জনস্বাস্থ্য

ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে নিরাপদ যৌনতা প্রচারে পাঁচ বছরের নতুন উদ্যোগ

যৌনবাহিত সংক্রমণ ও এইচআইভি মোকাবিলায় নতুন করে কার্যক্রম জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটি প্রশাসন। এসটিআই সচেতনতা সপ্তাহ উপলক্ষে শহরের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নিরাপদ যৌনতা প্রচারে তারা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাঁচ বছরের অংশীদারত্ব নবায়ন করেছে। এর আওতায় ২০৩১ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সারা শহরে বিনামূল্যে কনডম ও লুব্রিকেন্ট সরবরাহ করা হবে।   এই উদ্যোগের মাধ্যমে শহরের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কমিউনিটি সংগঠন ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ সহজলভ্য করা হবে। এতে বিভিন্ন ধরনের কনডম অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে ব্যবহারকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বেছে নিতে পারেন।   শহরের স্বাস্থ্য কমিশনার ড. অ্যালিস্টার মার্টিন বলেন, নিউইয়র্কবাসীর জন্য এইচআইভি ও এসটিআই প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি জানান, কিছু ক্ষেত্রে সংক্রমণের হার কমলেও বর্ণ, জাতিগত পরিচয় ও এলাকার ভিত্তিতে বৈষম্য এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক সিফিলিসের হার ১৬ দশমিক ৩ শতাংশ এবং প্রাথমিক ল্যাটেন্ট সিফিলিস ১৯ দশমিক ৬ শতাংশ কমেছে। ক্ল্যামিডিয়ার হার সামগ্রিকভাবে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ কমলেও নারীদের ক্ষেত্রে এই হ্রাস খুবই সীমিত। অন্যদিকে জন্মগত সিফিলিসের হার ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক।   এ ছাড়া উচ্চ দারিদ্র্যপীড়িত এলাকায় বসবাসকারীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়া ও গনোরিয়ার সংক্রমণ হার নিম্ন আয়ের এলাকার তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের মধ্যে সিফিলিসের হার শ্বেতাঙ্গ নারীদের তুলনায় নয়গুণ বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে ক্ল্যামিডিয়ার সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি।   স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বৈষম্যের পেছনে স্বাস্থ্যসেবায় সীমিত প্রবেশাধিকার, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা এবং সচেতনতার অভাব বড় কারণ। তাই বিনামূল্যে নিরাপদ যৌনতার উপকরণ বিতরণ কার্যক্রমকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।   একই সঙ্গে এইচআইভি সংক্রমণের ক্ষেত্রেও উদ্বেগ রয়ে গেছে। টানা কয়েক বছর ধরে নতুন শনাক্তের সংখ্যা বাড়ছে বা স্থিতিশীল রয়েছে, যা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। পাশাপাশি ২০২৪ সালে এমপক্স সংক্রমণও আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা মনে করছেন, কেবল উপকরণ সরবরাহ নয়—সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত পরীক্ষা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক কলঙ্ক দূর করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরীক্ষা ও চিকিৎসা সেবা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কে কুলিং টাওয়ারে প্রাণঘাতী জীবাণু: ৭ মৃত্যুর পর পরীক্ষার নতুন নিয়ম

নিউইয়র্ক শহরে কুলিং টাওয়ার থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী জীবাণুর প্রাদুর্ভাবের পর কঠোর নতুন বিধিমালা জারি করতে যাচ্ছে নগর প্রশাসন। আগামী ৮ মে থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মে শহরের সব কুলিং টাওয়ারে আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   নগর স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, নতুন বিধিমালা অনুযায়ী কুলিং টাওয়ার সচল থাকা সময় বিশেষ করে গরমের মাসগুলোতে প্রতি মাসে অন্তত একবার জীবাণু পরীক্ষা করতে হবে। আগে এই পরীক্ষা ৯০ দিন অন্তর করা হতো। নতুন নিয়মে পরীক্ষাগুলো অবশ্যই দক্ষ পেশাজীবীর তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করতে হবে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে।   এই কঠোর সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে গত গ্রীষ্মে হারলেম এলাকায় ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ জীবাণুজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব। ওই ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয় এবং শতাধিক মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, দূষিত কুলিং টাওয়ার থেকেই এই সংক্রমণ ছড়িয়েছিল, যার মধ্যে একটি হাসপাতালের টাওয়ারও ছিল।   বিশেষজ্ঞরা বলছে, এই জীবাণু বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র পানিকণার মাধ্যমে ছড়ায় এবং তা শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে মারাত্মক নিউমোনিয়ার সৃষ্টি করতে পারে। এটি সরাসরি মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না।   হারলেম ও ব্রঙ্কস এলাকায় এই রোগের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। কারণ হিসেবে সেখানে উঁচু ভবনের ঘনত্ব, দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা এবং স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্যের বিষয়টি উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।   নগর প্রশাসন জানিয়েছে, বর্তমানে শহরে প্রায় ছয় হাজার কুলিং টাওয়ার রয়েছে। এসব টাওয়ারের তদারকি জোরদার করতে অতিরিক্ত পরিদর্শক নিয়োগ এবং পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
হামে আক্রান্ত রোগী (প্রতীকী ছবি) | ছবি: সংগৃহীত
দেশে হামের প্রকোপে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৪ জনের মৃত্যু; আক্রান্ত ১৬৮

দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একই সময়ে সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ১৭৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ২৭ দিনের (১৫ মার্চ থেকে ১০ এপ্রিল) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ২৩ জন এবং হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ১৪৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন।   অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৭ দিনে দেশে মোট ২ হাজার ৪০৯ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৪৯৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮ হাজার ৯১০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ৬০৯ জন। হঠাৎ হামের এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ, ভয়াবহ সংকটে ভারতের কনডম বাজার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে ভারতের জনস্বাস্থ্য খাতে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ভারতে কনডম উৎপাদনে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। ফলে বাজারে পণ্যটির তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি খুচরা মূল্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির এই বিশাল শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য লুব্রিকেন্ট (সিলিকন অয়েল) ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাই এই সংকটের প্রধান কারণ। কনডম উৎপাদনে ল্যাটেক্স স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ইতিমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পিভিসি এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো প্যাকেজিং উপকরণের চড়া দাম ও সরবরাহ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভারতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার একাই বছরে ২২১ কোটি ইউনিট উৎপাদন করে। ম্যানকাইন্ড ফার্মা ও কিউপিড লিমিটেডের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দেশটির সরকার জ্বালানি ও শক্তি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের মতো ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে কনডম শুধু একটি পণ্য নয়, এটি পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত রোগ (STI) প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র। কম মুনাফার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বিশাল বাজার এখন খাদের কিনারায়। দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলে বা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোর ওষুধের দোকানে কনডমের সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মিততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডম সংকট, দাম বাড়তে পারে ৫০%

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারত-এর কনডম বাজারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, কাঁচামালের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে কনডম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্টের ঘাটতির সরাসরি ফল। বিশেষ করে সিলিকন তেল, যা কনডম উৎপাদনে অপরিহার্য, বর্তমানে সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।   ভারতে প্রতিবছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এই খাতে HLL Lifecare Limited, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু HLL Lifecare-ই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।   উৎপাদকদের মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ প্যাকেজিং উপকরণের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   বর্তমানে ভারতের কনডম বাজার মূলত উচ্চ উৎপাদন ও কম মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি সাশ্রয়ী রাখা যায়। তবে চলমান সংকটে এই মডেলটি বড় চাপে পড়েছে। গত মার্চে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে, যা কাঁচামালের সংকট আরও বাড়াবে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের গুরুতর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বড় শহরগুলোতে এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই ও দিল্লি-এর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কনডম সরবরাহে অনিয়মিততা লক্ষ্য করা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: ফাইল ফটো
দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ: ২৪ ঘণ্টায় ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত আরও ৬৮৫

দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় (একদিনে) এই বায়ুবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৬৮৫ জন শিশু। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগজনক তথ্য জানানো হয়েছে।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, নতুন চারজনসহ চলতি বছর এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৪২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে কেবল মার্চ মাসেই মারা গেছে ৩২ জন। সংক্রমণ এখন আর কেবল নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই; ঢাকা ছাড়াও রাজশাহী, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রমণের উচ্চমাত্রার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণের ক্ষমতা (R0) অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এটি খুব দ্রুত এক শিশু থেকে অন্য শিশুর শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া এবং মস্তিষ্কের সংক্রমণের (এনসেফালাইটিস) মতো মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ, শীর্ষে কোন দেশ?

২০২৫ সালের বৈশ্বিক বায়ুমান সূচকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে পাকিস্তান। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা 'আইকিউএয়ার' (IQAir) প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এই তালিকায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে বাংলাদেশ ও তাজিকিস্তান। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে বাতাসে ক্ষতিকারক সূক্ষ্ম কণা পিএম ২.৫ (PM2.5)-এর উপস্থিতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার চেয়ে ১৩ গুণ বেশি রেকর্ড করা হয়েছে। বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে দেশটির লাহোরসহ প্রধান শহরগুলো ঘন কুয়াশা ও ধোঁয়াশার (Smog) কবলে রয়েছে। আইকিউএয়ার জানায়, ২০২৫ সালে বিশ্বের ১৪৩টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়। যার মধ্যে ১৩০টি দেশই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্ধারিত বায়ুমান বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। গত বছর মাত্র ১৩টি দেশ ও অঞ্চল ডব্লিউএইচও-এর মানদণ্ড (প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের কম পিএম ২.৫) বজায় রাখতে পেরেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় কিছুটা উন্নত। তালিকায় দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সবচেয়ে দূষিত দেশের তালিকায় শীর্ষে থাকা চাদ এবার চতুর্থ অবস্থানে নেমে এসেছে। তবে গবেষকদের মতে, এটি দূষণ কমার কারণে নয় বরং তথ্যগত ঘাটতির কারণে হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র তাদের বৈদেশিক দূতাবাসগুলো থেকে বায়ুমান পর্যবেক্ষণ কর্মসূচি বন্ধ করে দেওয়ায় অনেক দেশের প্রকৃত চিত্র পাওয়া সম্ভব হয়নি। শহরভিত্তিক দূষণেও দক্ষিণ এশিয়ার আধিপত্য বজায় রয়েছে। ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ভারতের 'লোনি'। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চীনের 'হোটান'। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্বের শীর্ষ ২৫টি দূষিত শহরের সবগুলোই ভারত, পাকিস্তান এবং চীনে অবস্থিত। জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রতিকূল আবহাওয়াকে দূষণের অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে লাওস, কম্বোডিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলোতে বৃষ্টিপাত ও বায়ুপ্রবাহ বেশি হওয়ায় দূষণের মাত্রা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে, কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে শুরু করে ইউরোপ পর্যন্ত বায়ুদূষণ বাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, পিএম ২.৫ কণা সরাসরি মানুষের ফুসফুস ও রক্তে মিশে দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ক্রমবর্ধমান শিল্পায়ন এবং যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া এই পরিস্থিতির জন্য প্রধানত দায়ী।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0