রাশিয়ায় ইন্টারনেটের ওপর ক্রেমলিনের ক্রমবর্ধমান কড়াকড়ি এবং নতুন আইনি বিধিনিষেধের কারণে চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছেন দেশটির জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সাররা। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রশাসন সম্প্রতি ইন্টারনেটে তথ্য নিয়ন্ত্রণ এবং পশ্চিমা প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর প্রভাব কমাতে যে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে, তার ফলে আয়ের উৎস হারানোর পাশাপাশি আইনি জটিলতায় পড়ার শঙ্কায় আছেন হাজারো কন্টেন্ট ক্রিয়েটর। সিএনএন-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার নতুন এই নীতিমালার আওতায় অনেক বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এবং ভিপিএন (VPN) ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো রাশিয়ায় নিষিদ্ধ ছিল, তবে অনেক ইনফ্লুয়েন্সার ভিপিএন ব্যবহার করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সরকারের নতুন সেন্সরশিপ আইন এখন সেই পথও বন্ধ করে দিচ্ছে। রুশ ইনফ্লুয়েন্সারদের মতে, এই বিধিনিষেধ কেবল তাদের বাকস্বাধীনতাই কেড়ে নিচ্ছে না, বরং তাদের দীর্ঘদিনের গড়ে তোলা ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিচ্ছে। রাশিয়ার নিজস্ব প্ল্যাটফর্ম 'ভিকে' (VK) বা 'টেলিগ্রাম' ব্যবহারের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে চাপ দেওয়া হলেও, সেখানে আন্তর্জাতিক বাজারের মতো বিজ্ঞাপনের সুযোগ বা আয়ের সংস্থান নেই বলে দাবি করছেন তারা। বিশ্লেষকরা বলছেন, পুতিন প্রশাসন মূলত ইন্টারনেটে একটি 'ডিজিটাল দেয়াল' তৈরি করতে চাইছে, যাতে বাইরের বিশ্বের কোনো তথ্য বা প্রভাব রুশ নাগরিকদের কাছে পৌঁছাতে না পারে। এই সেন্সরশিপের ফলে রাশিয়ার তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রের জনমত নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই জটিল বাস্তবতা। দীর্ঘদিন মস্কোতে কর্মরত সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে কীভাবে রাশিয়ার জনগণের যুক্তিবোধ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই প্রক্রিয়া এতটাই গভীরে গিয়েছে যে মানুষ অনেক সময় তথ্যকে মিথ্যা জেনেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়াশিন কারাগারে থাকার সময় এক সহবন্দির কাছ থেকে শুনেছিলেন, ইউক্রেন ‘নাজিতে ভরা’। অথচ সেই বন্দি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই মিথ্যা প্রচার করে। তবুও বিকল্প নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তিনি সেই প্রচারণাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ই পুতিনের প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি—মানুষ জানে তথ্য বিকৃত হতে পারে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় সেটিকেই মেনে নেয়। পুতিনের ভাবমূর্তি গঠনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি। তিনি এমন এক নেতার চিত্র তৈরি করেন, যিনি শক্তিশালী, রহস্যময় এবং জনগণের রক্ষক। এই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ম্যাক্স অটো ভন স্টিয়ারলিটজ-এর আদলে পুতিনকে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় পুতিনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন তিনি সর্বশক্তিমান সিদ্ধান্তদাতা—যিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এমনকি ২০০০ সালের কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ১১৮ নাবিক নিহত হলেও তাঁকে সরাসরি দায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। প্রোপাগান্ডার আরেকটি কৌশল হলো ‘ভালো জার, খারাপ কর্মকর্তা’ তত্ত্ব—রাষ্ট্রে কোনো ব্যর্থতা হলে তা পুতিনের নয়, বরং অধস্তনদের দায় বলে তুলে ধরা হয়। 'এর উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় নেতা আলেক্সান্ডার শেসতুনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি একটি পরিবেশগত প্রকল্পের বিরোধিতা করায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এমনকি ২০১৪ সালে মস্কোর একটি বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশকে টেলিভিশনে প্রায় ফাঁকা দেখানো হয়েছিল। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত মস্কোতেই নেওয়া হয়—ফলে প্রতিবাদের কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করা হয়, যেমন ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উল্লাস। যদিও এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, জীবনমান কমেছে, অনেক এলাকায় মৌলিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। তবুও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এসব বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশল শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রোপাগান্ডা কার্যকর হতে পারে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কীভাবে প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে একটি বিশাল রাষ্ট্রের জনমত নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন—সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে সেই জটিল বাস্তবতা। দীর্ঘদিন মস্কোতে কর্মরত সাংবাদিক মার্ক বেনেটস তাঁর বই ‘দ্য ডিসেন্ট’-এ দেখিয়েছেন, ধারাবাহিক মিথ্যাচার ও তথ্য বিকৃতির মাধ্যমে কীভাবে রাশিয়ার জনগণের যুক্তিবোধ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। এক প্রতিবেদনে দ্য ইকোনমিস্ট জানায়, এই প্রক্রিয়া এতটাই গভীরে গিয়েছে যে মানুষ অনেক সময় তথ্যকে মিথ্যা জেনেও তা বিশ্বাস করতে বাধ্য হচ্ছে। রাশিয়ার বিরোধী রাজনীতিক ইলিয়া ইয়াশিন কারাগারে থাকার সময় এক সহবন্দির কাছ থেকে শুনেছিলেন, ইউক্রেন ‘নাজিতে ভরা’। অথচ সেই বন্দি নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন প্রায়ই মিথ্যা প্রচার করে। তবুও বিকল্প নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে তিনি সেই প্রচারণাকেই সত্য হিসেবে গ্রহণ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ‘দ্বৈত বাস্তবতা’ই পুতিনের প্রোপাগান্ডার মূল শক্তি—মানুষ জানে তথ্য বিকৃত হতে পারে, কিন্তু বিকল্প না থাকায় সেটিকেই মেনে নেয়। পুতিনের ভাবমূর্তি গঠনে শুরু থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন রাজনৈতিক কৌশলবিদ গ্লেব পাভলোভস্কি। তিনি এমন এক নেতার চিত্র তৈরি করেন, যিনি শক্তিশালী, রহস্যময় এবং জনগণের রক্ষক। এই ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে জনপ্রিয় কাল্পনিক চরিত্র ম্যাক্স অটো ভন স্টিয়ারলিটজ-এর আদলে পুতিনকে উপস্থাপন করা হয়। রাষ্ট্রীয় প্রচারণায় পুতিনকে এমনভাবে তুলে ধরা হয় যেন তিনি সর্বশক্তিমান সিদ্ধান্তদাতা—যিনি সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। এমনকি ২০০০ সালের কুরস্ক সাবমেরিন দুর্ঘটনায় ১১৮ নাবিক নিহত হলেও তাঁকে সরাসরি দায়ের সঙ্গে যুক্ত হতে দেওয়া হয়নি। প্রোপাগান্ডার আরেকটি কৌশল হলো ‘ভালো জার, খারাপ কর্মকর্তা’ তত্ত্ব—রাষ্ট্রে কোনো ব্যর্থতা হলে তা পুতিনের নয়, বরং অধস্তনদের দায় বলে তুলে ধরা হয়। এর উদাহরণ হিসেবে স্থানীয় নেতা আলেক্সান্ডার শেসতুনের ঘটনা উল্লেখ করা হয়, যিনি একটি পরিবেশগত প্রকল্পের বিরোধিতা করায় দীর্ঘ কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম পুরোপুরি প্রচারণার যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে বিভিন্ন অবাস্তব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়। এমনকি ২০১৪ সালে মস্কোর একটি বড় যুদ্ধবিরোধী সমাবেশকে টেলিভিশনে প্রায় ফাঁকা দেখানো হয়েছিল। এই প্রচারণার উদ্দেশ্য শুধু বিভ্রান্তি সৃষ্টি নয়, বরং জনগণের মধ্যে অসহায়ত্বের অনুভূতি তৈরি করা। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ মনে করে, তাদের জীবনের সিদ্ধান্ত মস্কোতেই নেওয়া হয়—ফলে প্রতিবাদের কোনো অর্থ নেই। একই সঙ্গে জাতীয়তাবাদকে উসকে দিয়ে জনগণের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করা হয়, যেমন ক্রিমিয়া দখল নিয়ে উল্লাস। যদিও এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সরাসরি কোনো সম্পর্ক নেই। তবে এই প্রোপাগান্ডার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট। অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে, জীবনমান কমেছে, অনেক এলাকায় মৌলিক সুবিধার অভাব রয়ে গেছে। তবুও রাষ্ট্রীয় প্রচারণা এসব বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুতিনের এই কৌশল শুধু রাশিয়াতেই সীমাবদ্ধ নয়; উপযুক্ত পরিবেশ পেলে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের প্রোপাগান্ডা কার্যকর হতে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইস্টার উপলক্ষে প্রস্তাবিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়া। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর দেওয়া এ প্রস্তাবকে ‘অস্পষ্ট’ বলে মন্তব্য করেছে ক্রেমলিন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রস্তাবে স্থায়ী শান্তির জন্য প্রয়োজনীয় কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই। বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধ করার প্রয়োজন ইউক্রেনেরই বেশি বলে দাবি করেন তিনি। এর আগে সোমবার অর্থোডক্স ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আসন্ন ১২ এপ্রিলের ইস্টার উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান জেলেনস্কি। তিনি এই উদ্যোগকে ‘আপসের একটি পদক্ষেপ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি। তবে রাশিয়ার মতে, এমন প্রস্তাব বাস্তবসম্মত নয়। পেসকভ দাবি করেন, রুশ বাহিনী বর্তমানে বিভিন্ন ফ্রন্টে অগ্রসর হচ্ছে কোথাও দ্রুত, কোথাও ধীরগতিতে। এ অবস্থায় ইউক্রেনের নেতৃত্বকে সময়মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষায়, দেরি হলে সেই সিদ্ধান্তের মূল্য আরও বেড়ে যাবে। রাশিয়ার এই অবস্থান ইঙ্গিত দেয় যে, তারা বর্তমান সামরিক সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে ইউক্রেনের ওপর চাপ ধরে রাখতে চায়। গত বছর রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একতরফাভাবে ইস্টার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও, উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে। তখন জেলেনস্কি ওই বিরতি ৩০ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৩০ দিনে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও তা গ্রহণ করেননি পুতিন। এবার জেলেনস্কি জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা বন্ধ রাখারও প্রস্তাব দিয়েছেন, যাতে বৈশ্বিক তেল-গ্যাস বাজারে চাপ কমানো যায়। তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি পেসকভ। তিনি শুধু জানান, রাশিয়া তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো রক্ষায় কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে বাল্টিক সাগর অঞ্চলের উস্ত-লুগা ও প্রিমোরস্ক বন্দরে ধারাবাহিক আঘাত হানা হয়েছে। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি আয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে কিয়েভ। এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন করে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। ফলে আন্তর্জাতিক মহল এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরান ও রাশিয়ার সামরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন আলোচনা সামনে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন, মস্কো তেহরানকে কিছুটা সহায়তা দিচ্ছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই সহায়তা সরাসরি যুদ্ধ অংশগ্রহণ নয়; বরং গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাশিয়া উন্নত স্যাটেলাইট তথ্যের মাধ্যমে ইরানকে মার্কিন নৌ ও বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণে সহায়তা করছে। এ কাজে রাশিয়ার “লিয়ানা” নামে পরিচিত একটি গোয়েন্দা স্যাটেলাইট ব্যবস্থার ব্যবহার হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার সহায়তায় উৎক্ষেপিত ইরানের “খৈয়াম” স্যাটেলাইটও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই স্যাটেলাইট উচ্চমানের ছবি সরবরাহ করতে পারে, যা দুই দেশের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানকে আরও কার্যকর করে তুলছে। অন্যদিকে, পেন্টাগন মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার খবর অস্বীকার করেছে। তবে বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, রাশিয়ার দেওয়া এই গোয়েন্দা সহায়তা সংঘাতের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারে। রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা একমুখী নয়। ২০২২ সাল থেকে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও গোলাবারুদ সরবরাহ করে আসছে। এখন সেই প্রযুক্তির উন্নত সংস্করণ আবার ইরানের কাছেই ফিরে আসছে। উদাহরণ হিসেবে, সাম্প্রতিক এক হামলায় ব্যবহৃত ইরানি ড্রোনে রাশিয়ার তৈরি এমন একটি নেভিগেশন প্রযুক্তি পাওয়া গেছে, যা ইলেকট্রনিক বাধা বা জ্যামিং এড়াতে সক্ষম। ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত কৌশলের মতোই এই প্রযুক্তি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত করতে সাহায্য করছে। তবে কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা থাকলেও রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি নেই। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই কারণে মস্কো সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা কম।
ইরানের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, একনিষ্ঠ বন্ধু ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে মস্কো তেহরানের পাশে রয়েছে। শনিবার ইরানের নওরোজ বা ফারসি নববর্ষ উপলক্ষে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় এই মন্তব্য করেন তিনি বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন। বার্তায় পুতিন ইরানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি তারা সম্মানের সঙ্গে অতিক্রম করবে বলে তিনি আশা করেন। ক্রেমলিনের ভাষ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যকে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও চাপ সৃষ্টি করেছে। এ সময় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি-এর হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে পুতিন এটিকে ‘নৃশংস’ বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি শর্ত দিয়েছিল রাশিয়া। তবে এ প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ক্রেমলিন। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বৃদ্ধিতে রাশিয়া অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। যদিও রাশিয়া স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে—সে অবস্থানেই রয়েছে মস্কো। উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব থাকলেও এতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত কোনো ধারা নেই।
ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি রাশিয়ায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যে খবর ছড়িয়েছে, তা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেছে তেহরান। মস্কোয় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত কাজেম জালালি এই প্রতিবেদনকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাস (TASS) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছিল যে, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি একটি মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন। ওই একই হামলায় তার বাবা নিহত হয়েছিলেন বলেও সেই অসমর্থিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। আরও দাবি করা হয় যে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ব্যক্তিগত আমন্ত্রণে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিশেষ ব্যবস্থায় মস্কো নেওয়া হয়েছে। তবে এই স্পর্শকাতর বিষয়ে ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানি রাষ্ট্রদূত জালালি এই পুরো বিষয়টিকে গুজব হিসেবে আখ্যা দিয়ে সত্যতা নাকচ করেছেন।
