কিছুটা আলাদা হয়। তখন বুকের মাঝখানে ব্যথা শুরু হবে। মনে হবে বুকে চাপ ধরছে। এ ব্যথা যদি বুক থেকে ঠেলে গলার দিকে উঠতে শুরু করে, সেই সঙ্গে হাতেও ব্যথা শুরু হয়, তাহলে সাবধান হতে হবে। ব্যথার সঙ্গেই দরদর করে ঘাম হতে পারে। ব্যথা ধীরে ধীরে পিঠের দিকেও যাবে। চোয়াল ও কাঁধেও ব্যথা শুরু হবে। তখন হাত-পা ঠান্ডা হতে শুরু করবে। হৃৎস্পন্দনের হার বেড়ে যাবে। তখন একমুহূর্তও সময় নষ্ট না করে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে রোগীকে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কোলেস্টেরল কমাতে ওটমিল ও কাঠবাদাম; ঘরোয়া পদ্ধতিতে বাঁচবে আপনার হৃদয়

রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখতে ওটমিল ও কাঠবাদাম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। রক্তে বিদ্যমান চর্বি মূলত দুই প্রকার—এলডিএল (খারাপ কোলেস্টেরল) এবং এইচডিএল (ভালো কোলেস্টেরল)। এলডিএল ধমনীর দেয়ালে প্লাক তৈরি করে রক্ত চলাচলে বাধা দেয়, যা হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। অন্যদিকে, এইচডিএল ধমনী থেকে খারাপ কোলেস্টেরল অপসারণে সহায়তা করে শরীরকে সুস্থ রাখে।   হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের মাধ্যমে এলডিএল-এর মাত্রা কমিয়ে এইচডিএল বাড়ানো জরুরি। জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিয়মিত একটি ঘরোয়া মিশ্রণ সেবনের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব। এই পদ্ধতিতে এক কাপ রান্না করা ওটমিলের সঙ্গে চারটি কাঠবাদাম মিশিয়ে প্রতিদিন সকালের নাস্তায় খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   পুষ্টিগুণের দিক থেকে ওটমিলে প্রচুর পরিমাণে আঁশ রয়েছে, যা প্রাকৃতিকভাবে কোলেস্টেরল কমাতে সহায়ক। অন্যদিকে কাঠবাদামে আঁশের পাশাপাশি রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এই দুটি উপাদান রক্ত পরিষ্কার রাখতে এবং ধমনীর জটিলতা দূর করতে সরাসরি কাজ করে। নিয়মিত এই খাদ্যাভ্যাস কোলেস্টেরলের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।   তবে কেবল খাদ্যাভ্যাসই যথেষ্ট নয়; পূর্ণাঙ্গ সুস্থতার জন্য অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম করা আবশ্যক। ওটমিল ও কাঠবাদামের এই সহজ ঘরোয়া দাওয়াই দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি কমিয়ে শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে। স্বাস্থ্যকর এই রুটিন অনুসরণ করলে কোলেস্টেরলজনিত সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাম ও অন্ধত্বের ঝুঁকি: আপনার শিশুকে সুরক্ষিত রাখছেন তো?

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা Measles বা হামের ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, ভিটামিন ‘এ’-এর অভাব সরাসরি হাম সৃষ্টি না করলেও এই রোগের ঝুঁকি ও জটিলতা অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, Vitamin A শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই ভিটামিনের ঘাটতি থাকলে শরীর সহজেই সংক্রমণে আক্রান্ত হয় এবং হাম হলে তা গুরুতর আকার ধারণ করতে পারে।   চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি থাকা শিশুদের মধ্যে হাম হলে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং দৃষ্টিশক্তি হ্রাসের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে অন্ধত্বের ঝুঁকিও তৈরি হয়, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।   বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। পাশাপাশি শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে ভিটামিন ‘এ’-এর ঘাটতি না থাকে। প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শে ভিটামিন ‘এ’ সাপ্লিমেন্ট দেওয়া যেতে পারে।   জনস্বাস্থ্যবিদরা মনে করেন, সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক পুষ্টি এবং সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে হামজনিত ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হাম পরিস্থিতিতে সরকারের তথ্যহীনতা নিয়ে তাসনিম জারার অভিযোগ

দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে বাবা-মায়েরা চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো তথ্য বা নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁয় ‘কোয়ালিশন ফর অ্যাডভান্সিং ইক্যুালিটি অ্যান্ড জাস্টিস’ আয়োজিত এক প্যানেল আলোচনায় তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন।   ডা. তাসনিম জারা বলেন, বর্তমানে শিশুদের অভিভাবকদের নাভিশ্বাস অবস্থা। জ্বর বা র‍্যাশ উঠলে তারা ঠিক কখন এবং কোথায় যাবেন—উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না কি জেলা হাসপাতালে—সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন নেই। এমনকি আক্রান্ত শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ দিতে হাসপাতালে নিলে সেখান থেকে অন্য শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকলেও স্বাস্থ্য বিভাগ এ নিয়ে নীরব। ফলে অভিভাবকরা এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।     আলোচনায় তথ্যের ঘাটতিকে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি জানান, দেশে এখনো হামে আক্রান্ত বা মৃত্যুর কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যাচ্ছে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখেও সঠিক তথ্য না মেলায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। তার মতে, এবারের প্রাদুর্ভাব দেশের জনস্বাস্থ্য কাঠামোর ভঙ্গুর অবস্থাকেই ফুটিয়ে তুলেছে। সঠিক তথ্যের অভাবেই সাধারণ মানুষ আজ শঙ্কিত।   উক্ত আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এবং ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন। সাতটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার এই যৌথ আয়োজনে নতুন সরকারের প্রতিশ্রুতি ও জনস্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
টিকা কেন জরুরি, কখন কোনটি দিতে হবে

একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার মুহূর্ত থেকেই শুরু হয় পৃথিবীর সঙ্গে তার লড়াই। আর এই লড়াইয়ে সুরক্ষা ঢালগুলোর একটি হলো টিকা।   শিশু জন্মের পর পর তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা খুবই দুর্বল থাকে। সেক্ষেত্রে টিকা তার রোগ প্রতিরোধের ভিত্তি তৈরি করে বলে মত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের। খবর বিবিসি বাংলার।   বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে শিশুর জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী টিকা দেওয়া হয়।   এই টিকাগুলো শিশুদের এমন সব মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে রক্ষা করে, যার কারণে একসময় লাখ লাখ শিশু প্রাণ হারাতো।   অর্থাৎ শিশুসহ একটি জনপদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়তে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় টিকার কোনো বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।টিকাদানে বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু আছে, সরকারি টিকা এবং বেসরকারি টিকা।বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মান ও নির্দেশনা অনুযায়ী এসব টিকা শিশুর যথাযথ বয়সে যথাযথ ডোজ দিতে হয়। সরকারি টিকা   সরকারি টিকা হলো সরকার নির্ধারিত বাধ্যতামূলক জরুরি কিছু টিকা, যা শিশুকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেয়।   বাংলাদেশ সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় বাংলাদেশের সব শিশুকে সরকার এসব টিকা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে থাকে। এই টিকাগুলো শিশুর বেঁচে থাকার জন্য ভীষণ জরুরি বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।    সরকারি টিকাগুলোর মধ্যে রয়েছে-   বিসিজি (ব্যাসিলাস ক্যালমেট গ্যাঁরাঁ): এটি ব্যাকটেরিয়াজনিত যক্ষ্মার সংক্রমণ থেকে শিশুকে সুরক্ষা দেয়।   পেন্টাভ্যালেন্ট: এটি মূলত ডিপথেরিয়া, হুপিংকাশি, ধনুষ্টংকার, হেপাটাইটিস বি এবং হিমোফাইলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা বি (হিব) থেকে সুরক্ষা দেওয়ার একটি সমন্বিত টিকা। ডিপথেরিয়া ও হুপিংকাশ ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ যা গলা ও শ্বাসনালীতে সংক্রমণ করে। টিটেনাস সাধারণত কেটে যাওয়া, ঘা বা আঘাতের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। এসব রোগ গুরুতর হলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। হেপাটাইটিস বি লিভারের ভাইরাসজনিত রোগ। অন্যদিকে হিব এক ধরনের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ, যা শিশুদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস ও রক্তকে মারাত্মক সংক্রমিত করে।    ওপিভি/আইপিভি: পোলিও মাইলাইটিস একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুকে আজীবনের জন্য পঙ্গু করে দিতে পারে। এই টিকা মুখে ড্রপ হিসেবে (ওপিভি) সেইসাথে ইনজেকশনের মাধ্যমে (আইপিভি) দেওয়া হয়। এই টিকা নিলে শিশু পঙ্গুত্ব থেকে সুরক্ষা পায়। 

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি - সংগৃহিত
হামের প্রকোপ ও প্রতিকার: জীবন বাঁচাতে আপনার যা জানা জরুরি

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ও বিপজ্জনক ভাইরাসজনিত রোগ যা মূলত মানুষের নাক ও গলার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এটি মৃত্যুর কারণ হতে পারে।   বিশেষজ্ঞদের মতে এই রোগের ফলে রোগীর শরীরে প্রচণ্ড জ্বরের পাশাপাশি মারাত্মক ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং এমনকী দীর্ঘস্থায়ী অন্ধত্বের মতো জটিল সব শারীরিক সমস্যা দেখা দেওয়ার প্রবল ঝুঁকি থাকে।   গর্ভবতী নারী এবং ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগটি সবচাইতে বেশি ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক কম থাকে যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে।   চিকিৎসাবিজ্ঞানে হামের কোনো নির্দিষ্ট ঔষধ বা চিকিৎসা নেই বিধায় এটি প্রতিরোধের একমাত্র উপায় হলো ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে সবসময় নিজেকে দূরে রাখা।   কোনো সংক্রামিত ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে এই রোগটি বাতাসের মাধ্যমে খুব সহজে ছড়িয়ে পড়ে এবং টিকা না নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সংক্রমণের হার প্রায় নব্বই শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।   আক্রান্ত ব্যক্তি কোনো স্থান ত্যাগ করার দুই ঘণ্টা পরেও সেখানে এই বিপজ্জনক জীবাণুর অস্তিত্ব থেকে যেতে পারে যা সুস্থ মানুষকে নতুন করে সংক্রমিত করার জন্য যথেষ্ট বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।   হামের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে শরীরে ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উচ্চমাত্রার জ্বর দেখা দিতে পারে এবং এর সাথে টানা কাশি ও নাক দিয়ে অবিরাম পানি পড়ার সমস্যা তৈরি হয়।   চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং মুখের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদা দাগ বা কপলিক স্পট দেখা দিলে বুঝতে হবে রোগী হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তখন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি।   সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে লাল রঙের র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি ওঠা শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে যা রোগীর জন্য অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক ও অস্বস্তিকর একটি পরিস্থিতি।   যদি মনে হয় হাম হয়েছে তবে আতঙ্কিত না হয়ে অবিলম্বে একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে এবং নিজের শারীরিক লক্ষণগুলো সম্পর্কে ফোনে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে হবে।   হাসপাতালের জরুরি বিভাগে সরাসরি না গিয়ে প্রথমে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত যাতে আপনার মাধ্যমে অন্য কোনো সুস্থ ব্যক্তি এই ভয়াবহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ না পায়।   সংক্রমণ রুখতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে অবশ্যই উন্নত মানের মাস্ক ব্যবহার করতে হবে এবং হাঁচি বা কাশির সময় টিস্যু দিয়ে নাক ও মুখ ঢেকে রাখতে হবে যাতে বাতাসে জীবাণু ছড়িয়ে না পড়ে।   ব্যবহৃত টিস্যু যত্রতত্র না ফেলে ঢাকনাযুক্ত ময়লার ঝুড়িতে ফেলতে হবে এবং সাবান ও পানি দিয়ে বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে যা পরিবারের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।   আক্রান্ত ব্যক্তির খাওয়ার বাসনপত্র বা পানীয় অন্য কেউ ব্যবহার করবেন না এবং ঘরের যে সমস্ত জায়গা বারবার স্পর্শ করা হয় সেগুলো নিয়মিত শক্তিশালী জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার রাখতে হবে।   দরজার হাতল, টেবিল এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করলে ভাইরাসের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা যা বিপদমুক্ত থাকতে সাহায্য করবে।   হামের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং সামাজিক সচেতনতাই হলো প্রধান হাতিয়ার যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এক সুস্থ ও সুন্দর জীবন উপহার দিতে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে।    

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি
দেশে হামের প্রকোপ: ২০ জেলার ৩০ স্থান ‘হটস্পট’ ঘোষণা, কাল থেকে জরুরি টিকাদান

দেশে হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ২০টি জেলার ৩০টি স্থানকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগামীকাল রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন।   স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকনির্দেশনায় দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের সব শিশুকে সুরক্ষার আওতায় আনতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩০টি হটস্পট এলাকায় কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। আগামী ২১ মে, অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে মন্ত্রণালয়।   হামের হটস্পট এলাকাগুলো: ঘোষিত হটস্পটগুলোর মধ্যে রয়েছে— বরগুনা পৌরসভা ও সদর; পাবনা পৌরসভা ও সদর, ঈশ্বরদী, আটঘরিয়া ও বেড়া; চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর ও হাইমচর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; গাজীপুর সদর; চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট। এছাড়াও নেত্রকোনার আটপাড়া; ময়মনসিংহের সদর, ত্রিশাল ও তারাকান্দা; রাজশাহীর গোদাগাড়ী; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; নওগাঁর পোরশা; যশোর পৌরসভা ও সদর; নাটোর পৌরসভা ও সদর; মুন্সীগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, লৌহজং ও শ্রীনগর; মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর; ঢাকার নবাবগঞ্জ; ঝালকাঠির নলছিটি এবং শরীয়তপুরের জাজিরা।   বিশেষ পরামর্শ: স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব শিশুর বর্তমানে জ্বর রয়েছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ হওয়ার পর টিকা দিতে হবে। এছাড়া হামে আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে, যা রোগের জটিলতা কমাতে সহায়ক হবে। শিশুদের সুরক্ষায় এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নীরব ঘাতক রোগ ‘এসএলই’ বা লুপাস; লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন

সিস্টেমিক লুপাস ইরাইথিমেটোসাস (SLE) বা সংক্ষেপে ‘লুপাস’ একটি অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি অটোইমিউন বাতরোগ। এই রোগে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত নিজের সুস্থ টিস্যু এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করে। এটি মূলত একটি 'মাল্টিসিস্টেম ডিজিজ', যা ত্বক থেকে শুরু করে মস্তিষ্ক, ফুসফুস, লিভার ও কিডনির মতো অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রিউম্যাটোলজি বিভাগের প্রধান ডা. হাবিব ইমতিয়াজ আহমাদ জানান, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এই রোগ অকাল মৃত্যুর কারণ হতে পারে।   কেন হয় এই রোগ? এসএলই হওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনও অজানা। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন: হরমোন ও জিনগত কারণ: ইস্ট্রোজেন হরমোনের প্রভাবে নারীদের মধ্যে এই রোগের ঝুঁকি পুরুষদের তুলনায় প্রায় ৯ গুণ বেশি। সাধারণত ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীরা বেশি আক্রান্ত হন। পরিবেশগত কারণ: দীর্ঘক্ষণ সূর্যের আলোতে থাকা, বায়ুদূষণ এবং নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাসের (যেমন: এপস্টেইন-বার ভাইরাস) সংক্রমণ এই রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।   লক্ষণসমূহ: দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, ক্লান্তি, তীব্র গাঁট বা গিরা ব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ (বিশেষ করে সূর্যের আলোতে গেলে যা বেড়ে যায়), এবং অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়া লুপাসের প্রাথমিক লক্ষণ। এছাড়া জটিল পর্যায়ে অল্প বয়সে স্ট্রোক, ফুসফুসে পানি জমা, দীর্ঘমেয়াদি কাশি এবং কিডনি বিকল হওয়ার মতো মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। বিশেষ করে প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নেতিবাচক, যা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়ায়।   রোগের তীব্রতা ও চিকিৎসা: লুপাস মূলত মৃদু, মাঝারি ও তীব্র—এই তিনভাবে শরীরে প্রকাশ পায়। ডা. হাবিব ইমতিয়াজ আহমাদ স্পষ্ট করেন যে, এসএলই পুরোপুরি নিরাময়যোগ্য রোগ নয়, তবে সঠিক চিকিৎসায় এটি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। কাউন্সেলিং ও ফলোআপ: রোগীকে নিয়মিত চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে থাকতে হবে। জীবনযাত্রা: ধূমপান ত্যাগ করা, রোদে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করা জরুরি। ওষুধ: রোগের ধরন অনুযায়ী হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন, স্টেরয়েড বা ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।   লুপাস বা এসএলই সন্দেহে দ্রুত একজন রিউমাটোলজিস্ট বা বাতরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং সমন্বিত চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ফাইল ছবি।
রোজায় ক্লান্তি দূর করতে ইফতারে পান করুন স্বাস্থ্যকর গুড়ের শরবত

পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘদিনের ক্লান্তি ও তৃষ্ণা মেটাতে গুড়ের শরবত একটি অত্যন্ত কার্যকরী ও প্রাকৃতিক এনার্জি ড্রিংক। এটি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগানোর পাশাপাশি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। গুড় একটি প্রাকৃতিক মিষ্টি হওয়ায় এটি সাধারণ চিনির তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। ইফতারে এই শরবত পান করলে সারাদিনের অবসাদ দূর হয়ে মন ও শরীর সতেজ হয়ে ওঠে।   গুড়ের শরবত তৈরির প্রক্রিয়া অত্যন্ত সহজ। প্রথমে এক কাপ গুড় পরিমাণমতো পানিতে ২০ মিনিট থেকে ২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। গুড় সম্পূর্ণ গলে গেলে পানিটি ভালো করে ছেঁকে নিতে হবে। এরপর আলাদা পাত্রে তোকমা দানা ভিজিয়ে রাখতে হবে। একটি জগে গুড়ের পানির সঙ্গে ভেজানো তোকমা দানা এবং দুই-তিন টেবিল চামচ লেবুর রস মিশিয়ে নিলেই তৈরি হয়ে যাবে স্বাস্থ্যকর এই পানীয়।   শরবতটির স্বাদ ও পুষ্টিগুণ বাড়াতে এতে পুদিনাপাতা এবং লেবুর টুকরো যোগ করা যেতে পারে। এছাড়া স্বাদে ভিন্নতা আনতে চাইলে সামান্য আদা গুঁড়ো ও এক চিমটি লবণ মিশিয়ে পরিবেশন করা যায়। স্বাস্থ্য সচেতন রোজাদারদের জন্য ঘরোয়া উপায়ে তৈরি এই শরবতটি কৃত্রিম পানীয়র চমৎকার বিকল্প হতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
বিভিন্ন ধরনের খাবার । ফাইল ছবি: সংগৃহীত
ইফতারে খালি পেটে যে ৩ খাবার খেলেই হতে পারে বিপদ

দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে খালি পেটে খাওয়া কিছু খাবার শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পুষ্টিবিদদের মতে, সঠিক খাবার বেছে নেওয়া না হলে তা পেটে অ্যাসিডিটি, ব্যথা এবং হজমজনিত সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে।   সাইট্রাস ফল ও ঠান্ডা শরবত: কমলালেবু, মুসুম্বি বা তাদের তৈরি ঠান্ডা জুস খালি পেটে খেলে পেটে ভার অনুভূত হয় এবং অ্যাসিড উৎপাদন বাড়ে। এছাড়া ফ্রুক্টোজ হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং ঠান্ডা শরবত সর্দি-কাশির ঝুঁকি বাড়ায়।   চা ও কফি: ভারী খাবারের সঙ্গে চা-কফি খাওয়া পুষ্টিবিদরা ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করেন। দীর্ঘ সময় খালি পেটে খাওয়া ও তার পর চা-কফি গ্রহণ করলে অ্যাসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যা রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত করে এবং অগ্ন্যাশয় ও যকৃতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।   তৈলাক্ত খাবার: ভাজাপোড়া, ছোলা বা মুড়ি খালি পেটে খেলে গ্যাস, মাথাব্যথা, অবসাদ এবং আলসারের সম্ভাবনা থাকে। দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের খাবার অন্ত্রের সমস্যা ও পেটের মেদ বৃদ্ধি করতে পারে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ, ইফতারে সুষম খাবার, সবজি, খেজুর, দই এবং সহজে হজমযোগ্য খাবার নির্বাচন করা উচিত। দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে সতর্ক থাকা এবং পেটের জন্য উপযোগী খাবার বেছে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভোলায় মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের জন্য লিগ্যাল নোটিশ

দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম দ্বীপ জেলা ভোলার প্রায় ১৮ লাখ মানুষের উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ভোলায় একটি পূর্ণাঙ্গ সরকারি মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া।   গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে এই নোটিশ পাঠানো হয়। এর আগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে সরকারের কাছে আবেদন করলেও কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তিনি আইনি পথ বেছে নিয়েছেন।   নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ভোলা একটি নদী ও সাগরবেষ্টিত বিচ্ছিন্ন জনপদ। এখানকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। বর্তমানে ভোলায় কোনো জটিল রোগ বা জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলে রোগীদের ৪-৫ ঘণ্টা নদীপথ পাড়ি দিয়ে বরিশাল বা ঢাকা যেতে হয়। যাতায়াতের এই দীর্ঘ সময়ে এবং অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে পথেই বহু রোগীর মৃত্যু হয় কিংবা অনেকেই চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেন। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পার হলেও ভোলার স্বাস্থ্য খাতে তেমন কোনো বড় ধরনের পরিবর্তন আসেনি। বিদ্যমান জেলা সদর হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো জনবল সংকট ও আধুনিক সরঞ্জামের অভাবে প্রায় অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে।   অ্যাডভোকেট ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া তাঁর নোটিশে দেশের সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) এবং ৩২ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ভোলার বিশাল জনগোষ্ঠীকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা রাষ্ট্রের নীতিগত অঙ্গীকারের পরিপন্থী। তাই মানুষের জীবন বাঁচাতে এবং চিকিৎসাসেবা দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ভোলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন এখন সময়ের দাবি।   তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই লিগ্যাল নোটিশের প্রেক্ষিতে যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হয়, তবে তিনি ভোলার আপামর জনগণের স্বার্থ রক্ষায় উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়ের করবেন।   নতুন বাংলাদেশের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ভোলার মতো উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের এই ন্যায়সঙ্গত দাবিটি এখন সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সচেতন মহলের প্রত্যাশা, সরকার দ্রুত এই দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও পরিকল্পনা গ্রহণ করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২৬ 0
সেহরিতে জেগে ওঠার পন্থা
সেহরিতে ওঠা সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অভ্যাস

রমজান মাসে সেহরি রোজার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেহরির খাবার শরীরকে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও পানি সরবরাহ করে। তবে অনিয়মিত ঘুম, রাত জাগা ও ক্লান্তির কারণে অনেকেই সময়মতো সেহরি খেতে উঠতে পারেন না।   পুষ্টিবিদরা ও বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কিছু সহজ অভ্যাস নিয়মিত সেহরিতে ওঠাকে সহজ করতে পারে। ঘুমানোর সময় আগে নেওয়া, ঘুমের আগে মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, একাধিক অ্যালার্ম ব্যবহার করা এবং পরিবারের সহযোগিতা নেওয়া কার্যকর। এছাড়া রাতে ভারী খাবার এড়িয়ে হালকা খাবার খাওয়া, সেহরির খাবার আগেভাগে প্রস্তুত রাখা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং দিনের অতিরিক্ত ঘুম এড়িয়ে চলাও সহায়ক।   মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকা ও ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করাও জরুরি। সেহরি বাদ দিলে সারাদিন দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, পানিশূন্যতা ও কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে। তাই নিয়মিত ও স্বাস্থ্যকরভাবে রোজা পালনের জন্য সেহরিতে সময়মতো ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইফতারের পর মাথাব্যথা কেন হয়? জানুন ঝুঁকি ও প্রতিরোধের উপায়

রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারের সময় বা তার পর অনেকেই মাথাব্যথায় ভোগেন। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যাকে বলা হয় ‘ফাস্টিং হেডেক’ বা উপবাসজনিত মাথাব্যথা। সাধারণত দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানিশূন্যতা এবং হঠাৎ ক্যাফেইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যা দেখা দেয়।   বিশেষজ্ঞদের মতে, টানা আট ঘণ্টা বা তার বেশি সময় উপবাসে থাকলে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়, যা মাথাব্যথার অন্যতম কারণ। পাশাপাশি যাঁরা নিয়মিত চা বা কফি পান করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজার সময় হঠাৎ ক্যাফেইন গ্রহণ বন্ধ হলে মাথাব্যথার প্রবণতা বেড়ে যায়। পানিশূন্যতা এবং মানসিক চাপও এ সমস্যাকে তীব্র করে তুলতে পারে।   উপবাসজনিত মাথাব্যথা সাধারণত মৃদু থেকে মাঝারি তীব্রতার হয় এবং কপালজুড়ে অনুভূত হয়। এটি সাধারণ মাইগ্রেনের মতো দপদপে ব্যথা সৃষ্টি না করলেও, যাঁদের মাইগ্রেনের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে রোজা রাখা এই ব্যথাকে উসকে দিতে পারে। খাবার গ্রহণের পর অধিকাংশ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যেই এই সমস্যা কমে যায়।   চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, ইফতারের পর মাথাব্যথা এড়াতে পর্যাপ্ত পানি পান করা, সেহরিতে সুষম খাবার গ্রহণ, ধীরে ধীরে ক্যাফেইন কমানো, নিয়মিত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। সেহরি বাদ না দেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা, কারণ দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা মাথাব্যথার ঝুঁকি বাড়ায়।   তবে মাথাব্যথার সঙ্গে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া, তীব্র বমি, কথা জড়িয়ে যাওয়া, জ্বর, শরীরের কোনো অংশ অবশ হয়ে যাওয়া বা দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।   প্রতিবেদকঃ সিদ্দিকুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল
নরসিংদীতে নতুন মেডিকেল কলেজ স্থাপনে নজর দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নরসিংদী-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল শপথ গ্রহণের পরপরই নরসিংদীতে মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছেন।   মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, তিনি দপ্তরে বসার প্রথম দিনেই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও সম্ভাব্যতা যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন।   নিজের নির্বাচনী এলাকায় মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা দীর্ঘদিনের স্থানীয় জনগণের দাবি বলে মন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, নরসিংদীতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করা হবে এবং দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপন করা হবে। এছাড়া দেশের অন্যান্য এলাকায়ও যেখানে মেডিকেল কলেজের প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোতেও স্থাপনের প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।   স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদী ছাড়াও ঠাকুরগাঁও, শেরপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জ—মোট সাত জেলায় নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের জন্য আবেদন এসেছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মুন্সীগঞ্জে মাঠপর্যায়ের পরিদর্শন ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাকি জেলাগুলোর প্রক্রিয়া এখনো চলমান।   স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় কোনো জেলায় মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়ার আগে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ার পরই সিদ্ধান্ত নেবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেছেন, নরসিংদীর জন্য আবেদনটি স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে করেননি, বরং অন্যান্য জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে এসেছে।   বর্তমানে দেশে ৩৭টি সরকারি এবং ৭২টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। সরকারি কলেজগুলোর অনুমোদিত ৬,৪৪৬টি পদে প্রায় ২,৭০০টি শূন্য রয়েছে। বিশেষ করে অধ্যাপক পদে শূন্যতার হার ৬৪.৬৫ শতাংশ, যা চিকিৎসা শিক্ষার মান ও শিক্ষক সংকটের বড় ইঙ্গিত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. রশিদ-এ-মাহবুব বলেন, শিক্ষক সংকট সমাধান না করলে নতুন কলেজ থেকে দক্ষ চিকিৎসক তৈরি হবে না, যা ভবিষ্যতের রোগীদের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।   ২০১৮ সালের পর নির্মিত কিছু মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাস ও হাসপাতালের সম্পূর্ণ সংযুক্তি নেই, শিক্ষক সংকট রয়েছে। এগুলোর মান উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখনও পর্যাপ্ত অগ্রগতি দেখা যায়নি।   এছাড়া, মুন্সীগঞ্জে একটি নতুন সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন শেষ হলে একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা হবে। বেসরকারি কলেজের ক্ষেত্রে, গত বছরের ৯ নভেম্বর জুরাইনে অবস্থিত ব্যারিস্টার রফিক-উল হক মেডিকেল কলেজকে ৫০ শিক্ষার্থী নিয়ে পাঠদান শুরু করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   সংক্ষেপে বলা যায়, নতুন কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ থাকলেও শিক্ষক সংকট ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ছাড়া অনুমোদন দেওয়া হবে না। সরকারের লক্ষ্য শিক্ষার মান বজায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
চিকিৎসাসেবা পৌঁছাবে মানুষের দুয়ারে, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
চিকিৎসাসেবা পৌঁছাবে মানুষের দুয়ারে, জানালেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

স্বাস্থ্যখাতকে দুর্নীতিমুক্ত ও সেবাকেন্দ্রিক করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার হাফিজপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করাই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য।   এ খাতে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা দুর্নীতির অভিযোগ থাকলে তা খতিয়ে দেখে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।     মন্ত্রী আরও বলেন, চিকিৎসাসেবা সহজলভ্য ও সর্বজনীন করতে সরকার কাজ করছে। তাঁর ভাষ্য, মানুষ যেন চিকিৎসকের পেছনে ঘুরে না বেড়ায়; বরং চিকিৎসাসেবাই মানুষের কাছে পৌঁছে যায়—এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তোলাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে স্বাস্থ্যখাতে নেওয়া উদ্যোগগুলো সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।   নরসিংদীতে একটি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, দ্রুতই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালসহ যেসব স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠান এখনো চালু হয়নি, সেগুলো দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। নরসিংদীতে দুটি আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।   পরে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, যারা ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন কিংবা যারা ভোট দেননি—সব নাগরিকের প্রতিই সরকারের সমান দায়িত্ব রয়েছে। প্রতিহিংসা ও বিদ্বেষ ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন তিনি।   এ সময় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন, সিভিল সার্জন সৈয়দ মো. আমিরুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. কলিমুল্লাহ, নরসিংদী জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক এ এন এম মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬ 0
স্লিপ ব্যাংকিং ।  ছবি: সংগৃহীত
ঘুম ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা সম্ভব? বিজ্ঞান বলছে

সপ্তাহব্যাপী হাড়ভাঙা কাজের পর অনেকেই সপ্তাহান্তে একটু বেশি ঘুমান। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কি আমরা ভবিষ্যতের ব্যস্ত সময়ে আগে থেকে বেশি ঘুমিয়ে শরীরে শক্তির সঞ্চয় বা ‘রিজার্ভ’ তৈরি করতে পারি? গবেষকরা বলছেন, এটি সম্ভব, এবং এ প্রক্রিয়াকেই বলা হচ্ছে ‘স্লিপ ব্যাংকিং’।   স্লিপ ব্যাংকিং হলো আগেভাগে ব্যস্ত সময় (যেমন পরীক্ষা, নাইট শিফট বা দীর্ঘ ভ্রমণ) আসার এক বা দুই সপ্তাহ আগে থেকে প্রতি রাতে স্বাভাবিকের চেয়ে ১-৩ ঘণ্টা বেশি ঘুমানো। এটি ঠিক তেমনি, যেমন আমরা ব্যাংকে টাকা জমা রাখি, যাতে প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়।   গবেষণায় দেখা গেছে, যারা আগেভাগে বেশি ঘুমিয়েছেন, তাদের ঘুমের ঘাটতির সময় কর্মক্ষমতা ও মনোযোগ অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো থাকে। ২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ওয়াল্টার রিড আর্মি ইনস্টিটিউট অফ রিসার্চ’-এর একটি গবেষণায় সেনাদের কয়েকদিন ১০ ঘণ্টা করে ঘুমানো হয়।   পরে তাদের ঘুম সীমিত করার পর দেখা যায়, যারা আগেভাগে বেশি ঘুমিয়েছিলেন তারা চাপের মধ্যে অন্যদের তুলনায় কার্যক্ষম ছিলেন। এছাড়া চিকিৎসক ও খেলোয়াড়দের ওপর করা গবেষণাতেও একই ফল পাওয়া গেছে।   গবেষকরা বলছেন, অতিরিক্ত ঘুমের সময় মস্তিষ্ক ‘নিউরোনাল বর্জ্য’ পরিষ্কার করে এবং ‘গ্লাইকোজেন’ শক্তি সঞ্চয় করে। ফলে পরবর্তীতে ঘুমের অভাব থাকলেও মস্তিষ্ক সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে সচল থাকতে পারে।   স্লিপ ব্যাংকিংয়ের জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন:   অতিরিক্ত ঘুমানো: ব্যস্ত সময় শুরু হওয়ার ১-২ সপ্তাহ আগে প্রতিদিন ৩০-৬০ মিনিট বেশি ঘুমানো।   সকালে দেরি করে ওঠা: রাতের ঘুম ঠিক রাখার সহজ উপায়।   দিবানিদ্রা বা পাওয়ার ন্যাপ: দিনের বেলায় ৪৫ মিনিটের কম ন্যাপ কার্যকর।   তবে সব গবেষক স্লিপ ব্যাংকিং ধারণায় একমত নন। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক এলিজাবেথ ক্লারম্যান বলেন, ঘুম অনেকটা ক্রেডিট কার্ডের মতো, পিগি ব্যাংকের মতো নয়। আপনি চাইলে ঘুমের ‘ঋণ’ বা ঘাটতি পূরণ করতে পারেন, কিন্তু অতিরিক্ত ‘সঞ্চয়’ করা কঠিন।   গবেষকরা সতর্ক করছেন, স্লিপ ব্যাংকিং সাময়িকভাবে কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে নয়। সুস্থ থাকার জন্য প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ৭-৯ ঘণ্টা মানসম্মত ঘুম নেওয়াই সবচেয়ে ভালো অভ্যাস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬ 0
সংগৃহীত
ফোন স্ক্রলিংয়ের নেশা থেকে মুক্তির উপায়

স্মার্টফোন এখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন সবকিছুই এক ডিভাইসের ভেতরে। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালেই ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে এক নীরব আসক্তি, অকারণে ফোন স্ক্রলিং।প্রয়োজন না থাকলেও বারবার মোবাইল ফোন হাতে নেওয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক ভিডিও বা পোস্ট দেখা, সময়ের হিসাব না থাকা এই অভ্যাস এখন অনেকের জীবনযাপনের অংশ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়ছে মনোযোগ, মানসিক স্বাস্থ্য ও সম্পর্কের ওপর। মোবাইল ফোন স্ক্রলিংয়ের নেশা মূলত মস্তিষ্কের ডোপামিনের সঙ্গে জড়িত। নতুন নোটিফিকেশন, লাইক বা ভিডিও মস্তিষ্কে ক্ষণিকের আনন্দ তৈরি করে। সেই আনন্দ বারবার পাওয়ার আশায় মানুষ অজান্তেই ফোনের দিকে হাত বাড়ায়। ধীরে ধীরে মস্তিষ্ক এতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে এবং বাস্তব জীবনের ছোট আনন্দগুলো আর ততটা আকর্ষণীয় মনে হয় না। ফলে কাজের ফাঁকে, পড়ার সময়, এমনকি পরিবারের সঙ্গে বসেও ফোন স্ক্রলিং চলতেই থাকে। এই অভ্যাস থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ হলো নিজের সমস্যাটি স্বীকার করা। অনেকেই বলেন, ‘আমি তো সময় পেলেই ফোন দেখি’—কিন্তু সময় পাওয়ার বদলে ফোন দেখতেই মূলত সময় তৈরি হয়ে যায়।   দিনে কতক্ষণ মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, কোন অ্যাপে সবচেয়ে বেশি সময় যাচ্ছে এই হিসাব রাখা খুব জরুরি। এজন্য স্ক্রিন টাইম বা ডিজিটাল ওয়েলবিইং ফিচার ব্যবহার করে নিজের অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হওয়া যেতে পারে।   মোবাইল ফোন স্ক্রলিং কমানোর একটি কার্যকর উপায় হলো নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা। সারাদিন এলোমেলোভাবে ফোন ব্যবহারের বদলে ঠিক করে নেওয়া যেতে পারে দিনে কখন সোশ্যাল মিডিয়া দেখবেন, কতক্ষণ দেখবেন।   ঘুমানোর আগে অন্তত এক ঘণ্টা ফোন ব্যবহার না করার অভ্যাস গড়ে তুললে ঘুমের মানও ভালো হয়, মনও শান্ত থাকে।   নোটিফিকেশন নিয়ন্ত্রণ করাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলে বারবার ফোন ধরার প্রবণতা কমে যায়। ফোনকে সব সময় চোখের সামনে না রেখে ব্যাগে বা অন্য ঘরে রেখে কাজ করার চেষ্টা করা যেতে পারে। ছোট এই পরিবর্তনগুলোই বড় প্রভাব ফেলতে পারে।   মোবাইল ফোন স্ক্রলিংয়ের জায়গায় বিকল্প অভ্যাস গড়ে তোলাও জরুরি। অবসর সময়ে বই পড়া, গান শোনা, হাঁটতে বের হওয়া, ডায়েরি লেখা বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলার মতো অভ্যাস মনকে ধীরে ধীরে ফোন থেকে দূরে সরিয়ে আনে। শুরুতে ফোনের প্রতি টান থাকলেও ধীরে ধীরে বাস্তব জীবনের এই কাজগুলোই আনন্দের উৎস হয়ে উঠতে পারে।   সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের সঙ্গে ধৈর্য রাখা। হঠাৎ করে মোবাইল ফোন ব্যবহার একেবারে বন্ধ করা সম্ভব নয়, আবার সেটি প্রয়োজনও নেই। লক্ষ্য হওয়া উচিত নিয়ন্ত্রণ। মোবাইল ফোন যেন আমাদের ব্যবহার করে না, বরং আমরা যেন ফোন ব্যবহার করি—এই বোধ তৈরি করাই আসল মুক্তি।   ফোন স্ক্রলিংয়ের নেশা থেকে মুক্তি মানে প্রযুক্তিকে অস্বীকার করা নয়, বরং সচেতনভাবে ব্যবহার করা। সময়, মনোযোগ ও মানসিক শান্তি—এই তিনটি জিনিস ফেরত পেতেই আমাদের ফোনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলতে হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0