কর্মস্থলে যাওয়ার পথে এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত কুমিল্লার সন্তান শাহ আলম ভুঁইয়া (৫০)। বুধবার স্থানীয় সময় ভোর ৬টায় দেশটির দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় আকাশ থেকে পড়া একটি ড্রোনের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে তার মৃত্যু হয়। নিহত শাহ আলম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন গ্রামের হানিফ ভুঁইয়ার মেজো ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুর সংবাদে গ্রামের বাড়িতে এখন শোকের মাতম চলছে। পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে দিব্বা আল-ফুজাইরাহ এলাকায় যখন বিপদসংকেত বা সাইরেন বেজে ওঠে, তখন সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছিলেন। শাহ আলম সে সময় নিজের কর্মস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ভাগ্যবশত, একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা প্রতিহত করা ড্রোনের অংশবিশেষ সরাসরি তার ওপর এসে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি প্রাণ হারান। স্থানীয়দের ধারণা, ইরান থেকে ছোড়া একটি ড্রোন লক্ষ্যভ্রষ্ট বা ধ্বংস করার পর এর অবশিষ্টাংশ জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এসে পড়েছিল। বর্তমানে নিহতের মরদেহ স্থানীয় হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। শোকে পাথর হয়ে যাওয়া পরিবার ও গ্রামবাসী সরকারের কাছে দ্রুত মরদেহটি দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্নায়ুযুদ্ধ এবার এক বিপজ্জনক মোড় নিয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ, ২০২৬) বাহরাইনে এক নিয়মিত মিশনে থাকা অবস্থায় ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের সামরিক বাহিনীর সাথে কর্মরত এক বেসামরিক ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। এই নজিরবিহীন হামলায় আমিরাতি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আরও ৫ সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই হতাহতের খবর নিশ্চিত করেছে। নিহত ব্যক্তি মরক্কোর নাগরিক ছিলেন বলে জানা গেছে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনাটি ইরান ও আমিরাতের মধ্যকার ইতিমধ্যে জটিল কূটনৈতিক সম্পর্কে একটি নতুন এবং অত্যন্ত স্পর্শকাতর মাত্রা যোগ করল। প্রথমবারের মতো এই ধরনের সরাসরি হামলায় সামরিক ঠিকাদার নিহত ও সার্ভিসম্যানদের আহত হওয়ার ঘটনা আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে এই উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ছড়িয়ে এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) কাছে যুদ্ধের বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করল ইরান। ইরানের ভূখণ্ডে মার্কিন হামলায় সহায়তা করার অভিযোগে সরাসরি জাতিসংঘের দ্বারস্থ হয়েছে তেহরান। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি সম্প্রতি মহাসচিব আন্তনিও গুতেরেসের কাছে এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন। ইরানের গণমাধ্যমগুলোর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই চিঠিতে আমিরাতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। ইরানের দাবি, তাদের ভূখণ্ডে সামরিক আগ্রাসন চালানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে কৌশলগত ও লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। রাষ্ট্রদূত ইরাভানি চিঠিতে উল্লেখ করেন, এই হামলাগুলো নিছক কোনো ঘটনা নয় বরং এগুলো ‘আন্তর্জাতিকভাবে অন্যায় কাজ’ এবং এর দায়ভার সম্পূর্ণভাবে আমিরাতকেই বহন করতে হবে। ক্ষতিপূরণের বিষয়ে ইরান স্পষ্ট করেছে যে, তারা কেবল অবকাঠামোগত বা ‘বস্তুগত’ ক্ষয়ক্ষতিই নয়, বরং এই হামলার ফলে সৃষ্ট ‘নৈতিক ক্ষতি’র জন্যও যথাযথ প্রতিদান চায়। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে ফাটল ধরাতে পারে।
ইরান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন কূটনৈতিক ও সামরিক তৎপরতার ইঙ্গিত মিলেছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌ-চলাচল সচল রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দেশটির প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা Anwar Gargash এ তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান Council on Foreign Relations আয়োজিত এক অনলাইন আলোচনায় তিনি বলেন, বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ সচল রাখা কেবল একটি দেশের দায়িত্ব নয়, বরং এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। তিনি জানান, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি, তবে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি যুদ্ধ-পরবর্তী দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। এর আগে হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump বলেন, হরমুজ প্রণালী সচল রাখতে তিনি ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তবে ফ্রান্স এই উদ্যোগে সরাসরি সামরিক অংশগ্রহণে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা বিরাজ করায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশকে তাদের তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান জানালেও বেশ কয়েকটি দেশ তাতে সাড়া দেয়নি। অন্যদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে, কোনো বিদেশি যুদ্ধজাহাজ তাদের জলসীমায় প্রবেশের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন চরম উত্তেজনার মুখে। এমন নাজুক সময়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জরুরি ফোনালাপ করেছেন সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সৌদ। তিনি কাতারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খলিফা বিন হামাদ আল থানি এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ সাইফ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সাথে বর্তমান পরিস্থিতির নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। সৌদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সাম্প্রতিক হামলার ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় তারা ঐক্যবদ্ধ। বিশেষ করে কাতারের নাগরিক ও বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সৌদি আরব সব ধরনের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই অঞ্চলে যুদ্ধের প্রভাব প্রশমিত করতে এবং নিজেদের সীমান্ত সুরক্ষিত রাখতে বড় শক্তিগুলো এখন একজোট হয়ে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত লক্ষ্য করে প্রায় ২,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে ইরান। মূলত আমিরাতের মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত পরিবহন খাত এবং জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে এই হামলাগুলো চালানো হচ্ছে। সোমবার দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে ড্রোন হামলার ফলে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, যা আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়। শুধু বিমানবন্দরই নয়, অঞ্চলটির অন্যতম বৃহৎ তেল সংরক্ষণ কেন্দ্র ফুজাইরাহ বন্দরেও ড্রোন হামলায় আগুনের ঘটনা ঘটেছে। আবুধাবির উপকণ্ঠে একটি চলন্ত গাড়িতে রকেট হামলায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের মৃত্যু পরিস্থিতিকে আরও ঘোরালো করে তুলেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে দুবাইয়ের একটি বিলাসবহুল হোটেলেও হামলা চালানো হয়। বিবিসির সংবাদদাতা আজাদেহ মশিরি জানিয়েছেন, আরব আমিরাত মনে করছে তাদের অন্যায়ভাবে এই যুদ্ধে টেনে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান হয়তো ভাবছে এই চাপের মুখে আমিরাত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করবে, কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই ক্রমাগত হামলায় আমিরাতের কর্মকর্তারা এখন চরম ক্ষুব্ধ।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলমান মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর খবর ছড়ানোর অভিযোগে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে ১৯ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এমিরেটস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং গুজব প্রতিরোধের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল-সামসি জানান, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অনলাইনে কোনো ধরনের ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা রোধ করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের কার্যক্রম তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলটি বাস্তব ঘটনার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়েছে যা দেশের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। দ্বিতীয় দলটি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সম্পূর্ণ ভুয়া ভিডিও তৈরি ও প্রচার করেছে। তৃতীয় দলটি অনলাইনে শত্রুপক্ষের প্রশংসা করে বিভিন্ন তথ্য প্রচার করেছে। আমিরাত প্রশাসন জানিয়েছে, এই কার্যক্রম দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। অভিযুক্তরা দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় আনা হবে, এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের এক বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানা হতে পারে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যক্রম শুরু করেছে। পরিস্থিতির উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার করতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখা হয়েছে। সূত্র: এনডিটিভি
সংযুক্ত আরব আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরীগুলোতে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক জরুরি সতর্কবার্তায় দুবাইয়ের জেবেল আলী, আবুধাবির খলিফা বন্দর এবং ফুজাইরা বন্দরের বাসিন্দাদের অবিলম্বে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে জানা গেছে, এসব বাণিজ্যিক ও বেসামরিক স্থাপনার ভেতরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন অবস্থানের কারণে এলাকাগুলো এখন তেহরানের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এসব অঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান চালানো হতে পারে। সম্প্রতি ইরানের খার্গ দ্বীপে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে তেহরান। আইআরজিসির দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন শহরে লুকিয়ে থাকা মার্কিন শত্রু এবং তাদের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো ইরানের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। ফলে মার্কিন সেনাদের আশ্রয় দেওয়া প্রতিটি বন্দর ও ডক এখন ইরানি মিসাইলের নিশানায়। ইরানি নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল আলিরেজা তাংসিরি দাবি করেছেন, বাহরাইন, কুয়েত এবং আরব আমিরাতের বেশ কিছু মার্কিন ঘাঁটিতে ইতিমধ্যেই শক্তিশালী ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে: আল-ধাফরা ঘাঁটি (ইউএই): ধ্বংস করা হয়েছে প্যাট্রিয়ট রাডার সিস্টেম ও কন্ট্রোল টাওয়ার। আল-আদিরি ঘাঁটি (কুয়েত): গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হেলিকপ্টার ল্যান্ডিং প্যাড ও সমরাস্ত্রের গুদাম। শেখ ঈসা বিমানঘাঁটি (বাহরাইন): একাধিক ড্রোন ও মিসাইল আঘাত হেনেছে। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। তবে মধ্যপ্রাচ্যে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ইরানি হামলার কোনো ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলেই কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে। হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি, সরকারি স্থাপনা বা ধ্বংসাবশেষের ছবি তোলা এবং শেয়ার করার বিষয়ে নাগরিকদের পাশাপাশি পর্যটকদেরও কঠোরভাবে সতর্ক করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। আমিরাতে অবস্থিত ব্রিটিশ দূতাবাস এই সতর্কবার্তা প্রচার করে জানায়, স্থানীয় আইন লঙ্ঘন করে কোনো প্রজেক্টাইল বা হামলার ঘটনার ছবি শেয়ার করলে কারাদণ্ড, মোটা অংকের জরিমানা এবং দেশ থেকে চিরতরে নির্বাসনের মতো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যেই দুবাইয়ে ক্ষেপণাস্ত্রের ছবি তোলার অভিযোগে ৬০ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো রোধে আমিরাত সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাই আমিরাতে অবস্থানরত বিদেশিদের স্থানীয় আইন মেনে চলার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের সমন্বিত হামলা চালিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড করপস (আইআরজিসি)। শনিবার (৭ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন প্রজন্মের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই সামরিক অভিযানের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল আমিরাতের আল-দাফরা বিমান ঘাঁটি। ইরানের নিখুঁত নিশানার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনগুলো সেখানে মার্কিন বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। এতে ঘাঁটির একটি অত্যাধুনিক আর্লি-ওয়ার্নিং রাডার সিস্টেম, এমকিউ-৯ ড্রোনের রক্ষণাবেক্ষণ হ্যাঙ্গার এবং ইউ-২ নজরদারি বিমানের বিভিন্ন স্থাপনা সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। একই সময়ে কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতেও ভারী মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়েছে। আইআরজিসি জানিয়েছে, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ওই ঘাঁটির রাডার ব্যবস্থা এবং জ্বালানি সংরক্ষাণাগার লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এছাড়া মার্কিন সামরিক বিমানের উড্ডয়ন ও অবতরণে ব্যবহৃত দুটি রানওয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই সংবাদের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সোমবার জারি করা এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বর্তমান আঞ্চলিক সংকট মোকাবিলায় তারা কেবল সংলাপ ও উত্তেজনা হ্রাসকেই সবচেয়ে কার্যকর পথ মনে করে। বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন এবং রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই যেকোনো বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। বিরোধ নিরসনে সামরিক শক্তির চেয়ে কূটনৈতিক উপায়কেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে দেশটি। ইরানের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকট এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা এক চরমে পৌঁছেছে। এরই মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, একটি বিশাল মার্কিন ‘‘নৌবহর’’ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং এর সঙ্গী তিনটি ডেস্ট্রয়ার ইতিমধ্যে ভারত মহাসাগর পেরিয়ে ওমান উপসাগরের সন্নিকটে অবস্থান নিয়েছে। মার্কিন প্রশাসন এবং ইসরাইল ইঙ্গিত দিয়েছে যে, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনে তারা সামরিক হস্তক্ষেপ এমনকি শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনের পথেও হাঁটতে পারে। তবে ইউএই-র এই ঘোষণা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ এই অঞ্চলে সামরিক অপারেশনের জন্য আমিরাতের ভূখণ্ড ও লজিস্টিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। বিপরীতে ইরানও হাত গুটিয়ে বসে নেই। দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যেকোনো ধরণের আগ্রাসনের জবাবে তারা এমন এক ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখাবে যা যুক্তরাষ্ট্র কল্পনাও করতে পারবে না। গত জুনে ইরানের বিরুদ্ধে চালানো ১২ দিনের যুদ্ধের পর তেহরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিশ্ববাসী ইতিমধ্যে প্রত্যক্ষ করেছে। এমতাবস্থায় ইউএই-র এই নিরপেক্ষ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews