যুক্তরাষ্ট্র

ফাইল ফটো।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দূতাবাস জানায়, পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে আপনার স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ান, তবে আপনার শিক্ষার্থী ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।’ ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্যতা নিয়েও সাবধান করেছে দূতাবাস। বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও চিরতরে হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ছাত্র হিসেবে নিজের বৈধ অবস্থান (স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস) বজায় রাখতে সব সময় ভিসার শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান প্রশ্নে সাংবাদিককে ‘বেরিয়ে যেতে’ বললেন ট্রাম্প

হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা ঘনীভূত হওয়ার প্রেক্ষাপটে ইরান প্রসঙ্গে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকের ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (১৮ এপ্রিল) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে প্রশ্নকারীকে কার্যত বেরিয়ে যেতে বলেন।   সিবিএস নিউজের সাংবাদিক অলিভিয়া রিনাল্ডি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর এক মন্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে জানতে চান, ইরানি গানবোট দুটি জাহাজে গুলি চালানোর অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কী। প্রশ্নটি শেষ হওয়ার আগেই ট্রাম্প দৃশ্যত বিরক্ত হয়ে বলেন, “আউট। সবাইকে ধন্যবাদ।” এরপরই ব্রিফিং কার্যত শেষ হয়ে যায়। উপস্থিতদের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় প্রেসিডেন্টকে স্পষ্টতই রাগান্বিত দেখাচ্ছিল।   এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে ব্রিটিশ সামরিক সূত্রের দাবি, ইরানের দুটি গানবোট একটি তেলবাহী জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি।   বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে এ ধরনের ঘটনার খবর নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিতিশীলতাও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
‘ডনরো ডকট্রিন’ প্রয়োগে কড়া বার্তা: ২৬ প্রভাবশালীর ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

ওয়াশিংটন থেকে নতুন এক কৌশলগত পররাষ্ট্রনীতি ঘোষণার মাধ্যমে পশ্চিম গোলার্ধে নিজেদের প্রভাব আরও জোরদার করার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ‘ডনরো ডকট্রিন’ নামে নতুন এই নীতির আওতায় ইতোমধ্যে ২৬ জন প্রভাবশালী ব্যক্তির ভিসা বাতিল করা হয়েছে। খবর আল-জাজিরার।   বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত বা প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন এই নীতির লক্ষ্য পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত আধিপত্য বজায় রাখা এবং বহিরাগত প্রভাব মোকাবিলা করা।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গৃহীত এই পদক্ষেপ ঐতিহাসিক ‘মনরো ডকট্রিন’-এর আধুনিক সংস্করণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলে চীনের বাড়তে থাকা বিনিয়োগ ও প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।   পররাষ্ট্র দপ্তরের ভাষ্য অনুযায়ী, যারা জেনেশুনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ দেশগুলোর পক্ষে কাজ করবে, অর্থায়ন দেবে কিংবা কৌশলগত সম্পদে বিদেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে, তারা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো কর্মকাণ্ডকেও এই নীতির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   তবে বিবৃতিতে কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই অস্পষ্টতা ভবিষ্যতে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করতে পারে।   সমালোচকদের অভিযোগ, নতুন এই নীতির মাধ্যমে বিদেশি সমালোচক বা রাজনৈতিক বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। অতীতে রাজনৈতিক কারণে ভিসা বাতিলের নজির থাকায় এ আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।   ‘ডনরো ডকট্রিন’ কার্যকর হলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণ সৃষ্টি হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যতে বৈশ্বিক কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন শর্ত ইরানের

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন একগুচ্ছ কঠোর শর্তারোপ করেছে ইরান। এখন থেকে এই কৌশলগত জলপথ ব্যবহারের জন্য ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নৌ-শাখার পূর্ব অনুমতি এবং নির্ধারিত টোল বা মাশুল প্রদান বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি এই ঘোষণা দিয়ে বলেন, "হরমুজ প্রণালীতে নতুন সামুদ্রিক শাসন ব্যবস্থা (Maritime Regime) মেনে চলার সময় এসেছে।" নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, শুধুমাত্র আইআরজিসি অনুমোদিত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার করে যাতায়াত করতে পারবে। ইব্রাহিম আজিজি সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজের চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে পরিস্থিতির আমূল পরিবর্তন করা হবে।" একই সুর শোনা গেছে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া সামরিক সদর দপ্তর থেকেও। সংস্থাটি স্পষ্ট জানিয়েছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানি জাহাজের অবাধ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালীতে এই কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বহাল থাকবে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী বিশ্বের জ্বালানি তেলের বাজারের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি চেকপয়েন্ট। ইরান এই কৌশলগত অবস্থানকে ব্যবহার করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং জ্বালানি বাজারে নিজেদের আধিপত্য বাড়াতে চায়। একই সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে যেকোনো কূটনৈতিক দরকষাকষিতে এটিকে প্রধান অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে তেহরান। এর আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকেও হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে নতুন ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। মূলত মার্কিন অবরোধের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান এই পথ দিয়ে ট্রানজিট চার্জ বা টোল আদায়ের কৌশল গ্রহণ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
মেটলাইফ স্টেডিয়াম ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজন করতে যাচ্ছে, তবে নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে এর অবস্থান এবং যাতায়াত খরচ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে যাতায়াত ভাড়ার ‘আকাশচুম্বী’ বৃদ্ধিতে ফুটবল ভক্তদের তীব্র ক্ষোভ

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে সমর্থকদের উন্মাদনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই যাতায়াত খরচের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে দেখা দিয়েছে তীব্র অসন্তোষ। আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিশ্বকাপের সময় ট্রেন ও বাসের ভাড়া কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবল ভক্তদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, নিউ জার্সি ট্রানজিট কর্তৃপক্ষ ম্যানহাটনের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম (যেখানে ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে) পর্যন্ত ট্রেন ভাড়া ১০০ ডলারের বেশি নির্ধারণ করতে যাচ্ছে। অথচ সাধারণ সময়ে এই রুটের ফিরতি টিকিট মাত্র ১২.৯০ ডলারে পাওয়া যায়। অর্থাৎ বিশ্বকাপের সময় ভক্তদের সাধারণ ভাড়ার চেয়ে প্রায় আট গুণ বেশি টাকা গুনতে হতে পারে। একই চিত্র দেখা গেছে ম্যাসাচুসেটসেও। বোস্টন থেকে জিলেট স্টেডিয়াম পর্যন্ত যাতায়াত খরচ ২০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৮০ ডলার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ফরাসি সমর্থকদের একটি সংগঠনের মুখপাত্র গুইলাম আউপ্রেত্রে এই সিদ্ধান্তকে ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “বিগত টুর্নামেন্টগুলোতে যাতায়াত খরচ টিকিটের সাথেই যুক্ত থাকত অথবা বিশাল ছাড় দেওয়া হতো। কিন্তু এবার ভক্তদের ওপর বাড়তি খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” এদিকে এই ভাড়া বৃদ্ধি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিকদের মধ্যেও তোলপাড় শুরু হয়েছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল সরাসরি ফিফাকে দায়ী করে বলেছেন, বিশ্বকাপ থেকে ফিফা প্রায় ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ ভক্তদের যাতায়াত ও নিরাপত্তার বিশাল খরচ স্থানীয় করদাতা ও সমর্থকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নিউ ইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোচুলও এই ভাড়া বৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আয়োজক শহরগুলোর সাথে আগের চুক্তিতে যাতায়াত বিনামূল্যে রাখার কথা থাকলেও পরে তা সংশোধন করা হয়েছে। তবে ফিফা অবাক হয়েছে যে, নিউ জার্সির মতো জায়গায় কেন যাতায়াত খরচের জন্য ফিফাকেই অর্থ দিতে বলা হচ্ছে। বিশ্বকাপের আনন্দ যখন ভক্তদের দরজায় কড়া নাড়ছে, তখন যাতায়াতের এমন ব্যয়বহুল চিত্র সাধারণ সমর্থকদের হতাশ করে তুলেছে। অনেকের মতে, ফুটবল এখন সাধারণ মানুষের ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফাইল ছবি: এএফপি
ইরানের ইউরেনিয়াম যৌথভাবে উদ্ধার করবে ওয়াশিংটন-তেহরান: ট্রাম্পের দাবি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলো থেকে উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যৌথভাবে উদ্ধার করবে ওয়াশিংটন ও তেহরান।   বার্তা সংস্থা রয়টার্স-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একসঙ্গে ধীরেসুস্থে এসব স্থানে প্রবেশ করবে এবং বড় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করা হবে। পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   তবে সম্ভাব্য এ ধরনের কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি ইরান। বরং তেহরান আগেই স্পষ্ট করেছে, তারা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছাড়বে না। এর আগে ট্রাম্প এই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে ‘পারমাণবিক ধূলা’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইরানের সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে।   আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪০০ কেজির বেশি ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। সাধারণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য প্রায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম প্রয়োজন হয়।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বক্তব্য বাস্তবায়িত হলে তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ইরানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান মতবিরোধের কারণে এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবে কতটা সম্ভব, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানে নতুন রেকর্ড: চরম ভোগান্তিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে চাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন। গত এক বছরে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1 Visa) প্রত্যাখানের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই সংকটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার আকাশচুম্বী হয়ে ৬১ শতাংশে ঠেকেছে। একই ধারায় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বপ্নও থমকে গেছে ভিসা না পাওয়ায়। কেন বাড়ছে রিফিউজালের হার? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কনস্যুলেটগুলো এখন আবেদনকারীদের 'ইমিগ্রেশন ইনটেন্ট' বা পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার মানসিকতা নিয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করছে। এছাড়া আর্থিক সক্ষমতার যথাযথ প্রমাণ এবং সঠিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ত্রুটিকেও এই গণহারে ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা পড়লেও সে তুলনায় ভিসা ইস্যুর হার ছিল অনেক কম। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক প্রত্যাখ্যান হারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন বিকল্প হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। যারা দীর্ঘ সময় ধরে আইইএলটিএস (IELTS) এবং জিআরই (GRE) দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন, ভিসা না পাওয়ায় তাদের ক্যারিয়ার এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন প্রশাসনের এই কড়াকড়ি আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
২৬ জনের ভিসা বাতিল, ভিসা নীতিতে আরও কঠোর যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যারা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তা করবে, তাদের ওপর নতুন করে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে এই নীতির আওতায় ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করার কথা নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। ১৯শ শতকের ঐতিহাসিক ‘মনরো নীতি’র আধুনিক সংস্করণ ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে তিনি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব নিশ্চিত করতে চাইছেন। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচার রোধ এবং এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম অগ্রাধিকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যারা জেনে-বুঝে আমেরিকার কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিকে কৌশলগত সম্পদ বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, তাদের ওপর এই ভিসা বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা কিংবা কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদেরও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদিও বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল লক্ষ্য চীন ও ইরান। এরই মধ্যে ইরান সরকার বা ইরানি বিপ্লবের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অন্তত সাতজন ব্যক্তির অভিবাসন ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভিসা নীতিকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
এনালিলিয়া মেহিয়া
নিউ জার্সির বিশেষ নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী এনালিলিয়া মেহিয়ার বিশাল জয়

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ১১তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী এনালিলিয়া মেহিয়া (Analilia Mejia)। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জো হ্যাথাওয়েকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নতুন সদস্য। সাবেক কংগ্রেস সদস্য মিকি শেরিল নিউ জার্সির গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মেহিয়া প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী হ্যাথাওয়ে পেয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট। বিজয় পরবর্তী ভাষণে উচ্ছ্বসিত মেহিয়া বলেন, "আমি এখানে কারো সাথে খেলার জন্য আসিনি, আমি এসেছি মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে। এটি বাম বা ডানের লড়াই নয়, এটি ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই।" এনালিলিয়া মেহিয়া একজন কট্টর প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো নেতাদের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মূলত নিম্নবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সুবিধা এবং ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির মতো প্রগতিশীল ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। এই জয়ের ফলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা আরও একটি বাড়লো, যা বর্তমানে রিপাবলিকানদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। মেহিয়া আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এই মেয়াদের বাকি সময়টুকু দায়িত্ব পালন করবেন এবং আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আবারও পূর্ণ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
পোপ লিও চতুর্দশ
পোপের শান্তি বার্তায় ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা, ভ্যাটিকান ও হোয়াইট হাউসের সংঘাত চরমে

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ ইস্যুতে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশ এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে চলমান বাগযুদ্ধ এখন ব্যক্তিগত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শান্তি ও কূটনীতির পক্ষে পোপের অনড় অবস্থানের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাকে "পররাষ্ট্র নীতিতে অত্যন্ত দুর্বল" বলে অভিহিত করেছেন। ভ্যাটিকান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার এই অভূতপূর্ব কূটনৈতিক টানাপড়েন বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়েছে। সম্প্রতি ভ্যাটিকান সিটির সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় এক শান্তি জাগরণ অনুষ্ঠানে পোপ লিও চতুর্দশ বিশ্ব নেতাদের ‘সর্বশক্তিমান হওয়ার বিভ্রম’ (Delusion of Omnipotence) থেকে বেরিয়ে এসে সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। মূলত ইরান সংঘাত নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার দিকেই তার ইঙ্গিত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পোপের এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বেশ কয়েকটি আক্রমণাত্মক পোস্ট করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লেখেন, “আমি এমন একজন পোপ চাই না যিনি মনে করেন ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকাটা ঠিক। তিনি ধর্মের দিকে মনোযোগ দিন, রাজনীতিতে নয়।” ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেন যে, পোপ লিও চতুর্দশ অপরাধীদের প্রতি নমনীয় এবং তার পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। জবাবে পোপ তার শান্তি মিশনে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। বর্তমানে আফ্রিকা সফরে থাকা পোপ সাংবাদিকদের বলেন, “আমি যুদ্ধের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে কথা বলা চালিয়ে যাব। বিশ্বে অনেক নিরপরাধ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে, আর কেউ না কেউ তো শান্তির কথা বলবেই।” উল্লেখ্য যে, পোপ লিও চতুর্দশ ইতিহাসে প্রথম মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ। তার নিজের দেশের প্রেসিডেন্টের সাথে এ ধরনের প্রকাশ্য বিরোধ আধুনিক ইতিহাসে বিরল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের নৈতিকতা এবং বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক শক্তির এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
অভিবাসন ও পরিচয় জালিয়াতির দায়ে এক ভারতীয়র মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: অভিবাসন নথিতে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং আগের বহিষ্কারাদেশ গোপন করার অভিযোগে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্যক্তির মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত।   মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, গুরদেভ সিং সোহাল নামের ওই ব্যক্তি ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তবে তদন্তে উঠে আসে, এর আগে ১৯৯৪ সালে অন্য পরিচয়ে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কার ও দেশে ফেরত পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়েছিল।   কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বহিষ্কারের নির্দেশ মানার পরিবর্তে তিনি নতুন একটি ভুয়া পরিচয় তৈরি করেন। পরে অন্য নাম, জন্মতারিখ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের তথ্য ব্যবহার করে অভিবাসন সুবিধা নেন এবং শেষ পর্যন্ত নাগরিকত্ব পান।   তদন্তে আরও জানা যায়, নাগরিকত্ব আবেদনসহ বিভিন্ন অভিবাসন প্রক্রিয়ায় তিনি আগের পরিচয় ও বহিষ্কারের ইতিহাস গোপন করেছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগের সিভিল ডিভিশনের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ব্রেট এ সুমাত বলেন, নাগরিকত্বের মর্যাদা রক্ষায় সরকার প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।   আদালত রায়ে বলেন, পরিচয় গোপন ও জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সৎ নৈতিক চরিত্র প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে তার মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে।   সূত্র: ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউ জার্সির ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে ভোট গ্রহণ, অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার খরচ প্রধান ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ১১তম কংগ্রেসনাল আসনে শূন্য পদে প্রতিনিধি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে স্থানীয় সময় রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে আইউইটনেস নিউজ।   এই আসনটি শূন্য হয় মিকি শেরিল গভর্নর পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর কংগ্রেসের আসন ত্যাগ করলে। ফলে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচনে তিন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন প্রগ্রেসিভ নেতা অ্যানালিলিয়া মেজিয়া। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়ে এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অ্যালান বন্ড।   নির্বাচনী প্রচারণায় অর্থনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং জ্বালানি খরচ প্রধান ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। রিপাবলিকান প্রার্থী জো হ্যাথাওয়ে প্রথমবারের মতো বাড়ি কিনতে আগ্রহীদের জন্য কর স্থগিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, নিউ জার্সিতে বাড়ির মালিক হওয়া ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।   অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যানালিলিয়া মেজিয়া অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকান নীতির কারণে স্বাস্থ্যসেবা ও জ্বালানি খাতে কর সুবিধা কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে।   জাতীয় রাজনীতির প্রভাবও এই নির্বাচনে স্পষ্ট। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থান ভিন্ন। হ্যাথাওয়ে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে তিনি নিজের দল ও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করবেন, যদি তা তার এলাকার জন্য উপকারী হয়। অপরদিকে মেজিয়া অভিযোগ করেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী ট্রাম্পের নীতির সমর্থক।   নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যক্তিগত আক্রমণও দেখা গেছে। ইসরায়েল ও ইহুদি সম্প্রদায় নিয়ে একে অপরের অবস্থানকে কেন্দ্র করে সমালোচনা করেছেন দুই প্রার্থী। ভোটারদের কাছে জীবনযাত্রার ব্যয়, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা বড় ইস্যু হিসেবে সামনে এসেছে। অনেক ভোটারই বাড়তি খরচের চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যাতায়াত খরচ আকাশছোঁয়া, যুক্তরাষ্ট্রের তোপের মুখে ‘বিস্মিত’ ফিফা

আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ ফুটবলকে সামনে রেখে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় জনপরিবহন বা যাতায়াত খরচ অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধির ঘোষণায় ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও ফুটবল প্রেমীদের ওপর এই অতিরিক্ত খরচের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মার্কিন শীর্ষ রাজনীতিবিদরা। তবে এই ঘটনায় উল্টো ‘বিস্ময়’ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বিশ্বকাপের ম্যাচ চলাকালীন নিউ ইয়র্কের পেন স্টেশন থেকে নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়াম পর্যন্ত ট্রেনের টিকিট ভাড়া ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। স্বাভাবিক সময়ে এই রুটের ভাড়া মাত্র ১২.৯০ ডলার। অর্থাৎ যাতায়াত খরচ বাড়ছে প্রায় ১০ গুণ! একইভাবে বোস্টন থেকে ফক্সবরো পর্যন্ত বাস ভাড়া ৯৫ ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে আভাস পাওয়া গেছে। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’-এ (সাবেক টুইটার) লিখেছেন, "ফিফা এই বিশ্বকাপ থেকে ১১ বিলিয়ন ডলার আয় করবে, অথচ নিউ জার্সির সাধারণ মানুষকে যাতায়াতের জন্য কোটি কোটি ডলারের বোঝা বইতে হবে—এটা হতে দেওয়া যায় না। ফিফাকেই এই খরচ বহন করতে হবে।" সিনেটের প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারও সুর মিলিয়েছেন। তিনি বলেন, "ফিফাকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে এবং আয়োজক শহরগুলোর পরিবহন খরচ ভর্তুকি দিতে হবে। সাধারণ মানুষকে এভাবে শোষিত হতে দেওয়া যাবে না।" এই সমালোচনার জবাবে ফিফা জানিয়েছে, তারা মার্কিন কর্মকর্তাদের এমন আচরণে অত্যন্ত বিস্মিত। ফিফার একজন মুখপাত্র জানান, ২০১৮ সালের প্রাথমিক চুক্তিতে ভক্তদের জন্য যাতায়াত ফ্রি রাখার কথা থাকলেও ২০২৩ সালে আয়োজক শহরগুলোর আর্থিক চাপের কথা বিবেচনা করে ফিফা নিয়মে পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, দর্শকদের 'মূল্য পরিশোধ' করেই যাতায়াত করতে হবে। ফিফার দাবি, তারা এর আগে ফেডারেল ফান্ডিংয়ের জন্য লবিং করে আয়োজকদের সহায়তা করেছে। এছাড়া আগে নিউ জার্সিতে হওয়া কোনো কনসার্ট বা ক্রীড়া ইভেন্টে আয়োজকদের পরিবহন খরচ দেওয়ার নজির নেই বলেও তারা দাবি করে। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের জুন-জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হবে ফিফা বিশ্বকাপ। নিউ জার্সি ও নিউ ইয়র্ক এলাকায় ফাইনালসহ মোট ৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু যাতায়াত খরচের এই বিতর্ক বিশ্বকাপের আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করে দিচ্ছে সাধারণ দর্শকদের কাছে।এখন দেখার বিষয়, ফুটবল প্রেমীদের কথা বিবেচনা করে ফিফা শেষ পর্যন্ত কোনো ছাড় দেয় কি না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ট্রাম্পের যুদ্ধ ক্ষমতা হ্রাসে ডেমোক্র্যাটদের প্রচেষ্টা ব্যর্থ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান বিষয়ক যুদ্ধ ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার লক্ষে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি সভায় (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) নাকচ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ২১৪-২১৩ ভোটে প্রস্তাবটি পরাজিত হয়। প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা কমিয়ে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা। তবে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। ভোটাভুটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপাবলিকান পার্টির কেনটাকি প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি জ্যারেড গোল্ডেন নিজের দলের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এটি ছিল ডেমোক্র্যাটদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। এর আগে গত সপ্তাহেও তারা একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন যা সফল হয়নি। এমনকি গত বুধবার সিনেটেও অনুরূপ একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারা আবারও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ফেসবুক থেকে প্রাপ্ত এই তারিখবিহীন ছবিটিতে ভার্জিনিয়ার সাবেক লেফট্যানেন্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সকে দেখা যাচ্ছে।
স্ত্রীকে হত্যার পর সাবেক মার্কিন লেফটেন্যান্ট গভর্নরের রহস্যজনক আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেল এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে একে ‘মার্ডার-সুইসাইড’ বা স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু সময় পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে জাস্টিন এবং সেরিনা উভয়কেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার সময় তাদের দুই কিশোর সন্তানও ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল। তবে তারা শারীরিক কোনো আঘাত পায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সম্প্রতি সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্স বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন, যা নিয়ে দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলেও, একে একটি অভ্যন্তরীণ পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার ৪১তম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন এই অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান নির্বাচিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার এই আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুতে গোটা ভার্জিনিয়ার রাজনৈতিক মহলে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধের পরিধি বৃদ্ধি: ‘নিষিদ্ধ পণ্য’বাহী জাহাজে তল্লাশির ঘোষণা

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ-অবরোধের কঠোরতা আরও বাড়ালো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এখন থেকে সাধারণ সমরাস্ত্রের পাশাপাশি জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন ধাতব পদার্থবাহী জাহাজকেও এই অবরোধের আওতায় আনা হয়েছে।  মার্কিন নৌবাহিনীর এক নতুন নির্দেশনায় জানানো হয়েছে, ইরানের উদ্দেশ্যে যাওয়া যেকোনো সন্দেহভাজন জাহাজ এখন থেকে মার্কিন বাহিনীর ‘ভিজিট অ্যান্ড সার্চ’ (পরিদর্শন ও তল্লাশি) প্রক্রিয়ার সম্মুখীন হতে পারে। মার্কিন নৌবাহিনীর হালনাগাদ করা অ্যাডভাইজরিতে বলা হয়েছে, অবস্থান যেখানেই হোক না কেন, সন্দেহভাজন জাহাজগুলোতে তল্লাশি চালানো, আরোহন করা এবং প্রয়োজনে সেগুলো জব্দ করার অধিকার রাখে মার্কিন সামরিক বাহিনী। মূলত ইরানের সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক ও সামরিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অবরোধের তালিকায় থাকা নতুন ‘নিষিদ্ধ’ (Contraband) পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে— সব ধরণের অস্ত্র ও অস্ত্র ব্যবস্থা, গোলাবারুদ, পারমাণবিক উপাদান, অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানি তেল, লোহা, ইস্পাত এবং অ্যালুমিনিয়াম। সোমবার থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের পরিধি বাড়ানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সমুদ্রসীমায় উত্তেজনা আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
রাশিয়ার তেল আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আসলে সংকটে পড়তে পারে ভারত।
রাশিয়ার তেল কেনায় ভারতের জন্য কড়া বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের

বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যে রাশিয়া ও ইরান থেকে তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারতসহ কয়েকটি দেশকে সাময়িক ছাড় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সেই সুবিধা আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে ভারতের জ্বালানি সরবরাহে নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ভারতীয় গণমাধ্যম জানায়, এই ছাড়ের বড় সুবিধাভোগী ছিল ভারত। হরমুজ প্রণালির আশপাশে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও দিল্লি রাশিয়া থেকে তেল আমদানি চালিয়ে যেতে পেরেছিল। কিন্তু ছাড়ের মেয়াদ শেষ হলে সেই সুযোগ আর থাকবে না।   সরকারি সূত্রের বরাতে বলা হয়, নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পর ভারত রাশিয়া থেকে প্রায় ৩ কোটি ব্যারেল তেল কেনার অর্ডার দেয়। এর আগে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ভারতের শোধনাগারগুলো—যেমন রিলায়েন্স—রাশিয়ার রসনেফট ও লুকওইলের মতো কোম্পানি থেকে তেল সংগ্রহ করেছিল।   এদিকে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, রাশিয়া ও ইরানের তেলের ওপর দেওয়া সাধারণ লাইসেন্স আর নবায়ন করা হবে না।   উল্লেখ্য, মার্চ মাসে যুক্তরাষ্ট্র ভারতের শোধনাগারগুলোকে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ার তেলবাহী ট্যাঙ্কার থেকে তেল কেনার অনুমতি দিয়েছিল। পরবর্তীতে ইরানের ক্ষেত্রেও একই ধরনের ছাড় দেওয়া হয়। রাশিয়ার তেলের ক্ষেত্রে এই সুবিধার মেয়াদ ছিল ১১ এপ্রিল পর্যন্ত, আর ইরানের তেলের জন্য তা ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ইরানি তেল রপ্তানিতে কড়াকড়ি বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র
ইরানি তেল রপ্তানিতে কড়াকড়ি বাড়ালো যুক্তরাষ্ট্র

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘটনায় নতুন করে কঠোর অবস্থান নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর প্রেক্ষিতে ইরানের তেল খাতকে লক্ষ্য করে আরও কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।     বুধবার (১৫ এপ্রিল) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ইরানের তেল পরিবহন ও বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির নেটওয়ার্কের আওতাধীন দুই ডজনের বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে। বিষয়টি জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।   এক বিবৃতিতে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, “অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির কৌশলের অংশ হিসেবে ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যারা সাধারণ মানুষের ক্ষতির বিনিময়ে নিজেদের লাভবান করছে।”   অন্যদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানায়, হরমুজ প্রণালিকে নিয়ন্ত্রণে রেখে ইরান যে কৌশলগত চাপ সৃষ্টি করছে, তা মোকাবিলায় দেশটির আয়ের উৎস সীমিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।   নিষেধাজ্ঞার নতুন তালিকায় সৈয়দ নাইমাই বদরুদ্দিন মুসাভির নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, তিনি ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন।   প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপের জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পরমাণু ইস্যুতে ছাড়ের ইঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতির আশা ইরানের

তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনায় ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন পাকিস্তানি কর্মকর্তারা। যুদ্ধবিরতি টেকসই করতে ইসলামাবাদের কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হওয়ায় নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।   কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার পথ সুগম করতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে পাকিস্তান। এর অংশ হিসেবে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করেছে।   ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তেহরানে পৌঁছানোর পর প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি সংলাপ আয়োজনের জন্য পাকিস্তানের ভূমিকাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন এবং আলোচনায় অগ্রগতির আশা প্রকাশ করেন।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মূলত তিনটি ইস্যুতে সমঝোতার চেষ্টা চলছে—ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং যুদ্ধকালীন ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্ন। এর মধ্যে সবচেয়ে জটিল বিষয় হয়ে উঠেছে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুত ও তার ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা।   জানা গেছে, ইরানের কাছে থাকা প্রায় ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে বিভিন্ন বিকল্প আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তৃতীয় কোনো দেশে পাঠানো, সমৃদ্ধির মাত্রা কমিয়ে আনা অথবা প্রাকৃতিক পর্যায়ে ফিরিয়ে নেওয়া। একই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত রাখার সময়সীমা নিয়েও মতপার্থক্য রয়েছে—ইরান ৫ বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছর পর্যন্ত সময়সীমা চায়। তবে মাঝামাঝি কোনো সমাধানের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।   গত সপ্তাহে ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলেও এরপর থেকে ‘শাটল কূটনীতি’ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। একদিকে তেহরানের সঙ্গে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ, অন্যদিকে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কের সঙ্গে রাজনৈতিক সমন্বয়—এই দ্বিমুখী কৌশলের মাধ্যমে সম্ভাব্য চুক্তির পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা চলছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইরানে কয়েক হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। যদিও ৮ এপ্রিল ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা কমেছে, লেবাননে সংঘাত এখনো অব্যাহত রয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষেরই সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে পারমাণবিক ইস্যুতে ইরান কিছুটা নমনীয় হলে একটি চুক্তির সম্ভাবনা আরও জোরালো হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন হারিয়েছে পেন্টাগন। ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ক্ষতি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে মার্কিন নৌবাহিনী। প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি অত্যাধুনিক নজরদারি ড্রোন হারানোর ঘটনা সামনে এসেছে, যাকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ ‘ক্লাস এ’ দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করেছে।   তথ্য অনুযায়ী, এমকিউ-৪সি ট্রাইটন মডেলের ড্রোনটি ইতালির সিগোনেলা নেভাল এয়ার স্টেশন থেকে উড্ডয়ন করেছিল। পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় এটি হঠাৎ রাডার ও অনলাইন ট্র্যাকিং সিস্টেম থেকে হারিয়ে যায়। নিখোঁজ হওয়ার আগে ড্রোনটি প্রায় ৫০ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে দ্রুত নিচের দিকে নামছিল বলে জানা গেছে।   মার্কিন নৌবাহিনী জানিয়েছে, এ ঘটনায় কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। তবে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কয়েক মিলিয়ন ডলার হিসেবে উল্লেখ করা হলেও, ড্রোনটির প্রকৃত মূল্য প্রায় ২৩৮ মিলিয়ন ডলার—যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল সামরিক সম্পদের মধ্যে একটি।   নিরাপত্তাজনিত কারণে ড্রোনটি কোথায় বিধ্বস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পেন্টাগন। নিখোঁজ হওয়ার আগে এটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমা দিয়ে ইরানের দিকেই অগ্রসর হচ্ছিল। তবে সেটি ইরানের ভূখণ্ডে পড়েছে—এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি সম্ভাব্য সাইবার হামলা—ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।   উল্লেখযোগ্যভাবে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ড্রোন হারানোর ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। এর আগেও একই সময়ে একাধিক এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারানোর খবর পাওয়া গেছে, যার আর্থিক মূল্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলার।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন উচ্চপ্রযুক্তির নজরদারি ড্রোন হারানো যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কার্যক্রম ও নজরদারি সক্ষমতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ড্রোন থেকে তোলা নিউইয়র্কের ডবস ফেরিতে অবস্থিত ‘দ্য চিলড্রেন’স ভিলেজ’
আশ্রয়কেন্দ্রে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার অভিবাসী শিশুরা: তোলপাড় যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অভিবাসী শিশুদের জন্য নির্ধারিত সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে ভয়াবহ শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসার পর দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অভিভাবকহীন অবস্থায় সীমান্তে আটক হওয়া শিশুদের যে সমস্ত শেল্টারে রাখা হয়েছিল, সেখানে সুরক্ষার বদলে তারা চরম অবহেলার শিকার হয়েছে। বেশ কয়েকজন শিশু তাদের সাথে হওয়া অমানবিক আচরণের বর্ণনা দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে মারধর, দীর্ঘ সময় অন্ধকার ঘরে আটকে রাখা এবং এমনকি যৌন নিগ্রহের মতো ভয়াবহ ঘটনা। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই ঘটনাকে "মানবিক বিপর্যয়" হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তাদের দাবি, সরকারি নজরদারির অভাবে এবং বেসরকারি ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে শিশুদের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এদিকে মার্কিন রাজনৈতিক মহলে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় পক্ষের নেতারাই এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বলছেন, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং এই কলঙ্কজনক ঘটনা তদন্তে তারা একটি বিশেষ কমিটি গঠন করতে যাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ইস্যুটি বর্তমান সরকারের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অভিবাসন নীতি ও মানবাধিকার রক্ষা—উভয় ক্ষেত্রেই প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী এই দেশটি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0