বিশ্ব

ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন পথে মৃত্যুমিছিল; এক বছরেই ঝরে গেল প্রায় ৮ হাজার প্রাণ!

বিশ্বজুড়ে অভিবাসন সংকট কতটা ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, তা প্রকাশ পেল জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল ২০২৬) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৫ সালে উন্নত জীবনের আশায় পাড়ি জমানো অন্তত ৭ হাজার ৯০০ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাঁদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।   আইওএম-এর ‘মিসিং মাইগ্র্যান্টস প্রজেক্ট’-এর তথ্যমতে, ২০১৪ সাল থেকে এখন পর্যন্ত অভিবাসন পথে ৮০ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, এই সংখ্যাটি কেবল নথিভুক্ত ঘটনার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। দুর্গম পথ এবং সমুদ্রে সলিল সমাধির অনেক ঘটনাই অগোচরে থেকে যায় বলে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।   আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি এই মৃত্যুমিছিল রোধে বিশ্বনেতাদের আরও কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। জীবন বাঁচাতে মরিয়া এই মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে সামনের দিনগুলোতে বৈশ্বিক অভিবাসন পরিস্থিতি আরও বড় মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুদ্ধের প্রভাবে এবার দুর্মূল্য হতে যাচ্ছে কনডম!

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অস্থিরতার প্রভাব এবার পড়ছে ব্যক্তিগত সুরক্ষা পণ্যের বাজারে। বিশ্বের বৃহত্তম কনডম প্রস্তুতকারক মালয়েশীয় কোম্পানি ‘কারেক্স’ তাদের পণ্যের দাম ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে প্রতিষ্ঠানটি। কারেক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লোহিত সাগরসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধের কারণে নৌপরিবহন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। জাহাজ চলাচলে দীর্ঘসূত্রতার ফলে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এর ফলে অনেক আমদানিকারক ও বিক্রেতার গুদাম প্রায় শূন্য হয়ে পড়েছে, যা বাজারে এই পণ্যের চাহিদা ও সংকট উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কারেক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল। পরিবহন ও কাঁচামালসহ সবকিছুর ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মুহূর্তে উৎপাদনের বাড়তি খরচ গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ছাড়া আমাদের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই।" উল্লেখ্য, কারেক্স বছরে প্রায় ৫০০ কোটিরও বেশি কনডম উৎপাদন করে। শুধু কনডমই নয়, যুদ্ধের প্রভাবে মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোকেমিক্যাল খাতে অস্থিরতা চলায় চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত গ্লাভস উৎপাদনকারীরাও একই ধরনের সংকটে পড়েছেন। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের এই পণ্যের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বজুড়ে সংকটের মধ্যেও অজেয় চীনের ‘জ্বালানি দুর্গ’?

বর্তমান উত্তাল বিশ্ব রাজনীতিতে জ্বালানি তেলের বাজার যখন টালমাটাল, তখন চীন এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার ফলে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী এবং সরবরাহ ব্যবস্থা হুমকির মুখে, তখন বেইজিং তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার সুফল ভোগ করছে। গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে দেশটি গড়ে তুলেছে এক অজেয় ‘জ্বালানি দুর্গ’। সিএনএন-এর এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক এই চরম সংকটের সময়েও চীন অনেকটা স্বস্তিতে রয়েছে। এর পেছনে রয়েছে তাদের তিনটি প্রধান কৌশল: ১. নবায়নযোগ্য শক্তির বিপ্লব: চীন বর্তমানে সৌর বিদ্যুৎ, বায়ু শক্তি এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে। তাদের শিল্প খাতের একটি বড় অংশ এখন আমদানিকৃত তেলের বদলে নিজস্ব ক্লিন এনার্জির ওপর নির্ভরশীল। ২. বিশাল মজুত ব্যবস্থা: জ্বালানি নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে চীন বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল মজুত করে রেখেছে। এই মজুত দিয়ে তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দীর্ঘ সময় মোকাবিলা করতে সক্ষম। ৩. বৈদ্যুতিক যানবাহনের প্রসার: চীনের রাস্তায় এখন পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্তে বৈদ্যুতিক গাড়ির (EV) জয়জয়কার। ফলে সাধারণ পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের তেলের ওপর নির্ভরতা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির সেন্টার অন গ্লোবাল এনার্জি পলিসির গবেষক এরিকা ডাউনস বলেন, "চীন এই সংকটের সময় পেছন ফিরে তাকিয়ে বলতে পারে যে, তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সঠিক ছিল।" যখন এশিয়ার অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশগুলো জ্বালানি আমদানিতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন চীনের এই স্বনির্ভরতা বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ বদলে দিচ্ছে। বেইজিং প্রমাণ করছে যে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে বাঁচতে জ্বালানি নিরাপত্তার কোনো বিকল্প নেই।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ইতিহাসে প্রথমবার: বিশ্বের শীর্ষ পরিবেশ পুরস্কার ‘গোল্ডম্যান প্রাইজ’ জিতলেন ৬ নারী

পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে অদম্য সাহসিকতার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ‘গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল প্রাইজ’ (Goldman Environmental Prize) ঘোষণা করা হয়েছে। এ বছর বিশ্বের ছয়টি মহাদেশ থেকে মনোনীত হয়ে ইতিহাস গড়েছেন ছয়জন নারী। এই পুরস্কারকে বিশ্বজুড়ে ‘গ্রিন নোবেল’ বা পরিবেশের নোবেল হিসেবে গণ্য করা হয়। সোমবার (২০ এপ্রিল) সান ফ্রান্সিসকোতে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গোল্ডম্যান এনভায়রনমেন্টাল ফাউন্ডেশন। ৩৭ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবার মনোনীত সব বিজয়ীই নারী। বিজয়ীরা প্রত্যেকেই তৃণমূল পর্যায়ে জলবায়ু পরিবর্তন, দূষণ এবং প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষায় অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছেন: ইরো তানশি (নাইজেরিয়া): তিনি বিপন্ন প্রজাতির বাদুড় রক্ষায় নাইজেরিয়ার বনাঞ্চলে দাবানল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয়দের নিয়ে সফল এক আন্দোলন গড়ে তোলেন। বোরিম কিম (দক্ষিণ কোরিয়া): এশিয়ার প্রথম যুব নেতৃত্বাধীন জলবায়ু মামলায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেন তিনি, যা দেশটিকে আরও শক্তিশালী জলবায়ু লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে বাধ্য করে। সারাহ ফিঞ্চ (যুক্তরাজ্য): দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াই শেষে তিনি যুক্তরাজ্যে একটি বড় তেল উত্তোলন প্রকল্প বন্ধ করতে সক্ষম হন। থিওনিলা রোকা মাতবব (পাপুয়া নিউ গিনি): বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ খনি কোম্পানিকে তাদের পরিত্যক্ত বিষাক্ত খনি পরিষ্কার করার চুক্তিতে বাধ্য করেছেন এই নারী নেতা। অ্যালানাহ আকাক হারলি (যুক্তরাষ্ট্র): আলাস্কায় বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম উন্মুক্ত খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে আদিবাসীদের সংগঠিত করে তা রুখে দিয়েছেন। ইউভেলিস মোরালেস ব্লাঙ্কো (কলম্বিয়া): কলম্বিয়ায় পরিবেশবিধ্বংসী ‘ফ্র্যাকিং’ (গ্যাস উত্তোলনের বিশেষ পদ্ধতি) বন্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে ঐতিহাসিক বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। গোল্ডম্যান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জন গোল্ডম্যান বলেন, "এই ছয় নারী প্রমাণ করেছেন যে সাহস এবং দৃঢ় ইচ্ছা থাকলে সাধারণ মানুষও অসাধ্য সাধন করতে পারে। তাদের এই বিজয় বিশ্বব্যাপী পরিবেশ আন্দোলনে নারীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকারই এক অনন্য প্রতিফলন।" ১৯৮৯ সাল থেকে প্রতি বছর তৃণমূল পর্যায়ের এই সংগঠকদের পুরস্কৃত করা হয়, যারা অনেক ক্ষেত্রে নিজেদের জীবন বাজি রেখে প্রকৃতি বাঁচাতে লড়াই করেন। এ বছর ছয়জন নারী বিজয়ীর এই রেকর্ড অর্জন বিশ্বজুড়ে নারী নেতৃত্ব ও পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের জন্য এক নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্প, পুতিন ও নেতানিয়াহুকে ‘শিকারী’ আখ্যা দিল অ্যামনেস্টি

বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক আইনের কার্যকারিতা নিয়ে এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।  ২০২৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে সংস্থাটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর মতো বিশ্বনেতাদের তীব্র সমালোচনা করেছে। অ্যামনেস্টি তাঁদের ‘মানবাধিকারের শিকারী’ (Predators) হিসেবে অভিহিত করে বলেছে, তাঁদের কর্মকাণ্ডের ফলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে। সোমবার প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই শীর্ষ নেতারা আন্তর্জাতিক নিয়ম-নীতি ও বিচার ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন। অ্যামনেস্টির মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, "আমরা এমন এক সময়ে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো মানবাধিকারের সংজ্ঞাকে নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করছে। ট্রাম্প, পুতিন এবং নেতানিয়াহুর মতো নেতারা আন্তর্জাতিক আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিশ্বকে এক অন্ধকার ও অস্থিতিশীল ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।" প্রতিবেদনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের কর্মকাণ্ডকে ‘গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। বিশেষ করে অভিবাসন নীতি, নাগরিক অধিকার খর্ব এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে মার্কিন সমর্থন প্রত্যাহারের সমালোচনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার আগ্রাসন এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর নির্বিচার হামলা ও যুদ্ধাপরাধের বিষয়গুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরম উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রভাবশালী দেশগুলোর ‘শিকারী সুলভ’ আচরণের কারণে বিশ্বের অন্যান্য ছোট দেশগুলোও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাহস পাচ্ছে। যদি এখনই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই ধারা প্রতিহত না করে, তবে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী মানবাধিকার রক্ষা করা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৩ ও ২০২৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নিম্নমুখী প্রবণতা ২০২৬ সালে এসে এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যেখানে বাকস্বাধীনতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং জীবনের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুদ্ধজাহাজে সস্তা 'কাগজের অ্যান্টেনা': ৫জি প্রযুক্তিতে বড় বিপ্লবের পথে চীন

সমুদ্রসীমায় নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে এক অভিনব এবং সাশ্রয়ী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীন। চীনা গবেষকরা সাধারণ ফটোগ্রাফিক পেপার বা ছবির কাগজে তৈরি এক বিশেষ ধরনের ৫জি অ্যান্টেনা তৈরি করেছেন, যা দেশটির যুদ্ধজাহাজগুলোতে বড় আকারের নেটওয়ার্ক আপগ্রেডের পথ প্রশস্ত করছে। দক্ষিণ চীন মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। লিয়াওনিং ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির গবেষক ইয়াং ওয়েনডংয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে, প্রথাগত অ্যান্টেনার তুলনায় এই কাগজের অ্যান্টেনা তৈরিতে খরচ কমবে প্রায় ৯৫ শতাংশ। বর্তমানে যুদ্ধজাহাজগুলোতে উচ্চগতির ৫জি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপন করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং জটিল। কিন্তু এই নতুন 'পেপার অ্যান্টেনা' প্রযুক্তি সেই চিত্র বদলে দিতে পারে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? গবেষকরা ০.৩ মিলিমিটারের চেয়েও পাতলা সাধারণ গ্লসি ফটো পেপারকে সাবস্ট্রেট হিসেবে ব্যবহার করেছেন। এর ওপর তামার কালির (Copper Ink) প্রলেপ দিয়ে একটি কন্ডাক্টিভ লেয়ার বা পরিবাহী স্তর তৈরি করা হয়েছে। এই অ্যান্টেনাগুলো অত্যন্ত নমনীয় এবং ওজনে হালকা। এটি ৫জি মিলিমিটার-ওয়েভ কমিউনিকেশনের জন্য উপযুক্ত এবং যুদ্ধজাহাজের মতো জটিল পরিবেশে নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ নিশ্চিত করতে সক্ষম। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী: প্রথাগত মাইক্রোওয়েভ সাবস্ট্রেটগুলো যেমন দামী, তেমনি সেগুলো পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। কিন্তু কাগজের তৈরি এই অ্যান্টেনাগুলো পচনশীল বা বায়োডিগ্রেডেবল। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সামরিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় 'লাস্ট-মাইল কানেক্টিভিটি' বা প্রান্তিক সংযোগ নিশ্চিত করা অনেক সহজ হবে। বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনী তাদের যুদ্ধজাহাজে আধুনিক ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক স্থাপনের জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করছে। সেখানে চীনের এই 'লো-কস্ট' বা সস্তা মডেলটি বিশ্বজুড়ে সামরিক বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সমুদ্রের মাঝখানে যুদ্ধজাহাজ থেকে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ, রিয়েল-টাইম ডেটা ট্রান্সমিশন এবং কমান্ড অপারেশন আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে আবারও জ্বালানি তেলের দামে বড় উল্লম্ফন

হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ও মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে।   সোমবার (২০ এপ্রিল) এশিয়ার বাজারে লেনদেন শুরুর পরই তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ জব্দের দাবি করার পরই বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়।   এর আগে শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইরান ঘোষণা দেয়, তারা গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য বন্ধ করছে এবং ওই এলাকায় প্রবেশকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এ ঘোষণার পর বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়।   বাজারে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে তেলের দামে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৬৬ মার্কিন ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ৫ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৮৮ দশমিক ৫৫ ডলারে ওঠে।   বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় এ রুটে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলের খ্রীস্টান গ্রাম ডেবেলে ছবিটি তোলা হয় । ছবি: টাইমস অব ইসরায়েল
লেবাননে যিশুর মূর্তি ভাঙার অভিযোগে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ, তদন্তে আইডিএফ

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভাঙার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা যায়, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর এক সদস্য ক্রুশবিদ্ধ যিশুর মূর্তিতে ভারী হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করছেন।   স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ লেবাননের মারোনাইট খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেবেল গ্রামে। সীমান্তবর্তী এই গ্রামটি সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের আওতায় রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মূর্তিটি একটি ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে স্থাপিত ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা।   আইডিএফ প্রথমে ছবিটির সত্যতা যাচাই করে এবং নিশ্চিত করেছে যে এটি প্রকৃত ঘটনা। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “সেনার এই আচরণ আইডিএফের প্রত্যাশিত মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।” উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল অনুসারে জড়িতদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   ঘটনাটি অনলাইনে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। অনেকে এটিকে ধর্মীয় প্রতীকের প্রতি অসম্মান বলে অভিহিত করেছেন। কিছু প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমর্থকরাও এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।   এই ঘটনাকে ইসরায়েল ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থানে ক্রমবর্ধমান আক্রমণের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।  ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ওই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনী সম্পদ ধ্বংস করছে ও লুটপাট করছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন ভিডিও ফুটেজ ও অন্যান্য প্রমাণের সর্বশেষ উদাহারণ এই ছবি, লিখেছে টাইমস অব ইসরায়েল। জেরুজালেমে খ্রীস্টান নেতাদের সঙ্গে ইসরায়েল সরকারের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এই ছবি সামনে এল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
স্থলপথেই ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ চীনের! ড্রোন চার্জ হবে মহাকাশ থেকে আসা অদৃশ্য রশ্মিতে

বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো মনে হলেও বাস্তবে এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চীনের বিজ্ঞানীরা, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোনের ব্যবহার এবং সক্ষমতাকে আমূল বদলে দিতে পারে। সমুদ্রের বিশাল রণতরী বা ‘এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ নয়, বরং এবার তারা তৈরি করেছে ‘ল্যান্ড এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার’ বা স্থলচর যুদ্ধজাহাজ। এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো—এই যানটি উড়ন্ত ড্রোনকে কোনো তার ছাড়াই মাঝ-আকাশে চার্জ করতে সক্ষম! সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনা বিজ্ঞানীরা এমন এক শক্তিশালী ‘মাইক্রোওয়েভ বিম’ বা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গ তৈরি করেছেন, যা দিয়ে মাটিতে থাকা যান থেকে আকাশে উড়তে থাকা ড্রোনে বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। ফলে ড্রোনগুলোকে চার্জ দেওয়ার জন্য আর নিচে নামতে হবে না। তারা দীর্ঘ সময় বা প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকাল ধরে আকাশে উড়তে পারবে। কিভাবে কাজ করবে এই প্রযুক্তি? সাধারণত ড্রোনগুলোর ব্যাটারি শেষ হয়ে গেলে সেগুলোকে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু চীনের এই নতুন সিস্টেমে স্থলভাগের বিশেষ ট্রাক বা বাহন থেকে উচ্চশক্তির মাইক্রোওয়েভ রশ্মি ড্রোনের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। ড্রোনে থাকা বিশেষ রিসিভার সেই রশ্মিকে পুনরায় বিদ্যুতে রূপান্তর করে ব্যাটারি চার্জ করে নেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল ড্রোনের স্থায়িত্বই বাড়াবে না, বরং যুদ্ধক্ষেত্রে নজরদারি এবং দীর্ঘমেয়াদী হামলায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। এর আগে ড্রোনের পাল্লা সীমিত থাকলেও, এই প্রযুক্তির ফলে ড্রোনগুলো শত শত মাইল দূরে থেকেও নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে পারবে। চীনের এই উদ্ভাবন বিশ্বজুড়ে সামরিক বিজ্ঞানীদের নজর কেড়েছে। বিশেষ করে বর্তমান যুগের ‘ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ বা ড্রোন যুদ্ধের কৌশল এই এক উদ্ভাবনের ফলে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মানুষকে ছাড়িয়ে গেল যন্ত্রমানব: বেইজিং হাফ-ম্যারাথনে হিউম্যানয়েড রোবটের বিশ্বরেকর্ড

প্রযুক্তির দৌড়ে এবার রক্ত-মাংসের মানুষকে পেছনে ফেলে দিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যন্ত্র। চীনের বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক হাফ-ম্যারাথন প্রতিযোগিতায় বিশ্বরেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়েছে একটি ‘হিউম্যানয়েড’ বা মানবসদৃশ রোবট। মানুষের গড়া বিশ্বরেকর্ডের চেয়েও দ্রুততম সময়ে ২১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এই চীনা উদ্ভাবন। রোববার বেইজিং ইকোনমিক-টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এরিয়াতে (বেইজিং ই-টাউন) আয়োজিত এই বিশেষ দৌড় প্রতিযোগিতায় চিনা স্মার্টফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘অনার’ (Honor)-এর তৈরি একটি রোবট চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। ২১ কিলোমিটার বা ১৩ মাইলের এই পথ পাড়ি দিতে রোবটটি সময় নিয়েছে মাত্র ৫০ মিনিট ২৬ সেকেন্ড। বর্তমানে হাফ-ম্যারাথনে মানুষের দ্রুততম সময়ের বিশ্বরেকর্ডটি উগান্ডার অ্যাথলেট জ্যাকব কিপ্লিমোর দখলে। ২০২১ সালে লিসবনে তিনি ৫৭ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে এই দূরত্ব অতিক্রম করেছিলেন। বেইজিংয়ের এই রোবটটি কিপ্লিমোর চেয়েও প্রায় ৭ মিনিট কম সময়ে দৌড় শেষ করে প্রযুক্তির অভাবনীয় সক্ষমতা প্রমাণ করেছে। প্রতিযোগিতা শেষে আয়োজকরা জানান, অংশ নেওয়া রোবটগুলোর মধ্যে ৪০ শতাংশ সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিতভাবে (Autonomously) পথ খুঁজে দৌড়েছে, বাকিগুলো রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে। তবে বিজয়ী রোবটটি নিজস্ব নেভিগেশন সিস্টেম ব্যবহার করেই এই সাফল্য পেয়েছে। অবশ্য পুরো প্রতিযোগিতাটি নিখুঁত ছিল না। দৌড় শুরুর লাইনেই একটি রোবট আছড়ে পড়ে এবং অন্য একটি রোবট বেরিয়ারে ধাক্কা খায়। তা সত্ত্বেও গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। উপস্থিত দর্শক সান ঝিগ্যাং বলেন, "গত বছরের তুলনায় এবার রোবটদের বিশাল পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। রোবট মানুষকে ছাড়িয়ে যাবে এটা আগে কখনো কল্পনাও করিনি।" উল্লেখ্য, চীন বর্তমানে রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। ২০২৬-২০৩০ সালের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বেইজিং। লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘অমডিয়া’র মতে, বর্তমানে চীনের এজিবট (AGIBOT) ও ইউনিট্রির (Unitree) মতো প্রতিষ্ঠানগুলো বিশ্ববাজারে হাজার হাজার হিউম্যানয়েড রোবট সরবরাহ করছে, যা এই খাতে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ম্যানিলার একটি গ্যাস স্টেশন। এশিয়ায় আমেরিকার প্রাচীনতম মিত্র ফিলিপাইনে তেলের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় কর্মকর্তারা জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে বাধ্য হন।
এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্যে ফাটল: রাশিয়া-ইরানের দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা

এশিয়ায় দীর্ঘদিনের মিত্রদের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তীব্র জ্বালানি সংকটে পড়েছে এশিয়ার দেশগুলো। নিজেদের অর্থনীতি বাঁচাতে এবং তেলের সরবরাহ নিশ্চিত করতে দক্ষিণ কোরিয়া, ফিলিপাইন ও ভারতের মতো মার্কিন মিত্ররা এখন ওয়াশিংটনের কট্টর প্রতিপক্ষ রাশিয়া ও ইরানের দিকে ঝুঁকছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের অস্পষ্ট পররাষ্ট্রনীতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতার কারণে এশীয় দেশগুলো এখন 'জাতীয় স্বার্থ'কে প্রাধান্য দিচ্ছে। এতদিন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা মেনে যারা রাশিয়া বা ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল, বর্তমান বাস্তবতায় তারা সেই অবস্থান থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। কোন দেশ কী পদক্ষেপ নিচ্ছে? দক্ষিণ কোরিয়া: তীব্র ন্যাপথা ও তেল সংকটে থাকা দেশটি রাশিয়া থেকে পণ্য আমদানির অনুমতি দিয়েছে। দেশটির অর্থনৈতিক উপদেষ্টা পর্ষদ এখন রাশিয়া ও ইরানকে বিকল্প উৎস হিসেবে ব্যবহারের সুপারিশ করছে। ফিলিপাইন: জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশটিতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। পাঁচ বছর পর দেশটি রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেলের প্রথম চালান গ্রহণ করেছে। ভারত: সাত বছরের দীর্ঘ বিরতি শেষে চলতি সপ্তাহে ভারতে পৌঁছেছে ইরানের তেলের ট্যাংকার। লোহিত সাগরের অস্থিরতায় রাশিয়ার তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা আবারও বাড়ছে। ইন্দোনেশিয়া: প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মস্কো সফর করে পুতিনের প্রশংসা করেছেন এবং জ্বালানি আমদানির বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত করছেন। জাপান: ঐতিহাসিকভাবে ইরানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা জাপান এখন মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের পাশাপাশি নিজস্ব জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। পুতিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিশ্বমঞ্চে পুতিনকে কোণঠাসা করার যে চেষ্টা পশ্চিমা বিশ্ব করেছিল, এই জ্বালানি সংকট তা ব্যর্থ করে দিচ্ছে। এশীয় দেশগুলোর কাছে এখন রাশিয়ার তেল কেবল সস্তা নয়, বরং ভৌগোলিকভাবে দ্রুত সরবরাহযোগ্য একমাত্র উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের এশিয়া প্রোগ্রামের ডেপুটি ডিরেক্টর হুয়ং লে থু মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতি অনেক দেশকে মার্কিন বলয় থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে বিকল্প খুঁজতে বাধ্য করছে। ওয়াশিংটনও বৈশ্বিক সংকট এড়াতে বাধ্য হয়ে কিছু ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞার কড়াকড়ি শিথিল করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
সৌদিতে সাঁড়াশি অভিযান: এক সপ্তাহেই ১৪ হাজার অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার

অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে গত এক সপ্তাহে আবাসন, শ্রম এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ১৪ হাজার ৪৮৭ জন অভিবাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, গত ৯ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৭ হাজার ৯১১ জনের বিরুদ্ধে আবাসন আইন লঙ্ঘন, ৩ হাজার ৫৮৮ জনের বিরুদ্ধে সীমান্ত নিরাপত্তা আইন এবং ২ হাজার ৯৮৮ জনের বিরুদ্ধে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে সৌদি আরবে প্রবেশের চেষ্টার সময় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ শতাংশ ইয়েমেনি, ৬১ শতাংশ ইথিওপিয়ান এবং ১ শতাংশ অন্যান্য দেশের নাগরিক। এছাড়া অবৈধ উপায়ে দেশ ত্যাগের চেষ্টাকালে আটক হয়েছেন আরও ৪৩ জন। সৌদি কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে জানিয়েছে, যারা অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেবেন, পরিবহন সুবিধা দেবেন বা কোনোভাবে সহযোগিতা করবেন, তাদের জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে। এই অপরাধে ১৫ বছর পর্যন্ত জেল এবং সর্বোচ্চ ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। বর্তমানে ৩৯ হাজার ২৫৮ জন প্রবাসীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, যাদের মধ্যে ৩৯ হাজার ৪৬০ জন পুরুষ এবং ৩ হাজার ৭৯৮ জন নারী। ইতিমধ্যে ১২ হাজার ৫৫৪ জন অভিবাসীকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
পোপ লিও
মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির ডাক দিলেন পোপ লিও

বিশ্বজুড়ে সংঘাতময় পরিস্থিতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বার্তা নিয়ে আবারও সরব হয়েছেন পোপ লিও। বর্তমানে আফ্রিকা সফররত পোপ আজ অ্যাঙ্গোলায় এক প্রার্থনা সভা শেষে দেওয়া ভাষণে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতাদের প্রতি কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। পোপ লিও বলেন, চলতি সপ্তাহের শুরুতে লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতি বিশ্ববাসীর জন্য একটি "আশার কারণ" হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পদক্ষেপকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, "এটি লেবাননের সাধারণ মানুষ এবং পুরো লেভান্ত (পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল) অঞ্চলের জন্য স্বস্তির এক ঝলক আলোর মতো।" অ্যাঙ্গোলায় বিশাল এক জনসভার শেষে দেওয়া ভাষণে তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "যারা একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য কাজ করছেন, আমি তাদের শান্তি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছি। আমি প্রার্থনা করি যাতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে এই শত্রুতার অবসান ঘটে এবং শান্তি স্থায়ী রূপ পায়।" উল্লেখ্য, দীর্ঘদিনের সংঘাত ও উত্তেজনার পর লেবাননে এই যুদ্ধবিরতি পোপের মতে এই অঞ্চলের অস্থিরতা কমানোর ক্ষেত্রে একটি বড় সুযোগ। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা পোপের এই আহ্বানকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন, যা বিশ্বনেতাদের ওপর নতুন করে কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ । ফাইল ছবি: এপি
হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় নাটকীয় পালাবদল

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে নাটকীয় পালাবদল ঘটেছে। একদিকে প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা, অন্যদিকে অল্প সময়ের মধ্যেই তা আবার বন্ধ—এই পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   গত শুক্রবার ইরান হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলে আন্তর্জাতিক মহলে আশার সঞ্চার হয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, প্রণালি খুলে দেওয়া হলেও জাহাজ চলাচল তেহরান নিয়ন্ত্রণ করবে।   এই ঘোষণার প্রভাব দ্রুতই বিশ্ববাজারে পড়ে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ কমে যায়। তবে পরিস্থিতি বেশিক্ষণ স্থিতিশীল থাকেনি।   এরপর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, কোনো শান্তিচুক্তি না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বহাল থাকবে। এই অবস্থার প্রেক্ষাপটে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালি পুনরায় বন্ধ ঘোষণা করে।   আইআরজিসি জানায়, প্রণালির দিকে অগ্রসর হওয়াকে শত্রুর সঙ্গে সহযোগিতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং নির্দেশ অমান্যকারী জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। পরিস্থিতির উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ওমান উপকূলের কাছে দুটি জাহাজে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে।   এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নামে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের নৌবাহিনী ‘শত্রুদের নতুন করে পরাজয়ের স্বাদ’ দিতে প্রস্তুত।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই টানাপোড়েন মূলত বৃহত্তর কৌশলগত দ্বন্দ্বের অংশ। জাহাজ চলাচল ছাড়াও উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য এখনো গভীর।   এদিকে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, প্রয়োজনে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো নাও হতে পারে। এমনকি পরিস্থিতি খারাপ হলে পুনরায় সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।   অন্যদিকে ইরানও আপসহীন অবস্থানে রয়েছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে আরও আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
২৭০ বিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দাবি: বিশ্বজুড়ে কোথায় কত সম্পদ আটকে আছে ইরানের?

দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলে আসা স্নায়ুযুদ্ধ ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে নিজেদের জব্দ হওয়া সম্পদ ফেরত পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে ইরান। সম্প্রতি পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার আগে তেহরান শুধু তাদের আটকে থাকা অর্থই ফেরত চায়নি, বরং যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য বিশাল অঙ্কের ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত এবং সরকারের মুখপাত্র ফাতিমা মাহাজিরানি জানিয়েছেন, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী ইরানের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২৭০ বিলিয়ন ডলার। রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অবকাঠামোগত ধ্বংসযজ্ঞ এবং শিল্প-কারখানা বন্ধ থাকায় সৃষ্ট আর্থিক লোকসান মিলিয়ে এই অংক করা হয়েছে, যা সময়ের সাথে আরও বাড়তে পারে। কোথায় এবং কীভাবে জব্দ আছে ইরানের সম্পদ? ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে বর্তমান ২০২৬ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে ইরানের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে আছে। এর একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র নিচে দেওয়া হলো:   সময়কাল/উৎস সম্পদের পরিমাণ (আনুমানিক) বর্তমান অবস্থা ১৯৭৯ (জিমি কার্টার আমল) ৮ - ১১ বিলিয়ন ডলার মার্কিন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জব্দ। ২০১৫ (পারমাণবিক চুক্তি) ১০০ বিলিয়ন ডলার (ওবামা) চুক্তির পর আংশিক (২৯-৬০ বিলিয়ন) ব্যবহারের সুযোগ পায়। ২০১৮ (ট্রাম্প আমল) অনির্দিষ্ট চুক্তি থেকে সরে আসায় পুনরায় সম্পদ জব্দ করা হয়। ২০২৩ (কাতার মধ্যস্থতা) ৬ বিলিয়ন ডলার দক্ষিণ কোরিয়া থেকে কাতারের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর, তবে বর্তমানে ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা। ইরানি সংবাদ সংস্থা প্রেস টিভির তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী আদেশের ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলো ইরানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়। এর মধ্যে রয়েছে: সিটি ব্যাংক ও ব্যাংক অফ আমেরিকা, এইচএসবিসি ও স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড, বিএনপি পারিবাস ও ডয়েচে ব্যাংক। এছাড়াও শেল, টোটাল, সিমেন্স এবং বোয়িং-এর মতো বড় বড় কোম্পানিগুলো তাদের প্রকল্প মাঝপথে ছেড়ে চলে যাওয়ায় ইরানের বিশাল পুঁজি আটকা পড়ে আছে। আস্থার সংকট ও বর্তমান পরিস্থিতি ২০২৩ সালে কাতার ৫ ইরানি বন্দির বিনিময়ে যে ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের ব্যবস্থা করেছিল, ২০২৪ সালে ইসরায়েল-ইরান উত্তজনা বৃদ্ধির পর যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সেই অর্থ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সাফ জানিয়েছেন, জব্দ থাকা সম্পদ ফেরত দেওয়া কোনো আলোচনার বিষয় হতে পারে না (Non-negotiable)। এটি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কোনো বড় ধরনের অগ্রগতির আশা করা বৃথা। তেহরানের মতে, আলোচনার টেবিলে বসার আগে ওয়াশিংটনকে তাদের 'আন্তরিকতার পরীক্ষা' দিতে হবে এই অর্থ ফেরত দেওয়ার মাধ্যমে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রোবো-ডাইভিং স্যুট, সমুদ্রের গভীরে দীর্ঘক্ষণ থাকার নতুন প্রযুক্তি চীনের

সমুদ্রের তলদেশে গবেষণা বা জটিল উদ্ধারকাজে ডুবুরিদের জন্য সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো অক্সিজেন। সেই সংকট কাটাতে এবার যুগান্তকারী এক রোবোটিক ডাইভিং স্যুট উদ্ভাবন করেছেন চীনের বিজ্ঞানীরা।  দাবি করা হচ্ছে, এই ‘রোবো-ডাইভিং স্যুট’ ব্যবহার করলে একজন ডুবুরি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ৪০ শতাংশ কম অক্সিজেন খরচ করে দীর্ঘক্ষণ পানির নিচে অবস্থান করতে পারবেন। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এই বিশেষ স্যুটটিতে যুক্ত করা হয়েছে উন্নত মানের অ্যালগরিদম যা ডুবুরির প্রতিটি নড়াচড়া বা মুভমেন্টকে নিখুঁতভাবে অনুসরণ করতে পারে। ফলে ডুবুরিকে সাতার কাটতে বা হাত-পা নাড়াতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় করতে হয় না, যা তার শরীরে অক্সিজেনের চাহিদা কমিয়ে দেয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রযুক্তি শুধু অক্সিজেন সাশ্রয়ই করবে না, বরং গভীর সমুদ্রের প্রতিকূল পরিবেশে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমিয়ে আনবে। পানির নিচে ভারী কোনো যান্ত্রিক কাজ বা উদ্ধার তৎপরতার সময় এই রোবোটিক স্যুট ডুবুরিকে ‘শ্যাডো’ বা ছায়ার মতো সহায়তা করবে। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও ভবিষ্যতে সমুদ্র সম্পদ আহরণ এবং সামরিক ক্ষেত্রে এটি বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ সংকটে জ্বালানি টানাপোড়েন: কোন দেশ কীভাবে সামাল দিচ্ছে

২০২৬ সালের ‘হরমুজ সংকট’ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ কৌশলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে।   সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে রয়েছে জাপান। দেশটি তাদের কৌশলগত তেলের মজুত থেকে ইতোমধ্যে ৪৫ দিনের সরবরাহ ছেড়েছে এবং আরও ২০ দিনের রিজার্ভ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রুটে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।   ভারত তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মধ্যে কর কমানো, এলপিজি রেশনিং এবং বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।   অন্যদিকে পাকিস্তান গুরুতর সংকটে পড়েছে। দেশটির জ্বালানির বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল রেশনিংয়ের পরিকল্পনাও করছে সরকার।   মালয়েশিয়া বিশাল ভর্তুকির চাপ সামলাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং বায়োডিজেল ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে নেপাল ও ভুটান জ্বালানি ও রেমিট্যান্স সংকটে পড়েছে; নাগরিকদের বিকল্প জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে।   তুরস্ক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপে পড়েছে। গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আফ্রিকায় মরক্কো আমদানি নির্ভরতার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ঋণের পরিকল্পনা করছে।   যুক্তরাষ্ট্র বড় উৎপাদক হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং কৌশলগত মজুত কমে এসেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে রপ্তানিতে কর আরোপ করেছে। ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া মজুত থেকে জ্বালানি ছেড়ে এবং কর কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈশ্বিক সংকট থেকে বাংলাদেশ-এর মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম চুক্তি (হেজিং), এবং কৃষিতে জ্বালানি নির্ভরতা কমানো।   বিশ্ব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও
ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বের খবর উড়িয়ে দিলেন পোপ লিও

আফ্রিকা সফররত ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দ্বন্দ্বের বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। সফরকালীন তাঁর কিছু বক্তব্যকে সংবাদমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। অ্যাঙ্গোলা যাওয়ার পথে বিমানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পোপ লিও এই স্পষ্টীকরণ দেন। এর আগে ক্যামেরুন সফরকালে তিনি বলেছিলেন, "মুষ্টিমেয় কিছু স্বৈরাচারী শাসক বিশ্বকে ধ্বংস করছে।" তাঁর এই মন্তব্যটি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ প্রসঙ্গে পোপ বলেন, তাঁর সেই মন্তব্যগুলো মোটেও ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ছিল না। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন সব দিক থেকে সঠিক ছিল না।" মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে সরাসরি কোনো সংঘাতের সম্ভাবনাও তিনি নাকচ করে দেন। সময়ের হিসাব তুলে ধরে পোপ লিও আরও যোগ করেন যে, বিতর্কিত ওই ভাষণটি অন্তত দুই সপ্তাহ আগে তৈরি করা হয়েছিল। অর্থাৎ, পোপের শান্তি প্রচারের বার্তার ওপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করার অনেক আগেই এই বক্তব্য ঠিক করা ছিল। ফলে এটি কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করার জন্য ছিল না। শান্তি, ন্যায়বিচার এবং বিশ্ব অস্থিরতার বিরুদ্ধে বার্তা দিতে বর্তমানে পোপ লিও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশজুড়ে ১০ দিনের এক সফরে রয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজের ত্রাস ইরানের ‘মস্কুইটো ফ্লিট’: কেন এটি এখনও বড় হুমকি?

পারস্য উপসাগরের উপকূলে ইসরায়েল এবং মার্কিন হামলায় ধ্বংসপ্রাপ্ত ইরানি যুদ্ধজাহাজগুলোর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকলেও, সমুদ্রের গভীরে ও পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অপ্রতিরোধ্য বাহিনী। সামরিক বিশেষজ্ঞরা যাকে বলছেন ‘মস্কুইটো ফ্লিট’ বা মশা বাহিনী। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস (আইআরজিসি)-এর এই ছোট, দ্রুতগামী এবং চটপটে নৌবহরটি এখন হরমুজ প্রণালীর নৌ-বাণিজ্যের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইআরজিসি-এর এই নৌবাহিনী মূলত একটি ‘গেরিলা বাহিনী’ হিসেবে সমুদ্রে কাজ করে। যেখানে ইরানের মূল নৌবাহিনী বড় যুদ্ধজাহাজে বিশ্বাসী, সেখানে আইআরজিসি গুরুত্ব দেয় ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ (asymmetrical warfare) বা ‘হিট অ্যান্ড রান’ কৌশলের ওপর। টেনেসির চ্যাটানুগা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সাঈদ গোলকার বলেন, "আইআরজিসি সরাসরি ধ্রুপদী নৌ-যুদ্ধে না গিয়ে অতর্কিত আক্রমণ এবং দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার কৌশলে দক্ষ।" সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক মেরিটাইম এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২০টি জাহাজ আক্রান্ত হয়েছে। যার বেশিরভাগই আইআরজিসি-এর ড্রোন বা ভ্রাম্যমাণ লাঞ্চার থেকে ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানিয়েছেন, ইরানের মূল নৌবাহিনীর প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেলেও, আইআরজিসি-এর এই ছোট নৌযানগুলোর সংখ্যা এখনও শত শত বা হাজারও হতে পারে। এই ‘মশা বাহিনী’র বিশেষত্ব হলো এদের আকার। এগুলো এতই ছোট যে স্যাটেলাইট ইমেজে ধরা পড়ে না। ইরানের পাথুরে উপকূলের গভীর গুহায় বা সুরক্ষিত ঘাঁটিতে এগুলো এমনভাবে লুকিয়ে রাখা হয় যে কয়েক মিনিটের নোটিশে অভিযানে নামতে পারে। এই বোটগুলো ঘণ্টায় ১০০ নটের বেশি (প্রায় ১১৫ মাইল) গতিতে চলতে সক্ষম। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বজায় রাখার ঘোষণা দিয়েছেন, তবুও মার্কিন রণতরীগুলো হরমুজ প্রণালীর সরু পথে টহল দিতে সতর্ক থাকছে। কারণ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ক্ষেত্রে এখানে সতর্ক হওয়ার মতো সময় পাওয়া যায় না। মার্কিন নৌবাহিনীর সাবেক প্রধান অ্যাডমিরাল গ্যারি রুগহেড বলেন, "আইআরজিসি-এর এই বাহিনী সবসময়ই একটি বিঘ্নকারী শক্তি। তারা কখন কী করবে, তা বোঝা দায়।" উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর মূল সেনাবাহিনীর ওপর অনাস্থা থেকেই এই সমান্তরাল বাহিনী গঠন করেছিলেন আয়াতুল্লাহ খোমেনি। ১৯৮৬ সালে গঠিত এই নৌ-শাখাটি এখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্নায়ুযুদ্ধের সম্মুখভাগে অবস্থান করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হজ যাত্রীদের জন্য সৌদি আরবের বিশাল পরিবহন পরিকল্পনা

আসন্ন হজ মৌসুমকে সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে আগত লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ পরিবহন ও লজিস্টিক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে সৌদি আরব। এবারের হজে আকাশ, স্থল, রেলপথ ও সমুদ্রপথে সমন্বিত পরিষেবার মাধ্যমে হজযাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সৌদি পরিবহন ও লজিস্টিক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি হজ মৌসুমে বিমান চলাচলের জন্য ৩১ লাখেরও বেশি আসন বরাদ্দ করা হয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক হজযাত্রীকে আনা-নেওয়ার জন্য ১২ হাজারেরও বেশি নির্ধারিত এবং চার্টার্ড ফ্লাইটের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেদ্দা, মদিনা ও রিয়াদসহ দেশটির ছয়টি প্রধান বিমানবন্দরকে হজের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে ২২ হাজারেরও বেশি অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োজিত থাকবেন। হজযাত্রীদের কষ্ট কমাতে এবার 'ব্যাগেজ-ফ্রি ট্রাভেলার' বা লাগেজমুক্ত ভ্রমণের বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে হজযাত্রীদের মালামাল সরাসরি তাদের আবাসন থেকে বিমানবন্দরে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া জমজমের পানি পরিবহনেও বিশেষ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। অভ্যন্তরীণ যাতায়াতেও নেওয়া হয়েছে অভাবনীয় পদক্ষেপ। পবিত্র মিনা, মুজদালিফা ও আরাফাতের মধ্যে যাতায়াতের জন্য 'মাশায়ের ট্রেন' ২ হাজারের বেশি ট্রিপ দেবে, যার মাধ্যমে ২০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন সম্ভব হবে। এছাড়া মক্কা ও মদিনার মধ্যে সংযোগকারী হারামাইন হাই-স্পিড রেলওয়ে ৫,৩০৮টি ট্রিপের মাধ্যমে ২২ লাখের বেশি যাত্রী সেবার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। সড়কপথের প্রস্তুতি হিসেবে সৌদি কর্তৃপক্ষ ৫ কোটি ৬০ লাখ ঘনমিটার বালু সরিয়ে রাস্তা পরিষ্কার করেছে এবং ১ লাখ ৭৮ হাজার লাইটিং ইউনিট সচল রাখা হয়েছে। এছাড়া ৩৩ হাজার বাস ও ৫ হাজার ট্যাক্সি সার্বক্ষণিক হজযাত্রীদের সেবায় নিয়োজিত থাকবে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট সেফটি সেন্টার চব্বিশ ঘণ্টা কাজ করবে বলে জানানো হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ইরানের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন একগুচ্ছ কঠোর শর্তারোপ করেছে ইরান। এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-শাখার পূর্ব অনুমতি এবং নির্ধারিত টোল বা মাশুল প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, "হরমুজ প্রণালীতে নতুন সামুদ্রিক শাসন ব্যবস্থা (Maritime Regime) মেনে চলার সময় এসেছে।" নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র আইআরজিসি অনুমোদিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবে। ইব্রাহিম আজিজি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজের চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন করা হবে।" একই সুর শোনা গেছে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক সদর দপ্তর থেকেও। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের অবাধ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চেকপয়েন্ট। ইরান এই কৌশলগত অবস্থানকে ব্যবহার করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যেকোনো কূটনৈতিক দরকষাকষিতে এটিকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তেহরান। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকেও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। মূলত মার্কিন অবরোধের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এই পথ দিয়ে ট্রানজিট চার্জ বা টোল আদায়ের কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0