বরিশাল

ছবি: সংগৃহীত
মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে মোটরসাইকেল চুরির অভিযোগে ছাত্রদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রোববার (২৯ মার্চ) বিকেলে গ্রেপ্তার হওয়া জিহাদুল ইসলাম খানকে আদালতে তোলা হয়। তিনি বরিশাল জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।   মেহেন্দীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, টহলরত পুলিশ সদস্যরা জিহাদুল ইসলাম খানকে একটি মোটরসাইকেলসহ সন্দেহজনক অবস্থায় আটক করেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য মোটরসাইকেলের মালিককে ডাকা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা মিললে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।   পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত প্রায় ৯টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার বদরপুর এলাকায় একটি ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখা ছিল। গভীর রাতে সেটি নিয়ে পালানোর সময় পুলিশের সন্দেহ হয় এবং অভিযুক্তকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় রোববার সকালে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।   মোটরসাইকেলের মালিক তানভির ইসলাম বলেন, ধারদেনা করে কেনা মোটরসাইকেলটি দিয়ে তার সংসার চলে। এটি হারিয়ে গেলে তিনি বড় ধরনের সমস্যায় পড়তেন। দ্রুত উদ্ধারের জন্য তিনি পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং সুষ্ঠু বিচারের দাবি করেন।   এদিকে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান মুক্তা বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ছাত্রদলের পদে থাকলেও তার বিরুদ্ধে আগেও বিভিন্ন অভিযোগ ছিল। বিষয়টি দলীয়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগে বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানের ওপর বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলা

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি চাল আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবিরের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে নিয়ামতি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।   প্রচারিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, একদল ব্যক্তি চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির ও তাঁর সহযোগীদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করতে করতে তাদের পরিষদ কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে চেয়ারম্যান দৌড়ে ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় অন্যরা সেখান থেকে সরে যান।   স্থানীয়রা জানান, সম্প্রতি নিয়ামতি ইউনিয়নে দুস্থ নারীদের জন্য সরকারের ভিডব্লিউবি কর্মসূচির চাল আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগের তদন্তে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইউনিয়ন পরিষদে একটি দল পাঠানো হয়। তদন্তে নেতৃত্ব দেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা খান শামীম পারভেজ।   তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলাকালেই পরিষদ কার্যালয়ের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তিনি নিজেও সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানান। ঘটনার পর অভিযুক্তরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিলও করেন। পরে খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।   বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বাকেরগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি জিয়াউল হক আকন বলেন, সাংবাদিক ও প্রশাসনের উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। প্রসঙ্গত, চেয়ারম্যান হুমায়ূন কবির বরিশাল জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন সদস্য।   এ ঘটনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও নিন্দা জানানো হয়েছে। সংগঠনের নেতারা দাবি করেছেন, বিএনপির স্থানীয় নেতাদের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছে এবং এতে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী জড়িত ছিলেন। তবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান মিজান মিয়া বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   অভিযুক্ত ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সোহেল সিকদার বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল আত্মসাতের অভিযোগের খবর পেয়ে তিনি পরিষদে গিয়েছিলেন। তবে পরিস্থিতি কীভাবে উত্তেজনায় রূপ নেয়, তা তিনি বুঝতে পারেননি। বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ জানান, ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজ দেখা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।   বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার সোহেল রানা বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বরিশালে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত, আহত অন্তত ২০

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন চালক নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীর সেতু-র উত্তর পাশের ঢালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   নিহত ব্যক্তি ইসলাম পরিবহনের চালক কবির হোসেন। তিনি বরগুনার বাসিন্দা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।   পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, পাথরঘাটা থেকে ঢাকাগামী ইসলাম পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব-১৩-২৩৪৬) এবং ঢাকা থেকে বরিশালগামী লাবিবা পরিবহন (ঢাকা মেট্রো ব-১৪-৩৯৭৯) বাস দুটি মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে লাবিবা পরিবহনের চালক রাসেলসহ উভয় বাসের ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।   গুরুতর আহত অবস্থায় কবির হোসেনকে দ্রুত শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।   দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর বাবুগঞ্জ ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করে। আহতদের বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।   বাবুগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার জাহিদুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।   বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। নিহত চালকের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।   দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা উল হুসনা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং হাসপাতালে ভর্তি আহতদের খোঁজ নেন। তিনি আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬ 0
নির্ধারিত দামে সার নেই, বোরো চাষে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা
নির্ধারিত দামে সার নেই, বোরো চাষে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা

বরিশালে বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত দামে সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেকেই বোরো চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন।   সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে লাভের সম্ভাবনা কমে যাওয়ায় কেউ কেউ আবাদ কমিয়েছেন, আবার কেউ চাষই বন্ধ রেখেছেন। রোববার জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।   উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের চিনিবাড়ী গ্রামের কৃষক মো. সেলিম এ বছর ২৫ একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তিনি জানান, খরচের তুলনায় লাভ কম হওয়ায় তাঁর এলাকার অনেক কৃষক আবাদ কমিয়েছেন। সেচ, সার ও ওষুধের বাড়তি দামের কারণে খরচ সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।   কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে ইউরিয়া ও ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট) সারের চাহিদা বেশি থাকে। এসব সার সংগ্রহ করতে হয় ডিলার বা বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। বড় আকারে চাষ করা কয়েকজন কৃষক জানান, ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া কিনতে হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ টাকায়। একই ওজনের ডিএপি সার কিনতে হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২৫০ টাকায়। এতে প্রতি কেজি ইউরিয়ার দাম দাঁড়াচ্ছে প্রায় ২৯ টাকা এবং ডিএপির ২৫ টাকা। অথচ সরকার ইউরিয়ার মূল্য কেজিপ্রতি ২৭ টাকা এবং ডিএপির ২১ টাকা নির্ধারণ করেছে। স্থানীয় বাজার থেকে কিনলে দাম আরও বেশি পড়ছে বলে অভিযোগ।   আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ও উজিরপুরের ধামুরা এলাকায় প্রায় ২৫ একর জমিতে বোরো আবাদ করেছেন কৃষক সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, সার, সেচ, কীটনাশক ও শ্রমিক মজুরি যোগ করলে লাভের মুখ দেখা কঠিন। দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করছেন বলেই এখনো চাষ ছাড়তে পারছেন না।   কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় ২ লাখ ৫ হাজার ৩৮৮ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৭৮ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে বরিশাল জেলায় চাষ হয়েছে ৬২ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে।   সরেজমিনে দেখা যায়, আগৈলঝাড়া ও উজিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় চারা রোপণ প্রায় শেষ। কোথাও কোথাও এখনো রোপণের কাজ চলছে। কৃষকেরা ব্যস্ত সময় পার করলেও লাভ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   বরিশাল সদরের করমজা এলাকার কৃষক গিয়াস উদ্দিন সাত একর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। তাঁর হিসাব অনুযায়ী, প্রতি একরে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ব্যয় হবে। কিন্তু সেই পরিমাণ ধান উঠবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পাম্প থেকে সরাসরি ডিজেল না পেয়ে বাইরে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।   কখনো মাপেও কম দেওয়া হয়। সারের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা—ডিলাররা সরবরাহ সংকটের কথা জানিয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন। পাশাপাশি কীটনাশকের দাম গত কয়েক বছরে প্রায় দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে।   অন্যদিকে, করমজা এলাকার কৃষক আবদুল বারেক জানান, তিনি বোরো চাষের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। পরিবারের প্রয়োজন মেটানোর মতোই চাষ করছেন। তাঁর মতে, শ্রমিক মজুরি ও উপকরণের দাম বাড়লেও ফলন তুলনামূলক কম। ডিএপি ও ইউরিয়ার বস্তা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।   এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) বরিশাল অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (সার ও বীজ) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সরকার নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও ডিএপি সরবরাহ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগের বিষয়ে তিনি কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সংশ্লিষ্টতার কথা জানান।   কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সিকদার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   এদিকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাফি সরদার পড়াশোনার পাশাপাশি বাবার কাজে সহায়তা করে। সম্প্রতি সার কিনতে গিয়ে বাড়তি দাম দিতে হয়েছে বলে জানায় সে। নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা চাওয়ায় বাড়ি থেকে অতিরিক্ত অর্থ এনে সার কিনতে হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬ 0
বরিশালে জমিজমার বিরোধে নিহত বিএনপি নেতা
বরিশালে জমিজমার বিরোধে নিহত বিএনপি নেতা

বরিশাল সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের বৌষেরহাট মাঝ গ্রামে দুর্বৃত্তরা দেলোয়ার হোসেন (৬০) নামে একজন বিএনপি কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এই ঘটনা ঘটে।   স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত দেলোয়ার হোসেন ওই গ্রামের মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে এবং বাজারের ইজারাদার ছিলেন। রাতের বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মাঝ গ্রামে হামলার শিকার হন তিনি।   পুলিশ রাত ১০টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, দেলোয়ার হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।   স্থানীয় বিএনপি নেতারা দাবি করেছেন, দেলোয়ার হোসেন দলীয় একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং তার সঙ্গে একই এলাকার কিছু ব্যক্তির বিরোধ ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করা হতে পারে।   বরিশাল বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, হত্যাকারীদের সনাক্ত করা যায়নি এবং তাদের ধরতে অভিযান চলছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
চট্টগ্রাম-বরিশালে আ.লীগ কার্যালয় খুলেছে নেতাকর্মীরা
মুজিবের ভাস্কর্য পরিষ্কার, দলীয় ব্যানার টাঙিয়ে স্লোগান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে অস্থিরতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আইনগতভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রকাশ্য তৎপরতা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম ও বরিশালে গভীর রাতে ব্যানার টাঙানো, কার্যালয় খোলা এবং স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।   চট্টগ্রামে পুলিশের সামনেই তৎপরতা: গত সোমবার বিকেলে চট্টগ্রামের নিউ মার্কেট মোড় সংলগ্ন দোস্ত বিল্ডিংয়ে উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতিতেই সাইনবোর্ড টাঙান ছাত্রলীগ নেতারা। একই সময়ে লালদীঘি এলাকায় পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ের দেয়ালে থাকা শেখ মুজিবের ভাস্কর্য ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিতে দেখা যায় একদল যুবককে। দীর্ঘক্ষণ ধরে এসব কাজ চললেও প্রশাসনের কোনো সক্রিয় ভূমিকা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে গভীর রাতে বিক্ষোভ মিছিল বের করে এনসিপি, ছাত্রশক্তি ও সাধারণ ছাত্রজনতা। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা দোস্ত বিল্ডিংস্থ আওয়ামী লীগের সেই কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।   বরিশালে রাতের আঁধারে ব্যানার: বরিশাল মহানগরীর সোহেল চত্বরে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সোমবার গভীর রাতে ‘শেখ হাসিনা আসবে, বাংলাদেশ হাসবে’ লেখা বিশাল ব্যানার টাঙিয়ে দেয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। তবে মঙ্গলবার সকালে সেই ব্যানার আর দেখা যায়নি। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, নিষিদ্ধ দলের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া পুরোপুরি প্রশাসনের দায়িত্ব।   পলাতক নেতাদের উসকানি: জানা গেছে, চট্টগ্রামের মিরসরাই অঞ্চলেও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা কার্যালয় খুলে জয়ের স্লোগান দিয়েছেন। এই প্রতিটি ঘটনা ভারত থেকে পরিচালিত সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে। যা মূলত দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির একটি বড় ছক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।   ছাত্রজনতার হুঁশিয়ারি ও প্রশাসনের বক্তব্য: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং ছাত্রশক্তির পক্ষ থেকে এই ঘটনার জন্য প্রশাসনকে দায়ী করা হয়েছে। তারা স্পষ্ট জানিয়েছেন, যদি নিষিদ্ধ সংগঠনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা না নেয়, তবে ছাত্রজনতা আবারও রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। অন্যদিকে, সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।   বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের এই প্রত্যাবর্তনের চেষ্টা এবং তার প্রেক্ষিতে ছাত্রজনতার অনড় অবস্থান দেশের শান্তি-শৃঙ্খলার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে বহিষ্কৃত ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতা
চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মারধর, দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলায় এক আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের কাছে চাঁদা দাবি এবং না পেয়ে তাঁকে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই শীর্ষ নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি (রোববার) যুবদলের কেন্দ্রীয় দপ্তরের সহ-দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কঠোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।   বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— বানারীপাড়া উপজেলার বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক। যুবদলের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, আদর্শ ও সংহতি বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।   ঘটনার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, সম্প্রতি বাইশারী বাজারের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষির কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেছিলেন এই দুই নেতা। গত শুক্রবার চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই চিকিৎসকের ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। হামলার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ভিডিওটি নজরে আসার পরপরই কেন্দ্রীয় যুবদল তদন্ত সাপেক্ষে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।   বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, দল কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায় নেবে না। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে তৃণমূল নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হলো যে— জনস্বার্থবিরোধী কোনো কাজে জড়ালে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
মাকসুদুর রহমান ডালিম ও রফিক মল্লিক। ছবি: সংগৃহীত
চাঁদা না পেয়ে চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে বানারীপাড়ার দুই যুবদল নেতা বহিষ্কার

বানারীপাড়া উপজেলায় চাঁদা না দেয়ায় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসককে মারধরের অভিযোগে ইউনিয়ন যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করেছে দল।   রোববার কেন্দ্রীয় যুবদলের সহদপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ মৃধা।   বহিষ্কৃত নেতারা হলেন: বাইশারী ইউনিয়ন যুবদলের সদস্যসচিব মাকসুদুর রহমান ডালিম। সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রফিক মল্লিক।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, নীতি-আদর্শ এবং সংহতিবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের প্রাথমিক সদস্যপদসহ বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   ঘটনার পটভূমিতে জানা গেছে, সম্প্রতি বানারীপাড়া বাইশারী বাজারে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক বিভাস ঋষি-এর কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা না পেয়ে শুক্রবার রাতে চিকিৎসকের ওপর হামলা চালায় ওই দুই নেতা। হামলার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
হাতপাখা মার্কার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল
জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলাম নেই: ফয়জুল করিম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত লগ্নে এসে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি ইশতেহার এবং জোট থেকে বের হয়ে আসার নেপথ্য কারণ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেন।   সংবাদ সম্মেলনে ফয়জুল করীম দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান নির্বাচনি ইশতেহারে ইসলামের প্রতিফলন নেই। তিনি বলেন, “আমরা ইসলামের পক্ষে একটি আলাদা নির্বাচনি কাঠামোর দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু তাদের ইশতেহারে ইসলামের বিষয়টি অস্পষ্ট থাকায় আমরা জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তবে জোট ভাঙলেও আদর্শিক কারণে জামায়াতের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা তাকেই ভোট দেবেন বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বরিশাল সদর-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী মুয়াযম হোসাইন হেলাল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময় তাকেই সমর্থন দিয়েছেন।   নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “নির্বাচনে বড় ধরনের ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’, জাল ভোট এবং কেন্দ্র দখলের পায়তারা চলছে। যতক্ষণ ফলাফল ঘোষণা না হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা শঙ্কা মুক্ত হতে পারছি না।” তিনি হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে যেন কেউ সাধারণ মানুষের ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিতে না পারে।   সারাদেশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে তিনি জানান, বরগুনায় তাদের এক নেতার ওপর হামলা হয়েছে এবং পটুয়াখালীতে আরেক নেতার পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এসব সহিংসতা বন্ধে তিনি প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন। ভোটের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে ফয়জুল করীম বলেন, “বরিশালের মানুষ পরিবর্তন চায়। যারা চাঁদাবাজি, গুন্ডামি আর মাস্তানি বন্ধ করতে পারে, জনগণ তাদেরই বেছে নেবে। আমি নির্বাচিত হলে বরিশালকে সব ধরণের চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি থেকে মুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।” তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার এবং একটি সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় ‘হাতপাখা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে: এম খায়ের উদ্দীন

সেনাবাহিনীর বরিশালের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এম খায়ের উদ্দিন বলেছেন, নির্বাচন ও গণভোটকে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৭ পদাতিক ডিভিশন বরিশাল বিভাগের সকল জেলা এবং মাদারীপুর ও বাগেরহাট জেলায় অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে মোতায়েন আছে। আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রয়েছি।   বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় বরিশালে নির্বাচনকালীন জরুরী পরিস্থিতি মোকাবেলায় সামরিক ক্ষমতা প্রদর্শনী মহড়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।   তিনি আরো বলেন, আমরা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভাবে পেশাদারিত্বের সাথে আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করি এবং এ ধারা অব্যাহত থাকবে। ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভোটের জন্য সুষ্ঠ সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই আমাদের মুল লক্ষ্য। এ কাজে বাধাদানকারী সে যেই হোকনা কেন, আমরা কঠোর হস্তে তাদের দমন করবো এ ব্যাপারে আমরা অনড় এবং দৃঢ়।   তিনি বলেন, যে কোনো জরুরী প্রয়োজনে হেলিকপ্টারে করে বিজার্ভ ফোর্স আনা হবে। শুধু বরিশাল নয়, ৭ পদাতিক ডিভিশনের যে কোনো স্থানে অর্থাৎ পুরো বাংলাদেশে এ ধরনের অভিযান পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী সর্বদা প্রস্তুত আছে। তিনি জনগণকে নির্বিঘ্নে নিশ্চিন্তে ভোট কেন্দ্রে এসে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে ভোট প্রদানের আহ্বান জানান।   এর আগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাত পদাতিক ডিভিশনের তত্ত্বাবধানে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট চলাকালীন ভোট কেন্দ্রে উদ্ভূত ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় সেনাবাহিনীর জরুরী প্রতিক্রিয়া ও সমন্বিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মহড়াটি অনুষ্ঠিত হয়।   মহড়ায় একটি ভোট কেন্দ্রকে কেন্দ্র করে কাল্পনিক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও এর সমাধানের মহড়া পরিচালনা করা হয়। এতে সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার অংশ নেয়। মহড়ায় বরিশাল বিভাগ,জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬ 0
বরিশালে নির্বাচনি জনসভায় তারেক রহমান
যারা গুপ্ত বলে পরিচিত তারা ভুয়া সিল-ব্যালট ছাপাচ্ছে

দীর্ঘ দুই দশক পর বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কের জনসভায় উপস্থিত হয়ে এক বিশাল জনসমুদ্রের সামনে নতুন এক ষড়যন্ত্রের তথ্য ফাঁস করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে আয়োজিত এই নির্বাচনি জনসভায় তিনি দাবি করেন, একটি বিশেষ 'গুপ্ত' গোষ্ঠী নির্বাচনের আগেই পকেটে করে জাল ব্যালট পেপার বহন এবং সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির মতো অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়েছে।   তারেক রহমান বলেন, “আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা ও বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পাচ্ছি, যারা নতুন জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, তারা বিভিন্ন গোপন প্রেসে ভুয়া সিল ও ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে। তাদের পরিকল্পনা হলো এই ব্যালট পকেটে করে নিয়ে যাওয়া। শুধু তাই নয়, এরা নিরীহ মা-বোনদের কাছ থেকে এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে ভোটকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।”   তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “যারা 'সৎ লোকের শাসন' কায়েমের কথা বলে শুরুতেই জাল জালিয়াতি আর অনৈতিক কাজ দিয়ে মাঠ দখল করতে চায়, তারা কীভাবে দেশে সৎ শাসন দেবে? এদের শুরুটাই তো অসততা দিয়ে।” জামায়াত আমিরের সাম্প্রতিক 'আইডি হ্যাক' হওয়ার দাবিকেও তিনি 'ধরা পড়ার পর বাঁচার মিথ্যা চেষ্টা' বলে মন্তব্য করেন। জনসভায় নিজের দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তারেক রহমান বলেন, “নেতাদের বলব, ১৩ তারিখ (ভোটের পরদিন) থেকে আগামী ৫ বছর জনগণের পা ধরে পড়ে থাকবেন। জনবিচ্ছিন্ন হলে কী পরিণতি হয়, তা গত ৫ আগস্ট সারা বিশ্ব দেখেছে।”   সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলের নারী শিক্ষার অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “বিএনপিই প্রথম নারীদের জন্য ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করেছিল। আগামীতেও ক্ষমতায় গেলে নারীদের কর্মসংস্থান ও মর্যাদা রক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেব।”   এর আগে, বেলা ১২টার দিকে হেলিকপ্টারযোগে বরিশাল স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন তারেক রহমান। সর্বশেষ ২০০৬ সালে তিনি বরিশাল সফর করেছিলেন। দীর্ঘ ২০ বছর পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখতে এবং তাঁর দিকনির্দেশনা শুনতে বরিশাল বিভাগ ও জেলা থেকে লাখো নেতাকর্মী সকাল থেকেই বেলস পার্কে ভিড় জমায়। তারেক রহমানের এই সফর দক্ষিণাঞ্চলের রাজনীতিতে নতুন প্রাণসঞ্চার করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
তারেক রহমান বরিশাল
নতুন জালেম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে গুপ্ত সংগঠনের নেতারা: তারেক রহমান

আজ বুধবার বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্কে আয়োজিত এক বিশাল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক বিশেষ রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বলেন, "একটি রাজনৈতিক দল—যাদের জনগণ গুপ্ত হিসেবে চেনে—এরা এখন নতুন জালেম রূপে বাংলাদেশের মানুষের সামনে এসেছে।"   বক্তব্যের মূল পয়েন্টগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:   নারী অবমাননার কড়া জবাব: তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গার্মেন্টস শিল্প নারী সমাজের অবদানেই টিকে আছে। অথচ এই তথাকথিত 'গুপ্ত জালেমদের' নেতা প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করেছেন। যাদের নারী ও মা-বোনদের প্রতি সম্মান নেই, তারা দেশের উন্নয়ন করতে পারে না।   ভুয়া ব্যালট ও জালিয়াতির অভিযোগ: তিনি সতর্ক করে বলেন, এই চক্রটি বিভিন্ন প্রেসে ভুয়া ব্যালট পেপার ছাপাচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে ভোট প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।   আইডি হ্যাকের অজুহাত: মা-বোনদের অপমান করার পর এখন তারা 'আইডি হ্যাক' হয়েছে বলে সাফাই গাইছে। বিশেষজ্ঞদের বরাতে তারেক রহমান এই দাবিকে ডাহা মিথ্যা বলে অভিহিত করেন।   তিনি সাফ জানিয়ে দেন, নারীদের ঘরে বন্দি করে রেখে বা অনৈতিকভাবে ভোট প্রভাবিত করে কোনোভাবেই বাংলাদেশে সৎ শাসন কায়েম করা সম্ভব নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0