মার্কিন

ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণ শুরু করল মার্কিন নৌবাহিনী

শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রণকৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী থেকে সমুদ্র মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছে মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। যুদ্ধবিরতি ঘোষণা সত্ত্বেও প্রণালীটির কিছু অংশে জাহাজ চলাচল এখনো বিপজ্জনক থাকায় এই বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ 'ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই. পিটারসন' এবং 'ইউএসএস মাইকেল মারফি' বর্তমানে আরব উপসাগরে অবস্থান করছে। সেন্টকমের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) কর্তৃক পেতে রাখা মাইনগুলো পরিষ্কার করে জলপথটিকে সম্পূর্ণরূপে নিরাপদ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বলেন, "আমরা আজ থেকে একটি নতুন এবং নিরাপদ জাহাজ চলাচলের পথ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছি। খুব শীঘ্রই এই নিরাপদ রুটের তথ্য আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক শিল্প সংস্থাগুলোর সাথে শেয়ার করা হবে, যাতে বিশ্ব বাণিজ্য পুনরায় স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে।" প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ দেওয়া এক পোস্টে এই পদক্ষেপকে বিশ্বের দেশগুলোর প্রতি আমেরিকার একটি "উপহার" হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের স্বার্থেই আমেরিকা এই ঝুঁকি গ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য, চলতি সপ্তাহের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সিএনএন-এর তথ্যমতে এ পর্যন্ত মাত্র ৩০টির মতো জাহাজ এই প্রণালী অতিক্রম করতে পেরেছে। মাইনের পাশাপাশি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান থাকায় পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
স্পেনের পর এবার মার্কিন যুদ্ধবিমানের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ইতালির

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিলো ইতালি। মধ্যপ্রাচ্যগামী একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানকে সিসিলির সিগোনেলা সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করতে সরাসরি বাধা দিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।  ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যথাযথ পূর্বানুমতি না থাকায় এবং দ্বিপাক্ষিক চুক্তির শর্ত লঙ্ঘিত হওয়ায় এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতালির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম 'RAI'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমানটি যখন মাঝ আকাশে ছিল, তখনই অবতরণের জন্য অনুরোধ করা হয়। ইতালির প্রতিরক্ষা মন্ত্রী গুইডো ক্রোসেত্তো এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, কোনো ধরনের আলোচনা বা আগাম বার্তা ছাড়াই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। অধিকন্তু, তদন্তে দেখা গেছে এই ফ্লাইটটি সাধারণ লজিস্টিক বা নিয়মিত কোনো কার্যক্রমের অংশ ছিল না, যা বিদ্যমান চুক্তির পরিপন্থী। প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইতালি আন্তর্জাতিক চুক্তি এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।  এর আগে স্পেনও একইভাবে তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি মার্কিন এবং ইসরায়েলি সামরিক কার্যক্রমের জন্য ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। ইতালির এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইউরোপীয় দেশগুলোর পরিবর্তিত কূটনৈতিক মেরুকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’
হামলার মুখে পলায়ন? মেরামতের জন্য ক্রোয়েশিয়ায় মার্কিন বিমানবাহী রণতরী

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত জলসীমায় ইরান ও ইয়েমেনি প্রতিরোধের মুখে থাকা বিশ্বের বৃহত্তম এবং অত্যাধুনিক মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ শেষ পর্যন্ত রণক্ষেত্র ত্যাগ করেছে। যান্ত্রিক ত্রুটি ও অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির মেরামত করতে রণতরীটি এখন ক্রোয়েশিয়ার অ্যাড্রিয়াটিক বন্দর স্প্লিট-এ অবস্থান করছে। শনিবার সকালে মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এটি বন্দরে নোঙর করে। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১২ মার্চ লোহিত সাগরে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ চলাকালীন জাহাজটির প্রধান লন্ড্রি রুমে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও পেন্টাগন একে দুর্ঘটনা হিসেবে দাবি করছে, তবে আগুনের ধোঁয়ায় প্রায় ২০০ নাবিক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনজন গুরুতর আহত হন।  এই ঘটনায় রণতরীটির প্রায় ১০০টি শয়নকক্ষ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্লাম্বিং ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছে। ৫,০০০ নাবিক এবং ৭৫টি যুদ্ধবিমান বহনে সক্ষম এই দানবীয় জাহাজের স্বাভাবিক কার্যক্রম বর্তমানে মারাত্মকভাবে ব্যাহত। এদিকে, এই ঘটনাকে আমেরিকার ‘লজ্জাজনক পরাজয়’ হিসেবে দেখছে ইরান। আইআরজিসি-র কুদস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইসমাইল কায়ানি এক বার্তায় দাবি করেছেন, ইয়েমেনি যোদ্ধাদের অনমনীয় প্রতিরোধের মুখেই পিছু হটেছে এই মার্কিন রণতরী। তিনি জানান, কয়েক সপ্তাহ ধরে দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় অবস্থানের পর কোনো উপায় না পেয়ে মেরামতের অজুহাতে তারা এলাকা ত্যাগ করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, মেরামতের জন্য কয়েক মাস সময় লাগতে পারে, যা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিতে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে, ন্যাটো মিত্র হিসেবে ক্রোয়েশিয়া এই যাত্রাবিরতিকে কৌশলগত সম্পর্কের অংশ হিসেবে দেখছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
কাতারে মার্কিন নাগরিকদের 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষার' পরামর্শ দূতাবাসের

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে কাতারের দোহায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস তাদের কনস্যুলার সেবা সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছে। সেই সঙ্গে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের সম্ভাব্য যেকোনো হামলার বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  দূতাবাসের এক জরুরি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জরুরি কর্মীদের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। মার্কিন নাগরিকদের সর্বদা সতর্ক থাকতে এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোনো সতর্কবার্তা পাওয়া মাত্রই নিরাপদ স্থানে গিয়ে 'মাথা নিচু করে আত্মরক্ষা' বা 'ডাক অ্যান্ড কাভার' পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।  মূলত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই আগাম পদক্ষেপ নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫০০-এর বেশি মার্কিন সেনা হতাহত

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৫০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা হতাহত হয়েছে বলে দাবি করেছে তেহরান। শনিবার (২৮ মার্চ) ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর একজন মুখপাত্রের বরাত দিয়ে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা ‘তাসনিম নিউজ’ এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মুখপাত্র তার বিবৃতিতে জানান, মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন বাহিনী ইরানের নিখুঁত হামলার হাত থেকে বাঁচতে তাদের নিয়মিত ঘাঁটি ছেড়ে দুবাইয়ের দুটি গোপন আস্তানায় আশ্রয় নিয়েছিল। ইরান সেই অবস্থানগুলো শনাক্ত করে সেখানে কয়েক দফা শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও আত্মঘাতী ড্রোন হামলা চালায়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথম আস্তানায় ৪০০ জনের বেশি এবং দ্বিতীয় আস্তানায় ১০০ জনেরও বেশি মার্কিন সেনা ও কর্মকর্তা অবস্থান করছিলেন। ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স এবং নৌবাহিনীর এই সমন্বিত অভিযানে আস্তানা দুটি লক্ষ্য করে নিখুঁত আঘাত হানা হয়। মুখপাত্রের দাবি অনুযায়ী, হামলার পর কয়েক ঘণ্টা ধরে অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে নিহত ও আহত মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নিতে দেখা গেছে। ইরানি মুখপাত্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “ট্রাম্প এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর কমান্ডারদের বোঝা উচিত যে, এই অঞ্চলটি তাদের জন্য কবরস্থানে পরিণত হবে। সাহসী যোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে তাদের আত্মসমর্পণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।” উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনিকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। এর প্রতিশোধ হিসেবে গত এক মাস ধরে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল জোটের মধ্যে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলছে। আজকের হামলাকে সেই দীর্ঘমেয়াদী প্রতিশোধমূলক অভিযানের অংশ হিসেবে দেখছে তেহরান। তবে এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত পেন্টাগন বা মার্কিন সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরান সংঘাতে গুরুতর আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৩০০ ছাড়ালো

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সরাসরি ও পরোক্ষ সামরিক সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। পেন্টাগন ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ৩০৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য আহত হয়েছেন। চলতি সপ্তাহের শুরুতেও এই সংখ্যাটি ছিল প্রায় ২৯০ জন। প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, আহত সেনাদের মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই 'ট্রমাটিক ব্রেইন ইনজুরি' বা গুরুতর মস্তিষ্কের আঘাতে ভুগছেন। মূলত ইরানের ড্রোন হামলার কারণেই এই বিপুল সংখ্যক সেনা সদস্য মস্তিষ্কের সমস্যায় পড়েছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আহত ৩০৩ জনের মধ্যে ২৭৩ জন প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরলেও ১০ জন সেনার অবস্থা এখনো অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাদের অবস্থা এতটাই গুরুতর যে প্রাণহানির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। উল্লেখ্য, এই সংঘাতে এ পর্যন্ত ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রণক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে সব আঘাত বোঝা যায় না বিধায় সময়ের সাথে সাথে এই আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অনেক সময় সেনারা প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার পর শারীরিক বা মানসিক জটিলতা অনুভব করায় দেরিতে চিকিৎসা নিতে আসেন, যা এই পরিসংখ্যানে প্রভাব ফেলছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ
পেন্টাগনে তোলপাড়: দুই কৃষ্ণাঙ্গ ও দুই নারী জেনারেলের পদোন্নতি আটকে দিলেন হেগসেথ

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথের এক বিতর্কিত পদক্ষেপে তোলপাড় শুরু হয়েছে পেন্টাগনসহ পুরো ওয়াশিংটনে। অত্যন্ত যোগ্য হিসেবে বিবেচিত চারজন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়েছেন তিনি, যাদের মধ্যে দুইজন কৃষ্ণাঙ্গ এবং দুইজন নারী কর্মকর্তা রয়েছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে ওয়ান-স্টার জেনারেল হিসেবে কর্মরত এই কর্মকর্তাদের পদোন্নতি আটকে দেওয়ার বিষয়টিকে হেগসেথের ‘উওক কালচার’ বা অতি-উদারপন্থী প্রভাবমুক্ত সামরিক বাহিনী গড়ার লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। পিট হেগসেথ দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন সেনাবাহিনীতে প্রচলিত ডাইভারসিটি, ইক্যুইটি এবং ইনক্লুশন (DEI) নীতির কড়া সমালোচনা করে আসছেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি এই কর্মকর্তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে সেনাসচিব ড্যান ড্রিসকলকে চাপ দিয়েছিলেন। তবে ড্রিসকল এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানান, ওই কর্মকর্তারা কয়েক দশকের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার এবং যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সেনাসচিবের আপত্তি তোয়াক্কা না করেই হেগসেথ ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপে তাদের নাম সরিয়ে দেন। হেগসেথের এই সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভেতরে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, মেধার পরিবর্তে রাজনৈতিক আদর্শ এবং গায়ের রঙ বা লিঙ্গকে ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা বাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। বর্তমানে সংশোধিত এই তালিকাটি হোয়াইট হাউসে পাঠানো হয়েছে, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সিনেটে পেশ করা হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই মেয়াদে প্রতিরক্ষা বিভাগের নেতৃত্বে আসা হেগসেথের এমন একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে বড় ধরনের আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা হয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার পারদ যখন তুঙ্গে, তখন সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির এক ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে।  মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানিয়েছে, বর্তমানে এই অঞ্চলে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে। ওয়াশিংটন মুখে যুদ্ধবিরতি ও শান্তির প্রস্তাব দিলেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র। সেন্টকম-এর তথ্যমতে, কেবল সেনাসদস্যই নয়, এই অঞ্চলে বর্তমানে অন্তত ২০০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং দুটি বিশালাকার বিমানবাহী রণতরী অবস্থান করছে। সামরিক শক্তির এই বহর আরও বাড়াতে নতুন করে মোতায়েন করা হচ্ছে '৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন'-এর আরও ১ হাজার সেনা। এছাড়া ৫ হাজার মেরিন ও নৌ-সেনা নিয়ে গঠিত দুটি বিশেষ 'মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট' এখন মধ্যপ্রাচ্যের পথে। বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে ১৫ দফার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব আর অন্যদিকে রেকর্ড সংখ্যক সেনা মোতায়েন—যুক্তরাষ্ট্রের এই দ্বিমুখী অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও বাস্তবে যুদ্ধপ্রস্তুতি কি কোনো বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে?

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান। ছবি: সংগৃহীত
সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় মার্কিন দূতকে তলব করল ইরাক

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের একটি সামরিক ক্লিনিকে মার্কিন বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরাক সরকার। এই ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে বাগদাদে নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করার নির্দেশ দিয়েছে ইরাকের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইরাকি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র সাবাহ আল-নুমান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, আজ সকালে আনবার প্রদেশে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে এই হামলা চালানো হয়। ইরাক এই অঞ্চলকে সংঘাতমুক্ত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করা সত্ত্বেও তাদের সামরিক ইউনিটগুলো বারবার লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে। এর আগে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, আনবার প্রদেশে এক বিমান হামলায় অন্তত ৭ জন ইরাকি সেনা প্রাণ হারিয়েছেন। সহিংসতার মাত্রা এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। গতকাল ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ)-এর সদর দপ্তরে মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে, কুর্দিস্তানের এরবিল শহরের উত্তরে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৬ জন কুর্দি পেশমার্গা যোদ্ধা নিহত এবং আরও ৩০ জন আহত হয়েছেন। মুখপাত্র আল-নুমান এই হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী এক জঘন্য অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরণের কর্মকাণ্ড ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কিন দূতের কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং এই দায়িত্বজ্ঞানহীন হামলার বিষয়ে ইরাকের কঠোর ও আপসহীন অবস্থানের কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
বাগদাদে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানপন্থী মিলিশিয়াদের ড্রোন হামলা: চাঞ্চল্যকর ভিডিও প্রকাশ

ইরাকের বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবস্থিত মার্কিন কূটনৈতিক সহায়তা কেন্দ্রে শক্তিশালী ড্রোন হামলার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে ইরানপন্থী একটি মিলিশিয়া গোষ্ঠী।  প্রায় এক মিনিট দীর্ঘ ওই ভিডিওতে দেখা যায়, অত্যন্ত নিচু দিয়ে উড়ে আসা একটি ড্রোন সরাসরি মার্কিন রাডার সিস্টেমে আঘাত হানছে এবং সাথে সাথে সেখানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে। সিএনএন-এর ভৌগোলিক বিশ্লেষণে ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত করা হয়েছে। স্যাটেলাইট চিত্রেও হামলার শিকার ওই নির্দিষ্ট স্থানে রাডার সিস্টেমের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।  ভিডিওর পরবর্তী অংশে দেখা যায়, আরেকটি ড্রোন একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের খুব কাছ দিয়ে উড়ে যাচ্ছে, তবে সেটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে কি না তা স্পষ্ট হওয়ার আগেই ভিডিওটি শেষ হয়ে যায়। ভিডিওটিতে গত ২৩ মার্চের তারিখ উল্লেখ থাকলেও এর সঠিক সময় সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।  সাম্প্রতিক সময়ে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন হচ্ছে আমেরিকার দুর্ধর্ষ '৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন'

ইরানের সাথে আলোচনার টেবিলে যখন আশার আলো দেখছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প, ঠিক সেই মুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে বড় ধরণের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষায়িত ‘৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশন’-এর প্রায় ১,০০০ সৈন্য আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অভিমুখে রওনা হতে প্রস্তুত। উত্তর ক্যারোলিনা থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মাত্র ১৮ ঘণ্টার নোটিশে পৌঁছে যাওয়ার অবিশ্বাস্য সক্ষমতা রয়েছে এই বাহিনীর। একে বলা হয় ‘ইমিডিয়েট রেসপন্স ফোর্স’ বা আইআরএফ। এই বিশেষ সক্ষমতা সর্বশেষ ২০২১ সালে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করেছিল, যখন আফগানিস্তানের কাবুল বিমানবন্দর থেকে তড়িঘড়ি করে মার্কিন নাগরিক ও মিত্রদের সরিয়ে নিতে ঝড়ের গতিতে পৌঁছে গিয়েছিল এই ৮২তম ডিভিশন। এই বিশেষ ডিভিশনের শক্তি অপরিসীম। এতে রয়েছে প্রায় ৪,০০০ সৈন্যের তিনটি কমব্যাট টিম, বিধ্বংসী হেলিকপ্টার বহর সংবলিত অ্যাভিয়েশন ব্রিগেড, শক্তিশালী গোলন্দাজ ইউনিট এবং একটি দক্ষ লজিস্টিক ব্রিগেড। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গঠিত এই বাহিনী দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকার প্রথম প্যারাশুট বা এয়ারবোর্ন ডিভিশন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৪৪ সালের ঐতিহাসিক নরম্যান্ডি আক্রমণ থেকে শুরু করে ভিয়েতনাম, গ্রেনাডা, পানামা, ইরাক এবং আফগানিস্তানে আইসিসের বিরুদ্ধে লড়াই—প্রতিটি বড় যুদ্ধেই এই বাহিনীর নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে এই 'এলিট' বাহিনীর উপস্থিতি নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি করে কি না, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি 'বিধ্বস্ত’, দাবি মার্কিন গোয়েন্দা প্রধানের

