যুক্তরাষ্ট্র রাজনীতি

ছবি: সংগৃহীত
১০০ দিনে সাফল্য ও নতুন পরিকল্পনা তুলে ধরলেন নিউইয়র্কের মেয়র মামদানি

দায়িত্ব গ্রহণের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে সমাবেশ করে নিজের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি। একই সঙ্গে তিনি তার ঘোষিত সমাজতান্ত্রিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।   নিউইয়র্ক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, রোববার কুইন্সে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সমাবেশে ৩৪ বছর বয়সী এই মেয়র বলেন, সমাজতান্ত্রিক শব্দটিকে অনেকেই নেতিবাচকভাবে ব্যবহার করেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের কল্যাণে সরকারকে কাজে লাগাতে তিনি লজ্জাবোধ করেন না।   মামদানি জানান, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শহরের সড়কে এক লাখের বেশি গর্ত মেরামত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ছোট ছোট সমস্যার সমাধান করতে না পারলে বড় পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি বিশ্বাসযোগ্য হয় না। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, ৮৪ বছর বয়সী বামপন্থী নেতা বার্নি স্যান্ডার্স।   নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে মামদানি বলেন, সিটি পরিচালিত মুদি দোকান চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার প্রথমটি আগামী বছর চালু হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিশুদের জন্য বিনামূল্যে যত্নসেবা দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।   এ ছাড়া শহরের বিভিন্ন কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ভাড়া বৃদ্ধির হার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে বিনামূল্যে বাসযাত্রা চালুর বিষয়টি এখনো অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।   মেয়রের জনপ্রিয়তা নিয়ে সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কবাসীর মধ্যে তার অনুমোদন হার ৪৮ শতাংশ এবং ভোটারদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ। জরিপ অনুযায়ী, তার শিশু যত্ন উদ্যোগে ৫৪ শতাংশ ভোটার সমর্থন দিয়েছেন এবং আবাসন ব্যয় নিয়ে নেওয়া পদক্ষেপে ৪৯ শতাংশ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।   তবে একই জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, হিস্পানিক ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের একটি বড় অংশ মনে করেন, শহরটি সঠিক পথে এগোচ্ছে না। নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক কিছুটা সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে। তিনি ইতোমধ্যে দু’বার হোয়াইট হাউস সফর করেছেন।   অন্য এক জরিপে দেখা গেছে, নিউইয়র্কের ৫৯ শতাংশ বাসিন্দা মনে করেন, ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে মামদানি সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করছেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি সাবেক সিআইএ প্রধানের, ‘মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ অভিযোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও মানসিক অবস্থাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন।   বারাক ওবামা প্রশাসনের সময় দায়িত্ব পালন করা জন ব্রেনান বলেন, বর্তমান প্রেসিডেন্টকে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে রাখা নিরাপদ নয়। তিনি মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর উল্লেখ করে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট শারীরিক বা মানসিকভাবে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য হয়ে পড়লে তাকে অপসারণের বিধান রয়েছে এবং ট্রাম্প সেই অবস্থার উদাহরণ হতে পারেন।   গত শনিবার এমএস নাউ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রেনান বলেন, “এই ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।” তিনি বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।   ব্রেনানের মতে, এ ধরনের বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত লাখো মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখা মানে বৈশ্বিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলা।   সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী যেন ঠিক এমন পরিস্থিতির জন্যই প্রণীত। একজন প্রেসিডেন্টের হাতে যখন পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তখন তার মানসিক স্থিতিশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।   দীর্ঘদিন গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পদে কাজ করার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ব্রেনান বলেন, একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হতে হয় সুসংহত ও বিচক্ষণ। কিন্তু ট্রাম্পের আচরণে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ট্রাম্পকে দায়িত্ব থেকে সরানো ছাড়া বিকল্প নেই।   ব্রেনানের এই মন্তব্যের পর ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্টের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক মার্কিন সংবাদমাধ্যম এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কোনো সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তার অন্যতম কঠোর সমালোচনা হিসেবে দেখছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির প্রথম ১০০ দিনের হিসাব

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ১০০ দিনে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে জোহরান মামদানির কর্মকাণ্ডে। নির্বাচনের সময় বড় ধরনের পুলিশ সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও সেগুলোর বেশিরভাগ এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।   ২০২৫ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সময় তিনি অপরাধী তালিকা বাতিল, আক্রমণাত্মক পুলিশ ইউনিট ভেঙে দেওয়া এবং পুলিশি জবাবদিহিতা বেসামরিক তদারকির আওতায় আনার কথা বলেছিলেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দেখা যাচ্ছে, এসব উদ্যোগের অনেকগুলোই পিছিয়ে আছে অথবা বাস্তবায়নের সময়সূচি এখনো স্পষ্ট নয়।   তবে কিছু পদক্ষেপ ইতিমধ্যে নেওয়া হয়েছে। কমিউনিটি নিরাপত্তা জোরদারে নতুন উপমেয়র নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গুরুতর ঘটনার ৩০ দিনের মধ্যে শরীরে ধারণকৃত ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশের নিয়ম চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি সাইকেল চালকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি নোটিশ দেওয়ার আগের নীতিও বাতিল করা হয়েছে।   অপরাধের পরিসংখ্যানে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে। প্রথম ১০০ দিনে খুনের ঘটনা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ শতাংশ কমেছে। গুলির ঘটনাও কমেছে ২০ শতাংশ। তবে ধর্ষণের ঘটনা ৮ শতাংশ বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক।   সিটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজ চলমান রয়েছে এবং এটি কেবল শুরু।   এদিকে বিভিন্ন পক্ষ থেকে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া এসেছে। নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা সংস্কার উদ্যোগকে সমর্থন জানালেও এর ধীরগতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। অন্যদিকে পুলিশ সদস্যদের সংগঠন বলেছে, প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়িত না হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে অনিশ্চয়তা রয়েছে।   এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে তাকে সমর্থন দেওয়া একটি সংগঠনের অংশ পুলিশ কমিশনারকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে।   ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে এক নাগরিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কঠোর অবস্থান নিলেও বর্তমানে প্রশাসনিক বাস্তবতায় কিছুটা ভিন্ন পথে এগোচ্ছেন মেয়র।   অপরাধী তালিকা নিয়ে মেয়র ও পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। প্রয়োজনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে থাকার কথাও তিনি জানিয়েছেন।   দায়িত্বের প্রথম ১০০ দিনে বড় প্রতিশ্রুতিগুলোর পুরো বাস্তবায়ন না হলেও কিছু উদ্যোগ কার্যকর হয়েছে। নিউইয়র্কের প্রশাসন আগামীতে কোন পথে এগোয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি জোরালো, কিন্তু কংগ্রেসে সমর্থন অনিশ্চিত

ইরানকে ঘিরে বিতর্কিত বক্তব্যের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে অপসারণের দাবি জোরালো করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট দলীয় নেতারা। তবে কংগ্রেসে প্রয়োজনীয় সমর্থন না থাকায় এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।   মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৭০ জনের বেশি ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ট্রাম্পকে পদ থেকে সরানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। কেউ ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলছেন, আবার কেউ সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের দাবি তুলেছেন।   ডেলাওয়্যারের প্রতিনিধি সারা ম্যাকব্রাইড বলেন, একজন প্রেসিডেন্ট কখনোই সামরিক শক্তি ব্যবহার করে গণহত্যার হুমকি দিতে পারেন না। একইভাবে নিউজার্সির সিনেটর অ্যান্ডি কিম মন্তব্য করেন, ট্রাম্প ‘কমান্ডার ইন চিফ’ হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নন।   এদিকে মিশিগানের প্রতিনিধি শ্রী থানেদার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের কাছে চিঠি দিয়ে ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। কানেক্টিকাটের প্রতিনিধি জন লার্সন ইতিমধ্যে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবও দাখিল করেছেন।   তবে বাস্তবতা হলো, কংগ্রেসে এই উদ্যোগ সফল হওয়ার মতো সমর্থন ডেমোক্র্যাটদের হাতে নেই। হাউস মাইনরিটি লিডার হাকিম জেফ্রিস বলেছেন, এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিনেট মাইনরিটি লিডার চাক শুমারও সরাসরি সমর্থন দেননি।   বর্তমানে হাউস ও সিনেট—দুই কক্ষেই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকায় ইমপিচমেন্ট প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। এ অবস্থায় ডেমোক্র্যাটরা বিকল্প হিসেবে ‘ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন’ পাসের মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার চেষ্টা করছেন।   বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। এর মধ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ দুই দিক থেকেই চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এপস্টেইন তদন্তে সাক্ষ্য দেবেন বিল গেটস,পাম বন্ডির সাক্ষ্য স্থগিত

যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইন-সংক্রান্ত তদন্তে জুনে কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দেবেন বিল গেটস, তবে সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি'র সাক্ষ্যগ্রহণ আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। হাউস ওভারসাইট কমিটির সূত্র জানায়, বিল গেটস ১০ জুন একটি ক্লোজড-ডোর সাক্ষাৎকারে অংশ নেবেন। তিনি আগে থেকেই এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে কোনো জ্ঞান থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। অন্যদিকে, মার্চে সমন জারি করা হলেও পাম বন্ডি ১৪ এপ্রিল নির্ধারিত জবানবন্দিতে উপস্থিত হবেন না। বিচার বিভাগ জানিয়েছে, তিনি আর অ্যাটর্নি জেনারেল পদে না থাকায় সরকারি দায়িত্বে সাক্ষ্য দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তার ওপর প্রযোজ্য নয়। কমিটি জানিয়েছে, বন্ডির ব্যক্তিগত আইনজীবীর সঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হবে। ডেমোক্র্যাট সদস্য রবার্ট গার্সিয়া বলেন, বন্ডিকে দ্রুত সাক্ষ্য দিতে হবে, না হলে কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনা হতে পারে। গেটসের নাম এপস্টেইন সংক্রান্ত বিচার বিভাগের নথিতে বহুবার উল্লেখ রয়েছে। তবে এসব নথিতে নাম থাকা মানেই অপরাধে জড়িত থাকা প্রমাণ করে না। গেটসের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, তিনি কমিটির সামনে হাজির হয়ে সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে আগ্রহী। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে যৌন পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর কারাগারে থাকা অবস্থায় জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু হয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
বিমানবন্দরে কি আর থাকবে না সরকারি নিরাপত্তা? ট্রাম্পের প্রস্তাবে নতুন চাঞ্চল্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রস্তাব অনুযায়ী, পরিবহন নিরাপত্তা প্রশাসনের অধীন নিরাপত্তা স্ক্রিনিং কার্যক্রম ধীরে ধীরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।   সম্প্রতি প্রকাশিত এই বাজেট প্রস্তাবটি ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তরের মাধ্যমে কংগ্রেসে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নীতিগত অগ্রাধিকার তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ছোট বিমানবন্দরগুলোকে একটি বিশেষ অংশীদারিত্ব কর্মসূচির আওতায় এনে বেসরকারি কর্মীদের মাধ্যমে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।   বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২০টি বিমানবন্দরে বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীরা সরকারি তত্ত্বাবধানে দায়িত্ব পালন করছেন। এই ব্যবস্থায় নিরাপত্তা মানদণ্ড একই থাকলেও কর্মী নিয়োগ ও বেতন নির্ধারণের দায়িত্ব থাকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর।   প্রস্তাবের পেছনের কারণ সাম্প্রতিক আংশিক সরকারি অচলাবস্থার সময় অনেক নিরাপত্তাকর্মী বেতন না পাওয়ায় বিভিন্ন বিমানবন্দরে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হয়। তবে যেসব বিমানবন্দরে বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু ছিল, সেখানে এই ধরনের সমস্যা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। প্রশাসনের দাবি, বেসরকারিকরণের মাধ্যমে বছরে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব এবং এতে একটি সমস্যাগ্রস্ত সংস্থার সংস্কারও শুরু হবে।    কী পরিবর্তন আসতে পারে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ছোট বিমানবন্দরগুলোতে বেসরকারি নিরাপত্তা স্ক্রিনিং বাধ্যতামূলক হতে পারে। তবে নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম ও প্রশিক্ষণ সরকারি সংস্থার অধীনেই থাকবে। ফলে যাত্রীদের জন্য নিরাপত্তা প্রক্রিয়ায় বড় কোনো পরিবর্তন নাও আসতে পারে।    বিরোধিতা ও উদ্বেগ এই উদ্যোগের বিরোধিতা করছে সরকারি কর্মচারীদের একটি সংগঠন। তাদের আশঙ্কা, বেসরকারিকরণ হলে নিরাপত্তার মান ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং মুনাফা অর্জনের প্রবণতা বাড়বে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থানে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।   সমালোচকেরা মনে করিয়ে দেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবন্দর নিরাপত্তা পুরোপুরি বেসরকারি খাতে ছিল, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের নিরাপত্তা প্রশ্নের জন্ম দেয়।    আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট বিশ্বের অনেক দেশেই বিমানবন্দর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বেসরকারি খাত যুক্ত রয়েছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগ আন্তর্জাতিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও মনে করছেন কেউ কেউ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
"পাওয়ার প্ল্যান্ট ডে" বনাম সংবিধান: ট্রাম্পকে কি অপসারণ করবে নিজ মন্ত্রিসভা?

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ক্ষমতা থেকে সরাতে সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগ করা হতে পারে—এমন জল্পনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে এ বিষয়ে ‘সম্ভাবনা’ বাড়তে দেখা গেছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক ও বিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে।   নিউজউইকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেডিকশন প্ল্যাটফর্ম ‘কালশি’-তে এ সংক্রান্ত লেনদেন বেড়েছে। ব্যবহারকারীরা বাজি ধরছেন, প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করতে মন্ত্রিসভা পর্যায়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না। বিশেষ করে ইরানকে ঘিরে বাড়তে থাকা উত্তেজনা এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের পর এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে।   কালশির তথ্যানুযায়ী, “ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির সময় ২৫তম সংশোধনী ব্যবহার করা হবে কি না”—এমন একটি চুক্তিতে ‘হ্যাঁ’ পক্ষের শেয়ারের দাম গত এক মাসে ২৮ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছেছে। যদিও এই সংখ্যা নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস নয়, বরং বাজার অংশগ্রহণকারীদের মনোভাবের প্রতিফলন।   ২৫তম সংশোধনী অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য তাকে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারেন। তবে এ ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়নে পরবর্তী ধাপে কংগ্রেসের সম্পৃক্ততাও প্রয়োজন হয়, যা একটি জটিল ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল প্রক্রিয়া।   বিশ্লেষকদের মতে, প্রেডিকশন মার্কেটের ওঠানামা জনমত ও রাজনৈতিক পরিবেশের ইঙ্গিত দিলেও তা চূড়ান্ত বাস্তবতা নির্দেশ করে না। সমালোচকদের অভিযোগ, এ ধরনের প্ল্যাটফর্ম কখনো কখনো অযাচিত জল্পনা বাড়াতে পারে। অন্যদিকে সমর্থকদের দাবি, অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে এটি জনমতের তাৎক্ষণিক প্রতিফলন তুলে ধরে।   এদিকে, ইরানকে ঘিরে উত্তেজনা ও প্রশাসনের ওপর বাড়তে থাকা চাপের মধ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ফলে প্রেডিকশন মার্কেটগুলোতে অস্থিরতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান ইস্যুতে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প: অবকাঠামোতে হামলার হুমকি

ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্যে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ও রাজনৈতিকভাবে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।   আল–জাজিরার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জানা যায়, ট্রাম্প ইরানের সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে আবারও হামলার হুমকি দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের দৃষ্টিতে গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।   একই সঙ্গে ইরানের তেলের বিশাল মজুদ নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, সুযোগ পেলে ওই সম্পদ ‘দখল’ করতে চাইতেন এবং এর মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ আয় সম্ভব হতো বলে দাবি করেন। যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, তাঁর রাজনৈতিক সমর্থকরা দৃঢ়ভাবে তাঁর পাশে আছেন। তবে যুদ্ধবিরোধী নাগরিকদের তিনি কড়া ভাষায় সমালোচনা করে ‘বোকা’ বলে উল্লেখ করেন।   এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, তাঁর প্রশাসন ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের সহায়তা হিসেবে অস্ত্র পাঠিয়েছিল। যদিও তিনি নির্দিষ্ট কোনো গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ করেননি এবং বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেননি।   হরমুজ প্রণালি প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ট্রাম্প জানান, প্রণালিটি পুনরায় চালু করার জন্য দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের আলটিমেটাম চূড়ান্ত। ইরানের প্রতিক্রিয়াকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ হলেও ‘যথেষ্ট সন্তোষজনক নয়’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।   বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের এসব বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকেরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
মেরিল স্ট্রিপ। এএফপি
নতুন মার্কিন আইনের বিরুদ্ধে সরব হলিউড কিংবদন্তি মেরিল স্ট্রিপ

যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প–সমর্থিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রস্তাবিত এই আইনের সমালোচনায় এবার সরব হলেন হলিউড অভিনেত্রী Meryl Streep। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আইনটি কার্যকর হলে বিশেষ করে বিবাহিত নারীরা ভোটাধিকার প্রয়োগে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।   ১ এপ্রিল প্রচারিত The Late Show with Stephen Colbert অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্ট্রিপ বলেন, বিয়ের পর যেসব নারী পদবি পরিবর্তন করেছেন, তাঁদের ভোট দিতে গেলে আলাদা করে পরিচয় প্রমাণ করতে হতে পারে। জন্মসনদ ও ভোটার তালিকার নামের অমিল থাকলে তাঁদের ভোটাধিকার বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।   অনুষ্ঠানের সঞ্চালক Stephen Colbert–এর প্রশ্নের জবাবে স্ট্রিপ বলেন, “যদি এই আইন পাস হয়, তাহলে অনেক নারীকে রেজিস্ট্রারের কাছে গিয়ে প্রমাণ করতে হবে যে তাঁরা প্রকৃতপক্ষে তাঁরাই।” তাঁর এ বক্তব্যের সময় স্টুডিওতে উপস্থিত দর্শকদের প্রতিক্রিয়াও শোনা যায়।   স্ট্রিপ সরাসরি Donald Trump–এর নাম উল্লেখ না করলেও তাঁর মন্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতির প্রতি সমালোচনা স্পষ্ট। তিনি বলেন, এই আইন নারীদের জন্য অপ্রয়োজনীয় জটিলতা তৈরি করবে এবং তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।   প্রস্তাবিত ‘সেভ আমেরিকা অ্যাক্ট’ অনুযায়ী, ভোটারদের নাগরিকত্ব প্রমাণে স্বঘোষণার পরিবর্তে আনুষ্ঠানিক নথি প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হবে। যাঁদের বৈধ পাসপোর্ট নেই, তাঁদের জন্মসনদ ও পরিচয়পত্র মিলিয়ে দেখাতে হবে। এতে করে বিশেষ করে বিবাহিত নারীদের জন্য প্রক্রিয়াটি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।   চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি পাস হলেও এখনো সিনেটে এটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আইনটি পাস করাতে প্রয়োজনীয় সমর্থন পেতে সংশোধন প্রক্রিয়াও চলছে।   একই দিনে ট্রাম্প ডাকযোগে ভোট ব্যবস্থার ওপরও কঠোর অবস্থান নেন। একটি নির্বাহী আদেশে তিনি ‘যাচাইকৃত’ ভোটার ছাড়া অন্যদের ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ সীমিত করার কথা জানান।   উল্লেখ্য, ট্রাম্পের নীতির সমালোচনায় এর আগেও সরব হয়েছেন স্ট্রিপ। ২০১৬ সালে তিনি ট্রাম্পকে ব্যঙ্গ করে মঞ্চে অভিনয় করেন এবং পরবর্তীতে এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাঁর আচরণের কঠোর সমালোচনা করেন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্প ‘মানসিক ভারসাম্যহীন’? হুমকির জেরে মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক

ইরানকে উদ্দেশ করে কড়া ও অপমানজনক ভাষায় হুমকি দেওয়ার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর আচরণে উদ্বেগ জানিয়ে অনেক রাজনীতিক এখন প্রকাশ্যে তাঁর মানসিক স্থিতি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন।   নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার দাবি জানান। এ সময় তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষা ব্যবহার করেন এবং ইরানের অবকাঠামোতে বড় ধরনের হামলারও হুমকি দেন।   এই বক্তব্যের জেরে ডেমোক্রেটিক ও স্বতন্ত্র রাজনীতিকদের পাশাপাশি তাঁর নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির ভেতর থেকেও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সাবেক ঘনিষ্ঠ মিত্র মার্জোরি টেলর গ্রিন ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আচরণকে ‘পাগলামি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ করা উচিত।   ডেমোক্রেটিক নেতা চাক শুমার ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘উন্মাদের প্রলাপ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একইভাবে স্বতন্ত্র সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স একে ‘বিপজ্জনক ও মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন’ আচরণ বলে মন্তব্য করেন।   আরেক সিনেটর ক্রিস মারফি বলেন, পরিস্থিতি এতটাই উদ্বেগজনক যে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী প্রয়োগের বিষয়টি নিয়েও ভাবা উচিত। এই সংশোধনী কার্যকর হলে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা যেতে পারে।   ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা রো খান্না এবং সিনেটর টিম কেইন-ও ট্রাম্পের ভাষা ও অবস্থানকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ‘অপরিণত’ বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের মতে, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।   এদিকে ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধজনিত ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ ছাড়া তারা হরমুজ প্রণালি খুলবে না। এতে করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে এবং বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং মিত্রদের সঙ্গে টানাপোড়েন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
ছবি: আমেরিকা বাংলা
ইস্টার সানডেতে 'ইসলাম' নিয়ে ট্রাম্পের উপহাসের নিন্দা সিএআইআর'র

মুসলিম নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান-ইসলামিক সম্পর্ক বিষয়ক কাউন্সিল (সিএআইআর) ইস্টার সানডে পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প -এর 'ইসলামকে উপহাস' করার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সিএআইআর এক বিবৃতিতে জানায়, ট্রাম্পের ওই পোস্টে ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার হুমকির পাশাপাশি 'বিকৃতভাবে ইসলামকে উপহাস' করা হয়েছে, যা 'বেপরোয়া, বিপজ্জনক এবং মানবজীবনের প্রতি উদাসীনতা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।' বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'এই ধরনের বক্তব্য শূন্য থেকে আসে না। এটি মুসলিমবিরোধী বক্তব্য ও নীতির দীর্ঘ ধারাবাহিকতার অংশ, যা দেশে ও বিদেশে মুসলমানদের মানবিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করেছে।' ট্রাম্প তাঁর ওই ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টের শেষে আল্লাহর প্রশংসা হোক বাক্যটি ব্যবহার করেন। সিএআইআর উল্লেখ করে, পশ্চিমা বিশ্বে অনেকেই—ট্রাম্পসহ এই বাক্যটিকে কেবল ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করে দেখেন। তবে বাস্তবে 'আল্লাহ' শব্দটি আরবি ভাষায় 'ঈশ্বর' এরই অনুবাদ, যা কোনো একটি ধর্মের একচেটিয়া নয়। সিএআইআর আরও জানায়, 'সহিংস হুমকির প্রেক্ষাপটে ‘আল্লাহর প্রশংসা হোক’এই বাক্যটির ব্যবহার উদ্বেগজনক। এটি একদিকে ধর্মীয় ভাষাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার প্রবণতা, অন্যদিকে ইসলাম ও মুসলমানদের প্রতি অবমাননাকর মনোভাবের প্রতিফলন।'   ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক প্রতিনিধি:

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৬, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার ইরান যুদ্ধ নিয়ে হোয়াইট হাউসে বক্তব্য দেন। ছবি: রয়টার্স
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুমকিমূলক বক্তব্যে ডেমোক্র্যাটদের তীব্র সমালোচনা

ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়ার’ হুমকিমূলক বক্তব্যের জেরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টি। দলটির শীর্ষ নেতারা ট্রাম্পের ভাষণকে ‘নিন্দনীয়’, ‘ভয়াবহ’ এবং ‘অশুভ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।   গত বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলার হুমকি দেন। তবে চলমান যুদ্ধের অবসান কবে হবে—সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেননি তিনি।   এ অবস্থায় মার্কিন সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ইরান নিয়ে ট্রাম্পের নীতি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে বড় ধরনের ভুল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তাঁর অভিযোগ, ট্রাম্প কৌশল নির্ধারণে ব্যর্থ হচ্ছেন, মিত্রদের দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক সংকটকে উপেক্ষা করছেন।   একই সুরে সমালোচনা করেছেন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন। তিনি ট্রাম্পকে ‘বিভ্রান্ত’ আখ্যা দিয়ে বলেন, তাঁর সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। কংগ্রেসওম্যান ইয়াসমিন আনসারি ট্রাম্পের বক্তব্যকে ‘অমানবিক’ উল্লেখ করে বলেন, একটি দেশের কোটি কোটি মানুষকে ধ্বংসের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে Council on American-Islamic Relations ট্রাম্পের মন্তব্যকে ‘মুসলিমবিদ্বেষী ও বর্ণবাদী’ বলে সমালোচনা করেছে।   বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-সংকটকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের মধ্যেও অসন্তোষ বাড়ছে। এদিকে ট্রাম্প ইরানকে যুদ্ধবিরতির জন্য একাধিক সময়সীমা বেঁধে দিলেও এখনো কোনো সমঝোতা হয়নি। বরং পাল্টাপাল্টি হুমকি ও হামলার মধ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
তুলসী গ্যাবার্ড। ফাইল ছবি: এএফপি
তুলসী গ্যাবার্ডকে রাখা হবে কি না—উপদেষ্টাদের মত নিচ্ছেন ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড–কে পদে বহাল রাখা হবে কি না, সে বিষয়ে নিজের মন্ত্রিসভার সদস্যদের মতামত নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন তিনি।   সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, গ্যাবার্ডের প্রতি ট্রাম্পের অসন্তোষের মূল কারণ হলো—তিনি তাঁর এক সাবেক সহকারীকে সমর্থন দিয়েছেন, যিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের পক্ষে প্রশাসনের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্পের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলেও জানা গেছে।   তবে এখনো স্পষ্ট নয়, এই অসন্তোষের জেরে গ্যাবার্ডকে সরানো হবে কি না। এ পদে বিকল্প শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় হঠাৎ পরিবর্তন আনলে প্রশাসনের ভেতরে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে বলে উপদেষ্টারা সতর্ক করেছেন।   গত মাসে ক্যাপিটল হিলে এক শুনানিতে গ্যাবার্ডের দেওয়া সাক্ষ্যের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ওই শুনানিতে তিনি জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী কেন্দ্রের সাবেক পরিচালক জো কেন্ট–এর সমালোচনা করতে অস্বীকৃতি জানান। এর আগে কেন্ট পদত্যাগ করে দাবি করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নয়।   এ ঘটনার পর থেকে গ্যাবার্ডের অবস্থান নিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। যদিও রোববার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, গ্যাবার্ডের ওপর তাঁর আস্থা এখনো রয়েছে, তবে কিছু বিষয়ে মতপার্থক্য আছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চেউং এক বিবৃতিতে জানান, গ্যাবার্ডের নেতৃত্ব ও কাজের প্রতি প্রেসিডেন্টের আস্থা রয়েছে এবং তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।   এদিকে প্রশাসনের ভেতরে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প সরাসরি বরখাস্ত না করে প্রয়োজন হলে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাসের পথ বেছে নিতে পারেন—যা তাঁর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলোতেও দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, গ্যাবার্ডকে ঘিরে এই অনিশ্চয়তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ইরাননীতি ও যুদ্ধ কৌশল নিয়ে প্রশাসনের ভেতরের মতপার্থক্যেরই প্রতিফলন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর প্রেস সচিব ক্যারোলিন লিভিট।
ওভাল অফিসে প্রেস সেক্রেটারিকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অস্বস্তিকর’ রসিকতা!

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সামনে নিজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে নিয়ে এক বিতর্কিত ও অস্বস্তিকর রসিকতা করেছেন। ‘পিপল’ ম্যাগাজিনের ১ এপ্রিলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৭৯ বছর বয়সী ট্রাম্প রসিকতার ছলে অভিযোগ তোলেন যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি যে ‘নেতিবাচক প্রচারণা’র শিকার হচ্ছেন, তার পেছনে লেভিটের ব্যর্থতা থাকতে পারে। গত মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই ঘটনা ঘটে।   ট্রাম্প দাবি করেন, বর্তমানে তিনি ‘৯৩ শতাংশ খারাপ প্রচারণা’ পাচ্ছেন এবং সরাসরি লেভিটের দিকে তাকিয়ে বলেন, “তুমি খুব ভালো কাজ করছ না।” প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছুক্ষণ পরই ট্রাম্প হাসতে হাসতে যোগ করেন, “আমরা কি তাকে রাখব? আমার মনে হয়, রাখাই যায়।” পরে ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে হোয়াইট হাউসের প্রতিনিধি নিশ্চিত করেছেন যে, মন্তব্যটি স্রেফ কৌতুক হিসেবেই করা হয়েছিল।   চলমান গণমাধ্যমের সমালোচনা প্রসঙ্গে ট্রাম্প আরও বলেন, তাকে নিয়ে প্রকাশিত অধিকাংশ সংবাদই ‘নেতিবাচক এবং ভুয়া’। তবে ভোটাররা তার নির্বাচনী জয়ের মাধ্যমে প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তারা এসব প্রতিবেদনে আস্থা রাখেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ প্রেস সেক্রেটারি হিসেবে ২৬ বছর বয়সী লেভিট প্রায়ই ট্রাম্পের এমন আকস্মিক মন্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন। এর আগেও গত অক্টোবরে সাংবাদিকদের সামনে তার কাজের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রেসিডেন্ট।   ব্যক্তিগত জীবনে লেভিট বর্তমানে তার দ্বিতীয় সন্তানের অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি হিসেবে আগামী মে মাস থেকে তিনি সাময়িকভাবে হোয়াইট হাউসের দায়িত্ব থেকে বিরতি নেবেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ফাইল ছবি: রয়টার্স
জ্বালানির দাম বেড়ে চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র, সমস্যার কথা স্বীকার ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্সের

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রেও এর প্রভাব পড়েছে। দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্বীকার করেছেন, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।   বুধবার মিশিগান অঙ্গরাজ্যের একটি উৎপাদন কারখানায় বক্তব্যে তিনি বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ছে এবং এর ফলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন কাজ করছে এবং দ্রুত কিছু পদক্ষেপ ঘোষণা করা হবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।   সংঘাত শুরুর পর থেকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। যুদ্ধের আগে বিশ্বে ব্যবহৃত জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো।   এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম ১০৮ ডলার ছাড়িয়েছে, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।   এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে মিত্রদেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি এই প্রণালির ওপর নির্ভরশীল না হলেও অন্যান্য দেশকে এতে ভূমিকা নিতে বাধ্য করা যেতে পারে।   তবে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বানে সাড়া দিচ্ছে না অধিকাংশ মিত্রদেশ। ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো এবং এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যেমন জাপান ও অস্ট্রেলিয়া সেখানে যুদ্ধজাহাজ পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করেছে। কেবল দক্ষিণ কোরিয়া বিষয়টি বিবেচনার কথা জানিয়েছে।   পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকেরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা আরও বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ১৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
এপস্টিন নথিতে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কিশোরী নির্যাতনের অভিযোগ, হোয়াইট হাউস অস্বীকার

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর বিরুদ্ধে কিশোরী বয়সে যৌন নির্যাতনের চেষ্টা করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই তথ্য উঠে এসেছে এপস্টিন সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে প্রকাশিত নতুন নথিতে।   যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, এক অজ্ঞাত নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ১৯৮০–এর দশকে নিউইয়র্ক বা নিউজার্সিতে অভিযুক্ত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টিন ওই নারীকে ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন।   নথিতে বলা হয়েছে, তখন ওই নারীর বয়স ছিল প্রায় ১৩ থেকে ১৫ বছর। পরবর্তীতে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন—এমন অভিযোগ করা হয়। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।   এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এর পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য তথ্য নেই। বিচার বিভাগ সতর্ক করে বলেছে, প্রকাশিত নথির কিছু অংশে মিথ্যা বা উসকানিমূলক তথ্য থাকতে পারে।   প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন ২০১৯ সালে ওই নারীর সাক্ষাৎকার নেয় এবং পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এফবিআই জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার প্রকাশিত নথিগুলো মূলত আগে ভুলভাবে প্রতিলিপি হিসেবে চিহ্নিত ১৫টি নথির অংশ।   অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট দল অভিযোগ করেছে যে ট্রাম্প প্রশাসন ট্রাম্প–সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি গোপন রেখেছে। এ বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের একটি কমিটি অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে সমন পাঠিয়েছে।   এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক মার্চ ৭, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0