চলমান সংঘাতের মধ্যে রাশিয়া প্রথম দেশ হিসেবে মানবিক সহায়তা পাঠিয়ে ইরানের পাশে দাঁড়িয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নির্দেশে প্রায় ১৩ টন ওষুধ ও জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী একটি বিশেষ বিমান ইতিমধ্যে ইরানে পৌঁছেছে। রাশিয়ার এই পদক্ষেপ মূলত ইরানের হাসপাতালে গড়ে ওঠা সংকট মোকাবিলায় নেয়া হয়েছে। ক্রেমলিনের তরফে বলা হয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে বিশেষ অনুরোধের প্রেক্ষিতে এই জরুরি সহায়তা পাঠানো হয়েছে। রাশিয়ার জরুরি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আই-৭৬ বিমানের মাধ্যমে প্রথমে আজারবাইজানে অবতরণ করা হয় সামগ্রীগুলো। সেখান থেকে সড়কপথে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির কাছে হস্তান্তর করা হয়। সংঘাতের কারণে ইরান ও রাশিয়ার কৌশলগত সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। চলতি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর তার ছেলে মোজতবা খামেনির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায়ও রাশিয়ার সমর্থন ছিল। যুদ্ধের প্রভাবে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচল ব্যাহত হলেও আজারবাইজানের মধ্য দিয়ে চলাচলরত স্থলপথটি ইরানের জন্য এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবনরেখা হিসেবে কাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়ার এই মানবিক সহায়তা শুধু রোগীদের জন্যই নয়, ইরানের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে একটি গুরুত্বপুর্ন বার্তা হিসেবে কাজ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি বিস্ফোরক দাবি আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফক্স নিউজ রেডিওকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্ভবত ইরানকে নেপথ্যে থেকে সহায়তা করছেন। সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার প্রেক্ষিতে পুতিন কি ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছেন? জবাবে নিজের চিরাচরিত ভঙ্গিতে ট্রাম্প বলেন, "আমার মনে হয় তিনি কিছুটা সাহায্য করছেন।" তবে এই সহায়তার পেছনে তিনি সরাসরি বাইডেন প্রশাসনের ইউক্রেন নীতিকে দায়ী করেছেন। ট্রাম্পের মতে, যেহেতু আমেরিকা ইউক্রেনকে সর্বাত্মক সাহায্য করছে, তাই পুতিনও ইরানের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়াকে একটি 'পাল্টা পদক্ষেপ' হিসেবে দেখছেন। ট্রাম্প আরও সতর্ক করে বলেন যে, কেবল রাশিয়া নয়, চীনও একই ধরনের সমান্তরাল কৌশল গ্রহণ করতে পারে। ইতিপূর্বে সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে, রাশিয়া ইরানকে মার্কিন সামরিক বাহিনীর গতিবিধি সংক্রান্ত অতি গোপনীয় গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে। যদিও পেন্টাগনের বর্তমান প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দাবি করেছেন যে, ইরান ইস্যুতে রাশিয়া বা চীনের ভূমিকা খুব একটা বড় নয়, তবে ট্রাম্পের এই নতুন মন্তব্য সেই দাবিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিল।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ক্রেমলিন জানিয়েছে, দুই নেতার আলোচনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বসহকারে মতবিনিময় হয়েছে। ক্রেমলিনের বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ফলে ইরানকেন্দ্রিক যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত আলোচনা করেন। এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন প্রেসিডেন্ট পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানায়, গত ৬ মার্চ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই ধারাবাহিকতায় ৯ মার্চ তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ফোনে কথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানসহ দেশটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর ইরানও পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে হামলার ঘোষণা দেয়। এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, চলমান সংকট মোকাবিলায় রাশিয়া বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে।
একসময়ের ‘শাস্তি’ এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি রক্ষার ‘ওষুধ’। ইরান যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষ পর্যন্ত রাশিয়ার শরণাপন্ন হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যে রাশিয়ান তেল কেনার অপরাধে ভারতের ওপর ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই ভারতের জন্যই রুশ তেল কেনার পথ প্রশস্ত করল হোয়াইট হাউজ। সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘ আলোচনার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, রাশিয়ার তেলের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা আরও শিথিল করা হবে। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েকশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে পড়েছে। ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম রকেট গতিতে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতকে রাশিয়ার তেল কেনার বিশেষ ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ভারতের ওপর থেকে শাস্তিমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন ট্রাম্প। যদিও সেই সময় শর্ত ছিল যে ভারত রুশ তেল কেনা কমিয়ে দেবে। কিন্তু বর্তমান যুদ্ধের আবহে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। মার্কিন প্রশাসনের সাম্প্রতিক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলি বর্তমানে সমুদ্রে থাকা রাশিয়ান তেলের চালান অনায়াসেই কিনতে পারবে। কূটনৈতিক মহলের মতে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং ভারতের মাধ্যমে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে বিশ্ব অর্থনীতিকে স্থিতিশীল রাখাই এখন ট্রাম্পের আসল লক্ষ্য।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চলমান সামরিক অভিযান খুব দ্রুত শেষ হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, নির্ধারিত পরিকল্পনার তুলনায় দ্রুতগতিতে তাদের লক্ষ্য পূরণের দিকে এগোচ্ছে এই অভিযান। সোমবার ফ্লোরিডার ডোরাল এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এ কথা বলেন। এর আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত নিরসনে সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পুতিন। ট্রাম্প দাবি করেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ইরানের বিভিন্ন স্থানে প্রায় পাঁচ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বাহিনী। তাদের মতে, এসব হামলার মাধ্যমে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইরানের ড্রোন উৎপাদনের ঘাঁটিগুলোর অবস্থান এখন তাদের জানা রয়েছে এবং ধারাবাহিক হামলার মাধ্যমে সেগুলো ধ্বংস করা হচ্ছে। ট্রাম্পের দাবি, এসব অভিযানের ফলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা অনেকটাই কমে গিয়ে প্রায় ১০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। এদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন জানিয়েছে, ট্রাম্প ও পুতিনের মধ্যে ফোনালাপটি ছিল খোলামেলা ও গঠনমূলক। বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বরের পর এই প্রথম তারা দীর্ঘ সময় কথা বলেন এবং প্রায় এক ঘণ্টা ধরে আলোচনা চলে। ফোনালাপে ইরান পরিস্থিতির পাশাপাশি ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। পুতিনের কূটনৈতিক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ জানান, রাশিয়া এ সংকটের সমাধানে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উদ্যোগের ওপর জোর দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতা এবং ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতা আলোচনা করেছেন। উশাকভের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেই প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে এই আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এছাড়া ইরান সংঘাত বন্ধে পুতিন কিছু প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও জানান তিনি, তবে সেগুলোর বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার গভীর রাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে এক জরুরি ফোনালাপে এই শোক প্রকাশের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। ক্রেমলিনের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ফোনালাপে পুতিন খামেনির মৃত্যুকে একটি "নৃশংস হত্যাকাণ্ড" হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি একে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন বলে কঠোর নিন্দা জানান। উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন তেহরানে বিমান হামলায় খামেনি নিহত হন। রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর বক্তব্যে খামেনিকে একজন 'অসামান্য রাষ্ট্রনায়ক' হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, "রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারিত্ব ও দীর্ঘমেয়াদী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়।" খামেনির পাশাপাশি ওই হামলায় নিহত তাঁর পরিবারের সদস্য এবং উচ্চপদস্থ সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তাদের বিদেহী আত্মার প্রতিও সমবেদনা জানান পুতিন। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পুতিন স্পষ্ট জানান, সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। সংঘাত পরিহার করে কূটনৈতিক পথে ফেরার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, রাশিয়া পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে যাতে দ্রুত একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা যায়। অন্যদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য রাশিয়ার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাশিয়ার এই অবস্থান ইরানের জনগণের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থার মুখে দাঁড়িয়ে আছে, যা বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা বাড়িয়ে তুলছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews