ড. মুহাম্মদ ইউনূস

ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যচুক্তি; শুল্ক ছাড় ও কঠোর শর্তের আদ্যোপান্ত

সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সাথে স্বাক্ষরিত ‘পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি’ নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় গত ৯ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউস থেকে এই চুক্তির ঘোষণা আসে, যা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য নীতিরই একটি অংশ। ২০১৩ সালের ‘টিকফা’ চুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই নতুন চুক্তির মূল লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যকার ৬.১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা।   চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিক হলো শুল্কায়ন প্রক্রিয়া। এর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশে নামিয়ে আনবে এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে তা শূন্য শতাংশ হবে। তৈরি পোশাক খাতের জন্য বিশেষ মেকানিজম রাখা হয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা বা কৃত্রিম তন্তু ব্যবহারের ভিত্তিতে শূন্য শুল্কে পোশাক রপ্তানির সুযোগ পাবে বাংলাদেশ। বিনিময়ে বাংলাদেশকেও মার্কিন কৃষি ও শিল্পজাত পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক ও অ-শুল্ক বাধা অপসারণের কঠিন শর্ত দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে মার্কিন মানসম্পন্ন মোটরযান, ওষুধ ও যন্ত্রপাতি অতিরিক্ত পরীক্ষা ছাড়াই বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে হবে।   চুক্তিতে কেবল বাণিজ্য নয়, বরং ডিজিটাল অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও শ্রম অধিকারের মতো বিষয়গুলোও যুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সাইবার নিরাপত্তা ও তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মার্কিন কোম্পানির ওপর বৈষম্যমূলক ডিজিটাল কর না বসানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে বিশেষ কিছু দেশ থেকে পারমাণবিক সরঞ্জাম কেনা এবং সংবেদনশীল প্রযুক্তি সুরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতার শর্ত রয়েছে। বাণিজ্যের পাশাপাশি বাংলাদেশ বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা এবং আগামী ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের এলএনজি আমদানির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।   চুক্তিতে শ্রম অধিকার ও পরিবেশ রক্ষায় আইএলও মানদণ্ড অনুসরণ এবং ট্রেড ইউনিয়ন আইন সংশোধনের কঠোর বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তিতে বাংলাদেশের জন্য কিছু সুযোগ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলো বেশ প্রভাবশালী। শর্ত লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় শুল্ক আরোপের ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। আজ প্রকাশ করা হলো এই গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির প্রথম পর্বের অনুবাদ।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামাতে বিশ্বনেতাদের দ্রুত পদক্ষেপ চান ড. মুহাম্মদ ইউনূস

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে বিশ্বনেতাদের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে ইউনূস সেন্টারের মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই আহ্বান জানান।   বিবৃতিতে ড. ইউনূস বলেন, চলমান সংঘাত বিশ্বকে আরও গভীর অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই যুদ্ধে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি বাড়ছে, বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ঘরবাড়ি, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান; উপেক্ষিত হচ্ছে মানুষের মৌলিক চাহিদা।   এই সংকটকে কেবল একটি আঞ্চলিক সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, এটি পুরো মানবজাতির জন্য একটি গুরুতর নৈতিক চ্যালেঞ্জ। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে, যার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হচ্ছে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর।   বিবৃতিতে বৈশ্বিক ঐক্য ও সহমর্মিতার ওপর জোর দিয়ে ড. ইউনূস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সামরিক উত্তেজনার পরিবর্তে কূটনৈতিক সংলাপকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং বহুপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।   তিনি আরও বলেন, “আমাদের যুদ্ধ নয়, শান্তিকে বেছে নিতে হবে; হামলা নয়, সংলাপকে বেছে নিতে হবে; বিভাজন নয়, ঐক্যকে বেছে নিতে হবে।”   উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে শুরু হওয়া সংঘাত ৩৯ দিন ধরে চলার পর বুধবার ভোরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানালেন ড. ইউনূস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ড. ইউনূস ত্রয়োদশ সংসদের স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সদস্যদের অভিনন্দন জানালেন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে নির্বাচিত স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার ও সকল সংসদ সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও সমাজ উন্নয়নকর্মী ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ভেরিফাইড ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি তাদের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।   জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অধিবেশনের সূচনা বক্তব্য শোনার পর প্রফেসর ইউনূস বলেন, ত্রয়োদশ সংসদ দেশের সুশাসন, স্বচ্ছতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদের কার্যকর অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: সংগৃহীত
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক বছরের ভিআইপি মর্যাদা

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে এক বছরের জন্য 'অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি' বা ভিআইপি (Very Important Person) হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সরকারি গেজেটে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশিত হয়। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক) অনুযায়ী তাঁকে এই বিশেষ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পরও তিনি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ)-এর কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী ও ভিআইপি মর্যাদা ভোগ করবেন।   বাংলাদেশে দায়িত্ব পরবর্তী সময়ে প্রধান উপদেষ্টাকে ভিআইপি মর্যাদা দেওয়ার প্রথা নতুন নয়, তবে এবারের সময়সীমা আগের তুলনায় অনেক বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২০০৬ সালের ২৯ অক্টোবর তৎকালীন বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টাকে তিন মাসের জন্য একই ধরনের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল। ড. ইউনূসের ক্ষেত্রে সময়সীমা এক বছর নির্ধারণ করা হয়, যা প্রশাসনিক নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।   রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সচিব মোঃ সাইফুল্লাহ পান্না স্বাক্ষরিত আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। এই আদেশের ফলে ড. ইউনূস দায়িত্ব ছাড়ার পরও দীর্ঘ সময় ধরে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ স্তরের প্রটোকল ও নিরাপত্তা সুবিধা পাবেন। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী আইন, ২০২১-এর আওতায় তাঁর সার্বক্ষণিক সুরক্ষা দায়িত্ব পালন করবে এসএসএফ।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১, ২০২৬ 0
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর করায় ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ ইইউর
শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য ড. ইউনূসকে ধন্যবাদ দিয়েছে ইইউ, নতুন প্রধানমন্ত্রীরও অভিনন্দন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী বিএনপি’র কাছে সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ফের অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা।   ইইউ-এর বার্তায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আমাদের অবিচল অংশীদার, বৃহত্তম রপ্তানি বাজার এবং ২০২৫ সালে এফডিআইয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। আমরা অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সম্পৃক্ততা আরও সম্প্রসারণের অপেক্ষায় রয়েছি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
লাল পাসপোর্ট হস্তান্তর করলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁর কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। দায়িত্বে থাকাকালীনই তিনি পাসপোর্টটি জমা দেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে ক্ষমতায় থাকাকালীন এই পাসপোর্ট হস্তান্তর করা হয়।   সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধান উপদেষ্টার পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ও উপদেষ্টার পদমর্যাদার প্রায় ২০ জন ইতোমধ্যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। তবে এখনো কয়েকজন উপদেষ্টা পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।   স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত সরকারের মেয়াদকাল অনুযায়ী কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয় এবং অতিরিক্ত ছয় মাস পর্যন্ত এর মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। বিদায়ী সরকারের অধিকাংশ উপদেষ্টাই নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট হস্তান্তর করেছেন। যাঁরা এখনো জমা দেননি, মেয়াদ শেষ হলে তাঁদেরও তা জমা দিতে হবে।   পাসপোর্ট হস্তান্তরকারীদের তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ছাড়াও রয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল, শিক্ষা উপদেষ্টা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরারসহ একাধিক উপদেষ্টা ও বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।   উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। প্রায় দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত ১২ ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। নতুন প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে পূর্ণমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সমন্বয়ে মন্ত্রিসভা গঠন সম্পন্ন করেছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
ড. মুহাম্মদ ইউনুস
৫৫৯ দিনের দায়িত্ব শেষে বিদায় ড. ইউনূসের: যমুনা ছেড়ে কোথায় যাচ্ছেন তিনি?

দীর্ঘ ৫৫৯ দিনের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনকাল শেষ করে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন 'যমুনা' ছাড়ছেন বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদটি বিলুপ্ত হয়। এরপরই রাজনৈতিক ও সাধারণ মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে—ড. ইউনূসের পরবর্তী গন্তব্য কোথায়?   বিদায়ি প্রধান উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠ সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ছেড়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত তার নিজস্ব বাসভবনে ফিরে যাবেন। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তিনি যমুনা ছেড়ে সেখানে উঠবেন বলে আশা করা হচ্ছে। গতকাল শপথ অনুষ্ঠান শেষে তিনি কোনো বাড়তি প্রটোকল ছাড়াই সাধারণ নাগরিক হিসেবে যমুনায় ফিরে যান, যা তার সাদামাটা জীবনধারারই প্রতিফলন।   এদিকে সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় বাসভবন হিসেবে ‘যমুনা’ ব্যবহার করতে পারেন। তবে দীর্ঘ সময় পর ভবনটিতে কিছু সংস্কার কাজ প্রয়োজন হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সেখানে উঠতে আরও অন্তত দুই মাস সময় লাগতে পারে। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সংকটময় মুহূর্তে দেশের হাল ধরেছিলেন এই নোবেলজয়ী। সফলভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে তার ঐতিহাসিক দায়িত্বের অবসান ঘটল।   জানা গেছে, রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব শেষে ড. ইউনূস পুনরায় তার আগের পেশা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে মনোনিবেশ করবেন। বিশেষ করে দেশের ১১৬তম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গত ১৭ মার্চ অনুমোদন পাওয়া 'গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়' এর দেখভাল করবেন তিনি। শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের নতুন এই মিশনে নিজেকে যুক্ত করার মাধ্যমেই তার পরবর্তী দিনগুলো কাটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬ 0
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস
এবারের নির্বাচন সরকারের ‘মহাসাফল্য’: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করে সগৌরবে বিদায় নিচ্ছে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের ৬১তম এবং সর্বশেষ বৈঠকে এই দেড় বছরের শাসনকালকে ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে এবারের নির্বাচনকে ‘দেশের ইতিহাসের সেরা নির্বাচন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।   বৈঠক পরবর্তী ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, তখন দেশ ছিল অর্থনৈতিকভাবে ভঙ্গুর এবং প্রশাসনিকভাবে বিপর্যস্ত। ১৮ মাস পর আমরা একটি স্থিতিশীল অর্থনীতি এবং জনগণের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে দায়িত্ব হস্তান্তর করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার মূল্যায়ন হলো, এই সরকার তাঁর লক্ষ্য অর্জনে ৯০ শতাংশ সফল হয়েছে।”   শপথ ও বিদায়ের বিশেষ আয়োজন: আগামী মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই আয়োজনে এক অনন্য ও প্রতীকী বিদায়ের দৃশ্য দেখা যাবে। প্রেস সচিব জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা তাঁদের রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী গাড়িতে করে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। কিন্তু শপথ গ্রহণ শেষে দায়িত্ব হস্তান্তরের পর তাঁরা যখন বাড়ি ফিরবেন, তখন তাঁদের গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না—যা এক ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক রীতির প্রতিফলন।   নির্বাচনের বিশেষত্ব: প্রেস সচিব আরও উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো দীর্ঘ সময় পর মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং পুলিশের হারানো আত্মমর্যাদা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, “এটিই প্রথম নির্বাচন যেখানে গুম ও খুনের শিকার হওয়া পরিবার এবং জুলাই বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী দলগুলো সংসদের বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনের পর দেশের কোথাও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি, যা এক নজিরবিহীন অর্জন।”   আন্তর্জাতিক উপস্থিতি ও আইনি সুরক্ষা: নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতেও থাকছে বড় চমক। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কাতার এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নেওয়া প্রতিটি জনকল্যাণমূলক অধ্যাদেশ ও সংস্কার প্রস্তাব আগামী সংসদ আইনি রূপ দেবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। তবে হাতিয়ার একটি অপ্রীতিকর ঘটনার প্রেক্ষিতে সরকার একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।   ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া ড. ইউনূস সরকারের এই অধ্যায় আগামী মঙ্গলবারের শপথের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হতে যাচ্ছে, যা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় এক অবিনাশী স্মৃতি হিসেবে রয়ে যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
সম্পদ বিবরণী প্রকাশ, প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টা ও সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তি এবং তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়েছে। তাতে দু'হাজার চবিবশ সলের ৩০ জুন এবং দু'হাজার পঁচিশ সালের ৩০ জুনে সম্পদ কত ছিল তা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিবর্গ এবং তাদের স্ত্রী-স্বামীর ৩০ জুন ২০২৪ ও ৩০ জুন ২০২৫ তারিখের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করা হলো। ৩০ জুন, ২০২৪-এ প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের আর্থিক সম্পদের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ১৮ লাখ ৭১ হাজার ৪৩৩ টাকার। নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ২০ লাখ ৯২ হাজার ৫০০ টাকা এবং বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত পরিসম্পদ ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৭৪০ টা মোট সম্পদের পরিমাণ ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকা। একবছর পরে ২০২৫ এর ৩০ জুনে মুহাম্মদ ইউনূসের আর্থিক সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৪ কোটি ৭৬ লাখ ৬৪ হাজার ৪০১ টাকার। নন-ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ ২১ লাখ ৬ হাজার ২৫০ টাকা এবং বাংলাদেশের বাইরে অবস্থিত পরিসম্পদ ৬৪ লাখ ৭৩ হাজার ৪১৪ টাকা। মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা।   সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী/মেয়াদী আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত শেয়ার প্রভৃতি কারণে মোট সম্পদের পরিবৃদ্ধি হয়েছে বলে এতে উল্লেখ করা হয়।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে অপশাসনের অবসান, নতুন পথে এগোবে দেশ: প্রধান উপদেষ্টা

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে দেশে আর অপশাসন ফিরে আসবে না এবং বাংলাদেশ এক নতুন পথে এগোবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, সামনে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন নিয়ে আসবে।   সোমবার সচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক গেট টুগেদার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। পরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য তুলে ধরেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।   প্রেস সচিব জানান, অনুষ্ঠানে সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ প্রায় ৭০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান উপদেষ্টা সীমিত পরিসরে বক্তব্য দেন এবং পরে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন।   আসন্ন নির্বাচন প্রসঙ্গে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অতীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো প্রকৃত অর্থে নির্বাচন ছিল না, বরং ভুয়া নির্বাচন ছিল। তবে এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের আর মাত্র দুই দিন বাকি এবং দেশ প্রায় লক্ষ্যে পৌঁছে গেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এবারের নির্বাচন ও গণভোট দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনবে। তার মতে, এই প্রথমবারের মতো প্রবাসী বাংলাদেশিরা সরাসরি দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন, যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে।   তিনি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে। ভোটারদের সুবিধার্থে একটি অ্যাপ চালু করা হয়েছে এবং প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণে পৃথক নির্বাচনভিত্তিক অ্যাপ ব্যবহৃত হচ্ছে। পাশাপাশি ‘নির্বাচন বন্ধু হটলাইন–৩৩৩’ চালু করা হয়েছে।   এ ছাড়া প্রায় ২৫ হাজার ৭০০টি বডি-ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার এবং সব ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।   প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসছেন, যা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থা ফিরে আসার ইঙ্গিত বহন করে। আগের তিনটি নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বড় কোনো উত্তেজনা সৃষ্টি হয়নি এবং নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।   সচিবদের ধন্যবাদ জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গত ১৮ মাসে প্রশাসনের কাজ অত্যন্ত প্রশংসনীয় ছিল। এ সময়ে প্রায় ১৩০টি অধ্যাদেশ জারি ও বাস্তবায়নে সচিবরা কার্যকর ভূমিকা রেখেছেন।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ সামনে আরও উন্নতির পথে এগিয়ে যাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশে এসে শিল্পকারখানা স্থাপন করবেন এবং তরুণ জনগোষ্ঠী বড় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।   জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তির ফলে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করলে অন্যান্য দেশে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাওয়া যাবে, যা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে বলেও জানান তিনি।   গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নতুনভাবে গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধান উপদেষ্টা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬ 0
ড. মুহাম্মদ ইউনূস
জুলাই বিপ্লবের চেতনা কি সচিবালয়ের গোলকধাঁধায় হারিয়ে গেল? কেন প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হলো ড. ইউনূস সরকার?

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বিদায়লগ্নে এসে এই সরকারের দেড় বছরের শাসনামলে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে জনপ্রশাসনের ভূমিকা। আমলাতন্ত্রের অসহযোগিতা, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব এবং সংস্কারে অনীহার কারণে জনকাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে সরকার চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।   সংশ্লিষ্টদের মতে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হলেও প্রশাসনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে রয়ে গেছে আগের সরকারের সুবিধাভোগী অংশটি। সরকারের পাঁচ উপদেষ্টা এবং একাধিক শীর্ষ আমলার বক্তব্যে উঠে এসেছে এক চরম সমন্বয়হীনতার চিত্র। আমলারা একদিকে উপদেষ্টাদের ঘেরাও করে দাবি আদায়ে চাপ সৃষ্টি করেছেন, অন্যদিকে সচিবালয় অচল করে দিয়ে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছেন।   ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মনে করেন, উপদেষ্টা পরিষদের চেয়ে আমলাতন্ত্র অনেক বেশি ক্ষমতাবান হয়ে ওঠায় সরকার একপ্রকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। সাবেক আমলাদের মতে, শেখ হাসিনার আমলের ‘ফ্যাসিবাদী প্রশাসন’ পুরোপুরি বহাল রেখে ড. ইউনূস যে ‘ম্যাজিক’ দেখাতে চেয়েছিলেন, তা কার্যত বুমেরাং হয়েছে। আলী ইমাম মজুমদারের মতো উপদেষ্টাদের হাত ধরে আগের প্রশাসনের ‘এক্সটেনশন’ বা বর্ধিত অংশই বর্তমানে রাজত্ব করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।   প্রশাসনিক সংস্কার কমিশনের কিছু প্রস্তাবনা যেমন—পরীক্ষার মাধ্যমে পদোন্নতি এবং ক্যাডার বৈষম্য দূর করার সুপারিশ আমলাদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি করে। এর ফলে সরকার ও আমলাতন্ত্র মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়ায়। এছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব চাওয়া এবং দ্বৈত নাগরিকত্বের তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় মুখ থুবড়ে পড়েছে।   সদ্য বিদায়ী তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং বর্তমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান প্রশাসনের ভূমিকায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ফাওজুল কবির খান ক্ষোভের সাথে বলেন, “আমলাতন্ত্র একটি জগদ্দল পাথরের মতো জনগণের বুকে চেপে বসে আছে। এখানে কোনো মানবিক দায়িত্ববোধ নেই, আছে শুধু ফাইল চালাচালি আর সভা-সমিতির আনুষ্ঠানিকতা।”   বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী কর্মকর্তাদের পরিবর্তে সুবিধাবাদীদের প্রাধান্য এবং বিএনপি-জামায়াতপন্থি কর্মকর্তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলও সরকারকে খাদের কিনারায় ঠেলে দিয়েছে। সব মিলিয়ে বিপুল জনসমর্থন থাকা সত্ত্বেও একটি দক্ষ ও জনবান্ধব প্রশাসন গড়তে না পারাটা এই সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
ধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক করেন। ছবি : প্রধান উপদেষ্টার ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত
যে সরকারই আসুক, চীন-বাংলাদেশের মধ্যে কাজ চলমান থাকতে হবে: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে চীন-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব ফোরামের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠক করেছেন। গত বুধবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।   বৈঠকটির প্রতিনিধিদলে চীনের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, বিনিয়োগকারী, বায়োমেডিকেল, অবকাঠামো, ডিজিটাল ও আইন খাতের প্রতিনিধি এবং শিল্পনেতারা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।   বৈঠকে সিচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েস্ট চায়না স্কুল অব মেডিসিনের পরিচালক ও খ্যাতনামা বায়োমেডিকেল বিজ্ঞানী সিন-ইউয়ান ফু অধ্যাপক ইউনূসের দৃষ্টিভঙ্গির প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশের শিক্ষাবিদদের সঙ্গে যৌথভাবে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।   শুক্রবার সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বৈঠকে ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকনোলজি’র পরিচালনা পর্ষদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা অ্যান্ড্রু জিলং ওং এবং ‘ওয়ালভ্যাক্স বায়োটেকের (সিঙ্গাপুর)’ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউচিং ইয়াও বাংলাদেশে তাদের কাজের অভিজ্ঞতা ও আগ্রহের কথা জানান। অন্তত ২২টি দেশে টিকা রপ্তানি করা এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে পিসিভি ও এইচপিভি টিকা উৎপাদনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যুক্তরাজ্য ও ইন্দোনেশিয়ায়তেও তাদের স্থানীয় সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।   প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন সিঙ্গাপুর রোবোটিকস সোসাইটির সহসভাপতি জিনসং ওয়াং, ফোর্ডাল ল ফার্মের ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ইউয়ান ফেং, বেইজিং উতং অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক লি রান, চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও প্রকল্প বিষয়ক সহসভাপতি গাও ঝিপেং, চায়না হুনান কনস্ট্রাকশন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বিনিয়োগ পরিচালক শু তিয়ানঝাও, চায়না সিসিসি ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপের সহসভাপতি হুয়া জিয়ে, পাওয়ার চায়না ওভারসিজ ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপের বৈদেশিক বাজার বিষয়ক মহাব্যবস্থাপক চেন শুজিয়ান, ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মা শিয়াওইউয়ান এবং চীন-বাংলাদেশ অংশীদারত্ব ফোরামের মহাসচিব অ্যালেক্স ওয়াং জেকাই।   চীনা প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের মেধা ও সম্ভাবনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তারা জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটালাইজেশন নিয়ে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।   বৈঠকে অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস মাইক্রোক্রেডিট আন্দোলনের সূত্র ধরে চীনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন।    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, চীনের প্রত্যন্ত গ্রামে গিয়ে তিনি মানুষের জীবনে পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করেছেন। পরে সেই ধারণা অনুসরণ করে চীন নিজস্ব কর্মসূচি চালু করে।   গত বছরের মার্চে চীন সফরের কথা উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ওই সফরে তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।   প্রধান উপদেষ্টা বলেন, প্রেসিডেন্ট আমাকে জানিয়েছেন, আমার বই তিনি পড়েছেন এবং নীতিগুলো অনুসরণ করেছেন, যা আমার জন্য আনন্দের মুহূর্ত ছিল।   শিগগিরই নতুন সরকার দায়িত্ব নিলেও দুই দেশের সহযোগিতা অব্যাহত থাকার ওপর জোর দেন প্রধান উপদেষ্টা।   তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তিনি দায়িত্ব ছাড়বেন, তবে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার কাজ চলমান থাকতে হবে।   স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও ডিজিটাল খাতে সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয় বৈঠকে। অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকার তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, স্বাস্থ্যখাতই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে।   তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসক ও রোগীর সংযোগ, চিকিৎসা ইতিহাসের ডিজিটাল সংরক্ষণ এবং সহজে অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলাই লক্ষ্য। পাশাপাশি, ওষুধ খাতে সামাজিক ব্যবসার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।   অধ্যাপক ইউনূস জানান, অল্প খরচে উৎপাদিত ওষুধ উচ্চমূল্যে বিক্রি হয়, এ অবস্থা বদলাতে মানুষের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া সামাজিক ব্যবসাভিত্তিক ফার্মাসিউটিক্যাল প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চান তারা।   কোভিড-১৯ মহামারির সময় পেটেন্টমুক্ত টিকার পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থানের কথাও স্মরণ করেন প্রধান উপদেষ্টা।   তিনি বলেন, মানুষ মারা যাচ্ছিল, অথচ কেউ কেউ লাভ করছিল, এটা লজ্জাজনক। এ সময় উত্তরাঞ্চলে ‘হেলথ সিটি’ গড়ার ভাবনার কথাও তুলে ধরেন অধ্যাপক ইউনূস।   তিনি বলেন, সেখানে ১ হাজার শয্যার আন্তর্জাতিক হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, গবেষণা কেন্দ্র, টিকা উৎপাদন ও ওষুধ শিল্পসহ স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট সব কার্যক্রম এক জায়গায় গড়ে তোলা হবে। এতে প্রতিবেশী ভারত, নেপাল ও ভুটানের মানুষও উপকৃত হতে পারবেন।   বৈঠক শেষে অধ্যাপক ইউনূস ধারাবাহিক সহযোগিতা ও সমর্থনের জন্য চীনা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
সবার জন্য চাকরির ধারণা ভুল, এটি দাস প্রথার শামিল: প্রধান উপদেষ্টা

সবার জন্য চাকরি নিশ্চিতের ধারণা একটি ভুল জিনিস উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, এটি দাস প্রথার শামিল। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য সরকারকে সহায়তা করতে হবে। আজ (২৮ জানুয়ারি) বুধবার দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো–২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার শুধু একটি সিস্টেম তৈরি করে দেবে এরপর জনগণ নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করবে এটাই তথ্যপ্রযুক্তির প্রকৃত শক্তি।   তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামের উদাহরণ টেনে বলেন, তিন পার্বত্য জেলায় থাকা প্রায় আড়াই হাজার স্কুলের মধ্যে মাত্র ১২টিতে ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। যেসব স্কুলে শিক্ষক সংকট রয়েছে, সেখানে ইন্টারনেটই হতে পারে সবচেয়ে কার্যকর শিক্ষক।   ড. ইউনূস বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার পর যে স্বতঃস্ফূর্ত বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত একটি মহাশক্তিশালী সরকারের পতনের পথ তৈরি করেছিল। তিনি মনে করেন, এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারীদের মধ্যেই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক নেতৃত্বের বীজ নিহিত রয়েছে।   তিনি বলেন, বাংলাদেশ জালিয়াতিতে সেরা হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। প্রযুক্তিতে এগিয়ে যেতে হলে এই জালিয়াতির সংস্কৃতি বন্ধ করতেই হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে নিয়ে মাথা উঁচু করে চলার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে, শুধু সঠিক পথে এগোতে হবে।   সরকারি চাকরির কাঠামো নিয়েও ভিন্নমত প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার পাঁচ বছরের বেশি একই চাকরিতে থাকা উচিত নয়, কারণ এতে চিন্তাধারা স্থবির হয়ে পড়ে এবং সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। একইভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে ১০ বছর পরপর নতুন করে শুরু করা প্রয়োজন।   প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল খাতই মূল চালিকাশক্তি। এই খাত থেকেই সমাজ, অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যান্য সব খাতে পরিবর্তন আসবে। তবে নাগরিক সেবার ডিজিটালাইজেশন এখনও কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ২৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0