যুক্তরাষ্ট্রে ইমিগ্রেশন আন্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট(আইস)-এর হেফাজতে এক মেক্সিকান অভিবাসীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এই ঘটনা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিতীয় মেয়াদে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা ৪৭-এ পৌঁছানোর বিষয়টি সামনে এনেছে। মৃত ব্যক্তির নাম আলেহান্দ্রো ক্যাবরেরা ক্লেমেন্তে (৪৯)। তিনি উইন করেকশনাল সেন্টার -এ আটক ছিলেন। আইস-এর পাঠানো নোটিফিকেশন অনুযায়ী, ১১ এপ্রিল তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেলে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে সকাল ৮টা ৫১ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া কঠোর অভিবাসন অভিযানের পর থেকে আইস হেফাজতে মৃত্যুর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ক্লেমেন্তে এই সময়ের মধ্যে ১৫তম মেক্সিকান নাগরিক, যিনি আটক অবস্থায় মারা গেলেন। মেক্সিকোর কূটনীতিক ভেনেসা কালভা রুইজ এই মৃত্যুগুলোকে “অ্যালার্মিং” ও “অগ্রহণযোগ্য প্রবণতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এসব ঘটনা পদ্ধতিগত ব্যর্থতা, পরিচালনাগত দুর্বলতা এবং সম্ভাব্য অবহেলার ইঙ্গিত দেয়। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরেই আইস ডিটেনশন সেন্টারগুলোর পরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসছে। সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। এদিকে আইস জানিয়েছে, প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনাই নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। তবে সমালোচকরা বলছেন, শুধু তদন্ত নয়—স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটি-তে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বিরোধী এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে ১৫ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করেছে নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আইউইটনেস নিউজ জানায়, সোমবার বিক্ষোভকারীরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিয়ার টেকনোলজিস-এর ভবনে প্রবেশ করে অবস্থান নেন। আইসের কর্মকাণ্ডে সহযোগিতার অভিযোগ তুলে তারা এ কর্মসূচি পালন করছিলেন। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরে যেতে নির্দেশ দিলে তারা তা অমান্য করেন। পরে অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আদালতে হাজিরার নোটিশ দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হবে। এর আগে সন্ধ্যায় জুইশ ফর রেশিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক জাস্টিস-এর উদ্যোগে ইউনিয়ন স্কোয়ার এলাকায় ‘সেডার ইন দ্য স্ট্রিটস’ শিরোনামে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব পাসওভার উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ধর্মীয় গান ও বক্তব্যের মাধ্যমে আইসের অভিবাসন নীতির প্রতিবাদ জানান। গ্রেপ্তার হওয়া বিক্ষোভকারীরাও ওই সমাবেশে অংশ নিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। সমাবেশে বক্তব্য দেন নিউইয়র্কের মেয়র জোরান মামদানি। তিনি বলেন, পাসওভারের শিক্ষা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ভয়ের বিরুদ্ধে আশা এবং বিভেদের বিরুদ্ধে সংহতির মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের New York অঙ্গরাজ্যের Buffalo শহরে ৫৬ বছর বয়সী রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তার গ্রেফতারের সময় ধারণ করা পুলিশের বডি-ক্যাম ফুটেজে তাকে কালেমা পাঠ করতে শোনা গেছে- যা প্রকাশের পর কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে বাফেলোর ডাউনটাউন এলাকার পেরি স্ট্রিট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর কয়েকদিন আগেই তিনি জেল থেকে মুক্তি পান। মুক্তির পরপরই তার মৃত্যু হওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। কমিউনিটির অভিযোগ, মুক্তির পর তাকে ফেডারেল ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে একটি বন্ধ দোকানের সামনে রেখে যাওয়া হয়। প্রকাশিত বডি-ক্যাম ফুটেজ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি টোনাওয়ান্ডা স্ট্রিট এলাকায় সন্দেহজনক উপস্থিতির অভিযোগে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে নুরুল আমিন শাহ আলমকে শনাক্ত করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়, তার হাতে একটি সরু রড বা লাঠিসদৃশ বস্তু ছিল এবং পুলিশ বারবার সেটি ফেলে দিতে নির্দেশ দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কর্মকর্তারা টেজার ব্যবহার করেন। পরে তাকে মাটিতে ফেলে হাতকড়া পরানো হয়। ধস্তাধস্তির মাঝেই তাকে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” পাঠ করতে শোনা যায়। একই সময়ে তাকে ইংরেজিতে “I can’t breathe” বলতেও শোনা যায়। পুলিশের দাবি, তিনি গ্রেফতারের সময় প্রতিরোধ করেছিলেন এবং দুই কর্মকর্তাকে কামড় দেন। তবে তার আইনজীবী এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, শাহ আলম ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন এবং ভাষাগত সমস্যার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। পরবর্তীতে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং পরে তার বিরুদ্ধে হামলা ও অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ আনা হয়। আইনজীবীদের তথ্য অনুযায়ী, তাকে এরি কাউন্টি হোল্ডিং সেন্টারে নেওয়ার পর U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইস) তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন ডিটেইনার জারি করে। জেল থেকে মুক্তির কয়েকদিনের মধ্যেই তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি কমিউনিটিতে ক্ষোভ ও শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তারা পুরো ঘটনার স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে। আরও তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি হালনাগাদ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের Buffalo শহরে রোহিঙ্গা শরণার্থী নুরুল আমিন শাহ আলমের রহস্যময় মৃত্যুকে ঘিরে কমিউনিটিতে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরিবারের দাবি, প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার কারণেই এই করুণ পরিণতি ঘটেছে। শাহ আলম ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে শরণার্থী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। প্রায় অন্ধ এই মিয়ানমার নাগরিক স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে বাফেলোতে বসবাস শুরু করেন। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি তাকে গ্রেফতার করা হয় অন্যের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশ, আঘাত ও ‘অস্ত্র’ রাখার অভিযোগে। তার আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, তথাকথিত অস্ত্রটি ছিল একটি পর্দার রড, যা তিনি চলাচলের সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করতেন। গ্রেফতারের পর তাকে এক বছর রাখা হয় Erie County Holding Center-এ। তার বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত ‘ডিটেইনার’ জারি করে U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইস)। পরিবার আশঙ্কা করেছিল, জামিনে মুক্তি পেলে তাকে আইস হেফাজতে নেওয়া হতে পারে এই ভয়ে দীর্ঘদিন জামিন চাওয়া হয়নি। সম্প্রতি দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে মামলা নিষ্পত্তির প্রস্তাবে সম্মত হওয়ার পর তিনি মুক্তি পান। তবে পরে জানা যায়, ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বর্ডার পেট্রোল সদস্যরা তাকে হোল্ডিং সেন্টার থেকে নিয়ে যায় এবং রাতের দিকে ব্ল্যাক রক এলাকার নায়াগ্রা স্ট্রিটের একটি কফি শপে নামিয়ে দেয়। পরিবার জানায়, তিনি চোখে প্রায় দেখতেন না, ইংরেজি জানতেন না এবং নিজের বর্তমান বাসার ঠিকানাও স্পষ্টভাবে বলতে পারতেন না। ওইদিন থেকেই নিখোঁজ ছিলেন শাহ আলম। কয়েকদিন পর শহরের পেরি স্ট্রিট এলাকায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় অনুসন্ধানী গণমাধ্যম Investigative Post জানায়, ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মৃত্যুকে ‘স্বাস্থ্যগত’ বলে উল্লেখ করেছেন; এটি ঠান্ডাজনিত মৃত্যু বা হত্যাকাণ্ড নয়। তবে কমিউনিটির প্রশ্ন একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, ভাষাজ্ঞানহীন শরণার্থীকে সন্ধ্যার পর শহরের অন্যপ্রান্তে নামিয়ে দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত ছিল? তাকে নিরাপদে পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব কার ছিল? বাফেলোর রোহিঙ্গা কমিউনিটির নেতারা বলছেন, শরণার্থীদের সহায়তা ও তদারকিতে স্পষ্ট ঘাটতি রয়েছে। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ তদন্ত দাবি করেছেন। মানবাধিকার কর্মীরাও বলছেন, এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়—বরং পুরো শরণার্থী ব্যবস্থাপনার মানবিক দিক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন অভিযানের ধরন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। চলতি বছরের মে মাসে জারি করা একটি মেমোর ভিত্তিতে U.S. Immigration and Customs Enforcement (আইসি) কর্মকর্তাদের বিচারকের স্বাক্ষরবিহীন প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহার করে অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে ব্যক্তিদের বাড়িতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশ করেছে একটি হুইসেলব্লোয়ার সংগঠন। সংগঠনটির দাবি, এই মেমোটি ছিল ‘গোপনীয়’, যা তারা পরে যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের সঙ্গে শেয়ার করেছে। এতে বলা হয়েছে, অভিবাসন আইন প্রয়োগের স্বার্থে বিচারকের অনুমোদন ছাড়াই প্রশাসনিক ওয়ারেন্টের ভিত্তিতে অভিযান চালানো যেতে পারে। এই নির্দেশনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অভিবাসী কমিউনিটিতে ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক পরিবার আশঙ্কা প্রকাশ করছে, হঠাৎ কোনো সময় আইসি কর্মকর্তারা তাদের বাসায় ঢুকে পড়তে পারেন। বিশেষ করে মিশ্র স্ট্যাটাস পরিবারের ক্ষেত্রে উদ্বেগ আরও বেশি—যেখানে পরিবারের কেউ নাগরিক, কেউ অনিবন্ধিত। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের নির্দেশনা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী-এর (Fourth Amendment) সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে, যেখানে বাড়িতে তল্লাশি বা গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে বিচারকের অনুমোদিত ওয়ারেন্টের কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো সতর্ক করে বলছে, বিচারকের নজরদারি ছাড়া এমন ক্ষমতা অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, দ্রুত ও কার্যকর অভিযান নিশ্চিত করতেই প্রশাসনিক ওয়ারেন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আইসি বা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি। এদিকে, মেমোটি নিয়ে কংগ্রেসে তদন্ত ও শুনানির দাবি উঠেছে। কয়েকজন আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন এবং প্রয়োজনে U.S. Congress-এ আনুষ্ঠানিক আলোচনা করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতি ও নাগরিক অধিকার নিয়ে চলমান বিতর্ককে আরও তীব্র করবে এবং এর প্রভাব পড়তে পারে লাখো অভিবাসী পরিবারের দৈনন্দিন জীবনে।
আমেরিকা বাংলা: যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে জোরদার করা হয়েছে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অভিযান। এই অভিযানের বর্তমান কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে মিনিয়াপোলিস ও আশপাশের এলাকা। হাজার হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করে চালানো এই অভিযানে স্থানীয় অভিবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNN–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরিস্থিতি যত উত্তপ্ত হচ্ছে, ততই সক্রিয় হয়ে উঠছে ‘আইস অবজারভার’ নামে পরিচিত স্বেচ্ছাসেবী নাগরিক নেটওয়ার্কগুলো। এসব স্বেচ্ছাসেবক মূলত ICE–এর অভিযান পর্যবেক্ষণ, ভিডিও ধারণ এবং সম্ভাব্য গ্রেপ্তারের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করার কাজ করছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘আইস অবজারভার’রা সাধারণ নাগরিক, মানবাধিকারকর্মী ও কমিউনিটি সংগঠকদের সমন্বয়ে গঠিত। তারা আইনসম্মত দূরত্ব বজায় রেখে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কার্যক্রম নথিভুক্ত করেন এবং প্রয়োজনে আটক হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারকে আইনি সহায়তার তথ্য পৌঁছে দেন। তাদের দাবি, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য সংঘাত সৃষ্টি নয়; বরং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও নাগরিক অধিকার রক্ষা। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এই অভিযান মূলত অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই প্রয়োজন। তবে স্থানীয় নেতা ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, অভিযানের ধরন অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ অভিবাসী পরিবার এমনকি মার্কিন নাগরিকদের মাঝেও ভয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিনিয়াপোলিসে চলমান এই পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসন নীতি, ফেডারেল ক্ষমতার সীমা এবং নাগরিক স্বাধীনতা নিয়ে বিতর্ককে আরও গভীর করছে। ‘আইস অবজারভার’দের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি সেই সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও প্রতিরোধেরই একটি দৃশ্যমান প্রতিফলন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews