মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় দেশটির পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে পর্তুগাল। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, লেবাননের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ রাজ্জি তাঁর পর্তুগিজ সমকক্ষ পাওলো রাঙ্গেল-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে লেবাননের বর্তমান পরিস্থিতি এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনা হয়। লেবাননের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল। বৈঠক শেষে পাওলো রাঙ্গেল বলেন, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি পর্তুগালের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তিনি যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। রাঙ্গেলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে টেকসই সমাধান সম্ভব হতে পারে। এতে লেবাননে স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং দীর্ঘদিনের সংঘাতের অবসান ঘটতে পারে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতির পর লেবাননকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমাধানের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সাবেক কমান্ডার এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজাঈ এ হুমকি দেন। বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে ‘পুলিশের ভূমিকা’ নেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের কাজ নয়। তিনি দাবি করেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সহজেই মার্কিন জাহাজ লক্ষ্য করে ধ্বংস করতে সক্ষম। রেজাঈ আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি থাকা সত্ত্বেও তারা হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে সাহস পায় না। তার ভাষায়, ইরান তাদের অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত প্রণালি ছাড়বে না এবং আলোচনার শর্ত নির্ধারণ করবে তেহরানই। এদিকে, সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযান নিয়েও বিতর্কিত মন্তব্য করেন তিনি। দাবি করেন, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ইরান ‘হাজার হাজার জিম্মি’ ধরে বিপুল অর্থ আদায় করতে পারবে। তার এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে একাধিক বিমানবাহী রণতরী অঞ্চলটিতে অবস্থান করছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। যদিও আগের দফার দীর্ঘ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি, তবে হোয়াইট হাউস চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক হুমকি ও কূটনৈতিক তৎপরতা—দুই দিক থেকেই পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
অবশেষে সকল পরীক্ষা নীরিক্ষার ধাপ পেরিয়ে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য লাইসেন্স দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন লাইসেন্স অনুমোদনের দায়িত্বে থাকা বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বিএইআরএ) প্রধান শাখা নিউক্লিয়ার রেগুলেটরি ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রকল্প পরিচালক ড. মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, আমাদের দিক থেকে আর কোনো সমস্যা নেই। জ্বালানী লোডিং এর কমিশনিং লাইসেন্স দিয়ে দিছি। এখন সরকার জ্বালানী লোডিং উদ্বোধনের তারিখ ঠিক করবেন। সে অনুযায়ী জ্বালানী লোডিং শুরু হবে। এতে করে চলতি এপ্রিলের শেষের দিকে রূপপুর পারমাণবিকের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং উদ্বোধন হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বলেন, এর আগে গত ৭ এপ্রিল উদ্বোধনের জন্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নিলেও কিছু ক্রিটিক্যাল ইস্যু সামনে আসে। সেগুলো সমাধানের জন্য সময় দেওয়া হয়। সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য-আমরা সততার সঙ্গে জোরালো চেষ্টা করছি। এখন পজিশন ভালো। সেই জন্য প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের (কমিশনিং) বিষয়ে আমরা এখন সবাই একমত হওয়ায় লাইসেন্স প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) কে পরিচালনার জন্য অপারেটর হিসেবে অথারাইজেশন দেওয়া হয়েছে। এজন্য এনপিসিবিএল-এর ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্সও প্রদান করার কথা জানান তিনি। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (এনপিসিবিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জ্বালানী লোডিং এর লাইসেন্স প্রাপ্তি, এনপিসিবিএল-কে অপারেটর হিসেবে নিযুক্তি এবং ৫৯ জনকে পার্সোনাল লাইসেন্স দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতিমূলক কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত এনওসি (অনাপত্তিপত্র) পাওয়া গেছে। নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও সেফগার্ডকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ফিজিক্যাল স্টার্টআপ তথা জ্বালানি লোডিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিসেম্বরের মধ্যে ধাপে ধাপে রূপপুরে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রসংগত: এর আগে লাইসেন্স না পাওয়ায় নির্ধারিত চলতি মাসের ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর প্রথম ইউনিটে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এক পত্রে ৭ এপ্রিল প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের উদ্বোধন করার কথা জানানো হয়েছিল। দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ প্রকল্পটি দীর্ঘ সময়ের নানা জটিলতা পেরিয়ে এখন দৃশ্যমান পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর আগেও একাধিকবার উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়েছে। প্রায় দুই বছর আগে রাশিয়া থেকে প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি দেশে আনা হলেও তা এখনো ব্যবহার করা যায়নি। জ্বালানি লোডিংয়ের আগে আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থা এর তত্বাবধানে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। প্রসঙ্গত, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রাশিয়ান ফেডারেশনের সঙ্গে একটি চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণ করা হচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া প্রকল্পটিতে অর্থায়ন এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। ২০১৭ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়। মূল প্রকল্পের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় ইউনিটের ৭০ শতাংশের বেশি কাজ শেষ হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২০২২ সালে কমিশনিংয়ের কথা থাকলেও তা তিন বছর পিছিয়ে গেছে। গত বছর বাংলাদেশ ও রাশিয়া ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ দুটি ইউনিটের কাজ শেষ করার জন্য সময়সীমা বাড়াতে সম্মত হয়। প্রকল্প সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ইউনিটের নির্মাণকাজ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সবমিলিয়ে, পুরো প্রকল্পের কাজ ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী, আগামী বছরের শুরুর দিকে রূপপুর থেকে প্রথম ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হওয়ার কথা। ২০২৮ সালের শেষ নাগাদ আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের কথা রয়েছে।
লেবানন সরকারের ইসরায়েলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় যাওয়ার সিদ্ধান্তকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন দেশটির প্রভাবশালী সংগঠন হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হুসেইন হাজ্জ হাসান। তিনি এই উদ্যোগকে ‘গুরুতর ভুল’ ও ‘দেশের স্বার্থবিরোধী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হাসান বলেন, ‘শত্রুর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা একটি গুরুতর পাপ ও গুরুতর ভুল। এটি দেশের কোনো স্বার্থই পূরণ করে না।’ তিনি মনে করেন, এ ধরনের সংলাপ লেবাননের জাতীয় স্বার্থকে দুর্বল করে দিচ্ছে। সংসদীয় কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি লেবানন সরকারের প্রতি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ‘অপ্রয়োজনীয় ছাড়’ দেওয়া বন্ধ করার আহ্বান জানান। তার ভাষায়, বর্তমান নীতি দেশের জন্য কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনছে না এবং এ অবস্থান থেকে সরে আসা প্রয়োজন। প্রসঙ্গত, ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরায়েলের চলমান সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে কূটনৈতিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই বৈঠকে লেবানন যুদ্ধবিরতি এবং মানবিক সংকট মোকাবিলার ওপর গুরুত্বারোপ করে। অন্যদিকে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা হিজবুল্লাহসহ অরাষ্ট্রীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে নিরস্ত্র করতে চায়। এ অবস্থায় মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সংলাপ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় দুই দেশের মধ্যে আরও একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যা চলমান সংঘাত নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে তুরস্ক। দেশটি বলেছে, যুদ্ধবিরতিকে স্থায়ী শান্তিতে রূপ দিতে সংলাপের বিকল্প নেই এবং এ প্রক্রিয়ায় তারা সমর্থন অব্যাহত রাখবে।' আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ন্যাটো সদস্য ও ইরানের প্রতিবেশী তুরস্ক ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখছে। দেশটি শুরু থেকেই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানায়, চলমান যুদ্ধবিরতি ধরে রেখে তা স্থায়ী শান্তিতে পরিণত করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে আঙ্কারা। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে আলোচনায় গঠনমূলক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, চলমান সংলাপকে আরও এগিয়ে নিতে আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বয় বাড়ানো হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সপ্তাহের শেষে তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ আনতালিয়ায় একটি কূটনৈতিক ফোরামের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ কাতার সফর শেষে তুরস্কে যাওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর এই ধারাবাহিক যোগাযোগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান–যুক্তরাষ্ট্র সংলাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা এবং তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে রূপ দিতে বহুপাক্ষিক কূটনীতি ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অস্ত্র সরবরাহ না করতে সতর্ক করেছিলেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এ বিষয়ে চীনের কাছ থেকে ইতিবাচক আশ্বাসও পেয়েছেন। বুধবার এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে চীন অস্ত্র দিচ্ছে—এমন তথ্য পাওয়ার পর তিনি সরাসরি শি জিনপিংকে চিঠি পাঠান। জবাবে চীনা প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, বেইজিং ইরানকে কোনো ধরনের অস্ত্র সরবরাহ করছে না। তবে এই পত্রবিনিময়ের সুনির্দিষ্ট সময় উল্লেখ করেননি ট্রাম্প। এর আগে তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যেসব দেশ ইরানকে অস্ত্র দেবে, তাদের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে উচ্চ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। সাক্ষাৎকারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার সিদ্ধান্তে চীন সন্তুষ্ট। তিনি বলেন, এই পদক্ষেপ শুধু চীনের জন্য নয়, বরং পুরো বিশ্বের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, ইরান বা ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতি সত্ত্বেও চীনের সঙ্গে আসন্ন বৈঠকে কোনো প্রভাব পড়বে না। তিনি বলেন, চীনের জ্বালানির প্রয়োজন বেশি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই নির্ভরতায় নেই। একই সঙ্গে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, শিগগিরই শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হতে পারে। সেখানে পারস্পরিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তবে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সক্ষমতার কথাও উল্লেখ করেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে এই ধরনের যোগাযোগের মাধ্যমে ইরানকে কূটনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে রাখার কৌশল নিচ্ছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং নৌ অবরোধের প্রেক্ষাপটে এই বার্তাকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতার প্রেক্ষাপটে চার দিনের কূটনৈতিক সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে গেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। বুধবার শুরু হওয়া এই সফর শনিবার পর্যন্ত চলবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানায়, সফরকালে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। অন্যদিকে তুরস্ক সফরে আন্তর্জাতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ফোরামে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিকে প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করেছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সমর্থন নিশ্চিত করাকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, সম্ভাব্য আলোচনার স্থান নির্ধারণ নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ইসলামাবাদ ও জেনেভা—এই দুটি শহরের নাম আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদিও এখনো এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্প্রতি বলেছেন, নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের জটিল এই সংকটের সমাধান এক ধাপে সম্ভব নয়; ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমেই স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফরের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা প্রশমনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুযোগও খুঁজছে ইসলামাবাদ।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ইস্যুতে ফোনে কথা বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রায় ৪০ মিনিটের এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় দুই নেতা হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পর এটিই ছিল দুই নেতার প্রথম সরাসরি কথোপকথন। আলোচনায় তারা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খোলা ও নিরাপদ রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। ফোনালাপ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে। তিনি জানান, দুই দেশ তাদের “বৈশ্বিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব” আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মোদি আরও উল্লেখ করেন, আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এদিকে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন দূত সার্জিও গোর জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়মিতভাবে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করে থাকেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৪ মার্চ দুই নেতার মধ্যে সর্বশেষ ফোনালাপ হয়েছিল। তখনও তারা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রয়োজনীয়তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দিয়েছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় দফা সংলাপের উদ্যোগও চলছে, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ দেখছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গুতেরেস বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব বেশি দৃশ্যমান। শক্তি প্রয়োগের নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। মহাসচিব বলেন, চলমান এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা পুনরায় শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনাকেও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের সংলাপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরদার করছে। যুদ্ধবিরতি টেকসই রাখা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এই আহ্বান জানিয়েছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়িদ বদর বিন হামাদ আল-বুসাইদির সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে। সোমবার অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাত এবং চলমান যুদ্ধবিরতির প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আব্বাস আরাঘচি বলেন, বাইরের শক্তির ‘নেতিবাচক হস্তক্ষেপ’ ছাড়াই আঞ্চলিক দেশগুলো নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম। এজন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ‘দায়িত্বশীল আচরণ’-এর প্রশংসা করে বলেন, যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা এবং কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান উদ্যোগের মাধ্যমে দ্রুতই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। এ সময় ওমানের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করে আরাঘচি বলেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান সবসময় সহযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। সাম্প্রতিক সংকটে ওমান যে দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখেছে, তা তেহরান ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায়, ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়। এর ভিত্তিতেই পাকিস্তানের ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ বৈঠক কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়। বিশ্লেষকদের মতে, পারস্পরিক অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক মতপার্থক্যই এই অচলাবস্থার প্রধান কারণ। ইসলামাবাদ বৈঠকে ইরান মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার দাবি তোলে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্তে সম্মত না হওয়ায় সমঝোতা সম্ভব হয়নি। বর্তমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ওমানের সঙ্গে এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ওমানের ভূমিকা কাজে লাগিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক সমর্থন জোরদার করতে চাইছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে দীর্ঘ সময়ের উত্তেজনাপূর্ণ আলোচনার পরও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা যায়, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রায় ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলে। কয়েক দশকের মধ্যে এটিই ছিল দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের প্রথম সরাসরি বৈঠক, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের পক্ষে ছিলেন দেশটির স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনার এক পর্যায়ে দুই পক্ষ প্রায় ৮০ শতাংশ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছালেও শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা গ্যারান্টি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়। এর ফলে চুক্তি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। বৈঠকের এক পর্যায়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন প্রতিনিধিদের সরাসরি প্রশ্ন করেন, “আপনাদের কীভাবে বিশ্বাস করব?” তিনি অভিযোগ করেন, আগের আলোচনায় কূটনৈতিক প্রক্রিয়া চলাকালে হামলা না করার আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এই আস্থাহীনতাই আলোচনার প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তাদের দাবি—ইরান কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। ইরানের পক্ষ থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা, হিমায়িত সম্পদ ফেরত এবং হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে তোলা হয়। আলোচনার পরিবেশ এক পর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে মধ্যস্থতাকারীরা দুই পক্ষকে আলাদা কক্ষে নিয়ে বিরতির ব্যবস্থা করেন। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বৈঠক শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘চূড়ান্ত প্রস্তাব’ দিয়েছে এবং এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা ইরানের। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বেড়েছে, যা দুই দেশকেই আলোচনায় ফিরতে বাধ্য করছে। ফলে বৈঠকটি ব্যর্থ হলেও খুব শিগগিরই দ্বিতীয় দফা আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন। পেজেশকিয়ান তাঁর পোস্টে বলেন, মার্কিন সরকার যদি তাদের কর্তৃত্ববাদী অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছানোর পথ তৈরি হতে পারে। এ সময় তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচনাকারী দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ-এর প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, আলোচনাকারী দলের সদস্যদের প্রচেষ্টা প্রশংসনীয় এবং তাদের জন্য শুভকামনা জানান। পেজেশকিয়ানের মতে, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতেই দীর্ঘদিনের এই দ্বন্দ্বের টেকসই সমাধান সম্ভব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, বর্তমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে হলে উভয় পক্ষকেই নমনীয় অবস্থান নিতে হবে। অন্যথায় উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সমঝোতার পথ কঠিন হয়ে উঠবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার চলমান উত্তেজনা নিরসনে আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রকে ‘কর্তৃত্ববাদী’ মনোভাব পরিহারের আহ্বান জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, যদি মার্কিন সরকার তাদের একতরফা অবস্থান থেকে সরে এসে ইরানি জনগণের অধিকারকে সম্মান করে, তাহলে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে। এদিকে তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচনায় নেতৃত্বদানকারী প্রতিনিধি দলের প্রধান মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের ভূয়সী প্রশংসা করেন। আলোচনায় যুক্ত পুরো দলের প্রচেষ্টার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। পেজেশকিয়ান মনে করেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতেই কেবল এই দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্বের সমাধান সম্ভব। বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা কাটাতে উভয় পক্ষের অবস্থান নমনীয় হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
উগান্ডার সেনাপ্রধান জেনারেল মুহুজি কাইনেরুগাবা তুরস্কের কাছে এক অদ্ভুত ও নজিরবিহীন দাবি জানিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শোরগোল ফেলে দিয়েছেন। তিনি সোমালিয়ায় উগান্ডার দীর্ঘদিনের সামরিক অভিযানের ‘পুরস্কার’ হিসেবে তুরস্কের কাছে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার এবং সেই দেশের সবচাইতে সুন্দরী নারীকে স্ত্রী হিসেবে দাবি করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই আল্টিমেটাম দেন। জেনারেল মুহুজি অভিযোগ করেন, সোমালিয়ায় উগান্ডার সেনারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শান্তি রক্ষা করলেও এর বাণিজ্যিক সুবিধা ভোগ করছে তুরস্ক। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এই দাবি মানা না হলে উগান্ডায় অবস্থিত তুর্কি দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং তুর্কি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট উগান্ডার আকাশসীমায় নিষিদ্ধ করা হবে। এমনকি তিনি উগান্ডার নাগরিকদের তুরস্কে ভ্রমণেও নিষেধাজ্ঞা জারির হুমকি দিয়েছেন। উল্লেখ্য, জেনারেল মুহুজি উগান্ডার প্রেসিডেন্ট ইয়োওয়েরি মুসেভেনির ছেলে। ইতিপূর্বেও তিনি ইতালির নারী প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনিকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে এবং বিনিময়ে ১০০টি গরু দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিতর্কিত হয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে তার এমন আচরণের জন্য প্রেসিডেন্ট মুসেভেনিকে ক্ষমা পর্যন্ত চাইতে হয়েছিল। এবার তুরস্ককে ঘিরে তার এই নতুন দাবি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান উত্তেজনা নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছেন। রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেস্কিয়ান এর সঙ্গে এক ফোনালাপে তিনি এই প্রস্তাব দেন বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। এর আগে পাকিস্তানে প্রায় ২১ ঘণ্টার ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। এই অচলাবস্থার মধ্যেই পুতিন কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি মধ্যপ্রাচ্যে একটি “ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তি” প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করতে প্রস্তুত। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের “দ্বিমুখী নীতি” এবং “একতরফা মনোভাব”কে আলোচনার প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চললে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও ন্যায্য চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যানস ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগে অনীহাকেই প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, আলোচনার বেশিরভাগ বিষয়ে অগ্রগতি হলেও ইরান যদি পারমাণবিক সক্ষমতা ধরে রাখে, তবে সেই সমঝোতার কোনো মূল্য থাকবে না। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে রাশিয়ার মধ্যস্থতা উদ্যোগ নতুন কূটনৈতিক পথ খুলে দিতে পারে, তবে পারমাণবিক ইস্যুতে মতপার্থক্য দূর না হলে স্থায়ী সমাধান কঠিন হয়ে পড়বে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের পক্ষ থেকে অংশ নেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও তাঁর জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে পাকিস্তানের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি। ইরানের সঙ্গে বহুল আলোচিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে বর্তমানে পাকিস্তানে অবস্থান করছেন জেডি ভ্যান্স। মূল বৈঠকের আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনা কূটনৈতিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, বৈঠকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও আসন্ন শান্তি আলোচনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। এর আগে একই দিনে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলও শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করে। এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আশা প্রকাশ করেছেন, এই আলোচনার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। পাশাপাশি দুই পক্ষকে সহযোগিতা দিতে পাকিস্তানের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরানের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফের নেতৃত্বে এই প্রতিনিধিদলে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও উপস্থিত ছিলেন। শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কসহ চলমান আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে ইসলামাবাদে অবস্থান করছে ইরানি প্রতিনিধিদল। ধারণা করা হচ্ছে, সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এবং আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনাকে ঘিরে পাকিস্তানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সে প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের জনগণের ন্যায্য অধিকার স্বীকৃতি দেয় এবং আন্তরিকভাবে চুক্তির পথে এগোয়, তাহলে তেহরানও একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত—এমনটাই জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রেক্ষাপটে ইরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। কালিবাফ বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আলোচনার মধ্যেই ইরানের ওপর একাধিকবার হামলা চালানো হয়েছে, যা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। তিনি অভিযোগ করেন, এসব ঘটনায় বহু যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে তিনি বলেন, তেহরানের উদ্দেশ্য শান্তিপূর্ণ হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থার ঘাটতি এখনো কাটেনি। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, যদি ওয়াশিংটন এই আলোচনাকে কেবল শক্তি প্রদর্শন বা কৌশলগত প্রতারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে ইরান নিজস্ব সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে জনগণের অধিকার রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেবে। কালিবাফ আরও বলেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না। বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাড়ছে কূটনৈতিক চাপ ও প্রত্যাশা। তবে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস কাটিয়ে একটি কার্যকর চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনায় ‘চরম অবিশ্বাস’ নিয়ে অংশ নিচ্ছে ইরান—এমনটাই জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ওয়েডফুলের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপে তিনি তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা যায়, অতীতে ওয়াশিংটনের বারবার প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং কূটনৈতিক আচরণে অসঙ্গতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন আরাগচি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘কূটনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতা’ এবং শিষ্টাচার লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ কারণে চলমান আলোচনায় ইরান অত্যন্ত সতর্ক ও সন্দিহান অবস্থানে রয়েছে। তবে দেশের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। এদিকে, পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের এই আলোচনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। আলোচনার আগেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা আসায় কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, আরাগচির এই বক্তব্য একদিকে যেমন বাস্তব অবস্থার প্রতিফলন, তেমনি আলোচনার টেবিলে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশলও হতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসই শান্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই পরিস্থিতিতে আলোচনা কতটা এগোতে পারে।
লেবাননের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল, তবে এই প্রক্রিয়ায় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত মাইকেল লেটার শুক্রবার এ তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর অব্যাহত হামলাই ইসরায়েল–লেবানন সম্পর্কের উন্নয়নে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে লেবাননের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু করতে চায় ইসরায়েল। এ লক্ষ্যে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে, কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইতোমধ্যে এক দফা টেলিফোনে আলোচনা হয়েছে। এতে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকেও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, হিজবুল্লাহকে আলোচনার বাইরে রাখা হলে শান্তি প্রক্রিয়া জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, লেবাননের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় সংগঠনটির গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় এই আলোচনা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিরতি আলোচনা আজ শনিবার রাজধানী ইসলামাবাদে শুরু হচ্ছে। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এ বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই মধ্যে দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যায়। এতে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বসহ বহু মানুষ নিহত হন। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত করে দেয়, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুই পক্ষ, যার মেয়াদ ২২ এপ্রিল পর্যন্ত। সেই প্রেক্ষাপটেই শুরু হচ্ছে এই আলোচনা। আলোচনার মূল বিষয়গুলো এই বৈঠকে উভয় পক্ষ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অবস্থান তুলে ধরবে। যুক্তরাষ্ট্র চায়— ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করা ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা সীমিত করা হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা অন্যদিকে, ইরানের দাবির মধ্যে রয়েছে— আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমানো আঞ্চলিক সংঘাত বন্ধ করা হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি এছাড়া লেবাননে চলমান সংঘাতও আলোচনার অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠেছে। ইরান বলছে, সেখানে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ না হলে কার্যকর কোনো সমঝোতা সম্ভব নয়। আলোচনার ধরন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আলোচনার প্রথম ধাপে দুই পক্ষ আলাদা কক্ষে বসবে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা বার্তা আদান-প্রদান করবেন। পরবর্তীতে সরাসরি বৈঠকের সম্ভাবনাও রয়েছে। নিরাপত্তার কারণে ইসলামাবাদে কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ‘রেড জোন’ সিল করে দেওয়া হয়েছে এবং সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে একটি পাঁচতারকা হোটেলকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। ফলাফল কী হতে পারে বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক থেকে তাৎক্ষণিক কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসার সম্ভাবনা কম। দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের অবিশ্বাস এখনো বড় বাধা হয়ে আছে। তবে সীমিত পর্যায়ে কিছু অগ্রগতি হতে পারে, যেমন— যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ গ্রহণ হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে খুলে দেওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, লেবানন ইস্যু এবং ইসরায়েলের ভূমিকা এই আলোচনার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইসরায়েল আলোচনায় সরাসরি অংশ না নেওয়ায় ভবিষ্যতে চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। কূটনৈতিক গুরুত্ব এই বৈঠককে একটি ‘সিদ্ধান্তমূলক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, চরম উত্তেজনার মধ্যেও দুই পক্ষের আলোচনায় বসা নিজেই একটি বড় অগ্রগতি। পাকিস্তানও এই উদ্যোগকে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছে। দেশটি আশা করছে, এই আলোচনার মাধ্যমে অন্তত একটি দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews