গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত থাকার দাবির মধ্যেই নৌপরিবহন খাতকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা-এর মহাসচিব আর্সেনিও ডোমিঙ্গেজ। বিবিসি-র ‘নিউজআওয়ার’ অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ নিয়ে যেকোনো ইতিবাচক অগ্রগতি অবশ্যই স্বাগত। তবে বর্তমানে যে তথ্যগুলো প্রচারিত হচ্ছে, সেগুলো এখনো যাচাই করা হচ্ছে। ডোমিঙ্গেজ জানান, এ মুহূর্তে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো—প্রায় ২০ হাজার নাবিক এবং প্রায় ২ হাজার জাহাজ এখনো আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলেও তা যেন নিরাপদভাবে পরিচালিত হয়, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি। এ অবস্থায় পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত বৈশ্বিক শিপিং শিল্পকে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান আইএমও মহাসচিব। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া সন্তানের নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিদেশি নারীদের ভ্রমণ ঠেকাতে নতুন অভিযান শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত এই কার্যক্রমের বিরুদ্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় এমন সংগঠিত চক্রগুলোকে চিহ্নিত করে ভেঙে দেওয়া হবে, যারা গর্ভবতী বিদেশি নারীদের ভিসা আবেদনে মিথ্যা তথ্য দিতে সহায়তা করে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিতে উৎসাহিত করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এই ইস্যুকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি এক বিবৃতিতে বলেন, নিয়ন্ত্রণহীন এই প্রবণতা করদাতাদের জন্য বড় ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং এটি দেশের নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দেওয়া নিজেই অবৈধ নয়। কিন্তু কেউ যদি ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহার বা প্রতারণার মাধ্যমে এই সুবিধা নিতে চায়, তাহলে তা আইনের আওতায় পড়বে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রদান করা হয় সংবিধানের একটি সংশোধনীর ভিত্তিতে। তবে এই নিয়ম সীমিত করার লক্ষ্যে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, যদি শিশুর বাবা-মা কেউই মার্কিন নাগরিক বা স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে এই আদেশ ইতোমধ্যে একাধিক ফেডারেল আদালত স্থগিত করেছে এবং বিষয়টি এখন সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন। অভিযান সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই উদ্যোগে মূলত জালিয়াতি, আর্থিক অপরাধ এবং সংগঠিত নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদিও এ ধরনের ঘটনার নির্দিষ্ট সরকারি পরিসংখ্যান নেই। এক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ সময়ে প্রতি বছর প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার নারী এই উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৯ সালে ক্যালিফোর্নিয়ায় পরিচালিত এক অভিযানে ‘বার্থ হাউস’ পরিচালনার অভিযোগে একাধিক ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়। ওই ঘটনায় এক চীনা নাগরিক দোষ স্বীকার করে কারাদণ্ড ভোগ করেন।
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী শুক্রবার দেশ দুটির পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় (এলিসি প্যালেস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। মূলত হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘বিশুদ্ধ রক্ষণাত্মক মিশন’ (Purely defensive mission) পরিচালনার লক্ষ্যেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বিশেষ অপারেশন চালুর বিষয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাংকার ও কন্টেইনার জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করা হবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সংকট নিরসনেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে এই বিশেষ সুরক্ষা মিশন গঠন করতে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের ব্যস্ততম পরিবহন কেন্দ্র গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল টার্মিনালে দা হাতে এক ব্যক্তির হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ সদস্যদের গুলিতে ওই হামলাকারী নিহত হন। শনিবার স্থানীয় সময় সকাল প্রায় ৯টা ৪০ মিনিটে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগ। পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী একটি দা হাতে প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত হয়ে আচরণে অস্বাভাবিকতা প্রদর্শন করছিলেন এবং নিজেকে ‘লুসিফার’ বলে দাবি করছিলেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে অন্তত ২০ বার অস্ত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি তা অমান্য করে দা উঁচিয়ে পুলিশ সদস্যদের দিকে এগিয়ে আসেন। এ অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি চালায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে মৃত্যু হয়। ঘটনায় আহত তিনজনের মধ্যে দুজন পুরুষ (বয়স ৮৪ ও ৬৫ বছর) এবং একজন নারী (৭০ বছর)। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে দুজনের মাথা ও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে, আর একজনের কাঁধে আঘাত লেগেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারী এর আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে একাধিক অপরাধের অভিযোগ ছিল। অতীতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার ঘটনাতেও তিনি জড়িত ছিলেন। নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে ‘অর্থহীন সহিংসতা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। শহরের মেয়রও পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় সন্ত্রাসবাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে তদন্ত চালানো হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নিউইয়র্কের পাতালরেলে একাধিক সহিংস ঘটনার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, সামগ্রিক অপরাধের হার আগের তুলনায় কমেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
পূর্ব সাগরে আবারও একটি 'অজ্ঞাত' ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে উত্তর কোরিয়া। বুধবার (৮ এপ্রিল) একই দিনে এটি ছিল পিয়ংইয়ংয়ের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার ঘটনা। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এই খবর জানিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ (জেসিএস) জানিয়েছে, তারা নতুন এই উৎক্ষেপণটি শনাক্ত করেছে, তবে ক্ষেপণাস্ত্রটি কত দূর পর্যন্ত উড়েছে বা এর ধরন কী—সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। এর আগে বুধবার ভোরে উত্তর কোরিয়ার ওনসান এলাকা থেকে বেশ কিছু স্বল্প পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। জেসিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, সেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলো প্রায় ২৪০ কিলোমিটার (১৪৯ মাইল) পথ অতিক্রম করে সাগরে পতিত হয়। এটি ছিল এ বছর উত্তর কোরিয়ার চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘটনা। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাচি এই ঘটনার পরপরই কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার এবং তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বিমান ও নৌযান চলাচলে যেন কোনো বিঘ্ন না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে জাপানি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। সিউলের দাবি, উত্তর কোরিয়া গত মঙ্গলবারও একটি প্রজেক্টাইল ছুড়েছিল যা উড্ডয়নের পরপরই ব্যর্থ হয়। পর পর দুই দিন এমন সামরিক তৎপরতায় ওই অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সম্প্রতি বেসামরিক নাগরিকদের উত্তর কোরিয়ায় ড্রোন পাঠানোর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং এর ফলে উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছিলেন। তার বক্তব্যের জবাবে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং সিউলকে 'বেপরোয়া উস্কানি' থেকে বিরত থাকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড জানিয়েছে, তারা উত্তর কোরিয়ার এই তৎপরতার ওপর নিবিড় নজর রাখছে। মার্কিন বাহিনীর মতে, এই উৎক্ষেপণগুলো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র বা তার মিত্রদের জন্য সরাসরি কোনো হুমকি তৈরি না করলেও তারা এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ মার্চ দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক মহড়ার প্রতিবাদে একই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছিল পিয়ংইয়ং। সাম্প্রতিক এই উৎক্ষেপণগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন Paul Kapur। ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দূতাবাসে এই আয়োজন করা হয়। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিভাগ তাদের ভেরিফায়েড এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে কাপুরের বক্তব্য তুলে ধরে। এতে তিনি বলেন, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও সুশাসনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং অভিন্ন মূল্যবোধ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছে। অনুষ্ঠানে কাপুর দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্য, জ্বালানি, কৃষি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদারদের মধ্যে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে। সমুদ্র বা সীমান্তে যেকোনো পরিবর্তন শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ যেন তার সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক এলাকা সুরক্ষার পাশাপাশি জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে—সে লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করতে আগ্রহী। চীনের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিয়ে কাপুর বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ বেছে নিতে চাপ দিই না। বরং উন্নত প্রযুক্তি ও সহযোগিতার সুযোগ দিই, যাতে বাংলাদেশ নিজস্ব স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারে।”
ইরান চলমান সংঘাতের অবসানে সদিচ্ছা দেখাচ্ছে, তবে ভবিষ্যতে একই ধরনের হামলার পুনরাবৃত্তি না হওয়া নিশ্চিত করতে চায়। এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেজেশকিয়ান ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তা-র সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে বলেন, “সংঘাতের অবসান ঘটাতে আমাদের প্রয়োজনীয় সদিচ্ছা রয়েছে। তবে স্থায়ী সমঝোতার জন্য অপরিহার্য শর্ত পূরণ হতে হবে, বিশেষ করে ভবিষ্যতে আগ্রাসন যেন পুনরায় না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা থাকতে হবে।” ইরান দীর্ঘদিন ধরে জানিয়েছে, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া তারা কোনো সমঝোতায় যেতে আগ্রহী নয়। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান তার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার নিশ্চয়তা তাদের জন্য প্রধান শর্ত। ইরানের যুদ্ধ শেষের সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়ার পরই বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মার্কিন শেয়ারবাজারে ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ সূচক ২.১ শতাংশ বেড়ে ৪৯,১৬৪.৫৫ পয়েন্টে উঠেছে। একই সময়ে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ২.৫ শতাংশ বেড়ে ৬,৫০৩.০৮ পয়েন্টে পৌঁছেছে। নাসডাক কম্পোজিট সূচক প্রযুক্তি খাতের নেতৃত্বে ৩.৬ শতাংশ উত্থান দেখিয়ে ২১,৫৩৩.১৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বর্তমানে নিজের দেশেই অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন তেহরানে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত অ্যালেক্সেই দেদভ। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হচ্ছেন না। রুশ গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেদভ বলেন, “জনগণের বোঝা উচিত, তার জনসমক্ষে না আসার পেছনে যথেষ্ট কারণ রয়েছে। ইরান সরকার বারবার জানিয়েছে, নতুন নেতা দেশে আছেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে জনসমক্ষে আসা থেকে বিরত আছেন।” তিনি আরও বলেন, চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকিই মূল কারণ। এখনও পর্যন্ত খামেনির সঙ্গে তার কোনো সরাসরি বৈঠক হয়নি। তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নতুন নেতাকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন এবং তেহরানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। এর আগে বিভিন্ন মহলে খামেনির অবস্থান নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। জনসমক্ষে না আসায় এমন গুঞ্জন ছড়ায় যে, তার বেঁচে থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বেঁচে আছেন এবং বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।
সারা দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে ক্রমবর্ধমান হামলা, বিশৃঙ্খলা এবং কর্মীদের লাঞ্ছনা রোধে জরুরি ভিত্তিতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্ট অ্যান্ড পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। আজ মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল এই সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে জ্বালানি তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তা সত্ত্বেও কিছু স্থানে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক ও পাম্পে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হচ্ছে। মালিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পাম্প কর্মীরা দিনরাত সেবা দিলেও বিভিন্ন স্থানে তারা হয়রানি ও হামলার শিকার হচ্ছেন, যা পাম্প পরিচালনার পরিবেশকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা ফেরাতে ৮ দফা প্রস্তাব: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আটটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে: ১. পাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ২. বাস্তব পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে তেল সরবরাহ সমন্বয়। ৩. ক্রেতা বা ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা ও ধৈর্য বাড়ানো। ৪. পাম্পে সব ধরনের হুমকি বা বিশৃঙ্খলা কঠোরহস্তে দমন। ৫. পেট্রোল ও অকটেন বিক্রির সময় সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত নির্ধারণ (পরীক্ষামূলক)। ৬. জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা। ৭. ট্যাংকলরিতে পূর্ণ ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা। ৮. সরকারি মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা এবং অহেতুক দোষারোপ বন্ধ করা। সংগঠনটি স্পষ্ট করেছে যে, রাতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ সীমিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ডিজেল সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে, যাতে পণ্যবাহী ও গণপরিবহন চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।
লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে পণ্যবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা বাণিজ্যিক জাহাজে পুনরায় বড় ধরনের হামলা শুরু করতে পারে—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইয়েমেন জলসীমা এড়িয়ে চলার জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা। শনিবার ইসরায়েল অভিমুখে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ এবং ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে এই বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়। বিবিসির প্রধান আন্তর্জাতিক সংবাদদাতা লিজ ডুসেট জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেন নিয়ন্ত্রণকারী হুথিরা এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী কৌশলগত অস্ত্র ‘বাব আল-মান্দাব’ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ করেনি। তবে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি যেকোনো সময় অবরুদ্ধ হওয়ার উচ্চঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেভাল ফোর্স ‘অ্যাসপাইডস’ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের মালিকানাধীন অথবা তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর জন্য ইয়েমেন উপকূল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইসরায়েলি সংশ্লিষ্টতা আছে এমন জাহাজের ক্ষেত্রে হুমকির মাত্রা এখন ‘সর্বোচ্চ’। অন্যদিকে, অন্যান্য সাধারণ বাণিজ্যিক জাহাজের ক্ষেত্রে এই হুমকির মাত্রা ‘মাঝারি’ পর্যায়ে রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে লোহিত সাগরে ইসরায়েলগামী ও পশ্চিমা জাহাজে একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে হুথি বিদ্রোহীরা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য রুটটি নিরাপদ না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট এলাকা এড়িয়ে চলতে নাবিক ও জাহাজ কোম্পানিগুলোকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছে। ইরাকভিত্তিক এই গোষ্ঠী আশাব আল-কাহফ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা তাদের সামরিক কার্যক্রম জোরদার করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র-সম্পর্কিত স্থানের আশপাশে না যেতে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছে। গত কয়েক বছরে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের সামরিক ঘাঁটি এবং ইরাকে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে একাধিক রকেট হামলার দায় স্বীকার করেছে এই গোষ্ঠী। সাম্প্রতিক ঘোষণাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এদিকে, চলমান সংঘাতের মধ্যে জর্ডান সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ২২টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ২০টি তারা ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা পেট্রা নিউজ এজেন্সি এক সামরিক বিবৃতির বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। সামরিক বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সংঘাত শুরুর পর থেকে জর্ডানের বিমান বাহিনী মোট ২৪২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে। তবে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অন্তত ২০টি হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, জর্ডানে নতুন করে হামলার হুমকি বাস্তবায়িত হলে তা শুধু দেশটির নিরাপত্তাই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
বিশ্ববাজারে অস্থিতিশীলতা আর মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সরকার। জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং বিপণন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে দেশের ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিজিবি সদর দফতরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে গত ২৫ মার্চ সকাল থেকেই ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট ও রংপুরসহ দেশের মোট ৯টি জেলার ১৯টি ডিপোতে বিজিবি সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালন শুরু করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডিপোগুলোর নিরাপত্তা এবং মজুতদারদের অপতৎপরতা রুখতে বিজিবি সদর দফতরের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। দায়িত্বরত সদস্যরা নিজস্ব ইউনিট থেকে দূরে হওয়ায় সুবিধাজনক স্থানে অস্থায়ী 'বেইজ ক্যাম্প' স্থাপন করে অভিযান ও তদারকি চালাচ্ছেন। একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে এসব ক্যাম্পে নিয়মিত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিজিবি: রংপুর বিভাগ: রংপুর (৩টি), কুড়িগ্রাম (২টি)। রাজশাহী বিভাগ: রাজশাহী (৩টি)। সিলেট বিভাগ: সিলেট (২টি), মৌলভীবাজার (৩টি), সুনামগঞ্জ (১টি)। চট্টগ্রাম ও ঢাকা: কুমিল্লা (৩টি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া (১টি) এবং ঢাকা (১টি)। ডিপোর পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল, নৌ-টহল এবং চেকপোস্টে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আইসিপি ও এলসিপিগুলোতে আমদানি-রপ্তানি কাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অবৈধ মজুত ঠেকাতে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি এখন তুঙ্গে। ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য আদান-প্রদান এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে বিজিবির এই সক্রিয় উপস্থিতি জ্বালানি খাতের শৃঙ্খলা রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ, ২০২৬) এক বিশেষ নিরাপত্তা বার্তায় দূতাবাস জানায়, ইরান-ঘনিষ্ঠ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাকজুড়ে মার্কিন নাগরিক এবং ওয়াশিংটন সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ‘ব্যাপক আকারে’ হামলা চালিয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় এই হামলার বিস্তার ঘটেছে। ইরাকি আকাশসীমায় বর্তমানে মিসাইল, ড্রোন এবং রকেট হামলার চরম ঝুঁকি থাকায় নাগরিকদের বাগদাদের দূতাবাস বা এরবিলের কনস্যুলেট জেনারেলের দিকে না আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা বার্তায় আরও বলা হয়, ইরাকের আকাশপথ বর্তমানে বন্ধ রয়েছে এবং বাণিজ্যিক বিমান চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। এই অবস্থায় দেশ ছাড়তে ইচ্ছুক নাগরিকদের জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব এবং তুরস্কের সীমান্ত ব্যবহার করে স্থলপথে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ইরাককে ‘লেভেল ফোর’ বা ‘ভ্রমণ নিষিদ্ধ’ দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।
বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মাঝে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। জরুরি চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে মোট ৩ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি। বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির এক ভার্চুয়াল সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জানানো হয়, ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল উত্তেজনার ফলে সৃষ্ট বৈশ্বিক অস্থিতিশীলতায় দেশে যেন জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সেজন্য এই আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এই ডিজেল সংগ্রহ করবে। এর মধ্যে 'এপি এনার্জি ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড' থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং 'সুপারস্টার ইন্টারন্যাশনাল (গ্রুপ) লিমিটেড' থেকে ২ লাখ মেট্রিক টন উন্নত মানের ডিজেল আমদানি করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এই আমদানির মূল লক্ষ্য।
বিশ্ববাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট ৬টি বন্ধুপ্রতিম দেশের জাহাজে কোনো প্রকার হামলা করা হবে না। বুধবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই স্বস্তির খবর নিশ্চিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি বন্ধ নয়, বরং সেখানে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, চীন, রাশিয়া, পাকিস্তান এবং ইরাকের বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এই নিরাপত্তা সুবিধার আওতায় থাকবে। আরাগচি বলেন, “ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এই ছয়টি দেশের জাহাজে কোনো হামলা চালানো হবে না। যুদ্ধের এই কঠিন সময়েও দেশগুলো সেখানে ‘নিরাপদ প্যাসেজ’ বা চলাচলের বিশেষ সুবিধা পাবে।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান এই কৌশলগত জলপথে অবরোধ জারি করে। এতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং দাম বৃদ্ধিতে অনেক দেশ সংকটে পড়ে। তবে ইরান শুরু থেকেই বলে আসছে, এই কঠোরতা শুধু ‘শত্রুভাবাপন্ন’ দেশগুলোর জন্য। এদিকে, মিত্র দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান কিছু নিয়ম জারি করেছে। প্রধান শর্ত হলো— হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের আগে অবশ্যই ইরানের সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি নিতে হবে। পাশাপাশি ইরানি সংবাদমাধ্যম ফার্স জানিয়েছে, এই জলপথ ব্যবহারের জন্য সব বিদেশি জাহাজকে নির্দিষ্ট হারে ‘টোল’ প্রদানের একটি আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে দেশটির পার্লামেন্ট।
ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখী যাত্রীদের ঢল নামতে শুরু করেছে। এই পরিস্থিতিতে সড়কপথে সাধারণ মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে পরিবহন সংশ্লিষ্টদের জন্য একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। বিশেষ করে বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত টাকা আদায় না করার বিষয়ে সাফ জানিয়ে দিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৫ মার্চ) সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদ পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের চাপ সামলাতে এবং দুর্ঘটনা রোধে চালকদের অতিরিক্ত গতি ও ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং থেকে বিরত থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ফিরতি যাত্রায় বয়স্ক, নারী ও শিশুদের প্রতি চালক ও সহকারীদের বিশেষভাবে যত্নবান হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই নির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা আদায় করা যাবে না। ভাড়া সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম রোধে মাঠ পর্যায়ে তদারকি আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে পরিবহন খাতের সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে মালিক সমিতি।
ইরানের বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে জাতীয় নিরাপত্তার হাল ধরলেন অভিজ্ঞ রেভোলিউশনারি গার্ড (আইআরজিসি) কমান্ডার মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর। গত সপ্তাহে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আলী লারিজনির মৃত্যুর পর শূন্য হওয়া সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান পদে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের কার্যালয়ের যোগাযোগ বিষয়ক উপ-প্রধান মেহেদি তাবাতাবায়ি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মোহাম্মদ বাঘের জোলঘাদর চার দশক ধরে ইরানের সামরিক, বিচার বিভাগ এবং বেসামরিক প্রশাসনের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিভিশনের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি, যেখানে কুর্দি গোষ্ঠীসহ আন্তঃসীমান্ত আধাসামরিক বাহিনীর সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলায় বিশেষ পারদর্শিতা দেখান। পরবর্তীতে তিনি আইআরজিসি-র সেকেন্ড-ইন-কমান্ড হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। জোলঘাদরের নিয়োগকে ইরানের হার্ডলাইন বা কট্টরপন্থী অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি কেবল সামরিক কৌশলবিদই নন, বরং দেশটির নীতি-নির্ধারক সংস্থা 'এক্সপেডিয়েন্সি ডিসসার্নমেন্ট কাউন্সিল'-এরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন। বাসিজ এবং আনসার-ই-হিজবুল্লাহর মতো আধাসামরিক বাহিনীর সাথে তার ঘনিষ্ঠতা অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও বিরোধী দমনে তেহরানের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আলী লারিজনির হত্যাকাণ্ডের পর জোলঘাদরের মতো একজন 'ব্যাটল-টেস্টেড' কমান্ডারকে বেছে নিয়ে ইরান বিশ্বকে তার কঠোর নিরাপত্তা ও সামরিক কৌশলের বার্তাই দিল।
সাইপ্রাসকে সুরক্ষা দিতে ব্রিটিশ নৌবাহিনীর শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ 'ড্রাগন' পৌঁছাতে দীর্ঘ বিলম্ব হওয়ায় লন্ডনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেই কেলিন। তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ব্রিটেনের তথাকথিত 'মিলিটারি আমব্রেলা' বা সামরিক সুরক্ষা বলয় পুরোপুরি অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। রাশিয়ান সংবাদ সংস্থা তাস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেলিন জানান, ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা এবং দ্রুত ছড়িয়ে পড়া সংঘাতের মুখে ব্রিটিশ পরিকল্পনাকারীরা কার্যত অপ্রস্তুত ছিলেন। স্থানীয় রাজনীতিকরাও সরকারের এই সামরিক অদূরদর্শিতার কড়া সমালোচনা করছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাইপ্রাসের মতো দেশগুলো ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ দেয় এই আশায় যে, সংকটের সময় লন্ডন তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি প্রমাণ করেছে, প্রয়োজনের সময় ব্রিটিশদের এই সুরক্ষা ব্যবস্থা কোনো কাজেই আসছে না। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকারের এই 'সতর্ক অবস্থান' মূলত তাদের সামরিক সীমাবদ্ধতাকেই বিশ্বমঞ্চে উন্মোচিত করেছে।
যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের ইহুদি অধ্যুষিত গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় একটি সিনাগগের পাশে রাখা এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো মূলত ইহুদি স্বেচ্ছাসেবক দল দ্বারা পরিচালিত হতো। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাস-মোকাবিলাকারী বিশেষ পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনাকে সরাসরি ইহুদি-বিদ্বেষী আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এক বিবৃতিতে তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। স্টারমার বলেন, আমাদের আধুনিক সমাজে কোনো ধরনের ইহুদি বিদ্বেষ বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার স্থান নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোপলিটান পুলিশের প্রধান মার্ক রাওলি অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গোল্ডার্স গ্রিনসহ আশপাশের ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৬৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ইহুদি স্বেচ্ছাসেবী অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশ এই ঘটনাকে সম্ভাব্য ইহুদিবিদ্বেষী (অ্যান্টিসেমিটিক) ঘৃণাজনিত হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। সোমবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ‘হাতজোলা নর্থওয়েস্ট’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী জরুরি চিকিৎসাসেবার অন্তত চারটি অ্যাম্বুলেন্স আগুনে পুড়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িগুলোতে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। লন্ডন ফায়ার ব্রিগেড জানিয়েছে, অ্যাম্বুলেন্সগুলোর ভেতরে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং আশপাশের ভবনের জানালাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কেউ হতাহত হয়নি। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার একে “গভীরভাবে উদ্বেগজনক ও জঘন্য ইহুদিবিদ্বেষী অগ্নিসংযোগ” বলে উল্লেখ করে দায়ীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির তদন্ত এখন কাউন্টার-টেররিজম ইউনিট পরিচালনা করছে। যদিও এটিকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সন্ত্রাসী হামলা বলা হয়নি, তবুও এর পেছনে সংগঠিত কোনো গোষ্ঠী জড়িত থাকতে পারে—এমন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাজ্যে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামনে পাসওভার উৎসবকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের পশ্চিম আজারবাইজান প্রদেশ-এ সংবেদনশীল স্থাপনার খবর ও ছবি বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠানোর অভিযোগে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি প্রদেশটির পুলিশ প্রধানের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের বরাত অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতরা বিভিন্ন সংবেদনশীল স্থাপনার তথ্য ও চিত্র অবৈধভাবে বিদেশি গণমাধ্যমে পাঠিয়েছিল। স্থানীয় প্রশাসন বলেছে, এই অভিযান দেশটির নিরাপত্তা রক্ষার অংশ হিসেবে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি যে, এই ঘটনায় কোনো বিদেশি সংস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে কি না।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews