গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (১৮ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক গণমিছিল কর্মসূচিতে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, গণভোটের রায় মেনে না নিলে ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে যে আন্দোলন গড়ে তুলবে, তা সরকারের জন্য ভালো কোনো বার্তা বয়ে আনবে না। এই কর্মসূচি থেকে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ছাড়াও জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবি তোলা হয়। ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, সরকার চোখ রাঙিয়ে এই আন্দোলন দমন করার চেষ্টা করলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিকেলে বিজয়নগরে সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণমিছিল বের করা হয়। মিছিলটি কাকরাইল হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় প্রদক্ষিণ করে। কর্মসূচিতে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন এবং সরকারের প্রতি জনগণের ম্যান্ডেটকে সম্মান জানানোর আহ্বান জানান।
দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষা এবং নব্য ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে রাজপথে গর্জে ওঠার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল ২০২৬) সকালে রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত জেলা আমির সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জনগণের আকাঙ্ক্ষা ক্ষুণ্ণ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের রায় নিয়ে প্রতারণা করেছে। ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, গত নির্বাচনে ব্যাপক ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে জুলাইয়ের চেতনাকে ভুলুণ্ঠিত করা হয়েছে। সরকারের মন্ত্রী ও সাবেক উপদেষ্টার বক্তব্যেও নির্বাচনের কারচুপির প্রমাণ স্পষ্ট হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জামায়াত আমির বলেন, বিএনপি সরকার সংবিধান সংশোধন করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় দেশ চালাতে চাইছে এবং সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠ রোধ করছে। এই পরিস্থিতিতে জনস্বার্থ রক্ষায় জামায়াতসহ ১১ দলীয় ঐক্য রাজপথে নামতে বাধ্য হচ্ছে। বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে অতীতের চেয়েও ভয়ংকর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের মাধ্যমে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার অভিযোগ তুলে বলেন, সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। গণমাধ্যমের প্রতি সত্য প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "বক্তব্যের আংশিক বা ‘কাটপিস’ প্রচার না করে হয় পুরোটা প্রকাশ করুন, নতুবা কিছুই প্রকাশ করবেন না।" পরিশেষে, সংসদ ও রাজপথে জনগণের এজেন্ডা নিয়ে জামায়াত সরব থাকবে এবং দেশের আর্থিক সম্পদ রক্ষায় জনগণের পাশে থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন ডা. শফিকুর রহমান।
বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১৯৭১ সালের ওই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল, তার নিখুঁত ও পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী একমাত্র আল্লাহ তাআলা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে 'জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধনী) বিল-২০২৬' পাসের আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। শফিকুর রহমান মহান মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তবে তিনি অভিযোগ করেন, যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছিল, স্বাধীনতার পরপরই বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে বহুদলীয় গণতন্ত্র হত্যা করে তা ধূলিসাৎ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরে এসেছে এবং আজকের পার্লামেন্ট সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।” মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বিলের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “বিলে তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিকৃত চিন্তা থেকে আসা একটি বিষয়, যা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও সামান্য পরিবর্তনসহ বজায় রেখেছে। অথচ স্বাধীনতার পর কোনো শাসক কিংবা জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়া—কেউই এমন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত করেননি।” তিনি আরও বলেন, ১৯৭৯ সালে পলিটিক্যাল পার্টিজ রিভাইভাল অ্যাক্টের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের মতো জামায়াতও পুনর্জন্ম লাভ করেছিল। জাতিকে আর বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা যেন একটি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানো সম্মানের জাতি গঠন করতে পারি, সব দলের কাছে এটাই হোক আগামীর অঙ্গীকার।”
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন, বিএনপি সরকার গঠন করেই দেশে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সংসদ গঠিত হয়েছে, তাই দিল্লির প্রেসক্রিপশনে দেশের ভেতরে বিভেদ সৃষ্টি না করে ‘জুলাই সনদের’ ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলুন। সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া সদরের বাঘোপাড়া শহীদ দানেশ উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এক উপ-নির্বাচনী গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বগুড়া-৬ (সদর) আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেলের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতা একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নিজে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলেছিলেন, কিন্তু এখন সেই পাঁচ কোটি ভোটারের ম্যান্ডেট অস্বীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গণভোট আদেশ বাতিল করা জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।” তিনি আরও যোগ করেন, শেখ হাসিনা যেভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরতে চেয়েছিলেন, বিএনপিও সব প্রতিষ্ঠানে নিজেদের খবরদারি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “বিএনপি তাদের নিজেদের দেওয়া ‘৩১ দফা’র সঙ্গেই প্রতারণা করছে। তারা মুখে সংবিধান সংস্কারের কথা বলে ক্ষমতায় এসে এখন গণভোটের রায় মানতে চাইছে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকার চাটুকারদের ভিসি নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা ব্যবস্থা এবং ঋণখেলাপিকে গভর্নর বানিয়ে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করছে। সমাবেশে উপস্থিত নেতারা আসন্ন উপ-নির্বাচনে প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকার আহ্বান জানান এবং ভোটারদের ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিয়ে বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র গড়ার লড়াইয়ে শামিল হওয়ার অনুরোধ করেন। বিকেলে শহরের শহীদ খোকন পার্কেও জামায়াতের আরেকটি বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, দেশের চলমান জ্বালানি তেলের সংকট নিয়ে সরকার জনগণের সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলছে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে ঢাকা জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে জনমনে কোনো স্বস্তি নেই উল্লেখ করে তিনি সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। সরকারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে জামায়াত আমির বলেন, জ্বালানি সংকট নিরসনে বিরোধী দলগুলো সহযোগিতা করতে প্রস্তুত থাকলেও সরকার তা আমলে নিচ্ছে না। তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে আলোচনা এড়িয়ে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে এবং জনগণের ওপর একতরফা সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সরকারের বর্তমান আচরণে ‘ফ্যাসিবাদের সংক্রমণ’ দেখা যাচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এ সময় সংবিধান সংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ‘ইস্পাত কঠিন আন্দোলনের’ হুঁশিয়ারি দেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব না দিলে রাজপথে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে। ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আফজাল হোসেন, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মসিউল আলম, নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম এবং নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আব্দুর জব্বারসহ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
জাতীয় সংসদে গণভোট ও জুলাই সনদ নিয়ে আলোচনার শুরুতে নিজেকে ‘শহীদ পরিবারের সন্তান’ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। সংসদ অধিবেশনে স্পিকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, "মাননীয় স্পিকার, আপনি একজন গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীর বিক্রম। আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান। মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, আমাদের পরিবারের কয়েকজনের রক্ত দিয়ে তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও মানুষের আকাঙ্ক্ষা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। শফিকুর রহমানের ভাষ্যমতে, "বিপুল প্রত্যাশার জায়গায় দাঁড়িয়ে আজ আমাদের বলতে হচ্ছে যে, স্বাধীনতার পূর্ণ আকাঙ্ক্ষা এখনও ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।" রাজনৈতিক মহলে ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও এর আগে বিভিন্ন দলীয় ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তিনি নিজেকে শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন, তবে দেশের সর্বোচ্চ আইনসভা অর্থাৎ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে এবারই প্রথমবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবি উত্থাপন করলেন। উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় রয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদানদের ত্যাগের সঙ্গে নিজেদের পরিবারের সম্পৃক্ততার এই দাবি রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
জাতীয় সংসদে আজ বিরোধী দলের জোরালো আলোচনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মাহবুব সালেহী তার বক্তব্যে ‘জুলাই বিপ্লব’-এর গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারের অবস্থান নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশে ফেরা—সবকিছুর পেছনে মূল ভূমিকা ছিল জুলাই বিপ্লবের। তার ভাষায়, “জুলাই কোনো আবেগ নয়, জুলাই একটি বাস্তবতা, যার ভিত্তিতেই আজকের এই সংসদ গঠিত হয়েছে।” মাহবুব সালেহী দাবি করেন, বর্তমান সংসদ কোনো সাধারণ সংসদ নয়। এখানে এমন সদস্য রয়েছেন যারা ফাঁসির সেল থেকে ফিরে এসে নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কেউ কেউ ‘আয়নাঘর’ থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও একজন নারী সদস্য তার স্বামীর অনুভূতি ধারণ করেই সংসদে এসেছেন—যা এই সংসদের ব্যতিক্রমী চরিত্রকে তুলে ধরে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি দল তাদের মেনিফেস্টোর সপ্তম পাতায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। এমনকি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গত ৫ অক্টোবর গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিয়ে বলেছিলেন, আইনের কোনো বাধা নেই এবং গণভোট পাস হলে সরকার তা বাস্তবায়ন করবে। বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী রংপুরে আবু সাঈদের কবর জিয়ারত শেষে জনগণের কাছে ‘হ্যাঁ’ ভোট চেয়েছিলেন। জুলাই সনদের গণভোটে চতুর্থ প্রশ্নে সব রাজনৈতিক দলের তা মেনে চলার বিষয়ে ৬৯ শতাংশ মানুষ সমর্থন জানায়। কিন্তু এখন সরকার সেই গণরায় অস্বীকার করার পথে হাঁটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার প্রশ্ন, “জনগণের স্পষ্ট রায় থাকার পরও কেন সরকার পিছু হটছে?” এই বক্তব্যের পর সংসদে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও ‘সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫’ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক বাকবিতণ্ডা ও বিতর্ক হয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানালে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশের অনুচ্ছেদ ১০ অনুযায়ী আমি এই নোটিশ উত্থাপন করছি। স্পিকারের পরামর্শ অনুযায়ী যথাযথ বিধি মেনেই এটি আনা হয়েছে।” তবে সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সংসদীয় রীতির দোহাই দিয়ে ৭১ বিধি (জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়) শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করার অনুরোধ জানান। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য প্রদান নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা তীব্র আপত্তি ও শোরগোল শুরু করেন। বিতর্কে অংশ নিয়ে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশে গণভোট হয়েছে, যা জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই সংসদকে জনগণের সেই রায় ও জুলাই সনদকে সম্মান দিতে হবে।” দীর্ঘক্ষণ ধরে চলা এই বিতর্কে ৬৪ ও ৭১ বিধির ব্যাখ্যা নিয়ে উভয় পক্ষ অনড় অবস্থানে থাকে। শেষ পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল জানান, নোটিশটি গৃহীত হয়েছে এবং সংসদীয় বিধি অনুসরণ করে নির্ধারিত সময়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। স্পিকারের এই আশ্বাসের পর সংসদের পরিস্থিতি শান্ত হয়।
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌর জামায়াতে ইসলামীর আমির সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ব্র্যাক কার্যালয়ের সামনে থেকে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জানা গেছে, ২০১৩ সালে রাজনৈতিক সহিংসতা চলাকালে আওয়ামী লীগের দায়ের করা একটি হত্যা মামলা এবং পুলিশের করা আরও দুটি মামলায় তার বিরুদ্ধে আদালতের পরোয়ানা ছিল। তৎকালীন সময়ে বিএনপি ও জামায়াত জোটের কর্মসূচী চলাকালে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। ওই সংঘর্ষে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন কর্মী নিহত হন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতেই সোহেল রানার বিরুদ্ধে এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছিল। পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে আদালতের ওয়ারেন্ট থাকায় তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এদিকে সোহেল রানার গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা বিকেলে শহরে মিছিল বের করে এই গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি তোলেন। উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তারা আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের নেতাকে মুক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং রাজনৈতিক প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে নতুন কোনো মামলায় যেন তাকে না জড়ানো হয় সেই আহ্বান জানিয়েছেন।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে পরিণতি ‘ফ্যাসিবাদীদের মতো’ হতে পারে। সোমবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় নিজ বাসভবনে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের সেই ত্যাগ ও প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে তা কেউ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়-অত্যাচার করেছে, তাদের পরিণতি দেশের মানুষ দেখেছে—সেই বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বা প্রশাসন জনগণের মালিক নয়, বরং তাদের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, যা জনগণ আর দেখতে চায় না। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যক্তিগত বিলাসিতা বা সুবিধা অর্জনের জন্য নয়; বরং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। নিজ দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তারা কোনো প্লট বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করেননি এবং ভবিষ্যতেও তা করবেন না। নির্বাচন নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোট ও ফলাফলের মধ্যে অসামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে এবং কিছু বেসরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি সরকারের প্রতি সতর্কবার্তা দিয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে স্থানীয়দের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় ও সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে ‘ধোঁকাবাজি’ চলতে থাকলে পরিণতি ভালো হবে না। ডা. শফিকুর রহমান সরকারের যাতায়াতের অতিরিক্ত ভাড়া ফেরতের ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, ঢাকা ছেড়ে যাওয়া লাখ লাখ মানুষকে খুঁজে বের করে টাকা ফেরত দেওয়া বাস্তবে খুব কঠিন। নির্বাচনে অনিয়ম থাকলেও দেশের অচল অবস্থা এড়াতে তা মেনে নেওয়া হয়েছে। তবে সরকার যদি সঠিক পথে না আসে, তবে দেশের মানুষ এবং ‘জুলাই যোদ্ধারা’ ক্ষমা করবে না। বিরোধীদলীয় নেতার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বাসভবনের ব্যবহার নিয়ে তিনি জানান, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তিনি সেখানে থাকবেন না। ভবনটি শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয় কাজে ও বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্যবহৃত হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারে থেকে চাঁদাবাজি করার প্রয়োজন নেই এবং জনগণের ওপর জুলুম চলবে না। ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, জনহিতকর পদক্ষেপে জামায়াতে ইসলামী সমর্থন দেবে, কিন্তু জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হলে তা রাজপথে প্রতিহত করা হবে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেছেন যে, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা ও 'জুলাই জাতীয় সনদ' বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে বর্তমান সরকার ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে সাংগঠনিক সফরে কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে 'দ্বিচারিতা' হিসেবে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, সহস্রাধিক প্রাণের বিনিময়ে যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখা হয়েছিল, সরকারের বর্তমান কার্যক্রমে তার প্রতিফলন মিলছে না। মিয়া গোলাম পরওয়ার বিশেষ করে বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, দলটি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও এখন সেই পথ থেকে সরে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই সনদকে চ্যালেঞ্জ না করার প্রতিশ্রুতি থাকলেও পরোক্ষভাবে একটি পক্ষকে দিয়ে আদালতে রিট করিয়ে বিষয়টিকে বিচারাধীন করা হয়েছে, যা সরকারের পরোক্ষ মদদেই হয়েছে। জামায়াত নেতার মতে, জাতীয় নির্বাচনের চেয়েও গণভোটের পক্ষে জনসমর্থন বেশি ছিল এবং পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে এই সনদকে অস্বীকার করা গণতন্ত্রকামী দলের কাজ হতে পারে না। রাজনৈতিক সংকট নিরসনে তিনি সরকারকে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়ে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ এবং প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করাই এখন একমাত্র সমাধান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা এই সংকটের সমাধান পার্লামেন্টে করবেন নাকি জনগণকে আবারও রাজপথের আন্দোলনে ঠেলে দেবেন। বিমানবন্দরে পৌঁছালে জেলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে অভ্যর্থনা জানান।
তিস্তা নদী সংশ্লিষ্ট মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীন এগিয়ে এলে পূর্ণ সমর্থন দেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী—এমনটাই জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে প্রয়োজন হলে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতাও করবে তার দল। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে রাজধানীর ঢাকা-১৫ আসনের আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে দুস্থদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও উপস্থিত ছিলেন। শফিকুর রহমান তিস্তা নদীকে ‘উত্তরাঞ্চলের কান্না’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধান না হওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছে। অতীতে কেন এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি, তা সবার জানা বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি ঝুলে থাকার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ সরকার ‘তিস্তা নদীর সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প’ গ্রহণ করে, যা ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ নামে পরিচিত। ২০১৬ সালে সমীক্ষার মাধ্যমে এই প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন সময়ে চীন ও ভারত আগ্রহ প্রকাশ করেছে। চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো চীনের সহযোগিতায় নির্মিত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করেই সহযোগিতা করে আসছে, যা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের উদাহরণ। ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি চীনের অর্থায়নে হাসপাতাল নির্মাণ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন সুবিধা তৈরির ঘোষণার কথাও উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য, প্রয়াত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র মাসুদ উদ্দিন সাঈদী সংসদে লিখিত বক্তব্য পাঠ করলে স্পিকার তাকে দেখে না পড়ে বক্তব্য দেওয়ার পরামর্শ দেন। একই ধরনের মন্তব্য করা হয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এক সংসদ সদস্যের ক্ষেত্রেও। স্পিকার বলেন, সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় কাগজ দেখে পড়ার পরিবর্তে হাউজের দিকে তাকিয়ে কথা বলা উচিত। তবে এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে—সংসদে কি লিখিত বক্তব্য পড়া নিষিদ্ধ, নাকি তা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। সমালোচকরা বলছেন, অতীতে বহু গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য লিখিতভাবেই সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন শীর্ষ নেতার বক্তব্য লিখিত ছিল, এমনকি রাষ্ট্রপতির ভাষণও লিখিত আকারেই সংসদে পাঠ করা হয়েছে। ফলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে আলাদা করে মন্তব্য করার কারণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ বা সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় অনেক সংসদ সদস্য লিখিত বক্তব্য ব্যবহার করে থাকেন, যাতে ভুল না হয় এবং বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়। তাই লিখিত বক্তব্য পড়াকে কেন্দ্র করে আপত্তি তোলায় সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনা শুরু হয়েছে। এদিকে সরকারি দলের একটি শোক প্রস্তাব উত্থাপনের সময় কয়েকজন প্রয়াত নেতার নাম উচ্চারণে জটিলতা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। এতে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার নিয়ম ও শালীনতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অসহায় ও দুস্থদের জন্য শাড়ি ও থ্রি-পিস বরাদ্দ না পাওয়ায় তীব্র আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়ারেছ। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি এই দাবি করেন। তার অভিযোগ, এই বরাদ্দ শুধুমাত্র সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বঞ্চিত করা হয়েছে। ফেসবুক পোস্টে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল কোনো দলীয় সম্পদ নয়, এটি রাষ্ট্রের একটি মানবিক সহায়তা তহবিল। প্রধানমন্ত্রী সমগ্র বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী—কোনো নির্দিষ্ট দলের নয়। তাই এই তহবিল থেকে সহায়তা প্রদানের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রাজনৈতিক বিভাজন পরিহার করে সব এলাকার দুস্থ মানুষের জন্য সমান বরাদ্দ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। প্রমাণ হিসেবে আব্দুল ওয়ারেছ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একটি বরাদ্দের স্ক্রিনশটও সংযুক্ত করেন। সেখানে দেখা যায়, উত্তরাঞ্চলের ৫টি জেলার বিভিন্ন সংসদীয় আসনে ৭০০ পিস শাড়ি, ১০০ পিস থ্রি-পিস এবং ৫০ পিস হাজী রুমাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জামায়াত নেতার দাবি, তার নির্বাচনি এলাকায় এ ধরনের কোনো সাহায্য না আসায় সাঘাটা-ফুলছড়ি উপজেলার অসহায় মানুষ ঈদ উপহার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো দেশ। প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে বক্তব্য রাখলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) তার এই ভাষণ দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বক্তব্যের শুরুতেই ড. শফিকুর রহমান সংসদকে দেশের সর্বোচ্চ গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা প্রদর্শনের জন্য সংসদই শ্রেষ্ঠ জায়গা। তার বক্তব্যে উঠে আসে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার এবং একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব। ড. শফিকুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের সুষম উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণ। সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে চান এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সরকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের শীর্ষ নেতার এই সংসদীয় উপস্থিতি এবং গঠনমূলক বক্তব্য দেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে বলে তারা মনে করছেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের একটি পদক্ষেপ। তিনি নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যদিও সংসদের স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি এখনো পাননি। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সম্প্রতি তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের কাছে পাঠানো একটি চিঠিতে তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পদায়নের অনুরোধ জানান। চিঠিতে বলা হয়, এ ধরনের পদায়নের মাধ্যমে বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতি সরকারের কাছে উপস্থাপন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব হবে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রচলিত কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। কারণ সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা আলাদা। বিরোধী দলের কোনো জ্যেষ্ঠ নেতাকে সরাসরি সরকারি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব সেই বিভাজনকে অস্পষ্ট করে দিতে পারে। এই বিতর্ক অনেকের কাছে ২০১৪ সালের নির্বাচনের পর গঠিত দশম জাতীয় সংসদের পরিস্থিতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। তখন জাতীয় পার্টি আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দল হলেও দলের কয়েকজন সদস্য একই সঙ্গে মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে একই দলের সদস্যরা সরকার ও বিরোধী উভয় ভূমিকায় ছিলেন যা রাজনৈতিক অস্বাভাবিকতা হিসেবে আলোচিত হয়েছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক অধ্যাপক রিদওয়ানুল হক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করে প্রশ্ন তুলেছেন, বিরোধী দলের নেতা যদি তার উপদেষ্টাকে সরাসরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিয়োগের প্রস্তাব দেন, তবে তা বিরোধী রাজনীতির ভূমিকাকে দুর্বল করতে পারে। বর্তমান বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ডা. শফিকুর রহমান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি পাননি। সংসদীয় বিধি অনুযায়ী, বিরোধী দলের নেতাকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষমতা কেবল সংসদের স্পিকারের হাতে। নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে স্পিকার বিরোধী দলের নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেন এবং পরে তা সরকারি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। যদিও জামায়াতের সংসদীয় দল তাকে তাদের নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেছে বলে জানা গেছে, তবে সেই সিদ্ধান্ত এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে কার্যকর হয়নি। এই বিলম্বের অন্যতম কারণ হলো সংসদের শীর্ষ পদে শূন্যতা। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর থেকে স্পিকারের পদটি শূন্য রয়েছে। একই সময়ে ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু গ্রেপ্তার হওয়ায় তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। ফলে স্পিকার না থাকায় বিরোধী দলের নেতা স্বীকৃতির আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়াও থেমে আছে। ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পর এটিই প্রথমবার কোনো জামায়াত প্রধানের শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন বলে আলোচনা হয়। সেদিন তিনি নিজেকে “বিরোধী দলীয় নেতা” হিসেবে পরিচয় দেন এবং বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় প্রটোকলের অংশ হিসেবেই তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তবে স্পিকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া এই দাবির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম জানিয়েছেন, বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা ইতোমধ্যে বৈঠকে নেতা, উপনেতা ও চিফ হুইপ নির্বাচন করেছেন। তবে স্পিকার না থাকায় আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন ১২ মার্চ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ওই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের পর বিরোধী দলের নেতৃত্ব সম্পর্কিত বিষয়গুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারিত হতে পারে। তাই রাজনৈতিকভাবে ডা. শফিকুর রহমান নিজেকে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে উপস্থাপন করলেও আইনগত স্বীকৃতি পেতে তাকে এখনো সংসদের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।
বিরোধীদলীয় নেতার দপ্তর থেকে গত ২২ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি চিঠি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। চিঠির একটি অনুলিপি গণমাধ্যমের কাছেও এসেছে। চিঠিতে শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, তার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যোগাযোগ তৈরিতে তার অভিজ্ঞতা ও পেশাগত নেটওয়ার্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, এই অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরাম ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এশিয়া, আফ্রিকা, ওশেনিয়া, আমেরিকা এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশের স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতে ভূমিকা রাখতে পেরেছেন মাহমুদুল হাসান। বিরোধীদলীয় নেতা তার এই প্রস্তাবকে ‘নতুন ও ব্যতিক্রমধর্মী উদ্যোগ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি মনে করেন, অধ্যাপক মাহমুদুল হাসানকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব দিলে জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের পররাষ্ট্রনীতিগত ভাবনা সরকারকে উপস্থাপন ও পর্যালোচনা করা সহজ হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য রক্ষাতেও তা সহায়ক হতে পারে। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের পররাষ্ট্রনীতি আরও সমন্বিতভাবে পরিচালনার জন্য এ পদায়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের আগে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ছিল যে পোস্টাল ভোটের অধিকাংশই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে পড়বে, এমনকি কেউ কেউ ধারণা করেছিলেন এই ভোটের হার ৮০ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বাস্তবে সেই ধারণার সঙ্গে মিল নেই এবং ফলাফলে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। শনিবার (৭ মার্চ) নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোটে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, তবে তাদের প্রাপ্ত ভোটের হার ৪৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বিএনপি পেয়েছে ৩০ দশমিক ২৮ শতাংশ ভোট। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৪ দশমিক ৯৬ শতাংশ ভোট এবং বাকি ভোট গেছে অন্যান্য দলের ঝুলিতে। প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের জন্য পোস্টাল ভোটের ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি এবং কারাবন্দীরাও ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ পান। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ২০ হাজার ৯৩ জন নিবন্ধন করেন। এর মধ্যে মোট ভোট পড়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৮৭৪টি, বাতিল হয়েছে ৫৭ হাজার ৮৯৮টি। ভোট পড়ার হার ছিল ৬৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ। ভোটের হিসাবে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৪ লাখ ৮৮ হাজার ১১৪ ভোট, বিএনপি পেয়েছে ৩ লাখ ২২ হাজার ১৪৪ ভোট এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি পেয়েছে ৫২ হাজার ৮৪০ ভোট। এদিকে নির্বাচন কমিশনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পোস্টাল ভোট দুইটি আসনের ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সিরাজগঞ্জ-৪ ও মাদারীপুর-১ আসনে ডাকযোগে দেওয়া ভোটের কারণে ফলাফলে পরিবর্তন আসে এবং দুটি আসনেই জয় পায় জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশ্লেষকদের মতে, পোস্টাল ভোট নিয়ে আগে যে ধারণা ছড়িয়েছিল যে অধিকাংশ ভোটই জামায়াতের পক্ষে পড়বে, চূড়ান্ত ফলাফল সেই ধারণাকে পুরোপুরি সমর্থন করেনি এবং প্রকৃত চিত্র অনেকটাই ভিন্ন দেখা গেছে।
দৈনিক নয়াদিগন্ত–এর কাছে দীর্ঘদিনের বকেয়া সম্মানি পরিশোধের দাবিতে সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক গোলাম মাওলা রনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–এর আমিরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি জানান, প্রায় চার বছর ধরে তিনি পত্রিকাটিতে নিয়মিত উপসম্পাদকীয় লিখেছেন। অন্যান্য পত্রিকার তুলনায় অনেক কম সম্মানিতে—সহানুভূতির জায়গা থেকে—তিনি লেখালেখি চালিয়ে গেছেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও তার প্রাপ্য অর্থ পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত চার বছরে তিনি প্রায় ২০০টি উপসম্পাদকীয় লিখেছেন, যার মোট শব্দসংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ। প্রতিদিন দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করা একজন লেখক হিসেবে এই পরিমাণ শ্রমের যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় তিনি ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেন। গোলাম মাওলা রনি বলেন, “একসময় হয়তো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকট ছিল। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি উন্নত হয়েছে বলে জানা যায়। তারপরও কেন বকেয়া পরিশোধ হচ্ছে না, তা বোধগম্য নয়।” বিষয়টির সমাধানে তিনি জামায়াত আমিরের নৈতিক ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এবং দ্রুত বকেয়া পরিশোধের মাধ্যমে ন্যায্যতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে দৈনিক নয়াদিগন্তের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে অবিলম্বে সামরিক পদক্ষেপ বন্ধ করে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, চলমান উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রোববার (১ মার্চ) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–র মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই আমির। বার্তায় শফিকুর রহমান লেখেন, খামেনির মৃত্যুসংবাদে তিনি গভীরভাবে শোকাহত এবং শোকসন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানিয়েছেন। তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন, যেন ইরানের জনগণ এই কঠিন সময়ে ধৈর্য ও শক্তি অর্জন করতে পারেন। তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে। সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়লে তা কেবল একটি দেশের নয়, সমগ্র অঞ্চলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। পবিত্র রমজান মাসে যেকোনো হামলা বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি করবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শফিকুর রহমান সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি। বিশ্বশান্তি রক্ষায় জাতিসংঘ ও বিশ্বনেতাদের কার্যকর ভূমিকা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews