বর্তমান বিশ্বে পাসপোর্টের শক্তিমত্তার বিচারে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সাক্ষী হলো উত্তর আমেরিকা। দীর্ঘ কয়েক দশকের আধিপত্য ভেঙে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী নীল পাসপোর্টকে পেছনে ফেলে দিয়েছে কানাডিয়ান পাসপোর্ট। ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসের সর্বশেষ ‘হেনলি পাসপোর্ট ইনডেক্স’ (Henley Passport Index) অনুযায়ী, বৈশ্বিক ভ্রমণের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে কানাডা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে। র্যাঙ্কিংয়ের চিত্র: সর্বশেষ তথ্যমতে, কানাডিয়ান পাসপোর্ট বর্তমানে বিশ্বের সপ্তম শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে অবস্থান করছে। এই পাসপোর্টের অধিকারীরা বিশ্বের ১৮২টি গন্তব্যে কোনো পূর্ব ভিসা ছাড়াই (ভিসা-মুক্ত বা অন-অ্যারাইভাল ভিসা) ভ্রমণ করতে পারছেন। অন্যদিকে, এক সময়ের শীর্ষস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্ট এখন দশম স্থানে নেমে এসেছে, যার মাধ্যমে ১৭৯টি গন্তব্যে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার মিলছে। কেন এই পরিবর্তন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কানাডার সফল কূটনৈতিক তৎপরতা এবং বিভিন্ন দেশের সাথে ভিসা অব্যাহতি চুক্তি এই উত্থানে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চীনের পক্ষ থেকে কানাডিয়ানদের জন্য ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত সুবিধা প্রদান কানাডাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে, যা এখনো অনেক মার্কিন নাগরিকের জন্য অধরা। আমেরিকানদের জন্য সুখবর: এই র্যাঙ্কিং পরিবর্তনের পাশাপাশি একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। বর্তমানে লাখ লাখ আমেরিকান নাগরিক চাইলেই শক্তিশালী কানাডিয়ান পাসপোর্টের মালিক হতে পারেন। কানাডার নতুন নাগরিকত্ব আইন (Bill C-3) অনুযায়ী, বংশসূত্রে নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে পূর্বের ‘প্রথম প্রজন্ম’ বা ফার্স্ট জেনারেশন সীমাবদ্ধতা তুলে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে যেসব আমেরিকান নাগরিকের বাবা-মা, দাদা-দাদি বা পূর্বপুরুষ কানাডিয়ান ছিলেন, তারা খুব সহজেই কানাডার নাগরিকত্বের আবেদন করতে পারবেন। এই প্রক্রিয়ার জন্য কোনো পরীক্ষা বা কানাডায় বসবাসের বাধ্যবাধকতা নেই। শুধুমাত্র বংশগত প্রমাণপত্রের মাধ্যমেই তারা এই শক্তিশালী পাসপোর্টটি পেতে পারেন। অতিরিক্ত সুবিধা: কানাডিয়ান পাসপোর্টধারী হলে কেবল ভ্রমণ সুবিধাই নয়, বরং 'ইন্টারন্যাশনাল এক্সপেরিয়েন্স কানাডা' (IEC) প্রোগ্রামের আওতায় তরুণরা বিশ্বের ৩৬টি দেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন। যেখানে মার্কিন পাসপোর্টধারীরা মাত্র ৬টি দেশে এই ধরণের সুবিধা পান।বিশ্বজুড়ে সীমান্ত নীতি যখন কঠোর হচ্ছে, তখন কানাডার এই অগ্রগতি দেশটির বৈশ্বিক মর্যাদা ও এর নাগরিকদের অবাধ চলাচলের সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করল।
কানাডার টরন্টোতে অবস্থিত মার্কিন কনসুলেটে গভীর রাতে ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এই ঘটনাকে ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে তদন্ত শুরু করেছে। গত মঙ্গলবার ভোররাত ৪:৩০ মিনিটের দিকে টরন্টোর ডাউনটাউনে একটি সাদা এসইউভি (SUV) গাড়ি থেকে দুই ব্যক্তি নেমে মার্কিন কনসুলেট লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি ছোড়ে। টরন্টো পুলিশের ডেপুটি চিফ ফ্র্যাঙ্ক ব্যারেডো জানান, হামলার সময় ভবনের ভেতরে মানুষ উপস্থিত থাকলেও ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও শক্তিশালী হওয়ায় কেউ হতাহত হননি। হামলাকারীরা একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়েই ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। কানাডার ফেডারেল পুলিশের চিফ সুপারিনটেনডেন্ট ক্রিস লেদার জানিয়েছেন, এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, গত সপ্তাহান্তে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুতে মার্কিন ভূমিকার প্রতিবাদে এই কনসুলেটের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছিল। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টরন্টোর তিনটি সিনাগগেও (ইহুদি উপাসনালয়) গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধে কানাডার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজের সঙ্গে ক্যানবেরায় যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। কার্নি জানান, যুদ্ধের মতো পরিস্থিতিতে কানাডার অংশ নেওয়ার সম্ভাবনাকে সম্পূর্ণভাবে নাকচ করা সম্ভব নয়। এর আগে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেন, কানাডা তার মিত্রদের পাশে থাকবে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে এবার কঠোর ও তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বর্তমানে চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটানো এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে মনে করছেন তিনি। সিডনির লোয়ি ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় কার্নি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তিনি সরাসরি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, এই হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তার এই মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং মিত্র দেশগুলোর সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে কানাডার অবস্থানের পরিবর্তনকে স্পষ্ট করে তুলছে।
কানাডা তাদের দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের প্রধান মাধ্যম ‘এক্সপ্রেস এন্ট্রি’ সিস্টেমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। নতুন সংশোধনীতে গবেষণা, স্বাস্থ্যসেবা ও এভিয়েশন খাতের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কিছু সামরিক পেশাকেও অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বুধবার দেশটির সরকার নতুন এই ক্যাটাগরিগুলো উন্মোচন করে। এর মাধ্যমে দক্ষ কর্মী ও গবেষকদের আকৃষ্ট করার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৬ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন গবেষক ও উচ্চপদস্থ ব্যবস্থাপক, পরিবহন খাতের দক্ষ কর্মী যেমন পাইলট ও এয়ারক্রাফট মেকানিক, কানাডায় কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিদেশি চিকিৎসক এবং কানাডিয়ান সশস্ত্র বাহিনীতে যোগ দিতে আগ্রহী উচ্চদক্ষ বিদেশি আবেদনকারী—যাদের মধ্যে সামরিক চিকিৎসক, নার্স ও পাইলট রয়েছেন। কানাডার অভিবাসন মন্ত্রী লেনা মেটলেজ ডায়াব এক বিবৃতিতে জানান, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে এমন মেধাবীদের আকৃষ্ট করা হবে যারা শুরু থেকেই কানাডার অর্থনীতিতে কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে তীব্র শ্রমিক সংকটে ভুগছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন সরকার সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবাসন সংকট এবং সামাজিক পরিষেবার ওপর চাপ কমাতে সামগ্রিক অভিবাসীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তবে টেকসই উন্নয়নের জন্য বিশেষায়িত খাতে দক্ষ জনবল নিয়োগে নতুন এই স্ট্রিমগুলো চালু করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা খাতে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ঘোষিত এক নতুন প্রতিরক্ষা কৌশলে কানাডা সরকার আগামী এক দশকে প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ ৮৫ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানায়। পাশাপাশি ২০৩৫ সালের মধ্যে নেটো সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে জিডিপির ৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় ওটাওয়া। এদিকে নতুন ক্যাটাগরি চালু হলেও বিদ্যমান এক্সপ্রেস এন্ট্রি সিস্টেমের আওতায় ফরাসি ভাষাভাষী প্রার্থী, সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং দক্ষ ট্রেড ওয়ার্কারদের আমন্ত্রণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের একটি স্কুলে বন্দুক হামলা হয়েছে। এতে অন্তত ১০জন নিহত হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, কলাম্বিয়ার টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে স্থানীয় সময় দুপুর দেড়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। সন্দেহভাজন হামলাকারীসহ মোট সাতজনকে স্কুলের ভেতরে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। আরও একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। এছাড়া, পাশের এক বাড়িতে আরও দুজনের মৃতদেহ পাওয়া গেছে। ' পুলিশের ধারণা, পাশের বাড়িতে পাওয়া ওই দুইজন নিহত ব্যক্তি বন্দুক হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। নিহতের সংখ্যা বাড়বে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারছে না পুলিশ। এই ঘটনায় আহত হয়েছে প্রায় ২৫ জন, যারা বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্কুলে হামলার উদ্দেশ্য এখনো অজানা। তবে সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন মহিলা হতে পারেন বলে মনে করছে পুলিশ। রকি পর্বতমালার পাদদেশে অবস্থিত ছোট শহর টাম্বলার রিজ, যা কলাম্বিয়া প্রদেশের সবচেয়ে বড় শহর ভ্যাঙ্কুভার থেকে প্রায় এক হাজার দুইশ কিলোমিটার উত্তরে এবং সেখানে আড়াই হাজারেরও কম মানুষ বসবাস করে। পুলিশ সেখানকার বাসিন্দাদেরকে ঘরের ভেতরে দরজা বন্ধ করে নিরাপদে থাকার জন্য বলেছে। টাম্বলার রিজ মূলত কয়লাখনি এবং ডাইনোসরের জীবাশ্ম আবিষ্কার হওয়ার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত।
কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের টাম্বলার রিজ শহরের একটি বিদ্যালয়ে বন্দুক হামলার ঘটনায় হামলাকারীসহ মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর প্রায় ১টা ২০ মিনিটে টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে এ হামলা ঘটে। রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) জানায়, স্কুল ভবনের ভেতর থেকে সন্দেহভাজন হামলাকারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নিজেই নিজের জীবন নিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান। এছাড়া কমিউনিটির একটি আবাসিক ভবন থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুরো এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং বাসিন্দাদের ঘরের ভেতরে অবস্থান করার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনসংখ্যার ছোট এই শহরে আশপাশের এলাকা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবা পাঠানো হয়েছে। পিস রিভার সাউথ স্কুল ডিস্ট্রিক্ট জানায়, হামলার পর টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুল ও টাম্বলার রিজ এলিমেন্টারি স্কুলে ‘লকডাউন’ এবং ‘সিকিউর অ্যান্ড হোল্ড’ ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। এলাকার আইনপ্রণেতা ল্যারি নিউফেল্ড জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও চিকিৎসা সহায়তা মোতায়েন করা হয়েছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে না। প্রাদেশিক সরকারের তথ্য অনুযায়ী, টাম্বলার রিজ সেকেন্ডারি স্কুলে সপ্তম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১৭৫ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। ঘটনার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং হামলার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা চলার মধ্যেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় কিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই। তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করা মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন, এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ওটাওয়া ও ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ বাণিজ্য আলোচনায় অনিশ্চয়তা বাড়ছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে কার্নি বলেন, “এই পৃথিবীটা বদলে গেছে, ওয়াশিংটন বদলে গেছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় কিছুই স্বাভাবিক অবস্থায় নেই, এটাই বাস্তবতা।” দাভোসে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কেন্দ্রভিত্তিক বৈশ্বিক ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্য বাস্তবতায় দেশগুলোর নতুন করে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে তিনি তার অবস্থানে অটল রয়েছেন। কার্নি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা ত্রিদেশীয় মৈত্রী চুক্তির আওতায় কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ যুক্তরাষ্ট্রে যায়। তবে মার্কিন শুল্কনীতি ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রনির্ভরতা কমিয়ে অন্য বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, দাভোসে যা বলেছি, সেটার অর্থ আমি ঠিকই বুঝিয়েছি।” ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপের পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের মন্তব্য থেকে সরে আসার দাবিও তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। কার্নি আরও বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, কানাডা পুরো পৃথিবীতেই নতুন অংশীদারত্ব গড়ে তুলছে, অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়াচ্ছে এবং ত্রিদেশীয় চুক্তি কাঠামোর মধ্যেই গঠনমূলক সহযোগিতার পথ খোলা রাখছে। তিনি নিশ্চিত করেন, বাণিজ্য চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে। দাভোসে কার্নির বক্তব্যে ট্রাম্প ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানানোর পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পরে বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হলে কানাডার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন তিনি। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্প ত্রিদেশীয় চুক্তির কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews