ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লক্ষ্যে কুষ্টিয়া থেকে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। বেবী নাজনীন, কনকচাঁপা ও দিলরুবা খানের মতো সংস্কৃতি অঙ্গনের একঝাঁক তারকার সঙ্গে তিনিও গতকাল শুক্রবার দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সাক্ষাৎকারে অংশ নিয়েছেন। সম্প্রতি বিএনপিতে যোগদানের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন এই অভিনেত্রী। সাক্ষাৎকার শেষে চমক গণমাধ্যমকে জানান, দেশ ও বিশেষ করে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। তিনি বলেন, “বিএনপির প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে আমার পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর (তারেক রহমান) সঙ্গেও অনেক বিষয়ে কথা হয়েছে। কথা বলে আমার ইতিবাচক মনে হয়েছে এবং আমি মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে শতভাগ আশাবাদী।” তবে দলীয় সিদ্ধান্ত যাই হোক, তা ইতিবাচকভাবে মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন এই রাজনৈতিক যাত্রা নিয়ে একটি পোস্ট দিয়েছেন চমক। সেখানে তিনি সবার দোয়া ও সমর্থন কামনা করেছেন। বরিশালে জন্ম নেওয়া চমক ২০১৭ সালে ‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শোবিজ অঙ্গনে পরিচিতি পান। ২০২০ সাল থেকে ছোট পর্দায় অভিনয় শুরু করা চমকের ‘মহানগর’, ‘হায়দার’ ও ‘হাউস নং ৯৬’-এর মতো কাজগুলো দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর আটকে বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকার-এর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন দলটির নেতা-কর্মীরা। মঙ্গলবার (পয়লা বৈশাখ) সকালে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ প্রি-পাইলটিং প্রকল্প ও কৃষিমেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় টঙ্গীর বিআরটি উড়ালসেতুর স্টেশন রোড এলাকায় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার নিয়ে অবস্থান নেন। সকাল পৌনে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে গাড়িবহরের গতি রোধ করে দাঁড়িয়ে পড়েন। এ সময় পরিস্থিতি কিছুটা উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠলেও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে নূরুল ইসলামের ছেলে সরকার শাহনূর ইসলাম রনি বলেন, তাঁর বাবা সম্পূর্ণ নির্দোষ এবং মিথ্যা মামলায় দীর্ঘদিন ধরে কারাবন্দী রয়েছেন। তিনি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বাবার মুক্তির দাবি জানান। উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় নূরুল ইসলাম সরকারকে আসামি করা হয় এবং একই বছর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে আদালত তাঁর মৃত্যুদণ্ড পরিবর্তন করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিম কোর্টে আপিল শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। মামলার আরও কয়েকজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলের তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপির সংসদ সদস্য হান্নান মাসুদ। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) বিল-২০২৬’ উত্থাপনের পর তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি বর্তমানে ‘আরেকটা আওয়ামী লীগ’ হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। হান্নান মাসুদ বলেন, “এই বিলের মাধ্যমে স্থানীয় প্রশাসনের পিঠে ছুরিকাঘাত করা হচ্ছে। এটি বিএনপির নিজস্ব ৩১ দফারও পরিপন্থী। সেখানে স্পষ্ট ছিল নির্বাচিত প্রতিনিধিকে অপসারণ করা হবে না, কিন্তু আজ বিশেষ পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে মেয়র-কাউন্সিলরদের গলার কাঁটা বানানো হচ্ছে।” তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই আইনের মাধ্যমে নির্বাচিতদের সরিয়ে মন্ত্রী-এমপিদের সন্তানদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর পাঁয়তারা চলছে। বগুড়া ও শেরপুর নির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ তুলে তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ যেভাবে চুরি করে হজম করতে পেরেছিল, বিএনপি তা পারবে না। দয়া করে আওয়ামী লীগের দেখানো পথে হাঁটবেন না।” বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলেরও কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। হান্নান মাসুদের বক্তব্যের সময় সরকারি দলের সদস্যরা হইচই করলেও তিনি বিলটিকে গণতান্ত্রিক ইতিহাসের একটি ‘কালো আইন’ হিসেবে অভিহিত করেন এবং এটি পাস হলে স্থানীয় গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করা হবে বলে সতর্ক করেন।
পাবনার চাটমোহর উপজেলায় এক বিএনপি নেতার মাদকাসক্ত ছেলে সরোয়ার হোসেন নয়ন (৩৫) এর তান্ডবে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী ও স্কুল শিক্ষার্থীরা। বুধবার (০৮ এপ্রিল) দুপুরে স্থানীয় একটি স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীদের ফুটবল খেলার ভিডিও করতে নিষেধ করায় তুলকালাম বাধায় নয়ন। তাকে বাধা দিতে গেলে লাঠি আর খুড় নিয়ে হামলা চালায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী সহ স্থানীয়দের। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাকে আটক করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আতংকে অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। তাকে ঠেকাতে গিয়ে আহত হন কয়েকজন এলাকাবাসী। অভিযুক্ত সরোয়ার হোসেন নয়ন হরিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি কফিল উদ্দিনের ছেলে। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের চড়ইকোল পূর্বপাড়া গ্রামে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিনের ছেলে নয়ন দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। এক পর্যায়ে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। তাকে বাড়িতে ঠিকমতো দেখভাল না করায় মাঝেমধ্যেই বাড়ির বাইরে গিয়ে সাধারণ মানুষের উপর হামলা চালায় ও লাঞ্ছিত করে। বুধবার দুপুরে হরিপুর ইউনিয়নের চড়ইকোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ফুটবল খেলছিল স্কুলের মেয়ে শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের খেলা ভিডিও ধারণ করতে থাকে অভিযুক্ত নয়ন। দেখতে পেয়ে তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেন শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা। এমন অবস্থায় হঠাৎ করেই শিক্ষক শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠি নিয়ে চড়াও হয়ে মারার চেষ্টা করে। এ সময় অন্য শিক্ষকরা এসে তাকে প্রতিহত করে। স্কুলের সহকারি শিক্ষক মাসুদ রানা বলেন, মেয়েরা তাকে ভিডিও করতে নিষেধ করেছিল, আমরাও তাকে নিষেধ করি ও সেখান থেকে চলে যেতে বলি। তখন সে প্রথমে লাঠি দিয়ে হামলার চেষ্টা করে। তাকে বাধা দেয়ায় পরে সে খুর, কেচি, শিকল নিয়ে এসে আবারও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হামলার চেষ্টা করে। আমরা শিক্ষার্থীদের স্কুলের ভেতরে রেখে প্রধান ফটক আটকে দেই। খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন এসে তাকে থামানোর চেষ্টা করলে তাদের ওপরও হামলা করে নয়ন। তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় কয়েকজন মেয়ে শিক্ষার্থী আতংকে অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরে অভিভাবকদের ডেকে এনে মেয়েদের তাদের কাছে বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা তাৎক্ষনিক থানার ওসি ও ইউএনও সাহেবকে অবহিত করি। এ বিষয়ে চাটমোহর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত নয়নকে আটক করে। ভুক্তভোগীদের এজাহার দিতে বলা হয়েছে। এজাহার দিলে মামলা নথিভূক্ত করে সেই মামলায় নয়নকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।’ আর অভিযুক্ত নয়নের বাবা বিএনপি নেতা কফিল উদ্দিন তার প্রতিপক্ষের উপর দায় চাপিয়ে বলেন, ‘ছেলেকে ঢাকায় একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সে বেশিদিন ঠিকমতো লেখাপাড়া করতে পারলো না। আমার এলাকায় তো প্রতিপক্ষের অভাব নেই। তারা আমার ছেলেকে গাঁজা, মদ সহ অন্যান্য মাদক খাইয়ে এই অবস্থা করে দিয়েছে। এখন আর ছেলেকে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। আমি অতিষ্ঠ, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। আইনগতভাবে যেটা হয় সেটাই হোক।’
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য সিঙ্গাপুর গেছেন। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম। সোমবার (৬ এপ্রিল) রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি ফ্লাইটে তারা সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে রওনা হন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতেই দলটির মহাসচিব সস্ত্রীক সিঙ্গাপুর গেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরবেন।
সরকার গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম সংসদের প্রধান বিরোধী দল রাজপথে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি পালন করল। শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সোয়া পাঁচটায় কর্মসূচি শুরুর আগে থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ব্যানার ও ফেস্টুনসহ খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন এবং সংবিধান সংস্কারের মাধ্যমে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, জনগণের রায়কে উপেক্ষা করার পরিণাম শুভ হবে না। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন সমাবেশে অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর বিএনপি জনগণের রায়কে উদ্দেশ্যমূলকভাবে উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করাকে যদি বৈধ বলা হয়, তবে সেই একই জনগণের ভোটে হওয়া সংস্কারকে কেন অবৈধ বলা হচ্ছে—এমন দ্বিচারিতা দেশের মানুষ মেনে নেবে না। তিনি সরকারের এই অবস্থানকে স্ববিরোধী বলে উল্লেখ করেন। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ তার বক্তব্যে বলেন, গণভোটকে অবজ্ঞা করার মাধ্যমে বিএনপি পুরো জাতিকে অপমান করেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, সরকার যদি জনস্বার্থের বাইরে গিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়, তবে রাজপথ এবং সংসদ—উভয় জায়গাতেই কঠোর প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে। সমাবেশের পর নেতাকর্মীরা একটি মিছিল বের করেন।
বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন Khaleda Zia-এর শাসনামলে দেশের মানুষ ভালো ছিল—এ কারণেই দলটিকে দীর্ঘ সময় ভুগতে হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ হুইপ Nurul Islam। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল। নুরুল ইসলাম বলেন, “বেগম জিয়ার আমলে দেশের উন্নতি হয়েছিল, মানুষ ভালো ছিল—এই কারণেই আমরা ১৭ বছর ভুগেছি।” তিনি দাবি করেন, Ziaur Rahman দেশকে নানা অসংগতি থেকে বের করে এনেছিলেন এবং বহুদলীয় রাজনীতির প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন কর্মসূচির ফলে স্বল্প সময়ে খাদ্যসংকট দূর হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় Tarique Rahman-ও বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সভায় Sheikh Mujibur Rahman-এর সমালোচনা করে চিফ হুইপ বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুর্বলতা ছিল। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগও তোলেন তিনি। তারেক রহমান সম্পর্কে তিনি বলেন, তিনি সাশ্রয়ী জীবনযাপন করেন এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক প্রস্তাব দিয়েছেন, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদসীমা নির্ধারণের বিষয়ও রয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দলের সভাপতি হুমায়ুন কবির ব্যাপারীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালামসহ অন্যরা।
২০০৭ সাল থেকে ২০২৫ সালের ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার ৯৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, এসব মামলা ছিল মিথ্যা ও হয়রানিমূলক। ইতোমধ্যে ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। বুধবার (১ মার্চ) সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবদুল মান্নানের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে কতগুলো হয়রানিমূলক মামলা হয়েছে, তার বিস্তারিত তথ্য সরকারিভাবে সংরক্ষিত নেই। শুধুমাত্র বিএনপির ক্ষেত্রে আমরা এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছি।” আইনমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০২৬ সালের ৫ মার্চ পর্যন্ত রাজনৈতিক কারণে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জন্য জেলা পর্যায়ে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। কমিটি মামলা প্রত্যাহারের আবেদনপত্র, এজাহার এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে চার্জশিট পর্যালোচনা করে নির্ধারণ করবে কোন মামলাগুলো রাজনৈতিক হয়রানিমূলক। এরপর ২০২৬ সালের ৮ মার্চ ছয় সদস্যবিশিষ্ট উচ্চ কমিটি জেলা কমিটির সুপারিশ যাচাই করে মামলার প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। এ পর্যন্ত মোট ২৩ হাজার ৮৬৫টি মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে, আর বাকিগুলোর প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান আছে বলে জানান আইনমন্ত্রী।
নবনিযুক্ত ৪২ জন জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৩০ মার্চ) রাত ১০টার দিকে গুলশানস্থ বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, এর আগে রাত সাড়ে ৯টার দিকে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি বিএনপি চেয়ারপারসন। গত ১৫ মার্চ সরকার ৪২টি জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেয়, যারা সবাই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। নবনিযুক্ত প্রশাসকদের সঙ্গে এটি তাদের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
দলীয় কর্মসূচির নামে রাস্তা বন্ধ করে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি না করার জন্য নেতা-কর্মীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি নিজেও আর দলীয় কার্যালয়ে আসবেন না। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, কোনোভাবেই মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা যাবে না এবং দলীয় কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে যাতে জনজীবন স্বাভাবিক থাকে। তিনি বলেন, “এভাবে রাস্তা বন্ধ করা যাবে না। আমাদের স্বাভাবিকভাবে অফিসে আসতে হবে, যাতে সবকিছু ঠিকভাবে চলতে পারে। আমি অফিসে আসতে চাই, কিন্তু রাস্তা বন্ধ থাকলে তা সম্ভব হবে না।” নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, যদি তারা তাকে নিয়মিত পল্টন কার্যালয়ে দেখতে চান, তবে রাস্তার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে হবে। এ সময় তিনি দ্রুত রাস্তা খালি করার নির্দেশ দেন এবং আগামী আধা ঘণ্টার মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি নেতা-কর্মীদের আইন মেনে চলার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। সবশেষে তিনি উপস্থিত সবাইকে রাস্তার বাম পাশে সরে গিয়ে যান চলাচলের পথ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, “আমরা দেশের মানুষের সমস্যার কারণ হতে চাই না। আপনাদের সহযোগিতা থাকলে আমি নিয়মিত অফিসে আসতে পারব।”
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ শনিবার নয়াপল্টনে পা রাখছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সরকার প্রধান হিসেবে শপথ গ্রহণের পর এটিই হবে দলীয় কার্যালয়ে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। আজ ২৮ মার্চ সন্ধ্যায় তার নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে নিজেই এই ঘোষণা দেন তারেক রহমান। সভা শেষে তিনি যখন মঞ্চ ত্যাগ করছিলেন, তখন উপস্থিত নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙ্গা স্লোগান ও উচ্ছ্বাসের জবাবে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তিনি বলেন, "আগামীকাল নয়াপল্টন অফিসে যাব। সেখানে তোমাদের দেখতে চাই।" প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই নয়াপল্টন ও এর আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতাকে সামনে থেকে দেখার আকাঙ্ক্ষায় সকাল থেকেই কার্যালয়ের সামনে ভিড় জমাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নয়াপল্টন এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এটি নিছক সফর নয়; বরং কার্যালয়ে বসে জ্যেষ্ঠ নেতাদের সঙ্গে বর্তমান দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সাংগঠনিক বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার সকালে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি এ কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, এবার আমরা সবাই নতুন এক বাংলাদেশ গড়ার শপথ নিয়েছি। সেই লক্ষ্যেই আগামী দিনে দেশকে সত্যিকার অর্থে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব। তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে জাতিকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। দীর্ঘ নয় মাসের যুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করে। এ সময় বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ আমরা একটি ভিন্ন পরিবেশে স্বাধীনতা দিবস পালন করছি। একটি মুক্ত ও ফ্যাসিস্টমুক্ত পরিবেশে দিনটি উদ্যাপন করছি। তবে দুঃখের বিষয়, আমাদের এই দিনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে নেই।”
জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না উল্লেখ করে জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি সরকারের কাছে সংবিধানের অংশ মানা হচ্ছে, আবার অংশ উপেক্ষিত হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, একই দিনে দুই ভোট হলেও আচরণ ভিন্ন। আপনি গোশত খাচ্ছেন, ঝোলটা হারাম বলছেন। জনগণ এত বোকা নয়, তারা সব বুঝে। ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার আয়োজিত এক আলোচনা সভায় শফিকুর রহমান বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশে শাসক বদলালেও শোষণ থেমে যায়নি। আমরা চাই, দেশ গণতান্ত্রিক ট্রেনের মতো চলুক। তবে প্রশাসনিক পদে রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে লোক বসানো হচ্ছে, যা সংবিধানবিরোধী। আমরা তা মেনে নিই না। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে জামায়াত আমির বলেন, আপনারা বলছেন সংবিধান মেনে চলব, কিন্তু ভোটের অধিকার জনগণের, আপনার নয়। যদি ভোটকে অগ্রাহ্য করার চেষ্টা করা হয়, দেশের মানুষ তার প্রতিকার নিতে প্রস্তুত। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনী জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে দমাতে চেয়েছিল। তারা খুন, লুণ্ঠন ও ধ্বংস চালালেও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নিঃশেষ হয়নি। দেশের পতাকা ও মানচিত্রের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে পারলে ভালো হতো, কিন্তু নেতৃত্বের ব্যর্থতা, লোভ ও দুর্নীতি তা ব্যাহত করেছে। দুর্নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, শুধু টাকা হাতানোর জন্যই নয়, মানুষের অধিকার হরণ, অযোগ্যদের যোগ্য স্থানে বসানো এবং যোগ্যদের অবমাননা সবচেয়ে বড় দুর্নীতি। যতক্ষণ এটি সমাজ থেকে চলে যাবে না, স্বাধীনতার সুফল ভোগ সম্ভব নয়। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সবুর ফকির। সঞ্চালক ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদ। প্রধান অতিথি ছিলেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সভা শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর মহানগর শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনায় দেশাত্মবোধক গান “এই দেশ আমার বাংলাদেশ” পরিবেশন করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। হাঁস প্রতীকে তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট। এটি রুমিন ফারহানার সংসদে দ্বিতীয়বার যোগদান হলেও সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এটাই তার প্রথম সংসদে যাওয়া। একাদশ জাতীয় সংসদে তিনি বিএনপির সংরক্ষিত নারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং সে সময় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। নির্বাচনের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি তার রাজনৈতিক পথচলা, বিএনপির সঙ্গে সম্পর্ক এবং নির্বাচনী অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, এই বিজয় তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেছিলেন এবং নির্বাচনের পুরো সময়জুড়ে দোয়া করেছেন। তিনি বলেন, বিএনপি তাকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তিনি সাধারণ মানুষের কাছাকাছি যেতে পেরেছেন এবং দেশজুড়ে মানুষের দোয়া ও সমর্থন পেয়েছেন। তার মতে, এই অপমান মানুষের মধ্যেও প্রতিফলিত হয়েছিল এবং তারা তাকে সমর্থন দিয়েছে। দল থেকে বহিষ্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সঠিক কারণ তার জানা নেই এবং সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা কেবল সংশ্লিষ্টরাই দিতে পারবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন দলের হয়ে কাজ করলেও কোনো কারণে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। নতুন সংসদ নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবেশ খারাপ না হলেও বড় একটি অংশ নির্বাচনের বাইরে থাকায় সংসদ পূর্ণ প্রতিনিধিত্বমূলক হয়নি। অনেক নতুন সদস্য থাকায় কিছু জায়গায় অভ্যস্ত হতে সময় লাগছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করতে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী ড. আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে বড় ধরনের সংস্কার কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যার প্রতিফলন দেখা যাবে আগামী বাজেটে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) আইএমএফ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। এর আগে আইএমএফ-এর এশিয়া ও প্যাসিফিক অঞ্চলের পরিচালক কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। অর্থমন্ত্রী জানান, ব্যাংকিং খাত, শেয়ার বাজার এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাতের বর্তমান শোচনীয় অবস্থা থেকে উত্তরণে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করা এবং উৎপাদন খরচ কমানোর ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। এছাড়া থমকে যাওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে পুনরায় সচল করতে বাজেটে বিশেষ দিকনির্দেশনা থাকবে। ঋণ কর্মসূচি প্রসঙ্গে ড. আমির খসরু বলেন, আইএমএফ-এর শর্তগুলো নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় যা সম্ভব নয়, তা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। হুট করে সব পরিবর্তন চাপিয়ে না দিয়ে দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় নিজস্ব চিন্তাভাবনা অনুযায়ী সংস্কার করা হবে। জ্বালানি আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ সংস্থানের বিষয়ে ওয়াশিংটনে আরও বিস্তারিত আলোচনা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের historic বিজয়কে স্বীকৃতি জানিয়ে অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্টে প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবটি সংসদ সদস্য অ্যাবিগেইল বয়েডের инициативায় উত্থাপিত হয়। বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. রাশেদুল হক জানান, সোমবার পার্লামেন্টে এই প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, “প্রস্তাবে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন ও এর ফলাফলকে শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।” অ্যাবিগেইল বয়েড প্রস্তাবে ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের ১৩তম সাধারণ নির্বাচনকে উল্লেখ করেন, যা গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্যে একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। প্রস্তাবে বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর এই নির্বাচন ছিল প্রথম। এই নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ঐতিহাসিক দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজয়ী হয়েছে। প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৫৯ শতাংশ ভোটার অংশগ্রহণ করেছেন। এছাড়া ‘জুলাই ন্যাশনাল চার্টার’ বা জুলাই জাতীয় সনদে অনুষ্ঠিত সাংবিধানিক গণভোটের ফলাফলের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ৬০ শতাংশ ভোটার সনদের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। এই সনদে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কারের জন্য ৮০টিরও বেশি প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা নতুন সরকার বাস্তবায়ন করবে। প্রস্তাবের শেষে বিএনপি এবং নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো হয় এবং দেশের জনগণকে তাদের সাহসী সক্রিয়তা ও আন্দোলনের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিএনপিকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে পরিণতি ‘ফ্যাসিবাদীদের মতো’ হতে পারে। সোমবার মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা এলাকায় নিজ বাসভবনে গ্রামবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এসব কথা বলেন তিনি। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনে দেশের সাধারণ মানুষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাঁদের সেই ত্যাগ ও প্রত্যাশা উপেক্ষা করা হলে তা কেউ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়-অত্যাচার করেছে, তাদের পরিণতি দেশের মানুষ দেখেছে—সেই বাস্তবতা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের ট্যাক্সের অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের অপব্যবহার কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বা প্রশাসন জনগণের মালিক নয়, বরং তাদের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। জামায়াত আমীর অভিযোগ করেন, অতীতে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কিছু গোষ্ঠী চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিতে জড়িয়েছে, যা জনগণ আর দেখতে চায় না। এ ধরনের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যক্তিগত বিলাসিতা বা সুবিধা অর্জনের জন্য নয়; বরং জনগণের কল্যাণে ব্যবহার করা উচিত। নিজ দলের অবস্থান তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, তারা কোনো প্লট বা ট্যাক্সমুক্ত গাড়ির সুবিধা গ্রহণ করেননি এবং ভবিষ্যতেও তা করবেন না। নির্বাচন নিয়ে জনমনে থাকা প্রশ্নের কথাও তুলে ধরেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ভোট ও ফলাফলের মধ্যে অসামঞ্জস্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে এবং কিছু বেসরকারি সংস্থাও এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিবর্তন আসবে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।
ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “রাস্তা হতে হবে একদম সিধে। মুই কিন্তু রাডার ফিট করছু। সবদিকে নজর আছে আমার। কে কী করছেন, সব জানি।” সোমবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রায়পুর ইউনিয়নে নেহা নদী পুনর্খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি স্পষ্ট করে জানান, দলের ভেতরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর ক্ষমতায় এলেও নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে শীর্ষ নেতৃত্ব কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এদিন বক্তব্যে ফখরুলের কণ্ঠে ছিল কঠোরতা। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সামান্য বিচ্যুতিও বরদাশত করা হবে না। এমন হলে নেতৃত্ব হারানোর পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। একদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ফেরানোর তাগিদ, অন্যদিকে বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার প্রসঙ্গ টেনে দেশবাসীকে সতর্ক করে বলেন, সামনে কঠিন সময় আসছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়বে এবং এর সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তেল সংকট নিয়ে মানুষের ক্ষোভের বিষয়টি স্বীকার করলেও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানান তিনি। পাম্প ভাঙচুর বা অস্থিরতা সৃষ্টিকারীদের উদ্দেশে বলেন, মব বা উচ্ছৃঙ্খল জনতাকে কঠোরভাবে দমন করা হবে। কোনোভাবেই আইনের বাইরে গিয়ে শক্তি প্রয়োগ করতে দেওয়া হবে না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, কিছু মানুষ ধর্মের কথা বলে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। কোনো দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, বেহেশতের প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ভুল পথে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও ধর্ম নিয়ে ব্যবসা পছন্দ করে না। তিনি বলেন, কাজের মাধ্যমেই মানুষের সেবা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সৎ জীবনযাপন ও হালাল উপার্জনের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব, রাজনৈতিক স্লোগানে নয়। কৃষকদের সহায়তায় দেওয়া প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি জানান, কৃষি ঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে ফ্যামিলি কার্ডের পরিধি বাড়ানো হচ্ছে, যার আওতায় সারা দেশে কয়েক কোটি নারীকে আনা হবে। পাশাপাশি ২০ হাজার খাল খননের মেগা প্রকল্প দ্রুত সম্পন্ন করার কথাও জানান তিনি। এদিনের কর্মসূচিতে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জেলা প্রশাসক ইশরাত ফারজানা ও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, হঠাৎ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়া কিছু ঘটনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, রাজনীতিকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দিতে হবে এবং গণতন্ত্রকেও স্বাভাবিক নিয়মে এগোতে দেওয়া উচিত। বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, “এরা হঠাৎ হঠাৎ বেরিয়ে আসে। এগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কিছু নেই। রাজনীতি চলুক, গণতন্ত্র চলুক – তাদের নিজস্ব গতিতে।” তিনি আরও বলেন, “বিচ্ছিন্ন ঘটনা দেখে রাজনীতিকে থামানো বা গণতন্ত্রকে আটকে দেওয়ার কোনো মানে নেই। রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিকভাবে চলতে দেওয়া উচিত।” স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “এখন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাকিরা যারা আছে, তারা কাজ করবে। আওয়ামী লীগ কিছু চেষ্টা করলেও জনগণ তাদের রিজেক্ট করেছে। তাই লাভ হচ্ছে না।”
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয়ভাবে উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সমালোচনা থাকবেই এবং রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ীই নিয়োগ দেবে। তিনি বলেন, “এটা এমন নয় যে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু নিখুঁতভাবে করা সম্ভব।” বুধবার রাতে গুলশানে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এসব কথা বলেন। দলীয় ব্যক্তিদের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া নিয়ে বিতর্ক প্রসঙ্গে তিনি জানান, যাদেরকে সবচেয়ে উপযুক্ত মনে হয়েছে, তাদেরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তার ভাষায়, দলীয় সরকার হলে কিছুটা দলীয় লোক থাকবেই—এটা স্বাভাবিক বিষয়। সমালোচনা হতে পারে, তবে এ নিয়ে তারা খুব বেশি উদ্বিগ্ন নন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয় ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে তাদের অতীত রেকর্ড খারাপ নয়, বরং ভালো। নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্যরা একাডেমিক ও প্রশাসনিক—দুই ক্ষেত্রেই যোগ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং এতে কোনো সমস্যা দেখেন না বলেও জানান। এদিকে, চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। যদিও নির্দিষ্ট সময় এখনো ঠিক হয়নি, তবে তার মতে, খুব শিগগিরই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য, দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল হয়েছিল ২০১৬ সালে। সরকার গঠনের পর দল ও সরকারের কার্যক্রম এক হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দলের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যদিও ধীরগতিতে। সরকার গঠনে সময় লাগায় দলের অনেক নেতা এখন সরকারে ব্যস্ত, ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে সরকার ও দল—দুটিই আলাদা সত্তা হিসেবে নিজ নিজ কাজ চালিয়ে যাবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জয়লাভের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি শপথ গ্রহণ করে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পর এই নির্বাচিত সরকারের প্রথম ৩০ দিন বা এক মাস পূর্ণ হলো। এই স্বল্প সময়ে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো রাষ্ট্র পরিচালনায় কোন বার্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও জনকল্যাণমুখী পদক্ষেপ সরকার গঠনের পরপরই নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথাগত ১০০ দিনের পরিবর্তে এবার ১৮০ দিনের দীর্ঘমেয়াদী অগ্রাধিকার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই, যার মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার মাসে ২,৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এছাড়া প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ এবং সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালু করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। প্রশাসন ও নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক জনকল্যাণমূলক কাজের পাশাপাশি কিছু বিষয়ে সমালোচনাও পিছু ছাড়ছে না। বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদগুলোতে দলীয় নেতাদের প্রশাসক নিয়োগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আগের আমলের মতোই দলীয় শিক্ষকদের উপাচার্য হিসেবে পদায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ এবং লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনারকে প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া নিয়েও পেশাদার কূটনীতিক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কূটনীতি: ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি পররাষ্ট্রনীতিতে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নরেন্দ্র মোদীর অভিনন্দন এবং শপথ অনুষ্ঠানে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতি একটি ইতিবাচক সূচনার ইঙ্গিত দেয়। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ স্পষ্ট করেছেন যে, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করেই সার্বভৌমত্ব ও সমতার ভিত্তিতে সব রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা ও সংবিধান সংস্কার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কার ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের পক্ষে অনড় অবস্থানে থাকায় গণভোট পরবর্তী এই প্রক্রিয়াটি নতুন মোড় নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, সামাজিক সুরক্ষার পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক হলেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বিনিয়োগ চাঙ্গা করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে এই সরকারের আগামীর আসল পরীক্ষা।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews