জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে একাধিক রাজনৈতিক ও ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মী যোগ দিতে যাচ্ছেন। আজ রোববার বেলা দেড়টায় রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক নেতা-কর্মী আজ এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন। এনসিপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আপ বাংলাদেশের প্রধান উদ্যোক্তা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত আজ এনসিপিতে যোগ দেবেন। পাশাপাশি এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সানী আবদুল হকও যোগ দিচ্ছেন। এছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ, মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলাম, দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, লিগ্যাল সেলের সম্পাদক মাহফুজ, কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক এস এম সুইটসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরাও এনসিপি ও এর সহযোগী সংগঠনে যুক্ত হচ্ছেন। দলীয় সূত্র জানায়, রিফাত রশিদ জাতীয় যুবশক্তি, হাসিব আল ইসলাম জাতীয় ছাত্রশক্তি এবং শাহাদাত হোসেন ও এস এম সুইট এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে যোগ দিচ্ছেন। এ বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন বলেন, “এনসিপি একটি বড় রাজনৈতিক দল হতে চায়। যারা বাংলাদেশপন্থা ও সংস্কারের পক্ষে, তাদের জন্য আমাদের দরজা খোলা রয়েছে।” জানা গেছে, ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ (আপ বাংলাদেশ) থেকে আলী আহসান জুনায়েদ ও রাফে সালমান রিফাত এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন। তারা পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি ছিলেন এবং জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। আপ বাংলাদেশ গঠনের পর রাজনৈতিকভাবে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না থাকায় এবং সাম্প্রতিক ভাঙনের পর তাদের এই সিদ্ধান্ত আসে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। এদিকে বিএনপির সাবেক নেতা ইসহাক সরকারও ভবিষ্যতে এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আলোচনা চললেও আজ তিনি যোগ দিচ্ছেন না। আজকের এই যোগদানকে কেন্দ্র করে এনসিপির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন দলটির নেতারা।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমার প্রেক্ষাপটে দেশে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে ‘দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। শফিকুর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম নিম্নমুখী থাকলেও বাংলাদেশে দর সমন্বয়ের নামে আগামীকাল থেকে মূল্য বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যা জনস্বার্থের পরিপন্থী। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয়ে সাধারণ মানুষ এমনিতেই চাপে রয়েছে। এর মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে তা মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়াবে। তার ভাষায়, এই মূল্যবৃদ্ধি হবে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’। তিনি সরকারের প্রতি জনগণের ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান। অর্থনীতিবিদদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে পরিবহন খরচসহ নিত্যপণ্যের বাজারেও এর প্রভাব পড়ে, যা সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়িয়ে দেয়।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক গণমিছিল কর্মসূচিতে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় মেনে না নিলে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে যে আন্দোলন গড়ে তুলবে, তা সরকারের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনবে না। এই কর্মসূচি থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়াও জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি তোলা হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার চোখ রাঙিয়ে এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিকেলে বিজয়নগরে সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাকরাইল হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং সরকারের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
দীর্ঘ ১০ বছর পর চলতি বছরই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও কাউন্সিলের আগে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন সম্পন্ন করবে দলটি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই কাউন্সিলের পর রাজনীতি থেকে অবসরে যাওয়ার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি বর্তমানে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত বোধ করছেন। তিনি বলেন, “আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে এবং আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।” তার এই ঘোষণার পর আসন্ন কাউন্সিলে মহাসচিব পদে নতুন মুখ আসার বিষয়টি নিশ্চিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে মির্জা ফখরুল বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দলের কাউন্সিল আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। মির্জা ফখরুল ১৯৬০-এর দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেছিলেন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হিসেবেও তিনি সফলভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে কাউন্সিলের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চললেও এখনো সুনির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। কাউন্সিলের মাধ্যমেই বিএনপির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষা এবং নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রাজপথে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত জেলা আমির সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ক্ষুণ্ণ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে প্রতারণা করেছে। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনে ব্যাপক ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী ও সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যেও নির্বাচনের কারচুপির প্রমাণ স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধন করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চাইছে এবং সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করছে। এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ রক্ষায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অতীতের চেয়েও ভয়ংকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার অভিযোগ তুলে বলেন, সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রতি সত্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "বক্তব্যের আংশিক বা ‘কাটপিস’ প্রচার না করে হয় পুরোটা প্রকাশ করুন, নতুবা কিছুই প্রকাশ করবেন না।" পরিশেষে, সংসদ ও রাজপথে জনগণের এজেন্ডা নিয়ে জামায়াত সরব থাকবে এবং দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান।
বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে অপমান করার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইডিবি) মিলনায়তনে ১১ দলীয় জোটের এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, "বর্তমান সরকারের কাঁধে শেখ হাসিনার ভূত চেপেছে।" ‘গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার: সংকটের মুখোমুখি দেশ’ শীর্ষক এই সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মামুনুল হক তাঁর বক্তব্যে বলেন, শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল জনগণকে নিয়ে উপহাস ও অপমানের ইতিহাস। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বর্তমান সরকারও কেন জনগণের মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে তাদের ‘মূর্খ’ সাব্যস্ত করার মাস্টার সেজে বসেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করে মামুনুল হক বলেন, "সংসদে দাঁড়িয়ে গোটা দেশের জনগণকে মাস্টার সেজে সংবিধান শেখানোর চেষ্টা করবেন না। দাম্ভিকতার একটা সীমা থাকা উচিত।" তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, জনগণকে অপমান করার এই প্রবণতা শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদেরই পুনরাবৃত্তি, যা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
'জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল, ২০২৬' সংশোধিত আকারে পাশের প্রতিবাদে সংসদ অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেছে প্রধান বিরোধী দল। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সংসদ সদস্যরা কক্ষ ত্যাগ করেন। ওয়াকআউটের আগে বিরোধী দলীয় নেতা সরকারি দলের বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের এবং স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষতা হারানোর অভিযোগ তোলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিশেষ কমিটির বৈঠকের সমঝোতা লঙ্ঘন করে বিলটি পাশ করা হয়েছে। তিনি অত্যন্ত দুঃখের সাথে এই ওয়াকআউটের ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, 'জুলাই স্মৃতি জাদুঘর বিল' পাশের প্রেক্ষাপটে সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে দীর্ঘ বিতর্ক চলে। প্রবল আপত্তি সত্ত্বেও বিলটি পাশ হওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা। এই নিয়ে চলতি অধিবেশনে এটি চতুর্থবারের মতো ওয়াকআউটের ঘটনা। এর আগে গতকালও 'গণবিরোধী' বিল পাশের অভিযোগে তারা সংসদ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন।
শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের উপ-নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাতে শেরপুর জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন নির্বাচনের এই ফলাফল নিশ্চিত করেন। ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে মাহমুদুল হক রুবেল পেয়েছেন ১ লাখ ৬৬ হাজার ১১৭ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলহাজ মাসুদুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক) পেয়েছেন ৪৭ হাজার ৯১ ভোট। রুবেল তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১ লাখ ১৪ হাজার ৫৬৬ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কাঁচি প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান পেয়েছেন ৪৮০ ভোট। এই আসনে মোট ৫২ দশমিক ১৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনে ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ চলে। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, কিছু বিচ্ছিন্ন স্থানে জাল ভোটের অভিযোগ পাওয়া গেলেও পুলিশ দ্রুত জড়িতদের আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সার্বিকভাবে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং ভোটারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তার নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬' পাসের আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। শফিকুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, স্বাধীনতার পরপরই বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করে তা ধূলিসাৎ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং আজকের পার্লামেন্ট সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।” মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “বিলে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিকৃত চিন্তা থেকে আসা একটি বিষয়, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সামান্য পরিবর্তনসহ বজায় রেখেছে। অথচ স্বাধীনতার পর কোনো শাসক কিংবা জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়া—কেউই এমন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেননি।” তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে পলিটিক্যাল পার্টিজ রিভাইভাল অ্যাক্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মতো জামায়াতও পুনর্জন্ম লাভ করেছিল। জাতিকে আর বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যেন একটি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি, সব দলের কাছে এটাই হোক আগামীর অঙ্গীকার।”
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি বর্তমানে ‘আরেকটা আওয়ামী লীগ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। হান্নান মাসুদ বলেন, “এই বিলের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের পিঠে ছুরিকাঘাত করা হচ্ছে। এটি বিএনপির নিজস্ব ৩১ দফারও পরিপন্থী। সেখানে স্পষ্ট ছিল নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণ করা হবে না, কিন্তু আজ বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে মেয়র-কাউন্সিলরদের গলার কাঁটা বানানো হচ্ছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই আইনের মাধ্যমে নির্বাচিতদের সরিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সন্তানদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর পাঁয়তারা চলছে। বগুড়া ও শেরপুর নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ যেভাবে চুরি করে হজম করতে পেরেছিল, বিএনপি তা পারবে না। দয়া করে আওয়ামী লীগের দেখানো পথে হাঁটবেন না।” বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলেরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। হান্নান মাসুদের বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করলেও তিনি বিলটিকে গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি ‘কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি পাস হলে স্থানীয় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হবে বলে সতর্ক করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না দেওয়ায় বিএনপিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দশম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই ব্যতিক্রমী প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। রুমিন ফারহানা বলেন, দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ফলেই তিনি বুঝতে পেরেছেন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত কত লাখ মানুষের ভালোবাসা ও দোয়া তার সঙ্গে ছিল। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রুমিন ফারহানা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, "দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাকে পরম স্নেহে রাজনীতিতে এনেছিলেন। এই সংসদে তার অনুপস্থিতি যে অপূর্ণতা তৈরি করেছে, তা কোনোদিন পূরণ হওয়ার নয়।" বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং প্রতিকূলতার মাঝে পাশে থাকা নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা আক্ষেপ প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে প্রায় সব কাজই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে করতে হয়। বিএনপি তাদের ‘ভিশন ২০৩০’ এবং ‘৩১ দফা’য় এই ক্ষমতার ভারসাম্যের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রেখেছিল। তিনি আশা করেছিলেন, এবার রাষ্ট্রপতি মন্ত্রিসভার অনুমোদিত ভাষণের বাইরে নিজের মতো করে বক্তব্য দিতে পারবেন, কিন্তু বাস্তবে তা ঘটেনি। নির্বাচনি লড়াইয়ের স্মৃতিচারণ করে এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য বলেন, অসংখ্য নেতাকর্মী বহিষ্কারের ভয় উপেক্ষা করে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি মনে করেন, কেবল দলীয় গণ্ডির মধ্যে থেকে নির্বাচন করলে দেশজুড়ে মানুষের এই অকৃত্রিম ভালোবাসা অনুধাবন করার সৌভাগ্য তার হতো না। ১৭ বছরের রাজনৈতিক লড়াই ও পরবর্তী পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তার এই বক্তব্য সংসদীয় অধিবেশনে বিশেষ গুরুত্ব লাভ করে।
দুই শব্দের একটি সংক্ষিপ্ত ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরবঙ্গের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘অনলাইন ক্যাপ্টেন’ লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। সংক্ষিপ্ত হলেও পোস্টটি ঘিরে নানা ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকেই মনে করছেন, এটি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দেওয়া একটি কটাক্ষ। এদিন জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় বক্তব্য দেন বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ‘ক্যাপ্টেন’ হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস লন্ডনে গিয়ে ‘ট্রফি’ দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, মীর শাহে আলমের এই বক্তব্যকে ঘিরেই পরোক্ষভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে ‘অনলাইন ক্যাপটেইন’ মন্তব্যটি করেছেন সারজিস আলম। যদিও এ বিষয়ে তার পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংক্ষিপ্ত এই পোস্টটি ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনের চলমান উত্তাপকে আরও উসকে দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পাদিত ‘রেসিপ্রোক্যাল ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট’ বাতিলের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। সংগঠনটির নেতারা এই চুক্তিকে বৈষম্যমূলক ও জাতীয় স্বার্থবিরোধী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। একই সঙ্গে চুক্তির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের অপসারণের দাবিও তুলেছেন তারা। সোমবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলে এসব দাবি জানানো হয়। বক্তারা বলেন, চুক্তিটি দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যিক স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বর্তমান সরকারের কাছে এ বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাতেও আহ্বান জানান তারা। সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ)-এর সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তিতে সাধারণত দুই দেশের মধ্যে সমতা বজায় থাকে। তবে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে সেই ভারসাম্য অনুপস্থিত। তার দাবি, জাতীয় নির্বাচনের ঠিক আগে গোপনে তড়িঘড়ি করে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে, যা স্বচ্ছতার প্রশ্ন তোলে। তিনি আরও বলেন, চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬ হাজারের বেশি পণ্যে শুল্ক ছাড় দিতে হবে, বিপরীতে বাংলাদেশ পাবে তুলনামূলকভাবে কম পণ্যে সুবিধা। এতে করে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ শুল্ক রাজস্ব হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শুল্কহার কিছুটা কমানো হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তারা অভিযোগ করেন, এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে পণ্য আমদানির সুযোগ সীমিত হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে গম, তুলা, জ্বালানি ও শিল্পখাতে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য যুক্তরাষ্ট্র থেকে তুলনামূলক বেশি দামে কিনতে হতে পারে। সমাবেশে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একাধিক উড়োজাহাজ কেনার চুক্তিও এই প্রক্রিয়ার অংশ। দীর্ঘমেয়াদি কিস্তিতে এই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে মত দেন বক্তারা। তারা উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া বড় অঙ্কের রাষ্ট্রীয় চুক্তি সম্পাদন নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। সমাবেশে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাসদ এবং অন্যান্য বামপন্থী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা চুক্তিটি পুনর্বিবেচনা এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করেই দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, তাই দিল্লির প্রেসক্রিপশনে দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি না করে ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এক উপ-নির্বাচনী গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছিলেন, কিন্তু এখন সেই পাঁচ কোটি ভোটারের ম্যান্ডেট অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আদেশ বাতিল করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।” তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলেন, বিএনপিও সব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি তাদের নিজেদের দেওয়া ‘৩১ দফা’র সঙ্গেই প্রতারণা করছে। তারা মুখে সংবিধান সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসে এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার চাটুকারদের ভিসি নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ঋণখেলাপিকে গভর্নর বানিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা আসন্ন উপ-নির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান এবং ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার অনুরোধ করেন। বিকেলে শহরের শহীদ খোকন পার্কেও জামায়াতের আরেকটি বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইডেন মহিলা কলেজ শাখার সাবেক সভাপতি তামান্না জেসমিন রিভার বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। একইসঙ্গে আদালত তার জামিন বিষয়ে রুল জারি করেছেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তফাদার। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগে তামান্না জেসমিন রিভাকে আটক করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এর আগে জুলাই মাসের ছাত্র আন্দোলনের সময় ক্যাম্পাস ছেড়ে তিনি আত্মগোপনে চলে গিয়েছিলেন এবং দীর্ঘ সময় তাকে জনসম্মুখে দেখা যায়নি। অবশেষে ১৬ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। রিভার বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। আজকের এই জামিন আদেশের ফলে একটি মামলায় তিনি সাময়িক মুক্তি পেলেও অন্যান্য মামলার জটিলতায় তার কারামুক্তি ঝুলে থাকতে পারে বলে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। হাইকোর্টের এই রুল জারির মাধ্যমে রিভার জামিন কেন স্থায়ী করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। পরবর্তী শুনানিতে মামলার বিস্তারিত তথ্য ও আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। ইডেন কলেজের আলোচিত এই নেত্রীর জামিন পাওয়ার খবরটি রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকছে, এর প্রভাব কেমন হবে , বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে যে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল সেটি সংশোধিত আকারে সংসদে পাশের জন্য সুপারিশ করেছে বর্তমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ কর্তৃক গঠিত বিশেষ কমিটি। বিশ্লেষকদের মতে, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অধ্যাদেশটি সংসদে আইন আকারে পাশ হলে এরপর আওয়ামী লীগের যেকোনো কার্যক্রম শুধু নিষিদ্ধই নয়, বরং দলটির সব নেতাকর্মীদেরও বিচারের আওতায় আনা যাবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, অধ্যাদেশটি কিছু সংশোধনীসহ পাশের সুপারিশ করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করেননি। প্রশ্ন উঠছে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ কিংবা রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম আইন করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করে চিহ্নিত করার পদক্ষেপ দেশের রাজনীতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে বা আদৌ কোনো প্রভাব ফেলবে কি-না। বিশ্লেষকরা বলছেন, আইন করে একটি দলকে নিষিদ্ধ করার পরিবর্তে অপরাধ থাকলে আদালতে বিচার কিংবা ভোটের মাধ্যমে জনগণকে দলটিকে প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ দিলে এ নিয়ে প্রতিহিংসার অভিযোগ ওঠার সুযোগ থাকতো না। তাদের মতে, সরকার ও সমমনা দলগুলা এখনো আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন কিন্তু দল নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্যতা পাবার ইতিহাস রাজনৈতিক অঙ্গনে নেই। আওয়ামী লীগে ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত এক বিবৃতিতে বলেছেন, "বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে"। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দায় বিএনপির ওপর বর্তাবে কি-না এমন এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি ও সরকারের একটি সূত্র অবশ্য বলছে, 'আইনটি পরে সংশোধনের সুযোগ থাকবে'।প্রসঙ্গত, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বিএনপি বলেছিল নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। যদিও দলটির নেতারা আবার কেউ কেউ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কথাও বলেছিলেন বিভিন্ন সভা সমাবেশে। আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের সরকারি সিদ্ধান্তে আনন্দ প্রকাশ করে ২০২৫ সালের ১১ই মে বিবৃতি দিয়েছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।সংশোধনে কী পরিবর্তন আসছেঅন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১২ই মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সব সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল। এ বিষয়ে তখন জারি করা প্রজ্ঞাপনের শেষাংশে তখন বলা হয়েছিল, ".... সরকার যুক্তিসংগতভাবে মনে করে সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ধারা-১৮(১) এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দলটি এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা সমীচীন;সেহেতু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারকার্য সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সকল অঙ্গসংগঠন, সহযোগী সংগঠন ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন কর্তৃক যে কোনো ধরনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে কোনো ধরনের প্রচারণা, মিছিল, সভা-সমাবেশ, সম্মেলন আয়োজনসহ যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো"। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রজ্ঞাপনে কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য কোনো শাস্তির ব্যবস্থা ছিল না। এবার নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সংসদের প্রথম দিনেই নিয়মানুযায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ বসার পর ৩০ দিনের মধ্যে অনুমোদন না পেলে অধ্যাদেশগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আগামী ১০ই এপ্রিলের মধ্যে যেসব অধ্যাদেশ আইন আকারে সংসদে পাস না হবে সেগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে তামাদি বা বাতিল হয়ে যাবে। এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে উত্থাপনের পর অধ্যাদেশগুলোকে যাচাই বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে সংসদ। সেই কমিটিই তাদের রিপোর্টে পনেরটি অধ্যাদেশকে সংশোধিত আকারে সংসদে বিল উত্থাপনের জন্য সুপারিশ করেছে। এর একটিই হলো সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫, যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সংসদের বিশেষ কমিটির একটি সূত্র বলছে যে, কমিটিতে সরকারের পক্ষ থেকে এমন একটি মতামত এসেছিল: "কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তা নিষেধ অমান্য করলে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বা কী শাস্তি হবে তার উল্লেখ নেই। কার্যক্রম-নিষিদ্ধ সত্তার কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সাজা অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। সংশোধিত আকারে সংসদে পাশ করা যেতে পারে"। এখন সংসদ কমিটির রিপোর্টে অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে বিল হিসেবে উত্থাপনের সুপারিশ করা হলেও কী সংশোধন করা হবে রিপোর্টে তার উল্লেখ করা হয়নি। তবে সরকারের সূত্রগুলো বলছে, সন্ত্রাস বিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের জন্য যেসব সাজার ব্যবস্থা রয়েছে সেটিই আওয়ামী লীগের জন্য প্রযোজ্য হতে যাচ্ছে। এটি সত্যি হলে, দলটির ব্যানারে যে কোনো ধরনের কার্যক্রমের জন্যই দলটির যে কোনো নেতাকর্মীকে শাস্তির আওতায় আনা যাবে। রাজনীতিতে কেমন প্রভাব হবে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পক্ষ নেয় আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া তখনকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। তাদের বেশিরভাগই এখন এনসিপির সঙ্গে যুক্ত। তাদের দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার ওই বছরেরই নভেম্বরে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করেছিল। এরপর সাবেক প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ বিদেশে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালের মে মাসে তারা আওয়ামী লীগকেও নিষিদ্ধ করার দাবি তুললে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এর আগে ক্ষমতা হারানোর আগে আওয়ামী লীগ সরকার জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্র শিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করলেও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ সংসদে অনুমোদন না করালে এটি আপনা আপনি বাতিল হয়ে যেত এবং আওয়ামী লীগের স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতো। কিন্তু অধ্যাদেশটি সংশোধিত আকারে পাশ করানোর পর আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ পাবে না। তাদের মতে, কেউ কোনো অপরাধ করলে তার বিচার হতে পারে কিন্তু সেটি করা এবং অপরাধের শাস্তি দেওয়ার এখতিয়ার আদালতের। একই সাথে আদালতের রায়ের ভিত্তিতে সরকারও ব্যবস্থা নিতে পারে। "এখানে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তো কোনো মামলা হয়নি। কিংবা আদালত তো আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি। এখন এটি দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার যে একটি দলকে রাষ্ট্র নিষিদ্ধ করবে নাকি জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করার সুযোগ পাবে। ভোটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যাত হলে প্রতিহিংসার সুযোগ উঠতো না," বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ। মি. আহমদ বলেন, "আওয়ামী লীগ একাত্তরেও নিষিদ্ধ হয়েছিল। এখন মামলা হলে আদালত রায় দিত। কিন্তু সরকার সে পথেও যাচ্ছে না। জনগণ ভোট না দিলে দলটি ব্রাত্য হয়ে পড়তো। কিন্তু সরকার ও সমমনা দলগুলো এখনো আওয়ামী লীগকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবে নিষিদ্ধ করে রাখতে চাইছে বলেই এটিকে প্রতিহিংসা মনে হতে পারে"। আরেকজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরীন বলছেন যে, রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা ঐতিহাসিকভাবেই কখনো কারও জন্য সুফল বয়ে আনেনি, বরং যারা করেছে তাদের ঐতিহাসিক দায় নিতে হয়েছে। "এদেশে আওয়ামী লীগের অনেক ভোটার ও সমর্থক আছে। মানুষ দলটিকে গ্রহণ করবে কি-না সেটি যাচাই করার সুযোগ অন্তর্বর্তী সরকার নষ্ট করেছে। কোনো অর্থেই রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বন্ধ করা বা দল নিষিদ্ধ করা কাউকে সাময়িক তৃপ্তি কিংবা প্রতিহিংসা মেটানোর স্বাদ দিতে পারে কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে দেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এটি মোটেও ভালো পদক্ষেপ নয়," বিবিসি বাংলাকে বলেছেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে দলটির কর্মকান্ড নিষিদ্ধের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল ছবির ক্যাপশান,অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধের কারণগুলো উল্লেখ করা হয়েছিল রোববার আওয়ামী লীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতায় দলটির মুখপাত্র মোহাম্মদ আলী আরাফাত বলেছেন, "এর মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পূর্ণ দায় নিতে হবে এবং ভবিষ্যতে এর ফলে যে পরিণতি হবে, তা বিএনপিকেই ভোগ করতে হবে"। তার বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, "ভুলে গেলে চলবে না যে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে এবং সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের মধ্যে যে ব্যাপক সমর্থন রয়েছে, তা অত্যন্ত শক্তিশালী। মনে রাখবেন, জনমত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং এই পরিবর্তন ইতোমধ্যেই আরও তীব্র হতে শুরু করেছে। এই বাস্তবতায় আওয়ামী লীগ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার সুরক্ষার জন্য সংগ্রাম করার উচ্চতর নৈতিক অবস্থান অর্জন করবে। দেশকে স্বৈরাচারের কবল থেকে রক্ষা করার জন্য আওয়ামী লীগ দেশের জনগণকে সাথে নিয়েই লড়াই করবে"। তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা
সরকার গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম সংসদের প্রধান বিরোধী দল রাজপথে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করল। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সোয়া পাঁচটায় কর্মসূচি শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার ও ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার পরিণাম শুভ হবে না। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমাবেশে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর বিএনপি জনগণের রায়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করাকে যদি বৈধ বলা হয়, তবে সেই একই জনগণের ভোটে হওয়া সংস্কারকে কেন অবৈধ বলা হচ্ছে—এমন দ্বিচারিতা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তিনি সরকারের এই অবস্থানকে স্ববিরোধী বলে উল্লেখ করেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তার বক্তব্যে বলেন, গণভোটকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে বিএনপি পুরো জাতিকে অপমান করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, সরকার যদি জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে রাজপথ এবং সংসদ—উভয় জায়গাতেই কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে। সমাবেশের পর নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের চলমান জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমনে কোনো স্বস্তি নেই উল্লেখ করে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলগুলো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনা এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং জনগণের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বর্তমান আচরণে ‘ফ্যাসিবাদের সংক্রমণ’ দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ‘ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আফজাল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মসিউল আলম, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আব্দুর জব্বারসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টি’ (জেডিপি)। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৯০ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে দলটি। নাঈম আহমাদকে আহ্বায়ক, অ্যাডভোকেট আব্দুল আলিমকে সদস্য সচিব এবং মো. আহছান উল্লাহকে প্রধান সংগঠক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। আত্মপ্রকাশের শুরুতেই দলটি ১৯৭২ সালের সংবিধান বাতিল করে ‘সামাজিক গণতন্ত্র’ ভিত্তিক নতুন রাষ্ট্রকাঠামো ও সংবিধান প্রণয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে দলের আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে একটি বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে নতুন সংবিধান অপরিহার্য। তিনি বর্তমান সংবিধানের ‘মৌলিক কাঠামো’ (Basic Structure) তত্ত্বের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে বলেন, কেবল সংশোধনের মাধ্যমে মৌলিক পরিবর্তন আনা ঝুঁকিপূর্ণ ও সাময়িক। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ নতুন সংবিধান প্রণয়নই একমাত্র পথ। জেডিপি তাদের রাজনৈতিক দর্শনে ‘সমাজতন্ত্র’-এর পরিবর্তে ‘সামাজিক গণতন্ত্র’ এবং ‘বাঙালি জাতীয়তাবাদ’-এর বদলে ‘বাংলাদেশপন্থা’ বা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করেছে। একইসঙ্গে দলটি পতিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ সবার জন্য ইনসাফভিত্তিক ও ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বিচার কোনোভাবেই প্রহসনে পরিণত না হয়। সংবাদ সম্মেলনে আগামী এক মাসের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে এপ্রিল মাসজুড়ে সদস্য সংগ্রহ অভিযান, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গণসংযোগ এবং মে মাসে ঢাকায় জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন করার পরিকল্পনা রয়েছে দলটির। নবঘোষিত কমিটিতে নজরুল ইসলাম ও ইমরান হোসেন রাহাতকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং নূরা জেরিন ও রাকিব হাসানকে সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন Khaleda Zia-এর শাসনামলে দেশের মানুষ ভালো ছিল—এ কারণেই দলটিকে দীর্ঘ সময় ভুগতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ Nurul Islam। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল। নুরুল ইসলাম বলেন, “বেগম জিয়ার আমলে দেশের উন্নতি হয়েছিল, মানুষ ভালো ছিল—এই কারণেই আমরা ১৭ বছর ভুগেছি।” তিনি দাবি করেন, Ziaur Rahman দেশকে নানা অসংগতি থেকে বের করে এনেছিলেন এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে স্বল্প সময়ে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় Tarique Rahman-ও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সভায় Sheikh Mujibur Rahman-এর সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুর্বলতা ছিল। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি সাশ্রয়ী জীবনযাপন করেন এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদসীমা নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামসহ অন্যরা।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর পদত্যাগপত্র সরাসরি রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু স্বীকার করেছিলেন বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদে ওয়াকআউটের পর তিনি সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার সীমাহীন ত্যাগের পর যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, তার পরবর্তী সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণের প্রেক্ষিতে তারা বঙ্গভবনে বসেছিলেন। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় তিনি জানান, “তিনি (রাষ্ট্রপতি) সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগপত্র পেয়েছেন এবং মঞ্জুর করেছেন।” এ আলোচনার পর তারা দ্রুত নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক শাসনের দিকে ফেরার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার সংস্কারের জন্য ছয়টি কমিশন গঠন করেছিল এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর ধরে যে ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে, তা নিরসনে জনগণের রায় বা গণভোটের দাবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের মনোভাবকে সমালোচনা করেন। তিনি জানান, যেহেতু সংসদে জনগণের ন্যায্য দাবি সম্মানিত হচ্ছে না, তাই আমরা জনগণের কাছে ফিরে যাব এবং গণভোটের মাধ্যমে রায় আদায়ের পথ অনুসরণ করব। সংবাদ সম্মেলনে ডা. শফিকুর রহমান আরও ঘোষণা দেন যে, গণভোট ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে সংসদ এবং রাজপথ উভয় ক্ষেত্রেই বিরোধী দল কার্যক্রম পরিচালনা করবে। শিগগিরই সমমনা দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও তিনি জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews