যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দূতাবাস জানায়, পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে আপনার স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ান, তবে আপনার শিক্ষার্থী ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।’ ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্যতা নিয়েও সাবধান করেছে দূতাবাস। বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও চিরতরে হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ছাত্র হিসেবে নিজের বৈধ অবস্থান (স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস) বজায় রাখতে সব সময় ভিসার শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।
ইরানকে ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। দাম বাড়ার ঘোষণার পর প্রথম দিনেই রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা গেছে তেলের জন্য হাহাকার এবং যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেক চালক জ্বালানি না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। আজ রোববার (১৯ এপ্রিল) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি ফিলিং স্টেশনের সামনেই শত শত যানবাহন অপেক্ষায় রয়েছে। কোথাও কোথাও তেলের লাইনের শেষ প্রান্ত আশপাশের অলিগলিতে গিয়ে ঠেকেছে। চালকদের অভিযোগ, ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি। ভোগান্তির শিকার এক প্রাইভেটকার চালক বলেন, "ভেবেছিলাম দাম বাড়লে অন্তত তেল পাওয়া যাবে। কিন্তু সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, পাম্প থেকে বলছে তেল শেষ।" একই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মোটরবাইক চালকরাও। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন উপার্জনে। পাম্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ অত্যন্ত কম। তেল আসার কিছুক্ষণ পরেই মজুত শেষ হয়ে যাচ্ছে, ফলে লাইনে থাকা সবাইকে জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার ভোক্তা পর্যায়ে তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। নতুন দরে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। জনসাধারণের আশঙ্কা, জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে পরিবহন ভাড়া এবং নিত্যপণ্যের দাম আরও আকাশচুম্বী হবে। অন্যদিকে, পাম্প মালিকরা সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের দাবি, এতে তেলের অবৈধ মজুত কমবে এবং বাজারে স্বচ্ছতা ফিরবে। তবে বর্তমান সংকট নিরসনে দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দামে লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই নতুন মূল্য শনিবার (১৯ এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে কার্যকর হবে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১১৫ টাকা, পেট্রল ১৩৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেরোসিনের দাম লিটারপ্রতি ১৩০ টাকা করা হয়েছে। সরকার বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসের শুরুতে আমদানি খরচ ও সরবরাহ সংকট থাকা সত্ত্বেও জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর দামে ডিজেল প্রতি লিটার ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা নির্ধারিত ছিল। এদিকে জাতীয় সংসদে দেওয়া এক বিবৃতিতে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ফেব্রুয়ারির তুলনায় মার্চ মাসে ডিজেলের গড় দাম প্রায় ৯৮ শতাংশ এবং অকটেনের দাম ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে যাচ্ছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে ডিজেলে ভর্তুকির প্রয়োজন হবে ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং অকটেনে ৬৩৬ কোটি টাকা। এছাড়া এলএনজি আমদানিতে পেট্রোবাংলার জন্য একই সময়ে প্রায় ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকার ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার ফলে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারে চাপ বাড়তে পারে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি করবে।
আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। এই নতুন সমন্বয়ের ফলে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই মূল্যবৃদ্ধির তথ্য জানানো হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রোলের দাম ১১৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া প্রতি লিটার ডিজেলের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা (আগে ছিল ১০০ টাকা) এবং কেরোসিন প্রতি লিটার ১৩০ টাকা (আগে ছিল ১১২ টাকা)। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সাথে দেশীয় বাজারকে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই বর্ধিত মূল্য আগামীকাল রোববার থেকে দেশজুড়ে কার্যকর হবে। হঠাৎ করে জ্বালানি তেলের এই মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন খাতসহ নিত্যপণ্যের বাজারে এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত ৯ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে এই চুক্তির ঘোষণা আসে, যা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতিরই একটি অংশ। ২০১৩ সালের ‘টিকফা’ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই নতুন চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার ৬.১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা। চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিক হলো শুল্কায়ন প্রক্রিয়া। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনবে এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তা শূন্য শতাংশ হবে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ মেকানিজম রাখা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের ভিত্তিতে শূন্য শুল্কে পোশাক রপ্তানির সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। বিনিময়ে বাংলাদেশকেও মার্কিন কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা অপসারণের কঠিন শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন মানসম্পন্ন মোটরযান, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি অতিরিক্ত পরীক্ষা ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে। চুক্তিতে কেবল বাণিজ্য নয়, বরং ডিজিটাল অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকারের মতো বিষয়গুলোও যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানির ওপর বৈষম্যমূলক ডিজিটাল কর না বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ কিছু দেশ থেকে পারমাণবিক সরঞ্জাম কেনা এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তি সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার শর্ত রয়েছে। বাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা এবং আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি আমদানির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। চুক্তিতে শ্রম অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় আইএলও মানদণ্ড অনুসরণ এবং ট্রেড ইউনিয়ন আইন সংশোধনের কঠোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো বেশ প্রভাবশালী। শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। আজ প্রকাশ করা হলো এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির প্রথম পর্বের অনুবাদ।
বিগত দুই মাসে বর্তমান সরকারের ওপর দেশের মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপের ওপর জনগণের গভীর বিশ্বাস তৈরি হওয়াকে সরকারের বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন তিনি। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি সরকারের বিগত দুই মাসের উল্লেখযোগ্য সাতটি সাফল্য তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সালেহ শিবলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অতিরিক্ত নিরাপত্তার তোয়াক্কা না করে সাধারণ মানুষের মতো তাদের মাঝে থাকছেন এবং চলাফেরা করছেন। তিনি নির্বাচনের আগে ও দায়িত্ব নেওয়ার পর জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ সেবা ও জনকল্যাণমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন। সরকারের দাবি, গত ৬০ দিনে প্রশাসনের কার্যক্রমে গতিশীলতা এবং জনবান্ধব নীতি গ্রহণের ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। জনগণের বিশ্বাস অর্জনকেই বর্তমান প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে গণ্য করছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। সংবাদ সম্মেলনে প্রেস উইংয়ের সিনিয়র সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন এবং সরকারের আগামী দিনের পরিকল্পনা ও লক্ষ্য নিয়ে আলোকপাত করেন।
বাংলাদেশে সাধারণত চৈত্র থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। আজ শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) সুনামগঞ্জ ও রংপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বজ্রাঘাতে একদিনেই ১২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, ২০২১ সালের আগস্টে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একদিনে ১৭ জনের প্রাণহানি ছিল দেশের ইতিহাসে বজ্রপাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার অন্যতম। বজ্রাঘাতে প্রাণহানি কমাতে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগ কিছু জরুরি নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। বজ্রঝড় সাধারণত ৩০ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হয়; এই সময়টুকু নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা জরুরি। গভীর ও উলম্ব কালো মেঘ দেখা দিলে ঘরের বাইরে বের হওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বিশেষ প্রয়োজনে বের হলে রাবারের জুতা ব্যবহার করা উচিত। খোলা মাঠে থাকাকালীন বজ্রপাত শুরু হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে পায়ের আঙুলের ওপর ভর দিয়ে কানে আঙুল দিয়ে মাথা নিচু করে বসে পড়তে হবে। কোনোভাবেই উঁচু গাছপালা, বৈদ্যুতিক খুঁটি, মোবাইল টাওয়ার বা ধাতব খুঁটির নিচে আশ্রয় নেওয়া যাবে না। বজ্রপাতের সময় ভবন বা কংক্রিটের ছাউনির নিচে অবস্থান করা সবচেয়ে নিরাপদ, তবে ভবনের ছাদে বা উঁচু স্থানে যাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বজ্রপাতের সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস যেমন—মোবাইল, কম্পিউটার, টেলিভিশন ও ফ্রিজের প্লাগ বিচ্ছিন্ন রাখা জরুরি। এছাড়া জলাশয় বা নদী থেকে দূরে থাকতে এবং মাছ ধরার নৌকা নিয়ে গভীর পানিতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। খোলা স্থানে অনেকে একত্রে থাকলে দ্রুত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এবং শিশুদের ঘরের ভেতরে নিরাপদে রাখা জীবন রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান কেন্দ্রিক ক্রমবর্ধমান যুদ্ধ পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে। দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) বর্তমানে ইতিহাসের অন্যতম বড় তেল সংকটের মুখোমুখি। অপরিশোধিত তেল বা ক্রুড অয়েলের অভাবে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত মার্চ ও এপ্রিলের জন্য নির্ধারিত ক্রুড অয়েলের চালানগুলো যথাসময়ে পৌঁছাতে পারেনি। বর্তমানে রিফাইনারির স্টোরেজ ট্যাংকে থাকা জরুরি মজুত বা 'ডেড স্টক' ব্যবহার করে কোনোভাবে দুটি ইউনিট চালু রাখা হয়েছে। বাকি দুটি ইউনিটকে রক্ষণাবেক্ষণের (মেইনটেনেন্স) কথা বলে বন্ধ রাখা হয়েছে। বিপিসি চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ চালানের পর থেকে আর কোনো তেল আসেনি। হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট জটিলতায় মার্চ মাসের প্রায় দুই লাখ টন তেলের চালান আটকে আছে। তবে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে নতুন একটি চালান আসার আশা করছে কর্তৃপক্ষ। রিফাইনারির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসলেও দেশে তেলের সংকট হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)। পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ডিজেল ও অকটেন সরাসরি আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের মতে, এ মাসে আসার কথা থাকা ১৭টি কার্গোর মধ্যে ১৪টি নিয়ে নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবে। ১৯৬৮ সালে নির্মিত এই পুরনো শোধনাগারটি কেবল মধ্যপ্রাচ্যের উচ্চমানের ক্রুড পরিশোধন করতে পারে। এই সীমাবদ্ধতা কাটাতে এবং উৎপাদন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ থেকে ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করতে ৩১ হাজার কোটি টাকার একটি সম্প্রসারণ প্রকল্প অনুমোদন করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশ যে কোনো দেশের সস্তা ক্রুড অয়েল পরিশোধন করতে পারবে, যা জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা এই বিশাল বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। ড. ইজাজ হোসেন ও অধ্যাপক ম তামিমের মতে, বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও ডলার সংকটের সময়ে এত ব্যয়বহুল প্রকল্প কতটা লাভজনক হবে তা দেখার বিষয়। এছাড়া অতিরিক্ত পেট্রোল উৎপাদনের ফলে তা রপ্তানির প্রয়োজন হতে পারে, যার বাজার ধরা চ্যালেঞ্জিং। অন্যদিকে সিপিডির গবেষক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ফসিল ফুয়েলে এত বড় বিনিয়োগ না করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সব বাধা পেরিয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে বিপিসি। মহেশখালীতে এসপিএম টার্মিনাল ও পাইপলাইন নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ায় তেল খালাসের অবকাঠামো এখন প্রস্তুত।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তাকে ঘিরে এনসিপিতে যোগদানের যে গুঞ্জন ছড়ানো হয়েছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। শুক্রবার জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলের বাংলা বিভাগের একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব। তার ভাষায়, এ ধরনের প্রচারণার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি জানান, বিএনপি থেকে বহিষ্কারের পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। তবে বিষয়টিকে তিনি গুরুত্ব দেননি এবং এ নিয়ে কোনো আলোচনায়ও যাননি। রুমিন ফারহানা বলেন, অন্যান্য দলের মতো এনসিপিও তাকে সঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেটিকে গুরুত্ব না দিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এনসিপিতে যোগ দিলে সংসদে কথা বলার সুযোগ বাড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শুধুমাত্র বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের জন্য তিনি কোনো দলে যোগ দেবেন না। তার মতে, নিজের রাজনৈতিক আদর্শ ও অবস্থান বিসর্জন দিয়ে শুধু সংসদে কথা বলার সুযোগ নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়।
আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি বছরও সীমিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছি। অথচ হজের প্রস্তুতি তার আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও আমরা প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমাতে পেরেছি।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি এনে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা সুস্থভাবে ফিরে আসবেন—এই কামনা করি।” অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর প্রথম হজ ফ্লাইট ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব-এর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য (প্রত্যর্পণ) আনুষ্ঠানিক অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখছে ভারত সরকার। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আইনি ও অভ্যন্তরীণ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি উঠছে বাংলাদেশে। আজ (১৭ এপ্রিল, ২০২৬) সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা সমস্ত বিষয়গুলো খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর অধীনেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" তবে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা বা টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী দিল্লি। জয়সওয়াল জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বর্তমান সরকারের সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। একদিকে যেমন আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতার প্রশ্ন। তবে ভারত স্পষ্ট করেছে যে, তারা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে চায়। শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
সরবরাহ সংকটসহ বিভিন্ন অজুহাতে রাজধানীর বাজারে সবজির দাম চড়া। অধিকাংশ সবজি এখনও ৮০ থেকে ১০০ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে। যদিও গত সপ্তাহের তুলনায় দু-একটি সবজির দাম সামান্য কমেছে, তবে সাধারণ ক্রেতাদের নাভিশ্বাস কাটেনি। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর খিলক্ষেত ও কাওরান বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজার দর অনুযায়ী, প্রতি কেজি পটল ৯০-১০০ টাকা, কাঁকরোল ১৫০-১৬০ টাকা, বেগুন ১০০-১৪০ টাকা এবং করলা ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ঝিঙা, ধন্দুল, শসা ও বরবটি কেজি প্রতি ১০০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। কিছুটা স্বস্তি মিলেছে টমেটো ও ঢেঁড়সে (৬০ টাকা কেজি)। তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, একটার দাম কমলে অন্যটার দাম বাড়িয়ে দেন বিক্রেতারা, ফলে মোট খরচের হিসাব মেলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের। এদিকে স্বস্তির খবর মিলেছে মাংসের বাজারে। ৪৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠা সোনালি মুরগির দাম কেজি প্রতি ৩৮০-৪০০ টাকায় নেমে এসেছে। ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০-১৯০ টাকার মধ্যে। ফার্মের ডিমের ডজন মিলছে ১১৫-১২০ টাকায়। তবে গত ঈদুল ফিতরে বেড়ে যাওয়া গরুর মাংসের দাম এখনো কমেনি; প্রতি কেজি ৮০০-৮৫০ টাকা দরেই বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানিয়েছেন, সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সবজির দাম আরও কমতে পারে। তবে আপাতত বাজারের অস্থিরতা কাটাতে তদারকি বাড়ানোর দাবি সাধারণ মানুষের।
চলতি বছরের হজ মৌসুমের প্রথম ফ্লাইট আজ শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) রাত ১২টা ২০ মিনিটে ৪১৯ জন যাত্রী নিয়ে মক্কার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হজ ফ্লাইটের উদ্বোধন করবেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকায় কয়েক স্তরের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আশকোনা হজ ক্যাম্পে আল্লাহর ঘরের মেহমানরা তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। শনিবার (১৮ এপ্রিল) প্রথম দিনে মোট ১৪টি ফ্লাইট ঢাকা ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট সাড়ে ৭৮ হাজার মুসল্লি হজ পালনের জন্য নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন। হজ যাত্রীদের যাতায়াতে এ বছর মোট ২০৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। আগামী ২১ মে সৌদি আরবের উদ্দেশে সর্বশেষ হজ ফ্লাইটটি যাত্রা করবে। হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সুষ্ঠুভাবে হজ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া থেকে পরিশোধিত পেট্রোলিয়াম পণ্য বা তেল আমদানির জন্য বাংলাদেশকে ৬০ দিনের বিশেষ অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ সম্প্রতি এই ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছে বলে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে। ১১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হওয়া এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগে গত ১২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ৩০ দিনের জন্য একটি সাময়িক ছাড় দিয়েছিল। তবে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের মতো বাংলাদেশকেও দীর্ঘমেয়াদী ছাড় দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিল সরকার। এরই প্রেক্ষিতে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতায় এবার ৬০ দিনের অনুমতি মিলল। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়ার নির্দিষ্ট কিছু তেল কোম্পানির তালিকাও দেওয়া হয়েছে, যাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ তেল সংগ্রহ করতে পারবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানিয়েছে, রাশিয়া থেকে এমন ধরনের অপরিশোধিত তেল আমদানির চেষ্টা চলছে যা দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারিতে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব। বর্তমানে এই রিফাইনারি সৌদি আরব ও কুয়েতের তেলের ওপর নির্ভরশীল। রাশিয়ার বিশেষ ধরনের হালকা অপরিশোধিত তেল না পাওয়া গেলে বিকল্প হিসেবে তৃতীয় কোনো দেশে তা শোধন করে আনার পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি ওয়াশিংটনে মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জ্বালানি সহযোগিতা ও বাণিজ্যের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই ছাড়ের ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যশোরের চৌগাছায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুই নেতার পায়ে গুলি করার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আগামী ২০ এপ্রিল এই বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১ এই নির্দেশ দেন। মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০১৬ সালে যশোরের চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনের পায়ে গুলি করা হয়। প্রসিকিউশন পক্ষ জানিয়েছে, গুলি করার পর ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। বালু ঢোকানোর কারণে পায়ে পচন ধরায় পরবর্তীতে চিকিৎসকরা তাদের পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। এই মামলায় যশোরের তৎকালীন পুলিশ সুপার (এসপি) আনিসুর রহমানসহ মোট আটজন আসামি রয়েছেন। তাদের মধ্যে তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও জহরুল হক বর্তমানে গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানির সময় তাদের মক্কেলদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন জানিয়েছেন। মামলার বাকি পাঁচ আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তারা হলেন—সাবেক এসপি আনিসুর রহমান, সাবেক ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল। উভয়পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল তারিখ নির্ধারণ করেন।
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশোধ ও প্রতিহিংসা পরিহার করে জাতীয় ঐক্য ও সহনশীলতার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। এদিন বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৫ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও ৫টি প্রতিষ্ঠানকে দেশের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয় যখন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারটি গ্রহণ করেন তাঁর নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নারী শিক্ষাসহ দেশ গঠনে সার্বিক অবদানের জন্য তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য মেজর মোহাম্মদ আবদুল জলিল, সাহিত্যে ড. আশরাফ সিদ্দিকী এবং সমাজসেবায় ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ মোট ৭ জনকে মরণোত্তর সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “প্রতিশোধ বা অযথা বিতর্ক নয়, জাতীয় ঐক্যই এখন সময়ের দাবি।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও জনদুর্ভোগ কমাতে সরকার শত শত কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে দাম স্থিতিশীল রাখছে। অনুষ্ঠানে একেএম হানিফ (হানিফ সংকেত), জোবেরা রহমান লিনু, ড. জহুরুল করিমসহ গুণীজনরা প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পদক গ্রহণ করেন। এছাড়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রসহ ৫টি প্রতিষ্ঠানকেও এ বছর পুরস্কৃত করা হয়।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) অধীনে অনুষ্ঠিতব্য প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা আপাতত স্থগিত করেছে হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে আইনজীবী হুমায়ুন কবির বুলবুল শুনানি করেন। পরে তিনি জানান, আগামী শনিবার (১৮ এপ্রিল) নির্ধারিত এই নিয়োগ পরীক্ষা দুই মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে এনটিআরসিএর ২৫ মার্চ প্রকাশিত সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির কার্যকারিতাও একই সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি প্রতিষ্ঠানের মোট ১৩ হাজার ৫৫৯টি পদে প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের জন্য আবেদন আহ্বান করা হয়। সেখানে প্রার্থীদের ১০ থেকে ১৫ বছরের অভিজ্ঞতার শর্ত উল্লেখ ছিল। রিটকারীদের অভিযোগ, আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর কিছুদিন পরই জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালায় পরিবর্তন আনা হয়। নতুন নীতিমালায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে ১৮ বছর করা হলে অনেক আবেদনকারী অযোগ্য হয়ে পড়েন। পরে ২৫ মার্চ আগের বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে নতুন করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। এই সংশোধিত বিজ্ঞপ্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দেশের বিভিন্ন এলাকার ১১৪ জন প্রার্থী হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত শুধু পরীক্ষা স্থগিতই করেননি, বরং সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না—সে বিষয়ে চার সপ্তাহের রুল জারি করেছেন। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এনটিআরসিএসহ সংশ্লিষ্টদের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’। ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের ‘টাইম ১০০’ তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। তালিকায় তারেক রহমানের পাশাপাশি বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রোফাইলে টাইম ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে, মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। সাময়িকীটি আরও উল্লেখ করে, নির্বাচনে জয়ের মাত্র পাঁচ দিন আগেই তার মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পরলোকগমন করেন। শোকাতুর অবস্থায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে মুদ্রাস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন মোকাবিলা করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে টাইম। বিএনপি চেয়ারপারসন থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই অভাবনীয় রাজনৈতিক উত্থান এবং বৈশ্বিক প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে ‘পেপাল’ (PayPal)-এর কার্যক্রম শুরু করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জানান, হাই-টেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর আধুনিকায়ন এবং পেপালের কার্যক্রম দ্রুত চালু করতে ইতিমধ্যেই একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ফ্রিল্যান্সার, ই-কমার্স উদ্যোক্তা এবং আইটি খাতের পেশাজীবীদের সহজ ও দ্রুত আন্তর্জাতিক লেনদেন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পেপালের সিঙ্গাপুরভিত্তিক দক্ষিণ এশিয়া টিমের সঙ্গে বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার এই সেবাটি বাস্তবে রূপ দিতে কাজ শুরু করেছে। উল্লেখ্য, বিগত সরকারগুলোর সময় একাধিকবার পেপাল আসার গুঞ্জন শোনা গেলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। তবে এবার প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং সংসদে কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়ায় আইটি খাতে ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্ন তালিকা—গেজেট, লাল মুক্তিবার্তা এবং ভারতীয় তালিকা—থেকে মোট ৬ হাজার ৪৭৬ জনের নাম বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেন-এর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী জানান, প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা নিশ্চিত করতে যাচাই-বাছাই একটি চলমান প্রক্রিয়া। যেসব অভিযোগ নির্দিষ্টভাবে পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অতীতে অনেকেই ভুল বা ভুয়া তথ্য দিয়ে ভারতের তালিকায় নিজেদের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন। বর্তমানে এসব তথ্য পুনরায় যাচাই করে অমুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত অমুক্তিযোদ্ধা সংক্রান্ত মোট ৮৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে বিস্তারিত তদন্ত শেষে ৪৮১ জনের নাম বাতিলের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর জামুকার একটি উপকমিটি তদন্ত ও শুনানি পরিচালনা করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি অমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে প্রমাণিত হলে তার সনদসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা বাতিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দেশের যেকোনো স্থান থেকে অভিযোগ আসুক না কেন, একই প্রক্রিয়ায় তা যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা সম্পূর্ণ স্বচ্ছ না হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে শ্রমবাজারে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় বিকল্প গন্তব্য খুঁজছে সরকার—এ কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে এক লিখিত জবাবে তিনি বলেন, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন শ্রমবাজার খোঁজার জন্য সরকার ইতোমধ্যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। প্রধানমন্ত্রী জানান, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের কয়েকটি দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সার্বিয়া, গ্রীস, উত্তর মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল এবং রাশিয়া উল্লেখযোগ্য। এসব দেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং উচ্চপর্যায়ের সফরের মাধ্যমেও সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে সম্ভাব্য শ্রমবাজার যাচাই এবং পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে স্থানীয় বিশেষজ্ঞ বা লবিস্ট নিয়োগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালু করতে কাজ চলছে এবং থাইল্যান্ডের সঙ্গে নতুন করে কর্মী নিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের চাহিদা বাড়ায় সেখানে জনবল পাঠানোর প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। জাপানি ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হয়েছে এবং দেশের ৫৩টি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভাষা শিক্ষা চালু রয়েছে। পাশাপাশি রুশ, আরবি, জার্মান ও ইতালীয় ভাষার প্রশিক্ষণ কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হচ্ছে এবং ইতোমধ্যে কয়েকজন প্রশিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews