নারী

লোকসভায় সরকারের দাবি খণ্ডন করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী সংসদ সদস্যরা
মোদীর বড় ধাক্কা: ভারতের লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নাকচ

ভারতের পার্লামেন্টে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬' শুক্রবার রাতে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়েও আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিলটি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারের প্রস্তাব ছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে—এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বা সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে নয়। বিরোধী ও সরকারি শিবিরের যুক্তি: অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে এবং তারা নানা অজুহাতে ওবিসি ও তফশীলি জাতি-উপজাতির অধিকার হরণ করতে চাইছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের আসন কমার আশঙ্কাকে 'ভিত্তিহীন আখ্যান' বলে উড়িয়ে দেন। রাহুল গান্ধী: বিরোধী দলনেতা এই বিলটিকে 'দেশবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আসলে নারী সংরক্ষণ নয় বরং দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানিমোঝি: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ডিলিমিটেশন হলে উত্তর প্রদেশ ও বিহার লাভবান হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। বর্তমানে ভারতে নির্বাচনী আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ। সরকারের বিলে এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের আপত্তির মুখে এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আপাতত ঝুলেই রইল ভারতের নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবিগুলোতে এমন কিছু প্যাকেট দেখা যাচ্ছে যা একাধিক প্রাপকের কাছে পাঠিয়েছেন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে 'ঘুমের ওষুধের' (স্লিপিং লিকুইড) ডেলিভারি ব্যবসার মালিক বলে দাবি করেছেন।
অনলাইন নেটওয়ার্কে ভয়াবহ যৌন নিপীড়ন: ডমিনিক পেলিকট মামলার অন্তরালে এক অন্ধকার জগত

ফ্রান্সের ডমিনিক পেলিকট মামলাটি বিশ্বজুড়ে যে স্তম্ভিত করা পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছিল, তা ছিল কেবল হিমশৈলের চূড়া মাত্র। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এক ভয়াবহ চিত্র—যেখানে অনলাইন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নারীদের ওপর পরিকল্পিত যৌন সহিংসতা চালানো হচ্ছে। সিএনএন-এর সাংবাদিক সাকিয়া ভান্দোর্ন এবং নিয়াম কেনেডি কয়েক মাস ধরে ছদ্মবেশে এই গোপন নেটওয়ার্কের গভীরে অনুসন্ধান চালিয়েছেন। তাদের তদন্তে দেখা যায়, টেলিগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে পুরুষদের এমন কিছু গোপন গ্রুপ রয়েছে যেখানে তারা নিজেদের স্ত্রী বা সঙ্গীদের মাদক খাইয়ে অজ্ঞান করে ধর্ষণ করার পদ্ধতি আদান-প্রদান করে। শুধু তাই নয়, এই পাশবিক নির্যাতনের ছবি ও ভিডিও তারা একে অপরের সাথে শেয়ার করে।তদন্তকারীরা এই চক্রের সূত্র ধরে পোল্যান্ড পর্যন্ত পৌঁছান এবং সেখানেও একই ধরনের অপরাধের প্রমাণ পান। ডমিনিক পেলিকট একাই নন, বরং বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার পুরুষ এই ‘রেপ একাডেমি’ বা ধর্ষণের পাঠশালার মতো গ্রুপগুলোতে যুক্ত হয়ে নিয়মিত অপরাধ চালিয়ে যাচ্ছে।  এই প্রতিবেদনটি ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং নারীদের সুরক্ষায় বর্তমান বিশ্বের আইনগত দুর্বলতাগুলোকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। নির্যাতিতা নারীদের ভাষ্যমতে, তারা জানতেনই না যে তাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সঙ্গী বা স্বামী তাদের ওপর এমন ভয়াবহ নির্যাতন চালিয়ে ভিডিও ধারণ করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নীরবতা ভেঙে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন ইরানের দুই নারী ফুটবলার

নিজেদের দেশে ফেরার ঝুঁকি এড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয় পাওয়া ইরানের দুই নারী ফুটবলার অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা অস্ট্রেলিয়া সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেছেন, এই দেশটিতে তারা এখন একটি ‘নিরাপদ আবাস’ খুঁজে পেয়েছেন যেখানে তারা নিরাপদে জীবনযাপন ও খেলাধুলা চালিয়ে যেতে পারবেন। ফাতেমেহ পাসান্দাইদেহ এবং আতেফেহ রামেজানিজাদে নামের এই দুই ফুটবলার গত মাসে এএফসি ওমেন্স এশিয়ান কাপ চলাকালীন অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। টুর্নামেন্টের শুরুতে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ইরানে তাদের ‘যুদ্ধকালীন দেশদ্রোহী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যার ফলে দেশে ফিরলে তাদের কঠোর শাস্তির মুখে পড়ার আশঙ্কা ছিল। শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে তারা বলেন, "অস্ট্রেলিয়া সরকার আমাদের যে মানবিক সুরক্ষা ও আশ্রয় দিয়েছে, তার জন্য আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। এই কঠিন সময়ে আমাদের প্রতি যে সহমর্মিতা দেখানো হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহস জুগিয়েছে।" প্রাথমিকভাবে ইরানি দলের আরও কয়েকজন সদস্য রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলেও পরিবারের ওপর চাপ এবং অন্যান্য কারণে পাঁচজন ইরানে ফিরে যান। তবে ফাতেমেহ ও আতেফেহ অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার ব্যাপারে অনড় থাকেন। বর্তমানে তারা অস্ট্রেলিয়ার ক্লাব ‘ব্রিসবেন রোয়ার’-এর সাথে অনুশীলন করছেন। নিজেদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে তারা বর্তমানে সংবাদমাধ্যমের কাছে গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তবে তারা এটি স্পষ্ট করেছেন যে, তাদের স্বপ্ন হলো একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় নিজেদের ক্যারিয়ার পুনরায় গড়ে তোলা। ইরানের বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নারীদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধের প্রেক্ষাপটে এই ফুটবলারদের আশ্রয়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মহলে বেশ গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
উগান্ডার ‘ক্রিকেট দাদিদের’ অদম্য জয়গাথা

উগান্ডার রাজধানী কাম্পালা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে জিনজা জেলার সবুজ ঘাসে ঘেরা এক পল্লী অঞ্চলে দেখা মিলল এক অভাবনীয় দৃশ্যের। হাতে ক্রিকেট ব্যাট, পরনে গোড়ালি সমান লম্বা পোশাক, আর চোখেমুখে অদম্য জেদ—এ যেন বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখানোর এক জীবন্ত উৎসব। ৫০ থেকে শুরু করে ৯০ বছর বয়সী একদল নারী মেতে উঠেছেন ক্রিকেটের উন্মাদনায়, যাদের এখন সবাই একনামে চেনেন ‘ক্রিকেট গ্র্যানিজ’ বা ‘ক্রিকেট দাদি-নানি’ হিসেবে। অধিকাংশের পায়ে জুতো নেই, নেই কোনো আধুনিক স্পোর্টস গিয়ার, কিন্তু তাদের একেকটি শট আর রানের জন্য ক্ষিপ্র দৌড় হার মানাবে যেকোনো তরুণকেও। সমাজ ও বার্ধক্যের চিরাচরিত ধারণা ভেঙে এই নারীরা প্রমাণ করছেন যে, জীবন কেবল বয়ে চলাই নয়, বরং জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে উপভোগ করাই আসল সার্থকতা। ক্রিকেট যখন মহৌষধ শুরুতে ক্রিকেট সম্পর্কে বিন্দুমাত্র ধারণা না থাকলেও, আজ এটিই তাদের বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, মানসিক অবসাদ এবং একাকিত্ব কাটানোর প্রধান হাতিয়ার। ৭২ বছর বয়সী জেনিফার ওয়াইবি নানিয়োঙ্গা, যিনি ২৯ জন নাতি-নাতনির দাদি, তিনি উচ্ছ্বাসের সাথে জানান, নিয়মিত ক্রিকেট খেলার সুবাদে তার দীর্ঘদিনের পায়ের ব্যথা উধাও হয়েছে। গত এক বছরে তাকে একবারও পিঠের ব্যথার জন্য ক্লিনিকের বারান্দায় পা রাখতে হয়নি। শিশুদের জন্য শুরু, দাদিদের হাতে শেষ ২০২৫ সালে কিভুবুকা গ্রামে মাত্র ১০ জন নারীকে নিয়ে এই পথচলা শুরু হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, কোচ অ্যারন কুসাসিরা শুরুতে শিশুদের জন্য এই প্রশিক্ষণ শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিভাবকরা খেলাধুলা সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় শিশুদের মাঠে পাঠাতে রাজি হচ্ছিলেন না। আর তখনই কোচ সিদ্ধান্ত নেন বড়দেরও খেলার মাঠে নামানোর। আজ সেই উদ্যোগ এক বিশাল আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। ২৬ বছর বয়সী কোচ কুসাসিরা বলেন, খেলাচ্ছলে জগিং আর স্ট্রেচিং তাদের শরীরকে সচল রাখছে, যা কোনো জিম বা ওষুধের চেয়েও বেশি কার্যকর। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দেওয়া চ্যালেঞ্জ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্যমতে, অলস জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা অসংক্রামক ব্যাধিতে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য খাতে প্রতি বছর ব্যয় হয় প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। উগান্ডার এই প্রত্যন্ত অঞ্চলের দাদিরা যেন তাদের প্রতিটি বাউন্ডারিতে সেই বিশাল পরিসংখ্যানকেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিচ্ছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় বুধবার ভোররাতে নারীর দিকে তরুণের লাঠি হাতে তেড়ে যাওয়ার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
ঢাবিতে নারী হেনস্তার ঘটনায় চিহ্নিত ২ শিক্ষার্থী: তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি এলাকায় এক তরুণের লাঠি হাতে নারীর দিকে তেড়ে আসার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বুধবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।   ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে এক তরুণ একজন নারীর দিকে তেড়ে যাচ্ছেন। ওই তরুণকে আহমেদ রাকিব বলে তাঁর সহপাঠীরা শনাক্ত করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগ-এর ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।   ভিডিওতে আরও একজন ছাত্রকে দেখা গেছে বলে জানা গেছে। তাঁকে শাহরিয়ার তুষার বলে তাঁর পরিচিতজনেরা জানিয়েছেন। তবে এ দুই শিক্ষার্থীর কারও বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। বুধবার রাতে রাকিবকে ফোন করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তুষারের ফোনে কল করলে তিনি কেটে দেন।   ভিডিওতে দুইজন নারীকে দেখা যায়। তাঁদের মধ্যে একজনের দিকে লাঠি হাতে তেড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে ঘটনার বিচার দাবি করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুরান ঢাকায় সেহরি খেয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা-এ এসেছিলেন এবং সেখানে তাঁদের হেনস্তা করা হয়েছে।   ভুক্তভোগী নারী ভিডিওতে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁদের ‘প্রস্টিটিউট’ বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আমরা নিরাপদ না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেরাই আমাদের মারে।   এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বপন মিয়া জানান, তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন।   সাইফুদ্দীন আহমেদ বলেন, আমরা ভিডিওটি দেখেছি। ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ 0
নারীদের বিরুদ্ধের একের পর এক কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে আফগানিস্তান
আফগানিস্তানে পারিবারিক সহিংসতার ‘বৈধতা’ দিল তালেবান: স্ত্রী-সন্তানকে মারধরে বাধা নেই

আফগানিস্তানের নারীদের ওপর নতুন করে কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তালেবান সরকার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সরকার স্বামীদের তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের ওপর শারীরিকভাবে শাস্তি দেওয়ার অনুমোদন দিয়ে একটি নতুন আইন জারি করেছে, যা কার্যত পারিবারিক সহিংসতাকে ‘বৈধতা’ দেওয়ার শামিল।   তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা স্বাক্ষরিত ৯০ পাতার এই নতুন দণ্ডবিধিটি পশতু ভাষায় ‘দ্য মাহাকুমু জাজাই উসুলনামা’ (আদালতের ফৌজদারি বা দণ্ডবিধি সংক্রান্ত নিয়মাবলী) নামে পরিচিত। এই নথির একটি অনুলিপি পর্যালোচনা করে ইন্ডিপেন্ডেন্ট জানিয়েছে, এটি ইতোমধ্যে আফগানিস্তানের আদালতগুলোতে কার্যকর করার জন্য বিতরণ করা হয়েছে।   নতুন আইনের বিতর্কিত দিকসমূহ:   শাস্তির অনুমোদন: নতুন এই দণ্ডবিধিতে স্বামীদের অধিকার দেওয়া হয়েছে যে, তারা চাইলে তাদের স্ত্রী ও সন্তানদের শারীরিকভাবে শাসন বা শাস্তি দিতে পারবেন। শাস্তির সীমা: আইনের একটি অদ্ভুত শর্তে বলা হয়েছে, মারধরের ফলে যদি ভুক্তভোগীর ‘হাড় ভেঙে যায়’ কিংবা শরীর ‘জখম’হয়, তবেই কেবল স্বামী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি শাস্তির আওতায় আসবেন। অর্থাৎ, হাড় না ভাঙা পর্যন্ত বা বড় কোনো ক্ষত না হওয়া পর্যন্ত শারীরিক নির্যাতনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে না। মানবাধিকার উদ্বেগ: মানবাধিকার কর্মীদের মতে, এই আইনের ফলে আফগান নারীরা ঘরের ভেতরে চরম অনিরাপদ হয়ে পড়বেন। আগে যেখানে ঘরোয়া নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ের কিছুটা সুযোগ ছিল, এই দণ্ডবিধি সেই পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিল।   ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের পর থেকে তালেবান সরকার একের পর এক নারী অধিকারবিরোধী আইন জারি করে আসছে। এর আগে নারীদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং জনসমক্ষে চলাচলের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। নতুন এই ফৌজদারি আইনটি আফগানিস্তানে নারী অধিকারের কফিনে শেষ পেরেক হিসেবে দেখা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান তাদের তথাকথিত কঠোর শাসনব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই ৯০ পাতার দণ্ডবিধি কার্যকর করেছে, যা দেশটিকে মধ্যযুগীয় বর্বরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬ 0
পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়েই আমরা রাজনীতিতে এসেছি

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেছেন, নারীরা জামায়াতের আমির হতে পারবেন না। আমরা একটা ইসলামি দল। আসলে পুরুষই নারীর পরিচালক, এটা মেনে নিয়ে আমরা রাজনীতিতে এসেছি। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি।   এদিন দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দলটির মহিলা শাখার চার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।   বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নূরুন নেসা সিদ্দীকা বলেন, শীর্ষ পদে নারীরা ক্ষমতায় আছে কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে নারীর অধিকার আদায় হচ্ছে কিনা।   জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আরও বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশে দুইজন নারী প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু নারীদের সমস্যার তেমন একটা পরিবর্তন ঘটেনি।   এদিন বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বসে মহিলা জামায়াতের নেত্রীরা। ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে নানা অভিযোগ সিইসির কাছে উপস্থাপন করা হয়।    জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান, সদস্য মারজিয়া বেগম ও ডা. হাবিবা চৌধুরী সুইট বৈঠকে অংশ নেন।   এ সময় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অলিউল্লাহ নোমান উপস্থিত ছিলেন।   বৈঠক শেষে জামায়াতের নারী নেত্রীরা বলেন, ভোটের প্রচারে গিয়ে দলটির নারী সদস্যরা আক্রমণের শিকার হন। নারী কর্মীরা যখন ভোটের প্রচারণায় যাচ্ছেন তখন একদল লোক হুমকি ধামকি দিচ্ছেন। সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন নারীরা। সাইবার সিকিউরিটি আইনে প্রস্তুতি নিয়েছি। এ ধরনের কার্যক্রম এবং দলের শীর্ষ নেতার আইডি হ্যাক করে কুরুচিপূর্ণ ব্যাঙ্গাত্মক মন্তব্য করা হচ্ছে।   যারা এ কাজে জড়িত তাদের খোঁজ নিয়ে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান জামায়াতের এই নারী নেত্রীরা। তারা বলেন, আমরা সুন্দর, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রত্যাশা করছি। এটি জাতিরও প্রত্যাশা। দুটো নির্বাচন একসঙ্গে হচ্ছে। এই নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটা ইতিবাচক নির্বাচন আমাদের প্রত্যাশা।   এ ব্যাপারে সরকার দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।   জামায়াত নেত্রীরা বলেন, এই প্রথম জামাতের মহিলা উইং থেকে আমরা নির্বাচন কমিশন এসেছি। সারা বাংলাদেশে আমাদের মা-বোনদের ওপর যে হামলা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা কথা বলেছি। আমরা ঘরে বসে থাকতে পারিনি। আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি। বাংলাদেশে ফিফটি পার্সেন্ট নারী। আমরা সুষ্ঠু একটা পরিবেশ ভোট দিতে চাই। এই বোনদের প্রতিহত করতে গভীর ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমাদের ৫০ পার্সেন্ট আমরা রিপ্রেজেন্ট করছি। এই অর্গানাইজেশনে আমাদের অধিকার দিচ্ছে, আমাদের সম্মান দিচ্ছে। আমাদের মেয়েদের মধ্যে কাজ হচ্ছে। আমরা লিডারশিপ দিচ্ছি। আমরা ট্রেনিং নিচ্ছি। কিছু মহল এই অ্যাক্টিভিটি পছন্দ করছে না। তাই প্রতিহিংসার কারণে আমাদের ওপর হামলা করছে। আমরা কোনো খারাপ কাজ করছি না। একটা সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ করে দেওয়ার জন্য ইসির কাছে দাবি জানিয়েছি।  

ডেস্ক রিপোর্ট ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬ 0
শফিকুর রহমান | আল–জাজিরার ভিডিও থেকে
জামায়াতের আমির পদে নারী সম্ভব নয়

‘বাংলাদেশ নির্বাচন: জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান’ শিরোনামে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল–জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন।    জামায়াতে ইসলামীর আমির পদে নারী আসা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। কাতারভিত্তিক সম্প্রচারমাধ্যম আল–জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার আল–জাজিরার ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়েছে।   ‘বাংলাদেশ নির্বাচন: জামায়াতে ইসলামীর পুনরুত্থান’ শিরোনামে প্রচারিত সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন আল–জাজিরার সাংবাদিক শ্রীনিবাসন জৈন। সাক্ষাৎকারের ভূমিকায় তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর এবং জাতীয় নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী আবার আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। সাম্প্রতিক জরিপের তথ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনে জামায়াত একটি বড় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।   আল–জাজিরার সাংবাদিক জামায়াত আমিরের কাছে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের ভূমিকা, ইসলামিক আইন চালুর বিষয়ে দলের অবস্থান, নারী, বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয় ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চান।   জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে ইসলামি আইন চালু করা হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদি দেশের মঙ্গলের জন্য এটি অপরিহার্য হয়, তবে সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এটি আমি নই, সংসদই বিষয়টি স্থির করবে।’ তিনি এটাও বলেন যে তাঁরা জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করবেন না।   নারীদের নিয়ে একটি প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির জানান, এবার নির্বাচনে তাঁদের দল থেকে একজন নারীকেও মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। তবে তাঁরা এ জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জামায়াতের প্রধান পদে নারী আসতে পারেন কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘এটি সম্ভব নয়।’ এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ‘আল্লাহ প্রত্যেককে তাঁর নিজস্ব সত্তায় সৃষ্টি করেছেন। একজন পুরুষ কখনো সন্তান ধারণ করতে পারবে না বা শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবে না। আল্লাহ যা সৃষ্টি করেছেন, আমরা তা পরিবর্তন করতে পারি না।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আছে, তাঁরা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। কিছু শারীরিক অসুবিধা আছে, যা আমরা অস্বীকার করতে পারি না। একজন মা যখন সন্তান জন্ম দেন, তিনি কীভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন? এটি সম্ভব নয়।’   জামায়াত ক্ষমতায় এলে দেশে ইসলামি আইন চালু করা হবে কি না, সে প্রশ্নের জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘যদি দেশের মঙ্গলের জন্য এটি অপরিহার্য হয়, তবে সংসদ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। এটি আমি নই, সংসদই বিষয়টি স্থির করবে।’ তিনি এটাও বলেন যে তাঁরা জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু করবেন না।   ইসলামী ছাত্রশিবির আমাদের কোনো অঙ্গসংগঠন নয়; এটি জামায়াতের আইনি কাঠামোর অংশ নয়। মানুষ ভুল করতে পারে, তাকে সংশোধন করতে হবে। যদি তারা এটি পুনরায় করে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে  | শফিকুর রহমান   জামায়াতের উত্থান সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি হতে পারে বলে উদ্বেগ রয়েছে। রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী ছাত্রশিবিরের দুজন নেতা দুটি সংবাদমাধ্যম এবং উদীচী ও ছায়ানটের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে এ বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান জানতে চান সাংবাদিক। জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা এটা সমর্থন করেন না, এর নিন্দা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবির আমাদের কোনো অঙ্গসংগঠন নয়; এটি জামায়াতের আইনি কাঠামোর অংশ নয়। মানুষ ভুল করতে পারে, তাকে সংশোধন করতে হবে। যদি তারা এটি পুনরায় করে, তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’   দেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলায় জামায়াতে ইসলামীর যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দলটির আমির। প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জামায়াতের কেউ কখনো এ ধরনের ভাঙচুর বা হামলায় জড়িত ছিল না। গত ১৫ বছরে যা–ই ঘটেছে, তারা জামায়াতকে দায়ী করেছে, কিন্তু আদালতে কোনো একটি মামলাও প্রমাণিত হয়নি। আগস্টের অভ্যুত্থানের পরের হামলা নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্টটিও আমি প্রত্যাখ্যান করছি। এগুলো সব মিথ্যা অপপ্রচার।’   সাক্ষাৎকারে জামায়াত আমির বলেন, ‘তৎকালীন জামায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কোনো সশস্ত্র বাহিনীর সিদ্ধান্ত নয়। আমাদের নেতারা মনে করেছিলেন ভারতের সাহায্যে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সেটি বাংলাদেশের ওপর ভারতের আরেকটি আধিপত্য তৈরি করবে।’   ১৯৭১ সালে বাঙালির ওপর চালানো নৃশংসতার ঘটনায় জামায়াতের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন দলটির আমির। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘তৎকালীন জামায়াতের সিদ্ধান্ত ছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কোনো সশস্ত্র বাহিনীর সিদ্ধান্ত নয়। আমাদের নেতারা মনে করেছিলেন ভারতের সাহায্যে পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্ন হলে সেটি বাংলাদেশের ওপর ভারতের আরেকটি আধিপত্য তৈরি করবে।’ এ পর্যায়ে আল–জাজিরার সাংবাদিক জামায়াত–সংশ্লিষ্ট আধা সামরিক বাহিনীর হাতে বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রমাণ থাকার কথা উল্লেখ করেন। তার জবাবে শফিকুর রহমান বলেন, ‘সেই বাহিনীগুলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ছিল, কোনো সংগঠনের দ্বারা নয়। যদি কেউ অপরাধ করে থাকে, তবে স্বাধীনতার পর কেন তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডি (সাধারণ ডায়েরি) হয়নি? শেখ মুজিবুর রহমান নিজেও ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীর তালিকা করেছিলেন, যারা সবাই ছিল পাকিস্তানি সেনা; এই ভূখণ্ডের কেউ নয়।’   সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে শিক্ষার্থীরা আমাদের ছাত্রসংগঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, তরুণদের মর্যাদা ও অধিকার আমাদের মাধ্যমেই রক্ষিত হবে  | শফিকুর রহমান   ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে অস্বীকার করলে জামায়াত কী করবে, সে প্রশ্নে দলটির আমির বলেন, ‘আমরা ভারতের সাথে ফলপ্রসূ সংলাপ করব। আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, আমরা প্রতিবেশীদের কোনো অস্বস্তিতে ফেলব না এবং বিনিময়ে তাদের কাছ থেকেও পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস আশা করি।’   তরুণ প্রজন্ম জামায়াতকে গ্রহণ করবে বলে আশাবাদী শফিকুর রহমান। এর পক্ষে যুক্তি দিয়ে তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলোতে শিক্ষার্থীরা আমাদের ছাত্রসংগঠনের পক্ষে রায় দিয়েছে। তারা বিশ্বাস করে, তরুণদের মর্যাদা ও অধিকার আমাদের মাধ্যমেই রক্ষিত হবে।’    

ডেস্ক রিপোর্ট জানুয়ারী ৩০, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0