ভিসা

ফাইল ফটো।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিলের বিষয়ে সতর্ক করল মার্কিন দূতাবাস

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করতে যাওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভিসার নির্দিষ্ট নিয়ম ও শর্ত ভঙ্গ করলে শিক্ষার্থীদের ভিসা বাতিল হতে পারে। এমনকি ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে। সম্প্রতি মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়। দূতাবাস জানায়, পড়াশোনা মাঝপথে ছেড়ে দেওয়া কিংবা নিয়মিত ক্লাসে অনুপস্থিত থাকা ভিসা বাতিলের অন্যতম প্রধান কারণ হতে পারে। পোস্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ‘আপনি যদি পড়াশোনা ছেড়ে দেন, ক্লাসে অনুপস্থিত থাকেন, অথবা আপনার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে না জানিয়ে আপনার স্টাডি প্রোগ্রাম থেকে সরে দাঁড়ান, তবে আপনার শিক্ষার্থী ভিসাটি বাতিল বলে গণ্য হতে পারে।’ ভিসা বাতিলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্যতা নিয়েও সাবধান করেছে দূতাবাস। বলা হয়েছে, ভিসার শর্ত ভঙ্গ করলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় ভিসা পাওয়ার যোগ্যতাও চিরতরে হারাতে পারেন শিক্ষার্থীরা। সম্ভাব্য আইনি জটিলতা এড়াতে এবং ছাত্র হিসেবে নিজের বৈধ অবস্থান (স্টুডেন্ট স্ট্যাটাস) বজায় রাখতে সব সময় ভিসার শর্তাবলি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসা প্রত্যাখ্যানে নতুন রেকর্ড: চরম ভোগান্তিতে বাংলাদেশি ও ভারতীয়রা

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমাতে চাওয়া আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে সাম্প্রতিক একটি প্রতিবেদন। গত এক বছরে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1 Visa) প্রত্যাখানের হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এই সংকটে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজনেজ স্ট্যান্ডার্ডের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার আকাশচুম্বী হয়ে ৬১ শতাংশে ঠেকেছে। একই ধারায় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর স্বপ্নও থমকে গেছে ভিসা না পাওয়ায়। কেন বাড়ছে রিফিউজালের হার? প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কনস্যুলেটগুলো এখন আবেদনকারীদের 'ইমিগ্রেশন ইনটেন্ট' বা পড়াশোনা শেষে দেশে ফেরার মানসিকতা নিয়ে অনেক বেশি কড়াকড়ি করছে। এছাড়া আর্থিক সক্ষমতার যথাযথ প্রমাণ এবং সঠিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচনে ত্রুটিকেও এই গণহারে ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ২০২৪ সালে রেকর্ড সংখ্যক আবেদন জমা পড়লেও সে তুলনায় ভিসা ইস্যুর হার ছিল অনেক কম। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অস্বাভাবিক প্রত্যাখ্যান হারের কারণে অনেক শিক্ষার্থী এখন বিকল্প হিসেবে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া বা ইউরোপের দেশগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। যারা দীর্ঘ সময় ধরে আইইএলটিএস (IELTS) এবং জিআরই (GRE) দিয়ে প্রস্তুতি নিয়েছেন, ভিসা না পাওয়ায় তাদের ক্যারিয়ার এখন অনিশ্চয়তার মুখে। মার্কিন প্রশাসনের এই কড়াকড়ি আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিনিময়ে দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
২৬ জনের ভিসা বাতিল, ভিসা নীতিতে আরও কঠোর যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যারা আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিকে সহায়তা করবে, তাদের ওপর নতুন করে এই ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইতিমধ্যে এই নীতির আওতায় ২৬ জন ব্যক্তির ভিসা বাতিল করার কথা নিশ্চিত করেছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই খবর জানিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বৃহত্তর কৌশলেরই অংশ। ১৯শ শতকের ঐতিহাসিক ‘মনরো নীতি’র আধুনিক সংস্করণ ‘ডনরো ডকট্রিন’-এর মাধ্যমে তিনি পশ্চিম গোলার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাব নিশ্চিত করতে চাইছেন। বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায় মাদক পাচার রোধ এবং এ অঞ্চলে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকানো এখন ওয়াশিংটনের অন্যতম অগ্রাধিকার। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, যারা জেনে-বুঝে আমেরিকার কোনো প্রতিপক্ষ শক্তিকে কৌশলগত সম্পদ বা গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে, তাদের ওপর এই ভিসা বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। এছাড়া আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল করা, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করা কিংবা কোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে প্রভাব বিস্তারকারী ব্যক্তিদেরও এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত করা হবে। যদিও বিবৃতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি, তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এর মূল লক্ষ্য চীন ও ইরান। এরই মধ্যে ইরান সরকার বা ইরানি বিপ্লবের সাথে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে অন্তত সাতজন ব্যক্তির অভিবাসন ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। সব মিলিয়ে, দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় ভিসা নীতিকে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন ভিসা বুলেটিন প্রকাশ: অগ্রাধিকার তারিখে ভারত থেকে এগিয়ে বাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন প্রত্যাশীদের জন্য বহুল প্রতীক্ষিত ২০২৬ সালের মে মাসের ভিসা বুলেটিন প্রকাশ করেছে দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট। এবারের বুলেটিনে ভারতীয় নাগরিকদের জন্য গ্রিন কার্ড প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির খবর মেলেনি, যা হাজার হাজার আবেদনকারীর মধ্যে হতাশা তৈরি করেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থান-ভিত্তিক (EB-2 এবং EB-3) ক্যাটাগরিতে ভারতীয়দের অপেক্ষার তালিকায় কোনো নড়চড় হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতীয় পেশাদারদের জন্য অগ্রাধিকার তারিখ (Priority Date) গত কয়েক মাসের মতোই স্থবির হয়ে আছে। বর্তমান গতিধারা বজায় থাকলে গ্রিন কার্ডের জন্য তাদের কয়েক দশক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। অন্যদিকে, এবার বিনিয়োগকারী কোটা বা ইবি-৫ (EB-5) ভিসা ক্যাটাগরি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। যারা এই ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে ইচ্ছুক বা যাদের আবেদন প্রক্রিয়াধীন, তাদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়ে সচেতন করা হয়েছে। বিনিয়োগের মাধ্যমে নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে নিয়মনীতির কঠোরতা আরও বাড়তে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য সুখবর হলো, ফ্যামিলি স্পনসরড এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক কিছু ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার তারিখ ভারতের তুলনায় অনেক এগিয়ে রয়েছে। তবে বৈশ্বিক চাহিদার চাপে সব দেশেই ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রসেসিং সময় কিছুটা দীর্ঘায়িত হচ্ছে। মার্কিন অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী যারা আবেদন করতে যাচ্ছেন, তাদের অবশ্যই প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে সম্পন্ন করতে হবে। বিশেষ করে ইবি-৫ আবেদনকারীদের জন্য আইনি পরামর্শ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থী ভিসা প্রত্যাখানের হার এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ: সংকটে বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়া

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ফিকে হয়ে আসছে হাজার হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর জন্য। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক দশকে মার্কিন স্টুডেন্ট ভিসা (F-1) প্রত্যাখানের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালের মতো দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এই পরিস্থিতি চরম উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। 'শোরলাইট' (Shorelight) নামক একটি সংস্থার গবেষণা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে যেখানে ভিসা প্রত্যাখানের হার ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে। তবে দক্ষিণ এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য এই চিত্র আরও ভয়াবহ। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আবেদন করা শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখানের হার গত এক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন ভিসা নীতি বর্তমানে বৈশ্বিক বাস্তবতার বিপরীতে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, শিক্ষার্থীর মেধা বা আর্থিক স্বচ্ছলতার চেয়ে তার দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করেই ভিসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে উচ্চ মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রে আসার সুযোগ হারিয়ে অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। শিক্ষাবিদরা সতর্ক করেছেন যে, এই 'ভিসা জটিলতা' কেবল শিক্ষার্থীদের স্বপ্নই নষ্ট করছে না, বরং যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনীতি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর রাজস্ব আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শুধুমাত্র গত গ্রীষ্মেই ভিসা ইস্যু ৩৬ শতাংশ কমে যাওয়ায় মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলারের টিউশন ফি থেকে বঞ্চিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে আবেদনকারীদের 'অ-অভিবাসী অভিপ্রায়' (Non-immigrant intent) প্রমাণ করার বাধ্যবাধকতা এবং নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের প্রতি কড়াকড়িকে দায়ী করা হচ্ছে। পরিস্থিতির উন্নতি করতে ভিসা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং 'ডুয়াল ইনটেন্ট' (Dual Intent) পলিসি চালুর সুপারিশ করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
নাইজেরিয়ার নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ

নাইজেরিয়ায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করা এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে দেশটির নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির ওপর নতুন করে ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় গত বুধবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেয়। বিবৃতিতে জানানো হয়, নাইজেরিয়ার গণতন্ত্রকে দুর্বল করার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিবাসন ও নাগরিকত্ব আইনের আওতায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে গোপনীয়তার স্বার্থে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করেনি ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিংকেন এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় বলেন, "নাইজেরিয়ার গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নিশ্চিত করতে যারা বাধা সৃষ্টি করবে, তাদের ওপর এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে। এটি কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নয়, বরং গণতন্ত্র বিরোধীদের জন্য একটি সতর্কবার্তা।" নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ব্যক্তিরা এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে অযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারেন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর আরও স্পষ্ট করেছে যে, গত ফেব্রুয়ারি ও মার্চে অনুষ্ঠিত নাইজেরিয়ার সাধারণ নির্বাচনে যারা ভীতি প্রদর্শন, কারচুপি এবং সহিংসতায় জড়িত ছিলেন, তাদের ওপরই এই খড়্গ নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নাইজেরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশের ওপর এমন কঠোর ভিসা নীতি আরোপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখার একটি শক্ত বার্তা দিতে চাইছে। বিশেষ করে যেসব দেশে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, সেসব দেশের জন্য এটি একটি বড় ধরনের সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগেও আফ্রিকান এবং এশীয় বিভিন্ন দেশের ক্ষেত্রে একই ধরনের 'ভিসা পলিসি' প্রয়োগ করে গণতন্ত্র রক্ষার বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে জো বাইডেন প্রশাসন। নাইজেরিয়ার সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নাগরিকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও, দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১২, ২০২৬ 0
ইরানের সাবেক নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকার
সাবেক ইরানি ভাইস প্রেসিডেন্টের ছেলের ভিসা বাতিল: ডিপোর্ট করছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের সাবেক নারী ও পরিবার বিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসুমেহ এবতেকারের পরিবারের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিশ্চিত করেছেন যে, মাসুমেহ এবতেকারের ছেলে ঈসা হাশেমি, তার স্ত্রী এবং সন্তানের রেসিডেন্সি স্ট্যাটাস বা বসবাসের অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই ভিসা বাতিলের নির্দেশ দিয়েছেন। নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি দিয়ে রুবিও বলেন, যারা আমাদের দেশের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার যোগ্য নয়, তাদের এখানে থাকার অনুমতি দেওয়া কখনোই উচিত ছিল না। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঈসা হাশেমি ও তার পরিবার বর্তমানে মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) কর্তৃপক্ষের হেফাজতে রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে থেকে বহিষ্কার করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাসুমেহ এবতেকার ইরানের রাজনৈতিক অঙ্গনে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। তার পরিবারের ওপর এমন সরাসরি মার্কিন পদক্ষেপ দুই দেশের দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের আগুনে নতুন করে ঘি ঢালল বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা ও কর্মসংস্থান ভিসায় বড় পরিবর্তন: বিপাকে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা

যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখা বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ায় নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ ও দিকনির্দেশনা সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রকাশিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা বিষয়ক গবেষণা সংস্থা 'আইসিইএফ মনিটর'-এর সাম্প্রতিক এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।  অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান 'ফ্র্যাগমেন'-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত এই নির্দেশনায় শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ, অবস্থান এবং পরবর্তী সময়ে কর্মসংস্থানের জন্য ভিসার জটিলতা সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। প্রতিবেদনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হলো স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদের প্রস্তাবিত পরিবর্তন। আগে বিদেশি শিক্ষার্থীরা তাদের কোর্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত 'ডিউরেশন অফ স্ট্যাটাস' (D/S) সুবিধার আওতায় থাকতে পারতেন। তবে নতুন প্রস্তাবনা অনুযায়ী, এখন থেকে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের (সাধারণত ৪ বছর) জন্য শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক অনুমতি দেওয়া হতে পারে। কোর্সের মেয়াদ বেড়ে গেলে তাদের নতুন করে 'এক্সটেনশন অফ স্টে' (EOS) আবেদন করতে হবে, যার জন্য বায়োমেট্রিক তথ্য এবং অতিরিক্ত ফি প্রদানের প্রয়োজন পড়বে। স্ক্রিনিং কোর্স শেষ হওয়ার পর দেশ ছাড়ার বা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আগে ৬০ দিন সময় পাওয়া যেত, যা এখন কমিয়ে ৩০ দিন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরগুলোতে (পোর্ট অফ এন্ট্রি) কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) কর্মকর্তাদের স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া আরও জোরালো করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের হাতে যথাযথ নথিপত্র এবং আই-২০ (I-20) ফরমের সকল তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সায়েন্স, টেকনোলজি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও ম্যাথ (STEM) বিষয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় 'স্টেম ওপিটি' (STEM OPT) সুবিধাটি নিয়ে ২০২৬ সালে কড়াকড়ি বাড়তে পারে। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বর্তমানে কর্মসংস্থানভিত্তিক ওপিটি এবং এইচ-১বি লটারি ব্যবস্থার ওপর নজরদারি বাড়াচ্ছে। ফলে মাঝপথে পড়ালেখা বা প্রোগ্রাম পরিবর্তন করা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় প্রবেশাধিকার পাওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার স্ট্যাটাস পরিবর্তনের সময় (যেমন এফ-১ থেকে ওপিটি বা এইচ-১বি) দেশের বাইরে ভ্রমণ করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকা অবস্থায় দেশ ত্যাগ করলে তা আবেদন বাতিলের কারণ হতে পারে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার কেন্দ্র হলেও ২০২৬ সালের নতুন এই নীতিগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল হওয়ার বার্তা দিচ্ছে। যারা ২০২৬ সালের সেশনে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের আর্থিক স্বচ্ছতা (Financial Proof) এবং একাডেমিক লক্ষ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই নীতিমালায় অভ্যস্ত হতে অভিজ্ঞ শিক্ষা পরামর্শক বা আইডিপি (IDP) এর মতো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তথ্যসূত্র: আইসিইএফ মনিটর ও ফ্র্যাগমেন (Fragomen) রিপোর্ট।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
১০ এপ্রিল থেকে ইউরোপে নতুন বায়োমেট্রিক সীমান্ত ব্যবস্থা: দীর্ঘ লাইনে পড়ার শঙ্কায় বাংলাদেশিরাও

ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) প্রবেশ ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে আগামী ১০ এপ্রিল থেকে চালু হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত 'এন্ট্রি-এক্সিট সিস্টেম' (EES)। নতুন এই বায়োমেট্রিক সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ইউরোপের প্রবেশপথগুলোতে দীর্ঘ জনজট ও অন্তত ৭০ শতাংশ বেশি সময় লাগতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।  যদিও এই সতর্কতা বিশেষভাবে অস্ট্রেলীয় পর্যটকদের জন্য জারি করা হয়েছে, তবে বাংলাদেশের মতো ইইউ-বহির্ভূত দেশের (Non-EU countries) নাগরিকদের ক্ষেত্রেও এটি সমানভাবে কার্যকর হবে। এতদিন ইউরোপের পাসপোর্ট কন্ট্রোল ডেস্কে কর্মকর্তাদের ম্যানুয়ালি সিল দেওয়ার যে রীতি ছিল, তা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এর পরিবর্তে স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল পদ্ধতিতে পর্যটকদের আঙুলের ছাপ (Fingerprints) এবং মুখমণ্ডলের ছবি (Facial scans) সংগ্রহ করা হবে। প্রথমবার নিবন্ধনের সময় প্রত্যেক যাত্রীকে এই ডিজিটাল তথ্য দিতে হবে, যা পরবর্তী তিন বছর পর্যন্ত সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে। ভিসাএইচকিউ (VisaHQ) প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার প্রাথমিক দিনগুলোতে সীমান্ত পারাপারে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭০ শতাংশ বেশি সময় ব্যয় হতে পারে। বিশেষ করে বড় বিমানবন্দর এবং ট্রেন স্টেশনগুলোতে (যেমন লন্ডন-প্যারিস রুটের ইউরোস্টার) দীর্ঘ সারির আশঙ্কা করা হচ্ছে। একেকজন যাত্রীর বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করতে কয়েক মিনিট সময় লাগতে পারে, যা ব্যস্ত সময়ে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। বাংলাদেশি ভ্রমণকারীদের জন্য যা জানা জরুরি: ১. প্রথমবার নিবন্ধনে সময়: বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা যখন প্রথমবার ইইউতে প্রবেশ করবেন, তখন তাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। এতে বাড়তি সময় হাতে রেখে বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ২. পাসপোর্ট সিল বিলুপ্তি: নতুন সিস্টেমে পাসপোর্টে আর কোনো শারীরিক সিল পড়বে না। আপনার প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডিজিটাল ডেটাবেজে নথিভুক্ত হয়ে যাবে। ৩. ভিসা প্রক্রিয়া: শেনজেন বা ইইউ ভিসার বর্তমান নিয়মে কোনো পরিবর্তন না এলেও, সীমান্তে স্ক্যানিং প্রক্রিয়াটি হবে সম্পূর্ণ ডিজিটাল। ভ্রমণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১০ এপ্রিল বা তার পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে যারা ইউরোপ ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন, তাদের কানেক্টিং ফ্লাইট বা পরবর্তী গন্তব্যের ট্রেনের সময়ের ক্ষেত্রে অন্তত ৩-৪ ঘণ্টা বাফার টাইম রাখা উচিত। বিশেষ করে যারা পরিবার বা বড় দল নিয়ে ভ্রমণ করছেন, তাদের জন্য এই বাড়তি সময় অত্যন্ত জরুরি। ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদে এই ব্যবস্থা নিরাপত্তা জোরদার করবে এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে পর্যটকদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
ফুটবলপ্রেমীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়ায় সুখবর, চালু হলো ‘ফিফা পাস’

বিশ্বজুড়ে ফুটবল উন্মাদনার পারদ চড়তে শুরু করেছে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে। আর এই উন্মাদনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করতে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য দারুণ এক সুখবর নিয়ে এসেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং মার্কিন প্রশাসন। যারা গ্যালারিতে বসে সরাসরি খেলা দেখার স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ ও গতিশীল করতে চালু করা হয়েছে বিশেষ পদ্ধতি ‘ফিফা পাস’। ‘ফিফা পাস’ বা ‘ফিফা প্রায়োরিটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউলিং সিস্টেম’ হলো এমন এক বিশেষ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে বিশ্বকাপের টিকিটধারীরা মার্কিন দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের তুলনায় দ্রুত ইন্টারভিউ বা সাক্ষাৎকারের সময় পাবেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো যেসব দেশে বর্তমানে মার্কিন ভিসার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, সেই সব দেশের সমর্থকদের জন্য এটি একটি গেম-চেঞ্জার হতে যাচ্ছে। প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ ও সুশৃঙ্খল। টিকিটধারীরা ফিফার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট (FIFA.com) থেকে তাদের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে লগ-ইন করে ‘FIFA PASS’ অপশনটি বেছে নিতে পারবেন। এরপর মার্কিন ভিসার আবেদনপত্র (DS-160 ফর্ম) পূরণ করার সময় নিজেকে ‘ফিফা টিকিট হোল্ডার’ হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। তথ্য যাচাই সম্পন্ন হলেই আবেদনকারীকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সাক্ষাৎকারের তারিখ প্রদান করা হবে। সুবিধা পাবেন যারা: সরাসরি ফিফা থেকে বিশ্বকাপের বৈধ টিকিট ক্রয়কারীগণ। টিকিটধারীর সাথে থাকা স্বামী/স্ত্রী এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরাও এই অগ্রাধিকার সুবিধার আওতায় থাকবেন। আবেদনকারীর তথ্যের সাথে টিকিট ক্রয়ের তথ্যের শতভাগ মিল থাকতে হবে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করে জানিয়েছে, ‘ফিফা পাস’ কেবল ইন্টারভিউয়ের দীর্ঘ লাইন এড়িয়ে দ্রুত সময়ে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। এটি কোনোভাবেই ভিসা পাওয়ার শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। সাধারণ আবেদনকারীদের মতো টিকিটধারীদেরও কঠোর নিরাপত্তা যাচাই এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই ভিসা অর্জন করতে হবে। উল্লেখ্য, ২০২৬ বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকো। প্রথমবারের মতো ৪৮টি দলের এই বিশাল আসরের অধিকাংশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে। বিপুল সংখ্যক দর্শকের চাপ সামলাতে এবং ভিসা প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্ন রাখতে মার্কিন প্রশাসন ইতোমধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কনস্যুলার অফিসার নিয়োগ দিয়েছে। ভিড় এড়াতে কর্তৃপক্ষ এখনই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
মিজানুর রহমান আজহারী
যে কারণে মিজানুর রহমান আজহারীর ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া

জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারীকে নিয়ে আবারও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক শুরু হয়েছে। যুক্তরাজ্যের পর এবার অস্ট্রেলিয়াতেও বাধার মুখে পড়েছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্কের সরাসরি হস্তক্ষেপে আজহারীর অস্ট্রেলিয়া সফর বাতিল এবং তার ভিসা বাতিল করা হয়েছে বলে সংবাদ প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’। ডেইলি মেইলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিজানুর রহমান আজহারী সিডনি, মেলবোর্ন এবং পার্থসহ অস্ট্রেলিয়ার বেশ কয়েকটি শহরে আয়োজিত ইসলামি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার পূর্বের কিছু বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কর্মকাণ্ডকে ‘উগ্রপন্থী’ ও ‘ঘৃণা ছড়ানোর সহায়ক’ হিসেবে চিহ্নিত করে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, টনি বার্ক আজহারীর ভিসা বাতিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার সরকার মনে করছে, তার উপস্থিতি দেশটির সামাজিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অতীতে তার দেওয়া কিছু রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিতর্কিত মন্তব্যকে এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালেও যুক্তরাজ্যে একই ধরনের পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন আজহারী। সে সময় লন্ডনে তার একটি সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর তার ভিসা বাতিল করে দেয় এবং তাকে হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। অস্ট্রেলীয় সরকারের এই কঠোর অবস্থানের ফলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আয়োজিত পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠানগুলো স্থগিত করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আজহারীর ভক্ত ও বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তবে এই বিষয়ে মিজানুর রহমান আজহারী বা তার টিমের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান আজহারী বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন দেশে ধর্মীয় সভায় অংশ নিয়ে থাকেন। তবে বিভিন্ন দেশে তার প্রবেশাধিকার নিয়ে বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না তাকে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
স্ক্রিনিং পদ্ধতিতে বড় ফাঁক শনাক্ত, ভিসা প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আগ্রহী বাংলাদেশি নাগরিকসহ বিশ্বজুড়ে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য সতর্কবার্তা দিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। সাম্প্রতিক এক অভ্যন্তরীণ পর্যালোচনায় ভিসা স্ক্রিনিং বা আবেদনকারী যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের ‘নিরাপত্তা ঘাটতি’ ধরা পড়ার পর, ভিসা প্রদানের নিয়ম আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মার্কিন প্রশাসন তাদের বর্তমান স্ক্রিনিং পদ্ধতির দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করেছে। বিশেষ করে আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি যাচাইয়ের ক্ষেত্রে যে ফাঁকফোকর রয়েছে, তা বন্ধ করতে নতুন ও আরও শক্তিশালী প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থাগুলো পর্যালোচনায় দেখেছে যে, বর্তমান পদ্ধতিতে অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর সঠিক তথ্য বা সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো যথাযথভাবে ফুটে ওঠে না। জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কোনো ধরনের অসাধু উপায় অবলম্বনকারী যেন ভিসা না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীদের ওপর এর প্রভাব: ১. তীব্র যাচাই-বাছাই: এখন থেকে ভিসা আবেদনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, ভ্রমণ ইতিহাস এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি আরও নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। ২. সময় বৃদ্ধি: স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ার কারণে ভিসা পেতে আগের চেয়ে বেশি সময় লাগার সম্ভাবনা রয়েছে। ৩. সাক্ষাৎকারে গুরুত্ব: কনস্যুলার অফিসাররা এখন থেকে আবেদনকারীর উদ্দেশ্য ও নথিপত্র নিয়ে আরও খুঁটিনাটি প্রশ্ন করতে পারেন। অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম কঠোর হওয়ার অর্থ এই নয় যে ভিসা দেওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে আবেদনকারীদের উচিত হবে সব তথ্য সততার সাথে প্রদান করা এবং কোনো ধরনের ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার না করা। তথ্যের সামান্য অমিল বা অসংগতি ধরা পড়লে স্থায়ীভাবে ভিসা বাতিলের ঝুঁকি থাকতে পারে। উল্লেখ্য, প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী, পর্যটক এবং কর্মজীবী যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য আবেদন করেন। নতুন এই নিয়মের ফলে বাংলাদেশি আবেদনকারীদেরও এখন থেকে আরও সতর্কতার সাথে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।   যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট খুব শীঘ্রই এই স্ক্রিনিং আপগ্রেড নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিস্তারিত নির্দেশিকা প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভিসা স্থগিত থাকলেও ইমিগ্রেশনের অন্যান্য ক্যাটাগরির তারিখ অনেক এগিয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ভিসা স্থগিত থাকলেও ইমিগ্রেশনের অন্যান্য ক্যাটাগরির তারিখ অনেক এগিয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা কার্যক্রমের কিছু অংশ সাময়িকভাবে স্থগিত থাকলেও ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ায় নতুন করে আশার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সর্বশেষ ভিসা বুলেটিন অনুযায়ী, ইমিগ্রেশনের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রায়োরিটি ডেট উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা আবেদনকারীদের জন্য স্বস্তির বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।   ইমিগ্রেশন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা ইস্যু বা সাক্ষাৎকারের ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও অভিবাসন প্রক্রিয়া পুরোপুরি বন্ধ নেই। প্রতি মাসে প্রকাশিত ভিসা বুলেটিনে দেখা যাচ্ছে পরিবারভিত্তিক ফ্যামিলি বেসড এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক এমপ্লয়মেন্ট বেসড একাধিক ক্যাটাগরিতে তারিখ সামনে এসেছে। এর ফলে অনেক আবেদনকারী এখন তাদের কেসের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।   বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে প্রায়োরিটি ডেট কারেন্ট হওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন, তাদের জন্য এই অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আইনজীবীরা। তারা বলছেন, ভিসা স্থগিত থাকলেও ডকুমেন্ট যাচাই, ফাইল প্রসেসিং এবং তারিখ আপডেটের কাজ নিয়মিতভাবে চলতে থাকে, তাই অনেক সময় ভিসা বন্ধ থাকলেও বুলেটিনে অগ্রগতি দেখা যায়।   অভিবাসন আইনজীবীরা আবেদনকারীদের পরামর্শ দিয়েছেন, যাদের প্রায়োরিটি ডেট এগিয়েছে তারা যেন দ্রুত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখেন এবং নিয়মিত ভিসা বুলেটিন অনুসরণ করেন। কারণ যেকোনো সময় প্রসেসিং দ্রুত শুরু হলে দেরি করলে সুযোগ হারানোর সম্ভাবনা থাকে।   বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই অগ্রগতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভবিষ্যতে ভিসা কার্যক্রম ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে, যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে গুনতে হবে বিশাল অঙ্কের জামানত, বিপাকে ফুটবলার ও সমর্থকরা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েক মাস বাকি। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নতুন ভিসা নীতি নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বিতর্ক। দ্য অ্যাথলেটিক-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র সরকার একটি ‘পাইলট ভিসা বন্ড প্রোগ্রাম’ চালু করেছে। এর ফলে আলজেরিয়া এবং সেনেগালসহ পাঁচটি দেশের নাগরিক ও ফুটবলারদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য মাথাপিছু ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার (প্রায় ৬ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা) পর্যন্ত জামানত বা ‘বন্ড’ জমা দিতে হতে পারে। বর্তমানে যে পাঁচটি দেশ এই কড়া নিয়মের মুখে পড়েছে তারা হলো:১. আলজেরিয়া ২. সেনেগাল ৩. আইভরি কোস্ট ৪. কেপ ভার্দে ৫. তিউনিসিয়া (আগামী ২ এপ্রিল থেকে কার্যকর) যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রায় ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। মূলত যারা ট্যুরিস্ট বা বিজনেস (B-1/B-2) ভিসায় দেশটিতে প্রবেশ করেন, তারা যেন ভিসার মেয়াদ শেষে নিজ দেশে ফিরে যান, তা নিশ্চিত করতেই এই মোটা অঙ্কের জামানত চাওয়া হচ্ছে। তবে এই নীতিতে খেলোয়াড় বা অ্যাথলেটদের জন্য কোনো আলাদা ছাড় রাখা হয়নি। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নিয়ম শুধুমাত্র সাধারণ দর্শকদের জন্য নয়, বরং অংশগ্রহণকারী দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের জন্যও প্রযোজ্য হতে পারে। এর ফলে একটি দলের পুরো বহরের জন্য কয়েক লক্ষ ডলারের জামানত প্রয়োজন হবে।  যদিও এই টাকা দেশ ত্যাগের পর ফেরত পাওয়া যাবে, তবুও বিশাল এই অঙ্কের যোগান দেওয়া অনেক ফুটবল ফেডারেশন ও সাধারণ ভক্তদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একটি চার সদস্যের পরিবার যদি প্রিয় দলকে সমর্থন করতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে চায়, তবে তাদের শুধুমাত্র বন্ড বাবদই প্রায় ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত জমা রাখতে হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। তারা পর্দার আড়ালে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে যাতে অন্তত খেলোয়াড়, কোচ এবং অফিশিয়াল ডেলিগেশনের জন্য এই নিয়ম শিথিল করা হয়। তবে সমর্থকদের জন্য এই ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলে ধারণা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ এই তালিকার সরাসরি অন্তর্ভুক্ত না হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের এই কঠোর ভিসা নীতি বিশ্বকাপের আমেজকে কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকান দেশগুলোর বড় সংখ্যক দর্শক এবার মাঠে উপস্থিত থাকা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে যেখানে ‘সবার জন্য উন্মুক্ত’ পরিবেশ থাকার কথা, সেখানে এমন আর্থিক প্রতিবন্ধকতা আন্তর্জাতিক ফুটবল মহলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সূত্র: দ্য অ্যাথলেটিক, এবিসি নিউজ, রয়টার্স।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ইরানের নারী ফুটবল দলের কয়েকজন খেলোয়ার। ফাইল ফটো।
ইরানিদের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় পর্যটন ভিসায় প্রবেশ নিষিদ্ধ

অস্ট্রেলিয়া সরকার ইরানি নাগরিকদের জন্য সাময়িক সময়ের জন্য পর্যটন ভিসা স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান থেকে আসা দর্শনার্থীরা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর দেশ ত্যাগ করবেন না—এমন আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে এবং প্রাথমিকভাবে পরবর্তী ছয় মাস পর্যন্ত এটি বলবৎ থাকবে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার আওতামুক্ত থাকবেন দীর্ঘমেয়াদী ভিসাধারী ব্যক্তিরা এবং যাদের স্ত্রী-সন্তান বা নিকটাত্মীয় অস্ট্রেলিয়ায় বসবাস করছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বার্ক জানান, বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ইরানি নাগরিকের কাছে অস্ট্রেলিয়ার ভিজিটর ভিসা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, "পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।" উল্লেখ্য, চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানি নারী ফুটবল দলের সাত সদস্যকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে পরবর্তীতে তাদের মধ্যে পাঁচজন সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন এবং শরণার্থীর আবেদন প্রত্যাহার করেন। এই ঘটনার পরপরই পর্যটন ভিসার ওপর এমন কড়াকড়ি আরোপ করা হলো। এদিকে, অস্ট্রেলিয়ান গ্রিনস-এর অভিবাসন বিষয়ক মুখপাত্র সিনেটর ডেভিড শুব্রিজ এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি একে 'নিষ্ঠুর ও অন্যায্য' হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন, ইরানিরা যাতে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে না পারে, সেজন্যই এই পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
কঠিন হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার স্বপ্ন: ভিসা অনুমোদন কমলো ১১ শতাংশ

বিদেশের নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসূত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন এখন বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। সাম্প্রতিক সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম আট মাসেই মার্কিন ভিসা অনুমোদনের হার গত বছরের তুলনায় প্রায় ১১ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। সংখ্যার হিসেবে যা প্রায় ২.৫ লক্ষ কম। বিশ্বব্যাপী এই পতনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে ভারত ও চীনের নাগরিকদের ওপর। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালে যেখানে ১ কোটি ১৫ লক্ষ নন-ইমিগ্রেন্ট বা বি-১ ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল, ২০২৫ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২ লক্ষে। সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে। স্টুডেন্ট ভিসা অনুমোদনের হার এক ধাক্কায় ৩০ শতাংশের বেশি কমে গিয়েছে। গত বছরের ৩.৪৪ লক্ষের বিপরীতে এ বছর ভিসা পেয়েছেন মাত্র ২.৩৮ লক্ষ শিক্ষার্থী। এছাড়া কাজ, পর্যটন এমনকি আকাশপথ বা জলপথের কর্মীদের ভিসার সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেবল অস্থায়ী ভিসাই নয়, স্থায়ী বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ডের ক্ষেত্রেও শুরু হয়েছে নজিরবিহীন কড়াকড়ি। পারিবারিক এবং কর্মসংস্থানভিত্তিক— উভয় ক্ষেত্রেই ভিসার সংখ্যা কমিয়ে আনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের নেপথ্যে রয়েছে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি, আবেদনকারীদের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইলসহ কঠোর স্ক্রিনিং এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি অ্যাবিগেল জ্যাকসন জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মার্কিন নাগরিকদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার জনমত নিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন এবং বর্তমান নীতিগুলো তারই প্রতিফলন। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির এই টালমাটাল সময়ে স্ট্যাচু অফ লিবার্টির দেশে প্রবেশের লড়াই আগামী দিনে আরও কঠিন হতে চলেছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আর্থিক প্রস্তুতির পরামর্শ দূতাবাসের, ভুয়া নথিতে কড়া সতর্কতা

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। শনিবার দেওয়া এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, সম্ভাব্য ভ্রমণ বিঘ্ন বা চিকিৎসাজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত আর্থিক সামর্থ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। ভ্রমণকারীদের নিজ খরচ বহন করার সক্ষমতা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।   দূতাবাস আরও উল্লেখ করেছে, ভিসা সাক্ষাৎকারে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে উপস্থিত হওয়া এবং এমন প্রমাণপত্র সঙ্গে রাখা প্রয়োজন, যা থেকে বোঝা যায় আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হবেন না।   এ ছাড়া, ভুয়া নথি জমা দেওয়ার বিষয়ে কঠোর সতর্কতা দিয়ে বলা হয়েছে, এটি প্রতারণার শামিল। এ ধরনের কাজের কারণে আবেদনকারী ভিসার জন্য অযোগ্য হতে পারেন এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে অযোগ্য ঘোষিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সন্তান জন্ম দিয়ে মিলবে না নাগরিকত্ব: কড়া বার্তা মার্কিন দূতাবাসের

যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার উদ্দেশ্যে যারা সে দেশে গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তাদের জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।  বুধবার ভিসাসংক্রান্ত এক বিশেষ বার্তায় দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, বি১/বি২ (B1/B2) ভিজিটর ভিসায় গিয়ে সন্তান জন্ম দেওয়া বা 'বার্থ ট্যুরিজম' আইনত অনুমোদিত নয়। দূতাবাসের বার্তায় ভিজিটর ভিসার সীমাবদ্ধতাগুলো তুলে ধরে বলা হয়, শুধুমাত্র মার্কিন নাগরিকত্ব লাভের উদ্দেশ্যে ভ্রমণের সুযোগ এই ভিসায় নেই। এছাড়া, বি১/বি২ ভিসায় ভ্রমণকালীন আরও কিছু কাজ নিষিদ্ধ করা হয়েছে: পেশাগত কাজ: যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগকর্তা বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া যায় এমন কোনো কাজে যুক্ত হওয়া যাবে না। প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনা: ডিগ্রি বা একাডেমিক ক্রেডিটের জন্য কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা এই ভিসায় অবৈধ। পারিশ্রমিকযুক্ত পারফরম্যান্স: কোনো ধরনের পারিশ্রমিকের বিনিময়ে পেশাদার কোনো কাজে অংশ নেওয়া বা পারফর্ম করা অনুমোদিত নয়। মূলত ভ্রমণ এবং চিকিৎসার মতো সংক্ষিপ্ত প্রয়োজনে এই ভিসা ব্যবহৃত হলেও, নাগরিকত্ব পাওয়ার কৌশল হিসেবে একে ব্যবহার করা যাবে না বলে কঠোরভাবে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ট্রাম্পের উপদেষ্টা ড্যারেন বিটি। ছবি: সংগৃহীত
ভিসা বাতিল, ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টাকে ফিরিয়ে দিল ব্রাজিল

ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেকার কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। মার্কিন নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা ড্যারেন বিটির ভিসা বাতিল করেছে ব্রাজিল সরকার।  ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর সঙ্গে দেখা করতে বিটির এই সফরের কথা ছিল, যা বর্তমান লুলা প্রশাসন আটকে দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে একটি ‘বিনিময়’ শর্ত কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ইঙ্গিত দিয়েছেন, গত বছর ব্রাজিলের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আলেকজান্দ্রে প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা বাতিল করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।  লুলার দাবি, যতক্ষণ না প্যাডিলহার মার্কিন ভিসা পুনর্বহাল করা হচ্ছে, ততক্ষণ ট্রাম্পের উপদেষ্টাকে ব্রাজিলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে আনুষ্ঠানিক কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, ভিসা আবেদনে বিটি তার সফরের উদ্দেশ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এদিকে, ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট ৭০ বছর বয়সী জইর বলসোনারোর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে ব্রাসিলিয়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ায় তাকে অক্সিজেন সাপোর্টে রাখা হয়েছে এবং পরে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।  বলসোনারোর ছেলে সেনেটর ফ্ল্যাভিও বলসোনারো দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তার বাবার জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ড্যারেন বিটির ভিসা বিতর্ক এবং বলসোনারোর অসুস্থতা—এই দুই ইস্যুতে ব্রাজিল ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার সম্পর্ক এখন অগ্নিগর্ভ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৫, ২০২৬ 0
মার্কিন ভিসা
ভিসায় বড় পরিবর্তন: মার্কিন দূতাবাসের জরুরি সতর্কবার্তা

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে ইচ্ছুক বাংলাদেশিদের জন্য কঠোর সতর্কতা জারি করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। এখন থেকে দেশটিতে অবস্থানকালে নিজের খরচ বহনের পর্যাপ্ত সামর্থ্য না থাকলে কিংবা সরকারি জনকল্যাণমূলক সুবিধার অপব্যবহার করলে তাৎক্ষণিক বাতিল হতে পারে ভিসা।  এমনকি এর ফলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) এক বিশেষ বার্তায় দূতাবাস স্পষ্ট জানায় যে, পর্যটন, ব্যবসা, শিক্ষা কিংবা ট্রানজিট—যেকোনো নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাধারীর ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। বিশেষ করে যারা যুক্তরাষ্ট্রের করদাতাদের অর্থে পরিচালিত চিকিৎসা বা অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা সেবার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে পর্যটকদের অনুরোধ করা হয়েছে, তারা যেন ভ্রমণের আগেই চিকিৎসা সংক্রান্ত জরুরি পরিস্থিতিসহ যাবতীয় সম্ভাব্য খরচ মেটানোর মতো পর্যাপ্ত তহবিলের প্রস্তুতি রাখেন। মূলত দেশটিতে গিয়ে স্থানীয় সরকারি সুবিধার অপব্যবহার রোধ করতেই ওয়াশিংটন এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0