ইরান যদি নতুন শান্তি চুক্তিতে সম্মত না হয়, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুনরায় যুদ্ধ শুরু করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল ২০২৬) ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি তেহরানকে এই সতর্কবার্তা দেন। হেগসেথ স্পষ্ট জানিয়েছেন, যতদিন প্রয়োজন ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জারি থাকবে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল মার্কিন নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রণ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ইরানের আর কোনো কার্যকর নৌবাহিনী অবশিষ্ট নেই। তিনি বলেন, এই প্রণালি স্থায়ীভাবে উন্মুক্ত রাখতে অন্য দেশগুলোর অংশগ্রহণকে স্বাগত জানাবে ওয়াশিংটন। এছাড়া তিনি জানান, যুদ্ধবিরতি চলাকালীন চীন ইরানে কোনো প্রকার অস্ত্র পাঠাবে না বলে যুক্তরাষ্ট্রকে আশ্বস্ত করেছে। সংবাদ সম্মেলনে হেগসেথ ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। তিনি জানান, মার্কিন প্রশাসনের ধারণা ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন, তবে তিনি এখনো বেঁচে আছেন। তেহরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ইরানে প্রবেশকারী ও বের হওয়া সব ধরনের জাহাজের ওপর কঠোর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে। ইরানকে একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে হেগসেথ হুঁশিয়ারি দেন যে, ভুল পথ বেছে নিলে দেশটির বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাত ভয়াবহ বোমা হামলার মুখে পড়বে। মূলত ইরানের অর্থনীতি ও সামরিক সক্ষমতাকে পুরোপুরি অচল করে দেওয়ার কৌশল হিসেবেই এই অবরোধ ও হুমকির পথ বেছে নিয়েছে পেন্টাগন।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেনভার আর্ট মিউজিয়াম থেকে তুরস্কের প্রাচীন নগরী স্মির্নার একটি ঐতিহাসিক মার্বেল ভাস্কর্য উদ্ধার করে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তুরস্কের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, পঞ্চম শতাব্দীতে নির্মিত এই মহামূল্যবান নিদর্শনটি এখন ইজমির প্রত্নতত্ত্ব জাদুঘরে জনসমক্ষে প্রদর্শন করা হচ্ছে। তুরস্কের সংস্কৃতি মন্ত্রী মেহমেত নুরি এরশয় জানিয়েছেন, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং ১৯৩৪ সালের খনন কাজের ঐতিহাসিক নথি পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি স্মির্নার প্রাচীন অ্যাগোরা থেকে সংগৃহীত। বিশেষজ্ঞদের মতে, থিওডোসিয়াস আমলের এই অনন্য শিল্পকর্মটি এক সময় অবৈধ পথে বিদেশে পাচার করা হয়েছিল যা তুরস্কের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য একটি অপূরণীয় ক্ষতি ছিল। ডেনভার আর্ট মিউজিয়ামের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে গঠনমূলক সংলাপ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এই প্রাচীন প্রত্নসম্পদটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে। মন্ত্রী এরশয় এই জটিল প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত গবেষক ও কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, দেশের অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় তাদের এই আপসহীন অভিযান আগামীতেও অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে অব্যাহত থাকবে। ঐতিহাসিক এই মার্বেল ভাস্কর্যটি এখন তুরস্কের পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে ইজমিরে পর্যটকদের বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হবে বলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা জোরালো আশা প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে পাচার হওয়া প্রাচীন প্রত্নসম্পদ ফিরিয়ে আনার যে বৈশ্বিক আন্দোলন শুরু হয়েছে, তুরস্কের এই বিজয় সেই প্রচেষ্টারই একটি সফল উদাহরণ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। সাংস্কৃতিক সম্পদ পুনরুদ্ধারের এই ধারা আগামীতে তুরস্কের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে বিশ্বমঞ্চে আরও শক্তিশালীভাবে উপস্থাপনে সহায়তা করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের মধ্যেই চলতি বছরের প্রথমার্ধে চীন সফরে যাচ্ছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বেইজিংয়ে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে বুধবার এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সফরের তথ্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। পুতিনের এই সফরে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক ‘চীন-রাশিয়া মৈত্রী চুক্তি’ পুনরায় নবায়ন করা হবে। এটি দুই পরাশক্তির মধ্যকার সামরিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে। লাভরভ জানিয়েছেন যে, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে ইতিমধ্যে তাদের চূড়ান্ত এজেন্ডা তৈরি করছেন। হরমজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ায় চীনে যে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়েছে, তা মেটাতে রাশিয়া এখন বিশেষ সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার বড় ধরণের পরিকল্পনা করছে। লাভরভ বেইজিংয়ে শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠকের পর জানিয়েছেন যে, মস্কো এখন চীনের অন্যতম প্রধান জ্বালানি ও কৌশলগত শরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে অত্যন্ত আগ্রহী। গত বছর দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। পুতিনের এই আসন্ন সফর সেই অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বছর চীন ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্কের ৩০ বছর পূর্ণ হচ্ছে। এই মাইলফলককে সামনে রেখে দুই দেশই পশ্চিমা বিশ্বের চাপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো সংকল্প ব্যক্ত করেছে। মে মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই সম্ভাব্য সম্মেলনটি বর্তমান বিশ্বের জটিল ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরণের মেরুকরণ ঘটাবে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রতিটি স্তরে।
ইরানি বন্দরে আমেরিকার কঠোর নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে লোহিত সাগরসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জলপথ রুদ্ধ করে দেওয়ার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। বুধবার ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টার জানিয়েছে, আমেরিকা যদি তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে, তবে তা চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। জেনারেল আলী আবদুল্লাহি এক বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, মার্কিন আগ্রাসন চলতে থাকলে পারস্য উপসাগর, ওমান সাগর এবং লোহিত সাগর দিয়ে কোনো দেশের আমদানি-রপ্তানি চলতে দেওয়া হবে না। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ঘোষণা করেছিল যে, তারা ইরানের সব বন্দরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে এবং সব দেশের জাহাজের ওপর সমভাবে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হচ্ছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা কোনো সুনির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়াই ব্যর্থ হওয়ার পর গত রবিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই কঠোর নৌ-অবরোধের নির্দেশ দেন। সেন্টকম জানিয়েছে, অবরোধ শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই মার্কিন সীমানা পার হতে পারেনি এবং ছয়টি জাহাজকে পথ পরিবর্তন করে পুনরায় ইরানি বন্দরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। গদর উপসাগর থেকে রাস আল হাদ্দ পর্যন্ত বিশাল এলাকায় মার্কিন নৌবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। ফলে ওমান সাগর থেকে আরব সাগরে জাহাজ চলাচলের প্রধান রুটটি এখন কার্যত মার্কিন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নৌ-ট্রাফিক ডাটা অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় হরমজ প্রণালী দিয়ে অন্তত ১৫টি জাহাজ চলাচল করেছে। যার মধ্যে গ্যালাক্সি গ্যাস, অল নাজির এবং গ্রিসের বেশ কিছু তেল ট্যাঙ্কার ও পণ্যবাহী জাহাজ রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানের এই নতুন হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে পণ্য সরবরাহ ও তেলের দামে বড় ধরণের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, অনেক জাহাজ সংঘাত এড়াতে মাঝপথ থেকে ফিরে যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ-অবরোধ অব্যাহত রাখলে পারস্য উপসাগর, লোহিত সাগর এবং ওমান সাগরে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার কঠোর হুমকি দিয়েছে ইরান। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়কারী সর্বোচ্চ অপারেশনাল কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’র কমান্ডার আলি আবদুল্লাহি এই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অবরোধের মাধ্যমে ইরানের বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেল ট্যাংকারের জন্য নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করা হলে সেটি চলমান যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের শামিল হবে। ৮ এপ্রিল শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা। তার আগেই আবদুল্লাহির এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যকার উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দিল। ইরানের এই হুমকি এমন সময়ে এলো যখন দুই দেশের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংলাপের প্রস্তুতি চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে ‘কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে’ এবং ইরান যুদ্ধ প্রায় শেষের পথে। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, পাকিস্তানের মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান হলেও নতুন বৈঠকের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত নয়। ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তেহরান এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত রবিবার ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠকটি ফলপ্রসূ না হলেও পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে দুই পক্ষ নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান করছে। বাঘায়ি বলেন, “ইসলামাবাদ আলোচনায় ইরানের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে এবং পরবর্তী বার্তাগুলোতেও তা পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।” তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আজই পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল তেহরান সফর করতে পারে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অমীমাংসিত ইস্যুগুলো নিয়ে আরও বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের আশঙ্কার জবাবে মুখপাত্র আবারও দাবি করেন, তাদের এই প্রকল্প সম্পূর্ণ ‘শান্তিপূর্ণ’। তবে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ইরান নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে চায়, কিন্তু সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ও সময়সীমা নিয়ে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, গত ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিত থেকে যায়।
তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার স্কুল শুটিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল ২০২৬) কাহরামানমারাস প্রদেশের ওনিকিশুবাত জেলার ‘আয়সার চালিক মিডল স্কুলে’ এক ছাত্রের এলোপাতাড়ি গুলিতে এক শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীসহ মোট ৪ জন নিহত হয়েছেন। কাহরামানমারাস প্রদেশের গভর্নর মুকেররেম উনলুয়ের জানিয়েছেন, এই ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলাকারী ওই স্কুলেরই অষ্টম শ্রেণির ছাত্র এবং সে তার বাবার (একজন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা) লাইসেন্সকৃত পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্র ও সাতটি ম্যাগাজিন নিয়ে স্কুলে এসেছিল। গভর্নর জানান, হামলাকারী নিজেও এই ঘটনায় নিহত হয়েছে। আতঙ্কে অনেক শিক্ষার্থীকে স্কুল ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মরক্ষা করতে দেখা গেছে। তুরস্কের বিচার মন্ত্রী আকিন গুরলেক ঘটনার তদন্ত শুরু করেছেন এবং এই সংক্রান্ত সংবাদের ওপর সাময়িক সম্প্রচার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এর মাত্র একদিন আগে, মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) শানলিউরফা প্রদেশের সিভরেক জেলার একটি ভোকেশনাল হাই স্কুলে এক সাবেক ছাত্রের গুলিতে ১৬ জন আহত হয়েছিল, যে হামলাকারী পরে আত্মহত্যা করে। তুরস্কে সাধারণত এ ধরণের স্কুল শুটিং অত্যন্ত বিরল হলেও দুই দিনের ব্যবধানে পরপর দুটি রক্তক্ষয়ী ঘটনা পুরো দেশজুড়ে স্কুল নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনী পরিচালনার শীর্ষ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন একজন নারী। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) অস্ট্রেলীয় সরকার লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েলকে পরবর্তী সেনাপ্রধান হিসেবে মনোনীত করার বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে। বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হয়ে আগামী জুলাই মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন ৫৫ বছর বয়সী সুসান। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর ‘চিফ অব জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ’ হিসেবে কর্মরত আছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এই নিয়োগকে প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য এক ‘গর্বের মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সুসান কয়েলের প্রায় চার দশকের সামরিক ক্যারিয়ারে আফগানিস্তান ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাইবার যুদ্ধ মোকাবিলায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে ঐতিহাসিক উল্লেখ করে বলেন, সুসানের এই অর্জন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী কর্মকর্তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। উল্লেখ্য, এমন এক সময়ে এই নিয়োগ এলো যখন অস্ট্রেলীয় বাহিনীতে পদ্ধতিগত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক চলছে। বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে ২১ শতাংশ নারী সদস্য রয়েছেন, যা ২০৩০ সালের মধ্যে ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। সেনাবাহিনীর পাশাপাশি নৌবাহিনী ও সামগ্রিক প্রতিরক্ষা বাহিনীর নেতৃত্বেও বড় ধরণের রদবদল আনা হয়েছে। সূত্র: আল জাজিরা।
অস্ট্রেলিয়ার সামরিক ইতিহাসে নতুন অধ্যায় সূচিত হতে যাচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনীর ১২৫ বছরের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একজন নারী সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল সুসান কয়েল। সোমবার অস্ট্রেলিয়া সরকারের এক ঘোষণায় জানানো হয়, বর্তমানে জয়েন্ট ক্যাপাবিলিটিজ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সুসান কয়েল আগামী জুলাই মাসে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বর্তমান সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল সাইমন স্টুয়ার্টের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ এক বিবৃতিতে বলেন, “অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীর দীর্ঘ ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। প্রথমবারের মতো আমরা একজন নারীকে সেনাপ্রধান হিসেবে দেখতে যাচ্ছি।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই নিয়োগকে “গভীর ঐতিহাসিক মুহূর্ত” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “সুসান কয়েলের এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নারী সদস্যদের জন্যও অনুপ্রেরণার উৎস হবে।” ৫৫ বছর বয়সী সুসান কয়েল ১৯৮৭ সালে অস্ট্রেলীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড ও নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করেছেন। সরকারের মতে, অস্ট্রেলিয়ার সামরিক বাহিনীর যেকোনো শাখার নেতৃত্বে আসা তিনিই প্রথম নারী। এই নিয়োগ এমন এক সময়ে এলো, যখন অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী পদ্ধতিগত যৌন হয়রানি ও বৈষম্যের অভিযোগের মুখে রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে দায়ের করা একটি যৌথ মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাজার হাজার নারী সদস্যকে যথাযথ সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে এই বাহিনী। বর্তমানে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীতে নারীর অংশগ্রহণ প্রায় ২১ শতাংশ, যার মধ্যে জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে রয়েছেন ১৮.৫ শতাংশ নারী। ২০৩০ সালের মধ্যে এই হার ২৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে একই দিনে সামরিক নেতৃত্বে আরও পরিবর্তন আনা হয়েছে। বর্তমান নৌবাহিনী প্রধান ভাইস অ্যাডমিরাল মার্ক হ্যামন্ডকে অস্ট্রেলীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর (এডিএফ) প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি অ্যাডমিরাল ডেভিড জনস্টনের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। অন্যদিকে, রিয়ার অ্যাডমিরাল ম্যাথিউ বাকলি নৌবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্ব এবং কাঠামোগত সংস্কারের ইঙ্গিত বহন করছে।
হরমজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের দীর্ঘসূত্রতা সহসাই কাটছে না। পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি চললেও জাহাজ মালিক এবং বিমাকারীরা এখনও এই রুটে চলাচলের ঝুঁকি নিতে সাহস পাচ্ছেন না। গ্লোবাল মার্কেট অ্যানালিস্ট লালে আকোনার জানান, ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ওপর ভরসা করে খালি জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে চাইছে না। বর্তমানে প্রায় ৪০০ তেলের ট্যাঙ্কার উপসাগরের ভেতরে আটকা পড়ে আছে, বিপরীতে প্রবেশের অপেক্ষায় আছে মাত্র ১০০টি জাহাজ। শিপিং বিশেষজ্ঞদের মতে, আজ এই জলপথ খুলে দিলেও বাজার স্বাভাবিক হতে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। কেবল জ্বালানি তেল নয়, বিশ্বের ৩০ শতাংশ সারের সরবরাহ এবং বিপুল পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য এই অঞ্চলের ওপর নির্ভরশীল। গত ছয় সপ্তাহের সংঘাতের কারণে পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে তেলের উৎপাদনও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে, কারণ মজুত করার জায়গা নেই। নতুন জাহাজ না আসা পর্যন্ত উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, যা বিশ্ববাজারে উচ্চমূল্য এবং সংকটের স্থায়িত্ব আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হাইতির উত্তরাঞ্চলের ঐতিহাসিক 'সিটাডেল লাফেরিয়ের' দুর্গে বার্ষিক উৎসব চলাকালীন এক ভয়াবহ পদদলনের ঘটনায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। ইউনেস্কো স্বীকৃত এই বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানে শনিবার হাজার হাজার পর্যটক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দেশটির সিভিল প্রোটেকশন বিভাগের প্রধান জঁ অঁরি পেতি জানান, দুর্গের প্রবেশপথে প্রচণ্ড ভিড় এবং সেই সাথে বৃষ্টি পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, ভিড় সামলাতে পুলিশের টিয়ার শেল নিক্ষেপের গুঞ্জন থেকেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিহতদের মধ্যে বড় একটি অংশই তরুণ ও শিক্ষার্থী। হাইতির প্রধানমন্ত্রী আলিক্স দিদিয়ে ফিলস-আইমে এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সহিংসতা ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে জর্জরিত হাইতির জন্য এই ঘটনা এক নতুন শোকের ছায়া নিয়ে এসেছে। উদ্ধারকাজ এখনও চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে ৪০ দিনের দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূ-রাজনৈতিক সত্য সামনে এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের পারমাণবিক সক্ষমতা নয়, বরং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ। বিবিসির ওয়ার্ল্ড অ্যাফেয়ার্স সংবাদদাতা জিয়ার গোলের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সংঘাতের শুরুতে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যখন ইরানের সামরিক স্থাপনা ও নেতাদের লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালায়, তখন তেহরান তাদের রণকৌশল বদলে ফেলে। তারা প্রচলিত যুদ্ধের বদলে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়ার দিকে মনোনিবেশ করে। উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের সংযোগস্থল এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়েই বিশ্বের সিংহভাগ তেল ও গ্যাস আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ করা হয়। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন যে, এই পথটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়া সম্ভব। গত কয়েক সপ্তাহে এই পথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় তেলের বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি করেছে। মূলত এই চাপের মুখেই ওয়াশিংটন নমনীয় হতে বাধ্য হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচলিত সামরিক শক্তির চেয়েও এই জলপথ নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা ইরানকে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি বড় কৌশলগত সুবিধা এনে দিয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান সহিংসতাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের নীতি অবিলম্বে বন্ধের জোর দাবি জানিয়েছে বেলজিয়াম। বেলজিয়ামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ম্যাক্সিম প্রেভোট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, পশ্চিম তীরে নতুন করে বসতি স্থাপনের ঘোষণা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি এই অঞ্চলের শান্তি প্রক্রিয়াকে বড় ধরনের বাধার মুখে ফেলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতি এবং লেবাননের সাথে আলোচনা শুরুর খবর মধ্যপ্রাচ্যের জন্য ইতিবাচক হলেও ফিলিস্তিনিদের ওপর আক্রমণ পরিস্থিতিকে আবারও ঘোলাটে করে তুলছে। অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের হাতে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রেভোট দোষীদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। জেরুজালেমের পবিত্র স্থানগুলোর মর্যাদা ও স্থিতাবস্থা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন যে, ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে কোনো ধরনের উস্কানি বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে বর্তমান ইসরায়েলি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি স্থাপনের কাজ বহুগুণ ত্বরান্বিত হয়েছে যা নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও কূটনৈতিক বিতর্ক চলছে। জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বরাবরই ইসরায়েলি এই তৎপরতাকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করে আসছে তবে এরপরেও নতুন করে আরও ৩৪টি বসতি স্থাপনের গোপন ঘোষণা উত্তেজনার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বেলজিয়ামের এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করছে যে ইউরোপীয় দেশগুলো এখন ফিলিস্তিন ইস্যুতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সোচ্চার এবং তারা ইসরায়েলের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের পক্ষপাতি। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক এই চাপ এবং মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক ও রাজনৈতিক সমীকরণ আগামী দিনে এই অঞ্চলের মানচিত্র ও শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশ্লষকরা।
দীর্ঘদিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মাঝে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে বড় ধরনের মরদেহ বিনিময় কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাশিয়া তাদের হেফাজতে থাকা ১ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার মরদেহ হস্তান্তর করেছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দি বিনিময় কার্যক্রম পরিচালনাকারী সমন্বয় কেন্দ্র টেলিগ্রাম বার্তায় জানায়, তারা ১ হাজারটি মরদেহ গ্রহণ করেছে। অন্যদিকে রুশ সংবাদমাধ্যম আরবিসি জানিয়েছে, বিনিময়ে ইউক্রেনও ৪১ জন নিহত রুশ সেনার মরদেহ রাশিয়ার কাছে হস্তান্তর করেছে। রুশ আইনপ্রণেতা শামসাইল সারালিয়েভ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রণক্ষেত্রে দুই পক্ষেই প্রাণহানির সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকায় এই ধরনের বিনিময়কে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানবিক উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নিহত সেনাদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের পরিবারের কাছে শেষ বিদায়ের জন্য পৌঁছে দিতে দুই দেশই নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের সমন্বয় করে আসছে। সূত্র: রয়টার্স
উত্তর ফ্রান্সের উপকূল থেকে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে ব্রিটেনে যাওয়ার চেষ্টাকালে নৌকা থেকে পড়ে ৪ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে ফ্রান্সের ক্যালে অঞ্চলের ইকুাইহেন ও একল্ট সৈকতের মাঝামাঝি এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ফরাসি কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় মেয়র ক্রিশ্চিয়ান ফোরক্রয় জানান, প্রায় ৩০ জনের একটি অভিবাসী দল একটি ইনফ্ল্যাটেবল ডিঙি নৌকায় ওঠার চেষ্টা করার সময় বিপদে পড়ে পানিতে তলিয়ে যান। মৃতদের মধ্যে দুজন নারী এবং দুজন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া আরও এক অভিবাসীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একদল অভিবাসী সাগরে পড়ে গেলেও ইঞ্জিনচালিত নৌকাটি না থেমে বাকিদের নিয়ে ব্রিটেনের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে। পুলিশ জানিয়েছে, মানবপাচারকারীরা নজরদারি এড়াতে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ‘ট্যাক্সি-বোট’ কৌশল ব্যবহার করায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার ৭৭৬ জন অভিবাসী ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। এই বিপজ্জনক পারাপার রোধে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যে 'ওয়ান ইন, ওয়ান আউট' চুক্তি থাকলেও পরিস্থিতির বিশেষ উন্নতি হয়নি। অভিবাসন নিয়ে এই প্রাণহানি এবং নিয়মিত অনুপ্রবেশ ব্রিটেন ও ফ্রান্সের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও উত্তাপ ছড়াচ্ছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, শুধু সীমান্ত পাহারা দিয়ে এই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়; অভিবাসীদের জন্য নিরাপদ ও আইনি পথ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। সূত্র: রয়টার্স
লেবাননে বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি বাহিনীর চালানো ভয়াবহ হামলাকে "প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই কড়া প্রতিক্রিয়া জানান। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান ইসরায়েলি এই আগ্রাসনকে "প্রতারণা এবং সম্ভাব্য চুক্তিগুলো না মানার একটি বিপজ্জনক লক্ষণ" বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে চলমান শান্তি আলোচনা সম্পূর্ণ অর্থহীন হয়ে পড়বে। লেবাননের জনগণের প্রতি তেহরানের অবিচল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্ট জানান, "ইরান তার লেবানিজ ভাই-বোনদের কখনোই একা ফেলে যাবে না।" একইসাথে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, "আমাদের হাত এখনো (বন্দুকের) ট্রিগারেই আছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আগামী শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিপাক্ষিক শান্তি আলোচনার প্রাক্কালে পেজেশকিয়ানের এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিকে নতুন করে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল। উল্লেখ্য, বুধবার বৈরুতসহ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ২০০ জন নিহত হয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
ইসরায়েলে আমেরিকার পক্ষ থেকে দেওয়া সব ধরনের সামরিক সহায়তা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে আগামী সপ্তাহে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স। গত বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক বিশেষ পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান এবং একই সাথে ইরান যুদ্ধের জন্য ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কঠোর সমালোচনা করেন। স্যান্ডার্স দাবি করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্ররোচিত করে এই বিপর্যয়কর যুদ্ধে টেনে এনেছেন যা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের জন্য কোনোভাবেই কাম্য ছিল না। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলেন যে, ইসরায়েলকে আর কোনোভাবেই আমেরিকার সামরিক ও পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করার সুযোগ দেওয়া যায় না এবং যুদ্ধের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির দায়ভার তাদেরই নিতে হবে। স্যান্ডার্স তার দীর্ঘদিনের অবস্থানে অনড় থেকে জানান যে, ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্য আমেরিকা আর অন্ধভাবে অস্ত্রের যোগানদাতা হিসেবে কাজ করতে পারে না। তিনি মনে করেন যে, গাজা ও ইরানের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে আমেরিকার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে এবং এর জন্য মূলত ওয়াশিংটনের একতরফা অস্ত্র সরবরাহকেই দায়ী করা হচ্ছে। আমেরিকার বেশ কয়েকজন ক্ষমতাধর নীতিনির্ধারক অনেক দিন ধরেই দাবি করে আসছিলেন যে ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো বন্ধ করা হোক যাতে করে এই ভয়াবহ সংঘাত আর বেশি দীর্ঘস্থায়ী না হয়। বার্নি স্যান্ডার্স অনেক দিন ধরেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার রয়েছেন এবং বর্তমান ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে তিনি মানবসভ্যতার জন্য এক বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখছেন। তিনি আরও বলেন যে, ইসরায়েলের ওপর এই অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে না পারলে আমেরিকার সেনাবাহিনী আগামীতে আরও বড় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংকটে পড়তে পারে যা নিয়ন্ত্রণ করা প্রায় অসম্ভব হবে। নেতানিয়াহু সরকার ও ট্রাম্প প্রশাসনের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে আমেরিকার সাধারণ করদাতাদের অর্থের বিশাল অপচয় হচ্ছে বলে তিনি তার বিবৃতিতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রতিটি স্তরে। আগামী সপ্তাহে সিনেটে এই বিশেষ প্রস্তাবটি পেশ করার পর সেখানে বড় ধরনের রাজনৈতিক বিতর্ক হতে পারে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন কারণ রিপাবলিকানরা এর ঘোর বিরোধী। যদি স্যান্ডার্সের এই প্রস্তাব কোনোভাবে পাস হয় তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার দীর্ঘদিনের রণকৌশলকে আমূল বদলে দিতে পারে এবং ইসরায়েলের ওপর এক বিশাল আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে। বর্তমানে আমেরিকার রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি নিয়ে বিশাল মেরুকরণ দেখা দিয়েছে যেখানে সাধারণ মানুষও যুদ্ধের বিরুদ্ধে ধীরে ধীরে রাজপথে নেমে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে শুরু করেছে। স্যান্ডার্স বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, অস্ত্র পাঠানোর মাধ্যমে এই অসম যুদ্ধের অংশীদার হওয়া আমেরিকার জন্য এক ঐতিহাসিক ভুল হিসেবে বিবেচিত হবে যা দ্রুত সংশোধন করা জরুরি। সব মিলিয়ে আগামী সপ্তাহের এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের ভেতরে এবং বাইরে এক নতুন ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত তৈরি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে এখন।
দীর্ঘ ৪০ দিনের কঠোর সামরিক অবরোধ ও বিধিনিষেধ শেষে অবশেষে ফিলিস্তিনি মুসল্লিদের ইবাদতের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে পবিত্র আল-আকসা মসজিদের সব কটি প্রবেশদ্বার। বৃহস্পতিবার ভোররাতে আজানের সঙ্গে সঙ্গে কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি পবিত্র হারাম আল-শরিফ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন যা ছিল গত দেড় মাসের মধ্যে এক নজিরবিহীন ও আবেগঘন দৃশ্য। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও আমেরিকার যৌথ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষিতে নিরাপত্তার অজুহাতে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ মুসলিমদের জন্য এই পবিত্র ধর্মীয় স্থানটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিল। মসজিদের গেট খুলে দেওয়ার পর শত শত মুসল্লিকে চত্বরে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং আনন্দে চোখের জল ফেলতে দেখা যায় প্রতিটি কোণে। দীর্ঘ বিরতির পর আজই প্রথম আল-আকসা প্রাঙ্গণে কোনো বড় জামাতবদ্ধ নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছে যেখানে শিশু ও বৃদ্ধসহ সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অবরোধ চলাকালে গত ৬ এপ্রিল ইসরায়েলের উগ্রপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই মসজিদ প্রাঙ্গণে জোরপূর্বক প্রবেশ করে এক চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিলেন। ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজও আল-আকসায় হতে পারেনি যা ছিল ১৯৬৭ সালের পর প্রথম কোনো অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক ঘটনা। কেবল মুসলিমদের ধর্মীয় স্থাপনাই নয় বরং খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের অত্যন্ত পবিত্র চার্চ অফ দ্য হোলি সেপালকারও দীর্ঘ এই সময়ে সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছিল। জেরুজালেমের পুরনো শহরে অবস্থিত এই মসজিদটি বন্ধ থাকাকালীন সময়ে কেবল নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি থাকলেও সাধারণদের প্রবেশ ছিল নিষিদ্ধ। ইসরায়েলি সরকার এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করলেও মসজিদটি শেষ পর্যন্ত এই সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে কি না তা নিয়ে ছিল বিশাল অনিশ্চয়তা। ভোরবেলা থেকে শুরু করে দুপুর পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ আল-আকসার চত্বরে ভিড় করেন এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এমন সুযোগ পেয়ে পরম শান্তি ও স্বস্তি অনুভব করেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই দীর্ঘকালীন ধর্মীয় নিষেধাজ্ঞা ও পবিত্র স্থানে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আগে থেকেই তাদের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিল। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝেই এই ধর্মীয় স্থানটি খুলে দেওয়াকে অনেক বিশ্লেষক সাময়িক উত্তেজনা প্রশমনের একটি সূক্ষ্ম রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেও দেখছেন। বর্তমানে মসজিদের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পুরো পুরনো শহর এলাকায় অতিরিক্ত ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রাখা হয়েছে যাতে করে যেকোনো বড় জমায়েত নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পবিত্র এই স্থাপনাটি খুলে দেওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশগুলো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে এবং সেখানে নির্বিঘ্নে ইবাদতের পরিবেশ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে। দখলদার বাহিনীর এমন বৈরী আচরণের পর পবিত্র এই চত্বরটি ফিরে পেয়ে ফিলিস্তিনিরা মনে করছেন যে ধর্মীয় স্বাধীনতাই তাদের টিকে থাকার লড়াইয়ের সবচাইতে বড় শক্তি। পুরনো জেরুজালেমের অলিগলিতে আজ উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে এবং প্রতিটি ফিলিস্তিনি পরিবার তাদের দীর্ঘদিনের হারানো অধিকার ফিরে পেয়ে আনন্দ ও উল্লাসে মেতে উঠেছে আজ।
ইমা এলিস/বাংলা প্রেস, নিউ ইয়র্ক: বুধবার পেন্টাগনে এক ব্রিফিংয়ে পিট হেগসেথ বলেন, 'অপারেশন এপিক ফিউরি ছিল যুদ্ধক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক ও ব্যাপক বিজয় যেকোনো মানদণ্ডেই এটি একটি বড় সামরিক সাফল্য।' তিনি দাবি করেন, এই অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হয়েছে এবং বহু বছর ধরে তা কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়বে। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। হেগসেথ বলেন, ট্রাম্পের কঠোর হুমকির মুখে ইরান আলোচনায় আসতে বাধ্য হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং তেল-জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালানো হতো, যা তারা প্রতিরোধ করতে পারত না। ট্রাম্পও যুদ্ধবিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের 'সম্পূর্ণ ও চূড়ান্ত বিজয়' হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ-এর মধ্যস্থতায় নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগে এই যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদও দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি মেনে নিয়েছে এবং পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। এর অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই চুক্তিতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ করার বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তবুও হেগসেথ দাবি করেন, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এদিকে যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন জানান, যুদ্ধবিরতি আপাতত একটি বিরতি মাত্র এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র আবার দ্রুত সামরিক অভিযান শুরু করতে প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৩ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে, ইরানের প্রায় ৮০ শতাংশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে এবং শতাধিক নৌযান ও হাজারো সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। তবে এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের সংঘাতের অবসানে বড় অগ্রগতি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ‘খুব শিগগিরই’ সরাসরি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-কে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই তথ্য নিশ্চিত করেন। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে এই ঐতিহাসিক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানা গেছে। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “এটি খুব শিগগিরই ঘটবে, আসলে—খুব দ্রুতই এটি সম্পন্ন হতে যাচ্ছে।” তবে সম্ভাব্য এই শান্তি আলোচনায় নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স উপস্থিত না-ও থাকতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্পের প্রতিনিধি দলে তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের থাকার কথা রয়েছে। ট্রাম্প জানান, নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফসহ ট্রাম্পের মধ্যস্থতাকারী দল পাকিস্তানের নেতাদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। আগামী শুক্রবার ইসলামাবাদে এই বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। এর আগে মঙ্গলবার সংঘাত নিরসনে ইরানের দেওয়া ১০ দফা প্রস্তাবকে স্থায়ী চুক্তির একটি সম্ভাব্য রূপরেখা হিসেবে গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প। যদিও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই প্রস্তাবের কিছু দাবি বাস্তবায়ন করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে। যুদ্ধের চূড়ান্ত সমাপ্তি এখন মূলত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে। প্রথমত, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ইরানের টোল আদায়ের পরিকল্পনা এবং দ্বিতীয়ত, ইরানের মাটির নিচে লুকানো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এই জটিল বিষয়গুলোর সমাধান মিললেই দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তির পথ সুগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইরাকের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহ অবশেষে অপহৃত মার্কিন সাংবাদিক শেলি কিটলসনকে মুক্তি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। গত মার্চের শেষ দিকে বাগদাদ থেকে তাকে অপহরণ করা হয়েছিল। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ইরান-ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, মুক্তির পর শেলি কিটলসনকে অবিলম্বে ইরাক ত্যাগ করতে হবে। দীর্ঘ কয়েক দিনের উৎকণ্ঠা শেষে এই মার্কিন সাংবাদিকের মুক্ত হওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক মহলে স্বস্তি ফিরলেও, তাকে দেশ ছাড়ার যে শর্ত দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews