এআই

ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধে ধাক্কা বিশ্ব অর্থনীতিতে, তবু মুনাফায় কিছু খাত—কারা এগিয়ে?

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা এবং হরমুজ প্রণালি-এ অচলাবস্থার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে নামিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।   বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে ২ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসতে পারে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ও উন্নয়নশীল দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জ্বালানি, খাদ্যপণ্য এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায়ও চাপ তৈরি হয়েছে।   তবে এই সংকটের মধ্যেও কিছু খাত উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। আল জাজিরা-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে এমন পাঁচটি খাত— বিশ্ববাজারে অস্থিরতার কারণে লেনদেন বেড়ে যাওয়ায় ওয়াল স্ট্রিটের বড় ব্যাংকগুলো লাভবান হয়েছে। মর্গান স্ট্যানলি, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং জেপি মর্গান চেজ—সবগুলোই ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে উল্লেখযোগ্য মুনাফা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিনিয়োগকারীদের ঘন ঘন লেনদেনই এই মুনাফার মূল কারণ।   ক্রিপ্টো-ভিত্তিক পূর্বাভাস প্ল্যাটফর্ম পলিমার্কেট যুদ্ধকেন্দ্রিক অনিশ্চয়তার সুযোগে ব্যাপক আয় করছে। ব্যবহারকারীরা যুদ্ধ, রাজনীতি বা অর্থনৈতিক ঘটনার ফলাফল নিয়ে বাজি ধরায় প্ল্যাটফর্মটির আয় দ্রুত বেড়েছে।   বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির ফলে এই খাতেও বড় উত্থান দেখা গেছে। ‘এমএসসিআই ওয়ার্ল্ড অ্যারোস্পেস অ্যান্ড ডিফেন্স ইনডেক্স’ অনুযায়ী, এই খাতে প্রায় ৩২ শতাংশ পর্যন্ত নিট মুনাফা হয়েছে, যা বৈশ্বিক শেয়ারবাজারের গড় প্রবৃদ্ধিকেও ছাড়িয়ে গেছে।   সংকটের মধ্যেও এআই খাতের প্রবৃদ্ধি থেমে নেই। চিপ রপ্তানি বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত চাহিদা বাড়ায় তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো রেকর্ড আয় করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যত প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে এআই গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবেই থাকবে।   জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনেক দেশ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, শতাধিক দেশে এ খাতে নীতিগত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের আকাশে গতিবিধি শনাক্ত, এআই এর কাছে হার মানছে মার্কিন যুদ্ধবিমানও!

ইরানের আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তিশালী ও গোপন ‘বি-২ স্পিরিট’ স্টিলথ বা অদৃশ্য বোমারু বিমানের গতিবিধি শনাক্ত করার দাবি করেছে একটি চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি বিষয়ক স্টার্টআপ।  ‘জিংআন টেকনোলজি’ নামক হাংঝু-ভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নিজস্ব এআই সিস্টেম ‘জিংকি’-এর মাধ্যমে তারা কেবল এই বিমানের অবস্থানই নয়, বরং পাইলটদের কণ্ঠস্বর এবং রেডিও যোগাযোগও সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট বা আটকাতে সক্ষম হয়েছে। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, বি-২ বোমারু বিমান বিশ্বের অন্যতম উন্নত যুদ্ধবিমান যা রাডারের চোখ ফাঁকি দিতে পারদর্শী। কিন্তু চীনা এই কোম্পানিটির দাবি যদি সত্যি হয়, তবে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে মার্কিন সামরিক গোপনীয়তা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, তারা শত কোটি ডেটা পয়েন্ট বিশ্লেষণ করে রিয়েল-টাইমে এই ট্র্যাকিং সম্পন্ন করেছে। যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ এই দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন, তবে এই ঘটনাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আধুনিক গোয়েন্দা নজরদারির নতুন এক দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মেটার বড় চমক: বাজারে এল প্রথম সুপারইন্টেলিজেন্স এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’

সোশ্যাল মিডিয়া জায়ান্ট মেটা প্ল্যাটফর্মস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে এক বিশাল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বহুল আলোচিত ‘সুপারইন্টেলিজেন্স’ টিম কর্তৃক উদ্ভাবিত প্রথম এআই মডেল ‘মিউজ স্পার্ক’ (Muse Spark) উন্মোচন করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর প্রতিদ্বন্দ্বী গুগল ও ওপেনএআই-কে টেক্কা দিতে কয়েক বিলিয়ন ডলার খরচ করে এই বিশেষ টিম গঠন করেছিলেন মেটা সিইও মার্ক জাকারবার্গ। নতুন এই মডেলটি মেটার অভ্যন্তরীণ 'অ্যাভোকাডো' (Avocado) সিরিজের অংশ। শেয়ার বাজারে উল্লম্ফন: এই ঘোষণার পরপরই মেটার শেয়ারের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এআই খাতে মেটার বিশাল বিনিয়োগ আদৌ কোনো ফল দেবে কি না—বিনিয়োগকারীদের এমন সংশয় দূর করতেই এই দ্রুত ঘোষণা। কী থাকছে মিউজ স্পার্কে? মেটা জানিয়েছে, মিউজ স্পার্ক মডেলটি আকারে ছোট ও দ্রুতগতিসম্পন্ন হলেও এটি বিজ্ঞান, গণিত এবং স্বাস্থ্যের মতো জটিল বিষয়ে যুক্তিনির্ভর উত্তর দিতে সক্ষম। ব্যবহারকারী সুবিধা: ব্যবহারকারীরা কোনো খাবারের ছবি তুলে সেটির ক্যালরি নির্ণয় করতে পারবেন। এছাড়া অগমেন্টেড রিয়ালিটির মাধ্যমে কোনো পণ্য (যেমন মগ বা আসবাবপত্র) ঘরের কোথায় কেমন দেখাবে, তাও এই এআই-এর মাধ্যমে দেখা সম্ভব হবে। ইন্টিগ্রেশন: প্রাথমিকভাবে এটি ‘মেটা এআই’ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ এবং মেটার স্মার্ট গ্লাসে থাকা বিদ্যমান ল্লামা (Llama) মডেলের স্থলাভিষিক্ত হবে এই ‘মিউজ স্পার্ক’। ব্যয়বহুল প্রতিভা সংগ্রহ: উল্লেখ্য যে, এই সুপারইন্টেলিজেন্স টিমটি গঠন করতে মেটা গত বছর স্কেল এআই-এর সিইও অ্যালেক্স ওয়াংকে ১৪.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে নিয়োগ দেয়। এছাড়া নামী প্রকৌশলীদের শত মিলিয়ন ডলারের স্যালারি প্যাকেজ দিয়ে নিজেদের দলে ভিড়িয়েছিল মেটা। জাকারবার্গের বক্তব্য: এ বিষয়ে মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গ বলেন, “এই মডেলটি আমাদের অগ্রগতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি। এটি প্রমাণ করে যে আমরা কত দ্রুত উদ্ভাবনের পথে হাঁটছি। চলতি বছরেই আমরা আরও উন্নত এবং শক্তিশালী মডেল নিয়ে আসব।” প্রযুক্তিবিদদের মতে, ‘মিউজ স্পার্ক’-এর মাধ্যমে মেটা মূলত সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও সহজ করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে, যা তাদের ৩.৮ বিলিয়ন ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে আমূল বদলে দিতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
পেন্টাগনের গোপন এআই প্রজেক্ট: যুদ্ধের রূপ বদলে দিচ্ছে ‘ম্যাভেন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ বা পেন্টাগনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কর্মসূচি ‘প্রজেক্ট ম্যাভেন’ আবার আলোচনায় এসেছে। ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই প্রযুক্তি লক্ষ্য শনাক্তকরণ এবং হামলার গতি বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।   ২০১৭ সালে ছোট একটি পরীক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হওয়া এই প্রোগ্রাম এখন একটি বড় এআই-নির্ভর সিস্টেমে পরিণত হয়েছে। এটি যুদ্ধ পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয় করার মাধ্যমে আধুনিক যুদ্ধের ধরন বদলে দিতে সক্ষম।   প্রজেক্ট ম্যাভেন কী? প্রজেক্ট ম্যাভেন হলো পেন্টাগনের প্রধান এআই উদ্যোগ। শুরুতে এটি সংঘাতপূর্ণ এলাকা থেকে আসা ড্রোন ফুটেজ বিশ্লেষণে সাহায্য করতো। বিশ্লেষকদের বিপুল পরিমাণ ছবি ও ভিডিও এক ফ্রেম করে দেখার কাজ সহজ করতে এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়।   সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাভেন বড় হয়ে এখন শুধু ছবি বিশ্লেষণ নয়, পুরো যুদ্ধক্ষেত্র পরিচালনায় সহায়তা করে। যুদ্ধের ভাষায় ‘কিল চেইন’ অর্থাৎ লক্ষ্য শনাক্তকরণ থেকে আঘাত পর্যন্ত দ্রুত কাজ করতে সক্ষম এই সিস্টেম।   কীভাবে কাজ করে? ম্যাভেনকে অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রের ‘এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল’ ও ‘ককপিট’-এর সংমিশ্রণ বলা যায়। এটি বিভিন্ন উৎস থেকে সেন্সর ডেটা, গোয়েন্দা তথ্য, স্যাটেলাইট ছবি ও সেনা মোতায়েনের তথ্য সংগ্রহ করে। এরপর এগুলো একত্র করে পুরো পরিস্থিতির একটি পরিষ্কার ছবি তৈরি করে।   ফলে কমান্ডাররা দ্রুত বোঝতে পারেন কোথায় শত্রু চলাচল করছে এবং কোথায় আঘাত হানা সম্ভব। ম্যাভেন বিভিন্ন আক্রমণের বিকল্পও প্রস্তাব করে, এবং চ্যাটজিপিটির মতো প্রযুক্তির কারণে ব্যবহার আরও সহজ হয়েছে। বর্তমানে এই ব্যবস্থার একটি অংশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান প্যালান্টিরের ক্লাউড মডেলের মাধ্যমে চলছে। তবে এর ব্যবহার নিয়ে পেন্টাগনের সঙ্গে কিছু মতবিরোধ আছে।   গুগলের বিরোধ শুরুর দিকে গুগল প্রজেক্টে যুক্ত ছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে তিন হাজারের বেশি কর্মী নৈতিক কারণে বিরোধ জানিয়েছিলেন। তাদের মতে, এ ধরনের প্রযুক্তি মানুষের নিয়ন্ত্রণ অতিক্রম করছে। পরে গুগল চুক্তি নবায়ন করেনি এবং অস্ত্র ব্যবস্থায় কাজ না করার নীতি ঘোষণা করে।   প্যালান্টিরের ভূমিকা ২০২৪ সালে প্যালান্টির গুগলের জায়গা নেয় এবং ম্যাভেনের প্রধান প্রযুক্তি অংশীদার হয়। কোম্পানির এআই সিস্টেম ‘কিল চেইন’-কে ঘণ্টা থেকে সেকেন্ডে নামিয়ে আঘাতের গতি বাড়াতে সক্ষম।   কার্যকারিতা ম্যাভেনের সঠিক কার্যকারিতা নিয়ে সরাসরি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার ধরণ থেকে ধারণা করা যায়, এটি লক্ষ্য শনাক্তকরণ ও আঘাতের গতি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। গবেষণা অনুযায়ী, কিছু অপারেশনে প্রতিদিন ৩০০–৫০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। ইরানের দাবি, এক হামলায় ৭–১২ বছর বয়সী ১৬৮ শিশু নিহত এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এআই জগতে গুগলের চমক: উন্মোচিত হলো ওপেন সোর্স মডেল ‘জেম্মা ৪’

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার লড়াইয়ে আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল। বিশ্বজুড়ে ডেভেলপার এবং প্রযুক্তিপ্রেমীদের জন্য গুগল উন্মোচন করেছে তাদের এযাবতকালের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বুদ্ধিমান ‘ওপেন-ওয়েট’ এআই মডেল ‘জেম্মা ৪’ (Gemma 4)।  গুগল ডিপমাইন্ডের অত্যাধুনিক গবেষণালব্ধ এই মডেলটি মূলত গুগলের প্রিমিয়াম এআই ‘জেমিনি ৩’-এর প্রযুক্তিতে তৈরি, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী চারটি ভিন্ন সংস্করণ গুগল জেম্মা ৪-কে মূলত চারটি ভিন্ন আকারে বাজারে এনেছে। এর মধ্যে সাধারণ স্মার্টফোনের জন্য রয়েছে ‘ইফেক্টিভ ২বি’ ও ‘ইফেক্টিভ ৪বি’ সংস্করণ। অন্যদিকে, বড় ও জটিল কাজের জন্য রাখা হয়েছে ‘২৬বি এমওই’ এবং ‘৩১বি ডেন্স’ মডেল। জেম্মা ৪-এর সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর অফলাইন কার্যক্ষমতা। ছোট ডিভাইস যেমন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা রাসবেরি পাই-তেও এটি অনায়াসেই কাজ করতে পারে। ফলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট ছাড়াই এআই ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটি কেবল টেক্সট বা লেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভিডিও, ছবি এবং অডিও সরাসরি প্রসেস করতে সক্ষম এই মডেলটি। পাশাপাশি বাংলাসহ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি ভাষায় পারদর্শী জেম্মা ৪, যা এর গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জটিল গাণিতিক যুক্তি বা কোডিং তৈরির ক্ষেত্রে জেম্মা ৪ পূর্ববর্তী মডেলগুলোর তুলনায় কয়েকগুণ বেশি কার্যকর। বড় ডাটাবেজ বিশ্লেষণ বা বড় ডকুমেন্ট মুহূর্তেই স্ক্যান করে ফলাফল দিতে এটি অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ‘অ্যাপাচি ২.০’ লাইসেন্সের আওতায় গুগল এই মডেলটি উন্মুক্ত করায় বিশ্বের যেকোনো ডেভেলপার বা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান কোনো জটিল শর্ত ছাড়াই এটি ব্যবহার বা পরিবর্তন করতে পারবেন।  প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ওপেন সোর্স এআই-এর বাজারে মেটার ‘লামা’ (Llama)-কে টেক্কা দিতে জেম্মা ৪ গুগলের জন্য একটি ট্রাম্পকার্ড হতে যাচ্ছে। বর্তমানে গুগল এআই স্টুডিও এবং হাগিং ফেস-এর মতো প্ল্যাটফর্মে এটি বিনামূল্যে পাওয়া যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কফির কাপ হাতে মৃত্যু জল্পনা ওড়ালেন নেতানিয়াহু!

গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল একটি খবর—ইরানের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তবে সব জল্পনা আর গুজবকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে এবার সশরীরে ক্যামেরার সামনে হাজির হলেন তিনি। হাতে কফির কাপ নিয়ে অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে জানিয়ে দিলেন, তিনি বহাল তবিয়তে আছেন। সম্প্রতি এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও বার্তায় নেতানিয়াহু বিদ্রূপের সুরে বলেন, "আমি কফির জন্য মরতেও রাজি, আবার দেশের জন্যও মরতে রাজি।" গত শুক্রবার নেতানিয়াহুর একটি সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত হয়। নেটিজেনদের একাংশ দাবি করেন, ভিডিওটির একটি বিশেষ মুহূর্তে নেতানিয়াহুর ডান হাতে ছয়টি আঙুল দেখা যাচ্ছে। মুহূর্তেই ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে যে, আসল নেতানিয়াহু আর বেঁচে নেই এবং এই ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই’ (AI) ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। রবিবার সকালে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও এবার খোদ নেতানিয়াহু নিজেই মুখ খুললেন। নতুন ভিডিও বার্তায় তিনি কেবল কথা বলেই ক্ষান্ত হননি, বরং ক্যামেরার সামনে নিজের দুই হাত নাড়িয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে গত ভিডিওটি নিয়ে ওঠা জল্পনা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝেও তাঁর এমন নাটকীয় উপস্থিতি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে ১৬৫ শিশুর প্রাণহানি: এআই-এর ব্যবহার নিয়ে উঠছে বৈশ্বিক প্রশ্ন

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরের একটি বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৬৫ জন শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাটি আধুনিক যুদ্ধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর (AI) ব্যবহার এবং এর নির্ভুলতা নিয়ে নতুন করে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার প্রথম দিনেই ‘শাজারেহ তাইয়েবাহ’ নামক ওই বিদ্যালয়টি টমাহক (Tomahawk) ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে মারাত্মক ভুলের কারণে এই প্রাণহানি ঘটেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লক্ষ্যবস্তু নির্বাচনের ক্ষেত্রে যে ডাটা বা তথ্য ব্যবহার করা হয়েছিল, তা ছিল বহু পুরনো। বিদ্যালয় ভবনটি একসময় একটি সামরিক ঘাঁটির অংশ থাকলেও গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তা সম্পূর্ণ আলাদা একটি বেসামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM)-এর কর্মকর্তাদের তৈরি করা টার্গেট কোঅর্ডিনেটগুলো এআই-চালিত বিশ্লেষণে যাচাই করা হলেও সিস্টেমটি ভবনটির বর্তমান বেসামরিক অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এই হামলাকে ‘ভয়াবহ অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা বলছেন, এআই বা প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু কোনোভাবেই এড়ানো সম্ভব নয়। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার দায় অস্বীকার করলেও পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তদন্তে মার্কিন বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা ও যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উঠে এসেছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুদ্ধে এআই ব্যবহার করলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি বাড়লেও এতে মানুষের মানবিক বিচারবুদ্ধি ও তাৎক্ষণিক তথ্য যাচাইয়ের অভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই হামলার পর এখন প্রশ্ন উঠেছে—এআই-এর ভুলে যদি নিরপরাধ শিশুদের প্রাণ যায়, তবে তার দায়ভার কার? প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের, নাকি যে কমান্ড এটি ব্যবহার করেছে তাদের? ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলাটি ঘটে। ইরান একে ‘অপ্রমাণিত ও অপরাধমূলক’ হামলা হিসেবে বর্ণনা করে আন্তর্জাতিক আদালতের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এই ঘটনায় নিহত শিশুদের স্মরণে ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হয়েছে এবং তাদের জানাজায় লাখো মানুষের ঢল নামে। বিশ্লেষকদের মতে, মিনাব শহরের এই ট্র্যাজেডি ভবিষ্যতে স্বায়ত্তশাসিত মারণাস্ত্র (Autonomous Weapons) ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক নীতিমালায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে বাধ্য করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুদ্ধে মানুষের জীবন-মরণ নির্ধারণে এআই ব্যবহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি চীনের

যুদ্ধক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI)-এর ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে চীন। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, রণক্ষেত্রে কে বাঁচবে আর কে মরবে—এমন চূড়ান্ত ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা কোনোভাবেই এআই-এর হাতে ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে এ বিষয়ে চীনের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সময় অবশ্যই ‘হিউম্যান প্রাইমাসি’ বা মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রাখতে হবে। অর্থাৎ, প্রাণঘাতী কোনো হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার নিয়ন্ত্রণ সর্বদাই মানুষের হাতে থাকা জরুরি। চীন মনে করে, যুদ্ধের ময়দানে এআই-এর ওপর অতি-নির্ভরশীলতা বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এআই যদি নিজে থেকেই জীবন ও মৃত্যুর সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করে, তবে তা যুদ্ধকে আরও ভয়াবহ এবং অনিয়ন্ত্রিত করে তুলবে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা এআই-এর ভুল বিশ্লেষণের ফলে নিরপরাধ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিবৃতিতে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে বলা হয়, এআই-চালিত অস্ত্র ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন এবং নৈতিকতার বিষয়টি মাথায় রাখা অত্যন্ত প্রয়োজন। দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সামরিক ও প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার মধ্যে এআই-এর দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করতে বেইজিং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতের সমরাস্ত্র প্রতিযোগিতায় আধিপত্য বিস্তার করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয় দেশই এআই প্রযুক্তিতে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। তবে চীন এই প্রথমবারের মতো রণক্ষেত্রে এআই-এর ‘স্বায়ত্তশাসিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ’ ক্ষমতার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিল। উল্লেখ্য, গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে ‘কিলার রোবট’ বা মানুষের হস্তক্ষেপ ছাড়া লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ড্রোনের ব্যবহার নিয়ে বিতর্ক চলছে। চীনের এই সাম্প্রতিক সতর্কবার্তা সেই বৈশ্বিক উদ্বেগেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
সব রেকর্ড চুরমার, কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে অসম্ভবকে সম্ভব করার জাদু দেখাল চীন

কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেল চীন। দেশটির বিজ্ঞানীরা এমন একটি যুগান্তকারী 'ডাবল-ফোটন' বা দ্বি-ফোটন ডিভাইস তৈরি করেছেন, যা কোয়ান্টাম কণার কার্যক্ষমতার প্রচলিত সব সীমা বা 'এফিসিয়েন্সি সিলিং' ভেঙে দিয়েছে।  সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের (SCMP) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই উদ্ভাবনটি কোয়ান্টাম নেটওয়ার্ক এবং সুপার-ফাস্ট ডেটা প্রসেসিংয়ের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। প্রথাগত কোয়ান্টাম প্রযুক্তিতে কণার (ফোটন) কার্যক্ষমতা একটি নির্দিষ্ট সীমার পর আর বাড়ানো সম্ভব হতো না। চীনা গবেষক দল, বিশেষ করে সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয় এবং অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা, একটি ন্যানো-স্কেল 'ফোটন ফ্যাক্টরি' তৈরিতে সক্ষম হয়েছেন।  এটি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যা কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট বা কণার মধ্যকার রহস্যময় সংযোগের হার প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগে ছিল মাত্র ০.১ শতাংশের নিচে। কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ? ১. সুপারফাস্ট কম্পিউটিং: এই প্রযুক্তির ফলে কোয়ান্টাম চিপগুলো বর্তমানের এনভিডিয়া (NVIDIA) জিপিইউ-এর চেয়েও হাজার গুণ দ্রুত কাজ করতে সক্ষম হবে। ২. নিরাপদ যোগাযোগ: কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্টের স্থায়িত্ব বাড়ার ফলে হ্যাকিং-মুক্ত বিশ্বব্যাপী কোয়ান্টাম ইন্টারনেট গড়ার পথ প্রশস্ত হলো। ৩. শিল্পে বিপ্লব: মহাকাশ গবেষণা, বায়ো-মেডিসিন এবং আর্থিক খাতের জটিল হিসাব-নিকাশ এখন কয়েক মুহূর্তেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। গবেষক দলের প্রধানদের মতে, তারা লিথিয়াম নিওবেট (Lithium Niobate) নামক একটি বিশেষ পাতলা স্তরের ওপর এই মাইক্রোচিপ তৈরি করেছেন। এটি সাধারণ সিলিকন চিপের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। বিজ্ঞানীরা এটিকে 'আর্টিফিশিয়াল অ্যাটম' বা কৃত্রিম পরমাণু কাঠামোর এক অনন্য প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন, যা বিশ্বজুড়ে কোয়ান্টাম রেসে চীনকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেল। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের এই সাফল্য শুধুমাত্র গবেষণাগারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি ইতিমধ্যে বাস্তব ডেটা সেন্টারে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ডেটা প্রসেসিংয়ের সংজ্ঞাই বদলে যেতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা, ইলন মাস্কের ‘গ্রোক’ এ তৈরি হচ্ছে আপত্তিকর ছবি

জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর (সাবেক টুইটার) মালিক ইলন মাস্কের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন চ্যাটবট ‘গ্রোক’ (Grok) আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে। নতুন কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা সত্ত্বেও গ্রোক এখনো যৌনতাপূর্ণ বা আপত্তিকর ছবি তৈরি করছে বলে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ক্ষতিকারক কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণে বেশ কিছু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা বা ‘কার্বস’ বসিয়েছিল গ্রোকের নির্মাতা প্রতিষ্ঠান xAI। কিন্তু ব্যবহারকারীরা দেখতে পেয়েছেন যে, সামান্য কৌশলী প্রম্পট বা কমান্ড ব্যবহার করলেই গ্রোক এখনো বিভিন্ন আপত্তিকর এবং যৌনতাপূর্ণ ছবি তৈরি করে দিচ্ছে। এমনকি যখন সরাসরি কোনো আপত্তিকর ছবি চাওয়া হচ্ছে না, তখনও গ্রোকের ইমেজ জেনারেটর অনেক ক্ষেত্রে অনাকাঙ্ক্ষিত ফলাফল প্রদান করছে।   প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই মডেলগুলোকে নিরাপদ করার জন্য যেসব ফিল্টার ব্যবহার করা হয়, সেগুলোতে এখনো অনেক ফাঁকফোকর রয়ে গেছে। গ্রোকের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, ইলন মাস্ক গ্রোককে ‘অবাধ বাকস্বাধীনতা’ বা ‘আনসেন্সরড’ হওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তার কারণেই হয়তো এর সুরক্ষাব্যবস্থা অন্য চ্যাটবটগুলোর (যেমন চ্যাটজিপিটি বা জেমিনি) তুলনায় অনেক শিথিল।   উল্লেখ্য, সম্প্রতি এআই দিয়ে তৈরি পর্নোগ্রাফিক ছবি বা ‘ডিপফেক’ নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে তারকা এবং সাধারণ মানুষের ছবি ব্যবহার করে এ ধরনের কন্টেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, যা নিয়ে বিভিন্ন দেশ কঠোর আইন করার কথা ভাবছে। এই পরিস্থিতিতে গ্রোকের এই ব্যর্থতা প্রযুক্তি মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।   xAI বা ইলন মাস্কের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রতিষ্ঠানটি এর আগে জানিয়েছিল, তারা গ্রোকের ফিল্টারগুলোকে আরও উন্নত করার জন্য কাজ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২৬ 0
একীভূত হচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স ও এক্সএআই
একীভূত হচ্ছে ইলন মাস্কের স্পেস-এক্স ও এক্সএআই

  ইলন মাস্কের হাত ধরে বদলে যাচ্ছে আগামীর প্রযুক্তি। স্পেস-এক্স এবং এক্সএআই-এর এই ঐতিহাসিক একীকরণ কেবল ব্যবসায়িক চুক্তি নয়, বরং মহাকাশ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এক অভূতপূর্ব মিলন। ১ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের এই নতুন শক্তি মহাকাশে এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন থেকে শুরু করে হাই-স্পিড ইন্টারনেট—সবকিছুতেই আনবে বৈপ্লবিক পরিবর্তন।   মহাকাশে এআই সাম্রাজ্য: প্রথমবারের মতো রকেট প্রযুক্তি এবং অ্যাডভান্সড এআই এক ছাদের নিচে। ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানি: স্পেস-এক্স ও এক্সএআই মিলে তৈরি হচ্ছে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম। আইপিও আসছে: আগামী জুনেই বিশাল অংকের আইপিও’র মাধ্যমে বাজিমাত করার পরিকল্পনা মাস্কের। গ্লোবাল কানেক্টিভিটি: এআই, স্পেস-ইন্টারনেট এবং সোশ্যাল মিডিয়া মিলে তৈরি হচ্ছে এক অবিচ্ছেদ্য ‘ইনোভেশন ইঞ্জিন’।   মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেস-এক্স আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের এআই স্টার্ট-আপ ‘xAI’ কে অধিগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছে। গতকাল সোমবার এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা জানানো হয়। ইলন মাস্কের এই মাস্টারপ্ল্যানের মূল উদ্দেশ্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বীদের টেক্কা দিয়ে মহাকাশে শক্তিশালী এআই ডেটা সেন্টার স্থাপন করা এবং পৃথিবীব্যাপী মুক্ত তথ্যের প্রবাহ নিশ্চিত করা। এই একীকরণের ফলে রকেট, এআই চ্যাটবট এবং স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি হবে।   আগামী জুন মাস নাগাদ এই নতুন কোম্পানিটি পাবলিক অফারিং বা আইপিও-তে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যেখান থেকে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন মাস্ক। কর্মীদের দেওয়া এক বার্তায় মাস্ক জানিয়েছেন, পৃথিবী এবং মহাকাশে একটি ‘কমপ্লিট ইনোভেশন ইঞ্জিন’ তৈরি করতেই এই সাহসী উদ্যোগ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ৩, ২০২৬ 0
মিজানুর রহমান আজহারী
ভয়েস ক্লোন ও এআই প্রযুক্তিতে অভিনব জালিয়াতি: প্রতারকচক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক: সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধরণের নতুন আপদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এআই-চালিত জালিয়াতি। একদল কুচক্রী মহল জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্যক্তিত্বের ছবি ও ভয়েস ক্লোন করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রতারণামূলক কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরণের অবৈজ্ঞানিক ওষুধি পণ্য এবং চিকিৎসা সেবার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে, যা দেখে প্রযুক্তির এই নেতিবাচক দিক সম্পর্কে অজ্ঞাত সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।   এই প্রতারণার আঁচ লেগেছে সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ‘হাসানাহ ফাউন্ডেশন’-এর ওপরও। ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, ভুয়া বিজ্ঞাপন দেখে বিভ্রান্ত হয়ে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল নম্বরে ফোন করছেন, যা তাঁদের দাপ্তরিক কাজে বড় ধরণের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিত্ব স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এ ধরণের কোনো বিজ্ঞাপন বা পণ্য বিক্রির সাথে তাঁর বা তাঁর ফাউন্ডেশনের দূরতম কোনো সম্পর্ক নেই। এটি কেবল অনৈতিক নয়, বরং চরম জঘন্য একটি অপরাধ।   আইনি ব্যবস্থা ও চূড়ান্ত সতর্কতা: এই ন্যাক্কারজনক জালিয়াতি রুখতে ইতোমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে। প্রতারক পেজ ও মিডিয়াগুলোর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা দ্রুতই পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগে হস্তান্তর করা হবে। দেশের ভেতরে কিংবা বাইরে—যেখান থেকেই এই ধরণের ডিজিটাল অপরাধ চালানো হচ্ছে, তাদের প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতারকদের প্রতি ‘চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি’ উচ্চারণ করে বলা হয়েছে, অনতিবিলম্বে এই ধরণের প্রতারণামূলক কন্টেন্ট রিমুভ না করলে কোনো ধরণের আপস ছাড়াই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসাথে মেধা ও প্রযুক্তির দক্ষতাকে অনৈতিক পথে ব্যবহার না করে হালাল উপায়ে জীবিকা অন্বেষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ: যেকোনো প্রলোভন বা বিজ্ঞাপনের সত্যতা যাচাই করতে সর্বদা হাসানাহ ফাউন্ডেশনের অফিশিয়াল সোর্স ব্যবহার করুন। কোনো ধরণের ব্যক্তিগত তথ্য বা অর্থ লেনদেনের আগে ভেরিফাইড সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে মিলিয়ে নিন। আপনাদের সচেতনতাই পারে এই ডিজিটাল মাফিয়াদের রুখে দিতে। সকল অফিশিয়াল লিংক নিচে দেওয়া হলো...   Website: https://mizanurrahmanazhari.net/ Instagram: https://www.instagram.com/dr.mizanur.rahman.azhari X (Twitter): https://x.com/AzhariTweets Youtube: https://www.youtube.com/@DrMizanurRahmanAzhariChannel Facebook: https://www.facebook.com/mizanurrahmanazhariofficial TikTok: https://www.tiktok.com/@mizanurrahmanazhari হাসানাহ ফাউন্ডেশনের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েবসাইট: Website: https://hasanahfoundation.com Facebook Page: Hasanah Foundation Group: https://www.facebook.com/groups/Hsanah4All Hasanah Olympiad Page: Hasanah Olympiad Hasanah Olympiad Website: https://hasanaholympiad.com Youtube: https://www.youtube.com/@HasanahFoundation Instagram: https://www.instagram.com/HasanahFoundation_official X (Twitter): https://www.x.com/Hasanah4All

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ১৯, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0