গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান। প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর। সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন না করার সতর্কবার্তা দিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, যদি যুদ্ধবিরতি ভাঙা হয়, তাহলে তাদের যোদ্ধারা আবার ‘ট্রিগারে আঙুল রাখবে’। হিজবুল্লাহ–নিয়ন্ত্রিত আল-মানার টেলিভিশন-এ প্রচারিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, সংগঠনটির মুজাহিদিনেরা প্রস্তুত রয়েছে এবং যেকোনো ‘বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণা’ প্রতিহত করতে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর বর্তালেও পরিস্থিতি অবনতি হলে তার জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে হিজবুল্লাহ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিরসনে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের দাবি করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার এক ঘোষণায় তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েল এবং লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বাংলাদেশ সময় আজ রাত ৩টা (২১:০০ জিএমটি) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে যাচ্ছে। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। দীর্ঘ ৩৪ বছর পর গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে দুই দেশের প্রতিনিধিরা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের ধারাবাহিকতায় এই শান্তি প্রক্রিয়া শুরু হলো। ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন, "এই দুই নেতা একমত হয়েছেন যে, দেশ দুটির মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আজ বিকেল ৫টা (EST) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি শুরু হবে।" এই শান্তি প্রক্রিয়া তদারকি করার জন্য ট্রাম্প একটি উচ্চপর্যায়ের দল গঠন করেছেন। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জয়েন্ট চিফ অফ স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান ‘রেজিন’ কেইন ইসরায়েল ও লেবাননের সাথে স্থায়ী শান্তি বজায় রাখতে কাজ করবেন। নিজের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে ট্রাম্প আরও বলেন, "বিশ্বজুড়ে ৯টি যুদ্ধ সমাধান করা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল, আর এটি হতে যাচ্ছে আমার ১০ম সাফল্য। তাই চলুন, এটি সম্পন্ন করি!"
ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং বর্ণবাদী নীতি অনুসরণের অভিযোগে ইসরায়েলকে জাতিসংঘ (UN) থেকে স্থগিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ১৫২তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) অ্যাসেম্বলির উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, কুর্তুলমুস তার ভাষণে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালে বর্ণবাদী নীতির কারণে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক আইন এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যা স্পষ্টত একটি বর্ণবাদী বা 'অ্যাপার্থাইড' ব্যবস্থার প্রতিফলন। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা চরম সংকটের মুখে পড়বে। কুর্তুলমুস আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, নির্বিচারে আটক এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।
গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র সমালোচনা, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং একের পর এক কূটনৈতিক আলোচনা। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তি ইসরায়েলের ক্ষেত্রে। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যদিও দেশটি আজ পর্যন্ত এই বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। অথচ ইসরায়েলের এই গোপনীয়তা বা স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নেই কোনো চাপ। বিগত ১০ মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত অকাট্য কোনো প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো একে পশ্চিমাদের 'দ্বিমুখী নীতি' বা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে, একই অঞ্চলে একটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব উত্তাল হলেও অন্য দেশের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সবাই চোখ বুজে আছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরায়েলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনের কিংবদন্তি ফাতাহ নেতা মারওয়ান বারঘোতির ওপর ভয়াবহ শারীরিক নির্যাতনের খবর নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী। সম্প্রতি বারঘোতির সাথে কারাগারে দেখা করার পর আইনজীবী বেন মারমারেলে জানান, গত কয়েক সপ্তাহে তার মক্কেল অন্তত তিনবার বড় ধরনের সহিংস হামলার শিকার হয়েছেন। আইনজীবী মারমারেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টে এই পরিস্থিতিকে "গভীর উদ্বেগজনক" বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, গত ২৪শে মার্চ বারঘোতির সেলে ইচ্ছাকৃতভাবে একটি কুকুর লেলিয়ে দেয় ইসরায়েলি কারারক্ষীরা। এছাড়া গত ৮ই এপ্রিল তাকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে মারধর করা হয়। এর ফলে তিনি দীর্ঘক্ষণ রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও প্রায় দুই ঘণ্টা তাকে কোনো চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়নি। মারমারেলে বলেন, "এগুলো কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এটি একটি পরিকল্পিত নির্যাতনের অংশ। সহিংসতা এবং সুচিকিৎসার অভাব তার জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।" উল্লেখ্য, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত চলা দ্বিতীয় ইন্তিফাদার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০২ সালে ইসরায়েল বারঘোতিকে গ্রেপ্তার করে। তাকে পাঁচটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হলেও বারঘোতি বরাবরই তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। ফিলিস্তিনিদের কাছে তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন নেতা এবং অনেকেই তাকে 'ফিলিস্তিনের নেলসন ম্যান্ডেলা' হিসেবে গণ্য করেন।
বিশ্ববাসীর নজর যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক আলোচনার দিকে, ঠিক তখনই অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর দমন-পীড়ন ও হামলার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এবং সশস্ত্র সেটেলাররা (দখলদার বসতি স্থাপনকারী)। ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ‘ওয়াফা’ পশ্চিম তীরের বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি বাহিনীর নৃশংসতার একাধিক চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, আজ সকালেই ইসরায়েলি বাহিনীর কড়া পাহারায় উগ্রপন্থী ইহুদি সেটেলাররা পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করে উসকানিমূলক তালমুডিক আচার অনুষ্ঠান পালন করে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিমদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অন্যদিকে, হেব্রন শহরের উত্তর-পূর্বে আশ-শুয়ুখ নামক এলাকায় এক ফিলিস্তিনি নাগরিকের বাড়ি দখলের চেষ্টা চালায় সশস্ত্র সেটেলাররা। তবে স্থানীয় ফিলিস্তিনিদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়। এর পরপরই ইসরায়েলি বাহিনী হেব্রন শহরের কেন্দ্রস্থল সিল করে দেয় এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। নাবলুসের উত্তর-পশ্চিমে বুরকা গ্রামের কাছে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় দুই ফিলিস্তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন। ফিলিস্তিন রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, ৬২ ও ২৪ বছর বয়সী দুই ব্যক্তিকে তাদের গাড়ি থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া জেরিকোর উত্তরে আইন আল-আউজা ঝরনার কাছে পানির পাইপলাইন বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে সেটেলাররা এবং বেথলেহেমের দক্ষিণে কৃষি জমি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বিচারে এই হামলা ও সম্পদ ধ্বংসের ঘটনায় পশ্চিম তীরে চরম মানবিক সংকট তৈরি হচ্ছে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান সামরিক অভিযান ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে ইতালি। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা এএফপি জানিয়েছে, এই চুক্তির আওতায় ইসরায়েল ও ইতালি একে অপরের সঙ্গে সামরিক সরঞ্জাম, উন্নত অস্ত্রশস্ত্র এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি গবেষণার তথ্য আদান-প্রদান করত। প্রধানমন্ত্রী মেলোনির এই ঘোষণার ফলে দুই দেশের সামরিক সহযোগিতায় বড় ধরনের ছেদ পড়ল। ইতালির রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনসার প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মেলোনি বলেছেন, "বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সরকার ইসরায়েলের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিরক্ষা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়টি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাজায় মানবিক বিপর্যয় এবং সম্প্রতি ইরানের ওপর ইসরায়েলের হামলার ঘটনায় ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর আগে স্পেনও ইসরায়েলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল। ইতালির এই পদক্ষেপ ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশ্বশান্তি রক্ষায় ‘চার দফা’ প্রস্তাব পেশ করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মঙ্গলবার বেইজিংয়ে আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদের সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন। শি জিনপিং সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বকে কোনোভাবেই ‘জঙ্গলের আইনে’ (law of the jungle) ফিরে যেতে দেওয়া যাবে না। প্রায় ছয় সপ্তাহ আগে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিয়ে এটিই চীনা প্রেসিডেন্টের সবচেয়ে জোরালো এবং সরাসরি বক্তব্য। শি জিনপিংয়ের চার প্রস্তাবের মূল দিকগুলো: ১. শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ‘শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতি’ বজায় রাখা। ২. টেকসই নিরাপত্তা ব্যবস্থা: একটি টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলা, যা কোনো নির্দিষ্ট জোটের ওপর নির্ভরশীল হবে না। ৩. আন্তর্জাতিক আইনের সুরক্ষা: আন্তর্জাতিক আইনের কর্তৃত্ব রক্ষা করা এবং এর ‘নির্বাচিত প্রয়োগ’ বন্ধ করা। ৪. সার্বভৌমত্ব ও সমন্বয়: সকল দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং নিরাপত্তা ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। বৈঠক শেষে চীনা সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শি জিনপিং আন্তর্জাতিক আইনের নিরপেক্ষতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে পরোক্ষভাবে সমালোচনা করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনকে যখন খুশি তখন ব্যবহার বা ছুড়ে ফেলার সুযোগ নেই। সুবিধামতো আইন প্রয়োগ করলে বিশ্বজুড়ে চরম অরাজকতা তৈরি হতে পারে। প্রেসিডেন্ট শি আরও জানান, চীন মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও সংলাপ প্রসারে সব সময় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করে যাবে। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং কূটনৈতিক স্থাপনা ও কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে তিনি কড়া বার্তা দেন। বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের এই ‘টেকসই নিরাপত্তা কাঠামো’র প্রস্তাব মূলত মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্য ও সামরিক জোট ব্যবস্থার বিপরীতে একটি বিকল্প বৈশ্বিক নিরাপত্তার ধারণা। বেইজিং মনে করে, মার্কিন নীতিগুলো অনেক ক্ষেত্রেই একতরফা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের একজন প্রভাবশালী সদস্য। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান জভিকা ফোগেল ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, "ডোনাল্ড, যদি আপনার গুলি করার থাকে তবে গুলি ছুড়ুন, হাঁসের মতো প্যাকপ্যাক করবেন না।" জভিকা ফোগেল ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দল 'জুয়িশ পাওয়ার' (ওতজমা ইহুদিয়া)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এই দলটি ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারের অন্যতম শরিক। দলটির প্রধান উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা ইতামার বেন-গভিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফোগেল। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইসরায়েল-গাজা পরিস্থিতি বা মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে আসা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেন ফোগেল। পশ্চিমা ঘরানার একটি জনপ্রিয় সিনেমাটিক সংলাপের ধাঁচে (If you have to shoot, shoot. Don’t talk) তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এই ব্যঙ্গাত্মক বার্তা দেন। মূলত ট্রাম্পের দীর্ঘ বাগাড়ম্বর বা মৌখিক হুঁশিয়ারির সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফোগেলের এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে এক ধরণের অদৃশ্য দূরত্ব বা অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবির ও ইসরায়েলি কট্টরপন্থীদের মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণে এই ধরণের কড়া সমালোচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উগ্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত জভিকা ফোগেলের এই মন্তব্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বা ট্রাম্প শিবিরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেসেটের একজন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধানের পক্ষ থেকে এমন সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ইসরায়েলের চরম ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বিন-গভির আবারও অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) কড়া পুলিশি পাহারায় তার এই সফরকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জর্ডান ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে 'উস্কানিমূলক' এবং 'আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন' বলে অভিহিত করেছে। আল-আকসা প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে এক ভিডিও বার্তায় বিন-গভির বলেন, "আজ নিজেকে এখানে মালিক (কর্তা) বলে মনে হচ্ছে।" তিনি আরও জানান, এই স্থানে ইহুদিদের প্রার্থনা ও যাতায়াতের সুযোগ আরও বাড়াতে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছেন। দশক পুরোনো আন্তর্জাতিক সমঝোতা (স্ট্যাটাস কু) অনুযায়ী, জর্ডানের তদারকিতে থাকা আল-আকসা প্রাঙ্গণে অমুসলিমরা কেবল পর্যটক হিসেবে প্রবেশ করতে পারেন, কিন্তু সেখানে তাদের প্রার্থনা করার কোনো অধিকার নেই। বিন-গভিরের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এই সফরের সময় মন্ত্রী সেখানে প্রার্থনাও করেছেন, যা দীর্ঘদিনের বিদ্যমান নিয়মের স্পষ্ট লঙ্ঘন। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় জর্ডানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বিন-গভিরের এই পদক্ষেপ পবিত্র স্থলের অবমাননা এবং এটি একটি অগ্রহণযোগ্য উস্কানি। ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা আরও নষ্ট করবে। উল্লেখ্য, আল-আকসা মসজিদ মুসলমানদের জন্য বিশ্বের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান এবং ইহুদিদের কাছে এটি 'টেম্পল মাউন্ট' নামে পরিচিত। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিন-গভিরের এ ধরনের সফরের পর বড় ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। অতীতে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন যে, আল-আকসার স্থিতাবস্থা পরিবর্তনে তার সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই।
লেবাননে যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতি বিরাজ করলেও ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সংকল্প ব্যক্ত করেন। নেতানিয়াহু লিখেছেন, "আমার নেতৃত্বে ইসরায়েল ইরানের সন্ত্রাসী শাসন এবং তাদের প্রক্সিদের (সহযোগী গোষ্ঠী) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে।" একই পোস্টে তিনি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের তীব্র সমালোচনা করেন। এরদোয়ানকে ইরানের প্রতি নমনীয় হওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করে নেতানিয়াহু বলেন, তুর্কি প্রেসিডেন্ট ইরানের পক্ষ নিচ্ছেন এবং কুর্দি নাগরিকদের ওপর 'গণহত্যার' জন্য তিনিই দায়ী। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, লেবাননে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সাময়িক যুদ্ধবিরতি হলেও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েল যে তাদের আগ্রাসী অবস্থান থেকে সরছে না, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। একইসঙ্গে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যকার বিদ্যমান কূটনৈতিক তিক্ততা এই বার্তার মাধ্যমে আরও প্রকট হয়ে উঠল।
মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের সংঘাত নিরসনে এক নতুন কূটনৈতিক দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিডিসিতে ইসরায়েল, লেবানন এবং যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রস্তুতিমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইসরায়েলি সরকারি সূত্র এবং আলোচনার সাথে সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য পক্ষগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই প্রথম দফার আলোচনার মূল লক্ষ্য হলো ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সরাসরি আলোচনার শর্তাবলি এবং আলোচ্যসূচি নির্ধারণ করা। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং দুই দেশের মধ্যে "শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক" স্থাপন করা। তবে আলোচনার টেবিলে কিছু অমীমাংসিত জটিলতা এখনো বিদ্যমান। লেবানন শুরু থেকেই শর্ত দিয়েছে যে, আলোচনার আগে ইসরায়েলকে অবশ্যই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করতে হবে। লেবাননের কর্মকর্তাদের মতে, হামলার মুখে থেকে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। অন্যদিকে, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সাথে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েল। আজকের এই ঐতিহাসিক প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা, যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লিটার এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদেহ মোয়াদ। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পরবর্তী রূপরেখা।
সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাত ও পরবর্তী যুদ্ধবিরতি নিয়ে খোদ ইসরায়েলি নাগরিকদের মধ্যেই দেখা দিয়েছে চরম বিভক্তি। বেশিরভাগ ইসরায়েলিই মনে করেন না যে, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল জয়লাভ করেছে। ইসরায়েলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৩, চ্যানেল ১২ এবং কান ১১-এর পৃথক জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২৫ থেকে ৩৩ শতাংশ মানুষ এই যুদ্ধে ইসরায়েলের বিজয় হয়েছে বলে বিশ্বাস করেন। অন্যদিকে, প্রায় ৩০ শতাংশ নাগরিক মনে করেন যুদ্ধে ইরানই জয়ী হয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করছে। জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেকেরও বেশি নাগরিক যুদ্ধবিরতির বিপক্ষে এবং ইরানের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যেখানে এই যুদ্ধকে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার এবং চূড়ান্ত বিজয়ের প্রচার হিসেবে ব্যবহার করছেন, সেখানে দেশের সাধারণ মানুষের এই অনাস্থা তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের জন্য বড় ধরনের হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইসরায়েলকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে পোস্ট মুছে ফেলেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তার ওই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে খাজা আসিফ ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ এবং ‘ক্যান্সারসদৃশ রাষ্ট্র’ হিসেবে আখ্যা দেন। তবে সমালোচনার মুখে পড়ে কিছু সময়ের মধ্যেই তিনি পোস্টটি মুছে ফেলেন। ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামাবাদে যখন শান্তি আলোচনা চলছে, তখন লেবাননে সহিংসতা অব্যাহত রয়েছে। গাজা, ইরান এবং লেবাননে চলমান সংঘাতের জন্য তিনি ইসরায়েলকে দায়ী করেন। এই মন্তব্যের পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু–এর কার্যালয় থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের মন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য সংলাপে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক ও গোয়েন্দা অভিযানে ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে নজিরবিহীন ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্তত ৫২ জন জ্যেষ্ঠ সামরিক, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যা দেশটির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। নিহতদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাম আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে তিনি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। তাঁর মৃত্যুকে দেশটির ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। খামেনির পর জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী আলী লারিজানি এবং আলী শামখানি-ও পৃথক হামলায় নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। সামরিক নেতৃত্বেও একের পর এক ক্ষতি হয়েছে। ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ বাঘেরি নিহত হওয়ার পর দায়িত্ব নেওয়া আব্দোলরাহিম মুসাভি-ও একই পরিণতির শিকার হন। পাশাপাশি খাতাম আল-আনবিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার গোলামালি রশিদ নিহত হওয়ায় যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় বড় ধাক্কা লাগে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসি-এর নেতৃত্বেও বড় ক্ষতি হয়েছে। বাহিনীর প্রধান হোসেইন সালামি এবং তাঁর উত্তরসূরি মোহাম্মদ পাকপোর নিহত হন। এতে বাহিনীর স্থল, নৌ ও মহাকাশ—তিনটি শাখাই দুর্বল হয়ে পড়ে। মহাকাশ বাহিনীর প্রধান আমির আলী হাজিজাদেহ নিহত হওয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন কর্মসূচি বড় ধাক্কা খেয়েছে। নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরি নিহত হওয়ায় পারস্য উপসাগরে ইরানের উপস্থিতিও দুর্বল হয়েছে। গোয়েন্দা কাঠামোতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব এবং আইআরজিসির গোয়েন্দা প্রধান মোহাম্মদ কাজেমি নিহত হওয়ায় গোটা গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে সমন্বয় সংকট তৈরি হয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচিও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এই খাতে গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞানী মোহসেন ফাখরিজাদেহ হত্যাকাণ্ডের পর আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন বলে জানা গেছে। এতে কর্মসূচির অগ্রগতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। এ ছাড়া ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের মূল ব্যক্তি কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর কুদস ফোর্সের নেটওয়ার্কেও দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব হত্যাকাণ্ড শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়; বরং ইরানের সামরিক কমান্ড, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলছে। একই সঙ্গে এটি ইঙ্গিত করছে—আধুনিক যুদ্ধ এখন কেবল ময়দানে নয়, বরং গোয়েন্দা তথ্য, প্রযুক্তি ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। বর্তমানে ইরানের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নতুন নেতৃত্ব তৈরি, নিরাপত্তা কাঠামো পুনর্গঠন এবং অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করা।
ইসরায়েলকে ‘মানবতার জন্য অভিশাপ’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। খাজা আসিফ বলেন, শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়া চললেও ইসরায়েল লেবাননে হামলা চালিয়ে নিরীহ মানুষের প্রাণ নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, “প্রথমে গাজা, তারপর ইরান এবং এখন লেবানন—ইসরায়েলের এই আগ্রাসনে রক্তপাত থামছে না।” মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইসরায়েলকে ‘অশুভ শক্তি’ বলেও উল্লেখ করেন এবং চলমান সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান। এদিকে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ-এ শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই আলোচনার আগমুহূর্তে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন কঠোর বক্তব্য কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা সূত্রে জানা গেছে, এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার প্রেক্ষাপটে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে এ ধরনের বক্তব্য কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এবার বড় ধরনের নাটকীয় মোড়। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিন্দা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি চাপের মুখে অবশেষে নতি স্বীকার করল তেল আবিব। লেবাননের সঙ্গে ‘যত দ্রুত সম্ভব’ সরাসরি আলোচনায় বসার জন্য নিজের মন্ত্রিসভাকে নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। দীর্ঘদিনের চরম বৈরিতা কাটিয়ে এই দুই প্রতিবেশীর মুখোমুখি বসার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন গুঞ্জন। প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, লেবাননের পক্ষ থেকে বারবার আলোচনার অনুরোধ আসার প্রেক্ষিতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই আলোচনার প্রধান শর্ত হিসেবে থাকছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। নেতানিয়াহুর মতে, বৈরুতকে নিরস্ত্রীকরণ করার বিষয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সদিচ্ছাকে ইসরায়েল ইতিবাচকভাবে দেখছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে হিজবুল্লাহর অস্ত্র সমর্পণ এবং দুই দেশের মধ্যে একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠা করা। এই আলোচনার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে ওয়াশিংটনের চাপ। জানা গেছে, বুধবার এক ফোনালাপে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় নেতানিয়াহুকে লেবাননে হামলার তীব্রতা কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাত এড়াতেই ট্রাম্পের এই ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ। মার্কিন প্রশাসনের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সংঘাত নিয়ন্ত্রণে ইসরায়েল এখন থেকে ‘সহায়ক অংশীদার’ হিসেবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে। যদিও লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের কার্যালয় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই দৌত্য মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাত শেষে শান্তির এই বার্তা কতটুকু আলোর মুখ দেখে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
লেবাননে ইসরায়েলের বর্বরোচিত ও নির্বিচার হামলার কঠোর সমালোচনা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ফের আলোচনায় এসেছে স্পেন। দেশটির সরকার লেবাননের ওপর এই আক্রমণকে ‘মানবতার বিবেকের জন্য কলঙ্ক’ হিসেবে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টাকে বেগবান করতে ইরানে নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে পুনরায় তেহরানে ফেরার নির্দেশ দিয়েছেন স্পেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসে ম্যানুয়েল আলবারেস। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে আলবারেস জানান, গত ৭ মার্চ সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া তেহরানের দূতাবাসটি দ্রুতই তাদের কার্যক্রম শুরু করবে। তিনি বলেন, “শান্তি প্রতিষ্ঠার এই প্রচেষ্টায় আমরা সম্ভাব্য সব জায়গা থেকে যুক্ত হতে চাই, যার মধ্যে ইরানের রাজধানীও অন্যতম।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও ইসরায়েল লেবাননে তাদের হামলা অব্যাহত রেখেছে। বুধবারও লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রায় ২৫০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। স্পেন এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং ‘বর্বরতা’ বলে উল্লেখ করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলবারেস ইতিমধ্যে ওমান, কাতার এবং লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে কথা বলেছেন এবং লেবাননের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পেনের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews