মানসিক স্বাস্থ্য সংকটের সমাধানে এবার এক নজিরবিহীন ও সাহসী পদক্ষেপ নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করে তিনি সাইকেডেলিক ড্রাগ, বিশেষ করে অত্যন্ত বিতর্কিত ‘আইবোগেইন’ (Ibogaine)-এর ওপর বৈজ্ঞানিক গবেষণার গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। শনিবার ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই ঘোষণা দেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আমেরিকানদের বিশেষ করে যুদ্ধফেরত সেনাদের (Veterans) মানসিক অবসাদ, পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD) এবং মাদকের আসক্তি দূর করতে এই ধরনের ড্রাগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, “যদি এই ওষুধগুলো মানুষের দাবিমতো কাজ করে, তবে তা আমাদের দেশে এক যুগান্তকারী প্রভাব ফেলবে।” কী এই আইবোগেইন? আইবোগেইন মূলত পশ্চিম আফ্রিকার একটি গুল্ম জাতীয় গাছ থেকে তৈরি এক ধরনের হ্যালুসিনোজেনিক বা দৃষ্টিভ্রমকারী ড্রাগ। যুক্তরাষ্ট্রে এটি দীর্ঘদিন ধরে হিরোইন বা এলএসডি-র মতো ‘শিডিউল-১’ ক্যাটাগরির নিষিদ্ধ ড্রাগ হিসেবে তালিকায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মস্তিষ্কের গভীরে প্রভাব ফেলে মাদকাসক্তি এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিতর্ক ও ঝুঁকি: ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে যেমন খুশির জোয়ার বইছে সমর্থকদের মাঝে, তেমনি চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের বড় একটি অংশ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আইবোগেইন ব্যবহারের ফলে হার্টের গতি অনিয়মিত হয়ে পড়া এবং হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে এর ওপর গবেষণা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এর প্রাণঘাতী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেই। প্রভাব ও অর্থায়ন:নতুন এই আদেশের ফলে ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FDA) সাইকেডেলিক ওষুধের রিভিউ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করবে। এছাড়া গবেষণা খাতে অন্তত ৫০ মিলিয়ন ডলার ফেডারেল তহবিল বরাদ্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। এই অনুষ্ঠানে বিখ্যাত পডকাস্টার জো রোগান এবং স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র উপস্থিত ছিলেন।
পোপ চর্তুদশ লিও’র সাথে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও মতভেদের মধ্যেই নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজেকে খ্রিষ্টধর্মের মূল বাণী বা 'গসপেল'-এর প্রতি সম্পূর্ণ অনুগত দাবি করে তিনি বলেছেন, তিনি পুরোপুরি বাইবেলের আদর্শে বিশ্বাসী। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ধর্ম এবং বাইবেল তার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পোপ ফ্রান্সিসের বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, এর আগে পোপ লিও পরোক্ষভাবে ট্রাম্পের কিছু নীতির সমালোচনা করেছিলেন, যা নিয়ে রিপাবলিকান শিবিরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এর জবাবে ট্রাম্প খ্রিষ্টান ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখতে নিজের ধার্মিক ভাবমূর্তিকে সামনে নিয়ে আসছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৬-এর আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রক্ষণশীল খ্রিষ্টান ভোটারদের মন জয় করা ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সমালোচকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘বাইবেল ভক্তি’ মূলত রাজনৈতিক কৌশল। তবে তার সমর্থকরা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবেই দেখছেন। পোপের সাথে এই স্নায়ুযুদ্ধ মার্কিন রাজনীতিতে ধর্মের প্রভাবকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইউরোপের কট্টর ডানপন্থী পপুলিস্ট নেতাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সাম্প্রতিক কিছু বৈশ্বিক ইস্যু বিশেষ করে ইরানের সাথে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং পোপের প্রতি ট্রাম্পের সমালোচনামূলক অবস্থান এই সম্পর্কের রসায়নকে এক নাজুক পর্যায়ে নিয়ে ঠেকিয়েছে। এতদিন ইউরোপীয় জাতীয়তাবাদী নেতারা ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে নিজেদের রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি ভিন্ন। জার্মানির এএফডি (AfD) পার্টির নেতারা ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে ট্রাম্প প্রশাসনের হামলার তীব্র সমালোচনা করে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এমনকি ইতালির উপ-প্রধানমন্ত্রী মাত্তেও সালভিনি, যিনি একসময় ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন, তিনিও পোপ লিও-র ওপর ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক মন্তব্যের পর দূরত্ব বজায় রাখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপীয় এই নেতারা এখন বুঝতে পারছেন যে ট্রাম্পের উগ্রপন্থা তাদের নিজ দেশের ভোটারদের কাছে জনপ্রিয়তা কমানোর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরাজয় এই ধারণাকে আরও শক্তিশালী করেছে। পপুলিজমের এই আন্তর্জাতিক বলয় এখন এক গভীর সংকটের মুখে, যেখানে মিত্ররাই এখন ট্রাম্পের নীতি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যের ১১তম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের বিশেষ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী এনালিলিয়া মেহিয়া (Analilia Mejia)। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জো হ্যাথাওয়েকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে তিনি এখন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নতুন সদস্য। সাবেক কংগ্রেস সদস্য মিকি শেরিল নিউ জার্সির গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় এই আসনটি শূন্য হয়েছিল। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মেহিয়া প্রায় ৬০ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী হ্যাথাওয়ে পেয়েছেন প্রায় ৪০ শতাংশ ভোট। বিজয় পরবর্তী ভাষণে উচ্ছ্বসিত মেহিয়া বলেন, "আমি এখানে কারো সাথে খেলার জন্য আসিনি, আমি এসেছি মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করতে। এটি বাম বা ডানের লড়াই নয়, এটি ন্যায় ও অন্যায়ের লড়াই।" এনালিলিয়া মেহিয়া একজন কট্টর প্রগতিশীল রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত। তিনি বার্নি স্যান্ডার্স এবং আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেজের মতো নেতাদের সমর্থন পেয়েছিলেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি মূলত নিম্নবিত্ত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন সুবিধা এবং ধনীদের ওপর কর বৃদ্ধির মতো প্রগতিশীল ইস্যুগুলোকে গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলি সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বেশ আলোচিত হয়েছিলেন। এই জয়ের ফলে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের আসন সংখ্যা আরও একটি বাড়লো, যা বর্তমানে রিপাবলিকানদের ক্ষীণ সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। মেহিয়া আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত এই মেয়াদের বাকি সময়টুকু দায়িত্ব পালন করবেন এবং আগামী নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে তিনি আবারও পূর্ণ মেয়াদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট বদলে দিতে এবার কি তবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ‘মুসলিম ন্যাটো’? পশ্চিম এশিয়া তথা মুসলিম বিশ্বের সামরিক ও নিরাপত্তা কাঠামোকে শক্তিশালী করতে এক বিশাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। আগামী সপ্তাহেই তুরস্কে আয়োজিত হতে যাচ্ছে এক মেগা বৈঠক, যেখানে অংশ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং মিশর। তুরস্কের 'আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম'-এর সমান্তরালে এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংবাদ সংস্থা ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে এই তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বৈঠকে যোগ দেবেন। মূলত আমেরিকা, চীন কিংবা রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মুসলিম বিশ্বের শক্তিশালী দেশগুলো যাতে নিজস্ব একটি সামরিক ও নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলতে পারে, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এই সম্ভাব্য জোটকে 'মুসলিম ন্যাটো' হিসেবে অভিহিত করছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এই চার দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি প্রাথমিক আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে পশ্চিম এশিয়ায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সদস্য দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় যৌথ নিরাপত্তা কৌশলের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভিনদেশের হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করেই এই জোট গঠিত হচ্ছে। যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তবে বিশ্ব রাজনীতিতে পশ্চিমা শক্তির একাধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। একই সাথে কাশ্মীর ইস্যুসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক বিষয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন মেরুকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরান বিষয়ক যুদ্ধ ক্ষমতা সীমাবদ্ধ করার লক্ষে ডেমোক্র্যাটদের আনা একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি সভায় (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস) নাকচ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই ভোটাভুটিতে অত্যন্ত নাটকীয়ভাবে ২১৪-২১৩ ভোটে প্রস্তাবটি পরাজিত হয়। প্রস্তাবটির মূল উদ্দেশ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের একক ক্ষমতা কমিয়ে কংগ্রেসের পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক করা। তবে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ডেমোক্র্যাটদের এই প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হলো। ভোটাভুটির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রিপাবলিকান পার্টির কেনটাকি প্রতিনিধি থমাস ম্যাসি দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রতিনিধি জ্যারেড গোল্ডেন নিজের দলের প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এটি ছিল ডেমোক্র্যাটদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা। এর আগে গত সপ্তাহেও তারা একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন যা সফল হয়নি। এমনকি গত বুধবার সিনেটেও অনুরূপ একটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্য দিয়ে সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। তবে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা মার্কিন সেনারা আবারও যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের সাবেক লেফটেন্যান্ট গভর্নর জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স এবং তার স্ত্রী সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্সের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ভার্জিনিয়ার অ্যানানডেল এলাকায় নিজ বাসভবন থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে একে ‘মার্ডার-সুইসাইড’ বা স্ত্রীকে হত্যার পর নিজের আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে ধারণা করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ফেয়ারফ্যাক্স কাউন্টি পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতের কিছু সময় পর এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ যখন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, তখন সেখানে জাস্টিন এবং সেরিনা উভয়কেই গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত দেখতে পায়। সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, ঘটনার সময় তাদের দুই কিশোর সন্তানও ঘরের ভেতর উপস্থিত ছিল। তবে তারা শারীরিক কোনো আঘাত পায়নি। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সম্প্রতি সেরিনা ফেয়ারফ্যাক্স বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন করেছিলেন, যা নিয়ে দম্পতির মধ্যে কলহ চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা না হলেও, একে একটি অভ্যন্তরীণ পারিবারিক সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাস্টিন ফেয়ারফ্যাক্স ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ভার্জিনিয়ার ৪১তম লেফটেন্যান্ট গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ছিলেন এই অঙ্গরাজ্যের ইতিহাসে দ্বিতীয় আফ্রিকান-আমেরিকান নির্বাচিত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তার এই আকস্মিক ও সহিংস মৃত্যুতে গোটা ভার্জিনিয়ার রাজনৈতিক মহলে শোক ও বিস্ময়ের ছায়া নেমে এসেছে।
বিশ্বের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুদ্ধবাজ নেতাদের কড়া সমালোচনা করেছেন পোপ লিও। পূর্বসূরিদের তুলনায় নজিরবিহীন আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে তিনি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব বর্তমানে মুষ্টিমেয় কিছু ‘স্বৈরাচারী’ শাসকের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। ক্যামেরুন সফরকালে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই মন্তব্য করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হওয়ার পর এই প্রথম পোপ লিও এমন জোরালো বক্তব্য দিলেন। যুদ্ধ এবং ধ্বংসলীলার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “যুদ্ধের কারিগররা এমন ভাব করেন যেন তারা কিছুই জানেন না। অথচ একটি সাজানো শহর বা সভ্যতা ধ্বংস করতে মাত্র কয়েক মুহূর্ত সময় লাগে, কিন্তু তা পুনর্গঠনে সারাজীবনও যথেষ্ট নয়।” পোপ আরও অভিযোগ করেন যে, বিশ্ব নেতারা ধ্বংসাত্মক কাজে এবং মানুষ মারার পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন, অথচ শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনপদগুলো সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের যোগান নেই। তিনি বলেন, “তারা জেনেশুনেই চোখ বন্ধ করে আছেন। যেখানে ধ্বংসের নেশায় অর্থ ঢালা হচ্ছে, সেখানে মানুষের কল্যাণে সম্পদের হাহাকার দেখা দিচ্ছে।” বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাম উল্লেখ না করলেও পোপের এই ইঙ্গিত সরাসরি ট্রাম্প এবং বিশ্বের শক্তিশালী সামরিক দেশগুলোর দিকেই। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কড়া সমালোচনার জবাবে পোপের এই ‘স্বৈরাচারী’ তকমা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। এবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ যিশু খ্রিস্টের সঙ্গে নিজের একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি ছবি শেয়ার করে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তিনি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, যিশু খ্রিস্ট পরম মমতায় ট্রাম্পকে জড়িয়ে ধরে আছেন। মূলত ইরান যুদ্ধ নিয়ে ক্যাথলিক ধর্মগুরু পোপ লিও-র সঙ্গে চলমান বাদানুবাদের মধ্যেই ট্রাম্প এই পদক্ষেপ নিলেন। এর মাত্র দুই দিন আগেই তিনি একই ধরনের একটি ছবি পোস্ট করে সমালোচনার মুখে তা ডিলিট করেছিলেন। ওই পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, বর্তমান বিশ্বের ‘শয়তানি শক্তির’ বিরুদ্ধে লড়াই করতে ঈশ্বর হয়তো তার ‘ট্রাম্প কার্ড’ খেলছেন। নতুন ছবিটি শেয়ার করে ট্রাম্প ক্যাপশনে লিখেছেন, "উগ্র বামপন্থীরা হয়তো এটি পছন্দ করবে না, কিন্তু আমার কাছে এটি বেশ চমৎকার মনে হয়েছে।" উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে আসছেন মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও। ট্রাম্পের এই ছবি পোস্টকে অনেক বিশ্লেষক পোপের সমালোচনার পাল্টা জবাব এবং রক্ষণশীল খ্রিষ্টান ভোটারদের সমর্থন আদায়ের কৌশল হিসেবে দেখছেন। তবে ধর্মীয় প্রতীককে নিজের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের এই ঘটনায় খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের একাংশের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্বের প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইম’। ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় স্থান পেয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৫ এপ্রিল) ২০২৬ সালের ‘টাইম ১০০’ তালিকাটি প্রকাশ করা হয়। তালিকায় তারেক রহমানের পাশাপাশি বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে আরও রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, পোপ লিও চতুর্দশ, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এবং নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রোফাইলে টাইম ম্যাগাজিন উল্লেখ করেছে, মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফিরে গত ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মাধ্যমে তিনি দেশের শাসনভার গ্রহণ করেন। সাময়িকীটি আরও উল্লেখ করে, নির্বাচনে জয়ের মাত্র পাঁচ দিন আগেই তার মা ও দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া পরলোকগমন করেন। শোকাতুর অবস্থায় দায়িত্ব গ্রহণ করলেও তারেক রহমান ১৭ কোটি মানুষের দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার অঙ্গীকার করেছেন। তবে মুদ্রাস্ফীতি, তরুণদের বেকারত্ব এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন মোকাবিলা করা তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে টাইম। বিএনপি চেয়ারপারসন থেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার এই অভাবনীয় রাজনৈতিক উত্থান এবং বৈশ্বিক প্রভাবের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র সমালোচনা, কঠোর নিষেধাজ্ঞা এবং একের পর এক কূটনৈতিক আলোচনা। কিন্তু এর ঠিক বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের আরেক শক্তি ইসরায়েলের ক্ষেত্রে। ব্যাপকভাবে বিশ্বাস করা হয় যে, ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্রের বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে, যদিও দেশটি আজ পর্যন্ত এই বিষয়টি স্বীকার বা অস্বীকার কোনোটাই করেনি। অথচ ইসরায়েলের এই গোপনীয়তা বা স্বচ্ছতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নেই কোনো চাপ। বিগত ১০ মাসে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এক প্রকার যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি—ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে এখন পর্যন্ত অকাট্য কোনো প্রমাণ তারা হাজির করতে পারেনি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক এবং পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো একে পশ্চিমাদের 'দ্বিমুখী নীতি' বা 'ডাবল স্ট্যান্ডার্ড' হিসেবে অভিহিত করেছে। ইরান অভিযোগ করেছে যে, একই অঞ্চলে একটি দেশের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিশ্ব উত্তাল হলেও অন্য দেশের বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ে সবাই চোখ বুজে আছে। এই বৈষম্যমূলক আচরণ মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দীর্ঘ কয়েক বছরের বৈরী সম্পর্কের পর চীনের প্রতি মার্কিন নাগরিকদের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি কিছুটা শিথিল হতে শুরু করেছে। ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে নানা ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও আমেরিকার সাধারণ মানুষের মধ্যে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বাড়ছে বলে জানিয়েছে শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টার। বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে পিউ রিসার্চ সেন্টারের জরিপ উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রায় ২৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক চীনের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করেন। গত বছরের তুলনায় এই হার ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ২০২৩ সালের তুলনায় এটি প্রায় দ্বিগুণ। জরিপ অনুযায়ী, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বিশ্ব রাজনীতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতার ওপর মার্কিনিদের আস্থা বেড়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির সমর্থকদের মধ্যে চীনের প্রতি এই নমনীয় ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে। জরিপে আরও দেখা গেছে, চীনকে ‘শত্রু’ হিসেবে দেখার প্রবণতাও আগের চেয়ে কমেছে। ২০২৫ সালে যেখানে ৩৩ শতাংশ মার্কিনি চীনকে শত্রু মনে করতেন, বর্তমানে তা ২৮ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে অর্ধেকেরও বেশি (৬০ শতাংশ) আমেরিকান এখনো চীনকে একটি শক্তিশালী ‘প্রতিযোগী’ হিসেবেই দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে চীনা সংস্কৃতি, জীবনযাত্রা এবং প্রযুক্তি (যা 'Chinamaxxing' হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে) তরুণ মার্কিনিদের আকর্ষণ করছে। এছাড়া আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও অনেকে বিকল্প শক্তি হিসেবে চীনের উত্থানকে ইতিবাচকভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে রিপাবলিকান সমর্থকদের মধ্যে এখনো চীনের প্রতি কঠোর মনোভাব বজায় রয়েছে। তাদের একটি বড় অংশ এখনো মনে করে যে, চীন আমেরিকার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় মন্তব্যে দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে সম্ভাব্য আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পাকিস্তানের নাম উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে পাকিস্তানে "বড় কিছু ঘটতে পারে"। ইসলামাবাদে অবস্থানরত নিউইয়র্ক পোস্টের একজন সংবাদদাতাকে ট্রাম্প বলেন, "আপনার সেখানে (পাকিস্তানে) থাকা উচিত, কারণ আগামী দুই দিনের মধ্যে সেখানে বিশেষ কিছু ঘটতে যাচ্ছে। আমরা সেখানেই যেতে বেশি আগ্রহী।" জেনেভাকে আলোচনার সম্ভাব্য স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হলেও ট্রাম্প পাকিস্তানের প্রতিই তার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে তিনি পাকিস্তানের ফিল্ড মার্শাল জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ট্রাম্প তাকে "ফ্যান্টাস্টিক" হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "ফিল্ড মার্শাল দুর্দান্ত কাজ করছেন। পাকিস্তানই হতে পারে উপযুক্ত স্থান।" অন্যান্য নিরপেক্ষ দেশের তুলনায় ট্রাম্প পাকিস্তানকে কেন বেছে নিচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, "যেসব দেশের এই বিষয়ের সাথে কোনো সম্পর্ক নেই, আমরা সেখানে কেন যাব?" বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তান ও জেনারেল আসিম মুনিরের ওপর ট্রাম্পের এই ভরসা এই অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর ইরান নীতি এবং হাঙ্গেরির দীর্ঘকালীন নেতা ভিক্টর অরবানের নির্বাচনী পরাজয় বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। সিএনএন-এর সাম্প্রতিক এক বিশ্লেষণে উঠে এসেছে কীভাবে এই দুই নেতার রাজনৈতিক ভাগ্য এবং কৌশল একে অপরের পরিপূরক হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইসলামাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার শান্তি আলোচনা কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে যাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কৌশলগত ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থাকে আরও ঘনীভূত করেছে। এদিকে, ইউরোপে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত হাঙ্গেরির ভিক্টর অরবানের ১৬ বছরের শাসনের অবসান ঘটেছে। নির্বাচনে পিটার ম্যাগিয়ারের ‘তিসজা’ (Tisza) পার্টির কাছে শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন অরবান। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের 'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতি এবং অরবানের 'ইললিবারেল ডেমোক্রেসি' বা অনুদার গণতন্ত্রের মডেল দীর্ঘকাল ধরে একে অপরকে সমর্থন দিয়ে আসছিল। অরবানের পরাজয় ইউরোপে পপুলিস্ট বা জনতুষ্টিবাদী রাজনীতির জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প ইরানে একটি "প্রকৃত চুক্তির" (Real Agreement) দাবিতে অনড় থেকে সামরিক শক্তি প্রয়োগের যে হুমকি দিচ্ছেন, তা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে। সিএনএন বলছে, অরবানের প্রস্থান ট্রাম্পের জন্য ইউরোপে তার প্রভাব বিস্তারের পথকে কিছুটা কণ্টকাকীর্ণ করে তুলল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবরোধ এবং সামরিক তৎপরতা চালিয়ে ট্রাম্প বিশ্বকে বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে, তিনি তার পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো আপস করবেন না।
বিশ্বরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র আধিপত্যের বিপরীতে নিজেদের এক নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে চীন। মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার দেশগুলো যখন ওয়াশিংটনের নীতি নিয়ে ক্রমেই অসন্তুষ্ট হয়ে উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তে বেইজিং নিজেকে ‘বিকল্প এবং নির্ভরযোগ্য’ অংশীদার হিসেবে উপস্থাপন করছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র জন্য চলতি সপ্তাহটি ছিল আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময়। আজ সকালে বেইজিংয়ে আবু ধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন শি জিনপিং। এছাড়া চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ভিয়েতনামের শীর্ষ নেতা তো লামের আজ রাতেই চীনে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যদিকে, কূটনৈতিক তৎপরতায় পিছিয়ে নেই চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-ও। তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন। এর একদিন আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গেও ফোনালাপ করেন তিনি। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের আবহে তেহরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়া সত্ত্বেও চীন সরাসরি কোনো সামরিক বা হার্ড-লাইন ভূমিকা পালন না করায় অনেকেই অবাক হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, চীন ইরানের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার এবং তেলের প্রধান ক্রেতা। তবে চীন এই মুহূর্তে সরাসরি দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে বরং সংযম ও আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বেইজিং অত্যন্ত কৌশলে এই সময়টিকে কাজে লাগাচ্ছে। যেসব দেশ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা কমাতে চাইছে বা ওয়াশিংটনের অস্থির পররাষ্ট্রনীতিতে বীতশ্রদ্ধ, চীন তাদের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। ওয়াশিংটনের নীতিকে অনেক দেশই এখন অনিশ্চিত বলে মনে করে। এর ঠিক বিপরীতে চীন নিজেকে একটি ‘ভবিষ্যদ্বাণীযোগ্য, স্থিতিশীল এবং আস্থাশীল’ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরছে। বেইজিংয়ের এই ‘শান্ত ও স্থিতিশীল’ ইমেজ বর্তমানে অনেক রাষ্ট্রের কাছেই অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে, যা বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতিতে এক বড় পরিবর্তনের আভাস দিচ্ছে।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে নজিরবিহীন ও আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটের একজন প্রভাবশালী সদস্য। ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির চেয়ারম্যান জভিকা ফোগেল ট্রাম্পকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, "ডোনাল্ড, যদি আপনার গুলি করার থাকে তবে গুলি ছুড়ুন, হাঁসের মতো প্যাকপ্যাক করবেন না।" জভিকা ফোগেল ইসরায়েলের কট্টরপন্থী দল 'জুয়িশ পাওয়ার' (ওতজমা ইহুদিয়া)-এর একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা। এই দলটি ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থী জোট সরকারের অন্যতম শরিক। দলটির প্রধান উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতা ইতামার বেন-গভিরের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফোগেল। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে ইসরায়েল-গাজা পরিস্থিতি বা মধ্যপ্রাচ্য নীতি নিয়ে আসা বিভিন্ন মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে এই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালেন ফোগেল। পশ্চিমা ঘরানার একটি জনপ্রিয় সিনেমাটিক সংলাপের ধাঁচে (If you have to shoot, shoot. Don’t talk) তিনি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এই ব্যঙ্গাত্মক বার্তা দেন। মূলত ট্রাম্পের দীর্ঘ বাগাড়ম্বর বা মৌখিক হুঁশিয়ারির সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফোগেলের এই মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু সরকারের মধ্যে এক ধরণের অদৃশ্য দূরত্ব বা অস্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবির ও ইসরায়েলি কট্টরপন্থীদের মধ্যকার সম্পর্কের সমীকরণে এই ধরণের কড়া সমালোচনা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী ও উগ্রপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত জভিকা ফোগেলের এই মন্তব্যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বা ট্রাম্প শিবিরে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেসেটের একজন গুরুত্বপূর্ণ কমিটির প্রধানের পক্ষ থেকে এমন সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দীর্ঘ ১৬ বছরের শাসনের পর আজ এক অগ্নিপরীক্ষার সম্মুখীন হাঙ্গেরির কট্টরপন্থী প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান। আজ রোববার হাঙ্গেরিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এক ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচন, যার ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব—বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU), রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর থেকেই বুদাপেস্টের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। স্থানীয় সময় সকাল ১১টা নাগাদ ভোট প্রদানের হার ৫৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে, যা গত ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ১৪ শতাংশ বেশি। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, এবার দেশটিতে রেকর্ডসংখ্যক ভোট পড়তে পারে। নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে অরবানের ক্ষমতাসীন দল ‘ফিদেজ’ (Fidesz) এবং তার এক সময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, বর্তমান বিরোধী নেতা পিটার ম্যাগিয়ারের নেতৃত্বাধীন ‘তিসজা’ (Tisza) পার্টির মধ্যে। জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৪১ শতাংশ সমর্থন নিয়ে ম্যাগিয়ারের দল অরবানের দলের চেয়ে প্রায় ৭-৯ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছে। ৪৩ বছর বয়সী ম্যাগিয়ার নিজেকে একজন উদারপন্থী ও ইউরোপ-পন্থি নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি দেশের দুর্নীতি দমন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কেন এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ? ১. ইইউ ও ইউক্রেন যুদ্ধ: অরবানের শাসনামলে হাঙ্গেরির সাথে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। ইউক্রেনে রুশ আক্রমণের প্রেক্ষাপটে ইইউ-র অধিকাংশ দেশ যখন কিয়েভকে সমর্থন দিচ্ছে, তখন অরবান রাশিয়ার প্রতি কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। ম্যাগিয়ার জয়ী হলে হাঙ্গেরি পুনরায় ইউরোপীয় মূলধারায় ফিরে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২. রুশ সংযোগ: নির্বাচনের ঠিক আগে অরবানের সরকারের বিরুদ্ধে মস্কোর সাথে যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন বিরোধীরা। অন্যদিকে অরবান একে ‘শান্তি বনাম যুদ্ধ’ হিসেবে প্রচার করছেন, যেখানে তিনি নিজেকে হাঙ্গেরিকে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষার একমাত্র রক্ষাকর্তা হিসেবে দাবি করেছেন। ৩. ডোনাল্ড ট্রাম্প ও আন্তর্জাতিক প্রভাব: অরবানের অন্যতম বড় সমর্থক যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি নির্বাচনের ঠিক আগে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বুদাপেস্ট সফর করে অরবানের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। অরবানের পতন হলে ইউরোপে উগ্র-ডানপন্থী রাজনীতির বড় একটি স্তম্ভ ভেঙে যেতে পারে। ভোট দিতে আসা এক তরুণ ভোটার মিহালি বাসি বলেন, "আমরা দেশে পরিবর্তন চাই। বর্তমান সরকারের আমলে জনজীবনে অস্থিরতা ও মুদ্রাস্ফীতি চরমে পৌঁছেছে। আমাদের ভবিষ্যৎ এখন ব্যালট বাক্সে।" অন্যদিকে অরবানের সমর্থকরা মনে করেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও হাঙ্গেরির স্বকীয়তা বজায় রাখতে অরবানের কোনো বিকল্প নেই। তবে অরবানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে হাঙ্গেরির বর্তমান নির্বাচনী ব্যবস্থা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফিদেজ সরকারের তৈরি করা বিশেষ নির্বাচনী সীমানার কারণে ম্যাগিয়ারের দলকে অন্তত ৫-৬ শতাংশ বেশি ভোট পেয়ে জয় নিশ্চিত করতে হবে। আজ সন্ধ্যা ৭টায় ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর প্রাথমিক ফলাফল আসা শুরু হবে। তবে ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত বিজয়ী কে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না। এটি কি অরবানের ‘ইলিবেরাল ডেমোক্রেসি’ বা অনুদার গণতন্ত্রের জয় হবে, নাকি পিটার ম্যাগিয়ারের হাত ধরে হাঙ্গেরি নতুন দিগন্তের পথে যাত্রা শুরু করবে—তা সময়ই বলে দেবে।
দীর্ঘ পাঁচ মাসের রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ইরাকের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুর্দি রাজনীতিবিদ নিজার আমেদি। শনিবার দেশটির পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে তিনি বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন সরকার গঠনের পথ সুগম হলো। পার্লামেন্ট সূত্রে জানা গেছে, প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত প্রার্থী নিজার আমেদি দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটিতে মোট ২২৭টি ভোট পান। তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথান্না আমিন নাদের পেয়েছেন মাত্র ১৫ ভোট। ২০০৩ সালে মার্কিন আগ্রাসনের পর সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর আমেদি ইরাকের ষষ্ঠ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে দেওয়া এক বক্তব্যে নিজার আমেদি বলেন, "দেশের সামনে যে বিশাল চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে, সে সম্পর্কে আমি পুরোপুরি সচেতন।" তিনি সকল সরকারি বিভাগের সাথে সমন্বয় করে কাজ করার এবং "ইরাক ফার্স্ট" (ইরাক আগে) নীতিতে অটল থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এছাড়া সাম্প্রতিক আঞ্চলিক যুদ্ধ ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইরাকের ওপর হওয়া হামলারও তীব্র নিন্দা জানান তিনি। ৫৮ বছর বয়সী নিজার আমেদি একজন অভিজ্ঞ আমলা এবং রাজনীতিবিদ। তিনি এর আগে ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পরিবেশ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দুজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহযোগী হিসেবে কাজ করার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ইরাকের প্রচলিত ক্ষমতা ভাগাভাগির নিয়ম অনুযায়ী, দেশটির প্রধানমন্ত্রী হবেন শিয়া মুসলিম, স্পিকার হবেন সুন্নি এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন একজন কুর্দি নেতা। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন সকলের দৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী নিয়োগের দিকে। সংবিধান অনুযায়ী, আমেদি আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পার্লামেন্টের বৃহত্তম ব্লকের মনোনীত প্রার্থীকে মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর প্রায় ১৫০ দিন ধরে ইরাকে কোনো স্থায়ী সরকার ছিল না। নিজার আমেদির এই নির্বাচন ইরাকের ভঙ্গুর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য মনোনীত নূরী আল-মালিকির নাম নিয়ে ইতিমধ্যে ওয়াশিংটন ও বাগদাদের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, নতুন প্রেসিডেন্ট রাজনৈতিক বিভাজন দূর করে ইরাককে একটি স্থিতিশীল সরকার উপহার দিতে কতটুকু সফল হন।
সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি এক চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বছরের পর বছর ধরে একাধিক মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইরান আক্রমণের জন্য প্ররোচিত করে আসছিলেন। তবে বারাক ওবামা সহ অন্য প্রেসিডেন্টরা এই যুদ্ধ এড়িয়ে চললেও, কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্পই নেতানিয়াহুর সেই বিতর্কিত পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ওবামা প্রশাসনের এই শীর্ষ কূটনীতিক জানান, নেতানিয়াহু ওবামা প্রশাসনের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছিলেন যাতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালায়। কেরির মতে, নেতানিয়াহুর মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাথে একটি সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলা। জন কেরি বলেন, "আমি ও প্রেসিডেন্ট ওবামা যখন ইরানের সাথে পরমাণু চুক্তির (JCPOA) বিষয়ে আলোচনা করছিলাম, তখন নেতানিয়াহু পর্দার আড়ালে ক্রমাগত যুদ্ধের কথা বলছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন যে, ইরানকে থামানোর একমাত্র পথ হলো সামরিক হামলা।" কেরি আরও যোগ করেন, নেতানিয়াহু কেবল ওবামাকেই নয়, তার পূর্বসূরিদের কাছেও একই দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এবং সামরিক উপদেষ্টাদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করলে তা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি করত। ফলে ওবামা প্রশাসন সামরিক হামলার বদলে কূটনৈতিক পথকেই বেছে নেয়। তবে চিত্রপট বদলে যায় ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর। ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য নীতি ছিল ওবামা প্রশাসনের ঠিক বিপরীত। কেরি উল্লেখ করেন, ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর নেতানিয়াহু তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ পান। ট্রাম্প ২০১৮ সালে ইরানের সাথে সম্পাদিত ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন এবং ইরানের ওপর সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ প্রয়োগ শুরু করেন। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের আমলে কাসেম সোলেইমানিকে হত্যার মতো বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ মূলত নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের প্ররোচনারই প্রতিফলন। জন কেরির এই বক্তব্য বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই "যুদ্ধংদেহী" নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যা থেকে খোদ যুক্তরাষ্ট্রও বের হতে পারছে না। কেরির এই স্বীকারোক্তি আবারও প্রমাণ করল যে, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে ইসরায়েলি লবিং কতটা প্রভাবশালী।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হলো ভোটাধিকার। কিন্তু বর্তমানে ভারতে এই অধিকার কেড়ে নেওয়ার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীকে পরিচয়হীন করে তোলার অভিযোগ তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি 'কাউন্টার কারেন্টস'-এ প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়কে প্রান্তিকীকরণের এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ভারতে ভোটার তালিকা থেকে সুপরিকল্পিতভাবে নাম মুছে ফেলা কেবল একটি প্রশাসনিক ভুল নয়, বরং এটি হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি গভীর রাজনৈতিক কৌশল। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে মুসলিম নাগরিকদের লক্ষ্য করে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। নিবন্ধের লেখক একে 'Identity Erasure' বা পরিচয় মুছে ফেলার রাজনীতি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অর্থ হলো রাষ্ট্রীয় নাগরিকত্বের স্বীকৃতি হারানো। এর ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেবল ভোট দেওয়ার অধিকারই হারাচ্ছেন না, বরং রেশন কার্ড, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। এই প্রক্রিয়াটি একটি বিশাল জনগোষ্ঠীকে নিজ ভূমিতেই পরবাসী করে তুলছে, যা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ভোটার তালিকা হালনাগাদের নামে অনেক সময় স্বচ্ছতার অভাব দেখা যায়। তথাকথিত 'ডি-ভোটার' (Doubtful Voter) বা 'সন্দেহভাজন ভোটার' তকমা দিয়ে হাজার হাজার মানুষকে আইনি লড়াইয়ের গোলকধাঁধায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে মুসলিম সম্প্রদায়ের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব হ্রাস পাচ্ছে এবং তারা নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে ছিটকে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও মানবাধিকার কর্মীরা এই প্রবণতাকে গণতন্ত্রের জন্য অশনিসংকেত হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, যখন কোনো রাষ্ট্রের একটি বিশেষ ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে নাগরিক অধিকার হরণের চেষ্টা করা হয়, তখন তা সামাজিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করে এবং উগ্রবাদের পথ প্রশস্ত করে। গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাধিক্যের শাসন নয়, বরং প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত করার নাম। ভোটার তালিকা থেকে নাম কর্তনের মাধ্যমে যে প্রান্তিকীকরণের খেলা শুরু হয়েছে, তা বিশ্ববিবেকের কাছে এক বড় প্রশ্ন চিহ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। নাগরিকের পরিচয় এবং ভোটাধিকার রক্ষা করা না গেলে প্রকৃত গণতন্ত্র অধরাই থেকে যাবে। তথ্যসূত্র: কাউন্টার কারেন্টস ডট অর্গ।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক নাটকীয় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে লেবার পার্টির কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত মুসলিম ভোটাররা এখন দলটির ওপর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। নিউক্যাসলে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম ভোটার এখন গ্রিন পার্টির দিকে ঝুঁকছেন। মূল কারণ শুধু গাজা নয়সাধারণভাবে মনে করা হয়, গাজা ইস্যুতে লেবার পার্টির অবস্থানের কারণেই মুসলিমরা অসন্তুষ্ট। তবে অভিভাবক পত্রিকা 'দ্য গার্ডিয়ান'-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের পেছনে আরও গভীর কিছু কারণ রয়েছে। নিউক্যাসলের ভোটাররা বলছেন, দশকের পর দশক ধরে লেবার পার্টি এই অঞ্চল শাসন করলেও স্থানীয় সেবার মান কমেছে এবং জীবনযাত্রার ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এছাড়া ডানপন্থীদের উত্থানের মোকাবিলায় লেবার নেতৃত্বের 'উদাসীন' ভূমিকায় অনেক ব্রিটিশ-বাংলাদেশি ও মুসলিম ভোটার হতাশ। বাংলাদেশিদের মনে ক্ষোভপ্রতিবেদনে হালিমা বেগম নামে একজন ভোটারের উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, যিনি আগে লেবার পার্টি করতেন। তিনি জানান, কিয়ার স্টারমার অভিবাসন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশিদের "ফেরত পাঠানোর" ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তখন থেকেই তিনি দলটির প্রতি আস্থা হারিয়েছেন। হালিমা বলেন, "আমি নিজেকে বাংলাদেশি, ব্রিটিশ এবং মুসলিম—সব পরিচয়েই গর্বিত মনে করি। কিন্তু লেবার পার্টির নেতার ওই মন্তব্য আমাদের সম্প্রদায়ের প্রতি এক ধরনের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করেছে।" কেন গ্রিন পার্টি? মুসলিম ভোটারদের গ্রিন পার্টির প্রতি আকর্ষণের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে দলটির স্পষ্ট অবস্থান। বিশেষ করে বর্ণবাদ ও চরম ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে গ্রিন পার্টির কড়া অবস্থান ভোটারদের আশ্বস্ত করছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় থাকা বাংলাদেশ বা পাকিস্তানের মতো দেশগুলোর বংশোদ্ভূত মানুষরা গ্রিন পার্টির পরিবেশবাদী নীতির সাথে নিজেদের একাত্ম করতে পারছেন। লেবার পার্টির জন্য অশনি সংকেতএই পরিবর্তনের হাওয়া শুধু নিউক্যাসলেই সীমাবদ্ধ নয়। বার্মিংহাম, লেস্টার এবং পূর্ব লন্ডনের মতো মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতেও লেবার পার্টির ভোট ব্যাংক হুমকির মুখে। ব্রিটিশ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো হেভিওয়েট নেতারাও এখন তাদের নিজের আসন নিয়ে শঙ্কিত।আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনই বলে দেবে, এই পরিবর্তন কি কেবল প্রতিবাদী ভোট নাকি ব্রিটিশ রাজনীতির এক স্থায়ী মেরুকরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের নতুন অধ্যায় সূচিত হলো। বাংলাদেশি মালিকানাধীন একমাত্র বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি তাদের দ্বিতীয় ও স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধনের মাধ্যমে প্রবাসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা, চেয়ারম্যান ও আচার্য আবুবকর হানিফ—যিনি বাংলাদেশি কমিউনিটিতে একজন সুপরিচিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব—তার দূরদর্শী নেতৃত্বে এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। তার সহধর্মিণী ফারহানা হানিফ, প্রধান অর্থ কর্মকর্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে শক্তিশালী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নতুন এই ক্যাম্পাস যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির মোট পরিসর এখন প্রায় ২ লাখ বর্গফুটে পৌঁছেছে, যা সম্পূর্ণভাবে একটি নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস। এটি কেবল একটি অবকাঠামো নয়—এটি হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, পরিশ্রম এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি শক্তিশালী ভিত্তি। উদ্বোধনী বক্তব্যে আবুবকর হানিফ বলেন, “আজকের দিনটি শুধু একটি ঘোষণা নয়—এটি একটি অনুভবের মুহূর্ত। আমরা সর্বশক্তিমান স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞ, যিনি আমাদের এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সহায়তা করেছেন। তবে মনে রাখতে হবে—ভবন নয়, মানুষই সফলতা তৈরি করে।” বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ইতোমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন ল্যাব—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার ও নেটওয়ার্ক, স্বাস্থ্যসেবা এবং নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রভিত্তিক ল্যাব। শিগগিরই চালু হতে যাচ্ছে একটি রোবটিক্স ল্যাব, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা আরও বাড়াবে। এছাড়াও, প্রায় ৩১ হাজার বর্গফুটের একটি উদ্যোক্তা উন্নয়ন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী ধারণাকে বাস্তব ব্যবসায় রূপ দিতে পারবে। এখানে একটি সাধারণ ধারণা থেকে একটি সফল প্রতিষ্ঠানে রূপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের সহায়তায় চলতি বছরে প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলারের বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছে, যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা আর্থিক বাধা ছাড়াই উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, আবুবকর হানিফ দীর্ঘদিন ধরে তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন। তার উদ্যোগে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে চাকরিতে স্থাপন করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বাংলাদেশি এবং তারা বছরে এক লক্ষ ডলারেরও বেশি আয় করছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়—এটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য সম্ভাবনা, আত্মনির্ভরতা এবং সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই অর্জন প্রমাণ করে—প্রবাসে থেকেও বাংলাদেশিরা বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে পারে এবং নিজেদের অবস্থান শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই একটি চাঞ্চল্যকর দাবি ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। গত ৪৮ থেকে ৫৬ ঘণ্টার মধ্যে ১৬টি চীনা 'ওয়াই-২০' (Y-20) সামরিক কার্গো বিমান তাদের ট্রান্সপন্ডার বা সিগন্যাল বন্ধ রেখে ইরানের আকাশে প্রবেশ করেছে বলে খবর ছড়িয়েছে। কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ ছাড়াই এই তথ্যটি প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দাবি করা হচ্ছে, এই বিমানগুলো বেসামরিক রাডার থেকে আড়াল থাকতে বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিল। নেটিজেন ও সামরিক বিশ্লেষকদের একটি অংশের ধারণা, চীন হয়তো ইরানকে অত্যাধুনিক ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম বা জ্যামিং প্রযুক্তি সরবরাহ করছে। যদি এটি সত্যি হয়, তবে মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) যুদ্ধবিমান বা নৌ-অভিযানের জন্য এটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনেকে একে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি বেইজিংয়ের সরাসরি ‘সতর্কবার্তা’ হিসেবেও দেখছেন। তবে এই উত্তেজনার মুদ্রার উল্টো পিঠও রয়েছে। ফ্লাইটরাডার২৪-এর মতো আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের কোনো অস্বাভাবিক ফ্লাইটের রেকর্ড পাওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৬টি ভারী সামরিক কার্গো বিমানের মতো বিশাল বহরকে রাডার বা স্যাটেলাইট নজরদারি থেকে সম্পূর্ণ লুকিয়ে রাখা প্রায় অসম্ভব। বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চীন-ইরান সম্পর্ক গভীর হলেও, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের অভাবে বিশ্লেষকরা একে আপাতত ‘সুপরিকল্পিত গুজব’ বা মিসইনফরমেশন হিসেবেই দেখছেন। তেহরান বা বেইজিং—কোনো পক্ষ থেকেই এখন পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের আবেদনকারীদের উপর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু ভিসা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে, আবার কিছু ভিসা চালু থাকলেও শর্ত কঠোর করা হয়েছে। নিচে সহজভাবে সব ভিসার বর্তমান অবস্থা তুলে ধরা হলো। প্রথমেই ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বা স্থায়ী বসবাসের ভিসার কথা বলা যাক। যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট ঘোষণা করেছে যে ২০২৬ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা ইস্যু সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এসব দেশের কিছু আবেদনকারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সুবিধার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশি, তাই নতুন করে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর করা হচ্ছে। এই স্থগিতাদেশের কারণে পরিবার স্পন্সর ভিসা, গ্রিন কার্ড, ডাইভারসিটি ভিসা এবং কর্মসংস্থান ভিত্তিক স্থায়ী বসবাসের ভিসা ইস্যু এখন অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ বা দেরিতে হচ্ছে। তবে পুরো প্রক্রিয়া থেমে যায়নি। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস কিছু ক্যাটাগরির জন্য সাক্ষাৎকার নিতে পারে, কিন্তু স্থগিতাদেশ চলাকালীন ভিসা ইস্যু নাও করা হতে পারে। অর্থাৎ ইন্টারভিউ দিলেও ভিসা হাতে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হতে পারে। অন্যদিকে নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা, যেমন ট্যুরিস্ট ও বিজনেস ভিসা (B1/B2), সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। তবে নতুন নিয়ম অনুযায়ী কিছু আবেদনকারীকে ভিসা পাওয়ার আগে ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হতে পারে, যা কনস্যুলার অফিসার সাক্ষাৎকারের সময় নির্ধারণ করবেন। এই নিয়ম বাংলাদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা হয়েছে। স্টুডেন্ট ভিসা (F-1, M-1, J-1) এবং ওয়ার্ক ভিসা (H-1B, H-2B, L-1 ইত্যাদি) বর্তমানে চালু রয়েছে এবং এগুলোর উপর সরাসরি কোনো স্থগিতাদেশ নেই। তবে নতুন নিরাপত্তা যাচাই, আর্থিক সক্ষমতা পরীক্ষা এবং স্পন্সর যাচাইয়ের কারণে প্রসেসিং সময় আগের তুলনায় বেশি লাগছে। ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিত থাকলেও নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসাগুলো পুরোপুরি বন্ধ নয় বলে মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। সব ধরনের ভিসা আবেদন বর্তমানে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে অ্যাপয়েন্টমেন্ট ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে। কাগজপত্রে ভুল থাকলে বা নির্ধারিত সময়ে তথ্য আপডেট না করলে আবেদন বাতিল হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গ্রিন কার্ড বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা এখন সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত, ট্যুরিস্ট ভিসা চালু আছে কিন্তু কড়াকড়ি বেড়েছে, আর স্টুডেন্ট ও ওয়ার্ক ভিসা চালু থাকলেও যাচাই-বাছাই অনেক কঠোর হয়েছে। তাই নতুন করে আবেদন করার আগে সর্বশেষ নিয়ম জেনে নেওয়া এখন খুবই জরুরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাশীদের জন্য কঠোর হচ্ছে নিয়মাবলী। আগামী ৩০ মার্চ থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভিসা রুলস, যেখানে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রোফাইল পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই বা স্ক্রিনিং করা হবে। মার্কিন প্রশাসনের এই নতুন পদক্ষেপে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রত্যাশীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। নতুন এই নিয়ম মূলত অ-অভিবাসী (Non-immigrant) এবং অভিবাসী (Immigrant) উভয় ধরণের ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হতে পারে। বিশেষ করে যারা ট্যুরিস্ট ভিসা, স্টুডেন্ট ভিসা এবং কাজের সন্ধানে এইচ-১বি (H-1B) ভিসার জন্য আবেদন করবেন, তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের তথ্য প্রদান বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। আবেদনকারীদের গত পাঁচ বছরের ব্যবহৃত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোর ইউজার আইডি বা হ্যান্ডেল নাম ফর্মে উল্লেখ করতে হবে। ফেসবুক, টুইটার (বর্তমানে এক্স), ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউবের মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মগুলো এই স্ক্রিনিংয়ের আওতায় থাকবে। তবে পাসওয়ার্ড দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। মূলত আবেদনকারীর নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং পূর্ববর্তী কোনো উসকানিমূলক বা সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড আছে কি না, তা যাচাই করতেই এই পদক্ষেপ। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তার স্বার্থেই এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি যদি অতীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উগ্রবাদ বা আইনবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থেকে থাকেন, তবে তার ভিসা আবেদন বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। ভিসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৩০ মার্চের পর যারা আবেদন করবেন, তাদের অবশ্যই গত ৫ বছরের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। কোনো ভুল তথ্য দিলে বা তথ্য গোপন করলে তা স্থায়ীভাবে ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণ হতে পারে। এছাড়া ইমেইল অ্যাড্রেস এবং ফোন নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এই নতুন নিয়ম চালুর ফলে ভিসা প্রক্রিয়াকরণে কিছুটা অতিরিক্ত সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং অনলাইন প্রোফাইল গুছিয়ে আবেদন করার পরামর্শ দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।
এপস্টেইন ফাইল: দাবি, বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করে ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে জেফরি এপস্টেইনের ফাইল ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্টের সাথে যুক্ত সম্প্রতি প্রকাশিত একটি নথি ত্রাঞ্চে অভিযোগ করা হয়েছে যে, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একটি ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এই নথিগুলি, যা আনক্লাসিফায়েড ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিস (DOJ) রেকর্ডের একটি বিশাল ডেটা রিলিজের অংশ, “চার্লস” নামে একজনের ক্ষুব্ধ ইমেইল অন্তর্ভুক্ত করেছে এবং অন্তর্বর্তী ফাইলিং কোড EFTA00173266 থেকে EFTA00173273 পর্যন্ত চিহ্নিত। এই ইমেইলগুলো তৃতীয় পক্ষের যোগাযোগের মধ্যে পাওয়া গেছে, যা জেফরি এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক সংক্রান্ত বিস্তৃত ফেডারেল তদন্তের সময় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এপস্টেইন সম্পর্কিত অন্যান্য প্রকাশনার মতো এখানে রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্কের তথ্য নয়, বরং চরম ও ষড়যন্ত্রমূলক দাবিগুলো রয়েছে। ক্লোন তত্ত্বের উল্লেখ “চার্লস” ইমেইলগুলো এপ্রিল ২০২১-এ একজন এফবিআই এজেন্টকে ফরোয়ার্ড করা হয়েছিল, যাকে লাল করা প্রেরক হিসেবে দেখানো হয়েছে। প্রেরক দাবি করেছিলেন যে এটি একটি প্রযুক্তি সংস্থার এক ক্ষুব্ধ প্রাক্তন কর্মচারী বা সহযোগীর মেসেজ। ইমেইলগুলিতে গালাগালি ভাষা ব্যবহৃত হয়েছে এবং এখানে “কোয়ান্টাম” প্রযুক্তি, গোপন সামরিক ট্রাইব্যুনাল, এবং “বাইডেন আপনার বর্তমান প্রেসিডেন্ট নন” এমন দাবির উল্লেখ রয়েছে। একটি অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে ২০১৯ সালে নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে এবং তাকে একজন অভিনেতা বা ক্লোন দ্বারা প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রমাণ হিসেবে “মাস্কের ত্রুটি” দেখানো হয়েছে। তবে এই দাবিগুলোর সঙ্গে কোনো শারীরিক প্রমাণ, চিকিৎসা নথি বা সঙ্গত সাক্ষ্য নেই। “বাইডেন ক্লোন” দাবি অনলাইনে ষড়যন্ত্র তত্ত্বের একটি পরিচিত অংশ। তত্ত্বটি সাধারণত ধরে যে “বাস্তব” জো বাইডেনকে গোপনে জনমঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রায়শই ২০১৯ বা ২০২০ সালে, এবং তাকে চেহারা মিলানো লোক বা ক্লোন দিয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। অনুগামীরা প্রায়শই নিম্নমানের ভিডিও এবং ফটোগ্রাফ বিশ্লেষণ করে, চেহারার পরিবর্তন যেমন আলোর পরিবর্তন, বয়সের প্রভাব বা ক্যামেরার ত্রুটিকে কৃত্রিমভাবে আড়াল করার প্রমাণ হিসেবে দেখান। এ পর্যন্ত কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই যে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কখনো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বা প্রতিস্থাপিত হয়েছেন। এই দাবিগুলি সম্পূর্ণভাবে একটি ষড়যন্ত্র তত্ত্ব হিসেবে রয়ে গেছে। সূত্র: Royanews