গত বছরের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি পুরোপুরি 'বিধ্বস্ত' হয়ে গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্সের পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। বুধবার মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে অংশ নিয়ে তিনি এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান। শুনানি চলাকালীন জর্জিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফ গ্যাবার্ডের কাছে সরাসরি জানতে চান, গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী গত গ্রীষ্মের বিমান হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে কি না। জবাবে গ্যাবার্ড অত্যন্ত সংক্ষেপে এবং স্পষ্টভাবে 'হ্যাঁ' বলেন। তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ওই হামলার পর থেকে ইরান তাদের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ সক্ষমতা পুনর্গঠনের আর কোনো প্রচেষ্টা চালায়নি। তবে ইরান এই হুমকি থেকে পুরোপুরি সরে এসেছে কি না, এমন প্রশ্নে গ্যাবার্ড কিছুটা সতর্ক অবস্থান নেন। তিনি জানান, তাদের সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলেও পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠন এবং বৃদ্ধির ‘অভিপ্রায়’ বা ইচ্ছা ইরানের এখনো রয়েছে। ইরান বর্তমানে কোনো ‘আসন্ন পারমাণবিক হুমকি’ কি না—সিনেটর অসফের এমন প্রশ্নের জবাবে গ্যাবার্ড বলেন, কোনো বিষয়কে ‘আসন্ন হুমকি’ হিসেবে ঘোষণা করা গোয়েন্দা সংস্থার কাজ নয়। এটি সম্পূর্ণভাবে প্রেসিডেন্টের এখতিয়ার। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রেসিডেন্টই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন যে কোনটি দেশের জন্য জরুরি বিপদ আর কোনটি নয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড
৩০ ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে মার্কিন রণতরীর আগুন: ফ্লোরে ঘুমাচ্ছেন ৬০০ সেনা

যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডে গত সপ্তাহে লাগা আগুন টানা ৩০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে জ্বলেছে। এতে রণতরিতে থাকা বহু সেনা ধোঁয়ার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাবিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের  বরাত দিয়ে সোমবার (১৭ মার্চ) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটি জানায়, গত সপ্তাহে রণতরীটির লন্ড্রি (কাপড় ধোয়ার জায়গা) অংশে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এর আগে মার্কিন নৌবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই যুদ্ধজাহাজে আগুন লাগলেও সেটি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনাটি যুদ্ধসংক্রান্ত নয় এবং এতে দুই নাবিক আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত জীবননাশের মতো গুরুতর নয় বলেও জানানো হয়।   ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের সময় লোহিত সাগরে মোতায়েন করা ১ লাখ টন ওজনের এ রণতরির সামরিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়নি বলে নৌবাহিনী দাবি করেছে। তবে ১৩ বিলিয়ন (১ হাজার ৩০০ কোটি) ডলার মূল্যের এ রণতরীতে থাকা প্রায় ৪ হাজার ৫০০ ক্রু ও বিমান সেনার অবস্থা বর্তমানে ‘চরম অস্বস্তিকর’।   নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের ফলে অন্তত ৬০০ নাবিক তাদের থাকার জায়গা হারিয়েছেন। তারা এখন রণতরীর টেবিল বা মেঝেতে ঘুমাচ্ছেন। এছাড়া লন্ড্রি পুড়ে যাওয়ায় অনেকেই কাপড় ধুতে পারছেন না।   পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরের দায়িত্বে থাকা মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের কাছে এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চেয়েছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন।   ১০ মাস ধরে মোতায়েন থাকা এ রণতরীটিতে টয়লেট সমস্যাও প্রকট হয়ে উঠেছে। এনপিআরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে এর টয়লেট মেরামতে বারবার বাইরে থেকে সাহায্য নিতে হয়েছে।   গত জুন মাসে ভার্জিনিয়ার নরফোক বন্দর ছাড়ার পর থেকে রণতরীটি আটলান্টিক, ভূমধ্যসাগর ও ক্যারিবীয় অঞ্চল হয়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, যদি এই মোতায়েন এপ্রিলের মাঝামাঝি পর্যন্ত গড়ায়, তবে তা হবে ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর কোনো মার্কিন রণতরীর দীর্ঘতম মোতায়েন।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৭, ২০২৬ 0
বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস।
মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ছাড়ার নির্দেশ

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। সাম্প্রতিক এক নিরাপত্তা বার্তায় এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়। দূতাবাসের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, উদ্ভূত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে মার্কিন নাগরিকদের এখনই ইরাক ত্যাগ করা উচিত। যারা এই মুহূর্তে ইরাকে অবস্থান করছেন এবং সেখানে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তাদের আবারও গুরুত্বের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। নিরাপত্তা বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, ইরান সমর্থিত বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী বা মিলিশিয়াদের পক্ষ থেকে বড় ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে। এই উল্লেখযোগ্য হুমকির কথা মাথায় রেখেই নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এমন কঠোর ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।  ইরাকের বর্তমান অস্থিতিশীল রাজনৈতিক ও সামরিক প্রেক্ষাপটে নাগরিকদের জীবনের ঝুঁকি এড়াতে এই সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
গদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। ছবি: সংগৃহীত
বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে আঘাত হানে দুটি ড্রোন

ইরাকের রাজধানী বাগদাদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস প্রাঙ্গণে বড় ধরনের ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে।  প্রাথমিক প্রতিবেদনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানানো হলেও, নতুন প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে যে শনিবার দুটি ড্রোন সরাসরি দূতাবাস কম্পাউন্ডে আঘাত হানে। নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, এই হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ঠিক কতটুকু বা কেউ হতাহত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।  সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এই ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করছে এবং হামলার নেপথ্যে কারা রয়েছে তা খতিয়ে দেখছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
খার্গ আইল্যান্ডে মার্কিন হামলা: কেন এই দ্বীপটি ইরানের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রথম দুই সপ্তাহে ইরানজুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলা চললেও একটি নির্দিষ্ট স্থান ছিল লক্ষ্যবস্তুর বাইরে। তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।  গত শুক্রবার খার্গ আইল্যান্ডে (Kharg Island) অবস্থিত ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে শক্তিশালী হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। যদিও মার্কিন কর্মকর্তা এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের দাবি, তেলের স্থাপনাগুলো এই দফায় অক্ষত রয়েছে; তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকি পুরো সমীকরণ বদলে দিয়েছে। কেন এই দ্বীপটি ইরানের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ? পারস্য উপসাগরে ইরানের মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই প্রবাল দ্বীপটি আয়তনে ম্যানহাটনের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। অথচ এই ক্ষুদ্র দ্বীপটিই ইরানের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। ইরানের মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয় এই দ্বীপের মাধ্যমে। আহভাজ, মারুন এবং গাসসারানের মতো বিশালাকার তেলক্ষেত্রগুলো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল এখানে এসে পৌঁছায়। ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ ও বিশ্ববাজারের সমীকরণ কঠোর সামরিক নিয়ন্ত্রণে থাকায় ইরানীদের কাছে এটি ‘নিষিদ্ধ দ্বীপ’ হিসেবে পরিচিত। এর দীর্ঘ জেটিগুলো গভীর সমুদ্রে অবস্থিত হওয়ায় বিশালাকার সুপারট্যাঙ্কারগুলো সহজেই এখানে ভিড়তে পারে। ১৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সিআইএ-র এক নথিতে এই দ্বীপটিকে ইরানের অর্থনৈতিক সুস্থতার জন্য ‘অপরিহার্য’ বলে অভিহিত করা হয়েছিল। বর্তমানে ইসরায়েলি বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদও মনে করেন, এই টার্মিনালটি ধ্বংস করতে পারলে ইরানের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে যাবে। ট্রাম্পের হুমকি ও সংঘাতের আশঙ্কা বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা চরমে। ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরান যদি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে, তবে পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে এই তেল স্থাপনাগুলোই। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, খার্গ আইল্যান্ডে বড় ধরনের কোনো হামলা হলে তা কেবল ইরানের অর্থনীতি নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজারে এক ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ
ইরানের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন: বিশ্লেষকদের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ-এর ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’ (No Quarter) এবং ‘কোনো দয়া দেখানো হবে না’ (No Mercy) মর্মে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হেগসেথ বলেন, "আমরা চাপ অব্যাহত রাখব, আমরা এগিয়ে যাব। আমাদের শত্রুদের জন্য কোনো ছাড় নেই, কোনো দয়া নেই।" তার এই মন্তব্যের পরই বিশ্বজুড়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা নেই পেন্টাগনের আন্তর্জাতিক আইন এবং হেগ কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধক্ষেত্রে আত্মসমর্পণকারী বা আহত শত্রুপক্ষকে ‘ছাড় দেওয়া হবে না’ বা সরাসরি হত্যা করার হুমকি দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক ম্যানুয়ালেও এ ধরনের হুমকিকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের সিনিয়র অ্যাডভাইজার ব্রায়ান ফিনুকেন আল জাজিরাকে বলেন, "এই মন্তব্যগুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এটি প্রশ্ন তোলে যে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই আইনহীন এবং উস্কানিমূলক বাগাড়ম্বর বাস্তবে কতটা প্রয়োগ করা হচ্ছে।" তিনি আরও যোগ করেন, আত্মসমর্পণকারী যোদ্ধাদের হত্যা করা অমানবিক এবং পাল্টা ফলদায়ক। তবে প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ এসব সমালোচনাকে পাত্তা না দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি যুদ্ধের কোনো "বোকামি ভরা নিয়ম" (Stupid rules of engagement) বা "রাজনৈতিকভাবে সঠিক যুদ্ধ" (Politically correct wars) মেনে চলবেন না। হেগসেথের এই 'সর্বোচ্চ প্রাণঘাতী' (Maximum lethality) কৌশলের প্রভাবে ইরানে বেসামরিক নাগরিক নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। সম্প্রতি দক্ষিণ ইরানে একটি বালিকা বিদ্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই শিশু। সব মিলিয়ে চলমান এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত অন্তত ১,৪৪৪ জন ইরানি নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর ওয়াশিংটন ডিরেক্টর সারাহ ইয়েগার বলেন, "আমি দুই দশক ধরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাথে কাজ করছি, কিন্তু এ ধরনের ভাষা শুনে আমি স্তব্ধ। উর্ধ্বতন নেতাদের এই বক্তব্য যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাদের আচরণকে প্রভাবিত করে এবং এটি বড় ধরনের নৃশংসতার পূর্বলক্ষণ।" ওয়াচডগ গ্রুপ ‘এয়ারওয়ারস’ (Airwars)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার গতি আধুনিক ইতিহাসের যেকোনো যুদ্ধের চেয়ে বেশি। যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৫.৬ বিলিয়ন ডলারের গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে। এমনকি আইএস (ISIS)-এর বিরুদ্ধে ছয় মাসে যে পরিমাণ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল, ইরানে প্রথম ১০০ ঘণ্টাতেই তার চেয়ে বেশি হামলা চালানো হয়েছে। সিনেটর জেফ মের্কলি এই পরিস্থিতির নিন্দা জানিয়ে হেগসেথকে একজন ‘বিপজ্জনক অপেশাদার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “তার এই ‘দ্বিধাহীন’ যুদ্ধের নিয়মনীতি একটি বেসামরিক স্কুল এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে পার্থক্য করতে ব্যর্থ হয়েছে, যার ফলশ্রুতিতে ১৫০ জনেরও বেশি স্কুলছাত্রী ও শিক্ষক প্রাণ হারিয়েছেন।” বিশ্লেষকদের মতে, পেন্টাগনের এই আক্রমণাত্মক নীতি আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে বড় ধরনের আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরাকে মার্কিন জ্বালানি বিমান বিধ্বস্ত: ৬ ক্রু সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান (KC-135 Stratotanker) বিধ্বস্ত হয়ে বিমানে থাকা সকল ক্রু সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক শোকাবহ বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, এই দুর্ঘটনায় বিমানের ছয়জন আরোহীর কেউই বেঁচে নেই। প্রাথমিকভাবে চারজন নিহতের খবর জানানো হলেও, সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী নিহতের সংখ্যা বেড়ে ছয়জনে দাঁড়িয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানটি গতকাল বন্ধুত্বপূর্ণ আকাশসীমায় অবস্থানকালে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যে শত্রুপক্ষের হামলা বা ভুলবশত নিজেদের কোনো গোলাবর্ষণের (friendly fire) প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত চলছে।  নিহতদের পরিচয় এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না; সামরিক নিয়ম অনুযায়ী তাদের পরিবারের কাছে সংবাদ পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টা পর নাম-পরিচয় জনসমক্ষে আনা হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
৫ যাত্রী নিয়ে ইরাকে মার্কিন সামরিক বিমান বিধ্বস্ত

ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলীয় আকাশে মাঝ-আকাশে জ্বালানি সরবরাহকারী একটি মার্কিন KC-135 স্ট্রাটোট্যাঙ্কার বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে দুর্ঘটনাস্থলে বড় ধরনের উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সেন্টকম জানায়, মার্কিন সামরিক অভিযান 'অপারেশন এপিক ফিউরি' চলাকালীন এই দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযানে অংশ নেওয়া দুটি বিমানের মধ্যে একটি ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে ভূপাতিত হয় এবং অন্যটি ইসরায়েলের বেন গুরিয়ান বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, বিমানটি কোনো শত্রুভাবাপন্ন বা বন্ধুপ্রতিম পক্ষের হামলায় বিধ্বস্ত হয়নি। তবে বিমানে থাকা অন্তত ৫ থেকে ৬ জন ক্রু সদস্যের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা কাটেনি। মার্কিন কর্তৃপক্ষ কারিগরি ত্রুটির দিকে ইঙ্গিত দিলেও ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ইরাকি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানটি ভূপাতিত হয়েছে এবং এর সকল আরোহী নিহত হয়েছেন। তবে সেন্টকম এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ঘটনাটি একটি নিরাপদ আকাশসীমায় ঘটেছে। উল্লেখ্য, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর এটি চতুর্থ মার্কিন বিমান হারানোর ঘটনা। গত সপ্তাহেও কুয়েতি বাহিনীর ভুলে তিনটি মার্কিন F-15E যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং মার্কিন বাহিনী পূর্ণ শক্তি নিয়ে কাজ করছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৩, ২০২৬ 0
মার্কিন রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড
বিশ্বের বৃহত্তম মার্কিন রণতরীতে ভয়াবহ আগুন: আহত ২

লোহিত সাগরে অবস্থানরত মার্কিন নৌবাহিনীর সর্বাধুনিক এবং বিশ্বের বৃহত্তম পরমাণু শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড’ (USS Gerald R. Ford)-এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার মার্কিন নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডে দুই জন নৌ-সেনা আহত হয়েছেন। ইউএস নেভাল ফোর্সেস সেন্ট্রাল কমান্ড (৫ম ফ্লিট) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানায়, ১২ মার্চ রণতরীটির প্রধান লন্ড্রি রুমে (কাপড় ধোয়ার স্থান) আগুনের সূত্রপাত হয়। তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন জাহাজের কর্মীরা। নৌবাহিনী স্পষ্ট করেছে যে, এই অগ্নিকাণ্ড কোনো যুদ্ধকালীন হামলা বা শত্রুদেশের আক্রমণের কারণে ঘটেনি। এটি একটি দুর্ঘটনাজনিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, "আগুনের কারণ যুদ্ধ-সংশ্লিষ্ট নয় এবং এটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাহাজের প্রপালশন প্ল্যান্ট (ইঞ্জিন কক্ষ) বা গুরুত্বপূর্ণ কোনো যন্ত্রাংশের ক্ষতি হয়নি।" আহত দুই নৌ-সেনার অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল এবং তারা জাহাজে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের আঘাত গুরুতর নয় বলে জানানো হয়েছে। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-র সমর্থনে লোহিত সাগরে মোতায়েন রয়েছে ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও রণতরীটি বর্তমানে সম্পূর্ণ সচল (Fully Operational) রয়েছে এবং এর সামরিক কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি বলে পেন্টাগন জানিয়েছে। ২০১৭ সালে কমিশন লাভ করা এই রণতরীটি মার্কিন নৌবাহিনীর প্রযুক্তির এক অনন্য নিদর্শন। প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই জাহাজটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক শক্তির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ঘটনার বিস্তারিত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নৌ কর্তৃপক্ষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের সরকার পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই, মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক বিমান হামলা এবং সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনির মৃত্যুর পরও ইরানের বর্তমান নেতৃত্ব বা শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ার কোনো উপক্রম হয়নি।  রয়টার্সের বরাত দিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যে জানানো হয়েছে, ইরানের সরকার এখনো শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে তাদের পতনের কোনো সম্ভাবনা নেই। সংশ্লিষ্ট বিষয়টির ওপর নজর রাখছেন এমন তিনটি বিশ্বস্ত সূত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিশ্লেষণ বলছে যে ইরানি জনগণের ওপর বর্তমান প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ এখনো অটুট। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার প্রথম দিনেই আলী খামেনেই নিহত হলেও, দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোতে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি। এমনকি ইসরায়েলি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি ধসে পড়বে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। সাম্প্রতিক এই মূল্যায়নটি গত কয়েক দিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণের পর চূড়ান্ত করা হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0