যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাবে যুক্তরাজ্যে ৭৫ এমপির সমর্থন

গাজা, দখলকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে দেশটির ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ৭৫ জন সংসদ সদস্য (এমপি) স্বাক্ষর করেছেন।   প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন লেবার পার্টির এমপি রিচার্ড বার্গন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সহকর্মীদের এই উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান।   স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন স্কটিশ ন্যাশনাল পার্টির (এসএনপি) মুখপাত্র ব্রেন্ডন ও’হারা, লেবার পার্টির সাবেক নেতা জেরেমি করবিন এবং যুক্তরাজ্যের একমাত্র ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত এমপি লায়লা মোরান।   প্রস্তাবে গাজা, পশ্চিম তীর ও লেবাননে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রস্তাব যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইসরায়েল ইস্যুতে ক্রমবর্ধমান চাপ ও বিভাজনের প্রতিফলন। যদিও প্রস্তাবটি কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকারের অবস্থান ও পার্লামেন্টে সমর্থনের ওপর।   সূত্র: আল জাজিরা

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৮, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
ব্রিটেনে আশ্রয় আবেদনের রমরমা ব্যবসা, প্রতারণা চক্রে আছে বাংলাদেশিও

ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে এক বিশাল ‘প্রতারণা শিল্প’। সমকামী সাজা, অর্থের বিনিময়ে নাস্তিক সাজানো, এমনকি রাজপথে সাজানো রাজনৈতিক প্রতিবাদের নাটক—এসবই এখন লন্ডনের অভিবাসন জালিয়াতি চক্রের প্রধান হাতিয়ার। অতি সম্প্রতি বিবিসি নিউজের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই ভয়াবহ জালিয়াতির চিত্র, যেখানে খোদ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। লন্ডনের মাইল এন্ড রোডের একটি অফিসে ছদ্মবেশে বিবিসির এক সাংবাদিক অনুসন্ধান চালিয়ে জাহিদ হাসান আখন্দ নামে এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। নিজেকে ব্যারিস্টার পরিচয় দেওয়া জাহিদ ওই সাংবাদিককে (যিনি নিজেকে বাংলাদেশি ছাত্র হিসেবে পরিচয় দেন) ব্রিটিশ হোম অফিসকে ফাঁকি দেওয়ার তিনটি মোক্ষম পথ বাতলে দেন: সমকামিতা, নাস্তিকতা অথবা রাজনৈতিক নিপীড়ন। জাহিদ জানান, সমকামী সাজা সবচেয়ে সহজ পথ। এর জন্য তিনি প্রয়োজনে ‘ভাড়াটে পার্টনার’ বা সঙ্গী জোগাড় করে দেওয়ার প্রস্তাবও দেন। এছাড়া নাস্তিক হিসেবে প্রমাণ তৈরি করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দেওয়া এবং চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করে নাস্তিক ব্লগে নিবন্ধ লেখার পরামর্শ দেন তিনি। এই পুরো ‘প্যাকেজ’ বা আইনি সহায়তার জন্য তিনি দেড় হাজার পাউন্ড এবং জাল নথিপত্রের জন্য আরও দুই থেকে তিন হাজার পাউন্ড দাবি করেন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই চক্রটি হুবহু মূলধারার সংবাদপত্রের মতো দেখতে ভুয়া নিউজ ওয়েবসাইট তৈরি করে। সেখানে আবেদনকারীদের নামে মিথ্যা মামলার খবর বা নিপীড়নের গল্প ছাপানো হয়। বাংলাদেশের আদালত ব্যবস্থা ডিজিটাল না হওয়ার সুযোগ নিয়ে এসব ভুয়া তথ্য যাচাই করা ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া, রাজনৈতিক আশ্রয় নিশ্চিত করতে রাজপথে ভুয়া মিছিলের আয়োজন করা হয়। শুধুমাত্র ছবি তোলার উদ্দেশ্যেই এসব মিছিলে লোক ভাড়া করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীদের চিকিৎসকের কাছে গিয়ে বিষণ্ণতা বা এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার নাটক সাজাতেও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনুসন্ধানে জানা গেছে, জাহিদ হাসান আখন্দ ২০২২ সালে ব্যারিস্টার হিসেবে যোগ্যতা অর্জন করলেও তার আইন পেশা চর্চার কোনো লাইসেন্স নেই। তিনি যে ল’ ফার্মের নাম ব্যবহার করে মক্কেল ধরতেন, সেই প্রতিষ্ঠানটিও জানিয়েছে জাহিদ এখন আর তাদের কর্মী নন। যদিও জাহিদ তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ব্রিটেনে আশ্রয়প্রার্থীদের এই বিশাল জালিয়াতি চক্রটি এখন ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পেশাদার আইনজীবীদের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো অভিবাসন ব্যবস্থাকেই প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
উরচেস্টার এলজিবিটি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ১৭৫ জনের বেশি মানুষ জড়ো হন
যুক্তরাজ্যে সমকামী সেজে আশ্রয়ের জালিয়াত চক্র: বিবিসির অনুসন্ধানে বাংলাদেশিদের নাম

যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে সমকামী সেজে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনার এক বিশাল জালিয়াতি চক্রের তথ্য ফাঁস করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এই চক্রের সাথে পাকিস্তান ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের সম্পৃক্ততা এবং কিছু অসাধু আইনজীবীর সরাসরি মদদ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।  মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিবিসির এক বিশেষ অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া অভিবাসীদের একটি বড় অংশকে সমকামী সাজিয়ে ভুয়া প্রমাণপত্র তৈরির পরামর্শ দিচ্ছেন কিছু ইমিগ্রেশন আইনজীবী ও উপদেষ্টা। এর বিনিময়ে তারা একেকজন অভিবাসীর কাছ থেকে ১৫০০ থেকে ৭০০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা) পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন। অনুসন্ধানে উঠে আসা ভয়াবহ কিছু তথ্য: সাজানো প্রমাণপত্র: আইনজীবীরা আবেদনকারীদের বিষণ্নতার ভান করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া, এলজিবিটি ক্লাবে অংশ নেওয়া এবং কৃত্রিম ছবি তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমনকি এইচআইভি পজিটিভ হওয়ার মিথ্যা নাটক সাজানোর নজিরও পাওয়া গেছে। তানিসা খান ও শাকিল সিন্ডিকেট: পূর্ব লন্ডনের তানিসা খান নামের এক উপদেষ্টা নিজেকে ১৭ বছরের অভিজ্ঞ দাবি করে জানান, আবেদনকারীদের সমকামী সঙ্গীর সাথে ঘনিষ্ঠ ছবি এমনকি ভুয়া শারীরিক সম্পর্কের স্বীকারোক্তি সম্বলিত চিঠিও তারা ম্যানেজ করে দেন। অনুসন্ধানে তার সাথে ‘ল অ্যান্ড জাস্টিস সলিসিটরস’-এর প্যারালিগ্যাল মাজেদুল হাসান শাকিলের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। আশ্রয় আবেদনের পরিসংখ্যান: ২০২৩ সালে যৌন পরিচয়ের ভিত্তিতে করা আবেদনের মধ্যে ৪২ শতাংশই ছিল পাকিস্তানি নাগরিকদের। বাংলাদেশি ও ভারতীয়দের মধ্যেও এই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর (হোম অফিস)। হোম অফিসের হুঁশিয়ারি: বিবিসির এই অনুসন্ধানের প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আশ্রয় ব্যবস্থার এই নগ্ন অপব্যবহার কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। যারা জালিয়াতির আশ্রয় নেবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণসহ যুক্তরাজ্য থেকে বিতাড়িত করা হতে পারে। ইতোমধ্যে অভিবাসন বিধিতে পরিবর্তন এনে স্থায়ী সুরক্ষার বদলে প্রতি ৩০ মাস অন্তর মামলা পর্যালোচনার নিয়ম চালু করেছে ব্রিটিশ সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের জালিয়াতির ফলে যারা প্রকৃতপক্ষেই নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে আশ্রয় খুঁজছেন, তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
ট্রাম্পের চাপের মুখেও অনড় স্টারমার; ‘মাথা নত করবে না ব্রিটেন’

ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনার মুখেও নিজের অবস্থানে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের চাপের কাছে মাথা নত করে ব্রিটেনকে ইরান যুদ্ধে জড়াবেন না তিনি। আজ হাউজ অব কমন্সে ট্রাম্পের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন স্টারমার। তিনি বলেন, “ইরান যুদ্ধ নিয়ে আমার অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। আমরা এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে চাই না। আমি আমার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করব না এবং কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করব না।” এর আগে স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিয়ার স্টারমারের জ্বালানি ও অভিবাসন নীতির কড়া সমালোচনা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সম্পর্ক আগের মতো ভালো নেই। বিশেষ করে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় স্টারমারের ওপর ক্ষুব্ধ ট্রাম্প। ব্রিটেন শুরু থেকেই এই সামরিক অভিযানকে ‘অবৈধ’ বলে গণ্য করে আসছে। পার্লামেন্টে স্টারমার আরও বলেন, “এটি আমাদের যুদ্ধ নয়। আমার ওপর এই অবস্থান পরিবর্তনের জন্য অনেক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে গত রাতে ঘটে যাওয়া ঘটনাও (ট্রাম্পের মন্তব্য) অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু আমি জানি আমি কোথায় দাঁড়িয়ে আছি। এই যুদ্ধে যোগ দেওয়া আমাদের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং আমরা তা করব না।” এদিকে ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই নেতিবাচক মন্তব্যের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকার একমত নয়। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে প্রতিদিন আলোচনা চলছে। আমাদের দশকের পুরনো ‘বিশেষ সম্পর্ক’ আগের মতোই অটুট রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা বজায় থাকবে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ইস্যু এবং সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার নিয়ে দুই দেশের শীর্ষ নেতার এই প্রকাশ্য মতভেদ ভবিষ্যতে আটলান্টিক পাড়ের এই দুই মিত্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি করতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা রক্ষায় ব্রিটেন ও ফ্রান্সের যৌথ উদ্যোগ

পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য। এই নৌপথের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী শুক্রবার দেশ দুটির পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের ভিডিও কনফারেন্সের আয়োজন করা হয়েছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় (এলিসি প্যালেস) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই বৈঠকে যৌথভাবে সভাপতিত্ব করবেন। মূলত হরমুজ প্রণালীতে একটি ‘বিশুদ্ধ রক্ষণাত্মক মিশন’ (Purely defensive mission) পরিচালনার লক্ষ্যেই এই আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই মিশনের মূল লক্ষ্য। গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য যৌথভাবে একটি বিশেষ অপারেশন চালুর বিষয়ে কাজ করছে, যার মাধ্যমে তেলবাহী ট্যাংকার ও কন্টেইনার জাহাজগুলোকে নিরাপত্তা দিয়ে পারাপার করা হবে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে অস্থিরতা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সংকট নিরসনেই ব্রিটেন ও ফ্রান্স ইউরোপীয় এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে এই বিশেষ সুরক্ষা মিশন গঠন করতে যাচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ফিলিস্তিনপন্থীদের বিক্ষোভে পুলিশের ব্যাপক ধরপাকড়: উত্তাল লন্ডন

যুক্তরাজ্যে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকারী গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিতে লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ারে আয়োজিত এক বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। শনিবারের এই সমাবেশে কয়েকশ মানুষ অংশ নেন, যেখানে পুলিশের ব্যাপক কড়াকড়ি লক্ষ্য করা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা "আমি গণহত্যার বিরোধী, আমি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সমর্থক" লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সেন্ট্রাল লন্ডনে জড়ো হন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সমাবেশ চলাকালীন পুলিশ বেশ কয়েকজনকে জোরপূর্বক সরিয়ে নেয় এবং কয়েকজনকে আটক করে। এমনকি লাঠি হাতে থাকা এক বয়োজ্যেষ্ঠ নারীকেও পুলিশি পাহারায় সরিয়ে নিতে দেখা যায়। বিক্ষোভের আয়োজক সংস্থা ‘ডিফেন্ড আওয়ার জুরিস’ (DOJ) সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে যেন অবিলম্বে প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয় এবং সন্ত্রাসবাদ আইনের আওতায় যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়। ঘটনার প্রেক্ষাপট: প্যালেস্টাইন অ্যাকশন মূলত একটি সরাসরি অ্যাকশন গ্রুপ, যারা ইসরায়েলি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ব্রিটিশ সরকার এই গোষ্ঠীটিকে 'সন্ত্রাসবাদী সংগঠন' হিসেবে তালিকাভুক্ত করে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে সংগঠনটির সদস্য হওয়া বা সমর্থন জানানো দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, যার সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছরের কারাদণ্ড। আইনি লড়াই ও পুলিশের অবস্থান: চলতি বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যের হাইকোর্ট সরকারের এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বেআইনি’ ও ‘মত প্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী’ বলে রায় দিয়েছিলেন। আদালতের এই রায়ের পর শুরুতে লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশ জানিয়েছিল যে, তারা সমর্থনকারীদের গ্রেপ্তার করবে না। কিন্তু গত ২৫ মার্চ পুলিশ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে পুনরায় গ্রেপ্তারের ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে মানবাধিকার কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কায়সার জোহরা নামে এক অ্যাক্টিভিস্ট আল-জাজিরাকে বলেন, "পুলিশের এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে তারা সাধারণ মানুষের সুরক্ষা বা অধিকারের তোয়াক্কা করে না, বরং সরকারের এজেন্ডা বাস্তবায়নই তাদের মূল কাজ।" আয়োজকদের মতে, শনিবারের এই সংহতি সমাবেশে প্রায় ১,৫০০ মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ব্রিটিশ সরকারের করা আপিল আবেদনের শুনানি আগামী ২৮ ও ২৯ এপ্রিল উচ্চ আদালতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
যুক্তরাজ্যে মুসলিম ও বাংলাদেশীদের মধ্যে ক্রমেই জনপ্রিয় হচ্ছে গ্রিন পার্টি

যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটাররা এখন দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিউক্যাসলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। মূল কারণ শুধু গাজা নয়সাধারণভাবে মনে করা হয়, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণেই মুসলিমরা অসন্তুষ্ট। তবে অভিভাবক পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে আরও গভীর কিছু কারণ রয়েছে। নিউক্যাসলের ভোটাররা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে লেবার পার্টি এই অঞ্চল শাসন করলেও স্থানীয় সেবার মান কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এছাড়া ডানপন্থীদের উত্থানের মোকাবিলায় লেবার নেতৃত্বের 'উদাসীন' ভূমিকায় অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটার হতাশ। বাংলাদেশিদের মনে ক্ষোভপ্রতিবেদনে হালিমা বেগম নামে একজন ভোটারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে লেবার পার্টি করতেন। তিনি জানান, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশিদের "ফেরত পাঠানোর" ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। হালিমা বলেন, "আমি নিজেকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ এবং মুসলিম—সব পরিচয়েই গর্বিত মনে করি। কিন্তু লেবার পার্টির নেতার ওই মন্তব্য আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।" কেন গ্রিন পার্টি? মুসলিম ভোটারদের গ্রিন পার্টির প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির স্পষ্ট অবস্থান। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে গ্রিন পার্টির কড়া অবস্থান ভোটারদের আশ্বস্ত করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় থাকা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বংশোদ্ভূত মানুষরা গ্রিন পার্টির পরিবেশবাদী নীতির সাথে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন। লেবার পার্টির জন্য অশনি সংকেতএই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিউক্যাসলেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহাম, লেস্টার এবং পূর্ব লন্ডনের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও লেবার পার্টির ভোট ব্যাংক হুমকির মুখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এখন তাদের নিজের আসন নিয়ে শঙ্কিত।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনই বলে দেবে, এই পরিবর্তন কি কেবল প্রতিবাদী ভোট নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির এক স্থায়ী মেরুকরণ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাজ্যে নারীদের জন্য ‘উইমেন ইন স্টেম’ বৃত্তি: ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন

বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত (স্টেম) বিষয়ে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আবারও সম্পূর্ণ অর্থায়িত বৃত্তি দিচ্ছে British Council। টানা ষষ্ঠবারের মতো চালু হওয়া ‘উইমেন ইন স্টেম’ শীর্ষক এ কর্মসূচি তাদের ‘গোয়িং গ্লোবাল পার্টনারশিপস’ উদ্যোগের অংশ।   এই বৃত্তির আওতায় বাংলাদেশসহ নির্ধারিত দেশের নারী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এক বছর মেয়াদি স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ পাবেন। আগ্রহীরা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করতে পারবেন।   ব্রিটিশ কাউন্সিল জানিয়েছে, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং লিঙ্গ বৈষম্য কমানোই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যের ৪৩টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় এই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এবং প্রায় ৫০০ নারী শিক্ষার্থী এ বৃত্তির মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন।   ২০২৬–২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রতিটি বৃত্তির আর্থিক মূল্য ন্যূনতম ৪০ হাজার পাউন্ড। এর আওতায় টিউশন ফি, জীবনযাপন ভাতা, যাতায়াত ও ভিসা ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা ফি এবং ইংরেজি ভাষা সহায়তা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশে কাজ করার সুযোগ পাবেন এবং বৈশ্বিক অ্যালামনাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবেন।   এ বছর বিশ্বব্যাপী মোট ৯০টি বৃত্তি প্রদান করা হবে, যেখানে ৩০টি দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। দক্ষিণ এশিয়ার জন্য বরাদ্দ রয়েছে ২৫টি বৃত্তি, যার মাধ্যমে অঞ্চলটির শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন।   ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল হেড অব এনাবলিং রিসার্চ অ্যান্ড সায়েন্স ড. জেন বার্ডসলি বলেন, এই কর্মসূচি স্টেম খাতে নারীদের অগ্রযাত্রার পথে থাকা প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সহায়তা করছে এবং আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক গবেষণা পরিবেশ গড়ে তুলছে।   বাংলাদেশে ব্রিটিশ কাউন্সিলের শিক্ষা বিভাগের প্রধান তৌফিক হাসান বলেন, স্টেম খাতে নারী-পুরুষের বৈষম্য কমাতে ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। এই বৃত্তি উদীয়মান নারী শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক গবেষণা ও উদ্ভাবনের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।   এ কর্মসূচির একজন স্কলার সাদিয়া জামান জানান, এই বৃত্তি তার গবেষণা দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি নেতৃত্ব ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, এটি তার জন্য জীবন বদলে দেওয়া অভিজ্ঞতা।   বৃত্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য, যোগ্যতা এবং অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকা জানতে ব্রিটিশ কাউন্সিলের গ্লোবাল ওয়েবসাইট এবং বাংলাদেশ অফিসের ওয়েবসাইটে ভিজিট করা যাবে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন ব্রিটেনের, কি এই ‘র‍্যাপিড রেঞ্জার’?

