অপরাধ দমনে এক কঠোর ও নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল মধ্য আমেরিকার দেশ এল সালভাদর। এখন থেকে দেশটিতে গুরুতর অপরাধের দায়ে ১২ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া যাবে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দেশটির সরকার এই নতুন আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে, যা আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট নায়েব বুকেলে-এর নেতৃত্বাধীন সরকার গ্যাং সহিংসতা ও অপরাধ নির্মূলে গত দুই বছর ধরে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করে রেখেছে। সেই কঠোর নীতির অংশ হিসেবেই এই আইনি সংশোধন আনা হলো। নতুন আইন অনুযায়ী, হত্যা, সন্ত্রাসবাদ বা ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত থাকলে শিশুদের ক্ষেত্রেও সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এই আইনের তীব্র সমালোচনা করেছে। ইউনিসেফের মতে, শিশুদের ক্ষেত্রে এ ধরনের কঠোর শাস্তি আন্তর্জাতিক শিশু অধিকার সনদের পরিপন্থী এবং এটি শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সমালোচকরা বলছেন, অপরাধ দমনের নামে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ছে। তবে প্রেসিডেন্ট বুকেলে এই সমালোচনার জবাবে জানিয়েছেন, খুনি এবং ধর্ষকদের কারাগারে আটকে রাখাই নাগরিক নিরাপত্তার জন্য জরুরি। উল্লেখ্য, ২০২২ সালের মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৯০ হাজারেরও বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা বিশ্বের অন্যতম সর্বোচ্চ কারাবন্দী হারের রেকর্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে ৭ বছর বয়সী শিশু এথেনা স্ট্র্যান্ডকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর মোড় নিয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া। অভিযুক্ত পার্সেল সরবরাহকারী চালক ট্যানার হার্নের আদালতে হঠাৎ করেই নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার ফোর্ট ওয়ার্থের আদালতে শুনানির সময় তিনি শিশু অপহরণ ও হত্যার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন। এর ফলে নির্ধারিত বিচার কার্যক্রম শুরুর আগেই মামলাটি সরাসরি শাস্তি নির্ধারণের পর্যায়ে চলে যায়। অভিযোগপত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে একটি পার্সেল পৌঁছে দিতে গিয়ে শিশুটিকে তার বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়। পরে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে একটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আদালতে উপস্থাপিত তথ্যে জানা যায়, অপহরণের পর শিশুটি কিছু সময় সরবরাহ ভ্যানের ভেতরে ছিল—যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সংবেদনশীলতার কারণে এ সংক্রান্ত ছবি প্রকাশ করা হয়নি। অভিযুক্ত ট্যানার হার্নের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফেডেক্স এর হয়ে কাজ করতেন বলে জানা গেছে। এখন জুরিবোর্ড সিদ্ধান্ত নেবে—এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে, নাকি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। শিশুদের নিরাপত্তা এবং পার্সেল সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর আস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নিউ ইয়র্কে একদল অপেশাদার চোর মিডটাউনের একটি পার্কিং গ্যারেজ থেকে বিলাসবহুল গাড়ি চুরি করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত পার্কিং গেটের বাধায় ব্যর্থ হয়, জানিয়েছে পুলিশ। রবিবার ভোর ৬টার কিছু আগে ম্যানহাটনের হেলস কিচেন এলাকায় ওয়েস্ট ৪৩তম স্ট্রিটের একটি গ্যারেজে ৪-৫ জন চোর প্রবেশ করে। তারা একটি নীল ম্যাকলারেন, একটি মার্সিডিজ জি-ওয়াগনসহ বেশ কয়েকটি দামী গাড়িতে ভাঙচুর চালিয়ে সেগুলো নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। একজন চোর ২০২০ সালের ম্যাকলারেনটি নিয়ে বের হতে সক্ষম হলেও বেশি দূর যেতে পারেনি। কয়েক লাখ ডলারের এই স্পোর্টস কারটি কাছের একটি খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। গাড়িটির মালিক পরে বলেন, এটা খুবই হতাশাজনক। নিউ ইয়র্কে এমন গাড়ি আগে দেখেছি, কিন্তু প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারিনি এটা আমার গাড়ি। নিশ্চিত হওয়ার পর মাথায় হাজারটা চিন্তা ঘুরছিল। এদিকে, এক তৎপর পার্কিং কর্মী গ্যারেজের সামনের ধাতব গেট নামিয়ে দিয়ে বাকি চোরদের পালাতে বাধা দেন। তবে এ সময় একটি সাদা রেঞ্জ রোভার ক্ষতিগ্রস্ত হয় গেটটি গাড়িটির হুডের ওপর পড়ে। আরেক ভুক্তভোগী, যার ভলভো গাড়িটিও টার্গেট করা হয়েছিল, বলেন, আমি হতবাক। আমার গাড়ির সামনের কাচ ভেঙে গেছে। গাড়ির চাবি ভেতরেই ছিল। চোররা শেষ পর্যন্ত নিজেদের একটি ধূসর বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ খবর পর্যন্ত তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় পারিবারিক বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের মারধরে ছোট ভাই শাহীন হোসেন (৩০) নিহত হয়েছেন। বুধবার রাতে আহত অবস্থায় মারা যান তিনি। নিহত শাহীন হোসেন উপজেলার ধুলাউড়ি ইউনিয়নের রাউতি গ্রামের রওশন আলীর ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঁথিয়া থানা এর পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল লতিফ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রওশন আলীর দুই ছেলে বাবুল ও শাহীন আলাদা সংসারে বসবাস করতেন। বড় ছেলে বাবুল বাবার ভরণপোষণ করতেন। গত ২৮ মার্চ দুপুরে বাবার ভাত খাওয়া নিয়ে বাবুলের সঙ্গে তার বাবার তর্ক হয়। এ সময় ছোট ভাই শাহীন বিষয়টি নিয়ে বড় ভাইয়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে বড় ভাই বাবুল ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে শাহীনকে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। বুধবার রাতে ঢাকায় নেওয়ার পথে পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসেন প্রয়োজনীয় টাকা সংগ্রহের জন্য। এ সময় তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে এবং বাড়িতেই তিনি মারা যান। পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তকে আটকের চেষ্টা চলছে।
Cox's Bazar শহরে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খোরশেদ আলম নামে এক ছাত্রদল নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত ১০টার দিকে সমুদ্র সৈকতের কবিতাচত্বর পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ আলম শহরের পাহাড়তলী এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের সক্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, একদল দুর্বৃত্ত তাকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই জেলায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে জেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তারিন নামের এক তরুণীকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সংঘটিত গণধর্ষণ মামলার এজাহারভুক্ত এক পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৪। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মোসাদ্দেক খান (২৫)। গত সোমবার রাতে আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়নের চিনচিনা মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৪, সিপিসি-২-এর কোম্পানি কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহীনুর কবির। র্যাব জানায়, গত ২৪ জানুয়ারি গভীর রাতে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত মোসাদ্দেক নিজেকে বাড়ির ব্যবস্থাপক পরিচয় দিয়ে দরজায় নক করেন। এ সময় তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। ভুক্তভোগীর স্বামী দরজা খুললে অভিযুক্তরা ঘরে প্রবেশ করে তাদের পরিচয় নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে এবং কাবিননামা দেখতে চায়। একপর্যায়ে তারা স্বামীকে জোরপূর্বক আটকে রেখে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও তার স্বামীকে হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা সেখান থেকে পালিয়ে যায়। র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মোসাদ্দেক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন। তাকে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নের কালীগ্রামে চাঁদা না দেওয়ায় এক ব্যক্তিকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২২ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আহত সারওয়ার জাহান (৪৫) স্থানীয় বাসিন্দা। গুরুতর অবস্থায় তাকে প্রথমে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, প্রায় এক বছর আগে বসতবাড়ি কেনার পর থেকেই অভিযুক্ত রাজু আহমেদ ও তার সহযোগীরা এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। ঈদের আগেও তাদের বাড়ি ঘেরাও করা হয়েছিল বলে জানান ভুক্তভোগীর স্ত্রী। রোববার দুপুরে একই দাবিতে অভিযুক্তরা সারওয়ার জাহানকে কালীগ্রাম উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পেছনে নিয়ে গিয়ে হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর আহত করে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত রাজু আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে এম মাসুদ রানা জানান, এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল হাসেম ওরফে হাসুকে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) রাজধানীর আদাবর এলাকা থেকে ডিএমপি আদাবর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। ডিএমপি তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হাসুকে আজ আদাবর এলাকা থেকে থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বর্তমানে থানায় রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জুলাই হত্যা মামলার পাশাপাশি একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সূত্রে জানা যায়, হাসুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকায় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতেন তিনি। ২০০২ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব ক্যাডার বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন। আদাবর ও শ্যামলী এলাকায় অর্ধশতাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট দখল করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এছাড়া সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগও আদালতে বিবেচনাধীন রয়েছে।
মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় সহপাঠীর ব্ল্যাকমেইলের শিকার হয়ে সেতু (১৪) নামে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীর আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার কাশিমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সেতু কালকিনি সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী এবং ওই গ্রামের দুলাল ঘরামীর মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, সেতুর সহপাঠী কাইফ তার কিছু আপত্তিকর ছবি ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাকমেইল করে আসছিল। এই মানসিক চাপ সইতে না পেরে সেতু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। অভিযুক্ত কাইফ দক্ষিণ কৃষ্ণনগর গ্রামের উজ্জলের ছেলে। নিহতের বাবা দুলাল ঘরামী জানান, কাইফ তার মেয়েকে ছবির ভয় দেখিয়ে প্রতিনিয়ত মানসিকভাবে হেনস্তা করত। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। এদিকে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এমনকি থানায় মামলা করতে গেলেও গড়িমসি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তারা। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং স্থানীয়রা অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর মো. সাইমুম রেজা তালুকদারের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিম আকরাম হত্যা মামলার আসামিকে খালাস পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে এক কোটি টাকা ঘুষ দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগ ওঠার পরপরই তিনি পদত্যাগ করেছেন এবং সরকার দ্রুততার সাথে তা গ্রহণ করে তাকে অব্যাহতি প্রদান করেছে। সোমবার (৯ মার্চ) পদত্যাগের খবর প্রকাশের পরেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে ঘুষ সংক্রান্ত দুটি চাঞ্চল্যকর অডিও ক্লিপ ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া কথোপকথনে চট্টগ্রামের রাউজান আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের এক আইনজীবীর সঙ্গে লেনদেন নিয়ে দরকষাকষি করতে শোনা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, মামলার অব্যাহতি নিশ্চিত করতে এক কোটি টাকা দাবি করা হয় এবং অগ্রিম হিসেবে ১০ লাখ টাকা চাওয়া হয়। কথোপকথনে আরও শোনা যায়, বিএনপির একজন সংসদ সদস্য ও একজন প্রতিমন্ত্রীর মাধ্যমে তদবির করানোর আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। এমনকি ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরকে ‘রিজনেবল’ বলে উল্লেখ করে তার সমর্থন আদায়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী রেজওয়ানা ইউসুফ সরাসরি মন্তব্য না করলেও ঘটনার সত্যতা থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। তবে সাইমুম রেজা তালুকদার তার ফেসবুক পোস্টে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই অডিও ক্লিপগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং একটি মহলের অপপ্রচার। তার মতে, প্রসিকিউশনের কাজের ধরন অনুযায়ী এককভাবে কাউকে সুবিধা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরও জানান, শিক্ষকতা ও গবেষণায় ফেরার উদ্দেশ্যেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। এদিকে, সাইবার বিশেষজ্ঞ ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানিয়েছেন, প্রাথমিক বিশ্লেষণে অডিওগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হচ্ছে না। তবে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। উল্লেখ্য, গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর সীমান্ত দিয়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ছাত্র হত্যার একাধিক মামলা রয়েছে।
মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন Democracy for the Arab World Now (DAWN) ইরানকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত International Criminal Court (ICC)-এর বিচারিক ক্ষমতা স্বীকার করার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, ২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সাম্প্রতিক সংঘাতের পর থেকে ইরানের ভূখণ্ডে সংঘটিত সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তদন্তের জন্য এই পদক্ষেপ জরুরি। DAWN বলেছে, আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী কোনো দেশ আদালতের পূর্ণ সদস্য না হলেও একটি বিশেষ ঘোষণার মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময় থেকে সংঘটিত অপরাধের ওপর আদালতের বিচারিক ক্ষমতা গ্রহণ করতে পারে। ইরান যদি এমন ঘোষণা দেয়, তাহলে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির ভেতরে ঘটে যাওয়া হামলা, বেসামরিক হতাহত এবং অবকাঠামো ধ্বংসের ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক তদন্তের আওতায় আসতে পারবে। সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, চলমান সংঘাতে হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে তারা। DAWN শুধু ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের যেসব দেশ এই সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে পড়েছে তাদেরও একই ধরনের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, এতে ভবিষ্যতে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগের বিচার করার আইনি পথ খোলা থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সহজ হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—তিন দেশই আইসিসির পূর্ণ সদস্য নয়। ফলে আদালতের সরাসরি তদন্ত শুরু করতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশের সম্মতি বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে। তবে ইরান যদি স্বেচ্ছায় আদালতের এখতিয়ার মেনে নেয়, তাহলে চলমান সংঘাত নিয়ে আন্তর্জাতিক তদন্তের নতুন পথ তৈরি হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews