যুদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত।
মার্কিন আধিপত্যের অবসান: সব সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ নিল সিরিয়া

সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার দেশটির সমস্ত সামরিক ঘাঁটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে সিরিয়া সরকার। বৃহস্পতিবার হাসাকা প্রদেশের ‘কাসরাক’ বিমান ঘাঁটি থেকে মার্কিন সেনাদের শেষ বহরটি চলে যাওয়ার মাধ্যমে এই ঐতিহাসিক হস্তান্তরের কাজ শেষ হয়। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪ সালে আইএস বিরোধী অভিযানের নামে সিরিয়ায় পা রাখা মার্কিন বাহিনী দীর্ঘ ১২ বছর পর তাদের উপস্থিতি গুটিয়ে নিল। সিরীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কুর্দি নেতৃত্বাধীন ‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’ (এসডিএফ)-কে জাতীয় কাঠামোর আওতায় আনার সফল প্রক্রিয়ারই প্রতিফলন এই ঘাঁটি দখল। প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা দামেস্কে এসডিএফ-এর শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মাজলুম আবদি এবং রাজনৈতিক শাখার প্রধান ইলহাম আহমদকে স্বাগত জানান। সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পুরো রাষ্ট্রকে একক কর্তৃপক্ষের অধীনে আনার লক্ষ্যে এটি একটি বিশাল মাইলফলক। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) নিশ্চিত করেছে যে, একটি সুপরিকল্পিত ও শর্তসাপেক্ষ রূপান্তর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সিরিয়ার প্রধান ঘাঁটিগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে। গত জানুয়ারিতে দামেস্ক ও এসডিএফ-এর মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির ধারাবাহিকতায় কুর্দি যোদ্ধারা এখন সিরীয় জাতীয় সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত নভেম্বরে সিরিয়ার আন্তর্জাতিক জোট (Coalition against ISIL)-এ যোগদান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সিরীয় প্রশাসনের গঠনমূলক আলোচনার ফলে এই সেনা প্রত্যাহারের পথ সুগম হয়। উল্লেখ্য যে, নিরাপত্তাজনিত কারণে মার্কিন সেনাদের শেষ বহরটি ইরাকের পরিবর্তে জর্ডান সীমান্ত দিয়ে সিরিয়া ত্যাগ করেছে। বাশার আল-আসাদের পতনের পর সিরিয়ার রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে এই ঘটনাকে নতুন এক অধ্যায় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৭, ২০২৬ 0
পোপ লিও
বিশ্বজুড়ে ‘স্বৈরাচারীদের’ রাজত্ব, ট্রাম্পের আক্রমণের মুখে কড়া জবাব পোপ লিওর

বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবাজ নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন পোপ লিও। পূর্বসূরিদের তুলনায় নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বর্তমানে মুষ্টিমেয় কিছু ‘স্বৈরাচারী’ শাসকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ক্যামেরুন সফরকালে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এই প্রথম পোপ লিও এমন জোরালো বক্তব্য দিলেন। যুদ্ধ এবং ধ্বংসলীলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারিগররা এমন ভাব করেন যেন তারা কিছুই জানেন না। অথচ একটি সাজানো শহর বা সভ্যতা ধ্বংস করতে মাত্র কয়েক মুহূর্ত সময় লাগে, কিন্তু তা পুনর্গঠনে সারাজীবনও যথেষ্ট নয়।” পোপ আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্ব নেতারা ধ্বংসাত্মক কাজে এবং মানুষ মারার পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনপদগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নেই। তিনি বলেন, “তারা জেনেশুনেই চোখ বন্ধ করে আছেন। যেখানে ধ্বংসের নেশায় অর্থ ঢালা হচ্ছে, সেখানে মানুষের কল্যাণে সম্পদের হাহাকার দেখা দিচ্ছে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাম উল্লেখ না করলেও পোপের এই ইঙ্গিত সরাসরি ট্রাম্প এবং বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক দেশগুলোর দিকেই। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া সমালোচনার জবাবে পোপের এই ‘স্বৈরাচারী’ তকমা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৬, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
চীনে হিলিয়াম গ্যাসের তীব্র সংকট, বন্ধ হতে পারে চিপ ও মেডিকেল সরঞ্জাম উৎপাদন

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে চীন এখন এক নজিরবিহীন ‘হিলিয়াম সংকটের’ মুখে পড়েছে। বিশ্লেষকরা একে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ‘হিলিয়াম শক’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। এরই মধ্যে চীনে এই গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে এবং সরবরাহ তলানিতে এসে ঠেকেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে চীনের সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এছাড়া এমআরআই-এর মতো জীবন রক্ষাকারী মেডিকেল ইমেজিং ব্যবস্থার ওপরও এর মারাত্মক প্রভাব পড়বে। চিপ উৎপাদন ব্যাহত হলে ইলেকট্রনিক্স থেকে শুরু করে অটোমোবাইল শিল্প—সব ক্ষেত্রেই স্থবিরতা নেমে আসতে পারে, যা চীনের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধস নামানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। জ্বালানি খাতে চীন অনেকটা স্বনির্ভরতা অর্জন করলেও হিলিয়াম গ্যাসের ক্ষেত্রে দেশটি এখনো আমদানিনির্ভর। ফলে চলমান যুদ্ধ চীনের এই দুর্বল জায়গাতে বড় আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়া এবং ট্রাম্প প্রশাসন কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের ঘোষণার পর এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। বিশ্বের মোট হিলিয়াম চাহিদার এক-তৃতীয়াংশ এবং চীনের হিলিয়াম চাহিদার ৫৪ শতাংশই মেটায় কাতার। কিন্তু কাতারে হিলিয়াম উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট জ্বালানি স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এই সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার হতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। সাংহাই-ভিত্তিক সাপ্লাই চেইন কনসালটেন্সি ‘টাইডালওয়েভ সলিউশনস’-এর সিনিয়র পার্টনার ক্যামেরন জনসন বলেন, "কাতার সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী হিলিয়াম সরবরাহ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। অনেক সরবরাহকারী সরাসরি জানাচ্ছেন যে তাদের কাছে বিক্রির মতো কোনো পণ্য নেই। এখন ১০ লক্ষ ডলার দিলেও হিলিয়াম পাওয়া অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।" বর্তমানে চীনের অভ্যন্তরীণ বাজারে হিলিয়ামের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যা দেশটির প্রযুক্তি ও চিকিৎসা খাতের জন্য এক অশনিসংকেত।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আকাশপথে চরম সংকট: দ্বিগুণ বেড়েছে জ্বালানির দাম

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে চলাচল এখন ইতিহাসের সবচাইতে কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেলের তীব্র অভাব ও আকাশছোঁয়া দাম বিমান সংস্থাগুলোকে চরম বিপর্যয়ে ঠেলে দিয়েছে। বর্তমানে বিমানের জ্বালানি বা কেরোসিনের দাম অস্বাভাবিকভাবে দ্বিগুণ বেড়েছে যা আন্তর্জাতিক এভিয়েশন খাতে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ভার্জিন আটলান্টিক জানিয়েছে, তাদের কাছে মাত্র ছয় সপ্তাহের জ্বালানি মজুদ আছে। জার্মান এয়ারলাইন্স লুফথানসা বড় ধরনের লোকসান এড়াতে তাদের বেশ কিছু বিমান চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধের কথা ভাবছে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জ্বালানি খরচ বাড়ায় ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক সব রুটে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। অনেক সংস্থা লোকসানি রুটগুলো থেকে তাদের কার্যক্রম সরিয়ে নিচ্ছে এবং অতিরিক্ত জ্বালানি সারচার্জ আরোপ করছে। দক্ষিণ কোরিয়ার টি-অ্যাওয়ে এয়ার ইতিমধ্যে তাদের অনেক কর্মীকে বেতনহীন ছুটিতে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। হরমজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহের এই সংকট সহসা কাটার কোনো সম্ভাবনা দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। ইউরোপের বিমান সংস্থাগুলো এই সংকট মোকাবিলায় ব্রাসেলসের কাছে জরুরি সহায়তা চেয়েছে। তারা বিমানের জ্বালানি কেনায় বিশেষ সরকারি ছাড় এবং পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন কর সাময়িকভাবে বাতিলের দাবি জানিয়েছে। বর্তমানে একটি এয়ারলাইন্সের মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ খরচ হয় জ্বালানি খাতে। যুদ্ধের কারণে এই খরচ এখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় অনেক দুর্বল সংস্থা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই সংকটের ফলে অনেক ছোট বিমান সংস্থা টিকে থাকার লড়াইয়ে বড় কোম্পানিগুলোর সাথে একীভূত হতে পারে। আমেরিকার বড় দুটি এয়ারলাইন্স ইতিমধ্যে এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা শুরু করেছে। হরমজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের বড় একটি অংশের জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হয় যা এখন যুদ্ধের কারণে প্রায় অবরুদ্ধ। এর ফলে বিশ্বব্যাপী বিমান চলাচলের সময় ও ব্যয় দুটিই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে প্রতিটি স্তরে। বিমান চলাচল সংকট, জ্বালানি তেলের দাম, ইরান যুদ্ধ ২০২৬, আন্তর্জাতিক বিমান ভাড়া, আকাশপথের বিপর্যয়।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
ফাইল ফটো।
বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমাল আইএমএফ, ভয়াবহ মন্দার শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এই সংঘাতের জেরে চলতি ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি সতর্ক করে জানিয়েছে, এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি এক ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হতে পারে। মঙ্গলবার প্রকাশিত আইএমএফ-এর সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.১ শতাংশ। যা গত জানুয়ারি মাসের পূর্বাভাসের চেয়ে ০.২ শতাংশ কম। আইএমএফ এই পূর্বাভাস দিয়েছে যুদ্ধ ‘স্বল্পকাল’ স্থায়ী হবে—এমন ধারণা থেকে। তবে সংস্থাটি দুটি নেতিবাচক পরিস্থিতির আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে। যদি এই যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হয় এবং এর ফলে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম গত জানুয়ারির তুলনায় ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়, তবে প্রবৃদ্ধির হার নেমে আসতে পারে মাত্র ২ শতাংশে। আইএমএফ-এর প্রধান অর্থনীতিবিদ পিয়েরে-অলিভিয়ের গৌরিঞ্চাস রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন, “মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বৈশ্বিক অর্থনীতির ভবিষ্যৎ হঠাৎ করেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সংঘাত বিশ্বজুড়ে এমন এক ‘জ্বালানি সংকট’ তৈরি করতে পারে যা আগে কখনও দেখা যায়নি। উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালের পর থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে মাত্র চারবার ২ শতাংশের নিচে প্রবৃদ্ধি হয়েছে, যে পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক মন্দা হিসেবে গণ্য করা হয়। যদি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে বিশ্ব আবারও সেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্প ও পোপ লিওর মধ্যে উত্তেজনা চরমে, পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি

ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও চতুর্দশের মধ্যে বাগযুদ্ধ এখন চরমে পৌঁছেছে। গত কয়েক দিনে এই দুই বিশ্বব্যক্তিত্বের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও কড়া সমালোচনার জেরে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই শান্তির আহ্বান জানান পোপ লিও। তিনি এই যুদ্ধকে একটি 'অতল গহ্বর' হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত সহিংসতা বন্ধের অনুরোধ জানান। এরপর থেকেই ট্রাম্পের সঙ্গে তার মতবিরোধ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। গত মঙ্গলবার ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকি দিয়ে বলেন, তেহরান যদি হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার সময়সীমা মেনে না চলে, তবে 'একটি আস্ত সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে'। পোপ লিও এই হুমকিকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' বলে প্রত্যাখ্যান করেন। এরই প্রেক্ষিতে রোববার ট্রাম্প তার নিজের প্ল্যাটফর্ম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ পোপের দীর্ঘ সমালোচনা করেন। তিনি পোপকে 'দুর্বল' এবং 'পররাষ্ট্র নীতিতে ভয়াবহ' বলে আখ্যা দেন। ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, তিনি এমন কোনো পোপকে পছন্দ করেন না যারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেন। একই দিনে ট্রাম্প একটি এআই-জেনারেটেড (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি) ছবি পোস্ট করেন, যেখানে তাকে যিশু খ্রিস্টের আদলে লাল-সাদা পোশাকে দেখা যায়। যদিও বিতর্ক তীব্র হওয়ায় গতকাল তিনি ছবিটি সরিয়ে নিয়েছেন এবং দাবি করেছেন যে তিনি ভেবেছিলেন এটি তাকে একজন 'ডাক্তার' হিসেবে উপস্থাপন করেছে। গতকাল সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ লিও জানান, তিনি ট্রাম্প প্রশাসনকে ভয় পান না এবং চার্চের শান্তির লক্ষ্য নিয়ে তিনি এগিয়ে যাবেন। অন্যদিকে, পোপের কাছে ক্ষমা চাইবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে তিনি ক্ষমা চাইবেন না, কারণ পোপ ইরান ইস্যুতে ভুল বলছেন। ট্রাম্পের দাবি, কোনোভাবেই ইরানকে পারমাণবিক শক্তিধর হতে দেওয়া যাবে না। দুই প্রভাবশালী নেতার এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৪, ২০২৬ 0
জে ডি ভ্যান্স ও মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। ছবি: সংগৃহীত
ইসলামাবাদ বৈঠক: দীর্ঘ আলোচনায়ও সমঝোতা নেই, অচলাবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র–ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ থামিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষ হয়েছে কোনো সমঝোতা ছাড়াই। টানা প্রায় ১৪ ঘণ্টার এই আলোচনার পর রোববার দুই দেশের প্রতিনিধিদল নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছে।'   তাৎক্ষণিক কোনো চুক্তি বা যৌথ ঘোষণা না এলেও, আলোচনায় উভয় পক্ষের অংশগ্রহণ এবং আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা। মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান জানিয়েছে, দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে রাখার প্রচেষ্টা তারা অব্যাহত রাখবে।   আলোচনার পর ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতা ও দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা এগোতে চেয়েছি, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই আস্থা তৈরি করতে পারেনি।”   অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, “চূড়ান্ত প্রস্তাব গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছে ইরান, ফলে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে।” তবে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে তেহরান। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুই দেশের কারিগরি দল এখনো প্রস্তাব ও খসড়া বিনিময় করছে এবং ভবিষ্যতে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।   ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাই জানান, বেশ কিছু বিষয়ে অগ্রগতি হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুতে মতভেদ রয়ে গেছে। তাঁর মতে, দীর্ঘদিনের অবিশ্বাসের প্রেক্ষাপটে প্রথম বৈঠকেই চুক্তি হওয়ার প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত ছিল না। পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনা অঞ্চলে স্থায়ী শান্তির পথে ইতিবাচক ধারা তৈরি করবে।   আলোচনায় প্রধান যে বিষয়গুলোতে মতপার্থক্য রয়ে গেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী ক্ষতিপূরণ। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি ত্যাগ করুক। তবে ইরান এটিকে তাদের অধিকার বলে মনে করে এবং শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে।   অন্যদিকে হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই পক্ষের অবস্থান কঠোর। ইরান এটিকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায় এবং একে ‘চূড়ান্ত সীমা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এই গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুটে স্বাধীন চলাচল নিশ্চিত করতে চায়।   যুদ্ধ আপাতত বন্ধ থাকলেও উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, প্রয়োজন হলে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ওয়াশিংটন। একই সময়ে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এতে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।   এদিকে সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তেল শোধনাগারগুলো দ্রুত সচল করতে কাজ করছে ইরান। দেশটির লক্ষ্য, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে আগের সক্ষমতার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ পুনরুদ্ধার করা। ইতিমধ্যে মেরামত কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং কিছু স্থাপনা দ্রুত চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
২৯ হাজার কোটি টাকার বিমান ধ্বংস! ইরানে বিশাল ক্ষতির মুখে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য হন ট্রাম্প

ইরানের আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক দম্ভের চরম পতন ঘটেছে। গত ৩৮ দিনের যুদ্ধে একের পর এক অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়ে বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে পেন্টাগন। সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ২৯ হাজার কোটি টাকার (৩ বিলিয়ন ডলার) বেশি মূল্যের যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস হওয়ার পর বাধ্য হয়েই যুদ্ধবিরতির পথে হেঁটেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অপারেশন ‘এপিক ফিউরি’ ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপর্যয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান বিরোধী অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এক মাস পার হতেই সেই অভিযান যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। সিএনএন ও নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এই স্বল্প সময়ের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র অন্তত ৭টি চালকবাহী ফাইটার জেট এবং ২০টিরও বেশি ড্রোন হারিয়েছে। নিজেদের ভুলেই বিশাল ক্ষতি প্রতিবেদনে জানা গেছে, গত ২ মার্চ কুয়েতের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’-এ ভুলবশত যুক্তরাষ্ট্রের ৩টি এফ-১৫ই (F-15E) স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় ২ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা। এছাড়া ৫ এপ্রিল ইরানের মাটিতে আটকা পড়া প্রযুক্তি পাচারের ভয়ে নিজেদের ২টি সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান নিজেরাই ধ্বংস করে দেয় মার্কিন বাহিনী, যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ১ হাজার ৮৪০ কোটি টাকা। ইরানি হামলায় ধূলিসাৎ মার্কিন অহংকার ইরানি বাহিনীর নিখুঁত নিশানায় ধ্বংস হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত ব্যয়বহুল ই-৩ সেন্টি (E-3 Sentry) এবং পঞ্চম প্রজন্মের অত্যাধুনিক এফ-৩৫ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান। পেন্টাগন দাবি করেছিল এফ-৩৫ রাডারে ধরা পড়ে না, কিন্তু ইরানি মিসাইল সেই গর্ব চুরমার করে দিয়েছে। এছাড়া হরমোজ প্রণালীতে খোয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে দামি ড্রোন এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (MQ-4C Triton), যার মূল্য প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকারও বেশি। কেন হঠাৎ যুদ্ধবিরতি? বিশ্লেষকরা বলছেন, একদিন আগেও যারা ইরানকে ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছিলেন, সেই ট্রাম্প প্রশাসনের হঠাৎ যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার পেছনে কাজ করছে এই বিপুল আর্থিক ও কৌশলগত ক্ষতি। যদিও হোয়াইট হাউস দাবি করেছে, তারা তাদের লক্ষ্য অর্জন করেছে এবং হরমোজ প্রণালী সচল করার শর্তে ইরান রাজি হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত। তবে পর্দার আড়ালের খবর ভিন্ন। যুদ্ধের ব্যপক খরচ এবং একের পর এক যুদ্ধবিমান হারিয়ে মার্কিন কোষাগারে যে ‘বিরাট গর্ত’ তৈরি হয়েছে, তা সামাল দিতেই ট্রাম্পের এই ‘ইউ-টার্ন’ বলে মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল। পশ্চিম এশিয়ার আকাশে যুক্তরাষ্ট্রের এই আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা শেষ পর্যন্ত তাদের জন্য বড় এক অর্থনৈতিক ও মানসিক ধাক্কায় পরিণত হলো।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১১, ২০২৬ 0
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত
যুদ্ধবিরতিতে ‘হিরো’ পাকিস্তান, স্বাগত জানিয়েও বিপাকে মোদি!

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢাকা, ঠিক তখনই দৃশ্যপটে এক অভাবনীয় পরিবর্তন। বছরের পর বছর ধরে চলা বৈরিতা আর সাম্প্রতিক ভয়াবহ সামরিক উত্তজনা প্রশমনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান।  কূটনৈতিক সূত্রে খবর, ইসলামাবাদ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে ইরান এবং মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে, যার ফলে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এবং পাক সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সক্রিয় তৎপরতায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে আলোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। এমনকি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও এই শান্তি প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন বলে জানা গেছে।  পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক সাফল্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত স্বস্তিদায়ক। যেখানে খোদ পরাশক্তিগুলো যুদ্ধের দামামা বাজাচ্ছিল, সেখানে পাকিস্তানের এই 'পিস মেকার' ইমেজ বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটির গুরুত্ব এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে ভারত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানালেও দেশের মধ্যে উঠছে প্রশ্ন। শিবসেনা (উদ্ধব শিবির)–এর নেতা সঞ্জয় রাউত বুধবার বলেন, ‘ইরান এবং আমেরিকার যুদ্ধ থামিয়ে পাকিস্তান বিশ্বকে শান্তিবার্তা দিয়েছে। আমাদের মহাবিশ্বগুরু (পড়ুন মোদি) কেন এই কৃতিত্ব নিতে পারলেন না? কারণ, তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না। বিশ্বে একটা যুদ্ধ হচ্ছে, আর মহাবিশ্বগুরু পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরালা, তামিলনাড়ুতে গিয়ে রাজনৈতিক বিরোধীদের কথার বোমায় বিঁধছেন! মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতের এটা সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা!’

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১০, ২০২৬ 0
যুদ্ধবিরতি শেষ নয়, লড়াই চলবে
যুদ্ধবিরতি শেষ নয়, লড়াই চলবে: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার বার্তা

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে গোলাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এই বিরতিকে যুদ্ধের শেষ হিসেবে দেখা যাবে না।   রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সংঘাত এখনো শেষ হয়নি, কিন্তু সর্বোচ্চ নেতার নির্দেশ মেনে সামরিক বাহিনীর সব ইউনিটকে আপাতত গোলাবর্ষণ বন্ধ রাখতে হবে।   তেহরান থেকেও একই ধরনের সতর্ক বার্তা দেওয়া হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, এই যুদ্ধবিরতি কেবল সাময়িক পদক্ষেপ—এটি কোনোভাবেই স্থায়ী শান্তির ইঙ্গিত নয়। যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরাইলের পক্ষ থেকে নতুন করে হামলা হলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।   এ বিষয়ে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে জানায়, বিরতি মানে যুদ্ধের সমাপ্তি নয়। শত্রুপক্ষের সামান্যতম পদক্ষেপেরও শক্তভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে তারা প্রস্তুত রয়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।   সূত্র: এনডিটিভি

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৮, ২০২৬ 0
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরান যুদ্ধ প্রসঙ্গে ঈশ্বরের অবস্থান নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এক মন্তব্য করে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছেন। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা সাধারণত যুদ্ধ বা সংঘাত সমর্থন করেন না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি মনে করেন ঈশ্বর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের প্রতি সমর্থনশীল।   ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, ঈশ্বর মানুষের কল্যাণ চান এবং সেই দৃষ্টিকোণ থেকেই তিনি বিশ্বাস করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ জনগণের সুরক্ষার জন্য নেওয়া হচ্ছে। তার দাবি, এই অবস্থান বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।   এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা যখন তীব্র আকার ধারণ করেছে, ঠিক সেই সময়ই ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। ইস্টারের পর অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি মার্কিন সামরিক সক্ষমতার প্রশংসা করে একে দেশের শক্তির গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে তুলে ধরেন।   তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ কখনোই কাম্য নয় এবং এতে কেউ আনন্দ পায় না—তবুও পরিস্থিতি বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্র যে অবস্থান নিয়েছে, তা প্রয়োজনীয় বলে তিনি মনে করেন।   উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়েছে। এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে, তবে তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা চালানো হতে পারে।   এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা বিতর্কের জন্ম দিলেও ট্রাম্প তার অবস্থানে অনড় রয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি অভ্যন্তরীণ সমর্থন জোরদারের কৌশল নিচ্ছেন।   সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
দেশের জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ১৪ মিলিয়ন ইরানি: প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান

ইরানের আকাশ এখন যুদ্ধের মেঘে আচ্ছন্ন। এই সংকটময় মুহূর্তে জাতির উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন ও শক্তিশালী বার্তা দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইতোমধ্যে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি সাহসী ইরানি তাদের জীবন উৎসর্গ করতে প্রস্তুত বলে ঘোষণা দিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নিজের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, "আমি নিজেও ইরানের জন্য আমার জীবন উৎসর্গ করেছি; আমি আগেও প্রস্তুত ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও দেশের জন্য যেকোনো ত্যাগ স্বীকারে অটল থাকব।" উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ইরানের বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় নেতাকে লক্ষ্য করে গুপ্তহত্যা চালিয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন ইরানের প্রাক্তন সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রভাবশালী সচিব আলী লারিজানি।  চলমান এই সংঘাতের ভয়াবহতা বেড়েই চলেছে। সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ২,০৭৬ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রায় ২৬,৫০০ মানুষ।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতি চায় ইউক্রেন
জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের শর্তে যুদ্ধবিরতি চায় ইউক্রেন

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার কাছে দেওয়া যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব থেকে তারা সরে আসছেন না। এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে মস্কোর কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।   সোমবার (৬ এপ্রিল) রাতে এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ এমন একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, যা কার্যকর হতে পারে যদি রাশিয়া ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করে।   তিনি আরও জানান, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, যা তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।   জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করে, তবে ইউক্রেনও একইভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত থাকবে। তিনি বলেন, এই প্রস্তাব ইতোমধ্যে মার্কিন পক্ষের মাধ্যমে রাশিয়ার কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।   এর আগে গত সপ্তাহেও ইস্টার উপলক্ষে একই ধরনের শর্তে একটি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছিলেন জেলেনস্কি। উল্লেখ্য, রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশেই অর্থডক্স খ্রিস্টানদের মধ্যে আসন্ন রোববার ইস্টার উদযাপিত হওয়ার কথা।   তবে সাম্প্রতিক হামলার প্রেক্ষাপটে জেলেনস্কি অভিযোগ করেন, রাশিয়া এই প্রস্তাবের জবাবে ইরানে তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করেছে।   গত সপ্তাহে কিয়েভের প্রস্তাবে মস্কোর প্রতিক্রিয়া খুব ইতিবাচক ছিল না। তারা জানায়, পৃথক যুদ্ধবিরতির বদলে একটি সামগ্রিক শান্তি চুক্তির দিকেই তারা বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।   এদিকে সোমবার কৃষ্ণসাগর তীরবর্তী ওডেসা শহরে রাতভর হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া ইস্টারকে কেন্দ্র করে যুদ্ধবিরতিতে আগ্রহী নয় বলেই মনে হচ্ছে।   তিনি বলেন, বিশেষ এই সময়কে ঘিরে বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানানো হলেও রাশিয়ার অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে—তাদের কাছে কোনো কিছুই যেন পবিত্র নয়।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ৭, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালীতে নিরবচ্ছিন্ন জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমান ও ইরানের বড় পদক্ষেপ

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও সামুদ্রিক যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এক টেবিলে বসেছে ওমান এবং ইরান। সম্প্রতি দুই দেশের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এক উচ্চতর বৈঠকে এই কৌশলগত জলপথের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ওমান নিউজ এজেন্সির (ওএনএ) প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে উভয় দেশের কারিগরি বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব ও রূপরেখা তুলে ধরেন। মূলত হরমুজ প্রণালী দিয়ে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ যেন কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয় এবং সামুদ্রিক যানসমূহ যেন “নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ” ভাবে যাতায়াত করতে পারে, তা নিশ্চিত করাই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।  মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মাঝে বিশ্ব অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই রুটের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশের এমন উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ইউক্রেনের টেনিস সেনসেশন মার্তা কস্ত্যুক
বিশ্বমঞ্চে যুদ্ধের প্রতিচ্ছবি তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইউক্রেনের শীর্ষ টেনিস তারকা

ইউক্রেনের টেনিস সেনসেশন মার্তা কস্ত্যুক আবারও আলোচনায়। তবে এবার কেবল তার র‍্যাকেট বা ফোরহ্যান্ড শটের জন্য নয়, বরং নিজ দেশ ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধের ভয়াবহতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার সংকল্প নিয়ে তিনি শুরু করতে যাচ্ছেন বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ 'ক্লে-কোর্ট' মৌসুম। সম্প্রতি সিএনএন-এর সাথে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ২৩ বছর বয়সী এই খেলোয়াড় তার ক্যারিয়ার, বর্তমান ফর্ম এবং যুদ্ধের ময়দানে থাকা নিজ দেশের পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন। টেনিসের লাল মাটির কোর্ট বা ক্লে-কোর্ট সবসময়ই খেলোয়াড়দের শারীরিক ও মানসিক ধৈর্য পরীক্ষা করে। কস্ত্যুক জানান, এবারের মৌসুমে তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও আত্মবিশ্বাসী। গত কয়েক মাসে তার খেলায় ব্যাপক উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে ব্রিসবেন ইন্টারন্যাশনালের ফাইনালে পৌঁছানো এবং অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের কোয়ার্টার ফাইনালের পারফরম্যান্স তাকে র‍্যাঙ্কিংয়ের সেরা দশে প্রবেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সাক্ষাৎকারে কস্ত্যুক আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যখন তিনি তার দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কথা বলেন। কস্ত্যুক জানান, টেনিস কোর্টে যখন তিনি প্রতিপক্ষের মোকাবিলা করেন, তখন তার মনের এক কোণায় সবসময় ইউক্রেনের মানুষের কষ্টের কথা ঘুরপাক খায়। তিনি বলেন, "আমি প্রতিদিন হৃদয়ে এক ধরণের ব্যথা নিয়ে খেলি। যখন ভাবি আমার দেশে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও পানি ছাড়াই দিন কাটাচ্ছে, তখন কোর্টের লড়াইকে অনেক ছোট মনে হয়।" তিনি আরও যোগ করেন, "আমার খেলা এখন আর কেবল আমার একার নয়। আমি চাই আমার প্রতিটি জয় যেন ইউক্রেনবাসীর মুখে হাসি ফোটায় এবং বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দেয় যে আমরা এখনও লড়ে যাচ্ছি।" রাশিয়ান ও বেলারুশিয়ান খেলোয়াড়দের সাথে করমর্দন না করার যে সিদ্ধান্ত কস্ত্যুক এবং অন্যান্য ইউক্রেনীয় খেলোয়াড়রা নিয়েছেন, সে বিষয়েও তিনি কথা বলেন। তিনি একে তার "সচেতন পছন্দ" হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, যতক্ষণ পর্যন্ত ইউক্রেনে আগ্রাসন বন্ধ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত স্বাভাবিক আচরণ করা সম্ভব নয়। যদিও টেনিস বিশ্বে এই নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে, তবে কস্ত্যুক তার অবস্থানে অনড়। বর্তমানে বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৬ নম্বরের আশেপাশে থাকা এই তরুণী এখন তার ক্যারিয়ার সেরা ফর্মে আছেন। ক্লে-কোর্ট মৌসুমে ভালো ফলাফল করতে পারলে প্রথমবারের মতো শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে তার সামনে। টেনিস বিশ্লেষকদের মতে, কস্ত্যুক যদি তার বর্তমান মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারেন, তবে আসন্ন ফ্রেঞ্চ ওপেনে তিনি বড় কোনো চমক দেখাতে পারেন। দেশের সংকটময় মুহূর্তে একজন ক্রীড়াবিদ কীভাবে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠতে পারেন, মার্তা কস্ত্যুক আজ তার জীবন্ত উদাহরণ। সূত্র: সিএনএন।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
রুদ্ধশ্বাস অভিযানের সমাপ্তি, ইরানে নিখোঁজ পাইলটকে যেভাবে উদ্ধার করে মার্কিন সেনা

ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত মার্কিন বিমান বাহিনীর এফ-১৫ই (F-15E) যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ থাকা দ্বিতীয় ক্রু সদস্যকে এক শ্বাসরুদ্ধকর ও দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে উদ্ধার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনী। দীর্ঘ দুই দিন বৈরী এলাকায় আত্মগোপন করে থাকার পর অবশেষে তাকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার ভোরে এক বার্তায় এই সাফল্যের খবর নিশ্চিত করেছেন। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে অত্যন্ত উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে লিখেছেন, “WE GOT HIM! (আমরা তাকে পেয়েছি!)”। তিনি এই উদ্ধার অভিযানকে মার্কিন সামরিক ইতিহাসের অন্যতম ‘দুঃসাহসিক’ অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান হিসেবে বর্ণনা করেন। ট্রাম্প জানান, উদ্ধারকৃত ওই অফিসার বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন এবং তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। গত শুক্রবার ইরানের পাহাড়ি এলাকায় মার্কিন যুদ্ধবিমানটি ভূপাতিত হওয়ার পর বিমানে থাকা দুই ক্রু সদস্যই প্যারাসুটের মাধ্যমে সফলভাবে ইজেক্ট করতে সক্ষম হন। বিমানের পাইলটকে ঘটনার কিছুক্ষণ পরই উদ্ধার করা গেলেও ‘উইপনস সিস্টেম অফিসার’ নিখোঁজ ছিলেন। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে তিনি ইরানের দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে নিজেকে লুকিয়ে রাখতে সক্ষম হন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই অফিসারকে খুঁজে পেতে ইরান সরকার বড় অংকের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল এবং স্থানীয়দের তাকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছিল। ইরানি টেলিভিশন ও সামাজিক মাধ্যমে স্থানীয়দের সশস্ত্র অবস্থায় ওই অফিসারকে খুঁজতে পাহাড়ী এলাকায় তল্লাশি চালানোর দৃশ্যও দেখা যায়। তবে মার্কিন ড্রোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে কমান্ডো বাহিনী সেখানে পৌঁছাতে সক্ষম হয়। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে কয়েক ডজন মার্কিন যুদ্ধবিমান এবং হেলিকপ্টার অংশ নেয়। উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারগুলো যখন পাহাড়ি এলাকায় নিচ দিয়ে উড়ছিল, তখন ইরানি বাহিনী এবং স্থানীয় মিলিশিয়ারা নিচ থেকে গুলিবর্ষণ করে। এতে দুটি হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হন, তবে শেষ পর্যন্ত সবাই নিরাপদে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ওই অফিসার কিছুটা আহত হয়েছেন তবে তার আঘাত গুরুতর নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে এই প্রথম কোনো আমেরিকান যুদ্ধবিমান শত্রু এলাকায় ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটল। একই দিন একটি এ-১০ (A-10) অ্যাটাক প্লেনও ইরানি গোলার আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সেটির পাইলট কোনোমতে কুয়েত সীমান্ত পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হন এবং সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্ধার অভিযান সফল না হলে এবং মার্কিন বৈমানিক ইরানি বাহিনীর হাতে বন্দি হলে যুদ্ধের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারত। আপাতত নিখোঁজ সেনাকে উদ্ধারের মাধ্যমে একটি বড় ধরনের স্নায়ুচাপের অবসান ঘটল পেন্টাগনের জন্য।  

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত
ইরানে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন, ১০০ মার্কিন আইন বিশেষজ্ঞের হুঁশিয়ারি

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১০০ জন আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ। এক খোলা চিঠিতে তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক আইনের মারাত্মক লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে যা বিশ্বশান্তির জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা এবং সামরিক আইন বিশেষজ্ঞদের স্বাক্ষরিত এই চিঠিটি সম্প্রতি 'জাস্ট সিকিউরিটি ফোরাম'-এ প্রকাশিত হয়েছে। চিঠিতে বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, এই সামরিক অভিযান শুরু করাই ছিল জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।  এছাড়া মার্কিন বাহিনীর বর্তমান কার্যক্রম এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া বক্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের পরিপন্থী, যা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই যুদ্ধের ফলে বেসামরিক নাগরিকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, পরিবেশগত বিপর্যয় এবং আঞ্চলিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের আইনকে তোয়াক্কা না করে কেবল 'মারাত্মক আক্রমণ' এর ওপর জোর দেওয়ার প্রবণতাকে তারা 'বিপজ্জনক ও হ্রস্বদৃষ্টিসম্পন্ন' বলে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করার এই মানসিকতা বেসামরিক সুরক্ষার বৈশ্বিক মানদণ্ডকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ৩, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানে নিহত ২,০৭৬: মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বাড়ছে লাশের মিছিল

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের ফলে ইরানসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে এক ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় নেমে এসেছে। মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা প্রতি মুহূর্তে বাড়ছে।  ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা ২,০৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে এবং আহত হয়েছেন ২৬,৫০০ জনেরও বেশি মানুষ। এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে পুরো অঞ্চলে, যার শিকার হচ্ছে সাধারণ নাগরিক ও অগণিত শিশু। অঞ্চলভিত্তিক হতাহতের পরিসংখ্যান: ইরান: মৃত্যু ২,০৭৬ জন; আহত ২৬,৫০০ জন। লেবানন: মৃত্যু ১,৩৪৫ জন (যার মধ্যে ১২৫ জনই শিশু); আহত ৪,০৪০ জনের বেশি। ইসরায়েল: মৃত্যু ২৮ জন (১০ জন সেনা সদস্যসহ), আহত ৩,২২৩ জন। যুক্তরাষ্ট্র: যুদ্ধে নিহত ১৩ জন; ২ জন যুদ্ধ বহির্ভূত কারণে এবং আহত ২০০ জনের বেশি। ইরাক: নিহতের সংখ্যা ১০৭ জনেরও বেশি। সংযুক্ত আরব আমিরাত: মৃত্যু ১২ জন; আহত ১৬৯ জন। অধিকৃত পশ্চিম তীর: নিহত ৪ জন। অন্যান্য দেশ: কুয়েতে ৬ জন, ওমানে ৩ জন, বাহরাইনে ৩ জন, সিরিয়ায় ৪ জন এবং সৌদি আরবে ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। জর্ডান ও কাতারেও বেশ কিছু মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব।
ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ফোনালাপ, সংঘাত নিরসনে জরুরি আহ্বান ফিনল্যান্ডের

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনে যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধানের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেছেন ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব। সম্প্রতি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে এক ফোনালাপে তিনি এই আহ্বান জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে প্রেসিডেন্ট স্টাব বলেন, "আজ আমি ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই মুহূর্তে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক সমাধান অত্যন্ত জরুরি।" সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরে ফিনিশ প্রেসিডেন্ট আরও জানান, তেহরানের সাথে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। ফোনালাপে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করতে এবং হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন।  মূলত বিশ্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখতেই ফিনল্যান্ড এই গঠনমূলক আলোচনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
ইরানের সাথে চুক্তি করতে ‘মরিয়া’ ট্রাম্প: চাঞ্চল্যকর দাবি পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সংঘাতের অবসান ঘটাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অত্যন্ত ‘মরিয়া’ হয়ে উঠেছেন। পেন্টাগনের সাবেক উপদেষ্টা জেসমিন আল-জামাল সম্প্রতি সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। আল-জামাল জানান, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট যে, তিনি যেকোনো মূল্যে ইরানের সাথে একটি সমঝোতায় আসতে চান। তার মতে, ইরানি প্রশাসন ট্রাম্পের এই মানসিকতাকে তাদের নিজেদের অনুকূলে ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছে।  ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে পারে, তবে তারা নিজেদের শর্ত অনুযায়ী আলোচনার টেবিলে বসার সুযোগ পাবে বলে মনে করছেন এই বিশেষজ্ঞ। মূলত বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে ইরান আলোচনার ক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে যাওয়ার কৌশল গ্রহণ করেছে বলে পেন্টাগনের এই সাবেক কর্মকর্তা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত।
শতাব্দীর ঐতিহ্য ধূলিসাৎ! ইরানের পাস্তুর ইনস্টিটিউট ধ্বংসের পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড়

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাতের মাঝে এবার ইরানে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান 'পাস্তুর ইনস্টিটিউট' মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে।  বৃহস্পতিবার ইরান সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো যখন চিকিৎসা স্থাপনায় হামলার বিরুদ্ধে বারবার সতর্কবাণী দিচ্ছে, ঠিক তখনই এই নজিরবিহীন ঘটনাটি ঘটল। ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য কেন্দ্রের প্রধান হোসেন কেরমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছেন, ১৯২০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শতবর্ষী প্রতিষ্ঠানটিতে চালানো হামলাটি সরাসরি "আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নিরাপত্তার ওপর একটি আঘাত"। উল্লেখ্য, এই ইনস্টিটিউটটি ইরানে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন এবং সংক্রামক ব্যাধি প্রতিরোধের গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছিল। সিএনএন-এর পক্ষ থেকে এই হামলার বিষয়ে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাথে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলমান এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরান ও লেবাননের চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রায় ধ্বংসের মুখে। ইরান রেড ক্রিসেন্টের ১ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩১৬টি স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সহায়তা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেন জানিয়েছে, গড়ে প্রতি ছয় ঘণ্টায় অন্তত একবার ইরান, লেবানন বা ইসরায়েলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আক্রান্ত হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) পুনরায় স্মরণ করিয়ে দিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী এবং চিকিৎসা স্থাপনাগুলো সব সময়ই সুরক্ষার দাবিদার। এই ধ্বংসযজ্ঞ কেবল একটি ভবন ধ্বংস নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎকে এক অনিশ্চিত গহ্বরে ঠেলে দিয়েছে।

ডেস্ক রিপোর্ট এপ্রিল ২, ২০২৬ 0
জনপ্রিয় সংবাদ
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে।   এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।   নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি।   উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।”   বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে।   এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।   শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়।   উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।   এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।

ইরানের আকাশে ১৬টি চীনা সামরিক বিমানের রহস্য নিয়ে তোলপাড়

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে।   গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব।  বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

মার্কিন ভিসা আপডেট ২০২৬! বাংলাদেশিদের জন্য কোন ভিসা বন্ধ, কোনটা চালু?

২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো।   প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে।   এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে।   অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে।   স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।   সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে।   সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।

৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা নিয়ম: যা জানা প্রয়োজন

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

“এপস্টেইন ফাইলের দাবি: বাইডেনকে হত্যা করে ক্লোন বানানো হয়েছে?”

এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে   জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল।   এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে।   একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই।   “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।   অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান।   এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে।   সূত্র: Royanews  

Top week

প্রতীকী ছবি
আমেরিকা

যুক্তরাষ্ট্রে পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে ব্রাজিল থেকে ধরে আনা হলো বাংলাদেশিকে

আমেরিকা বাংলা ডেস্ক এপ্রিল ১৫, ২০২৬ 0