গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক গণমিছিল কর্মসূচিতে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় মেনে না নিলে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে যে আন্দোলন গড়ে তুলবে, তা সরকারের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনবে না। এই কর্মসূচি থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়াও জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি তোলা হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার চোখ রাঙিয়ে এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিকেলে বিজয়নগরে সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাকরাইল হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং সরকারের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষা এবং নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রাজপথে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত জেলা আমির সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ক্ষুণ্ণ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে প্রতারণা করেছে। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনে ব্যাপক ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী ও সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যেও নির্বাচনের কারচুপির প্রমাণ স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধন করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চাইছে এবং সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করছে। এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ রক্ষায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অতীতের চেয়েও ভয়ংকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার অভিযোগ তুলে বলেন, সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রতি সত্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "বক্তব্যের আংশিক বা ‘কাটপিস’ প্রচার না করে হয় পুরোটা প্রকাশ করুন, নতুবা কিছুই প্রকাশ করবেন না।" পরিশেষে, সংসদ ও রাজপথে জনগণের এজেন্ডা নিয়ে জামায়াত সরব থাকবে এবং দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তার নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬' পাসের আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। শফিকুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, স্বাধীনতার পরপরই বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করে তা ধূলিসাৎ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং আজকের পার্লামেন্ট সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।” মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “বিলে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিকৃত চিন্তা থেকে আসা একটি বিষয়, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সামান্য পরিবর্তনসহ বজায় রেখেছে। অথচ স্বাধীনতার পর কোনো শাসক কিংবা জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়া—কেউই এমন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেননি।” তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে পলিটিক্যাল পার্টিজ রিভাইভাল অ্যাক্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মতো জামায়াতও পুনর্জন্ম লাভ করেছিল। জাতিকে আর বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যেন একটি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি, সব দলের কাছে এটাই হোক আগামীর অঙ্গীকার।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করেই দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, তাই দিল্লির প্রেসক্রিপশনে দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি না করে ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এক উপ-নির্বাচনী গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছিলেন, কিন্তু এখন সেই পাঁচ কোটি ভোটারের ম্যান্ডেট অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আদেশ বাতিল করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।” তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলেন, বিএনপিও সব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি তাদের নিজেদের দেওয়া ‘৩১ দফা’র সঙ্গেই প্রতারণা করছে। তারা মুখে সংবিধান সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসে এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার চাটুকারদের ভিসি নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ঋণখেলাপিকে গভর্নর বানিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা আসন্ন উপ-নির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান এবং ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার অনুরোধ করেন। বিকেলে শহরের শহীদ খোকন পার্কেও জামায়াতের আরেকটি বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের চলমান জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমনে কোনো স্বস্তি নেই উল্লেখ করে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলগুলো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনা এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং জনগণের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বর্তমান আচরণে ‘ফ্যাসিবাদের সংক্রমণ’ দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ‘ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আফজাল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মসিউল আলম, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আব্দুর জব্বারসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় সংসদে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার শুরুতে নিজেকে ‘শহীদ পরিবারের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আপনি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর বিক্রম। আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, আমাদের পরিবারের কয়েকজনের রক্ত দিয়ে তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। শফিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, "বিপুল প্রত্যাশার জায়গায় দাঁড়িয়ে আজ আমাদের বলতে হচ্ছে যে, স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।" রাজনৈতিক মহলে ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এর আগে বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা অর্থাৎ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এবারই প্রথমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি উত্থাপন করলেন। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদানদের ত্যাগের সঙ্গে নিজেদের পরিবারের সম্পৃক্ততার এই দাবি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতীয় সংসদকে যদি ইনসাফ বা ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালনা করা যায়, তবেই সারাদেশে পূর্ণাঙ্গ ইনসাফ কায়েম করা সম্ভব হবে। আজ রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে নবনির্বাচিত ডেপুটি স্পিকারকে আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "আপনি ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ায় আপনাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি। আজ আপনার বক্তব্যে যে মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে, বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ঠিক সেটাই প্রত্যাশা করে। আমরা চাই, এই সংসদই হোক দেশের সকল কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু।" ডেপুটি স্পিকারের পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, এই চেয়ারটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতীক। আপনি ইনসাফের যে বার্তা দিয়েছেন, তা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আমরা আশা করি, আপনি প্রতিটি বিষয় নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করবেন এবং সংসদীয় কার্যক্রমে প্রত্যেকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবেন। বিরোধীদলীয় নেতা ডেপুটি স্পিকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, দায়িত্ব পালনকালে সংসদীয় রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে ‘ধোঁকাবাজি’ চলতে থাকলে পরিণতি ভালো হবে না। ডা. শফিকুর রহমান সরকারের যাতায়াতের অতিরিক্ত ভাড়া ফেরতের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ঢাকা ছেড়ে যাওয়া লাখ লাখ মানুষকে খুঁজে বের করে টাকা ফেরত দেওয়া বাস্তবে খুব কঠিন। নির্বাচনে অনিয়ম থাকলেও দেশের অচল অবস্থা এড়াতে তা মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার যদি সঠিক পথে না আসে, তবে দেশের মানুষ এবং ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ক্ষমা করবে না। বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনের ব্যবহার নিয়ে তিনি জানান, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি সেখানে থাকবেন না। ভবনটি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কাজে ও বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্যবহৃত হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারে থেকে চাঁদাবাজি করার প্রয়োজন নেই এবং জনগণের ওপর জুলুম চলবে না। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জনহিতকর পদক্ষেপে জামায়াতে ইসলামী সমর্থন দেবে, কিন্তু জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হলে তা রাজপথে প্রতিহত করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৫ আসনের ভোটের ফলাফল নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন আইনি লড়াই। এই আসনের নির্বাচনের ফলাফল চ্যালেঞ্জ করে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও দাড়িপাল্লা প্রার্থী মিয়া গোলাম পরওয়ারের করা আবেদন শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই আসনের ব্যবহৃত ব্যালট পেপারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশ প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এই আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আলী আসগর। গোলাম পরওয়ারের এই আইনি পদক্ষেপের ফলে আসনটির নির্বাচনী স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশের ৪৯ ধারা অনুযায়ী নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টে বিশেষ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বিচারপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বাধীন এই বেঞ্চেই বর্তমানে গোলাম পরওয়ারসহ আরও ২৫ জনের বেশি প্রার্থীর দায়ের করা আবেদনের শুনানি চলছে। আদালত এসব আসনের ভোটগ্রহণ পরবর্তী যেকোনো জালিয়াতি বা পরিবর্তন রোধে সরঞ্জামাদি সংরক্ষণের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন। ২০০১ সালের সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল এই আবেদনগুলোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করবে। ফলে খুলনা-৫ আসনের চূড়ান্ত বিজয় নিয়ে এখন আদালতের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (১ মার্চ) রাতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান। তবে ওই বিবৃতিতে ইসরায়েলের নাম উল্লেখ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা হামলাকে তিনি অকার্যকর ও পরিস্থিতি আরও অবনতির কারণ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং এসব কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। বিবৃতিতে তিনি বলেন, “ইরানে সাম্প্রতিক সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ সংঘাতের ভয়ংকর বিস্তারকে নির্দেশ করছে, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে তোলার আশঙ্কা তৈরি করেছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টকারী যেকোনো হামলার আমরা দ্ব্যর্থহীন নিন্দা জানাই।” তিনি আরও বলেন, “অঞ্চলে ইসরায়েলের অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ড আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক ভ্রাতৃপ্রতিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাও অকার্যকর এবং পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সংঘাতের বিস্তার নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা গভীরতর করবে।” ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে রাষ্ট্রপ্রধান ও জাতীয় নেতাদের হত্যার প্রবণতা ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে, যা আমাদের গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির স্থাপন করে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।” তিনি আরও বলেন, “মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ ও বিশ্ববাসী আরেকটি ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ চায় না। তারা শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রত্যাশা করে। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে পুরো অঞ্চল আরও বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে পড়বে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।” বিবৃতির শেষাংশে জামায়াত আমির সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ এবং সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত ও সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করে তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এই সংকটময় সময়ে রক্তপাত বন্ধ ও আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে ঐক্য, প্রজ্ঞা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপরও তিনি জোর দেন।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে প্রথমবার সিলেট সফরে এসে সরকারি প্রটোকলের গাড়ি ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সিলেটই তার নিজ শহর। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় তাকে আনতে জেলা প্রশাসনের একটি সরকারি প্রটোকল গাড়ি ও একজন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন। তবে অপেক্ষমাণ সরকারি গাড়িটি দেখে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “এটা কি সরকারি গাড়ি? আমি ১২ তারিখের পরে চড়ব। আপনারা এসেছেন, আমি কৃতজ্ঞ। তবে আমি ক্ষমতার প্রদর্শন করতে চাই না। ইনশাআল্লাহ, সংসদ অধিবেশন শুরু হলে তখন ব্যবহার করব।” এরপর তিনি প্রটোকলের গাড়ি ফিরিয়ে দেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে সিলেটে দিনটি ছিল তার ব্যস্ততায় ভরা। তিনি মোট তিনটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন। জুমার নামাজের আগে একটি কমিউনিটি সেন্টারে সিলেট জেলা জামায়াত আয়োজিত ‘শুরা ও কর্মপরিষদ সদস্য শিক্ষা শিবির’-এর সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। পরে নগরীর কুদরতউল্লাহ মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করেন এবং নামাজ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নতুন মন্ত্রিসভা সম্পর্কে তিনি বলেন, “সরকারি দলের কিছু মন্ত্রীর দায়িত্বজ্ঞানহীন ও কাঁচা কথাবার্তা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশ কীভাবে ভালো পথে এগোবে?” রাষ্ট্রপতির অভিশংসন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাই না। বড় পরিসরে আলোচনা হয়নি। দেশের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সব দিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” বিকেলে তিনি সুবিদ বাজারে সিলেট প্রেসক্লাব আয়োজিত ইফতার মাহফিলে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন। সেখানে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও উপস্থিত ছিলেন। এরপর সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিটে প্রেসক্লাব থেকে রওনা হয়ে আমান উল্লাহ কনভেনশন সেন্টারে সিলেট মহানগর জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন এবং ইফতার করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি বলেছেন, সরকারি দল ও বিরোধী দল একে অপরের শত্রু নয়, বরং পরস্পরের সহায়ক। দেশের উন্নয়নে সরকার কোনো ভুল করলে বিরোধী দল তা তুলে ধরবে, আর সরকার সেই ভুল সংশোধন করবে—এভাবেই গণতন্ত্র আরও সুসংহত হবে। তিনি বলেন, দেশের স্থিতিশীলতা না থাকলে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়, যা আমরা কেউই কামনা করি না। শুক্রবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘দি ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, বাংলাদেশ (এফইএবি)’ ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত ‘রমজানের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, প্রকৌশলীরা দেশের মেধাবী জনগোষ্ঠীর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা যদি সততা ও আল্লাহভীতির সঙ্গে কাজ করেন, তবে ঘুষ ও দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসবে। দেশ গঠনে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন। ফোরামের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহসভাপতি প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান শাহিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. মু. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি, এফইএবির কেন্দ্রীয় সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, আইইবির ভাইস প্রেসিডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার শেখ আল আমিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভাপতির বক্তব্যে প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, দি ফোরাম অব ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস, বাংলাদেশ প্রকৌশলীদের দক্ষ ও সৎ হিসেবে গড়ে তুলতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যাতে তারা জাতির কল্যাণে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কুষ্টিয়ায় সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে কোনো অপশক্তির কাছে তিনি মাথা নত করবেন না। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি। এ সময় তিনি বলেন, "মেডিকেল কলেজ ও সদর হাসপাতালের অনিয়ম নিয়ে আমার কাছে লিখিত অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জিজ্ঞাসা করলে তারা ভুলের জন্য ক্ষমা চান এবং দায় ওপরের মহলের দিকে ঠেলে দেন। আমি তাদের পরিষ্কার বলেছি, কুষ্টিয়ায় এখন ওপরওয়ালা কেউ নেই; কুষ্টিয়ায় ওপরওয়ালা এখন আমি।" অনিয়মের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থানের কথা জানিয়ে আমির হামজা আরও বলেন, "হাসপাতালের ভেতরে কিছু 'কালো হাত' সক্রিয় রয়েছে বলে আমি খবর পেয়েছি। যদি কেউ দুর্নীতির চেষ্টা করে বা অবৈধ সুবিধা চায়, তবে সরাসরি আমার কথা বলবেন। কুষ্টিয়ায় কার এত ক্ষমতা যে অন্যায় করবে, তা আমি দেখে নেব।" তিনি আরও জানান, সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৪-৫টি প্রতিষ্ঠানে তিনি সরজমিন পরিদর্শন করবেন। বিশেষ করে সিভিল সার্জনের কার্যালয় নিয়ে তার বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। উক্ত সভায় জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন, মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল ডাক্তার শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ জামায়তে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর মনিপুর উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে অভিযোগ করেন, বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট না নিয়ে, বরং নানা কৌশল ও ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “স্বাধীনতার ৫৪ বছরে মানুষ অনেক পালাবদল দেখলেও ইসলামি আদর্শের সরকার দেখেনি। এবার যুবসমাজসহ দেশের ৬৯ শতাংশ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিলেও ডিজিটাল কারচুপি ও কায়দা করে ফলাফল পাল্টে দেওয়া হয়েছে।” তিনি নির্বাচনী পরিবেশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার মতে, অনেক কেন্দ্রে বিদ্যুৎ বন্ধ করে ভোটের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে এবং জামায়াতের এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে ‘সব ঘাটে শক্ত পাহারা’ দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। কয়েকটি আসনের মধ্যেই সংসদে যোগ দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, জনগণের ভোটের ন্যূনতম মর্যাদা রক্ষা করতে তারা সংসদে যাচ্ছেন। সেখানে নিজের স্বার্থ নয়, বরং জনগণের অধিকার আদায়ে কাজ করবেন। সরকারের কিছু সিদ্ধান্তের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও প্লট না নেওয়ার প্রস্তাব সরকার অনুসরণ করেছে এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের মরদেহ সরকারি খরচে আনার সিদ্ধান্তও স্বাগত জানান। মিরপুর-কাফরুল এলাকার ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি ঘোষণা করেন, “রমজানে কোনো চাঁদাবাজি সহ্য করা হবে না। কেউ চাঁদা চাইলে আমাদের জানান, আমরা সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।” পাশাপাশি তিনি ভবিষ্যতে দায়িত্ব পেলে মাসে একদিন সরাসরি জনগণের সঙ্গে মিলিত হয়ে সমালোচনা গ্রহণের প্রতিশ্রুতিও দেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, জনগণের অর্থে পরিচালিত পুলিশ বাহিনীর প্রধান কাজ হলো নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা বা দমন-পীড়ন চালানো নয়। আজ মঙ্গলবার তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে তিনি পুলিশের বর্তমান ভূমিকা ও আগামীর রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে এক শক্তিশালী বার্তা প্রদান করেন। বিবৃতিতে ডা. শফিকুর রহমান ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়কালকে দেশের জন্য একটি দীর্ঘ 'দুঃসময়' হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সেই সময়ে একদল অসৎ ও দলদাস পুলিশ কর্মকর্তা ফ্যাসিবাদী শক্তিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে নির্লজ্জ ভূমিকা রেখেছিল। যার চড়া মাসুল হিসেবে ২০২৪ সালে আমরা পুলিশের নৈতিক ভিত্তি ধসে পড়া এবং সাধারণ মানুষের তীব্র ক্ষোভ প্রত্যক্ষ করেছি। সম্প্রতি ছাত্র, সাংবাদিক এবং শ্রমজীবী মানুষের ওপর পুলিশের আক্রমণের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “নিরীহ নাগরিকদের ওপর এই হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মূলত সেই পুরনো ফ্যাসিবাদী দমন-পীড়ন সংস্কৃতিরই পুনরাবৃত্তি। আমি এহেন ন্যাক্কারজনক কর্মকাণ্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” তিনি প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, রাষ্ট্রীয় কোনো শক্তিই সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। যারা পুলিশ বাহিনীকে নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চাইবে কিংবা বলপ্রয়োগের সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ও গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। পরিশেষে তিনি এক নতুন ও মানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ার আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করে বলেন, “আইনের শাসন মানে কেবল শক্তির আস্ফালন নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। পুলিশ বাহিনীকে প্রকৃত অর্থে জনবান্ধব হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের ভরসার স্থল, ভয়ের নয়।”
রাজধানীতে একটি ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথে হঠাৎ শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় কাফরুল পশ্চিম থানার আয়োজিত আলোচনা সভা ও ইফতার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল। তিনি নির্ধারিত সময়ে রওনা দিয়েও যাত্রাপথে হঠাৎ বমি করেন এবং শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এই আকস্মিক অসুস্থতার কারণে তিনি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত থাকতে পারেননি। ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান অতিথি হিসেবে রওনা হওয়া সত্ত্বেও অনাকাঙ্ক্ষিত অসুস্থতার কারণে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। তিনি সকলের কাছে জামায়াত আমিরের দ্রুত আরোগ্য কামনা করার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার পর এবার সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে নিজেদের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে দলটি এবার ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক সংরক্ষিত নারী আসন পেতে যাচ্ছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে জিতার নিরিখে জামায়াত ৫০টি সংরক্ষিত আসনের মধ্যে ১২টি আসন পেতে পারে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী যদি সংরক্ষিত আসন সংখ্যা বাড়িয়ে ১০০ করা হয়, তবে জামায়াতের নারী এমপির সংখ্যা দাঁড়াবে ২৪-এ। এই ঐতিহাসিক সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অভিজ্ঞ সাংগঠনিক নেতৃত্বের পাশাপাশি সংসদ কাঁপাতে পারেন এমন দক্ষ পেশাজীবীদের খুঁজছে দলটি। সম্ভাব্য তালিকায় আলোচনায় যারা: জামায়াতের মহিলা বিভাগ ও নীতিনির্ধারণী সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সংরক্ষিত আসনের দৌড়ে বেশ কিছু পরিচিত ও প্রভাবশালী মুখ আলোচনায় রয়েছেন। তাদের মধ্যে আছেন: দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের স্ত্রী ও সাবেক সংসদ সদস্য ডা. আমেনা বেগম। নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের স্ত্রী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট। জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুন্নিসা সিদ্দিকা। প্রখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সাবিকুন্নাহার মুন্নী। কেন্দ্রীয় নেত্রী নাজমুন্নাহার নীলু, সাঈদা রুম্মান এবং ফাতেমা আক্তার হ্যাপি। পেশাজীবী ও নতুন চমক: দলীয় নেতৃত্বের বাইরেও এবার দক্ষ ও উচ্চশিক্ষিত পেশাজীবীদের সংসদে পাঠানোর কথা ভাবছে জামায়াত। এক্ষেত্রে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মারদিয়া মমতাজ, সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সভাপতি ডা. শামীমা তাসনিম এবং ঢাকা-১০ আসনের আলোচিত নেতা অ্যাডভোকেট জসীমউদ্দিন সরকারের স্ত্রী ড. ফেরদৌস আরা খানম বকুলের নাম জোরালোভাবে শোনা যাচ্ছে। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম জানান, মহিলা বিভাগ থেকে প্রস্তাবিত নামগুলো দলের সংসদীয় বোর্ডে যাচাই-বাছাই করা হবে। মূলত সাংগঠনিক দক্ষতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দেশজুড়ে সুষম প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই এই তালিকা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে জামায়াত মাত্র ২টি এবং ২০০১ সালে ৪টি সংরক্ষিত আসন পেয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবারই প্রথম তারা সংসদে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি এত বড় নারী প্রতিনিধিত্ব পেতে যাচ্ছে। ১১ দলীয় জোটের শরিক দলগুলোর মধ্য থেকেও কাউকে এই কোটায় মূল্যায়ন করা হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে।
পবিত্র রমজান মাসের ধর্মীয় আবহের পাশাপাশি রাজনীতির মাঠেও নতুন বারতা দিলেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতি আমির হামজা। তিনি বলেন, "আজকে অনেকের মাথায় টুপি দেখে মনে হচ্ছে তারা ইবাদত করছেন। আমরা চাই এই পবিত্র পরিবেশ যেন বছরের বাকি ১১ মাসও বজায় থাকে। শুধু রমজান এসেছে বলেই মাথায় টুপি তুলবেন না; আপনাদের এই সুন্দর চেহারা, সুরত এবং কর্ম আমরা সারা বছর দেখতে চাই।" শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাঁর পর্যবেক্ষণে মুফতি আমির হামজা বলেন, "নির্বাচনে পরিকল্পনা, ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেকানিজম যাই থাকুক না কেন, শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।" এ সময় তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, "সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব। আপনারা যে তথ্যগুলো জাতির সামনে তুলে ধরেন, সেই কাজটাও যে এক ধরণের ইবাদত—তা আমাদের অনেকেই অনুধাবন করি না।" তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, "আগামীতে আপনাদের কাছে প্রত্যাশা থাকবে আপনারা স্বচ্ছতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন। কোনো ব্যক্তি বা বিশেষ গোষ্ঠীর দিকে ঝুঁকে না পড়ে ন্যায়কে ন্যায় এবং অন্যায়কে অন্যায় বলার সৎ সাহস প্রদর্শন করবেন।" কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সূজা উদ্দিন জোয়ার্দারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য অধ্যক্ষ (অব.) খন্দকার এ.কে.এম. আলী মুহসিন। শহর জামায়াতের আমির এনামুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী এবং বিপুল সংখ্যক গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন। মুফতি আমির হামজার এই বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক ইতিবাচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে সাংবাদিকতাকে ‘ইবাদত’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া এবং ধর্মীয় রীতিনীতি সারা বছর পালনের আহ্বান সচেতন মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসন থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা আগামীর সংসদীয় রাজনীতিতে এক আপসহীন ও তদারকিমূলক ভূমিকার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, সংসদের সংখ্যাগুরু সদস্যদের প্রতিটি পদক্ষেপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং কোনো অনিয়ম দেখা দিলে রাজপথ ও সংসদে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া শহরতলীর ত্রিমোহনী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জুমার খুতবার আগে স্থানীয় মুসল্লিদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আমির হামজা সংসদের গাণিতিক সমীকরণ তুলে ধরে বলেন, "চরমোনাইয়ের একজনসহ আমরা বর্তমানে ৭৮ জন আছি, আর শেরপুরের ফলাফল বাকি আছে—সব মিলিয়ে ৭৯ জন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষে আছেন ২১১ জন। আমি এই পবিত্র মসজিদের মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলছি, আমরা এই ৭৯ জন মিলে ১০০ ভাগ চেষ্টা করব ওই ২১১ জনকে তীরের মতো সোজা করে রাখতে। যদি তাঁরা জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ করেন, তবে আমরা তাঁদের শক্তভাবে চেপে ধরব—তা সে সংসদের ভেতরেই হোক আর বাইরেই হোক।" রাজনীতিতে ন্যায়বিচারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "আমাদের কাছে দল-মত বা ধর্ম-অধর্মের কোনো ভেদাভেদ নেই। মানুষ হিসেবে প্রত্যেকের অধিকার সমান। আমার নিজের দলের লোক অপরাধ করলেও যা বিচার হবে, অন্য দলের লোকের ক্ষেত্রেও তাই। চাঁদাবাজি আমার দলের লোক করলে অসুবিধা নেই আর অন্য দল করলেই অপরাধ—এমন নীতিতে আমি বিশ্বাস করি না। অপরাধীর একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী।" নির্বাচন পরবর্তী সময়ে সব ভোটারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমি কেবল আমাকে ভোট দেওয়া ১ লাখ ৮৩ হাজার মানুষের এমপি নই; আমি এই আসনের সাড়ে ৪ লাখ ভোটারের সবার প্রতিনিধি। আপনারা সবাই আমার আপন ভাই-বোনের মতো। আগামী পাঁচ বছর যেন সততা ও নিষ্ঠার সাথে এই দায়িত্ব পালন করতে পারি, সেজন্য আপনাদের দোয়া চাই।" মুফতি আমির হামজার এই জ্বালাময়ী বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সাধারণ মানুষ তাঁর এই ‘ওয়াচডগ’ বা পাহারাদারের ভূমিকাকে নতুন বাংলাদেশের সুস্থ রাজনীতির পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে বুক পেতে দিতে হয়। সেই একই প্রেরণা থেকে চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতা রাজপথে রক্ত দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করেছে। এখন সময় এসেছে সব ভেদাভেদ ভুলে ৫২ ও জুলাইয়ের রক্তস্নাত চেতনায় একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “১৯৫২ সালের সেই বীর সন্তানদের আত্মত্যাগ আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। তাঁদের সেই ত্যাগের পথ ধরেই আমাদের তরুণ প্রজন্ম চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। আমাদের সন্তানদের দেখা সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এখন এক টেবিলে আসতে হবে। আমরা এমন এক রাষ্ট্র চাই যেখানে রাজনৈতিক নিপীড়ন থাকবে না, থাকবে কেবল ন্যায়বিচার ও সুশাসন।” সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বশীল অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, “জনগণ আমাদের ওপর যে পবিত্র আমানত ও দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা পালনে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। একটি গঠনমূলক বিরোধী দল হিসেবে আমরা সংসদে ও রাজপথে সবসময় জনগণের অধিকারের কথা বলব। সরকারের প্রতিটি জনকল্যাণমূলক কাজকে আমরা স্বাগত জানাব, তবে জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে আমরা রাজপথে কঠিন প্রতিরোধ গড়ে তুলব।” মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় তিনি বলেন, “বাংলা ভাষাকে কেবল ফেব্রুয়ারির আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না, একে জীবনের সর্বস্তরে পৌঁছে দিতে হবে। আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষাকে ধারণ করেই বিশ্বমঞ্চে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে।” এ সময় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এবং ১১ দলীয় জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তাঁরা ভাষা শহীদ ও জুলাই বিপ্লবের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
আগামী তিন বছরের (২০২৬-২০২৮) জন্য নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলের আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার এক ভার্চুয়াল বৈঠকে এই কমিটি গঠন ও শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। নতুন এই কাঠামোতে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারকে পুনরায় সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। শীর্ষ নেতৃত্বে যারা: ঘোষিত নতুন কমিটিতে ৪ জন নায়েবে আমির এবং ৭ জন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম (এমপি), অধ্যাপক মুজিবুর রহমান (এমপি), ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের (এমপি) ও মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে রয়েছেন মাওলানা এটিএম মাছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান (এমপি), ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান ও অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। শক্তিশালী নির্বাহী পরিষদ ও নারী প্রতিনিধিত্ব: ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বড় একটি অংশ স্থান পেয়েছেন। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদে ২১ জন এবং ৫৯ সদস্যের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় ১৭ জন নারী সদস্য রয়েছেন। সাংগঠনিক কাঠামোতে নারীর এই ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণকে দলের ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। ১৪টি সাংগঠনিক অঞ্চল ও নির্বাচন কমিশন: সারাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে পৃথক পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরে মিয়া গোলাম পরওয়ার, চট্টগ্রামে মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং সিলেটে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতো দক্ষ নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মাওলানা এটিএম মাছুমের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনও গঠন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকা এই নতুন কমিটির মূল লক্ষ্য হবে মাঠপর্যায়ে সংগঠনকে পুনর্গঠন করা এবং আসন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৌশলগত প্রস্তুতি সুসংহত করা। জাতীয় রাজনীতিতে শক্তিশালী বিরোধী দলের ভূমিকা পালনের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় এই কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews