মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিতে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ইরান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি সব জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরই তেলের দাম প্রায় ১৩ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঘোষণার পর ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২.৮৭ ডলার বা প্রায় ১২.৯৫ শতাংশ কমে ৮৬.৫২ ডলারে নেমে আসে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১৩.৫০ ডলার বা ১৪.২৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৮১.১৯ ডলারে। উভয় সূচকই ১০ মার্চের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে পৌঁছেছে। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানান, লেবাননকে ঘিরে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্তে বাজারে তাৎক্ষণিক স্বস্তি ফিরে এসেছে। বিনিয়োগ বিশ্লেষকেরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলে পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হতে পারে। তবে প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল কতটা বাড়ে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়েও অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। একটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, যা চলমান সংঘাতের অবসানে ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান ভবিষ্যতে আর প্রণালি বন্ধ করবে না বলে সম্মত হয়েছে এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি সীমাবদ্ধতার প্রস্তাব দিয়েছে। অন্যদিকে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশাবাদ তৈরি করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে সামরিক অবরোধ এখনো বহাল রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রণালি খুলে দেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপ হলেও ইউরোপীয় বাজারে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে ইউরোপে তেল পৌঁছাতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। তারা আরও সতর্ক করেছেন, পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান না হলে বাজারে অনিশ্চয়তা আবারও ফিরে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা কমায় মঙ্গলবার এশিয়ার প্রাথমিক লেনদেনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমেছে। বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড-এর দাম প্রায় ১ শতাংশ কমে প্রতি ব্যারেল ৯৮ দশমিক ৪০ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯৭ দশমিক ৪০ ডলারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইসলামাবাদে বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পর ইরান আবারও ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে। গত শনিবার পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রায় ২১ ঘণ্টা চলার পর কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। এরপর ইরানের বন্দর অবরোধের ঘোষণা দিলে তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। তবে পরবর্তীতে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বাজারে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাব দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ২০ বছরের শর্তে অনড় রয়েছে। তবু আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে এবং দ্বিতীয় দফা বৈঠকের সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে। এদিকে এশিয়ার শেয়ারবাজারেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। জাপানের নিক্কি ২২৫ সূচক ২ দশমিক ৬ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কেওএসপিআই সূচক ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হলে জ্বালানি বাজারে আরও স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিসচিব ক্রিস রাইট সতর্ক করে বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তেলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকবে এবং তা আরও বাড়তে পারে।
ইরানের বন্দরগুলোতে সম্ভাব্য মার্কিন অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। সপ্তাহের শুরুতেই লেনদেনে এ প্রবণতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ দশমিক ২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও ৭ শতাংশ বেড়ে বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১০২ দশমিক ২৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান–সংকট শুরুর আগে তেলের দাম ছিল প্রায় ৭০ ডলার। সংঘাতের প্রভাবে তা বিভিন্ন সময়ে ১১৯ ডলার ছাড়িয়ে যায়। তবে পাকিস্তানে সম্ভাব্য সমঝোতা বৈঠকের খবরের পর গত শুক্রবার জুন মাসের সরবরাহের জন্য তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ দশমিক ২০ ডলারে নেমেছিল। জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজার আবারও অস্থিরতার দিকে ফিরে গেছে। এমএসটি মার্কির জ্বালানি গবেষণা বিভাগের প্রধান সল কাভোনিক বলেন, যুদ্ধবিরতির আগের উত্তেজনাপূর্ণ অবস্থায় বাজার ফিরে এসেছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরান–সংশ্লিষ্ট দৈনিক প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেলের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে দামের ওপর আরও চাপ তৈরি হবে। এর আগে রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খুব শিগগিরই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধ কার্যকর করা হতে পারে। ইরানের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পরও যুদ্ধবিরতির কোনো স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত তেল ও পেট্রোলের দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে। একই সঙ্গে ইরান–সংকটকে ঘিরে সম্ভাব্য রাজনৈতিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। এদিকে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপের মধ্যে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা পূর্ব–পশ্চিম পাইপলাইনের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের পূর্ণ সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে যেকোনো ধরনের অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে, যার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতি ও মূল্যস্ফীতিতে দীর্ঘমেয়াদি চাপ তৈরি করতে পারে।
ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে টানা আলোচনা হলেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ করে ফিরে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। এই ব্যর্থতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন তিনটি কঠিন বিকল্প দাঁড়িয়ে আছে। প্রথমত, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি আলোচনার পথে থাকা। দ্বিতীয়ত, আবারও সামরিক সংঘাতে জড়ানো—যা ইতোমধ্যেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় চাপ সৃষ্টি করেছে। তৃতীয়ত, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়া। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিজেই জানাবেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে, জেডি ভ্যান্স সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান ও সীমারেখা পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছে, তবে ইরান সেই শর্ত মেনে নেয়নি। মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, তাদের সহজভাবে নতি স্বীকার করা উচিত। তবে অতীত অভিজ্ঞতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়। বারাক ওবামার সময় দুই দেশের মধ্যে বড় একটি চুক্তি করতে দীর্ঘ সময় লেগেছিল, যেখানে ইরানকে সীমিত আকারে পারমাণবিক কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সংকটের কেন্দ্রে রয়েছে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ প্রশ্ন। ইরান বলছে, আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় নিজেদের ভূখণ্ডে এই কার্যক্রম চালানো তাদের অধিকার। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দেয়। সাম্প্রতিক সংঘাত এই অবস্থানকে আরও কঠোর করেছে। এদিকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ২১ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে তার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে। কারণ, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাজার অস্থিরতা এবং মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়তে পারে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতি তাদের অবস্থানকে দুর্বল করেনি, বরং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আরও দৃঢ় করেছে। সব মিলিয়ে, আলোচনার এই পর্যায়ে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানকে শক্ত মনে করছে। তাই আপাতত সমঝোতার সম্ভাবনা খুব একটা দেখা যাচ্ছে না। সূত্র – নিউইয়র্ক টাইমস
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শর্তসাপেক্ষ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে ট্রানজিট ফি আদায়ের পরিকল্পনা করেছে ইরান ও ওমান। আল জাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি জানায়, আঞ্চলিক এক কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইরান এই ফি থেকে প্রাপ্ত অর্থ যুদ্ধ-পরবর্তী পুনর্গঠন কাজে ব্যবহার করতে চায়। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কথা বলার অনুমতি না থাকায় ওই কর্মকর্তা পরিচয় প্রকাশ করেননি। তবে ওমান এই অর্থ কীভাবে ব্যয় করবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান ও ওমান উভয়েরই আঞ্চলিক অধিকার রয়েছে। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নতুন করে ফি আরোপের পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এদিকে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বৈশ্বিক বাজারে কিছুটা ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে এবং শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের দাবি ও বাস্তব চিত্রের মধ্যে অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হলেও, পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য ভিন্ন বাস্তবতা তুলে ধরছে। হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে এই প্রণালি দিয়ে আগের তুলনায় বেশি জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। একই সুরে কথা বলেন পিট হেগসেথ। এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের উদ্যোগের ফলে জাহাজ চলাচল বেড়েছে। এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান এই পথ দিয়ে অতিরিক্ত ২০টি জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। তবে জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম MarineTraffic-এর তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে পরিস্থিতি অনেকটাই ভিন্ন। আজ মাত্র তিনটি জাহাজ ট্র্যাকার চালু রেখে প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে দুটি ছিল সাধারণ মালবাহী জাহাজ এবং অন্যটি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাংকার ‘লুইজা’। আরও কয়েকটি জাহাজ পার হওয়ার চেষ্টা করছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বিশ্লেষণ সংস্থা Kpler জানিয়েছে, গত কয়েক দিনেও জাহাজ চলাচলের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত সীমিত। সোমবার চারটি, রোববার ছয়টি এবং গত এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ ১৩টি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করেছে। অথচ সংঘাত শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৪০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ‘সিগন্যাল জ্যামিং’ বা সংকেত বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে। অনেক জাহাজ নিরাপত্তার কারণে তাদের ট্র্যাকার বন্ধ রাখছে, ফলে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। এমন পরিস্থিতিতে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তব পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও এটিকে ‘কূটনৈতিক সাফল্য’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। তবে কার্যত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকায় বিশ্ব অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ছে।
ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় সামরিক হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের পর বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলা স্থগিতের ঘোষণার পর তেলের দাম ১৩ শতাংশের বেশি কমে যায়। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১৭ ডলার কমে একপর্যায়ে ৯৬ ডলারে নেমে আসে, যা প্রায় ১৫ শতাংশ পতন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। এটি প্রায় ১৩ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৫ দশমিক ২৮ ডলারে দাঁড়ায়। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়ায় বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা কমেছে, যার প্রভাব সরাসরি তেলের দামে পড়েছে। এর আগে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে যায়। বিশ্বের মোট তেল পরিবহনের বড় একটি অংশ এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: আল জাজিরা
বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইরানি তেলের ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার ইঙ্গিত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির অর্থমন্ত্রী Scott Bessent এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Fox Business–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সাগরে থাকা ইরানি তেল বাজারে প্রবাহ বজায় রাখতে বিধিনিষেধ শিথিলের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের নিজস্ব কৌশলগত তেলের মজুত থেকেও বাজারে তেল ছাড়তে পারে, যাতে বৈশ্বিক সরবরাহে কোনো ধরনের ঘাটতি না তৈরি হয়। এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে বেসেন্ট উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অবগতিতেই ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলো গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz অতিক্রম করে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা মিলছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র নমনীয় অবস্থান নিতে পারে।
বিশ্বের জ্বালানি করিডোরখ্যাত হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে মাইন পুঁতছে ইরান, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে ইউরোপের বাজারেও পড়েছে, যেখানে গ্যাসের দাম বেড়েছে প্রায় ছয় শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে এমন আশঙ্কা বাড়ার মধ্যেই এই প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ইরান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে এমন অসমর্থিত খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যজুড়ে গ্যাসের দাম লাফিয়ে বাড়তে শুরু করে। এই প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে ইউরোপ ও এশিয়ায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বুধবার (১১ মার্চ) সকালের লেনদেনে ইউরোপীয় গ্যাসের বেঞ্চমার্ক মূল্য প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ব্রিটিশ পাইকারি গ্যাসের প্রধান চুক্তির মূল্য বেড়েছে প্রায় ৬ শতাংশ। এদিকে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, জলপথের কাছে মাইন স্থাপন করছিল বলে দাবি করে তারা ১৬টি ইরানি জাহাজ ‘নির্মূল’ করেছে। এতে করে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর আগে ইউএস ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টের সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা যায়, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন স্থাপন শুরু করেছে। বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পথগুলোর একটি এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সূত্রগুলো জানিয়েছে, মাইন স্থাপনের কাজ এখনো ব্যাপক আকারে শুরু হয়নি; গত কয়েক দিনে মাত্র কয়েক ডজন মাইন বসানো হয়েছে। তবে একটি সূত্রের মতে, ইরানের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ছোট নৌকা ও মাইন স্থাপনকারী যান এখনো অক্ষত রয়েছে, ফলে চাইলে তারা এই জলপথে কয়েকশ মাইন পেতে রাখতে পারে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি), যারা ইরানের প্রথাগত নৌবাহিনীর পাশাপাশি কার্যত এই প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করছে, তাদের কাছে মাইন স্থাপনকারী যান, বিস্ফোরক বোঝাই নৌকা এবং উপকূলীয় মিসাইল ব্যাটারিসহ শক্তিশালী সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে কোনো মাইন স্থাপন করে থাকে যদিও এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো রিপোর্ট নেই তাহলে সেগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া উচিত।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, প্রয়োজন হলে উপসাগরীয় অঞ্চলে হামলা অব্যাহত রেখে অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে পিছু হটতে বাধ্য করা হবে। যুদ্ধের দশম দিনে এসে ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয়ের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা কামাল খারাজি সোমবার তেহরানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা নেই। তার মতে, এই সংঘাত এখন কেবল ‘অর্থনৈতিক আঘাতের’ মাধ্যমেই শেষ হতে পারে। খারাজি বলেন, যুদ্ধের কারণে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, সেটিই শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে সংঘাত থামাতে বাধ্য করতে পারে। তিনি আরও বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশ এবং অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে সংঘাত দ্রুত বন্ধ করা যায়। খারাজির ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রভাবে বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি ও জ্বালানির ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে এসব অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং তখন অন্য দেশগুলোর হস্তক্ষেপ অনিবার্য হয়ে উঠবে। এদিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ঘটনা ঘটেছে, যার প্রভাব পড়ছে বিশ্ববাজারেও। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়ায় বিশ্ব অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বিগ্ন নন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে গ্যাসের দাম গত ছয় দিনে প্রায় ৭ শতাংশ বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, বর্তমানে তার অগ্রাধিকার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। তিনি মনে করেন, যুদ্ধ শেষ হলে জ্বালানির বাজার দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে। তাই সাময়িক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে চিন্তার প্রয়োজন নেই। তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র–এর লুইজিয়ানা ও টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে জরুরি তেলের বড় মজুত রয়েছে। তবে আপাতত এই মজুত ব্যবহার করার পরিকল্পনা নেই। ট্রাম্পের মতে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরবে। এর আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র–এর মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ২১ দিন আলোচনা চলে, যা ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। পরবর্তীতে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী, যার নাম দেওয়া হয় অপারেশন এপিক ফিউরি। একই সময়ে ইসরায়েল অপারেশন রোরিং লায়ন নামে অভিযান শুরু করে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। সংঘাত শুরুর পর থেকে ইরান পাল্টা হামলা চালাচ্ছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এবং রয়টার্স তথ্য প্রকাশ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews