ফ্রান্স

ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি খোলা দরকার, তবে ‘যেকোনো মূল্যে নয়’—ফ্রান্সের সতর্ক বার্তা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা প্রয়োজন হলেও তা ‘যেকোনো মূল্যে’ করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের অর্থমন্ত্রী রোলাঁ লেস্ক্যুর।   সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তবে এটি পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টি সর্বাগ্রে বিবেচনায় রাখতে হবে।   তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জি৭ভুক্ত দেশগুলোর নেতারা পরিস্থিতির গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেছেন এবং এ বিষয়ে সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।   এই মন্তব্য এমন সময় এলো, যখন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ প্যারিসে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হচ্ছে।   যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত এবং পরবর্তী যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহন কীভাবে নিরাপদভাবে পুনরায় শুরু করা যায়, তা এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া না গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিবাস্টার আতঙ্কে ফ্রান্সে বিতর্কিত ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী বিল স্থগিত

প্রবল জনরোষ এবং বিরোধী দলগুলোর বাধার মুখে ফ্রান্সে বিতর্কিত ইহুদিবিদ্বেষ বিরোধী বিলটির ওপর ভোটগ্রহণ স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে বিলটি নিয়ে আলোচনার কথা থাকলেও 'ফিলিবাস্টার' বা দীর্ঘ বক্তৃতার মাধ্যমে অধিবেশন আটকে দেওয়ার আশঙ্কায় এর প্রস্তাবকরা সাময়িকভাবে বিলটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। নতুন এই বিলটির লক্ষ্য ছিল ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বা 'অ্যান্টি-সেমিটিজম'-এর সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা। ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষ বর্তমানেও একটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, তবে প্রস্তাবিত এই বিলটি সেই সংজ্ঞার পরিধি বাড়িয়ে আরও কঠোর করার কথা বলেছিল। বিলটির প্রস্তাবকরা জানিয়েছেন, এটি পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি বরং জুন মাসে পুনরায় আলোচনার টেবিলে পেশ করা হবে। মূলত বিরোধীদের রণকৌশলের কাছে নতিস্বীকার করেই আজ এটি আলোচ্যসূচি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এই বিলটি নিয়ে সাধারণ মানুষ এবং মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছিল। সমালোচকদের দাবি, এই বিলটি পাস হলে ফ্রান্সে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা মারাত্মকভাবে খর্ব হবে। তাদের মতে, বিলটিতে 'ইসরায়েল রাষ্ট্র' এবং 'ইহুদি জনগোষ্ঠী'কে একই সূত্রে গেঁথে ফেলা হয়েছে। তারা যুক্তি দেন যে, ইসরায়েল রাষ্ট্রের সমালোচনাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে গণ্য করা হলে তা উল্টো ইহুদিদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে এবং সমাজে বিভেদ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিলটি স্থগিত হওয়ার খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা। এই বিলের বিপক্ষে প্রায় ৭ লক্ষ মানুষ একটি পিটিশনে স্বাক্ষর করেছিলেন। স্থগিতাদেশের পর প্যারিসের রাজপথে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্তোষ লক্ষ্য করা গেছে। মানবাধিকার কর্মীদের মতে, অন্তত সাময়িকভাবে হলেও একটি বিতর্কিত আইন থেকে রক্ষা পাওয়া গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
দেশে ফিরলেন ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলে ফ্রান্সে কারাবন্দী সেই ইরানি তরুণী

ফিলিস্তিনের সমর্থনে এবং ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করার জেরে ফ্রান্সে এক বছরের বেশি সময় বন্দী থাকার পর অবশেষে দেশে ফিরেছেন ইরানি নাগরিক মাহদিয়া এসফানদিয়ারি। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের মধ্যে বন্দী বিনিময়ের অংশ হিসেবেই তিনি মুক্তি পেয়েছেন। মাহদিয়া এসফানদিয়ারি ২০১৮ সাল থেকে ফ্রান্সে বসবাস করছিলেন এবং লিঁও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে সেখানে অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের অভিযানের পর গাজায় ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদে এবং ফিলিস্তিনের সমর্থনে অনলাইনে সরব হওয়ায় গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘সন্ত্রাসবাদে উস্কানি’ দেওয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করে। তেহরানে পৌঁছানোর পর রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহদিয়া ফ্রান্সের বিচারব্যবস্থার কড়া সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “সবার কাছে এখন এটা পরিষ্কার যে, অন্তত ফ্রান্সে মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা নেই। আমার বিরুদ্ধে আদালতের রায়টি ছিল চরম অন্যায়।” উল্লেখ্য, গত বছর অক্টোবরে জামিনে মুক্তি পেলেও তাঁর ওপর নানা বিধিনিষেধ ছিল। মাহদিয়ার এই মুক্তি এমন এক সময়ে এলো, যখন এক সপ্তাহ আগেই ইরান তাদের দেশে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বন্দী দুই ফরাসি নাগরিক সিসিল কোহলার এবং জ্যাক প্যারিসকে মুক্তি দিয়েছে। যদিও ফ্রান্স সরাসরি এটিকে ‘বন্দী বিনিময়’ হিসেবে স্বীকার করেনি, তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা আগেই জানিয়েছিল যে, ফরাসি নাগরিকদের মুক্তির বিনিময়ে মাহদিয়াকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। ফ্রান্সে মাহদিয়ার মুক্তির দাবিতে এর আগে তেহরানে ফরাসি দূতাবাসের সামনে শিক্ষার্থীরা ব্যাপক বিক্ষোভও প্রদর্শন করেছিল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগ

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী শুক্রবার দেশ দুটির পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় (এলিসি প্যালেস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। মূলত হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘বিশুদ্ধ রক্ষণাত্মক মিশন’ (Purely defensive mission) পরিচালনার লক্ষ্যেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বিশেষ অপারেশন চালুর বিষয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাংকার ও কন্টেইনার জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করা হবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সংকট নিরসনেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে এই বিশেষ সুরক্ষা মিশন গঠন করতে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
আদালতের যুগান্তকারী রায়: ফ্রান্সে মুসলিম মহাসমাবেশের ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাতিল

প্যারিসের উত্তরাঞ্চলে মুসলিম সম্প্রদায়ের বিশাল এক বার্ষিক সম্মেলন আয়োজনের পথ প্রশস্ত হলো। ফরাসি সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার অজুহাতে এই সমাবেশের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির একটি প্রশাসনিক আদালত।  আজ নির্ধারিত সময়ের মাত্র দুই ঘণ্টা আগে আদালত এই রায় প্রদান করেন, যা ফ্রান্সে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সমাবেশের অধিকার রক্ষায় একটি বড় বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্যারিস পুলিশ বিভাগ দাবি করেছিল, চার দিনব্যাপী এই ‘অ্যানুয়াল এনকাউন্টার অব মুসলিমস অব ফ্রান্স’ চরমপন্থীদের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে এবং এতে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। তবে আয়োজক সংস্থা ‘মুসলিমস অব ফ্রান্স’ (এমএফ) এই নিষেধাজ্ঞাকে মৌলিক স্বাধীনতার লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করে আদালতের দ্বারস্থ হয়। আদালত রায়ে স্পষ্ট করে বলেছে যে, পুলিশের পক্ষ থেকে এমন কোনো অকাট্য প্রমাণ পেশ করা সম্ভব হয়নি যা দিয়ে প্রমাণ হয় যে সমাবেশটিতে বড় কোনো হামলার ঝুঁকি রয়েছে বা এটি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি। আদালত আরও উল্লেখ করেছে, আয়োজকরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিয়েছেন, তাই পুলিশের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ার অজুহাতটিও গ্রহণযোগ্য নয়। ২০১৯ সালের পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে আয়োজিত এই সম্মেলনটি ইউরোপের অন্যতম বড় মুসলিম মিলনমেলা হিসেবে পরিচিত, যেখানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ফরাসি সরকারের নতুন 'বিচ্ছিন্নতাবাদ বিরোধী' আইনের প্রেক্ষাপটে এই আইনি লড়াইটিকে দেশটির গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার প্রশ্নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: রযটার্স
ট্রাম্পের হাসিঠাট্টার জবাব দিলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও তার দাম্পত্য জীবন নিয়ে কটাক্ষ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন। ইরান-যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে অংশ না নেওয়াকে কেন্দ্র করে ট্রাম্প ম্যাখোঁর ব্যক্তিগত জীবন ও দাম্পত্য সম্পর্ক নিয়ে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করেছেন।   স্থানীয় সময় গত বুধবার ওয়াশিংটনের একটি মধ্যাহ্নভোজে ন্যাটো মিত্রদের সমালোচনা করতে গিয়ে ট্রাম্প ফরাসি উচ্চারণ অনুকরণ করে বলেন, “ম্যাখোঁর স্ত্রী তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন, আর ম্যাখোঁ এখনও তার চোয়ালে ঘুষির ধাক্কা সামলাচ্ছেন।” ট্রাম্প এই মন্তব্য করেছেন ২০২৫ সালের একটি ভিডিও দেখার পর, যেখানে ভিয়েতনাম সফরের সময় ব্রিজিত ম্যাখোঁকে বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামার আগে হালকা ধাক্কা দিচ্ছেন।   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘অশোভন’ ও ‘মানসম্মত নয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। হ্যানয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “এর জবাব দেওয়ার দরকার নেই। এ ধরনের মন্তব্য মার্জিত এবং সম্মানজনক নয়। আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিত স্থিতিশীলতা ও শান্তি ফিরিয়ে আনা।”   ফ্রান্সের রাজনৈতিক মহলও ট্রাম্পের এই আচরণকে সমালোচনা করেছে। সংসদের নিম্নকক্ষের সভাপতি ইয়েল ব্রাউন-পিভেট বলেন, “এ সময় যখন বিশ্বের ভবিষ্যৎ ও ইরানের লাখ লাখ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে, একজন রাষ্ট্রপতি হাসছে ও অন্যকে উপহাস করছে, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।” কট্টর-বামপন্থী দল ফ্রান্স আনবাউড-এর সমন্বয়ক ম্যানুয়েল বোম্পার্ডও ম্যাখোঁর সমর্থনে দাঁড়িয়েছেন।   রক্ষণশীল ফরাসি দৈনিক লে ফিগারো ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘আরেকটি বিতর্কিত মন্তব্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সাম্প্রতিক এক কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “উপসাগরীয় অঞ্চলে সাহায্য পেলে খুশি হব, যদিও আমরা দুষ্কৃতকারী ও ক্ষেপণাস্ত্র নির্মূলের ক্ষেত্রে রেকর্ড গড়ছি। যদি পারেন, অবিলম্বে জাহাজ পাঠান।” এরপর ট্রাম্প ফরাসি উচ্চারণে ম্যাখোঁর জবাব অনুকরণ করে বলেন, “না না না, আমরা তা করতে পারি না, যুদ্ধ জেতার পর করতে পারব।”   মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শেষ হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনর্বিবেচনা করতে হবে। ট্রাম্প নিজেও ন্যাটোকে ‘কাগজের বাঘ’ আখ্যা দিয়েছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ফরাসি-ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য রিমা হাসান। ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ফিলিস্তিনপন্থী রিমা হাসান আটক

ফরাসি-ফিলিস্তিনি আইনজীবী এবং ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রভাবশালী সদস্য রিমা হাসানকে আটক করেছে ফ্রান্সের পুলিশ। 'সন্ত্রাসবাদের পক্ষে সাফাই গাওয়া' বা উসকানি দেওয়ার অভিযোগে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে আজ বৃহস্পতিবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে।  তবে তার দল 'লা ফ্রান্স ইনসুমিজ' (এলএফআই) এই পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনপন্থীদের কণ্ঠরোধ করার একটি রাজনৈতিক অপচেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছে। ফরাসি পত্রিকা লে পারিসিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৭২ সালে ইসরায়েলের বেন গুরিওন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার সাথে জড়িত কোজো ওকামোতো-কে নিয়ে একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টের প্রেক্ষিতে তদন্তের অংশ হিসেবে রিমাকে আটক করা হয়। যদিও রিমা হাসান পরবর্তীতে এক্স (সাবেক টুইটার) থেকে সেই পোস্টটি মুছে ফেলেছিলেন। এলএফআই-এর প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট বামপন্থী নেতা জঁ-লুক মেলাঁশঁ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "একটি রিটুইটকে কেন্দ্র করে রিমা হাসানকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর অর্থ ফ্রান্সে এখন আর পার্লামেন্টারি মেম্বারদের কোনো দায়মুক্তি বা ইমিউনিটি নেই। এটি অসহনীয়।" সংবাদ সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আটকের সময় রিমার কাছে সামান্য পরিমাণ 'সিনথেটিক ড্রাগ' পাওয়া গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই বিষয়ে রিমা হাসান বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ৩৩ বছর বয়সী রিমা হাসান ২০২৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হন। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচক হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক মহলে পরিচিত। গত বছর গাজাগামী একটি ত্রাণবাহী বহরেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন, যা আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইসরায়েলি বাহিনী আটকে দেয়। রিমার এই আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফ্রান্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এলএফআই-এর পার্লামেন্টারি মেম্বার সোফিয়া চিকিরু বলেন, "ফরাসি পুলিশ ও বিচার ব্যবস্থাকে ফিলিস্তিনি জনগণের সমর্থকদের ভয় দেখানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।" দলের অন্য এক নেত্রী মাথিল্ড প্যানট একে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর 'নজিরবিহীন দমনপীড়ন' বলে বর্ণনা করেছেন। উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে রিমা হাসান অভিযোগ করেছিলেন যে তাকে কানাডায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, যাকেও তিনি এক ধরণের 'সেন্সরশিপ' বলে দাবি করেছিলেন। এখন ফ্রান্সে তার এই আটক হওয়ার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্য ইস্যু এবং বাকস্বাধীনতা নিয়ে ইউরোপে চলমান উত্তজনাকে আরও উসকে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ
ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান, তীব্র সমালোচনা ফরাসি প্রেসিডেন্টের

ইরানের সাথে চলমান উত্তেজনার মধ্যে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ সচল করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক শক্তি প্রয়োগের আহ্বানকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ট্রাম্পের এই প্রস্তাবকে ‘অবাস্তব’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে এর তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে থাকা ম্যাখোঁ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, সামরিক অভিযানের মাধ্যমে জোরপূর্বক হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার ধারণাটি বাস্তবসম্মত নয়। তিনি মনে করেন, এ ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত দীর্ঘমেয়াদে পরমাণু সংকটের কোনো সমাধান আনতে পারবে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি অভিযোগ করেছিলেন যে, মিত্র দেশগুলো তাকে ইরানের বিরুদ্ধে যথাযথ সমর্থন দিচ্ছে না। তিনি প্রকাশ্যেই আহ্বান জানিয়েছিলেন, অন্য দেশগুলোর উচিত হরমুজ প্রণালীতে গিয়ে সেটি দখল করে নেওয়া। এর জবাবে ম্যাখোঁ বলেন, "গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয়ে কথা বলার সময় প্রতিদিন নিজের অবস্থানের পরিবর্তন করা মোটেও দায়িত্বশীল আচরণ নয়।" ম্যাখোঁ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরান বিরোধী চলমান এই অভিযান মূলত মার্কিন-ইসরায়েল জোটের একটি নিজস্ব পরিকল্পনা এবং ফ্রান্স এতে কোনোভাবেই অংশ নেবে না। তার মতে, একটি সফল সমাধানের জন্য প্রয়োজন: অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা। ইরানের সাথে পুনরায় কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে একটি 'রিঅ্যাসুরেন্স মিশন' বা নিরাপত্তা দল গঠন করা। ম্যাখোঁ আরও উল্লেখ করেন যে, বাইরের প্রতিনিধিদের দিয়ে যথাযথ পরিদর্শন ছাড়া চলমান এই সামরিক পদক্ষেপ মোটেও ফলপ্রসূ হবে না। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানে দক্ষ জনবল এবং গোপন পারমাণবিক স্থাপনাগুলো যেভাবে রয়ে গেছে, তাতে কয়েক সপ্তাহের টার্গেটেড হামলা এই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধান দিতে অক্ষম।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
হরমুজ প্রণালির মানচিত্রের ইলাস্ট্রেশন। ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল সচল রাখতে চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান ফরাসি নৌপ্রধানের

হরমুজ প্রণালিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য চীনের আরও সরাসরি এবং সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের নৌপ্রধান অ্যাডমিরাল নিকোলা ভোজুর। বুধবার প্যারিসে আয়োজিত ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমানে চীনের নৌযান সংখ্যা দেশটির চাহিদার তুলনায় অপর্যাপ্ত।   অ্যাডমিরাল ভোজুর বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত চীনের নৌবাহিনীকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করতে কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি। চীন ও ইরানের মধ্যে সীমিত সংখ্যক জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার জন্য রাজনৈতিক সংলাপ চলছে, কিন্তু তা পুরো নৌযান চলাচল স্বাভাবিক করতে যথেষ্ট নয়।   তিনি আরও যোগ করেন, এই অবস্থায় চীনের আরও সক্রিয় ভূমিকা অপরিহার্য এবং প্রণালিটি বন্ধ থাকার বিষয়ে তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করা প্রয়োজন। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের তেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ, যা মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল পরিবহনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির জন্য একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ফ্রান্স ও জাপানের

বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তজনা নিরসনে একজোট হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।  টোকিও’র আকাসাকা প্রাসাদে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই বিশ্বনেতা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জাপান সফররত ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানান, ফ্রান্স ও জাপান উভয় রাষ্ট্রই আন্তর্জাতিক বিধি-বিধান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী। তিনি বলেন, আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো শান্তি ফিরিয়ে আনা। আমরা অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি, স্থিতিশীলতা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্যবাহী জাহাজের অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির নাজুকতা তুলে ধরে বলেন, সংঘাতের দ্রুত প্রশমন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে দুই দেশ একমত হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বর্তমানের এই কঠিন আন্তর্জাতিক পরিবেশে ফ্রান্স ও জাপানের মধ্যে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা গভীর হওয়া অত্যন্ত অর্থবহ। দুই নেতাই মনে করেন, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা বজায় রাখা বিশ্ব অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি
ইরান যুদ্ধে সহযোগিতা না পেয়ে কয়েকটি দেশের ওপর খেপেছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, ইরানে মার্কিন–ইসরায়েলি সামরিক অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে ন্যাটো মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। মঙ্গলবার রয়টার্সকে তিনি বলেন, ফ্রান্স, ইতালি ও স্পেন তাদের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে না, যা অভিযানকে জটিল করছে।   ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ফ্রান্সকে “অসহযোগিতামূলক” উল্লেখ করেছেন। এর পাল্টা ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, তারা সংঘাত শুরুর পর থেকেই তাদের নীতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।   ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার না দেওয়ায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও ফরাসি প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতালিও সিসিলির সিগোনেলা বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বিমান অবতরণের অনুমতি দেয়নি।   অন্যদিকে, স্পেন ইরানবিরোধী অভিযানে আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো স্যানচেজ বলেন, শুধুমাত্র ন্যাটো সম্মিলিত প্রতিরক্ষা কাজে তাদের ঘাঁটি ব্যবহার অনুমোদিত হবে।   যুক্তরাজ্যকেও ট্রাম্প অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন। অন্যদিকে, জার্মানির রামস্টেইন বিমানঘাঁটি এখনো ব্যবহারযোগ্য থাকলেও দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্ক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার সামরিক অভিযানের আইনগত বৈধতা নিয়ে সন্দিহান।   উল্লেখ্য, এই পরিস্থিতি ট্রাম্প প্রশাসন ও ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলোর মধ্যে বিভাজনের প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
ট্রাম্পের সমালোচনায় বিস্ময় প্রকাশ: নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে অনড় ফ্রান্স

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে মার্কিন সামরিক বিমান চলাচলের ক্ষেত্রে ফ্রান্সের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে বলে এলিসি প্যালেস থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে জানায়, "প্রথম দিন থেকেই ফ্রান্স তার অবস্থানে অনড় রয়েছে, এখানে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।" ট্রাম্পের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টের প্রেক্ষিতে এই প্রতিক্রিয়া দেখালো প্যারিস।  ওই পোস্টে ট্রাম্প অভিযোগ করেছিলেন যে, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধে ফ্রান্স "একদমই সাহায্য করছে না" এবং সামরিক সরঞ্জামবাহী মার্কিন বিমানগুলোকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিচ্ছে না। ফরাসি প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যে তারা স্তম্ভিত। মিত্র দেশগুলোর মধ্যে এমন টানাপোড়েন আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ভাউট্রিন
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ‘আমাদের নয়’, সংঘাত এড়াতে অনড় ফ্রান্স

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ফ্রান্স। ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ভাউট্রিন সরাসরি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ ফ্রান্সের নয়। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের ভূমিকা হবে কঠোরভাবে আত্মরক্ষামূলক। একটি ফরাসি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্যাথরিন ভাউট্রিন জানান, মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্সের বর্তমান কৌশল পুরোপুরি কূটনৈতিক আলোচনার ওপর নির্ভরশীল। এই অঞ্চলের সংঘাত যেন আর না বাড়ে, সেটিই প্যারিসের প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, “আমি আবারও বলছি, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো কূটনৈতিক পথকে সুগম করা।” হরমুজ প্রণালীতে সৃষ্ট অবরোধের পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একমাত্র কূটনৈতিক পন্থাই শান্তির গ্যারান্টি দিতে পারে। বিশ্বের অনেক দেশই এই সংকটে উদ্বিগ্ন এবং দ্রুত এর সমাধান হওয়া এখন সময়ের দাবি। মূলত আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই ফ্রান্স সামরিক পদক্ষেপের চেয়ে আলোচনার টেবিলে বসাটাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ফ্রান্সের সেনাপ্রধান জেনারেল ফ্যাবিয়ান ম্যান্ডন।
মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অনির্ভরযোগ্য’ আখ্যা দিলেন ফরাসি সেনাপ্রধান

দীর্ঘদিনের মিত্র হলেও বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র দিন দিন ‘অপ্রত্যাশিত’ এবং ‘অনির্ভরযোগ্য’ হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের সেনাপ্রধান জেনারেল ফ্যাবিয়ান ম্যান্ডন।  প্যারিসে আয়োজিত একটি প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ফোরামে তিনি এই কড়া সমালোচনা করেন। জেনারেল ম্যান্ডন জানান, ফ্রান্সের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সামরিক হস্তক্ষেপের বিষয়ে ওয়াশিংটন তাদের কোনো তথ্য দেয়নি।  তিনি বলেন, “আমাদের না জানিয়েই তারা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক অভিযান শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মিত্র হওয়া সত্ত্বেও তারা আমাদের জানানোর প্রয়োজনটুকুও মনে করেনি। যুক্তরাষ্ট্রের এমন হঠকারী ও অনিশ্চিত আচরণ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা এবং স্বার্থকে সরাসরি বিঘ্নিত করছে।” এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এরই মধ্যে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফরাসি স্বার্থ রক্ষা এবং পারস্য উপসাগরে মিত্রদের সুরক্ষায় তিনি পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘শার্ল দ্য গল’সহ একাধিক যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট।
লেবাননে স্থল অভিযান থেকে বিরত থাকতে ইসরায়েলকে হুঁশিয়ারি ফ্রান্সের

লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলকে স্থল অভিযান না চালানোর জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ফ্রান্স। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জঁ-নোয়েল বারোট এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবাননে যেকোনো ধরনের সরাসরি সামরিক অভিযান দেশটির বর্তমান বিপর্যস্ত পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলবে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আমরা ইসরায়েলকে এ ধরনের স্থল অভিযান থেকে বিরত থাকার জন্য জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি। এটি শুধুমাত্র মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনবে না, বরং লেবাননের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যাবে।" সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তারা সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত লিটানি নদী পর্যন্ত দক্ষিণ লেবাননের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ইসরায়েলের এই ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।  ফ্রান্স মনে করছে, এই সামরিক পদক্ষেপ লেবাননের সাধারণ জনগণের ওপর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ বয়ে আনবে। মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিচ্ছে প্যারিস।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালিতে সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না ফ্রান্স: ম্যাক্রোঁ

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে কোনো সামরিক অভিযানে ফ্রান্স অংশ নেবে না। তবে সংঘাত শেষে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে প্যারিস।   মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের শুরুতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ম্যাক্রোঁ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফ্রান্স কোনো পক্ষের হয়ে সামরিক অভিযানে যুক্ত হবে না। তিনি স্পষ্ট করে জানান, হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে চলমান বা সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপে ফ্রান্সের অংশগ্রহণের প্রশ্নই ওঠে না।   ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমরা এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নই। তাই বর্তমান প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালিতে কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেব না।”   তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, সংঘাতের অবসান হলে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অন্যান্য দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স প্রস্তুত থাকবে। এ লক্ষ্যে একটি আন্তর্জাতিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।   এর আগে সোমবার হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি সচল রাখতে মিত্রদের রাজি করানোর বিষয়ে ম্যাক্রোঁর অবস্থান ইতিবাচক। তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন উদ্যোগে যুক্ত হবে।   তবে সর্বশেষ বক্তব্যে ম্যাক্রোঁ স্পষ্ট করেছেন, বর্তমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না। ফরাসি কর্মকর্তাদের মতে, পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থেকেও একটি আন্তর্জাতিক কাঠামোর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
ফ্রান্সের রাফাল যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবর অস্বীকার ফ্রান্সের

মধ্যপ্রাচ্যে ফ্রান্স যুদ্ধজাহাজ পাঠাচ্ছে—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে প্যারিস।   ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে ১০টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে—এ ধরনের যে খবর ছড়িয়েছে তা সঠিক নয়। হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বানের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।   সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে বলেছে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়নি। বর্তমানে ফরাসি নৌবাহিনীর রণতরিগুলো পূর্ব ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে অবস্থান করছে।   এছাড়া ফ্রান্স জানায়, তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। দেশটি এখনো প্রতিরক্ষামূলক ও নিরাপত্তামূলক নীতির মধ্যেই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
ফরাসি সেনাদের একটি দল। ছবি: সংগৃহীত
কুর্দিস্তানে ড্রোন হামলা: ফরাসি সেনা নিহত

ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে এক হামলায় ফ্রান্সের একজন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন সেনা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি ইরবিল এলাকায় ফরাসি বাহিনীর ওপর চালানো এই হামলাকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে উল্লেখ করেছেন।   এর আগে ফরাসি সশস্ত্র বাহিনী জানায়, ওই এলাকায় ইরাকি অংশীদারদের সঙ্গে সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া ছয়জন ফরাসি সেনা ড্রোন হামলায় আহত হয়েছেন।   ইরাকের আধা-স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলের রাজধানী ইরবিল-এ ফ্রান্সের কয়েকশ সেনা মোতায়েন রয়েছে। তারা জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক জোটের অংশ হিসেবে সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন।   উল্লেখ্য, ইরবিল শহরটি ইরান সীমান্ত থেকে প্রায় ১১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।   তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানকে হামলা বন্ধের আহ্বান ম্যাক্রোঁর, হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ারও দাবি

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেসকিয়ান এর সঙ্গে ফোনালাপ করে মধ্যপ্রাচ্যে হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন।   ম্যাক্রোঁ সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় বলেন, তিনি ইরানকে অবিলম্বে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার প্রয়োজনীয়তার কথা জোর দিয়ে বলেছেন। পাশাপাশি তিনি হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি শেষ করে সমুদ্রপথে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।   ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা শুরু হওয়ার পর কোনো পশ্চিমা নেতার সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের এটিই প্রথম সরাসরি আলোচনা বলে জানা গেছে।   ফরাসি প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তিনি ফরাসি নাগরিক সেসিল কোহলার ও জ্যাক প্যারিসের বিষয়েও কথা বলেছেন, যারা গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তিন বছরের বেশি সময় ইরানে আটক থাকার পর গত নভেম্বরে মুক্তি পান এবং তেহরানে ফরাসি দূতাবাসে স্থানান্তর করা হয়।   ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি কাতার ও কুয়েতের আমির, মিসর ও আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টদের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ট ট্রাম্পের সঙ্গেও তার কথা হয়েছে বলে ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে।   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইরানের পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চলমান সংকটের সমাধান কূটনৈতিক পথেই খুঁজতে হবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ফ্রান্সের ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান উপস্থিতির অনুমতি

ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফ্রান্স তাদের কিছু সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন যুদ্ধবিমানের অস্থায়ী উপস্থিতির অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।   ফরাসি যৌথ প্রতিরক্ষা স্টাফের এক কর্মকর্তা জানান, ‘নির্দিষ্ট কিছু ঘাঁটিতে’ মার্কিন যুদ্ধবিমানের সাময়িক অবস্থানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।   ইসরাইলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যৌথ সামরিক অভিযান চলমান থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।   তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ফ্রান্সের দাবি—তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত কোনো অভিযানে দেশটি সরাসরি অংশ নেবে না।   কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলে ফ্রান্সের অংশীদার দেশগুলোর জন্য প্রতিরক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশকে সহায়তায় ভূমধ্যসাগরে রণতরী পাঠাচ্ছে ফ্রান্স

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্ডান ও ইরাকের নিরাপত্তা সহযোগিতায় ভূমধ্যসাগরে রণতরী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স। দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।   ম্যাক্রোঁ বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি রয়েছে। সেই চুক্তির অংশ হিসেবেই এসব দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।   ফ্রান্স তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ Charles de Gaulle–কে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই রণতরী ফ্রান্সের নৌশক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।   এ ছাড়া ফ্রান্স এরই মধ্যে Dassault Rafale যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং উন্নত এয়ার রাডার মোতায়েন করেছে। এসব প্রযুক্তি ইরান থেকে নিক্ষিপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করতে ব্যবহার করা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0