ভারত

লোকসভায় সরকারের দাবি খণ্ডন করেছেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ অন্যান্য বিরোধী সংসদ সদস্যরা
মোদীর বড় ধাক্কা: ভারতের লোকসভায় নারী সংরক্ষণ বিল নাকচ

ভারতের পার্লামেন্টে বড় ধরনের রাজনৈতিক পরাজয়ের মুখে পড়ল নরেন্দ্র মোদী সরকার। লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের লক্ষ্যে আনা 'সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬' শুক্রবার রাতে ভোটাভুটিতে পরাজিত হয়েছে। বিলটি পাসের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোট। শুক্রবার রাতে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে বিলের পক্ষে পড়ে ২৯৮টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ২৩০টি ভোট। সংবিধান সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় জনসমর্থন না থাকায় বিলটি বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে বাকি দুটি সংশোধনী বিল নিয়েও আর অগ্রসর না হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিলটি নিয়ে সংসদে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। সরকারের প্রস্তাব ছিল, ২০২৬ সালের পরবর্তী নির্বাচনী আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা 'ডিলিমিটেশন'-এর পরেই এই সংরক্ষণ কার্যকর হবে। বিরোধী দলগুলো—বিশেষ করে কংগ্রেস, তৃণমূল এবং ডিএমকে—এর তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের দাবি ছিল, বর্তমান ৫৪৩টি আসনেই সরাসরি ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দিতে হবে, আসন সংখ্যা বাড়িয়ে বা সীমানা নির্ধারণের অজুহাতে নয়। বিরোধী ও সরকারি শিবিরের যুক্তি: অমিত শাহ: কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিরোধীরা নারী ক্ষমতায়নের বিপক্ষে এবং তারা নানা অজুহাতে ওবিসি ও তফশীলি জাতি-উপজাতির অধিকার হরণ করতে চাইছে। তিনি দক্ষিণ ভারতের আসন কমার আশঙ্কাকে 'ভিত্তিহীন আখ্যান' বলে উড়িয়ে দেন। রাহুল গান্ধী: বিরোধী দলনেতা এই বিলটিকে 'দেশবিরোধী' আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি আসলে নারী সংরক্ষণ নয় বরং দেশের নির্বাচনী মানচিত্র বদলে দেওয়ার একটি রাজনৈতিক কৌশল। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও কানিমোঝি: প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বিশেষ অধিবেশন ডাকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অন্যদিকে ডিএমকে সাংসদ কানিমোঝি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান যে, ডিলিমিটেশন হলে উত্তর প্রদেশ ও বিহার লাভবান হলেও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল দক্ষিণ ভারতীয় রাজ্যগুলো রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে। বর্তমানে ভারতে নির্বাচনী আসন সংখ্যা ৫৪৩-এ সীমাবদ্ধ। সরকারের বিলে এটি বাড়িয়ে ৮৫০ করার প্রস্তাব ছিল। বিরোধীদের আপত্তির মুখে এবং প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় আপাতত ঝুলেই রইল ভারতের নারীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই রাজনৈতিক অধিকারের বিষয়টি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল
শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ অনুরোধ পরীক্ষা করে দেখছে ভারত: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য (প্রত্যর্পণ) আনুষ্ঠানিক অনুরোধটি পরীক্ষা করে দেখছে ভারত সরকার। শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল তার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন, আইনি ও অভ্যন্তরীণ বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি উঠছে বাংলাদেশে। আজ (১৭ এপ্রিল, ২০২৬) সংবাদ সম্মেলনে রণধীর জয়সওয়াল বলেন, "আমরা সমস্ত বিষয়গুলো খুব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর অধীনেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।" তবে এই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘসূত্রতা বা টানাপোড়েন থাকলেও বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন বা নতুন সরকারের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী দিল্লি। জয়সওয়াল জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বর্তমান সরকারের সাথে গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। বাণিজ্য, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলোতে দুই দেশ যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ। একদিকে যেমন আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে, অন্যদিকে রয়েছে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রতার প্রশ্ন। তবে ভারত স্পষ্ট করেছে যে, তারা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংকট সমাধান করতে চায়। শীঘ্রই দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ নিয়ে সরকারি পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রুপির পতন: বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধাপ নামল ভারত

বিশ্ব অর্থনীতিতে বড়সড় রদবদল। পঞ্চম স্থান থেকে এক ধাপ পিছিয়ে বর্তমানে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশে পরিণত হয়েছে ভারত। মূলত ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার (রুপি) ক্রমাগত দরপতন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জিডিপি সংশোধনের প্রভাবেই এই অবনমন বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা ভাণ্ডার (আইএমএফ)-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের অর্থনীতির আকার ৩.৯২ ট্রিলিয়ন ডলার। এই তালিকায় ভারতের সামনে রয়েছে আমেরিকা, চীন, জার্মানি, ব্রিটেন এবং জাপান। তালিকার শীর্ষে থাকা আমেরিকার অর্থনীতির আকার ৩০.৮ ট্রিলিয়ন ডলার এবং দ্বিতীয় স্থানে থাকা চীনের ১৯.৬ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৪ সালে ব্রিটেনকে টপকে ভারত পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছিল। তখন ভারতের অর্থনীতির আকার ছিল ৩.৫ ট্রিলিয়ন ডলার। বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল, ২০২৭ সালের মধ্যেই ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হবে। তবে সাম্প্রতিক এই পতন সেই লক্ষ্যমাত্রায় সাময়িক ধাক্কা দিল বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভারত এই ষষ্ঠ অবস্থানেই থাকতে পারে। তবে আশার কথা হলো, ২০২৭ সালে পুনরায় ব্রিটেনকে এবং ২০২৮ সালের মধ্যে জাপানকে টপকে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে ভারতের। আইএমএফের রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, র‍্যাঙ্কিংয়ে সামান্য পিছিয়ে গেলেও ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধিষ্ণু প্রধান অর্থনীতি হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। এমনকি মাঝারি মেয়াদেও ভারত ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতের অর্থনীতির আকার ৬.১৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে, যা দেশটিকে জার্মানির খুব কাছাকাছি নিয়ে আসবে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী শীর্ষ তিনে পৌঁছানোর দৌড়ে ভারত এখনও টিকে থাকলেও, ৩৯ ট্রিলিয়ন ডলারের বিশাল অর্থনীতি নিয়ে আমেরিকা নিজের শীর্ষস্থান ধরে রাখবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
কাশিশ মেথওয়ানি
গ্ল্যামার জগত মাতিয়ে এবার ভারতীয় সেনার লেফটেন্যান্ট হলেন 'মিস ইন্ডিয়া' কাশিশ

গ্ল্যামার জগতের চাকচিক্য আর সামরিক জীবনের কঠিন শৃঙ্খলা— এই দুই বিপরীত মেরুকে এক সুতোয় বেঁধে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন কাশিশ মেথওয়ানি। ২০২৩ সালে ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়া’র মুকুট জয়ী এই সুন্দরী এখন আর কেবল র‍্যাম্পের মডেল নন, তিনি এখন ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন গর্বিত লেফটেন্যান্ট। ভারতের পুণের সাবিত্রীবাই ফুলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বায়োটেকনোলজিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী কাশিশের স্বপ্ন ছিল আকাশছোঁয়া। উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি শৈশব থেকেই তাঁর মনে ছিল দেশসেবার অদম্য বাসনা। ২০২৩ সালে সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় সাফল্যের শীর্ষবিন্দু ছোঁয়ার পর তিনি থেমে থাকেননি। নিজের মেধা ও কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে যোগ দেন কম্বাইন্ড ডিফেন্স সার্ভিসেস (সিডিএস) পরীক্ষায়। সেখানেও সফলতার স্বাক্ষর রাখেন তিনি, অর্জন করেন সর্বভারতীয় দ্বিতীয় র‍্যাঙ্ক। চেন্নাইয়ের অফিসার্স ট্রেনিং একাডেমিতে টানা ১১ মাসের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে গত ৬ সেপ্টেম্বর পাসিং আউট প্যারেডের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে লেফটেন্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন তিনি। কাশিশ প্রমাণ করেছেন যে, প্রবল ইচ্ছা আর একাগ্রতা থাকলে একই অঙ্গে রূপ আর শৌর্যের মিলন ঘটানো সম্ভব। উল্লেখ্য, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকেও কাশিশ পিছিয়ে নেই। ২০২০ সালের করোনা মহামারির সময়ে তিনি ‘ক্রিটিক্যাল কজ’ নামক একটি উদ্যোগ শুরু করেছিলেন, যার লক্ষ্য ছিল রক্তদান ও অঙ্গদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। র‍্যাম্পের মোহময়ী জগত ছেড়ে দেশের সীমান্ত রক্ষার এই কঠিন পথ বেছে নেওয়ায় সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসায় ভাসছেন এই নতুন সেনাসদস্য।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
কলকাতার ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা নাখোদা মসজিদ—যার পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে ব্যস্ত শহরের জীবন।
পশ্চিমবঙ্গে ৯৩ লাখ মানুষের ভোটাধিকার হরণ, নিশানায় মুসলিমরা!

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে এক নজিরবিহীন সংকটের মুখে পড়েছে রাজ্যের কয়েক মিলিয়ন মানুষ। ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ইসিআই) বিতর্কিত 'বিশেষ নিবিড় সংশোধন' (SIR) প্রক্রিয়ার পর রাজ্যের প্রায় ৯৩ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই বিশাল সংখ্যক বাদ পড়া ভোটারের মধ্যে একটি বড় অংশই মুসলিম ধর্মাবলম্বী। আল-জাজিরার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, পশ্চিমবঙ্গের ৭ কোটি ৬০ লাখ ভোটারের মধ্যে প্রায় ১২ শতাংশের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে 'অনুপস্থিত' বা 'মৃত' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, আর বাকি ৩০ লাখের ভাগ্য ঝুলে আছে বিশেষ ট্রাইব্যুনালের রায়ের ওপর। তবে ভোটের আগে এই বিশাল সংখ্যক মামলার শুনানি শেষ হওয়া প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগণা এবং মালদহের মতো মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোতে ভোটার বাতিলের হার সবচেয়ে বেশি। মুর্শিদাবাদে ৪ লাখ ৬০ হাজার, উত্তর ২৪ পরগণায় ৩ লাখ ৩০ হাজার এবং মালদহে ২ লাখ ৪০ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নন্দীগ্রামের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে ৯৫ শতাংশই মুসলিম। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নথিপত্রে নামের বানানে সামান্য অমিল বা ডাকনাম ব্যবহারের কারণে যুগ যুগ ধরে ভোট দিয়ে আসা মানুষগুলো আজ রাষ্ট্রহীন হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন। ৭৩ বছর বয়সী নবীজান মন্ডল জানান, গত ৫০ বছর ধরে ভোট দিলেও এবার তার নাম তালিকায় নেই। আধার কার্ডে 'নবীরুল' আর ভোটার কার্ডে 'নবীজান' থাকার অজুহাতে তাকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই প্রক্রিয়াকে বিজেপির একটি 'পরিকল্পিত চক্রান্ত' হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গণতান্ত্রিকভাবে জিততে না পেরে বিজেপি নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে বিরোধী ভোট ব্যাংক ধ্বংস করছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতাদের দাবি, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মূলত 'বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী' ও 'রোহিঙ্গাদের' ভোটার তালিকা থেকে ছাঁটাই করা হচ্ছে। নির্বাচন বিশ্লেষক যোগেন্দ্র যাদবের মতে, এই প্রক্রিয়া নারী ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে বিয়ের পর নারীদের নাম ও ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে তারা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ভোটের মুখে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের অধিকার হারানোর এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে এক অস্থির পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ন্যায়বিচারের আশায় হাজার হাজার মানুষ এখন ট্রাইব্যুনালের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, যদিও তাদের ভোট দেওয়ার স্বপ্ন এখন অনেকটাই ফিকে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ
স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ

  বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সংসদীয় কূটনীতির গুরুত্ব বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনারপ্রণয় ভার্মার এর সৌজন্য সাক্ষাতে এ বিষয়টি গুরুত্ব পায়।   সোমবার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধন, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।   আলোচনায় স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি দৃঢ় হয়েছে। সে সময় ভারত সরকারের সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক দিক থেকে ভারত বাংলাদেশের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী।   এছাড়া জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে সভাপতি পদে মনোনয়নে ভারতের সমর্থনকে তিনি দুই দেশের আন্তরিক সম্পর্কের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেন। সংসদীয় কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও জানান তিনি।   অন্যদিকে প্রণয় ভার্মা বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিনিধিদল বিনিময়ের মাধ্যমে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদার হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।   বৈঠকে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।   এ সময় হাইকমিশনার স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে অভিনন্দন জানান এবং ভারতের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা স্মারক উপহার প্রদান করেন। এছাড়া ভারতীয় হাইকমিশন ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
পরিকল্পিতভাবে বাদ দেয়া হচ্ছে মুসলিম ভোটারদের, নির্বাচনে জিততে ধর্মীয় মেরুকরণই ভরসা মোদির

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো ভোটাধিকার। কিন্তু বর্তমানে ভারতে এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পরিচয়হীন করে তোলার অভিযোগ তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি 'কাউন্টার কারেন্টস'-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রান্তিকীকরণের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ভোটার তালিকা থেকে সুপরিকল্পিতভাবে নাম মুছে ফেলা কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এটি হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি গভীর রাজনৈতিক কৌশল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে মুসলিম নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিবন্ধের লেখক একে 'Identity Erasure' বা পরিচয় মুছে ফেলার রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের স্বীকৃতি হারানো। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেবল ভোট দেওয়ার অধিকারই হারাচ্ছেন না, বরং রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রক্রিয়াটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজ ভূমিতেই পরবাসী করে তুলছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে অনেক সময় স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়। তথাকথিত 'ডি-ভোটার' (Doubtful Voter) বা 'সন্দেহভাজন ভোটার' তকমা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে আইনি লড়াইয়ের গোলকধাঁধায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাচ্ছে এবং তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ছিটকে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই প্রবণতাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যখন কোনো রাষ্ট্রের একটি বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে নাগরিক অধিকার হরণের চেষ্টা করা হয়, তখন তা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে এবং উগ্রবাদের পথ প্রশস্ত করে। গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাধিক্যের শাসন নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার নাম। ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তনের মাধ্যমে যে প্রান্তিকীকরণের খেলা শুরু হয়েছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। নাগরিকের পরিচয় এবং ভোটাধিকার রক্ষা করা না গেলে প্রকৃত গণতন্ত্র অধরাই থেকে যাবে। তথ্যসূত্র: কাউন্টার কারেন্টস ডট অর্গ।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ভারতের মাটির নিচে ‘স্বর্ণের পাহাড়’। ছবি: সংগৃহীত
মাটির নিচে বিপুল স্বর্ণভাণ্ডার, তবুও আমদানিনির্ভর ভারত

ভারত-এর ভূগর্ভে প্রায় ৫০ কোটি টন স্বর্ণ আকরিক মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু এত বড় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দেশটি এখনো স্বর্ণের জন্য ব্যাপকভাবে আমদানির ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে শশী থারুর এই পরিস্থিতিকে ভারতের জন্য এক ধরনের ‘স্বেচ্ছায় তৈরি সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।   তার মতে, ভারতে স্বর্ণ শুধু গয়না নয়—এটি সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রতীক। কিন্তু এই বিশাল চাহিদা মেটাতে দেশীয় উৎপাদন অত্যন্ত সীমিত, বছরে আনুমানিক দেড় টনের মতো। ফলে অস্ট্রেলিয়া, ঘানা এবং পেরুসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আমদানি করতে হচ্ছে, যার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার বড় অংশ বাইরে চলে যাচ্ছে।   কেন পিছিয়ে খনি খাত? শশী থারুরের বিশ্লেষণে ভারতের খনি শিল্প পিছিয়ে থাকার কয়েকটি প্রধান কারণ তুলে ধরা হয়েছে— জটিল প্রশাসনিক প্রক্রিয়া: খনি চালুর জন্য দীর্ঘ ও জটিল অনুমোদন প্রক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে। উচ্চ করের চাপ: খনি খাতে কর ও রয়্যালটির পরিমাণ বেশি হওয়ায় অনেক কোম্পানির জন্য এই খাতে বিনিয়োগ লাভজনক হয় না। নীতিগত সীমাবদ্ধতা: খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এখনও রক্ষণশীল দৃষ্টিভঙ্গি প্রাধান্য পাচ্ছে, যা শিল্পের বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।   কী করা যেতে পারে? এই পরিস্থিতি বদলাতে কয়েকটি সংস্কারের প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে— সহজ অনুমোদন ব্যবস্থা: দীর্ঘমেয়াদী নিশ্চয়তা দিয়ে ‘সিঙ্গেল উইন্ডো’ পদ্ধতিতে দ্রুত অনুমোদনের ব্যবস্থা করা। কর ছাড়: নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে প্রাথমিক পর্যায়ে কর সুবিধা দেওয়া। আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি: আন্তর্জাতিক মানের কোম্পানিগুলোকে যুক্ত করে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাপদ খনন নিশ্চিত করা।   বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতির অস্থিরতায় স্বর্ণকে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে ধরা হয়। এমন পরিস্থিতিতে নিজের ভূগর্ভস্থ সম্পদ কাজে লাগাতে না পারলে ভারতের আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়তে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, সঠিক নীতি ও সংস্কারের মাধ্যমে এই লুকিয়ে থাকা সম্পদকে কাজে লাগানো গেলে দেশটির অর্থনৈতিক শক্তি অনেকটাই বাড়তে পারে।   সূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
দিল্লির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হাসিনা, রাখতে চায় ভারত
দিল্লির আতিথেয়তায় মুগ্ধ হাসিনা, রাখতে চায় ভারত

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশব্যাপী গণআন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে ভারত-এ আশ্রয় নেন। এরপর থেকেই তিনি নয়াদিল্লি-তে অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ সরকার একাধিকবার তাকে ফেরত চাইলেও দিল্লি তা আমলে নেয়নি। তবে এই বিষয়টি এখন নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠছে।   কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ভারত সরকার তাকে কাতারসহ অন্য কোনো দেশে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। বরং ভারতেই থাকতে আগ্রহী এবং প্রয়োজনে সেখানেই জীবনের শেষ সময় কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।   অন্যদিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগ তুলে আসছে। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ একাধিকবার অনুপ্রবেশকারীদের দেশ থেকে বের করে দেওয়ার কথা বলেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এমন অবস্থানের সঙ্গে হাসিনা ও তার ঘনিষ্ঠদের ভারতে অবস্থান একটি স্পষ্ট বৈপরীত্য তৈরি করেছে।   পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এখন দ্বৈত সংকটে পড়েছে। একদিকে তারা বাংলাদেশের নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সাবেক শাসককে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। এই দ্বিমুখী অবস্থান কূটনৈতিকভাবে জটিলতা তৈরি করছে।   কিছু সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার জন্য বিকল্প নেতৃত্বের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। তবে হাসিনার অনড় অবস্থানের কারণে তা এগোয়নি। অনেকের মতে, দিল্লিতে অবস্থান করাকে তিনি নিরাপদ বিকল্প হিসেবে দেখছেন, যেখানে রাজনৈতিক বা আইনি ঝুঁকি তুলনামূলক কম।   তবে এই পরিস্থিতি ভারতের জন্য ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। একদিকে তারা গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কথা বলছে, অন্যদিকে বিতর্কিত এক নেতাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে সমালোচনার মুখে পড়ছে। এতে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও প্রভাব পড়ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রথমদিকে হয়তো হাসিনাকে একটি কৌশলগত উপাদান হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল দিল্লি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই কৌশলই এখন ভারতের জন্য চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাকে ফেরত পাঠানো বা অন্যত্র পাঠানো—দুটিই এখন ভারতের জন্য জটিল সিদ্ধান্তে পরিণত হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত
পাকিস্তানকে কোণঠাসা করতে গিয়ে উল্টো চাপে ভারত

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘোষিত দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত। তবে এই প্রক্রিয়ায় পাকিস্তান-এর সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করা হয়নি।   আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যেখানে অনেক নেতা এই যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে পাকিস্তানের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন, সেখানে ভারতের অবস্থান ছিল নীরব। এমনকি ইসলামাবাদ-এ ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আলোচনার বিষয়েও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নয়াদিল্লি।   ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানায় এবং আশা করে এটি পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে তারা জোর দিয়েছে যে, সংঘাত নিরসনে যুদ্ধবিরতি, সংলাপ এবং কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   বিবৃতিতে সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক প্রভাবের কথাও উল্লেখ করা হয়। বলা হয়, এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছে ভারত।   এর আগে, পাকিস্তান যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখায়, তখন থেকেই ভারতের ভেতরে রাজনৈতিক সমালোচনা শুরু হয়। বিরোধী দলগুলো এটিকে ভারতের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে তুলে ধরে।   এদিকে, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর স্পষ্ট করে বলেন, ভারত কোনোভাবেই ‘মধ্যস্থতাকারী রাষ্ট্র’ হিসেবে ভূমিকা নিতে আগ্রহী নয়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতিতে ‘হিরো’ পাকিস্তান, স্বাগত জানিয়েও বিপাকে মোদি!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে এক অভাবনীয় পরিবর্তন। বছরের পর বছর ধরে চলা বৈরিতা আর সাম্প্রতিক ভয়াবহ সামরিক উত্তজনা প্রশমনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান।  কূটনৈতিক সূত্রে খবর, ইসলামাবাদ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইরান এবং মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, যার ফলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সক্রিয় তৎপরতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।  পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। যেখানে খোদ পরাশক্তিগুলো যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছিল, সেখানে পাকিস্তানের এই 'পিস মেকার' ইমেজ বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটির গুরুত্ব এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও দেশের মধ্যে উঠছে প্রশ্ন। শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)–এর নেতা সঞ্জয় রাউত বুধবার বলেন, ‘ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ থামিয়ে পাকিস্তান বিশ্বকে শান্তিবার্তা দিয়েছে। আমাদের মহাবিশ্বগুরু (পড়ুন মোদি) কেন এই কৃতিত্ব নিতে পারলেন না? কারণ, তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। বিশ্বে একটা যুদ্ধ হচ্ছে, আর মহাবিশ্বগুরু পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরালা, তামিলনাড়ুতে গিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের কথার বোমায় বিঁধছেন! মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতের এটা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা!’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে বাড়ছে মুসলিম নিগ্রহ: আন্তর্জাতিক প্যানেলের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞার দাবি

ভারতের উত্তরপ্রদেশ এবং আসাম রাজ্যে মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের ওপর পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ প্যানেল।  'প্যানেল অফ ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইন্টারন্যাশনাল এক্সপার্টস' (PIIE) তাদের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই দুই রাজ্যে মুসলিমদের বিরুদ্ধে 'মানবতাবিরোধী অপরাধ' সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। বিশেষ করে আসামে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের মাত্রা ‘বর্ণবৈষম্য’ বা অ্যাপার্থাইড-এর পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কিংস কলেজ লন্ডনের ডিকসন পুন স্কুল অফ ল-এর ট্রান্সন্যাশনাল লিগ্যাল ক্লিনিক থেকে প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক আদালতের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন তিনজন বিশেষজ্ঞ কাজ করেছেন।  প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসামে বাঙালি মুসলিমদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে হত্যা, উচ্ছেদ অভিযান, নাগরিকত্ব হরণ এবং নির্বাসনের মতো ঘটনা ঘটছে। আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার উস্কানিমূলক বক্তব্যকে ‘জাতিগত নিধনের’ পটভূমি তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, উত্তরপ্রদেশে পুলিশি এনকাউন্টার, বাড়িঘর বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং নির্বিচারে গ্রেপ্তারের ঘটনাগুলোকে পদ্ধতিগত নিপীড়ন হিসেবে আখ্যা দিয়েছে প্যানেল। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারতের অভ্যন্তরীণ বিচার ব্যবস্থা ও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থাগুলো মুসলিমদের নিরাপত্তা দিতে অনেকাংশেই ব্যর্থ হচ্ছে।  এমতাবস্থায়, প্যানেল জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলকে ভারতের সংখ্যালঘু পরিস্থিতির ওপর নজরদারি করতে এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
আসামে ১২৬টি, কেরালায় ১৮০টি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে ১৩০টি বিধানসভা কেন্দ্রে নির্বাচন হচ্ছে।
আসাম, কেরালা এবং পুদুচেরিতে ভোটগ্রহণ শুরু

ভারতের গণতান্ত্রিক উৎসবের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় শুরু হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে আসাম, কেরালা এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। কঠোর নিরাপত্তা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই তিন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এক দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, আজ আসামের ১২৬টি, কেরালার ১৮০টি এবং পুদুচেরির ১৩০টি বিধানসভা আসনে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। এই বিধানসভা নির্বাচনের পাশাপাশি কর্ণাটক, নাগাল্যান্ড এবং ত্রিপুরার একটি করে শূন্য আসনে উপনির্বাচনও আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৪ মে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুসহ এই সবকটি রাজ্যের নির্বাচনী ফলাফল একযোগে ঘোষণা করা হবে। আজ সকাল সকাল নিজ নিজ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে নাগরিক দায়িত্ব পালন করেছেন হেভিওয়েট প্রার্থীরা। কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন কান্নুরের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তার ভোট প্রদান করেন। অন্যদিকে, পুদুচেরির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ভি নারায়ণস্বামীও সাতসকালে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আজ সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় ভোটারদের রেকর্ড সংখ্যায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং নারী ভোটারদের গণতন্ত্রের এই উৎসবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেছেন।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।
খলিল-জয়শঙ্কর বৈঠক: বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক জোরদারে নতুন অঙ্গীকার

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে দুই দেশই একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রামানিয়াম জয়শঙ্কর।   বুধবার (৮ এপ্রিল) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।   পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জয়শঙ্কর বলেন, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি আনন্দিত। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন ক্ষেত্র আরও জোরদার করার বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।   তিনি আরও জানান, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে উভয় পক্ষ সম্মত হয়েছে।   এদিকে, সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।   জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এই সফরে অংশ নিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
থানার সামনে আগুন বিক্ষোভকারীদের। ছবি: সংগৃহীত
ফের উত্তাল মণিপুর: নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত ৩, কারফিউ জারি

ভারতের মণিপুর রাজ্যে সংঘাতের আগুনে ঘি ঢালল দুই নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু। সোমবার গভীর রাতে বিষ্ণুপুর জেলার মৈরাং এলাকায় জঙ্গিদের রকেট ও বোমা হামলায় ৫ বছর বয়সী এক বালক এবং মাত্র ৬ মাস বয়সী এক শিশুকন্যার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রণক্ষেত্রের রূপ নেয় গোটা রাজ্য। উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালালে প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৩ জন প্রতিবাদী। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিষ্ণুপুরসহ ৫টি জেলায় ইন্টারনেট পরিষেবা তিন দিনের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং জারি করা হয়েছে কঠোর কারফিউ। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মৈরাং-এর ট্রংলাওবি আওয়াং লেইকাই গ্রামে এক বিএসএফ জওয়ানের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালায় সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা। হামলায় ঘটনাস্থলেই দুই শিশুর মৃত্যু হয় এবং তাদের মা গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাস্তায় নেমে আসেন কয়েক হাজার মানুষ।  বিক্ষোভকারীরা সিআরপিএফ শিবিরে অগ্নিসংযোগ করেন এবং পুলিশের অস্থায়ী চৌকিতে ভাঙচুর চালান। প্রতিবাদ সামাল দিতে নিরাপত্তারক্ষীরা গুলি চালালে আরও রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যাতে ২০ জন জওয়ানো আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। মুখ্যমন্ত্রী ইয়ুমনাম খেমচাঁদ সিং এই ঘটনাকে ‘মানবতার ওপর চরম আঘাত’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, শান্তি নষ্ট করার জন্য এটি একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। দোষীদের খুঁজে বের করতে চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। থমথমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইম্ফল পূর্ব, পশ্চিম, বিষ্ণুপুর, থৌবাল এবং কাকচিং এলাকায় বাড়তি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ইরান চীনের সঙ্গে মিলে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ স্থায়ী করতে পারে, যা ভারতের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে । ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি ঘিরে বাড়ছে টানাপোড়েন: চীন-ইরান সমীকরণে নতুন দুশ্চিন্তায় ভারত

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের বাড়তে থাকা সংঘাতের প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান ঘনিষ্ঠতা ভবিষ্যতে এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের প্রতিযোগিতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।   ভারতীয় বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মারসেলাস ইনভেস্টমেন্টসের বিশ্লেষক সৌরভ মুখার্জি এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চীন ধীরে ধীরে ইরানের সঙ্গে কৌশলগতভাবে এগিয়ে আসছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশ একসঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তার মতে, এতে বৈশ্বিক তেল সরবরাহের বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যেতে পারে।   মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানকে কঠোর ভাষায় হুমকি দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের নীতিকে তীব্র সমালোচনা করেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি কেবল স্বল্পমেয়াদি উত্তেজনা নয়; বরং এটি জ্বালানি ও কৌশলগত আধিপত্যকে কেন্দ্র করে দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতার অংশ। এনডিটিভি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সৌরভ মুখার্জি বলেন, এই সংঘাত দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম এবং এটি কয়েক মাস পর্যন্ত গড়াতে পারে।   অন্যদিকে, কার্নেগি এনডাউমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল পিস-এর বিশ্লেষক আবদুল্লাহ বাবুদ মনে করেন, উপসাগরীয় তেলের ওপর চীন-এর নির্ভরতা এখন কৌশলগত অগ্রাধিকারে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক হিসেবে চীনের জন্য হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ও প্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   চীন ইতোমধ্যে ইরান থেকে কম দামে তেল আমদানি করছে এবং ২০২১ সালে স্বাক্ষরিত দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্ব চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশে বন্দর ও অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে বেইজিং।   এই প্রেক্ষাপটে ভারতের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তেলের দাম বৃদ্ধি, মুদ্রার চাপ এবং সুদের হার বৃদ্ধির মতো অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে দেশটি। বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যার প্রভাব আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
গাজার জন্য গঠিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের 'বোর্ড অব পিসে' সম্প্রতি যোগ দিয়েছে পাকিস্তান
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির দূতের ভূমিকায় পাকিস্তান, ভারত কি কোণঠাসা হচ্ছে?

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা নিরসনে হঠাৎ করেই দৃশ্যপটে হাজির হয়েছে পাকিস্তান। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দূতিয়ালি করতে ইসলামাবাদের এই নজিরবিহীন সক্রিয়তা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক তৎপরতা ভারতের নীতি-নির্ধারক মহলে যেমন অস্বস্তি বাড়িয়েছে, তেমনি দিল্লিতে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক—তবে কি মধ্যস্থতার দৌড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের কাছে পিছিয়ে পড়ছে ভারত? ইসলামাবাদ গত সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫-দফার শান্তি পরিকল্পনা তেহরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। যদিও ইরান তা সরাসরি গ্রহণ করেনি, তবুও পাকিস্তান থেমে নেই। চীনের সমর্থন আদায়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এখন বেইজিংয়ে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ হওয়ার লক্ষ্যেই ইসলামাবাদের এই মরিয়া চেষ্টা। ভারতের কৌশলগত বিশেষজ্ঞ ও বিরোধী দলগুলো মোদী সরকারের এই 'নীরবতা'কে ভালো চোখে দেখছে না। কংগ্রেস এই পরিস্থিতিকে ভারতের কূটনীতির জন্য 'লজ্জাজনক' বলে অভিহিত করেছে। বিশিষ্ট কৌশলগত বিশেষজ্ঞ ব্রহ্মা চেলানি মনে করেন, ‘ন্যারেটিভ তৈরির যুদ্ধে’ পাকিস্তান ভারতকে টেক্কা দিয়েছে। শিব নাদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হ্যাপিমোন জ্যাকবের মতে, এটি কেবল কৌশলগত নয়, বরং মনস্তাত্ত্বিক চাপের বিষয়। ভারতের ভেতরেই প্রশ্ন উঠছে—পাকিস্তান পারলে ভারত কেন পারছে না? তবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিষয়টিকে মোটেও গুরুত্ব দিতে রাজি নন। তিনি পাকিস্তানের এই ভূমিকাকে 'দালালি' বলে কটাক্ষ করেছেন। তার মতে, ভারত এমন কোনো দেশ নয় যাকে অন্য দেশের কাছে দৌড়াদৌড়ি করে নিজের প্রাসঙ্গিকতা প্রমাণ করতে হবে। ১৯৮১ সাল থেকেই পাকিস্তান এ ধরনের কাজ করে আসছে উল্লেখ করে তিনি ভারতের 'নীরব কূটনীতি'কেই শ্রেয় মনে করছেন। আটলান্টিক কাউন্সিলের মাইকেল কুগেলম্যান মনে করেন, ভারত কখনোই এই মধ্যস্থতার দৌড়ে ছিল না এবং আমন্ত্রণ ছাড়া হস্তক্ষেপ করা ভারতের নীতি নয়। অন্যদিকে, সাবেক পররাষ্ট্র সচিব নিরুপমা রাও মনে করেন, এই যুদ্ধ ভারতের স্বার্থে আঘাত হানছে, তাই পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় থাকাটা মানায় না। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ইরান ও আরব দেশগুলোর সঙ্গে তাদের বিশেষ সামরিক ও ধর্মীয় যোগসূত্র তাদের এই সুযোগ করে দিয়েছে। লাহোর ও ইসলামাবাদ-ভিত্তিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলো পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ওপর যে আস্থা রাখে, ভারতের সেই জায়গায় কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। অবশেষে প্রশ্ন থেকেই যায়, ভারত কি বড় কোনো সুযোগ হারাচ্ছে, নাকি বিপজ্জনক মধ্যস্থতায় না জড়িয়ে দূরদর্শী কৌশলী হিসেবে নিজেকে সরিয়ে রাখছে? সময় এবং মধ্যপ্রাচ্যের আগামীর পরিস্থিতিই দেবে সেই উত্তর।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের আঁচ, ভয়াবহ সংকটে ভারতের কনডম বাজার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রভাব এবার সরাসরি আছড়ে পড়েছে ভারতের জনস্বাস্থ্য খাতে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ায় ভারতে কনডম উৎপাদনে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। ফলে বাজারে পণ্যটির তীব্র ঘাটতি দেখা দেওয়ার পাশাপাশি খুচরা মূল্য ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ভারতের প্রায় ৮ হাজার ১৭০ কোটি রুপির এই বিশাল শিল্প এখন অস্তিত্ব সংকটে। চাহিদা বৃদ্ধি নয়, বরং উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য লুব্রিকেন্ট (সিলিকন অয়েল) ও পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাই এই সংকটের প্রধান কারণ। কনডম উৎপাদনে ল্যাটেক্স স্থিতিশীল রাখতে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ইতিমধ্যে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া পিভিসি এবং অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলের মতো প্যাকেজিং উপকরণের চড়া দাম ও সরবরাহ ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ভারতে বছরে প্রায় ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠান এইচএলএল লাইফকেয়ার একাই বছরে ২২১ কোটি ইউনিট উৎপাদন করে। ম্যানকাইন্ড ফার্মা ও কিউপিড লিমিটেডের মতো শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দেশটির সরকার জ্বালানি ও শক্তি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় অভ্যন্তরীণ পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, ভারতের মতো ১৪০ কোটি জনসংখ্যার দেশে কনডম শুধু একটি পণ্য নয়, এটি পরিবার পরিকল্পনা এবং যৌনবাহিত রোগ (STI) প্রতিরোধের প্রধান অস্ত্র। কম মুনাফার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা এই বিশাল বাজার এখন খাদের কিনারায়। দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেলে বা বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকলে দীর্ঘমেয়াদী সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত বিপর্যয় ঘটতে পারে। ইতোমধ্যে দিল্লি ও মুম্বাইয়ের মতো মেগাসিটিগুলোর ওষুধের দোকানে কনডমের সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মিততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে কনডম সংকট, দাম বাড়তে পারে ৫০%

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার সরাসরি পড়েছে ভারত-এর কনডম বাজারে। সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন, কাঁচামালের ঘাটতি এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে দেশটিতে কনডম সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।   খাত–সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি চাহিদা বৃদ্ধির কারণে নয়; বরং সমুদ্রপথে বাণিজ্য ব্যাহত হওয়া, পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ কমে যাওয়া এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় লুব্রিকেন্টের ঘাটতির সরাসরি ফল। বিশেষ করে সিলিকন তেল, যা কনডম উৎপাদনে অপরিহার্য, বর্তমানে সংকটে রয়েছে। পাশাপাশি কাঁচা ল্যাটেক্স সংরক্ষণে ব্যবহৃত অ্যামোনিয়ার দাম ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।   ভারতে প্রতিবছর ৪০০ কোটির বেশি কনডম উৎপাদিত হয়। এই খাতে HLL Lifecare Limited, Mankind Pharma এবং Cupid Limited-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সংকটে পড়েছে। এর মধ্যে শুধু HLL Lifecare-ই বছরে প্রায় ২২১ কোটি কনডম উৎপাদন করে।   উৎপাদকদের মতে, পিভিসি ফয়েল, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েলসহ প্যাকেজিং উপকরণের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যবস্থার বিঘ্ন উৎপাদন ও সরবরাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।   বর্তমানে ভারতের কনডম বাজার মূলত উচ্চ উৎপাদন ও কম মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, যাতে বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জন্য এটি সাশ্রয়ী রাখা যায়। তবে চলমান সংকটে এই মডেলটি বড় চাপে পড়েছে। গত মার্চে এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে জানানো হয়, জ্বালানি চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে দেশীয় পেট্রোকেমিক্যাল সরবরাহ ৩৫ শতাংশ পর্যন্ত কমানো হতে পারে, যা কাঁচামালের সংকট আরও বাড়াবে।   বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এই সংকটের গুরুতর জনস্বাস্থ্যগত প্রভাব থাকতে পারে। পরিবার পরিকল্পনা ও যৌনবাহিত সংক্রমণ প্রতিরোধে কনডম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর ব্যবহার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। ইতোমধ্যে বড় শহরগুলোতে এর প্রাথমিক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। মুম্বাই ও দিল্লি-এর বিভিন্ন ওষুধের দোকানে কনডম সরবরাহে অনিয়মিততা লক্ষ্য করা গেছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
স্থবিরতা কাটাতে বিসিসিআইকে বিসিবির আনুষ্ঠানিক চিঠি!

ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এক বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সাম্প্রতিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও অস্থিরতা কাটিয়ে উঠতে বিসিসিআই-এর কাছে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।  ভারতীয় গণমাধ্যম ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নতুন সরকার গঠনের পর ক্রিকেট নিয়ে আরও বাস্তবমুখী অবস্থানে ফিরতে চাইছে বিসিবি। বিসিসিআই-এর কাছে পাঠানো চিঠিতে মূলত তিনটি প্রধান বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে: ১. স্থগিত সিরিজ ফেরানোর প্রস্তাব: গত সেপ্টেম্বরে ভারতের বাংলাদেশ সফরের কথা ছিল (৩টি ওয়ানডে ও ৩টি টি-টোয়েন্টি), যা বিসিসিআই অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে দেয়। বিসিবি এখন সেই সিরিজটি দ্রুত আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে। ২. ভবিষ্যৎ সফর নিয়ে আলোচনা: আগামী বছর ভারতের সম্ভাব্য বাংলাদেশ সফর নিয়ে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে চায় বিসিবি। ৩. এশিয়া কাপের নিরাপত্তা: আগামী বছর এশিয়া কাপের আয়োজক বাংলাদেশ। টুর্নামেন্টে ভারতের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাই এখন বিসিবির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিসিবি বন্ধুত্বের হাত বাড়ালেও বিসিসিআই এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। ভারতীয় বোর্ড জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা ভেন্যু চূড়ান্ত করার বিষয়টি পুরোপুরি তাদের সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর নির্ভর করছে। সরকারের ইতিবাচক সাড়া না পাওয়া পর্যন্ত বিসিসিআই কোনো প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না। উল্লেখ্য, আইপিএলে মোস্তাফিজুর রহমানের চুক্তি বাতিল এবং নিরাপত্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। যার ফলে হাইব্রিড মডেলের দাবি পূরণ না হওয়ায় বিশ্বকাপের মূল পর্ব থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এদিকে মাঠের ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় পার করছে টাইগাররা। ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে আসন্ন সাদা বলের সিরিজের প্রস্তুতি চলছে। আগামী ১৭ তারিখ প্রথম ওয়ানডের মাধ্যমে কিউইদের বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
মালাদা জেলায় রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে, টায়ার জ্বালিয়ে চলছে বিক্ষোভ।
ভোটার তালিকা নিয়ে রণক্ষেত্র পশ্চিমবঙ্গ, সুপ্রিম কোর্টের কড়া পদক্ষেপ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। মালদা জেলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে যুক্ত বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘেরাও এবং জাতীয় সড়ক অবরোধের ঘটনায় নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।  এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যসচিব, পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজি), মালদার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে শোকজ করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বুধবার সকাল থেকেই মালদার মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং কালিয়াচকের মতো এলাকাগুলোতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর বিপুল সংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।  বিশেষ করে কালিয়াচক-২ ব্লকের বিডিও অফিসে ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ চলাকালীন সাতজন বিচারবিভাগীয় কর্মকর্তাকে রাতভর ঘেরাও করে রাখা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মাঝরাতে বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআই (CBI) বা এনআইএ (NIA)-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিতে হবে। পাশাপাশি, বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন এবং শুনানি চলাকালীন ভিড় নিয়ন্ত্রণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজ্যে প্রায় ৬৩ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং ৬০ লক্ষ ভোটার 'বিবেচনাধীন' তালিকায় রয়েছেন। 'সবর ইনস্টিটিউট' নামক একটি সংস্থার দাবি, মালদা ও মুর্শিদাবাদের মতো জেলাগুলোতে সংখ্যালঘু ভোটারদের নাম বাদ পড়ার হার তুলনামূলক অনেক বেশি। গবেষক সাবির আহমেদের মতে, ২০০২ সালের তালিকার সাথে বর্তমান ম্যাপিং প্রক্রিয়ায় অসংগতির কারণেই মানুষের মধ্যে এই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনাকে "রাষ্ট্রপতি শাসন জারির গেমপ্ল্যান" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি সাধারণ মানুষকে শান্তিপূর্ণ থাকার এবং প্ররোচনায় পা না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি নেতা সুকান্ত মজুমদার এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে তৃণমূলের উসকানি বলে দাবি করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, সরকারি কাজে বাধা ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ইতিমধ্যে ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় কেন্দ্রীয় ও রাজ্য পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0