২০২৬ সালের ‘হরমুজ সংকট’ বৈশ্বিক অর্থনীতিকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে বিশ্বে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ ব্যাহত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ কৌশলে জ্বালানি সংকট মোকাবিলার চেষ্টা করছে। সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে রয়েছে জাপান। দেশটি তাদের কৌশলগত তেলের মজুত থেকে ইতোমধ্যে ৪৫ দিনের সরবরাহ ছেড়েছে এবং আরও ২০ দিনের রিজার্ভ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প রুটে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ভারত তীব্র তাপপ্রবাহ ও বিদ্যুতের বাড়তি চাহিদার মধ্যে কর কমানো, এলপিজি রেশনিং এবং বিকল্প উৎস থেকে তেল সংগ্রহের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে পাকিস্তান গুরুতর সংকটে পড়েছে। দেশটির জ্বালানির বড় অংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তেলের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে তেল রেশনিংয়ের পরিকল্পনাও করছে সরকার। মালয়েশিয়া বিশাল ভর্তুকির চাপ সামলাতে লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি এবং বায়োডিজেল ব্যবহারে জোর দিচ্ছে। অন্যদিকে নেপাল ও ভুটান জ্বালানি ও রেমিট্যান্স সংকটে পড়েছে; নাগরিকদের বিকল্প জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তুরস্ক জ্বালানি মূল্যবৃদ্ধির ফলে নতুন করে মুদ্রাস্ফীতির চাপে পড়েছে। গৃহস্থালি পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। আফ্রিকায় মরক্কো আমদানি নির্ভরতার কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ঋণের পরিকল্পনা করছে। যুক্তরাষ্ট্র বড় উৎপাদক হলেও অভ্যন্তরীণ বাজারে তেলের দাম বেড়েছে এবং কৌশলগত মজুত কমে এসেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে রপ্তানিতে কর আরোপ করেছে। ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়া মজুত থেকে জ্বালানি ছেড়ে এবং কর কমিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈশ্বিক সংকট থেকে বাংলাদেশ-এর মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কৌশলগত জ্বালানি মজুত বৃদ্ধি, লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকি ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আগাম চুক্তি (হেজিং), এবং কৃষিতে জ্বালানি নির্ভরতা কমানো। বিশ্ব পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে, জ্বালানি নিরাপত্তা এখন শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নয়—এটি জাতীয় নিরাপত্তা ও টিকে থাকার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
আগামী বছর থেকে হজের খরচ আরও কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ চলতি বছরের প্রথম হজ ফ্লাইট উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার চলতি বছরও সীমিত সময়ের মধ্যে হজযাত্রীদের খরচ কমানোর চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “আমরা ১৮ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেছি। অথচ হজের প্রস্তুতি তার আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। তারপরও আমরা প্রায় ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ কমাতে পেরেছি।” তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বছর হজে যেতে ইচ্ছুকদের জন্য ব্যয় আরও কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনায় উন্নতি এনে যাত্রীদের ভোগান্তি কমানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। হজযাত্রীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আপনারা আল্লাহর ঘরে যাচ্ছেন। দেশের শান্তি ও কল্যাণের জন্য দোয়া করবেন। আপনারা সুস্থভাবে ফিরে আসবেন—এই কামনা করি।” অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে রাত ১২টা ২০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর প্রথম হজ ফ্লাইট ৪১৮ জন যাত্রী নিয়ে সৌদি আরব-এর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনারপ্রণয় ভার্মার এর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়। সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। আলোচনায় স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ় হয়েছে। সে সময় ভারত সরকারের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী। এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি পদে মনোনয়নে ভারতের সমর্থনকে তিনি দুই দেশের আন্তরিক সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেন। সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি। অন্যদিকে প্রণয় ভার্মা বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিনিধিদল বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়। এ সময় হাইকমিশনার স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান এবং ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন। এছাড়া ভারতীয় হাইকমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। রোববার ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশমুখী জাহাজগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়টি বিবেচনা করতে রাষ্ট্রদূতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বিষয় ছাড়াও মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে পারস্য উপসাগর অঞ্চলের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষই আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে তার দায়িত্ব পালনে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন। এর আগে ১ এপ্রিল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশের ছয়টি জ্বালানিবাহী জাহাজের নিরাপদ চলাচলের অনুমোদন দিয়েছে তেহরান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যেন কোনো ধরনের দুর্ভোগে না পড়ে, সে বিষয়ে ইরান সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যেখানে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৩০টি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করত, সেখানে এখন তা কমে দিনে মাত্র ৭ থেকে ১১টির মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটাররা এখন দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিউক্যাসলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। মূল কারণ শুধু গাজা নয়সাধারণভাবে মনে করা হয়, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণেই মুসলিমরা অসন্তুষ্ট। তবে অভিভাবক পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে আরও গভীর কিছু কারণ রয়েছে। নিউক্যাসলের ভোটাররা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে লেবার পার্টি এই অঞ্চল শাসন করলেও স্থানীয় সেবার মান কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এছাড়া ডানপন্থীদের উত্থানের মোকাবিলায় লেবার নেতৃত্বের 'উদাসীন' ভূমিকায় অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটার হতাশ। বাংলাদেশিদের মনে ক্ষোভপ্রতিবেদনে হালিমা বেগম নামে একজন ভোটারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে লেবার পার্টি করতেন। তিনি জানান, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশিদের "ফেরত পাঠানোর" ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। হালিমা বলেন, "আমি নিজেকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ এবং মুসলিম—সব পরিচয়েই গর্বিত মনে করি। কিন্তু লেবার পার্টির নেতার ওই মন্তব্য আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।" কেন গ্রিন পার্টি? মুসলিম ভোটারদের গ্রিন পার্টির প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির স্পষ্ট অবস্থান। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে গ্রিন পার্টির কড়া অবস্থান ভোটারদের আশ্বস্ত করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় থাকা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বংশোদ্ভূত মানুষরা গ্রিন পার্টির পরিবেশবাদী নীতির সাথে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন। লেবার পার্টির জন্য অশনি সংকেতএই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিউক্যাসলেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহাম, লেস্টার এবং পূর্ব লন্ডনের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও লেবার পার্টির ভোট ব্যাংক হুমকির মুখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এখন তাদের নিজের আসন নিয়ে শঙ্কিত।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনই বলে দেবে, এই পরিবর্তন কি কেবল প্রতিবাদী ভোট নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির এক স্থায়ী মেরুকরণ।
উত্তর আরব সাগরে এক ভয়াবহ বিপদ থেকে ১৮ জন নাবিককে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পাকিস্তানের নৌবাহিনী। যান্ত্রিক ত্রুটি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মুখে পড়া বাণিজ্যিক জাহাজ 'গোল্ড অটাম' (GOLD AUTUMN) থেকে এই নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। অত্যন্ত আনন্দের বিষয় হলো, উদ্ধারকৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকও রয়েছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর জনসংযোগ শাখা জানিয়েছে, জাহাজটি থেকে জরুরি সংকেত পাওয়ার পরপরই নৌবাহিনীর উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। উদ্ধার করা নাবিকদের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও চীন, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম এবং ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক রয়েছেন। উদ্ধারকৃত ১৮ জন নাবিককেই ইতিমধ্যে করাচি বন্দরে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং নিজ নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার (প্রত্যাবাসন) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পাকিস্তানি নৌবাহিনীর এমন দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত-এ আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই তিনি নয়াদিল্লি-তে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাকে ফেরত চাইলেও দিল্লি তা আমলে নেয়নি। তবে এই বিষয়টি এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত সরকার তাকে কাতারসহ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বরং ভারতেই থাকতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনে সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে আসছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অবস্থানের সঙ্গে হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের ভারতে অবস্থান একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এখন দ্বৈত সংকটে পড়েছে। একদিকে তারা বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সাবেক শাসককে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান কূটনৈতিকভাবে জটিলতা তৈরি করছে। কিছু সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে তা এগোয়নি। অনেকের মতে, দিল্লিতে অবস্থান করাকে তিনি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাজনৈতিক বা আইনি ঝুঁকি তুলনামূলক কম। তবে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। একদিকে তারা গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিতর্কিত এক নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ছে। এতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমদিকে হয়তো হাসিনাকে একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল দিল্লি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কৌশলই এখন ভারতের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে ফেরত পাঠানো বা অন্যত্র পাঠানো—দুটিই এখন ভারতের জন্য জটিল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।
দেশের দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৫ (SEA-ME-WE-5)-এর রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে টানা প্রায় ৮০ ঘণ্টা ইন্টারনেটের গতি ধীর হতে পারে। এ সময় ব্যবহারকারীরা আংশিক সেবা বিঘ্ন বা ধীরগতির সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৮ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি)। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের উদ্যোগে কুয়াকাটায় অবস্থিত এই কেবলে রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম ৯ এপ্রিল রাত ১০টা থেকে শুরু হয়ে ১৩ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত চলবে। এই সময় ‘ট্রাফিক অ্যাফেক্টিং’ কাজ চলায় সি-মি-উই-৫ কেবলের মাধ্যমে পরিচালিত আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ—বিশেষ করে সিঙ্গাপুরমুখী ডেটা ট্রান্সমিশন—সাময়িকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। তবে বিকল্প হিসেবে কক্সবাজারে স্থাপিত দেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই-৪ (SEA-ME-WE-4) সচল থাকবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এর মাধ্যমে আংশিকভাবে ইন্টারনেট সেবা স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করা হবে। বিএসসিপিএলসি জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে দ্রুত স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়—ফেনী সীমান্ত থেকে সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ১০০ ভরি স্বর্ণসহ আটক করা হয়েছে। ফটোকার্ডটি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের নামে প্রচার করা হয়, যা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ দাবি সঠিক নয়। ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা রিউমর স্ক্যানার জানায়, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করা হলেও তা ফেনী সীমান্ত থেকে নয় এবং তার কাছে কোনো স্বর্ণ পাওয়া যায়নি। তথ্য অনুযায়ী, গত ৭ এপ্রিল রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, ভাইরাল হওয়া ফটোকার্ডটি Channel 24-এর নামে তৈরি করা হলেও সেটি বিকৃত। মূল ফটোকার্ডের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, প্রচারিত ছবিতে পুলিশ সদস্যদের হাতে স্বর্ণের বারভর্তি একটি ব্যাগ যুক্ত করা হয়েছে, যা আসল ছবিতে ছিল না। বিষয়টি যাচাই করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করা হলে দেখা যায়, ছবিটি কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলের আসল পোস্ট ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নিশ্চিত হওয়া যায়, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ধানমন্ডির একটি বাসা থেকেই আটক করা হয়েছে। পরে আদালতে তাকে একটি মামলায় হাজির করা হলে রিমান্ড ও জামিন—উভয় আবেদনই নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে ফেনী সীমান্ত থেকে স্বর্ণসহ আটক করার যে দাবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো হয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশই একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর। বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও জোরদার করার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে। এদিকে, সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এই সফরে অংশ নিয়েছেন।
এক নিমেষেই শেষ হয়ে গেল একটি সাজানো গোছানো পরিবার। সোমবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের আপস্টেট অঞ্চলে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের বাবা-ছেলেসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘড়ির কাঁটায় তখন সন্ধ্যা ৭টা; কলাম্বিয়া কাউন্টির ক্ল্যাভারাক এলাকায় স্টেট রুট ৯এইচ-এ যখন টয়োটা প্রিয়াস ও টয়োটা ক্রাউনের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়, তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি এই যাত্রাটিই হবে তাদের শেষ যাত্রা। ২৯ বছর বয়সী নাজমুল এম. রুবেল তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিউইয়র্ক সিটি থেকে আলবানির দিকে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ অজ্ঞাত কারণে তাদের গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গাড়ির সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক নাজমুল রুবেল, তার ৬০ বছর বয়সী বাবা মোহাম্মদ হিরামন এবং ২৫ বছর বয়সী পারিবারিক বন্ধু ফাহিম হালিম। অন্য গাড়ির আরোহী জুলিয়া রিচি (৬২) নামের এক নারীও এই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গাড়িতে থাকা ৩৩ বছর বয়সী রত্না আক্তার বর্তমানে হাসপাতালে স্থিতিশীল থাকলেও, সবার চোখ এখন মাত্র এক বছর বয়সী শিশু ইকরা আয়াতের দিকে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হেলিকপ্টারে করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আইসিইউতে যমে-মানুষে টানাটানি চলছে নিষ্পাপ এই শিশুটির। পরিবারের ছোট ছেলে মোহাম্মদ আজমুল রাব্বি কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, একটি ফোন কলেই তাদের পৃথিবী ওলটপালট হয়ে গেছে। এই শোক সহ্য করার মতো শক্তি তাদের নেই। কলাম্বিয়া কাউন্টি শেরিফ দপ্তর জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে নিবিড় তদন্ত চলছে। নিহতদের জানাজা আগামী ৮ এপ্রিল বুধবার জোহরের নামাজের পর ব্রঙ্কসের বাইতুল আমান ইসলামিক সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েছেন সাকিব আল হাসান। তাঁর ক্রিকেটে ফেরা ও রাজনীতিতে সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। গত ৫ এপ্রিল দ্য ডেইলি স্টার-এ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সাকিব তাঁর ক্রিকেটে ফেরা এবং রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ সম্পৃক্ততা নিয়ে কথা বলেন। বিশেষ করে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনার জন্ম দেয়। এই পরিস্থিতিতে ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেন সাকিব। পোস্টে তিনি লেখেন, সাম্প্রতিক বক্তব্য নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি পরিষ্কার করতে চান—এই মুহূর্তে তাঁর পুরো মনোযোগ শুধুই ক্রিকেটে। ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে জাতীয় দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিতে চান এবং সুযোগ পেলে দেশকে আরও ভালো পারফরম্যান্স উপহার দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর। রাজনীতি প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে রাজনীতির গুরুত্ব রয়েছে। তবে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করার আগে তিনি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রমে মনোযোগ দিতে চান না। ভবিষ্যতে দেশের জন্য কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটি শুধু রাজনীতির মাধ্যমেই করতে হবে—এমনটা নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পোস্টের শেষাংশে তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া ও ভালোবাসা কামনা করে বলেন, লাল-সবুজের জার্সিতে হাসিমুখে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষ করতে চান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বর্তমান সংসদ সদস্যদের ঋণের পাহাড় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার (৬ এপ্রিল) সংসদের প্রথম অধিবেশনের নবম দিনে তিনি জানান, বর্তমান সংসদ সদস্যদের মোট ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ১১৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা খেলাপি ঋণ হওয়ার কথা থাকলেও আদালতের নির্দেশনার কারণে তা খেলাপি হিসেবে দেখানো হয়নি। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই তথ্য সংসদে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে মন্ত্রী জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য এবং তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে বিভিন্ন ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানিতে এই বিশাল অঙ্কের ঋণ রয়েছে। অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আরও স্পষ্ট করেন যে, মোট ঋণের একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৩ হাজার ৩৩০ কোটি ৮ লাখ টাকা প্রকৃত অর্থে খেলাপি। তবে উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ বা বিশেষ নির্দেশনার কারণে বর্তমানে এগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘খেলাপি’ হিসেবে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। এই আইনি মারপ্যাঁচের কারণে বিশাল অঙ্কের অনাদায়ী ঋণ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সদস্যরা তাদের পদ ও সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারছেন। সংসদে অর্থমন্ত্রীর এই তথ্য প্রদানের পর রাজনৈতিক ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে যেখানে সাধারণ মানুষ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সামান্য ঋণের দায়ে হয়রানির শিকার হন, সেখানে জনপ্রতিনিধিদের হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ এবং আইনি প্রক্রিয়ায় খেলাপি তকমা এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে।
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌযান ডুবে অন্তত ৭০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বাংলাদেশিসহ ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে ইতালির কোস্টগার্ড। এ ছাড়া দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ইতালির কোস্টগার্ড ও ইতালীয় এনজিও মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান-এর বরাতে গত রোববার এ তথ্য জানিয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩২ জনই পুরুষ এবং তারা বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও মিসরের নাগরিক। জীবিতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, প্রতিকূল আবহাওয়া ও উত্তাল সাগরের ঢেউয়ের কারণে নৌযানটি ডুবে যায়। জার্মান সংস্থা সি-ওয়াচ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর তারা একটি পর্যবেক্ষণ বিমান পাঠায়। সেই বিমানের ধারণ করা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, উল্টে যাওয়া কাঠের নৌযানের তলদেশে আশ্রয় নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছেন কয়েকজন অভিবাসনপ্রত্যাশী। এনজিও সূত্রে জানা যায়, নৌযানটি লিবিয়ার তাজাউরা উপকূল থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। এতে মোট ১০৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে নারী, শিশু ও পুরুষ সবাই ছিলেন। নৌযানটি লিবিয়ার নিয়ন্ত্রিত সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ জোনে, বৌরি অয়েল ফিল্ডের উত্তর-পূর্বে ডুবে যায়। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তি ও মরদেহগুলো ইতালির দক্ষিণাঞ্চলের দ্বীপ ল্যাম্পেদুসা-এ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। এক্স (সাবেক টুইটার)-এ দেওয়া বার্তায় মেডিটেরেনিয়া সেভিং হিউম্যান নিখোঁজদের প্রতি শোক প্রকাশ করে এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রতি নিরাপদ ও মানবিক অভিবাসননীতি প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে। উল্লেখ্য, ইউরোপে প্রবেশের অন্যতম প্রধান রুট হিসেবে ভূমধ্যসাগর দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত এই সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে অন্তত ৭২৫ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাক বাজারে চীনকে পেছনে ফেলে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। তবে এই অর্জনের মধ্যেও রপ্তানিতে কিছুটা পতন লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেলস (অটেক্সা) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি—এই দুই মাসে দেশটি মোট ১ হাজার ১৭৩ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। এই সময়ে ভিয়েতনাম ২৭০ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি করে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ১৩৭ কোটি ডলারের রপ্তানি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। যদিও গত বছরের একই সময়ে বাংলাদেশের রপ্তানি ছিল ১৫০ কোটি ডলার, ফলে এবার রপ্তানি কমেছে প্রায় সাড়ে ৮ শতাংশ। চীনের ক্ষেত্রে দেখা গেছে বড় ধরনের পতন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১১৭ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যেখানে আগের বছর একই সময়ে রপ্তানি ছিল ২৭৭ কোটি ডলার। ফলে তাদের রপ্তানি কমেছে প্রায় ৫৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া ৮১ কোটি ডলার রপ্তানি করে চতুর্থ এবং ভারত ৭২ কোটি ডলার রপ্তানি করে পঞ্চম স্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার রপ্তানি সামান্য বেড়েছে, তবে ভারতের রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক নীতির প্রভাবেই বৈশ্বিক পোশাক রপ্তানির অবস্থানে এই পরিবর্তন এসেছে। চীনের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ফলে অনেক ক্রেতা বিকল্প বাজার হিসেবে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের দিকে ঝুঁকেছেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রবণতা পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। এদিকে পাল্টা শুল্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্য সমঝোতার ফলে শুল্কহার কিছুটা কমানো হলেও নতুন করে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তে বাজারে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের চেতনা ও 'জুলাই সনদ'কে সংবিধানে স্থায়ী রূপ দিতে সংস্কার নয় বরং প্রয়োজনীয় সংশোধনীর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় অংশ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে সম্মান জানিয়ে 'জুলাই ঘোষণা'র মূল নির্যাসকে সংবিধানের চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও উচ্চতা অন্য কিছুর সাথে তুলনীয় নয়। সালাউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেন, সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বিগত সরকার বড় ধরনের 'লেজিসলেটিভ ফ্রড' বা আইনি প্রতারণা করেছে। তিনি বলেন, হাইকোর্ট ইতিমধ্যে ওই সংশোধনীর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। এখন এই সার্বভৌম সংসদ ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে চাপিয়ে দেওয়া ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা বাতিল করে প্রকৃত ইতিহাস পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬শে মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং ২৭শে মার্চ কালুরঘাট থেকে 'প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট' হিসেবে তা প্রচার করেন—এটিই প্রকৃত ইতিহাস। সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত 'মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস' নীতিটি সংবিধানে পুনর্বহাল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। এছাড়া তিনি জানান, রাষ্ট্রক্ষমতায় জনগণের প্রকৃত মালিকানা নিশ্চিত করতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি 'উচ্চকক্ষ' প্রবর্তনের ম্যান্ডেট রয়েছে, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে। সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে দেশ চলবে না।" তিনি সরকারি, বিরোধী ও স্বতন্ত্র সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের সংবিধানকে যুগোপযোগী করার আহ্বান জানান।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা, আহত ও চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। এই ঘোষণা দিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। শনিবার তিনি সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্ত কারখানা পরিদর্শন করেন এবং অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে খোঁজখবর নেন। নিহত ও আহত শ্রমিকদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক প্রকাশ করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে তিনি জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের শয্যাপাশে সময় অতিবাহিত করেন এবং তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন। মন্ত্রী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আহত শ্রমিকদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের সহায়তায় বিশেষ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশনের তহবিল থেকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ২ লাখ টাকা, আহত ও চিকিৎসাধীন শ্রমিকদের সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা সহায়তা দেওয়া হবে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার জন্য মন্ত্রী ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কমিটিকে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা প্রশাসককেও পৃথক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, “শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কল্যাণে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে। কোনো শ্রমিকের জীবন যেন অবহেলার কারণে বিপন্ন না হয়, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছি।”
লবঙ্গ কাবাব অ্যান্ড ক্যাফেতে নান-মাংসের স্বাদ নিতে নিতেই যেন বদলে গেল দেশের ফুটবলের দৃশ্যপট। ফিলাডেলফিয়ার একটি স্থানীয় খাবারের দোকানে বসে কুইন সুলিভান যখন নিজের নানীর কথা বলছিলেন, কেউ কি ভেবেছিল সেই গল্পের সূত্র ধরেই বাংলাদেশের ঘরে আসবে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা? মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারে সেই আইকনিক 'পানেনকা শট'। বল জালে জড়াতেই উল্লাসে ফেটে পড়ল গ্যালারির হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি। আর সেই ঐতিহাসিক গোলের নায়ক রোনান সুলিভান, যিনি মাত্র কয়েক মাস আগেও জানতেন না যে তিনি একদিন লাল-সবুজের জার্সি গায়ে মাঠ মাতাবেন। আমেরিকা থেকে বড় ভাই কুইন সুলিভানের চিৎকার— ‘চিপ ইট!’ যেন সমুদ্র পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল রোনানের কানে। ফুটবল সুলিভান ভাইদের রক্তে। বাবা ব্রেন্ডান সুলিভান খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার লিগে, মা হেইকে ছিলেন ডিভশন ওয়ান ফুটবলের অধিনায়ক। এমনকি তাদের বড় ভাই কুইন এখন খেলছেন লিওনেল মেসির সাথে একই লিগে, যুক্তরাষ্ট্রের মেজর সকার লিগের (এমএলএস) তারকা তিনি। কিন্তু তাদের নাড়ির টান যে বাংলাদেশে! তাদের নানী সুলতানা আলম ছিলেন একজন গর্বিত মুক্তিযোদ্ধা, যিনি ঢাকা থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছিলেন পেনসিলভ্যানিয়ায়। একটি অনলাইন পেজ 'সেভ বাংলাদেশ ফুটবল' প্রথম সেই খাবারের ভিডিও থেকে সুলিভানদের বংশসূত্র আবিষ্কার করে। এরপর যোগাযোগ হয় বাফুফের সাথে। ফলশ্রুতিতে রোনান ও ডেকলান সুলিভান এখন বাংলাদেশের সম্পদ। গোলরক্ষক মাহিনের বীরত্ব আর রোনানের সেই শৈল্পিক ফিনিশিংয়ে আজ দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট বাংলাদেশের মাথায়। সুলিভান ভাইদের এই গল্প কেবল ফুটবলের নয়, এ যেন শিকড় খুঁজে পাওয়ার এক অনন্য উপাখ্যান।
ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে বিসিসিআই-এর কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় গণমাধ্যম ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ক্রিকেট নিয়ে আরও বাস্তবমুখী অবস্থানে ফিরতে চাইছে বিসিবি। বিসিসিআই-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: ১. স্থগিত সিরিজ ফেরানোর প্রস্তাব: গত সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল (৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি), যা বিসিসিআই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। বিসিবি এখন সেই সিরিজটি দ্রুত আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২. ভবিষ্যৎ সফর নিয়ে আলোচনা: আগামী বছর ভারতের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে চায় বিসিবি। ৩. এশিয়া কাপের নিরাপত্তা: আগামী বছর এশিয়া কাপের আয়োজক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন বিসিবির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিসিবি বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও বিসিসিআই এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভারতীয় বোর্ড জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি তাদের সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভর করছে। সরকারের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত বিসিসিআই কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। উল্লেখ্য, আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি বাতিল এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে হাইব্রিড মডেলের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এদিকে মাঠের ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৭ তারিখ প্রথম ওয়ানডের মাধ্যমে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
দেশে চলমান জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে ব্যাংক লেনদেনের সময়সূচিতে পরিবর্তন এনেছে সরকার। আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে দেশের সব ব্যাংক সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। বৃহস্পতিবার রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি অফিসগুলোর কার্যক্রমও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হবে। রোববার থেকে সব অফিস সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে দোকানপাট ও শপিং মল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ে বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা না করার নির্দেশনাও জারি করেছে সরকার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সময়সূচি বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে রোববার পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সরকারের এই পদক্ষেপ জ্বালানি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
দেশে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এটি জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এই তথ্য তিনি উপস্থাপন করেন। প্রতিমন্ত্রীর বরাতে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। শ্রেণিভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রথম শ্রেণিতে ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন কর্মরত থাকলেও শূন্য পদ রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি। দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জনের বিপরীতে শূন্য পদ ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি। তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন কর্মরত, কিন্তু শূন্য পদ ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি। চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন কর্মরত এবং শূন্য পদ ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। অন্যান্য ক্যাটাগরিতে ৭ হাজার ৯৮০ জন কর্মরত থাকলেও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, অনারারি, নির্দিষ্ট বেতনভুক্ত এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীরা বিভিন্ন শ্রেণিতে থাকলেও তারা সরকারি বেতন স্কেল অনুসরণ করেন না। সংসদ সদস্য মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম শূন্য পদ পূরণের সময়সীমা জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী জানান, শূন্য পদ পূরণ একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসারে পদগুলো পূরণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews