পিসিবি

ছবি: সংগৃহীত
পিএসএল হবে বিশ্বের এক নম্বর লিগ: পিসিবি প্রধান মহসিন নকভি

বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে ২০০৮ সালে ভারতে আইপিএল শুরুর পর থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের জোয়ার শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তান যথাক্রমে ২০১২ ও ২০১৬ সালে নিজস্ব লিগ শুরু করলেও আইপিএলের বাজারমূল্য ও জনপ্রিয়তা এখনো অপ্রতিদ্বন্দ্বী। তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন নকভি দাবি করেছেন, পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খুব শীঘ্রই বিশ্বের শীর্ষস্থানে পৌঁছাবে।   রোববার পিসিবির বোর্ড অফ গভর্নরসের গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী অনুমোদনকালে মহসিন নকভি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, পিএসএল বর্তমানে বিনিয়োগের জন্য বিশ্বের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের ক্রমাগত আগ্রহই প্রমাণ করে যে, পিএসএল একদিন আইপিএলকে ছাড়িয়ে বিশ্বের এক নম্বর লিগে পরিণত হবে এবং পাকিস্তান ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অত্যন্ত উজ্জ্বল।   এদিকে, রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলে খেলার সুযোগ না থাকলেও বাবর আজমকে নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন দেশটির সাবেক পেসার তানভীর আহমেদ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ তিনি দাবি করেন, বাবর আজম আইপিএলে খেললে তিনিই হতেন টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দামি খেলোয়াড়। তানভীরের মতে, কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তাকে ড্রাফট পর্যন্ত যেতে দিত না, বরং সরাসরি চুক্তিতে রেকর্ড মূল্যে দলে ভিড়িয়ে নিত।   বর্তমানে বাবর আজম পিএসএলে পেশোয়ার জালমি দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী ৮ এপ্রিল করাচিতে হায়দ্রাবাদ কিংসমানের বিপক্ষে তার দলের একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। টুর্নামেন্টের এই পর্যায়ে বাবরকে ঘিরে সমর্থকদের প্রত্যাশা এবং মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে চলছে ব্যাপক বিশ্লেষণ।   অন্যদিকে, শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে নিষেধাজ্ঞায় থাকা ফখর জামানকে আসন্ন ৯ এপ্রিলের ম্যাচেও মাঠের বাইরে থাকতে হবে। সব মিলিয়ে পিএসএলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং খেলোয়াড়দের আইপিএল ভাগ্য নিয়ে পিসিবি ও সাবেক ক্রিকেটারদের সাহসী মন্তব্য ক্রিকেট মহলে নতুন করে তর্কের সৃষ্টি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল
বিশ্বকাপে ভরাডুবি: পাকিস্তান দলের সব ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ রুপি জরিমানা

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চরম ব্যর্থতার দায়ে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রতিটি সদস্যকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানার কবলে পড়তে হয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারকে ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি করে জরিমানা করেছে। বিশেষ করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের কাছে ৬১ রানে হারার পরপরই টিম ম্যানেজমেন্ট এই কঠোর শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বলে জানা গেছে।   এবারের বিশ্বকাপে পাকিস্তানের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। সেমিফাইনাল তো দূরের কথা, সুপার এইট পর্বেও দলটি লড়াই করতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্রুপ পর্বে যে তিনটি ম্যাচে তারা জয় পেয়েছে, তার প্রতিটিই ছিল আইসিসির সহযোগী দেশগুলোর বিপক্ষে। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়ের পর থেকে পাকিস্তান আর কোনো বড় শিরোপা জিততে না পারায় পিসিবি এবার ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ নীতি কঠোরভাবে কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। বোর্ড কর্মকর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারিত হবে তাদের মাঠের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে। অর্থাৎ, ভালো খেললে যেমন বোনাস দেওয়া হবে, তেমনি ব্যর্থতার জন্য গুনতে হবে জরিমানা।   তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে উজ্জ্বল থাকা তিন ক্রিকেটার—সাহিবজাদা ফারহান, ফখর জামান ও উসমান তারিক এই জরিমানার আওতামুক্ত থাকতে পারেন। সাহিবজাদা ফারহান আসরের সর্বোচ্চ ৩৮৩ রান সংগ্রহ করে বিরাট কোহলির এক আসরে সর্বোচ্চ ৩১৯ রানের দীর্ঘদিনের রেকর্ডটি ভেঙে দিয়েছেন। এছাড়া ফখর জামান মাত্র ২ ম্যাচে ১০৯ রান এবং উসমান তারিক ৫ ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়ে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। বিপরীতে, শাদাব খান ও শাহিন শাহ আফ্রিদির মতো তারকাদের পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার তুলনায় অনেক নিচে। পিসিবির এই নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ পাকিস্তানের ক্রিকেট অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২, ২০২৬ 0
আইসিসির ইভেন্ট আয়োজনের দায়িত্ব পাচ্ছে বাংলাদেশ

পাকিস্তানের লাহোরে অনুষ্ঠিত আইসিসি, পিসিবি এবং বিসিবি-র মধ্যকার ঐতিহাসিক ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এক স্বস্তিদায়ক সিদ্ধান্ত জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের ওপর কোনো ধরনের আর্থিক, প্রশাসনিক বা ক্রীড়াগত শাস্তি আরোপ করছে না ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।   আইসিসি তাদের এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, লাহোর আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে, পাকিস্তান দলকে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি করানোর ক্ষেত্রে বিসিবির ইতিবাচক মধ্যস্থতা ও সমর্থনের বিষয়টি আইসিসির কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।   শাস্তি নয়, মিলছে বড় ইভেন্ট: বিসিবি-কে একটি ‘মূল্যবান পূর্ণ সদস্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইসিসি জানিয়েছে, ২০ কোটির বেশি ভক্তের এই প্রাণবন্ত ক্রিকেট বাজারকে তারা কোনোভাবেই অবহেলা করতে চায় না। সমঝোতার অংশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে যে, ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগেই অর্থাৎ ২০২৮ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ এককভাবে আইসিসির একটি বড় টুর্নামেন্ট আয়োজন করবে। তবে এটি আইসিসির প্রচলিত আয়োজক নির্বাচন প্রক্রিয়া ও পরিচালনাগত শর্তের ভিত্তিতে চূড়ান্ত হবে।   পরিষ্কার অবস্থান বিসিবির: আইসিসি স্পষ্ট করেছে যে, বিসিবির ওপর কোনো জরিমানা বা নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না। এমনকি বিসিবি চাইলে তাদের আইনি অধিকার বা ডিসপিউট রেজোলিউশন কমিটির শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও বহাল থাকবে। আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জোগ গুপ্তা এই পরিস্থিতিকে ‘দুঃখজনক কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ওপর প্রভাবহীন’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইকোসিস্টেম দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ ও বৈশ্বিক সংযুক্তির দাবিদার।   উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই ২০৩১ ওয়ানডে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক এবং ২০২৭ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে নির্ধারিত আছে। এর বাইরে লাহোর চুক্তির মাধ্যমে নতুন এই টুর্নামেন্ট প্রাপ্তি দেশের ক্রিকেটে এক নতুন প্রাণসঞ্চার করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
বিশ্বকাপ ইস্যুতে পাকিস্তানের সহযোগিতার প্রশংসা, ভারত ম্যাচ খেলতে অনুরোধ বিসিবির

ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলতে পাকিস্তানকে অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে বিসিবি।   সোমবার রাতে বিসিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্বকাপ ইস্যুতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকেও (আইসিসি) ধন্যবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।   নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো ভারতের পরিবর্তে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল বাংলাদেশ। তবে আইসিসি সেই প্রস্তাবে সম্মত না হওয়ায় বিসিবির প্রতি ‘অন্যায়’ করা হয়েছে দাবি করে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান।   বিশ্ব ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত করা নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইসিসির প্রতিনিধিরা গতকাল পাকিস্তান সফর করেন। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও।   সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি সভাপতির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, গতকাল পাকিস্তানে আমার সংক্ষিপ্ত সফর এবং আমাদের আলোচনার সম্ভাব্য ফলাফলের প্রেক্ষিতে, পুরো ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের স্বার্থে ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচটি খেলার জন্য আমি পাকিস্তানের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।   বিশ্বকাপ ইস্যুতে শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, এই সময় বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তান যে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার নজির স্থাপন করেছে, তাতে বিসিবি গভীরভাবে আপ্লুত। তিনি পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভী, বোর্ড কর্মকর্তারা এবং পাকিস্তানের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানান।   বিসিবি সভাপতি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক ভবিষ্যতেও আরও দৃঢ় ও সমৃদ্ধ হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
আইসিসি
পাকিস্তানকে রাজি করাতে বাংলাদেশকে পাশে চাইছে আইসিসি

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা এখন এক নতুন ও নাটকীয় মোড় নিয়েছে। নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারত ভ্রমণে অস্বীকৃতি জানানোয় আইসিসি কর্তৃক বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তান যে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল, সেখান থেকে সরে আসতে এবার তিনটি শর্ত জুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এই সংকট নিরসনে এবং ‘পারস্পরিক সমঝোতা’র পথ খুঁজতে বর্তমানে লাহোরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম।   সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূলত আইসিসি এবং পাকিস্তানের মধ্যে একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেই বিসিবি সভাপতির এই ঝটিকা লাহোর সফর। পরশু রাতে এক জরুরি বার্তা পেয়ে মধ্যরাতেই পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হন আমিনুল ইসলাম। গতকাল ভোরে লাহোরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালমান নাসির। সেখানে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন বিসিবি সভাপতি। পরবর্তীতে আইসিসির প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠকেও অংশ নেন তাঁরা।   এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি। পাকিস্তান আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, বাংলাদেশের ওপর অন্যায্য সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তারা ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে না। এখন আইসিসি চাইছে পাকিস্তানকে ওই ম্যাচ খেলতে রাজি করাতে, আর বিনিময়ে বাংলাদেশের জন্য কিছু বিশেষ সুবিধার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে—বিশ্বকাপে সরাসরি অংশ না নিলেও আইসিসির বার্ষিক রাজস্ব থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে বিদেশি দলগুলোর বাংলাদেশ সফর নিয়ে কোনো আইনি বা কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি না করার নিশ্চয়তা।   আইসিসির পক্ষ থেকে এই আলোচনার সমন্বয় করছেন সংস্থাটির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা। পাকিস্তানের অনড় অবস্থান এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সংকট উত্তরণে এই বৈঠকটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিসিবি’র পক্ষ থেকে জুড়ে দেওয়া তিনটি শর্তের ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো না হলেও, ধারণা করা হচ্ছে এর মধ্যে আইসিসির ক্রিকেটীয় রাজনীতি এবং বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে।   ক্রিকেট বিশ্বের নজর এখন লাহোরের এই কূটনৈতিক তৎপরতার দিকে। শেষ পর্যন্ত কি পিসিবি তাদের ৩ শর্তে আইসিসিকে রাজি করাতে পারবে? নাকি ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ছাড়াই শেষ হবে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব—সেই উত্তর পাওয়া যাবে খুব শীঘ্রই।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬ 0
জরুরি বৈঠক ডেকেছে আইসিসি
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে, জরুরি বৈঠক ডেকেছে আইসিসি

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার থেকে পর্দা উঠতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। তবে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই বিশ্ব ক্রিকেটে বইছে ঝড়ের পূর্বাভাস। বাংলাদেশ দলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। পিসিবির এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্তে চরম বিপাকে পড়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।   উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় আজই একটি ভার্চ্যুয়াল জরুরি বোর্ড মিটিং ডেকেছে আইসিসি। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও সুপার এবং ভারতের এনডিটিভি এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, জয় শাহর নেতৃত্বাধীন আইসিসি এই মিটিংয়ে পাকিস্তানকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমান আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর পুত্র।   গত রাতে পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয় যে, পাকিস্তান দল ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নেবে ঠিকই, কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটিতে তারা মাঠে নামবে না। পিসিবির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ই-মেইল করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।   প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় আইসিসি জানিয়েছে, বেছে বেছে কিছু ম্যাচ বয়কট করা টুর্নামেন্টের মূল চেতনা ও মর্যাদাকে চরমভাবে ক্ষুণ্ণ করে। সংস্থাটি পিসিবিকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছে। তবে আইসিসি কঠোর অবস্থান নিলে পাকিস্তানের ওপর শুধু বর্তমান বিশ্বকাপ নয়, ভবিষ্যতে আইসিসি টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।   সম্ভাব্য শাস্তির তালিকায় আরও রয়েছে—পিসিবিকে বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা, শীর্ষ দলগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের দ্বিপাক্ষিক সিরিজ সীমিত করা এবং পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) বিদেশি খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে বিধিনিষেধ আরোপ করা। এছাড়া সম্প্রচারকারী সংস্থা ও বাণিজ্যিক অংশীদারদের বিশাল আর্থিক ক্ষতির দায়ভার পিসিবিকেই নিতে হতে পারে। এখন সবার নজর আইসিসির জরুরি সভার দিকে, যেখান থেকে পাকিস্তান ক্রিকেটের ভাগ্য নির্ধারিত হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0