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এবং ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে উপসাগরীয় অঞ্চলে অত্যাধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘র‍্যাপিড রেঞ্জার’ মোতায়েন করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুক্রবার সকালে কুয়েতের যুবরাজের সাথে এক ফোনালাপে এই সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ‘র‍্যাপিড রেঞ্জার’ মূলত একটি স্বল্পপাল্লার বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা বিশেষভাবে ড্রোন এবং দ্রুতগামী লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। প্রায় ৮ কিলোমিটার রেঞ্জ সম্পন্ন এই সিস্টেমটি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যভেদে পারদর্শী। উপসাগরীয় অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ঢাল হিসেবে কাজ করবে। লন্ডন থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, এই সামরিক সহায়তার অংশ হিসেবে একটি প্রতিরক্ষা সিস্টেম সৌদি আরবে পাঠানো হচ্ছে। এটি সরাসরি সৌদি আরবের মূল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করা হবে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তাদের আরএএফ (RAF) রেজিমেন্ট গান ইতিমধ্যেই কার্যকর ভূমিকা পালন করছে এবং বেশ কয়েকটি ইরানি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সাথে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
কিয়ার স্টারমার ও শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-সাবাহ
কুয়েতের নিরাপত্তায় আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

যুক্তরাজ্য কুয়েতে তাদের আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘র‍্যাপিড সেন্ট্রি’ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কুয়েতের মিনা আল-আহমাদি তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার পর দেশটির গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা বাড়াতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।   এ সিদ্ধান্ত আসে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং কুয়েতের আমির শেখ মিশাল আল-আহমাদ আল-সাবাহ-এর মধ্যে টেলিফোনে আলোচনার পর। আলোচনায় স্টারমার ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং কুয়েতের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন।   প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য কুয়েতসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশগুলোর পাশে রয়েছে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি মোকাবিলায় র‍্যাপিড সেন্ট্রি ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলেও আশা করা হচ্ছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সম্পর্কিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি বাড়তে থাকায় কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় এই ধরনের প্রতিরক্ষা সহায়তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।   সূত্র: আলজাজিরা।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করার লক্ষ্যে ভার্চুয়াল সম্মেলন শুরু

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালী পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের উদ্যোগে শুরু হয়েছে এক গুরুত্বপূর্ণ ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলন। এতে অংশ নিয়েছেন বিশ্বের ৪০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি। সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেত কুপার ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে "কাণ্ডজ্ঞানহীনতা" বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গতকাল এই বৈঠকের ঘোষণা দিয়ে জানিয়েছিলেন, তেহরানের বাধার কারণে অবরুদ্ধ হয়ে পড়া এই নৌপথটি পুনরায় চালুর কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক উপায় খুঁজতেই এই জরুরি আয়োজন। মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের জেরে ইরান বর্তমানে এই কৌশলগত জলপথটি কার্যত অচল করে রেখেছে। উল্লেখ্য যে, এই গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র উপস্থিত নেই।পররাষ্ট্রমন্ত্রী কুপার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, "ইরানের এই অবিবেচকের মতো আচরণ এমন সব দেশকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে যারা এই সংঘাতের সঙ্গে মোটেও জড়িত নয়।" তিনি আরও যোগ করেন যে, এই পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বর্তমানে চরম হুমকির মুখে। আলোচনার পাশাপাশি কুপার জানান, একটি সম্মিলিত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক ব্যবস্থা কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তা পর্যালোচনার জন্য শিগগিরই সামরিক পরিকল্পনাবিদদেরও এক টেবিলে বসানো হবে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার ও সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা
ডাউনিং স্ট্রিটে শারা-স্টারমার বৈঠক: নতুন সিরিয়া গঠনে বিশ্বনেতাদের সমর্থন

সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশটির গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে এক ঝটিকা সফরে বের হয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল শারা।  এরই ধারাবাহিকতায় আজ যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমারের সরকারি বাসভবন ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন এই দুই নেতা। বৈঠকে সিরিয়ার বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি, মানবিক সহায়তা এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ডাউনিং স্ট্রিট সূত্রে জানা গেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী সিরিয়ার গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। উল্লেখ্য যে, লন্ডনে আসার ঠিক একদিন আগেই আহমেদ আল শারা বার্লিনে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। ইউরোপের প্রভাবশালী দুই রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে পর পর এই বৈঠকগুলো আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সিরিয়ার নতুন সরকারের অবস্থানকে আরও সুসংহত করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাজ্য, পরিষ্কার বার্তা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের

ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer জানিয়েছেন, এই সংঘাতে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে না এবং ব্রিটিশ বাহিনী ইরানের ভূখণ্ডে প্রবেশ করবে না।   সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টারমার বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের নয়, আমরা এতে জড়াব না।’ মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করেন, যুক্তরাজ্য সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে না।   তবে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে যুক্তরাজ্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা জোরদার করছে। এর লক্ষ্য হচ্ছে—বিদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের সুরক্ষা দেওয়া।   স্টারমার আরও বলেন, হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক নৌযান চলাচল বজায় রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্য কাজ করবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো অবস্থাতেই এই সংঘাতে সরাসরি জড়িয়ে পড়া উচিত নয়।মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের এই অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৩০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত: ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধসের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্যের ব্যবসা-বাণিজ্যে মারাত্মক ধস নামতে শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত 'পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স' বা পিএমআই-এর জরিপ থেকে এই উদ্বেগের চিত্র সামনে এসেছে।  তথ্যমতে, যুদ্ধের কারণে উৎপাদন খরচ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এবং ব্যবসায়িক আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থমকে গেছে। এসএন্ডপি গ্লোবালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিরতা গত মার্চ মাসে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হেনেছে। এতে একদিকে যেমন উৎপাদন থমকে গেছে, অন্যদিকে মুদ্রাস্ফীতি লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা এবং পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা যুদ্ধের স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করে আরও ভয়াবহ হতে পারে। একই চিত্র দেখা গেছে ইউরোজোনের ২১টি দেশেও। জ্বালানির আকাশচুম্বী দাম এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় বিগত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে দ্রুতগতিতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। অর্থনীতিবিদরা একে ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ বা স্থবির মুদ্রাস্ফীতির সংকেত হিসেবে দেখছেন, যেখানে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেমে থাকলেও নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বাড়তে থাকে।  ফলে সাধারণ মানুষের আয় না বাড়লেও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে কয়েক গুণ। যদিও বর্তমান সূচক এখনো পতনের একদম শেষ সীমানায় পৌঁছায়নি, তবে গত কয়েক মাসের তুলনায় এটি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য এক অশনিসংকেত।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
অ্যাম্বুলেন্সগুলি পরিচালনা করত ইহুদী স্বেচ্ছাসেবং সংস্থা।
লন্ডনে ইহুদি-বিদ্বেষের ঘটনা, তদন্তে নেমেছে সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশ

যুক্তরাজ্যের উত্তর লন্ডনের ইহুদি অধ্যুষিত গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় চারটি অ্যাম্বুলেন্সে অগ্নিসংযোগের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে।  স্থানীয় একটি সিনাগগের পাশে রাখা এই অ্যাম্বুলেন্সগুলো মূলত ইহুদি স্বেচ্ছাসেবক দল দ্বারা পরিচালিত হতো। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে তদন্তে নেমেছে যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাস-মোকাবিলাকারী বিশেষ পুলিশ বাহিনী। এই ঘটনাকে সরাসরি ইহুদি-বিদ্বেষী আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করেছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার। এক বিবৃতিতে তিনি ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। স্টারমার বলেন, আমাদের আধুনিক সমাজে কোনো ধরনের ইহুদি বিদ্বেষ বা সাম্প্রদায়িক সহিংসতার স্থান নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেট্রোপলিটান পুলিশের প্রধান মার্ক রাওলি অতিরিক্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, গোল্ডার্স গ্রিনসহ আশপাশের ইহুদি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে ২৬৪ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। ফাইল ছবি
৮ এপ্রিল থেকে সব ধরনের ভিসা ও নাগরিকত্ব আবেদন ফি বাড়াচ্ছে যুক্তরাজ্য

সব ধরনের ভিসা ফি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাজ্য। একই সঙ্গে নাগরিকত্ব আবেদন ফিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইউকে হোম অফিস জানিয়েছে, নতুন এই ফি ৮ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে।   নতুন হার অনুযায়ী, ৬ মাস পর্যন্ত ভিজিট ভিসা ফি ৬ পাউন্ড বাড়িয়ে ১৩৫ পাউন্ড করা হচ্ছে। ২ বছর মেয়াদি ভিজিট ভিসা ৩১ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ৫০৬ পাউন্ড, ৫ বছর মেয়াদি ভিসা ৫৫ পাউন্ড বাড়িয়ে ৯০৩ পাউন্ড এবং ১০ বছর মেয়াদি ভিসা ৬৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ১২৮ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে আবেদনকারী ও তার নির্ভরশীলদের জন্য ফি ৩৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ৫৫৮ পাউন্ড করা হচ্ছে। একাডেমিক কাজের জন্য ৬ থেকে ১২ মাস মেয়াদি ভিজিট ভিসা ১৪ পাউন্ড বাড়িয়ে ২৩৪ পাউন্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। একই হারে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসা ভিসার ফিও বাড়ছে।   যুক্তরাজ্যের বাইরে থেকে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ ভিসার ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫০ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ৯৯ পাউন্ড বৃদ্ধি পাবে। হেলথ কেয়ার কর্মীদের জন্য ৩ বছর পর্যন্ত আবেদনে ২০ পাউন্ড এবং এর বেশি হলে ৩৮ পাউন্ড বাড়ছে। সিজনাল ওয়ার্কারদের আবেদন ফি ২১ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।   অন্যদিকে, যুক্তরাজ্যের ভেতরে দক্ষ কর্মীদের স্পন্সরশিপ ভিসার ক্ষেত্রে ৩ বছর পর্যন্ত কাজের জন্য ফি ৫৮ পাউন্ড এবং ৩ বছরের বেশি হলে ১১৪ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে। ভিজিটর ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনের ফি ৭২ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে।   এছাড়া বিমানবন্দরে ট্রানজিট ভিসা আড়াই পাউন্ড এবং স্থল সীমান্ত দিয়ে ট্রানজিট ভিসা সাড়ে ৪ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথোরাইজেশন (ইটিএ) ফি ৪ পাউন্ড বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিজ দেশে নির্যাতনের শিকার হয়ে যুক্তরাজ্যে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভিসা ফি ১৯৭ পাউন্ড বাড়ানো হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ২৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র: যুক্তরাজ্য সরাসরি হুমকির শিকার নয়, দাবি ব্রিটিশ সরকারের

ইরানের কাছে যুক্তরাজ্য লক্ষ্যবস্তু করে আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—এমন ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী-এর দাবি নাকচ করেছে যুক্তরাজ্য। ব্রিটিশ হাউজিং সেক্রেটারি স্টিভ রিড বলেন, ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে বা তাদের তা করতে সক্ষম—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আমাদের কাছে নেই।   এই মন্তব্য আসে গত শুক্রবার রাতের ঘটনায়, যখন ইরান ভারত মহাসাগরের চাগোস দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটিতে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ওই ঘাঁটির দূরত্ব ইরান থেকে প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার।   ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মধ্যে একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে মাঝপথে পড়ে যায়, অপরটি প্রতিহত করা হয়। তবে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।   বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার মাধ্যমে ইরানের দূরপাল্লার সামরিক সক্ষমতার ধারাবর্ধিত প্রমাণ মিলেছে। তবুও লন্ডন বা যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের উপর সরাসরি হুমকি হিসেবে এ মুহূর্তে ব্রিটিশ সরকার তা দেখছে না।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কি লন্ডনে পৌঁছাতে পারে? ব্রিটিশ সরকারের ভিন্নমত

ইরানের কাছে লন্ডন পর্যন্ত আঘাত হানতে সক্ষম দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে—ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর এমন দাবি নাকচ করে দিয়েছে যুক্তরাজ্য।   ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি লন্ডনে পৌঁছাতে পারে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য তাদের কাছে নেই। এ বিষয়ে দেশটির ক্যাবিনেট মন্ত্রী স্টিভ রিড বলেন, ইরান যুক্তরাজ্যকে লক্ষ্যবস্তু করছে বা তা করার সক্ষমতা রাখে—এমন সুনির্দিষ্ট মূল্যায়ন আমাদের কাছে নেই।   এর আগে আইডিএফ দাবি করেছিল, তেহরান-এর হাতে এমন ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে, যা প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। এদিকে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় ইরান ভারত মহাসাগরে অবস্থিত যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক ঘাঁটি দিয়েগো গার্সিয়া লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এই ঘাঁটির দূরত্ব প্রায় ৩ হাজার ৮০০ কিলোমিটার।   স্টিভ রিড জানান, নিক্ষেপ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্রের একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয় এবং অন্যটি মাঝ আকাশে ধ্বংস করা হয়। তবে এগুলো ব্রিটিশ ভূখণ্ডের কতটা কাছাকাছি পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৩,৮০০ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানার সক্ষমতা ইরানের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। তবে লন্ডন যেহেতু ইরান থেকে প্রায় ৪,৪০০ কিলোমিটার দূরে, তাই ব্রিটিশ সরকার এখনই এটিকে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে না।   তবে ইসরায়েল বারবার সতর্ক করে বলছে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ক্রমেই বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ইউরোপের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিল যুক্তরাজ্য

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সম্ভাব্য ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।   শুক্রবার (২০ মার্চ) অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষামূলক অভিযানে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে।   তবে ডাউনিং স্ট্রিট স্পষ্ট করেছে, যুক্তরাজ্য সরাসরি কোনো হামলায় অংশ নেবে না এবং তাদের নীতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সরকার জানিয়েছে, এই অনুমতি মূলত প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার অংশ হিসেবেই দেওয়া হয়েছে।   এর আগে ব্রিটিশ স্বার্থ বা নাগরিকদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কায় ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিরোধে যুক্তরাষ্ট্রকে সীমিত আকারে ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। নতুন সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করা হলো।   ডাউনিং স্ট্রিটের এক মুখপাত্র বলেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলার সক্ষমতাগুলো মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে পারবে—এ বিষয়ে মন্ত্রীরা একমত হয়েছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই ধরনের সামরিক সহযোগিতা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ২১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিতে একাজোট যুক্তরাজ্য ও মিত্র দেশগুলো

উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবার কঠোর অবস্থানে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাজ্যসহ বিশ্বের প্রভাবশালী কয়েকটি দেশ। ইরান কর্তৃক বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা এবং তেল-গ্যাস স্থাপনায় নাশকতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে ব্রিটেন, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস ও জাপান। বিবৃতিতে দেশগুলো স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল বা 'সেফ প্যাসেজ' নিশ্চিত করতে তারা যেকোনো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অংশ নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার যে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে, তাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে এই জোট। মিত্র দেশগুলো ইরানকে অবিলম্বে ড্রোন হামলা, মাইন স্থাপন এবং মিসাইল নিক্ষেপের মতো উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসাথে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ২৮১৭ নম্বর প্রস্তাবনা মেনে চলার জন্য তেহরানের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।  বিশ্ব অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথের স্থিতিশীলতা রক্ষায় মিত্র দেশগুলোর এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
প্রবাসী ইরানিদের বিক্ষোভে উত্তাল লন্ডনের রাজপথ

লন্ডনের রাজপথ এখন ইরানি প্রবাসীদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নিজ দেশের সরকারের দমনপীড়ন এবং বিতর্কিত নীতিমালার বিরুদ্ধে সরব হয়ে উঠেছেন যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হাজার হাজার ইরানি। তেহরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর প্রতি তীব্র ঘৃণা ও অনাস্থা প্রকাশ করে তারা রাজপথে স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত করছেন লন্ডনের আকাশ-বাতাস। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ইরানে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে তেহরানের নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে প্রবাসীদের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এখন গণবিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ইরানি পতাকার পাশাপাশি বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন বহন করছেন, যেখানে বর্তমান সরকারের পদত্যাগ ও বিচারের দাবি জানানো হচ্ছে। লন্ডনের ট্রাফালগার স্কয়ার ও আশপাশের এলাকায় আয়োজিত এই সমাবেশে প্রবাসী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে সাধারণ মানুষের কণ্ঠরোধ করা হলেও প্রবাসীরা চুপ করে বসে থাকবে না। আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তারা বলেন, তেহরানের একনায়কতন্ত্রের অবসান না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে। এই বিক্ষোভ কেবল প্রতিবাদ নয়, বরং একটি স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক ইরানের স্বপ্নে বিভোর লক্ষ লক্ষ মানুষের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রবাসী ইরানিদের এই ক্রমবর্ধমান ক্ষোভ তেহরানের ওপর বৈশ্বিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। লন্ডনের এই আন্দোলন এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ইরানি ডায়াসপোরার মাঝে এক নতুন সংহতির প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0