আন্তর্জাতিক কূটনীতি

ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফা আলোচনা; মধ্যপ্রাচ্যে কি ফিরবে স্থায়ী শান্তি?

প্রায় আট সপ্তাহের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি এখন এক জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা কোনো সমাধান ছাড়াই শেষ হওয়ার পর, আগামী ১৬ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, উভয় পক্ষের আলোচক দল পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।   প্রথম দফার বৈঠকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নেতৃত্ব দেন। সেখানে হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং তেহরানের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিপূর্বে নিজেকে জয়ী দাবি করেছিলেন, তবুও রণাঙ্গনের চেয়ে কূটনীতিকেই এখন প্রাধান্য দিচ্ছে সব পক্ষ। তবে ইসরায়েলের অতীত ইতিহাস এবং পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে।   এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে ফোনালাপে বর্তমান পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা করেছেন। সৌদি আরব এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের স্থায়ী অবসানে এই সংলাপ-প্রক্রিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিশ্ববাসী এখন ইসলামাবাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এই আলোচনা সফল হলে কেবল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র নয়, বরং ফিলিস্তিন, লেবানন ও সিরিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই রাজনৈতিক সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। সংঘাতের পুনরায় বিস্তৃতি রোধে ইসরায়েলের সদিচ্ছাই এখন বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জাতিসংঘের; সংঘাত এড়াতে সংলাপই একমাত্র পথ: গুতেরেস

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি দুই পক্ষকেই ‘সৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার এবং কূটনৈতিক এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, গুতেরেস বিশ্বাস করেন একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো সম্ভব। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংঘাত এড়িয়ে পুনরায় যুদ্ধাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ।   জাতিসংঘের মহাসচিবের মতে, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী সম্পন্ন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। এদিকে, কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা প্রদানের জন্য মহাসচিবের এক ব্যক্তিগত দূত বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
প্রতীকী ছবি
ইরানের সম্পদ আটকে রাখার সিদ্ধান্তে অটল ওয়াশিংটন

ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উচ্চপর্যায়ের আলোচনা ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে জব্দকৃত সম্পদ ইস্যুতে। যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ে কোনো ধরনের চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি।   হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটন এখনো পর্যন্ত তেহরানের সম্পদ ছাড়ের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এর আগে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, আলোচনার অগ্রগতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র নাকি কাতারসহ বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে জমা থাকা ইরানের অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার শর্তে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।   তবে এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে মার্কিন প্রশাসন। উল্লেখ্য, ইরানের প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ২০১৮ সাল থেকে বিভিন্ন কারণে স্থগিত রয়েছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এমন সংবেদনশীল সময়ে ভিন্নমুখী তথ্য সামনে আসা আলোচনার পরিবেশকে জটিল করে তুলতে পারে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান এই সংলাপে উভয় পক্ষই একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে আস্থার ঘাটতি এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
আব্বাস আরাগচি। ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস না করেই আলোচনায় বসছে ইরান

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বৈঠক শুরুর আগে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটনের প্রতি আস্থার সংকট থাকলেও তারা আলোচনায় অংশ নিচ্ছে সতর্ক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে।   ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াডেফুল-এর সঙ্গে এক ফোনালাপে বলেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি বিশ্বাস করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ ও কূটনৈতিক আচরণে হতাশার কারণে এই অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। তবুও ইরান নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থানে থেকে আলোচনায় অংশ নেবে বলে জানান তিনি।   এদিকে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও সতর্কতা প্রকাশ করেছে তেহরান। ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র কেবল নিজেদের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেয়, তাহলে পারস্পরিকভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়বে।   সূত্র: আল জাজিরা

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
ইসলামাবাদে পৌঁছেছে মার্কিন প্রতিনিধিদল

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।   পাকিস্তানের একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এই দলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করছেন স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনার।   এর আগে শুক্রবার ইরানের প্রতিনিধিদলও ইসলামাবাদে পৌঁছায়। তাসনিম বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর নেতৃত্বে দলে রয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি, প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের সচিব, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরসহ আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা।   ইসলামাবাদে অবস্থানরত তাসনিমের প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ইরানের প্রতিনিধি দল প্রথমেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে।   উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার জন্য ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল শনিবার ইসলামাবাদে বৈঠকে বসছে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে সেরেনা হোটেল-এ, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের হাতে পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের প্রস্তাব, আসছে বড় ঘোষণা

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ-এর দেওয়া একটি কূটনৈতিক প্রস্তাব মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর নজরে এসেছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। এ বিষয়ে শিগগিরই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া হবে বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।   হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট-কে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস এ তথ্য জানায়।   এর আগে শাহবাজ শরিফ যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির সময়সীমা দুই সপ্তাহ বাড়ানোর আহ্বান জানান। একই সময়ের জন্য ইরানকে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাবও দেন তিনি, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ট্রাম্প প্রস্তাবটি সম্পর্কে অবগত আছেন এবং এটি নিয়ে পর্যালোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান জানানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে এই ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ পরিস্থিতি প্রশমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা শুরু

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে নতুন কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার।   বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দার বলেন, ইসলামাবাদের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব ইরানের কাছে পাঠিয়েছে। তেহরান বর্তমানে এই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে।   পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করা ইসহাক দার ‘শান্তি আলোচনা’ নিয়ে জল্পনাকে অপ্রয়োজনীয় উল্লেখ করে বলেন, বাস্তবে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে চলছে। তিনি জানান, তুরস্ক ও মিসরসহ কয়েকটি দেশও এই উদ্যোগে সমর্থন দিচ্ছে।   এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইরানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে তখন বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। দারের এই বক্তব্যই প্রথম সরকারি স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।   কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের সঙ্গেই দীর্ঘদিনের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ থাকার কারণে পাকিস্তানকে এই আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।   এদিকে, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত রয়েছেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তবে ইরানের অবস্থান এখনো অনড়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমানে ইরানের নীতি হলো প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা এবং সরাসরি আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা নেই। তবে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে বার্তা বিনিময় হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন তিনি, যা ইঙ্গিত দেয়—পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। ছবি: সংগৃহীত
আইএইএ প্রধানের আশা: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে পারে

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, তিনি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়ে আশা রাখেন।   বিবিসি’র মার্কিন সহযোগী সিবিএসের ‘ফেস দ্য নেশন’ অনুষ্ঠানে গ্রোসি বলেন, আমি হোয়াইট হাউস এবং ইরানের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করছিলাম। কিছু যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছিল, এবং আমরা সেই সম্পর্ক পুনরায় স্থাপন করতে পারব বলে আশা করি।   তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ আলোচনা চলছে, ততক্ষণ একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর সম্ভাবনা সবসময়ই থাকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়া আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ইরান যুদ্ধে না জড়ানোর অবস্থান অটল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সমালোচনা এবং প্রবল চাপের মধ্যেও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার ইরান ইস্যুতে যুদ্ধে না জড়ানোর সিদ্ধান্তে অটল রয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হবে না।   বৃহস্পতিবার এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে স্টারমার বলেন, “আমার লক্ষ্য জাতীয় স্বার্থে শান্ত ও বিচক্ষণ নেতৃত্ব দেওয়া। পরিস্থিতি যত কঠিনই হোক, আমাদের নিজেদের মূল্যবোধ ও নীতির পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়ানোর শক্তি থাকতে হবে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্য ট্রাম্পের চাপের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা।   স্টারমার স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাজ্য ইরান ইস্যুতে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজার পথে অগ্রসর হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রথম দফার হামলায় অংশ না নেওয়া একটি জাতীয়ভাবে বিবেচিত সিদ্ধান্ত। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘দ্য সান’-কে এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটেনের এই অবস্থান নিয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।   ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সব সমালোচনা উপেক্ষা করে দেশের জাতীয় স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন এবং এ অবস্থান অটল রাখার সংকল্প জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0