জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ খোলা রাখা ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’: জাতিসংঘ মহাসচিব

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির অবশিষ্ট সময়জুড়ে হরমুজ প্রণালিকে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা একটি ‘সঠিক পদক্ষেপ’।   জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের অধিকার ও স্বাধীনতার পূর্ণ পুনরুদ্ধার জরুরি এবং তা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের দ্বারা সম্মানিত হওয়া উচিত।   তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চলমান সংলাপকেও এটি আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।   বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি খোলা রাখা হলে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে পারে এবং চলমান উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হতে পারে।   সূত্র: বিবিসি

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস
জাতিসংঘ থেকে ইসরায়েলকে বহিষ্কার করার দাবি তুরস্কের

ফিলিস্তিনিদের ওপর পদ্ধতিগত নিপীড়ন এবং বর্ণবাদী নীতি অনুসরণের অভিযোগে ইসরায়েলকে জাতিসংঘ (UN) থেকে স্থগিত করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকার নুমান কুর্তুলমুস। ইস্তাম্বুলে আয়োজিত ১৫২তম ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (IPU) অ্যাসেম্বলির উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলুর বরাতে জানা গেছে, কুর্তুলমুস তার ভাষণে দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের ইতিহাসের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ১৯৭৪ সালে বর্ণবাদী নীতির কারণে যেভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জাতিসংঘ থেকে স্থগিত করা হয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তিনি বলেন, ইসরায়েল বর্তমানে ফিলিস্তিনিদের জন্য পৃথক আইন এবং বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা চালু রেখেছে, যা স্পষ্টত একটি বর্ণবাদী বা 'অ্যাপার্থাইড' ব্যবস্থার প্রতিফলন। ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলা ও গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় বর্তমান বৈশ্বিক ব্যবস্থার গ্রহণযোগ্যতা চরম সংকটের মুখে পড়বে। কুর্তুলমুস আরও সতর্ক করে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা বিশ্বশান্তির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব, নির্বিচারে আটক এবং অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন-ইরান আলোচনায় নতুন আশার সুর, ‘শিগগিরই শুরু হতে পারে’—গুতেরেস

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্থগিত থাকা আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার ‘প্রবল সম্ভাবনা’ দেখছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিরসনে কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন।   নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে গুতেরেস বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক আইন বারবার লঙ্ঘিত হচ্ছে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে এর প্রভাব বেশি দৃশ্যমান। শক্তি প্রয়োগের নীতিমালা উপেক্ষিত হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   মহাসচিব বলেন, চলমান এই সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত আলোচনা পুনরায় শুরু করা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যমান যুদ্ধবিরতি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।   এ সময় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলমান আলোচনাকেও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে গুতেরেস বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই ধরনের সংলাপ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।   বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের এই মন্তব্য নতুন করে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা জোরদার করছে। যুদ্ধবিরতি টেকসই রাখা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখাই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ৩ কোটির বেশি মানুষ চরম দারিদ্র্যের ঝুঁকিতে: জাতিসংঘ

ইরান–সংঘাতের অর্থনৈতিক অভিঘাতে বিশ্বজুড়ে অন্তত ৩ কোটি ২০ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের অতল গহ্বরে তলিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলো এই সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি তাদের এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির মতে, চলমান এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে ‘ত্রিমুখী ধাক্কা’র মুখে ফেলেছে—যার মধ্যে রয়েছে জ্বালানি সংকট, খাদ্য সংকট এবং মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি।   ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সংকট বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক অগ্রগতিকে উল্টে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে এর প্রভাব হবে আরও গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী।   সংস্থাটির প্রশাসক এবং বেলজিয়ামের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু বলেন, এ ধরনের সংঘাত উন্নয়নকে বহু বছর পেছনে ঠেলে দেয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, এমনকি যদি এখনই যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যায়, তবুও এর নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে বিশ্ব অর্থনীতি ও সমাজে পড়ে গেছে এবং এর প্রভাব দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে।   তেহরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার পর থেকেই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে তেল ও গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।   বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জ্বালানি সংকট শুধু বিদ্যুৎ বা পরিবহন খাতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি সার উৎপাদন, শিল্প উৎপাদন এবং বৈশ্বিক পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, সারের ঘাটতি ও উচ্চমূল্যের কারণে আগামী দিনে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নতুন করে খাদ্য সংকট ডেকে আনতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অনেক দেশ দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মন্দায় পড়তে পারে। ইতোমধ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ঋণ সংকটে থাকা দেশগুলোর জন্য এই পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু যুদ্ধবিরতি এই সংকট সমাধানের জন্য যথেষ্ট নয়; দারিদ্র্য মোকাবিলায় বৈশ্বিক সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। অন্যথায় গত এক দশকে অতি দারিদ্র্য হ্রাসে যে অগ্রগতি হয়েছিল, তা বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস | ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জাতিসংঘের; সংঘাত এড়াতে সংলাপই একমাত্র পথ: গুতেরেস

দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নিরসনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। এক বিবৃতিতে তিনি দুই পক্ষকেই ‘সৎ উদ্দেশ্য’ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়ার এবং কূটনৈতিক এই সুযোগকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন।   জাতিসংঘের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানান, গুতেরেস বিশ্বাস করেন একটি স্থায়ী ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তির দিকে অগ্রসর হওয়ার মাধ্যমে এই অঞ্চলের উত্তেজনা কমানো সম্ভব। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সংঘাত এড়িয়ে পুনরায় যুদ্ধাবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঝুঁকি ঠেকাতে সংলাপই একমাত্র কার্যকর পথ।   জাতিসংঘের মহাসচিবের মতে, আন্তর্জাতিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। তবে এই পুরো প্রক্রিয়াটি অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘ সনদ অনুযায়ী সম্পন্ন করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। এদিকে, কূটনৈতিক এই প্রচেষ্টায় সরাসরি সহায়তা প্রদানের জন্য মহাসচিবের এক ব্যক্তিগত দূত বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থান করছেন বলে জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লেবাননে ইসরায়েলের হামলা ‘নৃশংস’, উদ্বেগ জানালেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

লেবাননে একদিনে ইসরায়েলের চালানো ব্যাপক হামলায় প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞকে ‘নৃশংস’ বলে আখ্যা দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। বুধবার (৮ এপ্রিল) দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন।   বিবৃতিতে তিনি বলেন, লেবাননে ওই দিনের হামলায় অন্তত ২৫৪ জন নিহত হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত ভয়াবহ। তার ভাষায়, এই হত্যাকাণ্ড ও ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা বর্ণনার অতীত।   ভলকার তুর্ক আরও বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এতে ভঙ্গুর শান্তি আরও চাপে পড়েছে, যা বেসামরিক নাগরিকদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।   তিনি জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো সামরিক অভিযানে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের মৌলিক নীতিগুলো মানা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রয়েছে লক্ষ্যবস্তুর পার্থক্য নির্ধারণ, আক্রমণের আনুপাতিকতা এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন।   তিনি সতর্ক করে বলেন, এসব নীতির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের আপসের সুযোগ নেই। যেকোনো পরিস্থিতিতে এবং যেকোনো সশস্ত্র সংঘাতে এগুলো মেনে চলা অপরিহার্য। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতির আগে হরমুজ নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘকে আনতে চেয়েছিলেন ট্রাম্প, চীন-রাশিয়ার ভেটে ব্যর্থ

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উত্থাপিত একটি প্রস্তাব চীন ও রাশিয়ার ভেটোর মুখে পড়ে বাতিল হয়েছে।   মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। তবে স্থায়ী সদস্য চীন ও রাশিয়া ভেটো প্রয়োগ করায় প্রস্তাবটি পাস হয়নি। আলজেরিয়া ও গায়ানা ভোটদানে বিরত ছিল।   প্রস্তাবটি বাহরাইনের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়, যার লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা জোরদার করা। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এ উদ্যোগের পেছনে মার্কিন প্রশাসনের সক্রিয় সমর্থন ছিল।   ভেটোর ব্যাখ্যায় চীন ও রাশিয়া জানায়, প্রস্তাবটি একপেশে এবং ইরানের বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক। জাতিসংঘে চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি ফু কং বলেন, এমন প্রস্তাব বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ভুল বার্তা দিতে পারে এবং সংঘাত আরও বাড়াতে পারে।   অন্যদিকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া প্রস্তাবটিকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ আখ্যা দিয়ে জানান, এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তারের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়া ও চীন যৌথভাবে একটি বিকল্প প্রস্তাব আনতে কাজ করছে, যেখানে সামগ্রিক উত্তেজনা হ্রাসে জোর দেওয়া হবে।   এদিকে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ চীন ও রাশিয়ার ভেটোর তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যত অবরুদ্ধ করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে, আর এই ভেটোর মাধ্যমে মস্কো ও বেইজিং সেই পরিস্থিতিকে সমর্থন দিচ্ছে।   চীন ও রাশিয়ার সমর্থন পাওয়ার লক্ষ্যে প্রস্তাবটি কয়েক দফা সংশোধন করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থান বদলায়নি। সংশোধিত প্রস্তাবে সামরিক শক্তি প্রয়োগের ভাষা শিথিল করে সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।   এদিকে জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি এই ভেটোকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এতে নিরাপত্তা পরিষদকে একটি দেশের স্বার্থে ব্যবহারের ঝুঁকি কমেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা পরিষদে এই বিভাজন মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে আসন্ন শান্তি আলোচনায় ইরানের অবস্থানও আরও শক্তিশালী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া
হরমুজ প্রণালী পুনর্খোলার চেষ্টায় চীন ও রাশিয়ার ভেটো: উত্তপ্ত বিশ্ব রাজনীতি

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে আনা একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নাকচ হয়ে গেছে। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত চীন ও রাশিয়া তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করে বাহরাইন সমর্থিত এই প্রস্তাবটি আটকে দেয়। নিরাপত্তা পরিষদে উত্থাপিত এই খসড়া প্রস্তাবে সদস্য দেশগুলোকে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসকর্ট প্রদানসহ বিভিন্ন প্রতিরক্ষা মূলক পদক্ষেপে সমন্বয় করার জন্য "জোরালো উৎসাহ" দেওয়া হয়েছিল। কূটনৈতিক সূত্রমতে, প্রস্তাবটি ছিল মূল খসড়ার একটি নমনীয় সংস্করণ। উল্লেখ্য যে, মূল খসড়াটিতে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগের বিধান রাখা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে চীন ও রাশিয়ার আপত্তি এড়াতে বাদ দেওয়া হয়। নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১১টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। বিপরীতে চীন ও রাশিয়া বিপক্ষে ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি গৃহীত হতে ব্যর্থ হয়। এছাড়া দুটি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল। প্রস্তাবটি পণ্ড হওয়ার পর মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল ওয়াল্টজ চীন ও রাশিয়ার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, দেশ দুটি এমন একটি শাসনের পক্ষ নিচ্ছে যারা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলকে ভয় দেখিয়ে বশ করতে চায়। অন্যদিকে, রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভাসিলি নেবেনজিয়া যুক্তি দেন যে, এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক আইন ও শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে একটি "বিপজ্জনক নজির" তৈরি করতে পারে। ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ড্যানি ড্যানন বলেন, প্রস্তাবটি পাস না হলেও ১১টি দেশের সমর্থন প্রমাণ করে যে বিশ্ব সম্প্রদায়ের বড় অংশ নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘে চীন-রাশিয়া-ফ্রান্সের ভেটো; ইরান আক্রমণের ছক ভেস্তে গেল!

হরমুজ প্রণালী শক্তি প্রয়োগে উন্মুক্ত করার বিষয়ে আরব দেশগুলোর আনা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনটি স্থায়ী সদস্যের ভেটোতে আটকে গেছে। শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠকে প্রস্তাবটির বিপক্ষে চীন, রাশিয়া এবং ফ্রান্স তাদের ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করলে তা পাস হতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা বড় ধরনের কূটনৈতিক বাধার মুখে পড়ল।   আরব দেশসমূহ এবং বাহরাইনের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এই প্রস্তাবে জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' বা সামরিক শক্তি ব্যবহারের অনুমতি চাওয়া হয়েছিল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে এই প্রধান নৌপথটি বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে এবং তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে। তবে চীন ও রাশিয়া শুরু থেকেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের মতে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়বে।   ভেটো দেওয়া দেশগুলোর দাবি, সামরিক পদক্ষেপের বদলে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই এই সংকট সমাধান করা উচিত; অন্যথায় এর পরিণাম হবে অপূরণীয়। নিরাপত্তা পরিষদের নিয়ম অনুযায়ী, স্থায়ী পাঁচ সদস্যের যে কোনো একটি দেশ ভেটো দিলে অন্য সব সদস্যের সমর্থন থাকলেও প্রস্তাবটি বাতিল হয়ে যায়। এই সিদ্ধান্তে উপসাগরীয় দেশগুলো গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে, কারণ তাদের মতে এই পথটি বন্ধ থাকা মানে বৈশ্বিক বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে আসা।   এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আক্রমণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেওয়ায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা এবং বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন ও রাশিয়ার এই শক্ত অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলমান উত্তেজনা এখন আরও দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল রূপ ধারণ করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে ভোটাভুটি
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিয়ে জাতিসংঘে ভোটাভুটি, বিপক্ষে চীন

হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের সুরক্ষায় বাহরাইনের প্রস্তাবিত একটি খসড়া প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। শনিবার সকালে নিরাপত্তা পরিষদের ১৫টি সদস্য দেশ এই বৈঠকে বসবে বলে শুক্রবার আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা নিশ্চিত করেছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি কার্যত বন্ধ হয়ে রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। রয়টার্সের দেখা খসড়া অনুযায়ী, বাণিজ্যিক জাহাজ রক্ষায় 'প্রয়োজনীয় সকল রক্ষণাত্মক ব্যবস্থা' গ্রহণের অনুমোদন চাওয়া হয়েছে এই প্রস্তাবে। প্রাথমিকভাবে ছয় মাসের জন্য এই ব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে, তবে স্থায়ী সদস্য চীন এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছে। চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এমন কোনো সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে। চীন ছাড়াও রাশিয়া ও ফ্রান্সের আপত্তির মুখে প্রস্তাবের ভাষায় কিছুটা পরিবর্তন এনে চূড়ান্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদে কোনো প্রস্তাব পাস হতে অন্তত নয়টি ভোটের প্রয়োজন এবং স্থায়ী পাঁচ সদস্যের কারো ভেটো থাকা চলবে না। যুক্তরাষ্ট্র ও উপসাগরীয় দেশগুলো এই প্রস্তাবের পক্ষে থাকলেও বেইজিং মনে করে, বলপ্রয়োগের বৈধতা দিলে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। পুরো বিশ্ব এখন শনিবারের এই গুরুত্বপূর্ণ ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের ‘প্রস্তর যুগ’ ঘোষণার পর ইরানে ইসরায়েল-মার্কিন যৌথ হামলা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর আঘাতের মাধ্যমে ‘প্রস্তর যুগে পাঠানোর’ হুমকি দেওয়ার পর দেশটিতে হামলা ব্যাপক জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানের রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের শতাব্দী প্রাচীন একটি চিকিৎসা গবেষণা কেন্দ্র, একটি কৌশলগত সেতু এবং দুটি বৃহত্তম ইস্পাত কারখানাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া ইস্পাহান নগরীর ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির কাছে বড় ধরনের বিস্ফোরণের ভিডিও ফুটেজ পাওয়া গেছে, যা ওই অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।   ইরানের আলবোরজ প্রদেশের কারাজ শহরেও ব্যাপক হামলার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, কারাজের একটি সেতুতে বিমান হামলায় অন্তত ২ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তেহরানের বাসিন্দারা তাদের মাথার ওপর দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যাওয়ার বিকট শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। ইরানের স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোও আলবোরজ ও কারাজ এলাকায় দফায় দফায় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মূলত ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর থেকেই ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।   এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের এই ক্রমবর্ধমান সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা একটি বড় পরিসরের যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছি, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে এবং বিশ্বজুড়ে নাটকীয় প্রভাব ফেলবে।” গুতেরেস সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকলে তেল ও খাদ্যের দাম আকাশচুম্বী হবে, যার ফলে বিশ্বের দরিদ্র ও ঝুঁকিতে থাকা মানুষ চরম সংকটে পড়বে।   জাতিসংঘ মহাসচিব যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো এবং পারমাণবিক স্থাপনাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। পরিস্থিতি এরই মধ্যে মানবিক বিপর্যয় এবং ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতির দিকে মোড় নিয়েছে। বিরোধ শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা এড়াতে যুদ্ধ বন্ধ করার এখনই উপযুক্ত সময়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি কাতারের: জাতিসংঘে চিঠি

পারস্য উপসাগরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের 'অবৈধ কর্মকাণ্ড' ও হামলার কারণে সৃষ্ট ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির জন্য তেহরানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে কাতার। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদে পাঠানো এক চিঠিতে কাতার এই দাবি জানায়। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধ চলাকালীন কাতারের ভূখণ্ডে ইরানের চালানো হামলায় যে পরিমাণ জানমালের ক্ষতি হয়েছে, তার দায় ইরানকে নিতে হবে। চিঠিতে কাতার স্পষ্ট করে বলেছে, "ইসলামিক রিপাবলিক অফ ইরানের এই বেআইনি পদক্ষেপগুলো আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার আওতায় পড়ে। কাতার রাষ্ট্রের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, ইরান তার পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য।" বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশ কাতার এই হামলার কারণে উৎপাদন ও সরবরাহে চরম সংকটের মুখে পড়েছে। কাতার-এনার্জি (QatarEnergy)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানের হামলায় কাতারের এলএনজি (LNG) রপ্তানি ক্ষমতার প্রায় ১৭ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে বার্ষিক রাজস্ব আয়ে প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে দেশটি, যা ইউরোপ ও এশিয়ার জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কা জাগিয়েছে। জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে কাতার আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, ইরানের হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো ছিল সম্পূর্ণ 'বেসামরিক'। এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। দোহা নিরাপত্তা পরিষদকে তাদের দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং এ ধরনের 'গুরুতর লঙ্ঘন' বন্ধে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। উল্লেখ্য, তেহরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাতারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণেই তারা এসব হামলা চালিয়েছে। শুধু কাতার নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব এবং বাহরাইনের মতো দেশগুলোও ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ
লেবাননে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানাল জাতিসংঘ

লেবাননে নিয়োজিত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় কঠোর নিন্দা ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নিরাপত্তা পরিষদ। গত মার্চ মাসের শেষদিকে সংঘটিত এই প্রাণঘাতী হামলায় তিন ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় আরও পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো। নিরাপত্তা পরিষদের বিবৃতিতে নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ব্লু লাইন বরাবর চলমান সংঘাতের মধ্যে শান্তিরক্ষীদের ওপর এই হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এটি আন্তর্জাতিক আইনের চরম অবমাননা। পরিষদ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, শান্তিরক্ষী বাহিনী বা তাদের কোনো স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা করা অপরাধ। সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নিরাপত্তা পরিষদ ইউনিফিলের তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে এই হামলার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে। শান্তিরক্ষীদের চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সব পক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। বিবৃতিতে লেবাননের সার্বভৌমত্ব এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি পুনরায় দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব বাস্তবায়নের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শান্তিরক্ষীদের ওপর সরাসরি আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। অবিলম্বে এসব হামলা বন্ধ না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন: জাতিসংঘ মহাসচিব

লেবাননে কর্তব্যরত অবস্থায় শান্তিরক্ষীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।  দক্ষিণ লেবাননে সোমবার এক ভয়াবহ হামলায় দুই ইন্দোনেশীয় শান্তিরক্ষী প্রাণ হারান এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের "চরম লঙ্ঘন" হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি। জাতিসংঘ প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বার্তায় জানান যে, মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এটি দ্বিতীয় প্রাণঘাতী হামলা। এর আগে রোববার অন্য একটি পৃথক ঘটনায় আরও একজন শান্তিরক্ষী নিহত হয়েছিলেন।  শোকসন্তপ্ত পরিবার ও সহকর্মীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে গুতেরেস দৃঢ়ভাবে বলেন, "শান্তির জন্য কাজ করতে গিয়ে কাউকে যেন প্রাণ দিতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।" এই ন্যাক্কারজনক হামলার সাথে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত
শান্তিরক্ষী নিহতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ ইন্দোনেশিয়া: জাতিসংঘে জরুরি বৈঠকের ডাক

দক্ষিণ লেবাননে শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত তিন ইন্দোনেশীয় সেনার নিহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে ইন্দোনেশিয়া। লেবাননে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউনিফিল) জানিয়েছে, সোমবার বানি হাইয়ানের কাছে একটি শক্তিশালী বিস্ফোরণে দুজন শান্তিরক্ষী নিহত এবং দুজন আহত হন। এর আগে রবিবার গভীর রাতে আদচিত আল-কুসায়রের কাছে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আরও একজন ইন্দোনেশীয় সৈন্য প্রাণ হারান। এই হামলায় অন্য এক শান্তিরক্ষী গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিরক্ষীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধরত পক্ষগুলোকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইন’ মেনে চলার কঠোর বার্তা দিয়েছে জাকার্তা। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রিকো রিকার্ডো সিরাইত এক বিবৃতিতে জানান, শান্তিরক্ষী বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। সংঘাতরত পক্ষগুলোকে অবশ্যই শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা দিতে হবে। হামলাগুলোকে ‘জঘন্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুগিওনো। তিনি ইতিমধ্যে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং দ্রুত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।  সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বার্তায় তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে কোনো প্রকার আপস করা হবে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি
গাজায় ৩৯০ জনেরও বেশি কর্মী নিহত, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি জাতিসংঘের

গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩৯০ জনেরও বেশি সহকর্মী নিহতের ঘটনায় একটি স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছেন জাতিসংঘ ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থার (UNRWA) বিদায়ী প্রধান ফিলিপ লাজারিনি।  জেনেভায় নিজের শেষ কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান। লাজারিনি বলেন, গাজায় চলমান এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে আমাদের কর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি।  অবরুদ্ধ গাজায় জীবন রক্ষাকারী ত্রাণ ও সেবা কার্যক্রমের প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করছে ইউএনআরডব্লিউএ, যা কার্যত সেখানকার অধিকাংশ মানুষের জন্য একমাত্র রাষ্ট্রীয় কাঠামোর বিকল্প।  এই সংস্থাটির কর্মীদের ওপর এ ধরণের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘ কূটনীতিকের পদত্যাগ: ইরানে পারমাণবিক হামলার আশঙ্কার অভিযোগ

জাতিসংঘের এক কূটনীতিক দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়ে ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক হামলার প্রস্তুতির অভিযোগ তুলেছেন। এই অভিযোগ ঘিরে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রোববার (৩০ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পদত্যাগের ঘোষণা দেন মোহাম্মদ সাফা। তিনি জাতিসংঘে প্যাট্রিয়টিক ভিশন অর্গানাইজেশনের (পিভিএ) স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।   পদত্যাগপত্রে সাফা দাবি করেন, জাতিসংঘ ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, “মানবতার বিরুদ্ধে এমন অপরাধের সাক্ষী হয়ে থাকা আমার পক্ষে আর সম্ভব নয়।”   সাফা আরও অভিযোগ করেন, জাতিসংঘের শীর্ষ পর্যায়ে একটি ‘শক্তিশালী লবি’ কাজ করছে, যারা ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে ভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। তার ভাষায়, ভিন্নমত দমন করে একটি নির্দিষ্ট স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।   তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে পরিস্থিতির প্রকৃত ভয়াবহতা স্পষ্ট নয়। তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে একটি ‘মিসইনফরমেশন ক্যাম্পেইন’ চালানো হচ্ছে, যার মাধ্যমে ইরানকে বৈশ্বিক হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।   পশ্চিম এশিয়ায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই এই পদত্যাগের ঘটনা ঘটে। প্রায় এক কোটি মানুষের শহর তেহরানকে উল্লেখ করে সাফা সম্ভাব্য মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেন। তিনি নিজের এই পদক্ষেপকে ‘হুইসেলব্লোয়িং’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “এই তথ্য প্রকাশের জন্যই আমি আমার কূটনৈতিক ক্যারিয়ার ত্যাগ করেছি। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই একটি সম্ভাব্য ‘নিউক্লিয়ার উইন্টার’ ঠেকানোর চেষ্টা এটি।”   ২০১৩ সাল থেকে পিভিএর নির্বাহী পরিচালক এবং ২০১৬ সাল থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাফা জানান, জাতিসংঘের প্রস্তাবিত সংস্কার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তিনি আর দায়িত্বে ফিরবেন না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
লেবাননে মানবিক বিপর্যয়, চরম সংকটে জনজীবন

লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে। জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (UNHCR) তথ্যমতে, দেশটিতে বর্তমানে এক ভয়াবহ 'মানবিক বিপর্যয়' দেখা দিয়েছে। মাত্র কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে লেবাননের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ, অর্থাৎ ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ভিটেমাটি ছেড়ে পালিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের অভিযান জোরদার করার ফলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ ধ্বংস হওয়ায় প্রায় দেড় লাখ মানুষ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফলে সেখানে জরুরি ত্রাণ বা মানবিক সাহায্য পৌঁছানোও অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। UNHCR-এর প্রতিনিধি ক্যারোলিনা লিন্ডহোম বিলিং জানিয়েছেন, বাস্তুচ্যুত হয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়েও মানুষ নিরাপদ বোধ করছেন না। আশ্রয়কেন্দ্রের খুব কাছেই বোমা হামলার ঘটনা ঘটছে, যা সাধারণ মানুষ এবং শিশুদের ওপর চরম মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করছে। বেশিরভাগ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে স্কুলগুলো ব্যবহার করা হলেও সেখানে তিল ধারণের জায়গা নেই।  বিশেষ করে বয়স্ক এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা ক্লাসরুমের মেঝেতে অমানবিক পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন। অনেকের কাছেই এটি দ্বিতীয় বা তৃতীয়বার সপরিবারে পালিয়ে বেড়ানোর ঘটনা। বিলাপ করতে করতে ভুক্তভোগীরা কেবল একটি কথাই বলছেন— তারা আর কিছু নয়, শুধু নিজ ঘরে ফিরে যেতে চান।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইরানের স্কুলে হামলার প্রতিবাদে দক্ষিণ কোরিয়ায় বিক্ষোভ
ইরানে স্কুলে ভয়াবহ হামলা: জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের তীব্র নিন্দা ও বিচারের দাবি

ইরানের মিনাব শহরে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে বর্বরোচিত হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক।  গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শজারেহ তাইয়্যেবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংঘটিত এই ভয়াবহ হামলাকে 'হৃদয়বিদারক ও বিভীষিকাময়' বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি। জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া এক বক্তব্যে তুর্ক বলেন, "এই হামলার ঘটনাটি যে কোনো মানুষের মনে গভীর আতঙ্ক ও ঘৃণার সৃষ্টি করে।" তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, যারা এই হামলার পেছনে দায়ী, তাদের বিরুদ্ধেই এর সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করার দায়ভার বর্তায়। হামলার পর মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুরো বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ভলকার তুর্ক এই তদন্ত প্রক্রিয়া দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার এবং প্রাপ্ত ফলাফল জনসমক্ষে প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নিরপরাধ শিশুদের ওপর চালানো এই নৃশংসতার বিচার নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা এখন সময়ের দাবি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বাংলাদেশের প্রতি অব্যাহত সমর্থন পুনর্ব্যক্ত জাতিসংঘ মহাসচিবের

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান-এর সাথে এক বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি জাতিসংঘের অবিচল সমর্থন ও সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন সংস্থার মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়, যা জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিশ্চিত করেছে।   বৈঠকে মহাসচিব নবগঠিত বাংলাদেশের নতুন সরকারকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় প্রদানে বাংলাদেশের মানবিক নেতৃত্ব ও উদারতার তিনি উচ্চ প্রশংসা করেন।   আলোচনায় বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক তেল সংকটের কারণে উন্নয়নশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে পড়া চ্যালেঞ্জ এবং দরিদ্র দেশগুলোর ওপর এর প্রভাব তুলে ধরেন।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর তরফে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহাসচিবকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। মহাসচিব কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন।   বৈঠক শেষে উভয় পক্ষে নিশ্চিত করেছেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক
বৈশ্বিক বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব, জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এখন আর কেবল একটি অঞ্চলের সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সমগ্র বিশ্বের জন্য এক অভূতপূর্ব ও চরম বিপজ্জনক ঝুঁকি তৈরি করেছে।  জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক এক কড়া বার্তায় জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত "বিপজ্জনক এবং অনিশ্চিত" হয়ে পড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাতের এমন এক বিধ্বংসী ক্ষমতা রয়েছে যা খুব সহজেই বিভিন্ন দেশের সীমান্ত ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। যুদ্ধের প্রায় এক মাস হতে চলল এবং এর মধ্যেই এই অঞ্চলে ২,০০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। শুধু জীবনহানিই নয়, এই যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ভলকার তুর্ক মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে একটি "চরম বিপর্যয়ের" দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে বলে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এই মহাবিপর্যয় ঠেকানোর একমাত্র নিশ্চিত পথ হলো অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধ করা।  তিনি বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোকে তাদের সর্বোচ্চ ক্ষমতা ব্যবহার করে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত নিরসনে এগিয়ে আসার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0